(খণ্ড: ১)
আত-তাহযীরু মিন তাজীমিল আসার গয়রিল মাশরুয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
التحذير من تعظيم الآثار غير المشروعة (عبد المحسن العباد)
القسم: العقيدة
الكتاب: التحذير من تعظيم الآثار غير المشروعة
المؤلف: عبد المحسن بن حمد بن عبد المحسن بن عبد الله بن حمد العباد البدر
الناشر: الدار الحديثة مصر
الطبعة: الأولى 1425هـ -2004م
عدد الصفحات: 47
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
অপ্রমাণিত নিদর্শনসমূহের প্রতি অতিভক্তি প্রদর্শনের ব্যাপারে সতর্কীকরণ (আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ)
বিভাগ: আকিদাহ
বই: অপ্রমাণিত নিদর্শনসমূহের প্রতি অতিভক্তি প্রদর্শনের ব্যাপারে সতর্কীকরণ
লেখক: আব্দুল মুহসিন বিন হামাদ বিন আব্দুল মুহসিন বিন আব্দুল্লাহ বিন হামাদ আল-আব্বাদ আল-বাদর
প্রকাশক: আদ-দারুল হাদিসিয়্যাহ, মিসর
সংস্করণ: প্রথম সংস্করণ ১৪২৫ হিজরি -২০০৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আত-তাহযীরু মিন তাজীমিল আসার গয়রিল মাশরুয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
التحذير من تعظيم الآثار غير المشروعة بسم الله الرحمن الرحيمالحمد لله ربِّ العالَمين، وصلى الله وسلَّم وبارك على نبيِّنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، وبعد:فقد اطَّلعتُ على المقال المنشور في (صحيفة المدينة ـ ملحق الرسالة) ، الصادرة الجمعة 18 المحرم 1424هـ، للدكتور: عمر كامل، بعنوان: "لا خوف على بلاد الحرمين من الشرك والوثنية، وهل في إحياء آثار النبوة ومواطئ الرسالة ما يدعو إلى التخوف من الشرك؟ وهل الاهتمام بتلك الآثار يؤدِّي بالضرورة إلى عبادتها من دون الله؟ "وتعقيباً على هذا المقال أقول:اشتمل مقالُه على تقرير أنَّ الشركَ لا يعود إلى مهد الإسلام، وأنَّ الإسلامَ يأرز إلى المدينة
শরীয়ত-বহির্ভূত নিদর্শনসমূহের অতিমূল্যায়নের বিরুদ্ধে সতর্কীকরণ পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক। অতঃপর:আমি ১৮ই মুহররম ১৪২৪ হিজরী রোজ শুক্রবার (মদীনা পত্রিকা — রিসালাহ ক্রোড়পত্র)-এ প্রকাশিত ডক্টর উমর কামেলের একটি নিবন্ধ পাঠ করেছি, যার শিরোনাম ছিল: "হারামাইন শরীফাইনের ভূখণ্ডে শিরক ও মূর্তিপূজার কোনো ভয় নেই, এবং নবুওয়াতের নিদর্শন ও রিসালাতের স্মৃতিবিজড়িত স্থানসমূহ পুনরুজ্জীবিত করার মাঝে কি শিরকের কোনো আশঙ্কা রয়েছে? আর এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহের প্রতি গুরুত্বারোপ কি আবশ্যিকভাবে আল্লাহকে ছেড়ে সেগুলোর ইবাদত করার দিকে ধাবিত করবে?"এই নিবন্ধের প্রেক্ষিতে আমি বলছি:তার নিবন্ধটি এই দাবির ওপর ভিত্তি করে রচিত যে, ইসলামের সূতিকাগারে শিরক আর ফিরে আসবে না এবং ইসলাম মদীনায় প্রত্যাবর্তন করবে (বা গুটিয়ে আসবে)।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহযীরু মিন তাজীমিল আসার গয়রিল মাশরুয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
والحجاز، وتتبعِ ابن عمر لآثار الرسول صلى الله عليه وسلم، وذِكرِ آثار فيها إباحة التبرك بقبر النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم ومنبره.أمَّا ما قرَّره من أنَّ الشركَ لا يعود إلى مهد الإسلام، فقد قال: "بعد أن انتشر الدينُ الإسلامي في أرجاء المعمورة ودخل الناس في دين الله أفواجاً، تكفَّل الله بحفظ مهد رسالة الإسلام من عودة الكفر والوثنية والشرك إليها، وبشرنا بذلك على لسان مبلِّغ الرسالة سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم، عن جابر قال: سمعت النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم يقول: "إنَّ الشيطان قد أيِسَ من أن يعبده المصلُّون في جزيرة العرب، ولكن في التحريش بينهم" [صحيح مسلم 4/2166: 2812] "، ثم ذكر حديثاً عند الترمذي (2159) في خطبة النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم يوم الحج الأكبر، وفيه: "ألا وإنَّ الشيطانَ قد أيس من أن يُعبد في بلادكم هذه أبداً، ولكن ستكون له طاعة فيما تحتقرون من
এবং হিজাজ, এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্মৃতিচিহ্ন অনুসরণে ইবনে উমরের তৎপরতা, এবং এমন সব বর্ণনার উল্লেখ যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কবর ও তাঁর মিম্বর থেকে বরকত গ্রহণের বৈধতা বিদ্যমান রয়েছে।আর ইসলামের সূতিকাগারে শিরক আর ফিরে আসবে না বলে তিনি যা সাব্যস্ত করেছেন, সে সম্পর্কে তিনি বলেন: "সমগ্র বিশ্বে ইসলামি দ্বীন ছড়িয়ে পড়ার পর এবং মানুষ আল্লাহর দ্বীনে দলে দলে প্রবেশ করার পর, আল্লাহ তাআলা ইসলামের বাণীর জন্মভূমিকে সেখানে পুনরায় কুফর, মূর্তিপূজা ও শিরকের প্রত্যাবর্তন থেকে রক্ষা করার জিম্মাদারি নিয়েছেন এবং রিসালাত প্রচারকারী আমাদের সায়্যিদ মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জবানে আমাদের এই সুসংবাদ দিয়েছেন। জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: 'নিশ্চয়ই শয়তান আরব উপদ্বীপে নামায আদায়কারীরা তার ইবাদত করবে—এ ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গিয়েছে, তবে তাদের মধ্যে পারস্পরিক উসকানি ও বিভেদ সৃষ্টির বিষয়ে (সে নিরাশ হয়নি)।' [সহীহ মুসলিম ৪/২১৬৬: ২৮১২]"। অতঃপর তিনি তিরমিযীতে (২১৫৯) বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাজ্জুল আকবরের দিনের খুতবা থেকে একটি হাদীস উল্লেখ করেন, যাতে রয়েছে: "জেনে রেখো, শয়তান তোমাদের এই ভূখণ্ডে কখনো তার ইবাদত করানোর ব্যাপারে নিরাশ হয়েছে, তবে তোমরা যেসব বিষয়কে তুচ্ছ মনে করো সেগুলোতে তার আনুগত্য করা হবে—"
(খণ্ড: ১)
আত-তাহযীরু মিন তাজীমিল আসার গয়রিল মাশরুয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
أعمالكم، فسيرضى به"، ثم قال بعد ذلك: "ومع ذلك فبين الفينة والأخرى يخرج علينا خارجٌ يدَّعي الغيرة على دين الله والخوف على بلاد الحرمين من عودة الشرك إليها!!! ولعلَّ أمثال هؤلاء قد غفلوا عن حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم الذي أوضح لنا مصدر الخوف الذي كان يخافه على أمته، عن عبادة بن نسي قال: دخلت على شدَّاد بن أوس رضي الله عنه في مصلاه وهو يبكي، فقلت: يا أبا عبد الرحمن ما الذي أبكاك؟ قال: حديث سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقلت: وما هو؟ قال: بينما أنا عند رسول الله صلى الله عليه وسلم إذ رأيت بوجهه أمراً ساءني، فقلت: بأبي وأمِّي يا رسول الله، ما الذي أرى بوجهك؟ قال: أمر أتخوَّفه على أمتي من بعدي، قلت: وما هو؟ قال: الشرك وشهوة خفية، قال: قلت: يا رسول الله، أتشرك أمَّتُك من بعدك؟ قال: يا شدَّاد، أما
তোমাদের আমলসমূহ, অচিরেই তিনি তাতে সন্তুষ্ট হবেন”, এরপর তিনি বলেন: “এতদসত্ত্বেও সময়ে সময়ে আমাদের সামনে এমন এক ব্যক্তি প্রকাশ পায়, যে আল্লাহর দ্বীনের প্রতি মর্যাদাবোধ এবং হারামাইন শরীফাইনের ভূমিতে পুনরায় শিরক ফিরে আসার আশঙ্কার দাবি করে!!! সম্ভবত তাদের মতো লোকেরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সেই হাদীসটি সম্পর্কে গাফেল হয়ে গেছে, যা আমাদের কাছে সেই ভীতির উৎসটি স্পষ্ট করেছে যা তিনি তাঁর উম্মতের জন্য পোষণ করতেন। উবাদাহ ইবনে নুসায়্যি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি শাদ্দাদ বিন আওস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট তাঁর সালাতের স্থানে প্রবেশ করলাম, এমতাবস্থায় তিনি কাঁদছিলেন। আমি বললাম: হে আবু আব্দুর রহমান! কিসে আপনাকে কাঁদাচ্ছে? তিনি বললেন: একটি হাদীস যা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি। আমি বললাম: সেটি কী? তিনি বললেন: একদা আমি যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট ছিলাম, তখন তাঁর চেহারায় এমন কিছু দেখলাম যা আমাকে ব্যথিত করল। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক, আপনার চেহারায় আমি কী দেখতে পাচ্ছি? তিনি বললেন: এমন এক বিষয় যা আমি আমার পরে আমার উম্মতের জন্য আশঙ্কা করছি। আমি বললাম: সেটি কী? তিনি বললেন: শিরক এবং গোপন কামনা-বাসনা। তিনি (শাদ্দাদ) বললেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার পর কি আপনার উম্মত শিরক করবে? তিনি বললেন: হে শাদ্দাদ, শোনো...
(খণ্ড: ১)
আত-তাহযীরু মিন তাজীমিল আসার গয়রিল মাশরুয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
إنَّهم لا يعبدون شمساً ولا قمراً ولا وثناً ولا حجراً، ولكن يُراؤون الناسَ بأعمالهم، قلت: يا رسول الله، الرياء شرك هو؟ قال: نعم، قلت: فما الشهوة الخفية؟ قال: يصبح أحدُكم صائماً فتعرض له شهوة من شهوات الدنيا فيفطر. هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه. [المستدرك على الصحيحين 4/366 ـ 7940] ، فهل هناك أوضح من هذا البيان؟ فقد نفى رسول الله صلى الله عليه وسلم وقوع الشرك وعبادة الأوثان والأحجار من بعده، وكلُّ ما خاف منه هو الرياء، فهل نصدِّق رسول الله أم نركن إلى إرجاف المرجفين وأوهام المتنطعين؟! "والجواب: أنَّ حديث شدَّاد بن أوس رضي الله عنه غيرُ صحيح؛ لأنَّ في إسناده عبد الواحد بن زيد، وقد قال فيه الذهبي في تلخيص المستدرك متعقِّباً تصحيح الحاكم: "عبد الواحد متروك"، والمتروك
তারা সূর্য, চন্দ্র, কোনো প্রতিমা বা কোনো পাথরের ইবাদত করবে না, বরং তারা তাদের আমল দ্বারা মানুষকে দেখাবে। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, রিয়া কি শিরক? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আমি বললাম: তবে গোপন প্রবৃত্তি কী? তিনি বললেন: তোমাদের কেউ রোজা রাখা অবস্থায় ভোর অতিবাহিত করে, অতঃপর তার সামনে দুনিয়ার কোনো প্রবৃত্তি উপস্থিত হয় এবং সে রোজা ভেঙে ফেলে। এই হাদীসটির সনদ সহীহ, তবে তাঁরা (বুখারী ও মুসলিম) এটি সংকলন করেননি। [আল-মুস্তাদরাক আলাস-সহীহাইন ৪/৩৬৬ — ৭৯৪০]। এই বর্ণনার চেয়ে স্পষ্ট আর কী হতে পারে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরে শিরক সংঘটিত হওয়া এবং প্রতিমা ও পাথরের পূজা হওয়ার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। তিনি কেবল রিয়া (লোকদেখানো ইবাদত) নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এমতাবস্থায় আমরা কি আল্লাহর রাসূলের কথা বিশ্বাস করব, নাকি বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীদের অপপ্রচার এবং অতিবাদীদের অলীক কল্পনার প্রতি ঝুঁকে পড়ব?! উত্তর হলো: শাদ্দাদ ইবনে আউস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি সহীহ নয়; কারণ এর সনদে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে যায়েদ রয়েছেন। ইমাম যাহাবী 'তালখিসুল মুস্তাদরাক'-এ ইমাম হাকিমের হাদীসটিকে সহীহ বলার বিপরীতে মন্তব্য করে বলেছেন: 'আব্দুল ওয়াহিদ মাতরুক (পরিত্যক্ত)', আর মাতরুক হলো...
(খণ্ড: ১)
আত-তাহযীরু মিন তাজীমিল আসার গয়রিল মাশরুয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
لا يُحتجُّ بروايته، وقال الذهبي في ترجمته في الميزان: "روى عباس عن يحيى: ليس بشيء، وقال البخاري: عبد الواحد صاحب الحسن: تركوه، وقال الجوزجاني: سيِّء المذهب، ليس من معادن الصدق"وأمَّا حديث جابر الذي أخرجه مسلم في صحيحه في إياس الشيطان من أن يُعبَد في جزيرة العرب، فليس فيه دليل على عدم عودة الكفر والشرك إلى الجزيرة، وذلك لثبوت الأحاديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في ذلك، ومنها حديث أبي هريرة في صحيح مسلم (2906) قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تقوم الساعة حتى تضطرب أليات نساء دوس حول ذي الخلصة"، وكانت صنَماً تعبدُها دوسٌ في الجاهلية بتبالة، ومنها حديث عائشة في صحيح مسلم (2907) قالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "لا يذهبُ الليل والنهار حتى تُعبَد
তাঁর বর্ণনা দলিল হিসেবে পেশ করার যোগ্য নয়। আয-যাহাবি ‘আল-মিজান’ গ্রন্থে তাঁর জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন: “আব্বাস ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (বর্ণনাকারী) কোনো ধর্তব্য বিষয় নন। ইমাম বুখারি বলেছেন: হাসানের সঙ্গী আব্দুল ওয়াহিদকে মুহাদ্দিসগণ বর্জন করেছেন। আল-জুজজানি বলেছেন: তিনি ভ্রান্ত মতাদর্শের অনুসারী এবং সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত নন।”আর জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত যে হাদিসটি ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে আরব উপদ্বীপে শয়তানের উপাসিত হওয়ার ব্যাপারে নিরাশ হওয়া প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন, তাতে আরব উপদ্বীপে পুনরায় কুফর ও শিরক ফিরে না আসার কোনো প্রমাণ নেই। কারণ এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বহু হাদিস সাব্যস্ত হয়েছে। তন্মধ্যে সহিহ মুসলিমের (২৯০৬) আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসটি অন্যতম, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: “কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না দাওস গোত্রের নারীদের নিতম্ব ‘যুল-খালাসা’র চারদিকে দুলতে থাকবে।” আর এটি ছিল জাহেলি যুগে তাবালায় দাওস গোত্রের উপাস্য একটি মূর্তি। এ বিষয়ের আরও একটি হাদিস হলো সহিহ মুসলিমে (২৯০৭) বর্ণিত আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর হাদিস, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: “ততক্ষণ পর্যন্ত দিন ও রাতের অবসান ঘটবে না, যতক্ষণ না পুনরায় উপাসনা করা হবে...”
(খণ্ড: ১)
আত-তাহযীরু মিন তাজীমিল আসার গয়রিল মাশরুয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
اللَاّت والعُزَّى" الحديث، ومنها حديث أنس، عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم قال: "ليس من بلد إلَاّ سيطؤه الدَّجَّال إلَاّ مكة والمدينة، ليس له من نقابها نقبٌ إلَاّ عليه الملائكة صافِّين يحرسونها، ثم ترجف المدينة بأهلها ثلاث رَجَفات، فيخرج الله كلَّ كافر ومنافق" رواه البخاري (1881) ، ومسلم (2943) ، فهذه أحاديث صحيحة محكمة تدلُّ على عودة الشرك والكفر إلى الجزيرة بعد النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، ومِمَّا يوضح ذلك أنَّ بعضَ العرب ارتدُّوا بعد وفاة النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، فقاتلهم أبو بكر الصديق رضي الله عنه، فرجع أكثرُهم، وقتل بعضهم على ردَّته، وهؤلاء هم الذين عُنوا في حديث الذيادة عن الحوض، وقال عنهم النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم: "أصحابي"، فقيل له: "إنَّك لا تدري ما أحدثوا بعدك) أخرجه البخاري (6582) .ويُجمع بين هذه الأحاديث وحديث جابر في
"আল-লাত ও আল-উযযা" সংক্রান্ত হাদিস; এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো আনাস (রা.) বর্ণিত হাদিস, যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "এমন কোনো জনপদ নেই যা দাজ্জাল পদদলিত করবে না, তবে মক্কা ও মদিনা ব্যতীত। এর প্রতিটি প্রবেশপথে ফেরেশতারা সারিবদ্ধভাবে পাহারারত থাকবে। এরপর মদিনা তার অধিবাসীদের নিয়ে তিনবার প্রকম্পিত হবে, ফলে আল্লাহ সেখান থেকে সকল কাফির ও মুনাফিককে বের করে দেবেন।" এটি বুখারি (১৮৮১) ও মুসলিম (২৯৪৩) বর্ণনা করেছেন। সুতরাং এগুলো সহিহ ও সুষ্পষ্ট (মুহকাম) হাদিস যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পর আরব উপদ্বীপে শিরক ও কুফর পুনরায় ফিরে আসার প্রমাণ দেয়। বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে এই ঘটনা যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মৃত্যুর পর কিছু সংখ্যক আরব ধর্মত্যাগী হয়েছিল, ফলে আবু বকর সিদ্দিক (রা.) তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। তাদের অধিকাংশ পুনরায় ফিরে আসে এবং কিছু লোক ধর্মত্যাগী অবস্থাতেই নিহত হয়। এরাই সেই সব লোক যাদেরকে হাউজে কাউসার থেকে তাড়িয়ে দেওয়া সংক্রান্ত হাদিসে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। তাদের সম্পর্কে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছিলেন: "আমার সাহাবীগণ", তখন তাঁকে বলা হয়েছিল: "নিশ্চয়ই আপনি জানেন না আপনার পরে তারা কী নতুন বিষয়ের উদ্ভাবন করেছিল।" এটি বুখারি (৬৫৮২) বর্ণনা করেছেন।এবং এই হাদিসসমূহ ও জাবিরের বর্ণিত হাদিসের মধ্যে সমন্বয় করা হয় এভাবে যে...
(খণ্ড: ১)
আত-তাহযীরু মিন তাজীমিল আসার গয়রিল মাশরুয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
إياس الشيطان من أن يُعبد في جزيرة العرب من وجهين:أحدهما: بحمل حديث جابر على نفي عودة الجميع إلى الشرك دون البعض، فإنَّه يقع منهم.الثاني: أنَّ إياس الشيطان من عبادته في جزيرة العرب هو ظنٌّ من الشيطان، وهو لا يعلم الغيب، كما أخبر الله عن الجنِّ في قوله: {فَلَمَّا قَضَيْنَا عَلَيْهِ الْمَوْتَ مَا دَلَّهُمْ عَلَى مَوْتِهِ إِلَّا دَابَّةُ الْأَرْضِ تَأْكُلُ مِنْسَأَتَهُ فَلَمَّا خَرَّ تَبَيَّنَتِ الْجِنُّ أَنْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ الْغَيْبَ مَا لَبِثُوا فِي الْعَذَابِ الْمُهِينِ} ، وقال تعالى: {قُلْ لا يَعْلَمُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ} ، وقد ذكر هذه الأجوبة الشيخ عبد الله بن عبد الرحمن أبا بطين في إجابته على سؤال عن ثلاثة أحاديث، هذا أحدها (ص:35 ـ 36) .وأمَّا أحاديث كون الإيمان يأرز إلى المدينة وإلى
আরব উপদ্বীপে শয়তানের ইবাদত করা হবে—এ বিষয়ে তার নিরাশ হওয়ার বিষয়টি দুইভাবে ব্যাখ্যা করা যায়:প্রথমটি: জাবির (রা.)-এর হাদিসটিকে এভাবে গ্রহণ করা যে, সবার শিরকে ফিরে যাওয়াকে অস্বীকার করা হয়েছে, কিন্তু কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে তা ঘটতে পারে; কেননা তাদের পক্ষ থেকে শিরক সংঘটিত হবে।দ্বিতীয়টি: আরব উপদ্বীপে নিজের ইবাদত হওয়ার বিষয়ে শয়তানের নিরাশ হওয়াটি ছিল শয়তানের একটি ধারণা মাত্র, আর সে অদৃশ্যের জ্ঞান রাখে না। যেমন আল্লাহ জিনদের সম্পর্কে তাঁর বাণীতে সংবাদ দিয়েছেন: "অতঃপর যখন আমি তাঁর (সুলাইমানের) মৃত্যু নির্ধারণ করলাম, তখন মাটির পোকা ছাড়া অন্য কেউ তাদের কাছে তাঁর মৃত্যু প্রকাশ করেনি, যা তাঁর লাঠি খাচ্ছিল। অতঃপর যখন তিনি পড়ে গেলেন, তখন জিনরা বুঝতে পারল যে, যদি তারা অদৃশ্যের খবর জানত, তবে তারা লাঞ্ছনাকর শাস্তিতে পড়ে থাকত না।" এবং মহান আল্লাহ বলেন: "বলুন, আসমান ও জমিনে আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ অদৃশ্যের খবর জানে না।" শেখ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আবা বুতাইন তিনটি হাদিস সম্পর্কিত একটি প্রশ্নের উত্তরে এই জবাবগুলো উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে এটি একটি (পৃষ্ঠা: ৩৫-৩৬)।আর ঈমান মদিনার দিকে ফিরে আসার হাদিসগুলোর ব্যাপারে—
(খণ্ড: ১)
আত-তাহযীরু মিন তাজীমিল আসার গয়রিল মাশরুয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الحجاز، فهي لا تنافي الأحاديث الصحيحة الدَّالَّة عل عودة الشرك إلى الجزيرة.وأمَّا الآثار التي أوردها الكاتب في تتبُّع آثار النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم المكانية، فهي عن ابن عمر رضي الله عنه، وهذا مشهور عنه، والمشهور عن الخلفاء الراشدين وغيرهم خلاف ذلك، قال شيخ الإسلام ابن تيمية في اقتضاء الصراط المستقيم (2/278 ـ 279) :"فأمَّا قصدُ الصلاة في تلك البقاع التي صلَّى فيها اتفاقاً، فهذا لم يُنقل عن غير ابن عمر من الصحابة، بل كان أبو بكر وعمر وعثمان وعلي وسائر السابقين الأوَّلين من المهاجرين والأنصار يذهبون من المدينة إلى مكة حُجَّاجاً وعُمَّاراً ومسافرين، ولَم يُنقل عن أحد منهم أنَّه تحرَّى الصلاة في مصلَّيات النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، ومعلوم أنَّ هذا لو كان عندهم مستحبًّا لكانوا إليه أسبقَ؛ فإنَّهم أعلمُ بسنَّته وأتبعُ لها من
হেজাজ, সুতরাং এটি আরব উপদ্বীপে শিরক পুনরায় ফিরে আসার নির্দেশক সহীহ হাদিসগুলোর পরিপন্থী নয়।আর লেখক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর স্থানিক স্মৃতিচিহ্ন অনুসরণের বিষয়ে যে সকল বর্ণনা উল্লেখ করেছেন, সেগুলো ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত এবং এটি তাঁর পক্ষ থেকে সুপ্রসিদ্ধ। তবে খোলাফায়ে রাশেদীন এবং অন্যান্যদের থেকে এর বিপরীত আমলটিই প্রসিদ্ধ। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া 'ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম' (২/২৭৮-২৭৯) গ্রন্থে বলেছেন:"আর ঐ সকল ভূখণ্ডে সালাত আদায়ের সংকল্প করা যেখানে তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘটনাক্রমে সালাত আদায় করেছিলেন, তা ইবনে উমর ব্যতীত অন্য কোনো সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়নি। বরং আবু বকর, উমর, উসমান, আলী এবং মুহাজির ও আনসারদের অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য প্রথম সারির অগ্রগামী সাহাবীগণ মদীনা থেকে মক্কায় হজ পালনকারী, উমরাহ পালনকারী এবং মুসাফির হিসেবে যাতায়াত করতেন; কিন্তু তাঁদের কারো থেকে এটি বর্ণিত হয়নি যে, তাঁরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত আদায়ের স্থানগুলো তালাশ করে সেখানে সালাত আদায়ের চেষ্টা করতেন। আর এটি সুনিশ্চিত যে, যদি এটি তাঁদের নিকট মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় কাজ হতো, তবে তাঁরা অবশ্যই সেদিকে ধাবিত হতে অগ্রণী হতেন; কেননা তাঁরা তাঁর সুন্নাহ সম্পর্কে অধিক অবগত এবং সেটির অনুসরণে অধিক নিবেদিত ছিলেন..."
