(খণ্ড: ১)
আল-বালাগাহ ২ - আল-মাআনী - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: -)
البلاغة 2 - المعاني - جامعة المدينة (جامعة المدينة العالمية)
القسم: البلاغة
الكتاب: البلاغة 2 - المعاني
كود المادة: LARB4103
المرحلة: بكالوريوس
المؤلف: مناهج جامعة المدينة العالمية
الناشر: جامعة المدينة العالمية
عدد الصفحات: 519
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 26 جُمادَى الآخرة 1433
অলংকারশাস্ত্র ২ - আল-মাআনি - মদিনা বিশ্ববিদ্যালয় (মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি)
বিভাগ: অলংকারশাস্ত্র
গ্রন্থ: অলংকারশাস্ত্র ২ - আল-মাআনি
বিষয়ের কোড: LARB4103
স্তর: স্নাতক
লেখক: মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পাঠ্যক্রম
প্রকাশক: মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫১৯
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৬ জুমাদাল আখিরা ১৪৩৩
(খণ্ড: ২)
আল-বালাগাহ ২ - আল-মাআনী - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: -)
-[البلاغة 2 - المعاني]-كود المادة: LARB4103المرحلة: بكالوريوسالمؤلف: مناهج جامعة المدينة العالميةالناشر: جامعة المدينة العالميةعدد الأجزاء: 1[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
[অলঙ্কারশাস্ত্র ২ - আল-মাআনি]বিষয়ের কোড: LARB4103স্তর: স্নাতকলেখক: মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পাঠ্যক্রমপ্রকাশক: মদিনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিখণ্ড সংখ্যা: ১[বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
(খণ্ড: ২)
আল-বালাগাহ ২ - আল-মাআনী - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ৯)
الدرس: 1 فوائد علم البلاغة، ووجه الحاجة إلى دراستها.بسم الله الرحمن الرحيمالدرس الأول فوائد علم البلاغة، وبيان وجه الحاجة إلى دراستهالحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وعلى آله وصحبه ومن والاه، وبعد:فهذا العلم الجديد القدر، العظيم الشأن، الذي هو بالنظر إلى سائر العلوم العربية من الأهمية بمكان، وقد زاد من أهميته أن عليه المعوّل الأكبر في تدبر معاني ومعالم ما جاء به الوحي المبين، وأن عليه المعول الأكبر أيضًا في تذوق وفهم ما خلفه أجدادنا من كنوز التراث.ومن المهم أن تكون بداية لقائي بكم عن معرفة فوائد علم البلاغة، وبيان وجه الحاجة إلى دراستها، ثم التثنية بعد بما اعتاده علماء البلاغة قبل الخوض في دراسة مباحث علم المعاني، من حديث عن الفصاحة، وعلاقتها بالبلاغة.إن علم البلاغة معدود من جملة العلوم الإسلامية كما أنه معدود في جميع علوم الأدب وتحتل البلاغة بين هذه العلوم مكانة سامية ومنزلة رفيعة، وموضع علم البلاغة من العلوم العربية موضع الرأس من الإنسان أو اليتيمة من قلائد العقيان، فهي مستودع سرها، ومظهر جلالها، فلا فضيلة لكلام على كلام إلا بما يحويه من لطائفها، ويودع فيه من مزاياها وخصائصها، ولا تبريز لمتكلم على آخر إلا بما يحوقه من وشيها، ويلفظه من درها، وينفثه من سحرها، ويجنيه من يانع ثمرها.
পাঠ: ১ অলঙ্কারশাস্ত্রের উপকারিতা এবং তা অধ্যয়নের প্রয়োজনীয়তা.পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।প্রথম পাঠ অলঙ্কারশাস্ত্রের উপকারিতা এবং তা অধ্যয়নের প্রয়োজনীয়তার বর্ণনাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও যারা তাঁকে অনুসরণ করেছেন তাদের ওপর। অতঃপর:এই শাস্ত্রটি অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদা ও গুরুত্বের অধিকারী, যা অন্যান্য আরবি শাস্ত্রের তুলনায় এক অনন্য সাধারণ গুরুত্ব বহন করে। এর গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে একারণে যে, সুস্পষ্ট ওহীর অর্থ ও নিদর্শনসমূহ নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা করার ক্ষেত্রে এর ওপরই সর্বাধিক নির্ভর করা হয়। তদুপরি আমাদের পূর্বসূরিগণ ঐতিহ্যের যে জ্ঞানভাণ্ডার রেখে গিয়েছেন, তা আস্বাদন ও অনুধাবনের ক্ষেত্রেও এটিই প্রধান অবলম্বন।এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, আপনাদের সাথে আমার এই সাক্ষাতের সূচনা হবে অলঙ্কারশাস্ত্রের উপকারিতা জানা এবং তা অধ্যয়নের প্রয়োজনীয়তার বর্ণনার মাধ্যমে। এরপর অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণের রীতি অনুযায়ী ‘ইলমুল মা‘আনি’-র বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনার আগে ‘ফাসাহাত’ (সাবলীলতা) এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের সাথে এর সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হবে।অলঙ্কারশাস্ত্র যেমন সমস্ত সাহিত্য বিষয়ক শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত, তেমনি এটি ইসলামি শাস্ত্রসমূহেরও অন্তর্ভুক্ত। এই সকল শাস্ত্রের মাঝে অলঙ্কারশাস্ত্র এক সুউচ্চ ও মহান মর্যাদার অধিকারী। আরবি শাস্ত্রসমূহের মধ্যে অলঙ্কারশাস্ত্রের স্থান ঠিক মানুষের শরীরে মস্তকের ন্যায় অথবা স্বর্ণালঙ্কারের হারে মধ্যমণি বা অনন্য মুক্তার ন্যায়। এটিই হলো এর রহস্যের আধার এবং এর গাম্ভীর্যের বহিঃপ্রকাশ। কোনো বাক্যের ওপর অন্য কোনো বাক্যের শ্রেষ্ঠত্ব কেবল তার সূক্ষ্ম অলঙ্করণ এবং তাতে নিহিত বৈশিষ্ট্য ও বিশেষত্বের কারণেই হয়ে থাকে। তেমনিভাবে এক বক্তার ওপর অন্য বক্তার শ্রেষ্ঠত্ব কেবল অলঙ্কারশাস্ত্রের যে সৌন্দর্য সে ধারণ করে, যে মণি-মুক্তা সে ব্যক্ত করে, যে প্রভাব সে বিস্তার করে এবং এর যে পরিপক্ক ফল সে লাভ করে তার মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়।
(খণ্ড: ২)
আল-বালাগাহ ২ - আল-মাআনী - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ১০)
دراسة علوم البلاغة وقواعدها تمكن الدارس من تحقيق الأهداف والفوائد التي توخاها المؤلفون في هذا العلم، ويمكن تلخيص هذه الفوائد فيما يلي:1 - أنها وسيلة إلى معرفة إعجاز القرآن الكريم، فإذا أغفل الإنسان علم البلاغة وأخل بمعرفة قواعدها لم يستطع أن يدرك إعجاز النظم الكريم، ولم يعرف من أي جهة أعجز الله العرب عن أن يأتوا بسورة من مثله، وكان الرأي البعيد عن الصواب رأي إبراهيم النظام صاحب مذهب الصرفة إذ قال: "إن القرآن ليس معجزًا بفصاحته وبلاغته وأن العرب كانوا قادرين على أن يأتوا بمثله، ولكن الله صرفهم عن ذلك تصديقًا لنبيه وتأييدًا لرسوله صلى الله عليه وسلم حتى يؤدي رسالة ربه". وقد انبرى للرد على النظام جم غفير من العلماء، منهم الجاحظ والباقلاني والفخر الرازي، وناضلوا نضالهم المحمود، الذي خلد لهم في بطون الكتب، فكتبوا الفصول الممتعة مبينين فساد رأي النظام مقررين أن إعجاز القرآن إنما كان بما حوى من وجوه بلاغية، فاق فيها كلام العرب شعرهم ونثرهم، وارتقى بذلك عن مستوى كلام البشر. وإنما كان ردهم لقوله بالصرفة من وجوه:أولها: أنه يستلزم أن يكون المعجز الصرفة لا القرآن، وهو خلاف ما عليه إجماع المسلمين. ثانيها: أن التحدي وقع بالقرآن على كل العرب، فلو كان الإعجاز بالصرفة، لكانت على خلاف المعتاد؛ أعني لكانت الصرفة إلى كل واحد ضرورة بالنسبة إليه فحسب، فيكون الإتيان بمثل كلام القرآن معتادًا له، وليس للقرآن كذلك.
অলঙ্কারশাস্ত্রের জ্ঞান ও এর নিয়মাবলি অধ্যয়ন করা শিক্ষার্থীকে এই বিষয়ের লেখকদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য ও উপকারিতাগুলো অর্জনে সক্ষম করে তোলে। এই উপকারিতাগুলোকে নিম্নোক্তভাবে সংক্ষেপ করা যেতে পারে:১ - এটি পবিত্র কুরআনের অলৌকিকত্ব উপলব্ধি করার একটি মাধ্যম। মানুষ যদি অলঙ্কারশাস্ত্রকে উপেক্ষা করে এবং এর নিয়মাবলি আত্তীকরণে ত্রুটি করে, তবে সে পবিত্র শব্দবিন্যাসের অলৌকিকত্ব অনুধাবন করতে সক্ষম হবে না। আল্লাহ আরবদেরকে ঠিক কোন দিক দিয়ে এর মতো একটি সূরা নিয়ে আসতে অক্ষম করেছেন, তাও সে জানতে পারবে না। সত্য থেকে অনেক দূরে ছিল ‘সারফাহ’ (বিমুখীকরণ) মতবাদের প্রবক্তা ইবরাহীম আন-নাজ্জামের মতটি। তিনি বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই কুরআন এর প্রাঞ্জলতা ও আলঙ্কারিক শ্রেষ্ঠত্বের কারণে অলৌকিক নয় এবং আরবরা এর অনুরূপ কিছু নিয়ে আসতে সক্ষম ছিল, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নবীকে সত্যবাদী প্রমাণ করতে এবং তাঁর রাসুলের (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) সমর্থনে তাদেরকে তা থেকে বিমুখ করে দিয়েছিলেন, যাতে তিনি তাঁর রবের রিসালাত পৌঁছে দিতে পারেন।" নাজ্জামের এই মত খণ্ডন করার জন্য আল-জাহিয, আল-বাকিলানি এবং আল-ফখর আর-রাজি-সহ এক বিশাল সংখ্যক আলেম এগিয়ে আসেন। তাঁরা অত্যন্ত প্রশংসনীয় সংগ্রাম করেন, যা কিতাবসমূহের পাতায় তাঁদেরকে অমর করে রেখেছে। তাঁরা চমৎকার সব অধ্যায় রচনা করে নাজ্জামের মতের অসারতা স্পষ্ট করেন এবং এটি প্রতিষ্ঠিত করেন যে, কুরআনের অলৌকিকত্ব মূলত এতে বিদ্যমান আলঙ্কারিক দিকগুলোর কারণেই হয়েছে, যা আরবদের কবিতা ও গদ্য—উভয় প্রকারের বাকরীতিকেই ছাড়িয়ে গেছে এবং মানুষের কথার স্তর থেকে উচ্চে আরোহণ করেছে। ‘সারফাহ’ সংক্রান্ত তাঁর দাবির বিপরীতে তাঁদের খণ্ডন ছিল কয়েকটি দিক থেকে:প্রথমত: এটি দাবি করে যে, অলৌকিক বিষয়টি হলো ‘বিমুখীকরণ’ (সারফাহ), কুরআন নয়; যা মুসলমানদের সর্বসম্মত ঐক্যের (ইজমা) পরিপন্থী। দ্বিতীয়ত: আরবের সকল লোকের প্রতি কুরআনের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয়েছে। যদি অলৌকিকত্ব ‘সারফাহ’-এর মাধ্যমে হতো, তবে তা হতো প্রথা বহির্ভূত; অর্থাৎ এই বিমুখীকরণ হতো প্রত্যেকের জন্য কেবল ব্যক্তিগতভাবে অপরিহার্য বিষয়, ফলে কুরআনের মতো কালাম নিয়ে আসা তার জন্য সাধারণ অভ্যাসের অন্তর্ভুক্ত হতো, অথচ কুরআনের ক্ষেত্রে বিষয়টি তেমন নয়।
(খণ্ড: ২)
আল-বালাগাহ ২ - আল-মাআনী - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ১১)
ثالثها: وقد استدل به بعضهم على فساد القول بها، وهو قوله تعالى: {قُلْ لَئِنِ اجْتَمَعَتِ الْإِنْسُ وَالْجِنُّ عَلَى أَنْ يَأْتُوا بِمِثْلِ هَذَا الْقُرْآنِ لَا يَأْتُونَ بِمِثْلِهِ وَلَوْ كَانَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ ظَهِيرًا} (الإسراء: 88) ومن المعلوم أن القرآن تحدى العرب غير ما مرة، ولو بمثل أقصر سورة منه، ثم سجل العجز عليه وقال بلغة واثقة: أنهم لم يستطيعوا أن يفعلوا ولن يفعلوا، ولو ظاهرهم الإنس والجن، فكيف لا تثور حميتهم إلى المعارضة بعد هذا، ولو كانوا أجبن خلق الله؟.رابعها: أن المعجز يظهر في كل زمان من جنس ما يغلب، ويبلغ فيه الغاية القصوى، ويوقف فيه على الحد المعتاد حتى إذا شوهد ما هو خارج عن الحد علم أنه من عند الله، والبلاغة قد بلغت في ذلك العهد حدها، وكان فيها فخارهم حتى علقت السبع بباب الكعبة تحديًا بمعارضتها، فلو أتى الرسول بما عجزوا عن مثله مع كثرة المنازعة والتشاجر والافتراق وكثرة دواعي التحدي؛ علم أن ذلك من عند الله بلا ريب. خامسها: أن العرب الذين تحداهم القرآن كانوا مضرب المثل في الحمية والأنفة وإباء الضيم، كما كانت صناعتهم البيان، وديدنهم التنافس في ميادين الكلام، فكيف لا يحركهم هذا التحدي والاستفزاز؟ وكيف لا يطيرون بعد هذه الصيحة إلى حلبة المساجلة؟.سادسها: أن القرآن فضلًا عما ذكر أثار حفائظهم، وسفه عقولهم وعقول آبائهم، ونعى عليهم الجمود والجهالة والشرك، بل وأقام حربًا شعواء على أعز ما لديهم من عقائد وعوائد، فكيف يسكتون بعد كل هذا التقريع والتشنيع ما دامت هذه المساجلة هي السبيل المتعين لإسكات خصمهم لو كان ذلك باستطاعتهم؟.
তৃতীয়ত: কেউ কেউ এটি দ্বারা সেই মতের অসারতার সপক্ষে দলিল পেশ করেছেন, আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: "বলুন, যদি এই কুরআনের অনুরূপ কিছু আনার জন্য মানুষ ও জিন সমবেত হয়, তবে তারা এর অনুরূপ আনতে পারবে না, যদিও তারা একে অপরের সাহায্যকারী হয়।" (আল-ইসরা: ৮৮)। এটি সর্বজনবিদিত যে, কুরআন আরবদেরকে একাধিকবার চ্যালেঞ্জ করেছে, এমনকি এর ক্ষুদ্রতম একটি সূরার মতো কিছু আনার জন্য হলেও। অতঃপর তাদের অক্ষমতা নথিবদ্ধ করেছে এবং অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ভাষায় বলেছে যে, তারা তা করতে পারেনি এবং কখনও পারবেও না, যদিও মানুষ ও জিন তাদের সাহায্য করে। এমতাবস্থায়, এর পরেও কেন তাদের আত্মমর্যাদাবোধ এই বিরোধিতার জন্য জাগ্রত হবে না, এমনকি তারা যদি আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে ভীরুও হতো?চতুর্থত: মুজিজা বা অলৌকিকত্ব প্রতিটি যুগে সেই বিষয়ের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয় যা ওই যুগে প্রাধান্য বিস্তার করে এবং যা তার চরম শিখরে পৌঁছে সাধারণ সীমার শেষ প্রান্তে অবস্থান করে। অতঃপর যখন এমন কিছু দেখা যায় যা সেই সাধারণ সীমার বাইরে, তখন নিশ্চিতভাবে বোঝা যায় যে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। সেই যুগে অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাগাত) তার চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছিল এবং এটিই ছিল তাদের গর্বের বিষয়, এমনকি সেই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় সাতটি কবিতা (সাবআ মুয়াল্লাকাত) কাবার দরজায় ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সুতরাং রসূল যখন এমন কিছু নিয়ে এলেন যার সদৃশ আনতে তারা অক্ষম হলো—প্রচণ্ড বিবাদ, কলহ, অনৈক্য এবং চ্যালেঞ্জের বহুবিধ কারণ থাকা সত্ত্বেও—তখন নিঃসন্দেহে প্রতীয়মান হলো যে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে। পঞ্চমত: যেসব আরবদের কুরআন চ্যালেঞ্জ করেছিল, তারা আত্মমর্যাদা, আত্মসম্মান এবং অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার ক্ষেত্রে প্রবাদতুল্য ছিল। তদুপরি বাগ্মিতা ছিল তাদের শিল্প এবং বাকযুদ্ধের ময়দানে প্রতিযোগিতা ছিল তাদের মজ্জাগত অভ্যাস। সুতরাং কীভাবে এই চ্যালেঞ্জ ও উস্কানি তাদেরকে বিচলিত করবে না? আর এই আহবানের পর কীভাবে তারা বিতর্কের ময়দানে ছুটে আসবে না?ষষ্ঠত: উল্লিখিত বিষয়গুলো ছাড়াও কুরআন তাদের ক্ষোভকে উসকে দিয়েছিল, তাদের ও তাদের পূর্বপুরুষদের বুদ্ধিকে নির্বুদ্ধিতা হিসেবে সাব্যস্ত করেছিল এবং তাদের স্থবিরতা, মূর্খতা ও শিরকের নিন্দা জানিয়েছিল। অধিকন্তু, তাদের নিকট সবচেয়ে প্রিয় আকিদা ও প্রথাগুলোর বিরুদ্ধে এক সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল। সুতরাং এতসব তিরস্কার ও নিন্দার পর তারা কীভাবে চুপ থাকতে পারে, যখন তাদের প্রতিপক্ষকে স্তব্ধ করার জন্য এই বিতর্ক ও মোকাবিলাই ছিল একমাত্র পথ, যদি তা তাদের সাধ্যায়ত্ত হতো?
