(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুত তাসীলী লিদিরাসাতিত তাফসিরিত তাহলীলী
(পৃষ্ঠা: -)
المنهج التأصيلي لدراسة التفسير التحليلي القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: المنهج التأصيلي لدراسة التفسير التحليلي
المؤلف: عرفة بن طنطاوي
عدد الصفحات: 310
[كتاب إلكتروني بترقيم الشاملة]
تاريخ النشر بالشاملة: 15 شعبان 1443
বিশ্লেষণধর্মী তাফসীর অধ্যয়নের মৌলিক পদ্ধতি বিভাগ: কুরআনুল কারীমের জ্ঞানসমূহ এবং তাফসীরের মূলনীতি
বই: বিশ্লেষণধর্মী তাফসীর অধ্যয়নের মৌলিক পদ্ধতি
লেখক: আরাফাহ বিন তানতাওয়ী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩১০
[শামেলা নাম্বারিং অনুযায়ী ই-বুক]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ১৫ শা'বান ১৪৪৩
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুত তাসীলী লিদিরাসাতিত তাফসিরিত তাহলীলী
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
دراسات جامعية
لمرحلتي
الماجستير والدكتوراة
المنهج التأصيلي
لدراسة التفسير التحليلي
من صريف قلم الدكتور
عرفة بن طنطاوي
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
উচ্চতর শিক্ষা
উভয় স্তরের জন্য
মাস্টার্স ও পিএইচডি
মৌলিক পদ্ধতি
বিশ্লেষণাত্মক তাফসির অধ্যয়নের ক্ষেত্রে
ডক্টর-এর লেখনী হতে
আরাফাহ বিন তানতাউয়ি
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুত তাসীলী লিদিরাসাতিত তাফসিরিত তাহলীলী
(পৃষ্ঠা: ২)
الحمدُ لله الذي أنزلَ كتابَه المجيدَ على أحسنِ أسلوب، وبهرَ بحسنِ أساليبِه وبلاغةِ تركيبِه القلوب، نزَّله آياتٍ بيِّناتٍ، وفصَّله سورًا وآياتٍ، ورتَّبَه بحكمتِه البالغةِ أحسنَ ترتيب، نظَمَه أعظمَ نظامٍ بأفصحِ لفظٍ وأبلغِ تركيبٍ، وصلَّى الله على من أُنزل إليه لينذرَ به وذكرى، ونزله على قلبهِ الشَّريفِ فنفى عنه الحرجَ وشرحَ له صدرًا، وعلى آله وصحبِه مهاجرةً ونصرًا
(1).
--------------------------------------------
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর মহিমান্বিত কিতাব সর্বোত্তম রীতিতে অবতীর্ণ করেছেন এবং এর রীতির সৌন্দর্য ও রচনার সাবলীলতা দিয়ে হৃদয়গুলোকে বিমোহিত করেছেন। তিনি একে সুস্পষ্ট আয়াত হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন এবং একে বিভিন্ন সূরা ও আয়াতে বিন্যস্ত করেছেন; তিনি তাঁর সুদূরপ্রসারী প্রজ্ঞা দ্বারা একে সর্বোত্তম বিন্যাসে সজ্জিত করেছেন এবং একে অত্যন্ত প্রাঞ্জল শব্দ ও বাগ্মিতাপূর্ণ কাঠামোতে এক সুমহান পদ্ধতিতে গ্রথিত করেছেন। আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যাঁর প্রতি এটি অবতীর্ণ হয়েছে যেন তিনি এর মাধ্যমে সতর্ক করতে পারেন এবং যা একটি উপদেশ; তিনি এটি তাঁর সম্মানিত হৃদয়ে অবতীর্ণ করেছেন, ফলে তাঁর থেকে সঙ্কীর্ণতা দূর করেছেন এবং তাঁর বক্ষ প্রশস্ত করেছেন; আরও রহমত বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন ও হিজরতকারী ও সাহায্যকারী সাহাবীগণের ওপর
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুত তাসীলী লিদিরাসাতিত তাফসিরিত তাহলীলী
(পৃষ্ঠা: ৩)
•
الفصل الأول •التفسير والتأويل
المبحث الأول: مفهوم التفسيروفيه مطلبان:
المطلب الأول: مفهوم التفسير لغةًالتفسير في اللغة: اسمٌ، وجمعه؛ تفسيرات، وتفاسير، ويراد به: الشرح والبيان، وتفسير القرآن الكريم: توضيح معانيه، وبيان وجوه البلاغة والإعجاز فيه، وشرح في آياته؛ من أسباب النزول، والعقائد، والأحكام والحكم
(1).
فمن تأمل معاني التفسير وجدها مادة تدور حول الكشف، والإيضاح، والبيان للشيء.
وحول توضيح مادته يقول ابن فارس
(2): " (فَسَرَ) الفاء، والسين، والراء كلمة واحدة تدلُّ على بيانِ شيءٍ وإيضاحِه"
(3).
ويقول ابن منظور
(4): " (فسر) الفَسْرُ: البيان، فَسَر الشيءَ يفسِرُه بالكَسر وتَفْسُرُه بالضم فَسْرًا وفَسَّرَهُ: أَبانه. وقوله عز وجل:
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায় •তাফসির ও তাউয়িল
প্রথম পরিচ্ছেদ: তাফসিরের ধারণাএতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: আভিধানিক অর্থে তাফসিরের ধারণাআভিধানিক অর্থে তাফসির: এটি একটি বিশেষ্য, এর বহুবচন হলো; তাফসিরাত এবং তাফাসির। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: ব্যাখ্যা ও বর্ণনা। পবিত্র কুরআনের তাফসির হলো: এর অর্থসমূহ স্পষ্ট করা এবং এর মাঝে বিদ্যমান অলঙ্কারশাস্ত্র ও অলৌকিকত্বের দিকগুলো বর্ণনা করা; আর এর আয়াতসমূহের শানে নুযূল (অবতরণের প্রেক্ষাপট), আকাইদ (বিশ্বাসমালা), আহকাম (বিধানাবলি) ও হিকমত (প্রজ্ঞা) ব্যাখ্যা করা
(১)।
যিনি তাফসিরের অর্থগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করবেন, তিনি দেখতে পাবেন যে এটি এমন একটি মূল ধাতু যা কোনো কিছুর উন্মোচন, স্পষ্টিকরণ ও বর্ণনার চারপাশেই আবর্তিত হয়।
এর মূল অর্থের স্পষ্টিকরণে ইবন ফারিস
(২) বলেন: "(ফা-সিন-রা) ফা, সিন এবং রা—এটি একটি একক শব্দ যা কোনো বিষয় বর্ণনা ও তা স্পষ্ট করার অর্থ প্রকাশ করে"
(৩)।
ইবন মানযুর
(৪) বলেন: "(ফাসারা) আল-ফাসর অর্থ হলো বর্ণনা। কোনো বিষয়কে সে বর্ণনা করে (ফাসারা আশ-শাইয়া ইয়াফসিরুহু) সিনের নিচে কাসরা (জের) দিয়ে এবং (তাফসুরুহু) সিনের উপর দম্মা (পেশ) দিয়ে, যার অর্থ ফাসরান। আর (ফাসসারাহু) অর্থ হলো: তিনি তা স্পষ্ট করেছেন। মহান আল্লাহর বাণী:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুত তাসীলী লিদিরাসাতিত তাফসিরিত তাহলীলী
(পৃষ্ঠা: ৪)
{وَلَا يَأْتُونَكَ بِمَثَلٍ إِلَّا جِئْنَاكَ بِالْحَقِّ وَأَحْسَنَ تَفْسِيرًا} [الفرقان: 33]، ولم يَرِد هذا اللفظ في القرآن الكريم إلا في هذه الآية فقط"
(1)؛ والفَسْرُ: كشف المُغَطّى، والتَّفْسير كَشف المُراد عن اللفظ المُشْكل، والتأْويل: ردّ أَحد المحتملين إلى ما يطابق الظاهرواسْتَفْسَرْتُه كذا أَي سأَلته أَن يُفَسِّره لي.
والفَسْر: نظر الطبيب إلى الماء، وكذلك التَّفْسِرةُ؛ قال الجوهري: وأَظنه مولَّدًا، وقيل: التَّفْسِرةُ البول الذي يُسْتَدَلُّ به على المرض وينظر فيه الأطباء يستدلون بلونه على علة العليل، وهو اسم كالتَّنْهِيَةِ، وكل شيء يعرف به تفسير الشيء ومعناه، فهو تَفْسِرَتُه
(2).
ويقول السيوطي: "إنه مقلوب السَّفر، تقول: أسفَر الصبح، إذا أضاء، وقيل: مأخوذ من التَّفْسِرة؛ وهي اسم لما يَعرف به الطبيبُ المرضَ"
(3).
وقد سبق بيان ابن منظور له آنفًا، وأما معنى قول السيوطي (مقلوب) أي: مقلوب الجذر. ومن يرى أنّه مقلوب الجذر عن «السفر» كذلك يقول: سفرت المرأة سفورًا، إذا ألقت خمارها عن وجهها فهي سافرة
(4)، وتقول: أسفر الصبح إذا أضاء
(5).
ومما عُرِّف به كذلك أنه: "الاستبانة، والكشف، والعبارة عن الشيء بلفظ أسهل وأيسر من لفظ الأصل"
(6).
ومما سبق يتبين أنّ المعاني اللغوية للتفسير متقاربة المعنى وأن اختلاف تناول اللغويون للأصل الاشتقاقي الذي انبثقت منه لفظة: "تفسير"، هو اختلاف تنوع لا اختلاف تضاد،
--------------------------------------------
"আর তারা আপনার কাছে এমন কোনো উদাহরণ নিয়ে আসে না, যার সঠিক সমাধান ও সুন্দর ব্যাখ্যা আমি আপনাকে দান করি না" [আল-ফুরকান: ৩৩]; এবং আল-কুরআনে এই শব্দটি কেবলমাত্র এই আয়াতেই বর্ণিত হয়েছে
(১); আর 'ফাসর' (الفَسْرُ) হলো: আবৃতকে অনাবৃত করা। 'তাফসীর' হলো জটিল শব্দের উদ্দেশ্য উন্মোচন করা। আর 'তাবীল' হলো: সম্ভাব্য দু’টি অর্থের একটিকে প্রকাশ্য অর্থের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়ের দিকে ফিরিয়ে নেয়া। আর 'ইস্তাফসারতুহু' (اسْتَفْسَرْتُه) মানে হলো: আমি তাকে সেটি ব্যাখ্যা করে দিতে বলেছি।
আর 'ফাসর' বলতে চিকিৎসকের পানির (মূত্র) দিকে তাকানোকেও বোঝায়, অনুরূপভাবে 'তাফসিরাহ' শব্দটিও। জাওহারী বলেন: আমার ধারণা এটি একটি আধুনিক উদ্ভাবিত শব্দ। বলা হয়েছে: 'তাফসিরাহ' হলো সেই প্রস্রাব যার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করা হয় এবং চিকিৎসকরা রোগীর অসুস্থতা বোঝার জন্য এর রঙের দিকে তাকিয়ে থাকেন। এটি 'তানহিয়াহ' শব্দের ন্যায় একটি বিশেষ্য। আর যে জিনিসের মাধ্যমে কোনো বিষয়ের ব্যাখ্যা ও অর্থ জানা যায়, সেটিই তার 'তাফসিরাহ'
(২)।
সুয়ূতী বলেন: "এটি 'সাফর' (السفر) শব্দের বর্ণবিপর্যয়। বলা হয়: 'আসফারা আস-সুবহু' যখন সকাল উদ্ভাসিত হয়। আবার বলা হয়: এটি 'তাফসিরাহ' থেকে গৃহীত; যা এমন একটি নাম যার মাধ্যমে চিকিৎসক রোগ নির্ণয় করতে পারেন"
(৩)।
ইতিপূর্বে ইবনে মঞ্জুর এর বর্ণনা অতিক্রান্ত হয়েছে। আর সুয়ূতীর উক্তি 'মাকলুব' (বিপরীত)-এর অর্থ হলো: মূল ধাতুর বর্ণবিপর্যয়। যারা মনে করেন এটি 'সাফর' থেকে উদ্ভূত বর্ণবিপর্যয়, তারা এমনটিও বলেন: নারী যখন তার মুখমণ্ডল থেকে ওড়না সরিয়ে ফেলে, তখন তাকে 'সাফিরাহ' বলা হয়
(৪)। আর বলা হয়: যখন সকাল আলোকিত হয় তখন সকাল উদ্ভাসিত (আসফারা) হয়েছে
(৫)।
এর আরও একটি সংজ্ঞা হলো: "সুস্পষ্ট করা, উন্মোচন করা এবং কোনো বিষয়কে মূল শব্দের তুলনায় সহজতর ও সাবলীল শব্দে ব্যক্ত করা"
(৬)।
উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয় যে, তাফসীরের শাব্দিক অর্থগুলো একে অপরের নিকটবর্তী। আর 'তাফসীর' শব্দটি যে মূল ধাতু থেকে উদ্ভূত হয়েছে, তা নিয়ে ভাষাবিদদের বর্ণনার ভিন্নতা হলো বৈচিত্র্যগত ভিন্নতা, কোনো বিরোধপূর্ণ ভিন্নতা নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুত তাসীলী লিদিরাসাতিত তাফসিরিত তাহলীলী
(পৃষ্ঠা: ৫)
وذلك لتقارب المعنى واتحاد دلالة المادتين، أعني مادة "فسر"، ومادة "سفر" وأن مادتيها تدوران حول الكشف "للمغلق" والمستور، والإيضاح "للمبهم"، والبيان "لما خفي"؛ «فالدلالة فيه واحدة في اللغة، تعني كشف المغلق، وتيسر البيان، والإظهار من الخفي إلى الجلي»
(1) ..
ومن هنا يتبين أنه: يستوي أن يكون التفسير مشتقًا من «الفسر» أو من «السفر» فدلالة المادتين واحدة في النهاية وهي الكشف عن شيء مختبئ
(2)، وهو في اللغة: اسم، وجمعه؛ تفسيرات، وتفاسير، ويراد به: الشرح والبيان، وتفسير القرآن الكريم: توضيح معانيه، وبيان وجوه البلاغة، والإعجاز فيه، وشرح في آياته؛ من أسباب النزول، والعقائد، والأحكام والحكم
(3).
المطلب الثاني: بيان مفهوم التفسير اصطلاحًاأما معنى التفسير اصطلاحًا، فقد اختلفت عبارات العلماء في ذلك، ومن أشهرها:
1. تعريف أبي حيان في مقدمة تفسيره بقوله:"التفسير: وهو: علم يُبحث فيه عن كيفية النطق بألفاظ القرآن ومدلولاتها، وأحكامها الإفرادية والتركيبية، ومعانيها التى تحمل عليها حالة التركيب، وتتمات لذلك". ثم شرحه بقوله: "فقولنا: (علم) هو جنس يشمل سائر العلوم، وقولنا: (يبحث فيه عن كيفية النطق بألفاظ القرآن) هذا هو علم القراءات، وقولنا: (ومدلولاتها) أي مدلولات تلك الألفاظ، وهذا هو علم اللغة، وقولنا: (وأحكامها الإفرادية والتركيبية) هذا يشمل علم التصريف، وعلم الإعراب، وعلم البيان، وعلم البديع، وقولنا: (ومعانيها التى تحمل عليها حالة التركيب)
--------------------------------------------
আর এটি অর্থের নৈকট্য এবং শব্দমূলদ্বয়ের নির্দেশনার ঐক্যের কারণে; অর্থাৎ ‘ফা-সিন-রা’ এবং ‘সিন-ফা-রা’ শব্দমূলদ্বয়। এই শব্দমূলদ্বয় মূলত ‘আবদ্ধ’ ও লুক্কায়িত বিষয় উন্মোচন করা এবং ‘অস্পষ্ট’ বিষয় সুস্পষ্ট করার চারপাশেই আবর্তিত হয়; এবং ‘যা গোপন’ তার বর্ণনা প্রদান করা। «ভাষাগতভাবে এর নির্দেশনা অভিন্ন, যার অর্থ হলো আবদ্ধ বিষয় উন্মোচন করা, বর্ণনা সহজতর করা এবং গোপন অবস্থা থেকে প্রকাশ্য অবস্থায় নিয়ে আসা»
(১) ..
এখান থেকে স্পষ্ট হয় যে: ‘তাফসির’ শব্দটি ‘ফাসর’ থেকে ব্যুৎপন্ন হোক বা ‘সাফর’ থেকে—উভয়টিই সমান, কেননা পরিশেষে শব্দমূলদ্বয়ের নির্দেশনা একই আর তা হলো কোনো লুক্কায়িত বিষয় উন্মোচন করা।
(২) আর ভাষাগতভাবে এটি একটি বিশেষ্য, এর বহুবচন হলো: তাফসিরাত ও তাফাসির। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: ব্যাখ্যা ও বর্ণনা। আর পবিত্র কুরআনের তাফসির হলো: এর অর্থসমূহ সুস্পষ্ট করা এবং এর অলঙ্কারশাস্ত্রীয় ও অলৌকিকত্বের দিকসমূহ বর্ণনা করা এবং এর আয়াতসমূহের ব্যাখ্যা করা; যা শানে নুযুল (অবতরণের প্রেক্ষাপট), আকিদা, বিধান ও হিকমত সংশ্লিষ্ট।
(৩)
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পারিভাষিক অর্থে তাফসিরের ধারণার বর্ণনাপারিভাষিক অর্থে তাফসিরের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে আলেমগণের বক্তব্যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়, তার মধ্যে প্রসিদ্ধতম হলো:
১. আবু হাইয়্যান তার তাফসির গ্রন্থের ভূমিকায় যে সংজ্ঞা দিয়েছেন:"তাফসির: এটি এমন এক জ্ঞান যেখানে কুরআনের শব্দাবলির উচ্চারণের পদ্ধতি, সেগুলোর অর্থগত নির্দেশনা, সেগুলোর একক ও যৌগিক বিধানসমূহ, বাক্যগঠন অবস্থায় সেগুলো যে অর্থ বহন করে এবং এ সংশ্লিষ্ট পরিপূরক বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়।" অত:পর তিনি এর ব্যাখ্যায় বলেন: "আমাদের কথা: (জ্ঞান) এটি একটি সাধারণ শব্দ যা সকল জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করে। আমাদের কথা: (যেখানে কুরআনের শব্দাবলির উচ্চারণের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়) এটি হলো কিরাআত শাস্ত্র। আমাদের কথা: (এবং সেগুলোর অর্থগত নির্দেশনা) অর্থাৎ সেই শব্দাবলির অর্থগত নির্দেশনা, আর এটি হলো ভাষাতত্ত্ব। আমাদের কথা: (এবং সেগুলোর একক ও যৌগিক বিধানসমূহ) এটি ইলমুত তাসরিফ (শব্দরূপান্তর বিদ্যা), ইলমুল ইরাব (ব্যাকরণ), ইলমুল বয়ান (অলঙ্কারশাস্ত্র) ও ইলমুল বদি (বাক্যালঙ্কার শাস্ত্র)-কে অন্তর্ভুক্ত করে। আমাদের কথা: (এবং বাক্যগঠন অবস্থায় সেগুলো যে অর্থ বহন করে)"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুত তাসীলী লিদিরাসাতিত তাফসিরিত তাহলীলী
(পৃষ্ঠা: ৬)
يشمل ما دلالته بالحقيقة وما دلالته بالمجاز، وقولنا: (وتتمات لذلك) هو معرفة النسخ، وسبب النزول، وقصة توضح ما انبهم فى القرآن، ونحو ذلك"
(1).
2. وعرّفه الزركشي بقوله:"علم يعرف به فهم كتاب الله تعالى، المنزل على نبيه محمد صلى الله عليه وسلم، وبيان معانيه، واستخراج أحكامه وحكمه"
(2).
3. وقد ذكر السيوطي فى إتقانه عدة تعريفات كثيرة للتفسير، واعتبر في كتابه «التحبير في علم التفسير» تعريف أبى حيان أحسن تعريف
(3).
ولعل خير ما يجمع تلك التعاريف كلها، ذلك الذى ذكره الزرقاني فى مناهله، حيث يقول: "والتفسير فى الاصطلاح: علم يبحث فيه عن القرآن الكريم، من حيث دلالته على مراد الله تعالى، بقدر الطاقة البشرية"
(4).
وهذا التعريف -على الرغم من إيجاز عبارته- تعريف جامع مانع، يناسب المطلوب من الصياغة في مثل هذا المقام.
ثم شرح الزرقاني تعريفه هذا شرحًا وافيًا، ثم بيّن لنا سبب تسمية هذا العلم بذلك الاسم، ووجه اختصاصه بها دون بقية العلوم، فقال: "وسمي علم التفسير لما فيه من الكشف والتبيين، واختص بهذا الاسم دون بقية العلوم -مع أنها كلها مشتملة على الكشف والتبيين-
--------------------------------------------
"এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা হাকীকত (আক্ষরিক) হিসেবে নির্দেশ করে এবং যা মাজায (রূপক) হিসেবে নির্দেশ করে। আর আমাদের কথা: (এর পরিপূরক বিষয়সমূহ) হলো নাসখ (রহিতকরণ), শানে নুযূল (অবতরণের প্রেক্ষাপট), এবং এমন কাহিনী যা কুরআনের অস্পষ্ট বিষয়সমূহকে স্পষ্ট করে, এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা"
(১).
২. ইমাম যারকাশী এর সংজ্ঞা প্রদান করে বলেছেন:"এটি এমন একটি জ্ঞান যার মাধ্যমে মহান আল্লাহর কিতাব, যা তাঁর নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ হয়েছে, তা বোঝা যায় এবং এর অর্থসমূহ ব্যাখ্যা করা যায় এবং এর আহকাম (বিধান) ও হিকমত (রহস্য) আহরণ করা যায়"
(২).
৩. ইমাম সুয়ূতী তাঁর 'আল-ইতকান' গ্রন্থে তাফসীরের অনেকগুলো সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন, এবং তাঁর 'আত-তাহবীর ফী ইলমিত তাফসীর' গ্রন্থে আবু হাইয়ানের সংজ্ঞাকেই সর্বশ্রেষ্ঠ সংজ্ঞা হিসেবে বিবেচনা করেছেন
(৩).
সম্ভবত এই সমস্ত সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে যা সবচেয়ে বেশি পূর্ণাঙ্গ, তা হলো ইমাম যারকানী তাঁর 'মানাহিলুল ইরফান' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: "পরিভাষায় তাফসীর হলো এমন একটি শাস্ত্র যা মানবীয় সাধ্য অনুযায়ী মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য সম্পর্কে নির্দেশনা প্রদানের দিক থেকে কুরআনুল কারীম নিয়ে আলোচনা করে"
(৪).
এই সংজ্ঞাটি—তার সংক্ষিপ্ত প্রকাশভঙ্গি সত্ত্বেও—একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও সুসংহত সংজ্ঞা, যা এ জাতীয় স্থানে বর্ণনার চাহিদার সাথে মানানসই।
এরপর ইমাম যারকানী তাঁর এই সংজ্ঞার একটি পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। অতঃপর তিনি আমাদের জন্য এই শাস্ত্রের এই নামকরণ করার কারণ বর্ণনা করেছেন এবং অন্যান্য শাস্ত্র বাদ দিয়ে কেন একেই এই নামে বিশিষ্ট করা হলো তার কারণ দর্শিয়েছেন। তিনি বলেন: "একে ইলমে তাফসীর বলা হয় কারণ এর মধ্যে উন্মোচন ও স্পষ্টীকরণ রয়েছে। আর অন্যান্য শাস্ত্র বাদ দিয়ে একেই এই নামে বিশিষ্ট করা হয়েছে—যদিও সে সব শাস্ত্রও উন্মোচন ও স্পষ্টীকরণকে অন্তর্ভুক্ত করে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুত তাসীলী লিদিরাসাতিত তাফসিরিত তাহলীলী
(পৃষ্ঠা: ৭)
لأنه لجلالة قدره، واحتياجه إلى زيادة الاستعداد، وقصده إلى تبيين مراد الله من كلامه، كان كأنه هو التفسير وحده، دون ما عداه"
(1)(2).
4. ومن أبين ما قيل في تعريفه كذلك: أنه علم: "استخراج المعاني المحتبسة والمستورة تحت الألفاظ، والكشف عن مدلولاتها ومقاصدها، وفق مجموعة من القواعد والضوابط التي تراعى عند الإجراء"
(3).
5. وقيل هو: "العلم الذي يبحث فيه المفسر عن كيفية النّطق بألفاظ القرآن الكريم، ومدلولات هذه الألفاظ، وأحكامها الإفرادية والتركيبية، ومعانيها التي تحمل عليها حال التركيب، وغير ذلك كمعرفة النسخ، وسبب النزول، وما به من توضيح المقام كالقصة والمثل"
(4).
--------------------------------------------
কারণ এর উচ্চমর্যাদা এবং অধিকতর প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা, আর তাঁর বাণীর মাধ্যমে আল্লাহর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করার অভিপ্রায়ের কারণে, এটি যেন নিজেই একক তাফসির ছিল, অন্য কিছু ব্যতীত"
(১)(২).
৪. এর সংজ্ঞায় যা কিছু বলা হয়েছে তার মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট হলো: তা হলো এমন একটি জ্ঞান: "শব্দাবলির আড়ালে লুকায়িত ও আবৃত অর্থসমূহ বের করা এবং প্রয়োগের সময় পালনীয় কিছু নিয়ম ও মূলনীতির আলোকে সেগুলোর তাৎপর্য ও লক্ষ্যসমূহ উন্মোচন করা"
(৩).
৫. আরও বলা হয়েছে যে তা হলো: "এমন একটি বিদ্যা যাতে মুফাসসির পবিত্র কুরআনের শব্দাবলির উচ্চারণ পদ্ধতি, এই শব্দাবলির অর্থ ও তাৎপর্য, এগুলোর একক ও যৌগিক বিধানসমূহ, বাক্য গঠনের অবস্থায় এগুলোর অর্থের প্রয়োগ এবং অন্যান্য বিষয় যেমন নাসখ (রহিতকরণ), শানে নুযুল (অবতরণের কারণ) এবং প্রাসঙ্গিক বিষয়াদি যেমন কাহিনী ও উপমার মাধ্যমে অবস্থার স্পষ্টিকরণ সম্পর্কে আলোচনা করেন"
(৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুত তাসীলী লিদিরাসাতিত তাফসিরিত তাহলীলী
(পৃষ্ঠা: ৮)
المبحث الثاني: مفهوم التأويلوفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: مفهوم التأويل لغًةالتأويل لغة: "مصدر أوّل يؤوّل، وأوّل فعّل -بتشديد أوسطه- ثلاثيه آل يؤول أولا"، قال أهل اللغة: الأوْل الرجوع، وهذا تفسير تقريبي، وأغلب ما تستعمل في الرجوع الذي فيه معنى الصيرورة، ومن أمثلة اللغويين: "طبخ الشراب؛ فآل إلى قدر كذاو كذا". ولذلك وضع بعض النحاة "آل" في الأفعال التي تجيء بمعنى "صار"، وتعمل عملها. و" آل" قريب من معنى "حال"، أي: تحول من حال إلى حال.
والتأويل مأخوذ من هذا، فهو أن يجعل الكلام يؤول إلى معنى لم يكن ظاهرًا منه، فآل الكلام إلى أن حمل على ذلك المعنى بعد أن كان غير ظاهر فيه
(1).
ومما قيل في ذلك أنه: "مأخوذ من الأَوْل، وهو الرجوع، قال ابن منظور: الأول: الرجوع، آل الشيء يؤول أوْلاً، ومآلاً: رجع، وقال أبو عبيد: التأويل: (المرجع والمصير) "
(2).
وقيل: إن التأويل مأخوذ من الإيالة، وهي السياسة، قال الزبيدي: "آل الملك رعيته يؤول إِيَالاً: ساسهم وأحسن رعايتهم، وآل المال: أصلحه وساسه"
(3).
وعلى ذلك: فإن قلنا: إن التأويل مأخوذ من الأول، وهو الرجوع، فلأن فيه إرجاع الآية إلى ما تحتمله من المعاني، وإن قلنا: إنه مأخوذ من الإيالة وهي السياسة، فلأن المؤول يسوس الكلام، ويضعه في معناه اللائق به.
المطلب الثاني: مفهوم التأويل اصطلاحًاأما التأويل واستعمالاته في الاصطلاح، فإنه يطلق على معان عدة:
من أهمها وأبرزها ما يأتي:
1. يطلق على التفسير، وهو الإيضاح والتبيين، فيكون التفسير والتأويل بمعنى واحد، وهذا ما جرى عليه ابن جرير الطبري في تفسيره، حينما يقول: القول فى تأويل قوله تعالى كذا وكذا، وبقوله: اختلف أهل التأويل فى هذه الآية.
2. ويطلق على حقيقة الشيء ذاته، ونفس المراد بالكلام، فإذا قيل: غربت الشمس، فتأويل هذا هو نفس غروبها، وهذا، في نظر ابن تيمية رحمه الله
(4)، هو لغة القرآن التي نزل بها.
3. ويطلق على صرف اللفظ عن ظاهره الراجح إلي معنى آخر مرجوح، وهو بهذا الإطلاق نوعان: صحيح، وفاسد.
المطلب الثالث: بيان معاني التأويل في القرآن إجمالًافالتأويل لفظ مجمل يحتاج إلى تفسير وبيان؛ وله أربعة معان في كتاب الله تعالى على التفصيل التالي:
المعنى الأول: التفسير والمرجع وما يؤول إليه الكلام؛ يقول الجوهري (ت 393 هـ): التأويل: تفسير ما يَؤُولُ إليه الشيء، أي: تفسيره ومرجعه"
(5).
المعنى الثاني: عاقبة الشيء؛ يقال: "آل الأمر إلى كذ" إذا صار إليه ورجع
(6)؛ ومنه قوله تعالى: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا} [النساء: 59]، يقول ابن جرير الطبري (ت 310 هـ): يعني: وأحمد مَوْئلا ومغبّة، وأجمل عاقبة"
(7).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাউয়ীলের ধারণাএতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাউয়ীলের আভিধানিক ধারণাআভিধানিক অর্থে তাউয়ীল: "এটি আউওয়ালা-ইউআউয়িলু (أوّل يؤوّل) এর মাসদার (ক্রিয়ামূল), আর 'আউওয়ালা' হলো 'ফাল্লা' (فعّل) ওজনের—যার মাঝের বর্ণটি দ্বিত্ব—এর তিন বর্ণবিশিষ্ট মূল রূপ হলো 'আ-লা-ইয়াউলু-আওলা' (آل يؤول أولا)"। ভাষাবিদগণ বলেন: 'আওল' (الأوْل) অর্থ হলো প্রত্যাবর্তন। এটি একটি আনুমানিক ব্যাখ্যা। এই শব্দটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমন প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যার মধ্যে রূপান্তর বা পরিণতির অর্থ থাকে। ভাষাবিদদের দেওয়া উদাহরণ হলো: "পানীয়টি রান্না করা হলো; ফলে তা অমুক পরিমাণে গিয়ে পৌঁছালো (বা রূপ নিল)"। এই কারণে কিছু ব্যাকরণবিদ "আ-লা" (آل) শব্দটিকে এমন ক্রিয়াগুলোর অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা "স্বরা" (صار - হওয়া) অর্থে আসে এবং সেটির মতোই আমল করে। "আ-লা" (آل) শব্দটি "হা-লা" (حال) এর অর্থের কাছাকাছি, অর্থাৎ এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তিত হওয়া।
তাউয়ীল শব্দটি এখান থেকেই গৃহীত। এর অর্থ হলো কথাকে এমন একটি অর্থের দিকে নিয়ে যাওয়া যা তার থেকে প্রকাশ্য ছিল না। ফলে কথাটি সেই অর্থের দিকে পর্যবসিত হয় যা আগে অস্পষ্ট ছিল।
(১)এ বিষয়ে আরও বলা হয়েছে যে: এটি 'আওল' থেকে গৃহীত, যার অর্থ প্রত্যাবর্তন। ইবনে মনযুর বলেন: আল-আওল মানে প্রত্যাবর্তন; কোনো কিছু যখন প্রত্যাবর্তন করে তখন বলা হয় 'আ-লা আশ-শাইউ ইয়াউলু আওলান ওয়া মাআলান'। আবু উবাইদ বলেন: তাউয়ীল মানে (প্রত্যাবর্তনস্থল ও পরিণতি)।
(২)কেউ কেউ বলেছেন: তাউয়ীল শব্দটি 'আল-ইয়ালাহ' (الإيالة) থেকে গৃহীত, যার অর্থ পরিচালনা বা নীতি। যুবাইদী বলেন: "রাজা তার প্রজাদের 'আ-লা আল-মালিকু রাইয়াতাহু ইয়াউলু ইয়ালান' করেছেন, অর্থাৎ তাদের পরিচালনা করেছেন এবং তাদের সর্বোত্তম দেখাশোনা করেছেন। তেমনিভাবে 'আ-লা আল-মালা' মানে সম্পদ সংশোধন ও পরিচালনা করা।"
(৩)সেই অনুযায়ী: আমরা যদি বলি তাউয়ীল 'আওল' থেকে গৃহীত—যার অর্থ প্রত্যাবর্তন—তবে তার কারণ হলো এতে আয়াতকে সেই সম্ভাব্য অর্থের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হয় যা সে বহন করে। আর যদি আমরা বলি এটি 'ইয়ালাহ' থেকে গৃহীত—যার অর্থ পরিচালনা—তবে এর কারণ হলো ব্যাখ্যাকারী কথাকে সুচারুভাবে পরিচালনা করেন এবং একে এর উপযুক্ত অর্থে স্থাপন করেন।
দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাউয়ীলের পারিভাষিক ধারণাপারিভাষিক ক্ষেত্রে তাউয়ীলের ব্যবহার ও প্রয়োগ কয়েকটি অর্থে হয়ে থাকে:
সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য হলো নিম্নরূপ:
১. এটি 'তাফসীর' অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার অর্থ স্পষ্টীকরণ ও বর্ণনা। এক্ষেত্রে তাফসীর ও তাউয়ীল একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। ইবনে জারীর আল-তাবারি তাঁর তাফসীর গ্রন্থে এই পদ্ধতিই অনুসরণ করেছেন; যখন তিনি বলেন: "মহান আল্লাহর অমুক বাণীর তাউয়ীল সম্পর্কে বক্তব্য হলো..." অথবা তাঁর এই উক্তি: "তাউয়ীলবিদগণ এই আয়াতের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন।"
২. এটি কোনো বিষয়ের প্রকৃত রূপ (হাকিকত) এবং কথা দ্বারা যা বোঝানো হয়েছে হুবহু সেই উদ্দেশ্য অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন যদি বলা হয়: "সূর্য ডুবেছে", তবে এর তাউয়ীল হলো স্বয়ং সূর্যের ডুবে যাওয়া। ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.)-এর মতে
(৪), এটিই হলো কুরআনের ভাষা যা দিয়ে তা অবতীর্ণ হয়েছে।
৩. এটি কোনো শব্দকে তার শক্তিশালী প্রকাশ্য অর্থ (যাহির) থেকে সরিয়ে অন্য একটি কম শক্তিশালী (মারজুহ) অর্থের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া অর্থেও ব্যবহৃত হয়। এই অর্থে তাউয়ীল দুই প্রকার: সঠিক ও ভ্রান্ত।
তৃতীয় অনুচ্ছেদ: কুরআনে তাউয়ীলের অর্থের সংক্ষিপ্ত বর্ণনাতাউয়ীল একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ যার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে। মহান আল্লাহর কিতাবে এর চারটি অর্থ রয়েছে যার বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ:
প্রথম অর্থ: তাফসীর, প্রত্যাবর্তনস্থল এবং কথা যেদিকে পর্যবসিত হয়; জাওহারী (মৃত্যু ৩৯৩ হি.) বলেন: তাউয়ীল হলো কোনো বিষয় যেদিকে পর্যবসিত হয় তার ব্যাখ্যা, অর্থাৎ তার তাফসীর ও প্রত্যাবর্তনস্থল।
(৫)
দ্বিতীয় অর্থ: বিষয়ের পরিণাম; বলা হয়: 'আ-লা আল-আমরু ইলা কাযা' যখন বিষয়টি সেই দিকে যায় এবং পর্যবসিত হয়।
(৬) এরই অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: {যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখো। এটাই কল্যাণকর এবং পরিণামের দিক দিয়ে সর্বোত্তম।} [সূরা আন-নিসা: ৫৯], ইবনে জারীর আল-তাবারি (মৃত্যু ৩১০ হি.) বলেন: অর্থাৎ—এর প্রত্যাবর্তনস্থল ও শেষ ফল অধিক প্রশংসনীয় এবং এর পরিণাম অধিক সুন্দর।
(৭)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুত তাসীলী লিদিরাসাতিত তাফসিরিত তাহলীলী
(পৃষ্ঠা: ৯)
وبنحو قول الطبري يقول الشوكاني: (ت: 1255 هـ) أحسن تأويلًا: أي أحسن عاقبة من آل إذا رجع وعليه يكون المعنى: أحسن مرجعًا ومآلًا
(1).
المعنى الثالث: الحقيقةُ التي يصيرُ إليها الشيء ويرجع، حقيقة الشيء المخبر عنه؛ ومنه قوله تعالى: {هَلْ يَنْظُرُونَ إِلَّا تَأْوِيلَهُ يَوْمَ يَأْتِي تَأْوِيلُهُ يَقُولُ الَّذِينَ نَسُوهُ مِنْ قَبْلُ} [الأعراف: 53]، قال ابن زيد: "يوم يأتي حقيقته؛ وقرأ قول الله تعالى: {هَذَا تَأْوِيلُ رُؤْيَايَ مِنْ قَبْلُ} [يوسف: 100]، قال: هذا تحقيقها"، يقول: "ما آلت إليه رؤياي التي كنت رأيتها"، أي: تحقيق رؤياي
(2).
وقوله: {يَوْمَ يَأْتِي تَأْوِيلُهُ} [الأعراف: 53]، أي: تحقيقه ووقوعُه، أي: يوم القيامة، قاله ابن عباس رضي الله عنهما
(3): والمعني بذلك والذي يعود عليه الضمير: هو يوم القيامة.
المعنى الرابع: العلة الغائية والحكمة المطلوبة بالفعل؛ ومنه قوله تعالى فيما قصه علينا من قصة الخضر مع موسى عليهما السلام: {سَأُنَبِّئُكَ بِتَأْوِيلِ مَا لَمْ تَسْتَطِعْ عَلَيْهِ صَبْرًا} [الكهف: 78]
(4).
قال الطبري: يقول: بما يؤول إليه عاقبة أفعالي التي فعلتها، فلم تستطع على تَرك المسألة عنها، وعن النكير على فيها صبرًا، والله أعلم
(5).
وقال البغوي (ت 317 هـ): تأويل الشيء مآله أي قال له: إني أخبرك لم فعلت ما فعلت
(6).
إذًا فالتأويل: "رجوع الشيء إلى مآله"
(7). وهي معان متقاربة في لفظها ومعناها.
--------------------------------------------
আত-তাবারীর বক্তব্যের অনুরূপ আল-শাওকানী (মৃত্যু: ১২৫৫ হি.) বলেন: উত্তম ব্যাখ্যা (তাউয়ীল): অর্থাৎ পরিণতির দিক থেকে অধিক উত্তম; যা ‘আলা’ (আবর্তিত হওয়া) থেকে এসেছে যখন তা ফিরে আসে। সেই অনুযায়ী এর অর্থ হবে: উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল ও পরিণতি
(১)।
তৃতীয় অর্থ: সেই বাস্তবতা যার দিকে কোনো বিষয় ধাবিত হয় ও ফিরে আসে, সংবাদ দেওয়া বিষয়ের প্রকৃত স্বরূপ; এর মধ্য থেকে মহান আল্লাহর বাণী: {তারা কি কেবল এর পরিণতির (তাউয়ীল) অপেক্ষা করছে? যেদিন এর পরিণতি আসবে, সেদিন তারা বলবে যারা একে ইতিপূর্বে ভুলে গিয়েছিল} [আল-আরাফ: ৫৩], ইবনে যায়েদ বলেন: "যেদিন এর বাস্তবতা আসবে; আর তিনি মহান আল্লাহর বাণী পাঠ করেন: {এটিই আমার পূর্বের স্বপ্নের বাস্তব রূপ (তাউয়ীল)} [ইউসুফ: ১০০], তিনি বলেন: এটিই তার বাস্তবায়ন", তিনি বলেন: "আমার দেখা স্বপ্ন যে বাস্তবতায় পর্যবসিত হয়েছে", অর্থাৎ: আমার স্বপ্নের বাস্তবায়ন
(২)।
আর তাঁর বাণী: {যেদিন এর পরিণতি (তাউয়ীল) আসবে} [আল-আরাফ: ৫৩], অর্থাৎ: এর বাস্তবায়ন ও সংঘটন, অর্থাৎ: কিয়ামতের দিন, এটি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেছেন
(৩): এর দ্বারা উদ্দেশ্য এবং যার দিকে সর্বনামটি ফিরেছে তা হলো কিয়ামতের দিন।
চতুর্থ অর্থ: চূড়ান্ত কারণ ও কাজের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত প্রজ্ঞা; এর মধ্য থেকে মহান আল্লাহ আমাদের কাছে খিজির ও মুসা (আলাইহিমাস সালাম)-এর যে কাহিনী বর্ণনা করেছেন সেখানে তাঁর বাণী: {আমি তোমাকে সেই বিষয়ের ব্যাখ্যা (তাউয়ীল) জানিয়ে দেব, যে বিষয়ে তুমি ধৈর্য ধারণ করতে পারোনি} [আল-কাহফ: ৭৮]
(৪)।
আত-তাবারী বলেন: তিনি বলছেন: আমি যে কাজগুলো করেছি তার পরিণাম যা হবে সে সম্পর্কে, যার বিষয়ে প্রশ্ন করা থেকে তুমি বিরত থাকতে পারোনি এবং তাতে আমার প্রতি অস্বীকৃতি জানানো থেকে ধৈর্য ধারণ করতে পারোনি, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ
(৫)।
আর আল-বাগাবী (মৃত্যু: ৩১৭ হি.) বলেন: কোনো কিছুর তাউয়ীল হলো তার পরিণতি, অর্থাৎ তিনি তাকে বললেন: আমি কেন যা করার করেছি তা তোমাকে জানিয়ে দিচ্ছি
(৬)।
সুতরাং তাউয়ীল হলো: "কোনো বস্তুর তার পরিণতির দিকে ফিরে যাওয়া"
(৭)। আর এগুলো শব্দ ও অর্থের দিক থেকে পরস্পর নিকটবর্তী অর্থসমূহ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুত তাসীলী লিদিরাসাতিত তাফসিরিত তাহলীলী
(পৃষ্ঠা: ১০)
المبحث الثالث: أنواع التأويلوفيه مطلبان:
المطلب الأول: بيان النوع الأول وهو التأويل الصحيح الذي يُحمَدُ طَالِبُهُهذا التأويل من شأن صاحبه محاولة معرفة مراد الله تعالى دون أن يكون له هوى أو غرض آخر؛ ولذلك فهو يهتم بالقرائن والضوابط والأدلة؛ فإذا حتم ذلك التأويل وكان المعنى لا يستقيم بغير ذلك مال إليه؛ وإلا فهو لا يؤول ما لا يقبل التأويل ولا يقول بالمجاز في المواضع التي لا تحتمل المجاز، ولا يصرف المعنى عن ظاهره إذا كانت الدلائل تشير إلى أن المعنى الظاهر هو المقصود، وإذا كان المؤول يتغلغل وراء الظواهر والألفاظ مستخرجًا منها المعاني الحسان والدقائق الفريدة فهذا وجه مطلوب لا يهتدي إليه إلا من آتاه الله بصيرة ثاقبة وعقلًا لماحًا وطبعًا صحيحًا وفهمًا عاليًا وإدراكًا متميزًا، ولذلك دعا رسول الله صلى الله عليه وسلم لابن العباس، رضي الله عنهما، وهو حبر الأمة بقوله: "اللهم فقهه في الدين وعلمه التأويل"
(1)(2).
ومن صوره "البحث عن تفسير الأسماء والصفات ومعرفة معانيها على الوجه الذي تعرفه العرب من كلامها، فنحن نعرف معاني ما أخبرنا الله به من معاني أسمائه وصفاته سبحانه، كما نعلم معاني ما أخبرنا الله به من نعيم القبر وعذابه، وقيام الساعة، والبعث
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাবিলের প্রকারভেদএতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: প্রথম প্রকারের বর্ণনা, যা হলো সঠিক তাবিল এবং যার অন্বেষণকারী প্রশংসিতএই তাবিলের বৈশিষ্ট্য হলো এর অধিকারীর পক্ষ থেকে কোনো খেয়াল-খুশি বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছাড়া মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য জানার চেষ্টা করা; এ কারণেই তিনি পারিপার্শ্বিক অবস্থা (কারিনাহ), নীতিমালা এবং দলীলের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করেন। সুতরাং যদি সেই তাবিল অপরিহার্য হয় এবং সেটি ছাড়া অর্থ সঠিক না হয়, তবে তিনি সেদিকে ঝুঁকেন; অন্যথায় তিনি এমন কিছুর তাবিল করেন না যা তাবিলযোগ্য নয় এবং এমন স্থানে রূপক অর্থের কথা বলেন না যেখানে রূপক অর্থ গ্রহণের অবকাশ নেই। একইভাবে তিনি শব্দ বা বাক্যের অর্থকে তার প্রকাশ্য রূপ (যাহির) থেকে সরিয়ে নেন না যদি প্রমাণসমূহ নির্দেশ করে যে প্রকাশ্য অর্থই উদ্দেশ্য। আর যদি তাবিলকারী প্রকাশ্য রূপ এবং শব্দমালার গভীরে প্রবেশ করে তা থেকে সুন্দর অর্থ ও সূক্ষ্ম বিষয়াবলি বের করে আনেন, তবে এটি একটি কাম্য দিক যা কেবল সেই ব্যক্তিই লাভ করতে পারে যাকে আল্লাহ তীক্ষ্ণ অন্তর্দৃষ্টি, প্রখর মেধা, সঠিক স্বভাব, উচ্চতর বোধশক্তি এবং বিশেষ উপলব্ধি দান করেছেন। আর এই কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতের বিজ্ঞ পণ্ডিত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমার জন্য এই বলে দুয়া করেছিলেন: "হে আল্লাহ, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করুন এবং তাকে তাবিল (ব্যাখ্যা) শিক্ষা দিন"
(১)(২)।
এর একটি রূপ হলো "আল্লাহর নাম ও গুণাবলির তাফসির অনুসন্ধান করা এবং আরবরা তাদের ভাষায় যেভাবে বুঝে থাকে সেই আলোকে এগুলোর অর্থ জানা। অতএব, আল্লাহ আমাদের তাঁর নাম ও গুণাবলির যে সকল অর্থ সম্পর্কে অবহিত করেছেন আমরা তা জানি, যেমন আমরা জানি আল্লাহ আমাদের কবরের নেয়ামত ও আযাব, কিয়ামত সংঘটিত হওয়া এবং পুনরুত্থান সম্পর্কে যা জানিয়েছেন সেগুলোর অর্থ"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুত তাসীলী লিদিরাসাতিত তাফসিরিত তাহলীলী
(পৃষ্ঠা: ১১)
والنشور، والموقف وأهواله، والحساب والجزاء والميزان، والجنة ونعيمها، والنار وأهوالها"
(1).
المطلب الثاني: بيان النوع الثاني وهو التأويل الفاسد الذي يُذَمُّ طَالِبُهُ"التأويل الفاسد بخلاف التأويل الصحيح، إذ يكون فيه لي أعناق النصوص حتى توافق غرض المستدل بها، وهنا يلوح للمستدل معنى ما كان ليلوح له لولا الغرض والهوى، أو قد لا يكون للمستدل غرض أو هوى، ولكنه يخطئ في إدراك المعنى لأمر توهمه ولم تنهض الأدلة أبدًا لإثباته أو تعضيده؛ ولهذا قال الإمام أحمد بن حنبل رحمه الله: " أكثر ما يخطئ الناس من جهة التأويل والقياس"
(2)(3) ويكون التأويل الفاسد في كل ما ورد في عقيدة لم يُكَلَّف العبادُ بحقائقها وتفاصيلها، ولكن أُمِروا باعتقادها إجمالًا.
ومن أمثلته: "البحث عن حقيقة ما أخبرنا الله به من الغيوب التي لا يستطيع العباد بعقولهم المجردة إدراك حقيقتها، فالله أخبرنا بنعيم القبر وعذابه في عالم البرزخ، كما أخبرنا بالبعث والنشور، والحشر وأهواله، والجنة وأنهارها وثمارها وأطيارها وحورها، والنار وسمومها وحميمها وغسلينها، ونحن لا ندري حقيقة ما أخبرنا الله عنه، قال تعالى نافيًا علم العباد بحقيقة ما أخبر الله به من نعيم أهل الجنة: {فَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَا أُخْفِيَ لَهُمْ مِنْ قُرَّةِ أَعْيُنٍ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} [السجدة: 17]، وفي الحديث القدسي: «أعددت لعبادي الصالحين ما لا عين رأت ولا أذن سمعت ولا خطر على قلب بشر»
(4).
وصفات الباري غيب لا نعرف حقيقتها، فالكلام عن الصفات فرع عن الكلام عن الذات، وحقيقة الذات غير معروفة لنا، فكذلك صفاته تبارك وتعالى"
(5).
--------------------------------------------
এবং পুনরুত্থান, হাশরের ময়দান ও তার ভয়াবহতা, হিসাব, প্রতিদান, মিযান, জান্নাত ও তার নিয়ামতসমূহ এবং জাহান্নাম ও তার ভয়াবহতা।
(১)
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দ্বিতীয় প্রকারের বর্ণনা, যা হলো ভ্রান্ত ব্যাখ্যা (তাওয়ীল), যার অন্বেষণকারী নিন্দিত"ভ্রান্ত ব্যাখ্যা সঠিক ব্যাখ্যার বিপরীত। কেননা এতে দলীল পেশকারীর উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য কিতাব ও সুন্নাহর ভাষ্যগুলোকে (নসুস) মচকে দেওয়া হয়। এখানে দলীল পেশকারীর নিকট এমন এক অর্থের উদ্রেক হয়, যা তার কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য ও প্রবৃত্তি না থাকলে হতো না। অথবা দলীল পেশকারীর কোনো উদ্দেশ্য বা প্রবৃত্তি না থাকলেও সে কোনো কাল্পনিক বিষয়ের কারণে অর্থ অনুধাবনে ভুল করে, যার সপক্ষে কোনো দলীল কখনো দাঁড়ায়নি বা তাকে সমর্থন দেয়নি। এই কারণেই ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: 'মানুষ অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যাখ্যা (তাওয়ীল) এবং কিয়াসের (অনুমান নির্ভর তুলনা) দিক থেকেই ভুল করে।'
(২)(৩) আর ভ্রান্ত ব্যাখ্যা সেই সব বিষয়ের ক্ষেত্রেও ঘটে যা এমন আকীদা সম্পর্কিত যার হাকীকত (প্রকৃত স্বরূপ) ও বিস্তারিত বিবরণ জানতে বান্দাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি, বরং তাদের কেবল সাধারণভাবে বিশ্বাস করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর উদাহরণ হলো: আল্লাহ আমাদের যে সব অদৃশ্যের সংবাদ দিয়েছেন তার প্রকৃত স্বরূপ (হাকীকত) অনুসন্ধান করা, যা বান্দারা তাদের কেবল বুদ্ধিবৃত্তি দিয়ে উপলব্ধি করতে সক্ষম নয়। কেননা আল্লাহ আমাদের বারযাখের জগতের কবরের নিয়ামত ও তার আযাব সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন, যেমন তিনি আমাদের পুনরুত্থান, হাশর ও তার ভয়াবহতা, জান্নাত ও তার নদীসমূহ, ফলমূল, পাখি ও হুরদের কথা জানিয়েছেন এবং জাহান্নাম ও তার বিষাক্ত লু-হাওয়া, ফুটন্ত পানি ও পুঁজ-রক্তের কথা জানিয়েছেন। অথচ আল্লাহ আমাদের যা জানিয়েছেন তার প্রকৃত স্বরূপ আমরা জানি না। জান্নাতবাসীদের যে নিয়ামতের সংবাদ আল্লাহ দিয়েছেন, তার প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে বান্দাদের জ্ঞান না থাকা প্রসঙ্গে আল্লাহ তাআলা বলেন: {কেউ জানে না তাদের জন্য তাদের কৃতকর্মের বিনিময়স্বরূপ নয়নপ্রীতিকর কী কী পুরস্কার লুকিয়ে রাখা হয়েছে} [আস-সাজদাহ: ১৭]। আর হাদীসে কুদসীতে এসেছে: «আমি আমার সৎকর্মপরায়ণ বান্দাদের জন্য এমন কিছু প্রস্তুত করে রেখেছি যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের অন্তরেও কল্পনা আসেনি»
(৪)।
সৃষ্টিকর্তার গুণাবলি (সিফাত) হলো অদৃশ্য বিষয় যার প্রকৃত স্বরূপ আমরা জানি না। কেননা গুণাবলি নিয়ে আলোচনা করা মূল সত্তা (যাত) নিয়ে আলোচনারই একটি শাখা। আর যেহেতু তাঁর সত্তার প্রকৃত স্বরূপ আমাদের নিকট অজানা, তাই তাঁর গুণাবলিও (তাবারাকা ওয়া তাআলা) তদ্রূপ"
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুত তাসীলী লিদিরাসাতিত তাফসিরিত তাহলীলী
(পৃষ্ঠা: ১২)
المبحث الرابع: ما يتعلق بالتأويل من جهة:"ضوابطه وشروطه"، ومن جهة: "حكمه ومعناه"
وفيه مطلبان:
المطلب الأول: أهم شروط وضوابط التأويل الصحيح عند المتأخرينأهل التأويل الفاسد لهم في تأويلهم مقصدان إما أنهم يقصدون بتأويلهم إبطال معنى شرعي صحيح، وهذا النوع هو أكثر ما يتطرقون إليه، وإما أنهم يقصدون بتأويلهم إبطال لفظ شرعي صريح، ولذلك وضع أهل العلم شروطًا للتأويل الصحيح، ومن أبرز ما ذكروا في هذا الشأن ما يلي:
1. أن يكون اللفظ المرادُ تأويله يحتمله المعنى المؤول لغة أو شرعًا؛ فلا يصح على هذا تأويلات الباطنية التي لا مستند لها في اللغة أو الشرع، بل ولا العقل.
2. أن يكون السياق محتملًا، مثل لفظ (النظر) فهو يَحْتَمل معانيَ في اللغة، ولكنه إذا عدِّي بـ: (إلى) لا يحتمل إلا الرؤية.
3. أن يقوم الدليل على أن المراد هو المعنى المؤول.
4. أن يسلم دليل التأويل من معارض أقوى؛ فإذا اختل شرط من الشروط فهو تأويل فاسد.
مثال للتأويل الصحيح: قال الله عز وجل: {نَسُوا اللَّهَ فَنَسِيَهُمْ} [التوبة: 67]، فقد ثبت عن ابن عباس رضي الله عنهما "أن النسيان هنا هو الترك"
(1) وقد دل على هذا التأويل تصريحًا قوله تعالى: {وَمَا كَانَ رَبُّكَ نَسِيًّا} [مريم: 64]، وقوله سبحانه: {فِي كِتَابٍ لَا يَضِلُّ رَبِّي وَلَا يَنْسَى} [طه: 52]
(2).
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ব্যাখ্যা (তাউয়িল) সংক্রান্ত আলোচনা: "এর নীতিমালা ও শর্তাবলি" এবং "এর বিধান ও অর্থ" এর প্রেক্ষিতেএতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: পরবর্তী যুগের আলেমদের নিকট সঠিক ব্যাখ্যার (তাউয়িল) গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ও নীতিমালাবিভ্রান্ত ব্যাখ্যাকারীদের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে দুটি উদ্দেশ্য থাকে; হয় তারা তাদের ব্যাখ্যার মাধ্যমে কোনো সঠিক শরয়ী অর্থ বাতিল করতে চায়—আর এটিই তাদের সর্বাধিক অনুসৃত পথ—অথবা তারা তাদের ব্যাখ্যার মাধ্যমে কোনো সুস্পষ্ট শরয়ী শব্দকে বাতিল করতে চায়। এ কারণে আহলে ইলমগণ সঠিক ব্যাখ্যার জন্য কিছু শর্ত নির্ধারণ করেছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো নিম্নরূপ:
১. যে শব্দটির ব্যাখ্যা করা হচ্ছে, আভিধানিক বা শরয়ী দৃষ্টিকোণ থেকে সেই ব্যাখ্যাটি গ্রহণ করার অবকাশ ওই শব্দে থাকতে হবে। সুতরাং বাতেনিয়াদের সেই সমস্ত ব্যাখ্যা সঠিক হবে না যার ভাষা, শরীয়ত কিংবা এমনকি বিবেকের কাছেও কোনো ভিত্তি নেই।
২. প্রাসঙ্গিকতা বা প্রেক্ষাপট সেই ব্যাখ্যার উপযোগী হতে হবে। যেমন 'নাযার' (দৃষ্টিপাত) শব্দটি ভাষায় বিভিন্ন অর্থ বহন করে, কিন্তু যখন এটি 'ইলা' (প্রতি) অব্যয় সহযোগে ব্যবহৃত হয়, তখন এটি সরাসরি 'দেখা' (দর্শন) ব্যতীত অন্য কোনো অর্থ বহন করে না।
৩. ব্যাখ্যাকৃত অর্থটিই যে উদ্দেশ্য, তার স্বপক্ষে দলিল থাকতে হবে।
৪. ব্যাখ্যার দলিলটি এর চেয়ে শক্তিশালী কোনো বিরোধিতার সম্মুখীন হওয়া থেকে মুক্ত থাকতে হবে। যদি এই শর্তগুলোর কোনো একটির অভাব ঘটে, তবে সেটি হবে বাতিল বা ত্রুটিপূর্ণ ব্যাখ্যা।
সঠিক ব্যাখ্যার উদাহরণ: মহান আল্লাহ বলেছেন: {তারা আল্লাহকে ভুলে গেছে, ফলে তিনিও তাদের ভুলে গেছেন} [আত-তাওবাহ: ৬৭]। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে প্রমাণিত যে, "এখানে ভুলে যাওয়া বলতে পরিত্যাগ করা বোঝানো হয়েছে।" মহান আল্লাহর এই বাণীটি স্পষ্টভাবে এই ব্যাখ্যার প্রতি নির্দেশ করে: {আর আপনার রব ভুলোমন নন} [মারইয়াম: ৬৪], এবং তাঁর বাণী: {এক কিতাবে সংরক্ষিত, আমার রব পথভ্রষ্ট হন না এবং তিনি ভুলেও যান না} [ত্বহা: ৫২]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুত তাসীলী লিদিরাসাতিত তাফসিরিত তাহলীলী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المطلب الثاني: حكم التأويل بمعناه الحادث عند المتأخرين1. قد يكون صحيحًا إذا اجتمعت فيه الشروط كما مرَّ.
2. قد يكون خطأ كتأويلات بعض العلماء الذين أخطأوا في تأويل بعض نصوص الصفات.
3. قد يكون بدعة كتأويلات الأشاعرة، والمعتزلة.
4. قد يكون كفرًا كتأويلات الباطنية
(1).
"وبالجملة فالتأويل الذي يوافق ما دلت عليه النصوص وجاءت به السنة ويطابقها هو التأويل الصحيح، والتأويل الذي يخالف ما دلت عليه النصوص وجاءت به السنة هو التأويل الفاسد، ولا فرق بين باب الخبر والأمر في ذلك، وكل تأويل وافق ما جاء به الرسول فهو المقبول وما خالفه فهو المردود"
(2).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পরবর্তীকালীন আলিমদের পরিভাষায় নবউদ্ভূত অর্থে তাবিলের বিধান১. এটি সঠিক হতে পারে যদি এতে পূর্বে উল্লিখিত শর্তাবলি বিদ্যমান থাকে।
২. এটি ভুল হতে পারে, যেমন কিছু আলিমের তাবিল বা ব্যাখ্যা, যারা সিফাত বা গুণাবলি বিষয়ক কিছু দলিলের ব্যাখ্যায় ভুল করেছেন।
৩. এটি বিদআত হতে পারে, যেমন আশআরি ও মুতাজিলাদের করা তাবিলসমূহ।
৪. এটি কুফর হতে পারে, যেমন বাতিনিয়াদের করা তাবিলসমূহ
(১)।
"সারকথা হলো, যে তাবিল বা ব্যাখ্যা দলিলের নির্দেশনার অনুকূলে হয় এবং সুন্নাহর ভাষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তা-ই সঠিক তাবিল। আর যে তাবিল দলিলের নির্দেশনার পরিপন্থী হয় এবং সুন্নাহর ভাষ্যের বিরোধী হয়, তা ভ্রান্ত তাবিল। এ ক্ষেত্রে সংবাদ প্রদান (আকিদা) এবং নির্দেশ প্রদান (আহকাম) সংক্রান্ত বিষয়াবলির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। যে তাবিলই রাসূলের আনীত শিক্ষার অনুকূলে হবে তা গ্রহণযোগ্য, আর যা তার পরিপন্থী হবে তা প্রত্যাখ্যাত"
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুত তাসীলী লিদিরাসাতিত তাফসিরিত তাহলীলী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
المبحث الخامس: بيان الفَرْق بين التفسير والتأويلوفيه ثلاثة مطالب:
المطلب الأول: بيان اختلاف العلماء في بيان الفَرْق بين التفسير والتأويل، وفي تحديد النسبة بينهما1. قال أبو عُبَيدة بن المثنى النحوي
(1)، وطائفة: هما بمعنًى واحد، وعليه فهُما مترادفان، وهذا هو الشائعُ عند المتقدِّمين من علماء التفسير، كالإمام ابن جرير وغيره
(2).
2. قال الراغب الأصفهاني: التفسيرُ أعمُّ من التأويل، وأكثرُ استعماله في الألْفاظ ومفرداتها، وأكثر استعمال التأويل في المعاني والجُمَل، وأكثر ما يُستعمَل في الكتب الإلهية، والتفسير يُستعمل فيها وفي غيرها
(3)، فالتفسير إمَّا أن يُستعمل في غريب الألفاظ كالبَحِيرة والسائبة والوَصِيلة والحَام، أو في تبيين المراد وشرْحه؛ كقوله تعالى: {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ} [البقرة: 43]، وإمَّا في كلام مضمَّن بقِصَّة لا يمكن تصوُّرُه إلا بمعرفتها؛ نحوَ قوله تعالى: {إِنَّمَا النَّسِيءُ زِيَادَةٌ فِي الْكُفْرِ} [التوبة: 37].
وأمَّا التأويل: فإنَّه يُستعمَل مَرَّةً عامًّا، ومرةً خاصًّا، نحو (الكفر) المستعمَل تارةً في الجحود المطلَق، وتارةً في جحود الباري خاصَّة، و (الإيمان) المستعمل في التصديق المطلَق تارة، وفي تصديق دِين الحقِّ تارة، وإمَّا في لفظ مُشْتَرك بين معانٍ مختلفة، ونحو لفظ (وجد) المستعمل في الجد والوجد والوجود
(4).
3. قول السيوطي في الإتقان: قيل إن التفسير: هو ما وقع مبينا في كتاب الله تعالى، أو معينا عليه في صحيح السنة لأن معناه قد ظهر واتضح. والتأويل: هو ما استنبطه العلماء، ولذا قال بعضهم التفسير هو ما يتعلق بالرواية والتأويل هو ما يتعلق بالدراية "
(5).
--------------------------------------------
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাফসির ও তাবিলের মধ্যকার পার্থক্য বর্ণনাএতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম অনুচ্ছেদ: তাফসির ও তাবিলের মধ্যকার পার্থক্য বর্ণনা এবং উভয়ের মধ্যকার সম্পর্কের সীমা নির্ধারণে ওলামায়ে কেরামের মতভেদ বর্ণনা১. ভাষাবিদ আবু উবাইদাহ ইবনুল মুসান্না এবং একটি দল বলেছেন: এই শব্দ দুটি একই অর্থ বহন করে। সেই অনুযায়ী তারা পরস্পর সমার্থক। প্রাচীন তাফসিরবিদ যেমন ইমাম ইবনে জারীর এবং অন্যান্যদের নিকট এটাই প্রচলিত ছিল।
২. রাগেব আল-আসফাহানি বলেছেন: তাফসির হলো তাবিলের চেয়ে অধিক ব্যাপক। এর ব্যবহার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শব্দ এবং এর একক অংশসমূহের ক্ষেত্রে হয়। আর তাবিলের ব্যবহার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অর্থ ও বাক্যের ক্ষেত্রে হয়। এটি বেশিরভাগ আসমানী কিতাবসমূহের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। আর তাফসির আসমানী কিতাব এবং অন্য সব ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং তাফসির হয় বিরল শব্দের ক্ষেত্রে, যেমন: বাহিরাহ, সায়িবা, ওয়াসিলা এবং হাম; অথবা উদ্দিষ্ট অর্থ বর্ণনা ও ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা সালাত কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো" [বাকারা: ৪৩]। অথবা এমন কোনো কথার ক্ষেত্রে যা কোনো ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট এবং সেই ঘটনা জানা ছাড়া যার ধারণা করা অসম্ভব; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই নাসী (মাস পিছিয়ে দেওয়া) কুফরের মধ্যে বৃদ্ধি ঘটানো মাত্র" [তাওবা: ৩৭]।
আর তাবিল সম্পর্কে কথা হলো: এটি কখনো সাধারণভাবে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বিশেষভাবে। যেমন 'কুফর' শব্দটি কখনো নিরঙ্কুশ অস্বীকার করার অর্থে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো বিশেষভাবে কেবল সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকার করার অর্থে ব্যবহৃত হয়। এবং 'ঈমান' শব্দটি কখনো নিরঙ্কুশ সত্যায়ন করার অর্থে ব্যবহৃত হয়, আবার কখনো হকের দ্বীনকে সত্যায়ন করার অর্থে। অথবা এমন শব্দের ক্ষেত্রে যা বিভিন্ন অর্থের মাঝে সাধারণ থাকে, যেমন 'ওয়াজাদা' শব্দটি যা চেষ্টা, তীব্র আবেগ এবং অস্তিত্ব অর্থে ব্যবহৃত হয়।
৩. 'আল-ইতকান' গ্রন্থে সুয়ূতী (রহ.)-এর বক্তব্য: বলা হয়ে থাকে যে, তাফসির হলো তা-ই যা মহান আল্লাহর কিতাবে স্পষ্টভাবে এসেছে অথবা সহীহ সুন্নাহর মাধ্যমে যা নির্দিষ্ট হয়েছে। কারণ এর অর্থ প্রকাশিত ও স্পষ্ট হয়ে গেছে। আর তাবিল হলো তা যা ওলামায়ে কেরাম গবেষণা করে বের করেছেন। এই কারণেই কেউ কেউ বলেছেন, "তাফসির হলো বর্ণনার সাথে সংশ্লিষ্ট আর তাবিল হলো গবেষণার সাথে সংশ্লিষ্ট।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুত তাসীলী লিদিরাসাতিত তাফসিরিত তাহলীলী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
4. وقال قوم: التفسير بيان وضْع اللفظ؛ إما حقيقةً وإما مجازًا، كتفسير (الصراط) بالطريق و (الصيب) بالمطر، والتأويل تفسير باطن اللفظ، مأخوذٌ من الأَوْل، وهو الرجوع لعاقبة الأمر، فالتأويل إخبارٌ عن حقيقة المراد، والتفسير إخبارٌ عن دليل المراد؛ لأنَّ اللفظ يكشِف عن المراد، والكاشف دليل، مثال ذلك: قوله تعالى: {إِنَّ رَبَّكَ لَبِالْمِرْصَادِ} [الفجر: 14]، تفسيره: أنَّه من الرَّصْد، يقال: رصدته؛ أي: رقبته، والمرصاد: مِفْعال منه، وتأويله التحذير مِن التهاون بأمر الله والغَفْلة، والاستعداد للعَرْض عليه، وقواطع الأدلَّة تقتضي بيانَ المراد منه على خِلاف وضْع اللفظ في اللغة
(1)، وعلى هذا فالنِّسبة بينهما التباين.
5. وقال قوم: التأويل: صرْف الآية إلى معنًى محتمل موافِق لِمَا قبلها وما بعدها، غير مخالف للكتاب والسُّنة من طريق الاستنباط، فقد رُخِّص فيه لأهل العلم، والتفسير: هو الكلام في أسباب نزول الآية وشأنِها وقصتها، فلا يجوز إلا بالسماع بعدَ ثبوته من طريق النقْل
(2)، وعليه فالنسبة بينهما التباين أيضًا.
6. وقال قوم: التفسير يتعلق بالرِّواية، والتأويل يتعلَّق بالدِّراية
(3)، والنسبة بينهما التباين أيضًا
7. وقال قوم: ما وقع مبيَّنًا في كتاب الله، ومعيَّنًا في صحيح السنة، سُمِّي تفسيرًا؛ لأنَّ معناه قد وضح وظهر، وليس لأحد أن يتعرَّض إليه باجتهاد ولا غيره؛ بل يحمله على المعنى الذي ورَد لا يتعدَّاه، والتأويل: ما استنبطه العلماءُ العاملون لمعانِي الخطاب، الماهرون في آلاتِ العلوم
(4).
8. وقال قوم: التفسير: هو بيان المعاني التي تُستفاد من وضْع العبارة، والتأويل: هو بيانُ المعاني التي تُستفاد بطريق الإشارة، فالنِّسبة بينهما التباين، وهذا هو المشهورُ عندَ المتأخرين، وقد نبَّه إليه الألوسي في مقدِّمة تفسيره
(5).
--------------------------------------------
৪. একদল বলেছেন: তাফসির হলো শব্দের প্রয়োগগত অর্থের বর্ণনা; চাই তা প্রকৃত অর্থে হোক বা রূপক অর্থে, যেমন (সিরাত) শব্দের অর্থ ‘পথ’ এবং (সাইয়িব) শব্দের অর্থ ‘বৃষ্টি’ দিয়ে বর্ণনা করা। আর তাবিল হলো শব্দের গূঢ় অর্থের ব্যাখ্যা, যা ‘আওল’ শব্দ থেকে গৃহীত, এর অর্থ হলো কোনো বিষয়ের পরিণতির দিকে প্রত্যাবর্তন করা। সুতরাং তাবিল হলো প্রকৃত উদ্দেশের সংবাদ দেওয়া, আর তাফসির হলো উদ্দিষ্ট বিষয়ের দলিলের সংবাদ দেওয়া; কারণ শব্দই উদ্দেশ্যকে উন্মোচিত করে, আর যা উন্মোচনকারী তা-ই দলিল। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আপনার রব ল্যা-বিল মিরসাদ (তৎপর দৃষ্টি রাখছেন)} [ফজর: ১৪], এর তাফসির হলো: এটি ‘রাসাদ’ শব্দ থেকে এসেছে, বলা হয়: ‘রাসাদতুহু’ অর্থাৎ আমি তাকে পর্যবেক্ষণ করলাম; আর ‘মিরসাদ’ হলো এর থেকে গঠিত বিশেষ্য পদ। আর এর তাবিল হলো আল্লাহর নির্দেশের অবমাননা ও উদাসীনতা থেকে সতর্ক করা এবং তাঁর সামনে উপস্থাপিত হওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। অকাট্য দলিলসমূহ শব্দের ভাষাগত প্রয়োগের বিপরীতে এর উদ্দিষ্ট অর্থ বর্ণনার দাবি রাখে
(১)। এই মতানুসারে, এই উভয়ের মধ্যকার সম্পর্ক হলো বৈসাদৃশ্য।
৫. অন্য একদল বলেছেন: তাবিল হলো গবেষণালব্ধ পন্থায় কোনো আয়াতকে এমন এক সম্ভাব্য অর্থের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া যা তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী প্রসঙ্গের সাথে সংগতিপূর্ণ এবং কুরআন ও সুন্নাহর বিরোধী নয়। আলিমদের জন্য এ বিষয়ে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর তাফসির হলো আয়াতের শানে নুযুল (অবতরণের প্রেক্ষাপট), অবস্থা ও ঘটনা সম্পর্কে আলোচনা করা। সুতরাং বর্ণনা বা নক্লের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ার পর শ্রবণ বা শ্রুত হওয়া ব্যতীত এটি (তাফসির) করা বৈধ নয়
(২)। এই মতানুসারেও, এই উভয়ের মধ্যকার সম্পর্ক হলো বৈসাদৃশ্য।
৬. আরেক দল বলেছেন: তাফসির বর্ণনা বা রেওয়ায়েতের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর তাবিল বুদ্ধিবৃত্তিক অনুধাবন বা দিরায়েতের সাথে সংশ্লিষ্ট
(৩)। এই মতানুসারেও উভয়ের মধ্যকার সম্পর্ক হলো বৈসাদৃশ্য।
৭. কেউ কেউ বলেছেন: আল্লাহর কিতাবে যা স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং সহিহ সুন্নাহতে যা সুনির্দিষ্টভাবে এসেছে, তাকে ‘তাফসির’ বলা হয়; কারণ এর অর্থ স্পষ্ট ও প্রকাশ্য হয়ে গেছে। কারো জন্য ইজতিহাদ বা অন্য কোনো উপায়ে এতে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই; বরং একে বর্ণিত অর্থের ওপরই বহাল রাখতে হবে এবং তা অতিক্রম করা যাবে না। আর তাবিল হলো: ইলমের উপকরণসমূহে দক্ষ আমলকারী আলিমগণ সম্বোধনের অর্থ থেকে যা আহরণ করেন
(৪)।
৮. অন্য একদল বলেছেন: তাফসির হলো সেই সকল অর্থের বর্ণনা যা বাক্যের শাব্দিক গঠন থেকে বোঝা যায়, আর তাবিল হলো সেই সকল অর্থের বর্ণনা যা ইঙ্গিতবাহী পন্থায় অর্জিত হয়। সুতরাং এই উভয়ের মধ্যকার সম্পর্ক হলো বৈসাদৃশ্য। পরবর্তী যুগের আলিমদের নিকট এটিই প্রসিদ্ধ মত, আল্লামা আলূসী তার তাফসির গ্রন্থের ভূমিকায় এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুত তাসীলী লিদিরাসাতিত তাফসিরিত তাহলীলী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المطلب الثاني: بيان القول الراجح من أقوال العلماء في بيان معنى التفسير والتأويلولعلَّ أظهر الأقوال وأولاها بالقَبول: هو أنَّ التفسير: ما كان راجعًا إلى الرِّواية، والتأويل: ما كان راجعًا إلى الدِّراية؛ وذلك لأنَّ التفسير معناه الكشْف والبيان، والكشْف عن مراد الله تعالى لا يُجْزَم به إلا إذا وردَ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أو عن بعضِ أصحابه الذين شَهِدوا نزولَ الوحي، وعلموا ما أحاط به من حوادثَ ووقائع، وخالطوا رسولَ الله صلى الله عليه وسلم ورجعوا إليه فيما أشكل عليهم من معاني القرآن الكريم.
وأما التأويل: فملحوظٌ فيه ترجيح أحدِ محتملات اللفظ بالدليل، والترجيح يَعتمِد على الاجتهاد، ويُتوصَّل إليه بمعرفة مفردات الألفاظ ومدلولاتها في لُغة العرب، واستعمالها بحسب السِّياق، ومعرفة الأساليب العربية، واستنباط المعاني من كلِّ ذلك
(1).
قال أبو نصر القُشَيري
(2) قال الزَّركشي
(3): ويُعتبَر في التفسير الاتباع والسَّماع، وإنما الاستنباط فيما يَتعلَّق بالتأويل.
قال الزَّركشي: وكأنَّ السبب في اصطلاح كثير على التفرِقة بين التفسير والتأويل التمييزُ بين المنقول والمستنبَط؛ ليحمل على الاعتماد في المنقول، وعلى النظر في المستنبط، تجويزًا له وازديادًا، وهذا من الفروع في الدِّين
(4).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাফসির ও তাবিলের অর্থ বর্ণনায় ওলামায়ে কেরামের উক্তিগুলোর মধ্যে অগ্রগণ্য মতটির বর্ণনাসম্ভবত উক্তিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট এবং গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে সর্বাপেক্ষা উত্তম হলো: তাফসির হলো যা বর্ণনার (রেওয়ায়েত) সাথে সম্পর্কিত, আর তাবিল হলো যা বুদ্ধিবৃত্তিক গবেষণার (দেরায়াত) সাথে সম্পর্কিত। এর কারণ হলো, তাফসির শব্দের অর্থ হলো উম্মোচন ও বর্ণনা করা; আর মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য উম্মোচন করার বিষয়ে ততক্ষণ পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায় না, যতক্ষণ না তা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অথবা তাঁর সেই সব সাহাবী থেকে বর্ণিত হয় যারা ওহী নাজিল হওয়া প্রত্যক্ষ করেছেন, ওহী সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলি ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অবগত ছিলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সংস্পর্শে ছিলেন এবং আল-কুরআনের কোনো অর্থের ক্ষেত্রে অস্পষ্টতা দেখা দিলে তাঁর শরণাপন্ন হতেন।
আর তাবিলের ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা হয় দলীলের ভিত্তিতে শব্দের একাধিক সম্ভাব্য অর্থের মধ্য থেকে কোনো একটিকে প্রধান্য দেওয়া। আর এই প্রাধান্য প্রদান ইজতিহাদের ওপর নির্ভর করে এবং শব্দের একক অর্থ ও আরবদের ভাষায় তার তাৎপর্য জানা, প্রসঙ্গের প্রেক্ষিতে সেগুলোর ব্যবহার জানা, আরবি বর্ণনাভঙ্গি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা এবং এই সবকিছুর মধ্য থেকে অর্থ উদ্ঘাটন করার মাধ্যমে তা অর্জন করা সম্ভব হয়
(১)।
আবু নাসর আল-কুশায়রী বলেন
(২), যা জারকাশী উল্লেখ করেছেন
(৩): তাফসিরের ক্ষেত্রে অনুসরণ ও শ্রুতি ধর্তব্য, আর উদ্ভাবন বা অর্থ উদ্ঘাটন কেবল তাবিলের সাথেই সংশ্লিষ্ট।
জারকাশী বলেন: সম্ভবত অনেক আলেম কর্তৃক তাফসির ও তাবিলের মধ্যে পার্থক্যের পরিভাষা ব্যবহারের কারণ হলো বর্ণিত বিষয় (মানকুল) এবং উদ্ঘাটিত বিষয়ের (মুস্তানবাত) মধ্যে পার্থক্য করা; যাতে বর্ণিত বিষয়ের ওপর নির্ভর করা যায় এবং উদ্ঘাটিত বিষয়ের ক্ষেত্রে একে বৈধ জ্ঞান করে ও এর প্রসারের লক্ষ্যে বিচার-বিশ্লেষণ করা যায়; আর এটি দ্বীনের একটি শাখা পর্যায়ের বিষয়
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুত তাসীলী লিদিরাসাতিত তাফসিরিত তাহলীলী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المطلب الثالث: الخلاصة التي توصلت لها الدراسة في مبحث الفرق بين التفسير والتأويلأولًا: فإنَّ التأويل أعمُّ من التفسير؛ وذلك لأنَّ كلمة التأويل وردت في القرآن الكريم بأكثر من معنى، في حين أنَّ الله تبارك تعالى لم يذكرْ كلمةَ التفسير ومشتقاتها إلا مرَّةً واحدة فقط في القرآن كله في قوله تعالى: {وَلَا يَأْتُونَكَ بِمَثَلٍ إِلاَّ جِئْنَاكَ بِالْحَقِّ وَأَحْسَنَ تَفْسِيرًا} [الفرقان: 33].
ثانيًا: إذا ذُكِر أحد اللفظين منفردًا قُصِد به المعنى الشامل للفظين معًا إذا اجتمع اللفظان معًا.
ثالثًا: إذا اجتمع اللفظان معًا "التفسير والتأويل" في شيء يخصُّ القرآن الكريم، كان المراد -والله أعلم - بالتفسير بيانَ المعاني التي تُستفاد من وضْع العبارة، وبالتأويل بيانَ المعاني التي تُستفادُ بطريق الإشارة، والله تعالى أعلم
(1).
وبهذا ينتهي الفصل الأول والحمد لله رب العالمين.
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাফসির ও তাবিলের পার্থক্যের বিষয়ে গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত সারসংক্ষেপপ্রথমত: তাবিল তাফসির অপেক্ষা অধিক ব্যাপক; কারণ 'তাবিল' শব্দটি পবিত্র কুরআনে একাধিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, পক্ষান্তরে মহান আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা সম্পূর্ণ কুরআনে 'তাফসির' শব্দ ও তার ব্যুৎপন্ন রূপসমূহ মাত্র একবার উল্লেখ করেছেন। মহান আল্লাহর বাণী: "তারা আপনার নিকট কোনো উপমা নিয়ে আসুক না কেন, আমি আপনার কাছে সত্য ও সুন্দর ব্যাখ্যা নিয়ে এসেছি।" [আল-ফুরকান: ৩৩]।
দ্বিতীয়ত: যদি এই শব্দদ্বয়ের কোনো একটি এককভাবে ব্যবহৃত হয়, তবে তা দ্বারা উভয় শব্দের সম্মিলিত ব্যাপক অর্থ উদ্দেশ্য নেওয়া হয়।
তৃতীয়ত: যদি পবিত্র কুরআন সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ে "তাফসির" এবং "তাবিল" শব্দ দুটি একত্রে ব্যবহৃত হয়, তবে তাফসির দ্বারা উদ্দেশ্য হয়—আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন—শব্দবিন্যাস থেকে প্রাপ্ত অর্থসমূহের বর্ণনা, আর তাবিল দ্বারা উদ্দেশ্য হয় ইঙ্গিতের মাধ্যমে অর্জিত অর্থসমূহের বর্ণনা। আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ
(১)।
এর মাধ্যমেই প্রথম অধ্যায় সমাপ্ত হলো। সকল প্রশংসা জগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুত তাসীলী লিদিরাসাতিত তাফসিরিত তাহলীলী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
•
الفصل الثاني •التعريف بالمنهج التأصيلي لدراسة التفسير التحليلي
المبحث الأول: التعريف بالمنهج التأصيلي لدراسة التفسير التحليلي من جهة ألفاظه التي تتكون من خمس كلماتأ- المنهج
ب- التاصيلي
ج- لدراسة
د- التفسير
(1)هـ- التحليلي
ولا بد أولًا: من التعرف على مفهوم هذه الكلمات ومدلولاتها في اللغة والاصطلاح، وذلك على النحو التالي:
المطلب الأول: مفهوم ومدلول كلمة المنهج في اللغة والاصطلاح
أ- بيان مفهوم ومدلول كلمة "منهج" في اللغة:قال الرّاغب في المفردات: "النَّهْجُ: الطريقُ الوَاضِحُ، ونَهَجَ الأمْرُ وأَنْهَجَ: وَضَحَ، ومَنْهَجُ الطَّرِيقِ ومِنْهَاجُهُ، قال تعالى: {لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا} الآية [المائدة: 48] "
(2).
قال أبو جعفر النحاس في معاني القرآن: والصراط في اللغة المنهاج الواضح
(3).
والمنهاج: الطريق الواضح البيِّنُ المستقيم، وقوله: {اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ} [الفاتحة: 6]؛ أي: ثبتنا على المنهاج الواضح.
--------------------------------------------
•
দ্বিতীয় অধ্যায় •বিশ্লেষণধর্মী তাফসীর অধ্যয়নের তাত্ত্বিক মানহাজের পরিচিতি
প্রথম পরিচ্ছেদ: বিশ্লেষণধর্মী তাফসীর অধ্যয়নের তাত্ত্বিক মানহাজের পরিচিতি এর পাঁচটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত শব্দাবলির প্রেক্ষাপট থেকেক- মানহাজ (পদ্ধতি)
খ- তাত্ত্বিক (তাসীলী)
গ- অধ্যয়নের জন্য
ঘ- তাফসীর
(১)ঙ- বিশ্লেষণধর্মী
এবং সর্বপ্রথম: ভাষা ও পরিভাষায় এই শব্দগুলোর ধারণা ও তাৎপর্য জানা আবশ্যক, যা নিম্নরূপ:
প্রথম অনুচ্ছেদ: ভাষা ও পরিভাষায় মানহাজ শব্দের ধারণা ও তাৎপর্য
ক- ভাষাগতভাবে "মানহাজ" শব্দের ধারণা ও তাৎপর্য বর্ণনা:রাغب তাঁর ‘মুফরাদাত’ গ্রন্থে বলেন: "নাহজ অর্থ: স্পষ্ট পথ। কোনো বিষয় ‘নাহাজা’ বা ‘আনহাজা’ হওয়ার অর্থ হলো: তা স্পষ্ট হওয়া। মানহাজুত ত্বরীক বা মিনহাজুত ত্বরীক অর্থও তা-ই। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি একটি শরিয়ত ও স্পষ্ট পথ (মিনহাজ) নির্ধারণ করে দিয়েছি} আয়াত [আল-মায়েদাহ: ৪৮]"
(২)।
আবু জাফর আন-নাহহাস তাঁর ‘মা’আনিল কুরআন’ গ্রন্থে বলেন: ভাষাগতভাবে ‘সিরাত’ হলো স্পষ্ট পথ বা মিনহাজ
(৩)।
আর মিনহাজ হলো: অতিশয় স্পষ্ট ও সরল-সঠিক পথ। এবং মহান আল্লাহর বাণী: {আমাদেরকে সরল-সঠিক পথে পরিচালিত করুন} [আল-ফাতিহা: ৬]; অর্থাৎ: আমাদেরকে স্পষ্ট পথে সুপ্রতিষ্ঠিত রাখুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুত তাসীলী লিদিরাসাতিত তাফসিরিত তাহলীলী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وهو كما قال الزبيدي في تاج العروس (ت: 1205 هـ)
(1): السراط بالكسر: السبيل الواضح، وبه فسر قوله تعالى: {اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ} [الفاتحة: 6]، أي ثبتنا على المنهاج الواضح كما قاله الأزهري.
وكما قال ابن منظور في لسان العرب: الصراط، والسراط، والزراط، الطريق، قال الشاعر:
أَكُرُّ على الحَرورِيِّنَ مُهْري
… وأَحْمِلُهُمْ على وَضَحِ الصِراطِ
(2)قال شيخ المفسرين الإمام الطبريّ في تفسير قوله تعالى: {لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا} الآية [المائدة: 48]: "وأما (المنهاج)، فإنّ أصله: الطريقُ البيِّنُ الواضح،
… ثم يُستعمل في كل شيءٍ كان بيِّنًا واضحًا سهلاً"
(3).
وختامًا: فإن المنهج والمنهاج في اللغة لفظان مشتقان من النهج، الذي هو الطريق الواضح البيِّنُ.
ويمكننا في ضوء ما سلف أن نعرف المنهج في اللغة تعريفًا جامعًا مانعًا بأنه:
هو الطريق الواضح البين، وهو الصراط المستقيم، وهو السبيل السوي الّذي لا يتيه ولا يضل ولا ينحرف عنه سالكُه، بل يصلُ إلى غايته من ورائه مباشرةً، من غير التواءٍ ولا تعرُّج ولا انحراف ولا انجراف ولا اعوجاج.
ب- مفهوم ومدلول كلمة "منهج" في الاصطلاح
المنهج في الاصطلاح:هو: الطريقة التي ينهجها الفرد حتى يصل إلى هدف معين
(4).
--------------------------------------------
এটি তেমনই যেমনটি জুবাইদী তাজুল আরুসে (মৃত্যু: ১২০৫ হিজরি) বলেছেন
(১): সিরাত (কাসরা বা জের সহকারে): স্পষ্ট পথ; আর এর মাধ্যমেই মহান আল্লাহর বাণী: {আমাদের সরল সঠিক পথে পরিচালিত করুন} [ফাতিহা: ৬]-এর ব্যাখ্যা করা হয়েছে, অর্থাৎ আযহারী যেমনটি বলেছেন, আমাদেরকে স্পষ্ট কর্মপদ্ধতির ওপর অবিচল রাখুন।
আর যেমনটি ইবনে মানযুর লিসানুল আরাবে বলেছেন: আস-সিরাত (সোয়াদ, সিন ও যা দিয়ে): পথ। কবি বলেছেন:
আমি হারুরীদের ওপর আমার ঘোড়া নিয়ে আক্রমণ করি
… এবং তাদের স্পষ্ট পথের ওপর পরিচালিত করি
(২)মুফাসসিরদের প্রধান ইমাম তাবারী মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি একটি শরিয়ত ও স্পষ্ট পথ (মিনহাজ) নির্ধারণ করে দিয়েছি} [মায়িদাহ: ৪৮] আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন: "আর (মিনহাজ)-এর মূল অর্থ হলো: প্রকাশ্য ও স্পষ্ট পথ,
… এরপর এটি এমন সবকিছুর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যা প্রকাশ্য, স্পষ্ট ও সহজ"
(৩)।
পরিশেষে: আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে 'মানহাজ' ও 'মিনহাজ' শব্দ দুটি 'নাহজ' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ হলো প্রকাশ্য ও স্পষ্ট পথ।
পূর্বোক্ত আলোচনার আলোকে আমরা আভিধানিক দিক থেকে মানহাজের একটি পূর্ণাঙ্গ ও যুৎসই সংজ্ঞা এভাবে দিতে পারি যে:
এটি হলো সেই প্রকাশ্য ও স্পষ্ট পথ, যা সিরাতে মুস্তাকীম এবং এমন একটি সঠিক পথ যাতে তার পথিক দিশেহারা হয় না, পথ হারায় না এবং বিচ্যুত হয় না। বরং সে কোনো বক্রতা, আঁকাবাঁকা পথ, বিচ্যুতি বা ভ্রষ্টতা ছাড়াই সরাসরি তার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে।
খ- পারিভাষিক অর্থে 'মানহাজ' শব্দের ধারণা ও তাৎপর্য
পারিভাষিক অর্থে মানহাজ:এটি হলো: এমন পদ্ধতি যা একজন ব্যক্তি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য অনুসরণ করে
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুত তাসীলী লিদিরাসাতিত তাফসিরিত তাহলীলী
(পৃষ্ঠা: ২০)
أو هو: خطوات منظمة يتبعها الباحث في معالجة الموضوعات التي يقوم بدراستها إلى أن يصل إلى نتيجة معينة
(1).
بالنظر إلى التعريفين السابقين، نجد أن التعريف الأول فيه دَوْر، حيث عرف المنهج بما يُنهج، فإذا أردنا شرح التعريف درنا لنعرف (ينهجها) بالمنهج، وهو عيب في التعريف.
والتعريف الثاني اقتصر على منهج البحث العلمي.
لذلك وانطلاقًا من قوله تعالى: {لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا} [المائدة: 48]، يمكن تعريف المنهج والمنهاج بأنه: الوسيلة والبرنامج الذي يُوصَل من خلال اتباعه إلى هدف ما
(2).
ورود كلمة "منهاج " في القرآن الكريم:
قد وردت كلمة المنهج في كتاب الله تعالى مرة واحدة، وذلك في قوله سبحانه: {لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا} الآية [المائدة: 48].
قال الطاهر بن عاشور، رحمه الله، في التحرير والتنوير: وقوله تعالى: {لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا} الآية [المائدة: 48]، كالتعليل للنهي، أي إذا كانت أهواؤهم في متابعة شريعتهم أو عوائدهم، فدعهم وما اعتادوه وتمسكوا بشرعكم، والشرعة والشريعة: الماء الكثير من نهر أو واد، يقال: شريعة الفرات، وسميت الديانة شريعة على التشبيه، لأن فيها شفاء النفوس وطهارتها، والعرب تشبه بالماء وأحواله كثيرًا
(3).
وإذا كان الماء وما ينبت من أثره من النبات هو من أس مقومات حياة أبدان البشر، فكذلك جعل الله تعالى الشرعة والمنهاج أس حياة قلوبهم، وبهجة أرواح نفوسهم، وإذا كان الله قد
--------------------------------------------
অথবা এটি হলো: কোনো নির্দিষ্ট ফলাফলে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত গবেষক তার গবেষণাধীন বিষয়সমূহ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে যে সুশৃঙ্খল পদক্ষেপসমূহ অনুসরণ করেন
(১)।
পূর্বোক্ত সংজ্ঞাদ্বয়ের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই যে, প্রথম সংজ্ঞাটিতে একটি চক্রক দোষ (দাওর) রয়েছে; কেননা সেখানে পদ্ধতিকে (মানহাজ) তা দ্বারাই সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে যা পদ্ধতি হিসেবে অনুসরণ করা হয়। সুতরাং আমরা যদি সংজ্ঞাটি ব্যাখ্যা করতে চাই, তবে আমাদের পুনরায় 'অনুসরণ করাকে' পদ্ধতি দ্বারা সংজ্ঞায়িত করতে হবে, যা সংজ্ঞার একটি ত্রুটি।
আর দ্বিতীয় সংজ্ঞাটি কেবল বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতির মধ্যে সীমাবদ্ধ।
সেই কারণে এবং মহান আল্লাহর বাণী: "তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি একটি শরীয়ত ও কর্মপন্থা (মানহাজ) নির্ধারণ করে দিয়েছি" [আল-মায়িদা: ৪৮]-কে ভিত্তি করে 'মানহাজ' বা কর্মপন্থাকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা যায় যে: এটি হলো এমন মাধ্যম ও কর্মসূচি, যা অনুসরণের মাধ্যমে কোনো একটি লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়
(২)।
পবিত্র কুরআনে "মানহাজ" শব্দের প্রয়োগ:
মহান আল্লাহর কিতাবে 'মানহাজ' শব্দটি একবার এসেছে, আর তা হলো মহান রবের এই বাণীতে: "তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি একটি শরীয়ত ও কর্মপন্থা নির্ধারণ করে দিয়েছি" আয়াত [আল-মায়িদা: ৪৮]।
আত-তাহির ইবনে আশুর (রহিমাহুল্লাহ) 'আত-তাহরির ওয়াত-তানভির' গ্রন্থে বলেছেন: মহান আল্লাহর বাণী: "তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি একটি শরীয়ত ও কর্মপন্থা নির্ধারণ করে দিয়েছি" আয়াত [আল-মায়িদা: ৪৮] এটি যেন (পূর্ববর্তী) নিষেধাজ্ঞার কারণ বর্ণনা স্বরূপ। অর্থাৎ, তাদের প্রবৃত্তি যদি তাদের নিজস্ব শরীয়ত বা অভ্যাস অনুসরণের দিকে ধাবিত হয়, তবে তাদেরকে তাদের অভ্যাসের ওপর ছেড়ে দাও এবং তোমরা তোমাদের শরীয়তকে আঁকড়ে ধরো। আর 'শিরআহ' ও 'শরীয়াহ' হলো নদী বা উপত্যকার প্রচুর পানি; বলা হয় 'ফুরাত নদীর শরীয়াহ'। রূপকভাবে দ্বীন বা ধর্মকে শরীয়াহ নামকরণ করা হয়েছে, কারণ এর মধ্যে আত্মার আরোগ্য ও পবিত্রতা রয়েছে। আর আরবরা পানির সাথে এবং পানির অবস্থার সাথে অনেক কিছুর তুলনা দিয়ে থাকে
(৩)।
আর পানি এবং এর প্রভাবে যে উদ্ভিদ জন্মে তা যদি মানুষের শারীরিক জীবনের অন্যতম মৌলিক উপাদান হয়, তবে আল্লাহ তাআলা শরীয়ত ও কর্মপন্থাকে মানুষের অন্তরের জীবনের ভিত্তি এবং আত্মার আনন্দের মাধ্যম করেছেন। আর আল্লাহ যখন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুত তাসীলী লিদিরাসাতিত তাফসিরিত তাহলীলী
(পৃষ্ঠা: ২১)
جعل لكل منا شرعة ومنهاجًا، فقد قال سبحانه في موضع آخر من كتابه: {شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّينِ مَا وَصَّى بِهِ} الآية [الشورى: 13].
قال الشوكاني، رحمه الله، في فتح القدير: الخطاب في قوله: شرع لكم من الدين لأمة محمد صلى الله عليه وسلم، أي: بيّن وأوضح لكم من الدين ما وصّى به نوحًا من التوحيد ودين الإسلام وأصول الشرائع التي لم يختلف فيها الرسل وتوافقت عليها الكتب
(1).
ورود كلمة " منهاج " في السنة المطهرة:
وقد وردت لفظة "منهاج" في السنة المطهرة، منها ما ثبت عند أحمد المسند من حديث ينتهي سنده إلى حذيفة بن اليمان رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «تَكُونُ النُّبُوَّةُ فِيكُمْ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَكُونَ، ثُمَّ يَرْفَعُهَا إِذَا شَاءَ أَنْ يَرْفَعَهَا، ثُمَّ تَكُونُ خِلَافَةٌ عَلَى مِنْهَاجِ النُّبُوَّةِ، فَتَكُونُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَكُونَ، ثُمَّ يَرْفَعُهَا إِذَا شَاءَ أَنْ يَرْفَعَهَا، ثُمَّ تَكُونُ مُلْكًا عَاضًّا، فَيَكُونُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَكُونَ، ثُمَّ يَرْفَعُهَا إِذَا شَاءَ اللهُ أَنْ يَرْفَعَهَا، ثُمَّ تَكُونُ مُلْكًا جَبْرِيًّا، فَتَكُونُ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ تَكُونَ، ثُمَّ يَرْفَعُهَا إِذَا شَاءَ أَنْ يَرْفَعَهَا، ثُمَّ تَكُونُ خِلَافَةٌ عَلَى مِنْهَاجِ النُّبُوَّةِ، ثُمَّ سَكَتَ»
(2).
وعرفه شيخنا الفقيه العلامة ابن عثيمين، رحمه الله، بقوله: المنهج هو الطريق البين الواضح الذي يسير عليه المرء في عمله الديني والدنيوي
(3).
وفي ختام التعريف الاصطلاحي للمنهج، يمكننا التوصل لتعريف شرعي جامع مانع له أيضًا فنقول:
المنهج شرعًا هو: الطريق الواضح، والسبيل البين، والصراط المستقيم، وهو شرع الله ودينه الذي بينه الله في كتابه، وشرعه على لسان رسوله صلى الله عليه وسلم، من العقائد والعبادات والأخلاق
--------------------------------------------
তিনি আমাদের প্রত্যেকের জন্য বিধান ও কর্মপন্থা নির্ধারণ করেছেন। তিনি তাঁর কিতাবের অন্য এক স্থানে বলেছেন: {তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই দিয়েছেন, যার নির্দেশ তিনি নূহকে দিয়েছিলেন...} আয়াত [আশ-শুরা: ১৩]।
শাওকানি (রহিমাহুল্লাহ) ফাতহুল কাদির-এ বলেছেন: তাঁর বাণী "তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের বিধান দিয়েছেন"-এর সম্বোধন হলো মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উম্মতের প্রতি। অর্থাৎ: তিনি তোমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিষয়গুলো বর্ণনা ও স্পষ্ট করেছেন যা তিনি নূহকে তাওহিদ, ইসলাম ধর্ম এবং শরয়ি বিধানের সেই মূলনীতিসমূহ সম্পর্কে নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেগুলোতে রাসুলগণ মতভেদ করেননি এবং আসমানি কিতাবসমূহ যেগুলোর ব্যাপারে একমত হয়েছে
(১)।
পবিত্র সুন্নাহয় "মিনহাজ" শব্দের প্রয়োগ:
পবিত্র সুন্নাহয় "মিনহাজ" শব্দটি এসেছে, যার মধ্যে রয়েছে মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত হুজাইফা ইবনুল ইয়ামান (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের মাঝে নবুওয়াত থাকবে আল্লাহ যতদিন চাইবেন। এরপর যখন তিনি চাইবেন তা উঠিয়ে নেবেন। তারপর নবুওয়াতের পদ্ধতির (মানহাজের) ওপর খিলাফত কায়েম হবে। আল্লাহ যতদিন চাইবেন তা থাকবে। এরপর যখন তিনি চাইবেন তা উঠিয়ে নেবেন। এরপর আসবে দংশনকারী রাজতন্ত্র। আল্লাহ যতদিন চাইবেন তা থাকবে। এরপর যখন তিনি চাইবেন তা উঠিয়ে নেবেন। এরপর আসবে স্বৈরাচারী রাজতন্ত্র। আল্লাহ যতদিন চাইবেন তা থাকবে। এরপর যখন তিনি চাইবেন তা উঠিয়ে নেবেন। এরপর আবারও নবুওয়াতের পদ্ধতির (মানহাজের) ওপর খিলাফত কায়েম হবে। এরপর তিনি চুপ হলেন»
(২)।
আমাদের শায়খ ফকিহ আল্লামা ইবন উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ) এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন: মানহাজ হলো সেই সুস্পষ্ট ও পরিষ্কার পথ যার ওপর একজন ব্যক্তি তার দ্বীনি ও পার্থিব কর্মক্ষেত্রে পরিচালিত হয়
(৩)।
মানহাজের পারিভাষিক সংজ্ঞার শেষে আমরা এর একটি সুসমন্বিত শরয়ি সংজ্ঞায় উপনীত হতে পারি এভাবে:
শরয়ি পরিভাষায় মানহাজ হলো: সুস্পষ্ট পথ, পরিষ্কার রাস্তা এবং সরল পথ (সিরাতুল মুস্তাকিম)। এটি হলো আল্লাহর বিধান ও তাঁর দ্বীন যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুখে বিধিবদ্ধ করেছেন; যার মধ্যে রয়েছে আকিদা, ইবাদত এবং চরিত্র।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুত তাসীলী লিদিরাসাতিত তাফসিরিত তাহলীলী
(পৃষ্ঠা: ২২)
والمعاملات، وأمر عباده أن يتمسكوا ويعتصموا به ويسيروا وفق ما حثهم عليه ورغبهم فيه، وما نهاهم وزجرهم عنه وحذرهم منه، ويكون ذلك بإتمارهم بأمره، وانتهائهم عن نهيه، ويكون ذلك أيضًا خوفًا وطمعًا، رغبًا ورهبًا.
المطلب الثاني: مفهوم ومدلول كلمة التأصيلي في اللغة والاصطلاح
أ- مفهوم ومدلول كلمة "التأصيلي" في اللغةتَأْصِيلٌ- مصدر: أَصَّلَ: تَأْصِيلُ الشَّيْءِ: جَعْلُهُ ذَا أَصْلٍ ثَابِتٍ. تَأْصِيلُ النَّسَبِ: تَبْيَانُ أَصْلِهِ وَأَصَالَتِهِ
(1).
وأَصَّلَ تَأْصِيلًا: أَصَّلَهُ: جعل له أصلًا ثابتًا. أَصَّلَهُ: بين أصله أو أصالته
(2). وتأصَّلَ يتأصَّل، تأصُّلاً، فهو مُتأصِّل. تأصَّل الشَّيءُ: مُطاوع أصَّلَ: صار ذا أصل ثابت، ترسَّخ وتعمَّق
(3).
والأصل: ما يبنى عليه الشيء، أو ما يتوقف عليه
(4)، وأصل الشيء أساسه الذي يقوم عليه
(5)، وهو ما يبتني عليه غيره
(6). فأَصْلُ كُلِّ شَيْءٍ مَا يَسْتَنِدُ وُجُودُ ذَلِكَ الشَّيْءِ إلَيْهِ، فَالْأَبُ أَصْلٌ لِلْوَلَدِ، وَالنَّهْرُ أَصْلٌ لِلْجَدْوَلِ وَالْجَمْعُ: أُصُولٌ
(7).
وقيل: الأصل أسفل الشيء والذي يعتمد عليه سواء كان ماديًا أو معنويًا
(8).
--------------------------------------------
এবং লেনদেনসমূহ; আর তিনি তাঁর বান্দাদের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তারা তা শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে এবং অবলম্বন করে, আর তিনি তাদের যা করতে উৎসাহিত ও উদ্বুদ্ধ করেছেন সেই অনুযায়ী চলে, এবং যা থেকে তাদের নিষেধ ও বিরত করেছেন এবং সতর্ক করেছেন তা বর্জন করে। আর তা হবে তাঁর নির্দেশ পালনের মাধ্যমে এবং তাঁর নিষেধ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে; এবং এটি হবে ভয় ও আশা এবং আকাঙ্ক্ষা ও ভীতির সাথে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে ‘তা’সিলি’ (মৌলিকীকরণ) শব্দের ধারণা ও তাৎপর্য
ক- আভিধানিক অর্থে ‘তা’সিলি’ শব্দের ধারণা ও তাৎপর্যতা’সিল- মূলধাতু: আসসালা: কোনো বস্তুর তা’সিল হলো: সেটিকে একটি সুদৃঢ় মূল বা ভিত্তির অধিকারী করা। বংশের তা’সিল হলো: তার মূল উৎস ও আভিজাত্য স্পষ্ট করা
(১)।
আর আসসালা তা’সিলান: সেটিকে তা’সিল করেছে: অর্থাৎ সেটির জন্য একটি সুদৃঢ় মূল নির্ধারণ করেছে। সেটিকে তা’সিল করেছে: অর্থাৎ তার মূল বা আভিজাত্য বর্ণনা করেছে
(২)। আর তাআসসালা, ইয়াতাআসসালু, তাআসসুলান, অতঃপর তা মুতাআসসিল। কোনো বস্তু তাআসসালা হওয়া: এটি ‘আসসালা’ এর অনুগামী ক্রিয়া: অর্থাৎ সুদৃঢ় মূলবিশিষ্ট হওয়া, প্রোথিত হওয়া এবং গভীর হওয়া
(৩)।
আর আসল (মূল): যার ওপর কোনো কিছু নির্মিত হয়, অথবা যার ওপর কোনো কিছু নির্ভর করে
(৪), আর কোনো বস্তুর আসল হলো তার ভিত্তি যার ওপর তা প্রতিষ্ঠিত
(৫), এবং তা হলো এমন কিছু যার ওপর অন্য কিছু গড়ে ওঠে
(৬)। সুতরাং প্রত্যেক জিনিসের আসল হলো তা-ই যার দিকে ওই জিনিসের অস্তিত্ব সম্পৃক্ত হয়; যেমন পিতা সন্তানের জন্য আসল, এবং নদী খালের জন্য আসল; আর এর বহুবচন হলো: উসুল
(৭)।
আরও বলা হয়েছে: আসল হলো কোনো জিনিসের নিম্নভাগ এবং যার ওপর তা নির্ভর করে, চাই তা বস্তুগত হোক কিংবা অর্থগত
(৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুত তাসীলী লিদিরাসাতিত তাফসিরিত তাহলীলী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ب- مفهوم ومدلول كلمة "التأصيلي" في الاصطلاحوالتأصيل اصطلاحًا: إرجاع المعارف إلى أصلها؛ الوجود والوحي
(1).
والتأصيلُ: هو إرجاعُ القواعد إلى أصول شرعيّة يعتمدُ عليها، وتطمئنُّ النفس إليها.
يقول أبو الحسن المَرْدَاوي الدمشقي (ت: 885 هـ):
وَالْقَاعِدَة: هِيَ الْأَمر الْكُلِّي الَّتِي يَنطبقُ على جزئيّات كَثِيرَة؛ تُفهَمُ أَحْكَامهَا مِنْهَا
(2).
وهذا ما سبقه شيخُ الإسلام ابنُ تيميَّةَ، رحمه الله، إلى تقعيده وتقريره حيث يقول:
لَا بُدَّ أَنْ يَكُونَ مَعَ الْإِنْسَانِ أُصُولٌ كُلِّيَّةٌ تُرَدُّ إلَيْهَا الْجُزْئِيَّاتُ؛ لِيَتَكَلَّمَ بِعِلْمِ وَعَدْلٍ
(3). ثُمَّ يَعْرِفُ الْجُزْئِيَّاتِ كَيْفَ وَقَعَتْ؟، وَإِلَّا: فَيَبْقَى فِي كَذِبٍ وَجَهْلٍ فِي الْجُزْئِيَّاتِ، وَجَهْلٍ وَظُلْمٍ فِي الْكُلِّيَّاتِ، فَيَتَوَلَّدُ فَسَادٌ عَظِيمٌ
(4).
وقال الزركشي: ". . . . . والحكيم إذا أراد التعليم لا بد أن يجمع بين بيانين: إجمالي تتشوَّف إليه النفس، وتفصيلي تسكن إليه. والحاصل أن من عرف قواعد التفسير انفتح له من المعاني القرآنية ما يجل عن الوصف، وصار بيده آلة يتمكن بها من الاستنباط والفهم مع ملكة ظاهرة تصيره ذا ذوق واختيار في الأقوال المختلفة في التفسير"
(5).
وأصول وقواعد التأصيل في دراسة التفسير تحتاج إلى الرجوع للأسس والقواعد الأصلية التي ينبغي الرجوع اليها، وهي القواعد والأصول والضوابط التي يهتدي بها لفهم هذا العلم الجليل، واستنباط معاني القرآن الكريم، وفهم مقاصده ومراميه.
--------------------------------------------
খ- পরিভাষায় "আত-তাসিলি" (ভিত্তিগত) শব্দের ধারণা ও তাৎপর্যআর পরিভাষায় তাসিল (ভিত্তি স্থাপন) হলো: জ্ঞানসমূহকে তার মূলের দিকে ফিরিয়ে নেয়া; যা হলো অস্তিত্ব এবং ওহী
(১)।
আর তাসিল হলো: নিয়মাবলিকে এমন সব শরয়ি মূলনীতির দিকে প্রত্যাবর্তন করানো যার ওপর নির্ভর করা যায় এবং যা দ্বারা মন প্রশান্ত হয়।
আবুল হাসান আল-মারদাউয়ি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু: ৮৮৫ হিজরি) বলেন:
কায়েদা (নিয়ম) হলো: এমন একটি সামগ্রিক বিষয় যা অনেকগুলো আংশিক বা শাখা বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হয়; যার মাধ্যমে ঐ শাখা বিষয়গুলোর বিধান বোঝা যায়
(২)।
আর এটি এমন একটি বিষয় যার মূলনীতি ও সিদ্ধান্ত শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ (রহিমাহুল্লাহ) এর আগেই প্রদান করেছেন, যেখানে তিনি বলেন:
মানুষের নিকট অবশ্যই কিছু সামগ্রিক মূলনীতি থাকতে হবে যার দিকে শাখা বিষয়গুলোকে ফিরিয়ে নেয়া যায়; যাতে সে জ্ঞান ও ইনসাফের সাথে কথা বলতে পারে
(৩)। এরপর সে জানবে যে শাখা বিষয়গুলো কীভাবে সংঘটিত হয়েছে? অন্যথায়, সে শাখা বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে মিথ্যা ও মূর্খতার মধ্যে এবং সামগ্রিক বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে মূর্খতা ও অবিচারের মধ্যে নিমজ্জিত থাকবে, ফলে এক বিরাট বিপর্যয় সৃষ্টি হবে
(৪)।
আর যারকাশি বলেছেন: ". . . . . এবং প্রাজ্ঞ ব্যক্তি যখন শিক্ষা দিতে চান, তখন তাকে অবশ্যই দুই প্রকার বর্ণনার সমন্বয় করতে হবে: একটি সামগ্রিক বর্ণনা যার প্রতি মন কৌতূহলী হয়, এবং একটি বিস্তারিত বর্ণনা যাতে মন প্রশান্ত হয়। সারকথা হলো, যে ব্যক্তি তাফসিরের মূলনীতিসমূহ জানবে, তার নিকট কুরআনের এমন সব অর্থ উন্মোচিত হবে যা বর্ণনাতীত, এবং তার হাতে এমন একটি হাতিয়ার আসবে যার মাধ্যমে সে বিধান আহরণ ও উপলব্ধিতে সক্ষম হবে; সাথে এমন একটি প্রকাশ্য দক্ষতা অর্জিত হবে যা তাকে তাফসিরের বিভিন্ন মতামতের মধ্যে রুচিবোধ ও যাচাই-বাছাই করার অধিকারী করে তুলবে"
(৫)।
আর তাফসির অধ্যয়নের ক্ষেত্রে তাসিল (ভিত্তি স্থাপন)-এর মূলনীতি ও নিয়মাবলির জন্য সেই সব মৌলিক ভিত্তি ও নিয়মের দিকে ফিরে যাওয়া প্রয়োজন যেগুলোর দিকে প্রত্যাবর্তন করা সমীচীন। আর সেগুলো হলো সেই সব নিয়ম, মূলনীতি ও বিধিনিষেধ যা দ্বারা এই মহান জ্ঞান অর্জনের সঠিক পথ পাওয়া যায়, এবং পবিত্র কুরআনের অর্থসমূহ আহরণ করা ও এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ অনুধাবন করা সম্ভব হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুত তাসীলী লিদিরাসাতিত তাফসিরিত তাহলীলী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وهي هنا عبارة عن محاولة تأصيلية لإبراز أسس وقواعد أحد أنواع التفسير، ألا وهو "التفسير التحليلي"، التي ينبغي الرجوع إليها عند دراسته.
المطلب الثالث: مفهوم ومدلول كلمة "دراسة" في اللغة والاصطلاح
أ- مفهوم ومدلول كلمة "دراسة" في اللغةوالدراسة: من دَرَسَ، يَدْرُسُ، دَرَسَ الشيء بمعنى طَحَنَهُ و جَزَّءَهُ، دَرَسَ الحبَ طَحَنَهُ، دَرَسَ الدرس جَزَّءَهُ وَسَهَلَ وَيَسَّرَ تعلمه على أجزاء، فيقال دَرَسَ الكتاب، يدرسه دراسة، بمعنى قراءة وأقبل عليه، ليحفظه ويفهمه
(1)، قال تعالى: {مَا كَانَ لِبَشَرٍ أَنْ يُؤْتِيَهُ اللَّهُ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ ثُمَّ يَقُولَ لِلنَّاسِ كُونُوا عِبَادًا لِي مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلَكِنْ كُونُوا رَبَّانِيِّينَ بِمَا كُنْتُمْ تُعَلِّمُونَ الْكِتَابَ وَبِمَا كُنْتُمْ تَدْرُسُونَ} [آل عمران: 79].
ومنها:
* دَرَسَ الكتابَ ونحوه، كرّر قراءته ليحفظه ويفهمه، قال تعالى: {وَإِنْ كُنَّا عَنْ دِرَاسَتِهِمْ لَغَافِلِينَ} [الأنعام: 156]، أي: وما كنا نفهم ما يقولون، وقال تعالى: {إِلَّا الْحَقَّ وَدَرَسُوا مَا} [الأعراف: 169]
(2)، ودرسوا ما فيه أي: قرأوا ما فيه.
* دَرَّسَ الكتاب ونحوه، قام بتدريسه، أقرأه وأفهمه للطَّلبة، قال تعالى: {وَبِمَا كُنْتُمْ تَدْرُسُونَ} [آل عمران: 79]
(3)، أي: تتعلمون.
* وَدَرَسَ الْكِتَابَ يَدْرُسُهُ دَرْسًا وَدِرَاسَةً وَدَارَسَهُ، مِنْ ذَلِكَ، كَأَنَّهُ عَانَدَهُ حَتَّى انْقَادَ لِحِفْظِهِ.
--------------------------------------------
এটি এখানে তাফসিরের অন্যতম প্রকারভেদ তথা "বিশ্লেষণমূলক তাফসির"-এর ভিত্তি ও নিয়মাবলি উপস্থাপনের একটি তাত্ত্বিক প্রচেষ্টা, যা এই বিষয়টির অধ্যয়নের সময় অনুসরণ করা উচিত।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে "অধ্যয়ন" (দিরাসাহ) শব্দের ধারণা ও তাৎপর্য
ক- আভিধানিক অর্থে "অধ্যয়ন" শব্দের ধারণা ও তাৎপর্যঅধ্যয়ন (দিরাসাহ): এটি ‘দারা-সা’, ‘ইয়াদরু-সু’ ক্রিয়ামূল থেকে এসেছে। কোনো কিছু ‘দারা-সা’ করার অর্থ হলো তা চূর্ণ করা এবং খণ্ডিত করা। যেমন শস্য চূর্ণ করাকে বলা হয় ‘দারা-সাল হাব্বা’। পাঠ্যবিষয়কে ‘দারা-সা’ করা মানে তাকে খণ্ডে খণ্ডে বিভক্ত করা এবং তার শিক্ষা গ্রহণকে সহজ ও সুগম করা। তাই বলা হয়, সে কিতাবটি ‘দারা-সা’ করেছে, সে এটি ‘দিরাসাহ’ (অধ্যয়ন) করছে, যার অর্থ হলো তা পাঠ করা এবং মুখস্থ ও অনুধাবনের উদ্দেশ্যে তাতে নিবিষ্ট হওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন: "কোনো মানুষের জন্য এটি শোভনীয় নয় যে, আল্লাহ তাকে কিতাব, প্রজ্ঞা ও নবুয়ত দান করবেন, আর সে মানুষকে বলবে, 'আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা আমার ইবাদতকারী হয়ে যাও'; বরং সে বলবে, 'তোমরা আল্লাহওয়ালা হও যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দিতে এবং তা অধ্যয়ন করতে'।" [আলে ইমরান: ৭৯]।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো:
* কিতাব বা তদনুরূপ কিছু ‘দারা-সা’ করা, অর্থাৎ মুখস্থ ও অনুধাবনের উদ্দেশ্যে বারবার পাঠ করা। আল্লাহ তাআলা বলেন: "এবং নিশ্চয় আমরা তাদের পাঠ সম্পর্কে অনবহিত ছিলাম।" [আল-আনআম: ১৫৬], অর্থাৎ তারা যা বলত তা আমরা বুঝতাম না। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: "কেবল সত্য ব্যতীত এবং তারা তাতে যা আছে তা পাঠ করেছে।" [আল-আরাফ: ১৬৯], আর তারা তাতে যা আছে তা পাঠ করেছে অর্থ হলো: তারা তাতে যা আছে তা পড়েছে।
* কিতাব বা তদনুরূপ কিছু ‘দাররা-সা’ করা (পাঠদান করা), অর্থাৎ ছাত্রদের তা পড়ানো ও বোঝানো। আল্লাহ তাআলা বলেন: "এবং যেহেতু তোমরা অধ্যয়ন করতে।" [আলে ইমরান: ৭৯], অর্থাৎ তোমরা শিখতে।
* কিতাব ‘দারা-সা’ করা, ‘ইয়াদরুসুহু দারসান ওয়া দিরাসাহ’ এবং ‘দারা-সাহু’ (পরস্পর অধ্যয়ন করা); এর তাৎপর্য হলো, সে যেন বিষয়টির সাথে কঠোর পরিশ্রম করেছে যতক্ষণ না সেটি মুখস্থ করার জন্য আয়ত্তে এসেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুত তাসীলী লিদিরাসাতিত তাফসিরিত তাহলীলী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وَرُوِيَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسِ، رضي الله عنهما، فِي قَوْلِهِ عز وجل: {وَكَذَلِكَ نُصَرِّفُ الْآيَاتِ وَلِيَقُولُوا دَرَسْتَ} [الأنعام: 105]؛ قَالَ: مَعْنَاهُ وَكَذَلِكَ نُبَيِّنُ لَهُمُ الْآيَاتِ مِنْ هُنَا وَمِنْ هُنَا لِكَيْ يَقُولُوا إِنَّكَ دَرَسْتَ أَيْ تَعَلَّمَتْ أَيْ هَذَا الَّذِي جِئْتَ بِهِ عُلِّمْتَ.
وَدَرَسْتُ الْكِتَابَ أَدْرُسُهُ دَرْسًا أَيْ ذَلَّلْتُهُ بِكَثْرَةِ الْقِرَاءَةِ حَتَّى خَفَّ حِفْظُهُ عَلَيَّ، مِنْ ذَلِكَ؛ قَاْلَ كَعْبُ بْنُ زُهَيْرٍ:
وَفِي الْحِلْمِ إِدْهَانٌ وَفِي الْعَفْوِ دُرْسَةٌ وَفِي الصِّدْقِ مَنْجَاةٌ مِنَ الشَّرِّ فَاصْدُقِ.
وَالْمُدَارِسُ: الَّذِي قَرَأَ الْكُتُبَ وَدَرَسَهَا
(1).
ب- مفهوم ومدلول كلمة "دراسة" في الاصطلاح
الدراسة مأخوذة من الدرس:* والدَّرْس هو: فترة محددة من الوقت ومنظمة يقصد فيه ممارسة التدريس والتعليم.
* الدَّرْس هو: المقدار من العلم يُدْرَس في وقت ما، جمع دُروس وأَدْراس
(2).
* والمدرسة: مكان الدرس والتعليم ويقال: هو من مدرسة فلان: على رأيه ومذهبه
(3).
* والتدارُس: على وزن (تفاعُل)، ومن معاني هذا الوزن المشاركة بين اثنين فأكثر، فيكون كلّ منهما فاعلًا في اللفظ مفعولًا في المعنى
(4).
* والمدارسة: من المفاعلة: ودارستُ الكُتُبَ وتَدَارَسْتُها، أي: دَارَسْتُها، وأصلُ الدِرَاسةِ الرياضة والتَّعَهُدُ للشيء
(5).
--------------------------------------------
ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে মহান আল্লাহর বাণী: {এভাবেই আমি আয়াতসমূহকে বিভিন্নভাবে বর্ণনা করি যাতে তারা বলে যে, আপনি তা পাঠ করেছেন} [আল-আনআম: ১০৫] - এর ব্যাখ্যায় বর্ণিত হয়েছে; তিনি বলেন: এর অর্থ হলো, এভাবেই আমি তাদের জন্য আয়াতসমূহকে ইতিউতি বিশদভাবে বর্ণনা করি যাতে তারা বলে যে, আপনি তা পাঠ করেছেন অর্থাৎ শিখেছেন; অর্থাৎ আপনি যা নিয়ে এসেছেন তা আপনাকে শেখানো হয়েছে।
"আমি বইটি পাঠ করেছি" - এর অর্থ হলো প্রচুর পাঠের মাধ্যমে আমি একে সহজসাধ্য করে তুলেছি যাতে তা মুখস্থ করা আমার জন্য সহজ হয়। এ প্রসঙ্গে কাব বিন জুহাইর বলেন:
সহনশীলতায় রয়েছে নমনীয়তা, ক্ষমাশীলতায় রয়েছে অভিজ্ঞতালব্ধ চর্চা, আর সত্যবাদিতায় রয়েছে অনিষ্ট থেকে মুক্তি, সুতরাং আপনি সত্যবাদী হোন।
অধ্যয়নকারী (আল-মুদারিস): যে কিতাবসমূহ পাঠ করেছে এবং সেগুলো অধ্যয়ন করেছে।
(১)
খ- পারিভাষিক অর্থে "দিরাসা" (অধ্যয়ন) শব্দের ধারণা ও তাৎপর্য
'দিরাসা' শব্দটি 'দারস' থেকে গৃহীত:* 'দারস' হলো: একটি নির্দিষ্ট ও সুসংগঠিত সময়কাল যার উদ্দেশ্য হলো পাঠদান ও শিক্ষা চর্চা করা।
* 'দারস' হলো: ইলমের সেই অংশ যা কোনো নির্দিষ্ট সময়ে অধ্যয়ন করা হয়; এর বহুবচন হলো 'দুরুস' এবং 'আদরাস'
(২)।
* 'মাদরাসা' হলো: পাঠদান ও শিক্ষা গ্রহণের স্থান; বলা হয়ে থাকে: "সে অমুকের মাদরাসার অন্তর্ভুক্ত", অর্থাৎ সে তার মত ও মাযহাবের অনুসারী
(৩)।
* 'তাদারুস': এটি (তাফা'উল) ছন্দের ওজনে গঠিত, আর এই ওজনের অন্যতম অর্থ হলো দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে পারস্পরিক অংশগ্রহণ; ফলে তাদের প্রত্যেকে শাব্দিক দিক থেকে কর্তা এবং অর্থের দিক থেকে কর্ম হিসেবে গণ্য হয়
(৪)।
* 'মুদারাসা': এটি 'মুফায়ালা' বাব থেকে আগত; "আমি কিতাবগুলো অধ্যয়ন করেছি এবং একে অপরের সাথে পাঠ করেছি", অর্থাৎ আমি সেগুলো অধ্যয়ন করেছি। আর 'দিরাসা' শব্দের মূল অর্থ হলো অনুশীলন করা এবং কোনো বিষয়ের প্রতি নিয়মিত যত্নশীল হওয়া বা লেগে থাকা
(৫)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুত তাসীলী লিদিরাসাতিত তাফসিরিত তাহলীলী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
والمُفَاعَلَة هنا: تتضمن معني المبادلة والمقابلة والمدارسة بين جانبين، وهي مُفَاعَلَة - يعني من طرفين- أو بين طرفين.
*
وقد خصَّ بعضهم المدارسة بالقراءة والتعهّد (1).
ومن هنا يمكن أن نعرف أن المدارسة أو الدراسة اصطلاحًا هي:
مدراسة العلم ومذاكرته وتدريسه، وتعلمه وتعليمه، وتعهده بتفهمه وتفهيمه، وحفظه وتحفيظه، وترويض النفس على رعايته بكل سبيل ممكن، للقيام بأمره وإصلاح شأنه، واستقطاع وقت خاص لذلك، مع تكراره والمداومة عليه بقدر الاستطاعة.
*
ومدارسة التفسير هنا:شمولها لجميع ما يتعلق بالقرآن من تعلُّمه وتعليمه، وتفسيره، واستكشاف هداياته ودقائق معانيه، وتزكية النفس به
(2).
المطلب الرابع: مفهوم ومدلول كلمة "تحليلي" في اللغة والاصطلاح، وبيان مفهوم التفسير التحليلي
أ- مفهوم كلمة "تحليلي" في اللغة* التحليل لغةً: حلّل الشيء: أرجعه إلى عناصره أي جزّأه، وحلّل الشيء: درسه وكشف خباياه
(3).
* تَحليل: (اسم)
* الجمع: تحليلات و تحاليلُ.
* تَحْليل الجملة: بيان أجزائها ووظيفة كل منها
(4).
--------------------------------------------
এখানে 'মুফাআলাহ' পরিভাষাটি দুই পক্ষের মধ্যে বিনিময়, পারস্পরিক সাক্ষাৎ এবং পর্যালোচনার অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে। এটি একটি পারস্পরিক ক্রিয়া—অর্থাৎ যা দুই পক্ষ থেকে বা দুই পক্ষের মধ্যে সম্পাদিত হয়।
*
কেউ কেউ পর্যালোচনাক (মুদারাশাহ) পাঠ করা এবং নিয়মিত চর্চার সাথে সুনির্দিষ্ট করেছেন (১)।
এখান থেকে আমরা জানতে পারি যে, পারিভাষিক অর্থে পর্যালোচনা বা অধ্যয়ন (মুদারাশাহ বা দিরাসাহ) হলো:
ইলম বা জ্ঞানকে পর্যালোচনা করা, পুনরাবৃত্তি করা ও পাঠদান করা; তা শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেওয়া; তা অনুধাবন করা ও অনুধাবন করানোর মাধ্যমে তার রক্ষণাবেক্ষণ করা; তা মুখস্থ করা ও মুখস্থ করানো; একে যথাযথভাবে পালনের লক্ষ্যে এবং এর যাবতীয় বিষয় সংশোধনের উদ্দেশ্যে সম্ভবপর সকল উপায়ে নিজেকে এর পরিচর্যায় অভ্যস্ত করা; এবং সাধ্যানুযায়ী এর পুনরাবৃত্তি ও স্থায়িত্ব বজায় রাখার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করা।
*
এখানে তাফসীর পর্যালোচনার (মুদারাসাতুত তাফসীর) অর্থ হলো:কুরআন সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়কে এটি অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন: তা শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেওয়া, এর ব্যাখ্যা প্রদান করা, এর হিদায়াত ও সূক্ষ্ম অর্থসমূহ উদ্ঘাটন করা এবং এর মাধ্যমে আত্মার পরিশুদ্ধি অর্জন করা
(২)।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে 'তাহলীলী' (বিশ্লেষণধর্মী) শব্দের ধারণা ও তাৎপর্য এবং বিশ্লেষণধর্মী তাফসীরের ধারণার বর্ণনা
ক- আভিধানিক অর্থে 'তাহলীলী' শব্দের ধারণা* আভিধানিক অর্থে বিশ্লেষণ (তাহলীল): কোন কিছুকে বিশ্লেষণ করা মানে হলো একে এর মূল উপাদানে ফিরিয়ে নেওয়া অর্থাৎ একে খণ্ড খণ্ড করা। আর কোন বিষয়কে বিশ্লেষণ করার অর্থ হলো তা অধ্যয়ন করা এবং এর লুকায়িত রহস্যসমূহ উন্মোচন করা
(৩)।
* বিশ্লেষণ (তাহলীল): (বিশেষ্য)
* বহুবচন: তাহলীলাত এবং তাহালীল।
* বাক্যের বিশ্লেষণ: এর অংশসমূহ এবং প্রত্যেকটির ভূমিকা বা কাজ বর্ণনা করা
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুত তাসীলী লিদিরাসাতিত তাফসিরিত তাহলীলী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
* قَدَّمَ تَحْلِيلًا جَيِّدًا لِلْمَوْضُوعِ: تَفْسِيرًا وَشَرْحًا لَهُ
(1).
* حَلَّلَ العقدة: حلها، و حَلَّلَ الشيء: رجعّه إلى عناصره، يقال: حلل الدم وحلل البول، ويقال حلل نفسية فلان: درسها لكشف خباياها
(2).
* (حل): أصل الحل: حل العقدة، ومنه قوله تعالى: {وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِي} [طه: 27]، وحللت: نزلت، أصله من حل الأحمال عند النزول، ثم جرد استعماله للنزول، فقيل: حل حلولًا، وأحله غيره، قال عز وجل: {أَوْ تَحُلُّ قَرِيبًا مِنْ دَارِهِمْ} [الرعد: 31]، {وَأَحَلُّوا قَوْمَهُمْ دَارَ الْبَوَارِ} [إبراهيم: 28]، ويقال: حل الدين: وجب أداؤه
(3).
* (حل): الحاء واللام له فروع كثيرة ومسائلُ، وأصلها كلُّها عندي فَتْح الشيء، لا يشذُّ عنه شيء، يقال: حلَلْتُ العُقدةَ أحُلُّها حَلاًّ، ويقول العرب: "يا عاقِدُ اذكُرْ حَلاًّ"، والحلال: ضِدُّ الحرام، وهو من الأصل الذي ذكرناهُ، كأنه من حَلَلْتُ الشيء، إذا أبحْتَه وأوسعته لأمرٍ فيه
(4).
ب- مفهوم كلمة "تحليلي" في الاصطلاحالتحليل في الاصطلاح: هو ارجاع الجملة الى عناصرها وبيان أجزائها المكونة لها، ووظيفة كل منها، والتعرف على أنواع العلاقات بين مفرداتها، مع بقاء الكلمات نفسها في الجمل أو الجمل الأخرى
(5).
فالتحليلي: "نسبة إلى التحليل، والمراد تفكيك الكلام على الآية لفظةً لفظة، والكلام على ما فيها من معان و إعراب و أحكام و غيرها، ثم الانتقال إلى ما بعدها وهكذا .. ، -وهو- أي أن يعمد المفسر
--------------------------------------------
* তিনি বিষয়টি সম্পর্কে একটি উত্তম বিশ্লেষণ পেশ করেছেন: এর ব্যাখ্যা এবং বিশদ বিবরণ
(1).
* তিনি গিট খুলেছেন: এটি উন্মোচন করা। কোনো কিছু বিশ্লেষণ করা: সেটিকে তার মূল উপাদানসমূহে ফিরিয়ে নেওয়া। বলা হয়: রক্ত বিশ্লেষণ করা এবং প্রস্রাব বিশ্লেষণ করা। আরও বলা হয় অমুকের মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণ করা: এর অন্তর্নিহিত রহস্য উন্মোচনের লক্ষ্যে তা অধ্যয়ন করা
(2).
* (হাল্ল): 'হাল্ল' শব্দের মূল অর্থ হলো গিট খোলা। এরই অংশ হিসেবে আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং আমার জিহ্বার জড়তা (গিট) খুলে দিন} [ত্বহা: ২৭]। আর 'হাল্লালতু' অর্থ: আমি অবতীর্ণ হলাম। এর মূল উৎস হলো কোথাও যাত্রাবিরতির সময় আরোহীর পিঠের বোঝা নামানো বা খোলা, পরবর্তীতে এটি কেবল অবতরণ বা অবস্থানের অর্থে ব্যবহৃত হতে থাকে। ফলে বলা হয়: 'হাল্লা হুলূলান' (সে অবস্থান করল), এবং অন্য কেউ তাকে সেখানে অবস্থান করাল। মহান আল্লাহ বলেন: {অথবা তাদের গৃহের সন্নিকটে তা আপতিত হবে} [রা'দ: ৩১], {এবং তারা তাদের জাতিকে ধ্বংসের নিবাসে নামিয়ে এনেছিল} [ইবরাহীম: ২৮]। আরও বলা হয়: 'হাল্লা আদ-দাইন' অর্থাৎ ঋণ পরিশোধের সময় হয়েছে বা আবশ্যক হয়েছে
(3).
* (হাল্ল): 'হা' এবং 'লাম' বর্ণদ্বয়ের অনেক শাখা এবং মাসআলা রয়েছে। আমার মতে এর সবগুলোর মূল ভিত্তি হলো কোনো কিছু 'উন্মুক্ত করা' বা 'খোলা', এর বাইরে কিছুই নেই। বলা হয়: 'আমি গিট খুলেছি'। আর আরবরা বলে: "হে গিট দানকারী! খোলার কথা স্মরণে রেখো"। আর 'হালাল' হলো 'হারাম'-এর বিপরীত; এটিও উল্লিখিত মূল অর্থ থেকেই এসেছে, যেন তুমি কোনো বিষয়কে মুক্ত করে দিলে যখন তুমি কোনো কারণে সেটিকে বৈধ ও প্রশস্ত করলে
(4).
খ- পারিভাষিক অর্থে "বিশ্লেষণাত্মক" (তাহলীলি) শব্দের ধারণাপরিভাষায় বিশ্লেষণ (তাহলীল) হলো: একটি বাক্যকে তার মূল উপাদানসমূহে ফিরিয়ে নেওয়া এবং এর গঠনকারী অংশসমূহের বিবরণ দেওয়া, তাদের প্রত্যেকের কাজ বর্ণনা করা এবং এর শব্দাবলির পারস্পরিক সম্পর্কের ধরনগুলো চেনা; যেখানে শব্দগুলো উক্ত বাক্য বা অন্য বাক্যে স্বস্থানে বহাল থাকে
(5).
সুতরাং বিশ্লেষণাত্মক (তাহলীলি): "বিশ্লেষণের (তাহলীল) সাথে সম্পর্কিত। আর এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আয়াতের বক্তব্যকে শব্দে শব্দে বিশ্লেষণ করা এবং এর মধ্যকার অর্থ, ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ইরাব), বিধানাবলি ও অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা করা, এরপর পরবর্তী অংশে যাওয়া এবং একইভাবে চলতে থাকা। এর অর্থ হলো মুফাসসির সংকল্প করবেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুত তাসীলী লিদিরাসাতিত তাফসিরিত তাহলীলী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
إلى تفسير الآيات حسب ترتيبها في السورة، ويذكر ما فيها من معاني وأقوال وإعراب وبلاغة وأحكام وغيرها مما يعتني به المفسر"
(1).
ج- مفهوم التفسير التحليلي في الاصطلاحأما التفسير من الناحية اللغوية: فقد مر معنا في الفصل الأول بيان شاف وكاف لتعريف التفسير في اللغة والاصطلاح، وهنا نتعرض للتعريف الاصطلاحي للتفسير التحليلي بعينه.
والتفسير التحليلي:
"هو الذي يتتبع فيه المفسر آيات القرآن-من أوله إلى آخره- يقف عند كل كلمة ولفظة فيفسرها و يقف عند كل آية فيحللها من جميع الوجوه: فيذكر ما يتعلق بالمعاني اللغوية و الجوانب الإعرابية و يبين معاني الجمل و التراكيب و يذكر ما ورد في أسباب النزول و إن وردت آثار و أقوال عن السلف في تفسير الآية ذكرها.
ويعتبر هذا النوع من التفسير السمة البارزة والنوع المهيمن على أغلب التفاسير إلى زماننا، فأشهر التفاسير كلها من هذا النوع، فتفسير ابن جرير و ابن كثير والمحرر الوجيز لابن عطية وجامع الأحكام للقرطبي و أحكام القرآن لابن العربي و غيرها كلها من هذا القبيل، وكل من يؤلف في التفسير فإنه غالبًا ينهج الأسلوب التحليلي"
(2).
وبشيء من الإيضاح والتفصيل يُجَلِّى الباحث الأمر فيقول:
--------------------------------------------
আয়াতসমূহের সূরার ক্রমানুসারে তাফসীর করার দিকে, এবং তাতে থাকা অর্থ, উক্তি, ব্যাকরণ, অলঙ্কারশাস্ত্র, বিধিবিধান এবং একজন মুফাসসির যেসব বিষয়ে গুরুত্ব দেন তা উল্লেখ করেন"
(১).
গ- পারিভাষিক অর্থে বিশ্লেষণধর্মী তাফসীরের ধারণাআর ভাষাগত দিক থেকে তাফসীর প্রসঙ্গে: আমরা প্রথম পরিচ্ছেদে আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে তাফসীরের সংজ্ঞার পর্যাপ্ত ও সন্তোষজনক বর্ণনা প্রদান করেছি। এখানে আমরা বিশেষভাবে বিশ্লেষণধর্মী তাফসীরের (আত-তাফসীর আল-তাহলীলী) পারিভাষিক সংজ্ঞাটি আলোচনা করব।
বিশ্লেষণধর্মী তাফসীর:
"এটি এমন এক পদ্ধতি যেখানে মুফাসসির কুরআনের আয়াতগুলোকে—শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত—অনুসরণ করেন; তিনি প্রতিটি শব্দ ও পদের ব্যাখ্যায় থামেন এবং প্রতিটি আয়াতকে সকল দিক থেকে বিশ্লেষণ করেন: ফলে তিনি এর আভিধানিক অর্থ ও ব্যাকরণগত দিকসমূহ উল্লেখ করেন, বাক্য ও বাক্যরীতির অর্থ বর্ণনা করেন, অবতীর্ণ হওয়ার কারণ (আসবাবে নুযূল) সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তা উল্লেখ করেন এবং আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে সালাফদের থেকে কোনো বর্ণনা বা উক্তি থেকে থাকলে তাও উল্লেখ করেন।
তাফসীরের এই ধরনটি বর্তমান সময় পর্যন্ত অধিকাংশ তাফসীর গ্রন্থের প্রধান বৈশিষ্ট্য এবং প্রভাবশালী পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত। প্রসিদ্ধ সকল তাফসীর গ্রন্থই এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত; যেমন ইবনে জারীর, ইবনে কাসীর, ইবনে আতিয়্যার ‘আল-মুহাররার আল-ওয়াজিজ’, কুরতুবীর ‘জামি’উল আহকাম’, ইবনুল আরাবীর ‘আহকামুল কুরআন’ এবং অন্যান্য গ্রন্থসমূহ সবই এই পর্যায়ের। মূলত তাফসীর বিষয়ে যারা গ্রন্থ রচনা করেন, তারা অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই বিশ্লেষণধর্মী পদ্ধতিই অনুসরণ করেন"
(২).
সামান্য স্পষ্টীকরণ ও বিস্তারিত বর্ণনার মাধ্যমে গবেষক বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-মানহাজুত তাসীলী লিদিরাসাতিত তাফসিরিত তাহলীলী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
لما علمنا أن التحليل مأخوذ من الحل، وأن الحل من أبرز معانيه كما مر معنا: نقض وتفكيك التعقيد، والمعني في بحثنا هنا: أن المفسر يتعرض لتفسير الآيات بطريقة تحليلية ينقض ويفك بها تعقيد المبهم من معاني الآيات، فيحلل ما فيها من غموض الألفاظ والجمل، ويوضح ويُجَلِّي المطلوب المراد منها.
ويشرح ويحلل، مقسِّمًا للآيات إلى وحدات موضوعية واضحة العناوين شارحًا للمعنى العام للآيات، معتنيًا ببيان اللغويات من الإعراب والنواحي البلاغية من تركيب النظم وبلاغته وأوجه إعجازه، مبينًا لغريبها، معربًا لمشكلها، مبينًا لمجملها، مجليًا لمعانيها، متطرقًا لأسباب نزولها.
مبينًا لأقوال المفسرين في الآية، مرجحًا بينها، متعرضًا للمسائل الفقهية ذاكرًا أهم ما في الآيات من أحكام، مبينًا لأقوال العلماء فيها، بلا إفراط ولا تفريط، متعرضًا للقراءات الواردة في الآيات موجهًا لها ومبينًا أثرها على دلالة المعنى الوارد في الآيات، مهتمًا بالمناسبات الظاهرة بين الآيات والسور، كل ذلك حسب ترتيب الآيات في السورة متسلسلًا مع النظم القرآني والسير معه آية آية، وسورة سورة، حسب الترتيب المصحفي، سواء تناول تفسير جملة من الآيات المتتابعات، أو تناول تفسير سورة كاملة بعينها، أو تناول تفسير القرآن الكريم بأكمله.
যেহেতু আমরা জানতে পেরেছি যে ‘তাহলিল’ (বিশ্লেষণ) শব্দটি ‘হাল্ল’ থেকে গৃহীত, এবং এর অন্যতম প্রধান অর্থ—যেমনটি আমাদের সামনে অতিক্রান্ত হয়েছে—হলো জটিলতা নিরসন ও বিশ্লিষ্টকরণ; আর আমাদের এই গবেষণায় এর অর্থ হলো: মুফাসসির বা ব্যাখ্যাকারী বিশ্লেষণাত্মক পদ্ধতিতে আয়াতসমূহের তাফসীর বা ব্যাখ্যা পেশ করবেন, যার মাধ্যমে তিনি আয়াতের অর্থসমূহের অস্পষ্টতার জট খুলবেন ও তা নিরসন করবেন। ফলে তিনি শব্দ ও বাক্যের মধ্যকার অস্পষ্টতা বিশ্লেষণ করবেন এবং তা থেকে যা কাম্য ও উদ্দীষ্ট, তা স্পষ্ট ও উজ্জ্বল করবেন।
তিনি ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করেন আয়াতসমূহকে সুষ্পষ্ট শিরোনামযুক্ত বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক এককে বিভক্ত করে এবং আয়াতসমূহের সাধারণ অর্থ বর্ণনা করেন। তিনি ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ই’রাব) ও ভাষালঙ্কারিক দিকসমূহ—যেমন বিন্যাসের গঠনশৈলী, এর অলঙ্কারিতা ও অলৌকিকত্বের (ই’জায) দিকসমূহ—বর্ণনার প্রতি যত্নবান হন। তিনি এর অপরিচিত শব্দসমূহ স্পষ্ট করেন, এর জটিল ব্যাকরণিক কাঠামোর সমাধান দেন, এর সারসংক্ষেপিত অংশের বর্ণনা দেন, এর অর্থসমূহকে প্রস্ফুটিত করেন এবং এর অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট (শানে নুযূল) নিয়ে আলোচনা করেন।
তিনি আয়াতের ব্যাপারে মুফাসসিরগণের মতামতসমূহ বর্ণনা করেন এবং সেগুলোর মধ্য থেকে উত্তমটি প্রাধান্য দেন। তিনি ফিকহী মাসআলাসমূহ নিয়ে আলোচনা করেন এবং আয়াতসমূহের অন্তর্গত গুরুত্বপূর্ণ বিধানসমূহ উল্লেখ করেন। তিনি এই বিষয়ে আলেমদের অভিমতসমূহ বর্ণনা করেন কোনো প্রকার বাড়াবাড়ি কিংবা ছাড়াছাড়ি ছাড়াই। তিনি আয়াতসমূহের কিরাআতসমূহ (পাঠরীতি) নিয়ে আলোচনা করেন, সেগুলোর দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং আয়াতের অর্থের ওপর এগুলোর প্রভাব স্পষ্ট করেন। তিনি আয়াত ও সূরাগুলোর মধ্যকার প্রকাশ্য সামঞ্জস্যের প্রতি লক্ষ্য রাখেন। এই সব কিছুই সম্পন্ন হয় সূরার আয়াতসমূহের বিন্যাস অনুযায়ী এবং কুরআনের বিন্যাসের সাথে ধারাবাহিকভাবে—আয়াতে আয়াতে এবং সূরায় সূরায়—মুসহাফের ক্রম অনুসারে। চাই তিনি কতগুলো ধারাবাহিক আয়াতের তাফসীর করুন, অথবা নির্দিষ্ট কোনো পূর্ণাঙ্গ সূরার তাফসীর করুন, কিংবা সমগ্র কুরআন কারীমের তাফসীর করুন।