Warning: SQLite3::query(): Unable to prepare statement: 1, no such column: part in /home/u575225426/domains/shamelabangla.com/public_html/sqlite_db.php on line 274
আল-আলাকুল খাতীরা ফী যিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাযীরা - শামেলা বাংলা
(খণ্ড: ১) আল-আলাকুল খাতীরা ফী যিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাযীরা (পৃষ্ঠা: -)
الأعلاق الخطيرة في ذكر أمراء الشام والجزيرة   (عز الدين ابن شداد)

القسم: البلدان والرحلات


الكتاب: الأعلاق الخطيرة في ذكر أمراء الشام و الجزيرة

المؤلف: ابن شداد، عز الدين أبو عبد الله محمد بن علي بن إبراهيم الأنصاري الحلبي (ت 684هـ)

[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]

عدد الصفحات: 204

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সিরিয়া ও আল-জাজিরার আমিরদের বর্ণনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাবলী   (ইযযুদ্দীন ইবনে শাদ্দাদ)

বিভাগ: দেশ ও ভ্রমণকাহিনী


বই: আল-আলাকুল খাতিরা ফি জিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাজিরা

লেখক: ইবনে শাদ্দাদ, ইযযুদ্দীন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আলী বিন ইব্রাহিম আল-আনসারী আল-হালাবী (মৃত্যু ৬৮৪ হিজরি)

[বইটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নম্বরযুক্ত, যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০৪

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-আলাকুল খাতীরা ফী যিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাযীরা (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌المقدمة

‌‌بسم الله الرحمن الرحيم وهو حسبي

يقول العبد الفقير إلى الله تعالى الغني به محمّد بن علي بن إبراهيم بن شدّاد بن خليفة بن شدّاد بن إبراهيم بن شدّاد: الحمد لله الَذي قصّ من أنباء الرسل ما ثبت به فؤاد رسوله وتلا عليه من أخبار الأمم ما بلغ به تصديقه غاية سؤاله جاعل الأيام دولاً والأنام ملوكاً وخولاً وملبس الزمان من تقلّب الدول قشيباً وسملاً محي الأموات ومميت الأحياء ومقدّر الأقوات ومجري الماء أحمده على تصرّف الأقدار وأشكره على تعاقب الأعصار وأصلّي على نبيه المبعوث بتغيير الملل وإقامة الدين ورفع منار الحق وقمع أباطيل الملحدين وعلى آله وصحبه الذين نسخوا ظلام الكفر بضياء الإيمان وجاهدوا في الله حق جهاده حتى علا دينه على سائر الأديان صلاةً زاكيةً دائمةً ما اختلف الملوان.

وبعد فإنه لما حللت بمصر المحروسة وتبوّأتُ محالها المأنوسة وشملني من أنعام مولانا السلطان السيد الأجل المجاهد المابط رافع كلمة الإيمان وقامع عبدة الصلبان ملك العصاة الإسلامية حامي حوزة الملّة الحنفية إسكندر الزمان والبلاد الجزرية خادم الحَرمين الشريفين القائم بمتابعة الخليفتين مقر الإِسلام في نصابه ومعيد رونق الخلافة العباسية بعد مضيّه وذهابه الملك الظاهر الطاهر المقاصد الباهر المفاخر ركن الدين أبي الفتح بيبرس قسيم أمير المؤمنين لا زالت ألويتهُ في الخافقَّين خافقة وسوابق جياده إلى ديار أعدائه لعزماته سابقة ومواقفه لما يرضي الله ويعزّ الدين موافقة ولا برح النصر مفروناً بأعلامه والدوام مصاحباً لأيامه والدهر مصرّفاً بين نقضه وإبرامه ما يعجز البليغ عن حصره ويستقي الطاقة في نشره ولا يبلغ كنه قدره.

ورتعت في أنعامه بين روضة وغدير ورفلتُ من ملابس إحسانه فيما دونه الحرير وصاحبتُ زماني طلق المحياّ بعد عبوسه وعاد إليَّ معتذراً مما كان قد أخنى عليَّ من بؤسه وكان السبب في نجعتي عن بلاد بها عقّ تمائمي الشباب وفيها اتخذتُ الإخوان والأصحاب وقضيتُ الأوطار مع اللدات والأتراب ما لا ينسى ذكره على مرور الأيام ولا يبرح مكرّرّا بأفواه المحابر وألسن الأقلام من دخول التتر الخذولين البلاد وتفرقتهم بجموعهم لشمل من سكنها من العباد رأيت انتهاز الفرصة في شكر إنعامه العميم وإدراك البغية في وصف إكرامه الجسيم أن أضع كتاباً أذكر فيه ما سنى الله له من الفتوحات التي لم تكن تتوهمها الأطماع وملَّكه ما كان بأيدي الكفر من منيعات الحصون والقلاع وما وطئته سنابك خيوله واسترجعتْه مواضي لهاذمه ونصوله من البلاد التي يئست الأطماع من ردها وألزمت العيون مداومة سهدها وجرعت النفوس الصبر بعد شهدها مفصّلاً كل جند من أجناد الشام والجزيرة بأعماله وحدوده ومكانه من المعمور وأطواله وعروضه ومطالع سعوده ملتزماً في كل بلد ذكر من وليه من أوّل الفتوح وإلى الوقت الذي فُرغ فيه هذا الكتاب وأجري في ذلك طلق جهدي معتمداً فيه على ما صح عندي ولا أدعي الإحاطة فيما ذكرتُ ولا أقول إني أحرزتُ الغاية وما قصرتُ عن إدراكها بل جعلتُه دستوراً يسترجع به عارب الإنس ويُستفادُ منه ما حدث باليوم والأمس وأبدأ بذكر جند حلب لكونها مسقط رأسي ومحل أنسي وناسي وثدي الذي ارتضعتُ دَرَّه ويجري الذي تقلد نحري دُرّه وموضع نزهتي ووطني وبقعتي والمكان الذي حمدتُ به الأيام والمنزل الذي كنتُ به من الحوادث في ذمام والدار التي صحبتُ بها الشباب غضاٍّ جديداً وقطعتُ فيها بالدعة والسرور عيشاً حميداً وعاشرتُ من لم يزل للمحفل صدراً وللجحفل قلباً وعند النائبات " شعر ":

أُحبُّ رُبّى فيها رُبيتُ مُكرَّماً … وَيُعْجِبُني كُثْبانُها وَهِضابُها

بِلادٌ بِها عَقَّ الشَبابُ تَمائِمي … وَأَوَّلُ أرْضٍ مَسَّ جِسْمي تُرابَها

ولله قول ابن الرومي حيث أفصح عن السبب في حب الأوطان والتأسف علي القطّان " شعر "

وَحَبَّبَ أوْطانَ الرِجالِ إلَيْهِمُ … مآرِبُ قَضّاها الشَبابث هُنالِكا

إذا ذَكَروا أَوْطانَهُمْ ذَكَّرْتُهمُ … عُهودَ الصِبا فيها فَحَنّوا لِذالكا
উপসংহার

‌‌পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি, তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট।

মহান আল্লাহ তাআলার মুখাপেক্ষী এবং তাঁর মাধ্যমেই অভাবমুক্ত বান্দা মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনে ইব্রাহিম ইবনে শাদ্দাদ ইবনে খলিফা ইবনে শাদ্দাদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে শাদ্দাদ বলেন: সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি নবিগণের এমন সংবাদ বর্ণনা করেছেন যার মাধ্যমে তিনি তাঁর রাসুলের অন্তরকে সুদৃঢ় করেছেন এবং তাঁর কাছে উম্মতগণের এমন সংবাদ পাঠ করেছেন যার দ্বারা তাঁর সত্যতা প্রমাণের আকাঙ্ক্ষা পূর্ণ হয়েছে। যিনি দিনগুলোকে পরিবর্তনশীল এবং মানুষকে রাজা ও প্রজা করেছেন। যিনি কালের বিবর্তনে শাসনব্যবস্থাকে কখনো নতুন আবার কখনো জীর্ণ পোশাকে আবৃত করেন। যিনি মৃতদের জীবনদানকারী, জীবিতদের মৃত্যুদানকারী, জীবিকার নির্ধারক এবং পানির প্রবাহক। তাকদিরের পরিবর্তনের জন্য আমি তাঁর প্রশংসা করছি এবং যুগের আবর্তনের জন্য তাঁর শুকরিয়া আদায় করছি। আমি দরুদ পাঠ করছি তাঁর নবির ওপর, যিনি প্রেরিত হয়েছেন ধর্মাদর্শের পরিবর্তন, দ্বীন কায়েম, হকের মিনার সমুন্নত করা এবং নাস্তিকদের বাতিল মতবাদ দমনের জন্য। এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবিগণের ওপর, যারা ঈমানের আলো দিয়ে কুফরির অন্ধকার বিদূরিত করেছেন এবং আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন, যতক্ষণ না তাঁর দ্বীন অন্যান্য সকল ধর্মের ওপর বিজয়ী হয়েছে। এমন পবিত্র ও চিরস্থায়ী দরুদ, যা দিন-রাত্রির বিবর্তনের সাথে সাথে অব্যাহত থাকে।

অতঃপর, যখন আমি সুরক্ষিত মিশরে পদার্পণ করলাম এবং এর মনোরম স্থানসমূহে বসতি স্থাপন করলাম, তখন আমাদের মাওলানা সুলতানের অনুগ্রহ আমাকে পরিবেষ্টন করল। তিনি হলেন মহান সর্দার, মুজাহিদ, অটল ও অবিচল, ঈমানের বাণী উচ্চকারী, ক্রুশপূজারীদের দমনকারী, মুসলিম উম্মাহর বাদশাহ, হানাফি মিল্লাতের সীমানা রক্ষাকারী, যুগের আলেকজান্ডার, দ্বীপপুঞ্জের অধিপতি, দুই পবিত্র হারাম শরিফের খাদেম, দুই খলিফার অনুসারী, ইসলামকে তার মূল অবস্থানে প্রতিষ্ঠাকারী এবং আব্বাসীয় খিলাফত বিলুপ্ত হওয়ার পর তার শ্রী পুনরায় ফিরিয়ে আনয়নকারী— আল-মালিকুজ জাহির, যাঁর উদ্দেশ্য পবিত্র এবং যাঁর গৌরব উজ্জ্বল, দ্বীনের স্তম্ভ আবুল ফাতহ বাইবার্স, যিনি আমিরুল মুমিনীনের অংশীদার। পূর্ব ও পশ্চিমে সর্বদা তাঁর বিজয় নিশান উড়তে থাকুক এবং তাঁর সুদৃঢ় সংকল্পের কারণে তাঁর অশ্বারোহী বাহিনী যেন শত্রুদের ভূখণ্ডে অগ্রগামী থাকে। তাঁর অবস্থান যেন আল্লাহর সন্তুষ্টি ও দ্বীনের মর্যাদার অনুকূলে থাকে। তাঁর নিশানার সাথে যেন সর্বদা বিজয় জড়িয়ে থাকে এবং তাঁর শাসনকাল যেন চিরস্থায়ী হয়। কাল যেন তাঁর সিদ্ধান্তের অধীনে আবর্তিত হয়। কোনো বাগ্মী ব্যক্তিই তাঁর মহিমা পূর্ণরূপে বর্ণনা করতে সক্ষম নয় এবং কেউ তাঁর ক্ষমতার শেষ সীমায় পৌঁছাতে পারবে না।

আমি তাঁর নেয়ামতের উদ্যানে ও জলাধারে বিচরণ করেছি এবং তাঁর ইহসানের এমন পোশাক পরিধান করেছি যার তুলনায় রেশমও নগণ্য। বিষণ্ণতার পর আমার সময় এখন হাস্যোজ্জ্বল হয়েছে এবং আমার প্রতি যা কিছু দুঃখ-কষ্ট অতিবাহিত হয়েছিল, তার জন্য সময় যেন আজ ক্ষমাপ্রার্থী। আমার স্বদেশ ত্যাগ করার কারণ ছিল সেই দেশের ওপর অভিশপ্ত তাতারদের আক্রমণ এবং সেখানে বসবাসকারী বান্দাদের ওপর তাদের জুলুম ও ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া, যেখানে আমার শৈশব ও যৌবন কেটেছে, যেখানে আমি বন্ধু-বান্ধব ও সাথী গড়েছিলাম এবং সমবয়সীদের সাথে আমার কামনা-বাসনা পূরণ করেছিলাম। সেই স্মৃতি দিন অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে বিস্মৃত হওয়ার নয় এবং দোয়াত ও কলমের মুখে তা বারবার উচ্চারিত হবে। তাই আমি তাঁর ব্যাপক অনুগ্রহের শুকরিয়া আদায়ের সুযোগ এবং তাঁর বিশাল সম্মানের বর্ণনা দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষে একটি গ্রন্থ রচনার সংকল্প করলাম। আমি এতে সেই সকল বিজয়াভিযানের কথা উল্লেখ করব যা আল্লাহ তাঁর জন্য সহজ করে দিয়েছেন, যা অর্জনের আশা মানুষের কল্পনাতীত ছিল। তিনি তাঁকে কাফেরদের হাতের সেই সকল দুর্ভেদ্য দুর্গ ও কেল্লার মালিক বানিয়েছেন এবং তাঁর ঘোড়ার খুর যে সকল ভূমি মর্দন করেছে এবং তাঁর ধারালো তরবারি ও তীরের ফলা যে সকল শহর পুনরুদ্ধার করেছে, যেখান থেকে ফিরে পাওয়ার আশা মানুষ ত্যাগ করেছিল এবং যা মানুষকে অনিদ্রায় রাত কাটাতে বাধ্য করেছিল এবং যা মানুষের ধৈর্যের শেষ সীমানায় নিয়ে গিয়েছিল। আমি এতে শাম (সিরিয়া) ও জাজিরার প্রতিটি সেনাবাহিনীর এলাকা, সীমানা, আবাদি স্থান, দৈর্ঘ্য-প্রস্থ এবং তাদের সৌভাগ্যের উদয়স্থল বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করব। আমি প্রতিটি শহরের বিজয়ের শুরু থেকে এই গ্রন্থ সমাপ্ত হওয়া পর্যন্ত সেখানকার শাসকদের নাম উল্লেখ করতে সচেষ্ট থাকব। এতে আমি আমার সাধ্যমতো পরিশ্রম করেছি এবং যেটুকু আমার কাছে সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে তার ওপর নির্ভর করেছি। আমি সবকিছু পূর্ণাঙ্গরূপে বর্ণনা করার দাবি করি না এবং আমি সফলতার শেষ সীমায় পৌঁছে গেছি তাও বলছি না। বরং আমি একে একটি আদর্শ মানদণ্ড হিসেবে তৈরি করেছি যার মাধ্যমে অতীতের মানুষের সংবাদ জানা যাবে এবং আজ ও গতকালের ঘটনাবলি থেকে শিক্ষা নেওয়া যাবে। আমি আলেপ্পো (হালাব) এর সেনাবাহিনীর বর্ণনা দিয়ে শুরু করছি, কারণ এটি আমার জন্মভূমি, আমার পরিচিত জনদের স্থান এবং আমার স্বস্তির আলয়। এটি সেই স্তন যার দুগ্ধ আমি পান করেছি, এটি আমার কণ্ঠের অলঙ্কার। এটি আমার ভ্রমণের স্থান, আমার স্বদেশ, আমার ভূখণ্ড, যেখানে আমি দিনগুলোকে ধন্য মনে করেছি। এটি সেই আশ্রয়স্থল যেখানে আমি বিপদাপদ থেকে নিরাপদ ছিলাম। এটি সেই ঘর যেখানে আমি সতেজ যৌবন কাটিয়েছি এবং প্রশান্তি ও আনন্দের সাথে প্রশংসনীয় জীবন অতিবাহিত করেছি। আমি এমন সব মানুষের সাথে মেলামেশা করেছি যারা মজলিসের মধ্যমণি এবং যুদ্ধের ময়দানের প্রাণপুরুষ ছিলেন। কবিতা:

আমি সেই উচ্চভূমিকে ভালোবাসি যেখানে আমি অত্যন্ত সম্মানের সাথে বড় হয়েছি… এর বালিয়াড়ি এবং পাহাড়গুলো আমাকে মুগ্ধ করে।

এটি সেই দেশ যেখানে যৌবনে আমার শৈশবের বন্ধন ছিঁড়ে গিয়েছিল… এবং এটিই প্রথম ভূমি যার মাটি আমার দেহ স্পর্শ করেছিল।

ইবনে রুমির কথা কতই না চমৎকার, যেখানে তিনি স্বদেশপ্রেম এবং বাসিন্দাদের জন্য আক্ষেপের কারণ স্পষ্ট করেছেন: কবিতা

মানুষের কাছে তাদের স্বদেশকে প্রিয় করে তুলেছে সেই সকল প্রয়োজন ও আশা-আকাঙ্ক্ষা… যা তারা সেখানে যৌবনে পূর্ণ করেছিল।

যখন তারা তাদের স্বদেশের কথা স্মরণ করে, তখন শৈশবের সেই দিনগুলোর কথা তাদের মনে পড়ে যায়… এবং তারা তার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠে।
(খণ্ড: ১) আল-আলাকুল খাতীরা ফী যিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাযীরা (পৃষ্ঠা: ২)
وقد جاء في المنقول: حبّ الوطن من الإيمان. وعن علي كرّم الله وجهه: عمرت الدنيا بحب الأوطان. وعن إبراهيم بن أدهم رضه أنه قال: ما عالجت شيئاً أشدّ من منازعة النفس للوطن. وقال عبد الملك بن قريب الأصمعي: سمعت أعرابياً يقول: إذا أردت أن تعرف الرجل فانظر كيف تحببه إلى أوطانه وتشوقه إلى إخوانه وبكاؤه على ما مضى من زمانه. ولولا ما عمتني من الإحسان الظاهري وأصّله الله تع ما أسلى عنها لذهبت نفسي شعاعاً لفقدها ولم تهنني الأيام من بعدها.

لكن في إنعامه ما يُسلي الغريب عن أوطانه ويُعيد للمرء في أيّام المشيب شرخ شبابه وقديم زمانه فالله تع يعضده بالملائكة المقرّبين ويبقي دولته على تعاقب الأيّام والسنين وأَتوخّى في ترتيب ذلك أيّام الخلفاء الراشدين ومن خلفهم من بني أميّة والعبّاسييّن وعندما تمّ كتابي وكمل وارتدى بالفوائد واشتمل وسمّيتُه بالأعلاق الخطيرة في ذكر أمراء الشام والجزيرة راجياً أن يكون مرهفاً لغرمات من وُضع له وإن كانت مستغنيةً عن الأرهاف وسميراً يغنيه في أوقات خلواته عن ذي الإكرام والجلال مستوهباً منه موادّ التوفيق والإفضال إذ لا حول إلاّ به ولا معوّل إلاّ عليه ولا قوة إلاّ منه سائلاً من وقف على ما جمعتُه ولفقتُه ووضعتُه ونمقتُه من ذوي الأخذ والنقد وأولى الحلّ في المعارف والعقد إصلاح ما يرى فيه ممّا لا يقبله التمييز ويرتضيه من تقصير في العبارة أو تطويل في مكان الإشارة أو خلل وقع في الترتيب أو زلل أخلّ به مقتضى التهذيب ملتمساً منه أن يسبل عليه ستر المسامحة عالماً أنّ الاعتداد إنّما هو بالنيّة الصالحة متيقنّاً أن التأريخ معرض للتصديق والتكذيب وأنّ واضعه سائق نفسه إلى التعنيف والتثريب والله تع أسأل غفراً وآمل ستراً وأرغب أن يشرح لي صدراً ويبدل عسري يسراً وأصدر القول بالأهمّ من تكميل غرضي في هذا الكتاب وهو أربعة مقاصد.

 

‌‌المقصد الأوّل في

ذكر الشام واشتقاق اسمه

حكى أبو الحسين أحمد بن فارس في كتاب اشتقاق أسماء البلاد قال: الشام فعل من اليد الشؤمي وهي اليسرى. يقال أخذ شأمةً أي على يساره وشأمت القوم ذهبت على شمالهم. وقال قوم: هو من مشؤوم الإبل وهي سودها وحضارها هي البيض. قال أبو ذؤيب:

فما تُشْتَرى إلاّ بِرِبْحٍ سِباؤُها … بَناتُ المَخاضِ شُؤْمُها وَحِضارُها

وفي كتاب الله عز وجل في المعنى الأوّل) وَأَصْحابُ المَشْأَمَةِ (. قال الأعشى:

عَلى أَثَرِ الأَدِلَّةِ وَالبُعايا … وَخَفْقِ الناعِجاتِ مِنَ الشآمِ

وقال أبو بكر محمّد " بن " القاسم الأنباريّ: في اشتقاق اسم الشأم وجهان أحدهما يجوز أن يكون مأخوذاً من اليد الشؤمى وهي اليسرى. قال الشاعر:

وَأَنْجى عَلى شُؤْمَى يَدَيْهِ فَرادَها … بأَظْماءَ مَرْفوعِ الذُؤَابَةِ أَسْحَما

والثاني أن يكون فعلاً من الشؤم. وقال ابن المقفّع: سُمّيت الشام بسام بن نوح وسام اسمه بالسريانيّة شام وبالعبرانيّة شيم. وهشام بن محمّد المعروف بابن الكلبيّ ينكر هذا ويقول: إنّ ساماً لم ينزل هذه الأرض قطّ وإنّما سُمّيت الشام بشامات بها حمر وسود وبيض. وقال غيره: سُمّيت الشام لأنّها عن شمال الكعبة كما أنّ اليمن عن يمينه. وقال أيضاً هشام بن الكلبيّ: لمّا تفرّق الناس من أرض بابل بوقوع صرح النرود أخذ بعضهم يمنةً فسُميّت الأرض الّتي نزلوا بها يمناً لأنّها عن يمين البيت وأخذ آخرون شأمةً فسُميّت الأرض الّتي نزلوا بها شأماً لأنّها عن شأمة البيت أي شماله.

 

‌‌المقصد الثاني في

ذكر أوّل من نزل به
বর্ণিত রয়েছে যে: স্বদেশের প্রতি ভালোবাসা ঈমানের অঙ্গ। আলী (আল্লাহ তাঁর চেহারাকে মর্যাদাপূর্ণ করুন) থেকে বর্ণিত হয়েছে: স্বদেশের প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমেই পৃথিবী আবাদ হয়েছে। ইব্রাহিম বিন আদহাম (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেছেন: স্বদেশের প্রতি মনের ব্যাকুলতা দমনের চেয়ে কঠিন আর কোনো কিছুর চিকিৎসা আমি করিনি। আব্দুল মালিক বিন ক্বরীব আল-আসমাঈ বলেন: আমি এক বেদুইনকে বলতে শুনেছি: যদি তুমি কোনো ব্যক্তিকে চিনতে চাও, তবে লক্ষ্য করো সে তার স্বদেশের প্রতি কেমন ভালোবাসা পোষণ করে, তার ভাইদের প্রতি কেমন ব্যাকুলতা দেখায় এবং তার অতিবাহিত সময়ের জন্য তার ক্রন্দন কেমন। যদি আমার প্রতি মহান আল্লাহর সেই প্রকাশ্য অনুগ্রহ না থাকত যা তিনি সুসংহত করেছেন, তবে আমি এই বিচ্ছেদ সহ্য করতে পারতাম না এবং স্বদেশের বিরহে আমার প্রাণ নিঃশেষ হয়ে যেত এবং এরপর দিনগুলো আমার কাছে সুখকর হতো না।

কিন্তু তাঁর অনুগ্রহের মধ্যে এমন কিছু রয়েছে যা প্রবাসীকে তার স্বদেশ থেকে বিচ্ছেদের বেদনা ভুলিয়ে দেয় এবং বার্ধক্যের দিনগুলোতে মানুষের যৌবনের তেজ ও অতীত সময়কে ফিরিয়ে দেয়। মহান আল্লাহ তাঁকে নিকটবর্তী ফেরেশতাদের মাধ্যমে সাহায্য করুন এবং দিন ও বছরের আবর্তনে তাঁর রাষ্ট্রকে স্থায়ী করুন। আমি এই গ্রন্থের বিন্যাসে খুলাফায়ে রাশেদিন এবং তাঁদের পরবর্তী উমাইয়া ও আব্বাসীয়দের শাসনকাল অনুসরণ করেছি। যখন আমার এই গ্রন্থটি সমাপ্ত ও পূর্ণ হলো এবং বিভিন্ন তাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক তথ্যে সমৃদ্ধ হলো, তখন আমি এর নামকরণ করলাম "আল-আলাক আল-খাতিরা ফী জিকর উমারা আশ-শাম ওয়াল জাযিরা" (শাম ও জাযিরার আমিরদের বর্ণনায় বহুমূল্য সম্পদ)। আশা করছি এটি সেই ব্যক্তির সংকল্পকে শাণিত করবে যার জন্য এটি রচিত হয়েছে, যদিও তিনি তা ছাড়াই স্বয়ংসম্পূর্ণ। আর এটি নির্জন সময়ে তাঁর এমন এক সঙ্গী হবে যে তাঁকে অন্যের অভাব থেকে মুক্ত করবে। আমি মহান আল্লাহর কাছে তাওফিক ও অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি, কারণ কোনো পরিবর্তন করার ক্ষমতা ও শক্তি তাঁর সাহায্য ছাড়া নেই এবং তাঁর ওপরই পূর্ণ ভরসা। আমি সেই সকল বিজ্ঞ ও সমঝদার পাঠকদের কাছে সংশোধন প্রত্যাশা করছি যারা আমার এই সংকলিত ও বিন্যস্ত বিষয়গুলো দেখবেন, তারা যেন এতে কোনো অসঙ্গতি দেখলে তা সংশোধন করে দেন—চাই তা অভিব্যক্তির ত্রুটি হোক, অনর্থক দীর্ঘায়ন হোক কিংবা বিন্যাসের কোনো বিশৃঙ্খলা হোক যা শিষ্টাচার বহির্ভূত। আমি তাদের কাছে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টির আবেদন রাখছি, কারণ আমি জানি যে আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল এবং ইতিহাস সত্য ও মিথ্যার সম্মুখীন হয়। লেখক ইতিহাস রচনার মাধ্যমে নিজেকে সমালোচনা ও তিরস্কারের মুখে ঠেলে দেন। আমি মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং দোষত্রুটি গোপন রাখার আশা রাখি। আমি প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার বক্ষ প্রশস্ত করেন এবং আমার কাঠিন্যকে সহজতায় রূপান্তর করেন। আমি আমার মূল উদ্দেশ্য বর্ণনার মাধ্যমে আলোচনা শুরু করছি যা চারটি লক্ষ্য বা المقصد (মাকসাদ)-এ বিভক্ত।

 

‌‌প্রথম উদ্দেশ্য:

শামের আলোচনা এবং এর নামকরণের ব্যুৎপত্তি প্রসঙ্গে

আবু আল-হুসাইন আহমদ বিন ফারিস "কিতাবু ইশতিক্বাক্ব আসমাইল বিলাদ" গ্রন্থে বর্ণনা করেন যে: 'শাম' শব্দটি বাম হাত (আল-ইয়াদ আশ-শু'মা) থেকে উদ্ভূত। বলা হয় "আখাযা শামাতান" অর্থাৎ সে বাম দিকে গেল এবং "শামতুল ক্বাওম" অর্থাৎ আমি সম্প্রদায়ের বাম দিক দিয়ে গেলাম। একদল লোক বলেছেন: এটি উটের 'মাশউম' থেকে এসেছে যা কালো বর্ণের উটকে বোঝায়, আর 'হিজার' হলো সাদা বর্ণের উট। আবু যুয়াইব বলেন:

উটের সেই শাবকগুলো কেনা হয় না কেবল মুনাফার জন্য... যার মধ্যে কালো এবং সাদা উভয়ই রয়েছে। …

মহান আল্লাহর কিতাবে প্রথম অর্থের (বাম দিক) সমর্থনে এসেছে: "বাম পার্শ্বের দল"। কবি আল-আশা বলেন:

নিদর্শনের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এবং শাম দেশীয় দ্রুতগামী উটগুলোর পদাঘাতে। …

আবু বকর মুহাম্মদ বিন কাসিম আল-আনবারী বলেন: শাম নামকরণের ব্যুৎপত্তিতে দুটি অভিমত রয়েছে; একটি হলো এটি বাম হাত থেকে নেওয়া হয়েছে। জনৈক কবি বলেন:

সে তার বাম হাতের সাহায্যে রক্ষা পেল এবং তাকে মুক্ত করল... এক দীর্ঘ এবং কৃষ্ণবর্ণের মাধ্যমে। …

দ্বিতীয়টি হলো এটি 'শু'ম' (অশুভ) শব্দ থেকে উৎপন্ন। ইবনুল মুকাফ্ফা বলেন: নূহ (আ.) এর পুত্র সাম এর নামানুসারে শামের নামকরণ হয়েছে; সিরিয়াক ভাষায় সাম-এর নাম হলো 'শাম' এবং হিব্রু ভাষায় 'শিম'। হিশাম বিন মুহাম্মদ—যিনি ইবনুল কালবী নামে পরিচিত—এটি অস্বীকার করে বলেন: সাম কখনো এই ভূমিতে অবতরণ করেননি; বরং এই ভূমিতে লাল, কালো ও সাদা বর্ণের যে দাগ (শামাত) রয়েছে তার কারণেই একে 'শাম' বলা হয়। অন্যেরা বলেন: কাবার বাম দিকে অবস্থিত হওয়ায় একে 'শাম' বলা হয়, যেমন ডান দিকে হওয়ায় একে 'ইয়েমেন' বলা হয়। হিশাম বিন কালবী আরও বলেন: নমরুদের অট্টালিকা ধসে পড়ার পর মানুষ যখন বাবেল ভূমি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তখন একদল ডান দিকে (ইয়ামিন) চলে যায় এবং তারা যেখানে বসতি স্থাপন করে তাকে 'ইয়েমেন' বলা হয় কারণ তা কাবার ডান দিকে অবস্থিত। অন্য একদল বাম দিকে (শামাত) যায় এবং তাদের বসতিকে 'শাম' বলা হয় কারণ তা কাবার বাম দিকে অবস্থিত।

 

‌‌দ্বিতীয় উদ্দেশ্য:

সেখানে সর্বপ্রথম যারা বসতি স্থাপন করেছিল তাদের আলোচনা
(খণ্ড: ১) আল-আলাকুল খাতীরা ফী যিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাযীরা (পৃষ্ঠা: ৩)
قرأتُ في تأريخ دمشق للشيخ الإمام العالم الحافظ أبي القاسم عليّ بن الحسن بن هبة الله بن عبد الله المعروف بابن عساكر رحمه بعد سند رفعه إلى هشام بن محمّد عن أبيه قال: كان الّذي عقد لهم نوح - صلّى الله على نبيّنا وعليه - ببابل فنزل بنو سام المِجْدِل وهو ما بين ساتيداما إلى البحر وما بين اليمن إلى الشام وجعل الله النبوّة والكتاب والبياض فيهم ونزل بنو حام مجرى الجنوب والديور فيُقال لتلك الناحية الداروم وجعل الله فيهم الأُدمة وجعل في أرضهم الأثل والعشب والنخل وجرّى الشمس والقمر في سمائهم ونزل بنو يافث في الصفون بمجرى الشمال والصبا وفيهم الشقرة والحمرة وأخلى أرضهم فاشتدّ بردها وأخلى سمائها فليس يجري فوقهم شيء من النجوم السبعة الجارية لأنهم صاروا تحت بنات نعش والجدي والفرقدين. ثم لحقت عاد بالشِحْر فعليه هلكوا ولحقت بعدهم بالشحر مَهْرَة ولحقت عُبيْل بموضع يثرب ولحقت العماليق بأرض صنعا. ولحقت ثمود بالحجر فهلكوا ولحقت طًسْم وَجديس باليمامة فهلكوا ولحقت أميم بارض وبار فهلكوا بها وهو رمل عالج فيما بين اليمامة والشِحْر فلا يصل إليها أحد لأن النّ غلبت عليها ولحقت يُقْطَن بن عابر باليمن فسُميت يمناً حين تيمنوا إليها ولحق قوم من بني كنعان بالشأم فسُميت شأماً حين تشاءموا إليها

 

‌‌المقصد الثالث في

ذكر ما ورد من فضل الشام

قرأت في التاريخ الحافظ بن عساكر الدمشقي رحمه الله بسند رفعه عن عبد الله ابن حَوالة الأزدي أنّه قال: يا رسول الله صِف لي بلداً أكون فيه فاو علمتُ أنّك تبقى لم أختر على قربك شيئاً. قال: عليك بالشام ثلاثاً فلّما رأى النبي صلى الله عليه وسلم كراهته إياها قال: هل تدري ما يقول الله في الشام؟ إن الله تع يقول: يا شام أنتِ صفوتي من بلادي أدخل فيك خيرة من عبادي أنتِ سوط نقمتي وسوط عذابي أنتِ الأنذر وإليكِ المحشر. ورأيتُ ليلة أسرى بي عموداً أبيض كأنه لؤلؤة تحمله الملائكة. قلتُ: ما تحملون؟ قالوا: عمود الإسلام أمرنا أن نضعه في الشام وبينا أنا نائم إذ رأيتُ الكتاب اختُلس من تحت وسادتي فظننتُ أن الله تع تخلى من أهل الأرض فأتبعتُه فإذا هو بين يدي حتى وضع بالشام فمن أبى فليلحق يمنةّ ويُسقَ من غدره فإن الله تكفّل بالشام وأهله.

وروى بإسناده قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: صفوة الله من أرضه الشام وفيها صفوة من خلقه وعباده. وفي حديث آخر: من خرج من الشام إلى غيرها فبسخطه - يعني الله تعالى - ومن دخلها من غيرها فبرحمته. وروى أيضا أنّ الّله تع بارك ما بين العريش والفرات وخصّ فلسطين بالتقديس - يعني التطهير -. ثم قال عقيب هذا الحديث: هذا الحديث منقطع.

وروى أيضا عن عبد الله بن عمر رضهما قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: الخير عشرة أعشار تسعة في الشام وواحد في سائر البلدان والشر عشرة أعشار واحد بالشام وتسعة في سائر البلدان وإذا فسد أهل الشام فلا خير فيكم.

وروى أيضا بسند رفعه إلى أبى الدرداء. قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أهل الشام وأزواجهم وذرّياتهم وعبيدهم وإماؤْهم إلى منتهى الجزيرة مرابطون في سبيل الله فمن احتلّ منها ثغراً من الثغور فهو في جهاد وهذا القدر كافٍ في شرف من احتلً من أهله شافٍ.

وروى أيضا عن شهر بن حَوشْ بأنّ معاوية بن أبي سفيان سمع رجلاً من أهل مصر يسبُّ أهل الشام فأخرج وجهه من برنسه وقال: يا أهل مصر لا تسبّوا أهل الشام فإنّي سمعت رسول الّله صلى الله عليه وسلم يقول: فيهم الإبدال وبهم يُرزقون وبهم يُنصرون. وقد قيل: إنّ عوفاً قال ذلك ومعاوية يسمعه.

 

‌‌المقصد الرابع في

ذكر موضعه من المعمور وحدوده

وإلى ما انقسم إليه من الأجناد
আমি ইমাম, হাফিজ, আলিম আবু আল-কাসিম আলি ইবনে আল-হাসান ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ, যিনি ইবনে আসাকির (রহ.) নামে পরিচিত, তাঁর প্রণীত 'তারিখে দিমাশক'-এ একটি সনদসূত্রে পড়েছি, যা হিশাম ইবনে মুহাম্মাদ থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত: তিনি বলেন, নূহ (আলাইহিস সালাম)—আমাদের নবী এবং তাঁর ওপর আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক—বাবেলে তাদের জন্য যে অংশ নির্ধারণ করেছিলেন, সেই অনুযায়ী সামের সন্তানরা 'মিজদিল' অঞ্চলে বসতি স্থাপন করল, যা সাতিদামা থেকে সমুদ্র পর্যন্ত এবং ইয়ামেন থেকে শাম পর্যন্ত বিস্তৃত। আল্লাহ তাদের মধ্যে নবুওয়াত, কিতাব এবং শ্বেত বর্ণ দান করেছেন। হামের সন্তানরা দক্ষিণাঞ্চল এবং দিয়ুর অভিমুখে বসতি স্থাপন করল, যাকে 'দারুম' বলা হয়। আল্লাহ তাদের মধ্যে কৃষ্ণাঙ্গতা দান করেছেন এবং তাদের ভূমিতে ঝাউ গাছ, ঘাস ও খেজুর গাছ দিয়েছেন এবং তাদের আকাশে সূর্য ও চন্দ্রের বিচরণ ঘটিয়েছেন। ইয়াফিসের সন্তানরা উত্তর ও পূর্ব বায়ু প্রবাহিত 'সাফুন' অঞ্চলে বসতি স্থাপন করল; তাদের মধ্যে গৌরবর্ণ ও রক্তিম আভা রয়েছে। আল্লাহ তাদের ভূমিকে জনশূন্য রেখেছেন ফলে সেখানে প্রচণ্ড শীত অনুভূত হয় এবং তাদের আকাশকেও গ্রহহীন রেখেছেন, তাই তাদের ওপর সাতটি চলমান নক্ষত্রের কোনোটিই বিচরণ করে না, কারণ তারা 'বানাতু না'শ' (সপ্তর্ষি মন্ডল), সুমেরু নক্ষত্র এবং ফারকাদাইন নক্ষত্রের নিচে অবস্থিত। এরপর 'আদ' জাতি শিহরে চলে গেল এবং সেখানেই তারা ধ্বংস হলো। তাদের পর শিহরে 'মাহরাহ' সম্প্রদায় গেল। 'উবায়িল' সম্প্রদায় ইয়াসরিব অভিমুখে এবং 'আমালেকা' সম্প্রদায় সানআ অভিমুখে গেল। সামুদ জাতি হিজর অঞ্চলে গেল এবং ধ্বংস হলো। তাসম ও জাদিস ইয়ামামায় গেল এবং ধ্বংস হলো। আমীম জাতি ওবার অঞ্চলে গেল এবং সেখানেই ধ্বংস হলো—এটি ইয়ামামা ও শিহরের মধ্যবর্তী একটি বালুকাময় মরুভূমি, যেখানে জিনদের আধিপত্যের কারণে কেউ পৌঁছাতে পারে না। আবিরের পুত্র ইউকতান ইয়ামেনে গেল; যখন তারা সেখানে বরকত লাভ করল তখন থেকেই এর নাম ইয়ামেন রাখা হলো। কেনানের সন্তানদের এক দল শামে গেল; যখন তারা সেখানে অমঙ্গল বা অলক্ষুণে কিছুর সম্মুখীন হলো তখন থেকেই এর নাম শাম রাখা হলো।

 

‌‌তৃতীয় উদ্দেশ্য

শামের ফজিলত বর্ণনায়

আমি হাফিজ ইবনে আসাকির আল-দিমাশকি (রহ.)-এর ইতিহাস গ্রন্থে একটি সনদসূত্রে পড়েছি যা আব্দুল্লাহ ইবনে হাওয়ালা আল-আজদি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: হে আল্লাহর রাসুল! আপনি আমার জন্য এমন একটি দেশের বর্ণনা দিন যেখানে আমি বসবাস করব; কারণ আমি যদি জানতাম যে আপনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন, তবে আমি আপনার সান্নিধ্য ছাড়া অন্য কিছু বেছে নিতাম না। তিনি বললেন: "তুমি শামে অবস্থান করো"—একথাটি তিনি তিনবার বললেন। যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শামের প্রতি তাঁর অনীহা লক্ষ্য করলেন, তখন বললেন: "তুমি কি জানো আল্লাহ শাম সম্পর্কে কী বলেন? মহান আল্লাহ বলেন: হে শাম! তুমি আমার দেশসমূহের মধ্যে আমার মনোনীত ভূমি; আমি তোমার মধ্যে আমার বান্দাদের মধ্য থেকে সর্বোত্তমদের প্রবেশ করাই। তুমি আমার ক্রোধের চাবুক এবং আমার শাস্তির চাবুক; তুমিই সতর্ককারী এবং তোমার দিকেই হাশরের সমবেতকরণ ঘটবে। আর আমি মিরাজের রাতে একটি শ্বেত স্তম্ভ দেখেছি, যেন সেটি একটি মুক্তা যা ফেরেশতারা বহন করছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম: তোমরা কী বহন করছো? তারা বলল: এটি ইসলামের স্তম্ভ, আমাদের এটি শামে স্থাপন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমি ঘুমানোর সময় দেখলাম যে আমার বালিশের নিচ থেকে কিতাবটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে; আমি ভেবেছিলাম যে মহান আল্লাহ পৃথিবীর অধিবাসীদের ত্যাগ করেছেন। অতঃপর আমি সেটিকে অনুসরণ করলাম এবং দেখলাম যে সেটি আমার সামনে রয়েছে, এমনকি শেষ পর্যন্ত সেটিকে শামে স্থাপন করা হলো। সুতরাং যে ব্যক্তি তা অস্বীকার করবে সে যেন ইয়ামেনের দিকে চলে যায় এবং তার জলাধার থেকে পান করে; কারণ আল্লাহ শামের এবং তার অধিবাসীদের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।"

তিনি তাঁর সনদসূত্রে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহর জমিনের মধ্যে তাঁর মনোনীত ভূমি হলো শাম এবং সেখানে তাঁর সৃষ্টি ও বান্দাদের মধ্যে মনোনীত ব্যক্তিরা অবস্থান করে।" অন্য একটি হাদিসে এসেছে: "যে ব্যক্তি শাম থেকে অন্যত্র চলে যায় সে মহান আল্লাহর অসন্তুষ্টি নিয়ে যায়, আর যে ব্যক্তি অন্য স্থান থেকে সেখানে প্রবেশ করে সে আল্লাহর রহমত নিয়ে প্রবেশ করে।" আরও বর্ণিত হয়েছে যে, মহান আল্লাহ আল-আরিশ থেকে ফোরাত নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে বরকত দান করেছেন এবং ফিলিস্তিনকে পবিত্র করার মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। অতঃপর এই হাদিসের পর তিনি বলেছেন: "এই হাদিসটি মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন সনদযুক্ত)।"

আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কল্যাণ দশ ভাগের নয় ভাগই শামে এবং এক ভাগ অন্যান্য দেশসমূহে। আর অকল্যাণ দশ ভাগের এক ভাগ শামে এবং নয় ভাগ অন্যান্য দেশসমূহে। যখন শামের অধিবাসীরা পথভ্রষ্ট হবে, তখন তোমাদের মধ্যে আর কোনো কল্যাণ থাকবে না।"

আবু দারদা (রা.) থেকে একটি সনদসূত্রে বর্ণনা করা হয়েছে যে, আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "শামের অধিবাসী, তাদের স্ত্রীরা, তাদের সন্তানরা এবং তাদের দাস-দাসীরা জাজিরার শেষ সীমানা পর্যন্ত আল্লাহর পথে পাহারারত; সুতরাং যে ব্যক্তি সেখানকার কোনো সীমান্তে অবস্থান করবে সে জিহাদের সওয়াব পাবে। আর শামের অধিবাসীদের মর্যাদার বর্ণনায় এইটুকুই যথেষ্ট।"

শহর ইবনে হাওশাব থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান (রা.) মিশরের এক ব্যক্তিকে শামের অধিবাসীদের গালি দিতে শুনলেন। তখন তিনি তাঁর শিরস্ত্রাণ থেকে মাথা বের করে বললেন: "হে মিশরের অধিবাসী! তোমরা শামের অধিবাসীদের গালি দিও না। কারণ আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: তাদের মধ্যে আবদাল বিদ্যমান, তাদের মাধ্যমেই মানুষ রিজিকপ্রাপ্ত হয় এবং তাদের মাধ্যমেই সাহায্যপ্রাপ্ত হয়।" বলা হয়ে থাকে যে, আউফ (রা.) এ কথাটি বলেছিলেন এবং মুয়াবিয়া তা শুনছিলেন।

 

‌‌চতুর্থ উদ্দেশ্য

পৃথিবীর জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে শামের অবস্থান ও তার সীমানা বর্ণনায়

এবং সেখানকার সেনাদলসমূহ যেসব অংশে বিভক্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আলাকুল খাতীরা ফী যিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাযীরা (পৃষ্ঠা: ৪)
أما موضعه من المعمور فإنّه في الإقليم الثالث والرابع وأمّا حدوده فإنّ الصاحب كمال الدين أبا القاسم عمر بن أحمد بن محمّد بن هبة الله بن أبي جَرادة الحلَبي العُقَيْليّ المعروف بابن العديم روى في كتابه المسمّى ببغية الطلب في تأريخ مدينة حلب حديثاً رفعه إلى النبيّ صلى الله عليه وسلم أنّه سُئل عن البركة التي بورك في الشام أين موضع حدّه. قال: أوّل حدوده عريش مصر والحدّ الآخر طرف البثنية والحدّ الآخر الفرات والحدّ الأخير جبل فيه قبر هود عم. وذكر أصحاب الاعتناء بتحديد المسالك والممالك أنّ حدّه الجنوبيّ العريش من جهة مصر وحدّه الشماليّ بلاد الروم وحدّه الشرقيّ البادية من أيلة إلى الفرات وحدّه الغربيّ بحر الروم.

وأمّا ما انقسم إليه من الأجناد فالّذي ورد في ذلك ما حكاه أبو جعفر الطبريّ في تأريخه أنّ أبا بكر الصدّيق رضه لما عزم على فتح الشام سمّى لكل أمير أمّرَه على الجيوش كورةً فسمّى لأبي عبيدة بن الجرّاح كورة حمص وليزيد بن أبي سفيان كورة دمشق ولشُرَحْبيل بن حَسَنَة كورة الأردنّ ولعمرو ابن العاصّ وعلقمة بن محرز كورة فلسطين. فإذا فرغ منها ترك علقمة وسار إلى مصر فيدلّ هذا على أنّ الشام لمّا كان في أيدي الروم مقسوماً إلى هذه الكور الأربعة لا غير.

وممّا يؤيّد ما قدّرناه ما ذكره قُدامة بن جعفر في كتاب الخراج أنّ أبا عبيدة سار إلى قنّسرين وكورها يومئذ مضافة إلى حمص ولم يزل كذلك حتّى فصل يزيد بن معاوية وقيل معاوية قنّسرين وإنطاكية ومنبج الثغور جنداً وأفردها عن حمص وصيّر حمص وأعمالها جنداً ولمّا استخلف هارون الرشيد أفرد قنّسرين بكورها وصيّر ذلك جنداً وأفرد منبج ودُلوك ورَعْبان وقورص وإنطاكية وتيزين الثغور وسمّاها العواصم. وقد قيل: إنّ العواصم من حلب إلى حماه. وسمّيت العواصم لأنّ المسلمين يعتصمون بها في ثغورهم فتعصمهم فتكون إذّا أجناد الشام ستةً قنّسرين والعواصم وحمص ودمشق والأردنّ وفلسطين. وسنذكر ما اشتملت عليه هذه الأجناد من البلاد البرّية والساحليّة في موضعها من هذا الكتاب إن شاء الله تع على تفصيل يروق مستمعه ويشهد من وقف عليه أنّ هذا موضعه.

وإذ قد فرغتُ من ديباجة كتابي الّتي ضمّنتُها مقاصدي فيه وجعلتُها مفصحةً عن سرّه الّذي يخفيه فقد آن أن أبدأ بذكر حلب على ما تقدّم الوعد به وتعلّق سبب غرضي بسببه وأرتّب الكلام فيه على ثلاثة أقسام حلّت منه محلّ الأرواح في الأجسام.

القسم الأوّل أضمّنه سبعة عشر باباً في أمر البلد وما اشتمل عليه بنيانه ظاهراً وباطناً.

القسم الثاني أضمّنه خمسة أبواب فيما يشتمل عليه حدود نواحيها الخارجة عنها.

القسم الثالث في ذكر أمرائها منذ فُتحتْ إلى عصرنا الّذي وضعنا فيه الكتاب.

 

‌‌القسم الأوّل

أمر البلد وما اشتمل عليه بنيانه ظاهراً وباطناً

ويشتمل على سبعة عشر باباً‌‌ الباب الأوّل في‌‌ ذكر موضعها من المعمور.

الباب الثاني في ذكر الطالع الّذي بُنيت فيه ومن بناها.

الباب الثالث في ذكر تسميتها واشتقاقها.

الباب الرابع في ذكر صفة عمارتها.

الباب الخامس في ذكر عدد أبوابها.

الباب السادس في ذكر بناء قلعتها والقصور القديمة.

الباب السابع في ذكر ما ورد في فضلها.

الباب الثامن في ذكر مسجدها الجامع والجوامع الّتي بظاهرها وضواحيها.

الباب التاسع في ذكر المزارات الّتي بباطنها وظاهرها.

الباب العاشر في ذكر المساجد الّتي بباطن حلب وظاهرها.

الباب الحادي عشر في ذكر الخانقاهات والربط.

الباب الثاني عشر في ذكر المدارس.

الباب الثالث عشر في ذكر ما بحلب وضواحيها من الطلسمات والخواصّ.

الباب الرابع عشر في ذكر الّحمامات.

الباب الخامس عشر في ذكر نهرها وقنيها.

الباب السادس عشر في ذكر ارتفاع فصبتها.

الباب السابع عشر في ذكر ما مُدحت به نظماً ونثراً.

