(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ানু ফী আইমানিল কুরআন - তা. আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: -)
التبيان في أيمان القرآن - ت الفقي   (ابن القيم)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: التبيان في أقسام القرآن

المؤلف: محمد بن أبي بكر بن أيوب بن سعد شمس الدين ابن قيم الجوزية (ت 751 هـ)

المحقق: محمد حامد الفقي [ت 1378 هـ]

الناشر: دار المعرفة، بيروت، لبنان

عدد الصفحات: 431

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-তীবইয়ান ফী আইমানিল কুরআন - আল-ফিকীর সম্পাদনা   (ইবনুল কাইয়্যিম)

বিভাগ: কুরআন উলুম এবং তাফসীরের মূলনীতি


বই: আল-তীবইয়ান ফী আকসামিল কুরআন

লেখক: মুহাম্মাদ বিন আবি বকর বিন আইয়ুব বিন সাদ শামসুদ্দিন ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (মৃত্যু ৭৫১ হিজরি)

সম্পাদক: মুহাম্মাদ হামিদ আল-ফিকী [মৃত্যু ১৩৭৮ হিজরি]

প্রকাশক: দারুল মা'রিফাহ, বৈরুত, লেবানন

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৩১

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ানু ফী আইমানিল কুরআন - তা. আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ১)
التبيان في أقسام القرآن

ابن القيم الجوزية

بسم الله الرحمن الرحيم

وبه أستعين

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على خاتم المرسلين وعلى آله وصحبه

‌‌فصل في أقسام القرآن

وهو سبحانه يقسم بأمور على أمور وإنما يقسم بنفسه الموصوفة بصفاته وآياته

المستلزمة لذاته وصفاته وإقسامه ببعض المخلوقات دليل على أنه من عظيم آياته فالقسم إما على جملة خبرية وهو الغالب كقوله تعالى {فَوَرَبِّ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ إِنَّهُ لَحَقٌّ} وإما على جملة طلبية كقوله تعالى {فَوَرَبِّكَ لَنَسْأَلَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ}
কুরআনের শপথসমূহের সুস্পষ্ট বর্ণনা

ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

এবং আমি তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করছি

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশেষ রাসূলের প্রতি এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সকল সঙ্গীদের প্রতি

‌কুরআনের শপথসমূহ বিষয়ক একটি পরিচ্ছেদ

তিনি পবিত্র ও মহান, তিনি বিভিন্ন বিষয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর শপথ করেন। মূলত তিনি তাঁর এমন সত্তারই শপথ করেন যা তাঁর গুণাবলী ও নিদর্শনাবলি দ্বারা বিশেষিত, যা তাঁর সত্তা ও গুণাবলির জন্য অপরিহার্য। তাঁর কোনো কোনো সৃষ্টির শপথ করা এই কথারই প্রমাণ যে, তা তাঁর মহান নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত। শপথ হয় হয় সংবাদসূচক বাক্যের ওপর—আর এটিই অধিকাংশ ক্ষেত্রে হয়ে থাকে—যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {অতএব আকাশ ও পৃথিবীর প্রতিপালকের শপথ, নিশ্চয়ই এটি সত্য}। অথবা তা হয় তলবসূচক বাক্যের ওপর, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তোমার প্রতিপালকের শপথ, আমি অবশ্যই তাদের সবাইকে তারা যা করত সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করব।}
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ানু ফী আইমানিল কুরআন - তা. আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ২)
مع أن هذا قد يراد به تحقيق المقسم عليه فيكون من باب الخبر وقد يراد به تحقيق القسم

والمقسم عليه يراد بالقسم توكيده وتحقيقه فلا بد أن يكون مما يحسن فيه ذلك كالأمور الغائبة والخفية إذا أقسم على ثبوتها فأما الأمور الظاهرة المشهورة كالشمس والقمر والليل والنهار والسماء والأرض فهذه يقسم بها ولا يقسم عليها V

وما أقسم عليه الرب فهو من آياته فيجوز أن يكون مقسماً به ولا ينعكس

وهو سبحانه يذكر جواب القسم تارة وهو الغالب وتارة يحذفه كما يحذف جواب لو كثيراً كقوله تعالى {كَلَّا لَوْ تَعْلَمُونَ عِلْمَ الْيَقِينِ} وقوله {وَلَوْ أَنَّ قُرْآناً سُيِّرَتْ بِهِ الْجِبَالُ أَوْ قُطِّعَتْ بِهِ الْأَرْضُ} {ولو ترى إذ يتوفى الذين كفروا الملائكة} {ولو ترى إذا فزعوا فلا فوت} {وَلَوْ تَرَى إِذْ وُقِفُوا عَلَى رَبِّهِمْ} ومثل هذا حذفه من أحسن الكلام لأن المراد أنك لو رأيت ذلك لرأيت هولاً عظيماً فليس في ذكر الجواب زيادة على ما دل عليه الشرط وهذه عادة الناس في كلامهم إذا رأوا أمورا عجيبة وأرادوا أن يخبروا بها الغائب عنها يقول أحدهم لو رأيت ما جرى يوم كذا
যদিত্ত এর মাধ্যমে যার ওপর শপথ করা হয়েছে তা নিশ্চিত করা উদ্দেশ্য হতে পারে, তখন তা বিবৃতির অন্তর্ভুক্ত হয়; আবার কখনো শপথকে সুনিশ্চিত করা উদ্দেশ্য হতে পারে।

আর যার ওপর শপথ করা হয়, শপথের মাধ্যমে সেটিকে জোরালো ও সুনিশ্চিত করাই উদ্দেশ্য থাকে; তাই সেটি এমন বিষয় হওয়া আবশ্যক যাতে তা করা সমীচীন হয়, যেমন কোনো অপ্রকাশ্য বা গোপন বিষয় যখন সেটির সত্যতা সাব্যস্ত করার ওপর শপথ করা হয়। পক্ষান্তরে সূর্য, চন্দ্র, রাত, দিন, আকাশ ও পৃথিবীর মতো প্রকাশ্য ও প্রসিদ্ধ বিষয়গুলো দ্বারা শপথ করা হয়, কিন্তু এগুলোর ওপর শপথ করা হয় না।

আর প্রতিপালক যার ওপর শপথ করেছেন তা তাঁর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত, ফলে সেগুলোর মাধ্যমে শপথ করা বৈধ; তবে বিষয়টি এর বিপরীতমুখী নয়।

তিনি পবিত্র ও মহান, তিনি কখনো শপথের জবাব উল্লেখ করেন—আর এটিই অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘটে থাকে—আবার কখনো তা উহ্য রাখেন, যেমন 'যদি' শব্দের জবাব প্রায়শই উহ্য রাখা হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {কখনো নয়, যদি তোমরা নিশ্চিত জ্ঞানে জানতে!} এবং তাঁর বাণী: {আর যদি এমন কোনো কুরআন হতো যার দ্বারা পাহাড়সমূহকে পরিচালিত করা হতো অথবা যার দ্বারা জমিনকে বিদীর্ণ করা হতো।} {আর যদি তুমি দেখতে যখন ফেরেশতারা কাফেরদের মৃত্যু ঘটাচ্ছিল।} {আর যদি তুমি দেখতে যখন তারা ভীত-সন্ত্রস্ত হবে, তখন পলায়নের কোনো পথ থাকবে না।} {আর যদি তুমি দেখতে যখন তাদের তাদের প্রতিপালকের সামনে দাঁড় করানো হবে।} এই জাতীয় ক্ষেত্রে জবাব উহ্য রাখা ভাষার সর্বোত্তম সৌন্দর্য; কারণ এর উদ্দেশ্য হলো, তুমি যদি তা দেখতে তবে এক ভয়াবহ বিষয় দেখতে পেতে। সুতরাং শর্ত যা নির্দেশ করছে, জবাব উল্লেখ করার মধ্যে তার চেয়ে অতিরিক্ত কোনো ফায়দা নেই। আর এটিই মানুষের কথাবার্তার চিরাচরিত রীতি; যখন তারা কোনো বিস্ময়কর বিষয় দেখে এবং সে সম্পর্কে কোনো অনুপস্থিত ব্যক্তিকে অবহিত করতে চায়, তখন তাদের কেউ বলে থাকে— 'যদি তুমি দেখতে সেদিন কী ঘটেছিল!'
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ানু ফী আইমানিল কুরআন - তা. আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ৩)
بموضع كذا ومنه قوله تعالى {وَلَوْ يَرَى الَّذِينَ ظَلَمُوا إِذْ يَرَوْنَ الْعَذَابَ أَنَّ الْقُوَّةَ لِلَّهِ جَمِيعاً وَأَنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعَذَابِ} فالمعنى في أظهر الوجهين لو يرى الذين ظلموا في الدنيا إذ يرون العذاب في الآخرة والجواب محذوف ثم قال {أَنَّ الْقُوَّةَ لِلَّهِ جَمِيعاً} كما قال تعالى {وَلَوْ تَرَى إِذْ فَزِعُوا فَلا فَوْتَ} {وَلَوْ تَرَى إِذْ يَتَوَفَّى الَّذِينَ كَفَرُوا الْمَلائِكَةُ} أي لو ترى ذلك الوقت وما فيه

وأما القسم فإن الحالف قد يحلف على الشيء ثم يكرر القسم فلا يعيد المقسم عليه لأنه قد عرف ما يحلف عليه فيقول والله إن لي عليه ألف درهم ثم يقول ورب السموات والأرض والذي نفسي بيده وحق القرآن العظيم ولا يعيد المقسم عليه لأنه قد عرف المراد

والقسم لما كان يكثر في الكلام اختصر فصار فعل القسم يحذف ويكتفى بالباء ثم عوض من الباء الواو في الأسماء الظاهرة والتاء في أسماء الله كقوله {وَتَاللَّهِ لَأَكِيدَنَّ أَصْنَامَكُمْ} وقد نقل ترب الكعبة وأما الواو فكثيرة

‌‌فصل

إذا عرف هذا فهو سبحانه يقسم على أصول الإيمان التي يجب
অমুক স্থানে, এবং এরই অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর বাণী: {আর যালিমরা যদি দেখত, যখন তারা আযাব প্রত্যক্ষ করবে, যে সমস্ত শক্তি আল্লাহরই এবং আল্লাহ আযাব দানে কঠোর।} দুটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যার মধ্যে অধিক স্পষ্ট অর্থ হলো—যালিমরা যদি দুনিয়াতে দেখত, যখন তারা আখিরাতে আযাব প্রত্যক্ষ করবে; এখানে উত্তরটি উহ্য রয়েছে। এরপর তিনি বলেছেন: {সমস্ত শক্তি আল্লাহরই}, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর তুমি যদি দেখতে যখন তারা ভীত-সন্ত্রস্ত হবে, তখন পলায়নের কোনো পথ থাকবে না।} এবং {আর তুমি যদি দেখতে যখন ফেরেশতারা কাফিরদের জান কবজ করছিল।} অর্থাৎ, তুমি যদি সেই সময় এবং তাতে যা রয়েছে তা দেখতে।

আর শপথের ক্ষেত্রে, শপথকারী কোনো বিষয়ে শপথ করে অতঃপর শপথের পুনরাবৃত্তি করে, কিন্তু যার শপথ করা হচ্ছে তা পুনরায় উল্লেখ করে না। কারণ সে কিসের ওপর শপথ করছে তা জানা হয়ে গেছে। যেমন সে বলল: "আল্লাহর শপথ, তার নিকট আমার এক হাজার দিরহাম পাওনা রয়েছে", এরপর সে বলল: "আসমানসমূহ ও যমীনের রবের শপথ", "যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর শপথ", "মহা কুরআনের হকের শপথ"। এখানে সে যার শপথ করা হচ্ছে তা পুনরায় উল্লেখ করেনি, কারণ উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে গেছে।

কথোপকথনে শপথের ব্যবহার অধিক হওয়ার কারণে একে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। ফলে শপথের ক্রিয়াটি বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং 'বা' বর্ণের মাধ্যমেই তা যথেষ্ট গণ্য হয়েছে। অতঃপর প্রকাশ্য বিশেষ্যের ক্ষেত্রে 'বা'-এর পরিবর্তে 'ওয়াও' এবং আল্লাহর বিশেষ নামের ক্ষেত্রে 'তা' প্রতিস্থাপিত হয়েছে। যেমন তাঁর বাণী: {আল্লাহর শপথ, আমি অবশ্যই তোমাদের মূর্তিগুলোর বিরুদ্ধে কৌশল অবলম্বন করব।} আবার 'কাবার রবের শপথ' শব্দও বর্ণিত হয়েছে। আর 'ওয়াও'-এর ব্যবহার অত্যন্ত বেশি।

‌‌পরিচ্ছেদ

যখন এটি জানা গেল, তখন তিনি পবিত্র সত্তা ঈমানের সেই মূলনীতিসমূহের ওপর শপথ করেন যা আবশ্যক...
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ানু ফী আইমানিল কুরআন - তা. আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ৪)
على الخلق معرفها تارة يقسم على التوحيد وتارة يقسم على أن القرآن حق وتارة على أن الرسول حق وتارة على الجزاء والوعد والوعيد وتارة على حال الإنسان فالأول كقوله {وَالصَّافَّاتِ صَفّاً فَالزَّاجِرَاتِ زَجْراً فَالتَّالِيَاتِ ذِكْراً إِنَّ إِلَهَكُمْ لَوَاحِدٌ} والثاني كقوله {فَلا أُقْسِمُ بِمَوَاقِعِ النُّجُومِ وَإِنَّهُ لَقَسَمٌ لَوْ تَعْلَمُونَ عَظِيمٌ إِنَّهُ لَقُرْآنٌ كَرِيمٌ} وقوله {حم وَالْكِتَابِ الْمُبِينِ إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُبَارَكَةٍ} {حم وَالْكِتَابِ الْمُبِينِ إِنَّا جَعَلْنَاهُ قُرْآناً عَرَبِيّاً} إذا جعل ذلك جواب القسم كما هو الظاهر وإن قيل بل الجواب محذوف كان كقوله {ص وَالْقُرْآنِ ذِي الذِّكْرِ} فإنه هنا حذف الجواب ومن قال إن الجواب هو قوله {إِنَّ ذَلِكَ لَحَقٌّ تَخَاصُمُ أَهْلِ النَّارِ} فقد أبعد النجعة

والقسم على الرسول كقوله {يس وَالْقُرْآنِ الْحَكِيم إِنَّكَ لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ عَلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} إذا قيل هو الجواب وإن قيل الجواب محذوف كان كما ذكر ومنه {ن وَالْقَلَمِ وَمَا يَسْطُرُونَ مَا أَنْتَ بِنِعْمَةِ رَبِّكَ بِمَجْنُونٍ وَإِنَّ لَكَ لَأَجْراً
সৃষ্টির নিকট সত্য পরিচিত করার লক্ষ্যে তিনি কখনও তাওহীদের ওপর শপথ করেন, কখনও কুরআন সত্য হওয়ার ওপর শপথ করেন, কখনও রাসূল সত্য হওয়ার ওপর শপথ করেন, আবার কখনও প্রতিদান, প্রতিশ্রুতি ও সতর্কবার্তার ওপর শপথ করেন এবং কখনও মানুষের অবস্থার ওপর শপথ করেন। প্রথমটির উদাহরণ হলো তাঁর বাণী: {শপথ সারিবদ্ধভাবে দণ্ডায়মানদের, শপথ কঠোরভাবে ধমকদানকারীদের, শপথ উপদেশ পাঠকারীদের—নিশ্চয়ই তোমাদের ইলাহ এক।} দ্বিতীয়টির উদাহরণ হলো তাঁর বাণী: {আমি নক্ষত্রসমূহের অস্তাচলের শপথ করছি। আর নিশ্চয়ই এটি এক মহা শপথ, যদি তোমরা জানতে! নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত কুরআন।} এবং তাঁর বাণী: {হা-মীম। শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের! নিশ্চয়ই আমি একে এক বরকতময় রাতে অবতীর্ণ করেছি।} {হা-মীম। শপথ সুস্পষ্ট কিতাবের! নিশ্চয়ই আমি একে আরবি কুরআন বানিয়েছি।} যদি এগুলোকে শপথের উত্তর হিসেবে ধরা হয় যেমনটি প্রকাশ্য দিক থেকে প্রতীয়মান হয়। আর যদি বলা হয় যে এখানে শপথের উত্তর উহ্য রয়েছে, তবে তা হবে তাঁর এই বাণীর মতো: {সোয়াদ। শপথ উপদেশপূর্ণ কুরআনের।} কারণ এখানে শপথের উত্তর উহ্য রাখা হয়েছে। আর যারা বলেন যে শপথের উত্তর হলো তাঁর এই বাণী: {নিশ্চয়ই এটি সত্য—জাহান্নামীদের পারস্পরিক বিবাদ}, তারা সঠিক সিদ্ধান্ত থেকে অনেক দূরে চলে গেছেন।