(খণ্ড: ১)
আত-তাহযীরু মিন তাজীমিল আসার গয়রিল মাশরুয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
غيرهم، وقد قال صلى الله عليه وسلم: "عليكم بسنتي وسنَّة الخلفاء الراشدين المهديِّين من بعدي، تمسَّكوا بها وعضُّوا عليها بالنواجذ، وإيَّاكم ومحدثات الأمور، فإنَّ كلَّ محدثة بدعة، وكلَّ بدعة ضلالة"، وتَحرِّي هذا ليس من سنة الخلفاء الراشدين، بل هو مِمَّا ابتُدع، وقول الصحابي إذا خالفه نظيره ليس بحجة، فكيف إذا انفرد به عن جماهير الصحابة؟! أيضاً فإنَّ تحرِّي الصلاة فيها ذريعةٌ إلى اتِّخاذها مساجد، والتشبُّه بأهل الكتاب مِمَّا نُهينا عن التشبه بهم فيه، وذلك ذريعة إلى الشرك بالله، والشارعُ قد حسَم هذه المادة بالنهي عن الصلاة عند طلوع الشمس وعند غروبها، وبالنهي عن اتخاذ القبور مساجد، فإذا كان قد نهي عن الصلاة المشروعة في هذا المكان وهذا الزمان سدًّا للذريعة، فكيف يُستحبُّ قصد الصلاة والدعاء في مكان اتفق قيامهم فيه، أو صلاتهم فيه
অন্যদের থেকে; আর তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা অবশ্যই আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে অনুসরণ করবে। তোমরা একে শক্তভাবে ধারণ করবে এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকবে। আর তোমরা নতুন উদ্ভাবিত বিষয়গুলো থেকে সতর্ক থাকবে, কেননা প্রতিটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা।" আর এগুলো অনুসন্ধান করা খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং এটি নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। কোনো সাহাবীর কথা যখন তার সমপর্যায়ের অন্য সাহাবীর বক্তব্যের পরিপন্থী হয়, তখন তা দলিল হিসেবে গণ্য হয় না; এমতাবস্থায় কোনো বিষয়ে তিনি যদি জমহুর সাহাবায়ে কেরামের বিপরীত অবস্থান গ্রহণ করেন, তবে তা কীভাবে দলিল হতে পারে?! তাছাড়া, এসব স্থানে সালাত আদায়ের উদ্দেশ্য করা সেগুলোকে মসজিদে রূপান্তর করার একটি অসিলা বা মাধ্যমে পরিণত হয়। আর আহলে কিতাবদের সাদৃশ্য অবলম্বন করা এমন একটি বিষয় যা থেকে আমাদের নিষেধ করা হয়েছে, কেননা এটি আল্লাহর সাথে শিরক করার পথ প্রশস্ত করে। শরিয়ত প্রণেতা সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় সালাত আদায় নিষিদ্ধ করে এবং কবরসমূহকে মসজিদে পরিণত করতে নিষেধ করে এই পথটি রুদ্ধ করে দিয়েছেন। অতএব, যখন অনিষ্টের পথ বন্ধ করার স্বার্থে নির্দিষ্ট স্থান ও সময়ে বিধিবদ্ধ সালাত আদায়ও নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তখন এমন কোনো স্থানে সালাত ও দোয়ার উদ্দেশ্য করা কীভাবে মুস্তাহাব হতে পারে যেখানে তারা কেবল ঘটনাক্রমে অবস্থান করেছিলেন কিংবা সালাত আদায় করেছিলেন?
(খণ্ড: ১)
আত-তাহযীরু মিন তাজীমিল আসার গয়রিল মাশরুয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
، من غير أن يكونوا قد قصدوه للصلاة فيه والدعاء فيه؟! "أقول: بل إنَّ عمر رضي الله عنه نهى عن ذلك، فعن المعرور بن سويد قال: "كنت مع عمر بين مكة والمدينة، فصلى بنا الفجر فقرأ {أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحَابِ الْفِيلِ} و {لِإِيلافِ قُرَيْشٍ} ، ثمَّ رأى قوماً ينزلون فيُصلُّون في مسجد فسأل عنهم، فقالوا: مسجد صلَّى فيه النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم، فقال: إنَّما هلك مَن كان قبلكم أنَّهم اتخذوا آثار أنبيائهم بيَعا، مَن مرَّ بشيء من المساجد فحضرت الصلاة فليُصلِّ، وإلَاّ فليمض" رواه عبد الرزاق (2/118 ـ 119) وابن أبي شيبة (2/376 ـ 377) بإسناد صحيح، قال شيخ الإسلام معلِّقاً على هذا الأثر: "فلمَّا كان النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم لم يقصد تخصيصَه بالصلاة فيه، بل صلَّى فيه لأنَّه موضع نزوله، رأى عمر أنَّ
, তাদের সেখানে সালাত আদায় এবং দোয়া করার কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই কি?! আমি বলছি: বরং উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তা থেকে নিষেধ করেছেন। মা'রুর ইবনু সুয়াইদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "আমি মক্কা ও মদিনার মাঝামাঝি স্থানে উমরের সাথে ছিলাম। তিনি আমাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন এবং তাতে {আপনি কি দেখেননি আপনার প্রতিপালক হস্তীবাহিনীর সাথে কী আচরণ করেছিলেন?} এবং {কুরাইশদের আসক্তির কারণে} সূরা দুটি পাঠ করলেন। অতঃপর তিনি কিছু লোককে দেখলেন যে, তারা এক জায়গায় অবতরণ করে একটি মসজিদে সালাত আদায় করছে। তিনি তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তারা বলল: এটি এমন এক মসজিদ যেখানে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত আদায় করেছিলেন। তখন তিনি বললেন: তোমাদের পূর্ববর্তীরা কেবল এজন্যই ধ্বংস হয়েছিল যে, তারা তাদের নবীদের স্মৃতিচিহ্নগুলোকে উপাসনালয়ে পরিণত করেছিল। তোমাদের কেউ যদি এ ধরনের কোনো মসজিদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সালাতের ওয়াক্ত উপস্থিত হয়, তবে সে যেন সালাত আদায় করে, অন্যথায় সে যেন চলে যায়।" আবদুর রাজ্জাক (২/১১৮-১১৯) এবং ইবনু আবি শাইবাহ (২/৩৭৬-৩৭৭) সহিহ সনদে এটি বর্ণনা করেছেন। শাইখুল ইসলাম এই বর্ণনার ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: "যেহেতু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেখানে সালাত আদায়ের কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য পোষণ করেননি, বরং তিনি সেখানে সালাত আদায় করেছিলেন কারণ সেটি ছিল তাঁর যাত্রাপথের যাত্রাবিরতির স্থান, তাই উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) মনে করলেন যে...
(খণ্ড: ১)
আত-তাহযীরু মিন তাজীমিল আসার গয়রিল মাশরুয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
مشاركتَه في صورة الفعل من غير موافقة له في قصده ليس متابعة، بل تخصيص ذلك المكان بالصلاة من بدع أهل الكتاب التي هلكوا بها، ونهى المسلمين عن التشبه بهم في ذلك، ففاعل ذلك متشبِّه بالنَبيِّ صلى الله عليه وسلم في الصورة، ومتشبِّه باليهود والنصارى في القصد الذي هو عمل القلب" مجموع الفتاوى (1/281) () .وأمَّا الآثار في التبرُّك بالقبر والمنبر، فإنَّ ما جاء من آثار في التبرُّك بالمنبر إنَّما كان في منبره الذي كان يجلس عليه، والرمانة التي يضع يده عليها، وهو تبرُّك بما لَامَسَه جسدُه صلى الله عليه وسلم، وهذا سائغ؛ فإنَّ الصحابةَ رضي الله عنهم كانوا يتبرَّكون بشعره وعرقه ومخاطه وبصاقه وغير ذلك مِمَّا ثبت في
"উদ্দেশ্যে তাঁর সাথে একমত না হয়ে কেবল কাজের বাহ্যিক রূপে অংশগ্রহণ করা প্রকৃত অনুসরণ নয়; বরং সালাতের জন্য সেই স্থানটিকে নির্দিষ্ট করা আহলে কিতাবদের সেই বিদআতগুলোর অন্তর্ভুক্ত যার কারণে তারা ধ্বংস হয়েছিল। তিনি মুসলমানদেরকে এ বিষয়ে তাদের সাদৃশ্য অবলম্বন করতে নিষেধ করেছেন। সুতরাং এই কাজ যে করে, সে বাহ্যিক আকৃতিতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাদৃশ্য অবলম্বনকারী, কিন্তু উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী, যা মূলত অন্তরের কাজ।" মাজমুউল ফাতাওয়া (১/২৮১)।আর কবর ও মিম্বার থেকে বরকত গ্রহণ (তাবাররুক) সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহের ব্যাপারে বক্তব্য হলো, মিম্বার থেকে বরকত গ্রহণের বিষয়ে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা কেবল তাঁর সেই মিম্বারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল যাতে তিনি বসতেন এবং সেই হাতল (রুমানাহ) সংশ্লিষ্ট যাতে তিনি তাঁর হাত রাখতেন। এটি ছিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দেহ স্পর্শ করেছে এমন বস্তু থেকে বরকত গ্রহণ করা, যা বৈধ। কেননা সাহাবীগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুম তাঁর চুল, ঘাম, শ্লেষ্মা, থুতু এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় থেকে বরকত গ্রহণ করতেন যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে প্রমাণিত হয়েছে—
(খণ্ড: ১)
আত-তাহযীরু মিন তাজীমিল আসার গয়রিল মাশরুয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الأحاديث الصحيحة، وهذا من خصائصه صلى الله عليه وسلم، وعلى ذلك يُحمل ما جاء عن الإمام أحمد في ذلك، وفي التبرُّك بشعرة النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم وقصعته إن صحَّ ذلك عنه، وكذلك ما جاء عن غيره في منبره صلى الله عليه وسلم، وقد احترق المنبر، فلم يكن هناك مجال للتبرُّك بشيء مسَّه رسول الله صلى الله عليه وسلم، كما ذكر ذلك شيخ الإسلام ابن تيمية في الاقتضاء (2/244 ـ 245) ، وقال: "فقد رخَّص أحمد وغيرُه في التمسح بالمنبر والرمانة، التي هي موضع مقعد النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم ويده، ولَم يرخِّصوا في التمسح بقبره"، وقال الإمام النووي في المجموع شرح المهذب (8/206) : "لا يجوز أن يُطاف بقبره صلى الله عليه وسلم، ويُكره إلصاق الظَّهر والبطن بجدار القبر، قاله أبو عبيد الله الحليمي وغيره، قالوا: ويُكره مسحُه باليد وتقبيله، بل الأدب أن يَبعد منه كما يَبعد منه لو حضره في حياته صلى الله عليه وسلم، هذا
সহীহ হাদীসসমূহ, এবং এটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত। ইমাম আহমাদ থেকে এ বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে তা এর উপরই সাব্যস্ত হবে, এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চুল ও তাঁর পেয়ালা দ্বারা বরকত গ্রহণের বিষয়ে যদি তা তাঁর থেকে সহীহভাবে প্রমাণিত হয়, তার বিধানও একই। অনুরূপভাবে তাঁর মিম্বার সম্পর্কে অন্যান্যের কাছ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। অথচ মিম্বারটি পুড়ে গিয়েছে, তাই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্পর্শ করেছেন এমন কোনো বস্তু থেকে বরকত গ্রহণের আর কোনো সুযোগ অবশিষ্ট নেই, যেমনটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ ‘আল-ইকতিদা’ (২/২৪৪-২৪৫) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: "আহমাদ ও অন্যান্যগণ মিম্বার এবং এর হাতল (রুমানাহ) স্পর্শ করার অনুমতি দিয়েছেন, যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বসার স্থান ও তাঁর হাত রাখার জায়গা ছিল; কিন্তু তাঁরা তাঁর কবরে মসেহ করার অনুমতি দেননি।" এবং ইমাম নববী ‘আল-মাজমু শারহুল মুহাযযাব’ (৮/২০৬) গ্রন্থে বলেছেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কবর তওয়াফ করা জায়েজ নয়। কবরের দেয়ালের সাথে পিঠ বা পেট লাগানো মাকরুহ; এটি আবু আব্দুল্লাহ আল-হালীমী এবং অন্যান্যরা বলেছেন। তাঁরা বলেছেন: হাত দিয়ে এটি স্পর্শ করা এবং এটি চুম্বন করা মাকরুহ। বরং আদব হলো তাঁর থেকে দূরে থাকা, যেমনটি তাঁর জীবদ্দশায় তাঁর সামনে উপস্থিত হলে দূরে থাকা হতো। এটি..."
(খণ্ড: ১)
আত-তাহযীরু মিন তাজীমিল আসার গয়রিল মাশরুয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
هو الصواب الذي قاله العلماء وأطبقوا عليه، ولا يغتر بمخالفة كثير من العوام وفعلهم ذلك؛ فإنَّ الاقتداءَ والعملَ إنَّما يكون بالأحاديث الصحيحة وأقوال العلماء، ولا يُلتفت إلى محدثات العوام وغيرهم وجهالاتهم، وقد ثبت في الصحيحين عن عائشة رضي الله عنها أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "مَن أحدث في ديننا ما ليس منه فهو رد"، وفي رواية لمسلم: "من عمل عملاً ليس عليه أمرنا فهو رد"، وعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تجعلوا قبري عيداً، وصلُّوا عليَّ؛ فإنَّ صلاتكم تبلغني حيثما كنتم" رواه أبو داود بإسناد صحيح، وقال الفضيل بن عياض رحمه الله ما معناه: "اتبع طريق الهدى ولا يضرك قلَّة السالكين، وإيَّاك وطرق الضلالة ولا تغتر بكثرة الهالكين"، ومَن خطر بباله أنَّ المسحَ باليد ونحوه أبلغ في البركة، فهو من
এটিই সেই সঠিক সিদ্ধান্ত যা আলেমগণ বলেছেন এবং যার ওপর তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন। সাধারণ মানুষের অনেকের বিরোধিতা ও তাদের কর্মকাণ্ড দেখে বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়; কারণ অনুসরণ ও আমল কেবলমাত্র সহীহ হাদীস এবং আলেমগণের বক্তব্যের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। সাধারণ মানুষের উদ্ভাবিত নবতর বিষয় এবং তাদের মূর্খতার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না। সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এ আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনে এমন কোনো নতুন বিষয় উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।" মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে: "যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল করল যাতে আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।" আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা আমার কবরকে উৎসবে পরিণত করো না, বরং আমার প্রতি দুরুদ পাঠ করো; কেননা তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তোমাদের দুরুদ আমার কাছে পৌঁছে যায়।" এটি আবু দাউদ সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন। ফুদাইল ইবনে ইয়াজ (রাহিমাহুল্লাহ) এর বক্তব্যের মর্মার্থ হলো: "তুমি হিদায়াতের পথ অনুসরণ করো, পথিকের স্বল্পতা তোমার কোনো ক্ষতি করবে না। আর তুমি ভ্রষ্টতার পথসমূহ থেকে সাবধান থাকো এবং ধ্বংসপ্রাপ্তদের আধিক্য দেখে প্রলুব্ধ হয়ো না।" আর যার মনে এই কুচিন্তার উদয় হয় যে, হাত দিয়ে মুছা বা অনুরূপ কাজ বারাকাত লাভের ক্ষেত্রে অধিক সহায়ক, তবে সে...
(খণ্ড: ১)
আত-তাহযীরু মিন তাজীমিল আসার গয়রিল মাশরুয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
جهالته وغفلته؛ لأنَّ البركة فيما وافق الشرع، وكيف يُبتغى الفضل في مخالفة الصواب".وآثار النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم تنقسم إلى ثلاثة أقسام:الأول: الآثار المروية، وهي حديثه وسنَّتُه صلى الله عليه وسلم، فهذا القسم تجب المحافظة عليه؛ لقوله تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} وقوله صلى الله عليه وسلم: "عليكم بسُنَّتي وسُنَّة الخلفاء الراشدين المهديِّين من بعدي" الحديث، وقوله صلى الله عليه وسلم: "ما نهيتكم عنه فاجتنبوه، وما أمرتكم به فأتوا منه ما استطعتم" الحديث، رواه البخاري ومسلم.الثاني: الآثار المكانية، وهذا القسم يؤخذ منه بما ثبتت به السنَّة، كالصلاة في مسجده صلى الله عليه وسلم وفي مسجد قباء؛ لقوله صلى الله عليه وسلم: "لا تُشدُّ الرحال إلَاّ إلى ثلاثة مساجد: مسجدي هذا، ومسجد الحرام، ومسجد الأقصى" رواه البخاري (1189) ومسلم
তার অজ্ঞতা ও অসতর্কতা; কারণ বরকত তো তাতেই নিহিত যা শরীয়তসম্মত, আর সঠিক পথ লঙ্ঘনের মাধ্যমে কীভাবে শ্রেষ্ঠত্ব অন্বেষণ করা যেতে পারে।নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিদর্শনাবলি তিন ভাগে বিভক্ত:প্রথম: বর্ণিত নিদর্শনাবলি, আর তা হলো তাঁর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদীস ও সুন্নাহ। এই অংশটি সংরক্ষণ করা ওয়াজিব; কারণ মহান আল্লাহ বলেছেন: "রাসূল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।" এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তোমরা আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো" (হাদীস), এবং তাঁর বাণী: "আমি তোমাদের যা নিষেধ করেছি তা বর্জন করো এবং যা আদেশ করেছি তা তোমাদের সাধ্যমতো পালন করো" (হাদীস), যা বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।দ্বিতীয়: স্থানভিত্তিক নিদর্শনাবলি, আর এই অংশ থেকে কেবল তা-ই গ্রহণ করা হবে যা সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মসজিদে এবং মসজিদে কুবায় সালাত আদায় করা; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তিনটি মসজিদ ব্যতীত অন্য কোনো স্থানের উদ্দেশ্যে সফর করা যাবে না: আমার এই মসজিদ, মসজিদে হারাম এবং মসজিদে আকসা।" এটি বুখারী (১১৮৯) ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহযীরু মিন তাজীমিল আসার গয়রিল মাশরুয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
(1397) ، واللفظ له عن أبي هريرة رضي الله عنه، وقوله صلى الله عليه وسلم: "صلاة في مسجدي هذا خيرٌ من ألف صلاة فيما سواه إلَاّ المسجد الحرام" رواه البخاري (1190) ومسلم (1394) عن أبي هريرة رضي الله عنه، ولقوله صلى الله عليه وسلم: "الصلاة في مسجد قباء كعمرة" رواه الترمذي (324) وابن ماجه (1411) عن أسيد بن ظهير رضي الله عنه، وقال الترمذي: "حديث حسن صحيح"، وقوله صلي الله عليه وسلم: "من تطهَّر في بيته، ثم أتى مسجد قباء، فصلى فيه صلاةً، كان له كأجر عمرة" رواه ابن ماجه (1412) عن سهل بن حنيف رضي الله عنه، و"كان النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم يأتي مسجد قباء كلَّ سبت ماشياً وراكباً فيصلي فيه ركعتين" رواه البخاري (1193) ومسلم (1399) عن ابن عمر رضي الله عنهما.وأمَّا المساجد والأماكن التي لَم ترِد فيها سُنَّةٌ
(১৩৯৭) , এবং শব্দ বিন্যাসটি তাঁরই, যা আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত; আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "আমার এই মসজিদে একটি সালাত মসজিদুল হারাম ব্যতীত অন্য সব মসজিদের তুলনায় এক হাজার সালাতের চেয়েও উত্তম।" এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (১১৯০) ও মুসলিম (১৩৯৪), আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে। এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণীর কারণে: "মসজিদে কুবায় সালাত আদায় করা একটি উমরার সমতুল্য।" এটি বর্ণনা করেছেন তিরমিজি (৩২৪) ও ইবনে মাজাহ (১৪১১), উসাইদ বিন জাহির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে; আর তিরমিজি বলেছেন: "হাদিসটি হাসান সহিহ।" এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "যে ব্যক্তি নিজের ঘরে পবিত্রতা অর্জন করল, অতঃপর মসজিদে কুবায় এসে কোনো সালাত আদায় করল, তার জন্য একটি উমরার সমপরিমাণ সওয়াব রয়েছে।" এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে মাজাহ (১৪১২), সাহল বিন হুনাইফ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে। এবং "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি শনিবার পায়ে হেঁটে এবং সওয়ার হয়ে মসজিদে কুবায় আসতেন এবং সেখানে দুই রাকাত সালাত আদায় করতেন।" এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (১১৯৩) ও মুসলিম (১৩৯৯), ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে।আর যে সকল মসজিদ ও স্থান সম্পর্কে কোনো সুন্নাহ বর্ণিত হয়নি...
