(খণ্ড: ১)
আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: -)
التقييد والإيضاح شرح مقدمة ابن الصلاح القسم: علوم الحديث
الكتاب: التقييد والإيضاح شرح مقدمة ابن الصلاح
المؤلف: أبو الفضل زين الدين عبد الرحيم بن الحسين بن عبد الرحمن بن أبي بكر بن إبراهيم العراقي (ت 806 هـ)
المحقق: عبد الرحمن محمد عثمان
الناشر: محمد عبد المحسن الكتبي صاحب المكتبة السلفية بالمدينة المنورة
الطبعة: الأولى، 1389 هـ/1969 م
عدد الصفحات: 475
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-তাকয়িদ ওয়াল-ইদাহ শারহু মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র
গ্রন্থ: আল-তাকয়িদ ওয়াল-ইদাহ শারহু মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ
লেখক: আবু আল-ফজল জাইন আদ-দীন আবদুর রহীম বিন আল-হুসাইন বিন আবদুর রহমান বিন আবি বকর বিন ইব্রাহিম আল-ইরাকি (মৃত্যু ৮০৬ হিজরি)
মুহাক্কিক: আবদুর রহমান মুহাম্মদ উসমান
প্রকাশক: মুহাম্মদ আবদ আল-মুহসিন আল-কুতুবি, মদিনা মুনাওয়ারার আল-মাকতাবাহ আস-সালাফিয়্যাহ-এর স্বত্বাধিকারী
সংস্করণ: প্রথম، ১৩৮৯ হিজরি/১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭৫
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
مقدمة…بسم الله الرحمن الرحيم
قال الشيخ إلامام الحافظ مفتي الشام تقي الدين أبو عمر عثمان بن عبد الرحمن بن عثمان ابن موسى بن أبي نصر النصري الشهرزوري الشافعي المعروف بابن الصلاح عليه الرحمة:
ربنا آتنا من لدنك رحمة وهيئ لنا من أمرنا رشدا.
الحمد لله الهادي من استهداه الواقي من اتقاه الكافي من تحرى رضاه حمدا بالغا أمد التمام ومنتهاه.
والصلاة والسلام إلاتمان إلاكملان على نبينا والنبيين وآل كل ما رجا راج مغفرته ورحماه آمين.
هذا: وإن علم الحديث من أفضل العلوم الفاضلة وأنفع الفنون النافعة يحبه
--------------------------------------------
উপস্থাপনা…পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
শাইখ, ইমাম, হাফিজ (الحافظ), শাম দেশের মুফতি তাকিউদ্দীন আবু আমর উসমান ইবন আবদুর রহমান ইবন উসমান ইবন মুসা ইবন আবি নাসর আন-নাসরি আশ-শাহরাজুরি আশ-শাফিঈ, যিনি ইবনুস সালাহ নামে পরিচিত (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক), বলেছেন:
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের আপনার পক্ষ থেকে রহমত দান করুন এবং আমাদের জন্য আমাদের কাজ সঠিকভাবে পরিচালনা করার ব্যবস্থা করে দিন।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি পথপ্রদর্শন করেন তাকে যে তাঁর নিকট হিদায়াত প্রার্থনা করে; যিনি রক্ষা করেন তাকে যে তাঁকে ভয় করে; যিনি যথেষ্ট হন তার জন্য যে তাঁর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে—এমন প্রশংসা যা পূর্ণতার শেষ সীমা ও প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছে।
সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁত সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী ও সকল নবীদের ওপর এবং তাঁদের প্রত্যেকের পরিবার-পরিজনের ওপর, যতক্ষণ কোনো আশাবাদী তাঁর ক্ষমা ও দয়ার আশা পোষণ করবে। আমিন।
অতঃপর: হাদিস শাস্ত্র হলো সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদাসম্পন্ন জ্ঞানসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও উপকারী শিল্পসমূহের অন্যতম, যা পছন্দ করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
ذكور الرجال وفحولتهم ويعنى به محققو العلماء وكملتهم ولا يكرهه من الناس إلا رذالتهم وسفلتهم. وهو من أكثر العلوم تولجا في فنونها لا سيما الفقه الذي هو إنسان عيونها. ولذلك كثر غلط العاطلين منه من مصنفي الفقهاء وظهر الخلل في كلام المخلين به من العلماء.
ولقد كان شأن الحديث فيما مضى عظيما عظيمة جموع طلبته رفيعة مقادير
--------------------------------------------
পুরুষদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও বীরপুরুষরাই এর চর্চা করেন; আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বিজ্ঞ গবেষক (محقق) ও পূর্ণতাপ্রাপ্ত আলেমগণ। নীচ ও ইতর প্রকৃতির মানুষ ছাড়া আর কেউ একে অপছন্দ করে না। এটি এমন এক বিজ্ঞান যা অন্যান্য শাস্ত্রের শাখা-প্রশাখায় গভীরভাবে প্রবেশ করে, বিশেষ করে ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে, যা শাস্ত্রসমূহের মধ্যমণি স্বরূপ। এ কারণেই হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞানবর্জিত ফকিহ গ্রন্থকারদের লেখায় ভুলের আধিক্য দেখা যায় এবং এই শাস্ত্রের প্রতি অবহেলাকারী আলেমদের কথায় ত্রুটি প্রকাশ পায়।
অতীতে হাদিসের মর্যাদা ছিল সুমহান, এর শিক্ষার্থীদলের সংখ্যা ছিল বিশাল এবং তাদের মর্যাদা ছিল সুউচ্চ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
حفاظه وحملته. وكانت علومه بحياتهم حية وأفنان فنونه ببقائهم غضة ومغانيه بأهله آهلة فلم يزالوا في انقراض ولم يزل في اندراس حتى آضت به الحال إلى أن صار أهله إنما هم شرذمة قليلة العدد ضعيفة العدد لا تغني على إلاغلب في تحمله بأكثر من سماعه غفلا ولا تعنى في تقييده بأكثر من كتابته عطلا مطرحين علومه التي بها جل قدره مباعدين معارفه التي بها فخم أمره.
فحين كاد الباحث عن مشكله لا يلفي له كاشفا والسائل عن علمه لا يلقى به عارفا من الله الكريم تبارك وتعالى علي وله الحمد أن أجمع بكتاب معرفة أنواع علوم الحديث هذا الذي باح بأسراره الخفية وكشف عن مشكلاته إلابية وأحكم معاقده وأقعد قواعده وأنار معالمه وبين أحكامه وفصل أقسامه وأوضح أصوله وشرح فروعه وفصوله وجمع شتات علومه وفوائده وقنص 5 شوارد نكته وفوائده.
فالله العظيم الذي بيده الضر والنفع وإلاعطاء والمنع أسأل وإليه أضرع وأبتهل متوسلا إليه بكل وسيلة متشفعا إليه بكل شفيع أن يجعله مليا بذلك وأملى وفيا بكل ذلك وأوفي. وأن يعظم إلاجر والنفع به في الدارين إنه قريب
--------------------------------------------
এর হেফজকারী ও বাহকগণ। তাদের জীবদ্দশায় এর জ্ঞানসমূহ ছিল প্রাণবন্ত এবং তাদের উপস্থিতিতে এর বিচিত্র শাখাগুলো ছিল সতেজ ও এর আবাসস্থলগুলো ছিল জনাকীর্ণ। অতঃপর তারা ক্রমাগত বিলুপ্ত হতে থাকে এবং এই শাস্ত্রও ক্রমশ ম্লান হতে থাকে, এমনকি অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে এর অনুসারীরা কেবল একটি ক্ষুদ্র দলে পরিণত হয়। তারা এই শাস্ত্রের গ্রহণ (تحمل) প্রক্রিয়ায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে কেবল অমনোযোগী শ্রবণ (سماع) ছাড়া অন্য কিছুর গুরুত্ব দেয় না এবং এর লিপিবদ্ধকরণে (تقييد) সাধারণ লিখন ছাড়া অন্য কোনো যত্ন নেয় না। তারা এর সেই জ্ঞানসমূহকে বর্জন করেছে যার দ্বারা এর মর্যাদা সুউচ্চ হয়েছিল এবং এর সেই পরিচিতি থেকে দূরে সরে গেছে যার মাধ্যমে এর বিষয়াদি মহিমান্বিত হয়েছিল।
যখন এর জটিল বিষয় (مشكل) সমূহের অনুসন্ধানকারী কোনো উন্মোচনকারী পাচ্ছিল না এবং এর জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞাসু ব্যক্তি কোনো বিজ্ঞ অভিজ্ঞের সাক্ষাৎ পাচ্ছিল না; তখন মহান আল্লাহ—যিনি বরকতময় ও সুউচ্চ—আমার প্রতি অনুগ্রহ করলেন—আর প্রশংসা কেবল তাঁরই—যাতে আমি এই 'হাদিস শাস্ত্রের প্রকারভেদ পরিচিতি' নামক কিতাবটি সংকলন করি। এটি হাদিসের গোপন রহস্যসমূহ প্রকাশ করেছে, এর দুর্ভেদ্য জটিলতাগুলো উন্মোচন করেছে, এর বন্ধনসমূহ সুদৃঢ় করেছে, এর মূলনীতি (قواعد) সমূহ প্রতিষ্ঠিত করেছে, এর নিদর্শনসমূহ আলোকিত করেছে, এর বিধানসমূহ স্পষ্ট করেছে, এর শ্রেণিবিভাগসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করেছে, এর উৎসসমূহকে ব্যাখ্যা করেছে এবং এর শাখা ও অধ্যায়সমূহ বিশ্লেষণ করেছে। এটি হাদিস শাস্ত্রের বিক্ষিপ্ত জ্ঞান ও উপকারিতাসমূহকে একত্র করেছে এবং এর দুর্লভ সূক্ষ্ম বিষয় ও শিক্ষাগুলোকে শিকার করে গ্রন্থিবদ্ধ করেছে।
আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি—যাঁর হাতেই ক্ষতি ও কল্যাণ এবং দান ও বারণ—এবং তাঁরই নিকট অনুনয়-বিনয় করি ও সকল মাধ্যমে তাঁরই প্রতি সোপর্দ হই, যেন তিনি এই গ্রন্থটিকে উদ্দেশ্য পূরণে সক্ষম ও পরিপূর্ণ করেন। আর যেন তিনি উভয় জাহানে এর প্রতিদান ও কল্যাণকে মহান করেন; নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটবর্তী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
مجيب. وما توفيقي إلا بالله عليه توكلت وإليه أنيب
وهذه فهرسة أنواعه:
فإلاول منها: معرفة الصحيح من الحديث
الثاني: معرفة الحسن من الحديث
الثالث: معرفة الضعيف من الحديث
الرابع: معرفة المسند
الخامس: معرفة المتصل
السادس: معرفة المرفوع
السابع: معرفة الموقوف
الثامن: معرفة المقطوع وهو غير المنقطع
التاسع: معرفة المرسل
العاشر: معرفة المنقطع
الحادي عشر: معرفة المعضل ويليه تفريعات منها في الإسناد المعنعن ومنها في التعليق
الثاني عشر: معرفة التدليس وحكم المدلس
الثالث عشر: معرفة الشاذ
الرابع عشر: معرفة المنكر
الخامس عشر: معرفة إلاعتبار والمتابعات والشواهد
السادس عشر: معرفة زيادات الثقات وحكمها
السابع عشر: معرفة إلافراد
الثامن عشر: معرفة الحديث المعلل
التاسع عشر: معرفة المضطرب من الحديث
العشرون: معرفة المدرج في الحديث
الحادي والعشرون: معرفة الحديث الموضوع
তিনিই প্রার্থনা কবুলকারী। আমার সাফল্য কেবল আল্লাহরই সাহায্যে, আমি তাঁরই ওপর ভরসা করি এবং তাঁরই নিকট ফিরে যাই।
আর এটি হলো এর প্রকারসমূহের সূচিপত্র:
তন্মধ্যে প্রথমটি হলো: সহিহ (صحيح) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান
দ্বিতীয়: হাসান (حسن) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান
তৃতীয়: দুর্বল (ضعيف) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান
চতুর্থ: মুসনাদ সম্পর্কে জ্ঞান
পঞ্চম: মুত্তাসিল (متصل) সম্পর্কে জ্ঞান
ষষ্ঠ: মারফু (مرفوع) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান
সপ্তম: মাওকুফ (موقوف) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান
অষ্টম: মাকতু (مقطوع) সম্পর্কে জ্ঞান এবং তা বিচ্ছিন্ন (منقطع) থেকে ভিন্ন
নবম: মুরসাল (مرسل) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান
দশম: বিচ্ছিন্ন (منقطع) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান
একাদশ: মুদাল (معضل) সম্পর্কে জ্ঞান এবং এরপর এর উপশাখা হিসেবে মুআনআন (معنعن) সনদ ও তালিক (تعليق) সংক্রান্ত আলোচনা
দ্বাদশ: তাদলিস (تدليس) সম্পর্কে জ্ঞান এবং মুদাল্লিস (مدلس)-এর বিধান
ত্রয়োদশ: শায (شاذ) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান
চতুর্দশ: মুনকার (منكر) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান
পঞ্চদশ: ইতিবার (اعتبار), মুতাবাআত (متابعات) এবং শাওয়াহিদ (شواهد) সম্পর্কে জ্ঞান
ষোড়শ: নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অতিরিক্ত অংশ (زيادات الثقات) এবং এর বিধান সম্পর্কে জ্ঞান
সপ্তদশ: আফ্রাদ (أفراد) সম্পর্কে জ্ঞান
অষ্টাদশ: ত্রুটিযুক্ত (معلل) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান
ঊনবিংশ: মুদতারিব (مضطرب) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান
বিংশ: হাদিসের মধ্যকার মুদরাজ (مدرج) সম্পর্কে জ্ঞান
একবিংশ: জাল (موضوع) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান
(খণ্ড: ১)
আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الثاني والعشرون: معرفة المقلوب.
الثالث والعشرون: معرفة صفة من تقبل روايته ومن ترد روايته.
الرابع والعشرون: معرفة كيفية سماع الحديث وتحمله وفيه بيان أنواع الإجازة وأحكامها وسائر وجوه إلاخذ والتحمل وفيه علم جم.
الخامس والعشرون: معرفة كتابة الحديث وكيفية ضبط الكتاب وتقييده وفيه معارف مهمة رائقة.
السادس والعشرون: معرفة كيفية رواية الحديث وشرط أدائه وما يتعلق بذلك وفيه كثير من نفائس هذا العلم.
السابع والعشرون: معرفة آداب المحدث.
الثامن والعشرون: معرفة آداب طالب الحديث.
التاسع والعشرون: معرفة الإسناد العالي والنازل.
الموفي ثلاثين: معرفة المشهور من الحديث.
الحادي والثلاثون: معرفة الغريب والعزيز من الحديث.
الثاني والثلاثون: معرفة غريب الحديث.
الثالث والثلاثون: معرفة المسلسل.
الرابع والثلاثون: معرفة ناسخ الحديث ومنسوخه.
الخامس والثلاثون: معرفة المصحف من أسانيد إلاحاديث ومتونها.
السادس والثلاثون: معرفة مختلف الحديث.
السابع والثلاثون: معرفة المزيد في متصل إلاسانيد.
الثامن والثلاثون: معرفة المراسيل الخفي إرسالها.
বাইশতম: ওলটপালটকৃত (مقلوب) হাদিস পরিচিতি।
তেইশতম: যাঁদের বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করা হবে এবং যাঁদের বর্ণনা (رواية) বর্জন করা হবে, তাঁদের বৈশিষ্ট্য পরিচিতি।
চব্বিশতম: হাদিস শ্রবণ ও তা গ্রহণ করার পদ্ধতি পরিচিতি; এতে অনুমতি (إجازة)-এর প্রকারভেদ, এর বিধানসমূহ এবং হাদিস গ্রহণ ও ধারণের অন্যান্য সকল দিক বর্ণিত হয়েছে। এতে প্রচুর জ্ঞান নিহিত রয়েছে।
পঁচিশতম: হাদিস লিখন এবং পাণ্ডুলিপি নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ (ضبط) ও লিপিবদ্ধ করার পদ্ধতি পরিচিতি; এতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও চমৎকার জ্ঞান রয়েছে।
ছাব্বিশতম: হাদিস বর্ণনা করার পদ্ধতি, তা প্রদান (أداء)-এর শর্তাবলি এবং এ সংক্রান্ত বিষয়াদি পরিচিতি; এতে এই শাস্ত্রের অনেক মূল্যবান বিষয় রয়েছে।
সাতাশতম: হাদিস বিশারদ (محدث)-এর আদব বা শিষ্টাচার পরিচিতি।
আটাশতম: হাদিসের ছাত্রের আদব বা শিষ্টাচার পরিচিতি।
উনত্রিশতম: উচ্চমানের সনদ (إسناد عالي) এবং নিম্নমানের সনদ (إسناد نازل) পরিচিতি।
ত্রিশতম পূর্ণকারী: প্রসিদ্ধ (مشهور) হাদিস পরিচিতি।
একত্রিশতম: একক (غريب) এবং বিরল (عزيز) হাদিস পরিচিতি।
বত্রিশতম: হাদিসের দুর্বোধ্য শব্দ (غريب الحديث) পরিচিতি।
তেত্রিশতম: অনুক্রমিক (مسلسل) হাদিস পরিচিতি।
চৌত্রিশতম: হাদিসের রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) পরিচিতি।
পঁয়ত্রিশতম: হাদিসের সনদসমূহ (أسانيد) এবং মতনসমূহ (متون)-এর বর্ণবিকৃতি (مصحف) পরিচিতি।
ছত্রিশতম: পরস্পরবিরোধী (مختلف الحديث) হাদিস পরিচিতি।
সাইত্রিশতম: সংযুক্ত সনদসমূহে অতিরিক্ত রাবি (المزيد في متصل إلاسانيد) অন্তর্ভুক্ত হওয়া সম্পর্কে পরিচিতি।
আটত্রিশতম: প্রচ্ছন্ন বিচ্ছিন্নতা (المراسيل الخفي إرسالها) সম্পর্কে পরিচিতি।
(খণ্ড: ১)
আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
التاسع والثلاثون: معرفة الصحابة رضي الله عنهم.
