(খণ্ড: ১) আল-মুফাসসাল ফী সানআতিল ইরাব (পৃষ্ঠা: -)
المفصل في صنعة الإعراب   (الزمخشري)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: المفصل في صنعة الإعراب

المؤلف: أبو القاسم محمود بن عمرو بن أحمد، الزمخشري جار الله (ت 538هـ)

المحقق: د. علي بو ملحم

الناشر: مكتبة الهلال - بيروت

الطبعة: الأولى، 1993

عدد الصفحات: 557

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-মুফাসসাল ফি সানআতিল ই'রাব   (আল-জামাখশারি)

বিভাগ: নাহু ও সারফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)


গ্রন্থ: আল-মুফাসসাল ফি সানআতিল ই'রাব

লেখক: আবুল কাসিম মাহমুদ বিন আমর বিন আহমদ, আল-জামাখশারি জারুল্লাহ (মৃত্যু ৫৩৮ হিজরি)

সম্পাদক: ড. আলি বু মুলহিম

প্রকাশক: মাকতাবাতুল হিলাল - বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম, ১৯৯৩

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৫৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুলহিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-মুফাসসাল ফী সানআতিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌مقدمة المؤلف

قال الاستاذ الإمام الأجل فخر خوارزم رئيس الأفاضل القاسم محمود بن عمر الزمخشري رحمة الله عليه الله احمد على أن جعلني من علماء العربية

وجبلني على الغضب للعرب والعصبية

وأبى لي أن أنفرد عن صميم أنصارهم وأمتاز وأنضوي إلى لفيف الشعوبية وانحاز

وعصمني من مذهبهم الذي لم يجد عليهم إلا الرشق بألسنة اللاعنين والمشق بأسنة الطاعنين

وإلى افضل السابقين والمصلين اوجه افضل صلوات المصلين محمد المحفوف من بني عدنان بجماجمها وأرحائها النازل من قريش في سرة بطحائها المبعوث إلى الأسود والاحمر بالكتاب العربي المنور

ولآله الطيبين أدعو الله بالرضوان وادعوه على أهل الشقاق والعدوان
‌‌লেখকের ভূমিকা (مقدمة)

মহান ইমাম, উস্তাদ, খাওয়ারিজমের গৌরব, গুণীজনদের প্রধান আল-কাসিম মাহমুদ বিন উমর আল-জামাশারি (রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: আমি আল্লাহর প্রশংসা করছি এই কারণে যে, তিনি আমাকে আরবি ভাষার বিজ্ঞ আলিমদের (علماء) অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

এবং আরবদের প্রতি অনুরাগ ও তাদের স্বজাত্যবোধের (العصبية) প্রতি আমাকে প্রকৃতিগতভাবে অনুরাগী করেছেন।

তিনি আমার জন্য এটা অপছন্দ করেছেন যে, আমি তাদের একনিষ্ঠ সাহায্যকারীদের কাতার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি কিংবা পৃথক হয়ে শুউবিয়াহ (আরব-বিদ্বেষী) গোষ্ঠীর সাথে মিলিত হই বা তাদের দিকে ঝুঁকে পড়ি।

এবং তিনি আমাকে তাদের সেই মতাদর্শ (مذهب) থেকে রক্ষা করেছেন, যা তাদের জন্য লানতকারীদের জিহ্বার তীরের আঘাত এবং বিদ্ধকারীদের বর্শার ফলার যাতনা ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনেনি।

আর পূর্ববর্তীদের মধ্যে সর্বোত্তম এবং সালাত আদায়কারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তির প্রতি আমি মুসল্লিদের সর্বোত্তম সালাত পেশ করছি—তিনি হলেন মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), যিনি বনু আদনানের উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ও কেন্দ্রীয় ব্যক্তিবর্গ দ্বারা পরিবেষ্টিত, যিনি কুরাইশ বংশের উপত্যকার কেন্দ্রস্থলে অবতীর্ণ এবং যিনি কৃষ্ণকায় ও শ্বেতকায় সকল মানুষের নিকট আলোকোজ্জ্বল আরবি কিতাবসহ প্রেরিত হয়েছেন।

এবং তাঁর পবিত্র বংশধরদের জন্য আল্লাহর নিকট সন্তুষ্টির দোয়া করছি এবং বিভেদ ও শত্রুতা পোষণকারীদের বিরুদ্ধে তাঁর নিকট প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাসসাল ফী সানআতিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ১৮)
ولعل الذين يغضون من العربية ويضعون من مقدارها ويريدون أن يخفضوا ما رفع الله من منارها حيث لم يجعل حيرة رسله وخير كتبه في عجم خلقه ولكن في عربه لا يبعدون عن الشعوبية منابذة للحق الأبلج وزيغا عن سواء المنهج

والذي يقضى منه العجب حال هؤلاء في قلة إنصافهم وفرط جورهم واعتسافهم

وذلك أنهم لا يجدون علما من العلوم الإسلامية فقهيا وكلامها وعلمي تفسيرها وأخبارها إلا وافتقاره إلى العربية بين لا يدفع ومكشوف لا يتقنع

ويرون الكلام في معظم أبواب أصول الفقه ومسائلها مبنيا على علم الإعراب والتفاسير مشحونة بالروايات عن سيبوبه والأخفش والكسائي والفراء وغيرهم من النحويين البصريين والكوفيين والإستظهار في مآخذ النصوص بأقاويلهم والتشبث بأهداب فسرهم وتأويلهم

وبهذا اللسان مناقلتهم في العلم ومحاورتهم وتدريسهم ومناظرتهم

وبه تقطر في القراطيس أقلامهم

وبه تسطر الصكوك والسجلات حكامهم

فهم ملتبسون بالعربية أية سلكوا غير منفكين منها أينما وجهوا كل عليها حيثما سيروا

ثم إنهم في تضاعيف ذلك يجحدون فضلها وتعليمها ويدفعون خصلها ويذهبون عن توقيرها وتعظيمها وينهون عن تعلمها وتعليمها ويمزقون أديمها ويمضغون لحمها فهم في ذلك على المثل السائر الشعير يؤكل ويذم ويدعون الإستغناء عنها

وإنهم ليسوا في شق منها فإن صح ذلك فما بالهم لا يطلقون اللغة رأسا والإعراب ولا يقطعون بينهما وبينهم

সম্ভবত যারা আরবি ভাষাকে তুচ্ছজ্ঞান করে, এর মর্যাদা খর্ব করে এবং আল্লাহ যে মিনারকে সমুন্নত করেছেন তাকে অবনত করতে চায়—যেহেতু আল্লাহ তাঁর রাসূলগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম এবং কিতাবসমূহের মধ্যে সর্বোত্তমকে অনারবদের মধ্যে নয় বরং আরবদের মাঝেই পাঠিয়েছেন—তারা 'শুউবিয়্যাহ' (আরব-বিদ্বেষী মতবাদ) থেকে দূরে নয়; তারা সুস্পষ্ট সত্যের বিরুদ্ধাচরণকারী এবং সঠিক পথ হতে বিচ্যুত।

তাদের ব্যাপারে যা সবচেয়ে বিস্ময়কর তা হলো তাদের ন্যায়পরায়ণতার অভাব এবং চরম অন্যায় ও অসংলগ্ন আচরণ।

এর কারণ হলো, তারা ইসলামি জ্ঞানবিজ্ঞানের এমন কোনো শাখা খুঁজে পাবে না—তা ফিকহ হোক কিংবা কালাম (তত্ত্ববিদ্যা), আর তাফসীর কিংবা বর্ণনা (أخبار) সংক্রান্ত ইলম হোক—যা আরবির মুখাপেক্ষী হওয়ার বিষয়টি দিবালোকের মতো স্পষ্ট এবং অনস্বীকার্য নয়।

তারা দেখতে পায় যে, উসুল আল-ফিকহ-এর অধিকাংশ অধ্যায় ও মাসয়ালাসমূহ ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب)-এর ওপর ভিত্তি করে রচিত এবং তাফসীরসমূহ সিবাইওয়াহ, আল-আখফাশ, আল-কিসায়ি, আল-ফাররা এবং বসরা ও কুফার অন্যান্য নাহুবিদগণের বর্ণনায় (روايات) পরিপূর্ণ। এমনকি শরয়ি দলিলের উৎসসমূহ বুঝতে তাদের বক্তব্য গ্রহণ করা হয় এবং তাদের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের আশ্রয় নেওয়া হয়।

এই ভাষার মাধ্যমেই তাদের জ্ঞান আদান-প্রদান, কথোপকথন, পাঠদান ও বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।

এই ভাষাতেই তাদের কলম কাগজের ওপর চলমান থাকে।

এই ভাষাতেই তাদের বিচারকগণ দলিলপত্র ও নথিপত্র লিপিবদ্ধ করেন।

তারা যে পথেই চলুক না কেন, আরবির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে; যেদিকেই তারা মুখ ফিরাক না কেন, এ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তারা যেখানেই বিচরণ করুক, এর ওপরই নির্ভরশীল।

অতঃপর তারা এই বাস্তবতার মাঝে থেকেও আরবির শ্রেষ্ঠত্ব ও এর শিক্ষা দানকে অস্বীকার করে, এর মাহাত্ম্যকে অগ্রাহ্য করে এবং এর সম্মান ও মর্যাদা থেকে বিমুখ হয়। তারা একে শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেওয়া থেকে বারণ করে, এর সম্মানহানি করে এবং এর কুৎসা রটায়। তাদের অবস্থা সেই প্রচলিত প্রবাদের মতো: 'যব ভক্ষণ করা হয়, আবার তারই নিন্দা করা হয়'। তারা এই ভাষা থেকে অমুখাপেক্ষী হওয়ার দাবি করে।

যদি তারা এর থেকে সামান্যতমও বিযুক্ত না হয় (তবে তাদের দাবি অসার); আর যদি তাদের দাবি সত্য হয়, তবে তারা কেন এই ভাষাকে এবং এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণকে (إعراب) পুরোপুরি বর্জন করে না এবং নিজেদের ও এই ভাষার মাঝে পূর্ণ বিচ্ছেদ ঘটায় না?

(খণ্ড: ১) আল-মুফাসসাল ফী সানআতিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ১৯)
الأسباب فيطمسوا من تفسير القرآن آثارهما وينفضوا من أصول الفقه غبارهما

ولا يتكلموا في الإستثناء فإنه نحو وفي الفرق بين المعرف والمنكر فإنه نحو وفي التعريفين تعريف الجنس وتعريف العهد فإنهما نحو وفي الحروف كالواو والفاء وثم ولام الملك ومن التبعيض ونظائرها وفي الحذف والإضمار وفي أبواب الإختصار والتكرار وفي التطليق بالمصدر واسم الفاعل وفي الفرق بين أن وإن وإذا ومتى وكلما وأشباهها مما يطول ذكره فإن ذلك كله من النحو

وهلا سفهوا رأي محمد بن الحسن الشيباني رحمه الله فيما أودع كتاب الإيمان وما لهم لم يتراطنوا في مجالس التدريس وحلق المناظرة ثم نظروا هل تركوا للعلم جمالا وأبهة وهل أصبحت الخاصة بالعامة مشبهة وهل انقلبوا هزأة للساخرين وضحكة للناظرين هذا وإن الإعراب أجدى من تفاريق العصا

وآثاره الحسنة عديد الحصى

ومن لم يتق الله فى تنزيله فاجترأ على تعاطي تأويله وهو غير معرب فقد ركب عمياء وخبط خبط عشواء وقال ما هو تقول وافتراء وهراء وكلام الله منه براء وهو المرقاة المنصوبة إلى علم البيان المطلع على نكت نظم القرآن الكافل بإبراز محاسنه الموكل بإثارة معادنه فالصاد عنه كالساد لطرق الخير كيلا تسلك والمريد بموارده أن تعاف وتترك

ولقد ندبني ما بالمسلمين من الإرب إلى معرفة كلام العرب وما بي من الشفقة والحدب على أشياعي من حفدة الأدب لإنشاء كتاب في
কারণসমূহ, ফলে তারা কুরআনের তাফসির (تفسير) থেকে এর চিহ্নসমূহ মিটিয়ে ফেলে এবং উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) থেকে এর ধূলিকণা ঝেড়ে ফেলে।

তারা যেন ইস্তিসনা (إستثناء) নিয়ে কথা না বলে, কারণ এটি নাহু (نحو); এবং নির্দিষ্ট (معرف) ও অনির্দিষ্ট (منكر) এর পার্থক্য সম্পর্কেও না, কারণ এটি নাহু (نحو); এবং উভয় প্রকার সংজ্ঞায়ন—লিঙ্গবাচক সংজ্ঞায়ন (تعريف الجنس) ও পূর্বপ্রসঙ্গবাচক সংজ্ঞায়ন (تعريف العهد)—বিষয়েও না, কারণ এই উভয়ই নাহু (نحو); এবং বিভিন্ন হরফ (حروف) যেমন: ওয়াও, ফা, সুম্মা, মালিকানা সত্ত্ব বুঝাতে ‘লাম’, আংশিকত্ব বুঝাতে ‘মিন’ (من التبعيض) ও এদের সমরূপ বিষয়গুলো সম্পর্কেও না; এবং উহ্যকরণ (حذف) ও প্রচ্ছন্নকরণ (إضمار) বিষয়েও না; এবং সংক্ষিপ্তকরণ (إختصار) ও পুনরাবৃত্তি (تكرار) অধ্যায়গুলো সম্পর্কেও না; এবং মাসদার (مصدر) ও ইসমে ফায়েল (اسم فاعل) এর মাধ্যমে তালাক প্রদানের বিষয়গুলো সম্পর্কেও না; এবং ‘আন’, ‘ইন্না’, ‘ইযা’, ‘মাতা’, ‘কুল্লামা’ ও এদের সদৃশ বিষয়গুলোর পার্থক্যের ক্ষেত্রেও না যার বর্ণনা দীর্ঘ হবে; কারণ এই সব কিছুই নাহু (نحو) শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত।

মুহাম্মদ বিন হাসান আশ-শায়বানী (রহিমাহুল্লাহ) কিতাবুল ইমানে যা সন্নিবেশিত করেছেন সে সম্পর্কে তারা কেন নির্বুদ্ধিতামূলক মন্তব্য করল না? আর তাদের কী হলো যে তারা পাঠদান মজলিস ও বিতর্ক সভায় অস্পষ্ট ভাষায় কথা বলে না? অতঃপর তারা লক্ষ্য করুক যে, তারা কি ইলমের জন্য কোনো সৌন্দর্য ও গাম্ভীর্য অবশিষ্ট রেখেছে? এবং বিশেষ শ্রেণি কি সাধারণ শ্রেণির সদৃশ হয়ে যায়নি? এবং তারা কি বিদ্রুপকারীদের উপহাসে ও দর্শকদের নিকট হাসির পাত্রে পরিণত হয়নি? বস্তুত লাঠির বিচ্ছিন্ন টুকরোগুলোর চেয়েও ই’রাব (إعراب) অধিকতর ফলদায়ক।

এবং এর উত্তম প্রভাবসমূহ নুড়িপাথরের সংখ্যার ন্যায় অগণিত।

যে ব্যক্তি আল্লাহর ওহী নাযিলের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে না, ফলে সে ই’রাব (إعراب) ব্যতিরেকেই তার ব্যাখ্যা (تأويل) করার দুঃসাহস দেখায়, সে তো মূলত অন্ধভাবে আরোহণ করল এবং লক্ষ্যহীনভাবে হাতড়ে বেড়াল। সে যা বলেছে তা অলীক কল্পনা, অপবাদ ও প্রলাপ মাত্র; আর আল্লাহর কালাম তা থেকে মুক্ত। এটি (ব্যাকরণ) হলো ইলমুল বায়ান (علم البيان)-এর দিকে আরোহণের জন্য স্থাপিত একটি সিঁড়ি, যা কুরআনের শৈল্পিক গাঁথুনির সূক্ষ্ম রহস্যসমূহ উন্মোচন করে এবং এর সৌন্দর্যসমূহ প্রকাশে ও এর নিগূঢ় তত্ত্বগুলো জাগিয়ে তোলার দায়িত্ব পালন করে। সুতরাং এ থেকে বিমুখ ব্যক্তি যেন কল্যাণের পথই রুদ্ধ করে দিল যাতে তা দিয়ে কেউ চলতে না পারে, আর যে ব্যক্তি এর উৎসসমূহ থেকে বিমুখ হতে চায় সে যেন একে অবজ্ঞা করল ও বর্জন করল।

মুসলিমদের মাঝে বিদ্যমান প্রয়োজনীয়তা আমাকে আরবি ভাষা জ্ঞান লাভের প্রতি অনুপ্রাণিত করেছে এবং সাহিত্যের উত্তরসূরীদের মধ্য থেকে আমার অনুসারীদের প্রতি আমার মমতা ও অনুরাগ আমাকে একটি গ্রন্থ রচনার দিকে ধাবিত করেছে...
(খণ্ড: ১) আল-মুফাসসাল ফী সানআতিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ২০)
الإعراب محيط بكافة الأبواب مرتب ترتيبا يبلغ بهم الأمد البعيد بأقرب السعي ويملأ سجالهم بأهون السقي فأنشأت هذا الكتاب المترجم بكتاب المفصل في صنعة الإعراب مقسوما أربعة أقسام القسم الأول في الأسماء

القسم الثاني في الأفعال

القسم الثالث في الحروف القسم الرابع في المشترك من أحوالها

وصنفت كلا من هذه الأقسام تصنيفا وفصلت كل صنف منها تفصيلا

حتى رجع كل شيء إلى نصابه واستقر في مركزه

ولم أدخر فيما جمعت فيه من الفوائد المتكاثرة ونظمت من الفرائد المتناثرة مع الإيجاز غير المخل والتلخيص غير الممل مناصحة لمقتبسيه أرجو أن أجتني منها ثمرتي

دعاء يستجاب وثناء يستطاب

والله سبحانه وعز سلطانه ولي المعونة على كل خير والتأييد

والمليء بالتوفيق فيه والتسديد
ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ই'রাব) সকল অধ্যায়কে পরিবেষ্টনকারী এবং এমন এক সুশৃঙ্খল বিন্যাসে বিন্যস্ত যা অতি নিকট প্রচেষ্টার মাধ্যমে শিক্ষার্থীকে দূরবর্তী লক্ষ্যে পৌঁছে দেয় এবং সহজতম পন্থায় তাদের জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করে। তাই আমি 'আল-মুফাসসাল ফি সানআতিল ই'রাব' শিরোনামে এই কিতাবটি রচনা করেছি, যা চারটি অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশ বিশেষ্য সম্পর্কে,

দ্বিতীয় অংশ ক্রিয়া সম্পর্কে,

তৃতীয় অংশ অব্যয় সম্পর্কে এবং চতুর্থ অংশ এদের সাধারণ অবস্থাসমূহ সম্পর্কে।

আমি এই অংশগুলোর প্রতিটিকেই সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যস্ত করেছি এবং প্রতিটি শ্রেণিকে বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করেছি,

যেন প্রতিটি বিষয় তার আপন অবস্থানে ফিরে আসে এবং নিজ কেন্দ্রে স্থির হয়।

এতে আমি অগণিত জ্ঞানগর্ভ তথ্য সংগ্রহ করেছি এবং বিক্ষিপ্ত মুক্তোসম তত্ত্বসমূহকে একটি শৃঙ্খলায় গেঁথেছি; যা এমন সংক্ষিপ্তসার যা মূল বিষয়কে ক্ষুণ্ণ করে না এবং এমন সারসংক্ষেপ যা বিরক্তির সৃষ্টি করে না। জ্ঞান অন্বেষণকারীদের কল্যাণের কথা চিন্তা করেই আমি কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখিনি এবং আশা করছি এর দ্বারা দুটি ফল লাভ করব—

কবুলযোগ্য দোয়া এবং উত্তম প্রশংসা।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা, যাঁর রাজত্ব অতি মহান, তিনিই সকল কল্যাণ লাভে সাহায্যকারী ও সমর্থন দানকারী;

তিনিই তাওফিক দান ও সঠিক পথপ্রদর্শনে পূর্ণ ক্ষমতাবান।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাসসাল ফী সানআতিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌القسم الأول:

الأسماء
প্রথম ভাগ:

নামসমূহ (الأسماء)
(খণ্ড: ১) আল-মুফাসসাল ফী সানআতিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ২৩)
الباب الأول

‌‌اسم الجنس واسم العلم

‌‌معنى الكلمة والكلام الكلمة هي اللفظة الدالة على معنى مفرد بالوضع. وهي جنس تحته ثلاثة أنواع: الأسم والفعل والحرف. والكلام هو المركب من كلمتين أسندت إحداهما إلى الأخرى. وذاك لا يتأتى إلا في إسمين كقولك: زيد أخوك، وبشر صاحبك. أو في فعل وإسم نحو قولك: ضرب زيد، وانطلق بكر. وتسمى الجملة.

الأسم هو ما دل على معنى في نفسه دلالة مجردة عن الإقتران. وله خصائص منها جواز الإسناد إليه، ودخول حرف التعريف والجر والتنوين والإضافة.

ومن أصناف الأسم اسم الجنس، وهو ما علق على شيء وعلى كل من أشبهه. وينقسم إلى اسم عين، واسم معنى. وكلاهما ينقسم إلى اسم غير صفة، واسم هو صفة. فالأسم غير الصفة نحو رجل وفرس وعلم وجهل. والصفة نحو راكب وجالس ومفهوم ومضمر.

‌‌أنواع العلم

ومن أصناف الأسم العلم، وهو ما علق شيء بعينه غير متناول ما أشبهه. ولا يخلو من أن يكون اسماً كزيد وجعفر، أو كنية كأبي عمرو وأم
প্রথম অধ্যায়

‌‌জাতিবাচক বিশেষ্য (اسم الجنس) ও সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য (اسم العلم)

‌‌শব্দ (كلمة) ও বাক্যের (كلام) অর্থ শব্দ (كلمة) হলো এমন একটি ধ্বনি (لفظ) যা একক (مفرد) অর্থ প্রকাশের জন্য ভাষাগতভাবে নির্ধারিত (وضع)। এটি একটি সাধারণ শ্রেণী (جنس), যার অধীনে তিন প্রকার পদ রয়েছে: বিশেষ্য (اسم), ক্রিয়া (فعل) এবং অব্যয় (حرف)। আর বাক্য (كلام) হলো দুই বা ততোধিক শব্দের সমন্বয়ে গঠিত এমন রূপ, যেখানে একটি শব্দকে অন্যটির দিকে সম্বন্ধিত (إسناد) করা হয়েছে। এটি কেবল দুটি বিশেষ্য (اسم) দ্বারা সম্ভব হয়, যেমন আপনার উক্তি: ‘যায়েদ আপনার ভাই’ এবং ‘বিশর আপনার সঙ্গী’। অথবা একটি ক্রিয়া (فعل) ও একটি বিশেষ্যের (اسم) সমন্বয়ে গঠিত হয়, যেমন আপনার উক্তি: ‘যায়েদ প্রহার করেছে’ এবং ‘বকর চলে গেছে’। একে জুমলা (جملة) বা পূর্ণ বাক্য বলা হয়।

বিশেষ্য (اسم) হলো এমন শব্দ, যা কাল বা সময়ের সাথে যুক্ত হওয়া ছাড়াই নিজস্ব অর্থ প্রকাশ করে। এর কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেমন: এর দিকে কোনো কিছুকে সম্বন্ধিত (إسناد) করা বৈধ হওয়া, এতে নির্দিষ্টকারক অব্যয় (تعريف), বিভক্তি প্রদানকারী অব্যয় (جر), তানউইন (تنوين) এবং সম্বন্ধযুক্তকরণ (إضافة) হওয়া।

বিশেষ্যের শ্রেণীসমূহের মধ্যে একটি হলো জাতিবাচক বিশেষ্য (اسم الجنس), যা কোনো নির্দিষ্ট সত্তা এবং তার সদৃশ সবকিছুর জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি বস্তুবাচক বিশেষ্য (اسم عين) এবং ভাববাচক বিশেষ্য (اسم معنى) —এই দুই ভাগে বিভক্ত। এই উভয় প্রকার আবার বিশেষণহীন বিশেষ্য (غير صفة) এবং বিশেষণ (صفة) —এই দুই ভাগে বিভক্ত। বিশেষণহীন বিশেষ্য যেমন: মানুষ, ঘোড়া, জ্ঞান এবং মূর্খতা। আর বিশেষণ (صفة) যেমন: আরোহী, উপবিষ্ট, বোধগম্য এবং প্রচ্ছন্ন (مضمر)।

‌‌সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্যের (اسم العلم) প্রকারভেদ

বিশেষ্যের শ্রেণীসমূহের মধ্যে অপরটি হলো সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য (اسم العلم), যা নির্দিষ্ট কোনো সত্তার জন্য নির্ধারিত এবং তার সদৃশ অন্য কোনো কিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে না। এটি নাম (اسم) হওয়া থেকে মুক্ত নয়, যেমন: যায়েদ ও জাফর, অথবা এটি উপনাম (كنية) হবে যেমন: আবু আমর ও উম্মু...
(খণ্ড: ১) আল-মুফাসসাল ফী সানআতিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ২৪)
كلثوم، أو لقباً كبطة وفقة. ينقسم إلى مفرد ومركب ومنقول ومرتجل.

فالمفرد نحو زيد وعمرو، والمركب إما بالجملة نحو برق نحوه تأبط شراً وذري حباً وشاب قرناها ويزيد في مثل قوله:

نُبّئْتُ أخوالي بني يَزيدُ … ظُلماً علينا لهمُ فَديدُ

وأما غيرُ جملة إسمان جعلا إسماً واحداً نحو. معد يكرب وبعلبك وعمرويه ونفطويه. أو مضاف ومضاف إليه كعبد مناف وامرئ القيس والكني. والمنقول على ستة أنواع، ومنقول عن اسم عين كثور وأسد،
কুলসুম, অথবা উপাধি (لقب) যেমন বাত্তাহ এবং ফাক্কাহ। এটি একক (مفرد), যৌগিক (مركب), স্থানান্তরিত (منقول) এবং উদ্ভাবিত (مرتجل) — এই কয়েক ভাগে বিভক্ত।

একক (مفرد) হলো যেমন যায়েদ ও আমর। আর যৌগিক (مركب) হয় বাক্য হিসেবে (بالجملة) যেমন তাআববাতা শাররান, যারি হুব্বান, শাবা ক্বারনাহা এবং ইয়াযিদ-এর মতো শব্দে যেমনটি কবির এই বক্তব্যে রয়েছে:

আমাকে সংবাদ দেওয়া হয়েছে যে আমার মামারা বনু ইয়াযিদ … আমাদের প্রতি অন্যায়ভাবে তাদের প্রবল শোরগোল রয়েছে।

আর বাক্য নয় এমন যৌগিক নাম হলো যেখানে দুটি নামকে মিলিয়ে একটি নাম করা হয়েছে যেমন— মা'দী কারিব, বালবাক্ক, আমরওয়াইহ এবং নাফতাওয়াইহ। অথবা মুদাফ (مضاف) ও মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) হিসেবে যেমন আব্দ মানাফ, ইমরাউল কায়েস এবং উপনামসমূহ (كنية)। স্থানান্তরিত (منقول) নাম ছয় প্রকারের হয়ে থাকে; যার একটি হলো বস্তুবাচক বিশেষ্য (اسم عين) থেকে স্থানান্তরিত নাম যেমন সাওরি ও আসাদ,
(খণ্ড: ১) আল-মুফাসসাল ফী সানআতিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ২৫)
ومنقول عن اسم معنى كفضل وإياس، ومنقول عن صفة كحاتم ونائلة، ومنقول عن فعل إما ماض كشمر وكعسب، وإما مضارع كتغلب ويشكر، وإما أمر كاصمتْ في قول الراعي:

أشلى سَلقتةً باتَتْ وبات بها … بوحش إصمِت في أصلابها أوَدُ

وأطرقا في قول الهذلي:

على أطْرِقا بالياتُ الخيامِ … إلا الثمام وإلا العصي

تومنقول عن صوت كببة، وهو نبز عبد الله بن الحارث بن نوفل،
এবং কোনো ভাববাচক বিশেষ্য (اسم معنى) থেকে স্থানান্তরিত, যেমন- ফাদল ও ইয়াস; এবং গুণবাচক বিশেষণ (صفة) থেকে স্থানান্তরিত, যেমন- হাতিম ও নাইলা; এবং ক্রিয়া (فعل) থেকে স্থানান্তরিত, যা হয় অতীতকাল (ماض), যেমন- শাম্মার ও কাসাব; অথবা বর্তমান বা ভবিষ্যৎকাল (مضارع), যেমন- তাগলিব ও ইয়াশকুর; অথবা আদেশসূচক ক্রিয়া (أمر), যেমন রাঈ-এর উক্তিতে 'ইসমিত' শব্দটির প্রয়োগ:

তিনি এক নেকড়ে বাঘিনীকে ডাকলেন যা রাত কাটিয়েছে, আর তার সাথে … 'ইসমিত' নামক জনমানবহীন প্রান্তরে তার পিঠের হাড়গুলোতে বক্রতা ছিল।

এবং আল-হুজালীর উক্তিতে 'আতরিকা' শব্দটির প্রয়োগ:

'আতরিকা' নামক স্থানে তাবুগুলো জীর্ণ হয়ে গেছে … ঘাস এবং লাঠি ব্যতীত আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।

এবং কোনো ধ্বনি (صوت) থেকে স্থানান্তরিত, যেমন- 'বাব্বা'; আর এটি হলো আব্দুল্লাহ বিন আল-হারিস বিন নাওফালের উপাধি (نبز)।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাসসাল ফী সানআতিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ২৬)
ومنقول عن مركب وقد ذكرناه. والمرتجل على نوعين قياسي وشاذ.

فالقياسي نحو غطفان وعمران وحمدان وفقعس وحنتف، والشاذ نحو مجب وموهب وموظب ومكوزة وحيوة.

إضافة الأسم إلى اللقب: وإذا اجتمع للرجل اسم غير مضاف ولقب أضيف اسمه إلى لقبه فقيل هذا سعيد كرز، وقيس قفة، وزيد بطة. وإذا كان مضافاً أو كنية أجري اللقب على الأسم فقيل هذا عبد الله بطة وهذا أبو زيد قفة.

أعلام الحيوانات الأليفة: وقد سموا ما يتخذونه ويألفونه من خيلهم وإبلهم وغنمهم وكلابهم وغير ذلك بأعلام كل واحد منها مختص بشخص بعينه يعرفونه به كالأعلام في الأناسي، وذلك نحو أعوج ولاحق وشدقم وعلينان وخطة وهيلة وضمران وكساب.

أعلام الحيوانات غير الأليفة للجنس: وما لا يتخذ ولا يؤلف فيحتاج إلى التمييز بين أفراده كالطير والوحوض وأحناش الأرض وغير ذلك فإن العلم فيهب للجنس بأسره ليس بعضه أولى به من بعض. فإذا قلت أبو براقش، وابن دأيه، وأسامة، وثعالة، وابن قترة، وبنت طبق، ف: أنك قلت الضرب
এটি যৌগিক নাম থেকে গৃহীত এবং আমরা তা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। আর মৌলিক (مرتجل) নাম দুই প্রকার: নিয়মতান্ত্রিক (قياسي) এবং ব্যতিক্রমী (شاذ)।

নিয়মতান্ত্রিক (قياسي) এর উদাহরণ হলো গাতফান, ইমরান, হামদান, ফাকআস এবং হান্তাফ। আর ব্যতিক্রমী (شاذ) এর উদাহরণ হলো মুজাব, মাওহাব, মাওজাব, মাকওয়াযাহ এবং হাইওয়াহ।

উপাধির সাথে নামের সম্বন্ধকরণ: যখন কোনো ব্যক্তির একক (অ-যৌগিক) নাম এবং উপাধি (لقب) একত্রিত হয়, তখন নামটিকে উপাধির দিকে সম্বন্ধ (ইযাফাত) করা হয়; যেমন বলা হয়- এটি সাঈদ কুরয, কায়স কুফফাহ এবং যায়দ বাত্তাহ। আর নামটি যদি যৌগিক হয় কিংবা উপনাম (كنية) হয়, তবে উপাধিটিকে নামের পরবর্তী পদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়; যেমন বলা হয়- এটি আব্দুল্লাহ বাত্তাহ এবং এটি আবু যায়দ কুফফাহ।

গৃহপালিত পশুর নাম: আরবগণ তাদের পালিত ও পরিচিত ঘোড়া, উট, ভেড়া, কুকুর এবং অন্যান্য পশুর এমন সব নাম রাখত যা প্রতিটি নির্দিষ্ট প্রাণীর জন্য নির্ধারিত ছিল এবং তারা এর মাধ্যমে তাদের চিনত, যেমনটি মানুষের নামের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। যেমন: আ'ওয়াজ, লাহিক, শাদাকাম, উলায়নান, খুত্তাহ, হায়লাহ, দামরান এবং কাসসাব।

বন্য প্রাণীদের সাধারণ জাতিবাচক নাম: যেসব পশু পালন করা হয় না বা মানুষের সাথে সখ্যতা রাখে না এবং যাদের সদস্যদের মধ্যে পার্থক্য করার প্রয়োজন হয় না—যেমন পাখি, বন্য পশু, সরীসৃপ ইত্যাদি—সেগুলোর ক্ষেত্রে নামগুলো সমগ্র প্রজাতির জন্য নির্ধারিত হয়; এক্ষেত্রে কোনো সদস্যই অন্যের চেয়ে বিশেষ অগ্রাধিকার পায় না। সুতরাং যখন আপনি বলেন আবু বারাক্বিশ, ইবনে দায়াহ, উসামাহ, সু'আলাহ, ইবনে ক্বাতরাহ এবং বিনতু তবাক্ব, তখন এর অর্থ হলো আপনি মূলত সেই প্রজাতিটিকেই বুঝিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাসসাল ফী সানআতিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ২৭)
الذي من شأنه كيت وكيت. ومن هذه الأجناس ماله اسم جنس واسم علم كالأسد وأسامة والثعلب وثعالة، وما لا يعرف له اسم غير العلم نحو ابن مقرض، وحمار قبان.

‌‌أسماء وكنى الحيوانات: وقد صنعوا في ذلك نحو صنيعهم في تسمية الأناسي، فوضعوا للجنس اسماً وكنية، فقالوا للأسد أسامة وأبو الحرث، وللثعلب ثعالة وأبو الحصين، وللضبع حضاجر وأم عامر، وللعقرب شبوة وأم عريط ومنها ما له اسم ولا كينة له كقولهم قثم للضبعان، وما له كنية ولا اسم له كأبي براقش وأبي صبيرة وأم رباح وأم عجلان.

‌‌أسماء وكنى المعاني: وقد أجروا المعاني في ذلك مجرى الأعيان فسموا التسبيح بسبحان، والمنية بشعوب وأم قشعم، والغدر بكيسان، وهو في لغة بني فهم. قال:

إذا ما دعوا كيسان كانت كهولهم … إلى الغدر أدنى من شبابهم المرد
যা অমুক অমুক প্রকৃতির। এই জাতীয় শ্রেণীগুলোর (جنس) মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যার সাধারণ নাম (اسم جنس) এবং বিশিষ্ট নাম (اسم علم) উভয়ই আছে; যেমন: সিংহ ও উসামা, এবং শিয়াল ও সুয়ালা। আবার এমন কিছু রয়েছে যার বিশিষ্ট নাম (اسم علم) ব্যতীত অন্য কোনো নাম জানা নেই; যেমন: নেউল এবং ঘুণপোকা।

‌‌প্রাণীদের নাম ও উপনাম (كنية): তারা এক্ষেত্রেও মানুষের নামকরণের ন্যায় পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। তারা সাধারণ শ্রেণীর (جنس) জন্য নাম ও উপনাম (كنية) নির্ধারণ করেছে। যেমন: তারা সিংহের ক্ষেত্রে উসামা ও আবুল হারিস বলে, শিয়ালের ক্ষেত্রে সুয়ালা ও আবু হুসাইন বলে, হায়েনার ক্ষেত্রে হাদাজির ও উম্মে আমির বলে এবং বিচ্ছুর ক্ষেত্রে শাবওয়াহ ও উম্মে আরীত বলে। আবার এমন কিছু রয়েছে যার নাম আছে কিন্তু কোনো উপনাম (كنية) নেই, যেমন পুরুষ হায়েনার ক্ষেত্রে তাদের উক্তি ‘কুসাম’। আবার এমন কিছু রয়েছে যার উপনাম (كنية) আছে কিন্তু কোনো নাম নেই, যেমন: আবু বারাকিশ, আবু সাবীরাহ, উম্মে রাবাহ এবং উম্মে আজলান।

‌‌ভাববাচক বিষয়ের নাম ও উপনাম (كنية): তারা ভাববাচক বিষয়গুলোকে (معاني) দৃশ্যমান বস্তুর (أعيان) ন্যায় গণ্য করেছে। ফলে তারা তাসবিহ-এর নাম রেখেছে ‘সুবহান’, মৃত্যুর নাম রেখেছে ‘শাউব’ ও ‘উম্মে কাশআম’ এবং বিশ্বাসঘাতকতার নাম রেখেছে ‘কায়সান’। এটি বনু ফাহম গোত্রের ভাষায় প্রচলিত। কবি বলেন:

যখন তারা কায়সানকে (বিশ্বাসঘাতকতা) আহ্বান করে, তখন তাদের বৃদ্ধরা … তাদের দাড়িহীন তরুণদের চেয়েও বিশ্বাসঘাতকতার অধিক নিকটবর্তী হয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাসসাল ফী সানআতিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ২৮)
ومنه كنوا الضربة بالرجل على مؤخر الإنسان بأم كيسان، والمبرة ببرة والفجرة بفجار، والكلبة بزوبر. قال الطرماح:

إذا قال غاوٍ من تنوخ قصيدةً … بها جرب عدت علي بزوبرا

وقالوا في الأوقات لقيته غدوة وبكرة وسحر وفينة وقالوا في الأعداد ستة ضعف ثلاثة وأبرعة نصف ثمانيةً.

‌‌أوزان بعض الأعلام: ومن الأعلام الأمثلة التي يوزن بها في قولك فعلان الذي مؤنثة فعلى، وأفعل صفة لا ينصرف، ووزن طلحة وإصبعٍ فعلة وأفعل.

‌‌العلم اسم شائع: وقد يغلب بعض الأسماء الشائعة على أحد المسمين به فيصير علماً له بالغلبة. وذلك نحو ابن عمر وابن عباس وابن مسعود،
এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো মানুষের পশ্চাৎদেশে পদাঘাতকে 'উম্মু কাইসান' উপনামে অভিহিত করা, পুণ্যকে 'বাররাহ', পাপাচারকে 'ফুজার' এবং মাদী কুকুরকে 'জুবাইর' নামে ডাকা। আত-তিরিম্মাহ বলেছেন:

যখন তানুখ গোত্রের কোনো পথভ্রষ্ট ব্যক্তি কোনো কবিতা আবৃত্তি করে … যার মধ্যে চুলকানি রয়েছে, তা যেন 'জুবাইর' হয়ে আমার কাছে ফিরে আসে।

সময়ের ক্ষেত্রে তারা বলে থাকে: আমি তার সাথে সকালে (غدوة), ভোরে (بكرة), শেষ রাতে (سحر) এবং কোনো এক সময়ে (فينة) দেখা করেছি। সংখ্যার ক্ষেত্রে তারা বলে: ছয় হলো তিনের দ্বিগুণ এবং চার হলো আটের অর্ধেক।

‌‌কতিপয় সংজ্ঞাবাচক শব্দের ওজন বা রূপকাঠামো: সংজ্ঞাবাচক শব্দের উদাহরণসমূহের মধ্যে রয়েছে আপনার বলা 'ফালান' (فعلان) রূপটি যার স্ত্রীলিঙ্গ 'ফালা' (فعلى), এবং 'আফ’আলু' (أفعل) যা বিশেষণ হিসেবে অপরিবর্তনীয় (لا ينصرف)। এছাড়া 'ত্বালহা' ও 'ইসবাই' এর ওজন হলো যথাক্রমে 'ফুইলাতু' (فعلة) ও 'আফ’আলু' (أفعل)।

‌‌সাধারণ বিশেষ্য যখন সংজ্ঞাবাচক শব্দে পরিণত হয়: কখনো কখনো কিছু সাধারণ নাম নির্দিষ্ট কারো ক্ষেত্রে ব্যবহারের আধিক্যের কারণে তার জন্য সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞাবাচক শব্দ (علماً بالغلبة) হয়ে যায়। যেমন: ইবনে উমর, ইবনে আব্বাস এবং ইবনে মাসউদ।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাসসাল ফী সানআতিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ২৯)
غلبت على العبادلة دون من عداهم من أبناء آبائهم، وكذلك ابن الزبير غلب على عبد الله دون غيره من أبناء الزبير، وابن الصعق وابن كراع وابن رألان غالبة على يزيد وسويد وجابر بحيث لا يذهب الوهم إلى أحد من إخوتهم.

‌‌أعلام يدخلها أل التعريف: وبعض الأعلام يدخله لام التعريف وذلك على نوعين لازمٍ وغير لازم فاللازم في نحو النجم للثريا والصعق وغير ذلك مما غلب من الشائعة. الا ترى إنهما كهذا معرفين بالام إسمان لكل نجم عهده المخاطب والمخاطب ولكل معهود ممن أصيب بالصاعقة ثم غلب النجم على الثريا والصعق على خويلد بن نفيل بن عمرو بن كلاب. فاللام فيهما الإضافة في ابن رألان وابن كراع مثلان في انهما لا تنزعان. وكذلك الدبران والعيوق والسماك والثريا لأنها غلبت على الكواكب المخصوصة من بين ما يوصف بالدبور العوق والسموك والثروة. وما لم يعرف باشتقاق من هذا النوع فملحق بما عرف. وغير اللازم في نحو الحرث العباس والمظفر والفضل والعلاء وما كان صفة في أصله أو مصدراً.

وقد يتأول العلم بواحد من الأمة المسماة به فلذلك من التأول يجري مجرى رجل وفرس فيجترأ على إضافته وإدخال اللام عليه. قالوا مضر الحمراء وربيعة الفرس وأنمار الشاة. وقال:

علا زيدنا يوم النقا رأس زيدكم … بأبيض ماضي الشفرتين يمان
'আল-আবাদিলাহ' (العبادلة) শব্দটি তাঁদের পিতাদের অন্য সন্তানদের বাদ দিয়ে সুনির্দিষ্টভাবে তাঁদের ওপর প্রাধান্য লাভ করেছে। একইভাবে 'ইবনে আজ-জুবায়ের' (ابن الزبير) নামটি জুবায়েরের অন্য সন্তানদের বাদ দিয়ে কেবল আব্দুল্লাহর ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। 'ইবনুল সা'ক' (ابن الصعق), 'ইবনে কুরা' (ابن كراع) এবং 'ইবনে রা'লান' (ابن رألان) নামগুলো ইয়াজিদ, সুওয়াইদ এবং জাবিরের ওপর এমনভাবে প্রাধান্য পেয়েছে যে, কোনো বিভ্রান্তি ছাড়াই সরাসরি তাঁদেরই বোঝায়, তাঁদের অন্য কোনো ভাইয়ের প্রতি লক্ষ্য যায় না।

‌‌প্রসিদ্ধ নাম যাতে 'আল' (أل) যুক্ত হয়: কিছু সংজ্ঞাবাচক বিশেষ্য বা নামের শুরুতে 'লামে তারিফ' (لام التعريف) যুক্ত হয় এবং তা দুই প্রকার: অপরিহার্য (لازم) এবং অনপরিহার্য (غير لازم)। অপরিহার্য (لازم) এর উদাহরণ হলো যেমন সুরাইয়া নক্ষত্রের ক্ষেত্রে 'আন-নাজম' (النجم) এবং 'আস-সা'ক' (الصعق) ইত্যাদি; যা ব্যাপক প্রচলিত শব্দ থেকে সুনির্দিষ্ট অর্থে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। আপনি কি দেখছেন না যে, এই দুটি শব্দ 'লাম' (لام) এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট হওয়ার ফলে এমন দুটি নামে পরিণত হয়েছে যা দ্বারা সম্বোধনকারী ও সম্বোধিত ব্যক্তি নির্দিষ্ট কোনো নক্ষত্রকে বোঝেন? একইভাবে এটি বজ্রাঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতো, পরবর্তীতে 'আন-নাজম' (النجم) শব্দটি সুরাইয়া নক্ষত্রের জন্য এবং 'আস-সা'ক' (الصعق) শব্দটি খুয়াইলিদ ইবনে নুফাইয়িল ইবনে আমর ইবনে কিলাবের জন্য সুনির্দিষ্ট হয়ে গেছে। সুতরাং এই নাম দুটিতে 'লাম' (لام) এর উপস্থিতি 'ইবনে রা'লান' (ابن رألان) এবং 'ইবনে কুরা' (ابن كراع) এর সম্বন্ধবাচকতার (إضافة) মতোই অপরিহার্য হয়ে পড়েছে, যা কখনো বিচ্ছিন্ন হয় না। একইভাবে 'আদ-দাবারান' (الدبرান), 'আল-আইয়ুক' (العيوق), 'আস-সিমাক' (السماك) এবং 'আস-সুরাইয়া' (الثريا) নামগুলোও বিশেষ বিশেষ নক্ষত্রের ওপর প্রাধান্য লাভ করেছে। আর যেসব নাম এই জাতীয় ব্যুৎপত্তিগত অর্থ (اشتقاق) দ্বারা পরিচিত নয়, সেগুলোকে পরিচিতগুলোর অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অনপরিহার্য (غير لازم) অংশটি হলো যেমন আল-হারিস, আল-আব্বাস, আল-মুজাফ্ফার, আল-ফাদল এবং আল-আলা; যা মূলত কোনো গুণবাচক বিশেষণ (صفة) বা ক্রিয়ামূল (مصدر) ছিল।

কখনো কখনো কোনো একটি নামকে সেই নামে অভিহিত সমগ্র জনগোষ্ঠীর একজন সদস্য হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। এই ব্যাখ্যার কারণে তা সাধারণ মানুষ বা ঘোড়ার ন্যায় সাধারণ বিশেষ্যের মতো আচরণ করে, ফলে এর শুরুতে 'লাম' (لام) যুক্ত করা বা একে সম্বন্ধবাচক (إضافة) করার অবকাশ থাকে। তারা বলে থাকেন: 'মুদার আল-হামরা' (مضر الحمراء), 'রাবিয়াতুল ফারাস' (ربيعة الفرس) এবং 'আনমারুশ শাহ' (أنمار الشاة)। কবি বলেছেন:

নাকা দিবসে আমাদের যায়িদ আপনাদের যায়িদের মাথার ওপর চড়াও হয়েছিল … ইয়ামানি ধারালো দ্বি-ধারী উজ্জ্বল সাদা তলোয়ার নিয়ে।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাসসাল ফী সানআতিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৩০)
وقال أو النجم:

باعد أم العمرو من أسيرها … حراس أبوابٍ على قصورها

وقال الآخر:

رأيت الوليد بن اليزيد مباركاً … شديداً بأحناء الخلافة كاهله
এবং আবুল নাজম বলেছেন:

উম্মে আমরের থেকে তার বন্দীকে দূরে সরিয়ে দাও … তার প্রাসাদের ফটকগুলোতে রয়েছে প্রহরীগণ

এবং অন্য একজন বলেছেন:

আমি আল-ওয়ালিদ ইবনুল ইয়াজিদকে বরকতময় হিসেবে দেখেছি … খিলাফতের গুরুভার বহনে তার স্কন্ধ ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী
(খণ্ড: ১) আল-মুফাসসাল ফী সানআতিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৩১)
وقال الأخطل:

وقد كان منهم حاجب وابن أمه … أبو جندلٍ والزيد زيد المعارك

وعن أبي العباس إذا ذكر الرجل جماعة اسم كل واحد منهم زيد قيل له فما بين الزيد الأول والزيد الآخر، وهذا الزيد أشرف من ذاك الزيد، وهو قليل.

وكل مثنى أو مجموع من الأعلام فتعريفه باللام نحو أبانين وعمايتين وعرفات وأذرعات. قال:
আল-আখতাল বলেছেন:

তাদের মধ্যে ছিলেন হাজিব ও তার সহোদর … আবু জান্দাল এবং সেই যায়দ, যিনি যুদ্ধের ময়দানের যায়দ।

আবু আল-আব্বাস থেকে বর্ণিত, যখন কোনো ব্যক্তি এমন একদল লোকের কথা উল্লেখ করেন যাদের প্রত্যেকের নাম ‘যায়দ’, তখন তাকে বলা হয়: প্রথম যায়দ এবং শেষ যায়দ-এর মধ্যে পার্থক্য কী? এবং এই যায়দ ওই যায়দ অপেক্ষা অধিক মর্যাদাবান; আর এর ব্যবহার খুবই কম।

আর প্রত্যেক দ্বিবচন (مثنى) অথবা বহুবচন (مجموع) বিশিষ্ট নামবাচক বিশেষ্য (الأعلام) পদকে ‘লাম’ যোগ করে নির্দিষ্ট করা হয়; যেমন: আবানাইন, আমায়াতাইন, আরাফাত এবং আজরুআত। তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আল-মুফাসসাল ফী সানআতিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৩২)
وقبلي مات الخالدان كلاهما … عميد بني جحوان وابن المضلل

أراد خالد بن نضلة وخالد بن قيس بن المضلل: وقالوا لكعب بن كلاب وكعب بن ربيعة، وعامر بن مالك بن جعفر عامر بن الطفيل، وقيس ابن عتاب وقيس بن هرمة، الكعبان والعامران والقيسان. وقال:

أنا ابن سعد أكرم السعدينا

وفي حديث زيد بن ثابت رضي الله عنه، هؤلاء المحمدون بالباب.

وقالوا طلحة الطلحات، وابن قيس الرقيات. وكذلك الأسامتان والأسامات، ونحو ذلك.

وفلان وفلانة وأبو فلان كنايات عن أسامي الأناسي وكناهم.

وقد ذكروا أنهم إذ كنوا عن أعلام البهائم أدخلوا اللام فقالوا الفلان والفلانة وأما هن وهنة فللكناية عن أسماء الأجناس.
আমার পূর্বে উভয় খালিদই মৃত্যুবরণ করেছেন … বনু জাহওয়ানের নেতা এবং ইবনুল মুদাল্লাল।

এখানে তিনি খালিদ বিন নাদলাহ এবং খালিদ বিন কায়স বিন আল-মুদাল্লালকে বুঝিয়েছেন। তারা কা'ব বিন কিলাব ও কা'ব বিন রাবিআহ-কে 'দুই কা'ব', আমির বিন মালিক বিন জাফর ও আমির বিন তুফায়েল-কে 'দুই আমির', এবং কায়স ইবনে আত্তাব ও কায়স বিন হারমাহ-কে 'দুই কায়স' বলতেন। এবং তিনি বলেছেন:

আমি সা'দের পুত্র, সা'দগণের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত।

যায়েদ বিন সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, দরজায় এই মুহাম্মদগণ (المحمدون) অবস্থান করছেন।

তারা 'তালহাদের তালহা' এবং 'ইবনুল কায়স আল-রুকাইয়াত' বলতেন। একইভাবে 'দুই উসামা', 'উসামাগণ' এবং এই জাতীয় শব্দ ব্যবহৃত হতো।

অমুক (ফুলান), অমুক নারী (ফুলানাহ) এবং অমুকের পিতা (আবু ফুলান) শব্দগুলো মানুষের নাম ও উপনাম (كنية) সমূহের পরোক্ষ প্রকাশ (كناية) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

তারা উল্লেখ করেছেন যে, যখন তারা চতুষ্পদ জন্তুর নাম পরোক্ষভাবে (كناية) প্রকাশ করতেন, তখন তারা 'আলিফ-লাম' যুক্ত করে 'আল-ফুলান' এবং 'আল-ফুলানাহ' বলতেন। আর 'হান' ও 'হানাহ' শব্দগুলো মূলত জাতিবাচক নামের পরোক্ষ প্রকাশ (كناية) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাসসাল ফী সানআতিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الباب الثاني

‌‌الاسم المعرب

‌‌موقعه: الكلام في المعرب، وإن كان خليقاً من قبل إشتراك الأسم والفعل في الإعراب بأن يقع في القسم الرابع، إلا أن اعتراض موجبين صوب إيراده في هذا القسم: أحدهما أن حق الإعراب للأسم في أصله والفعل إنما تطفل عليه فيه بسبب المضارعة. الثاني أنه لا بد من تقدم معرفة الإعراب للخصائص في سائر الأبواب.

‌‌تحديد الاسم المعرب

والاسم المعرب ما اختلف آخره باختلاف العوامل لفظاً بحركة أو بحرف، أو محلاً.

فاختلافه لفظاً بحركة في كل ما كان حرف إعرابه صحيحاً أو جارياً مجراه كقولك جاء الرجل ورأيت الرجل ومررت بالرجل.

واختلافه لفظاً بحرف في ثلاثة مواضع في الأسماء الستة مضافة وذلك نحو جاءني أبوه وأخوه وحموها وهنوه وفوه وذو مال، ورأيت أباه ومررت بأبيه وكذلك الباقية.

وفي كلا مضافاً إلى مضمر تقول: جاءني كلاهما ورأيت كليهما ومررت بكليهما.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

‌‌মু’রাব বিশেষ্য

‌‌এর অবস্থান: মু’রাব বিশেষ্য সংক্রান্ত আলোচনা—যদিও ই’রাব বা শব্দরূপ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিশেষ্য ও ক্রিয়ার পারস্পরিক অংশীদারিত্বের কারণে একে চতুর্থ ভাগে বিন্যস্ত করা সমীচীন ছিল, তথাপি দুটি কারণ একে এই পরিচ্ছেদে উপস্থাপনের অভিমুখী করেছে: প্রথমটি হলো, শব্দরূপ পরিবর্তনের মূল অধিকার মূলত বিশেষ্যেরই, আর ক্রিয়া কেবল সাদৃশ্যের কারণে বিশেষ্যের অনুগামী হয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো, অন্যান্য সকল পরিচ্ছেদের বৈশিষ্ট্যসমূহ অনুধাবনের জন্য ই’রাব সম্পর্কে পূর্বজ্ঞান থাকা আবশ্যক।

‌‌মু’রাব বিশেষ্যের সংজ্ঞা

মু’রাব বিশেষ্য হলো এমন শব্দ, যার শেষভাগ বিভিন্ন আমেল বা প্রভাবকের ভিন্নতার কারণে উচ্চারণগতভাবে হরকত কিংবা বর্ণের মাধ্যমে, অথবা স্থানগতভাবে ভিন্নতর হয়।

উচ্চারণগতভাবে হরকতের মাধ্যমে পরিবর্তন ওই সকল শব্দের ক্ষেত্রে ঘটে, যেগুলোর ই’রাব গ্রহণের বর্ণটি সহীহ (صحيح) কিংবা এর স্থলাভিষিক্ত। যেমন আপনার উক্তি: লোকটি এসেছে, আমি লোকটিকে দেখেছি এবং আমি লোকটির পাশ দিয়ে গেলাম।

তিনটি ক্ষেত্রে বর্ণের মাধ্যমে উচ্চারণগত পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়: প্রথমত, আসমায়ে সিত্তাহ বা ছয়টি বিশেষ্য যখন সম্বন্ধযুক্ত অবস্থায় থাকে; যথা: আমার নিকট তার পিতা এসেছে, তার ভাই, তার দেবর, তার বস্তু, তার মুখ এবং সম্পদশালী; এবং আমি তার পিতাকে দেখেছি ও আমি তার পিতার পাশ দিয়ে গেলাম। অনুরূপভাবে বাকিগুলোও।

দ্বিতীয়ত, যখন ‘কিলা’ শব্দটি সর্বনামের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয়; আপনি বলবেন: তারা উভয়ই আমার নিকট এসেছে, আমি তাদের উভয়কে দেখেছি এবং আমি তাদের উভয়ের পাশ দিয়ে গিয়েছি।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাসসাল ফী সানআতিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وفي التثنية والجمع على حدها تقول: جاءني مسلمان ومسلمون ورأيت مسلمين ومسلمين ومررت بمسلمين ومسلمين.

واختلافه محلاً في نحو العصا وسعدى والقاضي في حالتي الرفع الجر هو في النصب كالضارب.
দ্বিবচন (تثنية) এবং বহুবচনের (جمع) ক্ষেত্রে সেগুলোর নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী আপনি বলবেন: আমার নিকট দুইজন মুসলিম ও অনেক মুসলিম এসেছে, আমি দুইজন মুসলিম ও অনেক মুসলিমকে দেখেছি এবং আমি দুইজন মুসলিম ও অনেক মুসলিমের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি।

আর ‘আসা’, ‘সু’দা’ এবং ‘ক্বাদি’-এর ন্যায় শব্দগুলোর ক্ষেত্রে রফ‘ (رفع) ও জর (جر) অবস্থায় এর ই‘রাবের ভিন্নতা স্থানিক (محلاً) হয়ে থাকে, তবে নসব (نصب) অবস্থায় তা ‘দ্বরিব’-এর ন্যায়।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাসসাল ফী সানআতিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌النوع الأول

‌‌المنصرف وغير المنصرف

والاسم المعرب على نوعين: نوع يستوفي حركات الأعراب والتنوين كزيد ورجل ويسمى المنصرف. ونوع يختزل عنه الجر والتنوين لشبه الفعل.

ويحرك بالفتح في موضع الجر كأحمد ومروان إلا إذ أضيف أو دخله لام التعريف ويسمى غير المنصرف. واسم المتمكن يجمعهما. وقد يقال للمنصرف الأمكن.

والأسم يمتنع من الصرف متى اجتمع فيهب اثنان من أسباب تسعة أو تكرر واحد منها. وهي العلمية؛ والتأنيث اللازم لفظاً أو معنى في نحو سعاد وطلحة؛ ووزن الفعل الذي يغلبه في نحو أفعل فإنه فيه أكثر منه في الأسم أو يخصه في نحو ضرب إن سمي به؛ والوصفية في نحو أحمر؛ والعدل من صيغة إلى أخرى في نحو عمر وثلاث لأن فيه عدلاً ووصفية؛ وأن يكون جمعاً في نحو منازل ومصابيح، إلا ما اعتل آخره نحو جوار فإنه في الرفع والجر كقاض وفي النصب كضوارب، وحضاجر وسراويل في التقدير جمع حضجر وسروالة؛ والتركيب في نحو معد يكرب وبعلبك؛ والعجمة في الأعلام خاصة؛ والألف والنون المضارعتان لألفي التأنيث في نحو سكران وعثمان.

إلا إذا اضطر الشاعر يصرف وأما السبب الواحد فغير مانع أبداً. وما تعلق به الكوفيون في إجازة منعه في الشعر ليس بثبت. وما أحد سببيه أو أسبابه
প্রথম প্রকার

‌রূপান্তরযোগ্য (منصرف) এবং রূপান্তরহীন (غير منصرف)

ব্যাকরণিক বিভক্তি গ্রহণকারী (معرب) বিশেষ্য দুই প্রকার: এক প্রকার যা বিভক্তির চিহ্নসমূহ ও তানউইন (تنوين) পূর্ণরূপে গ্রহণ করে, যেমন ‘জাইদ’ ও ‘রাজুল’ এবং একে রূপান্তরযোগ্য (منصرف) বলা হয়। অন্য প্রকারটি হলো যা ক্রিয়ার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ার কারণে জের বা নিম্নধ্বনি (جر) ও তানউইন (تنوين) গ্রহণ থেকে বিরত থাকে।

এটি জের-এর (جر) অবস্থায় জবর বা ঊর্ধ্বধ্বনি (فتح) দ্বারা পরিচালিত হয়, যেমন ‘আহমাদ’ ও ‘মারওয়ান’, যদি না এটি সম্বন্ধযুক্ত (أضيف) হয় অথবা এতে নির্দিষ্টকারক ‘আল’ (لام التعريف) যুক্ত হয়; আর একে রূপান্তরহীন (غير منصرف) বলা হয়। সুপ্রতিষ্ঠিত বিশেষ্য (اسم المتمكن) এই উভয় প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে। কখনও কখনও রূপান্তরযোগ্য (منصرف) বিশেষ্যকে অধিকতর সুপ্রতিষ্ঠিত (الأمكن) বলা হয়।

একটি বিশেষ্য রূপান্তরহীন (يمنع من الصرف) হয় যখন তাতে নয়টি কারণের (أسباب تسعة) মধ্যে দুইটি কারণ একত্রিত হয় অথবা এমন একটি কারণ পাওয়া যায় যা দুইটির স্থলাভিষিক্ত। কারণগুলো হলো: নামবাচক বিশেষ্য হওয়া (العلمية); শব্দগত বা অর্থগতভাবে অপরিহার্য স্ত্রীলিঙ্গত্ব (التأنيث), যেমন ‘সুয়াদ’ ও ‘তালহা’; ক্রিয়ার গঠন (وزن الفعل) যা বিশেষ্যের তুলনায় ক্রিয়াতে অধিক ব্যবহৃত হয়, যেমন ‘আফআলা’ (أفعل) এর ওজন, অথবা যা ক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট, যেমন ‘দারাবা’ (ضرب) যদি এর দ্বারা কারও নামকরণ করা হয়; বিশেষণীয় গুণ (الوصفية), যেমন ‘আহমার’; এক রূপ থেকে অন্য রূপে বিচ্যুতি (العدل), যেমন ‘উমার’ ও ‘থুলাথ’, কারণ এতে বিচ্যুতি ও বিশেষণ উভয় গুণ বিদ্যমান; শব্দটির বহুবচন (جمع) হওয়া, যেমন ‘মানাযিল’ ও ‘মাসাবিহ’, তবে যার শেষাক্ষর দুর্বল (معتل الآخر), যেমন ‘জাওয়ারি’—তা রফা (رفع) ও জের-এর (جر) ক্ষেত্রে ‘কাদি’ (قاض) এর ন্যায় এবং নসব-এর (نصب) ক্ষেত্রে ‘দাওয়ারিব’ (ضوارب) এর ন্যায় হবে; এবং ‘হাদাজির’ ও ‘সারায়িল’ শব্দদ্বয়কে ‘হাদজার’ ও ‘সারওয়ালা’ এর বহুবচন (جمع) হিসেবে গণ্য করা হয়; শব্দ-সংযোজন (التركيب), যেমন ‘মায়দি কারিব’ ও ‘বালবাক্ক’; নামবাচক বিশেষ্যের ক্ষেত্রে অনারবীয় উৎস (العجمة); এবং আলিফ ও নুন (الألف والنون) যা স্ত্রীলিঙ্গত্বের দুই আলিফের সদৃশ, যেমন ‘সাকরান’ ও ‘উসমান’।

তবে কবি যদি ছন্দ রক্ষায় বাধ্য হন তবে তিনি একে রূপান্তরযোগ্য (صرف) করতে পারেন, অন্যথায় একটি মাত্র কারণ কখনোই রূপান্তর রোধের জন্য যথেষ্ট নয়। কুফাবাসীগণ কবিতার প্রয়োজনে একে রূপান্তরহীন করার যে অনুমতি দিয়েছেন তার স্বপক্ষে কোনো দৃঢ় প্রমাণ নেই। আর যার দুইটি কারণের একটি অথবা কারণসমূহ...
(খণ্ড: ১) আল-মুফাসসাল ফী সানআতিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৩৬)
العلمية فحكمه الصرف عند التنكير كقولك رب سعادٍ وقطامٍ لبقائه بلا سبب أو على سبب واحد، إلا نحو أحمر فإن فيه خلافاً بين الأخفش وصاحب الكتاب وما فيه سببان من الثلاثي الساكن الحشو كنوح ولوط منصرف في اللغة الفصيحة التي عليها التنزيل لمقاومة السكون أحد السببين. وقوم يجرونه على القياس فلا يصرفونه وقد جمعهما الشاعر في قوله:

لم تتلفع بفضل مئزرها … دعد ولم تسق دعد في العلب

وأما ما فيه سبب زائد كماه وجور فإن فيهما ما في نوح ولوط مع زيادة التأنيث فلا مقال في امتناع صرفه، والتكرر في نحو بشرى وصحراء ومساجد ومصابيح نزل البناء على حرف تأنيث لا يقع منفصلاً بحال، والزنة التي لا واحد عليها منزلة تأنيث ثان وجمع ثان.
নামবাচকতা (العلمية) এর বিধান হলো যে, অনির্দিষ্টকরণ (التنكير) এর সময় তা রূপান্তরশীল (الصرف) হবে; যেমন আপনার উক্তি ‘কতই না সুয়াদ ও কতাম’, কারণ এটি কোনো কারণ ছাড়াই অথবা কেবল একটি কারণের ওপর ভিত্তি করে অবশিষ্ট থাকে। তবে ‘আহমার’ জাতীয় শব্দের বিষয়টি ভিন্ন, কেননা এ ব্যাপারে আল-আখফাশ ও কিতাবের লেখকের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। আর যে সকল তিন অক্ষরবিশিষ্ট শব্দ যার মধ্যাক্ষর স্থির (الثلاثي الساكن الحشو), যেমন ‘নূহ’ ও ‘লুত’, সেগুলো সেই বিশুদ্ধ ভাষায় রূপান্তরশীল (منصرف) যাতে কুরআন নাযিল হয়েছে; কারণ মধ্যাক্ষরের স্থিরতা বা সুকুন দুটি কারণের একটিকে প্রতিহত করে। একদল লোক একে কিয়াস বা নিয়মানুযায়ী পরিচালনা করেন, ফলে তারা এগুলোকে রূপান্তর করেন না। কবি তার চরণে এ দুটিরই সমন্বয় করেছেন:

সে তার চাদরের অতিরিক্ত অংশ দ্বারা নিজেকে আবৃত করেনি … দাদ এবং দাদকে বড় পাত্রে পানি পান করানো হয়নি।

আর যাতে অতিরিক্ত কারণ রয়েছে যেমন ‘মাহ’ ও ‘জাওর’, সেগুলোতে ‘নূহ’ ও ‘লুত’-এর অনুরূপ বিধানই প্রযোজ্য, তবে সাথে নারীবাচকতা (التأنيث) যুক্ত হওয়ার কারণে তা রূপান্তরহীন হওয়ার ব্যাপারে কোনো সংশয় নেই। আর ‘বুশরা’, ‘সাহরা’, ‘মাসাজিদ’ ও ‘মাসাবিহ’ জাতীয় শব্দগুলোর ক্ষেত্রে পুনরাবৃত্তি এমন যে, এর গঠনরীতি এমন এক নারীবাচক বর্ণের ওপর বিন্যস্ত যা কোনো অবস্থাতেই বিচ্ছিন্নভাবে আসে না। আর এমন ওজন (الزنة) যার কোনো একবচন নেই, তা দ্বিতীয় নারীবাচকতা এবং দ্বিতীয় বহুবচনের স্থলাভিষিক্ত।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাসসাল ফী সানআতিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৩৭)
‌‌النوع الثاني

المرفوعات ووجوه الإعراب

وجوه الإعراب هي الرفع والنصب والجر وكل واحد منها علم على معنى: قالرفع علم الفاعلية والفاعل واحد لي إلا. وأما المبتدأ وخبره وخبر إن وأخواتها ولا التي لنفي الجنس واسم كان وأخواتها واسم ما ولا المشبهتين بليس فملحقات بالفاعل على سبيل التشبيه.

وكذلك النصب علم المفعولية. والمفعول أضرب: المفعول المطلق والمفعول فيه والمفعول معه ولمفعول له. والحال التمييز والمستثنى المنصوب والخبر في باب كان والأسم في باب إن والمنصوب بلا التي لنفي الجنس وخبر ما ولا المشبهتين بليس. ملحقات بالمفعول.

والجر علم الإضافة.

وأما التوابع فهي رفعها ونصبها وجرها داخلة تحت أحكام المتبوعات ينصب عمل العامل على القبيلين انصبابةً واحدة.

وأنا أسوق إليك هذه الأجناس كلها مرتبة مفصلة بعون الله وحسن تأييده.
দ্বিতীয় প্রকার

মারফুআত (المرفوعات) বা রাফ-যুক্ত শব্দসমূহ এবং ইরাবের (إعراب) পদ্ধতিসমূহ

ইরাবের পদ্ধতিগুলো হলো রাফ (الرفع), নাসব (النصب) এবং জার (الجر); এবং এগুলোর প্রত্যেকটি নির্দিষ্ট অর্থের চিহ্ন। রাফ (الرفع) হলো কর্তার (الفاعلية) আলামত, আর ফায়িল (الفاعل) মূলত একটিই। আর মুবতাদা (المبتدأ) ও তার খবর (الخبر), ইন্না (إن) ও তার সমজাতীয় অব্যয়গুলোর খবর (الخبر), জিনস অস্বীকারকারী ‘লা’ (لا التي لنفي الجنس), কানা (كان) ও তার সমজাতীয় ক্রিয়াগুলোর ইসম (الاسم), এবং ‘লাইসা’ (ليس)-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ‘মা’ (ما) ও ‘লা’ (لا)-এর ইসম (الاسم) মূলত সাদৃশ্যের ভিত্তিতে ফায়িল (الفاعل) বা কর্তার অন্তর্ভুক্ত।

একইভাবে নাসব (النصب) হলো কর্মের (المفعولية) আলামত। আর মাফউল (المفعول) কয়েক প্রকার: মাফউলে মুতলাক (المفعول المطلق), মাফউলে ফিহি (المفعول فيه), মাফউলে মা’আহু (المفعول معه) এবং মাফউলে লাহু (المفعول له)। এছাড়া হাল (الحال), তামিয (التمييز), মানসুব মুস্তাসনা (المستثنى المنصوب), কানা (كان) পরিচ্ছেদের খবর (الخبر), ইন্না (إن) পরিচ্ছেদের ইসম (الاسم), জিনস অস্বীকারকারী ‘লা’ (لا)-এর মাধ্যমে মানসুব (المنصوب) শব্দ এবং ‘লাইসা’র সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ ‘মা’ ও ‘লা’-এর খবর (الخبر) হলো মাফউল (المفعول) বা কর্মের অন্তর্ভুক্ত।

আর জার (الجر) হলো ইযাফত বা সম্বন্ধের (الإضافة) আলামত।

আর তাবে (التوابع) বা অনুগামী শব্দগুলোর রাফ, নাসব এবং জার তাদের মাতবু (المتبوعات) বা অনুসৃত শব্দের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত; আমেল (العامل) বা প্রভাব বিস্তারকারী শব্দের প্রভাব উভয় প্রকারের ওপর একইভাবে আপতিত হয়।

আমি আল্লাহর সাহায্য ও উত্তম তাওফিকে আপনার সামনে এই সমস্ত প্রকারগুলো সুশৃঙ্খল ও বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করছি।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাসসাল ফী সানআতিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৩৮)
‌‌الفصل الأول:

الفاعل

الفاعل هو ما كان المسند إليه من فعل أو شبهه مقدماً عليه أبداً كقولك بضرب زيد وزيد ضارب غلامه وحسن وجهه. وحقه الرفع. ورافعه ما أسند إليه. والأصل فيه أن يلي الفعل لأنه كالجزء منه فإذا قدم عليه غيره كان في النية مؤخراً ومن ثم جاز ضرب غلامه زيد وامتنع ضرب غلامه زيداً.

‌‌إضمار الفاعل: ومضمره في الإسناد إليه كمظهره تقول ضربت وضربنا وضربوا وضربن وتقول زيد ضرب فتنوي في ضرب فاعلاً وهو ضمير يرجع إلى زيد شبيه بالتاء الراجعة إلى أنا وأنت في أنا ضربت وأنت ضربت.

ومن إضمار الفاعل قولك ضربني وضربت زيداً، تضمر في الأول اسم من ضربك وضربته إضماراً على شريطة التفسير، لأنك لما حاولت في هذا الكلام أن تجعل زيداً فاعلاً ومفعولا فوجهت الفعلينب إليه استغنيت بذكره مرة. ولما لم يكن بد من إعمال أحدهما فيه أعملت الذي أوليته إياه. ومنه قول طفيل الغنوي أنشده سيبويه:

وكمتا مدماة كأن متونها … جرى فوقها واستشعرت لون مذهب
‌প্রথম পরিচ্ছেদ:

কর্তা (الفاعل)

কর্তা (الفاعل) হলো এমন বিষয় যার দিকে কোনো ক্রিয়া (فعل) বা ক্রিয়ার সদৃশ কোনো কিছুকে সম্বন্ধ করা হয়েছে (المسند إليه) এবং যা (ক্রিয়া) সর্বদা তার (কর্তার) পূর্বে অবস্থান করে। যেমন আপনার উক্তি- 'জায়েদ প্রহার করেছে' (بضرب زيد), 'জায়েদ তার গোলামকে প্রহারকারী' (زيد ضارب غلامه) এবং 'তার চেহারা সুন্দর' (حسن وجهه)। এর প্রাপ্য বিধান হলো রফ' বা পেশযুক্ত হওয়া (الرفع)। আর একে রফ' প্রদানকারী (رافعه) হলো সেই বিষয় যা এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে। এর মূল নিয়ম হলো এটি ক্রিয়ার অব্যবহিত পরেই আসবে, কারণ এটি ক্রিয়ারই একটি অংশের মতো। সুতরাং যখন এর পূর্বে অন্য কিছুকে নিয়ে আসা হয়, তখন তাকে মূলত মনে মনে পরেই ধরা হয়। এই কারণেই ‘তার গোলাম জায়েদকে প্রহার করেছে’ (ضرب غلامه زيد) বলা বৈধ হয়েছে এবং ‘জায়েদ তার গোলামকে প্রহার করেছে’ (ضرب غلامه زيداً) [বিশেষ ব্যাকরণিক কারণে] নিষিদ্ধ হয়েছে।

‌‌কর্তার সর্বনাম হওয়া (إضمار الفاعل): কর্তার দিকে সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে তার সর্বনামের (مضمر) বিধান তার প্রকাশ্য বিশেষ্যের (مظهر) মতোই। আপনি বলবেন- 'আমি প্রহার করেছি' (ضربت), 'আমরা প্রহার করেছি' (ضربنا), 'তারা প্রহার করেছে' (ضربوا) এবং 'তারা (মহিলাগণ) প্রহার করেছে' (ضربن)। আর আপনি যখন বলেন- 'জায়েদ প্রহার করেছে' (زيد ضرب), তখন আপনি 'প্রহার করেছে' (ضرب) ক্রিয়ার মধ্যে একজন কর্তাকে (فاعل) উহ্য মানেন যা একটি সর্বনাম (ضمير); এটি জায়েদ-এর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী, যা অনেকটা 'আমি প্রহার করেছি' (أنا ضربت) এবং 'তুমি প্রহার করেছ' (أنت ضربت) বাক্যের মধ্যে 'আমি' (أنا) ও 'তুমি' (أنت)-এর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী 'তা' (التاء) বর্ণের সদৃশ।

কর্তার সর্বনাম হওয়ার (إضمار الفاعل) অন্তর্ভুক্ত হলো আপনার উক্তি- 'সে আমাকে প্রহার করেছে এবং আমি জায়েদকে প্রহার করেছি' (ضربني وضربت زيداً)। এখানে প্রথম ক্রিয়াটিতে আপনি এমন একজনের নাম উহ্য রাখছেন যে আপনাকে প্রহার করেছে এবং যাকে আপনি প্রহার করেছেন; এটি ব্যাখ্যার শর্তে উহ্য রাখা (إضماراً على شريطة التفسير)। কারণ আপনি যখন এই বাক্যে জায়েদকে একইসাথে কর্তা (فاعل) ও কর্ম (مفعول) বানাতে চেয়েছেন এবং উভয় ক্রিয়াকে তার দিকে নিবদ্ধ করেছেন, তখন একবার তার উল্লেখ করেই আপনি অমুখাপেক্ষী হয়েছেন। আর যেহেতু দুটির মধ্যে যেকোনো একটি ক্রিয়াকে তার ওপর কার্যকর করা ব্যতিরেকে গত্যন্তর ছিল না, তাই আপনি তাকেই কার্যকর করেছেন যাকে আপনি তার নিকটবর্তী করেছেন। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো তুফায়েল আল-গানাবীর পঙক্তি যা সিবওয়াইহি বর্ণনা করেছেন:

এবং রক্তবর্ণের ঘোড়াগুলো যেন তাদের পিঠের ওপর... প্রবাহিত হয়েছে এবং তারা স্বর্ণালী বর্ণ ধারণ করেছে।…
(খণ্ড: ১) আল-মুফাসসাল ফী সানআতিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৩৯)
وكذلك إذا قلت ضربت وضربني زيد رفعته لإيلائك إياه الرافع، وحذفت مفعول الأول استغناء عنه. وعلى هذا اعمل الأقرب أبداً فتقول ضربت وضربني قومك. قال سيبويه ولو لم تحمل الكلام على الآخر لقت ضربت وضربوني قومك. وهو الوجه المختار الذي ورد به التنزيل قال الله تعالى:: " آتوني أفرغ عليه قطرا " " وهاؤم آقرؤا كتابيه " وإليه ذهب أصحابنا البصريون وقد يعمل الأول وهو قليل ومنه قول عمر بن أبي ربيعة:

تنخل فاستاكت به عود إسحل
অনুরূপভাবে যখন আপনি বলবেন "আমি প্রহার করেছি এবং যায়েদ আমাকে প্রহার করেছে", তখন আপনি তাকে রফ' (رفع) প্রদান করবেন যেহেতু আপনি রাফে' (الرافع)-কে তার সংলগ্ন করেছেন এবং প্রথম ক্রিয়ার মাফউল (مفعول) অনাবশ্যকবোধে বিলুপ্ত করেছেন। এই নিয়মানুসারে সর্বদা নিকটবর্তী আমিলকে কার্যকর করবেন; তখন বলবেন "আমি প্রহার করেছি এবং তোমার সম্প্রদায় আমাকে প্রহার করেছে"। সিবওয়াইহি বলেন, আপনি যদি বাক্যটিকে শেষ আমিলের ওপর ভিত্তি করে না চালাতেন, তবে বলতেন "আমি প্রহার করেছি এবং তারা আমাকে প্রহার করেছে তোমার সম্প্রদায়"। এটিই হচ্ছে পছন্দনীয় (المختار) পদ্ধতি যার মাধ্যমে ওহী (التنزিল) অবতীর্ণ হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: "তোমরা আমার কাছে নিয়ে আসো, আমি তার ওপর গলিত তামা ঢেলে দেব" এবং "এসো, তোমরা আমার আমলনামা পাঠ করো"। আমাদের বসরাবাসী (البصريون) পণ্ডিতগণ এই মতটিই গ্রহণ করেছেন। কখনো কখনো প্রথম আমিলটি কার্যকর হয়, তবে তা বিরল (قليل); এর উদাহরণ উমর বিন আবি রাবিয়ার এই উক্তিতে বিদ্যমান:

সে তা সংগ্রহ করল এবং ইসহিল বৃক্ষের ডাল দিয়ে মেসওয়াক করল।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাসসাল ফী সানআতিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৪০)
وعليه الكوفيون. وتقول على المذهبين قاما وقعد أخواك وقام وقعد أخواك وليس قول امرئ القيس:

كفاني ولم أطلب قليل من المال

من قبيل ما نحن بصدده إذ لم يوجه فيه الفعل الثاني إلى ما وجه إليه الأول. ومن إضماره قولهم إذا كان غداً. فائنني أي إذا كان ما نحن عليه غداً.

‌‌إضمار عامل الفاعل: وقد يجيء الفاعل ورافعه مضمر. يقال من فعل؟ فتقول زيد، بإضمار فعل ومنه قوله تعالى: " يسبح له فيها بالغدو والآصال رجال " فيمن قرأها
কুফাবাসী ভাষাবিদগণ (الكوفيون) এই মতের ওপর রয়েছেন। আর আপনি উভয় মতাদর্শ (مذهب) অনুযায়ী বলবেন, 'তোমার দুই ভাই দাঁড়াল ও বসল' (ক্রিয়ার রূপভেদে) এবং ইমরাউল কায়েসের এই কাব্যংশটি:

অল্প সম্পদই আমার জন্য যথেষ্ট হয়েছে অথচ আমি তা অন্বেষণ করিনি

আমাদের বর্তমান আলোচ্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়; কারণ এতে দ্বিতীয় ক্রিয়াটি (فعل) সেই প্রসঙ্গের দিকে নির্দেশিত হয়নি যেদিকে প্রথমটি করা হয়েছিল। আর এর উহ্যকরণের (إضمار) একটি উদাহরণ হলো তাদের প্রচলিত কথা: "যদি আগামীকাল হয়, তবে আমার নিকট এসো", অর্থাৎ "যদি আমাদের বর্তমান অবস্থাটি আগামীকাল হয়"।

‌‌কর্তার (فاعل) আমিলের (عامل) উহ্যকরণ (إضمار): কখনও কখনও কর্তা (فاعل) উপস্থিত থাকে অথচ তার পেশ প্রদানকারী (رافع) আমিলটি উহ্য (مضمر) থাকে। যেমন জিজ্ঞাসা করা হয়: "কে করেছে?" তখন আপনি বলেন: "যায়েদ", যা একটি ক্রিয়া (فعل) উহ্য রাখার মাধ্যমে গঠিত। এরই অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর বাণী: "সেখানে সকাল ও সন্ধ্যায় তাঁর পবিত্রতা মহিমা ঘোষণা করে এমন ব্যক্তিবর্গ", যারা এই কিরাআত অনুযায়ী পাঠ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাসসাল ফী সানআতিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৪১)
مفتوحة الباء أي يسبحه رجال وبيت الكتاب.

ليبك يزيد ضارع لخصومة … ومختبط مما تطيح الطوائح

أي ليبكه ضارع. والمرفوع في قولهم: هل زيد فاعل فعل مضمر يفسره الظاهر. وكذلك في قوله تعالى: " وإن أحد من المشركين استجارك " وبيت الحماسة:

إن ذو لوثة لانا

وفي مثل العرب لو ذات سوار لطمتني وقوله عز وجل " ولو أنهم
বা বর্ণটি ফাতহাযুক্ত, অর্থাৎ ‘পুরুষগণ তাঁর পবিত্রতা মহিমা ঘোষণা করেন’ এবং এটি সিবওয়াইহ-এর কিতাবের কাব্যপঙক্তি।

ইয়াজিদের বিয়োগে যেন সেই ব্যক্তি রোদন করে যে বিবাদে বিনয়ী … এবং যে ব্যক্তি বিপদাপদে পর্যুদস্ত হয়ে সাহায্যপ্রার্থী।

অর্থাৎ কোনো বিনয়ী ব্যক্তি যেন তার জন্য রোদন করে। তাদের উক্তি ‘হাল যাইদুন’-এর মধ্যে মারফু (المرفوع) রূপটি একটি উহ্য ক্রিয়া দ্বারা চালিত যা পরবর্তী প্রকাশ্য শব্দ দ্বারা ব্যাখ্যায়িত হয়। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: “আর যদি মুশরিকদের মধ্যে কেউ তোমার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে” এবং হামাসাহ কাব্যের পঙক্তিতে:

যদি কোনো বিকারগ্রস্ত ব্যক্তি নমনীয় হয়।

এবং আরবদের প্রবাদে রয়েছে: “যদি কোনো অলঙ্কার পরিহিতা (অভিজাত নারী) আমাকে চপেটাঘাত করত,” এবং মহান আল্লাহর বাণী: “আর যদি তারা...”
(খণ্ড: ১) আল-মুফাসসাল ফী সানআতিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৪২)
صبروا حتى تخرج إليهم " على معنى ولو ثبت. ومنه المثل الأحظية فلا ألية أي إن لا تكن لك في النساء حظية فإني في غير أليةٍ.
"তারা ধৈর্য ধারণ করত যতক্ষণ না আপনি তাদের নিকট বের হয়ে আসতেন"—এই মর্মের ওপর ভিত্তি করে যে, এমনকি যদি তা সাব্যস্ত (ثبت) হতো। এ থেকেই প্রবাদটি এসেছে: "যদি বিশেষ আনুকূল্য লাভ না হয়, তবে যেন প্রচেষ্টায় ত্রুটি না থাকে।" অর্থাৎ যদি নারীদের নিকট তোমার বিশেষ কোনো মর্যাদা না থাকে, তবে আমি প্রচেষ্টায় কোনো অবহেলা করিনি।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাসসাল ফী সানআতিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৪৩)
‌‌الفصل الثاني:

المبتدأ والخبر

‌‌تعريفهما: هما الإسمان المجردان للإسناد نحو قولك زيد منطلق. والمراد بالتجريد اخلاؤهما من العوامل التي هي كان وإن وحسبت وأخواتها، لأنهما إذا لم يخلوا منها تلعبت بهما وغصبتهما القرار على الرفع. وإنما اشترط في التجريد أن يكون من أجل الإسناد لأنهما لو جردا للإسناد لكانا في حكم الأصوات التي حقها أن ينعق بها غير معربة لأن الإعراب لا يستحق إلا بعد العقد والتركيب. وكونهما مجردين للإسناد هو رافعهما لأنه معنى قد تناولهما معاً تناولاً واحداً من حيث أن الإسناد لا يتأتى بدون طرفين مسند ومسند إليه.

ونظير ذلك أن معنى التشبيه في كأن لما اقتضى مشبهاً ومشبهاً به كانت عامله في الجزءين وشبههما بالفاعل أن المبتدأ مثله في أنه مسند إليه والخبر في أنه جزء ثان من الجملة.

‌‌أنواع المبتدأ

والمبتدأ على نوعين معرفة وهو القياس، ونكرة إما موصوفة كالتي في قوله عز وجل: " ولعبد مؤمن " وإما غير موضوفة كالتي في قولهم أرجل في الدار أم امرأة، وما أحد خير منك، وشر أهر ذا ناب، وتحت رأسي سرج،
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:

মুক্তাদা ও খবর

‌‌এ দুটির সংজ্ঞা: এগুলো হলো এমন দুটি বিশেষ্য যা অন্বয়ের উদ্দেশ্যে বাহ্যিক প্রভাবকসমূহ থেকে মুক্ত; যেমন আপনার কথা: 'যায়েদ প্রস্থানকারী'। আর প্রভাবকহীন বা মুক্তকরণ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেগুলোকে কান, ইন্না, হাসিবতু এবং এ জাতীয় প্রভাবকগুলো থেকে মুক্ত রাখা; কেননা এগুলো থেকে মুক্ত না হলে সেগুলো এই বিশেষ্য দুটির ওপর প্রভাব বিস্তার করত এবং সেগুলোর পেশ বা রাফ অবস্থায় স্থির থাকার বিষয়টিকে নষ্ট করে দিত। আর অন্বয়ের উদ্দেশ্যে মুক্ত হওয়ার শর্তটি এই জন্য দেওয়া হয়েছে যে, যদি অন্য কোনো কারণে সেগুলো মুক্ত হতো, তবে সেগুলো নিছক ধ্বনির মতো হতো যেগুলোকে বিভক্তিহীনভাবে উচ্চারণ করাই সংগত ছিল; কারণ বাক্য গঠন ও অন্বয়ের পরেই কেবল শব্দ বিভক্তি বা ই'রাব-এর যোগ্যতা লাভ করে। আর এ দুটির অন্বয়ের উদ্দেশ্যে প্রভাবকহীন থাকাই হলো এগুলোর রাফে' বা পেশ প্রদানকারী; কারণ এটি এমন একটি অর্থ যা উভয়কে একইভাবে শামিল করে, যেহেতু মুসনাদ এবং মুসনাদ ইলাইহি—এই উভয় পক্ষ ব্যতীত অন্বয় সম্পন্ন হওয়া সম্ভব নয়।

এর দৃষ্টান্ত হলো 'কাআন্না'-এর মধ্যে বিদ্যমান উপমার অর্থ; যেহেতু এটি একটি তুলনীয় বস্তু এবং যার সাথে তুলনা করা হয়—উভয়কে দাবি করে, তাই এটি উভয় অংশের মধ্যেই আমল বা প্রভাব বিস্তার করে। আর মুক্তাদার সাথে কর্তার সাদৃশ্য হলো এই যে, মুক্তাদা মুসনাদ ইলাইহি হওয়ার দিক থেকে কর্তার মতো, আর খবর হলো বাক্যের দ্বিতীয় অংশ।

‌‌মুক্তাদার প্রকারভেদ

মুক্তাদা দুই প্রকার: নির্দিষ্ট বিশেষ্য বা মারেফা, যা মূলত সাধারণ নিয়ম। আর অনির্দিষ্ট বিশেষ্য বা নাকেরা; এটি হয় গুণবাচক শব্দ দ্বারা বিশেষিত, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: "এবং অবশ্যই একজন মুমিন ক্রীতদাস"; অথবা গুণবাচক শব্দ ব্যতীত সাধারণ অনির্দিষ্ট বিশেষ্য, যেমন তাদের উক্তিতে রয়েছে: "বাড়িতে কি কোনো পুরুষ আছে নাকি কোনো নারী?", এবং "তোমার চেয়ে উত্তম কেউ নেই", এবং "বিপদ তাকেই দাঁত খিঁচাতে বাধ্য করে যে দন্তবিশিষ্ট", এবং "আমার মাথার নিচে একটি জিন (উটের গদি) রয়েছে"।
(খণ্ড: ১) আল-মুফাসসাল ফী সানআতিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৪৪)
‌‌أنواع الخبر

أنواع الخبر والخبر على نوعين مفرد وجملة. فالمفرد على ضربين خال عن الضمير ومتضمن له وذلك زيد غلامك وعمرو منطلق. والجملة على أربعة أضرب فعليه واسمية وشرطية وظرفية. وذلك زيد ذهب أخوه، وعمرو أبوه منطلق، وبكر أن تعطه يشكرك، وخالد في الدار.

ولا بد في الجملة الواقعة خبراً من ذكر يرجع إلى المبتدأ وقولك في الدار معناه استقر فيها. وقد يكون الراجع معلوماً فيستغنى عن ذكره وذلك في مثل قولهم الكربستين، والسمن منوان بدرهم. وقوله تعالى: " ولمن صبر وغفر إن ذلك لمن عزم الأمور ".

‌‌تقدم الخبر على المبتدأ:

ويجوز تقديم الخبر على المبتدأ كقولك تميمي أنا، ومشنؤ من يشنؤك، وكقوله تعالى: " سواء محياهم ومماتهم " وسواء عليهم أأنذرتهم أم لم تنذرهم "، المعنى سواء عليهم الإنذار وعدمه. وقد التزم تقديمه فيما وقع فيه المبتدأ نكرةً والخبر ظرفاً وذلك قولك في الدار رجل.

وأما سلام عليك وويل لك وما أشبههما من الأدعية فمتروكة على حالها إذا كانت منصوبة منزلة منزلة الفعل. وفي قولهم أين زيد وكيف عمرو ومتى القتال.

‌‌حذف المبتدأ أو الخبر

ويجوز حذف أحدهما. فمن حذف المبتدأ قول المستهل: الهلال والله، وقولك وقد شممت ريحاً: المسك والله، أو رأيت شخصاً فقلت: عبد الله وربي. ومنه قول المرقش:
খবরের (خبر) প্রকারভেদ

খবরের প্রকারভেদ: খবর (خبر) দুই প্রকার—একক (مفرد) এবং বাক্য (جملة)। একক (مفرد) আবার দুই প্রকার—সর্বনামহীন এবং সর্বনাম সম্বলিত; যেমন: "যায়েদ তোমার গোলাম" এবং "আমর প্রস্থানকারী"। আর বাক্য (جملة) চার প্রকার: ক্রিয়া-প্রধান (فعلية), নাম-প্রধান (اسمية), শর্তবাচক (شرطية) এবং অব্যয়ীয় বা স্থান-কাল নির্দেশক (ظرفية)। যেমন: "যায়েদ, তার ভাই গিয়েছে", "আমর, তার পিতা প্রস্থানকারী", "বকর, তুমি তাকে দিলে সে তোমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে" এবং "খালিদ ঘরে আছে"।

খবর হিসেবে ব্যবহৃত বাক্যে অবশ্যই এমন একটি উল্লেখ থাকতে হবে যা মুক্তাদা (مبتدأ)-র দিকে প্রত্যাবর্তন করে। আর তোমার উক্তি "ঘরে আছে"-র অর্থ হলো "সেখানে স্থির বা বিদ্যমান আছে"। কখনো কখনো প্রত্যাবর্তনকারী সর্বনামটি জানা থাকে, ফলে তা উল্লেখ করার প্রয়োজন হয় না; যেমন তাদের প্রবাদ: "এক কার্বাস (কাপড়) দুই দিরহামে" (অর্থাৎ এর মূল্য দুই দিরহাম) এবং "ঘি দুই মান (পরিমাপ বিশেষ) এক দিরহামে"। আর মহান আল্লাহর বাণী: "তবে যে ধৈর্য ধারণ করে এবং ক্ষমা করে, নিশ্চয় তা দৃঢ় সংকল্পের কাজের অন্তর্ভুক্ত।"

মুক্তাদা (مبتدأ)-র পূর্বে খবরের (خبر) অবস্থান:

মুক্তাদা (مبتدأ)-র পূর্বে খবর (خبر) নিয়ে আসা বৈধ, যেমন তোমার উক্তি: "তামিমি আমি" এবং "ঘৃণিত সেই যে তোমাকে ঘৃণা করে"। মহান আল্লাহর বাণী: "তাদের জীবন ও মৃত্যু সমান" এবং "তাদের কাছে সমান, আপনি তাদের সতর্ক করুন বা না করুন"। এর অর্থ হলো—সতর্ক করা বা না করা তাদের কাছে সমান। তবে কিছু ক্ষেত্রে খবরকে আগে আনা আবশ্যক, যখন মুক্তাদা (مبتدأ) অনির্দিষ্ট (نكرة) হয় এবং খবর (خبر) অব্যয়ীয় (ظرف) হয়। যেমন তোমার উক্তি: "ঘরে একজন লোক আছে"।

আর "তোমার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক" এবং "তোমার জন্য দুর্ভোগ" এবং এই জাতীয় দোয়ামূলক বাক্যগুলো তাদের নিজ অবস্থাতেই থাকে, যখন সেগুলো ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত হয়ে নসব (منصوبة) অবস্থায় ব্যবহৃত হয়। অনুরূপভাবে তাদের উক্তি: "যায়েদ কোথায়?", "আমর কেমন আছে?" এবং "যুদ্ধ কখন?"।

মুক্তাদা (مبتدأ) অথবা খবরের (خبر) বিলোপ:

মুক্তাদা বা খবরের যেকোনো একটি বিলোপ করা বৈধ। মুক্তাদা (مبتدأ) বিলোপের উদাহরণ হলো নতুন চাঁদ দ্রষ্টার উক্তি: "আল্লাহর কসম, (এটি) নতুন চাঁদ", অথবা কোনো সুঘ্রাণ পেয়ে তোমার উক্তি: "আল্লাহর কসম, (এটি) মিশক", কিংবা কোনো ব্যক্তিকে দেখে তোমার উক্তি: "আমার রবের কসম, (ইনি) আব্দুল্লাহ"। মুরাক্কিশ-এর কবিতায়ও এর উদাহরণ রয়েছে:
(খণ্ড: ১) আল-মুফাসসাল ফী সানআতিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৪৫)
لا يبعد الله التلبب وال؟ … غارات إذ قال الخميس نعم

ومن حذف الخبر قولهم خرجت فإذا السبع، وقول ذي الرمة:

فيا ظبية الوعساء بين جلاجل … وبين النقا آأنت أم أم سالم
আল্লাহ তলোয়ারের কোমরবন্ধ পরিধান এবং … যুদ্ধাভিযানসমূহকে রহিত না করুন, যখন সেনাদল বলেছিল— হ্যাঁ।

আর সংবাদ (الخبر) উহ্য রাখার অন্যতম উদাহরণ হলো তাদের এই উক্তি: ‘আমি বের হলাম, এমতাবস্থায় সেখানে একটি সিংহ (উপস্থিত)’, এবং যুর রুম্মাহ-এর উক্তি:

হে জালাজিল … এবং বালিয়াড়ির মধ্যবর্তী নরম বালুকাময় প্রান্তরের হরিণী, তুমি কি সেই হরিণী নাকি উম্মু সালিম?
(খণ্ড: ১) আল-মুফাসসাল ফী সানআতিল ইরাব (পৃষ্ঠা: ৪৬)
ومنه قوله تعالى: " فصبر جميل " يحتمل الأمرين أي فأمري صبر جميل أو فصبر جميل أجمل. وقد التزم حذف الخبر في قولهم لولا زيد لكان كذا لسد الجواب مسدة. ومما حذف فيه الخبر لسد غيره مسده قولهم أقائم الزيدان، وضربي زيداً قائماً، وأكثر شربي السويق ملتوتاً، وأخطب ما يكون الأمير قائماً وقولهم كل رجل وضيعته.

وقد يقع المبتدأ والخبر معرفتين كقولك زيد المنطلق، والله إليهنا، ومحمد نبينا. ومنه قوله أنت أنت وقول أبي النجم:

أنا أبو النجم وشعري شعري

ولا يجوز تقديم الخبر هنا بل أيهما قدمت فهو المبتدأ

‌‌تعدد الخبر

وقد يجيئ للمبتدأ خبران فصاعداً منه قولك هذا حلو حامض. وقوله تعالى: " وهو الغفور الودود ذو العرش المجيد فعال لما يريد ".
এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: "সুতরাং সুন্দর ধৈর্যই শ্রেয়।" এটি দুটি বিষয়ের সম্ভাবনা রাখে, অর্থাৎ: "আমার কাজ হলো সুন্দর ধৈর্য" অথবা "সুন্দর ধৈর্যই অধিক সুন্দর।" আর "যদি জায়েদ না থাকতো তবে এমন হতো"—এই জাতীয় বাক্যে সংবাদ বা বিধেয় (خبر) বিলোপ করা আবশ্যক করা হয়েছে, যেহেতু এখানে উত্তরটি খবরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। আর যে সকল ক্ষেত্রে অন্য কোনো পদ স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কারণে সংবাদ বা বিধেয় (خبر) বিলোপ করা হয় তার উদাহরণ হলো তাদের কথা: "দুই জায়েদ কি দণ্ডায়মান?", "জায়েদ দণ্ডায়মান থাকা অবস্থায় আমার তাকে প্রহার করা", "ছাতু মেশানো অবস্থায় আমার সবচেয়ে বেশি পান করা", "আমীর যখন দণ্ডায়মান থাকেন তখনই তার ভাষণ সবচেয়ে জোরালো হয়" এবং তাদের প্রবাদ "প্রত্যেক ব্যক্তি ও তার পেশা।"

কখনো কখনো উদ্দেশ্য (مبتدأ) এবং সংবাদ বা বিধেয় (خبر) উভয়ই নির্দিষ্ট (معرفة) হতে পারে, যেমন তোমার উক্তি: "জায়েদই প্রস্থানকারী", "আল্লাহ আমাদের ইলাহ" এবং "মুহাম্মদ আমাদের নবী।" এর অন্তর্ভুক্ত হলো "তুমিই তুমি" এবং কবি আবু নাজমের উক্তি:

আমি আবু নাজম এবং আমার কবিতা আমারই কবিতা

এখানে সংবাদ বা বিধেয় (خبر) কে আগে আনা বৈধ নয়, বরং যে পদটিকেই আগে আনা হবে সেটিই উদ্দেশ্য (مبتدأ) হিসেবে গণ্য হবে

‌‌সংবাদ বা বিধেয়ের আধিক্য (تعدد الخبر)

কখনো একটি উদ্দেশ্য (مبتدأ) এর জন্য দুই বা ততোধিক সংবাদ বা বিধেয় (خبر) আসতে পারে, যেমন তোমার উক্তি: "এটি টক-মিষ্টি।" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "তিনিই অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম প্রেমময়, আরশের অধিপতি, মহিমান্বিত, তিনি যা ইচ্ছা করেন তা সুনিপুণভাবে সম্পাদনকারী।"