(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - রুকাইয়া নিয়ায
(পৃষ্ঠা: -)
السنة النبوية ومكانتها - رقية نياز القسم: علوم الحديث
الكتاب: السنة النبوية المصدر الثاني للتشريع الإسلامي ومكانتها من حيث الاحتجاج والمرتبة والبيان والعمل
المؤلف: رقية بنت نصر الله نياز
الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة
عدد الصفحات: 66
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সুন্নাহে নববী এবং এর মর্যাদা - রুকাইয়া নিয়াজ বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)
বই: সুন্নাহে নববী: ইসলামি শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস এবং দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা (الاحتجاج), মর্যাদা (المرتبة), ব্যাখ্যা (البيان) ও আমলের ক্ষেত্রে এর অবস্থান
লেখক: রুকাইয়া বিনতে নাসরুল্লাহ নিয়াজ
প্রকাশক: মদিনা মুনাওয়ারাহ-স্থিত পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য কিং ফাহদ কমপ্লেক্স
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৬
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - রুকাইয়া নিয়ায
(পৃষ্ঠা: ১)
ال
مقدمة:إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا. من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران:102] .
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} [النساء: آية 1] .
ْْ {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً، يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً}
[الأحزاب: الآيتان 70-71] .
أما بعد:
فمما لا شك فيه أن القرآن الكريم هو أصل التشريع، ومصدره الأول، وأن السنة النبوية هي المصدر الثاني بعد القرآن الكريم.
ولقد اْبتُلِي الإسلام في مصدره الثاني منذ نهاية القرن الأول وحتى يومنا هذا، بطوائفَ لا حظَّ لها في الإسلام، تُنْكر حجية السنة، وتثير
ভূমিকা:নিশ্চয়ই যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২] ।
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করো এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: আয়াত ১] ।
{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সফলতা অর্জন করে।}
[আল-আহযাব: আয়াত ৭০-৭১] ।
অতঃপর:
এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে, কুরআন কারিম হলো বিধান প্রণয়নের (تشريع) মূল ভিত্তি এবং এর প্রথম উৎস, আর পবিত্র কুরআনের পর নববী সুন্নাহ (سنة) হলো দ্বিতীয় উৎস।
নিশ্চয়ই প্রথম হিজরি শতাব্দীর শেষভাগ থেকে আজ পর্যন্ত ইসলাম তার দ্বিতীয় উৎসের ক্ষেত্রে এমন কিছু দলের দ্বারা পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছে যাদের ইসলামে কোনো অংশ নেই; তারা সুন্নাহর (سنة) প্রামাণ্যতা (حجية) অস্বীকার করে এবং উত্থাপন করে...
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - রুকাইয়া নিয়ায
(পৃষ্ঠা: ২)
الشبهات حولها، على تفاوت منهم في هذا الإنكار، فمنهم من يَرُدُّ الأخبار من حيث هي أقوال وأفعال وتقريرات للرسول صلى الله عليه وسلم، ومنهم من ينكر خبر الآحاد، ومنهم من أنكر حجية السنة التي تأتي بحكم مستقل. وغيرهم كان إنكاره لحجية السنة من حيث الشكُّ في طريقها، وما يَلْحَقُ رواتها من خطأ أو وهم.
فصاروا يقللون من شأن نصوص الحديث، ويحطُّون مِنْ قَدْره، وتطاولوا على رواة الحديث من الصحابة - رضوان الله عليهم - وأئمة الحديث، يقبحونهم ويصفونهم بالشناعات. واستمروا على هذه الدعاوى الباطلة حتى توصلوا إلى القول بعدم الاعتماد على السنة، ورفعوا شعار"الإسلام هو القرآن وحده".
إن هذا التطاول السافر على السنة النبوية قديماً وحديثاً هدفه القضاء على الإسلام وأصوله، وإن اختلفت الطرق، والأساليب، والعبارات.
ذلك أن أعداء الإسلام وجدوا في السنة المطهرة العائق الكبير الذي يحول بينهم وبين نشر سمومهم، فرفعوا هذا الشعار لتيقنهم التام بمكانة السنة في التشريع الإسلامي، سواء من حيث ثبوت حجيتها، أو من حيث قوة الأدلة التي تثبت منزلتها ومرتبتها في التشريع، وسواء من حيث بيانها وتفسيرها للقرآن الكريم، أو من حيث مكانتها في وجوب العمل بها في كل شؤون الحياة.
وما يثار الآن، وما أثير قديماً حول دعوى الاستغناء عن السنة لعدم حجيتها أمر مرفوض، وقد تصدى العلماء الربانيون لهذه الشبهة ببيانها
সুন্নাহর (السنة) ব্যাপারে উত্থাপিত সন্দেহসমূহ, যদিও এই অস্বীকৃতির ক্ষেত্রে তাদের মাঝে তারতম্য রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সংবাদসমূহকে (الأخبار) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী, কাজ ও মৌনসম্মতি হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ একক সংবাদ (خبر الآحاد)-কে অস্বীকার করে। আবার কেউ কেউ সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية)-কে অস্বীকার করে যা স্বতন্ত্র বিধান প্রদান করে। অন্যদের সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية) অস্বীকার করার কারণ ছিল এর সূত্রের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করা এবং এর বর্ণনাকারীদের (رواة) ভুল বা ভ্রান্তির (وهم) সাথে যা সংশ্লিষ্ট।
ফলে তারা হাদিসের ভাষ্যসমূহের (نصوص) গুরুত্ব কমিয়ে দিতে থাকে এবং এর মর্যাদাকে খাটো করতে শুরু করে। তারা হাদিসের বর্ণনাকারী (رواة) সাহাবীগণ —রাদিয়াল্লাহু আনহুম— এবং হাদিসের ইমামগণের প্রতি ধৃষ্টতা প্রদর্শন করে, তাঁদের নিন্দা করে এবং তাঁদেরকে জঘন্য বিশেষণে বিশেষিত করে। তারা এই বাতিল দাবিগুলো অব্যাহত রাখে যতক্ষণ না তারা সুন্নাহর (السنة) ওপর নির্ভর না করার পর্যায়ে উপনীত হয় এবং এই স্লোগান তোলে যে, "ইসলাম কেবল কুরআনই"।
প্রাচীন ও আধুনিককালে সুন্নাহর প্রতি এই নগ্ন ধৃষ্টতার উদ্দেশ্য হলো ইসলাম ও এর মূলনীতিসমূহকে (أصول) নির্মূল করা, যদিও এ ক্ষেত্রে তাদের পথ, পদ্ধতি ও ভাষ্য ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে।
এর কারণ হলো, ইসলামের শত্রুরা পবিত্র সুন্নাহর (السنة) মাঝে এমন এক বিশাল বাধা খুঁজে পেয়েছে যা তাদের বিষবাষ্প ছড়ানোর পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। তাই তারা এই স্লোগান তুলেছে, কারণ তারা ইসলামি আইন প্রণয়নে (التشريع) সুন্নাহর গুরুত্ব সম্পর্কে পূর্ণরূপে নিশ্চিত ছিল—তা সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية) সাব্যস্ত হওয়ার দিক থেকে হোক, কিংবা আইন প্রণয়নে এর মর্যাদা ও স্তর প্রমাণকারী দলিলসমূহের (الأدلة) শক্তির দিক থেকে হোক, অথবা পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের দিক থেকে হোক, কিংবা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে এর ওপর আমল করার আবশ্যকতা (وجوب) হওয়ার দিক থেকেই হোক।
বর্তমানে এবং অতীতে সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية) না থাকার অজুহাতে সুন্নাহর প্রয়োজন নেই বলে যে দাবি উত্থাপন করা হয়েছে তা বর্জনীয়। রব্বানী আলেমগণ এই সন্দেহসমূহ সুস্পষ্ট বর্ণনার মাধ্যমে নিরসনে সচেষ্ট হয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - রুকাইয়া নিয়ায
(পৃষ্ঠা: ৩)
والرّد عليها إجمالاً وتفصيلاً بما لا يترك مجالاً في إبطالها، وأنها مجرد أكاذيب وافتراءات للقضاء على هذا المصدر الثمين.
وقصارى القول في هذا أن هذه دعاوٍ يأباها الله ورسوله، والمؤمنون، والعقل والمنطق السليم. وأن السنة النبوية مصدرٌ أساس في التشريع.
وتفصيل هذا هو موضوع البحث. أما هذه الشبه الباطلة والرد عليها فلم أتعرض لها، وذلك لتخصص البحث في بيان"السنة ومكانتها من حيث: الاحتجاج، والعمل" وقد وجدت أيضا محوراً مستقلاً بهذا الشأن في موضوعات الندوة (1) .
ومما ينبغي الإشارة إليه أن هذا البحث يتكون من مقدمة، وأربعة مباحث، وخاتمة، على النحو التالي:
- المقدمة: في أهمية البحث، وتعريف السنة.
- المبحث الأول: مكانة السنة من حيث حجيتها.
- المبحث الثاني: مكانة السنة من حيث مرتبتها.
- المبحث الثالث: مكانة السنة من حيث بيان الأحكام التشريعية.
- المبحث الرابع: مكانة السنة من حيث العمل بها.
"هل كل ما صدر عن الرسول صلى الله عليه وسلم يعد تشريعاً؟ "
- الخاتمة: وتتضمن أهم نتائج البحث.
(1) انظر: المحور الخامس في موضوعات هذه الندوة تحت عنوان: الرد على الطعون والشبهات المثارة حول السنة والسيرة النبوية قديماً وحديثاً..
এবং সেগুলোর সামগ্রিক ও বিস্তারিত খণ্ডন এমনভাবে করা যাতে সেগুলো বাতিলের কোনো অবকাশ না থাকে। আর তা এই মূল্যবান উৎসকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে নিছক মিথ্যা ও অপবাদ মাত্র।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, এগুলো এমন দাবি যা আল্লাহ, তাঁর রাসূল, মুমিনগণ এবং সুস্থ বিবেক ও যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে। আর সুন্নাহ (السنة) হলো শরয়ি বিধানের (التشريع) একটি মৌলিক উৎস।
এ বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনাই হলো এই গবেষণার বিষয়বস্তু। তবে আমি এসব বাতিল সংশয় ও সেগুলোর খণ্ডনের বিষয়ে আলোচনা করিনি, কারণ এই গবেষণাটি "সুন্নাহ এবং এর মর্যাদা: প্রামাণ্যতা (الاحتجاج) ও আমলের (العمل) প্রেক্ষিত" বর্ণনার জন্য নির্দিষ্ট। তাছাড়া আমি এই সেমিনারের বিষয়াবলির মধ্যে এই প্রসঙ্গে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায়ও পেয়েছি (১)।
এখানে উল্লেখ্য যে, এই গবেষণাটি নিম্নোক্তভাবে একটি ভূমিকা, চারটি পরিচ্ছেদ এবং একটি উপসংহার নিয়ে গঠিত:
- ভূমিকা: গবেষণার গুরুত্ব এবং সুন্নাহর (السنة) সংজ্ঞা প্রসঙ্গে।
- প্রথম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর মর্যাদা ও এর প্রামাণ্যতা (حجيتها) প্রসঙ্গে।
- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর মর্যাদা ও এর স্তর (مرتبتها) প্রসঙ্গে।
- তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শরয়ি বিধান (الأحكام التشريعية) বর্ণনার ক্ষেত্রে সুন্নাহর মর্যাদা।
- চতুর্থ পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ অনুযায়ী আমল (العمل) করার ক্ষেত্রে এর মর্যাদা।
"রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তার সবই কি শরয়ি বিধান (تشريعاً) হিসেবে গণ্য হবে?"
- উপসংহার: এতে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
(১) দেখুন: এই সেমিনারের বিষয়াবলির পঞ্চম অধ্যায়, যার শিরোনাম: প্রাচীন ও বর্তমান কালে সুন্নাহ ও সীরাতে নববী সম্পর্কে উত্থাপিত আপত্তি ও সংশয়সমূহের খণ্ডন..
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - রুকাইয়া নিয়ায
(পৃষ্ঠা: ৪)
وقبل الولوج في بيان "مكانة السنة" لابد أن نتعرض بشيء من التفصيل لبيان مفهوم السنة؛ لأن الحكم على الشيء فرع عن تصوره.
فالسنة في معاجم اللغة معناها:
هي الطريقة والسيرة مطلقاً، المحمودة والمذمومة، السيئة والقبيحة، ومن هذا المعنى العام قول الله تعالى {سُنَّةَ اللَّهِ فِي الَّذِينَ خَلَوْا مِنْ قَبْلُ وَلَنْ تَجِدَ لِسُنَّةِ اللَّهِ تَبْدِيلاً) } [الأحزاب: 62] . ومن هذا المعنى أيضاً قوله صلى الله عليه وسلم: "من سنّ في الإسلام سنة حسنة، فله أجرها وأجر من عمل بها، ومن سنّ سنة سيئة فعليه وزرها" (1) .
أما إذا أضيفت (السنة) إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم أو إلى تشريعات الإسلام، انصرف الذهن إلى طريقته عليه السلام وسيرته في تنفيذ ما بعثه الله من الحق والهدى.
وكما هو معرف في معاجم اللغة (2) أن السنة أصلاً مشتقة من الفعل الثلاثي "سنّ" تقول: "سنّ الماء إذا داوم صبه". "سنّ الإبل إذا أحسن رَعْيَهَا، والقيامَ عليها". "سنّ السكين إذا حَدَّه وصَقَله".
وكذلك طريقة الرسول صلى الله عليه وسلم وسيرته أمور داوم عليها فهي سنة.
وما داوم عليه صلى الله عليه وسلم فقد أحسن رعايته فهو سنة.
--------------------------------------------
"সুন্নাহর মর্যাদা" বর্ণনায় প্রবেশের পূর্বে সুন্নাহর ধারণা স্পষ্ট করার জন্য কিছুটা বিস্তারিত আলোচনা করা প্রয়োজন; কারণ কোনো বিষয় সম্পর্কে বিধান প্রদান সেই বিষয়টি অনুধাবন করার ওপর নির্ভরশীল।
অভিধানসমূহে সুন্নাহর আভিধানিক অর্থ হলো:
এটি সাধারণভাবে কোনো পথ ও কর্মপন্থা, তা প্রশংসনীয় হোক বা নিন্দনীয়, মন্দ হোক বা কুৎসিত। এই সাধারণ অর্থ থেকেই মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহর বিধান (سنة الله) তাদের ক্ষেত্রেও কার্যকর ছিল যারা ইতিপূর্বে গত হয়েছে। আপনি আল্লাহর বিধানে (سنة الله) কোনো পরিবর্তন পাবেন না} [আল-আহজাব: ৬২]। এই অর্থ থেকেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম পন্থা (سنة حسنة) প্রবর্তন করবে, সে তার সওয়াব পাবে এবং যারা তার পরে সে অনুযায়ী আমল করবে তাদের সওয়াবও সে পাবে। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ পন্থা (سنة سيئة) প্রবর্তন করবে, তার ওপর তার গুনাহ বর্তাবে" (১)।
তবে যখন (সুন্নাহ)-কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অথবা ইসলামের শরিয়াহর বিধানের প্রতি সম্পৃক্ত করা হয়, তখন এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয় সত্য ও হেদায়াত বাস্তবায়নে তাঁর অনুসৃত পথ ও কর্মপন্থা, যা নিয়ে আল্লাহ তাঁকে প্রেরণ করেছেন।
অভিধানসমূহে যেভাবে সংজ্ঞায়িত হয়েছে (২), সুন্নাহ শব্দটি মূলত ত্রি-অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়া "সান্না" (سنّ) থেকে উদ্ভূত। যেমন বলা হয়: "পানি নিরবচ্ছিন্নভাবে ঢালা হলে তা 'সান্না' (سنّ) করা"। "উটের সর্বোত্তম যত্ন ও তদারকি করা হলে তা 'সান্না' (سنّ) করা"। "ছুরি শাণ দেওয়া এবং পালিশ করা হলে তা 'সান্না' (سنّ) করা"।
অনুরূপভাবে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথ ও কর্মপন্থা এমন বিষয় যা তিনি নিরবচ্ছিন্নভাবে পালন করেছেন, তাই তা সুন্নাহ।
আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিরবচ্ছিন্নভাবে পালন করেছেন এবং যার সর্বোত্তম তদারকি করেছেন, তাই সুন্নাহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - রুকাইয়া নিয়ায
(পৃষ্ঠা: ৫)
وما أحسن رعايته فقد خلصه علماء الحديث من كل خليط ودخيل فهو سنة مستقيمة حسنة ممدوحة.
من هذه المعاني اللغوية يمكن القول بأن: السنة النبوية تعني المنهاج النبوي العام، النظري والعملي الذي جاء به عليه السلام لشرح شريعة الله لتكون دستوراً للحياة، والتي أمر بها في قوله صلى الله عليه وسلم:"فعليكم بسنتي" (1) وحذَّر من الإعراض عنها في قوله: "فمن رغب عن سنتي فليس مني" (2) .
السنة اصطلاحاً:
على ضوء المعاني اللغوية السابقة عرَّف أهل العلم الربانيون السنة اصطلاحاً بتعريفات شتى، كلّ حسب تخصصه الحديثي، أو الأصولي، أو الفقهي (3) ، ولا يعنينا هنا تتبُّع كل تلك المصطلحات والاختلافات؛ ذلك لأن هذا الاختلاف في إطلاقات السنة لفظي وغير جوهري مرجعه اختلاف الأغراض والأهداف والتخصصات التي عُني بها كل فريق من أهل العلم. ولعل الذي يفيدنا في هذا البحث المعنى الذي يبحث عن حجيَّة السنة ومكانتها في التشريع.
--------------------------------------------
এবং এর রক্ষণাবেক্ষণ কতই না চমৎকার! হাদিস বিশারদগণ একে প্রতিটি মিশ্রণ ও বিজাতীয় উপাদান থেকে মুক্ত করেছেন; ফলে এটি একটি সুপ্রতিষ্ঠিত, উত্তম (حسنة) ও প্রশংসিত সুন্নাহ।
এই শাব্দিক অর্থসমূহ থেকে বলা যেতে পারে যে: সুন্নাহ নববী বলতে সেই সাধারণ নববী কর্মপন্থাকে বোঝায়—তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক—যা তিনি (আলাইহিস সালাম) আল্লাহর শরিয়ত ব্যাখ্যা করার জন্য নিয়ে এসেছেন, যাতে এটি জীবনের জন্য একটি সংবিধান হতে পারে। যার আদেশ তিনি তাঁর এই বাণীতে দিয়েছেন: "তোমরা আমার সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো" (১) এবং এটি থেকে বিমুখ হওয়ার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন তাঁর এই বাণীতে: "যে ব্যক্তি আমার সুন্নাহ থেকে বিমুখ হবে, সে আমার দলভুক্ত নয়" (২)।
পরিভাষায় সুন্নাহ:
পূর্বোক্ত শাব্দিক অর্থসমূহের আলোকে রব্বানী আলেমগণ পরিভাষায় সুন্নাহর বিভিন্ন সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, প্রত্যেকেই তাদের নিজ নিজ হাদিসতত্ত্ব, উসুল বা ফিকহ শাস্ত্রের বিশেষত্ব অনুযায়ী (৩)। আমাদের এখানে সেই সকল পরিভাষা ও মতপার্থক্যের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই; কেননা সুন্নাহ শব্দের প্রয়োগের এই পার্থক্যগুলো শাব্দিক এবং মৌলিক নয়, যার কারণ হলো আলেমদের প্রতিটি দলের উদ্দেশ্য, লক্ষ্য এবং বিশেষত্বের ভিন্নতা। সম্ভবত এই গবেষণায় আমাদের জন্য ফলপ্রসূ হবে সেই অর্থটি, যা সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية) এবং শরিয়ত প্রণয়নে এর মর্যাদা নিয়ে আলোচনা করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - রুকাইয়া নিয়ায
(পৃষ্ঠা: ৬)
المبحث الآول: مكانة السنة من حيث حجيتها
المطلب الأول: ثبوت حجية السنة بأدلة القرآن الكريم…المبحث الأول: مكانة السنة من حيث حجيتها
وفيه أربعة مطالب:
المطلب الأول: ثبوت حجية السنة بأدلة القرآن الكريم.
المطلب الثاني: ثبوت حجية السنة بالأحاديث النبوية.
المطلب الثالث: ثبوت حجية السنة بإجماع الأمة.
المطلب الرابع: ثبوت حجية السنة بالدليل العقلي.
প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রামাণিকতার (حجية) দিক থেকে সুন্নাহর মর্যাদাপ্রথম অনুচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনের দলিলের মাধ্যমে সুন্নাহর প্রামাণিকতা (حجية) সাব্যস্ত হওয়া…প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রামাণিকতার (حجية) দিক থেকে সুন্নাহর মর্যাদা
এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনের দলিলের মাধ্যমে সুন্নাহর প্রামাণিকতা (حجية) সাব্যস্ত হওয়া।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নববী হাদিসের মাধ্যমে সুন্নাহর প্রামাণিকতা (حجية) সাব্যস্ত হওয়া।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: উম্মাহর ঐকমত্যের (إجماع) মাধ্যমে সুন্নাহর প্রামাণিকতা (حجية) সাব্যস্ত হওয়া।
চতুর্থ অনুচ্ছেদ: যৌক্তিক দলিলের মাধ্যমে সুন্নাহর প্রামাণিকতা (حجية) সাব্যস্ত হওয়া।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - রুকাইয়া নিয়ায
(পৃষ্ঠা: ৭)
المبحث الأول: مكانة السنة من حيث حجيتها
السنة النبوية مصدر أصيل من مصادر التشريع الإسلامي وقد قامت الأدلة المعتبرة الصحيحة الصريحة من القرآن الكريم، والأحاديث النبوية، وإجماع الأمة، وكذلك الأدلة العقلية، على إثبات حجيتها، ومكانتها في التشريع الإسلامي، وسوف نلخص إثبات حجيتها في مطالب هذا المبحث.
المطلب الأول: إثبات حجية السنة النبوية بأدلة القرآن الكريم
فَرَض القرآن الكريم على المسلمين بأدلة قاطعة وجوبَ قبولِ سنة النبي صلى الله عليه وسلم على أنها مصدر تشريعي في استنباط الأحكام الشرعية، وفي هذا الصدد يقول الإمام الشافعي: "الكتاب شهد للسنة بالاعتبار" (1) .
وقد نهجت الآيات القرآنية مناهج شتى في بيان حجية السنة النبوية، وتعددت فيها وسائل تؤكد على اتباعه وطاعته صلى الله عليه وسلم،كما تعددت فيها عبارات الوعيد والإنذار والترهيب من مخالفته والخروج عن مقتضى أوامره، وعدم الاستسلام لأحكامه (2) ولعل أبرز هذه الوسائل هي:
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রামাণিকতার (حجية) বিচারে সুন্নাহর অবস্থান
সুন্নাহ হলো ইসলামি শরিয়তের একটি মৌলিক উৎস। পবিত্র কুরআন, হাদিস, উম্মাহর ঐক্যমত (إجماع) এবং যুক্তিভিত্তিক দলিলের মাধ্যমে সুন্নাহর প্রামাণিকতা (حجية) এবং ইসলামি শরিয়তে এর গুরুত্ব অকাট্য, সঠিক (صحيح) ও সুস্পষ্ট দলিল দ্বারা প্রমাণিত। এই পরিচ্ছেদের বিভিন্ন অনুচ্ছেদে আমরা সুন্নাহর প্রামাণিকতা প্রমাণের বিষয়টি সংক্ষেপে আলোচনা করব।
প্রথম অনুচ্ছেদ: কুরআন মাজিদের দলিল দ্বারা সুন্নাহর প্রামাণিকতা (حجية) প্রমাণ
পবিত্র কুরআন অকাট্য (قاطع) দলিলের মাধ্যমে মুসলমানদের ওপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে শরয়ি বিধান (الأحكام الشرعية) আহরণের আইনি উৎস হিসেবে গ্রহণ করা আবশ্যক (واجب) করে দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইমাম শাফেঈ বলেন: "আল্লাহর কিতাব সুন্নাহর নির্ভরযোগ্যতার (اعتبار) সাক্ষ্য প্রদান করেছে" (১)।
কুরআনের আয়াতসমূহ সুন্নাহর প্রামাণিকতা (حجية) বর্ণনায় বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করেছে। এতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণ ও আনুগত্যের গুরুত্বারোপ করে নানাবিধ মাধ্যম ব্যবহৃত হয়েছে; তেমনি তাঁর বিরোধিতা করা, তাঁর আদেশের পরিপন্থী পথে চলা এবং তাঁর ফয়সালার প্রতি আত্মসমর্পণ না করার ব্যাপারে অসংখ্য সতর্কবার্তা (وعيد), ভীতিপ্রদর্শন (إنذار) ও হুঁশিয়ারি (ترهيب) উচ্চারিত হয়েছে (২)। সেই মাধ্যমগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - রুকাইয়া নিয়ায
(পৃষ্ঠা: ৮)
أولاً: آيات قرآنية تثبت أنه صلى الله عليه وسلم يبلِّغ عن الله تعالى: ومن ذلك قوله تعالى {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى، إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [النجم: 3-4] ، وقد علق القاضي أبو البقاء على هذه الآية بقوله: إن القرآن والحديثَ يتَّحِدان في كونهما وحياً منزلاً بدليل الآية السابقة. (1)
أما الإمام ابن حزم فيؤكد ذلك قائلاً: "صح لنا بالآية السابقة أن الوحي ينقسم من الله عز وجل إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم على قسمين:
أحدهما: وحي متلو مؤلف تأليفاً معجز النظام وهو القرآن.
الثاني: وحي مروي منقول غير مؤلف، ولا معجز، ولا متلو، لكنه مقروء، وهو الخبر الوارد عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو المبين عن الله عز وجل مراده هنا". (2)
وأيضا قوله تعالى: {وَأَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيْكَ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ وَكَانَ فَضْلُ اللَّهِ عَلَيْكَ عَظِيماً} [النساء: 113] .
فأثبت سبحانه وتعالى في هذه الآية وغيرها من الآيات (3) ، إنزال الكتاب والحكمة على رسول الله صلى الله عليه وسلم، وقد أكد سلف هذه الأمة أن الكتاب غير الحكمة، وأن المقصود بالكتاب: هو القرآن. والحكمة هي: السنة (4) .
--------------------------------------------
প্রথমত: কুরআনের আয়াতসমূহ যা প্রমাণ করে যে, তিনি (সা.) মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাবলিগ করেন: তার মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী হলো: {আর তিনি প্রবৃত্তির বশবর্তী হয়ে কথা বলেন না। এতো শুধু ওহি (وحي), যা তার প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়} [আন-নাজম: ৩-৪]। আল্লামা কাজি আবু আল-বাকা এই আয়াতের ওপর মন্তব্য করে বলেন যে: পূর্বোক্ত আয়াতের দলিল অনুযায়ী কুরআন এবং হাদিস অবতীর্ণ ওহি (وحي) হওয়ার ক্ষেত্রে একীভূত। (১)
পক্ষান্তরে ইমাম ইবনে হাজম এই বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন: "পূর্বোক্ত আয়াতের মাধ্যমে আমাদের কাছে এটি প্রমাণিত (صح) হয়েছে যে, মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ওহি (وحي) দুই ভাগে বিভক্ত:
প্রথমটি: তিলাওয়াতকৃত ওহি (وحي متلو), যা অলৌকিক বিন্যাসে রচিত এবং তা হলো কুরআন।
দ্বিতীয়টি: বর্ণিত ও প্রেরিত ওহি (وحي مروي منقول), যা (কুরআনের মতো) রচিত নয়, মুজিজাও নয়, তিলাওয়াতও করা হয় না, তবে তা পঠিত হয়; আর তা হলো রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত সংবাদ (الخبر), যা এখানে মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য বর্ণনা করে।" (২)
এছাড়াও মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ আপনার প্রতি কিতাব ও হিকমত অবতীর্ণ করেছেন এবং আপনি যা জানতেন না তা আপনাকে শিক্ষা দিয়েছেন। আপনার ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ অত্যন্ত মহান} [আন-নিসা: ১১৩]।
সুতরাং মহান আল্লাহ এই আয়াতে এবং অন্যান্য আয়াতে (৩) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর কিতাব ও হিকমত অবতীর্ণ করার বিষয়টি সাব্যস্ত করেছেন। এই উম্মতের পূর্বসূরিগণ (سلف) নিশ্চিত করেছেন যে, কিতাব এবং হিকমত ভিন্ন বিষয়। কিতাব দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কুরআন, আর হিকমত হলো সুন্নাহ (السنة) (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - রুকাইয়া নিয়ায
(পৃষ্ঠা: ৯)
وبهذا نعلم أن بيان الرسول صلى الله عليه وسلم والجزء الذي تكامل به الدين مع القرآن الكريم كان وحياً من عند الله (1) وإذا ثبت أنه وحي من عند الله، فهو إذاً حجة قاطعة في التشريع الإسلامي.
ثانيا: آيات قرآنية تأمر بالإيمان برسالته صلى الله عليه وسلم على أنحاء متعددة منها:
1 - أمر إلهي بالإيمان بالرسول صلى الله عليه وسلم مقروناً بالإيمان بالله تعالى، ومن أمثلة هذه الصورة قوله سبحانه وتعالى {فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ} [الأعراف: 158] .
2 - أمر إلهي بالإيمان بالرسول صلى الله عليه وسلم ضمناً مع رسالات الرسل السابقين، ومن أمثلة هذه الصورة قول الله تعالى {مَا كَانَ اللَّهُ لِيَذَرَ الْمُؤْمِنِينَ عَلَى مَا أَنْتُمْ عَلَيْهِ حَتَّى يَمِيزَ الْخَبِيثَ مِنَ الطَّيِّبِ وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُطْلِعَكُمْ عَلَى الْغَيْبِ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَجْتَبِي مِنْ رُسُلِهِ مَنْ يَشَاءُ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَإِنْ تُؤْمِنُوا وَتَتَّقُوا فَلَكُمْ أَجْرٌ عَظِيمٌ} [آل عمران: 179] .
فاقتران الأمر بالإيمان على الوجوه السابقة يقتضي وجوب الاتباع، وهذا يعني حجية السنة في التشريع كما أكد ذلك الإمام الشافعي بقوله:
--------------------------------------------
এর মাধ্যমে আমরা জানতে পারি যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যাখ্যা এবং দ্বীনের সেই অংশ যা পবিত্র কুরআনের পাশাপাশি পূর্ণতা লাভ করেছে, তা আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী (وحي) ছিল (১)। আর যখন এটি প্রমাণিত হলো যে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহী (وحي), তখন তা ইসলামী শরীয়ত প্রণয়নে একটি অকাট্য দলিল (حجة قاطعة)।
দ্বিতীয়ত: কুরআনের আয়াতসমূহ যা বিভিন্নভাবে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রিসালাতের ওপর ঈমান আনার নির্দেশ দেয়, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর ঈমান আনার ঐশী নির্দেশ যা মহান আল্লাহর ওপর ঈমান আনার সাথে যুক্ত। এই প্রকারের একটি উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তোমরা আল্লাহর ওপর ঈমান আনো এবং তাঁর প্রেরিত নিরক্ষর নবী রাসূলের ওপর, যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণীসমূহের ওপর ঈমান রাখেন। আর তোমরা তাঁর অনুসরণ করো, যাতে তোমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হও।} [আল-আরাফ: ১৫৮]।
২ - রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর ঈমান আনার ঐশী নির্দেশ যা পূর্ববর্তী রাসূলগণের রিসালাতের নির্দেশের অন্তর্ভুক্ত। এই প্রকারের একটি উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা যে অবস্থায় আছ, আল্লাহ মুমিনদেরকে সে অবস্থায় ছেড়ে দিতে পারেন না, যতক্ষণ না তিনি অপবিত্রকে পবিত্র থেকে পৃথক করেন। আর আল্লাহ তোমাদেরকে গায়েব সম্পর্কে অবগত করেন না, তবে আল্লাহ তাঁর রাসূলগণের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের ওপর ঈমান আনো। আর যদি তোমরা ঈমান আনো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে তোমাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার।} [আল-ইমরান: ১৭৯]।
উপরোক্ত পদ্ধতিগুলোতে ঈমান আনার নির্দেশের এই সংযুক্তি অনুসরণ করার আবশ্যকতা (وجوب) নির্দেশ করে। আর এটি বিধান প্রণয়নে সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية) হওয়ারই অর্থ বহন করে, যেমনটি ইমাম শাফেঈ তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - রুকাইয়া নিয়ায
(পৃষ্ঠা: ১০)
إن الله جعل كمال ابتداء الإيمان الذي ما سواه تبع له، الإيمان بالله ثم برسوله صلى الله عليه وسلم، فلو آمن عبد به ولم يؤمن برسوله، لم يقع عليه اسم كمال الإيمان ابتداءً حتى يؤمن برسوله معه. ففرض الله على الناس اتباع وحيه وسنن رسوله صلى الله عليه وسلم (1) .
ثالثاً: آيات قرآنية تأمر بطاعته صلى الله عليه وسلم وهذا الأمر جاء بصور متعددة منها:
1 - الأمر بطاعته صلى الله عليه وسلم مقرونة بطاعة الله تعالى ومن أمثلة هذه الصورة: قول الله تعالى {قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّ اللَّهَ لا يُحِبُّ الْكَافِرِينَ} [آل عمران: 32] .
فالملاحظ في هذه الآية، وغيرها من الآيات (2) اقتران طاعة الرسول عليه الصلاة والسلام، بطاعته تعالى بواو العطف، ومعلوم عند علماء اللغة أن العطف بالواو يفيد مطلق الاشتراك، وهذا يعني أن طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم مأمور بها كطاعة الله تعالى.
وأحياناً يأتي هذا الأمر مكرراً بواو العطف مع إعادة الأمر بالطاعة، ومن أمثلة هذه الصورة (3) قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلاً} [النساء: 59] .
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা ঈমানের প্রারম্ভিক পূর্ণতাকে, যার অধীন অন্য সবকিছু, তা নির্ধারণ করেছেন আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি ঈমান আনার মাধ্যমে। সুতরাং কোনো বান্দা যদি তাঁর প্রতি ঈমান আনে কিন্তু তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান না আনে, তবে তার ওপর প্রারম্ভিকভাবে ঈমানের পূর্ণতা শব্দটি প্রযোজ্য হবে না যতক্ষণ না সে তাঁর সাথে তাঁর রাসূলের প্রতিও ঈমান আনবে। অতঃপর আল্লাহ মানুষের ওপর তাঁর ওহি (وحي) এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ (سنن) অনুসরণের বিধান আবশ্যক করেছেন (১)।
তৃতীয়ত: পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহ যা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনুগত্যের নির্দেশ দেয় এবং এই নির্দেশটি বিভিন্ন আঙ্গিকে এসেছে, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - আল্লাহ তাআলার আনুগত্যের সাথে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনুগত্যের নির্দেশ। এই আঙ্গিকের উদাহরণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {বলুন, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো। তারপর যদি তারা বিমুখ হয়, তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদের ভালোবাসেন না} [আল ইমরান: ৩২]।
এই আয়াত এবং অন্যান্য আয়াতসমূহে (২) লক্ষণীয় যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্যকে আল্লাহ তাআলার আনুগত্যের সাথে 'ওয়াও' (و) নামক সংযোজক অব্যয় (عطف) দ্বারা যুক্ত করা হয়েছে। ভাষাবিদগণের নিকট এটি সুপরিচিত যে, 'ওয়াও' (و) দ্বারা সংযোগ করা নিরঙ্কুশ অংশীদারিত্ব (مطلق الاشتراك) প্রকাশ করে। এর অর্থ হলো, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য আল্লাহ তাআলার আনুগত্যের মতোই আদিষ্ট।
কখনো কখনো এই নির্দেশটি সংযোজক অব্যয় (عطف)-এর মাধ্যমে আনুগত্যের আদেশের পুনরাবৃত্তিসহ আসে। এই আঙ্গিকের উদাহরণ হলো (৩) আল্লাহ তাআলার বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্য হতে যারা উলুল আমর (কর্তৃত্বের অধিকারী)। অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও শেষ দিবসের প্রতি ঈমান রাখো। এটিই শ্রেষ্ঠ এবং পরিণামের (تأويلاً) দিক থেকে সর্বোত্তম} [আন-নিসা: ৫৯]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - রুকাইয়া নিয়ায
(পৃষ্ঠা: ১১)
إن تكرار العامل (أطيعوا) مع حرف الواو يفيد عموم تأكيد وجوب طاعته صلى الله عليه وسلم فيما استقل به من التشريع، كما أكد ذلك الإمام الشاطبي حين قال: "وسائر ما قرن فيه طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم بطاعة الله، دالٌ على أن طاعة الله ما أمر به ونهى عنه في كتابه، وطاعة الرسول ما أمر به ونهى عنه مما جاء به مما ليس في القرآن، إذ لو كان في القرآن لكان من طاعة الله". (1)
2 - الأمر بطاعته صلى الله عليه وسلم ضمناً مع طاعة الرسل السابقين: ومن أمثلة هذه الصورة (2) قول الله تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا لِيُطَاعَ بِإِذْنِ اللَّهِ} [النساء: الآية 64] .
ومعلوم بالضرورة أنه صلى الله عليه وسلم أحد الرسل، وبالتالي هو داخل في حكم الطاعة المقررة للرسل عامة، بل إن طاعته آكدُ وأشد لزوماً؛ لأن شريعته عامة، ورسالته خاتمة الرسالات (3) ، فإذا ثبت هذا كانت سنته حجة وتشريعاً واجباً إلى قيام الساعة.
3 - الأمر بطاعته صلى الله عليه وسلم استقلالاً: وقد سلك القرآن الكريم مسالك عدة ومتنوعة في بيان هذه الصورة، وبدلالات مختلفة، من ذلك:
أ) ما جاء من الأمر بطاعته صراحة ومن أمثلته قوله تعالى: {وَأَقِيمُوا
--------------------------------------------
'ওয়াও' (واو) অক্ষরের সাথে 'অطيعوا' (তোমরা আনুগত্য করো) আমল বা ক্রিয়াটির পুনরাবৃত্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই সমস্ত স্বতন্ত্র বিধান প্রণয়ন (تشريع) এর ক্ষেত্রে তাঁর আনুগত্যের আবশ্যকতাকে (وجوب) জোরালোভাবে নিশ্চিত করার ব্যাপক অর্থ প্রদান করে। যেমনটি ইমাম শাতবি এটি নিশ্চিত করে বলেছেন: "রাসূলের আনুগত্যকে যেখানেই আল্লাহর আনুগত্যের সাথে যুক্ত করা হয়েছে, তা একথাই প্রমাণ করে যে, আল্লাহর আনুগত্য হলো তাঁর কিতাবে যা তিনি আদেশ করেছেন এবং যা থেকে নিষেধ করেছেন। আর রাসূলের আনুগত্য হলো তিনি যা নিয়ে এসেছেন অথচ যা কুরআনে নেই, তার আদেশ ও নিষেধ পালন করা। কারণ, তা যদি কুরআনেই থাকত তবে তা আল্লাহর আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত হতো।" (১)
২ - পূর্ববর্তী রাসূলগণের আনুগত্যের পাশাপাশি পরোক্ষভাবে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনুগত্যের নির্দেশ: এই পর্যায়ের উদাহরণগুলোর (২) মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: {আমি কোন রাসূলকেই প্রেরণ করিনি এই উদ্দেশ্য ব্যতীত যে, আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর আনুগত্য করা হবে} [আন-নিসা: আয়াত ৬৪]।
এটি অকাট্যভাবে জানা যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাসূলগণেরই একজন। ফলে সাধারণভাবে রাসূলগণের জন্য সাব্যস্ত আনুগত্যের বিধানের অন্তর্ভুক্ত তিনি। বরং তাঁর আনুগত্য অধিকতর গুরুত্ববহ ও অনিবার্য; কেননা তাঁর শরীয়ত সার্বজনীন এবং তাঁর রিসালাত সকল রিসালাতের পরিসমাপ্তি (৩)। সুতরাং এটি যখন প্রমাণিত হলো, তখন কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর সুন্নাহ দলীল (حجة) এবং পালনীয় বিধান (تشريع) হিসেবে সাব্যস্ত হলো।
৩ - স্বতন্ত্রভাবে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনুগত্যের নির্দেশ: পবিত্র কুরআন এই বিষয়টি বর্ণনায় বিভিন্ন পন্থা এবং বিবিধ অর্থবোধক নির্দেশক (دلالات) অবলম্বন করেছে, যেমন:
ক) সরাসরি তাঁর আনুগত্যের নির্দেশে যা এসেছে; এর উদাহরণস্বরূপ মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তোমরা সালাত কায়েম করো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - রুকাইয়া নিয়ায
(পৃষ্ঠা: ১২)
الصَّلاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} [النور: 56] .وقوله تعالى: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} [النساء: 80] ، وقد علق الحافظ ابن كثير على هذه الآية بقوله: يخبر تعالى عن عبده ورسوله محمد صلى الله عليه وسلم بأن من أطاعه فقد أطاع الله، ومن عصاه فقد عصى الله (1)
… وفي هذا إشارة إلى حجية السنة النبوية؛ لأن طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم لا تتحقق إلا إذا عمل بقوله واقتدى بفعله (2) .
ب) الأمر باتباعه، في قوله تعالى: {فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ} [الأعراف: 158] وقوله تعالى {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ} [آل عمران: 31] فالله سبحانه وتعالى لم يأمر باتباعه -في هذه الآية الأخيرة-، بل جعل ذلك الاتباع من لوازم محبته، وبهذا يثبت أن من لم يتبع السنة النبوية، ولم ير العمل بها واجباً، فهو في دعوى محبته لله تعالى كاذبٌ، ومن كان في هذه الدعوى كاذباً، فهو في دعوى إيمانه بالله تعالىكاذب بلا مرية (3) .
ج) ومما جاء في الأمر بطاعته بطريق الدلالة، قوله تعالى: {فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجاً مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيماً} [النساء: 65] ؛ ذلك لأن
--------------------------------------------
...নামাজ কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও।" [আন-নূর: ৫৬]। এবং মহান আল্লাহর বাণী: "যে রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল।" [আন-নিসা: ৮০]। হাফেজ ইবনে কাসির এই আয়াতের ওপর মন্তব্য করে বলেন: মহান আল্লাহ তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যে, যে ব্যক্তি তাঁর আনুগত্য করল সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল, আর যে তাঁর অবাধ্য হলো সে মূলত আল্লাহরই অবাধ্য হলো (১)
... আর এর মধ্যে সুন্নাহর প্রামাণিকতা (حجية السنة)-র প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে; কারণ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আনুগত্য তখনই বাস্তবায়িত হয় যখন তাঁর বাণীর ওপর আমল করা হয় এবং তাঁর কর্মের অনুসরণ করা হয় (২)।
খ) তাঁর অনুসরণের নির্দেশ, মহান আল্লাহর বাণীতে: "অতএব তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনো, যিনি উম্মি নবী, যিনি আল্লাহ ও তাঁর বাণীসমূহের প্রতি ঈমান রাখেন। আর তোমরা তাঁর অনুসরণ করো যাতে তোমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হও।" [আল-আরাফ: ১৫৮] এবং মহান আল্লাহর বাণী: "বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।" [আল-ইমরান: ৩১]। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এই শেষোক্ত আয়াতে কেবল তাঁর অনুসরণের নির্দেশই দেননি, বরং এই অনুসরণকে তাঁর মহব্বতের আবশ্যিক অনুষঙ্গ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, যে ব্যক্তি সুন্নাহর অনুসরণ করল না এবং এর ওপর আমল করাকে আবশ্যক (واجب) মনে করল না, সে মহান আল্লাহর প্রতি মহব্বতের দাবিতে মিথ্যাবাদী (كاذب)। আর যে ব্যক্তি এই দাবিতে মিথ্যাবাদী (كاذব), সে আল্লাহ তাআলার প্রতি ঈমানের দাবিতেও নিঃসন্দেহে মিথ্যাবাদী (كاذب) (৩)।
গ) দালালাত বা নির্দেশের (الدلالة) মাধ্যমে তাঁর আনুগত্যের যে নির্দেশ এসেছে তার মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: "বস্তুত আপনার প্রতিপালকের শপথ, তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের বিবাদমান বিষয়ে আপনাকে ফয়সালাকারী হিসেবে মেনে না নেয়, অতঃপর আপনার ফয়সালার ব্যাপারে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পরিপূর্ণভাবে মেনে নেয়।" [আন-নিসা: ৬৫]; এটি এ কারণে যে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - রুকাইয়া নিয়ায
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الحكم في الظاهر يعني الانقياد في الباطن، وهذه هي الطاعة والتسليم (1) المطلوبان لحجية السنة النبوية بطريقة غير مباشرة.
ومن هذا أيضا قوله تعالى: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَإِذَا كَانُوا مَعَهُ عَلَى أَمْرٍ جَامِعٍ لَمْ يَذْهَبُوا حَتَّى يَسْتَأْذِنُوهُ} [النور: 62] يقول الإمام ابن القيم: ((فإذا جعل من لوازم الإيمان أنهم لا يذهبون مذهباً إذا كانوا معه صلى الله عليه وسلم إلا باستئذانه، فأولى أن يكون من لوازمه ألا يذهبوا إلى قول ولا مذهب علمي إلا بعد استئذانه، وإذنه يعرف بدلالة ما جاء به على أنه أذن فيه، وهذا من تمام الطاعة التي تؤكد حجية السنة النبوية (2) بطريقة غير مباشرة)) .
د) ما جاء في الأمر بطاعته بطريق التحذير من المخالفة قوله تعالى:
{فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور: 63] ، فإذا حذر سبحانه وتعالى من مخالفته صلى الله عليه وسلم، فهذا يوجب طاعته، وأيضاً قوله تعالى: {وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} [الحشر: من الآية 7] .
فإذا حذرسبحانه وتعالى نهى عن مخالفته فهذا يوجب الإيمان به (3) وطاعته، وهذا تأكيد لحجية السنة النبوية.
رابعا: آية قرآنية تؤكد تكفُّلَ الله تعالى بحفظ السنة النبوية، ومما
--------------------------------------------
বাহ্যিক বিধান মানেই হলো অভ্যন্তরীণ আনুগত্য, আর এটিই হলো সেই আনুগত্য ও আত্মসমর্পণ (১) যা পরোক্ষভাবে সুন্নাতে নববীর প্রামাণিকতা (حجية) এর জন্য কাম্য।
এর অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর এই বাণীও: {মুমিন তো কেবল তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে এবং তারা যখন তাঁর সাথে কোনো সামষ্টিক কাজে থাকে, তখন তাঁর অনুমতি না নিয়ে চলে যায় না} [আন-নূর: ৬২]। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম বলেন: ((সুতরাং যখন ঈমানের অপরিহার্য দাবি হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে যে, তারা যখন তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাথে থাকবে তখন তাঁর অনুমতি ব্যতীত কোনো পথে যাবে না, তবে এটি ঈমানের আরও বড় দাবি যে, তারা তাঁর অনুমতি ব্যতীত কোনো কথা বা তাত্ত্বিক মতাদর্শের (مذهب علمي) দিকে যাবে না। আর তাঁর অনুমতি জানা যায় তাঁর আনীত দলীলসমূহের নির্দেশনার (دلالة) মাধ্যমে যে, তিনি তাতে অনুমতি দিয়েছেন। আর এটি সেই পূর্ণাঙ্গ আনুগত্যের অন্তর্ভুক্ত যা পরোক্ষভাবে সুন্নাতে নববীর প্রামাণিকতা (حجية) (২) নিশ্চিত করে))।
ঘ) অবাধ্যতার ব্যাপারে সতর্ককরণের মাধ্যমে তাঁর আনুগত্যের নির্দেশে যা এসেছে, মহান আল্লাহর বাণী:
{অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় (فتنة) নেমে আসবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে} [আন-নূর: ৬৩]। সুতরাং যখন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিরুদ্ধাচরণ থেকে সতর্ক করেছেন, তখন এটি তাঁর আনুগত্যকে আবশ্যক করে দেয়। অনুরূপ মহান আল্লাহর বাণী: {এবং যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} [আল-হাশর: আয়াত ৭ এর অংশ]।
সুতরাং যখন মহান আল্লাহ তাঁর বিরুদ্ধাচরণ থেকে নিষেধ ও সতর্ক করেছেন, তখন এটি তাঁর প্রতি ঈমান রাখা (৩) ও তাঁর আনুগত্য করাকে আবশ্যক করে দেয়; এবং এটি সুন্নাতে নববীর প্রামাণিকতা (حجية) এর একটি জোরালো সমর্থন।
চতুর্থত: কুরআনের আয়াত যা সুন্নাতে নববী সংরক্ষণের ব্যাপারে মহান আল্লাহর জিম্মাদারির বিষয়টি নিশ্চিত করে, আর যা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - রুকাইয়া নিয়ায
(পৃষ্ঠা: ১৪)
يدلُّ على ذلك قوله تعالى: {إِنَّانَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} الحجر: 9] . والمقصود بالذكر هو: القرآن والسنة، كما أخبر بذلك غير واحد من السلف (1) ، وكل ما تكفَّل الله بحفظه هو مضمون من الزيغ، والتحريف، وكل ما ثبت سلامته حجة للعمل والاستنباط.
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলার এই বাণী এর প্রমাণ বহন করে: {নিশ্চয়ই আমি উপদেশ অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী} [আল-হিজর: ৯]। আর ‘জিকর’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: কুরআন ও সুন্নাহ, যেমনটি একাধিক সালাফ (পূর্বসূরি) ব্যক্ত করেছেন (১)। আর আল্লাহ যে বিষয়টির সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, তা বিচ্যুতি ও বিকৃতি থেকে সুরক্ষিত। আর যে বিষয়ের বিশুদ্ধতা (سلامة) প্রমাণিত হয়েছে, তা আমল এবং ইস্তিনবাত (استنباط)-এর ক্ষেত্রে দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - রুকাইয়া নিয়ায
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المطلب الثاني: ثبوت حجية السنة بالإحاديث النبوية…المطلب الثاني: إثبات حجية السنة بالأحاديث النبوية
نص النبي صلى الله عليه وسلم على حجية السنة، وأكد أنها دليل من أدلة الأحكام التشريعية، وكان هذا التقرير منه صلى الله عليه وسلم بَدَهيّا، ولاسيما بعد برهان القرآن ذلك بآيات صريحة لا تحتمل التأويل - كما بينا في المطلب السابق -
ولعلنا هنا نسرد أهم الأحاديث التي تناولت إثبات حجية السنة وأنها مصدر مهم وأساس في التشريع الإسلامي، وبيان ذلك يكون من خلال النقاط التالية:
أولا: أحاديث فيها دلالة صريحة على حجية السنة: وهذا في الأحاديث التي تدعو صراحة إلى الاعتصام بالسنة والتمسك بها واتخاذها منهجاً؛ لأنها صادرة من المعصوم الذي لا ينطق عن الهوى، ومن الأمثلة على ذلك:
أ) الدلالة الصريحة في وجوب التمسك بسنته صلى الله عليه وسلم في حديث العرباض
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নববী হাদিসের মাধ্যমে সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية) সাব্যস্তকরণ...দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নববী হাদিসের মাধ্যমে সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية) সাব্যস্তকরণ
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية) স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং নিশ্চিত করেছেন যে এটি শরীয়ত প্রণয়নের (تشريع) বিধানগত দলীলসমূহের অন্যতম একটি দলীল (دليل)। তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পক্ষ থেকে এই স্বীকৃতি (تقرير) প্রদান ছিল স্বতঃসিদ্ধ, বিশেষ করে কুরআনের সেই সব সুস্পষ্ট আয়াতের প্রমাণের পর যেগুলোতে ব্যাখ্যার (تأويل) কোনো অবকাশ নেই—যেমনটি আমরা পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছি—
আমরা সম্ভবত এখানে সেই গুরুত্বপূর্ণ হাদিসসমূহ উল্লেখ করব যা সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية) সাব্যস্তকরণ এবং ইসলামি শরীয়ত প্রণয়নে (تشريع) এটি যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক উৎস, সে বিষয়টি আলোচনা করেছে। এর বর্ণনা নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোর মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
প্রথমত: এমন হাদিসসমূহ যাতে সুন্নাহর প্রামাণ্যতার (حجية) ওপর সুস্পষ্ট নির্দেশনা (دلالة) রয়েছে: এটি ঐ সকল হাদিসের ক্ষেত্রে যা সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা, তা সুদৃঢ়ভাবে ধারণ করা এবং একে একটি জীবনপদ্ধতি (منهج) হিসেবে গ্রহণ করার স্পষ্ট আহ্বান জানায়; কেননা তা এমন এক নিষ্পাপ (معصوم) সত্তার পক্ষ থেকে নির্গত যিনি নিজের খেয়ালখুশি থেকে কোনো কথা বলেন না। এর কিছু উদাহরণ হলো:
ক) ইরবায-এর হাদিসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার আবশ্যকতা (وجوب) সম্পর্কে সুস্পষ্ট নির্দেশনা (دلالة)
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - রুকাইয়া নিয়ায
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ابن سارية رضي الله عنه وقوله صلى الله عليه وسلم: "فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين تمسكوا بها، وعضوا عليها بالنواجذ" (1) .
ب) ومما يدل صراحة على أن السنة النبوية وحي من عند الله قوله صلى الله عليه وسلم: "ألا إني أوتيت الكتاب ومثله معه..... الحديث " (2) .
ثانيا: أحاديث فيها دلالة تنبيهية على حجية السنة النبوية: وضابط هذا المسار وجود العبارات التي تُرَغِّب في اتباع السنة، وتحذر من المخالفة، ومن أمثلة ذلك:
أ) قوله صلى الله عليه وسلم: "كل أمتي يدخلون الجنة إلا من أبى، قيل: ومن يأبى يا رسول الله؟ قال: من أطاعني دخل الجنة، ومن عصاني فقد أبى" (3) . فدخول الجنة والنجاة من النار مبني على طاعته صلى الله عليه وسلم واتباع أمره؛ إذ إن طاعته واجبة وهي مصدر أساس في التشريع الإسلامي.
ب) ومما يرغب في اتباع السنة، ويرهب من التفريط فيها، وصيته صلى الله عليه وسلم في حجة الوداع وقوله:"تركت فيكم شيئين لن تضلوا بعدهما: كتاب الله وسنتي" (4) فاذا كان اتباع السنة يوجب الأمن من
--------------------------------------------
ইবনে সারিয়া (রা.) এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "তোমরা অবশ্যই আমার সুন্নাত এবং আমার পরবর্তী হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাত আঁকড়ে ধরবে। তোমরা তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে।" (১)।
খ) সুন্নাতে নববী যে আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ ওহী, তার ওপর স্পষ্টভাবে যা প্রমাণ করে তা হলো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আমাকে কিতাব এবং তার সাথে তার অনুরূপ (সুন্নাত) প্রদান করা হয়েছে..... হাদিস" (২)।
দ্বিতীয়ত: এমন কিছু হাদিস যাতে সুন্নাতে নববীর প্রামাণিকতার (حجية) ওপর সতর্কতামূলক ইঙ্গিত রয়েছে: এই ধারার মানদণ্ড (ضابط) হলো এমন সব বাক্যের উপস্থিতি যা সুন্নাত অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করে এবং এর অবাধ্যতার ব্যাপারে সতর্ক করে। এর উদাহরণ হলো:
ক) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "আমার সকল উম্মত জান্নাতে প্রবেশ করবে, তবে সে ব্যক্তি ব্যতীত যে অস্বীকার করে। জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! কে অস্বীকার করে? তিনি বললেন: যে আমার আনুগত্য করে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, আর যে আমার অবাধ্য হয় সে-ই মূলত অস্বীকার করে।" (৩)। সুতরাং জান্নাতে প্রবেশ এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর আনুগত্য এবং তাঁর নির্দেশ অনুসরণের ওপর নির্ভরশীল; কেননা তাঁর আনুগত্য করা ওয়াজিব এবং তা ইসলামি শরিয়তের একটি মূল উৎস।
খ) সুন্নাত অনুসরণে উদ্বুদ্ধকারী এবং তাতে অবহেলা করার ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শনকারী বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে বিদায় হজের ভাষণে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর অসিয়ত ও তাঁর বাণী: "আমি তোমাদের মধ্যে দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব এবং আমার সুন্নাত।" (৪)। সুতরাং সুন্নাত অনুসরণ যদি বিভ্রান্তি থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - রুকাইয়া নিয়ায
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الضلال، فإن التفريط فيها وقوع في الضلال، وهذا يثبت حجية السنة.
ج) ومما يدل على حجية السنة النبوية بدلالة التنبيه، قول النبي صلى الله عليه وسلم: "إن هذه الأمة ستفترق على ثلاث وسبعين، ثنتان وسبعون في النار وواحدة في الجنة" (1) ولما سئل صلى الله عليه وسلم عن هذه الفرقة الناجية قال: "ما أنا عليه وأصحابي" (2) .
ثالثاً: أحاديث فيها إيماء وإشارة إلى حجية السنة: وهذا النوع كثير في نصوص السنة المطهرة، وضابطها أنها تشير تلميحاً لا تصريحاً إلى وجوب الاعتصام بالسنة، وهذه الإشارة إنما كانت منه صلى الله عليه وسلم لمكانة السنة في التشريع. ومن أمثلة هذا النوع:
أ) قوله صلى الله عليه وسلم: "نضّر الله امرأ سمع منا شيئاً فبلغه كما سمعه، فرب مبلَّغ أوعى من سامع" (3) .
ب) قوله صلى الله عليه وسلم في حجة الوداع: "ليبلغ الشاهد الغائب، فإن الشاهد عسى أن
--------------------------------------------
ভ্রষ্টতা, কেননা এর প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করা ভ্রষ্টতায় নিপতিত হওয়ার শামিল, আর এটি সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية) প্রমাণ করে।
গ) সতর্কীকরণ নির্দেশের (دلالة التنبيه) মাধ্যমে যা সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية) নির্দেশ করে, তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "নিশ্চয়ই এই উম্মত তেয়াত্তরটি দলে বিভক্ত হবে, যার মধ্যে বাহাত্তরটি জাহান্নামে যাবে এবং একটি জান্নাতে যাবে।" (১) যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে এই মুক্তিপ্রাপ্ত দল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: "আমি এবং আমার সাহাবীগণ যার ওপর প্রতিষ্ঠিত।" (২)।
তৃতীয়ত: এমন হাদিসসমূহ যাতে সুন্নাহর প্রামাণ্যতার (حجية) দিকে ইঙ্গিত ও ইশারা রয়েছে: পবিত্র সুন্নাহর মূলপাঠ (نصوص) সমূহে এই প্রকারটি প্রচুর। এর মূলনীতি হলো এটি সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার আবশ্যকতাকে পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত করে, প্রত্যক্ষভাবে নয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই ইঙ্গিত প্রদানের কারণ হলো শরিয়ত প্রণয়নে সুন্নাহর উচ্চ মর্যাদা। এই প্রকারের কিছু উদাহরণ নিম্নরূপ:
ক) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন, যে আমাদের থেকে কোনো কিছু শুনেছে এবং তা হুবহু পৌঁছে দিয়েছে যেভাবে সে শুনেছে। কেননা অনেক সময় যাকে পৌঁছানো হয় সে শ্রবণকারীর চেয়েও অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে।" (৩)।
খ) বিদায় হজের ভাষণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়, কারণ উপস্থিত ব্যক্তি সম্ভবত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - রুকাইয়া নিয়ায
(পৃষ্ঠা: ১৭)
يبلغ من هو أوعى له منه" (1) فدخول اللام على الفعل المضارع (يبلغ) يفيد الأمر، وهذا الأمر منه صلى الله عليه وسلم إنما كان حماية لهذا المصدر المهم من الضياع أو التحريف.
ج) ومنه قوله صلى الله عليه وسلم: " بلغوا عني ولو آية" (2) ولم يقل عليه السلام حديثاً؛ لأن الأمر بتبليغ الحديث يفهم منه بطريقة الأولية، لأن السنة بيان وتفسير للقرآن (3) .
د) ومما يدل على حجية السنة بطريق التلميح والإشارة قوله صلى الله عليه وسلم: "لا ألفين أحدكم متكئاً على أريكته، يأتيه الأمر من أمري، مما نهيت عنه أو أمرت به فيقول: لا ندري، ما وجدنا في كتاب الله اتبعناه" (4) .
يقول الإمام الشافعي مؤكداً ذلك: وفي هذا تثبيت الخبر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وإعلامهم أنه لازم لهم، وإن لم يجدوا له نفس حكم في كتاب الله لأنه شرع (5) .
--------------------------------------------
"...যাতে সে এমন ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয় যে তার চেয়ে অধিক সংরক্ষণকারী।" (১) এখানে বর্তমান/ভবিষ্যৎকালীন (فعل مضارع) ক্রিয়ার (يبلغ) শুরুতে 'লাম' যুক্ত হওয়া নির্দেশ (أمر) প্রদান করে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে এই নির্দেশটি ছিল মূলত এই গুরুত্বপূর্ণ উৎসটিকে হারিয়ে যাওয়া বা বিকৃতি (تحريف) থেকে রক্ষা করার জন্য।
গ) এর অন্তর্ভুক্ত হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী: "আমার পক্ষ থেকে পৌঁছে দাও, যদিও তা একটি আয়াত হয়।" (২) তিনি (আলাইহিস সালাম) এখানে 'হাদিস' শব্দটি বলেননি; কারণ হাদিস পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশটি এখান থেকেই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে বোঝা যায়, যেহেতু সুন্নাহ হলো কুরআনের ব্যাখ্যা ও বিশদ বিবরণ (৩)।
ঘ) ইঙ্গিত ও ইশারার মাধ্যমে সুন্নাহর প্রামাণিকতার (حجية) ওপর যা প্রমাণ পেশ করে, তা হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আমি যেন তোমাদের কাউকেও তার সিংহাসনে হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় এমন না পাই যে, তার নিকট আমার পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশ আসল—যাতে আমি আদেশ দিয়েছি বা নিষেধ করেছি—আর সে বলল: 'আমরা জানি না, আল্লাহর কিতাবে যা পেয়েছি আমরা কেবল তারই অনুসরণ করেছি'।" (৪)
ইমাম শাফেয়ী এই বিষয়টি সুনিশ্চিত করে বলেন: "এর মধ্যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সংবাদের (الخبر) নিশ্চয়তা রয়েছে এবং এটি তাদের জন্য একটি ঘোষণা যে, এটি (সুন্নাহ) গ্রহণ করা তাদের জন্য অপরিহার্য, যদিও তারা আল্লাহর কিতাবে হুবহু সেই বিধান না পায়; কারণ এটিও একটি বিধিবদ্ধ বিধান (شرع)।" (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - রুকাইয়া নিয়ায
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المطلب الثالث: ثبوت حجية السنة بإجماع الآمة…المطلب الثالث: إثبات حجية السنة بالإجماع
أجمع المسلمون من عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى الآن على حجية السنة، وعدِّها مصدراً من مصادر التشريع الإسلامي، ولم يخالف في ذلك إلا من
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: উম্মাহর ঐকমত্য (إجماع) দ্বারা সুন্নাহ (سنة)-র প্রামাণ্যতা (حجية) সাব্যস্ত হওয়া…তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ঐকমত্য (إجماع)-এর মাধ্যমে সুন্নাহ (سنة)-র প্রামাণ্যতা (حجية) সাব্যস্তকরণ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত মুসলিমগণ সুন্নাহ (سنة)-র প্রামাণ্যতা (حجية) এবং একে ইসলামী শরীয়ত প্রণয়নের (تشريع) অন্যতম উৎস হিসেবে গণ্য করার বিষয়ে ঐকমত্য (إجماع) পোষণ করেছেন। এ ব্যাপারে কেবল তারাই বিরোধিতা করেছে যারা...
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - রুকাইয়া নিয়ায
(পৃষ্ঠা: ১৮)
اتبع سبيل غير المؤمنين. وقد نقل هذا الإجماع جمع كثير من أهل العلم المحققين (1) ، فعلى سبيل المثال يقول العلامة القاسمي: ((انتهى العلماء المحققون إلى أن الحديث الصحيح حجة على جميع الأمة، وأيدوا رأيهم هذا بالآيات القرآنية التي تفرض على المؤمنين اتباع الرسول عليه السلام، والتسليم لحكمه، ورأوا مَنْ يحكي خلاف هذا المذهب غيرَ خليقٍ بالانتساب إلى العلم وأهله، وإن نسب نفسه أو نَسَبَتْه العامة إلى سعة المعرفة والتفقه في الدين)) (2) .
ويحسن بنا أن ننقل هذا الإجماع مفصلاً عن الصحابة والتابعين والأئمة والفقهاء وذلك من خلال ما يلي:
أولاً: نصوص في وقوع الإجماع من الصحابة رضوان الله عليهم تثبت حجية السنة النبوية:
كان الصحابة رضوان الله عليهم في حياته صلى الله عليه وسلم يتبعون كل ما صدر منه في الأحكام الشرعية، لا يختلف في ذلك واحد منهم، فيقبلون بتسليم عام بأقواله، واتباع كامل لأفعاله (3) ،ومن أمثلة ذلك:
--------------------------------------------
মুমিনদের পথ ভিন্ন অন্য পথের অনুসরণ করেছেন। এবং গবেষক আলেমগণের (أهل العلم المحققين) একটি বিশাল জামাত এই ঐকমত্য (إجماع) বর্ণনা করেছেন (১), উদাহরণস্বরূপ আল্লামা কাসেমী বলেন: ((গবেষক ওলামায়ে কেরাম এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, সহিহ (صحيح) হাদিস সমগ্র উম্মতের জন্য দলিল (حجة), এবং তারা তাদের এই অভিমতকে সেই সমস্ত কোরআনি আয়াতের মাধ্যমে শক্তিশালী করেছেন যা মুমিনদের ওপর রাসূল (সা.)-এর অনুসরণ এবং তাঁর ফয়সালার প্রতি আত্মসমর্পণ করাকে অপরিহার্য করে দিয়েছে। আর তারা মনে করেন যে, যে ব্যক্তি এই মতাদর্শের পরিপন্থী কোনো কথা বলবে, সে ইলম এবং এর ধারক-বাহকদের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার যোগ্য নয়; যদিও সে নিজেকে কিংবা সাধারণ মানুষ তাকে গভীর জ্ঞান ও দ্বীনি প্রজ্ঞার অধিকারী বলে গণ্য করুক না কেন।)) (২)।
আমাদের জন্য সাহাবীগণ, তাবেয়ীগণ, ইমামগণ এবং ফকিহগণের নিকট থেকে বর্ণিত এই ঐকমত্যটি (إجماع) বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা সমীচীন হবে, যা নিম্নে উপস্থাপিত হলো:
প্রথমত: সাহাবীগণের (রা.) পক্ষ থেকে ঐকমত্য (إجماع) সংঘটিত হওয়ার এমন কিছু পাঠ্য বা দলিল (نصوص) যা সুন্নাহর প্রামাণিকতাকে (حجية) প্রমাণ করে:
সাহাবীগণ (রা.) রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবদ্দশায় শরয়ি বিধানের ক্ষেত্রে তাঁর পক্ষ থেকে জারিকৃত সকল বিষয়ের অনুসরণ করতেন, এ বিষয়ে তাঁদের কেউ ভিন্নমত পোষণ করতেন না। তারা পূর্ণ আত্মসমর্পণের সাথে তাঁর বাণীসমূহ গ্রহণ করতেন এবং তাঁর কার্যাবলীর পূর্ণ অনুসরণ করতেন (৩), এর কিছু উদাহরণ হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - রুকাইয়া নিয়ায
(পৃষ্ঠা: ১৯)
أ) اتخذ رسول الله صلى الله عليه وسلم خاتماً من ذهب - أو فضة - وجعل فصّه مما يلي كفه، ونقش فيه: محمد رسول الله، فاتخذ النّاس مثله، فلمّا رآهم قد اتخذوها رمى به، وقال: لا ألبسه أبداً. ثم اتخذ خاتماً من فضة فاتخذ الناس خواتيم الفضة. (1)
ب) ومما يدلُّ على حجية السنة بإجماع الصحابة في حياته صلى الله عليه وسلم ما رواه البراء بن عازب رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى قبل بيت المقدس ستة عشر أو سبعة عشر شهرا، وكان يعجبه أن تكون قبلته قبل البيت، وأنه صلى أول صلاة صلاها صلاة العصر، وصلى معه قوم. فخرج رجل ممن صلى معه، فمرّ على أهل مسجد وهم راكعون، فقال: أشهد بالله لقد صليت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم قِبلَ مكة، فداروا كما هم قِبلَ البيت (2) .
ج) ومما يدلُّ على وقوع الإجماع من الصحابة رضوان الله عليهم، رجوع الصدِّيق أبي بكر رضي الله عنه في ميراث الجدة إلى السنة النبوية (3) .
د) رجوع الفاروق عمر بن الخطاب رضي الله عنه في دية العاقلة إلى السنة النبوية (4) . وكان رضي الله عنه يقول: ((سيأتي قوم يجادلوكم
--------------------------------------------
ক) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বর্ণের - অথবা রূপার - একটি আংটি গ্রহণ করেছিলেন এবং এর পাথরটি তাঁর হাতের তালুর ভেতরের দিকে রেখেছিলেন। তিনি তাতে খোদাই করেছিলেন: 'মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ'। অতঃপর লোকেরাও অনুরূপ আংটি গ্রহণ করল। যখন তিনি দেখলেন যে তারা আংটিগুলো গ্রহণ করেছে, তখন তিনি তা নিক্ষেপ করলেন (ফেলে দিলেন) এবং বললেন: আমি এটি আর কখনো পরিধান করব না। অতঃপর তিনি একটি রূপার আংটি গ্রহণ করলেন, তখন লোকেরাও রূপার আংটিগুলো গ্রহণ করতে শুরু করল। (১)
খ) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জীবদ্দশায় সাহাবায়ে কেরামের ঐক্যমত্যের মাধ্যমে সুন্নাহর প্রামাণিকতার একটি প্রমাণ হলো বারা ইবনে আযিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করে ষোলো বা সতেরো মাস সালাত আদায় করেছিলেন। তিনি পছন্দ করতেন যে তাঁর কিবলা যেন কাবার দিকে হয়। তিনি প্রথম যে সালাতটি আদায় করেছিলেন তা ছিল আসরের সালাত এবং তাঁর সাথে একদল লোক সালাত আদায় করেছিল। অতঃপর যারা তাঁর সাথে সালাত আদায় করেছিল তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি বেরিয়ে গেল এবং একটি মসজিদের মুসল্লিদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করল যখন তারা রুকু অবস্থায় ছিল। সে বলল: আমি আল্লাহর নামে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে মক্কার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছি। ফলে তারা যেভাবে ছিল সেভাবেই কাবার দিকে ঘুরে গেল (২)।
গ) সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মধ্যে ঐক্যমত্য সংঘটিত হওয়ার অন্যতম প্রমাণ হলো, দাদির উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে সিদ্দিকে আকবর আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নববী সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন (৩)।
ঘ) 'আকিলা'র (রক্তপণ বহনকারী আত্মীয়স্বজন) রক্তপণের বিষয়ে ফারুক উমর ইবনে খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর নববী সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন (৪)। তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: "শীঘ্রই এমন এক সম্প্রদায়ের আবির্ভাব ঘটবে যারা তোমাদের সাথে বিতর্ক করবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - রুকাইয়া নিয়ায
(পৃষ্ঠা: ২০)
بشبهات القرآن فخذوهم بالسنن، فإن أصحاب السنن أعلم بكتاب الله)) (1) .
?) قضاء عثمان بن عفان رضي الله عنه بالسنة النبوية، في بيان مكان مكوث المرأة المتوفى عنها زوجها، أثناء العدة (2) .
ثانياً: وقوع الإجماع من التابعين:
سلك التابعون مسلك الصحابة - رضوان الله عليهم - في لزوم سنة النبي صلى الله عليه وسلم، فعلى سبيل المثال:
أ) يقول الإمام مطرف بن عبد الله بن الشخير: والله ما نريد بالقرآن بدلاً ولكن نريد من هو أعلم بالقرآن منا (3) . يقصد به رسول الله صلى الله عليه وسلم.
ب) وكان الخليفة عمر بن عبد العزيز رضي الله عنه يقول: إن رأس القضاء اتِّباعُ ما في كتاب الله، ثم القضاء بسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم (4) .
ج) أما الإمام إسحاق بن راهويه فكان يقول: مَنْ بلغه عن رسول الله
--------------------------------------------
কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়সমূহ নিয়ে (যারা বিতর্ক করতে আসে), তবে তোমরা তাদের সুন্নাহর মাধ্যমে প্রতিহত করো; কেননা সুন্নাহর ধারকগণ আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে অধিক পরিজ্ঞাত।)) (১) ।
উসমান বিন আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কর্তৃক সুন্নাহর আলোকে এই ফয়সালা প্রদান যে, বিধবা নারী ইদ্দত চলাকালীন কোথায় অবস্থান করবেন (২)।
দ্বিতীয়ত: তাবেয়ীগণের পক্ষ থেকে ঐক্যমত্য (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হওয়া:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ অনুসরণের ক্ষেত্রে তাবেয়ীগণ সাহাবায়ে কিরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)-এর পথ অনুসরণ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ:
ক) ইমাম মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে শিখখীর বলেন: আল্লাহর কসম! আমরা কুরআনের কোনো বিকল্প চাই না, বরং আমরা এমন সত্তাকে (দলিল হিসেবে) চাই যিনি আমাদের চেয়ে কুরআন সম্পর্কে অধিক প্রাজ্ঞ (৩)। তিনি এর দ্বারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উদ্দেশ্য করেছেন।
খ) খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: বিচারের মূল ভিত্তি হলো আল্লাহর কিতাবে যা আছে তা অনুসরণ করা, অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ অনুযায়ী ফয়সালা করা (৪)।
গ) আর ইমাম ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ বলতেন: যার কাছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পক্ষ থেকে (কোনো হাদিস) পৌঁছেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - রুকাইয়া নিয়ায
(পৃষ্ঠা: ২১)
صلى الله عليه وسلم خبر يقر بصحته، ثم ردَّه بغير تقية، فهو كافر (1) .
ثالثاً: وقوع الإجماع من الأئمة المجتهدين:
كان الأئمة الأربعة من أشد الناس تمسكاً بالحديث إذا ثبت عندهم لا يعدلون عنه إلى قول أحد من الناس، فعلى سبيل المثال:
أ) يقول الإمام أبو حنيفة رضي الله عنه: "إياكم والقول في دين الله تعالى بالرأي وعليكم باتباع السنة، فمن خرج عنها ضَلَّ" (2) .
ب) وكان الإمام مالك رضي الله عنه يقول: "اتبعوا ما أنزل إليكم من ربكم وما جاء من نبيكم، وإن لم تفهموا المعنى فسلِّموا لعلمائكم ولا تجادلوهم، فإن الجدال في الدين من بقايا النفاق" (3) .
ج) أما الإمام الشافعي فيؤكد ذلك قائلاً: يسقط كلُّ شيءٍ مخالف أمر النبي صلى الله عليه وسلم، ولا يقحم معه رأي، ولا يقاس، فإن الله عز وجل قطع العذر بقوله صلى الله عليه وسلم " (4) .
د) أما الإمام أحمد فكان يقول: أولأحد كلام مع رسول الله صلى الله عليه وسلم (5) ؟!.
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এমন কোনো সংবাদ (خبر) যার বিশুদ্ধতা (صحة) স্বীকৃত হয়েছে, অতঃপর কোনো বাধ্যবাধকতা (তাক্বিয়া) ছাড়াই কেউ তা প্রত্যাখ্যান করে, তবে সে কাফের (১)।
তৃতীয়ত: মুজতাহিদ (مجتهد) ইমামগণের ঐক্যমত (إجماع) সংঘটিত হওয়া:
চার ইমাম ছিলেন হাদিসের প্রতি সবচেয়ে বেশি অনুরাগী এবং দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত; যখনই কোনো হাদিস তাঁদের নিকট প্রমাণিত (ثبت) হতো, তখন তাঁরা কোনো মানুষের কথার জন্য তা ছেড়ে দিতেন না। উদাহরণস্বরূপ:
ক) ইমাম আবু হানিফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "আল্লাহ তাআলার দ্বীনের বিষয়ে নিজের রায় (رأي) বা ব্যক্তিগত মতামতের ভিত্তিতে কথা বলা থেকে বিরত থাকো এবং সুন্নাহ (سنة) অনুসরণে যত্নবান হও; যে ব্যক্তি তা থেকে বিচ্যুত হবে সে পথভ্রষ্ট হবে" (২)।
খ) ইমাম মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: "তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং তোমাদের নবীর পক্ষ থেকে যা এসেছে তা অনুসরণ করো। যদি তোমরা তার মর্মার্থ না-ও বোঝো, তবুও তোমাদের আলেমদের প্রতি তা সোপর্দ করো এবং তাঁদের সাথে বিতর্ক করো না; কারণ দ্বীনের বিষয়ে বিতর্ক করা নিফাকের একটি অবশিষ্টাংশ" (৩)।
গ) ইমাম শাফিঈ এটি নিশ্চিত করে বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশের পরিপন্থী সবকিছুই বাতিল; তাঁর নির্দেশের বিপরীতে কোনো রায় (رأي) বা ব্যক্তিগত অভিমতকে টেনে আনা যাবে না এবং কোনো কিয়াস (قياس) বা তুলনাও করা যাবে না। কেননা আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর মাধ্যমে সকল ওজর বা অজুহাত শেষ করে দিয়েছেন" (৪)।
ঘ) আর ইমাম আহমাদ বলতেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণীর বিপরীতে কি আর কারো কোনো কথা থাকতে পারে (৫)?!"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - রুকাইয়া নিয়ায
(পৃষ্ঠা: ২১)
المطلب الرابع: ثبوت حجية السنة بالدلبل العقلي…المطلب الرابع: العقل والحس والمشاهدة
وهي أمارات تدل على حجية السنة وتدل على أنَّ ما أجمل من القرآن الكريم تبيِّنه السنة وتفصله؛ فمثلاً فرض الله على الناس في القرآن الكريم عدة
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: যুক্তিভিত্তিক দলিলের (الدليل العقلي) মাধ্যমে সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية) সাব্যস্ত হওয়া…চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বিচারবুদ্ধি, ইন্দ্রিয় এবং পর্যবেক্ষণ
এগুলো হলো এমন কিছু নিদর্শন যা সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية) নির্দেশ করে এবং এ কথা প্রমাণ করে যে, কুরআনুল কারিমের যা কিছু সংক্ষিপ্ত (مجمل) রাখা হয়েছে, সুন্নাহ তা বর্ণনা ও বিশ্লেষণ করে। উদাহরণস্বরূপ, আল্লাহ তাআলা কুরআনুল কারিমে মানুষের ওপর বেশ কিছু বিষয় ফরজ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - রুকাইয়া নিয়ায
(পৃষ্ঠা: ২২)
فرائض مجملة غير مبينة، لم تفصل في القرآن أحكامها، ولا كيفية أدائها، فقال تعالى: {وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ} [النساء: 77] ، و {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ} [البقرة: 183] ، {وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ} [آل عمران: 97] . ولم يبين كيف تقام الصلاة وتؤتى الزكاة ويؤدَّى الصوم والحج. ولكن الرسول صلى الله عليه وسلم بين هذا الإجمال بسنته القولية والعملية؛ لأن الله سبحانه وتعالى منحه سلطة هذا التبيين بقوله عز شأنه: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} [النحل: 44] ، فلو لم تكن هذه السنة البيانية حجة على المسلمين، وقانوناً واجباً اتباعه، ما أمكن تنفيذ فرائض القرآن ولا اتباع أحكامه.
فالعقل والحس والمشاهدة أمارات دالة على ضرورة السنة وحجيتها، ووجوب اتباعها، وهذه السنن البيانية إنما وجب اتباعها من جهة أنها صادرة عن الرسول صلى الله عليه وسلم ورويت عنه بطريق يفيد القطع بورودها عنه، أو الظن بورودها، فكل سنة تشريعية صَحَّ صدورُها عن الرسول صلى الله عليه وسلم فهي حُجَّة واجبةُ الاتباع (1) .
--------------------------------------------
অনেক ফরয ইবাদত সংক্ষিপ্ত (مجمل) ও অস্পষ্ট, যেগুলোর বিধিবিধান বা পালনের পদ্ধতি কুরআনে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়নি। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা সালাত কায়েম করো এবং যাকাত প্রদান করো} [নিসা: ৭৭], এবং {তোমাদের ওপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে} [বাকারা: ১৮৩], {আর মানুষের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে, আল্লাহর জন্য ওই ঘরের হজ করা তার ওপর অবশ্য কর্তব্য} [আল-ইমরান: ৯৭]। সালাত কীভাবে কায়েম করতে হবে, যাকাত কীভাবে দিতে হবে এবং সিয়াম ও হজ কীভাবে পালন করতে হবে তা (কুরআনে) বর্ণনা করা হয়নি। কিন্তু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বাচনিক ও ব্যবহারিক সুন্নাহর মাধ্যমে এই সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা করেছেন; কারণ মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁকে এই ব্যাখ্যার ক্ষমতা প্রদান করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: {আমি আপনার প্রতি যিকির অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের কাছে তাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতে পারেন এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে} [নাহল: ৪৪]। সুতরাং এই ব্যাখ্যামূলক সুন্নাহ যদি মুসলিমদের জন্য দলিল (حجة) এবং অনুসরণীয় অবশ্য কর্তব্য আইন না হতো, তবে কুরআনের ফরয বিধানসমূহ কার্যকর করা বা এর বিধানসমূহ অনুসরণ করা সম্ভব হতো না।
অতএব বিবেক-বুদ্ধি, ইন্দ্রিয়লব্ধ অনুভূতি এবং চাক্ষুষ পর্যবেক্ষণ সুন্নাহর প্রয়োজনীয়তা, এর প্রামাণ্যতা (حجية) এবং এটি অনুসরণ করার আবশ্যকতা নির্দেশক নিদর্শন। আর এই ব্যাখ্যামূলক সুন্নাহসমূহ অনুসরণ করা এই কারণে আবশ্যক যে, এগুলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং তাঁর থেকে এমন পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়েছে যা নিশ্চিত (قطع) জ্ঞান প্রদান করে অথবা প্রবল ধারণা (ظن) প্রদান করে। সুতরাং প্রতিটি শরয়ি সুন্নাহ যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত (صح) হয়েছে, তা-ই দলিল (حجة) এবং তা অনুসরণ করা ওয়াজিব (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - রুকাইয়া নিয়ায
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المبحث الثاني:مكانة السنة من حيث مرتبتها
المطلب الأول: إثبات أن السنة هي المصدر الثاني بإدلة القرآن الكريم…المبحث الثاني: مكانة السنة من حيث مرتبتها
وفيه أربعة مطالب:
المطلب الأول: إثبات أنَّ السنة هي المصدر الثاني بأدلة القرآن الكريم
المطلب الثاني: إثبات أنَّ السنة هي المصدر الثاني بالأحاديث النبوية
المطلب الثالث: إثبات أنَّ السنة هي المصدر الثاني بالإجماع
المطلب الرابع: إثبات أنَّ السنة هي المصدر الثاني بالمعقول
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: স্তরের বিচারে সুন্নাহর মর্যাদাপ্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনের দলিলের মাধ্যমে সুন্নাহ যে দ্বিতীয় উৎস তা প্রমাণ করা…দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: স্তরের বিচারে সুন্নাহর মর্যাদা
এতে চারটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনের দলিলের মাধ্যমে সুন্নাহ যে দ্বিতীয় উৎস তা প্রমাণ করা
দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: নববীয় হাদিসসমূহের মাধ্যমে সুন্নাহ যে দ্বিতীয় উৎস তা প্রমাণ করা
তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: ইজমা (إجماع)-এর মাধ্যমে সুন্নাহ যে দ্বিতীয় উৎস তা প্রমাণ করা
চতুর্থ উপ-পরিচ্ছেদ: যুক্তির মাধ্যমে সুন্নাহ যে দ্বিতীয় উৎস তা প্রমাণ করা
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - রুকাইয়া নিয়ায
(পৃষ্ঠা: ২৪)
المبحث الثاني: مكانة السنة النبوية من حيث المرتبة
أثبتنا في المبحث السابق - بما لا يدع مجالاً - للشك حجية السنة، وأنها مصدر وأصل يقصد في استنباط الأحكام الشرعية، وذلك للآيات القرآنية، والأحاديث الصحيحة والإجماع الأكيد من جمهور المسلمين على مرّ العصور.
وهذه الحجية الثابتة تأتي متأخرة عن القرآن الكريم، فمرتبتها تلي مرتبة القرآن، بمعنى أن الباحث إذا لم يجد في القرآن الكريم رأي الشرع فيما يريد معرفته من أحكام لجأ إلى السنة يبحث فيها عما يريد (1) .
لهذا نسمع ونردد أن السنة هي المصدر الثاني للتشريع. وإثبات حجيتها مصدراً ثانياً يكون من خلال آيات القرآن، ونصوص الأحاديث، وإجماع الأمة، وأخيراً الدليل العقلي.
المطلب الأول: إثبات أن السنة هي المصدر الثاني بأدلة القرآن الكريم
كل الآيات التي دعت إلى طاعة رسول الله صلى الله عليه وسلم، واتباع النور الذي جاء به كانت مشروطةً بالإيمان بالله وطاعته قبل ذلك (2) فعلى سبيل
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মর্যাদার দিক থেকে সুন্নাহর অবস্থান
আমরা পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদে কোনো প্রকার সন্দেহের অবকাশ না রেখেই সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية) প্রমাণ করেছি এবং এটি সাব্যস্ত করেছি যে, শরয়ি বিধানসমূহ আহরণের ক্ষেত্রে এটি একটি উৎস ও মূল ভিত্তি। এটি কুরআনের আয়াতসমূহ, সহিহ (صحيحة) হাদিস এবং সর্বযুগের মুসলিম জনসাধারণের সুনিশ্চিত ইজমার (إجماع) মাধ্যমে প্রমাণিত।
আর এই প্রতিষ্ঠিত প্রামাণ্যতা (حجية) পবিত্র কুরআনের পরে আসে। সুতরাং মর্যাদার দিক থেকে এর স্থান কুরআনের পরবর্তী। এর অর্থ হলো, গবেষক যখন পবিত্র কুরআনে শরিয়তের কাঙ্ক্ষিত বিধান খুঁজে পান না, তখন তিনি সুন্নাহর শরণাপন্ন হন এবং সেখানে তা অনুসন্ধান করেন (১)।
এজন্যই আমরা শুনে থাকি এবং পুনরাবৃত্তি করি যে, সুন্নাহ হলো শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস। সুন্নাহ দ্বিতীয় উৎস হওয়ার প্রামাণ্যতা (حجية) পবিত্র কুরআনের আয়াত, হাদিসের ভাষ্যসমূহ, উম্মাহর ইজমা (إجماع) এবং সবশেষে যৌক্তিক দলিলের মাধ্যমে সাব্যস্ত।
প্রথম অনুচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনের দলিলের মাধ্যমে সুন্নাহ দ্বিতীয় উৎস হিসেবে সাব্যস্ত হওয়া
যে সকল আয়াতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্য এবং তাঁর আনীত নূরের অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে, সেগুলো তার আগেই আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর আনুগত্যের সাথে শর্তযুক্ত ছিল (২)। উদাহরণস্বরূপ:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - রুকাইয়া নিয়ায
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المثال:
أ - يقول سبحانه وتعالى في بيان ذلك: {وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْراً أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ} [الأحزاب:36] .
ب – وقوله سبحانه وتعالى: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ} [النساء: 59] . فالدلالة واضحة في الآية لأن الرد إلى الله سبحانه وتعالى يعني الرجوع إلى كتابه، وهو القرآن الكريم.
والرد إلى رسوله صلى الله عليه وسلم يعني: الرّد إلى سنة رسوله صلى الله عليه وسلم، والدلالة واضحة كما ذكره أهل العلم الذين يُعتد بقولهم (1) .
--------------------------------------------
উদাহরণস্বরূপ:
ক - আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা এই বিষয়টির বর্ণনায় বলেন: {আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয়ের ফয়সালা দিলে কোনো মুমিন পুরুষ কিংবা মুমিন নারীর জন্য তাদের সেই বিষয়ে নিজেদের কোনো এখতিয়ার থাকা সংগত নয়।} [আল-আহযাব: ৩৬]।
খ - এবং মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তোমরা যদি কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও।} [আন-নিসা: ৫৯]। এই আয়াতে নির্দেশটি সুস্পষ্ট, কারণ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো তাঁর কিতাবের দিকে প্রত্যাবর্তন করা, যা হলো পবিত্র কুরআন।
আর তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার অর্থ হলো: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর (سنة) দিকে ফিরিয়ে দেওয়া। এর প্রমাণ ও নির্দেশনা সুস্পষ্ট যেমনটি সেই সকল নির্ভরযোগ্য আলেমগণ উল্লেখ করেছেন যাদের কথা গ্রহণযোগ্য (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - রুকাইয়া নিয়ায
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المطلب الثاني: إثبات أن السنة هي المصدر الثاني بالأحاديث النبويةإن النصوص النبوية أشارت بالفعل إلى عدّ السنة هي المصدر الثاني بعد القرآن الكريم، وقد أشرنا إلى ما نحن بصدد إثباته الآن سابقاً (2) ولا ضير أن نؤكد منهج النبي صلى الله عليه وسلم في هذا الاعتقاد من خلال حواره مع معاذ ابن جبل رضي الله عنه لما بعثه إلى اليمن فقد ذكرت الروايات أنه صلى الله عليه وسلم لما
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নব্যুয়ি হাদিসসমূহের মাধ্যমে সুন্নাহ (سنة) দ্বিতীয় উৎস হওয়ার প্রমাণনিশ্চয়ই নব্যুয়ি মূল পাঠ (نصوص) সমূহ প্রকৃতপক্ষে পবিত্র কুরআনের পর সুন্নাহকে (سنة) দ্বিতীয় উৎস হিসেবে গণ্য করার প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করেছে। আর যা আমরা এখন প্রমাণ করার প্রয়াস করছি সে সম্পর্কে ইতিপূর্বে (২) আমরা ইঙ্গিত করেছি। মুআয ইবনে জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে যখন তিনি ইয়ামেনে প্রেরণ করেছিলেন, তখন তাঁর সাথে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথোপকথনের মাধ্যমে এই বিশ্বাসের ক্ষেত্রে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতি (منهج) সম্পর্কে পুনরায় জোর প্রদান করতে কোনো বাধা নেই। কেননা বর্ণনা (روايات) সমূহে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)...