 

الباب الأوّل في

ذكر موضعها من المعمور
বসতিপূর্ণ অঞ্চলের মাঝে এর অবস্থান হচ্ছে তৃতীয় ও চতুর্থ জলবায়ু অঞ্চলে। আর এর সীমানা সম্পর্কে সাহেব কামালুদ্দীন আবুল কাসিম উমর ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে আবি জারাদাহ আল-হালাবি আল-উকায়লি, যিনি ইবনুল আদীম নামে পরিচিত, তিনি তাঁর 'বুগিয়াতুত তলাব ফী তারিখি মদিনাতি হালাব' নামক গ্রন্থে একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেছে; তাঁকে শাম বা সিরিয়ার বরকত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, এর সীমানা কোথায়? তিনি বললেন: এর প্রথম সীমানা হলো মিশরের আরীশ এবং অপর সীমানা হলো বুসায়নিয়ার প্রান্তভাগ, আর অন্য সীমানা হলো ফুরাত নদী এবং শেষ সীমানা হলো এমন একটি পাহাড় যেখানে হুদ আলাইহিস সালামের কবর রয়েছে। পথ ও রাজ্যসমূহের সীমানা নির্ধারণে যত্নশীল বিশেষজ্ঞগণ উল্লেখ করেছেন যে, এর দক্ষিণ সীমানা মিশরের দিক থেকে আরীশ, উত্তর সীমানা রোমীয় ভূখণ্ড (বাইজান্টাইন), পূর্ব সীমানা আয়লা থেকে ফুরাত পর্যন্ত বিস্তৃত মরুভূমি এবং পশ্চিম সীমানা হলো ভূমধ্যসাগর।

আর এটি যে সকল সামরিক প্রদেশে (আজনদ) বিভক্ত, সে সম্পর্কে আবু জাফর তাবারী তাঁর ইতিহাসে বর্ণনা করেছেন যে, আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন শাম বিজয়ের সংকল্প করলেন, তখন তিনি প্রত্যেক সেনাপতির জন্য একটি করে প্রদেশ নির্দিষ্ট করে দিলেন। তিনি আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহকে হিমস প্রদেশ, ইয়াজিদ ইবনে আবি সুফিয়ানকে দামেস্ক প্রদেশ, শুরাহবিল ইবনে হাসানাহকে জর্ডান প্রদেশ এবং আমর ইবনুল আস ও আলকামা ইবনে মুহরিজকে ফিলিস্তিন প্রদেশের দায়িত্ব দিলেন। ফিলিস্তিন বিজয় শেষ হলে আলকামাকে সেখানে রেখে আমর ইবনুল আস মিশরের দিকে যাত্রা করেন। এটি প্রমাণ করে যে, শাম যখন রোমীয়দের অধীনে ছিল, তখন তা এই চারটি প্রদেশেই বিভক্ত ছিল।

আমরা যা ধারণা করেছি তার সমর্থনে কুদামা ইবনে জাফর 'কিতাবুল খারাজ'-এ উল্লেখ করেছেন যে, আবু উবাইদাহ কিন্নাসরিনের দিকে যাত্রা করেন এবং সে সময় এর প্রদেশগুলো হিমসের অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ অবস্থা ততক্ষণ পর্যন্ত বজায় ছিল যতক্ষণ না ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া (মতান্তরে মুয়াবিয়া) কিন্নাসরিন, আনতাকিয়া, মানবিজ এবং সীমান্ত অঞ্চলগুলোকে একটি স্বতন্ত্র সামরিক প্রদেশ হিসেবে গঠন করেন এবং একে হিমস থেকে পৃথক করে দেন; আর হিমস ও এর আশপাশের এলাকাগুলোকে একটি আলাদা সামরিক প্রদেশে পরিণত করেন। যখন হারুনুর রশিদ খলিফা হলেন, তখন তিনি কিন্নাসরিন ও এর অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোকে একটি স্বতন্ত্র প্রদেশ করেন এবং মানবিজ, দুলুক, রা'বান, কুরাস, আনতাকিয়া ও তিজিন সীমান্ত অঞ্চলগুলোকে পৃথক করে সেগুলোর নাম দেন 'আল-আওয়াসিম'। বলা হয়ে থাকে যে, আওয়াসিম হলো হালাব থেকে হামাহ পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল। এর নামকরণ আওয়াসিম (সুরক্ষাকারী) করা হয়েছে কারণ মুসলমানরা তাদের সীমান্ত রক্ষায় এখানে আশ্রয় গ্রহণ করত, ফলে এটি তাদের সুরক্ষা দিত। সুতরাং শামের সামরিক প্রদেশ তখন মোট ছয়টি হয়: কিন্নাসরিন, আল-আওয়াসিম, হিমস, দামেস্ক, জর্ডান ও ফিলিস্তিন। ইনশাআল্লাহ তাআলা এই বইয়ের যথাস্থানে আমি এই প্রদেশগুলোর অন্তর্ভুক্ত স্থলপথ ও উপকূলীয় শহরগুলোর বিবরণ এমন বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করব যা শ্রোতাকে মুগ্ধ করবে এবং যে ব্যক্তি এটি পাঠ করবে সে সাক্ষ্য দেবে যে এটিই এর সঠিক স্থান।

যেহেতু আমি আমার কিতাবের ভূমিকা শেষ করেছি যাতে আমি আমার উদ্দেশ্যগুলো অন্তর্ভুক্ত করেছি এবং একে এর গোপন রহস্যের প্রকাশকরূপে গঠন করেছি, তাই এখন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হালাব বা আলেপ্পো সম্পর্কে আলোচনা শুরু করার সময় এসেছে। আমি এর বর্ণনাকে তিনটি খণ্ডে বিন্যস্ত করেছি, যা দেহের মাঝে প্রাণের ন্যায় অবস্থান করে।

প্রথম খণ্ড: এটি সতেরোটি অধ্যায় সম্বলিত, যেখানে শহরটির অবস্থা এবং এর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক অবকাঠামো সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

দ্বিতীয় খণ্ড: এটি পাঁচটি অধ্যায় সম্বলিত, যেখানে এর বহির্ভাগ ও পার্শ্ববর্তী সীমানাগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

第三 খণ্ড: এটি শহরটি বিজিত হওয়ার পর থেকে আমাদের বর্তমান কাল পর্যন্ত এর শাসকদের বর্ণনায় সমৃদ্ধ।

 

‌‌প্রথম খণ্ড

শহরের বিবরণ এবং এর অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক অবকাঠামো

এটি সতেরোটি অধ্যায় সম্বলিত‌‌ প্রথম অধ্যায়:‌‌ বসতিপূর্ণ বিশ্বের মাঝে এর অবস্থান।

দ্বিতীয় অধ্যায়: যে নাক্ষত্রিক লগ্নে এটি নির্মিত হয়েছিল এবং এর নির্মাতাদের পরিচয়।

第三 অধ্যায়: এর নামকরণ ও ব্যুৎপত্তি।

চতুর্থ অধ্যায়: এর স্থাপত্যের বর্ণনা।

পঞ্চম অধ্যায়: এর প্রবেশদ্বারসমূহের সংখ্যা।

ষষ্ঠ অধ্যায়: এর দুর্গ ও প্রাচীন প্রাসাদসমূহের নির্মাণ।

সপ্তম অধ্যায়: এর ফজিলত বা মাহাত্ম্য।

অষ্টম অধ্যায়: এর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এবং এর বহির্ভাগ ও শহরতলিতে অবস্থিত মসজিদসমূহ।

নবম অধ্যায়: এর অভ্যন্তরে ও বাইরে অবস্থিত মাজার বা জিয়ারতগাহসমূহ।

দশম অধ্যায়: হালাবের অভ্যন্তরে ও বাইরে অবস্থিত সাধারণ মসজিদসমূহ।

একাদশ অধ্যায়: খানকাহ ও রিবাতসমূহ (সুফি কেন্দ্র)।

দ্বাদশ অধ্যায়: মাদরাসাসমূহ।

ত্রয়োদশ অধ্যায়: হালাব ও এর শহরতলিতে অবস্থিত তিলিসম (জাদুবিদ্যা সংক্রান্ত প্রতীক) ও বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ।

চতুর্দশ অধ্যায়: হাম্মাম বা গোসলখানাসমূহ।

পঞ্চদশ অধ্যায়: এর নদী ও খালসমূহ।

ষোড়শ অধ্যায়: এর কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক অঞ্চলের রাজস্ব বা গুরুত্ব।

সপ্তদশ অধ্যায়: কবিতা ও গদ্যে এর যে প্রশংসা করা হয়েছে।

 

প্রথম অধ্যায়:

বসতিপূর্ণ বিশ্বের মাঝে এর অবস্থান
(খণ্ড: ১) আল-আলাকুল খাতীরা ফী যিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাযীরা (পৃষ্ঠা: ৫)
اعلم أنّ حلب من الإقليم الرابع وهذا الإقليم هو أفضل الأقاليم السبعة وأصحها هواءً وأعذبها ماءً وأحسنها أهلاً وهو وسطها وحيّرزها. وذكر هِرمِس أنّ الإقليم الرابع في الوسط من العمران وهو للشمس. وقال بطليموس: إنَ الإقليم الرابع للشمس وأطول ما يكون النهار في المدن الّتي على الخطّ المسمّى وبسيطه أربع عشرة ساعةً ونصف وبُعد هذا الخطّ من خطّ الاستواء ستّ وثلاثون درجةً تكون من الأميال ألفَيْ ميل وأربعمائة ميل وسعة عرضه من آخر حدود إقليم الثالث إلى أوّل الخامس من الأجزاء خمس درج وأربع دقائق تكون ذلك من الأميال ثلاثمائة وثلاثون ميلاً ونصف الميل. قال: وفي هذا الإقليم من الجبال الطوال اثنان وعشرون جبلاً ومن المدن الكبار المشهورة نحو مائتي مدينة واثنتي عشرة مدينةً وهذا الإقليم هو إقليم الأنبياء والحكماء لأنه وسط بين ثلاثة أقاليم جنوبية وثلاثة شمالية وهو أيضاً في قسمة النيّر الأعظم. وذكر الخالديّان في تأريخ الموصل أن الإقليم الرابع أفضل الأقاليم وأجلّها لأنّه يبتدئ من المشرق بالصين فيمرّ ببلاد التُبّت وينتهي إلى بحر المغرب وأهل هذا الإقليم أصحّ هذه الأقاليم طباعاً وأتمّهم اعتدالاً وأحسنهم وجوهاً وأَخلاقاً وأكثر الأقاليم مدناً وعمارةً وفيه مغاصّ الدُرّ وفيه جبال أنواع اليواقيت والحجارة الثمينة وجميع أصناف الطيب ولأهلها الصنائع واللطف والتأليف من الرخام وصِبْغه ونصب الطلسمات وكلّ مدينة معتدلة الهواء مشهورة الاسم فمنه وداخلة فيه.

 

‌‌الباب الثاني في

ذكر الطالع الذي بُنيت فيه ومن بناها

اخبرني الرئيس بهاء الدين أبو محتد الحسن بن إبراهيم ابن الخشاب الحلبي قال: نقلتُ من ظهر كتاب عتيق ما هذه صورته: رأيتُ في القنطرة التي على باب إنطاكية من مدينة حلب في سنة إحدى عشرة وأربعمائة للهجرة كتابةً باليونانيّة فسألتُ عنها فحكى لي أبو عبد الله الحسين بن إبراهيم الحسينيّ الحرّانيّ أيّده الله انّ أبا أسامة الخطيب بحلب حكى له أنّ أباه حدّثه أنّه حضر مع أبي الصقر القبيصيّ ومعهما يقرأ باليونانيّة فنسخوا هذه الكتابة. قال: وأنفذ إلي ّ نسختها في رقعة وهي: " بُنيت هذه المدينة والطالع العقرب والمشتري فيه وعطارد يليه ولله الحمد كثيراً بناها صاحب الموصل ". قال: ثمّ سيَر إليّ أبو محمّد الكتاب الذيّ نقل منه ما ذكره بعينه. قال: فشاهدتُ عليه المكتوب كما ذكره لي من غير زيادة ولا نقصان. قلتُ: وصاحب الموصل والله أعلم هو بلوكوس الّذي تُسمّيه اليونانيون سردنيبلوس.

قال كمال الدين بن العديم: قرأتُ في الكتاب الجامع للتأريخ المتضمن ذكر مبدأ الدول ومنشأ الممالك ومواليد الأنبياء وأوقات بناء المدن وذكر الحوادث المشهورة مماّ عُني بجمعه أبو نصر يحيى بن جرير الطيب التكريتيّ النصراني من عهد آدم إلى دولة بني مروان ونقلتُ ذلك من خطّه. قال: ذُكر أن في دولة الواصلة أنّ بلوكوس الموصليّ ملك خمس وأربعين سنةً وأوّل مُلكه في سنة ثلاثة آلاف وتسعمائة وتسعة وثمانين لآدم عَم. قال: وفي سنة تسع وعشرين من مُلكه وهي سنة أربعة آلاف وثماني عشرة سنةً لآدم ملكت أطوسا المسمات سَميرَم مع بلوكوس أبيها. وبلوكوس هذا الّذي تسمّيه اليونانيّون سَرْدنيبلوس وهو الّذي بنى حلب.

وقال أبو الريحان أحمد بن محمد البيرونيّ في كتاب القانون المسعوديّ: بُنيت حلب في أيام بلقورس من ملوك نينوى وكان مُلكه لمضي ثلاثة آلاف وتسعمائة واثنين وستين سنةً لآدم عم ومدّة مقامه في الملك ثلاثون سنةً. وبلقورس هذا هو بلوكوس الّذي قدّمنا ذكره غير أنّ هذه الأسماء الأعجمية لا يكاد المسمّون لها يتَّفقون فيها على صورة واحدة لاختلاف ألسنتهم.

وممّا نقلتُه من تأريخه أيضا قال: وفي السنة الحادة والعشرين من ملك سلوقوس اليهود أن يقيموا في المدن الّتي بنى وأطرّهم إلى ذلك وقرّر عليهم الجزية الّتي أزالها شمعون بعد مائة وسبعين سنةً ووجد ذلك في بعض تواريخ القدماء. إنّ في السنة الأولى من تأريخ الإسكندر ملك سولوقوس على سوريا وبابل وهذا الرجل بنى سلوقية وأفامية والرُها وحلب ولاذقية.
জেনে রাখুন যে, আলেপ্পো চতুর্থ জলবায়ু অঞ্চলের (ইকলিম) অন্তর্ভুক্ত। এই অঞ্চলটি সাতটি জলবায়ু অঞ্চলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, এর আবহাওয়া সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর, পানি সবচেয়ে সুপেয় এবং এর অধিবাসীরা সর্বোত্তম; এটি হলো অঞ্চলসমূহের কেন্দ্র ও মধ্যস্থল। হেরমেস উল্লেখ করেছেন যে, চতুর্থ অঞ্চলটি জনবসতির কেন্দ্রে অবস্থিত এবং এটি সূর্যের প্রভাবাধীন। টলেমি বলেছেন: চতুর্থ অঞ্চলটি সূর্যের প্রভাবাধীন এবং এর অন্তর্ভুক্ত শহরগুলোতে দীর্ঘতম দিন চৌদ্দ ঘণ্টা ত্রিশ মিনিট হয়ে থাকে। এই রেখাটি নিরক্ষরেখা থেকে ছত্রিশ ডিগ্রি দূরে অবস্থিত, যা দুই হাজার চারশ মাইলের সমান। এর প্রস্থ তৃতীয় অঞ্চলের শেষ সীমা থেকে পঞ্চম অঞ্চলের শুরু পর্যন্ত পাঁচ ডিগ্রি চার মিনিট, যা তিনশ সাড়ে ত্রিশ মাইলের সমান। তিনি আরও বলেন: এই অঞ্চলে বাইশটি সুউচ্চ পাহাড় এবং প্রায় দুইশ বারোটি বিখ্যাত বড় শহর রয়েছে। এই অঞ্চলটি নবী ও জ্ঞানীদের অঞ্চল, কারণ এটি তিনটি দক্ষিণ ও তিনটি উত্তর অঞ্চলের মধ্যস্থলে অবস্থিত এবং এটি মহাজ্যোতিষ্কের (সূর্য) বণ্টনের অন্তর্ভুক্ত। মুসিলের ইতিহাসে খালিদিদ্বয় উল্লেখ করেছেন যে, চতুর্থ অঞ্চলটি সকল অঞ্চলের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও মহত্তম। কারণ এটি প্রাচ্যে চীন থেকে শুরু হয়ে তিব্বত অতিক্রম করে পশ্চিম সাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই অঞ্চলের অধিবাসীদের স্বভাব সবচেয়ে সুস্থ, তারা শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্যপূর্ণ, তাদের চেহারা ও চরিত্র সুন্দর এবং এই অঞ্চলে জনবসতি ও শহরের সংখ্যা সর্বাধিক। এখানে মুক্তার খনি, বিভিন্ন প্রকারের ইয়াকুত ও মূল্যবান পাথরের পাহাড় এবং সব ধরনের সুগন্ধি পাওয়া যায়। এখানকার অধিবাসীরা কারুশিল্প, সূক্ষ্ম কাজ, মার্বেল পাথর কাটা ও রঙ করা এবং তিলিসম স্থাপনে পারদর্শী। মনোরম আবহাওয়া ও সুপরিচিত নামের প্রতিটি শহরই এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত বা এর অংশ।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

এটি যে লগ্নে নির্মিত হয়েছিল এবং এর নির্মাতার বিবরণ

রইস বাহাউদ্দিন আবু মুহম্মদ আল-হাসান বিন ইব্রাহিম ইবনুল খাশশাব আল-হালাবি আমাকে অবহিত করেছেন যে, তিনি একটি প্রাচীন কিতাবের শেষ পৃষ্ঠা থেকে নিম্নোক্ত বর্ণনাটি নকল করেছেন: হিজরি চারশ এগারো সালে আমি আলেপ্পো শহরের আন্তাকিয়া গেটের ওপর একটি খিলানে গ্রিক ভাষায় কিছু লেখা দেখতে পাই। আমি সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন ইব্রাহিম আল-হুসাইনি আল-হাররানি (আল্লাহ তাকে সাহায্য করুন) আমাকে বলেন যে, আলেপ্পোর খতিব আবু উসামা তাকে বলেছেন যে, তার পিতা আবু সাকার আল-কাবিছির সাথে সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের সাথে একজন লোক ছিল যে গ্রিক ভাষা পড়তে জানত। তারা সেই লেখাটি নকল করেন। তিনি বলেন: তিনি একটি চিরকুটে সেই নকশাটি আমার কাছে পাঠিয়েছিলেন, যা ছিল: "এই শহরটি নির্মাণ করা হয়েছিল যখন বৃশ্চিক রাশি উদিত ছিল, বৃহস্পতি তাতে অবস্থান করছিল এবং বুধ তার পরবর্তী অবস্থানে ছিল। আল্লাহর জন্য অনেক অনেক প্রশংসা, এটি মুসিলের অধিপতি নির্মাণ করেছেন।" তিনি (ইবনুল খাশশাব) বলেন: অতঃপর আবু মুহাম্মদ সেই কিতাবটি আমার কাছে পাঠান যেখান থেকে তিনি হুবহু এটি নকল করেছিলেন। তিনি বলেন: আমি তাতে লেখাটি তেমনই দেখেছি যেমনটি তিনি আমাকে বলেছিলেন, এতে কোনো কমবেশি ছিল না। আমি বলি: আর মুসিলের অধিপতি—আল্লাহই ভালো জানেন—হলেন ব্লুকুস, গ্রিকরা যাকে সরদানাপালুস বলে ডাকে।

কামালুদ্দিন ইবনুল আদীম বলেন: আমি 'আল-কিতাব আল-জামি লিত-তারিখ' নামক গ্রন্থে পড়েছি, যাতে রাষ্ট্রসমূহের সূচনা, রাজত্বসমূহের উৎপত্তি, নবীদের জন্মকাল, শহর নির্মাণের সময় এবং বিখ্যাত ঘটনাবলি বর্ণিত হয়েছে। এটি আবু নাসর ইয়াহইয়া বিন জারির আল-তাবিব আল-তিকরিতি আল-নাসরানি আদম (আলাইহিস সালাম) এর যুগ থেকে বনু মারওয়ানের শাসনকাল পর্যন্ত সংকলন করেছেন এবং আমি তা তার স্বহস্তে লেখা কপি থেকে নকল করেছি। তিনি বলেন: বর্ণিত হয়েছে যে, ওয়াসিলা রাজবংশের শাসনামলে মুসিলের ব্লুকুস পঁয়তাল্লিশ বছর রাজত্ব করেছিলেন। তার রাজত্বের শুরু ছিল আদম (আলাইহিস সালাম)-এর তিন হাজার নয়শ ঊননব্বই সালে। তিনি বলেন: তার রাজত্বের ঊনত্রিশতম বছরে, যা আদম (আলাইহিস সালাম)-এর চার হাজার আঠারো সাল, সমীরাম নামক আতুসা তার পিতা ব্লুকুসের সাথে রাজত্ব করেছিলেন। এই ব্লুকুসকেই গ্রিকরা সরদানাপালুস বলে ডাকে এবং তিনিই আলেপ্পো নির্মাণ করেছিলেন।

আবু রাইহান আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-বিরুনি 'আল-কানুন আল-মাসউদি' কিতাবে বলেছেন: আলেপ্পো নিনোভার রাজাদের মধ্যে বালকুরসের আমলে নির্মিত হয়েছিল। আদম (আলাইহিস সালাম)-এর তিন হাজার নয়শ বাষট্টি বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর তার রাজত্ব শুরু হয় এবং তার রাজত্বকাল ছিল ত্রিশ বছর। এই বালকুরস-ই হলেন সেই ব্লুকুস যার কথা আমরা আগে উল্লেখ করেছি। তবে এই অনারব নামগুলোর উচ্চারণে ভাষার ভিন্নতার কারণে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ পরিলক্ষিত হয়।

তার ইতিহাস থেকে আমি আরও যা নকল করেছি তা হলো: সেলুকাস (সোলুকোস)-এর রাজত্বের একুশতম বছরে তিনি ইহুদিদের তার নির্মিত শহরগুলোতে বসবাসের অনুমতি দেন এবং তাদের ওপর জিজিয়া ধার্য করেন, যা একশ সত্তর বছর পর শিমউন বাতিল করেছিলেন। প্রাচীন কিছু ইতিহাসে পাওয়া যায় যে, আলেকজান্ডারের ইতিহাসের প্রথম বর্ষে সেলুকাস সিরিয়া ও ব্যবিলনের রাজা হন। এই ব্যক্তিই সেলুকিয়া, আফামিয়া, রুহা (এডেসা), আলেপ্পো এবং লাতাকিয়া নির্মাণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-আলাকুল খাতীরা ফী যিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাযীরা (পৃষ্ঠা: ৬)
ووجدتُ في بعض الكتب أنّ جميع عدد السنين مذ خلق الله عز وجل آدم عم إلى أول سنة من عدد اليونانيّين وتُعرف بسني الإسكندر خمسة آلاف ومائتان وإحدى وعشرون سنةً وهذا يدلّ على أنّ سلوقوس بني حلب مرّةً ثانيةً ولعلّها كانت خربت بعد بناء بلوكوس فجدّد بناءها سولوقوس فإنّ بين المدّتَين ما يزيد على ألف ومائتي سنة.

وسوريا يُطلق على الشام الأولى وهي حلب وأعمالها. وبناحية الأحصّ من بلد حلب مدينة خربة تُسمى سوريا وإليها يُنسَب اللسان والسوريانيّ والقلي السوريانيّ والقلي السوريانيّ وسنبيّن ذلك فيما يأتي إن شاء الله تع.

قال ابن العديم: ونقلتُ من خطّ إدريس بن حس الإدريسيّ ما ذكره أنّه نقله من تأريخ إنطاكية. قال صاحب تأريخ أنطاكية وهو أحد المسيحيّة السريانيّة: الّذي ملك بعد الإسكندر بطلميوس الأرنب وهو الّذي بنى أفامية وحلب واللاذقيّة والرُها. وبطلميوس الأرنب هو سلوقوس. لكن اليونانيّون كانوا يسمّون كلّ من ملك تلك الناحية بطليموس كما تسمّي الفرس كلّ من ملك عليهم كسرى وكما تسمّي الروم كلّ من ملكهم قيصر.

وقد قيل: إنّ حلب بناها حلب بن المهر بن حيص بن عمليق من بني جان بن مكنّف فسُمّيت باسمه.

فصل. وكانت حلب تُعرف بمدينة الأحبار عند الصابئة. وُجد في كتاب بابا الصابئي الحرّانيّ في المقالة الرابعة في ذكر خروج الحبشة وفسادهم في البلاد: وينزل على الفرات وتأمن مدينة الأحبار المسمّاة مابوغ هي حلب.

وقال في المقالة السادسة: وأنتِ ياموغ وهي حلب مدينة الأحبار يأتي رجل سلطان ويحلّ بك ويُعلي أسوارك ويجدّد أسواقك ويحوّز العين الّتي فيك وبعد قليل يُؤخّذ منك. ولَما شرع السلطان الملك الناصر صلاح الدين يوسف في بناية الأسوار والأبرجة بمدينة حلب وعمّر اليوقَيْن اللذَيْن أنشأهما شرقيّ الجامع بحلب أحدهما نقل إليه الحريرّيين والآخر نقل إليه النّحاسين قال لي بهاء الدين أبو محمّد الحسن بن إبراهيم بن سعيد بن الخشّاب الحلبيّ وهو من رؤساء حلب وكبرائها وأعيانها: إنّني خائف أن يكون هذا الملك الّذي يحلّ بها ويجدّد أسوارها ويعمّر أسواقها ويُخذ منها. فوقع الأمر كما ذكر في سنة ثمان وخمسين وستمائة.

 

‌‌الباب الثالث في

ذكر تسميتها واشتقاقها

قرأتُ في كتاب أسماء البلدان وإلى من تُنْسَب كلّ بلدة عن هشام بن محمّد بن السائب الكلبيّ أنّ حمص وحلب وبردعة تُنسَب لقوم من بني المهر بن حيص بن جان بن مكنف بن عمليق. وقيل إنّما سُمّيت حلباً لأن إبراهيم الخليل صلى الله عليه وسلم كان يرعى غنماً له حول تلّ كان بها وهو الآن القلعة فكان له وقت يحلب فيه الغنم ويأتوا الناس إليه في ذلك الوقت فيقولون حَلَبَ إبراهيم حَلَبَ إبراهيم فسُمّيت حلباً.

ونقلت من تأريخ كمال الدين ما ذكره أنه قرأه بخطّ الشريف إدريس ابن حسن بن عليّ بن عيسى الإدريسي وكان له معرفة بالتأريخ قال: أما اسم حلب فسمعت فيه كلاما من أفواه الرجال وأريته الشريف أبو طالب النقيب أمين الدين أحمد بن محمد الحسيني الإسحاقي بخط القاضي السيد الجليل أبي الحسن علي بن أبي جرادة وكان متفنناً في تعليق له قال: إن اسم حلب عربي لا شك فيه وهو لقب لتل القلعة. قال: كان إبراهيم عم إذا اشتمل من الأرض المقدسة ينتهي إلى هذا التل فيضع فيه أثقاله ويبثّ رعاءه إلى نهر معهم من الأغنام والمعز والبقر. وكان الضعفاء إذا سمعوا بمقدمة أتوه من كلّ وجه من بلاد الشمال فيجتمعون مع من اتّبعه من الأرض المقدّسة لينالوا من بِرّهِ. فكان يأمر الرعاء بحلب ما معهم طرفي النهار ويأمر ولده وعبيده باتّخاذ الطعام فإذا فُرغ له منه أمر بحمله إلى الطرق المختلفة بإزاء التلّ فيتنادى الضعفاء إبراهيم حَلَبَ فيتنادرون إليه. فغلبت هذه اللفظة لطول الزمان على التلّ كما غلب غيرها من الأسماء على ما هو مسمّى به فصار علَماً له بالغلبة.

فصل. وتُلقَّب بالشهباء والبيضاء وذلك لبياض أرضها لأنّ غالب أرضها من الحجارة الحوّارة وترابها يضرب إلى البياض وإذا أضرف عليها الإنسان ظهرت له بيضاء.

 

‌‌الباب الرابع في

ذكر صفة عمارتها
আমি কিছু কিতাবে পেয়েছি যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করার সময় থেকে গ্রিকদের বর্ষগণনার প্রথম বছর পর্যন্ত—যা সিকান্দারের (আলেকজান্ডার) বর্ষপঞ্জি হিসেবে পরিচিত—পাঁচ হাজার দুইশত একুশ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। এটি নির্দেশ করে যে, সেলেউকাস দ্বিতীয়বার আলেপ্পো (হালাব) নির্মাণ করেছিলেন। সম্ভবত পেলোকাস নির্মাণের পর তা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, তাই সেলেউকাস এর নির্মাণ কাজ পুনর্নবায়ন করেন; কেননা এই দুই সময়ের ব্যবধান বারোশত বছরেরও বেশি।

এবং 'সুরিয়া' শব্দটি প্রথম শামের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যা হলো আলেপ্পো ও এর সংশ্লিষ্ট অঞ্চলসমূহ। আলেপ্পো ভূখণ্ডের 'আহাস' অঞ্চলে 'সুরিয়া' নামক একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত শহর রয়েছে এবং এর দিকেই সুরিয়ানি ভাষা, সুরিয়ানি ক্ষার (কালি) এবং সুরিয়ানি ক্ষার সম্বন্ধিত করা হয়। আমরা ইনশাআল্লাহ সামনে এ সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করব।

ইবনুল আদিম বলেন: আমি ইদরিস বিন হাসান আল-ইদরিসির হস্তলিপি থেকে তা উদ্ধৃত করছি যা তিনি ‘তারিখে আন্তাকিয়া’ (আন্তাকিয়ার ইতিহাস) থেকে বর্ণনা করেছেন। ‘তারিখে আন্তাকিয়া’র লেখক, যিনি একজন সুরিয়ানি খ্রিস্টান ছিলেন, তিনি বলেন: সিকান্দারের পর যিনি রাজত্ব করেন তিনি হলেন বাতিলামিউস আল-আরনাব (তলেমি দি র‍্যাবিট), আর তিনিই আফামিয়া, আলেপ্পো, লাতাকিয়া ও রুহা নির্মাণ করেছিলেন। এই বাতিলামিউস আল-আরনাবই হলেন সেলেউকাস। তবে গ্রিকরা সেই অঞ্চলের প্রত্যেক শাসককেই ‘বাতিলামিউস’ নামে ডাকত, যেমন পারস্য সম্রাটদের ‘কিসরা’ এবং রোম সম্রাটদের ‘কায়সার’ নামে ডাকা হতো।

আরও বলা হয়েছে যে: আলেপ্পো (হালাব) নির্মাণ করেছিলেন হালাব বিন আল-মাহর বিন হাইস বিন আমলিক, যিনি জান বিন মাকনিফের বংশধর ছিলেন; ফলে তাঁর নামানুসারেই এর নামকরণ করা হয়েছে।

পরিচ্ছেদ। আলেপ্পো সাবী সম্প্রদায়ের কাছে ‘মদিনাতুল আহবার’ (পণ্ডিতদের শহর) হিসেবে পরিচিত ছিল। সাবী হাররানির কিতাব ‘বাবা’-এর চতুর্থ অধ্যায়ে হাবশীদের (ইথিওপীয়) বহির্গমন এবং দেশসমূহে তাদের বিপর্যয়ের বর্ণনায় পাওয়া যায়: তারা ফোরাত নদীর তীরে অবতরণ করবে এবং ‘মাবুগ’ নামক পণ্ডিতদের শহরটি নিরাপদ থাকবে, যা হলো আলেপ্পো।

ষষ্ঠ অধ্যায়ে তিনি বলেন: আর তুমি ইয়ামুগ—যা হলো আলেপ্পো—পণ্ডিতদের শহর! এক সুলতান তোমার কাছে আসবেন এবং তোমার এখানে অবস্থান করবেন, তোমার প্রাচীরসমূহ উচ্চ করবেন, তোমার বাজারসমূহ পুনর্নির্মাণ করবেন এবং তোমার মধ্যকার ঝরনাটি নিজের আয়ত্তে নেবেন; কিন্তু অল্প সময় পরই তা তোমার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হবে। সুলতান মালিক আল-নাসির সালাহুদ্দিন ইউসুফ যখন আলেপ্পো শহরের প্রাচীর ও বুরুজ নির্মাণের কাজ শুরু করলেন এবং জামে মসজিদের পূর্ব দিকে তাঁর নির্মিত দুটি বাজার (ইউকাইন) সংস্কার করলেন—যার একটিতে তিনি রেশম ব্যবসায়ীদের এবং অন্যটিতে তাম্রকারদের স্থানান্তরিত করেছিলেন—তখন আলেপ্পোর অন্যতম প্রধান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিত্ব বাহাউদ্দিন আবু মুহাম্মাদ হাসান বিন ইব্রাহিম বিন সাঈদ বিন আল-খাশশাব আল-হালাবি আমাকে বলেছিলেন: “আমি আশঙ্কা করছি এই সুলতানই সেই ব্যক্তি যিনি এখানে অবস্থান করছেন, এর প্রাচীর সংস্কার করছেন এবং বাজার নির্মাণ করছেন, আর এটি তাঁর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হবে।” অতঃপর ৬৬৮ হিজরি সালে ঘটনাটি ঠিক তেমনই ঘটেছিল যেমনটি বর্ণিত হয়েছে।

 

‌‌তৃতীয় অধ্যায়

এর নামকরণ ও ব্যুৎপত্তি প্রসঙ্গ

আমি ‘আসমাউল বুলদান ওয়া ইলা মান তুনসাব কুল্লু বালদাহ’ কিতাবে হিশাম বিন মুহাম্মাদ বিন আস-সাইব আল-কালবির সূত্রে পড়েছি যে, হিমস, আলেপ্পো এবং বারদাআ শহরগুলোর নাম আল-মাহর বিন হাইস বিন জান বিন মাকনিফ বিন আমলিক-এর বংশধরের এক গোত্রের নামানুসারে রাখা হয়েছে। আবার বলা হয়েছে যে, একে ‘হালাব’ (আলেপ্পো) বলার কারণ হলো, ইব্রাহিম খলিল (আলাইহিস সালাম) একটি টিলার চারপাশে তাঁর ভেড়া চরাতেন, যা বর্তমানে দুর্গ (কেল্লা)। তাঁর পশু দোহনের একটি নির্দিষ্ট সময় ছিল, আর সেই সময়ে মানুষ তাঁর কাছে আসত; তখন তারা বলত— ‘হালাবা ইব্রাহিম’ (ইব্রাহিম দোহন করেছেন), ‘হালাবা ইব্রাহিম’; ফলে এর নাম হয়ে গেল হালাব বা আলেপ্পো।

আমি কামালুদ্দিনের ইতিহাস গ্রন্থ থেকে তাঁর বর্ণনা উদ্ধৃত করছি যে, তিনি শরিফ ইদরিস বিন হাসান বিন আলি বিন ঈসা আল-ইদরিসির হস্তলিপি থেকে পড়েছেন—যিনি ইতিহাস বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন—তিনি বলেছেন: “আলেপ্পো নামের ব্যাপারে আমি বিভিন্ন ব্যক্তির মুখে আলোচনা শুনেছি এবং আমি তা শরিফ আবু তালিব আন-নাকীব আমিনুদ্দিন আহমদ বিন মুহাম্মাদ আল-হুসাইনি আল-ইসহাকিকে দেখিয়েছি, যা বিশিষ্ট কাজী সাইয়্যেদ আবুল হাসান আলি বিন আবি জারাদাহ-এর হস্তলিপিতে ছিল।” তিনি তাঁর একটি নোটে বহুমুখী পাণ্ডিত্যের পরিচয় দিয়ে বলেছেন: আলেপ্পো (হালাব) নামটি নিঃসন্দেহে আরবি এবং এটি দুর্গের টিলার একটি উপাধি। তিনি বলেন: ইব্রাহিম (আ.) যখন পবিত্র ভূমি থেকে যাত্রা করতেন তখন এই টিলায় এসে পৌঁছাতেন এবং এখানে তাঁর রসদ রাখতেন। তাঁর সাথে থাকা ভেড়া, ছাগল ও গরু চরাবার জন্য তিনি রাখালদের সাথে করে একটি নদীর দিকে পাঠিয়ে দিতেন। উত্তরাঞ্চল থেকে আসা দুর্বল ও অভাবী মানুষেরা যখন তাঁর আগমনের খবর শুনত, তখন তারা তাঁর বদান্যতা লাভের আশায় বিভিন্ন দিক থেকে সেখানে সমবেত হতো। তিনি দিনের দুই প্রান্তে রাখালদের পশু দোহনের নির্দেশ দিতেন এবং তাঁর সন্তান ও দাসদের খাবার তৈরির আদেশ দিতেন। খাবার প্রস্তুত হয়ে গেলে তিনি তা টিলার সমান্তরালে বিভিন্ন রাস্তায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিতেন; তখন অভাবী মানুষেরা চিৎকার করে বলত— ‘ইব্রাহিম হালাবা’ (ইব্রাহিম দোহন করেছেন), তখন তারা তাঁর কাছে ছুটে আসত। দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ার পর এই শব্দটিই সেই টিলার নামের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে, যেমনটি অন্যান্য নামের ক্ষেত্রেও হয়ে থাকে, ফলে এটি সেই টিলার সুপরিচিত নাম হয়ে ওঠে।

পরিচ্ছেদ। এই শহরকে ‘আশ-শাহবা’ এবং ‘আল-বায়দা’ (শ্বেতশুভ্র) উপাধি দেওয়া হয়, এর ভূমির শুভ্রতার কারণে। কারণ এর অধিকাংশ ভূমি হলো সাদাটে পাথর এবং এর মাটি শুভ্রতার দিকে ঝুঁকে থাকে; কেউ এর ওপর দিয়ে দৃষ্টিপাত করলে এটি তার কাছে সাদা বলে প্রতীয়মান হয়।

 

‌‌চতুর্থ অধ্যায়

এর স্থাপত্যশৈলীর বর্ণনা প্রসঙ্গে
(খণ্ড: ১) আল-আলাকুল খাতীরা ফী যিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাযীরা (পৃষ্ঠা: ৭)
الكلام في سورها: كان مبيناً بالحجارة من بناء الروم أوّلاً ولمّا وصل كسرى أنو شروان إلى حلب وحاصرها تشعثت أسوارها وكان ملك حلب إذ ذاك يوسطينيانوس ملك الروم ولمّا استولى عليها أنو شروان وملكها رمّ ما كان هُدم من أسوارها وبناها بالآجرّ الفارسيّ. وشاهدنا منه في الأسوار التي ما بين باب الجنان وباب إنطاكية. وفي أسوارها أبرجة عديدة جدّدها ملوك الإسلام بعد الفتوح مثل بني أميّة وبني صالح لمّا كانوا ولاةً عليها من قِبَل بني العبّاس وعلى الخصوص صالح بن عليّ وعبد الملك ولده.

ولمّا خربت بمحاصرة نقفور ملك الروم لها في ذي القعدة سنة إحدى وخمسين وثلاثمائة وخرج منها سيف الدولة هارباً واستولى عليها نقفور وقتل جميع من كان بها ثمّ رجع إليها سيف الدولة وجدّد سورها سنة ثلاث وخمسين وثلاثمائة واسمه مكتوب على بعض الأربجة ولحقتُ منها برجاً كان إلى جانب باب قنّسرين من جهة الغرب.

وكذلك جدّد فيها سعد الدولة بن حمدان ولد سيف الدولة أبرجةً وأتقن سورها في سنة سبع وستين مثلثمائة وبنى بنو مرداس لمّا ملكوها فإن معز الدولة أباعُلوان ثِمال بن مرداس بنى بها أبرجةً بعد سنة عشرين وأربعمائة وبقيت إلى أن خربت بأيدي التتر. وكذلك غيرهم من الملوك الّذين أسماؤهم مكتوبة عليها مثل قسيم الدلة آق سُنْقُر وولده عماد الدين زنكي الأتابك.

وبنى نور الدين محمود بن عماد الدين زنكي الأتابك فصيلاً على مواضع من باب الصغير إلى باب العراق ومن قلعة الشريف إلى باب قنّسرين إلى باب إنطاكية ومن باب الجنان إلى باب أربعين جعل ظلك سراً ثانياً قصيراً بين يدي السور الكبير. وعّمر أسوار باب العراق وكان ابتداء العمارة في سنة ثلاث وخمسين وخمسمائة.

ولما ملك الملك الظاهر غياث الدين غازي حلب أمر بإنشاء سور من باب الجنان إلى برج الثعابين وفتح الباب المستجدّ وأمر أيضاً بحفر الخنادق وذلك في سنة اثنين وتسعين وخمسمائة. وفي هذه السنة أمر برفع الفصيل الذي بناه نور الدين وجدّد السور والأبرجة وجعلها على علوّ السور الأول.

ولمّا عزم على بناء الأبرجة عين لكلّ أمير من أمرائه برجاً يتولى عمارته إلى أن انتهت وكتب كلّ أمير اسمه على برجه.

وبنى أبرجةً من باب الجنان إلى باب النصر وبنى سوراً من ش رقي البلد على دار العدل وفتح له باباً من جهة الشرق والشمال على حافة الخندق يُسمى الباب الصغير وكان يخرج منها إذا ركب.

وبنى دار العدل لجلوسسه العامّ بين السورَيْن الجديد الّذي جدده إلى جانب الميدان والسور العتيق الّذي بناه نور الدين وكان الشروع في بنائها في سنة خمس وثمانين وخمسمائة.

واهتم الملك الظاهر أيضاً بتحرير خْندق الروم وسُمي بخندق الروم لأن الروم لما حفروه لمّا نازلوا حلب أيّام سيف الدولة بن حمدان وهو من قلعة الشريف إلى الباب الّذي يُخْرَج منه إلى المقام ويُعرَف بباب نفيس. ثم يستمر خندق الروم من ذلك من ذلك الباب المذكور شرقاً إلى باب النَيْرَب ثمَ يأخذ شمالاً إلى أن يصل باب القناة خارج باب أربعين ثمّ يأخذ غرباً من شماليّ الجُبَيل إلى أن يتَصل بخندق المدينة. وأمر الملك الظاهر برفع التراب وإلقائه على شفير هذا الخندق ممّا يلي المدينة فارتفع ذلك المكان وعلا وسُفّح إلى الخندق وبُني عليه سور من اللبن في أيام الملك العزيز محمّد بن الملك الظاهر رحمهما تع.

وبنى الأتابك شهاب الدين طُغريل برجاً عظيماً فيما بين باب النصر وبرج الثعابين مقابل أتونات الكلس ومقالر اليهود من شماليّ حلب وذلك بعد العشرين وستمائة وأمر الأتابك طُغريل المذكور الحجّارين بقطع الأحجار من الحّوارة من خندق الروم قصداً في توسعته فعمق واتّسع وازداد البلد به حصانةً.
এর প্রাচীরসমূহ সম্পর্কে আলোচনা: এটি আদিতে রোমানদের স্থাপত্য হিসেবে পাথর দ্বারা নির্মিত ছিল। যখন কিসরা আনুশিরওয়ান আলেপ্পো পৌঁছে তা অবরোধ করেন, তখন এর প্রাচীরসমূহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে সময় রোমান সম্রাট ছিলেন জাস্টিনিয়ান। যখন আনুশিরওয়ান এটি জয় করেন এবং এর মালিকানা লাভ করেন, তখন তিনি ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাচীরগুলো সংস্কার করেন এবং পারস্যের ইট দিয়ে তা নির্মাণ করেন। আমরা এর নিদর্শন সেই প্রাচীরগুলোতে দেখেছি যা বাবুল জিনান এবং বাব আনতাকিয়ার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এর প্রাচীরে বহু বুরুজ বা মিনার রয়েছে যা বিজয়ের পর উমাইয়া ও বনু সালিহের মতো মুসলিম শাসকগণ সংস্কার করেন, যখন তারা আব্বাসীয়দের পক্ষ থেকে সেখানে নিয়োজিত ছিলেন, বিশেষ করে সালিহ বিন আলী এবং তার পুত্র আব্দুল মালিক।

যখন ৩৫১ হিজরির যিলকদ মাসে রোমান সম্রাট নিকেফোরাস এটি অবরোধ করে ধ্বংস করেন এবং সায়ফুদ্দৌলা সেখান থেকে পলায়ন করেন, তখন নিকেফোরাস এটি দখল করে তথাকার সকল বাসিন্দাকে হত্যা করেন। অতঃপর সায়ফুদ্দৌলা ফিরে এসে ৩৫৩ হিজরিতে এর প্রাচীর সংস্কার করেন। কিছু বুরুজের ওপর তার নাম খোদাই করা আছে। আমি এর একটি বুরুজ দেখেছি যা পশ্চিম দিকে বাবু কিন্নাসরিনের পাশে অবস্থিত ছিল।

একইভাবে সায়ফুদ্দৌলার পুত্র সা’দ উদ্দৌলা বিন হামদান সেখানে কতগুলো বুরুজ সংস্কার করেন এবং ৩৬৭ হিজরিতে এর প্রাচীর মজবুত করেন। বনু মিরদাস যখন এর মালিকানা লাভ করে তারাও তা নির্মাণ করে। মুইজ উদ্দৌলা আবু উলওয়ান থিমাল বিন মিরদাস ৪২০ হিজরির পর সেখানে কিছু বুরুজ নির্মাণ করেন এবং তাতারদের হাতে ধ্বংস হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত সেগুলো বিদ্যমান ছিল। এছাড়াও অন্যান্য শাসকগণের নাম এর ওপর খোদাই করা আছে, যেমন কাসিম উদ্দৌলা আক সানকার এবং তার পুত্র আতাবেগ ইমাদ উদ্দিন যাঙ্গি।

আতাবেগ ইমাদ উদ্দিন যাঙ্গির পুত্র নুর উদ্দিন মাহমুদ একটি রক্ষাপ্রাচীর নির্মাণ করেন যা বাবুস সাগির থেকে বাবুল ইরাক পর্যন্ত, এবং কালাতুশ শরিফ থেকে বাবু কিন্নাসরিন হয়ে বাবু আনতাকিয়া পর্যন্ত, এবং বাবুল জিনান থেকে বাবু আরবাঈন পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তিনি বড় প্রাচীরের সামনে একটি নিচু দ্বিতীয় প্রাচীর নির্মাণ করেন। তিনি বাবুল ইরাকের প্রাচীরসমূহও সংস্কার করেন। এই নির্মাণের সূচনা হয়েছিল ৫৫৩ হিজরিতে।

যখন মালিকুল জহির গিয়াস উদ্দিন গাজি আলেপ্পোর অধিপতি হন, তখন তিনি বাবুল জিনান থেকে বুরুজুস সু’বান (সর্প মিনার) পর্যন্ত একটি প্রাচীর নির্মাণের নির্দেশ দেন এবং একটি নতুন ফটক উন্মোচন করেন। ৫৯২ হিজরিতে তিনি পরিখা খননেরও নির্দেশ দেন। এই বছরেই তিনি নুর উদ্দিনের নির্মিত রক্ষাপ্রাচীরটি তুলে ফেলার নির্দেশ দেন এবং মূল প্রাচীর ও বুরুজগুলো সংস্কার করে সেগুলোকে প্রথম প্রাচীরের উচ্চতায় উন্নীত করেন।

তিনি যখন বুরুজগুলো নির্মাণের সংকল্প করলেন, তখন তার প্রত্যেক আমিরের জন্য একটি করে বুরুজ নির্দিষ্ট করে দিলেন যেন তারা এর নির্মাণ কাজ তদারকি করেন। নির্মাণ সমাপ্ত হওয়ার পর প্রত্যেক আমির তার বুরুজের ওপর নিজের নাম লিখে রাখলেন।

তিনি বাবুল জিনান থেকে বাবুন নাসর পর্যন্ত কতগুলো বুরুজ নির্মাণ করেন এবং শহরের পূর্ব দিক থেকে দারুল আদল পর্যন্ত একটি প্রাচীর নির্মাণ করেন। তিনি পূর্ব ও উত্তর দিকে পরিখার কিনারে একটি ফটক উন্মোচন করেন যাকে ‘বাবুস সাগির’ বলা হয়। যখন তিনি সওয়ার হতেন, তখন সেখান দিয়ে বের হতেন।

তিনি তার সাধারণ মজলিশের জন্য দারুল আদল নির্মাণ করেন। এটি তার নির্মিত নতুন প্রাচীর (যা ময়দানের পাশে অবস্থিত) এবং নুর উদ্দিনের নির্মিত পুরাতন প্রাচীরের মাঝখানে অবস্থিত ছিল। এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল ৫৮৫ হিজরিতে।

মালিকুল জহির ‘খান্দাকুল রুম’ বা রোমান পরিখা সংস্কারেও গুরুত্ব দেন। একে রোমান পরিখা বলা হয় কারণ রোমানরা সায়ফুদ্দৌলা বিন হামদানের সময় আলেপ্পো অবরোধকালে এটি খনন করেছিল। এটি কালাতুশ শরিফ থেকে শুরু হয়ে সেই ফটক পর্যন্ত বিস্তৃত যা দিয়ে মাকামে যাওয়া যায় এবং যা ‘বাবু নাফিস’ নামে পরিচিত। এরপর এই রোমান পরিখা সেই ফটক থেকে পূর্ব দিকে বাবুন নায়রাব পর্যন্ত চলে গেছে, তারপর উত্তর দিকে ঘুরে বাবুল কানাত পর্যন্ত পৌঁছেছে যা বাবু আরবাঈনের বাইরে অবস্থিত। এরপর এটি জুবাইলের উত্তর দিক থেকে পশ্চিম দিকে মোড় নিয়ে শহরের মূল পরিখার সাথে মিলিত হয়েছে। মালিকুল জহির নির্দেশ দিলেন মাটি সরিয়ে এই পরিখার সেই কিনারে ফেলার জন্য যা শহরের দিকে অবস্থিত। ফলে সেই জায়গাটি উঁচু হয়ে গেল এবং পরিখা পর্যন্ত ঢালু করা হলো। মালিকুল জহিরের পুত্র মালিকুল আজিজ মুহাম্মদের আমলে (আল্লাহ তাদের উভয়ের প্রতি রহম করুন) এর ওপর কাঁচা ইট দিয়ে একটি প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছিল।

আতাবেগ শিহাব উদ্দিন তুগরিল ৬২০ হিজরির পর আলেপ্পোর উত্তর দিকে বাবুন নাসর এবং বুরুজুস সু’বানের মধ্যবর্তী স্থানে একটি বিশাল বুরুজ নির্মাণ করেন, যা চুনাপাথরের চুল্লি ও ইহুদিদের আবাসস্থলের বিপরীতে অবস্থিত। উল্লিখিত আতাবেগ তুগরিল পাথর সংগ্রাহকদের নির্দেশ দেন রোমান পরিখা থেকে হাওয়ারা পাথর কাটার জন্য যাতে এটি প্রশস্ত হয়। ফলে পরিখাটি গভীর ও প্রশস্ত হয় এবং এর মাধ্যমে শহরের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বৃদ্ধি পায়।
(খণ্ড: ১) আল-আলাকুল খাতীরা ফী যিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাযীরা (পৃষ্ঠা: ৮)
وأمّا قلعة الشريف فلم تكن قلعةً بل كان السور محيطاً بالمدينة وهي مبنيّة على الجبل الملاصق للمدينة وسورها دائر مع سور المدينة على ما هي عليه الآن. وكان الشريف أبو الحسن هبة الله الحُتَيتي الهاشمي مقدّم الأجداث بحلب وهو رئيس المدينة فتمكّن وقويت يده وسلّم المدينة لأبي المكارم مسلم ابن قريش. فلما قُتل مسلم انفرد بولاية المدينة وسالم بن الملك العُقَيْلي بالقلعة الّتي بحلب فبنى الشريف فلعته هذه في سنة ثمان وسبعين وأربعمائة خوفً إلى نفسه من أهل حلب لئلا يقتلوه واقتطعها عن المدينة وبنى بينها وبين المدينة سوراً واحتفر خَندقاً آثاره باقية إلى الآن. ولما ملك شمس الملوك ألب أرسلان حلب جرى على قاعدة أبيه في أمر الإسماعيلية لأنه قد بنى لهم بحلب دار دعوه فطلبوا منه أن يعطيهم هذه القلعة فأجابهم إلى ذلك فقبّح عليه القاضي أبو الحسن بن الخشّاب فعله فأخرجهم منها بعد أن قتل منهم ثلاثمائة نفس وأسر مائتين وطيف برؤوسهم في البلد وذلك في سنة ثمان وخمسمائة. ثم خرب السور بعد ذلك لما ملك حلب إبغازي بن أُتُق وذلك في سنة عشرة وخمسمائة.

وجدّد الملك الناصر صلاح الدين يوسف بن الملك العزيز محمد بن الملك الظاهر غياث الدين غازي بن يوسف بن أيّوب بسور حلب أبرجةً كلّ واحد منها يضاهي قلعةً وذلك في سنة اثنين وأربعين وستُمائة وسبب بنائه لها أنّ التتر لمّا نازلوا حلب وناوشوا أهلها ثمّ رحلوا عنها من غير حصول غرض أخذ في الاستعداد وتحصين البلد. فكانت الأبرجة من باب أربعين إلى باب قنّسرين وذلك من شماليّ حلب إلى قبليّها عدّتخا نيّف وعشرون برجاً ارتفاع كلّ برج فوق الأربعين ذراعاً وسعته ما بين الأربعين إلى الخمسين وكلّ برح له رواقات تستر المقاتل من حجارة والمجانيق والنشّاب وكان السور يشتمل على مائة وثمانية وعشرين ذراعاً وسور القلعة ألف وخمسمائة وخمسة وعشرون ذراعاً وعدّة أبرجها تسعة وأربعون برجاً وأبدانها ثمان وأربعون بدنةَ.

الميدان الأخضر طوله سبعمائة وخمسون ذراعاً وعرضه من القبلة خمسون ذراعاً ومن الشمال سبعون ذراعاً. ميدان باب قنّسرين طوله ألف ومائة وخمسون ذراعاً. ميدان باب العراق طوله خمسمائة وعشرون ذراعاً وعرضه من القبلة خمسة وثمانون ذراعاً ومن الشمال مائة وخمسون ذراعاً.

 

‌‌الباب الخامس في

ذكر عدد أبوابها

فأوّلها ممّا يلي القبلة باب قِنّسرين وسُمّي بذلك لأنّه يُخرج منه إلى جهة قنّسرين ويمكن أن يكون من بناء سيف الدولة لأنّه كان إلى جانبه برج عليه اسمه ثمّ جدّده الملك الناصر يوسف بن الملك العزيز محمّد بن الملك الظاهر غازي بن يوسف بن أيّوب في سنة أربع وخمسين وستّمائة. ونقل إلى بنائه الحجارة من الناعورة من برج كان بها من أبرجة القصر الذي بناه سليمان بن عبد الملك فيها ونقل إليه باب الرافقة وهذا الباب كان أوّلاً على سور عمّورية. فلمّا فتحها المعتصم في سنة ثلاث وعشرين ومائتين نقله إلى سرّ من رأى لمّا شرع في بنائها سنة إحدى وعشرين ثم نُقل من سرّ من رأى لمّا خربت إلى الرقّة وبُني على هذا الباب أبرجة محصنة كالقلاع المرّجلة وعُمل فيها طواحين وأفران وجبات للزيت وصهاريج للماء وحُمل إليها السلاح.

ومن عجائب الاتفاقات ما حكاه لي القاضيان الأجلاّن قاضي القضاة كمال الدين أبو بكر أحمد بن قاضي القضاة أبي محمّد عبد الله بن الشيخ الحافظ عبد الرحمان الأسدّي المعروف بابن الأستا وقاضي القضاة مجد الدين عبد الرحمان ابن الصاحب كمال الدين أبي القاسم عمر بن أحمد بن هبة الله بن أبي جرادة المعروف بابن العديم قالا: قصدنا في بعض الأيام زيارة الشيخ الصالح العابد الزاهد العالم العامل شرف الدين أبا عبد الله محمّد بن موسى الحورانيّ بظاهر حلب. فاتّفق عند اجتماعنا به وصول باب الرقة ليُركَّب على باب قنسرين فأجرينا ذكره فقال لنا يوم فروغ هذا الباب: ينزل على المدينة من يأخذها ويخرب هذا الباب وسائر البلد. فجرى الأمر على ما ذكر. ولمّا استولت التتر على حلب كان أوّل ما خرِب منها. ثمّ لمّا أخرجت التتر عنها وملكها الملك الظاهر أبو الفتح بيبرس نُقض حديده المصفّح به ومساميره وحّمل إلى دمشق ومصر.
আর শরিফের দুর্গটি কোনো স্বতন্ত্র দুর্গ ছিল না, বরং তা ছিল শহরবেষ্টিত প্রাচীর; যা শহরের সংলগ্ন পাহাড়ের ওপর নির্মিত এবং এর প্রাচীরটি শহরের বর্তমান প্রাচীরের সাথে বৃত্তাকারে সংযুক্ত ছিল। শরিফ আবুল হাসান হিবাতুল্লাহ আল-হুতাইতি আল-হাশেমি ছিলেন আলেপ্পোর জানাজা ও সমাধি রক্ষণাবেক্ষণকারী দলের প্রধান এবং শহরের অধিপতি। তিনি শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান হয়ে ওঠেন এবং আবু মাকারিম মুসলিম ইবনে কুরাইশের কাছে শহর সমর্পণ করেন। যখন মুসলিম নিহত হন, তখন তিনি আলেপ্পোর দুর্গে অবস্থানকারী আল-মালিক আল-উকাইলির পুত্র সালিমের সাথে সমঝোতা করে শহরের একক শাসনে অধিষ্ঠিত হন। শরিফ ৪৭৮ হিজরি সনে নিজের জীবনের সুরক্ষায় আলেপ্পোবাসীর ভয়ে এই দুর্গটি নির্মাণ করেন যাতে তারা তাকে হত্যা করতে না পারে। তিনি এটিকে শহর থেকে বিচ্ছিন্ন করেন এবং এর ও শহরের মাঝখানে একটি প্রাচীর নির্মাণ করেন এবং একটি পরিখা খনন করেন যার চিহ্ন আজও বিদ্যমান। যখন শামসুল মুলুক আল্প আরসালান আলেপ্পোর মালিক হলেন, তিনি ইসমাইলিদের ব্যাপারে তার পিতার নীতি অনুসরণ করেন; কারণ তিনি তাদের জন্য আলেপ্পোতে একটি দাওয়াতি ঘর নির্মাণ করেছিলেন। তারা তার কাছে এই দুর্গটি দাবি করলে তিনি তাদের প্রস্তাবে রাজি হন। কিন্তু কাজি আবুল হাসান ইবনুল খাশ্শাব তার এই কাজের তীব্র নিন্দা করেন। ফলে তিনি তাদের মধ্য থেকে তিনশ জনকে হত্যা এবং দুইশ জনকে বন্দি করার পর তাদের সেখান থেকে বের করে দেন এবং তাদের বিচ্ছিন্ন মাথাগুলো শহরের চারদিকে ঘোরানো হয়। এটি ৫০৮ হিজরি সনের ঘটনা। এরপর ৫১০ হিজরি সনে যখন ইবগাজি ইবনে উতুক আলেপ্পোর মালিক হন, তখন প্রাচীরটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

আল-মালিক আন-নাসির সালাহুদ্দিন ইউসুফ ইবনে আল-মালিক আল-আজিজ মুহাম্মদ ইবনে আল-মালিক আজ-জাহির গিয়াসুদ্দিন গাজি ইবনে ইউসুফ ইবনে আইয়ুব ৬৪২ হিজরি সনে আলেপ্পোর প্রাচীরে বেশ কিছু বুর্জ সংস্কার করেন, যার প্রতিটি এক একটি দুর্গের সমতুল্য ছিল। তার এই নির্মাণের কারণ ছিল যখন তাতাররা আলেপ্পো অবরোধ করে এবং শহরবাসীর সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে কোনো উদ্দেশ্য হাসিল ছাড়াই প্রস্থান করে, তখন তিনি শহরকে সুরক্ষিত করার প্রস্তুতি নেন। এই বুর্জগুলো ‘বাবুল আরবাঈন’ থেকে ‘বাবু কিন্নাসরিন’ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল, যা আলেপ্পোর উত্তর থেকে দক্ষিণ পর্যন্ত বিশটিরও বেশি বুর্জ। প্রতিটি বুর্জের উচ্চতা ছিল চল্লিশ হাতেরও বেশি এবং প্রশস্ততা ছিল চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ হাতের মধ্যে। প্রতিটি বুর্জের গ্যালারি ছিল যা যোদ্ধাদের পাথর, মিনজানিক এবং তীরের আঘাত থেকে রক্ষা করত। প্রাচীরটি ছিল ১২৮ হাত লম্বা এবং দুর্গের প্রাচীর ছিল ১৫২৫ হাত লম্বা। এর বুর্জের সংখ্যা ছিল ৪৯টি এবং মূল কাঠামোর সংখ্যা ছিল ৪৮টি।

সবুজ ময়দান এর দৈর্ঘ্য ৭৫০ হাত এবং এর প্রশস্ততা দক্ষিণ দিক থেকে ৫০ হাত ও উত্তর দিক থেকে ৭০ হাত। বাবু কিন্নাসরিন ময়দানের দৈর্ঘ্য ১১৫০ হাত। বাবু ইরাক ময়দানের দৈর্ঘ্য ৫২০ হাত এবং এর প্রশস্ততা দক্ষিণ দিক থেকে ৮৫ হাত ও উত্তর দিক থেকে ১৫০ হাত।

 

‌‌পঞ্চম অধ্যায়

এর তোরণগুলোর সংখ্যার বর্ণনা প্রসঙ্গে

এর প্রথমটি হলো দক্ষিণ দিকের তোরণ ‘বাবু কিন্নাসরিন’। এর নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি দিয়ে কিন্নাসরিনের দিকে বের হওয়া যায়। এটি সম্ভবত সাইফুদ দৌলার নির্মাণ, কারণ এর পাশে তার নামাঙ্কিত একটি বুর্জ ছিল। পরবর্তীতে আল-মালিক আন-নাসির ইউসুফ ইবনে আল-মালিক আল-আজিজ মুহাম্মদ ইবনে আল-মালিক আজ-জাহির গাজি ইবনে ইউসুফ ইবনে আইয়ুব ৬৫৪ হিজরি সনে এটি সংস্কার করেন। তিনি এর নির্মাণের পাথরগুলো ‘নাউরা’ নামক স্থানের একটি বুর্জ থেকে নিয়ে আসেন, যা সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিকের নির্মিত প্রাসাদের বুর্জগুলোর একটি ছিল। তিনি এখানে ‘বাবু রাফিকা’ স্থানান্তর করে আনেন। এই তোরণটি মূলত আম্মুরিয়ার প্রাচীরে ছিল। যখন মুতাসিম ২২৩ হিজরি সনে আম্মুরিয়া জয় করেন, তখন তিনি ২২১ হিজরি সনে সামাররা নির্মাণ শুরু করলে এটি সেখানে স্থানান্তর করেন। এরপর যখন সামাররা ধ্বংস হয়ে যায়, তখন এটি রাক্কাহতে নেওয়া হয়। এই তোরণটির ওপর দুর্গের মতো সুরক্ষিত বুর্জ নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে যাঁতাকল, তন্দুর, তেলের আধার এবং পানির চৌবাচ্চা তৈরি করা হয়েছে এবং সেখানে অস্ত্রশস্ত্র রাখা হয়েছে।

কাকতালীয় আশ্চর্যের বিষয়গুলোর মধ্যে একটি ঘটনা আমাকে দুই জন সম্মানিত কাজি বর্ণনা করেছেন—কাজি আল-কুজাত কামালুদ্দিন আবু বকর আহমদ ইবনে কাজি আল-কুজাত আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে শেখ হাফেজ আব্দুর রহমান আল-আসাদি (যিনি ইবনুল উস্তা নামে পরিচিত) এবং কাজি আল-কুজাত মাজদুদ্দিন আব্দুর রহমান ইবনুল সাহিব কামালুদ্দিন আবু কাসিম উমর ইবনে আহমদ ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে আবি জারাদাহ (যিনি ইবনুল আদিম নামে পরিচিত)। তারা বলেন: একদিন আমরা আলেপ্পোর উপকণ্ঠে অবস্থানরত পুণ্যবান, ইবাদতগুজার, সংসারবিরাগী ও আমলকারী আলেম শেখ শরাফুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-হাওরানির সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে বের হলাম। আমাদের সাক্ষাতের সময়ই রাক্কাহর তোরণটি আনা হলো যাতে তা বাবু কিন্নাসরিনে স্থাপন করা যায়। আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলে তিনি সেই তোরণ স্থাপনের কাজ শেষ হওয়ার দিন আমাদের বললেন: "এই শহরে এমন কেউ প্রবেশ করবে যে এটি দখল করবে এবং এই তোরণসহ পুরো শহর ধ্বংস করে দেবে।" বাস্তবে ঠিক তেমনটিই ঘটেছিল। যখন তাতাররা আলেপ্পো দখল করে, তখন সবার আগে এটিই ধ্বংস হয়েছিল। পরবর্তীতে যখন তাতারদের সেখান থেকে বিতাড়িত করা হয় এবং আল-মালিক আজ-জাহির আবু ফাতহ বাইবার্স এর মালিক হন, তখন এর লোহার পাত ও পেরেকগুলো খুলে দামেস্ক ও মিসরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
(খণ্ড: ১) আল-আলাকুল খাতীরা ফী যিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাযীরা (পৃষ্ঠা: ৯)
ثمّ يتلو هذا الباب المصفّح من جهة الشرق باب العراق وسُمّي بذلك لأنّه يُخرج منه إلى ناحية العراق وهو باب قديم مكتوب على بعض أبرحته: " أبو عُلوان ثِمال لن صالح بن مرداس " وكان ثمال بحلب بعد العشرين وأربعمائة. وبين يدي هذا الباب ميدان أنشأه الملك العادل نور الدين محمود بن عماد الدين زنكي في سنة ثلاث وخمسين وخمسمائة وله بابان.

وويلي هذا الباب شرقاً باب دار العدل كان لا يركب منه إلاّ الملك الظاهر غياث الدين غازي وهو الذي بناه.

ويلي هذا الباب شرقاً أيضاً الباب الصغير وهو الباب الذي يُخْرج منه من تحت القلعة من جانب خندقها وخانقاه القصر إلى دار العدل ومن خارجه البابان اللذان جدّدهما الملك الظاهر غازي في السور الّذي جدّده على دار العدل أحدهما يُدعى الباب الصغير أيضاً يفتح على شفير الخندق ويُخرَج منه إلى الميدان المقدّم ذكره والآخر مغلق.

ويلي الباب الصغير الأول باب أربعين وكان قد سُد ثمّ فُتح وله بابان واختُلف في تسميته بهذا الاسم فقيل إنّه خرج منه مرّةً أربعون ألفاً فلم يعودوا فسُمّي بذلك وقيل إنّما سمّي بذلك وقيل إنّما سُمي لأنه كان بالمسجد الّذي داخله أربعون من العبّاد وقيل أربعون محدّثاً وقيل كان به أربعون شريفاً وإلى جانبه أعلى المسجد للأشراف مقبرة.

وهذه الثلاثة أبواب أعني باب العراق والباب الصغير وباب أربعين كان الملك الظاهر غياث الدين غازي قد سفّح بين يدَيْها تلاً من التراب الّذي أخرجه من خندق الروم سمّاه التواثير يحيط بها من شرقيّ قلعة الشريف إلى باب القناة وفتح فيه ثلاثة أبواب ولم يتمّها فأتمها ولده الملك العزيز محمّد وسُمي القبليّ منها باب المقام ويُعرَف الآن بباب نفيس " وهو " رجل كان به إسباسلاّراً.

ويلي هذا الباب شرقاً باب سمي باب النَيْرَب لأنه يُخرج منه إلى قرية تُسمى بهذا الاسم.

ويلي هذا الباب باب القناة وسُمي بهذا الاسم لأنّ القناة الّتي ساقها الملك الظاهر من حَيْلان إلى المدينة تعبر منه.

ويلي باب أربعين المقدّم ذكره من جهة الشمال باب النصر وكان يُعرَف قديماً بباب اليهود لأن اليهود تجاوره بدورهم ومنه يخرجون إلى مقابرهم فاستقبح الملك الظاهر وقوع هذا الاسم عليه فسمّاه باب النصر وجعل عليه أربعة أبواب لكل بابين دركاه يُسلَك من إحداهما إلى الأخرى في حنيّه معقودة وبنى عليه أبراجاً محكمة البناء ويُخرج منه على جسر معقود على الخندق وإلى فنادق أمر بإنشائها تُباع فيها الغلاّت كان في مكانها تلال من التراب والرماد.

ويلي هذا الباب باب الفراديس وهو من غربيّ البلد أنشأه الملك الظاهر غياث الدين غازي وبنى عليه أبرجةً عاليةً حصينةً بعد وفاته ولم يزل مسدوداً إلى أن فتحه الملك الناصر ابن ابنه.

ويلي هذا الباب باب الجنان وسُمي بذلك لكونه يُخرَج منه إلى البساتين وله بابان.

ويلي هذا الباب باب إنطاكية وسُمي بذلك لكونه يُخرَج منه إلى جهة إنطاكية وهذا الباب كان قد خربه نقفور لمّا استولى على حلب في سنة إحدى وخمسين وثلاثمائة ثم لمّ عاد إليها سيف الدولة بناه ولم يزل على ما أنشأه إلى أن هدّه الملك الناصر صلاح الدين يوسف وبناه وكان ابتداء عمارته في سنة ثلاث وأربعين وستمائة. وتمّ في سنة خمس وأربعين وبُني عليه برجان عظيمان وعُمل له دركاه وحنايا " ينفذ " بعضها على بعض وله بابان.

ويلي هذا الباب باب السعادة يُخرَج منه إلى ميدان الحصى أنشأه الملك الناصر في سنة خمس وأربعين وبُني عليه أبرجة وله دركاه وبابان. ومن هذا الباب إلى قنسرين. وكان بحلب من الأبواب قديماً باب يُسمى باب الفرج وهو إلى جانب حمّام القصر المشهور أخربه الملك الظاهر ودرست معالمه وباب على الجسر الّذي على نهر قُرَيْق خارج باب إنطاكية كان من بناء سيما الطويل وسمّاه باب السلامة دثرت معالمه وكانت الروم خربته أيّام سيف الدولة بن حمدان وسنذكره في ذكر المباني القديمة الّتي بحلب.

 

‌‌الباب السادس في

ذكر بناء القلعة الّتي بحلب والقصور القديمة
এরপর পূর্ব দিক থেকে এই সুরক্ষিত ফটকের পরে আসে ইরাক ফটক। একে এই নামে ডাকার কারণ হলো এর মধ্য দিয়ে ইরাকের দিকে যাওয়া হয়। এটি একটি প্রাচীন ফটক যার কিছু বুরুজে লেখা আছে: "আবু উলওয়ান থিমাল ইবনে সালিহ ইবনে মিরদাস"। চারশ বিশ হিজরির পর থিমাল আলেপ্পোতে ছিলেন। এই ফটকের সামনে একটি ময়দান আছে যা বাদশাহ আদিল নূরুদ্দীন মাহমুদ ইবনে ইমাদুদ্দীন যাঙ্গি ৫৫৩ হিজরিতে নির্মাণ করেন এবং এর দুটি দরজা রয়েছে।

এই ফটকের পূর্ব দিকে রয়েছে দারুল আদল ফটক। বাদশাহ জাহির গিয়াসুদ্দীন গাজী ছাড়া অন্য কেউ এতে আরোহণ করতেন না এবং তিনিই এটি নির্মাণ করেছিলেন।

এই ফটকের পূর্ব দিকে আরও রয়েছে ছোট ফটক। এটি এমন এক ফটক যা দিয়ে দুর্গের নিচ থেকে এর পরিখা ও কাসর খানকাহর পাশ দিয়ে দারুল আদলে যাওয়া যায়। এর বাইরে দুটি ফটক রয়েছে যা বাদশাহ জাহির গাজী দারুল আদলের উপর নির্মিত প্রাচীরে সংস্কার করেছিলেন। এর একটিকেও ছোট ফটক বলা হয় যা পরিখার কিনারায় খুলে এবং তা দিয়ে পূর্বে উল্লিখিত ময়দানে যাওয়া যায়; অন্যটি বন্ধ।

প্রথম ছোট ফটকের পরে রয়েছে চল্লিশের ফটক। এটি এক সময় বন্ধ ছিল, পরে খুলে দেওয়া হয় এবং এর দুটি দরজা আছে। এর নামকরণের বিষয়ে মতভেদ রয়েছে; বলা হয় যে, একবার এখান দিয়ে চল্লিশ হাজার লোক বের হয়ে আর ফিরে আসেনি, তাই একে এই নামে ডাকা হয়। আবার বলা হয় যে, এর ভেতরে অবস্থিত মসজিদে চল্লিশজন ইবাদতকারী ছিলেন। কেউ বলেন চল্লিশজন মুহাদ্দিস ছিলেন, আবার কেউ বলেন সেখানে চল্লিশজন অভিজাত ব্যক্তি ছিলেন। এর পাশেই মসজিদের উপরের দিকে অভিজাতদের একটি কবরস্থান রয়েছে।

এই তিনটি ফটক অর্থাৎ ইরাক ফটক, ছোট ফটক এবং চল্লিশের ফটক—এগুলোর সামনে বাদশাহ জাহির গিয়াসুদ্দীন গাজী রোমান পরিখা থেকে তোলা মাটির একটি ঢিবি সমান করেছিলেন যার নাম তিনি দিয়েছিলেন 'আত-তাওয়াথির'। এটি কালআতুশ শরীফের পূর্ব দিক থেকে কানাত ফটক পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তিনি এতে তিনটি পথ খুলেছিলেন কিন্তু তা সম্পন্ন করতে পারেননি। পরবর্তীতে তাঁর পুত্র বাদশাহ আজিজ মুহাম্মদ তা সম্পন্ন করেন। এর দক্ষিণ দিকের ফটকটিকে মাকাম ফটক বলা হয় এবং বর্তমানে এটি নাফিস ফটক নামে পরিচিত, কারণ সেখানে নাফিস নামক এক ব্যক্তি প্রধান সেনাপতি ছিলেন।

এই ফটকের পূর্ব দিকে রয়েছে নায়রাব ফটক, যা এই নামে নামকরণ করা হয়েছে কারণ এখান দিয়ে নায়রাব নামক গ্রামে যাওয়া যায়।

এরপর রয়েছে কানাত ফটক। এর নামকরণ করা হয়েছে কারণ বাদশাহ জাহির হাইরান থেকে শহর পর্যন্ত যে খালটি প্রবাহিত করেছিলেন তা এখান দিয়ে অতিক্রম করেছে।

পূর্বে উল্লিখিত চল্লিশের ফটকের উত্তর দিকে নসর ফটক অবস্থিত। প্রাচীনকালে এটি ইহুদি ফটক নামে পরিচিত ছিল কারণ ইহুদিদের ঘরবাড়ি এর কাছেই ছিল এবং তারা এখান দিয়েই তাদের কবরস্থানে যেত। বাদশাহ জাহির এই নামটিকে অপছন্দ করেন এবং এর নাম দেন নসর ফটক। তিনি এতে চারটি দরজা স্থাপন করেন, প্রতি দুই দরজার জন্য একটি করে বারান্দা ছিল যা খিলানযুক্ত পথে একে অপরের সাথে যুক্ত। তিনি এর উপর মজবুত বুরুজ নির্মাণ করেন। এখান দিয়ে পরিখার উপর নির্মিত একটি খিলানযুক্ত সেতু হয়ে কতগুলো পান্থশালার দিকে যাওয়া যায় যা তিনি নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছিলেন; সেখানে আগে মাটি ও ছাইয়ের ঢিবি ছিল। শস্য বিক্রির জন্য এগুলো ব্যবহৃত হতো।

এই ফটকের পরে রয়েছে ফারাদিস ফটক। এটি শহরের পশ্চিম দিকে অবস্থিত। বাদশাহ জাহির গিয়াসুদ্দীন গাজী এটি নির্মাণ করেন এবং এর উপর উঁচু ও সুরক্ষিত বুরুজ তৈরি করেন। তাঁর মৃত্যুর পর এটি বন্ধ ছিল যতক্ষণ না তাঁর নাতি বাদশাহ নাসির এটি উন্মুক্ত করেন।

এরপর রয়েছে জিনান ফটক। এখান দিয়ে বাগানসমূহের দিকে যাওয়া যায় বলে একে এই নামে ডাকা হয়। এর দুটি দরজা রয়েছে।

এরপর রয়েছে আনতাকিয়া ফটক। আনতাকিয়ার দিকে যাওয়ার পথ হওয়ার কারণে একে এই নামে ডাকা হয়। ৩৫১ হিজরিতে নিকফোর আলেপ্পো দখল করার সময় এই ফটকটি ধ্বংস করেছিলেন। এরপর সাইফুদ্দৌলা যখন আলেপ্পো ফিরে পান, তখন তিনি এটি পুনর্নির্মাণ করেন। বাদশাহ নাসির সালাহুদ্দীন ইউসুফ একে ভেঙে নতুন করে গড়ার আগ পর্যন্ত তা আগের কাঠামোর ওপরই ছিল। এর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ৬৪৩ হিজরিতে এবং সম্পন্ন হয়েছিল ৬৪৫ হিজরিতে। এর ওপর দুটি বিশাল বুরুজ নির্মাণ করা হয়েছিল এবং এতে একটি বারান্দা ও কতগুলো খিলান তৈরি করা হয়েছিল যার একটি অন্যটির সাথে যুক্ত। এর দুটি দরজা রয়েছে।

এই ফটকের পরে রয়েছে সা'আদাত ফটক। এখান দিয়ে ময়দানুল হাসার দিকে যাওয়া যায়। বাদশাহ নাসির ৬৪৫ হিজরিতে এটি নির্মাণ করেন এবং এর ওপর বুরুজসমূহ নির্মাণ করেন। এতে একটি বারান্দা ও দুটি দরজা রয়েছে। এই ফটক থেকে কিননাসরিন যাওয়া যায়। প্রাচীনকালে আলেপ্পোতে ফারাজ ফটক নামে একটি দরজা ছিল যা বিখ্যাত কাসর হাম্মামের পাশেই অবস্থিত ছিল; বাদশাহ জাহির এটি ধ্বংস করে ফেলেন এবং এর চিহ্ন বিলুপ্ত হয়ে যায়। এছাড়া কুরাইক নদীর ওপর অবস্থিত সেতুর কাছে একটি ফটক ছিল যা আনতাকিয়া ফটকের বাইরে অবস্থিত ছিল; এটি সিমা আত-তাবিলের নির্মাণ করা ছিল এবং তিনি এর নাম দিয়েছিলেন সালামাত ফটক। হামদান বংশীয় সাইফুদ্দৌলার আমলে রোমানরা এটি ধ্বংস করে দিয়েছিল এবং এর চিহ্ন মিটে গেছে। আলেপ্পোর প্রাচীন স্থাপনাগুলোর বর্ণনায় আমরা এটি উল্লেখ করব।

 

‌‌ষষ্ঠ অধ্যায়: আলেপ্পোর দুর্গ এবং প্রাচীন প্রাসাদসমূহ নির্মাণের বর্ণনা
(খণ্ড: ১) আল-আলাকুল খাতীরা ফী যিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাযীরা (পৃষ্ঠা: ১০)
اعلم أنّ القلعة الّتي قد قيل إنّ أوّل من بناها ميخائيل وقيل سَلُقوس الّذي بنى مدينة حلب وهي على جبل مشرف على المدينة وعليها سور وكان عليها قديماً بابان أحدهما دون الآخر من حديد وفي وسطها بئر قد حُفر يُنزَل فيه بمائة وخمسة وعشرين مرقاةً قد هُندمت تحت الأرض وجُرفت جروفاً وصُيّرت آزاجاً ينفذ بعضها إلى بعض إلى ذلك الماء وكان فيها دير للنصارى وكانت به امرأة قد سُدّت عليها الباب منذ سبع عشرة سنةً. ثمّ ينحدر السور من جانبَيْ هذه القلعة إلى المدينة.

وقيل لمّا ملك كسرى حلب وبنى سورها كما قدّمنا بنى في القلعة مواضع ولمّا فتح أبو عُبَيْدة مدينة حلب كانت قلعتها مرمَّمة الأسوار بسبب زلزلة كانت أصابتها قبل الفتوح فأخرجت أسوارها البلد وقلعتها ولم يكن ترميماً محكماً فنُقض بعض ذلك وبناه وكذلك لبني أميّة ولبني العبّاس فيها آثار. ولمّا استولى نقفور ملك الروم على حلب في إحدى وخمسين وثلاثمائة كما قدّمنا امتنعت القلعة عليه وكان جماعة من العلويّين والهاشميّين قد اعتصموا بها منه فحمتهم ولم يكن لها حينئذ سور عامر لأنّها كانت قد تهدّمت فكانوا يتّقون سهام العدوّ بالأكُفّ والبرذاع. وزحف نقفور عليها فأُلقي على ابن أخته حجر فمات فلمّا رأى نقفور ذلك طلب الصلح فصالحه من كان فيها.

ومن حينئذ اهتّم الملوك بعمارة القلعة وتحصينها فبنى سيف الدولة منها مواضع لمّا بنى سور حلب. ولمّا ولي ابنه سعد الدولة بنى شيئاً آخر وسكنها وذلك لمّا أتمّ ما بناه والده سيف الدولة من الأسوار وكذلك بنى بها بنو مرداس دوراً وجدّدوا سورها. وكذلك من بعدهم من الملوك إلى أن وليها عماد الدين آق سُنْقُر وولده عماد الدين زنكي فحصّناها وأثّرا بها آثاراً حسنةً. وبنى فيها طُغْدَكين برجاً من قبليّها ومخزناً للذخائر عليه اسمه مكتوب وبنى فيها نور الدين بن عماد الدين زنكي أبنيةً كثيرةً وعمل ميداناً وخضّره بالحشيش وسُمّي الميدان الأخضر. وكذلك بنى بها ولده الملك الصالح باشورةً كانت قديمةً فجدّدها وكتب عليها اسمه ولم تزل في زيادة عمارة إلى أن ملكها الملك الناصر صلاح الدين يوسف بن أيّوب وأعطاها لأخيه الملك العادل سيف الدين أبي بكر فبنى بها برجاً وداراً لولده فلك الدين وتُعرَف الآن به.

ولمّا ملك الملك الظاهر غياث الدين غازي حصّنها وحسّنها وبنى بها مصنعاً كبيراً للماء والمخازن للغلاّت وهدم الباشورة الّتي كانت بها وسفّح وتلّ القلعة وبناه بالحجر الهرقليّ وأعلا بابها إلى مكانه الآن وكان الباب أوّلاً قريباً من أرض البلد متّصلاً بالباشورة فوقع في سنة ستّمائة وقُتل تحته خلق كثير ومن جملة من مات تحته الأستاذ ثابت بن شقويق الّذي بنى الحائط القبليّ بجامع حلب الّذي في المحراب الأصغر. وعمل الملك الظاهر لهذا الباب جسراً ممتدّاً منه إلى البلد وبنى على الباب برجَيْن لم يُبْنَ مثلهما قطّ وعمل للقلعة خمس دركاوات بآزاج معقودة وحنايا منضودة وجعل لها ثلاثة أبواب حديد ولكلّ باب منها إسباسلاّر ونقيب وبنى فيها أماكن يجلس بها الجند وأرباب الدولة وكان معلّقاً بها آلات الحرب وفتح في سور القلعة باباً يُسمّى باب الجبل شرقيّ باب القلعة وعمل له دركاه ولا يفتَح إلاّ له إذا نزل دار العدل. وهذا الأب وما قبله انتهت العمارة فيهما في إحدى عشرة وستّمائة.
জেনে রাখুন যে, সেই দুর্গটি সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে যে এটি সর্বপ্রথম মিখাইল নির্মাণ করেছিলেন, আবার কারো মতে সেলেউকাস এটি নির্মাণ করেছিলেন যিনি আলেপ্পো নগরীও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এটি শহরের ওপর দণ্ডায়মান এক পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এবং এর চারপাশ প্রাচীরবেষ্টিত। প্রাচীনকালে এতে লোহার তৈরি দুটি ফটক ছিল, একটি অন্যটির নিচে। এর মাঝখানে একটি খননকৃত কূপ রয়েছে যাতে অবতরণের জন্য একশ পঁচিশটি সিঁড়ি রয়েছে। এগুলো মাটির নিচে সুনিপুণভাবে নকশা করা হয়েছে, খনন করা হয়েছে এবং খিলানযুক্ত করা হয়েছে যা একে অপরের সাথে সংযুক্ত হয়ে সেই পানির উৎস পর্যন্ত পৌঁছেছে। সেখানে খ্রিস্টানদের একটি মঠ ছিল যেখানে এক নারী সতের বছর যাবৎ অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। অতঃপর দুর্গের দুই পাশ থেকে প্রাচীরটি নিচে নেমে শহরের সাথে মিশে গিয়েছে।

বর্ণিত আছে যে, যখন কিসরা (পারস্য সম্রাট) আলেপ্পো অধিকার করেন এবং আমরা পূর্বে যেমন উল্লেখ করেছি যে তিনি এর প্রাচীর নির্মাণ করেছিলেন, তখন তিনি দুর্গের অভ্যন্তরেও কিছু স্থান নির্মাণ করেন। যখন আবু উবাইদাহ আলেপ্পো নগরী জয় করেন, তখন ফুতুহ বা বিজয়ের পূর্বে সংঘটিত একটি ভূমিকম্পের কারণে দুর্গের প্রাচীরগুলো সংস্কারাধীন অবস্থায় ছিল। ফলে ভূমিকম্পে শহর ও দুর্গের প্রাচীরগুলো বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিল। তবে সেই সংস্কার কাজ খুব একটা মজবুত ছিল না, ফলে এর কিছু অংশ ভেঙে পুনরায় নির্মাণ করা হয়। একইভাবে বনু উমাইয়া এবং বনু আব্বাসীয়দেরও এখানে অনেক নিদর্শন রয়েছে। যখন রোম সম্রাট নিকেফোরাস (নাকফুর) তিনশ একান্ন হিজরিতে আলেপ্পো দখল করেন, তখন আমরা পূর্বে যেমন উল্লেখ করেছি, দুর্গটি তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়ে গিয়েছিল। একদল আলবীয় ও হাশেমী সেখানে আশ্রয় নিয়ে আত্মরক্ষা করেছিলেন। সেই সময় দুর্গের প্রাচীরগুলো আবাদ বা সুসংহত ছিল না কারণ তা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল; ফলে তারা হাতের কবজি ও পশমি কাপড় (বারদা) দিয়ে শত্রুর তীর প্রতিহত করছিলেন। নিকেফোরাস যখন দুর্গের দিকে অগ্রসর হলেন, তখন একটি পাথরের আঘাতে তার ভাগ্নে নিহত হন। এটি দেখে নিকেফোরাস সন্ধির প্রস্তাব দেন এবং দুর্গে অবস্থানকারীরা তার সাথে সন্ধি করেন।

তখন থেকেই রাজা-বাদশাহগণ দুর্গের সংস্কার ও দুর্গীকরণের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন। সাইফুদ দাওলা যখন আলেপ্পোর প্রাচীর নির্মাণ করেন, তখন দুর্গেরও কিছু অংশ তৈরি করেন। যখন তার পুত্র সা’দুদ দাওলা ক্ষমতায় আসলেন, তখন তিনি আরও কিছু অংশ নির্মাণ করেন এবং সেখানে বসবাস শুরু করেন; আর এটি ছিল তার পিতা সাইফুদ দাওলার প্রাচীর নির্মাণের কাজ সমাপ্ত হওয়ার পর। একইভাবে বনু মিরদাস এখানে অনেক অট্টালিকা নির্মাণ করেন এবং প্রাচীর সংস্কার করেন। এরপর থেকে অন্যান্য রাজাদের আমল হয়ে যখন এটি ইমাদুদ্দীন আক সানকুর এবং তার পুত্র ইমাদুদ্দীন জঙ্গীর শাসনাধীনে আসে, তখন তারা একে আরও সুরক্ষিত করেন এবং সেখানে অনেক সুন্দর নিদর্শন রেখে যান। তুঘতাকিন এর দক্ষিণ দিকে একটি বুরুজ বা টাওয়ার এবং একটি অস্ত্রাগার নির্মাণ করেন যার ওপর তার নাম খোদাই করা আছে। ইমাদুদ্দীন জঙ্গীর পুত্র নুরুদ্দীন সেখানে অনেক দালানকোঠা নির্মাণ করেন এবং একটি ময়দান তৈরি করে তা সবুজ ঘাসে আবৃত করেন, যা 'সবুজ ময়দান' (আল-মায়দানুল আখদার) নামে পরিচিতি পায়। একইভাবে তার পুত্র আল-মালিকুস সালিহ একটি প্রাচীন বাশুরা (সুরক্ষামূলক প্রাচীর) সংস্কার করেন এবং তাতে নিজের নাম লিপিবদ্ধ করেন। এটি উত্তরোত্তর শ্রীবৃদ্ধি পেতে থাকে যতক্ষণ না সুলতান নাসির সালাহুদ্দীন ইউসুফ ইবনে আইয়ুব এর মালিকানা লাভ করেন এবং তিনি এটি তার ভাই আল-মালিকুল আদিল সাইফুদ্দীন আবু বকরকে প্রদান করেন। তিনি সেখানে তার পুত্র ফালাকুদ্দীনের জন্য একটি বুরুজ ও ঘর নির্মাণ করেন যা বর্তমানে তারই নামে পরিচিত।

যখন আল-মালিকুজ জাহির গিয়াসুদ্দীন গাজী এর অধিকারী হলেন, তখন তিনি একে সুদৃঢ় ও সুশোভিত করেন। তিনি সেখানে পানির জন্য একটি বিশাল জলাধার এবং শস্যভাণ্ডার নির্মাণ করেন। তিনি সেখানকার পুরাতন বাশুরাটি ধ্বংস করেন এবং দুর্গের টিলার পাদদেশকে ঢালু করে ‘হারাকলি’ পাথর দিয়ে সুসংহত করেন। তিনি দুর্গের প্রবেশপথটিকে উঁচুতে বর্তমান স্থানে স্থাপন করেন। পূর্বে এই দরজাটি মাটির কাছাকাছি বাশুরার সাথে সংযুক্ত ছিল। ছয়শ হিজরিতে সেটি ধসে পড়ে এবং এর নিচে চাপা পড়ে বহু মানুষ প্রাণ হারান। তাদের মধ্যে উস্তাদ সাবিত ইবনে শাকভীকও ছিলেন, যিনি আলেপ্পোর জামে মসজিদের ছোট মেহরাব সংলগ্ন দক্ষিণ প্রাচীরটি নির্মাণ করেছিলেন। আল-মালিকুজ জাহির এই ফটকের জন্য একটি দীর্ঘ সেতু নির্মাণ করেন যা শহর পর্যন্ত বিস্তৃত। তিনি ফটকের ওপর এমন দুটি টাওয়ার বা বুরুজ নির্মাণ করেন যার নজির আগে দেখা যায়নি। তিনি দুর্গের জন্য পাঁচটি খিলানযুক্ত প্রবেশপথ (দারকাহ) ও সুবিন্যস্ত খিলান নির্মাণ করেন। তিনি এতে তিনটি লোহার দরজা স্থাপন করেন এবং প্রতিটি দরজার জন্য একজন ইসফাসালার (সেনাপতি) ও একজন নাকীব (তত্ত্বাবধায়ক) নিযুক্ত করেন। তিনি সেখানে সৈন্যদের এবং রাষ্ট্রের পদস্থ কর্মকর্তাদের বসার জন্য কক্ষ নির্মাণ করেন এবং সেখানে যুদ্ধের সরঞ্জামাদি ঝুলিয়ে রাখা হতো। তিনি দুর্গের প্রাচীরে ‘বাবুল জাবাল’ (পাহাড়ের দরজা) নামে একটি দরজা খোলেন যা দুর্গের মূল ফটকের পূর্ব দিকে অবস্থিত। তিনি এর জন্য একটি প্রবেশপথ তৈরি করেন এবং যখন তিনি ‘দারুল আদল’ বা বিচারালয়ে যেতেন তখন ছাড়া এটি খোলা হতো না। এটি এবং এর পূর্ববর্তী নির্মাণকাজগুলো ছয়শ এগারো হিজরিতে সমাপ্ত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-আলাকুল খাতীরা ফী যিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাযীরা (পৃষ্ঠা: ১১)
وفي سنة عشرة وستّمائة في الرابع والعشرين من رمضان مُهّدت أرض الخندق الملاصق للقلعة فوُجد فيها تسع عشرة لبنةً ذهباً إبريزاً كان وزنها سبعة وتسعين رطلاً بالحلبيّ والرطل سبعمائة وعشرون درهماً وبنى فيها ساتورةً للماء محكمةً بدَرج إلى العين يمير بها سائر منازلها وبنى ممشى من شماليّ القلعة إلى باب أربعين وهو طريق بآزاج معقودة لا تُسلَك إلا في الضرورة وكأنّه باب سرّ وزاد في حفر خندق القلعة وأجرى فيه الماء الكثير وأحرق في شفير الخندق ممّا يلي البلد مغائر أعدّها لسكنى الأسارى يكون في كلّ مغارة مقدار خمسين بيتاً وأكثر وبنى فيها داراً تُعرَف بدار العزّ وكان في موضعها دار للملك العادل نور الدين محمود بن زنكي تُسمّى دار الذهب ودار تُعرَف بدار العواميد ودار الملك رضوان فحازت كلّ معنى غريب وفنّ عجيب. وفيها يقول الرشيد عبد الرحمان بن النابلسيّ من قصيدة مدحه بها في سنة تسع وثمانين وخمسمائة وأنشده إيّاها. فيها:

دارٌ حَكَتْ دارِينَ في طِيبٍ وَلا … عِطْرٌ بِساحَتِها وَلا عَطَّارُ

رُفِعَتْ سَماءُ عِمادِها فَكَأَنَّها … قُطْبٌ عَلى فَلَكِ السُعُودِ تُدارُ

وَزَهَتْ رِياضُ نُقُشِها وبَنَفْسَجٌ … غَضٌّ وَوَرْدٌ يانِعٌ وَبَهارُ

نُورٌ مِنَ الأصْباغِ مُبْتَهِجٌ وَلا … نُورٌ وَأزْهارٌ وَلا إزْهارُ

ما أيْنَعَتْ مِنْها الصُخُورُ وَأَوْرَقَتْ … إلاّ وَفيها مِنْ نَداكَ بِحارُ

وَضَحَتْ مَحاسِنُها فَفي غَسَقِ الدُجى … يُلفى لِصُبْحِ جَبِينِها إِسْفارُ

منها:

فَتَقَرُّ عَيْنُ الشَمْسِ أَنْ يَضْحَى لَها … بِفِنائِها مُسْتَوْطَنٌ وَقَرارُ

تَرِبَتْ يَدٌ رَفَّت بِها خَيْلاً لَها … في غَيْرِ مُعْتَرَكِ الوَغَى إِحْضارُ

وَفَوارِساً شَبَّت لَظَى حَرْبٍ وَما … دُعِيَتْ نَزالِ وَلَمْ يُشَنَّ مَغارُ

منها:

صُوَرٌ تَرَى لَيْثَ العَرِينِ تِجاهَهُ … مِنْها وَلا يَخْشَى سَطاهُ صُوارُ

سِلْمٌ إِلى الحَرْبِ القَدِيمِ فآنِسٌ … بِعَدُوّهِ مَنْ طالَ مِنْهُ نِفارُ

وَمُوَسِّدِينَ عَلى أَسِرَّةِ مُلْكِهِمْ … سُكْراً وَلا خَمْرٌ وَلا خَمّارُ

لا يَأتَلي شَدْوُ القِيانِ رَواجِعاً … فِيهِ وَلا نَغْمٌ وَلا أَوْتارُ

هَذا يُعانِقُ عُودَهُ طَرَبَاً وَذا … دَأْباً يَقَبِّلُ ثَغْرَهُ المِزْمارُ

وهي طويلة جداً فإنّه خرج من هذا إلى ذكر البركة والفوّارة والرخام ثمّ إلى مدح الملك الظاهر فاقتصرتُ منها على ما يُعلَم منه حسن هذه الدار.

وبنى حولها بيوتاً وحجراً وحمّامات وبستاناً كبيراً في صدر إيوانها فيه أنواع الأزهار وأصناف الأشجار وبنى على بابها أزجاً يُسْلَك فيه إلى الدركاوات الّتي قدّمنا ذكرها وبنى على بابها أماكن لكتّاب الدرج وكتّاب الجيش.

ولمّا تزوّج في سنة تسع وستّمائة بضَيْفه خاتون ابنة عمّه الملك العادل الّتي حكمت في حلب بعد وفاته وأسكنها بها وقعت نار عقيب العرس فاحترقت وجميع ما كان فيها من الفرش والمصاغ والآلات والأواني واحترقت معها الزردخاناه وكان الحريق في حادي عشر جمادى الأولى من سنة تسع. قمّ جدّد عمارتها وسمّاها دار الشخوص لكثرة ما كان منها في زخرفتها سعتها أربعون ذراعاً في مثلها.

وفي أيام الملك العزيز محمّد بن الملك الظاهر الغازي وقعت من القلعة عشرة أبراج من أبدانها وذلك في سنة اثنتين وعشرين وستّمائة ووافق ذلك زمان البرد وكان تقدير ما وقع خمسمائة ذراع وهو المكان المجاور لدار العدل ووقع بعض الجسر الّذي بناه الملك الظاهر. فاهتمّ الأتابك شهاب الدين طُغْريل بعمارتها فجمع الصنّاع واستشارهم فأشارهم أن يبني من أسفل الخندق على الجبل ويُصعَد بالبناء فإنّها متى لم تُبنَ على ما وصفنا وقع ما يُبنى عاجلاً وطرأ فيها ما طرأ الآن وإن قصدها عدوّ لم يمنعه فرأى الأتابك أنّ ذلك يحتاج إلى مال كثير ومدّة طويلة فعدل عن هذا الرأي وقطع أشجار الزيتون والتوت وترك الأساس والتراب وبنى. ولهذا لمّا نزلتها التتر لم يتمكّنوا من أخذها إلاّ من هذا المكان لتمكّن النقّابين منه.
৬১০ হিজরি সনের ২৪শে রমজান দুর্গের সংলগ্ন পরিখার ভূমি সমতল করা হয়। সেখানে উনত্রিশটি খাঁটি সোনার ইট পাওয়া যায়, যার ওজন ছিল হালবি ওজনে সাতানব্বই রতল। এক রতল সমান সাতশ বিশ দিরহাম। তিনি সেখানে পানির জন্য একটি মজবুত সতুরা (জলচক্র) নির্মাণ করেন, যা দিয়ে ঝরনা পর্যন্ত সিঁড়ি ছিল এবং এর মাধ্যমে দুর্গের সকল ঘরে পানি সরবরাহ করা হতো। তিনি দুর্গের উত্তর দিক থেকে ‘বাবে আরবাঈন’ (চল্লিশের দরজা) পর্যন্ত একটি চলাচলের পথ নির্মাণ করেন। এটি ছিল খিলানযুক্ত একটি পথ যা কেবল বিশেষ প্রয়োজনে ব্যবহৃত হতো এবং এটি যেন একটি গোপন দরজা ছিল। তিনি দুর্গের পরিখা খননের কাজ আরও বৃদ্ধি করেন এবং তাতে প্রচুর পানি প্রবাহিত করেন। তিনি শহরের নিকটবর্তী পরিখার কিনারায় বন্দীদের আবাসের জন্য পাহাড় খোদাই করে গুহা তৈরি করেন; প্রতিটি গুহায় পঞ্চাশ বা তার বেশি কক্ষ ছিল। তিনি সেখানে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন যা ‘দারে ইযয’ (গৌরবের প্রাসাদ) নামে পরিচিত ছিল। এর স্থানে পূর্বে সুলতান আদিল নূরুদ্দিন মাহমুদ ইবনে জাঙ্গির একটি প্রাসাদ ছিল যা ‘দারে যাহাব’ (স্বর্ণ প্রাসাদ) নামে পরিচিত ছিল, এবং ‘দারে আউয়ামিদ’ (স্তম্ভ প্রাসাদ) ও বাদশাহ রিদওয়ানের প্রাসাদও ছিল। এটি প্রতিটি বিরল অর্থ ও বিস্ময়কর শিল্পকলাকে ধারণ করেছিল। এ প্রসঙ্গে রশীদ আবদুর রহমান ইবনে নাবুলসি ৫৮৯ হিজরি সনে তাঁর প্রশংসায় একটি কাসিদা পাঠ করেন। তাতে রয়েছে:

ঘরটি সুগন্ধে দারিনের মতো হয়েছে, যদিও তার আঙিনায় কোনো সুগন্ধি নেই এবং কোনো সুগন্ধি বিক্রেতাও নেই।

তার স্তম্ভগুলোর আকাশ উঁচুতে তুলে ধরা হয়েছে, যেন তা সৌভাগ্যের কক্ষপথে আবর্তিত কোনো মেরু।

তার নকশার বাগানগুলো শোভিত হয়েছে এবং সতেজ বেগুনি ফুল, প্রস্ফুটিত গোলাপ ও বাহারি পুষ্পে সজ্জিত।

রঙের এক প্রফুল্ল আলো, যদিও সেখানে কোনো আলো বা ফুল বা প্রস্ফুটন নেই।

পাথরগুলো তাতে ফলেনি বা পল্লবিত হয়নি, কিন্তু তোমার দানশীলতার কারণে সেখানে সমুদ্র রয়েছে।

তার সৌন্দর্য স্পষ্ট হয়েছে, ফলে ঘন অন্ধকারেও তার ললাটের প্রভাতে উজ্জ্বলতা পাওয়া যায়।

তার থেকে:

সূর্যের চোখ জুড়িয়ে যায় যখন সে তার আঙিনায় থাকার জায়গা ও স্থিরতা পায়।

সেই হাত ধূলিমলিন হোক যা ঘোড়াগুলোকে চিত্রিত করেছে, যুদ্ধের ময়দান ছাড়াই যাদের ক্ষিপ্র গতি রয়েছে।

এবং এমন অশ্বারোহীরা যারা যুদ্ধের আগুন জ্বালিয়েছে, যদিও সেখানে যুদ্ধের আহ্বান করা হয়নি এবং কোনো আক্রমণ চালানো হয়নি।

তার থেকে:

এমন সব প্রতিকৃতি যে তুমি তার সামনে বনের সিংহকে দেখবে, অথচ শিকারি পশুরা তার থাবাকে ভয় পায় না।

পুরানো যুদ্ধের প্রতি এটি এক সন্ধি, ফলে শত্রুর সাথে সে হৃদ্যতা বজায় রাখে যার থেকে দীর্ঘকাল বিমুখতা ছিল।

এবং তাদের রাজকীয় শয্যায় বালিশে হেলান দিয়ে থাকা ব্যক্তিরা, যারা নেশাগ্রস্ত কিন্তু কোনো মদ বা মদ্যপায়ী সেখানে নেই।

গাইকাদের গুঞ্জরিত সুর সেখানে থেমে থাকে না, যদিও সেখানে কোনো কণ্ঠ বা বাদ্যযন্ত্রের তার নেই।

কেউ তার বাদ্যযন্ত্রকে আনন্দে জড়িয়ে ধরছে, আর কারো বাঁশির মুখে নিয়মিত চুম্বন এঁকে দেওয়া হচ্ছে।

এটি অত্যন্ত দীর্ঘ কবিতা, কারণ এখান থেকে তিনি পুকুর, ফোয়ারা ও মার্বেল পাথরের বর্ণনায় চলে গিয়েছেন এবং এরপর সুলতান যাহিরের প্রশংসা করেছেন। তাই আমি এই প্রাসাদের সৌন্দর্য বোঝার জন্য যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই বর্ণনা করলাম।

তিনি এর চারপাশে ঘর, কক্ষ, গোসলখানা এবং এর আইওয়ানের (বারান্দা) সামনে একটি বড় বাগান নির্মাণ করেন যাতে বিভিন্ন প্রকারের ফুল ও গাছ ছিল। তিনি এর দরজায় খিলানযুক্ত পথ নির্মাণ করেন যা পূর্বে উল্লিখিত দরকাওয়াত (প্রবেশপথ) পর্যন্ত পৌঁছেছে। তিনি এর দরজায় লিপিকার ও সেনাবাহিনীর লেখকদের জন্য স্থান নির্ধারণ করেন।

যখন ৬০৯ হিজরি সনে তিনি তাঁর চাচাতো বোন দ্বায়ফা খাতুন বিনতে আল-মালিকুল আদিলকে বিয়ে করেন—যিনি তাঁর মৃত্যুর পর হালবে শাসন করেছিলেন—এবং তাকে সেখানে বসবাস করতে দেন, তখন বিয়ের পর পরই আগুন লেগে যায়। ফলে তা এবং তার ভেতরে থাকা সকল আসবাবপত্র, অলঙ্কার, সরঞ্জাম ও তৈজসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এর সাথে অস্ত্রাগারও পুড়ে গিয়েছিল। এই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল ৬০৯ হিজরি সনের ১১ই জুমাদাল উলাতে। অতঃপর তিনি এর নির্মাণ কাজ নতুন করে করেন এবং এর কারুকার্যে অধিক প্রতিকৃতি থাকার কারণে এর নাম দেন ‘দারে শুখুস’ (প্রতিকৃতি ঘর)। এর প্রশস্ততা ছিল চল্লিশ হাত বাই চল্লিশ হাত।

আল-মালিকুল আযীয মুহাম্মদ ইবনে আল-মালিকুল যাহির গাযীর আমলে ৬২২ হিজরি সনে দুর্গের প্রাচীরের দশটি বুরুজ ধসে পড়ে। এটি ছিল প্রচণ্ড শীতের সময়। যা ধসে পড়েছিল তার পরিমাণ ছিল প্রায় পাঁচশ হাত, যা ‘দারে আদলে’র নিকটবর্তী স্থান। সুলতান যাহির যে সেতুটি নির্মাণ করেছিলেন তারও কিছু অংশ ভেঙে পড়ে। তখন আতাবেগ শিহাবুদ্দিন তুঘরিল এর নির্মাণে মনোনিবেশ করেন। তিনি কারিগরদের একত্রিত করেন এবং তাদের পরামর্শ চান। তারা পরামর্শ দিলেন যে, পরিখার তলদেশ থেকে পাহাড়ের উপর ভিত্তি করে নির্মাণ কাজ শুরু করতে হবে এবং উপরের দিকে যেতে হবে। কারণ যদি আমাদের বর্ণনানুসারে নির্মাণ করা না হয়, তবে যা নির্মিত হবে তা দ্রুত ধসে পড়বে এবং এখন যা ঘটেছে তা পুনরায় ঘটবে। আর যদি শত্রু আক্রমণ করে তবে তাকে ঠেকানো যাবে না। আতাবেগ দেখলেন যে, এতে প্রচুর অর্থ ও দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। তাই তিনি এই মত ত্যাগ করলেন এবং জলপাই ও তুত গাছ কেটে ফেললেন এবং ভিত্তি ও মাটি রেখে তার উপরেই নির্মাণ করলেন। এই কারণেই যখন তাতাররা আক্রমণ করেছিল, তারা কেবল এই স্থান দিয়েই দুর্গ দখল করতে সক্ষম হয়েছিল, কারণ সুড়ঙ্গ খননকারীরা সেখানে সুযোগ পেয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আল-আলাকুল খাতীরা ফী যিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাযীরা (পৃষ্ঠা: ১২)
وفي سنة ثمان وعشرين بنى فيها الملك العزيز داراً إلى جانب الزردخاناه يستغرق وصفها الإطناب ويقصر عنه الإسهاب مساحتها ثلاثون ذراعاً في مثلها. ولما تسلم التتر القلعة في تاسع شهر ربيع الأوّل سنة ثمان وخمسين وستمائة عمدوا إلى خراب سورها وأحرقوا ما كان بها من الذخائر وازردخاناه والمجانيق ولمّا هزم الملك المظفر التتر على عين جالوت وهرب من كان منهم في حلب ثمّ عادوا إليها مرةً ثانية بعد مقتل الملك المظفر فرأوا في القلعة برجاً قد بُني للحمام بأمر الملك المظفّر قُطُز فأنكروا عليهم " بناءه " وأخربوا القلعة خراباً شنيعاً وما فيها من الدور والخزائن ولم يبقوا فيها مكاناً للسكنى وذلك في المحرّم سنة تسع وخمسين وبقي الآن سور " القلعة " القديمة يقال فيه قفل خربة.

 

‌‌فصل في ذكر القصور

كانت ملوك حلب تنزل هذه القصور أوّلاً وتسكنها دون القلعة.

منها قصر أنشأه مَسْلَمة بن عبد الملك بالناعور في سنة تسعين من الهجرة كان نازلاً به لمّا كان متولياً حلب من قِبَل أخيه الوليد ثمّ خرِب ولحقتُ منه برجاًً وأثر أبراج وقد تقدّم لنا أنّه بُني بحجارته باب قنّسرين.

ومنها قصر بناه سليمان بن عبد الملك بالحاضر في أيّام ولايته وكان بناؤه في غاية الحسن والزخرفة وإليه يُنسَب الحاضر السليمانيّ.

ولمّا ملك بنو العبّاس أمر السفّاح عبد الله بن محمّد بن علي بإخرابه فخربه.

وبنى عمر بن بن عبد العزيز بخُناصرة من الحَصّ قصراً كان كثيراً ما ينزل به.

ومنها قصر بناه صالح بن عليّ بن عبّاس بقرية بِطياس وكان أكثر مقامه به ومنه آثار باقية إلى الآن.

ومنها قصر بناه أولاد صالح يُعرَف بالدارَيْن خارج باب إنطاكية في وسطه قنطرة على نهر قُوَيْق كان عبد الملك بن صالح بناه وبنى حوله ربضاً ولم يتم فأتمّه سيما الطويل لمّا ولي حلب ورمّ ما كان استهدم من القصر وصيّر عليه باب حديد أخذه من قصر لبعض الهاشمييّن بحلب يُسمى قصر البنات. قلتُ: والقصر كان في الدرب المعروف بدرب البنات بحلب. وبشرقيّ الداريّن بستان يُعرف ببستان الدار من شماليّ باب قنّسرين وهو الآن وقف على المدرسة النوريّة الشافعية وهو منسوب إلى أحد الدارَيْن والدار الأخرى المشار إليها أنشأها أيضاً سيما الطويل فلأجل ذلك تُعرف هذه المحلّة بالدارين.

ومنها قصر بناه مرتضى الدولة داخل باب الجنان ومرتضى الدولة هذا هو أبو نصر منصور بن لؤلؤ أحد موالي بني حمدان وكان هذا القصر قد تداعى وخرب وبُني مكانه دور صغار للعامة. فلمّا كانت أيّام العزيز اشترى هذه الأماكن الأمير عَلَم الدين قيصر الظاهري وهدمها وبنى فيها قيساريّةَ وصهاريج للزيت وحوانيت ثمّ انتقلت بعده إلى ورثته ثمّ انتقل بعضها منها إلى مُلك ملك الأمراء بدر الدين الخزندار الظاهريّ في سنة اثنين وسبعين وستمائة.

ومنها قصر بناه سيف الدولة بن حمدان بالحلبة عظيماً وأجرى إليه نهر قُوَيْق وأطافه به. فلمّا حاصر حلب استولى إلى ما فيه وهدمه وسيأتي ذلك مستوفي في أمراء حلب تحتلّ بهذه القصور إلى أتّام بني مِرْداس فإنهم أوّل من نزلوا القلعة وسكنوها وجعلوها سنَّة لمن أتى بعدهم من الملوك.

 

‌‌الباب السابع في

ذكر ما ورد في فضل حلب
এবং ছয়শ আটাশ হিজরি সনে বাদশাহ আল-মালিকুল আজিজ এখানে ‘যারদখানাহ’-এর পাশে একটি গৃহ নির্মাণ করেন, যার বর্ণনা অত্যন্ত দীর্ঘ এবং সংক্ষিপ্ত আলোচনায় তা শেষ করা সম্ভব নয়। এর আয়তন ছিল দৈর্ঘ্য-প্রস্থে ত্রিশ হাত করে। আর যখন ছয়শ আটান্ন হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসের নয় তারিখে তাতার বাহিনী দুর্গটি দখল করে নিল, তখন তারা এর প্রাচীর ধ্বংস করতে উদ্যত হলো এবং সেখানে থাকা অস্ত্রশস্ত্র, যারদখানাহ ও মিনজানিকসমূহ (ক্ষেপণাস্ত্র) পুড়িয়ে দিল। যখন বাদশাহ আল-মালিকুল মুজাফফর ‘আইন জালুত’-এর যুদ্ধে তাতারদের পরাজিত করলেন এবং তাদের যারা আলেপ্পোতে ছিল তারা পালিয়ে গেল, অতঃপর বাদশাহ আল-মালিকুল মুজাফফরের শাহাদাতের পর তারা পুনরায় সেখানে ফিরে এল, তখন তারা দুর্গে একটি মিনার দেখতে পেল যা বাদশাহ আল-মালিকুল মুজাফফর কুতুজের আদেশে কবুতরের জন্য নির্মিত হয়েছিল। তারা এটি নির্মাণের তীব্র প্রতিবাদ জানাল এবং দুর্গের ভেতরে থাকা প্রাসাদ ও ভাণ্ডারসমূহ অত্যন্ত জঘন্যভাবে ধ্বংস করে দিল। তারা সেখানে বসবাসের জন্য কোনো স্থানই বাকি রাখল না। এটি ঘটেছিল ছয়শ উনষাট হিজরির মহররম মাসে। বর্তমানে প্রাচীন দুর্গের প্রাচীরটি অবশিষ্ট রয়েছে যাকে ‘কুফলে খিরবাহ’ (ধ্বংসাবশেষের তালা) বলা হয়।

 

‌‌প্রাসাদসমূহের বিবরণে একটি পরিচ্ছেদ

আলেপ্পোর রাজন্যবর্গ প্রথমে এই প্রাসাদগুলোতেই অবতরণ করতেন এবং দুর্গে না থেকে এখানেই বসবাস করতেন।

তার মধ্যে একটি হলো সেই প্রাসাদ যা মাসলামাহ ইবনে আব্দুল মালিক হিজরি নব্বই সনে ‘নাঊর’-এ নির্মাণ করেছিলেন। তিনি যখন তাঁর ভাই ওয়ালিদের পক্ষ থেকে আলেপ্পোর শাসনকর্তা ছিলেন, তখন সেখানে অবস্থান করতেন। পরবর্তীকালে এটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় এবং আমি এর একটি মিনার ও কিছু মিনারের চিহ্ন প্রত্যক্ষ করেছি। পূর্বে আমাদের আলোচনায় এসেছে যে, এর পাথর দিয়েই ‘বাব কিন্নাসরিন’ (কিন্নাসরিন তোরণ) নির্মিত হয়েছিল।

তার মধ্যে আরেকটি প্রাসাদ যা সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিক তাঁর শাসনকালে ‘হাদির’-এ নির্মাণ করেছিলেন। এর নির্মাণশৈলী ছিল অত্যন্ত সুন্দর ও কারুকার্যখচিত। এর নামানুসারেই একে ‘হাদিরে সুলাইমানি’ বলা হয়।

যখন আব্বাসীয়রা ক্ষমতায় এল, তখন আস-সাফফাহ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আলী এটি ধ্বংস করার নির্দেশ দিলেন এবং তা ধ্বংস করে দেওয়া হলো।

আর উমর ইবনে আব্দুল আজিজ ‘হাস’-এর ‘খুনাসিরা’ নামক স্থানে একটি প্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন যেখানে তিনি প্রায়ই অবস্থান করতেন।

তার মধ্যে একটি প্রাসাদ সালিহ ইবনে আলী ইবনে আব্বাস ‘বিতইয়াস’ গ্রামে নির্মাণ করেছিলেন। তাঁর অধিকাংশ সময় সেখানেই কাটত এবং বর্তমানেও এর কিছু চিহ্ন অবশিষ্ট রয়েছে।

তার মধ্যে একটি প্রাসাদ সালিহ-এর সন্তানগণ নির্মাণ করেছিলেন যা ‘আদ-দারাইন’ নামে পরিচিত, এটি আনতাকিয়া তোরণের বাইরে অবস্থিত। এর মাঝখানে কুওয়াইক নদীর ওপর একটি খিলান ছিল। আব্দুল মালিক ইবনে সালিহ এটি নির্মাণ শুরু করেছিলেন এবং এর চারপাশে একটি উপশহর গড়ে তুলেছিলেন, কিন্তু তিনি তা সমাপ্ত করতে পারেননি। অতঃপর সীমা আত-তাবিল যখন আলেপ্পোর শাসনকর্তা হলেন, তখন তিনি এটি সম্পন্ন করেন। তিনি প্রাসাদের জরাজীর্ণ অংশ সংস্কার করেন এবং সেখানে একটি লোহার দরজা স্থাপন করেন, যা তিনি আলেপ্পোর হাশেমিদের একটি প্রাসাদ থেকে নিয়েছিলেন যার নাম ছিল ‘কাসরুল বানাত’ (কন্যাদের প্রাসাদ)। আমি বলছি: প্রাসাদটি আলেপ্পোর ‘দারবুল বানাত’ (কন্যাদের পথ) নামে পরিচিত গলিতে ছিল। আদ-দারাইন-এর পূর্ব দিকে ‘বুস্তানুদ দার’ (গৃহের উদ্যান) নামক একটি বাগান রয়েছে যা কিন্নাসরিন তোরণের উত্তর দিকে অবস্থিত। বর্তমানে এটি ‘মাদরাসা নূরিয়্যাহ শাফিইয়্যাহ’-এর জন্য ওয়াকফকৃত। এটি আদ-দারাইনের যে কোনো একটির সাথে সম্পর্কিত। আর অন্য যে ঘরটির দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, সেটিও সীমা আত-তাবিল নির্মাণ করেছিলেন, আর এ কারণেই এই এলাকাটি ‘আদ-দারাইন’ (দুই ঘর) নামে পরিচিত।

তার মধ্যে একটি প্রাসাদ মুরতাজা আদ-দাওলা ‘বাবুল জিনান’-এর অভ্যন্তরে নির্মাণ করেছিলেন। এই মুরতাজা আদ-দাওলা হলেন আবু নাসর মানসুর ইবনে লু’লু, যিনি হামদানি বংশের অন্যতম মুক্তদাস ছিলেন। এই প্রাসাদটি জরাজীর্ণ হয়ে ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল এবং এর স্থলে সাধারণ মানুষের জন্য ছোট ছোট ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল। অতঃপর আল-মালিকুল আজিজের যুগে আমির আলামুদ্দিন কায়সার আজ-জাহিরি এই স্থানগুলো ক্রয় করেন এবং সেগুলো ভেঙে একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র (কায়সারিয়্যাহ), তেলের আধারের হাউজ এবং দোকানঘর নির্মাণ করেন। পরবর্তীতে এগুলো তাঁর উত্তরাধিকারীদের নিকট হস্তান্তরিত হয় এবং অতঃপর এর কিছু অংশ ছয়শ বাহাত্তর হিজরি সনে প্রধান সেনাপতি (মালিকুল উমারা) বদরুদ্দিন আল-খাজান্দার আজ-জাহিরির মালিকানাধীন হয়।

তার মধ্যে সাইফুদ্দৌলা ইবনে হামদান ‘হালবাহ’ নামক স্থানে একটি বিশাল প্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন এবং সেখানে কুওয়াইক নদীর প্রবাহ ঘুরিয়ে এনেছিলেন এবং নদীর পানি দিয়ে একে পরিবেষ্টিত করেছিলেন। যখন আলেপ্পো অবরুদ্ধ হলো, তখন এর ভেতর যা কিছু ছিল তা দখল করা হলো এবং তা ধ্বংস করে দেওয়া হলো। আলেপ্পোর আমিরদের আলোচনায় এর বিস্তারিত বিবরণ আসবে। বনু মিরদাস-এর শাসনকাল পর্যন্ত এই প্রাসাদগুলোতেই রাজন্যবর্গ অবস্থান করতেন। তাঁরাই সর্বপ্রথম দুর্গে আরোহণ করেন এবং সেখানে বসবাস শুরু করেন এবং তাঁদের পরবর্তী বাদশাহদের জন্য এটি একটি নিয়মে পরিণত করেন।

 

‌‌সপ্তম অধ্যায়: আলেপ্পোর ফজিলত সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
(খণ্ড: ১) আল-আলাকুল খাতীরা ফী যিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাযীরা (পৃষ্ঠা: ১৩)
قال القاضي بهاء الدين المعروف بابن شدّاد فيما أجازني به من المنقول عن رسول الله صلى الله عليه وسلم إنه قال: لا تقوم الساعة حتّى تنزل الروم بالأعماق وبدابق فيخرج إليهم جيش من المدينة من خيار أهل الأرض يومئذ. فيكون وجه الاستدلال بهذا الحديث على فضل حلب قوله عم: تنزل الروم بالأعماق وبدابق فيخرج إليهم من المدينة من خيار أهل الأرض ذكره بحرف الفاء. وإنّها للتعقيب. والمدينة المذكورة التي يخرج منها الجيش هي حلب لأنها أقرب المدن إلى دابق إذ ليس في تلك الناحية ما يطلق عليه اسم المدينة على الإطلاق غير حلب لا على يثرب كما في قوله تعالى:) وَجاءَ منْ أقْصَى المدِينَةِ رَجُلٌ يَسْعَى (وفي قوله تعالى:) وَأَمّا الجِدارُ فَكانَ لِغُلامَيْنِ يَتيمَنِ في اَلمدِينَةِ (حيث انصرف الإطلاق إلى المدينة الّتي يُفْهَم إرادتها عند الإطلاق. قلتُ: ورد في الحديث عن النبيّ صلى الله عليه وسلم أنّه لمّا همّ بالهجرة من مكّة دعا الله. فقال: " اللهم إن قومي يُخرِجوني من أحب البقاع إليّ فانقلني إلى أحب البقاع إليك " أو ما في معنى ذلك. فنزل عليه جبرائيل عم وقال له::إن الله تع يخبرك أن تهاجر إلى يثرب أو إلى البحرَيْن أو إلى قنّسرين " وهذا غاية الشرف لحلب. الحديث منقول من المشارق للصغانيّ بل في المصابيح. وممّا رواه فخر الدين أبو منصور ابن عساكر من تأريخ عّمه الحافظ أبي القاسم عن معاذ رصه قال: الأرض المقدسة ما بين العريش إلى الفرات وقد جاء أنّ الرعد والبرق يهاجران إلى مهاجر إبراهيم عم لا يبقى قطرة إلا فيما بين العريش إلى الفرات. وقد تقدّم لنا أحاديث كثيرة في فضل الشام بأسره وإذا اعتبرنا الحال في حلب وجدناها منه الواسطة من العقد والقلب من الصدر والإنسان من العين.

 

‌‌الباب الثامن في

ذكر مسجدها الجامع وما بظاهرها من الجوامع

كان موضع الجامع بستاناً للكنيسة العظمى في أيام الروم وكانت هذه الكنيسة تُنسَب إلى قسطنطين باني القسطنطينية وسنذكر أمرها في ما يأتي عند ذكرنا للمدارس ولما فتح المسلمون حلب صالوا أهلها على موضع المسجد الجامع.

وأخبرني بهاء الدين أبو محمّد الحسن بن إبراهيم بن سعيد بن الخشّاب الحلبيّ قال: أخبرني الشريف أبو جعفر الهاشميّ بسند يرفعه إلى أجداده من بني صالح أنّ الجهة الشمالية من الجامع كانت مقبرةً للكنيسة المذكورة.

وأخبر بهاء الدين أيضاً فيما حكاه عنه كمال الدين بن العديم في كتابه قال: قال الفضل بن الإكليلي الحلبي المنجّم إنّ المصنع الّذي في وسط المسجد الجامع لمّل بُني وجدوا في حفيره صورة أسد من الحجر وقد وُضع مستقبلاً بوجهه القبلة.

وقال كمال الدين: سمعتُ عن القاضي شمس الدين أبي عبد الله محمّد بن يوسف ابن الخضر قال: كان جامع حلب يضاهي جامع دمشق في الزخرفة والرخام والفسيفساء.

وبلغني أن سليمان بن عبد الملك هو الذي بناه وتأنّق في بنائه ليضاهي به ما عمله أخوه الوليد في جامع دمشق. وقيل إنّه من بناء الوليد وإنه نفل إليه آلة كنيسة قورص وكانت هذه الكنيسة من عجائب الدنيا. ويقال إن ملك الروم بذل في ثلاثة أعمدة كانت فيها سبعين ألف دينار فلم يسمح الوليد لهم بها.

ويقال إن بني العبّاس نقلوا ما كان فيه من الرخام والآلات إلى جامع الأنبار لمّا نقضوا آثار بني أميّة من بلاد الشام وعفّوها ولم يزل على هذه الصفة إلى أن دخل نقفور حلب في سنة إحدى وخمسين وثلاثمائة فأحرقه. ولمّا عاد سيف الدولة إلى حلب رمّ بعض ما تهدّم من الجامع ولمّا مات سيف الدولة وتولى ولده أبو المعالي سعد الدولة شريف بنى فيه. وبنى فيه قرغويه مولى سيف الدولة قبّة الفوّارة في وسطه وطول عمودها سبعة أشبار. وفي هذه القبة جرن رخام أبيض في غاية الكبر والحسن يقال إنه كان مذبحاً لبعض الكنائس التي كانت بحلب وفي دور حافة الجرن مكتوب: " هذا ما أمر به قَرغوية غلام سيف الدولة بن حمدان في سنة أربع وخمسين وثلاثمائة ". وبنى فيه الجهة الشرقيّة القضاة بنوا عمّار الذين كانوا أصحاب أطرابلس الشام.
কাজী বাহাউদ্দিন, যিনি ইবনে শাদ্দাদ নামে পরিচিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত যা আমাকে বর্ণনা করার অনুমতি দিয়েছেন তাতে বলেছেন যে, তিনি (রাসূলুল্লাহ) বলেছেন: "কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না রোমীয়রা আল-আ'মাক এবং দাবেকে অবতরণ করবে। অতঃপর সেই দিন পৃথিবীর সর্বোত্তম লোকেদের মধ্য থেকে একটি সেনাবাহিনী মদিনা (শহর) থেকে তাদের বিরুদ্ধে বের হবে।" এই হাদিস দ্বারা আলেপ্পোর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণের দিকটি হলো তাঁর (রাসূলুল্লাহর) বাণী: "রোমীয়রা আল-আ'মাক ও দাবেকে অবতরণ করবে এবং মদিনা থেকে পৃথিবীর সর্বোত্তম লোকেদের মধ্য থেকে একদল তাদের দিকে বের হবে।" এখানে তিনি ‘ফা’ (ف) বর্ণটি ব্যবহার করেছেন, যা অবিলম্বে সংঘটিত হওয়াকে বুঝায়। এখানে উল্লিখিত মদিনা বা শহরটি হলো আলেপ্পো, কারণ এটি দাবেকের নিকটতম শহর। যেহেতু সেই অঞ্চলে আলেপ্পো ছাড়া অন্য কোনো জনপদকে সাধারণভাবে ‘মদিনা’ বা শহর বলা হয় না, আর এটি ইয়াছরিবকে (মদিনা মুনাওয়ারা) বুঝায় না; যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: "শহরের প্রান্তদেশ থেকে এক ব্যক্তি দৌড়ে এল" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আর প্রাচীরটি ছিল শহরের দুই এতিম বালকের।" এখানে ‘শহর’ শব্দটি দ্বারা সেই জনপদকেই বুঝানো হয়েছে যা সাধারণভাবে কোনো প্রসঙ্গের শুরুতে বুঝে আসে। আমি বলি: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি যখন মক্কা থেকে হিজরতের সংকল্প করলেন, তখন আল্লাহর কাছে দোয়া করে বললেন: "হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমার জাতি আমাকে আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় ভূখণ্ড থেকে বের করে দিচ্ছে, সুতরাং আপনি আমাকে আপনার নিকট সবচেয়ে প্রিয় ভূখণ্ডে স্থানান্তরিত করুন।" অথবা এর কাছাকাছি অর্থবোধক কিছু। তখন জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁর কাছে অবতীর্ণ হলেন এবং বললেন: "মহান আল্লাহ আপনাকে সংবাদ দিচ্ছেন যে, আপনি ইয়াছরিব অথবা বাহরাইন অথবা কিননাসরিন-এর দিকে হিজরত করবেন।" আর এটি আলেপ্পোর জন্য চরম সম্মানের বিষয়। এই হাদিসটি সাগনির 'মাশারিক' থেকে বর্ণিত, বরং 'মাসাবিহ'-তেও রয়েছে। ফখরুদ্দিন আবু মনসুর ইবনে আসাকির তাঁর চাচা হাফেজ আবুল কাসিমের ইতিহাস গ্রন্থ থেকে মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: পবিত্র ভূমি হলো আল-আরিশ থেকে ফোরাত নদী পর্যন্ত। আরও বর্ণিত হয়েছে যে, মেঘের গর্জন ও বিজলী ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের হিজরত স্থলের দিকে হিজরত করে; আল-আরিশ থেকে ফোরাত পর্যন্ত অঞ্চলের মধ্যে ছাড়া বৃষ্টির এক ফোঁটাও অবশিষ্ট থাকে না। সমগ্র শাম (সিরিয়া) অঞ্চলের ফযিলত সম্পর্কে ইতিপূর্বে আমরা অনেক হাদিস বর্ণনা করেছি। আলেপ্পোর অবস্থান বিবেচনা করলে দেখা যায়, এটি যেন হার বা মালার মধ্যমণি, বুকের হৃৎপিণ্ড এবং চোখের মণি স্বরূপ।

 

‌‌অষ্টম পরিচ্ছেদ: এর জামে মসজিদ এবং এর পার্শ্ববর্তী অন্যান্য মসজিদসমূহের বর্ণনা প্রসঙ্গে

জামে মসজিদের স্থানটি রোমান আমলে একটি বড় গির্জার বাগান ছিল। এই গির্জাটি কনস্টান্টিনোপল নির্মাতা কনস্টানটাইনের সাথে সম্পর্কিত ছিল। মাদরাসাগুলোর বর্ণনার সময় আমরা এ বিষয়ে আলোচনা করব। মুসলমানরা যখন আলেপ্পো জয় করেন, তখন তারা জামে মসজিদের জায়গার ব্যাপারে স্থানীয়দের সাথে সন্ধি করেন।

বাহাউদ্দিন আবু মুহাম্মদ হাসান বিন ইব্রাহিম বিন সাঈদ ইবনুল খাশশাব আল-হালাবি আমাকে অবহিত করেছেন, তিনি বলেছেন: শরীফ আবু জাফর আল-হাশেমি তার পূর্বপুরুষ বনী সালেহ থেকে প্রাপ্ত সনদে বর্ণনা করেছেন যে, জামে মসজিদের উত্তর দিকটি উক্ত গির্জার কবরস্থান ছিল।

বাহাউদ্দিন আরও বর্ণনা করেছেন যা কামালুদ্দিন ইবনুল আদিল তার কিতাবে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফজল বিন ইকলিলি আল-হালাবি বলেছেন, জামে মসজিদের মাঝখানে যে হাউজটি রয়েছে, সেটি নির্মাণের সময় যখন গর্ত করা হচ্ছিল, তখন সেখানে পাথরের একটি সিংহের মূর্তি পাওয়া যায়, যার মুখটি কিবলার দিকে মুখ করা অবস্থায় ছিল।

কামালুদ্দিন বলেন: আমি কাজী শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইউসুফ ইবনুল খিজর থেকে শুনেছি, তিনি বলেন: আলেপ্পোর জামে মসজিদ তার অলঙ্করণ, মার্বেল পাথর এবং মোজাইক কাজের দিক থেকে দামেস্কের জামে মসজিদের সমতুল্য ছিল।

আমার কাছে খবর পৌঁছেছে যে, সুলাইমান বিন আব্দুল মালিক এটি নির্মাণ করেছেন এবং এর নির্মাণশৈলীতে অনেক সূক্ষ্মতা অবলম্বন করেছেন যাতে এটি তার ভাই ওয়ালিদ কর্তৃক নির্মিত দামেস্কের জামে মসজিদের সমতুল্য হয়। কেউ কেউ বলেন এটি ওয়ালিদেরই নির্মাণ এবং তিনি এখানে কুরুস গির্জার নির্মাণ সামগ্রী স্থানান্তর করেছিলেন, যা পৃথিবীর অন্যতম আশ্চর্যের বিষয় ছিল। বলা হয় যে, রোমান সম্রাট এর তিনটি স্তম্ভের বিনিময়ে সত্তর হাজার দিনার দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ওয়ালিদ তা দিতে রাজি হননি।

বলা হয় যে, আব্বাসীয়রা যখন শাম দেশ থেকে উমাইয়াদের নিদর্শনগুলো ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছিল, তখন তারা এখানকার মার্বেল পাথর ও সরঞ্জামগুলো আনবারের জামে মসজিদে নিয়ে যায়। মসজিদটি এভাবেই ছিল যতক্ষণ না ৩৫১ হিজরিতে নিকোফোরাস আলেপ্পোতে প্রবেশ করে এটি জ্বালিয়ে দেয়। সাইফুদ দৌলা যখন আলেপ্পোতে ফিরে আসেন, তখন তিনি মসজিদের বিধ্বস্ত অংশের কিছু মেরামত করেন। সাইফুদ দৌলার মৃত্যুর পর যখন তার পুত্র আবু আল-মা'আলি সা'দুদ দৌলা শরীফ শাসনভার গ্রহণ করেন, তখন তিনি এতে নির্মাণ কাজ করেন। সাইফুদ দৌলার মুক্তদাস কারগুওয়াইহি এর মাঝখানে ফাওয়ারার (ফোয়ারা) গম্বুজ নির্মাণ করেন যার স্তম্ভের দৈর্ঘ্য সাত বিঘাত। এই গম্বুজের নিচে অত্যন্ত বড় ও সুন্দর একটি সাদা মার্বেলের পাত্র রয়েছে, বলা হয় যে এটি আলেপ্পোর কোনো একটি গির্জার বেদী ছিল। পাত্রটির কিনারে খোদাই করে লেখা আছে: "এটি সাইফুদ দৌলা বিন হামদানের গোলাম কারগুওয়াইহি ৩৫৪ হিজরিতে নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন।" আর এর পূর্ব দিকটি বনী আম্মার কাজীগণ নির্মাণ করেছিলেন যারা শামের ত্রিপোলির শাসক ছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-আলাকুল খাতীরা ফী যিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাযীরা (পৃষ্ঠা: ১৪)
فلمّا كانت ليلة الأربعاء السابع والعشرين من شوّال سنة أربع وستّين وخمسمائة في أيام الملك العادل نور الدين محمد بت زنكي أحرقته الإسماعيلية وأحرقت الأسواق فبناه نور الدين واجتهد في عمارته فقطع له العمد الصفر من بُعادين ونقل إليه عمداً من قنّسرين لأنّ العمد الّتي كانت فيه تفطّرت من النار. وكان النصف القبليّ من الشرقيّة الّتي في قبليّ الجامع الآن الملاصقة لسوق البرّ عن يمين الداخل من الباب القبليّ سوقاً موقوفاً على الجامع ولم يكن المسجد على التربيع. فأحب نور الدين محمود أن يضيف ذلك إلى الجامع فاستفتى في ذلك الفقيه علاء الدين أبا الفتح عبد الرحمان بن محمود الغَزْنَويّ فأتاه بجوازه فنقض السوق وأضافه إلى الجامع واتّسع المسجد وحسن في مرآة العين وشاهدتُ الفتوى بخطّ الغزنويّ. ووقف عليه وقوفاً كثيرةً.

 

‌‌ذكر الصهريج الّذي في الصحن

حكى كمال الدين ابن العديم في تأريخه أنّ والده وعّمه أبا غانم قالا: كان بعض السلف من أهل حلب وأعيانها قال والدي من الأجداد وقال عّمي من الأقارب متولّياً أوقاف المسجد الجامع بحلب فجاءه إنسان لا يعرفه فطرق عليه الباب ليلاً ودفع إليه ألف دينار وقال: اصرف هذا في وجه بر ومعروف. فأخذها وأفكر في وجه برّ يصرف ذلك المال فيه فوقع له أن يصرفه في عمارة مصنع لخزن الماء من القناة فإن منابيع حلب ماؤها مالح وقد كان العدوّ يطرق مدينة حلب كثيراً فإن قطع منها ماء قناة حَيلان تضرر أهلها تضرراً عظيماً فرأى أن يعمل مصنعاً في صحن الجامع مدفوناً تحت أرضه وأن يوسعه بحيث أن يكون فيه ماء كثير فشرع في ذلك وحفر حفرةً عظيمةً واشترى الحجارة والكلس وعقد المصنع. وفرغ الذهب الّذي حمل إليه ولم يتمّ المصنع فضاق صدره وتقسّم فكرة الطريق الّذي يتوصل به إلى إتمام المصنع. فطرق عليه طارق في الليل فخرج إليه فوجد ذلك الإنسان بعينه فدفع إليه ألف دينار أخرى وقال: أتمم عملك بهذه. فأخذها وتمّم بها عمل ذلك المصنع فجاء في غاية السعة والركانة فيقال إنّه منذ عمل لم يُعرَف أنّه فرغ ماءه ويستعمل منه السقّاءون والناس.

قال: فجعل أهل حلب يطعنون على المولّي للوقف ويقولون: ضيع أموال الجامع. ويسعون فيه إلى صاحب حلب ويقولون: إنه أضاع مال الوقف وأنفق منه في عمارة مصنع جملةً وافرةً. فطالبه بحساب وقف الجامع فرفعه إليه فتأمل فلم يجد ذكر درهم واحداً مماّ غرم المصنع. فقال له صاحب حلب: الغرامة التي غرمتَ على هذا المصنع ما أرى لها ذكراً. فقال: والله ما غرمتُ من مال الجامع عليه شيئاً أصلاً وإنّما هذا ممّن قصد وجه الله تع بما فعل. وقصّ عليه القصَّة. وذكر غير والد الصاحب كمال الدين وغير عمّه أنّ صاحب الواقعة هو ابن الأيسر وأنّه كان يتولّى أوقاف المسجد الجامع يومئذ.

 

‌‌ذكر المنارة

أخبرني بهاء الدين أبو محمّد الحسن بن أبي الظاهر إبراهيم بن أبي البركات سعيد بن يحيى بن محمّد بن أحمد بن الحسن بن عيسى بن الخشّاب أنّ عنّ أبيه القاضي الإمام فخر الدين أبا الحسن محمّد بن يحيى أتمّ عمارة منارة المسجد الجامع بحلب في سنة اثنتين وثمانين وأربعمائة.

وحكى كمال الدين بن العديم في تأريخه قال: أنبأنا شيخنا العلاّمة أبو اليُمْن زيد بن الحسن الكنديّ عن أبي عبد الله محمّد بن عليّ العظيميّ قال في حوادث سنة اثنين وثمانين وأربعمائة: فيها أسّست منارة جامع حلب وعُمرت على يد القاضي أبي الحسن محمّد بن يحيى بن مجمّد بت الخشاب. وكان بحلب معبد للنار قديم العمارة وقد تحوّل إلى أن صار أتّون حمّام فاضطُرّ القاضي إلى أخذ حجارته لعمارة هذه المنارة. فوشى بعض حساد القاضي خبره إلى الأمير قسيم الدولة فاستحضره وقال: هدمت موضعاً وهولي وملكي. فقال: أيّها الأمير هذا معبد للنار وقد صار أتّوناً وقد أخذتُ حجارته عمّرتُ بها معاً للإسلام يذكَرُ الله عليها وحده لا شريك له وكتبتُ اسمك عليه وجعلتُ الثواب لك. فإن رسمتَ لي أن أغرم ثمنه لك " فعلتُ " ويكون الثواب لي. فأعجب الأمير كلامه واستصوب رأيه وقال: بل الثواب لي وافعل أنتَ ما تريد. وكتب ابن العديم في الحاشية أنّ الواشي أبو نصر بن النحّاس ناظر حلب.
৫৬৪ হিজরি সনের ২৭শে শাওয়াল বুধবার রাতে, আদিল বাদশাহ নূরুদ্দিন মাহমুদ ইবন যঙ্গীর শাসনামলে, ইসমাঈলিরা এটি পুড়িয়ে দেয় এবং বাজারগুলোও ভস্মীভূত হয়। তখন নূরুদ্দিন এটি পুনঃনির্মাণ করেন এবং এর নির্মাণে যথেষ্ট সচেষ্ট হন। তিনি এর জন্য বুআদিন থেকে হলুদ স্তম্ভ সংগ্রহ করেন এবং কিন্নাসরিন থেকে স্তম্ভ স্থানান্তরিত করেন, কারণ আগের স্তম্ভগুলো আগুনের তাপে ফেটে গিয়েছিল। মসজিদের কিবলা দিকের বর্তমান পূর্ব অংশের অর্ধেক, যা এখন আল-বারর বাজারের সংলগ্ন এবং কিবলা দরজা দিয়ে প্রবেশ করলে হাতের ডান দিকে পড়ে, তা আগে মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত একটি বাজার ছিল এবং মসজিদটি তখন বর্গাকার ছিল না। তাই নূরুদ্দিন মাহমুদ চাইলেন এটি মসজিদের অন্তর্ভুক্ত করতে। তিনি এ বিষয়ে ফকিহ আলাউদ্দীন আবুল ফাতহ আবদুর রহমান বিন মাহমুদ আল-গজনবীর কাছে ফতোয়া চাইলেন। তিনি একে জায়েজ বলে ফতোয়া দিলেন। ফলে নূরুদ্দিন বাজারটি ভেঙে মসজিদের সাথে যুক্ত করেন, এতে মসজিদ প্রশস্ত হলো এবং দেখতে সুন্দর হলো। আমি গজনবীর নিজ হাতের লেখা সেই ফতোয়া দেখেছি। তিনি এর জন্য অনেক সম্পত্তি ওয়াকফ করেছিলেন।

 

‌‌প্রাঙ্গণে অবস্থিত জলাধারের বিবরণ

কামালুদ্দিন ইবনুল আদিম তার ইতিহাসে বর্ণনা করেছেন যে, তার পিতা এবং চাচা আবু গানিম বলেছেন: হালাব (আলেপ্পো) শহরের পূর্বসূরি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের একজন—আমার বাবা বলেছেন তিনি আমাদের পূর্বপুরুষদের একজন আর চাচা বলেছেন তিনি আমাদের আত্মীয়দের একজন—হালাবের জামে মসজিদের ওয়াকফ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। এক রাতে এক অপরিচিত ব্যক্তি তার দরজায় কড়া নাড়ল এবং তাকে এক হাজার দিনার প্রদান করে বলল: এটি কোনো জনহিতকর ও সওয়াবের কাজে ব্যয় করুন। তিনি তা গ্রহণ করলেন এবং এটি কোন ভালো কাজে ব্যয় করা যায় তা নিয়ে চিন্তা করলেন। তখন তার মনে হলো যে, নালা থেকে পানি জমিয়ে রাখার জন্য একটি জলাধার নির্মাণে এটি ব্যয় করা যায়। কারণ হালাবের ঝরনার পানি লবণাক্ত এবং শত্রুরা প্রায়ই হালাব শহর আক্রমণ করত। যদি তারা হাইলান নালার পানি বন্ধ করে দিত, তবে শহরের মানুষ চরম সংকটে পড়ত। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন মসজিদের প্রাঙ্গণে মাটির নিচে একটি বড় জলাধার তৈরি করবেন এবং একে এতটা প্রশস্ত করবেন যাতে প্রচুর পানি ধরে। তিনি কাজ শুরু করলেন, বড় গর্ত খুঁড়লেন, পাথর ও চুন ক্রয় করলেন এবং জলাধারের খিলান তৈরি করলেন। কিন্তু তাকে দেওয়া স্বর্ণমুদ্রা ফুরিয়ে গেল অথচ জলাধারের কাজ শেষ হলো না। এতে তিনি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়লেন এবং জলাধারটি সম্পন্ন করার উপায় নিয়ে ভাবতে লাগলেন। তখন রাতে এক ব্যক্তি দরজায় কড়া নাড়ল। তিনি বাইরে গিয়ে দেখলেন সেই একই ব্যক্তি। সে তাকে আরও এক হাজার দিনার দিয়ে বলল: এটি দিয়ে আপনার কাজ সম্পন্ন করুন। তিনি তা গ্রহণ করলেন এবং জলাধারের কাজ শেষ করলেন। এটি অত্যন্ত প্রশস্ত এবং মজবুত হলো। বলা হয় যে, এটি নির্মাণের পর থেকে কখনও এর পানি শেষ হতে দেখা যায়নি। পানি সংগ্রহকারী ও সাধারণ মানুষ এখান থেকেই পানি ব্যবহার করত।

তিনি বলেন: তখন হালাবের লোকজন ওয়াকফ পরিচালকের সমালোচনা শুরু করল এবং বলতে লাগল: সে মসজিদের অর্থ নষ্ট করছে। তারা হালাবের শাসকের কাছে গিয়ে তার বিরুদ্ধে নালিশ করল এবং বলল: সে ওয়াকফের সম্পদ অপচয় করেছে এবং তা থেকে একটি জলাধার নির্মাণে বিশাল অংকের অর্থ ব্যয় করেছে। তখন শাসক তার কাছে মসজিদের ওয়াকফের হিসাব চাইলেন। তিনি তা পেশ করলেন। শাসক হিসাব পরীক্ষা করে জলাধার নির্মাণে ব্যয় হওয়া একটি দিরহামের উল্লেখও সেখানে পেলেন না। তখন হালাবের শাসক তাকে বললেন: এই জলাধারের পেছনে যে খরচ আপনি করেছেন, তার তো কোনো উল্লেখ এখানে দেখছি না। তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, আমি মসজিদের সম্পদ থেকে এর পেছনে কিছুই ব্যয় করিনি। বরং এটি এমন এক ব্যক্তির দান, যে তার এই কর্মের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি চেয়েছেন। এরপর তিনি তাকে পুরো ঘটনা শোনালেন। কামালুদ্দিনের পিতা ও চাচা ছাড়া অন্যরা উল্লেখ করেছেন যে, এই ঘটনার ব্যক্তিটি ছিলেন ইবনুল আইসার এবং তিনিই সে সময় জামে মসজিদের ওয়াকফ পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।

 

‌‌মিনারার বিবরণ

বাহাউদ্দীন আবু মুহাম্মদ হাসান বিন আবিজ জাহির ইব্রাহিম বিন আবিল বারাকাত সাঈদ বিন ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন হাসান বিন ঈসা বিন আল-খাশশাব আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, তার পিতা কাজি ইমাম ফখরুদ্দিন আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া ৪৮২ হিজরি সনে হালাব জামে মসজিদের মিনারার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন।

কামালুদ্দিন ইবনুল আদিম তার ইতিহাসে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের উস্তাদ আল্লামা আবুল ইয়ুমন যায়েদ বিন হাসান আল-কিন্দি আমাদের আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী আল-আজিমি থেকে জানিয়েছেন, তিনি ৪৮২ হিজরি সনের ঘটনাবলীতে বলেছেন: এই বছর হালাব জামে মসজিদের মিনারার ভিত্তি স্থাপিত হয় এবং কাজি আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন আল-খাশশাবের তত্ত্বাবধানে তা নির্মিত হয়। হালাবে একটি প্রাচীন অগ্নিকুণ্ড (অগ্নি উপাসনালয়) ছিল যা পরবর্তীতে গোসলখানার চুল্লিতে পরিণত হয়েছিল। কাজি বাধ্য হয়ে এই মিনারার নির্মাণের জন্য সেই উপাসনালয়ের পাথর গ্রহণ করেন। কাজির কিছু ঈর্ষাপরায়ণ ব্যক্তি আমির কাসিমুদ দাওলার কাছে এ বিষয়ে চোগলখুরি করল। আমির তাকে উপস্থিত করে বললেন: আপনি এমন একটি স্থান ধ্বংস করেছেন যা আমার এবং আমার মালিকানাধীন। তিনি বললেন: হে আমির, এটি ছিল একটি অগ্নিকুণ্ড যা এখন চুল্লিতে পরিণত হয়েছে। আমি এর পাথরগুলো নিয়ে ইসলামের একটি মিনার নির্মাণ করেছি যেখানে শুধু এক অদ্বিতীয় আল্লাহর নাম স্মরণ করা হবে এবং আমি সেখানে আপনার নাম লিখেছি এবং এর সওয়াব আপনার জন্য নির্ধারণ করেছি। আপনি যদি আমাকে এর মূল্য পরিশোধ করার নির্দেশ দেন তবে আমি তা করব এবং সওয়াব আমার হবে। আমিরের কাছে তার কথা চমৎকার লাগল এবং তিনি তার সিদ্ধান্তকে সঠিক মনে করলেন। তিনি বললেন: বরং সওয়াব আমারই হোক, আর আপনি যা করতে চান তা করুন। ইবনুল আদিম পার্শ্বটীকায় লিখেছেন যে, চোগলখোর ব্যক্তিটি ছিল হালাবের পরিদর্শক আবু নাসর বিন আল-নাহহাস।
(খণ্ড: ১) আল-আলাকুল খাতীরা ফী যিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাযীরা (পৃষ্ঠা: ১৫)
وقرأت في تاريخ منتجب الدين يحيى بن أبي طيّ النجّار الحلبي قال: أُسست المنارة في زمان سابق بن محمود بن صالح على يد القاضي أبي الحسن ابن الخشّاب وكان الّذي عمّرها رجل من سَرْمين. وبلغ بأساسها الماء وعقد حجارتها بالكلاليب الحديد والرصاص وأتمها في أيّام قسيم الدولة آق سُنْقُر. وطول هذه المنارة إلى الدرابزين بذراع اليد سبعة وتسعون ذراعاً وعدد مراقيها مائه وستون درجةً.

وأخبرني زيت الدين عبد الملك بن عبد الله بن عبد الرحيم بن العجميّ الحليّ أنّ والده حكى له أنّه لمّا جاءت الزلزلة بمدينة حلب وهدمت أكثر دورها وأهلكت جماعةً من أهلها وكانت ليلة الاثنين ثامن عشر شوال سنة خمس وستين وخمسمائة حركت المنارة فدفعت هلالاً كان على رأسها مقدار ستمائة قدم وتشقّقت.

وهذا القاضي أبو الحسن كان جده القاضي عيسى الناقل إلى حلب من حصن الأكراد في أيّام سيف الدولة عليّ بن حمدان ولم يزل لأسلافه مكان عند الملوك المشارة إليهم في الدول ولم يتعلّق أحد منهم بولاية لأحد من ملوك حلب وكانت نفوسهم تأبى ذلك لشرفها وعزّتها. وهو الذي أنشأ مسجد جرن الأصفر وحمل إليه الجرن من مكان بعيد وبنى التربة الملاصقة لدور أهل بيته وهي من البناء العجيب لأنّها من الدور الهرقليّة وذلك في سنة ثمان وخمسمائة. ووقف عليها حقل الحمّام البيلونة وهذا موقف يصرف فيما رُتّب لها ومهما بقي يُصرَف في الفقراء من بيت بني الخشّاب. وكانت الفرنج تكثر قصد حلب فكان إبن الخشّاب أبو الحسن هذا يواسي ضعفاء المحاصرين بها ويقوم بهم من ماله وقُتل قريباً من داره ليلاً سنة تسع عشرة وقام بالرئاسة بعده ولده أبو الحسن يحيى فسدّ مكانه وشيّد أركانه.

ومن أخبار لما توجه الأتابك عماد الدين زنكي لحصار قلعة شَهَرزُور ترك بحلب رئيسها صفي الدين عليّ البالسيّ وأمره أن يأخذ من أهلها ما لاً يصرفه في رجال تقاتل معه فاجتمعوا وقصدوا القاضي أبا الحسن وشكوا إليه ما نزل بهم واستغاثوا به فركب إلى الجامع في يوم الجمعة واحضر الرئيس وأنكر عليه فقال: أنا أعطي نصف ما ُطلب منهم وأَنت وسائر كبراء حلب النصف الباقي. فكتب صفيّ الدين إلى عماد الدين يُرفه بمنع القاضي له من استخلاص ما أمره به فأسرّها في نفسه ولم يُبْديها له فيما بعد. فلمّا قدم حلب ثّم أراد الخروج منها إلى الموصل أستصحب معه القاضي أبا الحسن بن الخشّاب ولما وصل إلى الموصل أنزله في دار أعدها له وأمر كبراء دولته بالتردّد إليه وزوّجه أحد سراريه فولدت له القاضي أبا الفضل المنعوت فخر الدين. فأقام بها إلى أن قُتل الأتابك على قلعة جعبر فعاد إلى حلب وبالغ الملك العادل في إكرامه لّما قدمها وترجّل للسلام عليه فترجل له الملك العادل نور الدين.

 

‌‌ذكر ما آل إليه أمر المسجد الجامع في عصرنا

ولمّا استولى التتر المخذولون على مدينة حلب يوم الأحد العاشر من صفر سنة ثمان وخمسين وستّمائة دخل إلى الجامع صاحب سيس وقتل به خلقاً كثيراً وأحرق الحائط القبليّ منه وأخذ الحريق غرباً وقبلةً إلى المدرسة الحلاّويّة واحترق سوق البزّازين. فعرّف عماد الدين القَزْونِيّ ما اعتمده السيسيّون من الإحراق للجامع وإعفائهم كنائس النصارى هُولاكُو فأمر برفع ذلك وإطفاء النار وقتل السيسييّن فقُتل منهم خلق ولم يُقدََر على إطفاء النار فأرسل الله تع مطراً عظيماٍ فأطفأه. ثمّ اعتنى نور الدين يوسف بن أبى بكر بن عبد الرحمان السلماسيّ الصوفيّ بتنظيف الجامع ودفن ما كان به من قتلى المسلين في جباب كانت للجامع للغلّة في شماليّه. ولمّا مات عزّ الدين أحمد أحد الكتبجية ومعناه الكاتب خرج عن ماله جميعه فقبضه أخوه وتصدّق ببعضه وعمّر حائط الّذي بُني وعقد الجملون على الحائط القبليّ والحائط الغربي من جهة الصحن وعمل له سقفاً متقناً.

 

‌‌ذكر ما مُدح به هذا المسجد

ولأبي بكر الصَنَوْبَريّ قصيدة مدح بها حلب وذكر فيها المسجد الجامع وهي:

حَلَبٌ بَدْرُ دُجَي أَنْ … جُمُها الزُهْرُ قُراها

حَبَذا جامِعُها الجا … مِعُ لِلنَفْسِ تُقاها

مَوْطَنٌ يُرْسي ذَوو البِ … رِّ بِمَرْساهُ حُباها

شَهَواتُ الطَرْفِ فِيهِ … فَوْقَ ما كانَ اشْتهاها

قِبْلَةٌ كَرَّمَها الل … هُ بِنُورٍ وَحَباها
আমি মুনতাজাব উদ্দীন ইয়াহইয়া ইবনে আবি তাইয়্য আন-নাজ্জার আল-হালাবির ইতিহাসে পড়েছি, তিনি বলেছেন: এই মিনারটি সাবিক বিন মাহমুদ বিন সালিহের যুগে কাজি আবুল হাসান ইবনুল খাশশাবের তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর নির্মাতা ছিলেন সারমিনের একজন ব্যক্তি। এর ভিত্তি পানি পর্যন্ত পৌঁছেছিল এবং এর পাথরগুলো লোহার আঁকটা ও সিসা দিয়ে মজবুতভাবে আটকানো হয়েছিল। কাসিমুদ্দৌলা আক সুনকুরের শাসনামলে এর নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। হাতের পরিমাপে এই মিনারের দৈর্ঘ্য রেলিং পর্যন্ত সাতানব্বই হাত এবং এর সিড়ির সংখ্যা একশ ষাটটি।

যাইত উদ্দীন আব্দুল মালিক বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহিম বিন আল-আজামি আল-হাল্লি আমাকে জানিয়েছেন যে, তাঁর পিতা তাঁকে বলেছিলেন: যখন হালাব শহরে ভূমিকম্প হয়েছিল এবং শহরের অধিকাংশ ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল ও অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল—সেই রাতটি ছিল সোমবার, ৫৬৫ হিজরির ১৮ই শাওয়াল—তখন মিনারটি এমনভাবে কেঁপে উঠেছিল যে, এর চূড়ায় থাকা চাঁদটিকে প্রায় ছয়শ ফুট দূরে নিক্ষেপ করেছিল এবং মিনারে ফাটল দেখা দিয়েছিল।

এই কাজি আবুল হাসান—তাঁর দাদা ছিলেন কাজি ঈসা, যিনি সাইফুদ্দৌলা আলী বিন হামদানের সময়ে হিসনুল আকরাদ থেকে হালাবে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন। তাঁদের পূর্বপুরুষগণ বিভিন্ন রাজবংশের রাজন্যবর্গের নিকট উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ছিলেন, কিন্তু তাঁদের কেউই কোনো শাসকের অধীনে কোনো পদ গ্রহণ করেননি; তাঁদের আভিজাত্য ও আত্মমর্যাদার কারণে তাঁরা তা অপছন্দ করতেন। তিনিই জারনুল আসফার মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন এবং অনেক দূর থেকে সেখানে পাথরের পাত্রটি (জারন) বহন করে এনেছিলেন। তিনি তাঁর পরিবারের সদস্যদের বাসভবন সংলগ্ন একটি সমাধিস্থল নির্মাণ করেন, যা এক বিস্ময়কর স্থাপত্য ছিল, কারণ এটি হেরাক্লীয় ঘরানার প্রাসাদের আদলে নির্মিত হয়েছিল; এটি ৫০৮ হিজরির ঘটনা। তিনি এর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য হাকলুল হাম্মাম আল-বায়লুনা ওয়াকফ করে দেন; এটি এমন এক ওয়াকফ যার আয় এর নির্ধারিত খাতে ব্যয় করা হয় এবং অবশিষ্ট অংশ বনি খাশশাব বংশের দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা হয়। ফ্রাঙ্করা (ক্রুসেডাররা) প্রায়ই হালাব আক্রমণ করত; তখন এই ইবনুল খাশশাব আবুল হাসান অবরোধের শিকার অসহায়দের সহায়তা করতেন এবং নিজের সম্পদ দিয়ে তাঁদের ভরণপোষণ করতেন। ৫১৯ হিজরির এক রাতে তাঁর নিজের বাড়ির কাছে তিনি আততায়ীর হাতে নিহত হন। তাঁর পরে তাঁর পুত্র আবুল হাসান ইয়াহইয়া নেতৃত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পিতার শূন্যস্থান পূরণ ও তাঁর ভিত্তিকে সুদৃঢ় করেন।

বর্ণিত আছে যে, যখন আতাবেক ইমাদুদ্দীন যাঙ্গি শাহরাযুর দুর্গ অবরোধের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন, তখন তিনি হালাবে তাঁর প্রতিনিধি সফিউদ্দীন আলী আল-বালিসিকে রেখে যান এবং নির্দেশ দেন যেন তিনি অধিবাসীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে তাঁর সাথে যুদ্ধরত সৈন্যদের পাথেয় হিসেবে ব্যয় করেন। তখন লোকজন সমবেত হয়ে কাজি আবুল হাসানের নিকট গিয়ে তাঁদের বিপদের কথা জানান এবং সাহায্য প্রার্থনা করেন। তিনি জুমার দিনে জামে মসজিদে গিয়ে প্রতিনিধিকে উপস্থিত করেন এবং এর প্রতিবাদ করেন। তিনি বললেন: "লোকদের কাছ থেকে যা চাওয়া হয়েছে, তার অর্ধেক আমি দেব আর বাকি অর্ধেক আপনি এবং হালাবের অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ দেবেন।" সফিউদ্দীন তখন ইমাদুদ্দীনের নিকট লিখে পাঠালেন যে, কাজি তাঁকে অর্পিত দায়িত্ব পালনে বাধা দিচ্ছেন। ইমাদুদ্দীন বিষয়টি মনে চেপে রাখলেন এবং তখন তা প্রকাশ করলেন না। অতঃপর যখন তিনি হালাবে আসলেন এবং সেখান থেকে মসুলের উদ্দেশ্যে রওনা হলেন, তখন কাজি আবুল হাসান ইবনুল খাশশাবকে সাথে নিয়ে গেলেন। মসুলে পৌঁছে তিনি তাঁকে একটি সুসজ্জিত বাড়িতে থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন এবং তাঁর রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিলেন যেন তাঁরা তাঁর নিকট যাতায়াত করেন। তিনি তাঁর এক দাসীর সাথে কাজির বিবাহ দিলেন, যাঁর গর্ভে কাজি আবুল ফজল জন্মগ্রহণ করেন, যিনি ফখরুদ্দীন উপাধিতে ভূষিত ছিলেন। তিনি সেখানে অবস্থান করতে থাকেন যতক্ষণ না আতাবেক জা'বার দুর্গের নিকট নিহত হন। এরপর তিনি হালাবে ফিরে আসেন এবং যখন সেখানে পৌঁছান, তখন আল-মালিকুল আদিল নূরুদ্দীন তাঁকে অত্যন্ত সম্মান প্রদর্শন করেন এবং তাঁর সাথে কুশল বিনিময়ের জন্য নিজের বাহন থেকে নেমে পড়েন। এমনকি আল-মালিকুল আদিল নূরুদ্দীন নিজেও কাজির সম্মানে পদব্রজে এগিয়ে যান।

 

‌‌আমাদের যুগে জামে মসজিদের অবস্থা যা দাঁড়িয়েছে তার বর্ণনা

যখন অভিশপ্ত তাতাররা হালাব শহর দখল করে নিল—সেটি ছিল ৬৬৮ হিজরির ১০ই সফর, রবিবার—তখন সিসের অধিপতি জামে মসজিদে প্রবেশ করে সেখানে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করে। সে মসজিদের কিবলার দিকের দেয়াল পুড়িয়ে দেয় এবং এই অগ্নিকাণ্ড পশ্চিমে ও দক্ষিণে আল-মাদরাসাতুল হাল্লাবিয়া এবং কাপড় ব্যবসায়ীদের বাজার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। তখন ইমাদুদ্দীন আল-কাজভিনি হালাকু খাঁ-কে অবহিত করলেন যে, সিস-বাসীরা জামে মসজিদ পুড়িয়ে দিলেও খ্রিস্টানদের গির্জাগুলো অক্ষত রেখেছে। তখন হালাকু এটি বন্ধের নির্দেশ দিলেন, আগুন নেভানোর হুকুম দিলেন এবং সিস-বাসীদের হত্যার আদেশ দিলেন। তাদের অনেককেই হত্যা করা হলো, কিন্তু মানুষের পক্ষে আগুন নেভানো সম্ভব হচ্ছিল না। অতঃপর আল্লাহ তাআলা এক প্রবল বৃষ্টি বর্ষণ করলেন এবং আগুন নিভে গেল। এরপর নূরুদ্দীন ইউসুফ বিন আবি বকর বিন আব্দুর রহমান আস-সালমাসি আস-সুফি জামে মসজিদ পরিষ্কারের উদ্যোগ নিলেন এবং সেখানে থাকা নিহত মুসলিমদের লাশগুলো মসজিদের উত্তর দিকে শস্য রাখার প্রাচীন গর্তগুলোতে দাফন করলেন। যখন কাতিবদের একজন ইজ্জুদ্দীন আহমদ—যার উপাধি ছিল কাতিব—মৃত্যুবরণ করেন, তখন তিনি তাঁর সমস্ত সম্পদ ত্যাগ করে যান। তাঁর ভাই সেই সম্পদ গ্রহণ করে এর কিছু অংশ সদকা করেন এবং মসজিদের যে দেয়ালটি ভেঙে গিয়েছিল তা পুনর্নির্মাণ করেন। তিনি কিবলার দিকের দেয়াল ও সাহনের দিকের পশ্চিম দেয়ালের ওপর গম্বুজাকৃতি ছাদ নির্মাণ করেন এবং একটি অত্যন্ত মজবুত ছাদ তৈরি করে দেন।

 

‌‌এই মসজিদের প্রশংসায় যা বলা হয়েছে তার বর্ণনা

আবু বকর আস-সানুবারির একটি কবিতা রয়েছে যাতে তিনি হালাবের প্রশংসা করেছেন এবং তাতে জামে মসজিদের কথা উল্লেখ করেছেন, যা হলো:

হালাব যেন নিশীথ আঁধারের এক পূর্ণিমা চাঁদ … যার উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজি হলো তার লোকালয়সমূহ।

কতই না চমৎকার এর সেই জামে মসজিদ … যা আত্মার সকল পরহেজগারি ও পবিত্রতাকে একত্র করে।

এমন এক পুণ্যভূমি যেখানে সৎকর্মশীলগণ … তাঁদের মস্তক ও অন্তরকে স্থিতি দান করেন।

দৃষ্টির সকল তৃপ্তি সেখানে বিদ্যমান … যা মানুষের সকল কামনারও ঊর্ধ্বে।

এক মহান কিবলা যাকে আল্লাহ … নূর দিয়ে সম্মানিত করেছেন এবং ভূষিত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আলাকুল খাতীরা ফী যিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাযীরা (পৃষ্ঠা: ১৬)
وَرآها ذَهَباً في … لازَوَرْدٍ مَنْ رآها

وَمَراقي مِنْبَرٍ أَعْ … ظَمُ شَيءٍ مَنْ رَقاها

وَسَوارٍ فاتَ إِذْ فا … تَ مَدَى الطَرْفِ مَداها

وَذُرَى مِئْذَنَةٍ طا … لَتْ ذُرَى النَجْمِ ذُراها

وَلِفَوّارَتِهِ ما … لا يَراهُ لِسِواها

قَصْعَةٌ ما عَدَتِ الكَعْ … بَ وَلا الكَعْبُ عَداها

أَبَداً تَسْتَقبِلُ السُحْ … بَ بِسُحْبٍ مِنْ حَشاها

فَهْيَ تَسْقِي الغَيْثَ إِنْ لَمْ … يَسْقِها وَإِنْ سَقاها

كَنَّفَتْها قُبَّةٌ يَضْ … حَكُ عَنْها كَنَفاها

قُبَّةٌ أَبْدَعُ باِني … ها بِناءً إِذْ بَناها

ضاهَتِ الوَشْيَ نُقُوشاً … فَحَكَتْهُ وَحَكاها

لَوْ رآها مُبْتَني قُبَّ … ةِ كِسْرَى ما ابتَناها

" و " َ هَذا الجامِعُ سِرّاً … يَتَباهى مَنْ تَباها

حَيّا السارِيَةَ الخَضْ … رآءَ مِنْهُ حَيّياها

قُبْلَةُ المُسْتَشْرِفِ الأَعْ … لَى إِذا قَابَلْتُماها

حَيْثُ يَأْتِي حَلْقَة الآ … دابِ مِناً مَنْ أَتاها

مِنْ رِجالاتِ حُبيً لَمْ … يَحْلُلِ الجَهْلُ حُباها

مَنْ رآهُمْ مِنْ سَفِيهٍ … باعَ بالجَهْلِ السَفاها

هذه السارية الخضراء كان يجتمع فيها المشتغلون بالأدب يقرءونه عندها وذهبت في الحريق وما زالت حلق الأدب لقراءة النحو واللغة معقودةً بجامع حلب وكذلك لقراءة القرآن العزيز وما فتئ على هذه الحالة وكان مسروق العابد يُقريء فيه الفقه على مذهب الإمام أبي حنيفة رضه وذلك قبل أن تُبنَى المدارس بحلب.

 

‌‌ذكر ما بظاهر حلب من الجوامع

الجامع الّذي بالحاضر السليمانيّ أنشأه أسد الدين شِيرْكُوه بن شادي بن مروان بن يعقوب صاحب حمصٍ ووسّع بناءه الأمير سيف الدين عليّ بن عَلَم الدين سليمان لن جَنْدر وبنى إلى جانبه مدرسةً وتربةً ودُفن بها تُقام به الخطبة.

وفي الرمادة جامع تُقام به الخطبة يُعرف بالبَخْتيّ.

وفي بانَقُوساً جامع تُقام فيه الخطبة يُعرَف بعيسى الكردي الهكَّاريّ كان شحنة الشرطة بحلب.

ذكر جامع القلعة كنيستان إحداهما كانت قبل أن تُبنى مذبحاً لإبراهيم الخليل صلع وكان به صخرة يجلس عليها لحلب المواشي. ثمّ بُنِي مسجداً جامعاً في أيّام بني مرداس وكان يُعرَف بمقام إبراهيم الأعلى وبه تُقام الخطبة وهو موضع مبارك يُزار. وذكر ابن بُطلان في بعض رسائله أنّه كان بقلعة حلب المذبح الّذي قرّب عليه إبراهيم الخليل صلع فغُيّر يعد ذلك مسجداً في أيّام بني مرداس.

وذكر ابن العظيميّ في تأريخه قال: في سنة خمس وثلاثين وأربعمائة ظهر ببعلبكّ في حجر منقور رأس يحيى بن زكريّاء عم فنُقِل إلى حمص ثمّ نُقل إلى مدينة حلب في هذه السنة ودُفن بهذا المقام المذكور في جرن من الرخام الأبيض ووُضع في خزانة إلى جانب المحراب وأُغلقت ووُضع عليها ستر يصونها.

وذكر كمال الدين بن العديم في تأريخه أنّ الملك العادل نور الدين بن عماد الدين زنكي جدّد عمارته. ووفي سنة تسع وستّمائة في أيّام الملك الظاهر غياث الدين غازي احترق بنار وقعت فيه وكان به من الخيم والسلاح وآلات الحرب ولم يحترق الجرن ودفع الله سبحانه عنه النار وهذا يدلّ على أنّ الرأس التي أُضيفت إلى يحيى به لأنّ النار لم تصل إليه وحُمي منها. وذكر كمال الدين أيضاً أنّ أبا الحسن عليّ بن أبي بكر الهرويّ أخبره قال: بقلعة حلب في مقام إبراهيم صلع صندوق فيه قطعة من رأس يحيى بن زكريّاء عم ظهر في سنة خمس وثلاثين وأربعمائة.

وأمّا الكنيسة الأخرى فهي المقام الأسفل الّذي كان لإبراهيم الخليل عم وبه صخرة لطيفة تُزار. ويقال إنّ إبراهيم الخليل عم كان يجلس عليها أيضاً. ولم يُحقَّق من أَنشأ هذا المقام من ملوك الملّة الإسلاميّة والّذي تحقّق أنّ الملك العادل نور الدين محمود بن زنكي جدّده أيضاً وزخرفه وكان كثير الصلاة والتعبّد فيه وبُني به صهريج مرصَّص يملأ في كل سنة ووقف عليه وقفاً بظاهر حلب حصّةً في أرحاء بالغربيّة.
যে ব্যক্তি এটি দেখেছে, সে একে নীলকান্তমণির মাঝে … স্বর্ণের মতো দেখেছে।

আর মিম্বারের সিঁড়িগুলো; যে ব্যক্তি তাতে আরোহণ … করেছে সে সবচেয়ে মহৎ কিছুতে আরোহণ করেছে।

আর তার স্তম্ভগুলো; যখন দৃষ্টির সীমা … অতিক্রম করে যায়, তখন তাদের ব্যাপ্তিও দৃষ্টিসীমা ছাড়িয়ে যায়।

আর মিনারের শিখরসমূহ; তাদের … উচ্চতা নক্ষত্ররাজির উচ্চতাকে ছাড়িয়ে গেছে।

আর এর ঝর্ণাধারার জন্য এমন কিছু রয়েছে … যা অন্য কোথাও দেখা যায় না।

এমন এক আধার যা কাবা (উচ্চতা) ছাড়িয়ে … যায়নি এবং কাবাও একে অতিক্রম করেনি।

এটি সর্বদা মেঘমালাকে এর … অভ্যন্তর হতে নির্গত জলকণা দ্বারা অভ্যর্থনা জানায়।

বৃষ্টি যদি একে সিক্ত না-ও করে, তবে এটিই বৃষ্টিকে … সিক্ত করে, আর যদি বৃষ্টি সিক্ত করে তবে তো কথাই নেই।

একে একটি গম্বুজ বেষ্টন করে রেখেছে, যার … দুই পার্শ্ব থেকে উজ্জ্বলতা প্রকাশ পায়।

এমন এক গম্বুজ, যার নির্মাতা যখন … এটি নির্মাণ করেছেন তখন অত্যন্ত চমৎকারভাবে নির্মাণ করেছেন।

কারুকার্যে এটি চিত্রিত বস্ত্রের সমকক্ষ হয়েছে; … ফলে এটি তাকে অনুকরণ করেছে এবং সে একে অনুকরণ করেছে।

কিসরার গম্বুজ নির্মাতা যদি এটি … দেখতেন, তবে তিনি সেটি নির্মাণ করতেন না।

আর এই জামে মসজিদটি এক গোপন রহস্য, … যারা গর্ব করে তারা একে নিয়েই গর্ব করে।

এর সবুজ স্তম্ভকে অভিবাদন … জানাও, যেভাবে মানুষ তাকে অভিবাদন জানায়।

যখন তোমরা এর সম্মুখীন হবে, … তখন এটি উচ্চাকাঙ্ক্ষীদের কিবলা স্বরূপ।

সেখানে শিষ্টাচার ও সাহিত্যের আসরে … আগন্তুক ব্যক্তি নিরাপত্তা লাভ করে।

এমন বিজ্ঞ ব্যক্তিদের মজলিস যেখানে … মূর্খতা কখনো স্থান পায়নি।

নির্বোধ ব্যক্তি যদি তাদের দেখে, … তবে সে তার নির্বুদ্ধিতাকে মূর্খতার বিনিময়ে বর্জন করে।

এই সবুজ স্তম্ভে সাহিত্যের চর্চাকারীরা সমবেত হতেন এবং সেখানে তারা তা পাঠ করতেন। অগ্নিকাণ্ডে এটি ধ্বংস হয়ে যায়। নাহু (ব্যাকরণ) এবং ভাষা শিক্ষার জন্য সাহিত্যের মজলিসগুলো সর্বদা হালাব জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হতো, তেমনিভাবে পবিত্র কুরআন পাঠের মজলিসও। এটি দীর্ঘকাল এই অবস্থায় ছিল। আবিদ মাসরুক সেখানে ইমাম আবু হানিফা (রা.)-এর মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শিক্ষা দিতেন, আর এটি ছিল হালাবে মাদ্রাসাগুলো নির্মিত হওয়ার পূর্বের কথা।

 

‌‌হালাবের বহির্ভাগে অবস্থিত জামে মসজিদসমূহের বর্ণনা

আল-হাদির আস-সুলাইমানিতে অবস্থিত জামে মসজিদটি হিমসের অধিপতি আসাদউদ্দীন শিরকুহ বিন শাদি বিন মারওয়ান বিন ইয়াকুব প্রতিষ্ঠা করেন। আমির সাইফুদ্দীন আলী বিন আলামুদ্দীন সুলাইমান বিন জান্দার এর নির্মাণ কাজ সম্প্রসারিত করেন এবং এর পাশে একটি মাদ্রাসা ও সমাধিস্থল নির্মাণ করেন। তাকে সেখানেই দাফন করা হয় এবং সেখানে জুমার খুতবা প্রদান করা হয়।

আর রামাদাহ অঞ্চলে একটি জামে মসজিদ রয়েছে যেখানে খুতবা প্রদান করা হয়, যা আল-বাখতি নামে পরিচিত।

আর বানাকুসা অঞ্চলে একটি জামে মসজিদ রয়েছে যেখানে খুতবা প্রদান করা হয়, যা ঈসা আল-কুর্দি আল-হাক্কারি নামে পরিচিত; তিনি হালাবের কোতোয়াল ছিলেন।

দুর্গের জামে মসজিদ সম্পর্কে আলোচনা: সেখানে দুটি গির্জা ছিল। তাদের একটি নির্মিত হওয়ার পূর্বে ইব্রাহিম খলিল (আ.)-এর কোরবানগাহ ছিল। সেখানে একটি পাথর ছিল যার ওপর বসে তিনি গবাদি পশুর দুধ দোহন করতেন। পরবর্তীতে বনু মিরদাসের শাসনামলে এটি জামে মসজিদ হিসেবে নির্মিত হয় এবং এটি 'মাকামে ইব্রাহিম আল-আলা' (ইব্রাহিমের উচ্চতর স্থান) নামে পরিচিত হয়। সেখানে খুতবা প্রদান করা হয় এবং এটি একটি বরকতময় স্থান যা যিয়ারত করা হয়। ইবনে বুতলান তার কিছু পত্রে উল্লেখ করেছেন যে, হালাব দুর্গে সেই যজ্ঞবেদিটি ছিল যেখানে ইব্রাহিম খলিল (আ.) কোরবানি করেছিলেন। পরবর্তীতে বনু মিরদাসের আমলে একে মসজিদে রূপান্তরিত করা হয়।

ইবনুল আজিমি তার ইতিহাসে উল্লেখ করেছেন: চারশ পঁয়ত্রিশ হিজরি সনে বালবেকের একটি খোদাই করা পাথরের ভেতর ইয়াহইয়া ইবনে জাকারিয়া (আ.)-এর মস্তক মোবারক প্রকাশিত হয়। অতঃপর তা হিমসে স্থানান্তরিত করা হয়। এরপর এই বছরই তা হালাব শহরে আনা হয় এবং উল্লিখিত স্থানে একটি সাদা মার্বেল পাথরের আধারে দাফন করা হয়। এটি মেহরাবের পাশে একটি সিন্দুকে রাখা হয় এবং তা বন্ধ করে দিয়ে একটি পর্দা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় যা একে রক্ষা করে।

আর কামালুদ্দীন ইবনুল আদীম তার ইতিহাসে উল্লেখ করেছেন যে, মালিকুল আদিল নুরুদ্দীন ইবনে ইমাদুদ্দীন যাঙ্গি এর সংস্কার কাজ সম্পন্ন করেন। ছয়শ নয় হিজরি সনে মালিকুজ জহির গিয়াসুদ্দীন গাজীর আমলে সেখানে আগুন লাগলে তা পুড়ে যায়। সেখানে তাবু, অস্ত্রশস্ত্র ও যুদ্ধের সরঞ্জাম ছিল। কিন্তু মার্বেল পাথরের আধারটি পুড়েনি এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তা থেকে আগুন দূর করে দেন। এটি প্রমাণ করে যে, এটি ইয়াহইয়া (আ.)-এরই মস্তক ছিল, কারণ আগুন সেখানে পৌঁছাতে পারেনি এবং তা থেকে সংরক্ষিত ছিল। কামালুদ্দীন আরও উল্লেখ করেছেন যে, আবুল হাসান আলী বিন আবি বকর আল-হারাউই তাকে জানিয়েছেন: হালাব দুর্গের মাকামে ইব্রাহিমে একটি সিন্দুক রয়েছে যাতে ইয়াহইয়া বিন জাকারিয়া (আ.)-এর মস্তকের একটি অংশ রয়েছে, যা চারশ পঁয়ত্রিশ হিজরি সনে প্রকাশিত হয়েছিল।

আর অন্য গির্জাটি হলো 'মাকামুল আসফাল' (নিম্নতর স্থান), যা ইব্রাহিম খলিল (আ.)-এর ছিল। সেখানে একটি সুন্দর পাথর রয়েছে যা যিয়ারত করা হয়। বলা হয় যে, ইব্রাহিম খলিল (আ.) এর ওপরও বসতেন। ইসলামী যুগের শাসকদের মধ্যে কে এই মাকামটি নির্মাণ করেছিলেন তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে যা নিশ্চিত তা হলো, মালিকুল আদিল নুরুদ্দীন মাহমুদ বিন যাঙ্গি এটিও সংস্কার ও সুশোভিত করেছিলেন। তিনি সেখানে প্রচুর নামাজ আদায় ও ইবাদত করতেন। সেখানে সীসা দিয়ে মোড়ানো একটি পানির ট্যাংক নির্মাণ করা হয়েছিল যা প্রতি বছর পূর্ণ করা হতো। তিনি এর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য হালাবের বহির্ভাগে অবস্থিত গারবিয়াহ অঞ্চলের যাতাকলগুলোর একটি অংশ ওয়াকফ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-আলাকুল খাতীরা ফী যিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাযীরা (পৃষ্ঠা: ১৭)
ولمّا تسلّم التتر قلعة حلب صلحاً على ما سيأتي ذكره في موضعه من هذا الكتاب فأخربوها أحرقوا الجامع المذكور مع أماكن أخر وذلك في تاسع ربيه الأوّل سنة ثمان وخمسين. ولمّا عادت التتر إلى حلب في المرّة الثانية وجدوا أهل حلب قد بنوا بالقلعة برجاً للحمام فأنكروا عليهم بناءه وأخربوا القلعة حتّى لم يُبقوا بها أثراً وأحرقوا المقامَيْن حريقاً لا يمكن جبره وذلك في أحد الربيعَيْن من سنة تسع وخمسين وستّمائة.

ولمّا أُحرق المقام الّذي هو الجامع عمد سيف الدين أبو بكر بن إيلبا الشحنة بالقلعة المذكورة على الذخائر وشرف الدين أبو حامد بن النجيب الدمشقيّ الأصل الحلبيّ المولد إلى رأس يحيى بن زكريّاء عم فنقلاه من القلعة إلى المسجد الجامع بحلب فدفناه غربيّ المنبر وعُمل له مقصورة وهو يُزار.

وكان بهذه القلعة جرس كالتنّور العظيم معلّق على برج من أبراجها الّتي من غربيّها كانت الحرّاس تحرّكه ثلاث دفعات في الليل دفعة في أوّله الانقطاع الرجل عن السعي وأخرى في وسطه للبديل وأخرى في آخره للإعلام بالفجر وعُلّق هذا الجرس على القلعة في سنة ستّ وتسعين وأربعمائة والسبب في تعلقه ما حكاه منتجب الدين يحيى بن أبي طيء النجّار الحلبيّ في تأريخه أنّ الفرنج لمّا ملكوا أنطاكية في سنة إحدى وتسعين وأربعمائة طمعوا في بلاد حلب فخرجوا إليها وعاثوا في بلادها وملكوا معرّة النعمان وقتلوا من فيها فخافهم الملك رضوان بن تاج الدولة تُتُش لعجزه عن دفعهم عن البلاد ومنعهم فاضطُرّ إلى مصالحتهم فاقترحوا عليه أشياء كثيرةً من جملتها أن يحمل إليهم في كلّ سنه قطيعةً من مال وخيل وأن يتعلّق بقلعة حلب هذا الجرس ويضع صليباً على منارة الجامع وقبّح عليه ذلك. فراجع الفرنج في أمر الصليب إلى أن أذنوا له في وضعه على الكنيسة العظمى التي بنتها هيلاني أمّ قسطنطين فلم يزل عليها إلى أن حاصرت الفرنج حلب ابن الخشّاب المذكور أربع كنائس وصيّرها مساجد من جملتها الكنيسة العظمى ورمى بالصليب.

وأمّا الجرس فإنّه لم يزل معلّقاً إلى أن ورد حلب الشيخ الصالح أبو عبد الله ابن حسّان المغربيّ فسمع حركة الجرس وهو مجتاز تحت القلعة فالتفت إلى من كان معه وقال: ما هذا الّذي قد سمعتُ من المنكر في بلدكم؟ هذا شعار الفرنج. فقيل له: هذه عادة البلدة من قديم الزمان. فازداد إنكاره وجعل أصبعَيْه في أذنَيْه وقعد إلى الأرض وقال: الله أكبر الله أكبر. وإذا بوجبة عظيمة قد وقعت في البلد فانجلت عن وقوع الجرس إلى الخندق وكسره وذلك في سنة سبع وثمانين وخمسمائة. فجُدّد بعد ذلك وعُلّق مرةً ثانيةً فانقطع لوقته وانكسر وبطل من ذلك اليوم.

قال كمال الدين أبو القاسم عمر المعروف بابن العديم في ترجمة هذا الرجل محمّد بن حسّان بن محمّد أبو عبد الله وأبو بكر المغربيّ الزاهد رجل فاضل مقرئ محدّث وليّ من أولياء الله تع: قدم حلب ونزل بدار الضيافة بالقرب من تحت القلعة وكان من الموسرين المتسوّلين ببلاد المغرب فترك ذلك جميعه وخرج على قدم التجريد وحجّ إلى بيت الله الحرام ثمّ قدم حلب ورحل منها إلى جبل لُبنان وساح فيه وقيل إنّه مات فيه ولم يُذكَر وقت وفاته رحمه الله.

 

‌‌الباب التاسع في

ذكر المزارات الّتي في باطن حلب وظاهرها

من ذلك مشهد بسوق الحدّادين يُعرَف بعليّ عم رُؤي في النوم يصلّي فيه مراراً ويديم التردّد إليه وهو موضع يستجاب فيه الدعاء.
আর যখন তাতাররা সন্ধির মাধ্যমে আলেপ্পোর দুর্গ গ্রহণ করল—যা এই কিতাবের নিজ স্থানে পরবর্তীতে আলোচিত হবে—তখন তারা তা ধ্বংস করল এবং উক্ত জামে মসজিদসহ অন্যান্য স্থান পুড়িয়ে দিল। এটি ছিল ৬৫৮ হিজরীর নয়ই রবিউল আউয়াল মাসে। তাতাররা যখন দ্বিতীয়বার আলেপ্পোতে ফিরে এল, তখন তারা দেখল আলেপ্পোবাসী দুর্গের ওপর একটি কবুতরের মিনার নির্মাণ করেছে। তাতাররা এই নির্মাণের প্রতিবাদ করল এবং দুর্গের কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট না রাখা পর্যন্ত তা ধ্বংস করে ফেলল। তারা মাকাম দুটি এমনভাবে পুড়িয়ে দিল যা সংস্কার করা সম্ভব ছিল না। এটি ছিল ৬৬৯ হিজরীর দুই রবিউলের কোনো এক মাসে।

যখন জামে মসজিদ হিসেবে ব্যবহৃত মাকামটি পুড়িয়ে দেওয়া হলো, তখন উক্ত দুর্গের ভাণ্ডারের দায়িত্বে নিয়োজিত সাইফুদ্দিন আবু বকর ইবনে আইলবা আশ-শুহনা এবং দামেশকী বংশোদ্ভূত ও আলেপ্পোতে জন্ম নেওয়া শরফউদ্দিন আবু হামিদ ইবনে আন-নাজিব ইয়াহইয়া ইবনে যাকারিয়া (আলাইহিস সালাম)-এর পবিত্র মস্তকের দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং তাঁরা তা দুর্গ থেকে আলেপ্পোর মাসজিদুল জামে-তে স্থানান্তরিত করলেন। তাঁরা তা মিম্বরের পশ্চিম দিকে দাফন করলেন এবং সেখানে তাঁর জন্য একটি কক্ষ নির্মাণ করা হলো। বর্তমানে তা জিয়ারত করা হয়।

এই দুর্গে বিশাল তন্দুর চুল্লির মতো একটি ঘণ্টা ছিল, যা দুর্গের পশ্চিম দিকের একটি বুরুজে ঝুলানো থাকত। প্রহরীরা রাতে তিনবার এটি বাজাতো: প্রথমবার রাতের শুরুতে মানুষের চলাফেরা বন্ধের জন্য, দ্বিতীয়বার মধ্যরাতে প্রহরীদের পালা বদলের জন্য এবং শেষবার ফজর সম্পর্কে জানানোর জন্য। এই ঘণ্টাটি দুর্গে ৪৯৬ হিজরীতে ঝুলানো হয়েছিল। এটি ঝুলানোর কারণ সম্পর্কে মুন্তাজিবুদ্দীন ইয়াহইয়া ইবনে আবি তায়্যি আন-নাজ্জার আল-হালাবী তাঁর ইতিহাসে উল্লেখ করেছেন যে, ৪৯১ হিজরীতে যখন ইউরোপীয়রা আন্তাকিয়া দখল করল, তখন তারা আলেপ্পোর ভূখণ্ডের প্রতি লোলুপ দৃষ্টি দিল। তারা সেখানে আক্রমণ করে ধ্বংসলীলা চালাল এবং মা'আররাতুন নু'মান দখল করে সেখানকার অধিবাসীদের হত্যা করল। তাজউদ্দৌলা তুতুশ-এর পুত্র রাজা রিদওয়ান তাদের প্রতিহত করতে অক্ষম হওয়ায় এবং তাদের রুখে দিতে না পেরে ভীত হয়ে তাদের সাথে সন্ধি করতে বাধ্য হন। তখন তারা তাঁর ওপর অনেক শর্ত আরোপ করল, যার মধ্যে ছিল প্রতি বছর তাদের অর্থ ও ঘোড়া প্রদান করা, আলেপ্পোর দুর্গে এই ঘণ্টাটি ঝুলানো এবং জামে মসজিদের মিনার চূড়ায় ক্রুশ স্থাপন করা। এটি তাঁর কাছে অত্যন্ত জঘন্য মনে হলো। তিনি ক্রুশের ব্যাপারে ইউরোপীয়দের সাথে পুনরায় আলোচনা করলেন এবং শেষ পর্যন্ত তারা কনস্টানটাইনের মা হেলেনা কর্তৃক নির্মিত প্রধান গির্জার ওপর সেটি স্থাপনের অনুমতি দিল। এটি সেখানে ততক্ষণ পর্যন্ত ছিল যতক্ষণ না ইবনুল খাশশাব আলেপ্পো অবরোধ করে চারটি গির্জাকে মসজিদে রূপান্তরিত করলেন—যার মধ্যে সেই প্রধান গির্জাটিও ছিল—এবং তিনি সেখান থেকে ক্রুশটি ফেলে দিলেন।

আর ঘণ্টাটির কথা হলো, সেটি ততক্ষণ পর্যন্ত ঝুলানো ছিল যতক্ষণ না পুণ্যবান শায়খ আবু আব্দুল্লাহ ইবনে হাসান আল-মাগরিবি আলেপ্পোতে পদার্পণ করলেন। তিনি দুর্গের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় ঘণ্টার শব্দ শুনতে পেলেন। তিনি তাঁর সঙ্গীদের দিকে তাকিয়ে বললেন: "তোমাদের শহরে এই জঘন্য বিষয়টি কী যা আমি শুনছি? এটি তো ইউরোপীয়দের নিদর্শন।" তাকে বলা হলো: "এটি এই শহরের প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা নিয়ম।" এতে তাঁর আপত্তি আরও বেড়ে গেল এবং তিনি নিজের দুই কানে আঙুল দিয়ে মাটিতে বসে পড়লেন এবং বললেন: "আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার।" অমনি শহরে একটি প্রচণ্ড আওয়াজ হলো এবং দেখা গেল ঘণ্টাটি পরিখায় পড়ে ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। এটি ছিল ৫৮৭ হিজরীর ঘটনা। এরপর পুনরায় একটি নতুন ঘণ্টা তৈরি করে ঝুলানো হলো, কিন্তু সাথে সাথেই সেটি ছিঁড়ে পড়ে ভেঙে গেল এবং সেদিন থেকেই এই প্রথার অবসান ঘটে।

ইবনুল আদিম নামে পরিচিত কামালুদ্দীন আবুল কাসিম উমর এই ব্যক্তির জীবনীতে বলেছেন—মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে মুহাম্মদ আবু আব্দুল্লাহ ও আবু বকর আল-মাগরিবি আল-যাহিদ একজন ফযীলতপূর্ণ ব্যক্তি, ক্বারী, মুহাদ্দিস এবং মহান আল্লাহর একজন ওলী ছিলেন। তিনি আলেপ্পোতে আগমন করেন এবং দুর্গের নিচে মেহমানখানায় অবস্থান করেন। তিনি মাগরিব অঞ্চলে একজন সচ্ছল ব্যক্তি ছিলেন, কিন্তু সবকিছু ত্যাগ করে রিক্ত হস্তে ভ্রমণে বের হন। তিনি আল্লাহর ঘরের হজ পালন করেন এবং তারপর আলেপ্পোতে আসেন। সেখান থেকে তিনি লেবানন পাহাড়ে চলে যান এবং সেখানে পরিভ্রমণ করেন। বলা হয় যে, তিনি সেখানেই ইন্তেকাল করেছেন, তবে তাঁর মৃত্যুর সময় উল্লেখ করা হয়নি। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

 

‌নবম অধ্যায়: আলেপ্পোর অভ্যন্তরে ও বাইরের যিয়ারতগাহসমূহের বিবরণ প্রসঙ্গে

তন্মধ্যে একটি হলো কর্মকারদের বাজারে অবস্থিত একটি মাশহাদ (স্মৃতিস্থল), যা আলী (আলাইহিস সালাম)-এর মাশহাদ নামে পরিচিত। স্বপ্নে তাঁকে বহুবার সেখানে নামায পড়তে দেখা গেছে এবং তিনি সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। এটি এমন একটি স্থান যেখানে দোয়া কবুল হয়।
(খণ্ড: ১) আল-আলাকুল খাতীরা ফী যিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাযীরা (পৃষ্ঠা: ১৮)
ومن ذلك أيضاً مسجد غَوْث. ذكر كمال الدين بن العديم في تأريخه قال: قال لي عليّ بن أبي بكر الهرويّ فيما ذكره من الزيارات بحلب: " وبها داخل باب العراق مسجد غَوْث به حجر عليه كتابة زعموا أنّها خطّ عليّ بن أبي طالب عم وله حكاية ". وهي أنّ أتابك زنكي لمّا أخذ الحديثة وعاد إلى الشام فأتفق أنّه مرّ في صفّين فاعترضته حمّى حادّة منعته القرار ثمّ زالت عنه في آخر الليل فنام فرأى في النوم كان عليّاً رضه يصف له دواء للحمّى ودلّه على حجر هناك فلمّا أصبح استعمل الصفة وسأل عن الحجر فدُلّ عليه وسأل عن قصّته. فذكروا أنّ عليّاً عم لمَّا نزل الرّقة شكا إليه أهلها ما يلقون من السباع وكثرتها فجاء إلى هذا الحجر وكتب عليه شيئاً ووضعه خارج الرقّة فأمر أتابك بحمل الحجر إلى مدينة حلب وكتب عليه شيئاً ووضعه خارج الرقّة فأمر أتابك بحمل الحجر إلى مدينة حلب فحُمِل على ناقة فلمّا وصلت به حلب أرادوا رفعه إلى القلعة فادخلوا الناقة من باب العراق وأخذوا بها في الطريق المعروف بالرمي فبركت قريباً من رأسه فأثاروها فلم تقم فضربوها فعويت وامتنعت من القيام فطرحوا عنها الحجر فأمر الأتابك بعمارة مسجد هناك ووضع الحجر فيه في بيت في غربيّه وذلك في سنة ستّ وثلاثين وخمسمائة.

ومنها مسجد النور وهو بالقرب من باب قنّسرين في برج من أسوار حلب. ذكروا إِنّما سُمّي بذلك لأنّه رُؤي النور ينزل عليه مراراً وكان ابن أبي نُمَيْر العابد يتعبّد فيه فاتّفق أنّ ملك الروم نزل على حلب محاصراً لها في سنة إحدى وعشرين وأربعمائة واسمه أرمانوس فجاء الحلبيّون إلى أبن أبي نمير ومعهم ابن الخشّاب وكان مقيماً في البرج المذكور وسألوه الدعاء. قال فسجد على ترس كان عنده وسأل الله تع دفع العدوّ عن حلب. فرأى ملك الروم أرمانوس المسيح عم مهدّداً وهو يقول له: " تحاول أخذ هذه المدينة وفيها الساجد على الترس " فأشار إلى البرج الّذي هو فيه فلّما أصبح ملك الروم طلب من يخرج إليه فخرج إليه جماعة فأمرهم بالركوب وأوقفهم على ما أحدث في السور من النقوب الّتي أشرف بها على أخذه ثمّ قال لهم: إنّي راحل عنكم لا عن عجز لأنّ المسيح أمرني بذلك لأجل هذا الراهب الّذي في هذا البرج. وأشار إلى المكان الّذي فيه ابن أبي نُمَير ورحل عنها عن صلح قترّر بينه وبين أهلها ووقفتُ على هذه الحكاية في كتاب تأريخ حلب الصغير لكمال الدين فذكر أنّ اسم ابن أبي نُمير عبد الرزّاق بن عبد السلام وذكر عنه أنّه كان من الأولياء الزهّاد والمحدّثين العلماء وتوفيّ بحلب سنة خمس وعشرين وأربعمائة وقبره خارج باب قنّسرين. وذكر له أيضاً حكايةً مثل هذه مع الفرنج أيضاً في وقعة اشتدّ بهم الحصار في حلب باتوا على السور وفيهم ابن أبي نُمَيْر يصلّي على السور وسجد في آخر الليل فنام وهو ساجد فرأى في منامه عليّاً عم راكباً ولباسه أخضر وبيده رمح وهو يقول: ارفع رأسك يا شيخ فقد قضيتُ حاجتك. فانتبه بقوله فحكى للناس ذلك فتباشروا به. وحُكي عن مرتضى الدولة أنّه قال: استدعاني أرمانوس في آخر تلك الليلة الّتي رأى ابن أبي نُمير الرؤيا فيها. فقال لي: لكم بحلب راهب. فعلمتُ أنّه يعني ابن أبي نمير. فقلتُ: نعم. فقال: صفه لي. فوصفتُه له. فقال لي: رأيتُ هذا الرجل بعينه في هذه الساعة وكأنّي قد أشرفتُ على سور هذه المدينة وهو قائم عليه يوميء إليّ بيده ويقول " " ارجع فما تصل إلى هذا البلد " ولا أرى أنّه يتمّ لي شيء. فلّما كانت صبيحة تلك الليلة وقعت بينه وبين المسلمين وقعة انهزم فيها وقُتل من كان معه من العساكر وكان جيشاً عظيماً فيه ملك البُلغار وملك الروس وملك لبخَزَر وملك بَجنَاك. قال كمال الدين: سمعتُ أنّ القاضي الأكرم أبا الحسن عليّ بن يوسف القِفْطيّ وزير حلب كان يقول: مشهد النور تعتقد فيه النُصَيْريّة اعتقاداً عظيماً ويحجّون إليه وينذرون له.
এর অন্তর্ভুক্ত গাওস মসজিদও। কামালুদ্দিন ইবনুল আদিম তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: আলী বিন আবি বকর আল-হারাউয়ি আলেপ্পোর জিয়ারতগাহসমূহ সম্পর্কে আমাকে যা বলেছেন তা হলো: "বাবুল ইরাকের অভ্যন্তরে গাওস মসজিদ অবস্থিত, সেখানে একটি পাথর আছে যাতে কিছু লেখা রয়েছে; তাদের দাবি এটি আলী বিন আবি তালিব (আলাইহিস সালাম)-এর হস্তলিপি এবং এর একটি কাহিনী রয়েছে।" কাহিনীটি হলো, আতাবেগ জেঙ্গি যখন আল-হাদিসা জয় করে সিরিয়ায় ফিরে যাচ্ছিলেন, তখন সিফফিনের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হন যা তাকে অস্থির করে তোলে। রাতের শেষভাগে জ্বর কমে গেলে তিনি ঘুমিয়ে পড়েন এবং স্বপ্নে দেখেন যে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে জ্বরের একটি ঔষধ বাতলে দিচ্ছেন এবং সেখানকার একটি পাথরের দিকে ইশারা করছেন। সকালে উঠে তিনি সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন এবং পাথরটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তাকে তা দেখানো হলো এবং তিনি এর ইতিহাস সম্পর্কে জানতে চাইলেন। তারা বর্ণনা করল যে, আলী (আলাইহিস সালাম) যখন রাক্কায় অবস্থান করছিলেন, তখন সেখানকার অধিবাসীরা হিংস্র পশুর আধিক্য ও উপদ্রব সম্পর্কে তাঁর কাছে অভিযোগ করল। তখন তিনি এই পাথরটির কাছে এসে এতে কিছু লিখলেন এবং তা রাক্কার বাইরে স্থাপন করলেন। অতঃপর আতাবেগ পাথরটি আলেপ্পো শহরে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। তা একটি উটের পিঠে বহন করা হলো। যখন তা আলেপ্পোয় পৌঁছাল, তারা পাথরটি দুর্গে তুলতে চাইল। তারা উটটিকে বাবুল ইরাক দিয়ে প্রবেশ করাল এবং 'রামী' নামক পরিচিত রাস্তা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় সেটি তার মাথার কাছে বসে পড়ল। তারা সেটিকে উঠানোর চেষ্টা করল কিন্তু সেটি উঠল না। তারা সেটিকে প্রহার করল, কিন্তু সেটি আর্তনাদ করল এবং উঠতে অস্বীকার করল। তখন তারা পাথরটি নামিয়ে ফেলল এবং আতাবেগ সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দিলেন এবং পাথরটি মসজিদের পশ্চিম দিকের একটি কক্ষে স্থাপন করলেন। এটি ছিল পাঁচশত ছত্রিশ হিজরি সালের ঘটনা।

অন্যটি হলো নূর মসজিদ, যা আলেপ্পোর প্রাচীরের একটি বুরুজে বাবুল কিননাসরিনের কাছে অবস্থিত। তারা বর্ণনা করেছেন যে, এর নাম নূর রাখার কারণ হলো সেখানে বারবার নূর নামতে দেখা যেত। ইবনে আবি নুমাইর নামক একজন আবিদ সেখানে ইবাদত করতেন। চারশত একুশ হিজরি সালে আরমানুস নামক রোম সম্রাট আলেপ্পো অবরোধ করতে আসেন। তখন আলেপ্পোবাসী ইবনে আবি নুমাইরের কাছে আসেন, তাদের সাথে ইবনুল খাশশাবও ছিলেন, যিনি উক্ত বুরুজেই অবস্থান করতেন। তারা তাঁর কাছে দুআ চাইলেন। তিনি বলেন, ইবনে আবি নুমাইর তাঁর কাছে থাকা একটি ঢালের ওপর সিজদা করলেন এবং আল্লাহর কাছে আলেপ্পো থেকে শত্রু বিতাড়নের প্রার্থনা করলেন। তখন রোম সম্রাট আরমানুস স্বপ্নে মসীহ (আলাইহিস সালাম)-কে দেখলেন যে তিনি তাকে ধমক দিয়ে বলছেন: "তুমি এই শহর দখলের চেষ্টা করছ অথচ এর মধ্যে ঢালের ওপর সিজদাকারী ব্যক্তিটি অবস্থান করছে।" তিনি সেই বুরুজের দিকে ইশারা করলেন যেখানে ইবনে আবি নুমাইর ছিলেন। সকাল হলে রোম সম্রাট তাঁর কাছে কাউকে পাঠানোর আবেদন করলেন। একদল লোক তাঁর কাছে গেলে তিনি তাদের আরোহণের আদেশ দিলেন এবং প্রাচীরে যে ছিদ্রগুলো তৈরি করা হয়েছিল তা দেখালেন যার মাধ্যমে তিনি শহরটি দখলের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিলেন। তারপর তিনি তাদের বললেন: "আমি অক্ষমতার কারণে নয় বরং চলে যাচ্ছি কারণ মসীহ এই বুরুজে অবস্থানকারী সন্ন্যাসীর খাতিরে আমাকে ফিরে যাওয়ার আদেশ দিয়েছেন।" তিনি ইবনে আবি নুমাইর যেখানে ছিলেন সেই স্থানের দিকে ইশারা করলেন এবং শহরবাসীর সাথে নির্ধারিত একটি সন্ধি করে সেখান থেকে চলে গেলেন। আমি এই কাহিনীটি কামালুদ্দিনের আলেপ্পোর ছোট ইতিহাস গ্রন্থে পেয়েছি। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে আবি নুমাইরের নাম হলো আবদুর রাজ্জাক বিন আব্দুস সালাম। তাঁর সম্পর্কে বলা হয়েছে যে তিনি অলি-বুজুর্গ, সংসারত্যাগী, মুহাদ্দিস ও আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি চারশত পঁচিশ হিজরি সালে আলেপ্পোতে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর কবর বাবুল কিননাসরিনের বাইরে অবস্থিত। তাঁর সম্পর্কে ফ্রঞ্জদের সাথেও অনুরূপ একটি কাহিনী বর্ণিত আছে। আলেপ্পোতে যখন অবরোধ কঠিন রূপ ধারণ করল, তখন তারা প্রাচীরের ওপর রাত কাটালেন। তাদের মাঝে ইবনে আবি নুমাইর প্রাচীরের ওপর নামাজ পড়ছিলেন। রাতের শেষভাগে তিনি সিজদারত অবস্থায় ঘুমিয়ে পড়লেন। স্বপ্নে দেখলেন আলী (আলাইহিস সালাম) সবুজ পোশাকে অশ্বারোহী অবস্থায় এবং হাতে একটি বল্লম নিয়ে বলছেন: "হে শায়খ! আপনার মাথা তুলুন, আমি আপনার প্রয়োজন পূরণ করেছি।" তাঁর কথা শুনে তিনি জেগে উঠলেন এবং লোকজনকে কাহিনীটি শোনালেন, যা শুনে তারা আনন্দিত হলো। মুরতাজা আদ-দাওলা থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন: যে রাতে ইবনে আবি নুমাইর স্বপ্নটি দেখেছিলেন, সেই রাতের শেষ প্রহরে আরমানুস আমাকে ডেকে পাঠালেন। তিনি আমাকে বললেন: "আলেপ্পোতে তোমাদের একজন সন্ন্যাসী আছেন।" আমি বুঝতে পারলাম তিনি ইবনে আবি নুমাইরকে বুঝাচ্ছেন। আমি বললাম: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "তাঁর বর্ণনা দাও।" আমি তাঁর বর্ণনা দিলাম। তখন তিনি আমাকে বললেন: "আমি ঠিক এই মুহূর্তে এই লোকটিকে স্বপ্নে দেখেছি, যেন আমি এই শহরের প্রাচীরের খুব কাছে পৌঁছে গিয়েছি এবং তিনি তাঁর হাত দিয়ে আমাকে ইশারা করছেন আর বলছেন: 'ফিরে যাও, তুমি এ শহরে পৌঁছাতে পারবে না'। আমার মনে হয় না যে আমার পক্ষে আর কিছু করা সম্ভব হবে।" সেই রাতের ভোরেই তাঁর ও মুসলমানদের মধ্যে এক যুদ্ধ সংঘটিত হয় যাতে তিনি পরাজিত হন এবং তাঁর সাথে থাকা বিশাল সৈন্যবাহিনী নিহত হয়। সেই বাহিনীটি ছিল বিশাল, যাতে বুলগেরিয়া, রাশিয়া, লেকজার এবং পেচেনেগদের রাজারাও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কামালুদ্দিন বলেন: আমি শুনেছি যে আলেপ্পোর উজির কাজি আল-আকরাম আবুল হাসান আলী বিন ইউসুফ আল-কিফতি বলতেন: নুসায়রিয়াহ সম্প্রদায় মাশহাদুন্ নূরের প্রতি গভীর বিশ্বাস পোষণ করে, তারা সেখানে জিয়ারতে যায় এবং মানত করে।
(খণ্ড: ১) আল-আলাকুল খাতীরা ফী যিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাযীরা (পৃষ্ঠা: ১৯)
ومسجد الغضائريّ ويُعرف الآن بمسجد شُعَيب وهو أوّل مسجد اختطّه المسلمون. نقلتُ من تأريخ محمّد بن عليّ العظيميّ قال: لمّا فتح المسلمون حلب دخلوها من باب إنطاكية ووقفوا داخل البلد ووضعوا تراسهم في مكان بُني به هذا المسجد وعُرف أوّلاً بأبي الحسن عليّ بن عبد الحميد الغضائريّ أحد الأولياء من أصحاب سَرِيّ السقطيّ رحمه الله وحجّ من حلب ماشياً أربعين حجةً ثمّ عُرف ثانياً بمسجد شُعَيب وهو شعيب بن أبي الحسن بن حسين بن أحمد الأندلسيّ الفقيه كان من الفقهاء والزهّاد. وكان نور الدين محمود بن زنكي يعتقد فيه ويتردّد إليه فوقف على هذا المسجد وقفاً ورتّب فيه شعيب المذكور مدرّساً على مذهب الإمام الشافعيّ رضه.

 

‌‌ذكر ما كانت الأمم السالفة تعظّمه من أماكن بمدينة حلب

يقال إنّه كان بحلب نيّف وسبعون هيكلاً للنصارى منها الهيكل المعظّم عندهم الّذي بنته هيلاني أمّ قسطنطينيّة وهي التي بنت كنائس الشام كلّها والبيت المقدّس وهذا الهيكل كان في الكنيسة معظّمةً عندهم ولم تزل على ذلك إلى أن حاصرت الفرنج حلب في سنة ثماني عشرة وخمسمائة وملكها يومئذ إيلغازي بن أُرْتُق صاحب ماردين فهرب منها وقام بأمر البلد ومن فيه القاضي أبو الحسن محمّد بن يحيى بن محمّد بن أحمد بن الخشّاب فعمد الفرنج إلى قبور المسلمين فنبشوها. فلمّا بلغ القاضي ذلك أخذ من كنائس النصارى التي كانت بحلب أربعاً وجعل فيها محاريب منها هذه الكنيسة التي قدّمنا ذكرها فجعلها مسجداً فاستمرّت على ذلك إلى أن ملك الملك العادل نور الدين حلب فجدّد فيها إيواناً وبيوتاً وجعلها مدرسةً لتدريس مذهب أبي حنيفة ووقف عليها وقفاً. وأمّا الباقيات فإحداها كانت في الحدّادين فلمّا ملك الملك الناصر صلاح الدين حلب جعلها حسام الدين لاجين ابن أخته مدرسةً للحنفيّة والثانية في درب الحطّابين جعلها عبد الملك المقدّم مدرسةً للحنفيّة والثالثة على ما يغلب عليه ظنّي هي المسجد الّذي هو قريب من حمّام موغان وكان بموضع الحمّام والدار بيت المذبح للكنيسة الّتي قلنا إنّها صارت المدرسة الحلاويّة وبينها وبينه ساباط معقود البناء تحت الأرض يخرج منها من الهيكل إلى المذبح وكان النصارى يعظّمون هذا المذبح ويقصدونه من سائر البلاد وكانت حمّام موغان حمّاماً للهيكل وكان حوله قريباً من مائتَيْ قلاّية تنظر إليه وكان في وسطه كرسيّ ارتفاعه أحد عشر ذراعاً من الرخام الملكيّ الأبيض.

وذكر ابن شرارة النصرانيّ في تأريخه أنّ عيسى عم جلس عليه وقيل جلس موضعه لمّا دخل إلى حلب. وذكروا أيضاً أنّ جماعة الحواريّين دخلوا هذا الهيكل وكان في ابتداء الزمان معبداً لعبّاد النار ثمّ صار إلى اليهود فكانوا يزورونه ثمّ صار إلى النصارى ثمّ صار إلى المسلمين. وذكروا أيضاً أنّه كان بهذا الهيكل قسّ يقال له بَرْسوما تعظّمه النصارى وتحمل إليه الصدقات من سائر الأقاليم يُذْكَر في سبب تعظيمهم له أنّه أصاب أهل حلب وباء في أيّام الروم فلم يسلم منهم غيره.

 

‌‌ذكر ما بظاهرها من المزارات

من ذلك مقام إبراهيم عم وهو خارج المدينة ممّا يلي القبلة وحوله الآن جبّانة وهو مشهد مقصود من كلّ الأقطار في محرابة حجر يقال أنّ إبراهيم عم كان يجلس عليه. وفي الرواق القبليّ. منه ممَّا يلي الصحن صخرة مرتفعة فيها نقرة قيل إنّه كان يحلب فيها غنمه.

ومنها مشهد الخضر عم وهو بناء قديم قيل أنّه قبل الملّة الإسلامية يُذكَر أنّ جماعة من صالحي حلب اجتمعوا به فيه وهذا الموضع مقصود.
গাযাইরি মসজিদ, যা বর্তমানে শুআইব মসজিদ নামে পরিচিত; এটিই প্রথম মসজিদ যা মুসলমানরা নির্মাণ করেছিলেন। আমি মুহাম্মদ বিন আলী আল-আজিমি-এর ইতিহাস গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করছি, তিনি বলেন: যখন মুসলমানরা আলেপ্পো বিজয় করেন, তখন তাঁরা আন্তাকিয়া ফটক দিয়ে শহরে প্রবেশ করেন এবং শহরের ভেতরে অবস্থান নেন। তাঁরা যে স্থানে তাঁদের ঢালগুলো রেখেছিলেন, সেখানেই এই মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল। এটি প্রথমে আবুল হাসান আলী বিন আব্দুল হামিদ আল-গাযাইরির নামে পরিচিত ছিল, যিনি সারিয় আস-সাকাতি (রহিমাহুল্লাহ)-এর সাথীদের অন্তর্ভুক্ত অন্যতম একজন ওলি ছিলেন। তিনি আলেপ্পো থেকে পায়ে হেঁটে চল্লিশবার হজ পালন করেছিলেন। পরবর্তীতে এটি শুআইব মসজিদ নামে পরিচিতি লাভ করে। তিনি হলেন শুআইব বিন আবুল হাসান বিন হুসাইন বিন আহমাদ আল-আন্দালুসি আল-ফকিহ, যিনি ফকিহ ও সংসারবিরাগীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। নুরউদ্দিন মাহমুদ বিন জাঙ্গি তাঁর প্রতি ভক্তি পোষণ করতেন এবং তাঁর নিকট যাতায়াত করতেন। তিনি এই মসজিদের অনুকূলে সম্পত্তি ওয়াকফ করেন এবং উল্লিখিত শুআইবকে ইমাম শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মাযহাব অনুযায়ী শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করেন।

 

‌‌আলেপ্পো শহরের সেইসব স্থানের বর্ণনা যা পূর্ববর্তী জাতিসমূহ সম্মান করত

বলা হয় যে, আলেপ্পোতে খ্রিস্টানদের সত্তরটিরও বেশি উপাসনালয় ছিল। সেগুলোর মধ্যে তাদের নিকট অত্যন্ত সম্মানিত ছিল সেই উপাসনালয়টি, যা কনস্টানটাইনের মা হেলেনা নির্মাণ করেছিলেন। তিনিই শাম অঞ্চলের সকল গির্জা এবং বাইতুল মুকাদ্দাস নির্মাণ করেছিলেন। এই উপাসনালয়টি তাদের একটি অতি সম্মানিত গির্জার মধ্যে অবস্থিত ছিল। ৫১৮ হিজরিতে ফ্রাঙ্করা আলেপ্পো অবরোধ করা পর্যন্ত এটি এভাবেই ছিল। সে সময় মারদিনের অধিপতি ইলগাজি বিন আর্তুক এর শাসক ছিলেন। তিনি সেখান থেকে পলায়ন করেন এবং শহরের ও এর অধিবাসীদের পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন কাজি আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন আহমাদ ইবনুল খাশশাব। ফ্রাঙ্করা মুসলমানদের কবরসমূহের দিকে অগ্রসর হয়ে সেগুলো খনন করে ফেলে। কাজি যখন এ সংবাদ পেলেন, তখন তিনি আলেপ্পোতে অবস্থিত খ্রিস্টানদের চারটি গির্জা গ্রহণ করে সেগুলোতে মেহরাব তৈরি করেন। এর মধ্যে পূর্বে উল্লিখিত সেই গির্জাটিও ছিল, যা তিনি মসজিদে রূপান্তরিত করেন। সুলতান আল-মালিকুল আদিল নুরউদ্দিন আলেপ্পো জয় করা পর্যন্ত এটি এভাবেই ছিল। তিনি এতে একটি বিশাল কক্ষ (আইওয়ান) ও অন্যান্য কক্ষ নতুন করে নির্মাণ করেন এবং ইমাম আবু হানিফার মাযহাব শিক্ষাদানের মাদরাসায় রূপান্তর করেন ও এর জন্য সম্পত্তি ওয়াকফ করেন। অবশিষ্ট গির্জাগুলোর মধ্যে একটি ছিল কামারপট্টিতে। যখন সুলতান আল-মালিকুন নাসির সালাউদ্দিন আলেপ্পো জয় করেন, তখন তাঁর ভাগ্নে হুসামুদ্দিন লাজিন এটিকে হানাফি মাযহাবের মাদরাসায় পরিণত করেন। দ্বিতীয়টি ছিল কাঠুরেদের গলিতে, যেটিকে আব্দুল মালিক আল-মুকাদ্দাম হানাফি মাদরাসায় রূপান্তর করেন। আর তৃতীয়টি, আমার প্রবল ধারণা মতে, মুগান স্নানাগারের নিকটবর্তী সেই মসজিদটি। সেই স্নানাগার ও বাড়ির স্থানেই সেই গির্জার বলিদানের ঘর ছিল, যেটি বর্তমানে মাদরাসা আল-হালাউইয়্যাহ হয়েছে বলে আমরা উল্লেখ করেছি। এই দুটির মাঝে মাটির নিচে একটি খিলানযুক্ত পথ ছিল, যার মাধ্যমে উপাসনালয় থেকে বলিদানের ঘরে যাওয়া যেত। খ্রিস্টানরা এই বলিদানের ঘরকে অত্যন্ত সম্মান করত এবং বিভিন্ন দেশ থেকে এখানে আসত। মুগান স্নানাগারটি ছিল উপাসনালয়ের স্নানাগার। এর আশেপাশে প্রায় দুইশত সন্ন্যাসী-কক্ষ ছিল যা সেদিকে মুখ করা ছিল। এর মাঝখানে সাদা রাজকীয় মার্বেল পাথরের তৈরি এগারো হাত উঁচু একটি আসন ছিল।

খ্রিস্টান ঐতিহাসিক ইবনে শারারা তাঁর ইতিহাসে উল্লেখ করেছেন যে, ঈসা (আলাইহিস সালাম) এতে বসেছিলেন। অন্যমতে, তিনি যখন আলেপ্পোতে প্রবেশ করেন তখন এই স্থানে বসেছিলেন। তাঁরা আরও উল্লেখ করেছেন যে, একদল হাওয়ারি এই উপাসনালয়ে প্রবেশ করেছিলেন। আদি যুগে এটি ছিল অগ্নিউপাসকদের উপাসনালয়, এরপর এটি ইহুদিদের হস্তগত হয় এবং তারা এখানে যিয়ারত করতে আসত। এরপর এটি খ্রিস্টানদের হাতে এবং অবশেষে মুসলমানদের অধীনে আসে। তাঁরা আরও উল্লেখ করেছেন যে, এই উপাসনালয়ে বারসুমা নামক একজন যাজক ছিলেন, যাকে খ্রিস্টানরা অত্যন্ত সম্মান করত এবং বিভিন্ন অঞ্চল থেকে তাঁর কাছে দান-সদকা নিয়ে আসত। তাঁকে সম্মান করার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় যে, রোমানদের আমলে আলেপ্পোবাসীদের মধ্যে একটি মহামারি ছড়িয়ে পড়েছিল, যাতে তিনি ছাড়া আর কেউ রক্ষা পায়নি।

 

‌‌শহরের বাইরের দর্শনীয় স্থানসমূহের বর্ণনা

এগুলোর মধ্যে একটি হলো মাকামে ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম), যা শহরের বাইরে কিবলার দিকে অবস্থিত এবং বর্তমানে এর চারপাশে একটি কবরস্থান রয়েছে। এটি সব প্রান্তের মানুষের গন্তব্যস্থল। এর মেহরাবে একটি পাথর রয়েছে, যার সম্পর্কে বলা হয় যে ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম) তার ওপর বসতেন। এর দক্ষিণ দিকের বারান্দায় আঙিনাসংলগ্ন একটি উঁচু পাথর রয়েছে যাতে একটি গর্ত আছে; বলা হয় যে, তিনি সেখানে তাঁর ছাগলের দুধ দোহন করতেন।

এগুলোর মধ্যে আরেকটি হলো খিজির (আলাইহিস সালাম)-এর স্মৃতিস্থল। এটি একটি প্রাচীন স্থাপনা যা ইসলামি যুগের আগের বলে মনে করা হয়। উল্লেখ করা হয় যে, আলেপ্পোর একদল নেককার লোক এখানে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন। এই স্থানটিও মানুষের একটি অন্যতম গন্তব্যস্থল।
(খণ্ড: ১) আল-আলাকুল খাতীরা ফী যিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাযীরা (পৃষ্ঠা: ২০)
ومنها في شرقيّ المدينة مشهد قَرَنْبِيا أنشأه عماد الدين آق سُنْقُر قسيم الدولة صاحب حلب وكان هذا الموضع قديماً يُعْرف بمقر الأنبياء فحرّفته العامة وسبب بناء قسيم الدولة لهذا المشهد أنّ شيخاً من أهل منبج رأى في حلب عدّة مرار كأنّ علي بن أبي طالب عم يصلّي فيه وأنّه قال: قل لآق سُنْقُر يبني على قَرَنْبيا مشهاً وقرنبيا اسم الربوة. فقال الشيخ لعليّ عم: ما علامة ذلك فقال: أن تكشف الأرض فإنها أرض معمولة بفصّ المرمر والرخام وفيها محراب مؤسّس وقبر على جانب المحراب في بعض ولدي. فلّما تكرّرت هذه الرؤيا على الشيخ شاور جماعةً من أصحابه فأشاروا عليه أن يتعرض له فخرج إليه في جماعة فلمّا رآهم أنفذ إليهم حاجبه وسألهم ما حاجتهم فأخبروه برؤيا الشيخ فأمر وزيره بكشف الموضع فكشفه ورأى الإمارات على ما حكاه من الرؤيا. فبناه ووقف عليه وقفاً وكان يتردّد إليه. هذا ما حكاه يحيى بت أبي ط] ّ. إنه رُؤي النبي صلى الله عليه وسلم يصلي فيه وجماعة من الأنبياء. مراراً فبناه قسيم الدولة.

ويقال إنّ بظاهر باب أربعين قبر بلال بن حمامة وهو لا يُعْرَف والمؤرّخون يقولون أنه مات بحلب.

ومنها في شماليّ البلد خارج باب النصر مشهد قديم يُعْرَف بمشهد الدعاء. وقد جُرّب لإجابة الدعاء..

ومنها بجانب باب الجنان ملاصق له مشهد قديم يُعْرَف بمشهد علي عم. ذكر يحيى بن أبي طيّ. أن في سنة اثنتين وعشرين وخمسمائة ظهر مشهد عليّ عم الّذي على باب الجنان. قال: وكان مكان يُباع فيه الخمر واتّفق أن بعض أهل حلب رأى في النوم وكان مريضاً بحُمّى في مدّة طويلة كأنّه في ذلك المكان وكأنّ رجلاً يقول له: أي شيء تشكو؟ فقال: الحمّى. فمدّ يده إلى تراب من ذلك المكان وقال: خذه وعلّقه عليك فإنك تبرأ وقل للناس يعمّرون هاهنا مشهداً فقال: يا مولاي لا يقبلون مني. فقال: يحفرون هاهنا فإنهم يجدون صخرةً جميع ما حولها من التراب يكون فيه رائحة المسك. فقال له من أنت؟ قال: أنا عليّ بن أبي طالب. فاستيقظ الرجل وقد زالت الحمّى عنه. فحدّث لأهله بذلك وأصبح وخرج إلى المكان ووقف يحثّث الناس وكان بحلب رجل يقال له شُقَيْر السواديّ يحمل السواد إلى البساتين وكان فيمن حضر فنبشوا المكان فكان التراب يخرج كأنه المسك فتطيّبت به الناس وتاب شُقَيْر عن أمور كان يعتمدها في الفساد وتوّلى عمارة المكان.

ومنها على باب أربعين مشهد الثلج يقال إنّ عمر بن الخطاّب رضه رُؤي يصلي فيه.

ومنها عند جسر الروّاس مشهد يونس عم يقال إنّ يونس كان نازلاً بمكانه.

ومنها مشهد الدكَة وهو في غربيّ حلب وسُمي بهذا الاسم لأنّ سيف الدولة كانت له دكّة على الجبل المطلّ على المشهد يجلس عليها للنظر إلى حلبة السبّاق فإنها كانت تجري بين يديه في ذلك الوطاء الّذي فيه المشهد.

قال يحيى بن أبي طيّ في تأريخه: وفي السنة - يعني سنة إحدى وخمسين وثلاثمائة - ظهر مشهد الدكة. وكان سبب ظهوره أن سيف الدولة عليّ ابن حمدان كان في أحد مناظره بداره الّتي ظاهر المدينة فرأى نوراً ينزل على المكان الّذي فيه المشهد عدّة مرّات. فلمّا أصبح ركب بنفسه إلى ذلك المكان وحفره فوجد حجراً عليه كتابة: " هذا " قبر " المحسن بن الحسين بن علي بن أبي طالب ". فجمع سيف الدولة العلويّين وسألهم هل كان للحسين ولد اسمه المحسّن. فقال بعضهم: ما بلغنا ذلك وإنما بلغنا أنّ فاطمة عم كانت حاملاً فقال لها النبيّ صلى الله عليه وسلم: في بطنك محسّن. فلمّا كان يوم البيعة هجموا عليها في بيتها لإخراج عليّ عم إلى البيعة فأخْدجت. وقال بعضهم: يُحتمل أنّ سبيّ نساء الحسين لمّا وردوا هذا المكان طرح بعض نسائه هذا الولد. فإنا نروي عن آبائنا أن هذا المكان سُمّي بجَوْشَن لأنّ شُمر ابن ذي الجَوْشَن نزل عليه بالسبي والرؤوس وأنّه معدناً يُعمَل فيه الصفر وأن أهل المعدن فرحوا بالسبي فدعت عليهم زينب بنت الحسين ففسد المعدن من يومئذ.

وقال بعضهم: إنّ هذه الكتابة ألّي على الحجر قديمة وأثر هذا المكان قديم وإن هذا الطِرْح الّذي زعموا لم يفسد وبقاؤه دليل على أنّه ابن الحسين. فشاع بين الناس هذه المفاوضة الّتي جرت وخرجوا إلى هذا المكان وأرادوا عمارته فقال سيف الدولة: هذا موضع قد أذن الله تع لي في عمارته على اسم أهل البيت.
এগুলোর মধ্যে শহরের পূর্ব দিকে অবস্থিত 'করনবিয়া' স্মৃতিসৌধ (মাশহাদ) অন্যতম। এটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন হালাব (আলেপ্পো)-এর অধিপতি কাসিমুদ দাওলা ইমaduদ্দিন আক সুনকুর। প্রাচীনকালে এই স্থানটি 'মাকাররুল আম্বিয়া' (নবীদের আবাসস্থল) নামে পরিচিত ছিল, পরবর্তীতে সাধারণ মানুষ একে বিকৃত করে ফেলে। কাসিমুদ দাওলা কর্তৃক এই স্মৃতিসৌধ নির্মাণের কারণ ছিল এই যে, মানবিজ শহরের জনৈক শায়খ হালাবে থাকাকালীন বেশ কয়েকবার স্বপ্নে দেখেন যে, আলী ইবনে আবি তালিব সেখানে নামাজ পড়ছেন এবং তিনি বলছেন: "আক সুনকুরকে বলো যেন সে করনবিয়াতে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে।" করনবিয়া হলো একটি টিলার নাম। শায়খ আলী আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞেস করলেন: "এর নিদর্শন কী?" তিনি বললেন: "তুমি মাটি খনন করো, সেখানে দেখবে মেঝে মার্বেল পাথর ও মোজাইক করা। সেখানে একটি ভিত্তি স্থাপন করা মেহরাব এবং মেহরাবের পাশে আমার এক সন্তানের কবর পাওয়া যাবে।" যখন এই স্বপ্ন বারবার দেখা দিতে লাগল, শায়খ তার একদল সঙ্গীর সাথে পরামর্শ করলেন। তারা তাকে বিষয়টি উত্থাপন করার পরামর্শ দিলেন। এরপর তিনি একদল লোক নিয়ে তার (আক সুনকুর) কাছে গেলেন। আক সুনকুর তাদের দেখে তার দ্বাররক্ষীকে পাঠালেন এবং তাদের প্রয়োজনের কথা জানতে চাইলেন। তারা তাকে শায়খের স্বপ্নের কথা জানালেন। তখন তিনি তার উজিরকে সেই স্থানটি খননের নির্দেশ দিলেন। খননের পর সেখানে স্বপ্নের বর্ণনা অনুযায়ী নিদর্শনগুলো পাওয়া গেল। এরপর তিনি সেখানে সৌধ নির্মাণ করেন এবং এর জন্য ওয়াকফ নির্ধারণ করেন এবং তিনি সেখানে যাতায়াত করতেন। ইয়াহইয়া বিন আবি তাইয়্যে বর্ণিত তথ্যমতে, সেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং একদল নবীকে বারবার নামাজ পড়তে দেখা গেছে। তাই কাসিমুদ দাওলা এটি নির্মাণ করেন।

বলা হয়ে থাকে যে, 'বাব আরবাঈন' বা চল্লিশের দরজার বাইরে বেলাল বিন হামামার কবর রয়েছে, তবে তা নিশ্চিতভাবে জানা নেই। ঐতিহাসিকদের মতে, তিনি হালাবে মৃত্যুবরণ করেছিলেন।

এগুলোর মধ্যে শহরের উত্তরে 'বাবুন নাসর'-এর বাইরে একটি প্রাচীন স্মৃতিসৌধ রয়েছে যা 'মাশহাদুদ্ দুআ' (দোয়ার স্থান) নামে পরিচিত। দোয়া কবুলের ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা পরীক্ষিত।

এগুলোর মধ্যে 'বাবুল জিনান'-এর পাশে তার সংলগ্ন একটি প্রাচীন স্মৃতিসৌধ রয়েছে যা 'মাশহাদে আলী' আলাইহিস সালাম নামে পরিচিত। ইয়াহইয়া বিন আবি তাইয়্যে উল্লেখ করেছেন যে, ৫২২ হিজরি সনে 'বাবুল জিনান'-এর এই মাশহাদে আলী আলাইহিস সালাম প্রকাশ পায়। তিনি বলেন: সেখানে এক সময় মদ কেনাবেচা হতো। ঘটনাক্রমে হালাবের এক লোক স্বপ্নে দেখে—সে দীর্ঘদিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত ছিল—সে যেন ঐ স্থানে রয়েছে এবং এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞেস করছেন: "তোমার সমস্যা কী?" সে উত্তর দিল: "জ্বর"। তখন তিনি ঐ স্থানের মাটি তার দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন: "এটি নাও এবং তোমার সাথে রাখো, তুমি সুস্থ হয়ে যাবে। আর মানুষকে বলো যেন তারা এখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে।" সে বলল: "হে আমার মনিব! তারা তো আমার কথা বিশ্বাস করবে না।" তিনি বললেন: "তারা এখানে খনন করবে, তখন তারা একটি পাথর পাবে যার চারপাশের মাটি থেকে কস্তুরীর ঘ্রাণ আসবে।" সে জিজ্ঞেস করল: "আপনি কে?" তিনি বললেন: "আমি আলী ইবনে আবি তালিব।" এরপর লোকটি জাগ্রত হলো এবং তার জ্বর সেরে গেল। সে তার পরিবারকে বিষয়টি জানাল এবং সকালে ঐ স্থানে গিয়ে মানুষকে উৎসাহিত করতে লাগল। হালাবে 'শুকাইর আস-সাওয়াদি' নামে এক ব্যক্তি ছিল যে বাগানগুলোতে সার বহন করত; সেও সেখানে উপস্থিত ছিল। তারা স্থানটি খনন করলে কস্তুরীর মতো সুগন্ধিযুক্ত মাটি বের হতে লাগল। মানুষ তা দিয়ে সুগন্ধি মাখতে লাগল এবং শুকাইর তার পাপাচার থেকে তওবা করে স্থানটি নির্মাণের দায়িত্ব গ্রহণ করল।

এগুলোর মধ্যে 'বাব আরবাঈন'-এ 'মাশহাদুত থালজ' (তুষারের স্মৃতিসৌধ) রয়েছে। বলা হয়ে থাকে যে, ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুকে সেখানে নামাজ পড়তে দেখা গেছে।

এগুলোর মধ্যে 'জিসরুর রাওয়াস'-এর কাছে 'মাশহাদে ইউনুস' আলাইহিস সালাম রয়েছে। বলা হয়ে থাকে যে, ইউনুস আলাইহিস সালাম এই স্থানে অবস্থান করেছিলেন।

এগুলোর মধ্যে একটি হলো 'মাশহাদুদ দাক্কা', যা হালাবের পশ্চিম দিকে অবস্থিত। এই নামকরণ করা হয়েছে কারণ স্মৃতিসৌধের ওপরের পাহাড়টিতে সাইফুদ্দাওলার একটি বসার স্থান (দাক্কা) ছিল, যেখানে বসে তিনি ঘোড়দৌড় দেখতেন। কারণ তার সামনে ঐ নিচু ভূমিতে ঘোড়দৌড় অনুষ্ঠিত হতো যেখানে এখন স্মৃতিসৌধটি অবস্থিত।

ইয়াহইয়া বিন আবি তাইয়্যে তার ইতিহাসে লিখেছেন: ৩৫১ হিজরি সনে 'মাশহাদুদ দাক্কা' প্রকাশ পায়। এর কারণ ছিল এই যে, সাইফুদ্দাওলা আলী ইবনে হামদান শহরের বাইরে তার প্রাসাদের একটি ঝরোকা থেকে কয়েকবার ঐ স্থানে নূর বা আলো নামতে দেখেন। সকাল হলে তিনি নিজেই সেখানে আরোহণ করে যান এবং খনন করার পর একটি পাথর পান যাতে লেখা ছিল: "এটি আলী ইবনে আবি তালিবের পুত্র হুসাইনের পুত্র আল-মুহাসসিনের কবর।" তখন সাইফুদ্দাওলা আলভী বংশধরদের একত্রিত করলেন এবং তাদের কাছে জানতে চাইলেন যে, হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর 'মুহাসসিন' নামে কোনো সন্তান ছিল কি না। তাদের কেউ কেউ বলল: "এ সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনো তথ্য পৌঁছায়নি, তবে আমরা এতটুকু জানি যে ফাতিমা আলাইহিস সালাম গর্ভবতী ছিলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছিলেন: 'তোমার গর্ভে মুহাসসিন রয়েছে'। এরপর যখন বায়আতের দিন আলী আলাইহিস সালামকে বায়আতের জন্য বের করে নিতে তারা তার ঘরে আক্রমণ করল, তখন তার গর্ভপাত হয়ে যায়।" আবার কেউ কেউ বলল: "সম্ভবত হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর পরিবারের বন্দি নারীদের যখন এই স্থানে আনা হয়, তখন তাদের মধ্যে কোনো নারীর গর্ভপাত ঘটেছিল। আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের নিকট থেকে বর্ণনা করি যে, এই স্থানটির নাম 'জাওশান' রাখা হয়েছে কারণ শিমর ইবনে জিল জাওশান বন্দি ও কর্তিত মাথাগুলো নিয়ে এখানে অবতরণ করেছিল। এটি তখন একটি তামা তৈরির খনি ছিল। খনি শ্রমিকরা বন্দিদের দেখে আনন্দ প্রকাশ করলে হুসাইনের কন্যা জয়নব তাদের অভিশাপ দেন, ফলে সেই দিন থেকে খনিটি নষ্ট হয়ে যায়।" কেউ কেউ বলল: "পাথরের এই খোদাইকৃত লিপিটি প্রাচীন এবং এই স্থানের চিহ্নও প্রাচীন। তারা যে গর্ভপাতের কথা বলছে তা পচে যায়নি, বরং এটি টিকে থাকা প্রমাণ করে যে তিনি হুসাইন রাদিয়াল্লাহু আনহুর পুত্র।" তাদের মধ্যে এই আলোচনা ছড়িয়ে পড়ল এবং মানুষ সেখানে গিয়ে তা নির্মাণের ইচ্ছা পোষণ করল। তখন সাইফুদ্দাওলা বললেন: "এটি এমন এক স্থান যেখানে আল্লাহ তাআলা আহলে বাইতের নামে নির্মাণের অনুমতি দান করেছেন।"
(খণ্ড: ১) আল-আলাকুল খাতীরা ফী যিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাযীরা (পৃষ্ঠা: ২১)
قال يحيى بن أبي طيّء: ولحقتُ باب هذا المشهد وهو باب صغير من حجر أسود عليه قنطره مكتوبُ عليها بخطّ أهل الكوفة كتابة عريضة: " عمّر هذا المشهد المبارك ابتغاء وجه الله تع وقربةً إليه على اسم مولانا المحسّن ابن الحسين بن علي بن أبي طالب عم الأمير الأجل سيف الدولة أبو الحسن عليّ بن عبد الله بن حمدان ".

وذكر التأريخ المتقدّم: ثمّ بعد ذلك في أيام بني مرداس بُني المصنع الشماليّ من المشهد ثمّ بُني في أيام قسيم الدولة آق سُنْقُر في سنة اثنين وثمانين وخمسمائة في ظاهر قبليّ المشهد مصنع للماء: وكُتب عليه اسمه وبُني الحائط القبليّ وكان قد وقع ووقف على المشهد رحى حندبات وفدّانين بالحاضر السليماني. وعُمل للضريح طوق وعرانيس من فضّة وجُعل عليها غشاء. ثمّ في أيام نور الدين محمود زنكي بُني في صحنه صهريج بأمره وميضأة فيها بيوت كثيرة ينتفع بها المقيمون به وهدم الرئيس صفيّ الدين طارق بن علي بن محمد البالسيّ رئيس حلب المعروف بابن الطُرَيرة بابه الّذي بناه سيف الدولة ورفعه وحسّنه. ولمّا مات الرئيس وليّ الدين أبو القاسم بن عليّ رئيس حلب وهو ابن أخي المقدّم ذكره دُفن إلى جانب المصنع ونُقض باب المصنع الّذي عليه قسيم الدولة وبُني وكُتب عليه اسمه وذلك في سنة ثلاث عشرة وستمائة.

ثمّ في أيام الملك الظاهر غياث الدين غازي بن صلاح الدين يوسف وقع الحائط القبليّ فأمر ببنائه. ثمّ في أيام الملك الناصر يوسف بن الملك العزيز محمد بن الملك الظاهر وقع الحائط الشماليّ فأمر ببنائه وعمل الروشن الدائر بقاعة الصحن. وأمّا ملك التتر مدينة حلب قصدوا هذا المشهد ونهبوا ما كان فيه من الأواني الفضّة والبسط وأخرجوا الضريح والجدار ونقضوا أبوابه. فلمّا ملك السلطان الظاهر حلب أمر بإصلاح المشهد ورّمه وعمل بابه وجعل فيه إمام وقيّم ومؤذن.

ومنها مشهد الحسين وهو سفح جبل جَوْشَن وكان السبب في إنشائه ما حكاه يحيى بن أبي طيء في تأريخه أنّ رجلاً راعياً يُسمى عبد الله يسكن في درب المغاربة وكان يخرج كل يوم لرعي الغنم فنام في يوم الخميس العشرين من ذي القعدة سنة وسبعين وخمسمائة بعد صلاة الظهر فرأى في نومه في المكان الّذي بُني فيه المشهد كأن رجلاً أخرج نصفه من شقيف الجبل المطلّ على المكان ومدّ يده إلى أسفل الوادي وأخذ عنزاً. فقال له: يا مولاي لأي شئ أخذت هذه العنزة وليست لك؟ فقال: قُل لأعل حلب يعمّرون في هذا المكان مشهداً ويسمّونه مشهد الحسين. فقال: لا يرجعون إلي قولي. فقال: قُل لهم يحفرون هناك. ورمى بالعنزة من يده إلى المكان الّذي أشار إليه. فلما استيقظ رأى العنز قد غاصت قوائمها في المكان. فجذب العنز فظهر الماء من مكان قوائمها. فدخل حلب ووقف على باب الجامع القبليّ وحدّث بما رأى فخرج جماعة من أهل البلد إلى المكان الّذي ذكره فرأوا العلامة على ما وصف الموضع الذي ظهرت فيه العين في غاية الصلابة بحيث أّنه لا تُعمل فيه المعاول وكان به معدن للنحاس قديماً فأنبطوا العين فثرّت وغزر ماؤها. ثم خطّوا في ذلك المكان المشهد المذكور وتولّى عمارته الحاجّ أبو نصر بن الطبّاخ وأخذ له الجمال يوسف بن الإكليليّ طالعاً يوم الشروع فيه فكان القمر في الأسد على تثليث المشتري وبلغني عنه أنّه قال: قد أخذتُ لهذا المشهد طالعاً لو أراد أهل حلب أن يبنوه ذهباً لما عجزوا. وكان ذلك في أيّام الملك الصالح بن الملك العادل نور الدين. فأمدّهم بإسراع وعجل وشرعوا في البناء فبنوا الحائط القبلي واطيّاً. فلمّا رأى جدّي الشيخ إبراهيم بن شدّاد بن خليفة بن شدّاد لم يرضه وزاد في بنائه من ماله. وتعاضد الناس في البناء فكان أهل الحرف يفرض كلّ واحد منهم على نفسه يوماً يعمل فيه وكذا فرض له أهل الأسواق في بياعاتهم دراهم تُصرَف في المؤن والكلف. وبنى الإيوان الذي في صدره الحاجّ أبو غانم بن شقويق من ماله. وهدم بعد ذلك بابه وكان قصراً الرئيس صفيّ الدين طارق بن عليّ البالسيّ رئيس حلب ورفع بناءه عمّا كان عليه أوّلاً وذلك في سنة خمس وثمانين وخمسمائة وفي هذه السنة انتهت عمارته.
ইয়াহইয়া ইবনে আবি তাই বলেন: "আমি এই মাশহাদের দরজার নিকট পৌঁছালাম। এটি কালো পাথরের তৈরি একটি ছোট দরজা, যার ওপর একটি খিলান রয়েছে। তাতে কুফাবাসীদের লিপিতে প্রশস্ত অক্ষরে লেখা আছে: 'এই বরকতময় মাশহাদটি আল্লাহর চেহারা কামনায় এবং তাঁর নৈকট্য অর্জনের উদ্দেশ্যে আমাদের মাওলা আল-মুহাসসিন ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী ইবনে আবি তালিবের নামে আবাদ করা হয়েছে, যিনি মহিমান্বিত আমির সাইফুদ দাওলা আবুল হাসান আলী ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হামদানের চাচা'।"

পূর্বোক্ত ইতিহাসে বর্ণিত হয়েছে: অতঃপর বনু মিরদাসের শাসনামলে মাশহাদের উত্তর দিকের আধারটি নির্মিত হয়। এরপর কাসিমুদ দাওলা আক সানকুরের আমলে পাঁচশ বিরাশি হিজরিতে মাশহাদের দক্ষিণ পার্শ্বের বহির্ভাগে একটি পানির আধার নির্মিত হয় এবং সেখানে তাঁর নাম খোদাই করা হয়। দক্ষিণ দিকের দেয়ালটিও তখন পুনর্নির্মিত হয়, যা ইতিপূর্বে ভেঙে পড়েছিল। মাশহাদের জন্য 'হানদাবাত' নামক যাঁতাকল এবং 'হাদির আস-সুলাইমানি'র দুটি আবাদি জমি ওয়াকফ করা হয়েছিল। রওজার জন্য রুপার বেষ্টনী ও কারুকাজ করা হয় এবং তার ওপর গিলাফ দেওয়া হয়। এরপর নুরুদ্দিন মাহমুদ জাঙ্কির আমলে তাঁর নির্দেশে প্রাঙ্গণে একটি পানির ট্যাংক ও অজুর জায়গা তৈরি করা হয়, যেখানে বসবাসকারীদের উপকারের জন্য অনেকগুলো কক্ষ ছিল। হালবের প্রধান সাফিউদ্দিন তারিক ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-বালসি—যিনি ইবনে তুবাইরা নামে পরিচিত—সাইফুদ দাওলার নির্মিত দরজাটি ভেঙে ফেলেন এবং সেটিকে আরও উঁচু ও সুন্দর করে গড়ে তোলেন। যখন হালবের প্রধান ওলীউদ্দিন আবুল কাসিম ইবনে আলী (যিনি পূর্বোক্ত ব্যক্তির ভ্রাতুষ্পুত্র) মারা যান, তখন তাঁকে আধারের পাশে দাফন করা হয়। কাসিমুদ দাওলার নামাঙ্কিত আধারের দরজাটি ভেঙে ফেলা হয় এবং সেখানে নতুন দরজা নির্মাণ করে তাঁর নাম লেখা হয়; এটি ঘটেছিল ছয়শ তেরো হিজরিতে।

এরপর আল-মালিকুল জাহির গিয়াসুদ্দিন গাজী ইবনে সালাহুদ্দিন ইউসুফের আমলে দক্ষিণ দেয়ালটি ধসে পড়লে তিনি তা পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দেন। অতঃপর আল-মালিকুন নাসির ইউসুফ ইবনুল মালিকুল আজিজ মুহাম্মদ ইবনুল মালিকুল জাহিরের আমলে উত্তর দেয়ালটি ধসে পড়লে তিনি তা নির্মাণের এবং প্রাঙ্গণের চত্বরের চারদিকে অলিন্দ তৈরির নির্দেশ দেন। তাতাররা যখন হালব শহর জয় করে, তখন তারা এই মাশহাদের ওপর চড়াও হয় এবং সেখানে থাকা রুপার পাত্র ও কার্পেটগুলো লুট করে। তারা রওজা ও দেয়াল উপড়ে ফেলে এবং এর দরজাগুলো ভেঙে ফেলে। সুলতান জাহির যখন হালব জয় করেন, তখন তিনি মাশহাদটি সংস্কার ও মেরামতের নির্দেশ দেন, এর দরজা নির্মাণ করেন এবং সেখানে একজন ইমাম, একজন খাদেম ও একজন মুয়াজ্জিন নিযুক্ত করেন।

এগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো হুসাইনের মাশহাদ, যা জাওশান পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। এর প্রতিষ্ঠার কারণ সম্পর্কে ইয়াহইয়া ইবনে আবি তাই তাঁর ইতিহাসে বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ নামক এক রাখাল 'দারবুল মাগারিবা'য় বাস করত। সে প্রতিদিন ছাগল চরাতে বের হতো। পাঁচশ সত্তর হিজরির বিশে জিলকদ, বৃহস্পতিবার জোহরের নামাজের পর সে ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুমের ঘোরে সে মাশহাদ নির্মাণের স্থানে দেখতে পায় যে, যেন এক ব্যক্তি সেই স্থানের ওপর অবস্থিত পাহাড়ের চূড়া থেকে শরীরের অর্ধেক বের করেছেন এবং উপত্যকার নিচে হাত প্রসারিত করে একটি ছাগল ধরলেন। সে তাকে বলল: "হে আমার প্রভু! আপনি কেন এই ছাগলটি নিলেন অথচ এটি আপনার নয়?" তিনি বললেন: "হালবের অধিবাসীদের বলো যেন তারা এই স্থানে একটি মাশহাদ নির্মাণ করে এবং এর নাম দেয় মাশহাদে হুসাইন।" সে বলল: "তারা আমার কথা বিশ্বাস করবে না।" তিনি বললেন: "তাদের বলো যেন তারা সেখানে খনন করে।" অতঃপর তিনি তাঁর হাত থেকে ছাগলটি সেই নির্দিষ্ট স্থানে ছুড়ে দিলেন। যখন রাখালটি জেগে উঠল, সে দেখল যে ছাগলটির পাগুলো সেই স্থানে দেবে গেছে। সে যখন ছাগলটিকে টেনে তুলল, তখন পায়ের সেই স্থান থেকে পানি বের হতে লাগল। এরপর সে হালবে প্রবেশ করে জামে মসজিদের দক্ষিণ দরজায় দাঁড়িয়ে যা দেখেছে তা বর্ণনা করল। শহরের একদল লোক তার বর্ণিত স্থানে গিয়ে দেখল যে, রাখাল যেমন বর্ণনা করেছিল ঠিক তেমনই চিহ্ন রয়েছে। যেখানে ঝরনাটি দেখা দিয়েছিল সেই জায়গাটি অত্যন্ত শক্ত ছিল, এমনকি সেখানে কোদালও কাজ করছিল না; প্রাচীনকালে সেখানে তামার খনি ছিল। তারা সেই ঝরনাটি খনন করল এবং প্রচুর পানি বের হতে লাগল। অতঃপর তারা সেই স্থানে উক্ত মাশহাদের নকশা করল। এর নির্মাণ কাজের তত্ত্বাবধান করেন হাজি আবু নাসর ইবনুত তব্বাখ। জামাল ইউসুফ ইবনুল ইকলিলি কাজ শুরুর দিনটির লগ্ন নির্ধারণ করেছিলেন; তখন চাঁদ ছিল সিংহ রাশিতে এবং বৃহস্পতির সাথে ত্রিকোণ অবস্থানে ছিল। আমার কাছে খবর পৌঁছেছে যে তিনি বলেছিলেন: "আমি এই মাশহাদের জন্য এমন লগ্ন গ্রহণ করেছি যে, হালববাসী যদি এটি সোনা দিয়েও নির্মাণ করতে চায়, তবে তারা অক্ষম হবে না।" এটি ছিল আল-মালিকুস সালিহ ইবনুল মালিকুল আদিল নুরুদ্দিনের সময়কাল। তিনি দ্রুত সাহায্য পাঠান এবং তারা নির্মাণ কাজ শুরু করেন। প্রথমে তারা দক্ষিণ দিকের দেয়ালটি নিচু করে নির্মাণ করেন। যখন আমার দাদা শেখ ইব্রাহিম ইবনে শাদ্দাদ ইবনে খলিফা ইবনে শাদ্দাদ এটি দেখলেন, তিনি সন্তুষ্ট হতে পারলেন না এবং নিজের সম্পদ ব্যয় করে এর উচ্চতা বৃদ্ধি করলেন। সাধারণ মানুষও নির্মাণ কাজে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সহযোগিতা করল। কারিগরদের প্রত্যেকে নিজের জন্য একদিন করে কাজ করা নির্ধারণ করে নিয়েছিল এবং বাজারের ব্যবসায়ীরাও তাদের বিক্রিত মাল থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ দিরহাম বরাদ্দ করেছিল, যা নির্মাণ ব্যয়ে ব্যয় হতো। এর সামনের দিকের বারান্দা হাজি আবু গানিম ইবনে শাকউইক নিজ অর্থে নির্মাণ করেন। এরপর হালবের প্রধান সাফিউদ্দিন তারিক ইবনে আলী আল-বালসি এর দরজাটি ভেঙে ফেলেন—যা আগে ছোট ছিল—এবং একে পূর্বের তুলনায় অনেক উঁচু করে নির্মাণ করেন। এটি ছিল পাঁচশ পঁচাশি হিজরি সনের ঘটনা এবং এই বছরেই এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।
(খণ্ড: ১) আল-আলাকুল খাতীরা ফী যিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাযীরা (পৃষ্ঠা: ২২)
ولمّا ملك صلاح الدين يوسف حلب زاره في بعض الأيّام وأطلق له عشرة آلاف درهم. ولمّا ملك ولده الملك الظاهر حلب اهتمّ به ووقف عليه رحىً تُعرف بالكماليّة وكان مبلغ خراجها ستّة آلاف درهم في كل سنة وأرصدها في شراء كعك وحلو في ليالي الجمع لمن يكون به. وفوّض النظر في ذلك لنقيب الأشراف يومئذ السيّد الشريف الإمام العالم شمس الدين أبي عليّ الحسين بن زُهرة الحسينيّ والقاضي بهاء الدين أبي محمّد الحسن بن إبراهيم بن الخشّاب الحلبيّ.

ولمّا ملك ولده الملك العزيز حلب استخرج منه بهاء الدين المذكور إذناً في إنشاء حرم إلى جانبه فيه بيوت يأوي إليها من انقطع إلى هذا المشهد فأذن له فشرع في بنائه واستولت التتر على حلب قبل أن يتمّ. ولمّا استولوا دخلوا إلى هذا المشهد وأخذوا ما كان الناس قد وقفوا عليه من الستور والبسط والفرش والأواني النحاس والقناديل الذهب والفضّة والشمع وكان شيئاً لا يحصره عدّ ولا يحويه حدّ وشعّثوا بناءه ونقضوا أبوابه. فلمّا ملك السلطان الملك الظاهر حلب جدّده ورمّه وأصلحه وعمل أبوابه ورتّب فيه إماماً ومؤذّناً وقيّماً.

ومنها مشهد يُعرف بمشهد الأنصاريّ وهو قلبيّ جبل جّوشَن في طرف الياروقيّة. قال الشيخ أبو الحسن عليّ بن " أبي بكر " الهرويّ: في هذا المشهد قبر عبد الله الأنصاريّ كما ذكروا. وذكر كمال الدين في تأريخه قال: أخبرني والدي رحمه الله قال: رأت امرأة من نساء أمراء الياروقيّة في المنام قائلاً يقول: " ها هنا قبر الأنصاريّ صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم ". فنبشوا فوجدوا قبراً فبنوا عليه هذا المشهد وجعلوا عليه ضريحاً. ودثر المشهد المذكور فجدّدته أزانيلوفَر عتيقة الأمير سيف الدين عليّ بن عَلَم الدين سليمان بن جَنْدَر. ولمّا توفيّ معتقها الأمير سيف الدين المذكور في سنة اثنتين وعشرين انقطعت إليه وقامت بأود من يرد عليه من الزوّار في كلّ وقت تُطعمه الحلو وتسقيه الجلاّب إلى أن تُوفّيت وبقي به من إمائها وحفدتها من يقوم به إلى أن استولى التتر فتشعّث بناؤه بعيثهم.

ومنها المشهد الأحمر وهو في رأس جبل جَوشَن يقصده أهل حلب في مهمّاتهم ويدعون فيه لكشف ما نزل بهم فيُستجاب لهم ورأى بعض الصالحين في النوم فاطمة بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم تصلّي في البيت الذي في الجدار القبليّ منه. وهذا البيت الذي يُزار ويٌصد، بنى المشهد بعض أهل زماني قبّةً جليلةً عالية البناء وبنى فيه صهريجاً.

ومنها مشهد يُعرف بعليّ عم وهو بشاطئ نهر قويق الغربيّ ويقال إنّ بانيه من أولاد العُلَّيْقيّ بمنام رآه وكان موضعه حانةً. فلمّا بُني باعد الله بين بقعته وبينها وطهّرها.

 

‌‌ذكر ما في قرى حلب وأعمالها من المزارات

من ذلك: مشهد يقال له مقام إبراهيم الخليل عم بقرية نوايل من شرقيّ حلب على جبل يُزار مشهور البركة.

وبقرية بُراق من أعمال حلب معبد يقصده الزَمْني والمرضى من الأماكن فيبيتون به فإما يبصر المريض من يقول له: دواؤك في الشيء الفلانيّ أو يبصر من يمسح بيده عليه فيقوم وقد بريء بإذن الله تع.

ومن شماليّ حلب عمود ينذره المسلمون واليهود والنصارى يقال إنّ تحته قبر نبيّ.

ومنها مشهد الرجم وهو بأرض آرَلْ جوار عنادان على رأس جبل مشرف على بلد الأرتيق يُزار ويتبرّك به وفيه سرادب قيل إنّ فيه نبيّاً مدفوناً وإنّ قومه رجموه بهذا المكان.
সালাহুদ্দিন ইউসুফ যখন হালাব জয় করলেন, তখন তিনি কোনো এক দিন এটি জিয়ারত করলেন এবং এর জন্য দশ হাজার দিরহাম অনুদান দিলেন। এরপর যখন তাঁর পুত্র আল-মালিকুজ জাহির হালাবের অধিপতি হলেন, তিনি এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিলেন এবং এর জন্য ‘আল-কামালিয়্যাহ’ নামে পরিচিত একটি যাঁতাকল ওয়াকফ করলেন, যার বার্ষিক খাজনার পরিমাণ ছিল ছয় হাজার দিরহাম। তিনি এই অর্থ সেখানে অবস্থানকারীদের জন্য জুমার রাতে রুটি ও মিষ্টি ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ করেন। তিনি এর তদারকির দায়িত্ব অর্পণ করেন তৎকালীন নকীবুল আশরাফ সাইয়্যেদ শরীফ ইমাম আলিম শামসুদ্দিন আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে জুহরা আল-হুসাইনী এবং কাজী বাহাউদ্দিন আবু মুহাম্মদ আল-হাসান ইবনে ইবরাহিম ইবনুল খাশশাব আল-হালাবীর ওপর।

যখন তাঁর পুত্র আল-মালিকুল আজিজ হালাবের মালিক হলেন, তখন উল্লিখিত বাহাউদ্দিন তাঁর কাছ থেকে এর পাশে একটি হারাম (পবিত্র স্থান) নির্মাণের অনুমতি লাভ করেন, যেখানে সেই সব লোক আশ্রয় নিতে পারবে যারা এই মাশহাদের নির্জনে ইবাদতে মগ্ন হয়। তিনি তাকে অনুমতি দিলে তিনি এর নির্মাণ কাজ শুরু করেন, কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার আগেই তাতাররা হালাব দখল করে নেয়। তারা যখন দখল করল, তখন এই মাশহাদে প্রবেশ করল এবং মানুষ সেখানে যেসব পর্দা, গালিচা, বিছানা, তামার বাসনপত্র এবং সোনা-রুপার প্রদীপ ও মোমবাতি ওয়াকফ করেছিল, যা গণনায় আনা অসম্ভব এবং যার কোনো সীমা ছিল না, তা সব লুট করে নিয়ে গেল। তারা এর ভবনটি ক্ষতিগ্রস্ত করল এবং এর দরজাগুলো ভেঙে ফেলল। এরপর যখন সুলতান আল-মালিকুজ জাহির হালাব জয় করলেন, তিনি এটি সংস্কার ও পুনর্নির্মাণ করলেন এবং এর দরজাগুলো তৈরি করে দিলেন। সেখানে একজন ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেম নিয়োগ দিলেন।

সেগুলোর মধ্যে একটি হলো ‘মাশহাদ আল-আনসারি’ নামে পরিচিত মাশহাদ, যা ইয়ারুকিয়া প্রান্তের জাওশান পাহাড়ের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। শেখ আবু হাসান আলী ইবনে আবু বকর আল-হারাউই বলেছেন: তারা যেমন বর্ণনা করেছেন, এই মাশহাদে আবদুল্লাহ আনসারির কবর রয়েছে। কামালুদ্দিন তাঁর ইতিহাসে উল্লেখ করেছেন যে, আমার পিতা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আমাকে বলেছেন: ইয়ারুকিয়া গোত্রের আমিরদের এক নারী স্বপ্নে একজনকে বলতে দেখলেন, "এখানে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী আনসারির কবর রয়েছে।" ফলে তারা সেখানে খনন করল এবং একটি কবর পেল। তারা এর ওপর এই মাশহাদ নির্মাণ করল এবং একটি সমাধি তৈরি করল। পরবর্তীতে উক্ত মাশহাদটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়লে আমির সাইফুদ্দিন আলী ইবনে আলামুদ্দিন সুলাইমান ইবনে জানদারের মুক্তদাসী আজানিলুফার এটি সংস্কার করেন। যখন তাঁর মনিব আমির সাইফুদ্দিন হিজরি ৬২২ সালে ইন্তেকাল করেন, তখন তিনি এই মাশহাদের খিদমতে আত্মনিয়োগ করেন এবং সর্বদা আগত জিয়ারতকারীদের দেখাশোনা করতেন, তাদের মিষ্টি খাওয়াতেন এবং শরবত পান করাতেন। তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন এবং এরপর তাঁর দাস ও নাতি-নাতনিরা এই কাজ চালিয়ে যান, যতক্ষণ না তাতাররা তা দখল করে তাদের তাণ্ডবে ভবনটি বিধ্বস্ত করে দেয়।

সেগুলোর মধ্যে একটি হলো ‘আল-মাশহাদ আল-আহমার’ (লাল মাশহাদ), যা জাওশান পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। হালাববাসীরা তাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনে এখানে আসেন এবং তাদের ওপর আপতিত বিপদ দূর করার জন্য দোয়া করেন, ফলে তাদের দোয়া কবুল হয়। জনৈক নেককার ব্যক্তি স্বপ্নে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা ফাতিমাকে এর দক্ষিণ দেয়ালের ভেতরের কামরায় নামাজ পড়তে দেখেছেন। এই কামরাটিই মানুষ জিয়ারত করে এবং এখানে আসে। আমার সমসাময়িক কিছু লোক এই মাশহাদে একটি সুউচ্চ ও বিশাল গম্বুজ এবং একটি পানির চৌবাচ্চা নির্মাণ করেছেন।

সেগুলোর মধ্যে একটি ‘আলী আলাইহিস সালাম’ নামে পরিচিত মাশহাদ, যা কুয়াইক নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত। বলা হয় যে, উলাইকির বংশধরদের একজন স্বপ্নে এটি দেখে নির্মাণ করেছিলেন। এর স্থানটি আগে একটি মদের দোকান ছিল। যখন এটি নির্মিত হলো, আল্লাহ এর মর্যাদা ও মদের দোকানের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে দিলেন এবং একে পবিত্র করলেন।

 

‌হালাবের গ্রামসমূহ এবং এর আওতাধীন এলাকাগুলোর মাজারসমূহের বর্ণনা

তার মধ্যে রয়েছে: ইবরাহিম আল-খালীল আলাইহিস সালামের মকাম নামে পরিচিত একটি মাশহাদ, যা হালাবের পূর্ব দিকে নাওয়ায়েল গ্রামের একটি পাহাড়ে অবস্থিত। এটি বরকতময় স্থান হিসেবে সুপরিচিত।

হালাবের অন্তর্গত বুরাক গ্রামে একটি ইবাদতখানা রয়েছে, যেখানে পঙ্গু ও রুগ্ন ব্যক্তিরা দূর-দূরান্ত থেকে আসে এবং সেখানে রাত্রিযাপন করে। হয় কোনো রোগী স্বপ্নে কাউকে বলতে দেখে যে, "তোমার ওষুধ অমুক জিনিসের মধ্যে রয়েছে", অথবা কাউকে দেখে যে সে তার ওপর নিজের হাত বুলিয়ে দিচ্ছে, আর আল্লাহর নির্দেশে সে সুস্থ হয়ে উঠে দাঁড়ায়।

হালাবের উত্তর দিকে একটি স্তম্ভ রয়েছে যেখানে মুসলিম, ইহুদি ও খ্রিস্টানরা মানত করে। বলা হয় যে এর নিচে একজন নবীর কবর রয়েছে।

সেগুলোর মধ্যে একটি হলো ‘মাশহাদ আল-রাজম’, যা আনাদান সংলগ্ন আরল ভূমিতে আর্তীক শহরের দিকে মুখ করা এক পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত। এটি জিয়ারত করা হয় এবং এর মাধ্যমে বরকত হাসিল করা হয়। সেখানে একটি সুড়ঙ্গ রয়েছে যার সম্পর্কে বলা হয় যে, এতে একজন নবী সমাহিত আছেন এবং তাঁর কওম তাঁকে এই স্থানে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করেছিল।
(খণ্ড: ১) আল-আলাকুল খাতীরা ফী যিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাযীরা (পৃষ্ঠা: ২৩)
وبقرية روحين من جبل سَمْعان مشهد فيه ثلاثة قبور. الأوسط منها قبر قُسّ بن ساعدة الإياديّ الذي يُضْرَبُ به المثل في الفصاحة ويقول فيه النبيّ صلى الله عليه وسلم: مهما نسيتُ من شيء فلستُ أنساه في سوق عكاظ وهو واقف على جمل أورق يخطب الناس وهو يقول: " يا أيّها الناس اسمعوا فإذا سمعتم فعوا فإذا وعيتم فانتفعوا وإذا انتفعتم فقولوا وإذا قلتم فاصدقوا من عاش مات ومن مات فات وكلّ ما هو آتٍ آت مطرٌ ونبات وأحياء وأموات في السماء خبر وفي الأرض عبر يحار منها البصر مهاد موضوع وسقف مرفوع ونجوم تمور وبحار تفور. أقسم قسّ قسماً حقاً لا كاباً فيه ولا آثماً: لئن كان لي الأمر رضىً ليكوننّ سخطاً. يا أيّها الناس إنّ لله ديناً هو أحبّ من دينكم هذا الّذي أنتم عليه وهذا زمانه وأوانه ". ثمّ قال: ما لي أرى الناس يذهبون ولا يرجعون أرضوا بالمقام فأقاموا أم تركوا فناموا والتفت رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى أصحابه فقال: أيّكم يروي لنا شعره؟ فقال أبو بكر رضه: فداك أبي وأميّ وأنا شاهد له في ذلك اليوم حيث يقول:

في الذاهِبِينَ الأَوّلِي … نَ مِنَ القُرُونِ لَنا بَصائِرْ

لَمّا رَأَيْتُ مَوارِداً … لِلْمَوْتِ لَيْسَ لَها مَصادِرْ

وَرَأَيْتُ قَوْمي نَحْوَها … تَمْضي الأَصاغِرُ وَالأَكابِرْ

لا يَرْجِعُ الماضي إِليَّ … وَلا مِنَ الباقِينَ غابِرْ

أَيقَنْتُ أَنّي لا مَحا … لَةَ حَيْثُ صارَ القَوْمُ صائِرْ

فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: رحم الله قُسّاً أمّا إنّه سيبعث أمّةً وحده.

وممّا يُحكى عنه أنّ رجلاً من عبد القيس قال: خرجتُ في شبيبتي أتّبع بعيراً شرد مني أقفوا أثره فبينما أنا في فلاة أجوب سبسبها وأرمق فدفدها إذا أنا بعين خّرارة وروضة مدهامّة وشجرة عادية وإذا بفتّى جالس في أصلها وبيده قضيب فدنوتُ وحييّتُه فردّ عليّ فقلتُ ما اسمك؟ فقال: قُس. ثمّ وردت العين سباع كثيرة وكان كلّما ذهب سبع من السباع يشرب الّذي ورد قبله يضربه قُس بالقضيب الّذي في يده ويقول: حتّى يشرب الذي ورد قبلك. فذعرتُ لذلك ذعراً شديداً فنظر إلي وقال: لا تخف.

وهذا المشهد كان مهجوراً لا يمكن أحد الإقامة فيه والزوار يأتون إليه ويمضون من ساعتهم ذلك لكثرة اللصوص والمتحرّمين. فاتّفق في أيّام الملك الظاهر غازي بن الملك الناصر صلاح الدين يوسف أيّوب صاحب حلب إذ ذاك في سنة ستمائة أنّه ندب من ديوانه سديد الدين مظفّر بن أبي المعالي ابن المخيخ الحلبيّ المولّد ليقيس جبل بني عُلَيْم وغيره وكان به حمّى باردة مع فالج اعتراه وله به مدّة. فلمّا وصل في القياس إلى المشهد حُم فلمّا غلبت عليه الرعدة نام به فخرج إليه فلاّحو الضيعة وحذّروه من المبيت في المشهد لكونه خراباً مخيفاً فنذر على نفسه أنّه متى برئ من مرضه عمّره وسكنه ونام فيه ليلته. فلمّا كان في ثناء الليل انتبه فوجد في نفسه قوّةً فلما أصبح رأى جميع ما كان به من المرض قد زال. فعند ذلك تفقّر ولبس عباءةً وقطع شعره وأباع جميع ما كان يملكه من خيل وعُدة ومِلك وعمّر به هذا المشهد والحمّام والبستان وحرّر العين بعدما كانت ملآنة من التراب مسدودةً وأقام به إلى أن درج رحمه الله.

وكان الملك الظاهر حضر إلى هذا المشهد في أيام عمارته وأعجبه ما اعتمده سديد الدين المذكور فأوقف عليه وعلى عقبه خُمْس قرية روحين وكان عند وفاته الملك المعظم فخر الدين توران شاه بن الملك الناصر صلاح الدين يوسف بن أيوب مُقْطعاً روحين فعاد أمر هذا المشهد إليه فولّى فيه من قبله إنساناً يعرَف بالنفيس من أهل مصر ولم يزل به إلى أن توّفي إلى رحمة الله تع وتولّى بعد وفاته ولده ويُعرف بالشمس محمّد ولم يزل به إلى أن عُزل عنه وولي شخص آخر يُعرَف بالشجاع العجميّ ولم يزل به إلى أن تُوّفي إلى رحمة الله تعالى. ولمّا عظّم الملك الظاهر أمر هذا المشهد عظّمه الناس وبنوا به عمائر من جملتها البركة الخارجة عن المشهد بناها أحد الفلاّحين ويُعرَف بالحاج عثمان من أهل تلّ رُمّانين.
জাবালে সামআনের রুহিন গ্রামে একটি স্মৃতিস্থল রয়েছে যেখানে তিনটি কবর আছে। তার মধ্যে মাঝখানেরটি হলো কুস বিন সায়েদাহ আল-ইয়াদির কবর, যাঁর বাগ্মিতা প্রবাদতুল্য এবং যাঁর সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আমি যা কিছুই ভুলে যাই না কেন, উকাজ বাজারে তাঁর সেই দৃশ্য আমি ভুলব না; যখন তিনি একটি ধূসর উটের ওপর দাঁড়িয়ে মানুষের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিচ্ছিলেন এবং বলছিলেন: "হে লোকসকল! শোনো, আর যখন শুনবে তখন তা হৃদয়ে গেঁথে নাও। যখন হৃদয়ে গেঁথে নেবে, তখন তা দ্বারা উপকৃত হও। আর যখন উপকৃত হবে, তখন কথা বলো। আর যখন কথা বলবে, তখন সত্য বলো। যে জীবিত থাকে সে মারা যায়, আর যে মারা যায় সে গত হয়ে যায়। আর যা আসার তা আসবেই। বৃষ্টি ও উদ্ভিদ, জীবিত ও মৃত; আকাশে সংবাদ রয়েছে এবং পৃথিবীতে উপদেশ রয়েছে যাতে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। বিছিয়ে দেওয়া শয্যা এবং উন্নত ছাদ, আর বিচরণশীল নক্ষত্ররাজি ও উত্তাল সমুদ্র। কুস একটি সত্য কসম করছে যাতে কোনো মিথ্যা বা পাপ নেই: যদি আমার জন্য সন্তুষ্টির কোনো বিষয় থাকে, তবে তা অবশ্যই অসন্তুষ্টির হবে। হে লোকসকল! আল্লাহর এমন এক দ্বীন রয়েছে যা তোমাদের বর্তমান দ্বীনের চেয়ে তাঁর নিকট অধিক প্রিয়, আর এটাই তার উপযুক্ত সময় ও কাল।" এরপর তিনি বললেন: "আমার কী হলো যে আমি দেখছি মানুষ চলে যাচ্ছে কিন্তু ফিরে আসছে না? তারা কি সেখানে অবস্থানে সন্তুষ্ট হয়ে রয়ে গিয়েছে, নাকি তারা পরিত্যক্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছে?" তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের দিকে ফিরে বললেন: "তোমাদের মধ্যে কে আমাদের কাছে তাঁর কবিতা বর্ণনা করবে?" আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: "আমার পিতা ও মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোন, আমি সেদিন তাঁর সাক্ষী ছিলাম যখন তিনি বলছিলেন:

অতীতের গত হওয়া শতাব্দীগুলোর মাঝে আমাদের জন্য অনেক শিক্ষা রয়েছে…

যখন আমি মৃত্যুর এমন সব ঘাটের দেখা পেলাম যার কোনো প্রত্যাবর্তনের পথ নেই…

আর দেখলাম আমার স্বজাতি সেদিকেই ধাবিত হচ্ছে, ছোট ও বড় সবাই…

অতীত আমার কাছে ফিরে আসে না, আর অবশিষ্টদের কেউ চিরকাল বেঁচে থাকে না…

আমি নিশ্চিত হলাম যে যেখানে আমার কওম পৌঁছেছে, আমাকেও সেখানে অবশ্যই পৌঁছাতে হবে।

তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আল্লাহ কুসের ওপর রহম করুন, নিশ্চয়ই কিয়ামতের দিন তিনি একাই একটি উম্মত হিসেবে পুনরুত্থিত হবেন।

তাঁর সম্পর্কে আরও বর্ণিত আছে যে, আবদ আল-কায়স গোত্রের এক ব্যক্তি বলেন: আমি আমার যৌবনকালে আমার একটি হারিয়ে যাওয়া উটের পিছু নিয়ে বের হলাম। আমি যখন এক জনমানবহীন মরুপ্রান্তর পাড়ি দিচ্ছিলাম, হঠাৎ আমি একটি প্রবহমান ঝরনা, ঘন সবুজ উদ্যান এবং একটি প্রাচীন গাছ দেখতে পেলাম। সেখানে এক যুবক গাছের গোড়ায় বসে ছিল এবং তার হাতে একটি লাঠি ছিল। আমি কাছে গিয়ে তাকে অভিবাদন জানালাম, সে উত্তর দিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম: আপনার নাম কী? সে বলল: কুস। এরপর ঝরনায় অনেক বন্যপশু পানি পান করতে এলো। যখনই কোনো পশু আগে আসা পশুর আগে পানি পান করতে যাচ্ছিল, কুস তার হাতের লাঠি দিয়ে তাকে আঘাত করছিলেন এবং বলছিলেন: যে তোমার আগে এসেছে তাকে আগে পান করতে দাও। আমি এতে অত্যন্ত ভীত হলাম। তিনি আমার দিকে তাকিয়ে বললেন: ভয় পেয়ো না।

এই স্মৃতিস্থলটি পরিত্যক্ত ছিল, সেখানে দস্যু ও অপরাধীদের ভয়ে কেউ অবস্থান করতে পারত না। দর্শনার্থীরা আসত এবং দ্রুত চলে যেত। এরপর হিলিবের অধিপতি মালিকুজ জাহির গাজী বিন মালিকুন নাসির সালাহুদ্দিন ইউসুফ আইয়ুবের আমলে হিজরি ৬০০ সনে এমনটি ঘটল যে, তিনি তাঁর প্রশাসন থেকে সাদিকুদ্দিন মুজাফফর বিন আবুল মাআলি ইবনুল মুখাইখকে—যিনি হিলিবের অধিবাসী ছিলেন—বনু উলাইম পাহাড় ও অন্যান্য স্থানের জরিপ করতে পাঠালেন। মুজাফফর সাহেব তখন দীর্ঘদিনের পুরনো পক্ষাঘাত ও জ্বরে ভুগছিলেন। যখন তিনি জরিপ করতে করতে সেই স্মৃতিস্থলে পৌঁছালেন, তাঁর জ্বর বেড়ে গেল। যখন কম্পন অসহনীয় হলো, তিনি সেখানেই ঘুমিয়ে পড়লেন। গ্রামের কৃষকরা এসে তাকে সেখানে রাত কাটাতে নিষেধ করল, কারণ জায়গাটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ও ভয়ংকর ছিল। তিনি মানত করলেন যে যদি তিনি এই রোগ থেকে মুক্তি পান, তবে তিনি এটি পুনর্নির্মাণ করবেন এবং সেখানে বসবাস করবেন। সেই রাতেই তিনি সেখানে রাত যাপন করলেন। রাতের শেষ ভাগে তিনি জেগে উঠলেন এবং শরীরে শক্তি অনুভব করলেন। সকাল হলে দেখলেন তাঁর সমস্ত রোগ সেরে গেছে। তখন তিনি দুনিয়াবি মোহ ত্যাগ করলেন, একটি জুব্বা পরিধান করলেন, নিজের চুল কেটে ফেললেন এবং তাঁর সমস্ত ঘোড়া, সরঞ্জাম ও সহায়-সম্পত্তি বিক্রি করে দিলেন। সেই অর্থ দিয়ে তিনি এই স্মৃতিস্থল, হাম্মাম ও বাগান নির্মাণ করলেন। বালু ও মাটি দিয়ে ভরাট হয়ে যাওয়া ঝরনাটি তিনি পরিষ্কার ও উন্মুক্ত করলেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করলেন—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

মালিকুজ জাহির এটি নির্মাণের সময় এখানে এসেছিলেন এবং সাদিকুদ্দিনের কর্মকাণ্ড দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। তিনি এই স্মৃতিস্থল এবং তাঁর বংশধরদের জন্য রুহিন গ্রামের এক-পঞ্চমাংশ ওয়াকফ করে দিলেন। তাঁর মৃত্যুর সময় মালিকুল মুয়াজ্জম ফখরুদ্দিন তুরান শাহ বিন মালিকুন নাসির সালাহুদ্দিন ইউসুফ বিন আইয়ুব রুহিন গ্রামের দায়িত্বে ছিলেন। তখন এই স্মৃতিস্থলের দায়িত্ব তাঁর হাতে ফিরে আসে। তিনি মিসরের নাফিস নামক এক ব্যক্তিকে এর রক্ষণাবেক্ষণে নিযুক্ত করেন। নাফিস আমৃত্যু সেখানে ছিলেন—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র শামসুদ্দিন মুহাম্মদ দায়িত্ব পান এবং অপসারিত হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে থাকেন। এরপর শুজা আজমি নামক এক ব্যক্তি দায়িত্ব পান এবং মৃত্যু পর্যন্ত বহাল ছিলেন। মালিকুজ জাহির যখন এই স্মৃতিস্থলের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিলেন, তখন সাধারণ মানুষও একে সম্মান দিতে শুরু করল এবং এখানে অনেক স্থাপনা নির্মাণ করল। এর মধ্যে স্মৃতিস্থলের বাইরের বড় পুকুরটি তাল-রুম্মানিনের অধিবাসী হাজি উসমান নামক এক কৃষক নির্মাণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-আলাকুল খাতীরা ফী যিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাযীরা (পৃষ্ঠা: ২৪)
وبنت دولات خاتون ابنة الأمير عَلَم الدين سليمان بن جَنْدَر الخان وأرصدته نزلاً لمن يقصد لزيارة المشهد وبنى له سوراً حائطاً به الحاجّ آقطعْان بن ياروق وساق الماء من خارج المشهد إلى داخله. ولمّا تولّى أمره الشيخ الصالح فخر الدين بن محمّد بن محمود الكنجيّ السهرورديّ بنى به حمّاماً من مال الوقف.

وكان أهل حلب قد اتّخذوا للخروج إلى هذا المشهد موسماً في يوم معيّن من السنة يسمّونه خميس الرزّ وهو الموسم الّذي يُسمّى بمصر خميس العدس فيجتمع إليه من سائر أقطار حلب وحماه وحرّان وبالس حتّى يكاد أن تُخلّى ممّن فيها ويحتفلون به الاحتفال الّذي يضاهي احتفال أهل مكّة بموسم الحجّ ويكون موعد اجتماعهم فيه يوم السبت ولا يزالون به إلى يوم الجمعة فما ينسلخ النهار وفي الدار دَيّار. وأهل التأريخ منهم من يقولون: إنّ البلاد لمّا كانت للنصارى وللفرنج كانوا يجعلونه مساوياً في التعظيم لبيت المقدس. فإذا كان آخر صومهم قصدوه من كلّ النواحي وعيّدوا فيه. فلمّا ملك المسلمون البلاد قصدوا الموضع واهتمّوا به أضعاف اهتمام النصارى وصيّروا له نذوراً ورغبوا في بركة من فيه مدفون. ومن عجيب أمره أنّ التتر لمّا ملكوا البلاد لم يقتلوا به أحداً ممّن التجأ إليه.

والقبران الآخران قبرا سمعان وشمعون من الحواريّين.

وبجبل برصايا من عمل عَزاز قبر بَرْصيصا العابد ومقام داود عم وقال الشيخ عليّ بن أبي بكر الهرويّ: جبل برصايا به مقام بَرْصيصا العابد وقبر شيخ بَرْصيصا ومقام داود عم.

وبقرية مَشْحَلا من عمل عزاز قبر أخي داود عم وهذه القرية بها نهر جارٍ وبساتين وقد خرج منها بعض أهل الحديث.

وبقورس قبر أوريا بن حنّان في قبّة من قبليّ المدينة وقصّته مع داود مشهورة. وبمنبج مشهد من شرقيّ المدينة فيه قبر خالد بن سِنان العبسيّ صاحب الأُخدود ويُعرَف بمشهد خالد وخالد هذا قال رسول الله صلى الله عليه وسلم في حقّه: نبيّ أضاعه قومه.

وبجبل بُزاعا من غربيّ الباب ويُسمّى جبل تَيْم مشهد مطلّ على الباب مقصود بالزيارة ويقولون: إنّ في كلّ سنة في خميس نيسان يجتمع إليه حيوان يشبه الدراريج حتّى تعمّ أكثر الأرض التي حول المشهد ثمّ يذهب في آخر النهار جميعه.

وبجبل الطور المجاور لقنّسرين مشهد: ذكر الشيخ عليّ بن أبي بكر الهرويّ مدينة قنّسرين فحكى أنّ في جبلها مشهداً يقال إنّه مقام صالح النبي صلى الله عليه وسلم ويقال إنّ الناقة خرجت إليه منه ربه آثار أقدام بعير. وفي هذا نظر لمن تأمّله لأنّ قصّة صالح كانت بالحجر ويغلب على ظّني أنّ هذا المشهد من بناء صالح بن عليّ بن عبد الله بن العبّاس فإنّ ولاية الشام كانت إليه وله آثار بحلب وقنّسرين فَنُسب المشهد إلى صالح عم.

وبمعرّة النعمان فيما زعموا قبر يُوشَع بن نون عليه السلام في مشهد هناك جدّد عمارته الملك الظاهر غياث الدين غازي ووقف عليه بالمعرّة وقفاً وهو يزار. ولمّا خرج الملك المعظّم فخر الدين توراة شاه من حبس مصر اشترى له بالمعرّة أرضاً ووقفها عليه وذلك في سنة خمسين وقيل إنّ بها قبر محمّد بن عبد الله بن عمّار بن ياسر.

وبكفر طاب في قرية يقال لها شَحْشَبْو قبر الإسكَنْدَر قيل إنّه مات بها ونُزع ما في جوفه ودُفن وصُبّر جسده وحُمل إلى أمّه وقد ذكر بعض أرباب التواريخ أنّه مات بحمص ولا أستبعد ذلك فإن كفر طاب كانت من أعمال أفامية وأفامية من أعمال حمص. قال الشيخ عليّ بن أبي بكر الهرويّ: شَحْشَبو قرية من أعمال فامية بها قبر الإسكندر ويُقال إنّ أمعاءه هناك وجثَته بمنارة الإسكندرية وقيل إنّه مات ببابل.

وبدَيْر سمعان من قرى مَعَرّة النُعمان ويُعرف أيضاً بدير النقيرة لأنّ إلى جانبه قرية تُسمّى النقيرة قبر عمر بن عبد العزيز في حائر صغير وإلى خلف طهره قبر الشيخ أبي زكرياء يحيى بن منصور وكان أحد أولياء الله تعالى وله كرامات وكان مقيماً بالمسجد الّذي بهذه القرية يعبد الله حتى أدركه أجله فدُفن في الحائر.

وبإنطاكية قبر حبيب النجّار من آل ياسين وبها قبر عَوْن بن أرميا النبي عليه السلام وقبر عَوْذ بن سام بن نوح.
আমির আলামুদ্দিন সুলাইমান বিন জান্দার আল-খানের কন্যা দৌলত খাতুন এটি নির্মাণ করেন এবং মাজারে যিয়ারত করতে আসাদের জন্য সরাইখানা হিসেবে নির্ধারণ করেন। হাজ্জ আকতান বিন ইয়ারুক এর চারপাশে একটি প্রাচীর নির্মাণ করেন এবং মাজারের বাইরে থেকে ভেতরে পানির ব্যবস্থা করেন। যখন নেককার শায়খ ফখরুদ্দিন বিন মুহাম্মদ বিন মাহমুদ আল-কাঞ্জি আস-সুহরাওয়ার্দী এর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, তখন তিনি ওয়াকফকৃত সম্পদ থেকে সেখানে একটি গোসলখানা নির্মাণ করেন।

আলেপ্পোর অধিবাসীরা বছরে একটি নির্দিষ্ট দিনে এই মাজারে যাওয়ার জন্য একটি উৎসবের দিন ধার্য করেছিল, যাকে তারা 'খামিসুর রুজ' বলত। মিশরে এই উৎসবকে 'খামিসুল আদাস' বলা হয়। আলেপ্পো, হামাহ, হাররান এবং বালিস—সব প্রান্ত থেকে মানুষ সেখানে সমবেত হতো, এমনকি শহরগুলো প্রায় জনশূন্য হয়ে পড়ত। তারা সেখানে এমন ধুমধাম করে উৎসব পালন করত যা মক্কার অধিবাসীদের হজের উৎসবের সাথে তুলনীয়। তাদের জমায়েত হওয়ার সময় ছিল শনিবার এবং তারা শুক্রবার পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করত; দিন শেষ হওয়ার আগে কেউ সেখান থেকে বিদায় নিত না। ঐতিহাসিকদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন: এই অঞ্চল যখন খ্রিস্টান ও ক্রুসেডারদের অধীনে ছিল, তখন তারা একে বাইতুল মাকদিসের সমান মর্যাদাপূর্ণ মনে করত। সুতরাং যখন তাদের রোজার শেষ সময় আসত, তারা চারপাশ থেকে এখানে উপস্থিত হতো এবং উৎসব পালন করত। যখন মুসলমানরা এই অঞ্চলের অধিপতি হলো, তখন তারা এই স্থানের প্রতি খ্রিস্টানদের চেয়েও বহুগুণ বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করল। তারা সেখানে মানত করত এবং সেখানে সমাহিত ব্যক্তির বরকতের আশা করত। এক বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, তাতাররা যখন এই দেশ জয় করেছিল, তখন সেখানে আশ্রয় নেওয়া কাউকে তারা হত্যা করেনি।

অন্য দুটি কবর হলো ঈসা (আ.)-এর হাওয়ারীগণের মধ্য থেকে সামআন এবং শামউনের।

আযায অঞ্চলের বারসায়া পাহাড়ে আবিদ বারসিসার কবর এবং দাউদ (আ.)-এর মাকাম রয়েছে। শায়খ আলী বিন আবু বকর আল-হারাভি বলেন: বারসায়া পাহাড়ে আবিদ বারসিসার মাকাম, বারসিসার শায়খের কবর এবং দাউদ (আ.)-এর মাকাম অবস্থিত।

আযায অঞ্চলের মাশহালা গ্রামে দাউদ (আ.)-এর ভাইয়ের কবর রয়েছে। এই গ্রামে একটি প্রবহমান নদী এবং অনেক বাগান রয়েছে; এখান থেকে কয়েকজন মুহাদ্দিসও আবির্ভূত হয়েছেন।

কুরুস নামক স্থানে শহরের দক্ষিণ দিকে একটি গম্বুজের নিচে উরিয়া বিন হান্নানের কবর রয়েছে; দাউদ (আ.)-এর সাথে তার কাহিনী সুপরিচিত। মানবিজ শহরের পূর্ব দিকে একটি মাজার রয়েছে যেখানে আসহাবুল উখদুদ-এর অন্যতম খালিদ বিন সিনান আল-আবসির কবর অবস্থিত; এটি খালিদের মাজার হিসেবে পরিচিত। এই খালিদ সম্পর্কেই রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন: তিনি এমন এক নবী ছিলেন যাকে তার কওম ধ্বংস করে ফেলেছিল।

বাব শহরের পশ্চিমে বুজাআ পাহাড়ে (যাকে তাইম পাহাড়ও বলা হয়) একটি মাজার আছে যা শহরের ওপর দৃষ্টিগোচর হয় এবং মানুষ সেখানে যিয়ারতে যায়। জনশ্রুতি আছে যে, প্রতি বছর এপ্রিল মাসের এক বৃহস্পতিবার সেখানে এক ধরণের পাখি একত্রিত হয় এবং মাজারের চারপাশের অধিকাংশ ভূমি ছেয়ে যায়, এরপর দিনের শেষে তারা সবাই চলে যায়।

কিন্নাসরিন সংলগ্ন তূর পাহাড়ে একটি মাজার রয়েছে। শায়খ আলী বিন আবু বকর আল-হারাভি কিন্নাসরিন শহরের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন যে, এর পাহাড়ে একটি মাজার আছে যাকে নবী সালেহ (সা.)-এর মাকাম বলা হয়। কথিত আছে যে, উষ্ট্রীটি সেখান থেকেই বের হয়েছিল এবং সেখানে উটের পায়ের চিহ্ন রয়েছে। তবে যারা গভীরভাবে চিন্তা করেন তাদের কাছে এটি বিতর্কমূলক; কারণ সালেহ (আ.)-এর কাহিনী আল-হিজর নামক স্থানে ঘটেছিল। আমার প্রবল ধারণা হলো যে, এই মাজারটি সালেহ বিন আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্বাসের নির্মাণ করা। যেহেতু শাম অঞ্চলের শাসনভার তার হাতে ছিল এবং আলেপ্পো ও কিন্নাসরিনে তার কীর্তিচিহ্ন রয়েছে, তাই হয়তো মাজারটি সালেহ (আ.)-এর নামে পরিচিতি পেয়েছে।

মা'আররাতুন নু'মানে জনশ্রুতি অনুযায়ী ইউশা বিন নুন (আ.)-এর কবর রয়েছে। সেখানকার মাজারটি সুলতান আল-মালিকুল জহির গিয়াসউদ্দিন গাজী সংস্কার করেন এবং মা'আররায় এর অনুকূলে ওয়াকফ করে দেন; এটি যিয়ারত করা হয়। যখন আল-মালিকুল মুয়াযযাম ফখরুদ্দিন তুরান শাহ মিশরের কারাগার থেকে মুক্তি পান, তখন তিনি মা'আররায় এই মাজারের জন্য জমি ক্রয় করে ওয়াকফ করেন; এটি ছিল ৬৫০ হিজরির ঘটনা। কেউ কেউ বলেন, এখানে মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আম্মার বিন ইয়াসিরের কবর রয়েছে।

কাফর তাবের শাহশাবুন নামক গ্রামে আলেকজান্ডারের কবর রয়েছে। বলা হয় যে, তিনি সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন এবং তার অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বের করে সেখানে দাফন করা হয়, আর তার দেহ মমি করে তার মায়ের কাছে পাঠানো হয়। কিছু ঐতিহাসিক উল্লেখ করেছেন যে তিনি হিমসে মারা গেছেন; আমি এটিকে অসম্ভব মনে করি না, কারণ কাফর তাব আফামিয়া অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং আফামিয়া ছিল হিমস অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। শায়খ আলী বিন আবু বকর আল-হারাভি বলেন: শাহশাবুন আফামিয়া অঞ্চলের একটি গ্রাম, যেখানে আলেকজান্ডারের কবর রয়েছে; বলা হয় তার নাড়িভুঁড়ি সেখানে আর দেহ আলেকজান্দ্রিয়ার মিনারে রয়েছে। আবার কেউ কেউ বলেন তিনি ব্যাবিলনে মারা গেছেন।

মা'আররাতুন নু'মানের গ্রামগুলোর মধ্যে দাইরে সামআনে—যা দাইরুন নুকাইরা নামেও পরিচিত, কারণ এর পাশেই নুকাইরা নামক একটি গ্রাম আছে—একটি ছোট আঙিনায় উমর বিন আব্দুল আজিজের কবর রয়েছে। তার কবরের পেছনে শায়খ আবু জাকারিয়া ইয়াহিয়া বিন মানসুরের কবর অবস্থিত; তিনি আল্লাহর একজন ওলি ছিলেন এবং তার থেকে কারামত প্রকাশিত হয়েছে। তিনি এই গ্রামের মসজিদে অবস্থান করে আল্লাহর ইবাদত করতেন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন, তাকে ওই আঙিনায় দাফন করা হয়।

আন্তাকিয়ায় হাবিব নাজ্জারের কবর রয়েছে এবং সেখানে নবী ইরমিয়া (আ.)-এর পুত্র আউন এবং নূহ (আ.)-এর পৌত্র আওজ বিন সাম বিন নূহের কবর রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আলাকুল খাতীরা ফী যিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাযীরা (পৃষ্ঠা: ২৫)
وقال كمال الدين بن العديم بسند رفعه إلى كعب الأحبار قال: بطَرْسوس من قبور الأنبياء عشرة وبالمصيصة خمسة وبسواحل الشام من قبور الأنبياء ألف قبر وبإنطاكية قبر حبيب النجّار وذُكر تمام الحديث. " وذكرنا فيما تقدم " في فصل إنطاكية حديثاً مرفوعاً إلى النبيّ صلى الله عليه وسلم قال: إنّ فيها - يعني إنطاكية - التوراة وعصا موسى ورضراض الألواح ومائدة سليمان بن داود عليه السلام في غار من غاراتها. وجاء حديث آخر عن ابن عباس ذُكر فيه مع ما تقدّم محبرة إدريس ومنطقة شُعَيْب وبراد نوح. وبها كنيسة قسيان وهي كنيسة جليلة يقال إنّ بها كفّ يحيى بن زكرياء عم.

وذكر كمال الدين أيضاً: قرأتُ بخطّ أبي عمرو الطرطوسي قاضي المعرّة قال: قبر أبي معاوية الأسود بطرسوس بباب الجهاد في الطريق الآخذ إلى الميدان يمنة السائر بإزاء قبّة ابن الأغلب ما فارقه منذ عمارة طرسوس تبرُّكاً به وتيمناً بالدعاء فيه. وقال أبو عمرو: سمعتُ عدّةً من مشائخ طرسوس يقولون: ما صدق أحد نيّته في حاجة لله عز وجل فيها رضّي فتغسّل ودعا عند قبر أبي معاوية إلاّ أجابه الله عز وجل.

وبعرب سوس - وقيل إنّها آخر حدود الشام - في جبل من غربيّها يسمّى بنحلوس الكهف الّذي كان فيه أصحاب الكهف وهذا الكهف يدخل الإنسان إليه حبواً لا يمكن الماشي أن يمشي فيه قائماً وبُني عليه مشهد عظيم بالحجر وجُعل له سور ووُقف عليه وقف للزوّار.

وقال أبو الحسن عليّ بن أبي بكر الهرويّ: بمدينة الرُصافة قبور جماعة من الصحابة والتابعين لم يحضرني أسماؤهم.

وقال أيضاً: بمدينة بالس مشهد عليّ بن أبي طالب عم وبها مشهد الطِرْح وبها مشهد الحجر يقال إنّ رأس الحسين عم وضعوه عليه عندما عبروا بالسبي.

وبجَبْلة بظاهرها قبر إبراهيم بن أدهم بن منصور بن يزيد بن جابر التميميّ أو قيل العجليّ يُكْنى أبا إسحاق أصله من بَلْخ وكان أبوه ملكاً فترك الدنيا اختياراً لا اضطراراً وجعل الثغور الشاميّة له منزلاً وداراً. مات سنة إحدى وستّين ومائة.

 

‌‌الباب العاشر في

ذكر المساجد الّتي في باطن حلب وظاهرها

مسجد يُعرَف بإنشاء الملك الظاهر لمّا بنى دار العدل.

مسجد بباب الصغير أنشأه الملك الظاهر.

مسجد يُعرف بجمال الدولة إقبال الظاهريّ لأنه أنشأه.

مسجد إنشاء ابن عبّوس.

مسجد إنشاء الركن الخلاطيّ.

مسجد يُعرَف بالصدر.

مسجد السيّدة بنت وثّاب النُمَيْريّ أخت شبيب زوجة نصر بن محمود ابن مِرْداس وهي مدفونة به.

مسجد يُعرَف ببني بخمش.

مسجد تجاه الحمّام الجديد.

مسجد مجاور للمدرسة الظاهريّة تحت القلعة.

مسجد داخل باب الصغير الخارج.

مسجد أنشأه حُسام الدين محمود بن خُتْلو والي حلب كان.

مسجد يُعرَف بابن عَلَم الدين.

مسجد إنشاء نور الدين محمود في درب مدرسة بني عُصْرون.

مسجد الأسد.

مسجد مجاور دور بني جَهبَل.

مسجد تجاه دار شهاب الدين بن القيسرانيّ.

مسجد تجاه القسطل قريباً من دور بني القيسرانيّ.

مسجد قُباد.

مسجد إنشاء السابق مبارك الظاهريّ المعروف بوالي بَهَسْنا.

مسجد الحافظ عبد الرحمان بن الأستاذ الأسديّ.

مسجد إنشاء الجمال أحمد بن يعقوب.

مسجد الشيخ محمّد الحرّاني.

مسجد قريب من دار عَلَم الدين سنجر السعديّ.

مسجد قريب من دار الشمس بن القطعة.

مسجد الخضر.

مسجد دراريج.

مسجد الحاجّ أبي سالم.

مسجد عليّ بن القزّاز.

مسجد شجرة بالمعقليّة.

مسجد الشيخ إسحاق عتيق القاضي بهاء الدين بن شدّاد.

مسجد قريب من دور بني العديم.

مسجد البلاط أنشأه الشريف الزاهد من أولاد صالح ويُعرَف الآن ببني العجميّ.

مسجد بالمرمى.

مسجد أنشأه سابق الدين صاحب شَيْزَر.

مسجد خلف باب العراق.

مسجد تجاه حمّام السابق.

مسجد إنشاء الحاجّ محمّد بن بنت السابق.

مسجد بعرصة ابن الفراتيّ.

مسجد معلّق يُعرَف بالشيخ عبد الوالي.

مسجد جوار دار ابن مكّيّ.

مسجد تجاه دار ابن بهاء الدين أيّوب.

مسجد عمود العُسْر.

مسجد جوار دار المنتجب بن نصر الله.

مسجد بجوار الكامليّة.

مسجد بين القطيعة والعرصة.

مسجد حمّام حمدان.

مسجد في درب شمس الدين لؤلؤ رحمه الله من إنشائه.
কামাল উদ্দিন ইবনুল আদিম একটি সনদের মাধ্যমে কাব আল-আহবার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: তারসুসে নবীদের দশটি কবর, মাসিসায় পাঁচটি এবং সিরিয়ার উপকূলে নবীদের এক হাজার কবর রয়েছে। আনতাকিয়ায় হাবিব নাজ্জারের কবর রয়েছে। হাদীসটি পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। "আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি" আনতাকিয়া পরিচ্ছেদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত একটি হাদীস, তিনি বলেছেন: তার (অর্থাৎ আনতাকিয়ার) একটি গুহায় তাওরাত, মুসার লাঠি, তখতি বা ফলকের টুকরোগুলি এবং দাউদ পুত্র সুলাইমান আলাইহিস সালামের দস্তরখান রয়েছে। ইবনে আব্বাস থেকে অন্য একটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে যাতে পূর্বোক্ত বিষয়গুলোর সাথে ইদ্রিসের দোয়াত, শুআইবের কোমরবন্ধনী এবং নূহের শীতল পাত্রের কথা উল্লেখ আছে। সেখানে কাসইয়ান গির্জা রয়েছে যা একটি মর্যাদাপূর্ণ গির্জা; বলা হয় যে সেখানে ইয়াহইয়া বিন যাকারিয়া আলাইহিস সালামের হাতের তালু রয়েছে।

কামাল উদ্দিন আরও উল্লেখ করেছেন: আমি মাআররার বিচারক আবু আমর আত-তারতুসির হস্তাক্ষরে পড়েছি, তিনি বলেছেন: আবু মুয়াবিয়া আল-আসওয়াদের কবর তারসুসের বাবুল জিহাদে, ময়দানের দিকে যাওয়ার পথের ডানপাশে, ইবনুল আগলাবের গম্বুজের বিপরীতে অবস্থিত। তারসুস আবাদের পর থেকে বরকত লাভ এবং সেখানে দুআ করার মাধ্যমে শুভ লক্ষণ কামনায় কেউ তা ত্যাগ করেনি। আবু আমর বলেন: আমি তারসুসের অনেক শায়খকে বলতে শুনেছি: আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল্লা-এর সন্তুষ্টি আছে এমন কোনো প্রয়োজনের বিষয়ে যে ব্যক্তিই তার নিয়তকে খাঁটি করেছে, অতঃপর গোসল করে আবু মুয়াবিয়ার কবরের কাছে দুআ করেছে, আল্লাহ আজ্জা ওয়াজাল্লা তাকে সাড়া দিয়েছেন।

আরবুসাসে — এবং বলা হয় যে এটি সিরিয়ার শেষ সীমানা — এর পশ্চিম দিকের একটি পাহাড়ে যা নাহলুস নামে পরিচিত, সেই গুহাটি অবস্থিত যেখানে আসহাবে কাহফ ছিলেন। এই গুহায় মানুষকে হামাগুড়ি দিয়ে প্রবেশ করতে হয়, হেঁটে সোজা হয়ে প্রবেশ করা সম্ভব নয়। এর ওপর পাথর দিয়ে একটি বিশাল মাশহাদ নির্মিত হয়েছে, এর জন্য প্রাচীর তৈরি করা হয়েছে এবং দর্শনার্থীদের জন্য ওয়াকফ নির্ধারণ করা হয়েছে।

আবুল হাসান আলী বিন আবি বকর আল-হারাউই বলেছেন: রুসাফা শহরে সাহাবী এবং তাবিঈদের একটি দলের কবর রয়েছে যাদের নাম এই মুহূর্তে আমার স্মরণে নেই।

তিনি আরও বলেছেন: বালিস শহরে আলী বিন আবি তালিব আলাইহিস সালাম-এর মাশহাদ রয়েছে, সেখানে মাশহাদুত তিরহ এবং মাশহাদুল হাজার রয়েছে। বলা হয় যে, যখন বন্দীদের নিয়ে তারা বালিস অতিক্রম করছিল, তখন হুসাইন আলাইহিস সালাম-এর মাথা মোবারক এর ওপর রাখা হয়েছিল।

জাবলার বহির্ভাগে ইব্রাহিম বিন আদহাম বিন মানসুর বিন ইয়াজিদ বিন জাবির আত-তামিমি — অথবা বলা হয় আল-ইজলি — এর কবর রয়েছে, তাঁর উপনাম আবু ইসহাক। তাঁর আদি নিবাস ছিল বলখ এবং তাঁর পিতা একজন রাজা ছিলেন। তিনি বাধ্য হয়ে নয় বরং স্বেচ্ছায় দুনিয়া ত্যাগ করেন এবং সিরিয়ার সীমান্ত এলাকাকে নিজের আবাস ও ঘর বানিয়ে নেন। তিনি একশত একষট্টি হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

 

‌দশম অধ্যায়

হালব শহরের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক মসজিদসমূহের বর্ণনা প্রসঙ্গে

আল-মালিকুজ জাহির কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মসজিদ, যখন তিনি দারুল আদল নির্মাণ করেন।

বাবুস সাগিরে একটি মসজিদ যা আল-মালিকুজ জাহির নির্মাণ করেছেন।

জামালুদ দাওলা ইকবাল আজ-জাহিরি নামে পরিচিত মসজিদ, কারণ তিনি এটি নির্মাণ করেছেন।

ইবনে আব্বুসের নির্মিত মসজিদ।

রুকন আল-খালাতির নির্মিত মসজিদ।

আস-সাদর নামে পরিচিত মসজিদ।

সাইয়িদা বিনতে ওয়াসসাব আন-নুমাইরির মসজিদ, যিনি শাবিবের বোন এবং নাসর বিন মাহমুদ ইবনে মিরদাসের স্ত্রী; তিনি এখানেই সমাহিত।

বনু বাখমাশ নামে পরিচিত মসজিদ।

নতুন গোসলখানার বিপরীতে অবস্থিত মসজিদ।

দুর্গের নিচে মাদরাসায়ে জাহিরিয়ার পার্শ্ববর্তী মসজিদ।

বহিস্থ বাবুস সাগিরের অভ্যন্তরে অবস্থিত মসজিদ।

হালবের তৎকালীন ওয়ালি হুসামুদ্দিন মাহমুদ বিন খুতলুর নির্মিত মসজিদ।

ইবনে আলামুদ্দিন নামে পরিচিত মসজিদ।

বনু উসরুন মাদরাসার গলিতে নুরুদ্দিন মাহমুদের নির্মিত মসজিদ।

আল-আসাদ মসজিদ।

বনু জাহবাল পরিবারের গৃহসংলগ্ন মসজিদ।

শিহাবুদ্দিন ইবনুল কায়সারানির বাসভবনের বিপরীতে অবস্থিত মসজিদ।

কাসতালের বিপরীতে বনু কায়সারানি পরিবারের গৃহসমূহের নিকটবর্তী মসজিদ।

কুবাদ মসজিদ।

সাবেক মুবারক আজ-জাহিরির নির্মিত মসজিদ, যিনি বাহাসনার ওয়ালি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

হাফেজ আবদুর রহমান বিন আল-উস্তাদ আল-আসাদির মসজিদ।

জামাল আহমদ বিন ইয়াকুবের নির্মিত মসজিদ।

শেখ মুহাম্মদ আল-হাররানির মসজিদ।

আলামুদ্দিন সানজার আস-সাদির বাসভবনের নিকটবর্তী মসজিদ।

শামস ইবনুল কাতআ-এর বাসভবনের নিকটবর্তী মসজিদ।

আল-খিজর মসজিদ।

দারারিজ মসজিদ।

হাজি আবু সালিমের মসজিদ।

আলী বিন আল-কায্যাযের মসজিদ।

মাকলিয়ার শাজারাহ মসজিদ।

কাজী বাহাউদ্দিন ইবনে শাদ্দাদের মুক্তিপ্রাপ্ত গোলাম শেখ ইসহাকের মসজিদ।

বনু আদিম পরিবারের গৃহসমূহের নিকটবর্তী মসজিদ।

আল-বালাত মসজিদ, যা সালেহ-এর বংশধর শরিফ আল-যাহিদ নির্মাণ করেছিলেন এবং বর্তমানে বনু আজামি নামে পরিচিত।

আল-মারমা-তে অবস্থিত মসজিদ।

শাইজার-এর অধিপতি সাবেকুদ্দিনের নির্মিত মসজিদ।

বাবুল ইরাকের পেছনে অবস্থিত মসজিদ।

সাবেক-এর হাম্মামের বিপরীতে অবস্থিত মসজিদ।

সাবেক-এর কন্যার পুত্র হাজি মুহাম্মদের নির্মিত মসজিদ।

ইবনুল ফুরাতির চত্বরে অবস্থিত মসজিদ।

শেখ আবদুল ওয়ালি নামে পরিচিত ঝুলন্ত মসজিদ।

ইবনে মাক্কির বাসভবনের পার্শ্ববর্তী মসজিদ।

ইবনে বাহাউদ্দিন আইয়ুবের বাসভবনের বিপরীতে অবস্থিত মসজিদ।

আমূদুল উসর মসজিদ।

মুনতাজাব বিন নাসরুল্লাহর বাসভবনের পার্শ্ববর্তী মসজিদ।

আল-কামিলিয়ার পার্শ্ববর্তী মসজিদ।

আল-কাতিআ এবং আল-আরসার মধ্যবর্তী মসজিদ।

Hammam Hamdan (হাম্মাম হামদান) মসজিদ।

শামসুদ্দিন লুলু (রহিমাহুল্লাহ)-এর গলিতে তাঁরই নির্মিত মসজিদ।
(খণ্ড: ১) আল-আলাকুল খাতীরা ফী যিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাযীরা (পৃষ্ঠা: ২৬)
مسجد قديم بالأَسْفريس يُعرَف الآن بالشيخ محمّد سام.

مسجد قريب دار الشجاع بن فاتك.

مسجد الجبليّ.

مسجد بدرب الحديد.

مسجد مجاور دار ابن العسقلانيّ.

مسجد يُعرَف بإنشاء صفيّ الدين طارق بن عليّ المعروف بابن الطُرَيْرَة.

مسجد عبد الرحمان النجّار.

مسجد بالأَسْفَريس.

مسجد بالحدّادين.

وبها أيضاً مسجد علو القسطل.

مسجد أنشأه نظام الدين عبد الرزّاق بن قاضي بالس.

مسجد أنشأه القاضي أبو الحسن ابن الطرسوسيّ.

مسجد كتّاب الأسود.

مسجد أنشأه الشمس محمّد بن النحّاس الحلبيّ.

مسجد أنشأه أولاد سنان الخفاجيّ الشاعر.

مسجد برأس القُنَيَّة معلّق.

مسجد برأس الكتّانيّين.

مسجد على رأس حبس الدُلْبة.

مسجد في درب السهم مجاور القسطل.

مسجد قرب دار ابن البنّاء.

مسجد في سوق الخشّابين.

مسجد بالصنادقيّين جُدّد في أيام أتابك.

مسجد بدرب البنات إنشاء بني شنقس.

مسجد إنشاء الشيخ منتجب الدين أحمد بن الإسكافيّ.

مسجد المحصّب يقال إنّه بُني في أيّام أحد العمَريْن إما عمر بن الخطاب أو عمر بن عبد العزيز.

مسجد يُعرَف بابن الطرسوسيّ بالرحبة.

مسجد يُعرَف بالجمل.

مسجد إنشاء العميد يوسف.

مسجد قرب دار الشيخ الإمام يُعرف بالنور.

مسجد يُعرَف بالمعلّق.

مسجد يُعرَف بالحمّالين.

مسجد قرب المسبك.

مسجد يُعرَف بعليّ بن الداية.

مسجد إنشاء الرئيس أبي غانم.

مسجد يُعرَف بالحاجّ نصر.

مسجد إنشاء يحيى الخُشُوتيّ.

مسجد مجاور سور البلد.

ثلاث مساجد معلقة بالسور.

مسجد قرب درب الأشنان.

مسجد إنشاء المؤيّد خليل المنبجيّ والي حلب كان.

مسجد يُعرَف بالنور أيضاً.

مسجد إنشاء الحاجّ ظبيان الحلبيّ.

مسجد يُعرَف بالشيخ الأمرد.

مسجد يعرف بأولاد الشويخ.

مسجد جُبّ التوينة.

مسجد يُعرَف بابن نجم الحلبيّ.

مسجد يُعرَف بفرحة.

مسجد قرب دار ابن مُوَيْهيب.

مسجد يُعرَف بابن الكعكيّ.

مسجد أنشأه منتجب الدين يحيى بن أبي طيء المعروف بإبن النجّار.

مسجد يُعرف بالحكم.

مسجد قرب الرَحْبة الصغيرة مجاور دور أولاد الناصر الحنيّين.

مسجد بالرحْبة الصغيرة أيضاً يُعرف بالشريف الزاهد من بني مَلِكة. َ مسجد يُعرَف بابن الشمّاعة.

مسجد في رأس درب نصر.

مسجد يُعرف بجعفر بن بُرغش.

مسجد في رأس درب مطر جدّده القاضي موفّق الدين أبو الفتح يحيى بن الخشّاب.

مسجد بالجرن الأصفر إنشاء القاضي أبو الحسن محمّد بن الخشّان.

مسجد يُعرف بابن الشيحيّ.

مسجد بالحكير.

مسجد أنشأه المجنّ الفوعي رئيس حلب كان.

مسجد معلّق إنشاء العفيف أبي عبد الله محمّد بن زريق التونخيّ.

مسجد في وسط الشُعبييّن.

مسجد إنشاء شيخ الدولة عليّ بن أحمد بن الأيسر.

مسجد إنشاء الوجيه الدمنهوري.

مسجد في رأس درب الخرّاف.

مسجد قرب دار ابن المشرف.

مسجد معلّق في رأس درب الحطّابين إنشاء الحاجّ جعفر بن مزاحم.

مسجد بالدرب المذكور أيضاً.

مسجد في رأس درب الصبّاغين.

مسجد في الدرب الذكور أيضاً.

مسجد قرب دار ابن فاخر.

مسجد قرب دار الشرف بن أبي جرادة.

مسجد يُعرَف بأولاد الركابي.

مسجد بالتنانيريّين.

مسجد في رأس التنابيريّين.

مسجد كان يؤم فيه أبو عبد الله بن الطويّ.

مسجد داخل باب إنطاكية ملاصق السور.

مسجد قاقان.

مسجد النقيب ابن حمزة.

مسجد يُعْرف بابن الأيسر.

مسجد يُعْرف بابن الأغر.

مسجد يُعْرف بالمناذرة.

مسجد يُعْرف بالكمال الأعمى.

مسجد في ذيل العقبة.

مسجد يُعْرف بابن المتيّم.

مسجد في ذيل العقبة قرب دار ناصر الدين بن الوالي.

مسجد تجاه دار الفيّ بن منذر.

مسجد بني أسامة.

مسجد أنشأه شراحيل.

مسجد الفاصديين.

مسجد بالخرّارين.

مسجد برأس درب ابن الحكّار.

مسجد في رأس اللاّئين.

مسجد في رأس درب الخرّاف إنشاء أمين الدين أبو طالب النقيب الإسحاقي الحسينيّ.

مسجد بدرب الناطليّ.

مسجد بسوق الطبر أنشأه الشريف زُهْرة.

مسجد المُزَيْبلة.

مسجد دور بني الأستريّ.

مسجد قرب دور بني دَبّوقا.

مسجد مجاور مدرسة ابن رواحة.

مسجد معلق بدرب البازيار.
আল-আসফারিস-এ অবস্থিত একটি প্রাচীন মসজিদ, যা বর্তমানে শেখ মুহাম্মদ সাম নামে পরিচিত।

শুজা ইবনে ফাতিকের বাড়ির নিকটবর্তী একটি মসজিদ।

আল-জাবালি মসজিদ।

দারবুল হাদীদের একটি মসজিদ।

ইবনুল আসকালানির বাড়ির পার্শ্ববর্তী একটি মসজিদ।

সাফিয়ুদ্দীন তারিক ইবনে আলী কর্তৃক নির্মিত একটি মসজিদ, যিনি ইবনুত্ব তুরাইরাহ নামে পরিচিত।

আবদুর রহমান আন-নাজ্জার মসজিদ।

আল-আসফারিস-এর একটি মসজিদ।

আল-হাদ্দাদিন-এর একটি মসজিদ।

সেখানে আলু আল-কাসতাল মসজিদটিও রয়েছে।

কাযী বালিসের পুত্র নিযামুদ্দীন আবদুর রাজ্জাক কর্তৃক নির্মিত একটি মসজিদ।

কাযী আবুল হাসান ইবনুত তারসুসি কর্তৃক নির্মিত একটি মসজিদ।

কুততাবুল আসওয়াদ মসজিদ।

শামসুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনু আন-নাহহাস আল-হালাবি কর্তৃক নির্মিত একটি মসজিদ।

কবি সিনান আল-খাফাজির সন্তানদের দ্বারা নির্মিত একটি মসজিদ।

রাসুল কুনাইয়াহ-তে অবস্থিত একটি ঝুলন্ত মসজিদ।

রাসুল কাত্তানিয়্যিন-এ অবস্থিত একটি মসজিদ।

হাবস আদ-দুলবাহ-র শীর্ষে অবস্থিত একটি মসজিদ।

দারবুস সাহম-এ কাসতালের পার্শ্ববর্তী একটি মসজিদ।

ইবনুল বান্নার বাড়ির নিকটবর্তী একটি মসজিদ।

সুকুল খাশশাবিন-এ (কাঠের বাজারে) অবস্থিত একটি মসজিদ।

সনাদিকিয়্যিন-এর একটি মসজিদ, যা আতাবেকের আমলে সংস্কার করা হয়েছিল।

দারবুল বানাত-এ অবস্থিত বনু শানাকাস কর্তৃক নির্মিত একটি মসজিদ।

শেখ মুনতাজিবুদ্দীন আহমদ ইবনুল ইসকাফি কর্তৃক নির্মিত একটি মসজিদ।

আল-মুহাসসাব মসজিদ; বলা হয় যে এটি দুই ওমরের যেকোনো একজনের আমলে নির্মিত হয়েছে, হয় ওমর ইবনুল খাত্তাব অথবা ওমর ইবনে আবদুল আজিজ।

আর-রাহবাহ-তে অবস্থিত একটি মসজিদ যা ইবনুত তারসুসি নামে পরিচিত।

আল-জামাল নামে পরিচিত একটি মসজিদ।

আমীদ ইউসুফ কর্তৃক নির্মিত একটি মসজিদ।

ইমাম শায়খের বাড়ির নিকটবর্তী একটি মসজিদ যা আন-নূর নামে পরিচিত।

আল-মুআল্লাক (ঝুলন্ত মসজিদ) নামে পরিচিত একটি মসজিদ।

আল-হাম্মালিন নামে পরিচিত একটি মসজিদ।

মাসবাকের (ধাতু গলানোর স্থান) নিকটবর্তী একটি মসজিদ।

আলী ইবনুদ দায়াহ নামে পরিচিত একটি মসজিদ।

রইস আবু গানিম কর্তৃক নির্মিত একটি মসজিদ।

হাজ নসর নামে পরিচিত একটি মসজিদ।

ইয়াহইয়া আল-খুশুাতি কর্তৃক নির্মিত একটি মসজিদ।

শহরের প্রাচীর সংলগ্ন একটি মসজিদ।

শহরের প্রাচীরের সাথে যুক্ত তিনটি ঝুলন্ত মসজিদ।

দারবুল উশনান-এর নিকটবর্তী একটি মসজিদ।

মুয়াইয়াদ খলিল আল-মানবিজি কর্তৃক নির্মিত একটি মসজিদ, যিনি আলেপ্পোর ওয়ালী ছিলেন।

আন-নূর নামে পরিচিত আরও একটি মসজিদ।

হাজ জাবিয়ান আল-হালাবি কর্তৃক নির্মিত একটি মসজিদ।

শেখ আল-আমরাদ নামে পরিচিত একটি মসজিদ।

আওলাদুশ শুওয়াইখ নামে পরিচিত একটি মসজিদ।

জুব্বুত তুয়াইনাহ মসজিদ।

ইবনে নাজমু আল-হালাবি নামে পরিচিত একটি মসজিদ।

ফারহাহ নামে পরিচিত একটি মসজিদ।

ইবনে মুওয়াইহিব-এর বাড়ির নিকটবর্তী একটি মসজিদ।

ইবনুল কাকি নামে পরিচিত একটি মসজিদ।

মুনতাজিবুদ্দীন ইয়াহইয়া ইবনে আবি ত্বাই কর্তৃক নির্মিত একটি মসজিদ, যিনি ইবনুন নাজ্জার নামে পরিচিত।

আল-হাকাম নামে পরিচিত একটি মসজিদ।

রাহবাহ সাগিরাহ-র নিকটবর্তী এবং আওলাদুন নাসির আল-হানিয়্যিনদের বাড়ির সংলগ্ন একটি মসজিদ।

রাহবাহ সাগিরাহ-তে অবস্থিত আরও একটি মসজিদ যা বনু মালিকার শরীফ আল-যাহিদ নামে পরিচিত। ইবনুশ শাম্মাহ নামে পরিচিত একটি মসজিদ।

দারব নসর-এর শুরুতে অবস্থিত একটি মসজিদ।

জাফর ইবনে বুরগুশ নামে পরিচিত একটি মসজিদ।

দারব মাতার-এর শুরুতে অবস্থিত একটি মসজিদ, যা কাযী মুয়াফ্ফাকুদ্দীন আবুল ফাতহ ইয়াহইয়া ইবনুল খাশশাব সংস্কার করেছিলেন।

আল-জুরনুল আসফার-এ অবস্থিত একটি মসজিদ যা কাযী আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনুল খাশশান নির্মাণ করেছিলেন।

ইবনুশ শাইহি নামে পরিচিত একটি মসজিদ।

আল-হুকাইর-এর একটি মসজিদ।

আল-মুজান আল-ফুয়ী কর্তৃক নির্মিত একটি মসজিদ, যিনি আলেপ্পোর প্রধান ছিলেন।

আল-আফিফ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে যুরাইক আত-তানুখি কর্তৃক নির্মিত একটি ঝুলন্ত মসজিদ।

আশ-শুয়াবিয়্যিন-এর মাঝখানে অবস্থিত একটি মসজিদ।

শায়খুদ দাওলা আলী ইবনে আহমদ ইবনুল আইসার কর্তৃক নির্মিত একটি মসজিদ।

আল-ওয়াজিহ আদ-দামমানহুরি কর্তৃক নির্মিত একটি মসজিদ।

দারবুল খারাফ-এর শুরুতে অবস্থিত একটি মসজিদ।

ইবনুল মুশাররাফ-এর বাড়ির নিকটবর্তী একটি মসজিদ।

দারবুল হাত্তাবিন-এর শুরুতে অবস্থিত একটি ঝুলন্ত মসজিদ, যা হাজ জাফর ইবনে মুযাহিম নির্মাণ করেছিলেন।

উক্ত গলিতেই অবস্থিত আরও একটি মসজিদ।

দারবুস সাব্বাগিন-এর শুরুতে অবস্থিত একটি মসজিদ।

উক্ত গলিতেই অবস্থিত আরও একটি মসজিদ।

ইবনে ফাখির-এর বাড়ির নিকটবর্তী একটি মসজিদ।

আশ-শারফ ইবনে আবি জারাদাহর বাড়ির নিকটবর্তী একটি মসজিদ।

আওলাদুর রিকাবি নামে পরিচিত একটি মসজিদ।

আত-তানানিরিয়্যিন-এর একটি মসজিদ।

আত-তানাবিরিয়্যিন-এর শুরুতে অবস্থিত একটি মসজিদ।

একটি মসজিদ যেখানে আবু আবদুল্লাহ ইবনুত তুওয়াই ইমামতি করতেন।

আনতাকিয়া ফটকের ভেতরে প্রাচীর সংলগ্ন একটি মসজিদ।

কাকান মসজিদ।

আন-নাকীব ইবনে হামযা মসজিদ।

ইবনুল আইসার নামে পরিচিত একটি মসজিদ।

ইবনুল আগার নামে পরিচিত একটি মসজিদ।

আল-মানা যিরাহ নামে পরিচিত একটি মসজিদ।

আল-কামাল আল-আমা নামে পরিচিত একটি মসজিদ।

যাইলে আকাবায় অবস্থিত একটি মসজিদ।

ইবনুল মুতায়্যাম নামে পরিচিত একটি মসজিদ।

যাইলে আকাবায় ওয়ালীর পুত্র নাসিরুদ্দীনের বাড়ির নিকটবর্তী একটি মসজিদ।

আল-ফায় ইবনে মুনযিরের বাড়ির সম্মুখস্থ একটি মসজিদ।

বনু উসামাহ মসজিদ।

শুরাহিল কর্তৃক নির্মিত একটি মসজিদ।

আল-ফাসিদিয়্যিন মসজিদ।

আল-খারা-রিন-এ অবস্থিত একটি মসজিদ।

দারব ইবনুল হাক্কার-এর শুরুতে অবস্থিত একটি মসজিদ।

রাসুল লাইন-এ অবস্থিত একটি মসজিদ।

দারবুল খারাফ-এর শুরুতে অবস্থিত একটি মসজিদ যা আমীনুদ্দীন আবু তালিব আন-নাকীব আল-ইসহাকি আল-হুসাইনি নির্মাণ করেছিলেন।

দারবুন নাতিলি-র একটি মসজিদ।

সুকুত তাবার-এ অবস্থিত শরীফ যুহরা কর্তৃক নির্মিত একটি মসজিদ।

আল-মুযাইবিলাহ মসজিদ।

বনু আল-আস্তারি-দের বাড়ির এলাকার একটি মসজিদ।

বনু দাব্বুকা-দের বাড়ির নিকটবর্তী একটি মসজিদ।

ইবনু রাওয়াহা মাদরাসা সংলগ্ন একটি মসজিদ।

দারবুল বাযইয়ার-এ অবস্থিত একটি ঝুলন্ত মসজিদ।
(খণ্ড: ১) আল-আলাকুল খাতীরা ফী যিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাযীরা (পৃষ্ঠা: ২৭)
مسجد إنشاء سمس الدين أبي بكر أحمد بن العجمي.

مسجد براس درب الدَيْلَم يُعْرف بابن الزرّاد.

مسجد في الدرب المذكور.

مسجد قرب دار ابن خرخاز بالسهليّة.

ومن غربيّ الدار مسجد أيضاً.

مسجد عند حمّام السرور.

مسجد السويقة.

مسجد بالمدبغة.

مسجد قرب دار عزّ الدين بن مُجلّى.

مسجد مجاور دلر نظام الدين الوزير الطغرائيّ.

مسجد مسمار.

مسجد قرب حمّام السويقة.

مسجد عند القسطل خلف باب النصر.

مسجد تجاه حمّام محي الدين بن العديم.

مسجد الشجرة.

مسجد القصر.

مسجد الزُنَيْقَة ويُعرَف باعنّابة مقصود بالنذور.

مسجد سُوَيْد.

مسجد باَحسيتا.

مسجد داخل باب الفرداديس.

مسجد قرب دور أولاد المقارميّ.

مسجد يُعرَف بالمِهْتار عمر.

مسجد قرب دار ابن الباشق.

مسجد ابن حرب.

مسجد ابن الأقرع.

مسجد ابن حرب أيضاً.

مسجد أسفل رأس التلّ.

مسجد برأس التلّ.

مسجد عند دار جعفر سقيلة.

مسجد أنشأه الحاجّ منصور القصّاب.

مسجد جب عثمان.

مسجد برأس الفرّائين.

مسجد في وسط الفرّائين.

مسجد في آخرها.

مسجد مجاور دار ابن بزّاز الليل.

مسجد مجاور دار بن طوير العشّاء.

مسجد السمّاقة.

مسجد درب المُقَيْدِسي.

مسجد مجاور الصبّانة.

مسجد يُعرَف بأبي خَنْبَش بالسدلة.

مسجد برأس قطيعة السدلة.

مسجد إنشاء النقيب محمّد بن صدقة.

مسجد قبليّ دار ابن السَرُوجيّ.

مسجد إنشاء خازم السمّان.

مسجد قرب دار ابن قُشَام.

مسجد ذيل العقبة من جهة الشمال.

مسجد بفندق العيش مسجد في وسطه.

مسجد صاحب شيزر بالحصّارين.

مسجد الجرارين.

مسجد برأس البنّائين.

مسجد الحسبة بسوق السراجين.

مسجد داخل دار الزكاة.

مسجد خارجها.

مسجد بدرب بني خُمُردكين.

مسجد برأس الشماعين.

 

‌‌المساجد الّتي بين أبواب المدينة

مسجد بين بابَيْ قنّسرين.

مسجد بين بابَي باب العراق.

مسجد بين بابَي باب أربعين.

مسجد بين بابي النصر مسجد بباب الجنان.

مسجد بباب الفراديس.

مسجد بباب السعادة.

مسجد بين بابيْ باب إنطاكية.

مسجد بباب النيرب.

مسجد بباب المقام.

وقد تقدَم لنا فيما سلف في باب المزارات: مسجد عليّ عم بباب الجنان.

ومسجد غَوْث ومسجد شُعَيْب المعروف بالغضانريّ ومسجد النور وفي الأبرجة الكبار الّتي بناها الملك الناصر مساجد. هذه المساجد الّتي أدركها حصري وعدّي من المساجد الّتي يحيط بها سور البلد على ما تركته حين خروخي منها ولا أدّعي الاستقصا. لأنّ معرّض للنسيان وهي مائتان وسبعة عشر مسجداً خارجاً عن المساجد الّتي في أبراج السوار فإناّ لم يمكننا تحقيق عددها ولا الإحاطة بها وقد بلغني أنها دثر أكثرها بعد استيلاء التتر عليها.

 

‌‌ذكر المساجد الّتي بأرباض حلب

مساجد الياروقيّة: مسجد أنشأه الملك الظافر خضر بن الملك الناصر صلاح الدين يوسف ابن أيوب.

مسجد أنشأه عزّ الدين ميكائيل الياروقيّ.

مسجد أنشأه الأسد يوسف بن سُنْغر الياروقي.

مسجد أنشأه شُعَيْب الياروقيّ.

مسجد أنشأه أحمد التركمانيّ.

مسجد أنشأه العلم سليمان الياروقيّ.

مسجد يُعرَف بالشيخ عليّ التركمانيّ.

مسجد إنشاء الفارس خليل الياروقيّ.

مسجد إنشاء الصارم إبراهيم نقيب العسكر.

مسجد بالسوق.

مسجد تجاه مسجد الأنصاريّ.

مسجد أنشأه عبد الرحمان بن مبشّر نقيب شَيْزَر.

مسجد أنشأه الكماتل محمّد الفرّاء العجميّ.

مسجد قبالة حمّام كامل.

مسجد أنشأه الجوالقية. خمسة عشر مسجداً.

 

‌‌مساجد الحاضر السليماني ّ

مسجد الأسد يولق.

مسجد بدر الدين بن إيكز.

مسجد في الجانوسيّة.

مسجد بها أيضاً.

مسجد القوّاسين.

مسجد بحارة معتوق.

مسجد السنجاريّ.

مسجد الأمير سيف الدين بن عَلَم الدين.

مسجد أنشأه المذكور أيضاً.

مسجد لبني عصرون.

مسجد الساقية.

مسجد قظب الدين ويُعرَف بزكي البيطار.

مسجد عَلَم الدين قيصر.

مسجد بحارة الأكراد.

مسجد بحارة المشارقة.

مسجد البدوية.

مسجد الهروي.

مسجد المهرانيّ.

مسجد الجمقدار.

ثلاث مساجد في جب السلسلة في خطّ واحد.

مسجد جمال الدين حبيب.
শামসুদ্দিন আবু বকর আহমদ বিন আল-আজামী কর্তৃক নির্মিত মসজিদ।

দাইলাম গলির মাথায় অবস্থিত মসজিদ, যা ইবনুল জাররাদ নামে পরিচিত।

উল্লিখিত গলিতে অবস্থিত একটি মসজিদ।

সাহলিয়্যাহ এলাকায় ইবনে খারখাজের বাড়ির নিকটবর্তী মসজিদ।

উক্ত বাড়ির পশ্চিম দিকেও একটি মসজিদ রয়েছে।

হাম্মামুস সুরুবের (সুখদায়ক গোসলখানা) নিকটবর্তী মসজিদ।

আস-সুওয়াইকা মসজিদ।

আল-মাদবাগা (চামড়া প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র) এলাকায় অবস্থিত মসজিদ।

ইজ্জুদ্দিন বিন মুজাল্লার বাড়ির নিকটবর্তী মসজিদ।

উজির নিজামুদ্দিন তুগরায়ীর বাড়ির পার্শ্ববর্তী মসজিদ।

মিসমার মসজিদ।

হাম্মামুস সুওয়াইকার নিকটবর্তী মসজিদ।

বাবুন নাসর-এর পেছনে কাসতাল-এর (পানির ফোয়ারা) নিকট অবস্থিত মসজিদ।

মুহিউদ্দিন বিন আল-আদিমের হাম্মামের বিপরীতে অবস্থিত মসজিদ।

আশ-শাজারাহ (বৃক্ষ) মসজিদ।

আল-কাসর (প্রাসাদ) মসজিদ।

আয-যুনাইকা মসজিদ, যা ইন্নাবাহ নামে পরিচিত; এটি মানত করার জন্য প্রসিদ্ধ।

সুওয়াইদ মসজিদ।

বাহসিতা-তে অবস্থিত মসজিদ।

বাবু ফারাদ্দিস-এর অভ্যন্তরে অবস্থিত মসজিদ।

আল-মুকারামী সন্তানদের বাসগৃহসমূহের নিকটবর্তী মসজিদ।

মিহতার ওমর নামে পরিচিত মসজিদ।

ইবনুল বাশিক-এর বাড়ির নিকটবর্তী মসজিদ।

ইবনে হারব মসজিদ।

ইবনুল আকরা মসজিদ।

ইবনে হারব নামে অপর একটি মসজিদ।

টিলার পাদদেশে অবস্থিত মসজিদ।

টিলার চূড়ায় অবস্থিত মসজিদ।

জাফর সাকিলার বাড়ির নিকটবর্তী মসজিদ।

হাজি মনসুর কাসসাব কর্তৃক নির্মিত মসজিদ।

জুব্বু উসমান মসজিদ।

ফাররায়িন (চামড়াজাত পোশাক বিক্রেতা এলাকা) পল্লীর প্রবেশপথে অবস্থিত মসজিদ।

ফাররায়িন পল্লীর মধ্যস্থলে অবস্থিত মসজিদ।

উক্ত পল্লীর শেষ প্রান্তে অবস্থিত একটি মসজিদ।

ইবনে বাযযাযুল লাইল-এর বাড়ির পার্শ্ববর্তী মসজিদ।

ইবনে তুওয়াইর আল-আশা-এর বাড়ির পার্শ্ববর্তী মসজিদ।

আস-সাম্মাকাহ মসজিদ।

দর্বুল মুকাইদিসি (মুকাইদিসি গলি) মসজিদ।

আস-সাব্বানাহ-এর (সাবান কারখানা) পার্শ্ববর্তী মসজিদ।

আস-সাদলাহ এলাকায় আবু খানবাশ নামে পরিচিত মসজিদ।

কাতিআতুস সাদলাহ-এর মাথায় অবস্থিত মসজিদ।

নাকীব মুহাম্মদ বিন সাদাকাহ কর্তৃক নির্মিত মসজিদ।

ইবনুস সারুজী-র বাড়ির দক্ষিণ দিকে অবস্থিত মসজিদ।

খাযিমাস সাম্মান কর্তৃক নির্মিত মসজিদ।

ইবনে কুশাম-এর বাড়ির নিকটবর্তী মসজিদ।

আকাবার পাদদেশে উত্তর দিকে অবস্থিত মসজিদ।

ফান্দাকুল আইশ-এর মসজিদ এবং এর মধ্যস্থলে অপর একটি মসজিদ।

হাসসারিন এলাকায় শাইযারের অধিপতি কর্তৃক নির্মিত মসজিদ।

আল-জাররারিন মসজিদ।

বান্নায়িন (রাজমিস্ত্রি এলাকা) পল্লীর প্রবেশপথে অবস্থিত মসজিদ।

সাররাজিন (জিন প্রস্তুতকারক) বাজারের হিসবাহ (তদারকি কেন্দ্র) মসজিদ।

যাকাত কেন্দ্রের অভ্যন্তরে অবস্থিত মসজিদ।

উক্ত কেন্দ্রের বাইরে অবস্থিত মসজিদ।

বনু খুমুরদাকিন গলিতে অবস্থিত মসজিদ।

শাম্মায়িন (মোমবাতি বিক্রেতা এলাকা) পল্লীর প্রবেশপথে অবস্থিত মসজিদ।

 

‌‌শহরের ফটকসমূহের মধ্যবর্তী মসজিদসমূহ

কিন্নাসরিন ফটকদ্বয়ের মধ্যবর্তী মসজিদ।

ইরাক ফটকদ্বয়ের মধ্যবর্তী মসজিদ।

আরবাঈন ফটকদ্বয়ের মধ্যবর্তী মসজিদ।

নাসর ফটকদ্বয়ের মধ্যবর্তী মসজিদ এবং বাবু জিনানে অবস্থিত একটি মসজিদ।

বাবু ফারাদ্দিস-এ অবস্থিত মসজিদ।

বাবুস সা’আদাহ-তে অবস্থিত মসজিদ।

আন্তাকিয়া ফটকদ্বয়ের মধ্যবর্তী মসজিদ।

বাবু নাইরাব-এ অবস্থিত মসজিদ।

বাবু মাকাম-এ অবস্থিত মসজিদ।

মাজার সংক্রান্ত অধ্যায়ে ইতিপূর্বে আমাদের আলোচনায় গত হয়েছে: বাবু জিনানে অবস্থিত আলীর চাচা কর্তৃক নির্মিত মসজিদ।

এবং গাওস মসজিদ, গুদাইরি নামে পরিচিত শুআইব মসজিদ, নূর মসজিদ এবং মালিকুন নাসির কর্তৃক নির্মিত বিশাল বুর্জ বা টাওয়ারসমূহে অবস্থিত মসজিদসমূহ। এই মসজিদগুলোই আমার গণনা ও পরিসংখ্যানে এসেছে যা শহরের প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত এবং আমি শহর ত্যাগের সময় যা বিদ্যমান দেখে এসেছি। আমি পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের দাবি করি না, কারণ মানুষ বিস্মৃতির শিকার হতে পারে। শহরের প্রাচীরের টাওয়ারে অবস্থিত মসজিদগুলো ব্যতীত এগুলোর সংখ্যা দুইশত সতেরোটি; টাওয়ারের মসজিদগুলোর প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ বা পূর্ণাঙ্গ আয়ত্ত করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, তাতারদের শহর দখলের পর এগুলোর অধিকাংশই বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

 

‌‌হালাবের উপশহরসমূহের মসজিদসমূহের বর্ণনা

ইয়ারুকিয়্যাহ মসজিদসমূহ: মালিকুজ জাফির খিজির বিন মালিকুন নাসির সালাহুদ্দিন ইউসুফ ইবনে আইয়ুব কর্তৃক নির্মিত মসজিদ।

ইজ্জুদ্দিন মিকাইল আল-ইয়ারুকী কর্তৃক নির্মিত মসজিদ।

আসাদ ইউসুফ বিন সুনকর আল-ইয়ারুকী কর্তৃক নির্মিত মসজিদ।

শুআইব আল-ইয়ারুকী কর্তৃক নির্মিত মসজিদ।

আহমদ আত-তুর্কমানী কর্তৃক নির্মিত মসজিদ।

আলাম সুলাইমান আল-ইয়ারুকী কর্তৃক নির্মিত মসজিদ।

শেখ আলী তুর্কমানী নামে পরিচিত মসজিদ।

ফারিস খলিল আল-ইয়ারুকী কর্তৃক নির্মিত মসজিদ।

সারিম ইব্রাহিম নাকীবুল আসকার কর্তৃক নির্মিত মসজিদ।

বাজারে অবস্থিত মসজিদ।

আনসারী মসজিদের সম্মুখে অবস্থিত মসজিদ।

শাইযারের নাকীব আবদুর রহমান বিন মুবাশির কর্তৃক নির্মিত মসজিদ।

কামাতাল মুহাম্মদ আল-ফাররা আল-আজামী কর্তৃক নির্মিত মসজিদ।

কামিল হাম্মামের সম্মুখে অবস্থিত মসজিদ।

জাওয়ালিকিয়া কর্তৃক নির্মিত মসজিদ। এই অংশে মোট পনেরোটি মসজিদ।

 

‌‌হাযিরুস সুলাইমানী মহল্লার মসজিদসমূহ

আসাদ ইউলাক মসজিদ।

বদরুদ্দিন বিন আইকাজ মসজিদ।

জানুসিয়্যাহ-তে অবস্থিত মসজিদ।

সেখানে অবস্থিত আরও একটি মসজিদ।

কাওয়াসিন (ধনুর্ধর) পাড়ায় অবস্থিত মসজিদ।

মাতুক পাড়ায় অবস্থিত মসজিদ।

সিনজারী মসজিদ।

আমির সাইফুদ্দিন বিন আলামুদ্দিনের মসজিদ।

উল্লিখিত আমির কর্তৃক নির্মিত অপর একটি মসজিদ।

বনু আসরুন গোত্রের মসজিদ।

আস-সাকিয়া (সেচনালা) মসজিদ।

কুতুবুদ্দিন মসজিদ, যা যাকি আল-বাইতার নামে পরিচিত।

আলামুদ্দিন কায়সার মসজিদ।

কুর্দি পাড়ায় অবস্থিত মসজিদ।

মাশারিকা (পূর্বদেশীয়) পাড়ায় অবস্থিত মসজিদ।

বদবিয়্যাহ মসজিদ।

আল-হারাভী মসজিদ।

আল-মাহরানী মসজিদ।

আল-জামাদার মসজিদ।

জুব্বুস সিলসিলাহ-তে একই সারিতে অবস্থিত তিনটি মসজিদ।

জামালুদ্দিন হাবীব মসজিদ।
(খণ্ড: ১) আল-আলাকুল খাতীরা ফী যিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাযীরা (পৃষ্ঠা: ২৮)
مسجد الدكاشرة.

مسجد عند الجسر.

مسجد يولى.

مسجد أمير عليّ.

مسجد البَشْنوِيّين.

مسجد الزرزاريّ.

مسجد نور الدولة.

مسجد بباب العقد.

مسجد أولاد التاجر.

مسجد الزاهر.

مسجد مجاور الزاهر.

مسجد ابن البريدين.

مسجد ابن الدِزْرِمش.

مسجد عريف الرابية.

مسجد بجورة جفّال.

مسجد خان السبيل.

مسجد ابن قليج الظاهريّ.

مسجد ابن كشتمر.

مسجد الحاجّ سابق.

مسجد صالح.

مسجد شعبان.

مسجد قماري.

مسجد عبد الرحمان.

مسجد الصفديّ.

مسجد ناصرالدين.

مسجد جار بَزيك.

مسجد ابن ألبَيْ.

مسجد أبو أزبك.

مسجد الحاج أيّوب.

مسجد أغاجي.

مسجد قَيْدوح.

مسجد قِزل.

مسجد الإصفهانيّ.

مسجد مسجد الشهاب رسلان.

مسجد الفارس جُمق.

مسجد الكركيّ.

مسجد قِير حاجِي.

مسجد تميم.

مسجد زُهَيْر.

مسجد طُمان.

مسجد أمير تركمان.

مسجد الحاجب موسى.

مسجد كوجبا.

مسجد عدي.

مسجد الحاجّ افتخار.

مسجد الحاجّ كموشبغا الظاهريّ.

مسجد البغراسيّ.

مسجد بدر الدين قِزل.

مسجد أولاد المشمّر.

مسجد مكنشي.

مسجد الشيخ قصلوا.

مسجد قايبا.

مسجد المسكيّ العجميّ.

مسجد مجد الدّولة.

مسجد نصر الجواليقيّ.

مسجد البكي.

مسجد كوبخ. مائة وعشرة.

 

‌‌ذكر مساجد الرابية وجورة جفّال

مسجد محمود الجلاّد.

مسجد ابن سراج.

مسجد خان الرئيس.

مسجد سوق الحرافشة.

مسجد سوار.

مسجد في القطّانين.

مسجد الكامليّة.

مسجد ابن العالمة.

مسجد البكي.

مسجد قرلوا.

مسجد الخادم.

مسجد المدرّج.

مسجد عند الفقّاعيّين.

مسجد الحوارنة.

مسجد قبّة النذر.

مسجد المشارفة.

مسجد ابن الحُوَيْرِيَّة.

مسجد بدر الدين إسرائيل.

مسجد عليّ بن معتوق.

مسجد صَمْدَل.

مسجد الرمّاح.

مسجد هارون.

مسجد الشيخ ابن التركمانيّ.

مساجد أربعة بسوق التركمان.

مسجد الصخور.

مسجد ابن عبيد.

مسجد الصفيّ المصلّي.

مسجد الأتباكيّ.

مسجد سعد الدين الجوهريّ.

مسجد أمير تركمان.

مسجد ستّ حارم.

مسجد الظاهريّ.

مسجد جاروق.

مسجد الشيخ أبي بكر.

مسجد الشيخ محمّد الجُردكيّ.

مسجد إسماعيل الخيّاط.

مسجد حسن.

مسجد ستّ نَيْلوفر.

مسجد حسن الفقّاعيّ.

مسجد العزلة.

مسجد مالي.

مسجد له أيضاً.

مسجد ابن القمس.

مسجد حسن البالسيّ.

مسجد القبّة.

مسجد ابن كشيز.

مسجد الحاجّ خلف.

مسجد الفيء.

مسجد محاسن الأحدب.

مسجد الشيخ صدّيق.

مسجد شيخ السنّة.

مسجد بردا.

مسجد جلال الدين الإربليّ.

مسجد الحاجّ محمود.

مسجد الصارم.

مسجد طعم.

مسجد شرباريك.

مسجد حبيب.

مسجد التاجر.

مسجد ابن يَلَواح.

مسجد سعد الدين النوريّ.

مسجد الشهاب بُلْدُق.

مسجد الحاجّ موسى.

مسجد قُنُق.

مسجد إيكز.

مسجد القطبيّة.

مسجد حسين الأعرج.

مسجد ابن براق.

مسجد الحاجّ شعبان.

مسجد دغري ورمش.

مسجد الحاجّ ربيعة.

مسجد أولاد بُطُق جي.

مسجد القطبيّة.

مسجد نور الدولة.

مسجد ناصر الدين بن الفُتّيتيّ.

مسجد ابن سارة.

مسجدان لقيصر.

مسجد البيطار.

مسجد جمال الدولة.

مسجد ابن التقوى.

مسجد ميمون القصريّ.

مسجد تجاه دار الشهاب بُلْدُق.

مسجد عند دار الحاجّ أوشر.

مسجد عند دار حوليّين.

مسجد مُحسّن.

مسجد الميْدان.

مسجد مُعلّق.

مسجد الخلاطيّ.

مسجد ابن عَلَم الدين.

مسجد بسوق الغنم الضيّق.

مسجد الحاجّ شعبان برأس الميدان.

مسجد ممدود.

مسجد ابن عوجان.

مسجد شادّ الدواوين.

مسجد الأعمى.

مسجد الخطيب عثمان.

مسجد علاء الدين ابن طَيْلو.

مسجدا عزّ الدين.

مسجد جعفر السمّان.

مسجد الحاجّ أيتبا.

مسجد الحاجّ عثمان الساقية.

مسجد عزّ الدين إدريس.

مسجد عَلَم الدين بين البابَيْن.

مسجد بدران.

مسجد مجاهد.

مسجد الشيخ أحمد.

مسجد ابن بدران.

مسجد الحاجّ منصور.

مسجد الحاجّ خلف.

مسجد ابن باسك.

مسجد هارون.

مسجد حسام التاجر.

مسجد الخوارزميّ.
আদ-দাকাশিরাহ মসজিদ।

সেতুর নিকটবর্তী মসজিদ।

ইউলা মসজিদ।

আমির আলি মসজিদ।

আল-বাশনাবিয়্যিন মসজিদ।

আয-যারযারানি মসজিদ।

নূরুদ দাওলাহ মসজিদ।

বাবুল আকদ-এ অবস্থিত মসজিদ।

আওলাদুত তাজিন মসজিদ।

আয-যাহির মসজিদ।

আয-যাহিরের পার্শ্ববর্তী মসজিদ।

ইবনুল বারাইদিন মসজিদ।

ইবনু আদ-দিযরিমেশ মসজিদ।

আরিফুর রাবিয়াহ মসজিদ।

জাওরাতু জাফফাল-এ অবস্থিত মসজিদ।

খানুস সাবিল মসজিদ।

ইবনু কুলিজ আয-যাহিরি মসজিদ।

ইবনু কুশতুমুর মসজিদ।

হাজি সাবিক মসজিদ।

সালিহ মসজিদ।

শাবান মসজিদ।

কুমারি মসজিদ।

আবদুর রহমান মসজিদ।

আস-সাফাদি মসজিদ।

নাসিরুদ্দিন মসজিদ।

জার বাযিক মসজিদ।

ইবনু আল-বাই মসজিদ।

আবু আযবাক মসজিদ।

হাজি আইয়ুব মসজিদ।

আগাজি মসজিদ।

কাইদুহ মসজিদ।

কিযিল মসজিদ।

আল-ইসফাহানি মসজিদ।

শিহাব রুসলান মসজিদ।

আল-ফারিস জুমুক মসজিদ।

আল-কারাকি মসজিদ।

কীর হাজি মসজিদ।

তামিম মসজিদ।

যুহাইর মসজিদ।

তুমান মসজিদ।

আমির তুর্কিমান মসজিদ।

হাজিব মুসা মসজিদ।

কুজবা মসজিদ।

আদি মসজিদ।

হাজি ইফতিখার মসজিদ।

হাজি কুমুশবুগা আয-যাহিরি মসজিদ।

আল-বুগরাসি মসজিদ।

বদুরুদ্দিন কিযিল মসজিদ।

আওলাদুল মুশাম্মির মসজিদ।

মাকনাশি মসজিদ।

শেখ কাসলুয়া মসজিদ।

কাইবা মসজিদ।

আল-মিসকি আল-আজামি মসজিদ।

মাজদুদ দাওলাহ মসজিদ।

নাসর আল-জাওয়ালিকি মসজিদ।

আল-বাকি মসজিদ।

কুবখ মসজিদ। একশত দশটি।

 

‌‌রাবিয়াহ এবং জাওরাতু জাফফালের মসজিদসমূহের বিবরণ

মাহমুদ আল-জাল্লাদ মসজিদ।

ইবনু সিরাজ মসজিদ।

খানুর রইস মসজিদ।

সুকুল হারাফিশাহ মসজিদ।

সিওয়ার মসজিদ।

আল-কাত্তানিন পল্লীর মসজিদ।

আল-কামিলিয়্যাহ মসজিদ।

ইবনুল আলিমাহ মসজিদ।

আল-বাকি মসজিদ।

কারলুয়া মসজিদ।

আল-খাদিম মসজিদ।

আল-মুদাররাজ মসজিদ।

আল-ফাক্কায়িন-দের নিকটবর্তী মসজিদ।

আল-হাওয়ারানি মসজিদ।

কুব্বাতুন নাযর মসজিদ।

আল-মুশারিফাহ মসজিদ।

ইবনুল হুওয়াইরিয়্যাহ মসজিদ।

বদুরুদ্দিন ইসরাইল মসজিদ।

আলি বিন মাতুক মসজিদ।

সামদাল মসজিদ।

আর-রাম্মাহ মসজিদ।

হারুন মসজিদ।

শেখ ইবনুত তুর্কিমানি মসজিদ।

তুর্কিমান বাজারে অবস্থিত চারটি মসজিদ।

আস-সুখুর মসজিদ।

ইবনু উবাইদ মসজিদ।

আস-সাফি আল-মুসাল্লি মসজিদ।

আল-আতবাকি মসজিদ।

সাদউদ্দিন আল-জাওহারি মসজিদ।

আমির তুর্কিমান মসজিদ।

সিত্তে হারিম মসজিদ।

আয-যাহিরি মসজিদ।

জারুক মসজিদ।

শেখ আবু বকর মসজিদ।

শেখ মুহাম্মদ আল-জুরদুকি মসজিদ।

ইসমাইল আল-খাইয়াত মসজিদ।

হাসান মসজিদ।

সিত্তে নাইলুফার মসজিদ।

হাসান আল-ফাক্কায়ি মসজিদ।

আল-উযলাহ মসজিদ।

মালি মসজিদ।

তার আরও একটি মসজিদ।

ইবনুল কুমস মসজিদ।

হাসান আল-বালিসি মসজিদ।

আল-কুব্বাহ মসজিদ।

ইবনু কিশিয মসজিদ।

হাজি খালাফ মসজিদ।

আল-ফাই মসজিদ।

মাহাসিন আল-আহদাব মসজিদ।

শেখ সিদ্দিক মসজিদ।

শাইখুস সুন্নাহ মসজিদ।

বারদা মসজিদ।

জালালুদ্দিন আল-ইরবিলি মসজিদ।

হাজি মাহমুদ মসজিদ।

আস-সারিম মসজিদ।

তউম মসজিদ।

শারবারিক মসজিদ।

হাবিব মসজিদ।

তাজির (বণিক) মসজিদ।

ইবনু ইয়ালোয়াহ মসজিদ।

সাদউদ্দিন আন-নুরি মসজিদ।

শিহাব বুলদুক মসজিদ।

হাজি মুসা মসজিদ।

কুনুক মসজিদ।

ইকয মসজিদ।

আল-কুতুবিয়্যাহ মসজিদ।

হুসাইন আল-আরাজ মসজিদ।

ইবনু বারাক মসজিদ।

হাজি শাবান মসজিদ।

দাগরি ওয়ারামিশ মসজিদ।

হাজি রাবিআহ মসজিদ।

আওলাদু বুতুকজি মসজিদ।

আল-কুতুবিয়্যাহ মসজিদ।

নূরুদ দাওলাহ মসজিদ।

নাসিরুদ্দিন ইবনুল ফুতাইতি মসজিদ।

ইবনু সারাহ মসজিদ।

কায়সারের নির্মিত দুটি মসজিদ।

আল-বাইতার মসজিদ।

জামালুদ দাওলাহ মসজিদ।

ইবনু তাকওয়া মসজিদ।

মাইমুন আল-কাসরি মসজিদ।

শিহাব বুলদুকের বাড়ির বিপরীত দিকের মসজিদ।

হাজি উশার এর বাড়ির নিকটবর্তী মসজিদ।

হাওলিয়্যিন এর বাড়ির নিকটবর্তী মসজিদ।

মুহসিন মসজিদ।

আল-মাইদান মসজিদ।

মুআল্লাক (ঝুলন্ত) মসজিদ।

আল-খালাতি মসজিদ।

ইবনু আলামুদ্দিন মসজিদ।

সংকীর্ণ ভেড়ার বাজারে অবস্থিত মসজিদ।

ময়দানের মুখে হাজি শাবান মসজিদ।

মামদুদ মসজিদ।

ইবনু আওজান মসজিদ।

শাদ্দুদ দাওয়াবিন মসজিদ।

আল-আমা মসজিদ।

খতিব উসমান মসজিদ।

আলাউদ্দিন ইবনু তাইলু মসজিদ।

ইযযুদ্দিনের দুটি মসজিদ।

জাফর আস-সাম্মান মসজিদ।

হাজি আইতবা মসজিদ।

হাজি উসমান আস-সাকিয়াহ মসজিদ।

ইযযুদ্দিন ইদ্রিস মসজিদ।

দুই দরজার মাঝে আলামুদ্দিন মসজিদ।

বাদরান মসজিদ।

মুজাহিদ মসজিদ।

শেখ আহমদ মসজিদ।

ইবনু বাদরান মসজিদ।

হাজি মনসুর মসজিদ।

হাজি খালাফ মসজিদ।

ইবনু বাসিক মসজিদ।

হারুন মসজিদ।

হুসাম আত-তাজির মসজিদ।

আল-খাওয়ারিযমি মসজিদ।
(খণ্ড: ১) আল-আলাকুল খাতীরা ফী যিকর উমারাইশ শাম ওয়াল জাযীরা (পৃষ্ঠা: ২৯)
مسجد شرف الدين القزوينيّ.

مسجد ابن الحبّال.

مسجد السخاويّ.

مسجد الشجاع النقيب.

مسجد المهرانيّ.

مسجد عزيز.

مسجد شوحة.

مسجد الشجاع إبراهيم.

مسجد الحسام لاجين.

مسجد عزّ الدين.

مسجد عين الدولة.

مسجد الخادم.

مسجد عبّاس.

مسجد أبي القاسم.

مسجد البابليّ.

مسجد الحاجّ الطحّان.

مسجد المؤيّد.

ثلاث مساجد بالمصلّى.

مسجد القيمريّ.

مسجد عليّ الصُفريّ.

مسجد العزيزيّ.

مسجد قطب الدين.

مسجد آشود.

مسجد كوجبا النوريّ.

مسجد المشطوبيّ.

مسجد رفيق.

مسجد الناصح.

مسجد علاء الدين.

مسجد ياروق.

مسجد الصامت.

مسجد ابن عُبيد.

مسجد ابن المعظّميّ.

مسجد عمر بن يوسف.

مسجد ابن النُلبل.

مسجد ابن الطرطوسيّ.

مسجد أبي بكر.

مسجد ابن بُقْسُم.

مسجد عيسى الجوبان.

مسجد عليجا.

مسجد القطب بن الشيخة.

مسجد طُرُنْطايْ.

مسجد كُرْدَك.

مسجد الفَرْزَ كُبَك.

مسجد طَنْطَت.

مسجد أولاد باذنجان.

مسجد أولاد الصفريّ.

مسجد أبي العزّ.

مسجد الشيخ أحمد.

مسجد الشيخ عبد الرحمان.

مسجد الشيخ.

مسجد الحجر.

مسجد العجميّ.

مسجد الحسام.

مسجد الحاج مظفّر.

مسجد حمّاد. مائة وثمانية وستون.

 

‌‌ذكر المساجد الّتي بالظاهريّة

مسجد جعفر سفلية.

مسجد غلام راشد.

مسجد أولاد الحاجّ محمّد.

مسجد أبي غانم.

مسجد ابن البيطار.

مسجد النور.

مسجد إبراهيم بن يعقوب.

مسجد عليّ بن السائحيّ.

مسجد الجمال الكريميّ.

مسجد مقلّد بن خزيمة.

مسجد الرئيس عليّ.

مسجد الحاجّ الروّاس.

مسجد في عُقيبة الجسر.

مسجد الأطروش.

مسجد الشيخ مَرْو.

مسجد العجميّ.

مسجد الرئيس المعلّق عند حمّامه.

مسجد الزنكانيّ.

مسجد علاء الدين فادا أغلي.

مسجد الشيخ يونس.

مسجد الشيخ حسن.

مسجد العَلَم سليمان.

مسجد زين الدين يوسف.

مسجد بركات.

مسجد كوبخ.

مسجد الصارم قايمار.

مسجدقوقو.

مسجد البرهان.

مسجد فلاح.

مسجد الأسمر.

مسجد الحاجّ إلياس.

مسجد الكدي.

مسجد قرالا.

مسجد طاطلمش.

مسجد الشيخ حدا.

مسجد أيْدُغْمِش.

مسجد سيف الدين آدم.

مسجد سيف الدين الطويل.

مسجد ياروق.

مسجد طوغان.

مسجد عجى.

مسجد الحاجّ عليّ القزّاز.

مسجد الشمس خضر.

مسجد أيْدُغمِش.

مسجد أيّوب المنادي.

مسجد الكحجي.

مسجد الشيخ عمر.

مسجد شُعَيْب.

مسجد الفقيه عبد الواحد.

مسجد عبد الصمد.

مسجد الحاجّ أحمد الياروقيّ.

مسجد الحاجّ محمّد البالسيّ.

مسجد الحاجّ رجب.

مسجد قرا خليل.

مسجد الطويل.

مسجد قُلارجي.

مسجد الشيخ ألْبَيْ.

مسجد الشيخ حمزة.

مسجد الشيخ منجك.

مسجد منبجي.

مسجد الحاجّ إسحاق القزّاز.

مسجد سيف الدين البزّاز.

مسجد الأسد الرُهاويّ.

مسجد ابن كوجبا.

مسجد الحورانيّ.

مسجد ماضي.

مسجد الفارس حيّان.

مسجد ابن بُرْصُق.

مسجد أُرْتُف.

مسجد أبري.

مسجد شعبان بن درّيّ.

مسجد موسى الأفطس.

مسجد شمس الدين موسى.

مسجد شهاب الدين بن قُلدان.

مسجد عزّ الدولة.

مسجد أولاد عبد الرحمان.

مسجد صاروجا.

مسجد الأسد بن أَقْطُغان.

مسجد قُشْطُغان.

مسجد الشيخ نوحى.

مسجد الشيخ حسين.

مسجد هنّاس.

مسجد الشهاب بن رُسْتُم.

مسجد الحاجّ إيناسيّ.

مسجد الحاجّ ياقوت.

مسجد يغبسان.

مسجد عليّ بن عبّاس.

مسجد أقْطُفان.

مسجد إينا غازي.

مسجد البدر حسّان.

مسجد أغغجاري الروميّ.

مسجد ابن داود الأعزازيّ.

مسجد ابن سَلامِش البنّاء.

مسجد قليج العيني.

مسجد ابن العجوز.

مسجد قلجس.

مسجد أبي بُرَيْك.

مسجد عند دار ابن دينار.

مسجد مجاور دار أمير أخور. تسعة وتسعون.

 

‌‌ذكر المساجد الّتي بالرمادة

مسجد الرصّاص.

مسجد جمال الدين.

مسجد ابن داي.

مسجد يوسف الظاهريّ.

مسجد سعد الدين.

مسجد ابن عين قور.

مسجد بطوه.

مسجد الحاجب سخظة.

مسجد ظُفَيْر.

مسجد ياسمين.

مسجد الأندريّ مسجد غلام الشيخة.

مسجد النقيب.
শরফ উদ্দীন আল-কাজভিনি মসজিদ।

ইবনুল হাব্বাল মসজিদ।

আস-সাখাভি মসজিদ।

আশ-শুজা আন-নাকীব মসজিদ।

আল-মেহরানি মসজিদ।

আজিজ মসজিদ।

শূহাহ মসজিদ।

আশ-শুজা ইব্রাহিম মসজিদ।

আল-হুসাম লাজীন মসজিদ।

ইযযুদ্দীন মসজিদ।

আইনুদ দাওলা মসজিদ।

আল-خাদিম মসজিদ।

আব্বাস মসজিদ।

আবুল কাসেম মসজিদ।

আল-বাবিলি মসজিদ।

আল-হাজ আত্ব-ত্বাহহান মসজিদ।

আল-মুয়াইয়্যাদ মসজিদ।

মুসাল্লায় তিনটি মসজিদ।

আল-কায়মারি মসজিদ।

আলী আস-সুফরি মসজিদ।

আল-আজিজি মসজিদ।

কুতুবুদ্দীন মসজিদ।

আশুদ মসজিদ।

কুজবা আন-নুরি মসজিদ।

আল-মাশতুবি মসজিদ।

রফিক মসজিদ।

আন-নাসিহ মসজিদ।

আলাউদ্দীন মসজিদ।

ইয়ারুক মসজিদ।

আস-সামিত মসজিদ।

ইবনে উবায়েদ মসজিদ।

ইবনুল মুয়াযযামি মসজিদ।

উমর ইবনে ইউসুফ মসজিদ।

ইবনুন নুলবুল মসজিদ।

ইবনুত তারতুসি মসজিদ।

আবু বকর মসজিদ।

ইবনে বুকসুম মসজিদ।

ঈসা আল-জুবান মসজিদ।

আলিজা মসজিদ।

আল-কুতুব বিন আশ-শাইখা মসজিদ।

তুরুনতাই মসজিদ।

কুরদাক মসজিদ।

আল-ফারযা কুবাক মসজিদ।

তান্তাত মসজিদ।

আওলাদে বাদিনজান মসজিদ।

আওলাদে আস-সুফরি মসজিদ।

আবুল ইয মসজিদ।

শাইখ আহমাদ মসজিদ।

শাইখ আব্দুর রহমান মসজিদ।

শাইখ মসজিদ।

আল-হাজার মসজিদ।

আল-আজামি মসজিদ।

আল-হুসাম মসজিদ।

আল-হাজ মুজাফফর মসজিদ।

হাম্মাদ মসজিদ। একশত আটষট্টিটি।

 

‌‌জহিরিয়া এলাকায় অবস্থিত মসজিদসমূহের বর্ণনা

জাফর সুফলিয়া মসজিদ।

গুলাম রাশিদ মসজিদ।

আওলাদে হাজ মুহাম্মদ মসজিদ।

আবু গানিম মসজিদ।

ইবনুল বাইতার মসজিদ।

আন-নূর মসজিদ।

ইব্রাহিম ইবনে ইয়াকুব মসজিদ।

আলী ইবনে আস-সাইহি মসজিদ।

আল-জামাল আল-কারিমী মসজিদ।

মুকালাদ ইবনে খুজাইমা মসজিদ।

রাইস আলী মসজিদ।

আল-হাজ আর-রাওয়াস মসজিদ।

উকাইবাতুল জাসর এর একটি মসজিদ।

আল-আতরুশ মসজিদ।

শাইখ মারওয় মসজিদ।

আল-আজামি মসজিদ।

রাইস আল-মুআল্লাক মসজিদ, যা তাঁর গোসলখানার নিকটে অবস্থিত।

আজ-জানকানি মসজিদ।

আলাউদ্দীন ফাদা অগলি মসজিদ।

শাইখ ইউনুস মসজিদ।

শাইখ হাসান মসজিদ।

আল-আলাম সুলাইমান মসজিদ।

জয়নুদ্দীন ইউসুফ মসজিদ।

বারাকাত মসজিদ।

কুবখ মসজিদ।

আস-সারিম কায়মার মসজিদ।

কুকু মসজিদ।

আল-বুরহান মসজিদ।

ফাল্লাহ মসজিদ।

আল-আসমার মসজিদ।

আল-হাজ ইলিয়াস মসজিদ।

আল-কাদি মসজিদ।

কারালা মসজিদ।

তাতলিমুশ মসজিদ।

শাইখ হাদা মসজিদ।

আইদুগমিশ মসজিদ।

সাইফুদ্দীন আদম মসজিদ।

সাইফুদ্দীন আত-তবিল মসজিদ।

ইয়ারুক মসজিদ।

তুগান মসজিদ।

আজা মসজিদ।

আল-হাজ আলী আল-কাযযায মসজিদ।

আশ-শামস খিজির মসজিদ।

আইদুগমিশ মসজিদ।

আইয়ুব আল-মুনাদি মসজিদ।

আল-কাহজি মসজিদ।

শাইখ উমর মসজিদ।

শুআইব মসজিদ।

ফকিহ আব্দুল ওয়াহিদ মসজিদ।

আব্দুস সামাদ মসজিদ।

আল-হাজ আহমাদ আল-ইয়ারুকি মসজিদ।

আল-হাজ মুহাম্মদ আল-বালিসি মসজিদ।

আল-হাজ রজব মসজিদ।

কারা খলিল মসজিদ।

আত-তবিল মসজিদ।

কুলারজি মসজিদ।

শাইখ আলবে মসজিদ।

শাইখ হামজাহ মসজিদ।

শাইখ মানজাক মসজিদ।

মানবিজি মসজিদ।

আল-হাজ ইসহাক আল-কাযযায মসজিদ।

সাইফুদ্দীন আল-বাযযায মসজিদ।

আল-আসাদ আর-রুহাভি মসজিদ।

ইবনে কুজবা মসজিদ।

আল-হুরানি মসজিদ।

মাযি মসজিদ।

আল-ফারিস হাইয়ান মসজিদ।

ইবনে বুরসুক মসজিদ।

উরতুক মসজিদ।

আবরী মসজিদ।

শা’বান ইবনে দুরী মসজিদ।

মুসা আল-আফতাস মসজিদ।

শামসুদ্দীন মুসা মসজিদ।

শিহাবুদ্দীন ইবনে কুলদান মসজিদ।

ইযযুদ দাওলা মসজিদ।

আওলাদে আব্দুর রহমান মসজিদ।

সারুজা মসজিদ।

আল-আসাদ বিন আকতুগান মসজিদ।

কুশতুগান মসজিদ।

শাইখ নুহী মসজিদ।

শাইখ হুসাইন মসজিদ।

হান্নাস মসজিদ।

আশ-শিহাব বিন রুস্তম মসজিদ।

আল-হাজ ইনাসি মসজিদ।

আল-হাজ ইয়াকুত মসজিদ।

ইয়াগবিসান মসজিদ।

আলী ইবনে আব্বাস মসজিদ।

আকতুফান মসজিদ।

ইনা গাজি মসজিদ।

আল-বদর হাসান মসজিদ।

আগগজারি আর-রুমি মসজিদ।

ইবনে দাউদ আল-আজাজি মসজিদ।

ইবনে সালামিশ আল-বান্না মসজিদ।

কালীজ আল-আইনি মসজিদ।

ইবনুল আজুজ মসজিদ।

কালজাস মসজিদ।

আবু বুরাইক মসজিদ।

ইবনে দিনারের বাড়ির কাছের মসজিদ।

আমির আখুর এর বাড়ির পাশের মসজিদ। নিরানব্বইটি।

 

‌‌রামাদাহ এলাকায় অবস্থিত মসজিদসমূহের বর্ণনা

আর-রাসসাস মসজিদ।

জামালুদ্দীন মসজিদ।

ইবনে দাই মসজিদ।

ইউসুফ আজ-জহিরি মসজিদ।

সাদ উদ্দীন মসজিদ।

ইবনে আইন কৌর মসজিদ।

বাতুয়াহ মসজিদ।

আল-হাজিব সাখজাহ মসজিদ।

জুফায়ের মসজিদ।

ইয়াসমিন মসজিদ।

আল-আন্দারি মসজিদ। শাইখার গোলামের মসজিদ।

আন-নাকীব মসজিদ।