(খণ্ড: ১) আত-তানজীম ওয়াল মুনাজ্জিমূনা ওয়া হুকমু যালিকা ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: -)
التنجيم والمنجمون وحكم ذلك في الإسلام   (عبد المجيد بن سالم المشعبي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: التنجيم والمنجمون وحكم ذلك في الإسلام

المؤلف: عبد المجيد بن سالم المشعبي

الناشر: أضواء السلف، الرياض، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الطبعة الثانية، 1419هـ/ 1998م

عدد الصفحات: 351

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

জ্যোতিষশাস্ত্র, জ্যোতিষীগণ এবং ইসলামে এর বিধান   (আব্দুল মাজিদ বিন সালিম আল-মুশআবী)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


বই: জ্যোতিষশাস্ত্র, জ্যোতিষীগণ এবং ইসলামে এর বিধান

লেখক: আব্দুল মাজিদ বিন সালিম আল-মুশআবী

প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ, রিয়াদ, সৌদি আরব কিংডম

সংস্করণ: দ্বিতীয় সংস্করণ, ১৪১৯ হিজরি/ ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৫১

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আত-তানজীম ওয়াল মুনাজ্জিমূনা ওয়া হুকমু যালিকা ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌التَّنْجِيمُ وَالمنَّجِمُونَ وَحكم ذلك في الإسلام

تأليف: الدّكتور عبد المجيد بن سالم المشعبي

‌‌المقدمة

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} 1، {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} 2، {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} 3.

أما بعد: فإن الله سبحانه وتعالى لما خلق الناس خلقهم على الحنيفية السمحة، وجبلهم على الفطرة النقية الصافية، كما أخبر رسول الله صلى الله عليه وسلم فيما يرويه عن ربه جل وعلا أنه قال: "وإني خلقت عبادي حنفاء كلهم، وإنهم أتتهم الشياطين فاجتالتهم عن دينهم، وحرمت عليهم ما أحللت لهم، وأمرتهم أن يشركوا بي ما لم أنزل به سلطاناً" 4.

--------------------------------------------

1 سورة آل عمران، الآية: 102.

2 سورة النساء، الآية: 1.

3 سورة الأحزاب، الآيتان: 70، 71.

4 أخرجه مسلم: (8/159) ، كتاب الجنة وصفة نعيمها.
জ্যোতির্বিদ্যা, জ্যোতিষী এবং ইসলামে এর বিধান

রচনা: ড. আব্দুল মাজীদ বিন সালিম আল-মুশা'বী

‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না। ১, হে মানবসমাজ! তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এক সত্তা থেকে এবং তা থেকে সৃষ্টি করেছেন তার জোড়া, আর তাদের উভয় থেকে ছড়িয়ে দিয়েছেন বহু পুরুষ ও নারী। আর আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে চাও এবং আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন। ২, হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সফলতা অর্জন করল। ৩।

অতঃপর: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ যখন মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, তখন তাদের একনিষ্ঠ ও সহজ-সরল দ্বীনের ওপর সৃষ্টি করেছেন। তাদের পবিত্র ও স্বচ্ছ ফিতরাতের ওপর গড়ে তুলেছেন, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সুমহান রবের নিকট হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "আমি আমার সকল বান্দাকে একনিষ্ঠ (হানিফ) হিসেবে সৃষ্টি করেছি। এরপর শয়তানরা তাদের কাছে আসে এবং তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করে দেয়। আর আমি যা তাদের জন্য হালাল করেছিলাম, তা শয়তানরা তাদের জন্য হারাম করে দেয় এবং তাদের নির্দেশ দেয় যেন তারা আমার সাথে এমন কিছুকে শরিক করে, যার কোনো প্রমাণ আমি অবতীর্ণ করিনি।" ৪।

--------------------------------------------

১ সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১০২।

২ সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১।

৩ সূরা আল-আহযাব, আয়াত: ৭০, ৭১।

৪ মুসলিম বর্ণনা করেছেন: (৮/১৫৯), জান্নাত ও তার নেয়ামতের বৈশিষ্ট্য অধ্যায়।
(খণ্ড: ১) আত-তানজীম ওয়াল মুনাজ্জিমূনা ওয়া হুকমু যালিকা ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৬)
فما من مولود إلا ولد على ذلك، وما من ضال أو مشرك إلا وقد أضله الشيطان، وقد كانت البشرية في قرونها الأولى لا تعرف الشرك، بل كانوا على الحنيفية التي جبلهم الله عليها.

وبعد عدة قرون والناس على ذلك زين الشيطان لفريق منهم التعلق بالصالحين من الأموات، فعبدوهم من دون الله، فكان هذا أول شرك وقع في العالم.

فأرسل الله تعالى نوحاً عليه السلام ليعيد الناس إلى عقيدة التوحيد، ويخرجهم من الظلمات إلى النور.

ثم توالت القرون بعد ذلك، وحدث في الناس شرك من نوع آخر وهو التعلق بالكواكب وعبادتها، واعتقاد النفع والضر فيها فأرسل الله سبحانه رسوله وخليله إبراهيم عليه السلام، فناظر أهل الشرك وأدحض حججهم، وبين بطلان عبادتهم، وسوء معتقدهم، فلما بهتوا وقامت الحجة عليهم لجأوا إلى الشدة والقوة، وألقوه في النار ظنًّا منهم أن ذلك هو طريق الخلاص منه. ولكن الله أنقذه منها، ورد كيدهم في نحورهم وجعل النار برداً وسلاماً على إبراهيم عليه السلام، فأخرجوه من أرضهم، وتبرأوا من دعوته فانتقم الله من الطاغوت الذي وقف أما دعوة إبراهيم عليه السلام، فأهلكه الله وجعله من الصاغرين.

وهكذا دواليك لا تكاد تبعد أمة من الأمم عن عهد نبيها إلا وتراهم يسقطون فريسة لحبائل الشيطان المنصوبة، فيتبعونه ويستمعون إلى غوايته، ويتخذونه وليًّا من دون الله تعالى، وساء وليًّا.

ولا يقع الناس في شيء من ذلك إلا أرسل الله إليهم رسلاً ينبذون الشرك ويقطعون أسبابه، ويدعون الناس إلى التوحيد وإفراد الله بالعبادة،
প্রতিটি নবজাতকই এর ওপর (ফিতরাত) জন্মগ্রহণ করে এবং প্রত্যেক পথভ্রষ্ট বা মুশরিককে শয়তানই পথভ্রষ্ট করেছে। মানবজাতি তাদের শুরুর শতাব্দীগুলোতে শিরক চিনত না; বরং তারা ছিল সেই একনিষ্ঠ তাওহীদের (হানিফিয়াত) ওপর, যার ওপর আল্লাহ তাদের সৃষ্টি করেছেন।

কয়েক শতাব্দী কাল মানুষ এর ওপর অবিচল থাকার পর শয়তান তাদের একটি দলের কাছে মৃত নেককার লোকেদের সাথে অতি-ভক্তি ও সম্পৃক্ততাকে সুশোভিত করে দেখাল। ফলে তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের ইবাদত করতে শুরু করল; আর এটাই ছিল পৃথিবীতে সংঘটিত প্রথম শিরক।

অতঃপর মহান আল্লাহ নূহ আলাইহিস সালামকে প্রেরণ করলেন যাতে তিনি মানুষকে পুনরায় তাওহীদের আকিদাহর দিকে ফিরিয়ে আনেন এবং তাদের অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন।

এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলো এবং মানুষের মধ্যে অন্য এক প্রকারের শিরকের আবির্ভাব ঘটল, যা ছিল গ্রহ-নক্ষত্রের সাথে সম্পৃক্ততা ও সেগুলোর ইবাদত করা এবং সেগুলোর মধ্যে লাভ-ক্ষতির ক্ষমতা রয়েছে বলে বিশ্বাস করা। ফলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর রাসূল ও খলীল ইব্রাহিম আলাইহিস সালামকে প্রেরণ করলেন। তিনি মুশরিকদের সাথে বিতর্ক করলেন এবং তাদের দলিলসমূহ খণ্ডন করলেন, আর তাদের ইবাদতের অসারতা ও আকিদাহর মন্দ দিকগুলো স্পষ্ট করে দিলেন। যখন তারা হতভম্ব হয়ে পড়ল এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হলো, তখন তারা কঠোরতা ও শক্তির আশ্রয় নিল এবং তাকে আগুনে নিক্ষেপ করল; তারা মনে করেছিল যে এটাই তাকে নির্মূল করার উপায়। কিন্তু আল্লাহ তাকে তা থেকে রক্ষা করলেন, তাদের ষড়যন্ত্র তাদের দিকেই ফিরিয়ে দিলেন এবং আগুনকে ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের জন্য শীতল ও নিরাপদ করে দিলেন। এরপর তারা তাকে তাদের দেশ থেকে বের করে দিল এবং তার দাওয়াত থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করল। তখন আল্লাহ সেই তাগুতের ওপর প্রতিশোধ নিলেন যে ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের দাওয়াতের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল; আল্লাহ তাকে ধ্বংস করে দিলেন এবং তাকে লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভুক্ত করলেন।

আর এভাবেই একের পর এক চলতে থাকল; যখনই কোনো উম্মত তাদের নবীর যুগ থেকে দূরে সরে গেছে, তখনই দেখা গেছে তারা শয়তানের পেতে রাখা জালের শিকারে পরিণত হয়েছে। তারা তার অনুসরণ করেছে, তার প্ররোচনায় কর্ণপাত করেছে এবং আল্লাহ তাআলার পরিবর্তে তাকেই অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করেছে; আর সে কতই না নিকৃষ্ট অভিভাবক!

মানুষ যখনই এমন পরিস্থিতির শিকার হয়েছে, তখনই আল্লাহ তাদের কাছে রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন, যাঁরা শিরক বর্জন করতেন এবং শিরকের পথসমূহ রুদ্ধ করে দিতেন, আর মানুষকে তাওহীদ ও ইবাদতে আল্লাহকে একক করার দিকে আহ্বান জানাতেন।
(খণ্ড: ১) আত-তানজীম ওয়াল মুনাজ্জিমূনা ওয়া হুকমু যালিকা ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৭)
كما قال تعالى:} وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولاً أَنِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ} 1.

وعلى مر العصور واختلاف الأمم لم يقع في العالم أعظم من هذين الشركين:

الأول: عبادة القبور، والتعلق بالأموات، وهو شرك قوم نوح عليه السلام، وهو أول شرك وقع في العالم، وفتنته أعظم، والابتلاء به أكثر.

والثاني: الإشراك بالنجوم وتعظيمها واعتقاد أنها أحياء ناطقة، وأن لها روحانيات تتنزل على عابديها. وهذا الاعتقاد هو الذي حدا بعابديها إلى أن يبنوا لها هياكل فيها أصنام تناسبها، وكان مبدأ هذا الشرك تعظيم الكواكب وظن السعود والنحوس فيها، وحصول الخير والشر منها2.

وآل أمر هذا الشرك –أعني عبادة الكواكب واعتقاد أنها آلهة مدبرة- إلى الفلاسفة والصائبة والمجوس وغيرهم، واعتقدوا فيها ما اعتقد أسلافهم من قوم إبراهيم، وكانوا ينتشرون حول الجزيرة قبل مبعث النبي صلى الله عليه وسلم، فلما بعث النبي صلى الله عليه وسلم كانت الكهانة في ذلك الوقت منتشرة بين الناس، والاعتقاد بالكواكب والأنواء ونسبة بعض الحوادث إليها مشهوراً لديهم، فأبطل النبي صلى الله عليه وسلم هذه المعتقدات، وأنار لأمته دياجير الظلمات، وبين لهم الحق، وحذرهم من إتباع المهلكات الموبقات، وتركهم على المحجة البيضاء ليلها كنهارها لا يزيغ عنها إلا هالك.

ومن بين هذه الأمور التي حذر أمته منها ادعاء علم الغيب، واعتقاد،

--------------------------------------------

1 سورة النحل، الآية: 36.

2 "مفتاح دار السعادة": (2/197) .
মহান আল্লাহ যেমন বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি প্রত্যেক জাতির নিকট রাসূল পাঠিয়েছি এই মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাগুতকে বর্জন করো।" ১।

যুগ যুগ ধরে এবং বিভিন্ন জাতির মাঝে পৃথিবীতে এই দুটি শিরকের চেয়ে বড় আর কোনো শিরক সংঘটিত হয়নি:

প্রথমটি: কবর পূজা এবং মৃতদের সাথে অন্তরের সংশ্লিষ্টতা। এটি ছিল নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর জাতির শিরক এবং পৃথিবীতে সংঘটিত হওয়া সর্বপ্রথম শিরক। এর ফিতনা ছিল সুদূরপ্রসারী এবং এর মাধ্যমে পরীক্ষা ছিল অত্যন্ত কঠিন।

দ্বিতীয়টি: নক্ষত্ররাজির সাথে শিরক করা, তাদের সম্মান প্রদর্শন করা এবং এই বিশ্বাস পোষণ করা যে, সেগুলো সজীব ও বাকশক্তি সম্পন্ন এবং সেগুলোর এমন আধ্যাত্মিক শক্তি রয়েছে যা তাদের পুজারীদের ওপর অবতীর্ণ হয়। এই বিশ্বাসই তাদের পুজারীদের প্ররোচিত করেছিল যেন তারা সেগুলোর জন্য এমন সব মন্দির নির্মাণ করে যাতে সেগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ মূর্তি থাকে। এই শিরকের মূল ভিত্তি ছিল গ্রহ-নক্ষত্রকে সম্মান করা এবং সেগুলোর মাঝে সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্যের ধারণা করা, আর সেগুলোর পক্ষ হতে কল্যাণ ও অকল্যাণ অর্জিত হওয়ার বিশ্বাস রাখা। ২।

এই শিরকের পরিণতি—অর্থাৎ গ্রহ-নক্ষত্র পূজা এবং সেগুলোকে বিশ্ব পরিচালনাকারী ইলাহ মনে করা—দার্শনিক, সাবিঈ, মজুসী এবং অন্যদের মাঝে গিয়ে পৌঁছেছিল। তারা নক্ষত্ররাজির ব্যাপারে তেমন বিশ্বাসই পোষণ করত যেমন বিশ্বাস ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম)-এর জাতির পূর্বপুরুষেরা করত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আগমনের পূর্বে তারা জাযিরাতুল আরবের চারদিকে ছড়িয়ে ছিল। এরপর যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রেরিত হলেন, তখন মানুষের মাঝে গণকবিদ্যা বা ভাগ্যগণনা ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল। তাদের নিকট গ্রহ-নক্ষত্র এবং বৃষ্টির উদয়স্থলের ওপর বিশ্বাস রাখা এবং বিভিন্ন ঘটনাকে সেগুলোর সাথে সম্পৃক্ত করা অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ছিল। ফলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই সব ভ্রান্ত বিশ্বাস বাতিল করে দিলেন, তাঁর উম্মতের জন্য ঘোর অন্ধকারের মাঝে আলোকবর্তিকা প্রজ্বলিত করলেন, তাদের নিকট সত্যকে স্পষ্ট করলেন এবং ধ্বংসাত্মক ও সর্বনাশা বিষয়গুলোর অনুসরণ থেকে তাদের সতর্ক করলেন। তিনি তাদের এক উজ্জ্বল শুভ্র পথের ওপর রেখে গেছেন, যার রাতও দিনের মতো পরিষ্কার; পথভ্রষ্ট হওয়া লোক ছাড়া কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না।

যে সকল বিষয় থেকে তিনি তাঁর উম্মতকে সতর্ক করেছেন তার মধ্যে অন্যতম হলো অদৃশ্যের জ্ঞানের দাবি করা এবং এই বিশ্বাস রাখা যে...

--------------------------------------------

১. সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৩৬।

২. "মিফতাহু দারিস সাআদাহ": (২/১৯৭)।
(খণ্ড: ১) আত-তানজীম ওয়াল মুনাজ্জিমূনা ওয়া হুকমু যালিকা ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৮)
أن لهذه الكواكب تأثيراً في حوادث هذا العالم مما يزيد على الأمر الطبيعي المألوف، حماية لهم من الوقوع فيما وقعت فيه الأمم الماضية من الإشراك بهذه النجوم واتخاذها أرباباً من دون الله.

وبقي المسلمون على هذه الحال لا يدخل بينهم يدعي شيئاً من علم التنجيم إلا أخرسوه، وحذروا الناس منه، ولا تأتي مناسبة لذمه إلا وذموه، وذموا من يقتفي أثره، ولم يتركوا باب شر تدخل منه مثل هذه الأمور إلا أغلقوه وأحكموا رتاجه كما فعل عمر بن الخطاب رضي الله عنه عندما أمر جنوده الذين فتحوا الإسكندرية أن يحرقوا كتب الفلاسفة والمنجمين التي وجدوها هناك سدًّا لباب الشرك وعبادة الكواكب1.

ومضت السنون على هذا الحال، إلا أن أعداء الإسلام لا يتركون للإسلام صفاءه، ولأهله سموهم وتمكنهم، وهم على عادتهم يتربصون بالمسلمين الدوائر، فإذا وجدوا ثغرة فيهم، أو لمسوا غفلة منهم استغلوها غاية الاستغلال في تنفيذ مخططاتهم التي غايتها إبعاد المسلمين عن دينهم.

