(খণ্ড: ১) আল-বুয়ূউল মুহাররামাহ ওয়াল মানহিয়্যু আনহা (পৃষ্ঠা: -)
البيوع المحرمة والمنهي عنها   (عبد الناصر بن خضر ميلاد)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: البيوع المحرمة والمنهي عنها

أصل الكتاب: رسالة دكتوراه، جامعة الخرطوم، 1425 هـ - 2004 م

المؤلف: عبد الناصر بن خضر ميلاد

الناشر: دار الهدى النبوي، مصر - المنصورة (سلسله الرسائل الجامعيه، 37)

الطبعة: الأولى 1426 هـ - 2005 م

عدد الصفحات: 499

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নিষিদ্ধ ও বর্জনীয় কেনাবেচা   (আব্দুন নাসির বিন খিজির মিলাদ)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


কিতাব: নিষিদ্ধ ও বর্জনীয় কেনাবেচা

মূল কিতাব: ডক্টরেট থিসিস، খার্তুম বিশ্ববিদ্যালয়، ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

লেখক: আব্দুন নাসির বিন খিজির মিলাদ

প্রকাশক: দারুল হুদা আন-নাবাবী، মিসর - মানসুরা (বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা গ্রন্থমালা، ৩৭)

সংস্করণ: প্রথম ১৪২৬ হিজরি - ২০০৫ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৯৯

[বইয়ের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-বুয়ূউল মুহাররামাহ ওয়াল মানহিয়্যু আনহা (পৃষ্ঠা: -)
ـ[البيوع المحرمة والمنهي عنها]ـ

أصل الكتاب: رسالة (دكتوراه) ، جامعة الخرطوم، 1425 هـ - 2004 م

المؤلف: عبد الناصر بن خضر ميلاد

الناشر: دار الهدى النبوي، مصر - المنصورة (سلسله الرسائل الجامعيه، 37)

الطبعة: الأولى 1426هـ - 2005م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي]
[নিষিদ্ধ ও বর্জিত ক্রয়-বিক্রয়]

মূল গ্রন্থ: গবেষণাপত্র (পিএইচডি), খার্তুম বিশ্ববিদ্যালয়, ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দ

লেখক: আব্দুল নাসের বিন খিজির মিলাদ

প্রকাশক: দারুল হুদা আন-নববী, মিসর - মানসুরা (বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণাপত্র সিরিজ, ৩৭)

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৬ হিজরি - ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ এবং এতে পাদটীকা যুক্ত রয়েছে]
(খণ্ড: ১) আল-বুয়ূউল মুহাররামাহ ওয়াল মানহিয়্যু আনহা (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌مقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله العلي الكبير، العليم القدير، الحكيم الخبير، الذي جل عن الشبه والنظير، ليس كمثله شيء وهو السميع البصير، وصلى الله وسلم على رسوله البشير النذير، السراج الهادي المنير، المخصوص بالمقام المحمود، والحوض المورود، وعلى أصحابه الأطهار الأخيار، وأهل بيته الأبرار الذين أذهب الله عنهم الرجس وخصهم بالتطهير، وعلى التابعين لهم بإحسان، والمقتدين بهم في كل زمان إلى يوم الدين، وبعد:

فإن الشريعة الإسلامية بقواعدها الكلية، وموازينها المنضبطة، وأسسها الثابتة، وعطائها المستمر، صالحة لكل زمان ومكان، فكمال الشريعة وشمولها من أبرز عوامل ثباتها، فما من نازلة إلاّ ولله سبحانه فيها حكم، ولقد بذل العلماء المسلمون قديماً وحديثاً جهوداً كبيرة من أجل تقرير قواعدها الشرعية، وإيضاح أحكامها، وتجلية مميزاتها، وترسيخ مفاهيمها، وتجسيدها واقعاً يحتذى به في شتى ضروب الحياة.

وبعد أن وفقني الله في الحصول على شهادة الماجستير، رأيت أن أواصل دراستي العليا، لكي أحصل على شهادة الدكتوراه، وقد رأيت أن يكون بحثي في مجال المعاملات الشرعية.

سبب اختياري للموضوع: إن اختيار الموضوع بالنسبة لطالب العلم ليس بالأمر السهل الهين، بل يحتاج إلى جهد كبير، لأن اختيار موضوع يحتاجه الناس لا يتحقق للباحث بسهولة ويسر دون توفيق من المولى جلّ وعلاّ، ثم بعد الاستخارة والدراسة والمشورة -والحمد لله- فقد يسر الله لي اختيار موضوع "بيع الأعيان المحرمة في الفقه الإسلامي"

وهو موضوع له أهمية عظمى في حياة الناس، لتعلقه بالتعامل وتداول المنافع فيما
ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সুউচ্চ, মহান, সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান, প্রজ্ঞাময় ও সম্যক অবগত; যিনি সাদৃশ্য ও সমতুল্য হওয়া থেকে ঊর্ধ্বে, তাঁর সদৃশ কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর রাসূলের প্রতি, যিনি সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী ও আলোকবর্তিকা, যিনি মাকামে মাহমুদ এবং হাউজে কাউসারের বিশেষ অধিকারী; এবং তাঁর পবিত্র ও মনোনীত সাহাবীগণের প্রতি, এবং তাঁর পুণ্যবান পরিবারবর্গের প্রতি যাদের থেকে আল্লাহ অপবিত্রতা দূর করেছেন এবং তাদেরকে বিশেষভাবে পবিত্র করেছেন। আর কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে এবং সর্বযুগে তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে তাদের প্রতি। অতঃপর:

নিশ্চয়ই ইসলামী শরীয়াহ তার সামগ্রিক মূলনীতি, সুশৃঙ্খল মানদণ্ড, সুদৃঢ় ভিত্তি এবং নিরন্তর অবদানের মাধ্যমে প্রতিটি কাল ও পাত্রের জন্য উপযোগী। শরীয়তের পূর্ণতা ও ব্যাপকতা এর স্থায়িত্বের অন্যতম প্রধান কারণ। এমন কোনো নতুন উদ্ভূত সমস্যা নেই যাতে মহান আল্লাহর কোনো বিধান নেই। মুসলিম আলেমগণ প্রাচীন ও আধুনিক কালে শরীয়াহর নীতিমালা নির্ধারণ, এর বিধানসমূহ স্পষ্টীকরণ, এর বৈশিষ্ট্যসমূহ উন্মোচন, এর ধারণাসমূহকে সুসংহত করতে এবং জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়নের জন্য ব্যাপক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন।

মহান আল্লাহ আমাকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনে তাওফিক দেওয়ার পর, আমি পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য আমার উচ্চতর গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। আমি স্থির করেছি যে, আমার গবেষণা হবে শরীয়াহর লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে।

বিষয়টি নির্বাচনের কারণ: একজন জ্ঞান অন্বেষীর জন্য বিষয় নির্বাচন করা মোটেও সহজ কাজ নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম। কারণ মানুষের প্রয়োজনীয় কোনো বিষয় নির্বাচন করা মহান প্রতিপালকের তাওফিক ছাড়া একজন গবেষকের জন্য সহজে সম্ভব হয় না। অতঃপর ইসতিখারা, অধ্যয়ন ও পরামর্শের পর—আলহামদুলিল্লাহ—আল্লাহ আমার জন্য "ইসলামী ফিকহে নিষিদ্ধ বস্তুর ক্রয়-বিক্রয়" বিষয়টি নির্বাচন করা সহজ করে দিয়েছেন।

এটি এমন একটি বিষয় যার গুরুত্ব মানুষের জীবনে অপরিসীম, কারণ এটি লেনদেন এবং পারস্পরিক উপযোগিতা বিনিময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট।
(খণ্ড: ১) আল-বুয়ূউল মুহাররামাহ ওয়াল মানহিয়্যু আনহা (পৃষ্ঠা: ৪)
بينهم، ويحتاج لوضع الضوابط اللازمة، حتى تظهر أحكامه جلية واضحة، وتحد حدوده حتى لا يقعوا في المحظور، ولا يخفى عليهم غير المحظور، لتتحقق مصالحهم، ويرفع الحرج عنهم، فهداني الله تعالى لأن أخص مسألة "بيع الأعيان المحرمة" بالبحث كي أساهم مع من سبقني في الكتابة في مسائل البيع، لكي يستبين حكم الشرع في بيع الأعيان المحرمة، لأن هذه الأحكام معروضة في كتب الفقه، في أبواب مختلفة، تحتاج إلى جمع ولّم لشملها في موضع واحد، لتسهل معرفتها، خاصة وأن أغلب الناس يجهلون هذه الأحكام، ويصعب عليهم التعامل مع كتب الفقه لاستخلاص أحكامها، وجمع مسائلها، والله أسأل أن أوفيه حقه في البحث وعرض جميع جوانبه، وبذل الجهد والطاقة، بعون الله وتوفيقه.

منهجي في البحث:

بعد أن وفقني الله سبحانه لاختيار موضوع بيع الأعيان المحرمة في الفقه الإسلامي، كان لا بد من تحديد المسلك العلمي اللازم لإعداد هذا البحث في إطار من الوضوح والسهولة واليسر، بغية تحقيق الإفادة الكاملة على النحو المحقق للقصد من البحث، فاقتصرت على المذاهب الفقهية الأربعة، والسبب في هذا أنها معتمدة ومقررة ومقدرة لدى جميع المسلمين، مع تفردها بالاعتدال والوسطية، وفي سبيل هذا راعيت الترتيب الزمني لهذه المذاهب، بدءاً من المذهب الحنفي ثم المالكي ثم الشافعي ثم الحنبلي، بمراعاة ما يرد داخل كل مذهب من أقوال، وذلك في كل مسألة على حدة مهما تناهت في صغرها، مراعياً في كل مذهب النقل من أمهات الكتب المعتمدة فيه، وذلك بعرض الأقوال داخل المذهب الواحد، موثقاً ذلك بنقل أقوال الأئمة، مرجحاً لما ترجح منها لدي للاعتماد عليه عند الموازنة مع المذاهب الأخرى، حتى يتسنى لي ترجيح الرأي الذي أرى صوابه وصحته وقوة دليله، أو أن الأخذ به والعمل بمقتضاه يحقق مصلحة حقيقية عامة.

وكل هذا بمراعاة الدقة الكاملة، تحقيقاً لمبدأ الأمانة العلمية كأحد أهم أسس المنهج العلمي السليم، محاولاً تدعيم كل قول ورد في مذهب من المذاهب الأربعة بما استدل له به، مع عقد المناقشة اللازمة للأدلة عندما يستدعي الترجيح ذلك، مورداً كل المناقشات والرد
তাদের মধ্যে; এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা নির্ধারণ করা আবশ্যক, যাতে এর বিধানাবলি সুস্পষ্ট ও প্রাঞ্জল হয়ে ওঠে এবং এর পরিসীমা নির্ধারিত হয়, যাতে তারা নিষিদ্ধ বিষয়ে লিপ্ত না হয় এবং অনুমোদিত বিষয়সমূহ তাদের কাছে অস্পষ্ট না থাকে; যার ফলে তাদের কল্যাণ সাধিত হয় এবং তাদের থেকে সংকীর্ণতা দূর হয়। অতঃপর আল্লাহ তাআলা আমাকে "নিষিদ্ধ বস্তুর ক্রয়-বিক্রয়" বিষয়টিকে গবেষণার জন্য নির্দিষ্ট করার হিদায়াত দান করেছেন, যাতে আমি ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত মাসআলা নিয়ে ইতিপূর্বে যারা লিখেছেন তাদের সাথে অবদান রাখতে পারি এবং নিষিদ্ধ বস্তুর ক্রয়-বিক্রয়ে শরয়ি বিধান সুস্পষ্ট হয়। কারণ, এই বিধানসমূহ ফিকহ শাস্ত্রের বিভিন্ন অধ্যায়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে, যা একস্থানে সংকলন ও সন্নিবেশিত করা প্রয়োজন যাতে তা সহজে জানা যায়। বিশেষ করে অধিকাংশ মানুষ এই বিধানগুলো সম্পর্কে অবগত নয় এবং ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবসমূহ থেকে বিধানসমূহ উদ্ঘাটন ও মাসআলাগুলো সংগ্রহ করা তাদের জন্য দুরূহ। আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, যেন আমি এই গবেষণার যথাযথ হক আদায় করতে পারি এবং এর সকল দিক ফুটিয়ে তুলতে পারি এবং আল্লাহর সাহায্য ও তাওফিকে আমার শ্রম ও সামর্থ্য ব্যয় করতে পারি।

গবেষণা পদ্ধতি:

ইসলামি ফিকহ শাস্ত্রে নিষিদ্ধ বস্তুর ক্রয়-বিক্রয় বিষয়টি নির্বাচনের তাওফিক লাভের পর, এই গবেষণাকে স্বচ্ছতা ও সহজবোধ্যতার আদলে প্রস্তুত করার জন্য প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক পথ নির্ধারণ করা অপরিহার্য ছিল, যাতে গবেষণার উদ্দেশ্য পূর্ণরূপে অর্জিত হয়। তাই আমি কেবল চারটি ফিকহি মাজহাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি। এর কারণ হলো, এগুলো সকল মুসলিমের নিকট নির্ভরযোগ্য, স্বীকৃত ও মর্যাদাপূর্ণ এবং এগুলো ভারসাম্য ও মধ্যপন্থায় অনন্য। এই লক্ষ্যে আমি মাজহাবগুলোর কালানুক্রমিক ধারা অনুসরণ করেছি; হানাফি মাজহাব দিয়ে শুরু করে অতঃপর মালিকি, শাফেয়ি এবং হাম্বলি মাজহাব। প্রতিটি মাজহাবের ভেতরে বর্ণিত অভিমতগুলোর প্রতি লক্ষ্য রেখেছি প্রতিটি মাসআলার ক্ষেত্রে আলাদাভাবে, তা যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন। প্রতিটি মাজহাবের ক্ষেত্রে সেই মাজহাবের নির্ভরযোগ্য মূল প্রামাণ্য গ্রন্থাবলি থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণের প্রতি যত্নশীল থেকেছি। এভাবে একটি মাজহাবের অভ্যন্তরীণ অভিমতগুলো ইমামদের উক্তি দ্বারা প্রামাণ্যরূপে উপস্থাপন করেছি এবং অন্যান্য মাজহাবের সাথে তুলনার সময় আমার নিকট যা অগ্রগণ্য মনে হয়েছে তাকে প্রাধান্য দিয়েছি, যাতে আমি সেই মতটিকে প্রাধান্য দিতে পারি যা আমার দৃষ্টিতে সঠিক, বিশুদ্ধ ও শক্তিশালী দলিলসমৃদ্ধ অথবা যে মতটি গ্রহণ ও আমল করা প্রকৃত জনকল্যাণ নিশ্চিত করে।

এসব কিছুই পূর্ণ সূক্ষ্মতার সাথে সম্পাদন করেছি, যাতে সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে 'ইলমি আমানতদারি'র নীতি রক্ষা পায়। চারটি মাজহাবের প্রতিটি অভিমতকে তার স্বপক্ষে উপস্থাপিত দলিল দ্বারা সুদৃঢ় করার চেষ্টা করেছি এবং যেখানেই প্রাধান্য নির্ধারণের প্রয়োজন হয়েছে, সেখানে দলিলের প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা করেছি এবং সকল আলোচনা ও খণ্ডন উল্লেখ করেছি...
(খণ্ড: ১) আল-বুয়ূউল মুহাররামাহ ওয়াল মানহিয়্যু আনহা (পৃষ্ঠা: ৫)
عليها، غير متعصب لرأي مذهب معين، أو فقيه بذاته، واضعاً نصب عيني قوة الدليل، وصحة الاستدلال به، وخلوه من الاعتراض والمناقشة، وتحقيقه للمصلحة أو درءه للمفسدة.

ومن الجدير الإشارة إليه أنني سوف أحرص على مراعاة عرض الخلاصة المعقولة لكل مذهب، أظهر من خلالها ما يستفاد من نصوصه، وهذا التلخيص للمذهب سيسعفني عند عقد الموازنة بين أقوال أصحاب المذاهب الأربعة لإجراء المقابلة والمقارنة بينها، ولتحقيق دمج ما يمكن دمجه منها، لإبراز خلاصة المذاهب مجتمعة في المسألة، لأن هذا سيكون معيناً عند عرض الأدلة ومناقشتها، كي انتهي إلى ترجيح ما هو راجح في كل مسألة على حدة، بناء على قوة ما استدل به، أو على أساس مناقشته لما استدل به خصمه، مع مراعاة مقاصد الشريعة الإسلامية من تحقيق مصالح العباد، تفضلا من الله سبحانه، ورفعاً للحرج، ودفعاً للضيق عنهم.

وعزوت الآيات القرآنية، وخرجت الأحاديث النبوية، وترجمت للأعلام الوارد ذكرها في ثنايا البحث، عند أول ذكر لهذه الأمور، واعتمدت فهرساً خاصاً بكل منها بعد نهاية البحث، ثم وثقت لأهم المراجع التي استعنت بها، سواء كان ذلك من كتب الفقه المعتمدة، أم الأصول، أم كتب السنة والسيرة والتاريخ، أم كانت من كتب اللغة العربية، أو مقررات المؤتمرات الإسلامية في العالم الإسلامي، واللجان المنعقدة بشأن ما يخصنا في البحث، والفتاوى الصادرة في مسائل البحث على مستوى العالم الإسلامي وحذفتها عند الطباعة حتى لا يكبر حجم الكتاب.

ولقد واجهتني صعوبات جمة في سبيل إعداد هذا البحث بسبب أن موضوعه يشتمل على أمرين مهمين: أحدهما يعد من التراث نصاً. والآخر من المسائل المستحدثة، ومن ذلك على سبيل المثال بيع أجزاء الإنسان، وبيع الأشرطة المسجل عليها بعض الأفلام، والمسلسلات، والصور الفوتوغرافية ونحوها.

