(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লি-আহলিস সুন্নাতি ওয়াল হাদিসি ফি রাদ্দি আবাতিলি হাসান আল-মালিকি
(পৃষ্ঠা: -)
الانتصار لأهل السنة والحديث في رد أباطيل حسن المالكي (عبد المحسن العباد)
القسم: الفرق والردود
الكتاب: الانتصار لأهل السنة والحديث في رد أباطيل حسن المالكي
المؤلف: عبد المحسن بن حمد بن عبد المحسن بن عبد الله بن حمد العباد البدر
الناشر: دار الفضيلة، الرياض، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1424هـ/2003م
عدد الصفحات: 219
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
হাসান আল-মালিকির বাতিল মতবাদ খণ্ডনে আহলে সুন্নাহ ওয়াল হাদিসের বিজয় (আব্দুল মুহসিন আল-আব্বাদ)
বিভাগ: বিভ্রান্ত দল ও তাদের খণ্ডন
গ্রন্থ: হাসান আল-মালিকির বাতিল মতবাদ খণ্ডনে আহলে সুন্নাহ ওয়াল হাদিসের বিজয়
লেখক: আব্দুল মুহসিন বিন হামাদ বিন আব্দুল মুহসিন বিন আব্দুল্লাহ বিন হামাদ আল-আব্বাদ আল-বাদর
প্রকাশক: দারুল ফাদিলাহ, রিয়াদ, সৌদি আরব
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৪ হিজরি/২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১৯
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লি-আহলিস সুন্নাতি ওয়াল হাদিসি ফি রাদ্দি আবাতিলি হাসান আল-মালিকি
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمة…الانتصار لأهل السنَّة والحديث في ردِّ أباطيل حسن المالكيتأليف: عبد المحسن بن حمد العباد البدربسم الله الرحمن الرحيمالحمد لله القائل في محكم التنزيل {بَلْ نَقْذِفُ بِالْحَقِّ عَلَى الْبَاطِلِ فَيَدْمَغُهُ فَإِذَا هُوَ زَاهِقٌ} ، أحمدُه ولا أحصي ثناءً عليه، وأشهد أن لا إله إلَاّ الله وحده، لا شريك له في ربوبيَّته وألوهيَّته وأسمائه وصفاته، ربُّ العالَمين، وإله الأوَّلين والآخرين، وقيُّوم السموات والأرضين، ليس كمثله شيءٌ وهو السَّميع البصير، وأشهد أنَّ محمداً عبدُه ورسولُه، الذي بلَّغ البلاغ المبين، فدلَّ أمَّته على كلِّ خير، وحذَّرها من كلِّ شرٍّ، وقال: "تركتكم على البيضاء، ليلُها كنهارها لا يزيغ عنها إلَاّ هالك"، اللَّهمَّ صلِّ وسلِّم وبارك عليه، وعلى أزواجه وذريَّته وسائر أهل بيته المطهَّرين، وعلى أصحابه الغُرِّ الميامين أهل العلم والإيمان والصدق والإحسان، وعلى كلِّ مَن جاء بعدهم قائلاً: ربَّنا اغفر لنا ولإخواننا الذين سبقونا بالإيمان ولا تجعل في قلوبنا غلاًّ للَّذين آمنوا ربَّنا إنَّك رؤوف رحيم.أمَّا بعد، فقد نبت في هذا الزمان في أقصى جنوب هذه البلاد نابتةٌ تسلَّق أسوارَ العلم، وأتى بيوتَه من غير أبوابها، فقفى ما ليس له به علم، وخَبَط في العلم خَبْطَ عَشواء، وحَمَلَ على أهل السُّنَّة والحديث منذ عهد الصحابة وحتى زماننا حَمْلة شعواء، وهذا النابتةُ حسن بن فرحان المالكي، نسبة إلى بني مالك في أقصى جنوب المملكة، وإنَّما قلت: "نسبة إلى بني مالك"؛ لئلَاّ يظنَّ ظانٌّ نسبتَه إلى مذهب الإمام مالك، أحد أئمَّة أهل السُّنَّة، فإنَّه ليس من أهل السُّنَّة، بل هو من الموغلين في البدع، المحاربين لأهل السنَّة، وقلت: "في أقصى جنوب المملكة"؛ لئلَاّ يُتوهَّم نسبته إلى بني مالك الذين ذُكِر أنَّ نسبَهم يرجع
উপস্থাপনা…আহলে সুন্নাহ ওয়াল হাদিসের বিজয়: হাসান আল-মালিকির অসারতা খণ্ডনেরচনায়: আব্দুল মুহসিন বিন হামাদ আল-আব্বাদ আল-বদরপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামেসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সুদৃঢ় অবতীর্ণ গ্রন্থে বলেছেন, {বরং আমি সত্যের দ্বারা মিথ্যার ওপর আঘাত হানি, ফলে তা মিথ্যাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয় এবং তৎক্ষণাৎ তা বিলুপ্ত হয়ে যায়}। আমি তাঁর প্রশংসা করছি এবং তাঁর যথাযথ গুণগান করে শেষ করতে পারব না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর রুবুবিয়্যাত, উলুহিয়্যাত এবং নাম ও গুণাবলিতে তাঁর কোনো অংশীদার নেই। তিনি বিশ্বজগতের রব, আদি-অন্ত সকলের ইলাহ এবং আসমান ও জমিনের ধারক। তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল, যিনি সুস্পষ্টভাবে সত্য প্রচার করেছেন, স্বীয় উম্মতকে প্রতিটি কল্যাণের পথ দেখিয়েছেন এবং প্রতিটি অকল্যাণ থেকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন: "আমি তোমাদেরকে এমন এক শুভ্র উজ্জ্বল পথের ওপর রেখে যাচ্ছি, যার রাতও দিনের মতো পরিষ্কার; কোনো ধ্বংসশীল ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ তা থেকে বিচ্যুত হয় না।" হে আল্লাহ! আপনি দরুদ, সালাম ও বরকত নাজিল করুন তাঁর ওপর, তাঁর পবিত্র স্ত্রীগণ ও বংশধরদের ওপর, তাঁর পরিবারের পবিত্র সদস্যদের ওপর এবং তাঁর ঐ সকল উজ্জ্বল নক্ষত্রসম সাহাবীদের ওপর যারা ছিলেন ইলম, ঈমান, সত্যবাদিতা ও ইহসানের মূর্ত প্রতীক। আর রহমত বর্ষিত হোক তাদের ওপর যারা তাদের পরে এসে বলে: "হে আমাদের রব! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানের সাথে আমাদের অগ্রগামী হয়েছেন এবং মুমিনদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! নিশ্চয় আপনি অতি দয়ালু, পরম করুণাময়।"অতঃপর, বর্তমান সময়ে এই দেশের সুদূর দক্ষিণে এমন এক আগন্তুকের উদ্ভব ঘটেছে যে ইলমের প্রাচীর টপকাতে চেয়েছে এবং ইলমের ঘরে সদর দরজা দিয়ে না ঢুকে চোরাপথে প্রবেশ করেছে। ফলে সে এমন বিষয়ের পেছনে পড়েছে যে বিষয়ে তার কোনো জ্ঞান নেই এবং ইলমের ক্ষেত্রে সে চরম লক্ষ্যহীনভাবে পথ চলেছে। সে সাহাবীগণের যুগ থেকে শুরু করে আমাদের এই সময় পর্যন্ত আহলে সুন্নাহ ওয়াল হাদিসের ওপর প্রচণ্ড আক্রমণ চালিয়েছে। এই ব্যক্তিটি হলো হাসান বিন ফারহান আল-মালিকি, সৌদি আরবের সুদূর দক্ষিণের 'বনি মালিক' গোত্রের দিকে সম্বন্ধ করে তাকে এ নামে ডাকা হয়। আমি "বনি মালিকের প্রতি সম্বন্ধ করে" কথাটি এজন্য বলেছি যাতে কেউ তাকে আহলে সুন্নাহর অন্যতম ইমাম, ইমাম মালিকের মাযহাবের অনুসারী মনে না করে। কারণ সে আহলে সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং সে বিদআতে নিমজ্জিত এবং আহলে সুন্নাহর ঘোর বিরোধী। আর আমি "কিংডমের সুদূর দক্ষিণে" কথাটি এজন্য বলেছি যাতে তাকে সেই বনি মালিক গোত্রের সাথে গুলিয়ে ফেলার বিভ্রান্তি তৈরি না হয় যাদের বংশধারা...
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লি-আহলিস সুন্নাতি ওয়াল হাদিসি ফি রাদ্দি আবাতিলি হাসান আল-মালিকি
(পৃষ্ঠা: ৬)
إلى بَجيلة، ومنازلهم قريبةٌ من الطائف؛ لأنَّ ظنَّ نسبته إليهم مع خبثه وسوء معتقده لا شكَّ أنَّه يسوؤهم، وأمَّا الذين في الجنوب فهو وإن كان منهم فإنَّ نسبتَه إليهم لا تضرُّهم؛ لأنَّه لا تزر وازرةٌ وزر أخرى، وقد ذكر هذا النابتة في آخر أحد كتبه السيِّئة أنَّ ولادَتَه سنة (1390هـ) ، وهذه السنة هي التي تلي سنة وفاة الشيخ العلامة محمد بن إبراهيم آل الشيخ رحمه الله، مفتي البلاد ورئيس قضاتها (قبل إنشاء وزارة العدل) ، ورئيس الكليَّات والمعاهد العلمية (التي أُطلق عليها فيما بعد جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية) ، ورئيس الجامعة الإسلامية بالمدينة، وقد أرَّختُ سنة وفاته رحمه الله بكلمات على صيغة دعاء بحِساب الحروف، وذلك بقولي: "جُد جوادُ واغفر لي وله"، وذلك فيما كتبته عنه وعن الملك فيصل بعنوان: "عالِم جِهبذ ومَلِك فذ"، وكان رحمه الله سدًّا منيعاً في وجه أهل الباطل؛ وذلك لهيبته العظيمة وهمَّته العالية وقوَّته في الحقِّ وصرامته فيه وحراسته الدِّين في هذه البلاد، وهذا النابتة من الدجَّالين الذين ظهروا بعد زمانه.وهذا الرَّجل العظيم من أحفاد الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله، وأسرةُ الشيخ الإمام من قبيلة بني تَميم، الذين أخبر الرسول صلى الله عليه وسلم أنَّهم أشدُّ أمَّته على الدجَّال، أخرجه البخاري (2543) ، وكما كانت هذه القبيلة في آخر الزمان أشدَّ الناس على الدجَّال الأعظم، فإنَّ شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب وأبناءَه وأحفادَه وتلاميذه وتلاميذهم وتلاميذ تلاميذهم مِن أشدِّ الناس على الدجَّالين، الذين يأتون في أزمانهم، مثل هذا المالكي ومَن كان على شاكلته من أهل الزيغ والضلال.وقد كَرَع هذا النابتةُ في مستنقعات أهل البدع، وعبَّ منها ما شاء الله أن
বাজিলাহ গোত্রের প্রতি, যাদের আবাসস্থল তায়েফের সন্নিকটে; কেননা তাঁর বিদ্বেষপূর্ণ মনোভাব ও মন্দ আকিদাহ সত্ত্বেও তাঁকে এই গোত্রের অন্তর্ভুক্ত মনে করা নিঃসন্দেহে তাঁদের জন্য পীড়াদায়ক। আর যারা দক্ষিণে বসবাস করেন, তিনি যদিও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হন, তবুও তাঁর সম্বন্ধ তাঁদের কোনো ক্ষতি করবে না; কারণ কেউ অন্য কারো পাপের বোঝা বহন করবে না। এই নবাগত ব্যক্তি (নাবিতাহ) তাঁর একটি নিকৃষ্ট বইয়ের শেষে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর জন্ম ১৩৯০ হিজরি সনে। আর এই বছরটি হলো প্রখ্যাত আলেম শায়খ মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আশ-শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ইন্তেকালের পরের বছর, যিনি ছিলেন এ দেশের প্রধান মুফতি এবং বিচারকদের প্রধান (বিচার মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার পূর্বে), এবং বিজ্ঞান অনুষদ ও ইন্সটিটিউটসমূহের প্রধান (পরবর্তীতে যা ইমাম মুহাম্মদ বিন সউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় নামে অভিহিত হয়), এবং মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান। আমি অক্ষর গণনার মাধ্যমে দুআর আকারে তাঁর মৃত্যুসন নির্ধারণ করেছি এই বলে: "হে পরম দাতা, আপনি অনুগ্রহ করুন এবং আমাকে ও তাঁকে ক্ষমা করুন"। এটি আমি তাঁর এবং বাদশাহ ফয়সাল সম্পর্কে "একজন প্রাজ্ঞ আলেম ও একজন অনন্য বাদশাহ" শিরোনামে যা লিখেছি তাতে উল্লেখ করেছি। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বাতিলপন্থীদের সামনে এক সুদৃঢ় প্রাচীর স্বরূপ ছিলেন; আর এটি ছিল তাঁর মহান ব্যক্তিত্ব, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, সত্যের ওপর তাঁর দৃঢ়তা ও কঠোরতা এবং এ দেশে দ্বীন সংরক্ষণে তাঁর পাহারাদারির কারণে। আর এই নবাগত ব্যক্তিটি সেই সব দাজ্জাল বা প্রতারকদের অন্তর্ভুক্ত যারা তাঁর সময়ের পরে আবির্ভূত হয়েছে।এই মহান ব্যক্তি শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর বংশধরদের অন্তর্ভুক্ত। ইমামের পরিবার বনু তমিম গোত্রের, যাদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন যে, তারা দাজ্জালের বিরুদ্ধে তাঁর উম্মতের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর হবে; এটি বুখারি (২৫৪৩) বর্ণনা করেছেন। শেষ জামানায় এই গোত্র যেমন মহা-দাজ্জালের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর হবে, তেমনি শায়খুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, তাঁর সন্তান-সন্ততি, পৌত্রগণ এবং তাঁদের ছাত্র ও পরবর্তী ছাত্র পরম্পরা নিজ নিজ সময়ে আবির্ভূত দাজ্জালদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন—যেরূপ এই মালিকি এবং তার মতো বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ট লোকেরা।আর এই নবাগত ব্যক্তিটি বিদআতিদের পঙ্কিল জলাশয়ে নিমজ্জিত হয়েছে এবং সেখান থেকে প্রাণভরে পান করেছে যা আল্লাহ ইচ্ছা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লি-আহলিস সুন্নাতি ওয়াল হাদিসি ফি রাদ্দি আবাতিলি হাসান আল-মালিকি
(পৃষ্ঠা: ৭)
يَعُب، واطَّلع على ما أمكنه الاطِّلاعُ عليه من كتب أهل السُّنَّة لالتقاط الأخطاء وتصيُّد المثالب، ثم تقيَّأ ذلك كلَّه في أوراق سَمَّاها بحوثاً.ومن أقبح ما تقيَّأه بحثه المزعوم الذي سَمَّاه"قراءة في كتب العقائد ـ المذهب الحنبلي نموذجاً"، وقد شحنه بالهذيان والأباطيل في ذمِّ أهل السُّنَّة والثناء على المبتدعة، وسأشير هنا إلى جملة من تلك الأباطيل، ذاكراً بعدها رقم المبحث الذي وردت فيه من هذا الرد.فمِن ذلك زعمه أنَّ مصطلحَ العقيدة مبتدَع (6) ، وقدحه في كتب أهل السُّنَّة في العقيدة (7) ، وزعمه الاكتفاء بإسلام لا يُتعرَّض فيه لجزئيات العقيدة؛ لأنَّ ذلك بزعمه يُفرِّق المسلمين (8) ، وثناؤه على أهل البدع وقدحه في أهل السُّنَّة (9) ، وقدحه في أفضليَّة أبي بكر رضي الله عنه وأحقيَّته بالخلافة (11) ، وقدحه في خلافة عمر وعثمان رضي الله عنهما (12) ، وقدحه في أحاديث صحيحة بعضها في الصحيحين (14) ، وزعمه أنَّ المعوَّل عليه في النصوص ما كان قطعيَّ الثبوت قطعيَّ الدلالة فقط (15) ، وزعمه أنَّ أهل السُّنَّة مجسِّمة ومشبِّهة (16) ، وثناؤه على المأمون الذي نصر المبتدعة وآذى أهلَ السُّنَّة وذمُّه للمتوكِّل الذي نصر السنَّة وأنهى المحنة (18) ، وتشكيكه في ثبوت السنَّة والإجماع، وزعمه أنَّ أهل السُّنَّة يُزَهِّدون في التحاكم إلى القرآن مع المبالغة في الأخذ بأقوال الرِّجال (24) ، وزعمه أنَّ أهل السُّنَّة يُزهِّدون في كبائر الذنوب والموبقات (25) ، وزعمه أنَّ أهل السُّنَّة يتساهلون مع اليهود والنصارى مع التشدُّد مع المسلمين (26) ، وزعمه أنَّ قاعدةَ (اتِّباع الكتاب والسنَّة بفهم سلف الأمَّة) باطلةٌ وأنَّها بدعة (27) ، وزعمه أنَّ تقسيم التوحيد إلى ربوبيَّة وألوهيَّة تقسيمٌ مبتدَع (28) ، وتشنيعه على الإمام أحمد في
তিনি আহলুস সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ থেকে যতটুকু সম্ভব পাঠ করেছেন এবং ভুল ধরার ও দোষ-ত্রুটি অন্বেষণ করার উদ্দেশ্যে তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন। অতঃপর তিনি সেই সব কিছুকে এমন কিছু কাগজে উগড়ে দিয়েছেন যেগুলোকে তিনি ‘গবেষণা’ বলে অভিহিত করেছেন।আর তিনি যা কিছু উগড়ে দিয়েছেন তার মধ্যে জঘন্যতম হলো তাঁর সেই কথিত গবেষণা, যার নাম তিনি দিয়েছেন “আকিদাহর গ্রন্থসমূহ পাঠ: হাম্বলি মাযহাব একটি নমুনা”। তিনি একে আহলুস সুন্নাহর নিন্দা এবং বিদআতিদের প্রশংসামূলক প্রলাপ ও অসার কথায় পরিপূর্ণ করেছেন। আমি এখানে সেই সব অসার কথার একটি সারসংক্ষেপ তুলে ধরব এবং এই খণ্ডনমূলক রচনার যে পরিচ্ছেদে সেগুলো আলোচিত হয়েছে তার নম্বর উল্লেখ করব।এর মধ্যে রয়েছে তাঁর এই দাবি যে, ‘আকিদাহ’ পরিভাষাটি একটি নবউদ্ভাবিত বিষয় (৬); আহলুস সুন্নাহর আকিদাহ বিষয়ক গ্রন্থাবলি নিয়ে কটাক্ষ করা (৭); তাঁর এই দাবি যে, এমন এক ইসলামের ওপর তুষ্ট থাকা উচিত যেখানে আকিদাহর সূক্ষ্ম বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে না, কেননা তাঁর ধারণা মতে এটি মুসলিমদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করে (৮); বিদআতিদের প্রশংসা এবং আহলুস সুন্নাহর সমালোচনা (৯); আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর শ্রেষ্ঠত্ব এবং খিলাফতের ব্যাপারে তাঁর অধিকতর হকের বিষয়ে কটাক্ষ করা (১১); উমর ও উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর খিলাফতের সমালোচনা করা (১২); সহিহ হাদিসসমূহ নিয়ে কটাক্ষ করা, যার কিছু বুখারি ও মুসলিম শরীফেও বিদ্যমান (১৪); তাঁর এই দাবি যে, দলিলাদির ক্ষেত্রে কেবল সেই সব বিষয়ের ওপর নির্ভর করতে হবে যা অকাট্যভাবে প্রমাণিত এবং যার অর্থও অকাট্য (১৫); তাঁর এই দাবি যে, আহলুস সুন্নাহ হলো মুজাসসিমা ও মুশাববিহা (১৬); মামুন (খলিফা)-এর প্রশংসা করা, যে বিদআতিদের সাহায্য করেছিল এবং আহলুস সুন্নাহকে কষ্ট দিয়েছিল, পক্ষান্তরে মুতাওয়াক্কিল-এর নিন্দা করা, যিনি সুন্নাহকে বিজয়ী করেছিলেন এবং ফিতনার সমাপ্তি ঘটিয়েছিলেন (১৮); সুন্নাহর প্রামাণ্যতা এবং ইজমার বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করা; তাঁর এই দাবি যে, আহলুস সুন্নাহ কুরআনের ফয়সালা মানার ক্ষেত্রে নিরুৎসাহিত করে এবং ব্যক্তিবর্গের মতামতের অনুসরণে বাড়াবাড়ি করে (২৪); তাঁর এই দাবি যে, আহলুস সুন্নাহ কবিরা গুনাহ ও ধ্বংসাত্মক পাপাচারসমূহকে হালকা করে দেখায় (২৫); তাঁর এই দাবি যে, আহলুস সুন্নাহ ইহুদি ও খ্রিস্টানদের প্রতি নমনীয়তা প্রদর্শন করে আর মুসলিমদের প্রতি কঠোরতা দেখায় (২৬); তাঁর এই দাবি যে, ‘উম্মাহর সালাফদের বুঝ অনুযায়ী কিতাব ও সুন্নাহর অনুসরণ’—এই মূলনীতিটি বাতিল এবং এটি একটি বিদআত (২৭); তাঁর এই দাবি যে, তাওহিদকে রুবুবিয়্যাহ ও উলুহিয়্যাহ-তে ভাগ করা একটি নবউদ্ভাবিত বিভাজন (২৮); এবং ইমাম আহমাদ (রহ.)-এর কুৎসা রটনা করা...
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লি-আহলিস সুন্নাতি ওয়াল হাদিসি ফি রাদ্দি আবাতিলি হাসান আল-মালিকি
(পৃষ্ঠা: ১১)
مسألة التكفير (29) ، ورميه أهل السُّنَّة بالنَّصب وزعمه أنَّ ابن تيمية وابن القيم والذهبي وابن كثير نواصب (30) .والله يعلم أنِّي كارهٌ لإيراد كلامه في هذه الأباطيل، لكن دعت الضرورة إلى ذلك، وأقول فيها كما قال السيوطي في كتابه"مفتاح الجنة في الاحتجاج بالسنَّة" (ص: 5) : "اعلموا ـ يرحمكم الله ـ أنَّ من العلم كهيئة الدواء، ومن الآراء كهيئة الخلاء، لا تُذكر إلَاّ عند داعية الضرورة، وأنَّ مِمَّا فاح ريحُه في هذا الزمان، وكان دارساً بحمد الله تعالى منذ أزمان، وهو أنَّ قائلاً رافضيًّا زنديقاً أكثر في كلامه أنَّ السنَّةَ النبويَّة والأحاديث المرويَّة ـ زادها الله علوًّا وشرَفاً ـ لا يُحتجُّ بها، وأنَّ الحجَّةَ في القرآن خاصَّة …فاعلموا ـ رحمكم الله ـ أنَّ مَن أنكر كون حديث النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم قولاً كان أو فعلاً بشرطه المعروف في الأصول ـ حجَّةً كفرَ وخرج عن دائرة الإسلام، وحُشر مع اليهود والنصارى، أو مع مَن شاء الله من فرق الكفرَة …وهذه آراء ما كنتُ أستحلُّ حكايتَها لولا ما دعت إليه الضرورة من بيان أصل هذا المذهب الفاسد، الذي كان الناس في راحة منه من أعصار".وما أشبه الليلة بالبارحة؛ فإنَّ التشابهَ بين المالكي وهذا الرافضي الذي ذكره السيوطي واضحٌ؛ لأنَّ المالكيَّ شكَّك في ثبوت السنَّة وزعم أنَّ ثبوتَها مختلفٌ فيه، وقال في (ص: 164) من قراءته المزعومة: "فقد اختلف المسلمون في ثبوت السنة وفي الإجماع وفي القياس وفي قول الصحابي وفي غير ذلك، لكن لم يختلفوا أنَّ القرآن هو المصدر الرئيس الشرعي في كلِّ أمر من الأمور الدينية"!!ويرى بعضُ الناس أنَّ في الردِّ على هذا المالكيِّ إشهاراً له، وأقول: نعم! هو إشهارٌ له، لكن بالخزي والفضيحة، واشتهارُه نظيرُ اشتهار صاحب
তাকফীর (কাউকে কাফির সাব্যস্ত করা) সংক্রান্ত মাসআলা (২৯), এবং আহলে সুন্নাতকে 'নাসবি' হওয়ার অপবাদ দেওয়া এবং তার এই দাবি যে ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইবনুল কায়্যিম, আয-যাহাবী এবং ইবনে কাসীর নাসবি ছিলেন (৩০)।আল্লাহ জানেন যে, তার এই বাতিল কথাগুলো উদ্ধৃত করতে আমি অপছন্দবোধ করছি, কিন্তু আবশ্যকতা আমাকে সেদিকে বাধ্য করেছে। এ বিষয়ে আমি তা-ই বলছি যা সুয়ূতী তাঁর "মিফতাহুল জান্নাহ ফিল ইহতিজাজি বিস-সুন্নাহ" (পৃষ্ঠা: ৫) গ্রন্থে বলেছেন: "আপনারা জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাদের প্রতি রহম করুন—নিশ্চয়ই ইলমের কিছু অংশ ঔষধের ন্যায় এবং কিছু অভিমত শৌচাগারের (নোংরা বিষয়ের) ন্যায়; যা একান্ত প্রয়োজন ছাড়া উল্লেখ করা হয় না। বর্তমান যুগে এমন কিছু বিষয় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে যা আল্লাহর শুকরিয়া যে দীর্ঘকাল ধরে বিলুপ্ত ছিল। আর তা হলো জনৈক রাফেযী যিনদীক তার কথায় এই দাবি অধিক পরিমাণে করছে যে, নববী সুন্নাহ এবং বর্ণিত হাদীসসমূহ—আল্লাহ যার মর্যাদা ও সম্মান আরও বৃদ্ধি করুন—প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয় এবং দলিল কেবল কুরআনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ …অতএব আপনারা জেনে রাখুন—আল্লাহ আপনাদের প্রতি রহম করুন—যে ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস—চাই তা কথা হোক বা কাজ, যা উসূলে (মূলনীতিতে) সুপ্রসিদ্ধ শর্তানুযায়ী প্রমাণিত—তা দলিল হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করবে, সে কুফরি করল এবং ইসলামের গণ্ডি থেকে বের হয়ে গেল। তার হাশর হবে ইহুদি ও নাসারাদের সাথে অথবা কাফিরদের সেই সব দলের সাথে যাদের সাথে আল্লাহ চাইবেন …এগুলো এমন কিছু মতবাদ যা বর্ণনা করা আমি বৈধ মনে করতাম না, যদি না এই ভ্রান্ত মাযহাবের স্বরূপ উন্মোচনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিত, যা থেকে মানুষ দীর্ঘকাল শান্তিতে ছিল।"আজকের রাতের সাথে গতকালের রাতের কী অপূর্ব মিল! সুয়ূতী যে রাফেযীর কথা উল্লেখ করেছেন তার সাথে এই মালিকীর সাদৃশ্য অত্যন্ত স্পষ্ট। কারণ মালিকী সুন্নাহর প্রামাণিকতা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেছে এবং দাবি করেছে যে এর প্রামাণিকতা মতভেদপূর্ণ। সে তার তথাকথিত পাঠের ১৬৪ পৃষ্ঠায় বলেছে: "সুন্নাহর প্রামাণিকতা, ইজমা, কিয়াস, সাহাবীর বক্তব্য এবং অন্যান্য বিষয়ে মুসলিমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে; কিন্তু দ্বীনি সকল বিষয়ে কুরআনই যে প্রধান শরয়ী উৎস—এ বিষয়ে তারা কোনো মতভেদ করেনি"!!কিছু মানুষ মনে করেন যে এই মালিকীর খণ্ডন করার মাধ্যমে তাকে প্রসিদ্ধি দেওয়া হচ্ছে। আমি বলব: হ্যাঁ! এটি তার প্রসিদ্ধি বটে, তবে তা লাঞ্ছনা ও অপমানের প্রসিদ্ধি। তার প্রসিদ্ধি তো সেই ব্যক্তির প্রসিদ্ধির মতো যে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লি-আহলিস সুন্নাতি ওয়াল হাদিসি ফি রাদ্দি আবাতিলি হাসান আল-মালিকি
(পৃষ্ঠা: ১২)
الحكاية الذي قال: سأعملُ عملاً أُذكَر به في التاريخ، فما كان منه في جمع حاشد إلَاّ أن خلَع ثيابَه وتعرَّى أمامهم، فتحقَّق له ذلك الذي أراده، وأيضاً فمِن المعلوم أنَّ الباطلَ إذا ظهر تعيَّن كشفُه وتزييفُه وإيضاحُ بطلانه.وإذا لَم يهتد المالكي قبل بلوغه أجلَه فسيموتُ بغيظه، وسيبقى إن شاء الله ذكرُه السيِّء كما بقي ذكرُ أسلافه، كالجعد بن درهم، وجهم بن صفوان، وغيرهما من المبتدعة أهل الزيغ والضلال، وستبقى إن شاء الله الردودُ عليه، كما بقيت الردودُ من علماء السلف، كالإمام أحمد والدارمي وابن منده الذين ردُّوا على الجهمية.وقد قلت في مقدِّمة كتابي"الانتصار للصحابة الأخيار في ردِّ أباطيل حسن المالكي": "وسأُفرِدُ بحول الله الردَّ عليه فيه ـ أعني قراءته المزعومة في كتب العقائد ـ بكتاب بعنوان: الانتصار لأهل السُّنَّة والحديث في ردِّ أباطيل حسن المالكي"، وبإنجاز هذا الردّ أكون قد وفَّيتُ بهذا الوعد، والحمد لله ربِّ العالَمين.ولكون الجهاد المتيسِّر في هذا الزمان جهاد أهل النفاق والإلحاد والزيغ والضلال، ولأنَّني عند قراءتي بحثيْه المزعومين الذين رددتُ عليهما مع كتابه السيِّء عن الإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله، وجدتُه ذكرَ أسماءَ بحوث زعم أنَّه بصدد كتابتها، فإنِّي أعِدُ الآنَ بأنِّي على استعداد للردِّ عليه، إمَّا بنفسي، أو بالطلب من غيري، ولذا آملُ مِمَّن يقف على شيء من بحوثه المزعومة تزويدي بنسخة من ذلك.وأسأل الله عز وجل أن يُريَنا الحقَّ حقًّا ويُوفِّقنا لاتِّباعه، والباطلَ باطلاً ويُوفِّقنا لاجتنابه، وأن ينصرَ دينَه ويُعلي كلمتَه، إنَّه سبحانه وتعالى جوادٌ كريم، وصلى الله وسلَّم وبارَك على نبيِّنا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين.
সেই ব্যক্তির কাহিনী যে বলেছিল: "আমি এমন এক কাজ করব যার মাধ্যমে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকব।" অতঃপর এক বিশাল জনসমাবেশে সে কেবল তার পোশাক খুলে সবার সামনে উলঙ্গ হয়ে গেল; ফলে সে যা চেয়েছিল তা অর্জিত হলো। তদুপরি এটি সর্বজনবিদিত যে, যখন বাতিলের (মিথ্যার) প্রাদুর্ভাব ঘটে, তখন তা উন্মোচন করা, মিথ্যা প্রতিপন্ন করা এবং এর অসারতা স্পষ্ট করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে।আর যদি মালিকী তার মৃত্যু আসার পূর্বে হেদায়েত প্রাপ্ত না হয়, তবে সে তার ক্ষোভ নিয়েই মারা যাবে। আল্লাহ যদি চান, তবে তার এই কুখ্যাতি অবশিষ্ট থাকবে যেভাবে তার পূর্বসূরীদের কুখ্যাতি অবশিষ্ট রয়েছে—যেমন আল-জাদ বিন দিরহাম, জাহম বিন সাফওয়ান এবং বক্রতা ও পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত অন্যান্য বিদআতিরা। আল্লাহ যদি চান, তার বিরুদ্ধে লিখিত এই প্রতিবাদসমূহও টিকে থাকবে, যেভাবে সালাফদের উলামায়ে কিরামের খণ্ডনমূলক কিতাবসমূহ অবশিষ্ট রয়েছে; যেমন ইমাম আহমাদ, আদ-দারিমি এবং ইবনে মানদাহ, যারা জাহমিয়াদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছিলেন।আমি আমার 'আল-ইতিসার লিস-সাহাবাতিল আখইয়ার ফি রাদ্দি আবাতিলে হাসান আল-মালিকী' নামক গ্রন্থের ভূমিকায় বলেছিলাম: "আমি আল্লাহর শক্তিতে তার তথাকথিত 'আকীদার কিতাবসমূহের পাঠ'-এর ওপর একটি স্বতন্ত্র খণ্ডনমূলক গ্রন্থ রচনা করব, যার শিরোনাম হবে: 'আল-ইতিসার লি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল হাদীস ফি রাদ্দি আবাতিলে হাসান আল-মালিকী'"। এই খণ্ডনপত্রটি সম্পন্ন করার মাধ্যমে আমি আমার সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করলাম, আর সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।যেহেতু বর্তমান সময়ে সহজলভ্য জিহাদ হলো মুনাফিক, নাস্তিক, পথভ্রষ্ট ও বক্রতার অনুসারীদের বিরুদ্ধে জিহাদ, এবং যেহেতু আমি যখন তার সেই দুটি তথাকথিত গবেষণা পাঠ করি যা আমি খণ্ডন করেছি এবং ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) সম্পর্কে তার কুরুচিপূর্ণ গ্রন্থটি পাঠ করি, তখন দেখতে পাই যে সে এমন কিছু গবেষণার নাম উল্লেখ করেছে যা সে লিখছে বলে দাবি করেছে; তাই আমি এখন প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, আমি তার প্রতিবাদ করতে প্রস্তুত আছি—তা আমি নিজে করি অথবা অন্য কাউকে করার অনুরোধ করি। তাই আমি আশা করি, যদি কেউ তার এ জাতীয় কোনো তথাকথিত গবেষণাপত্র হাতে পান, তবে আমাকে যেন তার একটি অনুলিপি সরবরাহ করেন।আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের নিকট সত্যকে সত্য হিসেবেই প্রদর্শন করেন এবং তা অনুসরণের তাওফিক দান করেন, আর মিথ্যাকে মিথ্যা হিসেবে দেখান এবং তা বর্জনের সামর্থ্য দান করেন। তিনি যেন তাঁর দ্বীনকে সাহায্য করেন এবং তাঁর বাণীকে সমুন্নত করেন। নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় মহিমান্বিত ও উচ্চমর্যাদাবান, অত্যন্ত দানশীল ও দয়ালু। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লি-আহলিস সুন্নাতি ওয়াল হাদিসি ফি রাদ্দি আবাতিলি হাসান আল-মালিকি
(পৃষ্ঠা: ১০)
1 ـ إهداؤه كتابه نموذج من هدايا الضلال والإضلالصدَّر المالكي قراءته في كتب العقائد بالإهداء إلى عموم المسلمين من علماء وباحثين ومفكِّرين وساسة، وقال: "وهو في الوقت نفسه إهداء إلى كلِّ المختلفين من أصحاب المذاهب، سواء كانوا سنَّةً أو شيعة أو إباضية … سلفية أو أشاعرة … وهو إهداء أيضاً إلى أصحاب التيارات الأخرى من المنتمين إلى علمانية أو اشتراكية أو حداثة فكرية أو ليبيرالية؛ لعلَّهم يجدون تصحيحاً لِمَا ألصقه المتمذهبون بدين الإسلام!! ".وتعليقاً على هذا الإهداء أقول:1 ـ إهداءُ العلم النافع له أصل عند سلف هذه الأمَّة من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقد روى البخاري (3370) ، ومسلم (406) ، واللفظ للبخاري بإسناده إلى عبد الرحمن بن أبي ليلى قال: "لقينِي كعب بن عُجرة فقال: ألَا أُهدي لك هديَّة سمعتُها من النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم؟ فقلت: بلى! فأهدِهَا لي، فقال: سألْنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلنا: يا رسول الله! كيف الصلاة عليكم أهل البيت، فإنَّ الله قد علَّمنا كيف نسلِّم؟ قال: قولوا: اللَّهمَّ صلِّ على محمد وعلى آل محمد، كما صلَّيتَ على إبراهيم وعلى آل إبراهيم، إنَّك حميدٌ مجيدٌ، اللَّهم بارِك على محمدٍ وعلى آل محمدٍ كما باركتَ إلى إبراهيم وعلى آل إبراهيم إنَّك حميدٌ مجيد".2 ـ من الناس مَن تكون هديَّتُه دعوةً إلى الحقِّ والهُدى، ولا حدَّ لنفع هذه الهديَّة، ومنهم مَن تكون هديَّتُه دعوةً إلى الضلال، ولا حدَّ لضرر هذه الهديَّة؛ فقد روى مسلمٌ في صحيحه (2674) عن أبي هريرة رضي الله عنه: أنَّ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم قال: "مَن دعا إلى هدى كان له من الأجر مثل أجور مَن تبعه، لا
1 ـ তার গ্রন্থ উৎসর্গ করা: বিভ্রান্তি এবং বিভ্রান্ত করার উপহারের একটি দৃষ্টান্তআল-মালিকি আকিদাহ শাস্ত্রের গ্রন্থগুলোর ওপর তার পর্যালোচনার সূচনা করেছেন সাধারণ মুসলিমদের প্রতি উৎসর্গ করার মাধ্যমে, যার মধ্যে রয়েছেন আলেম, গবেষক, চিন্তাবিদ এবং রাজনীতিবিদ। তিনি বলেছেন: "একই সঙ্গে এটি বিভিন্ন মাজহাবের সকল ভিন্নমতাবলম্বীদের প্রতিও উৎসর্গকৃত, তারা সুন্নি হোক কিংবা শিয়া অথবা ইবাদি … সালাফি হোক কিংবা আশআরি … এটি অন্যান্য মতাদর্শের অনুসারীদের প্রতিও একটি উপহার, যারা ধর্মনিরপেক্ষতা, সমাজতন্ত্র, বুদ্ধিবৃত্তিক আধুনিকতাবাদ কিংবা উদারবাদের সাথে যুক্ত; যাতে তারা সম্ভবত সেই বিষয়গুলোর সংশোধন খুঁজে পায় যা মাজহাবপন্থীরা ইসলাম ধর্মের সাথে জুড়ে দিয়েছে!!"।এই উৎসর্গপত্রের ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে আমি বলি:১ - উপকারী জ্ঞান উপহার দেওয়ার বিষয়টি এই উম্মাহর সালফ তথা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের মাঝে প্রচলিত ছিল। ইমাম বুখারী (৩৩৭০) এবং মুসলিম (৪০৬) বর্ণনা করেছেন, আর শব্দগুলো বুখারীর, যা তিনি আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে তার সনদে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "কাব ইবনে উজরাহ (রা.)-এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো, তখন তিনি বললেন: আমি কি তোমাকে একটি উপহার দেব না যা আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি? আমি বললাম: অবশ্যই! আমাকে তা প্রদান করুন। তখন তিনি বললেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, হে আল্লাহর রাসূল! আপনাদের ওপর অর্থাৎ আহলে বাইতের ওপর আমরা কীভাবে দরুদ পাঠ করব? আল্লাহ তো আমাদের শিখিয়ে দিয়েছেন কীভাবে সালাম দিতে হয়? তিনি বললেন: তোমরা বলো: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর দরুদ বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইবরাহিম এবং ইবরাহিমের বংশধরদের ওপর দরুদ বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয় আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদের বংশধরদের ওপর বরকত নাজিল করুন, যেমন আপনি ইবরাহিম এবং ইবরাহিমের বংশধরদের ওপর বরকত নাজিল করেছেন। নিশ্চয় আপনি অতি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত"।২ - মানুষের মধ্যে কেউ এমন থাকে যার উপহার হলো সত্য ও হেদায়েতের দিকে দাওয়াত, আর এই উপহারের উপকারের কোনো সীমা নেই। আবার কেউ এমন থাকে যার উপহার হলো গোমরাহি বা পথভ্রষ্টতার দিকে দাওয়াত, আর এই উপহারের ক্ষতির কোনো সীমা নেই। ইমাম মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে (২৬৭৪) আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি হেদায়েতের দিকে আহ্বান করবে, তার জন্য সেই পরিমাণ সওয়াব হবে যা তার অনুসারীদের জন্য হবে, এতে..."
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লি-আহলিস সুন্নাতি ওয়াল হাদিসি ফি রাদ্দি আবাতিলি হাসান আল-মালিকি
(পৃষ্ঠা: ১১)
ينقصُ ذلك من أجورهم شيئاً، ومَن دعا إلى ضلالة كان عليه من الإثم مثل آثام من تبعه، لا ينقص ذلك من آثامهم شيئاً".ومن الناس من يُهدي السَّمنَ والعسل، ومنهم مَن يُهدي السُّمَّ والحنظلَ والحيَّات والعقارب، وهديَّة المالكي هذه من نوع هدايا الضلال والسُّمِّ والحنظل والحيَّات والعقارب، كما سيتَّضح ذلك في دحض أباطيله التي اشتمل عليها هذا الكتاب المُهدَى.3 ـ هذا الكتاب المُهدَى مشتملٌ على الذمِّ والثَّلب لأهل السُّنة والجماعة، والتَّأييد لفرق الضلال المختلفة، وهو في الحقيقة هديَّة ثمينةٌ لفرق الضلال.4 ـ من العجيب شموله في هديته للعلمانيِّين ومَن ذكر معهم لعلَّهم يَجدون تصحيحاً لِما ألصقه المتمذهبون بدين الإسلام، وهم لن يُحصِّلوا التصحيح المزعوم، وإنَّما سيجدون ما يَسرُّهم من الذَّمِّ والنَّيل لأهل السنَّة.
...তাদের প্রতিদান থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস পাবে না; এবং যে ব্যক্তি কোনো পথভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান জানাবে, তার উপর তাকে অনুসরণকারীদের সমপরিমাণ পাপ বর্তাবে, যা তাদের পাপসমূহ থেকে বিন্দুমাত্র হ্রাস করবে না।"মানুষের মধ্যে কেউ কেউ ঘি ও মধু উপহার দেয়, আবার কেউ কেউ বিষ, হানযাল (তিক্ত ফল), সাপ ও বিচ্ছু উপহার দেয়। আল-মালিকির এই উপহারটি পথভ্রষ্টতা, বিষ, হানযাল, সাপ ও বিচ্ছুর ন্যায় উপহারের পর্যায়ভুক্ত, যা এই উপহারকৃত বইটিতে নিহিত তার বাতিল মতবাদসমূহ খণ্ডন করার মাধ্যমে অচিরেই স্পষ্ট হয়ে উঠবে।৩ — এই উপহারকৃত বইটি আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিন্দা ও কুৎসা এবং বিভিন্ন বিভ্রান্ত ফেরকার সমর্থনের ওপর পর্যবসিত; প্রকৃতপক্ষে এটি পথভ্রষ্ট দলগুলোর জন্য একটি অতি মূল্যবান উপঢৌকন।৪ — এটি অতীব বিস্ময়কর যে, তিনি তার এই উপহারের তালিকায় ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী এবং তাদের সাথে উল্লিখিত ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করেছেন; সম্ভবত এই আশায় যে তথাকথিত মাযহাবপন্থীরা ইসলামের নামে যা কিছু চালিয়ে দিয়েছে, তারা তার কোনো সংশোধন খুঁজে পাবে। অথচ তারা সেই কাঙ্ক্ষিত সংশোধন খুঁজে পাবে না, বরং সেখানে আহলুস সুন্নাহর নিন্দা ও কুৎসা সম্বলিত এমন সব বিষয় খুঁজে পাবে যা তাদের প্রীত করবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লি-আহলিস সুন্নাতি ওয়াল হাদিসি ফি রাদ্দি আবাতিলি হাসান আল-মালিকি
(পৃষ্ঠা: ১১)
2 ـ كاتب هذا البحث المزعوم وناشره وصاحب الأَحَدية متعاونون على الإثم والعدوانقال في (ص: 9 ـ الحاشية) : "أصل هذا الكتاب محاضرة ألقيتُها في أَحَدية الدكتور راشد المبارك (6/8/1420هـ ـ 14/11/1999م") ، وذكر في مطلع كتابه المشين في الصحابة الذي سبق أن رددتُ عليه في كتابي: "الانتصار للصحابة الأخيار"، ذكر أنَّ أصلَ ذلك الكتاب محاضرةٌ ألقاها في أحدية الدكتور راشد المبارك يوم الأحد 26 ذي القعدة 1419هـ.
২ ـএই কথিত গবেষণার লেখক, এর প্রকাশক এবং 'আহাদিয়া'র স্বত্বাধিকারী পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে পরস্পর সহযোগীতিনি (৯ পৃষ্ঠার পাদটীকায়) বলেছেন: "এই গ্রন্থটির মূল উৎস হলো একটি বক্তৃতা যা আমি ডক্টর রাশিদ আল-মুবারকের 'আহাদিয়া' মজলিসে প্রদান করেছিলাম (৬/৮/১৪২০ হিজরি — ১৪/১১/১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ)"। সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে তার সেই নিন্দনীয় গ্রন্থের শুরুতে—যার প্রতিবাদ আমি ইতিপূর্বে আমার 'আল-ইনতিসার লিস-সাহাবাতিল আখইয়ার' গ্রন্থে করেছি—তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সেই গ্রন্থটির মূল ভিত্তিও ছিল একটি বক্তৃতা যা তিনি ২৬শে যিলকদ ১৪১৯ হিজরি, রবিবার ডক্টর রাশিদ আল-মুবারকের 'আহাদিয়া' মজলিসে প্রদান করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লি-আহলিস সুন্নাতি ওয়াল হাদিসি ফি রাদ্দি আবাতিলি হাসান আল-মালিকি
(পৃষ্ঠা: ১২)
أقول معلِّقاً على ذلك:ما كان يليق بصاحب الأحدية المذكورة أن يُمكِّنَ من إلقاء هذا الباطل في أَحديَّته؛ لأنَّ مثلَ هذا التمكين من التعاون على الإثم والعدوان؛ فقد روى مسلمٌ في صحيحه (671) عن أبي هريرة رضي الله عنه: أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "أحبُّ البلاد إلى الله مساجدها، وأبغض البلاد إلى الله أسواقها"، وإنَّما كانت الأسواقُ أبغضَ البلاد إلى الله لِمَا يكون فيها من الصَّخَب واللَّغو والكلام الذي لا ينبغي، ولا شكَّ أنَّ الأماكنَ التي يكون فيها منابرُ لإعلان الباطل ونشره أَسْوأُ من الأسواق، فقد قال الله عز وجل عن الأرض: {يَوْمَئِذٍ تُحَدِّثُ أَخْبَارَهَا} ، قال ابن كثير في تفسيره: "أي تُحدِّث بما عمل العاملون على ظهرها"، ثم ذكر حديثاً في ذلك ضعيف الإسناد.وفي صحيح البخاري (986) عن جابر رضي الله عنه قال: "كان النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم إذا كان يوم عيد خالف الطريقَ"، وذكر الحافظ ابن حجر في الفتح في شرحه عدَّةَ أقوال في حكمة ذلك، أوَّلها: أنَّه فعل ذلك ليشهدَ له الطريقان.وأسوأُ حالاً من صاحب الأَحَدية مَن قام بطباعة هذا الكتاب ونشره؛ فإنَّ لكلِّ ساقطةٍ لاقطة، فهذه القراءة المزعومة في كتب العقائد تلقَّفها ونشرها مركز للدراسات التاريخية في دولة عربية، وهو عملٌ من أعظم التعاون على الإثم والعدوان؛ لِمَا فيه من تعميم نشر الباطل على نطاق واسع، وقد مرَّ قريباً قول الرسول صلى الله عليه وسلم: "مَن دعا إلى هدى كان له من الأجر مثل أجور من تبعه، لا ينقصُ ذلك من أجورهم شيئاً، ومَن دعا إلى ضلالة كان عليه من الإثم مثل آثام من تبعه، لا ينقص ذلك من آثامهم شيئاً".
আমি এর ওপর মন্তব্য করে বলছি:উল্লিখিত ‘আহাদিয়া’-এর স্বত্বাধিকারীর জন্য তাঁর সেই কেন্দ্রে এই বাতিল বিষয় প্রচারের সুযোগ করে দেওয়া সমীচীন হয়নি; কারণ এ ধরনের সুযোগ দেওয়া পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে সহযোগিতার শামিল। ইমাম মুসলিম তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে (৬৭১) আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় স্থান হলো মসজিদসমূহ এবং আল্লাহর নিকট সবচেয়ে অপ্রিয় স্থান হলো বাজারসমূহ।" বাজার আল্লাহর নিকট সবচেয়ে অপ্রিয় হওয়ার কারণ হলো সেখানে শোরগোল, অসার কার্যকলাপ এবং অনভিপ্রেত কথাবার্তা হয়ে থাকে। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যেসব স্থানে বাতিল প্রচার ও প্রসারের মঞ্চ তৈরি করা হয়, তা বাজারের চেয়েও নিকৃষ্ট। কেননা আল্লাহ তাআলা পৃথিবী সম্পর্কে বলেছেন: {সেদিন সে তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে}। ইবনে কাসীর তাঁর তাফসীর গ্রন্থে বলেছেন: "অর্থাৎ আমলকারীরা তার পিঠের ওপর যা করেছে, সে সম্পর্কে সে সংবাদ দিবে।" এরপর তিনি এ বিষয়ে একটি দুর্বল সনদের হাদীস উল্লেখ করেছেন।সহীহ বুখারীতে (৯৮৬) জাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঈদের দিন যাতায়াতের পথ পরিবর্তন করতেন।" হাফেজ ইবনে হাজার ‘ফাতহুল বারী’তে এর ব্যাখ্যামূলক আলোচনায় এর হিকমত সম্পর্কে বেশ কিছু অভিমত উল্লেখ করেছেন, যার প্রথমটি হলো: তিনি এমনটি করেছিলেন যাতে উভয় পথ তাঁর অনুকূলে সাক্ষ্য প্রদান করে।আর উক্ত ‘আহাদিয়া’-এর মালিকের চেয়েও শোচনীয় অবস্থা তাঁর, যে এই বইটি মুদ্রণ ও প্রকাশ করেছে। কারণ প্রত্যেক ভ্রান্ত মতাদর্শেরই কোনো না কোনো গ্রহণকারী থাকে। আকীদা বিষয়ক গ্রন্থাবলির এই কথিত ব্যাখ্যা একটি আরব দেশের একটি ঐতিহাসিক গবেষণা কেন্দ্র লুফে নিয়েছে এবং প্রচার করেছে। এটি পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে এক বড় ধরনের সহযোগিতা; কারণ এর মাধ্যমে ব্যাপকভাবে বাতিলের বিস্তার ঘটানো হয়েছে। আর ইতিপূর্বেই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই বাণী অতিক্রান্ত হয়েছে: "যে ব্যক্তি হিদায়াতের দিকে আহ্বান জানাবে, সে তার অনুসরণকারীদের সমপরিমাণ প্রতিদান পাবে, এতে তাদের প্রতিদানে কোনো ঘাটতি হবে না। আর যে ব্যক্তি ভ্রষ্টতার দিকে আহ্বান জানাবে, তার ওপর তার অনুসরণকারীদের সমপরিমাণ পাপ বর্তাবে, এতে তাদের পাপের কোনো কমতি হবে না।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লি-আহলিস সুন্নাতি ওয়াল হাদিসি ফি রাদ্দি আবাতিলি হাসান আল-মালিকি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
قال المنذريُّ في الترغيب والترهيب (1/65) تعليقاً على حديث "إذا مات ابن آدم انقطع عملُه إلَاّ من إحدى ثلاث … " الحديث، قال: "وناسخُ العلم النافعِ له أجره وأجر من قَرأَه أو نسخه أو عمل به من بعده، ما بقي خطُّه والعمل به؛ لهذا الحديث وأمثاله، وناسخ غير النافع مِمَّا يوجبُ الإثم، عليه وزرُه ووزرُ من قرأه أو نسخه أو عمل به من بعده، ما بقي خطُّه والعملُ به؛ لِمَا تقدَّم من الأحاديث (مَن سنَّ سُنَّة حسنة أو سيِّئة) ، والله أعلم".
আল-মুনযিরী 'আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব' (১/৬৫) গ্রন্থে "যখন আদম সন্তান মৃত্যুবরণ করে, তখন তিনটি বিষয় ব্যতীত তার আমল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় … " হাদীসটির ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন: "উপকারী ইলমের অনুলিপিকারীর জন্য রয়েছে তার নিজস্ব সওয়াব এবং তার পরবর্তী সময়ে যারা তা পাঠ করবে, অনুলিপি করবে কিংবা সে অনুযায়ী আমল করবে তাদের সকলের সওয়াব, যতক্ষণ তার লেখনী বিদ্যমান থাকবে এবং সে অনুযায়ী আমল অব্যাহত থাকবে; এই হাদীস এবং এর অনুরূপ বর্ণনাসমূহের আলোকে। আর অনুপকারী বা পাপ সঞ্চারকারী বিষয়ের অনুলিপিকারীর ওপর বর্তাবে তার নিজস্ব পাপের বোঝা এবং তার পরবর্তী সময়ে যারা তা পাঠ করবে, অনুলিপি করবে কিংবা সে অনুযায়ী আমল করবে তাদের সকলের পাপের বোঝা, যতক্ষণ তার লেখনী বিদ্যমান থাকবে এবং সে অনুযায়ী আমল অব্যাহত থাকবে; ইতিপূর্বে বর্ণিত হাদীসসমূহের (যে ব্যক্তি কোনো উত্তম বা মন্দ রীতির প্রচলন করে) ভিত্তিতে। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লি-আহলিস সুন্নাতি ওয়াল হাদিসি ফি রাদ্দি আবাতিলি হাসান আল-মালিকি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
3 ـ زعمه أنَّه سلفيٌّ سُنِيٌّ، وذِكرُ نماذج من كلامه تُبطل دعواهوقال في (ص: 9) : "قد يكون من فضول القول التأكيد بأنَّني ـ والحمد لله ـ من طلبة الحق والعلم، ومن أهل السُّنَّة والجماعة، ولا أرفع من الشعارات إلَاّ قال الله وقال رسوله صلى الله عليه وعلى آله وسلم، متحريًّا الحقَّ والصواب بحسب قُدراتي واجتهادي!! ".وقال في (ص: 17) : "وأخيراً فيجب أن أُؤكِّدَ أنَّنِي مسلمٌ سُنِيٌّ سلفيٌّ حنبليٌّ، ومَن زعم أنَّني أنتَمي لمذهب آخر باهَلتُه!! ".وقال في (ص: 196) : "بل لا أعتبر نفسي إلَاّ حنبليًّا بحكم النشأة والتعليم والبيت والتلقِّي والطريقة في الاستدلال".وأجيب عن هذه الدعاوى بما يلي:1 ـ نعم! إنَّ قولَ المالكي إنَّه من أهل السُّنَّة والجماعة هو من فضول القول وليس من حقائقه!
৩ ـ তার সালাফি ও সুন্নি হওয়ার দাবি এবং তার এই দাবি বাতিল সাব্যস্তকারী তার বক্তব্যের কিছু নমুনাতিনি (৯ পৃষ্ঠায়) বলেছেন: "এটি অনর্থক কথা হতে পারে যে আমি—সকল প্রশংসা আল্লাহর—সত্য ও জ্ঞানের একজন ছাত্র এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অন্তর্ভুক্ত। আমি 'আল্লাহ বলেছেন এবং তাঁর রাসূল (তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) বলেছেন' ব্যতীত অন্য কোনো স্লোগান তুলি না; বরং আমি আমার সামর্থ্য ও ইজতিহাদ অনুযায়ী সত্য ও সঠিক বিষয়টিই অনুসন্ধান করি!!"তিনি (১৭ পৃষ্ঠায়) বলেছেন: "পরিশেষে আমাকে অবশ্যই এটি নিশ্চিত করতে হবে যে আমি একজন সুন্নি, সালাফি এবং হাম্বলি মুসলিম। আর যে ব্যক্তি দাবি করবে যে আমি অন্য কোনো মাযহাবের অনুসারী, আমি তার সাথে মুবাহালা করব!!"তিনি (১৯৬ পৃষ্ঠায়) বলেছেন: "বরং আমি আমার বেড়ে ওঠা, শিক্ষা, পারিবারিক পরিবেশ, শিক্ষা গ্রহণ এবং দলীল উপস্থাপনের পদ্ধতির বিচারে নিজেকে একজন হাম্বলি ছাড়া অন্য কিছু মনে করি না।"এই দাবিগুলোর জবাব আমি নিম্নোক্তভাবে দিচ্ছি:১ ـ হ্যাঁ! মালিকির এই দাবি যে সে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অন্তর্ভুক্ত—এটি কেবলই একটি অবান্তর কথা, বাস্তবতার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই!
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লি-আহলিস সুন্নাতি ওয়াল হাদিসি ফি রাদ্দি আবাতিলি হাসান আল-মালিকি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
2 ـ أنَّ زعمَه أنَّه سُنِيٌّ سلفي حنبليٌّ مُجرَّدُ دعوى، تُبيِّنُ كلماتُه التي أنقلها من قراءته المزعومة من كتب العقائد بطلان هذه الدعوى.فليس سُنيًّا مَن يُشكِّك في أحقيَّة أبي بكر بالخلافة، ويقول في (ص: 48) : "لكن السبب في بيعتهم أبا بكر وتركهم عليًّا أنَّ عليًّا لم يكن موجوداً في السَّقيفة أثناء المجادلة والمناظرة مع الأنصار، وربَّما لو كان موجوداً لَتَمَّ له الأمر!! ".ويقول أيضاً في نفس الصفحة: "أمَّا أن يتمَّ الأمر في وسط النزاع المحتدم بين المهاجرين والأنصار، ثم بين الأوس والخزرج من الأنصار، فهذا يُضعف عندهم ـ يعني عليًّا ومن معه بزعمه ـ شرعيَّة البيعة، ويجعلها أشبه ما تكون بالقهر والغلبة، التي تتنافى مع الشورى المأمور بها شرعاً {وَأَمْرُهُمْ شُورَى بَيْنَهُمْ} !!! ".وليس سُنيًّا مَن يظنُّ بمعظم الأنصار ظنَّ السوء، فيزعم أنَّهم يرون أنَّ عليًّا أولَى بالخلافة من أبي بكر رضي الله عنهما، فيقول في (ص: 46) : "بل تبيَّن أنَّ معظمَ الأنصار كانوا يَميلون مع عليٍّ أكثر من ميلهم مع أبي بكر رضي الله عنهما!! ".وهذا الظنُّ السيِّء من المالكيِّ مبايِنٌ تَماماً لِمَا ثبت في صحيح البخاري (5666) وصحيح مسلم (2387) واللفظ لمسلم عن عائشة رضي الله عنها قالت: "قال لي رسول الله صلى الله عليه وسلم في مرضه: ادْعي لي أبا بكر وأخاك حتى أكتبَ كتاباً؛ فإنِّي أخاف أن يتَمنَّى مُتمنٍّ ويقول قائل: أنا أولى، ويأبى الله والمؤمنون إلَاّ أبا بكر".فلا يجوز أن يُظنَّ ببعض الأنصار ـ فضلاً عن معظمهم ـ أنَّهم يأبون إلَاّ
২. তার এই দাবি যে সে একজন সুন্নি সালাফি হাম্বলি, তা কেবলই একটি অন্তঃসারশূন্য দাবি; আকিদার কিতাবসমূহ থেকে তার স্বঘোষিত পাঠের যে বক্তব্যগুলো আমি উদ্ধৃত করব, তা থেকেই এই দাবির অসারতা স্পষ্ট হয়ে যাবে।কেননা যে ব্যক্তি আবু বকরের খিলাফতের হকের ব্যাপারে সংশয় পোষণ করে সে সুন্নি নয়। সে (৪৮ নং পৃষ্ঠায়) বলে: "কিন্তু তাদের আবু বকরের হাতে বায়আত গ্রহণ এবং আলীকে ত্যাগ করার কারণ হলো, আনসারদের সাথে তর্ক-বিতর্ক ও আলোচনার সময় আলী সাকীফাতে উপস্থিত ছিলেন না; সম্ভবত তিনি যদি উপস্থিত থাকতেন, তবে বিষয়টি তার পক্ষেই সম্পন্ন হতো!!"।সে একই পৃষ্ঠায় আরও বলে: "মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে এবং পরবর্তীতে আনসারদের আউস ও খাজরাজ গোত্রের মাঝে বিদ্যমান তীব্র বিবাদের মধ্যে বিষয়টি যেভাবে সম্পন্ন হয়েছে, তা তাদের কাছে—অর্থাৎ তার দাবি অনুযায়ী আলী ও তাঁর সাথীদের কাছে—বায়আতের বৈধতাকে দুর্বল করে দেয় এবং একে জবরদস্তি ও প্রভাব বিস্তারের মতো করে তোলে, যা শরয়িভাবে নির্দেশিত পরামর্শ ব্যবস্থার (শূরা) পরিপন্থী {আর তাদের কার্যাবলি তাদের পারস্পরিক পরামর্শের ভিত্তিতে সম্পাদিত হয়}!!!"।আর সে সুন্নি নয় যে অধিকাংশ আনসার সম্পর্কে কুধারণা পোষণ করে এবং দাবি করে যে তারা আলীকে আবু বকরের (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) চেয়ে খিলাফতের অধিক যোগ্য মনে করতেন। সে (৪৬ নং পৃষ্ঠায়) বলে: "বরং এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, অধিকাংশ আনসার আবু বকরের চেয়ে আলীর দিকেই বেশি ঝুঁকে ছিলেন!!"।মালিকির এই কুধারণা সহিহ বুখারি (৫৬৬৬) ও সহিহ মুসলিমের (২৩৮৭) প্রমাণিত বর্ণনার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। মুসলিমের শব্দে আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর অসুস্থ অবস্থায় আমাকে বললেন: তুমি আমার কাছে আবু বকর ও তোমার ভাইকে ডেকে আনো যাতে আমি একটি কিতাব (নির্দেশনামা) লিখে দিই; কেননা আমি ভয় পাচ্ছি যে কোনো আকাঙ্ক্ষী ব্যক্তি আকাঙ্ক্ষা করবে এবং কোনো বক্তা বলবে: আমিই অধিক যোগ্য; অথচ আল্লাহ এবং মুমিনরা আবু বকর ছাড়া অন্য কাউকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাবেন"।অতএব, কতিপয় আনসার সম্পর্কেও এমন ধারণা করা জায়েজ নয়—অধিকাংশের কথা তো দূরে থাক—যে তারা আবু বকর ছাড়া অন্য কাউকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানাবেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লি-আহলিস সুন্নাতি ওয়াল হাদিসি ফি রাদ্দি আবাতিলি হাসান আল-মালিকি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
غير أبي بكر، مخالفين لِمَا جاء في هذا الحديث، فالله يأبَى إلَاّ أبا بكر، والمؤمنون يأبون إلَاّ أبا بكر، ويأبى بعضُ الذين اتَّبعوا غير سبيل المؤمنين من أهل الأهواء والبدع إلَاّ غير أبي بكر، نعوذ بالله من الخذلان.وليس سُنيًّا مَن يزعم في (ص: 164) : أنَّ السُّنَّةَ مختلفٌ في ثبوتها، وليس سُنيًّا مَن يَقدحُ في ثبوت حديث: "تركت فيكم كتاب الله وسُنَّتي"، ويصف في (ص: 71) الذين أثبتوه زاعماً أنَّهم عارضوا به حديث العِترة بأنَّهم جهلةُ أهل السُّنَّة، وهو حديثٌ ثابتٌ كما سيأتي بيانُ ذلك.وليس سُنيًّا ولا حنبليًّا مَن يصف الخليفة المأمون بأنَّه من أعدل ملوك بني العباس وأعلمهم، وهو الذي نصر المعتزلة، وآذى أهلَ السنَّة، وفي مقدِّمتهم الإمام أحمد بن حنبل، الذي يزعم المالكي أنَّه حنبليٌّ نسبة إليه، ويَصف الخليفةَ المتوكِّل الذي نصر أهلَ السُّنَّة وأنهى المحنةَ بخلق القرآن بأنَّه مبتدعٌ ظالم (ص: 135) .وفي كتابه السيِّء في الصحابة كلماتٌ له تبيِّن بوضوح أنَّه ليس من أهل السُّنَّة والجماعة، وإنَّما هو من الموغلين في البدع، منها زعمه قَصْر الهجرة على المهاجرين قبل الحُديبية، وقصْر الصحبة على المهاجرين والأنصار قبل الحُديبية، فلا يُمكن بأيِّ حال من الأحوال أن يكون سُنيًّا مَن يزعم أنَّ المهاجرين هم مَن هاجر قبل الحُديبية فقط دون غيرهم مِمَّن هاجرَ بعدها، ولا أن يكون سُنيًّا مَن يزعم أنَّ الصحابةَ هم الذين صحبوا الرسول صلى الله عليه وسلم قبل الحُديبية من المهاجرين والأنصار دون غيرهم مِمَّن صحبه بعد الحُديبية، ويزعم أيضاً أنَّ صُحبةَ هؤلاء كصحبة المنافقين والكفار، ولا شكَّ أنَّ هذا القولَ من محدثات القرن الخامس عشر، ولا وجود له قبل إحداث هذا
আবু বকর ব্যতীত অন্য কাউকে (খলিফা হিসেবে গ্রহণ করা), যা এই হাদিসে যা এসেছে তার পরিপন্থী। আল্লাহ আবু বকর ব্যতীত অন্য কাউকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন এবং মুমিনগণও আবু বকর ব্যতীত অন্য কাউকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। তবে প্রবৃত্তি পূজারী ও বিদআতিদের মধ্যে যারা মুমিনদের পথ ছেড়ে অন্য পথ অনুসরণ করেছে, তারা আবু বকর ব্যতীত অন্য কাউকেই চায়। লাঞ্ছনা ও আল্লাহর সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হওয়া থেকে আমরা তাঁরই নিকট আশ্রয় চাই।সে ব্যক্তি সুন্নি নয় যে (পৃষ্ঠা: ১৬৪-তে) দাবি করে যে: সুন্নাহর প্রামাণিকতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। সে ব্যক্তিও সুন্নি নয় যে এই হাদিসের প্রামাণিকতা নিয়ে কটাক্ষ করে: "আমি তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহ রেখে যাচ্ছি"। এবং সে (পৃষ্ঠা: ৭১-এ) ঐ সকল ব্যক্তিদের আহলুস সুন্নাহর মূর্খ বলে অভিহিত করে যারা এটি প্রমাণ করেছেন, এই দাবি করে যে তারা এর মাধ্যমে আহলুল বাইত (ইতরাত) সংক্রান্ত হাদিসের বিরোধিতা করেছেন। অথচ এটি একটি সুসাব্যস্ত হাদিস, যা পরবর্তীতে বিস্তারিত বর্ণনা করা হবে।সে ব্যক্তি সুন্নি বা হাম্বলি কোনোটিই নয় যে খলিফা মামুনকে আব্বাসীয় রাজাদের মধ্যে সবচেয়ে ন্যায়পরায়ণ ও বিদ্বান বলে অভিহিত করে, অথচ সেই মুতাজিলাদের সহযোগিতা করেছিল এবং আহলুস সুন্নাহকে কষ্ট দিয়েছিল, যাদের অগ্রভাগে ছিলেন ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল—যার প্রতি সম্বন্ধ করে আল-মালিকি নিজেকে হাম্বলি বলে দাবি করে। অথচ সে খলিফা মুতাওয়াক্কিলকে—যিনি আহলুস সুন্নাহকে সাহায্য করেছিলেন এবং কুরআন সৃষ্টির ফিতনার অবসান ঘটিয়েছিলেন—বিদআতি ও জালেম হিসেবে বর্ণনা করে (পৃষ্ঠা: ১৩৫)।সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে তার কুরুচিপূর্ণ গ্রন্থে তার এমন কিছু বক্তব্য রয়েছে যা স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, সে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াতের অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং সে বিদআতের গভীরে নিমজ্জিত। তার মধ্যে একটি হলো হিজরতকে কেবল হুদায়বিয়ার পূর্বের মুহাজিরদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা এবং সাহাবিত্বকে কেবল হুদায়বিয়ার পূর্বের মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা। সুতরাং কোনো অবস্থাতেই সে সুন্নি হতে পারে না যে দাবি করে যে, মুহাজির কেবল তারাই যারা হুদায়বিয়ার পূর্বে হিজরত করেছেন, হুদায়বিয়ার পরবর্তী হিজরতকারীদের বাদ দিয়ে। আর সে ব্যক্তিও সুন্নি হতে পারে না যে দাবি করে যে, সাহাবী কেবল তারাই যারা হুদায়বিয়ার পূর্বে মুহাজির ও আনসারদের মধ্য থেকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্য পেয়েছেন, হুদায়বিয়ার পরবর্তী সান্নিধ্য দানকারীদের বাদ দিয়ে। সে আরও দাবি করে যে, এদের সাহাবিত্ব মুনাফিক ও কাফিরদের সাহাবিত্বের মতো। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই বক্তব্যটি পঞ্চদশ শতাব্দীর নব-উদ্ভাবিত বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, যার কোনো অস্তিত্ব এই উদ্ভাবনের পূর্বে ছিল না।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লি-আহলিস সুন্নাতি ওয়াল হাদিসি ফি রাদ্দি আবাতিলি হাসান আল-মালিকি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المبتدع إيَّاه في هذا القرن، وقد أوضحتُ الردَّ عليه في ذلك في كتابي: ((الانتصار للصحابة الأخيار في ردِّ أباطيل حسن المالكي" في (ص: 9) وما بعدها، وهو مطبوع متداوَل.وليس سُنيًّا مَن يزعمُ بأنَّ العباسَ بنَ عبد المطلب ـ عمّ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم رضي الله عنه وابنَه عبد الله رضي الله عنه لَم يظفرَا بشرف صُحبة الرسول صلى الله عليه وسلم، وهذا بلا شكٍّ من الجفاء في بعض أهل البيت، بل هو جفاءٌ في أقرب رجل من أهل البيت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو عمُّه العباس رضي الله عنه، الذي يستحقُّ ميراث الرسول صلى الله عليه وسلم لو كان يُورَث عنه المال، وقد أوضحتُ بطلانَ كلامه هذا في كتاب ((الانتصار" (ص: 83) .وليس سُنيًّا مَن يزعمُ أنَّ خالد بنَ الوليد رضي الله عنه ليس بصحابيٍّ، وقد وصفه رسول الله صلى الله عليه وسلم بأنَّه سيفٌ من سيوف الله، كما ثبت ذلك في صحيح البخاري (3757) .وليس سُنيًّا مَن يزعمُ أنَّ المغيرةَ بنَ شعبة رضي الله عنه ليس بصحابيٍّ، وهو الذي كان واقفاً على رأس الرسول صلى الله عليه وسلم يوم صلح الحُديبية وبيده السيف يَحرسُه، كما في صحيح البخاري (2731، 2732) .وقد ذكرتُ بطلانَ ما زعمه من عدم صحبة خالد بن الوليد والمغيرة بن شعبة ومعاوية بن أبي سفيان وعمرو بن العاص رضي الله عنهم في كتابي: "الانتصار" (ص: 87 ـ 105) .وليس سُنيًّا مَن يزعمُ أنَّ أكثرَ أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم يُذادون عن الحوض ويُؤمَر بهم إلى النار، وأنَّه لا ينجو منهم إلَاّ القليل مثل هَمَل النَّعم، وقد أوضحتُ بطلانَ كلامه هذا في"الانتصار" (ص: 128 ـ 130) .
এই শতাব্দীতে তাঁর উদ্ভাবিত বিদআত; আমি আমার ‘আল-ইন্তিসার লিস-সাহাবাতিল আখইয়ার ফি রদ্দি আবাতিলি হাসান আল-মালিকি’ (পৃষ্ঠা: ৯ ও পরবর্তী) নামক গ্রন্থে এর বিস্তারিত খণ্ডন করেছি, যা মুদ্রিত ও বহুল প্রচলিত।সে ব্যক্তি সুন্নি নয়, যে দাবি করে যে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চাচা আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহচর্যের মর্যাদা লাভ করেননি। নিঃসন্দেহে এটি আহলে বাইতের কতিপয় সদস্যের প্রতি বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ; বরং এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আহলে বাইতের নিকটতম ব্যক্তির প্রতি বিদ্বেষ, আর তিনি হলেন তাঁর চাচা আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু। যদি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ধন-সম্পদ উত্তরাধিকার সূত্রে বণ্টন করা হতো, তবে তিনিই তাঁর উত্তরাধিকার পাওয়ার সবচেয়ে বেশি হকদার হতেন। আমি আমার ‘আল-ইন্তিসার’ (পৃষ্ঠা: ৮৩) নামক গ্রন্থে তাঁর এই বক্তব্যের অসারতা স্পষ্ট করেছি।সে ব্যক্তি সুন্নি নয়, যে দাবি করে যে খালিদ বিন ওয়ালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু সাহাবি নন; অথচ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে ‘আল্লাহর তলোয়ারসমূহের মধ্য হতে একটি তলোয়ার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা সহিহ বুখারিতে (৩৭৫৭) প্রমাণিত রয়েছে।সে ব্যক্তি সুন্নি নয়, যে দাবি করে যে মুগিরা বিন শু’বা রাদিয়াল্লাহু আনহু সাহাবি নন; অথচ তিনি হুদায়বিয়ার সন্ধির দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শিয়রে দাঁড়িয়ে তলোয়ার হাতে তাঁকে পাহারা দিচ্ছিলেন, যা সহিহ বুখারিতে (২৭৩১, ২৭৩২) বর্ণিত হয়েছে।খালিদ বিন ওয়ালিদ, মুগিরা বিন শু’বা, মুয়াবিয়া বিন আবি সুফিয়ান এবং আমর বিন আস রাদিয়াল্লাহু আনহুম-এর সাহাবি না হওয়ার বিষয়ে তাঁর দাবির অসারতা আমি আমার ‘আল-ইন্তিসার’ (পৃষ্ঠা: ৮৭-১০৫) নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছি।সে ব্যক্তি সুন্নি নয়, যে দাবি করে যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অধিকাংশ সাহাবিকে হাউজ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে এবং তাঁদেরকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার আদেশ দেওয়া হবে, আর তাঁদের মধ্যে রাখালহীন উটের পালের মতো সামান্য কিছু সংখ্যক ব্যতীত আর কেউ মুক্তি পাবে না। আমি আমার ‘আল-ইন্তিসার’ (পৃষ্ঠা: ১২৮-১৩০) নামক গ্রন্থে তাঁর এই বক্তব্যের অসারতা ব্যাখ্যা করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লি-আহলিস সুন্নাতি ওয়াল হাদিসি ফি রাদ্দি আবাতিলি হাসান আল-মালিকি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وليس سُنيًّا مَن يُنكرُ القولَ بعدالة الصحابة، وقد أجمع على ذلك أهل السُّنَّة والجماعة، وقد نقلتُ عن بعض العلماء حكاية الإجماع في ذلك، مع بيان بطلان ما زعمه المالكيُّ من عدم عدالتهم فِي"الانتصار" (ص: 124 ـ 126) .3 ـ أمَّا ما زعمه من استعداده لِمُباهلة من يقول: إنَّه ليس من أهل السُّنَّة، فهذا من التهويل وإيهامه مَن لا بصيرة له بأنَّه على الحقِّ، مع أنَّه موغلٌ في الضلال، ولا أدري على أيِّ شيء سيُباهل؟فهل سيُباهلُ على غلُوِّه في عليٍّ رضي الله عنه وبعض أولاده، وجفائه في العباس بن عبد المطلب وابنه عبد الله وغيرهما من أهل البيت؟!أم سيُباهل على زعمه بأنَّ أكثرَ أصحاب الرسول صلى الله عليه وسلم يُذادون عن الحوض، وأنَّه يُؤمَر بهم إلى النَّار، ولا ينجو منهم إلَاّ القليل مثل هَمَل النَّعم؟!أم سيُباهل على تشكيكه في خلافة أبي بكر، وأنَّها أشبهُ بالقهر والغلبة؟!أم سيُباهل على سوء ظنِّه في الصحابة وإنكاره القول بعدالتهم؟!أم سيُباهل على أباطيله الأخرى التي أوضحتُها في هذا الكتاب وفي كتابي"الانتصار للصحابة الأخيار"؟!وصدق الله عز وجل في قوله: {أَفَمَنْ زُيِّنَ لَهُ سُوءُ عَمَلِهِ فَرَآهُ حَسَناً فَإِنَّ اللَّهَ يُضِلُّ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي مَنْ يَشَاءُ} ، وفي قوله: {أَفَمَنْ كَانَ عَلَى بَيِّنَةٍ مِنْ رَبِّهِ كَمَنْ زُيِّنَ لَهُ سُوءُ عَمَلِهِ وَاتَّبَعُوا أَهْوَاءَهُمْ} ، وفي قوله: {فَإِنَّهَا لا تَعْمَى الأَبْصَارُ وَلَكِنْ تَعْمَى الْقُلُوبُ الَّتِي فِي الصُّدُورِ} ، ربَّنا لا تُزغ قلوبنا بعد إذ هديتنا وهَب لنا من لدنك رحمةً إنَّك أنت الوهَّاب.
যে ব্যক্তি সাহাবায়ে কেরামের ন্যায়নিষ্ঠার (আদালত) বিষয়টি অস্বীকার করে সে সুন্নী নয়; আর আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াত এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আমি 'আল-ইন্তিসার' (পৃষ্ঠা: ১২৪-১২৬) গ্রন্থে সাহাবায়ে কেরামের ন্যায়নিষ্ঠার অভাব সম্পর্কে আল-মালিকির দাবির অসারতা বর্ণনার পাশাপাশি এ বিষয়ে কতিপয় উলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে ইজমার বিবরণ উদ্ধৃত করেছি।৩- আর যারা তাকে আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত মনে করে না, তাদের সাথে মুবাহালা করার জন্য তার প্রস্তুতির যে দাবি সে করেছে, তা কেবলই মানুষকে আতঙ্কিত করার অপকৌশল এবং যার অন্তর্দৃষ্টি নেই তাকে সে সত্যের ওপর আছে বলে বিভ্রান্ত করার প্রয়াস। অথচ সে পথভ্রষ্টতায় নিমজ্জিত; আমি জানি না সে কোন বিষয়ের ওপর মুবাহালা করবে?সে কি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) ও তাঁর কতিপয় সন্তানের ব্যাপারে তার অতিরঞ্জন এবং আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব ও তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহসহ আহলে বাইতের অন্যান্যদের প্রতি তার রূঢ় আচরণের ওপর মুবাহালা করবে?নাকি সে তার এই দাবির ওপর মুবাহালা করবে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অধিকাংশ সাহাবীকে হাউয থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে এবং তাঁদেরকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হবে, আর তাঁদের মধ্য থেকে অতি সামান্য সংখ্যক ব্যতীত আর কেউ রক্ষা পাবে না?নাকি সে আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর খিলাফতের ব্যাপারে তার সংশয় এবং তা জোর-জবরদস্তি ও আধিপত্য বিস্তারের সদৃশ হওয়ার দাবির ওপর মুবাহালা করবে?নাকি সে সাহাবায়ে কেরামের প্রতি তার কুধারণা এবং তাঁদের ন্যায়নিষ্ঠা অস্বীকার করার ওপর মুবাহালা করবে?নাকি সে তার অন্যান্য বাতিল আকিদাহর ওপর মুবাহালা করবে, যা আমি এই গ্রন্থে এবং আমার 'আল-ইন্তিসারুলিস সাহাবাতিল আখইয়ার' নামক গ্রন্থে স্পষ্ট করেছি?মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন: {তবে কি যার কাছে তার মন্দ কাজ শোভনীয় করে দেখানো হয়েছে, ফলে সে তাকে উত্তম মনে করে? নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথপ্রদর্শন করেন}, এবং তাঁর বাণী: {তবে কি যে ব্যক্তি তার রবের পক্ষ থেকে আগত সুস্পষ্ট প্রমাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত, সে কি তার মত যার কাছে তার মন্দ কাজ শোভনীয় করে দেখানো হয়েছে এবং যারা তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে?}, এবং তাঁর বাণী: {বস্তুত চোখ তো অন্ধ হয় না, বরং বক্ষস্থিত হৃদয়ই অন্ধ হয়ে যায়।} হে আমাদের রব, আপনি আমাদের হেদায়েত দানের পর আমাদের অন্তরকে সত্যচ্যুত করবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করুন, নিশ্চয় আপনি পরম দাতা।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লি-আহলিস সুন্নাতি ওয়াল হাদিসি ফি রাদ্দি আবাতিলি হাসান আল-মালিকি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ولا شك أنَّ أيَّ إنسان يُباهل هذا المالكيَّ على بطلان أباطيله التي أشرتُ إلى جملة منها هو الرابح، وأنَّ صاحب هذه الأباطيل هو الخاسر.
নিঃসন্দেহে যে কোনো ব্যক্তি এই মালিকীর বাতিল ও অসার বিষয়গুলোর—যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশের প্রতি আমি ইতিপূর্বেই ইঙ্গিত দিয়েছি—ভিত্তিহীনতার ওপর যদি তার সাথে মুবাহালায় অবতীর্ণ হয়, তবে সেই ব্যক্তিই হবে বিজয়ী, আর এই অসার মতবাদের প্রবক্তাই হবে ক্ষতিগ্রস্ত।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লি-আহলিস সুন্নাতি ওয়াল হাদিসি ফি রাদ্দি আবাতিলি হাসান আল-মালিকি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
4 ـ زعمه أنَّه حنبليٌّ وأنَّ نقدَه للحنابلة في العقيدة من النَّقد الذاتي، والردُّ عليهقال في (ص: 10) : "ليس هناك أيّ خطأ أو تناقض أن يقوم مسلمٌ بنقد أخطاء المسلمين؛ لأنَّ الإسلامَ غيرُ المسلمين، ومن ذلك أن يقوم سُنِّيٌّ بنقد أخطاء أهل السُّنَّة؛ لأنَّ السنَّةَ غيرُ أهل السنَّة، ومن ذلك أيضاً أن يقوم حنبليُّ النَّشأة والتعليم والالتزام العام الواعي بنقد أخطاء الحنابلة؛ لأنَّ الحنابلةَ غيرُ أحمد بن حنبل، مع أنَّ أحمد بن حنبل نفسه بشرٌ يخطئُ ويُصيب!! ".وقال فيها أيضاً: "وعلى هذا الأساس ليسمح لي الإخوة الكرام أن أبيِّن أنَّ ما نفعله أنا وبعضُ الباحثين من نقد ذاتيٍّ لبعض جوانب الغلو أو المنكر داخل كتب أو فكر الحنابلة هو من هذا الباب!! ".ويُجاب عن ذلك بما يلي:1 ـ ما زعمه من أنَّه سُنيٌّ حنبليٌّ ينتقد أهل السُّنَّة والحنابلة نقداً ذاتيًّا هو من قبيل المكر والتلبيس والإيهام بالإنصاف، وهو في الحقيقة من قبيل الإفساد في الأرض بعد إصلاحها، وتقويض البنيان وتهديد الحصون من الداخل.
4 ـ তাঁর এই দাবি যে তিনি একজন হাম্বলী এবং আকিদার বিষয়ে হাম্বলীদের প্রতি তাঁর সমালোচনা একটি 'আত্ম-সমালোচনা', এবং এর প্রত্যুত্তরতিনি (পৃষ্ঠা: ১০)-এ বলেছেন: "একজন মুসলিম কর্তৃক মুসলিমদের ভুলভ্রান্তি সমালোচনা করার মধ্যে কোনো ভুল বা বৈপরীত্য নেই; কারণ ইসলাম এবং মুসলিমরা এক নয়। অনুরূপভাবে, একজন সুন্নী কর্তৃক আহলুস সুন্নাহর ভুলসমূহ সমালোচনা করাও এর অন্তর্ভুক্ত; কারণ সুন্নাহ এবং আহলুস সুন্নাহ অভিন্ন নয়। এর অন্তর্ভুক্ত আরও হলো—হাম্বলী পরিবেশে বেড়ে ওঠা, শিক্ষিত হওয়া এবং সচেতনভাবে সাধারণ আনুগত্য পোষণকারী একজন ব্যক্তি কর্তৃক হাম্বলীদের ভুলসমূহ সমালোচনা করা; কারণ হাম্বলীরা ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল নন, যদিও আহমাদ বিন হাম্বল নিজেও একজন মানুষ ছিলেন যার ভুল ও সঠিক উভয়ই হতে পারে!!"তিনি সেখানে আরও বলেছেন: "এই ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে সম্মানিত ভাইয়েরা আমাকে এটা স্পষ্ট করার অনুমতি দিন যে, হাম্বলী ধারার গ্রন্থাবলি বা চিন্তাধারার অভ্যন্তরে থাকা অতিরঞ্জন বা আপত্তিকর বিষয়গুলোর যে 'আত্ম-সমালোচনা' আমি এবং কিছু গবেষক করছি, তা এই প্রকারেরই অন্তর্ভুক্ত!!"এর উত্তর নিম্নরূপভাবে প্রদান করা হলো:১ ـ তাঁর এই দাবি যে তিনি একজন সুন্নী হাম্বলী হিসেবে আহলুস সুন্নাহ ও হাম্বলীদের 'আত্ম-সমালোচনা' করছেন, তা মূলত চাতুর্য, সত্য গোপন এবং ইনসাফ প্রদর্শনের বিভ্রান্তি সৃষ্টির নামান্তর। প্রকৃতপক্ষে এটি হলো জমিনে শান্তি স্থাপনের পর বিপর্যয় সৃষ্টি করা এবং সুদৃঢ় ইমারত ধ্বংস করে ভেতর থেকে দুর্গকে হুমকির মুখে ফেলার শামিল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লি-আহলিস সুন্নাতি ওয়াল হাদিসি ফি রাদ্দি আবাতিলি হাসান আল-মালিকি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
2 ـ في الوقت الذي يكون نصيب أهل السُّنَّة والحنابلة منه النَّقد والثلب وتصيُّد الأخطاء للعيب فيها، يكون نصيبُ فرق الضلال منه السلامة، بل المدح والثناء، كما سيأتي بيانُ ذلك من كلامه، ولو كان صادقاً فيما يقول لبدأ بنقد فرق الضلال، فيُبيِّن ما عندهم من الباطل ويحذِّر منه، أمَّا أن يعمدَ إلى نقد أهل السُّنَّة الذين يزعم أنَّه منهم وهم بُرآء منه فذلك من أوضح الأدلَّة على حقده على أهل السُّنَّة وموافقته لغيرهم من فرق الضلال.3 ـ ليس بغريب على المالكي أن ينالَ من أهل السُّنَّة ويشغلَ نفسه بعيبهم، وهو الذي حصل منه القدح في الصحابة والنَّيل منهم، وزعم أنَّ أكثرهم يُذادون عن حوض الرسول صلى الله عليه وسلم ويُؤخذون إلى النار، وأنَّه لا ينجو منهم إلَاّ القليل مثل همل النَّعم، كما مرَّت الإشارةُ إلى ذلك قريباً.4 ـ ليس حنبليًّا مَن يغمز الإمامَ أحمد بأنَّه تسبَّب في تفريق المسلمين أحزاباً، حيث قال في (ص: 154) معلِّقاً على ما ذُكر من حزن اليهود والنصارى والمجوس عند موته، فقال: "ولن يحزن هؤلاء لموته إلَاّ إذا كان منهجه مفيداً لهم، كأن يفرحوا بتشنيعه على المخالفين له من المعتزلة والشيعة، حتَّى تسبَّب في تفريق المسلمين أحزاباً!! ".ومَن لَم يسلم منه الإمام أحمد فمِن باب أولَى ألَاّ يسلمَ منه الحنابلة، بل مَن لَم يسلم منه أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فمِن باب أولَى ألَاّ يسلمَ منه أهل السُّنَّة، ومنهم الإمام أحمد بن حنبل رحمه الله.5 ـ أمَّا ما ذكره من أنَّه حنبليُّ النَّشأة والتعليم والالتزام العام الواعي، فإن كان الواقع أنَّه نُشِّئ على ذلك فإنَّه بكتاباته المختلفة يكون قد انحرف عمَّا نُشِّئَ عليه، ويصدق على انحرافه عمَّا تعلَّمه وعقوقه لِمَن علَّمه
২ — যে সময় আহলুস সুন্নাহ ও হাম্বলিদের ভাগ্যে জোটে নিন্দা, অপবাদ এবং তাদের দোষ-ত্রুটি খুঁজে বেড়ানো, ঠিক সেই সময় পথভ্রষ্ট দলগুলোর ভাগ্যে জোটে নিরাপত্তা, বরং প্রশংসা ও গুণকীর্তন; যেমনটি সামনে তার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হবে। সে যদি তার দাবিতে সত্যবাদী হতো, তবে প্রথমে পথভ্রষ্ট দলগুলোর সমালোচনা শুরু করত, তাদের মধ্যকার বাতিল ও ভ্রান্তিগুলো স্পষ্ট করত এবং সে সম্পর্কে সতর্ক করত। কিন্তু সে উদ্দেশ্যমূলকভাবে আহলুস সুন্নাহর সমালোচনায় লিপ্ত হয়েছে—যাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দাবি সে নিজে করে অথচ তারা তার থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত—যা আহলুস সুন্নাহর প্রতি তার বিদ্বেষ এবং পথভ্রষ্ট দলগুলোর সাথে তার ঐকমত্যের এক সুস্পষ্ট প্রমাণ।৩ — মালিকির পক্ষে আহলুস সুন্নাহকে আক্রমণ করা এবং তাদের খুঁত ধরায় নিজেকে ব্যস্ত রাখা মোটেও বিচিত্র নয়; কারণ তার পক্ষ থেকেই সাহাবায়ে কেরামের সমালোচনা ও অবমাননা সংঘটিত হয়েছে। সে দাবি করেছে যে, তাদের অধিকাংশকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাউজ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে এবং আগুনের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। আর তাদের মধ্যে পশুপালের পরিত্যক্ত অংশের মতো খুব সামান্য সংখ্যক লোকই নাজাত পাবে—যেমনটি ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করা হয়েছে।৪ — যে ব্যক্তি ইমাম আহমাদকে এই বলে কটাক্ষ করে যে, তিনি মুসলমানদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত হওয়ার কারণ ছিলেন, সে কদাপি হাম্বলি হতে পারে না। সে তার বইয়ের (পৃষ্ঠা: ১৫৪)-এ ইমাম আহমাদের মৃত্যুতে ইহুদি, নাসারা ও অগ্নিপূজকদের শোকের বর্ণনার ওপর মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছে: "তাদের এই শোক কেবল তখনই সম্ভব, যদি তার কর্মপন্থা তাদের জন্য উপকারী হয়; যেমন তারা তার পক্ষ থেকে মুতাজিলা ও শিয়াদের মতো বিরোধীদের কঠোর সমালোচনা করায় আনন্দিত হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত মুসলমানদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল!!"আর যার হাত থেকে স্বয়ং ইমাম আহমাদ নিরাপদ নন, তবে হাম্বলিরা যে নিরাপদ থাকবে না এটাই স্বাভাবিক। বরং যার হাত থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবাগণ নিরাপদ নন, তবে আহলুস সুন্নাহ যে নিরাপদ থাকবে না এটাই তো স্বাভাবিক, যাদের অন্তর্ভুক্ত হলেন ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল রাহিমাহুল্লাহ।৫ — আর তার এই দাবি যে, সে বেড়ে ওঠা, শিক্ষাগ্রহণ এবং সাধারণ সচেতন আনুগত্যের দিক থেকে একজন হাম্বলি—বাস্তবে যদি সে সেভাবেই বেড়ে উঠে থাকে, তবে তার বিভিন্ন লেখালেখির মাধ্যমে সে তার সেই লালিত আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। আর তার এই বিচ্যুতি তার অর্জিত শিক্ষার বিপরীত এবং তার শিক্ষকদের প্রতি অবাধ্যতারই প্রতিফলন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লি-আহলিস সুন্নাতি ওয়াল হাদিসি ফি রাদ্দি আবাতিলি হাসান আল-মালিকি
(পৃষ্ঠা: ২০)
قول الشاعر:فواعجباً مِمَّن ربَّيتُ طفلاً … ألقمُه بأطراف البنانأعلِّمه الرمايةَ كلَّ يوم … فلمَّا اشتدَّ ساعدُه رمانيوكم علَّمته نظمَ القوافِي … فلمَّا قال قافيةً هجانِي
কবির উক্তি:হায়! কী আশ্চর্য সেই ব্যক্তির আচরণে যাকে আমি শৈশব হতে প্রতিপালন করেছি … আর নিজ অঙ্গুলি দিয়ে তাকে অন্ন গ্রহণ করিয়েছি।আমি তাকে প্রতিদিন লক্ষ্যভেদের শিক্ষা দিয়েছি … কিন্তু যখন তার হস্ত শক্তিশালী হলো, তখন সে আমাকেই লক্ষ্য করে তীর ছুড়ল।কতই না আমি তাকে কাব্যের অন্ত্যমিল ও ছন্দ রচনা শিখিয়েছি … অথচ যখনই সে কোনো পঙ্ক্তি রচনা করল, তা দিয়ে আমারই বিদ্রূপ করল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লি-আহলিস সুন্নাতি ওয়াল হাদিসি ফি রাদ্দি আবাতিলি হাসান আল-মালিকি
(পৃষ্ঠা: ২০)
5 ـ بخله بالصلاة على الصحابة الكرام بعد الصلاة على النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم وآله.قال في (ص: 20) : "الحمد لله، والصلاة والسلام على محمد وعلى آله وسلم".أقول: لم يذكر الصلاةَ على أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو مِمَّا يوضِّح كونه ليس من أهل السُّنَّة؛ لأنَّ طريقةَ أهل السُّنَّة والجماعة في خُطبهم على المنابر وغيرها وفي افتتاح الكتب واختتامها أنَّهم بعد الصلاة على النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم يُصلُّون على الآل والأصحاب؛ وذلك لمحبَّتهم للجميع، وسلامة قلوبهم وألسنتهم للصَّحب والآل، ولا يبعد أن يكون لزعمه الخاطئ أنَّ أصحابَ رسول الله صلى الله عليه وسلم يُذادون عن الحوض ويُؤخَذون إلى النار، وأنَّه لا ينجُو منهم إلَاّ مثل هَمل النَّعم، لا يبعد أن يكون لذلك أثرٌ في تركه الصلاةَ عليهم، رضي الله عنهم وأرضاهم.
৫ ـ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর পরিবারের ওপর দরূদ পাঠের পর সম্মানিত সাহাবায়ে কেরামের ওপর দরূদ পাঠে তার কৃপণতা.তিনি (২০ পৃষ্ঠায়) বলেছেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরূদ ও সালাম মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক।"আমি বলছি: তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীদের ওপর দরূদ পাঠের বিষয়টি উল্লেখ করেননি। এটি একটি প্রমাণ যে তিনি আহলে সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত নন; কারণ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের রীতি হলো তাদের মিম্বরের খুতবা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে এবং কিতাবসমূহের শুরুতে ও শেষে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর দরূদ পাঠের পর তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর দরূদ পাঠ করা; আর তা সকলের প্রতি তাদের ভালোবাসা এবং সাহাবী ও নবী-পরিবারের প্রতি তাদের অন্তর ও জিহ্বার পরিচ্ছন্নতার কারণে। এটি অসম্ভব নয় যে, তার এই ভ্রান্ত ধারণার প্রভাব এখানে পড়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহাবীদেরকে হাউজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে এবং আগুনের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে, আর তাদের মধ্যে পশুপালের দলছুট গুটিকয়েক পশুর ন্যায় অল্পসংখ্যক ব্যতীত কেউ মুক্তি পাবে না। এটি অসম্ভব নয় যে, তাদের ওপর দরূদ পাঠ বর্জন করার পেছনে এই চিন্তাধারার প্রভাব রয়েছে। আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁদেরকে সন্তুষ্ট করুন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লি-আহলিস সুন্নাতি ওয়াল হাদিসি ফি রাদ্দি আবাতিলি হাসান আল-মালিকি
(পৃষ্ঠা: ২১)
6 ـ زعمه أنَّ مصطلحَ العقيدة مُبتَدعٌ، والردُّ عليهقال في (ص: 24) : "ولأبدَأ مساهماً في نقد ما أحجم عنه الآخرون طلباً للدنيا، وإمَّا حُبًّا للثناء بصلابة العقيدة وحسن السيرة، وإمَّا إيثاراً للسلامة، وإمَّا جهلاً بأهميَّة أصول وقواطع الإسلام، وستكون البداية ببيان مصطلح العقيدة، وكيف استحدَث المتخاصمون هذا المصطلح ليتَّسع لتكفير وتبديع المخالفين لهم من المسلمين!! ".وقال في (ص: 30) تحت عنوان: مصطلح العقيدة بين السُّنَّة والبدعة: "مع أنَّني أستخدم مصطلح العقيدة بشروط سيأتي ذكرُها، إلَاّ أنَّه عند تعريفي لعنوان المحاضرة (قراءة في كتب العقائد) لفت نظري عدم وجود كلمة (عقيدة) في النصوص المتقدِّمة، لا في القرآن ولا كتب السُّنَّة، ولا المؤلفات المشهورة في القرون الثلاثة الأولى، فكانت هذه أوَّل فائدة، وفي الوقت نفسه كانت أكبرَ مصيبة؛ إذ لا يَتمُّ التنبيه على ذلك، مع حرصنا ـ فيما نزعم ـ على هجران المصطلحات البدعية المستحدثة التي لا أصل لها في الكتاب والسنَّة!! ".وفي (ص: 34 ـ 35) قال تحت عنوان: الخلاصة في مصطلح العقيدة: "إذاً لَم ترِد العقيدة لا لفظاً ولا معنى في القرآن الكريم، ولا في الأحاديث النبوية، ولا الآثار السلفية المأثورة عن السَّلف من الصحابة وكبار التابعين، وأقصدُ باللَّفظ والمعنى هنا: أي أنَّها لَم ترِد بهذا اللفظ للمعنى الذي وُضع له هذا اللفظ في الأزمنة المتأخرة، مثل قولهم: (فلان حسن المعتقد، فلان كان صلباً في العقيدة، كان ضالاًّ في العقيدة، كان سيِّئ المعتقد … ) ونحو هذا، فهذا المعنى لَم يرِد تحت لفظ العقيدة مع توفر الدواعي لوجود المنافقين وأهل
৬ ـ 'আকিদাহ' পরিভাষাটি নবউদ্ভাবিত বলে তাঁর দাবি এবং এর খণ্ডনতিনি (পৃষ্ঠা: ২৪) বলেন: "দুনিয়াবি স্বার্থ হাসিল, কিংবা আকিদাহর দৃঢ়তা ও উত্তম চরিত্রের প্রশংসার মোহ, অথবা নিরাপত্তার অগ্রাধিকার, কিংবা ইসলামের মূলনীতি ও অকাট্য বিষয়সমূহের গুরুত্ব সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে অন্যরা যা থেকে বিরত থেকেছেন, আমি তার সমালোচনায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে শুরু করব। সূচনায় থাকবে 'আকিদাহ' পরিভাষাটির ব্যাখ্যা, এবং কীভাবে বিবাদমান পক্ষগুলো এই পরিভাষাটি উদ্ভাবন করেছে যাতে তাদের বিরোধী মুসলিমদের কাফির ও বিদআতি সাব্যস্ত করার ক্ষেত্র প্রশস্ত হয়!!"এবং তিনি (পৃষ্ঠা: ৩০) 'সুন্নাহ ও বিদআতের মাঝে আকিদাহ পরিভাষা' শিরোনামের অধীনে বলেন: "যদিও আমি আকিদাহ পরিভাষাটি কিছু শর্তসাপেক্ষে ব্যবহার করি যা পরবর্তীতে উল্লেখ করা হবে, তবুও আমার বক্তৃতার শিরোনাম (আকিদাহর কিতাবসমূহ পাঠ) নির্ধারণের সময় আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছে যে, পূর্ববর্তী কোনো দলিলে—তা কুরআন হোক বা সুন্নাহর কিতাবসমূহ, কিংবা প্রথম তিন শতাব্দীর প্রসিদ্ধ রচনাবলি—কোথাও 'আকিদাহ' শব্দটি নেই। এটি ছিল প্রথম প্রাপ্তি, আবার একই সাথে এটি ছিল এক মহা বিপর্যয়; কারণ এর ওপর কোনো সতর্কবার্তা দেওয়া হয় না, অথচ আমরা—আমাদের দাবি অনুযায়ী—কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিহীন নবউদ্ভাবিত বিদআতি পরিভাষাগুলো বর্জন করতে অত্যন্ত আগ্রহী!!"এবং (পৃষ্ঠা: ৩৪-৩৫)-এ তিনি 'আকিদাহ পরিভাষা সংক্রান্ত সারকথা' শিরোনামের অধীনে বলেন: "সুতরাং 'আকিদাহ' শব্দটি শব্দগত বা অর্থগত কোনোভাবেই পবিত্র কুরআনে, হাদিসে নববীতে, কিংবা সাহাবা ও বড় বড় তাবেয়িদের থেকে বর্ণিত সালাফদের কোনো আসারেও আসেনি। এখানে শব্দ ও অর্থ দ্বারা আমার উদ্দেশ্য হলো: পরবর্তী যুগে এই শব্দটি যে অর্থের জন্য নির্ধারিত হয়েছে, সেই অর্থে শব্দটির ব্যবহার আগে ছিল না; যেমন তাদের কথা: (অমুকের আকিদাহ সুন্দর, অমুক আকিদাহর ক্ষেত্রে দৃঢ় ছিলেন, তিনি আকিদাহর ক্ষেত্রে পথভ্রষ্ট ছিলেন, তার আকিদাহ মন্দ ছিল … ) এবং এই জাতীয় কথা। মুনাফিক এবং [ভ্রান্ত] মতাবলম্বীদের উপস্থিতির মতো যথেষ্ট কারণ থাকা সত্ত্বেও 'আকিদাহ' শব্দের অধীনে এই অর্থটি আসেনি..."
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লি-আহলিস সুন্নাতি ওয়াল হাদিসি ফি রাদ্দি আবাতিলি হাসান আল-মালিকি
(পৃষ্ঠা: ২২)
الضلالة، سواء في عصر النَّبيِّ صلى الله عليه وعلى آله وسلم، أو عصر الصحابة أو عصر التابعين، فلفظة (العقيدة) في تلك العصور بين أن تأتي معانيها في ألفاظ أخرى شرعية كالإيمان مثلاً أو تأتي لفظة (عقد) في معان أخرى ليس من بينها الإيمانيات أو العلميات، فهي تشمل عقد اللواء، وعقد الأصابع لبيان العدد، وعقد الإزار، والتعاهد على الشيء، والعهد نفسه، وعقد القلب على أمر ما ديني أو دنيوي، ولعل من هذا المعنى الأخير أخذ بعضُهم لفظَ العقيدة، وخصَّها ببعض المعاني العلمية، وهذا تخصيص مبتدع أيضاً، فالألفاظ الشرعية الموجودة في القرآن الكريم أولَى بالاستعمال وأدقّ في الدلالة وأجمع للمسلمين، وفيها غنية عن هذا اللفظ غير المنضبط الذي استحدثه المتخاصمون في عصور لاحقة، وعلى هذا فليس لكلمة (العقيدة) أصل شرعي، لا في الكتاب، ولا في السنَّة، ولا عند السَّلف الصالح من المهاجرين والأنصار والذين اتَّبعوهم بإحسان، ولا عند التابعين، بل ولا علماء الأمة الكبار في القرون الثلاثة الأولى!!! ".وقال في (ص: 33) : "والعقيدة عند غلاة السلفية أهمُّ شيء في حياة المسلم، فهل يُعقل أن يخلو القرآن الكريم الذي أنزله الله {تِبْيَاناً لِكُلِّ شَيْءٍ} من أخطر وأهمِّ شيء في حياة المسلم؟!أم أنَّنا هجرنا مسمّى ذلك الأهَم والأخطر، ألا وهو الإيمان أو الإسلام في عمومه، إلى هذه المصطلحات المستحدثة التي أصبحت في أيدي الغلاة كالسيوف في أيدي المجانين!! ".وقال في (ص: 33) : "أيضاً لَم تَرِد (العقيدة) في حديث صحيح ولا حسن ولا ضعيف ولا موضوع!! ".
পথভ্রষ্টতা, চাই তা নবী (আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর বর্ষিত হোক)-এর যুগে হোক, কিংবা সাহাবী বা তাবেঈদের যুগে; সেই যুগগুলোতে 'আকিদাহ' শব্দটি হয় অন্য কোনো শরয়ি শব্দের মাধ্যমে আসত—যেমন 'ঈমান', অথবা 'আকদ' (বন্ধন) শব্দটি এমন অর্থে ব্যবহৃত হতো যার মধ্যে বিশ্বাসগত বা জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল না। এর অন্তর্ভুক্ত ছিল পতাকার বন্ধন, সংখ্যা গণনার জন্য আঙুল বাঁকানো, পরিধেয় বস্ত্রের গিঁট দেওয়া, কোনো বিষয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়া, স্বয়ং প্রতিশ্রুতি, এবং ধর্মীয় বা পার্থিব কোনো বিষয়ে মনের দৃঢ় সংকল্প। সম্ভবত এই শেষোক্ত অর্থ থেকেই কেউ কেউ 'আকিদাহ' শব্দটি গ্রহণ করেছেন এবং একে নির্দিষ্ট কিছু জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন; আর এই নির্দিষ্টকরণও একটি নবউদ্ভাবিত বিষয়। সুতরাং পবিত্র কুরআনে বিদ্যমান শরয়ি শব্দগুলোই ব্যবহারের জন্য অধিকতর উপযুক্ত, অর্থের দিক থেকে অধিকতর সূক্ষ্ম এবং মুসলিমদের ঐক্যের জন্য অধিকতর সহায়ক। পরবর্তী যুগের বিবাদমান গোষ্ঠীগুলোর উদ্ভাবিত এই অনিয়ন্ত্রিত শব্দের পরিবর্তে ঐ শব্দগুলোই যথেষ্ট। এর ভিত্তিতে, 'আকিদাহ' শব্দটির কোনো শরয়ি মূল ভিত্তি নেই—না আল্লাহর কিতাবে, না সুন্নাহতে, না মুহাজির, আনসার এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী নেককার পূর্বসূরিদের নিকট, না তাবেঈদের নিকট, এমনকি প্রথম তিন শতাব্দীর উম্মাহর মহান আলেমদের নিকটও এর কোনো ভিত্তি নেই!!! এবং তিনি (৩৩ পৃষ্ঠায়) বলেছেন: "চরমপন্থী সালাফিদের নিকট 'আকিদাহ' হলো একজন মুসলিমের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে কি এটা ভাবা সম্ভব যে, পবিত্র কুরআন—যা আল্লাহ প্রত্যেক বিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যাস্বরূপ অবতীর্ণ করেছেন—তাতে একজন মুসলিমের জীবনের সবচেয়ে গুরুতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি অনুপস্থিত থাকবে?! নাকি আমরা সেই অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ ও গুরুতর বিষয়ের নাম—অর্থাৎ ঈমান বা সামগ্রিকভাবে ইসলাম—পরিত্যাগ করে এই নবউদ্ভাবিত পরিভাষাগুলোর দিকে ধাবিত হয়েছি, যা চরমপন্থীদের হাতে উন্মাদদের হাতের তলোয়ারের মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে!!" এবং তিনি (৩৩ পৃষ্ঠায়) আরও বলেছেন: "তদুপরি, 'আকিদাহ' শব্দটি কোনো সহিহ, হাসান, জয়িফ কিংবা মাউজু (জাল) হাদিসেও বর্ণিত হয়নি!!"
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লি-আহলিস সুন্নাতি ওয়াল হাদিসি ফি রাদ্দি আবাতিলি হাসান আল-মালিকি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ويُجاب عن ذلك بما يلي:1 ـ ما زعمه من أنَّ مصطلحَ (العقيدة) مُستحدَثٌ وأنَّه بدعةٌ هو من اكتشافات القرن الخامس عشر التي ظفر بها المالكي، ومن أوضحِ البدع ـ وهو لا يُسمِّيه بدعة ـ زعمُه أنَّ الصُّحبةَ الشرعية مقصورةٌ على المهاجرين والأنصار قبل صُلح الحُديبية، وأنَّ مَن صحب الرسول صلى الله عليه وسلم بعد الحُديبية فصحبتُه غير شرعية، بل هي شبيهةٌ بصُحبة المنافقين والكفَّار، فهذه البدعة التي أحدثها في القرن الخامس عشر ولَم يُسبَق إليها طيلة تلك القرون لا يُسمِّيها بدعة، ويُطلق على مصطلح (العقيدة) أنَّه بدعة، وهذا شبيهٌ بمعنى ما رواه البخاري في صحيحه (5994) عن ابن أبي نُعم قال: "كنتُ شاهداً لابن عمر، وسأله رجلٌ عن دم البعوض، فقال: مِمَّن أنت؟ قال: من أهل العراق، قال: انظروا إلى هذا يسألنِي عن دم البعوض، وقد قتلوا ابن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم، وسمعتُ النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم يقول: هما رَيْحانتاي من الدنيا".والمراد بالرَّيحانَتَين الحسن والحسين رضي الله عنهما.فإنَّ ما زعمه من بدعية مصطلح (العقيدة) شبيهٌ بدم البعوض، وما زعمه من قَصْر الصُّحبة على المهاجرين والأنصار قبل الحُديبية ـ وهو عنده حقٌّ لا بدعة ـ شبيهٌ بقتل الحسين رضي الله عنه.2 ـ ما زعمه من أنَّه"لَم ترِد (العقيدة) في حديث صحيح ولا حسن ولا موضوع" يُجاب عنه بورودها في حديث حسن رواه الدارمي في سننه (235) عن زيد بن ثابت، عن النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم قال: "نضَّر الله امرءاً سمع منَّا حديثاً … " إلى أن قال: "لا يعتقدُ قلبُ مسلم على ثلاث خصال إلَاّ دخل الجنَّة" الحديث.
এর উত্তরে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো বলা যেতে পারে:১. 'আকিদাহ' পরিভাষাটি নতুন উদ্ভাবিত এবং এটি একটি বিদআত বলে তিনি যে দাবি করেছেন, তা মূলত পঞ্চদশ শতাব্দীর একটি আবিষ্কার যা আল-মালিকি উদ্ভাবন করেছেন। অথচ স্পষ্টতম বিদআতগুলোর মধ্যে একটি—যাকে তিনি বিদআত হিসেবে গণ্য করেন না—হলো তাঁর এই দাবি যে, শরয়ি সাহচর্য (সাহাবিয়াত) কেবল হুদাইবিয়ার সন্ধির পূর্বের মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে সীমাবদ্ধ; এবং হুদাইবিয়ার পর যারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছেন, তাঁদের সাহচর্য শরয়ি নয়, বরং তা মুনাফিক ও কাফিরদের সাহচর্যের সদৃশ। পঞ্চদশ শতাব্দীতে তাঁর প্রবর্তিত এই বিদআতটি, যা বিগত শতাব্দীগুলোতে আর কেউ করেনি, সেটিকে তিনি বিদআত বলছেন না; অথচ 'আকিদাহ' পরিভাষাটিকে তিনি বিদআত বলছেন। এটি সহীহ বুখারিতে (৫৯৯৪) ইবনে আবি নুয়াম থেকে বর্ণিত ঘটনার সদৃশ। তিনি বলেন: "আমি ইবনে উমরের নিকট উপস্থিত ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি তাঁকে মশার রক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি কোন দেশের লোক? সে বলল: আমি ইরাকবাসী। তিনি বললেন: তোমরা এই ব্যক্তির দিকে তাকাও, সে আমাকে মশার রক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে, অথচ তারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দৌহিত্রকে হত্যা করেছে! আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: তাঁরা দুজনেই ইহকালে আমার দুটি সুগন্ধি ফুল।"'রাইহানাতাইন' বা দুটি সুগন্ধি ফুল বলতে হাসান ও হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমাকে বোঝানো হয়েছে।'আকিদাহ' পরিভাষাটিকে বিদআত বলে তাঁর দাবিটি মশার রক্তের তুল্য; আর সাহচর্যের মর্যাদাকে হুদাইবিয়ার পূর্বের মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে সীমাবদ্ধ করার দাবিটি—যা তাঁর নিকট সত্য এবং বিদআত নয়—তা হুসাইন রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে হত্যার সদৃশ।২. তাঁর এই দাবি যে, "সহীহ, হাসান কিংবা জাল কোনো হাদিসেই 'আকিদাহ' শব্দটি আসেনি"—এর উত্তর হলো, দারেমি তাঁর সুনান গ্রন্থে (২৩৫) যায়েদ ইবনে সাবিত থেকে একটি হাসান হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন যে আমাদের থেকে কোনো হাদিস শুনেছে … " হাদিসের শেষাংশে তিনি বলেছেন: "কোনো মুসলিমের অন্তর তিনটি বিষয়ের ওপর বিশ্বাস (আকিদাহ) পোষণ করলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।" (হাদিস)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লি-আহলিস সুন্নাতি ওয়াল হাদিসি ফি রাদ্দি আবাতিলি হাসান আল-মালিকি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وإسناده عند الدارمي قال: أخبرنا عصمة بن الفضل، ثنا حَرَمي بن عمارة، عن شعبة، عن عمرو بن سليمان، عن عبد الرحمن بن أبان بن عثمان، عن أبيه، وكلُّهم ثقات إلَاّ حرمي بن عمارة فهو صدوق، وقد خرَّج حديثه البخاري ومسلم وأبو داود والنسائي وابن ماجه.3 ـ ما زعمه من عدم وجود أصل شرعيٍّ لكلمة (العقيدة) "لا في الكتاب، ولا في السُّنَّة، ولا عند السَّلف الصالح من المهاجرين والأنصار والذين اتَّبعوهم بإحسان، ولا عند التابعين، بل ولا علماء الأمة الكبار في القرون الثلاثة الأولى"، يُجاب عنه بالنِّسبة للصحابة بما أورده ابنُ كثير في تفسيره لقول الله عز وجل في سورة البقرة: {لا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ} الآية، عن عبد الرزاق، عن معمر، عن عروة، عن عائشة قالت: "هم القوم يتدارؤون في الأمر، فيقول هذا: لا والله! وبلى والله! وكلَاّ والله! يتدارؤون في الأمر، لا تعقد عليه قلوبهم".وبالنِّسبة للتَّابعين، فقد أورد ابن جرير في تفسيره للآية في سورة البقرة بإسناده إلى مجاهد: " {وَلَكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا كَسَبَتْ قُلُوبُكُمْ} ما عقدت عليه".وقال البخاري في صحيحه (9/388 ـ مع الفتح) في"باب الطلاق في الإغلاق والكره..": "وقال الزهري فيمَن قال: إن لَم أفعل كذا وكذا فامرأتي طالقٌ ثلاثاً، يُسأل عمَّا قال وعقد عليه قلبَه حين حلف بتلك اليمين، فإن سمَّى أجلاً أراده وعقد عليه قلبه حين حلف جُعل ذلك في دَينِه وأمانته".4 ـ وأمَّا ما زعمه من عدم وجود أصل شرعيٍّ لكلمة (العقيدة) في كلام العلماء الكبار في القرون الثلاثة الأولى، وقوله: "لفت نظري عدم وجود كلمة (عقيدة) في النصوص المتقدِّمة، لا في القرآن ولا كتب السُّنَّة، ولا
আর এর সনদ দারেমীতে বিদ্যমান, তিনি বলেন: ইসমাহ ইবনে আল-ফাদল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হারামী ইবনে উমারাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি শু'বাহ থেকে, তিনি আমর ইবনে সুলাইমান থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবান ইবনে উসমান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে; এবং তাদের সকলেই বিশ্বস্ত (সিক্বাহ), কেবল হারামী ইবনে উমারাহ ব্যতীত, কারণ তিনি 'সাদূক' (সত্যবাদী)। আর ইমাম বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ তাঁর বর্ণিত হাদিস সংকলন করেছেন।৩— তিনি যে দাবি করেছেন যে, 'আকীদা' শব্দের কোনো শরয়ি ভিত্তি নেই— "না কিতাবে (কুরআন), না সুন্নাহয়, না মুহাজির, আনসার ও ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারী সালফে সালেহীনের নিকট, না তাবেঈদের নিকট, এমনকি প্রথম তিন শতাব্দীর উম্মতের বড় আলেমদের নিকটও নয়"— সাহাবায়ে কেরামের ক্ষেত্রে এর উত্তর হলো ইমাম ইবনে কাসীর তাঁর তাফসীরে সূরা বাকারায় আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ব্যাখ্যায় যা উল্লেখ করেছেন: "তোমাদের বৃথা শপথের জন্য আল্লাহ তোমাদের ধরবেন না" (আয়াতাংশ), যা বর্ণিত হয়েছে আবদুর রাজ্জাক থেকে, তিনি মা'মার থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "তারা হলো এমন একদল লোক যারা কোনো বিষয়ে বাদানুবাদ করে, তখন একজন বলে: 'না, আল্লাহর কসম!', 'হ্যাঁ, আল্লাহর কসম!', 'কখনো নয়, আল্লাহর কসম!'; তারা কোনো বিষয়ে বাদানুবাদ করে কিন্তু তাদের অন্তর তাতে দৃঢ় বিশ্বাস (আকদ) স্থাপন করে না।"আর তাবেঈদের ক্ষেত্রে, ইবনে জারীর সূরা বাকারার উক্ত আয়াতের তাফসীরে মুজাহিদ (রহ.) পর্যন্ত তাঁর সনদসহ উল্লেখ করেছেন: "তবে তোমাদের অন্তরের অর্জিত সংকল্পের জন্য তিনি তোমাদের ধরবেন"— অর্থাৎ 'যার ওপর অন্তর দৃঢ় সংকল্প বা বিশ্বাস (আকদ) স্থাপন করেছে।'আর ইমাম বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে (৯/৩৮৮ - ফাতহুল বারীসহ) 'জবরদস্তি ও অনিচ্ছাকৃত অবস্থায় তালাক প্রদান...' অনুচ্ছেদে বলেছেন: "যুহরী (রহ.) এমন ব্যক্তি সম্পর্কে বলেন যে বলেছে: 'যদি আমি অমুক অমুক কাজ না করি তবে আমার স্ত্রী তিন তালাক'; তাকে জিজ্ঞেস করা হবে সে কী বলেছে এবং সেই শপথ করার সময় তার অন্তর কিসের ওপর দৃঢ় সংকল্প (আকদ) করেছিল। যদি সে এমন কোনো নির্দিষ্ট সময়ের উল্লেখ করে যা সে ইচ্ছা করেছিল এবং শপথ করার সময় তার অন্তর তাতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ ছিল, তবে তা তার দ্বীনদারী ও আমানতদারীর ওপর ছেড়ে দেওয়া হবে।"৪— আর প্রথম তিন শতাব্দীর বড় আলেমদের বক্তব্যে 'আকীদা' শব্দের কোনো শরয়ি ভিত্তি না থাকার বিষয়ে তিনি যে দাবি করেছেন এবং তাঁর এই উক্তি: "আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে যে, পূর্ববর্তী নصوص (নস)-গুলোতে 'আকীদা' শব্দের কোনো অস্তিত্ব নেই, না কুরআনে, না সুন্নাহর কিতাবসমূহে, না...।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লি-আহলিস সুন্নাতি ওয়াল হাদিসি ফি রাদ্দি আবাতিলি হাসান আল-মালিকি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
المؤلفات المشهورة في القرون الثلاثة الأولى"، فيُجاب عنه بوجود ذلك عن جماعة من العلماء في القرون الثلاثة، ومن ذلك ما هو في بعض المؤلفات المؤلَّفة في تلك القرون.ومن هؤلاء العلماء أبو عبيد القاسم بن سلَاّم المتوفى سنة (224هـ) ، قال عنه الحافظ ابن حجر في التقريب: "الإمام المشهور، ثقة فاضل مصنِّف"، قال في كتاب الإيمان له (ص: 76) : "فعمل القلب الاعتقاد".ومنهم إبراهيم بن خالد أبو ثور المتوفى سنة (240هـ) قال عنه الحافظ في التقريب: "الفقيه، صاحب الشافعي، ثقة"، فقد روى اللالكائي في شرح أصول اعتقاد أهل السُّنَّة (1590) بإسناده إليه أنَّه قال في جواب له عن سؤال في الإيمان: "اعلم ـ يرحمنا الله وإيَّاك ـ أنَّ الإيمانَ تصديقٌ بالقلب والقولُ باللسان وعملٌ بالجوارح، وذلك أنَّه ليس بين أهل العلم خلاف في رجل لو قال: أشهد أنَّ الله عز وجل واحد وأن ما جاءت به الرسل حق وأَقَرَّ بجميع الشرائع ثم قال: ما عقد قلبي على شيء من هذا ولا أصدق به أنه ليس بمسلم، ولو قال: المسيح هو الله وجحد أمر الإسلام قال: لم يعتقد قلبي على شيء من ذلك أنَّه كافر بإظهار ذلك وليس بمؤمن … ".ومنهم الإمام محمد بن نصر المروزي المتوفى سنة (294هـ) قال عنه الحافظ في التقريب: "الفقيه أبو عبد الله، ثقة حافظ إمام جبل"، فقد ذكر (الاعتقاد) في مواضع من كتابه تعظيم قدر الصلاة، منها (2/733) : " … إذا اعتقد أنَّ الله ليس بكريم ولا يستحق المدح الحسن فقد اعتقد الكفر ولم يعرف، وكذلك إن اعتقد أنَّه قد ظلمه وجار عليه فهو كافر لم يعرف الله … ".ومنهم الإمام أبو جعفر أحمد بن محمد بن سلامة الطحاوي المولود سنة
"প্রথম তিন শতাব্দীর প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ," এর উত্তরে বলা যায় যে, প্রথম তিন শতাব্দীর একদল আলেমদের নিকট এর অস্তিত্ব পাওয়া যায় এবং উক্ত শতাব্দীগুলোতে রচিত কিছু গ্রন্থেও এটি বিদ্যমান রয়েছে।এই আলেমদের মধ্যে অন্যতম হলেন আবু উবাইদ আল-কাসিম ইবনে সাল্লাম (মৃত্যু ২২৪ হি.), যাঁর সম্পর্কে হাফেজ ইবনে হাজার 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে বলেছেন: "প্রসিদ্ধ ইমাম, নির্ভরযোগ্য, ফযীলতপূর্ণ এবং গ্রন্থকার।" তিনি তাঁর 'কিতাবুল ঈমান' (পৃষ্ঠা: ৭৬) গ্রন্থে বলেছেন: "অন্তরস্থ আমলই হলো বিশ্বাস।"তাঁদের মাঝে রয়েছেন ইবরাহিম ইবনে খালিদ আবু সাওর (মৃত্যু ২৪০ হি.), যাঁর সম্পর্কে হাফেজ 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে বলেছেন: "ফকিহ, ইমাম শাফেয়ীর ছাত্র, নির্ভরযোগ্য।" আল-লালাকায়ী 'শারহু উসূলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাহ' (১৫৯০) গ্রন্থে তাঁর নিজস্ব সনদে বর্ণনা করেছেন যে, ঈমান সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন: "জেনে রাখুন—আল্লাহ আমাদের ও আপনার ওপর রহম করুন—নিশ্চয়ই ঈমান হলো অন্তরে বিশ্বাস, মুখে স্বীকারোক্তি এবং অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমল করা। কারণ, আলেমদের মধ্যে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে কোনো দ্বিমত নেই যে যদি বলে: 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা এক এবং রাসূলগণ যা নিয়ে এসেছেন তা সত্য' এবং সমস্ত শরীয়তকে মেনে নেয়, কিন্তু এরপর বলে: 'আমার অন্তর এর কোনো কিছুর ওপর স্থির নয় এবং আমি তা বিশ্বাস করি না', তবে সে মুসলিম নয়। আর যদি কেউ বলে: 'মসীহ (ঈসা আ.)-ই ঈশ্বর' এবং ইসলামের বিধান অস্বীকার করে, [এমনকি যদি সে] বলে: 'আমার অন্তর এসবে বিশ্বাসী নয়', তবুও সে তা প্রকাশ করার কারণে কাফের হিসেবে গণ্য হবে এবং সে মুমিন নয় …।"তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হলেন ইমাম মুহাম্মদ ইবনে নাসর আল-মারওয়াযী (মৃত্যু ২৯৪ হি.), যাঁর সম্পর্কে হাফেজ 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে বলেছেন: "ফকিহ আবু আব্দুল্লাহ, নির্ভরযোগ্য, হাফেজ, ইমাম এবং পাহাড়তুল্য [পণ্ডিত]।" তিনি তাঁর 'তাযীমু কাদরিস সালাত' গ্রন্থের বিভিন্ন স্থানে (বিশ্বাস/ইতিকাদ) শব্দটি উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে (২/৭৩৩): " … যদি কেউ বিশ্বাস করে যে আল্লাহ দয়ালু নন অথবা তিনি উত্তম প্রশংসার যোগ্য নন, তবে সে কুফরি বিশ্বাস পোষণ করল এবং সে [আল্লাহকে] চিনতে পারেনি। তদ্রূপ, যদি সে বিশ্বাস করে যে আল্লাহ তার প্রতি জুলুম করেছেন বা অবিচার করেছেন, তবে সে কাফের, সে আল্লাহকে চিনতে পারেনি …।"তাঁদের মাঝে রয়েছেন ইমাম আবু জাফর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ আত-তাহাবী, যিনি জন্মগ্রহণ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লি-আহলিস সুন্নাতি ওয়াল হাদিসি ফি রাদ্দি আবাতিলি হাসান আল-মালিকি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
