(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মাদিনাতিল মাওসিল (মাতবু দ্বিমনা বুহুসি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউওয়াল)
(পৃষ্ঠা: -)
الإمام محمد بن عبد الوهاب في مدينة الموصل (مطبوع ضمن بحوث ندوة دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب، الجزء الأول) القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: الإمام محمد بن عبدالوهاب في مدينة الموصل (مطبوع ضمن بحوث ندوة دعوة الشيخ محمد بن عبدالوهاب، الجزء الأول)
المؤلف: محمود شيت خطاب (ت 1419هـ)
الناشر: عمادة البحث العلمي بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، الرياض، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الثانية، 1411هـ/1991م
عدد الصفحات: 90
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব মসুল শহরে (শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের দাওয়াত বিষয়ক সেমিনার গবেষণাপত্রের অন্তর্ভুক্ত, প্রথম খণ্ড) বিভাগ: জীবনী ও স্তরবিন্যাস
বই: ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব মসুল শহরে (শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের দাওয়াত বিষয়ক সেমিনার গবেষণাপত্রের অন্তর্ভুক্ত, প্রথম খণ্ড)
লেখক: মাহমুদ শীত খাত্তাব (মৃত্যু ১৪১৯ হিজরি)
প্রকাশক: ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুষদ, রিয়াদ, সৌদি আরব কিংডম
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১১ হিজরি/১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯০
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মাদিনাতিল মাওসিল (মাতবু দ্বিমনা বুহুসি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউওয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
الإمام محمد بن عبد الوهاب في مدينة الوصل…الإمام محمد بن عبد الوهاب في مدينة الموصل للواء الركن: محمود شيت خطاب عضو المجمع العلمي العراقي
بسم الله الرحمن الرحيم
- 1 - ذكر المؤرخ ياسين بن خير الله الخطيب العمري الموصلي1 في كتابه: (غرائب الأثر) 2 في حوادث سنة ثمان ومائتين وألف الهجرية، "أن الإمام محمد بن عبد الوهاب قدم الموصل، وقرأ العلم على العلامة مولانا ملا حمد الجميلي3 وأخذ عنه الكثير4".
وقد ذكر هذا المؤرخ هذا الخبر في معرض الحديث عن وفاة الإمام دون أن يذكر سنة قدومه الموصل ولا مدة مكوثه فيها طالبا للعلم.
ومن المعروف أن الإمام توفي سنة ست ومائتين وألف الهجرية لا سنة ثمان ومائتين وألف الهجرية، كما أورد المؤرخ العمري في كتابه: (غرائب الأثر) ، وقد يكون سبب هذا الخطأ هو تأخر وصول نعي الإمام إلى المؤرخ في الموصل؛ لصعوبة المواصلات البريدية في حينه، ولأن الأخبار تنقل بوسائط بدائية بالأشخاص المتنقلين سيرًا على الأقدام أو على الدّواب، كما أن البريد لم يكن منظما يؤمن انتقاله بسرعة ولا كان منتظما بين (نجد) حيث توفي الإمام (والموصل) حيث يقيم المؤلف العمري.
--------------------------------------------
মসুল নগরীতে ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব…মেজর জেনারেল মাহমুদ শীত খাত্তাব (ইরাকি সায়েন্টিফিক একাডেমির সদস্য) রচিত: মসুল নগরীতে ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
- ১ - ইতিহাসবিদ ইয়াসিন বিন খাইরুল্লাহ আল-খাতিব আল-উমারি আল-মওসিলি১ তার 'গারায়িবুল আসার'২ নামক গ্রন্থে ১২০৮ হিজরি সনের ঘটনাবলীতে উল্লেখ করেছেন যে, "ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মসুলে আগমন করেন এবং আল্লামা মাওলানা মোল্লা হামাদ আল-জুমাইলি৩-এর নিকট ইলম অর্জন করেন এবং তার থেকে অনেক ইলম গ্রহণ করেন৪।"
ইতিহাসবিদ এই সংবাদটি ইমামের মৃত্যু সংক্রান্ত আলোচনার প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন, তবে তিনি মসুলে ইমামের আগমনের বছর বা সেখানে জ্ঞান অন্বেষণে তার অবস্থানের সময়সীমা উল্লেখ করেননি।
এটি সুপরিচিত যে, ইমাম ১২০৬ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেছেন, ১২০৮ হিজরি সনে নয়, যেমনটি ইতিহাসবিদ আল-উমারি তার 'গারায়িবুল আসার' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। এই ভুলের কারণ সম্ভবত মসুলে অবস্থানরত ইতিহাসবিদের নিকট ইমামের মৃত্যু সংবাদ পৌঁছাতে দেরি হওয়া; কারণ সে সময়ে ডাক যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠিন ছিল এবং সংবাদসমূহ তখন আদিম উপায়ে পদব্রজে বা পশুর পিঠে ভ্রমণকারী ব্যক্তিদের মাধ্যমে আদান-প্রদান করা হতো। এছাড়া ডাক ব্যবস্থা যেমন দ্রুত সংবাদ আদান-প্রদানের জন্য সুশৃঙ্খল ছিল না, তেমনি (নজদ)—যেখানে ইমাম ইন্তেকাল করেছিলেন এবং (মসুল)—যেখানে গ্রন্থকার আল-উমারি বসবাস করতেন, এই দুই স্থানের মাঝে তা নিয়মিতও ছিল না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মাদিনাতিল মাওসিল (মাতবু দ্বিমনা বুহুসি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউওয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
-2 –
والمؤرخ العمري كان معاصرًا للإمام، فقد ولد في الموصل سنة سبع وخمسين ومائة وألف الهجرية1 (1744م) ، وتوفي بعد سنة اثنتين وثلاثين ومائتين وألف الهجرية2 (1816م) ، والإمام محمد بن عبد الوهاب ولد سنة خمس عشرة ومائة وألف الهجرية (1703م) ، وتوفي سنة ست ومائتين وألف الهجرية (1792م) 3، فهو شاهد عيان، لأخباره قيمة خاصة، وكان دقيقًا في تسجيل الأحداث الدائرة في مدينة الموصل 4، معنيًا بذلك أشد العناية، ومعروفًا بالصدق والاستقامة في تأريخه للحوادث، وليست له مصلحة مادية ولا معنوية تحمله على إقحام رحلة الإمام إلى الموصل، ودراسته على أحد شيوخها، فالمؤرخ العمري متصوف5 شديد التمسك بالصوفية والدفاع عنهم، يصف نفسه بأنه: "حسن الاعتقاد بالأولياء الكرام، والمشايخ العظام"6 بينما الإمام سلفي ملتزم أشد الالتزام بالسلفية والدفاع عنها، لا يرضى العمري عن مسلك الإمام السلفي7؛ لأنه يناقض مذهبه ومشربه.
كما أن المؤرخ العمري كان معاصرًا للشيخ حمد الجميلي الذي توفي سنة سبعين ومائة وألف الهجرية 8 (1756م) ، وترجم له في كتابه المخطوط: (السيف المهند في من اسمه أحمد) مما يدل على أنه كان وثيق الصلة بالشيخ الجميلي، يعرف طلابه وشيوخه وأقرانه من علماء الدين، كما ترجم للشيخ الجميلي أيضا المؤرخ الموصلي محمد أمين بن خير الله
--------------------------------------------
-২ –
এবং ঐতিহাসিক আল-উমারি ইমামের সমসাময়িক ছিলেন, কারণ তিনি হিজরি ১১৫৭ (১৭৪৪ খ্রি.) সালে মোসেলে জন্মগ্রহণ করেন এবং হিজরি ১২৩২ (১৮১৬ খ্রি.) সালের পরে মৃত্যুবরণ করেন। আর ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব হিজরি ১১১৫ (১৭০৩ খ্রি.) সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং হিজরি ১২০৬ (১৭৯২ খ্রি.) সালে মৃত্যুবরণ করেন। ফলে তিনি একজন প্রত্যক্ষদর্শী এবং তার সংবাদের একটি বিশেষ মূল্য রয়েছে। তিনি মোসেল শহরে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলি লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত নির্ভুল ছিলেন এবং এ বিষয়ে তিনি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন। ঘটনাবলির ইতিহাস রচনায় তিনি সত্যবাদিতা ও সততার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। ইমামের মোসেল সফর এবং সেখানকার জনৈক শায়খের নিকট তার শিক্ষাগ্রহণের বিষয়টি ইতিহাসভুক্ত করার পেছনে তার কোনো বৈষয়িক বা মানসিক স্বার্থ ছিল না। কেননা ঐতিহাসিক আল-উমারি ছিলেন একজন সুফি, যিনি সুফিবাদকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরা এবং তাদের পক্ষাবলম্বনকারী ছিলেন। তিনি নিজের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন: "সম্মানিত আউলিয়া এবং মহান মাশায়েখদের প্রতি আমি উত্তম আকিদা ও সুধারণা পোষণকারী।" পক্ষান্তরে ইমাম ছিলেন একজন সালাফি, যিনি অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে সালাফিয়্যাতের অনুসারী এবং এর রক্ষক ছিলেন। আল-উমারি ইমামের সালাফি পন্থায় সন্তুষ্ট ছিলেন না; কারণ তা ছিল তাঁর মাযহাব ও মতাদর্শের পরিপন্থী।
তদ্রূপ ঐতিহাসিক আল-উমারি শায়খ হামাদ আল-জুমাইলিরও সমসাময়িক ছিলেন, যিনি হিজরি ১১৭০ (১৭৫৬ খ্রি.) সালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তাঁর পাণ্ডুলিপি গ্রন্থ: (আস-সাইফুল মুহান্নাদ ফি মান ইসমুহু আহমাদ)-এ তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন, যা প্রমাণ করে যে, শায়খ আল-জুমাইলির সাথে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক ছিল এবং তিনি তাঁর ছাত্র, উস্তাদ ও সমকালীন আলেম সমাজ সম্পর্কে অবগত ছিলেন। একইভাবে মোসেলের ঐতিহাসিক মুহাম্মাদ আমিন বিন খাইরুল্লাহ-ও শায়খ আল-জুমাইলির জীবনী আলোচনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মাদিনাতিল মাওসিল (মাতবু দ্বিমনা বুহুসি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউওয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
الخطيب العمري، أخو المؤرخ ياسين العمري في كتابه: (منهل الأولياء1) ، وقرأ عليه2، مما يدل على أن الشيخ الجميلي وثيق الصلة بالأسرة العمّرية.