الموفي أربعين: معرفة التابعين رضي الله عنهم.
الحادي وإلاربعون: معرفة أكابر الرواة عن إلاصاغر.
الثاني وإلاربعون: معرفة المدبج وما سواه من رواية إلاقران بعضهم عن بعض.
الثالث وإلاربعون: معرفة إلاخوة وإلاخوات من العلماء والرواة.
الرابع وإلاربعون: معرفة رواية إلاباء عن إلابناء.
الخامس وإلاربعون: عكس ذلك: معرفة رواية إلابناء عن إلاباء.
السادس وإلاربعون: معرفة من اشترك في الرواية عنه راويان متقدم ومتأخر تباعد ما بين وفاتيهما.
السابع وإلاربعون: معرفة من لم يرو عنه إلا راو واحد.
الثامن وإلاربعون: معرفة من ذكر بأسماء مختلفة أو نعوت متعددة.
التاسع وإلاربعون: معرفة المفردات من أسماء الصحابة والرواة والعلماء.
الموفي خمسين: معرفة إلاسماء والكنى.
الحادي والخمسون: معرفة كنى المعروفين بإلاسماء دون الكنى.
الثاني والخمسون: معرفة ألقاب المحدثين.
الثالث والخمسون: معرفة المؤتلف والمختلف.
الرابع والخمسون: معرفة المتفق والمفترق.
الخامس والخمسون: نوع يتركب من هذين النوعين.
السادس والخمسون: معرفة الرواة المتشابهين في إلاسم والنسب المتمايزين بالتقديم والتأخير في إلابن وإلاب.
السابع والخمسون: معرفة المنسوبين إلى غير آبائهم.
৩৯তম: সাহাবী (الصحابة) -রাদিয়াল্লাহু আনহুম- পরিচিতি।
৪০তম: তাবিঈ (التابعين) -রাদিয়াল্লাহু আনহুম- পরিচিতি।
৪১তম: কনিষ্ঠদের থেকে জ্যেষ্ঠ বর্ণনাকারীদের বর্ণনা (أكابر الرواة عن الأصاغر) সম্পর্কে জ্ঞান।
৪২তম: মুদাব্বাজ (المدبج) এবং সমসাময়িকদের একে অপরের থেকে বর্ণনা (رواية الأقران) সম্পর্কে জ্ঞান।
৪৩তম: আলেম ও বর্ণনাকারীদের (الرواة) মধ্যে ভাই ও বোনদের সম্পর্কে জ্ঞান।
৪৪তম: সন্তানদের থেকে পিতাদের বর্ণনা (رواية الآباء عن الأبناء) সম্পর্কে জ্ঞান।
৪৫তম: এর বিপরীত: পিতাদের থেকে সন্তানদের বর্ণনা (رواية الأبناء عن الآباء) সম্পর্কে জ্ঞান।
৪৬তম: এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জ্ঞান যার থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে দুইজন বর্ণনাকারী শরীক হয়েছেন—একজন অগ্রবর্তী ও অপরজন পরবর্তী—এবং যাদের মৃত্যুর সময়ের ব্যবধান অনেক বেশি।
৪৭তম: এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জ্ঞান যার থেকে কেবল একজন বর্ণনাকারী (راو واحد) বর্ণনা করেছেন।
৪৮তম: এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জ্ঞান যাকে ভিন্ন ভিন্ন নাম বা একাধিক বিশেষণে (نعوت) উল্লেখ করা হয়েছে।
৪৯তম: সাহাবী (الصحابة), বর্ণনাকারী (الرواة) এবং আলেমদের মধ্যকার বিরল নামসমূহ (المفردات) সম্পর্কে জ্ঞান।
৫০তম: নাম (الأسماء) ও উপনাম (الكنى) সম্পর্কে জ্ঞান।
৫১তম: যারা উপনামের পরিবর্তে কেবল নামেই পরিচিত, তাদের উপনাম (الكنى) সম্পর্কে জ্ঞান।
৫২তম: মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) উপাধি (ألقاب) সম্পর্কে জ্ঞান।
৫৩তম: মুতালিফ ও মুখতালিফ (المؤتلف والمختلف) সম্পর্কে জ্ঞান।
৫৪তম: মুত্তাফিক ও মুফতারিক (المتفق والمفترق) সম্পর্কে জ্ঞান।
৫৫তম: এমন এক প্রকার যা এই দুই প্রকারের সমন্বয়ে গঠিত।
৫৬তম: এমন বর্ণনাকারীদের (الرواة) সম্পর্কে জ্ঞান যারা নাম ও বংশপরিচয়ে সদৃশ, কিন্তু পিতা ও পুত্রের নামের ক্ষেত্রে অগ্র-পশ্চাৎ বিন্যাসের মাধ্যমে তাদের পৃথক করা হয়।
৫৭তম: যারা তাদের পিতা ব্যতীত অন্য কারো দিকে সম্বন্ধযুক্ত (المنسوبين إلى غير آبائهم) তাদের সম্পর্কে জ্ঞান।
(খণ্ড: ১)
আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الثامن والخمسون: معرفة إلانساب التي باطنها على خلاف ظاهرها.
التاسع والخمسون: معرفة المبهمات.
الموفي ستين: معرفة تواريخ الرواة في الوفيات وغيرها.
الحادي والستون: معرفة الثقات والضعفاء من الرواة.
الثاني والستون: معرفة من خلط في آخر عمره من الثقات.
الثالث والستون: معرفة طبقات الرواة والعلماء.
الرابع والستون: معرفة الموالي من الرواة والعلماء.
الخامس والستون: معرفة أوطان الرواة وبلدانهم.
وذلك آخرها وليس بآخر الممكن في ذلك فإنه قابل للتنويع إلى ما لا يحصى إذ لا تحصى أحوال رواة الحديث وصفاتهم ولا أحوال متون الحديث وصفاتها وما من حالة منها ولا صفة إلا وهي بصدد أن تفرد بالذكر وأهلها فإذا هي نوع على حياله ولكنه نصب من غير أرب وحسبنا الله ونعم الوكيل
৫৮তম: ঐ সকল বংশপরিচয় (الأنساب) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যার অভ্যন্তরীণ রহস্য বাহ্যিক দিক থেকে ভিন্ন।
৫৯তম: অস্পষ্ট ব্যক্তিবর্গ (المبهمات) সম্পর্কে জ্ঞান।
৬০তম: বর্ণনাকারীদের মৃত্যুসন ও অন্যান্য বিষয়ের ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞান।
৬১তম: বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে নির্ভরযোগ্য (الثقات) এবং দুর্বল (الضعفاء) রাবিদের পরিচয় লাভ করা।
৬২তম: নির্ভরযোগ্য (الثقات) রাবিদের মধ্য থেকে যারা জীবনের শেষভাগে স্মৃতিবিভ্রমে (خلط) আক্রান্ত হয়েছেন তাদের পরিচয় লাভ করা।
৬৩তম: বর্ণনাকারী ও আলেমদের স্তর (طبقات) সম্পর্কে জ্ঞান।
৬৪তম: বর্ণনাকারী ও আলেমদের মধ্য থেকে আযাদকৃত দাস (الموالي) সম্পর্কে জ্ঞান।
৬৫তম: বর্ণনাকারীদের স্বদেশ ও শহরসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান।
এবং এটিই হলো এর শেষ প্রকার, তবে সম্ভাব্য প্রকারভেদের মধ্যে এটিই শেষ নয়। কারণ একে অগণিত প্রকারে বিন্যস্ত করা সম্ভব; যেহেতু হাদিস বর্ণনাকারীদের অবস্থা ও গুণাবলি এবং হাদিসের মূল পাঠের (متون) অবস্থা ও গুণাবলি গণনা করা অসম্ভব। এমন কোনো অবস্থা বা গুণ নেই যা স্বতন্ত্রভাবে আলোচনার এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উল্লেখ করার দাবি রাখে না। এমতাবস্থায় প্রতিটি অবস্থাই একটি স্বতন্ত্র প্রকার হিসেবে গণ্য হতে পারে; তবে তা হবে বিশেষ কোনো প্রয়োজনহীন এক কঠোর পরিশ্রম মাত্র। আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১)
আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
النوع إلاول من أنواع علوم الحديث: معرفة الصحيح من الحديثاعلم علمك الله وإياي أن الحديث عند أهله ينقسم إلى صحيح وحسن وضعيف:
--------------------------------------------
হাদিস শাস্ত্রের প্রকারভেদের মধ্যে প্রথম প্রকার: হাদিসের মধ্যে সহিহ (صحيح) সম্পর্কে জ্ঞানজেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাকে ও আমাকে ইলম দান করুন—হাদিস বিশারদদের নিকট হাদিস তিন ভাগে বিভক্ত: সহিহ (صحيح), হাসান (حسن) এবং জইফ (ضعيف)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
................................................................................
--------------------------------------------
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
أما الحديث الصحيح: فهو الحديث المسند الذي يتصل إسناده بنقل العدل الضابط عن العدل الضابط إلى منتهاه ولا يكون شاذا ولا معللا.
وفي هذه إلاوصاف احتراز عن المرسل والمنقطع والمعضل والشاذ وما فيه علة قادحة وما في راويه نوع جرح. وهذه أنواع يأتي ذكرها إن شاء الله تبارك وتعالى.
فهذا هو الحديث الذي يحكم له بالصحة بلا خلاف بين أهل الحديث.
--------------------------------------------
সহিহ (صحيح) হাদিস প্রসঙ্গে: এটি হলো সেই মুসনাদ (المسند) হাদিস যার সনদ (إسناد) শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও স্মৃতিশক্তির প্রখরতা সম্পন্ন (ضابط) বর্ণনাকারীর বর্ণনার মাধ্যমে পরস্পরের সাথে সংযুক্ত (متصل), এবং তা শায (شاذ) বা মুয়াল্লাল (معلل) নয়।
এই গুণাবলি উল্লেখের মাধ্যমে মুরসাল (مرسل), মুনকাতি (منقطع), মু'দাল (معضل), শায (شاذ), ক্ষতিকর ত্রুটি (علة قادحة) সম্বলিত বর্ণনা এবং যার বর্ণনাকারীর মধ্যে কোনো প্রকার জারহ (جرح) বা সমালোচনা রয়েছে, তা বর্জন করা হয়েছে। এই প্রকারভেদগুলোর আলোচনা মহান আল্লাহ চাইলে সামনে আসবে।
এটিই সেই হাদিস যা হাদিস বিশারদদের (أهل الحديث) নিকট কোনো প্রকার মতবিরোধ ছাড়াই সহিহ (صحيح) হিসেবে গণ্য হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
وقد يختلفون في صحة بعض إلاحاديث لاختلافهم في وجود هذه إلاوصاف فيه أو: لاختلافهم في اشتراط بعض هذه إلاوصاف كما في المرسل.
ومتى قالوا: هذا حديث صحيح فمعناه: أنه اتصل سنده مع سائر إلاوصاف المذكورة. وليس من شرطه أن يكون مقطوعا به في نفس إلامر إذ منه ما ينفرد بروايته عدل واحد وليس من إلاخبار التي أجمعت إلامة على تلقيها بالقبول.
وكذلك إذا قالوا في حديث: إنه غير صحيح فليس ذلك قطعا بأنه كذب في نفس إلامر إذ قد يكون صدقا في نفس إلامر وإنما المراد به: أنه لم يصح إسناده على الشرط المذكور والله أعلم.
--------------------------------------------
তারা কোনো কোনো হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) বিষয়ে মতভেদ করতে পারেন, কারণ সেই হাদিসে এই বৈশিষ্ট্যগুলোর উপস্থিতি নিয়ে তাদের মাঝে মতপার্থক্য রয়েছে অথবা এই বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্য হতে কোনো কোনোটি শর্ত হিসেবে গণ্য করার বিষয়ে তাদের মাঝে ভিন্নমত রয়েছে, যেমনটি মুরসাল (المرسل) হাদিসের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
যখন তারা বলেন: "এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস", তখন তার অর্থ হলো: উল্লিখিত অন্যান্য বৈশিষ্ট্যগুলোর সাথে এর সনদ বা সূত্রটি (سند) নিরবচ্ছিন্ন (اتصل)। এর শর্ত এটি নয় যে, বিষয়টি বাস্তবত অকাট্য (مقطوعا به) হতে হবে; কারণ হাদিসের মধ্যে এমন বর্ণনাও রয়েছে যা একজন মাত্র ন্যায়পরায়ণ (عدل) বর্ণনাকারী এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং এটি এমন সব সংবাদের অন্তর্ভুক্ত নয় যা উম্মত সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করে নিয়েছে।
অনুরূপভাবে, যখন তারা কোনো হাদিস সম্পর্কে বলেন যে এটি সহিহ নয় (غير صحيح), তখন তার অর্থ এই নয় যে এটি বাস্তবত নিশ্চিতভাবে মিথ্যা (كذب); কারণ বাস্তবে এটি সত্য (صدقا) হতে পারে। এর দ্বারা কেবল উদ্দেশ্য হলো: উল্লিখিত শর্ত অনুযায়ী এর সনদটি সহিহ (يصح) সাব্যস্ত হয়নি। আর আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
فوائد مهمة
إحداها:الصحيح يتنوع إلى متفق عليه ومختلف فيه كما سبق ذكره. ويتنوع إلى مشهور وغريب وبين ذلك.
ثم إن درجات الصحيح تتفاوت في القوة بحسب تمكن الحديث من الصفات المذكورة التي تبتنى الصحة عليها. وتنقسم باعتبار ذلك إلى أقسام يستعصي إحصاؤها على العاد الحاصر.
ولهذا نرى إلامساك عن الحكم لإسناد أوحديث بأنه الأصح على الإطلاق. على أن جماعة من أئمة الحديث خاضوا غمرة ذلك فاضطربت أقوالهم.
فروينا عن إسحاق بن راهويه أنه قال: أصح إلاسانيد كلها: الزهري عن سالم عن أبيه. وروينا نحوه عن أحمد بن حنبل.
وروينا عن عمرو بن علي الفلاس أنه قال: أصح إلاسانيد: محمد بن سيرين عن عبيدة عن علي.
وروينا نحوه عن علي بن المديني. روي ذلك عن غيرهما ثم منهم من عين الراوي عن محمد وجعله أيوب السختياني. ومنهم من جعله ابن عون.
--------------------------------------------
গুরুত্বপূর্ণ ফায়দা
এর একটি হলো: সহিহ (الصحيح) হাদিস সর্বসম্মত (متفق عليه) এবং মতপার্থক্যপূর্ণ (مختلف فيه)—এই দুই ভাগে বিভক্ত, যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আবার এটি মশহুর (مشهور), গরিব (غريب) এবং এর মধ্যবর্তী পর্যায়েও বিভক্ত হয়ে থাকে।
অতঃপর সহিহ (الصحيح) হাদিসের স্তরগুলো সেই গুণাবলির (صفات) উপস্থিতির শক্তিমত্তার ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন হয়, যার ওপর ভিত্তি করে একটি হাদিসের বিশুদ্ধতা নির্ভর করে। এই মানদণ্ডের নিরিখে এটি এমন অনেক বিভাগে বিভক্ত হয় যা কোনো গণনাকারীর পক্ষে নির্দিষ্ট করে সংখ্যায়ন করা দুরূহ।
এই কারণে আমরা কোনো একটি সনদ (إسناد) বা হাদিসকে নিঃশর্তভাবে 'সর্বাধিক বিশুদ্ধ' (الأصح) হিসেবে হুকুম দেওয়া থেকে বিরত থাকা সমীচীন মনে করি। যদিও হাদিস বিশারদদের একটি দল এই জটিল বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, ফলে তাদের বক্তব্যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে।
আমরা ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ থেকে বর্ণনা করেছি যে তিনি বলেছেন: "সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদ (أصح الأسانيد) হলো: জুহরি, সালিম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে।" আমরা ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল থেকেও অনুরূপ বর্ণনা করেছি।
আমরা আমর ইবনে আলী আল-ফাল্লাস থেকে বর্ণনা করেছি যে তিনি বলেছেন: "সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদ (أصح الأسانيد) হলো: মুহাম্মদ ইবনে সিরিন, উবাইদাহ থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে।"
আমরা আলী ইবনুল মাদিনি থেকেও অনুরূপ বর্ণনা পেয়েছি। এই অভিমতটি তাদের দুই জন ছাড়াও অন্যদের থেকে বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর তাদের মধ্যে কেউ কেউ মুহাম্মদ (ইবনে সিরিন) থেকে বর্ণনাকারীকে (الراوي) নির্দিষ্ট করেছেন এবং তাকে আইয়ুব আল-সাখতিয়ানি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আবার কেউ তাকে ইবনে আউন হিসেবে গণ্য করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وفيما نرويه عن يحيى بن معين أنه قال: أجودها: إلاعمش عن إبراهيم عن علقمة عن عبد الله.
وروينا عن أبي بكر بن أبي شيبة قال: أصح إلاسانيد كلها: الزهري عن علي بن الحسين عن أبيه عن علي.
وروينا عن أبي عبد الله البخاري صاحب الصحيح أنه قال: أصح إلاسانيد كلها: مالك عن نافع عن ابن عمر. وبنى إلامام أبو منصور عبد القاهر بن طاهر التميمي على ذلك: أن أجل إلاسانيد الشافعي عن مالك عن نافع عن ابن عمر.
واحتج بإجماع أصحاب الحديث على أنه: لم يكن في الرواة عن مالك أجل من الشافعي رضي الله عنهم أجمعين والله أعلم.
الثانية: إذا وجدنا فيما نروي من أجزاء الحديث وغيرها حديثا صحيح الإسناد ولم نجده في أحد الصحيحين ولا منصوصا على صحته في شيء من مصنفات أئمة الحديث المعتمدة المشهورة فإنا لا نتجاسر على جزم الحكم بصحته فقد تعذر في
--------------------------------------------
ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে আমরা যা বর্ণনা করি তাতে তিনি বলেছেন: সবচেয়ে উৎকৃষ্ট (أجودها) সনদ হলো: আ'মাশ, ইব্রাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে।
আমরা আবু বকর ইবনে আবি শায়বা থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন: সকল সনদের মধ্যে সবচেয়ে সহিহ (أصح الأسانيد): যুহরি, আলি ইবনে আল-হুসাইন থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আলি থেকে।
আমরা সহিহ-এর রচয়িতা আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারি থেকে বর্ণনা করেছি যে, তিনি বলেছেন: সকল সনদের মধ্যে সবচেয়ে সহিহ (أصح الأسانيد): মালিক, নাফে' থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে। ইমাম আবু মনসুর আব্দুল কাদির ইবনে তাহির আল-তামিমি এর ওপর ভিত্তি করে বলেছেন: সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সনদ (أجل الأسانيد) হলো শাফেয়ী, মালিক থেকে, তিনি নাফে' থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে।
তিনি হাদিস বিশারদদের ঐকমত্যের (إجماع) মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন যে: মালিক থেকে বর্ণনাকারীদের (الرواة) মধ্যে শাফেয়ীর চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ আর কেউ ছিলেন না; আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং আল্লাহই ভালো জানেন।
দ্বিতীয়: আমরা হাদিসের বিভিন্ন অংশ বা অন্যান্য উৎস থেকে যা বর্ণনা করি তার মধ্যে যদি এমন কোনো হাদিস পাই যার সনদ সহিহ (صحيح الإسناد), কিন্তু আমরা তা কোনো 'সহিহাইন'-এ (বুখারি ও মুসলিম) খুঁজে না পাই অথবা নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ হাদিস ইমামগণের কোনো গ্রন্থে তার সহিহ (صحة) হওয়ার ব্যাপারে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য না পাই, তবে আমরা তার সহিহ (صحة) হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হুকুম (حكم) প্রদানের সাহস করি না। কারণ এটি দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
هذه إلاعصار إلاستقلال بإدراك الصحيح بمجرد اعتبار إلاسانيد لأنه ما من إسناد من ذلك إلا ونجد في رجاله من اعتمد في روايته على ما في كتابه عريا عما يشترط في الصحيح من الحفظ والضبط وإلاتقان. فآل إلامر إذا في معرفة الصحيح والحسن إلى إلاعتماد على ما نص عليه أئمة الحديث في تصانيفهم المعتدة المشهورة التي يؤمن
--------------------------------------------
এই যুগে কেবল সনদ (إسناد) বিবেচনার মাধ্যমে সহিহ (صحيح) হাদিস নির্ধারণে স্বনির্ভর হওয়া সম্ভব নয়। কারণ এমন কোনো সনদ (إسناد) নেই যার বর্ণনাকারীদের (رجال) মধ্যে এমন কাউকে পাওয়া যাবে না যিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে তার কিতাবের ওপর নির্ভর করেছেন, অথচ তার মধ্যে সহিহ (صحيح) হওয়ার জন্য আবশ্যকীয় মুখস্থশক্তি (حفظ), স্মৃতিসংরক্ষণ (ضبط) ও পারদর্শিতা (إتقان) ছিল না। ফলে সহিহ (صحيح) ও হাসান (حسن) হাদিস চেনার বিষয়টি হাদিসের ইমামদের (أئمة الحديث) সেই সকল প্রসিদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর করার দিকেই ধাবিত হয়, যেগুলোর ওপর আস্থা রাখা যায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
فيها لشهرتها من التغيير والتحريف وصار معظم المقصود بما يتداول من إلاسانيد خارجا عن ذلك إبقاء سلسلة الإسناد التي خصت بها هذه إلامة زادها الله تعالى شرفا آمين.
الثالثة: أول من صنف الصحيح البخاري أبو عبد الله محمد بن إسماعيل الجعفي مولاهم. وتلاه أبو الحسين مسلم بن الحجاج النيسابوري القشيري من أنفسهم. ومسلم مع أنه أخذ عن البخاري واستفاد منه يشاركه في أكثر شيوخه
وكتاباهما أصح الكتب بعد كتاب الله العزيز.
وأما ما روينا عن الشافعي رضي الله عنه من أنه قال: ما أعلم في إلارض كتابا في العلم أكثر صوابا من كتاب مالك ومنهم من رواه بغير هذا اللفظ فإنما قال ذلك قبل وجود كتابي البخاري ومسلم ثم إن كتاب البخاري أصح الكتابين صحيحا وأكثرهما فوائد.
--------------------------------------------
এর প্রসিদ্ধির কারণে এতে পরিবর্তন বা বিকৃতি (تحريف) ঘটার হাত থেকে রক্ষা করা হয়েছে। বর্তমানে যেসব সনদ (إسناد) প্রচলিত রয়েছে, সেগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো সনদের এই পরম্পরাকে টিকিয়ে রাখা, যা এই উম্মতের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তাআলা এই উম্মতের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করুন। আমিন।
তৃতীয় মাসআলা: সর্বপ্রথম যিনি সহিহ (صحيح) হাদিস সংকলন করেছেন, তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-জু'ফি আল-বুখারি। তাঁর পরবর্তী হলেন আবু আল-হুসাইন মুসলিম ইবনে আল-হাজ্জাজ আল-নিশাপুরি আল-কুশাইরি। ইমাম মুসলিম যদিও ইমাম বুখারির নিকট থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছেন, তবে তিনি তাঁর অধিকাংশ শিক্ষকের (شيوخ) ক্ষেত্রে ইমাম বুখারির সাথে অংশীদার।
মহান আল্লাহর কিতাব (কুরআন)-এর পর এই গ্রন্থদ্বয়ই হচ্ছে সর্বাধিক বিশুদ্ধ (أصح) কিতাব।
আর ইমাম শাফিয়ি (রা.) থেকে আমাদের বর্ণিত (روينا) এই উক্তি—"আমি পৃথিবীতে ইমাম মালিকের কিতাবের চেয়ে ইলম বা জ্ঞানের ক্ষেত্রে অধিক নির্ভুল আর কোনো কিতাব জানি না"—যা কেউ কেউ ভিন্ন শব্দেও বর্ণনা করেছেন, মূলত তিনি তা সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম অস্তিত্ব লাভের পূর্বে বলেছিলেন। তদুপরি, এই গ্রন্থদ্বয়ের মধ্যে সহিহ বুখারি অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح) এবং এর উপকারিতাও অনেক বেশি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وأما ما رويناه عن أبي علي الحافظ النيسابوري أستاذ الحاكم أبي عبد الله الحافظ من أنه 12 قال: ما تحت أديم السماء كتاب أصح من كتاب مسلم بن الحجاج. فهذا وقول من فضل من شيوخ المغرب كتاب مسلم على كتاب البخاري إن كان المراد به: أن كتاب مسلم يترجح بأنه لم يمازجه غير الصحيح فإنه ليس فيه بعد خطبته إلا الحديث الصحيح مسرودا غير ممزوج بمثل ما في كتاب البخاري في تراجم أبوابه من إلاشياء التي لم يسندها على الوصف المشروط في الصحيح فهذا لا بأس به. وليس يلزم منه أن كتاب مسلم أرجح فيما يرجع إلى نفس الصحيح على كتاب البخاري.
وإن كان المراد به: أن كتاب مسلم أصح صحيحا فهذا مردود على من يقوله. والله أعلم.
الرابعة: لم يستوعبا الصحيح في صحيحيهما ولا التزما ذلك فقد روينا عن البخاري أنه قال: ما أدخلت في كتابي الجامع إلا ما صح وتركت من الصحاح لملال الطول.
وروينا عن مسلم أنه قال: ليس كل شيء عندي صحيح وضعته ههنا يعني في كتابه الصحيح إنما وضعت ههنا ما أجمعوا عليه قلت: أراد والله أعلم أنه لم يضع في كتابه إلا إلاحاديث التي وجد عنده فيها شرائط الصحيح المجمع عليه وإن لم يظهر اجتماعها في بعضها عند بعضهم.
--------------------------------------------
আর আমরা আবু আলী আল-হাফিজ আন-নিশাপুরী (যিনি হাকিম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজের উস্তাদ) থেকে যা বর্ণনা করেছি যে তিনি ১২ বলেছেন: আসমানের নিচে মুসলিম ইবনে হাজ্জাজের কিতাবের চেয়ে অধিকতর সহিহ (أصح) কোনো কিতাব নেই। এটি এবং মাগরিবের শায়খদের মধ্যে যারা সহিহ বুখারীর ওপর সহিহ মুসলিমের কিতাবকে প্রাধান্য দিয়েছেন তাদের বক্তব্য—যদি এর দ্বারা উদ্দেশ্য এই হয় যে: সহিহ মুসলিমের কিতাবটি এই দিক থেকে অগ্রগণ্য যে এতে সহিহ (صحيح) ব্যতীত অন্য কিছুর সংমিশ্রণ ঘটেনি; কেননা এর ভূমিকার পরে কেবল সহিহ হাদিসসমূহ ধারাবাহিকভাবে (مسرودا) বর্ণিত হয়েছে। এতে সহিহ বুখারীর অধ্যায়সমূহের শিরোনামে (تراجم أبوابه) উল্লিখিত এমন বিষয়গুলোর সংমিশ্রণ নেই যা সহিহ (صحيح) হওয়ার জন্য নির্ধারিত শর্তানুযায়ী তিনি সনদযুক্ত করেননি (لم يسندها); তবে এতে কোনো অসুবিধা নেই। আর এর দ্বারা এটি আবশ্যক হয় না যে, সহিহ (صحيহ) হওয়ার মূল হাকিকতের বিচারে সহিহ মুসলিমের কিতাবটি সহিহ বুখারীর ওপর প্রাধান্যযোগ্য।
আর যদি এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয় যে: সহিহ মুসলিমের কিতাবটি অধিকতর সহিহ (أصح)، তবে যারা এটি বলেন তাদের এই মতটি প্রত্যাখ্যাত (مردود)। আল্লাহই ভালো জানেন।
চতুর্থ বিষয়: তারা উভয়ই তাদের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে সকল সহিহ (صحيح) হাদিস অন্তর্ভুক্ত করেননি এবং তারা এমন কোনো প্রতিশ্রুতিও দেননি। ইমাম বুখারী থেকে আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমি আমার জামে কিতাবে সহিহ (صحيহ) ব্যতীত অন্য কিছু অন্তর্ভুক্ত করিনি, আর দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কায় বহু সহিহ (صحاح) হাদিস বর্জন করেছি।"
ইমাম মুসলিম থেকে আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমার নিকট সহিহ (صحيহ) এমন সবকিছুই আমি এখানে অর্থাৎ তার সহিহ কিতাবে স্থান দিইনি; বরং আমি এখানে কেবল সেসব হাদিসই এনেছি যেগুলোর ওপর তারা ঐকমত্য পোষণ (أجمعوا عليه) করেছেন।" আমি বলছি: আল্লাহই ভালো জানেন, তিনি সম্ভবত এটি বুঝিয়েছেন যে, তিনি তার কিতাবে কেবল সেসব হাদিসই স্থাপন করেছেন যাতে তার নিকট সর্বসম্মত (المجمع عليه) সহিহ হাদিসের শর্তাবলি (شرائط) বিদ্যমান ছিল, যদিও তাদের কারোর নিকট কোনো কোনো হাদিসের ক্ষেত্রে ঐকমত্যের বিষয়টি স্পষ্ট না হয়ে থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ثم إن أبا عبد الله بن إلاخرم الحافظ قال: قل ما يفوت البخاري ومسلما مما يثبت من الحديث. يعني في كتابيهما.
ولقائل أن يقول: ليس ذلك بالقليل فإن المستدرك على الصحيحين للحاكم أبي عبد الله كتاب كبير يشتمل مما فاتهما على شيء كثير وإن يكن عليه في بعضه مقال فإنه يصفو له منه صحيح كثير. وقد 13 قال البخاري: أحفظ مائة ألف حديث صحيح ومائتي ألف حديث غير صحيح.
وجملة ما في كتابه الصحيح سبعة إلاف ومائتان وخمسة وسبعون حديثا بإلاحاديث المتكررة. وقد قيل: إنها بإسقاط المكررة أربعة إلاف حديث. إلا أن هذه العبارة قد يندرج تحتها عندهم آثار الصحابة والتابعين. وربما عد الحديث الواحد المروي بإسنادين حديثين.
ثم إن الزيادة في الصحيح على ما في الكتابين يتلقاها طالبها مما اشتمل عليه
--------------------------------------------
এরপর হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আল-আখরাম বলেছেন: এমন প্রমাণিত (يثبت) হাদিস খুব কমই আছে যা বুখারি ও মুসলিমের নজর এড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ তাঁদের কিতাবদ্বয়ে।
তবে কোনো বক্তার পক্ষে এটা বলা সম্ভব যে: সেই সংখ্যাটি সামান্য নয়। কারণ হাকেম আবু আব্দুল্লাহ-এর আল-মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন একটি বিশাল কিতাব, যা তাঁদের উভয়ের বাদ পড়া প্রচুর পরিমাণ হাদিসকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। যদিও এর কিছু বর্ণনার ক্ষেত্রে আপত্তি (مقال) রয়েছে, তবুও তাতে প্রচুর পরিমাণে সহিহ (صحيح) হাদিস বিদ্যমান। ইমাম বুখারি বলেছেন: আমি এক লক্ষ সহিহ (صحيح) হাদিস এবং দুই লক্ষ অ-সহিহ (غير صحيح) হাদিস মুখস্থ করেছি।
তাঁর সহিহ কিতাবে পুনরাবৃত্ত হাদিসসহ সর্বমোট সাত হাজার দুইশত পঁচাত্তরটি হাদিস রয়েছে। বলা হয়ে থাকে যে: পুনরাবৃত্তি বাদ দিলে এর সংখ্যা চার হাজার হাদিস। তবে এই সংখ্যার অধীনে তাঁদের মতে সাহাবী ও তাবেয়ীদের আসার (آثار) ও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আবার অনেক সময় দুই সনদে (إسنادين) বর্ণিত একটি হাদিসকে দুটি হাদিস হিসেবে গণনা করা হয়ে থাকে।
অতঃপর দুই কিতাবের অতিরিক্ত সহিহ (صحيح) হাদিস অন্বেষণকারী ব্যক্তি তা গ্রহণ করবেন এমন সব সংকলন থেকে যা অন্তর্ভুক্ত করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أحد المصنفات المعتمدة المشهورة لأئمة الحديث: كأبي داود السجستاني وأبي عيسى الترمذي وأبي عبد الرحمن النسائي وأبي بكر بن خزيمة وأبي الحسن الدارقطني وغيرهم. منصوصا على صحته فيها ولا يكفي في ذلك مجرد كونه موجودا في كتاب أبي داود وكتاب الترمذي وكتاب النسائي وسائر من جمع في كتابه بين الصحيح وغيره ويكفي مجرد كونه موجودا في كتب من اشترط منهم الصحيح فيما جمعه ككتاب ابن خزيمة. وكذلك ما يوجد في الكتب المخرجة على كتاب البخاري وكتاب مسلم ككتاب أبي عوانة إلاسفرائيني وكتاب أبي بكر إلاسماعيلي وكتاب أبي بكر البرقاني وغيرها من تتمة لمحذوف أو زيادة شرح في كثير من أحاديث الصحيحين. وكثير من هذا موجود في الجمع بين الصحيحين لأبي عبد الله الحميدي.
--------------------------------------------
হাদিস বিশারদগণের (ইমামগণের) সুপ্রসিদ্ধ নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহের একটি: যেমন আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি, আবু ঈসা আত-তিরমিজি, আবু আবদির রহমান আন-নাসায়ি, আবু বকর ইবনে খুজাইমা, আবু হাসান আদ-দারা কুতনি এবং আরও অনেকে। সেগুলোতে কোনো হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) স্পষ্টভাবে বর্ণিত হওয়া। এক্ষেত্রে কোনো হাদিস কেবল আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি কিংবা এমন অন্যান্যদের কিতাবে থাকাই যথেষ্ট নয় যারা তাদের কিতাবে বিশুদ্ধ (صحيح) এবং বিশুদ্ধ নয় এমন হাদিস একত্রে সংকলন করেছেন। তবে সে সমস্ত লেখকদের কিতাবে কেবল বিদ্যমান থাকাই যথেষ্ট যারা তাদের সংকলিত হাদিসের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধতার (صحة) শর্ত আরোপ করেছেন, যেমন ইবনে খুজাইমার কিতাব। অনুরূপভাবে সহিহ বুখারি এবং সহিহ মুসলিমের ওপর ভিত্তি করে রচিত মুস্তাখরাজ গ্রন্থসমূহে (الكتب المخرجة) যা পাওয়া যায়, যেমন আবু আওয়ানা আল-ইসফরাইনি, আবু বকর আল-ইসমাঈলি, আবু বকর আল-বারকানি এর কিতাবসমূহ এবং অন্যান্য যা বুখারি ও মুসলিমের অনেক হাদিসের বিলুপ্ত অংশের পূর্ণতা স্বরূপ কিংবা ব্যাখ্যামূলক অতিরিক্ত অংশ (الزيادات) হিসেবে বিদ্যমান। এর অনেক কিছু আবু আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদির 'আল-জাম বাইনাস সাহিহাইন'-এ পাওয়া যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
واعتنى الحاكم أبو عبد الله الحافظ بالزيادة في عدد الحديث الصحيح على ما في الصحيحين وجمع ذلك في كتاب سماه المستدرك أودعه ما ليس في واحد من الصحيحين: مما رآه على شرط الشيخين قد أخرجا عن رواته في كتابيهما أو على شرط البخاري وحده أو على شرط مسلم وحده وما أدى اجتهاده إلى تصحيحه وإن لم يكن على شرط واحد منهما وهو واسع الخطو في شرط الصحيح متساهل في القضاء به. فإلاولى أن نتوسط في أمره فنقول: ما حكم بصحته ولم نجد ذلك فيه لغيره من إلائمة إن لم يكن من قبيل الصحيح فهو من قبيل الحسن يحتج به ويعمل به إلا أن تظهر فيه علة توجب ضعفه.
--------------------------------------------
আল-হাকিম আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিজ সহিহাইন-এর অতিরিক্ত সহিহ (صحيح) হাদিসের সংখ্যা বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন এবং সেগুলোকে 'আল-মুস্তাদরাক' নামক একটি কিতাবে সংকলন করেছেন। তিনি সেখানে এমন সব হাদিস অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা সহিহাইনের কোনোটিতেই নেই: এমন সব হাদিস যা তাঁর দৃষ্টিতে শায়খাইনের (বুখারি ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী (شرط) এবং তাঁরা তাঁদের কিতাবদ্বয়ে উক্ত বর্ণনাকারীদের থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন, অথবা যা শুধুমাত্র বুখারির শর্তানুযায়ী (شرط), অথবা শুধুমাত্র মুসলিমের শর্তানুযায়ী (شرط)। আবার কিছু হাদিস এমন যা তাঁর ইজতিহাদ অনুযায়ী তিনি সহিহ (صحيح) হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন যদিও তা তাঁদের কোনো একজনের শর্তানুযায়ীও (شرط) নয়। তিনি সহিহ (صحيح)-এর শর্তের (شرط) ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রশস্ত এবং এর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে শিথিল (متساهل)। সুতরাং তাঁর ব্যাপারে মধ্যপন্থা অবলম্বন করাই শ্রেয়; আমরা বলব: তিনি যে হাদিসটিকে সহিহ (صحيح) হওয়ার হুকুম দিয়েছেন অথচ অন্য কোনো ইমামের পক্ষ থেকে এমনটি পাওয়া যায়নি, তা যদি সহিহ (صحيح) পর্যায়ের না-ও হয় তবে তা হাসান (حسن) পর্যায়ের হবে, যা দলিল (يحتج به) হিসেবে গ্রহণ করা যাবে এবং তার ওপর আমল করা যাবে, যতক্ষণ না তাতে এমন কোনো ত্রুটি (علة) প্রকাশ পায় যা তার দুর্বলতা (ضعفه) সাব্যস্ত করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ويقاربه في حكمه صحيح أبي حاتم بن حبان البستي رحمهم الله أجمعين. والله أعلم.
الخامسة: الكتب المخرجة على كتاب البخاري أو كتاب مسلم رضي الله
--------------------------------------------
এবং এর হুকুমের দিক থেকে আবু হাতিম ইবনে হিব্বান আল-বুস্তি (আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর রহম করুন)-এর 'সহীহ ইবনে হিব্বান' এর কাছাকাছি। আল্লাহই ভালো জানেন।
পঞ্চম: বুখারি বা মুসলিমের কিতাবের ওপর ভিত্তি করে সংকলিত মুস্তাখরাজ গ্রন্থসমূহ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
تعالى عنهما لم يلتزم مصنفوها فيها موافقتهما في ألفاظ إلاحاديث بعينها من غير زيادة ونقصان لكونهم رووا تلك إلاحاديث من غير جهة البخاري ومسلم طلبا لعلو الإسناد فحصل فيها بعض التفاوت في إلالفاظ.
وهكذا ما أخرجه المؤلفون في تصانيفهم المستقلة: كالسنن الكبير للبيهقي وشرح السنة لأبي محمد البغوي وغيرهما مما قالوا فيه: أخرجه البخاري أو مسلم فلا يستفاد بذلك أكثر من أن البخاري أو مسلما أخرج أصل ذلك الحديث مع احتمال أن يكون بينهما تفاوت في اللفظ وربما كان تفاوتا في بعض المعنى فقد وجدت في ذلك ما فيه بعض التفاوت من حيث المعنى.
وإذا كان إلامر في ذلك على هذا فليس لك أن تنقل حديثا منها وتقول: هو على هذا الوجه في كتاب البخاري أو كتاب مسلم إلا أن تقابل لفظه أو يكون الذي خرجه قد قال أخرجه البخاري بهذا اللفظ بخلاف الكتب المختصرة من الصحيحين فإن مصنفيها نقلوا فيها ألفاظ الصحيحين أو أحدهما. غير أن الجمع بين الصحيحين للحميدي إلاندلسي منها يشتمل على زيادة تتمات لبعض إلاحاديث كما قدمنا ذكره فربما نقل من لا يميز بعض ما يجده فيه عن الصحيحين أو أحدهما وهو مخطئ لكونه من تلك الزيادات التي لا وجود لها في واحد من الصحيحين.
ثم إن التخاريج المذكورة على الكتابين يستفاد منها فائدتان: إحداهما: علو الإسناد. والثانية: الزيادة في قدر الصحيح لما يقع فيها من ألفاظ زائدة وتتمات في بعض إلاحاديث يثبت صحتها بهذه التخاريج لأنها واردة بإلاسانيد الثابتة في الصحيحين أو أحدهما وخارجة من ذلك المخرج الثابت والله أعلم.
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ তাদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, এই কিতাবসমূহের সংকলকগণ হাদিসের মূল শব্দাবলীতে কোনো প্রকার হ্রাস-বৃদ্ধি ছাড়াই বুখারি ও মুসলিমের শব্দাবলীর সাথে হুবহু মিল রক্ষা করার বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করেননি। কারণ তারা সেই হাদিসগুলো বুখারি ও মুসলিমের সূত্র ছাড়া ভিন্ন সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন উন্নত সনদ (علو الإسنাদ) অর্জনের উদ্দেশ্যে। ফলে শব্দাবলীতে কিছু পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।
একইভাবে লেখকগণ তাদের স্বাধীন সংকলনসমূহে যা বর্ণনা করেছেন, যেমন: বায়হাকির আস-সুনান আল-কাবির এবং আবু মুহাম্মদ আল-বাগভির শারহুস সুন্নাহ ও অন্যান্য কিতাব, যেগুলোতে তারা বলেছেন: "এটি বুখারি বা মুসলিম বর্ণনা করেছেন"—এ থেকে এর বেশি কিছু বোঝা যায় না যে, ইমাম বুখারি বা ইমাম মুসলিম ওই হাদিসের মূল অংশ বর্ণনা করেছেন। তবে শব্দগত পার্থক্যের সম্ভাবনা থেকে যায় এবং কখনও কখনও অর্থগত পার্থক্যও হতে পারে। আমি এমন কিছু বর্ণনা পেয়েছি যেখানে অর্থের দিক থেকেও কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে।
বিষয়টি যেহেতু এই রূপ, তাই আপনার জন্য ঐ কিতাবগুলো থেকে কোনো হাদিস উদ্ধৃত করে এ কথা বলা বৈধ নয় যে: "এটি বুখারি বা মুসলিমের কিতাবে এই শব্দেই রয়েছে," যতক্ষণ না আপনি মূল পাঠের সাথে শব্দ মিলিয়ে দেখেন অথবা সংশ্লিষ্ট সংকলক নিজেই এ কথা বলেন যে "বুখারি এই শব্দেই এটি বর্ণনা করেছেন।" তবে সহিহাইন-এর সংক্ষিপ্ত কিতাবসমূহ এর ব্যতিক্রম, কারণ সেগুলোর সংকলকগণ সহিহাইন অথবা দুটির যেকোনো একটির মূল শব্দাবলিই উদ্ধৃত করেছেন। তবে আল-হুমাইদি আল-আন্দালুসির আল-জামউ বাইনাস সহিহাইন কিতাবটি কিছু হাদিসের বর্ধিত অংশ ও পরিশিষ্টাংশ সমৃদ্ধ, যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। ফলে অনেক সময় এমন ব্যক্তি যিনি পার্থক্য করতে পারেন না, তিনি এতে যা পান তার কিছু অংশ সহিহাইন বা দুটির যেকোনো একটির দিকে ভুলবশত সম্বন্ধ করেন; অথচ তা ওই সকল অতিরিক্ত অংশের অন্তর্ভুক্ত যার অস্তিত্ব সহিহাইনের কোনোটিতেই নেই।
অতঃপর, এই দুই কিতাবের ওপর যে মুস্তাখরাজসমূহ রচিত হয়েছে তা থেকে দুটি ফায়দা অর্জিত হয়: প্রথমটি হলো: উন্নত সনদ (علو الإسنাদ)। দ্বিতীয়টি হলো: সহিহ বর্ণনার পরিধি বৃদ্ধি পাওয়া; কারণ এই কিতাবগুলোতে এমন কিছু অতিরিক্ত শব্দ ও পরিশিষ্টাংশ পাওয়া যায় যার বিশুদ্ধতা (صحة) এই মুস্তাখরাজগুলোর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। কেননা সেগুলো সহিহাইন বা দুটির যেকোনো একটির প্রমাণিত সনদের মাধ্যমেই বর্ণিত হয়েছে এবং সেই নির্ভরযোগ্য উৎস থেকেই উৎসারিত। আল্লাহ অধিক অবগত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
السادسة:ما أسنده البخاري ومسلم رحمهما الله في كتابيهما بالإسناد المتصل فذلك الذي حكما بصحته بلا إشكال.
وأما المعلق وهو الذي حذف من مبتدأ إسناده واحد أو أكثر وأغلب ما وقع ذلك في كتاب البخاري وهو في كتاب مسلم قليل جدا ففي بعضه نظر.
--------------------------------------------
ষষ্ঠ (বিষয়): ইমাম বুখারি এবং ইমাম মুসলিম (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁদের কিতাবদ্বয়ে যা নিরবচ্ছিন্ন সনদ (الإسناد المتصل)-এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, সেটিকেই তাঁরা কোনো সংশয় ছাড়াই সহিহ (بصحته) হওয়ার হুকুম দিয়েছেন।
আর মুয়াল্লাক (المعلق) হচ্ছে সেটি, যার সনদের শুরু থেকে একজন বা একাধিক রাবিকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর অধিকাংশ বুখারি শরীফে ঘটেছে এবং মুসলিম শরীফে এটি খুবই কম। তবে এর কিছু অংশের ক্ষেত্রে পর্যালোচনা (نظر) রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وينبغي أن تقول: ما كان من ذلك ونحوه بلفظ فيه جزم وحكم به على من علقه عنه فقد حكم بصحته عنه. مثاله: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: كذا وكذا قال: ابن عباس كذا قال مجاهد: كذا قال عفان: كذا. قال القعنبي: كذا روى أبو هريرة كذا وكذا وما أشبه ذلك من العبارات. فكل ذلك حكم منه على من ذكره عنه بأنه قد قال ذلك ورواه فلن يستجيز إطلاق ذلك إلا إذا صح عنده ذلك عنه.
--------------------------------------------
আপনার বলা উচিত: এই জাতীয় বর্ণনার মধ্যে যা নিশ্চিতবোধক (جزم) শব্দে বর্ণিত হয়েছে এবং যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রাবি থেকে বর্ণনাটি মুআল্লাক (علقه) করা হয়েছে, তবে তিনি এর দ্বারা ওই রাবি থেকে বর্ণনাটির বিশুদ্ধতার (صحة) ফয়সালা দিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: এমন এবং এমন; ইবনে আব্বাস বলেছেন: এমন; মুজাহিদ বলেছেন: এমন; আফফান বলেছেন: এমন; কা'নাবি বলেছেন: এমন; আবু হুরায়রা বর্ণনা (روى) করেছেন: এমন এবং এমন—এবং এই জাতীয় অন্যান্য শব্দসমষ্টি। এই সবকিছুর দ্বারা তিনি যার পক্ষ থেকে উল্লেখ করেছেন তাঁর ওপর এই বিধান দিয়েছেন যে, তিনি তা বলেছেন এবং বর্ণনা (رواه) করেছেন। তিনি এই জাতীয় শব্দের প্রয়োগ বৈধ মনে করেন না যতক্ষণ না তা তাঁর নিকট সংশ্লিষ্ট রাবি থেকে বিশুদ্ধ (صح) বলে প্রমাণিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
ثم إذا كان الذي علق الحديث عنه دون الصحابة: فالحكم بصحته يتوقف على اتصال الإسناد بينه وبين الصحابي وأما ما لم يكن في لفظه جزم وحكم مثل: روي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم كذا وكذا أو روي عن فلان كذا أو في الباب عن النبي صلى الله عليه وسلم كذا وكذا فهذا وما أشبهه من إلالفاظ ليس في شيء منه حكم منه بصحة ذلك عمن ذكره عنه لأن مثل هذه العبارات تستعمل في الحديث الضعيف أيضا. ومع ذلك فإيراده له في أثناء الصحيح مشعر بصحة أصله إشعارا يؤنس به ويركن إليه والله أعلم.
--------------------------------------------
অতঃপর যদি এমন কারও থেকে হাদিসটি মুআল্লাক (علق) করা হয় যিনি সাহাবীর (الصحابة) পরবর্তী স্তরের, তবে তার বিশুদ্ধতার (بصحته) হুকুম নির্ভর করবে তার এবং সাহাবীর মধ্যবর্তী সনদের নিরবচ্ছিন্নতার (اتصال الإسناد) ওপর। আর যেসব শব্দের মধ্যে দৃঢ়তা বা নিশ্চয়তা প্রকাশ পায় না, যেমন: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন এমন বর্ণিত (روي) হয়েছে' অথবা 'অমুক থেকে এমন বর্ণিত হয়েছে' কিংবা 'এই অধ্যায়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন এমন রয়েছে'—এগুলো এবং এই জাতীয় শব্দাবলির কোনোটির মাধ্যমেই সেই ব্যক্তির পক্ষ থেকে উক্ত বর্ণনাটি বিশুদ্ধ (بصحة) হওয়ার বিষয়ে কোনো হুকুম বা সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয় না; কারণ এই ধরনের অভিব্যক্তিগুলো দুর্বল (الضعيف) হাদিসের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। তা সত্ত্বেও, সহিহ বর্ণনাসমূহের মাঝে এটি উল্লেখ করা হাদিসটির মূল বক্তব্যের বিশুদ্ধতা (بصحة) সম্পর্কে এমন একটি ইঙ্গিত দেয় যা দ্বারা আশ্বস্ত হওয়া যায় এবং যার ওপর নির্ভর করা যায়। আল্লাহই ভালো জানেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
...................................................................................
--------------------------------------------
...................................................................................
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
..............................................................................
--------------------------------------------
..............................................................................
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
.............................................................................
--------------------------------------------
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
ثم إن ما يتقاعد من ذلك عن شرط الصحيح قليل يوجد في كتاب البخاري في مواضع من تراجم إلابواب دون مقاصد الكتاب وموضوعه الذي يشعر به اسمه الذي سماه به وهو: الجامع المسند الصحيح المختصر من أمور رسول الله صلى الله عليه وسلم وسننه وأيامه وإلى الخصوص الذي بيناه يرجع مطلق قوله: ما أدخلت في كتاب الجامع إلا ما صح.
وكذلك مطلق قول الحافظ أبي نصر الوايلي السجزي: أجمع أهل العلم الفقهاء وغيرهم على أن رجلا لو حلف بالطلاق: أن جميع ما في كتاب البخاري مما روي عن
--------------------------------------------
অতঃপর, সহিহ (الصحيح) হওয়ার শর্ত থেকে যা পিছিয়ে রয়েছে, তা বুখারির কিতাবে সামান্য কিছু স্থানে অধ্যায়ের শিরোনামে পাওয়া যায়। এটি কিতাবের মূল উদ্দেশ্য এবং বিষয়বস্তুর বহির্ভূত, যা কিতাবটির নাম থেকেই বোঝা যায়। তিনি এর নাম রেখেছেন: আল-জামি আল-মুসনাদ আস-সহিহ আল-মুকতাসার মিন উমুরি রাসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়ামিহি। আমরা যা বিশেষভাবে বর্ণনা করেছি, তা থেকেই তাঁর এই সাধারণ উক্তির মর্ম অনুধাবন করা যায় যে: "আমি আল-জামি কিতাবে সহিহ (صح) ব্যতীত অন্য কিছু অন্তর্ভুক্ত করিনি।"
একইভাবে হাফেজ আবু নাসর আল-ওয়াইলি আস-সিজজির সাধারণ বক্তব্যের মর্মও তাই, তিনি বলেছেন: "ফকিহ ও অন্যান্য সকল আলেম এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যদি কোনো ব্যক্তি তালাকের শপথ করে বলে যে, বুখারির কিতাবে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
النبي صلى الله عليه وسلم قد صح عنه ورسول الله صلى الله عليه وسلم قاله لا شك فيه أنه لا يحنث والمرأة بحالها في حبالته.
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি সহিহ (صح) হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি বলেছেন—এতে কোনো সন্দেহ নেই; ওই ব্যক্তির শপথ ভঙ্গ হবে না এবং তার স্ত্রী তার বিবাহ বন্ধনেই বহাল থাকবে।
--------------------------------------------