(খণ্ড: ১)
আত-তাহযীরু মিন তাজীমিল আসার গয়রিল মাশরুয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
عن الرسول صلى الله عليه وسلم فتُترك ولا تُقصَد، وهو الذي يُفيده نهيُ عمر رضي الله عنه عن قصد الصلاة في المسجد الذي بين مكة والمدينة، كما في الأثر الذي ذكرته عنه قريباً، وإنَّما جاء النهي عن التعلق بالآثار المكانية غير الشرعية؛ لأنَّه وسيلة إلى الشرك، كما هو واضح من كلام ابن تيمية الذي تقدَّم قريباً، وسدُّ الذرائع التي تؤدِّي إلى محذور أصلٌ من أصول الشريعة، ومقصَدٌ من مقاصدها، وقد أورد ابن القيم في كتابه إعلام الموقعين (3/147) وما بعدها تسعة وتسعين دليلاً من أدلَّة سدِّ الذرائع، ومنها قوله في (ص:151) : "الوجه الثالث عشر: أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم نهى عن بناء المساجد على القبور، ولَعَن مَن فعل ذلك، ونهى عن تجصيص القبور وتشريفها واتخاذها مساجد، وعن الصلاة إليها وعندها، وعن إيقاد المصابيح عليها، وأَمَرَ بتسويتها، ونهى عن
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা বর্জন করতে হবে এবং তা আদায়ের সংকল্প করা যাবে না। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সেই নিষেধাজ্ঞা থেকে এটিই প্রতীয়মান হয়, যা তিনি মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী কোনো মসজিদে সালাত আদায়ের সংকল্প করার ব্যাপারে দিয়েছিলেন, যেমনটি আমি ইতিপূর্বে তাঁর থেকে বর্ণিত আছারে উল্লেখ করেছি। আর অশরীয়তি স্থানিক নিদর্শনগুলোর সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা এসেছে, তা মূলত একারণে যে, এটি শিরকের দিকে ধাবিত হওয়ার একটি মাধ্যম; যেমনটি ইবনে তাইমিয়্যাহর কথা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যা ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আর নিষিদ্ধ বিষয়ের দিকে ধাবিত করে এমন মাধ্যমগুলোকে রুদ্ধ করা শরীয়তের অন্যতম একটি মূলনীতি এবং এর অন্যতম একটি উদ্দেশ্য। ইবনুল কাইয়্যিম তাঁর 'ইলামুল মুওয়াক্কিঈন' গ্রন্থে (৩/১৪৭) এবং এর পরবর্তী অংশগুলোতে মাধ্যম রুদ্ধ করার স্বপক্ষে নিরানব্বইটি দলিল পেশ করেছেন। তন্মধ্যে ১৫১ পৃষ্ঠায় তাঁর বক্তব্য হলো: "ত্রয়োদশ দিক: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের ওপর মসজিদ নির্মাণ করতে নিষেধ করেছেন এবং যে ব্যক্তি এমনটি করে তাকে অভিশাপ দিয়েছেন। তিনি কবর প্লাস্টার করতে, তা উঁচু করতে এবং সেগুলোকে মসজিদে রূপান্তর করতে নিষেধ করেছেন। তিনি কবরের দিকে মুখ করে এবং কবরের কাছে সালাত আদায় করতে এবং কবরের ওপর বাতি জ্বালাতে নিষেধ করেছেন; তিনি কবর সমান করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং আরও নিষেধ করেছেন..."
(খণ্ড: ১)
আত-তাহযীরু মিন তাজীমিল আসার গয়রিল মাশরুয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
اتخاذها عيداً، وعن شدِّ الرحال إليها؛ لئلَاّ يكون ذلك ذريعةً إلى اتخاذها أوثاناً والإشراك بها، وحرم ذلك على من قصده ومن لم يقصده، بل قصد خلافَه سدًّا للذريعة"الثالث: الآثار الجسدية، والمراد بها ما مسَّه جسدُه صلى الله عليه وسلم، فهذه التبرُّك بها سائغ، وقد تقدَّم الكلام فيها قريباً، وقد ظفر بذلك الصحابة رضي الله عنهم، ومَن وصلَه شيءٌ منها من التابعين ومَن بعدهم، وبعد ذلك انقرضت، ولَم يكن لها وجود على الحقيقة، ولا مجال للتعلق بها.وتقدَّم أيضاً أنَّ هذا من خصائصه؛ لِمَا جعل الله فيه من البركة، وغيرُه صلى الله عليه وسلم لا يُقاس عليه، ولهذا لَم يفعل الصحابة رضي الله عنهم مثلَ ذلك مع خيارهم، كأبي بكر وعمر وعثمان وعلي رضي الله عنهم، لا في حياته ولا بعد وفاته صلى الله عليه وسلم، وقد أشار
সেগুলোকে উৎসব হিসেবে গ্রহণ করা এবং সেগুলোর দিকে সফর করা থেকে (নিষেধ করা হয়েছে); যাতে এটি সেগুলোকে মূর্তিতে পরিণত করা এবং সেগুলোর মাধ্যমে শিরক করার মাধ্যম না হয়। আর যে ব্যক্তি এই উদ্দেশ্য পোষণ করে এবং যে করে না—বরং তার বিপরীত উদ্দেশ্য পোষণ করে—সবার জন্যই অনিষ্টের পথ বন্ধ করার নিমিত্তে তা হারাম করা হয়েছে।তৃতীয়ত: শারীরিক নিদর্শনসমূহ। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) শরীরের স্পর্শ পেয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে বরকত হাসিল করা বৈধ। এ সম্পর্কে ইতিপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) এটি লাভ করেছিলেন, এবং তাবেয়িগণ ও পরবর্তীগণের মধ্যে যাদের নিকট এর কিছু পৌঁছেছিল তারাও তা লাভ করেছিলেন। এরপর এগুলো বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব নেই, আর এর সাথে সম্পৃক্ত হওয়ারও কোনো অবকাশ নেই।আরও ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি তাঁর বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত; কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর মাঝে বরকত রেখেছেন। তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ওপর অন্য কাউকে কিয়াস (তুলনা) করা যাবে না। এই কারণেই সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তাঁদের মধ্যে যারা সর্বোত্তম ছিলেন—যেমন আবু বকর, উমর, উসমান ও আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)—তাদের সাথে এরূপ আচরণ করেননি; তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবদ্দশায়ও নয়, আর তাঁর ওফাতের পরেও নয়। এবং তিনি ইঙ্গিত করেছেন
(খণ্ড: ১)
আত-তাহযীরু মিন তাজীমিল আসার গয়রিল মাশরুয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
إلى هذا الإمام البخاري رحمه الله، حيث عقد "باب صبِّ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم وَضوءَه على مغمى عليه"، وساق الحديث (194) عن جابر رضي الله عنه قال: "جاء رسول الله يعودني وأنا مريض لا صلى الله عليه وسلم أعقل، فتوضَّأ وصبَّ عليَّ من وَضوئه، فعقلت، فقلت: يا رسول الله! لِمَن الميراث، إنَّما يرثني كلالة؟ فنزلت آية الفرائض"فتعبيره رحمه الله في الترجمة بـ "صبِّ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم وَضوءه على مغمى عليه" إشارة إلى أنَّه من خصائصه صلى الله عليه وسلم، ولهذا لم يقل: باب صبِّ الإمام أو العالِم أو الكبير أو الزائر وَضوءه على مغمى عليه.وقد ذكر الشاطبي في كتاب الاعتصام (2/6) : "أنَّه ثبت في الصحاح عن الصحابة رضي الله عنهم أنَّهم يتبرَّكون بأشياء من رسول الله صلى الله عليه وسلم، ففي البخاري عن أبي جُحيفة رضي الله عنه قال: خَرَج علينا
ইমাম বুখারি (আল্লাহ তাকে দয়া করুন) এ বিষয়টির দিকেই নির্দেশ করেছেন, যেখানে তিনি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন এভাবে: "নবি (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) কর্তৃক বেহুঁশ ব্যক্তির ওপর তাঁর ওযুর পানি ঢেলে দেওয়া", এবং জাবির (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে (১৯৪) নম্বর হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) আমাকে দেখতে এলেন যখন আমি অসুস্থতায় জ্ঞানহীন ছিলাম। এরপর তিনি ওযু করলেন এবং তাঁর ওযুর পানি থেকে আমার ওপর ঢেলে দিলেন, তখন আমার জ্ঞান ফিরে এল। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! উত্তরাধিকার কার জন্য হবে? যেহেতু কেবল কালালাহরাই (পিতা-মাতা ও সন্তানহীন আত্মীয়) আমার উত্তরাধিকারী হবে? তখন ফারায়েজের (উত্তরাধিকার বন্টনের) আয়াত নাজিল হলো।"অধ্যায়ের শিরোনামে তাঁর (আল্লাহ তাকে দয়া করুন) এই শব্দচয়ন "নবি (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) কর্তৃক বেহুঁশ ব্যক্তির ওপর তাঁর ওযুর পানি ঢেলে দেওয়া" এ কথার প্রতি ইঙ্গিত বহন করে যে, এটি তাঁরই (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এই কারণেই তিনি এরূপ বলেননি: "ইমাম, আলেম, বড় কোনো ব্যক্তি বা মেহমান কর্তৃক বেহুঁশ ব্যক্তির ওপর ওযুর পানি ঢেলে দেওয়ার পরিচ্ছেদ।"শাত্বিবি (আল্লাহ তাকে দয়া করুন) তাঁর 'আল-ইতিসাম' গ্রন্থে (২/৬) উল্লেখ করেছেন: "সহিহ হাদিসসমূহে সাহাবিদের (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, তাঁরা রাসূলুল্লাহর (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) ব্যবহৃত বস্তুসমূহ থেকে বরকত গ্রহণ করতেন। বুখারিতে আবু জুহাইফা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: তিনি (রাসূলুল্লাহ) আমাদের সামনে বের হলেন..."