فقد كنت أعتقد سهولة الموضوع، غير أنني بعد الولوج فيه وجدته على قدر
এর ওপর, কোনো নির্দিষ্ট মাযহাবের মতামত বা নির্দিষ্ট কোনো ফকীহর প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট না হয়ে, বরং দলিলের শক্তি, তার দ্বারা সিদ্ধান্ত গ্রহণের যথার্থতা, আপত্তি ও বিতর্ক থেকে মুক্ত হওয়া এবং জনস্বার্থ সাধন বা অনিষ্ট দূরীকরণকে আমার চোখের সামনে রেখেছি।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, আমি প্রতিটি মাযহাবের যুক্তিযুক্ত সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের প্রতি সচেষ্ট থাকব, যার মাধ্যমে তাদের মূল ভাষ্য থেকে লব্ধ বিষয়গুলো স্পষ্ট হবে। মাযহাবের এই সারসংক্ষেপ আমাকে চার মাযহাবের ইমামগণের বক্তব্যের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং তাদের মধ্যে তুলনা ও বৈসাদৃশ্য নিরূপণে সহায়তা করবে। এছাড়া যা একীভূত করা সম্ভব তা একীভূত করার মাধ্যমে কোনো মাসআলায় মাযহাবসমূহের সম্মিলিত সারসংক্ষেপ ফুটিয়ে তুলতেও এটি সহায়ক হবে। কেননা দলিল উপস্থাপন ও পর্যালোচনার সময় এটি সহায়ক হবে, যাতে আমি প্রতিটি মাসআলায় পৃথকভাবে প্রবলতর মতটি গ্রহণে উপনীত হতে পারি। এটি হবে দালিলিক শক্তির ওপর ভিত্তি করে অথবা প্রতিপক্ষের দলিলের পর্যালোচনার ভিত্তিতে, যেখানে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার পক্ষ থেকে অনুগ্রহস্বরূপ বান্দাদের কল্যাণ সাধন, কাঠিন্য দূরীকরণ এবং তাদের থেকে সংকীর্ণতা অপসারণের লক্ষ্যে ইসলামি শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ বিবেচনা করা হবে।

আমি কুরআনের আয়াতসমূহের উদ্ধৃতি দিয়েছি, হাদিসসমূহের উৎস নির্ণয় করেছি এবং গবেষণার মাঝে উল্লেখিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনী তাদের নামের প্রথম উল্লেখের স্থানে তুলে ধরেছি। গবেষণার শেষে এগুলোর প্রত্যেকটির জন্য আলাদা নির্ঘণ্ট ব্যবহার করেছি। এরপর আমি যে সকল গুরুত্বপূর্ণ উৎসের সাহায্য নিয়েছি তার তথ্যসূত্র প্রদান করেছি—সেগুলো নির্ভরযোগ্য ফিকহ গ্রন্থ, উসুল, সুন্নাহ, সিরাত ও ইতিহাসের কিতাব হোক, কিংবা আরবি ভাষার গ্রন্থ, অথবা মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন ইসলামি সম্মেলনের সিদ্ধান্তসমূহ, গবেষণার বিষয়বস্তুর সাথে সংশ্লিষ্ট কমিটির রিপোর্টসমূহ এবং মুসলিম বিশ্বের সমকালীন মাসআলাসমূহের ওপর জারিকৃত ফতোয়াসমূহ। তবে বইয়ের কলেবর যাতে বৃদ্ধি না পায় সেজন্য মুদ্রণের সময় আমি সেগুলো বাদ দিয়েছি।

এই গবেষণাটি প্রস্তুত করতে গিয়ে আমি অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, কারণ এর বিষয়টি দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের সমষ্টি: একটি সরাসরি ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত, আর অন্যটি আধুনিক উদ্ভাবিত মাসআলাসমূহের অন্তর্ভুক্ত। উদাহরণস্বরূপ মানুষের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রয় এবং বিভিন্ন চলচ্চিত্র, ধারাবাহিক নাটক, স্থিরচিত্র ইত্যাদি ধারণকৃত ফিতা বা ক্যাসেট বিক্রয়।

আমি মনে করেছিলাম বিষয়টি সহজ হবে, কিন্তু এতে প্রবেশ করার পর আমি একে এতটাই ব্যাপক ও গভীর দেখতে পেলাম যে...
(খণ্ড: ১) আল-বুয়ূউল মুহাররামাহ ওয়াল মানহিয়্যু আনহা (পৃষ্ঠা: ৬)
كبير من الصعوبة من حيث جمع المادة العلمية، والأدلة، خاصة عند الترجيح لما أراه راجحاً.

فقد استعصت عليّ بعض المسائل، خاصة ما تباينت فيها الآراء، وكثر فيها الجدل، لأن كتب المذاهب فيها كثير من الأخذ والرد والتأييد والنقد والتنازع فيما بينها عند اختلاف وجهات النظر، كما أن بعضها لم يتعرض لذكر الأدلة، أو التعليل لما جاء فيه من أحكام مختلفة، خلال عرضها للأقوال في المسألة داخل المذهب في أغلب الأحيان.

فاستعنت بالله سبحانه فكان توفيقه بمساندة ومساعدة فضيلة الدكتور عبد الرحمن الصديق دفع الله الأستاذ المشارك المشرف على الرسالة في إزالة تلك الصعاب حتى بات الأمر -بحمد الله- في متناول يدي.

خطة البحث:

وقد رأيت أن تكون خطة البحث على النحو التالي:

المقدمة: وتشتمل على سبب اختيار الموضوع، ومنهجي في البحث، وخطة البحث.

التمهيد: وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: التعريف بالبيع. وفيه أربعة مطالب.

المبحث الثاني: مشروعية البيع وحكمه.

المبحث الثالث: المقصود بالأعيان المحرمة. وفيه أربعة مطالب.

الباب الأول: في النجاسات: وفيه تمهيد وستة فصول:

التمهيد في بيان اختلاف الفقهاء في حرمة بيع النجاسات وأسبابه
বৈজ্ঞানিক উপকরণ এবং তথ্য-প্রমাণাদি সংগ্রহ করার ক্ষেত্রে প্রচুর অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়েছে, বিশেষ করে যখন আমি আমার কাছে যা সঠিক মনে হয়েছে সেটিকে প্রাধান্য (তারজীহ) দিয়েছি।

কিছু মাসআলা বা বিষয় আমার জন্য অত্যন্ত জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছিল, বিশেষ করে যেগুলোতে মতভেদ প্রবল এবং বিতর্ক অনেক বেশি ছিল। কারণ মাযহাবগুলোর কিতাবসমূহে দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতার কারণে পারস্পরিক অনেক গ্রহণ ও বর্জন, সমর্থন ও সমালোচনা এবং মতবিরোধ বিদ্যমান। তদুপরি, অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাযহাবের অভ্যন্তরীণ বক্তব্যগুলো উপস্থাপনের সময় এগুলোতে উল্লেখিত বিভিন্ন বিধানের স্বপক্ষে দলীল প্রদান বা কারণ বর্ণনার বিষয়টি উপেক্ষিত ছিল।

এমতাবস্থায় আমি মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করি এবং এই অভিসন্দর্ভের তত্ত্বাবধায়ক ও সহযোগী অধ্যাপক শ্রদ্ধেয় ডক্টর আব্দুর রহমান আস-সিদ্দিক দাফউল্লাহর সহায়তা ও সমর্থনের মাধ্যমে আল্লাহর তাওফীকে সেই অসুবিধাগুলো দূর করা সম্ভব হয়, যার ফলে আল্লাহর প্রশংসা সহকারে পুরো বিষয়টি আমার আয়ত্তে চলে আসে।

গবেষণা পরিকল্পনা:

আমি গবেষণার পরিকল্পনাটি নিম্নরূপ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি:

ভূমিকা: এটি বিষয় নির্বাচনের কারণ, আমার গবেষণা পদ্ধতি এবং গবেষণা পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করে।

উপক্রমনিকা: এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ক্রয়-বিক্রয়ের পরিচয়। এতে চারটি উপ-বিভাগ রয়েছে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ক্রয়-বিক্রয়ের শরয়ী বৈধতা ও এর বিধান।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নিষিদ্ধ বস্তু (আল-আ’য়ান আল-মুহাররামা) দ্বারা কী উদ্দেশ্য। এতে চারটি উপ-বিভাগ রয়েছে।

প্রথম অধ্যায়: অপবিত্র বস্তু (নাজাসাত) প্রসঙ্গে: এতে একটি উপক্রমনিকা এবং ছয়টি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

উপক্রমনিকা: অপবিত্র বস্তু বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে ফকীহগণের মতবিরোধ এবং তার কারণসমূহের বর্ণনা।
(খণ্ড: ১) আল-বুয়ূউল মুহাররামাহ ওয়াল মানহিয়্যু আনহা (পৃষ্ঠা: ৭)
الفصل الأول: بيع الميتة: وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: حكم بيع الميتة.

المبحث الثاني: حكم بيع أجزاء الميتة. وفيه ثلاثة مطالب.

المبحث الثالث: خلاصة ما قاله الفقهاء بشأن بيع الميتة.

الفصل الثاني: بيع الدم وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: تعريف الدم المسفوح.

المبحث الثاني: حكم بيع الدم المسفوح.

المبحث الثالث: خلاصة ما قاله الفقهاء بشأن بيع الدم.

الفصل الثالث: بيع فضلات الإنسان والحيوان: وفيه مبحثان:

المبحث الأول: حكم المني وحكم بيعه: وفيه مطلبان:

المبحث الثاني: حكم أرواث الحيوانات وحكم بيعها: وفيه ثلاثة مطالب.

الفصل الرابع: بيع الكلب والخنْزير: وفيه مبحثان:

المبحث الأول: حكم الكلب، وحكم بيعه: وفيه مطلبان.

المبحث الثاني: حكم الخنْزير، وحكم بيعه، وحكم بيع أجزائه. وفيه ثلاثة مطالب.

الفصل الخامس: بيع الخمر: وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: حكمة تحريم الخمر.

المبحث الثاني: حكم الخمر.
প্রথম অধ্যায়: মৃত প্রাণী কেনা-বেচা: এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মৃত প্রাণী কেনা-বেচার বিধান।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মৃত প্রাণীর দেহাংশ কেনা-বেচার বিধান। এতে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মৃত প্রাণী কেনা-বেচা সংক্রান্ত ফকীহগণের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ।

দ্বিতীয় অধ্যায়: রক্ত কেনা-বেচা এবং এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রবহমান রক্তের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: প্রবহমান রক্ত কেনা-বেচার বিধান।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: রক্ত কেনা-বেচা সংক্রান্ত ফকীহগণের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ।

তৃতীয় অধ্যায়: মানুষ ও প্রাণীর বর্জ্য কেনা-বেচা: এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: বীর্যের বিধান এবং তা কেনা-বেচার বিধান: এতে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পশুর বিষ্ঠার বিধান এবং তা কেনা-বেচার বিধান: এতে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে।

চতুর্থ অধ্যায়: কুকুর ও শূকর কেনা-বেচা: এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: কুকুরের বিধান এবং তা কেনা-বেচার বিধান: এতে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শূকরের বিধান, তা কেনা-বেচার বিধান এবং তার দেহাংশ কেনা-বেচার বিধান। এতে তিনটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে।

পঞ্চম অধ্যায়: মদ কেনা-বেচা: এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মদ হারাম হওয়ার হিকমত।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মদের বিধান।
(খণ্ড: ১) আল-বুয়ূউল মুহাররামাহ ওয়াল মানহিয়্যু আনহা (পৃষ্ঠা: ৮)
المبحث الثالث: حكم التداوي بالخمر، وحكم بيعها: وفيه مطلبان.

الفصل السادس: حكم بيع المتنجسات والانتفاع بها.

الباب الثاني: ما نهى الشارع عن الانتفاع به، ويشتمل على ستة فصول:

الفصل الأول: بيع أواني الذهب والفضة: وفيه مبحثان:

المبحث الأول: حكم أواني الذهب والفضة. وفيه مطلبان.

المبحث الثاني: حكم المضبب بالذهب والفضة وفيه تسعة مطالب.

الفصل الثاني: بيع الأصنام والصور: وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: بيان حكم الشرع للصور بأنواعها: وفيه مطلبان.

المبحث الثاني: حكم بيع الصور بأنواعها.

المبحث الثالث: في المستثنيات.

الفصل الثالث: بيع آلات اللهو: وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: آلات اللهو: وفيه مطلبان.

المبحث الثاني: النرد: وفيه مطلبان

المبحث الثالث: الشطرنج: وفيه مطلبان.

الفصل الرابع: بيع المخدرات والمفترات: وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: التعريف بالمخدرات والمفترات.

المبحث الثاني: حكم بيع المخدرات.

المبحث الثالث: حكم بيع المفترات.
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: মদ দ্বারা চিকিৎসা করার বিধান এবং তা বিক্রির বিধান: এতে দুটি আলোচনা রয়েছে।

ষষ্ঠ অধ্যায়: অপবিত্র বস্তুসমূহ বিক্রি এবং তা ব্যবহারের বিধান।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শরীয়ত প্রণেতা যা ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন, এবং এটি ছয়টি অধ্যায় সম্বলিত:

প্রথম অধ্যায়: সোনা ও রুপার পাত্র বিক্রি: এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: সোনা ও রুপার পাত্রের বিধান। এতে দুটি আলোচনা রয়েছে।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সোনা ও রুপার প্রলেপযুক্ত বা জোড়া লাগানো পাত্রের বিধান এবং এতে নয়টি আলোচনা রয়েছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: মূর্তি ও ছবি বিক্রি: এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: বিভিন্ন প্রকার ছবির শরয়ী বিধানের বর্ণনা: এতে দুটি আলোচনা রয়েছে।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: বিভিন্ন প্রকার ছবি বিক্রির বিধান।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ব্যতিক্রমসমূহ প্রসঙ্গে।

তৃতীয় অধ্যায়: বাদ্যযন্ত্র ও বিনোদনের সরঞ্জাম বিক্রি: এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: বাদ্যযন্ত্র ও বিনোদনের সরঞ্জাম: এতে দুটি আলোচনা রয়েছে।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পাশা খেলা: এতে দুটি আলোচনা রয়েছে।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: দাবা খেলা: এতে দুটি আলোচনা রয়েছে।

চতুর্থ অধ্যায়: মাদকদ্রব্য ও অবসাদকারী বস্তু বিক্রি: এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: মাদকদ্রব্য ও অবসাদকারী বস্তুর পরিচয়।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মাদকদ্রব্য বিক্রির বিধান।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: অবসাদকারী বস্তু বিক্রির বিধান।
(খণ্ড: ১) আল-বুয়ূউল মুহাররামাহ ওয়াল মানহিয়্যু আনহা (পৃষ্ঠা: ৯)
الفصل الخامس: بيع الإنسان الحر وأجزائه وفيه مبحثان:

المبحث الأول: حكم بيع الإنسان الحر.

المبحث الثاني: حكم نقل وبيع بعض أجزاء الإنسان الحر: وفيه مطلبان.

الفصل السادس: بيع الأشياء المحرمة لقدسيتها: وفيه ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: بيع المصحف.

المبحث الثاني: بيع المصحف للكافر.

المبحث الثالث: بيع أرض مكة المكرمة.

ثم أنهيت البحث بعمل خاتمة ثم خلاصة وافية لأهم ما ورد فيه، ثم عرضت لتنظيم الفهارس الفنية، مع بيان بأهم المراجع والفهارس العامة للرسالة.

وأسأل الله سبحانه أن ينال عملي هذا القبول، وأن يكون خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفعني به يوم أن نلقاه، وعلى الله قصد السبيل، وصلى الله وسلم وأنعم على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه ومن اتبعه بإحسان إلى يوم الدين.

وعرفاناً بالفضل واعترافا بالجميل وعملا بقوله تعالى: {لَئِنْ شَكَرْتُمْ لأَزِيدَنَّكُمْ} 1.

وقوله صلى الله عليه وسلم: "من لم يشكر النّاس لم يشكر الله" 2.

أتقدم بالشكر الجزيل إلى جمهورية السودان التي فتحت أبوابها لطلبة العلم، كما وأشكر جامعة الخرطوم ممثلة بكلية القانون ممثلة بقسم الشريعة الإسلامية الذي أتاح لي هذه الفرصة الثمينة لمواصلة الدراسة في هذا العلم الشريف لنشر تعاليم الإسلام الحنيف، فأسأل الله تعالى أن يوفق القائمين عليها وأن يسدد خطاهم ويجزيهم عنا خير الجزاء.

كما أتقدم بخالص الشكر وعظيم التقدير إلى من وجدت منه شيم العلماء العاملين، ويقين المخلصين وأخلاق العباد الصالحين، أحسبه كذلك ولا أزكي على الله

--------------------------------------------

1 سورة إبراهيم: آية 7.

2 أخرجه الترمذي في البر والصلة 4/339، وقال حسن صحيح حديث أبي هريرة رضي الله عنه.
পঞ্চম অধ্যায়: স্বাধীন মানুষ এবং তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রয়, এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: স্বাধীন মানুষ বিক্রয়ের বিধান।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: স্বাধীন মানুষের কিছু অঙ্গ স্থানান্তর ও বিক্রয়ের বিধান: এতে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে।

ষষ্ঠ অধ্যায়: পবিত্রতার কারণে নিষিদ্ধ বস্তুসমূহের বিক্রয়: এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআন (মুসহাফ) বিক্রয়।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অবিশ্বাসী (কাফির)-এর নিকট কুরআন বিক্রয়।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মক্কা মুকাররমার ভূমি বিক্রয়।

অতঃপর আমি একটি উপসংহার এবং এতে বর্ণিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ সারসংক্ষেপের মাধ্যমে গবেষণাটি শেষ করেছি। তারপর আমি প্রযুক্তিগত সূচিপত্র বিন্যাস এবং এই অভিসন্দর্ভের গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র ও সাধারণ সূচিপত্রগুলো উপস্থাপন করেছি।

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন আমার এই কাজ কবুল হয় এবং এটি যেন কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্যই হয়, আর যেদিন আমরা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করব সেদিন যেন তিনি আমাকে এর দ্বারা উপকৃত করেন। সঠিক পথ প্রদর্শন আল্লাহরই কাজ। আল্লাহ আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের ওপর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষণ করুন।

অনুগ্রহের স্বীকৃতিস্বরূপ এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশার্থে আর মহান আল্লাহর এই বাণীর ওপর আমল করে: "যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে আরও বাড়িয়ে দেব" ১।

এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞ হয় না" ২।

আমি সুদান প্রজাতন্ত্রের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যা জ্ঞানপিপাসুদের জন্য তার দ্বার উন্মুক্ত করে দিয়েছে। পাশাপাশি আমি খার্তুম বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষ করে আইন অনুষদের অন্তর্গত ইসলামি শরীয়াহ বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই, যারা আমাকে এই মহৎ ইলমে শিক্ষা অব্যাহত রাখার এবং ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা প্রচারের এই মূল্যবান সুযোগ করে দিয়েছে। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তাওফিক দান করেন, তাঁদের পদক্ষেপগুলোকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং আমাদের পক্ষ থেকে তাঁদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন।

একইভাবে আমি তাঁর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও সুগভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করছি, যাঁর মধ্যে আমি আমলকারী আলেমদের বৈশিষ্ট্য, একনিষ্ঠ ব্যক্তিদের দৃঢ় বিশ্বাস এবং নেককার বান্দাদের চরিত্র পেয়েছি; আমি তাঁকে এমনই মনে করি, তবে আল্লাহর সামনে কাউকে নির্দোষ সাব্যস্ত করি না

--------------------------------------------

১ সূরা ইবরাহিম: আয়াত ৭।

২ তিরমিযী এটি আল-বির ওয়াস সিলাহ অধ্যায়ে (৪/৩৩৯) বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন এটি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত একটি হাসান সহীহ হাদিস।
(খণ্ড: ১) আল-বুয়ূউল মুহাররামাহ ওয়াল মানহিয়্যু আনহা (পৃষ্ঠা: ১০)
أحد. فضيلة الدكتور/ عبد الرحمن الصديق دفع الله أستاذ الشريعة الإسلامية المشارك بكلية القانون، الذي أعتز بالتتلمذ على يديه، حيث عاملني معاملة الوالد لولده والأخ لأخيه، فما بخل بنصح وما ضن عليّ بإرشاد، فكان واسع الصدر بشوش الوجه لين الجانب كثير الصبر، فما مل من اتصالي ولقائي، ولا قصر في جواب عن سؤالي، حتى خرج البحث على هذه الصورة، فقد وجدته عالماً عاملاً مدققاً محققا صاحب إشارات دقيقة وعبارات رقيقة، فكانت توجيهاته نافعة، وفرت علىّ جهداً ووقتاً كبيراً، فنصحني بألطف وأدق إشارة، فمند تفضله بقبول الإشراف على هذه الرسالة -رغم شواغله الجمة- وهو يتعهدني بالرعاية والعناية والنصح السديد والإشارات القيمة، فكان نعم الأستاذ والمعلم والموجه - حفظه الله ذخرا للإسلام والمسلمين - فقد قوي عزمي على يديه حيث شد ساعدي وأقال عثراتي وذلل لي الصعاب، فالله أسأل أن يحفظه ويبارك فيه ويطيل عمره ويمده بالصحة والعافية، وأن يجعل هذا العمل في سجل حسناته، وأن يجزيه عني خير الجزاء إنه نعم المولى ونعم النصير.

كما لا يفوتني أن أشكر كل من قدم لي معروفا أو أسدى إليّ نصحاً أو وقف بجانبي في إنجاح هذا العمل من الأخوة والأصدقاء والزملاء.

فجزى الله الجميع خير الجزاء، وصلى الله وسلم وبارك على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
এক. ফযীলাতুশ শাইখ ডক্টর আব্দুর রহমান আস-সিদ্দীক দাফউল্লাহ, আইন অনুষদের ইসলামী শরীয়াহ বিষয়ের সহযোগী অধ্যাপক, যাঁর নিকট ছাত্রত্ব গ্রহণ করতে পেরে আমি গর্বিত। তিনি আমার সাথে পিতার মতো সন্তানের প্রতি এবং ভাইয়ের মতো ভাইয়ের প্রতি আচরণ করেছেন। তিনি উপদেশ দিতে কার্পণ্য করেননি এবং দিকনির্দেশনা প্রদানে কোনো দ্বিধা করেননি। তিনি ছিলেন প্রশস্ত হৃদয়ের অধিকারী, হাস্যোজ্জ্বল মুখমণ্ডল বিশিষ্ট, কোমল স্বভাবের এবং অত্যন্ত ধৈর্যশীল। আমার যোগাযোগ ও সাক্ষাতে তিনি কখনো ক্লান্ত বোধ করেননি এবং আমার প্রশ্নের উত্তর দিতে কোনো ত্রুটি করেননি, শেষ পর্যন্ত গবেষণাটি এই রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। আমি তাঁকে একজন আমলকারী আলেম, সূক্ষ্মদর্শী গবেষক এবং গভীর ইঙ্গিত ও প্রাঞ্জল বাচনভঙ্গির অধিকারী হিসেবে পেয়েছি। তাঁর দিকনির্দেশনাগুলো ছিল অত্যন্ত উপকারী, যা আমার অনেক শ্রম ও সময় বাঁচিয়ে দিয়েছে। তিনি আমাকে অত্যন্ত কোমল ও সূক্ষ্ম ইঙ্গিতে নসীহত করেছেন। তাঁর অসংখ্য ব্যস্ততা সত্ত্বেও এই থিসিসটির তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব গ্রহণের অনুগ্রহ করার পর থেকে তিনি আমাকে সর্বদা যত্ন, মনোযোগ, সঠিক উপদেশ এবং মূল্যবান ইঙ্গিত দিয়ে আগলে রেখেছেন। তিনি ছিলেন কতই না উত্তম শিক্ষক, উস্তাদ এবং পথপ্রদর্শক—আল্লাহ তাঁকে ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য সম্পদ হিসেবে সংরক্ষণ করুন। তাঁর মাধ্যমেই আমার সংকল্প দৃঢ় হয়েছে, তিনি আমার বাহুকে শক্তিশালী করেছেন, আমার পদস্খলনগুলো সংশোধন করেছেন এবং আমার জন্য কঠিন বিষয়গুলোকে সহজ করে দিয়েছেন। তাই আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁকে হিফাযত করেন, তাঁর মধ্যে বারাকাত দান করেন, তাঁর হায়াত দীর্ঘ করেন এবং তাঁকে সুস্থতা ও নিরাপত্তা দান করেন; আর এই কাজটিকে যেন তাঁর নেক আমলের খাতায় অন্তর্ভুক্ত করেন এবং তিনি যেন তাঁকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি কতই না উত্তম অভিভাবক এবং কতই না উত্তম সাহায্যকারী।

একইভাবে আমি সেই সমস্ত ভাই, বন্ধু এবং সহকর্মীদের ধন্যবাদ জানাতে ভুলছি না, যাঁরা আমাকে কোনো না কোনো উপকার করেছেন, নসীহত করেছেন অথবা এই কাজটি সফল করার জন্য আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন।

আল্লাহ সকলকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। এবং আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) আল-বুয়ূউল মুহাররামাহ ওয়াল মানহিয়্যু আনহা (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌التمهيد

‌‌المبحث الأول: التعريف بالبيع

‌‌المطلب الأول: البيع لغة

البيع لغة: مقابلة شيء بشيء على وجه المعاوضة، فهو مقابلة المال بالمال، وقيل: المبادلة.

والبيع مصدر باع يبيع بيعاً مبيعاً وهو شاذ وقياسه مباعاً، والابتياع الاشتراء، وهو والشراء ضدان1.

فقد جاء في لسان العرب: "البيع: ضد الشراء، والبيع: الشراء أيضاً، وهو من الأضداد، وبعت الشيء شريته أبيعه بيعاً ومبيعاً وهو شاذ، وقياسه مباعاً، والابتياع الاشتراء … وابتاع الشيء: اشتراه، وأباعه: عرضه للبيع … والبيعان: البائع والمشتري، والبيع اسم المبيع … والبياعات: الأشياء التي يبتاع بها في التجارة … والبيع: الصفقة"2.

ويطلق البيع على الشراء أيضاً، والعرب تقول: بعت الشيء بمعنى اشتريته، فالبيع من أسماء الأضداد التي تطلق على الشيء وضده، مثل الشراء.

جاء في مختار الصحاح: "باع الشيء يبيعه بيعاً ومبيعاً شراه، وهو شاذ، وقياسه مباعاً، وباعه أيضاً اشتراه، فهو من الأضداد"3.

فلفظ البيع والشراء يطلق كل منهما على ما يطلق عليه الآخر، فهما من الألفاظ المشتركة بين المعاني المتضادة، فيطلق على كل من المتعاقدين أنه بائع ومشتر، يقال: بعت الشيء بمعنى بعته أي أخرجته عن ملكي وبمعنى اشتريته أي أدخلته في ملكي،

--------------------------------------------

1 الضدان: هما صفتان وجوديتان يتعاقبان في موضع واحد يستحيل اجتماعهما ويمكن ارتفاعهما كالسواد والبياض. راجع: التعريفات للجرجاني صفحة 18.

2 ابن منظور 1/556 - 558.

3 محمد بن أبي بكر الرازي صفحة 53.
ভূমিকা

প্রথম পরিচ্ছেদ: বিক্রয়ের পরিচয়

প্রথম অনুচ্ছেদ: আভিধানিক অর্থে বিক্রয়

আভিধানিক অর্থে বিক্রয় হলো: বিনিময়ের ভিত্তিতে এক বস্তুর বদলে অন্য বস্তুর আদান-প্রদান করা; অর্থাৎ এটি হচ্ছে মালের বিনিময়ে মালের আদান-প্রদান। আবার বলা হয়েছে: এটি হলো বিনিময়।

বিক্রয় (আল-বাই‘) শব্দটি ‘বা-আ’, ‘ইয়াবি-উ’, ‘বাই-আন’, ‘মাবি-আন’ ক্রিয়ামূল থেকে আগত একটি মাসদার বা ক্রিয়াবিশেষ্য। এটি ব্যাকরণগত নিয়মের বহির্ভূত (শায), যার নিয়মিত রূপ হওয়া উচিত ছিল ‘মুব-আন’। আর ‘আল-ইবতিয়া’ অর্থ হলো ক্রয় করা। এটি এবং ‘আশ-শিরা’ (ক্রয়) হলো পরস্পর বিপরীতার্থক শব্দ।১

লিসানুল আরব গ্রন্থে এসেছে: "বিক্রয় হলো ক্রয়ের বিপরীত। আবার বিক্রয় বলতে ক্রয়কেও বোঝায়; এটি এমন শব্দ যা তার বিপরীত অর্থও প্রকাশ করে। আমি বস্তুটি বিক্রি করেছি—এর ক্রিয়াবিশেষ্য হলো ‘বাই-আন’ ও ‘মাবি-আন’, যা ব্যাকরণগত নিয়মের বহির্ভূত, এর নিয়মিত রূপ হওয়া উচিত ছিল ‘মুব-আন’। আর ‘আল-ইবতিয়া’ অর্থ হলো ক্রয় করা … এবং সে বস্তুটি ‘আব-আ’ করেছে অর্থাৎ বিক্রয়ের জন্য পেশ করেছে … আর ‘আল-বাই-আনি’ অর্থ হলো বিক্রেতা ও ক্রেতা। ‘আল-বাই‘' হলো বিক্রিত বস্তুর নাম … আর ‘আল-বায়া-আত’ হলো ঐসব বস্তু যা দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে কেনাবেচা করা হয় … এবং বিক্রয় মানে হলো চুক্তি বা লেনদেন।"২

বিক্রয় শব্দটি ক্রয় করার অর্থেও ব্যবহৃত হয়। আরবরা বলে থাকে: ‘আমি বস্তুটি বিক্রি করেছি’ অর্থাৎ ‘আমি তা ক্রয় করেছি’। সুতরাং ‘বিক্রয়’ শব্দটি এমন বিপরীতার্থক শব্দগুলোর অন্তর্ভুক্ত যা কোনো বিষয় এবং তার বিপরীত—উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়, যেমন ‘ক্রয়’ শব্দটি।

মুখতারুস সিহাহ গ্রন্থে এসেছে: "সে বস্তুটি বিক্রি করেছে, এর ক্রিয়াবিশেষ্য হলো ‘বাই-আন’ ও ‘মাবি-আন’, যার অর্থ হলো সে সেটি ক্রয় করেছে। এটি নিয়ম বহির্ভূত, এর নিয়মিত রূপ হলো ‘মুব-আন’। সে সেটি বিক্রি করেছে আবার সে সেটি ক্রয় করেছে—উভয় অর্থই প্রকাশ পায়। ফলে এটি বিপরীতার্থক শব্দের অন্তর্ভুক্ত।"৩

সুতরাং বিক্রয় ও ক্রয় শব্দ দুটির প্রত্যেকটি অপরটির অর্থে ব্যবহৃত হয়। এ দুটি শব্দ এমন বহুঅর্থবোধক শব্দের অন্তর্ভুক্ত যা পরস্পর বিপরীত অর্থের মাঝে সাধারণ। তাই চুক্তিতে অংশগ্রহণকারী উভয়ের প্রত্যেককেই বিক্রেতা ও ক্রেতা বলা হয়। বলা হয়ে থাকে: ‘আমি বস্তুটি বিক্রি করেছি’—এর অর্থ হচ্ছে আমি সেটি বিক্রি করেছি অর্থাৎ আমার মালিকানা থেকে বের করে দিয়েছি; আবার এর অর্থ আমি সেটি ক্রয় করেছি অর্থাৎ আমার মালিকানায় প্রবেশ করিয়েছি।

--------------------------------------------

১ বিপরীতার্থক (যিদ্দান): এটি এমন দুটি অস্তিত্বশীল গুণ যা একই স্থানে পর্যায়ক্রমে আসে, যাদের একত্রে অবস্থান করা অসম্ভব কিন্তু উভয়ের অনুপস্থিতি সম্ভব; যেমন কালো ও সাদা। দেখুন: আল-জুরজানি প্রণীত আত-তারিফাত, পৃষ্ঠা ১৮।

২ ইবনে মঞ্জুর ১/৫৫৬ - ৫৫৮।

৩ মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আর-রাজি পৃষ্ঠা ৫৩।
(খণ্ড: ১) আল-বুয়ূউল মুহাররামাহ ওয়াল মানহিয়্যু আনহা (পৃষ্ঠা: ১৪)
ويقال: شريت الشيء بمعنى شريته وبعته، قال تعالى: {وَشَرَوْهُ بِثَمَنٍ بَخْسٍ} 1 أي باعوه، غير أنه إذا أطلق البائع فالمتبادر إلى الذهن باذل السلعة، وإذا أطلق المشتري فالمتبادر دافع الثمن.

جاء في المصباح المنير: "ويطلق على كل واحد من المتعاقدين أنه بائع، ولكن إذا أطلق البائع فالمتبادر إلى الذهن باذل السلعة، ويطلق البيع على المبيع"2.

والبيع مشتق من الباع، وذلك لأن كل واحد من المتعاقدين يمد باعه للأخذ والعطاء، ويحتمل أن كل واحد منهما كان يبايع صاحبه أي يصافحه عند البيع، فسمي البيع صفقة، وذلك لأن أحد المتعاقدين يصفق يده على يد صاحبه3.

وعلى هذا: فالمستقر عند علماء اللغة أن البيع يطلق على المبادلة، وأن لفظ البيع والشراء يطلق كل منهما على ما يطلق عليه الآخر، فهما من الألفاظ المشتركة بين المعاني المتضادة، وأن عرف الناس والفقهاء قائم على تخصيص البيع بجانب باذل السلعة، وتخصيص الشراء بجانب باذل الثمن، فالمبادلة للمال بالمال هي الأصل اللغوي للبيع.

--------------------------------------------

1 سورة يوسف: الآية 20.

2 أحمد محمد الفيومي 1/ 69.

3 البيوع الشائعة وأثر ضوابط المبيع على شرعيتها للدكتور/ محمد توفيق البوطي صفحة 22 – 23.
বলা হয়ে থাকে: আমি জিনিসটি ক্রয় করেছি—এই অর্থে যে আমি তা ক্রয় করেছি এবং বিক্রয় করেছি। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন: {আর তারা তাকে স্বল্প মূল্যে বিক্রয় করে দিল} ১ অর্থাৎ তারা তাকে বিক্রি করেছিল। তবে সাধারণভাবে যখন 'বিক্রেতা' শব্দটি বলা হয়, তখন সাধারণত পণ্য প্রদানকারীর কথাই মনে আসে, আর যখন 'ক্রেতা' শব্দটি বলা হয়, তখন মূল্য পরিশোধকারীর কথাই মনে আসে।

'আল-মিসবাহুল মুনীর'-এ উল্লেখ করা হয়েছে: "চুক্তি সম্পাদনকারী উভয়ের প্রত্যেককেই 'বিক্রেতা' বলা হয়, কিন্তু যখন সাধারণভাবে 'বিক্রেতা' শব্দটি বলা হয়, তখন সাধারণত পণ্য প্রদানকারীকেই বোঝানো হয়। আর বিক্রয় শব্দটি বিক্রিত বস্তুর (পণ্য) ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়"২।

আর 'বায়' (বিক্রয়) শব্দটি 'বা' (বাহুর প্রসারণ) থেকে উদ্ভূত, কারণ চুক্তি সম্পাদনকারী উভয়ের প্রত্যেকেই লেনদেনের জন্য নিজের বাহু প্রসারিত করে। এর আরেকটি সম্ভাবনা হলো, তাদের প্রত্যেকেই তার অপর পক্ষের সাথে লেনদেন (বায়) করার সময় মুসাফাহা (করমর্দন) করত, এ কারণে বিক্রয়কে 'সাফকাহ' (চুক্তি সম্পাদন) বলা হয়। কারণ চুক্তি সম্পাদনকারীদের একজন তার হাত অপরজনের হাতের উপর রাখত (বা চাপড় দিত)৩।

এর প্রেক্ষিতে: ভাষাবিদদের নিকট এটি সুনির্ধারিত যে, 'বায়' (বিক্রয়) শব্দটি বিনিময়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এবং 'বিক্রয়' ও 'ক্রয়' শব্দ দুটির প্রত্যেকটি অপরটির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হতে পারে। ফলে এগুলো এমন শব্দাবলির অন্তর্ভুক্ত যা বিপরীতধর্মী অর্থের মাঝে সাধারণ। তবে সাধারণ মানুষের রীতি এবং ফকিহদের পরিভাষা অনুযায়ী পণ্য প্রদানকারীর ক্ষেত্রে 'বিক্রয়' শব্দটিকে এবং মূল্য প্রদানকারীর ক্ষেত্রে 'ক্রয়' শব্দটিকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। সুতরাং মালের বিনিময়ে মাল বিনিময়ই হলো 'বায়' (বিক্রয়)-এর আভিধানিক মূল ভিত্তি।

--------------------------------------------

১ সূরা ইউসুফ: আয়াত ২০।

২ আহমদ মুহাম্মদ আল-ফায়য়ুমি ১/ ৬৯।

৩ ডক্টর মুহাম্মদ তাওফিক আল-বুতী রচিত 'আল-বুয়ূউল শাইআহ ওয়া আসারু দাওয়াবিতিল মাবি'আ আলা শারয়িয়্যাতিহা', পৃষ্ঠা ২২ – ২৩।
(খণ্ড: ১) আল-বুয়ূউল মুহাররামাহ ওয়াল মানহিয়্যু আনহা (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌المطلب الثاني: البيع اصطلاحاً

اختلفت عبارة الفقهاء بشأن تعريف البيع في الاصطلاح الفقهي، والثابت لديهم أنه مبادلة ما ل بمال على وجه مخصوص:

الحنفية: يرون أن البيع مبادلة مال بمال بشرط تراضي الطرفين. فقد جاء في شرح فتح القدير: "هو مبادلة المال بالمال بالتراضي بطريق الاكتساب"1.

المالكية: عرفوا البيع بأنه عقد معاوضة على غير منافع. جاء في مواهب الجليل: "دفع عوض في معوض"2. وفي الشرح الصغير: "عقد معاوضة على غير

--------------------------------------------

1 ابن الهمام 6/247.

2 الحطاب 4/222.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পরিভাষায় ক্রয়-বিক্রয়

ফিকহী পরিভাষায় ক্রয়-বিক্রয়ের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে ফকীহগণের অভিব্যক্তিতে ভিন্নতা রয়েছে, তবে তাদের নিকট এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, এটি হলো বিশেষ পদ্ধতিতে মালের বিনিময়ে মালের আদান-প্রদান:

হানাফীগণ: তারা মনে করেন যে, ক্রয়-বিক্রয় হলো উভয় পক্ষের সম্মতির শর্তে মালের বিনিময়ে মালের আদান-প্রদান। 'শারহু ফাতহুল কাদীর'-এ বর্ণিত হয়েছে: "এটি উপার্জনের পন্থায় পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে মালের বিনিময়ে মালের আদান-প্রদান" ১।

মালিকীগণ: তারা ক্রয়-বিক্রয়কে সংজ্ঞায়িত করেছেন যে, এটি উপযোগ বা সুবিধা ব্যতীত অন্য বিষয়ের ওপর একটি বিনিময় চুক্তি। 'মাওয়াহিবুল জলীল'-এ এসেছে: "বিনিমেয় বস্তুর পরিবর্তে বিনিময় প্রদান" ২। এবং 'আশ-শারহুস সাগীর'-এ রয়েছে: "বিনিময় চুক্তি যা... ব্যতীত"

--------------------------------------------

১ ইবনুল হুমাম ৬/২৪৭।

২ আল-হাত্বত্বাব ৪/২২২।
(খণ্ড: ১) আল-বুয়ূউল মুহাররামাহ ওয়াল মানহিয়্যু আনহা (পৃষ্ঠা: ১৫)
منافع"1.

الشافعية: يرون أن البيع هو عقد معاوضة مالية يؤدي إلى ملك عين أو منفعة مباحة على التأبيد.

جاء في حاشية قليوبي: " … عقد معاوضة مالية يفيد ملك عين أو منفعة على التأبيد لا على وجه التحريم"2.

الحنابلة: عرفوا البيع بأنه مبادلة مال بمال – أو منفعة مباحة على التأبيد في مقابل عوض مالي. جاء في كتاب الوجيز نقلاً عن الإنصاف: "تمليك عين مالية أو منفعة مباحة على التأبيد بعوض مالي … "3.

الموازنة: اختلفت عبارات الفقهاء في تعريف البيع، إلَاّ أن المعنى واحد، وهو مبادلة مال بمال عن طريق التراضي، ومع ذلك نجد اختلافاً في بيع المنافع، فالحنفية لا يعتبرون المنافع مالاً وعليه لا يصح بيعها، والمالكية وإن اعتبروا المنافع أموالاً إلَاّ أنهم لم يعتبروا تبادل المنفعة بيعاً، في حين أن الشافعية والحنابلة اعتبروا أن تبادل المنفعة بالمال بيعٌ إذا كان تمليك المنفعة على وجه التأبيد.

وأرى أن ما ذهب إليه الشافعية والحنابلة هو الصواب، والتعريف الراجح لدي هو الذي ذكره صاحب الوجيز من أنه: "تمليك عين مالية أو منفعة مباحة على التأبيد بعوض مالي".

--------------------------------------------

1 أحمد محمد الدردير 2/341 – 342.

2 2/152.

3 المرداوي 4/249.
উপযোগসমূহ ১।

শাফেয়ীগণ: তাঁরা মনে করেন যে, বিক্রয় হলো একটি আর্থিক বিনিময় চুক্তি যা স্থায়ীভাবে কোনো বস্তু বা বৈধ উপযোগের মালিকানা প্রদান করে।

হাশিয়াতু কলয়ুবী-তে এসেছে: " … আর্থিক বিনিময় চুক্তি যা স্থায়ীভাবে কোনো বস্তু বা উপযোগের মালিকানা প্রদান করে, যা নিষিদ্ধ পন্থায় নয়" ২।

হাম্বলীগণ: তাঁরা বিক্রয়ের সংজ্ঞা দিয়েছেন যে, তা হলো মালের বিনিময়ে মালের আদান-প্রদান—অথবা আর্থিক বিনিময়ের বিপরীতে স্থায়ীভাবে কোনো বৈধ উপযোগের বিনিময়। আল-ওয়াজিজ কিতাবে ইনসাফ-এর উদ্ধৃতি দিয়ে এসেছে: "আর্থিক বিনিময়ের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে কোনো আর্থিক বস্তু বা বৈধ উপযোগের মালিকানা প্রদান করা … " ৩।

তুলনামূলক পর্যালোচনা: বিক্রয়ের সংজ্ঞায় ফকীহগণের শব্দচয়নে ভিন্নতা থাকলেও এর মূল অর্থ এক, আর তা হলো পারস্পরিক সন্তুষ্টির ভিত্তিতে মালের বিনিময়ে মালের লেনদেন। তবে উপযোগ বা মুনাফা বিক্রয়ের ক্ষেত্রে আমরা মতভেদ দেখতে পাই। হানাফীগণ উপযোগকে 'মাল' হিসেবে গণ্য করেন না, ফলে তাঁদের মতে তা বিক্রয় করা সঠিক নয়। মালেকীগণ যদিও উপযোগকে 'মাল' হিসেবে গণ্য করেন, তবুও তাঁরা উপযোগের বিনিময়কে 'বিক্রয়' হিসেবে অভিহিত করেন না। পক্ষান্তরে শাফেয়ী ও হাম্বলীগণ অর্থের বিনিময়ে উপযোগের মালিকানা প্রদানকে 'বিক্রয়' হিসেবে গণ্য করেন, যদি তা স্থায়ীভাবে হয়ে থাকে।

আমি মনে করি যে, শাফেয়ী ও হাম্বলীগণ যে মত গ্রহণ করেছেন তা-ই সঠিক। আমার নিকট অগ্রগণ্য সংজ্ঞা হলো সেটি যা আল-ওয়াজিজ-এর লেখক উল্লেখ করেছেন, তা হলো: "আর্থিক বিনিময়ের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে কোনো আর্থিক বস্তু বা বৈধ উপযোগের মালিকানা প্রদান করা।"

--------------------------------------------

১ আহমদ মুহাম্মদ আদ-দারদীর ২/৩৪১ – ৩৪২।

২ ২/১৫২।

৩ আল-মারদাওয়ী ৪/২৪৯।
(খণ্ড: ১) আল-বুয়ূউল মুহাররামাহ ওয়াল মানহিয়্যু আনহা (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌المطلب الثالث: أركان البيع

اختلف الفقهاء في تحديد أركان البيع هل هي الصيغة الإيجاب والقبول أو مجموع الصيغة والعاقدين البائع والمشتري والمعقود عليه أو محل العقد المبيع والثمن.

مذهب الحنفية: اعتبروا ركن البيع هو الإيجاب والقبول فقط، فقد جاء في بدائع الصنائع: " … وأما ركن البيع فهو مبادلة شيء مرغوب فيه بشيء مرغوب فيه، وذلك قد يكون بالقول، وقد يكون بالفعل، أما القول فهو المسمى بالإيجاب والقبول
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ক্রয়-বিক্রয়ের রোকনসমূহ

ক্রয়-বিক্রয়ের রোকন বা মূল উপাদান নির্ধারণের ক্ষেত্রে ফকিহগণ ভিন্নমত পোষণ করেছেন; তা কি কেবল সিগাহ (চুক্তির শব্দাবলি) অর্থাৎ ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ), নাকি সিগাহ, চুক্তিবদ্ধ দুই পক্ষ (বিক্রেতা ও ক্রেতা) এবং যার ওপর চুক্তি সম্পাদিত হচ্ছে—এই সবকিছুর সমষ্টি, অথবা চুক্তির প্রয়োগস্থল তথা বিক্রিত পণ্য ও মূল্যের সমষ্টি।

হানাফি মাযহাব: তাঁরা কেবল ইজাব ও কবুলকেই ক্রয়-বিক্রয়ের রোকন হিসেবে গণ্য করেছেন। ‘বাদায়েউস সানায়ে’ গ্রন্থে এসেছে: " ... আর ক্রয়-বিক্রয়ের রোকন হলো একটি কাঙ্ক্ষিত বস্তুর বিনিময়ে অন্য একটি কাঙ্ক্ষিত বস্তুর বিনিময় করা। এটি কখনও কথার মাধ্যমে হতে পারে, আবার কখনও কাজের মাধ্যমে হতে পারে। কথার মাধ্যমটিই হলো ইজাব ও কবুল নামে পরিচিত।"
(খণ্ড: ১) আল-বুয়ূউল মুহাররামাহ ওয়াল মানহিয়্যু আনহা (পৃষ্ঠা: ১৬)
في عرف الفقهاء … "1.

مذهب المالكية: ذكروا أن أركان البيع عندهم خمسة هي: البائع، والمشتري، والمبيع، والثمن، والصيغة الإيجاب والقبول. جاء في الشرح الصغير: " … وركنه أي أركانه التي تتوقف عليها حقيقته ثلاثة، هي في الحقيقة خمسة: عاقد من بائع ومشتري ومعقود عليه من ثمن ومثمن والثالث صيغة أو ما يقوم مقامها مما يدل على الرضا، وإليه أشار بقوله: وما دل على الرضا في قول، أو إشارة، أو كتابة، من الجانبين أو أحدهما، بل وإن كان ما يدل عليه معاطاة من الجانبين ولو في غير المحقرات … "2.

مذهب الشافعية: عدوا أركان البيع ستة هي: البائع، والمشتري، والمبيع، والثمن، والإيجاب، والقبول. فقد جاء في مغني المحتاج: " … وأركانه كما في المجموع ثلاثة، وهي في الحقيقة ستة: عاقد وهو بائع ومشتري ومعقود عليه وهو ثمن ومثمن، وصيغة هي إيجاب وقبول … "3.

مذهب الحنابلة: ذكروا أن أركان البيع ثلاثة: عاقد ومعقود عليه ومعقود به، فمرادهم بالعاقد البائع والمشتري، وبالمعقود عليه المبيع والثمن، وبالمعقود به الصيغة وهي الإيجاب والقبول.

فقد جاء في شرح منتهى الإرادات: " … وأركان البيع ثلاثة: عاقد، ومعقود عليه، ومعقود به وهو الصيغة … "4.

الموازنة: بمراجعة ما ذكره الفقهاء نجد أنهم قد اختلفت عباراتهم في عد أركان البيع، إلَاّ أنهم رغم ذلك متفقون في الجملة في عد هذه الأركان، فالحنفية الذين قالوا إن ركن البيع هو الصيغة فالصيغة عندهم تقتضي إيجاباً وقبولاً، والإيجاب يقتضي بائعاً ومبيعاً، والقبول يقتضي مشترياً وثمناً، فالذي يتضح لنا أن أقوال الفقهاء تؤدي إلى أن أركان البيع هي: البائع والمشتري والمبيع والثمن والصيغة "الإيجاب والقبول".

--------------------------------------------

1 الكاساني 5/133.

2 أحمد محمد الدردير 2/342 – 343.

3 الشربيني 2/4.

4 البهوتي: 2/611.
ফকীহগণের পরিভাষায় … "১.

মালিকী মাযহাব: তারা উল্লেখ করেছেন যে তাদের নিকট বিক্রয়ের রোকন বা স্তম্ভ পাঁচটি, সেগুলো হলো: বিক্রেতা, ক্রেতা, বিক্রিত পণ্য, মূল্য এবং সিগা অর্থাৎ ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ)। শরহ আস-সাগীর গ্রন্থে এসেছে: " … আর এর রোকন অর্থাৎ এর সেই রোকনসমূহ যার ওপর এর হাকীকত বা বাস্তবতা নির্ভরশীল তা তিনটি, যা প্রকৃতপক্ষে পাঁচটি: চুক্তি সম্পাদনকারী তথা বিক্রেতা ও ক্রেতা; চুক্তিকৃত বস্তু তথা মূল্য ও বিক্রিত পণ্য; এবং তৃতীয়টি হলো সিগা বা এর স্থলাভিষিক্ত এমন কিছু যা সম্মতির প্রমাণ দেয়। আর এর প্রতি তিনি তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে ইঙ্গিত করেছেন: যা কিছু কথা, ইশারা বা লিপি হিসেবে উভয় পক্ষ থেকে বা যেকোনো এক পক্ষ থেকে সম্মতির প্রমাণ দেয়; এমনকি যদি তা উভয় পক্ষ থেকে আদান-প্রদান (মুয়াতাহ) এর মাধ্যমেও হয়, যদিও তা তুচ্ছ কোনো বস্তুর ক্ষেত্রে না হয় … "২.

শাফেয়ী মাযহাব: তারা বিক্রয়ের রোকন ছয়টি গণ্য করেছেন, সেগুলো হলো: বিক্রেতা, ক্রেতা, বিক্রিত পণ্য, মূল্য, ইজাব এবং কবুল। মুগনী আল-মুহতাজ গ্রন্থে এসেছে: " … আর এর রোকনসমূহ যেমনটি 'আল-মাজমু'-তে রয়েছে তিনটি, যা প্রকৃতপক্ষে ছয়টি: চুক্তি সম্পাদনকারী অর্থাৎ বিক্রেতা ও ক্রেতা; চুক্তিকৃত বস্তু অর্থাৎ মূল্য ও বিক্রিত পণ্য; এবং সিগা যা হলো ইজাব ও কবুল … "৩.

হাম্বলী মাযহাব: তারা উল্লেখ করেছেন যে বিক্রয়ের রোকন তিনটি: চুক্তি সম্পাদনকারী, চুক্তিকৃত বস্তু এবং যার মাধ্যমে চুক্তি হয়। তাদের নিকট চুক্তি সম্পাদনকারী বলতে বিক্রেতা ও ক্রেতা; চুক্তিকৃত বস্তু বলতে বিক্রিত পণ্য ও মূল্য; এবং যার মাধ্যমে চুক্তি হয় বলতে সিগা অর্থাৎ ইজাব ও কবুলকে বোঝানো হয়েছে।

শরহ মুনতাহাল ইরাদাত গ্রন্থে এসেছে: " … আর বিক্রয়ের রোকন তিনটি: চুক্তি সম্পাদনকারী, চুক্তিকৃত বস্তু এবং যার মাধ্যমে চুক্তি হয় তথা সিগা … "৪.

পর্যালোচনা: ফকীহগণ যা উল্লেখ করেছেন তা পর্যালোচনার মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই যে, বিক্রয়ের রোকন গণনার ক্ষেত্রে তাদের বর্ণনাভঙ্গি ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে; তবে তা সত্ত্বেও তারা সামগ্রিকভাবে এই রোকনগুলো গণনার ক্ষেত্রে একমত। হানাফীগণ যারা বলেছেন যে বিক্রয়ের রোকন হলো সিগা, তাদের নিকট এই সিগা ইজাব ও কবুলকে অপরিহার্য করে, আর ইজাব বিক্রেতা ও বিক্রিত পণ্যকে দাবি করে এবং কবুল ক্রেতা ও মূল্যকে দাবি করে। সুতরাং আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয় যে, ফকীহগণের বক্তব্য এই ফলাফলেই উপনীত করে যে বিক্রয়ের রোকনসমূহ হলো: বিক্রেতা, ক্রেতা, বিক্রিত পণ্য, মূল্য এবং সিগা (ইজাব ও কবুল)।

--------------------------------------------

১. আল-কাসানী ৫/১৩৩।

২. আহমদ মুহাম্মদ আদ-দারদীর ২/৩৪২ – ৩৪৩।

৩. আশ-শিরবীনী ২/৪।

৪. আল-বাহুতী ২/৬১১।
(খণ্ড: ১) আল-বুয়ূউল মুহাররামাহ ওয়াল মানহিয়্যু আনহা (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌المطلب الرابع: شروط المعقود عليه "المبيع"

بما أن موضوع بحثنا هو بيع الأعيان المحرمة، وكما هو معلوم فإنه لا بد من توافر شروط معينة في كل ركن من أركان البيع، فسوف أذكر باختصار شروط المبيع عند الفقهاء، لأن المعقود عليه هو محل العقد وهو موضوع دراستنا.

الحنفية: يرون أنه يشترط في المعقود عليه عدة شروط، منها: كونه موجوداً حين العقد، وعلى هذا فلا يصح بيع المعدوم مثل بيع المضامين والملاقيح، ومنها: كونه مالاً، وقالوا إن المال هو ما يميل إليه الطبع، ويجري فيه البذل، فما ليس بمال ليس محلاً للبيع، وسبب اشتراطهم هذا الشرط لانعقاد البيع أنهم يعتبرون البيع مبادلة مال بمال، ومنها: كونه مملوكاً للعاقد ملكاً تاماً، أو مأذوناً في بيعه، فلا ينعقد البيع لما ليس بمملوك، ومنها: كون المبيع مقدوراً على تسليمه للمشتري، فلا ينعقد البيع إلَاّ إذا كان المبيع مقدور التسليم، وعلى هذا فلا ينعقد بيع الجمل الشارد ونحو ذلك، لما في هذا من الغرر المؤثر في العقد.

فقد جاء في بدائع الصنائع: "وأما الذي يرجع إلى المعقود عليه فأنواع: منها: أن يكون موجوداً، فلا ينعقد بيع المعدوم … ومنها: أن يكون مالاً، لأن البيع مبادلة المال بالمال … ومنها: أن يكون مملوكاً، لأن البيع تمليك فلا ينعقد فيما ليس بمملوك … ومنها: أن يكون مقدور التسليم … "1.