فوجد هؤلاء الثغرة لمنتظرة عندما فتح الخلفاء العباسيون باب تترجمة كتب الفلاسفة، فتسابق الفرس والصائبة والمجوس وغيرهم ليمدوا أيديهم لتحقيق ذلك، وليبذلوا الجهد والوقت في تنفيذ مخططاتهم، وتقربوا إلى الخلفاء بهذه الأعمال، فلما وجدوا لأنفسهم مكانة عندهم أرادوا منهم أن يسلكوا سلوك ملوك الفرس والروم في اتخاذ المنجمين مستشارين في جميع الأمور، واستطاعوا أن يفعلوا ذلك، فاتخذ بعض الخلفاء في بلاطهم منجمين إن لم يكن اعتقاداً فيهم فهو على الأقل استئناساً

--------------------------------------------

1 "مجموع فتاوى ابن تيمية": (17/41) .
নিশ্চয়ই এই নক্ষত্ররাজির এই জগতের ঘটনাবলির ওপর স্বাভাবিক ও পরিচিত বিষয়ের অতিরিক্ত প্রভাব রয়েছে—এমন ধারণা থেকে তাদের (মুসলিমদের) রক্ষা করার উদ্দেশ্যে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, যাতে তারা পূর্ববর্তী উম্মতদের মতো এই নক্ষত্রগুলোর সাথে শিরক করা এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে সেগুলোকে রব্ব হিসেবে গ্রহণ করার মতো অবস্থায় পতিত না হয়।

এবং মুসলমানরা এই অবস্থায় অবিচল ছিলেন যে, তাদের মাঝে জ্যোতিষশাস্ত্রের কোনো দাবিদার প্রবেশ করলেই তারা তাকে নিস্তব্ধ করে দিতেন এবং মানুষকে তার থেকে সতর্ক করতেন। যখনই তার নিন্দার কোনো উপলক্ষ আসত, তখনই তারা তার নিন্দা করতেন এবং যে তার পদাঙ্ক অনুসরণ করত তারও নিন্দা করতেন। তারা এ জাতীয় বিষয়গুলো প্রবেশের কোনো অকল্যাণের পথই খোলা রাখেননি, বরং তা বন্ধ করে দিয়েছেন এবং তার কপাট দৃঢ়ভাবে রুদ্ধ করেছেন; যেমনটি উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু করেছিলেন, যখন তিনি আলেকজান্দ্রিয়া বিজয়কারী তাঁর সৈন্যদের নির্দেশ দিয়েছিলেন সেখানে প্রাপ্ত দার্শনিক ও জ্যোতিষীদের বইগুলো পুড়িয়ে ফেলতে, যাতে শিরক ও নক্ষত্র পূজার পথ রুদ্ধ করা যায়।১

এভাবে বছরের পর বছর অতিবাহিত হলো। তবে ইসলামের শত্রুরা ইসলামের স্বচ্ছতা এবং এর অনুসারীদের মর্যাদা ও আধিপত্যকে অক্ষুণ্ণ থাকতে দিতে চায় না। তারা তাদের অভ্যাস অনুযায়ী মুসলমানদের বিপর্যয়ের প্রতীক্ষায় থাকে। যখনই তারা তাদের মাঝে কোনো দুর্বলতা খুঁজে পায় অথবা কোনো অসতর্কতা অনুভব করে, তখনই তারা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সেটির চরম সদ্ব্যবহার করে, যার মূল লক্ষ্য হলো মুসলমানদের তাদের দীন থেকে বিচ্যুত করা।

তারা সেই কাঙ্ক্ষিত দুর্বলতাটি খুঁজে পেল যখন আব্বাসীয় খলিফারা দার্শনিকদের কিতাবসমূহ অনুবাদের দ্বার উন্মোচন করলেন। ফলে পারস্যবাসী, সাবেয়ী, অগ্নিপূজারি এবং অন্যান্যরা তা বাস্তবায়নে নিজেদের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হলো এবং তাদের পরিকল্পনা সফল করতে শ্রম ও সময় ব্যয় করল। এই কর্মতৎপরতার মাধ্যমে তারা খলিফাদের নৈকট্য লাভ করল। যখন তারা খলিফাদের নিকট নিজেদের একটি অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হলো, তখন তারা চাইল যেন খলিফারা পারস্য ও রোমান সম্রাটদের মতো সমস্ত বিষয়ে জ্যোতিষীদের উপদেষ্টা হিসেবে গ্রহণ করার নীতি অনুসরণ করেন। তারা এতে সফলও হলো; ফলে কোনো কোনো খলিফা তাদের দরবারে জ্যোতিষীদের নিযুক্ত করলেন—যদি তাদের প্রতি বিশ্বাসের কারণে নাও হয়, তবে অন্তত সঙ্গলাভের খাতিরে।

--------------------------------------------

১ "মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহ": (১৭/৪১)।
(খণ্ড: ১) আত-তানজীম ওয়াল মুনাজ্জিমূনা ওয়া হুকমু যালিকা ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৯)
بأكاذيبهم، وصدق النبي صلى الله عليه وسلم حيث يقول: "أتتبعن سنن من كان قبلكم شبراً بشبر وذراعاً بذراع، حتى لو دخلوا حجر ضب تبعتموهم" 1.

وساهم بعض هؤلاء المنجمين في جمع كتب الفلاسفة الأقدمين، فكانوا يعطون العطاء الجزيل لمن يحضر شيئاً منها وإن كان قليلاً.

ودخلوا بين صفوف المسلمين وخالطوهم، ومال فريق من المنتسبين إلى الإسلام إليهم، وجعلوا أيديهم في أيديهم، ونصبوا أنفسهم الذراع الأيمن لهم، والستار المنيع الذي يتسترون خلفه، واتفقوا على إرجاع الجاهلية الأولى بين المسلمين، وناصروهم في كل مصر وعصر، واتخذوا طريقاً مموهاً لإقناع الناس بباطلهم، فادعوا أن هذه الكواكب صحائف الغيب تفتح لهم متى شاؤوا، ولما صارت لهم سلطة ودولة مكنوا الفلاسفة والمنجمين في الأرض، وقربوهم إليهم، وصرفوا عليهم الأموال تأييداً لهم، وإظهاراً لمعتقدهم.

وقام علماء المسلمين من كل حدب وصوب يردون على هذا الباطل، ويفندونه ويبينون فساده وهلاك من اعتنقه، كما قام من عرف باطلهم من شعراء وأدباء وغيرهم بالتشهير بهم، وإظهار كذبهم وإفكهم.

إلا أن بعض السذج من الناس انخدعوا بالأقوال البراقة وبالعبارات الجوفاء، فانجرفوا مع تيار هؤلاء، واتخذوا التنجيم صناعة، ومن النجوم مستنداً يتكئون عليه عند حلول الملمات، وما زالت هذه الطوائف في كل عصر تدعو إلى هذا الباطل وتوجه عدتها وعتادها للدعوة لهذه الصناعة، ولإقناع الناس بأن هذا السخف علم، وأن هذا الباطل حق، وأن هذه

--------------------------------------------

1 أخرجه البخاري: (9/185) ، كتاب الاعتصام، ومسلم: (8/57) ، كتاب العلم.
তাদের মিথ্যাচার দ্বারা। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সত্য বলেছেন যখন তিনি বলেন: "তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতিকে বিঘত বিঘত এবং হাত হাত অনুসরণ করবে, এমনকি তারা যদি কোনো গুঁইসাপের গর্তে প্রবেশ করে তবে তোমরাও তাদের অনুসরণ করবে।" ১।

এই জ্যোতিষীদের কেউ কেউ প্রাচীন দার্শনিকদের কিতাবসমূহ সংগ্রহে অবদান রেখেছিল। ফলে তারা এমন ব্যক্তিকে প্রচুর পারিতোষিক প্রদান করত যে এগুলোর কিছু অংশ নিয়ে আসত, যদিও তা সামান্য হতো।

তারা মুসলমানদের সারিতে প্রবেশ করল এবং তাদের সাথে মেলামেশা শুরু করল। ইসলামে অন্তর্ভুক্ত একদল লোক তাদের প্রতি ঝুঁকে পড়ল এবং তারা তাদের হাতে হাত মেলাল। তারা নিজেদেরকে তাদের ডান হাত এবং এক শক্তিশালী আবরণে পরিণত করল যার অন্তরালে তারা আত্মগোপন করত। তারা মুসলমানদের মধ্যে প্রাক-ইসলামী জাহেলিয়াত পুনরায় ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে একমত হলো এবং প্রতিটি জনপদে ও যুগে তাদের সাহায্য করল। তারা মানুষকে তাদের বাতিলের প্রতি প্রলুব্ধ করার জন্য এক প্রবঞ্চনামূলক পথ অবলম্বন করল এবং দাবি করল যে, এই নক্ষত্রসমূহ হলো গায়েবের পাতা যা তাদের জন্য যখন ইচ্ছা খুলে যায়। যখন তাদের হাতে ক্ষমতা ও রাষ্ট্র এল, তখন তারা জমিনে দার্শনিক ও জ্যোতিষীদের প্রতিষ্ঠিত করল এবং তাদেরকে নিজেদের নিকটবর্তী করে নিল। তারা তাদের আকিদা-বিশ্বাসকে সমর্থন ও প্রচারের উদ্দেশ্যে তাদের পেছনে অঢেল অর্থ ব্যয় করল।

সকল প্রান্ত থেকে মুসলিম উলামায়ে কেরাম এই বাতিল মতবাদের প্রতিবাদে সোচ্চার হলেন। তারা এটিকে খণ্ডন করলেন এবং এর অসারতা ও যারা এটি গ্রহণ করেছে তাদের ধ্বংসের বিষয়টি স্পষ্ট করে দিলেন। একইভাবে সেই সব কবি ও সাহিত্যিকগণও এগিয়ে এলেন যারা তাদের এই বাতিল পথ সম্পর্কে অবহিত ছিলেন। তারা তাদের মিথ্যাচার ও অপবাদ প্রকাশ করে তাদের স্বরূপ উন্মোচন করলেন।

তবে কিছু সরলমনা মানুষ তাদের চাকচিক্যময় কথা ও অন্তঃসারশূন্য বাক্যে বিভ্রান্ত হলো এবং তাদের স্রোতে গা ভাসিয়ে দিল। তারা জ্যোতিষবিদ্যাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করল এবং বিপদ-আপদের সময় নক্ষত্রসমূহকে অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করল। এই দলগুলো প্রতিটি যুগে এই বাতিলের দিকে আহ্বান জানিয়ে আসছে এবং এই পেশার প্রচারের জন্য এবং মানুষকে এই অসারতা যে জ্ঞান এবং এই বাতিল যে সত্য তা বোঝানোর জন্য তাদের সর্বস্ব নিয়োগ করছে। আর এই...

--------------------------------------------

১ এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন: (৯/১৮৫), কিতাবুল ইতিসাম; এবং মুসলিম: (৮/৫৭), কিতাবুল ইলম।
(খণ্ড: ১) আত-তানজীম ওয়াল মুনাজ্জিমূনা ওয়া হুকমু যালিকা ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১০)
الكواكب صحائف الغيب، وأنها المؤثرة في أحوال البشر، بل في أحوال الكون كله، بالاستدلالات الفاسدة أحياناً، وبالتمويهات والخداع أحياناً أخرى.

وفي العصر الحاضر، وبعد تقدم الوسائل الإعلامية ازداد نشاط هؤلاء المخادعين، وازداد انتشار هذا الجبت، وأصبح كل يدلي بدلوه في هذا المجال رجماً بالغيب وقولاً على الله بغير علم، وسخرت هذه الآلات وهذه الوسائل في خدمة هذه الصناعة.

- أسباب اختيار البحث:

ولقد رأيت أن تكون أطروحتي لنيل درجة الماجستير في هذا الموضوع، فجعلت عنوانها: "التنجيم والمنجمون، وحكم ذلك في الإسلام"، وكان اختياري لهذا الموضوع للأسباب التالية:

1- إن هؤلاء المنجمين استشرى خطرهم في هذا العصر، فلا تكاد تجد بلداً من البلدان إلا وتجد لهم فيه أثراً، فكان واجباً على كل مسلم الوقوف أمام هؤلاء، وبيان كذبهم بالحجة والبرهان.

2- رغبتي في رد أباطيل هؤلاء وكذبهم على الأنبياء، وبيان فساد استدلالهم.

3- إن هذا الموضوع لم يدرس دراسة علمية مفصلة –فيما أعلم- في العصر الحاضر، لذا رأيت أن الكتابة فيه جديرة بالبحث والاهتمام.

- خطة البحث:

وقد سرت في إنجاز هذا البحث على الخطة التالية:

قسمته إلى مقدمة وتمهيد وثلاثة أبواب وخاتمة.

ذكرت في المقدمة سبب اختياري لهذا الموضوع والخطة التي سرت عليها، ومنهجي في البحث.
গ্রহ-নক্ষত্রসমূহ হলো অদৃশ্যের লিপি এবং এগুলো মানুষের অবস্থার ওপর প্রভাব বিস্তারকারী, বরং পুরো মহাবিশ্বের অবস্থার ওপর প্রভাব বিস্তারকারী; কখনও তা ভ্রান্ত যুক্তির মাধ্যমে, আবার কখনও ছদ্মবেশ ও প্রতারণার মাধ্যমে।

বর্তমান যুগে এবং প্রচারমাধ্যমের অগ্রগতির ফলে এই প্রতারকদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই কুসংস্কারের বিস্তার ঘটেছে। এই ক্ষেত্রে প্রত্যেকেই অদৃশ্যের অনুমান ও জ্ঞান ছাড়াই আল্লাহর ব্যাপারে কথা বলার মাধ্যমে নিজেদের মতামত দিচ্ছে। আর এই শিল্প বা পেশার সেবায় এই সমস্ত যন্ত্র ও মাধ্যমকে নিয়োজিত করা হয়েছে।

- গবেষণা নির্বাচনের কারণসমূহ:

আমি স্থির করেছি যে আমার মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য থিসিসটি এই বিষয়ে হবে, তাই আমি এর শিরোনাম দিয়েছি: "জ্যোতিষশাস্ত্র ও জ্যোতিষীগণ এবং ইসলামে এর বিধান।" এই বিষয়টি আমি নিম্নোক্ত কারণগুলোর জন্য নির্বাচন করেছি:

১- বর্তমান যুগে এই জ্যোতিষীদের বিপদ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, এমন কোনো দেশ নেই বললেই চলে যেখানে তাদের প্রভাব খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাই এই সমস্ত লোকদের সামনে দাঁড়ানো এবং যুক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমে তাদের মিথ্যার বর্ণনা প্রদান করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২- নবীদের ওপর এই সমস্ত লোকদের আরোপিত মিথ্যাচার ও বাতিল বিষয়গুলো খণ্ডন করার এবং তাদের ভ্রান্ত যুক্তিনির্ভরতার বিষয়টি স্পষ্ট করার প্রবল আকাঙ্ক্ষা।

৩- বর্তমান যুগে আমার জানামতে—এই বিষয়টি নিয়ে কোনো বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক গবেষণা করা হয়নি। তাই আমি মনে করেছি যে, এই বিষয়ে লেখালেখি করা গবেষণা ও মনোযোগের দাবি রাখে।

- গবেষণার পরিকল্পনা:

এই গবেষণাটি সম্পন্ন করার জন্য আমি নিম্নোক্ত পরিকল্পনা অনুসরণ করেছি:

আমি এটিকে একটি ভূমিকা, প্রারম্ভিকা, তিনটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি।

ভুমিকায় আমি এই বিষয়টি নির্বাচনের কারণ, আমার অনুসৃত পরিকল্পনা এবং গবেষণার পদ্ধতি উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) আত-তানজীম ওয়াল মুনাজ্জিমূনা ওয়া হুকমু যালিকা ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১১)
أما التمهيد: فهو في بيان أن المتفرد بالخلق وتصريف الكون وعلم الغيب هو الله وحده، وفي بيان التعريف بالتنجيم وأقسامه. ويشتمل على ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: أن الله هو المتفرد بالخلق والمتصرف في الكون، والعالم بالغيب وحده.

المبحث الثاني: تعريف التنجيم.

المبحث الثالث: أقسام التنجيم.

- أما الباب الأول: ففي التنجيم في القديم والحاضر.

وفيه خمسة فصول:

الفصل الأول: التنجيم عند قوم إبراهيم.

ويتضمن مبحثين:

المبحث الأول: عبادة قوم إبراهيم للنجوم.

المبحث الثاني: لم يكن خليل الرحمن منجماً.

ويشتمل على ثلاثة مطالب:

- المطلب الأول: لم يكن خليل الرحمن متعلقاً بالكواكب في قوله تعالى: {فَنَظَرَ نَظْرَةً فِي النُّجُومِ} .

- المطلب الثاني: لم يكن خليل الرحمن منجماً في قول الله تعالى: {فَنَظَرَ نَظْرَةً فِي النُّجُومِ} .

- المطلب الثالث: لم يكن خليل الرحمن معتقداً أن للفلك تدبيراً في قوله تعالى: {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِي حَاجَّ إِبْرَاهِيمَ فِي رَبِّهِ أَنْ آتَاهُ اللَّهُ الْمُلْكَ} .

الفصل الثاني: تنزيه الأنبياء أن يكونوا منجمين.

الفصل الثالث: التنجيم عند العرب (في الجاهلية) .
উপক্রমণিকা প্রসঙ্গে: এতে বর্ণনা করা হয়েছে যে, সৃষ্টি, মহাবিশ্ব পরিচালনা এবং অদৃশ্যের জ্ঞানে একমাত্র আল্লাহই একক, এবং জ্যোতিষশাস্ত্র ও এর প্রকারভেদের পরিচয় প্রদান করা হয়েছে। এটি তিনটি পরিচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: সৃষ্টি ও মহাবিশ্ব পরিচালনায় আল্লাহ একক এবং একমাত্র তিনিই অদৃশ্যের জ্ঞানী।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জ্যোতিষশাস্ত্রের সংজ্ঞা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রকারভেদ।

- প্রথম অধ্যায় প্রসঙ্গে: প্রাচীন ও বর্তমান সময়ে জ্যোতিষশাস্ত্র।

এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবরাহীম (আ.)-এর সম্প্রদায়ের নিকট জ্যোতিষশাস্ত্র।

এটি দুটি উপ-পরিচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: ইবরাহীম (আ.)-এর সম্প্রদায়ের নক্ষত্র পূজা।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: খলীলুর রহমান জ্যোতিষী ছিলেন না।

এবং এটি তিনটি অনুচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করে:

- প্রথম অনুচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তিনি নক্ষত্রের দিকে একবার দৃষ্টিপাত করলেন}-এ খলীলুর রহমান নক্ষত্ররাজির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন না।

- দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তিনি নক্ষত্রের দিকে একবার দৃষ্টিপাত করলেন}-এর ভিত্তিতে খলীলুর রহমান জ্যোতিষী ছিলেন না।

- তৃতীয় অনুচ্ছেদ: মহান আল্লাহর বাণী: {তুমি কি সেই ব্যক্তির কথা ভেবে দেখেছ, যে ইবরাহীমের সাথে তার প্রতিপালক সম্বন্ধে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিল কারণ আল্লাহ তাকে রাজত্ব দিয়েছিলেন?}-এ খলীলুর রহমান মহাকাশ বা কক্ষপথের কোনো নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা রয়েছে বলে বিশ্বাস করতেন না।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নবীগণ জ্যোতিষী হওয়া থেকে পবিত্র।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আরবদের নিকট (জাহেলিয়াত যুগে) জ্যোতিষশাস্ত্র।
(খণ্ড: ১) আত-তানজীম ওয়াল মুনাজ্জিমূনা ওয়া হুকমু যালিকা ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১২)
الفصل الرابع: دور أعداء الإسلام في نشر التنجيم بين المسلمين.

