(খণ্ড: ১) কারারীত - মাসায়িল ওয়া আহকাম ওয়া বিদাউল জানাইয (পৃষ্ঠা: -)
قراريط - مسائل وأحكام وبدع الجنائز   (عبد الكريم العميريني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: قراريط، مسائل وأحكام وبدع الجنائز

المؤلف: عبد الكريم بن محمد العميريني

الناشر: الفالحين للطباعة والنشر - الرياض

الطبعة: الثانية، 1443 هـ - 2021 م

عدد الصفحات: 176

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 15 شعبان 1443

কারারীত - জানাযার মাসায়েল, বিধান ও বিদআতসমূহ   (আব্দুল কারীম আল-উমাইরিনী)

বিভাগ: ফিকহী মাসায়েল


বই: কারারীত, জানাযার মাসায়েল, বিধান ও বিদআতসমূহ

লেখক: আব্দুল কারীম বিন মুহাম্মদ আল-উমাইরিনী

প্রকাশক: আল-ফালিহীন প্রকাশনী - রিয়াদ

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪৪৩ হিজরি - ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৬

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ শা'বান ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) কারারীত - মাসায়িল ওয়া আহকাম ওয়া বিদাউল জানাইয (পৃষ্ঠা: ৪)
‌‌تقديم

الدكتور صالح بن محمد الونيان

 

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين … وبعد:

إن الله تعالى أمر بسؤال أهل الذكر عمّا أشكل وذلك أحرى لإتقان أداء العبادة ولذا قام أخي الشيخ الدكتور/ عبدالكريم بن محمد العميريني بجمع ما تمس الحاجة إليه من أحكام الجنائز في كتابه الموسوم (قراريط - مسائل وأحكام وبدع الجنائز-) وقام بتخريج الأحاديث وعزوها إلى مصادرها ووضع الحواشي عند الحاجة إلى ذلك والبحث عما يشكل على الناس في هذا الأمر فالكتاب شبيه بحديقة غناء تقطف منها ثماراً يانعة وقد قرأت الكتاب من أوله إلى آخره فألفيته مهماً في بابه.

فهنيئاً لمن يجنون القراريط في اليوم والليلة هذا الجهد المبارك، أسأل الله تعالى أن ينفع به قارئه ويجزل المثوبة لجامعه والمنفق على طباعته.

وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين.
উপস্থাপনা

ড. সালেহ বিন মুহাম্মদ আল-উনাইয়ান

 

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর... অতঃপর:

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ অস্পষ্ট বিষয়াবলি সম্পর্কে জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস করার নির্দেশ দিয়েছেন, যা ইবাদত যথাযথভাবে আদায়ের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আর সেই লক্ষ্যেই আমার ভাই শাইখ ড. আব্দুল কারীম বিন মুহাম্মদ আল-উমাইরিনী তাঁর ‘কারারীত — জানাযার মাসআলা (مسائل), বিধানাবলি (أحكام) ও নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ (بدع)’ নামক গ্রন্থে জানাযার প্রয়োজনীয় বিধানাবলি (أحكام) সংকলন করেছেন। তিনি হাদিসসমূহের উৎস নির্ণয় (تخريج) করেছেন এবং সেগুলোকে তাদের মূল উৎসের প্রতি সূত্র নির্দেশ (عزو) করেছেন। এছাড়া যেখানে প্রয়োজন সেখানে পাদটীকা প্রদান করেছেন এবং এই বিষয়ে মানুষের কাছে অস্পষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা করেছেন। বইটি একটি সুশোভিত বাগানের মতো, যেখান থেকে পরিপক্ক ফল আহরণ করা যায়। আমি বইটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করেছি এবং এটিকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে পেয়েছি।

সুতরাং যারা দিন-রাত কিরাত বা সওয়াবের অংশ (কারারীত) অর্জন করছেন, তাদের জন্য এই বরকতময় প্রচেষ্টায় অভিনন্দন। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই কিতাব দ্বারা পাঠকদের উপকৃত করেন এবং এর সংকলক ও মুদ্রণ কার্যে অর্থ ব্যয়কারীকে প্রচুর প্রতিদান দান করেন।

আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) কারারীত - মাসায়িল ওয়া আহকাম ওয়া বিদাউল জানাইয (পৃষ্ঠা: ৫)
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين وبعد:

 

إن الله تعالى أمر بسؤال أهل الذكر عمَّا أشكل وذلك أحرى لإتقان أداء العبادة ولذا قام أخي الشيخ الدكتور / عبدالكريم بن محمد العميريني بجمع ما تمس الحاجة إليه من أحكام الجنائز في كتابه الموسوم (قراريط - مسائل وأحكام وبدع الجنائز-) وقام بتخريج الأحاديث وعزوها إلى مصادرها ووضع الحواشي عند الحاجة إلى ذلك والبحث عما يشكل على الناس في هذا الأمر فالكتاب شبيه بحديقة غناء تقطف منها ثمارًا يانعة وقد قرأت الكتاب من أوله إلى آخره فألفيته مهما في بابه.

فهنيئًا لمن يجنون القراريط في اليوم والليلة هذا الجهد المبارك، أسأل الله تعالى أن ينفع به قارئه ويجزل المثوبة لجامعه والمنفق على طباعته.

وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين.
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:

 

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা কোনো অস্পষ্ট বিষয়ে জ্ঞানীদের (أهل الذكر) জিজ্ঞাসা করার নির্দেশ দিয়েছেন, যা ইবাদত যথাযথভাবে পালনের জন্য অধিকতর সহায়ক। সেই উদ্দেশ্যেই আমার ভ্রাতা শায়খ ডক্টর আব্দুল কারিম বিন মুহাম্মাদ আল-উমায়রিনি জানাজার বিধিবিধান সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো তার ‘কারারিত - মাসায়েল ওয়া আহকাম ওয়া বিদউল জানাইজ’ নামক গ্রন্থে সংকলন করেছেন। তিনি হাদিসসমূহের উৎস যাচাই (تخريج) ও মূল উৎসের (مصادر) দিকে সেগুলোকে সূত্রায়ন করেছেন এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে টীকা (حواشي) যুক্ত করেছেন। এছাড়া এই বিষয়ে মানুষের নিকট যা অস্পষ্ট হতে পারে, তা নিয়ে তিনি গবেষণা করেছেন। গ্রন্থটি একটি সুশোভিত উদ্যানের ন্যায়, যেখান থেকে সুপক্ক ফল আহরণ করা যায়। আমি গ্রন্থটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাঠ করেছি এবং একে এই বিষয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ রচনা হিসেবে পেয়েছি।

যারা দিন-রাত কিরাত (قراريط) পরিমাণ সওয়াব আহরণ করেন, তাদের জন্য এই বরকতময় প্রচেষ্টাটি আনন্দদায়ক। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন এর মাধ্যমে পাঠককে উপকৃত করেন এবং এর সংকলক ও মুদ্রণে অর্থ ব্যয়কারীকে উত্তম প্রতিদান দান করেন।

সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।
(খণ্ড: ১) কারারীত - মাসায়িল ওয়া আহকাম ওয়া বিদাউল জানাইয (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌المقدمة

إن الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيّئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله … أما بعد.

لما كانت الصلاة على الجنازة من العبادات التي ينال منها المرء حسنات كالجبال وهناك مسائل قد تخفى على بعض المهتمين بالصلاة على الجنازة وتشييعها، حاولت في هذا الكتيب أن أساهم في تقريب مسائل الجنائز على طريقة السؤال والجواب، وأحلت كل فائدة إلى مرجعها، وقد أورد أكثر من فتوى لمسألة واحدة وتكون الإجابة مختلفة حتى يعلم القارئ أن هذه مسألة اجتهادية فالأمر فيها واسع فلا ينكر أحد على أحد خاصة إذا لم يكن فيها نص صحيح صريح.

وعندما أتصرف بالنقل إما حذفا، أو اختصارا فإني أشير إليه بعبارة «بتصرف».

كما قمت بتخريج الأحاديث وذكرت حكم العلماء عليها قدر ما أمكن، وقمت بتوثيق النصوص والنقولات من مصادرها.

فما وجدتَ -أخي القارئ- فيه من خير فالحمد لله على توفيقه، وما
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল … অতঃপর।

যেহেতু জানাযার সালাত এমন এক ইবাদত যার মাধ্যমে মানুষ পাহাড়সম নেকি অর্জন করে, আর জানাযার সালাত ও এর অনুগমনে আগ্রহী ব্যক্তিদের নিকট কিছু মাসআলা অস্পষ্ট থেকে যেতে পারে, তাই আমি এই পুস্তিকাটিতে প্রশ্ন ও উত্তর পদ্ধতিতে জানাযার বিষয়গুলোকে সহজবোধ্য করার প্রয়াস পেয়েছি। আমি প্রতিটি তথ্যকে তার মূল সূত্রের দিকে ন্যস্ত করেছি। অনেক ক্ষেত্রে আমি একটি মাসআলার বিপরীতে একাধিক ফতোয়া উল্লেখ করেছি যার উত্তর ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে, যাতে পাঠক জানতে পারেন যে এটি একটি ইজতিহাদি বিষয় এবং এতে প্রশস্ততা রয়েছে; ফলে কেউ কারো ওপর আপত্তি করবে না, বিশেষ করে যদি তাতে কোনো বিশুদ্ধ (صحيح) ও স্পষ্ট (صريح) দলিল (نص) না থাকে।

যখন আমি কোনো উদ্ধৃতি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বর্জন বা সংক্ষেপণের আশ্রয় নিয়েছি, তখন আমি ‘পরিমার্জিত বা সংক্ষেপিত (بتصرف)’ বাক্যাংশের মাধ্যমে সেদিকে ইঙ্গিত করেছি।

পাশাপাশি আমি হাদিসসমূহের তখরিজ (تخريج) করেছি এবং সেগুলোর ওপর উলামায়ে কেরামের সিদ্ধান্ত বা হুকুম (حكم) যথাসম্ভব উল্লেখ করেছি। এছাড়া মূল উৎস থেকে পাঠ্য ও উদ্ধৃতিসমূহের প্রামাণ্যতা নিশ্চিত করেছি।

হে পাঠক ভাই! এর মধ্যে আপনি যা কিছু কল্যাণ পাবেন তা আল্লাহর তাওফিকের কারণে, আর যা কিছু...
(খণ্ড: ১) কারারীত - মাসায়িল ওয়া আহকাম ওয়া বিদাউল জানাইয (পৃষ্ঠা: ১০)
كان فيه من زللٍ فإن هذا حال من خُلِق من عَجَلٍ، وظني بك عدلاً، لا يعُدُّ الغلط فيُشنّع على صاحبه، لكنْ يتنبَّه إليه فينبّهه عليه، والخطأ من طبع الإنسان، وجل من لا عيب فيه. وذلك كما قيل:

وإن تجدْ عيباً فَسُدَ الخللا … فجَلَّ مَنْ لا عيبٌ فيه وعلا

يقول الثعالبي: لا يكتب أحد كتاباً فيبيت عنده ليلة إلا أحب في غيرها أن يزيد فيه أو ينقص منه، هذا في ليلة فكيف في سنين عديد.

وقال العماد الأصبهاني: إني رأيت أنه لا يكتب إنسان كتاباً في يومه إلا قال في غده لو غّير هذا لكان أحسن ولو زيد كذا لكان يستحسن، ولو قدم هذا لكان أفضل ولو ترك هذا لكان أجمل، وهذا من أعظم العبر وهو دليل على استيلاء النقص على جملة البشر.

أسأل الله رب العرش العظيم أن يغفر لي ولوالدي وذريتي والمسلمين والمسلمات الأحياء منهم والأموات، وأن يجعل أجر هذا العمل في موازيننا يوم أن نلقاه. وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه والتابعين له بإحسان إلى يوم الدين.

 

كتبه

عبدالكريم بن محمد العميريني

1437 هـ
এতে যদি কোনো বিচ্যুতি থাকে তবে এটি তাড়াহুড়ো করে সৃষ্টি করা মানবেরই অবস্থা। আপনার সম্পর্কে আমার ধারণা হলো আপনি একজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তি; আপনি ভুলত্রুটি অন্বেষণ করে তার রচয়িতার নিন্দা করবেন না, বরং সেদিকে ভ্রূক্ষেপ করে তাঁকে সচেতন করে দেবেন। ভুল করা মানুষের স্বভাব, আর তিনি মহিমান্বিত যার কোনো ত্রুটি নেই। যেমনটি বলা হয়েছে:

যদি আপনি কোনো ত্রুটি খুঁজে পান তবে সেই বিচ্যুতি সংশোধন করুন … মহিমান্বিত তিনি যার কোনো ত্রুটি নেই এবং তিনি সুউচ্চ।

আস-সাআলাবী বলেন: কেউ কোনো গ্রন্থ লিখে এক রাত অতিবাহিত করার পর এমন হয় না যে, সে পরবর্তী সময়ে তাতে কিছু বৃদ্ধি বা বিয়োগ করতে না চায়। এটি কেবল এক রাতের ব্যবধানে, তাহলে দীর্ঘ বহু বছরের ব্যবধানে পরিস্থিতি কেমন হতে পারে?

আল-ইমাদ আল-আসফাহানি বলেন: আমি লক্ষ্য করেছি যে, কোনো মানুষ একদিনে কোনো গ্রন্থ লেখে না যার পরের দিন সে এ কথা বলে না যে—যদি এটি পরিবর্তন করা হতো তবে আরও ভালো হতো, যদি কোনো বিষয় বৃদ্ধি করা হতো তবে আরও পছন্দনীয় হতো, যদি কোনো অংশ আগে আনা হতো তবে আরও উত্তম হতো, আর যদি এটি বাদ দেওয়া হতো তবে আরও সুন্দর হতো। এটি এক মহান শিক্ষা এবং সমগ্র মানবজাতির ওপর অপূর্ণতার প্রাবল্যের এক বড় প্রমাণ।

আমি মহান আরশের অধিপতি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাকে, আমার পিতামাতাকে, আমার বংশধরকে এবং সকল মুসলিম নর-নারীকে—তাদের মধ্যে যারা জীবিত এবং যারা মৃত—ক্ষমা করে দেন; আর তিনি যেন বিচার দিবসে তাঁর সাথে সাক্ষাতের দিনে এই আমলের সওয়াবকে আমাদের নেকির পাল্লায় যুক্ত করেন। আমাদের নবি মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী (التابعين)-গণের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

লিখেছেন

আবদুল করিম বিন মুহাম্মদ আল-উমাইরিনি

১৪৩৭ হিজরি
(খণ্ড: ১) কারারীত - মাসায়িল ওয়া আহকাম ওয়া বিদাউল জানাইয (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌أحكام عامة في التغسيل والتكفين والصلاة والدفن

‌‌أحكام في تغسيل الميت

قال ابن عثيمين:

1/ غسل الميت المسلم وتكفينه والصلاة عليه ودفنه فرض كفاية، فينبغي لمن قام بذلك أن ينوي أنه مؤد لهذه الفريضة، لينال أجرها وثوابها من الله تعالى. أما الكافر فلا يجوز تغسيله، ولا تكفينه، ولا دفنه مع المسلمين.

2/ الغاسل مؤتمن على الميت فيجب عليه أن يفعل ما يلزم في تغسيله وغيره.

3/ الغاسل مؤتمن على الميت فيجب عليه أن يستر ما رآه فيه من مكروه.