المالكية: اشترطوا في المعقود عليه عدة شروط بحيث لا يصح العقد عند الإخلال بأحد هذه الشروط، سواء فيما يتعلق بالمبيع أم بالثمن، ومن هذه الشروط: كون المعقود عليه ثمناً، أو مثمناً طاهراً، فلا يصح بيع نجس العين كالميتة والدم والخنْزير، ولا المتنجس الذي لا يمكن تطهيره، ومنها: كونه مباحاً منتفعاً به انتفاعاً شرعياً، فلا يصح بيع غير المباح ولو مكروهاً، ولا بيع الحشرات لعدم الانتفاع بها، ومنها: كونه مقدوراً على تسليمه، فلا يصح بيع الآبق لعدم إمكان تسليمه، وكذا الطير في الهواء

--------------------------------------------

1 الكاساني 5/138، 140، 146، 147.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: চুক্তিকৃত বস্তুর (বিক্রিত পণ্য) শর্তাবলী

যেহেতু আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু হলো নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ বিক্রয়, এবং যেমনটি জানা আছে যে, বিক্রয়ের প্রতিটি রুকন বা স্তম্ভের জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত থাকা আবশ্যক, তাই আমি ফকীহদের নিকট বিক্রিত পণ্যের শর্তাবলী সংক্ষেপে উল্লেখ করব। কারণ চুক্তিকৃত বস্তুটিই হলো চুক্তির মূল কেন্দ্র এবং আমাদের আলোচনার মূল বিষয়।

হানাফী মাযহাব: তারা মনে করেন যে, চুক্তিকৃত বস্তুর মধ্যে বেশ কয়েকটি শর্ত থাকা আবশ্যক, যার মধ্যে রয়েছে: চুক্তির সময় তা বিদ্যমান থাকা। এর ভিত্তিতে অবিদ্যমান বস্তুর বিক্রয় সহীহ নয়, যেমন গর্ভস্থ সন্তান বা পুরুষ পশুর বীর্য বিক্রয়। শর্তাবলীর মধ্যে আরও রয়েছে: সেটি 'মাল' (সম্পদ) হওয়া। তারা বলেছেন যে, সম্পদ হলো এমন বস্তু যার প্রতি মানুষের স্বভাব আকৃষ্ট হয় এবং যা বিনিময়ের কাজে ব্যবহৃত হয়। যা সম্পদ নয়, তা বিক্রয়ের বিষয়বস্তু হতে পারে না। বিক্রয় সংঘটিত হওয়ার জন্য তারা এই শর্তটি আরোপ করার কারণ হলো, তারা বিক্রয়কে সম্পদের বিনিময়ে সম্পদ বিনিময় হিসেবে গণ্য করেন। শর্তাবলীর মধ্যে আরও রয়েছে: সেটি চুক্তিকারীর পূর্ণ মালিকানাধীন হওয়া অথবা তা বিক্রয়ের জন্য অনুমোদিত হওয়া। সুতরাং যা মালিকানাধীন নয়, তার বিক্রয় সংঘটিত হয় না। শর্তাবলীর মধ্যে আরও রয়েছে: ক্রেতার নিকট বিক্রিত পণ্যটি হস্তান্তরে সক্ষম হওয়া। সুতরাং পণ্যটি হস্তান্তরে সক্ষম না হলে বিক্রয় সংঘটিত হবে না। এর ভিত্তিতে পলাতক উট বা অনুরূপ কিছু বিক্রয় করা সহীহ হবে না; কারণ এতে এমন 'গারার' বা অনিশ্চয়তা রয়েছে যা চুক্তির বৈধতাকে নষ্ট করে।

বাদায়েউস সানায়ে গ্রন্থে এসেছে: "আর যা চুক্তিকৃত বস্তুর সাথে সংশ্লিষ্ট, তা কয়েক প্রকার: তার মধ্যে রয়েছে: সেটি বিদ্যমান থাকা, তাই অবিদ্যমান বস্তুর বিক্রয় সংঘটিত হবে না … এবং তার মধ্যে রয়েছে: সেটি সম্পদ হওয়া, কারণ বিক্রয় হলো সম্পদের বিনিময়ে সম্পদ … এবং তার মধ্যে রয়েছে: সেটি মালিকানাধীন হওয়া, কারণ বিক্রয় হলো মালিকানা প্রদান করা, তাই যা মালিকানাধীন নয় তাতে বিক্রয় সংঘটিত হবে না … এবং তার মধ্যে রয়েছে: সেটি হস্তান্তরে সক্ষম হওয়া … "১।

মালিকী মাযহাব: তারা চুক্তিকৃত বস্তুর ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছেন, যাতে এই শর্তগুলোর কোনো একটির ব্যত্যয় ঘটলে চুক্তি সহীহ হবে না, চাই তা বিক্রিত পণ্যের ক্ষেত্রে হোক বা মূল্যের ক্ষেত্রে। এই শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে: চুক্তিকৃত বস্তুটি (মূল্য বা পণ্য) পবিত্র হওয়া। সুতরাং সত্তাগতভাবে অপবিত্র (নাজিসুল আইন) বস্তু যেমন মৃতদেহ, রক্ত ও শূকর বিক্রয় সহীহ নয়; তেমনি এমন অপবিত্র বস্তুও বিক্রয় সহীহ নয় যা পবিত্র করা সম্ভব নয়। শর্তাবলীর মধ্যে আরও রয়েছে: সেটি বৈধ হওয়া এবং শরীয়তসম্মত উপায়ে তা থেকে উপকৃত হওয়া সম্ভব হওয়া। সুতরাং যা বৈধ নয় তা বিক্রয় সহীহ নয়, এমনকি তা মাকরূহ হলেও; এবং পতঙ্গ বা পোকামাকড় বিক্রয়ও সহীহ নয় কারণ তা থেকে কোনো উপকার লাভ করা যায় না। শর্তাবলীর মধ্যে আরও রয়েছে: সেটি হস্তান্তরে সক্ষম হওয়া। সুতরাং পলাতক দাসের বিক্রয় সহীহ নয় কারণ তাকে হস্তান্তর করা অসম্ভব, তেমনি আকাশে উড়ন্ত পাখির বিক্রয়ও সহীহ নয়।

--------------------------------------------

১. আল-কাসানী ৫/১৩৮, ১৪০, ১৪৬, ১৪৭।
(খণ্ড: ১) আল-বুয়ূউল মুহাররামাহ ওয়াল মানহিয়্যু আনহা (পৃষ্ঠা: ১৮)
والسمك في الماء ونحو ذلك، ومنها: كون المعقود عليه غير منهي عنه، فلا يصح بيع ما نهي عنه كبيع المزابنة1 ونحوه، وقد عبروا عن هذا الشرط بكونه غير محرم البيع، حتى ولو كان التحريم يتعلق ببعض المعقود عليه فقط، ومنها: كون المعقود عليه غير مجهول لكل من المتعاقدين، وذلك لأن الجهالة مبناها الغرر وهذا من الأمور النافية لصحة التعاقد، فلا يصح بيع المجهول سواء كان مجهول الذات أم الجنس أم الصفة أم القدر أم الأجل ونحو ذلك، حتى يحصل العلم بكل ما يميز المبيع عن غيره.

فقد جاء في الشرح الكبير: "وشرط للمعقود عليه أي شرط لصحة بيع المعقود عليه ثمناً أو مثمناً طهارة وانتفاع به وإباحة وقدرة على تسليمه وعدم نهي وجهل به … وشرط له عدم نهي من الشارع عن بيعه وشرط له قدرة عليه أي على تسليمه وتسلمه … وشرط للمعقود عليه "عدم حرمة" لبيعه … أو لبعضه … وشرط عدم جهل منهما أو من أحدهما بمثمون … أو ثمن … ولو تفصيلاً … "2.

الشافعية: يشترطون في المبيع طهارة عينه، فلا يصح بيع النجس عندهم كالخمر والخنْزير والميتة والدم ونحو ذلك، وكونه منتفعاً به فلا يصح بيع ما لا ينتفع به كالحشرات ونحوها، ومن شروط المبيع عندهم كونه مقدوراً على تسليمه فبيع الشارد والناد والطير في الهواء والسمك في الماء غير صحيح لفقدان هذا الشرط، ومنها: كون المبيع مملوكاً لمن له العقد، فلا يصح بيع مال الغير إلَاّ إذا أجازه مالكه، ويشترط على كل من المتبايعين العلم بالمبيع، وعليه لا يصح بيع المجهول لهما لأنه يؤدي للمنازعة بسبب ما يشوبه من غرر، وقد اختلف الشافعية بشأن صحة بيع الغائب، فالأظهر في المذهب أنه لا يصح، والثاني يقول بصحته مع إثبات الخيار عند الرؤية.

فقد جاء في مغني المحتاج: "وللمبيع شروط: طهارة عينه … النفع … إمكان

--------------------------------------------

1 المزابنة: بضم الميم، مفاعلة من الزبن وهو الدفع الشديد، ومنه الزبانية ملائكة النار، لأنهم يزبنون الكفرة فيها أي يدفعونهم.

واصطلاحا: بيع شيء رطب بيابس من جنسه تقديرا. راجع: المصباح المنير للفيومي صفحة 251، معجم المصطلحات والألفاظ الفقهية للدكتور محمود عبد الرحمن عبد المنعم 3/265-266.

2 الدردير 3/10 –15.
এবং পানিতে থাকা মাছ ইত্যাদি। এর মধ্যে আরও রয়েছে: চুক্তিকৃত বস্তুটির উপর কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকা। সুতরাং যা নিষিদ্ধ করা হয়েছে তার বিক্রয় বৈধ হবে না, যেমন মুজাবানাহ১ এবং এর অনুরূপ। তারা এই শর্তটি এভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, এর বিক্রয় হারাম হবে না, এমনকি যদি হারাম কেবল চুক্তিকৃত বস্তুর অংশবিশেষের সাথেই সংশ্লিষ্ট হয়। এর মধ্যে আরও রয়েছে: চুক্তিকৃত বস্তুটি উভয় চুক্তিকারীর কাছে অজ্ঞাত না হওয়া। কারণ অজ্ঞতার ভিত্তি হচ্ছে ধোঁকা (গারা) এবং এটি চুক্তির বৈধতা নষ্টকারী বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং অজ্ঞাত বস্তুর বিক্রয় বৈধ নয়, তা সত্তা, ধরণ, গুণাগুণ, পরিমাণ বা সময়—যেকোনো দিক থেকেই অজ্ঞাত হোক না কেন, যতক্ষণ না এমন জ্ঞান অর্জিত হয় যা বিক্রয়কৃত বস্তুকে অন্য বস্তু থেকে পৃথক করে দেয়।

আশ-শারহুল কাবীর-এ এসেছে: "চুক্তিকৃত বস্তুর জন্য শর্ত—অর্থাৎ চুক্তিকৃত বস্তুটির বিক্রয় বৈধ হওয়ার জন্য শর্ত, তা মূল্য হোক বা পণ্য—তা পবিত্র হতে হবে, তা দ্বারা উপকৃত হওয়া সম্ভব হতে হবে, তা বৈধ হতে হবে, তা হস্তান্তর করার সক্ষমতা থাকতে হবে এবং তা সম্পর্কে কোনো নিষেধাজ্ঞা বা অজ্ঞতা থাকা চলবে না … এবং তার জন্য শর্ত হলো এর বিক্রয়ের ব্যাপারে শরীয়ত কর্তৃক কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকা এবং তার ওপর সক্ষমতা অর্থাৎ হস্তান্তর করা ও গ্রহণ করার সক্ষমতা থাকা … এবং চুক্তিকৃত বস্তুর বিক্রয়ের জন্য 'হারাম না হওয়া' শর্ত করা হয়েছে … অথবা তার কিছু অংশের ক্ষেত্রেও … এবং শর্ত হলো তাদের উভয়ের অথবা তাদের একজনের পক্ষ থেকে পণ্য … বা মূল্য সম্পর্কে অজ্ঞতা না থাকা … যদিও তা বিস্তারিতভাবে হোক না কেন … "২।

শাফেয়ীগণ: তারা বিক্রিত পণ্যের ক্ষেত্রে তার সত্তাগত পবিত্রতাকে শর্ত করেন। সুতরাং তাদের নিকট নাপাক বস্তুর বিক্রয় বৈধ নয় যেমন মদ, শূকর, মৃত প্রাণী, রক্ত এবং এই জাতীয় বস্তু। বস্তুটিকে ব্যবহারযোগ্য হতে হবে, তাই যা থেকে কোনো উপকার পাওয়া যায় না তার বিক্রয় বৈধ নয়, যেমন পোকামাকড় ইত্যাদি। তাদের নিকট বিক্রিত পণ্যের অন্যতম শর্ত হলো তা হস্তান্তরের সক্ষমতা থাকা। সুতরাং পলাতক পশু, হারিয়ে যাওয়া উট, আকাশের পাখি এবং পানির মাছের বিক্রয় এই শর্তের অনুপস্থিতির কারণে বৈধ নয়। এর মধ্যে আরও রয়েছে: বিক্রিত বস্তুটি যার সাথে চুক্তি করা হচ্ছে তার মালিকানাধীন হওয়া। সুতরাং মালিকের অনুমতি ব্যতীত অন্যের সম্পদ বিক্রয় করা বৈধ হবে না। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের পণ্য সম্পর্কে জ্ঞান থাকাও শর্ত। ফলে উভয়ের কাছে অজ্ঞাত কোনো বস্তুর বিক্রয় বৈধ হবে না, কারণ এর মধ্যে বিদ্যমান ধোঁকার কারণে তা বিবাদের দিকে নিয়ে যায়। অনুপস্থিত বস্তুর (গায়েব) বিক্রয়ের বৈধতার ব্যাপারে শাফেয়ীগণ মতভেদ করেছেন; মাযহাবের অধিকতর স্পষ্ট মতানুসারে তা বৈধ নয়, আর দ্বিতীয় মতানুসারে দেখার সময় ইখতিয়ার (নির্বাচনের অধিকার) বহাল থাকার শর্তে তা বৈধ।

মুগনী আল-মুহতাজ-এ এসেছে: "বিক্রিত বস্তুর জন্য শর্তসমূহ হলো: এর সত্তাগত পবিত্রতা … উপকারিতা … সম্ভাবনা

--------------------------------------------

১ মুজাবানাহ: মীম অক্ষরে পেশ সহকারে, এটি মুফাআলাহ বাব থেকে এসেছে যার মূল শব্দ 'যাব্‌ন' অর্থাৎ সজোরে ধাক্কা দেওয়া। জাহান্নামের ফেরেশতাদের এই কারণে 'যাবানিয়াহ' বলা হয়, কারণ তারা কাফেরদের জাহান্নামে ঠেলে দেন।

আর পারিভাষিক অর্থে: আনুমানিকভাবে শুকনো জিনিসের বিনিময়ে একই জাতীয় তাজা বা আর্দ্র জিনিস বিক্রয় করা। দেখুন: আল-ফাইয়ুমী রচিত আল-মিসবাহুল মুনীর, পৃষ্ঠা ২৫১; ডক্টর মাহমুদ আবদুর রহমান আব্দুল মুনইম রচিত মু'জামুল মুসতালাহাত ওয়াল আলফাযিল ফিকহিয়্যাহ, ৩/২৬৫-২৬৬।

২ আদ-দারদীর ৩/১০ –১৫।
(খণ্ড: ১) আল-বুয়ূউল মুহাররামাহ ওয়াল মানহিয়্যু আনহা (পৃষ্ঠা: ১৯)
تسليمه … المِلكُ لمن له العقد … العلم به … والأظهر أنه لا يصح بيع الغائب، والثاني يصح ويثبت الخيار عند الرؤية"1.

الحنابلة: اشترطوا في المعقود عليه سواء كان مبيعاً أم ثمناً عدة شروط: منها: كونه مالاً، وذلك لأن كلاً منهما في مقابلة المال فعنصر المالية يشترط في كل من المبيع والثمن لاعتبار العقد صحيحاً شرعاً، ومنها: كون المبيع مملوكاً للبائع، فلا يصح بيع غير المملوك للعاقد حين العقد، ومنها: كون المبيع وكذا الثمن مقدوراً على تسليمه حال العقد، وذلك لأن غير المقدور على تسليمه شبيه المعدوم، والمقرر لديهم أن بيع المعدوم غير صحيح، فكان بيع غير المقدور على تسليمه غير صحيح لذات السبب، ومنها: كون المبيع معلوماًُ للمتعاقدين، فلا يصح بيع المجهول، لأن الجهالة تفضي إلى المنازعة بين المتعاقدين بسبب ما تحمله من غرر مؤثر في العقد.

فقد جاء في كشاف القناع: "أن يكون المبيع والثمن مالاً، لأنه مقابل بالمال … أن يكون المبيع مملوكاً لبائعه … أن يكون المبيع ومثله الثمن مقدوراًُ على تسليمه حال العقد، لأن ما لا يقدر على تسليمه شبيه بالمعدوم، والمعدوم لا يصح بيعه، فكذا ما أشبهه … أن يكون المبيع معلوماً لهما … "2.

الموازنة: بعد مراجعة أقوال الفقهاء ونصوص كتبهم في تحديد شروط المعقود عليه نجد أنهم قد اتفقوا في تحديد بعض الشروط والنص عليها، كما وجدنا أن بعضهم قد انفرد بذكر شروط لم يتعرض لذكرها أو النص عليها غيرهم.

أولاً: الشروط التي اتفق عليهما جميع الفقهاء:

1- أن يكون المعقود عليه مالاً

2- أن يكون مملوكاً للعاقد أو لموكله أو لمن هو تحت ولايته.

3- أن يكون مقدوراً على تسليمه.

--------------------------------------------

1 الشربيني 2/15 – 26.

2 البهوتي 4/1382، 1388، 1392، 1393.
তার অর্পণ … যার জন্য চুক্তির অধিকার রয়েছে তার মালিকানা … সে সম্পর্কে জ্ঞান … এবং অধিকতর প্রকাশ্য মত এই যে, অনুপস্থিত জিনিসের বিক্রয় সহিহ নয়; দ্বিতীয় মত অনুযায়ী তা সহিহ এবং দেখার সময় তা গ্রহণ বা বর্জনের ইখতিয়ার সাব্যস্ত হবে।"১.

হাম্বলিগণ: তারা চুক্তিবদ্ধ বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে—তা পণ্য হোক বা মূল্য—বেশ কিছু শর্তারোপ করেছেন। তার মধ্যে রয়েছে: সেটি 'মাল' বা সম্পদ হতে হবে; কারণ এ দুটির প্রতিটিই মালের বিনিময়ে হয়ে থাকে। তাই শরিয়তসম্মতভাবে চুক্তিটি সহিহ হওয়ার জন্য পণ্য এবং মূল্য উভয়ের মধ্যেই মাল হওয়ার বৈশিষ্ট্য থাকা শর্ত। আর তার মধ্যে রয়েছে: বিক্রয়যোগ্য পণ্যটি বিক্রেতার মালিকানাধীন হওয়া; সুতরাং চুক্তির সময় চুক্তিকারীর মালিকানায় নেই এমন কিছুর বিক্রয় সহিহ হবে না। আর তার মধ্যে রয়েছে: পণ্য এবং অনুরূপভাবে মূল্য চুক্তির সময় হস্তান্তরের সক্ষমতা থাকা; কারণ যা হস্তান্তরের সক্ষমতা নেই তা অবিদ্যমান বস্তুর সদৃশ। আর তাদের নিকট স্বীকৃত নীতি হলো, অবিদ্যমান বস্তুর বিক্রয় সহিহ নয়; সুতরাং হস্তান্তরে অক্ষম বস্তুর বিক্রয়ও একই কারণে সহিহ হবে না। আর তার মধ্যে রয়েছে: পণ্যটি উভয় চুক্তিকারীর নিকট পরিচিত হওয়া; সুতরাং অজ্ঞাত কোনো কিছুর বিক্রয় সহিহ নয়। কারণ অজ্ঞতা (জাহালাত) চুক্তিকারীদের মধ্যে বিবাদের দিকে নিয়ে যায়, যেহেতু তাতে এমন অনিশ্চয়তা (গারার) বিদ্যমান থাকে যা চুক্তির ওপর প্রভাব ফেলে।

কাশশাফুল কিনা' গ্রন্থে এসেছে: "পণ্য এবং মূল্য যেন মাল হয়, কারণ এটি মালের বিনিময়ে … পণ্যটি যেন তার বিক্রেতার মালিকানাধীন হয় … পণ্য এবং অনুরূপভাবে মূল্য যেন চুক্তির সময় হস্তান্তরের সক্ষমতা রাখে; কারণ যা হস্তান্তরের সক্ষমতা নেই তা অবিদ্যমান বস্তুর সদৃশ, আর অবিদ্যমান বস্তুর বিক্রয় সহিহ নয়, সুতরাং যা এর সদৃশ তার হুকুমও তদ্রূপ … পণ্য যেন তাদের উভয়ের নিকট পরিচিত হয় … "২.