والذين خبروا الحياة الاجتماعية في (الموصل) يعلمون أن الصلة في الأسرة العلمية طلابًا وشيوخًا، هي أقوى وأمتن من الصلة في الأسرة العائلية، فقرابة العلم في الموصل الحدباء أعمق جذورًا من قرابة النسب، والطالب بالنسبة لشيخه ولد متعلم، والشيخ بالنسبة لتلميذه والد ومعلم.
وأهل الموصل مهما تعلو منزلة أحدهم جاها وثراءً ومكانةً وسلطانا يتواضع لأصحاب العمائم من علماء الدين أشد التواضع، ويحترمهم ويوقرهم ويحدب عليهم، وهم يقدمونهم ويسيرون وراءهم ولا يتقدمون عليهم، ويتنازلون لهم عن صدور مجالسهم تطوعا، وينصتون لأقوالهم وينفذون لهم رغباتهم، وقلما تجد موصليا أصيلا يجهل تفاصيل أخبار رجال الدين ونشاطهم العلمي وجهودهم في الدعوة إلى الله.
لا عجب في أن يتناقل الطلاب أخبار شيوخهم شفاهًا وتسجيلاً، ويتناقل الشيوخ أخبار طلابهم حديثًا وتدوينًا، ويدون المؤرخ تلك الأخبار بأمانة وصدق.
[أهمية هذا البحث]
- 3 -
ولا يقلل من أهمية رحلة الإمام محمد بن عبد الوهاب العلمية إلى الموصل وأثرها في تكوينه العلمي واتجاهه الفكري إغفال المصادر والمراجع التي ترجمت له وأرخت لدعوته. لهذه الرحلة العلمية إلى هذه المدينة العلمية، ولعل أهم أسباب إغفالها هو نشر كتاب: (غرائب الأثر) متأخرا في سنة (1359هـ-1640م) لمؤرخ غير متهم في صدقه وأمانته، وكان نشر هذا الكتاب بعد صدور معظم تلك المصادر والمراجع، وقد كان هذا الكتاب بعد صدوره مجهولا بالنسبة للذين كتبوا بعد إخراجه للناس والواقع أن كتاب (غرائب
--------------------------------------------
আল-খতিব আল-উমরি, যিনি ঐতিহাসিক ইয়াসিন আল-উমরির ভাই, তিনি তাঁর গ্রন্থ ‘মানহালুল আউলিয়া’তে (১) এটি উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর কাছে পাঠ গ্রহণ করেছেন (২), যা প্রমাণ করে যে শেখ আল-জুমাইলি উমরি পরিবারের সাথে নিবিড়ভাবে সংশ্লিষ্ট ছিলেন।
যারা (মসুল) শহরের সামাজিক জীবন সম্পর্কে অভিজ্ঞ, তারা জানেন যে ইলমি পরিবারের ছাত্র ও উস্তাদদের মধ্যকার সম্পর্ক পারিবারিক সম্পর্কের চেয়েও অধিক শক্তিশালী ও সুদৃঢ়। কেননা মসুল আল-হাদবায় ইলমি আত্মীয়তার শিকড় বংশীয় আত্মীয়তার চেয়েও গভীর। একজন ছাত্র তার উস্তাদের কাছে একজন শিক্ষার্থী সন্তানতুল্য এবং একজন উস্তাদ তার ছাত্রের কাছে একজন পিতা ও শিক্ষকস্বরূপ।
মসুলে বসবাসকারী কোনো ব্যক্তির প্রভাব-প্রতিপত্তি, ধন-সম্পদ, মর্যাদা ও ক্ষমতা যত উচ্চই হোক না কেন, তারা আলেম-ওলামাদের প্রতি অত্যন্ত বিনয়ী আচরণ করেন। তারা তাঁদের শ্রদ্ধা ও সম্মান করেন এবং তাঁদের প্রতি মমত্ববোধ পোষণ করেন। তাঁরা আলেমদের অগ্রবর্তী করেন এবং নিজেরা তাঁদের পেছনে চলেন, কখনোই তাঁদের সামনে অগ্রসর হন না। তাঁরা স্বেচ্ছায় মজলিসের প্রধান আসনগুলো তাঁদের জন্য ছেড়ে দেন, তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাঁদের ইচ্ছা পূরণ করেন। মসুলে এমন কোনো খাঁটি আদি বাসিন্দা খুব কমই পাওয়া যাবে, যে আলেমদের বিস্তারিত সংবাদ, তাঁদের ইলমি কার্যক্রম এবং আল্লাহর পথে দাওয়াতের প্রচেষ্টার ব্যাপারে অবগত নয়।
এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, ছাত্ররা তাঁদের উস্তাদদের সংবাদ মৌখিকভাবে ও লিখিতভাবে বর্ণনা করবে এবং উস্তাদরা তাঁদের ছাত্রদের সংবাদ আলোচনা ও লিখনীর মাধ্যমে প্রচার করবেন; আর ঐতিহাসিকগণ অত্যন্ত বিশ্বস্ততা ও সত্যনিষ্ঠার সাথে সেই সংবাদগুলো লিপিবদ্ধ করবেন।
[এই গবেষণার গুরুত্ব]
- ৩ -
ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের মসুলে ইলমি সফর এবং তাঁর ইলমি গঠন ও বুদ্ধিবৃত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির ওপর এর প্রভাবের গুরুত্বকে সেই সব উৎস ও তথ্যসূত্রগুলো খর্ব করতে পারে না, যা তাঁর জীবনী ও দাওয়াতের ইতিহাস বর্ণনা করতে গিয়ে এই ইলমি সফরের কথা এড়িয়ে গেছে। এই ইলমি নগরীতে তাঁর এই সফরের কথা উপেক্ষা করার সম্ভবত অন্যতম কারণ হলো ‘গারাইবুল আসার’ নামক গ্রন্থটি বিলম্বে ১৩৫৯ হিজরি (১৬৪০ খ্রিস্টাব্দ) সালে প্রকাশিত হওয়া। গ্রন্থটি এমন একজন ঐতিহাসিকের লেখা যার সততা ও আমানতদারি প্রশ্নাতীত। এই গ্রন্থটি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হয়েছিল যখন তাঁর জীবনী সংক্রান্ত অধিকাংশ উৎস ও তথ্যসূত্র ইতোমধ্যেই প্রকাশিত হয়ে গিয়েছিল। এমনকি প্রকাশের পরেও যারা এ বিষয়ে লিখেছেন তাঁদের কাছে গ্রন্থটি দীর্ঘকাল অজানা ছিল। প্রকৃতপক্ষে ‘গারাইব...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মাদিনাতিল মাওসিল (মাতবু দ্বিমনা বুহুসি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউওয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
لأثر) مجهول بالنسبة لأكثر الباحثين العراقيين، فلا عتب على الباحثين من غير العراقيين عربًا وأجانب.
وقد اقتصرت تلك المصادر والمراجع على ذكر رحلة الإمام إلى مدينة (البصرة) العراقية، ولم تتطرق إلى رحلاته العلمية الأخرى1، ولكن قسمًا منها ذكر رحلاته إلى أمصار إسلامية أخرى خارج (نجد) ، ومن تلك المراجع كتاب: (حياة الشيخ محمد بن عبد الوهاب) الذي صنعه حسين خلف الشيخ خزعل، فقد جاء فيه "أن رحلات الشيخ محمد بن عبد الوهاب امتدت إلى بغداد وكردستان وإيران وبلاد الترك والشام وبيت المقدس2.
وهذا المؤلف وغيره يقصد بتعبير: (كردستان) ، هو ما نطلق عليه اليوم (شمالي العراق) ، وكان تعبير: (كردستان) يطلق على منطقة شمالي العراق قبل الحرب العالمية الأولى، فأصبح بعد تكوين العراق الحديث بحدوده الجغرافية يسمى بشمالي العراق.
ويبدو أن مؤلف كتاب: (حياة الشيخ محمد بن عبد الوهاب) نقل المعلومات التي أوردها في كتابه مما دوّنه (مرجيلوث) في دائرة المعارف الإسلامية3، فهو الذي ذكر أن الإمام رحل إلى (كردستان) ، مع أن الناقل ألف كتابه وأخرجه للناس سنة 1968م!
وبالإمكان استنباط زمان ومكان قضاء الإمام رحلته العلمية إلى شمالي العراق بالمقارنة بين ما جاء في المصادر والمراجع التي تحدثت عن رحلته إلى (كردستان) دون أن
--------------------------------------------
(প্রভাবটি) অধিকাংশ ইরাকি গবেষকদের কাছে অজ্ঞাত, তাই আরব বা বিদেশি হোক, ইরাকি নন এমন গবেষকদের প্রতি কোনো আক্ষেপ নেই।
সেই সকল উৎস এবং তথ্যসূত্রগুলো ইমামের ইরাকের (বসরা) শহরে সফরের উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, এবং তারা তাঁর অন্যান্য জ্ঞানতাত্ত্বিক সফরগুলো নিয়ে আলোচনা করেনি১, কিন্তু তাদের একটি অংশ (নজদ)-এর বাইরের অন্যান্য ইসলামি জনপদে তাঁর সফরের কথা উল্লেখ করেছে। সেসব তথ্যসূত্রের মধ্যে রয়েছে হুসাইন খালাফ আল-শাইখ খুযআল প্রণীত ‘হায়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব’ (শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের জীবন) নামক বইটি; সেখানে বর্ণিত হয়েছে যে, “শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের সফরগুলো বাগদাদ, কুর্দিস্তান, ইরান, তুর্কি ভূমি, শাম এবং বাইতুল মাকদিস পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল২।
এই লেখক এবং অন্যান্যরা (কুর্দিস্তান) অভিব্যক্তি দ্বারা যা বুঝিয়েছেন, তা হলো যা আমরা বর্তমানে (উত্তর ইরাক) বলে অভিহিত করি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে উত্তর ইরাক অঞ্চলের জন্য (কুর্দিস্তান) শব্দটি ব্যবহৃত হতো, যা আধুনিক ইরাকের ভৌগোলিক সীমানা গঠনের পর উত্তর ইরাক নামে পরিচিত হয়।
মনে হয় যে, ‘হায়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব’ বইটির লেখক তাঁর বইয়ে উপস্থাপিত তথ্যগুলো ‘ইসলামি বিশ্বকোষ’-এ (মারজিলিউথ)-এর লেখা থেকে সংগ্রহ করেছেন৩; কারণ তিনিই উল্লেখ করেছেন যে ইমাম (কুর্দিستان) সফর করেছিলেন, যদিও এই তথ্য সংকলনকারী তাঁর বইটি ১৯৬৮ সালে রচনা করে জনগণের সামনে প্রকাশ করেছেন!
ইমামের উত্তর ইরাকে জ্ঞানতাত্ত্বিক সফরের সময় ও স্থান নির্ণয় করা সম্ভব সেই উৎস ও তথ্যসূত্রগুলোর তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে যেগুলো তাঁর (কুর্দিস্তান) সফরের কথা উল্লেখ করেছে, তবে তা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মাদিনাতিল মাওসিল (মাতবু দ্বিমনা বুহুসি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউওয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
تذكر البلد الذي استقر فيه. وما جاء في المصدر الجديد: (غرائب الأثر) ، ولعل في هذا الاستنباط ما يضيف جديدًا على سيرة الإمام.
كانت رحلة الإمام إلى العراق سنة (1136هـ-1724م) ، فمكث في بغداد ثلاث سنوات، أي أنه كان في بغداد حتى سنة (1139هـ - 1727م) ، ثم رحل إلى شمالي العراق، فجابها بلدًا بلدًا، وقضى في هذه الجولة سنة واحدة1، فقد غادر (نجدا) سنة 1136 هـ.
وفي شمالي العراق مراكز علمية مهمة وبخاصة في كركوك والسليمانية وأربيل والعمادية ودهوك وزاخو، ولكن أهم تلك المراكز دون شك ليس على نطاق شمالي العراق بل على نطاق العراق كله والبلاد العربية هو مركز الموصل العلمي، فالموصل هي حاضرة شمالي العراق وأكبر مدنه، وأكبر المدن العراقية بعد بغداد، وكانت تستقطب أبرز شيوخ شمالي العراق بخاصة وقسمًا من علماء البلاد الإسلامية بعامة، وكان يؤمها الطلاب والشيوخ لارتشاف العلم من مناهلها الثرة.
"لأن فيها أربعا وأربعين مدرسة علمية"2 في أيام زيارة الإمام لها، عامرة بعلماء الدين الأعلام، غاصة بطلاب العلم الموصليين وغيرهم.
ومن المعلوم أن رحلة الإمام العلمية إلى ربوع شمالي العراق لم تكن للاصطياف أو الاطلاع على المعالم السياحية، بل كانت جهادًا في سبيل العلم وحده، فليس من المستغرب أنه جاب المراكز العلمية في شمالي العراق، ولكنه قضى معظم عامه الدراسي في المركز العلمي الرئيسي؛ الموصل، وهو عام 1140هـ-1728م) .
وهذا يعني أن الإمام دخل الموصل طالبًا وعمره يومئذ خمسة وعشرون عامًا؛ لأنه ولد سنة (1115هـ-1703م) ، وهو العمر الذي يكون فيه الطالب في أوج نشاطه الذهني لتلقي العلم والإقبال عليه والتأثر به وبالمحيط من الطلاب والشيوخ والأحداث.
--------------------------------------------
তিনি যে দেশে অবস্থান করেছিলেন তা উল্লেখ করা হয়েছে। নতুন উৎস (ঘারাইবুল আসার)-এ যা বর্ণিত হয়েছে, তাতে সম্ভবত এমন কিছু উদ্ঘাটন রয়েছে যা ইমামের জীবনীতে নতুন কিছু যোগ করে।
ইরাকে ইমামের সফর ছিল ১১৩৬ হিজরি (১৭২৪ খ্রিস্টাব্দ) সনে। তিনি বাগদাদে তিন বছর অবস্থান করেন, অর্থাৎ তিনি ১১৩৯ হিজরি (১৭২৭ খ্রিস্টাব্দ) পর্যন্ত বাগদাদে ছিলেন। এরপর তিনি উত্তর ইরাকের দিকে যাত্রা করেন এবং সেখানকার প্রতিটি শহর ভ্রমণ করেন। এই ভ্রমণে তিনি এক বছর সময় অতিবাহিত করেন; তিনি ১১৩৬ হিজরি সনে নজদ ত্যাগ করেছিলেন।
উত্তর ইরাকে গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানতাত্ত্বিক কেন্দ্রসমূহ ছিল, বিশেষ করে কিরকুক, সুলাইমানিয়া, আরবিল, আমাদিয়া, দোহুক এবং জাখো-তে। তবে নিঃসন্দেহে সেই কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল মসুলের জ্ঞানতাত্ত্বিক কেন্দ্র, যা শুধু উত্তর ইরাকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বরং সমগ্র ইরাক ও আরব ভূখণ্ডের মধ্যে অন্যতম। মসুল ছিল উত্তর ইরাকের প্রধান শহর এবং বাগদাদের পর ইরাকের বৃহত্তম নগরী। এটি বিশেষ করে উত্তর ইরাকের প্রখ্যাত শাইখদের এবং সাধারণভাবে মুসলিম বিশ্বের একদল আলেমদের আকর্ষণ করত। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এর সমৃদ্ধ জ্ঞানের উৎস থেকে জ্ঞান আহরণের জন্য এখানে সমবেত হতেন।
"কারণ ইমামের সফরের সময় সেখানে চুয়াল্লিশটি জ্ঞানতাত্ত্বিক মাদ্রাসা ছিল", যা প্রথিতযশা ধর্মীয় আলেমদের মাধ্যমে আবাদ ছিল এবং মসুল ও অন্যান্য অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ছিল।
এটি সর্বজনবিদিত যে, উত্তর ইরাকের বিভিন্ন অঞ্চলে ইমামের জ্ঞানতাত্ত্বিক সফর গ্রীষ্মকালীন অবকাশ যাপন বা পর্যটন কেন্দ্রগুলো দেখার জন্য ছিল না, বরং এটি ছিল কেবল ইলম অর্জনের পথে এক জিহাদ। তাই এটি আশ্চর্যের বিষয় নয় যে, তিনি উত্তর ইরাকের জ্ঞানতাত্ত্বিক কেন্দ্রগুলো ভ্রমণ করেছিলেন, তবে তিনি তার শিক্ষা বর্ষের অধিকাংশ সময় প্রধান জ্ঞানতাত্ত্বিক কেন্দ্র মসুলে অতিবাহিত করেন, আর সেটি ছিল ১১৪০ হিজরি (১৭২৮ খ্রিস্টাব্দ) সাল।
এর অর্থ হলো, ইমাম যখন মসুলে ছাত্র হিসেবে প্রবেশ করেন তখন তার বয়স ছিল পঁচিশ বছর; কারণ তিনি ১১১৫ হিজরি (১৭০৩ খ্রিস্টাব্দ) সনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। এটি এমন এক বয়স যখন একজন শিক্ষার্থী ইলম অর্জন, তার প্রতি অনুরাগী হওয়া এবং ছাত্র, উস্তাদ ও পারিপার্শ্বিক ঘটনাবলি দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার ক্ষেত্রে মানসিক সক্রিয়তার চরম শিখরে অবস্থান করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মাদিনাতিল মাওসিল (মাতবু দ্বিমনা বুহুসি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউওয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৮০)
ولعل من أسباب إيثار الإمام للموصل على غيرها من المراكز العلمية في شمالي العراق هو: أن الموصل عربية بسكانها وتقاليدها ولغتها، وكانت عربية أصيلة قبل الفتح الإسلامي وأيام الفتح الإسلامي سنة ست عشرة الهجرية1 وبعد الفتح حتى اليوم، هذا بالإضافة إلى أنها أكبر مركز علمي في شمال العراق.
أما سائر المراكز العلمية الأخرى في شمالي العراق فهي ليست عربية بسكانها ولغتها: كركوك تركية، والسليمانية وأربيل والعمادية ودهوك.. وزاخو كردية، ولكن العربية هي لغة العلم في المراكز العلمية كافة؛ لأن العربية هي لغة الكتاب العزيز.
ولكن هل زار الإمام جميع المراكز العلمية في شمالي العراق؟ وكم قضى من وقت في كل مركز علمي زاره؟
ذلك ما يصعب الإجابة عليه ما دمنا ملتزمين بالنصوص التاريخية التي تحدثت عن رحلة الإمام العلمية في شمالي العراق، ولكنه يمكن الاستنتاج أنه قضى معظم عامه الدراسي هذا في الموصل الحدباء.
[من شيوخ الإمام: الشيخ حمد الجميلي]
- 4 -
وكل طالب علم يتأثر بأستاذه الذي يعلمه، والطلبة الذين يتلقون العلم معه. والمحيط الذي يعيش فيه، والأحداث التي تكتنفه.
وقد كان الشيخ حمد الجميلي الأستاذ الذي اختاره الإمام من شيوخ الموصل يقرأ عليه، فمن المفيد أن نتذكر شيئًا من سمات الشيخ الجميلي الشخصية والعلمية؛ لنعرف مبلغ تأثيره في تلميذه محمد بن عبد الوهاب الذي كان في ريعان الشباب.
كان فقيهًا فاضلاً، جمع بين المعقول والمنقول، وزاحم الفحول، وتصدى للتدريس
--------------------------------------------
উত্তর ইরাকের অন্যান্য জ্ঞানকেন্দ্রের তুলনায় ইমামের মওসেলকে প্রাধান্য দেওয়ার অন্যতম কারণ সম্ভবত এই যে: মওসেল তার অধিবাসী, ঐতিহ্য এবং ভাষার দিক থেকে আরবীয় ছিল। এটি ইসলামি বিজয়ের আগেও এবং ১৬ হিজরি সালের ইসলামি বিজয়ের দিনগুলোতেও এবং বিজয়ের পর থেকে আজ পর্যন্ত বিশুদ্ধ আরবীয় ভূখণ্ড ছিল। এর পাশাপাশি এটি উত্তর ইরাকের বৃহত্তম জ্ঞানকেন্দ্রও বটে।
উত্তর ইরাকের অন্যান্য জ্ঞানকেন্দ্রগুলোর অধিবাসী ও ভাষার দিক থেকে আরবীয় নয়: কিরকুক তুর্কি, আর সুলাইমানিয়া, এরবিল, আল-আমাদিয়া, দোহুক ও জাখো কুর্দি অধ্যুষিত। তবে সমস্ত জ্ঞানকেন্দ্রে আরবিই ছিল জ্ঞানচর্চার ভাষা; কারণ আরবি হলো সুমহান কিতাবের ভাষা।
কিন্তু ইমাম কি উত্তর ইরাকের সকল জ্ঞানকেন্দ্র পরিদর্শন করেছিলেন? এবং তিনি প্রতিটি জ্ঞানকেন্দ্রে কত সময় অতিবাহিত করেছিলেন?
যতদিন আমরা উত্তর ইরাকে ইমামের শিক্ষা সফর সম্পর্কে বর্ণিত ঐতিহাসিক পাঠ্যগুলোর প্রতি অনুগত থাকব, ততদিন এর উত্তর দেওয়া কঠিন। তবে এটি অনুমান করা যেতে পারে যে তিনি তার এই শিক্ষাবর্ষের অধিকাংশ সময়ই আল-হাদবা মওসেলে কাটিয়েছিলেন।
[ইমামের শিক্ষকদের মধ্যে: শেখ হামাদ আল-জুমাইলি]
- ৪ -
প্রত্যেক জ্ঞান অন্বেষণকারী তার শিক্ষকের দ্বারা প্রভাবিত হয় যিনি তাকে শিক্ষা দেন, এবং তার সহপাঠীদের দ্বারাও যারা তার সাথে জ্ঞান অর্জন করে। এছাড়া সে যে পরিবেশে বাস করে এবং যেসব ঘটনা তাকে পরিবেষ্টিত করে থাকে তার দ্বারাও সে প্রভাবিত হয়।
মওসেলের শায়খদের মধ্য থেকে ইমাম শেখ হামাদ আল-জুমাইলিকে তার শিক্ষক হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন যার নিকট তিনি পাঠ গ্রহণ করতেন। তাই শেখ জুমাইলির ব্যক্তিগত ও জ্ঞানতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের কিছু দিক স্মরণ করা ফলপ্রসূ হবে; যাতে তার ছাত্র মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের ওপর তার প্রভাবের মাত্রা আমরা জানতে পারি, যিনি তখন তারুণ্যের প্রারম্ভে ছিলেন।
তিনি ছিলেন একজন মর্যাদাবান ফকিহ, যিনি আকলি ও নাকলি (যুক্তি ও বর্ণনা) উভয় জ্ঞানের সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন এবং শ্রেষ্ঠ পণ্ডিতদের সাথে পাল্লা দিয়েছিলেন এবং শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মাদিনাতিল মাওসিল (মাতবু দ্বিমনা বুহুসি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউওয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৮১)
فانتفع به الناس1، حاز من الحكمة خيرًا كثيرًا2، وكان أوحد عصره علمًا وأجلهم فهمًا3.
وفي سنة (1169هـ-1755م) بنى الوزير محمد أمين باشا الجليلي جامع (الباشا) في مدينة الموصل من ماله ومال أبيه الحاج حسين باشا الجليلي4 فاختار الوزير الشيخ الجميلي ليكون أول مدرس في مدرسة جامعه5 وكان للجميلي الحظ الأوفر عند حكام الموصل وولاتها والقبول التام ومن ندماء أعيانهم من أخلص أصدقائهم، ليس بينه وبينهم حجاب6، وهذا يدل على أنه برز في علمه وتفوق على أقرانه من علماء الدين، فأصبح شيخ شيوخ مدينة الموصل.
ويبدو أنه لم يتقرب لذوي السلطان في محاولة للتكسب، "أراه مع ما هو عليه من مدارسة العلم، له من كسب يده، والتمسك بعروة الأسباب أو في سهم لا يعتمد بعد الله إلا على معايش اخترع أسبابها، ومصايد للرزق ابتدع اكتسابها، وذلك لئلا يكون كلا على الناس" فعمل بزازًا وحماميًا7، أو عمل في الحرفتين معا في آن واحد. وهذا دليل على أن ذوي السلطان احتاجوا إليه فقربوه، ولم يتقرب إليهم؛ ولم يكن بحاجة إليهم؛ لأنه غني ماديًا بعمله، ومعنويًا بعلمه، وليس لديهم ما يطمع فيه.
لقد قدمه عقله وعمله وحرصه على كرامة العلم والعلماء.
والذين أرخوا لعلماء الدين في الموصل نصوا على المتصوفة منهم وذكروا لهم طريقتهم في التصوف، وأكثرهم نقشبندية أو قادرية، ولم ينصوا على أن الشيخ الجميلي كان متصوفا.
--------------------------------------------
ফলে মানুষ তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছে১, তিনি প্রচুর প্রজ্ঞা অর্জন করেছিলেন২, এবং তিনি ছিলেন তাঁর যুগের ইলমের ক্ষেত্রে অনন্য এবং বোধগম্যতায় শ্রেষ্ঠ৩।
এবং ১১৬৯ হিজরি (১৭৫৫ খ্রিস্টাব্দ) সালে উজির মুহাম্মদ আমিন পাশা আল-জলিলি তাঁর নিজের এবং তাঁর পিতা হাজি হুসাইন পাশা আল-জলিলির অর্থায়নে মসুল শহরে (আল-পাশা) জামে মসজিদ নির্মাণ করেন৪। তখন উজির শেখ আল-জুমাইলিকে তাঁর জামে মসজিদের মাদ্রাসার প্রথম শিক্ষক হিসেবে মনোনীত করেন৫। মসুলের শাসক ও গভর্নরদের নিকট আল-জুমাইলির ছিল বিশাল মর্যাদা ও পূর্ণ গ্রহণযোগ্যতা। তিনি ছিলেন তাঁদের বিশিষ্টজনদের সহচর এবং অন্তরঙ্গ বন্ধুদের অন্তর্ভুক্ত; তাঁদের মাঝে কোনো পর্দা বা অন্তরাল ছিল না৬। এটি প্রমাণ করে যে, তিনি তাঁর ইলমের মাধ্যমে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন এবং সমসাময়িক আলেমদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছিলেন, ফলে তিনি মসুল শহরের শ্রেষ্ঠ আলেম (শাইখুশ শুয়ুখ) হিসেবে গণ্য হয়েছিলেন।
এবং প্রতীয়মান হয় যে, তিনি অর্থোপার্জনের উদ্দেশ্যে ক্ষমতাশালীদের নিকটবর্তী হননি। "আমি তাঁকে দেখি যে ইলম চর্চার পাশাপাশি তাঁর ছিল স্বহস্তের উপার্জন এবং পার্থিব উপায়-উপকরণের ওপর নির্ভরশীলতা; তিনি আল্লাহর পর এমন জীবনোপকরণের ওপর নির্ভর করতেন যার মাধ্যম তিনি নিজেই উদ্ভাবন করেছিলেন এবং রিজিক অন্বেষণের এমন পথ বের করেছিলেন যা তিনি নিজেই শুরু করেছিলেন, যাতে তিনি মানুষের ওপর বোঝা না হন।" তাই তিনি কাপড় ব্যবসায়ী ও হাম্মাম-ব্যবসায়ী হিসেবে কাজ করতেন৭, অথবা একই সাথে উভয় পেশায় নিযুক্ত ছিলেন। এটি প্রমাণ করে যে ক্ষমতাশালীদেরই তাঁর প্রয়োজন ছিল বিধায় তাঁরা তাঁকে কাছে টেনেছিলেন, তিনি তাঁদের নিকট যাননি। তাঁদের কাছে তাঁর কোনো প্রয়োজনও ছিল না; কারণ তিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে আর্থিকভাবে এবং ইলমের মাধ্যমে আত্মিকভাবে সচ্ছল ছিলেন, আর তাঁদের কাছে এমন কিছু ছিল না যার প্রতি তিনি লোভ করতে পারেন।
মূলত তাঁর প্রজ্ঞা, কর্ম এবং ইলম ও ওলামাদের মর্যাদার প্রতি তাঁর অনুরাগই তাঁকে সবার অগ্রবর্তী করেছিল।
আর যাঁরা মসুলের আলেমদের ইতিহাস লিপিবদ্ধ করেছেন, তাঁরা তাঁদের মধ্যে সুফিদের কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁদের সুফি তরিকা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন; যাঁদের অধিকাংশ ছিলেন নকশবন্দিয়া বা কাদরিয়া। তবে তাঁরা শেখ আল-জুমাইলি সুফি ছিলেন বলে কোনো উল্লেখ করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মাদিনাতিল মাওসিল (মাতবু দ্বিমনা বুহুসি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউওয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৮২)
ومن الواضح أن الشيخ الجميلي أثر في تلميذه محمد بن عبد الوهاب في رجاحة عقله، وغزارة علمه، وفي التزامه بالكتاب والسنة وكرامة العلم والعلماء باعتباره العلم عبادة من أجل العبادات لا تجارة من أربح التجارات.
والشيخ الجميلي نسبة إلى (جميل) مصغرا1، وهو من أعراب البادية، ولكن ما استحضر من العلوم في خزانة محفوظته أجرتها على لسانه جري الماء المسجوم، كما قيل:
فلو بدا لشيوخ الحضر قمن له
… مستقبليه وقلن الفضل للبادى2
ولعل من أسباب اختيار الطالب محمد بن عبد الوهاب الدراسة على الشيخ الجميلي بالإضافة إلى أن الشيخ عالم متين، هو أنه من أعراب البادية، والجنس للجنس يميل، وقد وافق شن طبقه، كما يقول المثل العربي المشهور.
أما أثر أقران محمد بن عبد الوهاب فيه يوم كان طالبًا في الموصل فهو أثر كل طالب علم بأقرانه، فالحديث عنه حديث معاد.