(খণ্ড: ২)
আল-বালাগাহ ২ - আল-মাআনী - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ১২)
سابع هذه الوجوه في رد القائلين بالصرفة: أن العرب قد تفننوا واستفرغوا وسعهم في إيذاء النبي صلى الله عليه وسلم حتى تآمروا على قتله، وأرسلوا إليه الأذى في مهاجره، فشبت الحرب بينهم وبينه في خمس وسبعين موقعة، منها سبع وعشرون غزوة، وثمان وأربعون سرية، فهل يقول عاقل: إنهم كانوا في تشاغل عما كان يتحداهم به، غير معنيين، ولا آبهين له، أو يقول: إنهم -أو واحد منهم- حال المعارضة بمقتضى دافع الصرفة؟ ثم ألم يكف القائلين بالصرفة -قديمًا وحديثًا أعني بهم السابقين وأذنابهم من المعاصرين- شهادة أعداء القرآن أنفسهم في أوقات تخليهم عن عنادهم، فتلك الشهادة التي خرجت من فم الوليد، والفضل ما شهدت به الأعداء.ونخلص من كل هذا إلى أنه، وبدراسة الأسباب التي تكون الجملة بها بليغة، وبدراسة أنواع الأساليب الموجز منها والمطنب، وبدراسة أبواب التشبيه والاستعارة والكناية، وأبواب البديع وغير ذلك من الوجوه والألوان؛ نعرف كيف ارتفع الأسلوب القرآني إلى مستوى الإعجاز، وليس بعجيب أن يكون الهدف الأول والأسمى من دراسة علوم البلاغة الوصول إلى معرفة إعجاز القرآن، فإن علوم العربية نشأت أصلًا لتخدم هذا الكتاب المبين، وتحفظه من التحريف، وتظهر فضله على جميع الكلام الآخر. فالبلاغة من هذه الجهة لها غاية دينية تتصل بالدين والعقيدة، وهذه الغاية هي التي رأيناها عند أوائل الكاتبين في هذا العلم، بل إن كلامهم في إعجاز القرآن كان هو الدعامة التي قام عليها هذا العلم.ثاني فوائد تعلم البلاغة وقواعدها: هو استجلاء ما في القرآن الكريم من معان وأحكام وأخبار وقضايا، فلا بد للناظر في القرآن من الإلمام بقواعد هذا العلم لمعرفة ما يدل عليه التكرار، وما ينطوي عليه الحذف، وما يفيده هذا التأويل، وغير ذلك مما يتصل
'সারফাহ' (প্রতিরোধ) মতবাদে বিশ্বাসীদের খণ্ডন করার সপ্তম দিকটি হলো: আরবরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কষ্ট দেওয়ার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করেছিল এবং তাদের সাধ্যের সবটুকু বিলিয়ে দিয়েছিল, এমনকি তারা তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্রও করেছিল। তাঁর হিজরতস্থলেও তারা তাঁর প্রতি কষ্ট ও ক্ষতি পাঠাত। ফলে তাদের ও তাঁর মধ্যে ৭৫টি যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যার মধ্যে ২৭টি ছিল গাজওয়া এবং ৪৮টি ছিল সারিয়্যাহ। এমতাবস্থায় কোনো বিবেকবান ব্যক্তি কি বলতে পারে যে, তিনি যে চ্যালেঞ্জ তাদের সামনে পেশ করেছিলেন তা থেকে তারা উদাসীন ছিল, অথবা তারা এটি নিয়ে চিন্তিত বা আগ্রহী ছিল না? অথবা কেউ কি বলতে পারে যে, তারা—অথবা তাদের কেউ একজন—সারফাহ-এর তাড়নায় এর বিরোধিতায় অপারগ ছিল? অধিকন্তু, যারা অতীতে এবং বর্তমানে—অর্থাৎ পূর্বসূরি এবং সমকালীন তাদের অনুসারীগণ—সারফাহ-এর কথা বলেন, তাদের জন্য কি কুরআনের শত্রুদের সেই সাক্ষ্যই যথেষ্ট নয় যা তারা তাদের হঠকারিতা ত্যাগের সময়ে দিয়েছিল? সেটি হলো সেই সাক্ষ্য যা ওয়ালীদের মুখ থেকে নির্গত হয়েছিল; আর শ্রেষ্ঠত্ব তো তাই যা শত্রুরাও স্বীকার করে।এই সবকিছু থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, যেসব কারণে বাক্য অলঙ্কারপূর্ণ হয় সেগুলো অধ্যয়ন করার মাধ্যমে, সংক্ষিপ্ত ও বিস্তৃত রীতির প্রকারভেদ পাঠ করার মাধ্যমে এবং তাশবিহ (উপমা), ইস্তিয়ারা (রূপক), কিনায়া (পরোক্ষ উক্তি), বাদি’ (অলঙ্কারশাস্ত্রের শাখা) ও অন্যান্য দিক ও বৈচিত্র্য আলোচনার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি কীভাবে কুরআনের শৈলী মুজিজা বা অলৌকিকতার স্তরে উন্নীত হয়েছে। বালাগাত বা অলঙ্কারশাস্ত্রের জ্ঞান অর্জনের প্রথম এবং সর্বোচ্চ লক্ষ্য যে কুরআনের অলৌকিকত্ব অনুধাবন করা হবে, তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই। কেননা আরবি ভাষা সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহ মূলত এই সুস্পষ্ট কিতাবের খেদমত করার জন্য, একে বিকৃতি থেকে রক্ষা করার জন্য এবং অন্য সকল বাণীর ওপর এর শ্রেষ্ঠত্ব ফুটিয়ে তোলার জন্য তৈরি হয়েছে। সুতরাং এই দিক থেকে বালাগাতের একটি ধর্মীয় উদ্দেশ্য রয়েছে যা দ্বীন ও আকীদার সাথে সম্পৃক্ত। আর এই উদ্দেশ্যটিই আমরা এই শাস্ত্রের আদি লেখকদের মাঝে দেখতে পাই; বরং কুরআনের অলৌকিকত্ব নিয়ে তাদের আলোচনা ছিল এই ইলম বা শাস্ত্রের ভিত্তিপ্রস্তর।বালাগাত ও এর নিয়মাবলী শেখার দ্বিতীয় উপকারিতা হলো: পবিত্র কুরআনের অর্থ, বিধান, সংবাদ এবং বিষয়াবলী সুস্পষ্টভাবে উপলব্ধি করা। অতএব, কুরআনের পাঠকদের জন্য এই শাস্ত্রের নিয়মগুলো জানা অপরিহার্য, যাতে করে পুনরাবৃত্তির তাৎপর্য, বিলোপের রহস্য, ব্যাখ্যার উপকারিতা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়গুলো অনুধাবন করা যায়।
(খণ্ড: ২)
আল-বালাগাহ ২ - আল-মাআনী - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
بقواعد هذا العلم. فالمفسر الذي يتعرض لتفسير آية من آيات الذكر الحكيم لا بد له من الإلمام بقواعد البلاغة، والفقيه المستنبط للأحكام لا بد له من معرفة قواعد البلاغة، والمتعرض لقصص الأنبياء الواردة في القرآن الكريم وما يتعرض لأخبار الأمم وسيرهم، لا بد لكل هؤلاء من معرفة قواعد البلاغة وأصولها.الفائدة الثالثة: التدرب على التكلم بالبليغ من القول، فإذا أراد صاحب اللسان العربي أن ينشئ أدبًا، شعرًا كان أو نثرًا، لا يتسنى له ذلك إلا إذا ألمّ بقواعد هذا العلم، وجعله مصباحًا يهدي خطاه ويسدد قلمه بما يعرفه من تركيب الأساليب الرفيعة، وأسباب رفعتها وجمالها، أما إذا فاته هذا العلم المفرق بين كلام جيد وآخر قبيح، وبين شعر بارد وآخر رصين كان ذلك سببًا لأن يمزج الصفو بالكدر من الأساليب، ويخلط بين الرفيع والوضيع، وقد قالوا: شعر الرجل قطعة في عقله. الفائدة الرابعة: أن علوم البلاغة تعد من أمضى أسلحة الناقد الأدبي، فهي بلا شك تصقل الذوق، وتنمي في صاحبها القدرة على التفرقة بين الكلام الجيد والكلام الرديء، فهي تساعد على إدراك الجمال وتذوق الحسن في ألوان الكلام، فالناقد الأدبي وهو يتعرض لنتاج أدبي لا يستطيع الحكم على هذا النتاج إلا بمعرفة قواعد علم البلاغة، حتى يمكن إبراز ما تضمنه هذا العمل الأدبي من أسباب الجودة أو الرداءة.أما الفائدة الخامسة لتعلم البلاغة: فهي القدرة على حسن الاختيار، فإذا أراد مؤلف أن يضع كتابًا، فإن معرفته بقواعد البلاغة تعينه على أن يختار فيه من جيد المنظوم والمنثور ما يثري به مادته العلمية، ويجعله شاهدًا على ما يسوقه من معان وأفكار.
এই বিদ্যার নীতিমালার মাধ্যমে। অতএব, যে মুফাসসির প্রজ্ঞাপূর্ণ যিকিরের (কুরআন) কোনো আয়াতের তাফসীর করতে প্রবৃত্ত হন, তার জন্য অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) নীতিমালা সম্পর্কে অবগত থাকা অপরিহার্য। একইভাবে যে ফকীহ বিধানাবলি আহরণ করেন, তার জন্য অলঙ্কারশাস্ত্রের নীতিমালা জানা আবশ্যক। আর যিনি পবিত্র কুরআনে বর্ণিত নবীদের কাহিনী এবং বিভিন্ন জাতির সংবাদ ও জীবনচরিত আলোচনা করেন, তাদের প্রত্যেকের জন্যই অলঙ্কারশাস্ত্রের নীতিমালা ও এর মূলনীতিসমূহ জানা অপরিহার্য।তৃতীয় উপকারিতা: বাকপটুতার সাথে কথা বলার প্রশিক্ষণ লাভ করা। সুতরাং কোনো আরবি ভাষাভাষী যখন সাহিত্য রচনা করতে চান, চাই তা কবিতা হোক বা গদ্য, এই বিদ্যার নীতিমালা সম্পর্কে অবগত হওয়া ছাড়া তা তার জন্য সম্ভব নয়। একে তিনি একটি প্রদীপ হিসেবে গ্রহণ করবেন যা তার পদচারণাকে পথ দেখাবে এবং উন্নত শৈলী গঠনের জ্ঞান ও তার উৎকর্ষ ও সৌন্দর্যের কারণগুলো জানার মাধ্যমে তার কলমকে সঠিক পথে পরিচালিত করবে। পক্ষান্তরে, যদি তিনি এই বিদ্যাটি হারিয়ে ফেলেন যা উত্তম ও নিকৃষ্ট কথার মধ্যে এবং নিরস ও সাবলীল কবিতার মধ্যে পার্থক্য করে, তবে তা হবে শৈলীর ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার সাথে আবিলতার সংমিশ্রণ এবং উন্নত ও অনুন্নত বিষয়ের মধ্যে তালগোল পাকিয়ে ফেলার কারণ। বিজ্ঞজনরা বলে থাকেন: "ব্যক্তির কবিতা তার বিবেকের একটি অংশ।" চতুর্থ উপকারিতা: অলঙ্কারশাস্ত্র সাহিত্য সমালোচকের জন্য অন্যতম ধারালো অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি নিঃসন্দেহে রুচিকে মার্জিত করে এবং অধিকারীর মধ্যে ভালো ও মন্দ কথার মধ্যে পার্থক্য করার সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এটি কথার বিভিন্ন বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য উপলব্ধি ও আস্বাদনে সহায়তা করে। একজন সাহিত্য সমালোচক যখন কোনো সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলোচনা করেন, তখন তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রের নীতিমালা জানা ছাড়া সেই কর্মের ওপর কোনো রায় দিতে পারেন না, যাতে সেই সাহিত্যকর্মে বিদ্যমান উৎকর্ষ বা নিকৃষ্টতার কারণগুলো ফুটিয়ে তোলা সম্ভব হয়।অলঙ্কারশাস্ত্র শেখার পঞ্চম উপকারিতা হলো: উত্তম নির্বাচনের সক্ষমতা। যখন কোনো লেখক একটি বই রচনা করতে চান, তখন অলঙ্কারশাস্ত্রের নীতিমালা সংক্রান্ত তার জ্ঞান তাকে পদ্য ও গদ্যের মধ্য থেকে এমন উত্তম অংশগুলো বেছে নিতে সাহায্য করে, যা তার বৈজ্ঞানিক বিষয়বস্তুকে সমৃদ্ধ করে এবং তার উপস্থাপিত অর্থ ও ধারণাসমূহের জন্য প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়।
(খণ্ড: ২)
আল-বালাগাহ ২ - আল-মাআনী - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الفائدة السادسة: وضع قواعد البلاغة ومعرفتها يحول دون الفوضى في الحكم والتخليط فيه، فإذا اختلف اثنان في الحكم على عمل أدبي ما احتكما إلى علم البلاغة، وكان في احتكامهما ما يرد المخطئ عن خطئه. ثم إن البيان في حد ذاته -وتلك هي الفائدة السابعة- فضيلة تسمو على كثير من الفضائل؛ ولذا يفتخر به النبي صلى الله عليه وسلم فيقول: ((أنا أفصح العرب بيد أني من قريش)) ويقول أحد الشعراء:كفى بالمرء عيبًا أن تراه … له وجه وليس له لسان أشهر رجال البلاغة الذين ألفوا فيهاهذا، ومن أشهر رجال البلاغة الذين ألفوا فيها: أبو الهلال حسن بن عبد الله بن سهل العسكري، ولد في مدينة عسكر مدينة من كور الأهواز بخوزستان بين البصرة وفارس، ونشأ بها طوال حياته، ولم يبرحها إلا نادرًا. عاش حياته فقيرًا مغمورًا خامل الذهن، فلم يحظ بما هو خليق به من المجد ونباهة الشأن، كما حظي غيره من العلماء والأدباء في العصر الذي عاش فيه، وإن كان حظي بعد موته بالتقدير والاحترام بما ألف وكتب. وقد تتلمذ على طائفة من العلماء الفضلاء من أشهرهم: أبوه أبو الحسن عبد الله العسكري اللغوي، وأبو سعيد الحسن بن سعيد، وتوفي أبو هلال العسكري سنة
ষষ্ঠ উপকারিতা: অলঙ্কারশাস্ত্রের নিয়মাবলি নির্ধারণ ও তা জানা বিচারের ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা ও সংমিশ্রণ রোধ করে। যখন কোনো সাহিত্যকর্মের বিচারে দুই ব্যক্তির মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়, তখন তারা অলঙ্কারশাস্ত্রের শরণাপন্ন হয় এবং তাদের এই শরণাপন্ন হওয়ার মধ্যেই ভুলকারীকে তার ভুল থেকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি নিহিত থাকে। অতঃপর ‘বায়ান’ (সুস্পষ্ট প্রকাশভঙ্গি) নিজেই একটি স্বতন্ত্র গুণ—আর এটিই সপ্তম উপকারিতা—যা বহু গুণের ঊর্ধ্বে স্থান পায়; এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ নিয়ে গর্ব করে বলেছেন: “আমি আরবদের মধ্যে সর্বাধিক প্রাঞ্জলভাষী, উপরন্তু আমি কুরাইশ বংশের সন্তান।” এবং জনৈক কবি বলেন: কোনো মানুষের জন্য এটিই বড় ত্রুটি যে তুমি তাকে দেখবে... তার মুখাবয়ব আছে কিন্তু তার জিহ্বা নেই। অলঙ্কারশাস্ত্রের সেই প্রসিদ্ধ ব্যক্তিগণ যারা এতে গ্রন্থ রচনা করেছেন এছাড়া অলঙ্কারশাস্ত্রের অন্যতম প্রসিদ্ধ ব্যক্তি, যারা এতে গ্রন্থ রচনা করেছেন, তিনি হলেন: আবু হিলাল হাসান বিন আবদুল্লাহ বিন সাহল আল-আসকারি। তিনি খোজিস্তানের আহওয়াজ অঞ্চলের আসকার নামক শহরে জন্মগ্রহণ করেন, যা বসরা ও পারস্যের মধ্যবর্তী একটি জনপদ। তিনি সারাজীবন সেখানেই অতিবাহিত করেন এবং কদাচিৎ সেই স্থান ত্যাগ করেছেন। তিনি চরম দারিদ্র্য ও লোকচক্ষুর অন্তরালে অখ্যাত অবস্থায় জীবন যাপন করেছেন, ফলে তিনি তার যোগ্য মর্যাদা ও খ্যাতি অর্জন করতে পারেননি, যা তার সমসাময়িক অন্যান্য আলেম ও সাহিত্যিকগণ পেয়েছিলেন। যদিও তার মৃত্যুর পর তার রচিত গ্রন্থাবলির জন্য তিনি যথেষ্ট সমাদর ও শ্রদ্ধা লাভ করেছেন। তিনি একদল বিজ্ঞ আলেমের নিকট শিক্ষাগ্রহণ করেছেন, যাদের মধ্যে প্রসিদ্ধ হলেন: তার পিতা ভাষাবিদ আবু হাসান আবদুল্লাহ আল-আসকারি এবং আবু সাঈদ হাসান বিন সাঈদ। আবু হিলাল আল-আসকারি মৃত্যুবরণ করেন... সালে।
(খণ্ড: ২)
আল-বালাগাহ ২ - আল-মাআনী - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
395 عن خمسة وثمانين عامًا. ومن أشهر مصنفاته كتاب (جمهرة الأمثال) كتاب (الفرق بين المعاني) كتاب (شرح الحماسة) كتاب (الصناعتين) وهو الكتاب الذي اشتهر به واقترن به اسمه.وكذا عبد الله بن عبد الرحمن أبو بكر الجرجاني، شيخ البلاغة، النحوي المشهور، المتكلم على مذهب الأشعري، الفقيه على مذهب الشافعي. أخذ النحو بجرجان عن أبي الحسين محمد الفارسي ابن أخت الشيخ أبي علي الفارسي، كان من كبار أئمة العربية والبيان مع الدين المتين والورع والسكون، وتوفي سنة 471 هجرية. ومن أشهر مصنفاته: (المغني في شرح الإيضاح) في نحو ثلاثين مجلدًا، و (الجمل) و (دلائل الإعجاز) و (أسرار البلاغة). ومن أشهر المؤلفين في البلاغة: سراج الدين يوسف بن أبي بكر محمد بن علي أبو يعقوب السكاكي الخوارزمي، ولد في قرية خوارزم في عهد السلطان الرابع للدولة الخوارزمية "إيل إرسلان بن إكز". كان في أول أمره حدادًا، وبقي كذلك حتى جاوز الثلاثين، ثم انصرف إلى العلم انصرافًا كليًّا، قد تتلمذ على طائفة من العلماء الفضلاء من أشهرهم: سديد الدين بن محمد الخياطي، ومحمود بن صاعد بن محمود الحارثي، وبرهان الأئمة محمد بن عبد الكريم التركستاني، وكان يجيد اللغتين: التركية والفارسية إلى جانب معرفته التامة باللغة العربية.وقد عكف السكاكي على تحصيل العلم والمعرفة فصار عالمًا محققًا في علوم شتى: كالبلاغة، وعلم الكلام، والفقه، والكيمياء، وعلم خواص الأرض، وأجرام
৩৯৫ হিজরিতে পঁচাশি বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। তার সবচেয়ে বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: (জামহারাতুল আমসাল), (আল-ফারকু বাইনাল মাআনি), (শারহুল হামাসাহ) এবং (আস-সিনাআতাইন)। এটি সেই গ্রন্থ যার মাধ্যমে তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন এবং যার সাথে তার নাম যুক্ত হয়েছে।একইভাবে আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আবু বকর আল-জুরজানি, যিনি অলঙ্কারশাস্ত্রের শায়খ, প্রসিদ্ধ ব্যাকরণবিদ, আশআরি মতবাদের কালামশাস্ত্রবিদ এবং শাফেয়ী মাজহাবের ফকিহ ছিলেন। তিনি জুরজানে আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ আল-ফারিসির কাছে নাহু (ব্যাকরণ) শিক্ষা করেন, যিনি শায়খ আবু আলী আল-ফারিসির ভাগ্নে ছিলেন। তিনি দৃঢ় দ্বীনদারি, তাকওয়া ও প্রশান্তির পাশাপাশি আরবি ভাষা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইমাম ছিলেন এবং ৪৭১ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তার বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: প্রায় ত্রিশ খণ্ডে সমাপ্ত (আল-মুগনি ফি শারহিল ঈজাহ), (আল-জুমাল), (দালাইলুল ইজায) এবং (আসরারুল বালাগাহ)। অলঙ্কারশাস্ত্রের অন্যতম প্রসিদ্ধ লেখক হলেন: সিরাজুদ্দিন ইউসুফ বিন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আলী আবু ইয়াকুব আস-সাক্কাকি আল-খাওয়ারিজমি। তিনি খাওয়ারিজমি রাষ্ট্রের চতুর্থ সুলতান "ইল আরসালান বিন ইকেজ"-এর শাসনামলে খাওয়ারিজমের একটি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। জীবনের শুরুতে তিনি কামার ছিলেন এবং ত্রিশ বছর বয়স পার হওয়া পর্যন্ত সেই পেশাতেই নিয়োজিত ছিলেন। এরপর তিনি সম্পূর্ণরূপে ইলম অর্জনের দিকে মনোনিবেশ করেন। তিনি একদল শ্রেষ্ঠ আলেমের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, যাদের মধ্যে প্রসিদ্ধ হলেন: সাদিদুদ্দিন বিন মুহাম্মদ আল-খায়াতি, মাহমুদ বিন সায়িদ বিন মাহমুদ আল-হারিসি এবং বুরহানুল আইম্মাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারিম আত-তুর্কিস্তানি। আরবি ভাষার উপর পূর্ণ দখলের পাশাপাশি তিনি তুর্কি ও ফারসি উভয় ভাষাতেও দক্ষ ছিলেন।আস-সাক্কাকি জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অর্জনে গভীরভাবে নিমগ্ন ছিলেন, ফলে তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রে একজন বিজ্ঞ গবেষক আলেম হয়ে ওঠেন; যেমন: অলঙ্কারশাস্ত্র, কালামশাস্ত্র, ফিকহ, রসায়নবিদ্যা, মৃত্তিকা বিজ্ঞান এবং মহাকাশীয় বস্তুর বিজ্ঞান।
(খণ্ড: ২)
আল-বালাগাহ ২ - আল-মাআনী - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
السماء، ولقد طبقت شهرته الآفاق حتى صار الإمام المشهور المقصود من جميع الجهات، وتوفي سنة 626 من الهجرة. ومن أهم مصنفاته (مفتاح العلوم) (شرح الجمل) وهو شرح لكتاب (الجمل) للإمام عبد القاهر الجرجاني. من أشهر الذين كتبوا في البلاغة: جلال الدين قاضي القضاة محمد بن القاضي سعد الدين عبد الرحمن القزويني الشافعي، ونسبته إلى قزوين ترجع إلى أن بعض أجداده سكنها، وهو عربي أصيل؛ إذ تعود نسبته إلى أبي دلف العجلي قائد المأمون. ولما شب تفقه على أبيه، وعلى علماء وطنه، وقد نزل مع أبيه وأخيه بلاد الروم، وتولى القضاء في بعض أعمالها، ثم قدم دمشق مع أخيه إمام الدين، الذي تقلد وظيفة قاضي القضاة ببلاد الشام، وكان ينوب عنه.وفي أثناء ذلك عكف على حلقات العلماء حتى أتقن علم اللغة، وأصول الفقه وعلوم البلاغة، وولي خطابة دمشق في جامعها الأموي الكبير، فلمع اسمه، وطلبه السلطان الناصر محمد بن قلاوون إلى القاهرة، فقدم عليه سنة 724 وخطب بجامع القلعة بين يديه، فأعجب به وولاه قضاء دمشق وخطابتها جميعًا، ولم يلبث أن استخدمه وولاه قضاء الديار المصرية، فنبه ذكره، وطار صيته، ثم وافته المنية، فتوفي سنة 739. ومن أشهر مصنفاته كتاب (تلخيص المفتاح) وهو تلخيص لكتاب (مفتاح العلوم) للسكاكي وكتاب (الإيضاح بتلخيص المفتاح) وهو شرح مطول لما أجمله في كتاب (تلخيص المفتاح). لكن ثمة فروقًا تميز أسلوب كلّ من عبد القاهر والسكاكي والخطيب، فلقد كان أسلوب عبد القاهر في كتابيه (دلائل الإعجاز) و (أسرار البلاغة) أسلوبًا بليغًا ممتازًا، يساعد على تربية ملكة البلاغة، ولا يفسدها، ولا عيب فيه إلا أنه
আকাশ, এবং তাঁর খ্যাতি দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল, এমনকি তিনি এক সুপ্রসিদ্ধ ইমামে পরিণত হয়েছিলেন যাঁর কাছে সব দিক থেকে মানুষ ছুটে আসত। তিনি হিজরি ৬২৬ সনে ইন্তেকাল করেন। তাঁর গুরুত্বপূর্ণ রচনাবলির মধ্যে রয়েছে (মিফতাহুল উলুম) ও (শারহুল জুমাল), যা ইমাম আবদুল কাহের জুরজানির (আল-জুমাল) কিতাবের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ। অলঙ্কারশাস্ত্রে যারা লিখেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম প্রসিদ্ধ হলেন: জালালুদ্দীন কাযিল কুযাত মুহাম্মদ বিন কাযি সাদউদ্দীন আবদুর রহমান আল-কাযউইনি আশ-শাফিয়ি। তাঁর কাযউইনের সাথে সম্পৃক্ততার কারণ হলো তাঁর পূর্বপুরুষদের কেউ কেউ সেখানে বসবাস করতেন। তবে তিনি বংশগতভাবে খাঁটি আরব; কেননা তাঁর বংশধারা মামুনের সেনাপতি আবু দুলফ আল-ইজলির সাথে গিয়ে মিলেছে। যখন তিনি বড় হলেন, তখন তিনি তাঁর পিতা এবং স্বদেশের আলিমদের কাছে ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি তাঁর পিতা ও ভাইয়ের সাথে রোম দেশে গমন করেন এবং সেখানে কিছু প্রশাসনিক অঞ্চলের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। অতঃপর তিনি তাঁর ভাই ইমামুদ্দীনের সাথে দামেস্কে আসেন, যিনি সিরিয়ার প্রধান বিচারপতির পদ গ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি তাঁর ভাইয়ের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতেন।এই সময়ে তিনি আলিমদের পাঠদান মজলিসগুলোতে একনিষ্ঠভাবে লেগে থাকেন যতক্ষণ না তিনি ভাষাবিজ্ঞান, উসুলুল ফিকহ এবং অলঙ্কারশাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেন। তিনি দামেস্কের বড় উমাইয়া মসজিদে খতিবের দায়িত্ব লাভ করেন, যার ফলে তাঁর নাম উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। সুলতান আন-নাসির মুহাম্মদ বিন কালাউন তাঁকে কায়রোতে তলব করেন। তিনি ৭২৪ হিজরিতে তাঁর কাছে উপস্থিত হন এবং দুর্গের মসজিদে সুলতানের সামনে খুতবা প্রদান করেন। সুলতান তাঁর প্রতি মুগ্ধ হন এবং তাঁকে দামেস্কের বিচারকাজ ও খতিবের দায়িত্ব—উভয়টিই প্রদান করেন। খুব শীঘ্রই সুলতান তাঁকে নিয়োগ দেন এবং মিসরের প্রধান বিচারপতির পদে আসীন করেন। এতে তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁর সুনাম চতুর্দিকে ছড়িয়ে যায়। অতঃপর তাঁর মৃত্যু ঘনিয়ে আসে এবং তিনি ৭৩৯ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তাঁর সুপ্রসিদ্ধ রচনাবলির অন্যতম হলো (তালখিসুল মিফতাহ), যা সাক্কাকির (মিফতাহুল উলুম) কিতাবের একটি সারসংক্ষেপ। অপরটি হলো (আল-ইদাহ বি-তালখিসিল মিফতাহ), যা (তালখিসুল মিফতাহ) কিতাবে সংক্ষেপে যা বলা হয়েছে তার একটি বিস্তারিত ব্যাখ্যা। তবে আবদুল কাহের, সাক্কাকি এবং খাতিব—এই তিনজনের শৈলীর মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। আবদুল কাহেরের (দালাইলুল ইজায) এবং (আসরারুল বালাগাত) কিতাব দুটির রচনাশৈলী ছিল অত্যন্ত প্রাঞ্জল ও চমৎকার, যা অলঙ্কারশাস্ত্রে দক্ষতা অর্জনে সহায়ক এবং এর কোনো ক্ষতি করে না। এতে কোনো খুঁত নেই, তবে এটি...
(খণ্ড: ২)
আল-বালাগাহ ২ - আল-মাআনী - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
يسرف في العبارات المترادفة، حتى تطغى على تقرير القواعد، وعلى ما عني به من استخلاص أسرارها من الشواهد النثرية والشعرية. وهو فيما عني به من الأمرين الناقد الأديب والبليغ الحاذق، وقد طفر بهذا في علم البلاغة طفرة لم يسبق إليها، ولم يأت بعده من سار على هديها.ثم جاء أبو يعقوب السكاكي بعد عبد القاهر فلمح ما أشار إليه فيما سبق، من الفروق الثلاثة بين مباحث علم البلاغة: المعاني والبيان والبديع، فميز بعضها عن بعض تمييزًا تامًّا، وجعل لكل مبحث منها علمًا خاصًّا، فكان من هذه علوم البلاغة الثلاثة السابقة، ثم جاراه في تقرير قواعدها، وزاد عليه زيادات كثيرة في تقريرها، وهذا في قسم البيان من كتابه (مفتاح العلوم) وقد جرى على ترتيبه لهذه المباحث من أتى بعده من المتأخرين، فكان السكاكي عمدتهم في هذا الترتيب. ولا شك أن السكاكي بهذا يعد إلى حد ما من تلاميذ مدرسة عبد القاهر، ولكنه كان ناقدًا، ولم يكن أديبًا؛ لأن أسلوبه في كتابه لم يكن أسلوب البليغ الرصين مثل عبد القاهر؛ لأن العجمة كانت غالبة على أسلوبه، وكان الأسلوب التقريري الذي لا يعنى إلا بتقرير القواعد غالبًا عليه، فكان في أسلوبه كثير من الغموض والتعقيد، وضعف التأليف، ومثل هذا قد يفيد الناظر فيه علمًا، ولا يفيده أسلوبًا بليغًا، بل يفسد فيه ملكة البلاغة، وبهذا يكون ضرره أكبر من نفعه.وقد جاء بعد السكاكي عالمان كبيران أرادا أن يحذوا في علم البلاغة حذوه، أولهما ابن مالك النحوي المشهور في كتابه (المصباح لتلخيص المفتاح) وثانيهما الخطيب القزويني في كتابيه (تلخيص المفتاح) و (الإيضاح لتلخيص المفتاح) وثانيهما كان كالشرح للأول. فأما مصباح ابن مالك فإنه لم يهذب كثيرًا من
তিনি সমার্থক শব্দ ও বাক্যাংশের অতি ব্যবহারে লিপ্ত হতেন, এমনকি তা নিয়মাবলি নির্ধারণ এবং গদ্য ও পদ্যের উদাহরণ থেকে সেগুলোর গূঢ় রহস্য আহরণের প্রচেষ্টার ওপর প্রভাব বিস্তার করত। উল্লিখিত উভয় বিষয়েই তিনি ছিলেন একজন দক্ষ সাহিত্য সমালোচক ও প্রাঞ্জল অলঙ্কারবিদ। অলঙ্কারশাস্ত্রে তিনি এমন এক বৈপ্লবিক উন্নতি সাধন করেছিলেন যার নজির পূর্বে ছিল না এবং তাঁর পরবর্তীতেও কেউ তাঁর প্রদর্শিত পন্থায় চলেননি।এরপর আব্দুল কাহিরের পরে আবু ইয়াকুব আস-সাককাকি আসলেন এবং তিনি অলঙ্কারশাস্ত্রের আলোচ্য বিষয়সমূহের অর্থাৎ মানি, বায়ান ও বাদি—এই তিনটির মধ্যকার পূর্বসূরিদের নির্দেশিত পার্থক্যসমূহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলেন। তিনি এগুলোকে একে অপরের থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে পৃথক করলেন এবং প্রত্যেকটি আলোচনার জন্য একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্র নির্ধারণ করলেন। ফলে অলঙ্কারশাস্ত্রের এই পূর্বোক্ত তিনটি শাখার উদ্ভব হলো। অতঃপর তিনি এগুলোর নিয়মাবলি নির্ধারণে তাঁর অনুগমন করলেন এবং সেই নিয়মগুলোর ব্যাখ্যায় প্রভূত পরিবর্ধন সাধন করলেন। এটি তাঁর ‘মিফতাহুল উলুম’ গ্রন্থের ‘বায়ান’ অংশে বিধৃত হয়েছে। তাঁর পরবর্তী যুগের আলিমগণ এই বিষয়গুলোর বিন্যাসের ক্ষেত্রে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতিই অবলম্বন করেছেন; ফলে সাককাকি এই বিন্যাসকাঠামোর ক্ষেত্রে তাঁদের প্রধান আধারে পরিণত হন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই বিচারে সাককাকি অনেকটা আব্দুল কাহিরের ঘরানারই ছাত্র হিসেবে গণ্য হন। তবে তিনি ছিলেন একজন সমালোচক, কিন্তু সাহিত্যিক ছিলেন না; কারণ তাঁর গ্রন্থের রচনাশৈলী আব্দুল কাহিরের মতো সাবলীল ও বলিষ্ঠ ছিল না। তাঁর শৈলীতে অনারবীয় প্রভাব প্রবল ছিল এবং কেবল নিয়মাবলি বিবৃত করার বর্ণনামূলক ঢং তাঁর ওপর প্রাধান্য বিস্তার করেছিল। ফলে তাঁর লিখনশৈলীতে অনেক অস্পষ্টতা, জটিলতা এবং রচনার দুর্বলতা বিদ্যমান ছিল। এই ধরনের রচনা পাঠককে তাত্ত্বিক জ্ঞান দান করতে পারলেও তা কোনো অলঙ্কারপূর্ণ শৈলী অর্জনে সহায়তা করে না, বরং তা অলঙ্কারবোধের সহজাত প্রতিভাকে কলুষিত করে। আর এই দিক থেকে এর উপকারের চেয়ে অপকারই বেশি।সাককাকির পরে এমন দুজন মহান আলিম আসলেন যারা অলঙ্কারশাস্ত্রে তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করতে চেয়েছিলেন। তাঁদের প্রথমজন হলেন বিখ্যাত ব্যাকরণবিদ ইবনে মালিক, তাঁর ‘আল-মিসবাহ লি-তাখলিসিল মিফতাহ’ গ্রন্থে। আর দ্বিতীয়জন হলেন খতিব আল-কাজউইনি, তাঁর ‘তাখলিসুল মিফতাহ’ এবং ‘আল-ইজাহ লি-তাখলিসিল মিফতাহ’ গ্রন্থদ্বয়ে; যার দ্বিতীয়টি প্রথমটির ব্যাখ্যা স্বরূপ ছিল। ইবনে মালিকের ‘মিসবাহ’ গ্রন্থের ক্ষেত্রে বলা যায় যে, তিনি এর অনেক কিছুই পরিমার্জিত করেননি।
(খণ্ড: ২)
আল-বালাগাহ ২ - আল-মাআনী - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
مفتاح السكاكي في علم البلاغة؛ لأن ملكة النحو كانت غالبة عليه، وكان هذا سببًا في إعراض المتأخرين عن كتابه، وأما تلخيص الخطيب القزويني فإنه هذب كثيرًا في مفتاح السكاكي، فقدم في مباحثه وأخر، وزاد عليه ما تجب زيادته من كتب البلاغة.وكان أسلوبه فيه أوضح من أسلوب السكاكي، ولكنه جعله أسلوبًا تقريريًّا لا يعنى إلا بجمع القواعد في أوجز لفظ حتى أسرف في الإيجاز إسراف عبد القاهر في الإطناب، وجعل من تلخيصه متنًا يحتاج إلى شروح وحواشٍ وتقارير، ولكن عيبه هذا كان موضع تقدير المتأخرين وإعجابهم، فلما فرغ من تلخيصه شعر هو أيضًا بحاجته إلى شرح، فوضع كتابه (الإيضاح) كشرح له، يجري على ترتيبه في إطناب يختصره أحيانًا من كتابي عبد القاهر، وأحيانًا من كتاب السكاكي مع شيء من التهذيب فيه، ومع كثير من النقد الذي يفصله أحيانًا، ويرمز إليه أحيانًا بقوله: "وفيه نظر" وبهذا جاء (الإيضاح) وسطًا بين إيجاز (التلخيص) وإسهاب عبد القاهر. وكان بهذا هو الكتاب المميز عن غيره من كتب البلاغة القديمة، ولا يزال حتى يومنا هذا.ولكنه على هذا لم يرزق من الحظوة عند المتأخرين ما رزق التلخيص؛ لأنهم شغفوا بالمتون حفظًا وشرحًا، وقد نظروا إلى التلخيص على أنه متن من المتون، فشغفوا بحفظه وشرحه، وكان من السابقين إلى شرحه سعد الدين التفتازاني، فوضع له شرحًا مطولًا سماه (المطول)، وشرحًا مختصرًا سماه (المختصر)، وكان سعد الدين من علماء العجم الذين تأثروا بالسكاكي في طريقته التقريرية، وفي ضعف أسلوبه لضعف سليقته العربية، بل كان هو وأمثاله ممن أتى بعد السكاكي من علماء العجم أضعف من السكاكي ذوقًا وسليقة، فمضوا في الطريقة
বালাগাত শাস্ত্রের ক্ষেত্রে সাক্কাকীর ‘মিফতাহ’ গ্রন্থটি; কারণ এতে নাহু শাস্ত্রের প্রভাব প্রবল ছিল এবং এটাই পরবর্তীকালের পণ্ডিতদের এই গ্রন্থ থেকে বিমুখ হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর খতীব কাযভীনীর ‘তালখীস’-এর ক্ষেত্রে বলা যায় যে, তিনি সাক্কাকীর ‘মিফতাহ’কে ব্যাপকভাবে পরিমার্জন করেছেন, এর বিভিন্ন অধ্যায়কে আগে-পিছে বিন্যস্ত করেছেন এবং বালাগাতের অন্যান্য কিতাব থেকে যা কিছু যোগ করা আবশ্যক ছিল, তা এতে যুক্ত করেছেন।এবং এতে তার রচনাশৈলী সাক্কাকীর চেয়েও স্পষ্ট ছিল। তবে তিনি একে এমন একটি বর্ণনামূলক শৈলীতে রূপ দিয়েছেন যেখানে সংক্ষিপ্ততম শব্দে নিয়মকানুন সংকলনের প্রতিই কেবল গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এমনকি তিনি সংক্ষিপ্তকরণের (ইজায) ক্ষেত্রে ততটাই বাড়াবাড়ি করেছেন যতটা আব্দুল কাহের বর্ণনার বিস্তৃতির (ইতনাব) ক্ষেত্রে করেছিলেন। তিনি তার ‘তালখীস’কে এমন এক ‘মাতন’ (মূল পাঠ) হিসেবে গড়ে তুলেছেন যার জন্য শরাহ (ব্যাখ্যা), হাশিয়া (টীকা) এবং তাকরীর (টীকাভাষ্য) প্রয়োজন হয়। তবে তার এই ত্রুটিই পরবর্তীকালের পণ্ডিতদের কাছে সমাদৃত ও প্রশংসিত হয়েছিল। যখন তিনি তার ‘তালখীস’ শেষ করলেন, তখন তিনি নিজেও অনুভব করলেন যে এর একটি ব্যাখ্যার প্রয়োজন রয়েছে। তাই তিনি একে ব্যাখ্যা করার জন্য ‘আল-ঈযাহ’ গ্রন্থটি রচনা করেন, যা মূল গ্রন্থের বিন্যাস অনুসরণ করে এবং এতে তিনি কখনও আব্দুল কাহেরের দুই কিতাব থেকে আবার কখনও সাক্কাকীর কিতাব থেকে তথ্য সংক্ষেপ করে পরিমার্জিতরূপে উপস্থাপন করেছেন। এতে প্রচুর সমালোচনাও রয়েছে, যা তিনি কখনও বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন আবার কখনও ‘এতে বিতর্কের অবকাশ আছে’ বাক্যাংশের মাধ্যমে ইশারা করেছেন। এভাবে ‘আল-ঈযাহ’ গ্রন্থটি ‘তালখীস’-এর সংক্ষিপ্ততা এবং আব্দুল কাহেরের দীর্ঘ বর্ণনার মাঝামাঝি এক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। আর এ কারণেই গ্রন্থটি প্রাচীন বালাগাত শাস্ত্রের অন্যান্য কিতাব থেকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হিসেবে গণ্য হয়েছে এবং আজও তা বিদ্যমান।কিন্তু এতদসত্ত্বেও এটি পরবর্তী পণ্ডিতদের নিকট ‘তালখীস’-এর মতো জনপ্রিয়তা লাভ করতে পারেনি; কারণ তারা মূল পাঠ (মাতন) মুখস্থ করা এবং তার ব্যাখ্যা করার প্রতি অত্যন্ত আসক্ত ছিলেন। তারা ‘তালখীস’কে একটি অন্যতম ‘মাতন’ হিসেবে বিবেচনা করেছেন, ফলে তারা এটি মুখস্থ করতে ও ব্যাখ্যা করতে আগ্রহী হন। এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে যারা অগ্রণী ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন সা’দুদ্দীন তাফতাজানী। তিনি এর জন্য একটি দীর্ঘ ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেন যার নাম দেন ‘আল-মুতাউওয়াল’ এবং একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখেন যার নাম দেন ‘আল-মুখতাসার’। সা’দুদ্দীন ছিলেন অনারব আলেমদের অন্তর্ভুক্ত যারা সাক্কাকীর বর্ণনামূলক পদ্ধতি এবং তার আরবি ভাষার সহজাত যোগ্যতার দুর্বলতার কারণে দুর্বল রচনাশৈলী দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন। বরং তিনি এবং সাক্কাকীর পরে আগত তার মতো অন্যান্য অনারব আলেমগণ সাক্কাকীর চেয়েও রুচি ও সহজাত যোগ্যতার দিক থেকে দুর্বল ছিলেন। ফলে তারা সেই পথেই অগ্রসর হন...
(খণ্ড: ২)
আল-বালাগাহ ২ - আল-মাআনী - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
التقريرية إلى أن وصلوا إلى نهايتها في البعد عن الذوق الأدبي، ثم أخذوا ينشرونها هنا وهناك إلى أن غزت علماء العرب وغزت جميع العلوم من عربية إلى دينية إلى غيرها من العلوم، وصارت عنايتها بتقرير عبارات المتون أكثر من عنايتها بتقرير مسائل العلوم.ثم تهافت المتأخرون من علماء البلاغة على شرحي سعد الدين على (التلخيص) يضعون عليها الحاشية بعد الحاشية، ويضعون على الحاشية التقرير بعد التقرير، وشغف المدرسون بتلك الكتب في الجامع الأزهر وغيره من الجامعات الإسلامية في الأقطار المختلفة، يتعمقون في درسها إلى أقصى حدود التعمق، وينتقلون في درسها من المتن إلى الحاشية إلى التقرير في استقصاء غريب، وتفنن في الفهم والبحث، ولو كان هذا في صميم مسائل البلاغة لهان الخطب، ولكن أكثره في بحوث خارجة عن هذه المسائل، وفي أسلوب ركيك يفسد ملكة البلاغة، فإذا كانت فيه فائدة قليلة فإنها تضيع في هذا الخضم الذي لا فائدة فيه. وقد تأبى كتاب (الإيضاح) وطريقته السابقة على المتأخرين من علماء البلاغة، فلم يضعوا عليه من الشروح والحواشي والتقارير مثلما وضعوا على كتاب (التلخيص) اللهم إلا شرحًا ضعيفًا للإقصاء، ولما كان كتاب (التلخيص) كالأصل لكتاب (الإيضاح) كان هذا مما يدعو قارئه إلى أن يرجع في كثير من مسائله إلى ما وضع على كتاب (التلخيص) من شروح وحواش وتقارير. لكن -وهذا من شديد ما يؤسف له- إذا رجع إليها غرق في ذلك الخضم من البحوث، التي ربما ضاع به ما يكتسبه من كتاب (الإيضاح) من ذوق أدبي لأن تلك الشروح والحواشي والتقارير تغطي عليه.
বর্ণনামূলক রীতিটি সাহিত্যিক রুচি থেকে দূরে সরতে সরতে শেষ সীমায় পৌঁছে গিয়েছিল। তারপর তারা এগুলোকে যত্রতত্র প্রচার করতে শুরু করেন, যতক্ষণ না তা আরব পণ্ডিতদের মাঝে এবং আরবী থেকে শুরু করে ধর্মীয় ও অন্যান্য সকল বিদ্যায় প্রভাব বিস্তার করে। একপর্যায়ে বিদ্যার মূল বিষয়বস্তু বিশ্লেষণের চেয়ে মূল পাঠের (মতন) শব্দমালার ব্যাখ্যার প্রতি তাদের আগ্রহ অধিক হয়ে দাঁড়ায়।অতঃপর পরবর্তী যুগের অলঙ্কারশাস্ত্রের পণ্ডিতগণ সা’দ আল-দীনের (আত-তালখিসের ওপর লিখিত) দুটি ভাষ্যের ওপর ঝুঁকে পড়েন। তারা এর ওপর টীকা এবং টীকার ওপর পুনরায় বিস্তারিত ব্যাখ্যা সংযোজন করতে থাকেন। জামিউল আজহারসহ বিভিন্ন মুসলিম ভূখণ্ডের ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকগণ এই বইগুলোর প্রতি গভীরভাবে অনুরাগী হয়ে পড়েন। তারা এসব পাঠে চরম গভীরতায় প্রবেশ করতেন এবং মূল পাঠ থেকে টীকা ও টীকা থেকে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের এক অদ্ভুত অনুসন্ধানে এবং বুঝ ও গবেষণার বিচিত্র পন্থায় লিপ্ত থাকতেন। যদি এই প্রচেষ্টা অলঙ্কারশাস্ত্রের মৌলিক বিষয়সমূহের গভীরে হতো তবে বিষয়টি সহনীয় হতো, কিন্তু এর অধিকাংশ ছিল মূল বিষয়ের বাইরের আলোচনা এবং এমন এক দুর্বল রচনাশৈলীতে যা অলঙ্কারিক দক্ষতাকে নষ্ট করে দেয়। যদি সেখানে সামান্য কোনো উপকার থেকেও থাকে, তবে তা এই নিরর্থক বিশালতার মাঝে হারিয়ে যায়। 'আল-ইযাহ' গ্রন্থটি এবং এর পূর্বতন পদ্ধতিটি পরবর্তী যুগের অলঙ্কারশাস্ত্রের পণ্ডিতদের কাছে তেমন গুরুত্ব পায়নি, তাই তারা 'আল-তালখিস' গ্রন্থের ওপর যেভাবে ভাষ্য, টীকা ও ব্যাখ্যা লিখেছেন, 'আল-ইযাহ' গ্রন্থের ওপর তেমনটি করেননি। অবশ্য আল-আকসরায়ি-এর একটি দুর্বল ব্যাখ্যা এর ব্যতিক্রম। যেহেতু 'আল-তালখিস' গ্রন্থটি 'আল-ইযাহ' গ্রন্থের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত ছিল, তাই পাঠক অনেক বিষয়ে 'আল-তালখিস'-এর ওপর লিখিত ভাষ্য, টীকা ও ব্যাখ্যার দিকে ফিরে যেতে বাধ্য হন। কিন্তু—এবং এটি অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়—যদি কেউ সেগুলোর দিকে ফিরে যায়, তবে সে গবেষণার এমন এক সমুদ্রে নিমজ্জিত হয় যেখানে 'আল-ইযাহ' থেকে অর্জিত সাহিত্যিক রুচিটুকুও হারিয়ে ফেলার উপক্রম হয়; কারণ সেই ভাষ্য, টীকা ও ব্যাখ্যাগুলো তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে।
(খণ্ড: ২)
আল-বালাগাহ ২ - আল-মাআনী - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ২০)
تعريف الفصاحة وشروطها وعلاقتها بالبلاغةوننتقل الآن بعد هذه الإلمامة عن جهود البلاغيين، وعن أهم ما كتب في علوم البلاغة، للحديث عن الفصاحة باعتبارها جزءًا وقيدًا في تعريف البلاغة، كما سنعرف فيما بعد، وللحديث أيضًا عن علاقتها -أي الفصاحة- بالبلاغة؛ إذ من المعلوم أن طائفة من البلاغيين ظلت حتى عصر عبد القاهر الجرجاني لا تفرق بين الفصاحة والبلاغة؛ لالتقائهما في الإبانة عن المعنى وإظهاره، وإن فرق بينهما المعنى اللغوي، ومن هؤلاء عبد القاهر الجرجاني نفسه، فإنه لم يكن يفرق بين المعنيين؛ حيث فسر الفصاحة في (دلائل الإعجاز) بأنها خصوصية في نظم الكلم، وضم بعضها إلى بعض على طريقة مخصوصة. ولكن طائفة أخرى من البلاغيين كانت تصر على التفريق بين المعنيين وفاء بحق المعنى اللغوي لكل منهما، ومن هؤلاء أبو هلال العسكري المتوفى سنة 395، فقد فرق بينهما موضحًا أن الفصاحة مقصورة على اللفظ، والبلاغة مقصورة على المعنى إلى أن حسم هذا الأمر معاصر عبد القاهر الجرجاني ابن سنان الخفاجي المتوفى سنة 466.الفصاحة في اللغة: هي الظهور والبيان ويوصف بها الكلمة والكلام والمتكلم. فيقال: كلمة فصيحة، وكلام فصيح، ومتكلم فصيح، والبلاغة في اللغة تنبئ عن الوصول والانتهاء والإتقان والجودة، ويوصف بها الكلام والمتكلم فقط. فيقال: كلام بليغ، ومتكلم بليغ، ولم يسمع كلمة بليغة إلا أن يقصد بالكلمة خطبة أو قصيدة، فيكون من المجاز أعني من إطلاق الجزء وإرادة الكل.
ফাসাহাহ-এর সংজ্ঞা, এর শর্তাবলি এবং বালাগাহ-এর সাথে এর সম্পর্কআলঙ্কারিকদের প্রচেষ্টা এবং বালাগাহ শাস্ত্রের ওপর রচিত গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহ সম্পর্কে এই সংক্ষিপ্ত আলোচনার পর, এখন আমরা ফাসাহাহ সম্পর্কে আলোচনার দিকে অগ্রসর হব। ফাসাহাহ হলো বালাগাহ-এর সংজ্ঞার একটি অংশ ও শর্ত, যা আমরা পরবর্তীতে জানতে পারব। এছাড়াও আমরা বালাগাহ-এর সাথে এর—অর্থাৎ ফাসাহাহ-এর—সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করব। কারণ এটি সুবিদিত যে, আব্দুল কাহের আল-জুরজানির যুগ পর্যন্ত আলঙ্কারিকদের একটি দল ফাসাহাহ ও বালাগাহ-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য করতেন না; যেহেতু অর্থকে সুস্পষ্ট করা ও তা ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে উভয়টি একই সূত্রে মিলিত হয়, যদিও আভিধানিক অর্থের দিক থেকে এদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আব্দুল কাহের আল-জুরজানি নিজেও তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; তিনি এই দুই অর্থের মধ্যে পার্থক্য করতেন না। তিনি তাঁর ‘দালাইলুল ই'জায’ গ্রন্থে ফাসাহাহ-এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন যে, এটি শব্দবিন্যাসের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য এবং একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে শব্দগুলোকে একে অপরের সাথে জুড়ে দেওয়া। কিন্তু আলঙ্কারিকদের অন্য একটি দল প্রতিটি শব্দের আভিধানিক অর্থের যথাযথ মর্যাদা রক্ষার্থে এই দুইয়ের মাঝে পার্থক্য করার ব্যাপারে অনড় ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আবু হিলাল আল-আসকারি (মৃত্যু ৩৯৫ হিজরি)। তিনি এই দুইয়ের মাঝে পার্থক্য নিরূপণ করে স্পষ্ট করেছেন যে, ফাসাহাহ কেবল শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং বালাগাহ কেবল অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট। অবশেষে আব্দুল কাহের আল-জুরজানির সমসাময়িক ইবনে সিনান আল-খাফাজি (মৃত্যু ৪৬৬ হিজরি) এই বিষয়টি চূড়ান্তভাবে মীমাংসা করেন।অভিধানে ফাসাহাহ-এর অর্থ হলো: প্রকাশ পাওয়া ও সুস্পষ্ট হওয়া। শব্দ, বাক্য এবং বক্তা—সবগুলোকেই এর দ্বারা বিশেষিত করা যায়। যেমন বলা হয়: প্রাঞ্জল শব্দ, প্রাঞ্জল বাক্য এবং প্রাঞ্জল বক্তা। আর অভিধানে বালাগাহ শব্দটির অর্থ হলো গন্তব্যে পৌঁছানো, সমাপ্তি, নিপুণতা ও উৎকর্ষ। এটি কেবল বাক্য ও বক্তার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। যেমন বলা হয়: সাবলীল বাক্য এবং সাবলীল বক্তা। একক শব্দের ক্ষেত্রে ‘সাবলীল শব্দ’ ব্যবহারের প্রচলন নেই, যদি না শব্দটি দ্বারা কোনো ভাষণ বা কবিতাকে বোঝানো হয়। সেক্ষেত্রে এটি হবে রূপক বা মাজায, অর্থাৎ আংশিক শব্দ ব্যবহার করে পূর্ণাঙ্গ বিষয়কে বোঝানো।
(খণ্ড: ২)
আল-বালাগাহ ২ - আল-মাআনী - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ২১)
ولما كانت معرفة البلاغة متوقفة على معرفة الفصاحة لكونها مأخوذة في تعريف البلاغة، وجب علينا البدء بالتعرف على ملامح الفصاحة، ولما كانت لابن سنان الخفاجي المتوفى سنة 466 قدم راسخة في معرفة حقيقة الفصاحة، وجعلها معيارًا نقديًّا أصيلًا من المعايير البلاغية والنقدية من خلال كتابه (سر الفصاحة) فقد وجب علينا أيضًا معرفة ما أتحف به العربية من لطائف نقدية في هذا المجال؛ لنؤكد الصلة الوثيقة بين كل من الفصاحة والبلاغة من جهة، والنقد الأدبي الأصيل من جهة أخرى، ولننهي العزلة التي فرضها المتأخرون من البلاغيين على البلاغة العربية.وإليك ما قاله ابن سنان الخفاجي في هذا المجال، أورد ابن سنان الخفاجي في كتابه (سر الفصاحة) أن الفصاحة لغة: هي الظهور والبيان، ومنها قولهم: أفصح اللبن، إذا انجلت رغوته، وفصح فهو فصيح، قال الشاعر:وتحت الرغوة اللبن الفصيحوقال: "أفصح الصبح إذا بدا ضوءه، وأفصح كل شيء إذا وضح، وفي الكتاب العزيز: {وَأَخِي هَارُونُ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّي لِسَانًا فَأَرْسِلْهُ مَعِيَ} (القصص: 34) وفصح النصارى: عيدهم، وقد تكلمت به العرب، قال حسان بن ثابت:ودنا الفصح فالولائد ينظمن … سراعًا أكلّة المرجانقال: ويجوز أن يكون ذلك لاعتقادهم أن عيسى عليه السلام ظهر فيه. ولكن صاحب (البغية) يرى أن هذه الكلمة عبرية لا عربية، وهي بمعنى الصفح؛ لأن الله تعالى صفح في يوم هذا العيد عن بني إسرائيل، وأخرجهم مع موسى عليه السلام من مصر
যেহেতু অলঙ্কারশাস্ত্রের (বালাগাত) জ্ঞান ভাষাগত বিশুদ্ধতা (ফাসাহাত) সম্পর্কে জ্ঞানের ওপর নির্ভরশীল, কারণ বালাগাতের সংজ্ঞায় ফাসাহাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তাই আমাদের জন্য ফাসাহাতের বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনার মাধ্যমে শুরু করা আবশ্যক। যেহেতু ৪৬৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী ইবনে সিনান আল-খাফাজীর ফাসাহাতের প্রকৃত স্বরূপ উদ্ঘাটনে সুদৃঢ় পাণ্ডিত্য ছিল এবং তিনি তাঁর 'সিররুল ফাসাহাত' গ্রন্থের মাধ্যমে ফাসাহাতকে অলঙ্কারিক ও সমালোচনামূলক মানদণ্ডসমূহের অন্যতম মৌলিক মানদণ্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তাই এই ক্ষেত্রে তিনি আরবি ভাষাকে যে সূক্ষ্ম সমালোচনামূলক বিষয়াদি উপহার দিয়েছেন, তা জানাও আমাদের জন্য আবশ্যক। এর উদ্দেশ্য হলো একদিকে ফাসাহাত ও বালাগাতের এবং অন্যদিকে মৌলিক সাহিত্য সমালোচনার মধ্যকার নিবিড় সম্পর্ককে দৃঢ় করা এবং পরবর্তী যুগের অলঙ্কারিকগণ আরবি অলঙ্কারশাস্ত্রের ওপর যে বিচ্ছিন্নতা আরোপ করেছিলেন তার অবসান ঘটানো।এই প্রসঙ্গে ইবনে সিনান আল-খাফাজী যা বলেছেন তা নিচে তুলে ধরা হলো: ইবনে সিনান আল-খাফাজী তাঁর 'সিররুল ফাসাহাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আভিধানিক অর্থে ফাসাহাত হলো: প্রকাশ পাওয়া ও স্পষ্ট হওয়া। এর উদাহরণ হলো আরবদের উক্তি: 'দুধ পরিষ্কার হয়েছে' (আফসাহাল লাবানু), যখন এর ফেনা দূর হয়ে যায়; আর যখন তা পরিষ্কার হয় তখন তাকে 'ফাসীহ' বলা হয়। জনৈক কবি বলেছেন:আর ফেনার নিচেই রয়েছে স্বচ্ছ দুধ।তিনি বলেন: "প্রভাত উদ্ভাসিত হলে বলা হয় 'আফসাহাস সুব্হ', আর প্রতিটি বস্তু যখন স্পষ্ট হয় তখনই তা 'আফসাহা' বা প্রকাশিত হয়। মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে এসেছে: {আর আমার ভাই হারুন, সে আমার চেয়ে অধিক বাকপটু; অতএব তাকে আমার সাথে সাহায্যকারী হিসেবে প্রেরণ করুন} (কাসাস: ৩৪)। আর খ্রিস্টানদের 'ফিস্হ' হলো তাদের উৎসব; আরবরা এই শব্দটি ব্যবহার করেছে। হাসসান বিন সাবিত বলেন:ফিস্হ উৎসব সন্নিকটে এল, আর কিশোরীরা দ্রুত গেঁথে চলেছে … প্রবালমণির মালা।তিনি বলেন: এটি সম্ভবত তাদের এই বিশ্বাসের কারণে যে, ঈসা আলাইহিস সালাম এই দিনে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু 'বুগইয়াহ' গ্রন্থের রচয়িতা মনে করেন যে, এই শব্দটি হিব্রু, আরবি নয়; এটি 'সাফহ' বা ক্ষমার অর্থে এসেছে। কারণ মহান আল্লাহ এই উৎসবের দিনে বনী ইসরাঈলকে ক্ষমা করেছিলেন এবং তাঁদের মুসা আলাইহিস সালামের সাথে মিশর থেকে বের করে এনেছিলেন।
(খণ্ড: ২)
আল-বালাগাহ ২ - আল-মাআনী - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ২২)
وسمي الفصيح فصيحًا كأنهم سموه بيانًا؛ لإعرابه عما عبر به عنه، وإظهاره له إظهارًا جليًّا، وقد روي عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: ((أنا أفصح العرب بيد أني من قريش)) ". ثم فرق ابن سنان بين الفصاحة والبلاغة بأن الفصاحة مقصورة على وصف الألفاظ، ولكن البلاغة لا تكون إلا وصفًا للألفاظ مع المعاني، فلا يقال في كلمة واحدة لا تدل على معنى يفضل عن مثلها: بليغة، وإن قيل فيها: فصيحة. وكل كلام بليغ فصيح، وليس كل فصيح بليغًا، كالذي يقع فيه الإسهاب في غير موضعه؛ أي في غير موضع الإسهاب؛ لأن البلاغة -كما سنذكر- تزيد عن الفصاحة بأن بها مطابقة مقتضى الحال.ثم بين ابن سنان أن الناس قد حدوا البلاغة بحدود، إذا حققت كانت كالرسوم والعلائم وليست حدودًا صحيحة، كقول بعضهم في تعريف البلاغة مثلًا: لمحة دالة. وقول آخر: البلاغة معرفة الفصل من الوصل. وقول آخر: البلاغة أن تصيب فلا تخطئ، وتسرع فلا تبطئ. وقول من قال: البلاغة اختيار الكلام وتصحيح الأقسام. ثم بدا الكلام على شروط لفصاحة اللفظة المفردة وفصاحة الألفاظ المنظومة بعضها مع بعض، فأورد ابن سنان شروطًا لفصاحة اللفظة المفردة، وجعلها أيضًا شروطًا لفصاحة الألفاظ المنظومة بعضها مع بعض، بعد أن عقد صلة وثيقة بين الفصاحة والبلاغة من جهة، وبين النقد الأدبي من جهة أخرى، وهذه الشروط هي ما يلي:أولًا: أن يكون تأليف اللفظة من حروف متباعدة المخارج؛ لأن الحروف التي هي أصوات تجري في السمع مجرى الألوان من البصر، ولا شك أن الألوان
বিশুদ্ধভাষীকে 'ফাসিহ' (বিশুদ্ধভাষী) নামকরণ করা হয়েছে যেন তারা তাকে স্পষ্ট বর্ণনা হিসেবে অভিহিত করেছে; যা কিছু এর দ্বারা প্রকাশ করা হয় তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যার কারণে এবং সেটিকে প্রোজ্জ্বলভাবে প্রকাশ করার কারণে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমি আরবদের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধভাষী, উপরন্তু আমি কুরাইশ বংশীয়।" অতঃপর ইবনে সিনান ফাসাহাত (বিশুদ্ধতা) এবং বালাগাত (অলঙ্কারিতা)-এর মধ্যে পার্থক্য করেছেন এভাবে যে, ফাসাহাত কেবল শব্দের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ, কিন্তু বালাগাত অর্থসহ শব্দের বৈশিষ্ট্য হওয়া ছাড়া সম্ভব নয়। সুতরাং একটি শব্দের ক্ষেত্রে যা তার সমজাতীয় শব্দের তুলনায় অতিরিক্ত কোনো অর্থ প্রকাশ করে না, তাকে 'বালিগ' (অলঙ্কারপূর্ণ) বলা হয় না, যদিও তাকে 'ফাসিহ' (বিশুদ্ধ) বলা হতে পারে। প্রতিটি অলঙ্কারপূর্ণ বাক্যই বিশুদ্ধ, কিন্তু প্রতিটি বিশুদ্ধ বাক্য অলঙ্কারপূর্ণ নয়; যেমন সেই কালাম যেখানে অপ্রাসঙ্গিক দীর্ঘসূত্রিতা ঘটে; অর্থাৎ যেখানে দীর্ঘসূত্রিতার প্রয়োজন নেই সেখানে তা করা। কারণ বালাগাত—যেমনটি আমরা উল্লেখ করব—ফাসাহাত থেকে অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য রাখে এই কারণে যে, এতে পরিস্থিতির চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যতা বজায় থাকে।অতঃপর ইবনে সিনান বর্ণনা করেছেন যে, মানুষ বালাগাতের কিছু সংজ্ঞা প্রদান করেছে, যা যাচাই করলে নিছক কিছু লক্ষণ বা চিহ্নের মতো মনে হয় এবং সেগুলো সঠিক সংজ্ঞা নয়। যেমন বালাগাতের সংজ্ঞায় কারো উক্তি: 'একটি ইঙ্গিতপূর্ণ আভাস'। অন্য একজনের উক্তি: 'বালাগাত হলো বিচ্ছেদ ও সংযোগের জ্ঞান রাখা'। অন্য আরেকজনের উক্তি: 'বালাগাত হলো সঠিক লক্ষ্যে পৌঁছানো যাতে ভুল না হয় এবং দ্রুততা অবলম্বন করা যাতে মন্থরতা না আসে'। এবং একজনের উক্তি: 'বালাগাত হলো বাক্য নির্বাচন এবং বিভাগসমূহের সঠিক বিন্যাস'। এরপর একক শব্দের বিশুদ্ধতা এবং একে অপরের সাথে সুসংবদ্ধ শব্দমালার বিশুদ্ধতার শর্তাবলী নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ইবনে সিনান একক শব্দের বিশুদ্ধতার জন্য কিছু শর্ত উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলোকে একে অপরের সাথে গ্রথিত শব্দমালার বিশুদ্ধতার শর্ত হিসেবেও নির্ধারণ করেছেন; একদিকে ফাসাহাত ও বালাগাতের মধ্যে এবং অন্যদিকে সাহিত্য সমালোচনার মধ্যে নিবিড় যোগসূত্র স্থাপন করার পর। এই শর্তগুলো হলো নিম্নরূপ:প্রথমত: শব্দের গঠন এমন বর্ণমালা দ্বারা হতে হবে যাদের উচ্চারণের স্থানগুলো (মাখরাজ) পরস্পর দূরবর্তী; কারণ বর্ণগুলো হলো ধ্বনি যা শ্রবণে ঠিক সেভাবেই প্রবাহিত হয় যেভাবে দৃষ্টিতে বর্ণ বা রঙ প্রবাহিত হয়। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে রঙসমূহ...
(খণ্ড: ২)
আল-বালাগাহ ২ - আল-মাআনী - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المتباعدة المتباينة إذا جمعت كانت في المنظر أحسن من الألوان المتقاربة، وقد قال الشاعر في هذا المعنى:فالوجه مثل الصبح مبيض … والفرع مثل الليل مسودضدان لما استجمعا حسنا … والضد يظهر حسنه الضدثانيًا: أن تجد لتأليف اللفظة في السمع حسنًا ومزية على غيرها، وإن تساويا في التأليف من الحروف المتباعدة، كما أنك تجد لبعض النغم والألوان حسنًا يتصور في النفس، ويدرك بالبصر والسمع دون غيره مما هو من جنسه، مثاله في الحروف: العين مع الذال مع الباء، فإن السامع يجد لقولهم: العذيب. اسم موضع وعذيبة اسم امرأة وعَذْب وعَذُب وعذبات، ما لا يجده فيما يقارب هذه الألفاظ في التأليف، وليس سبب ذلك بعد الحروف في المخارج فقط، ولكنه تأليف مخصوص مع البعد، ولو قدمت الذال أو الباء لم تجد الحسن على الصيغة الأولى في تقديم العين على الذال بضرب من التأليف في النغم، يفسده التقديم والتأخير. وليس يخفى على أحد أن تسمية الغصن غصنًا وفَنَنًا أحسن من تسميته عُسْلُوجًا، وأن أغصان البان أحسن من عساليج الشَّوْحَط في السمع، والشوحط شجر يتخذ منه القسي أو الرماح. ثالثًا: أن تكون الكلمة -كما قال الجاحظ- غير متوعرة وحشية، كقول أبي تمام:لقد طلعت في وجه مصر بوجهه … بلا طائر سَعْلٍ ولا طائر كهلفإن كهلًا ها هنا من غريب اللغة، وقد روي أن الأصمعي لم يعرف هذه الكلمة، وليست موجودة إلا في شعر بعض الهذليين، وهو قوله:فلو كان سلمى جاره أو أجاره … رباح بن سعد رده طائر كهل
বিসদৃশ দূরবর্তী বিষয়গুলো যখন একত্রিত হয়, তখন তা দর্শনে কাছাকাছি বর্ণের রঙের তুলনায় অধিক সুন্দর হয়। কবি এই অর্থে বলেছেন:মুখমণ্ডল যেন শুভ্র সকালের মতো সাদা … আর কেশগুচ্ছ যেন আঁধার রজনীর মতো কালোদুই বিপরীত বস্তু যখন একত্রিত হয় তখন সৌন্দর্য ফুটে ওঠে … কেননা বিপরীত বস্তুর মাধ্যমেই বিপরীতের সৌন্দর্য প্রকাশিত হয়।দ্বিতীয়ত: শব্দের বিন্যাস শ্রবণে এমন এক সৌন্দর্য ও বৈশিষ্ট্য লাভ করা যা অন্যদের মাঝে নেই, যদিও তারা দূরবর্তী মাখরাজ সম্পন্ন বর্ণের বিন্যাসের ক্ষেত্রে সমান হয়। যেমনটি আপনি কিছু সুর ও বর্ণের ক্ষেত্রে এমন সৌন্দর্য খুঁজে পান যা মনে অনুভূত হয় এবং যা অন্য সমজাতীয় জিনিসের তুলনায় কেবল দৃষ্টি ও শ্রবণের মাধ্যমে উপলব্ধি করা যায়। অক্ষরের ক্ষেত্রে এর উদাহরণ হলো: 'আইন' এর সাথে 'যাল' এবং 'বা'। কেননা শ্রোতা যখন তাদের শব্দপ্রয়োগ শোনে—যেমন: 'আল-উযাইব' (একটি স্থানের নাম), 'উযাইবাহ' (একজন মহিলার নাম), 'আযব' (মিষ্টি), 'আযূবা' এবং 'আযাবাত'—তখন সে এমন মাধুর্য পায় যা সে এই শব্দগুলোর কাছাকাছি বিন্যাসের শব্দগুলোতে পায় না। এর কারণ কেবল মাখরাজের দিক থেকে বর্ণগুলোর দূরত্ব নয়, বরং দূরত্বের পাশাপাশি এটি একটি বিশেষ বিন্যাস। যদি আপনি 'যাল' কিংবা 'বা' কে আগে নিয়ে আসতেন, তবে 'আইন' কে 'যাল' এর আগে রাখার বিশেষ সুরের বিন্যাসে যে সৌন্দর্য পাওয়া যায়, তা পাওয়া যেত না; কারণ আগে-পিছে করার ফলে সেই সুর ও সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়। আর এটি কারও নিকট অস্পষ্ট নয় যে, বৃক্ষশাখাকে 'গুসন' বা 'ফানান' নামকরণ করা 'উসলুজ' বলার চেয়ে অধিক সুন্দর। একইভাবে শ্রবণের ক্ষেত্রে 'আগসানুল বান' (বানের ডালপালা) শব্দটি 'আসালিজুশ শাওহাত' শব্দের চেয়ে অধিক শ্রুতিমধুর। আর 'শাওহাত' হলো এমন এক প্রকার গাছ যা দিয়ে ধনুক বা বল্লম তৈরি করা হয়। তৃতীয়ত: শব্দটি যেন—যেমনটি জাহিয বলেছেন—বন্ধুর বা শ্রুতিকটু না হয়; যেমন আবু তাম্মামের উক্তি:নিশ্চয়ই সে তার চেহারা নিয়ে মিশরের সামনে উদিত হয়েছে … কোনো অশুভ পাখি কিংবা স্থবির বৃদ্ধ পাখি ছাড়াইএখানে 'কাহল' শব্দটি ভাষার এক বিরল ও অপরিচিত শব্দ। বর্ণিত আছে যে, ভাষাবিদ আসমায়িও এই শব্দটি চিনতেন না। এটি কেবল হুযাইল গোত্রের কিছু কবির কবিতায় পাওয়া যায়, যেমন তাঁর উক্তি:যদি সালমা তাঁর প্রতিবেশী হতো অথবা যদি … রাবাহ ইবনে সাদ তাকে আশ্রয় দিত, তবে তাকে কোনো বৃদ্ধ পাখি ফিরিয়ে দিত।
(খণ্ড: ২)
আল-বালাগাহ ২ - আল-মাআনী - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ومن ذلك ما يروى عن أبي علقمة النحوي من قولهم: ما لكم تتكأكئون، وافْرَنْقِعُوا؛ لأنها كلمات وحشية. رابعًا: أن تكون الكلمة غير ساقطة عامية، كما قال الجاحظ أيضًا، ومثال الكلمة العامية قول أبي تمام:جَلَّيْتُ والموت مُبْدٍ حُر صفحته … وقد تَفَرْعَنَ في أفعاله الأجلفإن تفرعن مشتق من اسم فرعون، وهو من ألفاظ العامة، وعادتهم أن يقولوا: تفرعن فلان إذا وصفوه بالجبرية، فأما قول أبي الطيب المتنبي:إني على شرفي بما في خمرها … لأعف عما في سراويلاتهافلا شيء أقبح من ذكر السراويلات. خامسًا: مقاييس الفصاحة عند ابن سنان الخفاجي أن تكون الكلمة جارية على العرف العربي الصحيح غير شاذة، ويدخل في هذا القسم ما ينكره أهل اللغة، ويرده علماء النحو من التصرف الفاسد في الكلمة، وقد يكون ذلك لأجل أن اللفظة بعينها غير عربية، كما أنكروا على أبي الشيص قوله:وجناح مقصوص تحيف ريشه … ريب الزمان تحيف المقراضوقالوا: ليس المقراض من كلام العرب وقد تكون الكلمة عربية؛ إلا أنها قد عبر بها عن غير ما وضعت له في عرف اللغة، كما قال البحتري:تشق عليه الريح كل عشية … جيوب الغمام بين بكر وأيمفوضع الأيم مكان الثيب، وليس الأمر كذلك، فليست الأيم هي الثيب في كلام العرب، وإنما الأيم هي التي لا زوج لها بكرًا كانت أو ثيبًا كما قال تعالى:
এর মধ্যে রয়েছে যা আবু আলকামা আন-নাহবী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তারা বলত: তোমাদের কী হয়েছে যে তোমরা আমার কাছে এভাবে ভিড় করছ, তোমরা সরে যাও; কারণ এগুলো হচ্ছে অদ্ভুত বা বুনো শব্দ। চতুর্থত: শব্দটি যেন নিম্নমানের বা লৌকিক না হয়, যেমনটি আল-জাহিজও বলেছেন। লৌকিক বা সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত শব্দের একটি উদাহরণ হলো আবু তাম্মামের এই বক্তব্য:আমি প্রকাশিত হয়েছি যখন মৃত্যু তার চেহারা উন্মোচিত করছিল … আর মৃত্যু তার কার্যাবলিতে উদ্ধত বা ফেরাউনসুলভ আচরণ করছিলএখানে "তাফারআনা" শব্দটি ফেরাউন নাম থেকে উদ্ভূত, এবং এটি সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত শব্দ। তাদের অভ্যাস হলো তারা বলে: অমুক ব্যক্তি ফেরাউনসুলভ আচরণ করছে, যখন তারা তাকে জবরদস্ত বা অত্যাচারী হিসেবে বর্ণনা করে। আর আবু আল-তাইয়্যিব আল-মুতানাব্বির বক্তব্যের ক্ষেত্রে:আমি আমার উচ্চমর্যাদা সত্ত্বেও তার মদের পাত্রে যা আছে তা থেকে... তার পাজামার ভেতরে যা আছে তা থেকে নিজেকে পবিত্র রাখিবস্তুত 'পাজামা' শব্দের উল্লেখ করার চেয়ে কদর্য আর কিছুই নেই। পঞ্চমত: ইবনে সিনান আল-খাফাজীর নিকট সাবলীলতার মানদণ্ড হলো শব্দটি সঠিক আরবি প্রথা অনুযায়ী প্রচলিত হতে হবে এবং তা ব্যতিক্রমী হবে না। এই বিভাগের অন্তর্ভুক্ত হলো যা ভাষাবিদগণ অস্বীকার করেন এবং ব্যাকরণবিদগণ শব্দের মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ রূপান্তরের কারণে প্রত্যাখ্যান করেন। এটি কখনো হতে পারে এই কারণে যে শব্দটির মূল উৎসই আরবি নয়, যেমনটি তারা আবু আশ-শাইসের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন:আর একটি কাটা ডানা যার পালকগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে … কালের বিবর্তন তাকে কাঁচির ন্যায় কেটে নষ্ট করেছেতারা বলেন: 'মিকরাদ' (কাঁচি) শব্দটি আরবদের আদি ভাষার অন্তর্ভুক্ত নয়। আবার শব্দটি আরবি হতে পারে; তবে ভাষাগত প্রথা অনুযায়ী তা যে অর্থের জন্য নির্ধারিত, তা ব্যতীত অন্য অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি আল-বুহতুূরী বলেছেন:বাতাস প্রতিটি সন্ধ্যায় তার ওপর বিদীর্ণ করে … মেঘমালার বুককে, কুমারী ও অবিবাহিতার মাঝেএখানে তিনি 'আইয়্যিম' (অবিবাহিতা) শব্দটিকে 'সাইয়্যিব' (পূর্ববিবাহিতা) শব্দের স্থলে বসিয়েছেন, অথচ বিষয়টি সঠিক নয়। কারণ আরবদের ভাষায় 'আইয়্যিম' মানেই 'সাইয়্যিব' নয়, বরং 'আইয়্যিম' হলো সেই নারী যার কোনো স্বামী নেই, সে কুমারী হোক বা পূর্ববিবাহিতা হোক, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন:
(খণ্ড: ২)
আল-বালাগাহ ২ - আল-মাআনী - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
{وَأَنْكِحُوا الْأَيَامَى مِنْكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ} (النور: 32) وليس مراده تعالى نكاح الثيبات من النساء دون الأبكار، وإنما يريد اللواتي لا أزواج لهن، وقد يكون من الشاذ مما أنكره أهل اللغة ما جاء به حذف من الكلمة، كما قال النجاشي:فلست بآتيه ولا أستطيعه … ولاك اسقني إن كان ماؤك ذا فضلأراد: ولكن اسقني. وقد يكون على وجه الزيادة في الكلمة مثل أن يشبع الحركة فتصير حرفًا كما قال ابن هرمة في رثاء ابنه:وأنت على الغواية حيث ترمى … وعن عيب الرجال بمنتزاحأي ببعيد عنه، وقد يكون لأن الكلمة بخلاف الصيغة في الجمع أو غيره، كما في قول الطرماح:وأكره أن يعيب علي قومي … خجايا الأرذلين ذوي الحِناتفجمع إحنة على غير جمع الصحيح لأنها إحنة وإحن، ولا يقال حنات، ومن هذا الفصل أن يبدل حرف من حروف الكلمة بغيره، كما في قول شاعر:لها أشارير من لحم منمرة … من الثعالي ووخز من أرانيهايريد من الثعالب وأرانبها. ومنها إظهار التضعيف في الكلمة مثل قول الشاعر:مهلًا أعازل قد جربت من خلقي … إني أجود لأقوام وإن ضننواوأما صرف ما لا ينصرف كقصر الممدود، ومد المقصور، وحذف الإعراب للضرورة، وتأنيث المذكر، وتذكير المؤنث فإن هذا وأشباهه وما يجري مجراه، وإن لم يؤثر في فصاحة الكلمة كبير تأثير؛ فإنني أوثر صيانتها عنه هكذا يقول ابن سنان؛ لأن الفصاحة تنبئ عن اختيار الكلمة وحسنها وطلاوتها، ولها من هذه الأمور صفة نقص فيجب طرحها.
{তোমরা তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিতদের এবং তোমাদের সৎকর্মশীল দাস ও দাসীদের বিবাহের ব্যবস্থা করো} (আন-নূর: ৩২); এখানে মহান আল্লাহ কুমারী ব্যতিরেকে কেবল বিধবা বা তালাকপ্রাপ্ত নারীদের বিবাহের নির্দেশ বুঝাননি, বরং তিনি সেই সব নারীদের বুঝিয়েছেন যাদের কোনো স্বামী নেই। আর ভাষাবিদগণ যা অস্বীকার করেছেন এমন বিরল প্রয়োগের অন্তর্ভুক্ত হলো শব্দ থেকে কোনো অক্ষর বিলুপ্ত করা, যেমনটি আন-নাজাশী বলেছেন:আমি তার কাছে আসব না এবং আমি তা করতে সক্ষমও নই... কিন্তু তোমার কাছে যদি অতিরিক্ত পানি থাকে তবে আমাকে পান করাওতিনি বুঝিয়েছেন: 'কিন্তু আমাকে পান করাও' (মূল শব্দ 'লাকিন' থেকে 'নুন' বিলুপ্ত হয়েছে)। আবার কোনো শব্দে অতিরিক্ত হরফ যুক্ত হওয়ার মাধ্যমেও তা হতে পারে, যেমন হারাকাতকে টেনে দীর্ঘ করা ফলে তা হরফে পরিণত হয়; যেমন ইবনে হারমাহ তার পুত্রের শোকগাথায় বলেছেন:তুমি পথভ্রষ্টতার উপর আছ যেখান থেকে তোমাকে নিক্ষেপ করা হয়... আর মানুষের দোষ-ত্রুটি থেকে তুমি অনেক দূরেঅর্থাৎ তা থেকে দূরে। আবার কখনও শব্দটি বহুবচন বা অন্য কোনো ক্ষেত্রে মূল রূপের বিপরীত হওয়ার কারণেও হতে পারে, যেমন আত-তারিম্মাহ-এর উক্তিতে:আমি অপছন্দ করি যে আমার কওম আমাকে দোষারোপ করুক... সেইসব নীচ ও নিকৃষ্টদের যারা বিদ্বেষ পোষণকারীএখানে তিনি 'ইহনাহ' (বিদ্বেষ) শব্দের বহুবচন ব্যাকরণসিদ্ধ নিয়মের বাইরে করেছেন; কারণ এর বহুবচন হলো 'ইহনাহ' এবং 'ইহান', একে 'হীনাত' বলা হয় না। এই পরিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত হলো শব্দের একটি বর্ণকে অন্য বর্ণ দ্বারা পরিবর্তন করা, যেমন জনৈক কবির উক্তিতে:তার জন্য রয়েছে ছড়ানো গোশতের টুকরো যা চিতা বাঘের মতো চিত্রবিচিত্র... শিয়াল এবং খরগোশের শিকার থেকেতিনি 'সাআলিব' (শিয়ালসমূহ) এবং 'আরানিব' (খরগোশসমূহ) বুঝিয়েছেন। এর মধ্যে শব্দের দ্বিত্ব বা তাশদীদকে প্রকাশ করাও অন্তর্ভুক্ত, যেমন কবির উক্তি:হে তিরস্কারকারিণী! থামো, তুমি আমার চরিত্র সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভ করেছ... নিশ্চয়ই আমি লোকেদের প্রতি বদান্যতা প্রদর্শন করি যদিও তারা কৃপণতা করেআর 'গাইরে মুনসারিফ' শব্দকে 'মুনসারিফ' করা, দীর্ঘায়িত শব্দকে সংক্ষিপ্ত করা, সংক্ষিপ্ত শব্দকে দীর্ঘায়িত করা, ছন্দের প্রয়োজনে বিভক্তি বিলোপ করা এবং পুংলিঙ্গকে স্ত্রীলিঙ্গ বা স্ত্রীলিঙ্গকে পুংলিঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করা—এই বিষয়গুলো এবং এর অনুরূপ যা কিছু রয়েছে, তা যদিও শব্দের প্রাঞ্জলতার ওপর খুব বেশি প্রভাব ফেলে না; তবুও আমি শব্দকে এগুলো থেকে মুক্ত রাখাকেই প্রাধান্য দিই। ইবনে সিনান এমনই বলেছেন; কারণ প্রাঞ্জলতা শব্দের সঠিক নির্বাচন, এর সৌন্দর্য ও মাধুর্যের পরিচায়ক। আর এই বিষয়গুলো শব্দের মধ্যে এক ধরনের ত্রুটি সৃষ্টি করে, তাই এগুলো বর্জন করা আবশ্যক।
(খণ্ড: ২)
আল-বালাগাহ ২ - আল-মাআনী - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
سادسًا: ألا تكون الكلمة قد عبر بها عن أمر آخر يكره ذكره، فإذا أوردت، وهي غير مقصود بها ذلك المعنى قبحت، وإن كملت فيها الصفات التي بيناها، ومثل هذا قول عروة بن الورد العبسي:وقلت لقوم في الكنيف تروحوا … عشية بتنا عندما وانى تورحسابعًا: ألا تكون الكلمة كثيرة الحروف، فإنها متى زادت على الأمثلة المعتادة المعروفة قبحت وخرجت عن وجه من وجوه الفصاحة، ومن ذلك قول أبي نصر بن نباتة:فإياكم أن تكشفوا عن رؤوسكم … ألا إن مغناطيسهن الذوائبفمغناطيسهن كلمة غير مرضية. ومن هذا النوع أيضًا قول أبي تمام:فلأذربيجان اختيال بعدما … كانت معرس عبرة ونكالسمجت ونبهنا على استسماجها … ما حولها من نضرة وجمالفكلمة "فلأذربيجان" كلمة رديئة لطولها وكثرة الحروف وخروجها بذلك عن المعتاد في الألفاظ إلى الشاذ النادر. ثامنًا: أن تكون الكلمة مصغرة في موضع عبر بها فيه عن شيء لطيف أو خفي أو قليل أو ما يجري مجرى ذلك، ومثال ذلك قول الشريف الرضي رحمه الله:يولع الطل بردينا وقد نسمت … رويحة الفجر بين الضال والسلمفلما كانت الريح المقصودة هنا نسيمًا مريضًا ضعيفًا حسنت العبارة عنه بالتصغير، وكان للكلمة طلاوة وعذوبة.