পর্যালোচনা: চুক্তিবদ্ধ বিষয়বস্তুর শর্তাবলি নির্ধারণের ক্ষেত্রে ফকিহগণের অভিমত এবং তাদের কিতাবসমূহের ভাষ্যসমূহ পর্যালোচনার পর আমরা দেখতে পাই যে, তারা কিছু শর্ত নির্ধারণ ও তা উল্লেখ করার ক্ষেত্রে একমত হয়েছেন। আবার আমরা এটাও দেখতে পাই যে, তাদের কেউ কেউ এমন কিছু স্বতন্ত্র শর্ত উল্লেখ করেছেন যা অন্যেরা বর্ণনা করেননি বা সে বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য দেননি।

প্রথমত: যে শর্তাবলির ওপর সকল ফকিহ একমত হয়েছেন:

১- চুক্তিবদ্ধ বিষয়বস্তু যেন 'মাল' বা সম্পদ হয়

২- সেটি যেন চুক্তিকারী বা তার প্রতিনিধি অথবা যার ওপর তার অভিভাবকত্ব রয়েছে তার মালিকানাধীন হয়।

৩- সেটি হস্তান্তরের সক্ষমতা থাকতে হবে।

--------------------------------------------

১ আশ-শিরবিনী ২/১৫-২৬।

২ আল-বাহুতি ৪/১৩৮২, ১৩৮৮, ১৩৯২, ১৩৯৩।
(খণ্ড: ১) আল-বুয়ূউল মুহাররামাহ ওয়াল মানহিয়্যু আনহা (পৃষ্ঠা: ২০)
4- أن يكون المبيع موجوداً حين العقد، فلا يصح بيع المعدوم وقت البيع إلَاّ في السلم.

5- أن يكون معلوماً لكل من العاقدين فلا يصح بيع المجهول، والعلم يحصل بكل ما يميز المبيع من غيره ويمنع المنازعة.

ثانياً: الشروط التي أوردها بعض الفقهاء:

1- نص كل من المالكية والشافعية على شرط الطهارة في المبيع في حين أن الحنفية والحنابلة لم ينصوا على هذا الشرط.

فالحنفية لا يشترطون الطهارة في المبيع، فيصح بيع النجس عندهم، أما الحنابلة وإن لم ينصوا على شرط طهارة المبيع فإنه لا يصح بيع النجس عندهم1، وزاد المالكية أن يكون المبيع منتفعاً به انتفاعاً شرعياً، فلا يصح عندهم بيع الحشرات لعدم الانتفاع بها، وانفردوا بذكر شرطين آخرين هما:

أـ أن لا يكون المبيع منهياً عن بيعه كبيع الكلب، أو منهياً عن بعضه إذا علم المتبايعان أو أحدهما بالنهي عن بيع البعض لا إن لم يعلما بذلك وهذا يفيد أنه لا يجوز بيع غير المباح حتى ولو كان مكروهاً فقط.

ب ـ أن لا يكون المبيع محرماً بيعه، وذكر الدردير2 أن هذا الشرط مستغنىً عنه بالشرط السابق، وهو عدم النهي، وسبب ورود ذكره هو ليرتب عليه قوله أو لبعضه.

--------------------------------------------

1 وسوف يأتي تفصيل هذا في فصل بيع النجاسات من هذا البحث.

2 الشرح الكبير 3/15.

والدردير: هو أبو البركات أحمد بن محمد العدوي الأزهري الشهير بالدردير، ولد رحمه الله عام 1127? في بني عدي بمصر وتعلم بالأزهر، من مصنفاته أقرب المسالك وشرحه، ونظم الخريدة السنية في التوحيد توفي رحمه الله تعالى بالقاهرة سنة 1201?. راجع: شجرة النور الزكية لمحمد مخلوف صفحة 359، الأعلام للزركلي 1/244.
৪- চুক্তি সম্পাদনের সময় বিক্রিত পণ্যটি বিদ্যমান থাকা; সুতরাং বিক্রির সময় যা বিদ্যমান নেই তা বিক্রি করা বৈধ নয়, কেবল ‘সালাম’ (অগ্রিম ক্রয়) চুক্তি ব্যতীত।

৫- চুক্তি সম্পাদনকারী উভয়ের নিকট পণ্যটি পরিচিত বা জ্ঞাত হওয়া; সুতরাং অজ্ঞাত কোনো কিছুর বিক্রি বৈধ নয়। আর পণ্য সম্পর্কে জ্ঞান অর্জিত হয় এমন সবকিছুর দ্বারা যা পণ্যটিকে অন্য বস্তু থেকে পৃথক করে এবং বিবাদ প্রতিরোধ করে।

দ্বিতীয়ত: শর্তাবলি যা কিছু ফকিহগণ উল্লেখ করেছেন:

১- মালিকি এবং শাফেয়ি উভয় মাজহাবই বিক্রিত পণ্য পবিত্র হওয়ার শর্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যেখানে হানাফি এবং হাম্বলিগণ এই শর্তটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি।

হানাফিগণ বিক্রিত পণ্যে পবিত্রতা শর্ত করেন না, তাই তাদের নিকট অপবিত্র বস্তু বিক্রি করা বৈধ। আর হাম্বলিগণ যদিও বিক্রিত পণ্য পবিত্র হওয়ার শর্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি, তথাপি তাদের নিকট অপবিত্র বস্তু বিক্রি করা বৈধ নয় ১, আর মালিকিগণ অতিরিক্ত এই শর্তারোপ করেছেন যে, পণ্যটি শরিয়তসম্মতভাবে ব্যবহারোপযোগী হতে হবে; ফলে তাদের নিকট পোকামাকড় বিক্রি করা বৈধ নয়, যেহেতু তা থেকে কোনো উপকার পাওয়া যায় না। তারা আরও দুটি শর্ত উল্লেখ করার ক্ষেত্রে একক বৈশিষ্ট্য ধারণ করেছেন, সেগুলো হলো:

ক- বিক্রিত বস্তুটি এমন হবে না যার বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যেমন কুকুর বিক্রি; অথবা যার অংশবিশেষ নিষিদ্ধ করা হয়েছে—যদি ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই বা তাদের কোনো একজন উক্ত অংশ বিক্রির নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে অবগত থাকে। কিন্তু যদি তারা তা না জানে তবে এই বিধান কার্যকর হবে না। এটি একথাই প্রমাণ করে যে, যা মুবাহ (বৈধ) নয় তা বিক্রি করা জায়েজ নেই, এমনকি যদি তা কেবল মাকরূহও হয়।

খ- বিক্রিত বস্তুটি এমন হবে না যার বিক্রি হারাম। আর আদ-দারদির ২ উল্লেখ করেছেন যে, পূর্ববর্তী শর্ত—অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞা না থাকা—দ্বারা এই শর্তটির প্রয়োজনীয়তা পূরণ হয়ে যায়। আর এটি উল্লেখ করার কারণ হলো, এর ওপর ভিত্তি করে তাঁর এই বক্তব্য স্থাপন করা: ‘অথবা তার অংশবিশেষের জন্য’।

--------------------------------------------

১. এই গবেষণার অপবিত্র বস্তুসমূহ বিক্রি নামক অধ্যায়ে এর বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে।

২. আশ-শারহুল কবির ৩/১৫।

আর আদ-দারদির: তিনি হলেন আবুল বারাকাত আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-আদাবি আল-আজহারি, যিনি আদ-দারদির নামে প্রসিদ্ধ। তিনি রহমাতুল্লাহি আলাইহি ১১২৭ হিজরিতে মিশরের বানি আদিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং আল-আজহারে শিক্ষা লাভ করেন। তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে ‘আকরাবুল মাসালিক’ ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং তাওহিদ বিষয়ে ‘নাজমুল খারিদাতুস সানিয়্যাহ’। তিনি রহমাতুল্লাহি আলাইহি ১২০১ হিজরিতে কায়রোতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: মুহাম্মদ মাখলুফ রচিত শাজারাতুন নুরিজ জাকিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৩৫৯; আল-আলাম লিয-যিরিকলি ১/২৪৪।
(খণ্ড: ১) আল-বুয়ূউল মুহাররামাহ ওয়াল মানহিয়্যু আনহা (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌المبحث الثاني: مشروعية البيع وحكمه

ثبتت مشروعية البيع بالكتاب والسنة والإجماع

أما الكتاب: فقوله تعالى: {وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبا} 1، وقوله: {وَأَشْهِدُوا إِذَا تَبَايَعْتُمْ} 2

وقوله: {إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ} 3، وقوله سبحانه: {لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَبْتَغُوا فَضْلاً مِنْ رَبِّكُمْ} 4.

فهذه الآيات الكريمة تقرر حل البيع وإباحته للناس، كأسلوب لتبادل المنافع مما لا غنى للإنسان عنه، وفي هذا التوسعة وتحقيق التكامل بين العباد، فالتبايع والتجارة عن رضا، ومن خلال ما شرعه الله سبحانه محل عناية الشرع حلاً وإباحة وحثاً للناس على صونها بالأطر التي حددتها الشريعة الإسلامية الغراء.

أما السنة: فمنها أحاديث كثيرة ومن هذا: قوله صلى الله عليه وسلم حين سئل أي الكسب أطيب قال: "عمل الرجل بيده، وكل بيع مبرور" 5، أي لا غش فيه ولا خيانة.

وقوله صلى الله عليه وسلم: "إنما البيع عن تراض" 6، وقوله صلى الله عليه وسلم: "لأن يأخذ أحدكم حبلة على

--------------------------------------------

1 سورة البقرة: الآية 275.

2 سورة البقرة: الآية 282.

3 سورة النساء: الآية 29.

4 سورة البقرة: الآية 198.

5 الحديث أخرجه البزار في مسنده 9/259، والحاكم في المستدرك 2/12 وقال هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه، والبيهقي في السنن 5/263، وذكره الهيثمي في مجمع الزوائد 4/60 راجع: التلخيص الحبير 3/5-6.

6 الحديث أخرجه ابن ماجه في السنن 2/736-737 برقم 2185 وابن حبان في صحيحه 11/340 والبيهقي في السنن 6/17. وصححه الشيخ الألباني، راجع: إرواء الغليل للشيخ الألباني 5/125-1،26 برقم 1283.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কেনাবেচার বৈধতা ও এর বিধান

কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমা (ঐক্যমত) দ্বারা কেনাবেচার বৈধতা সাব্যস্ত হয়েছে।

কুরআনের ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর বাণী: "আর আল্লাহ কেনাবেচাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন" ১, এবং তাঁর বাণী: "আর যখন তোমরা পরস্পর কেনাবেচা করো, তখন সাক্ষী রাখো" ২।

এবং তাঁর বাণী: "তবে তোমাদের পারস্পরিক সন্তুষ্টির ভিত্তিতে যদি ব্যবসা হয়" ৩, এবং মহাপবিত্র সত্তার বাণী: "তোমাদের রবের অনুগ্রহ তালাশ করাতে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই" ৪।

এই সম্মানিত আয়াতসমূহ মানুষের জন্য কেনাবেচাকে বৈধ ও জায়েয হিসেবে সাব্যস্ত করে, যা পারস্পরিক উপকার বিনিময়ের এমন একটি মাধ্যম যা ছাড়া মানুষের চলে না। এতে রয়েছে প্রশস্ততা এবং বান্দাদের মধ্যে পরিপূরকতা অর্জন। সুতরাং পারস্পরিক সন্তুষ্টির ভিত্তিতে কেনাবেচা এবং ব্যবসা, যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা শরীয়তসম্মত করেছেন, তা শরীয়তের বিশেষ গুরুত্বের বিষয়; যা বৈধতা ও অনুমোদনের পাশাপাশি ইসলামী শরীয়াহর নির্ধারিত সীমার মধ্যে একে সুরক্ষা করার জন্য মানুষকে উৎসাহিত করা হয়েছে।

সুন্নাহর ক্ষেত্রে এতে অনেক হাদীস রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জিজ্ঞাসিত হলেন যে, কোন ধরনের উপার্জন সবচেয়ে পবিত্র ও উত্তম? তিনি বললেন: "মানুষের নিজ হাতের কাজ এবং প্রত্যেক মাবরুর (নির্ভেজাল) কেনাবেচা" ৫, অর্থাৎ যাতে কোনো প্রতারণা বা বিশ্বাসভঙ্গ নেই।

এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "কেনাবেচা তো কেবল পারস্পরিক সন্তুষ্টির মাধ্যমেই হয়" ৬, এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তোমাদের কারো রশি গ্রহণ করা..."

--------------------------------------------

১ সূরা আল-বাকারা: আয়াত ২৭৫।

২ সূরা আল-বাকারা: আয়াত ২৮২।

৩ সূরা আন-নিসা: আয়াত ২৯।

৪ সূরা আল-বাকারা: আয়াত ১৯৮।

৫ হাদীসটি আল-বাযযার তাঁর মুসনাদে ৯/২৫৯, আল-হাকিম আল-মুস্তাদরাক-এ ২/১২ বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন যে, এর সনদ সহীহ কিন্তু তাঁরা (বুখারী ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি, এবং আল-বায়হাকী আস-সুনান-এ ৫/২৬৩ এবং আল-হাইসামি মাজমাউয যাওয়ায়েদ-এ ৪/৬০-এ উল্লেখ করেছেন। দ্রষ্টব্য: আত-তালখীসুল হাবীর ৩/৫-৬।

৬ হাদীসটি ইবনে মাজাহ আস-সুনান-এ ২/৭৩৬-৭৩৭, হাদীস নং ২১৮৫, ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ-এ ১১/৩৪০ এবং আল-বায়হাকী আস-সুনান-এ ৬/১৭ বর্ণনা করেছেন। শাইখ আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন। দ্রষ্টব্য: ইরওয়াউল গালীল, শাইখ আলবানী ৫/১২৫-১২৬, হাদীস নং ১২৮৩।
(খণ্ড: ১) আল-বুয়ূউল মুহাররামাহ ওয়াল মানহিয়্যু আনহা (পৃষ্ঠা: ২২)
ظهره فيأتي بحزمة حطب فيبيعها فيكف بها وجهه خير من أن يسأل الناس، أعطوه أو منعوه" 1، وقوله صلى الله عليه وسلم: "البيعان بالخيار ما لم يتفرقا" 2.

وقد بعث النبي صلى الله عليه وسلم والناس يتبايعون فأقرهم عليه وقال: "التاجر الأمين مع النبيين والصديقين والشهداء" 3.

فهذه النصوص تقرر أن البيع هو أطيب ما كسبه الإنسان، وأنه لا يقل عن عمل الرجل بيده، فالبيع المبرور - وهو غير المقرون بالغش والخيانة والقائم على الرضا بين المتعاقدين - هو أساس التنمية، وفيه سد لإحتياجات الناس، طالما كان ذلك بصدق وأمانة.

وأن التجار الملتزمين بضوابط الأمانة مع الصديقين والشهداء وحسن أولئك رفيقاً.

وقد أجمعت الأمة على جواز البيع والتعامل به من عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى يومنا هذا، فضلاً عن أن الحكمة تقتضيه، لأن حاجة الإنسان تتعلق بما في يد صاحبه وصاحبه لا يبذله بغير عوض، ففي شرع البيع وتجويزه طريق لوصول كل إنسان إلى غرضه ودفع حاجته.

الحكمة من مشروعية البيع: البيع مشروع للتوسعة على العباد لأن حاجة الإنسان تتعلق بما في يد صاحبه وصاحبه لا يبذله بغير عوض، فكان تشريع البيع طريقاً إلى تحقيق كل واحد غرضه ودفع حاجته والإنسان مدني بالطبع، لا يستطيع العيش بدون التعامل والتعاون مع الآخرين، فالإنسان بمفرده لا يستطيع توفير حاجياته من الغذاء والكساء وغيرها، وقد يجنح بمقتضى حاجته الملحة إلى أخذ ما في يد الغير عن طريق المغالبة أو المقاهرة، أو يلجأ إلى السؤال وتكفف أيدي الناس، وفي ذلك من المفاسد العظام ما لا

--------------------------------------------

1 الحديث أخرجه البخاري 2/18 وابن ماجة في السنن 1/588 برقم 1836 وأحمد 1/164، 167 من حديث الزبير بن العوام رضي الله عنه.

2 الحديث متفق عليه، أخرجه البخاري 82-83 برقم 2079 ومسلم 3/1164 برقم 1532.

3 الحديث أخرجه الترمذي 2/498 برقم 1209 والدارمي 2542 والدارقطني 3/7.
তাঁর পিঠে কাঠের বোঝা বয়ে এনে তা বিক্রি করা এবং এর মাধ্যমে নিজের সম্মান রক্ষা করা মানুষের কাছে হাত পাতার চেয়ে উত্তম, চাই তারা তাকে দান করুক বা না করুক।" ১ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "ক্রেতা ও বিক্রেতা যতক্ষণ পর্যন্ত পরস্পর বিচ্ছিন্ন না হয়, ততক্ষণ তাদের (চুক্তি বহাল রাখা বা বাতিলের) ইখতিয়ার থাকে।" ২।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন সময়ে প্রেরিত হয়েছিলেন যখন মানুষ ক্রয়-বিক্রয় করত, তিনি তাদের এই কাজকে অনুমোদন দেন এবং বলেন: "বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী নবীগণ, সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তিগণ এবং শহীদগণের সাথে থাকবেন।" ৩।

এই নস বা প্রমাণাদি সাব্যস্ত করে যে, ক্রয়-বিক্রয় হলো মানুষের উপার্জনের সর্বোত্তম মাধ্যম এবং তা নিজ হাতে করা কাজের চেয়ে কম নয়। সুতরাং বিশুদ্ধ ক্রয়-বিক্রয়—যা প্রতারণা ও খিয়ানত মুক্ত এবং যা পক্ষদ্বয়ের সম্মতির ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত—হলো উন্নয়নের মূল ভিত্তি। যতক্ষণ পর্যন্ত তা সততা ও বিশ্বস্ততার সাথে সম্পন্ন হবে, এর মাধ্যমে মানুষের প্রয়োজন পূরণ হবে।

আর যেসব ব্যবসায়ী বিশ্বস্ততার নীতিমালা মেনে চলেন, তারা সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তি ও শহীদগণের সাথে থাকবেন; আর সঙ্গী হিসেবে তারা কতই না চমৎকার!

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত উম্মত ক্রয়-বিক্রয় ও এর মাধ্যমে লেনদেন বৈধ হওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে। তা ছাড়া হিকমত বা প্রজ্ঞাও একে অপরিহার্য করে, কারণ মানুষের প্রয়োজন অন্যের মালিকানাধীন বস্তুর সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে এবং মালিক বিনিময় ছাড়া তা প্রদান করে না। তাই ক্রয়-বিক্রয় শরীয়তসম্মত ও বৈধ হওয়া প্রত্যেক মানুষের লক্ষ্য অর্জন এবং প্রয়োজন মেটানোর একটি পথ।

ক্রয়-বিক্রয় বৈধ হওয়ার হিকমত: বান্দাদের জন্য জীবনযাপন সহজতর করতে ক্রয়-বিক্রয় বৈধ করা হয়েছে। কেননা মানুষের প্রয়োজন অন্যের হাতে থাকা জিনিসের সাথে যুক্ত থাকে, আর মালিক বিনিময় ব্যতীত তা ছেড়ে দেয় না। ফলে ক্রয়-বিক্রয় বিধিবদ্ধ হওয়া প্রত্যেকের উদ্দেশ্য পূরণ ও প্রয়োজন দূর করার উপায় হয়েছে। মানুষ স্বভাবগতভাবেই সামাজিক; অন্যদের সাথে লেনদেন ও পারস্পরিক সহযোগিতা ছাড়া সে বেঁচে থাকতে পারে না। মানুষ একাকী তার খাদ্য, বস্ত্র ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম নয়। তীব্র প্রয়োজনে সে অন্যের সম্পদ জোর-জবরদস্তি করে ছিনিয়ে নেওয়ার দিকে ধাবিত হতে পারে, অথবা মানুষের কাছে হাত পেতে ভিক্ষাবৃত্তির আশ্রয় নিতে পারে। আর এর মধ্যে রয়েছে এমন সব মহা অনিষ্ট যা

--------------------------------------------

১ হাদীসটি বুখারী ২/১৮, ইবনে মাজাহ তাঁর সুনান গ্রন্থে ১/৫৮৮, হাদীস নং ১৮৩৬ এবং আহমাদ ১/১৬৪, ১৬৭-এ জুবায়ের বিন আওয়াম রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর হাদীস থেকে বর্ণনা করেছেন।

২ হাদীসটি মুত্তাফাকুন আলাইহি, বুখারী ৮২-৮৩, হাদীস নং ২০৭৯ এবং মুসলিম ৩/১১৬৪, হাদীস নং ১৫৩২-এ বর্ণনা করেছেন।

৩ হাদীসটি তিরমিযী ২/৪৯৮, হাদীস নং ১২০৯, দারেমী ২৫৪২ এবং দারেকুতনী ৩/৭-এ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-বুয়ূউল মুহাররামাহ ওয়াল মানহিয়্যু আনহা (পৃষ্ঠা: ২৩)
يخفى، ومن الذل والصغار ما لا يقدر عليه الإنسان.

فالبيع قد شرعه الله سبحانه توسعة منه على عباده، فإن لكل فرد من أفراد النوع الإنساني ضرورات من الغذاء والكساء وغيرها مما لا غنى للإنسان عنه ما دام حياً، وهو لا يستطيع وحده أن يوفرها لنفسه

لأنه مضطر إلى جلبها من غيره، وليس ثمة طريق أكمل من المبادلة، فيعطي ما عنده مما يمكنه الاستغناء عنه، بدل ما يأخذه من غيره مما هو في حاجة إليه.

ولكل هذا: اقتضت حكمة البارىء سبحانه شرعية البيع والشراء، وتنظيمه بما يكفل رفع الحرج والمشقة عن الناس ودوام البقاء.

هذا: ويعتبر البيع والشراء في الجملة من الأمور الحاجية1 التي قصد التشريع الإسلامي توفيرها للناس، وقد يرقى إلى الأمور الضرورية عند ما يؤدي عدمه إلى فوات أصل من الأصول الخمسة، وهي: الدين، والنفس، والعقل، والنسل، والمال.

--------------------------------------------

1 الحاجيات: هي التي يحتاج إليها الناس للتيسير عليهم ورفع الحرج ودفع المشقة عنهم بحيث إذا فقدت وقع الناس في ضيق دون أن تختل الحياة، ولهذا فكل ما قصد به دفع المشقة ورفع الحرج والاحتياط للكليات الخمس فهو حاجي.

والضروريات: هي التي لا بد منها في قيام مصالح الدين والدنيا بحيث إذا فقدت اختل نظام الحياة، وعمت الفوضى والمفاسد، وضاعت المصالح، وفات النعيم، وحل العقاب في الآخرة، فهي كل ما يؤدي عدمه إلى فوات أصل من الأصول الخمسة. أصول الفقه/ للدكتور زكي الدين شعبان صفحة 297.
...লুক্কায়িত নয় এবং এমন লাঞ্ছনা ও তুচ্ছতা রয়েছে যা মানুষ সহ্য করার ক্ষমতা রাখে না।

সুতরাং কেনা-বেচাকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর বান্দাদের জন্য প্রশস্ততা স্বরূপ বিধিবদ্ধ করেছেন। কেননা মানবজাতির প্রতিটি ব্যক্তির জন্য খাদ্য, বস্ত্র এবং অন্যান্য এমন সব প্রয়োজন রয়েছে যা মানুষ বেঁচে থাকা পর্যন্ত তার জন্য অপরিহার্য, আর সে একা নিজের জন্য এগুলো সরবরাহ করতে সক্ষম নয়।

কারণ সে এগুলো অন্যের কাছ থেকে সংগ্রহ করতে বাধ্য, আর বিনিময়ের চেয়ে পূর্ণাঙ্গ কোনো পথ নেই। ফলে সে তার কাছে থাকা অতিরিক্ত জিনিসগুলো দিয়ে দেয় এবং এর পরিবর্তে অন্যের কাছ থেকে তার প্রয়োজনীয় জিনিস গ্রহণ করে।

আর এই সব কারণেই স্রষ্টা সুবহানাহু ওয়া তায়ালার প্রজ্ঞা কেনা-বেচার বৈধতা এবং এর এমন সুশৃঙ্খল বিন্যাস দাবি করেছে যা মানুষের থেকে সংকীর্ণতা ও কষ্ট দূরীকরণ এবং জীবনের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।

অধিকন্তু, কেনা-বেচাকে সাধারণভাবে 'প্রয়োজনীয় বিষয়' (হাজিয়াত)১ এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা ইসলামী শরীয়ত মানুষের জন্য নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। কখনও কখনও এটি 'অপরিহার্য বিষয়' (জরুরিয়াত)-এর স্তরে পৌঁছে যায় যখন এর অভাব পাঁচটি মৌলিক উদ্দেশ্যের কোনো একটি বিনষ্ট হওয়ার কারণ হয়, আর সেগুলো হলো: দ্বীন, জীবন, বুদ্ধিবৃত্তি, বংশধারা এবং সম্পদ।

--------------------------------------------

১. হাজিয়াত: এটি এমন সব বিষয় যা মানুষের সহজসাধ্যতা, সংকীর্ণতা দূরীকরণ এবং কষ্ট লাঘবের জন্য প্রয়োজন হয়; এমনভাবে যে এগুলো না থাকলে মানুষ সংকীর্ণতায় পড়বে কিন্তু জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ অচল হবে না। এজন্য কষ্ট নিবারণ, সংকীর্ণতা দূরীকরণ এবং পাঁচটি মৌলিক বিষয়ের সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে গৃহীত প্রতিটি ব্যবস্থা 'হাজি' বা প্রয়োজনীয় হিসেবে গণ্য।

জরুরিয়াত: এগুলো দ্বীন ও দুনিয়ার স্বার্থ সংরক্ষণে এমন অপরিহার্য যে, যদি এগুলো না থাকে তবে জীবন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে, বিশৃঙ্খলা ও ফাসাদ ছড়িয়ে পড়বে, জনস্বার্থ নষ্ট হবে, সুখ-শান্তি বিলীন হবে এবং আখেরাতে শাস্তি অবধারিত হবে। সুতরাং যার অভাব পাঁচটি মৌলিক উদ্দেশ্যের কোনো একটিকে বিনষ্ট করে দেয়, তাই জরুরিয়াত। উসুলুল ফিকহ/ ডক্টর জাকিউদ্দীন শাবান, পৃষ্ঠা ২৯৭।
(খণ্ড: ১) আল-বুয়ূউল মুহাররামাহ ওয়াল মানহিয়্যু আনহা (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌المبحث الثالث: المقصود بالأعيان المحرمة

‌‌المطلب الأول: تعريف العين لغة واصطلاحاً والمحرم لغة والحرام عند الأصوليين.

العين في اللغة: تعني المال الحاضر الناض، وعين الشيء نفسه، والعين ما ضرب من الدنانير والدراهم، والعين بمعنى الباصرة، والجاسوس، والديدبان، وعين الماء، وعين الشمس والطليعة.

فقد جاء في مختار الصحاح: "العين حاسة الرؤية، وهي مؤنثة، وجمعها أعين وعيون وأعيان … والعين أيضاً عين الماء، وعين الركبة … والعين عين الشمس، والعين الدينار، والعين المال الناضَّ، والعين الديدبان، والجاسوس، وعين الشيء خياره، وعين الشيء نفسه … وتعين الرجل المال: أصابه بعين، وتعين عليه الشيء: لزمه بعينه … وأعتان الرجل اشترى بنسيئة"1.

وجاء في المصباح المنير: "العين تقع بالاشتراك على أشياء مختلفة، فمنها الباصرة، وعين الماء، وعين الشمس، والعين الجارية، والعين الطليعة، وعين الشيء نفسه، ومنه يقال أخذت مالي بعينه والمعنى أخذت عين مالي، والعين ما ضرب من الدنانير، وقد يقال لغير المضروب عين أيضاً، قال في التهذيب2: والعين النقد، يقال اشتريت بالدين أو بالعين، وتجمع العين لغير المضروب على عيون وأعين وأعيان وهو قليل، ولا تجمع إذا كانت بمعنى المضروب إلَاّ على أعيان … وتجمع الباصرة على أعين وأعيان وعيون"3.

جاء في الكليات لأبي البقاء الكفوي: "كل شيء عرض إلَاّ الدراهم والدنانير

--------------------------------------------

1 محمد بن أبي بكر الرازي مادة عين صفحة 219.

2 تهذيب اللغة للأزهري 3/208.

3 أحمد محمد الفيومي صفحة 440 – 441.
‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নিষিদ্ধ বস্তুসমূহের উদ্দেশ্য

‌প্রথম অনুচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে 'আইন'-এর সংজ্ঞা এবং আভিধানিক ও উসুলবিদদের পরিভাষায় 'হারাম'-এর সংজ্ঞা.

আভিধানিক অর্থে 'আইন': এর অর্থ হলো উপস্থিত নগদ অর্থ, কোনো বস্তুর সত্তা বা হুবহু সেই জিনিস। এছাড়া 'আইন' দ্বারা প্রচলিত দিনার ও দিরহাম (স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রা) বোঝায়। আবার 'আইন' বলতে চোখ (দর্শনেন্দ্রিয়), গুপ্তচর, পাহারাদার, পানির ঝরনা, সূর্য এবং অগ্রবর্তী সেনাদলকেও বোঝানো হয়।

‘মুখতারুস সিহাহ’ গ্রন্থে এসেছে: "'আইন' হলো দর্শনেন্দ্রিয়, এটি স্ত্রীলিঙ্গবাচক শব্দ, এর বহুবচন হলো আ’ইউন, উয়ুন এবং আ’ইয়ান … 'আইন' বলতে পানির ঝরনা এবং হাঁটুর সন্ধিও বোঝানো হয় … এছাড়া 'আইন' মানে সূর্যের চাকা, দিনার, নগদ অর্থ, পাহারাদার এবং গুপ্তচর। কোনো জিনিসের উৎকৃষ্ট অংশ এবং কোনো জিনিসের মূল সত্তাকেও 'আইন' বলা হয় … আর কেউ সম্পদের ওপর কুনজর দিলে বলা হয় 'তা’আইনাল রাজুলু আল-মালা'। কোনো কিছু কারো জন্য নির্দিষ্টভাবে অবধারিত হলে বলা হয় 'তা’আইয়ানা আলাইহি'। … আর বাকিতে পণ্য ক্রয় করলে বলা হয় 'আইতানা'।"১

‘আল-মিসবাহুল মুনীর’ গ্রন্থে এসেছে: "'আইন' শব্দটি 'মুশতারাক' বা সমোচ্চারিত শব্দ হিসেবে বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন: চোখ, পানির ঝরনা, সূর্য, প্রবহমান ঝরনা, অগ্রবর্তী গুপ্তচর এবং কোনো বস্তুর মূল সত্তা। এই অর্থ থেকেই বলা হয় 'আমি আমার সম্পদটি হুবহু গ্রহণ করেছি', যার অর্থ হলো আমি আমার সম্পদের মূল অংশটিই নিয়েছি। 'আইন' হলো তৈরি করা স্বর্ণমুদ্রা বা দিনার; তবে মুদ্রা ছাড়া অন্য কিছুকেও কখনো 'আইন' বলা হতে পারে। 'তাহযীব' গ্রন্থে২ বলা হয়েছে: 'আইন' হলো নগদ অর্থ; বলা হয় 'আমি বাকিতে অথবা নগদে ক্রয় করেছি'। মুদ্রা ব্যতীত অন্য অর্থে 'আইন'-এর বহুবচন হয় উয়ুন, আ’ইউন এবং আ’ইয়ান, যা খুব কম ব্যবহৃত হয়। তবে মুদ্রা অর্থে ব্যবহৃত হলে এর বহুবচন কেবল 'আ’ইয়ান'-ই হয়ে থাকে … আর চোখ অর্থে এর বহুবচন আ’ইউন, আ’ইয়ান ও উয়ুন হয়।"৩

আবু আল-বাকা আল-কাফাউয়ি-র ‘আল-কুল্লিয়াত’ গ্রন্থে এসেছে: "দিরহাম ও দিনার ব্যতীত প্রতিটি জিনিসই হলো পণ্য (আরদ)..."

--------------------------------------------

১ মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর আর-রাজি, অনুচ্ছেদ: আইন, পৃষ্ঠা ২১৯।

২ আল-আযহারি রচিত তাহযীবুল লুগাহ ৩/২০৮।

৩ আহমদ মুহাম্মদ আল-ফাইউমি, পৃষ্ঠা ৪৪০ – ৪৪১।
(খণ্ড: ১) আল-বুয়ূউল মুহাররামাহ ওয়াল মানহিয়্যু আনহা (পৃষ্ঠা: ২৫)
فإنها عين"1.

العين في الاصطلاح: لم تتعرض كتب الأئمة التي اطلعت عليها لتعريف اصطلاحي للعين2 ولا يخرج الاستعمال الفقهي الاصطلاحي عن المعاني اللغوية، إلَاّ أن أكثر استعمال الفقهاء للأعيان فيما يقابل الديون وهي الأموال الحاضرة نقداً كانت أو غيره3.

المحرم في اللغة: فهو ما لا يحل انتهاكه ويحرم تناوله واتخاذه وانتهاكه فهو ضد الحلال والتحريم ضد التحليل وهو الممنوع وحريم البئر وما حولها.

فقد جاء في مختار الصحاح: "والحرمة ما لا يحل انتهاكه، وكذا المحُرمة بضم الراء وفتحها … والحرام ضد الحلال، والتحريم ضد التحليل، وحريم البئر وما حولها من مرافقهاً وحقوقها، وحرم الشيء بالضم يحرم حرمة"4.

وجاء في المصباح المنير: "حَرُمَ الشيء بالضم حُرْماً وحَرماً بمعنى حرمته، والممنوع يسمى حراماً تسمية بالمصدر، والحرمة بالضم ما لا يحل انتهاكه، والمحرمة بفتح الراء وضمها الحرمة التي لا يحل انتهاكها"5.

الحرام عند الأصولين: عرفوه بأنه هو ما طلب الشارع تركه على وجه الحتم والإلزام، وذلك بأن يكون اللفظ الذي يدل على ترك الفعل هو لفظ الحرمة، أو نفي الحل، أو صيغة من صيغ النهي التي لم يقم دليل بصرفها عن إفادة التحريم إلى غيره، أو لفظ الاجتناب مقترناً بما يدل على الاجتناب حتم لازم"6.

كقوله تعالى: {حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَاتُكُمْ وَبَنَاتُكُمْ} 7، وقوله سبحانه:

--------------------------------------------

1 3/185.

2 بدائع الصنائع للكاساني، والشرح الصغير للدردير، ومغني المحتاج للشربيني، والإنصاف للمرداوي.

3 الموسوعة الفقهية الكويتية 5/264.

4 محمد بن أبي بكر الرازي ماده حرم صفحة 80.

5 أحمد محمد الفيومي ماده حرم صفحة 131 – 132.

6 أصول الفقه: للدكتور زكي الدين شعبان 297.