أما أثر أهل الموصل بالطلاب الذين يعكفون على الدراسات الدينية، فإن طالب العلم كما كانوا يطلقون على طلاب المدارس الدينية - كان موضع احترامهم العميق وحفاوتهم البالغة واهتمامهم الكبير، وكان أهل الموصل يرعون فقراء الطلاب حق الرعاية فتنهال عليهم العطايا والهدايا، ويدعون إلى الأفراح والولائم، فلا يشعر الغريب منهم بغربته، ولا الفقير بفقره، وكانت سكنى الغرباء في المدارس الدينية التي كانت تزودهم بالغذاء والكساء والغطاء بالإضافة إلى رعاية شيوخهم وأغنياء البلد وحكامها تلك الرعاية التي لا مثيل لها في المدن الأخرى إلا نادرا.
[السلفية في الموصل]
- 5 -
وأراد الله سبحانه وتعالى أن يتيح للطالب الشاب وهو في الموصل أن يشهد أزمة
--------------------------------------------
এটা স্পষ্ট যে শেখ জুমাইলি তাঁর ছাত্র মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিপক্কতা, জ্ঞানের গভীরতা এবং কিতাব ও সুন্নাহর প্রতি আনুগত্য ও ইলম ও ওলামাদের মর্যাদার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছিলেন; তিনি ইলমকে ইবাদতের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইবাদত হিসেবে গণ্য করতেন, কোনো লাভজনক ব্যবসা হিসেবে নয়।
শেখ জুমাইলি নামটি 'জামিল' শব্দের ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ১ থেকে এসেছে। তিনি মরুচারী বেদুইনদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, কিন্তু তাঁর স্মৃতির ভাণ্ডারে তিনি যে পরিমাণ ইলম আয়ত্ত করেছিলেন, তা তাঁর জিহ্বায় প্রবল বেগে বহমান বৃষ্টির পানির মতো প্রবাহিত হতো, যেমনটি বলা হয়েছে:
যদি তিনি শহরের শায়েখদের সামনে আবির্ভূত হতেন, তবে তারা তাঁর অভ্যর্থনার জন্য দাঁড়িয়ে যেতেন
… এবং বলতেন যে শ্রেষ্ঠত্ব মরুচারী এই ব্যক্তিরই।২
সম্ভবত ছাত্র মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব কর্তৃক শেখ জুমাইলির কাছে পড়াশোনা বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ হলো—শেখ একজন বিজ্ঞ আলেম হওয়ার পাশাপাশি তিনিও ছিলেন মরুচারী বেদুইন। আর সমগোত্রীয়রা সমগোত্রীয়দের প্রতি আকৃষ্ট হয়; যেমনটি বিখ্যাত আরবি প্রবাদে বলা হয়েছে, 'পাত্র তার ঢাকনা খুঁজে পেয়েছে'।
আর মোসেলে ছাত্র থাকাকালীন মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের ওপর তাঁর সহপাঠীদের যে প্রভাব ছিল, তা ছিল যেকোনো তালিবে ইলমের ওপর তাঁর সহপাঠীদের প্রভাবের মতোই; এ বিষয়ে আলোচনা পুনরাবৃত্তি মাত্র।
আর দ্বীনি শিক্ষায় নিবেদিত ছাত্রদের ওপর মোসেলবাসীর প্রভাবের কথা বলতে গেলে—'তালিবে ইলম' (জ্ঞানের ছাত্র), যেভাবে তারা দ্বীনি মাদ্রাসার ছাত্রদের ডাকত—তারা ছিল তাদের গভীর শ্রদ্ধা, অত্যধিক সমাদর এবং ব্যাপক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু। মোসেলের অধিবাসীরা অভাবী ছাত্রদের যথাযথ যত্ন নিতেন, ফলে তাদের ওপর দান-অনুদান ও উপহারের বৃষ্টি হতো। তাদের আনন্দ অনুষ্ঠান ও ভোজসভায় দাওয়াত দেওয়া হতো। ফলে তাদের মধ্যে থাকা পরদেশীরা প্রবাসজীবনের অভাব অনুভব করত না, আর অভাবীরা তাদের দারিদ্র্য অনুভব করত না। আগন্তুকদের আবাসস্থল ছিল দ্বীনি মাদ্রাসাগুলোতে, যা তাদের খাদ্য, বস্ত্র ও পরিধেয় সরবরাহ করত। এর পাশাপাশি তাদের শায়েখগণ, শহরের ধনী ব্যক্তিগণ এবং শাসকদের পক্ষ থেকে এমন যত্ন নেওয়া হতো যা অন্য শহরগুলোতে মেলা ভার।
[মোসেলে সালাফিবাদ]
- ৫ -
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা চাইলেন যে, এই তরুণ ছাত্র মোসেলে অবস্থানকালেই যেন এক সংকটের সাক্ষী হন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মাদিনাতিল মাওসিল (মাতবু দ্বিমনা বুহুসি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউওয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
نبوءة النبي جرجيس عليه السلام1 الذي له مرقد معروف في الموصل يزار2، محاط بجامع كبير يطلق عليه (جامع النبي جرجيس) 3.
فقد أنكر الشيخ أحمد بن الكوله4 نبوة النبي جرجيس، فأثار موجة عارمة من الإنكار والاحتجاج في الموصل أولا، ثم انتقلت إلى المدن المجاورة، فانبرى الشيخ علي بن الدباغ الحلبي الموقت في (حلب) 5 يرد عليه في كتاب أسماه: (إتحاف الأنام بأخبار سيدنا جرجيس عليه السلام 6 ثم بعث بكتابه إلى الموصل مع قصيدة نظمها في النبي جرجيس عليه السلام7) ، ظهرت في بعض لسان الأعزة فلتة في حق سيدنا نبي الله جرجيس، فامتطت لها الأراجيف ظهور العيس إلى (حلب) ، فرد هذه الفلتة هذا (الموقت) بتأليف كتاب نفيس، يذكر في هذا الكتاب إثبات نبوة هذا النبي الكامل، ثم بعث مع الكتاب قصيدة في مدح نبي الله جرجيس8.
وتصاعدت أزمة ابن الكولة تصاعدًا مخيفًا إلى أن بلغت ذروتها في الموصل، حيث تألب عليه المشايخ وأصحاب الطرق ومعه المريدون والأتباع، فشكوه إلى والي الموصل، وكان يومذاك الحاج حسين باشا الجليلي، فأرسل إليه يأمره بالتوقف عن هذا الإنكار9.
وتختلف الروايات في حقيقة موقف الشيخ أحمد بن الكولة بعد ذلك، فمن قائل: (إنه
--------------------------------------------
নবী জিরজিস (আলাইহিস সালাম) এর নবুওয়াত ১, যাঁর একটি পরিচিত মাজার মোসলে রয়েছে এবং সেখানে যিয়ারত করা হয় ২। এটি একটি বড় জামে মসজিদ দ্বারা বেষ্টিত, যাকে (নবী জিরজিস জামে মসজিদ) ৩ বলা হয়।
নিশ্চয়ই শেখ আহমদ বিন আল-কাওলা ৪ নবী জিরজিসের নবুওয়াত অস্বীকার করেছেন, যার ফলে প্রথমে মোসলে এবং পরবর্তীতে পার্শ্ববর্তী শহরগুলোতে তীব্র প্রতিবাদ ও আপত্তির ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। অতঃপর হালবের শেখ আলী বিন আদ-দাব্বাগ আল-হালাবি আল-মুওয়াক্কিত ৫ তাঁর প্রতিবাদে একটি কিতাব রচনা করেন, যার নাম দেন: (ইতহাফুল আনাম বি আখবারি সাইয়িদিনা জিরজিস আলাইহিস সালাম ৬। এরপর তিনি কিতাবটির সাথে নবী জিরজিস আলাইহিস সালাম এর শানে একটি কাসিদা বা কবিতা লিখে মোসলে পাঠান ৭)। কোনো কোনো সম্মানিত ব্যক্তির মুখে আল্লাহর নবী সাইয়িদিনা জিরজিস সম্পর্কে অসতর্কতামূলক কথা প্রকাশ পেয়েছিল, যার ফলে অপপ্রচার ও গুজব দ্রুত গতিতে উটের পিঠে চড়ে হালব পর্যন্ত পৌঁছে যায়। ফলে এই (মুওয়াক্কিত) সেই অসতর্ক বা ভুল কথার প্রতিবাদে একটি মূল্যবান কিতাব রচনা করেন। তিনি এই কিতাবে এই পূর্ণাঙ্গ নবীর নবুওয়াতের প্রমাণ উল্লেখ করেন এবং কিতাবের সাথে আল্লাহর নবী জিরজিসের প্রশংসায় একটি কাসিদা পাঠান ৮।
ইবনুল কাওলার সৃষ্ট সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং মোসলে এটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে যায়। সেখানে উলামায়ে কেরাম, তরিকতপন্থী পীর-মাশায়েখ এবং তাঁদের মুরিদ ও অনুসারীরা তাঁর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হন। তাঁরা মোসলের তৎকালীন গভর্নর আল-হাজ্জ হুসাইন পাশা আল-জলিলির কাছে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। ফলে গভর্নর তাঁর কাছে লোক পাঠিয়ে এই অস্বীকার করা থেকে বিরত থাকার আদেশ দেন ৯।
এরপর শেখ আহমদ বিন আল-কাওলার প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়। কেউ কেউ বলেন: (নিশ্চয়ই তিনি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মাদিনাতিল মাওসিল (মাতবু দ্বিমনা বুহুসি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউওয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৮৪)
تاب وأناب1) ، ومن قائل: (إنه أصر على موقفه) 2، ومن قائل: (إنه أطاع ظاهرًا وأنكر خفية) 3.
ومهما يكن موقف ابن الكولة فليس ثمة دليل على أن هذه الدعوة السلفية قد خمدت، فقد استمر في حملته على المقامات والمشاهد وعلى من يتخذها وسيلة للتكسب4 إلى أن توفي سنة (1173هـ-1759م) 5. وحمل الراية بعد ابن الكولة ابنه الشيخ محمد الذي كان "شديد الإنكار على جميع الأولياء6 ".
وبذلك انقسم الموصليون إلى فريقين: فريق محافظ متأثر بالطرق الصوفية، وفريق سلفي يدعو إلى نبذ تقديس الأولياء وإلى مقاومة الصوفية، وجمع كل فريق ما استطاع من حجج للدفاع عن آرائه.
لقد كان هدف الدعوة السلفية مقاومة نفوذ المشايخ أصحاب الطرق الصوفية، ومقاومة تقديس مراقد الأولياء، وتنقية الدين من البدع بالعودة إلى التمسك بالكتاب والسنة، وكانت حركة ابن الكولة إحدى الفورات في الموصل من فورات الدعوة السلفية، سبقها فورات كثيرة وأعقبها فورات كثيرة، فالدعوة السلفية في الموصل قائمة في الماضي والحاضر وستبقى قائمة في المستقبل.
ولقد شهدنا في أيامنا صراعًا عنيفًا بين دعاة السلفية من علماء الدين والمتصوفة والمقلدين، وكانت ولا تزال مؤلفات السلفية القدامى كالإمام ابن تيمية والجدد كالشيخ محمد رشيد رضا شائعة في الموصل، يقبل عليها الناس إقبالا شديدًا.
--------------------------------------------
তাওবা করেছেন এবং ফিরে এসেছেন১, আবার কেউ বলেছেন: (তিনি তার অবস্থানে অটল ছিলেন) ২, আবার কেউ বলেছেন: (তিনি প্রকাশ্য আনুগত্য করেছিলেন এবং গোপনে অস্বীকার করেছিলেন) ৩।
ইবনুল কাওলার অবস্থান যাই হোক না কেন, এই সালাফি দাওয়াত যে স্তিমিত হয়ে গিয়েছিল তার কোনো প্রমাণ নেই। বরং তিনি মাজার ও সমাধিগুলোর বিরুদ্ধে এবং যারা এগুলোকে উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছিল তাদের বিরুদ্ধে তার অভিযান অব্যাহত রেখেছিলেন ৪ মৃত্যু পর্যন্ত, যা ছিল ১১৭৩ হিজরি (১৭৫৯ খ্রিস্টাব্দ) ৫ সালে। ইবনুল কাওলার পর তার পুত্র শেখ মুহাম্মদ এই দাওয়াতের পতাকা বহন করেন, যিনি "সমস্ত অলী-আউলিয়াদের (প্রতি অতিভক্তি) কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করতেন" ৬।
এর ফলে মসুলবাসীরা দুটি দলে বিভক্ত হয়ে পড়ে: একটি রক্ষণশীল দল যারা সুফি তরিকাগুলো দ্বারা প্রভাবিত ছিল এবং একটি সালাফি দল যারা অলী-আউলিয়াদের পবিত্রজ্ঞান বা অতিভক্তি বর্জন করার এবং সুফিবাদের প্রতিরোধের আহ্বান জানাত। প্রতিটি দলই তাদের নিজ নিজ মতের সমর্থনে যথাসাধ্য যুক্তি-প্রমাণ সংগ্রহ করেছিল।
সালাফি দাওয়াতের লক্ষ্য ছিল সুফি তরিকার মাশায়েখদের প্রভাব প্রতিহত করা, অলী-আউলিয়াদের সমাধিস্থলের পবিত্রজ্ঞান বর্জন করা এবং কিতাব ও সুন্নাহর দৃঢ় অনুসরণের মাধ্যমে দ্বীনকে বিদআত থেকে পরিচ্ছন্ন করা। মসুলে সালাফি দাওয়াতের যে বিভিন্ন জাগরণ ঘটেছিল, ইবনুল কাওলার আন্দোলন ছিল তার মধ্যে একটি। এর আগেও অনেক জাগরণ হয়েছিল এবং পরবর্তীতেও অনেক জাগরণ ঘটেছে। মসুলে সালাফি দাওয়াত অতীতেও ছিল, বর্তমানেও আছে এবং ভবিষ্যতেও বিদ্যমান থাকবে।
আমরা আমাদের বর্তমান সময়ে আলেমদের মধ্য থেকে সালাফি দাওয়াত দানকারী এবং সুফি ও মুকাল্লিদদের মধ্যে একটি তীব্র সংঘাত প্রত্যক্ষ করেছি। ইমাম ইবনে তাইমিয়াহর মতো প্রাচীন এবং শেখ মুহাম্মদ রশীদ রিযার মতো আধুনিক সালাফিদের রচনাবলি মসুলে পূর্বের ন্যায় এখনো প্রচলিত রয়েছে এবং মানুষ ব্যাপক উৎসাহের সাথে সেগুলো গ্রহণ করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মাদিনাতিল মাওসিল (মাতবু দ্বিমনা বুহুসি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউওয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
وقد شاءت الأقدار أن يعيش الطالب محمد بن عبد الوهاب في الموصل وسط المعركة الفكرية التي أثارها الشيخ أحمد بن الكولة، ولا ريب في أنه تأثر بها؛ للتشابه التام بين آرائه التي دعا إليها فيما بعد، وبين مبادئ سلفيي الموصل، الداعية إلى نبذ زيارة القبور وبناء القباب وتكبير العمائم وتوسيع ثياب علماء الدين، ووضع الأستار والعمائم والثياب على الأضرحة، والاستعانة بجاه أصحابها، والتمسك بالكتاب العزيز والسنة المطهرة1، فقد أكمل الله دينه وأتم نعمته على المؤمنين، وكل بدعة ضلالة، والضلالة وصاحبها في النار.
- 6 -
تلك لمحات سريعة غير متسرعة عن عام دراسي أو بعض عام لرحلة علمية إلى مدينة الموصل الحدباء من رحلات الإمام محمد بن عبد الوهاب العلمية إلى أمصار العالم الإسلامي في وقت كانت كل أمصار المسلمين مفتوحة الأبواب لكل مسلم يطلب العلم أو الرزق، لا تفصل بينها الحدود والسدود، لا تجتاز إلا بجواز سفر وسمة دخول تؤهله للاجتياز مدة معينة من الزمن، يعتبر فيها (أجنبيًا) تلاحقه الشرطة وتراقبه العيون، وقد أصبحت تلك الأمصار الإسلامية مفتوحة لغير المسلمين مقفلة بوجه المسلم، فيها المسلم من غير أهلها غريب اليد والوجه واللسان، لا يواسيه أحد ولا يعينه على تحمل أعباء الحياة.
وقد كان طلاب العلم والعلماء قبل أن تقام الحدود والسدود بين ديار المسلمين يرحلون لطلب العلم والارتشاف من منابعه على زبدة العلماء الأعلام علمًا وعملاً وورعًا، فيحلون أهلاً وينزلون سهلاً. ويتسابق الناس للحفاوة بهم واستضافتهم وتزويدهم بالغذاء والكساء والغطاء والعطاء، فمتى يعود المسلمون إلى ما كانوا عليه؟ ومتى يصبحون كالجسد الواحد إخوة في الله!
--------------------------------------------
তকদির নির্ধারণ করেছিল যে, ছাত্র মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মোসলে সেই বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের মাঝে বসবাস করবেন যা শেখ আহমদ ইবনুল কুলা উস্কে দিয়েছিলেন। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তিনি এর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিলেন; কারণ পরবর্তীতে তিনি যে মতাদর্শের দিকে আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং মোসেলের সালাফীদের মূলনীতির মধ্যে পূর্ণ সাদৃশ্য বিদ্যমান ছিল, যা ছিল কবর জিয়ারত, গম্বুজ নির্মাণ, পাগড়ি বড় করা, আলেমদের পোশাক প্রশস্ত করা, মাজারের ওপর পর্দা, পাগড়ি ও কাপড় রাখা এবং মাজারবাসীদের সম্মানের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা বর্জন করার এবং মহাগ্রন্থ আল-কুরআন ও পবিত্র সুন্নাহকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরার আহ্বান। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন এবং মুমিনদের ওপর তাঁর নেয়ামত সম্পূর্ণ করেছেন। আর প্রতিটি বিদআত হলো গোমরাহি এবং গোমরাহি ও তার অনুসারী জাহান্নামে যাবে।
- ৬ -
ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন জনপদে জ্ঞানার্জনের সফরের অংশ হিসেবে 'আল-হাদবা' মোসেল শহরে এক শিক্ষাবর্ষ বা বছরের কিছু সময়ের এক জ্ঞানতাত্ত্বিক সফরের এগুলো হলো দ্রুত অথচ ধীরস্থির কিছু ঝলক। এমন এক সময়ে যখন মুসলিম বিশ্বের সকল জনপদের দরজা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য উন্মুক্ত ছিল যারা জ্ঞান বা জীবিকা অন্বেষণ করত; সেগুলোর মাঝে কোনো সীমান্ত বা দেয়াল ছিল না যা কেবল পাসপোর্ট বা ভিসার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পার হওয়ার অনুমতি দিয়ে মানুষকে বিচ্ছিন্ন করত, যেখানে তাকে 'বিদেশি' হিসেবে গণ্য করা হয় এবং পুলিশ তাকে তাড়া করে ও গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়। আজ এই ইসলামী জনপদগুলো অমুসলিমদের জন্য উন্মুক্ত হয়ে গেছে অথচ মুসলমানদের জন্য তা রুদ্ধ, যেখানে বহিরাগত মুসলমানরা হাত, মুখ ও ভাষার দিক থেকে সম্পূর্ণ অপরিচিত আগন্তুক হয়ে পড়ে, তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার কেউ থাকে না এবং জীবনের বোঝা বইতে কেউ তাকে সাহায্য করে না।
মুসলিম ভূখণ্ডগুলোর মাঝে সীমান্ত ও দেয়াল সৃষ্টির পূর্বে জ্ঞানপিপাসু ছাত্র ও ওলামায়ে কেরাম ইলম অর্জনের জন্য এবং জ্ঞান, আমল ও তাকওয়ায় অগ্রগামী প্রখ্যাত আলেমদের নির্যাস গ্রহণের জন্য সফর করতেন। তারা আপনজন হিসেবে সাদরে গৃহীত হতেন এবং স্বাচ্ছন্দ্যে অবস্থান করতেন। মানুষ তাদেরকে অভ্যর্থনা জানাতে, আতিথেয়তা প্রদান করতে এবং তাদের খাবার, বস্ত্র, বিছানা ও উপহার সামগ্রী প্রদানে প্রতিযোগিতা করত। মুসলমানরা কবে আবার তাদের সেই গৌরবময় অতীতে ফিরে যাবে? এবং তারা কবে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরস্পর ভাই ভাই হয়ে একটি দেহের মতো হয়ে উঠবে!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মাদিনাতিল মাওসিল (মাতবু দ্বিমনা বুহুসি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউওয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
لقد أقامت قوانين الأرض بين أمصار المسلمين الحدود والسدود، ومزقت الجسد الواحد الحي، فأصبح أعضاءً وأشلاءً متفرقة بلا حياة، وكانت مساجد المسلمين تخرج الدعاة، فأصبحت معاهد المسلمين تخرج الموظفين، وكان في كل مصر من أمصار المسلمين عدد عديد من العلماء الأعلام، فأصبحت تلك الأمصار تخلو من العلماء، وكان العلماء المسلمون يحكمون أصحاب السلطان، فأصبحوا اليوم يستخذون للحكام، وكان الأمراء على أبواب العلماء، فأصبح العلماء على أبواب الأمراء، وكانوا فقراء بالمال أغنياء بكرامة العلم والعلماء، فأصبحوا أغنياء بالمناصب والمرتبات فقراء بكرامة العلم والعلماء، وأقفلت المدارس الدينية، فخلت المساجد والجوامع من العلماء الدعاة الذين يرجون ما عند الله، وفتحت المدارس المدنية فعمرت بيوت الله بأصحاب الشهادات الموظفين الذين يرجون ما عند الناس، وأقفرت ديار المسلمين من الأئمة المرشدين إلا بقية تعدّ على الأصابع من علماء الدين المعتمدين الذين تعلموا في الجوامع، وأينعت ديار المسلمين بأصحاب الشهادات الموظفين الذين تخرجوا في الجامعات، وآثر خريجو المعاهد المدنية الذين تعلموا العلوم الدينية فيها منابر الجامعة على منبر رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ لأن منبر الجامعة الذي يشغله المسلم وغير المسلم أدسم من منبر الجامع الذي يشغله المسلم دون غيره، وهكذا غزر الإنتاج بكثرة الخريجين وساء التوزيع بقلة رجال الدين.
لقد صنعت الحدود ووضعت السدود في ديار المسلمين تلك القوانين الوضعية، الذي جاء بها نابليون من فرنسا وربط خيوله في فناء الأزهر، وجاء بها المستعمر ليذل المسلمين ويفرق كلمتهم ويستعبدهم ويجعل منهم مسلمين جغرافيين.
وسحقت المدارسَ الدينيةَ المبادئُ الوافدةٌ والتعليمُ الغربي المستورد، الذي يسلب المسلم عقيدته ويعمر قلبه بالاتجاه المادي، فيصبح كالحيوان يهمه المسكن المريح والطعام الفاخر والجنس، ولا يهتم بما بعد الحياة، والمرء كما يعيش في الدنيا يرحل إلى الآخرة، فلابد أن يكون لمصيره في الآخرة من تفكيره ونشاطه أوفى نصيب، والمبادئ الوافدة والتعليم الغربي تعمل للدنيا ولا تعمل للآخرة، والحضارات المادية ماتت إلى الأبد بعد موت دعاتها، والحضارات التي بقيت هي الحضارات التي جمعت بين المادة والروح، وقد أكثر الحكام المسلمون من حديثهم عن الإنجازات المادية، ونسوا المتطلبات الروحية، وستفنى
পৃথিবীর আইনসমূহ মুসলিম দেশগুলোর মাঝে সীমানা ও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে এবং একটি জীবন্ত প্রাণবন্ত দেহকে ছিন্নভিন্ন করে ফেলেছে। ফলে এটি প্রাণহীন বিচ্ছিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও লাশে পরিণত হয়েছে। এককালে মুসলিমদের মসজিদগুলো থেকে দাঈগণ বের হতেন, কিন্তু এখন মুসলিমদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো থেকে কেবল সরকারি কর্মচারী বের হচ্ছে। মুসলিম দেশগুলোর প্রতিটি জনপদে এককালে অসংখ্য প্রথিতযশা আলেম বিদ্যমান ছিলেন, কিন্তু এখন সেই জনপদগুলো আলেমশূন্য হয়ে পড়ছে। আগে মুসলিম আলেমগণ ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের ওপর শাসন বা প্রভাব বিস্তার করতেন, আর আজ তারা শাসকদের সামনে হীনম্মন্যতায় ভোগেন। আগে শাসকরা আলেমদের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকতেন, আর এখন আলেমরাই শাসকদের দরজায় পড়ে থাকেন। তারা সম্পদের দিক থেকে দরিদ্র হলেও ইলম ও আলেমদের মর্যাদার সম্পদে ধনী ছিলেন। অথচ এখন তারা পদমর্যাদা ও বেতনের দিক থেকে ধনী হলেও ইলম ও আলেমদের মর্যাদার দিক থেকে রিক্ত। ধর্মীয় মাদরাসাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে, ফলে মসজিদ ও জামে মসজিদগুলো সেই দাঈ আলেমদের থেকে শূন্য হয়ে গেছে যারা আল্লাহর নিকট সংরক্ষিত প্রতিদানের আশা করতেন। বিপরীতে জাগতিক স্কুলগুলো খোলা হয়েছে, ফলে আল্লাহর ঘরগুলো সেই সনদধারী চাকরিজীবীদের দ্বারা পূর্ণ হয়েছে যারা মানুষের নিকট থাকা পার্থিব সুযোগ-সুবিধার আশা করে। মুসলিম ভূখণ্ডগুলো আজ পথপ্রদর্শক ইমামদের থেকে শূন্য হয়ে পড়েছে; কেবল হাতেগোনা গুটিকয়েক নির্ভরযোগ্য দ্বীনি আলেম অবশিষ্ট আছেন যারা জামে মসজিদগুলোতে শিক্ষালাভ করেছেন। অন্যদিকে মুসলিম জনপদগুলো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা সনদধারী চাকরিজীবীদের দ্বারা ভরে উঠেছে। আর জাগতিক প্রতিষ্ঠানের সেই স্নাতকরা—যারা সেখানে ধর্মীয় বিষয়াদি অধ্যয়ন করেছিলেন—তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মিম্বরের চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিম্বরকে (বক্তৃতার মঞ্চ) অধিক প্রাধান্য দিয়েছেন। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মিম্বর—যেখানে মুসলিম ও অমুসলিম উভয়ই আসীন হতে পারে—তা জামে মসজিদের মিম্বরের তুলনায় অধিক বৈষয়িক সুবিধাসম্পন্ন, যেখানে কেবল মুসলিমরাই দায়িত্ব পালন করে। এভাবেই গ্র্যাজুয়েটদের আধিক্যের কারণে সংখ্যাতাত্ত্বিক উৎপাদন বাড়লেও ধর্মীয় যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গের অভাবে সঠিক বণ্টন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।
মুসলিম ভূখণ্ডে এই সীমানা ও প্রতিবন্ধকতাগুলো সেই মানবরচিত আইনগুলোই তৈরি করেছে, যা নেপোলিয়ন ফ্রান্স থেকে নিয়ে এসেছিলেন এবং আল-আজহারের আঙিনায় নিজের ঘোড়া বেঁধেছিলেন। উপনিবেশবাদীরা এগুলো নিয়ে এসেছিল মুসলিমদের অপদস্থ করতে, তাদের ঐক্য বিনষ্ট করতে, তাদের দাসে পরিণত করতে এবং তাদের কেবল ভৌগোলিক মুসলমানে রূপান্তর করতে।
বহিরাগত বিভিন্ন মতবাদ এবং আমদানিকৃত পশ্চিমা শিক্ষা ধর্মীয় মাদরাসাগুলোকে পিষে ফেলেছে। এই শিক্ষাব্যবস্থা একজন মুসলিমের আকিদা (বিশ্বাস) কেড়ে নেয় এবং তার অন্তরকে বস্তুবাদী ধ্যান-ধারণা দিয়ে পূর্ণ করে। ফলে সে পশুর মতো হয়ে যায়, যার কাছে কেবল আরামদায়ক আবাসন, উন্নত খাবার এবং যৌনবৃত্তিই মুখ্য হয়ে দাঁড়ায়; পরকাল নিয়ে সে আর কোনো চিন্তা করে না। অথচ মানুষ দুনিয়াতে যেভাবে জীবন অতিবাহিত করে, সেভাবেই আখেরাতের দিকে পাড়ি জমায়। তাই তার চিন্তা ও কর্মতৎপরতার একটি বড় অংশ অবশ্যই আখেরাতের পরিণতির জন্য হওয়া উচিত। কিন্তু বহিরাগত মতবাদ ও পশ্চিমা শিক্ষা কেবল দুনিয়ার জন্যই কাজ করে, আখেরাতের জন্য নয়। বস্তুবাদী সভ্যতাগুলো তাদের প্রবক্তাদের মৃত্যুর সাথে সাথেই চিরতরে বিলীন হয়ে গেছে। কেবল সেই সভ্যতাগুলোই টিকে থাকে যা বস্তু ও রূহের (আধ্যাত্মিকতা) সমন্বয় ঘটিয়েছে। মুসলিম শাসকরা তাদের পার্থিব ও বস্তুগত অর্জন নিয়ে প্রচুর কথা বলেছেন, কিন্তু তারা আধ্যাত্মিক চাহিদার কথা বিস্মৃত হয়েছেন, যা অচিরেই বিলীন হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মাদিনাতিল মাওসিল (মাতবু দ্বিমনা বুহুসি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউওয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
تلك الإنجازات - إن وجدت - ما لم ترتكز على أسس روحية مستمدة من تعاليم الدين الحنيف.
يجب أن نتعلم من سيرة الإمام محمد بن عبد الوهاب والأئمة الأعلام من علماء المسلمين مما يفيدنا في حاضرنا ومستقبلنا، فنعيد الحكم بشريعة الله ونتخلق بخلق القرآن، ونطبق حكم القرآن لغة وعقيدة وشريعة، ومثلاً عليا، ونتمسك بالكتاب العزيز والسنة المطهرة؛ لتزول الحدود والسدود، وتسود رسالة المسجد، ويومئذ يفرح المؤمنون بنصر الله.
والله أسأل أن يجعلنا ممن يستمعون القول فيتبعون أحسنه، وأن يهدينا حكاما ومحكومين إلى سواء السبيل..
وصلى الله على سيدنا ومولانا رسول الله وعلى آله وأصحابه أجمعين.
সেই অর্জনসমূহ—যদি বিদ্যমান থাকে—ততক্ষণ পর্যন্ত ফলপ্রসূ হবে না যতক্ষণ না তা পবিত্র দ্বীনের শিক্ষা থেকে উৎসারিত আধ্যাত্মিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়।
আমাদের ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব এবং মুসলিম উলামাদের মধ্য থেকে বরণীয় ইমামগণের জীবনী থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা আবশ্যক যা আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতে উপকারে আসবে। ফলে আমরা আল্লাহর শরিয়তের শাসনকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করব, কুরআনের চরিত্রে চরিত্রবান হব এবং ভাষা, আকিদা, শরিয়ত ও উচ্চতর আদর্শ হিসেবে কুরআনের বিধান প্রয়োগ করব। আর আমরা মহাগ্রন্থ আল-কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরব; যাতে সীমানা ও প্রতিবন্ধকতাসমূহ বিলুপ্ত হয় এবং মসজিদের দাওয়াত সর্বত্র প্রাধান্য পায়; আর সেদিন মুমিনগণ আল্লাহর সাহায্যে আনন্দিত হবে।
আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন যারা কথা শোনে এবং তার মধ্যে যা উত্তম তা অনুসরণ করে, এবং তিনি যেন আমাদের শাসক ও শাসিত উভয়কে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন।
আমাদের নেতা ও অভিভাবক রাসূলুল্লাহর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মাদিনাতিল মাওসিল (মাতবু দ্বিমনা বুহুসি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউওয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
مصادر ومراجع…المصادر والمراجع العربية
ابن الأثير (عز الدين، أبو الحسن، علي بن أبي الكرم محمد بن محمد بن عبد الكريم بن عبد الواحد الشيباني، المعروف بابن الأثير) :
1) الكامل في التاريخ - بيروت - 1385 هـ.
الجندي (أنور الجندي) :
2) تراجم الأعلام المعاصرين في العالم الإسلامي - القاهرة -.
حسين خلف الشيخ خزعل: 1970م.
3) حياة الشيخ محمد بن عبد الوهاب - بيروت - 1968م.
الزركلي (خير الدين الزركلي) :
4) الأعلام - الطبعة الثانية - القاهرة – 1373/1378 هـ.
الديوه جي (سعد الديوه جي) :
5) جوامع الموصل في مختلف العصور - بغداد - 1382 هـ.
6) مدارس الموصل في العهد العثماني - مستل من مجلة سومر - بغداد - 1964م.
الطبري (أبو جعفر محمد بن جرير الطبري) :
7) تاريخ الرسل والملوك - تحقيق محمد أبو الفضل إبراهيم - القاهرة- 1960م.
عماد عبد السلام رؤوف (الدكتور) :
8) الموصل في العهد العثماني - النجف - 1395هـ.
العمّري (عصام الدين عثمان بن علي بن مراد العمّري) :
9) الروض النضر في ترجمة أدباء العصر - تحقيق الدكتور سليم النعيمي - بغداد- 1395هـ.
العمري (محمد أمين بن خير الله العمّري) :
উৎস ও তথ্যসূত্র...আরবি উৎস ও তথ্যসূত্রসমূহ
ইবনুল আসীর (ইযযুদ্দীন, আবুল হাসান, আলী বিন আবিল করম মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারীম বিন আব্দুল ওয়াহিদ আশ-শায়বানী, যিনি ইবনুল আসীর নামে পরিচিত):
১) আল-কামিল ফিত-তারিখ - বৈরুত - ১৩৮৫ হিজরী।
আল-জুন্দী (আনোয়ার আল-জুন্দী):
২) তরাজিমুল আলামিল মুয়াসিরীন ফিল আলামিল ইসলামী (মুসলিম বিশ্বের সমসাময়িক বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনী) - কায়রো -।
হুসাইন খালাফ আশ-শায়খ খাযআল: ১৯৭০ খ্রি.।
৩) হায়াতুশ শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের জীবনী) - বৈরুত - ১৯৬৮ খ্রি.।
আয-যিরিকলী (খায়রুদ্দীন আয-যিরিকলী):
৪) আল-আলাম - দ্বিতীয় সংস্করণ - কায়রো – ১৩৭৩/১৩৭৮ হিজরী।
আদ-দীওয়াহজী (সা'দ আদ-দীওয়াহজী):
৫) জাওয়ামিউল মাওসিল ফি মুখতালিফিল উসুর (বিভিন্ন যুগে মসুলের মসজিদসমূহ) - বাগদাদ - ১৩৮২ হিজরী।
৬) মাদারিসুল মাওসিল ফিল আহদিল উসমানী (উসমানীয় যুগে মসুলের মাদরাসাসমূহ) - সুমের ম্যাগাজিন থেকে সংগৃহীত - বাগদাদ - ১৯৬৪ খ্রি.।
আত-তাবারী (আবু জাফর মুহাম্মদ বিন জারীর আত-তাবারী):
৭) তারিখুর রুসুল ওয়াল মুলুক (রাসূলগণ ও বাদশাহদের ইতিহাস) - সম্পাদনা: মুহাম্মদ আবু ফজল ইবরাহীম - কায়রো - ১৯৬০ খ্রি.।
ইমাদ আব্দুস সালাম রউফ (ডক্টর):
৮) আল-মাওসিল ফিল আহদিল উসমানী (উসমানীয় যুগে মসুল) - নাজাফ - ১৩৯৫ হিজরী।
আল-উমরী (ইসামুদ্দীন উসমান বিন আলী বিন মুরাদ আল-উমরী):
৯) আর-রওদুন নাদীর ফি তারজামাতি উদাবাইল আসর (সমসাময়িক সাহিত্যিকদের জীবনী) - সম্পাদনা: ডক্টর সালীম আন-নুআইমী - বাগদাদ - ১৩৯৫ হিজরী।
আল-উমরী (মুহাম্মদ আমীন বিন খায়রুল্লাহ আল-উমরী):
(খণ্ড: ১)
আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ফী মাদিনাতিল মাওসিল (মাতবু দ্বিমনা বুহুসি নাদওয়াতি দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল-জুযউল আউওয়াল)
(পৃষ্ঠা: ৯০)
10) منهل الأولياء ومشرب الأصفياء من سادات الموصل الحدباء - تحقيق سعيد الديوه جي - الموصل - 1388هـ.
العمّري (ياسين بن خير الله العمري) :
11) الدر المكنون في المآثر الماضية من القرون - مخطوط - توجد نسخة منه في المكتبة الوطنية في باريس تحت رقم (4449) .
12) زبدة الآثار الجلية في الحوادث الأرضية - تحقيق:
عماد عبد السلام رؤوف (الدكتور) - النجف الأشرف\1974م.
13) غرائب الأثر في حوادث ربع القرن الرابع عشر - عني بطبعه ونشره الدكتور محمد صديق الجليلي - الموصل - 1359هـ.
14) السيف المهند في من اسمه أحمد - مخطوط - في مكتبة سعيد الديوه جي.
15) منية الأدباء في تاريخ الموصل الحدباء - تحقيق سعيد الديوه جي - الموصل – 1374هـ
الغلامي (محمد بن مصطفى الغلامي) :
16) شمامة العنبر والزهر المعنبر - تحقيق الدكتور سليم النعيمي - بغداد - 1397هـ. المرادي (محمد خليل المرادي) :
17) سلك الدرر في أعيان القرن الثاني عشر - القاهرة - 1291هـ. الندوي (مسعود الندوي) :
18) محمد بن عبد الوهاب - ترجمة وتعليق عبد العليم عبد العظيم البستوي - مراجعة وتقديم محمد تقي الدين الهلالي - الرياض - 1397هـ.
১০) মানহালুল আউলিয়া ওয়া মাশরাবুল আসফিয়া মিন সাদাতিল মাওসিলিল হাদবা - সম্পাদনা: সাঈদ আদ-দিওয়াহজি - মোসুল - ১৩৮৮ হিজরি।
আল-উমারি (ইয়াসিন বিন খাইরুল্লাহ আল-উমারি) :
১১) আদ-দুররুল মাকনুন ফিল মাআসিরিল মাদিয়াহ মিনাল কুরুউন - পাণ্ডুলিপি - প্যারিসের ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে (৪৪৪৯) নম্বরভুক্ত এর একটি অনুলিপি সংরক্ষিত আছে।
১২) জুবদাতুল আসার আল-জালিয়াহ ফিল হাওয়াদিস আল-আরদিয়াহ - সম্পাদনা:
ইমাদ আব্দুস সালাম রউফ (ডক্টর) - নাজাফ আল-আশরাফ\১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দ।
১৩) গরায়েবুল আসার ফি হাওয়াদিস রুবউল কারনি রাবে আশার - ডক্টর মুহাম্মদ সিদ্দিক আল-জালিলি এর মুদ্রণ ও প্রকাশনার তদারকি করেছেন - মোসুল - ১৩৫৯ হিজরি।
১৪) আস-সাইফুল মুহান্নাদ ফি মান ইসমুহু আহমদ - পাণ্ডুলিপি - সাঈদ আদ-দিওয়াহজি-এর লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত।
১৫) মুনয়াতুল উদাবা ফি তারিখিল মাওসিলিল হাদবা - সম্পাদনা: সাঈদ আদ-দিওয়াহজি - মোসুল – ১৩৭৪ হিজরি
আল-গুলামি (মুহাম্মদ বিন মুস্তফা আল-গুলামি) :
১৬) শামামাতুল আম্বার ওয়ায যাহরুল মুয়াম্বার - সম্পাদনা: ডক্টর সালিম আন-নুয়াইমি - বাগদাদ - ১৩৯৭ হিজরি। আল-মুরাদি (মুহাম্মদ খলিল আল-মুরাদি) :
১৭) সিলকুদ দুরার ফি আয়ানিল কারনিস সানি আশার - কায়রো - ১২৯১ হিজরি। আন-নাদভী (মাসউদ আন-নাদভী) :
১৮) মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব - অনুবাদ ও টীকা: আব্দুল আলিম আব্দুল আজিম আল-বাস্তাবি - নিরীক্ষণ ও উপস্থাপনা: মুহাম্মদ তাকি উদ্দিন আল-হিলালি - রিয়াদ - ১৩৯৭ হিজরি।