(খণ্ড: ১) আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা: -)
التقييد والإيضاح شرح مقدمة ابن الصلاح   (العراقي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: التقييد والإيضاح شرح مقدمة ابن الصلاح

المؤلف: أبو الفضل زين الدين عبد الرحيم بن الحسين بن عبد الرحمن بن أبي بكر بن إبراهيم العراقي (ت 806 هـ)

المحقق: عبد الرحمن محمد عثمان

الناشر: محمد عبد المحسن الكتبي صاحب المكتبة السلفية بالمدينة المنورة

الطبعة: الأولى، 1389 هـ/1969 م

عدد الصفحات: 475

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-তাকয়িদ ওয়াল-ইদাহ শারহু মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ   (আল-ইরাকি)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র


গ্রন্থ: আল-তাকয়িদ ওয়াল-ইদাহ শারহু মুকাদ্দিমাহ ইবনুস সালাহ

লেখক: আবু আল-ফজল জাইন আদ-দীন আবদুর রহীম বিন আল-হুসাইন বিন আবদুর রহমান বিন আবি বকর বিন ইব্রাহিম আল-ইরাকি (মৃত্যু ৮০৬ হিজরি)

মুহাক্কিক: আবদুর রহমান মুহাম্মদ উসমান

প্রকাশক: মুহাম্মদ আবদ আল-মুহসিন আল-কুতুবি, মদিনা মুনাওয়ারার আল-মাকতাবাহ আস-সালাফিয়্যাহ-এর স্বত্বাধিকারী

সংস্করণ: প্রথম، ১৩৮৯ হিজরি/১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭৫

[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌مقدمة

…

بسم الله الرحمن الرحيم

قال الشيخ إلامام الحافظ مفتي الشام تقي الدين أبو عمر عثمان بن عبد الرحمن بن عثمان ابن موسى بن أبي نصر النصري الشهرزوري الشافعي المعروف بابن الصلاح عليه الرحمة:

ربنا آتنا من لدنك رحمة وهيئ لنا من أمرنا رشدا.

الحمد لله الهادي من استهداه الواقي من اتقاه الكافي من تحرى رضاه حمدا بالغا أمد التمام ومنتهاه.

والصلاة والسلام إلاتمان إلاكملان على نبينا والنبيين وآل كل ما رجا راج مغفرته ورحماه آمين.

هذا: وإن علم الحديث من أفضل العلوم الفاضلة وأنفع الفنون النافعة يحبه

--------------------------------------------

بسم الله الرحمن الرحيم

اللهم أعن ويسر صلى الله عليه وسلم.

والحمد لله الذي ألهم لإيضاح ما أبهم وأفهم إلى إلاصطلاح ولو شاء لم نفهم وأشهد أن لا إله إلا الله الكاشف لما ينوب من الخطوب ويدهم وأشهد أن محمدا عبده ورسوله أفضل من أنجد وأتهم وأعدل من أنقذ وأسهم وصلى الله عليه وسلم وعلى آله وصحبه وسلم وبعد.

فإن أحسن ما صنف أهل الحديث في معرفة إلاصطلاح كتاب علوم الحديث لابن الصلاح جمع فيه غرر الفوائد فأوعى ودعى له زمر الشوارد فأجابت طوعا إلا أن فيه غير موضع قد خولف فيه وأماكن أحز تحتاج إلى تقييد وتنبيه فأردت أن أجمع عليه نكتا تقيد مطلقه وتفتح مغلقه وقد أورد عليه غير واحد من المتأخرين إيرادات
উপস্থাপনা

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

শাইখ, ইমাম, হাফিজ (الحافظ), শাম দেশের মুফতি তাকিউদ্দীন আবু আমর উসমান ইবন আবদুর রহমান ইবন উসমান ইবন মুসা ইবন আবি নাসর আন-নাসরি আশ-শাহরাজুরি আশ-শাফিঈ, যিনি ইবনুস সালাহ নামে পরিচিত (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক), বলেছেন:

হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের আপনার পক্ষ থেকে রহমত দান করুন এবং আমাদের জন্য আমাদের কাজ সঠিকভাবে পরিচালনা করার ব্যবস্থা করে দিন।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি পথপ্রদর্শন করেন তাকে যে তাঁর নিকট হিদায়াত প্রার্থনা করে; যিনি রক্ষা করেন তাকে যে তাঁকে ভয় করে; যিনি যথেষ্ট হন তার জন্য যে তাঁর সন্তুষ্টি অন্বেষণ করে—এমন প্রশংসা যা পূর্ণতার শেষ সীমা ও প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছে।

সর্বাধিক পূর্ণাঙ্গ ও নিখুঁত সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী ও সকল নবীদের ওপর এবং তাঁদের প্রত্যেকের পরিবার-পরিজনের ওপর, যতক্ষণ কোনো আশাবাদী তাঁর ক্ষমা ও দয়ার আশা পোষণ করবে। আমিন।

অতঃপর: হাদিস শাস্ত্র হলো সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদাসম্পন্ন জ্ঞানসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও উপকারী শিল্পসমূহের অন্যতম, যা পছন্দ করে...

--------------------------------------------

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে আল্লাহ! সাহায্য করুন এবং সহজ করে দিন। (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অস্পষ্ট বিষয়সমূহ স্পষ্ট করার প্রেরণা দিয়েছেন এবং পরিভাষা (الاصطلاح) বোঝার জ্ঞান দান করেছেন; তিনি না চাইলে আমরা কিছুই বুঝতে পারতাম না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, যিনি বিপদ-আপদ ও আকস্মিক বিপর্যয় দূরকারী। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসুল; তিনি আরবের উচ্চভূমি ও নিম্নভূমির শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তি এবং উদ্ধারকারী ও ইনসাফকারীদের মধ্যে সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। অতঃপর—

নিশ্চয়ই হাদিস বিশারদগণ পরিভাষা (الاصطلاح) পরিচিতি বিষয়ে যা কিছু রচনা করেছেন, তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো ইবনুস সালাহ-এর উলূমুল হাদিস গ্রন্থটি। তিনি এতে অত্যন্ত মূল্যবান শিক্ষাগুলো একত্রিত করেছেন এবং তা পরিপূর্ণভাবে সংরক্ষণ করেছেন; তিনি যেন বিরল বিষয়গুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন আর সেগুলো সানন্দে তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েছে। তবে এতে এমন কিছু স্থান রয়েছে যেখানে দ্বিমত পোষণ করা হয়েছে এবং এমন কিছু সূক্ষ্ম জায়গা রয়েছে যা নির্দিষ্টকরণ ও সতর্কীকরণের মুখাপেক্ষী। তাই আমি এর ওপর এমন কিছু টীকা (نكتا) সংকলন করার ইচ্ছা করেছি যা এর সাধারণ বিষয়গুলোকে সুনির্দিষ্ট করবে এবং জটিল বিষয়গুলোকে উন্মোচন করবে। ইতিপূর্বে পরবর্তী যুগের একাধিক আলিম এর ওপর বিভিন্ন পর্যালোচনা পেশ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
ذكور الرجال وفحولتهم ويعنى به محققو العلماء وكملتهم ولا يكرهه من الناس إلا رذالتهم وسفلتهم. وهو من أكثر العلوم تولجا في فنونها لا سيما الفقه الذي هو إنسان عيونها. ولذلك كثر غلط العاطلين منه من مصنفي الفقهاء وظهر الخلل في كلام المخلين به من العلماء.

ولقد كان شأن الحديث فيما مضى عظيما عظيمة جموع طلبته رفيعة مقادير

--------------------------------------------

ليست بصحيحة فرأيت أن أذكرها وأبين تصويب كلام الشيخ وترجيحه لئلا يتعلق بها من لا يعرف مصطلحات القوم ويتفق من مزجى البضاعات ما لا يصلح للسوم وقد كان الشيخ إلامام العلامة علاء الدين مغلطاى أوقفنى على شئ جمعه عليه سماه إصلاح ابن الصلاح وقرأ من لفظه موضعا منه ولم أر كتابه المذكور بعد ذلك وأيضا قد اختصره جماعة وتعقبوه في مواضع منه فحيث كان إلاعتراض عليه غير صحيح ولا مقبول ذكرته بصيغة اعترض عليه على البناء للمفعول.

وقد أخبرنى بكتاب ابن الصلاح المذكور الشيخان إلامامان الحافظان البارعان صلاح الدين أبو سعيد خليل بن كيكلدى العلائى وبهائى الدين أبو محمد عبد الله بن محمد بن أبى بكر بن خليل إلاموى بقراءتى على الثانى لجميع الكتاب وسماعا على إلاول لبعض الكتاب وإجازة باقيه قإلا أنا بجميعه محمد بن يوسف بن المهتار الدمشقى قال أخبرنا بمؤلفه الشيخ إلامام تقى الدين أبو عمرو عثمان بن عبد الرحمن بن موسى الشهرزورى رحمه الله قراءة عليه في الخامسة من عمرى وسميته التقييد وإلايضاح لما أطلق وأغلق من كتاب ابن الصلاح والله أسأل أستعين أن يوفق لإكماله ويعين وأن لا يجعل ما علمنا من العلم علينا وبإلا ويجعله خالصا لوجهه تبارك وتعالى إنه على ما يشاء قدير وبإلاجابة جدير.

قوله ويعنى به محققو العلماء وكملتهم هو بضم الياء وفتح النون على البناء للمفعول وعليه اقتصر صاحبا الصحاح والمحكم وحكى الهروى في الغبريين أنه استعمل على البناء للفاعل أيضا فيقال عنى بكذا يعنى به وحكاه المطرزى أيضا وأنشد عليه عان بأخراها طويل الشغل قال والمبنى للمفعول أفصح.
পুরুষদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও বীরপুরুষরাই এর চর্চা করেন; আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বিজ্ঞ গবেষক (محقق) ও পূর্ণতাপ্রাপ্ত আলেমগণ। নীচ ও ইতর প্রকৃতির মানুষ ছাড়া আর কেউ একে অপছন্দ করে না। এটি এমন এক বিজ্ঞান যা অন্যান্য শাস্ত্রের শাখা-প্রশাখায় গভীরভাবে প্রবেশ করে, বিশেষ করে ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে, যা শাস্ত্রসমূহের মধ্যমণি স্বরূপ। এ কারণেই হাদিস শাস্ত্রের জ্ঞানবর্জিত ফকিহ গ্রন্থকারদের লেখায় ভুলের আধিক্য দেখা যায় এবং এই শাস্ত্রের প্রতি অবহেলাকারী আলেমদের কথায় ত্রুটি প্রকাশ পায়।

অতীতে হাদিসের মর্যাদা ছিল সুমহান, এর শিক্ষার্থীদলের সংখ্যা ছিল বিশাল এবং তাদের মর্যাদা ছিল সুউচ্চ

--------------------------------------------

সেগুলো সহিহ (صحيحة) নয়। তাই আমি সেগুলো উল্লেখ করা এবং শাইখের বক্তব্যের সংশোধন ও তার প্রাধান্যপ্রাপ্ত মতটি স্পষ্ট করে দেওয়া প্রয়োজন মনে করেছি, যাতে এই শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلحات) সম্পর্কে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিরা তাতে বিভ্রান্ত না হয় এবং অল্প বিদ্যাধারী ব্যক্তিরা এমন কোনো বিষয়ে লিপ্ত না হয় যা তাদের যোগ্য নয়। ইমাম আল্লামা আলাউদ্দিন মুগলতাই আমাকে তার সংকলিত একটি বিষয়ের ওপর অবহিত করেছিলেন, যার নাম তিনি দিয়েছিলেন ‘ইসলাহ ইবনে আস-সালাহ’; তিনি তার নিজের লেখা থেকে একটি অংশ আমাকে পড়ে শুনিয়েছিলেন, তবে এরপর আমি উক্ত কিতাবটি আর দেখিনি। তদুপরি একদল আলেম এটি সংক্ষেপ করেছেন এবং এর বিভিন্ন স্থানে সমালোচনা (تعقيب) করেছেন। সুতরাং যেখানে তার ওপর উত্থাপিত আপত্তি সঠিক বা গ্রহণযোগ্য ছিল না, সেখানে আমি তা 'তার ওপর আপত্তি করা হয়েছে' (اعترض عليه) মর্মে কর্মবাচ্য (البناء للمفعول) রূপে উল্লেখ করেছি।

হাফেজ (حافظ) ও অত্যন্ত দক্ষ দুই ইমাম শাইখ সালাহুদ্দিন আবু সাঈদ খলিল ইবনে কাইকালদি আল-আলাই এবং বাহাউদ্দিন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর ইবনে খলিল আল-উমায়ি আমাকে ইবনে আস-সালাহর উক্ত কিতাব সম্পর্কে অবহিত করেছেন। দ্বিতীয় শাইখের কাছে আমি পুরো কিতাবটি পড়েছি এবং প্রথম শাইখের কাছে কিতাবটির কিছু অংশ শ্রবণের মাধ্যমে এবং বাকি অংশের অনুমতি (إجازة) প্রাপ্তির মাধ্যমে পড়েছি। তারা উভয়ে বলেছেন যে, মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনুল মুহতার আদ-দিমাশকি আমাদের বলেছেন যে, এই কিতাবের লেখক ইমাম শাইখ তাকিউদ্দীন আবু আমর উসমান ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মুসা আশ-শাহরাজুরি (রহ.)-এর কাছে তার পাঁচ বছর বয়সে কিতাবটি পাঠ করা হয়েছে। আমি আমার এই কিতাবটির নামকরণ করেছি ‘আত-তাকয়িদ ওয়াল ইদাহ লিমা উতলিকা ওয়া উগলিকা মিন কিতাব ইবনিস সালাহ’। আমি আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছি যেন তিনি এটি সম্পন্ন করার তাওফিক দান করেন এবং সাহায্য করেন। আমরা যা শিখেছি তা যেন তিনি আমাদের জন্য বোঝা হিসেবে নির্ধারণ না করেন এবং একে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই কবুল করেন। নিশ্চয়ই তিনি যা চান তা করতে সক্ষম এবং দোয়া কবুলের উপযুক্ত।

লেখকের উক্তি: "এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো বিজ্ঞ গবেষক ও পূর্ণতাপ্রাপ্ত আলেমগণ"—এখানে 'ইউ'না' (يعنى) শব্দটি প্রথম অক্ষরে পেশ এবং দ্বিতীয় অক্ষরে জবর দিয়ে কর্মবাচ্য (البناء للمفعول) হিসেবে পড়তে হবে। ‘আস-সাহাহ’ এবং ‘আল-মুহকাম’ অভিধানের লেখকদ্বয় এভাবেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন। তবে আল-হারাবি 'আল-গারিরাইন' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, এটি কর্তৃবাচ্য (البناء للفاعل) হিসেবেও ব্যবহৃত হয়; সেক্ষেত্রে বলা হয় 'আনা বি-কাযা' (عنى بكذا)। মুতাররিজিও এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সপক্ষে কাব্যিক প্রমাণ পেশ করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, কর্মবাচ্য (البناء للمفعول) হিসেবে ব্যবহার করাই অধিক বিশুদ্ধ।
(খণ্ড: ১) আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
حفاظه وحملته. وكانت علومه بحياتهم حية وأفنان فنونه ببقائهم غضة ومغانيه بأهله آهلة فلم يزالوا في انقراض ولم يزل في اندراس حتى آضت به الحال إلى أن صار أهله إنما هم شرذمة قليلة العدد ضعيفة العدد لا تغني على إلاغلب في تحمله بأكثر من سماعه غفلا ولا تعنى في تقييده بأكثر من كتابته عطلا مطرحين علومه التي بها جل قدره مباعدين معارفه التي بها فخم أمره.

فحين كاد الباحث عن مشكله لا يلفي له كاشفا والسائل عن علمه لا يلقى به عارفا من الله الكريم تبارك وتعالى علي وله الحمد أن أجمع بكتاب معرفة أنواع علوم الحديث هذا الذي باح بأسراره الخفية وكشف عن مشكلاته إلابية وأحكم معاقده وأقعد قواعده وأنار معالمه وبين أحكامه وفصل أقسامه وأوضح أصوله وشرح فروعه وفصوله وجمع شتات علومه وفوائده وقنص 5 شوارد نكته وفوائده.

فالله العظيم الذي بيده الضر والنفع وإلاعطاء والمنع أسأل وإليه أضرع وأبتهل متوسلا إليه بكل وسيلة متشفعا إليه بكل شفيع أن يجعله مليا بذلك وأملى وفيا بكل ذلك وأوفي. وأن يعظم إلاجر والنفع به في الدارين إنه قريب

--------------------------------------------

قوله جعله الله مليا بذلك وأملى وفيا بكل ذلك وأوفي استعمل المصنف هنا مليا وأملى بغير همز على التخفيف وكتبه بالياء المناسبة قوله وفيا وأوفي وإلا فإلاول مهموز من قولهم ملوء الرجل بضم اللام وبالهمز أي صار مليئا أى ثقه وهو ملئ بين الملاء والملاءة ممدودان قاله الجوهرى.
এর হেফজকারী ও বাহকগণ। তাদের জীবদ্দশায় এর জ্ঞানসমূহ ছিল প্রাণবন্ত এবং তাদের উপস্থিতিতে এর বিচিত্র শাখাগুলো ছিল সতেজ ও এর আবাসস্থলগুলো ছিল জনাকীর্ণ। অতঃপর তারা ক্রমাগত বিলুপ্ত হতে থাকে এবং এই শাস্ত্রও ক্রমশ ম্লান হতে থাকে, এমনকি অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে এর অনুসারীরা কেবল একটি ক্ষুদ্র দলে পরিণত হয়। তারা এই শাস্ত্রের গ্রহণ (تحمل) প্রক্রিয়ায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে কেবল অমনোযোগী শ্রবণ (سماع) ছাড়া অন্য কিছুর গুরুত্ব দেয় না এবং এর লিপিবদ্ধকরণে (تقييد) সাধারণ লিখন ছাড়া অন্য কোনো যত্ন নেয় না। তারা এর সেই জ্ঞানসমূহকে বর্জন করেছে যার দ্বারা এর মর্যাদা সুউচ্চ হয়েছিল এবং এর সেই পরিচিতি থেকে দূরে সরে গেছে যার মাধ্যমে এর বিষয়াদি মহিমান্বিত হয়েছিল।

যখন এর জটিল বিষয় (مشكل) সমূহের অনুসন্ধানকারী কোনো উন্মোচনকারী পাচ্ছিল না এবং এর জ্ঞান সম্পর্কে জিজ্ঞাসু ব্যক্তি কোনো বিজ্ঞ অভিজ্ঞের সাক্ষাৎ পাচ্ছিল না; তখন মহান আল্লাহ—যিনি বরকতময় ও সুউচ্চ—আমার প্রতি অনুগ্রহ করলেন—আর প্রশংসা কেবল তাঁরই—যাতে আমি এই 'হাদিস শাস্ত্রের প্রকারভেদ পরিচিতি' নামক কিতাবটি সংকলন করি। এটি হাদিসের গোপন রহস্যসমূহ প্রকাশ করেছে, এর দুর্ভেদ্য জটিলতাগুলো উন্মোচন করেছে, এর বন্ধনসমূহ সুদৃঢ় করেছে, এর মূলনীতি (قواعد) সমূহ প্রতিষ্ঠিত করেছে, এর নিদর্শনসমূহ আলোকিত করেছে, এর বিধানসমূহ স্পষ্ট করেছে, এর শ্রেণিবিভাগসমূহ বিস্তারিত বর্ণনা করেছে, এর উৎসসমূহকে ব্যাখ্যা করেছে এবং এর শাখা ও অধ্যায়সমূহ বিশ্লেষণ করেছে। এটি হাদিস শাস্ত্রের বিক্ষিপ্ত জ্ঞান ও উপকারিতাসমূহকে একত্র করেছে এবং এর দুর্লভ সূক্ষ্ম বিষয় ও শিক্ষাগুলোকে শিকার করে গ্রন্থিবদ্ধ করেছে।

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি—যাঁর হাতেই ক্ষতি ও কল্যাণ এবং দান ও বারণ—এবং তাঁরই নিকট অনুনয়-বিনয় করি ও সকল মাধ্যমে তাঁরই প্রতি সোপর্দ হই, যেন তিনি এই গ্রন্থটিকে উদ্দেশ্য পূরণে সক্ষম ও পরিপূর্ণ করেন। আর যেন তিনি উভয় জাহানে এর প্রতিদান ও কল্যাণকে মহান করেন; নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটবর্তী।

--------------------------------------------

লেখকের বক্তব্য "আল্লাহ একে সক্ষম (مليا) ও অধিকতর সক্ষম (أملى) করুন"—এখানে লেখক 'مليا' ও 'أملى' শব্দ দুটিকে সহজ করার জন্য হামজা ছাড়াই ব্যবহার করেছেন এবং পরবর্তী শব্দগুলোর সাথে মিল রেখে 'ইয়া' দিয়ে লিখেছেন। অন্যথায় প্রথম শব্দটি মূলত হামজা বিশিষ্ট; যা 'ملؤ الرجل' থেকে আগত, অর্থাৎ সে নির্ভরযোগ্য (ثقة) হয়েছে। জাওহারী বলেছেন, এটি 'الملاء' এবং 'الملاءة' শব্দ থেকে উদ্ভূত।
(খণ্ড: ১) আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
مجيب. وما توفيقي إلا بالله عليه توكلت وإليه أنيب

وهذه فهرسة أنواعه:

فإلاول منها: معرفة الصحيح من الحديث

الثاني: معرفة الحسن من الحديث

الثالث: معرفة الضعيف من الحديث

الرابع: معرفة المسند

الخامس: معرفة المتصل

السادس: معرفة المرفوع

السابع: معرفة الموقوف

الثامن: معرفة المقطوع وهو غير المنقطع

التاسع: معرفة المرسل

العاشر: معرفة المنقطع

الحادي عشر: معرفة المعضل ويليه تفريعات منها في الإسناد المعنعن ومنها في التعليق

الثاني عشر: معرفة التدليس وحكم المدلس

الثالث عشر: معرفة الشاذ

الرابع عشر: معرفة المنكر

الخامس عشر: معرفة إلاعتبار والمتابعات والشواهد

السادس عشر: معرفة زيادات الثقات وحكمها

السابع عشر: معرفة إلافراد

الثامن عشر: معرفة الحديث المعلل

التاسع عشر: معرفة المضطرب من الحديث

العشرون: معرفة المدرج في الحديث

الحادي والعشرون: معرفة الحديث الموضوع
তিনিই প্রার্থনা কবুলকারী। আমার সাফল্য কেবল আল্লাহরই সাহায্যে, আমি তাঁরই ওপর ভরসা করি এবং তাঁরই নিকট ফিরে যাই।

আর এটি হলো এর প্রকারসমূহের সূচিপত্র:

তন্মধ্যে প্রথমটি হলো: সহিহ (صحيح) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান

দ্বিতীয়: হাসান (حسن) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান

তৃতীয়: দুর্বল (ضعيف) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান

চতুর্থ: মুসনাদ সম্পর্কে জ্ঞান

পঞ্চম: মুত্তাসিল (متصل) সম্পর্কে জ্ঞান

ষষ্ঠ: মারফু (مرفوع) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান

সপ্তম: মাওকুফ (موقوف) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান

অষ্টম: মাকতু (مقطوع) সম্পর্কে জ্ঞান এবং তা বিচ্ছিন্ন (منقطع) থেকে ভিন্ন

নবম: মুরসাল (مرسل) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান

দশম: বিচ্ছিন্ন (منقطع) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান

একাদশ: মুদাল (معضل) সম্পর্কে জ্ঞান এবং এরপর এর উপশাখা হিসেবে মুআনআন (معنعن) সনদ ও তালিক (تعليق) সংক্রান্ত আলোচনা

দ্বাদশ: তাদলিস (تدليس) সম্পর্কে জ্ঞান এবং মুদাল্লিস (مدلس)-এর বিধান

ত্রয়োদশ: শায (شاذ) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান

চতুর্দশ: মুনকার (منكر) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান

পঞ্চদশ: ইতিবার (اعتبار), মুতাবাআত (متابعات) এবং শাওয়াহিদ (شواهد) সম্পর্কে জ্ঞান

ষোড়শ: নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অতিরিক্ত অংশ (زيادات الثقات) এবং এর বিধান সম্পর্কে জ্ঞান

সপ্তদশ: আফ্রাদ (أفراد) সম্পর্কে জ্ঞান

অষ্টাদশ: ত্রুটিযুক্ত (معلل) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান

ঊনবিংশ: মুদতারিব (مضطرب) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান

বিংশ: হাদিসের মধ্যকার মুদরাজ (مدرج) সম্পর্কে জ্ঞান

একবিংশ: জাল (موضوع) হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান
(খণ্ড: ১) আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الثاني والعشرون: معرفة المقلوب.

الثالث والعشرون: معرفة صفة من تقبل روايته ومن ترد روايته.

الرابع والعشرون: معرفة كيفية سماع الحديث وتحمله وفيه بيان أنواع الإجازة وأحكامها وسائر وجوه إلاخذ والتحمل وفيه علم جم.

الخامس والعشرون: معرفة كتابة الحديث وكيفية ضبط الكتاب وتقييده وفيه معارف مهمة رائقة.

السادس والعشرون: معرفة كيفية رواية الحديث وشرط أدائه وما يتعلق بذلك وفيه كثير من نفائس هذا العلم.

السابع والعشرون: معرفة آداب المحدث.

الثامن والعشرون: معرفة آداب طالب الحديث.

التاسع والعشرون: معرفة الإسناد العالي والنازل.

الموفي ثلاثين: معرفة المشهور من الحديث.

الحادي والثلاثون: معرفة الغريب والعزيز من الحديث.

الثاني والثلاثون: معرفة غريب الحديث.

الثالث والثلاثون: معرفة المسلسل.

الرابع والثلاثون: معرفة ناسخ الحديث ومنسوخه.

الخامس والثلاثون: معرفة المصحف من أسانيد إلاحاديث ومتونها.

السادس والثلاثون: معرفة مختلف الحديث.

السابع والثلاثون: معرفة المزيد في متصل إلاسانيد.

الثامن والثلاثون: معرفة المراسيل الخفي إرسالها.
বাইশতম: ওলটপালটকৃত (مقلوب) হাদিস পরিচিতি।

তেইশতম: যাঁদের বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করা হবে এবং যাঁদের বর্ণনা (رواية) বর্জন করা হবে, তাঁদের বৈশিষ্ট্য পরিচিতি।

চব্বিশতম: হাদিস শ্রবণ ও তা গ্রহণ করার পদ্ধতি পরিচিতি; এতে অনুমতি (إجازة)-এর প্রকারভেদ, এর বিধানসমূহ এবং হাদিস গ্রহণ ও ধারণের অন্যান্য সকল দিক বর্ণিত হয়েছে। এতে প্রচুর জ্ঞান নিহিত রয়েছে।

পঁচিশতম: হাদিস লিখন এবং পাণ্ডুলিপি নির্ভুলভাবে সংরক্ষণ (ضبط) ও লিপিবদ্ধ করার পদ্ধতি পরিচিতি; এতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও চমৎকার জ্ঞান রয়েছে।

ছাব্বিশতম: হাদিস বর্ণনা করার পদ্ধতি, তা প্রদান (أداء)-এর শর্তাবলি এবং এ সংক্রান্ত বিষয়াদি পরিচিতি; এতে এই শাস্ত্রের অনেক মূল্যবান বিষয় রয়েছে।

সাতাশতম: হাদিস বিশারদ (محدث)-এর আদব বা শিষ্টাচার পরিচিতি।

আটাশতম: হাদিসের ছাত্রের আদব বা শিষ্টাচার পরিচিতি।

উনত্রিশতম: উচ্চমানের সনদ (إسناد عالي) এবং নিম্নমানের সনদ (إسناد نازل) পরিচিতি।

ত্রিশতম পূর্ণকারী: প্রসিদ্ধ (مشهور) হাদিস পরিচিতি।

একত্রিশতম: একক (غريب) এবং বিরল (عزيز) হাদিস পরিচিতি।

বত্রিশতম: হাদিসের দুর্বোধ্য শব্দ (غريب الحديث) পরিচিতি।

তেত্রিশতম: অনুক্রমিক (مسلسل) হাদিস পরিচিতি।

চৌত্রিশতম: হাদিসের রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) পরিচিতি।

পঁয়ত্রিশতম: হাদিসের সনদসমূহ (أسانيد) এবং মতনসমূহ (متون)-এর বর্ণবিকৃতি (مصحف) পরিচিতি।

ছত্রিশতম: পরস্পরবিরোধী (مختلف الحديث) হাদিস পরিচিতি।

সাইত্রিশতম: সংযুক্ত সনদসমূহে অতিরিক্ত রাবি (المزيد في متصل إلاسانيد) অন্তর্ভুক্ত হওয়া সম্পর্কে পরিচিতি।

আটত্রিশতম: প্রচ্ছন্ন বিচ্ছিন্নতা (المراسيل الخفي إرسالها) সম্পর্কে পরিচিতি।
(খণ্ড: ১) আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
التاسع والثلاثون: معرفة الصحابة رضي الله عنهم.

الموفي أربعين: معرفة التابعين رضي الله عنهم.

الحادي وإلاربعون: معرفة أكابر الرواة عن إلاصاغر.

الثاني وإلاربعون: معرفة المدبج وما سواه من رواية إلاقران بعضهم عن بعض.

الثالث وإلاربعون: معرفة إلاخوة وإلاخوات من العلماء والرواة.

الرابع وإلاربعون: معرفة رواية إلاباء عن إلابناء.

الخامس وإلاربعون: عكس ذلك: معرفة رواية إلابناء عن إلاباء.

السادس وإلاربعون: معرفة من اشترك في الرواية عنه راويان متقدم ومتأخر تباعد ما بين وفاتيهما.

السابع وإلاربعون: معرفة من لم يرو عنه إلا راو واحد.

الثامن وإلاربعون: معرفة من ذكر بأسماء مختلفة أو نعوت متعددة.

التاسع وإلاربعون: معرفة المفردات من أسماء الصحابة والرواة والعلماء.

الموفي خمسين: معرفة إلاسماء والكنى.

الحادي والخمسون: معرفة كنى المعروفين بإلاسماء دون الكنى.

الثاني والخمسون: معرفة ألقاب المحدثين.

الثالث والخمسون: معرفة المؤتلف والمختلف.

الرابع والخمسون: معرفة المتفق والمفترق.

الخامس والخمسون: نوع يتركب من هذين النوعين.

السادس والخمسون: معرفة الرواة المتشابهين في إلاسم والنسب المتمايزين بالتقديم والتأخير في إلابن وإلاب.

السابع والخمسون: معرفة المنسوبين إلى غير آبائهم.
৩৯তম: সাহাবী (الصحابة) -রাদিয়াল্লাহু আনহুম- পরিচিতি।

৪০তম: তাবিঈ (التابعين) -রাদিয়াল্লাহু আনহুম- পরিচিতি।

৪১তম: কনিষ্ঠদের থেকে জ্যেষ্ঠ বর্ণনাকারীদের বর্ণনা (أكابر الرواة عن الأصاغر) সম্পর্কে জ্ঞান।

৪২তম: মুদাব্বাজ (المدبج) এবং সমসাময়িকদের একে অপরের থেকে বর্ণনা (رواية الأقران) সম্পর্কে জ্ঞান।

৪৩তম: আলেম ও বর্ণনাকারীদের (الرواة) মধ্যে ভাই ও বোনদের সম্পর্কে জ্ঞান।

৪৪তম: সন্তানদের থেকে পিতাদের বর্ণনা (رواية الآباء عن الأبناء) সম্পর্কে জ্ঞান।

৪৫তম: এর বিপরীত: পিতাদের থেকে সন্তানদের বর্ণনা (رواية الأبناء عن الآباء) সম্পর্কে জ্ঞান।

৪৬তম: এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জ্ঞান যার থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে দুইজন বর্ণনাকারী শরীক হয়েছেন—একজন অগ্রবর্তী ও অপরজন পরবর্তী—এবং যাদের মৃত্যুর সময়ের ব্যবধান অনেক বেশি।

৪৭তম: এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জ্ঞান যার থেকে কেবল একজন বর্ণনাকারী (راو واحد) বর্ণনা করেছেন।

৪৮তম: এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জ্ঞান যাকে ভিন্ন ভিন্ন নাম বা একাধিক বিশেষণে (نعوت) উল্লেখ করা হয়েছে।

৪৯তম: সাহাবী (الصحابة), বর্ণনাকারী (الرواة) এবং আলেমদের মধ্যকার বিরল নামসমূহ (المفردات) সম্পর্কে জ্ঞান।

৫০তম: নাম (الأسماء) ও উপনাম (الكنى) সম্পর্কে জ্ঞান।

৫১তম: যারা উপনামের পরিবর্তে কেবল নামেই পরিচিত, তাদের উপনাম (الكنى) সম্পর্কে জ্ঞান।

৫২তম: মুহাদ্দিসগণের (المحدثين) উপাধি (ألقاب) সম্পর্কে জ্ঞান।

৫৩তম: মুতালিফ ও মুখতালিফ (المؤتلف والمختلف) সম্পর্কে জ্ঞান।

৫৪তম: মুত্তাফিক ও মুফতারিক (المتفق والمفترق) সম্পর্কে জ্ঞান।

৫৫তম: এমন এক প্রকার যা এই দুই প্রকারের সমন্বয়ে গঠিত।

৫৬তম: এমন বর্ণনাকারীদের (الرواة) সম্পর্কে জ্ঞান যারা নাম ও বংশপরিচয়ে সদৃশ, কিন্তু পিতা ও পুত্রের নামের ক্ষেত্রে অগ্র-পশ্চাৎ বিন্যাসের মাধ্যমে তাদের পৃথক করা হয়।

৫৭তম: যারা তাদের পিতা ব্যতীত অন্য কারো দিকে সম্বন্ধযুক্ত (المنسوبين إلى غير آبائهم) তাদের সম্পর্কে জ্ঞান।
(খণ্ড: ১) আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
الثامن والخمسون: معرفة إلانساب التي باطنها على خلاف ظاهرها.

التاسع والخمسون: معرفة المبهمات.

الموفي ستين: معرفة تواريخ الرواة في الوفيات وغيرها.

الحادي والستون: معرفة الثقات والضعفاء من الرواة.

الثاني والستون: معرفة من خلط في آخر عمره من الثقات.

الثالث والستون: معرفة طبقات الرواة والعلماء.

الرابع والستون: معرفة الموالي من الرواة والعلماء.

الخامس والستون: معرفة أوطان الرواة وبلدانهم.

وذلك آخرها وليس بآخر الممكن في ذلك فإنه قابل للتنويع إلى ما لا يحصى إذ لا تحصى أحوال رواة الحديث وصفاتهم ولا أحوال متون الحديث وصفاتها وما من حالة منها ولا صفة إلا وهي بصدد أن تفرد بالذكر وأهلها فإذا هي نوع على حياله ولكنه نصب من غير أرب وحسبنا الله ونعم الوكيل
৫৮তম: ঐ সকল বংশপরিচয় (الأنساب) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যার অভ্যন্তরীণ রহস্য বাহ্যিক দিক থেকে ভিন্ন।

৫৯তম: অস্পষ্ট ব্যক্তিবর্গ (المبهمات) সম্পর্কে জ্ঞান।

৬০তম: বর্ণনাকারীদের মৃত্যুসন ও অন্যান্য বিষয়ের ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞান।

৬১তম: বর্ণনাকারীদের মধ্য থেকে নির্ভরযোগ্য (الثقات) এবং দুর্বল (الضعفاء) রাবিদের পরিচয় লাভ করা।

৬২তম: নির্ভরযোগ্য (الثقات) রাবিদের মধ্য থেকে যারা জীবনের শেষভাগে স্মৃতিবিভ্রমে (خلط) আক্রান্ত হয়েছেন তাদের পরিচয় লাভ করা।

৬৩তম: বর্ণনাকারী ও আলেমদের স্তর (طبقات) সম্পর্কে জ্ঞান।

৬৪তম: বর্ণনাকারী ও আলেমদের মধ্য থেকে আযাদকৃত দাস (الموالي) সম্পর্কে জ্ঞান।

৬৫তম: বর্ণনাকারীদের স্বদেশ ও শহরসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান।

এবং এটিই হলো এর শেষ প্রকার, তবে সম্ভাব্য প্রকারভেদের মধ্যে এটিই শেষ নয়। কারণ একে অগণিত প্রকারে বিন্যস্ত করা সম্ভব; যেহেতু হাদিস বর্ণনাকারীদের অবস্থা ও গুণাবলি এবং হাদিসের মূল পাঠের (متون) অবস্থা ও গুণাবলি গণনা করা অসম্ভব। এমন কোনো অবস্থা বা গুণ নেই যা স্বতন্ত্রভাবে আলোচনার এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উল্লেখ করার দাবি রাখে না। এমতাবস্থায় প্রতিটি অবস্থাই একটি স্বতন্ত্র প্রকার হিসেবে গণ্য হতে পারে; তবে তা হবে বিশেষ কোনো প্রয়োজনহীন এক কঠোর পরিশ্রম মাত্র। আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১) আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌النوع إلاول من أنواع علوم الحديث: معرفة الصحيح من الحديث

اعلم علمك الله وإياي أن الحديث عند أهله ينقسم إلى صحيح وحسن وضعيف:

--------------------------------------------

النوع إلاول: معرفة الصحيح

قوله اعلم علمك الله وإياي أن الحديث عند أهله ينقسم إلى صحيح وحسن وضعيف. انتهى.

وقد اعترض عليه بأمرين أحدهما أن في الترمذي مرفوعا: "إذا دعا أحدكم فليبدأ بنفسه" الاولى أن يقول علمنا الله وإياك انتهى ما اعترض به هذا المعترض

والحديث الذي ذكره من عند الترمذي ليس هكذا وهو حديث أبى بن كعب أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان إذا ذكر أحدا فدعا له بدأ بنفسه ثم قال هذا حديث حسن غريب صحيح ورواه أبو داود أيضا ولفظه كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا دعا بدأ بنفسه وقال رحمة الله علينا وعلى موسى الحديث

ورواه النسائى أيضا في سننه الكبرى وهو عند مسلم أيضا كما سيأتي فليس فيه ما ذكره من أن كل داع يبدأ بنفسه وإنما هو من فعله صلى الله عليه وسلم لا من قوله وإذا كان كذلك فهو مقيد بذكره صلى الله عليه وسلم نبيا من إلانبياء كما ثبت في صحيح مسلم في حديث أبى الطويل في قصة موسى مع الخضر وفيه قال وكان إذا ذكر أحدا من إلانبياء بدأ بنفسه رحمة الله علينا وعلى أخى وكذا رحمة الله علينا الحديث

فأما دعاؤه لغير إلانبياء فلم ينقل أنه كان يبدأ بنفسه كقوله صلى الله عليه وسلم في الحديث الصحيح الذي رواه البخاري في قصة زمزم قال ابن عباس قال النبي صلى الله عليه وسلم: "يرحم الله أم اسماعيل لو تركت زمزم أو قال لو لم تغرف من الماء لكانت زمزم عينا معينا"
হাদিস শাস্ত্রের প্রকারভেদের মধ্যে প্রথম প্রকার: হাদিসের মধ্যে সহিহ (صحيح) সম্পর্কে জ্ঞান

জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাকে ও আমাকে ইলম দান করুন—হাদিস বিশারদদের নিকট হাদিস তিন ভাগে বিভক্ত: সহিহ (صحيح), হাসান (حسن) এবং জইফ (ضعيف)।

--------------------------------------------

প্রথম প্রকার: সহিহ (صحيح) সম্পর্কে জ্ঞান

তাঁর উক্তি: "জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাকে ও আমাকে ইলম দান করুন যে, হাদিস বিশারদদের নিকট হাদিস সহিহ (صحيح), হাসান (حسن) এবং জইফ (ضعيف)-এ বিভক্ত।"—উক্তিটি সমাপ্ত।

এর ওপর দুটি বিষয়ে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে। প্রথমটি হলো, তিরমিজিতে মারফু (مرفوعا) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে: "তোমাদের কেউ যখন দোয়া করবে, সে যেন নিজের মাধ্যমেই শুরু করে।" তাই "আল্লাহ আমাদের ও আপনাকে ইলম দান করুন" বলাটাই অধিকতর সমীচীন ছিল।—আপত্তিকারীর আপত্তির অংশ এখানেই শেষ হলো।

অথচ তিরমিজির সূত্রে তিনি যে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন তা মূলত এমন নয়। সেটি হলো উবাই ইবনে কাব (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন কাউকে স্মরণ করতেন এবং তার জন্য দোয়া করতেন, তখন নিজের মাধ্যমে শুরু করতেন। অতঃপর তিনি (ইমাম তিরমিজি) বলেন: এটি একটি হাসান (حسن) গরিব (غريب) সহিহ (صحيহ) হাদিস। আবু দাউদও এটি বর্ণনা করেছেন এবং তার শব্দ হলো: রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন দোয়া করতেন তখন নিজের মাধ্যমে শুরু করতেন এবং বলতেন, "আমাদের ওপর ও মুসার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক"—হাদিসটি শেষ পর্যন্ত।

নাসায়ি তাঁর সুনান আল-কুবরা গ্রন্থেও এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি মুসলিম-এও বিদ্যমান রয়েছে যা সামনে আসবে। সুতরাং এতে এমন কোনো বর্ণনা নেই যা তিনি উল্লেখ করেছেন যে, প্রত্যেক দোয়াকারী যেন নিজের মাধ্যমে শুরু করে। বরং এটি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ব্যক্তিগত আমল থেকে প্রমাণিত, তাঁর সাধারণ নির্দেশ নয়। আর বিষয়টি যদি এমনই হয়, তবে তা নবীগণের মধ্য থেকে কোনো নবীকে স্মরণ করার বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট; যেমনটি সহিহ মুসলিম-এ উবাই (রা.)-এর দীর্ঘ হাদিসে মুসা ও খিজির (আ.)-এর ঘটনায় বর্ণিত হয়েছে। তাতে রয়েছে যে, তিনি (সা.) যখনই কোনো নবীকে স্মরণ করতেন, তখন নিজের মাধ্যমেই শুরু করতেন এবং বলতেন "আমাদের ওপর ও আমার ভাইয়ের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক" এবং অনুরূপভাবে "আমাদের ওপর রহমত বর্ষিত হোক"—হাদিসটি শেষ পর্যন্ত।

তবে নবীগণ ব্যতীত অন্যদের জন্য দোয়ার ক্ষেত্রে তিনি নিজের মাধ্যমে শুরু করতেন বলে বর্ণিত হয়নি। যেমন তাঁর (সা.) সেই সহিহ (صحيح) হাদিসটি যা বুখারি জমজমের ঘটনায় বর্ণনা করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, নবী (সা.) বলেছেন: "আল্লাহ ইসমাইলের জননীর ওপর রহম করুন, যদি তিনি জমজমকে নিজের অবস্থায় ছেড়ে দিতেন অথবা তিনি যদি পানি অঞ্জলি ভরে না তুলতেন, তবে জমজম একটি প্রবহমান ঝরনায় পরিণত হতো।"
(খণ্ড: ১) আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
................................................................................

--------------------------------------------

وفي الصحيحين من حديث عائشة رضى الله عنها (سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلا يقرأ في سورة بالليل فقال يرحمه الله) الحديث

وفي رواية للبخارى إن الرجل هو عباد بن بشر وللبخارى من حديث سلمة ابن إلاكوع: "من السائق؟ " قالوا عامر قال: "يرحمة الله" الحديث

فظهر بذلك أن بدأه بنفسه في الدعاء وكان فيما إذا ذكر نبيا من إلانبياء كما تقدم على أنه قد دعا لبعض إلانبياء ولم يذكر نفسه معه وذلك في الحديث المتفق على صحته من حديث أبى هريرة رضى الله عنه قال (قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يرحم الله لوطا لقد كان يأوى إلى ركن شديد" الحديث

وفي الصحيحين أيضا من حديث ابن مسعود رضى الله عنه مرفوعا "يرحم الله موسى لقد أوذى بأكثر من هذا فصبر"

إلامر الثانى أن ما نقله عن أهل الحديث من كون الحديث ينقسم إلى هذه إلاقسام الثلاثة ليس بجيد فإن بعضهم يقسمه إلى قسمين فقط صحيح وضعيف وقد ذكر المصنف هذا الخلاف في النوع الثانى في التاسع من التفريعات المذكورة فيه فقال من أهل الحديث من لا يفرد نوع الحسن ويجعله مندرجا في أنواع الصحيح لاندراجه في أنواع ما يحتج به قال وهو الظاهر من كلام أبى عبد الله الحاكم في تصرفاته إلى آخر كلامه فكان ينبغى إلاحتراز عن هذا الخلاف هنا

والجواب أن ما نقله المصنف عن أهله الحديث قد نقله عنهم الخطابى في خطبة معالم السنن فقال اعلموا أن الحديث عند أهله على ثلاثة أقسام حديث صحيح وحديث حسن وحديث سقيم ولم أر من سبق الخطابى إلى تقسيمه ذلك وإن كان في كلام المتقدمين ذكر الحسن وهو موجود في كلام الشافعي رضى الله عنه والبخاري وجماعة ولكن الخطابى نقل التقسيم عن أهل الحديث وهو إمام ثقة فتبعه المصنف على ذلك هنا ثم حكى الخلاف في الموضع الذي ذكره فلم يهمل حكاية الخلاف والله أعلم

--------------------------------------------

এবং সহিহাইন-এ আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ব্যক্তিকে রাতে একটি সূরা পাঠ করতে শুনলেন এবং বললেন, আল্লাহ তার ওপর রহম করুন) - হাদিস।

বুখারির এক বর্ণনায় এসেছে যে, সেই ব্যক্তি ছিলেন আব্বাদ ইবনে বিশর। আবার বুখারিতেই সালামাহ ইবনুল আকওয়া (রা.)-এর হাদিসে এসেছে: "চালক কে?" তারা বললেন, আমের। তিনি বললেন: "আল্লাহ তার ওপর রহম করুন" - হাদিস।

এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, দোয়ার ক্ষেত্রে তাঁর নিজের মাধ্যমে শুরু করা তখন হতো যখন তিনি কোনো নবীর উল্লেখ করতেন যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। যদিও তিনি কোনো কোনো নবীর জন্য দোয়া করেছেন অথচ নিজের কথা উল্লেখ করেননি। আর তা বিশুদ্ধতার ব্যাপারে সর্বসম্মত (متفق على صحته) সেই হাদিসে রয়েছে যা আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ লুত (আ.)-এর ওপর রহম করুন, তিনি এক সুদৃঢ় আশ্রয়ে আশ্রয় নিতেন") - হাদিস।

এবং সহিহাইন-এ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, "আল্লাহ মুসার ওপর রহম করুন, তাঁকে এর চেয়েও বেশি কষ্ট দেওয়া হয়েছিল কিন্তু তিনি ধৈর্য ধারণ করেছিলেন।"

দ্বিতীয় বিষয় হলো, তিনি হাদিস বিশারদদের পক্ষ থেকে হাদিস এই তিন ভাগে বিভক্ত হওয়ার যে কথা বর্ণনা করেছেন তা যথাযথ নয়। কারণ তাঁদের কেউ কেউ হাদিসকে মাত্র দুই ভাগে বিভক্ত করেন: সহিহ (صحيح) এবং দুর্বল (ضعيف)। গ্রন্থকার দ্বিতীয় প্রকারের নবম উপ-বিভাগে এই মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করে বলেছেন: হাদিস বিশারদদের মধ্যে এমনও আছেন যারা হাসান (حسن) প্রকারকে আলাদা করেন না, বরং তাকে সহিহ (صحيح) প্রকারের অন্তর্ভুক্ত করেন; যেহেতু এটি দলিল হিসেবে গ্রহণীয় প্রকারসমূহের অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন, আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিমের কর্মপদ্ধতি ও আলোচনার ধরণ থেকে এটিই প্রতীয়মান হয়... শেষ পর্যন্ত। সুতরাং এখানে এই মতপার্থক্য থেকে সতর্ক থাকা উচিত ছিল।

উত্তর হলো, গ্রন্থকার হাদিস বিশারদদের পক্ষ থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা খাত্তাবি তাঁর 'মাআলিমুস সুনান'-এর ভূমিকায় বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: "জেনে রাখুন, সংশ্লিষ্ট জ্ঞানীদের নিকট হাদিস তিন প্রকার: সহিহ (صحيح) হাদিস, হাসান (حسن) হাদিস এবং দুর্বল (سقيم) হাদিস।" খাত্তাবির আগে কেউ এই পদ্ধতিতে বিভক্ত করেছেন বলে আমার জানা নেই, যদিও পূর্ববর্তী ইমামদের বক্তব্যে হাসান (حسن) শব্দের উল্লেখ পাওয়া যায়; এটি ইমাম শাফেয়ি (রা.), বুখারি এবং একদল আলিমের বক্তব্যে বিদ্যমান। তবে খাত্তাবি এই বিভাগটি হাদিস বিশারদদের থেকেই বর্ণনা করেছেন আর তিনি একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ইমাম। তাই গ্রন্থকার এখানে তাঁরই অনুসরণ করেছেন। অতঃপর তিনি যে স্থানে মতভেদ উল্লেখ করার কথা সেখানে তা বর্ণনা করেছেন, সুতরাং তিনি মতভেদ বর্ণনায় অবহেলা করেননি। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
أما الحديث الصحيح: فهو الحديث المسند الذي يتصل إسناده بنقل العدل الضابط عن العدل الضابط إلى منتهاه ولا يكون شاذا ولا معللا.

وفي هذه إلاوصاف احتراز عن المرسل والمنقطع والمعضل والشاذ وما فيه علة قادحة وما في راويه نوع جرح. وهذه أنواع يأتي ذكرها إن شاء الله تبارك وتعالى.

فهذا هو الحديث الذي يحكم له بالصحة بلا خلاف بين أهل الحديث.

--------------------------------------------

"قوله" أما الحديث الصحيح فهو المسند الذي يتصل إسناده إلى آخر كلامه اعترض عليه بأن من يقبل المرسل لا يشترط أن يكون مسندا وأيضا اشتراط سلامته من الشذوذ والعلة إنما زادها أهل الحديث كما قاله ابن دقيق العيد في إلاقتراح قال وفي هذين الشرطين نظر على مقتضى نظر الفقهاء فإن كثيرا من العلل التي يعلل بها المحدثون لا تجرى على أصول الفقهاء قال ومن شرط الحد أن يكون جامعا مانعا.

والجواب أن من يصنف في علم الحديث إنما يذكر الحد عند أهله لا من عند غيرهم من أهل علم آخر.

وفي مقدمة مسلم أن المرسل في أصل قولنا وقول أهل العلم بإلاخبار وليس بحجة وكون الفقهاء وإلاصوليين لا يشترطون في الصحيح هذين الشرطين لا يفسد الحد عند من يشترطهما على أن المصنف قد احترز عن خلافهم وقال بعد أن فرغ من الحد وما يحترز به عنه فهذا هو الحديث الذي يحكم له بالصحة بلا خلاف بين أهل الحديث.

وقد يختلفون في صحة بعض إلاحاديث لاختلافهم في وجود هذه إلاوصاف فيه أو لاختلافهم في اشتراط بعض هذه إلاوصاف كما في المرسل انتهى كلامه فقد احترز المصنف عما اعترض به عليه فلم يبق للاعتراض وجه والله اعلم.

"وقوله" بلا خلاف بين أهل الحديث إنما قد نفي الخلاف بأهل الحديث لأن غير أهل الحديث قد يشترطون في الصحيح شروطا زائدة على هذه كاشتراط العدد في الرواية كما في الشهادة فقد حكاه الحازمى في شروط إلائمة عن بعض متأخرى.
সহিহ (صحيح) হাদিস প্রসঙ্গে: এটি হলো সেই মুসনাদ (المسند) হাদিস যার সনদ (إسناد) শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ন্যায়পরায়ণ (عدل) ও স্মৃতিশক্তির প্রখরতা সম্পন্ন (ضابط) বর্ণনাকারীর বর্ণনার মাধ্যমে পরস্পরের সাথে সংযুক্ত (متصل), এবং তা শায (شاذ) বা মুয়াল্লাল (معلل) নয়।

এই গুণাবলি উল্লেখের মাধ্যমে মুরসাল (مرسل), মুনকাতি (منقطع), মু'দাল (معضل), শায (شاذ), ক্ষতিকর ত্রুটি (علة قادحة) সম্বলিত বর্ণনা এবং যার বর্ণনাকারীর মধ্যে কোনো প্রকার জারহ (جرح) বা সমালোচনা রয়েছে, তা বর্জন করা হয়েছে। এই প্রকারভেদগুলোর আলোচনা মহান আল্লাহ চাইলে সামনে আসবে।

এটিই সেই হাদিস যা হাদিস বিশারদদের (أهل الحديث) নিকট কোনো প্রকার মতবিরোধ ছাড়াই সহিহ (صحيح) হিসেবে গণ্য হয়।

--------------------------------------------

তার উক্তি: "সহিহ (صحيح) হাদিস হলো মুসনাদ (المسند) যা সংযুক্ত..."—তার এই বক্তব্যের ওপর এই বলে আপত্তি তোলা হয়েছে যে, যারা মুরসাল (مرسل) হাদিস গ্রহণ করেন তারা এটি মুসনাদ (مسندا) হওয়া শর্ত করেন না। এছাড়া, শায (شذوذ) ও ত্রুটি (علة) থেকে মুক্ত হওয়ার শর্তটি কেবল হাদিস বিশারদগণই (أهل الحديث) অতিরিক্ত যোগ করেছেন, যেমনটি ইবনে দাকিকুল ঈদ আল-ইকতিরাহ গ্রন্থে বলেছেন। তিনি বলেছেন, ফকিহদের দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী এই দুটি শর্তের ক্ষেত্রে আপত্তির অবকাশ রয়েছে, কারণ মুহাদ্দিসগণ এমন অনেক বিষয়কে ত্রুটি (علة) হিসেবে গণ্য করেন যা ফকিহদের মূলনীতি (أصول) অনুযায়ী কার্যকর হয় না। তিনি আরও বলেছেন যে, কোনো বিষয়ের সংজ্ঞা (حد) হওয়ার শর্ত হলো তা পূর্ণাঙ্গ ও বর্জনকারী (جامعا مانعا) হওয়া।

এর উত্তর হলো, যারা হাদিস শাস্ত্রে কিতাব রচনা করেন, তারা সেই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের নিকট স্বীকৃত সংজ্ঞা (حد) উল্লেখ করেন, অন্য কোনো শাস্ত্রের পণ্ডিতদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়।

সহিহ মুসলিম-এর মুকাদ্দামায় বর্ণিত হয়েছে যে, আমাদের এবং ঐতিহাসিকদের মতে মুরসাল (مرسل) হাদিস মূলগতভাবে দলিল (حجة) নয়। আর ফকিহ ও উসুলবিদগণ সহিহ (صحيح) হাদিসের ক্ষেত্রে এই দুটি শর্তারোপ না করার কারণে তাদের কাছে সংজ্ঞাটি (حد) ভুল প্রমাণিত হয় না যারা এগুলোকে শর্ত হিসেবে গণ্য করেন। তদুপরি, লেখক তাদের মতবিরোধ সম্পর্কেও সতর্কতা অবলম্বন করেছেন এবং সংজ্ঞা (حد) ও তদ্দ্বারা বর্জনীয় বিষয়সমূহ উল্লেখ করার পর বলেছেন—এটিই সেই হাদিস যা হাদিস বিশারদদের (أهل الحديث) মধ্যে কোনো মতবিরোধ ছাড়াই সহিহ (صحة) হিসেবে গণ্য।

কখনও কখনও তারা নির্দিষ্ট কিছু হাদিসের সহিহ (صحة) হওয়ার বিষয়ে মতবিরোধ করেন। এর কারণ হতে পারে সেই হাদিসের মধ্যে এই গুণাবলি বিদ্যমান থাকা না থাকার বিষয়ে তাদের ভিন্নমত, অথবা কিছু গুণাবলি শর্ত হিসেবে গণ্য করা নিয়ে তাদের মতপার্থক্য, যেমনটি মুরসাল (مرسل) হাদিসের ক্ষেত্রে দেখা যায়—তার আলোচনা এখানেই শেষ। সুতরাং লেখক তার ওপর উত্থাপিত আপত্তির বিষয়ে আগে থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করেছেন, ফলে সেই আপত্তির আর কোনো ভিত্তি অবশিষ্ট নেই। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

তার উক্তি: "হাদিস বিশারদদের (أهل الحديث) মধ্যে কোনো মতবিরোধ নেই"—এখানে তিনি নির্দিষ্টভাবে হাদিস বিশারদদের (أهل الحديث) কথা উল্লেখ করেছেন কারণ হাদিস বিশারদ নয় এমন ব্যক্তিরা সহিহ (صحيح) হাদিসের জন্য আরও অতিরিক্ত শর্তারোপ করতে পারেন, যেমন বর্ণনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সংখ্যার শর্ত আরোপ করা যেমনটি সাক্ষ্য প্রদানের (شهادة) ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। আল-হাজেমি শুরুতুল আইম্মা গ্রন্থে পরবর্তী যুগের কোনো কোনো আলিমের পক্ষ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
وقد يختلفون في صحة بعض إلاحاديث لاختلافهم في وجود هذه إلاوصاف فيه أو: لاختلافهم في اشتراط بعض هذه إلاوصاف كما في المرسل.

ومتى قالوا: هذا حديث صحيح فمعناه: أنه اتصل سنده مع سائر إلاوصاف المذكورة. وليس من شرطه أن يكون مقطوعا به في نفس إلامر إذ منه ما ينفرد بروايته عدل واحد وليس من إلاخبار التي أجمعت إلامة على تلقيها بالقبول.

وكذلك إذا قالوا في حديث: إنه غير صحيح فليس ذلك قطعا بأنه كذب في نفس إلامر إذ قد يكون صدقا في نفس إلامر وإنما المراد به: أنه لم يصح إسناده على الشرط المذكور والله أعلم.

--------------------------------------------

المعتزلة على أنه قد حكى أيضا عن بعض أصحاب الحديث قال البيهقي في رسالته إلى أبى محمد الجوينى رحمهما الله رأيت في الفصول التي أملاها الشيخ خرسه الله تعالى حكاية عن بعض أصحاب الحديث أنه يشترط في قبول إلاخبار أن يروى عدلان عن عدلين حتى يتصل مثنى مثنى برسول الله صلى الله عليه وسلم ولم يذكره قائله إلى آخر كلامه وكأن البيهقي رآه في كلام أبى محمد الجوينى فنبهه على أنه لا يعرف عن أهل الحديث والله أعلم.

"وقوله" وقد يختلفون في صحة بعض إلاحاديث لاختلافهم في وجود هذه إلاوصاف فيه انتهى يريد بقوله هذه إلاوصاف أى أوصاف القبول التي ذكرها في حد الصحيح وإنما نبهت على ذلك وإن كان واضحا لأنى رأيت بعضهم قد اعترض عليه فقال إنه يعنى إلاوصاف المتقدمة من إرسال وانقطاع وعضل وشذوذ وشبهها قال وفيه نظر من حيث إن أحدا لم يذكر أن المعضل والشاذ والمنقطع صحيح وهذا إلاعتراض ليس بصحيح فإنه إنما أراد أوصاف القبول كما قدمته وعلى تقدير أن يكون أراد ما زعم فمن يحتج بالمرسل لا يتقيد بكونه أرسله التابعى بل لو أرسله أتباع التابعين احتج به وهو عنده صحيح وإن كان معضلا وكذلك من يحتج بالمرسل يحتج بالمنقطع بل المنقطع والمرسل عند المتقدمين واحد وقال أبو يعلى الخليلى في إلارشاد إن الشاذ ينقسم إلى صحيح ومردود فقول هذا المعترض إن أحدا لا يقول في الشاذ إنه صحيح مردود بقول الخليلى المذكور والله أعلم.
তারা কোনো কোনো হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) বিষয়ে মতভেদ করতে পারেন, কারণ সেই হাদিসে এই বৈশিষ্ট্যগুলোর উপস্থিতি নিয়ে তাদের মাঝে মতপার্থক্য রয়েছে অথবা এই বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্য হতে কোনো কোনোটি শর্ত হিসেবে গণ্য করার বিষয়ে তাদের মাঝে ভিন্নমত রয়েছে, যেমনটি মুরসাল (المرسل) হাদিসের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

যখন তারা বলেন: "এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস", তখন তার অর্থ হলো: উল্লিখিত অন্যান্য বৈশিষ্ট্যগুলোর সাথে এর সনদ বা সূত্রটি (سند) নিরবচ্ছিন্ন (اتصل)। এর শর্ত এটি নয় যে, বিষয়টি বাস্তবত অকাট্য (مقطوعا به) হতে হবে; কারণ হাদিসের মধ্যে এমন বর্ণনাও রয়েছে যা একজন মাত্র ন্যায়পরায়ণ (عدل) বর্ণনাকারী এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং এটি এমন সব সংবাদের অন্তর্ভুক্ত নয় যা উম্মত সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করে নিয়েছে।

অনুরূপভাবে, যখন তারা কোনো হাদিস সম্পর্কে বলেন যে এটি সহিহ নয় (غير صحيح), তখন তার অর্থ এই নয় যে এটি বাস্তবত নিশ্চিতভাবে মিথ্যা (كذب); কারণ বাস্তবে এটি সত্য (صدقا) হতে পারে। এর দ্বারা কেবল উদ্দেশ্য হলো: উল্লিখিত শর্ত অনুযায়ী এর সনদটি সহিহ (يصح) সাব্যস্ত হয়নি। আর আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।

--------------------------------------------

মুতাজিলাদের মত এই যে, এটি কোনো কোনো হাদিসবেত্তাদের থেকেও বর্ণিত হয়েছে। ইমাম বায়হাকি আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনি (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন)-এর নিকট প্রেরিত তাঁর পত্রে বলেছেন: "আমি শায়খ —আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন— যে পরিচ্ছেদগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন, সেখানে হাদিস শাস্ত্রের কোনো কোনো পণ্ডিত থেকে বর্ণিত হতে দেখেছি যে, সংবাদ গ্রহণের ক্ষেত্রে শর্ত হলো দুইজন ন্যায়পরায়ণ (عدلان) রাবি অপর দুইজন ন্যায়পরায়ণ (عدلين) রাবি থেকে বর্ণনা করবেন, এভাবে জোড়ায় জোড়ায় রসূলুল্লাহ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন) পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন (يتصل) হতে হবে।" এর প্রবক্তা কে তা তিনি উল্লেখ করেননি... (বাকি অংশ)। মনে হয় ইমাম বায়হাকি এটি আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনির বক্তব্যে দেখেছিলেন, তাই তিনি তাকে সতর্ক করেছেন যে এটি হাদিস বিশারদদের নিকট পরিচিত নয়। আর আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।

তাঁর উক্তি: "তারা কোনো কোনো হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) বিষয়ে মতভেদ করতে পারেন, কারণ সেই হাদিসে এই বৈশিষ্ট্যগুলোর উপস্থিতি নিয়ে তাদের মাঝে মতপার্থক্য রয়েছে..."— এখানে 'এই বৈশিষ্ট্যগুলো' বলতে তিনি গ্রহণের বৈশিষ্ট্যসমূহ (أوصاف القبول) বুঝিয়েছেন যা তিনি সহিহ এর সংজ্ঞায় উল্লেখ করেছেন। বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও আমি এ ব্যাপারে এই কারণে সতর্ক করেছি যে, আমি দেখেছি কেউ কেউ এর ওপর আপত্তি করে বলেছেন: তিনি পূর্বোক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহ যেমন: ইরসাল (إرسال), ইনকিতা (انقطاع), ই’দাল (عضل), শুজুজ (شذوذ) এবং এ জাতীয় বৈশিষ্ট্যগুলো বুঝিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন যে, এতে আপত্তির অবকাশ আছে কারণ কেউ এই কথা বলেননি যে মুদাল (المعضل), শাজ (الشاذ) এবং মুনকাতি (المنقطع) হাদিস সহিহ (صحيح)। কিন্তু এই আপত্তি সঠিক নয়; কারণ তিনি এখানে গ্রহণের বৈশিষ্ট্যসমূহ বুঝিয়েছেন যেমনটি আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি। যদি ধরেও নেওয়া হয় যে তিনি আপত্তিকারীর ধারণা অনুযায়ী অর্থ বুঝিয়েছেন, তবে যারা মুরসাল (المرسل) হাদিসকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেন, তারা কেবল তাবেয়ির ইরসাল করার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকেন না। বরং যদি তাবে-তাবেয়িগণও ইরসাল করেন তবে তারা তা দলিল হিসেবে গ্রহণ করেন এবং সেটি তাদের নিকট সহিহ (صحيح), যদিও তা মুদাল (معضلا) হোক না কেন। অনুরূপভাবে, যারা মুরসাল (المرسل) হাদিস দিয়ে দলিল পেশ করেন তারা মুনকাতি (المنقطع) হাদিস দিয়েও দলিল পেশ করেন; বরং প্রাচীন মুহাদ্দিসগণের নিকট মুনকাতি (المنقطع) ও মুরসাল (المرسل) অভিন্ন। আর আবু ইয়ালা আল-খালিলা আল-ইরশাদ গ্রন্থে বলেছেন যে, শাজ (الشاذ) হাদিস সহিহ (صحيح) ও প্রত্যাখ্যাত (مردود) এই দুই ভাগে বিভক্ত। সুতরাং এই আপত্তিকারীর কথা—যে শাজ (الشاذ) হাদিসকে কেউ সহিহ (صحيح) বলেন না—তা খলিলির উক্ত বক্তব্যের মাধ্যমে খণ্ডিত হয়। আর আল্লাহ-ই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
فوائد مهمة

إحداها:الصحيح يتنوع إلى متفق عليه ومختلف فيه كما سبق ذكره. ويتنوع إلى مشهور وغريب وبين ذلك.

ثم إن درجات الصحيح تتفاوت في القوة بحسب تمكن الحديث من الصفات المذكورة التي تبتنى الصحة عليها. وتنقسم باعتبار ذلك إلى أقسام يستعصي إحصاؤها على العاد الحاصر.

ولهذا نرى إلامساك عن الحكم لإسناد أوحديث بأنه الأصح على الإطلاق. على أن جماعة من أئمة الحديث خاضوا غمرة ذلك فاضطربت أقوالهم.

فروينا عن إسحاق بن راهويه أنه قال: أصح إلاسانيد كلها: الزهري عن سالم عن أبيه. وروينا نحوه عن أحمد بن حنبل.

وروينا عن عمرو بن علي الفلاس أنه قال: أصح إلاسانيد: محمد بن سيرين عن عبيدة عن علي.

وروينا نحوه عن علي بن المديني. روي ذلك عن غيرهما ثم منهم من عين الراوي عن محمد وجعله أيوب السختياني. ومنهم من جعله ابن عون.

--------------------------------------------

"قوله" على أن جماعة من أهل الحديث خاضوا غمرة ذلك فاضطربت أقوالهم فذكر الخلاف في أصح إلاسانيد إلى آخر كلامه اعترض عليه بأن الحاكم وغيره ذكروا أن هذا بالنسبة إلى إلامصار أو إلى إلاشخاص وإذا كان كذلك فلا يبقى خلاف بين هذه إلاقوال انتهى كلام المعترض وليس بجيد لأن الحاكم لم يقل إن الخلاف مقيد بذلك بل قال لا ينبغى أن يطلق ذلك وينبغى أن يقيد بذلك فهذا لا ينفي الخلاف المتقدم وأيضا ولو قيدناه بإلاشخاص فالخلاف موجود فيقال أصح أسانيد على كذا وقيل كذا وقيل كذا وأصح أسانيد ابن عمر كذا وقيل كذا فالخلاف موجود والله أعلم.
গুরুত্বপূর্ণ ফায়দা

এর একটি হলো: সহিহ (الصحيح) হাদিস সর্বসম্মত (متفق عليه) এবং মতপার্থক্যপূর্ণ (مختلف فيه)—এই দুই ভাগে বিভক্ত, যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আবার এটি মশহুর (مشهور), গরিব (غريب) এবং এর মধ্যবর্তী পর্যায়েও বিভক্ত হয়ে থাকে।

অতঃপর সহিহ (الصحيح) হাদিসের স্তরগুলো সেই গুণাবলির (صفات) উপস্থিতির শক্তিমত্তার ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন হয়, যার ওপর ভিত্তি করে একটি হাদিসের বিশুদ্ধতা নির্ভর করে। এই মানদণ্ডের নিরিখে এটি এমন অনেক বিভাগে বিভক্ত হয় যা কোনো গণনাকারীর পক্ষে নির্দিষ্ট করে সংখ্যায়ন করা দুরূহ।

এই কারণে আমরা কোনো একটি সনদ (إسناد) বা হাদিসকে নিঃশর্তভাবে 'সর্বাধিক বিশুদ্ধ' (الأصح) হিসেবে হুকুম দেওয়া থেকে বিরত থাকা সমীচীন মনে করি। যদিও হাদিস বিশারদদের একটি দল এই জটিল বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন, ফলে তাদের বক্তব্যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে।

আমরা ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ থেকে বর্ণনা করেছি যে তিনি বলেছেন: "সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদ (أصح الأسانيد) হলো: জুহরি, সালিম থেকে, তিনি তার পিতা থেকে।" আমরা ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল থেকেও অনুরূপ বর্ণনা করেছি।

আমরা আমর ইবনে আলী আল-ফাল্লাস থেকে বর্ণনা করেছি যে তিনি বলেছেন: "সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদ (أصح الأسانيد) হলো: মুহাম্মদ ইবনে সিরিন, উবাইদাহ থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে।"

আমরা আলী ইবনুল মাদিনি থেকেও অনুরূপ বর্ণনা পেয়েছি। এই অভিমতটি তাদের দুই জন ছাড়াও অন্যদের থেকে বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর তাদের মধ্যে কেউ কেউ মুহাম্মদ (ইবনে সিরিন) থেকে বর্ণনাকারীকে (الراوي) নির্দিষ্ট করেছেন এবং তাকে আইয়ুব আল-সাখতিয়ানি হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আবার কেউ তাকে ইবনে আউন হিসেবে গণ্য করেছেন।

--------------------------------------------

"তার উক্তি" (যেখানে তিনি 'সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদ' (أصح الأسانيد) সংক্রান্ত মতপার্থক্য উল্লেখ করেছেন তার বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত); এর ওপর আপত্তি তোলা হয়েছে যে, আল-হাকিম এবং অন্যরা উল্লেখ করেছেন যে এটি বিভিন্ন অঞ্চল বা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের নিরিখে বলা হয়েছে। যদি বিষয়টি এমন হয়, তবে এই মতগুলোর মধ্যে আর কোনো বিরোধ থাকে না—এটিই আপত্তিকারীর বক্তব্যের সারকথা। তবে এই আপত্তি সঠিক নয়; কারণ আল-হাকিম এমনটা বলেননি যে মতপার্থক্যটি এভাবেই সীমাবদ্ধ, বরং তিনি বলেছেন যে এটি নিঃশর্তভাবে বলা উচিত নয় বরং সীমাবদ্ধ করে বলা উচিত। সুতরাং এটি পূর্বোল্লিখিত মতপার্থক্যকে নাকচ করে না। অধিকন্তু, আমরা যদি একে ব্যক্তিদের সাথেও সীমাবদ্ধ করি, তবুও মতভেদ বিদ্যমান থাকে। যেমন বলা হয়: অমুকের সূত্রে সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদ (أصح الأسانيد) হলো অমুক, আবার বলা হয় অন্যটি। ইবনে উমরের সূত্রে সবচেয়ে বিশুদ্ধ সনদ (أصح الأسانيد) হলো এটি, আবার বলা হয় সেটি। সুতরাং মতভেদ বিদ্যমান। আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وفيما نرويه عن يحيى بن معين أنه قال: أجودها: إلاعمش عن إبراهيم عن علقمة عن عبد الله.

وروينا عن أبي بكر بن أبي شيبة قال: أصح إلاسانيد كلها: الزهري عن علي بن الحسين عن أبيه عن علي.

وروينا عن أبي عبد الله البخاري صاحب الصحيح أنه قال: أصح إلاسانيد كلها: مالك عن نافع عن ابن عمر. وبنى إلامام أبو منصور عبد القاهر بن طاهر التميمي على ذلك: أن أجل إلاسانيد الشافعي عن مالك عن نافع عن ابن عمر.

واحتج بإجماع أصحاب الحديث على أنه: لم يكن في الرواة عن مالك أجل من الشافعي رضي الله عنهم أجمعين والله أعلم.

الثانية: إذا وجدنا فيما نروي من أجزاء الحديث وغيرها حديثا صحيح الإسناد ولم نجده في أحد الصحيحين ولا منصوصا على صحته في شيء من مصنفات أئمة الحديث المعتمدة المشهورة فإنا لا نتجاسر على جزم الحكم بصحته فقد تعذر في

--------------------------------------------

"قوله" إذا وجدنا فيما يروى من أجزاء الحديث وغيرهما حديثا صحيح الإسناد ولم نجده في أحد الصحيحين ولا منصوصا على صحته في شئ من مصنفات أهل الحديث المعتمدة المشهورة فإنا لا نتجاسر على حزم الحكم بصحته فقد تعذر في هذه إلاعصار إلاستقلال بادراك الصحيح بمجرد اعتبار إلاسانيد إلى آخر كلامه وقد خالفه في ذلك الشيخ محيى الدين النووى فقال وإلاظهر عندى جوازه لمن تمكن وقويت معرفته. انتهى كلامه.

وما رجحه النووى هو الذي عليه عمل أهل الحديث فقد صحح جماعة من المتأخرين أحاديث لم نجد لمن نقدمهم فيها تصحيحا فمن المعاصرين لابن الصلاح أبو الحسن على بن محمد بن عبد الملك بن القطان صاحب كتاب بيان الوهم وإلايهام وقد صحح في كتابه المذكور عدة أحاديث منها حديث ابن عمر أنه كان يتوضأ ونعلاه
ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে আমরা যা বর্ণনা করি তাতে তিনি বলেছেন: সবচেয়ে উৎকৃষ্ট (أجودها) সনদ হলো: আ'মাশ, ইব্রাহিম থেকে, তিনি আলকামা থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে।

আমরা আবু বকর ইবনে আবি শায়বা থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন: সকল সনদের মধ্যে সবচেয়ে সহিহ (أصح الأسانيد): যুহরি, আলি ইবনে আল-হুসাইন থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আলি থেকে।

আমরা সহিহ-এর রচয়িতা আবু আব্দুল্লাহ আল-বুখারি থেকে বর্ণনা করেছি যে, তিনি বলেছেন: সকল সনদের মধ্যে সবচেয়ে সহিহ (أصح الأسانيد): মালিক, নাফে' থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে। ইমাম আবু মনসুর আব্দুল কাদির ইবনে তাহির আল-তামিমি এর ওপর ভিত্তি করে বলেছেন: সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সনদ (أجل الأسانيد) হলো শাফেয়ী, মালিক থেকে, তিনি নাফে' থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে।

তিনি হাদিস বিশারদদের ঐকমত্যের (إجماع) মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন যে: মালিক থেকে বর্ণনাকারীদের (الرواة) মধ্যে শাফেয়ীর চেয়ে অধিক মর্যাদাপূর্ণ আর কেউ ছিলেন না; আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং আল্লাহই ভালো জানেন।

দ্বিতীয়: আমরা হাদিসের বিভিন্ন অংশ বা অন্যান্য উৎস থেকে যা বর্ণনা করি তার মধ্যে যদি এমন কোনো হাদিস পাই যার সনদ সহিহ (صحيح الإسناد), কিন্তু আমরা তা কোনো 'সহিহাইন'-এ (বুখারি ও মুসলিম) খুঁজে না পাই অথবা নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ হাদিস ইমামগণের কোনো গ্রন্থে তার সহিহ (صحة) হওয়ার ব্যাপারে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য না পাই, তবে আমরা তার সহিহ (صحة) হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হুকুম (حكم) প্রদানের সাহস করি না। কারণ এটি দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে...

--------------------------------------------

তাঁর উক্তি: "যদি আমরা হাদিসের বিভিন্ন অংশ বা অন্যান্য উৎস থেকে যা বর্ণিত হয় তার মধ্যে এমন কোনো হাদিস পাই যার সনদ সহিহ (صحيح الإسناد), কিন্তু আমরা তা কোনো 'সহিহাইন'-এ খুঁজে না পাই অথবা নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ হাদিস বিশারদদের কোনো গ্রন্থে তার সহিহ (صحة) হওয়ার ব্যাপারে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য না পাই, তবে আমরা তার সহিহ (صحة) হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হুকুম (حكم) প্রদানের সাহস করি না। কেননা বর্তমান যুগে কেবল সনদসমূহের (الأسانيد) ওপর ভিত্তি করে সহিহ (الصحيح) নিরূপণে স্বাধীন মতপ্রকাশ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে..." তাঁর বক্তব্য শেষ পর্যন্ত। তবে শেখ মুহিউদ্দিন আন-নববী এ বিষয়ে তাঁর বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন: "আমার নিকট অধিক স্পষ্ট (الأظهر) মত হলো, যার সক্ষমতা রয়েছে এবং জ্ঞান গভীর হয়েছে তার জন্য এটি জায়েজ বা বৈধ।" তাঁর বক্তব্য সমাপ্ত।

নববী যা অগ্রগণ্য (رجحه) মনে করেছেন সেটিই হাদিস বিশারদদের কর্মপন্থা। কারণ পরবর্তীকালের (المتأخرين) একদল আলেম এমন কিছু হাদিসকে সহিহ (صحح) বলেছেন যেগুলোর সহিহ হওয়ার ব্যাপারে পূর্ববর্তীদের মধ্যে আমরা কাউকে পাইনি। ইবনে আস-সালাহ-এর সমসাময়িকদের মধ্যে রয়েছেন আবু আল-হাসান আলি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মালিক ইবনে আল-কাত্তান, যিনি 'বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহয়াম' গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি তাঁর উক্ত গ্রন্থে বেশ কয়েকটি হাদিসকে সহিহ (صحح) বলেছেন, যার মধ্যে ইবনে উমরের একটি হাদিস রয়েছে যে, তিনি ওজু করতেন এবং তাঁর জুতো...
(খণ্ড: ১) আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
هذه إلاعصار إلاستقلال بإدراك الصحيح بمجرد اعتبار إلاسانيد لأنه ما من إسناد من ذلك إلا ونجد في رجاله من اعتمد في روايته على ما في كتابه عريا عما يشترط في الصحيح من الحفظ والضبط وإلاتقان. فآل إلامر إذا في معرفة الصحيح والحسن إلى إلاعتماد على ما نص عليه أئمة الحديث في تصانيفهم المعتدة المشهورة التي يؤمن

--------------------------------------------

في رجليه ويمسح عليهما ويقول كذلك كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يفعل أخرجه أبو بكر البزار في مسنده وقال ابن القطان إنه حديث صحيح ومنها حديث أنس بن مالك رضى الله عنه كان أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ينتظرون الصلاة فيضعون جنوبهم فمنهم من ينام ثم يقوم إلى الصلاة رواه هكذا قاسم بن أصبغ وصححه ابن القطان فقال وهو كما ترى صحح وتوفي ابن القطان هذا هو على قضاء سجلماسة من المغرب سنة ثمان وعشرين وستمائة ذكره ابن إلابار في التكملة.

وممن صحح أيضا من المعاصرين له الحافظ ضياء الدين محمد بن عبد الواحد المقدسى جمع كتابا سماه المختارة التزم فيه الصحة وذكر فيه أحاديث لم يسبق إلى تصحيحها فيما أعلم وتوفي الضياء المقدسى في السنة التي مات فيها ابن الصلاح سنة ثلاث وأربعين وستمائة وصحح الحافظ زكى الدين عبد العظيم بن عبد القوى المنذرى حديثا في جزء له جمع فيه ما ورد فيه غفر له ما تقدم من ذنبه وما تأخر وتوفي الزكى عبد العظيم سنة ست وخمسين وستمائة.

ثم صحح الطبقة التي تلي هذه أيضا فصحح الحافظ شرف الدين عبد المؤمن بن خلف الدمياطى حديث جابر مرفوعا "ماء زمزم لما شرب له" في جزء جمعه في ذلك أورده من رواية عبد الرحمن بن أبى الموال عن محمد بن المنكدر عن جابر ومن هذه الطريق رواه البيهقي وفي شعب إلايمان وإنما المعروف رواية عبد الله بن المؤمل عن ابن المنكدر كما رواه ابن ماجه وضعفه النووى وغيره من هذا الوجه وطريق ابن عباس أصح من طريق جابر ثم صححت الطبقة التي تلي هذه وهم شيوخا فصحح الشيخ تقى الدين السبكى حديث ابن عمر في الزيارة في تصنيفه المشهور كما أخبرنى به ولم يزل ذلك دأب من بلغ أهلية ذاك منهم إلا أن منهم من لا يقبل ذاك منهم وكذا كان المتقدمون وبما صحح بعضهم شيئا فأنكر عليه تصحيحه والله أعلم.
এই যুগে কেবল সনদ (إسناد) বিবেচনার মাধ্যমে সহিহ (صحيح) হাদিস নির্ধারণে স্বনির্ভর হওয়া সম্ভব নয়। কারণ এমন কোনো সনদ (إسناد) নেই যার বর্ণনাকারীদের (رجال) মধ্যে এমন কাউকে পাওয়া যাবে না যিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে তার কিতাবের ওপর নির্ভর করেছেন, অথচ তার মধ্যে সহিহ (صحيح) হওয়ার জন্য আবশ্যকীয় মুখস্থশক্তি (حفظ), স্মৃতিসংরক্ষণ (ضبط) ও পারদর্শিতা (إتقان) ছিল না। ফলে সহিহ (صحيح) ও হাসান (حسن) হাদিস চেনার বিষয়টি হাদিসের ইমামদের (أئمة الحديث) সেই সকল প্রসিদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর করার দিকেই ধাবিত হয়, যেগুলোর ওপর আস্থা রাখা যায়...

--------------------------------------------

তার দুই পা ধৌত করতেন এবং সেগুলোর ওপর মাসেহ করতেন ও বলতেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এভাবেই করতেন। আবু বকর আল-বাজার এটি তার মুসনাদ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং ইবনুল কাত্তান বলেছেন যে, এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস। এর মধ্যে আরও রয়েছে আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিস যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ সালাতের জন্য অপেক্ষা করতেন এবং তাদের পার্শ্বদেশ এলিয়ে দিতেন, ফলে তাদের মধ্যে কেউ কেউ ঘুমিয়ে পড়তেন, অতঃপর উঠে সালাত আদায় করতেন। কাসিম ইবনে আসবাগ এটি এভাবেই বর্ণনা করেছেন এবং ইবনুল কাত্তান একে সহিহ (صححه) সাব্যস্ত করেছেন এবং বলেছেন যে এটি তেমনই যেমন আপনি দেখছেন। এই ইবনুল কাত্তান ৬২৮ হিজরিতে মরক্কোর সিজিলমাসার বিচারক থাকাকালীন ইন্তেকাল করেন। ইবনুল আব্বার 'আত-তাকমিলাহ' গ্রন্থে তার কথা উল্লেখ করেছেন।

তার সমসাময়িকদের মধ্যে হাফেজ জিয়াউদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসিও সহিহ (صحح) সাব্যস্ত করেছেন। তিনি 'আল-মুকতারা' নামক একটি কিতাব সংকলন করেছেন যেখানে তিনি কেবল সহিহ (الصحة) হাদিস সংকলনের অঙ্গীকার করেছেন এবং সেখানে এমন কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন যা আমার জানামতে ইতিপূর্বে কেউ সহিহ (تصحيح) হিসেবে বর্ণনা করেননি। জিয়া আল-মাকদিসি সেই বছরই ইন্তেকাল করেন যে বছর ইবনুস সালাহ মারা যান, অর্থাৎ ৬৪৩ হিজরি। হাফেজ জাকিউদ্দিন আব্দুল আজিম ইবনে আব্দুল কাভি আল-মুনজিরি তার একটি পুস্তিকায় একটি হাদিসকে সহিহ (صحح) বলেছেন, যেখানে তিনি "তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হবে" মর্মে বর্ণিত হাদিসসমূহ একত্রিত করেছেন। জাকি আব্দুল আজিম ৬৫৬ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

অতঃপর পরবর্তী স্তরের আলেমগণও সহিহ (صحح) সাব্যস্ত করেছেন। হাফেজ শরফউদ্দিন আব্দুল মুমিন ইবনে খালাফ আদ-দিময়াতি জাবের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণিত "যমযমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয় তা সফল হয়" হাদিসটি এ বিষয়ক একটি পুস্তিকায় সহিহ (صحح) সাব্যস্ত করেছেন। তিনি এটি আব্দুর রহমান ইবনে আবিল মাওয়াল সূত্রে মুহাম্মদ ইবনুল মুনকাদির থেকে, তিনি জাবের (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বায়হাকিও তার 'শুয়াবুল ঈমান' গ্রন্থে এই সূত্রেই এটি বর্ণনা করেছেন। তবে মূলত এই বর্ণনাটি আব্দুল্লাহ ইবনে মুয়াম্মিল সূত্রে ইবনুল মুনকাদির থেকে বর্ণিত বলেই প্রসিদ্ধ, যা ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। ইমাম নববী ও অন্যান্যরা এই সূত্রের কারণে একে দুর্বল (ضعفه) বলেছেন। তবে ইবনে আব্বাসের সূত্রটি জাবেরের সূত্রের চেয়ে অধিক সহিহ (أصح)। অতঃপর পরবর্তী স্তরের আলেমগণও সহিহ (صححت) করার কাজ করেছেন যারা আমাদের শিক্ষক ছিলেন। শেখ তাকিউদ্দিন আস-সুবকি ইবনে ওমরের যিয়ারত সংক্রান্ত হাদিসটি তার প্রসিদ্ধ কিতাবে সহিহ (صحح) বলেছেন, যেমনটি তিনি আমাকে জানিয়েছেন। যাদের মধ্যে এই যোগ্যতা রয়েছে তাদের নিকট এটি সর্বদা একটি নিয়ম হিসেবে চলে আসছে। তবে তাদের এক দল অন্য দলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন না, যেমনটি পূর্ববর্তীগণের ক্ষেত্রেও ছিল। কখনো কখনো কেউ কোনো বিষয় সহিহ (صحح) সাব্যস্ত করলে অন্যরা তার সেই সহিহ (تصحيحه) বলার ওপর আপত্তি জানাতেন। আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
فيها لشهرتها من التغيير والتحريف وصار معظم المقصود بما يتداول من إلاسانيد خارجا عن ذلك إبقاء سلسلة الإسناد التي خصت بها هذه إلامة زادها الله تعالى شرفا آمين.

الثالثة: أول من صنف الصحيح البخاري أبو عبد الله محمد بن إسماعيل الجعفي مولاهم. وتلاه أبو الحسين مسلم بن الحجاج النيسابوري القشيري من أنفسهم. ومسلم مع أنه أخذ عن البخاري واستفاد منه يشاركه في أكثر شيوخه

وكتاباهما أصح الكتب بعد كتاب الله العزيز.

وأما ما روينا عن الشافعي رضي الله عنه من أنه قال: ما أعلم في إلارض كتابا في العلم أكثر صوابا من كتاب مالك ومنهم من رواه بغير هذا اللفظ فإنما قال ذلك قبل وجود كتابي البخاري ومسلم ثم إن كتاب البخاري أصح الكتابين صحيحا وأكثرهما فوائد.

--------------------------------------------

"قوله" أول من صنف الصحيح البخاري انتهى اعترض عليه بأن مالكا صنف الصحيح قبله والجواب أن مالكا رحمه الله لم يفرد الصحيح بل أدخل فيه المرسل والمنقطع والبلاغات ومن بلاغاته أحاديث لا تعرف كما ذكره ابن عبد البر فلم يفرد الصحيح إذا والله أعلم.

"قوله" وتلاه أبو الحسين مسلم بن الحجاج انتهى كلامه اعترض عليه بقول أبى الفضل أحمد بن سلمة كنت مع مسلم بن الحجاج في تأليف هذا الكتاب سنة خمس ومائتين هكذا رأيته بخط الذي اعترض على ابن الصلاح سنة خمس ومائتين فقط وأراد بذلك أن تصنيف مسلم لكتابه قديم فلا يكون تاليا لكتاب البخاري وقد تصحف التاريخ عليه وإنما هو سنة خمسين ومائتين بزيادة الياء والنون وذلك باطل قطعا لأن مولد مسلم رحمه الله سنة أربع ومائتين بل البخاري لم يكن في التاريخ المذكور وصنف فضلا عن مسلم فإن بينهما في العمر عشر سنين ولد البخاري سنة أربع وتسعين ومائة.
এর প্রসিদ্ধির কারণে এতে পরিবর্তন বা বিকৃতি (تحريف) ঘটার হাত থেকে রক্ষা করা হয়েছে। বর্তমানে যেসব সনদ (إسناد) প্রচলিত রয়েছে, সেগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো সনদের এই পরম্পরাকে টিকিয়ে রাখা, যা এই উম্মতের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ তাআলা এই উম্মতের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করুন। আমিন।

তৃতীয় মাসআলা: সর্বপ্রথম যিনি সহিহ (صحيح) হাদিস সংকলন করেছেন, তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-জু'ফি আল-বুখারি। তাঁর পরবর্তী হলেন আবু আল-হুসাইন মুসলিম ইবনে আল-হাজ্জাজ আল-নিশাপুরি আল-কুশাইরি। ইমাম মুসলিম যদিও ইমাম বুখারির নিকট থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছেন, তবে তিনি তাঁর অধিকাংশ শিক্ষকের (شيوخ) ক্ষেত্রে ইমাম বুখারির সাথে অংশীদার।

মহান আল্লাহর কিতাব (কুরআন)-এর পর এই গ্রন্থদ্বয়ই হচ্ছে সর্বাধিক বিশুদ্ধ (أصح) কিতাব।

আর ইমাম শাফিয়ি (রা.) থেকে আমাদের বর্ণিত (روينا) এই উক্তি—"আমি পৃথিবীতে ইমাম মালিকের কিতাবের চেয়ে ইলম বা জ্ঞানের ক্ষেত্রে অধিক নির্ভুল আর কোনো কিতাব জানি না"—যা কেউ কেউ ভিন্ন শব্দেও বর্ণনা করেছেন, মূলত তিনি তা সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম অস্তিত্ব লাভের পূর্বে বলেছিলেন। তদুপরি, এই গ্রন্থদ্বয়ের মধ্যে সহিহ বুখারি অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح) এবং এর উপকারিতাও অনেক বেশি।

--------------------------------------------

তাঁর উক্তি: "সর্বপ্রথম যিনি সহিহ (صحيح) সংকলন করেছেন তিনি হলেন বুখারি..."—এর ওপর আপত্তি তোলা হয়েছে যে, ইমাম মালিক তাঁর পূর্বে সহিহ (صحيح) সংকলন করেছেন। এর উত্তর হলো, ইমাম মালিক (রহ.) শুধুমাত্র সহিহ (صحيح) হাদিস পৃথকভাবে সংকলন করেননি; বরং তিনি এতে বিচ্ছিন্ন (مرسل), কর্তিত (منقطع) এবং সরাসরি বর্ণিত (بلاغات) হাদিস অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ইমাম ইবনে আব্দুল বার উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর সরাসরি বর্ণিত (بلاغات) হাদিসগুলোর মধ্যে এমন কিছু হাদিস রয়েছে যা অজ্ঞাত। সুতরাং তিনি কেবল সহিহ (صحيح) হাদিসগুলো পৃথকভাবে সংকলন করেননি। আল্লাহই ভালো জানেন।

তাঁর উক্তি: "এরপর আবু আল-হুসাইন মুসলিম ইবনে আল-হাজ্জাজ..."—তাঁর এই বক্তব্যের ওপর আবুল ফজল আহমদ ইবনে সালামার উক্তির মাধ্যমে আপত্তি করা হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন, "আমি ২০৫ হিজরি সালে এই কিতাব রচনার সময় মুসলিম ইবনে আল-হাজ্জাজের সাথে ছিলাম।" যিনি ইবনে আল-সালাহ-এর ওপর আপত্তি তুলেছেন, তাঁর হস্তলিপিতে এভাবেই ২০৫ হিজরি সাল দেখেছি। এর মাধ্যমে তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে ইমাম মুসলিমের কিতাব সংকলন অত্যন্ত প্রাচীন, তাই এটি বুখারির কিতাবের পরবর্তী হওয়ার কথা নয়। মূলত তারিখের ক্ষেত্রে তাঁর শব্দের লিপিক্রমগত ভুল (تصحف) হয়েছে; এটি মূলত ২৫০ হিজরি সাল হবে (পঞ্চাশ শব্দটি যুক্ত হয়ে)। আর ২০৫ হিজরির দাবিটি নিশ্চিতভাবেই ভিত্তিহীন (باطل), কারণ ইমাম মুসলিম (রহ.)-এর জন্মই হয়েছে ২০৪ হিজরিতে। এমনকি উক্ত তারিখে ইমাম বুখারিও হাদিস সংকলন শুরু করেননি, ইমাম মুসলিম তো দূরের কথা। কারণ তাঁদের দুজনের বয়সের ব্যবধান হলো দশ বছর, ইমাম বুখারি জন্মগ্রহণ করেছেন ১৯৪ হিজরি সালে।
(খণ্ড: ১) আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
وأما ما رويناه عن أبي علي الحافظ النيسابوري أستاذ الحاكم أبي عبد الله الحافظ من أنه 12 قال: ما تحت أديم السماء كتاب أصح من كتاب مسلم بن الحجاج. فهذا وقول من فضل من شيوخ المغرب كتاب مسلم على كتاب البخاري إن كان المراد به: أن كتاب مسلم يترجح بأنه لم يمازجه غير الصحيح فإنه ليس فيه بعد خطبته إلا الحديث الصحيح مسرودا غير ممزوج بمثل ما في كتاب البخاري في تراجم أبوابه من إلاشياء التي لم يسندها على الوصف المشروط في الصحيح فهذا لا بأس به. وليس يلزم منه أن كتاب مسلم أرجح فيما يرجع إلى نفس الصحيح على كتاب البخاري.

وإن كان المراد به: أن كتاب مسلم أصح صحيحا فهذا مردود على من يقوله. والله أعلم.

الرابعة: لم يستوعبا الصحيح في صحيحيهما ولا التزما ذلك فقد روينا عن البخاري أنه قال: ما أدخلت في كتابي الجامع إلا ما صح وتركت من الصحاح لملال الطول.

وروينا عن مسلم أنه قال: ليس كل شيء عندي صحيح وضعته ههنا يعني في كتابه الصحيح إنما وضعت ههنا ما أجمعوا عليه قلت: أراد والله أعلم أنه لم يضع في كتابه إلا إلاحاديث التي وجد عنده فيها شرائط الصحيح المجمع عليه وإن لم يظهر اجتماعها في بعضها عند بعضهم.

--------------------------------------------

قوله فهذا وقول من فضل من شيوخ المغرب كتاب مسلم على كتاب البخاري إن كان المراد به أن كتاب مسلم يترجح بأنه لم يمازجه غير الصحيح فإنه ليس فيه بعد خطبته إلا الحديث الصحيح مسدودا غير ممزوج بمثل ما في كتاب البخاري في تراجم أبوابه من إلاشياء التي لم يسندها على الوصف المشروط في الصحيح انتهى.

قلت قد روى مسلم بعد الخطبة في كتاب الصلاة بإسناده الى يحيى بن أبى كثير أنه قال لا يستطاع العلم براحة الجسم فقد مزجه بغير إلاحاديث ولكنه نادر جدا بخلاف البخاري والله اعلم.
আর আমরা আবু আলী আল-হাফিজ আন-নিশাপুরী (যিনি হাকিম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাফিজের উস্তাদ) থেকে যা বর্ণনা করেছি যে তিনি ১২ বলেছেন: আসমানের নিচে মুসলিম ইবনে হাজ্জাজের কিতাবের চেয়ে অধিকতর সহিহ (أصح) কোনো কিতাব নেই। এটি এবং মাগরিবের শায়খদের মধ্যে যারা সহিহ বুখারীর ওপর সহিহ মুসলিমের কিতাবকে প্রাধান্য দিয়েছেন তাদের বক্তব্য—যদি এর দ্বারা উদ্দেশ্য এই হয় যে: সহিহ মুসলিমের কিতাবটি এই দিক থেকে অগ্রগণ্য যে এতে সহিহ (صحيح) ব্যতীত অন্য কিছুর সংমিশ্রণ ঘটেনি; কেননা এর ভূমিকার পরে কেবল সহিহ হাদিসসমূহ ধারাবাহিকভাবে (مسرودا) বর্ণিত হয়েছে। এতে সহিহ বুখারীর অধ্যায়সমূহের শিরোনামে (تراجم أبوابه) উল্লিখিত এমন বিষয়গুলোর সংমিশ্রণ নেই যা সহিহ (صحيح) হওয়ার জন্য নির্ধারিত শর্তানুযায়ী তিনি সনদযুক্ত করেননি (لم يسندها); তবে এতে কোনো অসুবিধা নেই। আর এর দ্বারা এটি আবশ্যক হয় না যে, সহিহ (صحيহ) হওয়ার মূল হাকিকতের বিচারে সহিহ মুসলিমের কিতাবটি সহিহ বুখারীর ওপর প্রাধান্যযোগ্য।

আর যদি এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয় যে: সহিহ মুসলিমের কিতাবটি অধিকতর সহিহ (أصح)، তবে যারা এটি বলেন তাদের এই মতটি প্রত্যাখ্যাত (مردود)। আল্লাহই ভালো জানেন।

চতুর্থ বিষয়: তারা উভয়ই তাদের সহিহ গ্রন্থদ্বয়ে সকল সহিহ (صحيح) হাদিস অন্তর্ভুক্ত করেননি এবং তারা এমন কোনো প্রতিশ্রুতিও দেননি। ইমাম বুখারী থেকে আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমি আমার জামে কিতাবে সহিহ (صحيহ) ব্যতীত অন্য কিছু অন্তর্ভুক্ত করিনি, আর দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কায় বহু সহিহ (صحاح) হাদিস বর্জন করেছি।"

ইমাম মুসলিম থেকে আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমার নিকট সহিহ (صحيহ) এমন সবকিছুই আমি এখানে অর্থাৎ তার সহিহ কিতাবে স্থান দিইনি; বরং আমি এখানে কেবল সেসব হাদিসই এনেছি যেগুলোর ওপর তারা ঐকমত্য পোষণ (أجمعوا عليه) করেছেন।" আমি বলছি: আল্লাহই ভালো জানেন, তিনি সম্ভবত এটি বুঝিয়েছেন যে, তিনি তার কিতাবে কেবল সেসব হাদিসই স্থাপন করেছেন যাতে তার নিকট সর্বসম্মত (المجمع عليه) সহিহ হাদিসের শর্তাবলি (شرائط) বিদ্যমান ছিল, যদিও তাদের কারোর নিকট কোনো কোনো হাদিসের ক্ষেত্রে ঐকমত্যের বিষয়টি স্পষ্ট না হয়ে থাকে।

--------------------------------------------

তার উক্তি: "এটি এবং মাগরিবের শায়খদের মধ্যে যারা সহিহ বুখারীর ওপর সহিহ মুসলিমের কিতাবকে প্রাধান্য দিয়েছেন তাদের বক্তব্য—যদি এর দ্বারা উদ্দেশ্য এই হয় যে সহিহ মুসলিমের কিতাবটি এই দিক থেকে অগ্রগণ্য যে এতে সহিহ (صحيহ) ব্যতীত অন্য কিছুর সংমিশ্রণ ঘটেনি; কেননা এর ভূমিকার পরে কেবল সহিহ হাদিসসমূহ ধারাবাহিকভাবে (مسرودا) বর্ণিত হয়েছে। এতে সহিহ বুখারীর অধ্যায়সমূহের শিরোনামে (تراجم أبوابه) উল্লিখিত এমন বিষয়গুলোর সংমিশ্রণ নেই যা সহিহ (صحيح) হওয়ার জন্য নির্ধারিত শর্তানুযায়ী তিনি সনদযুক্ত করেননি (لم يسندها)"—সমাপ্ত।

আমি বলছি: ইমাম মুসলিম ভূমিকার পরে কিতাবুস সালাত-এ তার নিজস্ব সনদ (إسناد) সহ ইয়াহইয়া ইবনে আবি কাসিরের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, "শরীরের আরামের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব নয়।" সুতরাং তিনি হাদিস ব্যতীত অন্য কথার সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন, তবে সহিহ বুখারীর তুলনায় এটি অত্যন্ত বিরল। আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
ثم إن أبا عبد الله بن إلاخرم الحافظ قال: قل ما يفوت البخاري ومسلما مما يثبت من الحديث. يعني في كتابيهما.

ولقائل أن يقول: ليس ذلك بالقليل فإن المستدرك على الصحيحين للحاكم أبي عبد الله كتاب كبير يشتمل مما فاتهما على شيء كثير وإن يكن عليه في بعضه مقال فإنه يصفو له منه صحيح كثير. وقد 13 قال البخاري: أحفظ مائة ألف حديث صحيح ومائتي ألف حديث غير صحيح.

وجملة ما في كتابه الصحيح سبعة إلاف ومائتان وخمسة وسبعون حديثا بإلاحاديث المتكررة. وقد قيل: إنها بإسقاط المكررة أربعة إلاف حديث. إلا أن هذه العبارة قد يندرج تحتها عندهم آثار الصحابة والتابعين. وربما عد الحديث الواحد المروي بإسنادين حديثين.

ثم إن الزيادة في الصحيح على ما في الكتابين يتلقاها طالبها مما اشتمل عليه

--------------------------------------------

"قوله" وجملة ما في كتابه الصحيح يعنى البخاري سبعة إلاف ومائتان وخمسة وسبعون حديثا بإلاحاديث المكررة انتهى هكذا أطلق ابن الصلاح عدة أحاديثه والمراد بهذا العدد الرواية المشهورة وهى رواية محمد بن يوسف الفربرى فأما رواية حماد بن شاكر فهى دونها بمائتى حديث وأنقص الروايات رواية إبراهيم بن معقل فإنها تنقص عن رواية الفربرى ثلاثمائة حديث.

ولم يذكر ابن الصلاح عدة أحاديث مسلم وقد ذكرها النووى من زياداته في التقريب والتيسير فقال إن عدة أحاديثه نحو أربعة إلاف بإسقاط المكرر انتهى ولم يذكر عدته بالمكرر وهو يزيد على عدة كتاب البخاري لكثرة طرقه وقد رأيت عن أبى الفضل أحمد بن سلمة أنه اثنا عشر ألف حديث.

"قوله" ثم ان الزيادة في الصحيح على ما في الكتابين يتلقاها طالبها مما اشتمل عليه أحد المصنفات المعتمدة المشتهرة لأئمة الحديث كأبى داود الترمذي والنسائى وابن خزيمة والدارقطنى وغيرهم منصوصا على صحته فيها انتهى كلامه.

ولا يشترط في معرفة الصحيح الزائد على ما في الصحيحين أن ينص إلائمة المذكورون
এরপর হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ ইবনে আল-আখরাম বলেছেন: এমন প্রমাণিত (يثبت) হাদিস খুব কমই আছে যা বুখারি ও মুসলিমের নজর এড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ তাঁদের কিতাবদ্বয়ে।

তবে কোনো বক্তার পক্ষে এটা বলা সম্ভব যে: সেই সংখ্যাটি সামান্য নয়। কারণ হাকেম আবু আব্দুল্লাহ-এর আল-মুস্তাদরাক আলাস সহিহাইন একটি বিশাল কিতাব, যা তাঁদের উভয়ের বাদ পড়া প্রচুর পরিমাণ হাদিসকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। যদিও এর কিছু বর্ণনার ক্ষেত্রে আপত্তি (مقال) রয়েছে, তবুও তাতে প্রচুর পরিমাণে সহিহ (صحيح) হাদিস বিদ্যমান। ইমাম বুখারি বলেছেন: আমি এক লক্ষ সহিহ (صحيح) হাদিস এবং দুই লক্ষ অ-সহিহ (غير صحيح) হাদিস মুখস্থ করেছি।

তাঁর সহিহ কিতাবে পুনরাবৃত্ত হাদিসসহ সর্বমোট সাত হাজার দুইশত পঁচাত্তরটি হাদিস রয়েছে। বলা হয়ে থাকে যে: পুনরাবৃত্তি বাদ দিলে এর সংখ্যা চার হাজার হাদিস। তবে এই সংখ্যার অধীনে তাঁদের মতে সাহাবী ও তাবেয়ীদের আসার (آثار) ও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আবার অনেক সময় দুই সনদে (إسنادين) বর্ণিত একটি হাদিসকে দুটি হাদিস হিসেবে গণনা করা হয়ে থাকে।

অতঃপর দুই কিতাবের অতিরিক্ত সহিহ (صحيح) হাদিস অন্বেষণকারী ব্যক্তি তা গ্রহণ করবেন এমন সব সংকলন থেকে যা অন্তর্ভুক্ত করে...

--------------------------------------------

"তাঁর কথা" তাঁর সহিহ কিতাবে সর্বমোট হাদিসের সংখ্যা, অর্থাৎ বুখারিতে পুনরাবৃত্ত হাদিসসহ সাত হাজার দুইশত পঁচাত্তরটি হাদিস রয়েছে। - সমাপ্ত। ইবনে আস-সালাহ তাঁর হাদিসের সংখ্যাকে এভাবেই ঢালাওভাবে উল্লেখ করেছেন। আর এই সংখ্যা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রসিদ্ধ বর্ণনা (رواية), যা হলো মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফিরাবরীর বর্ণনা। আর হাম্মাদ ইবনে শাকিরের বর্ণনাটি এর চেয়ে দুইশত হাদিস কম। সবচেয়ে কম হাদিসের বর্ণনা হলো ইব্রাহিম ইবনে মা’কিলের বর্ণনা, যা ফিরাবরীর বর্ণনার চেয়ে তিনশত হাদিস কম।

ইবনে আস-সালাহ ইমাম মুসলিমের হাদিস সংখ্যা উল্লেখ করেননি। ইমাম নববী তাঁর আত-তাকরীব ওয়াত তাইসীর কিতাবে অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে তা উল্লেখ করে বলেছেন যে, পুনরাবৃত্তি বাদ দিলে এতে হাদিসের সংখ্যা প্রায় চার হাজার। - সমাপ্ত। তিনি পুনরাবৃত্তিসহ সংখ্যা উল্লেখ করেননি, যা বুখারির হাদিস সংখ্যার চেয়ে বেশি হবে কারণ এর সূত্র (طرق) অনেক। আমি আবুল ফজল আহমদ ইবনে সালামার সূত্রে দেখেছি যে, এর সংখ্যা বারো হাজার হাদিস।

"তাঁর কথা" অতঃপর দুই কিতাবের অতিরিক্ত সহিহ (صحيح) হাদিস অন্বেষণকারী ব্যক্তি সেই সকল নির্ভরযোগ্য (معتمدة) ও প্রসিদ্ধ সংকলনসমূহ হতে তা গ্রহণ করবেন যা হাদিস বিশারদ ইমামগণ যেমন আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে খুজাইমা, দারা কুতনি ও অন্যান্যদের দ্বারা সংকলিত এবং যাতে সেই হাদিসগুলোর সহিহ (صحيح) হওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। - তাঁর কথা সমাপ্ত।

সহিহাইন-এর অতিরিক্ত সহিহ (صحيح) হাদিস জানার জন্য উল্লেখিত ইমামগণের সুস্পষ্ট বক্তব্য থাকা শর্ত নয়।
(খণ্ড: ১) আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
أحد المصنفات المعتمدة المشهورة لأئمة الحديث: كأبي داود السجستاني وأبي عيسى الترمذي وأبي عبد الرحمن النسائي وأبي بكر بن خزيمة وأبي الحسن الدارقطني وغيرهم. منصوصا على صحته فيها ولا يكفي في ذلك مجرد كونه موجودا في كتاب أبي داود وكتاب الترمذي وكتاب النسائي وسائر من جمع في كتابه بين الصحيح وغيره ويكفي مجرد كونه موجودا في كتب من اشترط منهم الصحيح فيما جمعه ككتاب ابن خزيمة. وكذلك ما يوجد في الكتب المخرجة على كتاب البخاري وكتاب مسلم ككتاب أبي عوانة إلاسفرائيني وكتاب أبي بكر إلاسماعيلي وكتاب أبي بكر البرقاني وغيرها من تتمة لمحذوف أو زيادة شرح في كثير من أحاديث الصحيحين. وكثير من هذا موجود في الجمع بين الصحيحين لأبي عبد الله الحميدي.

--------------------------------------------

وغيرهم على صحتها في كتبهم المعتمدة المشتهرة كما قيده المصنف بل لو نص أحد منهم على صحته بالإسناد الصحيح كما في سؤإلات يحيى بن معين وسؤإلات إلامام أحمد وغيرهما كفي ذلك في صحته وهذا واضح وإنما قيده المصنف بتنصيصهم على صحته في كتبهم المشتهرة بناء على اختياره المتقدم أنه ليس لأحد أن يصح في هذه إلاعصار فلا يكفي على هذا وجود التصحيح بلإسناد صحيح كما لا يكفي في التصحيح بوجود أصل الحديث بإسناد صحيح.

ولكن قد تقدم أن اختياره هذا خالفه فيه النووى وغيره من أهل الحديث فإن العمل على خلافه كما تقدم والله أعلم.

"وقوله" ويكفي مجرد كونه موجودا في كتب من اشترط منهم الصحيح فيما جمعه ككتاب ابن خزيمة وكذلك ما يوجد في الكتب المخرجة على كتاب البخاري وكتاب مسلم ككتاب أبى عوانة إلاسفراينى وكتاب أبى بكر إلاسماعيلى وكتاب أبى بكر البرقانى وغيرها من تتمة لمحذوف أو زيادة شرح في كثير من أحاديث الصحيحين وكثير من هذا موجود في الجمع بين الصحيحين لأبي عبد الله الحميدي انتهى كلامه وهو يقتضى أن ما وجد من الزيادات على الصحيحين في كتاب الحميدي يحكم بصحته وليس كذلك لأن المستخرجات المذكورة قد رووها بأسانيدهم الصحيحة فكانت الزيادات التي تقع فيها صحيحة لوجودها بإسناد صحيح في كتاب مشهور على رأي
হাদিস বিশারদগণের (ইমামগণের) সুপ্রসিদ্ধ নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহের একটি: যেমন আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি, আবু ঈসা আত-তিরমিজি, আবু আবদির রহমান আন-নাসায়ি, আবু বকর ইবনে খুজাইমা, আবু হাসান আদ-দারা কুতনি এবং আরও অনেকে। সেগুলোতে কোনো হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) স্পষ্টভাবে বর্ণিত হওয়া। এক্ষেত্রে কোনো হাদিস কেবল আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি কিংবা এমন অন্যান্যদের কিতাবে থাকাই যথেষ্ট নয় যারা তাদের কিতাবে বিশুদ্ধ (صحيح) এবং বিশুদ্ধ নয় এমন হাদিস একত্রে সংকলন করেছেন। তবে সে সমস্ত লেখকদের কিতাবে কেবল বিদ্যমান থাকাই যথেষ্ট যারা তাদের সংকলিত হাদিসের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধতার (صحة) শর্ত আরোপ করেছেন, যেমন ইবনে খুজাইমার কিতাব। অনুরূপভাবে সহিহ বুখারি এবং সহিহ মুসলিমের ওপর ভিত্তি করে রচিত মুস্তাখরাজ গ্রন্থসমূহে (الكتب المخرجة) যা পাওয়া যায়, যেমন আবু আওয়ানা আল-ইসফরাইনি, আবু বকর আল-ইসমাঈলি, আবু বকর আল-বারকানি এর কিতাবসমূহ এবং অন্যান্য যা বুখারি ও মুসলিমের অনেক হাদিসের বিলুপ্ত অংশের পূর্ণতা স্বরূপ কিংবা ব্যাখ্যামূলক অতিরিক্ত অংশ (الزيادات) হিসেবে বিদ্যমান। এর অনেক কিছু আবু আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদির 'আল-জাম বাইনাস সাহিহাইন'-এ পাওয়া যায়।

--------------------------------------------

এবং অন্যান্যগণ তাদের প্রসিদ্ধ নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহে এর বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে যা বলেছেন, যেমনটি লেখক সীমাবদ্ধ করেছেন। বরং তাদের মধ্যে কেউ যদি বিশুদ্ধ সনদ (الإسناد الصحيح) সহকারে এর বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে স্পষ্টভাবে কিছু বলেন, যেমনটি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং ইমাম আহমদের নিকট জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী এবং অন্যান্যদের কিতাবে পাওয়া যায়, তবে তা হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। এটি স্পষ্ট। লেখক এটি তাদের প্রসিদ্ধ কিতাবসমূহে বিশুদ্ধতার (صحة) বর্ণনার শর্তে সীমাবদ্ধ করেছেন তাঁর পূর্ববর্তী পছন্দের ভিত্তিতে, যা হলো—বর্তমান যুগে কারো জন্য নতুন করে কোনো হাদিসকে বিশুদ্ধ সাব্যস্ত (تصحيح) করার অধিকার নেই। অতএব, এই মতানুসারে কেবল বিশুদ্ধ সনদ (الإسناد الصحيح) থাকার কারণেই বিশুদ্ধ সাব্যস্ত (تصحيح) করা যথেষ্ট হবে না, যেমনটি কেবল বিশুদ্ধ সনদ (الإسناد الصحيح) থাকার দ্বারা মূল হাদিসটি বিশুদ্ধ (صحيح) হওয়া সাব্যস্ত হয় না।

কিন্তু ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁর এই পছন্দের সাথে ইমাম নববী এবং অন্যান্য হাদিস বিশারদগণ দ্বিমত পোষণ করেছেন। কেননা এর বিপরীত মতের ওপরই আমল চলমান, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

লেখকের কথা: "এবং সে সমস্ত লেখকদের কিতাবে কেবল বিদ্যমান থাকাই যথেষ্ট যারা তাদের সংকলিত হাদিসের ক্ষেত্রে বিশুদ্ধতার (صحة) শর্ত আরোপ করেছেন যেমন ইবনে খুজাইমার কিতাব। অনুরূপভাবে সহিহ বুখারি এবং সহিহ মুসলিমের ওপর ভিত্তি করে রচিত মুস্তাখরাজ গ্রন্থসমূহে (الكتب المخرجة) যা পাওয়া যায়, যেমন আবু আওয়ানা আল-ইসফরাইনি, আবু বকর আল-ইসমাঈলি, আবু বকর আল-বারকানি এর কিতাবসমূহ এবং অন্যান্য যা বুখারি ও মুসলিমের অনেক হাদিসের বিলুপ্ত অংশের পূর্ণতা স্বরূপ কিংবা ব্যাখ্যামূলক অতিরিক্ত অংশ (الزيادات) হিসেবে বিদ্যমান। এর অনেক কিছু আবু আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদির 'আল-জাম বাইনাস সাহিহাইন'-এ পাওয়া যায়"—লেখকের বক্তব্য শেষ হলো। এটি দাবি করে যে, হুমাইদির কিতাবে বুখারি ও মুসলিমের ওপর যা অতিরিক্ত অংশ (الزيادات) পাওয়া যায়, তার ওপর বিশুদ্ধতার হুকুম (الحكم بالصحة) দেওয়া হবে। বিষয়টি আসলে তেমন নয়; কারণ উল্লিখিত মুস্তাখরাজ (المستخرجات) গ্রন্থসমূহের লেখকগণ সেগুলো তাঁদের নিজস্ব বিশুদ্ধ সনদ (الأسانيد الصحيحة) দ্বারা বর্ণনা করেছেন, ফলে সেখানে বিদ্যমান অতিরিক্ত অংশগুলো (الزيادات) কোনো এক মতানুসারে প্রসিদ্ধ কিতাবে বিশুদ্ধ সনদ (إسناد صحيح) থাকার কারণে বিশুদ্ধ (صحيحة) হিসেবে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১) আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
واعتنى الحاكم أبو عبد الله الحافظ بالزيادة في عدد الحديث الصحيح على ما في الصحيحين وجمع ذلك في كتاب سماه المستدرك أودعه ما ليس في واحد من الصحيحين: مما رآه على شرط الشيخين قد أخرجا عن رواته في كتابيهما أو على شرط البخاري وحده أو على شرط مسلم وحده وما أدى اجتهاده إلى تصحيحه وإن لم يكن على شرط واحد منهما وهو واسع الخطو في شرط الصحيح متساهل في القضاء به. فإلاولى أن نتوسط في أمره فنقول: ما حكم بصحته ولم نجد ذلك فيه لغيره من إلائمة إن لم يكن من قبيل الصحيح فهو من قبيل الحسن يحتج به ويعمل به إلا أن تظهر فيه علة توجب ضعفه.

--------------------------------------------

المصنف وأما الذي زاده الحميدي في الجمع بين الصحيحين فإنه لم يروه بإسناده حتى ينظر فيه ولا أظهر لنا اصطلاحا أنه يزيد فيه زوايد التزم فيها الصحة فيقلد فيها وإنما جمع بين كتابين وليست تلك الزيادات في واحد من الكتابين فهى غير مقبولة حتى توجد في غيره بإسناد صحيح والله أعلم.

وقد نص المصنف بعد هذا في الفائدة الخامسة التي تلي هذه أن من نقل شيئا من زيادات الحميدي عن الصحيحين أو أحدهما فهو مخطئ وهو كما ذكر فمن أنزله أن تلك الزيادات محكوم بصحتها بلا مستند فالصواب ما ذكرناه والله أعلم.

"قوله" واعتنى الحاكم أبو عبد الله الحافظ بالزيادة في عدد الحديث الصحيح على ما في الصحيحين وجمع ذلك في كتاب سماه المستدرك أودعه ما ليس في واحد من الصحيحين مما رآه على شرط الشيخين قد أخرجا عن رواته في كتابيهما الى آخر كلامه فيه أمران أحدهما أن قوله أودعه ما ليس في واحد من الصحيحين لبس كذلك فقد أودعه أحاديث مخرجه في الصحيح وهما منه في ذلك وهى أحاديث كثيرة منها حديث أبى سعيد الخدرى مرفوعا "لا تكتبوا عنى شيئا سوى القرآن" الحديث رواه الحاكم في مناقب أبى سعيد الخدرى وقد أخرجه مسلم في صحيحه.

وقد بين الحافظ أبو عبد الله الذهبى في مختصر المستدرك كثيرا من إلاحاديث
আল-হাকিম আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিজ সহিহাইন-এর অতিরিক্ত সহিহ (صحيح) হাদিসের সংখ্যা বৃদ্ধিতে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছেন এবং সেগুলোকে 'আল-মুস্তাদরাক' নামক একটি কিতাবে সংকলন করেছেন। তিনি সেখানে এমন সব হাদিস অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা সহিহাইনের কোনোটিতেই নেই: এমন সব হাদিস যা তাঁর দৃষ্টিতে শায়খাইনের (বুখারি ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী (شرط) এবং তাঁরা তাঁদের কিতাবদ্বয়ে উক্ত বর্ণনাকারীদের থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন, অথবা যা শুধুমাত্র বুখারির শর্তানুযায়ী (شرط), অথবা শুধুমাত্র মুসলিমের শর্তানুযায়ী (شرط)। আবার কিছু হাদিস এমন যা তাঁর ইজতিহাদ অনুযায়ী তিনি সহিহ (صحيح) হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন যদিও তা তাঁদের কোনো একজনের শর্তানুযায়ীও (شرط) নয়। তিনি সহিহ (صحيح)-এর শর্তের (شرط) ক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রশস্ত এবং এর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে শিথিল (متساهل)। সুতরাং তাঁর ব্যাপারে মধ্যপন্থা অবলম্বন করাই শ্রেয়; আমরা বলব: তিনি যে হাদিসটিকে সহিহ (صحيح) হওয়ার হুকুম দিয়েছেন অথচ অন্য কোনো ইমামের পক্ষ থেকে এমনটি পাওয়া যায়নি, তা যদি সহিহ (صحيح) পর্যায়ের না-ও হয় তবে তা হাসান (حسن) পর্যায়ের হবে, যা দলিল (يحتج به) হিসেবে গ্রহণ করা যাবে এবং তার ওপর আমল করা যাবে, যতক্ষণ না তাতে এমন কোনো ত্রুটি (علة) প্রকাশ পায় যা তার দুর্বলতা (ضعفه) সাব্যস্ত করে।

--------------------------------------------

লেখক বলছেন: আর আল-হুমাইদি তাঁর 'আল-জামু বাইনাস সহিহাইন' গ্রন্থে যা কিছু অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন, তা তিনি তাঁর নিজের সনদ (إسناد) সহ বর্ণনা করেননি যে তা পরীক্ষা করা যাবে। আর তিনি আমাদের নিকট এমন কোনো পরিভাষাও স্পষ্ট করেননি যে, তিনি এখানে এমন সব অতিরিক্ত হাদিস যোগ করছেন যার সহিহ (صحيحة) হওয়ার ব্যাপারে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, ফলে তা অনুসরণ করা যাবে। বরং তিনি কেবল দুটি কিতাবকে একত্রিত করেছেন, অথচ সেই অতিরিক্ত বর্ণনাগুলো কিতাব দুটির কোনোটিতেই নেই। সুতরাং অন্য কোনো কিতাবে সহিহ (صحيح) সনদে (إسناد) না পাওয়া পর্যন্ত সেগুলো অগ্রহণযোগ্য (غير مقبولة)। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

লেখক এর পরবর্তী পঞ্চম ফায়দায় উল্লেখ করেছেন যে, যে ব্যক্তি হুমাইদির অতিরিক্ত বর্ণনাগুলোকে সহিহাইন বা তার কোনো একটির বলে বর্ণনা করে, সে ভুলকারী (مخطئ)। বিষয়টি তেমনই যেমনটি তিনি উল্লেখ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো প্রমাণ ছাড়াই সেই অতিরিক্ত বর্ণনাগুলোকে সহিহ (صحيح) হওয়ার হুকুম দেয় তবে সঠিক কথা তাই যা আমরা উল্লেখ করেছি। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

তাঁর উক্তি: "আল-হাকিম আবু আবদুল্লাহ আল-হাফিজ সহিহ হাদিসের সংখ্যা বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ করেছেন এবং সেগুলোকে 'আল-মুস্তাদরাক' নামক কিতাবে সংকলন করেছেন যা সহিহাইনের কোনোটিতেই নেই"—তাঁর এই বক্তব্যে দুটি বিষয় লক্ষণীয়। প্রথমটি হলো, তাঁর কথা "তিনি সেখানে এমন সব হাদিস রেখেছেন যা সহিহাইনের কোনোটিতেই নেই" বিষয়টি আসলে তেমন নয়। বরং তিনি সেখানে এমন অনেক হাদিস রেখেছেন যা সহিহ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে এবং তাঁরা দুজনও সে ব্যাপারে একমত। এ জাতীয় হাদিস অনেক রয়েছে; যেমন আবু সাঈদ আল-খুদরির হাদিস যা মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণিত: "আমার পক্ষ থেকে কুরআন ছাড়া অন্য কিছু লিখো না।" হাদিসটি আল-হাকিম আবু সাঈদ আল-খুদরির মানাকিব অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন, অথচ ইমাম মুসলিম এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা (أخرجه) করেছেন।

আর হাফিজ আবু আবদুল্লাহ আল-জাহাবি তাঁর 'মুখতাসার আল-মুস্তাদরাক' গ্রন্থে এ ধরনের অনেক হাদিস স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
ويقاربه في حكمه صحيح أبي حاتم بن حبان البستي رحمهم الله أجمعين. والله أعلم.

الخامسة: الكتب المخرجة على كتاب البخاري أو كتاب مسلم رضي الله

--------------------------------------------

التي أخرجها في المستدرك وهى في الصحيح. إلامر الثانى أن قوله مما رآه على شرط الشيخين قد أخرجا عن رواته في كتابيهما فيه بيان أن ما هو على شرطهما هو مما أخرجا عن رواته في كتابيهما ولم يرد الحاكم ذلك فقد قال في خطبة كتابه المستدرك وأنا أستعين الله تعالى على اخراج أحاديث رواتها ثقات قد احتج مثلها الشيخان أو أحدهما فقول الحاكم بمثلهما أى بمثل رواتها لابهم أنفسهم ويحتمل أن يراد بمثل تلك إلاحاديث وفيه نظر.

ولكن الذي ذكره المصنف هو الذي فهمه ابن دقيق العيد من عمل الحاكم فإنه ينقل تصحيح الحاكم لحديث وأنه على شرط البخاري مثلا ثم يعترض عليه بأن فيه فلانا ولم يخرج له البخاري وهكذا فعل الذهبى في مختصر المستدرك ولكن ظاهر كلام الحاكم المذكور مخالف لما فهموه عنه والله أعلم.

"قوله" عند ذكر تساهل الحاكم فإلاولى أن تتوسط في أمره فنقول ما حكم بصحته ولم نجد ذلك فيه لغيره من إلائمة ان لم يكن من قبيل الصحيح فهو من قبيل الحسن يحتج به ويعمل به إلا أن تظهر فيه علة توجب ضعفه انتهى كلامه.

وقد تعقبه بعض من اختصر كلامه وهو مولانا قاضى القضاه بدر الدين بن جماعة فقال إنه يتتبع ويحكم عليه بما يليق بحاله من الحسن أو الصحة أو الضعف وهذا هو الصواب.

إلا أن الشيخ أبا عمرو رحمه الله رأيه أنه قد انقطع التصحيح في هذه إلاعصار فليس لأحد أن يصحح فلهذا قطع النظر عن الكشف عليه والله أعلم.

"قوله" ويقاربه في حكمه صحيح أبى حاتم بن حبان البستى انتهى.

وقد فهم بعض المتأخرين من كلامه ترجيح كتاب الحاكم على كتاب ابن حبان فاعترض على كلامه هذا بأن قال أما صحيح ابن حبان فمن عرف شرطه واعتبر كلامه
এবং এর হুকুমের দিক থেকে আবু হাতিম ইবনে হিব্বান আল-বুস্তি (আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর রহম করুন)-এর 'সহীহ ইবনে হিব্বান' এর কাছাকাছি। আল্লাহই ভালো জানেন।

পঞ্চম: বুখারি বা মুসলিমের কিতাবের ওপর ভিত্তি করে সংকলিত মুস্তাখরাজ গ্রন্থসমূহ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।

--------------------------------------------

যা তিনি মুস্তাদরাক গ্রন্থে সংকলন করেছেন, অথচ তা সহীহ গ্রন্থদ্বয়ে বিদ্যমান। দ্বিতীয় বিষয়টি হলো, শায়খাইনের শর্তানুযায়ী (شرط الشيخين) হওয়ার ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য হলো—তাঁরা দুজনেই তাঁদের কিতাবে ঐ বর্ণনাকারীদের (رواة) থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। এতে স্পষ্ট হয় যে, তাঁদের শর্ত অনুযায়ী হওয়ার অর্থ হলো—তাঁরা তাঁদের কিতাবে ঐ বর্ণনাকারীদের থেকে হাদিস উদ্ধৃত করেছেন। কিন্তু আল-হাকিম এটি বুঝাতে চাননি; কেননা তিনি তাঁর মুস্তাদরাক গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছেন: "আমি মহান আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি এমন সব হাদিস সংকলনের ব্যাপারে যার বর্ণনাকারীরা (رواة) নির্ভরযোগ্য (ثقات), যাদের অনুরূপ বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে শায়খাইন বা তাঁদের কোনো একজন দলিল পেশ (احتج) করেছেন।" সুতরাং আল-হাকিমের "তাদের মতো" বলা দ্বারা বর্ণনাকারীদের সদৃশ ব্যক্তিদের বুঝানো হয়েছে, স্বয়ং তাঁদের নয়। আবার এটিও হতে পারে যে এর দ্বারা ঐ হাদিসগুলোর অনুরূপ বুঝানো হয়েছে, তবে এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে।

কিন্তু লেখক যা উল্লেখ করেছেন, তা আল-হাকিমের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে ইবনে দাকীক আল-ঈদ যা বুঝেছেন তা-ই। কেননা তিনি কোনো একটি হাদিসের ব্যাপারে আল-হাকিমের সহীহ সাব্যস্তকরণ (تصحيح) এবং এটি উদাহরণস্বরূপ 'বুখারির শর্তে' (شرط) হওয়ার বিষয়টি উদ্ধৃত করেন, তারপর এর ওপর আপত্তি তুলে বলেন যে, এতে অমুক ব্যক্তি আছেন যার থেকে বুখারি হাদিস বর্ণনা করেননি। আয-যাহাবিও মুস্তাদরাক-এর সংক্ষেপিত সংস্করণে (مختصر) অনুরূপ করেছেন। কিন্তু আল-হাকিমের উল্লিখিত বক্তব্যের বাহ্যিক অর্থ তাঁরা যা বুঝেছেন তার পরিপন্থী। আল্লাহই ভালো জানেন।

আল-হাকিমের শিথিলতা (تساهল) সম্পর্কে তাঁর উক্তি হলো: তাঁর ব্যাপারে মধ্যপন্থা অবলম্বন করাই উত্তম। আমরা বলি, তিনি যেটিকে সহীহ (صحيح) বলে হুকুম দিয়েছেন এবং অন্য কোনো ইমামের কাছে আমরা তেমনটি পাইনি, তা যদি সহীহ (صحيح) পর্যায়ের না-ও হয় তবে তা হাসান (حسن) পর্যায়ের হবে, যা দলিল হিসেবে ব্যবহারযোগ্য (احتج) এবং এর ওপর আমল করা যাবে; যতক্ষণ না তাতে এমন কোনো ত্রুটি (علة) প্রকাশ পায় যা তার দুর্বলতা (ضعف) সাব্যস্ত করে। তাঁর বক্তব্য এখানেই শেষ।

তাঁর বক্তব্য সংক্ষেপকারীদের মধ্য থেকে কেউ কেউ তাঁর সমালোচনা করেছেন, তিনি হলেন আমাদের মাওলানা কাযিল কুযাত বদরুদ্দীন বিন জামা’আহ। তিনি বলেছেন: বরং এটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হবে এবং এর অবস্থা অনুযায়ী হাসান (حسن), সহীহ (صحة) অথবা দুর্বল (ضعف) হওয়ার হুকুম দেওয়া হবে। আর এটিই সঠিক।

তবে শায়খ আবু আমর (রহ.) এর মত হলো, বর্তমান যুগে সহীহ সাব্যস্তকরণের (التصحيح) ধারা বন্ধ হয়ে গেছে, তাই কারো জন্য নতুন করে সহীহ (يصحح) বলার সুযোগ নেই। একারণেই তিনি এর অনুসন্ধানের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

তাঁর উক্তি: "এবং এর হুকুমের ক্ষেত্রে আবু হাতিম ইবনে হিব্বান আল-বুস্তির 'সহীহ' গ্রন্থটি এর কাছাকাছি।" সমাপ্ত।

পরবর্তী যুগের কেউ কেউ তাঁর কথা থেকে ইবনে হিব্বানের কিতাবের চেয়ে আল-হাকিমের কিতাবকে অগ্রাধিকার (ترجيح) দেওয়া বুঝেছেন। তাই তিনি তাঁর এই কথার ওপর আপত্তি জানিয়ে বলেছেন: "ইবনে হিব্বানের সহীহ গ্রন্থের ব্যাপারে বলা যায়, যে ব্যক্তি এর শর্ত (شرط) সম্পর্কে জানে এবং তাঁর বক্তব্য বিবেচনা করে..."
(খণ্ড: ১) আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
تعالى عنهما لم يلتزم مصنفوها فيها موافقتهما في ألفاظ إلاحاديث بعينها من غير زيادة ونقصان لكونهم رووا تلك إلاحاديث من غير جهة البخاري ومسلم طلبا لعلو الإسناد فحصل فيها بعض التفاوت في إلالفاظ.

وهكذا ما أخرجه المؤلفون في تصانيفهم المستقلة: كالسنن الكبير للبيهقي وشرح السنة لأبي محمد البغوي وغيرهما مما قالوا فيه: أخرجه البخاري أو مسلم فلا يستفاد بذلك أكثر من أن البخاري أو مسلما أخرج أصل ذلك الحديث مع احتمال أن يكون بينهما تفاوت في اللفظ وربما كان تفاوتا في بعض المعنى فقد وجدت في ذلك ما فيه بعض التفاوت من حيث المعنى.

وإذا كان إلامر في ذلك على هذا فليس لك أن تنقل حديثا منها وتقول: هو على هذا الوجه في كتاب البخاري أو كتاب مسلم إلا أن تقابل لفظه أو يكون الذي خرجه قد قال أخرجه البخاري بهذا اللفظ بخلاف الكتب المختصرة من الصحيحين فإن مصنفيها نقلوا فيها ألفاظ الصحيحين أو أحدهما. غير أن الجمع بين الصحيحين للحميدي إلاندلسي منها يشتمل على زيادة تتمات لبعض إلاحاديث كما قدمنا ذكره فربما نقل من لا يميز بعض ما يجده فيه عن الصحيحين أو أحدهما وهو مخطئ لكونه من تلك الزيادات التي لا وجود لها في واحد من الصحيحين.

ثم إن التخاريج المذكورة على الكتابين يستفاد منها فائدتان: إحداهما: علو الإسناد. والثانية: الزيادة في قدر الصحيح لما يقع فيها من ألفاظ زائدة وتتمات في بعض إلاحاديث يثبت صحتها بهذه التخاريج لأنها واردة بإلاسانيد الثابتة في الصحيحين أو أحدهما وخارجة من ذلك المخرج الثابت والله أعلم.

--------------------------------------------

عرف سموه على كتاب الحاكم وما فهمه هذا المعترض من كلام المصنف ليس بصحيح وإنما أراد أنه يقاربه في التساهل فالحاكم أشد تساهلا منه وهو كذلك قال الحازمى ابن حبان أمكن في الحديث من الحاكم.

"قوله" ثم ان التخاريج المذكورة على الكتابين يستفاد منها فائدتان فذكرهما.
মহান আল্লাহ তাদের উভয়ের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, এই কিতাবসমূহের সংকলকগণ হাদিসের মূল শব্দাবলীতে কোনো প্রকার হ্রাস-বৃদ্ধি ছাড়াই বুখারি ও মুসলিমের শব্দাবলীর সাথে হুবহু মিল রক্ষা করার বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করেননি। কারণ তারা সেই হাদিসগুলো বুখারি ও মুসলিমের সূত্র ছাড়া ভিন্ন সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন উন্নত সনদ (علو الإسنাদ) অর্জনের উদ্দেশ্যে। ফলে শব্দাবলীতে কিছু পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।

একইভাবে লেখকগণ তাদের স্বাধীন সংকলনসমূহে যা বর্ণনা করেছেন, যেমন: বায়হাকির আস-সুনান আল-কাবির এবং আবু মুহাম্মদ আল-বাগভির শারহুস সুন্নাহ ও অন্যান্য কিতাব, যেগুলোতে তারা বলেছেন: "এটি বুখারি বা মুসলিম বর্ণনা করেছেন"—এ থেকে এর বেশি কিছু বোঝা যায় না যে, ইমাম বুখারি বা ইমাম মুসলিম ওই হাদিসের মূল অংশ বর্ণনা করেছেন। তবে শব্দগত পার্থক্যের সম্ভাবনা থেকে যায় এবং কখনও কখনও অর্থগত পার্থক্যও হতে পারে। আমি এমন কিছু বর্ণনা পেয়েছি যেখানে অর্থের দিক থেকেও কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে।

বিষয়টি যেহেতু এই রূপ, তাই আপনার জন্য ঐ কিতাবগুলো থেকে কোনো হাদিস উদ্ধৃত করে এ কথা বলা বৈধ নয় যে: "এটি বুখারি বা মুসলিমের কিতাবে এই শব্দেই রয়েছে," যতক্ষণ না আপনি মূল পাঠের সাথে শব্দ মিলিয়ে দেখেন অথবা সংশ্লিষ্ট সংকলক নিজেই এ কথা বলেন যে "বুখারি এই শব্দেই এটি বর্ণনা করেছেন।" তবে সহিহাইন-এর সংক্ষিপ্ত কিতাবসমূহ এর ব্যতিক্রম, কারণ সেগুলোর সংকলকগণ সহিহাইন অথবা দুটির যেকোনো একটির মূল শব্দাবলিই উদ্ধৃত করেছেন। তবে আল-হুমাইদি আল-আন্দালুসির আল-জামউ বাইনাস সহিহাইন কিতাবটি কিছু হাদিসের বর্ধিত অংশ ও পরিশিষ্টাংশ সমৃদ্ধ, যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। ফলে অনেক সময় এমন ব্যক্তি যিনি পার্থক্য করতে পারেন না, তিনি এতে যা পান তার কিছু অংশ সহিহাইন বা দুটির যেকোনো একটির দিকে ভুলবশত সম্বন্ধ করেন; অথচ তা ওই সকল অতিরিক্ত অংশের অন্তর্ভুক্ত যার অস্তিত্ব সহিহাইনের কোনোটিতেই নেই।

অতঃপর, এই দুই কিতাবের ওপর যে মুস্তাখরাজসমূহ রচিত হয়েছে তা থেকে দুটি ফায়দা অর্জিত হয়: প্রথমটি হলো: উন্নত সনদ (علو الإسنাদ)। দ্বিতীয়টি হলো: সহিহ বর্ণনার পরিধি বৃদ্ধি পাওয়া; কারণ এই কিতাবগুলোতে এমন কিছু অতিরিক্ত শব্দ ও পরিশিষ্টাংশ পাওয়া যায় যার বিশুদ্ধতা (صحة) এই মুস্তাখরাজগুলোর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। কেননা সেগুলো সহিহাইন বা দুটির যেকোনো একটির প্রমাণিত সনদের মাধ্যমেই বর্ণিত হয়েছে এবং সেই নির্ভরযোগ্য উৎস থেকেই উৎসারিত। আল্লাহ অধিক অবগত।

--------------------------------------------

হাকিমের কিতাবের ওপর এর শ্রেষ্ঠত্ব সুবিদিত। এই আপত্তিকারী লেখকের কথা থেকে যা বুঝেছেন তা সঠিক নয়। তিনি কেবল এ কথা বুঝাতে চেয়েছেন যে এটি শিথিলতার (تساهل) দিক থেকে তার (হাকিমের) কাছাকাছি। প্রকৃতপক্ষে হাকিম তার চেয়েও বেশি শিথিলতা (تساهل) প্রদর্শনকারী এবং বিষয়টি এমনই। হাজিমি বলেছেন: ইবনে হিব্বান হাদিস শাস্ত্রে হাকিমের চেয়ে অধিক পারদর্শী।

"তার কথা" অতঃপর এই দুই কিতাবের ওপর উক্ত মুস্তাখরাজগুলো থেকে দুটি ফায়দা অর্জিত হয়, এরপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
السادسة:ما أسنده البخاري ومسلم رحمهما الله في كتابيهما بالإسناد المتصل فذلك الذي حكما بصحته بلا إشكال.

وأما المعلق وهو الذي حذف من مبتدأ إسناده واحد أو أكثر وأغلب ما وقع ذلك في كتاب البخاري وهو في كتاب مسلم قليل جدا ففي بعضه نظر.

--------------------------------------------

ولو قال أن هاتين الفائدتين من فائدة المستخرجات كان أحسن فإن فيها غير هاتين الفائدتين فمن ذلك تكثير طرق الحديث ليرجح بها عند التعارض.

قوله وأما الذي حذف من مبتدأ إسناده واحد أو أكثر وأغلب ما وقع ذلك في البخاري وهو في كتاب مسلم قليل جدا ففي بعضه نظر وينبغي أن يقول ما كان من ذلك ونحوه بلفظ فيه جزم وحكم به على من علقه عنه فقد حكم بصحته عنه مثاله قال رسول الله صلى الله عليه وسلم كذا وكذا قال ابن عباس كذا قال مجاهد كذا قال عفان كذا قال القعنبي كذا روى أبو هريرة كذا وما أشبه ذلك من العبارات فكل ذلك حكم منه على من ذكره عنه بأنه قد قال ذلك ورواه فلن يستجيز إطلاق ذلك إلا إذا صح عنده ذلك عنه ثم اذا كان الذي علق الحديث عنه دون الصحابة فالحكم بصحته يتوقف على اتصال الإسناد بينه وبين الصحابى

وأما ما لم يكن في لفظه جزم وحكم مثل روى عن رسول الله صلى الله عليه وسلم كذا وكذا وروى عن فلان كذا وفي الباب عن النبي صلى الله عليه وسلم كذا وكذا وما أشبهه من إلالفاظ ليس منه حكم منه بصحة ذلك من ذكره عنه لأن مثل هذه العبارات تستعمل في الحديث الضعيف أيضا ومع ذلك فإيراده له في أثناء الصحيح مستعد بصحة أصله إشعارا يؤنس به ويركن إليه والله أعلم انتهى كلامه.

وفيه أمور أحدها أن قوله وهو في مسلم قليل جدا هو ما ذكر ولكنى رأيت أن أبين موضع ذلك القليل ليضبط فمن ذلك قول مسلم في التيمم وروى الليث ابن سعد حدثني جعفر بن ربيعة عن عبد الرحمن بن هرمز إلاعرج عن عمير مولى بن عباس أنه سمعه يقول أقبلت أنا وعبد الله بن يسار مولى ميمونة زوج النبي صلى الله عليه وسلم حتى دخلنا على أبى الجهيم بن الحارث بن العمة إلانصارى فقال أبو الجهيم أقبل رسول الله صلى الله عليه وسلم من نحو بير جمل الحديث.
ষষ্ঠ (বিষয়): ইমাম বুখারি এবং ইমাম মুসলিম (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁদের কিতাবদ্বয়ে যা নিরবচ্ছিন্ন সনদ (الإسناد المتصل)-এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, সেটিকেই তাঁরা কোনো সংশয় ছাড়াই সহিহ (بصحته) হওয়ার হুকুম দিয়েছেন।

আর মুয়াল্লাক (المعلق) হচ্ছে সেটি, যার সনদের শুরু থেকে একজন বা একাধিক রাবিকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর অধিকাংশ বুখারি শরীফে ঘটেছে এবং মুসলিম শরীফে এটি খুবই কম। তবে এর কিছু অংশের ক্ষেত্রে পর্যালোচনা (نظر) রয়েছে।

--------------------------------------------

যদি তিনি বলতেন যে এই দুটি উপকারিতা মুস্তাখরাজাত (المستخرجات)-এর উপকারিতার অন্তর্ভুক্ত, তবে তা অধিকতর উত্তম হতো। কেননা তাতে এই দুটি ছাড়া আরও উপকারিতা রয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো হাদিসের সূত্রের (طرق) আধিক্য, যার মাধ্যমে বিরোধপূর্ণ বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া যায়।

তাঁর কথা— "আর যা সনদের শুরু থেকে একজন বা একাধিক রাবিকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং যার অধিকাংশ বুখারি শরীফে ঘটেছে ও মুসলিম শরীফে খুবই কম, তাতে পর্যালোচনা রয়েছে"—এখানে বলা উচিত ছিল যে, যা এমন শব্দে বর্ণিত হয়েছে যাতে নিশ্চয়তা (جزم) রয়েছে এবং যার থেকে মুয়াল্লাক বর্ণনা করা হয়েছে তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত (حكم) প্রদান করা হয়েছে, তবে তার পক্ষ থেকে সেটিকে সহিহ (بصحته) হিসেবে হুকুম দেওয়া হয়েছে। এর উদাহরণ হলো: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে বলেছেন, ইবনে আব্বাস এভাবে বলেছেন, মুজাহিদ এভাবে বলেছেন, আফফান এভাবে বলেছেন, আল-কানাবি এভাবে বলেছেন, আবু হুরায়রা এভাবে বর্ণনা করেছেন এবং এই জাতীয় অন্যান্য অভিব্যক্তি। এই সবকিছুর মাধ্যমে তিনি যার উদ্ধৃতি দিয়েছেন তার ব্যাপারে এই হুকুম দিয়েছেন যে, তিনি অবশ্যই তা বলেছেন এবং বর্ণনা করেছেন। তিনি এরুপ ব্যবহারের অনুমতি দিতেন না যদি না সেটি তাঁর নিকট সহিহ (صح) হিসেবে প্রমাণিত হতো। অতঃপর, যার থেকে হাদিসটি মুয়াল্লাক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে তিনি যদি সাহাবির নিচের স্তরের হন, তবে সেটি সহিহ (بصحته) হওয়ার হুকুমটি তাঁর এবং সাহাবির মধ্যকার সনদের নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال الإسناد)-এর ওপর নির্ভর করবে।

আর যাতে নিশ্চয়তাসূচক শব্দ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত (حكم) নেই, যেমন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে..., অমুক থেকে বর্ণিত হয়েছে..., এই অধ্যায়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আছে... এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ—এগুলো যার থেকে বর্ণনা করা হয়েছে তার বর্ণনার সহিহ (بصحة) হওয়ার ব্যাপারে তাঁর পক্ষ থেকে কোনো হুকুম নয়। কারণ এই ধরনের অভিব্যক্তি দুর্বল (الضعيف) হাদিসের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। তা সত্ত্বেও, সহিহ কিতাবের মধ্যে এটি উল্লেখ করা এর মূল বর্ণনার বিশুদ্ধতার প্রতি একটি ইঙ্গিত যা দ্বারা আশ্বস্ত হওয়া যায় এবং নির্ভর করা যায়। আল্লাহই ভালো জানেন। এখানেই তাঁর কথা শেষ।

এতে কয়েকটি বিষয় রয়েছে। প্রথমত: তাঁর কথা "মুসলিম শরীফে এটি খুবই কম", তা আপনি উল্লেখ করেছেন। তবে আমি সেই অল্পসংখ্যক বর্ণনার স্থানগুলো স্পষ্ট করা সমীচীন মনে করছি যাতে তা সংরক্ষিত থাকে। তার মধ্যে একটি হলো তায়াম্মুম অধ্যায়ে ইমাম মুসলিমের বক্তব্য: "লায়স ইবনে সাদ বর্ণনা করেছেন, জাফর ইবনে রাবিয়াহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুর রহমান ইবনে হুরমুজ আল-আরাজ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস উমাইর থেকে, তিনি তাঁকে বলতে শুনেছেন: আমি এবং মুমিন জননী মিমুনার মুক্তদাস আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াসার আবু জুহাইম ইবনে হারিস ইবনে সুম্মাহ আল-আনসারির নিকট গেলাম। আবু জুহাইম বললেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বি'র জামাল-এর দিক থেকে আসছিলেন..." (বাকি হাদিস)।
(খণ্ড: ১) আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وينبغي أن تقول: ما كان من ذلك ونحوه بلفظ فيه جزم وحكم به على من علقه عنه فقد حكم بصحته عنه. مثاله: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: كذا وكذا قال: ابن عباس كذا قال مجاهد: كذا قال عفان: كذا. قال القعنبي: كذا روى أبو هريرة كذا وكذا وما أشبه ذلك من العبارات. فكل ذلك حكم منه على من ذكره عنه بأنه قد قال ذلك ورواه فلن يستجيز إطلاق ذلك إلا إذا صح عنده ذلك عنه.

--------------------------------------------

وقال مسلم في البيوع وروى الليث بن سعد حدثني جعفر بن ربيعة عن عبد الرحمن ابن هرمز عن عبد الله بن كعب بن مالك عن كعب بن مالك أنه كان له مال على عبد الله بن أبى حدرد إلاسلمى الحديث.

وقال مسلم في الحدود وروى الليث أيضا عن عبد الرحمن بن خالد بن مسافر عن ابن شهاب بهذا الإسناد مثله وهذان الحديثان إلاخيران قد رواهما مسلم قبل هذين الطريقين متصلا ثم عقبهما بهذين الإسنادين المعلقين فعلى هذا ليس في كتاب مسلم بعد المقدمة حديث معلق لم يوصله إلا حديث أبى الجهم المذكور وفيه بقية أربعة عشر موضعا رواه متصلا ثم عقبه بقول ورواه فلان وقد جمعها الرشيد العطار في الغرر والمجموعة وقد تبينت ذلك كله في كتاب جمعته فيما تكلم فيه من أحاديث الصحيحين بضعف أو انقطاع والله أعلم.

إلامر الثانى أن قوله في أمثلة ما حذف من مبتدإ إسناده واحد أو أكثر قال عفان كذا قال القعنبي كذا ليس بصحيح ولم يسقط من هذا الإسناد شئ فإن عفان والعقنبي كلاهما من شيوخ البخاري الذين سمع منهم فما روى عنهما ولو بصيغة لا نقتضى التصريح بالسماع فهو محمول على إلاتصال وقد ذكره ابن الصلاح كذلك على الصواب في النوع الحادى عشر من كتابه في الرابع من التفريعات التي ذكرها فيه فأنكر على ابن حزم حكمه بإلانقطاع على حديث أبى مالك إلاشعرى أو أبى عامر في تحريم المعازف لأن البخاري أورده قائلا فيه قال هشام بن عمار وهشام بن عمار أحد شيوخ البخاري وذكر المصنف هنا من أمثلة التعليق قال رسول الله صلى الله عليه وسلم كذا وكذا قال ابن عباس كذا وكذا روى أبو هريرة كذا وكذا قال الزهري عن أبى سلمة

আপনার বলা উচিত: এই জাতীয় বর্ণনার মধ্যে যা নিশ্চিতবোধক (جزم) শব্দে বর্ণিত হয়েছে এবং যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট রাবি থেকে বর্ণনাটি মুআল্লাক (علقه) করা হয়েছে, তবে তিনি এর দ্বারা ওই রাবি থেকে বর্ণনাটির বিশুদ্ধতার (صحة) ফয়সালা দিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: এমন এবং এমন; ইবনে আব্বাস বলেছেন: এমন; মুজাহিদ বলেছেন: এমন; আফফান বলেছেন: এমন; কা'নাবি বলেছেন: এমন; আবু হুরায়রা বর্ণনা (روى) করেছেন: এমন এবং এমন—এবং এই জাতীয় অন্যান্য শব্দসমষ্টি। এই সবকিছুর দ্বারা তিনি যার পক্ষ থেকে উল্লেখ করেছেন তাঁর ওপর এই বিধান দিয়েছেন যে, তিনি তা বলেছেন এবং বর্ণনা (رواه) করেছেন। তিনি এই জাতীয় শব্দের প্রয়োগ বৈধ মনে করেন না যতক্ষণ না তা তাঁর নিকট সংশ্লিষ্ট রাবি থেকে বিশুদ্ধ (صح) বলে প্রমাণিত হয়।

--------------------------------------------

ইমাম মুসলিম 'ক্রয়-বিক্রয়' অধ্যায়ে বলেছেন: লাইস ইবনে সাদ বর্ণনা (روى) করেছেন, জাফর ইবনে রাবিআ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবদুর রহমান ইবনে হুরমুজ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে কাব ইবনে মালিক থেকে, তিনি কাব ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে আবি হাদরাদ আল-আসলামির নিকট তাঁর কিছু পাওনা ছিল— (সম্পূর্ণ হাদিস)।

ইমাম মুসলিম 'দণ্ডবিধি' অধ্যায়ে আরও বলেছেন: লাইস একইভাবে বর্ণনা (روى) করেছেন আবদুর রহমান ইবনে খালিদ ইবনে মুসাফির থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে এই একই সনদ (إسناد) দ্বারা অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এই শেষোক্ত হাদিস দুটি ইমাম মুসলিম উক্ত দুই সূত্রের আগে নিরবচ্ছিন্ন (متصلا) সনদে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর সেগুলোর পরে উক্ত দুই মুআল্লাক (معلق) সনদ যুক্ত করেছেন। এর ভিত্তিতে, মুকাদ্দিমার পর সহিহ মুসলিম গ্রন্থে এমন কোনো মুআল্লাক (معلق) হাদিস নেই যা তিনি অন্য স্থানে সংযুক্ত (موصل) করেননি, কেবল আবু জাহমের উল্লিখিত হাদিসটি ব্যতীত। এছাড়া আরও চৌদ্দটি স্থান রয়েছে যেখানে তিনি তা নিরবচ্ছিন্ন (متصلا) সনদে বর্ণনা (رواه) করার পর বলেছেন, 'অমুক ব্যক্তিও এটি বর্ণনা (رواه) করেছেন'। রশিদ আল-আত্তার এগুলোকে 'আল-গুরার' এবং 'আল-মাজমুআ' গ্রন্থে একত্রিত করেছেন। আমি আমার সংকলিত গ্রন্থে এই সবকিছু স্পষ্ট করেছি, যেখানে সহিহাইন-এর ওই হাদিসগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যেগুলোতে দুর্বলতা (ضعف) বা বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) রয়েছে। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

দ্বিতীয় বিষয় হলো, সনদের (إسناد) শুরু থেকে এক বা একাধিক রাবি বাদ পড়ার উদাহরণ হিসেবে তাঁর এই বক্তব্য—'আফফান বলেছেন এমন', 'কা'নাবি বলেছেন এমন'—তা সঠিক (صحيح) নয়। এই সনদ (إسناد) থেকে কিছুই বাদ পড়েনি, কেননা আফফান এবং কা'নাবি উভয়ই ইমাম বুখারির উস্তাদ (شيوخ), যাঁদের থেকে তিনি সরাসরি শ্রবণ করেছেন। সুতরাং তাঁদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, যদিও তা সরাসরি শ্রবণের (سماع) দাবি রাখে এমন শব্দে না হয়, তবুও তা নিরবচ্ছিন্নতা (اتصال) হিসেবে গণ্য হবে। ইবনে সালাহও তাঁর কিতাবের একাদশ প্রকারের চতুর্থ পরিচ্ছেদে বিষয়টি এভাবেই সঠিকভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি ইমাম ইবনে হাজমের ওই হুকুমের প্রতিবাদ করেছেন যেখানে তিনি আবু মালিক আল-আশআরি অথবা আবু আমিরের বাদ্যযন্ত্র হারাম হওয়া সংক্রান্ত হাদিসটিকে বিচ্ছিন্ন (انقطاع) বলেছেন। কারণ ইমাম বুখারি এটি বর্ণনা করতে গিয়ে 'হিশাম ইবনে আম্মার বলেছেন' শব্দ ব্যবহার করেছেন, আর হিশাম ইবনে আম্মার ইমাম বুখারির অন্যতম উস্তাদ (شيوخ)। গ্রন্থকার এখানে মুআল্লাক (تعليق) বর্ণনার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: এমন এবং এমন', 'ইবনে আব্বাস বলেছেন: এমন এবং এমন', 'আবু হুরায়রা বর্ণনা (روى) করেছেন: এমন এবং এমন', 'জুহরি আবু সালামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন'।
(খণ্ড: ১) আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
ثم إذا كان الذي علق الحديث عنه دون الصحابة: فالحكم بصحته يتوقف على اتصال الإسناد بينه وبين الصحابي وأما ما لم يكن في لفظه جزم وحكم مثل: روي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم كذا وكذا أو روي عن فلان كذا أو في الباب عن النبي صلى الله عليه وسلم كذا وكذا فهذا وما أشبهه من إلالفاظ ليس في شيء منه حكم منه بصحة ذلك عمن ذكره عنه لأن مثل هذه العبارات تستعمل في الحديث الضعيف أيضا. ومع ذلك فإيراده له في أثناء الصحيح مشعر بصحة أصله إشعارا يؤنس به ويركن إليه والله أعلم.

--------------------------------------------

عن أبى هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم كذا وكذا وهكذا إلى شيوخ شيوخه قال وأما ما أورده كذلك عن شيوخه فهو من قبيل ما ذكرناه قريبا في الثالث من هذه التفريعات انتهى كلامه وسيأتي هناك ذكر ما يعكر على كلامه فراجعه والذي ذكره في ثالث التفريعات أن من روى عمن لقيه بأى لفظ كان فإن حكمه إلاتصال بشرط السلامة من التدليس هذا حاصل ما ذكره وهو الصواب وليس البخاري مدلسا ولم يذكره أحد بالتدليس فيما رأيت إلا أبا عبد الله بن منده فإنه قال في جزء له في اختلاف إلائمة في القراءة والسماع والمناولة والإجازة أخرج البخاري في كتبه الصحيحة وغيرها قال لنا فلان وهى إجازة وقال فلان وهو تدليس قال وكذلك مسلم أخرجه على هذا انتهى كلام ابن منده وهو مردود عليه ولم يوافقه عليه أحد علمته.

والدليل على بطلان كلامه أنه ضم مع البخاري مسلما في ذلك ولم يقل مسلم في صحيحه بعد المقدمة عن أحد من شيوخه قال فلان وإنما روى عنهم بالتصريح فهذا يدلك على توهين كلام ابن منده لكن سيأتي في النوع الحادى عشر ما يدلك على أن البخاري قد يذكر الشئ عن بعض شيوخه ويكون بينهما واسطة وهذا هو التدليس فالله أعلم.

إلامر الثالث أن قوله ثم إذا كان الذي علق عنه الحديث دون الصحابة فالحكم بصحته يتوقف على اتصال الإسناد بينه وبين الصحابى فيه نقص لابد منه وهو
অতঃপর যদি এমন কারও থেকে হাদিসটি মুআল্লাক (علق) করা হয় যিনি সাহাবীর (الصحابة) পরবর্তী স্তরের, তবে তার বিশুদ্ধতার (بصحته) হুকুম নির্ভর করবে তার এবং সাহাবীর মধ্যবর্তী সনদের নিরবচ্ছিন্নতার (اتصال الإسناد) ওপর। আর যেসব শব্দের মধ্যে দৃঢ়তা বা নিশ্চয়তা প্রকাশ পায় না, যেমন: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন এমন বর্ণিত (روي) হয়েছে' অথবা 'অমুক থেকে এমন বর্ণিত হয়েছে' কিংবা 'এই অধ্যায়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন এমন রয়েছে'—এগুলো এবং এই জাতীয় শব্দাবলির কোনোটির মাধ্যমেই সেই ব্যক্তির পক্ষ থেকে উক্ত বর্ণনাটি বিশুদ্ধ (بصحة) হওয়ার বিষয়ে কোনো হুকুম বা সিদ্ধান্ত প্রদান করা হয় না; কারণ এই ধরনের অভিব্যক্তিগুলো দুর্বল (الضعيف) হাদিসের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। তা সত্ত্বেও, সহিহ বর্ণনাসমূহের মাঝে এটি উল্লেখ করা হাদিসটির মূল বক্তব্যের বিশুদ্ধতা (بصحة) সম্পর্কে এমন একটি ইঙ্গিত দেয় যা দ্বারা আশ্বস্ত হওয়া যায় এবং যার ওপর নির্ভর করা যায়। আল্লাহই ভালো জানেন।

--------------------------------------------

আবু হুরায়রা থেকে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন এমন, এবং একইভাবে তার শিক্ষকদের শিক্ষক পর্যন্ত। তিনি বলেন, আর তিনি তার শিক্ষকদের থেকে একইভাবে যা বর্ণনা করেছেন, তা এই পরিচ্ছেদগুলোর তৃতীয় ভাগের আলোচনার অন্তর্ভুক্ত। তার কথা এখানেই শেষ। সেখানে এমন কিছু বিষয় আসবে যা তার বক্তব্যের পরিপন্থী হতে পারে, তাই সেটি দেখে নিন। তিনি তৃতীয় পরিচ্ছেদে যা উল্লেখ করেছেন তা হলো: যে ব্যক্তি তার সাক্ষাৎপ্রাপ্ত কোনো রাবী থেকে যেকোনো শব্দে বর্ণনা করেন, তবে তার হুকুম নিরবচ্ছিন্ন (الاتصال) হিসেবে গণ্য হবে, যদি তা তাদলিস (التدليس) থেকে মুক্ত থাকার শর্ত পূরণ করে। এটিই তার আলোচনার সারসংক্ষেপ এবং এটিই সঠিক। ইমাম বুখারী কোনো মুদাল্লিস (مدلسا) ছিলেন না এবং আমি আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মান্দাহ ছাড়া আর কাউকেই তাকে তাদলিসের (بالتدليس) সাথে অভিযুক্ত করতে দেখিনি। ইবনে মান্দাহ কিরাত (পঠন), সামা’ (শ্রবণ), মুনাওয়ালা (হস্তান্তর) এবং ইজাজাহ (إجازة) সংক্রান্ত ইমামদের মতভেদ নিয়ে রচিত তার একটি পুস্তিকায় বলেছেন: বুখারী তার সহিহ এবং অন্যান্য কিতাবে উল্লেখ করেছেন 'আমাদের কাছে অমুক বলেছেন' আর এটি মূলত ইজাজাহ (إجازة); আবার তিনি বলেছেন 'অমুক বলেছেন' আর এটি মূলত তাদলিস (تدليس)। তিনি আরও বলেন, মুসলিমও একইভাবে তা বর্ণনা করেছেন। ইবনে মান্দাহর এই বক্তব্যটি প্রত্যাখ্যানযোগ্য এবং আমার জানামতে এ বিষয়ে কেউ তার সাথে একমত হননি।

তার বক্তব্যের অসারতার প্রমাণ হলো তিনি বুখারীর সাথে মুসলিমকেও এতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন, অথচ মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থের মুকাদ্দিমার পর তার কোনো উস্তাদ সম্পর্কে 'অমুক বলেছেন' এ জাতীয় শব্দ ব্যবহার করেননি; বরং তিনি সরাসরি শ্রবণের নিশ্চয়তাপ্রদানকারী শব্দে তাদের থেকে বর্ণনা করেছেন। এটিই আপনাকে ইবনে মান্দাহর বক্তব্যের দুর্বলতা বুঝিয়ে দেবে। তবে সামনে একাদশ প্রকারে এমন কিছু বিষয় আসবে যা আপনাকে নির্দেশ করবে যে, বুখারী কখনও কখনও তার কোনো কোনো উস্তাদ থেকে কোনো কিছু বর্ণনা করেন অথচ তাদের মাঝে একজন মধ্যস্থতাকারী থাকে, আর এটিই হলো তাদলিস (التدليس)। আল্লাহই ভালো জানেন।

তৃতীয় বিষয়টি হলো, তার এই উক্তি: 'অতঃপর যদি এমন কারও থেকে হাদিসটি মুআল্লাক (علق) করা হয় যিনি সাহাবীর (الصحابة) পরবর্তী স্তরের, তবে তার বিশুদ্ধতার (بصحته) হুকুম নির্ভর করবে তার এবং সাহাবীর মধ্যবর্তী সনদের নিরবচ্ছিন্নতার (اتصال الإسناد) ওপর'—এ কথার মধ্যে একটি অপরিহার্য অপূর্ণতা রয়েছে, আর তা হলো
(খণ্ড: ১) আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
...................................................................................

--------------------------------------------

أنه يشترط مع اتصاله ثقة من أبرزه من رجاله ويحترز بذلك عن مثل قول البخاري وقال بهز بن حكيم عن أبيه عن جده عن النبي صلى الله عليه وسلم الله أحق أن يستحى منه وقد ذكر المصنف بعد هذا أن هذا ليس من شرط البخاري قطعا قال ولذلك لم يورده الحميدي في جمعه بين الصحيحين.

إلامر الرابع أنه اعترض على المصنف فيما قاله من ان ما كان مجزوما به فقد حكم بصحته عمن علقه عنه وما لم يكن مجزوما به فليس فيه حكم بصحته وذلك لأن البخاري يورد بصيغة الشئ التمريض ثم يخرجه في صحيحه مسندا ويجزم بالشئ وقد يكون لا يصح ثم استدل المعترض بذلك بأن البخاري قال في كتاب الصلاة ويذكر عن أبى موسى كنا نتناوب النبي صلى الله عليه وسلم عند صلاة العشاء ثم أسنده في باب فضل العشاء وقال في كتاب الطب ويذكر عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم في الرقى بفاتحة الكتاب وهو مذكور عنده هكذا قال حدثنا سيدان بن مضارب حدثني أبو معشر البراء حدثنا عبد الله بن إلاخنس عن ابن أبى مليكة عن ابن عباس به وقال في كتاب إلاشخاص ويذكر عن جابر (أن النبي صلى الله عليه وسلم رد على المتصدق صدقته قال وهو) حديث صحيح عنده دبر رجل عبدا ليس له مال غيره فباعه النبي صلى الله عليه وسلم من نعيم بن النحام وقال في كتاب الطلاق ويذكر عن على بن أبى طالب وبن المسيب وذكر نحوا من ثلاثة وعشرين تابعيا كذا قال وفيها ما هو صحيح عنده وفيها ما هو ضعيف أيضا ثم استدل على الثانى بأن البخاري قال في كتاب التوحيد في باب وكان عرشه على الماء إثر حديث أبى سعيد الناس يصعقون يوم القيامة فإذا أنا بموسى قال وقال الماجشون وعن عبد الله بن الفضل عن أبى سلمة عن أبى هريرة فأكون أول من بعث فذكر في أحاديث إلانبياء حديث الماجشون هذا عن عبد الله بن الفضل عن إلاعرج عن أبى هريرة وكذا رواه مسلم والنسائى ثم قال قال أبو مسعود إنما يعرف عن الماجشون عن ابن الفضل عن إلاعرج انتهى ما اعترض به عليه.

والجواب أن ابن الصلاح لم يقل إن صيغة التمريض لا تستعمل إلا في الضعيف بل في كلامه أنها تستعمل في الصحيح أيضا إلا ترى قوله لأن مثل هذه العبارات
...................................................................................

--------------------------------------------

এর সাথে শর্ত করা হয়েছে যে, এর সংযুক্ততার (اتصال) পাশাপাশি এর বর্ণনাকারীদের (رجال) মধ্য থেকে যিনি একে প্রকাশ করেছেন তাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) হতে হবে। এর মাধ্যমে ইমাম বুখারির সেই উক্তির মতো বিষয়গুলো থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে যেখানে তিনি বলেছেন: "বাহজ ইবনে হাকিম তার পিতা থেকে, তিনি তার দাদা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে—আল্লাহ তাআলাই অধিক হকদার যে তাঁকে লজ্জা করা হবে।" গ্রন্থকার এরপর উল্লেখ করেছেন যে, এটি নিশ্চিতভাবেই বুখারির শর্তের অন্তর্ভুক্ত নয়। তিনি বলেন, একারণেই আল-হুমাইদি তার সাহিহাইন সংকলনে এটি উল্লেখ করেননি।

চতুর্থ বিষয় হলো, গ্রন্থকার যা বলেছেন সে বিষয়ে আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেছিলেন: যা সুনিশ্চিত রূপে (جزم) বর্ণিত হয়েছে, তা যাঁর পক্ষ থেকে মুআল্লাক (تعليق) করা হয়েছে তাঁর সূত্রে সহিহ (صحيح) বলে গণ্য হবে। আর যা সুনিশ্চিত রূপে বর্ণিত হয়নি, তাতে সহিহ (صحيح) হওয়ার কোনো হুকুম নেই। এর কারণ হলো, ইমাম বুখারি কোনো বিষয়কে দুর্বলতাসূচক শব্দ (تمريض) প্রয়োগ করে উল্লেখ করেন, আবার পরবর্তীতে সেটিকেই তাঁর সহিহ গ্রন্থে মুসনাদ (مسند) হিসেবে বর্ণনা করেন। আবার কখনও কোনো বিষয় সুনিশ্চিত রূপে (جزم) উল্লেখ করেন অথচ সেটি সহিহ (صحيح) না-ও হতে পারে। এরপর আপত্তিকারী এর প্রমাণ হিসেবে পেশ করেন যে, ইমাম বুখারি কিতাবুস সালাত-এ বলেছেন: "আবু মুসা থেকে বর্ণিত আছে যে, আমরা এশার সালাতের সময় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পালাক্রমে আসতাম।" এরপর তিনি একে 'ফাদলুল এশা' অধ্যায়ে মুসনাদ (مسند) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আবার কিতাবুত তিব-এ ইবনে আব্বাস থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে সূরা ফাতিহার মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক করার বিষয়ে 'বর্ণিত আছে' শব্দে উল্লেখ করেছেন, অথচ এটি তাঁর নিকট এভাবে বর্ণিত হয়েছে: সাইদান ইবনে মুদারিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু মাশার আল-বারা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আবদুল্লাহ ইবনুল আখনেস ইবনে আবি মুলাইকা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। আবার কিতাবুল ইশখাস-এ তিনি জাবের থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক সাদাকাকারীর সাদাকা তাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, এটি তাঁর নিকট একটি সহিহ (صحيح) হাদিস: এক ব্যক্তি তার এমন এক গোলামকে মুদাব্বার (আজাদ করার অঙ্গীকার) করেছিল যার সে গোলাম ছাড়া আর কোনো সম্পদ ছিল না, ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটি নুআইম ইবনুন্নাহহামের নিকট বিক্রি করে দিয়েছিলেন। তিনি কিতাবুত তালাক-এ আলী ইবনে আবি তালিব এবং ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেন এবং প্রায় তেইশজন তাবেয়ির কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এর মধ্যে এমন কিছু আছে যা তাঁর নিকট সহিহ (صحيح) এবং এমন কিছুও আছে যা দুর্বল (ضعيف)। এরপর তিনি দ্বিতীয় বিষয়ের সপক্ষে দলিল পেশ করেন যে, ইমাম বুখারি কিতাবুত তাওহিদ-এর 'তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে' অধ্যায়ে আবু সাঈদের হাদিস—'কিয়ামতের দিন মানুষ বেহুঁশ হয়ে পড়বে, তখন আমি মুসাকে দেখতে পাব...'—এর পরপরই বলেছেন: আল-মাজিশুন আবদুল্লাহ ইবনুল ফাদল থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে—'আমিই হব প্রথম পুনরুত্থিত ব্যক্তি'। এরপর তিনি আহাদিসুল আম্বিয়া অংশে আল-মাজিশুনের এই হাদিসটি আবদুল্লাহ ইবনুল ফাদল, আল-আরাজ এবং আবু হুরায়রার সূত্রে উল্লেখ করেছেন। একইভাবে ইমাম মুসলিম এবং নাসায়িও এটি বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি বলেন, আবু মাসউদ বলেছেন: এটি কেবল মাজিশুন থেকে ইবনুল ফাদল ও আল-আরাজের সূত্রেই পরিচিত। তাঁর উত্থাপিত আপত্তি এখানেই শেষ।

এর উত্তর হলো, ইবনুস সালাহ এটি বলেননি যে দুর্বলতাসূচক শব্দ (تمريض) কেবল দুর্বল (ضعيف) বর্ণনার ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। বরং তাঁর কথার দ্বারা এটিও স্পষ্ট হয় যে এটি সহিহ (صحيح) বর্ণনার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। আপনি কি তাঁর এই কথাটি দেখেননি: "কারণ এই ধরনের অভিব্যক্তিগুলো..."
(খণ্ড: ১) আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
..............................................................................

--------------------------------------------

تستعمل في الحديث الضعيف أيضا فقوله أيضا دال على أنها تستعمل في الصحيح أيضا فاستعمال البخاري لها في موضع الصحيح ليس مخالفا لكلام ابن الصلاح وإنما ذكر المصنف أنا إذا وجدنا عنده حديثا مذكورا بصيغة التمريض ولم يذكره في موضع آخر من كتابه مسندا أو تعليقا مجزوما به لم يحكم عليه بالصحة وهو كلام صحيح.

ونحن لم نحكم على إلامثلة التي اعترض بها المعترض إلا بوجودها في كتابه مسنده فلو لم نجدها في كتابه إلا في مواضع التمريض لم نحكم بصحتها على أن هذه إلامثلة الثلاثة التي اعترض بها يمكن الجواب عنها بما ستراه.

والبخاري رحمه الله حيث علق ما هو صحيح إنما يأتي به بصيغة الجزم وقد يأتي به بغير صيغة الجزم لغرض آخر غير الضعف وهو إذا اختصر الحديث وآتى به بالمعنى عبر بصيغة التمريض لوجود الخلاف المشهور في جواز الرواية بالمعنى والخلاف أيضا في جواز اختصار الحديث وإن رأيت أن يتضح لك ذلك فقابل بين موضع التعليق وبين موضع الإسناد تجد ذلك واضحا.

فأما المثال إلاول فقال البخاري في باب ذكر العشاء والعتمة ويذكر عن أبى موسى كنا نتناوب النبي صلى الله عليه وسلم عند صلاة العشاء فأعتم بها ثم قال في باب فضل العشاء حدثنا محمد بن العلا حدثنا أبو أسامة عن يزيد عن أبى بردة عن أبى موسى قال كنت أنا وأصحابى الذين قدموا معى في السفينة نزولا في بقيع بطحان والنبي صلى الله عليه وسلم بالمدينة فكان يتناوب النبي صلى الله عليه وسلم عند صلاة العشاء كل ليلة نفر منهم فواقفنا النبي صلى الله عليه وسلم وله بعض الشغل في بعض أمره فأعتم بالصلاة حتى أبهار الليل الحديث.

فانظر كيف اختصره هناك وذكره بالمعنى فلهذا عدل عن الجزم لوجود الخلاف في حواز ذلك والله أعلم.

وأما المثال الثانى فقال البخاري في الطب باب الرقا بفاتحة الكتاب ويذكر عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم ثم قال بعده باب الشروط في الرقية بقطيع من الغنم سيدان بن مضارب أبو محمد الباهلى قال حدثنا أبو معشر يوسف بن يزيد البراء
..............................................................................

--------------------------------------------

এটি দুর্বল (ضعيف) হাদিসের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়; সুতরাং তার "ও" (أيضا) শব্দটি নির্দেশ করে যে এটি সহিহ (صحيح) হাদিসের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। ইমাম বুখারী কর্তৃক সহিহ (صحيح) এর স্থলে এর ব্যবহার ইবনে সালাহর বক্তব্যের বিরোধী নয়। বরং লেখক উল্লেখ করেছেন যে, আমরা যদি ইমাম বুখারীর নিকট কোনো হাদিস অনির্ভরযোগ্য বর্ণনাভঙ্গি (صيغة التمريض) দ্বারা উল্লেখিত পাই এবং তিনি কিতাবের অন্য কোথাও তা মুসনাদ হিসেবে (مسندا) অথবা দৃঢ়তাসূচক তালীক (تعليقا مجزوما) হিসেবে উল্লেখ না করেন, তবে সেটির ওপর সহিহ হওয়া (صحة) এর হুকুম দেওয়া যাবে না—আর এই কথাটি সঠিক।

আর যে উদাহরণগুলো নিয়ে আপত্তিকারী আপত্তি তুলেছেন, সেগুলোর ওপর আমরা হুকুম প্রদান করিনি কেবল তার কিতাবে মুসনাদ হিসেবে উপস্থিত থাকার কারণেই। যদি আমরা এগুলো তার কিতাবে অনির্ভরযোগ্য বর্ণনাভঙ্গির (تمريض) স্থানসমূহ ব্যতীত অন্য কোথাও না পেতাম, তবে আমরা এগুলোর সহিহ হওয়া (صحة) এর বিষয়ে হুকুম দিতাম না। তাছাড়া যে তিনটি উদাহরণ নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে, সেগুলোর জবাব আপনি সামনে যা দেখবেন তার মাধ্যমে দেওয়া সম্ভব।

ইমাম বুখারী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) যখন কোনো সহিহ (صحيح) হাদিসকে তালীক (تعليق) হিসেবে বর্ণনা করেন, তখন সাধারণত তা দৃঢ়তাসূচক শব্দ (صيغة الجزم) দ্বারাই নিয়ে আসেন। তবে কখনো কখনো দুর্বলতা (ضعف) ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে দৃঢ়তাসূচক শব্দ ছাড়া (অনির্ভরযোগ্য বর্ণনাভঙ্গিতে) বর্ণনা করেন। আর তা হলো যখন তিনি হাদিসটিকে সংক্ষেপ করেন এবং তা মর্মার্থ অনুযায়ী (بالمعنى) বর্ণনা করেন, তখন তিনি অনির্ভরযোগ্য বর্ণনাভঙ্গি (صيغة التমريض) ব্যবহার করেন। কারণ মর্মার্থ অনুযায়ী বর্ণনা এবং হাদিস সংক্ষেপ করার বৈধতা নিয়ে প্রসিদ্ধ মতভেদ রয়েছে। আপনি যদি এটি স্পষ্ট করতে চান, তবে তালীক হিসেবে বর্ণিত স্থান এবং সনদসহ বর্ণিত স্থানের মাঝে তুলনা করুন, তাহলে বিষয়টি আপনার নিকট স্পষ্ট হয়ে যাবে।

প্রথম উদাহরণের ক্ষেত্রে বলা যায়, ইমাম বুখারী 'ইশা ও আতামা-র বর্ণনা' অধ্যায়ে বলেছেন: "আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা ইশার নামাজের সময় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট পালাক্রমে আসতাম, অতঃপর তিনি তা আদায়ে বিলম্ব করলেন..." এরপর তিনি 'ইশার নামাজের ফজিলত' অধ্যায়ে বলেন: "মুহাম্মাদ ইবনুল আলা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবু উসামা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ থেকে, তিনি আবু বুরদাহ থেকে, তিনি আবু মুসা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি এবং আমার সাথে নৌকায় করে আসা সঙ্গীরা 'বাকি বুতহান' নামক স্থানে অবস্থান করছিলাম এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদীনায় ছিলেন। আমাদের থেকে একদল লোক প্রতিদিন রাতে ইশার নামাজের সময় পালাক্রমে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আসতেন। একদা আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছলাম এমতাবস্থায় যে তিনি তাঁর কোনো কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ফলে তিনি নামাজ আদায়ে বিলম্ব করলেন এমনকি রাত গভীর হয়ে গেল..." (পুরো হাদিস)।

সুতরাং লক্ষ্য করুন, তিনি সেখানে কীভাবে হাদিসটিকে সংক্ষেপ করেছেন এবং মর্মার্থ অনুযায়ী বর্ণনা করেছেন। একারণেই তিনি এর বৈধতার ব্যাপারে মতভেদ থাকার কারণে দৃঢ়তাসূচক শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থেকেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

আর দ্বিতীয় উদাহরণের ক্ষেত্রে, ইমাম বুখারী কিতাবুত তিব্ব-এর 'সূরা ফাতিহা দ্বারা ঝাড়ফুঁক' অধ্যায়ে বলেছেন: "ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সূত্রে বর্ণিত..." এরপর তিনি পরবর্তী অধ্যায় অর্থাৎ 'একপাল বকরির বিনিময়ে ঝাড়ফুঁকের শর্তসমূহ' অধ্যায়ে বলেছেন: "সাইদান ইবনে মুদারিব আবু মুহাম্মাদ আল-বাহিলী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আবু মাশার ইউসুফ ইবনে ইয়াজিদ আল-বাররা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন..."
(খণ্ড: ১) আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৩৭)
.............................................................................

--------------------------------------------

قال حدثني عبد الله بن إلاخنس أبو مالك عن ابن أبى مليكه عن ابن عباس أن نفرا من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم مروا بماء فيهم لديغ أو سليم فعرض لهم رجل من أهل الماء فقال هل فيكم من راق فإن في الماء رجلا لديفا أو سليما فانطلق رجل منهم فقرأ بفاتحة الكتاب على شاء فبرأ فجاء بالشاء إلى أصحابه فكرهوا ذلك فقالوا أخذت على كتاب الله أجرا فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن أحق ما أخذتم عليه أجرا كتاب الله " انتهى.

وإنما لم يأت به البخاري في الموضع إلاول مجزوما به لقوله فيه عن النبي صلى الله عليه وسلم والرقية بفاتحة الكتاب ليست في الحديث المتصل من قول النبي صلى الله عليه وسلم ولا من فعله وإنما ذلك من تقديره على الرقية بها وتقريره أحد وجوه السنن ولكن عزوه إلى النبي صلى الله عليه وسلم من باب الرواية بالمعنى.

والذي يدلك على أن البخاري إنما لم يجزم به لما ذكرناه أنه علقه في موضع آخر بلفظه فجزم به فقال في كتاب الإجازة باب ما يعطى في الرقية بفاتحة الكتاب.

وقال ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم أحق ما أخذتم عليه أجرا كتاب الله.

على أنه يجوز أن يكون الموضع الذي ذكره البخاري بغير إسناد عن ابن عباس مرفوعا حديثا آخر في الرقية بفاتحة الكتاب غير الحديث الذي رواه كنحو ما وقع في حديث جابر المذكور بعده.

وأما المثال الثالث فقوله رد على المتصدق صدقته هو بغيرلفظ بيع العبد المدبر بل أزيد على هذا وأقول الظاهر أن البخاري لم يرد الصدقة حديث جابر المذكور في بيع المدبر وإنما أراد والله أعلم حديث جابر في الرجل الذي دخل والنبي صلى الله عليه وسلم يخطب فأمرهم فتصدقوا عليه فجاء في الجمعة الثانية فأمر النبي صلى الله عليه وسلم بالصدقة فقام ذلك المتصدق عليه فتصدق بأحد ثوبيه فردة عليه النبي صلى الله

--------------------------------------------

তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনুল আখনেস আবু মালিক ইবনে আবি মুলাইকা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সা.)-এর একদল সাহাবী একটি জলাশয়ের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যেখানে একজন দংশিত (لديف) বা বিষাক্রান্ত (سليم) ব্যক্তি ছিল। সেই জলাশয়ের অধিবাসীদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি তাদের সামনে এসে বলল, আপনাদের মধ্যে কি কোনো ঝাড়ফুঁককারী (راق) আছেন? কারণ জলাশয়ের পাড়ে একজন দংশিত (لديف) বা বিষাক্রান্ত (سليم) ব্যক্তি রয়েছে। তখন তাদের মধ্য থেকে একজন লোক গিয়ে কিছু ছাগলের বিনিময়ে সূরা ফাতিহা পাঠ করলেন, ফলে সে সুস্থ হয়ে গেল। এরপর তিনি ছাগলগুলো নিয়ে তাঁর সঙ্গীদের কাছে ফিরে আসলেন। তারা বিষয়টি অপছন্দ করলেন এবং বললেন, আপনি আল্লাহর কিতাবের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করেছেন! অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "আল্লাহর কিতাবই হলো সেই বস্তু, যার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করার সবচেয়ে বেশি অধিকার তোমাদের রয়েছে।" (সমাপ্ত)।

বুখারি প্রথম স্থানে এটি নিশ্চয়তার সাথে (مجزوমা) উল্লেখ না করার কারণ হলো, এতে নবী (সা.) থেকে বর্ণিত উক্তিটি রয়েছে। আর সূরা ফাতিহার মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক (رقية) করার বিষয়টি নবী (সা.)-এর নিজের উক্তি বা নিজের সরাসরি কর্ম হিসেবে সংযুক্ত (متصل) হাদিসে আসেনি। বরং এটি ছিল সেই ঝাড়ফুঁকের প্রতি তাঁর মৌন সম্মতি এবং মৌন সম্মতি হলো সুন্নাহ (السنن)-র অন্যতম প্রকার। তবে একে নবী (সা.)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা মূলত অর্থগত বর্ণনা (رواية بالمعنى)-র অন্তর্ভুক্ত।

বুখারি যে কারণে এটি নিশ্চয়তার সাথে (مجزوما) উল্লেখ করেননি তার প্রমাণ হলো, তিনি অন্য এক স্থানে এটি এর মূল পাঠসহ ঝুলন্তভাবে (علقه) উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে তিনি নিশ্চয়তার সাথে (جزم) বর্ণনা করেছেন। তিনি 'কিতাবুল ইজারা'-র "সূরা ফাতিহার মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক (رقية)-এর বিনিময়ে যা প্রদান করা হয়" অনুচ্ছেদে এটি উল্লেখ করেছেন।

এবং ইবনে আব্বাস (রা.) নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: "আল্লাহর কিতাবই হলো সেই বস্তু যার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করার সবচেয়ে বেশি অধিকার তোমাদের রয়েছে।"

এছাড়া এটিও সম্ভব যে, বুখারি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে সনদ (إسناد) বিহীন রাসূল পর্যন্ত উন্নীত (مرفوعا) হিসেবে যে স্থানটি উল্লেখ করেছেন, সেটি সূরা ফাতিহার মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক (رقية) বিষয়ক অন্য কোনো হাদিস হতে পারে, যা জাবিরের (রা.) হাদিসে বর্ণিত ঘটনার অনুরূপ, যা এর পরেই বর্ণিত হয়েছে।

আর তৃতীয় উদাহরণটি হলো তাঁর এই উক্তি: "দানকারীর দান তাকে ফিরিয়ে দেয়া"। এটি 'মুদাব্বার' (مدبر) দাসের বিক্রয় প্রসঙ্গের শব্দ ছাড়াই বর্ণিত। বরং আমি এর চেয়েও বেশি কিছু বলব যে, বাহ্যত ইমাম বুখারি মুদাব্বার দাস বিক্রয় সম্পর্কিত জাবিরের (রা.) হাদিসে বর্ণিত সদকাকে উদ্দেশ্য করেননি। বরং আল্লাহই ভালো জানেন, তিনি জাবিরের (রা.) সেই হাদিসটি উদ্দেশ্য করেছেন যাতে এক ব্যক্তির কথা আছে যে নবী (সা.)-এর খুতবা চলাকালে মসজিদে প্রবেশ করেছিল। তখন তিনি উপস্থিতদের তাকে দান করার নির্দেশ দেন এবং তারা তাকে দান করেন। এরপর দ্বিতীয় জুমায় সেই দান গ্রহণকারী ব্যক্তি পুনরায় আসলে নবী (সা.) আবারও সদকার নির্দেশ দেন। তখন সেই লোকটিই তার দুটি কাপড়ের একটি দান করতে দাঁড়াল। তখন নবী (সা.) সেটি তাকে ফিরিয়ে দিলেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৩৮)
ثم إن ما يتقاعد من ذلك عن شرط الصحيح قليل يوجد في كتاب البخاري في مواضع من تراجم إلابواب دون مقاصد الكتاب وموضوعه الذي يشعر به اسمه الذي سماه به وهو: الجامع المسند الصحيح المختصر من أمور رسول الله صلى الله عليه وسلم وسننه وأيامه وإلى الخصوص الذي بيناه يرجع مطلق قوله: ما أدخلت في كتاب الجامع إلا ما صح.

وكذلك مطلق قول الحافظ أبي نصر الوايلي السجزي: أجمع أهل العلم الفقهاء وغيرهم على أن رجلا لو حلف بالطلاق: أن جميع ما في كتاب البخاري مما روي عن

--------------------------------------------

عليه وسلم. وهو حديث ضعيف رواه الدارقطنى وهو الذي تأول به الحنفية قصة سليك الغطفانى في أمره بتحية المسجد حين دخل في حال الخطبة والله أعلم.

وأما المثال الرابع: وهو قوله ويذكر عن على بن أبى طالب إلى آخره فليس فيه عليه اعتراض لأنه إذا جمع بين ما صح وبين ما لم يصح أتى بصيغة التمريض لأن صيغة التمريض تستعمل في الصحيح ولا تستعمل ولا تستعمل صيغة الجزم في الضعيف وأما عكس هذا وهو إلاتيان بصيغة الجزم فيما ليس بصحيح فهذا لا يجوز ولا يظن بالبخاري رحمه الله ذلك ولا يمكن أن يجزم بشئ إلا وهو صحيح عنده.

وقول البخاري في التوحيد: وقال الماجشون إلى آخره هو صحيح عند البخاري بهذا السند وكونه رواه في أحاديث إلانبياء متصلا فجعل مكان أبى سلمة إلاعرج فهذا لا يدل على ضعف الطريق التي فيها أبو سلمة ولا مانع من أن يكون عند الماجشون في هذا الحديث إسنادان وأن شيخه عبد الله بن الفضل سمعت من شيخين من إلاعرج ومن أبى سلمة فرواه مرة عن هذا ومرة عن هذا ويكون الإسناد الذي وصله به البخاري أصح من الإسناد الذي علقه به ولا يحكم على البخاري بالوهم والغلط بقول أبى مسعود الدمشقى بقوله إنه إنما يعرف عن إلاعرج فقد عرفه البخاري عنهما ووصله مرة عن هذا أو علقه مرة عن هذا إلامر اقتضى ذلك فما وصل إسناده صحيح وما علقه وجزم به يحكم عليه أيضا بالصحة والله أعلم.

"قوله" وكذلك مطلق قول الحافظ أبى نصر الوائلى السجزى أجمع أهل العلم
অতঃপর, সহিহ (الصحيح) হওয়ার শর্ত থেকে যা পিছিয়ে রয়েছে, তা বুখারির কিতাবে সামান্য কিছু স্থানে অধ্যায়ের শিরোনামে পাওয়া যায়। এটি কিতাবের মূল উদ্দেশ্য এবং বিষয়বস্তুর বহির্ভূত, যা কিতাবটির নাম থেকেই বোঝা যায়। তিনি এর নাম রেখেছেন: আল-জামি আল-মুসনাদ আস-সহিহ আল-মুকতাসার মিন উমুরি রাসূলিল্লাহি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়া সুনানিহি ওয়া আইয়ামিহি। আমরা যা বিশেষভাবে বর্ণনা করেছি, তা থেকেই তাঁর এই সাধারণ উক্তির মর্ম অনুধাবন করা যায় যে: "আমি আল-জামি কিতাবে সহিহ (صح) ব্যতীত অন্য কিছু অন্তর্ভুক্ত করিনি।"

একইভাবে হাফেজ আবু নাসর আল-ওয়াইলি আস-সিজজির সাধারণ বক্তব্যের মর্মও তাই, তিনি বলেছেন: "ফকিহ ও অন্যান্য সকল আলেম এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, যদি কোনো ব্যক্তি তালাকের শপথ করে বলে যে, বুখারির কিতাবে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া

--------------------------------------------

সাল্লাম থেকে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে। এটি একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস যা দারাকুতনি বর্ণনা করেছেন। হানাফিগণ এর মাধ্যমেই সুলাইক আল-গাতাফানির ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়েছেন, যেখানে খুতবা চলাকালীন তাকে তাহিয়াতুল মসজিদ আদায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। আল্লাহই ভালো জানেন।

চতুর্থ উদাহরণ প্রসঙ্গে: তাঁর বক্তব্য "আলী ইবনে আবি তালিব থেকে বর্ণিত হয়েছে..." শেষ পর্যন্ত। এখানে তাঁর ওপর কোনো আপত্তি নেই। কারণ যখন তিনি সহিহ (صح) এবং অ-সহিহ বর্ণনার মধ্যে সমন্বয় করেন, তখন তিনি সংশয়সূচক শব্দ (صيغة التمريض) ব্যবহার করেন। কেননা সংশয়সূচক শব্দ (صيغة التمريض) সহিহ (الصحيح) বর্ণনার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, কিন্তু দুর্বল (الضعيف) বর্ণনার ক্ষেত্রে দৃঢ়তাসূচক শব্দ (صيغة الجزم) ব্যবহৃত হয় না। এর বিপরীত কাজ করা, অর্থাৎ যা সহিহ (بصحيح) নয় তাতে দৃঢ়তাসূচক শব্দ (صيغة الجزم) ব্যবহার করা জায়েয নয়। ইমাম বুখারি (রহ.) সম্পর্কে এমনটি ভাবা যায় না এবং তিনি কোনো বিষয়ে দৃঢ়তার সাথে বর্ণনা করেন না যদি না তা তাঁর নিকট সহিহ (صحيح) হয়।

কিতাবুত তাওহিদে বুখারির উক্তি: "আল-মাজিশুন বলেছেন..." শেষ পর্যন্ত। এই সনদ (السند) অনুযায়ী এটি ইমাম বুখারির নিকট সহিহ (صحيح)। তিনি এটিকে আহাদিসুল আম্বিয়া অধ্যায়ে সংযুক্ত (متصلا) হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে আবু সালামার পরিবর্তে আল-আরাজকে উল্লেখ করেছেন। এতে আবু সালামা সম্বলিত সূত্রের দুর্বলতা (ضعف) প্রমাণিত হয় না। এতে কোনো বাধা নেই যে, আল-মাজিশুনের নিকট এই হাদিসের দুটি সনদ (إسنادان) ছিল এবং তাঁর উস্তাদ আব্দুল্লাহ ইবনুল ফাদল আল-আরাজ ও আবু সালামা—উভয় শাইখের থেকেই এটি শুনেছেন। তাই তিনি কখনো এর থেকে এবং কখনো ওর থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারি যে সনদটিকে সংযুক্ত করেছেন (وصله), তা সেই সনদের চেয়ে অধিকতর সহিহ (أصح) যা তিনি মুয়াল্লাক (علقه) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আবু মাসউদ আদ-দিমাশকির এই উক্তির কারণে ইমাম বুখারির ওপর ভ্রান্তি বা ভুলের হুকুম দেওয়া যাবে না যে, "এটি কেবল আল-আরাজ থেকেই পরিচিত"। বরং ইমাম বুখারি এটি তাঁদের উভয় থেকেই জানতেন; তাই প্রয়োজনের তাগিদে কখনো তিনি এটিকে সংযুক্ত (وصله) করেছেন আবার কখনো মুয়াল্লাক (علقه) করেছেন। সুতরাং তিনি যেটির সনদ সংযুক্ত (وصل) করেছেন তা সহিহ (صحيح), আর যেটিকে তিনি মুয়াল্লাক (علقه) করেছেন এবং দৃঢ়তার সাথে (جزم) উল্লেখ করেছেন, সেটিও সহিহ (بالصحة) বলে গণ্য হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।

"তাঁর উক্তি" একইভাবে হাফেজ আবু নাসর আল-ওয়াইলি আস-সিজজির সাধারণ বক্তব্যের মর্মও তাই, "আলেমগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন..."
(খণ্ড: ১) আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদ্বাহ শারহু মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ (পৃষ্ঠা: ৩৯)
النبي صلى الله عليه وسلم قد صح عنه ورسول الله صلى الله عليه وسلم قاله لا شك فيه أنه لا يحنث والمرأة بحالها في حبالته.

--------------------------------------------

الفقهاء وغيرهم أن رجلا لو حلف بالطلاق أن جميع ما في كتاب البخاري مما روى عن النبي صلى الله عليه وسلم قد صح عنه ورسول الله صلى الله عليه وسلم قاله لا شك فيه أنه لا يحنث والمرأة بحالها في حبالته انتهى.

وما ذكره الوايلى لا يقتضى أنه لا يشك في صحته ولا أنه مقطوع به لأن الطلاق لا يقع بالشك وقد ذكر المصنف هذا في شرح مسلم له فإنه حكى فيه عن إمام الحرمين أنه لو حلف إنسان بطلاق امرأته إنما في كتاب البخاري ومسلم مما حكما بصحته من قول النبي صلى الله عليه وسلم لما ألزمته الطلاق ولا خثته لإجماع علماء المسلمين على صحتهما.

ثم قال الشيخ أبو عمرو: ولقائل أن يقول إنه لا يحنث ولو لم يجمع المسلمون على صحتهما للشك في الحنث فإنه لو حلف بذلك في حديث ليس هذه صفته لو يحنث وإن كان راويه فاسقا فعدم الحنث حاصل قبل إلاجماع فلا يضاف إلى إلاجماع.

ثم قال الشيخ أبو عمرو: والجواب أن المضاف إلى إلاجماع هو القطع بعدم الحنث ظاهرا وباطنا وأما عند الشك فمحكوم به ظاهرا مع احتمال وجوده باطنا فعلى هذا يحمل كلام أمام الحرمين فهو إلاليق بتحقيقه.

وقال النووى في شرح مسلم: إن ما قاله الشيخ في تأويل كلام إمام الحرمين في عدم الحنث فهو بناء على ما اختاره الشيخ وأما على مذهب ألأكثرين فيحتمل أنه أراد أنه لا يحنث ظاهرا ولا يستحب له التزام الحنث حتى يستحب له الرجعة كما إذا حلف بمثل ذلك في غير الصحيحين فإنا لا نحنثه لكن تحب له الرجعة احتياطا لاحتمال الحنث وهو احتمال ظاهر.

قال وأما الصحيحان فاحتمال الحنث فيهما في غاية من الضعف فلا يحب له الرجعة لضعف احتمال موجبها.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে এটি সহিহ (صح) হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এটি বলেছেন—এতে কোনো সন্দেহ নেই; ওই ব্যক্তির শপথ ভঙ্গ হবে না এবং তার স্ত্রী তার বিবাহ বন্ধনেই বহাল থাকবে।

--------------------------------------------

ফকিহগণ এবং অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি তালাকের শপথ করে বলে যে, বুখারি গ্রন্থে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত সমস্ত কিছু তাঁর থেকে সহিহ (صح) হিসেবে প্রমাণিত এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এগুলো বলেছেন—এতে কোনো সন্দেহ নেই; তবে ওই ব্যক্তির শপথ ভঙ্গ হবে না এবং তার স্ত্রী তার বিবাহ বন্ধনেই বহাল থাকবে। (সমাপ্ত)।

ওয়াইলি যা উল্লেখ করেছেন, তা এই দাবি করে না যে এর বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই অথবা এটি অকাট্যভাবে প্রমাণিত (مقطوع به); কারণ সন্দেহের ভিত্তিতে তালাক কার্যকর হয় না। গ্রন্থকার এটি তাঁর শারহু মুসলিম গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি ইমামুল হারামাইন থেকে বর্ণনা করেছেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার শপথ করে এই মর্মে যে, বুখারি ও মুসলিম গ্রন্থে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যে সকল বাণীকে তাঁরা সহিহ (صحة) বলে ফয়সালা দিয়েছেন তা নিশ্চিতভাবেই তাঁর কথা, তবে আমি তাকে তালাক দিতে বাধ্য করতাম না এবং তাকে শপথ ভঙ্গকারীও সাব্যস্ত করতাম না; কারণ মুসলিম উলামায়ে কেরামের ঐকমত্য (إجماع) রয়েছে এই গ্রন্থদ্বয়ের বিশুদ্ধতার (صحة) ওপর।

অতঃপর শায়খ আবু আমর (ইবনে সালাহ) বলেছেন: কেউ বলতে পারেন যে, মুসলিমগণ এই গ্রন্থদ্বয়ের বিশুদ্ধতার (صحة) ওপর ঐকমত্য (إجماع) পোষণ না করলেও ওই ব্যক্তির শপথ ভঙ্গ হতো না, কারণ শপথ ভঙ্গের বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে। কেননা, কেউ যদি এমন কোনো হাদিস সম্পর্কে শপথ করে যার বৈশিষ্ট্য এমন (সহিহ) নয়, তবুও তার শপথ ভঙ্গ হবে না; এমনকি যদি তার বর্ণনাকারী পাপাচারী (فاسق) হয়। সুতরাং শপথ ভঙ্গ না হওয়ার বিষয়টি ঐকমত্যের (إجماع) পূর্বেই অর্জিত, তাই একে ঐকমত্যের (إجماع) দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা যায় না।

অতঃপর শায়খ আবু আমর বলেছেন: এর উত্তর হলো, ঐকমত্যের (إجماع) সাথে যা সংশ্লিষ্ট তা হলো বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় দিক থেকে শপথ ভঙ্গ না হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া। আর সন্দেহের ক্ষেত্রে বাহ্যিকভাবে ফয়সালা করা হয়, যদিও অভ্যন্তরীণভাবে শপথ ভঙ্গের সম্ভাবনা থেকে যায়। ইমামুল হারামাইনের বক্তব্যকে এভাবেই ব্যাখ্যা করা উচিত, যা তাঁর গবেষণালব্ধ মতের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ইমাম নববী শারহু মুসলিম-এ বলেছেন: শপথ ভঙ্গ না হওয়া সংক্রান্ত ইমামুল হারামাইনের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় শায়খ (ইবনে সালাহ) যা বলেছেন, তা তাঁর নিজস্ব পছন্দের মতের ওপর ভিত্তি করে। তবে জমহুর বা সংখ্যাধিক্য আলিমের মাযহাব অনুযায়ী সম্ভাবনা রয়েছে যে, তিনি (ইমামুল হারামাইন) বুঝিয়েছেন যে ব্যক্তিটি বাহ্যিকভাবে শপথ ভঙ্গকারী হবে না, এবং তার জন্য শপথ ভঙ্গ মেনে নেওয়া মুস্তাহাব হবে না যাতে তার ওপর স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়া (রুজু) মুস্তাহাব হয়। যেমন কেউ যদি সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) ব্যতীত অন্য কোনো গ্রন্থ সম্পর্কে অনুরূপ শপথ করে, তবে আমরা তাকে শপথ ভঙ্গকারী সাব্যস্ত করি না, কিন্তু শপথ ভঙ্গের স্পষ্ট সম্ভাবনা থাকার কারণে সতর্কতা হিসেবে তার জন্য স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়া (রুজু) পছন্দনীয় মনে করি।

তিনি আরও বলেন, কিন্তু সহিহাইন-এর ক্ষেত্রে শপথ ভঙ্গের সম্ভাবনা অত্যন্ত দুর্বল (ضعف), তাই তার জন্য স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়া পছন্দনীয় নয়, কারণ তা আবশ্যক হওয়ার কারণটি অত্যন্ত দুর্বল (ضعف)।