ষষ্ঠত: শব্দটি যেন এমন কোনো বিষয় প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত না হয় যা উল্লেখ করা অপছন্দনীয়। যদি শব্দটি এমন স্থানে ব্যবহৃত হয় যেখানে সেই অপছন্দনীয় অর্থটি উদ্দেশ্য নয়, তবুও তা কুৎসিত হয়ে যায়, যদিও তাতে আমাদের বর্ণিত গুণাবলি পূর্ণমাত্রায় বিদ্যমান থাকে। উরওয়া বিন আল-ওয়ারদ আল-আবসি-এর উক্তি এর একটি উদাহরণ:এবং আমি এক কওমকে বললাম যারা তাঁবুতে ছিল, তোমরা বৈকালিক যাত্রা করো … সেই সন্ধ্যায় যখন আমরা রাত কাটালাম যখন মন্থর বাতাস প্রবাহিত হচ্ছিলসপ্তমত: শব্দটি যেন অত্যধিক অক্ষরবিশিষ্ট না হয়। কেননা, যখন শব্দ স্বাভাবিক ও পরিচিত উদাহরণগুলোর চেয়ে দীর্ঘ হয়ে যায়, তখন তা কুৎসিত হয়ে পড়ে এবং অলঙ্কারশাস্ত্রের অন্যতম দিক থেকে বিচ্যুত হয়। আবু নাসর বিন নুবাতাহ-র উক্তি এর অন্তর্ভুক্ত:তোমরা নিজেদের মাথা উন্মোচন করা থেকে সাবধান থাকো … জেনে রেখো, তাদের অলকগুচ্ছগুলো তো চুম্বকসদৃশএখানে 'তাদের চুম্বক' শব্দটি সন্তোষজনক নয়। এই প্রকারের মধ্যে আবু তাম্মামের উক্তিটিও অন্তর্ভুক্ত:অতঃপর আজারবাইজানের জন্য রয়েছে গর্বিত পদচারণা, যখন তা ছিল … শিক্ষা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিশ্রামস্থলতা কুৎসিত হয়ে পড়েছে এবং আমাদের তার কুৎসিত রূপ সম্পর্কে সজাগ করেছে … তার চারপাশের সজীবতা ও সৌন্দর্যএখানে "আজারবাইজানের জন্য" শব্দটি তার দৈর্ঘ্য, অধিক অক্ষর এবং শব্দের স্বাভাবিক ধারা থেকে বিচ্যুত হয়ে বিরল ও অস্বাভাবিক হওয়ার কারণে একটি মন্দ শব্দ। অষ্টমত: শব্দটি যেন কোনো সূক্ষ্ম, নিগূঢ়, সামান্য বা তদ্রূপ কোনো বিষয় প্রকাশের ক্ষেত্রে ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপে ব্যবহৃত হয়। এর উদাহরণ হলো শরীফ আর-রাজী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর উক্তি:শিশিরবিন্দু আমাদের চাদর দুটিতে আসক্ত হয়, যখন প্রবাহিত হয় … প্রভাতের মৃদু সমীরণ দাল ও সালাম বৃক্ষের মাঝ দিয়েযেহেতু এখানে উদ্দিষ্ট বাতাসটি ছিল একটি অত্যন্ত মৃদু ও দুর্বল সমীরণ, তাই একে ক্ষুদ্রার্থবোধক শব্দে প্রকাশ করা সুন্দর হয়েছে এবং শব্দটিতে লাবণ্য ও মাধুর্য সৃষ্টি হয়েছে।
(খণ্ড: ২)
আল-বালাগাহ ২ - আল-মাআনী - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وأما قول أبي الطيب:ظللت بين أصيحابي أكفكفه … وظل يسفح بين العذر والعزلأي أكففت دمعي، فالتصغير فيه مختار؛ لأن العادة جارية في قلة عدد من يصحب الإنسان في مثل هذه المواضع، ولهذا كانوا في الأكثر ثلاثة، وجرى ذكر الصاحبين والخليلين في الشعر كثيرًا لهذا السبب، كما قال امرؤ القيس:خليلي مرا بي على أم جندب … نقص لبانات الفؤاد المعذبوقال ابن نباتة:قفا فاقضيان لذة من حديثه … علانية إن السرار مريبوالذي نريد أن نخلص إليه أنه وعلى الرغم من اختلاف الأصل اللغوي لكلمتي الفصاحة والبلاغة إلا أنهما يلتقيان في الإبانة عن المعنى وإظهاره، وقد لحظ هذا كثير من البلاغيين المتقدمين، فجعلوهما في الاصطلاح شيئًا واحدًا، وعلى رأس هؤلاء البلاغيين الإمام عبد القاهر الجرجاني في كتابه (دلائل الإعجاز) حيث عقد فصلًا في تحقيق القول على الفصاحة والبلاغة والبيان والبراعة، وما شاكل ذلك من ألفاظ مترادفة. يقول عبد القاهر: "ومن المعلوم أنه لا معنى لهذه العبارات غير وصف الكلام بحسن الدلالة وتمامها فيما كانت له دلالة، ثم تبرجها في صورة هي أبهى وأزين وآنق وأعجب وأحق بأن تستولي على هوى النفس، وتنال الحظ الأوفر من ميل القلوب". انتهى. ومن ذلك يتضح أن الفصاحة والبلاغة عنده بمعنى واحد، وهو رأي الزمخشري من بعده وكذلك الفخر الرازي.وهناك رأي آخر لبعض البلاغيين المتقدمين يفرق بين الفصاحة والبلاغة في الاصطلاح تبعًا لاختلاف مدلولهما اللغوي؛ إذ يقول: الفصاحة تمام آلة البيان. هذا ذكره في (الصناعتين) فهي مقصورة على اللفظ لأن الآلة تتعلق باللفظ دون
আবু তাইয়িবের উক্তি সম্পর্কে বলা যায়:আমি আমার অল্পসংখ্যক সঙ্গীদের মাঝে অবস্থান করে আমার অশ্রু সংবরণ করতে থাকলাম … এবং তা ওজর ও তিরস্কারের মাঝেই প্রবাহিত হতে থাকল।অর্থাৎ, আমি আমার চোখের পানি সংবরণ করলাম। এখানে শব্দের ক্ষুদ্রতাবাচক রূপ (তাসগির) ব্যবহারের বিষয়টি পছন্দনীয়; কারণ এ জাতীয় স্থানগুলোতে মানুষের সাথে থাকা সঙ্গীদের সংখ্যা সাধারণত কম হয়ে থাকে। আর এই কারণেই তারা সংখ্যায় বড়জোর তিনজন হতেন। এই উদ্দেশ্যেই কবিতায় 'দুই সঙ্গী' এবং 'দুই অন্তরঙ্গ বন্ধু'র কথা প্রচুর বর্ণিত হয়েছে, যেমনটা ইমরুল কায়েস বলেছেন:হে আমার দুই বন্ধু, আমাকে উম্মে জুনদুবের পাশ দিয়ে নিয়ে চলো … যাতে আমরা আমাদের যন্ত্রণাকাতর হৃদয়ের আকাঙ্ক্ষাগুলো পূর্ণ করতে পারি।এবং ইবনে নাবাতা বলেছেন:তোমরা দুজনা থামো, এরপর তার আলোচনার আনন্দ প্রকাশ্যে লাভ করো … কেননা গোপন আলাপ তো সন্দেহজনক।আমরা যে সিদ্ধান্তে উপনীত হতে চাই তা হলো—ফাসাহাত (বাকপটুতা) ও বালাঘাত (অলংকারশাস্ত্র) শব্দ দুটির ভাষাগত উৎস ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও অর্থের সুস্পষ্ট প্রকাশ ও তা ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে শব্দ দুটি একীভূত হয়। পূর্ববর্তী অনেক অলংকারবিদই বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন, ফলে তাঁরা পারিভাষিক অর্থে শব্দ দুটিকে একই বস্তু হিসেবে গণ্য করেছেন। এই অলংকারবিদদের অগ্রগণ্য হলেন ইমাম আব্দুল কাহের আল-জুরজানি। তিনি তাঁর 'দালাইলুল ই'জাজ' গ্রন্থে ফাসাহাত, বালাঘাত, বয়ান এবং বারাআ’ত (উৎকর্ষ) ও সমজাতীয় সমার্থক শব্দগুলোর বিষয়ে আলোচনার সত্যতা নিরূপণে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় রচনা করেছেন। আব্দুল কাহের বলেন: "এটি সর্বজনবিদিত যে, শব্দগুচ্ছের চমৎকার ও নিখুঁত নির্দেশনার মাধ্যমে বক্তব্যকে সুশোভিত করা ছাড়া এই পরিভাষাগুলোর অন্য কোনো অর্থ নেই। এরপর সেই বক্তব্যকে এমন এক রূপে উপস্থাপন করা, যা অধিকতর উজ্জ্বল, সুসজ্জিত, মার্জিত, বিস্ময়কর এবং যা মনের ওপর কর্তৃত্ব করার ও হৃদয়ের আকর্ষণের সিংহভাগ লাভ করার যোগ্য।" সমাপ্ত। এখান থেকে স্পষ্ট হয় যে, তাঁর নিকট ফাসাহাত ও বালাঘাত একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। তাঁর পরবর্তী যুগে যামাখশারি এবং ফখরুদ্দীন রাজিও একই মত পোষণ করেছেন।পূর্ববর্তী কিছু অলংকারবিদের ভিন্ন একটি মতও রয়েছে, যারা শব্দ দুটির ভাষাগত অর্থের ভিন্নতার কারণে পারিভাষিক সংজ্ঞাতেও ফাসাহাত ও বালাঘাতের মধ্যে পার্থক্য করে থাকেন। যেমন তাঁরা বলেন: ফাসাহাত হলো প্রকাশের যন্ত্রের পূর্ণতা। এটি 'আস-সিনাআতাইন' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং এটি কেবল শব্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, কারণ প্রকাশের যন্ত্রটি অর্থের পরিবর্তে শব্দের সাথেই সংশ্লিষ্ট...
(খণ্ড: ২)
আল-বালাগাহ ২ - আল-মাআনী - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المعنى. أما البلاغة فهي إنهاء المعنى إلى القلب، فتكون مقصورة على المعنى، وأن ابن سنان الخفاجي يرى أن الفصاحة مقصورة على وصف الألفاظ، والبلاغة لا تكون إلا وصفًا للألفاظ مع المعاني، فلا يقال في كلمة واحدة تدل على معنى يفضل على مثلها: بليغة، وإن قيل فيها: فصيحة. ويؤخذ عليه أن ما ذكره صحيح في جانب البلاغة، أما الفصاحة فإنها ليست مقصورة على وصف الألفاظ المفردة فقط، بل إنها تكون وصفًا للفظ وللتركيب أيضًا بدليل قوله بعد ذلك: فكل بليغ فصيح، وليس كل فصيح بليغًا، كالذي يقع فيه الإسهاب في غير موضعه.وخلاصة القول هنا: أن الفصاحة والبلاغة مختلفان، وهذا الرأي القائل باختلافهما هو الذي اختاره المتأخرون من مدرسة السكاكي، ومن نسج على منواله، وقد استقر على ذلك الدرس البلاغي إلى عصرنا الحاضر.والسلام عليكم ورحمة الله وبركاته.
অর্থ। অলঙ্কারশাস্ত্র (বালাঘাত) হলো অর্থকে হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়া, তাই এটি অর্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ইবনে সিনান আল-খাফাজি মনে করেন যে, ফাসাহাত (বাগ্মিতা) কেবল শব্দের বর্ণনার মধ্যে সীমাবদ্ধ, আর বালাঘাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) কেবল শব্দ ও অর্থের সম্মিলিত বর্ণনা হিসেবেই গণ্য হয়। সুতরাং, একটি একক শব্দ যা এমন কোনো অর্থ নির্দেশ করে যা সমজাতীয় অন্য শব্দের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, তাকে 'বালিগ' (অলঙ্কারপূর্ণ) বলা হয় না, যদিও তাকে 'ফাসিহ' (প্রাঞ্জল) বলা হতে পারে। তাঁর এই মতের সমালোচনায় বলা হয় যে, বালাঘাতের ক্ষেত্রে তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা সঠিক, তবে ফাসাহাত কেবল একক শব্দের বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা শব্দ এবং বাক্যগঠনেরও বৈশিষ্ট্য হতে পারে। এর প্রমাণ হলো তাঁর পরবর্তী বক্তব্য: "প্রত্যেক বালিগ-ই ফাসিহ, কিন্তু প্রত্যেক ফাসিহ বালিগ নয়," যেমনটি ঘটে অপ্রাসঙ্গিক দীর্ঘায়নের ক্ষেত্রে।এখানে সারকথা হলো: ফাসাহাত ও বালাঘাত ভিন্ন ভিন্ন দুটি বিষয়। তাদের পার্থক্যের এই মতটিই আল-সাক্কাকির ঘরানা এবং যারা তাদের পথ অনুসরণ করেছেন এমন পরবর্তী বিদ্বানগণ গ্রহণ করেছেন। বর্তমান সময় পর্যন্ত অলঙ্কারশাস্ত্রের পাঠে এই মতটিই প্রতিষ্ঠিত রয়েছে।আপনাদের ওপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ২)
আল-বালাগাহ ২ - আল-মাআনী - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الدرس: 2 الفصاحة والبلاغة.
পাঠ: ২ বাকপটুতা ও অলঙ্কারশাস্ত্র
(খণ্ড: ২)
আল-বালাগাহ ২ - আল-মাআনী - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
بسم الله الرحمن الرحيمالدرس الثاني(الفصاحة والبلاغة) معنى الفصاحة والبلاغةالحمد لله، والصلاة والسلام على سيدنا رسول الله، وعلى آله وصحبه، ومن والاه، وبعد:فقد جرت عادة البلاغيين قبل الشروع في مباحث علم المعاني أن يذكروا مقدمة في بيان معنى الفصاحة والبلاغة، وانحسار علم البلاغة في العلوم الثلاثة: المعاني، والبيان، والبديع على غرار ما صنع الخطيب القزويني في كتابه (الإيضاح)، وهذا اتجاه سديد وصنيع محمود؛ لأن الحكم على الشيء فرع عن تصوره.وليس من الحكمة أن نشرع في تفاصيل علم من العلوم قبل أن نقف على المراد به والغرض منه، وقد وردت كلمة الفصاحة في اللغة بمعان كثيرة، كلها كما ذكرنا قبل ذلك تنبئ عن الظهور والبيان، ومن ذلك قول العرب: أفصح اللبن. أي انجلت عنه رغوته فظهر. وقولنا: سرينا حتى أفصح الصبح. أي بدا ضوءه. ومنه المثل المشهور: أفصح الصبح لذي عينين. وهذا يوم فصيح ومفصح؛ أي جلي لا غيم فيه، ولا ضباب. وأفصح به أي صرح به. ويقال: فصح الأعجمي وأفصح: إذا خلصت لغته من اللكنة واللحن وانطلق لسانه بالعربية. ومنه قوله تعالى: {وَأَخِي هَارُونُ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّي لِسَانًا} (القصص: 34) أي أبين وأظهر مني قولًا. ويقال أيضًا: أفصح الصبي في منطقه إذا أبان ووضح كلامه في أول أمره. وفصح الرجل وتفصح: إذا كان عربي اللسان فازداد فصاحة. والتفصح: استعمال الفصاحة. وقيل: التشبه بالفصحاء. هكذا ذكره ابن منظور في كتابه (لسان العرب).والفصيح في اللغة المنطلق اللسان في القول، الذي يعرف جيد الكلام من رديئه، فهو طلق اللسان يكشف عن معانيه ويعبر عن مشاعره، ويعرب عن ضميره بلفظ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।দ্বিতীয় পাঠ(ফাসাহাত ও বালাগাত) ফাসাহাত ও বালাগাতের অর্থসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা রাসূলুল্লাহর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা তাঁকে অনুসরণ করেছেন তাদের ওপর। অতঃপর:বালাগাত বা অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণের রীতি হলো, ইলমুল মা’আনী এর আলোচনা শুরু করার পূর্বে ফাসাহাত ও বালাগাতের অর্থ স্পষ্ট করার জন্য একটি ভূমিকা উল্লেখ করা এবং খতীব আল-কাযভীনী তাঁর (আল-ঈযাহ) কিতাবে যেভাবে করেছেন, সেই আদলে বালাগাত শাস্ত্রকে তিনটি বিদ্যায়—মা’আনী, বায়ান ও বাদী’—সীমাবদ্ধ করা। এটি একটি সঠিক দিকনির্দেশনা এবং প্রশংসনীয় কাজ; কারণ কোনো বিষয় সম্পর্কে বিধান প্রদান করা সেই বিষয়টি অনুধাবন করার ওপর নির্ভরশীল।কোনো শাস্ত্রের বিস্তারিত আলোচনায় প্রবেশ করার পূর্বে তার উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য সম্পর্কে অবগত হওয়া প্রজ্ঞার পরিচায়ক। আভিধানিক অর্থে ফাসাহাত শব্দটি অনেক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যার সবগুলোই—যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি—প্রকাশ হওয়া ও স্পষ্ট হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। যেমন আরবদের উক্তি: 'দুধ ফাসিহ হয়েছে'। অর্থাৎ তার ওপর থেকে ফেনা চলে গিয়ে দুধ প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের কথা: 'আমরা রাতভর ভ্রমণ করলাম যতক্ষণ না সকাল ফাসিহ হলো'। অর্থাৎ সকালের আলো প্রকাশিত হলো। এ থেকেই প্রসিদ্ধ প্রবাদটি এসেছে: 'চক্ষুষ্মান ব্যক্তির নিকট সকাল ফাসিহ (স্পষ্ট) হয়ে গেছে'। আর এটি একটি ফাসিহ বা মুফসিহ দিন; অর্থাৎ উজ্জ্বল দিন যাতে কোনো মেঘ বা কুয়াশা নেই। 'আফসাহা বিহি' মানে সে তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করল। আরও বলা হয়: অনারব ব্যক্তি ফাসিহ হয়েছে বা ফাসাহাত অবলম্বন করেছে—যখন তার ভাষা জড়তা ও ভুল থেকে মুক্ত হয় এবং তার জিহ্বা সাবলীলভাবে আরবি ভাষায় চলতে শুরু করে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমার ভাই হারুন, সে আমার চেয়ে অধিক প্রাঞ্জল ভাষী} (কাসাস: ৩৪) অর্থাৎ সে বক্তব্যে আমার চেয়ে অধিক স্পষ্ট ও ব্যক্তকারী। আরও বলা হয়: শিশুটি তার কথায় ফাসাহাত প্রকাশ করেছে যখন তার শৈশবের শুরুতে তার কথা স্পষ্ট ও পরিষ্কার হয়। আর সেই ব্যক্তি ফাসিহ হয়েছে বা পাণ্ডিত্য দেখিয়েছে—যখন সে আরবি ভাষী হয় এবং তার ফাসাহাত বৃদ্ধি পায়। পাণ্ডিত্য প্রদর্শন হলো ফাসাহাতের প্রয়োগ। আবার বলা হয়: ফাসিহ ব্যক্তিদের সদৃশ হওয়া। ইবনে মানযুর তাঁর (লিসানুল আরব) গ্রন্থে এভাবেই এটি উল্লেখ করেছেন।আভিধানিক অর্থে ফাসিহ হলো সেই ব্যক্তি যে কথায় সাবলীল জিহ্বার অধিকারী, যে উত্তম কথাকে মন্দ কথা থেকে পৃথক করতে জানে। সুতরাং সে সাবলীল জিহ্বাবিশিষ্ট, যে তার উদ্দেশ্য উন্মোচন করে, তার অনুভূতি ব্যক্ত করে এবং তার মনের ভাব শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করে।
(খণ্ড: ২)
আল-বালাগাহ ২ - আল-মাআনী - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
فصيح. فمعنى الفصاحة كما يتضح من هذه الاستعمالات، يدور حول الظهور والبيان والبلاغة في اللغة كلمة كما قلنا تنبئ عن الوصول والانتهاء، من قولهم: بلغت الغاية إذا انتهيت إليها، ومبلغ الشيء منتهاه. ويقال: بلغ الرجل بفتح اللام كذا بلوغًا إذا وصل وانتهى إليه. ويقال: بلغ بضم اللام بلاغة إذا أتى بكلام بليغ مؤثر يصل إلى أعماق النفس، وسميت البلاغة بلاغة لأنها تنهي المعنى إلى قلب السامع فيفهمه. هكذا في (لسان العرب) في مادة بلغ. وإذا كان الأمر كذلك فنعرض للمعنى الاصطلاحي لكلمتي الفصاحة والبلاغة عند المتأخرين، فنقول: إن معنى الفصاحة يختلف باختلاف موصوفها، وهي تقع صفة للكلمة والكلام والمتكلم. تقول: كلمة فصيحة، وكلام فصيح، ومتكلم فصيح. العيوب المخلة بفصاحة الكلمةفصاحة الكلمة تعني أن تكون الكلمة جارية على القواعد المستنبطة من استقراء كلام العرب، متناسبة الحروف، كثيرة الاستعمال متداولة على الألسن، وإن شئت فقل: أن تكون الكلمة سلسلة سائغة واضحة المعنى موافقة للعرف اللغوي، وقد عرفها علماء البلاغة بقولهم: هي سلامتها من عيوب ثلاثة: تنافر الحروف، ومخالفة القياس اللغوي، والغرابة. أما تنافر الحروف، فهو -كما ذكر الخطيب القزويني في (الإيضاح) - وصف في الكلمة يوجب ثقلها على اللسان وعسر النطق بها
প্রাঞ্জল। এই ব্যবহারগুলো থেকে যেমনটি স্পষ্ট হয়, ফাসাহাত (সাবলীলতা)-এর অর্থ ভাষার ক্ষেত্রে প্রকাশ, স্পষ্টতা এবং অলঙ্কারিতাকে ঘিরে আবর্তিত হয়। 'বালাগাত' শব্দটি, যেমনটি আমরা বলেছি, গন্তব্যে পৌঁছানো এবং সমাপ্তি নির্দেশ করে। যেমন বলা হয়: 'আমি লক্ষ্যে পৌঁছেছি' যখন আমি সেখানে গিয়ে পৌঁছালাম। আর কোনো জিনিসের 'মাবলাগ' হলো তার শেষ সীমা। আবার বলা হয়: 'বালাগা' (লাম অক্ষরে জবর দিয়ে), যখন কোনো ব্যক্তি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাল এবং সেখানে গিয়ে সমাপ্ত করল। আর বলা হয়: 'বালুগা' (লাম অক্ষরে পেশ দিয়ে), যখন কেউ এমন অলঙ্কারপূর্ণ ও প্রভাবশালী বক্তব্য নিয়ে আসে যা হৃদয়ের গভীরে পৌঁছে যায়। বালাগাতকে 'বালাগাত' বলা হয়েছে কারণ এটি অর্থকে শ্রোতার অন্তরে পৌঁছে দেয় এবং সে তা বুঝতে সক্ষম হয়। 'লিসানুল আরব' অভিধানে 'বা-লাম-গাইন' মূলধাতুর আলোচনায় এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। বিষয়টি যখন এমনই, তখন আমরা পরবর্তী যুগের আলেমদের নিকট 'ফাসাহাত' ও 'বালাগাত' শব্দদ্বয়ের পারিভাষিক অর্থ পেশ করছি। আমরা বলছি: ফাসাহাতের অর্থ তার বিশেষিত বস্তুর ভিন্নতার কারণে ভিন্ন ভিন্ন হয়। এটি শব্দ, বাক্য এবং বক্তার বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আপনি বলবেন: সাবলীল শব্দ, সাবলীল বাক্য এবং সাবলীল বক্তা। শব্দের সাবলীলতায় বিঘ্ন সৃষ্টিকারী ত্রুটিসমূহশব্দের সাবলীলতা বলতে বোঝায় শব্দটি যেন আরবদের বাক্যাবলীর সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ থেকে আহরিত নিয়মাবলীর অনুসারী হয়, অক্ষরগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য থাকে এবং তা অধিক ব্যবহৃত ও জনমুখে প্রচলিত হয়। আপনি চাইলে বলতে পারেন: শব্দটি যেন সাবলীল, সহজবোধ্য, স্পষ্ট অর্থবহ এবং ভাষাগত প্রথার অনুকূল হয়। অলঙ্কারশাস্ত্রবিদগণ এর সংজ্ঞায় বলেছেন: এটি তিনটি ত্রুটি থেকে মুক্ত হওয়া; অক্ষরের শ্রুতিকটুতা, ভাষাগত নিয়মের ব্যত্যয় এবং দুর্বোধ্যতা। অক্ষরের শ্রুতিকটুতার ক্ষেত্রে—খতিব আল-কাযভিনি 'আল-ইজাহ' গ্রন্থে যেমনটি উল্লেখ করেছেন—এটি শব্দের এমন একটি বৈশিষ্ট্য যা জিহ্বার ওপর শব্দটিকে ভারী করে তোলে এবং এর উচ্চারণে কষ্টসাধ্যতা সৃষ্টি করে।
(খণ্ড: ২)
আল-বালাগাহ ২ - আল-মাআনী - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وكراهيتها في الأسماع، فإذا تنافرت حروف الكلمة كان ذلك عيبًا مخلًّا بفصاحتها، وهذا التنافر منه ما هو متناه في الثقل، ومنه ما هو دون ذلك.فمن الأول الذي يوجب التناهي في الثقل كلمة "الهخع" هكذا بهاء مضمومة في أوله، في قول عربي سئل عن ناقته فقال: تركتها ترعى الهخع. وقد قالوا: إنه اسم نبات ترعاه إبل. وقيل: إنه كلمة معاياه لا أصل لها. وعلى أي حال فأنت تدرك ما في هذه الكلمة من الثقل الشديد، ومن هذا القبيل أيضًا كلمات: عقجق والظش والصصا والشصاصا. ومثال الثاني الذي أقل في تناهيه في الثقل عن سابقه، كلمة مستشزرات في قول امرئ القيس:وفرع يزين المتن أسود فاحم … أثيث كقنو النخلة المتعثكلالمتعثكل: يعني المتراكم. غدائره: الغدائر هي الزوائد.مستشزرات إلى العلا … تضل المدار في مسنًّا ومرسليقول: إن ذوائب شعرها مرتفعات، ولكثرته تغيب خصله وتختفي في المفتول منه والمرسل، أو تغيب المدارى في المفتول منه والمرسل. فأنت تجد في كلمة مستشزرات هنا تنافرًا يحسه السمع، وتكرهه الأذن، وإن كان أخف في الثقل على اللسان من النوع الأول، وقد نشأ الثقل من توسط الشين المهموسة الرخوة بين التاء المهموسة الشديدة والزاي المجهورة، ومن هذا القبيل أيضًا كلمة اطلخم في قول الشاعر:قد قلت لما اطلخم الأمر وانبعثت … عشواء تالية غُبْسًا دهاريسااطلخم يعني: اشتد وتفاقم. عشواء: صفة لمحذوف أي ليلة عشواء شديدة الظلمة. غبسًا: جمع غبساء كعشواء. والدهاريس يعني: الدواهي.
এবং শ্রবণে এর অপ্রীতিকরতা; সুতরাং যখন কোনো শব্দের বর্ণগুলোর মাঝে পারস্পরিক অনৈক্য বা বিসংগতি ঘটে, তখন তা তার প্রাঞ্জলতাকে ক্ষুণ্ণকারী একটি ত্রুটি হিসেবে গণ্য হয়। এই বিসংগতির মধ্যে কোনটি ওজনের দিক থেকে অত্যন্ত ভারী বা শ্রুতিকটু, আর কোনটি এর চেয়ে কম।প্রথম প্রকারের উদাহরণ যা ওজনে চরম শ্রুতিকটু হওয়ার আবশ্যকতা তৈরি করে, তা হলো "আল-হাখ'আ" শব্দটি—এভাবে শুরুতে পেশযুক্ত 'হা' সহযোগে; জনৈক আরবের উক্তিতে এটি পাওয়া যায় যাকে তার উষ্ট্রী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে সে বলেছিল: "আমি তাকে আল-হাখ'আ চড়তে রেখে এসেছি।" বলা হয়ে থাকে যে, এটি একটি উদ্ভিদের নাম যা উট খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। আবার বলা হয়েছে, এটি একটি অস্পষ্ট শব্দ যার কোনো মূল ভিত্তি নেই। যাই হোক, আপনি এই শব্দটির মধ্যকার তীব্র জড়তা বা ভার অনুধাবন করতে পারছেন। এই পর্যায়ভুক্ত আরও কিছু শব্দ হলো: আকজাক, আজ-জাশ, আস-সাসা এবং আশ-শাশাসা। দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণ, যা ওজনের দিক থেকে পূর্বেরটির তুলনায় কম কষ্টসাধ্য, তা হলো ইমরুল কায়েসের কাব্যে ব্যবহৃত "মুসতাশযিরাত" শব্দটি:"আর চুলের বিনুনি যা পিঠকে সুশোভিত করছে, তা অতিশয় কালো এবং ঘন; যেন থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা খেজুরের কাঁদি।"আল-মুতাআ'কিল: অর্থাৎ পুঞ্জীভূত বা স্তূপীকৃত। গাদাইরুহু: গাদাইর হলো চুলের বিনুনি বা বর্ধিত অংশ।"সেগুলো উপরের দিকে উঁচিয়ে তোলা হয়েছে... যা পাকানো এবং খোলা চুলের মাঝে চিরুনিকে পথ ভুলিয়ে দেয়।"তিনি বলছেন: তার চুলের অগ্রভাগগুলো ঊর্ধ্বমুখী, এবং এর আধিক্যের কারণে এর গুচ্ছগুলো পাকানো এবং এলিয়ে দেওয়া চুলের ভেতরে অদৃশ্য হয়ে যায়, অথবা চুলের চিরুনিগুলো পাকানো ও ছেড়ে দেওয়া চুলের মধ্যে হারিয়ে যায়। আপনি এখানে "মুসতাশযিরাত" শব্দটিতে এমন একটি ধ্বনিগত বিসংগতি খুঁজে পাবেন যা শ্রবণেন্দ্রিয় অনুভব করে এবং কান যা অপছন্দ করে; যদিও এটি প্রথম প্রকারের তুলনায় জিহ্বার উচ্চারণে কিছুটা হালকা। এই ভার বা জড়তা তৈরি হয়েছে মৃদু ও কোমল 'শীন' বর্ণটি শক্ত ও মৃদু 'তা' এবং উচ্চধ্বনিযুক্ত 'যা' বর্ণের মাঝখানে আসার কারণে। এই প্রকারের আরেকটি উদাহরণ হলো কবির উক্তিতে ব্যবহৃত "ইতলাখাম্মা" শব্দটি:"আমি বলেছিলাম যখন বিষয়টি চরম আকার ধারণ করল এবং নির্গত হলো... এমন এক অন্ধকার রাত যার পিছু নিয়েছে ধূলিধূসরিত বিপদসমূহ।"ইতলাখাম্মা অর্থ: তীব্র হওয়া এবং চরম আকার ধারণ করা। আশওয়া: এটি একটি উহ্য পদের গুণবাচক শব্দ, অর্থাৎ এমন অন্ধকার রাত যাতে পথ দেখা যায় না। গুবসান: এটি গাবসা-এর বহুবচন, যেমন আশওয়া। আর দাহারিস অর্থ: মহাবিপদসমূহ।
(খণ্ড: ২)
আল-বালাগাহ ২ - আল-মাআনী - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وككلمة النُقَاخ في قول الشاعر:وأحمق ممن يكرع الماء قال لي … دع الخمر واشرب من نقاخ مبردومثل كلمة سويداواتها في قول المتنبي:إن الكريم بلا كرام منهم … مثل القلوب بلا سويداواتهاوقد نشأ ثقلها من طولها كما ترى، وأيضًا من ذلك كلمة الجِرِشَّا في قول المتنبي يمدح سيف الدولة:مبارك الاسم أغر اللقب … كريم الجرشا شريف النسبولعلك تدرك التنافر في كلمة الجرشا بالإضافة إلى خفاء معناها، ففيها غرابة أيضًا، ولا مانع من وجود أكثر من عيب في الكلمة الواحدة، كالتنافر والغرابة معًا. ولكن ما سبب التنافر؟ وهل هناك ضابط يمكن الاحتكام إليه في الحكم على الكلمة بالتنافر أو عدمه؟ قالوا في الإجابة عن ذلك: إن التنافر يكون لتقارب مخارج الحروف جدًّا، فهي بمنزلة مشي المقيد أو لتباعد مخارج الحروف جدًّا، فهي بمنزلة الطفرة، ومع أنه لا يمكن تجاهل ما لمخارج الحروف وهيئة تأليفها من الأثر في خفة الكلمة وثقلها إلا أنه لا يجري على قاعدة معروفة مضطردة، بل هو أمر أغلبي، فقد تكون الكلمة فصيحة مع قرب مخارج حروفها، مثل كلمة: الجيش والشجر. ومثل: ذقته بفمي. فالباء والميم أحرف شفوية متقاربة المخارج، ولا ثقل فيها.وقد تكون الكلمة فصيحة مع بعد مخارج حروفها مثل: علم وأمر وألم، بل إن الكلمتين قد تتركبان من حروف واحدة، وتكون إحداهما ثقيلة دون الأخرى، وذلك مثل علم، ومَلَع، فالأولى خفيفة على اللسان، ولا ينبو عنها الذوق، بخلاف الثانية مع اتحاد حروفها. والحق أن المعول عليه في ذلك، هو الذوق العربي
যেমন কবির উক্তিতে 'নুকাখ' শব্দটির মতো:এবং পানি পানকারী জনৈক আহাম্মক আমাকে বলল … মদ ছাড়ো এবং শীতল ও বিশুদ্ধ পানি (নুকাখ) পান করো।এবং আল-মুতানাব্বির উক্তিতে 'সুওয়াইদাওয়াতিহা' শব্দটির মতো:তাদের মধ্যে সম্মানীদের সান্নিধ্য ছাড়া একজন উদার ব্যক্তি … যেন তার হৃৎপিণ্ডবিহীন কলিজার মতো।আপনি দেখতেই পাচ্ছেন যে, শব্দটির দীর্ঘতার কারণে এর মধ্যে শ্রুতিকটুতা বা ভার জন্ম নিয়েছে। একইভাবে সাইফুদ দৌলার প্রশংসায় আল-মুতানাব্বির উক্তিতে 'আল-জিরিশশা' শব্দটি:বরকতময় তার নাম, উজ্জ্বল তার উপাধি … মহান তার আত্মা (জিরিশশা), কুলীন তার বংশ।সম্ভবত আপনি 'আল-জিরিশশা' শব্দটিতে অর্থগত অস্পষ্টতার পাশাপাশি ধ্বনিগত অসামঞ্জস্য (তানাফুর) অনুভব করছেন। সুতরাং এর মধ্যে শব্দগত অপরিচিতি বা দুর্বোধ্যতাও (গারাবাহ) রয়েছে। আর একটি শব্দের মধ্যে একাধিক ত্রুটি থাকাতে কোনো বাধা নেই, যেমন একইসাথে ধ্বনিগত অসামঞ্জস্য এবং দুর্বোধ্যতা থাকা। কিন্তু এই ধ্বনিগত অসামঞ্জস্যের কারণ কী? আর শব্দে ধ্বনিগত অসামঞ্জস্য আছে কি নেই, তা বিচার করার জন্য কি কোনো মানদণ্ড রয়েছে? এর উত্তরে বলা হয়েছে: ধ্বনিগত অসামঞ্জস্য তৈরি হয় বর্ণগুলোর উচ্চারণস্থল (মাখরাজ) অত্যন্ত কাছাকাছি হওয়ার কারণে, যা শৃঙ্খলিত ব্যক্তির হাঁটার ন্যায়; অথবা বর্ণগুলোর উচ্চারণস্থল অত্যন্ত দূরে হওয়ার কারণে, যা লাফিয়ে চলার ন্যায়। যদিও শব্দের সাবলীলতা বা শ্রুতিকটুতার ক্ষেত্রে বর্ণগুলোর মাখরাজ এবং তাদের বিন্যাস পদ্ধতির প্রভাবকে উপেক্ষা করা যায় না, তবুও এটি কোনো সুনির্দিষ্ট ও অপরিবর্তনীয় নিয়মের ওপর চলে না। বরং এটি একটি গরিষ্ঠাংশ বা অধিকাংশ ক্ষেত্রের বিষয়। অনেক সময় বর্ণগুলোর উচ্চারণস্থল কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও শব্দটি প্রাঞ্জল হতে পারে, যেমন: 'আল-জাইশ' (বাহিনী) এবং 'আশ-শাজার' (গাছ) শব্দদ্বয়। অথবা যেমন: 'আমি তা আমার মুখ দিয়ে আস্বাদন করেছি'। এখানে 'বা' এবং 'মীম' হলো ওষ্ঠ্য বর্ণ যাদের মাখরাজ কাছাকাছি, কিন্তু এর উচ্চারণে কোনো জড়তা বা ভার নেই।আবার বর্ণগুলোর উচ্চারণস্থল দূরে হওয়া সত্ত্বেও শব্দটি প্রাঞ্জল হতে পারে, যেমন: 'ইলম' (জ্ঞান), 'আমর' (আদেশ) এবং 'আলাম' (ব্যথা)। এমনকি দুটি শব্দ একই বর্ণ দিয়ে গঠিত হতে পারে, অথচ তাদের একটি শ্রুতিকটু আর অন্যটি নয়। যেমন: 'আলিমা' এবং 'মালা'আ'। প্রথমটি জিহ্বায় উচ্চারণ করা সহজ এবং রুচি একে প্রত্যাখ্যান করে না; কিন্তু দ্বিতীয়টি এর বিপরীত, যদিও বর্ণগুলো অভিন্ন। আর প্রকৃত সত্য হলো, এই ক্ষেত্রে মূল নির্ভরতা হলো শুদ্ধ আরবি রুচিবোধের ওপর।
(খণ্ড: ২)
আল-বালাগাহ ২ - আল-মাআনী - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
السليم المكتسب بالنظر في كلام العرب وتذوق أساليبهم، فما يعده الذوق السليم ثقيلًا عسر النطق فهو متنافر، سواء أكان ذلك من قرب مخارج الحروف أو من بعدها أم من غير ذلك، وما كان خفيفًا على اللسان لا ينفر منه السمع، ولا ينبو عنه الطبع فهو فصيح.ونحن إذا احتكمنا إلى الذوق السليم في كلمة مستشزرات الواردة في معلقة امرئ القيس، نجد أنها قد عبرت عن المعنى الذي يريده الشاعر أصدق تعبير، فهو يصف شعرها بكثرته وتداخله وتشابكه، ولذلك عمد إلى كلمة فيها هذا التداخل والتشابك، وهي مستشزرات التي تداخلت أصوات حروفها، وكاد صوت التاء والشين يختفي بين صوتي الراء والسين، فهي أكثر ملاءمة للمقام الذي وردت فيه من بديلتها مرتفعات مثلًا أو مستشرفات، وصورتها توحي بصورة الشعر الذي يصفه الشاعر لا سيما بعد قوله: "أثيث كقنو النخلة المتعثكل" فالسياق يستدعي كلمة مستشزرات ويلح عليها، ولذلك جاءت معبرة عن مراده في دقة ومؤثرة في قوة. كذا قاله البعض، وذهب إليه.كما أن طول الكلمة ليس عيبًا في كل الأحوال وعلى الإطلاق، وقد وردت في القرآن الكريم كلمات طويلة، ومع ذلك، فهي خفيفة على اللسان، لا ثقل فيها مثل قوله تعالى: {فَسَيَكْفِيكَهُمُ اللَّهُ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ} (البقرة: 137) وقوله: {وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِي الْأَرْضِ} (النور: 55) وأظنك معي، لا تجد صعوبة في النطق بهاتين الكلمتين {فَسَيَكْفِيكَهُمُ}، و {لَيَسْتَخْلِفَنَّهُمْ} ومثلهما {أَنُلْزِمُكُمُوهَا} (هود: 28) فطول الكلمة ليس على إطلاقه يعد عيبًا، ولذلك نقول: إن الأحكام البلاغية يجب أن تبنى على الأعم الأغلب، ولا تبنى على القطع والإطلاق؛ لأن القاعدة لا تطرد في كل الأحوال، والذوق العربي السليم هو الحكم الفيصل في مثل هذه الأمور.
আরবদের বক্তব্য পর্যালোচনা এবং তাদের রচনাশৈলী আস্বাদনের মাধ্যমে অর্জিত সুস্থ রুচিবোধের নিরিখে, যা কিছু সুস্থ রুচির কাছে ভারী ও উচ্চারণ করা কঠিন মনে হয়, তা-ই শ্রুতিকটু বা অসংলগ্ন; চাই তা বর্ণের উচ্চারণস্থলের নৈকট্যের কারণে হোক বা দূরত্বের কারণে হোক অথবা অন্য কোনো কারণে। আর যা জিহ্বায় সহজবোধ্য, যার প্রতি শ্রবণ বিমুখ হয় না এবং যার প্রতি প্রকৃতি বিরূপ হয় না, তা-ই প্রাঞ্জল।আমরা যদি ইমরুল কায়েসের মুয়াল্লাকায় বর্ণিত 'মুসতাশযিরাত' শব্দটির ক্ষেত্রে সুস্থ রুচির আশ্রয় নিই, তবে দেখতে পাই যে এটি কবির কাঙ্ক্ষিত অর্থকে অত্যন্ত নিপুণভাবে প্রকাশ করেছে। তিনি তার চুলের আধিক্য এবং এর পরস্পর জড়িয়ে থাকা ও জট পাকানো অবস্থার বর্ণনা দিচ্ছেন। এ কারণেই তিনি এমন একটি শব্দ বেছে নিয়েছেন যার মধ্যে এই জড়ানো ও জট পাকানোর বিষয়টি বিদ্যমান। আর তা হলো 'মুসতাশযিরাত', যার বর্ণগুলোর ধ্বনি একে অপরের মধ্যে প্রবিষ্ট হয়ে আছে; যেখানে 'তা' এবং 'শিন'-এর ধ্বনি 'রা' এবং 'সিন'-এর ধ্বনিদ্বয়ের মাঝে প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। ফলে এটি সেই প্রসঙ্গের জন্য তার বিকল্প শব্দ যেমন 'মুরতাফিয়াত' বা 'মুসতাশরিফাত'-এর তুলনায় অনেক বেশি উপযোগী। এর চিত্রটি কবির বর্ণিত চুলের চিত্রকেই ফুটিয়ে তোলে, বিশেষ করে তার এই উক্তির পর: "খেজুর গাছের ভারাক্রান্ত থোকার মতো ঘন কেশরাশি।" সুতরাং প্রেক্ষাপটটি 'মুসতাশযিরাত' শব্দটিকেই দাবি করে এবং এর ওপর জোর দেয়। এ কারণে এটি তার উদ্দেশ্যকে সূক্ষ্মভাবে এবং জোরালোভাবে প্রকাশ করতে সমর্থ হয়েছে। কেউ কেউ এমনটিই বলেছেন এবং এ মতই পোষণ করেছেন।তেমনিভাবে শব্দের দীর্ঘ হওয়া সর্বাবস্থায় এবং ঢালাওভাবে কোনো দোষ নয়। পবিত্র কুরআনে দীর্ঘ শব্দ এসেছে, তবুও সেগুলো জিহ্বায় অত্যন্ত সাবলীল, তাতে কোনো জড়তা নেই। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তাদের মোকাবেলায় আপনার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ} (আল-বাকারাহ: ১৩৭) এবং তাঁর বাণী: {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে, আল্লাহ তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তিনি অবশ্যই তাদের পৃথিবীতে স্থলাভিষিক্ত করবেন} (আন-নূর: ৫৫)। আমি মনে করি আপনিও আমার সাথে একমত হবেন যে, {ফাসায়াকফীকাহুম} এবং {লায়াসতাখলিফান্নাহুম}—এই শব্দ দুটি উচ্চারণে আপনি কোনো কাঠিন্য অনুভব করবেন না। অনুরূপভাবে {আনুলযিমুকুমুহা} (হূদ: ২৮) শব্দটিও। সুতরাং শব্দের দীর্ঘতাকে ঢালাওভাবে দোষ ধরা যায় না। এই কারণেই আমরা বলি: অলঙ্কারশাস্ত্রীয় সিদ্ধান্তগুলো অধিকাংশ বা সচরাচর যা ঘটে তার ওপর ভিত্তি করে হওয়া উচিত, কোনো চূড়ান্ত বা একরোখা নিয়মের ওপর নয়; কারণ নিয়ম সব ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য হয় না। আর সুস্থ আরবি রুচিবোধই এ জাতীয় বিষয়গুলোতে চূড়ান্ত মীমাংসাকারী।
(খণ্ড: ২)
আল-বালাগাহ ২ - আল-মাআনী - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
ثاني هذه الأمور المخلة بفصاحة المفردة أو اللفظة أو الكلمة بعد تنافر الحروف: مخالفة القياس اللغوي، وهي أن تجيء الكلمة على خلاف ما ثبت عن العرب الخلص، كأن تستعمل في غير ما وضعت له في عرف اللغة لا على سبيل المجاز مثل الأيم في قول البحتري:يشق عليه الريح كل عشية … جيوب الغمام بين بكر وأيموقد استعمل الأيم بمعنى الثيب؛ حيث جعلها في مقابل البكر، والأيم في اللغة تطلق على المرأة التي لا زوج لها بكرًا كانت أم ثيبًا، قال تعالى: {وَأَنْكِحُوا الْأَيَامَى مِنْكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ} (النور: 32) وليس مراده تعالى نكاح الثيبات منهن دون الأبكار، وإنما أراد اللاتي لا أزواج لهن، ومنه أن تكون الكلمة مخالفة للقياس الصرفي، كما في قول أبي النجم العجلي:الحمد لله العلي الأجلل … الواهب الفضل الكريم المجزلفإن القياس يقتضي إدغام المتماثلين، فيقول: الأجل، ولكنه فك الإدغام لضرورة الشعر مخالفًا بذلك ما تقرره القواعد الصرفية، ومنه كذلك قول أبي الطيب المتنبي:فإن يك بعض الناس سيفا لدولة … ففي الناس بُوقَات لها وطبولفكلمة "بوقات" غير فصيحة لأن القياس يقتضي جمع بوق على أبواق جمع تكسير، ولم يرد جمعه على بوقات. ومن صور المخالفة أيضًا حذف بعض الكلمة، كما في قول الشاعر:فلست بآتيه ولا أستطيعه … ولاك اسقني إن كان ماؤك ذا فضلأراد: ولكن اسقني. فحذف النون، وهكذا نرى أن مخالفة الكلمة في الوضع اللغوي عيب في صيغتها يخرجها عن الفصاحة، ومن ثم عن البلاغة. ولعلك
একক শব্দ বা পদের প্রাঞ্জলতা বিনষ্টকারী বিষয়গুলোর মধ্যে বর্ণের কর্কশতার পরে দ্বিতীয় বিষয়টি হলো: ভাষাতাত্ত্বিক নিয়মের লঙ্ঘন। আর তা হলো শব্দটি বিশুদ্ধ আরবদের থেকে প্রমাণিত নিয়মের বিপরীতে আসা; যেমন কোনো শব্দকে রূপক অর্থ ব্যতিরেকে ভাষার প্রচলিত ব্যাকরণের বাইরে এমন অর্থে ব্যবহার করা যার জন্য শব্দটি তৈরি করা হয়নি। যেমন বুহতুরীর কবিতায় ‘আইয়্যিম’ শব্দের ব্যবহার:
প্রতিটি সন্ধ্যায় বাতাস তার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় মেঘের বুক চিরে ফেলে, যা কুমারী ও স্বামীহীন নারীর মাঝে ব্যবধান গড়ে দেয়।
এখানে তিনি ‘আইয়্যিম’ শব্দটিকে অ-কুমারী বা বিবাহিতা নারী অর্থে ব্যবহার করেছেন; যেহেতু তিনি একে ‘বিকর’ বা কুমারী শব্দের বিপরীতে স্থাপন করেছেন। অথচ অভিধান অনুযায়ী ‘আইয়্যিম’ শব্দটি এমন প্রত্যেক নারীকে বোঝায় যার স্বামী নেই, চাই সে কুমারী হোক বা অ-কুমারী। মহান আল্লাহ বলেন: “তোমাদের মধ্যে যারা সঙ্গীহীন, তাদের বিবাহ সম্পন্ন করো এবং তোমাদের দাস-দাসীদের মধ্যে যারা সৎ তাদেরও।” (সূরা আন-নূর: ৩২)। এখানে মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য কুমারী ছাড়া কেবল অ-কুমারীদের বিবাহ দেওয়া নয়, বরং তিনি তাদের বুঝিয়েছেন যাদের স্বামী নেই। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো শব্দটি শব্দতাত্ত্বিক বা সারফী নিয়মের পরিপন্থী হওয়া, যেমনটি আবু আল-নাজম আল-ইজলীর কবিতায় দেখা যায়:
সমস্ত প্রশংসা সুউচ্চ ও মহিমান্বিত আল্লাহর জন্য, যিনি অনুগ্রহ দানকারী, দয়ালু এবং প্রাচুর্য প্রদানকারী।
এখানে শব্দতাত্ত্বিক নিয়ম অনুযায়ী দুটি সমজাতীয় বর্ণকে একত্রে সন্ধি বা ইদগাম করা আবশ্যক ছিল, ফলে শব্দটি হওয়ার কথা ছিল ‘আল-আজাল্ল’। কিন্তু তিনি কবিতার ছন্দের প্রয়োজনে ইদগাম ভেঙে ‘আল-আজলাল’ ব্যবহার করেছেন, যা শব্দতাত্ত্বিক নিয়মের পরিপন্থী। অনুরূপভাবে আবু আল-তৈয়িব আল-মুতানাব্বীর উক্তি:
যদি মানুষের মধ্যে কেউ রাষ্ট্রের তলোয়ার হয়, তবে মানুষের মধ্যে তার জন্য বিউগল ও ঢোলও রয়েছে।
এখানে ‘বুউকাত’ শব্দটি প্রাঞ্জল নয়, কারণ নিয়ম অনুযায়ী ‘বুক’ শব্দের বহুবচন ‘আবুয়াক’ হওয়া উচিত ছিল, ‘বুউকাত’ হিসেবে এর বহুবচন ব্যবহারের নিয়ম নেই। নিয়মের লঙ্ঘনের আরেকটি রূপ হলো শব্দের কিছু অংশ বিলুপ্ত করা, যেমন কবির এই উক্তিতে:
আমি তার কাছে আসব না এবং তার সামর্থ্যও রাখি না; কিন্তু তোমার কাছে যদি অতিরিক্ত পানি থাকে তবে আমাকে পান করাও।
এখানে তিনি ‘ওয়ালাকিন ইসকিনি’ (কিন্তু আমাকে পান করাও) বোঝাতে চেয়েছেন, ফলে তিনি ‘নূন’ বর্ণটি বিলুপ্ত করেছেন। এভাবেই আমরা দেখি যে, ভাষাতাত্ত্বিক কাঠামোর ক্ষেত্রে শব্দের বৈসাদৃশ্য তার গঠনে একটি ত্রুটি, যা তাকে প্রাঞ্জলতা থেকে বের করে দেয় এবং পরিণামে অলঙ্কারশাস্ত্র থেকেও বিচ্যুত করে। সম্ভবত আপনি...
(খণ্ড: ২)
আল-বালাগাহ ২ - আল-মাআনী - জামিয়াতুল মদীনা
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
تلاحظ أن العيب المخل بالفصاحة هنا ليس مقصورًا على مخالفة القياس الصرفي فقط، بل تعددت صوره ومواضعه ليدخل فيه كل ما ينكره أهل اللغة لمأخذ لغوي أو صرفي، أو تصرف في الكلمة بزيادة أو نقص غير معهودين؛ ولذلك سمي هذا العيب مخالفة القياس اللغوي، فالقول بأنه مخالفة القياس الصرفي قول ناقص، وإن شئت فقل: مخالفة الوضع اللغوي، أما مخالفة القياس فقط، فلا تكفي؛ إذ قد يحمله بعض الناس على القياس الصرفي فقط، وهذا خطأ؛ لأن مخالفة القياس الصرفي لا تخل دائمًا بالفصاحة، فقد تكون الكلمة مخالفة لقواعد الصرف، وهي مع ذلك فصيحة لموافقتها للوضع اللغوي، مثل كلمة استحوذ، والقياس الصرفي يقتضي إعلالها بقلب الواو ألفًا فيقال: استحاذ كاستقام واستجاب، نقول في مثلها: نقلت حركة الواو إلى الحرف الساكن الصحيح قبلها، ثم قلبت الواو الساكنة ألفًا لانفتاح ما قبلها، فتصير استحاذ، كاستقام واستجاب. وهي مع ذلك فصيحة لموافقتها ما نقل عن واضع اللغة.ومن هذا القبيل كلمات: آل، وماء، وأبا يأبى، بفتح العين في المضارع، وعور يعور، فآل، وماء أصلهما: أهل ومَو، فأبدلت الهاء همزة، وإبدال الهمزة من الهاء مخالف للقياس، وأما يأبى، فالقياس فيه كسر العين، وهي هنا الباء؛ لأن فعل بفتح العين لا تفتح عينه في المضارع إلا إذا كانت عينه أو لامه حرف حلق، كسأل وقرأ ومنع، وأما عور يعور فقد بقيت الواو على حالها، ولم تقلب ألفًا لأن الوصف منه على أفعل فعلاء، وهو أعور عوراء، فالفعل لم يستوف شرط الإعلال؛ ولذلك استعمل هكذا عور يعور، بدون إعلال. فهذه الأمثلة وما يشاكلها فصيحة الاستعمال، وإن خالفت القياس الصرفي لثبوت استعمالها لدى العرب الفصحاء، فهي موافقة لما ثبت عن الواضع.
আপনি লক্ষ্য করবেন যে, এখানে প্রাঞ্জলতাকে নষ্টকারী ত্রুটিটি কেবল রূপতাত্ত্বিক কিয়াসের (সরফী পরিমাপ) পরিপন্থী হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর রূপ ও স্থান বহুমুখী, যার অন্তর্ভুক্ত হবে ভাষাবিদগণ ভাষাতাত্ত্বিক বা রূপতাত্ত্বিক কোনো কারণে যা কিছু প্রত্যাখ্যান করেছেন, অথবা শব্দের মধ্যে অপ্রচলিত কোনো বৃদ্ধি বা হ্রাসের মাধ্যমে পরিবর্তন সাধন; এজন্য এই ত্রুটিকে 'ভাষাতাত্ত্বিক কিয়াসের পরিপন্থী হওয়া' হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। সুতরাং একে কেবল রূপতাত্ত্বিক কিয়াসের পরিপন্থী বলা একটি অসম্পূর্ণ বক্তব্য; আর আপনি চাইলে বলতে পারেন: এটি 'ভাষাগত ব্যবহারের পরিপন্থী হওয়া'। কেবল 'কিয়াসের পরিপন্থী' বলাই যথেষ্ট নয়; কারণ কেউ কেউ একে শুধু রূপতাত্ত্বিক কিয়াসের ওপর প্রয়োগ করতে পারেন, আর এটি ভুল; কেননা রূপতাত্ত্বিক কিয়াসের বিরোধিতা সর্বদা প্রাঞ্জলতাকে নষ্ট করে না। কখনো কখনো শব্দ রূপতত্ত্বের নিয়মের পরিপন্থী হওয়া সত্ত্বেও ভাষাগত ব্যবহারের সাথে মিল থাকার কারণে তা প্রাঞ্জল হতে পারে, যেমন 'ইস্তাহওয়াযা' শব্দটি। রূপতাত্ত্বিক কিয়াস অনুযায়ী এর মধ্যে ই'লাল (বর্ণ পরিবর্তন) করে ওয়াও-কে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন করা প্রয়োজন ছিল, ফলে বলা হতো: 'ইস্তাহাযা', যা 'ইস্তাক্বামা' ও 'ইস্তাজাবা'-এর মতো। আমরা এ জাতীয় শব্দে বলে থাকি: ওয়াও-এর হরকত তার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনবর্ণের (হরফে সহীহ সাকিন) দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে, অতঃপর পূর্ববর্তী বর্ণটি জবরযুক্ত হওয়ায় সুকুনবিশিষ্ট ওয়াও-টি আলিফ দ্বারা পরিবর্তিত হয়ে 'ইস্তাহাযা' হয়েছে। তা সত্ত্বেও এটি (ইস্তাহওয়াযা) প্রাঞ্জল, কারণ এটি ভাষা প্রবর্তকের পক্ষ থেকে বর্ণিত ব্যবহারের সাথে সংগতিপূর্ণ।এই পর্যায়ভুক্ত শব্দগুলো হলো: আল, মা’, এবং আবা-ইয়াবা (বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার আইন বর্ণে জবর হওয়ার ক্ষেত্রে) এবং আওবিরা-ইয়া'ওয়ারু। 'আল' এবং 'মা' শব্দদ্বয়ের মূল হলো: 'আহল' এবং 'মাও'; এখানে 'হা' বর্ণটিকে হামযাহ দ্বারা পরিবর্তন করা হয়েছে, আর 'হা' থেকে হামযাহ-তে রূপান্তর করা কিয়াস বা নিয়ম বহির্ভূত। আর 'ইয়াবা' শব্দটির ক্ষেত্রে কিয়াস অনুযায়ী আইন বর্ণে (যা এখানে 'বা' বর্ণ) যের হওয়া উচিত ছিল; কারণ 'ফা'আলা' (আইন বর্ণ জবরযুক্ত) ওজনের ক্রিয়ার আইন বর্ণ বর্তমানে (মুযারে) কেবল তখনই জবরযুক্ত হয়, যখন তার আইন অথবা লাম বর্ণটি কণ্ঠনালীয় বর্ণ হয়, যেমন: সাআলা, ক্বারাআ এবং মানা'আ। আর 'আওবিরা-ইয়া'ওয়ারু' শব্দটিতে ওয়াও তার নিজের অবস্থায় বহাল রয়েছে এবং আলিফ দ্বারা পরিবর্তিত হয়নি, কারণ এর বিশেষণটি 'আফ'আলু-ফা'লাউ' ওজনে আসে, যেমন: 'আ'ওয়ারু-আওরাউ'। ফলে ক্রিয়াটি ই'লাল বা রূপান্তরের শর্ত পূর্ণ করেনি; এ কারণেই এটি ই'লাল ছাড়াই 'আওবিরা-ইয়া'ওয়ারু' হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এই উদাহরণগুলো এবং এর সদৃশ শব্দগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রাঞ্জল, যদিও সেগুলো রূপতাত্ত্বিক কিয়াসের পরিপন্থী; কারণ বিশুদ্ধভাষী আরবদের মাঝে এগুলোর ব্যবহার প্রমাণিত, ফলে তা ভাষা প্রবর্তকের পক্ষ থেকে সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যবহারের অনুকূলে।