(খণ্ড: ১) আসারু ইলালিল হাদীস ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: -)
أثر علل الحديث في اختلاف الفقهاء   (ماهر الفحل)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: أثر علل الحديث في اختلاف الفقهاء

المؤلف: ماهر ياسين فحل الهيتي

أصل الكتاب: رسالة ماجستير، بغداد 1999 م

الناشر: دار عمار للنشر، عمان

الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 2000 م

عدد الصفحات: 373

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ফকিহগণের মতভেদে হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহের (علل الحديث) প্রভাব   (মাহের আল-ফাহল)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)


বই: ফকিহগণের মতভেদে হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহের (علل الحديث) প্রভাব

লেখক: মাহের ইয়াসিন ফাহল আল-হিতি

বইয়ের মূল উৎস: মাস্টার্স থিসিস، বাগদাদ ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দ

প্রকাশক: দার আম্মার পাবলিশিং، আম্মান

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২০ হিজরি - ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭৩

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আসারু ইলালিল হাদীস ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: -)
وأنزل الله عليك

الكتاب والحكمة

وعلمك ما لم تكن تعلم

وكان فضل الله عليك عظيما

صدق الله العظيم

النساء: 113

الاهداء

أهدي ثمرة جهدي المتواضع هذا الى والديَّ وفاءاً لهما وبراً وتكفيراً عن تقصيري تجاههما، اللهم تقبله مني، واجعل - بفضلك - ثوابه في ميزان حسناتهما.

رب ارحمهما كما ربياني صغيرا

جامعة صدام للعلوم الاسلامية

أثر علل الحديث في اختلاف الفقهاء

رسالة تقدم بها الطالب:

ماهر ياسين فحل المولى

الى مجلس قسم الفقه واصوله في جامعة صدام للعلوم الاسلامية

وهي جزء من متطلبات درجة الماجستير في العلوم الاسلامية

تخصص (فقه مقارن)

بإشراف

الاستاذ الدكتور هاشم جميل عبد الله

1420هـ - 1999م
আর আল্লাহ আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছেন

কিতাব ও হিকমত

এবং আপনাকে তা শিক্ষা দিয়েছেন যা আপনি জানতেন না

আর আপনার প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ অত্যন্ত মহান

মহান আল্লাহ সত্য বলেছেন

আন-নিসা: ১১৩

উৎসর্গ

আমি আমার এই বিনম্র প্রচেষ্টার ফসল আমার পিতা-মাতাকে উৎসর্গ করছি—তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ, তাঁদের সাথে সদাচরণের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এবং তাঁদের প্রতি আমার ত্রুটি-বিচ্যুতির কাফফারা হিসেবে। হে আল্লাহ! আমার পক্ষ থেকে এটি কবুল করুন এবং আপনার অনুগ্রহে এর সওয়াব তাঁদের নেক আমলের মিজানে অন্তর্ভুক্ত করুন।

হে আমার প্রতিপালক! তাঁদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন, যেমন তাঁরা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছেন

সাদ্দাম ইউনিভার্সিটি ফর ইসলামিক সায়েন্সেস

ফকিহগণের মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে হাদিসের ত্রুটিসমূহের (علل) প্রভাব

শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে পেশকৃত থিসিস:

মাহের ইয়াসিন ফাহল আল-মাওলা

সাদ্দাম ইউনিভার্সিটি ফর ইসলামিক সায়েন্সেসের ফিকহ ও উসুল (أصول) বিভাগের কাউন্সিলের নিকট

এটি ইসলামি বিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রির প্রয়োজনীয় শর্তাবলির অংশ

বিশেষায়ন (তুলনামূলক ফিকহ)

তত্ত্বাবধানে

প্রফেসর ডক্টর হাশেম জামিল আব্দুল্লাহ

১৪২০ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আসারু ইলালিল হাদীস ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين

والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم تسليما كثيرا

أما بعد:

فإن الحديث والفقه توأمان لا ينفكان؛ فإن جزءاً كبيراً من الفقه إنما هو ثمرة للحديث؛ ذلك لأن الحديث النبوي الشريف أحد المراجع الرئيسة للفقه الإسلامي؛ ومن هنا كان علم الحديث رواية ودراية من أشرف العلوم وأجلها، بل هو أجلها على الإطلاق بعد العلم بالقرآن الكريم الذي هو أصل الدين ومنبع الطريق المستقيم، فالحديث هو المصدر الثاني للتشريع الإسلامي، بعضه يستقل بالتشريع، وكثير منه شارح لكتاب الله تعالى مبين لما جاء فيه قال تعالى: ((وأنزلنا إليك الذكر لتبين للناس ما نزل اليهم (1)) .

ومما لا خلاف فيه: ان الحديث النبوي الشريف لم يدون تدوينا رسميا في عهد الرسول صلى الله عليه وسلم ولا في عهد الخلفاء الراشدين؛ لذا فقد لقي من السلف والخلف عناية كبيرة، وجهدا مميزا كي لا ينضاف الى قول رسول الله صلى الله عليه وسلم ما ليس منه؛ لذلك نشأ بجانب علم الحديث رواية علم آخر يخدمه وهو ما أطلق عليه اسم: علم الحديث دراية، وهذا الأخير تندرج تحته علوم كثيرة، ومن تلك العلوم: علم العلل، وهذا الفرع

--------------------------------------------

(1) سورة النحل الآية 44
ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য

এবং আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.), তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই হাদিস ও ফিকহ এমন দুই যমজ বিষয় যা একে অপর থেকে অবিচ্ছেদ্য; কেননা ফিকহের একটি বড় অংশই হলো হাদিসের ফলশ্রুতি। এর কারণ হলো, পবিত্র হাদিসে নববী ইসলামি ফিকহের অন্যতম প্রধান উৎস; আর এখান থেকেই বর্ণনানির্ভর হাদিস বিজ্ঞান (علم الحديث رواية) এবং বিশ্লেষণধর্মী হাদিস বিজ্ঞান (علم الحديث دراية) শ্রেষ্ঠতম ও সুমহান জ্ঞান হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। বরং পবিত্র কুরআনের জ্ঞানের পর এটিই নিরঙ্কুশভাবে সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞান, যা দ্বীনের মূল ভিত্তি এবং সরল পথের উৎস। সুতরাং হাদিস হলো ইসলামি আইনের দ্বিতীয় উৎস, যার কোনো কোনোটি স্বতন্ত্রভাবে বিধান প্রদান করে, আবার এর অধিকাংশ আল্লাহর কিতাবের ব্যাখ্যা প্রদানকারী এবং তাতে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা সুস্পষ্টকারী। মহান আল্লাহ বলেন: "এবং আমি আপনার প্রতি যিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি, যাতে আপনি মানুষের জন্য তা স্পষ্ট করে দেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে (১)।"

এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে: রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে কিংবা খুলাফায়ে রাশিদীনের যুগে পবিত্র হাদিসে নববী দাপ্তরিকভাবে সংকলিত হয়নি; তাই এটি উত্তরসূরি ও পূর্বসূরিদের পক্ষ থেকে ব্যাপক যত্ন এবং বিশেষ প্রচেষ্টার দাবিদার হয়েছে, যাতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণীর সাথে এমন কিছু যুক্ত না হয় যা তাঁর নয়। একারণেই বর্ণনানির্ভর হাদিস বিজ্ঞানের (علم الحديث رواية) পাশাপাশি একে সেবা প্রদানকারী অন্য একটি বিজ্ঞানের উদ্ভব হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে: বিশ্লেষণধর্মী হাদিস বিজ্ঞান (علم الحديث دراية)। এই শেষোক্ত বিষয়টির অধীনে অনেকগুলো শাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, আর সেসব শাস্ত্রের অন্যতম হলো: ত্রুটি অন্বেষণ বিজ্ঞান (علم العلل), আর এই শাখাটি...

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নাহল, আয়াত ৪৪
(খণ্ড: ১) আসারু ইলালিল হাদীস ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৬)
من فروع علم الحديث جليل المقدار؛ لأنه كالميزان في رد أو قبول الأخبار والآثار، ومعرفة هذا النوع من أدق فنون علم الحديث، وأكثرها تشعبا.

ولم أقف على مصنف مستقل جمعت فيه جميع دقائق هذا الموضوع؛ وانما هي أبحاث في بعض جوانب الموضوع أو كتب لم تستوعب جميع موضوعات هذا العلم، ثم هي - في الغالب- قد اقتصرت على دراسة الموضوع من ناحية فن الحديث دون ربطه بعلم الفقه بواسطة نماذج لذلك.

وقد دفعني ذلك الى التفكير في اختيار هذا الموضوع الممتع النافع المليء بالعوائد والفوائد لطالب الحديث والفقه. وبعد أن شجعني من استشرتهم من الأساتذة وحصلت موافقة الجامعة الموقرة عليه كان عملي فيه على النحو الآتي:

حاولت حصر ما يعد علة عند المحدثين، وما يشبه ذلك عند الفقهاء مما يعد وجوده

مانعا من العمل به؛ لذلك حاولت ما وسعني الجهد استقراء كلام علماء الحديث المتعلق بهذا الشأن في كتب التخريج والشروح والعلل والرجال، فيسر لي ذلك الوقوف على العلل التي تعل بها الأحاديث عند المحدثين، ودرست كل علة بحد ذاتها من حيث اقوال العلماء فيها، مع بيان ما يبدو لي أنه الراجح منها.

ثم حاولت حصر ما يشبه ذلك عند الفقهاء، وهو ما يعده هذا الامام أو ذاك مانعاً من العمل بالحديث؛ وذلك لأن أثر اعلال الحديث عند المحدثين هو الامتناع عن استنباط الأحكام منه وبنائها عليه، فاذا وجد عند الفقهاء ما يمنع من العمل بالحديث وبناء الحكم عليه فان هذا يعد علة عندهم - لأن هذا أهم أثر لإعلال الحديث- وان كان ذلك لا يعد علة في اصطلاح المحدثين أو جمهورهم، وذلك كـ ((اعلال الحديث لمخالفته القواعد العامة، واعلال الحديث لمخالفة عمل اهل المدينة، واعلال الحديث لمخالفته القياس، واعلال رواية الراوي اذا خالفت فتياه، ونحو ذلك)) .
হাদিস বিজ্ঞানের একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ শাখা; কারণ এটি সংবাদ এবং বর্ণনা (آثار) গ্রহণ বা বর্জনের ক্ষেত্রে মানদণ্ডস্বরূপ। এই বিষয়টি জানা হাদিস বিজ্ঞানের সূক্ষ্মতম এবং সর্বাধিক শাখা-প্রশাখাযুক্ত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত।

আমি এমন কোনো স্বতন্ত্র গ্রন্থ পাইনি যেখানে এই বিষয়ের সকল সূক্ষ্ম বিষয়াবলি সংকলিত হয়েছে; বরং এগুলো কেবল বিষয়ের নির্দিষ্ট কিছু দিকের ওপর গবেষণা অথবা এমন কিছু কিতাব যা এই ইলমের সকল বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেনি। তদুপরি, এগুলো—অধিকাংশ ক্ষেত্রে—ফিকহ শাস্ত্রের সাথে উদাহরণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট না করে কেবল হাদিস শাস্ত্রের দৃষ্টিকোণ থেকে অধ্যয়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

এটিই আমাকে হাদিস ও ফিকহের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয়, উপকারী এবং বহুবিদ সুফল ও ফায়দায় ভরপুর এই বিষয়টি নির্বাচন করতে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি যে সকল সম্মানিত অধ্যাপকদের সাথে পরামর্শ করেছি তাদের উৎসাহ প্রদান এবং শ্রদ্ধেয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনের পর, আমার কাজ নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে সম্পন্ন হয়েছে:

আমি মুহাদ্দিসগণের নিকট যা ত্রুটি (علة) হিসেবে গণ্য এবং ফকিহগণের নিকট যা এর অনুরূপ—অর্থাৎ যার বিদ্যমানতা আমল করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হিসেবে বিবেচিত—তা নিরূপণ করার চেষ্টা করেছি। সেজন্য আমি সাধ্যমতো তাখরিজ, শরাহ, ইলাল এবং রিজাল শাস্ত্রের কিতাবসমূহে হাদিস বিশারদগণের সংশ্লিষ্ট বক্তব্যগুলো নিবিড় অনুসন্ধান (استقراء) করার চেষ্টা করেছি। এর ফলে মুহাদ্দিসগণের নিকট যেসব ত্রুটির (العلل) কারণে হাদিসগুলো ত্রুটিযুক্ত (تعل) সাব্যস্ত হয়, সেগুলো জানা আমার জন্য সহজ হয়েছে। আমি প্রতিটি ত্রুটি (علة) সম্পর্কে আলেমদের মতামত এবং এর মধ্যে কোনটি আমার নিকট অগ্রগণ্য (الراجح) বলে মনে হয়েছে তা ব্যাখ্যাসহ অধ্যয়ন করেছি।

অতঃপর আমি ফকিহগণের নিকট অনুরূপ বিষয়গুলো নিরূপণের চেষ্টা করেছি, যা কোনো ইমামের নিকট হাদিসের ওপর আমল করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হিসেবে বিবেচিত। এর কারণ হলো, মুহাদ্দিসগণের নিকট কোনো হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করার (إعلال) প্রভাব হলো সেই হাদিস থেকে বিধান আহরণ (استنباط) এবং তার ওপর ভিত্তি করা থেকে বিরত থাকা। সুতরাং, ফকিহগণের নিকট যদি এমন কিছু পাওয়া যায় যা হাদিসের ওপর আমল করতে এবং তার ওপর ভিত্তি করে বিধান প্রণয়ন করতে বাধা দেয়, তবে তা তাদের নিকট ত্রুটি (علة) হিসেবে গণ্য হবে—কেননা এটিই হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করার (إعلال) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব—যদিও মুহাদ্দিসগণ বা তাদের অধিকাংশের পরিভাষায় তা ত্রুটি (علة) হিসেবে গণ্য নয়। যেমন: ((সাধারণ মূলনীতির পরিপন্থী হওয়ার কারণে হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করা (إعلال), মদিনাবাসীদের আমলের পরিপন্থী হওয়ার কারণে হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করা (إعلال), কিয়াসের (قياس) পরিপন্থী হওয়ার কারণে হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করা (إعلال), বর্ণনাকারীর বর্ণনা যদি তার নিজের ফতোয়ার বিপরীত হয় তবে তাকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করা (إعلال) ইত্যাদি))।
(খণ্ড: ১) আসারু ইলালিল হাদীস ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৭)
فهذه أعل بها بعض اهل العلم بعض الأحاديث، ولم يعتبرها آخرون عللا؛ لذلك ذكرتها على شكل علل وذكرت أقوال أهل العلم واتجاهاتهم فيها ومناقشاتهم لها.

ومن هنا جاء الربط بين علم الحديث وعلم الفقه وأكدت هذا الربط بأن ذكرت بتفصيل مناسب نموذجا أو أكثر أبين فيه أثر هذه العلة أو تلك في اختلاف الفقهاء.

هذا وقد اقتضت طبيعة البحث تقسيمه بعد هذه المقدمة الى أربعة فصول:

خصصت الفصل الأول منها لبيان ماهية العلة وقضايا أخرى تتعلق بها، وقد تضمن هذا الفصل ستة مباحث:

المبحث الأول: عرفت فيه العلة في اللغة واصطلاح المحدثين.

والمبحث الثاني: ذكرت فيه نموذجا تطبيقيا للعلة.

والمبحث الثالث: تكلمت فيه عن أهم الأسباب التي تكون الأحاديث معلة بسببها.

وتكلمت في المبحث الرابع عن أقسام العلة باعتبار محلها وقدحها.

وفي المبحث الخامس: تكلمت عن اهم الأمور التي ترفع العلة وتزيلها.

وتكلمت في المبحث السادس عن أهمية معرفة علم العلل.

أما الفصل الثاني: فقد خصصته لعلل السند.

وقد اشتمل على تمهيد وأربعة مباحث: -

تكلمت في التمهيد عن تعريف الإسناد وأهميته.

وفي المبحث الأول: تكلمت عن الإنقطاع بأنواعه.

وفي المبحث الثاني: ذكرت اعلال السند بتضعيف الراوي.

والمبحث الثالث: تكلمت فيه: عن تفرد الراوي.
এর মধ্যে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যার মাধ্যমে একদল আলিম কতিপয় হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত (أعل) প্রতিপন্ন করেছেন, আবার অন্য একদল এগুলোকে ত্রুটি (علل) হিসেবে গণ্য করেননি; এই কারণে আমি এগুলোকে 'ত্রুটিসমূহ' (علل) শিরোনামে উল্লেখ করেছি এবং এ বিষয়ে আলেমগণের বক্তব্য, দৃষ্টিভঙ্গি ও তাঁদের পর্যালোচনাসমূহ তুলে ধরেছি।

এখান থেকেই হাদিস বিজ্ঞান ও ফিকহ শাস্ত্রের মধ্যকার সম্পর্কের সূত্রপাত হয়েছে। আমি এক বা একাধিক নমুনা যথাযথ বিস্তারিত বর্ণনার মাধ্যমে পেশ করে এই সম্পর্কের বিষয়টি জোরালো করেছি, যাতে ফকিহগণের মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে এ জাতীয় ত্রুটির (العلة) প্রভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

বর্তমান গবেষণার ধরন অনুযায়ী এই মুখবন্ধের পরে একে চারটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করা আবশ্যক হয়েছে:

এর মধ্যে প্রথম অধ্যায়টি আমি ত্রুটির (العلة) স্বরূপ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াবলি আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছি; আর এই অধ্যায়টি ছয়টি পরিচ্ছেদ সংবলিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: এতে আমি ত্রুটির (العلة) শাব্দিক ও হাদিস বিশারদদের পরিভাষাগত সংজ্ঞা বর্ণনা করেছি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি ত্রুটির (العلة) একটি প্রায়োগিক নমুনা উল্লেখ করেছি।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি ওই সকল গুরুত্বপূর্ণ কারণ নিয়ে আলোচনা করেছি যার ফলে হাদিসগুলো ত্রুটিযুক্ত (معلة) হয়ে থাকে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদে আমি ত্রুটির (العلة) স্থান এবং এর দোষারোপ করার সক্ষমতার বিচারে এর প্রকারভেদ সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

পঞ্চম পরিচ্ছেদে: আমি ওই সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি যা ত্রুটিকে (العلة) রহিত ও দূর করে দেয়।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে আমি হাদিসের ত্রুটি সংক্রান্ত জ্ঞান (علم العلل) অর্জনের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছি।

দ্বিতীয় অধ্যায়: এটি আমি সনদের ত্রুটিসমূহের (علل السند) জন্য নির্দিষ্ট করেছি।

এটি একটি ভূমিকা এবং চারটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:-

ভূমিকায় আমি সনদের পরিচয় এবং এর গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছি।

প্রথম পরিচ্ছেদে: আমি বিচ্ছিন্নতার (الإنقطاع) বিভিন্ন প্রকার সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে: আমি বর্ণনাকারীর দুর্বলতার (تضعيف الراوي) কারণে সনদের ত্রুটিযুক্ত (اعلال) হওয়া সম্পর্কে উল্লেখ করেছি।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি বর্ণনাকারীর একক বর্ণনা (تفرد الراوي) সম্পর্কে আলোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১) আসারু ইলালিল হাদীস ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৮)
وفي المبحث الرابع: تكلمت عن انكار الأصل رواية الفرع.

اما الفصل الثالث: فهو في علل المتن وقد تضمن سبعة مباحث: -

المبحث الأول: الاعلال بالتعارض وقد تكلمت فيه عما يبدو من تعارض ظاهر بين النصوص الشرعية.

والمبحث الثاني: الاعلال بالشك.

والمبحث الثالث: اعلال خبر الآحاد بكونه مما تعم به البلوى، وذكرت فيه: أقوال اهل العلم ومناقشتها.

والمبحث الرابع: في اعلال خبر الآحاد بمخالفته فتيا الصحابي الذي يرويه.

والمبحث الخامس: في اعلال خبر الآحاد بمخالفته القياس.

والمبحث السادس: في اعلال خبر الآحاد بمخالفته اجماع أهل المدينة.

والمبحث السابع: اعلال خبر الآحاد بمخالفته القواعد العامة.

وقد ذكرت آراء الفقهاء في كون هذا الأمر أو ذاك علة أو ليس بعلة، وبينت ما يبدو لي أنه الراجح منها.

وأما الفصل الرابع: فقد خصصته للعلل المشتركة، التي تقع في الاسناد والمتن.

وضمنته خمسة مباحث:

المبحث الاول: الاعلال بالاضطراب والاختلاف. وتضمن هذا المبحث مطلبين:

المطلب الأول: الاضطراب في الاسناد.

والمطلب الثاني: الاضطراب في المتن.

المبحث الثاني: الاعلال بالزيادة، وتكلمت فيه عن زيادة الثقة وذكرت اهم أقوال أهل العلم في قبولها وردها ثم ذكرت الرأي المختار.
চতুর্থ পরিচ্ছেদে: আমি মূল বর্ণনাকারী কর্তৃক শাখা বর্ণনাকারীর বর্ণনা অস্বীকার করার বিষয়টি আলোচনা করেছি।

আর তৃতীয় অধ্যায়: এটি মূল পাঠের (متن) ত্রুটিসমূহ (علل) সংক্রান্ত এবং এতে সাতটি পরিচ্ছেদ রয়েছে: -

প্রথম পরিচ্ছেদ: বৈপরিত্যের (تعارض) কারণে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্তকরণ (إعلال); এতে আমি শরয়ী দলীলসমূহের মধ্যে আপাতদৃষ্টিতে প্রতীয়মান বৈপরিত্য (تعارض) নিয়ে আলোচনা করেছি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সন্দেহের (شك) কারণে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্তকরণ (إعلال)।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: একক বর্ণনা (خبر الآحاد) এমন বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া যা জনসম্পৃক্ত (تعم به البلوى) হওয়ার কারণে সেটিকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্তকরণ (إعلال); এতে আমি আলেমগণের বক্তব্য ও তার পর্যালোচনা উল্লেখ করেছি।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: একক বর্ণনা (خبر الآحاد) বর্ণনাকারী সাহাবীর ফতোয়ার (فتيا) পরিপন্থী হওয়ার কারণে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্তকরণ (إعلال)।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: একক বর্ণনা (خبر الآحاد) কিয়াসের (قياس) পরিপন্থী হওয়ার কারণে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্তকরণ (إعلال)।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: একক বর্ণনা (خبر الآحاد) মদিনাবাসীদের ঐক্যমতের (إجماع) পরিপন্থী হওয়ার কারণে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্তকরণ (إعلال)।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: একক বর্ণনা (خبر الآحاد) সাধারণ মূলনীতির (القواعد العامة) পরিপন্থী হওয়ার কারণে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্তকরণ (إعلال)।

কোন বিষয়টি ত্রুটি (علة) হিসেবে গণ্য হবে আর কোনটি হবে না সে বিষয়ে আমি ফকিহগণের মতামত উল্লেখ করেছি এবং এর মধ্যে কোনটি আমার কাছে প্রাধান্যপ্রাপ্ত (راجح) মনে হয়েছে তা স্পষ্ট করেছি।

আর চতুর্থ অধ্যায়: এটি আমি ঐসব যৌথ ত্রুটিসমূহের (علل) জন্য নির্ধারণ করেছি যা সনদ (إسناد) এবং মূল পাঠ (متن) উভয় ক্ষেত্রেই ঘটে থাকে।

এতে আমি পাঁচটি পরিচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করেছি:

প্রথম পরিচ্ছেদ: অস্থিরতা (اضطراب) এবং মতভেদের (اختلاف) কারণে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্তকরণ (إعلال)। এই পরিচ্ছেদটি দুটি অনুচ্ছেদ সম্বলিত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: সনদের (إسناد) মধ্যে অস্থিরতা (اضطراب)।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মূল পাঠের (متن) মধ্যে অস্থিরতা (اضطراب)।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অতিরিক্ত অংশের (زيادة) কারণে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্তকরণ (إعلال); এতে আমি নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত অংশ (زيادة الثقة) নিয়ে আলোচনা করেছি এবং এটি গ্রহণ বা বর্জনের ক্ষেত্রে আলেমগণের গুরুত্বপূর্ণ মতামতসমূহ উল্লেখ করার পর মনোনীত মতটি উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) আসারু ইলালিল হাদীস ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৯)
والمبحث الثالث: الاعلال بالشذوذ.

والمبحث الرابع: الاعلال بالادراج.

والمبحث الخامس: الاعلال بالخطأ وما أشبهه.

وقد مثلت لما ذكرته من علل وبينت أثر كل علة في اختلاف الفقهاء، وخرجت الأحاديث الواردة في الرسالة وذلك بالرجوع الى كتب الحديث المعتمدة عند المحدثين، وأطلت التخريج في كثير من المواضع؛ لأن موضوع العلل يستدعي ذلك؛ فان العلة لا تعرف الا بجمع طرق الحديث من مظانها.

وقد عزوت أحاديث صحيح البخاري في الجزء والصفحة لطبعة دار الفكر التي تقع في ثلاثة مجلدات بتسعة أجزاء، وهي الطبعة المصورة عن الطبعة الأميرية، ثم اعقبت الجزء والصفحة برقم الحديث من فتح الباري بترقيم الاستاذ محمد فؤاد عبد الباقي، وذلك لتداول هاتين الطبعتين في أيدي أهل العلم.

وكذلك صنعت عند العزو لصحيح مسلم فقد عزوت الى الجزء والصفحة من الطبعة الاستانبولية، ثم اعقبت ذلك بالرقم من طبعة الاستاذ محمد فؤاد عبد الباقي؛ وذلك لأن هاتين الطبعتين أكثر تداولا.

اما أحاديث سنن ابي داود وابن ماجه والترمذي فقد ذكرت الجزء والصفحة ورقم الحديث، وقد رتبت الكتب عند التخريج على وفيات المؤلفين.

وقد حاولت بيان درجة الأحاديث الواردة في الرسالة مهتديا بأقوال الأئمة السابقين ومستعينا بقواعد الحديث التي وضعها الائمة الاعلام.

وقد ترجمت للاعلام التي دار عليها الاسناد في هامش الرسالة ومن ذكر في الحديث زيادة أو اخطأ في الحديث أما بقية الاعلام فقد عملت لها تراجم وضمنتها ملحقا في آخر الرسالة.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: অসংগতি (شذوذ) দ্বারা ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্তকরণ (الاعلال)।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: অনুপ্রবিষ্টি (ادراج) দ্বারা ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্তকরণ (الاعلال)।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ভুল (خطأ) ও এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় দ্বারা ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্তকরণ (الاعلال)।

আমি উল্লিখিত ত্রুটিসমূহের (علل) উদাহরণ পেশ করেছি এবং ফকিহদের মতবিরোধের ক্ষেত্রে প্রতিটি ত্রুটির (علة) প্রভাব বর্ণনা করেছি। আমি এই গবেষণাপত্রে বর্ণিত হাদিসসমূহের উৎস নির্দেশ (تخريج) করেছি মুহাদ্দিসগণের নিকট নির্ভরযোগ্য হাদিসের কিতাবসমূহের উদ্ধৃতি প্রদানের মাধ্যমে। অনেক ক্ষেত্রে আমি উৎস নির্দেশে (تخريج) দীর্ঘ বর্ণনা দিয়েছি; কারণ ত্রুটি (علل) বিষয়ক আলোচনার দাবিই হলো এটি। কেননা, হাদিসের ত্রুটি (علة) সম্পর্কে কেবল সম্ভাব্য উৎসসমূহ হতে হাদিসের বিভিন্ন সূত্রসমূহ (طرق) একত্রিত করার মাধ্যমেই অবগত হওয়া সম্ভব।

আমি সহীহ বুখারীর হাদিসগুলোর উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে 'দারুল ফিকর' থেকে প্রকাশিত তিন খণ্ডে নয়টি খণ্ডে বিন্যস্ত সংস্করণের খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেছি। এটি মূলত 'আমিরিয়্যাহ' সংস্করণের ফটোকপি সংস্করণ। এরপর খণ্ড ও পৃষ্ঠার তথ্যের পর উস্তাদ মুহাম্মাদ ফুয়াদ আব্দুল বাকির বিন্যাস অনুযায়ী 'ফাতহুল বারী' হতে হাদিস নম্বর উল্লেখ করেছি। কারণ আলেমদের নিকট এই দুটি সংস্করণই অধিক প্রচলিত।

একইভাবে আমি সহীহ মুসলিমের উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে ইস্তাম্বুল সংস্করণের খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেছি এবং এরপর উস্তাদ মুহাম্মাদ ফুয়াদ আব্দুল বাকির সংস্করণ হতে হাদিস নম্বর যোগ করেছি; কারণ এই সংস্করণ দুটি অধিক প্রচলিত।

আর সুনানে আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ ও তিরমিযীর হাদিসগুলোর ক্ষেত্রে আমি খণ্ড, পৃষ্ঠা ও হাদিস নম্বর উল্লেখ করেছি। উৎস নির্দেশের (تخريج) সময় আমি কিতাবগুলোকে লেখকদের মৃত্যু তারিখ অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি।

আমি এই গবেষণাপত্রে বর্ণিত হাদিসগুলোর মান (درجة) বর্ণনার চেষ্টা করেছি পূর্ববর্তী ইমামগণের বক্তব্যের আলোকে এবং প্রখ্যাত ইমামগণ কর্তৃক প্রণীত হাদিসের মূলনীতিসমূহের (قواعد) সহায়তায়।

সনদ (اسناد) যাদের উপর আবর্তিত হয়েছে এবং হাদিসে যারা অতিরিক্ত শব্দ যোগ করেছেন কিংবা হাদিসে ভুল (اخطأ) করেছেন, গবেষণাপত্রের টীকায় আমি সেই সমস্ত বরেণ্য ব্যক্তিদের জীবনী আলোচনা করেছি। আর অবশিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য আমি স্বতন্ত্র জীবনী প্রস্তুত করেছি এবং তা গবেষণাপত্রের শেষে একটি পরিশিষ্ট হিসেবে যুক্ত করেছি।
(খণ্ড: ১) আসারু ইলালিল হাদীস ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ১০)
أما الخاتمة فقد ضمنتها أهم النتائج.

بعد هذا العرض أرى من الواجب علي ان اعبر بالثناء الجميل عما يكنه صدري من عرفان بالفضل لكل من مد اليَّ يد العون أثناء اعداد هذه الرسالة سواء بارشاد او هداية لمصدر أو تشجيع أو دعاء. وأخص بالذكر استاذي الذي أشرف على اعداد هذه الرسالة شيخي العلامة المحقق الامام الدكتور هاشم جميل. فقد خصني بالكثير من الجهد والوقت، وأمدني بتوجيه متواصل، ولا أملك شيئا يوازي فضله هذا الا الدعاء له بالعافية والعمر المديد والعطاء الدائم في الخير وأن يكمل الله تعالى له طريق الوصول الى مرضاته، ويجزل له المثوبة.

كما أتوجه بالشكر الجزيل الى اساتذتي الأفاضل الذين تفضلوا بقبول مناقشة هذه الرسالة وتقويمها، وشرفوني بالنظر فيها، فجزاهم الله تعالى عني خير الجزاء.

وختاما فإن هذا هو جهدي المتواضع الذي ارجو من الله تعالى له القبول، فقد بذلت فيه ما وسعني من جهد، فان وفقت فيه فلله تعالى الفضل والمنه، وان كان غير ذلك فحسبي أني حاولت الوصول الى خدمة هذا الدين عن طريق الربط بين الفقه الاسلامي وبين علم من أهم علوم الحديث النبوي الشريف، والرب سبحانه وتعالى يثيب على القصد ويعفو عن الخطأ. فأسأله سبحانه وتعالى ان يجنبنا الزلل ويرشدنا الى الصواب ويوفقنا الى ما يحبه ويرضاه.

والحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد المبعوث رحمة للعالمين، وعلى آله وصحبه، والتابعين لهم باحسان الى يوم الدين.
পরিশিষ্টের ক্ষেত্রে, আমি এতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছি।

এই উপস্থাপনার পর, আমি আমার অন্তরে লালিত সেই কৃতজ্ঞতাবোধ ও উত্তম প্রশংসা জ্ঞাপন করাকে আমার দায়িত্ব মনে করি তাদের প্রতি, যারা এই গবেষণাপত্রটি তৈরির সময় আমাকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন; তা দিকনির্দেশনা দিয়ে হোক, কোনো উৎসের সন্ধান দিয়ে হোক, কিংবা উৎসাহ বা দোয়ার মাধ্যমে হোক। আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করছি আমার সেই শিক্ষকের নাম যিনি এই গবেষণাপত্রটি তৈরির কাজ তত্ত্বাবধান করেছেন; তিনি হলেন আমার শায়খ আল্লামা গবেষক (المحقق) ইমাম ডক্টর হাশেম জামিল। তিনি আমার জন্য প্রচুর সময় ও শ্রম ব্যয় করেছেন এবং আমাকে নিরবচ্ছিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। তাঁর এই অনুগ্রহের সমতুল্য প্রতিদান দেওয়ার মতো দোয়া ছাড়া আমার কাছে আর কিছুই নেই; আল্লাহ তাআলা তাঁকে সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু দান করুন, কল্যাণের পথে সর্বদা তাঁর দান জারি রাখুন, তাঁর সন্তুষ্টির পথে পৌঁছানোর পথকে আল্লাহ তাআলা পূর্ণতা দান করেন এবং তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন।

একইভাবে আমি আমার পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যারা এই গবেষণাপত্রটির পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের দায়িত্ব গ্রহণ করে আমাকে ধন্য করেছেন এবং এটি গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করেছেন; আল্লাহ তাআলা আমার পক্ষ থেকে তাঁদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

পরিশেষে, এটিই আমার বিনীত প্রচেষ্টা যা কবুল করার জন্য আমি আল্লাহ তাআলার কাছে আরজি জানাই। এতে আমি সাধ্যমতো শ্রম ব্যয় করেছি। যদি আমি এতে সফল হই, তবে তা কেবল আল্লাহ তাআলারই অনুগ্রহ ও কৃপা। আর যদি অন্যথা হয়, তবে আমার জন্য এটিই যথেষ্ট যে আমি ইসলামি ফিকহ এবং নববী হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখার মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে এই দ্বীনের খেদমত করার চেষ্টা করেছি। আর মহিমান্বিত প্রতিপালক নিয়তের ওপর সওয়াব প্রদান করেন এবং ভুলত্রুটি ক্ষমা করেন। আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের পদস্খলন থেকে রক্ষা করেন, সঠিক পথের দিশা দেন এবং আমাদের সেই কাজের তাওফিক দান করেন যা তিনি পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন।

সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর, যাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ পাঠানো হয়েছে, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের সবার ওপর।
(খণ্ড: ১) আসারু ইলালিল হাদীস ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ১১)
Conclusion

A suitable lexical definition adopted by the narrators to identify the word "cause" or "reason" is ailment because any hadith being explicitly sound might be refuted.

Unimously the cause is considered as an implicit factor. The narrators refer to the cause and admit that no cause otherwise is observed can be considered as a clear-cut restriction to define the sound hadith (Al-sahih) . Thus they include the "cause" to refer to the idiomatic meaning. It is the actual ، critical cause. In criticizing the hadith ، they use the "cause" to refer to the reason of AL-hadith ailment،explicit or implicit، critical or not which has its counterpart by the narrators.

The cause is defined idiomatically by following all the methods and by comparing AL-hadith contents and its series of narrators.

To spot out any defect in weak hadith needs precise approach parallel to the efforts exerted in evaluating the geniune hadith.

Singularity is not a cause by itself but might be a cause of certain effect. it helps in outlining the cause and underline the mistakes.

The fake like the coordinators، the deserted and the charged don't need any follow-up procedures because their singularity is enough to convict them.

If a weak hadith is accepted by the scientists (Scholars) ، it is a ccepted and followed without changing its identify ، i. e. ، into sound hadith.

This field of knowledge is like a scale to indicate the right from the wrong and the true from the fals.

Some hadiths can be crossed by acquentence.

Suspicion is not a cause in hadith but the scholars may check a word or term.

Enhancement of confidence is acceptable unless proved otherwise.

The causes in the content is the outcome of the scientists' conditions.Most of them are due to justification. It means that some of them depend on the cross reference basis rather than the singularity basis especially if the singularity depends on the problem or contradicts with a hadith narrated by a companion. Or،some scientists believe in depending on general rules or the behaviour of AL- Madina citizen on rather than singularity.

Thus،it is very important to encourage all studies which link different fields of AL- hadith sciences to jurisdication and its sources.Then، may Allah prays on his prophet Mohammed and on his relatives and companions.

 

‌‌الفصل الأول: ماهية العلة وقضايا أخرى تتعلق بها

وفيه ستة مباحث

 

‌‌المبحث الأول: تعريف العلة.

المبحث الثاني: نموذج تطبيقي للعلة.

المبحث الثالث: أسباب العلة.

المبحث الرابع: أقسام العلة باعتبار محلها وقدحها.

المبحث الخامس: ما تزول به العلة.

المبحث السادس: أهمية معرفة العلة.

المبحث الأول: تعريف العلة

وفيه مطلبان:

1-‌‌ المطلب الأول: تعريف العلة لغة.

2- المطلب الثاني: تعريف العلة اصطلاحا.

 

المطلب الأول: تعريف العلة لغة

عل - بلام مشددة مفتوحة -: متعد ولازم، نقول فيهما: عل يعل - بضم العين وكسرها - ومصدرهما: علا.

وأعله الله: أي: أصابه بعلة.

والعلة: المرض، وحدث يشغل صاحبه عن وجهه، كأن تلك العلة صارت شغلا ثانيا منعه من شغله الأول.

وعلله بالشي تعليلا، أي: لهاه به كما يعلل الصبي بشيء من الطعام عن اللبن (1)

قال ابن فارس: ((عل: أصول ثلاثة صحيحة:

أحدها: تكرار أو تكرير، والثاني عائق يعوق، والثالث: ضعف في الشيء:

فالأول العلل وهو الشربة الثانية، ويقال علل بعد نهل ويقال أعل القوم اذا شربت ابلهم عللا.

قال ابن الأعرابي في المثل: ما زيارتك ايانا الا سوم عالة أي: مثل الابل التي تعل. وانما قيل هذا لأنها اذا كرر عليها الشرب كان أقل كشربها الثاني.

--------------------------------------------

(1) مختار الصحاح: 451
উপসংহার

হাদিস বিশারদগণ 'ইল্লাত' বা 'কারণ' শব্দটি চিহ্নিত করার জন্য একটি উপযুক্ত আভিধানিক সংজ্ঞা গ্রহণ করেছেন যা হলো 'অসুস্থতা', কারণ বাহ্যিকভাবে সহিহ (صحيح) প্রতীয়মান হওয়া সত্ত্বেও যেকোনো হাদিস প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে।

সর্বসম্মতিক্রমে ক্রুটি (علة)-কে একটি অন্তর্নিহিত বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বর্ণনাকারীগণ ক্রুটি (علة)-র প্রতি ইঙ্গিত করেন এবং স্বীকার করেন যে, অন্য কোনো দৃশ্যমান কারণ পরিলক্ষিত না হওয়াকে সহিহ (صحيح) হাদিসের সংজ্ঞায় একটি সুনির্দিষ্ট শর্ত হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। এভাবে তারা পারিভাষিক অর্থ বুঝাতে 'ক্রুটি' (علة) শব্দটি অন্তর্ভুক্ত করেন। এটিই মূলত প্রকৃত ও সূক্ষ্ম ক্রুটি (علة)। হাদিস পর্যালোচনার ক্ষেত্রে তারা হাদিসের দোষ-ত্রুটির কারণ নির্দেশ করতে 'ক্রুটি' (علة) শব্দটি ব্যবহার করেন, তা প্রকাশ্য হোক বা অপ্রকাশ্য, সূক্ষ্ম হোক বা না হোক, যার সমপর্যায় বর্ণনাকারীদের নিকট বিদ্যমান রয়েছে।

হাদিসের সকল সনদ ও মতন (মূল পাঠ) তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে পারিভাষিকভাবে ক্রুটি (علة) সংজ্ঞায়িত করা হয়।

একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ত্রুটি শনাক্ত করার জন্য সহিহ (صحيح) হাদিস মূল্যায়নের প্রচেষ্টার অনুরূপ সুনির্দিষ্ট পদ্ধতির প্রয়োজন।

একক বর্ণনা (تفرد) নিজে থেকেই কোনো ক্রুটি (علة) নয়, তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট প্রভাবের কারণ হতে পারে। এটি ক্রুটি (علة) চিহ্নিত করতে এবং ভুলগুলো শনাক্ত করতে সহায়তা করে।

জাল বা বানোয়াট (موضوع), পরিত্যক্ত (متروك) এবং অভিযুক্ত (متهم) বর্ণনাকারীদের ক্ষেত্রে কোনো পর্যায়ক্রমিক অনুসন্ধানের প্রয়োজন নেই, কারণ তাদের একক বর্ণনা (تفرد)-ই তাদের অগ্রহণযোগ্য সাব্যস্ত করার জন্য যথেষ্ট।

যদি কোনো দুর্বল (ضعيف) হাদিস বিশেষজ্ঞ আলেমগণ কর্তৃক গৃহীত হয়, তবে তার মূল পরিচয় পরিবর্তন না করে অর্থাৎ সহিহ (صحيح) হাদিসে রূপান্তর না করেই তা গ্রহণ ও অনুসরণ করা হয়।

জ্ঞানের এই শাখাটি সত্য থেকে মিথ্যা এবং সঠিক থেকে ভুলের পার্থক্য নির্দেশ করার একটি মানদণ্ড স্বরূপ।

পরিচয়ের মাধ্যমে কিছু হাদিস বাতিল করা যেতে পারে।

সন্দেহ হাদিসের ক্ষেত্রে কোনো ক্রুটি (علة) নয়, তবে আলেমগণ কোনো শব্দ বা পরিভাষা যাচাই করতে পারেন।

নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি গ্রহণযোগ্য, যদি না অন্য কিছু প্রমাণিত হয়।

মতন বা মূল পাঠের ক্রুটি (علة) হলো বিশেষজ্ঞগণের নির্ধারিত শর্তাবলীর ফলাফল। এর বেশিরভাগই যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যার ওপর নির্ভরশীল। এর অর্থ হলো, এগুলোর মধ্যে কিছু একক বর্ণনার (تفرد) ভিত্তিতে নয় বরং তুলনামূলক যাচাইয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়, বিশেষ করে যদি সেই একক বর্ণনা (تفرد) কোনো সমস্যার ওপর নির্ভর করে অথবা কোনো সাহাবীর বর্ণিত হাদিসের সাথে সাংঘর্ষিক হয়। অথবা, কিছু বিশেষজ্ঞ একক বর্ণনার (تفرد) পরিবর্তে সাধারণ নীতিমালা বা মদিনাবাসীদের আমলের ওপর নির্ভর করতে পছন্দ করেন।

তাই হাদিস শাস্ত্রের বিভিন্ন শাখার সাথে ফিকহ ও এর উৎসসমূহের যোগসূত্র স্থাপনকারী সকল গবেষণাকে উৎসাহিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিশেষে, আল্লাহ তাঁর নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং সাহাবীগণের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

 

‌‌প্রথম অধ্যায়: ক্রুটি (علة)-র স্বরূপ এবং তৎসংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াবলী

এতে ছয়টি পরিচ্ছেদ রয়েছে

 

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: ক্রুটি (علة)-র সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ক্রুটি (علة)-র প্রায়োগিক নমুনা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ক্রুটি (علة)-র কারণসমূহ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: অবস্থান ও প্রভাবের ভিত্তিতে ক্রুটি (علة)-র প্রকারভেদ।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: যা দ্বারা ক্রুটি (علة) দূরীভূত হয়।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: ক্রুটি (علة) বিষয়ক জ্ঞানের গুরুত্ব।

প্রথম পরিচ্ছেদ: ক্রুটি (علة)-র সংজ্ঞা

এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

১-‌‌ প্রথম অনুচ্ছেদ: আভিধানিক অর্থে ক্রুটি (علة)-র সংজ্ঞা।

২- দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পারিভাষিক অর্থে ক্রুটি (علة)-র সংজ্ঞা।

 

প্রথম অনুচ্ছেদ: আভিধানিক অর্থে ক্রুটি (علة)-র সংজ্ঞা

'আল্লা' (عل) - লাম বর্ণে তাশদিদ ও জবরসহ - এটি সকর্মক ও অকর্মক উভয় ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত হয়। উভয় ক্ষেত্রে বলা হয়: 'আল্লা, ইয়াউল্লু' (عل يعل) - আইন বর্ণে পেশ এবং যেরসহ। এর মাসদার বা মূল ধাতু হলো 'আল্লা' (علا)।

আল্লাহ তাকে 'আআল্লাহু' (أعله الله) করেছেন অর্থাৎ তিনি তাকে অসুস্থতায় আক্রান্ত করেছেন।

এবং 'আল-ইল্লাহ' (العلة): এর অর্থ রোগ বা অসুস্থতা। এটি এমন এক ঘটনা যা ব্যক্তিকে তার মূল উদ্দেশ্য থেকে অন্য দিকে ব্যস্ত করে ফেলে, যেন সেই অসুস্থতাটি দ্বিতীয় কোনো ব্যস্ততা হয়ে দাঁড়ায় যা তাকে প্রথম কাজ থেকে বিরত রাখে।

এবং 'আল্লালাহু বিশ-শাইয়ি' (علله بالشئ), অর্থাৎ তাকে তা দিয়ে ভুলিয়ে রাখা বা সান্ত্বনা দেওয়া; যেমন শিশুটিকে দুধের পরিবর্তে অন্য খাবার দিয়ে সান্ত্বনা দেওয়া হয়। (১)

ইবনে ফারিস বলেন: (আইন-লাম (عل) মূলের তিনটি বিশুদ্ধ অর্থ রয়েছে:

প্রথমটি: কোনো কিছুর পুনরাবৃত্তি। দ্বিতীয়টি: এমন প্রতিবন্ধকতা যা বাধা প্রদান করে। তৃতীয়টি: কোনো কিছুর দুর্বলতা।

প্রথম অর্থটি হলো 'আল-ইলাল' (العلل), যার অর্থ দ্বিতীয়বার পান করা। বলা হয় 'আলাল' (علل) যা 'নাহাল' (نهل - প্রথমবার পান করা) এর পরে আসে। আবার বলা হয় 'আআল্লাল ক্বাউমু' (أعل القوم) যখন তাদের উটগুলো দ্বিতীয়বার পানি পান করে।

ইবনে আরাবী একটি প্রবাদে বলেছেন: আমাদের নিকট তোমার আগমন 'সাওমু আ-লাতিন' (سوم عالة) ছাড়া আর কিছুই নয়; অর্থাৎ সেই উটের মতো যা দ্বিতীয়বার পানি পান করে। এটি বলা হয় কারণ যখন পানি পানের পুনরাবৃত্তি করা হয়, তখন দ্বিতীয় বারের পান করা প্রথম বারের তুলনায় কম হয়।

--------------------------------------------

(১) মুখতারুস সিহাহ: ৪৫১
(খণ্ড: ১) আসারু ইলালিল হাদীস ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ১২)
والثاني: العائق يعوق؛ قال الخليل: العلة حدث يشغل صاحبه عن وجهه، ويقال: اعتله كذا أي اعتاقه، قال: فأعتله الدهر وللدهر علل.

والثالث: العلة المرض، وصاحبها معتل، قال ابن الاعرابي: عل المريض يعل فهو عليل)) (1)

والمعل: اسم مفعول من أعله: أنزل به علة فهو معل، يقولون: لا أعلك الله أي لا أصابك بعلة، والحديث الذي اكتشفت فيه علة قادحة هو معل لأنه ظهر أنه مصاب بتلك العلة (2) .

وبهذا يتضح أن أقرب المعاني اللغوية لمعنى العلة في اصطلاح المحدثين هو: المرض؛ وذلك لأن الحديث الذي ظاهره الصحة اذا أكتشف الناقد فيه علة قادحة فان ذلك يمنع من الحكم بصحته.

وقد أطلق بعض العلماء على الحديث ((المعل)) اسم: الحديث ((المعلول)) وأطلق بعضهم عليه اسم الحديث: ((المعلل)) .

وقد أعترض النووي على تسميته بـ ((المعلول)) وقال: ((هو لحن)) . (3)

وذلك لأنه مأخوذ من: أعله: يعله، فاسم المفعول منه: معل. مثل: أضره يضره، فاسم المفعول منه: مضر (4) .

وقد اعترض السيوطي على التسميتين؛ فأيد النووي في قوله: ان التسمية بـ (المعلول)) لحن، وقال: لأن اسم المفعول من أعل الرباعي لا يأتي على مفعول.

--------------------------------------------

(1) معجم مقاييس اللغة: 4/13-15.

(2) لسان العرب مادة ((علل)) .

(3) التقريب مع التدريب 1/251.

(4) شرح البيقونية في مصطلح الحديث لابن عثيمين 115.
দ্বিতীয়ত: প্রতিবন্ধকতা যা বাধা প্রদান করে; আল-খলিল বলেন: 'ইল্লাত' বা ত্রুটি (العلة) হলো এমন এক আপদ যা এর বাহককে তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত করে দেয়। বলা হয়ে থাকে: অমুক তাকে ব্যস্ত করে রেখেছে অর্থাৎ তাকে বাধা প্রদান করেছে। তিনি বলেন: মহাকাল তাকে বাধাগ্রস্ত করেছে, আর মহাকালের রয়েছে নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা (علل)।

তৃতীয়ত: ত্রুটি (العلة) হলো রোগ, আর এর বাহককে রোগাক্রান্ত (معتل) বলা হয়। ইবনুল আরাবি বলেন: রোগী অসুস্থ হয়ে পড়ল, সুতরাং সে অসুস্থ (عليل)। (১)

আর 'মুআল্ল' (المعل) হলো ‘আআল্লা’ ক্রিয়াপদ থেকে উৎপন্ন কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم مفعول): অর্থাৎ সে তাতে ত্রুটি সৃষ্টি করেছে, সুতরাং সে ত্রুটিযুক্ত (معل)। তারা বলে: 'আল্লাহ আপনাকে রোগাক্রান্ত না করুন' অর্থাৎ আপনাকে কোনো ত্রুটি বা ব্যাধিতে (علة) আক্রান্ত না করুন। আর যে হাদিসের মধ্যে কোনো ক্ষতিকারক ত্রুটি (علة قادحة) আবিষ্কৃত হয়, তা হলো ত্রুটিযুক্ত (معل); কারণ এটি প্রকাশিত হয়েছে যে হাদিসটি উক্ত ত্রুটি (علة) দ্বারা আক্রান্ত। (২)

এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় 'ইল্লাত' (العلة) শব্দের আভিধানিক অর্থগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিকটতর হলো: রোগ; এর কারণ হলো, যে হাদিসের বাহ্যিক অবস্থা বিশুদ্ধতা (الصحة) প্রকাশ করে, সমালোচক যদি তাতে কোনো ক্ষতিকারক ত্রুটি (علة قادحة) খুঁজে পান, তবে তা সেই হাদিসকে বিশুদ্ধ (صحته) হিসেবে গণ্য করতে বাধা দেয়।

কিছু আলেম 'মুআল্ল' (المعل) হাদিসকে 'মা'লুল' (المعلول) হাদিস এবং কেউ কেউ একে 'মুআল্লাল' (المعلل) হাদিস হিসেবে অভিহিত করেছেন।

ইমাম নববী একে 'মা'লুল' (المعلول) হিসেবে নামকরণ করার ব্যাপারে আপত্তি প্রকাশ করে বলেছেন: "এটি ভাষাগত ভুল (لحن)"। (৩)

এর কারণ হলো, এটি ‘আআল্লা-ইউইল্লু’ থেকে গৃহীত, ফলে এর কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم مفعول) হবে 'মুআল্ল' (معل)। যেমন: ‘আদাররা-ইউদিররু’ থেকে কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم مفعول) হলো 'মুদিরর' (مضر)। (৪)

ইমাম সুয়ূতী উভয় নামেই আপত্তি করেছেন; তিনি ইমাম নববীর এই বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন যে, 'মা'লুল' (المعلول) নামকরণ করা ভাষাগত ভুল (لحن)। তিনি বলেন: কারণ চার অক্ষরবিশিষ্ট (الرباعي) ক্রিয়ামূল ‘আআল্লা’ থেকে কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم مفعول) কখনো 'মাফউল' (مفعول) ওজনে আসে না।

--------------------------------------------

(১) মু'জাম মাকায়িসুল লুগাহ: ৪/১৩-১৫।

(২) লিসানুল আরব, ‘আইন-লাম-লাম’ (علل) মূলধাতু।

(৩) আত-তাকরীব মাআত তাদরীব ১/২৫১।

(৪) ইবনে উসাইমীন রচিত শারহুল বাইকুনিয়্যাহ ফী মুসতালাহিল হাদিস ১১৫।
(খণ্ড: ১) আসারু ইলালিল হাদীস ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ১৩)
ثم اعترض على التسمية بـ ((معلل)) فقال: الأجود فيه ((معل)) بلام واحدة؛ لأنه مفعول أعله قياسا، واما ((معلل)) فمفعول علل؛ وهو لغة بمعنى: ألهاه بالشيء وشغله، وليس هذا الفعل بمستعمل في كلامهم (1) .

 

‌‌المطلب الثاني: تعريف العلة اصطلاحا

عرفها الحافظ ابن الصلاح بقوله ((هي عبارة عن أسباب خفية غامضة قادحة فيه)) (2) .

وعرفها النووي بقوله: ((عبارة عن سبب غامض قادح مع أن الظاهر السلامة منه)) (3) .

وبهذا يتضح لنا أن العلة شيء خارج عن الجروح الموجهة الى رجال الاسناد؛ وذلك لأن ميدان التعليل انما هو الأحاديث التي ظاهرها الصحة، ولذلك يقول الحاكم: ((وانما يعلل الحديث من أوجه ليس للجرح فيها مدخل)) (4) .

ويقول ابن الصلاح: ((المعلل، هو الذي أطلع فيه على علة تقدح في صحته مع أن ظاهره السلامة منها، ويتطرق ذلك الى الاسناد الذي رجاله ثقات الجامع شروط الصحة من حيث الظاهر)) . (5)

وكل من جاء بعد ابن الصلاح وعرف المعل اشترط فيه خفاء العلة وكونها

--------------------------------------------

(1) تدريب الراوي 1/251 ، قال العراقي في شرح التبصرة 1/225: ((والأجود في تسمية المعل))

(2) علوم الحديث ص81.

(3) التقريب مع التدريب 1/252.

(4) معرفة علوم الحديث ص112.

(5) علوم الحديث ص81.
এরপর তিনি 'মুআল্লাল' (معلل) নামকরণের ওপর আপত্তি জানিয়েছেন এবং বলেছেন: এক্ষেত্রে একটি 'লাম' সহকারে 'মুআল' (معل) শব্দটিই অধিকতর উত্তম; কারণ এটি ব্যাকরণগত নিয়মানুযায়ী 'আআল্লা' (أعله) ক্রিয়ার কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم المفعول)। পক্ষান্তরে 'মুআল্লাল' (معلل) শব্দটি 'আল্লালা' (علل) ক্রিয়ার কর্মবাচক বিশেষ্য; আর আভিধানিক অর্থে এর অর্থ হলো: কোনো কিছু দিয়ে কাউকে ভুলিয়ে রাখা বা ব্যস্ত রাখা। অথচ এই ক্রিয়াটি তাঁদের (হাদিস বিশারদদের) পরিভাষায় ব্যবহৃত নয় (১)।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পরিভাষায় ত্রুটি (علة)-এর সংজ্ঞা

হাফিজ ইবনুস সালাহ এর সংজ্ঞা প্রদান করতে গিয়ে বলেছেন: "এটি হলো এমন কিছু সূক্ষ্ম ও অস্পষ্ট কারণের সমষ্টি যা এতে (হাদিসে) ত্রুটি বা দোষ (قادحة) তৈরি করে" (২)।

ইমাম নববী এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন: "এটি হলো এমন এক অস্পষ্ট ও দোষযুক্ত (قادح) কারণ, অথচ বাহ্যিকভাবে হাদিসটি তা থেকে মুক্ত বলে প্রতীয়মান হয়" (৩)।

এর মাধ্যমে আমাদের নিকট স্পষ্ট হয় যে, ত্রুটি (علة) হলো বর্ণনাকারীদের ওপর আরোপিত জেরা (جرح) অপেক্ষা ভিন্ন কিছু; কারণ ত্রুটি অন্বেষণের ক্ষেত্র হলো কেবল সেইসব হাদিস যেগুলোর বাহ্যিক দিক বিশুদ্ধ (صحة)। একারণেই আল-হাকিম বলেন: "হাদিসের ত্রুটি (تعليل) এমন সব দিক থেকে বের করা হয় যেখানে জেরা (جرح)-এর কোনো প্রবেশাধিকার নেই" (৪)।

ইবনুস সালাহ বলেন: "ত্রুটিযুক্ত (معلل) হলো সেই হাদিস যাতে এমন কোনো ত্রুটি (علة) পরিলক্ষিত হয় যা এর বিশুদ্ধতার (صحة) ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হয়, যদিও বাহ্যিকভাবে এটি তা থেকে মুক্ত বলে মনে হয়। এটি এমন সনদের (إسناد) ক্ষেত্রে ঘটে যার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات) এবং যা বাহ্যিকভাবে বিশুদ্ধতার (صحة) শর্তসমূহ পূরণ করে" (৫)।

ইবনুস সালাহ-এর পরবর্তী যারা ত্রুটিযুক্ত (معل) হাদিসের সংজ্ঞা দিয়েছেন, তারা সকলেই এতে ত্রুটি (علة)-র অস্পষ্টতা এবং সেটি... হওয়ার শর্তারোপ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) তাদরীবুর রাভী ১/২৫১; আল-ইরাকি শারহুত তাবসিরা ১/২২৫-এ বলেছেন: "মুআল (المعل) নামকরণ করাই অধিকতর উত্তম।"

(২) উলূমুল হাদিস, পৃষ্ঠা ৮১।

(৩) আত-তাক্বরীব মাআত তাদরীব ১/২৫২।

(৪) মারিফাতু উলূমিল হাদিস, পৃষ্ঠা ১১২।

(৫) উলূমুল হাদিস, পৃষ্ঠা ৮১।
(খণ্ড: ১) আসারু ইলালিল হাদীস ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ১৪)
قادحة: كالطيبي (1) والعراقي (2) والسيوطي (3) وأبي الفيض محمد بن محمد بن علي بن فارس (4) وغيرهم.

لكننا مع ذلك نجد بعض العلماء يطلق العلة ويريد بها ما هو أعم من ذلك؛ حيث يدخل فيها العلة الظاهرة، والعلة غير الظاهرة؛ فهذا الحافظ ابن الصلاح يقول: ((ثم اعلم انه قد يطلق اسم العلة على غير ما ذكرناه من باقي الأسباب القادحة في الحديث المخرجة له من حال الصحة الى حال الضعف المانعة من العمل به على ما هو مقتضى لفظ العلة؛ وكذلك تجد في كتب العلل الكثير من الجرح بالكذب والغفلة وسوء الحفظ ونحو ذلك من أنواع الجرح، وسمى الترمذي النسخ علة (5) من علل الحديث ثم ان بعضهم أطلق اسم العلة على ما ليس بقادح من وجوه الخلاف نحو ارسال من أرسل الحديث الذي أسنده الثقة الضابط)) (6) .

وقال الحافظ ابن حجر: ((والعلة أعم من أن تكون قادحة أو غير قادحة خفية أو واضحة)) (7) .

--------------------------------------------

(1) الخلاصة ص70.

(2) شرح التبصرة 1/226

(3) التدريب 1/252.

(4) جواهر الأصول ص48

(5) وكذلك ابن أبي حاتم كما يعلم ذلك من صنيعه في علله. أنظر حديث رقم (114) و (246) ولم يرتض العراقي هذا الاطلاق؛ وذلك أن الترمذي ان أراد النسخ علة في العمل فهو كلام صحيح مقبول أما ان أراد انه علة تقدح في صحة الحديث أو في صحة نقله ذلك غير مقبول لأن في كتب الصحيح احاديث كثيرة صحيحة منسوخة. انظر شرح التبصرة والتذكرة 1/239.

(6) علوم الحديث ص84.

(7) النكت 2/771.
ক্ষতিকারক (قادحة): যেমন আল-তৈয়্যিবী (১), আল-ইরাকী (২), আল-সুয়ুতী (৩) এবং আবুল ফয়েজ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন ফারিস (৪) ও অন্যান্যরা।

তবে এর সাথে আমরা দেখতে পাই যে, কিছু আলেম ত্রুটি (العلة) শব্দটি এমন অর্থে ব্যবহার করেন যা এর চেয়েও ব্যাপক; যেখানে এর অন্তর্ভুক্ত হয় প্রকাশ্য ত্রুটি (العلة الظاهرة) এবং অপ্রকাশ্য ত্রুটি (العلة غير الظاهرة)। হাফিজ ইবনুস সালাহ বলেন: ((অতঃপর জেনে রাখুন যে, কখনো কখনো ত্রুটি (العلة) শব্দটি আমরা যা উল্লেখ করেছি তা ব্যতীত হাদিসের অন্যান্য ক্ষতিকারক (القادحة) কারণসমূহের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয়, যা হাদিসকে সহিহ (الصحة) অবস্থা থেকে দুর্বল (الضعف) অবস্থায় নিয়ে যায় এবং এর ওপর আমল করতে বাধা প্রদান করে, যা মূলত ত্রুটি (العلة) শব্দের আভিধানিক অর্থের দাবি। একইভাবে আপনি ত্রুটি (العلل) বিষয়ক গ্রন্থসমূহে মিথ্যা (الكذب), অসতর্কতা (الغفلة), মুখস্থশক্তির দুর্বলতা (سوء الحفظ) এবং এ জাতীয় অন্যান্য সমালোচনা (الجرح)-এর আধিক্য পাবেন। ইমাম তিরমিজি রহিতকরণকে (النسخ) হাদিসের ত্রুটিসমূহের (علل) একটি ত্রুটি (علة) হিসেবে অভিহিত করেছেন (৫)। পুনরায় তাদের কেউ কেউ ত্রুটি (العلة) শব্দটি এমন মতভেদের ক্ষেত্রেও ব্যবহার করেছেন যা ক্ষতিকারক নয় (ليس بقادح); যেমন সেই ব্যক্তির মুরসাল করা (ارسال), যিনি এমন হাদিস মুরসাল হিসেবে বর্ণনা করেছেন (أرسل) যা একজন নির্ভরযোগ্য (الثقة) ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন (الضابط) বর্ণনাকারী সনদসহ বর্ণনা করেছেন)) (৬)।

হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: ((এবং ত্রুটি (العلة) বিষয়টি এর চেয়েও ব্যাপক যে তা ক্ষতিকারক (قادحة) হবে নাকি অ-ক্ষতিকারক (غير قادحة), সূক্ষ্ম (خفية) হবে নাকি স্পষ্ট (واضحة) হবে)) (৭)।

--------------------------------------------

(১) আল-খুলাসাহ, পৃষ্ঠা ৭০।

(২) শারহুত তাবসিরাহ, ১/২২৬।

(৩) আত-তাদরীব, ১/২৫২।

(৪) জাওয়াহিরুল উসুল, পৃষ্ঠা ৪৮।

(৫) অনুরূপ ইবনে আবি হাতিমও, যেমনটি তার রচিত 'ইলাল' গ্রন্থে তার কর্মপদ্ধতি থেকে জানা যায়। দেখুন হাদিস নং ১১৪ ও ২৪৬। আল-ইরাকী এই ঢালাও প্রয়োগ পছন্দ করেননি; কারণ তিরমিজি যদি রহিতকরণকে (النسخ) আমলের ক্ষেত্রে একটি ত্রুটি (علة) হিসেবে বুঝিয়ে থাকেন, তবে তা সঠিক ও গ্রহণযোগ্য কথা। কিন্তু তিনি যদি এটি বুঝিয়ে থাকেন যে, এটি এমন একটি ত্রুটি (علة) যা হাদিসের সহিহ (صحة) হওয়াকে বা এর বর্ণনার বিশুদ্ধতাকে ক্ষুণ্ণ করে, তবে তা গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা সহিহ গ্রন্থসমূহে এমন অনেক সহিহ হাদিস রয়েছে যা রহিত। দেখুন শারহুত তাবসিরাহ ওয়াত তাজকিরাহ, ১/২৩৯।

(৬) উলূমুল হাদিস, পৃষ্ঠা ৮৪।

(৭) আন-নুয়াকাত, ২/৭৭১।
(খণ্ড: ১) আসারু ইলালিল হাদীস ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ১৫)
وقد ذكر الصنعاني ما يدل على أن تقييد العلة بكونها خفية قادحة هو عنده قيد أغلبي، حيث قال: ((وكأن هذا التعريف أغلبي للعلة، والا فانه سيأتي أنهم يعللون بأشياء ظاهرة غير خفية ولا غامضة)) (1) .

أقول:

ومن ينظر في كتب الشروح والتخريج والعلل يجد اطلاق لفظ العلة والمعلول والمعل على كثير من الأحاديث التي فيها جرح ظاهر وقد قمت باستقراء كتاب علل ابن ابي حاتم وأشرت على الأحاديث التي أعلت بالجرح الظاهر فوجدتها كثيرة العدد يزيد مجموعها عن مائتين وسبع وأربعين حديثا فقد أعل بالانقطاع سبعة وعشرين حديثا، هي الأحاديث التالية: ((23، 24، 26، 57، 74، 87، 108، 119، 127، 132، 140، 143، 164، 214، 550، 594، 622، 724، 753، 765، 903، 905، 1220، 1259، 1352، 1357، 1371) .

وقد أعل بضعف الراوي مائة وثلاثة وأربعين حديثا هي: (36، 53، 73، 97، 98، 99، 100، 102، 105، 106، 109، 112، 113، 125، 137، 146، 151، 176، 200، 208، 217، 250، 281، 285، 309، 321، 324، 336، 361، 382، 421، 449، 500، 507، 515، 548، 561، 565، 609، 641، 645، 727، 735، 743، 757، 766، 783، 854، 855، 899، 906، 911، 954، 959، 988، 1053، 1061، 1095، 1156، 1189، 1208، 1228، 1235، 1241، 1270، 1285، 1300، 1446، 1473، 1496، 1505، 1515، 1516، 1529، 1575، 1629، 1637، 1657، 1733، 1738، 1764، 1814، 1848، 1852، 1859، 1860، 1892، 1922، 1924، 1936، 1978، 1998،

--------------------------------------------

(1) توضيح الأفكار 2/27.
আস-সানআনি এমন কিছু উল্লেখ করেছেন যা নির্দেশ করে যে, ত্রুটি (علة)-কে গোপন (خفية) ও ক্ষতিকারক (قادحة) হওয়ার শর্তে সীমাবদ্ধ করা তাঁর নিকট একটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্ত। তিনি বলেন: "যেন এই সংজ্ঞাটি ত্রুটির (علة) ক্ষেত্রে অধিকাংশ অবস্থার প্রেক্ষিতে দেওয়া হয়েছে; অন্যথায় সামনে আসবে যে, তাঁরা এমন কিছু সুস্পষ্ট বিষয়ের মাধ্যমেও হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করেন (يعللون) যা গোপন বা অস্পষ্ট নয়।" (১) .

আমি বলি:

যারা ব্যাখ্যাগ্রন্থ, তাখরিজ এবং ইলাল বিষয়ক গ্রন্থসমূহ পর্যবেক্ষণ করবেন, তারা অনেক হাদিসের ক্ষেত্রে ত্রুটি (علة), ত্রুটিযুক্ত (معلول) এবং ত্রুটিযুক্ত (معل) শব্দের প্রয়োগ দেখতে পাবেন যেগুলোতে সুস্পষ্ট সমালোচনা (جرح ظاهر) বিদ্যমান। আমি ইবনে আবি হাতিমের কিতাবুল ইলাল পর্যালোচনা করেছি এবং যেসব হাদিসকে সুস্পষ্ট সমালোচনার (جرح) কারণে ত্রুটিযুক্ত (أعل) বলা হয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করেছি। আমি সেগুলোকে সংখ্যায় অনেক পেয়েছি, যার মোট পরিমাণ দুইশত সাতচল্লিশটিরও বেশি। এর মধ্যে বিচ্ছিন্নতার (انقطاع) কারণে সাতাশটি হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত (أعل) সাব্যস্ত করা হয়েছে, হাদিসগুলো নিম্নরূপ: ((২৩, ২৪, ২৬, ৫৭, ৭৪, ৮৭, ১০৮, ১১৯, ১২৭, ১৩২, ১৪০, ১৪৩, ১৬৪, ২১৪, ৫৫০, ৫৯৪, ৬২২, ৭২৪, ৭৫৩, ৭৬৫, ৯০৩, ৯০৫, ১২২০, ১২৫৯, ১৩৫২, ১৩৫৭, ১৩৭১) .

আর বর্ণনাকারীর দুর্বলতার (ضعف الراوي) কারণে একশত তেতাল্লিশটি হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত (أعل) সাব্যস্ত করা হয়েছে, সেগুলো হলো: (৩৬, ৫৩, ৭৩, ৯৭, ৯৮, ৯৯, ১০০, ১০২, ১০৫, ১০৬, ১০৯, ১১২, ১১৩, ১২৫, ১৩৭, ১৪৬, ১৫১, ১৭৬, ২০০, ২০৮, ২১৭, ২৫০, ২৮১, ২৮৫, ৩০৯, ৩২১, ৩২৪, ৩৩৬, ৩৬১, ৩৮২, ৪২১, ৪৪৯, ৫০০, ৫০৭, ৫১৫, ৫৪৮, ৫৬১, ৫৬৫, ৬০৯, ৬৪১, ৬৪৫, ৭২৭, ৭৩৫, ৭৪৩, ৭৫৭, ৭৬৬, ৭৮৩, ৮৫৪, ৮৫৫, ৮৯৯, ৯০৬, ৯১১, ৯৫৪, ৯৫৯, ৯৮৮, ১০৫৩, ১০৬১, ১০৯৫, ১১৫৬, ১১৮৯, ১২০৮, ১২২৮, ১২৩৫, ১২৪১, ১২৭০, ১২৮৫, ১৩০০, ১৪৪৬, ১৪৭৩, ১৪৯৬, ১৫০৫, ১৫১৫, ১৫১৬, ১৫২৯, ১৫৭৫, ১৬২৯, ১৬৩৭, ১৬৫৭, ১৭৩৩, ১৭৩৮, ১৭৬৪, ১৮১৪, ১৮৪৮, ১৮৫২, ১৮৫৯, ১৮৬০, ১৮৯২, ১৯২২, ১৯২৪, ১৯৩৬, ১৯৭৮, ১৯৯৮,

--------------------------------------------

(১) তাওদিহুল আফকার ২/২৭।
(খণ্ড: ১) আসারু ইলালিল হাদীস ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ১৬)
2016، 2017، 2031، 2035، 2047، 2087، 2101، 2108، 2130، 2142، 2178، 2213، 2235، 2247، 2250، 2259، 2270، 2279، 2292، 2293، 2308، 2346، 2352، 2364، 2367، 2385، 2400، 2405، 2435، 2441، 2458، 2460، 2463، 2473، 2475، 2479، 2480، 2490، 2533، 2541، 2551، 2581، 2616، 2643، 2663، 2724، 2759، 2763، 2800، 2811، 2818)) .

وقد أعل بالجهالة ثمانية وستين حديثا هي: (89، 129، 149، 180، 314، 342، 345، 356، 417، 441، 459، 476، 701، 839، 1059، 1070، 1071، 1088، 1108، 1124، 1152، 1257، 1262، 1311، 1346، 1484، 1485، 1487، 1556، 1579، 1581، 1638، 1689، 1711، 1714، 1760، 1798، 1812، 1829، 1831، 1832، 1838، 1866، 1878، 1882، 1889، 1966، 2009، 2014، 2151، 2179، 2207، 2286، 2321، 2333، 2349، 2354، 2382، 2383، 2443، 2451، 2477، 2591، 2597، 2618، 2670، 2678، 2735) .

وقد أعل بالاختلاط خمسة أحاديث هي: (279، 465، 569، 1233، 2220) .

وقد أعل بالتدليس أربعة أحاديث هي: (2119، 2255، 2275، 2579) .

وكذلك نجد في كلام كثير من جهابذة العلم اطلاق العلة على الجرح الظاهر كما في نصب الراية للزيلعي، الجزء الثالث ص 85 و 239 و 358 و 370 و 287 و 431. والجزء الرابع ص 47.

وفي كلام ابن القيم كما في زاد المعاد 1 /177 و 244.
২০১৬, ২০১৭, ২০৩১, ২০৩৫, ২০৪৭, ২০৮৭, ২১০১, ২১০৮, ২১৩০, ২১৪২, ২১৭৮, ২২১৩, ২২৩৫, ২২৪৭, ২২৫০, ২২৫৯, ২২৭০, ২২৭৯, ২২৯২, ২২৯৩, ২৩০৮, ২৩৪৬, ২৩৫২, ২৩৬৪, ২৩৬৭, ২৩৮৫, ২৪০০, ২৪০৫, ২৪৩৫, ২৪৪১, ২৪৫৮, ২৪৬০, ২৪৬৩, ২৪৭৩, ২৪৭৫, ২৪৭৯, ২৪৮০, ২৪৯০, ২৫৩৩, ২৫৪১, ২৫৫১, ২৫৮১, ২৬১৬, ২৬৪৩, ২৬৬৩, ২৭২৪, ২৭৫৯, ২৭৬৩, ২৮০০, ২৮১১, ২৮১৮))।

এবং অজ্ঞাতাবস্থার (جهالة) কারণে আটষট্টিটি হাদিসকে ত্রুটিপূর্ণ (أعل) সাব্যস্ত করা হয়েছে, সেগুলো হলো: (৮৯, ১২৯, ১৪৯, ১৮০, ৩১৪, ৩৪২, ৩৪৫, ৩৫৬, ৪১৭, ৪৪১, ৪৫৯, ৪৭৬, ৭০১, ৮৩৯, ১০৫৯, ১০৭০, ১০৭১, ১০৮৮, ১১০৮, ১১২৪, ১১৫২, ১২৫৭, ১২৬২, ১৩১১, ১৩৪৬, ১৪৮৪, ১৪৮৫, ১৪৮৭, ১৫৫৬, ১৫৭৯, ১৫৮১, ১৬৩৮, ১৬৮৯, ১৭১১, ১৭১৪, ১৭৬০, ১৭৯৮, ১৮১২, ১৮২৯, ১৮৩১, ১৮৩২, ১৮৩৮, ১৮৬৬, ১৮৭৮, ১৮৮২, ১৮৮৯, ১৯৬৬, ২০০৯, ২০১৪, ২১৫১, ২১৭৯, ২২০৭, ২২৮৬, ২৩২১, ২৩৩৩, ২৩৪৯, ২৩৫৪, ২৩৮২, ২৩Check, ২৪৪৩, ২৪৫১, ২৪৭৭, ২৫৯১, ২৫৯৭, ২৬১৮, ২৬৭০, ২৬৭৮, ২৭৩৫)।

এবং স্মৃতিভ্রমের (اختلاط) কারণে পাঁচটি হাদিসকে ত্রুটিপূর্ণ (أعل) সাব্যস্ত করা হয়েছে, সেগুলো হলো: (২৭৯, ৪৬৫, ৫৬৯, ১২৩৩, ২২২০)।

এবং তাদলিসের (تدليس) কারণে চারটি হাদিসকে ত্রুটিপূর্ণ (أعل) সাব্যস্ত করা হয়েছে, সেগুলো হলো: (২১১৯, ২২৫৫, ২২৭৫, ২৫৭৯)।

একইভাবে আমরা ইলমের বহু প্রাজ্ঞ বিশারদদের বক্তব্যে সুস্পষ্ট সমালোচনার (جرح) ক্ষেত্রে ‘ত্রুটি’ (علة) শব্দটির প্রয়োগ দেখতে পাই; যেমনটি যায়লায়ি রচিত নাসবুর রায়াহ গ্রন্থের তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮৫, ২৩৯, ৩৫৮, ৩৭০, ২৮৭ ও ৪৩১ এবং চতুর্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৭-এ বর্ণিত হয়েছে।

এবং ইবনুল কাইয়্যিমের বক্তব্যেও তা পাওয়া যায়, যেমনটি যাদুল মাআদ গ্রন্থের ১/১৭৭ এবং ২৪৪ পৃষ্ঠায় রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আসারু ইলালিল হাদীস ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ১৭)
وكذلك وقع في كلام الحافظ ابن حجر: اعلال بعض الأحاديث بالعلة الظاهرة كما في التلخيص الحبير ج1/25 و 62 و 67 و 88 وج2/47، وفتح الباري ج1 /83 وج2/446 وأنظر سبل السلام 1/69 و 72 و 75.

وقد أشرت فيما سبق الى أن الصنعاني قد عد تقييد العلة في التعريف بكونها خفية قادحة قيدا أغلبيا.. وقد قال الحافظ ابن حجر (1) ((ان الضعف في الراوي علة في الخبر والانقطاع في الاستاد علة في الخبر، وعنعنة المدلس علة في الخبر وجهالة حال الراوي علة في الخبر)) . وفي حوار مع استاذي العلامة الدكتور هاشم جميل قد تنبهت الى امر آخر، وهو: ان المحدثين اذا تكلموا عن العلة باعتبار ان خلو الحديث منها يعد قيدا لا بد منه لتعريف الحديث الصحيح. فانهم في هذه الحالة يطلقون العلة ويريدون بها المعنى الاصطلاحي الخاص، وهو: السبب الخفي القادح. واذا تكلموا في نقد الحديث بشكل عام فانهم في هذه الحالة يطلقون العلة ويريدون بها: السبب الذي يعل الحديث به: سواء كان خفيا أو ظاهرا قادحا أو غير قادح.

وهذا توجد له نظائر عند المحدثين، منها: المنقطع (2) : فهو بالمعنى الخاص: ما حصل في اسناده انقطاع في موضع أو في أكثر من موضع لا على التوالي.

هذا المصطلح نفسه يستعمله المحدثون أيضا استعمالا عاما فيريدون: كل ما حصل فيه انقطاع في أي موضع في السند كان، فيشمل:

المعلق (3) ، وهو: الذي حصل فيه انقطاع في اول السند.

--------------------------------------------

(1) النكت 1/407

(2) أنظر تعريفه علوم الحديث ص51 وما بعدها.

(3) أنظر تعريفه علوم الحديث ص20.
তেমনিভাবে হাফেজ ইবনে হাজার-এর বক্তব্যেও প্রকাশ পেয়েছে: কিছু হাদিসকে প্রকাশ্য ত্রুটি (العلة الظاهرة) দ্বারা ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করা (إعلال), যেমনটি আল-তালি্খিস আল-হাবির (১/২৫, ৬২, ৬৭, ৮৮) এবং ফাতহুল বারি (১/৮৩, ২/৪৪৬)-তে বর্ণিত হয়েছে; আরও দেখুন সুবুলুস সালাম (১/৬৯, ৭২, ৭৫)।

আমি ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করেছি যে, আস-সানআনি ত্রুটি (العلة)-কে সংজ্ঞায়িত করার ক্ষেত্রে একে ‘সূক্ষ্ম (خفية) ও ক্ষতিকারক (قادحة)’ হওয়ার সাথে সীমাবদ্ধ করাকে অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্ত হিসেবে গণ্য করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার (১) বলেছেন, “বর্ণনাকারীর (الراوي) মধ্যে দুর্বলতা (الضعف) থাকা সংবাদের (الخبر) একটি ত্রুটি (علة), সনদের (الاسناد) মধ্যে বিচ্ছিন্নতা (الانقطاع) সংবাদের (الخبر) একটি ত্রুটি (علة), মুদাল্লিস (المدلس) বর্ণনাকারীর ‘আনআনাহ’ (عنعنة) সংবাদের (الخبر) একটি ত্রুটি (علة), এবং বর্ণনাকারীর (الراوي) অবস্থার অজ্ঞতা (جهالة حال) সংবাদের (الخبر) একটি ত্রুটি (علة)।” আমার উস্তাদ আল্লামা ড. হাশিম জামিল-এর সাথে এক আলোচনায় আমি আরেকটি বিষয়ের প্রতি মনোযোগী হয়েছি, তা হলো: মুহাদ্দিসগণ যখন ত্রুটি (العلة) সম্পর্কে আলোচনা করেন এই বিবেচনায় যে, হাদিসটি তা থেকে মুক্ত হওয়া সহীহ (الصحيح) হাদিসের সংজ্ঞার জন্য একটি অপরিহার্য শর্ত; তখন তারা এই ক্ষেত্রে ‘ত্রুটি’ (العلة) শব্দটি প্রয়োগ করেন এবং এর দ্বারা নির্দিষ্ট পারিভাষিক অর্থ উদ্দেশ্য নেন, আর তা হলো: সূক্ষ্ম ক্ষতিকারক কারণ (السبب الخفي القادح)। আর যখন তারা সাধারণভাবে হাদিসের সমালোচনা নিয়ে আলোচনা করেন, তখন তারা ‘ত্রুটি’ (العلة) শব্দটি প্রয়োগ করেন এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য নেন: এমন কারণ যার দ্বারা হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত (يعل) সাব্যস্ত করা হয়, চাই তা সূক্ষ্ম (خفية) হোক বা প্রকাশ্য (ظاهرة), ক্ষতিকারক (قادحة) হোক বা অ-ক্ষতিকারক (غير قادحة)।

মুহাদ্দিসগণের নিকট এর আরও অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে, যেমন: বিচ্ছিন্ন (المنقطع) (২): এটি বিশেষ পারিভাষিক অর্থে হলো: যার সনদে (اسناده) এক বা একাধিক স্থানে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) ঘটেছে, তবে তা ধারাবাহিকভাবে নয়।

এই একই পরিভাষাটি মুহাদ্দিসগণ সাধারণ অর্থেও ব্যবহার করেন, যার মাধ্যমে তারা বুঝাতে চান: সনদের (السند) যেকোনো স্থানে যা কিছু বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) হিসেবে পাওয়া যায়। ফলে এটি অন্তর্ভুক্ত করে:

মুআল্লাক (المعلق) (৩), যা হলো: যার সনদের (السند) শুরুতে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) ঘটেছে।

--------------------------------------------

(1) আন-নুকাত (১/৪০৭)

(2) এর সংজ্ঞা দেখুন উলুমুল হাদিস পৃ. ৫১ এবং পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে।

(3) এর সংজ্ঞা দেখুন উলুমুল হাদিস পৃ. ২০।
(খণ্ড: ১) আসারু ইলালিল হাদীস ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ১৮)
والمرسل (1) ، وهو: الذي حصل فيه انقطاع في آخر السند.

والمعضل (2) ، وهو: الذي حصل فيه انقطاع في أثناء السند باثنين فأكثر على التوالي. ويشمل أيضا المنقطع بالمعنى الخاص الذي ذكرناه (3) .

وهكذا نرى أن مصطلح المنقطع يستعمله المحدثون استعمالا خاصا في المنقطع الاصطلاحي، ويستعملونه استعمالا عاما في كل ما حصل فيه انقطاع فيشمل المنقطع الاصطلاحي، والمعلق، والمرسل، والمعضل. وعلى هذا المنوال جرى استعمالهم لمصطلح العلة؛ فهم يستعملونه بالمعنى الاصطلاحي الخاص، وهو: السبب الخفي القادح، ويستعملونه استعمالا عاما، ويريدون به: كل ما يعل الحديث به فيشمل العلة بالمعنى الاصطلاحي، والعلة الظاهرة، والعلة غير القادحة.

 

‌‌المبحث الثاني: نموذج تطبيقي للعلة

قد أشرت فيما سبق: الى أن المعنى الاصطلاحي الخاص للعلة انما يشمل العلة القادحة الخفية التي يكون الظاهر السلامة منها. وهذه تختص برواية الثقات. أما العلة بالمعنى الأعم فانها تتعلق بالرواية عموما، سواء أكان الراوي ثقة أم ضعيفا وسواء كذلك أكان الوهم بالاسناد أو بالمتن ومن الملاحظ: أن الخطأ في رواية الثقة أشد غموضا من الخطأ في رواية الضعيف لأن الأصل في رواية الثقة الصواب والخطأ طاريء -

--------------------------------------------

(1) أنظر تعريفه علوم الحديث ص47.

(2) أنظر تعريفه علوم الحديث ص54.

(3) أنظر التدريب 1/207 وما بعدها ، شرح البيقونية في مصطلح الحديث 98. وكذلك المرسل يستعملونه استعمالا عاما في كل انقطاع في السند ويستعملونه استعمالا خاصا ويريدون به ما أضافه التابعي الى النبي صلى الله عليه وسلم.
এবং মুরসাল (المرسل) (১); তা হলো: যার সনদের (السند) শেষ প্রান্তে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) ঘটেছে।

এবং মু'দাল (المعضل) (২); তা হলো: যার সনদের (السند) মধ্যবর্তী স্থানে ধারাবাহিকভাবে দুই বা ততোধিক বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) ঘটেছে। এটি সেই মুনকাতিকেও (المنقطع) অন্তর্ভুক্ত করে যা আমরা বিশেষ অর্থে উল্লেখ করেছি (৩)।

এভাবে আমরা দেখতে পাই যে, মুহাদ্দিসগণ মুনকাতি (المنقطع) পরিভাষাটি পারিভাষিক মুনকাতির (المنقطع الاصطلاحي) ক্ষেত্রে বিশেষ অর্থে ব্যবহার করেন এবং যে কোনো ধরনের বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) বুঝাতে একে সাধারণ অর্থেও ব্যবহার করেন; ফলে তা পারিভাষিক মুনকাতি (المنقطع الاصطلاحي), মুয়াল্লাক (المعلق), মুরসাল (المرسل) এবং মু’দালকে (المعضل) অন্তর্ভুক্ত করে। একইভাবে তাঁরা ইল্লাত (العلة) পরিভাষাটিও ব্যবহার করেন; তাঁরা একে বিশেষ পারিভাষিক অর্থে ব্যবহার করেন, যা হলো: সূক্ষ্ম দোষযুক্ত কারণ (السبب الخفي القادح)। আবার তাঁরা একে সাধারণ অর্থেও ব্যবহার করেন এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য নেন: হাদিসের যে কোনো ত্রুটি, ফলে এর মধ্যে পারিভাষিক ইল্লাত (العلة), প্রকাশ্য ইল্লাত (العلة الظاهرة) এবং অ-দোষযুক্ত ইল্লাতও (العلة غير القادحة) অন্তর্ভুক্ত হয়।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইল্লাতের (العلة) একটি প্রায়োগিক উদাহরণ

আমি ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করেছি যে: ইল্লাতের (العلة) বিশেষ পারিভাষিক অর্থ কেবল সেই সূক্ষ্ম দোষযুক্ত ইল্লাতকে (العلة القادحة الخفية) অন্তর্ভুক্ত করে যা আপাতদৃষ্টিতে ত্রুটিমুক্ত মনে হয়। এটি নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীদের বর্ণনার সাথে সংশ্লিষ্ট। পক্ষান্তরে, ব্যাপক অর্থে ইল্লাত (العلة) সাধারণ বর্ণনার সাথে সংশ্লিষ্ট, বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য (ثقة) হোন বা দুর্বল (ضعيف) হোন এবং ভুলটি সনদে (الاسناد) হোক বা মতনে (المتن)। লক্ষণীয় বিষয় হলো: নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর বর্ণনায় ভুল হওয়াটা দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারীর বর্ণনার ভুলের চেয়ে অধিক অস্পষ্ট, কারণ নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর বর্ণনার মূল ভিত্তি হলো সঠিক হওয়া, আর ভুল হওয়াটা কেবল আকস্মিক বিষয়—

--------------------------------------------

(১) দেখুন এর সংজ্ঞা উলুমুল হাদিস পৃ. ৪৭।

(২) দেখুন এর সংজ্ঞা উলুমুল হাদিস পৃ. ৫৪।

(৩) দেখুন তাদরীব ১/২০৭ এবং পরবর্তী অংশ, শরহুল বাইকুনিয়্যাহ ফি মুসতালাহিল হাদিস ৯৮। অনুরূপভাবে তাঁরা মুরসাল (المرسل) শব্দটিকে সনদের (السند) প্রতিটি বিচ্ছিন্নতার (انقطاع) ক্ষেত্রে সাধারণ অর্থে ব্যবহার করেন এবং তাঁরা একে বিশেষ অর্থেও ব্যবহার করেন যার দ্বারা তাঁরা উদ্দেশ্য নেন যা তাবেয়ি (التابعي) সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে সম্বন্ধ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আসারু ইলালিল হাদীস ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ১৯)
فالقلب من حيث الأساس - مطمئن الى رواية الثقة. وليس كذلك رواية الضعيف، فالقلب غير مطمئن اساسا اليها فالأصل الحكم عليها بالخطأ والصواب طاريء: ومع ذلك فان معرفة الخطأ في رواية الضعيف ليس بالأمر السهل وذلك لأن الحكم عليه بالضعف أساسا يحتاج الى متابعة روايته ومقارنتها برواية الثقات، فان كثرت مخالفته لهم حكم بضعفه. وأيضا فان الضعف درجات؛ والضعف في الراوي اذا لم يكن شديدا فان بالامكان الاستفادة من بعض أحاديثه، وذلك لأن خطأ الضعيف غير مقطوع به، وانما قد يصيب وقد يخطيء؛ كذلك من الضروري أن نعرف: بأن معنى قولهم فلان ضعيف أنه اذا تفرد بشيء عن شيخه لا يحتج به لغلبة احتمال الخطأ عليه وعدم اطمئنان القلب اليه وليس معنى هذا أن كل ما يرويه ضعيف وأنه مخطيء في كل ما يرويه؛ لذلك فان من أحاديثه ما يصح وما يضعف ويعرف الخطأ والصواب بالبحث والموازنة.