4/ الغاسل مؤتمن على الميت فلا ينبغي أن يمكن أحداً من الحضور عنده إلا من يحتاج إليه لمساعدته في تقليب الميت وصب الماء ونحوه.

5/ الغاسل مؤتمن على الميت فينبغي أن يستعمل الرفق به والاحترام، وأن لا يكون عنيفاً، أو حاقداً عليه عند خلع وتغسيله وغير ذلك.
মৃতকে গোসল দেওয়া, কাফন পরানো, জানাজা এবং দাফন সংক্রান্ত সাধারণ বিধানসমূহ

মৃতকে গোসল দেওয়া সংক্রান্ত বিধানসমূহ

ইবনে উসাইমিন বলেছেন:

১/ মুসলিম মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানো, কাফন পরানো, জানাজার সালাত আদায় করা এবং দাফন করা ফরজে কিফায়া। সুতরাং যে ব্যক্তি এই দায়িত্ব পালন করবে, তার উচিত এই ফরজ আদায়ের নিয়ত করা, যাতে সে আল্লাহ তাআলার নিকট থেকে এর সওয়াব ও প্রতিদান লাভ করতে পারে। পক্ষান্তরে, কাফিরের ক্ষেত্রে তাকে গোসল করানো, কাফন পরানো কিংবা মুসলিমদের সাথে দাফন করা বৈধ নয়।

২/ গোসলদানকারী ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির ব্যাপারে আমানতদার, তাই মৃতকে গোসল করানো এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ে যা কিছু করণীয়, তা যথাযথভাবে পালন করা তার জন্য আবশ্যক।

৩/ গোসলদানকারী ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির ব্যাপারে আমানতদার, তাই মৃত ব্যক্তির শরীরে কোনো অপ্রীতিকর বা ত্রুটিপূর্ণ বিষয় দেখলে তা গোপন রাখা তার জন্য আবশ্যক।

৪/ গোসলদানকারী ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির ব্যাপারে আমানতদার, তাই মৃতকে উল্টানো-পাল্টানো, পানি ঢালা বা এ জাতীয় প্রয়োজনে সাহায্য করার জন্য যাদের একান্ত প্রয়োজন, তারা ব্যতীত অন্য কাউকে সেখানে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়।

৫/ গোসলদানকারী ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির ব্যাপারে আমানতদার, তাই তার উচিত মৃতের সাথে নম্রতা ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা; কাপড় খোলার সময়, গোসল করানোর সময় এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে তার প্রতি কঠোর হওয়া বা বিদ্বেষপরায়ণ হওয়া উচিত নয়।
(খণ্ড: ১) কারারীত - মাসায়িল ওয়া আহকাম ওয়া বিদাউল জানাইয (পৃষ্ঠা: ১২)
6/ لا يغسل الرجل المرأة إلا أن تكون زوجته، ولا المرأة الرجل إلا أن يكون زوجها، إلا من دون سبع سنين فيغسله الرجل والمرأة سواء كان ذكراً أم أنثى.

7/ يستحب للغاسل إذا فرغ أن يغتسل كما يغتسل للجنابة، فإن لم يغتسل فلا حرج عليه(1).

--------------------------------------------

(1) مجموع فتاوى ورسائل العثيمين (17/ 471)
৬/ কোনো পুরুষ কোনো নারীকে গোসল করাবে না যদি না সে তার স্ত্রী হয়, এবং কোনো নারী কোনো পুরুষকে গোসল করাবে না যদি না সে তার স্বামী হয়; তবে সাত বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে পুরুষ বা নারী উভয়ই তাকে গোসল করাতে পারে, চাই সে ছেলে হোক বা মেয়ে।

৭/ মৃতকে গোসলদানকারীর জন্য কাজ শেষ করার পর জানাবাতের ন্যায় গোসল করা পছন্দনীয়, তবে যদি সে গোসল না করে তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই।(১).

--------------------------------------------

(১) মাজমু' ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল আল-উসাইমিন (১৭/ ৪৭১)
(খণ্ড: ১) কারারীত - মাসায়িল ওয়া আহকাম ওয়া বিদাউল জানাইয (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌كيفية تغسيل الميت

قال ابن عثيمين:

الواجب في تغسيل الميت أن يغسل جميع جسده بالماء حتى ينقى، والأفضل أن يعمل ما يلي:

1/ يضع الميت على الشيء الذي يريد أن يغسله عليه منحدراً نحو رجليه.

2/ يلف خرقة على عورة الميت من السرة إلى الركبة قبل أن يخلع ثيابه لئلا ترى عورته بعد الخلع.

3/ يخلع ثياب الميت برفق.

4/ يلف الغاسل على يده خرقة فيغسل عورة الميت من غير كشف حتى ينقيها، ثم يلقي الخرقة.

5/ يبل خرقة بماء فينظف بها أسنان الميت ومناخره.

6/ يغسل وجه الميت، ويديه إلى المرفقين، ورأسه ورجليه إلى الكعبين، يبدأ باليد اليمنى قبل اليسرى، وبالرجل اليمنى قبل اليسرى.

7/ لا يدخل الماء في فم الميت ولا أنفه اكتفاء بتنظيفهما بالخرقة.

8/ يغسل جسده كله ثلاثاً، أو خمساً، أو سبعاً، أو أكثر من ذلك. حسب حاجة الجسم إلى التنظيف والتنقية، يبدأ بالجانب الأيمن من الجسم قبل الأيسر.
মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানোর পদ্ধতি

ইবনে উসাইমীন বলেন:

মৃত ব্যক্তিকে গোসল করানোর ক্ষেত্রে আবশ্যিক (الواجب) হলো তার পুরো শরীর পানি দিয়ে ধৌত করা যতক্ষণ না তা পরিষ্কার হয়; তবে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করা সর্বোত্তম (الأفضل):

১/ মৃত ব্যক্তিকে এমন একটি আধারের ওপর রাখতে হবে যার ওপর তাকে গোসল করানো হবে এবং তার পায়ের দিকটি কিছুটা ঢালু থাকবে।

২/ কাপড় খোলার আগেই মৃত ব্যক্তির নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত সতর (عورة) একটি নেকড়া দিয়ে আবৃত করতে হবে, যাতে কাপড় খোলার পর তার লজ্জাস্থান দেখা না যায়।

৩/ মৃত ব্যক্তির পরিধেয় বস্ত্র অত্যন্ত কোমলতার সাথে খুলে ফেলতে হবে।

৪/ গোসলদানকারী নিজ হাতে একটি নেকড়া পেঁচিয়ে নেবেন এবং সতর (عورة) উন্মুক্ত না করেই মৃত ব্যক্তির লজ্জাস্থান পরিষ্কার করবেন যতক্ষণ না তা পরিচ্ছন্ন হয়, এরপর ওই নেকড়াটি বর্জন করবেন।

৫/ একটি নেকড়া পানিতে ভিজিয়ে তা দিয়ে মৃত ব্যক্তির দাঁত ও নাসারন্ধ্র পরিষ্কার করবেন।

৬/ মৃত ব্যক্তির মুখমণ্ডল, কনুই পর্যন্ত উভয় হাত, মাথা এবং টাখনু পর্যন্ত উভয় পা ধৌত করবেন। এক্ষেত্রে বাম হাতের পূর্বে ডান হাত এবং বাম পায়ের পূর্বে ডান পা দিয়ে শুরু করবেন।

৭/ মৃত ব্যক্তির মুখ বা নাকের ভেতরে পানি প্রবেশ করানো যাবে না, বরং নেকড়া দিয়ে সেগুলো পরিষ্কার করাই যথেষ্ট হবে।

৮/ তার পূর্ণ শরীর তিন, পাঁচ, সাত অথবা প্রয়োজনানুসারে তার চেয়েও বেশিবার ধৌত করবেন। শরীরের পরিচ্ছন্নতা ও পবিত্রতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী এটি করতে হবে; এক্ষেত্রে শরীরের বাম পার্শ্বের পূর্বে ডান পার্শ্ব দিয়ে শুরু করবেন।
(খণ্ড: ১) কারারীত - মাসায়িল ওয়া আহকাম ওয়া বিদাউল জানাইয (পৃষ্ঠা: ১৪)
9/ فيضرب الماء المخلوط بالسدر بيده حتى تظهر رغوته، فيغسل بالرغوة رأسه ولحيته، وبالباقي بقية الجسم.

10/ الأفضل أن يخلط بالغسلة الأخيرة كافوراً (وهو نوع معروف من الطيب).

11/ إذا كان للميت شعر فإنه يسرح ولا يلبد ولا يقص شيء منه.

12/ إذا كان الميت امرأة نقض شعرها إن كان مجدولاً، فإذا غسل ونقي جدل ثلاث جدائل، وجعلن خلف ظهرها.

13/ إذا كانت بعض أعضاء الميت منفصلة فإنها تغسل وتضم إليه.

14/ إذا كان الميت متفسخاً بحروق أو غيرها، ولا يمكن تغسيله فإنه ييمم عند كثير من أهل العلم، فيضرب الميمم يديه بالأرض ويمسح بهما وجه الميت وكفيه(1).

--------------------------------------------

(1) مجموع فتاوى ورسائل العثيمين (17/ 472)
9/ কুল পাতা মিশ্রিত পানি হাত দিয়ে নাড়তে হবে যতক্ষণ না ফেনা দৃশ্যমান হয়, এরপর ফেনা দিয়ে তার মাথা ও দাড়ি এবং অবশিষ্ট পানি দিয়ে শরীরের বাকি অংশ ধৌত করতে হবে।

10/ উত্তম হলো শেষবার ধৌত করার সময় কর্পূর (এটি একটি সুপরিচিত সুগন্ধি) মিশিয়ে নেওয়া।

11/ যদি মৃত ব্যক্তির চুল থাকে তবে তা আঁচড়ে দিতে হবে, জট পাকানো যাবে না এবং তা থেকে কোনো কিছু কাটা যাবে না।

12/ মৃত ব্যক্তি নারী হলে তার বিনুনি করা চুল খুলে দিতে হবে, এরপর ধৌত ও পরিষ্কার করার পর তিনটি বিনুনি করতে হবে এবং তা তার পিঠের পেছনে রাখতে হবে।

13/ যদি মৃত ব্যক্তির কোনো অঙ্গ বিচ্ছিন্ন থাকে তবে তা ধৌত করতে হবে এবং তার দেহের সাথে যুক্ত করে দিতে হবে।

14/ মৃত ব্যক্তি যদি দগ্ধ হওয়ার কারণে বা অন্য কোনো কারণে এমনভাবে বিকৃত হয়ে যায় যে তাকে গোসল করানো সম্ভব না হয়, তবে অনেক আলেমের মতে তাকে তায়াম্মুম করাতে হবে; তায়াম্মুম প্রদানকারী ব্যক্তি মাটিতে হাত মেরে তা দিয়ে মৃত ব্যক্তির মুখমণ্ডল ও উভয় কব্জি মুছে দেবেন(১)।

--------------------------------------------

(১) মাজমু ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল আল-উসাইমিন (১৭/ ৪৭২)
(খণ্ড: ১) কারারীত - মাসায়িল ওয়া আহকাম ওয়া বিদাউল জানাইয (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌كيفية تكفين الميت

قال ابن عثيمين:

الواجب في تكفين الميت خرقة تغطي جميع بدنه، لكن الأفضل كما يلي:

1/ يكفن الرجل في ثلاث خرق بيض، يوضع بعضها فوق بعض، ثم يوضع الميت عليها، ثم يرد طرف العليا من جانب الميت الأيمن على صدره، ثم طرفها من جانبه الأيسر، ثم يفعل باللفافة الثانية، ثم الثالثة كذلك، ثم يرد طرف اللفائف من عند رأسه ورجليه ويعقدها.

2/ تبخر الأكفان بالبخور، ويذر بينها شيء من الحنوط (والحنوط أخلاط من الطيب يصنع للموتى).

3/ يجعل من الحنوط على وجه الميت، ومغابنه، ومواضع سجوده.

4/ يوضع شيء من الحنوط في قطن فوق عينيه، ومنخريه، وشفتيه.

5/ يوضع شيء من الحنوط في قطن بين إليتيه، ويشد بخرقة.

6/ تكفن المرأة في خمس قطع: إزار، وخمار، وقميص، ولفافتين. وإن كفنت كما يكفن الرجل فلا حرج في ذلك.

7/ تحل عقد الكفن عند وضع الميت في قبره(1).

--------------------------------------------

(1) مجموع فتاوى ورسائل العثيمين (17/ 474)
‌মৃতকে কাফন দেওয়ার পদ্ধতি

ইবন উসাইমীন বলেন:

মৃতকে কাফন দেওয়ার ক্ষেত্রে আবশ্যিক হলো এমন একটি কাপড় যা তার পুরো শরীরকে আবৃত করবে, তবে সবচেয়ে উত্তম পদ্ধতি হলো নিম্নরূপ:

১/ পুরুষকে তিনটি সাদা কাপড়ে কাফন দেওয়া হবে, যা একটির ওপর আরেকটি বিছানো থাকবে। অতঃপর মৃত ব্যক্তিকে তার ওপর রাখা হবে। তারপর উপরের কাপড়ের ডান প্রান্তটি মৃতের বুকের ওপর মুড়িয়ে দেওয়া হবে, এরপর তার বাম প্রান্তটি। একইভাবে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় কাপড়ের ক্ষেত্রেও করা হবে। এরপর মাথা ও পায়ের দিকের কাপড়গুলোর প্রান্তগুলো গুটিয়ে তা গিঁট দিয়ে বেঁধে দেওয়া হবে।

২/ কাফনের কাপড়গুলোতে ধূপের সুগন্ধি দিতে হবে এবং সেগুলোর মাঝে কিছু হানুত ছিটিয়ে দিতে হবে (হানুত হলো সুগন্ধির একটি মিশ্রণ যা মৃতদের জন্য তৈরি করা হয়)।

৩/ হানুত মৃতের মুখমণ্ডল, শরীরের ভাঁজসমূহ এবং সিজদার অঙ্গগুলোতে লাগাতে হবে।

৪/ তুলায় কিছুটা হানুত নিয়ে তার দুই চোখ, নাসারন্ধ্র এবং ঠোঁটের ওপর রাখতে হবে।

৫/ তুলায় কিছুটা হানুত নিয়ে তার দুই পাছার মাঝখানে রাখতে হবে এবং একটি কাপড়ের টুকরো দিয়ে তা বেঁধে দিতে হবে।

৬/ নারীকে পাঁচটি কাপড়ে কাফন দেওয়া হবে: ইজার (তহবন্দ), খিমার (ওড়না), কামিস (জামা) এবং দুটি লেফাফা (জড়ানোর চাদর)। তবে তাকে যদি পুরুষের মতো কাফন দেওয়া হয়, তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই।

৭/ মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখার সময় কাফনের গিঁটগুলো খুলে দিতে হবে(১)।

--------------------------------------------

(১) মাজমু ফাতাওয়া ওয়া রাসাইল আল-উসাইমীন (১৭/ ৪৭৪)
(খণ্ড: ১) কারারীত - মাসায়িল ওয়া আহকাম ওয়া বিদাউল জানাইয (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌كيفية الصلاة على الميت

قال ابن عثيمين:

1/ يصلى على الميت المسلم صغيراً كان أم كبيراً، ذكراً كان أم أنثى.

2/ يصلى على الحمل إذا سقط وقد بلغ أربعة أشهر، ويفعل به كما يفعل بالكبير فيغسل، ويكفن قبل الصلاة عليه.

3/ لا يصلى على الحمل إذا سقط قبل تمام أربعة أشهر؛ لأنه لم تنفخ فيه الروح، ولا يغسل، ولا يكفن، وإنما يدفن في أي مكان.

4/ يقف الإمام في الصلاة على الميت عند رأس الرجل، وعند وسط المرأة، ويصلي الناس وراءه.

5/ يكبر في الصلاة على الميت أربع تكبيرات، يقرأ في التكبيرة الأولى بعد التعوذ والبسملة سورة الفاتحة.

ويصلي على النبي صلى الله عليه وسلم بعد التكبيرة الثانية فيقول: اللهم صل على محمد وعلى آل محمد، كما صليت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم، إنك حميد مجيد. وبارك على محمد وعلى آل محمد، كما باركت على إبراهيم وعلى آل إبراهيم، إنك حميد مجيد. ويدعو للميت بعد التكبيرة الثالثة. والأفضل أن يدعو بما ورد عن النبي صلى الله عليه وسلم في ذلك، فإن لم يعرفه دعا بما يعرف.

ويقف بعد الرابعة قليلاً، ثم يسلم، وإن قال قبل السلام: ربنا آتنا في الدنيا حسنة، وفي الآخرة حسنة، وقنا عذاب النار فلا بأس بذلك.
মৃত ব্যক্তির জানাজার সালাত আদায়ের পদ্ধতি

ইবনে উসাইমিন বলেছেন:

১/ মৃত মুসলিম ব্যক্তির জানাজা পড়া হবে, সে ছোট হোক বা বড়, পুরুষ হোক বা নারী।

২/ গর্ভজাত সন্তান যদি চার মাস বয়স পূর্ণ হওয়ার পর ভূমিষ্ঠ (গর্ভপাত) হয়, তবে তার জানাজা পড়তে হবে। তার ক্ষেত্রে বড়দের মতোই আচরণ করা হবে; অর্থাৎ তাকে গোসল করানো হবে এবং জানাজার সালাত আদায়ের আগে কাফন পরানো হবে।

৩/ চার মাস পূর্ণ হওয়ার আগে যদি গর্ভপাত হয়, তবে তার জানাজা পড়া হবে না; কারণ তখনো তাতে রুহ ফুঁকে দেওয়া হয়নি। তাকে গোসল করানো হবে না এবং কাফনও পরানো হবে না, বরং যেকোনো স্থানে দাফন করে দেওয়া হবে।

৪/ জানাজার সালাতে ইমাম পুরুষের মাথার কাছে এবং নারীর মাঝ বরাবর দাঁড়াবেন এবং মুসুল্লিরা তাঁর পেছনে সালাত আদায় করবে।

৫/ জানাজার সালাতে চারটি তাকবির প্রদান করতে হবে। প্রথম তাকবিরের পর আউজুবিল্লাহ ও বিসমিল্লাহ পাঠ করে সূরা আল-ফাতিহা পাঠ করবে।

দ্বিতীয় তাকবিরের পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠ করবে এবং বলবে: 'হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের বংশধরের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন রহমত বর্ষণ করেছেন ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের বংশধরের ওপর। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের বংশধরের ওপর বরকত নাজিল করুন, যেমন বরকত নাজিল করেছেন ইব্রাহিম ও ইব্রাহিমের বংশধরের ওপর। নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।' তৃতীয় তাকবিরের পর মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করবে। এক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত (وارد) দোয়াগুলো করা উত্তম; যদি সেগুলো জানা না থাকে, তবে যা জানা আছে তা দিয়েই দোয়া করবে।

চতুর্থ তাকবিরের পর সামান্য সময় দাঁড়াবে, তারপর সালাম ফেরাবে। যদি সালাম ফেরানোর আগে বলে: 'হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদের জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন', তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই।
(খণ্ড: ১) কারারীত - মাসায়িল ওয়া আহকাম ওয়া বিদাউল জানাইয (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌كيفية دفن الميت

قال ابن عثيمين:

1/ الواجب أن يدفن الميت في قبر يمنعه من السباع متوجهاً إلى القبلة، وكلما عمقه فهو أفضل.

2/ الأفضل أن يكون القبر لحداً، وذلك بأن يحفر للميت حفرة في عمق القبر مما يلي القبلة.

3/ يجوز أن يكون القبر شقًّا، وذلك بأن يحفر للميت حفرة في عمق القبر في وسطه، إذا دعت الحاجة لذلك، بأن تكون الأرض رخوة.

4/ يوضع الميت في قبره على جنبه الأيمن متوجهاً إلى القبلة.

5/ ينصب عليه اللبن نصباً، ويسد ما بينها بالطين المثرى لئلا ينهال التراب على الميت.

6/ يدفن القبر بعد ذلك، ولا يرفع، ولا يشيد بجص أو غيره.

7/ لا يجوز الدفن في ثلاثة أوقات:

1/ إذا طلعت الشمس حتى ترتفع قدر رمح.

2/ إذا وقفت عند الزوال حتى تزول.

3/ إذا بقي عليها مقدار رمح عند الغروب حتى تغرب.

ومقدار الوقتين الأول والأخير نحو ربع ساعة، ومقدار الثاني نحو سبع دقائق(1).

--------------------------------------------

(1) مجموع فتاوى ورسائل العثيمين (17/ 475)
মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পদ্ধতি

ইবনে উসাইমীন বলেন:

১/ ওয়াজিব হলো মৃত ব্যক্তিকে এমন এক কবরে দাফন করা যা তাকে হিংস্র প্রাণী থেকে রক্ষা করবে এবং তাকে কিবলামুখী করে রাখা হবে; আর কবর যত গভীর করা হবে তা তত উত্তম।

২/ উত্তম হলো কবর 'লাহাদ' (পার্শ্ব-খাত) হওয়া; আর তা হলো কবরের তলদেশের কিবলার দিকের অংশে মৃত ব্যক্তির জন্য একটি গর্ত খনন করা।

৩/ কবর 'শাক' (মধ্য-খাত) হওয়াও জায়েজ, আর তা হলো কবরের তলদেশের ঠিক মাঝখানে মৃত ব্যক্তির জন্য একটি গর্ত খনন করা—যদি এর প্রয়োজন হয়, যেমন মাটি যদি নরম হয়।

৪/ মৃত ব্যক্তিকে তার কবরে ডান কাতে কিবলামুখী করে রাখা হবে।

৫/ তার ওপর কাঁচা ইট সুন্দরভাবে সাজিয়ে দিতে হবে এবং ইটের মাঝখানের ফাঁকগুলো কাদা মাটি দিয়ে বন্ধ করে দিতে হবে যাতে মৃত ব্যক্তির ওপর মাটি ধসে না পড়ে।

৬/ এরপর কবর মাটি দিয়ে ভরাট করে দিতে হবে; এটি উঁচু করা যাবে না এবং চুনকাম বা অন্য কিছু দিয়ে পাকা করা যাবে না।

৭/ তিনটি সময়ে দাফন করা জায়েজ নয়:

১/ যখন সূর্য উদিত হয়, যতক্ষণ না তা এক বর্শা পরিমাণ উপরে ওঠে।

২/ যখন সূর্য ঠিক দ্বিপ্রহরে মধ্যগগনে থাকে, যতক্ষণ না তা পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়ে।

৩/ সূর্যাস্তের সময় যখন সূর্য এক বর্শা পরিমাণ উপরে থাকে, যতক্ষণ না তা সূর্যাস্ত যায়।

প্রথম ও শেষ সময়ের স্থায়িত্বকাল প্রায় পনেরো মিনিট এবং দ্বিতীয় সময়ের স্থায়িত্বকাল প্রায় সাত মিনিট(১)।

--------------------------------------------

(১) মাজমুউ ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িল আল-উসাইমীন (১৭/ ৪৭৫)
(খণ্ড: ১) কারারীত - মাসায়িল ওয়া আহকাম ওয়া বিদাউল জানাইয (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌الأمور التي تعين على الاستعداد للآخرة

1 - الإكثار من ذكر الموت والاستعداد للقاء الله تعالى: ينبغي للمسلم أن يكثر من ذكر الموت، ويبادر بالأعمال الصالحة قبل أن يأتيه الموت بغتة فيندم حين لا ينفع الندم؛ لحديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (أكثروا ذِكْرَ هاذِم اللذَّات)(1).

وعن سهل بن سعد رضي الله عنه قال: جاء جبريل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: (يا محمد عِشْ ما شئتَ فإنك ميتٌ، وأحببْ من شئتَ فإنك مفارقُه، واعملْ ما شئتَ فإنك مَجزيٌّ به، ثم قال: (يا محمد شرف المؤمن قيام الليل، وعزُّه استغناؤه عن الناس)(2).

2 - ذكر القبر والبلى؛ لحديث هانئ مولى عثمان رضي الله عنه قال: كان عثمان إذا وقف على قبرٍ بكى حتى يَبُلَّ لحيته، فقيل له: تُذكرُ الجنة والنارُ فلا تبكي وتبكي من هذا؟ فقال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (إن القبر أول

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد في المسند برقم (7925) 13/ 301، والترمذي في جامعه برقم (2307) 4/ 553، والنسائي في سننه برقم (1824) 4/ 4. وصححه الألباني في الجامع الصغير 1/ 2090.

(2) أخرجه الطبراني في الأوسط برقم (4278) 4/ 306، والحاكم في المستدرك برقم (7921) 4/ 360، والبيهقي في الشعب برقم (10058) 13/ 125. وحسنه الألباني في الجامع الصغير 1/ 73.
পরকালের প্রস্তুতির জন্য সহায়ক বিষয়সমূহ

১ - মৃত্যুকে অধিকহারে স্মরণ করা এবং মহান আল্লাহর সাথে সাক্ষাতের প্রস্তুতি গ্রহণ করা: একজন মুসলিমের উচিত মৃত্যুকে অধিক পরিমাণে স্মরণ করা এবং হঠাৎ মৃত্যু আসার আগেই নেক আমলের দিকে অগ্রসর হওয়া, যাতে তাকে এমন সময়ে অনুতপ্ত হতে না হয় যখন অনুশোচনা কোনো কাজে আসে না। আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (তোমরা স্বাদ বিনাশকারীকে [মৃত্যুকে] অধিকহারে স্মরণ করো)(১)।

সাহল ইবনে সা'দ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন: (হে মুহাম্মদ! আপনি যতদিন ইচ্ছা বেঁচে থাকুন, নিশ্চয়ই আপনি মৃত্যুবরণ করবেন। যাকে ইচ্ছা ভালোবাসুন, নিশ্চয়ই আপনি তার থেকে বিচ্ছিন্ন হবেন। আর যা ইচ্ছা আমল করুন, নিশ্চয়ই আপনাকে তার প্রতিদান দেওয়া হবে)। অতঃপর তিনি বললেন: (হে মুহাম্মদ! মুমিনের মর্যাদা হলো রাতে সালাত আদায় করা, আর তার সম্মান হলো মানুষের নিকট হাত পাতা থেকে বিমুখ থাকা)(২)।

২ - কবর এবং পচাগলে যাওয়াকে স্মরণ করা; উসমানের মুক্তদাস হানি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, তিনি বলেন: উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যখন কোনো কবরের পাশে দাঁড়াতেন, তখন কাঁদতেন—এমনকি তার দাড়ি ভিজে যেত। তাঁকে বলা হলো: জান্নাত ও জাহান্নামের কথা স্মরণ করা হলে আপনি কাঁদেন না, অথচ এখান থেকে কাঁদছেন? তিনি বললেন: নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (নিশ্চয়ই কবর হলো পরকালের প্রথম ধাপ...

--------------------------------------------

(১) আহমাদ এটি আল-মুসনাদে (৭৯২৫) ১৩/৩০১, তিরমিজি তাঁর জামিউতে (২৩০৭) ৪/৫৫৩, এবং নাসায়ি তাঁর সুনানে (১৮২৪) ৪/৪ বর্ণনা করেছেন। আলবানি এটিকে সহিহ (صحيح) হিসেবে অভিহিত করেছেন আল-জামিউস সাগির ১/২০৯০-এ।

(২) তাবারানি এটি আল-আওসাতে (৪২৭৮) ৪/৩০৬, হাকেম আল-মুস্তাদরাকে (৭৯২১) ৪/৩৬০, এবং বায়হাকি আশ-শুয়াবে (১০০৫৮) ১৩/১২৫ বর্ণনা করেছেন। আলবানি এটিকে হাসান (حسن) হিসেবে অভিহিত করেছেন আল-জামিউস সাগির ১/৭৩-এ।
(খণ্ড: ১) কারারীত - মাসায়িল ওয়া আহকাম ওয়া বিদাউল জানাইয (পৃষ্ঠা: ১৯)
منازل الآخرة، فإن نجا منه فما بعده أيسر منه، وإن لم ينجُ منه فما بعده أشدُّ منه)(1) قال: وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (ما رأيت منظراً قطُّ إلا والقبرُ أفظعُ منه)(2).

والقبر أقرب شيء للإنسان، وشدته أمارة للشدائد كلها، وهو أشد وأشنع المناظر في الدنيا

3 - قصر الأمل والاستعداد للموت بالأعمال الصالحة، قال الله تعالى: {ذَرْهُمْ يَأْكُلُواْ وَيَتَمَتَّعُواْ وَيُلْهِهِمُ الأَمَلُ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ}.

قال علي بن أبي طالب رضي الله عنه: (ارتحلت الدنيا مدبرةً، وارتحلت الآخرة مقبلةً، ولكل واحدةٍ منها بنون فكونوا من أبناء الآخرة ولا تكونوا من أبناء الدنيا؛ فإن اليوم عملٌ ولا حساب، وغداً حسابٌ ولا عمل(3).

وعن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: خطَّ النبي صلى الله عليه وسلم خطّاً مربعاً، وخطَّ خطّاً في الوسط خارجاً منه، وخطَّ خُطَطاً صغاراً إلى الذي في الوسط من جانبه الذي في الوسط، وقال: (هذا الإنسان وهذا أجَلُهُ محيطٌ به أو

--------------------------------------------

(1) أخرجه ابن ماجه في سننه برقم (4267) 5/ 334، والحاكم في المستدرك برقم (1317) 1/ 526، والبيهقي في السنن الكبرى برقم (7064) 4/ 92. وحسنه الألباني في الجامع الصغير 1/ 2564.

(2) أخرجه أحمد في المسند برقم (425) 1/ 503، والترمذي في جامعه برقم (2308) 4/ 553، وابن ماجه في سننه برقم (4267) 5/ 334. وحسنه الألباني في الجامع الصغير 1/ 10560.

(3) ذكره البخاري في صحيحه في باب الأمل وطوله 8/ 89.
আখেরাতের মঞ্জিলসমূহের প্রথমটি। যদি সে তা থেকে মুক্তি পায়, তবে পরবর্তী বিষয়গুলো তার জন্য অধিকতর সহজ হবে। আর যদি সে তা থেকে মুক্তি না পায়, তবে পরবর্তী বিষয়গুলো তার জন্য অধিকতর কঠিন হবে।)(১) তিনি বলেন: এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমি কখনোই কোনো দৃশ্য দেখিনি যা কবর অপেক্ষা অধিক ভয়াবহ ছিল।)(২).

কবর মানুষের জন্য নিকটতম বস্তু, এবং এর ভয়াবহতা সমস্ত কঠোরতার লক্ষণ। এটি দুনিয়ার দৃশ্যসমূহের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর ও জঘন্যতম দৃশ্য।

৩ - দুনিয়াবি আশা-আকাঙ্ক্ষা সংক্ষিপ্ত করা এবং সৎকর্মের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রস্তুতি গ্রহণ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তাদেরকে ছেড়ে দিন, তারা আহার করুক ও ভোগ-বিলাস করুক এবং আশা তাদেরকে গাফেল রাখুক, অচিরেই তারা জানতে পারবে।}

আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: (দুনিয়া পিঠ দেখিয়ে চলে যাচ্ছে, আর আখেরাত সম্মুখপানে অগ্রসর হচ্ছে। এদের প্রত্যেকেরই সন্তানাদি (অনুসারী) রয়েছে। সুতরাং তোমরা আখেরাতের সন্তান হও এবং দুনিয়ার সন্তান হয়ো না; কেননা আজ কেবল আমল করার সময়, কোনো হিসাব নেই। আর আগামীকাল কেবল হিসাবের দিন, কোনো আমল করার সুযোগ নেই।)(৩).

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি চতুর্ভুজ রেখা টানলেন এবং এর মাঝখান দিয়ে একটি রেখা টানলেন যা চতুর্ভুজটি থেকে বাইরে বেরিয়ে গেছে। আর মধ্যবর্তী রেখাটির পার্শ্বদেশ থেকে মধ্যবর্তী রেখাটির দিকে কয়েকটি ছোট ছোট রেখা টানলেন এবং বললেন: (এটি মানুষ এবং এটি তার আয়ু যা তাকে পরিবেষ্টন করে রেখেছে অথবা...

--------------------------------------------

(১) ইবনে মাজাহ তার সুনানে এটি বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (৪২৬৭) ৫/ ৩৩৪; হাকেম আল-মুস্তাদরাকে, হাদিস নং (১৩১৭) ১/ ৫২৬; এবং বায়হাকী সুনানুল কুবরায়, হাদিস নং (৭০৬৪) ৪/ ৯২। আলবানি আল-জামেউস সগীরে এটিকে হাসান (حسن) বলে অভিহিত করেছেন, ১/ ২৫৬৪।

(২) আহমাদ মুসনাদে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (৪২৫) ১/ ৫০৩; তিরমিজি তার জামে গ্রন্থে, হাদিস নং (২৩০৮) ৪/ ৫৫৩; এবং ইবনে মাজাহ তার সুনানে, হাদিস নং (৪২৬৭) ৫/ ৩৩৪। আলবানি আল-জামেউস সগীরে এটিকে হাসান (حسن) বলে অভিহিত করেছেন, ১/ ১০৫৬০।

(৩) ইমাম বুখারী এটি তার সহীহ গ্রন্থে 'আশা ও তার দীর্ঘতা' অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন, ৮/ ৮৯।
(খণ্ড: ১) কারারীত - মাসায়িল ওয়া আহকাম ওয়া বিদাউল জানাইয (পৃষ্ঠা: ২০)
قد أحاط به وهذا الذي هو خارج أمله، وهذه الخُطَطُ الصغار الأعراض، فإن أخطأه هذا نهشه هذا، وإن أخطأه هذا نهشه هذا)(1).

وعن أنس رضي الله عنه قال: خطَّ النبي صلى الله عليه وسلم خطوطاً فقال: (هذا الأمل وهذا أجله، فبينما هو كذلك إذ جاءه الخط الأقرب(2)

4 - الإكثار من التفكر في أحوال المحتضرين. جاء في القرآن الكريم وفي السنة النبوية الشريفة بيان أحوال المحتضرين عند الموت، ومن ذلك على سبيل المثال ما يأتي:

قال الله تعالى: {كَلا إِذَا بَلَغَتِ التَّرَاقِيَ * وَقِيلَ مَنْ رَاقٍ، وَظَنَّ أَنَّهُ الْفِرَاقُ * وَالْتَفَّتِ السَّاقُ بِالسَّاقِ * إِلَى رَبِّكَ يَوْمَئِذٍ الْمَسَاقُ} يعظ الله تعالى عباده بذكر حال المحتضر عند السياق، وأنه إذا بلغت روحه التراقي وهي العظام المكتنفة لثغرة النحر، التي بين ثغرة النحر والعاتق - فحينئذ يشتد الكرب والأهوال ثبتنا الله هناك بالقول الثابت، وفي هذه الحال تُطلب كل وسيلة وسبب يُظن أنه يحصل بها شفاء، ولكن إذا جاء قضاء الله وقدره فلا مردَّ له

5 - التفكُّر في أحوال الظالمين عند الاحتضار وما تفعل بهم الملائكة نسأل الله العافية.

قال الله تعالى: {وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّالِمُونَ فِي غَمَرَاتِ الْمَوْتِ وَالْمَلآئِكَةُ بَاسِطُواْ أَيْدِيهِمْ أَخْرِجُواْ أَنفُسَكُمُ الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُونِ بِمَا كُنتُمْ

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في صحيحه برقم (6417) 8/ 89.

(2) أخرجه البخاري في صحيحه برقم (6418) 8/ 89.
তাকে তা পরিবেষ্টন করে আছে এবং এটি তার আকাঙ্ক্ষার বাইরে। আর এই ছোট ছোট রেখাগুলো হলো আপদ-বিপদ; যদি একটি তাকে ছেড়ে দেয় তবে অন্যটি তাকে দংশন করে, আর যদি এটি তাকে ছেড়ে দেয় তবে অন্যটি তাকে দংশন করে)(১).

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সা.) কয়েকটি রেখা অঙ্কন করলেন এবং বললেন: (এটি হলো মানুষের আকাঙ্ক্ষা এবং এটি তার আয়ু; সে যখন এই অবস্থায় থাকে, হঠাৎ করে তার কাছে নিকটতম রেখাটি এসে পৌঁছে)(২)

৪ - মুমূর্ষু ব্যক্তিদের অবস্থা নিয়ে অধিক চিন্তা-ভাবনা করা। পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহতে মৃত্যুর সময় মুমূর্ষু ব্যক্তিদের অবস্থার বর্ণনা এসেছে, উদাহরণস্বরূপ নিচের বিষয়গুলো উল্লেখযোগ্য:

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {কখনোই না, যখন প্রাণ কণ্ঠাগত হবে * এবং বলা হবে: কে আছে ঝাড়ফুঁক দেওয়ার? * আর সে নিশ্চিত হবে যে, এটিই বিদায়ক্ষণ * এবং পায়ের নলার সাথে অন্য পায়ের নলা জড়িয়ে যাবে * সেদিন তোমার রবের দিকেই হবে যাত্রা।} আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের মুমূর্ষু অবস্থার কথা উল্লেখ করে উপদেশ দিচ্ছেন। যখন মানুষের প্রাণ কণ্ঠাগত হয়—যা গলার উপরিভাগ এবং কাঁধের মধ্যবর্তী হাড়—তখন কষ্ট ও ভয়াবহতা তীব্র হয়; আল্লাহ আমাদের সেই সময়ে সুদৃঢ় বাণীর ওপর অটল রাখুন। এমতাবস্থায় সুস্থতা লাভের জন্য এমন প্রতিটি উপায় ও মাধ্যম খোঁজা হয় যা দ্বারা আরোগ্য লাভের সম্ভাবনা থাকে বলে মনে করা হয়, কিন্তু যখন আল্লাহর ফয়সালা ও তকদির এসে যায়, তখন তা প্রতিহত করার কেউ থাকে না।

৫ - মৃত্যুর সময় জালিমদের অবস্থা এবং ফেরেশতারা তাদের সাথে যা করে তা নিয়ে চিন্তা করা; আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আর আপনি যদি দেখেন যখন জালিমরা মৃত্যু যন্ত্রণায় থাকে এবং ফেরেশতারা হাত বাড়িয়ে দেয় (এবং বলে), তোমাদের প্রাণ বের করো; আজ তোমাদের অবমাননাকর শাস্তি দেওয়া হবে, কারণ তোমরা...}

--------------------------------------------

(১) ইমাম বুখারি এটি তাঁর সহিহ বুখারি গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (৬৪১৭), খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ৮৯।

(২) ইমাম বুখারি এটি তাঁর সহিহ বুখারি গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (৬৪১৮), খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ৮৯।
(খণ্ড: ১) কারারীত - মাসায়িল ওয়া আহকাম ওয়া বিদাউল জানাইয (পৃষ্ঠা: ২১)
تَقُولُونَ عَلَى الله غَيْرَ الْحَقِّ وَكُنتُمْ عَنْ آيَاتِهِ تَسْتَكْبِرُونَ} وقال تعالى: {وَلَوْ تَرَى إِذْ يَتَوَفَّى الَّذِينَ كَفَرُواْ الْمَلآئِكَةُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبَارَهُمْ وَذُوقُواْ عَذَابَ الْحَرِيقِ}. وقال الله عز وجل: {فَكَيْفَ إِذَا تَوَفَّتْهُمُ الْمَلائِكَةُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبَارَهُمْ * ذَلِكَ بِأَنَّهُمُ اتَّبَعُوا مَا أَسْخَطَ اللهَ وَكَرِهُوا رِضْوَانَهُ فَأَحْبَطَ أَعْمَالَهُمْ}

وقال سبحانه وتعالى: {حَتَّى إِذَا جَاءَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ رَبِّ ارْجِعُونِ * لَعَلِّي أَعْمَلُ صَالِحًا فِيمَا تَرَكْتُ كَلا إِنَّهَا كَلِمَةٌ هُوَ قَائِلُهَا وَمِن وَرَائِهِم بَرْزَخٌ إِلَى يَوْمِ يُبْعَثُونَ}.

قال ابن كثير رحمه الله: (وذلك أن الكافر إذا احتضر بشَّرته الملائكة بالعذاب، والنكال، والأغلال، والسلاسل، والجحيم، والحميم، وغضب الرحمن الرحيم، فتفرق روحه في جسده، وتعصي، وتأبى الخروج، فتضربهم الملائكة حتى تخرج أرواحهم من أجسادهم)(1).

6 - تذكُّر فتنة القبر وسؤال منكر ونكير، وسماع قرع نعال الأصدقاء والأصحاب عندما يولّون مُدبرين؛ لحديث أنس بن مالك رضي الله عنه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: (إن العبد إذا وُضِعَ في قبره وتولى عنه أصحابه وإنه

--------------------------------------------

(1) تفسير ابن كثير 3/ 271.
...তোমরা আল্লাহর ব্যাপারে অসত্য বলতে এবং তোমরা তাঁর নিদর্শনাবলি সম্পর্কে অহংকার করতে।} আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যদি তুমি দেখতে যখন ফেরেশতারা কাফিরদের মৃত্যু ঘটায়, তারা তাদের মুখমণ্ডলে ও পিঠে আঘাত করে এবং (বলে) তোমরা দহন যন্ত্রণা আস্বাদন করো।} আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: {সুতরাং তখন কেমন হবে যখন ফেরেশতারা তাদের মৃত্যু ঘটাবে, তারা তাদের মুখমণ্ডলে ও পিঠে আঘাত করবে? এটি এ কারণে যে, তারা এমন বিষয়ের অনুসরণ করেছিল যা আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে এবং তারা তাঁর সন্তুষ্টিকে অপছন্দ করেছিল, ফলে তিনি তাদের আমলসমূহ বিনষ্ট করে দিলেন।}

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন: {এমনকি যখন তাদের কারো নিকট মৃত্যু উপস্থিত হয়, সে বলে, ‘হে আমার রব! আমাকে পুনরায় (দুনিয়ায়) ফেরত পাঠান। যাতে আমি যা ছেড়ে এসেছি তাতে সৎকর্ম করতে পারি।’ কক্ষনো নয়, এটি তো কেবল একটি কথা যা সে বলবে। আর তাদের পশ্চাতে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত এক অন্তরায় থাকবে।}

ইবনে কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (আর তা এই কারণে যে, কাফির ব্যক্তির যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন ফেরেশতারা তাকে আযাব, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, হাতকড়া, শিকল, জাহান্নাম, ফুটন্ত পানি এবং পরম দয়াময় আল্লাহর ক্রোধের সংবাদ দেয়। ফলে তার রূহ তার দেহে ছড়িয়ে পড়ে এবং বের হতে অবাধ্যতা ও অস্বীকার করে। তখন ফেরেশতারা তাদের প্রহার করেন যতক্ষণ না তাদের দেহ থেকে রূহ বের হয়ে আসে।)(১).

৬ - কবরের পরীক্ষা ও মুনকার ও নাকিরের প্রশ্ন এবং বন্ধু-বান্ধব ও সঙ্গীরা যখন পিঠ ফিরিয়ে চলে যায় তখন তাদের জুতার শব্দ শোনার কথা স্মরণ করা; আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: (নিশ্চয়ই বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয় এবং তার সঙ্গীরা তার কাছ থেকে ফিরে যায়, তখন সে...

--------------------------------------------

(১) তাফসীর ইবনে কাসীর ৩/ ২৭১।
(খণ্ড: ১) কারারীত - মাসায়িল ওয়া আহকাম ওয়া বিদাউল জানাইয (পৃষ্ঠা: ২২)
يسمع قرع نعالهم أتاه ملكان فيقعدانه فيقولان: ما كنت تقول في هذا الرجل؟ لمحمد صلى الله عليه وسلم، فأما المؤمن فيقول: أشهد أنه عبد الله ورسوله. فيقال له: انظر إلى مقعدك من النار، قد أبدلك الله به مقعداً من الجنة، فيراهما جميعاً(1)

7 - تذكُّر نعيم القبر وعذابه؛ لأدلة قطعية كثيرة جدّاً، من القرآن الكريم، والأحاديث الشريفة التي بلغت حد التواتر(2).

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في صحيحه برقم (1338) 2/ 90، ومسلم في صحيحه برقم (2870) 4/ 2200.

(2) بتصرف من كتاب أحكام الجنائز للدكتور سعيد بن وهف القحطاني. (ص: 12)
...সে তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায়, তখন তার নিকট দুইজন ফেরেশতা আসেন এবং তাকে বসিয়ে দেন। তাঁরা তাকে জিজ্ঞেস করেন: 'তুমি এই ব্যক্তি অর্থাৎ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে কী বলতে?' তখন মুমিন ব্যক্তি বলে: 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।' তখন তাকে বলা হয়: 'জাহান্নামে তোমার অবস্থানস্থলের দিকে তাকাও, আল্লাহ তোমাকে এর পরিবর্তে জান্নাতে একটি স্থান দান করেছেন।' ফলে সে উভয় স্থানই একত্রে দেখতে পায়।(১)

৭ - কবরের নিয়ামত ও আজাব স্মরণ করা; কারণ এর স্বপক্ষে পবিত্র কুরআন এবং সম্মানীত হাদিসসমূহ থেকে অসংখ্য সুনিশ্চিত (قطعية) প্রমাণ বিদ্যমান, যা মুতাওয়াতির (تواتر) পর্যায়ে পৌঁছেছে।(২).

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে ১৩৩৮ নং হাদিসে (২/৯০) এবং মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে ২৮৭০ নং হাদিসে (৪/২২০০) বর্ণনা করেছেন।

(২) ডক্টর সাঈদ বিন ওয়াহাফ আল-কাহতাহানি রচিত ‘আহকামুল জানাইয’ গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত ও পরিমার্জিত। (পৃষ্ঠা: ১২)
(খণ্ড: ১) কারারীত - মাসায়িল ওয়া আহকাম ওয়া বিদাউল জানাইয (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌أسباب نيل حسن الخاتمة

ينبغي للمسلم أن يعمل بالأسباب التي توصل إلى حسن الخاتمة ويبتعد عن جميع الأسباب التي تنشأ عنها سوء الخاتمة، ومن ذلك ما يأتي:

السبب الأول: خوف الله عز وجل والخشية من سوء الخاتمة، فقد كان السلف الصالح يخافون من سوء الخاتمة، فيحسنون العمل؛ لأن الخوف مع الرجاء يبعث على إحسان العمل؛ فعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (من خاف أدلج ومن أدلج بلغ المنزل، ألا إن سلعة الله غالية، ألا إن سلعة الله الجنة(1)

السبب الثاني: التوبة من جميع الذنوب والمعاصي وإتباعها بالأعمال الصالحة؛ لأن التسويف في التوبة من أسباب سوء الخاتمة؛ ولهذا قال الله سبحانه وتعالى: {وَتُوبُوا إِلَى الله جَمِيعًا أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ}

السبب الثالث: الدعاء بحسن الخاتمة وإظهار الافتقار إلى الله عز وجل، ولهذا كان النبي صلى الله عليه وسلم يُكثر الدعاء بالثبات على دين الله عز وجل فعن أم سلمة رضي الله عنها عن النبي صلى الله عليه وسلم: كان أكثر دعائه: (يا مقلب القلوب ثبّتْ قلبي على دينك) قالت: قلت: يا رسول الله ما أكثر دعاءك: يا مقلب القلوب ثبت قلبي على دينك؟ قال: يا أم سلمة إنه ليس آدمي إلا وقلبه بين أصبعين من

--------------------------------------------

(1) أخرجه الترمذي في جامعه برقم (2450) 4/ 633، والحاكم في المستدرك برقم (7851) 4/ 343، والبيهقي في الشعب برقم (10093) 3/ 150. وصححه الألباني في الجامع الصغير 1/ 11167.
‌উত্তম পরিণাম অর্জনের কারণসমূহ

একজন মুসলমানের উচিত সেই সকল উপায় অবলম্বন করা যা তাকে উত্তম পরিণামের দিকে নিয়ে যায় এবং সেই সকল কারণ থেকে দূরে থাকা যা মন্দ পরিণামের জন্ম দেয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নিম্নরূপ:

প্রথম কারণ: আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র ভয় এবং মন্দ পরিণামের শঙ্কা। কেননা সালাফে সালেহীনগণ মন্দ পরিণামকে ভয় করতেন এবং আমলকে সুন্দর করতেন; কারণ আশার সাথে ভয় থাকা আমলকে সুন্দর করতে উদ্বুদ্ধ করে। আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যে ভয় করে সে রাতের প্রথম ভাগেই যাত্রা শুরু করে, আর যে প্রথম ভাগে যাত্রা শুরু করে সে গন্তব্যে পৌঁছে যায়। জেনে রেখো, আল্লাহর পণ্য অত্যন্ত মূল্যবান; জেনে রেখো, আল্লাহর পণ্য হলো জান্নাত।"(১)

দ্বিতীয় কারণ: সকল গুনাহ ও পাপাচার থেকে তওবা করা এবং এরপর সৎ কাজের অনুসরণ করা; কারণ তওবায় বিলম্ব করা মন্দ পরিণামের অন্যতম কারণ। এইজন্যই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেছেন: {আর হে মুমিনগণ, তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তওবা করো, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো।}

তৃতীয় কারণ: উত্তম পরিণামের জন্য দোয়া করা এবং আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র প্রতি নিজের মুখাপেক্ষিতা প্রকাশ করা। এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর দ্বীনের ওপর অটল থাকার জন্য অধিক পরিমাণে দোয়া করতেন। উম্মে সালামাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সবচেয়ে বেশি এই দোয়াটি করতেন: "হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী, আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর অটল রাখুন।" তিনি (উম্মে সালামাহ) বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এই দোয়াটি কেন এত বেশি করেন: "হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী, আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর অটল রাখুন"? তিনি বললেন: হে উম্মে সালামাহ, এমন কোনো মানুষ নেই যার অন্তর (আল্লাহর) দুই আঙুলের মাঝে নেই...

--------------------------------------------

(১) তিরমিজি এটি তার জামে-তে ২৪৫০ নং হাদিসে (৪/৬৩৩), হাকেম আল-মুস্তাদরাক-এ ৭৮৫১ নং হাদিসে (৪/৩৪৩) এবং বায়হাকি আশ-শুয়াব-এ ১০০৯৩ নং হাদিসে (৩/১৫০) বর্ণনা করেছেন। আলবানি আল-জামে আস-সাগীর-এ (১/১১১৬৭) একে সহিহ (صحيح) বলে আখ্যায়িত করেছেন।
(খণ্ড: ১) কারারীত - মাসায়িল ওয়া আহকাম ওয়া বিদাউল জানাইয (পৃষ্ঠা: ২৪)
أصابع الله، فمن شاء أقام، ومن شاء أزاغ) فتلا معاذ: {رَبَّنَا لَا تُزِغْ قُلُوبَنَا بَعْدَ إِذْ هَدَيْتَنَا(1).

السبب الرابع: معرفة ما أعده الله عز وجل من النعيم المقيم للمؤمنين، من أسباب حسن الخاتمة؛ لأن هذا العلم يَحثُّ على العمل، والاستقامة على طاعة الله عز وجل رغبة فيما عنده عز وجل من الثواب، قال الله عز وجل: {وَمَا أُوتِيتُم مِّن شَيْءٍ فَمَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَزِينَتُهَا وَمَا عِندَ الله خَيْرٌ وَأَبْقَى أَفَلا تَعْقِلُونَ}.

السبب الخامس: معرفة قصر الحياة الدنيا، وأنها كيوم أو بعض يوم مهما عاش الإنسان فحياته قصيرة جداً، قال الله تعالى: {كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلاّ وَجْهَهُ لَهُ الْحُكْمُ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ}

وقال عز وجل: {وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ كَأَن لَّمْ يَلْبَثُواْ إِلاَّ سَاعَةً مِّنَ النَّهَارِ يَتَعَارَفُونَ بَيْنَهُمْ قَدْ خَسِرَ الَّذِينَ كَذَّبُواْ بِلِقَاءِ الله وَمَا كَانُواْ مُهْتَدِينَ}، وهذا يدل على سرعة انقضاء الدنيا، وأن الناس إذا حشروا كأنَّه ما مر عليهم نعيم ولا بؤس وهم يتعارفون بينهم كحالهم في الدنيا، ففي هذا اليوم يربح المتقون ويخسر الذين كذبوا بلقاء الله وما كانوا مهتدين إلى الصراط المستقيم والدين القويم(2).

--------------------------------------------

(1) أخرجه الترمذي في جامعه برقم (3522) 5/ 538، والطبراني في الكبير برقم (865) 23/ 366، وصححه الألباني في الجامع الصغير 1/ 8932.

(2) بتصرف من كتاب أحكام الجنائز للدكتور سعيد بن وهف القحطاني. (ص: 80)
(আল্লাহর আঙুলসমূহের অন্তর্ভুক্ত, তিনি যাকে ইচ্ছা (হকের ওপর) প্রতিষ্ঠিত রাখেন এবং যাকে ইচ্ছা বিচ্যুত করেন।) অতঃপর মুয়াজ তিলাওয়াত করলেন: {হে আমাদের পালনকর্তা! সরল পথ প্রদর্শনের পর আপনি আমাদের অন্তরকে সত্যবিচ্যুত করবেন না}(১).

চতুর্থ কারণ: মুমিনদের জন্য মহান আল্লাহ যে চিরস্থায়ী নেয়ামত প্রস্তুত রেখেছেন তা জানা; এটি উত্তম পরিণতির অন্যতম কারণ। কারণ এই জ্ঞান আমল করতে এবং আল্লাহর আনুগত্যে অবিচল থাকতে উদ্বুদ্ধ করে, তাঁর নিকট গচ্ছিত সওয়াবের আশায়। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের যা কিছু দেওয়া হয়েছে তা পার্থিব জীবনের ভোগ ও সৌন্দর্য মাত্র। আর আল্লাহর নিকট যা রয়েছে তা অতি উত্তম ও চিরস্থায়ী। তোমরা কি বুঝবে না?}।

পঞ্চম কারণ: পার্থিব জীবনের ক্ষণস্থায়ীত্ব সম্পর্কে জানা; মানুষ যত দিনই বেঁচে থাকুক না কেন, তা একদিন বা দিনের কিছু অংশ মাত্র এবং তার জীবন অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তাঁর সত্তা ব্যতীত সবকিছুই ধ্বংসশীল। বিধান তাঁরই এবং তাঁর কাছেই তোমরা ফিরে যাবে}

এবং তিনি আরও বলেন: {যেদিন তিনি তাদের একত্রিত করবেন, সেদিন তাদের মনে হবে তারা যেন দিবসের মুহূর্তকাল মাত্র অবস্থান করেছিল; তারা একে অপরের সাথে পরিচিত হবে। তারা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যারা আল্লাহর সাক্ষাৎকে অস্বীকার করেছে এবং তারা সুপথপ্রাপ্ত ছিল না}। এটি দুনিয়ার দ্রুত সমাপ্তির প্রমাণ দেয়। মানুষ যখন হাশরের ময়দানে একত্রিত হবে, তখন তাদের মনে হবে যেন তাদের ওপর কোনো সুখ বা দুঃখ অতিবাহিত হয়নি। তারা দুনিয়ার অবস্থার ন্যায় একে অপরের সাথে পরিচিত হবে। এই দিনে মুত্তাকিরা লাভবান হবে এবং তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে যারা আল্লাহর সাক্ষাৎকে অস্বীকার করেছিল এবং যারা সরল পথ ও সুদৃঢ় দ্বীনের পথে পরিচালিত ছিল না(২).

--------------------------------------------

(১) তিরমিজি এটি তাঁর জামে-তে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (৩৫২২) ৫/ ৫৩৮; তাবারানি আল-কবীর-এ বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং (৮৬৫) ২৩/ ৩৬৬; এবং আলবানী একে জামেউস সগীর ১/ ৮৯৩২-এ সহিহ (صحيح) বলেছেন।

(২) ডক্টর সাঈদ বিন ওহাফ আল-কাহত্বানি রচিত 'আহকামুল জানাইয' গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত ও সম্পাদিত। (পৃষ্ঠা: ৮০)
(খণ্ড: ১) কারারীত - মাসায়িল ওয়া আহকাম ওয়া বিদাউল জানাইয (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌من العلامات التي تدل على حسن الخاتمة

1 - نطقه بالشهادة عند الموت من أعظم البشارات بحسن الخاتمة؛ لحديث معاذ بن جبل رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مَنْ كَانَ آخِرُ كَلامِهِ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ دَخَلَ الْجَنَّةَ»(1).

2 - الموت برشح الجبين؛ لحديث بريدة بن الحصيب رضي الله عنه أنه كان بخراسان فعاد أخًا له وهو مريض، فوجده بالموت، وإذا هو بعرق جبينه، فقال: الله أكبر سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «مَوْتُ الْمُؤْمِنِ بِعَرَقِ الْجَبِينِ»(2).

3 - الموت ليلة الجمعة أو نهارها، لما روي وذكر عن عبد الله بن عمرو قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَمُوتُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَوْ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ إِلَّا وَقَاهُ اللَّهُ فِتْنَةَ الْقَبْرِ»(3).

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد في مسنده 36/ 443، وأبو داود في سننه 3/ 190، والحاكم في المستدرك 1/ 678، صححه الألباني.

(2) أخرجه أحمد في مسنده 38/ 443، والنسائي في سننه 4/ 5. وصححه الألباني في صحيح سنن النسائي 4/ 472.

(3) أخرجه أحمد في مسنده 38/ 443، وقال محقق المسند: «إسناده ضعيف». والترمذي في سننه 3/ 378. وقال الترمذي: «هذا حديث غريب» وهذا حديث ليس إسناده بمتصل، وحسنه الألباني في المشكاة 1/ 431. وقال الألباني في أحكام الجنائز، ص 35: «فالحديث بمجموع طرقه حسن أو صحيح».
‌উত্তম পরিণতির (حسن الخاتمة) পরিচায়ক কিছু নিদর্শন

১ - মৃত্যুর সময় কালিমায়ে শাহাদাত পাঠ করা উত্তম পরিণতির অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুসংবাদ; মুয়াজ ইবনে জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: «যার শেষ কথা হবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ', সে জান্নাতে প্রবেশ করবে»(১)।

২ - কপালে ঘাম নিয়ে মৃত্যু হওয়া; বুরাইদাহ ইবনুল হুসাইব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, তিনি খোরাসানে ছিলেন, তখন তাঁর এক অসুস্থ ভাইকে দেখতে যান এবং তাঁকে মৃত্যু যন্ত্রণায় মুমূর্ষু অবস্থায় দেখতে পান। তখন দেখা গেল তাঁর কপালে ঘাম। তিনি বললেন: আল্লাহু আকবার! আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «মুমিনের মৃত্যু হয় কপালের ঘামসহ»(২)।

৩ - জুমার রাত বা দিনে মৃত্যু হওয়া; আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: «যে কোনো মুসলিম জুমার দিনে বা জুমার রাতে মৃত্যুবরণ করে, আল্লাহ তাকে কবরের ফিতনা হতে রক্ষা করেন»(৩)।

--------------------------------------------

(১) আহমাদ এটি তাঁর মুসনাদে ৩৬/ ৪৪৩, আবু দাউদ তাঁর সুনানে ৩/ ১৯০ এবং হাকেম আল-মুস্তাদরাকে ১/ ৬৭৮-এ বর্ণনা করেছেন; আলবানী একে সহিহ (صححه) সাব্যস্ত করেছেন।

(২) আহমাদ এটি তাঁর মুসনাদে ৩৮/ ৪৪৩ এবং নাসাঈ তাঁর সুনানে ৪/ ৫-এ বর্ণনা করেছেন। আলবানী সহিহ সুনান নাসাঈ ৪/ ৪৭২-এ একে সহিহ (صححه) বলেছেন।

(৩) আহমাদ এটি তাঁর মুসনাদে ৩৮/ ৪৪৩-এ বর্ণনা করেছেন এবং মুসনাদের মুহাক্কিক বলেছেন: «এর সনদ দুর্বল (ضعيف)»। তিরমিজি এটি তাঁর সুনানে ৩/ ৩৭৮-এ বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিজি বলেন: «এই হাদিসটি গরিব (غريب)» এবং এই হাদিসটির সনদ নিরবচ্ছিন্ন (بمتصل) নয়। আলবানী মিশকাত ১/ ৪৩১-এ একে হাসান (حسنه) বলেছেন। আলবানী আহকামুল জানাইয-এর ৩৫ পৃষ্ঠায় বলেছেন: «হাদিসটি এর সকল সূত্রের সমষ্টিগত বিচারে হাসান (حسن) অথবা সহিহ (صحيح)»।
(খণ্ড: ১) কারারীত - মাসায়িল ওয়া আহকাম ওয়া বিদাউল জানাইয (পৃষ্ঠা: ২৬)
4 - الاستشهاد في ساحة القتال؛ لقول: {وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ (169) فَرِحِينَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ وَيَسْتَبْشِرُونَ بِالَّذِينَ لَمْ يَلْحَقُوا بِهِمْ مِنْ خَلْفِهِمْ أَلَّا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ (170) يَسْتَبْشِرُونَ بِنِعْمَةٍ مِنَ اللَّهِ وَفَضْلٍ وَأَنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُؤْمِنِينَ}(1).

5 - من مات في سبيل الله تعالى فهو شهيد، يعني لم يباشر الحرب ولو لم يشاهده وبأي صفة مات.

6 - المطعون شهيد، وهو الذي يموت بالطاعون، وهو الوباء.

7 - المبطون شهيد، وهو الذي يموت من علة في البطن، كالاستسقاء وهو انتفاخ الجوف، والإسهال، وقيل: هو الذي يموت بداء بطنه مطلقًا.

8 - الغرق شهيد، وهو الذي يموت غريقًا في الماء.

9 - وصاحب الهدم شهيد، وهو الذي يموت تحت الهدم.

10 - والحريق شهيد، وهو الذي يموت بحرق النار، ومن فرط في هذه الثلاثة ولم يتحرز حتى أصابه شيء من ذلك فمات فهو عاص وأمره إلى الله، إن شاء عذبه وإن شاء عفا عنه.

11 - صاحب ذات الجنب شهيد، وهي قرحة تكون في الجنب وورم شديد باطنًا.

12 - المرأة تموت بجمع شهيدة، ويقال بضم الجيم وكسرها وهي المرأة تموت حاملاً، وقد جمعت ولدها في بطنها، وقيل: هي البكر، وصحح

--------------------------------------------

(1) آل عمران: 169، 170، 171.
4 - রণক্ষেত্রে শাহাদাত (الاستشهاد) বরণ করা; আল্লাহর বাণীর কারণে: {আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদের মৃত মনে করো না, বরং তারা জীবিত, তাদের রবের নিকট তারা রিযিকপ্রাপ্ত (১৬৯) আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে যা তাদের দিয়েছেন তাতে তারা আনন্দিত এবং যারা এখনও তাদের পেছনে রয়ে গেছে এবং তাদের সাথে মিলিত হতে পারেনি তাদের জন্য তারা আনন্দ প্রকাশ করে যে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না (১৭০) তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে নেয়ামত ও অনুগ্রহের জন্য আনন্দ প্রকাশ করে এবং এ কারণে যে, আল্লাহ মুমিনদের প্রতিদান নষ্ট করেন না}(১).

5 - যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর পথে মৃত্যুবরণ করে সে শহীদ (شهيد), অর্থাৎ সে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি যদিও সে তা প্রত্যক্ষ করেনি এবং যেভাবেই সে মৃত্যুবরণ করুক না কেন।

6 - প্লেগ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি শহীদ (شهيد), আর সে হলো ঐ ব্যক্তি যে প্লেগ (الطاعون) তথা মহামারীতে (الوباء) মৃত্যুবরণ করে।

7 - পেটের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি শহীদ (شهيد), আর সে হলো ঐ ব্যক্তি যে পেটের কোনো পীড়ায় মৃত্যুবরণ করে, যেমন উদরী রোগ (الاستسقاء) যা পেটের অভ্যন্তরীণ স্ফীতি, এবং অতিসার বা ডায়রিয়া (الإسهال), আর বলা হয়েছে: সে হলো ঐ ব্যক্তি যে সাধারণভাবে পেটের কোনো রোগে মৃত্যুবরণ করে।

8 - নিমজ্জিত ব্যক্তি শহীদ (شهيد), আর সে হলো ঐ ব্যক্তি যে পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করে।

9 - আর চাপা পড়ে মৃত ব্যক্তি শহীদ (شهيد), আর সে হলো ঐ ব্যক্তি যে কোনো ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে মারা যায়।

10 - অগ্নিদগ্ধ ব্যক্তি শহীদ (شهيد), আর সে হলো ঐ ব্যক্তি যে আগুনের পোড়ায় মৃত্যুবরণ করে। আর যে ব্যক্তি এই তিনটির (ডুবে যাওয়া, চাপা পড়া, পুড়ে যাওয়া) ক্ষেত্রে অবহেলা করে এবং সতর্কতা অবলম্বন না করার কারণে এসবের কোনো একটিতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়, সে অবাধ্য (عاص) এবং তার বিষয়টি আল্লাহর ইচ্ছাধীন; তিনি চাইলে তাকে শাস্তি দেবেন আর চাইলে তাকে ক্ষমা করবেন।

11 - পার্শ্বপ্রদাহ বা ফুসফুসের আবরণী প্রদাহে (ذات الجنب) আক্রান্ত ব্যক্তি শহীদ (شهيد), আর এটি হলো পার্শ্বদেশে সৃষ্ট একটি ক্ষত এবং অভ্যন্তরীণ তীব্র ফোলা।

12 - গর্ভাবস্থায় বা প্রসবকালীন মৃত্যুবরণকারী নারী শহীদ (شهيدة), 'জিম' বর্ণে পেশ (যম্মাহ) এবং যের (কাসরাহ) উভয়ভাবে এটি উচ্চারিত হয়; আর সে হলো ঐ নারী যে গর্ভবতী অবস্থায় মারা যায়, এমতাবস্থায় যে সে তার সন্তানকে পেটে ধারণ করেছিল। আবার বলা হয়েছে: সে হলো কুমারী (البكر) নারী। আর বিষয়টিকে সহিহ (صحح) সাব্যস্ত করা হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) আল-ইমরান: ১৬৯, ১৭০, ১৭১।
(খণ্ড: ১) কারারীত - মাসায়িল ওয়া আহকাম ওয়া বিদাউল জানাইয (পৃষ্ঠা: ২৭)
القرطبي والنووي الأول.

13 - من قتل دون ماله فهو شهيد.

14 - من قتل دون أهله فهو شهيد.

15 - من قتل دون دينه فهو شهيد.

16 - من قتل دون دمه فهو شهيد.

17 - من قتل دون مظلمته فهو شهيد.

18 - السل شهادة، بكسر السين، وضمها وتشديد اللام، وهو داء يحدث في الرئة يؤول إلى ذات الجنب، وقيل: زكام أو سعال طويل مع حمى هادية، وقيل: غير ذلك

19 - الموت مرابطًا في سبيل الله تعالى؛ لحديث سلمان قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «رِبَاطُ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ خَيْرٌ مِنْ صِيَامِ شَهْرٍ وَقِيَامِهِ وَإِنْ مَاتَ جَرَى عَلَيْهِ عَمَلُهُ الَّذِي كَانَ يَعْمَلُهُ وَأُجْرِيَ عَلَيْهِ رِزْقُهُ وَأَمِنَ الْفَتَّانَ»(1).

20 - الموت على عمل صالح؛ لحديث حذيفة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم: «مَنْ قَالَ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ خُتِمَ لَهُ بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَمَنْ صَامَ يَوْمًا ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ خُتِمَ لَهُ بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَمَنْ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ خُتِمَ لَهُ بِهَا دَخَلَ الْجَنَّةَ»(2).

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم في صحيحه 3/ 1520.

(2) أخرجه أحمد في المسند 38/ 350، وقال الأرنووط في تحقيق المسند: (صحيح لغيره). وصحح إسناده الألباني في صحيح الترغيب والترهيب 1/ 579.
আল-কুরতুবি এবং আন-নববী প্রথমটি (উল্লেখ করেছেন)।

১৩ - যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষার্থে নিহত হয়, সে শহীদ (شهيد)।

১৪ - যে ব্যক্তি তার পরিবার রক্ষার্থে নিহত হয়, সে শহীদ (شهيد)।

১৫ - যে ব্যক্তি তার দ্বীন রক্ষার্থে নিহত হয়, সে শহীদ (شهيد)।

১৬ - যে ব্যক্তি তার জীবন রক্ষার্থে নিহত হয়, সে শহীদ (شهيد)।

১৭ - যে ব্যক্তি তার প্রতি হওয়া জুলুমের প্রতিবাদে নিহত হয়, সে শহীদ (شهيد)।

১৮ - যক্ষ্মা রোগে মৃত্যু একটি শাহাদাত (شهادة); শব্দটি সীন বর্ণে কাসরা (জের) এবং লাম বর্ণে দম্মা (পেশ) ও তাশদীদ সহযোগে গঠিত। এটি ফুসফুসে সৃষ্ট একটি ব্যাধি যা পার্শ্বব্যথা বা প্লুরিসির দিকে গড়ায়। বলা হয়েছে: এটি সর্দি বা দীর্ঘস্থায়ী কাশির সাথে হালকা জ্বর; আবার কেউ কেউ অন্য কিছু বলেছেন।

১৯ - আল্লাহর রাস্তায় সীমান্ত প্রহরায় (مرابطًا) নিয়োজিত অবস্থায় মৃত্যু; সালমান (রা.) বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "একদিন ও একরাত সীমান্ত পাহারা দেওয়া এক মাস রোজা রাখা ও রাতে ইবাদত করার চেয়ে উত্তম। আর যদি সে মৃত্যুবরণ করে, তবে সে যে আমল করত তা তার জন্য জারি রাখা হয়, তার রিজিক চলমান রাখা হয় এবং সে কবরের ফিতনা (পরীক্ষক) থেকে নিরাপদ থাকে"(১)।

২০ - নেক আমলরত অবস্থায় মৃত্যু; হুজাইফা (রা.) বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস অনুযায়ী: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলল এবং এর ওপরই তার জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে একদিন রোজা রাখল এবং এর ওপরই তার জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো সদকা করল এবং এর ওপরই তার জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটল, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে"(২)।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম এটি তার সহিহ গ্রন্থের ৩/১৫২০ এ বর্ণনা করেছেন।

(২) আহমদ এটি মুসনাদে ৩৮/৩৫০ এ বর্ণনা করেছেন। আরনাউত মুসনাদের তাহকিকে বলেছেন: (অন্যান্য বর্ণনার মাধ্যমে সহিহ (صحيح لغيره))। আর আলবানি সহিহ আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব ১/৫৭৯ এ এর সনদ (إسناد)-কে সহিহ (صحح) সাব্যস্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১) কারারীত - মাসায়িল ওয়া আহকাম ওয়া বিদাউল জানাইয (পৃষ্ঠা: ২৮)
21 - ثناء الناس على الميت؛ من جمعٍ من المؤمنين الصادقين أقلهم اثنان من جيرانه العارفين به من ذوي الصلاح والعلم موجب له الجنة بفضل الله عز وجل، ففي حديث عمر رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم: «أَيُّمَا مُسْلِمٍ شَهِدَ لَهُ أَرْبَعَةٌ بِخَيْرٍ أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ، فَقُلْنَا: وَثَلَاثَةٌ، قَالَ: وَثَلَاثَةٌ، فَقُلْنَا: وَاثْنَانِ، قَالَ: وَاثْنَانِ، ثُمَّ لَمْ نَسْأَلْهُ عَنِ الْوَاحِدِ».(1).

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في صحيحه 2/ 97. ينظر: أحكام الجنائز في ضوء الكتاب والسنة ص 163، المؤلف: د. سعيد القحطاني.
২১ - মৃত ব্যক্তির ওপর মানুষের প্রশংসা; একদল সত্যবাদী মুমিনের পক্ষ থেকে, যাদের মধ্যে ন্যূনতম দুইজন তার সম্পর্কে অবগত এমন নেককার ও ইলমওয়ালা প্রতিবেশী হলে, তা মহান আল্লাহর অনুগ্রহে তার জন্য জান্নাত অবধারিত হওয়ার কারণ হয়। উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, তিনি বলেন: নবী (সা.) বলেছেন: «যেকোনো মুসলমানের ব্যাপারে যদি চারজন ব্যক্তি কল্যাণের সাক্ষ্য দেয়, তবে আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আমরা বললাম: আর যদি তিনজন হয়? তিনি বললেন: তিনজন হলেও। আমরা বললাম: আর যদি দুইজন হয়? তিনি বললেন: দুইজন হলেও। এরপর আমরা তাঁকে একজনের ব্যাপারে আর জিজ্ঞাসা করিনি।»(১).

--------------------------------------------

(১) বুখারি এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন ২/ ৯৭। দেখুন: আহকামুল জানাইয ফি দাউইল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ, পৃষ্ঠা ১৬৩, লেখক: ড. সাঈদ আল-কাহতানি।
(খণ্ড: ১) কারারীত - মাসায়িল ওয়া আহকাম ওয়া বিদাউল জানাইয (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌الآداب الواجبة والمستحبة لمن حضر وفاة المسلم

1/ أن يدعى له؛ لما في حديث أم سلمة السابق فيقال: (اللهم اغفر لفلان، وارفع درجته في المهديين، واخلفه في الغابرين، واغفر لنا وله يا رب العالمين، وافسح له في قبره ونوِّر له فيه)(1).

2/ أن يُغطَّى بثوب يستر جميع بدنه؛ لحديث عائشة رضي الله عنها قالت: سُجِّي(2) رسول الله حين مات بثوب حَبِرةٍ)(3)، ولفظ البخاري: (أن رسول الله صلى الله عليه وسلم حين توفي سُجي ببردٍ حِبَرة)(4)

3/ أن يُبادر بقضاء دينه بعد موته من ماله، فإن لم يكن له مال فعلى الدولة، فإن لم تقم به وتطوَّع به بعض الحاضرين جاز؛ لحديث سعد بن الأطول: أن أخاه مات وترك ثلاثمائة درهم، وترك عيالاً قال: فأردت أن أنفقها على عياله، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: (إن أخاك محتَبسٌ بدينه فاقضِ عنه)، فقال: يا رسول الله: قد أدَّيت عنه إلا دينارين ادَّعَتْهُما امرأة وليس لها بينة، قال: (فأعطها فإنها مُحقّة)(5).

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم في صحيحه برقم (920) 2/ 634.

(2) سجي: أي غطي.

(3) أخرجه مسلم في صحيحه برقم (942) 2/ 651.

(4) أخرجه البخاري في صحيحه برقم (5814) 7/ 147.

(5) أخرجه أحمد في المسند برقم (20067) 33/ 264، وابن ماجه في سننه برقم (2433) 3/ 502. قال البوصيري في مصباح الزجاجة في زوائد ابن ماجه (3/ 71): وإسناد حديثه صحيح.
‌কোনো মুসলিমের মৃত্যুর সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের জন্য আবশ্যকীয় ও মুস্তাহাব আদবসমূহ

১/ তার জন্য দোয়া করা; উম্মে সালামাহ (রা.)-এর পূর্বোক্ত হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী নিম্নোক্ত দোয়াটি করা হবে: (হে আল্লাহ, অমুককে ক্ষমা করুন, হিদায়াতপ্রাপ্তদের মধ্যে তার মর্যাদা উচ্চ করুন, তার পরবর্তী বংশধরদের মাঝে তার স্থলাভিষিক্ত হোন, হে বিশ্বজাহানের প্রতিপালক, আমাদের ও তাকে ক্ষমা করুন এবং তার কবর প্রশস্ত ও আলোকিত করে দিন)(১)।

২/ একটি চাদর দিয়ে তার পুরো শরীর ঢেকে দেওয়া; আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেন: ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁকে একটি ইয়ামানি চাদর (হিবরাহ) দিয়ে ঢেকে দেওয়া(২) হয়েছিল’(৩)। বুখারীর শব্দ হলো: ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইন্তেকাল করেন, তখন তাঁকে একটি চিত্রিত ইয়ামানি চাদর দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল’(৪)।

৩/ মৃত্যুর পর তার নিজস্ব সম্পদ থেকে দ্রুত ঋণ পরিশোধ করা। যদি তার কোনো সম্পদ না থাকে, তবে তা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আর রাষ্ট্র যদি তা পালন না করে এবং উপস্থিত কেউ স্বেচ্ছায় তা আদায় করতে চায়, তবে তা জায়েয। সা’দ ইবনুল আতওয়াল (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তাঁর ভাই ইন্তেকাল করেন এবং তিনশত দিরহাম ও পরিবার-পরিজন রেখে যান। তিনি বলেন: আমি সেগুলো তার পরিবারের জন্য খরচ করতে চেয়েছিলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ‘তোমার ভাই তার ঋণের কারণে আটকে আছে, সুতরাং তার পক্ষ থেকে তা আদায় করো।’ তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি দুই দিনার ব্যতীত সব আদায় করেছি, যা একজন নারী দাবি করেছে কিন্তু তার কাছে কোনো প্রমাণ নেই। তিনি বললেন: ‘তাকে দিয়ে দাও, কেননা সে সত্যবাদী’(৫)।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম এটি তার সহীহ গ্রন্থে ৯২০ নং হাদিসে বর্ণনা করেছেন, ২/৬৩৪।

(২) সুজ্জি: অর্থাৎ ঢেকে দেওয়া।

(৩) মুসলিম এটি তার সহীহ গ্রন্থে ৯৪২ নং হাদিসে বর্ণনা করেছেন, ২/৬৫১।

(৪) বুখারী এটি তার সহীহ গ্রন্থে ৫৮১৪ নং হাদিসে বর্ণনা করেছেন, ৭/১৪৭।

(৫) আহমাদ এটি মুসনাদ গ্রন্থে ২০MD৬৭ নং হাদিসে (৩৩/২৬৪) এবং ইবনে মাজাহ এটি তার সুনান গ্রন্থে ২৪৩৩ নং হাদিসে (৩/৫০২) বর্ণনা করেছেন। আল-বুসিরি মিসবাহুজ জুজাজাহ ফী যাওয়াইদি ইবনি মাজাহ গ্রন্থে (৩/৭১) বলেছেন: এই হাদিসের সনদ (إسناد) সহীহ (صحيح)।
(খণ্ড: ১) কারারীত - মাসায়িল ওয়া আহকাম ওয়া বিদাউল জানাইয (পৃষ্ঠা: ৩০)
وحديث جابر بن عبد الله رضي الله عنه قال: (مات رجل، فغسلناه وكفناه وحنطناه، ووضعناه لرسول الله صلى الله عليه وسلم حيث تُوضع الجنائز، عند مقام جبريل، ثم آذنّا رسول الله صلى الله عليه وسلم بالصلاة عليه، فجاء معنا، فتخطى خطى، ثم قال: (لعل على صاحبكم ديناً؟) قالوا: نعم، ديناران، فتخلف، قال: صلوا على صاحبكم، فقال له رجل منا يُقال له: أبو قتادة: يا رسول الله هُما عَلَيّ، فجعل رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: هما عليك وفي مالك، والميت منهما بريء؟ فقال: نعم، فصلى عليه فجعل رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا لقي أبا قتادة يقول (وفي رواية: ثم لقيه من الغد فقال: ما صنعتِ الديناران؟) قال: يا رسول الله إنما مات أمس حتى كان آخر ذلك (وفي الرواية الأخرى: ثم لقيه من الغد فقال: (ما فعل الديناران؟) قال: قد قضيتهما يا رسول الله، قال: (الآن حين بَرَدَتْ عليه جلدُه)(1)

4/ أن تُنفَّذ وصيته: الثلث فأقل؛ لأن إنفاذ الوصية واجب، والإسراع بالتنفيذ إما واجب أو مستحب؛ لأن الوصية إن كانت في واجب، فللإسراع في إبراء ذمته، وإن كانت في تطوع فللإسراع في الأجر له، والوصية إما واجبة وإما تطوع، قال أهل العلم: فينبغي أن تنفذ قبل أن يدفن(2).

--------------------------------------------

(1) أخرجه الحاكم في المستدرك برقم (2346) 2/ 66، وقال: هذا حديث صحيح الإسناد ولم يخرجاه.

(2) بتصرف من كتاب أحكام الجنائز للدكتور سعيد بن وهف القحطاني. (ص: 160)
জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস, তিনি বলেন: (এক ব্যক্তি মারা গেল, আমরা তাকে গোসল করালাম, কাফন পরালাম এবং সুগন্ধি মাখালাম। অতঃপর আমরা তাকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য জানাজা রাখার নির্ধারিত স্থানে মাকামে জিবরাইলের নিকট রাখলাম। এরপর আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জানাজার নামাজের সংবাদ দিলাম। তিনি আমাদের সাথে আসলেন এবং কয়েক কদম অগ্রসর হয়ে বললেন: (তোমাদের এই সাথীর ওপর কি কোনো ঋণ আছে?) তারা বলল: হ্যাঁ, দুই দিনার। তখন তিনি পিছু হটলেন এবং বললেন: (তোমরা তোমাদের সাথীর জানাজা পড়ে নাও।) তখন আমাদের মধ্য থেকে আবু কাতাদা নামক এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! এই দুই দিনারের দায়িত্ব আমার ওপর। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতে লাগলেন: (এই দায়িত্ব তোমার ওপর এবং তোমার সম্পদের ওপর বর্তাবে, আর মৃত ব্যক্তি কি তা থেকে মুক্ত হয়ে যাবে?) তিনি বললেন: হ্যাঁ। তখন তিনি তার জানাজা পড়ালেন। এরপর যখনই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে আবু কাতাদার দেখা হতো, তিনি বলতেন (অন্য বর্ণনায়: পরদিন যখন তার সাথে দেখা হলো তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন: দিনার দুটির কী হলো?) তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তিনি তো কেবল গতকালই মারা গেছেন। শেষ পর্যন্ত (অন্য বর্ণনায়: পরদিন যখন তার সাথে পুনরায় দেখা হলো তখন তিনি বললেন: (দিনার দুটির কী হলো?) তিনি বললেন: আমি সেগুলো পরিশোধ করে দিয়েছি, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: (এখন তার চামড়া শীতল হলো।)(১)

৪/ তার অসিয়ত বাস্তবায়ন করা: এক-তৃতীয়াংশ বা তার কম; কেননা অসিয়ত বাস্তবায়ন করা ওয়াজিব (واجب), আর তা বাস্তবায়নে দ্রুততা অবলম্বন করা হয় ওয়াজিব (واجب) অথবা মুস্তাহাব (مستحب)। কারণ অসিয়ত যদি কোনো ওয়াজিব (واجب) বিষয়ে হয়, তবে তা তার দায়মুক্তির ক্ষেত্রে দ্রুততা অবলম্বনের জন্য। আর যদি তা নফল (تطوع) কাজের জন্য হয়, তবে তা তার সওয়াব ত্বরান্বিত করার জন্য। আর অসিয়ত হয় ওয়াজিব (واجب) হবে নতুবা নফল (تطوع)। উলামায়ে কেরাম বলেছেন: দাফন করার পূর্বেই তা বাস্তবায়ন করা উচিত(২)।

--------------------------------------------

(১) হাকেম এটি আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, নম্বর (২৩৪৬) ২/ ৬৬; এবং তিনি বলেছেন: এই হাদিসটির সনদ সহিহ (صحيح الإسناد), তবে তারা এটি বর্ণনা করেননি।

(২) ড. সাঈদ বিন ওহাফ আল-কাহত্বানি রচিত আহকামুল জানাইজ গ্রন্থ থেকে সংক্ষেপিত। (পৃষ্ঠা: ১৬০)
(খণ্ড: ১) কারারীত - মাসায়িল ওয়া আহকাম ওয়া বিদাউল জানাইয (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌فضل اتباع الجنازة

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «مَنْ شَهِدَ الْجَنَازَةَ حَتَّى يُصَلَّى عَلَيْهَا فَلَهُ قِيرَاطٌ، وَمَنْ شَهِدَهَا حَتَّى تُدْفَنَ فَلَهُ قِيرَاطَانِ. قِيلَ: وَمَا الْقِيرَاطَانِ؟ قَالَ: مِثْلُ الْجَبَلَيْنِ الْعَظِيمَيْنِ»(1).

وفي لفظ لمسلم: (قيل وما القيراطان؟ قال: «أَصْغَرُهُمَا مِثْلُ أُحُدٍ»(2).

وفضل الله عز وجل على عبده المسلم الميت بشرعية الصلاة عليه، وقبول شفاعة إخوانه فيه واسع لحديث عائشة عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «مَا مِنْ مَيِّتٍ يُصَلِّي عَلَيْهِ أُمَّةٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ يَبْلُغُونَ مِائَةً كُلُّهُمْ يَشْفَعُونَ لَهُ إِلَّا شُفِّعُوا فِيهِ»(3).

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في صحيحه 2/ 87، ومسلم في صحيحه 2/ 652.

(2) أخرجه مسلم في صحيحه 2/ 653.

فائدة: يقع الجبل شمالي المدينة، ويبلغ طول الجيل 7 كيلو مترات وعرضه بين 2 و 3 كم وارتفاعه يصل إلى قرابة 350 متراً ويبعد عن المسجد النبوي 5 كم تقريباً، وسمي بهذا الاسم لتوحده وتفرده عن الجبال التي حوله. ينظر الموسوعة الحرة: https:// ar.wikipedia.org/ wiki

إذا تصورت مساحة هذا الجبل العظيم، فتصوّر عظم هذا الأجر؟ فلنجاهد أنفسنا على الحرص على الصلاة على الجنائز واتباعها حتى ولو كان في ذلك جهد، فالجنة غالية، ومحفوفة بالمكاره.

(3) أخرجه مسلم في صحيحه 2/ 654.
‌জানাযার অনুসরণের ফজিলত

আবু হুরাইরাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «যে ব্যক্তি জানাযায় উপস্থিত হয়ে জানাযার সালাত আদায় করা পর্যন্ত থাকে, তার জন্য রয়েছে এক কীরাত। আর যে ব্যক্তি দাফন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকে, তার জন্য রয়েছে দুই কীরাত। জিজ্ঞাসা করা হলো: দুই কীরাত কী? তিনি বললেন: দুটি বিশাল পাহাড়ের ন্যায়»(১)।

সহিহ মুসলিমের এক বর্ণনায় রয়েছে: (জিজ্ঞাসা করা হলো: দুই কীরাত কী? তিনি বললেন: «তাদের মধ্যে ক্ষুদ্রতমটি ওহুদ পাহাড়ের সমতুল্য»(২)।

মৃত মুসলিম বান্দার ওপর মহান আল্লাহর অনুগ্রহ এবং তার জানাযার সালাত বিধিবদ্ধ করা ও তার স্মরণে তার ভাইদের সুপারিশ কবুল করার বিষয়টি অত্যন্ত প্রশস্ত; এর প্রমাণ আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) কর্তৃক নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত হাদিস, যেখানে তিনি বলেছেন: «কোনো মৃত ব্যক্তির ওপর যদি মুসলিমদের এমন একটি দল জানাযার সালাত আদায় করে যাদের সংখ্যা একশতে পৌঁছায় এবং তারা সকলেই তার জন্য সুপারিশ করে, তবে অবশ্যই তার ব্যাপারে তাদের সুপারিশ কবুল করা হবে»(৩)।

--------------------------------------------

(১) বুখারি তার সহিহ বুখারি (২/ ৮৭) এবং মুসলিম তার সহিহ মুসলিম (২/ ৬৫২) গ্রন্থে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

(২) মুসলিম তার সহিহ মুসলিম (২/ ৬৫৩) গ্রন্থে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

শিক্ষা: পাহাড়টি মদীনার উত্তরে অবস্থিত। এই পাহাড়ের দৈর্ঘ্য ৭ কিলোমিটার, প্রস্থ ২ থেকে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে এবং উচ্চতা প্রায় ৩৫০ মিটার পর্যন্ত। এটি মসজিদে নববী থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। চারপাশের অন্যান্য পাহাড় থেকে বিচ্ছিন্ন ও একক হওয়ার কারণে এর এই নামকরণ করা হয়েছে। দ্রষ্টব্য: আল-মাওসুআ আল-হুররাহ (উইকিপিডিয়া): https://ar.wikipedia.org/wiki

আপনি যদি এই বিশাল পাহাড়ের আয়তন কল্পনা করতে পারেন, তবে এই পুরস্কারের মাহাত্ম্যও কল্পনা করুন। অতএব, জানাযার সালাত ও তার অনুসরণের ব্যাপারে সচেষ্ট হওয়ার জন্য আমাদের নফসের সাথে জিহাদ করা উচিত, যদিও এতে পরিশ্রম রয়েছে। কারণ জান্নাত অত্যন্ত মূল্যবান এবং তা অপ্রীতিকর বিষয়সমূহ দ্বারা পরিবেষ্টিত।

(৩) মুসলিম তার সহিহ মুসলিম (২/ ৬৫৪) গ্রন্থে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) কারারীত - মাসায়িল ওয়া আহকাম ওয়া বিদাউল জানাইয (পৃষ্ঠা: ৩২)
وعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: «مَا مِنْ رَجُلٍ مُسْلِمٍ يَمُوتُ فَيَقُومُ عَلَى جَنَازَتِهِ أَرْبَعُونَ رَجُلا لا يُشْرِكُونَ بِاللَّهِ شَيْئًا إِلا شَفَّعَهُمُ اللَّهُ فِيهِ»(1).

ويمكن الجمع بين حديث المائة، والأربعين، بما ذكره الشيخ عبدالعزيز ابن باز رحمه الله قال: [قال أهل العلم في الجمع بين حديث المائة وحديث الأربعين: إن حديث المائة أولا، ثم تفضل الله عز وجل وجعل الأربعين يقومون مقام المائة في قبول الشفاعة، وبكل حال فالحديثان يدلان على استحباب كثرة الجمع على الجنائز](2).

وكان ابن عمر رضي الله عنهما يصلي على الجنازة ثم ينصرف، فلما بلغه حديث أبي هريرة رضي الله عنه في فضل اتباع الجنازة، قال: (لَقَدْ فَرَّطْنَا فِى قَرَارِيطَ كَثِيرَةٍ)(3). أي من عدم المواظبة على حضور الدفن(4).

قال ابن عثيمين رحمه الله: [ثم صار بعد ذلك لا يرى جنازة إلا تبعها؛ لأن هذه غنيمة.

غنيمة أن يحصّل الإنسان مثل الجبلين العظيمين في عمل يسير، هذا الأجر متى يلقاه؟ يلقاه في يوم هو أحوج ما يكون إليه؛ في يوم ليس عنده

--------------------------------------------

(1) أخرجه مسلم في صحيحه 2/ 655.

(2) بتصرف من أحكام الجنائز ص: 241.

(3) أخرجه البخاري في صحيحه 2/ 87، ومسلم في صحيحه 2/ 653.

(4) إرشاد الساري لشرح صحيح البخاري 2/ 427.
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: «কোনো মুসলিম ব্যক্তি মারা গেলে যদি তার জানাজায় এমন চল্লিশজন ব্যক্তি দাঁড়ায় যারা আল্লাহর সাথে কোনো কিছু শরিক করে না, তবে আল্লাহ তাআলা তার ব্যাপারে তাদের সুপারিশ কবুল করবেন»(১).

শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ) যা উল্লেখ করেছেন তার মাধ্যমে একশ এবং চল্লিশ সম্পর্কিত হাদিস দুটির মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব। তিনি বলেছেন: [একশ এবং চল্লিশের হাদিসের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ে আলেমগণ বলেন: একশ-র হাদিসটি প্রথমে ছিল, অতঃপর মহান আল্লাহ অনুগ্রহ করে সুপারিশ কবুলের ক্ষেত্রে চল্লিশজনকে একশজনের স্থলাভিষিক্ত করেছেন। যে কোনো অবস্থায়, হাদিস দুটি জানাজায় অধিক লোক সমাগম মুস্তাহাব হওয়ার প্রমাণ দেয়](২).

ইবনে উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) জানাজার নামাজ পড়তেন এবং এরপর চলে যেতেন। যখন আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত জানাজার অনুসরণ করার ফজিলত সম্পর্কিত হাদিসটি তাঁর কাছে পৌঁছাল, তখন তিনি বললেন: (আমরা অনেক কিরাত হারিয়ে ফেলেছি)(৩)। অর্থাৎ দাফনে উপস্থিত হওয়ার ব্যাপারে নিয়মিত না হওয়ার কারণে(৪).

ইবনে উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: [অতঃপর এর পর থেকে তিনি কোনো জানাজা দেখলেই তার অনুসরণ করতেন; কারণ এটি একটি গনিমত।

সামান্য আমলের বিনিময়ে দুটি বিশাল পাহাড়ের সমতুল্য সওয়াব অর্জন করা একটি গনিমত। এই প্রতিদান সে কখন পাবে? সে তা পাবে এমন এক দিনে যখন সে এর জন্য সবচেয়ে বেশি মুখাপেক্ষী হবে; এমন এক দিনে যখন তার কাছে নেই

--------------------------------------------

(১) মুসলিম এটি তাঁর সহিহ গ্রন্থে ২/৬৫৫ বর্ণনা করেছেন।

(২) আহকামুল জানাইয, পৃষ্ঠা: ২৪১ থেকে পরিমার্জিত।

(৩) বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে ২/৮৭ এবং মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে ২/৬৫৩ বর্ণনা করেছেন।

(৪) সহিহ বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থ ইরশাদুস সারি ২/৪২৭।
(খণ্ড: ১) কারারীত - মাসায়িল ওয়া আহকাম ওয়া বিদাউল জানাইয (পৃষ্ঠা: ৩৩)
درهم، ولا دينار ولا متاع، ولا قرابة، ولا زوجة تنفعه يوم القيامة إلا العمل الصالح، فهو إذا تبع الجنازة حتى يصلى عليها، ثم حتى تدفن، فله قيراطان مثل الجبلين العظيمين أصغرهما مثل أحد.

وينبغي لمن اتبع أن يكون خاشعًا، مفكرًا في مآله، يقول لنفسه: يا نفسي أنت مآلك كمآل هذا الذي فوق أعناقنا، عن قريب أو بعيد وربما يكون عن قريب، ويتذكر هذا الرحيل، يتذكر إلى حفرته ويدفنه ويتخلى عنه(1)، وأقرب الناس إليك الذي يحملك إلى مدفنك ثم ينصرف عنك ويدعك في هذا اللحد وحيدًا بأعمالك، إن خيرًا فخير، وإن شرًا فشر، ولهذا قال العلماء: يكره للإنسان المتبع للجنازة: أن يتحدث في شيء من أمور الدنيا، أو أن يتبسم ويضحك](2).

--------------------------------------------

(1) هكذا في شرح رياض الصالحين ولعل العبارة (ويتذكر حين يدفن ويتخلى عنه).

(2) شرح رياض الصالحين 2/ 598.
কিয়ামতের দিন দিরহাম, দিনার, পার্থিব সম্পদ, আত্মীয়তা কিংবা স্ত্রী—সৎকর্ম ব্যতীত কোনো কিছুই মানুষের উপকারে আসবে না। সুতরাং তিনি যদি জানাজার অনুসরণ করেন যতক্ষণ না তার ওপর সালাত আদায় করা হয়, অতঃপর দাফন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত সাথে থাকেন, তবে তার জন্য দুটি বিশাল পাহাড়ের ন্যায় দুই কিরাত পরিমাণ সওয়াব রয়েছে, যার ক্ষুদ্রতমটি ওহুদ পাহাড়ের সমান।

জানাজার অনুসরণকারীর জন্য উচিত হলো বিনয়ী ও একাগ্র হওয়া এবং নিজের শেষ পরিণতি সম্পর্কে চিন্তা করা। সে নিজের নফসকে বলবে: হে নফস, তোমার পরিণতিও—অচিরেই হোক কিংবা বিলম্বে, আর সম্ভবত তা অতি শীঘ্রই হবে—ঠিক সেই ব্যক্তির পরিণতির মতোই হবে যাকে আমরা আমাদের কাঁধে বহন করছি। সে এই মহাপ্রয়াণের কথা স্মরণ করবে; স্মরণ করবে নিজের সেই কবরের গর্তের কথা যেখানে তাকে দাফন করা হবে এবং নিঃসঙ্গ অবস্থায় ছেড়ে আসা হবে(১)। তোমার সবচেয়ে নিকটাত্মীয় ব্যক্তিই তোমাকে তোমার দাফনস্থলে বয়ে নিয়ে যাবে, অতঃপর তোমাকে সেই কবরে তোমার আমলসহ একাকী ফেলে রেখে বিদায় নেবে। যদি আমল ভালো হয় তবে কল্যাণ, আর যদি মন্দ হয় তবে অকল্যাণ। এই কারণেই ওলামায়ে কেরাম বলেছেন: জানাজার অনুসরণকারীর জন্য পার্থিব কোনো বিষয়ে কথাবার্তা বলা অথবা মুচকি হাসা কিংবা হাসাহাসি করা অপছন্দনীয়](২)।

--------------------------------------------

(১) শারহু রিয়াদিস সলিহীন গ্রন্থে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে, সম্ভবত বাক্যটি হবে (এবং স্মরণ করবে যখন তাকে দাফন করা হবে এবং তাকে নিঃসঙ্গ অবস্থায় ছেড়ে আসা হবে)।

(২) শারহু রিয়াদিস সলিহীন ২/ ৫৯৮।
(খণ্ড: ১) কারারীত - মাসায়িল ওয়া আহকাম ওয়া বিদাউল জানাইয (পৃষ্ঠা: ৩৪)
‌‌فتاوى الجنائز

‌‌س 1: ما حكم حفر الانسان قبره قبل الموت؟

الجواب: قال شيخ الإسلام: لا يستحب للرجل أن يحفر قبره قبل ان يموت فإن النبي صلى الله عليه وسلم لم يفعل ذلك ولا أصحابه رضي الله عنهم والعبد لا يدري اين يموت وإذا كان مقصود الرجل الاستعداد للموت فهذا يكون بالعمل الصالح(1).

 

‌‌س 2: ما معنى قوله صلى الله عليه وسلم: «يموت المؤمن بعرق الجبين»؟

أقرب ما قيل فيه أن معناه أن المؤمن يموت وهو يعمل العمل الصالح، أي أنه يستمر في عمله الصالح إلى الموت، لقول الله تعالى: {وَاعْبُدْ رَبَّكَ حَتَّى يَأْتِيَكَ الْيَقِينُ)(2).

 

‌‌س 3: ما حكم الأذان في أذن الميت؟ وتلقينه لا إله إلا الله عند الموت؟ وتلقينه إجابة الملكين بعد دفنه؟

الأذان في أُذن الميت بدعة. وتلقينه عند الموت: لا إله إلا الله أمر به النبي صلى الله عليه وسلم أما تلقينه إجابة الملكين بعد دفنه، فهذا ورد في حديث، لكنه ضعيف، فلا يعتمد(3)

--------------------------------------------

(1) الفتاوى الكبرى 5/ 362.

(2) مجموع فتاوى ورسائل العثيمين (17/ 73)

(3) مجموع فتاوى ورسائل العثيمين (17/ 73)
‌‌জানাজা সংক্রান্ত ফতোয়া

‌‌প্রশ্ন ১: মৃত্যুর আগে মানুষের নিজের কবর খনন করার বিধান কী?

উত্তর: শায়খুল ইসলাম বলেছেন: কোনো ব্যক্তির জন্য মৃত্যুর আগে নিজের কবর খনন করা মুস্তাহাব (مستحب) নয়। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) তা করেননি। আর বান্দা জানে না যে সে কোথায় মৃত্যুবরণ করবে। যদি ব্যক্তির উদ্দেশ্য মৃত্যুর প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়, তবে তা নেক আমলের মাধ্যমেই হতে হবে(১)।

 

‌‌প্রশ্ন ২: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর অর্থ কী: "মুমিন কপালে ঘাম নিয়ে মৃত্যুবরণ করে"?

এ সম্পর্কে সবচেয়ে নিকটবর্তী ব্যাখ্যা হলো যে, এর অর্থ মুমিন ব্যক্তি নেক আমল করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। অর্থাৎ সে মৃত্যু পর্যন্ত নেক আমলের ওপর অবিচল থাকে; যেমনটি মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এবং তোমার প্রতিপালকের ইবাদত করো তোমার নিকট ইয়াকীন (অর্থাৎ মৃত্যু) আসা পর্যন্ত"(২)।

 

‌‌প্রশ্ন ৩: মৃত ব্যক্তির কানে আযান দেওয়ার বিধান কী? মৃত্যুর সময় তাকে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' তালকিন (تلقين) করার এবং দাফনের পর দুই ফেরেশতার প্রশ্নের উত্তর তালকিন (تلقين) করার বিধান কী?

মৃত ব্যক্তির কানে আযান দেওয়া একটি বিদআত (بدعة)। মৃত্যুর সময় তাকে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এর তালকিন (تلقين) করার নির্দেশ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছেন। আর দাফনের পর তাকে দুই ফেরেশতার প্রশ্নের উত্তর তালকিন (تلقين) করার বিষয়টি একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, তবে তা দুর্বল (ضعيف), তাই এটি নির্ভরযোগ্য নয়(৩)

--------------------------------------------

(১) আল-ফাতাওয়াল কুবরা ৫/৩৬২।

(২) মাজমু' ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িলিল উসাইমিন (১৭/৭৩)

(৩) মাজমু' ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িলিল উসাইমিন (১৭/৭৩)
(খণ্ড: ১) কারারীত - মাসায়িল ওয়া আহকাম ওয়া বিদাউল জানাইয (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌س 4: متى وقت التلقين؟

التلقين عند الموت وعند الاحتضار يلقن المُحتضر لا إله إلا الله، كما فعل النبي صلى الله عليه وسلم عند موت عمه أبي طالب حيث حضره فقال: «يا عم، قل لا إله إلا الله كلمة أحاج لك بها عند الله»، ولكن عمه أبا طالب والعياذ بالله لم يقل هذا ومات على الشرك.

وأما التلقين بعد الدفن فإنه بدعة لعدم ثبوت الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم في ذلك، ولكن الذي ينبغي أن يفعل ما رواه أبو داود حيث كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا فرغ من دفن الميت وقف عليه وقال: «استغفروا لأخيكم، اسألوا له التثبيت، فإنه الان يُسأل»، وأما القراءة عند القبر وتلقينه في القبر فهذا بدعة لا أصل له(1).

 

‌‌س 5: هل تقرأ سورة يس على الميت؟

الجواب: ورد في ذلك حديث معقل بن يسار أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «اقْرَؤُوا عَلَى مَوْتَاكُمْ يس»، لكنه حديث ضعيف(2).

--------------------------------------------

(1) مجموع فتاوى ورسائل العثيمين (17/ 75)

(2) أخرجه أحمد في مسنده 33/ 416، وأبو داود في سننه 3/ 191، والنسائي في السنن الكبرى 9/ 394، وابن حبان في صحيحه 7/ 269.

قال الحافظ ابن حجر في التلخيص الحبير 2/ 212: [وأعله ابن القطان بالاضطراب وبالوقف، وبجهالة حال أبي عثمان وأبيه، ونقل أبو بكر بن العربي عن الدارقطني أنه قال: هذا حديث ضعيف الإسناد، مجهول المتن، ولا يصح في الباب حديث]. وضعفه الألباني في المشكاة 1/ 509.
‌৪ নং প্রশ্ন: তালকিনের (উপদেশ প্রদান) সময় কখন?

মৃত্যুর সময় এবং মৃত্যুক্ষণ (احتضار) উপস্থিত হলে মুমূর্ষু ব্যক্তিকে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর তালকিন করতে হয়, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাচা আবু তালিবের মৃত্যুর সময় করেছিলেন। যখন তিনি তাঁর মৃত্যুশয্যায় উপস্থিত হলেন, তখন বললেন: «হে চাচা, আপনি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলুন, এটি এমন একটি বাক্য যা দিয়ে আমি আল্লাহর নিকট আপনার জন্য সুপারিশ করতে পারব»; কিন্তু তাঁর চাচা আবু তালিব—আল্লাহর পানাহ—এটি বলেননি এবং শিরকের ওপর মৃত্যুবরণ করেন।

পক্ষান্তরে দাফনের পরের তালকিন একটি বিদআত (بدعة), কারণ এ বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো হাদিস সাব্যস্ত হয়নি। বরং যা করা উচিত তা আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মৃত ব্যক্তির দাফন সম্পন্ন করতেন, তখন কবরের পাশে দাঁড়াতেন এবং বলতেন: «তোমরা তোমাদের ভাইয়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং তার দৃঢ়তার জন্য দোয়া করো, কারণ তাকে এখনই জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে»। আর কবরের নিকট পাঠ করা এবং কবরের মধ্যে তালকিন করা—এগুলো বিদআত (بدعة) যার কোনো ভিত্তি নেই(১)।

 

‌‌৫ নং প্রশ্ন: মৃত ব্যক্তির ওপর কি সূরা ইয়াসিন পাঠ করা যাবে?

উত্তর: এ বিষয়ে মা’কিল বিন ইয়াসার বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা তোমাদের মৃতদের ওপর ইয়াসিন পাঠ করো», কিন্তু এটি একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস(২)।

--------------------------------------------

(১) মাজমু ফাতাওয়া ওয়া রাসায়িল আল-উসাইমিন (১৭/ ৭৫)

(২) আহমদ তার মুসনাদ ৩৩/ ৪১৬, আবু দাউদ তার সুনান ৩/ ১৯১, নাসাঈ সুনান আল-কুবরা ৯/ ৩৯৪ এবং ইবনে হিব্বান তার সহিহ ৭/ ২৬৯-এ এটি বর্ণনা করেছেন।

হাফিজ ইবনে হাজার আত-তালখিস আল-হাবিবে (২/ ২১২) বলেছেন: [ইবনুল কাত্তান একে অসংগতি (اضطراب) ও মাকুফ (وقف) হওয়া এবং আবু উসমান ও তার পিতার অবস্থা অজ্ঞাত (جهالة) হওয়ার কারণে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন। আবু বকর ইবনুল আরাবি দারাকুতনি থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: এই হাদিসটির সনদ দুর্বল (ضعيف الإسناد), মূলপাঠ অজ্ঞাত (مجهول المتن) এবং এই বিষয়ে কোনো হাদিসই বিশুদ্ধ (صحيح) নয়]। আলবানি আল-মিশকাতে (১/ ৫০৯) একে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন।