(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফু ফি হাকিকাতিল আওলিয়া-ই ওয়ামা লাহুম মিনাল কারামাতি ওয়াল আলতাফ
(পৃষ্ঠা: -)
الإنصاف في حقيقة الأولياء ومالهم من الكرامات والألطاف القسم: مسائل فقهية
الكتاب: الإنصاف في حقيقة الأولياء ومالهم من الكرامات والألطاف
المؤلف: محمد بن إسماعيل بن صلاح بن محمد الحسني، الكحلاني ثم الصنعاني، أبو إبراهيم، عز الدين، المعروف كأسلافه بالأمير (ت 1182هـ)
المحقق: عبد الرزاق بن عبد المحسن البدر
الناشر: عمادة البحث العلمي بالجامعة الإسلامية، المدينة النبوية، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1421هـ
عدد الصفحات: 143
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ইনসাফ ফি হাক্বিকাতিল আওলিয়া ওয়া মা লাহুম মিনাল কারামাত ওয়াল আলতাফ বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: আল-ইনসাফ ফি হাক্বিকাতিল আওলিয়া ওয়া মা লাহুম মিনাল কারামাত ওয়াল আলতাফ
লেখক: মুহাম্মদ ইবন ইসমাইল ইবন সালাহ ইবন মুহাম্মদ আল-হাসানি, আল-কাহলানি অতঃপর আস-সানআনি, আবু ইবরাহিম, ইজ্জুদ্দীন, স্বীয় পূর্বসূরিদের ন্যায় 'আল-আমির' হিসেবে পরিচিত (মৃত ১১৮২ হি.)
সম্পাদক/গবেষক: আবদুর রাজ্জাক ইবন আবদুল মুহসিন আল-বাদর
প্রকাশক: ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণা বিভাগ, মদিনা নববীয়াহ, সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২১ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফু ফি হাকিকাতিল আওলিয়া-ই ওয়ামা লাহুম মিনাল কারামাতি ওয়াল আলতাফ
(পৃষ্ঠা: ৫)
الإنصاف في حقيقة الأولياء ومالهم من الكرامات والألطاف
تأليف: محمد بن إسماعيل الصنعاني
تحقيق: عبد الرزاق بن عبد المحسن البدر
بسم الله الرحمن الرحيم
ال
مقدمةإنَّ الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهد الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أنَّ محمداً عبده ورسوله، صلَّى الله وسلَّم عليه وعلى آله وصحبه أجمعين.
أما بعد:
فإنَّ من أصول أهل السنة والجماعة الإيمانَ بكرامات الأولياء وإثباتَها والتصديقَ بها واعتقادَ أنَّها حق، وذلك "باتفاق أئمة أهل الإسلام والسنة والجماعة، وقد دلَّ عليها القرآن في غير موضع، والأحاديث الصحيحة، والآثار المتواترة عن الصحابة والتابعين وغيرهم"1
ولذا أودع أهل السنة والجماعة رحمهم الله هذا الأصل العظيم في كتب المعتقد؛ ليُدرس ويُتعلم في ضمن أصول أهل السنة، بل إنَّ من الأئمة من أفرده بالتصنيف كأبي بكر الخلال وابن الأعرابي وابن أبي الدنيا واللالكائي وغيرهم.
وقد انقسم الناس في هذا الأصل إلى أقسام ثلاثة طرفين ووسط2:
--------------------------------------------
আল-ইনসাফ ফি হাক্বিকাতিল আউলিয়া ওয়া মা লাহুম মিনাল কারামাত ওয়াল আলতাফ
গ্রন্থনা: মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আস-সানআনি
সম্পাদনা: আব্দুর রাজ্জাক ইবনে আব্দুল মুহসিন আল-বাদর
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মূলনীতিসমূহের (أصول) অন্তর্ভুক্ত হলো আউলিয়াদের অলৌকিক কারামতের (كرامات) ওপর ঈমান আনা, তা সাব্যস্ত করা, সেগুলোকে সত্য বলে স্বীকার করা এবং বিশ্বাস করা যে তা সত্য। আর এটি "ইসলাম, সুন্নাহ ও জামাআতের ইমামগণের ঐকমত্যের (اتفاق) ভিত্তিতে সাব্যস্ত, যা কুরআন মাজীদের বিভিন্ন স্থানে, বিশুদ্ধ (صحيحة) হাদিসসমূহে এবং সাহাবী, তাবিঈ ও অন্যদের থেকে বর্ণিত নিরবচ্ছিন্ন (متواترة) আছার (آثار) দ্বারা প্রমাণিত।"১
এই কারণেই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত (আল্লাহ তাদের প্রতি রহম করুন) আকিদাহ বিষয়ক গ্রন্থসমূহে এই মহান মূলনীতিটি (أصل) অন্তর্ভুক্ত করেছেন; যাতে আহলে সুন্নাতের মূলনীতিসমূহের (أصول) অধীনে এটি পঠন ও পাঠদান করা হয়। বরং ইমামদের মধ্যে কেউ কেউ এই বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেমন আবু বকর আল-খলাল, ইবনুল আরাবি, ইবনে আবিদ দুনিয়া, আল-লালকাঈ এবং অন্যান্যরা।
এই মূলনীতির ক্ষেত্রে মানুষ তিন ভাগে বিভক্ত হয়েছে: দুই প্রান্তিক দল এবং একটি মধ্যপন্থী দল।২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফু ফি হাকিকাতিল আওলিয়া-ই ওয়ামা লাহুম মিনাল কারামাতি ওয়াল আলতাফ
(পৃষ্ঠা: ৬)
1- فقسم غلوا في شأن الكرامة وأفرطوا وتجاوزوا فيها الحد وهم المتصوفة حيث ادَّعوا باسم الكرامة للأولياء ما هو من خصائص الله وحده؛ كقول بعضهم: إنَّ لله عباداً لو شاءوا من الله ألا يقيم القيامة لما أقامها، وقول بعضهم: إنَّه يعطى في أيّ شيء أراده قول كن فيكون، وقول بعضهم: لا يعزب عن قدرته ممكن كما لا يعزب عن قدرة ربه محال إلى غير ذلك من الضلالات الواضحة والكفريات الظاهرة، التي يدَّعيها هؤلاء باسم الكرامة.
2- قسم جفوا في شأنها وفرَّطوا، فقالوا بإنكار الكرامة، ونفوا وقوعها وهم المعتزلة ومن تأثر بهم وزعموا أنَّ الخوارق لو جاز ظهورها من الأولياء لالتبس النبي بغيره إذ فرق ما بينهما عندهم إنَّما هو المعجزة، وبنوا على ذلك أنَّه لا يجوز ظهور خارق إلا لنبيّ.
3- قسم أهل وسط واعتدال، وهم الخيار العدول؛ لتوسطهم بين الطرفين المذمومين، حيث ارتفعوا عن تقصير المفرطين، ولم يلحقوا بغلو المعتدين، وهم أهل السنة والجماعة، فأثبتوا الكرامات للأولياء على ضوء النصوص ووَفْقِ الأدلةِ دون غلو أو جفاء أو إفراط أو تفريط. وفي هذا الموضوع المهمّ كتب الإمام الصنعاني رحمه الله هذه الرسالة التي بين أيدينا والتي أسماها (الإنصاف في حقيقة الأولياء وما لهم من الكرامات والألطاف) صنفها رحمه الله ردّاً على عصري له غلا في شأن الأولياء وكرامتهم، وادَّعى أنَّ لهم ما يريدون، وأنهم يقولون للشيء كن فيكون، وأنَّهم يخرجون من القبور لقضاء الحاجات، وأنَّهم في قبورهم يأكلون ويشربون وينكحون، إلى أمور أخرى عجيبة تمجُّها الأسماع، وتقذفها الأفهام، وينكرها من لديه بالشرع أدنى اطلاعة أو إلمام.
1- এক দল কারামাতের (অলৌকিকতা) বিষয়ে চরমপন্থা (غلو) অবলম্বন করেছে এবং এ ক্ষেত্রে সীমা লঙ্ঘন ও অতিরঞ্জন করেছে; তারা হলো সুফি সম্প্রদায়। তারা কারামাতের নামে ওলিদের জন্য এমন সব বিষয়ের দাবি করেছে যা একমাত্র আল্লাহর একক বৈশিষ্ট্য। যেমন তাদের কেউ কেউ বলে: "আল্লাহর এমন কিছু বান্দা রয়েছেন যারা যদি আল্লাহর কাছে চান যে তিনি কিয়ামত কায়েম করবেন না, তবে তিনি তা কায়েম করবেন না।" আবার কেউ বলে: "তিনি যা চান তাতেই তাকে 'কুন ফা ইয়াকুন' (হও, অমনি হয়ে যায়) বলার ক্ষমতা প্রদান করা হয়।" তাদের কেউ কেউ আরও বলে: "কোনো সম্ভাব্য বিষয়ই তাঁর ক্ষমতার বাইরে নয়, যেমনটি তাঁর রবের ক্ষমতার বাইরে কোনো অসম্ভব বিষয় নেই।" এছাড়া আরও অনেক স্পষ্ট বিভ্রান্তি ও প্রকাশ্য কুফরি বিষয় রয়েছে, যা এই লোকেরা কারামাতের নামে দাবি করে থাকে।
2- এক দল এ বিষয়ে কঠোরতা ও অবহেলা প্রদর্শন করেছে। তারা কারামাতকে অস্বীকার করেছে এবং এর সংঘটিত হওয়াকে নাকচ করে দিয়েছে; তারা হলো মুতাজিলা সম্প্রদায় এবং যারা তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। তারা দাবি করেছে যে, যদি ওলিদের মাধ্যমে অলৌকিক কিছু প্রকাশ পাওয়া জায়েজ হয়, তবে নবীদের সাথে অন্যদের পার্থক্য করা অস্পষ্ট হয়ে পড়বে। কারণ তাদের মতে নবী ও অন্যদের মধ্যে পার্থক্যের একমাত্র মানদণ্ড হলো মুজিজা। এর ওপর ভিত্তি করেই তারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, নবী ছাড়া আর কারও মাধ্যমে অলৌকিক কিছু প্রকাশ পাওয়া বৈধ নয়।
3- এক দল মধ্যপন্থা ও ভারসাম্যের অধিকারী, আর তারা হলেন শ্রেষ্ঠ ও ন্যায়পরায়ণ (عدول); কেননা তারা নিন্দিত দুই প্রান্তিকতার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থান করেন। তারা একদিকে অবহেলার ত্রুটি থেকে ঊর্ধ্বে, অন্যদিকে সীমালঙ্ঘনকারীদের চরমপন্থায় (غلو) লিপ্ত নন। তারা হলেন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত। তারা দলিল-প্রমাণের আলোকে এবং অহি-র ভাষ্য (نصوص) অনুযায়ী ওলিদের জন্য কারামাত সাব্যস্ত করেন; কোনো প্রকার চরমপন্থা (غلو), অনীহা, সীমা লঙ্ঘন বা অবহেলা ছাড়াই। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ইমাম সানআনি (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের সামনে বিদ্যমান এই রিসালাটি (পুস্তিকা) লিখেছেন, যার নাম তিনি দিয়েছেন ‘আল-ইনসাফ ফি হাকিকাতিল আওলিয়া ওয়া মা লাহুম মিনাল কারামাত ওয়াল আলতাফ’। তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এটি তাঁর সমসাময়িক এক ব্যক্তির প্রতিবাদে রচনা করেছেন, যে ব্যক্তি ওলিদের মর্যাদা ও কারামাতের ক্ষেত্রে চরমপন্থা (غلو) অবলম্বন করেছিল এবং দাবি করেছিল যে তারা যা চায় তা-ই হয়, তারা কোনো কিছুকে ‘হও’ বললে তা হয়ে যায়, তারা প্রয়োজন পূরণের জন্য কবর থেকে বের হয়ে আসে এবং তারা কবরের মধ্যে পানাহার করে ও বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করে। এছাড়া আরও অনেক অদ্ভুত বিষয় সে দাবি করেছিল যা শ্রবণেন্দ্রিয় প্রত্যাখ্যান করে, বিবেক ছুড়ে ফেলে এবং শরয়ি জ্ঞান সম্পর্কে যার সামান্যতম ধারণা রয়েছে সেও তা অস্বীকার করে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফু ফি হাকিকাতিল আওলিয়া-ই ওয়ামা লাহুম মিনাল কারামাতি ওয়াল আলতাফ
(পৃষ্ঠা: ৭)
وقد بيَّن الصنعاني رحمه الله في ردّه هذا ما في كلام هذا المبطل من تناقض، وأوضح ما فيه من غلو في الأولياء المزعومين [من أوتاد وأنجاب وأقطاب وأغواث] وما خالف فيه بهذه البدعة من أدلة الكتاب والسنة.
وإن كان رحمه الله قد جنح في كتابه هذا إلى قول أبي إسحاق الإسفرايني ومن قبله المعتزلة من أنَّ الكرامة إنما تكون في غير الأمر الخارق للعادة، وهو قول مخالف للحق والصواب، وسيأتي الكلام عليه ومناقشته وبيان بطلانه في الدراسة الآتية عن موضوع الكتاب1.
ولم يكن هذا مانعاً - فيما أرى - من الإفادة من مادة الكتاب العلمية الجيدة في الرد على المتصوفة وأضرابهم ممن غلوا في الأولياء، مع التنبيه في هامشه إلى ما يحتاج إلى تنبيه.
وقد كنت بادئ الأمر متردّداً في تحقيق ونشر هذا الكتاب نظراً لما فيه من أخطاء ومخالفات ليست باليسيرة غير أنَّه دفعني لذلك أمران:
الأول: اشتماله على ردود جيدة ومناقشات مفيدة مع المتصوفة الذين غلوا في الأولياء وكراماتهم غلوّاً شديداً.
الثاني: خشية أن تقوم بعض دور النشر بطبعه على علاته وأخطائه دون تنبيهٍ على ما فيه أو كشفٍ لخوافيه، اعتماداً على مكانة مؤلفه.
هذا وقد جعلت بين يدي الكتاب دراسة موجزة للمؤلف وأخرى للكتاب نبَّهت فيها على جوانب مهمة في الموضوع، راجياً من الله الكريم
--------------------------------------------
ইমাম সানআনী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর এই খণ্ডনমূলক রচনায় এই বাতিলপন্থী (المبطل) ব্যক্তির বক্তব্যের মাঝে বিদ্যমান বৈপরীত্যসমূহ ফুটিয়ে তুলেছেন। তথাকথিত অলিগণের [আওতাদ, আনজাব, আকতাব ও আগওয়াস] ব্যাপারে তার যে চরমপন্থা এবং এই উদ্ভাবন (بدعة)-এর মাধ্যমে সে কুরআন ও সুন্নাহর দলিলের যে চরম বিরোধিতা করেছে, তা তিনি সুস্পষ্ট করেছেন।
যদিও তিনি (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর এই কিতাবে আবু ইসহাক আল-ইসফারায়িনী এবং তাঁর পূর্বসূরি মুতাজিলাদের এই মতের দিকে ঝুঁকেছেন যে, অলৌকিকত্ব (كرامة) কেবল সাধারণ অভ্যাসের বহির্ভূত নয় এমন বিষয়েই হতে পারে; যা সত্য ও সঠিক অবস্থানের পরিপন্থী। কিতাবটির বিষয়বস্তু সম্পর্কিত পরবর্তী গবেষণায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা, পর্যালোচনা এবং এর অসারতা বর্ণনা করা হবে।১
আমার দৃষ্টিতে, সূফি ও তাদের সমগোত্রীয় যারা অলিগণের ব্যাপারে চরম অতিরঞ্জন করেছে, তাদের খণ্ডনে এই কিতাবের চমৎকার ইলমী উপাদানসমূহ থেকে উপকৃত হওয়ার ক্ষেত্রে এটি কোনো অন্তরায় নয়; তবে এর টীকায় প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর প্রতি সতর্কতা প্রদান করা হয়েছে।
শুরুতে আমি এই কিতাবটির পাণ্ডুলিপি সম্পাদন (تحقيق) ও প্রকাশের ব্যাপারে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম, কারণ এতে বেশ কিছু ভুল ও বিচ্যুতি রয়েছে যা নগণ্য নয়। তবে দুটি বিষয় আমাকে এই কাজে উদ্ধুদ্ধ করেছে:
প্রথমত: এতে সূফিদের সাথে চমৎকার কিছু খণ্ডন ও উপকারী আলোচনা রয়েছে, যারা অলিগণ এবং তাঁদের অলৌকিকত্ব (كرامة)-এর বিষয়ে চরম বাড়াবাড়ি করেছে।
দ্বিতীয়ত: এই আশঙ্কা যে, কোনো কোনো প্রকাশনী হয়তো কিতাবটির লেখকের মর্যাদার ওপর নির্ভর করে এতে বিদ্যমান দোষ-ত্রুটি বা এর অন্তর্নিহিত অসংগতিগুলো স্পষ্ট না করেই তা মুদ্রণ করে ফেলতে পারে।
এ প্রেক্ষাপটে, আমি কিতাবটির শুরুতে লেখকের একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি এবং কিতাবটি নিয়ে একটি গবেষণামূলক আলোচনা পেশ করেছি, যেখানে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে; মহান আল্লাহর নিকট কবুলিয়াতের তাওফীক কামনা করছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফু ফি হাকিকাতিল আওলিয়া-ই ওয়ামা লাহুম মিনাল কারামাতি ওয়াল আলতাফ
(পৃষ্ঠা: ১১)
القبول والتوفيق، كما أرجوه سبحانه أن يغفر لمؤلفه ومحققه وقارئه ووالدينا وجميع المسلمين والمسلمات والمؤمنين والمؤمنات، الأحياء منهم والأموات، إنَّه سميع الدعاء، وأهل الرجاء، وهو حسبنا ونعم الوكيل.
কবুলিয়াত বা গ্রহণযোগ্যতা (القبول) এবং তাওফিক; তেমনিভাবে আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন এর লেখক, গবেষক, পাঠক, আমাদের পিতা-মাতা এবং সকল মুসলিম ও মুমিন নর-নারীকে—চাই তাঁরা জীবিত হোক বা মৃত—ক্ষমা করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা শ্রবণকারী এবং আশার স্থল। আর তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না চমৎকার কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফু ফি হাকিকাতিল আওলিয়া-ই ওয়ামা লাহুম মিনাল কারামাতি ওয়াল আলতাফ
(পৃষ্ঠা: ১২)
دراسة موجزة عن المؤلف
1- نسبه:
هو محمد بن إسماعيل بن صلاح بن محمد بن علي بن حفظ الدين ابن شرف الدين بن صلاح بن الحسن بن المهدي بن محمد بن إدريس ابن علي بن محمد بن أحمد بن يحيى بن حمزة بن سليمان بن حمزة بن الحسن ابن عبد الرحمن بن يحيى بن عبد الله بن الحسين بن القاسم بن إبراهيم بن إسماعيل بن إبراهيم بن الحسن بن الحسن بن علي بن أبي طالب رضي الله عنه.الكحلاني ثم الصنعاني المعروف بالأمير، ويكنَّى بأبي إبراهيم.
2- مولده:
ولد ليلة الجمعة نصف جمادى الآخرة سنة 1099? بكحلان، ثم انتقل مع والده إلى مدينة صنعاء سنة 1107?، وأخذ عن علمائها.
3- شيوخه:
أخذ الصنعاني العلم عن شيوخ كثيرين منهم:
1- زيد بن محمد بن الحسن.
2- صلاح بن الحسين الأخفش.
3- عبد الله بن علي الوزير.
4- علي بن محمد العنسي.
লেখকের সংক্ষিপ্ত জীবনী
১- তাঁর বংশপরিচয়:
তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন সালাহ বিন মুহাম্মদ বিন আলী বিন হিফজুদ্দিন বিন শরাফুদ্দিন বিন সালাহ বিন হাসান বিন মাহদী বিন মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ইয়াহইয়া বিন হামজাহ বিন সুলাইমান বিন হামজাহ বিন হাসান বিন আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া বিন আবদুল্লাহ বিন হুসাইন বিন কাসিম বিন ইব্রাহিম বিন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম বিন হাসান বিন হাসান বিন আলী বিন আবু তালিব রাযিয়াল্লাহু আনহু। তিনি কাহলানি এবং পরবর্তীতে সানআনি হিসেবে পরিচিত। তিনি 'আল-আমীর' উপাধিতে প্রসিদ্ধ এবং তাঁর উপনাম (কুনিয়াত) হলো আবু ইব্রাহিম।
২- তাঁর জন্ম:
তিনি ১০৯৯ হিজরি সালের জমাদিউল আখিরা মাসের মাঝামাঝি সময়ে জুমার রাতে কাহলানে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১১০৭ হিজরি সালে তিনি তাঁর পিতার সাথে সানআ শহরে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানকার উলামায়ে কেরামের নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেন।
৩- তাঁর শিক্ষকগণ:
আস-সানআনি অসংখ্য শিক্ষকের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন:
১- যাইদ বিন মুহাম্মদ বিন হাসান।
২- সালাহ বিন হুসাইন আল-আখফাশ।
৩- আবদুল্লাহ বিন আলী আল-ওয়াজির।
৪- আলী বিন মুহাম্মদ আল-আনসি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফু ফি হাকিকাতিল আওলিয়া-ই ওয়ামা লাহুম মিনাল কারামাতি ওয়াল আলতাফ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
4- رحلاته:
رحل إلى مكة والمدينة وقرأ الحديث على العلماء فيهما.
5- مؤلفاته:
له رحمه الله من التصانيف ما يربو على المائتين، منها:
1- سبل السلام شرح بلوغ المرام.
2- منحة الغفار على ضوء النهار.
3- العدة شرح العمدة.
4- التنوير شرح الجامع الصغير.
5- قصب السكر نظم نخبة الفكر.
6- تطهير الاعتقاد عن أدران الإلحاد.
7- إيقاظ الفكرة لمراجعة الفطرة.
وقد اعتنى غير واحد بجمع مؤلفات الصنعاني رحمه الله، منهم الدكتور عبد الله شاكر الجنيدي في تحقيقه لكتاب "إيقاظ الفكرة
… " وبلغ عدة ما ذكر (229) مؤلفاً.
6- تلاميذه:
تلقى العلم على الصنعاني رحمه الله جمعٌ غفيرٌ من طلاب العلم منهم:
1- عبد القادر بن أحمد.
2- أحمد بن محمد قاطن.
3- أحمد بن صالح بن أبي الرجال.
4- তাঁর সফরসমূহ:
তিনি মক্কা ও মদিনায় সফর করেন এবং সেখানে বিদ্যমান আলেমদের নিকট হাদিস পাঠ করেন।
5- তাঁর রচনাবলি:
আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন, তাঁর দুই শতাধিক গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
1- সুবুলুস সালাম শরহ বুলুগুল মারাম।
2- মিনহাতুল গাফফার আলা দাউইন নাহার।
3- আল-উদ্দাহ শরহুল উমদাহ।
4- আত-তানভীর শরহুল জামি'উস সাগির।
5- কাসাবুস সুক্কার নাজমুন নুখবাতিল ফিকার।
6- তাতহীরুল ই'তিকাদ আন আদরানিল ইলহাদ।
7- ইকাজুল ফিকরাহ লি-মুরাজাআতিল ফিতরাহ।
একাধিক বিজ্ঞজন সানাআনী (রহিমাহুল্লাহ)-এর রচনাবলি সংকলনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন, তাঁদের মধ্যে ডক্টর আবদুল্লাহ শাকির আল-জুনায়েদী তাঁর 'ইকাজুল ফিকরাহ…' গ্রন্থের গবেষণামূলক সম্পাদনায় উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা ২২৯টিতে পৌঁছেছে।
6- তাঁর ছাত্রবৃন্দ:
সানাআনী (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট এক বিশাল সংখ্যক জ্ঞান অন্বেষণকারী ইলম অর্জন করেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন:
1- আব্দুল কাদির বিন আহমদ।
2- আহমদ বিন মুহাম্মদ কাতিন।
3- আহমদ বিন সালেহ বিন আবি আল-রিজাল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফু ফি হাকিকাতিল আওলিয়া-ই ওয়ামা লাহুম মিনাল কারামাতি ওয়াল আলতাফ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
النص المحققبسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي له الملك والملكوت، الحي الجبار الذي لا يموت، الذي لم يتخذ صاحبةً ولا ولداً {إِن كُلُّ مَن فِي السَّمَاواتِ وَالأَرْضِ إِلَاّ آتِي الرَّحْمَنِ عَبْداً} 1، فليس للعبد تصرفٌ مع مولاه، ولا له تقدمٌ بين يديه، ولا شفاعةٌ، ولا غيرها إلا بإذنه ورضاه، والصلاة والسلام على من تركنا على الواضحة البيضاء ليلها كنهارها، وأشرقت شمس نبوته فامتلأت الأرض بأنوارها.
أخرج ابن ماجه عن جبير بن نفير عن أبي الدرداء قال: "خرج علينا رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم ونحن نتذاكر الفقر ونتخوَّفُه، فقال: آلفقر تخافون؟ والذي نفسي بيده لتُصبنَّ عليكم الدنيا صبّاً، حتى قال: لقد تركتكم على البيضاء ليلها ونهارها سواء" 2، [قال أبو
--------------------------------------------
সম্পাদিত পাঠ্যপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর অধিকারে রাজত্ব ও সার্বভৌমত্ব; সেই চিরঞ্জীব মহাপরাক্রমশালী সত্তা যাঁর মৃত্যু নেই, যিনি কোনো সঙ্গিনী বা সন্তান গ্রহণ করেননি {আসমান ও যমীনে এমন কেউ নেই যে দয়াময় আল্লাহর কাছে বান্দা হিসেবে উপস্থিত হবে না} ১। তাঁর মাওলার (প্রভুর) বিপরীতে বান্দার কোনো ইখতিয়ার নেই, তাঁর সামনে অগ্রবর্তী হওয়ার ক্ষমতা নেই, এবং তাঁর অনুমতি ও সন্তুষ্টি ব্যতিরেকে কোনো সুপারিশ বা অন্য কিছুর সুযোগ নেই। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সেই সত্তার প্রতি, যিনি আমাদের এক শুভ্র ও উজ্জ্বল আদর্শের ওপর রেখে গেছেন, যার রাত দিনের মতোই দীপ্তিময়; এবং যাঁর নবুওয়াতের সূর্য এমনভাবে উদ্ভাসিত হয়েছে যার আলোতে পৃথিবী পরিপূর্ণ হয়েছে।
ইবনে মাজাহ জুবায়ের ইবনে নুফাইর থেকে এবং তিনি আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে বের হয়ে আসলেন যখন আমরা দারিদ্র্য নিয়ে আলোচনা করছিলাম এবং তা নিয়ে শঙ্কিত ছিলাম। তিনি বললেন: তোমরা কি দারিদ্র্যের ভয় করছ? সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের ওপর দুনিয়াকে ঢেলে দেওয়া হবে, এমনকি তিনি বললেন: আমি তোমাদের এক শুভ্র উজ্জ্বল পথের ওপর রেখে যাচ্ছি যার রাত ও দিন সমান" ২, [আবু...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফু ফি হাকিকাতিল আওলিয়া-ই ওয়ামা লাহুম মিনাল কারামাতি ওয়াল আলতাফ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
الدرداء: صدق والله رسول الله، لقد تركنا على مثل البيضاء ليلها ونهارها سواء] 1. وعلى آله الذين بهديه يهدون، وبه يقتدون.
واعلم أنَّه صلى الله عليه وآله وسلم قد حذر أمته من الابتداع لما أعلمه الله من أنَّ أمته تأتي من الابتداع2 بأجناس وأنواع، فقال صلى الله عليه وآله وسلم: "شر الأمور محدثاتها، وكلُّ محدثة بدعة، وكلُّ بدعة ضلالة" 3، وقال: "خير الأمور كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد وشر الأمور محدثاتها، وكلُّ بدعة ضلالة" 4، وقال: "لا يقبلُ الله لصاحب بدعة صوماً، ولا صلاةً ولا صدقة ولا حجاً ولا عمرةً، ولا جهاداً، ولا صرفاً، ولا عدلاً، يخرج من الإسلام كما تخرج الشَّعرةُ من العجين" 5، أخرج هذه الأحاديث ابن ماجه وغيُره.
قلت: ووجه عظمة الابتداع في الدين أنَّه كالرد على قول الله {اليَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ
--------------------------------------------
আবু দারদা (রা.): আল্লাহর শপথ, রাসুলুল্লাহ (সা.) সত্য বলেছেন। তিনি আমাদের এক উজ্জ্বল শুভ্র দ্বীনের ওপর রেখে গেছেন, যার রাত ও দিন সমান উজ্জ্বল। 1. এবং তাঁর পরিবারের ওপর, যারা তাঁর হেদায়েতের মাধ্যমে পথ লাভ করেন এবং তাঁর অনুসরণ করেন।
জেনে রাখুন যে, তিনি (সা.) তাঁর উম্মতকে দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবিত বিষয় (ابتداع) থেকে সতর্ক করেছেন। কারণ আল্লাহ তাঁকে অবহিত করেছিলেন যে, তাঁর উম্মত বিভিন্ন প্রকার ও রঙের নব উদ্ভাবিত বিষয়ের (ابتداع) অবতারণা করবে। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "সবচেয়ে মন্দ কাজ হলো দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবিত বিষয়গুলো, আর প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত (بدعة), এবং প্রতিটি বিদআতই (بدعة) পথভ্রষ্টতা।" 3 এবং তিনি আরও বলেন: "সর্বোত্তম বিষয় হলো আল্লাহর কিতাব, আর সর্বোত্তম আদর্শ হলো মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শ। আর নিকৃষ্টতম কাজ হলো নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ এবং প্রতিটি বিদআতই (بدعة) পথভ্রষ্টতা।" 4 এবং তিনি আরও বলেন: "আল্লাহ কোনো বিদআতকারীর (صاحب بدعة) রোজা, নামাজ, সদকা, হজ, ওমরাহ, জিহাদ এবং কোনো ফরজ বা নফল ইবাদত কবুল করবেন না। সে ইসলাম থেকে এমনভাবে বের হয়ে যায়, যেভাবে আটা থেকে চুল বের হয়ে আসে।" 5 ইবনে মাজা এবং অন্যান্যরা এই হাদিসগুলো বর্ণনা করেছেন।
আমি (গ্রন্থকার) বলছি: দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবন (ابتداع) করার ভয়াবহতার দিকটি হলো, এটি আল্লাহর এই বাণীর ওপর আপত্তি করার নামান্তর—"আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করলাম এবং তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পন্ন করলাম এবং তোমাদের জন্য...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফু ফি হাকিকাতিল আওলিয়া-ই ওয়ামা লাহুম মিনাল কারামাতি ওয়াল আলতাফ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
الإِسْلامَ دِيناً} 1 فالابتداع بزيادة2 في الدين أو نقصان منه، فلهذا عظم شأن البدعة في الدين، وخرج3 بها صاحبها من الدين كما تخرج الشعرة من العجين.
وبعد:
فإنَّي وقفتُ على رسالة جواب سؤال عن شأن الأولياء الأحياء منهم والأموات، وما هو لهم من الأحوال والكرامات، فقضى الجواب فيها أنَّ للأولياء ما يريدون، وأنَّهم ممن يقول لأيِّ شيء أرادوه كن فيكون، وأنَّهم من القبور لقضاء الحوائج يخرجون، وأنَّهم لمواقف جهاد الكفار يحضرون، وأنَّ العلماء منهم بعد الموت للعلوم يدرسون، وأنَّ الخضر أخذ عن أبي حنيفة علوم الشريعة بعد أنْ ضمه الرُّخام، ولازم قبره خمسة عشر من الأعوام4، وأنَّهم ينكحون في القبور، ويأكلون، ويشربون، ويطعمون، ولهم ما يشتهون، ومن هذا الكلام الذي تمجه الأسماعُ، وتقذفه الأفهامُ.
فتعين إيقاظُ أهل الغفلة [597] والمنام من القاصرين والعوام ببيان حقيقة الولي، وما ورد في صفته من الآثار، وبيانه من الكتاب والسنة والأخبار، ثم بيان رد ما أورده المجيب من الهذيان، وأنَّه جعل الأولياء من جملة الأصنام والأوثان، ووصفهم بأنَّهم كالإله تقدس وتعالى يقولون للشيء كن فكان.
--------------------------------------------
...ইসলামকে ধর্ম হিসেবে} ১ সুতরাং দ্বীনের মধ্যে কোনো কিছু বৃদ্ধি কিংবা হ্রাসের মাধ্যমে নব-উদ্ভাবন (ابتداع) করা; একারণেই দ্বীনের মধ্যে বিদআতের (بدعة) বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর হয়েছে এবং এর মাধ্যমে এর হোতা দ্বীন থেকে এমনভাবে বেরিয়ে যায় যেমন আটার খামির থেকে চুল বেরিয়ে আসে।
অতঃপর:
আমি এমন একটি পত্র অবগত হলাম যা জীবিত ও মৃত অলিদের (أولياء) অবস্থা এবং তাদের অবস্থা ও অলৌকিকত্ব (كرامات) সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরস্বরূপ। সেখানে উত্তরে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে যে, অলিদের (أولياء) জন্য তাই রয়েছে যা তারা ইচ্ছা করেন, এবং তারা এমন স্তরের যারা কোনো কিছুর উদ্দেশ্য করলে বলেন 'হও' আর তা হয়ে যায় (كن فيكون), এবং তারা প্রয়োজন পূরণের লক্ষ্যে কবর থেকে বের হন, কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদের ময়দানে উপস্থিত হন, তাদের মধ্যকার আলেমগণ মৃত্যুর পর ইলম শিক্ষা দেন, এবং খিজির (আলাইহিস সালাম) মার্বেল পাথরে সমাহিত হওয়ার পর আবু হানিফা (রহ.)-এর নিকট থেকে শরীয়তের ইলম গ্রহণ করেছেন এবং পনের বছর তাঁর কবরের সাথে অবস্থান করেছেন। আরও দাবি করা হয়েছে যে, তারা কবরের মধ্যে বিবাহ করেন, পানাহার করেন এবং যা কামনা করেন তা-ই পান; এজাতীয় কথাবার্তা যা শ্রবণেন্দ্রিয় প্রত্যাখ্যান করে এবং বিবেক-বুদ্ধি ছুড়ে ফেলে দেয়।
তাই সাধারণ মানুষদের (عوام) মধ্য থেকে ত্রুটিপূর্ণ ও অসতর্ক ব্যক্তিদের [৫৯৭] জাগ্রত করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে অলি-র (ولي) প্রকৃত স্বরূপ বর্ণনার মাধ্যমে, এবং তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে যেসব বর্ণনা (آثار) বর্ণিত হয়েছে তা বিবৃত করার মাধ্যমে, এবং কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ ও সংবাদসমূহের (أخبار) মাধ্যমে তার স্পষ্ট বর্ণনার দ্বারা। এরপর উত্তরদাতার উপস্থাপিত প্রলাপসমূহের খণ্ডন করা আবশ্যক, কেননা তিনি অলিদের (أولياء) প্রতিমা (أصنام) ও মূর্তির (أوثان) পর্যায়ভুক্ত করেছেন এবং তাদের এমনভাবে বিশেষিত করেছেন যেন তারা ইলাহ-র ন্যায়—যিনি পবিত্র ও মহান—কোনো কিছুকে 'হও' বলেন আর তা হয়ে যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফু ফি হাকিকাতিল আওলিয়া-ই ওয়ামা লাহুম মিনাল কারামাতি ওয়াল আলতাফ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
فرأيته يتعين إبانةُ الصواب، وبيان حقيقة ما افتراه من الأوتاد والأنجاب والأقطاب، وما خالف فيه بهذه البدعة من أدلة السنة والكتاب، أرجو ببيان ذلك الإثابةَ من الرب الوهاب، والهداية لمن هو من أولي الألباب، وأمَّا من غلب عليه الابتداع، وخالف طريقة من هم للكتاب والسنة أتباع، فإنَّه يسد عمَّا نلقيه الأسماع، والواجب علينا1 هو البلاغ المبين، وأمَّا الهداية والتوفيق فمن رب العالمين.
فنقول:
قوله: "نعم أولياء الله، وهم العارفون به حسبما يمكن، المواظبون على الطاعات، والمعرضون عن الانهماك في اللذات والشهوات".
أقول: هذا رسم2 لحقيقة3 الأولياء، وهذا اللفظ نقله من شرح المحلي على جمع الجوامع4، إلا أنَّه فاته5 قوله: "المجتنبون للمعاصي" وهو قيد لا بد منه اتفاقاً، فكأنَّه وقع من سقط القلم.
والانهماك يقال: همكه في الأمر فانهمك لَجَّجَهُ فلج، كما في القاموس6، وفسر اللجاجة بالخصومة7. ولا يظهر مناسبتها لما هنا، وهي عبارة المحلي.
--------------------------------------------
তাই আমি সত্যকে প্রকাশ করা এবং তিনি আউতাদ, আনজাব ও আকতাব (সুফি পদমর্যাদা) সম্পর্কে যে মিথ্যাচার করেছেন তার প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন করা এবং এই উদ্ভাবনের (بدعة) মাধ্যমে তিনি কুরআন ও সুন্নাহর দলিলের যে বিরোধিতা করেছেন তা বর্ণনা করা অপরিহার্য বলে মনে করেছি। আমি এর বর্ণনার মাধ্যমে মহান দাতা রবের নিকট থেকে সওয়াব এবং যারা বোধসম্পন্ন তাদের জন্য হিদায়াত কামনা করছি। আর যার ওপর নতুন প্রথা উদ্ভাবন (بدعة) প্রবল হয়ে গিয়েছে এবং যারা কুরআন ও সুন্নাহর অনুসারী তাদের পথের বিরোধিতা করেছে, সে তো আমরা যা পেশ করব তা থেকে নিজ কর্ণ বধির করে রাখবে। আমাদের দায়িত্ব কেবল সুস্পষ্ট প্রচার, আর হিদায়াত ও তাওফিক তো বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকেই।
আমরা বলি:
তাঁর বক্তব্য: "হ্যাঁ, আল্লাহর ওলি (أولياء), তাঁরা হলেন সামর্থ্য অনুযায়ী আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনকারী, আনুগত্যের কাজে সদা তৎপর এবং ভোগবিলাস ও প্রবৃত্তিতে মগ্ন হওয়া থেকে বিমুখ।"
আমি বলি: এটি ওলিদের (أولياء) প্রকৃত স্বরূপের একটি সংজ্ঞা (رسم)। এই শব্দগুলো তিনি 'জামউল জাওয়ামি' গ্রন্থের ওপর 'শরহে মহল্লি' থেকে উদ্ধৃত করেছেন। তবে তাঁর কাছ থেকে "পাপ বর্জনকারী" কথাটি বাদ পড়েছে, যা সর্বসম্মতিক্রমে একটি অপরিহার্য শর্ত; সম্ভবত এটি তাঁর কলমের অসতর্কতার কারণে ঘটে যাওয়া বিচ্যুতি।
আর 'ইনহিমাক' (মগ্ন হওয়া) সম্পর্কে বলা হয়: 'হামাকাহু ফিল আমরি ফানহামাকা', অর্থাৎ সে তাকে কোনো কাজে লিপ্ত করেছে এবং সে লিপ্ত হয়েছে। যেমনটি 'কামুস' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি 'লাজাজাহ' শব্দটিকে বিবাদ দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন। কিন্তু এখানে সেই অর্থের প্রাসঙ্গিকতা প্রতীয়মান হয় না, অথচ এটিই আল-মহল্লির বক্তব্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফু ফি হাকিকাতিল আওলিয়া-ই ওয়ামা লাহুম মিনাল কারামাতি ওয়াল আলতাফ
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
ثم هذا التفسير للولي هو الذي يفسرون به العدل، فإنَّه قال ابن حجر في شرح النخبة إنَّ العدل: "من له مَلَكَةٌ تحمِلُهُ على ملازمة التقوى والمروءة، والمراد بالتقوى: اجتناب الأعمال السيئة من شرك أو فسق أو بدعة"1 انتهى بلفظه، وقد فاته أيضاً فيه قيد لا بد منه في تفسير التقوى، وهو الإتيان بالواجبات، فإنَّه لا يكفيه فيه اجتناب السيئة2، ولكنَّه كأنَّه لما قال: "من شرك أو فسق أو بدعة" علم أنَّه لو لم يأت بالواجبات ما صدق عليه اجتناب السيئات، وأيُّ: سيئة أعظم من ترك الواجبات.
وإذا عرفت هذا علمت أنَّ الولي عند العلماء هو العدل؛ لتلاقي التفسيرين، بل تعريف العدل أضيق؛ لأنَّه أخذ فيه الملكة، وأخذ فيه عدم التلبس ببدعة، وقد أوضحنا ما في تفسيرهم العدالة بما ذكر في مؤلفاتنا3 كثمرات النظر في علم الأثر4 وغيرها.
--------------------------------------------
অতঃপর ওলীর এই ব্যাখ্যাটিই হলো তা, যার মাধ্যমে তাঁরা 'ন্যায়পরায়ণ' (العدل) এর ব্যাখ্যা প্রদান করেন। ইবনে হাজার তাঁর 'শারহুন নুখবাহ' গ্রন্থে বলেছেন যে, ন্যায়পরায়ণ (العدل) হলো: "এমন এক বিশেষ গুণের (ملكة) অধিকারী ব্যক্তি, যা তাকে তাকওয়া (التقوى) ও শিষ্টাচার (المروءة) সর্বদা আঁকড়ে ধরতে উদ্বুদ্ধ করে। আর তাকওয়া (التقوى) বলতে উদ্দেশ্য হলো: শিরক, পাপাচার (فسق) কিংবা বিদআত (بدعة) এর মতো মন্দ কাজসমূহ পরিহার করা।"১ তাঁর বক্তব্য হুবহু শেষ হলো। তবে তাকওয়ার ব্যাখ্যায় তিনি এমন একটি শর্ত বাদ দিয়েছেন যা সেখানে থাকা অপরিহার্য, আর তা হলো ওয়াজিব বা আবশ্যকীয় কার্যাবলি সম্পাদন করা। কারণ কেবল মন্দ কাজ বর্জন করাই তাকওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।২ কিন্তু সম্ভবত তিনি যখন "শিরক, পাপাচার (فسق) কিংবা বিদআত (بدعة)" শব্দগুলো উল্লেখ করেছেন, তখন তিনি এটি অবগত ছিলেন যে, যদি কেউ ওয়াজিবসমূহ পালন না করে, তবে তার ক্ষেত্রে মন্দ কাজ বর্জন করার বিষয়টি সত্য হবে না; কারণ ওয়াজিবসমূহ পরিত্যাগ করার চেয়ে বড় মন্দ কাজ আর কী হতে পারে?
আর আপনি যখন এটি জানলেন, তখন বুঝতে পারলেন যে আলেমগণের নিকট ওলী হলেন সেই ব্যক্তি যিনি 'ন্যায়পরায়ণ' (العدل); কারণ উভয় সংজ্ঞার সারমর্ম এক। বরং ন্যায়পরায়ণ (العدل) এর সংজ্ঞাটি আরও সুনির্দিষ্ট; কারণ এতে বিশেষ গুণ (الملكة) অর্জন করা এবং বিদআতে (بدعة) লিপ্ত না হওয়ার শর্তারোপ করা হয়েছে। আমরা আমাদের গ্রন্থসমূহ যেমন 'সামারাতুন নজর ফি ইলমিল আসার'৩ ইত্যাদিতে ন্যায়পরায়ণতা (العدالة) সম্পর্কে তাঁদের সংজ্ঞার বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরেছি।৪
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফু ফি হাকিকাতিল আওলিয়া-ই ওয়ামা লাহুম মিনাল কারামাতি ওয়াল আলতাফ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
وأقول: اعلم أنَّ الله تعالى قد عرفنا بأوليائه في كتابه العزيز فقال: {أَلَا إِنَّ أَوْلِيَآءَ الله لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ} 1 ثم فسرهم2 تعالى بقوله: {الذِينَءَامَنُوا
… } الآية، فإنَّها مستأنفة استئنافاً بيانياً كأنَّه قيل: من هم؟ فقال: {الذِينَءَامَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ} .
يدل على ذلك3 ما أخرجه ابن جرير وابن أبي حاتم عن ابن زيد: "في قوله {أَلَا إِنَّ أَوْلِيَآءَ الله لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ} قيل: من هم يارب؟ قال: {الذِينَءَامَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ} "4، وفسر النبي صلى الله عليه وآله وسلم الإيمان في حديث جبريل الذي أخرجه مسلم من حديث عمر حين جاء يسأله عن الإيمان، فقال صلى الله عليه وآله وسلم: "أن تؤمن بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر وتؤمن بالقدر خيره وشره" 5 والحديث مأخوذ من قوله تعالى {ءَامَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ كُلٌّءَامَنَ بِالله وَمَلائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِن رُّسُلِهِ} 6 ولم يذكر في الآية إلا أربعة أركان
--------------------------------------------
আমি বলছি: জেনে রাখুন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর সম্মানিত কিতাবে আমাদের তাঁর বন্ধুদের (أولياء) সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: {জেনে রেখো, আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না} ১। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে তাঁদের ব্যাখ্যা ২ দিয়েছেন: {যারা ঈমান এনেছে...} আয়াত। এটি একটি ব্যাখ্যামূলক প্রারম্ভ (ইস্তিনফ বায়ানি), যেন প্রশ্ন করা হয়েছে: তারা কারা? অতঃপর তিনি বললেন: {যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করত}।
এর প্রমাণ বহন করে ৩ যা ইবনে জারির এবং ইবনে আবি হাতিম ইবনে জায়েদ থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন: "{জেনে রেখো, আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না} এই বাণী সম্পর্কে বলা হয়েছে: হে রব, তারা কারা? তিনি বললেন: {যারা ঈমান এনেছে এবং তাকওয়া অবলম্বন করত}" ৪। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) জিবরাইলের হাদিসে ঈমানের ব্যাখ্যা দিয়েছেন, যা মুসলিম ওমর (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন যখন তিনি তাঁর কাছে ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে এসেছিলেন। তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তা হলো এই যে, তুমি বিশ্বাস স্থাপন করবে আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি, তাঁর রাসুলগণের প্রতি, পরকালের প্রতি এবং ভাগ্যের ভালো ও মন্দের প্রতি" ৫। আর এই হাদিসটি আল্লাহ তাআলার এই বাণী থেকে গৃহীত: {রাসুল তাঁর প্রতি তাঁর রবের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান এনেছেন এবং মুমিনগণও। তারা সবাই আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহের প্রতি এবং তাঁর রাসুলদের প্রতি ঈমান এনেছে। আমরা তাঁর রাসুলদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করি না} ৬। তবে এই আয়াতে মাত্র চারটি রুকন (أركان) উল্লেখ করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফু ফি হাকিকাতিল আওলিয়া-ই ওয়ামা লাহুম মিনাল কারামাতি ওয়াল আলতাফ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
والحديث ستة1؛ لأنَّ من آمن بكتب الله ورسله [598] فقد آمن باليوم الآخر، وبالقدر؛ أي: سَبْقُ تقدير كلِّ كائن، وإنَّما الحديثُ فَصَّلَ والآيةُ أَجملتْ بعض الإجمال، لأنَّه تعالى قال لرسوله: {لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} 2 فبين بزيادة التفصيل لأركان الإيمان، وقد ذكر تعالى المؤمنون حقاً بقوله: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الذِينَ إِذَا ذُكِرَ الله وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْءَايَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَاناً وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ الذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَواةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ أُولَئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقّاً} 3 ففسرهم بأنَّهم مَنِ اتصف بهذه الست الصفات، وأما المتقون فإنَّ الله تعالى بين مَنْ هم وفسرهم في صدر سورة البقرة حيث قال: {هُدَى لِلْمُتَّقِينَ} كأنَّه قيل من هم؟ قال: {الذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ ويُقِيمُونَ الصَّلَواةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ وَالذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ وَبِالآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ} 4 فوصفهم بأنَّهم من اتصف بهذه الصفات الست، وهي صفاتٌ مركبة من أجزاء الإسلام ومن أجزاء الإيمان، كما أنَّ آية الأنفال حيث ذكر الله تعالى صفات المؤمنين حقاً مركبة من أجزاء النوعين، وذلك أنَّه صلى الله عليه وآله وسلم قال في
--------------------------------------------
এবং হাদিস অনুসারে [ঈমানের রুকনসমূহ] হলো ছয়টি১; কারণ যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবসমূহ এবং তাঁর রাসুলগণের ওপর ঈমান এনেছে [৫৯৮], সে মূলত পরকাল এবং তাকদিরের (القدر) ওপর ঈমান এনেছে; অর্থাৎ: প্রত্যেক অস্তিত্বমান বস্তুর পূর্ব-নির্ধারণ। মূলত হাদিস বিস্তারিত বর্ণনা করেছে এবং কুরআনের আয়াত কিছুটা সংক্ষিপ্তভাবে ব্যক্ত করেছে, কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসুলের প্রতি বলেছেন: {যাতে আপনি মানুষের জন্য তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে}২। ফলে তিনি ঈমানের রুকনসমূহের (أركان الإيمان) অধিকতর বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। আর আল্লাহ তাআলা প্রকৃত মুমিনদের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন: {মুমিন তো তারাই, যাদের অন্তরসমূহ প্রকম্পিত হয় যখন আল্লাহকে স্মরণ করা হয় এবং যখন তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে দেয় এবং তারা তাদের রবের ওপরই ভরসা করে। যারা সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদের যে রিযিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে; তারাই হলো প্রকৃত মুমিন}৩। অতঃপর তিনি তাদের এমন ব্যক্তিবর্গ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন যারা এই ছয়টি গুণের অধিকারী। আর মুত্তাকিদের পরিচয় আল্লাহ তাআলা সূরা বাকারার শুরুতেই বর্ণনা করেছেন এবং ব্যাখ্যা দিয়েছেন যেখানে তিনি বলেছেন: {মুত্তাকিদের জন্য পথপ্রদর্শক}। যেন জিজ্ঞাসা করা হলো, তারা কারা? তিনি বললেন: {যারা অদৃশ্যে বিশ্বাস করে, সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদের যে রিযিক দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে। আর যারা আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে এবং আপনার পূর্বে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে তাতে ঈমান আনে এবং তারা পরকাল সম্পর্কে নিশ্চিত বিশ্বাস রাখে}৪। সুতরাং তিনি তাদের এমনভাবে বিশেষিত করেছেন যে তারা এই ছয়টি গুণের অধিকারী। আর এগুলো হলো ইসলামের অংশ এবং ঈমানের অংশের সমন্বয়ে গঠিত গুণাবলি; ঠিক যেভাবে সূরা আল-আনফালের আয়াতে আল্লাহ তাআলা প্রকৃত মুমিনদের যে গুণাবলি উল্লেখ করেছেন, তাও এই উভয় প্রকারের সমন্বয়ে গঠিত। আর তা এ কারণে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) ...-এ বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফু ফি হাকিকাতিল আওলিয়া-ই ওয়ামা লাহুম মিনাল কারামাতি ওয়াল আলতাফ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
حديث جبريل الذي تقدمت الإشارةُ إليه1، وقد قال له: ما الإسلام يا محمد؟ قال: "أن تشهد أن لا إله إلا الله وأنَّ محمداً رسول الله، وتقيم الصلاة، وتؤتي الزكاة وتصوم رمضان، وتحج البيت إن استطعت إليه سبيلاً" الحديث. فجعل إقامة الصلاة وإيتاء الزكاة من أجزاء الإسلام.
فالآيتان أشارتا بذكر بعض أجزاء الإسلام وهما إقامة الصلاة وإيتاء الزكاة إلى اعتبار الإسلام بجميع أفراده، إلا أنَّهما خصتا أعظم أجزائهما البدنية والمالية، وتعلم الصوم والحج بالسنة التي وردت بياناً للقرآن، فإنَّ بيانه بتفصيل مجمله، وتقييد مطلقه، وتفسير مبهمه وغير ذلك، وأشارتا بالإيمان وزيادته إلى اعتبار الإيمان بأجزائه، فأفادتا أنَّه لايكون العبد مؤمناً إلا باستكماله لخصال الإسلام والإيمان، وأشارت آيةُ البقرة إلى أنَّ المتقين هم الجامعون بين الإسلام بقوله: {الذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَواةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ} 2 والإيمان بقوله: {وَالذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ} الآية.
وإذا عرفت هذا فقد بين القرآن أولياء الله بياناً شافياً أنَّهم الذين جمعوا بين الإيمان والتقوى، ثم بين تعالى الإيمان وأجزاءه، والتقوى وأجزاءها.
--------------------------------------------
জিবরিলের হাদিস যেটির প্রতি ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করা হয়েছে1, তাতে তিনি তাঁকে (রাসূলুল্লাহ ﷺ) জিজ্ঞেস করেছিলেন: হে মুহাম্মদ, ইসলাম কী? তিনি বললেন: "তুমি এই সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল, আর নামাজ কায়েম করবে, জাকাত প্রদান করবে, রমজানে রোজা রাখবে এবং সামর্থ্য থাকলে বায়তুল্লাহর হজ করবে" —হাদিস। এখানে তিনি নামাজ কায়েম করা ও জাকাত প্রদান করাকে ইসলামের অংশ হিসেবে গণ্য করেছেন।
উক্ত আয়াতদ্বয় ইসলামের কিছু অংশ তথা নামাজ কায়েম ও জাকাত প্রদানের কথা উল্লেখ করার মাধ্যমে ইসলামের সকল বিষয়ের অন্তর্ভুক্তির প্রতি ইঙ্গিত করেছে। তবে আয়াত দুটি ইসলামের শারীরিক ও আর্থিক ইবাদতের শ্রেষ্ঠ অংশ দুটিকে বিশেষভাবে নির্দিষ্ট করেছে। আর রোজা ও হজ সম্পর্কে সুন্নাহর মাধ্যমে জানা যায় যা কুরআনের ব্যাখ্যাকল্পে অবতীর্ণ হয়েছে। কারণ সুন্নাহর কাজ হলো কুরআনের সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিষয়ের বিস্তারিত বিবরণ দান, নিঃশর্ত (مطلق) বিধানকে শর্তযুক্ত (تقييد) করা এবং অস্পষ্ট (مبهم) বিষয়ের ব্যাখ্যা প্রদান করা ইত্যাদি। আয়াতদ্বয় ঈমান ও তার বৃদ্ধির বর্ণনার মাধ্যমে ঈমানের সকল অংশ বিবেচনার দিকে ইঙ্গিত করেছে। ফলে এটি প্রতিভাত হয় যে, কোনো বান্দা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারে না, যতক্ষণ না সে ইসলাম ও ঈমানের বৈশিষ্ট্যসমূহ পূর্ণভাবে সম্পন্ন করে। সূরা বাকারার আয়াতটি ইঙ্গিত করেছে যে, মুত্তাকি তারাই যারা ইসলামের সমন্বয়কারী, মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: {যারা অদৃশ্যের প্রতি ঈমান আনে, নামাজ কায়েম করে এবং আমি তাদেরকে যে রিজিক দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে} 2 এবং ঈমানেরও (সমন্বয়কারী), আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: {এবং যারা আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে ঈমান আনে}—আয়াতের শেষ পর্যন্ত।
যখন আপনি এটি জানতে পারলেন, তখন স্পষ্ট হলো যে কুরআন আল্লাহর বন্ধুদের (আউলিয়া) পরিচয় অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে যে, তারা হলেন সেই সকল ব্যক্তি যারা ঈমান ও তাকওয়ার সমন্বয় ঘটিয়েছেন। এরপর মহান আল্লাহ ঈমান ও তার অংশসমূহ এবং তাকওয়া ও তার অংশসমূহ বর্ণনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফু ফি হাকিকাতিল আওলিয়া-ই ওয়ামা লাহুম মিনাল কারামাতি ওয়াল আলতাফ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
ثم بعد تقرير هذا فلا ريب أن رتبة الإيمان تتفاوت1 إلى زيادة ونقصان حتى ينتهي الإيمان إلى مقدار مثقال الخردلة، كما وردت به الأحاديث النبوية الثابتة الصحيحة2، وقد قرر في مجاله، كما أنَّ رتبة3 التقوى تتفاوت.
فقد أخرج أحمد في الزهد وابن أبي حاتم وأبو الشيخ عن وهب قال: "قال الحواريون يا عيسى بن مريم من أولياء الله الذين لا خوف عليهم ولا هم يحزنون؟ قال عيسى عليه السلام: الذين نظروا إلى باطن الدنيا حين نظر الناس إلى ظاهرها، والذين نظروا إلى آجل الدنيا حين نظر الناس إلى عاجلها، فأماتوا فيها ما يخشون أن يميتهم، وتركوا ما علموا أنَّه سيتركهم، فصار استكثارهم منها استقلالاً، وذكرهم إياها فواتاً4، وفرحهم بما أصابوا منها حزنا، وما عارضهم من نائلها رفضوه، وما عارضهم من رفعتها بغير الحق وضعوه، خَلِقَت الدنيا عندهم فليسوا يجددونها، وخربت بينهم فليسوا يعمرونها [599] وماتت في صدورهم فليسوا يحيونها، يهدمونها فيبنون بها آخرتهم، ويبيعونها ويشترون بها ما يبقى لهم، رفضوها فكانوا برفضها الفرحين، وباعوها فكانوا ببيعها المربحين، ونظروا إلى أهلها صرعى، وقد خلت منهم المثلات، فأحيوا ذكر الموت، وأماتوا ذكر الحياة، يحبون الله تعالى، ويستضيئون بنوره، ويضيئون به، لهم خبر
--------------------------------------------
অতঃপর এটি সাব্যস্ত হওয়ার পর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ঈমানের স্তর বৃদ্ধি ও হ্রাসের ক্ষেত্রে কম-বেশি হয়ে থাকে১, এমনকি ঈমান সরিষার দানা পরিমাণ হওয়া পর্যন্ত পৌঁছে, যেমনটি সুপ্রতিষ্ঠিত (ثابت) ও সহিহ (صحيح)২ নববী হাদিসসমূহে বর্ণিত হয়েছে। এটি তার স্বস্থানে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে, যেমনিভাবে তাকওয়ার স্তরও৩ ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।
আহমাদ 'আজ-জুহদ' গ্রন্থে, ইবনে আবি হাতিম এবং আবুশ শাইখ ওহাব থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج), তিনি বলেন: "হাওয়ারীগণ বললেন: হে ঈসা ইবনে মারইয়াম! আল্লাহর সেই ওলিগণ কারা, যাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না? ঈসা আলাইহিস সালাম বললেন: তারা হলেন ঐ সকল ব্যক্তি যারা দুনিয়ার অভ্যন্তরীণ রূপের দিকে তাকিয়েছে যখন মানুষ তার বাহ্যিক চাকচিক্যের দিকে তাকাত; এবং যারা দুনিয়ার পরিণামের দিকে তাকিয়েছে যখন মানুষ তার বর্তমান অবস্থার দিকে নিবদ্ধ ছিল। ফলে তারা দুনিয়ার মধ্যে এমন বিষয়গুলোকে মৃতবৎ করে দিয়েছে যা তাদের মেরে ফেলার আশঙ্কা করত, আর তারা ঐসব বস্তু বর্জন করেছে যা তারা জানত যে শীঘ্রই তাদের ছেড়ে চলে যাবে। ফলে দুনিয়ার প্রাচুর্য অর্জন তাদের নিকট তুচ্ছতায় পরিণত হয়েছে, এর চর্চা তাদের নিকট বিফলতা হিসেবে গণ্য হয়েছে৪ এবং দুনিয়া থেকে যা তারা লাভ করেছে তার আনন্দ বিষাদে রূপান্তরিত হয়েছে। দুনিয়ার কোনো ভোগ্যবস্তু তাদের সামনে আসলে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এর যে উচ্চ মর্যাদা অন্যায়ভাবে তাদের সামনে পেশ করা হয়েছে তারা তা অবনমিত করেছে। তাদের নিকট দুনিয়া জীর্ণ হয়ে গেছে, তাই তারা একে নতুন করে গড়ে তোলে না; তাদের মাঝে দুনিয়া ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, তাই তারা একে আবাদ করে না [৫৯৯]; এবং তাদের অন্তরে দুনিয়া মরে গেছে, তাই তারা একে পুনর্জীবিত করে না। তারা দুনিয়াকে ধ্বংস করে তদ্দ্বারা তাদের পরকাল নির্মাণ করে এবং একে বিক্রয় করে তারা নিজেদের জন্য চিরস্থায়ী সম্পদ ক্রয় করে। তারা দুনিয়াকে বর্জন করেছে এবং এই বর্জনেই তারা আনন্দিত হয়েছে, আর তারা একে বিক্রয় করেছে এবং এই বিক্রয়েই তারা লাভবান হয়েছে। তারা দুনিয়াদারদের ধরাশায়ী দেখল, যাদের ওপর দিয়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অতিবাহিত হয়েছে। ফলে তারা মৃত্যুর স্মরণকে পুনর্জীবিত করেছে এবং পার্থিব জীবনের মোহকে বিলীন করেছে। তারা আল্লাহ তাআলাকে ভালোবাসেন, তাঁর নূর দ্বারা আলোকপ্রাপ্ত হন এবং তাঁর মাধ্যমেই অন্যদের পথ দেখান; তাদের নিকট সংবাদ রয়েছে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফু ফি হাকিকাতিল আওলিয়া-ই ওয়ামা লাহুম মিনাল কারামাতি ওয়াল আলতাফ
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
عجيب، وعندهم خبر عجيب، بهم قام الكتاب وبه قاموا، وبهم نطق وبه نطقوا، وبهم علم الكتاب وبه علموا، ليسوا يرون نائلاً مع ما نالوا، ولا أماني دون ما يرجون، ولا خوفاً دون ما يحذرون"1 انتهى.
وأخرج الطبراني وأبو الشيخ وابن مردويه والضياء في المختارة عن ابن عباس مرفوعاً وموقوفاً: {أَلَا إِنَّ أَوْلِيَآءَ الله لَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ} [قال: "هم:] الذين إذا رؤوا يذكر الله لرؤيتهم"2.
وأخرج أحمد والحكيم الترمذي عن عمرو بن الجموح أنَّه سمع النبي صلى الله عليه وآله وسلم يقول: "لا يستحق العبد صريح حق الإيمان حتى يحب لله ويبغض لله، فإذا أحب لله وأبغض لله فقد استحق الولاية من الله، وإنَّ أوليائي من عبادي وأحبائي من خلقي الذين يذكرون بذكري وأذكر بذكرهم" 3.
--------------------------------------------
চমকপ্রদ, আর তাদের কাছে রয়েছে এক বিস্ময়কর সংবাদ। তাদের মাধ্যমেই কিতাব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং কিতাবের মাধ্যমেই তারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাদের মাধ্যমেই কিতাব কথা বলেছে এবং কিতাবের মাধ্যমেই তারা কথা বলেছে। তাদের মাধ্যমেই কিতাব জানা গিয়েছে এবং কিতাবের মাধ্যমেই তারা জেনেছে। তারা যা লাভ করেছে তার বিনিময়ে অন্য কিছু লাভ করাকে তারা প্রাপ্তি মনে করে না, এবং তারা যা প্রত্যাশা করে তার নিম্নে অন্য কোনো আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে না, আর তারা যে বিষয়ে সতর্ক থাকে তা ব্যতীত অন্য কোনো ভীতি তাদের নেই।"১ সমাপ্ত।
তাবারানি, আবুশ শাইখ, ইবনে মারদুওয়াইহ এবং আল-দিয়া আল-মুখতারা গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে মারফু (مرفوعاً) এবং মাওকুফ (موقوفاً) হিসেবে বর্ণনা করেছেন: {জেনে রেখো! নিশ্চয়ই আল্লাহর বন্ধুদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না} [তিনি বলেছেন: "তারা হলো:] সেই সব লোক যাদের দেখলে আল্লাহর কথা স্মরণ হয়।"২।
আহমাদ এবং আল-হাকিম আল-তিরমিজি আমর বিন আল-জামুহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "কোনো বান্দা ঈমানের প্রকৃত হকের অধিকারী হতে পারে না যতক্ষণ না সে আল্লাহর জন্য ভালোবাসে এবং আল্লাহর জন্য ঘৃণা করে। যখন সে আল্লাহর জন্য ভালোবাসবে এবং আল্লাহর জন্য ঘৃণা করবে, তখন সে আল্লাহর পক্ষ থেকে অভিভাবকত্ব বা নৈকট্য লাভের যোগ্য হবে। নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের মধ্য থেকে আমার সেই বন্ধুরা এবং আমার সৃষ্টি জগতের মধ্য থেকে সেই প্রিয়জনেরা হলো তারা, যাদের স্মরণের মাধ্যমে আমাকে স্মরণ করা হয় এবং আমার স্মরণের মাধ্যমে তাদের স্মরণ করা হয়।" ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফু ফি হাকিকাতিল আওলিয়া-ই ওয়ামা লাহুম মিনাল কারামাতি ওয়াল আলতাফ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
وهذا المعنى كثيرٌ1 في الأحاديث كثرة واسعة. والمراد من قوله: "يحب لله" أي: يحب الطاعة؛ لأنَّ الله يحبها، ويبغض المعصية؛ لأنَّ الله يبغضها.
قال تعالى: {وَلكِنَّ الله حَبَّبَ إِلَيْكُمُ الإِيمَانَ وَزَيَّنَهُ فِي قُلُوبِكُمْ وَكَرَّهَ إِلَيْكُمُ الْكُفْرَ وَالْفُسُوقَ وَالْعِصْيَانَ أُولَئِكَ هُمُ الرَّاشِدُونَ} 2، وفي الحديث: "المؤمن من سرته حسنته، وساءته سيئته" 3، وكذلك يبغض العاصي لعصيانه ويحب التقي لتقواه، فهذا هو الحب لله والبغض له.
وقوله: "الذين يذكرون بذكري" يحتمل المراد الذين يذكرون4 بسبب ذكرهم إياي، أي: أنَّ ذكرهم [لله] 5 تعالى كان سبباً لذكره تعالى لهم، من باب قوله تعالى: {فَاذْكُرُونِي أَذْكُرْكُمْ} 6، وقوله صلى الله عليه وآله وسلم حاكياً عن الله: "إنَّ العبد إذا ذكره في ملأ
--------------------------------------------
এবং এই অর্থটি হাদিসসমূহে অত্যন্ত ব্যাপকভাবে বিদ্যমান। তাঁর বাণী: "আল্লাহর জন্য ভালোবাসা" এর অর্থ হলো: আনুগত্যকে ভালোবাসা; কারণ আল্লাহ তা পছন্দ করেন, আর নাফরমানিকে ঘৃণা করা; কারণ আল্লাহ তা অপছন্দ করেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন: {কিন্তু আল্লাহ তোমাদের নিকট ঈমানকে প্রিয় করে দিয়েছেন এবং তা তোমাদের অন্তরে সুশোভিত করেছেন। আর তোমাদের নিকট কুফরি, পাপাচার ও অবাধ্যতাকে অপছন্দনীয় করে দিয়েছেন; তারাই তো সঠিক পথপ্রাপ্ত} ২, হাদিসে এসেছে: "মুমিন সেই ব্যক্তি যাকে তার নেক আমল আনন্দিত করে এবং তার গুনাহ তাকে ব্যথিত করে" ৩। তদ্রূপ, কোনো পাপাচারীকে তার পাপাচারের কারণে ঘৃণা করা এবং কোনো মুত্তাকিকে তার তাকওয়ার কারণে ভালোবাসা; এটিই হলো আল্লাহর জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্য ঘৃণা।
আর তাঁর বাণী: "যারা আমার স্মরণের মাধ্যমে স্মরিত হয়", এর সম্ভাব্য অর্থ হলো ওই সব ব্যক্তি যারা আমার জিকির করার কারণে স্মরণযোগ্য ৪ হয়। অর্থাৎ, তাদের মহান আল্লাহকে স্মরণ [করা] ৫ আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাদের স্মরণের কারণ হয়েছে, যেমনটি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত: {সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমি তোমাদের স্মরণ করব} ৬। এবং নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বর্ণনা করে বলেছেন: "বান্দা যখন কোনো মজলিশে তাঁকে স্মরণ করে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফু ফি হাকিকাতিল আওলিয়া-ই ওয়ামা লাহুম মিনাল কারামাতি ওয়াল আলতাফ
(পৃষ্ঠা: ৫০)
ذكره الله تعالى في ملأ خير من ملئه، وإن ذكره في نفسه ذكره تعالى في نفسه"1.
ويحتمل أن يراد الذين يذكرون بسبب ذكري إياهم، أي أنَّه تعالى إذا ذكرهم في الملأ الأعلى ذكروا الله فبسبب ذكر الله لهم ذكروا، وأذكرهم؛ أي: بسبب ذكرهم إياي إذا ذكروني2، فهم يذكِّرون العباد بالله وبنعمه ونقمه، فيذكرون الله عند ذلك.
ويحتمل أن المراد يذكرون الله بالأذكار الشريفة من التسبيح والتقديس والتهليل فيذكر الله العباد بذلك بسبب تذكرهم إياي3.
إذا عرفت هذا عرفت أولياء الله، وأنَّ صفاتهم الخوف من الله، والإقبال على ما يرضاه، والإعراض عن كلِّ ما سواه، ويعرف بطلان ما يأتي من تفسير القوم للأقطاب والأوتاد والأنجاب بأنَّهم الذين لهم التصرف في الأكوان، وأنَّهم الذين يقولون للشئ كن فكان، وغير ذلك من الافتراء والبهتان والهذيان مما لا يقبله من في قلبه مثقال ذرة من إيمان، ممن جعل إمامه القرآن وكلام سيد ولد عدنان صلى الله عليه وآله وسلم ما اختلف الملوان.
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা তাকে তার অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ এক সমাবেশে স্মরণ করেন; আর যদি সে তাঁকে নিজের মনে স্মরণ করে, তবে মহান আল্লাহও তাকে তাঁর নিজের মধ্যে স্মরণ করেন।"১
এর দ্বারা এমন ব্যক্তিদেরও উদ্দেশ্য করা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যাদেরকে আমার স্মরণের কারণে স্মরণ করা হয়। অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা যখন তাদেরকে উচ্চতর সমাবেশে স্মরণ করেন, তখন তারা আল্লাহকে স্মরণ করেন; ফলে আল্লাহ কর্তৃক তাদেরকে স্মরণ করার কারণেই তারা জিকির করেন এবং আমি তাদের স্মরণ করি; অর্থাৎ: তারা যখন আমাকে স্মরণ করে তখন তাদের সেই স্মরণের কারণে আমি তাদের স্মরণ করি।২
তারা বান্দাদেরকে আল্লাহ এবং তাঁর নিয়ামত ও শাস্তি সম্পর্কে স্মরণ করিয়ে দেন, ফলে সেই সময়ে তারা আল্লাহকে স্মরণ করে।
এটিও সম্ভব যে, এর মাধ্যমে এমন ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে যারা আল্লাহকে বিভিন্ন মহিমান্বিত জিকির যেমন—তাসবিহ, তাকদিস ও তাহলিলের মাধ্যমে স্মরণ করে; ফলে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের নিকট সেই জিকিরের কথা উল্লেখ করেন কারণ তারা আমাকে স্মরণ করেছে।৩
আপনি যখন এটি অবগত হলেন, তখন আল্লাহর বন্ধুদের (আউলিয়া) সম্পর্কেও জানতে পারলেন যে, তাদের বৈশিষ্ট্য হলো আল্লাহভীতি, তাঁর সন্তুষ্টির দিকে অগ্রসর হওয়া এবং তিনি ব্যতীত অন্য সব কিছু থেকে বিমুখ থাকা। এখান থেকেই একদল লোকের 'আকতাব', 'আওতাদ' ও 'আনজাব' সম্পর্কে করা ব্যাখ্যার অসারতা স্পষ্ট হয়—যেখানে তারা দাবি করে যে, এসব ব্যক্তি মহাবিশ্বের কার্যাবলি পরিচালনা করেন এবং তারা কোনো কিছুকে 'হও' বললে তা হয়ে যায়। এছাড়াও এটি এমন এক মিথ্যাচার, অপবাদ ও প্রলাপ যা এমন কোনো ব্যক্তি গ্রহণ করতে পারে না যার হৃদয়ে অণু পরিমাণ ঈমান রয়েছে এবং যে কুরআন ও আদনান বংশের শ্রেষ্ঠ সন্তান সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীকে নিজের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছে, যতদিন দিন ও রাত্রির আবর্তন বিদ্যমান থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফু ফি হাকিকাতিল আওলিয়া-ই ওয়ামা লাহুম মিনাল কারামাতি ওয়াল আলতাফ
(পৃষ্ঠা: ৫১)
قوله: "موجودون [600] إلى يوم القيامة؛ لعموم قوله صلى الله عليه وآله وسلم: "لا تزال طائفة من أمتي ظاهرين على الحق حتى تقوم الساعة".
أقول: هو خبر قوله: أولياء الله؛ أي: أولياؤه تعالى1 موجودون إلى يوم القيامة واستدل بحديث: "لا تزال طائفة
… " الحديث، أخرجه أئمة الحديث.
فأخرج الشيخان البخاري ومسلم عن المغيرة أنَّه صلى الله عليه وآله وسلم قال: "لا تزال طائفة من أمتي ظاهرين حتى يأتيهم أمر الله وهم ظاهرون" 2.
وأخرج مسلم والترمذي وابن ماجه عن ثوبان عنه صلى الله عليه وآله وسلم أنَّه قال: "لا تزال طائفة من أمتي ظاهرين على الحق لا يضرهم من خذلهم حتى يأتي أمر الله وهم كذلك" 3.
وأخرج مسلم عن عقبة4 بن عامر أنَّه صلى الله عليه وآله وسلم قال: "لا تزال عصابة من أمتي يقاتلون على أمر الله قاهرين لعدوهم لا يضرهم من خالفهم حتى تأتيهم الساعة وهم كذلك" 5.
وأخرج أحمد وأبوداود وابن ماجه والحاكم عن عمران بن حصين أنَّه صلى الله عليه وآله وسلم قال: "لا تزال طائفة من
--------------------------------------------
তাঁর উক্তি: "কিয়ামত দিবস পর্যন্ত বিদ্যমান [৬০০] থাকবেন; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম এর বাণীর ব্যাপকতার কারণে: 'আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে, যতক্ষণ না কিয়ামত সংঘটিত হয়'।"
আমি বলছি: এটি তাঁর 'আল্লাহর ওলীগণ' উক্তির খবর (বিধেয়); অর্থাৎ: মহান আল্লাহর ওলীগণ১ কিয়ামত পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবেন। তিনি দলিল হিসেবে এই হাদিসটি পেশ করেছেন: "সর্বদা একটি দল
… ", হাদিসটি হাদিস বিশারদগণ বর্ণনা করেছেন।
শাইখাইন বুখারি ও মুসলিম মুগিরাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা বিজয়ী থাকবে, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ তাদের কাছে আসে আর তারা বিজয়ী অবস্থাতেই থাকবে" ২।
মুসলিম, তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ সাওবান (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে। যারা তাদের সাহায্য বর্জন করবে, তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসে আর তারা এই অবস্থাতেই থাকবে" ৩।
মুসলিম উকবাহ৪ ইবনে আমির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা আল্লাহর নির্দেশের ওপর লড়াই করতে থাকবে এবং তারা তাদের শত্রুদের ওপর পরাক্রমশালী হবে। যারা তাদের বিরোধিতা করবে, তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না কিয়ামত তাদের নিকট উপস্থিত হয় আর তারা এই অবস্থাতেই থাকবে" ৫।
আহমদ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ ও হাকেম ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সর্বদা একটি দল থেকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফু ফি হাকিকাতিল আওলিয়া-ই ওয়ামা লাহুম মিনাল কারামাতি ওয়াল আলতাফ
(পৃষ্ঠা: ৫২)
أمتي يقاتلون على الحق ظاهرين على من ناوأهم حتى يقاتل آخرهم الدجال" 1.
وأخرج مسلم عن جابر بن سمرة عنه صلى الله عليه وآله وسلم أنَّه قال: "لن يبرح هذا الدين قائماً يقاتل عنه عصابة من المسلمين حتى تقوم الساعة" 2.
وأخرج أبو داود الطيالسي وعبد بن حميد عن زيد بن أرقم عنه صلى الله عليه وآله وسلم أنَّه قال: "لا تزال طائفة من أمتي يقاتلون على الحق حتى يأتي أمر الله" 3.
وأخرج أبو داود أيضاً والحاكم عن عمر مرفوعاً أنَّه قال: "لا تزال طائفة من أمتي على الحق منصورين حتى يأتي أمر الله" 4.
وأخرج الطبراني في الكبير عن جابر بن سمرة عنه صلى الله عليه وآله وسلم: "لا يبرح هذا الدين قائماً يقاتل عليه 5 عصابة من المسلمين حتى تقوم الساعة" 6.
وأخرج مسلم وأحمد عن جابر عنه صلى الله عليه وآله وسلم أنَّه قال: "لا تزال طائفة من أمتي يقاتلون على الحق ظاهرين إلى يوم القيامة
--------------------------------------------
"আমার উম্মতের একটি দল সত্যের ওপর লড়াই করতে থাকবে এবং যারা তাদের বিরোধিতা করবে তাদের ওপর তারা বিজয়ী থাকবে, যতক্ষণ না তাদের শেষ দলটি দাজ্জালের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে।" ১.
এবং মুসলিম জাবির ইবনে সামুরা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী কারীম (সা.) বলেছেন: "এই দ্বীন সর্বদা প্রতিষ্ঠিত থাকবে; কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত মুসলিমদের একটি দল এর জন্য লড়াই করে যাবে।" ২.
এবং আবু দাউদ আল-তায়ালিসি ও আবদ ইবনে হুমাইদ যায়িদ ইবনে আরকাম (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী কারীম (সা.) বলেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর লড়াই করতে থাকবে, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ উপস্থিত হয়।" ৩.
এবং আবু দাউদ ও হাকেম উমর (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ উপস্থিত হয়।" ৪.
এবং তাবারানি আল-মুজাম আল-কাবিরে জাবির ইবনে সামুরা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী কারীম (সা.) বলেছেন: "এই দ্বীন সর্বদা প্রতিষ্ঠিত থাকবে; কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত মুসলিমদের একটি দল এর ওপর ৫ লড়াই চালিয়ে যাবে।" ৬.
এবং মুসলিম ও আহমাদ জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী কারীম (সা.) বলেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল কিয়ামত পর্যন্ত সত্যের ওপর লড়াই করতে থাকবে এবং তারা বিজয়ী থাকবে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফু ফি হাকিকাতিল আওলিয়া-ই ওয়ামা লাহুম মিনাল কারামাতি ওয়াল আলতাফ
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
فينزل عيسى فيقول أميرهم: صل بنا. فيقول: لا. إن بعضكم على بعض أمير تكرمة [الله] 1 لهذه الأمة" 2 والأحاديث في هذا كثيرةٌ شهيرةٌ.
وقد اختلف العلماء في هذه الطائفة من هم؟ فذهب طائفة من العلماء إلى أنَّهم أئمة الحديث3، وذهبت طائفة أخرى إلى أنَّ المراد بهم أهل الإجماع وهم العلماء المجتهدون، وعليه بنى الحسين بن الإمام في شرح الغاية4 في بحث الإجماع وفي بحث الاجتهاد.
والحق ما قاله جماعة من العلماء أنَّ المراد بهم المجاهدون في سبيل الله لتصريح الأحاديث بقوله: "يقاتلون" و"ينصرون" ونحوه5، وما
--------------------------------------------
অতঃপর ঈসা অবতরণ করবেন, তখন তাদের আমির বলবেন: আমাদের নামাজ পড়ান। তিনি বলবেন: না। নিশ্চয়ই তোমাদের কেউ অন্য কারো ওপর আমির (নেতা), যা [আল্লাহর] পক্ষ থেকে এই উম্মতের জন্য সম্মানস্বরূপ। ২ আর এই বিষয়ে হাদিসসমূহ প্রচুর এবং সুপ্রসিদ্ধ।
এই দলটি আসলে কারা, সে বিষয়ে উলামায়ে কেরাম ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। একদল আলেম মনে করেন তারা হলেন হাদিসের ইমামগণ; ৩ আবার অন্য একদল মনে করেন তারা হলেন ইজমা (إجماع) তথা ঐকমত্যের ধারক সম্প্রদায় এবং তারা হলেন মুজতাহিদ (مجتهدون) আলেমগণ। আর আল-হুসাইন বিন আল-ইমাম তার 'শারহুল গায়াহ' গ্রন্থে ৪ ইজমা (إجماع) এবং ইজতিহাদ (اجتهاد) সংক্রান্ত আলোচনায় এই মতের ওপরই ভিত্তি করেছেন।
তবে সত্য হলো আলেমদের সেই জামাতের মত, যারা বলেছেন যে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর পথে জিহাদকারীগণ (المجاهدون); কেননা হাদিসসমূহে স্পষ্টভাবে "তারা যুদ্ধ করবে" এবং "তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে" ইত্যাদি শব্দ বর্ণিত হয়েছে। ৫ এবং যা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফু ফি হাকিকাতিল আওলিয়া-ই ওয়ামা লাহুম মিনাল কারামাতি ওয়াল আলতাফ
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
أطلق فهو محمول على ما قيد. كيف وقد صرح بأنَّه ينزل عيسى عليه السلام، وهؤلاء الذين ينزل فيهم هم الذين يقاتلون الدجال، وهو واضح من لفظ الأحاديث في غير موضع.
نعم الأولياء وهم المؤمنون العدول باقون حتى تقوم الساعة على القول بأنَّه لا تخلو الأرض من1 مؤمن، وإلا فقد ثبت في الأحاديث أنَّها: "لا تقوم الساعة حتى لا يعبد الله في الأرض، ولا يقال الله" 2.
قوله: "كالأبدال".
أقول: في القاموس: "الأبدال: قوم بهم يقيم اللهُ عزوجل الأرض، وهم سبعون: أربعون بالشام وثلاثون بغيرها، لا يموت أحدهم3 إلا قام مقامه واحدٌ من سائر الناس"4 انتهى.
وفي النهاية من حديث علي: "الأبدال بالشام وهم الأولياء والعُبَّاد. الواحد منهم بدل كجمل. سموا بذلك لأنَّه كلَّما مات منهم واحد بُدل بآخر" 5.
وفي التعريف للمناوي: "أنَّ الأبدال سبعةٌ6 لا يزيدون ولا ينقصون، يحفظ الله بهم الأقاليم السبعة فكلُّ بدل له إقليم7 فيه ولايته، منهم واحد على قدم الخليل وله الإقليم الأول، والثاني على قدم الكليم،
--------------------------------------------
যা সাধারণভাবে ব্যক্ত (مطلق) করা হয়েছে তা সীমাবদ্ধ (مقيد) অর্থের উপর প্রয়োগ করা হবে। কেনই বা হবে না, অথচ তিনি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে, ঈসা (আলাইহিস সালাম) অবতরণ করবেন, আর যাদের নিকট তিনি অবতরণ করবেন তারাই দাজ্জালের সাথে যুদ্ধ করবে। বিভিন্ন স্থানে বর্ণিত হাদিসের শব্দাবলি থেকে এটি সুস্পষ্ট।
হ্যাঁ, আউলিয়াগণ (الأولياء), যারা মূলত ন্যায়পরায়ণ (عدول) মুমিন, তাঁরা কিয়ামত পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকবেন—এই মতানুসারে যে, পৃথিবী কখনও মুমিন শূন্য হবে না। নতুবা হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে যে: "ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না পৃথিবীতে আল্লাহর ইবাদত বন্ধ হয়ে যায় এবং 'আল্লাহ' শব্দটি উচ্চারিত হওয়া বন্ধ হয়।"
তাঁর উক্তি: "আবদালগণের (الأبدال) মতো।"
আমি বলছি: আল-কামুস গ্রন্থে রয়েছে: "আবদাল (الأبدال): এমন একদল লোক যাদের মাধ্যমে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল পৃথিবী কায়েম রাখেন। তাঁরা সংখ্যায় সত্তর জন: চল্লিশ জন সিরিয়ায় এবং তিরিশ জন অন্যান্য স্থানে। তাঁদের কেউ মৃত্যুবরণ করলে অন্য সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে একজন তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন।" সমাপ্ত।
আর আন-নিহায়া গ্রন্থে আলীর হাদিসে রয়েছে: "আবদালগণ (الأبدال) সিরিয়ায় অবস্থান করেন, তাঁরাই হলেন আউলিয়া (الأولياء) এবং আবিদগণ (العُبَّاد)। তাঁদের একক ব্যক্তিকে বাদাল (بدل) বলা হয়, যেমন জামাল বলা হয়। তাঁদের এই নামকরণ করা হয়েছে কারণ তাঁদের কেউ মৃত্যুবরণ করলেই অন্য একজনের মাধ্যমে তাঁর স্থলাভিষিক্ত (بدل) করা হয়।"
আর মুনাওয়ি কৃত আত-তারিফ গ্রন্থে রয়েছে: "আবদালগণ (الأبدال) সংখ্যায় সাতজন, যা বাড়েও না কমেও না। আল্লাহ তাঁদের মাধ্যমে সাতটি অঞ্চল রক্ষা করেন। প্রত্যেক বাদালের (بدل) জন্য একটি করে অঞ্চল নির্দিষ্ট রয়েছে যেখানে তাঁর আধ্যাত্মিক কর্তৃত্ব (ولاية) বিদ্যমান। তাঁদের একজন খলিল (আ.)-এর পদাঙ্ক অনুসারী এবং তাঁর জন্য প্রথম অঞ্চলটি নির্দিষ্ট, আর দ্বিতীয় জন কলিম (আ.)-এর পদাঙ্ক অনুসারী..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফু ফি হাকিকাতিল আওলিয়া-ই ওয়ামা লাহুম মিনাল কারামাতি ওয়াল আলতাফ
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
والثالث على قدم هارون، والرابع على قدم إدريس، والخامس على قدم يوسف، والسادس على قدم عيسى، والسابع [601] على قدم آدم. على ترتيب الأقاليم، وهم عارفون بما أودع الله في الكواكب السيارة من الأسرار والحركات والمنازل وغيرها، ولهم من الأسماء أسماء الصفات، وكلُّ واحد بحسب ما يعطيه حقيقة ذلك الإسم الإلهي من الشمول والإحاطة". انتهى1.
قلت: وهذا افتراء على الله فإنَّه لم يأت عنه تعالى ولا عن رسله حرفٌ واحدٌ من هذه الأقوال في هؤلاء السبعة، ولم يأت في الأبدال2 إلا ما سنذكره لك قريباً من الأحاديث، وفي كلٍّ منها مقال.
ومن عجائب ما في التعريفات أنَّ "الأوتاد أربعة في كلِّ زمان، لا يزيدون ولا ينقصون، أحدهم3 يحفظ الله به المشرق وولايته فيه، والآخر المغرب، والآخر الجنوب، والآخر الشمال، ويعبر عنهم بالجبال لحكمهم في العالم حكم الجبال في الأرض، وألقابهم في كلِّ زمن: عبد الحي، وعبد العظيم4، وعبد القادر وعبد المريد"5.
وفي التعريفات أيضاً القطب، وقد يسمى غوثاً باعتبار التجاء الواحد6 إليه، عبارة عن الواحد الذي هو موضع نظر الله في زمانه7،
--------------------------------------------
তৃতীয়জন হারুনের পদাঙ্ক অনুসারী, চতুর্থজন ইদ্রিসের পদাঙ্ক অনুসারী, পঞ্চমজন ইউসুফের পদাঙ্ক অনুসারী, ষষ্ঠজন ঈসার পদাঙ্ক অনুসারী এবং সপ্তম জন [৬০১] আদমের পদাঙ্ক অনুসারী। এটি ভৌগোলিক অঞ্চলসমূহের বিন্যাস অনুযায়ী। তাঁরা গ্রহ-নক্ষত্রসমূহের মধ্যে আল্লাহ যে সকল রহস্য, গতিবিধি এবং কক্ষপথ ইত্যাদি গচ্ছিত রেখেছেন সে সম্পর্কে অবগত। তাঁদের নামের ক্ষেত্রে সিফাত বা গুণবাচক নামসমূহ প্রযোজ্য এবং প্রত্যেকে সেই ঐশী নামের হাকিকত বা প্রকৃতরূপ অনুযায়ী ব্যাপকতা ও পরিবেষ্টন লাভ করেন।" সমাপ্ত। ১
আমি (লেখক) বলছি: এটি আল্লাহর প্রতি একটি মিথ্যা অপবাদ। কারণ আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে কিংবা তাঁর রাসূলগণের পক্ষ থেকে এই সাত ব্যক্তি সম্পর্কে এ জাতীয় কথার একটি অক্ষরও বর্ণিত হয়নি। আর আবদাল (الأبدال) সম্পর্কে সেই সকল হাদিস ব্যতীত অন্য কিছু বর্ণিত হয়নি যা আমি অচিরেই আপনার সামনে উল্লেখ করব, এবং সেগুলোর প্রত্যেকটির সনদ সম্পর্কে সমালোচনা (مقال) রয়েছে।২
‘আত-তারিফাত’ গ্রন্থের বিস্ময়কর বর্ণনার মধ্যে এটিও একটি যে, "আওতাদ (الأوتاد) প্রতি যুগে চারজন থাকেন, তাঁদের সংখ্যা বৃদ্ধিও পায় না এবং হ্রাসও পায় না। আল্লাহ তাঁদের একজনের মাধ্যমে প্রাচ্য রক্ষা করেন এবং সেখানে তাঁর কর্তৃত্ব (ولاية) বহাল থাকে,৩ অন্যজনের মাধ্যমে প্রতীচ্য, অপরজনের মাধ্যমে দক্ষিণ এবং অন্যজনের মাধ্যমে উত্তর দিক রক্ষা করেন। তাঁদেরকে ‘জাবাল’ বা পাহাড় হিসেবে অভিহিত করা হয়; কারণ বিশ্বে তাঁদের ভূমিকা জমিনে পাহাড়ের ভূমিকার মতো। প্রতি যুগে তাঁদের উপাধি হলো: আব্দুল হাই, আব্দুল আজিম৪, আব্দুল কাদির এবং আব্দুল মুরিদ।" ৫
‘আত-তারিফাত’ গ্রন্থে ‘কুতুব’ (القطب) সম্পর্কেও আলোচনা রয়েছে। আর্তমানব বা অসহায়দের তাঁর শরণাপন্ন হওয়ার কারণে তাঁকে কখনও ‘গাওস’ (غوث)৬ বলা হয়। এটি সেই একক ব্যক্তি সম্পর্কে ব্যবহৃত পরিভাষা, যিনি তাঁর সমসাময়িক যুগে আল্লাহর বিশেষ দৃষ্টির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকেন।৭
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফু ফি হাকিকাতিল আওলিয়া-ই ওয়ামা লাহুম মিনাল কারামাতি ওয়াল আলতাফ
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
أعطاه الله الطلسم الأعظم من لدنه، وهو يسري في الملكوت1 وأعيانه الباطنة والظاهرة سريان الروح في الجسد، بيده قسطاس الفيض2 الأعم، وزنه يتبع علمه، وعلمه يتبع علم الحق، وعلم الحق يتبع الماهيات الغير المجعولة، [فهو] يفيض روح الحياة على الكون الأعلى والأسفل، وهو [على] قلب إسرافيل من حيث حصته الملكية الكاملة3 مادة الحياة [والإحساس، لا] من حيث الإنسانية4، وحكم جبريل فيه كحكم النفس الناطقة في النشأة الإنسانية، وحكم ميكائيل فيه كحكم القوة الجاذبة5 فيها، وحكم عزرائيل فيه كحكم القوة الواقعة فيها67.
وقال في التعريفات: "النجباء ثمانية في كلِّ زمان لا يزيدون ولا ينقصون عليهم أعلام القبول في أحوالهم، ويغلب عليهم الحال بغير اختيارهم، هم أهل علم الصفات الثمانية، ومقامهم الكرسي لا يتعدونه ماداموا نجباء، ولهم القدم الراسخ في علم تسيير الكواكب كيفاً8 واطلاعاً لا من جهة طريقة علماء هذا الشأن، والنقباء9 هم الذين حازوا علم الفلك التاسع"10 انتهى كلامه.
--------------------------------------------
আল্লাহ তাঁকে তাঁর পক্ষ থেকে মহান রহস্য (الطلسم الأعظم) দান করেছেন এবং তা আধ্যাত্মিক জগত (الملكوت) এবং এর প্রকাশ্য ও গোপন সত্তাসমূহের মধ্যে এমনভাবে প্রবাহিত হয় যেমন করে দেহে প্রাণ প্রবাহিত হয়। তাঁর হাতে রয়েছে সর্বজনীন বিচ্ছুরণের (الفيض) মানদণ্ড (قسطاس); যার ওজন তাঁর জ্ঞানের অনুসারী, এবং তাঁর জ্ঞান সত্যের (الحق) জ্ঞানের অনুসারী, আর সত্যের জ্ঞান অনাদি ও অনবদ্য সত্তাসমূহের অনুসারী। [তিনি] ঊর্ধ্ব ও নিম্ন জগতের ওপর জীবনের রূহ বর্ষণ করেন। তিনি তাঁর পূর্ণ ফেরেশতাসুলভ (الملكية) অংশ হিসেবে ইসরাফিলের হৃদয়ের ওপর জীবন [ও অনুভূতির] উপাদান স্বরূপ, [তাঁর] মানবিক (الإنسانية) দিকের বিবেচনায় [নয়]। তাঁর মাঝে জিবরাঈলের হুকুম মানবীয় সৃষ্টির মধ্যে প্রজ্ঞাবান আত্মার (النفس الناطقة) হুকুমের ন্যায়, তাঁর মাঝে মিকাইলের হুকুম আকর্ষণ শক্তির (القوة الجاذبة) হুকুমের ন্যায় এবং তাঁর মাঝে আজরাইলের হুকুম তাতে আপতিত শক্তির (القوة الواقعة) হুকুমের ন্যায়।
তিনি 'আত-তারিফাত' গ্রন্থে বলেছেন: "নুজাবা (النجباء) তথা সজ্জনগণ প্রতি যুগে আটজন থাকেন, তাঁরা বাড়েও না কমেও না। তাঁদের অবস্থার ওপর কবুলিয়াতের বা গ্রহণের নিশানসমূহ থাকে এবং তাঁদের ইচ্ছার ব্যতিরেকেই তাঁদের ওপর আধ্যাত্মিক অবস্থা (الحال) প্রবল হয়ে থাকে। তাঁরা আটটি গুণের জ্ঞানের অধিকারী এবং তাঁদের অবস্থান বা মাকাম (مقام) হলো কুরসি; যতক্ষণ তাঁরা নুজাবা হিসেবে থাকেন ততক্ষণ তা অতিক্রম করেন না। গ্রহ-নক্ষত্রের বিচরণ পদ্ধতির জ্ঞান ও পর্যবেক্ষণে তাঁদের সুদৃঢ় পদচারণা (القدم الراسخ) রয়েছে, তবে তা এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের পদ্ধতি অনুযায়ী নয়। আর নুকাবা (النقباء) হলেন তাঁরা যাঁরা নবম আসমানের জ্ঞান অর্জন করেছেন।" তাঁর কথা সমাপ্ত হলো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফু ফি হাকিকাতিল আওলিয়া-ই ওয়ামা লাহুম মিনাল কারামাতি ওয়াল আলতাফ
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
وإنَّما نقلناه بألفاظه ليعلم من يقف عليه ممن له بقية نظر لدينه ولإيمانه بالله ورسله وما جاءت به الرسل أنَّ هذه النقولات كلَّها مجانبةٌ لما جاءت به الرسل ولما وردت به كتب الله تعالى المنزلة، وأنَّ هذه كلَّها نقطةٌ من نقطات1 المعطلين لله ولرسله، وأنَّها من كلمات العُبَّاد للعباد، وأنَّ هذا عائدٌ إلى قول من يقول بإلهية الأفلاك والكواكب، وانظر تلعّبه بملائكة الله، بل إنكارهم وهزوّهم2 نعوذ بوجه الله من الخذلان.
فهؤلاء أولياء الله عند هؤلاء المبتدعة؛ بل المعطلة. وانظر بالله عليك إن كان فيك بقيةٌ من عقلٍ كم بين وصف عيسى عليه السلام لأولياء الله الذي سقت حديثه في أول هذه الرسالة من الخشوع والعبادة والزهادة وبين وصف هؤلاء لمن وصفوه لمشاركة الله في التصرف في العالم، بل إنَّ العالم قد استغنى بهم عن الله، وانظر في كلام رسل الله فإنَّ نوحاً يقول لقومه: {وَلَاأَقُولُ لَكُمْ عِندِي خَزَائِنُ الله وَلَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ وَلَا أَقُولُ إِنِّي مَلَكٌ} 3 ومحمد صلى الله عليه وآله وسلم يقول له الله: {قُلْ لَا أَقُولُ لَكُمْ عِندِي خَزَائِنُ الله وَلَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ وَلَا أَقُولُ لَكُمْ إِنِّي مَلَكٌ} 4 وهؤلاء الضلال جعلوا الملائكة الأربعة أبعاضاً لهؤلاء الأقطاب.
--------------------------------------------
আমরা এগুলো হুবহু শব্দেই উদ্ধৃত করেছি যেন যারা এগুলো পাঠ করবেন এবং যাদের মধ্যে দ্বীনের প্রতি ও আল্লাহ, তাঁর রাসূলগণ এবং রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তার প্রতি ঈমানের সামান্যতম বিচারবোধ অবশিষ্ট আছে, তারা যেন জানতে পারেন যে—এই সমস্ত উদ্ধৃতি রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন এবং আল্লাহ তাআলার নাযিলকৃত কিতাবসমূহে যা অবতীর্ণ হয়েছে তার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এগুলো সবই হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের গুণাবলী অস্বীকারকারী (المعطلون)-দের একেকটি অপপ্রলাপ; এগুলো মূলত বান্দাদের উপাসক শ্রেণির কথা। আর এগুলোর ভিত্তি হলো সেই সব লোকেদের মতবাদ যারা আকাশমণ্ডল ও নক্ষত্ররাজির দেবত্বে বিশ্বাসী। লক্ষ্য করুন সে আল্লাহর ফেরেশতাদের নিয়ে কীভাবে খেল-তামাশা করেছে, বরং তাদের প্রতি অস্বীকার ও বিদ্রূপ প্রদর্শন করেছে; আমরা লাঞ্ছনা থেকে আল্লাহর সত্তার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
এই বিদআতি (المبتدعة), বরং গুণাবলী অস্বীকারকারী (المعطلة)-দের নিকট এরাই হলো আল্লাহর অলী। আল্লাহর দোহাই দিয়ে বলছি, আপনার যদি ন্যূনতম বিবেক থাকে তবে দেখুন—ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর অলীগণের যে বর্ণনা দিয়েছেন (যাঁর বর্ণিত হাদিস আমি এই রিসালাহ’র শুরুতে উল্লেখ করেছি) যেখানে ছিল একাগ্রতা, ইবাদত ও দুনিয়াবিমুখতা; আর এই লোকগুলো যাদের বর্ণনা দিচ্ছে যাদেরকে তারা মহাবিশ্ব পরিচালনায় আল্লাহর অংশীদার সাব্যস্ত করেছে—এ দুই বর্ণনার মাঝে কত বিশাল ব্যবধান! এমনকি (তাদের দাবি অনুযায়ী) এই জগত তো এদের মাধ্যমেই আল্লাহর থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে গেছে। আল্লাহর রাসূলগণের বাণীর দিকে লক্ষ্য করুন, নূহ আলাইহিস সালাম তাঁর কওমকে বলছেন: {আর আমি তোমাদের বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ধনভাণ্ডার রয়েছে, আর না আমি গায়েব জানি এবং আমি এও বলি না যে আমি একজন ফেরেশতা}। আর মুহাম্মদ সালল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম-কে আল্লাহ বলছেন: {আপনি বলুন, আমি তোমাদের বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভাণ্ডারসমূহ রয়েছে, আর না আমি গায়েব জানি এবং আমি তোমাদের এও বলি না যে আমি একজন ফেরেশতা}। অথচ এই পথভ্রষ্টরা প্রধান চারজন ফেরেশতাকে এই কুতুব (الأقطاب)-দের অংশ বানিয়ে ফেলেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফু ফি হাকিকাতিল আওলিয়া-ই ওয়ামা লাহুম মিনাল কারামাতি ওয়াল আলতাফ
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
وكلُّ هذه الألفاظ من الأقطاب وغيرها مبتدعةٌ اصطلاحيةٌ لم تأت سنةٌ بها ولا كتابٌ ولا لغةٌ، إلا الأبدال1 كما أفاده القاموس والنهاية؛ لأنَّه قد روى في ذلك أحاديث2 [602] .
فأخرج أحمد عن عبادة بن الصامت مرفوعاً: "الأبدال في هذه الأمة ثلاثون رجلاً، قلوبهم على قلب إبراهيم خليل الرحمن، كلَّما مات رجلٌ أبدل الله مكانه رجلاً"3.
وأخرج الطبراني عن عبادة أيضاً مرفوعاً: "الأبدال في أمتي ثلاثون بهم تقوم الأرض، وبهم يمطرون، وبهم ينصرون" 4.
وأخرج الطبراني عن عوف بن مالك مرفوعاً: "الأبدال في أهل الشام وهم أربعون رجلاً، كلَّما مات رجل أبدل الله مكانه رجلاً يسقى
--------------------------------------------
আকতাব (أقطاب) এবং এর ন্যায় এই সকল শব্দগুলো নবউদ্ভাবিত (مبتدعة) পরিভাষা, যা সুন্নাহ, কিতাব কিংবা অভিধানে আসেনি; কেবল আবদাল (أبدال) শব্দ ব্যতিত (১), যেমনটি আল-কামুস এবং আন-নিহায়া গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে; কারণ এ বিষয়ে বেশ কিছু হাদিস (২) বর্ণিত হয়েছে [৬০২] ।
ইমাম আহমাদ উবাদাহ ইবনে সামিত (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "এই উম্মতের মধ্যে আবদাল (أبدাল) হবেন ত্রিশজন ব্যক্তি, তাদের অন্তর হবে রহমান আল্লাহর বন্ধু ইব্রাহিম (আ.)-এর অন্তরের ন্যায়। যখনই কোনো ব্যক্তি মারা যাবেন, আল্লাহ তাঁর স্থলে অপর একজনকে স্থলাভিষিক্ত করবেন" (৩)।
তাবারানি উবাদাহ (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে আরও বর্ণনা করেছেন: "আমার উম্মতের মধ্যে আবদাল (أبدাল) হবেন ত্রিশজন, যাদের উসিলায় পৃথিবী অটল থাকে, যাদের মাধ্যমে মানুষ বৃষ্টিপ্রাপ্ত হয় এবং যাদের দ্বারা তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হয়" (৪)।
তাবারানি আওফ ইবনে মালিক (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "আবদাল (أبدাল) হলেন সিরিয়াবাসীদের মধ্যে এবং তারা চল্লিশজন ব্যক্তি; যখনই কোনো ব্যক্তি মারা যান, আল্লাহ তাঁর স্থলে অন্য একজনকে স্থলাভিষিক্ত করেন যার মাধ্যমে পানি দান করা হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফু ফি হাকিকাতিল আওলিয়া-ই ওয়ামা লাহুম মিনাল কারামাতি ওয়াল আলতাফ
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
بهم الغيث، وينتصر بهم على الأعداء، ويصرف عن أهل الشام بهم العذاب"1.
وأخرج الخلال في كرامات الأولياء والديلمي في مسند الفردوس عن أنس مرفوعاً: "الأبدال أربعون رجلاً وأربعون امرأة، كلَّما مات رجل أبدل الله مكانه رجلاً، وكلَّما ماتت امرأة أبدل الله مكانها امرأة"2.
فهذه الأحاديث في الأبدال وفي صحتها عند أئمة الحديث3 مقالٌ، وإن سلمنا صحة الأحاديث في ذلك فإنَّه لم يجعل الله لهم علامةً يعرفون بها بأعيانهم اتفاقاً، فلا يعرف أنَّ الشخص من الأبدال حتى يعتقد أنَّه وليُّ الله الولاية الخاصة التي يزعمون، وإلا فالمؤمنون المتقون أولياء الله قال الله تعالى: {إِنْ أَوْلِيَآؤُهُ إِلَاّ الْمُتَّقُونَ} 4 على أحد الوجهين في الآية كما
--------------------------------------------
তাদের মাধ্যমেই বৃষ্টি বর্ষিত হয়, তাদের মাধ্যমেই শত্রুদের বিরুদ্ধে বিজয় লাভ করা হয় এবং তাদের মাধ্যমেই শামবাসীদের থেকে আজাব দূর করা হয়।"১
আল-খাল্লাল 'কারামাতুল আউলিয়া' গ্রন্থে এবং আদ-দাইলামি 'মুসনাদুল ফিরদাউস' গ্রন্থে আনাস (রা.) থেকে মারফু (مرفوعاً) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "আবদাল হলেন চল্লিশজন পুরুষ এবং চল্লিশজন নারী; যখনই একজন পুরুষ মারা যান, আল্লাহ তাঁর স্থলে অন্য একজন পুরুষকে স্থলাভিষিক্ত করেন এবং যখনই একজন নারী মারা যান, আল্লাহ তাঁর স্থলে অন্য একজন নারীকে স্থলাভিষিক্ত করেন।"২
আবদাল সংক্রান্ত এই হাদিসগুলো এবং হাদিস বিশারদদের (أئمة الحديث) নিকট এগুলোর বিশুদ্ধতা (صحتها) নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। আর যদি আমরা এই বিষয়ে হাদিসগুলোর বিশুদ্ধতা (صحة) মেনেও নেই, তবুও আল্লাহ তাদের জন্য এমন কোনো চিহ্ন নির্ধারণ করেননি যার মাধ্যমে নির্দিষ্টভাবে তাদের চেনা যায়—এ বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে। সুতরাং কোনো ব্যক্তি আবদালদের অন্তর্ভুক্ত কি না তা জানা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না তাকে আল্লাহর ওলি হিসেবে সেই বিশেষ বেলায়েতের অধিকারী মনে করা হয় যা তারা দাবি করে। অন্যথায় মুমিন মুত্তাকিরাই আল্লাহর ওলি। আল্লাহ তাআলা বলেন: {মুত্তাকিরা ছাড়া অন্য কেউ তাঁর ওলি নয়} ৪—আয়াতের দুই ব্যাখ্যার একটি অনুযায়ী যেমনটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফু ফি হাকিকাতিল আওলিয়া-ই ওয়ামা লাহুম মিনাল কারামাতি ওয়াল আলতাফ
(পৃষ্ঠা: ৬০)
في البيضاوي1، فهذا مثل آية يونس التي قدمناها، وإنَّما هذه حصرت أولياءه على المتقين، فالمتقي هو الولي، وغير المتقي لا يكون ولياً، والمتقي هو المؤمن الآتي بالواجبات والمجتنب للمقبحات، والذي يصدق عليه كلامُ المجيب في حده للولي، ولكنَّ المجيبَ وأشباهه يريدون بالولي غير هذا.
ولقد كبرت كلمةٌ قالها شيخ شيخنا إبراهيم الكردي2 في كتابه "قصد السبيل" فإنَّه قال في خطبته: "إنَّ معرفة الله التي وراء طور العقول مما لا تستقل العقول بإدراكها بطريق الفكر وترتيب المقدمات وإنَّما يدرك بنور النبوة والولاية"3 ولم يزل هكذا يجعل الولاية قسيماً للنبوة كأنَّه يريد أنَّ الولي غيرُ داخلٍ تحت الدعوة النبوية، ولا من الأمة المحمدية، بل هو قسيمٌ له، وهذا من الجهل أولاً بدعوى أنَّ الولي غيرُ المؤمن التقي، بل له رتبةٌ غير هذه الرتبة، ثم دعوى أنَّه يستمد من غير واسطة الرسول، وهم كذا يصرحون بذلك. واعلم أنَّ البيضاوي وغيره يقسمون التقوى4 ثلاث مراتب: "التقيّ صفة مشبهة من قولهم وقاه الله فاتقى، والوقاية فرط الصيانة،
--------------------------------------------
আল-বায়দাউইতে ১, এটি ইউনুস (আলাইহিস সালাম)-এর সেই আয়াতের মতো যা আমরা আগে উল্লেখ করেছি। তবে এটি তাঁর ওলিদের (أولياء) কেবল পরহেজগারদের (متقين) মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছে। সুতরাং পরহেজগারই (متقي) হলেন ওলি (ولي), আর যে পরহেজগার (متقي) নয় সে ওলি (ولي) হতে পারে না। আর পরহেজগার (متقي) হলেন সেই মুমিন (مؤمن) যিনি ওয়াজিবসমূহ পালন করেন এবং গর্হিত কাজসমূহ বর্জন করেন। উত্তরদাতার সংজ্ঞায় ওলির (ولي) যে পরিচয় দেওয়া হয়েছে তা এর ওপরই প্রযোজ্য হয়, কিন্তু উত্তরদাতা ও তাঁর সমমনারা ওলি (ولي) বলতে এটি ছাড়া অন্য কিছু বোঝাতে চান।
আমাদের শাইখের শাইখ ইব্রাহিম আল-কুর্দি ২ তাঁর 'কাসদ আস-সাবিল' কিতাবে এমন এক গুরুতর কথা বলেছেন; তিনি তাঁর ভূমিকার ভাষণে বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহর যে মারেফাত বা জ্ঞান আকল বা বুদ্ধিবৃত্তিক সীমার ঊর্ধ্বে, তা চিন্তা-ভাবনা এবং যুক্তিনির্ভর পদ্ধতির মাধ্যমে অনুধাবন করতে আকল স্বাধীন বা স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়; বরং তা নবুওয়াত (نبوة) ও বেলায়েতের (ولاية) নূর দ্বারা অনুধাবন করা হয়।" ৩ তিনি এভাবেই বেলায়েতকে (ولاية) নবুওয়াতের (نبوة) সমকক্ষ করে চলেছেন, যেন তিনি বুঝাতে চাইছেন যে, ওলি (ولي) নবীর দাওয়াতের অন্তর্ভুক্ত নন এবং উম্মতে মুহাম্মাদীরও অন্তর্ভুক্ত নন, বরং তিনি নবীর সমকক্ষ। এটি প্রথমত মূর্খতা প্রসূত এই দাবি করার কারণে যে, ওলি (ولي) মুমিন (مؤمن) ও পরহেজগার (تقي) ব্যক্তি ছাড়া ভিন্ন কেউ, বরং তাঁর মর্যাদা নাকি এই মর্যাদার ঊর্ধ্বে। এরপর এই দাবি করা যে, তিনি রাসুলের মাধ্যম ব্যতীত অন্য কোনো উৎস থেকে জ্ঞান আহরণ করেন; তাঁরা এভাবেই বিষয়টি স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেন। জেনে রাখুন যে, আল-বায়দাউই ও অন্যান্যরা তাকওয়াকে (تقوى) ৪ তিনটি স্তরে বিভক্ত করেছেন: "পরহেজগার (تقي) হলো একটি সিফাতে মুশাব্বাহ (صفة مشبهة) যা তাঁদের বক্তব্য 'ওয়াকাহুল্লাহ ফাততাকা' থেকে উদ্ভূত, আর সুরক্ষা (وقاية) হলো চরম সতর্কতা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইনসাফু ফি হাকিকাতিল আওলিয়া-ই ওয়ামা লাহুম মিনাল কারামাতি ওয়াল আলতাফ
(পৃষ্ঠা: ৬১)
وهي في عرف الشرع اسم لمن صان نفسه عما يضره في الآخرة، ولها ثلاثُ مراتب:
الأولى: التقوى عن العذاب المخلد بالتبري عن الشرك، وعليه قوله: {وَأَلْزَمَهُمْ كَلِمَةَ التَّقْوَى} 1.
والثانية: التجنب عما يؤثم من فعل أو ترك حتى الصغائر عند قومٍ، وهو المتعارف باسم التقوى في الشرع وهو المعني بقوله تعالى: {وَلَوْ أَنَّ [أَهْلَ] الْقُرَىءَامَنُوا وَاتَّقَوا} 2.
والثالثة: أن يتنزه عما يشغل سره عن الحق ويقبل لله بشراشره3، وهو التقوى الحقيقي المطلوب بقوله: {اتَّقُوا الله حَقَّ تُقَاتِهِ} "4 انتهى.
والشراشر بالشين المعجمة والراء المهملة مكررتين بينهما ألف هي النفس هنا5.
وهذا التقسيم اصطلاحيٌّ ليس عليه دليلٌ من لغةٍ ولا شرعٍ، وكلمة التقوى هي لا إله إلا الله كما في التفاسير الأثرية، والضمير في {أَلْزَمَهُمْ} له صلى الله عليه وآله وسلم وأصحابِهِ، وهذه هي كلمة التقوى لكلِّ مؤمن. قال ابن عباس: {وَأَلْزَمَهُمْ كَلِمَةَ التَّقْوَى} وهي: "شهادة أن لا إله إلا الله وهي رأسُ كلِّ تقوى"6 حتى رأس الثلاثة الأقسام وغيرها.
--------------------------------------------
শরিয়তের পরিভাষায় এটি এমন ব্যক্তির নাম, যে নিজেকে পরকালে ক্ষতিকর বিষয়সমূহ থেকে রক্ষা করে। এর তিনটি স্তর রয়েছে:
প্রথমটি: শিরক (الشرك) থেকে বিমুক্ত হওয়ার মাধ্যমে চিরস্থায়ী আজাব থেকে তাকওয়া (التقوى) অবলম্বন করা। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহর বাণী: "আর তিনি তাদের জন্য তাকওয়ার বাণী (كلمة التقوى) অবধারিত করেছেন।" ১।
দ্বিতীয়টি: এমন কাজ বা বর্জন থেকে দূরে থাকা যা গুনাহের কারণ হয়, এমনকি একদল আলিমের মতে সগিরা (الصغائر) গুনাহ পর্যন্ত। শরিয়তে এটিই তাকওয়া (التقوى) নামে পরিচিত এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর উদ্দেশ্যও এটি: "আর যদি জনপদবাসীরা ইমান আনত এবং তাকওয়া (اتقوا) অবলম্বন করত।" ২।
তৃতীয়টি: সত্য থেকে বিমুখকারী সকল বিষয় থেকে নিজের অন্তরকে পবিত্র রাখা এবং সর্বান্তকরণে আল্লাহর অভিমুখী হওয়া। এটিই প্রকৃত তাকওয়া (التقوى الحقيقي), যা মহান আল্লাহর এই বাণীতে চাওয়া হয়েছে: "তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো (اتقوا)" ৪। সমাপ্ত।
এখানে 'শারাশির' (الشراشر) শব্দটি 'শীন' (ش) এবং 'রা' (ر) বর্ণদ্বয়ের পুনরাবৃত্তিতে গঠিত, যার মাঝে একটি আলিফ রয়েছে; এখানে এর অর্থ হলো নফস (النفس)। ৫।
এই বিভাজনটি পারিভাষিক (اصطلاحي), যার স্বপক্ষে ভাষাগত বা শরিয়তগত কোনো দলিল (دليل) নেই। আর আসারি (الأثرية) তাফসিরসমূহে বর্ণিত হয়েছে যে, তাকওয়ার বাণী (كلمة التقوى) হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'। 'আলযামাহুম' (أَلْزَمَهُمْ) শব্দের সর্বনামটি (الضمير) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবিদের দিকে নির্দেশিত। আর এটিই প্রত্যেক মুমিনের জন্য তাকওয়ার বাণী (كلمة التقوى)। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: "আর তিনি তাদের জন্য তাকওয়ার বাণী (كلمة التقوى) অবধারিত করেছেন", যা হলো: "এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই; আর এটিই সকল তাকওয়ার (تقوى) মূল।" ৬। এমনকি উল্লিখিত তিন প্রকার ও অন্যান্য সবকিছুরই মূল এটি।
--------------------------------------------