(খণ্ড: ১)
আত-তাহযীরু মিন তাজীমিল আসার গয়রিল মাশরুয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
رسول الله صلى الله عليه وسلم بالهاجرة، فأُتي بوَضوئه فتوضَّأ، فجعل الناسُ يأخذون من فضل وَضوئه فيتمسَّحون به، الحديث، وفيه: كان إذا توضَّأ يقتتلون على وَضوئه، وعن المِسْوَر رضي الله عنه في حديث الحديبية: "وما انتخم النَّبيُّ صلى الع عليه وسلم نخامة إلَاّ وقعت في كفِّ رجل منهم فدلك بها وجهه وجلدَه""، ثم قال: "فالظاهر في مثل هذا النوع أن يكون مشروعاُ في حقِّ مَن ثبتت ولايته واتِّباعه لسنَّة رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأن يتبرَّك بفضل وَضوئه، ويتدلَّك بنخامته، ويُستشفى بآثاره كلِّها، ويُرجى نحو مِمَّا كان في آثار المتبوع الأصل صلى الله عليه وسلم"ثم ذكر أنَّ هذا الاحتمال لقياس غيره صلى الله عليه وسلم عليه في التبرُّك به عارضه أصلٌ مقطوع به، فقال: "إلَاّ أنَّه عارضنا في ذلك أصل مقطوع به في متنه، مشكل في تنزيله، وهو أنَّ الصحابة رضي الله عنهم
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দ্বিপ্রহরের প্রচণ্ড গরমে আসলেন, অতঃপর তাঁর কাছে ওযুর পানি আনা হলো এবং তিনি ওযু করলেন। তখন লোকেরা তাঁর ওযুর অবশিষ্ট পানি সংগ্রহ করতে লাগল এবং তা নিজেদের শরীরে মাখতে লাগল। হাদীসটিতে আরও বর্ণিত হয়েছে যে: তিনি যখন ওযু করতেন, তখন তারা তাঁর ওযুর পানির জন্য লড়াই করার উপক্রম হতো। আর মিসওয়ার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হুদাইবিয়ার হাদীসে বর্ণিত আছে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখনই কোনো শ্লেষ্মা ফেলতেন, তা তাদের মধ্যে কোনো একজনের হাতের তালুতেই পড়ত, আর তিনি তা দিয়ে নিজের মুখ ও শরীরে মালিশ করতেন।" অতঃপর তিনি বললেন: "এই জাতীয় ক্ষেত্রে প্রকাশ্য বিষয় হলো, যার বেলায়েত এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর অনুসরণ প্রমাণিত হয়েছে, তার ক্ষেত্রে এটি বৈধ হওয়া উচিত; যেন তার ওযুর অবশিষ্ট পানির মাধ্যমে বরকত গ্রহণ করা হয়, তার শ্লেষ্মা দিয়ে মালিশ করা হয় এবং তার সকল নিদর্শনের মাধ্যমে আরোগ্য অনুসন্ধান করা হয়, এবং এর মাধ্যমে মূল আদর্শ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিদর্শনাদির মাধ্যমে যা অর্জিত হতো, অনুরূপ কিছুর আশা করা হয়।"অতঃপর তিনি উল্লেখ করলেন যে, বরকত হাসিলের ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অন্য কাউকে কিয়াস করার এই যে সম্ভাবনা, তা একটি অকাট্য মূলনীতির পরিপন্থী। তিনি বললেন: "তবে এ বিষয়ে আমাদের সামনে এমন একটি অকাট্য মূলনীতি বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যার বক্তব্য সুনিশ্চিত, কিন্তু প্রয়োগের ক্ষেত্রে জটিলতা রয়েছে; আর তা হলো এই যে, সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম..."
(খণ্ড: ১)
আত-তাহযীরু মিন তাজীমিল আসার গয়রিল মাশরুয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
بعد موته عليه السلام لم يقع من أحد منهم شيء من ذلك بالنسبة إلى مَن خَلفَه؛ إذ لَم يترك النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم بعده في أمَّته أفضلَ من أبي بكر الصديق رضي الله عنه، فهو كان خليفتَه، ولَم يُفعل به شيء من ذلك ولا عمر رضي الله عنهما، وهو كان أفضل الأمَّة بعده، ثم كذلك عثمان، ثم علي، ثم سائر الصحابة الذين لا أحد أفضل منهم في الأمَّة، ثم لم يثبت لواحد منهم من طريق صحيح معروف أنَّ متبرِّكاً تبرَّك به على أحد تلك الوجوه أو نحوها، بل اقتصروا فيهم على الاقتداء بالأفعال والأقوال والسير التي اتبعوا فيها النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم، فهذا إذاً إجماع منهم على ترك تلك الأشياء.وبقي النظر في وجه ترك ما تركوا منه، ويحتمل وجهين:أحدهما: أن يعتقدوا فيه الاختصاص، وأنَّ
তাঁর (সালাম) মৃত্যুর পর তাঁদের মধ্য থেকে কেউই তাঁর স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ জাতীয় কিছু করেননি; যেহেতু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর পরে এই উম্মতের মধ্যে আবু বকর সিদ্দীক (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর চেয়ে উত্তম কাউকে রেখে যাননি, যিনি ছিলেন তাঁর খলিফা। আর তাঁর সাথে এমন কিছু করা হয়নি এবং উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর সাথেও নয়, যিনি তাঁর পরে উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন। এরপর একইভাবে উসমান, এরপর আলী এবং এরপর অন্যান্য সাহাবীগণ, যাঁদের চেয়ে উত্তম এই উম্মতে আর কেউ নেই। তদুপরি, তাঁদের কারোর পক্ষেই কোনো সহীহ ও সুপরিচিত সূত্রে এটি প্রমাণিত নয় যে, কোনো বরকত অন্বেষণকারী ব্যক্তি বর্ণিত কোনো পদ্ধতিতে বা অনুরূপ উপায়ে তাঁদের মাধ্যমে বরকত গ্রহণ করেছেন। বরং তাঁরা তাঁদের ক্ষেত্রে কেবল সেই সকল কাজ, কথা ও জীবনপদ্ধতির অনুসরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন, যেগুলোতে তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণ করেছিলেন। সুতরাং এটি ওইসব বিষয় বর্জনের ব্যাপারে তাঁদের পক্ষ থেকে একটি ইজমা (ঐকমত্য)।এখন তাঁরা যা বর্জন করেছেন তা বর্জনের কারণ নিয়ে পর্যালোচনার অবকাশ থেকে যায় এবং এর দুটি দিক হতে পারে:তার একটি হলো: তাঁরা বিষয়টিকে (নবীর জন্য) নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য বলে বিশ্বাস করতেন এবং...
(খণ্ড: ১)
আত-তাহযীরু মিন তাজীমিল আসার গয়রিল মাশরুয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
مرتبة النبوة يسع فيها ذلك كله للقطع بوجود ما التمسوا من البركة والخير … فصار هذا النوع مختصًّا به كاختصاصه بنكاح ما زاد على الأربع، وإحلال بُضع الواهبة نفسها له، وعدم وجوب القسم على الزوجات وشبه ذلك، فعلى هذا المأخذ لا يصح لِمَن بعده الاقتداء به في التبرك على أحد تلك الوجوه ونحوها، ومَن اقتدى به كان اقتداؤه بدعة، كما كان الاقتداء به في الزيادة على أربع نسوة بدعة.الثاني: أن لا يعتقدوا الاختصاص، ولكنَّهم تركوا ذلك من باب الذرائع؛ خوفاً من أن يجعل ذلك سنة كما تقدَّم ذكره في اتباع الآثار والنهي عن ذلك، أو لأنَّ العامَّة لا تقتصر في ذلك على حدٍّ، بل تتجاوز فيه الحدود، وتبالغ بجهلها في التماس البركة حتى يداخلها للمتبرَّك به تعظيم يخرج به عن
নবুওয়াতের মর্তবায় এই সবকিছুরই অবকাশ রয়েছে, কারণ তারা যে বরকত ও কল্যাণ অন্বেষণ করতেন তার অস্তিত্ব নিশ্চিত ছিল … ফলে এই বিষয়টি তাঁর সাথে খাস বা নির্দিষ্ট হয়ে গিয়েছে, যেমনটি তাঁর সাথে নির্দিষ্ট ছিল চারটির অধিক বিবাহ করা, যে নারী নিজেকে দান করেছেন তাঁর সাথে মিলন বৈধ হওয়া, এবং স্ত্রীদের মধ্যে পালা বণ্টন ওয়াজিব না হওয়া এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ। অতএব, এই দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁর পরবর্তী কারো জন্য তাবাররুক বা বরকত লাভের ক্ষেত্রে সেই সকল পন্থায় কিংবা অনুরূপ কোনো উপায়ে তাঁর অনুসরণ করা সঠিক নয়। আর যে ব্যক্তি তাঁর অনুসরণ করবে, তার সেই অনুসরণ বিদআত হিসেবে গণ্য হবে, যেমন চারজনের অধিক স্ত্রীর ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করা বিদআত।দ্বিতীয়ত: তাঁরা একে নির্দিষ্ট বা বিশেষ বৈশিষ্ট্য মনে করেননি, তবে 'সাদদুয যারায়ি' (অশুভ পথ বন্ধ করা)-র নীতি অনুযায়ী তা বর্জন করেছেন; এই ভয়ে যে, একে যেন সুন্নাহ বানিয়ে নেওয়া না হয়, যেমনটি ইতিপূর্বে নিদর্শনসমূহ অনুসরণ করা এবং তা থেকে নিষেধ করার বর্ণনায় গত হয়েছে। অথবা এই কারণে যে, সাধারণ মানুষ এই ক্ষেত্রে কোনো সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তারা এতে সীমা লঙ্ঘন করে ফেলে এবং মূর্খতাবশত বরকত লাভের অন্বেষণে এমন অতিরঞ্জন করে যে, যার থেকে বরকত নেওয়া হচ্ছে তার প্রতি এমন সম্মান প্রদর্শন শুরু করে যা তাকে তার [মর্যাদার সীমা] থেকে বের করে দেয়।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহযীরু মিন তাজীমিল আসার গয়রিল মাশরুয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الحدِّ، فربَّما اعتقد في التبرُّك به ما ليس فيه، وهذا التبرُّك هو أصل العبادة، ولأجله قطع عمر رضي الله عنه الشجرة التي بويع تحتها رسول الله صلى الله عليه وسلم، بل هو كان أصلَ عبادة الأوثان في الأمم الخالية، حسبما ذكره أهل السير … "ولا تأثير للشك بتنزيل المنع على أحد الوجهين المذكورَين؛ لأنَّ كلاًّ منهما مقتض ترك التبرُّك بغيره صلى الله عليه وسلم، وسواء عُلِّل التركُ بهذا أو بهذا فالنتيجة واحدة، وما أشار إليه الشاطبي رحمه الله من تقدُّم ما ذكره في اتِّباع الآثار والنهي عن ذلك تقدَّم ذكرُه عنده في (1/285) .وقال: الإمام محمد بن وضاح القرطبي في كتابه البدع والنهي عنها (ص:91 ـ 92) : "وكان مالك بن أنس وغيرُه من علماء المدينة يكرهون إتيان تلك المساجد وتلك الآثار للنَّبيِّ صلى الله عليه وسلم بالمدينة ما عدا
সীমা, সম্ভবত সে এর মাধ্যমে বরকত অর্জনের ক্ষেত্রে এমন কিছু বিশ্বাস করতে পারে যা এতে নেই। আর এই বরকত অন্বেষণই হলো ইবাদতের মূল ভিত্তি। আর একারণেই উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) সেই গাছটি কেটে ফেলেছিলেন যার নিচে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আনুগত্যের শপথ বা বাইয়াত প্রদান করা হয়েছিল। বরং ইতিহাসবিদদের বর্ণনা অনুযায়ী, বিগত জাতিসমূহের মাঝে মূর্তিপূজার মূল ভিত্তি ছিল এটিই … "
উল্লিখিত দুটি দিকের যেকোনো একটির ওপর নিষেধাজ্ঞাকে প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে সন্দেহের কোনো প্রভাব নেই; কারণ এ দুটির প্রতিটিই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ব্যতীত অন্য কারো মাধ্যমে বরকত অর্জন ত্যাগ করাকে অপরিহার্য করে। চাই এই ত্যাগের কারণ এটি হোক বা ওটি—ফলাফল মূলত একই। ইমাম শাত্বেবী (রহিমাহুল্লাহ) প্রাচীন নিদর্শনসমূহ অনুসরণ এবং এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার যে বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, তা ইতিপূর্বেই তাঁর গ্রন্থের (১/২৮৫) পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ইমাম মুহাম্মদ বিন ওয়াদ্বাহ আল-কুরতুবী তাঁর 'আল-বিদা ওয়ান-নাহয়ু আনহা' কিতাবে (পৃষ্ঠা: ৯১-৯২) বলেছেন: "মালিক বিন আনাস এবং মদীনার অন্যান্য আলেমগণ মদীনায় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ঐ সকল মসজিদ এবং নিদর্শনগুলোতে যাতায়াত করা অপছন্দ করতেন, কেবল..."
(খণ্ড: ১)
আত-তাহযীরু মিন তাজীমিল আসার গয়রিল মাশরুয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قباء وأُحداً، قال ابن وضاح: وسمعتهم يذكرون أنَّ سفيان الثوري دخل مسجد بيت المقدس فصلَّى فيه ولم يتبع تلك الآثار ولا الصلاة فيها، وكذلك فعل غيرُه أيضاً مِمَّن يُقتدى به، وقدِم وكيعٌ أيضاً مسجد بيت المقدس فلَم يَعْدُ فِعْلَ سفيان، قال ابن وضاح: فعليكم بالإتباع لأئمَّة الهدى المعروفين، فقد قال بعضُ مَن مضى: كم من أمر هو اليوم معروف عند كثير من الناس كان منكراً عند من مضى، ومتحبِّب إليه بما يبغضه عليه، ومتقرِّب إليه بما يُبعدُه منه، وكلُّ بدعة عليها زينة وبهجة"وقوله: "كلُّ بدعة عليها زينة وبهجة" يعني: أنَّ الشيطان يزيِّنها للناس حتى يقعوا فيها.وقال شيخنا الشيخ عبد العزيز بن باز رحمه الله في مجموع فتاوى ومقالات متنوعة (4/353 ـ 354) في بيان أنَّه لا يُتبرَّك بغيره صلي الله عليه وسلم قياساً عليه، قال:
কুবা ও উহুদ। ইবনে ওয়াদদাহ বলেন: আমি তাদের উল্লেখ করতে শুনেছি যে, সুফিয়ান আস-সাওরী বাইতুল মুকাদ্দাস মসজিদে প্রবেশ করেছিলেন এবং সেখানে সালাত আদায় করেছিলেন, কিন্তু তিনি সেই সব নিদর্শন অনুসরণ করেননি এবং সেখানে (বিশেষভাবে) সালাত আদায় করেননি। আর যাদের অনুসরণ করা হয় এমন অন্যরাও অনুরূপ করেছেন। ওয়াকীও বাইতুল মুকাদ্দাস মসজিদে এসেছিলেন এবং তিনিও সুফিয়ানের কাজের অতিরিক্ত কিছু করেননি। ইবনে ওয়াদদাহ বলেন: সুতরাং তোমাদের ওপর হিদায়াতের সুপরিচিত ইমামদের অনুসরণ করা আবশ্যক। কারণ পূর্ববর্তীদের কেউ কেউ বলেছেন: এমন কত বিষয় আছে যা আজ অনেক মানুষের নিকট পরিচিত, অথচ তা পূর্ববর্তীদের নিকট গর্হিত ছিল; এবং কেউ তাঁর (আল্লাহর) ভালোবাসা পেতে চায় এমন জিনিসের মাধ্যমে যা তিনি অপছন্দ করেন এবং তাঁর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করে এমন জিনিসের মাধ্যমে যা তাকে তাঁর থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। আর প্রতিটি বিদআতের ওপরই চাকচিক্য ও সৌন্দর্য থাকে।এবং তাঁর উক্তি: "প্রত্যেক বিদআতের ওপর চাকচিক্য ও সৌন্দর্য থাকে" এর অর্থ হলো: শয়তান মানুষের নিকট তা সুশোভিত করে তোলে যাতে তারা তাতে লিপ্ত হয়।এবং আমাদের শায়খ, শায়খ আব্দুল আজীজ বিন বায (রাহিমাহুল্লাহ) 'মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া মাক্বালাত মুতানাওয়িআহ' (৪/৩৫৩-৩৫৪) গ্রন্থে এই বর্ণনায় বলেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর কিয়াস করে অন্য কারো মাধ্যমে বরকত গ্রহণ করা যাবে না, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
আত-তাহযীরু মিন তাজীমিল আসার গয়রিল মাশরুয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
"ولا شكَّ أنَّ هذا تبرُّك خاصٌّ بالنَّبيِّ صلي الله عليه وسلم ولا يُقاس عليه غيرُه لأمرين:الأول: ما جعله الله سبحانه في جسده وشعره من البركة التي لا يلحقه فيها غيرُه.الثاني: أنَّ الصحابةَ رضي الله عنهم لَم يفعلوا ذلك مع غيره، كأبي بكر وعمر وعثمان وعلي وغيرهم من كبار الصحابة، ولو كان غيرُه يُقاس عليه لفعله الصحابةُ مع كبارهم الذين ثبت أنَّهم من أولياء الله المتَّقين، بشهادة النَّبيِّ صلي الله عليه وسلم لهم بالجنَّة)) .وقال أيضاً رحمه الله تعليقاً على قول ابن حجر في فتح الباري (1/327) : "وفي هذا الحديث من الفوائد … وتحنيك المولود والتبرُّك بأهل الفضل"، قال: "هذا فيه نظر، والصواب أنَّ ذلك خاصٌّ بالنَّبيِّ صلي الله عليه وسلم ولا يُقاس عليه غيرُه؛ لِمَا جعل الله فيه من البركة وخصَّه به دون غيره، ولأنَّ الصحابةَ
সন্দেহ নেই যে, বরকত লাভের (তাবাররুক) এই বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য নির্দিষ্ট এবং অন্য কাউকে তাঁর ওপর কিয়াস করা যাবে না, দুটি কারণে:প্রথমত: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর দেহ ও চুলে এমন বরকত রেখেছেন যাতে অন্য কেউ তাঁর সমপর্যায়ে পৌঁছাতে পারে না।দ্বিতীয়ত: সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তাঁর ছাড়া অন্য কারো সাথে এমনটি করেননি, যেমন আবু বকর, উমর, উসমান, আলী এবং অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় সাহাবীগণ। যদি অন্য কাউকে তাঁর সাথে তুলনা করা যেত, তবে সাহাবীগণ তাঁদের ওই প্রবীণদের সাথেও তা করতেন যাদের ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জান্নাতের সাক্ষ্যের মাধ্যমে প্রমাণিত যে তাঁরা আল্লাহর মুত্তাকী অলি।তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ফাতহুল বারীতে (১/৩২৭) ইবনে হাজারের বক্তব্যের ওপর টীকায় আরও বলেন: "এই হাদিসের উপকারিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে … নবজাতকের তাহনিক করা এবং পুণ্যবানদের মাধ্যমে বরকত লাভ করা", তিনি বলেন: "এটি পর্যালোচনার দাবি রাখে, সঠিক কথা হলো এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য নির্দিষ্ট এবং অন্য কাউকে তাঁর ওপর কিয়াস করা যাবে না; কারণ আল্লাহ তাঁর মাঝে যে বরকত গচ্ছিত রেখেছেন তা দিয়ে তাঁকে অন্যদের ওপর বিশেষত্ব দিয়েছেন, আর একারণে যে সাহাবীগণ...
(খণ্ড: ১)
আত-তাহযীরু মিন তাজীমিল আসার গয়রিল মাশরুয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
رضي الله عنهم لَم يفعلوا ذلك مع غيره صلى الله عليه وسلم وهم أعلم الناس بالشرع، فوجب التأسِّي بهم، ولأنَّ جواز مثل هذا لغيره صلى الله عليه وسلم قد يُفضي إلى الشرك، فتنبَّه! ".ومن الآثار السيِّئة للتعلُّق بالآثار والافتتان بمَن يُدَّعى فيهم الولاية وتعظيم أضرحتهم، ما ذكره عبد القادر بن شيخ بن عبد الله العيدروسي في كتابه النور السافر عن أخبار القرن العاشر، في ترجمة أبي بكر بن عبد الله العيدروس المتوفى سنة (914هـ) ، قال في (ص: 79 ـ 80) : "وأمَّا كراماته فكثيرة كقطر السحاب، لا تدرك بعَدٍّ ولا حساب، ولكن أذكر منها على سبيل الإجمال دون التفصيل، ثلاث حكايات تكون كالعنوان على باقيها بالدلالة والتمثيل، منها:أنَّه لَمَّا رجع من الحجِّ دخل زيلع، وكان الحاكم
আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ব্যতীত অন্য কারও সাথে এমনটি করেননি, অথচ তাঁরা শরীয়ত সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী ছিলেন। তাই তাঁদের অনুসরণ করা আবশ্যক। এছাড়া, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছাড়া অন্য কারও ক্ষেত্রে এই ধরণের কাজের বৈধতা শিরকের দিকে নিয়ে যেতে পারে, সুতরাং সাবধান হোন!"নিদর্শনসমূহের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া, যাদের বেলায়েতের দাবি করা হয় তাদের প্রতি মোহগ্রস্ত হওয়া এবং তাদের মাজারগুলোর অতি-সম্মান প্রদর্শনের মন্দ প্রভাবগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো সেটি, যা আব্দুল কাদির ইবনে শাইখ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আইদারুসি তাঁর 'আন-নূরুস সাফির আন আখবারিল করনিল আশির' নামক গ্রন্থে ৯১৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণকারী আবু বকর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-আইদারুসির জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন। তিনি (পৃষ্ঠা: ৭৯-৮০) এ বলেছেন: "আর তাঁর কারামতসমূহ মেঘের বৃষ্টির ফোঁটার ন্যায় অসংখ্য, যা গণনা বা হিসাব করে আয়ত্ত করা সম্ভব নয়। তবে বিস্তারিত বর্ণনা না করে সংক্ষেপে আমি সেখান থেকে তিনটি কাহিনী উল্লেখ করছি, যা অন্যান্যগুলোর ক্ষেত্রে নিদর্শন ও উদাহরণ স্বরূপ হবে। তার মধ্যে রয়েছে:তিনি যখন হজ থেকে ফিরে এলেন তখন যাইলা’ নামক স্থানে প্রবেশ করলেন। আর সেখানকার শাসক ছিলেন
(খণ্ড: ১)
আত-তাহযীরু মিন তাজীমিল আসার গয়রিল মাশরুয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
بها يومئذ محمد بن عتيق، فاتفق أنَّه ماتت أمُّ ولد للحاكم المذكور، وكان مشغوفاً بها، فكاد عقلُه يذهب بموتِها، فدخل عليه سيدي لما بلغه عنه من شدَّة الجزع؛ ليُعزِّيه ويأمره بالصبر والرضاء بالقضاء، وهي مُسجاة بين يدي الحاكم بثوبٍ، فعزَّاه وصبَّره، فلَم يُفِد فيه ذلك، وأكبَّ على قدم سيِّدي الشيخ يُقبِّلُها، وقال: يا سيدي! إن لَم يُحيي الله هذه متُّ أنا أيضاً، ولَم تبق لي عقيدة في أحد، فكشف سيِّدي وجهَها، وناداها باسمِها، فأجابته: لبَّيك! وردَّ اللهُ روحَها، وخرج الحاضرون، ولَم يَخرج سيدي الشيخ حتى أكلتْ مع سيِّدها الهريسةَ، وعاشت مدَّة طويلة!!!وعن الأمير مرجان أنَّه قال: كنتُ في نفرٍ من أصحاب لي في محطَّة صنعاء الأولى، فحمل علينا العدوُّ، فتفرَّق عنِّي أصحابي، وسقط بي فرسي
সে সময় সেখানে মুহাম্মদ বিন আতিক উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাচক্রে উল্লিখিত শাসকের একজন উম্মু ওয়ালাদ (সন্তানবতী দাসী) মৃত্যুবরণ করেন, যার প্রতি তিনি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন। তার মৃত্যুতে শাসকের হিতাহিত জ্ঞান লোপ পাওয়ার উপক্রম হলো। যখন আমার সাইয়্যিদ তার এই চরম অস্থিরতার সংবাদ পেলেন, তখন তিনি তাকে সান্ত্বনা প্রদান এবং ধৈর্য ধারণ ও তকদিরের ফয়সালার ওপর সন্তুষ্ট থাকার নির্দেশ দেওয়ার জন্য তার নিকট গমন করলেন। তখন সেই নারী শাসকের সামনে বস্ত্রাবৃত অবস্থায় শায়িত ছিল। তিনি তাকে সান্ত্বনা দিলেন ও ধৈর্য ধারণ করতে বললেন, কিন্তু তাতে কোনো ফল হলো না। এরপর শাসক আমার সাইয়্যিদ শায়খের পায়ের ওপর লুটিয়ে পড়ে তা চুম্বন করতে লাগলেন এবং বললেন: "হে আমার সাইয়্যিদ! আল্লাহ যদি একে জীবিত না করেন, তবে আমিও মৃত্যুবরণ করব এবং কারো প্রতি আমার আর কোনো বিশ্বাস অবশিষ্ট থাকবে না।" তখন আমার সাইয়্যিদ তার মুখমণ্ডল উন্মোচন করলেন এবং তার নাম ধরে আহ্বান করলেন। সে উত্তর দিল: "লাব্বাইক!" (আমি উপস্থিত)। আল্লাহ তার রুহ ফিরিয়ে দিলেন। উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ প্রস্থান করলেন, কিন্তু আমার সাইয়্যিদ শায়খ ততক্ষণ পর্যন্ত বের হলেন না যতক্ষণ না সেই নারী তার মনিবের সাথে হারিসা ভক্ষণ করলেন। এরপর তিনি দীর্ঘকাল জীবিত ছিলেন!!!আমির মারজান থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: "আমি সানআর প্রথম ঘাঁটিতে আমার কয়েকজন সঙ্গীর সাথে ছিলাম। এমতাবস্থায় শত্রু আমাদের ওপর আক্রমণ করল, ফলে আমার সঙ্গীরা আমার নিকট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল এবং আমার ঘোড়াটি আমাকে নিয়ে পড়ে গেল।"
(খণ্ড: ১)
আত-তাহযীরু মিন তাজীমিল আসার গয়রিল মাশরুয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
لكثرة ما أُثخن من الجراحات، فدار بِي العدوُّ حينئذٍ من كلِّ جانب، فهتفتُ بالصالِحين، ثمَّ ذكرتُ الشيخ أبا بكر رضي الله عنه، وهتفتُ به، فإذا هو قائمٌ، فو الله العظيم! لقد رأيتُه نهاراً وعاينتُه جهاراً، أخذ بناصيتِي وناصية فرسي، وشلَّنِي من بينهم حتى أوصَلَنِي المحطة، فحينئذ مات الفرس، ونجوتُ أنا ببَرَكتِه رضي الله عنه ونفع به!!!وعن المُريد الصادق نعمان بن محمد المهدي أنَّه قال: بينما نحن سائرون في سفينةٍ إلى الهند، إذ وقع فيها خرقٌ عظيمٌ، فأيقَنوا بالهلاك، وضجَّ كلٌّ بالدعاء والتضرُّع إلى الله تعالى، وهتف كلٌّ بشيخِه، وهتفتُ أنا بشيخي أبي بكر العيدروس رضي الله عنه، فأخذتنِي سِنَة، فرأيتُه داخل السفينة، وبيده منديلٌ أبيض، وهو قاصدٌ نحو الخَرْق، فانتبهتُ فرحاً مسروراً، وناديتُ بأعلى صوتِي: أنْ أَبشِروا يا أهل السفينة
অত্যধিক ক্ষতের কারণে আমি যখন নিস্তেজ হয়ে পড়েছিলাম, তখন শত্রুরা আমাকে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলল। আমি পুণ্যবানদের আহ্বান করলাম, তারপর শায়খ আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কথা স্মরণ করলাম এবং তাঁকে ডাকলাম। অমনি দেখি তিনি দাঁড়িয়ে আছেন। মহান আল্লাহর কসম! আমি তাঁকে দিনের আলোতে দেখেছি এবং প্রকাশ্যে প্রত্যক্ষ করেছি। তিনি আমার এবং আমার ঘোড়ার কপালের অগ্রভাগ ধরলেন এবং তাদের মধ্য থেকে আমাকে টেনে বের করে নিয়ে এলেন যতক্ষণ না আমাকে গন্তব্যস্থলে পৌঁছে দিলেন। তৎক্ষণাৎ ঘোড়াটি মারা গেল এবং তাঁর বরকতে আমি রক্ষা পেলাম (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁর মাধ্যমে উপকার দান করুন)!!!নিষ্ঠাবান মুরিদ নুমান ইবনে মুহাম্মদ আল-মাহদি থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেছেন: একদা আমরা যখন একটি জাহাজে চড়ে ভারতের দিকে যাচ্ছিলাম, তখন তাতে একটি বড় ফাটল দেখা দিল। ফলে সকলে ধ্বংসের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে গেল। প্রত্যেকেই মহান আল্লাহর কাছে দোয়া ও মিনতি জানিয়ে আর্তনাদ করতে লাগল এবং প্রত্যেকে নিজ নিজ শায়খকে ডাকতে লাগল। আমি আমার শায়খ আবু বকর আল-আইদারুস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে ডাকলাম। এরপর আমাকে সামান্য তন্দ্রা আচ্ছন্ন করল এবং আমি তাঁকে জাহাজের ভেতরে দেখলাম; তাঁর হাতে একটি সাদা রুমাল ছিল এবং তিনি ফাটলটির দিকে যাচ্ছিলেন। আমি আনন্দিত ও প্রফুল্ল অবস্থায় জেগে উঠলাম এবং উচ্চস্বরে ঘোষণা করলাম: হে জাহাজের আরোহীরা! তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ করো।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহযীরু মিন তাজীমিল আসার গয়রিল মাশরুয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
! فقد جاء الفرَج، فقالوا: ماذا رأيتَ؟ فأخبرتُهم، فتفقَّدوا الخَرْقَ، فوجدوه مسدوداً بمنديل أبيض كما رأيتُ، فنجونا ببركته رضي الله عنه ونفع به" اهـ.ومن المفتونين بالآثار المكانية غير المشروعة والدعوة إلى المحافظة عليها الأستاذ يوسف هاشم الرفاعي من الكويت، والدكتور محمد سعيد رمضان البوطي من الشام، فقد سوَّد الأول أوراقاً زعمها نصيحة لعلماء نجد، دعا فيها إلى كثير من أنواع البدع والضلال، ومنها الدعوة إلى المحافظة على الآثار المكانية غير المشروعة، وقدَّم الثاني للنصيحة المزعومة بمقدمة طويلة، أيَّده على ما فيها من أنواع البدع والضلال، وقد كتبت ردًّا عليهما صدر في عام (1421هـ) بعنوان: "الردُّ على الرفاعي والبوطي في كذبهما على أهل السنة
! তবে মুক্তি চলে এলো, তারা বলল: তুমি কী দেখেছ? আমি তাদের জানালাম। এরপর তারা ফাটলটি পরীক্ষা করল এবং দেখল সেটি একটি সাদা রুমাল দিয়ে বন্ধ করা হয়েছে যেমনটি আমি দেখেছিলাম। ফলে তাঁর বরকতে—আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁর মাধ্যমে উপকৃত করুন—আমরা মুক্তি পেলাম।" সমাপ্ত।শরীয়তসম্মত নয় এমন স্থানিক নিদর্শনসমূহে যারা মোহাবিষ্ট এবং সেগুলো সংরক্ষণের দাওয়াত দেন তাদের মধ্যে রয়েছেন কুয়েতের উস্তাদ ইউসুফ হাশেম আল-রিফায়ি এবং সিরিয়ার ডক্টর মুহাম্মাদ সাঈদ রমাদান আল-বুতি। প্রথমজন এমন কিছু পৃষ্ঠা কালো করেছেন (লিখেছেন) যেগুলোকে তিনি নজদের আলেমদের প্রতি নসিহত বলে দাবি করেছেন। সেখানে তিনি অনেক ধরনের বিদআত ও গোমরাহীর দিকে আহ্বান জানিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে শরীয়তসম্মত নয় এমন স্থানিক নিদর্শনসমূহ সংরক্ষণের দাওয়াত। আর দ্বিতীয়জন সেই তথাকথিত নসিহতের জন্য একটি দীর্ঘ ভূমিকা লিখেছেন, যাতে তিনি সেটির মধ্যে থাকা বিদআত ও গোমরাহীর বিষয়গুলোতে তাকে সমর্থন দিয়েছেন। আমি তাদের উভয়ের প্রতিবাদে একটি বই লিখেছি যা ১৪২১ হিজরি সালে প্রকাশিত হয়েছে, যার শিরোনাম হলো: "আহলুস সুন্নাহর প্রতি রিফায়ি ও বুতির মিথ্যারোপের খণ্ডন।"
(খণ্ড: ১)
আত-তাহযীরু মিন তাজীমিল আসার গয়রিল মাশরুয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ودعوتهما إلى البدع والضلال"، وقد جاء في آخر هذا الردِّ ما يلي:للكاتب شغفٌ عظيمٌ بالآثار المكانية التي تُنسبُ إلى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، كمكان مولِده صلى الله عليه وسلم، والبئر التي سقط فيها خاتَمُه صلى الله عليه وسلم، ومكان مَبرك ناقته صلى الله عليه وسلم في قباء عند قدومِه في هجرتِه صلى الله عليه وسلم إلى المدينة، وغير ذلك.ويَعتِب بشدَّة على مَن زعم نُصحَهم؛ لعدمِ الاهتمامِ بذلك والمحافظةِ عليه، ويستدلُّ للمحافظة على مثل هذه الآثار بقوله تعالى: {وَاتَّخِذُوا مِنْ مَقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلّىً} ، وبِما جاء في قصَّة طالوت: {وَقَالَ لَهُمْ نَبِيُّهُمْ إِنَّ آيَةَ مُلْكِهِ أَنْ يَأْتِيَكُمُ التَّابُوتُ فِيهِ سَكِينَةٌ مِنْ رَبِّكُمْ وَبَقِيَّةٌ مِمَّا تَرَكَ آلُ مُوسَى وَآلُ هَارُونَ تَحْمِلُهُ الْمَلائِكَةُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ}قال: "وقال المفسِّرون: إنَّ البقيَّةَ المذكورة هي
"এবং তাদের দুজনকে বিদআত ও পথভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান করা", এবং এই জবাবের শেষে নিম্নরূপ এসেছে:নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সম্পৃক্ত স্থানভিত্তিক নিদর্শনসমূহের প্রতি লেখকের এক প্রবল অনুরাগ রয়েছে; যেমন তাঁর জন্মস্থান (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), যে কূপে তাঁর আংটি পড়ে গিয়েছিল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম), এবং মদিনায় হিজরতের উদ্দেশ্যে আসার সময় কুবাতে তাঁর উষ্ট্রীর বসার স্থান (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং এ জাতীয় আরও অনেক কিছু।আর তিনি যাদেরকে নসিহত করার দাবি করেছেন, এ বিষয়গুলোর প্রতি গুরুত্ব না দেওয়া এবং তা সংরক্ষণ না করার কারণে তাদের কঠোর তিরস্কার করেছেন। এই ধরণের নিদর্শনসমূহ সংরক্ষণের স্বপক্ষে তিনি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করেন: {তোমরা মাকামে ইবরাহিমকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো}, এবং তালুতের কাহিনীর বর্ণনায় যা এসেছে: {তাদের নবী তাদেরকে বলেছিলেন, নিশ্চয়ই তাঁর রাজত্বের নিদর্শন হলো তোমাদের নিকট সেই সিন্দুকটি আসবে যাতে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে প্রশান্তি রয়েছে এবং মুসা ও হারুনের পরিবার যা ছেড়ে গেছেন তার অবশিষ্টাংশ রয়েছে, ফেরেশতারা তা বহন করে আনবে। নিশ্চয়ই এতে তোমাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে যদি তোমরা মুমিন হও।}তিনি বলেন: "মুফাসসিরগণ বলেছেন: উল্লিখিত অবশিষ্টাংশ হলো...