(239هـ) ، قال الحافظ ابن حجر في ترجمته في لسان الميزان: "قال أبو سعيد ابن يونس: كان ثقة ثبتاً فقيهاً عاقلاً، لم يخلف مثله"، وهو صاحب العقيدة المشهورة بالعقيدة الطحاوية، قال في مطلعها: "هذا ذكر بيان عقيدة أهل السُّنَّة والجماعة على مذهب فقهاء الملَّة أبي حنيفة النعمان بن ثابت الكوفي، وأبي يوسف يعقوب بن إبراهيم الأنصاري، وأبي عبد الله محمد بن الحسن الشيباني، رضوان الله عليهم أجمعين، وما يعتقدون من أصول الدِّين، ويَدينون به ربَّ العالَمين، نقول في توحيد الله معتقدين بتوفيق الله: إنَّ الله واحدٌ لا شريك له، ولا شيء مثله، ولا شيء يُعجزه، ولا إله غيره"، ثم سرَد موضوعات العقيدة إلى آخرها.5 ـ ثم إنَّ هذا المالكيَّ المكتشف لبدعية مصطلح (العقيدة) في (القرن الخامس عشر!) ذكر في (ص: 34) عدَّة معان في مادة (عَقَد) ، آخرها: "وعقد القلب على أمر ما ديني أو دنيوي"، ثم قال: "ولعلَّ من هذا المعنى الأخير أخذ بعضُهم لفظة العقيدة، وخصَّها ببعض المعاني العلمية الدينية، وهذا تخصيصٌ مبتَدَع أيضاً!! ".أقول: ما دام أنَّ لمصطلح لفظ (العقيدة) أصلاً كما ذكر هو، فلا وجه للتَّهويل والتبديع الذي ذكره لإطلاق اسم (العقيدة) على مباحث أصول الدِّين، وأيضاً فإنَّ لفظ (الإيمان) أو (الإيمانيات) الذي زعم أنَّه مهجور قد ألَّف كثير من علماء أهل السُّنَّة والجماعة مؤلَّفات باسم"الإيمان"، وهي مشتملة على ما اشتملت عليه الكتب المؤلَّفة باسم"العقيدة"، أو"السنة"، وهذا ما لا يُعجب المالكي؛ لأنَّه يريد كتباً في الإيمان لا يُتعرَّض فيها للبدع والمبتدعة، ولا ذكر لشيء مِمَّا فيه اختلاف بين أهل السُّنَّة والجماعة وفرق
(২৩৯ হিজরী), হাফেজ ইবনে হাজার 'লিসানুল মিজান'-এ তাঁর জীবনীতে লিখেছেন: "আবু সাঈদ ইবনে ইউনুস বলেছেন: তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য, সুদৃঢ়, ফকীহ এবং বুদ্ধিমান; তিনি নিজের মতো আর কাউকে উত্তরসূরি রেখে যাননি।" তিনি 'আকিদায়ে তাহাবিয়া' নামে প্রসিদ্ধ আকিদা গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি এর প্রারম্ভে বলেছেন: "এটি দ্বীনের ফকীহগণ—আবু হানিফা নুমান ইবনে সাবিত আল-কুফি, আবু ইউসুফ ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম আল-আনসারি এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে হাসান আশ-শায়বানি (আল্লাহ তাঁদের সকলের ওপর সন্তুষ্ট হোন)—এর মাযহাব অনুযায়ী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকিদার বিবরণ, এবং দ্বীনের মৌলিক বিষয়সমূহ সম্পর্কে তাঁরা যা বিশ্বাস করতেন এবং রাব্বুল আলামীনের আনুগত্যে যা পালন করতেন তার বিবরণ। আল্লাহর তাওহিদ সম্পর্কে আল্লাহর তাওফিকের ওপর বিশ্বাস রেখে আমরা বলি: নিশ্চয়ই আল্লাহ এক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই, তাঁর সদৃশ কিছুই নেই, কোনো কিছুই তাঁকে অক্ষম করতে পারে না এবং তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই।" এরপর তিনি আকিদার বিষয়গুলো শেষ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করেছেন।৫— অতঃপর পঞ্চদশ শতাব্দীতে 'আকিদা' পরিভাষাটিকে বিদআত হিসেবে চিহ্নিতকারী এই মালিকি ব্যক্তি তার বইয়ের ৩৪ পৃষ্ঠায় 'আকাদ' মূলধাতুর বেশ কিছু অর্থ উল্লেখ করেছেন, যার শেষটি হলো: "ধর্মীয় বা জাগতিক কোনো বিষয়ে অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করা।" এরপর তিনি বলেছেন: "সম্ভবত এই শেষোক্ত অর্থ থেকেই কেউ কেউ 'আকিদা' শব্দটি গ্রহণ করেছেন এবং একে কিছু ইলমি দ্বীনি বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন; আর এই নির্দিষ্টকরণটিও একটি বিদআত!!" আমি বলি: যেহেতু 'আকিদা' পরিভাষাটির একটি মূল ভিত্তি রয়েছে যা তিনি নিজেই উল্লেখ করেছেন, তাই দ্বীনের মূলনীতিসমূহের আলোচনার ক্ষেত্রে 'আকিদা' নাম ব্যবহারের বিরুদ্ধে তাঁর এই আতঙ্ক সৃষ্টি ও বিদআত বলার কোনো অবকাশ নেই। অধিকন্তু, 'ঈমান' বা 'ঈমানিয়াত' শব্দটি পরিত্যক্ত হয়ে গেছে বলে তিনি যে দাবি করেছেন, তার বিপরীতে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অনেক আলেম 'ঈমান' শিরোনামে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। সেই গ্রন্থগুলোতেও ঠিক সেই বিষয়গুলোই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে যা 'আকিদা' বা 'সুন্নাহ' নামে রচিত গ্রন্থগুলোতে রয়েছে। মূলত এটিই এই মালিকির পছন্দ নয়; কারণ তিনি ঈমান বিষয়ে এমন কিতাব চান যেখানে বিদআত বা বিদআতিদের নিয়ে কোনো আলোচনা থাকবে না, এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত ও অন্যান্য ভ্রান্ত দলগুলোর মধ্যকার মতপার্থক্যের কোনো উল্লেখ থাকবে না।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লি-আহলিস সুন্নাতি ওয়াল হাদিসি ফি রাদ্দি আবাতিলি হাসান আল-মালিকি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الضلال المختلفة، وقد تبيَّن قريباً وجود هذا اللَّفظ في السُّنَّة وأقوال الصحابة والتابعين وكبار العلماء في القرون الثلاثة الأولى، وأيضاً فإنَّه كما يُقال في الإنسان: عقيدته حسنة أو حسن المعتقد فيما يتعلَّق بلفظ (العقيدة) ، فكذلك يُقال في لفظ (الإيمان) : قويُّ الإيمان ضعيف الإيمان، ويُقال للعاصي والمبتدع بدعة غير مكفِّرة: مؤمن ناقص الإيمان.
বিভিন্ন ভ্রান্ত পথসমূহ; আর অল্পক্ষণ পূর্বেই এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, সুন্নাহর বর্ণনা এবং সাহাবী, তাবিঈন ও প্রথম তিন শতাব্দীর বরেণ্য আলেমগণের বাণীতে এই শব্দটির অস্তিত্ব বিদ্যমান। তদুপরি, 'আকিদা' পরিভাষার ব্যবহারে কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে যেমন বলা হয়— "তার আকিদা উত্তম" অথবা "সে সুন্দর বিশ্বাসের অধিকারী"; তদ্রূপ 'ঈমান' শব্দের ক্ষেত্রেও বলা হয়— "সুদৃঢ় ঈমান" কিংবা "দুর্বল ঈমান"। একইভাবে পাপাচারী এবং এমন বিদআতে লিপ্ত ব্যক্তি—যা তাকে কুফরি পর্যন্ত পৌঁছায় না—তাকে বলা হয়— "ত্রুটিপূর্ণ ঈমানের অধিকারী মুমিন"।
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লি-আহলিস সুন্নাতি ওয়াল হাদিসি ফি রাদ্দি আবাতিলি হাসান আল-মালিকি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
7 ـ قدحه في كتب أهل السنَّة في العقيدة والردُّ عليهقال في (ص: 24) : "فقد كانت معظم العقائد المدوَّنة في كتب العقائد تعبِّر عن مراحل تاريخية من مراحل الصراع السياسي والمذهبي فحسب!! ".وقال في (ص: 25) : "ولو رجعنا لسبب هذا التبادل في التكفير والتبديع لوجدنا كتب العقائد في الانتظار؛ إذ كانت الكتب المؤلَّفة في العقائد هي ذاكرة هذا الفساد كلّه، ومحور شرعيته، ومحطات انطلاق لكلِّ خصومة بين المسلمين؛ إذ أصبح لكلِّ فرقة من المسلمين كُتبها التي يوصي بها أتباعها ويتدارسونها ويخطبون بمضامينها، مع ما فيها من تَجنٍّ ومظالم ضد بقية المسلمين مِمَّن لم يكونوا معهم في الرأي أو الجزئيات، فأصبحت الدعوة لمضامين هذه الكتب لا إلى الحقِّ، وظهر نبزُ الآخرين بالألقاب السيِّئة والتحلِّي بالألقاب الحسنة، وأصبح للإسلام أكثر من اسم، وأصبح الانتساب للإسلام غير كافٍ عند هذه الفرق".وقال في (ص: 28) : "وكُتب العقائد رغم ما فيها من حقٍّ قليل إلَاّ أنَّ
7 ـআকীদা বিষয়ে আহলুস সুন্নাহর কিতাবসমূহের প্রতি তার কটাক্ষ এবং এর খণ্ডনতিনি (২৪ পৃষ্ঠায়) বলেছেন: "আকীদার কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ অধিকাংশ আকীদাই ছিল মূলত রাজনৈতিক ও মাযহাবী দ্বন্দ্বের ঐতিহাসিক পর্যায়সমূহের বহিঃপ্রকাশ মাত্র!!"তিনি (২৫ পৃষ্ঠায়) বলেছেন: "পরস্পরকে কাফির ও বিদআতী সাব্যস্ত করার এই প্রবণতার কারণ যদি আমরা খুঁজি, তবে দেখব যে আকীদার কিতাবগুলোই এর অপেক্ষায় ওত পেতে আছে; কেননা আকীদা বিষয়ে রচিত কিতাবগুলোই ছিল এই সকল ফাসাদ বা বিপর্যয়ের ধারক, এর বৈধতার কেন্দ্রবিন্দু এবং মুসলমানদের মধ্যকার প্রতিটি বিবাদের সূচনাস্থল। ফলে মুসলমানদের প্রতিটি দলের জন্য এমন সব কিতাব নির্ধারিত হয়ে গেল যা তারা তাদের অনুসারীদের পড়তে নসিহত করে, নিজেরা পাঠ করে এবং সেগুলোর বিষয়বস্তু অনুযায়ী খুতবা প্রদান করে। অথচ সেগুলোতে অন্য মুসলমানদের বিরুদ্ধে নানাবিধ অপবাদ ও অবিচার বিদ্যমান ছিল, যারা তাদের মতাদর্শ কিংবা খুঁটিনাটি বিষয়ে একমত হতে পারেনি। ফলে দাওয়াত বা আহ্বান সত্যের দিকে না হয়ে এই কিতাবগুলোর বিষয়বস্তুর দিকে ধাবিত হলো। অন্যদের মন্দ উপাধিতে ভূষিত করা এবং নিজেদের জন্য ভালো উপাধি গ্রহণ করার প্রবণতা প্রকাশ পেল। ইসলামের একাধিক নাম হয়ে গেল এবং এই দলগুলোর নিকট কেবল ইসলামের প্রতি নিসবত বা সম্বন্ধ হওয়াই যথেষ্ট থাকল না।"তিনি (২৮ পৃষ্ঠায়) বলেছেন: "আকীদার কিতাবসমূহে সামান্য সত্য থাকা সত্ত্বেও..."
(খণ্ড: ১)
আল-ইনতিসার লি-আহলিস সুন্নাতি ওয়াল হাদিসি ফি রাদ্দি আবাতিলি হাসান আল-মালিকি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فيها الكثير من الباطل، بل هو الغالب عليها؛ لِما فيها من الأحاديث المكذوبة على النَّبيِّ صلى الله عليه وآله وسلم والإسرائيليات المشككة للمسلم، والتكفير للمسلمين، وزرع بذور الشقاق والتباغض والتنازع بين المسلمين، وغير ذلك من الهوى والظلم والجهل، سواء كان ذلك في كتب العقائد عند الشيعة أو السنَّة أو الإباضية أو الصوفية أو غيرهم!!! ".وقال في (ص: 179) : "ومعظم ما كتبوه في العقائد كان خلاف فهم السَّلف الصالح من المهاجرين والأنصار والتابعين بإحسان!!! ".وقال في (ص: 100 ـ 101) : "ثم لم تزل الطوائف في خصومات كلامية، وألَّفوا في ذلك الكتب والمصنفات التي صُبغت بصبغة الخصومة من الغضب والكراهية والحقد وإلغاء الطرف الآخر، سواء بتكفيره أو تبديعه مع التحريض على التصفية الجسدية للخصوم.ونظراً لضعفنا العلمي وتقديسنا لكلِّ ماضٍ، فلَم ننظر لتلك الكتب على أنَّها تعبر عن مرحلة تاريخية، وإنَّما اعتبرناها شرعاً مقدَّساً وعقيدة راسخة، لا تقبل النَّقد أو التشكيك، وهذا مِمَّا ألفينا عليه آباءنا، فلذلك لا غرابة إذا استمرَّ أثرُ هذه الكتب في تمزيق المسلمين، وتقرير شرعية تنازعهم إلى يومنا هذا.أعود فأقول: إنَّ الحنابلة فرقة من هذه الفرق المتخاصمة التي ظُلمت وظَلمت، والظلم جماع المساوئ، فأصبحنا نقرأ الخصومات على أنَّها حقٌّ مطلق وهنا تكمن الخطورة، وسيأتي ذكر أمثلة على ذلك.ولعل من أبرز الكتب التي عوَّل عليها الحنابلة ـ سواء كانت من تأليفهم أو من تأليف غيرهم ـ الكتب التالية:
এর মধ্যে প্রচুর বাতিল বা অসারতা রয়েছে, বরং এটিই এর ওপর প্রভাবশালী; কারণ এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের নামে রটানো মিথ্যা হাদীস ও মুসলিমদের মনে সংশয় সৃষ্টিকারী ইসরাঈলী বর্ণনা, মুসলিমদের কাফির ঘোষণা করা (তাকফীর), এবং মুসলিমদের মধ্যে বিবাদ, ঘৃণা ও কলহের বীজ বপন করা সহ প্রবৃত্তি, জুলুম ও অজ্ঞতার অনেক কিছু বিদ্যমান, চাই তা শিয়া, সুন্নি, ইবাদি, সুফি বা অন্য যেকোনো গোষ্ঠীর আকীদার কিতাব হোক না কেন!!! তিনি (পৃষ্ঠা: ১৭৯)-তে বলেছেন: "আকীদা বিষয়ে তারা যা কিছু লিখেছে, তার অধিকাংশ ছিল মুহাজির, আনসার এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত সালাফে সালেহীনের উপলব্ধির পরিপন্থী!!!" তিনি (পৃষ্ঠা: ১০০-১০১)-তে বলেছেন: "অতঃপর বিভিন্ন দল কালামশাস্ত্রীয় বিবাদে লিপ্ত হতে থাকে এবং এ বিষয়ে তারা এমন সব গ্রন্থ ও সংকলন রচনা করে যা ক্রোধ, ঘৃণা, বিদ্বেষ এবং অপর পক্ষকে নাকচ করে দেওয়ার মানসিকতায় রঞ্জিত ছিল; চাই তা অপর পক্ষকে কাফির ঘোষণা করার মাধ্যমে হোক বা বিদআতী সাব্যস্ত করার মাধ্যমে, এমনকি প্রতিপক্ষকে শারীরিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার উস্কানিও তাতে ছিল। আমাদের তাত্ত্বিক দুর্বলতা এবং অতীতের প্রতিটি বিষয়কে পবিত্র জ্ঞান করার মানসিকতার কারণে আমরা সেই কিতাবগুলোকে কেবল একটি ঐতিহাসিক পর্যায় হিসেবে দেখিনি, বরং সেগুলোকে আমরা পবিত্র শরীয়ত এবং সুদৃঢ় আকীদা হিসেবে গণ্য করেছি যা কোনো সমালোচনা বা সংশয় গ্রহণ করে না। আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের এই আদর্শের ওপরই পেয়েছি। তাই আজও যদি মুসলিমদের ছিন্নবিচ্ছিন্ন করতে এবং তাদের পারস্পরিক বিবাদকে বৈধতা দিতে এই কিতাবগুলোর প্রভাব অব্যাহত থাকে, তবে তাতে বিস্ময়ের কিছু নেই। আমি পুনরায় বলছি: হানবালীরা হলো এই বিবাদমান দলগুলোর মধ্যে একটি দল যারা মজলুমও হয়েছে আবার জুলুমও করেছে, আর জুলুম হলো সকল মন্দের সমষ্টি। ফলে আমরা এই বিবাদগুলোকে পরম সত্য হিসেবে পাঠ করতে শুরু করেছি এবং এখানেই মূল বিপদ নিহিত। অচিরেই এর কিছু উদাহরণ পেশ করা হবে। সম্ভবত হানবালীরা যেসব কিতাবের ওপর নির্ভর করেছে—সেগুলো তাদের নিজেদের রচিত হোক বা অন্যদের—তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিতাবগুলো হলো নিম্নরূপ: