(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানযূমাতি ইবনি আবী দাউদ আল-হাইইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
التحفة السنية شرح منظومة ابن أبي داود الحائية   (عبد الرزاق بن عبد المحسن البدر)

القسم: العقيدة


الكتاب: التحفة السنية شرح منظومة ابن أبي داود الحائية

المؤلف: عبد الرزاق بن عبد المحسن البدر

الناشر: مطابع أضواء المنتدى

عدد الصفحات: 124

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানজুমাত ইবন আবী দাউদ আল-হায়্যিয়াহ   (আব্দুর রাজ্জাক বিন আব্দুল মুহসিন আল-বাদর)

বিভাগ: আকিদা


বই: আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানজুমাত ইবন আবী দাউদ আল-হায়্যিয়াহ

লেখক: আব্দুর রাজ্জাক বিন আব্দুল মুহসিন আল-বাদর

প্রকাশক: আদওয়াউল মুনতাদা প্রেস

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৪

[বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১ হিজরী

(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানযূমাতি ইবনি আবী দাউদ আল-হাইইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌مقدمة

الحمد لله رب العالمين، والعاقبة للمتقين، والصلاة والسلام على إمام المرسلين نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

أما بعد.. فهذا شرح مختصر للقصيدة السنية والمنظومة البهية المشهورة بـ (الحائية) لناظمها الإمام المحقق والحافظ المتقن شيخ بغداد أبي بكر عبد الله بن أبي داود سليمان بن الأشعث السجستاني ابن صاحب السنن الإمام المعروف رحمهما الله.

وهي منظومة شائعة الذكر، رفيعة الشأن، عذبة الألفاظ، سهلة الحفظ، لها مكانة عالية ومنزلة رفيعة عند أهل العلم في قديم الزمان وحديثه، وقد تواتر نقلها عن ابن أبي داود رحمة الله فقد رواها عنه غير واحد من أهل العلم كالآجري، وابن بطة، وابن شاهين وغيرهم، وثلاثتهم من تلاميذ الناظم، وتناولها غير واحد من أهل العلم بالشرح.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলদের ইমাম আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাথীদের ওপর।

অতঃপর... এটি সুনিপুণ ইমাম, প্রাজ্ঞ হাফেজ, বাগদাদের শাইখ আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে আবু দাউদ সুলায়মান ইবনুল আশআস আস-সিজিস্তানি—যিনি বিখ্যাত সুনান গ্রন্থকারের পুত্র (আল্লাহ তাদের উভয়ের ওপর দয়া করুন)—কর্তৃক রচিত উজ্জ্বল কাসিদা ও দীপ্তিময় কাব্য যা 'আল-হাইয়্যাহ' নামে পরিচিত, তার একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা।

এটি একটি বহুল আলোচিত কাব্য, উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন, যার শব্দাবলি শ্রুতিমধুর এবং মুখস্থ করা সহজ। প্রাচীন ও আধুনিক কালের আলেমদের নিকট এর উচ্চতর স্থান ও মর্যাদা রয়েছে। ইবনে আবু দাউদ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে এটি অকাট্যভাবে বর্ণিত হয়েছে; আল-আজুরি, ইবনে বাত্তাহ, ইবনে শাহীন এবং আরও অনেক আলেম তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, যাদের তিনজনই গ্রন্থকারের ছাত্র ছিলেন। বহু আলেম এর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানযূমাতি ইবনি আবী দাউদ আল-হাইইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
قال الذهبي رحمه الله منوهاً بهذه المنظومة مبيناً لأهميتها: " هذه القصيدة متواترة عن ناظمها رواها الآجري وصنف لها شرحاً، وأبو عبد الله ابن بطة في الإبانة"1، وممن شرحها ابن البناء 2، وشروحاتهم لا أعلم لها وجوداً، وممن شرحها أيضاً الإمام السفاريني وشرحه لها مطبوع في مجلدين بعنوان "لوائح الأنوار السَنية ولواقح الأفكار السُنية شرح قصيدة ابن أبي داود الحائية في عقيدة أهل الآثار السلفية".

وقد سميت هذا الشرح "التحفة السَنية شرح منظومة ابن أبي داود الحائية" وأصله دروس ألقيتها في مسجد الجامعة الإسلامية بالمدينة النبوية عام 1417هـ كتبه عني أحد طلاب العلم فيها وهو الأخ الفاضل يحيى بن علي يحيى، ثم قمت بمراجعته والإضافة عليه وتنقيحه حسب الاستطاعة، وهو جهد المقل وبضاعة الضعيف المقصر، فما كان فيه من حق وصواب فهو من الله وحده، وما كان فيه من خطأ ونقص فهو بسبب ضعفي وقصوري وقلة علمي، ولا يفوتني هنا أن أشكر كل من قدم أي نوع من أنواع المساعدة والتعاون في سبيل إخراج هذا الكتاب سواء في صفه وتنضيده، أو مراجعته وتصحيحه، أو طباعته ونشره، وأسأل الله أن يجزي الجميع خير الجزاء، كما أسأله أن ينفع به ويتقبله بقبول حسن ويجعله لوجهه خالصاً ولعبادة نافعاً إنه سميع مجيب وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه.

--------------------------------------------

1 العلو (2/1223) .

2 ذكر ذلك ابن رجب في ذيل طبقات الحنابلة (1/35) .
ইমাম যাহাবী (রহিমাহুল্লাহ) এই কাব্যগ্রন্থটির প্রশংসা করে এবং এর গুরুত্ব বর্ণনা করে বলেছেন: "এই কাসিদাটি এর রচয়িতা থেকে মুতাওয়াতির সূত্রে বর্ণিত। আল-আজুররী এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেছেন। আর আবু আব্দুল্লাহ ইবনে বাত্তাহ 'আল-ইবানাহ' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।"১, আর ব্যাখ্যাকারীদের মধ্যে ইবনুল বান্না-ও২ রয়েছেন, তবে তাদের ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলো বর্তমানে বিদ্যমান আছে বলে আমার জানা নেই। এছাড়াও ইমাম আস-সাফফারিনী এর ব্যাখ্যা করেছেন এবং তাঁর সেই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি দুই খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে, যার শিরোনাম হলো: "লাওয়া ইহুল আনওয়ারিস সানিয়্যাহ ওয়া লাওয়াকিহুল আফকারিস সুন্নিয়্যাহ শারহু কাসিদাতি ইবনি আবি দাউদ আল-হায়িয়্যাহ ফী আক্বীদাতি আহলিল আসারিস সালাফিয়্যাহ" (সালাফী আসারপন্থীদের আকিদা বিষয়ক ইবনে আবি দাউদের হায়িয়্যাহ কাসিদার ব্যাখ্যা)।

আমি এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটির নামকরণ করেছি "আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানযূমাতি ইবনি আবি দাউদ আল-হায়িয়্যাহ"। এর মূল উৎস হলো মদীনা মুনাওয়ারার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদে ১৪১৭ হিজরীতে আমার প্রদানকৃত কিছু দরস (পাঠদান)। সেখানকার একজন ইলম অন্বেষী ছাত্র, সম্মানিত ভাই ইয়াহইয়া বিন আলী ইয়াহইয়া এটি অনুলিখন করেছেন। অতঃপর আমি আমার সাধ্যানুসারে এটি পর্যালোচনা করেছি, এতে প্রয়োজনীয় সংযোজন করেছি এবং এটি পরিমার্জন করেছি। এটি একজন স্বল্প পুঁজিসম্পন্ন ব্যক্তির সামান্য প্রচেষ্টা এবং একজন দুর্বল ও ত্রুটিপূর্ণ ব্যক্তির সামান্য উপঢোকন মাত্র। এতে সত্য ও সঠিক যা কিছু রয়েছে তা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর যা কিছু ভুল ও অসম্পূর্ণতা রয়েছে তা আমার দুর্বলতা, ত্রুটি এবং জ্ঞানের স্বল্পতার কারণে। এই গ্রন্থটি প্রকাশের পথে যারা কম্পোজ ও সাজসজ্জা, পুনঃনিরীক্ষণ ও সংশোধন অথবা মুদ্রণ ও প্রকাশনার মাধ্যমে যেকোনো ধরনের সাহায্য ও সহযোগিতা করেছেন, তাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাতে আমি ভুলছি না। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন সকলকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। আমি আরও প্রার্থনা করি তিনি যেন এর মাধ্যমে উপকার করেন, একে উত্তমরূপে কবুল করে নেন এবং একে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত ও তাঁর বান্দাদের জন্য উপকারী করে তোলেন। নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী ও দুআ কবুলকারী। আমাদের নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

--------------------------------------------

১ আল-উলুউ (২/১২২৩)।

২ ইবনে রজব 'যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলাহ' (১/৩৫) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানযূমাতি ইবনি আবী দাউদ আল-হাইইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
ترجمة موجزة للناظم ابن أبي داود1

اسمه ونسبه وكنيته: هو الإمام العلامة الحافظ شيخ بغداد، عبد الله بن الإمام أبي داود سليمان بن الأشعث، أبو بكر السجستاني.

ولادته: ولد الإمام أبو بكر بن أبي داود بسجستان في سنة ثلاثين ومائتين (230 هـ) .

نشأته وطلبه للعلم: سافر به أبوه وهو صغير من سجستان يطوف به شرقاً وغرباً بخراسان وأصبهان وبغداد والكوفة ومكة والمدينة والشام ومصر وغيرها يسمع ويكتب، واستوطن ببغداد، وكان أول شيخ سمع منه محمد بن أسلم الطوسي، وسر أبوه بذلك؛ لجلالة محمد بن أسلم.

وكان ذا أهمية عالية منذ صغره في التحصيل والطلب، ومن دلائل هذه الهمة قوله رحمه الله:"دخلت الكوفة ومعي درهم واحد، فأخذت به ثلاثين مد باقلا، فكنت آكل منه، وأكتب عن أبي سعيد الأشج، فما فرغ الباقلا حتى كتبت عنه ثلاثين ألف حديث ما بين مقطوع ومرسل"2

وكان حافظاً متقناً، قال رحمة الله: "حدثت من حفظي بأصبهان بستة وثلاثين ألف حديث، ألزموني الوهم فيها في سبعة أحاديث فلما انصرفت

--------------------------------------------

1 يراجع في ترجمته سير أعلام النبلاء (13/221 وما بعدها) .

2 تاريخ بغداد (9/466-467) .
নাজিম ইবনে আবি দাউদ-এর সংক্ষিপ্ত জীবনী১

নাম, বংশপরিচয় ও উপনাম: তিনি হলেন ইমাম, আল্লামা, হাফেজ, বাগদাদের শাইখ, আবদুল্লাহ বিন ইমাম আবু দাউদ সুলাইমান বিন আল-আশআস, আবু বকর আস-সিজিস্তানি।

জন্ম: ইমাম আবু বকর বিন আবি দাউদ ২৩০ হিজরি সনে সিজিস্তানে জন্মগ্রহণ করেন।

বেড়ে ওঠা ও ইলম অর্জন: তাঁর পিতা তাঁকে শৈশবেই সিজিস্তান থেকে নিয়ে বের হন এবং ইলম শ্রবণ ও লিপিবদ্ধ করার জন্য খোরাসান, আসফাহান, বাগদাদ, কুফা, মক্কা, মদিনা, শাম, মিশরসহ পূর্ব ও পশ্চিমের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রমণ করান। পরবর্তীতে তিনি বাগদাদে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তাঁর প্রথম উস্তাদ যার নিকট থেকে তিনি হাদিস শুনেছেন, তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন আসলাম আত-তুসি। মুহাম্মদ বিন আসলামের উচ্চ মর্যাদার কারণে তাঁর পিতা এতে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিলেন।

ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে শৈশব থেকেই তাঁর হিম্মত বা আকাঙ্ক্ষা ছিল অত্যন্ত সুউচ্চ। এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার অন্যতম প্রমাণ হলো তাঁর নিজের উক্তি, তিনি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন: "আমি যখন কুফায় প্রবেশ করি তখন আমার কাছে মাত্র এক দিরহাম ছিল। তা দিয়ে আমি ত্রিশ মুদ শিম ক্রয় করি। আমি সেখান থেকেই খাবার গ্রহণ করতাম এবং আবু সাঈদ আল-আশাজ-এর নিকট থেকে হাদিস লিখতাম। শিমগুলো শেষ হওয়ার আগেই আমি তাঁর থেকে ত্রিশ হাজার মাকতু ও মুরসাল হাদিস লিখে ফেলেছিলাম।"২

তিনি ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ ও প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী হাফেজ। তিনি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন: "আমি আসফাহানে আমার স্মৃতি থেকে ছত্রিশ হাজার হাদিস বর্ণনা করেছি। তারা আমার সেই বর্ণনার ওপর মাত্র সাতটি হাদিসে ভুল ধরার চেষ্টা করেছিল। অতঃপর যখন আমি ফিরে এলাম...

--------------------------------------------

১ তাঁর জীবনী সম্পর্কে দেখুন সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৩/২২১ এবং পরবর্তী অংশ)।

২ তারিখু বাগদাদ (৯/৪৬৬-৪৬৭)।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানযূমাতি ইবনি আবী দাউদ আল-হাইইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وجدت في كتابي خمسة منها على ما كنت أحدثهم به".1

ويقول تلميذه أبو حفص ابن شاهين مبيناً قوة حفظه: "أملى علينا ابن أبي داود سنين وما رأيت بيده كتاباً، إنما كان يملي حفظاً فكان يقعد على المنبر بعدما كبر ويقعد دونه بدرجة ابنه أبو معمر بيده كتاب فيقول حديث كذا فيسرده من حفظه حتى يأتي على المجلس".

بعض شيوخه: روى عن أبيه، وأحمد بن صالح، ومحمد بن بشار، وعمرو بن عثمان الحمصي، وإسحاق الكوسج، وعمرو بن علي الفلاس، ومحمد بن يحيى الذهلي.

بعض تلاميذه: حدث عنه خلق كثيرون منهم ابن حبان صاحب الصحيح، وأبو الحسن الدارقطني، وأبو حفص بن شاهين، وأبو أحمد الحاكم، وابن بطة، ومحمد بن عمر بن زنبور الوراق، وأبو مسلم محمد بن أحمد الكاتب، ونصف بن علي الوزير، وأبو القاسم بن حبابة.

مكانته العلمية، وثناء العلماء عليه: ـ قال الحافظ أبو محمد الخلال: " كان ابن أبي داود إمام أهل العراق، ومن نصب له السلطان المنبر، وقد كان في وقته بالعراق أسند منه، ولم يبلغوا في الآلة والإتقان ما بلغه هو".

ـ وقال الخطيب البغدادي: " كان فقيهاً عالماً حافظاً".2

ـ وقال ابن خلكان: "كان أبو بكر ابن أبي داود من أكابر الحفاظ ببغداد، عالماً متفقهاً عليه إماماً".

--------------------------------------------

1 تاريخ بغداد (9 / 466) .

2 تاريخ بغداد (9 / 464) .
আমি আমার কিতাবে তাদের কাছে যা বর্ণনা করতাম তার মধ্যে পাঁচটি পেয়েছি।"১

তাঁর ছাত্র আবু হাফস ইবনে শাহীন তাঁর মুখস্থশক্তির প্রখরতা বর্ণনা করে বলেন: "ইবনে আবি দাউদ আমাদের কাছে বহু বছর হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং আমি কখনও তাঁর হাতে কোনো কিতাব দেখিনি। তিনি মুখস্থ থেকেই হাদীস বলতেন। বৃদ্ধ হওয়ার পর তিনি মিম্বারের ওপর বসতেন এবং তাঁর এক স্তর নিচে তাঁর ছেলে আবু মুয়াম্মার একটি কিতাব হাতে নিয়ে বসতেন। তিনি যখন বলতেন অমুক হাদীস, তখন তিনি তা মুখস্থ বর্ণনা করতেন যতক্ষণ না মজলিস শেষ হতো।"

তাঁর কয়েকজন উস্তাদ: তিনি তাঁর পিতা, আহমদ বিন সালিহ, মুহাম্মদ বিন বাশশার, আমর বিন উসমান আল-হিমসি, ইসহাক আল-কাওসাজ, আমর বিন আলী আল-ফাল্লাস এবং মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আজ-যুহলী থেকে বর্ণনা করেছেন।

তাঁর কয়েকজন ছাত্র: তাঁর থেকে অগণিত মানুষ হাদীস বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন সহীহ গ্রন্থের সংকলক ইবনে হিব্বান, আবুল হাসান আদ-দারা কুতনী, আবু হাফস বিন শাহীন, আবু আহমদ আল-হাকিম, ইবনে বাত্তাহ, মুহাম্মদ বিন উমর বিন যানবুর আল-ওয়াররাক, আবু মুসলিম মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-কাতিব, নাসাফ বিন আলী আল-ওয়াযীর এবং আবুল কাসিম বিন হুবাবাহ।

তাঁর ইলমী মর্যাদা এবং তাঁর সম্পর্কে আলেমগণের প্রশংসা: হাফেজ আবু মুহাম্মদ আল-খাল্লাল বলেন: "ইবনে আবি দাউদ ছিলেন ইরাকবাসীদের ইমাম এবং যাঁর জন্য সুলতান মিম্বার স্থাপন করেছিলেন। তাঁর সময়ে ইরাকে তাঁর চেয়েও উচ্চতর সনদধারী ব্যক্তি ছিলেন, কিন্তু ইলমী যোগ্যতা ও প্রগাঢ়তায় তাঁরা তাঁর সমকক্ষ হতে পারেননি।"

খতীব আল-বাগদাদী বলেন: "তিনি ছিলেন একজন ফকীহ, বিজ্ঞ আলেম এবং হাফেজ।"২

ইবনে খাল্লিকান বলেন: "আবু বকর ইবনে আবি দাউদ ছিলেন বাগদাদের শীর্ষস্থানীয় হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত, একজন প্রাজ্ঞ আলেম, ফকীহ এবং ইমাম হিসেবে স্বীকৃত।"

--------------------------------------------

১ তারীখে বাগদাদ (৯/৪৬৬)।

২ তারীখে বাগদাদ (৯/৪৬৪)।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানযূমাতি ইবনি আবী দাউদ আল-হাইইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
ـ وقال الذهبي: "وكان من بحور العلم بحيث إن بعضهم من فضله على أبيه". وقال أيضاً: "كان أبو بكر من الحفاظ المبرزين ما هو بدون أبيه، صنف التصانيف وانتهت إليه رئاسة الحنابلة ببغداد". وقال أيضاً: "والرجل من كبار علماء المسلمين ومن أوثق الحفاظ".

عقيدته: كان رحمه الله على عقيدة السلف أصحاب الحديث، وليس أدل على ذلك من منظومته الحائية هذه، فإنه قرر فيها ـ وعلى وجازتها ـ مجمل الاعتقاد على طريقة أهل السنة والجماعة.

وقد ثبت عنه أنه قال عقب هذه المنظومة: " هذا قولي، وقول أبي، وقول شيوخنا، وقول العلماء ممن لم نرهم كما بلغنا عنهم، فمن قال علي غير ذلك فقد كذب".

وهي منظومة عظيمة في تقرير المعتقد الحق الذي كان عليه أهل السنة والجماعة تدل على مكانة ناظمها وسعة باعه، وحسن معتقده، وطيب نصحه.

وعلى كلٍ فإمامة ناظمها ومكانته معروفة لدى أهل العلم، فهو من أئمة السلف، وأوعية السنة، وحفاظ الحديث، ودعاة الحق والهدى، متفق على إمامته وفضله رحمه الله وغفر له ولجميع أئمة المسلمين.

مؤلفاته: وصفه الذهبي بأنه صاحب التصانيف، فمن جملة تلك التصانيف: السنن، والبعث، والمصاحف، وشريعة المقارئ، والناسخ والمنسوخ.
আয-যাহাবী বলেন: "তিনি ছিলেন ইলমের এমন এক সমুদ্র যে, তাদের কেউ কেউ তাকে তার পিতার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।" তিনি আরও বলেন: "আবু বকর ছিলেন এমন এক বিশিষ্ট হাফেজ, যিনি তার পিতার চেয়ে কোনো অংশেই কম ছিলেন না। তিনি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং বাগদাদে হাম্বলিদের নেতৃত্ব তার মাধ্যমেই সমাপ্তি লাভ করেছিল।" তিনি আরও বলেন: "এই ব্যক্তি মুসলিমদের বড় আলেমদের একজন এবং অন্যতম নির্ভরযোগ্য হাফেজ।"

তার আকিদা: তিনি (রহিমাহুল্লাহ) সালাফ ও আসহাবুল হাদিসের আকিদার ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। তার এই 'হায়িয়া' কাব্যগ্রন্থটির চেয়ে বড় প্রমাণ আর কিছু হতে পারে না। কেননা এতে তিনি—সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও—আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের মানহাজ অনুযায়ী সামগ্রিক আকিদা বর্ণনা করেছেন।

তার থেকে এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি এই কাব্যগ্রন্থের শেষে বলেছেন: "এটিই আমার কথা, আমার পিতার কথা, আমাদের শাইখদের কথা এবং সেইসব আলেমদের কথা যাদের আমি দেখিনি কিন্তু তাদের থেকে আমার কাছে খবর পৌঁছেছে। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার ওপর এর বাইরে কিছু আরোপ করবে, সে মিথ্যা বলেছে।"

এটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের সত্য আকিদা প্রমাণের ক্ষেত্রে একটি মহান কাব্যগ্রন্থ, যা এর রচয়িতার উচ্চ মর্যাদা, ইলমি গভীরতা, বিশুদ্ধ আকিদা এবং তার উত্তম নসিহতের প্রমাণ বহন করে।

মোটের ওপর, এর রচয়িতার ইমামত ও মর্যাদা ইলম অন্বেষণকারীদের নিকট সুবিদিত। তিনি সালাফদের ইমামগণের একজন, সুন্নাহর আধার, হাদিসের হাফেজ এবং হক ও হিদায়াতের দিকে আহ্বানকারী। তার ইমামত ও শ্রেষ্ঠত্বের ব্যাপারে সকলেই একমত। আল্লাহ তাকে রহম করুন এবং তাকে ও মুসলিমদের সকল ইমামকে ক্ষমা করুন।

তার রচনাবলি: আয-যাহাবী তাকে বহু কিতাবের রচয়িতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার সেই রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত হলো: আস-সুনান, আল-বা’স, আল-মাসাহিফ, শারিয়াতুল মাক্বারি এবং আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানযূমাতি ইবনি আবী দাউদ আল-হাইইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
وفاته: توفي رحمه الله ببغداد في شهر ذي الحجة سنة ست عشرة وثلاثمائة (316هـ) عن سبعة وثمانين عاماً، وقيل صلى عليه زهاء ثلاثمائة ألف إنسان وأكثر، وخلف ثلاثة بنين: عبد الأعلى، ومحمداً، وأبا معمرٍ عبيد الله، وخمس بناتٍ.
তাঁর মৃত্যু: তিনি ৩১৬ হিজরির যিলহজ মাসে সাতাশি বছর বয়সে বাগদাদে মৃত্যুবরণ করেন (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)। বলা হয় যে, প্রায় তিন লক্ষ বা তারও বেশি মানুষ তাঁর জানাযার সালাত আদায় করেছিলেন। তিনি তিন পুত্র: আব্দুল আলা, মুহাম্মদ ও আবু মা'মার উবাইদুল্লাহ এবং পাঁচ কন্যা রেখে গেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানযূমাতি ইবনি আবী দাউদ আল-হাইইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌نص المنظومة

قال رحمه الله:

(تمسك بحبل الله واتبع الهدى … ولا تك بدعيًا لعلك تفلح)

(ودن بكتاب الله والسنن التي

(وقل غير مخلوق كلام مليكنا … أتت عن رسول الله تنجو وتربحُ)

بذلك دان الأتقياء وأفصحوا)

(ولا تك في القرآن بالوقف قائلاً … كما قال أتباع لجهمٍ وأسجحوا)

(ولا تقل القرآن خلقٌ قرأته … فإن كلام الله باللفظ يوضحُ)

(وقل يتجلى الله للخلق جهرةً … كما البدر لا يخفى وربك أوضحُ)

(وليس بمولودٍ وليس بوالدٍ … وليس له شبهٌ تعالى المسبح ُ)

(وقد ينكر الجهمي هذا وعندنا … بمصداق ما قلنا حديث مصرحُ)

(رواه جريرٌ عن مقال محمدٍ … فقل مثل ما قد قال في ذاك تنجحُ)

10 (وقد ينكر الجهمي أيضاً يمينه … وكلتا يديه بالفواضل تنفح ُ)

11 (وقل ينزل الجبار في كل ليلةٍ … بلا كيف جل الواحد المتمدحُ)

12 (إلى طبق الدنيا يمن بفضله … فتفرج أبواب السماء وتفتحُ)

13 (يقول ألا مستغفرٌ يلقى غافراً … ومستمنح خيراً ورزقاً فيمنحُ)

14 (روى ذاك قومٌ لا يرد حديثهم … ألا خاب قوم كذبوهم وقبحوا)

15 (وقل: إن خير الناس بعد محمدٍ … وزيراه قدماً ثم عثمان الأرجحُ)

16 (ورابعهم خير البرية بعدهم … عليٌ حليف الخير بالخير منجحُ)

17 (وإنهم للرهط لا ريب فيهم … على نجب الفردوس بالنور تسرحُ)

18 (سعيدٌ وسعدُ وابن عوف وطلحة … وعامر فهرٍ والزبير الممدحُ)

…
কবিতার পাঠ

তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন:

(আল্লাহর রশিকে আঁকড়ে ধরো এবং হিদায়াতের অনুসরণ করো … আর বিদআতী হয়ো না, যাতে তুমি সফলকাম হতে পারো)

(আল্লাহর কিতাব এবং ঐসব সুন্নাহর দ্বারা দ্বীন পালন করো যা

(আর বলো যে, আমাদের অধিপতির কালাম মাখলুক নয় … রাসূলুল্লাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তবেই তুমি মুক্তি পাবে ও লাভবান হবে)

এভাবেই মুত্তাকীরা দ্বীন পালন করেছেন এবং স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন)

(আর কুরআনের ব্যাপারে ‘ওয়াকফ’ বা নীরবতা অবলম্বনকারী বলো না … যেমন জহমের অনুসারীরা বলেছিল এবং তারা শিথিলতা প্রদর্শন করেছিল)

(আর বলো না যে, কুরআন পাঠ করাটা মাখলুক … কারণ আল্লাহর কালাম উচ্চারণের মাধ্যমেই স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়)

(আর বলো যে, আল্লাহ তাঁর সৃষ্টির সামনে প্রকাশ্যে আত্মপ্রকাশ করবেন … যেমন পূর্ণিমার চাঁদ অস্পষ্ট থাকে না, আর তোমার রব তো আরও স্পষ্ট)

(তিনি জন্ম নেননি এবং তিনি জন্ম দেননি … এবং তাঁর কোনো সদৃশ নেই, সুউচ্চ সেই মহান সত্তা যিনি প্রশংসিত)

(জাহমিয়্যাহরা হয়তো একে অস্বীকার করবে, কিন্তু আমাদের কাছে … যা আমরা বলেছি তার সত্যতার সপক্ষে সুস্পষ্ট হাদীস বিদ্যমান)

(জারীর তা মুহাম্মাদ (সা.)-এর বাণী হিসেবে বর্ণনা করেছেন … সুতরাং তিনি যা বলেছেন তুমিও তাই বলো, তবেই তুমি সফল হবে)

১০ (জাহমিয়্যাহরা আল্লাহর ডান হাতকেও অস্বীকার করতে পারে … অথচ তাঁর উভয় হাতই অনুগ্রহ বিতরণে সদা উম্মুক্ত)

১১ (আর বলো যে, জাব্বার প্রতি রাতে অবতরণ করেন … কোনো ধরণ ছাড়াই, মহিমান্বিত সেই অদ্বিতীয় সত্তা যিনি প্রশংসিত)

১২ (দুনিয়ার আসমান পর্যন্ত তাঁর অনুগ্রহে করুণা করেন … ফলে আকাশের দরজাসমূহ উন্মুক্ত ও খুলে দেওয়া হয়)

১৩ (তিনি বলেন: আছে কি কেউ ক্ষমা প্রার্থনাকারী যে ক্ষমাশীলকে পাবে? … এবং আছে কি কেউ কল্যাণ ও রিযিক প্রার্থনাকারী যাকে তা দান করা হবে?)

14 (এমন এক কওম তা বর্ণনা করেছেন যাদের হাদীস প্রত্যাখ্যান করা যায় না … সাবধান! সেই কওম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যারা তাদের মিথ্যাপ্রতিপন্ন করেছে এবং জঘন্য কাজ করেছে)

১৫ (আর বলো: নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ (সা.)-এর পর মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন … তাঁর পূর্ববর্তী দুই উযীর, অতঃপর শ্রেষ্ঠতম উসমান)

১৬ (আর তাঁদের পরে সৃষ্টির সেরা চতুর্থ ব্যক্তি হলেন … আলী, যিনি কল্যাণের সঙ্গী এবং কল্যাণের মাধ্যমেই সফলকাম)

১৭ (নিশ্চয়ই তাঁরা সেই দল যাদের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই … তাঁরা জান্নাতুল ফিরদাউসের উন্নত বাহনে নূরের মাঝে বিচরণ করেন)

১৮ (সাঈদ, সা’দ, ইবনে আউফ এবং তালহা … এবং আমের ফিহরি ও প্রশংসিত যুবায়ের)

…
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানযূমাতি ইবনি আবী দাউদ আল-হাইইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
19 (وقل خير قول في الصحابة كلهم … ولا تك طعاناً تعيب وتجرحُ)

20 (فقد نطق الوحي المبين بفضلهم … وفي الفتح آيٌ للصحابة تمدح ُ)

21 (وبالقدر المقدور أيقن فإنه … دعامة عقد الدين، والدين أفيحُ)

22 (ولا تنكرن جهلاً نكيراً ومنكراً … ولا الحوض والميزان إنك تنصحُ)

23 (وقل يخرج الله العظيم بفضله … من النار أجساداً من الفحم تطرحُ)

24 (على النهر في الفردوس تحيا بمائه … كحب حميل السيل إذا جاء يطفحُ)

25 (وإن رسول الله للخلق شافعٌ … وقل في عذاب القبر حقٌ موضحُ)

26 (ولا تكفرن أهل الصلاة وإن عصوا … فكلهم يعصي وذو العرش يصفحُ)

27 (ولا تعتقد رأي الخوارج إنه … مقالٌ لمن يهواه يردي ويفضحُ)

28 (ولا تكن مرجيًا لعوباً بدينه … ألا إنما المرجي بالدين يمزحُ)

29 (وقل: إنما الإيمان: قول ونيةٌ … وفعلٌ على قول النبي مصرحُ)

30 (وينقص طوراً بالمعاصي وتارةً … بطاعته ينمي وفي الوزن يرجحُ)

31 (ودع عنك آراء الرجال وقولهم … فقول رسول الله أزكى وأشرحُ)

32 (ولا تك من قومٍ تلهوا بدينهم … فتطعن في أهل الحديث وتقدحُ)

33 (إذا ما اعتقدت الدهر يا صاح هذه …

فأنت على خيرٍ تبيت وتصبحُ)
19 (আর সমস্ত সাহাবী সম্পর্কে সর্বোত্তম কথা বলুন … এবং আপনি এমন বিদ্রূপকারী হবেন না যে দোষারোপ করে এবং তাদের মর্যাদাহানি করে)

20 (নিশ্চয়ই সুস্পষ্ট ওহী তাদের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করেছে … এবং সূরা আল-ফাতহে সাহাবীদের প্রশংসায় অনেক আয়াত রয়েছে)

21 (আর নির্ধারিত তাকদীরের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখুন, কেননা এটি … দ্বীনের আকিদার একটি মূল স্তম্ভ, আর দ্বীন হলো অত্যন্ত প্রশস্ত)

22 (আর আপনি অজ্ঞতাবশত মুনকার ও নাকীর ফেরেশতাকে অস্বীকার করবেন না … এবং হাউজ ও মীযানকেও অস্বীকার করবেন না, নিশ্চয়ই আপনাকে সদুপদেশ দেওয়া হচ্ছে)

23 (আর বলুন: মহান আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহে বের করবেন … জাহান্নাম থেকে এমন সব দেহ যা কয়লার মতো হয়ে সেখানে নিক্ষিপ্ত হয়েছিল)

24 (জান্নাতুল ফিরদাউসের একটি নহরে সেই নহরের পানির বরকতে তারা পুনর্জীবন লাভ করবে … যেমন বন্যার স্রোতে ভেসে আসা বীজ দ্রুত অঙ্কুরিত হয়ে জেগে ওঠে)

25 (আর নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সৃষ্টির জন্য সুপারিশকারী হবেন … এবং বলুন যে কবরের আযাব এক সুনিশ্চিত ও সুস্পষ্ট সত্য)

26 (আর সালাত আদায়কারীদের কাফের বলবেন না যদিও তারা গুনাহ করে … কেননা তারা সকলেই গুনাহ করে আর আরশের অধিপতি ক্ষমা করে দেন)

27 (আর খারেজীদের মতাদর্শ বিশ্বাস করবেন না, নিশ্চয়ই এটি … এমন এক মতবাদ যা অনুসরণকারীকে ধ্বংস ও অপদস্থ করে)

28 (আর আপনি দ্বীন নিয়ে খেলাকারী মুরজিয়া হবেন না … সাবধান! মুরজিয়ারা তো কেবল দ্বীন নিয়ে উপহাসই করে)

29 (আর বলুন: ঈমান হলো কেবল মৌখিক স্বীকৃতি, অন্তরের সংকল্প … এবং আমল, যা নবীর বাণীর আলোকে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত)

30 (আর ঈমান গুনাহের কারণে মাঝে মাঝে হ্রাস পায় এবং কখনও … আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং ওজনে তা ভারী হয়)

31 (আর মানুষের মতামত ও তাদের কথা বর্জন করুন … কেননা আল্লাহর রাসূলের বাণী অধিকতর পবিত্র ও হৃদয়গ্রাহী)

32 (আর আপনি সেই কওমের অন্তর্ভুক্ত হবেন না যারা তাদের দ্বীন নিয়ে খেল-তামাশায় মত্ত হয় … ফলে তারা আহলে হাদীসদের সমালোচনা ও নিন্দা করে)

33 (হে বন্ধু! আপনি যদি সারাজীবন এই আকিদা বিশ্বাস পোষণ করেন …

তবে আপনি কল্যাণের উপরেই সকাল-সন্ধ্যা অতিবাহিত করবেন)
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানযূমাতি ইবনি আবী দাউদ আল-হাইইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الاعتصام بالكتاب والسنة ومجانبة البدع

(تمسك بحبل الله واتبع الهدى … ولا تك بدعيًا لعلك تفلح ُ)

(ودن بكتاب الله والسنن التي … أتت عن رسول الله تنجو وتربحُ)

بدأ الناظم منظومته في الاعتقاد بهذين البيتين العظيمين، وهذان البيتان فيهما الدعوة إلى الاعتصام بالكتاب والسنة والتحذير من البدع، وقد بدأ بهما قبل بيان الاعتقاد ومسائله على طريقة أهل السنة في كتب الاعتقاد وقد جرت عادتهم في الغالب على البدء بهذا الأمر، وهذا منهم تحديدٌ لمصدر التلقي في أصول الدين وفروعه؛ ليكون بناء المعتقد وقيامه على أسس سليمة وأصول صحيحة قويمة، وعندما يحدد العبد مصدره في التلقي، ويكون مصدره من المنبع الأساس وهو الكتاب والسنة، فإنه يرى ما سواه من المنابع كدراً، فلا يأخذ منها شيئاً ولا يجعلها مصدراً له في دينه وعقيدته، وإنما يتلقى من المنبع الصافي والمعين النقي الذي لا شائبة فيه ولا كدر، فيسلم له بذلك معتقده ويصح إيمانه.

وأهل السنة مصدرهم في التلقي هو: الكتاب والسنة، بهما يأخذون، وعنهما يتلقون، وعليهما يعولون، لا يحيدون عنهما قيد أنملةٍ بل هم كما قال الأوزاعي: "ندور مع الكتاب والسنة حيث دارا"، ولا يحدثون شيئاً من قبل أنفسهم.
কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা এবং বিদআত পরিহার করা

(আল্লাহর রজ্জু দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং হিদায়াতের অনুসরণ করো … আর বিদআতী হয়ো না, যাতে তুমি সফলকাম হতে পারো।)

(আল্লাহর কিতাব এবং রাসূলুল্লাহ থেকে আগত সুন্নাহকে নিজের দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করো … তবেই তুমি মুক্তি পাবে এবং লাভবান হবে।)

নাজিম (কবি) তাঁর আকিদাহ বিষয়ক কাব্যগ্রন্থটি এই দুটি মহান পঙক্তির মাধ্যমে শুরু করেছেন। এই দুটি পঙক্তিতে কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার আহ্বান এবং বিদআত থেকে সতর্ক করা হয়েছে। আকিদাহর কিতাবসমূহে আহলে সুন্নাতের মানহাজ অনুযায়ী আকিদাহ ও এর মাসআলাসমূহ বর্ণনার পূর্বেই তিনি এ দুটি দিয়ে শুরু করেছেন। সাধারণত এই বিষয়টি দিয়েই শুরু করা তাঁদের চিরাচরিত নিয়ম। এটি তাঁদের পক্ষ থেকে দ্বীনের উসুল (মূলনীতি) এবং ফুরু (শাখা-প্রশাখা) গ্রহণের উৎস নির্ধারণ করা; যাতে আকিদাহর বুনিয়াদ ও এর প্রতিষ্ঠা নিরাপদ ভিত্তি এবং সঠিক ও সুদৃঢ় মূলনীতির ওপর গড়ে ওঠে। যখন কোনো বান্দা তার জ্ঞান আহরণের উৎস নির্ধারণ করে এবং তার উৎস হয় মূল প্রস্রবণ অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহ, তখন সে এ দুটি ছাড়া অন্য সব উৎসকে আবিল বা ঘোলাটে মনে করে। ফলে সে তা থেকে কিছুই গ্রহণ করে না এবং নিজের দ্বীন ও আকিদাহর ক্ষেত্রে সেগুলোকে উৎস হিসেবে সাব্যস্ত করে না। বরং সে কেবল সেই স্বচ্ছ ও বিশুদ্ধ প্রস্রবণ থেকেই গ্রহণ করে যাতে কোনো প্রকার কালিমা বা কলুষতা নেই। এর মাধ্যমে তার আকিদাহ নিরাপদ থাকে এবং তার ঈমান সঠিক হয়।

আর আহলে সুন্নাতের জ্ঞান গ্রহণের উৎস হলো: কুরআন ও সুন্নাহ। এ দুটিকেই তাঁরা গ্রহণ করেন, এ দুটি থেকেই তাঁরা জ্ঞান লাভ করেন এবং এ দুটির ওপরই তাঁরা নির্ভর করেন। তাঁরা এ দুটি থেকে সামান্যতম বিচ্যুত হন না, বরং তাঁরা ইমাম আওযায়ী যেমনটি বলেছেন: "কুরআন ও সুন্নাহ যেদিকে আবর্তিত হয়, আমরাও সেদিকেই আবর্তিত হই।" আর তাঁরা নিজেদের পক্ষ থেকে নতুন কোনো কিছু উদ্ভাবন করেন না।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানযূমাতি ইবনি আবী দাউদ আল-হাইইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
يقول شيخ الإسلام رحمه الله: "ليس الاعتقاد لي ولا لمن هو أكبر مني، الاعتقاد لله ولرسوله صلى الله عليه وسلم".

فمن الله الرسالة وعلى الرسول البلاغ وعلينا التصديق والتسليم.

ولذا نجد كتب أهل السنة تبدأ بتحديد المصدر قبل بسط الاعتقاد، وهذا نستفيده مما كان يداوم عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم في خطبة الجمعة، فكان دائماً يقول في مقدمتها: "أما بعد فإن أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم وشر الأمور محدثاتها...."1 الحديث. وتكراره صلى الله عليه وسلم لذلك كل جمعة فيه تأكيد على أهمية العناية بهذا المصدر وضرورة رعايته والمحافظة عليه.

قوله: (تمسك) التمسك في اللغة الأخذ بالشيء والاعتصام به، وهذا مأخوذ من قوله تعالى {وَاعْتَصِمُوا بِحَبْلِ اللَّهِ جَمِيعاً وَلا تَفَرَّقُوا وَاذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ كُنْتُمْ أَعْدَاءً فَأَلَّفَ بَيْنَ قُلُوبِكُمْ فَأَصْبَحْتُمْ بِنِعْمَتِهِ إِخْوَاناً وَكُنْتُمْ عَلَى شَفَا حُفْرَةٍ مِنَ النَّارِ فَأَنْقَذَكُمْ مِنْهَا كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ} (آل عمران:103)

وقوله تعالى: {وَالَّذِينَ يُمَسِّكُونَ بِالْكِتَابِ وَأَقَامُوا الصَّلاةَ إِنَّا لا نُضِيعُ أَجْرَ الْمُصْلِحِينَ} (لأعراف:170)

(حبل الله) للعلماء فيه أقوال، وأكثرها عند المفسرين: القرآن كما ذكر ذلك ابن القيم رحمه الله، وهو مراد الناظم هنا؛ لأنه ذكر السنة بعده،

--------------------------------------------

1 أخرجه مسلم برقم (867) من حديث جابر بن عبد الله رضي الله عنه.
শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আকিদা বা বিশ্বাস আমার জন্য নয় এবং আমার চেয়ে বড় কারো জন্যও নয়; বরং আকিদা হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্য।"

সুতরাং আল্লাহর পক্ষ থেকে হলো রিসালাত (বার্তা), রাসূলের দায়িত্ব হলো পৌঁছে দেওয়া, আর আমাদের দায়িত্ব হলো সত্য বলে বিশ্বাস করা ও আত্মসমর্পণ করা।

একারণেই আমরা আহলে সুন্নাতের কিতাবসমূহকে আকিদা বর্ণনার পূর্বে এর উৎস নির্ধারণের মাধ্যমে শুরু হতে দেখি, আর এটি আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জুমুআর খুতবায় যা নিয়মিত করতেন তা থেকে শিক্ষা পাই। তিনি সর্বদা এর ভূমিকায় বলতেন: "অতঃপর নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব, আর সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মাদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পথনির্দেশ, আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ...।"১ হাদিস। প্রতি জুমুআয় তাঁর এই কথার পুনরাবৃত্তি এই উৎসের প্রতি যত্নশীল হওয়ার গুরুত্ব এবং তা মেনে চলা ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়।

তাঁর কথা: (আঁকড়ে ধরা) আভিধানিক অর্থে 'তামাসসুক' হলো কোনো কিছু গ্রহণ করা এবং তা মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরা। আর এটি মহান আল্লাহর এই বাণী থেকে গৃহীত: "তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। আর তোমাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহকে স্মরণ করো, যখন তোমরা একে অপরের শত্রু ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের অন্তরে প্রীতি স্থাপন করলেন, ফলে তোমরা তাঁর অনুগ্রহে ভাই ভাই হয়ে গেলে। তোমরা আগুনের গর্তের কিনারায় ছিলে, অতঃপর তিনি তোমাদের তা থেকে রক্ষা করলেন। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য তাঁর নিদর্শনাবলী সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যাতে তোমরা হিদায়াত প্রাপ্ত হও।" (আল-ইমরান: ১০৩)

এবং আল্লাহর বাণী: "আর যারা কিতাবকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে এবং সালাত কায়েম করে, নিশ্চয়ই আমি সংস্কারকদের প্রতিদান বিনষ্ট করি না।" (আল-আরাফ: ১৭০)

(আল্লাহর রজ্জু) এটি সম্পর্কে আলেমদের একাধিক অভিমত রয়েছে। মুফাসসিরদের নিকট এর অধিকাংশের অর্থ হলো: কুরআন; যেমনটি ইবনুল কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন। আর এখানে গ্রন্থকারের উদ্দেশ্যও এটিই; কারণ তিনি এরপর সুন্নাহর কথা উল্লেখ করেছেন।

--------------------------------------------

১. মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন, হাদিস নম্বর (৮৬৭), জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানযূমাতি ইবনি আবী দাউদ আল-হাইইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
والناظم رحمه الله بقوله: "تمسك بحبل الله" يخاطب السني ويقول له: ليكن مرجعك دائماً وأبداً كتاب الله، ومع تمسكك به: (اتبع الهدى) أي: السنة.

و (الهدى) في الكتاب والسنة يطلق على أمرين:

1- التوفيق والإلهام. 2- الدلالة والبيان والإرشاد.

ومن خلال السياق يمكن معرفة المراد. فقوله تعالى: {إِنَّكَ لا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ} (القصص:56)

وقوله تعالى: {لَيْسَ عَلَيْكَ هُدَاهُمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ} (البقرة: من الآية272)

وقوله تعالى: {مَنْ يَهْدِ اللَّهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِي وَمَنْ يُضْلِلْ فَأُولَئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ} (لأعراف:178)

وقوله تعالى: {اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ} (الفاتحة:6)

كل هذه الآيات في هداية التوفيق، وليست لأحد غير الله تعالى وكان النبي صلى الله عليه وسلم يستهدي ربه فيقول في دعائه: "اللهم إني أسألك الهدى والسداد" 1

فالذي يشرح الصدر ويوفق ويهدي هو الله ولذلك قال سبحانه مخاطباً نبيه صلى الله عليه وسلم {إِنَّكَ لا تَهْدِي مَنْ أَحْبَبْتَ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ} (القصص:56)

--------------------------------------------

1 أخرجه مسلم برقم (2725) من حديث علي بن أبي طالب رضي الله عنه.
নাযিম রহিমাহুল্লাহ তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে: "আল্লাহর রশিকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরুন", সুন্নি ব্যক্তিকে সম্বোধন করছেন এবং তাকে বলছেন: তোমার প্রত্যাবর্তনস্থল যেন সর্বদা এবং চিরকাল আল্লাহর কিতাব হয়, আর তা আঁকড়ে ধরার পাশাপাশি: (সঠিক পথ অনুসরণ করো) অর্থাৎ: সুন্নাহ।

আর কিতাব ও সুন্নাহতে 'আল-হুদা' (হেদায়েত) শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:

১- তাওফিক (সফলতা দান) ও ইলহাম (অন্তরে জাগ্রত করা)। ২- দিকনির্দেশনা, বর্ণনা ও পথপ্রদর্শন।

প্রসঙ্গের মাধ্যমেই উদ্দিষ্ট অর্থটি জানা সম্ভব। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে হেদায়েত করতে পারবেন না, বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে হেদায়েত দেন এবং হেদায়েতপ্রাপ্তদের সম্পর্কে তিনি অধিক অবগত।} (আল-কাসাস: ৫৬)

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {তাদেরকে হেদায়েত দেওয়ার দায়িত্ব আপনার নয়, বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দান করেন।} (আল-বাকারাহ: আয়াত ২৭২ এর অংশ)

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন সেই হেদায়েতপ্রাপ্ত, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।} (আল-আরাফ: ১৭৮)

এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আমাদের সরল পথ দেখান।} (আল-ফাতিহা: ৬)

এই সব কটি আয়াত 'তাওফিকের হেদায়েত' (সঠিক পথে চলার সামর্থ্য দান) সম্পর্কিত, যা আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কারও অধিকারে নেই। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর রবের কাছে হেদায়েত প্রার্থনা করতেন এবং তাঁর দোয়ায় বলতেন: "হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে হেদায়েত ও সঠিকতা (দৃঢ়তা) প্রার্থনা করছি।" ১

সুতরাং যিনি অন্তর উন্মোচন করেন, তাওফিক দেন এবং হেদায়েত দান করেন তিনি হলেন আল্লাহ। এই কারণেই সুবহানাহু তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করে বলেছেন: {নিশ্চয়ই আপনি যাকে ভালোবাসেন তাকে হেদায়েত করতে পারবেন না, বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাকে হেদায়েত দেন এবং হেদায়েতপ্রাপ্তদের সম্পর্কে তিনি অধিক অবগত।} (আল-কাসাস: ৫৬)

--------------------------------------------

১ মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং ২৭২৫, আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানযূমাতি ইবনি আবী দাউদ আল-হাইইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
والأخرى: هداية الدلالة والبيان.

قال تعالى: {وَأَمَّا ثَمُودُ فَهَدَيْنَاهُمْ فَاسْتَحَبُّوا الْعَمَى عَلَى الْهُدَى فَأَخَذَتْهُمْ صَاعِقَةُ الْعَذَابِ الْهُونِ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ} (فصلت:17)

ولو كان من باب هداية التوفيق لما استحبوا العمى على الهدى.

قال تعالى: {وَهَدَيْنَاهُ النَّجْدَيْنِ} (البلد:10)

وهذه الهداية تكون كذلك للأنبياء والصالحين والعلماء، ومن ذلك قوله تعالى في حق رسوله صلى الله عليه وسلم {وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} (الشورى: من الآية52) ، وقوله تعالى: {وَجَعَلْنَا مِنْهُمْ أَئِمَّةً يَهْدُونَ بِأَمْرِنَا لَمَّا صَبَرُوا وَكَانُوا بِآياتِنَا يُوقِنُونَ} (السجدة:24)

(اتبع الهدى) أي ألزم طريق الهدى والرشاد الذي بينه ودل عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم فهو خير هديٍ وأكمله، وفي الحديث يقول صلى الله عليه وسلم "وخير الهدى هدى محمد" 1، وفي رواية:"وخير الهدي" الهدى: لدلالة والإرشاد، والهدي: الطريق، وهديه صلى الله عليه وسلم ما بينه للناس ودلهم عليه مما أوحى إليه ربه، فهو لا ينطق عن الهوى إن هو إلا وحي يوحى، وهديه صلى الله عليه وسلم هو خير زاد ليوم المعاد، والوقوف بين يدي رب العباد. وفي حثه رحمه الله على التمسك بالسنة إبطال لقول الطائفة الضالة الذين يتسمون بـ (القرآنيين) الذين يقولون: نحن لا نأخذ إلا بالقرآن، ومن

--------------------------------------------

1 تقدم (ص 14)
এবং অন্যটি হলো: পথপ্রদর্শন ও বর্ণনার মাধ্যমে হেদায়াত।

মহান আল্লাহ বলেন: "আর সামূদ জাতির ব্যাপারটি এই যে, আমি তাদেরকে পথ দেখিয়েছিলাম, কিন্তু তারা হেদায়াতের পরিবর্তে অন্ধত্বকেই বেশি পছন্দ করেছিল। ফলে তাদের কৃতকর্মের কারণে অপমানজনক শাস্তির গর্জন তাদেরকে পাকড়াও করেছিল।" (ফুসসিলাত: ১৭)

আর এটি যদি তাওফীক প্রদানের মাধ্যমে হেদায়াত হতো, তবে তারা হেদায়াতের পরিবর্তে অন্ধত্বকে পছন্দ করত না।

মহান আল্লাহ বলেন: "আর আমি তাকে দুটি পথই দেখিয়েছি।" (আল-বালাদ: ১০)

আর এই হেদায়াত নবীগণ, নেককারগণ এবং আলেমদের ক্ষেত্রেও হয়ে থাকে। এর উদাহরণ হিসেবে তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে মহান আল্লাহর বাণী হলো: "আর নিশ্চয়ই আপনি সঠিক পথের দিকে হেদায়াত করেন।" (আশ-শুরা: ৫২ নং আয়াতের অংশ)। এবং মহান আল্লাহর বাণী: "আর আমি তাদের মধ্য থেকে নেতা মনোনীত করেছিলাম যারা আমার আদেশ অনুযায়ী পথপ্রদর্শন করত, যেহেতু তারা ধৈর্য ধারণ করেছিল এবং তারা আমার আয়াতসমূহে দৃঢ় বিশ্বাসী ছিল।" (আস-সাজদাহ: ২৪)

(হেদায়াত অনুসরণ কর) অর্থাৎ হেদায়াত ও সঠিক পথের ওপর অবিচল থাক যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বর্ণনা করেছেন এবং যেদিকে তিনি পথ দেখিয়েছেন। কারণ তা সর্বোত্তম ও সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ হেদায়াত। হাদীসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: "আর সর্বোত্তম হেদায়াত হলো মুহাম্মাদের হেদায়াত" ১। অন্য বর্ণনায় এসেছে: "সর্বোত্তম পথনির্দেশ"। 'আল-হুদা' অর্থ: পথপ্রদর্শন ও পথ দেখানো, আর 'আল-হাদি' অর্থ: পথ। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হেদায়াত হলো তা-ই যা তিনি মানুষের জন্য বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর রব তাঁর প্রতি যা ওহী করেছেন তার মধ্য থেকে যা তিনি প্রদর্শন করেছেন। তিনি নিজ প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না, এটি তো কেবল ওহী যা তাঁর প্রতি অবতীর্ণ করা হয়। আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হেদায়াতই হলো পরকালের দিনের জন্য এবং বান্দাদের রবের হাতের সামনে দাঁড়ানোর দিনের জন্য সর্বোত্তম পাথেয়। সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার ব্যাপারে তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) এই উৎসাহ প্রদান সেই পথভ্রষ্ট দলটির বক্তব্যকে বাতিল করে দেয় যারা নিজেদের (কুরআনী) বলে পরিচয় দেয়, যারা বলে: "আমরা কুরআন ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করি না।" এবং যারা...

--------------------------------------------

১ পূর্বে বর্ণিত হয়েছে (পৃষ্ঠা ১৪)
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানযূমাতি ইবনি আবী দাউদ আল-হাইইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
كان كذلك فهو ليس بآخذٍ حتى بالقرآن؛ لأن الله قد أمر في كتابه في آيات عديدة بالأخذ بالسنة والتمسك بها، ولذا لا يكون العبد متمسكاً بالقرآن إلا إذا أخذ بالسنة، فلا بد من الأخذ بالأمرين معاً.

قال الله تعالى آمراً أمهات المؤمنين: {وَاذْكُرْنَ مَا يُتْلَى فِي بُيُوتِكُنَّ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ وَالْحِكْمَةِ إِنَّ اللَّهَ كَانَ لَطِيفاً خَبِيراً} (الأحزاب:34)

وقال سبحانه: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (الحشر: من الآية7)

الشطر الأول من البيت وهو قوله: (تمسك بحل الله واتبع الهدي) فيه تحديدٌ للمصدر في التلقي، ولما حدده حذر من مخالفته فقال: (ولا تك بدعياً) .

وهو بهذا السياق يشير إلى أصل مهم وهو: أن من نخلى عن حبل الله وتخلى عن السنة فهو آخذ بسبيل بدعة وضلالة؛ ولذا عرف بعض أهل العلم البدعة: بما ليس بالسنة.

فالناظم رحمه الله يقول: ولا تك بدعياً بترك الكتاب والسنة، وهو بهذا يشير إلى الهُوَة العميقة التي سقط فيها المبتدعة جميعاً، وهي تركهم للكتاب والسنة، وإلا كانوا أهل سنة وجماعة، ولما كانوا أهل أهواء وبدع، فالبدعي هو: من ترك الكتاب والسنة ولم يتلق عنهما، ولم يأخذ دينه منهما.

ومن نظر إلى عامة أهل البدع وجد أن منشأ ضلالتهم هو عدم التمسك بالكتاب والسنة، إما بالاعتماد على العقول والآراء، أو المنامات، أو الحكايات، أو غير ذلك مما جعله أهل الأهواء مصدراً لهم في الاستدلال.
যদি বিষয়টি এমন হয়, তবে সে এমনকি কুরআনকেও গ্রহণকারী নয়; কারণ আল্লাহ তাঁর কিতাবের বহু আয়াতে সুন্নাহ গ্রহণ করতে এবং তা আঁকড়ে ধরতে নির্দেশ দিয়েছেন। এই কারণে একজন বান্দা ততক্ষণ কুরআন আঁকড়ে ধরা ব্যক্তি হতে পারে না, যতক্ষণ না সে সুন্নাহ গ্রহণ করে। তাই উভয়টিকে একসাথে গ্রহণ করা অপরিহার্য।

মহান আল্লাহ মুমিনদের মাতাদের নির্দেশ দিয়ে বলেন: "তোমাদের ঘরে আল্লাহর যে আয়াতসমূহ ও হিকমত পঠিত হয় তা তোমরা স্মরণ করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত।" (আল-আহযাব: ৩৪)

মহান আল্লাহ আরও বলেন: "রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা তোমরা গ্রহণ করো, আর যা থেকে তিনি তোমাদের নিষেধ করেন তা হতে বিরত থাকো।" (আল-হাশর: ৭ নম্বর আয়াতের অংশ)

কবিতার পঙক্তির প্রথম অংশ—যা হলো তাঁর উক্তি: (আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরো এবং সঠিক পথ অনুসরণ করো)—এতে জ্ঞান ও দ্বীন গ্রহণের উৎস নির্ধারিত হয়েছে। যখন তিনি তা নির্ধারণ করলেন, তখন এর বিরোধিতার ব্যাপারে সতর্ক করে বললেন: (আর তুমি বিদআতি হয়ো না)।

তিনি এই প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতির দিকে ইঙ্গিত করছেন, আর তা হলো: যে ব্যক্তি আল্লাহর রজ্জু পরিত্যাগ করে এবং সুন্নাহ বর্জন করে, সে বিদআত ও গোমরাহির পথ অবলম্বন করে। এই কারণেই কোনো কোনো আলেম বিদআতের সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে: যা সুন্নাহ নয়।

সুতরাং রচয়িতা (রাহিমাহুল্লাহ) বলছেন: কিতাব ও সুন্নাহ ত্যাগের মাধ্যমে তুমি বিদআতি হয়ো না। এর মাধ্যমে তিনি সেই গভীর গহ্বরের দিকে ইঙ্গিত করছেন যাতে সমস্ত বিদআতিরা নিপতিত হয়েছে, আর তা হলো তাদের কিতাব ও সুন্নাহ বর্জন করা। অন্যথায় তারা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অন্তর্ভুক্ত হতো এবং প্রবৃত্তি পূজারি ও বিদআতি হতো না। সুতরাং বিদআতি হলো সেই ব্যক্তি: যে কিতাব ও সুন্নাহ বর্জন করেছে, তা থেকে দ্বীন গ্রহণ করেনি এবং সেই উৎস থেকে শিক্ষা লাভ করেনি।

যে ব্যক্তি সাধারণভাবে বিদআতিদের প্রতি লক্ষ্য করবে, সে দেখতে পাবে যে তাদের গোমরাহির মূল কারণ হলো কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে না ধরা; হয় তারা বিবেক-বুদ্ধি ও মতামতের ওপর নির্ভর করেছে, অথবা স্বপ্ন, কিচ্ছা-কাহিনী কিংবা অন্য এমন কিছুর ওপর যা প্রবৃত্তি পূজারিরা তাদের দলিল গ্রহণের উৎস হিসেবে সাব্যস্ত করেছে।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানযূমাতি ইবনি আবী দাউদ আল-হাইইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
وقوله: (لعلك تفلح) هذه نتيجة التمسك بالكتاب والسنة واجتناب البدع.

و (الفلاح) كلمة جامعة لخيري الدنيا والآخرة، وقد قيل لا كلمة في اللغة أجمع للخيرات من كلمة الفلاح، والفلاح لا يكون إلا بالتمسك بالكتاب والسنة والابتعاد عن البدع، ومن لم يتمسك بالكتاب والسنة، وذهب إلى شيء من تلك المصادر لم يفلح؛ ولهذا جاء عن الإمام أحمد رحمه الله أنه قال: "ما ارتدى أحدٌ بالكلام فأفلح"؛ وعندما ناظر الشافعي بشراً فتغلب عليه وخرج بشرٌ قال الشافعي: "لا يفلح".

وهذا المعنى دل عليه القرآن الكريم كما في أول سورة البقرة في قوله تعالى: {الم. ذَلِكَ الْكِتَابُ لا رَيْبَ فِيهِ هُدىً لِلْمُتَّقِينَ. الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ. وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ وَبِالْآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ. أُولَئِكَ عَلَى هُدىً مِنْ رَبِّهِمْ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} (البقرة:1-5)

و (لعل) عند الناظم هنا ليست للترجي؛ لأن من اعتصم بالكتاب والسنة ففلاحه متحقق، إلا إن قصد فعل العبد بتحقيقه لهذا المقام وتتميمه لهذا الاعتصام.

ثم قال رحمه الله مؤكداً على لزوم التمسك بالكتاب والسنة:

(ودن بكتاب الله والسنن التي … أتت عن رسول الله تنجو وتربح)
এবং তাঁর কথা: (যাতে তুমি সফল হতে পারো) এটি কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা এবং বিদআত বর্জন করার ফল।

আর 'ফালাহ' (সফলতা) শব্দটি দুনিয়া ও আখিরাতের সকল কল্যাণের সমষ্টি। বলা হয়েছে যে, ভাষায় 'ফালাহ' শব্দের চেয়ে কল্যাণকে অধিক অন্তর্ভুক্তকারী আর কোনো শব্দ নেই। আর কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা এবং বিদআত থেকে দূরে থাকা ছাড়া সফলতা অর্জন সম্ভব নয়। যে ব্যক্তি কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবে না এবং ওইসব উৎসের দিকে ধাবিত হবে, সে সফল হবে না; এই কারণেই ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তিই ইলমুল কালামকে (তর্কশাস্ত্র) নিজের ভূষণ বানিয়েছে, সে সফল হতে পারেনি।" আর যখন ইমাম শাফিঈ বিশরের সাথে বিতর্ক করলেন এবং তাকে পরাজিত করলেন, তখন বিশর বের হয়ে যাওয়ার পর ইমাম শাফিঈ বললেন: "সে সফল হবে না।"

আর এই অর্থটি কুরআন কারীমেও নির্দেশিত হয়েছে, যেমনটি সূরা আল-বাকারার শুরুতে মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: {আলিফ-লাম-মীম। এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই, এটি মুত্তাকীদের জন্য পথপ্রদর্শক। যারা অদৃশ্যের প্রতি ঈমান আনে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদের যা রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। আর যারা আপনার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে এবং আপনার পূর্বে যা নাযিল করা হয়েছে তার ওপর ঈমান আনে এবং তারা আখিরাতের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখে। তারাই তাদের রবের পক্ষ থেকে হিদায়াতের ওপর রয়েছে এবং তারাই সফলকাম।} (আল-বাকারা: ১-৫)

আর এখানে নাযিমের (কাব্য রচয়িতার) ব্যবহৃত 'লাআল্লা' (যাতে/হয়তো) শব্দটি নিছক আশার অর্থে নয়; কারণ যে ব্যক্তি কিতাব ও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেছে, তার সফলতা সুনিশ্চিত। তবে এর দ্বারা যদি বান্দার পক্ষ থেকে এই মর্যাদা অর্জন ও এই দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার বিষয়টি পূর্ণ করার প্রচেষ্টা উদ্দেশ্য হয়ে থাকে (তবে ভিন্ন কথা)।

অতঃপর তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার আবশ্যকতা জোরদার করে বলেছেন:

(আর আল্লাহর কিতাব ও সেইসব সুন্নাহর অনুসারী হও যা … আল্লাহর রাসূলের পক্ষ থেকে এসেছে, তবেই তুমি মুক্তি পাবে ও লাভবান হবে)
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানযূমাতি ইবনি আবী দাউদ আল-হাইইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
(دن) فعل أمر من الفعل دان يدين ديناً.

والمعنى: أقم دينك على الكتاب والسنة وآمن وأطع وامتثل ما جاء فيهما، بتصديق الأخبار وفعل الأوامر وترك النواهي.

وقوله: " والسنن التي أتت عن رسول الله " السنن: جمع سنة، والمراد الأحاديث المروية عن رسول الله صلى الله عليه وسلم الثابتة عنه، فقوله: "أتت عن رسول الله" هذا تقييد وإرشاد إلى أن السنن لابد أن تصح حتى يؤخذ بها وتكون مقبولة، فإن صحت سواء بطريق التواتر أو الآحاد فهي حجة وعمدة في أمور الدين كلها العقيدة وغيرها.

قوله: (تنجو) لم يذكر من أي شيء؛ ليعم النجاة من كل شر وبلاء في الدنيا والآخرة. وقوله (وتربح) هذا زيادة على النجاة، فالنجاة رأس المال وفوقه أرباح متعددة بحسب قوة اعتصام المرء بالكتاب والسنة أرباح دنيوية وأرباح أخروية.

قال الله تعالى: {قُلْنَا اهْبِطُوا مِنْهَا جَمِيعاً فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ مِنِّي هُدىً فَمَنْ تَبِعَ هُدَايَ فَلا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلا هُمْ يَحْزَنُونَ} (البقرة:38)

وقال تعالى: {فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ مِنِّي هُدىً فَمَنِ اتَّبَعَ هُدَايَ فَلا يَضِلُّ وَلا يَشْقَى} (طه: من الآية123)

جاء عن ابن عباس ـرضي الله تعالى عنهماـ أنه قال في معنى هذه الآية: "تكفل الله لمن قرأ القرآن وعمل بما فيه أن لا يضل في الدنيا ولا يشقى في الآخرة".
(দ্বীন অবলম্বন করো) এটি 'দান', 'ইয়াদিনু', 'দ্বীনান' ক্রিয়া থেকে আগত একটি আদেশসূচক ক্রিয়া।

এর অর্থ হলো: কিতাব ও সুন্নাহর ওপর তোমার দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করো এবং তাতে যা এসেছে তার প্রতি ঈমান আনো, আনুগত্য করো এবং তা মেনে চলো—সংবাদসমূহকে সত্য বলে বিশ্বাস করার মাধ্যমে, আদেশসমূহ পালন করার মাধ্যমে এবং নিষেধসমূহ বর্জন করার মাধ্যমে।

এবং তাঁর উক্তি: "এবং সেই সুন্নাহসমূহ যা রাসূলুল্লাহর কাছ থেকে এসেছে"; সুন্নাহসমূহ হলো সুন্নাহর বহুবচন। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সেই সকল হাদীস যা তাঁর থেকে প্রমাণিত। সুতরাং তাঁর উক্তি "রাসূলুল্লাহর কাছ থেকে এসেছে" এটি একটি সীমাবদ্ধতা ও নির্দেশনা যে, সুন্নাহ গ্রহণীয় ও গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য তা সহীহ হওয়া আবশ্যক। যদি তা সহীহ হয়—চাই তা মুতাওয়াতির পদ্ধতিতে হোক বা আহাদ পদ্ধতিতে—তবে তা আকীদাহ এবং অন্যান্য সকল দ্বীনী বিষয়ে দলীল ও মূল ভিত্তি হিসেবে গণ্য হবে।

তাঁর উক্তি: (তুমি মুক্তি পাবে); এখানে কী থেকে মুক্তি পাবে তা উল্লেখ করা হয়নি, যাতে দুনিয়া ও আখিরাতের সকল অনিষ্ট ও বিপদ থেকে মুক্তি এর অন্তর্ভুক্ত হয়। আর তাঁর উক্তি (এবং তুমি লাভবান হবে); এটি মুক্তির অতিরিক্ত একটি বিষয়। মুক্তি হলো মূলধন, আর কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার দৃঢ়তা অনুযায়ী তার ওপর রয়েছে দুনিয়াবী ও আখিরাত সংক্রান্ত বহুমুখী মুনাফা।

আল্লাহ তাআলা বলেন: "আমি বললাম, তোমরা সবাই এখান থেকে নেমে যাও। অতঃপর যদি আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কোনো হেদায়াত আসে, তবে যারা আমার হেদায়াত অনুসরণ করবে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না" (আল-বাকারাহ: ৩৮)।

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "অতঃপর যদি আমার পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে কোনো হেদায়াত আসে, তবে যে আমার হেদায়াতের অনুসরণ করবে, সে পথভ্রষ্ট হবে না এবং দুর্ভাগাও হবে না" (ত্বহা: ১২৩ নং আয়াতের অংশ)।

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এই আয়াতের অর্থ সম্পর্কে বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তির জন্য জিম্মাদার হয়েছেন যে কুরআন পাঠ করবে এবং তার ওপর আমল করবে, যেন সে দুনিয়াতে পথভ্রষ্ট না হয় এবং আখিরাতে দুর্ভাগা না হয়।"
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানযূমাতি ইবনি আবী দাউদ আল-হাইইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌صفة الكلام

(وقل غير مخلوق كلام مليكنا … بذلك دان الأتقياء وأفصحوا)

(ولا تك في القرآن بالوقف قائلاً … كما قال أتباع لجهمٍ وأسجحوا)

(ولا تقل القرآن خلق قرأته … فإن كلام الله باللفظ يوضح)

لعل الناظم بدأ بهذه الصفة قبل غيرها من الصفات؛ لمناسبة السياق، وذلك أنه بدأ في البيتين الأولين بذكر التمسك بالكتاب والسنة، فلما ذكر وجوب التمسك بالقرآن، بدأ بذكر أبيات فيها ذكر عقيدة أهل السنة في القرآن، والرد على الذين خالفوا الحق وباينوه وجانبوا معتقد أهل السنة فيه، فهذه الأبيات فيها بيان موجز لمعتقد أهل السنة في هذه المسألة، وردٌ على أصناف من أهل البدع، وهم طوائف عديدة، أشار الناظم إلى بعضهم فبدأ رحمه الله بالكلام في هذه المسألة بقولة: (وقل غير مخلوق كلام مليكنا)

(قل) الخطاب لصاحب السنة المتمسك بالكتاب والسنة، أي: قل معتقداً مؤمناً بهذا الأمر غير شاكٍ فيه ولا مترددٍ؛ لأن القول إذا أطلق فإنه يشمل قول القلب وقول اللسان، ومن ذلك قوله تعالى: {قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ} (البقرة: من الآية136) أي: قولوا ذلك بقلوبكم إيماناً واعتقاداً وبألسنتكم نطقاً وتلفظاً.

(غير مخلوق كلام مليكنا) وهذا فيه إثبات أمرين يتعلقان بصفة الكلام:
কথা বলার গুণ

(আর বলো, আমাদের অধিপতির কথা সৃষ্টি নয় … এ বিশ্বাসই পরহেজগাররা পোষণ করেছেন এবং তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন)

(আর কুরআনের ব্যাপারে ‘ওয়াকফ’ বা বিরতি অবলম্বনকারী হয়ো না … যেমনটি জাহমের অনুসারীরা বলেছে এবং তারা নতি স্বীকার করেছে)

(আর এ কথা বলো না যে, আমার কুরআন পাঠ করা সৃষ্টি … কেননা আল্লাহর বাণী উচ্চারণের মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়)

সম্ভবত লেখক প্রেক্ষাপটের উপযোগিতার কারণে অন্যান্য গুণের আগে এই গুণটি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। কারণ তিনি প্রথম দুই চরণে কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার কথা উল্লেখ করে শুরু করেছেন। তাই যখন তিনি কুরআনকে আঁকড়ে ধরার আবশ্যকতা উল্লেখ করলেন, তখন কুরআনের বিষয়ে আহলে সুন্নাহর আকিদা সম্বলিত চরণগুলো বর্ণনা করতে শুরু করলেন। আর যারা সত্যের বিরোধিতা করেছে, সত্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং এই বিষয়ে আহলে সুন্নাহর আকিদা বর্জন করেছে, তাদের খণ্ডন করেছেন। এই চরণগুলোতে এই মাসআলায় আহলে সুন্নাহর আকিদার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ রয়েছে এবং বিদআতিদের বিভিন্ন গোষ্ঠীর খণ্ডন রয়েছে। তারা অনেক দল, লেখক তাদের কয়েকটির দিকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এই মাসআলায় তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে আলোচনা শুরু করেছেন: (আর বলো, আমাদের অধিপতির কথা সৃষ্টি নয়)।

(বলো) এই সম্বোধন সেই সুন্নাহর অনুসারীর প্রতি, যে কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরে। অর্থাৎ: এই বিষয়ে পূর্ণ বিশ্বাসী ও ঈমানদার হয়ে বলো, এতে কোনো সন্দেহ বা দ্বিধা না রেখে; কারণ ‘বলা’ শব্দটি যখন সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়, তখন তা অন্তরের কথা এবং জিহ্বার কথা—উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা বলো, আমরা আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি} (বাকারা: ১৩৬ নং আয়াতের অংশ)। অর্থাৎ: তোমরা তা তোমাদের অন্তরে বিশ্বাস ও আকিদা হিসেবে বলো এবং তোমাদের জিহ্বায় উচ্চারণ ও শব্দ করে বলো।

(আমাদের অধিপতির কথা সৃষ্টি নয়) এর মধ্যে কথা বলার গুণ সংশ্লিষ্ট দুটি বিষয় সাব্যস্ত করা হয়েছে:
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানযূমাতি ইবনি আবী দাউদ আল-হাইইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
الأمر الأول: أن الكلام صفة لله، فالقرآن كلام الله وليس كلام أحد من المخلوقين، وإضافته إلى الله من باب إضافة الصفة إلى الموصوف، بخلاف المعتزلة الذين قالوا هو من باب إضافة المخلوق إلى الخالق.

والمضافات إلى الله تعالى نوعين: مضاف إلى الله من باب إضافة الصفة إلى الموصوف مثل سمع الله وبصر الله وقدرة الله وكلام الله وعلم الله، وضابطه ما إذا كان المضاف وصفاً لا يقوم إلا بموصوف، ومضاف إلى الله من باب إضافة المخلوق إلى الخالق مثل عبد الله وأمة الله وناقة الله وبيت الله، وضابطه ما إذا كان المضاف عيناً قائماً بنفسه.

وهكذا الشأن فيما قال فيه "من الله" فقد يكون منه وصفاً، وقد يكون منه خلقاً. فقوله تعالى: {وَلَكِنْ حَقَّ الْقَوْلُ مِنِّي لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ} (السجدة: من الآية13) . القول وصف للرب سبحانه ونعت من نعوته.

وقوله: {وَسَخَّرَ لَكُمْ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ جَمِيعاً مِنْهُ} (الجاثية: من الآية13) . ما في السماوات وما في الأرض جميعاً هو من الله خلقاً وإيجاداً.

وفي هذا الباب ضل طائفتان: المعتزلة حيث جعلوا الجميع إضافته إلى الله إضافة خلق وإيجاد؛ ليصلوا إلى مبتغاهم وهو القول بأن كلام الله مخلوق، وغلاة الصوفية حيث جعلوا الجميع إضافته إلى الله إضافة وصف؛ ليصلوا إلى مبتغاهم وهو القول بالحلول ووحدة الوجود تعالى الله عما يصفون.

والحق وسط بين ذلك، والحاصل أن إضافة الكلام إلى الله عز وجل من باب إضافة الصفة إلى الموصوف.
প্রথম বিষয়টি হলো: কালাম বা কথা আল্লাহর একটি গুণ। সুতরাং কুরআন আল্লাহর কালাম, এটি সৃষ্টিজীবের কারোর কথা নয়। আল্লাহর সাথে এর সম্পৃক্ততা হলো গুণীর সাথে গুণের সম্পৃক্ততার পর্যায়ভুক্ত। এটি মুতাযিলাদের মতের বিপরীত, যারা বলে যে এটি স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির সম্পৃক্ততার পর্যায়ভুক্ত।

মহান আল্লাহর সাথে যা কিছু সম্পৃক্ত করা হয় তা দুই প্রকার: প্রথমত, গুণীর সাথে গুণের সম্পৃক্ততা, যেমন আল্লাহর শ্রবণ, আল্লাহর দর্শন, আল্লাহর ক্ষমতা, আল্লাহর কালাম এবং আল্লাহর জ্ঞান। এর মূলনীতি হলো, যখন সম্পৃক্ত বিষয়টি এমন কোনো গুণ হয় যা গুণী ছাড়া স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে অবস্থান করতে পারে না। দ্বিতীয়ত, স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির সম্পৃক্ততা, যেমন আল্লাহর বান্দা, আল্লাহর দাসী, আল্লাহর উষ্ট্রী এবং আল্লাহর ঘর। এর মূলনীতি হলো, যখন সম্পৃক্ত বিষয়টি এমন কোনো সত্তা হয় যা নিজের ওপর ভর করে নিজেই বিদ্যমান থাকতে পারে।

অনুরূপভাবে সেই বিষয়গুলোর হুকুমও একই যাতে বলা হয়েছে "আল্লাহর পক্ষ থেকে"; কখনও তা তাঁর পক্ষ থেকে গুণ হিসেবে হয়, আবার কখনও সৃষ্টি হিসেবে হয়। মহান আল্লাহর বাণী: "কিন্তু আমার পক্ষ থেকে এই কথা সত্য হয়েছে যে, আমি জিন ও মানুষ উভয় দ্বারা অবশ্যই জাহান্নাম পূর্ণ করব" (সূরা আস-সাজদাহ: ১৩ এর অংশবিশেষ)। এখানে "কথা" হলো সুবহানাহু রবের একটি গুণ এবং তাঁর বৈশিষ্ট্যসমূহের একটি বৈশিষ্ট্য।

এবং তাঁর বাণী: "আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে, সব কিছুকে তিনি তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন" (সূরা আল-জাছিয়াহ: ১৩ এর অংশবিশেষ)। আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে তার সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে সৃষ্টি ও অস্তিত্বে আনয়ন হিসেবে সাব্যস্ত।

এই ক্ষেত্রে দুই দল পথভ্রষ্ট হয়েছে: মুতাযিলা সম্প্রদায়, যারা সবকিছুর সম্পৃক্ততাকেই আল্লাহর সাথে সৃষ্টি ও অস্তিত্বে আনয়নের সম্পৃক্ততা বলে গণ্য করেছে; যাতে তারা তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারে, আর তা হলো আল্লাহর কালাম সৃষ্টি হওয়ার কথা বলা। অন্যটি হলো চরমপন্থী সুফি সম্প্রদায়, যারা সবকিছুর সম্পৃক্ততাকেই আল্লাহর সাথে গুণের সম্পৃক্ততা বলে গণ্য করেছে; যাতে তারা তাদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে পারে, আর তা হলো হুলুল (অনুপ্রবেশ) এবং ওয়াহদাতুল উজুদ (অদ্বৈতবাদ) এর কথা বলা। তারা যা বর্ণনা করে আল্লাহ তা থেকে অত্যন্ত ঊর্ধ্বে।

আর সত্য হলো এই দুইয়ের মাঝামাঝি। সারকথা হলো, মহান আল্লাহর সাথে কালাম বা কথার সম্পৃক্ততা হলো গুণীর সাথে গুণের সম্পৃক্ততার পর্যায়ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানযূমাতি ইবনি আবী দাউদ আল-হাইইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
وعندما يقال كلام مليكنا هذا يتمضن الأصل في الصفات، وهو أن ما يضاف إلى الله من الصفات يثبت له على وجه يليق به، وهذا تضمنه قوله (كلام مليكنا) أي هي صفة لله تليق به ولا تشبه صفات المخلوقين، فهو سبحانه له الكمال في ذاته وصفاته. ولذا قال بعض السلف: إذا أردت أن تعرف الفرق بين كلام الله وكلام المخلوقين فهو كالفرق بين الخالق والمخلوق.

والقاعدة عند أهل العلم: أن الإضافة تقتضي التخصيص، فعندما يضاف الكلام إلى الله فأنه يخصه ويليق بجلاله وكماله، وعندما يضاف الكلام إلى المخلوق فيخصه ويليق بعجزه ونقصه، ولا يلزم من اتفاق الشيئين في الاسم أن يتفقا في الحقيقة والمسمى. هذا بين المخلوق والمخلوق، فكيف بين المخلوق والخالق.

الأمر الثاني: قوله: (غير مخلوق) ، وهذا فيه رد وإبطال لقول من قال إن كلام الله مخلوق من المخلوقات التي أوجدها الله بقدرته، فالناظم بين بطلان هذا المعتقد بقوله: (غير مخلوق) ، والقول بخلق القرآن هو معتقد الجهمية والمعتزلة وغيرهم.

والجهمية يصرحون بهذا ويقولون: القرآن مخلوق والكلام مخلوق ولا يقولون هو كلام الله، ولهذا حاول شيخهم تحريف قوله تعالى: {وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيماً} (النساء: من الآية164) . إلى نصب لفظ الجلالة فراراً من إضافة الكلام إلى الله.
যখন বলা হয় 'আমাদের বাদশাহর কথা', তখন তা গুণাবলীর মূলনীতিকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর তা হলো, আল্লাহর প্রতি যে সকল গুণাবলী সম্বন্ধ করা হয়, তা তাঁর জন্য এমনভাবে সাব্যস্ত হয় যা তাঁর শানে শোভনীয়। এটি তাঁর 'আমাদের বাদশাহর কথা' বাণীর অন্তর্ভুক্ত; অর্থাৎ এটি আল্লাহর একটি গুণ যা তাঁর জন্য শোভন এবং তা সৃষ্টিজগতের গুণাবলীর সদৃশ নয়। কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাঁর সত্তা ও গুণাবলীতে পূর্ণতার অধিকারী। এজন্যই সালাফদের কেউ কেউ বলেছেন: তুমি যদি আল্লাহর কথা ও সৃষ্টিজগতের কথার মধ্যে পার্থক্য জানতে চাও, তবে তা স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যকার পার্থক্যের ন্যায়।

বিদ্বানগণের নিকট একটি মূলনীতি হলো: কোনো কিছুর সম্বন্ধকরণ তার বিশিষ্টতাকে দাবি করে। সুতরাং যখন 'কথা' আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করা হয়, তখন তা তাঁর সাথেই বিশিষ্ট হয় এবং তাঁর মহিমা ও পূর্ণতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। আর যখন 'কথা' সৃষ্টির দিকে সম্বন্ধ করা হয়, তখন তা সৃষ্টির সাথেই বিশিষ্ট হয় এবং তার অক্ষমতা ও অসম্পূর্ণতার জন্য শোভন হয়। নামগতভাবে দুটি বিষয়ের মধ্যে মিল থাকলেই তাদের হাকিকত বা বাস্তবতায় মিল থাকা আবশ্যক নয়। এটি যখন সৃষ্টির সাথে সৃষ্টির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য, তখন স্রষ্টা ও সৃষ্টির মাঝে পার্থক্য কেমন হতে পারে!

দ্বিতীয় বিষয়টি হলো তাঁর বক্তব্য: '(অসৃষ্ট)', এর মাধ্যমে ঐ ব্যক্তির মতবাদকে খণ্ডন ও বাতিল করা হয়েছে যে বলে আল্লাহর কথা হলো সৃষ্টিজগতের অন্তর্ভুক্ত একটি সৃষ্টি যা আল্লাহ তাঁর কুদরত দ্বারা অস্তিত্ব দান করেছেন। সুতরাং রচয়িতা '(অসৃষ্ট)' বলার মাধ্যমে এই বিশ্বাসের অসারতা স্পষ্ট করেছেন। আর কুরআন সৃষ্টির আকিদা হলো জহমিয়া, মুতাজিলা ও অন্যদের বিশ্বাস।

জহমিয়ারা এটি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে এবং বলে: কুরআন সৃষ্টি এবং কথা সৃষ্টি, আর তারা একে আল্লাহর কথা বলে না। এই কারণেই তাদের প্রধান ব্যক্তি মহান আল্লাহর বাণী: {আর আল্লাহ মূসার সাথে কথা বলেছিলেন} (আন-নিসা: ১৬৪)-এর বিকৃতি ঘটানোর চেষ্টা করেছিল। সে 'আল্লাহ' শব্দটিকে জবর (নসব) প্রদানের মাধ্যমে পড়তে চেয়েছিল, যাতে আল্লাহর সাথে কথাকে সম্বন্ধ করা থেকে এড়িয়ে যাওয়া যায়।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানযূমাতি ইবনি আবী দাউদ আল-হাইইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
وأما المعتزلة فيضيفون الكلام إلى الله ولكنهم يجعلونه من باب إضافة المخلوق إلى الخالق.

والأشاعرة والكلابية أيضاً يقولون بخلق القرآن، ولكن لا يصرحون بذلك، ويقولون: الكلام نوعان كلام نفسي ليس بحرف ولا صوت وهذا يضيفونه إلى الله، أما الكلام اللفظي الذي يشتمل على الحرف والصوت والذي هو القرآن فهو مخلوق، وهو عبارة أو حكاية عن كلام الله وليس كلام الله بل هو مخلوقٌ من جمل سائر المخلوقات، وبذلك يلتقون مع الجهمية.

فالناظم بقوله: (غير مخلوق) أبطل جميع هذه المقالات.

فالقرآن كلام الله حقيقة، وهو بحرف وصوت سمعه جبريل من الله عز وجل، وألفاظه ومعانيه كلام الله، ليس كلام الله ألفاظه دون معانيه، ولا معانيه دون ألفاظه.

وقوله (مليكنا) فيه إثبات صفة الملك لله. فالله مالك الملك، والملك كله لله.

قال تعالى: {قُلِ اللَّهُمَّ مَالِكَ الْمُلْكِ تُؤْتِي الْمُلْكَ مَنْ تَشَاءُ وَتَنْزِعُ الْمُلْكَ مِمَّنْ تَشَاءُ وَتُعِزُّ مَنْ تَشَاءُ وَتُذِلُّ مَنْ تَشَاءُ بِيَدِكَ الْخَيْرُ إِنَّكَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ} (آل عمران:26) .

والمخلوق إذا ملك شيئاً فإنما هو بتمليك الله له، فالله مالك الدنيا والآخرة، والملك من معاني الربوبية؛ لأن الربوبية لها معانٍ منها: السيد والمطاع والملك.
পক্ষান্তরে মুতাযিলাগণ আল্লাহর দিকে কথা (কালাম) সম্পৃক্ত করেন, তবে তারা একে স্রষ্টার প্রতি সৃষ্টির সম্পৃক্তকরণের পর্যায়ভুক্ত করেন।

আশাইরা এবং কুল্লাবিয়াগণও কুরআন সৃষ্টির কথা বলেন, কিন্তু তারা তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেন না। তারা বলেন: কালাম দুই প্রকার; কালামে নাফসি (মানসিক কথা) যা কোনো বর্ণ বা ধ্বনি নয় এবং এটিকেই তারা আল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত করেন। পক্ষান্তরে শাব্দিক কালাম যা বর্ণ ও ধ্বনি সম্বলিত এবং যা মূলত কুরআন, তা তাদের নিকট সৃষ্টি। এটি আল্লাহর কালামের একটি ব্যাখ্যা বা বর্ণনা মাত্র এবং এটি আল্লাহর কালাম নয়, বরং এটি অন্যান্য সাধারণ সৃষ্টির ন্যায় একটি সৃষ্টি। এর মাধ্যমে তারা জাহমিয়াদের সাথে একমত হন।

অতএব লেখক তার ‘অসৃষ্ট’ কথাটির মাধ্যমে এই সকল মতবাদকে বাতিল করে দিয়েছেন।

সুতরাং কুরআন প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কালাম, এটি বর্ণ ও ধ্বনি সম্বলিত যা জিবরাইল মহান আল্লাহর কাছ থেকে শ্রবণ করেছেন। এর শব্দ ও অর্থ উভয়ই আল্লাহর কালাম; এর অর্থ বাদ দিয়ে কেবল শব্দ আল্লাহর কালাম নয়, আবার শব্দ বাদ দিয়ে কেবল অর্থও আল্লাহর কালাম নয়।

আর তার কথা ‘আমাদের মালিক’ এর মধ্যে আল্লাহর রাজত্ব গুণের সাব্যস্তকরণ রয়েছে। আল্লাহই রাজত্বের মালিক এবং সকল রাজত্ব কেবল আল্লাহরই।

আল্লাহ তাআলা বলেন: “বলুন, হে আল্লাহ! আপনি রাজত্বের মালিক, আপনি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করেন এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজত্ব ছিনিয়ে নেন। আর আপনি যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন এবং যাকে ইচ্ছা অপমানিত করেন। আপনার হাতেই কল্যাণ। নিশ্চয়ই আপনি সর্ববিষয়ে ক্ষমতাবান।” (আল ইমরান: ২৬)।

আর সৃষ্টি যখন কোনো কিছুর মালিক হয়, তখন তা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে মালিক বানানোর মাধ্যমেই হয়। সুতরাং আল্লাহই দুনিয়া ও আখিরাতের মালিক। আর রাজত্ব রুবুবিয়্যাহ বা প্রভুত্বের অর্থের অন্তর্ভুক্ত; কেননা রুবুবিয়্যাহর কতগুলো অর্থ রয়েছে, তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: প্রভু, আনুগত্যপ্রাপ্ত এবং রাজা।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানযূমাতি ইবনি আবী দাউদ আল-হাইইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
قوله رحمه الله (بذلك) : الإشارة هنا إلى ما تقدم في الشطر الأول من بيان المعتقد الحق في كلام الله.

(دان الأتقياء) : أي آمنوا واعتقدوا ذلك، والأتقياء: دانوا بأن القرآن كلام الله غير مخلوق، فهذا معتقدهم الذي لا يحيدون عنه، والنقول عنهم في ذلك كثيرة، فاللالكائي رحمه الله عقد فصلاً في (شرح الاعتقاد) في بيان أن كلام الله غير مخلوق وسمي أكثر من خمسمائة نفس من هؤلاء، وبعضهم يروي عنهم ذلك بالإسناد، كلهم يقرر أن القرآن كلام الله غير مخلوق ومن قال إنه مخلوق فهو كافر والنقول عنهم في هذا المعنى كثيرة جداً.

وفي هذا يقول ابن القيم رحمه الله:

ولقد تقلد كفرهم خمسون في … عشر من العلماء في البلدان

واللالكائي الإمام حكاه عنهم … بل قد حكاه قبله الطبراني

قوله: (الأتقياء) : اختيار هذه الصفة لأهل السنة في غاية الجودة والدقة، فالتقوى: هي الوقاية بأن يجعل بينه وبين ما يخشاه وقاية تقيه، فتقوى الله أن يجعل بينه وبين ما يخشاه من غضب الله وسخطه وقاية تقيه بفعل الأوامر وترك النواهي، ولهذا أفضل ما فسرت به التقوى قول طلق بن حبيب رحمه الله: " التقوى أن تعمل بطاعة الله على نور من الله ترجو ثواب الله، وأن تترك معصية الله على نور من الله تخاف عقاب الله".

قال ابن القيم رحمه الله: " وهذا من أحسن ما عرفت به التقوى"، وقال الذهبي في ترجمته: "وقد أحسن وأجاد"، وكذلك شيخ الإسلام أشاد بهذا التعريف، وكذا ابن رجب.
তাঁর উক্তি—রহিমাহুল্লাহ—(এর দ্বারা): এখানে আল্লাহর কালাম সম্পর্কে সত্য আকিদার বর্ণনায় প্রথম চরণে যা অতিবাহিত হয়েছে, সেদিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

(মুত্তাকীগণ তা মেনে নিয়েছেন): অর্থাৎ তাঁরা এ কথার প্রতি ঈমান এনেছেন এবং বিশ্বাস স্থাপন করেছেন। আর মুত্তাকীগণ এই আকিদা পোষণ করেন যে, কুরআন আল্লাহর কালাম, তা মাখলুক (সৃষ্ট) নয়; এটিই তাঁদের আকিদা যা থেকে তাঁরা বিচ্যুত হন না। এ বিষয়ে তাঁদের থেকে বর্ণিত উদ্ধৃতি সংখ্যাতীত। ইমাম লালকাঈ রহিমাহুল্লাহ তাঁর 'শারহুল ইতিকাদ' গ্রন্থে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় রচনা করেছেন এটি বর্ণনার জন্য যে—আল্লাহর কালাম মাখলুক নয়। সেখানে তিনি তাঁদের মধ্য থেকে পাঁচ শতাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছেন। তাঁদের কারো কারো থেকে এটি সনদের মাধ্যমে বর্ণিত হয়েছে। তাঁরা সকলেই এটি সাব্যস্ত করেন যে, কুরআন আল্লাহর কালাম, তা মাখলুক নয়। আর যে ব্যক্তি একে মাখলুক বলবে সে কাফের; এই মর্মে তাঁদের থেকে প্রাপ্ত বর্ণনা প্রচুর।

এ প্রসঙ্গে ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেন:

নিশ্চয়ই বিভিন্ন জনপদের পাঁচশত আলেম তাঁদের কুফরীর ফতোয়া প্রদান করেছেন …

ইমাম লালকাঈ তাঁদের পক্ষ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন … বরং তাঁর পূর্বে ইমাম তাবারানি এটি বর্ণনা করেছেন।

তাঁর উক্তি: (মুত্তাকীগণ): আহলে সুন্নাহর জন্য এই বিশেষণটি নির্বাচন করা অত্যন্ত চমৎকার ও সুক্ষ্ম হয়েছে। কারণ তাকওয়া হলো সুরক্ষা; অর্থাৎ কোনো ব্যক্তি যা ভয় পায়, তার এবং নিজের মাঝে একটি প্রতিবন্ধক তৈরি করা যা তাকে রক্ষা করবে। সুতরাং আল্লাহর তাকওয়া হলো—বান্দা আল্লাহর ক্রোধ ও অসন্তুষ্টির ভয়ে নিজের ও তার মাঝে একটি ঢাল বা সুরক্ষা তৈরি করবে, যা অর্জিত হবে আদেশসমূহ পালন এবং নিষেধসমূহ বর্জনের মাধ্যমে। এই কারণেই তাকওয়ার সর্বোত্তম ব্যাখ্যা হলো তালক ইবনে হাবিব রহিমাহুল্লাহর উক্তি: "তাকওয়া হলো—আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত নূরের ওপর ভিত্তি করে তাঁর সওয়াবের আশায় আল্লাহর আনুগত্য করা, এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত নূরের ওপর ভিত্তি করে তাঁর শাস্তির ভয়ে তাঁর অবাধ্যতা বর্জন করা।"

ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেন: "এটি তাকওয়ার সর্বোত্তম সংজ্ঞাগুলোর একটি।" ইমাম যাহাবি তাঁর জীবনীতে লিখেছেন: "তিনি অত্যন্ত চমৎকার ও সুন্দর বলেছেন।" একইভাবে শাইখুল ইসলাম এই সংজ্ঞার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং ইবনে রজবও তদ্রূপ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানযূমাতি ইবনি আবী দাউদ আল-হাইইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
فهؤلاء الأعلام ـ أعني أئمة أهل السنةـ اتقوا الله بلزوم السنن والطاعات وبترك النواهي والمحدثات، وأعظم ما تركوه وابتعدوا عنه الكفر والبدع والمحدثات والتي منها القول بخلق القرآن وإضافةً إلى ما فيه من كفر وضلال فقد ترتب عليه من المفاسد والأخطار عند من قال به شيء كثير؛ ولذلك ترتب على قول الجهمية به امتهان لكلام الله وعدم مبالاة به؛ لأنه بزعمهم مخلوق من المخلوقات.

(وأفصحوا) : أي إضافة إلى أنهم دانوا بذلك واعتقدوه بقلوبهم فقد أفصحوا به وصرحوا به وأبانوه وقرروه في المجالس ووضحوه، وانصروا له، ولا سيما عندما يعلن أهل الباطل باطلهم ويصرحون بضلالهم.

ولهذا ينقل عن أبي إسحاق الإسفراييني أنه كان كل جمعة يقف ويقول القرآن كلام الله غير مخلوق خلافاً لقول الباقلاني، وذلك حتى لا يظن من يأتي بعدنا أننا على معتقده؛ وذلك لأنه كان في عصره، نقل ذلك عنه شيخ الإسلام في (شرح العقيدة الأصفهانية) .

وهذا أي الإفصاح قد مضى عليه أهل السنة في تآليفهم، فما تجد كتاباً مؤلفاً في الاعتقاد إلا وفيه التصريح بذلك والإفصاح به، بل أفردوا في ذلك كتباً ومصنفات.

قال:

(ولاتك في القران بالوقف قائلاً … كما قال أتباع لجهمٍ وأسجحوا)

بعد أن أنهى الناظم الكلام على المسألة الأولى بدأ يرد على طائفة من طوائف الجهمية، وهم الواقفة.
এই বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ—অর্থাৎ আহলে সুন্নাতের ইমামগণ—সুন্নত ও আনুগত্য আঁকড়ে ধরার মাধ্যমে এবং নিষেধ ও নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ বর্জনের মাধ্যমে আল্লাহকে ভয় করেছেন। তারা যা বর্জন করেছেন এবং যা থেকে দূরে থেকেছেন তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হলো কুফর, বিদআত এবং নব উদ্ভাবিত বিষয়াদি, যার অন্তর্ভুক্ত হলো কুরআন সৃষ্টি হওয়ার দাবি। এতে যে কুফর ও ভ্রষ্টতা রয়েছে তা ছাড়াও, যারা এই মত পোষণ করেছে তাদের নিকট এর ফলে অনেক ফাসাদ ও বিপদ সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণেই জাহমিয়াদের এই উক্তির ফলে আল্লাহর কালামকে তুচ্ছজ্ঞান করা এবং এর প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করার অবকাশ তৈরি হয়েছে; কারণ তাদের দাবি অনুযায়ী এটি সৃষ্টিসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি সৃষ্টি।

(এবং তারা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন): অর্থাৎ তারা কেবল যে এ বিষয়ের অনুসারী ছিলেন এবং অন্তরে তা বিশ্বাস করতেন তা-ই নয়, বরং তারা এটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন, ঘোষণা করেছেন, প্রকাশ করেছেন, বিভিন্ন মজলিসে তা সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং ব্যাখ্যা করেছেন। তারা এর সপক্ষে সহায়তা করেছেন, বিশেষ করে যখন বাতিলপন্থীরা তাদের বাতিল বিষয়গুলো প্রকাশ করত এবং তাদের ভ্রষ্টতা ঘোষণা করত।

এই কারণেই আবু ইসহাক আল-ইসফারায়িনী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি প্রতি জুমুয়াহর দিন দাঁড়িয়ে বলতেন, "কুরআন আল্লাহর কালাম, তা সৃষ্টি নয়", যা বাকিলানীর মতের পরিপন্থী ছিল। তিনি এটি এই জন্য করতেন যেন আমাদের পরে যারা আসবে তারা মনে না করে যে আমরা তার আকিদার ওপর ছিলাম; কারণ তিনি তার সমসাময়িক ছিলেন। শাইখুল ইসলাম 'শারহুল আকিদাহ আল-আসফাহানিয়্যাহ' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।

আর এই বিষয়টি অর্থাৎ সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা, আহলে সুন্নাত তাদের কিতাবসমূহে অব্যাহত রেখেছেন। আপনি আকিদা বিষয়ক এমন কোনো কিতাব পাবেন না যাতে এই বিষয়ের স্পষ্ট বর্ণনা ও অভিব্যক্তি নেই। বরং তারা এই বিষয়ে স্বতন্ত্র কিতাব ও সংকলন রচনা করেছেন।

তিনি বলেন:

(আর তুমি কুরআনের ব্যাপারে 'ওয়াকফ' বা নিশ্চুপ থাকার নীতি গ্রহণ করো না … যেমনটি জহমের অনুসারীরা বলেছে এবং তারা নমনীয়তা দেখিয়েছে)।

রচয়িতা যখন প্রথম মাসআলার আলোচনা শেষ করলেন, তখন তিনি জাহমিয়াদের একটি উপদলের প্রতিবাদ শুরু করেন, তারা হলো 'ওয়াকিফাহ'।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানযূমাতি ইবনি আবী দাউদ আল-হাইইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
معلوم أن مذهب أهل السنة هو أنهم يفصحون ويصرحون بأن القرآن كلام الله غير مخلوق، ومذهب الجهمية يصرحون فيه بضد ذلك وهو أن القرآن مخلوق، ونشأ على إثر عقيدة الجهمية هذه بدعة الواقفة، فنشؤوا متأثرين ببدعة الجهمية الذين قالوا القرآن مخلوق، وبدؤوا ينشرون ذلك بين الناس، وأخذوا يثيرون الشبه، وأهل السنة يردون عليهم، ففي هذه الأجواء نشأ الواقفة الذين تأثروا بالجهمية ـوهم قوم شكاك ـ فقالوا القرآن كلام الله ولا يقال مخلوق ولا غير مخلوق، وإنما قالوا ذلك لتأثرهم ببدعة الجهمية ودخولها في نفوسهم، ولذلك لم يستطيعوا الإفصاح بالمعتقد الحق وهو أن القرآن غير مخلوق، ولذا قال الإمام أحمد: " الواقفة جهمية"، والناظم أيضاً يقول ذلك فقد وصفهم بأنهم: "أتباع لجهم"، وبعض أهل العلم قال: هم شر من الجهمية، ووجهه: أن معتقد الجهمية مصرح فيه بالباطل، وهو أن القرآن مخلوق، فنقده وبيان فساده للناس بالحجج والبراهين سهل، ولكن لما يأتي الواقفة ويقررون مذهبهم على أنه من باب الورع ويقفون في هذه الصفة، فهذا من أخطر ما يكون على العوام، فيظنون أن في قولهم شيئاً من الوسطية والاعتدال، والواجب الإفصاح بالمعتقد الحق الذي دل عليه الكتاب والسنة. وعدم الإيمان به أو التوقف والتردد كله زيغٌ وضلال، والله يقول: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ثُمَّ لَمْ يَرْتَابُوا} (الحجرات: من الآية15) . والتوقف عن الإيمان بالحق نوعٌ من الشك والريب.
এটা সুবিদিত যে, আহলে সুন্নাতের মাযহাব হলো তারা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত ও ঘোষণা করেন যে কুরআন আল্লাহর কালাম, তা মাখলুক (সৃষ্ট) নয়; পক্ষান্তরে জাহমিয়াহদের মাযহাব এর বিপরীত কথা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে যে, কুরআন মাখলুক। জাহমিয়াহদের এই আকিদার প্রভাবে 'ওয়াকিফাহ' সম্প্রদায়ের বিদআতের জন্ম হয়। তারা জাহমিয়াহদের সেই বিদআত দ্বারা প্রভাবিত হয়ে গড়ে ওঠে যারা বলেছিল কুরআন মাখলুক, এবং তারা মানুষের মাঝে এটি প্রচার করতে শুরু করে ও নানাবিধ সংশয় উত্থাপন করতে থাকে। আর আহলে সুন্নাত তাদের জবাব দিতে থাকেন। এই পরিস্থিতির মধ্যেই ওয়াকিফাহদের উদ্ভব ঘটে যারা জাহমিয়াহদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল—তারা ছিল এক সংশয়বাদী গোষ্ঠী—ফলে তারা বলেছিল: কুরআন আল্লাহর কালাম, তবে একে মাখলুকও বলা যাবে না, আবার অ-মাখলুকও (সৃষ্ট নয় এমন) বলা যাবে না। তারা কেবল জাহমিয়াহদের বিদআত দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার কারণে এবং তাদের অন্তরে সেই বিদআত ঢুকে যাওয়ার কারণেই এমনটি বলেছিল। এই কারণেই তারা সত্য আকিদা অর্থাৎ 'কুরআন মাখলুক নয়'—এ কথাটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করতে সক্ষম হয়নি। এই কারণেই ইমাম আহমাদ বলেছেন: "ওয়াকিফাহরা হলো জাহমিয়াহ।" কাব্যকারও তাই বলেছেন, তিনি তাদের "জাহমের অনুসারী" হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কোনো কোনো আলিম বলেছেন: তারা জাহমিয়াহদের চেয়েও জঘন্য। এর কারণ হলো: জাহমিয়াহদের আকিদায় স্পষ্টভাবে বাতিলের ঘোষণা রয়েছে, আর তা হলো কুরআন মাখলুক। ফলে যুক্তি ও প্রমাণের মাধ্যমে মানুষের কাছে এর সমালোচনা করা এবং এর অসারতা বর্ণনা করা সহজ। কিন্তু যখন ওয়াকিফাহরা আসে এবং তাকওয়া বা পরহেজগারির দোহাই দিয়ে তাদের মাযহাব প্রতিষ্ঠা করে এবং এই বিষয়ে স্থবিরতা অবলম্বন করে, তখন সাধারণ মানুষের জন্য এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়। তারা মনে করে যে, তাদের এই কথার মধ্যে হয়তো মধ্যপন্থা ও ভারসাম্য রয়েছে। অথচ কুরআন ও সুন্নাহ যে সত্য আকিদার দিকে নির্দেশনা দিয়েছে তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করাই আবশ্যক। সেই আকিদার প্রতি ঈমান না আনা অথবা এ বিষয়ে থেমে যাওয়া কিংবা দ্বিধাদ্বন্দ্ব করা সবই বিভ্রান্তি ও পথভ্রষ্টতা। আল্লাহ তাআলা বলেন: "মুমিন তো তারাই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছে, অতঃপর তাতে কোনো প্রকার সংশয় পোষণ করেনি" (আল-হুজুরাত: ১৫-এর অংশবিশেষ)। আর সত্যের প্রতি ঈমান আনার ক্ষেত্রে বিরত থাকা বা থেমে যাওয়া এক প্রকার সন্দেহ ও সংশয়।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানযূমাতি ইবনি আবী দাউদ আল-হাইইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
(جهم) : هو ابن صفوان، رأس من رؤوس الجهمية، وقد ذكر أهل العلم أن منشأ هذا التعطيل: أن الجهم أخذه عن الجعد بن درهم عن أبان بن سمعان عن طالوت ابن أخت لبيد عن لبيد بن الأعصم اليهودي وهو أخذ ذلك عن يهود اليمن، هذه هي سلسلة هذا الضلال متصلة باليهود، ومن هنا يعلم أن أساس التعطيل هم اليهود كما أنهم هم أساس الرافضة.

(أسجحوا) أسجح بالشيء أي لانت به نفسه، فأتباع جهم لانت نفوسهم ومالت قلوبهم إلى هذا المعتقد، وفي نسخة (أسمحوا) وهو بمعناه أي: سمحت نفوسهم باعتقاد هذا القول وتقريره رغم فساده وبطلانه.

ثم قال: (ولا تقل القرآن خلق قرأته … ) أي لا تقل قراءتي بالقرآن مخلوقة، وهذا فيه الرد على بدعة أخرى غير بدعة الواقفة، ألا وهي بدعة اللفظية الذين يقولون لفظي بالقرآن مخلوق، أو تلاوتي بالقرآن مخلوقة أو قراءتي بالقرآن مخلوقة.

ومنشأ هذه البدعة هي بدعة الجهمية نفسها، وشبهتهم هي شبهة الجهمية؛ لأن اللفظ والتلاوة والقراءة كلها مصادر تحتمل أحد أمرين:

تحتمل الملفوظ والمتلو والمقروء وهو كلام الله وهذا غير مخلوق، وتحتمل حركة اللسان والشفاه والحنجرة وصوت الإنسان وهي مخلوقة، فعندما يقال لفظي بالقرآن مخلوق يحتمل أحد هذين. فاللفظية هم ـ كما قرر أهل العلم ـ جهمية؛ وإنشاؤهم لهذه البدعة إنما كان لتقرير مذهب الجهم من طريق آخر وشبهة أخرى؛ للتلبيس على الناس، فهو عندما يقول "لفظي
(জাহম): তিনি হলেন ইবনে সাফওয়ান, জাহমিয়াদের অন্যতম প্রধান নেতা। আলেমগণ উল্লেখ করেছেন যে, এই তাতিল (গুণাবলী অস্বীকার)-এর উৎস হলো: জাহম এটি গ্রহণ করেছেন জা'দ ইবনে দিরহাম থেকে, তিনি আবান ইবনে সামআন থেকে, তিনি লাবীদের ভাগ্নে তালুত থেকে, তিনি লাবীদ ইবনুল আসম ইয়াহুদি থেকে; আর লাবীদ এটি ইয়েমেনের ইয়াহুদিদের থেকে গ্রহণ করেছিলেন। এটিই হচ্ছে এই ভ্রষ্টতার অবিচ্ছিন্ন ধারা যা ইয়াহুদিদের সাথে যুক্ত। এখান থেকে জানা যায় যে, তাতিলের ভিত্তি হলো ইয়াহুদিরা, ঠিক যেমন তারা রাফেজিদেরও ভিত্তি।

(আসজাহু): কোনো কিছুর প্রতি 'আসজাহা' হওয়া মানে হলো তার প্রতি মন নরম হওয়া। সুতরাং জাহমের অনুসারীদের মন এই আকিদার প্রতি নরম হয়েছিল এবং তাদের অন্তর এই বিশ্বাসের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল। অন্য একটি পাণ্ডুলিপিতে (আসমিহু) শব্দটি এসেছে, যা সমার্থক; অর্থাৎ: এই মতবাদটি ভ্রষ্ট ও বাতিল হওয়া সত্ত্বেও তাদের মন এটি বিশ্বাস করতে এবং তা প্রতিষ্ঠিত করতে সম্মত হয়েছিল।

তারপর তিনি বলেছেন: (এবং বলো না যে, কুরআনের কিরাআত সৃষ্টি … ) অর্থাৎ বলো না যে, কুরআন পাঠ করা আমার কাজ হিসেবে সৃষ্টি। এর মধ্যে ওয়াকিফিয়াদের বিদআত ব্যতীত অন্য একটি বিদআতের খণ্ডন রয়েছে; আর তা হলো 'লাফজিয়া'দের বিদআত, যারা বলে যে কুরআন নিয়ে আমার উচ্চারণ সৃষ্টি, অথবা আমার তিলাওয়াত সৃষ্টি কিংবা আমার কিরাআত সৃষ্টি।

এই বিদআতের উৎস হলো স্বয়ং জাহমিয়া বিদআত, এবং তাদের সংশয়ও জাহমিয়াদের সংশয়ের মতোই। কারণ উচ্চারণ (লাফজ), তিলাওয়াত এবং কিরাআত—এই শব্দগুলো এমন ক্রিয়াফল (মাসদার) যা দুটি অর্থের সম্ভাবনা রাখে:

একটি হলো যা উচ্চারণ করা হয়েছে, তিলাওয়াত করা হয়েছে বা পাঠ করা হয়েছে—যা আল্লাহর কালাম, আর এটি সৃষ্টি নয়। অন্যটি হলো জিহ্বা, ঠোঁট ও কণ্ঠনালীর নড়াচড়া এবং মানুষের কণ্ঠস্বর—যা সৃষ্টি। সুতরাং যখন বলা হয় 'কুরআন নিয়ে আমার উচ্চারণ সৃষ্টি', তখন তা এই দুই অর্থের যেকোনো একটির সম্ভাবনা রাখে। ফলে লাফজিয়ারা—যেমন আলেমগণ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন—মূলত জাহমিয়া; তাদের এই বিদআত উদ্ভাবনের উদ্দেশ্য ছিল ভিন্ন পথ ও ভিন্ন সংশয়ের মাধ্যমে জাহমের মাযহাবকে প্রতিষ্ঠিত করা, যাতে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা যায়। তাই যখন সে বলে "আমার উচ্চারণ...
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানযূমাতি ইবনি আবী দাউদ আল-হাইইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
بالقرآن مخلوق" يرجع إلى قول الجهمية القائلين بخلق القرآن، ولذا قال الإمام أحمد رحمه الله وغيره: "اللفظية جهمية". أي: من قال اللفظ بالقرآن مخلوق فهو قائل بقول الجهم.

قال الإمام أحمد رحمه الله: "من قال لفظي بالقرآن مخلوق فهو جهمي، ومن قال غير مخلوق فهو مبتدع"؛ لأن قوله (لفظي بالقرآن مخلوق) يحتمل أمرين أحدهما مخلوق وهو حركة اللسان والآخر غير مخلوق وهو كلام الله، وباطل أن يقال إن كلامه سبحانه مخلوقٌ.

وعندما يقول (لفظي بالقرآن مخلوق) يحتمل أيضاً أمرين أحدهما حركة اللسان وباطل أن يقال هذا غير مخلوق، والآخر المتلو المقروء وهذا غير مخلوق، ولذا كان الصواب التفصيل، فإن قصد به الملفوظ فهو كلام الله غير المخلوق، وإن أراد حركة اللسان والحنجرة وصوت العبد فهو مخلوق، فالصوت صوت القاري والكلام كلام الباري، والكلام إنما يضاف إلى من قاله ابتداءً لا إلى من قاله إبلاغاً وأداءً، ولذا قال الإمام أحمد: "القرآن كلام الله حيثما توجه" أي سواءً حفظ في الصدور، أو كتب في السطور، أو تلي بالألسن، أو سمع بالآذان.

والعلة في نهي الناظم عن قول اللفظية هي المبينة في قوله: (فإن كلام الله باللفظ يوضح) ، وهذا معنى قول أهل السنة: القرآن كلام الله ألفاظه ومعانيه ليس كلام الله اللفظ دون المعنى ولا المعنى دون اللفظ، واللفظ به يوضح المعنى، ويبين المراد، ويجلي المقصود.
"কুরআনের শব্দ উচ্চারণ মাখলুক (সৃষ্ট)"—এই উক্তিটি জাহমিয়াদের মতবাদের অন্তর্ভুক্ত, যারা কুরআন সৃষ্টির দাবি করে। এই কারণেই ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) এবং অন্যান্যরা বলেছেন: "লাফজিয়াহরা হলো জাহমিয়া।" অর্থাৎ: যে ব্যক্তি বলে যে কুরআনের শব্দ উচ্চারণ মাখলুক, সে জাহমিয়াদের ন্যায় কথা বলল।

ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "যে ব্যক্তি বলে যে আমার কুরআনের শব্দ উচ্চারণ মাখলুক, সে জাহমি। আর যে বলে যে এটি মাখলুক নয়, সে বিদআতি।" কারণ তার এই উক্তি—"আমার কুরআনের শব্দ উচ্চারণ মাখলুক"—দুটি অর্থের সম্ভাবনা রাখে: এর একটি মাখলুক, যা হলো জিহ্বার নড়াচড়া; আর অন্যটি মাখলুক নয়, যা হলো আল্লাহর কালাম। আর মহান আল্লাহর কালামকে মাখলুক বলা বাতিল বা মিথ্যা।

যখন সে বলে "আমার কুরআনের শব্দ উচ্চারণ মাখলুক", তখন আরও দুটি দিক সামনে আসে: একটি হলো জিহ্বার নড়াচড়া, আর একে মাখলুক নয় বলা বাতিল। অন্যটি হলো যা তিলাওয়াত করা হয়েছে বা পাঠ করা হয়েছে, আর এটি মাখলুক নয়। এই কারণেই সঠিক পদ্ধতি হলো বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা। যদি এর দ্বারা যা উচ্চারিত হয়েছে (কালাম) তা উদ্দেশ্য হয়, তবে তা আল্লাহর কালাম যা মাখলুক নয়। আর যদি এর দ্বারা জিহ্বা ও কণ্ঠনালীর নড়াচড়া এবং বান্দার কণ্ঠস্বর উদ্দেশ্য হয়, তবে তা মাখলুক। সুতরাং কণ্ঠস্বর হলো তিলাওয়াতকারীর কণ্ঠস্বর, আর কালাম (বাণী) হলো স্রষ্টার কালাম। কালামের সম্বন্ধ মূলত তার দিকেই করা হয় যিনি তা প্রথম বলেছেন, তার দিকে নয় যিনি তা কেবল পৌঁছে দিয়েছেন বা পাঠ করেছেন। এই কারণেই ইমাম আহমাদ বলেছেন: "কুরআন যেখানেই থাকুক তা আল্লাহর কালাম।" অর্থাৎ চাই তা হৃদয়ে সংরক্ষিত থাকুক, বা পৃষ্ঠায় লিখিত থাকুক, বা জিহ্বায় পঠিত হোক, অথবা কানে শ্রবণ করা হোক।

নাযিম (মূল রচয়িতা) কেন লাফজিয়াহদের মতবাদ প্রকাশ করতে নিষেধ করেছেন, তার কারণ তার এই উক্তিতেই স্পষ্ট হয়েছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহর কালাম শব্দের মাধ্যমেই স্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়।" আর এটিই আহলুস সুন্নাহর বক্তব্যের মর্মার্থ: কুরআন হলো আল্লাহর কালাম—এর শব্দাবলি এবং অর্থসমূহ উভয়ই। আল্লাহর কালাম কেবল শব্দ নয় (অর্থ ব্যতিরেকে), আবার কেবল অর্থও নয় (শব্দ ব্যতিরেকে)। বরং শব্দের মাধ্যমেই অর্থ সুস্পষ্ট হয়, উদ্দেশ্য বর্ণিত হয় এবং লক্ষ্য প্রকাশিত হয়।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানযূমাতি ইবনি আবী দাউদ আল-হাইইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌إثبات رؤية الله تعالى

(وقل يتجلى الله للخلق جهرةً … كم البدر لا يخفى وربك أوضح)

(وليس بمولودٍ وليس بوالدٍ … وليس له شبهٌ تعالى المسبح)

(وقد ينكر الجهمي هذا وعندنا … بمصداق ما قلنا حديث مصرح)

(رواه جريرٌ عن مقال محمدٍ … فقل مثل ما قد قال في ذاك تنجح)

الرؤية حق دل عليها الكتاب والسنة المتواترة، وأجمع عليها المسلمون، ولا ينكر الرؤية إلا الجهمية الضلال ومن تأثر بهم، وقد قال بعض السلف مثل الشافعي: من أنكر رؤية الله حري أن يحرم منها.

(وقل) الخطاب موجه لصاحب السنة ومن يريد إتباع سنة النبي صلى الله عليه وسلم ولزوم أمره واقتفاء أثره، وأما صاحب الهوا والآراء والمنطق وغير ذلك فإنه لا يقيم للسنة وزناً ولا يرفع بها رأساً ولا يعبأ بها.

قل يا صاحب السنة غير متردد ولا شاك: (يتجلى) التجلي هو الظهور والبيان أي يظهر (الله للخلق) والمراد بالخلق المؤمنون، فهم الذين ينعم عليهم سبحانه يوم القيامة برؤيته ويكرمهم بالنظر إليه، بل إن رؤيتهم له سبحانه هي أجل مقاصدهم وأعظم غاياتهم وأهدافهم، ومن دعائهم: "اللهم إنا نسألك لذة النظر إلى وجهك والشوق إلى لقائك في غير ضراء
মহান আল্লাহ তাআলার দর্শন সাব্যস্তকরণ

(আর তুমি বলো, আল্লাহ সৃষ্টির সামনে স্পষ্টভাবে আত্মপ্রকাশ করবেন … যেমন পূর্ণিমার চাঁদ অস্পষ্ট থাকে না, আর তোমার রব তো অধিকতর স্পষ্ট)

(তিনি জন্ম নেননি এবং কাউকে জন্ম দেননি … আর তাঁর কোনো সদৃশ নেই, তিনি অতি উচ্চ ও পবিত্র)

(জহমিরা হয়তো একে অস্বীকার করবে, তবে আমাদের কাছে … আমরা যা বলেছি তার সত্যতা প্রমাণে সুস্পষ্ট হাদিস বিদ্যমান)

(জারীর এটি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী থেকে বর্ণনা করেছেন … সুতরাং তিনি যা বলেছেন তুমিও তা-ই বলো, তবেই তুমি সফল হবে)

আল্লাহর দর্শন সত্য, যা কুরআন এবং মুতাওয়াতির সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত এবং এর ওপর মুসলিমরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন। পথভ্রষ্ট জহমি এবং যারা তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে তারা ব্যতীত আর কেউ এই দর্শন অস্বীকার করে না। সালাফদের কেউ কেউ যেমন শাফেয়ী রহ. বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর দর্শনকে অস্বীকার করবে, সে এ থেকে বঞ্চিত হওয়ারই যোগ্য।

(আর তুমি বলো) এই সম্বোধন সুন্নাহর অনুসারী এবং যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর অনুসরণ, তাঁর আদেশের ওপর অবিচল থাকা এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করতে চায় তাদের প্রতি নির্দেশিত। আর যারা প্রবৃত্তি, মনগড়া মতামত ও যুক্তিশাস্ত্র ইত্যাদির অনুসারী, তারা সুন্নাহর কোনো গুরুত্ব দেয় না, সুন্নাহর প্রতি মাথা নত করে না এবং একে কোনো পরোয়াই করে না।

হে সুন্নাহর অনুসারী, কোনো দ্বিধা বা সন্দেহ ছাড়াই বলো: (আত্মপ্রকাশ করবেন) আত্মপ্রকাশ অর্থ হলো প্রকাশ পাওয়া ও পরিস্ফুট হওয়া, অর্থাৎ (আল্লাহ সৃষ্টির নিকট) প্রকাশিত হবেন। আর এখানে 'সৃষ্টি' দ্বারা মুমিনদের বোঝানো হয়েছে। তারাই সেই সৌভাগ্যবান যাদের প্রতি মহান আল্লাহ কিয়ামত দিবসে তাঁর দর্শনের নিয়ামত দান করবেন এবং তাঁর দিকে তাকানোর সুযোগ দিয়ে সম্মানিত করবেন। বরং মহান আল্লাহর দর্শন লাভই তাদের কাছে সবচাইতে বড় প্রত্যাশা এবং শ্রেষ্ঠ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। তাদের একটি দোয়া হলো: "হে আল্লাহ, আমরা আপনার কাছে আপনার চেহারার দিকে তাকানোর স্বাদ এবং আপনার সাথে সাক্ষাতের ব্যাকুলতা প্রার্থনা করছি কোনো কষ্টদায়ক ক্ষতি ছাড়াই..."
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানযূমাতি ইবনি আবী দাউদ আল-হাইইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
مضرة ولا فتنة مضله" وهو دعاءٌ ثابت عن النبي1 صلى الله عليه وسلم من حديث عمار بن ياسر ـ رضي الله تعالى عنه ـ أما الكفار فلا يرونه كما في قوله تعالى: {كَلَّا إِنَّهُمْ عَنْ رَبِّهِمْ يَوْمَئِذٍ لَمَحْجُوبُونَ} (المطففين:15)

ولئن كان حجب الكفار عن رؤية الرب العظيم نوعاً من العقوبة، فإن تمكين المؤمنين منها أجل هبة وأعظم عطية.

(جهرة) أي عياناً جهاراً ليس بينهم وبين الله ما يحجبهم عنه (كما البدر لا يخفى) البدر: هو القمر ليلة الرابع عشر عندما يمتلئ نوراً، وعندما لا يكون بيننا وبينه سحاب، فإن المؤمنين يرونه جميعاً ولا يحتاجون إلى تضام وتزاحم لرؤيته شأن الأشياء الدقيقة، وكذلك لا يتضارون في رؤيته فلا يحصل لأحد ضرر في رؤيته، وكل ذلك يؤكد أن الرؤية تكون حقيقة وبيسر وسهولة، فإن الشمس والقمر يراهما الناس بأبصارهم رؤيةً حقيقية دون عنت أو مشقة، والنبي صلى الله عليه وسلم قال: "إنكم سترون ربكم كما ترون القمر … " 2، والكاف للتشبيه ولكن ليس التشبيه هنا للرب بالقمر أو الشمس ـ تعالى الله عن ذلك ـ وإنما التشبيه هنا للرؤية بالرؤية؛ لأن الكاف دخلت على الرؤية وهي فعل العبد، فالتشبيه للرؤية بالرؤية، وليس للمرئي بالمرئي، أي كما أن رؤية القمر تكون للناس حقيقةً عياناً بأبصارهم، فكذلك رؤية الله تكون حقيقية عياناً بأبصارهم.

--------------------------------------------

1 أخرجه النسائي في سننه برقم (1305) وصححه الألباني في صحيح سنن النسائي برقم (1304) .

2 أخرجه البخاري برقم (554) ، ومسلم برقم (633) .
ক্ষতিকর বা বিভ্রান্তিকর ফিতনা।" এটি নবী ১ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আম্মার ইবন ইয়াসির রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসের মাধ্যমে প্রমাণিত একটি দুআ। আর কাফিরদের কথা হলো, তারা তাঁকে দেখতে পাবে না, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে এসেছে: "কখনই নয়, নিশ্চয় সেদিন তারা তাদের রব থেকে পর্দার অন্তরালে থাকবে।" (আল-মুতাফফিফীন: ১৫)

আর মহান রবকে দেখা থেকে কাফিরদের বঞ্চিত রাখা যদি এক প্রকার শাস্তি হয়, তবে মুমিনদের জন্য তা সম্ভব করা সবচেয়ে বড় উপহার ও শ্রেষ্ঠ দান।

(প্রকাশ্যে) অর্থাৎ সরাসরি ও স্পষ্টভাবে, তাদের ও আল্লাহর মাঝে এমন কোনো কিছু থাকবে না যা তাঁদেরকে তাঁর থেকে আড়াল করবে। (যেমন পূর্ণিমার চাঁদ অস্পষ্ট থাকে না) আল-বদর: এটি হলো চৌদ্দ তারিখের চাঁদ যখন তা আলোতে পূর্ণ থাকে এবং যখন আমাদের ও তার মাঝে কোনো মেঘ থাকে না। মুমিনগণ সকলেই তাঁকে দেখতে পাবেন এবং সূক্ষ্ম বস্তুকে দেখার ক্ষেত্রে যেমন গাদাগাদি বা ভিড় করার প্রয়োজন হয়, এখানে তার প্রয়োজন হবে না। তেমনিভাবে তাঁকে দেখার ক্ষেত্রে তারা একে অপরের ক্ষতি করবে না, ফলে তাঁকে দেখার কারণে কারো কোনো ক্ষতি হবে না। এই সবকিছুই নিশ্চিত করে যে, দেখাটা হবে বাস্তব এবং অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল। কেননা মানুষ সূর্য ও চাঁদকে তাদের চোখের দৃষ্টিতে কোনো প্রকার কষ্ট বা পরিশ্রম ছাড়াই বাস্তবভাবে দেখতে পায়। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের রবকে দেখতে পাবে যেমন তোমরা চাঁদকে দেখতে পাও … " ২, এখানে 'কাফ' বর্ণটি উপমার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, তবে এখানে উপমাটি রবের সাথে চাঁদ বা সূর্যের নয়—আল্লাহ তা থেকে বহু ঊর্ধ্বে—বরং এখানে উপমা দেওয়া হয়েছে দেখাকে দেখার সাথে। কারণ 'কাফ' বর্ণটি দেখার ওপর যুক্ত হয়েছে যা বান্দার কাজ। সুতরাং উপমাটি দেখা এবং দেখার মধ্যে, দৃশ্যমান সত্তা ও দৃশ্যমান বস্তুর মধ্যে নয়। অর্থাৎ মানুষের জন্য চাঁদের দর্শন যেমন তাদের চোখের দৃষ্টিতে চাক্ষুষ ও বাস্তব, তেমনি আল্লাহর দর্শনও তাদের চোখের দৃষ্টিতে চাক্ষুষ ও বাস্তব হবে।

--------------------------------------------

১ নাসায়ী তাঁর সুনানে হাদিস নং (১৩০৫) এ এটি বর্ণনা করেছেন এবং আলবানি সহীহ সুনান নাসায়ী হাদিস নং (১৩০৪) এ একে সহীহ বলেছেন।

২ এটি বুখারি হাদিস নং (৫৫৪) এবং মুসলিম হাদিস নং (৬৩৩) এ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানযূমাতি ইবনি আবী দাউদ আল-হাইইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
(كما) الكاف للتشبيه، و (ما) زائدة، أي كالبدر.

(وربك أوضح) القمر مخلوق من مخلوقات الله ومع ذلك يراه الناس ليلة البدر عياناً بياناً بدون ضيم وضرر ونحو ذلك، فكيف بالرب الخالق تعالى؟! فإنه أوضح من كل شيء سيراه المؤمنون بأبصارهم عياناً على الحقيقة.

قوله: (وربك) أي: أيها المخاطب بهذا النظم، وهو رب الخلائق أجمعين، رباهم بنعمه لا رب لهم سواه ولا خالق لهم غيره.

وربوبيته لخلقه نوعان: عامة وخاصة؛ فأما العامة بالخلق والرزق والإنعام والصحة ونحو ذلك من الأمور التي هي عامةً في المؤمن الكافر والبر والفاجر، وأما الخاصة فهي التربية على الإيمان والهداية للطاعة والتوفيق للعبادة وهذه مختصة بالمؤمنين.

قال:

(وليس بمولودٍ وليس بوالدٍ … وليس له شبه تعالى المسبح)

هذا البيت ذكره الناظم بعد إثبات الرؤية لله؛ ليبين به أن إثباتها حقيقة لا يستلزم تشبيه الله بالمولود أو بالوالد، ولا يستلزم التشبيه؛ لأن أهل السنة يثبتون الصفات على وجهٍ يليق بالله تعالى، والإضافة تقتضي التخصيص في الصفة التي تضاف إلى الله ليست كالصفة التي تضاف إلى المخلوق، فعندما تضاف الصفة إلى الله فإنها تليق بكمال الله، وإذا أضيفت إلى المخلوق فإنها تليق بضعفه ونقصه.
(كما) এখানে ‘কাফ’ উপমার জন্য এবং ‘মা’ অতিরিক্ত, অর্থাৎ পূর্ণিমার চাঁদের মতো।

(এবং আপনার রব অধিক স্পষ্ট) চাঁদ আল্লাহর সৃষ্টিসমূহের মধ্যে একটি সৃষ্টি, তা সত্ত্বেও পূর্ণিমার রাতে মানুষ একে কোনো প্রকার ভিড় বা অসুবিধা ছাড়াই স্পষ্টভাবে চাক্ষুষ দেখতে পায়। তবে মহান স্রষ্টা রবের বিষয়টি কেমন হবে?! নিশ্চয়ই তিনি সবকিছুর চেয়ে অধিক স্পষ্ট, মুমিনরা প্রকৃতপক্ষে নিজেদের চোখে তাঁকে দেখতে পাবে।

তাঁর উক্তি: (এবং আপনার রব) অর্থাৎ: হে এই কাব্যের সম্বোধিত ব্যক্তি; আর তিনি হলেন সকল সৃষ্টির রব, তিনি তাঁর নেয়ামত দ্বারা তাদের প্রতিপালন করেছেন। তিনি ছাড়া তাদের কোনো রব নেই এবং তিনি ব্যতীত তাদের কোনো স্রষ্টা নেই।

সৃষ্টির ওপর তাঁর রুবুবিয়্যাত বা প্রতিপালন দুই প্রকার: সাধারণ এবং বিশেষ। সাধারণ রুবুবিয়্যাত হলো সৃষ্টি করা, রিজিক প্রদান, নেয়ামত দান, সুস্থতা এবং এই জাতীয় বিষয়াদি যা মুমিন, কাফের, পুণ্যবান ও পাপাচারী সবার ক্ষেত্রে সাধারণ। আর বিশেষ রুবুবিয়্যাত হলো ঈমানের ওপর গড়ে তোলা, আনুগত্যের হিদায়াত দান এবং ইবাদতের তাওফিক প্রদান করা; আর এটি মুমিনদের জন্য নির্দিষ্ট।

তিনি বলেছেন:

(তিনি জন্ম নেননি এবং তিনি জন্ম দেননি … এবং তাঁর কোনো সাদৃশ্য নেই, তিনি সুমহান ও পবিত্র)

নাজিম (কবিতা রচয়িতা) আল্লাহর দর্শন সাব্যস্ত করার পর এই পঙ্ক্তিটি উল্লেখ করেছেন; যাতে তিনি এটি স্পষ্ট করেন যে, আল্লাহর দিদার প্রকৃতপক্ষে সাব্যস্ত করা আল্লাহকে জন্ম নেওয়া বা জন্ম দেওয়া সত্তার সাথে তুলনা করাকে আবশ্যক করে না এবং কোনো সাদৃশ্যকেও আবশ্যক করে না। কারণ আহলুস সুন্নাহর অনুসারীরা আল্লাহর গুণাবলিকে এমনভাবে সাব্যস্ত করেন যা মহান আল্লাহর শানের উপযোগী। আর কোনো গুণের সম্বন্ধযুক্ত হওয়া সেই গুণের বিশিষ্টতা দাবি করে; অর্থাৎ যে গুণটি আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করা হয়, তা সেই গুণের মতো নয় যা সৃষ্টির দিকে সম্বন্ধ করা হয়। সুতরাং যখন কোনো গুণ আল্লাহর দিকে সম্বন্ধ করা হয়, তখন তা আল্লাহর পূর্ণতার উপযোগী হয়, আর যখন তা সৃষ্টির দিকে সম্বন্ধ করা হয়, তখন তা সৃষ্টির দুর্বলতা ও অপূর্ণতার উপযোগী হয়।
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানযূমাতি ইবনি আবী দাউদ আল-হাইইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
ومن هنا يعلم أن مقالة التعطيل أساسها التمثيل، فالمعطل بلغ درجة التعطيل لما مثل، فلم يفهم من الصفة التي أضيفت إلى الله إلا عين الصفة التي يعلمها من المخلوق، فكل معطل سائر تحت هذا الوهم الفاسد كما قال أحد هؤلاء يصف المتكلمين: "أناس مضوا تحت التوهم يظنون أن الحق معهم ولكن الحق ورائهم"، هذا ذكره الذهبي عن أبي حيان التوحيدي، ثم قال: "وأنت حامل لوائهم".

يقولون: لو أثبتنا الرؤية لله حقيقة، لأثبتنا له الجسمية ولشبهناه بالمخلوق الحادث؛ لأن الرؤية لا تقع إلا على ذي جسم، وهذا قياس فاسد، حيث قاسوا الله بالمخلوق، ولهذا قال السلف: "ولا يقاس بخلقه"، فالناظم جاء بهذا البيت؛ ليزيل التوهم الذي قد يأتي، وهذا التوهم جاء بعد مقالة الجهمية، وأما قبلها فلا وهم، فإن الصحابة لم يخطر ببالهم شيء من ذلك.

أي مع أنه يُرى يوم القيامة حقيقة بالأبصار (ليس بمولودٍ وليس بوالدٍ) أي لم يتفرع عن غيره ولم يتفرع عنه غيره وهذا مأخوذ من قوله تعالى: {لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ. وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُواً أَحَدٌ} (الإخلاص: 3،4) .

(وليس له شبه) أي: الله سبحانه وتعالى، والشبه هو المثيل والنظير، والله لا شبيه له ولا مثيل له ولا نظير افي أسمائه ولا في صفاته ولا في أفعاله.

قال الله تعالى: {ليْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} (الشورى: من الآية11)

وقال تعالى: {هَلْ تَعْلَمُ لَهُ سَمِيّاً} (مريم: من الآية65)
এখান থেকেই পরিজ্ঞাত হওয়া যায় যে, তা’তীল (গুণাবলি অস্বীকার করা)-এর ভিত্তিমূল হলো তামসীল (সাদৃশ্য প্রদান করা)। কেননা একজন মুয়াত্তিল (অস্বীকারকারী) যখন সাদৃশ্য প্রদান করে, তখনই সে তা’তীলের পর্যায়ে পৌঁছে যায়। সে আল্লাহর সাথে সম্পৃক্ত গুণাবলি থেকে কেবল সৃষ্টির গুণাবলির অনুরূপই বুঝতে সক্ষম হয়। ফলে প্রত্যেক মুয়াত্তিল এই ভ্রান্ত কল্পনার বশবর্তী হয়ে চলে, যেমনটি তাদেরই একজন মুতাকাল্লিমদের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন: "কিছু লোক কল্পনার বশবর্তী হয়ে পথ চলেছে এবং ভেবেছে যে সত্য তাদের সাথে আছে, অথচ সত্য তাদের পেছনে রয়ে গেছে।" ইমাম আয-যাহাবী এটি আবু হাইয়ান আত-তাওহিদী থেকে উল্লেখ করেছেন এবং এরপর বলেছেন: "আর তুমি হলে তাদের পতাকাবাহী।"

তারা বলে: যদি আমরা আল্লাহর জন্য প্রকৃতপক্ষে দর্শন সাব্যস্ত করি, তবে আমরা তাঁর জন্য দেহ সাব্যস্ত করব এবং তাঁকে সৃষ্টিজীবের সাথে তুলনা করে ফেলব; কারণ দর্শন কেবল দেহবিশিষ্ট বস্তুর ক্ষেত্রেই সম্ভব। এটি একটি ভ্রান্ত কিয়াস (অনুমান), যেখানে তারা আল্লাহকে সৃষ্টির সাথে তুলনা করেছে। একারণেই সালাফে সালেহীন বলেছেন: "সৃষ্টির সাথে তাঁর তুলনা করা যাবে না।" সুতরাং লেখক এই পঙক্তিটি নিয়ে এসেছেন সেই ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে যা পরবর্তীতে আসতে পারে। আর এই ভ্রান্ত ধারণা জাহমিয়্যাহদের মতবাদের পর সৃষ্টি হয়েছে; এর পূর্বে এমন কোনো ধারণা ছিল না, কেননা সাহাবীগণের মনে এই ধরনের কোনো কিছুর উদয়ই হয়নি।

অর্থাৎ কিয়ামতের দিন তাঁকে প্রকৃতপক্ষে চর্মচক্ষে দেখা যাওয়া সত্ত্বেও তিনি (জন্মজাত নন এবং জন্মদাতাও নন)। অর্থাৎ তিনি অন্য কারো থেকে উদ্ভূত হননি এবং অন্য কেউও তাঁর থেকে উদ্ভূত হয়নি। এটি মহান আল্লাহর বাণী থেকে গৃহীত: {তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাঁকে জন্ম দেয়নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।} (আল-ইখলাস: ৩, ৪)।

(এবং তাঁর কোনো সদৃশ নেই) অর্থাৎ: মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা। ‘শুবহ’ মানে হলো উপমা ও সমকক্ষ। আল্লাহর কোনো সদৃশ নেই, কোনো উপমা নেই এবং তাঁর নামসমূহ, গুণাবলি ও কার্যাবলিতে কোনো সমকক্ষ নেই।

মহান আল্লাহ বলেন: {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়; তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।} (আশ-শূরা: ১১)

মহান আল্লাহ আরো বলেন: {তুমি কি তাঁর সমগুণসম্পন্ন কাউকে জান?} (মারইয়াম: ৬৫)
(খণ্ড: ১) আত-তুহফাতুস সানিয়্যাহ শারহু মানযূমাতি ইবনি আবী দাউদ আল-হাইইয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
وقال: {وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُواً أَحَدٌ} (الإخلاص:4)

وقال: {فَلا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَاداً وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ} (البقرة: من الآية22) .

ويؤخذ من هذا أن إثبات الصفات لا يقتضي التمثيل فإن التمثيل أمر آخر غير إثبات الصفات.

يقول الإمام أحمد رحمه الله: "المشبه الذي يقول يد كيدي وسمع كسمعي … والله يقول: {ليْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} "، فالذي يثبت الصفات لله على الوجه الذي يليق به ليس بمشبه، وإنما المشبه الذي يشبه صفات الله بصفات خلقه، وأهل السنة مطبقون على ذم هؤلاء المشبهة، وأن مقالتهم مقالة كفر وضلال.

والمعطلة يرمون أهل السنة بالتشبيه، إما لأنهم لم يفهموا مقالتهم، أو أنهم أصحاب أغراض سيئة وقصد فاسد.

(تعالى) أي عن الشبيه والنظير أي ارتفع قدره وجل شأنه وتعاظم أن يكون له شبيه أو نظير فهو ينزه الله عن ذلك.

والتعالي من العلو وهو الرفعة، وهو ثابت لله ذاتاً وقدراً وقهراً.

(المسبح) أي المنزه؛ لأن التسبيح في اللغة التنزيه، وهذا التسبيح عبادة مقربة لله ورد الأمر بها في مواطن كثيرة، بل جاء الترغيب والحث على الإكثار من التسبيح في الأوقات المختلفة، ورتب على القيام به الأجور العظيمة والثواب الجزيل وفي الحديث: "من قال حين يصبح سبحان الله
এবং তিনি বলেছেন: {আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই} (আল-ইখলাস: ৪)

এবং তিনি বলেছেন: {কাজেই তোমরা জেনে-বুঝে কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ বানিয়ো না} (আল-বাকারা: ২২ নং আয়াতের অংশবিশেষ)।

এ থেকে বোঝা যায় যে, গুণাবলি সাব্যস্ত করা সাদৃশ্য সাব্যস্ত করাকে আবশ্যক করে না, কারণ সাদৃশ্য প্রদান করা গুণাবলি সাব্যস্ত করা থেকে ভিন্ন একটি বিষয়।

ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "সাদৃশ্যদানকারী (মুসাব্বিহ) সে-ই, যে বলে: আল্লাহর হাত আমার হাতের মতো এবং আল্লাহর শ্রবণ আমার শ্রবণের মতো … অথচ আল্লাহ বলেন: {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়, আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা}"। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য তাঁর শান অনুযায়ী যেভাবে প্রযোজ্য সেভাবে গুণাবলি সাব্যস্ত করে, সে সাদৃশ্যদানকারী নয়। বরং সাদৃশ্যদানকারী সে-ই, যে আল্লাহর গুণাবলিকে তাঁর সৃষ্টির গুণাবলির সাথে তুলনা করে। আহলুস সুন্নাহ এই সাদৃশ্যদানকারীদের নিন্দার ব্যাপারে একমত এবং তাদের বক্তব্য কুফরি ও ভ্রষ্টতা।

আর গুণাবলি অস্বীকারকারীরা (মুআত্তিলা) আহলুস সুন্নাহর ওপর সাদৃশ্যারোপের অপবাদ দেয়; হয় তারা তাদের বক্তব্য বুঝতে পারেনি, অথবা তারা অসৎ উদ্দেশ্য ও ভ্রান্ত লক্ষ্যের অধিকারী।

(তাআলা) অর্থাৎ সাদৃশ্য ও সমতুল্য থেকে মুক্ত। অর্থাৎ তাঁর মর্যাদা সুউচ্চ এবং তাঁর শান অতি মহান ও মহিমান্বিত যে তাঁর কোনো সদৃশ বা সমকক্ষ থাকবে। সুতরাং তিনি আল্লাহকে তা থেকে পবিত্র ঘোষণা করেন।

আর 'তাআলি' শব্দটি 'উলুউ' থেকে এসেছে যার অর্থ সুউচ্চ হওয়া বা শ্রেষ্ঠত্ব। আর এটি আল্লাহর সত্তাগতভাবে, মর্যাদাগতভাবে এবং আধিপত্যগতভাবে সাব্যস্ত।

(আল-মুসাব্বিহ) অর্থাৎ পবিত্রতা ঘোষণাকারী; কারণ আভিধানিক অর্থে 'তাসবিহ' মানে পবিত্রতা বর্ণনা করা। আর এই তাসবিহ আল্লাহর নৈকট্য দানকারী এমন এক ইবাদত যার নির্দেশ অনেক স্থানে এসেছে। বরং বিভিন্ন সময়ে অধিক হারে তাসবিহ পাঠ করার ব্যাপারে উৎসাহ ও গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে এবং তা পালনের বিনিময়ে মহান প্রতিদান ও প্রচুর সওয়াব নির্ধারণ করা হয়েছে। হাদিসে এসেছে: "যে ব্যক্তি সকালে উপনীত হয়ে বলবে 'সুবহানাল্লাহ' (আল্লাহ অতীব পবিত্র)..."