আর রাসূলের ওপর শপথের উদাহরণ হলো তাঁর বাণী: {ইয়া-সীন। প্রজ্ঞাময় কুরআনের শপথ। নিশ্চয়ই আপনি রাসূলগণের অন্তর্ভুক্ত, সরল পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত।} যদি বলা হয় যে এটিই শপথের উত্তর। আর যদি বলা হয় যে উত্তর উহ্য রয়েছে, তবে তা পূর্বে যেভাবে উল্লেখ করা হয়েছে তেমনই হবে। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো: {নূন। শপথ কলমের এবং তারা যা লিখে। আপনার রবের অনুগ্রহে আপনি পাগল নন। আর নিশ্চয়ই আপনার জন্য রয়েছে অশেষ পুরস্কার।}
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ানু ফী আইমানিল কুরআন - তা. আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ৫)
غَيْرَ مَمْنُونٍ} ومنه {وَالنَّجْمِ إِذَا هَوَى مَا ضَلَّ صَاحِبُكُمْ وَمَا غَوَى وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى} إلى آخر القصة ومنه قوله {فَلا أُقْسِمُ بِمَا تُبْصِرُونَ وَمَا لا تُبْصِرُونَ إِنَّهُ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ وَمَا هُوَ بِقَوْلِ شَاعِرٍ قَلِيلاً مَا تُؤْمِنُونَ} وقوله {فَلا أُقْسِمُ بِالْخُنَّسِ الْجَوَارِ الْكُنَّسِ وَاللَّيْلِ إِذَا عَسْعَسَ وَالصُّبْحِ إِذَا تَنَفَّسَ إِنَّهُ لَقَوْلُ رَسُولٍ كَرِيمٍ ذِي قُوَّةٍ عِنْدَ ذِي الْعَرْشِ مَكِينٍ}

وأما القسم على الجزاء والوعد والوعيد ففي مثل قوله {وَالذَّارِيَاتِ ذَرْواً فَالْحَامِلاتِ وِقْراً فَالْجَارِيَاتِ يُسْراً فَالْمُقَسِّمَاتِ أَمْراً إِنَّمَا تُوعَدُونَ لَصَادِقٌ وَإِنَّ الدِّينَ لَوَاقِعٌ} ثم ذكر تفصيل الجزاء وذكر الجنة والنار وذكر أن في السماء رزقهم وما يوعدون ثم قال {فَوَرَبِّ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ إِنَّهُ لَحَقٌّ مِثْلَ مَا أَنَّكُمْ تَنْطِقُونَ} ومثل قوله {وَالْمُرْسَلاتِ عُرْفاً فَالْعَاصِفَاتِ عَصْفاً وَالنَّاشِرَاتِ نَشْراً فَالْفَارِقَاتِ فَرْقاً فَالْمُلْقِيَاتِ ذِكْراً عُذْراً أَوْ نُذْراً إنما إِنَّمَا تُوعَدُونَ لَوَاقِعٌ} ومثل {وَالطُّورِ وَكِتَابٍ مَسْطُورٍ فِي رَقٍّ مَنْشُورٍ وَالْبَيْتِ الْمَعْمُورِ وَالسَّقْفِ الْمَرْفُوعِ وَالْبَحْرِ الْمَسْجُور إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ لَوَاقِعٌ مَا لَهُ مِنْ دَافِعٍ}
অবিচ্ছিন্ন (পুরস্কার)} এবং এরই অন্তর্ভুক্ত হলো {শপথ নক্ষত্রের যখন তা অস্তমিত হয়। তোমাদের সঙ্গী পথভ্রষ্ট হননি এবং বিপথগামীও হননি। আর তিনি নিজের প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না} কাহিনীর শেষ পর্যন্ত। এবং এরই অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর বাণী {অতএব আমি শপথ করছি যা তোমরা দেখতে পাও তার এবং যা তোমরা দেখতে পাও না তার। নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত রাসূলের আনীত বাণী। আর এটি কোনো কবির কথা নয়; তোমরা খুব অল্পই বিশ্বাস করো।} এবং তাঁর বাণী {অতএব আমি শপথ করছি পশ্চাদপসরণকারী নক্ষত্ররাজির, যা চলমান ও অদৃশ্য হয়। এবং শপথ রাত্রির যখন তা অবসান হয় এবং প্রভাতের যখন তা শ্বাস গ্রহণ করে। নিশ্চয়ই এটি এক সম্মানিত রাসূলের আনীত বাণী, যিনি শক্তিশালী এবং আরশের অধিপতির নিকট মর্যাদাশীল।}

আর প্রতিদান, প্রতিশ্রুতি এবং সতর্কবাণীর ওপর শপথের উদাহরণ হলো তাঁর বাণী {শপথ সেই বাতাসের যা ধূলিকণা উড়িয়ে নিয়ে যায়। অতঃপর সেই মেঘমালার যা ভারী বোঝা বহন করে। অতঃপর সেই নৌযানের যা মৃদুভাবে চলে। অতঃপর সেই ফেরেশতাদের যারা কার্যাবলি বণ্টন করে। তোমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা অবশ্যই সত্য এবং বিচার দিবস অবশ্যই সংঘটিত হবে।} অতঃপর তিনি প্রতিদানের বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন এবং জান্নাত ও জাহান্নামের কথা উল্লেখ করেছেন। আর উল্লেখ করেছেন যে আকাশেই রয়েছে তোমাদের রিযিক এবং তোমাদের যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা। এরপর তিনি বলেছেন {অতএব আকাশ ও পৃথিবীর রবের শপথ, নিশ্চয়ই এটি সত্য, যেমন তোমরা কথা বলে থাকো।} এবং তাঁর বাণীর অনুরূপ {শপথ সেই বায়ুর যা ধারাবাহিকভাবে প্রেরিত হয়। অতঃপর সেই প্রবল বাতাসের যা প্রচণ্ড বেগে প্রবাহিত হয়। অতঃপর সেই বায়ুর যা মেঘরাজিকে বিস্তৃত করে। অতঃপর তাদের যারা সত্য-মিথ্যার পার্থক্য বিধান করে। অতঃপর তাদের যারা ওহী পৌঁছে দেয়, ওযর পেশ করার জন্য অথবা সতর্ক করার জন্য। তোমাদেরকে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা অবশ্যই সংঘটিত হবে।} এবং অনুরূপ হলো {শপথ তূর পর্বতের, এবং লিখিত কিতাবের যা উন্মুক্ত পত্রে লিপিবদ্ধ, এবং আবাদকৃত ঘরের, এবং সুউচ্চ ছাদের, এবং উত্তাল সমুদ্রের। নিশ্চয়ই আপনার রবের আযাব অবশ্যই সংঘটিত হবে, যা প্রতিহত করার কেউ নেই।}
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ানু ফী আইমানিল কুরআন - তা. আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ৬)
وقد أمر نبيه أن يقسم على الجزاء والمعاد في ثلاث آيات فقال تعالى {زَعَمَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنْ لَنْ يُبْعَثُوا قُلْ بَلَى وَرَبِّي لَتُبْعَثُنّ} وقال تعالى {وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لا تَأْتِينَا السَّاعَةُ قُلْ بَلَى وَرَبِّي لَتَأْتِيَنَّكُمْ} وقال تعالى {وَيَسْتَنْبِئُونَكَ أَحَقٌّ هُوَ قُلْ إِي وَرَبِّي إِنَّهُ لَحَقٌّ وَمَا أَنْتُمْ بِمُعْجِزِينَ} وهذا لأن المعاد إنما يعلمه عامة الناس بأخبار الأنبياء وإن كان من الناس من قد يعلمه بالنظر وقد تنازع النظار في ذلك فقالت طائفة أنه لا يمكن علمه إلا بالسمع وهو الخبر وهو قول من لا يرى تعليل الأفعال ويقولون لا ندري ما يفعل الله إلا بعادة أو خبر كما يقوله جهم بن صفوان ومن اتبعه والأشعري وأتباعه وكثير من أهل الكلام في الفقه والحديث من أتباع الأئمة الأربعة بخلاف العلم بالصانع فإن الناس متفقون على أنه لا يعلم إلا بالعقل وإن كان ذلك مما نبهت الرسل عليه وصفاته قد تعلم بالعقل وتعلم بالسمع أيضا كما قد بسط في موضع آخر

وأما القسم على أحوال الإنسان فكقوله {وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى وَالنَّهَارِ إِذَا تَجَلَّى وَمَا خَلَقَ الذَّكَرَ وَالأُنْثَى إِنَّ سَعْيَكُمْ لَشَتَّى} الآية ولفظ السعي هو العمل لكن يراد به العمل الذي يهتم به
আল্লাহ তাঁর নবীকে প্রতিদান ও পরকাল সম্পর্কে তিনটি আয়াতে শপথ করার নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "কাফিররা ধারণা করে যে, তারা কখনোই পুনরুত্থিত হবে না। আপনি বলুন, অবশ্যই আমার রবের শপথ, তোমরা নিশ্চয়ই পুনরুত্থিত হবে।" মহান আল্লাহ আরও বলেন: "কাফিররা বলে, কিয়ামত আমাদের কাছে আসবে না। বলুন, অবশ্যই আমার রবের শপথ, তা তোমাদের নিকট আসবেই।" মহান আল্লাহ আরও বলেন: "তারা আপনার কাছে জানতে চায় যে, তা কি সত্য? বলুন, হ্যাঁ, আমার রবের শপথ, নিশ্চয়ই তা সত্য এবং তোমরা তা ব্যর্থ করতে পারবে না।" আর এটি একারণে যে, সাধারণ মানুষ পরকাল সম্পর্কে নবীদের বার্তার মাধ্যমেই জানতে পারে, যদিও মানুষের মধ্যে কেউ কেউ তা তাত্ত্বিক পর্যালোচনার মাধ্যমে জানতে পারে। এ বিষয়ে তাত্ত্বিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। একদল বলেছেন যে, শ্রবণ তথা ওহীর সংবাদ ছাড়া এটি জানা সম্ভব নয়। এটি তাদের মত যারা আল্লাহর কাজসমূহের কারণ-তত্ত্ব (তা’লীল) স্বীকার করেন না। তারা বলেন, অভ্যাসগত পর্যবেক্ষণ অথবা ওহীর সংবাদ ছাড়া আল্লাহ কী করেন তা আমরা জানি না; যেমনটি জাহম ইবনে সাফওয়ান ও তার অনুসারীগণ, আশআরি ও তার অনুসারীগণ এবং চার ইমামের অনুসারী ফিকহ ও হাদিস শাস্ত্রের অনেক কালামশাস্ত্রবিদগণ বলে থাকেন। পক্ষান্তরে স্রষ্টা সম্পর্কে জ্ঞানের বিষয়টি ভিন্ন, কারণ মানুষ এ ব্যাপারে একমত যে তা বিবেকের মাধ্যমেই জানা যায়, যদিও রাসূলগণ এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন। আর আল্লাহর গুণাবলি কখনো বিবেকের মাধ্যমে জানা যায় এবং ওহীর সংবাদের মাধ্যমেও জানা যায়, যেমনটি অন্য স্থানে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

আর মানুষের অবস্থার ওপর শপথ করার বিষয়টি যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "শপথ রাত্রির যখন তা আচ্ছন্ন হয়, শপথ দিনের যখন তা উদ্ভাসিত হয় এবং শপথ তাঁর যিনি নর ও নারী সৃষ্টি করেছেন, নিশ্চয়ই তোমাদের প্রচেষ্টা ভিন্ন ভিন্ন।" আর 'সা’ঈ' (প্রচেষ্টা) শব্দটির অর্থ হলো কাজ, তবে এখানে এমন কাজকে বোঝানো হয়েছে যার প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ানু ফী আইমানিল কুরআন - তা. আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ৭)
صاحبه ويجتهد فيه بحسب الإمكان فإن كان يفتقر إلى عدو بدنه عدا وإن كان يفتقر إلى جمع أعوانه جمع وإن كان يفتقر إلى تفرغ له وترك غيره فعل ذلك فلفظ السعي في القرآن جاء بهذا الإعتبار ليس هو مرادفاً للفظ العمل كما ظنه طائفة بل هو عمل مخصوص يهتم به صاحبه ويجتهد فيه ولهذا قال في الجمعة {فَاسَعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ} وهذه أحسن من قراءة من قرأ "فامضوا إلى ذكر الله" وقد ثبت في الصحيح عن النبي أنه قال "إذا أقيمت الصلاة فلا تأتوها تسعون وائتوها تمشون وعليكم السكينة فما أدركتم فصلوا وما فاتكم فأتموا" فلم ينه عن السعي إلى الصلاة فإن الله أمر بالسعي إليها بل نهاهم أن يأتوا إليها يسعون فنهاهم عن الإتيان المتصف بسعي صاحبه والإتيان فعل البدن وسعيه عدو البدن وهو

منهي عنه وأما السعي المأمور به في الآية فهو الذهاب إليها على وجه الإهتمام بها والتفرغ لها عن الأعمال الشاغلة من بيع وغيره والإقبال بالقلب على السعي إليها وكذلك قوله في قصة فرعون لما قال له موسى {ْ هَلْ لَكَ إِلَى أَنْ تَزَكَّى وَأَهْدِيَكَ إِلَى رَبِّكَ فَتَخْشَى فَأَرَاهُ الآيَةَ الْكُبْرَى فَكَذَّبَ وَعَصَى ثُمَّ أَدْبَرَ يَسْعَى فَحَشَرَ فَنَادَى} فهذا اهتمام واجتهاد في حشر رعيته ومناداته فيهم وكذلك قوله
এর কর্তা সাধ্যমতো এতে প্রচেষ্টা ব্যয় করেন। যদি এতে শারীরিক দৌড়ের প্রয়োজন হয়, তবে তিনি দৌড়ান; যদি এতে সাহায্যকারী সংগ্রহের প্রয়োজন হয়, তবে তিনি সংগ্রহ করেন; আর যদি এতে একাগ্রতা এবং অন্য সব কিছু ত্যাগ করার প্রয়োজন হয়, তবে তিনি তাই করেন। সুতরাং কুরআনে 'সা'য়ি' (প্রচেষ্টা) শব্দটি এই অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। এটি 'আমল' (কাজ) শব্দের সমার্থক নয়, যেমনটি একদল মনে করে থাকে; বরং এটি এমন এক বিশেষ কাজ যার প্রতি এর কর্তা বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং তাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেন। এই কারণেই জুমার বিষয়ে তিনি বলেছেন: "তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও"। আর এটি সেই কিরাআত অপেক্ষা উত্তম যাতে পাঠ করা হয়েছে: "তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে চলে যাও"। সহীহ বর্ণনায় নবী থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "যখন সালাত শুরু হয়ে যায়, তখন তোমরা দৌড়ে সালাতে এসো না; বরং হেঁটে হেঁটে এসো এবং তোমাদের ওপর যেন প্রশান্তি বজায় থাকে। অতঃপর সালাতের যতটুকু পাও তা আদায় করো এবং যা ছুটে যায় তা পূর্ণ করো।" সুতরাং তিনি সালাতের দিকে ধাবিত হওয়া (সা'য়ি করা) থেকে নিষেধ করেননি, কেননা আল্লাহ এর নির্দেশ দিয়েছেন। বরং তিনি তাদের দৌড়ানো অবস্থায় আসতে নিষেধ করেছেন। অর্থাৎ তিনি এমনভাবে আসা থেকে নিষেধ করেছেন যা দৌড়ানোর সাথে সংশ্লিষ্ট। আসা হলো শরীরের একটি কাজ, আর এর দৌড়ানো (শারীরিক দ্রুততা) হচ্ছে

নিষিদ্ধ কাজ। আর আয়াতে যে 'সা'য়ি'-এর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা হলো গুরুত্ব সহকারে সালাতের দিকে যাওয়া, ব্যবসা ও অন্যান্য ব্যস্ততাপূর্ণ কাজ ত্যাগ করে এর জন্য সময় বের করা এবং হৃদয়ের একাগ্রতা নিয়ে এর দিকে ধাবিত হওয়া। একইভাবে ফেরাউনের ঘটনায় আল্লাহর বাণী, যখন মূসা তাকে বলেছিলেন: "তোমার কি পবিত্র হওয়ার আগ্রহ আছে? এবং আমি তোমাকে তোমার রবের দিকে পথ প্রদর্শন করব যাতে তুমি তাঁকে ভয় করো? অতঃপর তিনি তাকে মহাসমজিক চিহ্ন দেখালেন। কিন্তু সে অস্বীকার করল ও অবাধ্য হলো। এরপর সে পিছু ফিরে দ্রুতবেগে (সা'য়ি করে) চলে গেল। অতঃপর সে লোক জমা করল এবং উচ্চস্বরে ঘোষণা করল।" এখানে 'সা'য়ি' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তার প্রজাদের সমবেত করা এবং তাদের মাঝে ঘোষণা দেওয়ার ক্ষেত্রে তার গুরুত্ব ও কঠোর প্রচেষ্টা। অনুরূপভাবে তাঁর বাণী—
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ানু ফী আইমানিল কুরআন - তা. আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ৮)
{وَإِذَا تَوَلَّى سَعَى فِي الأَرْضِ لِيُفْسِدَ فِيهَا} هو عمل بهمة واجتهاد ومنه سمى الساعى على الصدقة والساعي على الأرملة واليتيم ومنه قوله {إِنَّ سَعْيَكُمْ لَشَتَّى} وهو العمل الذي يقصده صاحبه ويعتني به ليترتب عليه ثواب أو عقاب بخلاف المباحات المعتادة فإنها لم تدخل في هذا السعي قال تعالى {فَأَمَّا مَنْ أَعْطَى وَاتَّقَى وَصَدَّقَ بِالْحُسْنَى فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْيُسْرَى وَأَمَّا مَنْ بَخِلَ وَاسْتَغْنَى وَكَذَّبَ بِالْحُسْنَى فَسَنُيَسِّرُهُ لِلْعُسْرَى} ومنه قوله تعالى {وَمَنْ أَرَادَ الْآخِرَةَ وَسَعَى لَهَا سَعْيَهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ} وقوله {إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَاداً} .