ويشتمل على مبحثين:

المبحث الأول: دور أهل الكتاب وغيرهم من المشركين في نشر التنجيم بين المسلمين.

المبحث الثاني: دور الرافضة في نشر التنجيم بين المسلمين.

الفصل الخامس: التنجيم في العصر الحاضر.

- أما الباب الثاني: ففي أحكام التنجيم.

وفيه ستة فصول:

الفصل الأول: في الحكمة من خلق النجوم.

الفصل الثاني: في حكم الاستسقاء بالنجوم.

الفصل الثالث: في حكم تعلم علم الفلك.

الفصل الرابع: في الأدلة على فساد صناعة المنجمين، وأنها ظنون كاذبة.

الفصل الخامس: في شبهات المنجمين والرد عليها.

الفصل السادس: في حكم التنجيم.

ويشتمل على أربعة مباحث:

المبحث الأول: حكم العمل بالتنجيم.

المبحث الثاني: حكم تعلم علم النجوم دون العمل به.

المبحث الثالث: حكم إتيان المنجمين وتصديقهم بما يخبرون به.

المبحث الرابع: حكم الأجرة المأخوذة على صناعة التنجيم والواجب تجاه المنجمين.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মুসলিমদের মাঝে জ্যোতিষশাস্ত্র প্রসারে ইসলামের শত্রুদের ভূমিকা।

এটি দুটি অনুচ্ছেদ সম্বলিত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: মুসলিমদের মাঝে জ্যোতিষশাস্ত্র প্রসারে আহলে কিতাব এবং অন্যান্য মুশরিকদের ভূমিকা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মুসলিমদের মাঝে জ্যোতিষশাস্ত্র প্রসারে রাফেযীদের ভূমিকা।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: বর্তমান যুগে জ্যোতিষশাস্ত্র।

- দ্বিতীয় অধ্যায়: জ্যোতিষশাস্ত্রের বিধানাবলী প্রসঙ্গে।

এতে ছয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: নক্ষত্র সৃষ্টির হিকমত প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নক্ষত্রের মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনার বিধান প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জ্যোতির্বিজ্ঞান শিক্ষার বিধান প্রসঙ্গে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: জ্যোতিষীদের পেশার অসারতার প্রমাণাদি এবং তা যে নিছক মিথ্যা ধারণা, সে প্রসঙ্গে।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: জ্যোতিষীদের সংশয়সমূহ এবং সেগুলোর খণ্ডন প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: জ্যোতিষশাস্ত্রের বিধান প্রসঙ্গে।

এটি চারটি অনুচ্ছেদ সম্বলিত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: জ্যোতিষশাস্ত্র চর্চা বা প্রয়োগের বিধান।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: প্রয়োগ করা ব্যতিরেকে জ্যোতিষশাস্ত্র শিক্ষার বিধান।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: জ্যোতিষীদের নিকট গমণ এবং তারা যা বলে তাতে তাদের বিশ্বাস করার বিধান।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: জ্যোতিষী পেশার মাধ্যমে অর্জিত পারিশ্রমিকের বিধান এবং জ্যোতিষীদের ব্যাপারে করণীয়।
(খণ্ড: ১) আত-তানজীম ওয়াল মুনাজ্জিমূনা ওয়া হুকমু যালিকা ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
أما الباب الثالث: ففيما يلحق بالتنجيم، وما قد يظن أنه منه، وهو ليس منه.

وفيه فصلان:

الفصل الأول: ما يلحق بالتنجيم.

ويشتمل على مبحثين:

المبحث الأول: حروف أبي جاد، والاستدلال بها على المغيبات.

المبحث الثاني: الخط على الرمل، وما يلحق به، والاستدلال به على المغيبات.

الفصل الثاني: أمور ليست من التنجيم، وقد يظن أنها منه:

ويشتمل على مبحثين:

المبحث الأول: توقع حدوث الكسوف والخسوف.

المبحث الثاني: توقع أحوال الجو.

ثم الخاتمة: وتضمنت أهم النتائج التي توصلت إليها في هذا المبحث.

منهج البحث:

وقد سرت في بحثي هذا على منهج رسمته لنفسي، وهو كما يلي:

الأول: قمت بعزو الآيات القرآنية التي وردت في الرسالة إلى مواضعها بذكر اسم السورة ورقم الآية.

الثاني: خرجت الأحاديث من كتب السنن، ونقلت حكم العلماء على كل الأحاديث، إلا إذا كان الحديث في "الصحيحين" أو أحدهما فأكتفي بتخريجه لصحة الأحاديث فيهما، كما خرجت كثيراً من الآثار من كتب السنن، ووجدت بعضاً منها في غيرها، فأوردتها لموافقتها الحق.

الثالث: قمت بترجمة الأعلام الوارد ذكرهم في الرسالة.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জ্যোতির্বিদ্যার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি এবং যা এর অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করা হতে পারে, অথচ তা এর অন্তর্ভুক্ত নয়।

এতে দুটি অধ্যায় রয়েছে:

প্রথম অধ্যায়: যা জ্যোতির্বিদ্যার সাথে সংশ্লিষ্ট।

এটি দুটি পরিচ্ছেদকে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আবজাদ বর্ণমালা এবং এর মাধ্যমে অদৃশ্যের বিষয়ে দলীল গ্রহণ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বালির ওপর রেখা টানা ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি এবং এর মাধ্যমে অদৃশ্যের বিষয়ে দলীল গ্রহণ।

দ্বিতীয় অধ্যায়: এমন সব বিষয় যা জ্যোতির্বিদ্যার অন্তর্ভুক্ত নয়, তবে সেগুলো এর অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করা হতে পারে:

এটি দুটি পরিচ্ছেদকে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ ঘটার পূর্বাভাস।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আবহাওয়ার অবস্থার পূর্বাভাস।

অতঃপর উপসংহার: এটি এই গবেষণায় প্রাপ্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলো অন্তর্ভুক্ত করে।

গবেষণা পদ্ধতি:

আমি আমার এই গবেষণায় নিজের জন্য নির্ধারিত একটি পদ্ধতির ওপর চলেছি, যা নিম্নরূপ:

প্রথমত: আমি এই গবেষণাপত্রে উল্লেখিত কুরআনের আয়াতগুলোকে সূরার নাম ও আয়াত নম্বর উল্লেখ করার মাধ্যমে সেগুলোর মূল স্থানে নির্দেশ করেছি।

দ্বিতীয়ত: আমি সুনান গ্রন্থসমূহ থেকে হাদীসগুলোর তাখরীজ করেছি এবং প্রতিটি হাদীসের ব্যাপারে আলেমদের হুকুম উদ্ধৃত করেছি; তবে হাদীসটি যদি "সহীহাইন" বা এর কোনো একটিতে থাকে, তবে সেগুলোর হাদীস সহীহ হওয়ার কারণে আমি শুধু তাখরীজ করাই যথেষ্ট মনে করেছি। অনুরূপভাবে আমি সুনান গ্রন্থসমূহ থেকে অনেক আছার তাখরীজ করেছি এবং সেগুলোর কিছু অন্য গ্রন্থগুলোতেও পেয়েছি, যা সত্যের সাথে সংগতিপূর্ণ হওয়ায় উল্লেখ করেছি।

তৃতীয়ত: আমি এই গবেষণাপত্রে উল্লেখিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সংক্ষিপ্ত জীবনী বা পরিচিতি প্রদান করেছি।
(খণ্ড: ১) আত-তানজীম ওয়াল মুনাজ্জিমূনা ওয়া হুকমু যালিকা ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
الرابع: اجتهدت في بيان معنى الألفاظ والعبارات الغامضة الواردة في الرسالة.

الخامس: قمت بشرح بعض المصطلحات التي يرد ذكرها في البحث.

السادس: جعلت أول صحيفة في الباب في ذكر اسم الباب واسم الفصول التي تندرج تحته.

السابع: التزمت أن لا استدل إلا بالأحاديث الصحيحة، إلا إذا كان ثم دليل ضعيف يوافق الأدلة الصحيحة فإني قد أورده مع بيان ضعفه.

الثامن: حاولت توثيق أقوالهم الدالة على فساد صناعتهم من كتبهم، وقد وجدت الكثير منها، وما لم أجده اكتفيت بالإحالة إلى الكتب التي ذكرت ذلك.

التاسع: قمت بالرد على أدلة المنجمين بنصوص الكتاب والسنة والأدلة والعقلية ما أمكن ذلك، وراعيت في ذكر شبهاتهم التي استندوا عليها أن أوثقها من مصادرهم ما أمكن ذلك.

العاشر: ناقشت الشبة التي استدلوا بها، إن كانت من القرآن بينت وجه فساد استدلالهم مع بيان المعنى الصحيح للآية، وإن كانت أحاديث عاملتها معاملة حديثية، فأورد شبهتهم التي استدلوا بها، ثم أبين درجتها من الصحة والضعف، فإن كانت صحيحة وجهتها إلى المعنى الصحيح الذي يظهر من النص مع بيان فساد استدلالهم.

الحادي عشر: بينت دور الرافضة في نشر التنجيم، واعتمدت في ذلك على أقوالهم، وعلى الكتب المشهورة عندهم.

الثاني عشر: إذا استخلصت فائدة من نص ما، أو كتاب ما، ولم أقف على قول لأحد في ذلك فإني أهبر بكلمة: (مستفاد من كذا) .
চতুর্থত: আমি এই রিসালায় আগত অস্পষ্ট শব্দ ও বাক্যাংশসমূহের অর্থ স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছি।

পঞ্চমত: আমি গবেষণায় উল্লিখিত কিছু পারিভাষিক শব্দের ব্যাখ্যা প্রদান করেছি।

ষষ্ঠত: প্রতিটি অধ্যায়ের প্রথম পৃষ্ঠায় সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ের নাম এবং এর অধীনে থাকা পরিচ্ছেদসমূহের নাম উল্লেখ করেছি।

সপ্তমত: আমি শুধুমাত্র সহীহ হাদীসের মাধ্যমে দলিল প্রদানের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছি; তবে যদি কোনো দুর্বল দলিল সহীহ দলিলের অনুকূলে থাকে, তবে আমি তার দুর্বলতা বর্ণনাসাপেক্ষে তা উল্লেখ করেছি।

অষ্টমত: তাদের পেশার অসারতা প্রমাণকারী বক্তব্যগুলো তাদের নিজস্ব কিতাবসমূহ থেকে উদ্ধৃত করার চেষ্টা করেছি। আমি এ ধরনের অনেক বক্তব্য পেয়েছি, আর যা পাইনি সেক্ষেত্রে আমি সেগুলোর বর্ণনাকারী কিতাবসমূহের উদ্ধৃতি প্রদান করেই ক্ষান্ত হয়েছি।

নবমত: জ্যোতিষীদের দলিলের জবাব কুরআন ও সুন্নাহর নস এবং যৌক্তিক প্রমাণের মাধ্যমে যথাসম্ভব প্রদান করেছি। তারা যেসব সংশয়ের ওপর ভিত্তি করেছে, সেগুলো বর্ণনার ক্ষেত্রে যথাসম্ভব তাদের মূল উৎস থেকে উদ্ধৃত করার বিষয়টি লক্ষ্য রেখেছি।

দশমত: তারা দলিল হিসেবে যে সংশয়গুলো পেশ করেছে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। যদি তা কুরআন থেকে হয়, তবে তাদের দলিল পেশ করার অসারতা এবং আয়াতের সঠিক অর্থ বর্ণনা করেছি। আর যদি হাদীস হয়, তবে হাদীসশাস্ত্রের মূলনীতি অনুযায়ী তা বিচার করেছি; এক্ষেত্রে তাদের পেশকৃত সংশয়টি উল্লেখ করে সেটির বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতার স্তর বর্ণনা করেছি। যদি তা সহীহ হয়, তবে নসের আলোকে ফুটে ওঠা সঠিক অর্থের দিকে তা ধাবিত করেছি এবং তাদের অপব্যাখ্যার অসারতা স্পষ্ট করেছি।

একাদশত: জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রসারে রাফেজীদের ভূমিকা বর্ণনা করেছি এবং এক্ষেত্রে তাদের বক্তব্য ও তাদের নিকট প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর করেছি।

দ্বাদশত: যদি কোনো নস বা কিতাব থেকে কোনো শিক্ষা আহরণ করি এবং সে বিষয়ে অন্য কারো বক্তব্য না পাই, তবে আমি ‘অমুক থেকে আহরিত’ বাক্যটি উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) আত-তানজীম ওয়াল মুনাজ্জিমূনা ওয়া হুকমু যালিকা ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
الثالث عشر: قمت بعمل فهرس للآيات القرآنية، وآخر للأحاديث النبوية، وثالث للآثار، ورابع للأعلام المترجم لهم.

الرابع عشر: قمت بعمل فهرس للمصادر والمراجع التي رجعت لها.

الخامس عشر: ذيلت البحث بعمل فهرس تفصيلي للموضوعات.

وقد بذلت في كتابة بحثي هذا الوقت والجهد العظيمين، ونظراً لأهمية الموضوع فقد كان يتطلب الوقوف على مصادر المنجمين حتى يكون الرد عليهم أبلغ، والحجة عليهم أقوى، ومن فمك أدينك، فعزمت على السفر والتنقيب عن مصادرهم، فذهبت إلى العراق ومصر، وحصلت على كتب من تركيا، كما زرت معهد الملك فيصل للدراسات الإسلامية بالرياض، وزرت بعض الجامعات، كجامعة أم القرى وجامعة الملك عبد العزيز مما كون عندي مجموعة من كتب المنجمين، وفكرة واضحة عن المواضيع التي تعرضت لها في هذا البحث ثم كتبت هذا البحث مستعيناً بالله، ومحاولاً تحري العدل والحق في أقوالي وأحكامي، متبعاً قول الله تعالى: {وَلا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَى أَلَّا تَعْدِلُوا اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَى} 1، فما كان في هذا البحث من حق وصواب فهو من توفيق الله الذي لا تعد آلاؤه ولا تحصى، وما كان فيه من خطأ وسهو فمن نفسي ومن الشيطان، والله ورسوله بريئان منه، وإني لرجاع إلى الحق إن شاء الله.

--------------------------------------------

1 سورة المائدة، الآية: 8.
ত্রয়োদশ: আমি কুরআনের আয়াতসমূহের একটি সূচিপত্র তৈরি করেছি, দ্বিতীয়টি নবিজির হাদিসসমূহের জন্য, তৃতীয়টি আসার (সাহাবী ও তাবিঈদের বাণী)-এর জন্য এবং চতুর্থটি যে সকল বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনী আলোচনা করা হয়েছে তাদের জন্য।

চতুর্দশ: আমি যে সকল উৎস ও রেফারেন্সের সাহায্য গ্রহণ করেছি তার একটি সূচিপত্র তৈরি করেছি।

পঞ্চদশ: আমি আলোচনার শেষে বিষয়বস্তুর একটি বিস্তারিত সূচিপত্র যুক্ত করেছি।

এই গবেষণাটি রচনার ক্ষেত্রে আমি প্রচুর সময় এবং শ্রম ব্যয় করেছি। আর বিষয়ের গুরুত্ব বিবেচনা করে জ্যোতিষীদের মূল উৎসসমূহ খতিয়ে দেখার প্রয়োজন ছিল, যাতে তাদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া যায় এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণসমূহ আরও শক্তিশালী হয়; যেন 'তোমার মুখ দিয়েই তোমাকে দোষী সাব্যস্ত করা যায়'। তাই আমি তাদের মূল উৎসগুলো খুঁজে বের করার জন্য সফর ও অনুসন্ধানের সংকল্প করি। ফলে আমি ইরাক ও মিশরে যাই এবং তুরস্ক থেকে কিছু কিতাব সংগ্রহ করি। পাশাপাশি আমি রিয়াদের বাদশাহ ফয়সাল ইনস্টিটিউট ফর ইসলামিক স্টাডিজ পরিদর্শন করেছি এবং কিছু বিশ্ববিদ্যালয় যেমন উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাদশাহ আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়েও গিয়েছি। যার ফলে আমার নিকট জ্যোতিষীদের এক বিশাল কিতাব সংগ্রহ জমা হয়েছে এবং এই গবেষণায় আমি যে সকল বিষয়ে আলোচনা করেছি সে সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা অর্জিত হয়েছে। এরপর আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে এবং আমার বক্তব্য ও সিদ্ধান্তসমূহের ক্ষেত্রে ন্যায় ও সত্যের অন্বেষণ করার চেষ্টা করে এই গবেষণাটি রচনা করেছি; এক্ষেত্রে আমি মহান আল্লাহর বাণীর অনুসরণ করেছি: "কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন তোমাদেরকে সুবিচার বর্জন করতে প্ররোচিত না করে; তোমরা সুবিচার করো, এটিই তাকওয়ার অধিকতর নিকটবর্তী।" সুতরাং এই গবেষণার মধ্যে যা কিছু সত্য ও সঠিক রয়েছে, তা আল্লাহরই অনুগ্রহে হয়েছে যাঁর নিয়ামতসমূহ গুনে শেষ করা যাবে না। আর এর মধ্যে যা কিছু ভুলভ্রান্তি বা বিচ্যুতি রয়েছে, তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে; আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল এ থেকে মুক্ত। আর ইনশাআল্লাহ আমি সর্বদা সত্যের দিকে ফিরে আসতে প্রস্তুত।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৮।
(খণ্ড: ১) আত-তানজীম ওয়াল মুনাজ্জিমূনা ওয়া হুকমু যালিকা ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌تمهيد

‌‌المطلب الأول: أن الله هو المتفرد بالخلق، والمتصرف في الكون، والعالم بالغيب وحده

…

التمهيد

ويشتمل على ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: إن الله هو المتفرد بالخلق، والمتصرف في الكون، والعالم بالغيب وحده.

المبحث الثاني: تعريف التنجيم.

المبحث الثالث: أقسام التنجيم.
ভূমিকা

প্রথম অন্বেষ্য বিষয়: আল্লাহই সৃষ্টিতে অদ্বিতীয়, মহাবিশ্বের পরিচালক এবং একমাত্র অদৃশ্যের পরিজ্ঞাত

…

ভূমিকা

এটি তিনটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহই সৃষ্টিতে অদ্বিতীয়, মহাবিশ্বের পরিচালক এবং একমাত্র অদৃশ্যের পরিজ্ঞাত।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জ্যোতিষশাস্ত্রের সংজ্ঞা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জ্যোতিষশাস্ত্রের প্রকারভেদ।
(খণ্ড: ১) আত-তানজীম ওয়াল মুনাজ্জিমূনা ওয়া হুকমু যালিকা ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
المبحث الأول: أن الله قو المتفرد بالخلق، والمتصرف في الكون، والعالم بالغيب وحده

وفيه مسألتان:

- أما المسألة الأولى: وهي أن الله هو المتفرد بالخلق، والمتصرف في الكون:

فقد بينها الله تعالى في كتابه العزيز أتم بيان، وضمن هذا البيان أدلة عقلية منطقية تثبت إثباتاً لا غمةض فيه أن الله هو المتفرد بالخلق والتدبير وحده دون شريك.

وضمن هذه النصوص منهجاً واضحاً بطريق برهاني لا يسع الخصم إلا التسليم له.

وقد قسمت الآيات الواردة في هذه المسألة بحسب دلالتها إلى ما يأتي:

أولاً: الاستدلال على انفراد الله بالخلق:

وجه الله سبحانه خطابه للناس بأنه خلق جميع ما في الأرض من الموجودات لأجلكم، لتنتفعوا بها في دنياكم، وتستدلوا بها على مولاكم1، فقال: {هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُمْ مَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعاً ثُمَّ اسْتَوَى إِلَى السَّمَاءِ فَسَوَّاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} 2.

--------------------------------------------

1 "تفسير أبي السعود": (1/96) .

2 سورة البقرة، الآية: 29.
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল্লাহ সৃষ্টিতে একচ্ছত্র, মহাবিশ্বের পরিচালক এবং তিনিই একমাত্র অদৃশ্যের জ্ঞাতা।

আর এতে দুটি বিষয় রয়েছে:

- প্রথম বিষয়টি হলো: আল্লাহ সৃষ্টিতে একচ্ছত্র এবং মহাবিশ্বের পরিচালক।

আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্মানিত কিতাবে বিষয়টি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। এই বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যৌক্তিক ও তর্কমূলক প্রমাণাদি, যা কোনো অস্পষ্টতা ছাড়াই প্রমাণ করে যে, আল্লাহ কোনো শরিক ছাড়াই সৃষ্টি ও পরিচালনায় একচ্ছত্র।

এই পাঠ্যগুলোর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এমন এক সুষ্পষ্ট পদ্ধতি ও শক্তিশালী প্রমাণ, যা মেনে নেওয়া ছাড়া প্রতিপক্ষের আর কোনো উপায় থাকে না।

এই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত আয়াতগুলোকে সেগুলোর নির্দেশের ওপর ভিত্তি করে নিম্নোক্তভাবে ভাগ করা হয়েছে:

প্রথমত: সৃষ্টির ক্ষেত্রে আল্লাহর একচ্ছত্র আধিপত্যের প্রমাণ:

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মানুষের প্রতি তাঁর সম্বোধন পেশ করেছেন যে, তিনি পৃথিবীতে বিদ্যমান সবকিছু তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা দুনিয়াতে তা দ্বারা উপকৃত হতে পারো এবং তোমাদের রবের অস্তিত্বের প্রমাণ পেতে পারো। তিনি ইরশাদ করেছেন: "তিনিই সেই সত্তা, যিনি তোমাদের জন্য জমিনে যা কিছু আছে তার সব সৃষ্টি করেছেন। এরপর তিনি আকাশের দিকে উঠলেন, অতঃপর আকাশমণ্ডলকে সাতটি আসমানে সুবিন্যস্ত করলেন। আর তিনি সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত।"

--------------------------------------------

১ "তাফসির আবি আল-সাউদ": (১/৯৬)।

২ সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২৯।
(খণ্ড: ১) আত-তানজীম ওয়াল মুনাজ্জিমূনা ওয়া হুকমু যালিকা ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২০)
ووجه الأنظار إلى أنه هو المتفرد بخلق السموات والأرض وما فيهن دون كل ما سواه1، بقوله: {وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ وَيَوْمَ يَقُولُ كُنْ فَيَكُونُ قَوْلُهُ الْحَقُّ وَلَهُ الْمُلْكُ يَوْمَ يُنْفَخُ فِي الصُّورِ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ وَهُوَ الْحَكِيمُ الْخَبِيرُ} 2.

ولم يذكر خلق كل ما في السموات والأرض على العموم فقط، بل بين المقصود من هذا العموم بأنه شامل لما خلق فيهما من جليل ودقيق، مما يطلق عليه اسم (شيء) ، ليدلهم ذلك على وحدانيته تعالى3.

قال تعالى: {أَوَلَمْ يَنْظُرُوا فِي مَلَكُوتِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا خَلَقَ اللَّهُ مِنْ شَيْءٍ وَأَنْ عَسَى أَنْ يَكُونَ قَدِ اقْتَرَبَ أَجَلُهُمْ فَبِأَيِّ حَدِيثٍ بَعْدَهُ يُؤْمِنُونَ} 4.

وبين سهولة الخلق عليه، وأنه لم يكرثه ولم يعجزه خلق شيء5، فقال: {أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللَّهَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَمْ يَعْيَ بِخَلْقِهِنَّ بِقَادِرٍ عَلَى أَنْ يُحْيِيَ الْمَوْتَى بَلَى إِنَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} 6.

ثم لفت الانتباه إلى أنه خالق هذا الكون كله دون شريك، فهو المنفرد بخلق كل شيء، فالأشياء كلها خلقه وملكه، وعلى المماليك طاعة مالكهم بإفراده بالعبادة والخضوع له7، فقال: {الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَمْ

--------------------------------------------

1 "تفسير أبي السعود": (7/241) .

2 سورة الأنعام، الآية: 73.

3 "تفسير أبي السعود": (2/326) .

4 سورة الأعراف، الآية: 185.

5 "تفسير ابن كثير": (4/171) .

6 سورة الأحقاف، الآية: 33.

7 انظر: "تفسير الطبري": (18/180) .
তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে, তিনি ব্যতীত আর অন্য কেউ নয়, বরং তিনিই আসমান ও জমিন এবং এগুলোর মধ্যে যা কিছু আছে তা সৃষ্টিতে একক ১, তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "আর তিনিই যথাযথভাবে আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন। আর যেদিন তিনি বলবেন, 'হও', তখন তা হয়ে যাবে। তাঁর কথা সত্য এবং যেদিন শিঙায় ফুঁক দেওয়া হবে সেদিন রাজত্ব হবে তাঁরই। তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা এবং তিনি প্রজ্ঞাময়, সম্যক অবহিত।" ২।

তিনি কেবল সাধারণভাবে আসমানসমূহ ও জমিনে বিদ্যমান সবকিছুর সৃষ্টির কথা উল্লেখ করেননি, বরং এই সাধারণত্বের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেছেন যে, এর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই সব মহৎ ও সূক্ষ্ম বিষয় যা তিনি এগুলোর মধ্যে সৃষ্টি করেছেন, যার ওপর 'বস্তু' (শাই) নাম প্রযুক্ত হয়; যাতে এটি তাদেরকে মহান আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি পথপ্রদর্শন করে ৩।

মহান আল্লাহ বলেন: "তারা কি আসমানসমূহ ও জমিনের রাজত্ব এবং আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন সে সম্পর্কে গভীরভাবে চিন্তা করে না? আর সম্ভবত তাদের নির্ধারিত সময় (মৃত্যু) নিকটবর্তী হয়ে গেছে; সুতরাং এরপর তারা আর কোন কথার ওপর ঈমান আনবে?" ৪।

আর তিনি তাঁর জন্য সৃষ্টি করার সহজতা বর্ণনা করেছেন এবং কোনো কিছুর সৃষ্টিই তাঁকে ক্লান্ত বা অক্ষম করেনি ৫, তিনি বলেছেন: "তারা কি লক্ষ্য করে না যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ—যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং এগুলো সৃষ্টি করতে কোনো প্রকার ক্লান্তি বোধ করেননি—তিনি মৃতদেরকে জীবিত করতে সক্ষম? অবশ্যই হ্যাঁ, নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।" ৬।

অতঃপর তিনি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যে, তিনিই কোনো অংশীদার ছাড়াই এই সমগ্র মহাবিশ্বের স্রষ্টা; সুতরাং তিনিই সবকিছু সৃষ্টিতে একক। সমস্ত বস্তু তাঁর সৃষ্টি ও মালিকানাধীন। আর গোলামদের জন্য আবশ্যক হলো তাদের মালিকের আনুগত্য করা—একমাত্র তাঁরই ইবাদত ও তাঁর প্রতি বিনয়াবনত হওয়ার মাধ্যমে ৭। তিনি বলেন: "যাঁর রয়েছে আসমানসমূহ ও জমিনের রাজত্ব এবং তিনি কোনো

--------------------------------------------

১ "তাফসীরে আবিস সাউদ": (৭/২৪১)।

২ সূরা আল-আনআম, আয়াত: ৭৩।

৩ "তাফসীরে আবিস সাউদ": (২/৩২৬)।

৪ সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ১৮৫।

৫ "তাফসীরে ইবনে কাসীর": (৪/১৭১)।

৬ সূরা আল-আহকাফ, আয়াত: ৩৩।

৭ দেখুন: "তাফসীরে তাবারী": (১৮/১৮০)।
(খণ্ড: ১) আত-তানজীম ওয়াল মুনাজ্জিমূনা ওয়া হুকমু যালিকা ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২১)
يَتَّخِذْ وَلَداً وَلَمْ يَكُنْ لَهُ شَرِيكٌ فِي الْمُلْكِ وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ فَقَدَّرَهُ تَقْدِيراً} 1.

وأن الله الذي لكم كل شيء وحده، وجعل في السماء والأرض معايشكم وأقواتكم، وأقوات أنعامكم التي بها حياتكم إلى غير ذلك من الأمور التي فيها مصالحكم ومنافعكم: هو المستحق لشكر هذه النعم وحده، لأنه الذي خلقها لكم2، قال تعالى: {الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَجَعَلَ الظُّلُمَاتِ وَالنُّورَ ثُمَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِرَبِّهِمْ يَعْدِلُونَ} 3.

ثانياً: الاستدلال على تدبير الله وحده لهذا الكون، وأن جميع الخلق مقهورون خاضعون لله تعالى:

يمتن الله على الناس بتسخير كل ما في السموات والأرض من الكواكب والجبال والبحار والأنعام والرياح، وجميع ما ينتفع به، لهم من عنده وحده لا شريك له4، قال تعالى: {وَسَخَّرَ لَكُمْ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعاً مِنْهُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآياتٍ لِقَوْمٍ يَتَفَكَّرُونَ} 5.

وبهذا تبين أن هذا الكون كله مسخر لله تعالى، خاضع لأمره6، قال تعالى: {إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثاً وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ أَلا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ} 7.

--------------------------------------------

1 سورة الفرقان، الآية: 2.

2 انظر: "تفسير الطبري": (5/144) .

3 سورة الأنعام، الآية: 1.

4 "تفسير ابن كثير": (4/148) .

5 سورة الجاثية، الآية: 13.

6 "تفسير الطبري": (8/206) .

7 سورة الأعراف، الآية: 54.
...সন্তান গ্রহণ করেননি এবং রাজত্বে তাঁর কোনো শরীক নেই। তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেছেন এবং সেগুলোকে যথাযথভাবে পরিমিত করেছেন। ১।

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলাই তোমাদের জন্য সবকিছুর মালিক, এবং তিনি আসমান ও জমিনে তোমাদের জীবনোপকরণ ও খাদ্য এবং তোমাদের গবাদি পশুর খাদ্যের ব্যবস্থা করেছেন যার মাধ্যমে তোমাদের জীবন পরিচালিত হয়, এছাড়াও অন্যান্য বিষয়াবলী যাতে তোমাদের কল্যাণ ও উপকার রয়েছে: একমাত্র তিনিই এই নিয়ামতসমূহের কৃতজ্ঞতা পাওয়ার যোগ্য, কারণ তিনিই এগুলো তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন। ২। মহান আল্লাহ বলেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন সৃষ্টি করেছেন এবং অন্ধকার ও আলো সৃষ্টি করেছেন; এরপরও যারা কুফরি করে, তারা তাদের রবের সমকক্ষ দাঁড় করায়।" ৩।

দ্বিতীয়ত: এই মহাবিশ্ব পরিচালনায় আল্লাহ তাআলার একত্বের প্রমাণ এবং সকল সৃষ্টি আল্লাহ তাআলার নিকট পরাভূত ও অনুগত হওয়ার দলিল:

আল্লাহ মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন আসমান ও জমিনের সবকিছু যেমন—নক্ষত্ররাজি, পাহাড়-পর্বত, সমুদ্র, গবাদি পশু, বাতাস এবং যা কিছু দ্বারা তারা উপকৃত হয়, তা তাঁর পক্ষ থেকে তাদের জন্য অনুগত করে দেওয়ার মাধ্যমে, যাতে তাঁর কোনো শরীক নেই। ৪। মহান আল্লাহ বলেন: "আর তিনি তোমাদের জন্য বশীভূত করে দিয়েছেন আসমানসমূহে যা আছে এবং জমিনে যা আছে—সবই তাঁর পক্ষ থেকে। নিশ্চয়ই এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।" ৫।

এর দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, এই সমগ্র মহাবিশ্ব আল্লাহ তাআলার নিকট বশীভূত এবং তাঁর আদেশের অনুগত। ৬। মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের রব আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। তিনি রাতকে দিন দ্বারা আচ্ছাদিত করেন, যা একে দ্রুত অনুসরণ করে; আর সূর্য, চাঁদ ও নক্ষত্ররাজি তাঁরই আদেশের অনুগত। জেনে রেখো, সৃষ্টি ও আদেশ তাঁরই। জগতসমূহের রব আল্লাহ অতি বরকতময়।" ৭।

--------------------------------------------

১. সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ২।

২. দেখুন: "তাফসীরুত তাবারী": (৫/১৪৪)।

৩. সূরা আল-আনআম, আয়াত: ১।

٤. "তাফসীরু ইবনে কাসীর": (৪/১৪৮)।

৫. সূরা আল-জাছিয়াহ, আয়াত: ১৩।

৬. দেখুন: "তাফসীরুত তাবারী": (৮/২০৬)।

৭. সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ৫৪।
(খণ্ড: ১) আত-তানজীম ওয়াল মুনাজ্জিমূনা ওয়া হুকমু যালিকা ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২২)
إذا اتضح ذلك: فاعلم أن الله هو المتفرد بالاختيار، وأنه ليس له في ذلك منازع ولا معقب، فالأمور كلها خيرها وشرها بيده، ومرجعها إليه، ما شاء كان، وما لم يشأ لم يكن1، قال تعالى: {وَرَبُّكَ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَيَخْتَارُ مَا كَانَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ سُبْحَانَ اللَّهِ وَتَعَالَى عَمَّا يُشْرِكُونَ} 2.

وهو مصرف الأمور ومدبرها، ما من شيء إلا ويجري على تقديره، قال تعالى: {وَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ * إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَالْفُلْكِ الَّتِي تَجْرِي فِي الْبَحْرِ بِمَا يَنْفَعُ النَّاسَ وَمَا أَنْزَلَ اللَّهُ مِنَ السَّمَاءِ مِنْ مَاءٍ فَأَحْيَا بِهِ الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَبَثَّ فِيهَا مِنْ كُلِّ دَابَّةٍ وَتَصْرِيفِ الرِّيَاحِ وَالسَّحَابِ الْمُسَخَّرِ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ لَآياتٍ لِقَوْمٍ يَعْقِلُونَ} 3.

وقال سبحانه: {إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يُدَبِّرُ الْأَمْرَ مَا مِنْ شَفِيعٍ إِلَّا مِنْ بَعْدِ إِذْنِهِ ذَلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ أَفَلا تَذَكَّرُونَ} 4.

وإن كل من السموات والأرض استسلم لله تعالى طوعاً وكرهاً، فالمؤمن مستسلم بقلبه وقالبه لله، والكافر مستسلم لله كرهاً، فإنه تحت التسخير والقهر والسلطان العظيم الذي لا يخالف ولا يمانع5، قال

--------------------------------------------

1 "تفسير ابن كثير": (3/397) .

2 سورة القصص، الآية: 68.

3 سورة البقرة، الآيتان: 163، 164.

4 سورة يونس، الآية: 3.

5 "تفسير ابن كثير": (1/378) .
যখন বিষয়টি স্পষ্ট হলো: তবে জেনে রাখুন যে, আল্লাহ নির্বাচন করার ক্ষেত্রে একক, এবং এই বিষয়ে তাঁর কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী বা রদবদলকারী নেই। সকল বিষয়—তার ভালো ও মন্দ—আল্লাহর হাতে, এবং সবকিছুর প্রত্যাবর্তন তাঁরই নিকট। তিনি যা ইচ্ছা করেন তা-ই হয়, আর তিনি যা ইচ্ছা করেন না তা হয় না১, মহান আল্লাহ বলেন: "আর আপনার রব যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং (যাকে ইচ্ছা) নির্বাচন করেন। তাদের কোনো নির্বাচনের অধিকার নেই। আল্লাহ পবিত্র এবং তারা যাকে শরিক করে তিনি তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে।" ২।

তিনিই সকল বিষয় পরিচালনা ও তদারকি করেন। তাঁর পূর্বনির্ধারণ ব্যতিরেকে কোনো কিছুই সংঘটিত হয় না। মহান আল্লাহ বলেন: "আর তোমাদের ইলাহ তো একমাত্র ইলাহ, পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। নিশ্চয়ই আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের আবর্তনে, মানুষের উপকারে সমুদ্রে বিচরণশীল জাহাজসমূহে, আকাশ থেকে আল্লাহর বর্ষিত পানিতে যার মাধ্যমে তিনি মৃত জমিনকে পুনর্জীবিত করেন এবং তাতে সব ধরনের জীবজন্তু ছড়িয়ে দেন, আর বায়ুর প্রবাহে এবং আকাশ ও জমিনের মাঝে নিয়ন্ত্রিত মেঘমালার মধ্যে বুদ্ধিমান সম্প্রদায়ের জন্য বহু নিদর্শন রয়েছে।" ৩।

এবং মহান আল্লাহ বলেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের রব আল্লাহ, যিনি আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠেছেন। তিনি সকল বিষয় পরিচালনা করেন। তাঁর অনুমতি ছাড়া সুপারিশ করার কেউ নেই। তিনিই আল্লাহ, তোমাদের রব; অতএব তোমরা তাঁরই ইবাদত করো। তবে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?" ৪।

আর আসমানসমূহ ও জমিনের সকলেই স্বেচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায় মহান আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করেছে। মুমিন তার অন্তরে ও বহিরাঙ্গে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণকারী, আর কাফির আল্লাহর কাছে অনিচ্ছায় আত্মসমর্পণকারী। কেননা সে এমন এক নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য ও সুমহান ক্ষমতার অধীন যাকে কেউ অমান্য বা প্রতিরোধ করতে পারে না৫, তিনি বলেন

--------------------------------------------

১ "তাফসীরে ইবনে কাসীর": (৩/৩৯৭)।

২ সূরা আল-কাসাস, আয়াত: ৬৮।

৩ সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৬৩, ১৬৪।

৪ সূরা ইউনুস, আয়াত: ৩।

৫ "তাফসীরে ইবনে কাসীর": (১/৩৭৮)।
(খণ্ড: ১) আত-তানজীম ওয়াল মুনাজ্জিমূনা ওয়া হুকমু যালিকা ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
تعالى: {أَفَغَيْرَ دِينِ اللَّهِ يَبْغُونَ وَلَهُ أَسْلَمَ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ طَوْعاً وَكَرْهاً وَإِلَيْهِ يُرْجَعُونَ} 1.

وهو مالك السموات والأرض ومن فيهمن، والمتصرف فيهم، وهو خالقهم ورازقهم ومقدرهم ومسخرهم ومصرفهم كما يشاء2، قال الله تعالى: {وَقَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَداً سُبْحَانَهُ بَلْ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ كُلٌّ لَهُ قَانِتُونَ} 3، وقال: {رَبُّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ فَاتَّخِذْهُ وَكِيلاً} 4.

فالإنسان إذا فكر في نفسه رآها مدبرة، وعلى أحوال شتى مصرفة، كان نطفة، ثم علقة، ثم مضغة، ثم لحماً وعظماً، لأنه لا يقدر أن يحدث لنفسه في الحال الأفضل التي هي حال كمال عقله وبلوغ رشده عضواً من الأعضاء، ولا يمكنه أن يزيد في جوارحه جارحة فيدله ذلك على أنه في حال نقصه وأوان ضعفه عن فعل ذلك أعجز5، قال تعالى: {وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْأِنْسَانَ مِنْ سُلالَةٍ مِنْ طِينٍ * ثُمَّ جَعَلْنَاهُ نُطْفَةً فِي قَرَارٍ مَكِينٍ * ثُمَّ خَلَقْنَا النُّطْفَةَ عَلَقَةً فَخَلَقْنَا الْعَلَقَةَ مُضْغَةً فَخَلَقْنَا الْمُضْغَةَ عِظَاماً فَكَسَوْنَا الْعِظَامَ لَحْماً ثُمَّ أَنْشَأْنَاهُ خَلْقاً آخَرَ فَتَبَارَكَ اللَّهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ} 6.

ومفاتيح الخير ومغالقه كلها بيده، فما يفتح الله للناس من خير فلا مغلق له ولا ممسك عنهم، لأن ذلك أمره لا يستطيع رد أمره أحد،

--------------------------------------------

1 سورة آل عمران، الآية: 83.

2 "تفسر ابن كثير": (1/160) .

3 سورة البقرة، الآية: 116.

4 سورة المزمل، الآية: 9.

5 "الاعتقاد" للبيهقي: (ص43) ، و "تفسير القرطبي": (2/202) .

6 سورة المؤمنون، الآيات: 12-14.
মহান আল্লাহ বলেন: {তারা কি আল্লাহর দ্বীন ছাড়া অন্য কিছু তালাশ করছে? অথচ আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবকিছু ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায় হোক তাঁরই অনুগত হয়েছে এবং তাঁরই কাছে তাদের ফিরিয়ে নেয়া হবে} ১।

আর তিনি আসমান ও জমিন এবং এর মধ্যে যারা আছে তাদের মালিক এবং সেগুলোর পরিচালক। তিনি তাদের স্রষ্টা, রিযিকদাতা, তাদের তাকদীর নির্ধারণকারী, নিয়ন্ত্রণকারী এবং তিনি যেভাবে চান সেভাবে তাদের পরিচালিত করেন ২। মহান আল্লাহ বলেন: {তারা বলে, আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন। তিনি পবিত্র। বরং আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁরই; সবকিছু তাঁরই একান্ত অনুগত} ৩। তিনি আরও বলেন: {তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের রব, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; অতএব তাঁকেই কর্মবিধায়ক হিসেবে গ্রহণ করো} ৪।

সুতরাং মানুষ যখন নিজের সম্পর্কে চিন্তা করে, তখন সে নিজেকে সুপরিচালিত এবং বিভিন্ন অবস্থায় পরিবর্তিত দেখতে পায়। সে ছিল শুক্রবিন্দু, তারপর জমাট রক্ত, এরপর মাংসপিণ্ড, অতঃপর মাংস ও হাড়। কারণ সে তার সর্বোত্তম অবস্থায়—যা তার বুদ্ধির পূর্ণতা এবং পরিপক্কতার সময়—তখনও নিজের জন্য কোনো অঙ্গ তৈরি করতে সক্ষম নয় এবং তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাথে কোনো নতুন অঙ্গ বৃদ্ধি করাও তার পক্ষে সম্ভব নয়। আর এটিই তাকে প্রমাণ দেয় যে, তার ত্রুটিপূর্ণ অবস্থা এবং দুর্বলতার সময় সে এসব করতে আরও বেশি অক্ষম ছিল ৫। মহান আল্লাহ বলেন: {আর অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি কাদার নির্যাস থেকে। তারপর আমি তাকে শুক্রবিন্দু হিসেবে এক সংরক্ষিত আধারে স্থাপন করেছি। অতঃপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তে পরিণত করেছি, এরপর জমাট রক্তকে মাংসপিণ্ডে পরিণত করেছি, তারপর মাংসপিণ্ডকে হাড়ে পরিণত করেছি, অতঃপর হাড়কে মাংস দ্বারা আবৃত করেছি। সবশেষে আমি তাকে অন্য এক সৃষ্টিতে রূপ দিয়েছি। অতএব সর্বোত্তম স্রষ্টা আল্লাহ কতই না বরকতময়} ৬।

কল্যাণের সকল চাবিকাঠি এবং তা বন্ধ করার সকল বিষয় আল্লাহর হাতে। আল্লাহ মানুষের জন্য কল্যাণের যা উন্মুক্ত করে দেন, তা কেউ বন্ধ করতে পারে না এবং যা তিনি মানুষের থেকে আটকে রাখেন তা কেউ উন্মুক্ত করতে পারে না; কারণ এটি তাঁরই আদেশ, আর তাঁর আদেশ কেউ প্রতিহত করতে পারে না।

--------------------------------------------

১. সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ৮৩।

২. "তাফসীরে ইবনে কাসীর": (১/১৬০)।

৩. সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১১৬।

৪. সূরা আল-মুয্যাম্মিল, আয়াত: ৯।

৫. বায়হাকীর "আল-ইতিকাদ": (পৃ. ৪৩), এবং "তাফসীরে কুরতুবী": (২/২০২)।

৬. সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত: ১২-১৪।
(খণ্ড: ১) আত-তানজীম ওয়াল মুনাজ্জিমূনা ওয়া হুকমু যালিকা ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
وكذلك ما يغلق من خير عنهم فلا يبسطه عليهم أحد ولا يفتحه لهم، فلا فاتح له سواه1، قال تعالى: {مَا يَفْتَحِ اللَّهُ لِلنَّاسِ مِنْ رَحْمَةٍ فَلا مُمْسِكَ لَهَا وَمَا يُمْسِكْ فَلا مُرْسِلَ لَهُ مِنْ بَعْدِهِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} 2.

ثالثاً: الاستدلال على فساد الكون لو كان فيه اله غير الله يدبر لكون معه:

لو قد تعدد الآلهة لا نفرد كل منهم بما خلق، فما كان ينتظم الوجود، والمشاهد أن الوجود منتظم متنسق، كل من العالم العلوي والسفلي مرتبط بعضه ببعض في غاية الكمال قال تعالى: {مَا تَرَى فِي خَلْقِ الرَّحْمَنِ مِنْ تَفَاوُتٍ} 3. ثم لو تعددت الآلهة لكان كل منهم يطلب قهر الآخر وخلافه، فيعلو بعضهم على بعض، وهذا لم يحصل4، قال تعالى: {مَا اتَّخَذَ اللَّهُ مِنْ وَلَدٍ وَمَا كَانَ مَعَهُ مِنْ إِلَهٍ إِذاً لَذَهَبَ كُلُّ إِلَهٍ بِمَا خَلَقَ وَلَعَلا بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ} 5.

ولو كان في السموات والأرض آلهة معبودون غير الله لبطلتا بما فيهما من المخلوقات6، قال تعالى: {لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا فَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُونَ} 7.

--------------------------------------------

1 انظر: "تفسير الطبري": (22/115) .

2 سورة فاطر، الآية: 2.

3 سورة الملك، الآية: 3.

4 "تفسير ابن كثير": (3/254) .

5 سورة المؤمنون، الآية: 91.

6 انظر: "فتح القدير" للشوكاني: (3/402) .

7 سورة الأنبياء، الآية: 22.
তেমনিভাবে তাদের থেকে যে কল্যাণ রুদ্ধ করে দেওয়া হয়, তা তাদের জন্য কেউ প্রসারিত করতে পারে না এবং কেউ তা তাদের জন্য উন্মুক্ত করতে পারে না। তিনি ছাড়া আর কেউ তা উন্মুক্তকারী নেই১। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আল্লাহ মানুষের জন্য যে রহমত উন্মুক্ত করে দেন, কেউ তা রুদ্ধ করতে পারে না; আর তিনি যা রুদ্ধ করেন, এরপর কেউ তা পাঠাতে পারে না। তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।"২

তৃতীয়ত: মহাবিশ্বে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ থাকলে এবং সে যদি মহাবিশ্ব পরিচালনায় শরিক হতো, তবে মহাবিশ্ব ধ্বংস হয়ে যেত - এর স্বপক্ষে দলিল:

যদি একাধিক ইলাহ থাকত, তবে প্রত্যেকেই নিজ নিজ সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে যেত, ফলে অস্তিত্বের কোনো শৃঙ্খলা থাকত না। অথচ পরিলক্ষিত হয় যে, অস্তিত্ব সুশৃঙ্খল ও সুসমন্বিত; ঊর্ধ্বজগৎ ও নিম্নজগৎ উভয়ই অত্যন্ত নিঁখুতভাবে একে অপরের সাথে যুক্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন: "রহমানের সৃষ্টিতে তুমি কোনো অসামঞ্জস্য দেখতে পাবে না।"৩ অতঃপর যদি একাধিক ইলাহ থাকত, তবে তাদের প্রত্যেকেই অপরকে পরাভূত করতে চাইত এবং তার বিরুদ্ধাচরণ করত, ফলে তাদের কেউ অপরের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করত। কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি৪। আল্লাহ তাআলা বলেন: "আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে কোনো ইলাহও ছিল না; (যদি থাকত) তবে প্রত্যেক ইলাহ আপন সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে যেত এবং একে অপরের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করত। তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে আল্লাহ পবিত্র।"৫

আর আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যদি আল্লাহ ছাড়া অন্যান্য মাবুদ থাকত, তবে উভয়ই এবং এর মধ্যকার সকল সৃষ্টি ধ্বংস হয়ে যেত৬। আল্লাহ তাআলা বলেন: "যদি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো ইলাহ থাকত, তবে উভয়ই বিশৃঙ্খল হয়ে যেত। অতএব তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে আরশের রব আল্লাহ পবিত্র।"৭

--------------------------------------------

১. দেখুন: "তাফসীরে তাবারী": (২২/১১৫)।

২. সূরা ফাতির, আয়াত: ২।

৩. সূরা আল-মুলক, আয়াত: ৩।

৪. "তাফসীরে ইবনে কাসীর": (৩/২৫৪)।

৫. সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত: ৯১।

৬. দেখুন: শাওকানী রচিত "ফাতহুল কাদীর": (৩/৪০২)।

৭. সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ২২।
(খণ্ড: ১) আত-তানজীম ওয়াল মুনাজ্জিমূনা ওয়া হুকমু যালিকা ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
ووجه الفساد أن وجود إله آخر يستحق العبادة مع الله يستلزم أن يكون كل واحد منهما قادراً على الاستبداد بالتصرف، فيقع عند ذلك التنازع والاختلاف، ويحدث بسببه الفساد1.

رابعاً: الاستدلال على عجز غير الله عن الخلق والتدبير:

لفت الله عقول الناس إلى التفكير والنظر في الخالق: هل لهم من إله خالق إلا الله الذي بيده مفاتيح الأرزاق ومغالقها2؟ قال تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ هَلْ مِنْ خَالِقٍ غَيْرُ اللَّهِ يَرْزُقُكُمْ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ فَأَنَّى تُؤْفَكُونَ} 3.

وأخبر عن الأوثان أنها مخلوقة لا تضر ولا تنفع، ومن كان كذلك لا يستحق أن يعبد4، قال تعالى: {أَفَمَنْ يَخْلُقُ كَمَنْ لا يَخْلُقُ أَفَلا تَذَكَّرُونَ} 5.

وأن كل من عبد من دون الله لا يملك تدبير نفسه فضلاً عن تدبير غيره، فضلاً عن تدبير الكون، فهو لا يملك لنفسه دفع ضر أو جلب نفع، ولا يملك الموت ولا الحياة، فمن كان كذلك كيف يكون مدبراً لهذا الكون؟ وكيف يعبد من دون الله6؟.

--------------------------------------------

1 انظر: "فتح القدير": (3/402) .

2 انظر: "تفسير الطبري": (22/115) .

3 سورة فاطر، الآية: 3.

4 انظر: "تفسير الطبري": (10/93) .

5 سورة النحل، الآية: 17.

6 "تفسير الطبري": (13/132) ، وانظر: "تفسير ابن كثير": (3/309) ، و"فتح القدير" للشوكاني: (4/61) .
বিপর্যয়ের দিকটি হলো এই যে, আল্লাহর সাথে ইবাদত পাওয়ার যোগ্য অন্য কোনো ইলাহের অস্তিত্ব থাকা এটিই অপরিহার্য করে তোলে যে, তাদের প্রত্যেকেই কর্ম পরিচালনায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারে সক্ষম হবে, ফলে তখন বিবাদ ও মতভেদ দেখা দেবে এবং এর কারণে বিপর্যয় সৃষ্টি হবে ১।

চতুর্থত: আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো সৃষ্টি ও পরিচালনার অক্ষমতার ওপর দলিল পেশ:

আল্লাহ মানুষের বিবেককে স্রষ্টা সম্পর্কে চিন্তা ও গবেষণার প্রতি নিবিষ্ট করেছেন: আল্লাহ ছাড়া কি তাদের আর কোনো স্রষ্টা আছে যাঁর (আল্লাহর) হাতে রিযিকের চাবিকাঠিসমূহ ও তা বন্ধ করার নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ২? মহান আল্লাহ বলেন: {হে মানুষ! তোমাদের প্রতি আল্লাহর নেয়ামত স্মরণ করো। আল্লাহ ছাড়া কি এমন কোনো স্রষ্টা আছে যে তোমাদের আকাশ ও পৃথিবী থেকে রিযিক দান করে? তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই। অতএব তোমাদের কোথায় ফিরিয়ে নেয়া হচ্ছে?} ৩।

আর তিনি প্রতিমাগুলোর ব্যাপারে সংবাদ দিয়েছেন যে, সেগুলো সৃষ্ট বস্তু, যারা কোনো ক্ষতি বা উপকার করতে পারে না। আর যে সত্তা এরূপ হয় সে ইবাদতের যোগ্য হতে পারে না ৪। মহান আল্লাহ বলেন: {তবে কি যিনি সৃষ্টি করেন তিনি তাঁর মতো যে সৃষ্টি করে না? তোমরা কি উপদেশ গ্রহণ করবে না?} ৫।

এবং আল্লাহ ছাড়া যাদের ইবাদত করা হয় তাদের প্রত্যেকেই নিখিল বিশ্বের পরিচালনার কথা তো বহুদূর, এমনকি অন্যের পরিচালনার তো বটেই, খোদ নিজের পরিচালনারও মালিকানা বা ক্ষমতা রাখে না। সে নিজের জন্য কোনো ক্ষতি প্রতিহত করা বা কোনো উপকার বয়ে আনার মালিক নয়, আর সে মৃত্যু বা জীবনেরও মালিক নয়। অতএব যে সত্তা এমন, সে কীভাবে এই বিশ্বজগতের পরিচালক হতে পারে? আর কীভাবে আল্লাহর পরিবর্তে তার ইবাদত করা হয় ৬?।

--------------------------------------------

১ দেখুন: "ফাতহুল কাদির": (৩/৪০২)।

২ দেখুন: "তাফসিরে তাবারী": (২২/১১৫)।

৩ সূরা ফাতির, আয়াত: ৩।

৪ দেখুন: "তাফসিরে তাবারী": (১০/৯৩)।

৫ সূরা আন-নাহল, আয়াত: ১৭।

৬ "তাফসিরে তাবারী": (১৩/১৩২), এবং দেখুন: "তাফসিরে ইবনে কাসীর": (৩/৩০৯), এবং শাওকানী রচিত "ফাতহুল কাদির": (৪/৬১)।
(খণ্ড: ১) আত-তানজীম ওয়াল মুনাজ্জিমূনা ওয়া হুকমু যালিকা ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
قال تعالى: {وَاتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ آلِهَةً لا يَخْلُقُونَ شَيْئاً وَهُمْ يُخْلَقُونَ وَلا يَمْلِكُونَ لِأَنْفُسِهِمْ ضَرّاً وَلا نَفْعاً وَلا يَمْلِكُونَ مَوْتاً وَلا حَيَاةً وَلا نُشُوراً} 1، {قُلْ مَنْ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ قُلِ اللَّهُ قُلْ أَفَاتَّخَذْتُمْ مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ لا يَمْلِكُونَ لِأَنْفُسِهِمْ نَفْعاً وَلا ضَرّاً قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الْأَعْمَى وَالْبَصِيرُ أَمْ هَلْ تَسْتَوِي الظُّلُمَاتُ وَالنُّورُ أَمْ جَعَلُوا لِلَّهِ شُرَكَاءَ خَلَقُوا كَخَلْقِهِ فَتَشَابَهَ الْخَلْقُ عَلَيْهِمْ قُلِ اللَّهُ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ وَهُوَ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ} 2.

وإذا كان الله هو خالق السموات والأرض وما فيهن، فأي شيء خلق الذين من دونه مما يعبد المشركون من الأصنام والأنداد3؟ قال تعالى: {هَذَا خَلْقُ اللَّهِ فَأَرُونِي مَاذَا خَلَقَ الَّذِينَ مِنْ دُونِهِ بَلِ الظَّالِمُونَ فِي ضَلالٍ مُبِينٍ} 4. وقال تعالى: {قُلْ أَرَأَيْتُمْ مَا تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَرُونِي مَاذَا خَلَقُوا مِنَ الْأَرْضِ أَمْ لَهُمْ شِرْكٌ فِي السَّمَاوَاتِ ائْتُونِي بِكِتَابٍ مِنْ قَبْلِ هَذَا أَوْ أَثَارَةٍ مِنْ عِلْمٍ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} 5.

فإذا كانت الآلهة الباطلة لم تستقل بخلق شيء من الأرض، ولم يكن لهم شرك في السموات، لا في الخلق ولا في الملك والتصرف دل ذلك على أن الله هو المتفرد بالخلق والتدبير6.

بل إن هذه الآلهة الباطلة لا يقتصر عجزها على الخلق والتدبير، بل هي أعجز من ذلك بكثير، فهي لا تستطيع أن تستنقذ ما سلبها

--------------------------------------------

1 سورة الفرقان، الآية: 3.

2 سورة الرعد، الآية: 16.

3 انظر: "تفسير الطبري": (21/66) ، و "تفسير ابن كثير": (3/442) .

4 سورة لقمان، الآية: 11.

5 سورة الأحقاف، الآية: 4.

6 انظر: "تفسير ابن كثير": (4/153) .
মহান আল্লাহ বলেন: {আর তারা তাঁর পরিবর্তে এমন সব উপাস্য গ্রহণ করেছে যারা কিছুই সৃষ্টি করে না, বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট; তারা নিজেদের কোনো ক্ষতি বা উপকারের ক্ষমতা রাখে না এবং মৃত্যু, জীবন ও পুনরুত্থানের ওপরও কোনো ক্ষমতা রাখে না} ১, {বলুন, আসমানসমূহ ও জমিনের রব কে? বলুন, আল্লাহ। বলুন, তবে কি তোমরা তাঁর পরিবর্তে এমন সব অভিভাবক গ্রহণ করেছ যারা নিজেদের উপকার বা অপকারেরও মালিক নয়? বলুন, অন্ধ ও চক্ষুমান কি সমান হতে পারে? নাকি অন্ধকার ও আলো সমান হতে পারে? তবে কি তারা আল্লাহর এমন সব শরিক স্থির করেছে যারা আল্লাহর সৃষ্টির মতো সৃষ্টি করেছে, যার ফলে সৃষ্টি তাদের কাছে সদৃশ মনে হয়েছে? বলুন, আল্লাহই সব কিছুর স্রষ্টা এবং তিনি এক, মহাপরাক্রমশালী} ২।

আর আল্লাহ যখন আসমানসমূহ ও জমিন এবং এগুলোর মধ্যে যা কিছু আছে তার স্রষ্টা, তাহলে মুশরিকরা তাঁর পরিবর্তে যেসব প্রতিমা ও সমকক্ষদের ইবাদত করে, তারা কী সৃষ্টি করেছে ৩? মহান আল্লাহ বলেন: {এগুলো আল্লাহর সৃষ্টি, সুতরাং তিনি ছাড়া অন্যরা কী সৃষ্টি করেছে তা আমাকে দেখাও। বরং জালিমরা তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে রয়েছে} ৪। এবং মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে ডাকো তাদের বিষয়ে ভেবে দেখেছ কি? তারা জমিনের কী সৃষ্টি করেছে আমাকে দেখাও। নাকি আসমানসমূহে তাদের কোনো অংশীদারিত্ব আছে? এর পূর্ববর্তী কোনো কিতাব অথবা পরম্পরাগত কোনো জ্ঞান আমার কাছে নিয়ে এসো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও} ৫।

সুতরাং এই মিথ্যা উপাস্যরা যখন জমিনের কোনো কিছু সৃষ্টি করতে স্বতন্ত্রভাবে সক্ষম নয় এবং আসমানসমূহেও সৃষ্টি, মালিকানা বা পরিচালনায় তাদের কোনো অংশীদারিত্ব নেই, তখন এটিই প্রমাণ করে যে, আল্লাহ সৃষ্টি ও পরিচালনায় একক সত্তা ৬।

বরং এই মিথ্যা উপাস্যদের অক্ষমতা কেবল সৃষ্টি ও পরিচালনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তারা তার চেয়েও অনেক বেশি অক্ষম। তারা তাদের থেকে যা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে তা উদ্ধার করতেও সক্ষম নয়

--------------------------------------------

১ সূরা আল-ফুরকান, আয়াত: ৩।

২ সূরা আর-রাদ, আয়াত: ১৬।

৩ দেখুন: "তাফসির আত-তাবারী": (২১/৬৬), এবং "তাফসির ইবনে কাসির": (৩/৪৪২)।

٤ সূরা লুকমান, আয়াত: ১১।

৫ সূরা আল-আহকাফ, আয়াত: ৪।

৬ দেখুন: "তাফসির ইবনে কাসির": (৪/১৫৩)।
(খণ্ড: ১) আত-তানজীম ওয়াল মুনাজ্জিমূনা ওয়া হুকমু যালিকা ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
الذباب1، قال تعالى: {يَا أَيُّهَا النَّاسُ ضُرِبَ مَثَلٌ فَاسْتَمِعُوا لَهُ إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ لَنْ يَخْلُقُوا ذُبَاباً وَلَوِ اجْتَمَعُوا لَهُ وَإِنْ يَسْلُبْهُمُ الذُّبَابُ شَيْئاً لا يَسْتَنْقِذُوهُ مِنْهُ ضَعُفَ الطَّالِبُ وَالْمَطْلُوبُ} 2.

خامساً: الاستدلال على أن الكفار كانوا مقرين بانفراد الله بالخلق وتسخير الكون:

كان المشركون بالله العابدون معه غيره معترفين بأن خالق السموات والأرض هو الله وحده لا شريك له3، قال تعالى: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ خَلَقَهُنَّ الْعَزِيزُ الْعَلِيمُ} 4.

وقال تعالى: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لا يَعْلَمُونَ} 5.

وكما أن هؤلاء المشركين مقرون ومعترفون بأن الله هو المستقل بخلق السموات والأرض والشمس والقمر وتسخير الليل والنهار وأنه الخالق الرازق لعباده وأنه مقدر آجالهم واختلافها واختلاف أرزاقهم ففاوت بينهم، فمنهم الغني والفقير، وهو العليم بما يصلح كلاًّ منهم، ومن يستحق الغنى ممن يستحق الفقر، وأنه المستقل بخلق الأشياء المتفرد بتدبيرها6، قال تعالى: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ لَيَقُولُنَّ

--------------------------------------------

1 انظر: "تفسير الطبري": (17/202، 203) ، و "تفسير ابن كثير": (3/235) .

2 سورة الحج، الآية: 73.

3 انظر: "تفسير ابن كثير": (4/123) .

4 سورة الزخرف، الآية: 9.

5 سورة لقمان، الآية: 25.

6 انظر: "تفسير ابن كثير": (3/420) .
মাছি১, মহান আল্লাহ বলেন: {হে মানুষ, একটি উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, সুতরাং তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোনো। তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাকো, তারা কখনও একটি মাছিও সৃষ্টি করতে পারবে না, যদিও তারা এর জন্য সকলে একত্রিত হয়। আর যদি মাছি তাদের থেকে কোনো কিছু ছিনিয়ে নেয়, তবে তারা তা তার থেকে উদ্ধার করতে পারবে না। অন্বেষণকারী এবং যার কাছে অন্বেষণ করা হচ্ছে—উভয়ই দুর্বল} ২।

পঞ্চম: কাফেররা যে সৃষ্টি এবং মহাবিশ্ব বশীভূত করার ক্ষেত্রে আল্লাহর একত্বকে স্বীকার করত, তার সপক্ষে প্রমাণাদি:

আল্লাহর সাথে শিরককারী এবং তাঁর সাথে অন্যের ইবাদতকারীরা এ কথা স্বীকার করত যে, আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা একমাত্র আল্লাহ, যাঁর কোনো শরিক নেই৩, মহান আল্লাহ বলেন: {আর তুমি যদি তাদের জিজ্ঞাসা করো, কে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন? তবে তারা অবশ্যই বলবে, এগুলি পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ সত্তাই সৃষ্টি করেছেন} ৪।

এবং মহান আল্লাহ বলেন: {আর তুমি যদি তাদের জিজ্ঞাসা করো, কে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন? তবে তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ। বলো, সকল প্রশংসা আল্লাহরই; বরং তাদের অধিকাংশই জানে না} ৫।

আর যেমনটি এই মুশরিকরা স্বীকার ও মান্য করত যে, আল্লাহ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এবং সূর্য ও চন্দ্র সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনকে বশীভূত করার ক্ষেত্রে একক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ; আর তিনিই তাঁর বান্দাদের স্রষ্টা ও রিযিকদাতা এবং তিনিই তাদের আয়ু ও তার তারতম্য এবং তাদের রিযিকের পার্থক্যের নির্ধারণকারী, যার মাধ্যমে তিনি তাদের মধ্যে ব্যবধান করেছেন; ফলে তাদের কেউ ধনী এবং কেউ দরিদ্র। তিনি তাদের প্রত্যেকের জন্য যা কল্যাণকর এবং কে সচ্ছলতার যোগ্য আর কে দারিদ্র্যের যোগ্য, সে বিষয়ে সম্যক অবগত। আর তিনিই বস্তুসমূহ সৃষ্টিতে এবং তা পরিচালনায় অদ্বিতীয় ও স্বাধীন৬, মহান আল্লাহ বলেন: {আর তুমি যদি তাদের জিজ্ঞাসা করো, কে আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং সূর্য ও চন্দ্রকে বশীভূত করেছেন? তবে তারা অবশ্যই বলবে...

--------------------------------------------

১ দেখুন: "তাফসীরে আত-তাবারী": (১৭/২০২, ২০৩), এবং "তাফসীরে ইবনে কাসীর": (৩/২৩৫)।

২ সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত: ৭৩।

৩ দেখুন: "তাফসীরে ইবনে কাসীর": (৪/১২৩)।

৪ সূরা আজ-জুখরুখ, আয়াত: ৯।

৫ সূরা লুকমান, আয়াত: ২৫।

৬ দেখুন: "তাফসীরে ইবনে কাসীর": (৩/৪২০)।
(খণ্ড: ১) আত-তানজীম ওয়াল মুনাজ্জিমূনা ওয়া হুকমু যালিকা ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
اللَّهُ فَأَنَّى يُؤْفَكُونَ} 1. وقال: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ نَزَّلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَحْيَا بِهِ الْأَرْضَ مِنْ بَعْدِ مَوْتِهَا لَيَقُولُنَّ اللَّهُ قُلِ الْحَمْدُ لِلَّهِ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لا يَعْقِلُونَ} 2.

بل إنهم معترفون بأن الضرر والنفع من الله، وأن هذه الأصنام والأوثان لا تملك من الأمر شيئاً، فلا تستطيع دفع ضر ولا جلب نفع –فضلاً عن الخلق والتدبير- وهذا مقرور في قلوبهم وإن لم يعترفوا به صراحة3، {وَجَحَدُوا بِهَا وَاسْتَيْقَنَتْهَا أَنْفُسُهُمْ ظُلْماً وَعُلُوّا} 4.

قال تعالى: {وَلَئِنْ سَأَلْتَهُمْ مَنْ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ لَيَقُولُنَّ اللَّهُ قُلْ أَفَرَأَيْتُمْ مَا تَدْعُونَ مِنْ دُونِ اللَّهِ إِنْ أَرَادَنِيَ اللَّهُ بِضُرٍّ هَلْ هُنَّ كَاشِفَاتُ ضُرِّهِ أَوْ أَرَادَنِي بِرَحْمَةٍ هَلْ هُنَّ مُمْسِكَاتُ رَحْمَتِهِ قُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ عَلَيْهِ يَتَوَكَّلُ الْمُتَوَكِّلُونَ} 5.

فترك الجواب هنا لاستغناء السامع بمعرفة ذلك، ودلالة ما ظهر من الكلام عليه، والمعنى: فإنهم سيقولن: (لا) 6.

- أما المسألة الثانية: وهي أن الله هو العالم بالغيب وحده:

فقد بينها الله في كتابه كذلك أتم بيان، حيث أمر الله تعالى رسوله صلى الله عليه وسلم معلماً لجميع الخلق: أنه لا يعلم أحد من أهل السموات والأرض الغيب إلا الله عز وجل فإنه المنفرد بذلك وحده لا شريك له7، فقال:

--------------------------------------------

1 سورة العنكبوت، الآية: 61.

2 سورة العنكبوت، الآية: 63.

3 انظر: "تفسير الطبري": (24/7) .

4 سورة النمل، الآية: 14.

5 سورة الزمر، الآية: 38.

6 "تفسير الطبري": (24/7) .

7 "تفسير ابن كثير": (3/372) .
আল্লাহ; তবে তারা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছে? ১। এবং তিনি বলেছেন: {আর যদি আপনি তাদের জিজ্ঞেস করেন, কে আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর তা দ্বারা জমিনকে তার মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করেন? তবে তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ। বলুন, সকল প্রশংসা আল্লাহর। বরং তাদের অধিকাংশই বুঝে না।} ২।

বরং তারা স্বীকার করে যে, ক্ষতি ও কল্যাণ আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে এবং এই মূর্তি ও প্রতিমাসমূহ কোনো বিষয়েরই মালিক নয়; তারা কোনো ক্ষতি দূর করতে বা কোনো কল্যাণ বয়ে আনতে সক্ষম নয়—সৃষ্টি ও বিশ্ব-পরিচালনার কথা তো বলাই বাহুল্য—এবং এটি তাদের অন্তরে স্বীকৃত ছিল যদিও তারা তা স্পষ্টভাবে স্বীকার করত না ৩, {তারা জুলুম ও অহংকারবশত তা অস্বীকার করল, যদিও তাদের অন্তর তা নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করেছিল।} ৪।

মহান আল্লাহ বলেন: {আর যদি আপনি তাদের জিজ্ঞেস করেন, কে আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন? তারা অবশ্যই বলবে, আল্লাহ। বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ, আল্লাহ যদি আমার কোনো ক্ষতি করতে চান, তবে তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদের ডাকো তারা কি সেই ক্ষতি দূর করতে পারবে? অথবা তিনি যদি আমার প্রতি রহমত করার ইচ্ছা করেন, তবে তারা কি তাঁর রহমতকে আটকে রাখতে পারবে? বলুন, আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। নির্ভরকারীরা তাঁর ওপরই নির্ভর করে।} ৫।

এখানে উত্তরটি বাদ দেওয়া হয়েছে কারণ শ্রোতার তা জানা থাকার কারণে তার প্রয়োজন নেই এবং কথার প্রেক্ষাপট তা নির্দেশ করছে। এর অর্থ হলো: তারা অবশ্যই বলবে: (না) ৬।

- দ্বিতীয় বিষয়টি হলো: আল্লাহ একাই অদৃশ্যের জ্ঞান রাখেন:

আল্লাহ তাঁর কিতাবে এটিও পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন। সেখানে আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সকল সৃষ্টির শিক্ষক হিসেবে আদেশ দিয়েছেন (ঘোষণা করতে): আসমান ও জমিনবাসীদের মধ্যে আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত ব্যতীত আর কেউ অদৃশ্যের জ্ঞান রাখে না। নিশ্চয়ই তিনি একাই এতে অনন্য, তাঁর কোনো অংশীদার নেই ৭, তিনি বলেছেন:

--------------------------------------------

১ সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ৬১।

২ সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ৬৩।

৩ দেখুন: "তাফসীরে তাবারী": (২৪/৭)।

৪ সূরা আন-নামল, আয়াত: ১৪।

৫ সূরা আজ-জুমার, আয়াত: ৩৮।

৬ "তাফসীরে তাবারী": (২৪/৭)।

৭ "তাফসীরে ইবনে কাসীর": (৩/৩৭২)।
(খণ্ড: ১) আত-তানজীম ওয়াল মুনাজ্জিমূনা ওয়া হুকমু যালিকা ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
{قُلْ لا يَعْلَمُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ وَمَا يَشْعُرُونَ أَيَّانَ يُبْعَثُونَ} 1.

وقال: {وَعِنْدَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَا تَسْقُطُ مِنْ وَرَقَةٍ إِلَّا يَعْلَمُهَا وَلا حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الْأَرْضِ وَلا رَطْبٍ وَلا يَابِسٍ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُبِينٍ} 2.

أخبر سبحانه أن خزائن الغيب عنده وحده3، ثم فصل المغيبات فذكر بعضها، فقال: {إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ وَيُنَزِّلُ الْغَيْثَ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْأَرْحَامِ وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ مَاذَا تَكْسِبُ غَداً وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ} 4.

أخبر سبحانه أنه يعلم ذلك كله دون كل ما سواه، وأنه عليم بكل شيء لا يخفى عليه شيء خبير بما هو كائن وما قد كان5. وقال: {إِلَيْهِ يُرَدُّ عِلْمُ السَّاعَةِ وَمَا تَخْرُجُ مِنْ ثَمَرَاتٍ مِنْ أَكْمَامِهَا وَمَا تَحْمِلُ مِنْ أُنْثَى وَلا تَضَعُ إِلَّا بِعِلْمِهِ وَيَوْمَ يُنَادِيهِمْ أَيْنَ شُرَكَائِي قَالُوا آذَنَّاكَ مَا مِنَّا مِنْ شَهِيدٍ} 6.

ونفى الله عن الملائكة علم الغيب، بل نزه الملائكة ربهم وقدسوه أن يحيط أحد بشيء من علمه إلا بما شاء، وأن يعلموا شيئاً إلا ما علمهم الله تعالى7، قال تعالى: {وَعَلَّمَ آدَمَ الْأَسْمَاءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلائِكَةِ فَقَالَ

--------------------------------------------

1 سورة النمل، الآية: 65.

2 سورة الأنعام، الآية: 59.

3 انظر: "تفسير البيضاوي": ص178.

4 سورة لقمان، الآية: 34.

5 "تفسير الطبري": (21/87) .

6 سورة فصلت، الآية: 47.

7 انظر: "تفسير ابن كثير": (1/74) .
“বলুন, আসমানসমূহ ও জমিনে আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ অদৃশ্যের খবর জানে না এবং তারা জানে না কখন তাদের পুনরুত্থিত করা হবে।” ১.

এবং তিনি বলেছেন: “অদৃশ্যের চাবিকাঠি তাঁরই কাছে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা জানে না। স্থলে ও জলে যা কিছু আছে তা তিনি জানেন। তাঁর অজ্ঞাতসারে একটি পাতাও পড়ে না এবং মাটির অন্ধকারে এমন কোনো দানা অথবা এমন কোনো সরস কিংবা নীরস বস্তু নেই যা সুস্পষ্ট কিতাবে (লওহে মাহফুজে) লিপিবদ্ধ নেই।” ২.

মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, অদৃশ্যের ভাণ্ডার কেবল তাঁরই নিকট৩, এরপর তিনি অদৃশ্য বিষয়সমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন এবং তার কিছু উল্লেখ করে বলেছেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে, তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং তিনি জানেন যা জরায়ুতে আছে। কেউ জানে না আগামীকাল সে কী উপার্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন স্থানে তার মৃত্যু হবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সম্যক অবহিত।” ৪.

মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি ব্যতীত আর কেউ এই সমস্ত বিষয় জানে না এবং তিনি সব বিষয়ে সর্বজ্ঞ, কোনো কিছুই তাঁর কাছে গোপন থাকে না। যা বর্তমানে ঘটছে এবং যা অতীতে ঘটেছে, সে সম্পর্কে তিনি সম্যক অবহিত।৫ এবং তিনি বলেছেন: “কিয়ামতের জ্ঞান কেবল তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করা হয়। তাঁর অজ্ঞাতসারে কোনো ফল তার আবরণ হতে বের হয় না এবং কোনো নারী গর্ভধারণ করে না ও সন্তান প্রসব করে না। যেদিন তিনি তাদের ডেকে বলবেন, ‘আমার শরীকরা কোথায়?’ তারা বলবে, ‘আমরা আপনার কাছে নিবেদন করছি যে, আমাদের মধ্যে এ ব্যাপারে কোনো সাক্ষী নেই’।” ৬.

আল্লাহ ফেরেশতাদের থেকে অদৃশ্যের জ্ঞানকে অস্বীকার করেছেন। বরং ফেরেশতারা তাঁদের প্রতিপালকের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করেছেন এ বিষয়ে যে, আল্লাহ যা চান তা ব্যতীত তাঁর জ্ঞানের কোনো কিছুই কেউ আয়ত্ত করতে পারে না এবং আল্লাহ তাঁদের যা শিখিয়েছেন তা ব্যতীত অন্য কিছু তাঁরা জানেন না।৭ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: “আর তিনি আদমকে সকল নাম শিক্ষা দিলেন, অতঃপর সেগুলোকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন এবং বললেন...

--------------------------------------------

১. সূরা আন-নামল, আয়াত: ৬৫।

২. সূরা আল-আনআম, আয়াত: ৫৯।

৩. দেখুন: "তাফসির আল-বায়দাবি": পৃষ্ঠা ১৭৮।

৪. সূরা লুকমান, আয়াত: ৩৪।

৫. "তাফসির আত-তবারি": (২১/৮৭)।

৬. সূরা ফুসসিলাত, আয়াত: ৪৭।

৭. দেখুন: "তাফসির ইবনে কাসির": (১/৭৪)।
(খণ্ড: ১) আত-তানজীম ওয়াল মুনাজ্জিমূনা ওয়া হুকমু যালিকা ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
أَنْبِئُونِي بِأَسْمَاءِ هَؤُلاءِ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ * قَالُوا سُبْحَانَكَ لا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا إِنَّكَ أَنْتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ * قَالَ يَا آدَمُ أَنْبِئْهُمْ بِأَسْمَائِهِمْ فَلَمَّا أَنْبَأَهُمْ بِأَسْمَائِهِمْ قَالَ أَلَمْ أَقُلْ لَكُمْ إِنِّي أَعْلَمُ غَيْبَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَأَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا كُنْتُمْ تَكْتُمُونَ} 1.

وبين سبحانه أن الجن لا يعلمون الغيب فقال: {فَلَمَّا قَضَيْنَا عَلَيْهِ الْمَوْتَ مَا دَلَّهُمْ عَلَى مَوْتِهِ إِلَّا دَابَّةُ الْأَرْضِ تَأْكُلُ مِنْسَأَتَهُ فَلَمَّا خَرَّ تَبَيَّنَتِ الْجِنُّ أَنْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ الْغَيْبَ مَا لَبِثُوا فِي الْعَذَابِ الْمُهِينِ} 2.

فلما أمضى الله قضاءه على سليمان بالموت فمات، لم يدل الجن على موت سليمان إلا دابة الأرض (وهي الأرضة) وقعت في عصاه التي كان متكئاً عليها فأكلتها، فلما هر سليمان ساقطاً بانكسار عصاه، تبينت الجن أن لو كانوا يعلمون الغيب الذي يدعون علمه ما لبثوا في العذاب المهين المذل حولاً كاملاً بعد موت سليمان، وهم يحسبون أن سليمان حي3.

ونفى أن يكون خير البشر عالماً بالغيب، فقال: {قُلْ لا أَقُولُ لَكُمْ عِنْدِي خَزَائِنُ اللَّهِ وَلا أَعْلَمُ الْغَيْبَ وَلا أَقُولُ لَكُمْ إِنِّي مَلَكٌ إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَى إِلَيَّ} 4.

وقال: {قُلْ لا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعاً وَلا ضَرّاً إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ وَلَوْ كُنْتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} 5.

--------------------------------------------

1 سورة البقرة، الآيات: 31-33.

2 سورة سبأ، الآية: 14.

3 انظر: "تفسير الطبري": (22/73، 74) .

4 سورة الأعراف، الآية 188.

5 سورة الأحقاف، الآية 9.
তোমরা আমাকে এইগুলোর নাম বলে দাও যদি তোমরা সত্যবাদী হও। তারা বলল: আপনি পবিত্র! আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের কোনো জ্ঞান নেই। নিশ্চয়ই আপনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। তিনি বললেন: হে আদম! তুমি তাদের এইগুলোর নাম বলে দাও। যখন সে তাদের নাম বলে দিল, তখন তিনি বললেন: আমি কি তোমাদের বলিনি যে, আমি আসমান ও জমিনের অদৃশ্য বিষয় সম্পর্কে অবগত এবং তোমরা যা প্রকাশ করো ও যা গোপন করতে তা-ও আমি জানি? ১.

এবং সুবহানাহু স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে জিন্নরা গায়ব (অদৃশ্য) জানে না। তিনি বলেছেন: "অতঃপর যখন আমি তার (সুলায়মানের) ওপর মৃত্যু নির্ধারণ করলাম, তখন উইপোকা ছাড়া আর কিছুই তাদের তার মৃত্যু সম্পর্কে অবহিত করেনি, যা তার লাঠি খাচ্ছিল। অতঃপর যখন সে পড়ে গেল, তখন জিন্নদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, যদি তারা গায়ব জানত, তবে তারা লাঞ্ছনাকর শাস্তির মধ্যে পড়ে থাকত না।" ২.

অতঃপর যখন আল্লাহ সুলায়মানের ওপর মৃত্যুর ফয়সালা কার্যকর করলেন এবং তিনি ইন্তেকাল করলেন, তখন উইপোকা (মাটির পোকা) ছাড়া আর কিছুই জিন্নদেরকে সুলায়মানের মৃত্যুর ব্যাপারে অবহিত করেনি; যা তার সেই লাঠিতে ধরেছিল যার ওপর তিনি হেলান দিয়ে ছিলেন এবং সেটি খেয়ে ফেলেছিল। অতঃপর যখন লাঠি ভেঙে যাওয়ার ফলে সুলায়মান পড়ে গেলেন, তখন জিন্নদের কাছে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, তারা যে অদৃশ্য বিষয় জানার দাবি করত, তা যদি সত্যিই জানত, তবে সুলায়মানের মৃত্যুর পর দীর্ঘ এক বছর যাবৎ তারা এই অপমানজনক ও লাঞ্ছনাকর পরিশ্রমে লিপ্ত থাকত না; অথচ তারা মনে করছিল যে সুলায়মান জীবিত আছেন। ৩.

এবং তিনি শ্রেষ্ঠ মানব গায়ব জানেন—এটিও অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন: "বলো, আমি তোমাদের বলি না যে আমার কাছে আল্লাহর ভাণ্ডারসমূহ আছে এবং আমি গায়ব জানি না, আর আমি তোমাদের এ-ও বলি না যে আমি একজন ফেরেশতা। আমার প্রতি যা ওহি করা হয় আমি কেবল তারই অনুসরণ করি।" ৪.

এবং তিনি বলেছেন: "বলো, আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া আমার নিজের কোনো উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা আমার নেই। আর আমি যদি গায়ব জানতাম তবে আমি প্রচুর কল্যাণ অর্জন করতাম এবং কোনো অনিষ্ট আমাকে স্পর্শ করত না। আমি তো কেবল মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা।" ৫.

--------------------------------------------

১. সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ৩১-৩৩।

২. সূরা সাবা, আয়াত: ১৪।

৩. দেখুন: "তাফসিরে তবারী": (২২/৭৩, ৭৪)।

৪. সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ১৮৮।

৫. সূরা আল-আহকাফ, আয়াত: ৯।
(খণ্ড: ১) আত-তানজীম ওয়াল মুনাজ্জিমূনা ওয়া হুকমু যালিকা ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌المطلب الثاني: تعريف التنجيم

…

المبحث الأول: تعريف التنجيم

- التعريف اللغوي:

التنجيم: مصدر الفعل نجّم، وهو مأخوذ من النَّجْم، وهو: الكوكب، وهو اسم علم على الثريا1.

ونجّم وتنجّم: إذا راعى النجوم من سهر2.

والمنجّم والمتنجّم: الذي ينظر في النجوم يحسب مواقيتها وسيرها3.

- التعريف الاصطلاحي:

تتضمن صناعة التنجيم معرفة أحكام النجوم المتعلقة بالعالم السفلي، وتأثيرات النجوم فيه4.

وبناء على هذا سنستعرض أقوال العلماء في تعريف التنجيم الاصطلاحي: فقد عرفه الخطابي وتابعه البغي بأنه: (هو ما يدعيه أهل التنجيم من علم الكوائن والحوادث التي لم تقع، وستقع في مستقبل الزمان، كإخبارهم بأوقات هبوب الرياح ومجيء المطر وظهور الحر والبرد وتغيرّ الأسعار وما كان في معانيها من الأمور. يزعمون أنهم يدركون معرفتها بسير الكواكب في مجاريها، وباجتماعها واقترانها، ويدَّعون لها

--------------------------------------------

1 انظر: "الصحاح": (5/239) .

2 انظر: "جمهرة اللغة": (2/115) .

3 انظر: "العين": (6/154) ، و"جمهرة اللغة": (2/115) ، و"لسان العرب": (12/570) ، و"القاموس المحيط": (4/178) ، و"تاج العروس": (9/72، 73) .

4 انظر: "مجموع فتاوى شيخ الإسلام": (35/192) .
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জ্যোতিষবিদ্যার সংজ্ঞা

...

প্রথম অনুচ্ছেদ: জ্যোতিষবিদ্যার সংজ্ঞা

- আভিধানিক সংজ্ঞা:

তানজিম (التنجيم): এটি 'নাজ্জামা' (نجّم) ক্রিয়ার মাসদার (ক্রিয়া বিশেষ্য), যা 'নাজম' (النَّجْم) শব্দ থেকে গৃহীত। এর অর্থ হলো: নক্ষত্র। এটি 'সুরাইয়া' (কৃত্তিকা নক্ষত্রপুঞ্জ)-এর একটি নির্দিষ্ট নাম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।১

'নাজ্জামা' (نجّم) এবং 'তানাজ্জামা' (تنجّم): যখন কেউ রাত জেগে নক্ষত্র পর্যবেক্ষণ করে।২

'মুনাজ্জিম' (المنجّم) এবং 'মুতানাজ্জিম' (المتنجّم): যে ব্যক্তি নক্ষত্রসমূহের দিকে দৃষ্টিপাত করে সেগুলোর সময় ও গতিপথের হিসাব নিকাশ করে।৩

- পারিভাষিক সংজ্ঞা:

জ্যোতিষবিদ্যার শিল্পের অন্তর্ভুক্ত হলো নিম্নজগতের (পৃথিবীর) সাথে সংশ্লিষ্ট নক্ষত্রসমূহের বিধিবিধান এবং এতে নক্ষত্রসমূহের প্রভাব সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।৪

এর ওপর ভিত্তি করে আমরা জ্যোতিষবিদ্যার পারিভাষিক সংজ্ঞার ক্ষেত্রে আলেমদের উক্তিগুলো পর্যালোচনা করব: আল-খাত্তাবি এবং তাকে অনুসরণ করে আল-বাগাভি একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে: (এটি হলো অনাগত ভবিষ্যতে ঘটবে এমন সব সৃষ্টিজগত ও ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে জ্যোতিষীদের দাবি করা জ্ঞান; যেমন—বাতাস প্রবাহিত হওয়ার সময়, বৃষ্টি আসা, গরম ও শীতের প্রকাশ, পণ্যদ্রব্যের মূল্য পরিবর্তন এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে তাদের আগাম সংবাদ দেওয়া। তারা ধারণা করে যে, তারা গ্রহসমূহের নিজস্ব কক্ষপথে বিচরণ এবং সেগুলোর সম্মিলন ও সংযোগের মাধ্যমে এই জ্ঞান লাভ করে। তারা এগুলোর ব্যাপারে দাবি করে যে...)

--------------------------------------------

১ দেখুন: "আস-সিহাহ": (৫/২৩৯)।

২ দেখুন: "জামহারাতুল লুগাহ": (২/১১৫)।

৩ দেখুন: "আল-আইন": (৬/১৫৪), "জামহারাতুল লুগাহ": (২/১১৫), "লিসানুল আরব": (১২/৫৭০), "আল-কামুসুল মুহিত": (৪/১৭৮), "তাজুল আরুস": (৯/৭২, ৭৩)।

৪ দেখুন: "মাজমুউ ফাতাওয়া শাইখিল ইসলাম": (৩৫/১৯২)।
(খণ্ড: ১) আত-তানজীম ওয়াল মুনাজ্জিমূনা ওয়া হুকমু যালিকা ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩৪)
تأثيراً في السفليات وأنها تتصرف على أحكامها وتجري على قضايا موجبها) 1.

قلت: إن الخطابي رحمه الله مثَّل بأوقات هبوب الرياح.. إلخ مع وجود أمثلة أوضح من هذه، كإخبار المنجمين بالسعودة والنحوسة، وبالموت والحياة، وبزوال الدول وقيامها، وبفناء العالم ودوامه، ونحو ذلك مما يكثر ذكره على ألسنة المنجمين.

وعرفه طاش كبرى زادة2 بأنه علم يتعرف منه على الاستدلال بالتشكيلات الفلكية من أوضاعها، وهي أوضاع الأفلاك والكواكب من المقابلة والمقارنة والتثليث والتسديس والتربيع3 على الحوادث الواقعة في عالم الكون والفساد من أحوال الجو والمعادن والنبات والحيوان4.

قلت: إن هذا التعريف بين الحكم بالنجوم، ولم يذكر تأثيراتها.

--------------------------------------------

1 "معالم السنن": (5/371-372) ، و"شرح السنة" للبغوي: (12/183) .

2 هو أحمد بن مصطفى بن خليل طاشكبري زادة، مؤرخ، تركي الأصل، مستعرب. تنقل في البلاد التركية مدرساً للفقه والحديث وعلوم العربية، وولي القضاء بالقسطنطينية، توفي سنة ثمان وستين وتسعمائة. انظر: "الأعلام": (1/257) .

3 المقابلة: بمعنى أن يكون الكوكبان متقابلين، أي بينهما مائة وثمانون درجة نصف الفلك.

والمقارنة: بمعنى أن يكون الكوكبان في درجة واحدة من الفلك.

والتثليث: بمعنى أن يكون بين الكوكبين مائة وعشرون درجة ثلث الفلك.

والتسديس: بمعنى أن يكون بين الكوكبين ستون درجة سدس الفلك.

والتربيع: بمعنى أن يكون بين الكوكبين تسعون درجة ربع الفلك."رسائل إخوان الصفا": (1/152) .

4 "مفتاح دار السعادة ومصباح السيادة": (1/337) .
...নিম্নস্থ জগতের ওপর প্রভাব বিস্তার করে এবং এগুলো তাদের বিধান অনুযায়ী পরিচালিত হয় এবং তাদের কারণসমূহের দাবি অনুযায়ী আবর্তিত হয়) ১।

আমি বলি: ইমাম খাত্তাবি (রহিমাহুল্লাহ) বায়ু প্রবাহের সময়ের উদাহরণ দিয়েছেন... ইত্যাদি, অথচ এর চেয়েও স্পষ্টতর উদাহরণ বিদ্যমান ছিল, যেমন জ্যোতিষীদের সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য, মৃত্যু ও জীবন, রাষ্ট্রের পতন ও উত্থান এবং জগতের বিনাশ ও স্থায়িত্ব সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা এবং এই জাতীয় বিষয় যা জ্যোতিষীদের মুখে অহরহ উচ্চারিত হয়।

তাশ কুবরা জাদাহ ২ এটিকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে যে, এটি এমন একটি জ্ঞান যার মাধ্যমে মহাজাগতিক বিন্যাস ও তাদের অবস্থান থেকে—অর্থাৎ আসমানি গোলক এবং নক্ষত্রসমূহের অবস্থান যেমন ‘মুকাবালা’ (মুখোমুখি হওয়া), ‘মুকরানা’ (একত্রে থাকা), ‘তাসলিছ’ (ত্রিকোণীয়), ‘তাসদিস’ (ষড়কোণীয়) এবং ‘তারবি’ (চতুষ্কোণীয়) ৩—সৃষ্টি ও ধ্বংসের জগতে সংঘটিত ঘটনাবলি, যেমন আবহাওয়ার অবস্থা, খনিজ পদার্থ, উদ্ভিদ এবং প্রাণিকুল ৪ সম্পর্কে প্রমাণ আহরণ করা হয়।

আমি বলি: এই সংজ্ঞাটি নক্ষত্রের মাধ্যমে ফয়সালা বা সিদ্ধান্তের বিষয়টি স্পষ্ট করেছে, কিন্তু এগুলোর প্রভাবের কথা উল্লেখ করেনি।

--------------------------------------------

১ ‘মাআলিমুস সুনান’: (৫/৩৭১-৩৭২), এবং বাগাওয়ীর ‘শারহুস সুন্নাহ’: (১২/১৮৩)।

২ তিনি হলেন আহমদ ইবনে মুস্তফা ইবনে খলিল তাশ কুবরা জাদাহ; একজন ঐতিহাসিক, তুর্কি বংশোদ্ভূত এবং আরবি বিদ্যায় পারদর্শী। তিনি ফিকহ, হাদিস এবং আরবি ভাষাতত্ত্বের শিক্ষক হিসেবে তুরস্কের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণ করেছেন এবং কনস্টান্টিনোপলে বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ৯৬৮ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। দেখুন: ‘আল-আ’লাম’: (১/২৫৭)।

৩ মুকাবালা: এর অর্থ হলো দুটি নক্ষত্র একে অপরের বিপরীতে থাকা, অর্থাৎ তাদের মধ্যে ১৮০ ডিগ্রি দূরত্ব থাকা যা মহাকাশীয় বৃত্তের অর্ধেক।

মুকারানা: এর অর্থ হলো দুটি নক্ষত্র মহাকাশীয় বৃত্তের একই ডিগ্রিতে অবস্থান করা।

তাসলিছ: এর অর্থ হলো দুটি নক্ষত্রের মধ্যে ১২০ ডিগ্রি দূরত্ব থাকা যা মহাকাশীয় বৃত্তের এক-তৃতীয়াংশ।

তাসদিস: এর অর্থ হলো দুটি নক্ষত্রের মধ্যে ৬০ ডিগ্রি দূরত্ব থাকা যা মহাকাশীয় বৃত্তের এক-ষষ্ঠাংশ।

তারবি: এর অর্থ হলো দুটি নক্ষত্রের মধ্যে ৯০ ডিগ্রি দূরত্ব থাকা যা মহাকাশীয় বৃত্তের এক-চতুর্থাংশ। ‘রাসায়িলু ইখওয়ানিস সাফা’: (১/১৫২)।

৪ ‘মিফতাহু দারিস সা’আদাহ ওয়া মিসবাহুস সিয়াদা’: (১/৩৩৭)।
(খণ্ড: ১) আত-তানজীম ওয়াল মুনাজ্জিমূনা ওয়া হুকমু যালিকা ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وعرفه حاجي خليفة1 بقوله: هو علم يعرف به الاستدلال على حوادث الكون والفساد بالتشكيلات الفلكية، وهي أوضاع الأفلاك والكواكب كالمقارنة والمقابلة والتثليث والتسديس والتربيع إلى غير ذلك2.

ويؤخذ على هذا التعريف أنه لم يتعرض لتأثير الكواكب على الحوادث الأرضية.

أما التعريفات التي خلت عن مثل هذه الاعتراضات فهي:

تعريف ابن تيمية بأنه هو: الاستدلال على الحوادث الأرضية بالأحوال الفلكية، والتمزيج بين القوى الفلكية والقوابل الأرضية كما يزعمون3.

وعرفه ابن خلدون في "مقدمته" فقال: ما يزعمه أصحاب هذه الصناعة من أنهم يعرفون بها الكائنات في عالم العناصر قبل حدوثها من قبل معرفة قوى الكواكب وتأثيرها في المولدات4 العنصرية مفردة ومجتمعة، فتكون لذلك أوضاع الأفلاك والكواكب دالة على ما سيحدث من نوع من أنواع الكائنات الكلية والشخصية5.

--------------------------------------------

1 هو مصطفى بن عبد الله كاتب حلبي المعروف بـ (حاجي خليفة) ، مؤرخ، بحاثة، تركي الأصل مستعرب، مولده ووفاته في القسطنطينية، وكانت وفاته سنة سبع وستين وألف للهجرة.

انظر: "كشف الظنون": المقدمة، و"الأعلام": (7/236) .

2 "كشف الظنون": (2/1930) .

3 انظر: "مجموع فتاوى شيخ الإسلام": (35/192) .

4 المولّد: المحدث من كل شيء. "لسان العرب": (3/470) .

5 "مقدمة ابن خلدون": ص519-520.

ويقصد بالأنواع الكلية، الحوادث التي تحدث للعالم أو للدول.

وبالأنواع الشخصية: الحوادث التي تحدث للأشخاص من موت وحياة ونحوه.
হাজি খলিফা১ একে এভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন: এটি এমন এক বিদ্যা যার মাধ্যমে মহাজাগতিক বিন্যাস তথা আসমানি গোলক ও নক্ষত্ররাজির অবস্থান—যেমন সংযোগ, সমমুখতা, ত্রিকোণতা, ষষ্ঠাংশ ও চতুর্থাংশ এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়—দ্বারা জগতের সৃষ্টি ও ধ্বংসের ঘটনাবলির ওপর প্রমাণ গ্রহণ করা হয়২।

এই সংজ্ঞার ওপর এই আপত্তি তোলা হয় যে, এতে পার্থিব ঘটনাবলির ওপর নক্ষত্রের প্রভাবের বিষয়টি আলোচনা করা হয়নি।

আর যেসব সংজ্ঞা এ ধরনের আপত্তি থেকে মুক্ত সেগুলো হলো:

ইবনে তাইমিয়্যাহর সংজ্ঞা; তিনি বলেন: এটি হলো মহাজাগতিক পরিস্থিতির মাধ্যমে পার্থিব ঘটনাবলির ওপর প্রমাণ গ্রহণ করা এবং তাদের দাবি অনুযায়ী মহাজাগতিক শক্তি ও পার্থিব গ্রহণকারী উপাদানগুলোর মধ্যে সমন্বয় ঘটানো৩।

ইবনে খালদুন তাঁর "মুকাদ্দিমা"-তে একে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন: এই শিল্পের ধারকরা যা দাবি করে তা হলো, নক্ষত্ররাজির শক্তি এবং মৌলিক উপাদানসমূহের (একক বা সম্মিলিত) ওপর তাদের প্রভাব সম্পর্কে জানার মাধ্যমে তারা জগতের উপাদানসমূহে কোনো কিছু ঘটার পূর্বেই তা জানতে পারে। ফলে আসমানি গোলক ও নক্ষত্ররাজির অবস্থানগুলো জগতের সামগ্রিক বা ব্যক্তিগত পর্যায়ের ঘটনাবলির ওপর প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়৫।

--------------------------------------------

১ তিনি হলেন মোস্তফা বিন আব্দুল্লাহ কাতিব হালাবি, যিনি (হাজি খলিফা) নামে পরিচিত। তিনি একজন ঐতিহাসিক, গবেষক, তুর্কি বংশোদ্ভূত আরবীয় পণ্ডিত। তাঁর জন্ম ও মৃত্যু কনস্টান্টিনোপলে, এবং তাঁর মৃত্যু হয় ১০৬৭ হিজরিতে।

দেখুন: "কাশফুজ জুনুন": ভূমিকা, এবং "আল-আ’লাম": (৭/২৩৬)।

২ "কাশফুজ জুনুন": (২/১৯৩০)।

৩ দেখুন: "মাজমুউ ফাতাওয়া শায়খুল ইসলাম": (৩৫/১৯২)।

৪ আল-মুওয়াল্লাদ: যেকোনো কিছুর নতুন সৃষ্টি। "লিসানুল আরব": (৩/৪৭০)।

৫ "মুকাদ্দিমা ইবনে খালদুন": পৃষ্ঠা ৫১৯-৫২০।

সামগ্রিক প্রকার বলতে উদ্দেশ্য হলো সেই সকল ঘটনা যা বিশ্ব বা রাষ্ট্রসমূহে ঘটে থাকে।

আর ব্যক্তিগত প্রকার বলতে উদ্দেশ্য হলো সেই সকল ঘটনা যা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে, যেমন মৃত্যু, জীবন এবং এই জাতীয় বিষয়।
(খণ্ড: ১) আত-তানজীম ওয়াল মুনাজ্জিমূনা ওয়া হুকমু যালিকা ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وفي نظري أن تعريف ابن خلدون أوضح التعريفات، إذ إن التعريفات الماضية لا تسلم من الملحوظات كما بينت ذلك في موضعه، وتعريف ابن تيمية رحمه الله إلا أن فيه إجمالاً.

আমার দৃষ্টিতে ইবনে খালদুনের সংজ্ঞাটিই সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে সর্বাধিক স্পষ্ট, কেননা পূর্ববর্তী সংজ্ঞাগুলো নানাবিধ পর্যবেক্ষণ বা আপত্তি হতে মুক্ত নয়, যেমনটি আমি যথাস্থানে স্পষ্ট করেছি। আর ইবনে তাইমিয়্যাহর (রাহিমাহুল্লাহ) সংজ্ঞার বিষয়টি হলো, তাতে কিছুটা সংক্ষিপ্ততা বা অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।

(খণ্ড: ১) আত-তানজীম ওয়াল মুনাজ্জিমূনা ওয়া হুকমু যালিকা ফিল ইসলাম (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌المطلب الثالث: أقسام علم النجوم

…

المبحث الثالث: أقسام علم النجوم

ينقسم علم النجوم عند الإطلاق إلى ثلاثة أقسام1: حسابيات، وطبيعيات، ووهميات2.

- القسم الأول:

كعمل التقاويم، وحل الزيجات، واستخراج التواريخ، ونحو ذلك3.

- القسم الثاني: الطبيعيات:

كالاستدلال من انتقال الشمس في البروج الفلكية على الفصول كالحر والبرد والاعتدال4، وهذا ما عبر عنه الخطابي والبغوي بقولهما: (أما علم النجوم الذي يدرك من طريق المشاهدة والحس كالذي يعرف به الزوال ويعلم به جهة القبلة فإنه غير داخل فيما نهي عنه) 5.

ويدخل في هذا القسم أيضاً العلم بأسماء الكواكب ومناظرها ومطالعها ومساقطها وسيرها والاهتداء بها، وانتقال العرب عن

--------------------------------------------

1 قد قسمها بعض العلماء على غير هذا التقسيم كالخطابي في "معالم السنن": (5/371) ، والخطيب البغدادي في القول في النجوم ق1 أ، والبغوي في "شرح السنة": (12/183) ، وابن رجب الحنبلي في "فضل علم السلف على علم الخلف": (ص134) ، وكلها بمعنى واحد وإن اختلفت الألفاظ، واخترت تقسيم حاجي خليفة لما يحويه من التفصيل.

2 "كشف الظنون": (2/1930) .

3 انظر: "رسائل إخوان الصفا": (1/114) .

4 "كشف الظنون": (2/1930) .

5 "معالم السنن": (5/371، 372) ، وانظر: "شرح السنة": (12/183) .
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নক্ষত্রবিদ্যার প্রকারভেদ

...

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: নক্ষত্রবিদ্যার প্রকারভেদ

সাধারণভাবে নক্ষত্রবিদ্যা তিন ভাগে বিভক্ত: গাণিতিক, প্রাকৃতিক এবং কাল্পনিক।

- প্রথম বিভাগ:

যেমন বর্ষপঞ্জি প্রণয়ন করা, জ্যোতির্বিজ্ঞানীয় সারণী বা ছকসমূহ সমাধান করা, তারিখ বের করা এবং এই জাতীয় বিষয়াদি।

- দ্বিতীয় বিভাগ: প্রাকৃতিক বিষয়াবলি:

যেমন রাশিচক্রের কক্ষপথে সূর্যের পরিভ্রমণ থেকে ঋতু পরিবর্তন—যেমন গ্রীষ্ম, শীত এবং নাতিশীতোষ্ণতা—সম্পর্কে প্রমাণ গ্রহণ করা। এই বিষয়টিই খাত্তাবি এবং বাগাবি তাদের এই বক্তব্যের মাধ্যমে ব্যক্ত করেছেন: (আর নক্ষত্রবিদ্যার যে জ্ঞান পর্যবেক্ষণ ও ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে অর্জিত হয়, যার দ্বারা মধ্যাহ্নকাল বা সূর্যের ঢলে পড়া চেনা যায় এবং কিবলার দিক জানা যায়, তা নিষিদ্ধ বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়)।

এই বিভাগের অন্তর্ভুক্ত আরও হলো—গ্রহ-নক্ষত্রসমূহের নাম, সেগুলোর দৃশ্যমান রূপ, উদয়স্থল, অস্তস্থল ও তাদের গতিবিধি সম্পর্কে জানা এবং এগুলোর মাধ্যমে পথনির্দেশ লাভ করা। আর আরবদের স্থান পরিবর্তন...

--------------------------------------------

১ কোনো কোনো আলেম একে অন্যভাবেও বিন্যস্ত করেছেন, যেমন খাত্তাবি 'মাআলিমুস সুনান'-এ: (৫/৩৭১), খতিব বাগদাদি 'আল-কাওলু ফিন নুজুম' পৃষ্ঠা ১-ক-তে, বাগাবি 'শারহুস সুন্নাহ'-তে: (১২/১৮৩) এবং ইবনে রজব হাম্বলি 'ফাদলু ইলমিস সালাফ আলা ইলমিল খালাফ'-এ: (পৃষ্ঠা ১৩৪)। শব্দগত পার্থক্য থাকলেও এগুলোর মূল অর্থ একই। আমি হাজ্জি খলিফার বিভাজনটি গ্রহণ করেছি কারণ এতে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।

২ 'কাশফুজ জুনুন': (২/১৯৩০)।

৩ দেখুন: 'রাসাইলু ইখওয়ানুস সাফা': (১/১১৪)।

৪ 'কাশফুজ জুনুন': (২/১৯৩০)।

৫ 'মাআলিমুস সুনান': (৫/৩৭১, ৩৭২), এবং দেখুন: 'শারহুস সুন্নাহ': (১২/১৮৩)।