7 سورة النساء: الآية 23.
কেননা এটি হলো মূল বস্তু১।

পরিভাষায় ‘আইন’ (বস্তু): আমি যে সকল ইমামদের কিতাব অধ্যয়ন করেছি, তাতে ‘আইন’-এর কোনো পারিভাষিক সংজ্ঞা উপস্থাপিত হতে দেখিনি২ এবং ফিকহশাস্ত্রীয় পারিভাষিক ব্যবহার আভিধানিক অর্থ থেকে বিচ্যুত নয়। তবে ফকীহগণ ‘আ’ইয়ান’ (বস্তু বা সম্পদ) শব্দটি ঋণের বিপরীতে অধিক ব্যবহার করেন; যা নগদ অর্থ হোক বা অন্য কিছু—বর্তমানে বিদ্যমান এমন সম্পদকে বোঝায়৩।

আভিধানিক অর্থে ‘মুহাররাম’ (নিষিদ্ধ): এটি এমন বিষয় যার অবমাননা করা বৈধ নয় এবং যার গ্রহণ, ব্যবহার ও লঙ্ঘন করা নিষিদ্ধ। এটি ‘হালাল’-এর বিপরীত এবং ‘তাহরীম’ (নিষিদ্ধকরণ) হলো ‘তাহলীল’-এর (বৈধকরণ) বিপরীত। এটি মূলত নিষিদ্ধ বস্তু; যেমন কূপের ‘হারীম’ বা তার চারপাশের সংরক্ষিত এলাকা।

‘মুখতারুস সিহাহ’ গ্রন্থে এসেছে: “হারাম বা মর্যাদা এমন বিষয় যা লঙ্ঘন করা বৈধ নয়। অনুরূপভাবে ‘মুহরামা’ শব্দটি (রা বর্ণে পেশ বা যবর যোগে) ব্যবহৃত হয় ... আর ‘হারাম’ হলো ‘হালাল’-এর বিপরীত এবং ‘তাহরীম’ হলো ‘তাহলীল’-এর বিপরীত। কূপের ‘হারীম’ হলো তার আনুষঙ্গিক সুবিধাদি ও অধিকারসমূহ। কোনো কিছু নিষিদ্ধ হওয়া অর্থে ‘হারুমা’ (রা বর্ণে পেশ সহযোগে) ক্রিয়াটি ব্যবহৃত হয়”৪।

‘আল-মিসবাহুল মুনীর’ গ্রন্থে এসেছে: “‘হারুমা’ বলতে কোনো কিছুর নিষিদ্ধ হওয়াকে বোঝায়। নিষিদ্ধ বস্তুকে এর ক্রিয়ামূলের নামানুসারে ‘হারাম’ বলা হয়। ‘হুরমাহ’ (হা বর্ণে পেশ সহযোগে) বলতে এমন বিষয়কে বোঝায় যার অবমাননা বৈধ নয়। আর ‘মুহরামা’ (রা বর্ণে যবর বা পেশ সহযোগে) বলতে এমন মর্যাদা বা পবিত্রতাকে বোঝায় যার অবমাননা বৈধ নয়”৫।

উসুলবিদগণের নিকট ‘হারাম’: তাঁরা একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে যে, শরীয়তদাতা কোনো কাজ অকাট্য এবং বাধ্যতামূলকভাবে বর্জন করার দাবি জানিয়েছেন। অর্থাৎ, কাজটি বর্জন করার নির্দেশক শব্দটি হতে হবে ‘হারাম’ বা নিষিদ্ধ হওয়া সূচক শব্দ দ্বারা, অথবা ‘বৈধতা অস্বীকার’ করার মাধ্যমে, অথবা এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা সূচক শব্দ দ্বারা যাকে অন্য কোনো অর্থে ব্যবহারের প্রমাণ নেই, অথবা ‘পরিহার করা’ (ইজতিনাব) শব্দের সাথে এমন কিছু যুক্ত থাকা যা দ্বারা বর্জন করা বাধ্যতামূলক হওয়া প্রমাণিত হয়৬।

যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমাদের ওপর তোমাদের মা এবং তোমাদের কন্যাদেরকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে} ৭, এবং মহান আল্লাহর বাণী:

--------------------------------------------

১ ৩/১৮৫।

২ কাসানি প্রণীত বাদায়েউস সানায়ে, দারদীর প্রণীত আশ-শারহুস সাগীর, শারবিনী প্রণীত মুগনিল মুহতাজ এবং মারদাভী প্রণীত আল-ইনসাফ।

৩ আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ আল-কুয়েতিয়্যাহ ৫/২৬৪।

৪ মুহাম্মদ ইবনে আবি বকর আর-রাজি, ‘হারাম’ পরিচ্ছেদ, পৃষ্ঠা ৮০।

৫ আহমাদ মুহাম্মদ আল-ফায়্যুমি, ‘হারাম’ পরিচ্ছেদ, পৃষ্ঠা ১৩১–১৩২।

৬ উসুলুল ফিকহ: ডক্টর জাকিউদ্দীন শাবান ২৯৭।

৭ সূরা আন-নিসা: আয়াত ২৩।
(খণ্ড: ১) আল-বুয়ূউল মুহাররামাহ ওয়াল মানহিয়্যু আনহা (পৃষ্ঠা: ২৬)
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلامُ رِجْسٌ مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ} 1.

فالحرام هو ما طلب الشارع تركه حتماً بحيث يذم فاعله ويعاقب على ارتكابه في الآخرة، فهو يتناول كل شيء ممنوع صادر من الشخص سواء أكان من الأقوال أو الأفعال.

فالأعيان المحرم بيعها هي التي يمتنع بيعها بسبب التحريم الذي يتعلق بكون الشيء نجساً لذاته أو كونه متنجساً أو لاشتماله على مفسدة أو لكرامتها، وهذا يستدعى ضرورة النظر في بحث هذه الأعيان المحرمة حتى يتسنى لنا تحقيق القول فيما اختلف الفقهاء بشان حكم بيعه شرعاً.

--------------------------------------------

1 سورة المائدة: الآية 90.
{হে মুমিনগণ, নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্যনির্ধারক তীরসমূহ শয়তানের কাজের অন্তর্ভুক্ত অপবিত্র বস্তু। অতএব তোমরা এগুলো বর্জন করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।} ১.

হারাম হলো ওই বিষয় যা শরীয়ত প্রণেতা আবশ্যিকভাবে বর্জন করার নির্দেশ দিয়েছেন, এমনভাবে যে এটি সম্পাদনকারী নিন্দার যোগ্য হয় এবং পরকালে তা করার কারণে শাস্তির উপযুক্ত হয়। সুতরাং তা ব্যক্তির পক্ষ থেকে প্রকাশ পাওয়া প্রতিটি নিষিদ্ধ বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, চাই তা কথা হোক বা কাজ।

আর যেসব বস্তু বিক্রি করা হারাম, সেগুলোর ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ হলো এমন সব নিষেধাজ্ঞা যা বস্তুটির সত্তাগতভাবে অপবিত্র হওয়া, অথবা অপবিত্রতার সংস্পর্শে আসা, অথবা এর মধ্যে কোনো অনিষ্ট নিহিত থাকা কিংবা এর মর্যাদার সাথে সংশ্লিষ্ট। আর এটি এই হারাম বস্তুগুলোর গবেষণায় দৃষ্টি নিবদ্ধ করা আবশ্যক করে তোলে, যাতে ফকীহগণ এগুলোর শারঈ বিধানের ব্যাপারে যে মতভেদ করেছেন, সে বিষয়ে আমরা সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-মায়িদাহ: আয়াত ৯০।
(খণ্ড: ১) আল-বুয়ূউল মুহাররামাহ ওয়াল মানহিয়্যু আনহা (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌المطلب الثاني: الأعيان المحرمة لنجاستها

النجاسة في اللغة: تطلق على كل قذارة مستقذرة بخلاف الطهارة.

فقد جاء في لسان العرب: "النجس القذر من الناس ومن كل شيء قذرته.."1.

وجاء في مختار الصحاح: "نجس الشيء من باب طرب، فهو نجس - بكسر الجيم وفتحها - قال الله تعالى: {إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ} 2"3.

النجاسة اصطلاحاً:

الحنفية: جاء في البحر الرائق: "والنجاسة شرعاً عين مستقذرة شرعا … 4

المالكية: جاء في الشرح الكبير: "وهي صفة حكمية توجب لموصوفها منع استباحة

--------------------------------------------

1 ابن منظور 14/53.

2 التوبة: الآية 28.

3محمد بن أبي بكر الرازي/294

4 ابن نجيم 1/382.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অপবিত্রতার কারণে নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ

আভিধানিক অর্থে নাজাত (অপবিত্রতা): পবিত্রতার বিপরীত প্রতিটি নোংরা ও ঘৃণ্য বস্তুর ক্ষেত্রে এটি ব্যবহৃত হয়।

যেমন 'লিসানুল আরব'-এ এসেছে: "নাজাস হলো মানুষের মধ্য হতে অপবিত্র ব্যক্তি এবং এমন প্রতিটি বস্তু যা ঘৃণ্য..." ১।

এবং 'মুখতারুস সিহাহ'-এ এসেছে: "কোনো কিছু অপবিত্র হওয়া 'তারিব' বাব থেকে ব্যবহৃত হয়, তখন শব্দটি হয় 'নাজিস'—জীম বর্ণে কাসরাহ (জের) এবং ফাতহাহ (জবর) উভয়টির সাথেই। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {নিশ্চয়ই মুশরিকরা অপবিত্র} ২" ৩।

পারিভাষিক অর্থে নাজাত (অপবিত্রতা):

হানাফী মাযহাব: 'আল-বাহরুর রায়েক'-এ এসেছে: "শরীয়তের পরিভাষায় নাজাত হলো এমন কোনো বস্তু যা শরীয়তের দৃষ্টিতে ঘৃণ্য … ৪

মালিকী মাযহাব: 'আশ-শারহুল কাবীর'-এ এসেছে: "এটি এমন একটি বিধানগত বৈশিষ্ট্য, যা এর দ্বারা গুণান্বিত বিষয়ের জন্য বৈধতাকে বাধাগ্রস্ত করে...

--------------------------------------------

১ ইবনে মানজুর ১৪/৫৩।

২ আত-তাওবা: আয়াত ২৮।

৩ মুহাম্মাদ ইবনে আবি বকর আর-রাজি/২৯৪।

৪ ইবনে নুজাইম ১/৩৮২।
(খণ্ড: ১) আল-বুয়ূউল মুহাররামাহ ওয়াল মানহিয়্যু আনহা (পৃষ্ঠা: ২৭)
الصلاة به أو فيه"1.

الشافعية: جاء في مغني المحتاج "بأنها مستقذر يمنع من صحة الصلاة حيث لا مرخص"2.

الحنابلة: جاء في الأنصاف: "كل عين حرم تناولها مع إمكانه لا لحرمتها، ولا لاستقذارها ولا لضرر بها في بدن أو عقل قاله في المطلع3. وقال في الرعاية4 النجس كل نجاسة وما تولد منها وكل طاهر طرأ عليه ما ينجسه، قصداً أو اتفاقاً، مع بلل أحدهما أو هما، أو تغير صفتة المباحة بضدها كانقلاب العصير خمراً أو موت ما ينجس بموته … "5.

الموازنة: نجد أن عبارات ونصوص الفقهاء قد اختلفت في تعريف النجاسة، إلا أنه مع هذا الاختلاف في العبارة فإن مؤداها واحد، لأن من قال إنها عين مستقذرة شرعا فقد عرف النجاسة الحقيقية، وهذا واضح في تعريف الحنفية، أما الحنابلة وإن نهجوا نفس منهج الحنفية في تعريف حقيقة النجاسة، إلا أنهم توسعوا في ذلك، وبينوا أن النجس قد لا يكون مستقذراً، بل قد يوصف بالنجاسة مع عدم استقذاره، أو عدم ضرره، لأن مرجع الحكم بالنجاسة هذا للشرع.

أما المالكية والشافعية فقد عرفوا النجاسة الحكمية وذلك بقولهم صفة حكمية أو مستقذر يمنع صحة الصلاة.

والذي نخلص إليه من كل ذلك: أن الحكم بالنجاسة هو للشرع، وأن النجس قد يكون مستقذراً وقد لا يكون كذلك، وقد يكون فيه ضرر أو لا يكون فيه ضرر، وأنه يترتب على وجود النجاسة عدم صحة الصلاة، سواء كانت النجاسة على عين

--------------------------------------------

1 الدردير 1/32.

2 الشربيني 1/110.

3 المطلع في أبواب المقنع للبعلي.

4 الرعاية رعايتان: صغرى وكبرى، وكلاهما لابن حمدان الحنبلي المتوفى سنة695?.

5 المردواي 1/26.
১। এতে বা এর মাধ্যমে সালাত আদায় করা সম্পর্কে

শাফেঈ মাজহাব: 'মুগনি আল-মুহতাজ' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, "এটি হলো এমন একটি অপবিত্র বস্তু যা সালাত শুদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা প্রদান করে, যেখানে কোনো ছাড় বা অনুমতি নেই।"২।

হাম্বলী মাজহাব: 'আল-ইনসাফ' গ্রন্থে এসেছে: "এমন প্রতিটি বস্তু যা ভক্ষণ করা বা ব্যবহার করা অসম্ভব নয় এমন ক্ষেত্রেও হারাম করা হয়েছে—তবে সেটি তার সম্মানের কারণে নয়, কিংবা তার ঘৃণ্য হওয়ার কারণে নয় এবং শরীর বা বুদ্ধিবৃত্তির কোনো ক্ষতির কারণেও নয়—এটি 'আল-মুতলি' গ্রন্থে বলা হয়েছে।৩। এবং 'আর-রিয়ায়াহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে৪, নাজিস (অপবিত্র) হলো প্রতিটি নাপাকি এবং যা তা থেকে সৃষ্টি হয়, এবং প্রতিটি পবিত্র বস্তু যার ওপর এমন কিছু আপতিত হয় যা তাকে অপবিত্র করে দেয়—তা উদ্দেশ্যমূলকভাবে হোক বা আকস্মিকভাবে—যদি উভয় বস্তুর কোনো একটি বা উভয়টি আর্দ্র থাকে, অথবা তার বৈধ বৈশিষ্ট্য বিপরীত বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তিত হয়ে যায়, যেমন ফলের রস মদে রূপান্তরিত হওয়া অথবা এমন প্রাণীর মৃত্যু যা মারা যাওয়ার কারণে অপবিত্র হয়ে যায় ... "৫।

তুলনামূলক পর্যালোচনা: আমরা দেখতে পাই যে, নাপাকির সংজ্ঞায় ফকিহগণের অভিব্যক্তি ও পাঠ্যসমূহ ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে। তবে এই শাব্দিক ভিন্নতা সত্ত্বেও এর মূল উদ্দেশ্য এক। কারণ, যারা বলেছেন যে এটি শরয়িভাবে একটি ঘৃণ্য বস্তু, তারা মূলত প্রকৃত নাপাকির সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, এবং এটি হানাফিদের সংজ্ঞায় সুস্পষ্ট। আর হাম্বলীগণ যদিও নাপাকির হাকিকত বা প্রকৃত স্বরূপ সংজ্ঞায়িত করার ক্ষেত্রে হানাফিদের পদ্ধতিই অনুসরণ করেছেন, তবে তারা এর পরিধি আরও বিস্তৃত করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, নাপাক বস্তু সবসময় ঘৃণ্য নাও হতে পারে, বরং ঘৃণ্য না হওয়া বা কোনো ক্ষতি না থাকা সত্ত্বেও শরয়ি বিধান অনুযায়ী তাকে নাপাকি হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে; কারণ নাপাকির বিধান দেওয়ার মূল উৎস হলো শরিয়ত।

অন্যদিকে মালিকি ও শাফেঈগণ 'নাজাসাতে হুকমিয়া' বা বিধানগত নাপাকির সংজ্ঞা দিয়েছেন। তারা একে 'বিধানগত বৈশিষ্ট্য' বা 'এমন ঘৃণ্য বস্তু যা সালাত শুদ্ধ হতে বাধা দেয়' বলে অভিহিত করেছেন।

এই সব কিছু থেকে আমরা যে সিদ্ধান্তে উপনীত হই তা হলো: নাপাকির বিধান দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ শরিয়তের এখতিয়ারভুক্ত। আর নাপাক বস্তু ঘৃণ্য হতেও পারে আবার নাও হতে পারে, তাতে ক্ষতি থাকতেও পারে আবার নাও থাকতে পারে। আর নাপাকির উপস্থিতির আবশ্যিক ফলাফল হলো সালাত শুদ্ধ না হওয়া, চাই সেই নাপাকি কোনো বস্তুর ওপর বিদ্যমান থাকুক...

--------------------------------------------

১ আদ-দারদীর ১/৩২।

২ আশ-শারবিনি ১/১১০।

৩ আল-বালি রচিত 'আল-মুতলি ফি আবওয়াবিল মুকনি'।

৪ আর-রিয়ায়াহ দুই প্রকার: ছোট এবং বড়, এবং উভয়টিই ইবনে হামদান আল-হাম্বলি (মৃত্যু ৬৯৫ হিজরি) এর রচনা।

৫ আল-মারদাউয়ি ১/২৬।
(খণ্ড: ১) আল-বুয়ূউল মুহাররামাহ ওয়াল মানহিয়্যু আনহা (পৃষ্ঠা: ২৮)
الشخص أو في المكان، وأن النجس لا يجوز تناوله ولا يصح بيعه.

وسوف نبحث بيع النجاسات في الباب الأول من هذا البحث إن شاء الله.
ব্যক্তি বা স্থানের মধ্যে, এবং অপবিত্র বস্তু গ্রহণ করা বৈধ নয় এবং তার ক্রয়-বিক্রয়ও সঠিক নয়।

আর ইনশাআল্লাহ আমরা এই গবেষণার প্রথম অধ্যায়ে অপবিত্র বস্তুসমূহের ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কে আলোচনা করব।
(খণ্ড: ১) আল-বুয়ূউল মুহাররামাহ ওয়াল মানহিয়্যু আনহা (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌المطلب الثالث: الأعيان المحرمة لغلبة المفسدة فيها

هذه الأعيان ليست محرمة لذاتها، بل إن تحريمها لأمر خارج عن ذاتها، بسبب وصف لازم للعقد، ومن هذا بيع ما يؤدي للحرام مثل بيع الخشب لمن يتخذه في آلات اللهو كالمعازف والمزامير، وبيع أواني الذهب والفضة، وبيع الصور، وما في حكمها وغير ذلك مما قصد به الحرام، لما يترتب عليه من ارتكاب المحظور، ولما فيه من التعاون على الإثم والعدوان المنهي عنهما شرعاً، حيث قال سبحانه وتعالى: {وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلا تَعَاوَنُوا عَلَى الْأِثْمِ وَالْعُدْوَانِ} 1.

وسوف نورد حكم بيع هذه الأشياء في الباب الثاني إن شاء الله.

--------------------------------------------

1 سورة: المائدة الآية 2.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: অনিষ্টের প্রাবল্যের কারণে নিষিদ্ধ বস্তুসমূহ

এই বস্তুগুলো স্বীয় সত্তাগত কারণে হারাম নয়, বরং এগুলোর হারাম হওয়ার কারণ হলো এদের সত্তার বহির্ভূত কোনো বিষয়, যা চুক্তির সাথে সংশ্লিষ্ট একটি অপরিহার্য বৈশিষ্ট্যের কারণে হয়ে থাকে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো এমন বস্তু বিক্রয় করা যা হারামের দিকে ধাবিত করে; যেমন—যে ব্যক্তি কাঠ দিয়ে খেল-তামাশার সরঞ্জাম তথা বাদ্যযন্ত্র ও বাঁশি তৈরি করবে তার নিকট কাঠ বিক্রি করা, সোনা ও রূপার পাত্র বিক্রয় করা, ছবি বিক্রয় করা এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয় যা দ্বারা হারামের উদ্দেশ্য করা হয়। কারণ এর ফলে নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত হওয়ার অবকাশ তৈরি হয় এবং এতে পাপাচার ও সীমালঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার বিষয়টি বিদ্যমান থাকে, যা শরীয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ। কেননা মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো, আর পাপাচার ও সীমালঙ্ঘনের ক্ষেত্রে একে অপরকে সহযোগিতা করো না।} ১।

ইনশাআল্লাহ, আমরা দ্বিতীয় অধ্যায়ে এই বস্তুগুলো বিক্রয়ের বিধান উল্লেখ করব।

--------------------------------------------

১. সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ২।