وهذا يفهم من صنيع الشيخين حيث رويا عن جماعة ممن خف ضبطهم لأنهما علما أن هذه الأحاديث قد صحت (1) ، وذلك بالموازنة والمقارنة مع أحاديث غيرهم من الثقات، فلما توبعوا على أحاديثهم، وتبين لصاحب الصحيح صحتها أخرجها في المتابعات مقرونة باحاديث الثقات.

وقد يخرج له صاحب الصحيح اذا قامت قرينة أو أحاط روايته ظرف يرجح صحتها: كعناية الراوي الخفيف الضبط برواية شيخ معين أو ملازمته له، فيخرج صاحب الصحيح روايته عن ذلك الشيخ في الأصول وليس في المتابعات فقط. وهذا

--------------------------------------------

(1) أنظر كلام الحافظ ابن حجر في هدي الساري حول انتقاء الشيخين الصفحات التالية ((338 و 406 و 414 و 424 و 442 و 444 و 449)) . وأنظر نصب الراية 1/341 ، وصيانة صحيح مسلم ص94 ، والعواصم والقواصم ج3/96 وما بعدها وشرح صحيح مسلم للنووي 1/18 ، والتنكيل ج1/77.
মূলত অন্তর নির্ভরযোগ্য (الثقة) ব্যক্তির বর্ণনার ব্যাপারে আশ্বস্ত থাকে। কিন্তু দুর্বল (الضعيف) ব্যক্তির বর্ণনার বিষয়টি এমন নয়, কারণ অন্তর মূলত সেটির ব্যাপারে আশ্বস্ত হয় না। ফলে এর মূল নীতি হলো একে ভুল হিসেবে গণ্য করা, আর সঠিক হওয়াটি একটি আকস্মিক বিষয়। তবুও দুর্বল (الضعيف) ব্যক্তির বর্ণনার ভুল উদ্ঘাটন করা সহজ কাজ নয়। কারণ কাউকে মূলত দুর্বল (الضعف) হিসেবে সাব্যস্ত করার জন্য তার বর্ণিত হাদিসসমূহ পর্যবেক্ষণ (متابعة) করা এবং সেগুলোকে নির্ভরযোগ্য (الثقات) ব্যক্তিদের বর্ণনার সাথে তুলনা করার প্রয়োজন হয়। যদি তাদের সাথে তার বিরোধের আধিক্য পরিলক্ষিত হয়, তবে তাকে দুর্বল (بضعفه) হিসেবে গণ্য করা হয়। এছাড়া দুর্বলতার (الضعف) বিভিন্ন স্তর রয়েছে। বর্ণনাকারীর দুর্বলতা (الضعف) যদি তীব্র না হয়, তবে তার কিছু হাদিস থেকে উপকৃত হওয়া সম্ভব। কেননা দুর্বল (الضعيف) ব্যক্তির ভুল হওয়াটা সুনিশ্চিত নয়; বরং তিনি কখনো সঠিক বর্ণনা করেন আবার কখনো ভুল করেন। একইভাবে এটি জানা আবশ্যক যে, কোনো বর্ণনাকারী সম্পর্কে যখন বলা হয় যে 'অমুক ব্যক্তি দুর্বল (ضعيف)', এর অর্থ হলো তিনি যদি তার উস্তাদ থেকে এককভাবে (تفرد) কিছু বর্ণনা করেন, তবে ভুলের প্রবল সম্ভাবনা এবং অন্তরের আশ্বস্ত না হওয়ার কারণে তা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য (لا يحتج به) হয় না। এর মানে এই নয় যে, তার বর্ণিত সবকিছুই দুর্বল (ضعيف) অথবা তিনি তার প্রতিটি বর্ণনায় ভুল করেন। তাই তার বর্ণিত হাদিসগুলোর মধ্যে কিছু সহিহ (يصح) হয় এবং কিছু দুর্বল (يضعف) হয়; আর গবেষণা ও তুলনামূলক বিশ্লেষণের মাধ্যমে সঠিক ও ভুল নিরূপণ করা হয়।

এটি শায়খাইনের কর্মপদ্ধতি থেকেও বোঝা যায়। তাঁরা এমন একদল বর্ণনাকারী থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন যাদের মুখস্থ করার শক্তি বা সতর্কতা (ضبط) কিছুটা শিথিল ছিল। কারণ তাঁরা জানতেন যে এই হাদিসগুলো সহিহ (صحت) (১)। আর এটি অন্যান্য নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীদের হাদিসের সাথে তুলনা ও যাচাইয়ের মাধ্যমেই সম্ভব হয়েছে। সুতরাং যখন তাদের হাদিসের সমর্থনে অন্যান্য বর্ণনা পাওয়া গেছে এবং সহিহ গ্রন্থের সংকলকের নিকট সেগুলোর বিশুদ্ধতা স্পষ্ট হয়েছে, তখন তাঁরা সেগুলো নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীদের হাদিসের সাথে সংশ্লিষ্ট করে মুতাবিয়াত (المتابعات) হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

কখনও কখনও সহিহ গ্রন্থের সংকলক কোনো বর্ণনাকারীর হাদিস গ্রহণ করেন যদি কোনো প্রমাণ (قرينة) বিদ্যমান থাকে অথবা তার বর্ণনার পারিপার্শ্বিক অবস্থা তার বিশুদ্ধতাকে প্রাধান্য দেয়: যেমন—শিথিল হিফজ বা সতর্কতা (الضبط) সম্পন্ন কোনো বর্ণনাকারী যদি বিশেষ কোনো উস্তাদের বর্ণনার প্রতি অত্যন্ত যত্নবান হন অথবা তার দীর্ঘদিনের শিষ্য হন, তবে সহিহ গ্রন্থের সংকলক সেই উস্তাদ থেকে তার বর্ণনাটি মূল অংশ বা উসুল (الأصول) হিসেবে গ্রহণ করেন, শুধুমাত্র মুতাবিয়াত (المتابعات) হিসেবে নয়। এটি

--------------------------------------------

(১) শায়খাইনের হাদিস নির্বাচনের বিষয়ে হাফিজ ইবনে হাজারের বক্তব্য দেখুন হাদি আস-সারি গ্রন্থের নিম্নোক্ত পৃষ্ঠাগুলোতে: ((৩৩৮, ৪০৬, ৪১৪, ৪২৪, ৪৪২, ৪৪৪ এবং ৪৪৯))। আরও দেখুন নাসবুর রায়াহ ১/৩৪১, সিয়ানাতু সহিহ মুসলিম পৃষ্ঠা ৯৪, আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম খণ্ড ৩/৯৬ ও পরবর্তী অংশ, ইমাম নববী রচিত শারহু সহিহ মুসলিম ১/১৮ এবং আত-তানকিল খণ্ড ১/৭৭।
(খণ্ড: ১) আসারু ইলালিল হাদীস ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২০)
يحتاج الى جهد كبير، وتمييز دقيق بين الأحاديث ليستفاد مما يصح منها.

ومن أبرز النماذج الدالة على ذلك كله: حماد بن سلمة:

فهو حماد بن سلمة بن دينار البصري؛ ثقة له أوهام.

قال أحمد: هو أعلم الناس بحديث خاله حميد الطويل. وقال ابن معين: هو أعلم الناس بثابت - يعني ثابت البناني (1) .

وقال الحافظ في التقريب: ثقة عابد، أثبت الناس في ثابت - تغير حفظه بأخرة (2) .

اذن فحماد بن سلمة في أول أمره ثقة له أوهام؛ وهذا التعبير يشير الى خفة في الضبط لكن خفة الضبط تنجبر بطول الملازمة للشيخ وشدة العناية بحديثه. وحماد كما ذكرنا - كثير الملازمة لثابت البناني، شديد العناية بحديثه، اذن فما حدث به حماد قبل - اختلاطه- عن ثابت يعد من الحديث الصحيح. وحديثه عن غيره من قبيل الحسن. ثم تغير حماد لما كبر فساء حفظه. فكان حديثه في هذه المرحلة ضعيفا.

اذا عرفنا هذا لننظر ماذا فعل الشيخان بحديث حماد بن سلمة:

أما البخاري فقد أخرج له في التأريخ، لكن ترك الحديث عنه في الصحيح.

وأما مسلم فقد غربل حديثه، وميز منه أحاديث حدث بها قبل الاختلاط،

ثم قسم هذه الأحاديث الى قسمين:

القسم الأول: الأحاديث التي حدث بها حماد عن ثابت، وهذه أخرجها مسلم في الصحيح أصولا محتجاً بها.

--------------------------------------------

(1) تهذيب التهذيب 3/11 وما بعدها ، الميزان 1/590 وما بعدها.

(2) التقريب 1/197.
এটি একটি বিশাল প্রচেষ্টার এবং হাদিসসমূহের মাঝে সূক্ষ্ম পার্থক্যের দাবি রাখে, যাতে এগুলোর মধ্য থেকে যা সহিহ (صحيح) তা থেকে উপকৃত হওয়া যায়।

এই সবকিছুর একটি অন্যতম উজ্জ্বল উদাহরণ হলো: হাম্মাদ বিন সালামাহ:

তিনি হলেন হাম্মাদ বিন সালামাহ বিন দিনার আল-বাসরি; তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), তবে তাঁর মাঝে কিছুটা ভ্রান্তি (أوهام) রয়েছে।

ইমাম আহমাদ বলেছেন: তিনি তাঁর মামা হুমাইদ আত-তাবিলের হাদিস সম্পর্কে মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী। ইবনে মাঈন বলেছেন: তিনি সাবিত—অর্থাৎ সাবিত আল-বুনানি (১)—সম্পর্কে মানুষের মাঝে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী।

হাফিজ (ইবনে হাজার) আত-তাকরীব-এ বলেছেন: নির্ভরযোগ্য (ثقة), ইবাদতগুজার, সাবিতের বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি মানুষের মাঝে সবচেয়ে সুদৃঢ় (أثبت)—জীবনের শেষভাগে তাঁর স্মৃতিশক্তি পরিবর্তিত (تغير حفظه) হয়ে গিয়েছিল (২)।

সুতরাং হাম্মাদ বিন সালামাহ তাঁর শুরুর জীবনে নির্ভরযোগ্য (ثقة) ছিলেন এবং তাঁর মাঝে কিছু ভ্রান্তি (أوهام) ছিল; এই পরিভাষাটি স্মৃতির দুর্বলতার (خفة في الضبط) দিকে ইঙ্গিত করে, তবে শাইখের সাথে দীর্ঘ সময় অবস্থান এবং তাঁর হাদিসের প্রতি অত্যধিক গুরুত্ব প্রদানের কারণে স্মৃতির এই দুর্বলতা দূরীভূত হয়ে যায়। আর হাম্মাদ যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি—সাবিত আল-বুনানির দীর্ঘ সময়ের সাথী ছিলেন এবং তাঁর হাদিসের প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন, তাই হাম্মাদ তাঁর স্মৃতিবিভ্রম (اختلاط)-এর আগে সাবিত থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা সহিহ (صحيح) হাদিস হিসেবে গণ্য হবে। আর অন্যদের থেকে তাঁর বর্ণনাগুলো হাসান (حسن) পর্যায়ের। এরপর হাম্মাদ যখন বৃদ্ধ হলেন তখন তাঁর স্মৃতিশক্তির পরিবর্তন ঘটে এবং তাঁর মুখস্থশক্তি খারাপ হয়ে যায়। ফলে এই পর্যায়ের তাঁর হাদিসগুলো ছিল দুর্বল (ضعيف)।

আমরা যদি এটি বুঝতে পারি, তবে আসুন দেখি শাইখাইন হাম্মাদ বিন সালামাহ-এর হাদিস নিয়ে কী করেছেন:

ইমাম বুখারি তাঁর বর্ণনা আত-তারিখ-এ গ্রহণ করেছেন, কিন্তু তাঁর সহিহ গ্রন্থে তাঁর থেকে হাদিস গ্রহণ করা বর্জন করেছেন।

আর ইমাম মুসলিম তাঁর হাদিসগুলোকে যাচাই-বাছাই করেছেন এবং তাঁর সেই হাদিসগুলোকে পৃথক করেছেন যেগুলো তিনি স্মৃতিবিভ্রম (اختلاط)-এর আগে বর্ণনা করেছিলেন,

এরপর তিনি এই হাদিসগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন:

প্রথম ভাগ: ঐ সকল হাদিস যা হাম্মাদ সাবিত থেকে বর্ণনা করেছেন, এগুলো ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে মূল (أصول) হাদিস হিসেবে এবং দলিলযোগ্য (محتجاً بها) হিসেবে সংকলন করেছেন।

--------------------------------------------

(১) তাহযিব আত-তাহযিব ৩/১১ এবং পরবর্তী অংশ, আল-মিযান ১/৫৯০ এবং পরবর্তী অংশ।

(২) আত-তাকরীব ১/১৯৭।
(খণ্ড: ১) আসারু ইলালিল হাদীস ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২১)
القسم الثاني: الأحاديث التي حدث بها عن غير ثابت - وهذه لم يخرجها مسلم في الأصول. وانما أخرجها في الشواهد.

يقول الذهبي: احتج مسلم بحماد بن سلمة في أحاديث عدة في الأصول. وتحايده البخاري.

ويوضح ما أجمله الذهبي هنا كلام نقله الحافظ ابن حجر عن البيهقي يتحدث فيه عن حماد بن سلمة، قال البيهقي: ((أحد أئمة المسلمين الا أنه لما كبر ساء حفظه فلذا تركه البخاري، وأما مسلم فاجتهد واخرج من حديثه عن ثابت ما سمع قبل تغيره، وما سوى حديثه عن ثابت - لا يبلغ اثني عشر حديثا- أخرجها في الشواهد)) (1)

وكذلك اسماعيل بن أبي أويس فهو صدوق أخطأ في أحاديث من حفظه (2) ، فقد روى عنه الشيخان مما علما أنه لم يخطيء فيه واحتجا به الا أنهما لم يكثرا من تخريج حديثه ولم يخرج له البخاري مما تفرد به سوى حديثين مما علم أنه قد حفظه، وأما مسلم فقد أخرج عنه أقل مما أخرج البخاري، وغالب رواية البخاري عنه في أحاديث موطأ مالك فهو عالم بأمره اذ أنه ابن أخت الامام مالك وهو متابع فيما رواه عن مالك حيث أن رواة الموطأ كثيرون (3) وموطأ مالك عند البخاري عن جماعة من الرواة. وقال الحافظ ابن حجر: ((وروينا في مناقب البخاري بسند صحيح أن

--------------------------------------------

(1) ميزان الاعتدال 1/590 وما بعدها، تقريب التهذيب 1/197، تهذيب التهذيب 3/11، الكواكب النيرات 460.

(2) تقريب التهذيب 1/71

(3) وقد عد الاستاذ عبد الوهاب عبد اللطيف في مقدمته لموطأ مالك رواية محمد بن الحسن الشيباني ص 16-19 النسخ المشهورة للموطأ فبلغت ستة عشر نسخة
দ্বিতীয় বিভাগ: যে হাদিসগুলো তিনি সাবিত ব্যতীত অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন - এবং ইমাম মুসলিম এগুলো 'উসুল' (الأصول) হিসেবে সংকলন করেননি। বরং তিনি এগুলো 'শাওয়াাহিদ' (الشواهد) হিসেবে সংকলন করেছেন।

ইমাম যাহাবী বলেন: ইমাম মুসলিম হাম্মাদ ইবনে সালামাহ-এর বর্ণনা দ্বারা 'উসুল' (الأصول) অধ্যায়ে বেশ কিছু হাদিসে দলিল গ্রহণ (احتج) করেছেন। তবে ইমাম বুখারী তা পরিহার করেছেন।

ইমাম যাহাবী এখানে যা সংক্ষেপে বলেছেন, হাফিজ ইবনে হাজার কর্তৃক ইমাম বায়হাকী থেকে বর্ণিত একটি বক্তব্যের মাধ্যমে তা স্পষ্ট হয়, যেখানে তিনি হাম্মাদ ইবনে সালামাহ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন। বায়হাকী বলেন: "তিনি মুসলিমদের অন্যতম ইমাম (أئمة), তবে বার্ধক্যে উপনীত হওয়ার পর তাঁর স্মৃতিশক্তি দুর্বল (ساء حفظه) হয়ে পড়েছিল, তাই ইমাম বুখারী তাঁকে পরিত্যাগ করেছেন। আর ইমাম মুসলিমের ক্ষেত্রে তিনি ইজতিহাদ (اجتهد) করেছেন এবং সাবিত থেকে বর্ণিত তাঁর সেই হাদিসগুলোই গ্রহণ করেছেন যা তিনি স্মৃতিশক্তি পরিবর্তনের আগে শুনেছিলেন। আর সাবিত থেকে বর্ণিত হাদিসগুলো ছাড়া - যা সংখ্যায় বারোটির বেশি নয় - সেগুলো তিনি 'শাওয়াাহিদ' (الشواهد) হিসেবে সংকলন করেছেন।" (১)

একইভাবে ইসমাইল ইবনে আবি উওয়াইস; তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে নিজের স্মৃতি থেকে বর্ণিত কিছু হাদিসে তিনি ভুল করেছেন (أخطأ) (২), শাইখায়ন (বুখারী ও মুসলিম) তাঁর থেকে এমন বর্ণনা গ্রহণ করেছেন যেগুলোতে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন যে তিনি ভুল করেননি এবং তাঁরা তাঁর মাধ্যমে দলিল গ্রহণ (احتجا) করেছেন। তবে তাঁরা তাঁর থেকে অধিক পরিমাণে হাদিস বর্ণনা (تخريج) করেননি। ইমাম বুখারী তাঁর সেই একক (تفرد) বর্ণনাগুলোর মধ্যে মাত্র দুটি হাদিস গ্রহণ করেছেন যেগুলোর ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে বর্ণনাকারী তা মুখস্থ রেখেছেন। আর ইমাম মুসলিম তাঁর থেকে বুখারীর তুলনায় আরও কম হাদিস বর্ণনা করেছেন। বুখারীর অধিকাংশ বর্ণনা তাঁর থেকে মুওয়াত্ত্বা মালিক-এর হাদিসসমূহের অন্তর্ভুক্ত। তিনি তাঁর অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন, কারণ তিনি ইমাম মালিকের ভাগ্নে। আর ইমাম মালিক থেকে তিনি যা বর্ণনা করেছেন তাতে তিনি 'মুতাবি' (متابع) বা সমর্থিত বর্ণনাকারী হিসেবে গণ্য, যেহেতু মুওয়াত্ত্বা-এর বর্ণনাকারী অনেক (৩) এবং ইমাম বুখারীর কাছে মুওয়াত্ত্বা মালিক একদল বর্ণনাকারীর সূত্রে পৌঁছেছে। হাফিজ ইবনে হাজার বলেন: "আমরা সহিহ (صحيح) সনদে (بسند) ইমাম বুখারীর মানাকিব গ্রন্থে বর্ণনা পেয়েছি যে...

--------------------------------------------

(১) মিজানুল ইতিদাল ১/৫৯০ এবং পরবর্তী অংশ, তাকরিবুত তাহযিব ১/১৯৭, তাহযিবুত তাহযিব ৩/১১, আল-কাওয়াকিবুস নাইয়্যিরাত ৪৬০।

(২) তাকরিবুত তাহযিব ১/৭১

(৩) উস্তাদ আব্দুল ওয়াহহাব আব্দুল লতিফ মুওয়াত্ত্বা মালিক-এর ভূমিকায় মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানীর বর্ণনা (পৃষ্ঠা ১৬-১৯) মুওয়াত্ত্বা-এর প্রসিদ্ধ সংস্করণগুলো গণনা করেছেন, যা সংখ্যায় ১৬টি।
(খণ্ড: ১) আসারু ইলালিল হাদীস ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২২)
اسماعيل أخرج له أصوله وأذن له أن ينتقي منهاو أن يعلم له ما يحدث به ليحدث به ويعرض عما سواه وهو مشعر بأن ما أخرجه البخاري عنه هو من صحيح حديثه لأنه كتب من أصوله)) (1)

بعد هذا نذكر نموذجا لما أعل بوهم الثقة فيه؛ وهو النموذج الآتي:

روى شعبة بن الحجاج، عن سلمة بن كهيل، عن حجر أبي العنبس، عن علقمة بن وائل أن النبي صلى الله عليه وسلم قرأ: ((غير المغضوب عليهم ولا الضالين، فقال: آمين، وخفض بها صوته)) (2)

قال أبو عيسى الترمذي: ((وسمعت محمداً يقول: حديث سفيان أصح من حديث شعبة في هذا؛ وأخطأ شعبة في مواضع من هذا الحديث: فقال: عن حجر أبي العنبس وانما هو حجر بن عنبس ويكنى أبا السكن. وزاد فيه: عن علقمة بن وائل وليس فيه عن علقمة، وانما هو عن حجر بن عنبس عن وائل بن حجر. وقال: وخفض بها صوته، وانما

--------------------------------------------

(1) هدي الساري 390 وانظر تهذيب التهذيب 1/310 وما بعدها ونصب الراية 1/341 وما بعدها.

(2) هذه الراوية ذكرها الترمذي 2/28 تعليقا ، ورواه موصولا من حديث سفيان عن سلمة برقم ((248)) ، وقد أخرجه الدارقطني 1/334 وقال: ((كذا قال شعبة وأخفى بها صوته ويقال أنه وهم فيه لأن سفيان الثوري ومحمد بن سلمة بن كهيل وغيرهما رووه عن سلمة فقالوا: رفع صوته بآمين وهو الصواب)) . وقال الحافظ في التلخيص 1/252 ((وقد رجحت رواية سفيان بمتابعة اثنين له بخلاف شعبة فلذلك جزم النقاد بأن روايته أصح)) وقد أخرجه أحمد 4/316 ، والدار مي 1/284 ، وأبو داود (932) ، والنسائي 2/245 ، والبيهقي 2/57 ، والدارقطني 1/334 من طريق سفيان. وأخرجه ابن أبي شيبة 1/299 ، وأبو داود (933) ، والترمذي (249) من طريق العلاء بن صالح ، والطبراني 22/113 من طريق محمد بن سلمة؛ ثلاثتهم عن سلمة بن كهيل عن حجر بن عنبس عن وائل ولفظ رواية سفيان ((يمد بها صوته)) وعند أبي داود والطبراني ((يرفع بها صوته)) ولفظ العلاء بن صالح ((فجهر بآمين)) . وقد صححه ابن حجر في التلخيص 1/252.
ইসমাইল তার মূল পাণ্ডুলিপিগুলো তার (ইমাম বুখারীর) নিকট পেশ করেছিলেন এবং তিনি তাকে সেখান থেকে নির্বাচন করার অনুমতি দিয়েছিলেন এবং সে যা বর্ণনা করবে তা চিহ্নিত করে দিয়েছিলেন, যাতে সে সেগুলোই বর্ণনা করে এবং অন্যগুলো বর্জন করে। এটি নির্দেশ করে যে, বুখারী তার থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা তার সঠিক (صحيح) হাদিসের অন্তর্ভুক্ত, কারণ তিনি তার মূল পাণ্ডুলিপি থেকে লিপিবদ্ধ করেছিলেন। (১)

এর পর আমরা এমন একটি উদাহরণ উল্লেখ করছি যেখানে একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর বিভ্রমের (وهم) কারণে হাদিসটিকে ত্রুটিযুক্ত (أعل) সাব্যস্ত করা হয়েছে; উদাহরণটি নিম্নরূপ:

শু'বাহ বিন হাজ্জাজ, সালামাহ বিন কুহাইল থেকে, তিনি হুজর আবু আল-আনবাস থেকে, তিনি আলকামা বিন ওয়াইল থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাঠ করলেন: "গাইরিল মাগদুবি আলাইহিম ওয়ালাদ-দাল্লীন", অতঃপর তিনি বললেন: "আমীন" এবং এতে নিজের আওয়াজ নিচু করলেন। (২)

আবু ঈসা আল-তিরমিজি বলেন: "আমি মুহাম্মদকে বলতে শুনেছি: এই বিষয়ে সুফিয়ানের হাদিস শু'বার হাদিসের চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ (أصح); এবং শু'বাহ এই হাদিসের কয়েকটি স্থানে ভুল করেছেন। তিনি বলেছেন: 'হুজর আবু আল-আনবাস থেকে', অথচ তিনি হলেন হুজর বিন আনবাস এবং তার উপনাম আবুস সাকান। আর তিনি এতে 'আলকামা বিন ওয়াইল থেকে' অংশটি বৃদ্ধি করেছেন, অথচ এতে আলকামা নেই; বরং এটি হুজর বিন আনবাস, ওয়াইল বিন হুজর থেকে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি বলেছেন: 'তিনি আওয়াজ নিচু করলেন', অথচ...

--------------------------------------------

(১) হাদি আস-সারি ৩৯০; এবং দেখুন তাহজিব আত-তাহজিব ১/৩১০ এবং পরবর্তী অংশ; নাসব আর-রায়া ১/৩৪১ এবং পরবর্তী অংশ।

(২) এই বর্ণনাটি তিরমিজি ২/২৮ পৃষ্ঠায় মন্তব্য (تعليقا) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি সুফিয়ান থেকে সালামাহর সূত্রে এটি সংযুক্ত (موصولا) সনদে ২৪৮ নম্বর হাদিস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দারাকুতনি এটি ১/৩৩৪ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "শু'বাহ এভাবেই বলেছেন যে তিনি এতে আওয়াজ অত্যন্ত নিচু করেছেন। বলা হয় যে এটি তার বিভ্রম (وهم), কারণ সুফিয়ান সাওরি, মুহাম্মদ বিন সালামাহ বিন কুহাইল এবং অন্যরা সালামাহ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা বলেছেন: তিনি আমীন বলে আওয়াজ উচ্চ করেছেন এবং এটিই সঠিক (الصواب)।" হাফেজ আত-তালখিস ১/২৫২ পৃষ্ঠায় বলেছেন: "শু'বার বর্ণনার বিপরীতে সুফিয়ানের বর্ণনার সপক্ষে দুইজনের সমর্থন (متابعة) থাকায় তা অগ্রাধিকার পেয়েছে, এই কারণে সমালোচকগণ (النقاد) নিশ্চিত করেছেন যে তার বর্ণনাটিই অধিক বিশুদ্ধ (أصح)।" এটি আহমদ ৪/৩১৬, দারেমি ১/২৮৪, আবু দাউদ (৯৩২), নাসায়ি ২/২৪৫, বায়হাকি ২/৫৭ এবং দারাকুতনি ১/৩৩৪ সুফিয়ানের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইবনে আবি শাইবাহ ১/২৯৯, আবু দাউদ (৯৩৩) এবং তিরমিজি (২৪৯) আল-আলা বিন সালেহ-এর সূত্রে এবং তাবারানি ২২/১১৩ মুহাম্মদ বিন সালামাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা তিনজনই সালামাহ বিন কুহাইল থেকে, তিনি হুজর বিন আনবাস থেকে, তিনি ওয়াইল থেকে বর্ণনা করেছেন। সুফিয়ানের বর্ণনার শব্দ হলো "তিনি আওয়াজ দীর্ঘ করলেন", আর আবু দাউদ ও তাবারানির নিকট রয়েছে "তিনি আওয়াজ উচ্চ করলেন" এবং আল-আলা বিন সালেহ-এর বর্ণনায় রয়েছে "তিনি উচ্চস্বরে (جهر) আমীন বললেন।" ইবনে হাজার আত-তালখিস ১/২৫২ পৃষ্ঠায় একে বিশুদ্ধ (صححه) বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আসারু ইলালিল হাদীস ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২৩)
هو: ومد بها صوته)) .

قال أبو عيسى: ((وسألت أبا زرعة عن هذا الحديث فقال حديث سفيان في هذا أصح من حديث شعبة قال وروى العلاء بن صالح الأسدي عن سلمة بن كهيل نحو رواية سفيان)) . ثم ساق الترمذي متابعة العلاء لسفيان (1) فهذا مثال الحديث المعل بالمعنى الاصطلاحي الخاص، وذلك لأن الذي ينظر الى رواية شعبة بن الحجاج رحمه الله لا يظن أن فيها علة لأنها رواية جاءت بسند متصل برواية الثقات المعروفين لا سيما وهو من رواية شعبة المعروف بالتشدد في رواية الأحاديث النبوية لكن عرفت علته بجمع الطرق والموازنة والنظر الدقيق في أسانيده ومتونه.

بعد هذا أذكر نموذجا آخر للحديث المعل بخطأ الراوي الضعيف، وهذا بناء على المعنى العام للعلة وهو النموذج الآتي:

روى ابن أبي ليلى (2) ، عن سلمة بن كهيل، عن حجية بن عدي، عن علي أنه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يقول: ((آمين حين يفرغ من قراءة فاتحة الكتاب)) .

قال أبو حاتم الرازي: ((هذا خطأ عندي انما هو سلمة عن حجر أبي العنبس عن وائل بن حجر عن النبي صلى الله عليه وسلم) (3) .

فقد روى ابن أبي ليلى هذا الحديث ومحمد بن أبي ليلى ضعيف لسوء حفظه، وقد أخطأ في الاسناد وبين ابن أبي حاتم هذا الخطأ.

--------------------------------------------

(1) برقم (249) .

(2) هو محمد بن عبد الرحمن بن أبي ليلى الأنصاري الكوفي القاضي أبو عبد الرحمن ، صدوق سيء الحفظ جدا. تقريب التهذيب 2/184 ، تهذيب التهذيب 9/301.

(3) علل الحديث ج1/93 رقم 251.
তিনি বলেন: "এবং এর দ্বারা তিনি তার কণ্ঠস্বর দীর্ঘ করলেন।"

আবু ঈসা (তিরমিযী) বলেন: "আমি আবু যুরআকে এই হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন, এই বিষয়ে সুফিয়ানের হাদিসটি শু'বার হাদিসের চেয়ে অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح)। তিনি আরও বলেন, আলা ইবন সালেহ আল-আসাদি, সালামাহ ইবন কুহাইল থেকে সুফিয়ানের বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।" অতঃপর তিরমিযী সুফিয়ানের বর্ণনার সমর্থনে আলার সমর্থনমূলক বর্ণনা (متابعة) (১) উল্লেখ করেছেন। এটি বিশেষ পারিভাষিক অর্থে ত্রুটিপূর্ণ হাদিসের (الحديث المعل) একটি উদাহরণ। কারণ শু'বা ইবনুল হাজ্জাজ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বর্ণনার দিকে তাকালে কেউ তাতে কোনো ত্রুটি (علة) আছে বলে মনে করবে না; কেননা এই বর্ণনাটি সুপরিচিত নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে একটি অবিচ্ছিন্ন সনদে (سند متصل) এসেছে, বিশেষ করে এটি শু'বার বর্ণনা, যিনি হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর হিসেবে পরিচিত। কিন্তু বিভিন্ন সূত্র একত্রিত করা, তুলনা করা এবং এর সনদসমূহ (أسانيد) ও মতনসমূহ (متون) নিবিড়ভাবে পর্যালোচনার মাধ্যমে এর ত্রুটি (علة) জানা গেছে।

এরপর আমি দুর্বল বর্ণনাকারীর (الراوي الضعيف) ভুলের কারণে ত্রুটিপূর্ণ হাদিসের (الحديث المعل) আরেকটি উদাহরণ উল্লেখ করছি। এটি ত্রুটির সাধারণ অর্থের ওপর ভিত্তি করে এবং উদাহরণটি নিম্নরূপ:

ইবনে আবি লায়লা (২) সালামাহ ইবনে কুহাইল থেকে, তিনি হুজিয়্যাহ ইবনে আদি থেকে এবং তিনি আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছেন: "সুরা ফাতিহা পাঠ শেষ করার পর আমীন।"

আবু হাতিম আল-রাযী বলেন: "আমার মতে এটি ভুল; এটি মূলত সালামাহ থেকে, তিনি হুজর আবু আল-আনবাস থেকে, তিনি ওয়ায়েল ইবনে হুজর থেকে এবং তিনি নবী (সা.) থেকে বর্ণিত।" (৩)

ইবনে আবি লায়লা এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং মুহাম্মদ ইবনে আবি লায়লা তার দুর্বল স্মৃতিশক্তির কারণে দুর্বল (ضعيف)। তিনি সনদে (الإسناد) ভুল করেছেন এবং ইবনে আবি হাতিম এই ভুলটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) হাদিস নং (২৪৯)।

(২) তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা আল-আনসারী আল-কুফি, আল-কাদি আবু আবদুর রহমান; তিনি সত্যবাদী (صدوق) কিন্তু অত্যন্ত দুর্বল স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (سيء الحفظ جدا)। তাকরিবুত তাহযীব ২/১৮৪, তাহযীবুত তাহযীব ৯/৩০১।

(৩) ইলালুল হাদিস খণ্ড ১/৯৩, নং ২৫১।
(খণ্ড: ১) আসারু ইলালিল হাদীস ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌المبحث الثالث: أسباب العلة

أذكر هنا أسباب العلة بالمعنى العام الذي أشرت اليه فيما سبق، وقد حصر بعض الباحثين أسباب العلة في سبعة رئيسة (1) ، ويبدو لي أنها يمكن أن تصل الى تسعة أسباب. أذكرها بايجاز فيما يأتي:

أولا: السبب العام: (2)

وهو الضعف البشري الذي لا يكاد يخلو منه انسان وأن دخول الخطأ والنسيان والوهم على الجنس البشري مما علم بالضرورة فالوهم لا يخلو منه حتى كبار الأئمة الضابطين، وهذا واضح لنا من تعريف الحديث الصحيح (3) : (فهو الذي رواه عدل تام الضبط عن مثله الى منتهاه متصل السند، ولا يكون شاذا ولا معللا) . فاشتراطنا لصحة الحديث عدم الشذوذ والعلة يدل على أن الرواة التامي الضبط يدخل في حديثهم الشذوذ والعلة، ولذا يقول الامام أحمد: (4) ((ومن يعرى من الخطأ والتصحيف؟)) .

ويقول الامام مسلم: (5) (فليس من ناقل خبر وحامل أثر من السلف الماضين الى زماننا وان كانوا من أحفظ الناس وأشدهم توقيا واتقانا لما يحفظ وينقل - الا الغلط والسهو ممكن في حفظه ونقله) .

--------------------------------------------

(1) الدكتور همام عبد الرحيم في دراسته على شرح علل الترمذي ج1/93-119.

(2) شرح علل الترمذي قسم الدراسة ج1/93.

(3) أنظر تعريف الحديث الصحيح: علوم الحديث ص6 ، التقريب مع التدريب 1/63 ، اختصار علوم الحديث ص 21

(4) علوم الحديث 252.

(5) التمييز ص124.
‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সূক্ষ্ম ত্রুটির (العلة) কারণসমূহ

আমি এখানে ইতিপূর্বে নির্দেশিত সাধারণ অর্থে সূক্ষ্ম ত্রুটির (العلة) কারণসমূহ উল্লেখ করছি। কতিপয় গবেষক সূক্ষ্ম ত্রুটির (العلة) কারণসমূহকে সাতটি প্রধান ভাগে সীমাবদ্ধ করেছেন (১), তবে আমার নিকট মনে হয় যে এটি নয়টি কারণ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। আমি নিচে সংক্ষেপে সেগুলো উল্লেখ করছি:

প্রথমত: সাধারণ কারণ: (২)

আর তা হলো মানবীয় দুর্বলতা যা থেকে কোনো মানুষই প্রায় মুক্ত নয়। মানবজাতির মধ্যে ভুল (الخطأ), বিস্মৃতি এবং বিভ্রান্তি (الوهم) প্রবেশ করা একটি স্বত:সিদ্ধ বিষয়। এমনকি প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (الضابطين) বড় বড় ইমামগণও বিভ্রান্তি (الوهم) থেকে মুক্ত নন। সহিহ হাদিসের সংজ্ঞা (৩) থেকে এটি আমাদের কাছে স্পষ্ট: (সহিহ হাদিস হলো যা পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন (تام الضبط) ন্যায়পরায়ণ (عدل) বর্ণনাকারী তার অনুরূপ বর্ণনাকারী থেকে শেষ পর্যন্ত অবিচ্ছিন্ন সনদে (متصل السند) বর্ণনা করেন এবং যা বিরল (شاذا) বা ত্রুটিযুক্ত (معللا) নয়)। সুতরাং হাদিস সহিহ হওয়ার জন্য আমাদের বিরলতা (الشذوذ) ও সূক্ষ্ম ত্রুটির (العلة) অনুপস্থিতির শর্তারোপ করা এটাই প্রমাণ করে যে, পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন বর্ণনাকারীদের হাদিসেও বিরলতা (الشذوذ) ও সূক্ষ্ম ত্রুটি (العلة) প্রবেশ করতে পারে। এজন্য ইমাম আহমাদ বলেন: (৪) ((ভুল (الخطأ) ও শব্দ বিকৃতি (التصحيف) থেকে কে মুক্ত থাকতে পারে?))।

ইমাম মুসলিম বলেন: (৫) (পূর্বসূরি সালাফদের থেকে আমাদের সময় পর্যন্ত এমন কোনো সংবাদ বর্ণনাকারী বা আসার (أثر) বহনকারী নেই—যদিও তারা মানুষের মধ্যে সর্বাধিক মুখস্থকারী (أحفظ) এবং তাদের মুখস্থ ও বর্ণনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা ও সুনিপুণতার (اتقانا) অধিকারী হন না কেন—যাদের স্মৃতি ও বর্ণনায় ভুল (الغلط) ও বিস্মৃতি (السهو) ঘটা অসম্ভব)।

--------------------------------------------

(১) ড. হুম্মাম আবদুর রহিম, তার শারহু ইলালিত তিরমিজি গবেষণায়, খণ্ড ১/৯৩-১১৯।

(২) শারহু ইলালিত তিরমিজি, গবেষণা অংশ, খণ্ড ১/৯৩।

(৩) সহিহ হাদিসের সংজ্ঞা দেখুন: উলূমুল হাদিস, পৃষ্ঠা ৬; আত-তাক্বরীব মাআত তাদরীব, ১/৬৩; ইখতিসারু উলূমিল হাদিস, পৃষ্ঠা ২১।

(৪) উলূমুল হাদিস, ২৫২।

(৫) আত-তাময়িজ, পৃষ্ঠা ১২৪।
(খণ্ড: ১) আসারু ইলালিল হাদীস ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২৫)
وقال ابن معين: (1) ((ولست اعجب ممن يحدث فيخطيء انما أعجب ممن يحدث فيصيب))

ثانيا: خفة الضبط وكثرة الوهم: (2)

حيث أن كثيرا من الرواة مع صدقهم وثبوت عدالتهم كانوا كثيري الخطأ والوهم، لكن ذلك ليس الغالب على حديثم وهؤلاء الذين كثر غلطهم في حديثهم مقبول عند أئمة الحديث كما صنع الامام مسلم (3) ، ولكن ليس معنى ذلك ان حديثهم كله مقبول دون تمييز بل كان للأحاديث الصحيحة نصيب (4) من حديثهم مما ترجح فيه للناقد - على ما ذكرناه آنفا- أن الراوي هنا قد ضبط وحفظ حديثه، ولكتب العلل نصيب آخر مما تترجح للناقد أن فيه خطأً ووهما، ومن هؤلاء الرواة. محمد بن عمرو بن علقمة بن وقاص الليثي، وعبد الرحمن بن حرملة، وشريك بن عبد الله النخعي قاضي الكوفة، وأبو بكر بن عياش، والربيع بن صبيح، ومبارك بن فضالة، وسهيل بن أبي صالح، وغيرهم كما ذكره ابن رجب (5) .

ثالثا: الاختلاط: (6)

وهو آفة عقلية تورث فسادا في الادراك، وتصيب الانسان في آخر عمره، أو تعرض له بسبب حادث: لفقد عزيز أو ضياع مال؛ ومن تصبه هذه الآفة لكبر سنه يقال

--------------------------------------------

(1) شرح العلل 1/436.

(2) شرح العلل قسم الدراسة 1/98.

(3) حيث أخرج لأصحاب الطبقة الثانية كما أشار في مقدمة كتابه 1/38-39 شرح النووي، تدريب الراوي 1/92.

(4) كما أشرت اليه في انتقاء الشيخين لأحاديث من كان في حفظهم شيء ، وانظر التنكيل ج1/77.

(5) شرح العلل ج1/403-425.

(6) شرح العلل قسم الدراسة ج1/102.
ইবনে মাঈন বলেন: (১) "আমি ঐ ব্যক্তির প্রতি বিস্মিত হই না যে হাদিস বর্ণনা করতে গিয়ে ভুল করে, বরং আমি ঐ ব্যক্তির প্রতিই বিস্মিত হই যে বর্ণনা করে এবং নির্ভুল হয়।"

দ্বিতীয়ত: মুখস্থশক্তির দুর্বলতা (خفة الضبط) এবং অধিক ভুলভ্রান্তি (كثرة الوهم): (২)

যেহেতু অনেক বর্ণনাকারী সত্যবাদী এবং তাদের নির্ভরযোগ্যতা (عدالة) প্রমাণিত হওয়া সত্ত্বেও তারা অধিক ভুল ও বিভ্রমে (وهم) লিপ্ত হতেন, তবে তাদের বর্ণিত হাদিসের ওপর তা প্রবল ছিল না। যাদের হাদিস বর্ণনায় ভুল অধিক হয়ে থাকে, তারা হাদিস বিশারদদের নিকট গ্রহণযোগ্য (مقبول), যেমনটি ইমাম মুসলিম (৩) করেছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে, বাছবিচার ছাড়াই তাদের সব হাদিস গ্রহণযোগ্য (مقبول), বরং তাদের বর্ণিত হাদিসগুলোর মধ্যে সহিহ (صحيحة) হাদিসের একটি অংশ (৪) বিদ্যমান ছিল, যে ক্ষেত্রে সমালোচকের নিকট প্রবল ধারণা জন্মেছে—যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি—যে বর্ণনাকারী এখানে হাদিসটি যথাযথভাবে মুখস্থ (ضبط) ও সংরক্ষণ (حفظ) করেছেন। আর ইলাল (علل) বিষয়ক গ্রন্থসমূহে অন্য অংশটুকু রয়েছে যা সম্পর্কে সমালোচকের নিকট প্রবল ধারণা হয়েছে যে, তাতে ভুল ও বিভ্রম (وهم) রয়েছে। এই পর্যায়ের বর্ণনাকারীদের মধ্যে রয়েছেন: মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে আলক্বামাহ ইবনে ওয়াক্কাস আল-লাইসি, আবদুর রহমান ইবনে হারমালাহ, কুফার বিচারক শারিক ইবনে আবদুল্লাহ আন-নাখয়ী, আবু বকর ইবনে আইয়াশ, রাবি' ইবনে সাবীহ, মুবারক ইবনে ফাদ্বালাহ, সুহাইল ইবনে আবি সালেহ এবং আরও অন্যান্য, যেমনটি ইবনে রাজাব (৫) উল্লেখ করেছেন।

তৃতীয়ত: স্মৃতিভ্রম (الاختلاط): (৬)

এটি একটি মানসিক ত্রুটি যা উপলব্ধিতে বিকৃতি ঘটায় এবং মানুষের শেষ বয়সে এটি দেখা দেয়, অথবা কোনো দুর্ঘটনার কারণে এটি ঘটে থাকে; যেমন—প্রিয়জন হারানো বা সম্পদ নষ্ট হওয়া। বার্ধক্যের কারণে যিনি এই ত্রুটিতে আক্রান্ত হন তাকে বলা হয়...

--------------------------------------------

(১) শারহুল ইলাল ১/৪৩৬।

(২) শারহুল ইলাল, অধ্যয়ন বিভাগ ১/৯৮।

(৩) যেহেতু তিনি দ্বিতীয় স্তরের (الطبقة الثانية) বর্ণনাকারীদের হাদিস গ্রহণ করেছেন, যেমনটি তিনি তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় ১/৩৮-৩৯ ইঙ্গিত করেছেন, শারহুন্নববী ও তাদরীবুর রাবী ১/৯২।

(৪) যেমনটি আমি শায়খাইনের (বুখারি ও মুসলিম) ঐ সকল বর্ণনাকারীর হাদিস চয়ন করার ক্ষেত্রে ইঙ্গিত করেছি যাদের মুখস্থশক্তিতে (حفظ) কিছুটা ত্রুটি ছিল, দেখুন: আত-তানকীল ১/৭৭।

(৫) শারহুল ইলাল ১/৪০৩-৪২৫।

(৬) শারহুল ইলাল, অধ্যয়ন বিভাগ ১/১০২।
(খণ্ড: ১) আসারু ইলালিল হাদীস ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২৬)
فيه اختلط بأخرة (1)

فالاختلاط قد يطرأ على كثير من رواة الحديث النبوي مما يؤثر على روايته فتصبح فيهاعلة، ومعرفة المختلطين من غيرهم أمر شاق على علماء العلل، فكان المحدثون يسمعون الحديث من الراوي مرارا حتى يعرفوا أنه خلط فيه أم لا، قال حماد بن زيد: (ما أبالي من خالفني اذا وافقني شعبة لأن شعبة كان لا يرضى أن يسمع الحديث مرة واحدة يعاود صاحبه مرارا (2)) . ومما يذكر في معاودة الراوي والسماع منه ما حصل لمروان بن الحكم: انه استدعى ابا هريرة رضي الله عنه واجلس كاتبه ابا الزعيزعة خلف السرير دون أن يعلم أبو هريرة، وجعل يسأله وأبو الزعيزعة يكتب، فلما حال الحول دعى مروان أبا هريرة وأجلس أبا الزعيزعة من وراء حجاب وجعل يسأله عما سأله عنه سابقا من ذلك الكتاب، فأجاب دون تقديم ولا تأخير) (3) .

وأحيانا كان الناقد يدخل على الراوي ليختبره فيقلب عليه الأسانيد والمتون، ويلقنه ما ليس من روايته، فان لم ينتبه الشيخ لما يراد به فانه يعد مختلطا ويعزف الناس من الرواية عنه (4) . قال الدكتور همام عبد الرحيم (5) : (ولكن بصيرة الناقد ويقظة المجتمع ليس لهما تلك القدرة التي تحدد ساعات بدء الاختلاط، اذ الاختلاط حالة عقلية تبدأ خفية ثم يتعاظم أمرها بالتدريج، وبين الخفاء والظهور يكون المختلط قد

--------------------------------------------

(1) لسان العرب مادة ((خلط))

(2) الجرح والتعديل 1/168.

(3) مقدمة التمييز ص41، سير أعلام النبلاء 2/598 والمستدرك 3/510 قال الشيخ شعيب- في تعليقه على السير-: ((أبو الزعيزعة لا يعرف)) .

(4) أنظر المثال على ذلك في المحدث الفاصل 398-399.

(5) شرح علل الترمذي قسم الدراسة 1/105.
এতে শেষ বয়সে স্মৃতিবিভ্রম (اختلاط) ঘটেছে (১)

স্মৃতিবিভ্রম (اختلاط) হাদিসের অনেক রাবীর (رواة) ক্ষেত্রে ঘটতে পারে যা তাদের বর্ণনার ওপর প্রভাব ফেলে, ফলে তাতে সূক্ষ্ম ত্রুটির (علة) সৃষ্টি হয়। স্মৃতিবিভ্রান্ত (مختلطين) রাবীদের অন্যদের থেকে পৃথকভাবে চেনা ইল্লত বিশেষজ্ঞদের (علماء العلل) জন্য একটি কঠিন কাজ। মুহাদ্দিসগণ (المحدثون) একজন রাবীর (الراوي) কাছ থেকে বারবার হাদিস শুনতেন যাতে তারা নিশ্চিত হতে পারেন যে তিনি এতে স্মৃতিবিভ্রম (خلط) ঘটিয়েছেন কি না। হাম্মাদ ইবনে যাইদ বলেন: (কে আমার বিরোধিতা করল তাতে আমার কিছু যায় আসে না যখন শু’বাহ আমার সাথে একমত হন, কারণ শু’বাহ কোনো হাদিস একবার শুনেই সন্তুষ্ট হতেন না, বরং বারবার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে ফিরে যেতেন (২))। রাবীর (الراوي) কাছে বারবার ফিরে আসা এবং তার কাছ থেকে শোনার ব্যাপারে মারওয়ান ইবনে হাকামের ঘটনাটি উল্লেখযোগ্য: তিনি আবু হুরাইরা (রাযিআল্লাহু আনহু)-কে ডেকে পাঠান এবং আবু হুরাইরাকে না জানিয়ে তার লেখক আবুয যাইযাআ-কে খাটের পেছনে বসিয়ে দেন। তিনি তাকে প্রশ্ন করতে থাকেন এবং আবুয যাইযাআ তা লিখতে থাকেন। যখন বছর পূর্ণ হলো, মারওয়ান আবু হুরাইরাকে ডাকলেন এবং আবুয যাইযাআ-কে পর্দার আড়ালে বসালেন। এরপর তিনি তাকে সেই কিতাব থেকে আগে যা জিজ্ঞাসা করেছিলেন সে সম্পর্কে পুনরায় প্রশ্ন করতে শুরু করলেন। তিনি কোনো প্রকার আগে-পিছে করা ছাড়াই উত্তর দিলেন (৩)।

কখনও কখনও সমালোচক (الناقد) একজন রাবীর (الراوي) কাছে যেতেন তাকে পরীক্ষা করার জন্য, এবং তার সামনে সনদসমূহ (الأسانيد) ও মতনসমূহ (المتون) উল্টেপাল্টে দিতেন, এবং এমন কিছু তার বর্ণনায় ঢুকিয়ে দিতেন (يلقنه) যা তার বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত নয়। যদি শাইখ বিষয়টি বুঝতে না পারতেন, তবে তাকে স্মৃতিবিভ্রান্ত (مختلطا) হিসেবে গণ্য করা হতো এবং লোকজন তার থেকে বর্ণনা গ্রহণ করা ছেড়ে দিত (৪)। ড. হুমাম আব্দুর রহীম (৫) বলেন: (কিন্তু সমালোচকের (الناقد) অন্তর্দৃষ্টি এবং সমাজের সচেতনতার পক্ষে স্মৃতিবিভ্রম (اختلاط) শুরুর সঠিক সময় নির্ধারণ করার ক্ষমতা নেই। কারণ স্মৃতিবিভ্রম (اختلاط) হলো একটি মানসিক অবস্থা যা গোপনে শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে প্রকট হয়। এই গোপন অবস্থা এবং প্রকাশের মাঝামাঝি সময়ে স্মৃতিবিভ্রান্ত (المختلط) ব্যক্তি হয়তো...

--------------------------------------------

(১) লিসানুল আরব, ‘খ-ল-ত’ (خلط) মূলশব্দ।

(২) আল-জারহ ওয়াত তাদীল ১/১৬৮।

(৩) মুকাদ্দামাতুত তাময়ীয পৃষ্ঠা ৪১, সিয়ারু আলামিন নুবালা ২/৫৯৮ এবং আল-মুসতাদরাক ৩/৫১০। শাইখ শুআইব -সিয়ার-এর টীকায় বলেন: "আবুয যাইযাআ পরিচিত নন"।

(৪) এ বিষয়ে উদাহরণের জন্য দেখুন আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল ৩৯৮-৩৯৯।

(৫) শারহু ইলালিত তিরমিযী, গবেষণা অংশ ১/১০৫।
(খণ্ড: ১) আসারু ইলালিল হাদীস ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২৭)
روى أحاديث تناقلها الثقات عن الثقات وما دروا أنهم أخذوها عن الثقة ولكن في اختلاطه) .

وهكذا تدخل العلة في الحديث النبوي بسبب اختلاط بعض الرواة لكن العلماء عالجوا هذه القضية بواسطة الرواة عن المختلطين، وقسموهم الى أربعة أقسام:

1- الذين رووا عن المختلط قبل اختلاطه.

2- الذين رووا عنه بعد اختلاطه.

3- الذين رووا عنه قبل الاختلاط وبعده ولم يميزوا هذا من هذا.

4- الذين رووا عنه قبل اختلاطه وبعده وميزوا هذا من هذا.

فمن روى عن المختلط قبل الاختلاط قبلت روايته عنه ومن روى عنه قبل الاختلاط وبعده وميز ما سمع قبل الاختلاط ولم يقبل ما سمع بعد الاختلاط، ومن لم يميز حديثه أو سمع بعد الاختلاط لم تقبل روايته (1) .

رابعا: خفة الضبط بالأسباب العارضة: (2)

قد يكون المحدث ضابطا لروايته ثم تعرض عليه أمور طارئة تجعل الوهن في ضبطه فتدخل العلة في حديثه، ومن هذه الأمور الطارئة.

أ- ضياع الكتب، فقد يعتمد الراوي في ضبطه على كتبه، فاذا ضاعت كتبه وحدث مما علق بذهنه دخلت العلة في حديثه كما حصل لهشيم بن بشير فقد كتب صحيفة بمكة عن الزهري، فجاءت الريح فحملت الصحيفة فطرحتها فلم يجدها (3) ،

--------------------------------------------

(1) أنظر العواصم والقواصم لابن الوزير 3/101-102.

(2) شرح العلل قسم الدراسة 1/107.

(3) تهذيب التهذيب 11/60.
তিনি এমন কিছু হাদিস বর্ণনা করেছেন যা নির্ভরযোগ্যগণ (الثقات) নির্ভরযোগ্যদের (الثقات) নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তারা জানতেন না যে তারা এটি একজন নির্ভরযোগ্য (الثقة) ব্যক্তির নিকট থেকেই গ্রহণ করেছেন, তবে তা ছিল তার মতিভ্রম (اختلاط) অবস্থায়। .

এভাবেই কিছু বর্ণনাকারীর (الرواة) মতিভ্রমের (اختلاط) কারণে নববী হাদিসে ত্রুটি (العلة) প্রবেশ করে। তবে আলেমগণ বিভ্রান্ত বর্ণনাকারীদের (المختلطين) নিকট থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের পর্যালোচনার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করেছেন এবং তাদেরকে চার ভাগে বিভক্ত করেছেন:

1- যারা বিভ্রান্ত বর্ণনাকারীর নিকট থেকে তার মতিভ্রম (اختلاط) ঘটার পূর্বে বর্ণনা করেছেন।

2- যারা তার নিকট থেকে তার মতিভ্রম (اختلاط) ঘটার পরে বর্ণনা করেছেন।

3- যারা তার নিকট থেকে মতিভ্রম (اختلاط) ঘটার পূর্বে ও পরে বর্ণনা করেছেন এবং এ দুটির মধ্যে পার্থক্য করতে পারেননি।

4- যারা তার নিকট থেকে মতিভ্রম (اختلاط) ঘটার পূর্বে ও পরে বর্ণনা করেছেন এবং এ দুটির মধ্যে পার্থক্য করতে পেরেছেন।

সুতরাং যে ব্যক্তি বিভ্রান্ত বর্ণনাকারীর নিকট থেকে তার মতিভ্রম (اختلاط) ঘটার পূর্বে বর্ণনা করেছেন, তার নিকট থেকে বর্ণিত বর্ণনা (رواية) কবুল করা হবে। আর যিনি মতিভ্রমের (اختلاط) পূর্বে ও পরে বর্ণনা করেছেন এবং মতিভ্রমের (اختلاط) পূর্বে যা শুনেছেন তা পৃথক করতে পেরেছেন, তবে মতিভ্রমের (اختلاط) পূর্বে শোনা অংশটুকু কবুল করা হবে এবং মতিভ্রমের (اختلاط) পরে শোনা অংশটুকু কবুল করা হবে না। আর যে ব্যক্তি তার হাদিস পৃথক করতে পারেননি অথবা মতিভ্রমের (اختلاط) পরে শুনেছেন, তার বর্ণনা (رواية) কবুল করা হবে না (১) ।

চতুর্থত: আকস্মিক কারণে মুখস্থশক্তির দুর্বলতা (خفة الضبط): (২)

কোনো কোনো ক্ষেত্রে মুহাদ্দিস (المحدث) তার বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে প্রখর মুখস্থশক্তিসম্পন্ন (ضابط) হতে পারেন, অতঃপর তার সামনে এমন কিছু আকস্মিক বিষয় উপস্থিত হয় যা তার মুখস্থশক্তিতে (ضبط) দুর্বলতা (الوهن) সৃষ্টি করে, ফলে তার হাদিসে ত্রুটি (العلة) প্রবেশ করে। এই আকস্মিক বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে:

ক- পাণ্ডুলিপি বা কিতাবসমূহ হারিয়ে যাওয়া: অনেক বর্ণনাকারী (الراوي) তার মুখস্থশক্তির (ضبط) জন্য তার কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর করেন। যখন তার কিতাবগুলো হারিয়ে যায় এবং তিনি তার স্মৃতিতে যা অবশিষ্ট আছে তা থেকে হাদিস বর্ণনা করেন, তখন তার হাদিসে ত্রুটি (العلة) প্রবেশ করে। যেমনটি হুশাইম ইবনে বাশিরের ক্ষেত্রে ঘটেছিল; তিনি মক্কায় জুহরি থেকে একটি পাণ্ডুলিপি লিখেছিলেন, অতঃপর প্রবল বাতাস এসে পাণ্ডুলিপিটি উড়িয়ে নিয়ে যায় এবং তিনি সেটি আর খুঁজে পাননি (৩) ।

--------------------------------------------

(১) ইবনুল উযাইর রচিত আল-আওয়াসিম ওয়াল কাওয়াসিম ৩/১০১-১০২ দেখুন।

(২) শারহু ইলাল (গবেষণা অংশ) ১/১০৭।

(৩) তাহযিবুত তাহযিব ১১/৬০।
(খণ্ড: ১) আসারু ইলালিল হাদীস ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২৮)
وكذلك علي بن مسهر الكوفي (1)

ب- احتراق الكتب- وقد يعتمد الراوي على كتبه ثم تحترق فيحدث من حفظه فتدخل العلة في ذلك، وممن احترقت كتبه فحدث من حفظه بعدها عبد الله بن لهيعة (2) .

ج - من لم يصحب كتابه معه وحدث من حفظه - كذلك بعض الرواة اصطحبوا كتبهم في أماكن وحدثوا منها فلم يخطئوا وحدثوا في أماكن عند غياب كتبهم فأخطأوا كمعمر بن راشد قال يعقوب بن شيبة: (سماع اهل البصرة من معمر حين قدم عليهم فيه اضطراب لأن كتبه لم تكن معه) (3) .

د- الانشغال عن العلم من أسباب خفة الضبط فقد ضعفت روايات بعض المحدثين لانشغالهم عن العلم حفظا وكتابة بالقضاء كشريك بن عبد الله النخعي حيث ولي قضاء واسط سنة 155 هـ - قال عنه الحافظ في التقريب (4) : ((تغير حفظه منذ ولي القضاء بالكوفة)) .

وفقدان البصر فقد كان بعض الثقات يعتمد على كتبه فلما ذهب بصره حدث من حفظه فدخل الوهم في حديثه بعد ذلك، كعبد الرزاق بن همام الصنعاني مع أنه من

--------------------------------------------

(1) وفي تهذيب التهذيب 7/384 ((قال العجلي صاحب سنة ثقة في الحديث صالح الكتاب كثير الرواية عن الكوفيين ، وقال أبو عبد الله يعني أحمد بن حنبل لما سأل عنه لا أدري كيف أقول كان قد ذهب بصره فكان يحدثهم من حفظه)) .

(2) تهذيب التهذيب 5/373-379.

(3) شرح علل الترمذي 2/767. وانظر ميزان الاعتدال 4/154 والتقريب 2/266 وتهذيب التهذيب 5/373-379.

(4) 1/351. وأنظر الميزان 2/270 وتهذيب التهذيب 4/333.
অনুরূপভাবে আলী ইবনে মুশহির আল-কুফি (১)।

খ- কিতাবসমূহ পুড়ে যাওয়া—অনেক সময় বর্ণনাকারী (راوي) তার কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর করেন, অতঃপর সেগুলো পুড়ে যায়। ফলে তিনি তার স্মৃতি থেকে বর্ণনা করেন এবং এতে ত্রুটি (علة) প্রবেশ করে। যাদের কিতাবসমূহ পুড়ে গিয়েছিল এবং এরপর তিনি স্মৃতি থেকে বর্ণনা করেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে লাহিয়া (২)।

গ - যারা নিজের সাথে কিতাব রাখেননি এবং স্মৃতি থেকে বর্ণনা করেছেন—অনুরূপভাবে কিছু বর্ণনাকারী (راوي) কোনো কোনো স্থানে তাদের কিতাব সাথে রেখেছিলেন এবং সেগুলো থেকে বর্ণনা করার ফলে ভুল করেননি; কিন্তু কিতাব অনুপস্থিত থাকাবস্থায় অন্য স্থানে বর্ণনা করার সময় তারা ভুল করেছেন, যেমন মা’মার ইবনে রাশিদ। ইয়াকুব ইবনে শায়বাহ বলেন: (বসরাবাসীদের মা’মারের নিকট থেকে শোনা বর্ণনায় অসংলগ্নতা (اضطراب) রয়েছে, কারণ তার কিতাবসমূহ তখন তার সাথে ছিল না) (৩)।

ঘ- জ্ঞানচর্চা থেকে বিমুখতা হলো স্মৃতিশক্তির (ضبط) দুর্বলতার অন্যতম কারণ; ফলে কিছু মুহাদ্দিসের বর্ণনা দুর্বল (ضعيف) হয়ে গিয়েছিল, কারণ তারা মুখস্থ রাখা ও লিখনের মাধ্যমে ইলম অর্জনের পরিবর্তে বিচারকার্যের দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। যেমন শারিক ইবনে আব্দুল্লাহ আল-নাখায়ি, যিনি ১৫৫ হিজরি সনে ওয়াসিতের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন—হাফিজ ইবনে হাজার আল-তাকরিব গ্রন্থে তার সম্পর্কে বলেন (৪): "কুফায় বিচারকের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তার স্মৃতিশক্তিতে পরিবর্তন ঘটেছিল।"

এবং দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলা; কিছু নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী তাদের কিতাবের ওপর নির্ভর করতেন, কিন্তু যখন তাদের দৃষ্টিশক্তি চলে যায়, তখন তারা স্মৃতি থেকে বর্ণনা করতে শুরু করেন। ফলে এরপর তাদের হাদিসে ভ্রম (وهم) প্রবেশ করে। যেমন আব্দুর রাজ্জাক ইবনে হাম্মাম আল-সানআনি, যদিও তিনি...

--------------------------------------------

(১) এবং তাহজিবুত তাহজিব ৭/৩৮৪-এ রয়েছে: "ইজলি বলেছেন, তিনি সুন্নাহর অনুসারী, হাদিসে নির্ভরযোগ্য (ثقة), তার কিতাব সঠিক এবং কুফাবাসীদের থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন। আর আবু আব্দুল্লাহ অর্থাৎ আহমাদ ইবনে হাম্বলকে যখন তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন তিনি বলেন: আমি জানি না কী বলব, তার দৃষ্টিশক্তি চলে গিয়েছিল, তাই তিনি তাদের কাছে স্মৃতি থেকে বর্ণনা করতেন।"

(২) তাহজিবুত তাহজিব ৫/৩৭৩-৩৭৯।

(৩) শারহু ইলালিত তিরমিজি ২/৭৬৭। আরও দেখুন মিজানুল ইতিদাল ৪/১৫৪, তাকরিব ২/২৬৬ এবং তাহজিবুত তাহজিব ৫/৩৭৩-৩৭৯।

(৪) ১/৩৫১। আরও দেখুন আল-মিজান ২/২৭০ এবং তাহজিবুত তাহজিব ৪/৩৩৩।
(খণ্ড: ১) আসারু ইলালিল হাদীস ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ২৯)
رجال هذا الميدان قال عنه الحافظ ابن حجر في التقريب (1) : ((عمي آخر عمره فتغير)) .

خامسا: قصر الصحبة: (2)

قصر الصحبة للشيخ وقلة ممارسته لحديثه، وهذه في الأصل ليست علة تعل بها الأحاديث لكن العلماء أعطوها أهمية كبيرة لأنه يستفاد من ذلك في ترجيح رواية على أخرى عند الاختلاف؛ لأن من طالت صحبته لشيخه وكثرت ممارسته لحديثه يكون أتقن لحديث شيخه وتترجح روايته عمن قصرت صحبته لهذا الشيخ (3) .

سادسا: اختصار الحديث أو روايته بالمعنى: (4)

اختلف العلماء سلفا وخلفا في حكمه: فذهبت طائفة الى منع رواية الحديث بالمعنى، وذهبت أخرى الى جواز ذلك في غير حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم وذهب الجمهور الى تجويزها بالمعنى في الجميع ما روي عن النبي صلى الله عليه وسلم وما روي عن غيره اذا قطع بالمعنى وكان عارفا بالمعاني ودقائق الألفاظ (5) .

وقد يروي أحد الرواة الحديث بالمعنى بصورة تخل بالمعنى وتذهب المقصود فتكون علة في الحديث. كما في الحديث الذي روي من طريق ابن أبي ذئب قال: حدثني صالح مولى التوآمة، عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ((من

--------------------------------------------

(1) 1/505. وأنظر الميزان 2/609 وتهذيب التهذيب 6/310.

(2) شرح العلل قسم الدراسة 1/113.

(3) انظر على سبيل المثال علل ابن أبي حاتم رقم (2024) و (1647) .

(4) شرح العلل قسم الدراسة 1/116.

(5) المحدث الفاصل ص533 ، الكفاية 168 ، المستصفى 1/107 ، التمهيد 1/234 و 6/63 ، شرح السنة 1/238 ، توجيه النظر 298 ، أعلام المحدثين ص42.
এই অঙ্গনের ব্যক্তিবর্গ সম্পর্কে হাফিজ ইবনে হাজার 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে (১) বলেছেন: "জীবনের শেষভাগে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান এবং তার স্মৃতিশক্তি পরিবর্তিত (تغير) হয়ে যায়।"

পঞ্চম: সাহচর্যের স্বল্পতা (قصر الصحبة): (২)

শায়খের সাহচর্যের স্বল্পতা (قصر الصحبة) এবং তার বর্ণিত হাদিস চর্চার অপ্রতুলতা; এটি মূলত এমন কোনো ত্রুটি (علة) নয় যার কারণে হাদিসকে ত্রুটিপূর্ণ (تعل) সাব্যস্ত করা হয়, তবে উলামায়ে কেরাম একে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। কারণ মতভেদের সময় একটি বর্ণনাকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য (ترجيح) দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি সহায়ক হয়। কেননা, যিনি শায়খের দীর্ঘ সাহচর্য লাভ করেছেন এবং তার হাদিস অধিক চর্চা করেছেন, তিনি শায়খের হাদিস বর্ণনায় অধিক নিপুণ হয়ে থাকেন এবং যার সাহচর্য স্বল্প ছিল তার তুলনায় দীর্ঘ সাহচর্য লাভকারীর বর্ণনাটি প্রাধান্য (تترجح) পায় (৩)।

ষষ্ঠ: হাদিস সংক্ষেপ করা অথবা এর মর্মার্থ বর্ণনা (روايته بالمعنى) করা: (৪)

পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী উলামায়ে কেরাম এর বিধান সম্পর্কে মতভেদ করেছেন: একদল আলিম হাদিসের মর্মার্থ বর্ণনা (رواية الحديث بالمعنى) নিষিদ্ধ করেছেন, অন্যদল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস ব্যতীত অন্যান্য বর্ণনায় এটি বৈধ বলেছেন। আর জুমহুর (جمهور) বা সংখ্যাধিক বিশেষজ্ঞ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এবং অন্য সবার থেকে বর্ণিত সকল হাদিসের ক্ষেত্রে মর্মার্থ অনুযায়ী বর্ণনাকে বৈধ বলেছেন, যদি বর্ণনাকারী অর্থের ব্যাপারে নিশ্চিত হন এবং শব্দের অর্থ ও এর সূক্ষ্মতা সম্পর্কে প্রাজ্ঞ হন (৫)।

কখনও কখনও কোনো বর্ণনাকারী (راو) হাদিসের মর্মার্থ এমনভাবে বর্ণনা (بالمعنى) করেন যা মূল অর্থের বিকৃতি ঘটায় এবং উদ্দেশ্যকে নষ্ট করে দেয়, ফলে তা হাদিসের একটি ত্রুটি (علة) হিসেবে গণ্য হয়। যেমন ইবনে আবি জিব-এর সূত্রে বর্ণিত হাদিসটি, তিনি বলেন: সালেহ মাওলা আত-তাওয়ামাহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে...

--------------------------------------------

(১) ১/৫০৫। আরও দেখুন 'আল-মিজান' ২/৬০৯ এবং 'তাহজিবুত তাহজিব' ৬/৩১০।

(২) 'শারহুল ইলাল', কিসম আদ-দিরাসাহ ১/১১৩।

(৩) উদাহরণস্বরূপ দেখুন ইবনে আবি হাতিমের 'ইলাল', নং (২০২৪) এবং (১৬৪৭)।

(৪) 'শারহুল ইলাল', কিসম আদ-দিরাসাহ ১/১১৬।

(৫) 'আল-মুহাদ্দিস আল-ফাসিল' পৃ. ৫৩৩, 'আল-কিফায়া' ১৬৮, 'আল-মুসতাসফা' ১/১০৭, 'আত-তামহিদ' ১/২৩৪ ও ৬/৬৩, 'শারহুস সুন্নাহ' ১/২৩৮, 'তাওজিহুন নাজার' ২৯৮, 'আলামুল মুহাদ্দিসিন' পৃ. ৪২।
(খণ্ড: ১) আসারু ইলালিল হাদীস ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৩০)
صلى على جنازة في المسجد فلا شيء عليه)) (1) .

وقد جاء في بعض النسخ والكتب ((فلا شيء له)) (2) . وهذا من تصرف الرواة بالمعنى (3) .

سابعا: تدليس الثقات: (4)

أن التدليس يكون أحيانا سببا من أسباب العلة، والتدليس أنواع كثيرة. أشهرها تدليس الأسناد، وهو أن يروي عمن لقيه ما لم يسمعه منه (5) .

وتدليس الشيوخ وهو: أن يسمي شيخه أو يكنيه أو ينسبه أو يصفه بما لا يعرف (6) .

وكلا النوعين يكون أحيانا سببا في اعلال الحديث، فقد يكشف الأئمة النقاد عن

--------------------------------------------

(1) أخرجه أبو داود (3191) ، وابن ماجه (1517) ، وأحمد 2/444 و 455 و 502 ، والبيهقي 4/51 وسنده قوي لأن ابن أبي ذئب سمع من صالح قبل الاختلاط. وابن أبي ذئب هو محمد بن عبد الرحمن ابن المغيرة ثقة فاضل كما في التقريب 2/184 وصالح بن نبهان مولى التوآمة صدوق اختلط بأخرة ، قال ابن عدي: لا بأس برواية القدماء كابن ابي ذئب وابن جريج. وأنظر الميزان 2/303 وتهذيب التهذيب 4/405 ، وتهذيب الكمال 13/102 وما بعدها.

(2) كما في زاد المعاد 1/500 وعون المعبود 3/182 ومصنف عبد الرزاق 3/527 حديث (6579) وسنن أبي داود قال المزي في تحفة الاشراف 10 / حديث (13503) قال في رواية يحيى: (...... فلا شيء له)) .

(3) كما ذكره الشيخ محمد عوامة عن الشيخ حبيب الرحمن الأعظمي. أنظر أثر الحديث في اختلاف الفقهاء ص30.

(4) شرح العلل قسم الدراسة 1/118.

(5) علوم الحديث ص66.

(6) علوم الحديث ص66.
মসজিদে জানাজার সালাত আদায় করলে তার ওপর কোনো গুনাহ নেই। (১) .

কিছু পাণ্ডুলিপি ও গ্রন্থে "তার জন্য কোনো সওয়াব নেই" (২) শব্দেও বর্ণিত হয়েছে। এটি বর্ণনাকারীদের অর্থগত পরিবর্তনের (تصرف بالمعنى) (৩) অন্তর্ভুক্ত।

সপ্তম: নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীদের তাদলিস (تدليس): (৪)

তাদলিস (تدليس) কখনো কখনো হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটির (علة) অন্যতম কারণ হয়ে থাকে। তাদলিস (تدليس) অনেক প্রকারের হয়। তার মধ্যে অধিক প্রসিদ্ধ হলো সনদের তাদলিস (تدليس الإسناد); আর তা হলো বর্ণনাকারী এমন ব্যক্তির নিকট থেকে বর্ণনা করা যার সাথে তার সাক্ষাৎ হয়েছে, কিন্তু (সংশ্লিষ্ট বর্ণনাটি) সরাসরি তার নিকট থেকে শোনেননি (৫) ।

আর শাইখদের তাদলিস (تدليس الشيوخ) হলো: বর্ণনাকারী তার শাইখকে এমন নাম, উপনাম, বংশপরিচয় বা গুণাবলীতে উল্লেখ করা যার দ্বারা তিনি পরিচিত নন (৬) ।

উভয় প্রকার তাদলিসই (تدليس) কখনো কখনো হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত করার (إعلال) কারণ হয়। কেননা বিশেষজ্ঞ সমালোচক ইমামগণ (الأئمة النقاد) উন্মোচন করেন...

--------------------------------------------

(১) এটি আবু দাউদ (৩১৯১), ইবনে মাজাহ (১৫১৭), আহমাদ ২/৪৪৪, ৪৫৫ ও ৫০২ এবং বায়হাকি ৪/৫১ বর্ণনা করেছেন। এর সনদ (سند) শক্তিশালী (قوي); কারণ ইবনে আবি জি’ব সালেহ থেকে তার স্মৃতিবিভ্রমের (اختلاط) পূর্বে শুনেছেন। ইবনে আবি জি’ব হলেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আল-মুগিরাহ; তিনি আত-তাকরিব ২/১৮৪ অনুযায়ী নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও মহৎ ব্যক্তি। আর সালেহ ইবনে নাবহান মাওলা আত-তাওয়ামাহ হলেন সত্যবাদী (صدوق), তবে শেষ জীবনে স্মৃতিবিভ্রমে (اختلاط) আক্রান্ত হন। ইবনে আদি বলেন: ইবনে আবি জি’ব ও ইবনে জুরাইজের মতো প্রাচীন বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় কোনো সমস্যা নেই (لا بأس)। দেখুন: আল-মিজান ২/৩০৩, তাহজিবুত তাহজিব ৪/৪০৫ এবং তাহজিবুল কামাল ১৩/১০২ ও পরবর্তী অংশ।

(২) যেমনটি জাদুল মা'আদ ১/৫০০, আউনুল মাবুদ ৩/১৮২, মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক ৩/৫২৭ হাদিস নং (৬৫৭৯) এবং সুনান আবু দাউদ-এ রয়েছে। আল-মিযযি তুহফাতুল আশরাফ ১০ / হাদিস নং (১৩৫০৩)-এ বলেছেন যে, ইয়াহইয়ার বর্ণনায় (رواية): "...তার জন্য কোনো সওয়াব নেই" বাক্যটি রয়েছে।

(৩) যেমনটি শাইখ মুহাম্মদ আওয়ামাহ শাইখ হাবিবুর রহমান আল-আজমি থেকে উল্লেখ করেছেন। দেখুন: আসারুল হাদিস ফি ইখতিলাফিল ফুকাহা পৃ. ৩০।

(৪) শারহুল ইলাল (গবেষণা বিভাগ) ১/১১৮।

(৫) উলুমুল হাদিস পৃ. ৬৬।

(৬) উলুমুল হাদিস পৃ. ৬৬।
(খণ্ড: ১) আসারু ইলালিল হাদীস ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৩১)
سقوط رجل في الاسناد أسقطه المدلس ويكون هذا الساقط ضعيفا كما في تدليس الاسناد أو يكنيه بكنية غير الكنية التي اشتهر بها. أو يسمى من اشتهر بكنيته. أو يكني من اشتهر باسمه، أو يصفه بصفة غير الصفة التي اشتهر بها مما يوهم أنه رجل آخر وهذا هو تدليس الشيوخ. (1)

ثامنا: الانقطاع في السند أو الطعن في أحد رجال الأسناد عدالة أو ضبطا:

وهذا حسب ما ذكرت سابقا: من أن المراد هنا المعنى العام للعلة فهي لذلك تشمل القادح: الظاهر منه والخفي.

تاسعا: التفرد:

والتفرد بحد ذاته ليس علة في الخبر، وانما يكون أحيانا سببا من أسباب العلة، اذا لم يكن الراوي مبرزا في الحفظ، فالتفرد قد يلقي الضوء على وجود العلة وسوف يأتي لذلك مزيد بيان ان شاء الله تعالى.

 

‌‌المبحث الرابع: أقسام العلة باعتبار محلها وقدحها

العلة تكون أحيانا في الأسناد، وتكون أحيانا في المتن، فاذا وقعت العلة في الأسناد: فاما تقدح في السند فقط أو فيه وفي المتن أو لا تقدح مطلقا. وهكذا اذا وقعت العلة في المتن، فعلى هذا يكون للعلة خمسة أقسام (2) نشير اليها فيما يأتي:

--------------------------------------------

(1) وفي تهذيب التهذيب 7/225 (ان عطية العوفي كان يأتي الكلبي ويسأله عن التفسير وكان يكنيه بأبي سعيد) . وأنظر علوم الحديث ص291 ، واختصار علوم الحديث ص209.

(2) النكت 2/747 ، توضيح الأفكار 2/31-32 ، مقدمة علل الدارقطني 1/39 ، مقدمة البحر الزخار 1/19.
সনদে (إسناد) একজন ব্যক্তির বাদ পড়া, যাকে মুদাল্লিস (مدلس) বাদ দিয়েছেন। এই বাদ পড়া ব্যক্তিটি দুর্বল (ضعيف) হয়ে থাকেন যেমনটি তাদলিসুল ইসনাদ (تدليس الإسناد)-এর ক্ষেত্রে ঘটে থাকে। অথবা তিনি তাকে এমন এক উপনামে (كنية) ভূষিত করেন যা দ্বারা তিনি পরিচিত নন। অথবা যার উপনাম (كنية) প্রসিদ্ধ তাকে নাম ধরে উল্লেখ করেন। অথবা যার নাম প্রসিদ্ধ তাকে উপনামে (كنية) উল্লেখ করেন। অথবা তাকে এমন কোনো গুণে বিশেষিত করেন যা দ্বারা তিনি পরিচিত নন, যাতে এটি ভ্রম সৃষ্টি করে যে তিনি অন্য কোনো ব্যক্তি। আর এটিই হলো তাদলিসুশ শুয়ুখ (تدليس الشيوخ)। (১)

অষ্টম: সনদে (سند) বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) অথবা সনদের (أسناد) কোনো বর্ণনাকারীর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) কিংবা নির্ভুলতার (ضبط) বিষয়ে আপত্তি (طعن):

এটি আমি পূর্বে যা উল্লেখ করেছি সেই অনুযায়ী: অর্থাৎ এখানে 'ইল্লাহ (علة) দ্বারা সাধারণ অর্থ উদ্দেশ্য, তাই এটি ত্রুটিযুক্তকারী বিষয়কে (قادح) অন্তর্ভুক্ত করে; চাই তা প্রকাশ্য (ظاهر) হোক কিংবা গোপন (خفي)।

নবম: একক বর্ণনা (تفرد):

আর একক বর্ণনা (تفرد) স্বয়ং কোনো খবরের (خبر) ক্ষেত্রে ত্রুটি (علة) নয়, বরং এটি কখনো কখনো ত্রুটির (علة) অন্যতম কারণ হয়ে থাকে, যখন বর্ণনাকারী (راوي) হিফযের (حفظ) ক্ষেত্রে খুব বেশি দক্ষ না হন। সুতরাং একক বর্ণনা (تفرد) ত্রুটির (علة) উপস্থিতির প্রতি আলোকপাত করতে পারে এবং অচিরেই ইনশাআল্লাহ এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা আসবে।

 

‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: স্থান এবং ত্রুটিযুক্ত করার দিক থেকে 'ইল্লাহ (علة) এর প্রকারভেদ

'ইল্লাহ (علة) কখনো কখনো সনদে (أسناد) থাকে, আবার কখনো কখনো মতনে (متن) থাকে। যদি 'ইল্লাহ (علة) সনদে (أسناد) সংঘটিত হয়: তবে তা হয় কেবল সনদে (سند) ত্রুটি সৃষ্টি করে অথবা সনদ ও মতন (متن) উভয়ের মধ্যে ত্রুটি সৃষ্টি করে অথবা মোটেও ত্রুটি সৃষ্টি করে না। একইভাবে যদি 'ইল্লাহ (علة) মতনে (متن) সংঘটিত হয়, তবে সে অনুযায়ী 'ইল্লাহ (علة)-এর পাঁচটি প্রকার (২) রয়েছে যা আমরা পরবর্তীতে নির্দেশ করব।

--------------------------------------------

(১) তাহযীবুত তাহযীব ৭/২২৫ এ রয়েছে (আতিয়্যা আল-আউফী আল-কালবীর নিকট আসতেন এবং তাকে তাফসীর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন এবং তিনি তাকে আবু সাঈদ উপনামে ডাকতেন)। এবং দেখুন উলূমুল হাদিস পৃষ্ঠা ২৯১, ইখতিসার উলূমুল হাদিস পৃষ্ঠা ২০৯।

(২) আন-নুকাত ২/৭৪৭, তাওদীহুল আফকার ২/৩১-৩২, মুকাদ্দিমা ইলালুদ দারা কুতনী ১/৩৯, মুকাদ্দিমা আল-বাহরুল যাখখার ১/১৯।
(খণ্ড: ১) আসারু ইলালিল হাদীস ফী ইখতিলাফিল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৩২)
1- تقع العلة في الأسناد ولا تقدح مطلقا

مثاله: - ما رواه المدلس بالعنعنة، فهذا يوجب التوقف عن قبوله، فاذا وجد من طريق آخر قد صرح فيها بالسماع تبين أن العلة غير قادحة. (1)

2- تقع العلة في الأسناد وتقدح فيه دون المتن

مثاله: - ما رواه يعلى بن عبيد الطنافسي، عن الثوري، عن عمرو بن دينار، عن ابن عمر، عن النبي صلى الله عليه وسلم: ((البيعان بالخيار)) (2) فغلط يعلى في قوله: عمرو بن دينار، انما هو عبد الله بن دينار كما رواه الأئمة المتقنون من أصحاب سفيان الثوري مثل: الفضل بن دكين، ومحمد بن يوسف الفريابي، ومخلد بن يزيد، وغيرهم (3) .

3- تقع العلة في الأسناد وتقدح فيه وفي المتن معا

وذلك كأن يوجد في الحديث ارسال أو وقف، أو ابدال راو ضعيف براو ثقة.

مثال ذلك: - ما وقع لأبي أسامة - حماد بن أسامة الكوفي، وهو ثقة (4) - في روايته عن عبد الرحمن بن يزيد بن جابر - وهو من ثقات الشاميين (5) -قدم عبد الرحمن الكوفة فكتب عنه أهلها، ولم يسمع منه أبو أسامة، ثم قدم بعد ذلك الكوفة

--------------------------------------------

(1) النكت 2/747 ، مقدمة علل الدارقطني 1/40 ، مقدمة البحر الزخار 1/19.

(2) أنظر تفصيل الروايات والطرق في جامع الأصول 1/574 حديث (407) ، وتلخيص الحبير 3/20 ، ومسند أبي يعلى 10/192-193، واتحاف المهرة 8/528 حديث (9890) ، والمسند الجامع 10/439 حديث (7730) .

(3) علوم الحديث للحاكم 82-83 ، وتدريب الراوي 1/254 ، مقدمة علل الدارقطني 1/40 ، مقدمة البحر الزخار 1/19.

(4) تقريب التهذيب 1/195.

(5) تقريب التهذيب 1/502.
১- সনদ বা সূত্র পরম্পরায় ত্রুটি (العلة) ঘটতে পারে যা সবক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে (تقدহ) না।

উদাহরণস্বরূপ: - মুদাল্লিস (المدلس) বর্ণনাকারী যা 'আন-আন' (العنعنة) শব্দ ব্যবহার করে বর্ণনা করেছেন; এটি সেই বর্ণনা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিরতি প্রদান বা তওয়াক্কুফ (التوقف) করা আবশ্যক করে। তবে যখন অন্য কোনো সূত্রের মাধ্যমে এমন বর্ণনা পাওয়া যায় যেখানে সরাসরি শ্রবণের (السماع) বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তখন এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে উক্ত ত্রুটিটি (العلة) আর ক্ষতিকর (قادحة) নয়। (১)

২- সনদ বা সূত্র পরম্পরায় ত্রুটি (العلة) ঘটতে পারে যা সনদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে (تقدح) কিন্তু মতন (المتن) বা মূল পাঠে কোনো প্রভাব ফেলে না।

উদাহরণস্বরূপ: - ইয়ালা বিন উবাইদ আত-তানাফিসি যা সাওরি থেকে, তিনি আমর বিন দিনার থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে এবং তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: "ক্রেতা-বিক্রেতার (চুক্তি চূড়ান্ত করার আগে) ইখতিয়ার বা অধিকার থাকে।" (২) এখানে ইয়ালা তার বর্ণনায় "আমর বিন দিনার" বলতে ভুল করেছেন, মূলত এটি হবে "আবদুল্লাহ বিন দিনার"। যেমনটি সুফিয়ান সাওরির নির্ভরযোগ্য সাথীদের মধ্যে যারা সুনিপুণ ইমাম (الأئمة المتقنون) তারা বর্ণনা করেছেন; যেমন: ফজল বিন দুকাইন, মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফিরইয়াবি, মুখাল্লাদ বিন ইয়াজিদ এবং অন্যান্যরা (৩)।

৩- সনদ বা সূত্র পরম্পরায় ত্রুটি (العلة) ঘটতে পারে যা সনদ ও মতন (المتن) উভয় ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলে (تقدح)।

আর তা এমন ক্ষেত্রে হয় যখন হাদিসের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা (إرسال) বা মাওকুফ (وقف) হওয়া পরিলক্ষিত হয়, অথবা কোনো দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারীর পরিবর্তে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীর স্থলাভিষিক্ত করা হয়।

এর উদাহরণ: - আবু উসামা - হাম্মাদ বিন উসামা আল-কুফি, যিনি একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী (৪) - তার বর্ণনায় যা ঘটেছে আব্দুর রহমান বিন ইয়াজিদ বিন জাবির থেকে। তিনি শামের নির্ভরযোগ্য (ثقات الشاميين) বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত (৫)। আব্দুর রহমান যখন কুফায় আগমন করেন, তখন কুফাবাসীরা তার নিকট থেকে হাদিস লিখে নেন, কিন্তু আবু উসামা তার থেকে সরাসরি শ্রবণ (يسمع) করেননি। এরপর তিনি পুনরায় কুফায় আসেন...

--------------------------------------------

(১) আন-নুকাত ২/৭৪৭, মুকাদ্দিমা ইলাল আদ-দারাকুতনি ১/৪০, মুকাদ্দিমা আল-বাহরুল যাখখার ১/১৯।

(২) জামিউল উসুল ১/৫৭৪ হাদিস (৪০৭), তালখিসুল হাবির ৩/২০, মুসনাদ আবি ইয়ালা ১০/১৯২-১৯৩, ইতহাফুল মাহারা ৮/৫২৮ হাদিস (৯৮৯০), আল-মুসনাদ আল-জামি ১০/৪৩৯ হাদিস (৭৭৩০) এর বর্ণনা ও সূত্রসমূহের বিস্তারিত দেখুন।

(৩) উলুমুল হাদিস লিল হাকিম ৮২-৮৩, তাদরিবুর রাবি ১/২৫৪, মুকাদ্দিমা ইলাল আদ-দারাকুতনি ১/৪০, মুকাদ্দিমা আল-বাহরুল যাখখার ১/১৯।

(৪) তাকরিবুত তাহজিব ১/১৯৫।

(৫) তাকরিবুত তাহজিব ১/৫০২।