‌‌فصل

وأقسم على صفة الإنسان بقوله {وَالْعَادِيَاتِ ضَبْحاً فَالْمُورِيَاتِ قَدْحاً فَالْمُغِيرَاتِ صُبْحاً فَأَثَرْنَ بِهِ نَقْعاً فَوَسَطْنَ بِهِ جَمْعاً إِنَّ الإنسان لِرَبِّهِ لَكَنُودٌ} وأقسم على عاقبته وهو قسم على الجزاء في قوله {وَالْعَصْر إِنَّ الإنسان لَفِي خُسْرٍ إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ} وفي قوله {وَالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ
{আর যখন সে ফিরে যায়, তখন সে জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সচেষ্ট হয়} এটি সংকল্প ও কঠোর পরিশ্রমের সাথে সম্পাদিত কাজ, আর এ থেকেই সাদাকা আদায়ের কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি এবং বিধবা ও এতিমের দেখাশোনার জন্য সচেষ্ট ব্যক্তিকে 'সাঈ' (প্রচেষ্টাকারী) বলা হয়। এ থেকেই তাঁর বাণী {নিশ্চয়ই তোমাদের প্রচেষ্টা বিভিন্ন ধরনের}। এটি এমন আমল যা আমলকারী সজ্ঞানে সংকল্প করে এবং এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে যেন তার ওপর ভিত্তি করে সওয়াব বা আজাব নির্ধারিত হয়; যা সাধারণ অভ্যাসগত বৈধ বিষয়সমূহের বিপরীত, কারণ সেগুলো এই বিশেষ প্রচেষ্টার (সায়ি) অন্তর্ভুক্ত নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: {সুতরাং যে দান করে, তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যা উত্তম তাকে সত্য বলে বিশ্বাস করে, অচিরেই আমি তার জন্য সহজ পথকে সুগম করে দেব। আর যে কার্পণ্য করে, অমুখাপেক্ষিতা প্রকাশ করে এবং যা উত্তম তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, অচিরেই আমি তার জন্য কঠিন পথকে সুগম করে দেব।} এ থেকেই আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর যে ব্যক্তি পরকাল কামনা করে এবং তার জন্য যথাযথ প্রচেষ্টা চালায় এমতাবস্থায় যে সে মুমিন} এবং তাঁর বাণী: {নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এবং জমিনে বিপর্যয় সৃষ্টিতে সচেষ্ট হয় তাদের প্রতিদান কেবল এটাই}।

‌‌পরিচ্ছেদ

এবং তিনি মানুষের স্বভাবের ওপর শপথ করে বলেছেন: {শপথ সেই দ্রুতগামী ঘোড়াসমূহের যারা হ্রেষাধ্বনি তুলে দৌড়ায়। অতঃপর যারা খুর ঘষে আগুন বিচ্ছুরিত করে। যারা ভোরে অতর্কিত আক্রমণ চালায়। ফলে তারা ধূলি উড়ায়। এবং তারা তার মাধ্যমে শত্রুদলের মাঝখানে ঢুকে পড়ে। নিশ্চয়ই মানুষ তার রবের প্রতি অত্যন্ত অকৃতজ্ঞ।} আর তিনি মানুষের পরিণামের ওপর শপথ করেছেন, যা মূলত প্রতিদানের ওপর শপথ; তাঁর এই বাণীতে: {মহাকালের শপথ! নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। তবে তারা ব্যতীত যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে আর একে অপরকে সত্যের উপদেশ দিয়েছে ও একে অপরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে।} এবং তাঁর এই বাণীতে: {শপথ তীন ও যাইতূনের...
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ানু ফী আইমানিল কুরআন - তা. আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ৯)
وَطُورِ سِينِينَ وَهَذَا الْبَلَدِ الْأَمِينِ لَقَدْ خَلَقْنَا الإنسان فِي أَحْسَنِ تَقْوِيمٍ ثُمَّ رَدَدْنَاهُ أَسْفَلَ سَافِلِينَ إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ فَلَهُمْ أَجْرٌ غَيْرُ مَمْنُونٍ}

وحذف جواب القسم لأنه قد علم بأنه يقسم على هذه الأمور وهي متلازمة فمتى ثبت أن الرسول حق ثبت القرآن والمعاد ومتى ثبت أن القرآن حق ثبت صدق الرسول الذي جاء به ومتى ثبت أن الوعد والوعيد حق ثبت صدق الرسول الذي جاء به ومتى ثبت أن الوعد والوعيد حق ثبت صدقه وصدق الكتاب الذي جاء به

والجواب يحذف تارة ولا يراد ذكره بل يراد تعظيم المقسم به وأنه مما يحلف به كقول النبي من كان حالفاً فليحلف بالله أو ليصمت ولكن هذا يذكر معه الفعل دون مجرد حرف القسم كقولك فلان يحلف بالله وحده وأنا أحلف بالخالق لا بالمخلوق ونحو ذلك والنصراني يحلف بالصليب والمسيح وفلان أكذب ما يكون إذا حلف بالله

وقد يكون هذا النوع بحرف القسم مجردا كما في الحديث كانت أكثر يمين رسول الله:" لا ومقلب القلوب"
(শপথ) সিনাই পর্বতের এবং এই নিরাপদ নগরের। অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টি করেছি সর্বোত্তম অবয়বে। অতঃপর আমি তাকে ফিরিয়ে দিয়েছি হীনদের হীনতমে। তবে তারা ব্যতীত যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে; তাদের জন্য রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন পুরস্কার।}

আর শপথের উত্তর (জাওয়াবুল কাসাম) উহ্য রাখা হয়েছে, কারণ এটি জানা হয়ে গেছে যে তিনি এই বিষয়গুলোর ওপর শপথ করছেন এবং এগুলো পরস্পর অবিচ্ছেদ্য। সুতরাং যখনই প্রমাণিত হয় যে রাসূল সত্য, তখন কুরআন এবং পরকালও প্রমাণিত হয়ে যায়। আর যখনই প্রমাণিত হয় যে কুরআন সত্য, তখন তা নিয়ে আসা রাসূলের সত্যতাও প্রমাণিত হয়ে যায়। আর যখনই প্রমাণিত হয় যে (জান্নাতের) প্রতিশ্রুতি ও (জাহান্নামের) ধমকি সত্য, তখন তা নিয়ে আসা রাসূলের সত্যতা প্রমাণিত হয়ে যায়। আর যখনই প্রতিশ্রুতি ও ধমকি সত্য হওয়া প্রমাণিত হয়, তখন তাঁর সত্যতা এবং তিনি যে কিতাব নিয়ে এসেছেন তার সত্যতাও প্রমাণিত হয়ে যায়।

আর শপথের উত্তর কখনো উহ্য রাখা হয় এবং তা উল্লেখ করার ইচ্ছা থাকে না, বরং যার নামে শপথ করা হচ্ছে তার মাহাত্ম্য বর্ণনা করাই উদ্দেশ্য থাকে এবং এটি এমন বিষয় যার দ্বারা শপথ করা হয়; যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি শপথ করতে চায় সে যেন আল্লাহর নামে শপথ করে অথবা চুপ থাকে।" তবে এটি কেবল শপথের অব্যয় ছাড়া ক্রিয়ার সাথেই উল্লেখ করা হয়, যেমন আপনার উক্তি: 'অমুক ব্যক্তি কেবল আল্লাহর নামে শপথ করে', 'আমি সৃষ্টিকর্তার নামে শপথ করি, সৃষ্টির নামে নয়' এবং এই জাতীয় বাক্য। আর খ্রিস্টানরা ক্রুশ ও মসীহের নামে শপথ করে, আর অমুক ব্যক্তি আল্লাহর নামে শপথ করার সময় সবচাইতে বড় মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হয়।

আর এই প্রকারটি কখনো কেবল শপথের অব্যয়ের মাধ্যমেও হয়ে থাকে, যেমনটি হাদীসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অধিকাংশ শপথ ছিল: "না, অন্তরসমূহ পরিবর্তনকারীর শপথ।"
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ানু ফী আইমানিল কুরআন - তা. আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ১০)
وكان بعض السلف إذا اجتهد في يمينه قال والله الذي لا إله إلا هو وتارة يحذف الجواب وهو مراد إما لكونه قد ظهر وعرف إما بدلاله الحال كمن قيل له كل فقال لا والله الذي لا إله إلا هو أو بدلالة السياق وأكثر ما يكون هذا إذا كان في نفس المقسم به ما يدل على المقسم عليه وهي طريقة القرآن فإن المقصود يحصل بذكر المقسم به فيكون حذف المقسم عليه أبلغ وأوجز كمن أراد أن يقسم على أن الرسول حق فقال والذي أرسل محمداً بالهدى ودين الحق وأيده بالآيات البينات وأظهر دعوته وأعلى كلمته ونحو ذلك فلا يحتاج إلى ذكر الجواب استغناء عنه بما في القسم من الدلالة عليه كمن أراد أن يقسم على التوحيد وصفات الرب ونعوت جلاله فقال والله الذي لا إله إلا هو عالم الغيب والشهادة الرحمن الرحيم الأول الآخر الظاهر الباطن وكمن أراد أن يقسم على علوه فوق عرشه فقال والذي استوى على عرشه فوق سمواته يصعد إليه الكلم الطيب وترفع إليه الأيدي وتعرج الملائكة والروح إليه ونحو ذلك وكذلك من حلف لشخص أنه يحبه ويعظمه فقال والذي ملأ قلبي من محبتك وإجلالك ومهابتك ونظائر ذلك لم يحتج إلى جواب القسم وكان في المقسم به ما يدل على المقسم عليه فمن هذا قوله تعالى {ص وَالْقُرْآنِ ذِي الذِّكْرِ} فإن في المقسم به من تعظيم القرآن ووصفه بأنه ذي الذكر المتضمن
সালাফগণের মধ্য থেকে কেউ যখন তাঁর শপথকে জোরালো করতেন, তখন বলতেন: "আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই"। আবার কখনও শপথের উত্তর (জাওয়াব) উহ্য রাখা হয়, যা মূলত উদ্দেশ্য থাকে। এটি হয় সেটি স্পষ্ট ও পরিচিত হওয়ার কারণে; হয় পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে (দালালতে হাল)—যেমন কাউকে বলা হলো "খান", তখন সে বলল: "না, আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই"। অথবা প্রসঙ্গের প্রেক্ষাপটে (দালালতে সিয়াক)। এটি সবচেয়ে বেশি ঘটে থাকে যখন শপথের বিষয়ের (মাকসুম বিহি) মধ্যেই এমন কিছু থাকে যা শপথের উদ্দেশ্যকে (মাকসুম আলাইহি) নির্দেশ করে, আর এটিই কুরআনের পদ্ধতি। কারণ শপথের বিষয়টি উল্লেখ করার মাধ্যমেই উদ্দেশ্য অর্জিত হয়ে যায়, ফলে শপথের উত্তর উহ্য রাখা অধিকতর সাবলীল ও সংক্ষিপ্ত হয়। যেমন কেউ যদি রাসূল সত্য হওয়ার বিষয়ে শপথ করতে চায় এবং বলে: "শপথ তাঁর, যিনি মুহাম্মদকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীন দিয়ে পাঠিয়েছেন, তাঁকে সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি দ্বারা সাহায্য করেছেন, তাঁর দাওয়াতকে প্রকাশ করেছেন এবং তাঁর বাণীকে সমুন্নত করেছেন"—ইত্যাদি। এক্ষেত্রে উত্তর উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই, কারণ শপথের মধ্যেই তার প্রমাণ বিদ্যমান। যেমন কেউ যদি তাওহীদ, রবের গুণাবলি এবং তাঁর মহত্ত্বের গুণাবলি সম্পর্কে শপথ করতে চায় এবং বলে: "আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, যিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যমান সম্পর্কে পরিজ্ঞাত, পরম করুণাময়, অতি দয়ালু, অনাদি, অনন্ত, প্রকাশ্য ও গোপন"। আর যেমন কেউ আসমানসমূহের উপরে তাঁর আরশের উপর উচ্চমর্যাদায় থাকার বিষয়ে শপথ করতে চায় এবং বলে: "শপথ তাঁর, যিনি তাঁর আসমানসমূহের উপরে তাঁর আরশের উপর উঠেছেন, যাঁর দিকে পবিত্র বাক্যসমূহ আরোহণ করে, যাঁর দিকে আল্লাহর হাতসমূহ (বান্দাদের হাত) উত্তোলন করা হয় এবং যাঁর দিকে ফেরেশতাগণ ও রূহ আরোহণ করেন"—ইত্যাদি। একইভাবে যদি কেউ কোনো ব্যক্তিকে এই মর্মে শপথ করে বলে যে সে তাকে ভালোবাসে ও সম্মান করে, যেমন: "শপথ তাঁর, যিনি আমার অন্তরকে তোমার প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও শ্রদ্ধা দিয়ে পূর্ণ করেছেন"—ইত্যাদি ক্ষেত্রে শপথের উত্তরের প্রয়োজন হয় না। শপথের বিষয়ের মধ্যেই এমন কিছু থাকে যা শপথের উদ্দেশ্যকে নির্দেশ করে। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {সোয়াদ। শপথ উপদেশপূর্ণ কুরআনের}। কারণ শপথের বিষয়ের মধ্যে কুরআনের মহিমা এবং একে উপদেশপূর্ণ হিসেবে বর্ণনা করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা...
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ানু ফী আইমানিল কুরআন - তা. আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ১১)
لتذكير العباد ما يحتاجون إليه وللشرف والقدر ما يدل على المقسم عليه وكونه حقاً من عند الله غير مفترى كما يقوله الكافرون وهذا معنى قول كثير من المفسرين متقدميهم ومتأخريهم إن الجواب محذوف تقديره إن القرآن لحق وهذا مطرد في كل ما شأنه ذلك وأما قول بعضهم إن الجواب قوله تعالى {كَمْ أَهْلَكْنَا مِنْ قَبْلِهِمْ مِنْ قَرْنٍ} فاعترض بين القسم وجوابه بقوله {بَلِ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي عِزَّةٍ وَشِقَاقٍ} فبعيد لأن كم لا يتلقى بها القسم فلا تقول والله كم أنفقت مالاً وبالله كم أعتقت عبداً وهؤلاء لما لم يخف عليهم ذلك احتاجوا أن يقدروا ما يتلقى بها الجواب أي لكم أهلكنا وأبعد من هذا قول من قال الجواب في قوله {إِنْ كُلٌّ إِلَّا كَذَّبَ الرُّسُل} وأبعد منه قول من قال الجواب {إِنَّ هَذَا لَرِزْقُنَا مَا لَهُ مِنْ نَفَادٍ} وأبعد منه قول من قال الجواب قوله {إِنَّ ذَلِكَ لَحَقٌّ تَخَاصُمُ أَهْلِ النَّارِ} وأقرب ما قيل في الجواب لفظاً وإن كان بعيداً معنى عن قتاده وغيره إنه في قوله {بَلِ الَّذِينَ كَفَرُوا} كما قال {ق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ بَلْ عَجِبُوا أَنْ جَاءَهُمْ مُنْذِرٌ مِنْهُمْ} وشرح صاحب النظم هذا القول فقال معنى بل توكيد الخبر الذي بعده فصار كإن الشديدة في تثبيت ما بعدها وقيل ههنا بمنزلة إن لأنه
বান্দাদের প্রয়োজনীয় বিষয়সমূহ স্মরণ করিয়ে দেওয়ার জন্য এবং সেই সম্মান ও মর্যাদার খাতিরে, যা শপথকৃত বিষয়ের মাহাত্ম্য নির্দেশ করে এবং এটি যে আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ সত্য ও কোনো বানোয়াট বিষয় নয়—যেমনটি কাফিররা বলে থাকে। এটিই অধিকাংশ পূর্ববর্তী ও পরবর্তী মুফাসসিরের বক্তব্যের মর্মার্থ যে, এখানে জওয়াব উহ্য রয়েছে এবং এর আনুমানিক রূপ হলো—'নিশ্চয়ই কুরআন সত্য'। এই বিষয়টি এমন প্রতিটি ক্ষেত্রে সুসংগত যেখানে প্রসঙ্গের ধরন একই। আর কারো কারো বক্তব্য হলো, জওয়াব হলো মহান আল্লাহর বাণী—{তাদের পূর্বে আমি কত প্রজন্মকে ধ্বংস করেছি}—এমতাবস্থায় শপথ ও জওয়াবের মাঝে {বরং যারা কুফরি করেছে তারা অহমিকা ও বিরোধিতায় লিপ্ত} আয়াতটি ব্যবধান হিসেবে এসেছে। তবে এই মতটি দূরবর্তী; কারণ 'কাম' অব্যয়টি দ্বারা শপথের জওয়াব দেওয়া যায় না। অতএব কেউ বলে না, 'আল্লাহর শপথ, কতই না সম্পদ আমি ব্যয় করেছি' কিংবা 'আল্লাহর শপথ, কতই না দাস আমি মুক্ত করেছি'। যারা এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন, তাদের কাছে এই বিষয়টি অস্পষ্ট ছিল না বিধায় তারা জওয়াব হওয়ার যোগ্য একটি বাক্য উহ্য ধরে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছেন; অর্থাৎ 'নিশ্চয়ই আমি কত ধ্বংস করেছি'। এর চেয়েও দূরবর্তী হলো সেই অভিমত যাতে বলা হয়েছে জওয়াব হলো—{তাদের প্রত্যেকেই কেবল রাসূলদের অস্বীকার করেছিল} বাক্যটি। তার চেয়েও দূরবর্তী হলো সেই বক্তব্য যাতে বলা হয়েছে জওয়াব হলো—{নিশ্চয়ই এটিই আমাদের রিযিক যার কোনো সমাপ্তি নেই}। এর চেয়েও অধিক দূরবর্তী মত হলো যারা বলেন জওয়াব হলো—{নিশ্চয়ই জাহান্নামীদের এই পারস্পরিক বিবাদ অবশ্যই সত্য}। শাব্দিক বিচারে জওয়াবের ক্ষেত্রে সবচেয়ে নিকটবর্তী মতটি হলো—যদিও অর্থের দিক থেকে এটি কাতাদাহ ও অন্যদের নিকট দূরবর্তী—তা হলো মহান আল্লাহর এই বাণীতে: {বরং যারা কুফরি করেছে}, যেমনটি তিনি বলেছেন: {ক্বাফ। মহিমান্বিত কুরআনের শপথ! বরং তারা বিস্ময় বোধ করছে যে, তাদের কাছে তাদেরই মধ্য থেকে একজন সতর্ককারী এসেছে}। 'সাহিবুন নাজম' এই মতের ব্যাখ্যা করে বলেছেন যে, 'বাল' (বরং) এর অর্থ হলো তার পরবর্তী সংবাদকে জোরালো করা। ফলে এটি পরবর্তী বিষয়কে সুপ্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে তাকিদযুক্ত 'ইন্না' এর মতো হয়ে গেল। আর বলা হয়েছে যে, এটি এখানে 'ইন্না' এর স্থলাভিষিক্ত, কারণ এটি...
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ানু ফী আইমানিল কুরআন - তা. আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ১২)
يؤكد ما بعده من الخبر وإن كان له معنى سواه في نفي خبر متقدم فكأنه عز وجل قال {ص والقرآن ذي الذكر إن الذين كفروا في عزة وشقاق} كما تقول والله إن زيداً لقائم قال واحتج صاحب هذا القول بأن هذا النظم وإن لم يكن للعربية فيه أصل ولا لها رسم فيحتمل أن يكون نظما أحدثه الله عز وجل لما بينا من احتمال أن تكون بل بمعنى أن اهـ

وقال أبو القاسم الزجاج قال النحويون إن بل تقع في جواب القسم كما تقع إن لأن المراد بها توكيد الخبر وهذا القول اختيار أبي حاتم وحكاه الأخفش عن الكوفيين وقرره بعضهم بأن قال أصل الكلام {بَلِ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي عِزَّةٍ وَشِقَاقٍ} {وَالْقُرْآنِ ذِي الذِّكْرِ} فلما قدم القسم ترك على حاله قال الأخفش وهذا يقوله الكوفيون وليس يجيد في العربية لو قلت والله قام وأنت تريد قام والله لم يحسن وقال النحاس هذا خطأ على مذهب النحويين لأنه إذا ابتدأ بالقسم وكان الكلام معتمداً عليه لم يكن بد من الجواب وأجمعوا أنه لا يجوز والله قام عمرو بمعنى قام عمرو والله لأن الكلام يعتمد على القسم وذكر الأخفش وجهاً آخر في جواب القسم فقال يجوز ن يكون لصاد معنى يقع عليه القسم لا ندري نحن ما هو كأنه يقول الحق والله
এটি পরবর্তী সংবাদকে সুনিশ্চিত করে, যদিও পূর্ববর্তী কোনো সংবাদ নাকচ করার ক্ষেত্রে এর অন্য কোনো অর্থ থাকতে পারে। সুতরাং মহান আল্লাহ যেন বলছেন— {সোয়াদ, উপদেশপূর্ণ কুরআনের শপথ; নিশ্চয়ই যারা কুফরি করেছে তারা অহমিকা ও বিরোধিতায় লিপ্ত} যেমন আপনি বলে থাকেন, 'আল্লাহর শপথ, নিশ্চয়ই যায়েদ দণ্ডায়মান'। তিনি বলেন, এই মতের প্রবক্তা যুক্তি দেখিয়েছেন যে, যদিও আরবি ভাষায় এই বাক্যরীতির কোনো মূল ভিত্তি বা কোনো স্বীকৃত রূপ নেই, তবুও সম্ভাবনা রয়েছে যে এটি এমন এক বাক্যরীতি যা মহান আল্লাহ উদ্ভাবন করেছেন; যেহেতু আমরা বর্ণনা করেছি যে 'বাল' শব্দটি 'ইন্না' (নিশ্চয়ই) অর্থে ব্যবহৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সমাপ্ত।

আবু কাসিম আল-যাজ্জাজ বলেন, ব্যাকরণবিদগণ বলেছেন যে 'বাল' শব্দটি শপথের উত্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেভাবে 'ইন্না' ব্যবহৃত হয়; কারণ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সংবাদ বা বক্তব্যকে সুনিশ্চিত করা। এই মতটি আবু হাতিমের পছন্দনীয়। আল-আখফাশ এটি কুফাবাসীদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তাদের কেউ কেউ এটিকে এভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন যে, মূল বক্তব্য ছিল: {বরং যারা কুফরি করেছে তারা অহমিকা ও বিরোধিতায় লিপ্ত} {উপদেশপূর্ণ কুরআনের শপথ}। কিন্তু যখন শপথকে আগে আনা হয়েছে, তখন একে তার বর্তমান অবস্থাতেই রাখা হয়েছে। আল-আখফাশ বলেন, এটি কুফাবাসীরা বলে থাকে, তবে আরবি ভাষায় এটি উৎকৃষ্ট নয়। যদি আপনি বলেন, 'আল্লাহর শপথ, সে দাঁড়িয়েছে' আর আপনি এর মাধ্যমে 'সে দাঁড়িয়েছে, আল্লাহর শপথ' বোঝাতে চান, তবে তা সুন্দর হবে না। আন-নাহহাস বলেন, ব্যাকরণবিদদের পদ্ধতি অনুযায়ী এটি ভুল; কারণ যখন শপথ দিয়ে বাক্য শুরু করা হয় এবং বক্তব্যটি তার ওপর নির্ভরশীল হয়, তখন অবশ্যই তার উত্তর (জাওয়াব) থাকতে হয়। তারা এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, 'আল্লাহর শপথ, আমর দাঁড়িয়েছে'—এই বাক্যটি 'আমর দাঁড়িয়েছে, আল্লাহর শপথ' অর্থে ব্যবহার করা বৈধ নয়, কারণ বক্তব্যটি শপথের ওপর নির্ভর করে। আল-আখফাশ শপথের উত্তরের ব্যাপারে আরেকটি দিক উল্লেখ করে বলেন: এটা সম্ভব যে 'সোয়াদ'-এর এমন কোনো অর্থ আছে যার ওপর শপথটি আপতিত হয়েছে যা আমরা জানি না; যেন তিনি বলছেন, 'সত্যের শপথ, আল্লাহর কসম'।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ানু ফী আইমানিল কুরআন - তা. আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ১৩)
قال أبو الحسن الواحدي وهذا الذي قاله الأخفش صحيح المعنى على قول من يقول ص الصادق الله أو صدق محمد وذكر الفراء هذا الوجه أيضاً فقال ص جواب القسم وقال هو كقولك وجب والله وترك والله فهي جواب لقوله والقرآن وذكر النحاس وغيره وجهاً آخر في الجواب وهو أنه محذوف تقديره والقرآن ذي الذكر فالأمر كما يقوله هؤلاء الكفار ودل على المحذوف قوله تعالى {بَلِ الَّذِينَ كَفَرُوا} وهذا اختيار ابن جرير وهو مخرج من قول قتادة وشرحه الجرجاني فقال بل رافع لخبر قبله ومثبت لخبر بعده فقد ظهر ما قبله وما بعده دليل على ما قبله فالظاهر يدل على الباطن فإذا كان كذلك وجب أن يكون قوله {بَلِ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي عِزَّةٍ وَشِقَاقٍ} مخالفاً لهذا المضمر فكأنه قيل والقرآن ذي الذكر إن الذين كفروا يزعمون أنهم على الحق أو كل ما في هذا المعنى فهذه ستة أوجه سوى ما بدأنا به في جواب القسم والله أعلم

ونظير هذا قوله تعالى {ق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ بَلْ عَجِبُوا} قيل جواب القسم قد علمنا وقال الفراء محذوف دل عليه قوله أإذا متنا أي لتبعثن وقيل قوله بل عجبوا كما تقدم بيانه
আবুল হাসান আল-ওয়াহিদী বলেন, আখফাশ যা বলেছেন তা ঐ ব্যক্তিদের মতানুসারে অর্থগতভাবে সঠিক যারা বলেন যে, 'সোয়াদ' এর অর্থ হলো—আল্লাহ সত্যবাদী অথবা মুহাম্মাদ সত্য বলেছেন। আল-ফাররা-ও এই অভিমতটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, 'সোয়াদ' হলো শপথের উত্তর। তিনি আরও বলেন, এটি তোমার এই কথার মতো: 'আল্লাহর কসম, এটি অবধারিত' এবং 'আল্লাহর কসম, এটি বর্জনীয়'। সুতরাং এটি তাঁর কথা 'উপদেশপূর্ণ কুরআনের কসম' এর উত্তর। আন-নাহহাস এবং অন্যান্যরা উত্তরের ক্ষেত্রে আরেকটি দিক উল্লেখ করেছেন, আর তা হলো এটি উহ্য, যার প্রচ্ছন্ন রূপ হলো: 'উপদেশপূর্ণ কুরআনের কসম, বিষয়টি তেমনই যেমন এই কাফিররা বলছে'। আর মহান আল্লাহর বাণী {বরং যারা কুফরি করেছে} অংশটি এই উহ্য প্রসঙ্গের প্রমাণ দেয়। এটিই ইবনে জারীরের মনোনীত মত এবং এটি কাতাদাহর বক্তব্য থেকে উৎসারিত। আল-জুরজানী এর ব্যাখ্যায় বলেন, 'বাল' (বরং) শব্দটি তার পূর্ববর্তী সংবাদকে অপসারিত করে এবং পরবর্তী সংবাদকে সাব্যস্ত করে। ফলে প্রকাশ্য বিষয়টি তার পূর্ববর্তী বিষয়ের প্রমাণ। সুতরাং প্রকাশ্য দিকটি অপ্রকাশ্য বা গোপন বিষয়ের প্রতি নির্দেশ করে। যদি তাই হয়, তবে তাঁর বাণী {বরং যারা কুফরি করেছে তারা অহমিকা ও বিরোধিতায় লিপ্ত} কথাটি অবশ্যই এই উহ্য প্রসঙ্গের বিপরীত হতে হবে। যেন বলা হয়েছে: 'উপদেশপূর্ণ কুরআনের কসম, নিশ্চয়ই যারা কুফরি করেছে তারা দাবি করে যে তারা সত্যের ওপর আছে' অথবা এই জাতীয় অন্য কোনো অর্থ। ইতিপূর্বে আমরা শপথের উত্তরের ব্যাপারে যা দিয়ে শুরু করেছি, তা ব্যতীত এখানে এই ছয়টি দিক রয়েছে। আল্লাহই ভালো জানেন।

এর অনুরূপ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {কাফ, মহিমান্বিত কুরআনের কসম; বরং তারা বিস্ময় বোধ করছে}। বলা হয়েছে যে, শপথের উত্তর হলো {নিশ্চয়ই আমরা অবগত}। আল-ফাররা বলেন, উত্তরটি উহ্য, যা তাঁর কথা {যখন আমরা মরে যাব} দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে; অর্থাৎ 'অবশ্যই তোমরা পুনরুত্থিত হবে'। আবার কেউ কেউ বলেছেন, এর উত্তর হলো তাঁর বাণী {বরং তারা বিস্ময় বোধ করছে}, যেমনটি ইতিপূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ানু ফী আইমানিল কুরআন - তা. আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌فصل

ومن ذلك قوله {لا أُقْسِمُ بِيَوْمِ الْقِيَامَةِ وَلا أُقْسِمُ بِالنَّفْسِ اللَّوَّامَةِ} فقد تضمن الأقسام ثبوت الجزاء ومستحق الجزاء وذلك يتضمن إثبات الرسالة والقرآن والمعاد وهو سبحانه يقسم على هذه الأمور الثلاثة ويقررها أبلغ التقرير لحاجة النفوس إلى معرفتهما والإيمان بها وأمر رسوله أن يقسم عليها كما قال تعالى {وَيَسْتَنْبِئُونَكَ أَحَقٌّ هُوَ قُلْ إِي وَرَبِّي إِنَّهُ لَحَقّ} وقال تعالى {وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لا تَأْتِينَا السَّاعَةُ قُلْ بَلَى وَرَبِّي لَتَأْتِيَنَّكُمْ} وقال تعالى {زَعَمَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنْ لَنْ يُبْعَثُوا قُلْ بَلَى وَرَبِّي لَتُبْعَثُنَّ ثُمَّ لَتُنَبَّؤُنَّ بِمَا عَمِلْتُمْ وَذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ} فهذه ثلاثة مواضع لا رابع لها يأمر نبيه أن يقسم على ما أقسم عليه هو سبحانه من النبوة والقرآن والمعاد

فأقسم سبحانه لعباده وأمر أصدق خلقه أن يقسم لهم وأقام البراهين القطعية على ثبوت ما أقسم عليه فأبى الظالمون إلا جحودا وتكذيبا

واختلف في النفس المقسم بها ههنا هل هي خاصة أو عامة على
‌‌পরিচ্ছেদ

এর অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর বাণী {আমি শপথ করছি কিয়ামত দিবসের এবং শপথ করছি সেই আত্মার যে নিজেকে তিরস্কার করে}। এই শপথসমূহ প্রতিদান সাব্যস্ত হওয়া এবং প্রতিদান লাভের যোগ্য সত্তাকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এটি রিসালাত, কুরআন এবং পুনরুত্থান সাব্যস্ত করাকেও অন্তর্ভুক্ত করে। তিনি (সুবহানাহু) এই তিনটি বিষয়ের ওপর শপথ করেন এবং অত্যন্ত জোরালোভাবে তা প্রতিষ্ঠিত করেন, কারণ মানুষের আত্মার জন্য এগুলোর পরিচয় লাভ করা এবং এগুলোর ওপর ঈমান আনা একান্ত প্রয়োজন। তিনি তাঁর রাসূলকেও এগুলোর ওপর শপথ করার নির্দেশ দিয়েছেন, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন {তারা আপনার কাছে জানতে চায়, এটি কি সত্য? বলুন: হ্যাঁ, আমার রবের শপথ! এটি অবশ্যই সত্য}। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন {আর কাফিররা বলে, কিয়ামত আমাদের কাছে আসবে না। বলুন: কেন আসবে না? আমার রবের শপথ! অবশ্যই তা তোমাদের কাছে আসবে}। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন {কাফিররা ধারণা করে যে, তারা কখনোই পুনরুত্থিত হবে না। বলুন: কেন হবে না? আমার রবের শপথ! তোমরা অবশ্যই পুনরুত্থিত হবে, অতঃপর তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে তোমাদেরকে অবহিত করা হবে। আর এটি আল্লাহর জন্য অত্যন্ত সহজ}। সুতরাং এগুলো হলো তিনটি স্থান যার চতুর্থ কোনোটি নেই, যেখানে আল্লাহ তাঁর নবীকে সেই বিষয়গুলোর ওপর শপথ করার নির্দেশ দিয়েছেন যেগুলোর ওপর তিনি স্বয়ং (সুবহানাহু) শপথ করেছেন, আর তা হলো—নবুওয়াত, কুরআন এবং পুনরুত্থান।

অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের উদ্দেশ্যে শপথ করেছেন এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে সত্যবাদী সত্তাকে তাদের জন্য শপথ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। আর তিনি যা শপথ করেছেন তা সাব্যস্ত করার জন্য অকাট্য প্রমাণাদি পেশ করেছেন, কিন্তু জালিমরা কেবল অস্বীকার ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করা ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করেনি।

আর এখানে যে আত্মার শপথ করা হয়েছে, সে সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে যে, তা কি নির্দিষ্ট নাকি সাধারণ—
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ানু ফী আইমানিল কুরআন - তা. আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ১৫)
قولين بناء على الأقوال الثلاثة في اللوامة فقال ابن عباس كل نفس تلوم نفسها يوم القيامة يلوم المحسن نفسه أن لا يكون ازداد إحسانا ويلوم المسيء نفسه أن لا يكون رجع عن إساءته واختاره الفراء قال ليس من نفس برة ولا فاجرة إلا وهي تلوم نفسها إن كانت عملت خيراً قالت هلا ازددت خيراً وإن كانت عملت سوءا قالت يا ليتني لم أفعل

والقول الثاني أنها خاصة قال الحسن هي النفس المؤمنة وأن المؤمن والله لا تراه إلا يلوم نفسه على كل حالة لأنه يستقصرها في كل ما تفعل فيندم ويلوم نفسه وإن الفاجر يمضي قدماً لا يعاتب نفسه

والقول الثالث أنها النفس الكافرة وحدها قاله قتاده ومقاتل وهي النفس الكافرة تلوم نفسها في الآخرة على ما فرطت في أمر الله

قال شيخا والأظهر أن المراد نفس الإنسان مطلقاً فإن نفس كل إنسان لوامة كما أقسم بجنس النفس في قوله {وَنَفْسٍ وَمَا سَوَّاهَا فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا} فإنه لا بد لكل إنسان أن يلوم نفسه أو
'লওয়ামাহ' (তিরস্কারকারী আত্মা) সম্পর্কে তিনটি মতের ওপর ভিত্তি করে দুটি বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে। ইবনে আব্বাস (রাযি.) বলেন, কিয়ামতের দিন প্রতিটি আত্মা নিজেকে তিরস্কার করবে। নেককার ব্যক্তি নিজেকে তিরস্কার করবে এই জন্য যে, সে কেন আরও বেশি পুণ্য অর্জন করল না এবং পাপিষ্ঠ ব্যক্তি নিজেকে তিরস্কার করবে এই জন্য যে, সে কেন তার মন্দ কাজ থেকে তওবা করে ফিরে আসল না। আল-ফাররা এই মতটি গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, এমন কোনো পুণ্যবান বা পাপিষ্ঠ আত্মা নেই যে নিজেকে তিরস্কার করে না। যদি সে ভালো কাজ করে থাকে, তবে সে বলে: 'হায়! আমি কেন আরও বেশি ভালো কাজ করলাম না?' আর যদি সে মন্দ কাজ করে থাকে, তবে সে বলে: 'হায়! আমি যদি এটি না করতাম!'

দ্বিতীয় মতটি হলো, এটি বিশেষ এক শ্রেণির জন্য। হাসান বসরী (রহ.) বলেন, এটি হলো মুমিনের আত্মা। আল্লাহর কসম! মুমিনকে সর্বদা প্রতিটি অবস্থাতেই নিজেকে তিরস্কার করতে দেখা যায়। কারণ সে তার প্রতিটি কাজকে অপর্যাপ্ত মনে করে, ফলে সে অনুতপ্ত হয় এবং নিজেকে তিরস্কার করে। পক্ষান্তরে পাপিষ্ঠ ব্যক্তি নিজ পথে সামনে এগিয়ে যায়, সে নিজেকে কোনো প্রকার তিরস্কার বা ভর্ৎসনা করে না।

তৃতীয় মতটি হলো, এটি কেবল কাফেরের আত্মা। কাতাদাহ ও মুকাতিল (রহ.) এই মত পোষণ করেছেন। এটি হলো সেই কাফের আত্মা যা পরকালে আল্লাহর আদেশের ব্যাপারে নিজ অবহেলার কারণে নিজেকে তিরস্কার করবে।

আমাদের শায়খ বলেন, অধিকতর সুস্পষ্ট মত হলো—এর দ্বারা সাধারণভাবে মানুষের আত্মাকেই বোঝানো হয়েছে। কেননা প্রতিটি মানুষের আত্মাই তিরস্কারকারী। যেমনটি আল্লাহ তাআলা আত্মার প্রকৃতির শপথ নিয়ে তাঁর বাণীতে বলেছেন: "শপথ মানুষের আত্মার এবং তাঁর, যিনি তাকে সুঠাম করেছেন। অতঃপর তাকে তার পাপাচার ও তার তাকওয়ার জ্ঞান দান করেছেন।" সুতরাং প্রতিটি মানুষের জন্যই নিজেকে তিরস্কার করা অনিবার্য অথবা—
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ানু ফী আইমানিল কুরআন - তা. আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ১৬)
غيره على أمره ثم هذا اللوم قد يكون محمودا وقد يكون مذموما كما قال تعالى {فَأَقْبَلَ بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ يَتَلاوَمُونَ قَالُوا يَا وَيْلَنَا إِنَّا كُنَّا طَاغِينَ} وقال تعالى {َ يُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلا يَخَافُونَ لَوْمَةَ لائِمٍ} فهذا اللوم غير محمود وفي الصحيحين في قصة احتجاج آدم وموسى أتلومني على أمر قدره الله علي قبل أن أخلق فحج آدم موسى فهو سبحانه
অন্যের তার নির্দেশের ওপর; অতঃপর এই তিরস্কার কখনো প্রশংসনীয় হতে পারে আবার কখনো নিন্দনীয় হতে পারে, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর তারা একে অপরের মুখোমুখি হয়ে একে অপরকে তিরস্কার করতে লাগল। তারা বলল: হায় দুর্ভোগ আমাদের! নিশ্চয়ই আমরা ছিলাম সীমালঙ্ঘনকারী।} এবং আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে এবং কোনো তিরস্কারকারীর তিরস্কারকে ভয় পায় না।} সুতরাং এই তিরস্কার প্রশংসনীয় নয়। আর সহীহাইন-এ আদম ও মূসার বিতর্কের কাহিনীতে রয়েছে: "আপনি কি আমাকে এমন এক বিষয়ের জন্য তিরস্কার করছেন যা আমার সৃষ্টির পূর্বেই আল্লাহ আমার ওপর নির্ধারণ করে রেখেছিলেন?" অতঃপর আদম মূসার ওপর তর্কে প্রবল হলেন। আর তিনি পবিত্র।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ানু ফী আইমানিল কুরআন - তা. আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ১৭)
يقسم على صفة النفس اللوامة كقوله {إِنَّ الإنسان لِرَبِّهِ لَكَنُودٌ} وعلى جزائها كقوله {فَوَرَبِّكَ لَنَسْأَلَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ} وعلى تباين عملها كقوله {إِنَّ سَعْيَكُمْ لَشَتَّى} وكل نفس لوامة فالنفس السعيدة تلوم على فعل الشر وترك الخير فتبادر إلى التوبة والنفس الشقية بالضد من ذلك وجمع سبحانه في القسم بين محل الجزاء وهو يوم القيامة ومحل الكسب وهو النفس اللوامة ونبه سبحانه بكونها لوامة على شدة حاجتها وفاقتها وضرورتها إلى من يعرفها الخير والشر ويدلها عليه ورشدها إليه ويلهمها إياه فيجعلها مريدة للخير مرشدة له كارهة للشر مجانبة له لتخلص من اللوم ومن شر ما تلوم عليه ولأنها متلومة مترددة لا تثبت على حال واحدة فهي محتاجة إلى من يعرفها ما هو أنفع لها في معاشها ومعادها فتؤثرة وتلوم نفسها عليه إذا

তিনি তিরস্কারকারী নফসের গুণের ওপর শপথ করেছেন, যেমন তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই মানুষ তার রবের প্রতি অত্যন্ত অকৃতজ্ঞ।" এবং এর প্রতিদানের ওপর শপথ করেছেন, যেমন তাঁর বাণী: "অতএব আপনার রবের শপথ, অবশ্যই আমি তাদের সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করব।" এবং এর কর্মের ভিন্নতার ওপর শপথ করেছেন, যেমন তাঁর বাণী: "নিশ্চয়ই তোমাদের কর্মপ্রচেষ্টা বিভিন্ন প্রকার।" আর প্রতিটি নফসই তিরস্কারকারী; ফলে সৌভাগ্যবান নফস মন্দ কাজ করা এবং ভালো কাজ ছেড়ে দেওয়ার কারণে নিজেকে তিরস্কার করে, ফলে সে তওবার দিকে দ্রুত অগ্রসর হয়। আর দুর্ভাগা নফস এর বিপরীত। মহান আল্লাহ শপথের মধ্যে প্রতিদান প্রদানের স্থান অর্থাৎ কিয়ামত দিবস এবং আমল উপার্জনের স্থান অর্থাৎ তিরস্কারকারী নফসের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়েছেন। মহান আল্লাহ নফসকে 'তিরস্কারকারী' হিসেবে উল্লেখ করার মাধ্যমে এর তীব্র অভাব, মুখাপেক্ষিতা এবং এমন এক সত্তার প্রয়োজনীয়তার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যিনি একে কল্যাণ ও অকল্যাণ চিনিয়ে দেবেন, এর দিকে তাকে পথ দেখাবেন, তাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করবেন এবং তাকে এর প্রেরণা দান করবেন। অতঃপর তিনি একে কল্যাণের অভিলাষী ও এর প্রতি সঠিক পথগামী এবং মন্দের প্রতি ঘৃণাকারী ও তা থেকে বিমুখ করবেন, যাতে সে তিরস্কার এবং যে বিষয়ের জন্য তাকে তিরস্কার করা হচ্ছে তার অনিষ্ট থেকে মুক্তি পায়। আর যেহেতু নফস পরিবর্তনশীল ও দ্বিধাগ্রস্ত এবং কোনো একটি অবস্থার ওপর স্থির থাকে না, তাই সে এমন এক সত্তার মুখাপেক্ষী যিনি একে চিনিয়ে দেবেন যে তার ইহকাল ও পরকালের জন্য কোনটি অধিক উপকারী; ফলে সে তাকেই অগ্রাধিকার দেবে এবং নিজেকে তার ওপর তিরস্কার করবে যদি...

(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ানু ফী আইমানিল কুরআন - তা. আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ১৮)
فاتها فتتوب منه إن كانت سعيدة ولتقوم عليها حجة عدله فيكون لومها في القيامة لنفسها عليه لوماً بحق قد أعذر الله خالقها وفاطرها إليها فيه ففي صفة اللوم تنبيه على ضرورتها إلى التصديق بالرسالة والقرآن وأنها لا غنى لها عن ذلك ولا صلاح ولا فلاح بدونه البتة ولما كان يوم معادها هو محل ظهور هذا اللوم وترتب أثره عليه قرن بينهما في الذكر.

‌‌فصل

ومن ذلك قوله تعالى {وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا وَالْقَمَرِ إِذَا تَلاهَا وَالنَّهَارِ إِذَا جَلاهَا وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَاهَا وَالسَّمَاءِ وَمَا بَنَاهَا وَالأَرْضِ وَمَا طَحَاهَا وَنَفْسٍ وَمَا سَوَّاهَا فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا} قال الزجاج وغيره جواب القسم {قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا} ولما طال الكلام حسن حذف اللام من الجواب

وقد تضمن هذا القسم الأقسام بالخالق والمخلوق فأقسم بالسماء وبانيها والأرض وطاحيها والنفس ومسويها

وقد قيل إن مصدرية فيكون الأقسام بنفس فعله تعالى فيكون قد أقسم بالمصنوع الدال عليه وبصنعته الدالة على كمال علمه وقدرته وحكمته وتوحيده ولما كانت حركة الشمس والقمر والليل
যা সে হারিয়েছে, অতঃপর সে তা থেকে তওবা করে যদি সে সৌভাগ্যবতী হয়, এবং যেন তার উপর তাঁর (আল্লাহর) ন্যায়ের প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে কিয়ামতের দিন নিজের প্রতি তার এই ভর্ৎসনা হবে যথার্থ ভর্ৎসনা, যার মাধ্যমে তার স্রষ্টা ও প্রস্তুতকারী আল্লাহ তার নিকট ওজর বা অবকাশ শেষ করে দিয়েছেন। সুতরাং ভর্ৎসনার গুণটির মধ্যে রিসালাত ও কুরআনের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার প্রতি এক প্রকার সতর্কতা রয়েছে, এবং এর প্রতি সে মুখাপেক্ষীহীন নয়, আর এটি ছাড়া কোনোভাবেই কোনো সংশোধন বা সফলতা নেই। যেহেতু তার পুনরুত্থান দিবসই হলো এই ভর্ৎসনা প্রকাশ পাওয়া এবং এর প্রভাব কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্র, তাই উল্লেখের ক্ষেত্রে এ দুটির মাঝে সমন্বয় করা হয়েছে।

‌‌পরিচ্ছেদ

আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {শপথ সূর্যের ও তার উজ্জ্বল আলোর, শপথ চাঁদের যখন তা সূর্যের পশ্চাতে আসে, শপথ দিনের যখন সে সূর্যকে প্রকট করে, শপথ রাতের যখন তা সূর্যকে আচ্ছন্ন করে, শপথ আকাশের এবং যিনি তা নির্মাণ করেছেন তাঁর, শপথ পৃথিবীর এবং যিনি তা বিস্তৃত করেছেন তাঁর, শপথ নফসের (প্রাণের) এবং যিনি তাকে সুবিন্যস্ত করেছেন তাঁর। অতঃপর তিনি তাকে তার পাপাচার ও তার তাকওয়া সম্পর্কে ইলহাম করেছেন (জ্ঞান দিয়েছেন)}। আয-যাজ্জাজ এবং অন্যান্যরা বলেছেন, শপথের জওয়াব হলো: {সফল হয়েছে সেই ব্যক্তি, যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে}। আর যেহেতু বক্তব্য দীর্ঘ হয়েছে, তাই জওয়াব থেকে 'লাম' অক্ষরটি বিলুপ্ত করা সুন্দর হয়েছে।

এই শপথের মধ্যে স্রষ্টা এবং সৃষ্টি—উভয়কে দিয়েই শপথ করা হয়েছে। ফলে তিনি আকাশ ও তার নির্মাতা, পৃথিবী ও তার বিস্তৃতকারী এবং নফস ও তার সুবিন্যস্তকারীর শপথ করেছেন।

বলা হয়ে থাকে যে, এখানে 'মা' অব্যয়টি মাসদারিয়্যাহ (ক্রিয়াবাচক), এমতাবস্থায় শপথটি স্বয়ং মহান আল্লাহর কার্যাবলি দ্বারাই হবে। ফলে তিনি এমন সৃষ্টি দিয়ে শপথ করেছেন যা তাঁর অস্তিত্বের প্রমাণ দেয় এবং এমন নির্মাণশৈলী দিয়ে শপথ করেছেন যা তাঁর পূর্ণ জ্ঞান, ক্ষমতা, প্রজ্ঞা ও একত্ববাদের প্রমাণ দেয়। আর যেহেতু সূর্য, চাঁদ এবং রাতের গতিশীলতা...
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ানু ফী আইমানিল কুরআন - তা. আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ১৯)
والنهار أمراً يشهد الناس حدوثه شيئاً فشيئاً ويعلمون أن الحادث لا بد له من محدث كان العلم بذلك منزلاً منزلة ذكر المحدث له لفظاً فلم يذكر الفاعل في الأقسام الأربعة

ولهذا سلك طائفة من النظار طريق الإستدلال بالزمان على الصانع وهو استدلال صحيح قد نبه عليه القرآن في غير موضع كقوله {إن في خلق السموات والأرض لآيات لأولي الألباب}

ولما كانت السماء والأرض ثابتتين حتى ظن من ظن أنهما قديمتان ذكر مع الأقسام بهما بانيهما ومبدعهما وكذلك النفس فإن حدوثها غير مشهود حتى ظن بعضهم قدمها فذكر مع الأقسام بها مسويها وفاطرها مع ما في ذكر بناء السماء وطحو الأرض وتسوية النفس من الدلالة على الرحمة والحكمة والعناية بالخلق فإن بناء السماء يدل على أنها كالقبة العالية على الأرض وجعلها سقفاً لهذا العالم والطحو هو مد الأرض وبسطها وتوسيعها ليستقر عليها الأنام والحيوان ويمكن فيها البناء والغراس والزرع وهو متضمن لنضوب الماء عنها وهو مما حير عقول الطبائعيين حيث كان مقتضى الطبيعة أن يغمرها كثرة الماء فيروز جانب منها على الماء على خلاف مقتضى الطبيعة وكونه هذا الجانب المعين دون غيره مع استواء الجوانب في الشكل الكري يقتضي تخصيصا فلم يجدوا بداً أن يقولوا عناية الصانع اقتضت ذلك قلنا فنعم إذا ولكن عناية من لا مشيئة له ولا إرادة ولا اختيار ولا علم بمعين أصلاً كما تقولونه فيه
এবং দিন এমন এক বিষয় যার উদ্ভব মানুষ ক্রমশ প্রত্যক্ষ করে এবং তারা জানে যে প্রতিটি নতুন উৎপন্ন বস্তুর জন্য অবশ্যই একজন প্রবর্তক প্রয়োজন। সে সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যেন সেই প্রবর্তকের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করারই স্থলাভিষিক্ত ছিল; তাই পূর্বোক্ত চারটি কসমের ক্ষেত্রে কর্তার উল্লেখ করা হয়নি।

এই কারণে একদল গবেষক স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রমাণে সময়ের সাহায্য নেওয়ার পথ অবলম্বন করেছেন। এটি একটি সঠিক দলিল যা কুরআন বিভিন্ন স্থানে নির্দেশ করেছে, যেমন আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে বিবেকবানদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে।"

যেহেতু আসমান ও জমিন সুস্থিত ছিল, এমনকি কেউ কেউ এগুলোকে অনাদি মনে করেছিল, তাই সেগুলোর কসম করার পাশাপাশি সেগুলোর নির্মাতা ও উদ্ভাবকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তদ্রূপ প্রাণের (নফস) সৃষ্টিও সরাসরি প্রত্যক্ষ করা যায় না, ফলে কেউ কেউ এর অনাদিত্বের ধারণা পোষণ করেছিল। তাই এর কসমের সাথে এর বিন্যাসকারী ও স্রষ্টার উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আসমান নির্মাণ, জমিন বিস্তৃত করা এবং প্রাণের সুবিন্যস্তকরণের বর্ণনায় দয়া, প্রজ্ঞা ও সৃষ্টির প্রতি বিশেষ যত্নের প্রমাণ রয়েছে। কেননা আকাশ নির্মাণ প্রমাণ করে যে, এটি জমিনের উপর একটি সুউচ্চ গম্বুজ সদৃশ এবং একে এই জগতের ছাদ বানানো হয়েছে। আর 'তাহউ' বা বিস্তৃত করা বলতে জমিনকে প্রসারিত ও প্রশস্ত করা বোঝায়, যাতে মানুষ ও প্রাণিকুল সেখানে বসবাস করতে পারে এবং সেখানে দালান নির্মাণ, গাছ লাগানো ও চাষাবাদ করা সম্ভব হয়। এর মধ্যে জমিন থেকে পানি সরে যাওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত, যা প্রকৃতিবাদীদের বুদ্ধিকে হতবাক করে দিয়েছিল; কারণ প্রকৃতির দাবি অনুযায়ী প্রচুর পানি পুরো জমিনকে নিমজ্জিত করে রাখার কথা ছিল, কিন্তু প্রকৃতির সেই দাবির বিপরীতে জমিনের একটি অংশ পানির উপরে ভেসে উঠল। গোলাকার আকৃতির কারণে সব দিক সমান হওয়া সত্ত্বেও অন্য কোনো দিক না হয়ে নির্দিষ্ট এই দিকটির ভেসে থাকা একটি বিশেষ নির্ধারণের দাবি রাখে। ফলে তারা বলতে বাধ্য হয়েছে যে, স্রষ্টার বিশেষ ব্যবস্থাপনাই এটি দাবি করেছে। আমরা বলি, এটি তো ভালো কথা; তবে যার কোনো ইচ্ছা, সংকল্প, পছন্দ করার ক্ষমতা এবং নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে বিন্দুমাত্র জ্ঞান নেই বলে তোমরা দাবি করো, তার পক্ষ থেকে এমন ব্যবস্থাপনা কীভাবে সম্ভব?
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ানু ফী আইমানিল কুরআন - তা. আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ২০)
محال فعنايته تقتضي ثبوت صفات كماله ونعوت جلاله وأنه الفاعل يفعل باختياره ما يريد.

وكذلك النفس أقسم بها وبمن سواها وألهمها فجورها وتقواها فإن من الناس من يقول قديمة لا مبدع لها ومنهم من يقول بل هي التي تبدع فجورها وتقواها فذكر سبحانه أنه هو الذي سواها وأبدعها وأنه هو الذي ألهمها الفجور والتقوى فأعلمنا أنه خالق نفوساً وأعمالها وذكر لفظ التسوية كما ذكره في قوله {مَا غَرَّكَ بِرَبِّكَ الْكَرِيمِ الَّذِي خَلَقَكَ فَسَوَّاكَ فَعَدَلَكَ} وفي قوله {فَإِذَا سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِنْ رُوحِي} إيذاناً بدخول البدن في لفظ النفس كقوله {هُوَ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ} وقوله {فَسَلِّمُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ} {وَلا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُم} {لَوْلا إِذْ سَمِعْتُمُوهُ ظَنَّ الْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بِأَنْفُسِهِمْ خَيْراً} ونظائره وباجتماع الروح مع البدن تصير النفس فاجرة أو تقية وإلا فالروح بدون البدن لا فجور لها

وقوله {قد أفلح من زكاها} الضمير مرفوع في زكاها عائد على من وكذلك هو في دساها المعنى قد أفلح من زكى نفسه وقد خاب من دساها هذا القول هو الصحيح وهو نظير قوله {قَدْ أَفْلَحَ مَنْ تَزَكَّى} وهو سبحانه إذا ذكر الفلاح علقه
অসম্ভব, কারণ তাঁর বিশেষ যত্ন তাঁর পূর্ণতার গুণাবলি এবং মহিমার বৈশিষ্ট্যাবলির সাব্যস্ত হওয়াকে অপরিহার্য করে এবং এটিও যে, তিনি হচ্ছেন কর্তা যিনি তাঁর ইচ্ছানুসারে নিজ পছন্দে কাজ করেন।

আর তদ্রূপ নফস (আত্মা), তিনি এর কসম খেয়েছেন এবং তাঁর কসম খেয়েছেন যিনি একে সুঠাম করেছেন এবং একে এর পাপাচার ও এর তাকওয়ার (পরহেযগারিতা) ইলহাম করেছেন। কেননা মানুষের মধ্যে এমন কেউ আছে যারা বলে যে এটি অনাদি, এর কোনো উদ্ভাবক নেই; আর তাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যারা বলে যে বরং এটিই তার পাপাচার ও তাকওয়া উদ্ভাবন করে। অতঃপর তিনি পবিত্র সত্তা উল্লেখ করেছেন যে, তিনিই একে সুঠাম করেছেন ও উদ্ভাবন করেছেন এবং তিনিই একে পাপাচার ও তাকওয়ার ইলহাম করেছেন। ফলে তিনি আমাদের জানিয়েছেন যে তিনি নফসসমূহ এবং তাদের আমলসমূহের স্রষ্টা। আর তিনি সুঠাম করার শব্দটি উল্লেখ করেছেন যেভাবে তিনি তাঁর এই বাণীতে উল্লেখ করেছেন: {কোন সে সত্তা তোমার দয়াময় রব্ব সম্পর্কে তোমাকে বিভ্রান্ত করল? যিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাকে সুঠাম করেছেন এবং তোমাকে সুসামঞ্জস্য করেছেন} এবং তাঁর এই বাণীতে: {অতঃপর যখন আমি তাঁকে সুঠাম করলাম এবং তাঁর মধ্যে আমার রূহ থেকে ফুঁকে দিলাম}, যা নফস শব্দের মধ্যে শরীরের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। যেমন তাঁর বাণী: {তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদেরকে এক নফস থেকে সৃষ্টি করেছেন}, তাঁর বাণী: {তোমরা তোমাদের নিজেদেরকে সালাম দাও}, {তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করো না}, {তোমরা যখন তা শুনলে তখন মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা কেন তাদের নিজেদের সম্পর্কে কল্যাণকর ধারণা করল না?} এবং এর সদৃশ আয়াতসমূহ। আর রূহের সাথে শরীরের মিলনের মাধ্যমেই নফস পাপিষ্ঠ বা মুত্তাকী হয়; অন্যথায় শরীর ছাড়া রূহের কোনো পাপাচার নেই।

এবং তাঁর বাণী {সফলকাম হয়েছে সেই যে একে পরিশুদ্ধ করেছে}, 'যাক্কাহা' (পরিশুদ্ধ করেছে) এর মধ্যকার মারফু সর্বনামটি 'মান' (যে) এর দিকে ফিরেছে, তদ্রূপ 'দাসসাহা' (কলুষিত করেছে) এর ক্ষেত্রেও। এর অর্থ হলো: সফল হয়েছে সেই যে নিজের নফসকে পরিশুদ্ধ করেছে এবং ব্যর্থ হয়েছে সেই যে একে কলুষিত করেছে। এই মতটিই সঠিক এবং এটি তাঁর এই বাণীর সদৃশ: {সফলকাম হয়েছে সেই যে পবিত্রতা অর্জন করেছে}। আর তিনি পবিত্র সত্তা যখনই সফলতার কথা উল্লেখ করেছেন, তিনি একে যুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ানু ফী আইমানিল কুরআন - তা. আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ২১)
بفعل المفلح كقوله {قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ هُمْ فِي صَلاتِهِمْ خَاشِعُونَ} إلى آخر الآيات وقوله {الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنْزِلَ مِنْ قَبْلِكَ وَبِالْآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ أُولَئِكَ عَلَى هُدىً مِنْ رَبِّهِمْ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} وقوله {إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَنْ يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} ونظائره قال الحسن قد أفلح من زكى نفسه وحملها على طاعة الله وقد خاب من أهلكها وحملها على معصية الله وقاله قتادة وقال ابن قتيبة يريد أفلح من زكى نفسه أي نماها وأعلاها بالطاعة والبر والصدقة واصطناع المعروف وقد خاب من دساها أي نقصها وأخفاها بترك عمل البر وركوب المعاصي والفاجر أبداً خفي المكان زمن المروءة غامض الشخص ناكس الرأس فكأن المتصف بارتكاب الفواحش دس نفسه وقمعها ومصطنع المعروف شهر نفسه ورفعها وكانت أجواد العرب تنزل الربى ويفاع الأرض لتشهر أنفسها للمنتفعين وتوقد النيران في الليل
সফলদের কর্মের মাধ্যমে, যেমন আল্লাহর বাণী: {অবশ্যই মুমিনরা সফলকাম হয়েছে, যারা তাদের সালাতে বিনয়ী...} আয়াতের শেষ পর্যন্ত। এবং তাঁর বাণী: {যারা অদৃশ্যে ঈমান আনে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে। আর যারা আপনার প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে এবং আপনার পূর্বে যা নাযিল করা হয়েছে তাতে ঈমান আনে এবং তারা আখিরাতে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে। তারাই তাদের রবের পক্ষ থেকে হেদায়েতের ওপর রয়েছে এবং তারাই সফলকাম।} এবং তাঁর বাণী: {মুমিনদের কথা তো এটাই, যখন তাদের মধ্যে ফয়সালা করার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ডাকা হয় তখন তারা বলে: আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম। আর তারাই সফলকাম।} এবং এর সদৃশ আয়াতসমূহ। হাসান বলেন: ‘সেই ব্যক্তি সফল হয়েছে যে তার নফসকে পরিশুদ্ধ করেছে এবং তাকে আল্লাহর আনুগত্যে পরিচালিত করেছে। আর সে-ই ব্যর্থ হয়েছে যে তাকে ধ্বংস করেছে এবং আল্লাহর নাফরমানিতে লিপ্ত করেছে।’ কাতাদাহ-ও অনুরূপ বলেছেন। ইবনে কুতায়বাহ বলেন: ‘এর অর্থ হলো—সেই ব্যক্তি সফল হয়েছে যে তার নফসকে পরিশুদ্ধ করেছে, অর্থাৎ আনুগত্য, পুণ্যকর্ম, দান-সদকা এবং ভালো কাজের মাধ্যমে তাকে বিকশিত ও উন্নত করেছে। আর সে-ই ব্যর্থ হয়েছে যে তাকে অবদমিত করেছে, অর্থাৎ নেক কাজ বর্জন এবং পাপাাচারে লিপ্ত হওয়ার মাধ্যমে তাকে হীন ও কলুষিত করেছে। পাপিষ্ঠ ব্যক্তি সর্বদা মহত্ত্বের সময়ে হীনস্থানে অবস্থান করে, তার ব্যক্তিত্ব অস্পষ্ট থাকে এবং সে মস্তক নত করে রাখে; যেন অশ্লীল কাজে লিপ্ত ব্যক্তি নিজেকে হীন করেছে এবং অবদমিত করেছে। আর যে ব্যক্তি ভালো কাজ করে সে নিজেকে সুপরিচিত ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন করেছে। আরবের দানশীল ব্যক্তিরা উঁচু ভূমি ও টিলায় বসবাস করত যাতে অভাবী ও মুসাফিরদের কাছে তারা সুপরিচিত হতে পারে এবং তারা রাতে আগুন জ্বালিয়ে রাখত।’
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ানু ফী আইমানিল কুরআন - তা. আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ২২)
للطارقين وكانت اللئام تنزل الأولاج والأطراف والأهضام لتخفى أماكنها على الطالبين فأولئك أعلوا أنفسهم وزكوها وأولئك أخفوا أنفسهم ودسوها وأنشد:

وبوأت بيتك في معلم … رحيب المباحات والمسرح

كفيت العفاة طلاب القرى … ونبح الكلاب لمستنبح

وقال أبو العباس سألت ابن الأعرابي عن قوله {وَقَدْ خَابَ مَنْ دَسَّاهَا} فقال دسى معناه دس نفسه مع الصالحين وليس منهم وعلى هذا فالمعنى أخفى نفسه في الصالحين يرى الناس أنه منهم وهو منطو على غير ما ينطوي عليه الصالحون وقال طائفة أخرى الضمير يرجع إلى الله سبحانه قال ابن عباس في رواية عطاء قد أفلحت نفس زكاها الله وأصلحها وهذا قول مجاهد وعكرمة والكلبي وسعيد ابن جبير ومقاتل قالوا سعدت نفس وأفلحت نفس أصلحها الله وطهرها ووفقها للطاعة حتى عملت بها وخابت وخسرت نفس أضلها الله وأغواها وأبطلها وأهلكها

قال أرباب هذا القول قد أقسم الله بهذه الأشياء التي ذكرها لأنها تدل على وحدانيته وعلى فلاح من طهره وخسارة من خذله حتى لا يظن أحد أنه هو الذي يتولى تطهير نفسه وإهلاكها
পথচারীদের জন্য; আর কৃপণরা সংকীর্ণ গলি, প্রান্তিক এলাকা এবং নিচু ভূমিতে অবতরণ করত যাতে অন্বেষণকারীদের কাছে তাদের অবস্থান গোপন থাকে। সুতরাং প্রথমোক্তরা নিজেদের উচ্চমর্যাদাশীল করেছে এবং নিজেদের পরিশুদ্ধ করেছে, আর শেষোক্তরা নিজেদের অবদমিত করেছে এবং নিজেদের আত্মগোপন করেছে। আর তিনি আবৃত্তি করেন:

এবং তুমি তোমার গৃহকে এমন এক পরিচিত স্থানে স্থাপন করেছ … যা প্রশস্ত চত্বর ও বিচরণভূমির অধিকারী।

তুমি অনুগ্রহপ্রার্থীদের মেহমানদারির অন্বেষণ থেকে রেহাই দিয়েছ … এবং পথপ্রদর্শক আহ্বানকারীর জন্য কুকুরের ঘেউ ঘেউ ধ্বনির প্রয়োজনীয়তা মিটিয়ে দিয়েছ।

আবু আব্বাস বলেন, আমি ইবনুল আরাবীকে তাঁর এই বাণী "এবং সে ব্যর্থ হয়েছে যে তাকে (আত্মাকে) অবদমিত করেছে" সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন, 'দাসসা' এর অর্থ হলো সে নিজেকে নেককারদের সাথে অন্তর্ভুক্ত করেছে অথচ সে তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়। এই অনুযায়ী অর্থ হলো: সে নিজেকে নেককারদের মধ্যে লুকিয়ে রেখেছে, মানুষ মনে করে সে তাদেরই একজন, অথচ তার ভেতরে এমন কিছু নিহিত রয়েছে যা নেককারদের অন্তরে নিহিত থাকে না। এবং অন্য এক দল বলেছে যে, সর্বনামটি মহান আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে। ইবনে আব্বাস আতা-এর বর্ণনায় বলেন: সেই আত্মা সফল হয়েছে যাকে আল্লাহ পরিশুদ্ধ করেছেন এবং সংশোধন করেছেন। এটিই মুজাহিদ, ইকরিমা, কালবী, সাঈদ ইবনে জুবায়ের এবং মুকাতিলের বক্তব্য। তাঁরা বলেন: সেই আত্মা সৌভাগ্যবান হয়েছে এবং সেই আত্মা সফল হয়েছে যাকে আল্লাহ সংশোধন করেছেন, পবিত্র করেছেন এবং আনুগত্যের তাওফিক দিয়েছেন যাতে সে তদানুযায়ী আমল করতে পারে; আর সেই আত্মা ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যাকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেছেন, বিভ্রান্ত করেছেন, বাতিল করেছেন এবং ধ্বংস করেছেন।

এই মতের প্রবক্তাগণ বলেন, আল্লাহ এই বিষয়গুলোর শপথ করেছেন যা তিনি উল্লেখ করেছেন কারণ এগুলো তাঁর একত্ববাদের প্রমাণ দেয় এবং আল্লাহ যাকে পবিত্র করেছেন তার সফলতা ও আল্লাহ যাকে লাঞ্ছিত করেছেন তার ক্ষতির প্রমাণ দেয়; যাতে কেউ এই ধারণা না করে যে, সে নিজেই নিজের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করা এবং ধ্বংস করার দায়িত্ব গ্রহণকারী।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ানু ফী আইমানিল কুরআন - তা. আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ২৩)
بالمعصية من غير قدر سابق وقضاء متقدم قالوا وهذا أبلغ في التوحيد الذي سيقت له هذه السورة قالوا ويدل عليه قوله {فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا} قالوا ويشهد له حديث نافع عن ابن عمر عن ابن أبي مليكة عن عائشة رضي الله عنها أنها قالت إنتبهت نفسي ليلة فوجدت رسول الله وهو يقول رب أعطي نفسي تقواها وزكها أنت خير من زكاها أنت وليها ومولاها قالوا فهذا الدعاء هو تأويل الآية بدليل الحديث الآخر أن النبي كان إذا قرأ {قَدْ أَفْلَحَ مَنْ زَكَّاهَا} وقف ثم قال اللهم آت نفسي تقواها أنت وليها ومولاها وزكها أنت خير من زكاها قالوا وفي هذا ما يبين أن الأمر كله له سبحانه فإنه هو خالق النفس وملهمها الفجور والتقوى وهو مزكيها ومدسيها فليس للعبد في الأمر شيء ولا هو مالك من أمر نفسه شيئاً.

قال أرباب القول الأول هذا القول وإن كان جائزاً في العربية حاملاً للضمير المنصوب على معنى من وإن كان لفظها مذكراً كما في قوله {وَمِنْهُمْ مَنْ يَسْتَمِعُونَ إِلَيْكَ} جمع الضمير وإن
পাপের মাধ্যমে, যা পূর্বনির্ধারিত তাকদির এবং অনাদি ফয়সালা ব্যতিরেকে নয়। তারা বলেন, এটিই সেই তাওহীদের ক্ষেত্রে অধিকতর প্রাঞ্জল, যার উদ্দেশ্যে এই সূরাটি অবতীর্ণ হয়েছে। তারা বলেন, এর প্রমাণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর তিনি তাকে তার পাপাচার ও তার তাকওয়া (আল্লাহভীতি) ইলহাম করেছেন।" তারা বলেন, এর স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেয় নাফে’র বর্ণিত হাদিস, যা ইবনে উমর থেকে, তিনি ইবনে আবি মুলাইকা থেকে এবং তিনি আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, "এক রাতে আমি সজাগ হলাম এবং আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনলাম: হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমার নফসকে তার তাকওয়া দান করুন এবং একে পরিশুদ্ধ করুন, আপনিই একে সর্বোত্তম পরিশোধনকারী। আপনিই এর অভিভাবক ও এর কর্মবিধায়ক।" তারা বলেন, এই দোয়াটিই হলো আয়াতের ব্যাখ্যা, যার প্রমাণ হলো অপর একটি হাদিস যে, নবি যখন "নিশ্চয়ই সে সফল হয়েছে, যে তাকে পরিশুদ্ধ করেছে" আয়াতটি পাঠ করতেন, তখন তিনি থামতেন এবং বলতেন: "হে আল্লাহ! আপনি আমার নফসকে তার তাকওয়া দান করুন, আপনিই এর অভিভাবক ও কর্মবিধায়ক এবং একে পরিশুদ্ধ করুন, আপনিই একে সর্বোত্তম পরিশোধনকারী।" তারা বলেন, এর মাধ্যমে এটিই স্পষ্ট হয় যে, সকল বিষয় একমাত্র সুবহানাহু ওয়া তাআলারই ইখতিয়ারে। কারণ তিনিই নফসের স্রষ্টা এবং তিনিই একে পাপাচার ও তাকওয়ার ইলহাম দান করেন। তিনিই একে পরিশুদ্ধ করেন এবং তিনিই একে কলুষিত করেন। সুতরাং এই বিষয়ে বান্দার কোনো হাত নেই এবং সে নিজের নফসের কোনো বিষয়েরই মালিক নয়।

প্রথম মতের প্রবক্তারা বলেন, এই অভিমতটি যদিও আরবি ভাষায় বৈধ, যেখানে মানসুব (কর্মকারকীয়) সর্বনামটি ‘যে’ শব্দের অর্থের দিকে প্রত্যাবর্তিত হয়েছে, যদিও শব্দগতভাবে তা একবচন পুংলিঙ্গ; যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: "এবং তাদের মধ্যে এমন লোক আছে যারা আপনার প্রতি কান পাতে"—এখানে সর্বনামকে বহুবচন হিসেবে আনা হয়েছে যদিও...
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ানু ফী আইমানিল কুরআন - তা. আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ২৪)
كان لفظ من مفرداً حملا على نظمها فهذا إنما يحسن حيث لا يقع لبس في مفسر الضمائر وههنا قد تقدم لفظ من والضمير المرفوع في زكاها يستحقه لفظاً ومعنى فهو أولى به ثم يعود الضمير المنصوب على النفس التي هي أولى به لفظاً ومعنى فهذا هو النظم الطبيعي الذي يقتضيه سياق الكلام ووضعه وأما عود الضمير الذي يلي من على الموصول السابق وهو قوله {وَنَفْسٍ وَمَا سَوَّاهَا} وإخلاء جاره الملاصق له وهو من ثم عود الضمير المنصوب وهو مؤنث على من ولفظه مذكر دون النفس المؤنثة فهذا يجوز لو لم يكن للكلام محمل غيره أحسن منه فأما إذا كان سياق الكلام ونظمه يقتضي خلافه ولم تدع الضرورة إليه فالحمل عليه ممتنع

قالوا والقول الذي ذكرناه أرجح من جهة المعنى لوجوه

أحدها أن فيه إشارة إلى ما تقدم من تعليق الفلاح على فعل العبد واختياره كما هي طريقة القرآن الثاني أن فيه زيادة فائدة وهي إثبات فعل العبد وكسبه وما يثاب وما يعاقب عليه وفي قوله {فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا} إثبات القضاء والقدر السابق فتضمنت الآيتان هذين الأصلين العظيمين وهما كثيراً ما يقترنان في القرآن كقوله {إِنَّهُ تَذْكِرَةٌ فَمَنْ شَاءَ ذَكَرَهُ وَمَا يَذْكُرُونَ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ} وقوله {لِمَنْ شَاءَ مِنْكُمْ أَنْ يَسْتَقِيمَ وَمَا تَشَاءُونَ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ} فتضمنت الآيتان الرد على القدرية والجبرية
যদি 'মান' (যে) শব্দটি একবচন হিসেবে ধরে এর বিন্যাসের ওপর প্রয়োগ করা হয়, তবে তা তখনই সুন্দর হয় যখন সর্বনামের ব্যাখ্যাকারীর ক্ষেত্রে কোনো অস্পষ্টতা তৈরি না হয়। এখানে 'মান' শব্দটি পূর্বে এসেছে এবং 'যাক্কাহা' (সে একে পরিশুদ্ধ করল) ক্রিয়ার মধ্যে থাকা মারফু (কর্তৃকারক) সর্বনামটি শব্দগত ও অর্থগতভাবে 'মান' শব্দেরই প্রাপ্য; তাই এটিই তার জন্য অধিকতর উপযুক্ত। অতঃপর মানসুব (কর্মকারক) সর্বনামটি 'নাফস' (আত্মা)-এর দিকে ফিরে যায়, যা শব্দগত ও অর্থগতভাবে সেটির জন্য অধিকতর উপযুক্ত। এটিই হলো স্বাভাবিক বিন্যাস, যা কথার প্রাসঙ্গিকতা ও প্রয়োগ দাবি করে। আর 'মান' শব্দের পরবর্তী সর্বনামটিকে পূর্ববর্তী ইসমে মাউসুল তথা "শপথ নফসের এবং তাঁর যিনি তাকে সুঠাম করেছেন" আয়াতের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া, এবং তার নিকটবর্তী শব্দ 'মান'-কে বাদ দেওয়া, অতঃপর মানসুব সর্বনামটিকে—যা স্ত্রীলিঙ্গ—'মান' শব্দের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া—যা শব্দগতভাবে পুংলিঙ্গ—অথচ স্ত্রীলিঙ্গ 'নাফস' শব্দকে বর্জন করা; এমনটি তখনই বৈধ হতো যদি এর চেয়ে উত্তম কোনো ব্যাখ্যা না থাকত। কিন্তু যখন বক্তব্যের প্রাসঙ্গিকতা ও বিন্যাস এর বিপরীত দাবি করে এবং কোনো অপরিহার্যতাও নেই, তখন এমন ব্যাখ্যা গ্রহণ করা অসম্ভব।

তাঁরা বলেন, আমরা যে মতটি উল্লেখ করেছি তা অর্থের দিক থেকে কয়েকটি কারণে অধিকতর অগ্রগণ্য।

প্রথমত, এতে পূর্ববর্তী আলোচনার দিকে ইঙ্গিত রয়েছে যে, সফলতাকে বান্দার কাজ ও ইচ্ছার ওপর নির্ভরশীল রাখা হয়েছে, যেমনটি কুরআনের পদ্ধতি। দ্বিতীয়ত, এতে একটি অতিরিক্ত উপকারিতা রয়েছে, আর তা হলো বান্দার কাজ ও তার উপার্জনকে সাব্যস্ত করা, যার ভিত্তিতে সে সওয়াব বা শাস্তির সম্মুখীন হয়। আর আল্লাহর বাণী "অতঃপর তিনি তাকে তার পাপাচার ও তার তাকওয়ার জ্ঞান দান করেছেন"-এর মধ্যে পূর্বনির্ধারিত ভাগ্য বা তাকদিরের প্রমাণ রয়েছে। ফলে এই আয়াতদ্বয় এই দুটি মহান মূলনীতিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা কুরআনে প্রায়ই একত্রে উল্লেখ করা হয়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয় এটি একটি উপদেশ। অতএব যার ইচ্ছা সে একে স্মরণ রাখুক। আর তারা স্মরণ রাখবে না যদি না আল্লাহ ইচ্ছা করেন।" এবং তাঁর বাণী: "তোমাদের মধ্যে যে সরল পথে চলতে চায় তার জন্য। আর তোমরা ইচ্ছা করতে পারো না যদি না জগতসমূহের রব আল্লাহ ইচ্ছা করেন।" সুতরাং এই আয়াতদ্বয় কাদারিয়া ও জাবরিয়া সম্প্রদায়ের খণ্ডন অন্তর্ভুক্ত করেছে।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ানু ফী আইমানিল কুরআন - তা. আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ২৫)
الثالث أن قولنا يستلزم قولكم دون العكس فان العبد إذا زكى نفسه ودساها فإنما يزكيها بعد تزكية الله لها بتوفيقه وإعانته وإنما يدسيها بعد تدسية الله لها بخذلانه والتخلية بينه وبين نفسه بخلاف ما إذا كان المعنى على القدر السابق المحض لم يبق للكسب وفعل العبد ههنا ذكر البتة

‌‌فصل

وذكر في هذه السورة ثمود دون غيرهم من الأمم المكذبة فقال شيخنا هذا والله أعلم من باب التنبيه بالأدنى على الأعلى فإنه لم يكن في الأمم المكذبة أخف ذنباً وعذاباً منهم إذ لم يذكر عنهم من الذنوب ما ذكر عن عاد ومدين وقوم لوط وغيرهم ولهذا لما ذكرهم وعادا قال {فَأَمَّا عَادٌ فَاسْتَكْبَرُوا فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَقَالُوا مَنْ أَشَدُّ مِنَّا قُوَّةً أَوَلَمْ يَرَوْا أَنَّ اللَّهَ الَّذِي خَلَقَهُمْ هُوَ أَشَدُّ مِنْهُمْ قُوَّةً وَكَانُوا بِآياتِنَا يَجْحَدُونَ وَأَمَّا ثَمُودُ فَهَدَيْنَاهُمْ فَاسْتَحَبُّوا الْعَمَى عَلَى الْهُدَى} وكذلك إذا ذكرهم مع الأمم المكذبة لم يذكر عنهم ما ذكر عن أولئك من التجبر والتكبر والأعمال السيئة كاللواط وبخس المكيال والميزان والفساد في الأرض كما في سورة هود والشعراء وغيرهما فكان في قوم لوط مع الشرك إتيان الفاحشة التي لم
তৃতীয়ত, আমাদের কথা আপনাদের বক্তব্যকে অপরিহার্য করে তোলে, তবে বিপরীতটি নয়। কারণ বান্দা যখন নিজের নফসকে পরিশুদ্ধ করে বা কলুষিত করে, তখন সে তা আল্লাহর তাওফিক ও সহায়তার মাধ্যমে আল্লাহর পক্ষ থেকে পরিশুদ্ধ করার পরেই করে। আর সে কেবল তখনই তাকে কলুষিত করে যখন আল্লাহ তাকে অসহায় ছেড়ে দেন এবং তাকে তার নিজের নফসের ওপর সোপর্দ করার মাধ্যমে কলুষিত করেন। এটি সেই অবস্থার বিপরীত যেখানে অর্থটি কেবল নিছক পূর্বনির্ধারিত তকদিরের ওপর হতো, তবে এখানে বান্দার অর্জন (কাসব) এবং কর্মের কোনো উল্লেখই অবশিষ্ট থাকত না।

পরিচ্ছেদ

আর এই সূরায় মিথ্যা প্রতিপন্নকারী অন্যান্য জাতিগুলোর পরিবর্তে কেবল সামুদ জাতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আমাদের শায়খ বলেছেন, এটি—আর আল্লাহই ভালো জানেন—নিম্নতরের মাধ্যমে উচ্চতরের প্রতি সতর্ক করার অন্তর্ভুক্ত। কারণ মিথ্যা প্রতিপন্নকারী জাতিগুলোর মধ্যে পাপ ও আজাবের দিক থেকে তাদের চেয়ে লঘুতর আর কেউ ছিল না; যেহেতু আদ, মাদইয়ান, লুতের কওম ও অন্যান্যদের সম্পর্কে যেসব পাপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের সম্পর্কে সেরূপ উল্লেখ করা হয়নি। এই কারণেই যখন তিনি তাদের ও আদ জাতির কথা একত্রে উল্লেখ করেছেন, তখন বলেছেন, {অতঃপর আদ জাতির কথা বলতে গেলে, তারা যমীনে অন্যায়ভাবে অহংকার করেছিল এবং বলেছিল, ‘আমাদের চেয়ে শক্তিশালী কে আছে?’ তারা কি দেখেনি যে, আল্লাহ—যিনি তাদের সৃষ্টি করেছেন—তিনি তাদের চেয়েও শক্তিশালী? আর তারা আমাদের নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার করত। আর সামুদ জাতির কথা বলতে গেলে, আমি তাদের পথপ্রদর্শন করেছিলাম, কিন্তু তারা হিদায়াতের পরিবর্তে অন্ধত্বকেই (গোমরাহি) অধিক পছন্দ করেছিল।} তদ্রূপ, যখন তিনি তাদের অন্যান্য মিথ্যা প্রতিপন্নকারী জাতিগুলোর সাথে উল্লেখ করেন, তখন তাদের সম্পর্কে সেই স্বৈরাচার, অহংকার এবং মন্দ আমলসমূহের কথা উল্লেখ করেন না যা অন্যদের সম্পর্কে করা হয়েছে—যেমন সমকামিতা, মাপে ও ওজনে কম দেওয়া এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করা, যা সূরা হুদ, আশ-শুআরা ও অন্যান্য সূরায় বর্ণিত হয়েছে। লুতের কওমের মধ্যে শিরকের পাশাপাশি এমন অশ্লীল কাজে লিপ্ত হওয়া বিদ্যমান ছিল যা...
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ানু ফী আইমানিল কুরআন - তা. আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ২৬)
يسبقوا إليها وفي قوم عاد مع الشرك التجبر والتكبر والتوسع في الدنيا وشدة البطش وقولهم {من أشد منا قوة} وفي أصحاب مدين مع الشرك الظلم في الأموال وفي قوم فرعون مع الشرك الفساد في الأرض والعلو وكان عذاب كل أمة بحسب ذنوبهم وجرائمهم فعذب قوم عاد بالريح الشديدة العاتية التي لا يقوم لها شيء وعذب قوم لوط بأنواع من العذاب لم يعذب بها أمة غيرهم فجمع لهم بين الهلاك والرجم بالحجارة من السماء وطمس الأبصار وقلب ديارهم عليهم بأن جعل عاليها سافلها والخسف بهم إلى أسفل سافلين وعذب قوم شعيب بالنار التي أحرقتهم وأحرقت تلك الأموال التي اكتسبوها بالظلم والعدوان وأما ثمود فأهلكوا بالصيحة فماتوا في الحال فإذا كان عذاب هؤلاء وذنبهم مع الشرك عقر الناقة التي جعلها الله آية لهم فمن انتهك محارم الله واستخف بأوامره ونواهيه وعقر عباده وسفك دماءهم كان أشد عذاباً ومن اعتبر أحوال العالم قديما وحديثا وما يعاقب به من سعي في الأرض بالفساد وسفك الدماء بغير حق وأقام الفتن واستهان بحرمات الله علم أن النجاة في الدنيا والآخرة للذين آمنوا وكانوا يتقون

قلت وقد يظهر في تخصيص ثمود ههنا بالذكر دون غيرهم معنى آخر وهو أنهم ردوا الهدى بعد ما تيقنوه وكانوا مستبصرين به قد
তারা এতে অগ্রগামী হয়। আর আদ জাতির মধ্যে শিরকের পাশাপাশি ছিল জবরদস্তি, অহংকার, দুনিয়াবী বিলাসিতার প্রসার, কঠোর নিষ্ঠুরতা এবং তাদের এই দম্ভোক্তি: "আমাদের চেয়ে শক্তিশালী আর কে আছে?" আর মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে শিরকের সাথে ছিল ধন-সম্পদের ক্ষেত্রে জুলুম। ফেরাউনের কওমের মধ্যে শিরকের সাথে ছিল যমীনে ফাসাদ ও ঔদ্ধত্য। প্রত্যেক জাতির আযাব ছিল তাদের গুনাহ ও অপরাধের ধরণ অনুযায়ী। আদ জাতিকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল প্রচণ্ড শক্তিশালী ও অবাধ্য ঝোড়ো বাতাসের মাধ্যমে, যার সামনে কোনো কিছুই টিকে থাকতে পারতো না। লুত জাতিকে এমন বহুমুখী আযাব দেওয়া হয়েছিল যা অন্য কোনো জাতিকে দেওয়া হয়নি। তাদের ওপর ধ্বংসের সাথে আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ, দৃষ্টিশক্তি বিলোপ এবং তাদের জনপদকে উল্টে দেওয়ার—যাতে উপরিভাগ নিচে তলিয়ে যায়—সমন্বয় করা হয়েছিল এবং তাদেরকে সর্বনিম্ন স্তরে ধসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। শুয়াইব (আ.)-এর কওমকে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল সেই আগুনের মাধ্যমে যা তাদেরকে এবং জুলুম ও সীমালঙ্ঘনের মাধ্যমে অর্জিত তাদের সম্পদসমূহকে পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছিল। আর সামুদ জাতির কথা বললে, তারা ধ্বংস হয়েছিল এক বিকট চিৎকারের মাধ্যমে এবং তারা তৎক্ষণাৎ মৃত্যুবরণ করে। সুতরাং তাদের এই শাস্তি ও গুনাহ যদি শিরকের পাশাপাশি আল্লাহর পক্ষ থেকে নিদর্শন স্বরূপ প্রেরিত উটনীকে হত্যা করার কারণে হয়ে থাকে, তবে যে ব্যক্তি আল্লাহর পবিত্র বিষয়াদি লঙ্ঘন করে, তাঁর আদেশ-নিষেধকে তুচ্ছজ্ঞান করে, তাঁর বান্দাদের ওপর চড়াও হয় এবং তাদের রক্ত প্রবাহিত করে, তার শাস্তি হবে আরও ভয়াবহ। আর যে ব্যক্তি বিশ্বের প্রাচীন ও আধুনিক অবস্থাসমূহ এবং যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি, অন্যায়ভাবে রক্তপাত, ফিতনা প্রজ্জ্বলন ও আল্লাহর বিধানের অবমাননার কারণে প্রদত্ত শাস্তিসমূহ নিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করবে, সে নিশ্চিতভাবে জানতে পারবে যে দুনিয়া ও আখেরাতের মুক্তি কেবল তাদেরই জন্য যারা ঈমান এনেছে এবং যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে।

আমি বলি, এখানে অন্যদের বাদ দিয়ে বিশেষভাবে সামুদ জাতির কথা উল্লেখ করার পেছনে সম্ভবত অন্য একটি তাৎপর্য রয়েছে, আর তা হলো—তারা সত্যকে সুনিশ্চিতভাবে জানার পরও হেদায়াত প্রত্যাখ্যান করেছিল, অথচ তারা এ ব্যাপারে ছিল চক্ষুষ্মান এবং অবশ্যই...
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ানু ফী আইমানিল কুরআন - তা. আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ২৭)
ثلجت له صدورهم واستيقظت له أنفسهم فاختاروا عليه العمى والضلالة كما قال تعالى في وصفهم {وَأَمَّا ثَمُودُ فَهَدَيْنَاهُمْ فَاسْتَحَبُّوا الْعَمَى عَلَى الْهُدَى} وقال {َ وَآتَيْنَا ثَمُودَ النَّاقَةَ مُبْصِرَةً} أي موجبة لهم التبصرة واليقين وإن كان جميع الأمم المهلكة هذا شأنهم فان الله لم يهلك أمة إلا بعد قيام الحجة عليها لكن خصت ثمود من ذلك الهدى والبصيرة بمزيد ولهذا لما قرنهم بقوم عاد قال {فَأَمَّا عَادٌ فَاسْتَكْبَرُوا فِي الأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَقَالُوا مَنْ أَشَدُّ مِنَّا قُوَّةً} ثم قال {وَأَمَّا ثَمُودُ فَهَدَيْنَاهُمْ فَاسْتَحَبُّوا الْعَمَى عَلَى الْهُدَى} ولهذا أمكن عادا المكابرة وأن يقولوا لنبيهم {ُ مَا جِئْتَنَا بِبَيِّنَةٍ} ولم يمكن ذلك ثمود وقد رأوا البينة عيانا وصارت لهم بمنزلة رؤية الشمس والقمر فردوا الهدى بعد تيقنه والبصيرة التامة فكان في تخصيصهم بالذكر تحذير لكل من عرف الحق ولم يتبعه وهذا داء أكثر الهالكين وهو أعم الأدواء وأغلبها على أهل الأرض والله أعلم

‌‌فصل

ومن ذلك قوله تعالى {وَالْفَجْرِ وَلَيَالٍ عَشْرٍ وَالشَّفْعِ وَالْوَتْرِ وَاللَّيْلِ إِذَا يَسْرِ هَلْ فِي ذَلِكَ قَسَمٌ لِذِي حِجْرٍ} قيل جوابه
তাদের অন্তর তাতে প্রশান্ত হয়েছিল এবং তাদের আত্মা জাগ্রত হয়েছিল, তবুও তারা এর ওপর অন্ধত্ব ও পথভ্রষ্টতাকে বেছে নিয়েছিল। যেমনটি মহান আল্লাহ তাদের বর্ণনায় বলেছেন, "আর সামুদ জাতি, আমি তাদেরকে পথপ্রদর্শন করেছিলাম, কিন্তু তারা হিদায়াতের পরিবর্তে অন্ধত্বকেই অধিক পছন্দ করেছিল।" এবং তিনি বলেছেন, "আমি সামুদ জাতিকে উটনী দিয়েছিলাম চাক্ষুষ নিদর্শন হিসেবে," অর্থাৎ যা তাদের জন্য সম্যক উপলব্ধি ও দৃঢ় বিশ্বাসকে আবশ্যক করেছিল। যদিও সকল ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতির অবস্থা এমনই ছিল যে, আল্লাহ কোনো জাতিকে ধ্বংস করেন না যতক্ষণ না তাদের ওপর চূড়ান্ত প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়, তবুও সামুদ জাতিকে হিদায়াত ও অন্তর্দৃষ্টির ক্ষেত্রে বিশেষ আতিশয্য প্রদান করা হয়েছিল। এ কারণেই যখন তিনি তাদের আদ জাতির সাথে তুলনা করেছেন, তখন বলেছেন, "অতঃপর আদ জাতি, তারা পৃথিবীতে অন্যায়ভাবে অহংকার করেছিল এবং বলেছিল, আমাদের চেয়ে শক্তিতে অধিক প্রবল আর কে আছে?" এরপর তিনি বলেছেন, "আর সামুদ জাতি, আমি তাদেরকে পথপ্রদর্শন করেছিলাম, কিন্তু তারা হিদায়াতের পরিবর্তে অন্ধত্বকেই পছন্দ করেছিল।" এ কারণেই আদ জাতির পক্ষে হঠকারিতা করা এবং তাদের নবীকে এই কথা বলা সম্ভব হয়েছিল যে, "আপনি আমাদের কাছে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আসেননি।" কিন্তু সামুদ জাতির পক্ষে তা সম্ভব ছিল না, কারণ তারা চাক্ষুষ নিদর্শন প্রত্যক্ষ করেছিল এবং তা তাদের নিকট সূর্য ও চন্দ্র দেখার ন্যায় স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। সুতরাং তারা নিশ্চিত জ্ঞান ও পূর্ণ অন্তর্দৃষ্টি লাভের পরও হিদায়াতকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। ফলে তাদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করার মাঝে এমন প্রত্যেকের জন্য সতর্কতা রয়েছে যে সত্যকে চেনার পরও তা অনুসরণ করে না। এটিই অধিকাংশ ধ্বংসপ্রাপ্তদের ব্যাধি এবং এটিই পৃথিবীবাসীর মধ্যে সবচেয়ে ব্যাপক ও প্রবল ব্যাধি। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

‌‌পরিচ্ছেদ

এর অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী, "শপথ ফজরের, শপথ দশ রাতের, শপথ জোড় ও বেজোড়ের এবং শপথ রাতের যখন তা চলে যায়। এর মধ্যে কি কোনো শপথ রয়েছে বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তির জন্য?" বলা হয়েছে যে, এর উত্তর হলো...
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ানু ফী আইমানিল কুরআন - তা. আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ২৮)
{إِنَّ رَبَّكَ لَبِالْمِرْصَادِ} وهذا ضعيف لوجهين أحدهما طول الكلام والفصل بين القسم وجوابه بجمل كثيرة والثاني قوله {إِنَّ رَبَّكَ لَبِالْمِرْصَادِ} ذكر لتقرير عقوبة الله الأمم المذكورة وهي عاد وثمود وفرعون فذكر عقوبتهم ثم قال مقرراً ومحذرا {إِنَّ رَبَّكَ لَبِالْمِرْصَادِ} فلا ترى تعلقه بذلك دون القسم وأحسن من هذا أن يقال إن الفجر في الليالي العشر زمن يتضمن أفعالاً معظمة من المناسك وأمكنة معظمة وهي محلها وذلك من شعائر الله المتضمنة خضوع العبد لربه فإن الحج والنسك عبودية محضة لله وذل وخضوع لعظمته وذلك ضد ما وصف به عاداً وثمود وفرعون من العتو والتكبر والتجبر فإن النسك يتضمن غاية الخضوع لله وهؤلاء الأمم عتوا وتكبروا عن أمر ربهم وفي صحيح البخاري عن ابن عباس رضى الله عنهما عن النبي قال ما من أيام للعمل الصالح فيهن أحب إلى الله من هذه الأيام العشر قيل يا رسول الله ولا الجهاد في سبيل الله قال ولا الجهاد في سبيل الله إلا رجل خرج بنفسه وماله لم يرجع من ذلك بشيء فالزمان المتضمن لمثل هذه الأعمال أهل أن يقسم الرب عز وجل به

{وَالْفَجْرِ} إن أريد به جنس الفجر كما هو ظاهر اللفظ فإنه يتضمن وقت صلاة الصبح التي هي أول الصلوات فافتتح القسم
{নিশ্চয় আপনার রব ওত পেতে আছেন} এবং এটি দুটি কারণে দুর্বল। প্রথমটি হলো দীর্ঘ আলোচনা এবং কসম ও তার জওয়াবের মধ্যে অনেকগুলো বাক্যের মাধ্যমে ব্যবধান তৈরি হওয়া। দ্বিতীয়টি হলো তাঁর বাণী {নিশ্চয় আপনার রব ওত পেতে আছেন} মূলত উল্লেখিত জাতিসমূহ—অর্থাৎ আদ, সামুদ ও ফেরাউনের ওপর আল্লাহর শাস্তিকে সুনিশ্চিত করার জন্য উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের শাস্তির কথা উল্লেখ করার পর তিনি বিষয়টি সুনিশ্চিতকারী ও সতর্ককারী হিসেবে বলেছেন, {নিশ্চয় আপনার রব ওত পেতে আছেন}। তাই কসমের পরিবর্তে এর (শাস্তির) সাথেই এর সংশ্লিষ্টতা বেশি প্রতীয়মান হয়। এর চেয়ে উত্তম কথা হলো এটি বলা যে, দশ রাতের ফজর এমন এক সময় যা হজের মহান কার্যাবলি এবং সেগুলোর মহান স্থানসমূহকে শামিল করে। আর এগুলো আল্লাহর নিদর্শনাবলির অন্তর্ভুক্ত যা রবের প্রতি বান্দার বিনয় ও আনুগত্যকে ধারণ করে। কেননা হজ এবং ইবাদত হলো আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ দাসত্ব এবং তাঁর মহত্ত্বের সামনে হীনতা ও বিনয় প্রকাশ। এটি আদ, সামুদ ও ফেরাউনের সেই বৈশিষ্ট্যের বিপরীত যা দ্বারা তাদের বর্ণনা করা হয়েছে, অর্থাৎ অবাধ্যতা, অহংকার ও স্বৈরাচারিতা। কারণ ইবাদত আল্লাহর প্রতি চূড়ান্ত বিনয়কে শামিল করে, আর এই জাতিগুলো তাদের রবের নির্দেশের বিরুদ্ধে অবাধ্যতা ও অহংকার করেছিল। সহীহ বুখারীতে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "এই দশ দিনের নেক আমলের চেয়ে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় আর কোনো দিনের আমল নেই।" জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর পথে জিহাদও কি নয়? তিনি বললেন: "আল্লাহর পথে জিহাদও নয়; তবে সেই ব্যক্তির কথা ভিন্ন যে নিজের জান ও মাল নিয়ে (জিহাদে) বের হয়েছে এবং এর কোনো কিছু নিয়েই ফিরে আসেনি।" সুতরাং যে সময় এই ধরণের আমলসমূহকে শামিল করে, সেই সময়ের কসম করা মহান রবের জন্য অত্যন্ত সমীচীন।

{শপথ ফজরের} - যদি এর দ্বারা সাধারণ ফজর উদ্দেশ্য হয় যেমনটি শব্দের বাহ্যিক রূপ থেকে বোঝা যায়, তবে এটি ফজরের সালাতের সময়কে অন্তর্ভুক্ত করে যা সালাতসমূহের মধ্যে প্রথম। সুতরাং তিনি কসম শুরু করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ানু ফী আইমানিল কুরআন - তা. আল-ফিকী (পৃষ্ঠা: ২৯)
بما يتضمن أول الصلوات وختمه بقوله {وَاللَّيْلِ إِذَا يَسْرِ} المتضمن لآخر الصلوات وإن أريد بالفجر فجر مخصوص فهو فجر يوم النحر وليلته التي هي ليلة عرفة فتلك الليلة من أفضل ليالي العام وما رؤى الشيطان في ليلة أدحر ولا أحقر ولا أغيظ منه فيها وذلك الفجر فجر يوم النحر الذي هو أفضل الأيام عند الله كما ثبت عن النبي أنه قال أفضل الأيام عند الله يوم النحر رواه أبو داود بإسناد صحيح وهو آخر أيام العشر وهو يوم الحج الأكبر كما ثبت في صحيح البخاري وغيره وهو اليوم الذي أذن فيه مؤذن رسول الله صلى الله عليه وسلم {أَنَّ اللَّهَ بَرِيءٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ وَرَسُولُهُ} وأن لا يحج بعد العام مشرك ولا يطوف بالبيت عريان ولا خلاف أن المؤذن أذن بذلك في يوم النحر لا يوم عرفة وذلك بأمر رسول الله امتثالاً وتأويلاً للقرآن

وعلى هذا فقد تضمن القسم المناسك والصلوات وهما المختصان بعبادة الله والخضوع له والتواضع لعظمته ولهذا قال الخليل عليه السلام {قُلْ إِنَّ صَلاتِي وَنُسُكِي وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِي لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ} وقيل لخاتم الرسل {فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ} بخلاف حال المشركين المتكبرين الذين لا يعبدون الله وحده بل يشركون به ويستكبرون عن عبادته كحال من ذكر في هذه السورة من قوم عاد وثمود وفرعون
যাতে সালাতসমূহের প্রথমটি এবং তাঁর বাণী {এবং রাতের শপথ যখন তা চলে যায়} দ্বারা এর সমাপ্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা সালাতসমূহের শেষটি অন্তর্ভুক্ত করে। আর যদি ফজর দ্বারা নির্দিষ্ট কোনো ফজর উদ্দেশ্য হয়, তবে তা হলো কুরবানির দিনের ফজর এবং এর রাত, যা হলো আরাফার রাত। সুতরাং সেই রাতটি বছরের শ্রেষ্ঠ রাতগুলোর অন্যতম। আর শয়তানকে কোনো রাতে এর চেয়ে বেশি লাঞ্ছিত, তুচ্ছ ও রাগান্বিত দেখা যায়নি। আর সেই ফজর হলো কুরবানির দিনের ফজর, যা আল্লাহর নিকট দিনসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ; যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "আল্লাহর নিকট দিনসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো কুরবানির দিন।" এটি আবু দাউদ সহিহ সনদে বর্ণনা করেছেন। এটি (যিলহজ মাসের প্রথম) দশ দিনের শেষ দিন এবং এটিই হজ্জে আকবরের দিন, যেমনটি সহিহ বুখারি ও অন্যান্য গ্রন্থে সাব্যস্ত হয়েছে। এটি সেই দিন যাতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ঘোষণাকারী ঘোষণা করেছিলেন যে, {নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর রাসূল মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত} এবং এই বছরের পর কোনো মুশরিক যেন হজ্জ না করে এবং কেউ যেন উলঙ্গ হয়ে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ না করে। আর এতে কোনো মতভেদ নেই যে, ঘোষণাকারী কুরবানির দিনেই এ ঘোষণা দিয়েছিলেন, আরাফার দিনে নয়। আর তা ছিল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নির্দেশে, কুরআনের আনুগত্য ও তা বাস্তবায়নের নিমিত্তে।

আর এরই ভিত্তিতে, এই শপথটি হজ্জের কার্যাবলি ও সালাতকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যা আল্লাহর ইবাদত, তাঁর সমীপে মস্তক অবনত করা এবং তাঁর মহানত্বের সামনে বিনয় প্রকাশের জন্য নির্দিষ্ট। এই কারণেই খলিল (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: {বলুন, নিশ্চয় আমার সালাত, আমার কুরবানি, আমার জীবন ও আমার মরণ জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য}। এবং শেষ রাসূলকে বলা হয়েছে: {সুতরাং আপনি আপনার রবের জন্য সালাত আদায় করুন এবং কুরবানি করুন}। এটি সেই অহংকারী মুশরিকদের অবস্থার বিপরীত যারা একমাত্র আল্লাহর ইবাদত করে না, বরং তাঁর সাথে শরিক করে এবং তাঁর ইবাদত থেকে অহংকারবশত মুখ ফিরিয়ে নেয়; যেমনটি এই সূরায় উল্লিখিত আদ, সামুদ ও ফেরাউনের সম্প্রদায়ের অবস্থা ছিল।