(খণ্ড: ১)
আল-ইকতিসাদু ফিল ইতিকাদি লিল মাকদিসি
(পৃষ্ঠা: -)
الاقتصاد في الاعتقاد للمقدسي القسم: العقيدة
الكتاب: الاقتصاد في الاعتقاد
المؤلف: عبد الغني بن عبد الواحد بن علي بن سرور المقدسي الجماعيلي الدمشقي الحنبلي، أبو محمد، تقي الدين (ت 600هـ)
المحقق: أحمد بن عطية بن علي الغامدي
الناشر: مكتبة العلوم والحكم، المدينة المنورة، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1414هـ/1993م
عدد الصفحات: 264
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-মাকদিসী কৃত আল-ইকতিসাদ ফিল ই'তিকাদ বিভাগ: আকিদাহ
গ্রন্থ: আল-ইকতিসাদ ফিল ই'তিকাদ
লেখক: আব্দুল গনি বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আলী বিন সুরূর আল-মাকদিসী আল-জামায়িলী আদ-দিমাশকী আল-হাম্বলী, আবু মুহাম্মদ, তাকিউদ্দীন (মৃত্যু ৬০০ হি.)
মুহাক্কিক: আহমদ বিন আতিয়্যাহ বিন আলী আল-গামেদী
প্রকাশক: মাকতাবাতুল উলূম ওয়াল হিকাম, মদিনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৪ হি./১৯৯৩ খ্রি.
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৬৪
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুলহিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইকতিসাদু ফিল ইতিকাদি লিল মাকদিসি
(পৃষ্ঠা: ৫)
الاقتصاد في الاعتقاد
تأليف: تقي الدين أبو محمد عبد الغني بن عبد الواحد المقدسي
تحقيق: د/ أحمد بن عطية الغامدي
بسم الله الرحمن الرحيم
ال
مقدمةالحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أفضل الخلق أجمعين نبينا محمد صلوات الله وسلامه عليه وعلى آله وصحبه ومن سار على هديهم إلى يوم الدين، أما بعد.
فإن ما منيت به الأمة الإسلامية على مختلف عصورها من انحرافات عقدية لعبت بأفكار بعض طوائفها بسبب جنوحهم عن الطريق القويم، وسلوك طرق ملتوية تؤدي إلى ما يريده أعداء الإسلام من إبعاد المسلمين عن دينهم وفك ارتباطهم بعقيدتهم، جعل علماء هذه الأمة يولون هذا الجانب اهتمامهم، حفاظاً على عقيدة الإسلام، وصيانة لها، ودفعاً لصولة أعدائها، فانبروا لبيان العقيدة الصحيحة التي يجب على المسلمين اعتناقها مدعومة بأدلتها الصريحة الواضحة من مصدرها الذي يجب على كل مسلم تعظيمه، والتسليم له، ألا وهو الوحي بقسميه كتاب الله تعالى وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، مبتعدين في ذلك عن أوضار الأفكار المنحلة،
আক্বীদা বিষয়ে মধ্যপন্থা
রচনা: তাকিউদ্দীন আবু মুহাম্মদ আব্দুল গনি বিন আব্দুল ওয়াহিদ আল-মাকদিসি
সম্পাদনা ও গবেষণা: ড. আহমদ বিন আতিয়্যাহ আল-গামদি
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকাসকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তা আমাদের নবী মুহাম্মাদের উপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীবর্গ এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা তাঁর হেদায়াতের পথে চলবে তাদের সকলের উপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:
নিশ্চয়ই মুসলিম উম্মাহ বিভিন্ন যুগে যে সকল আক্বীদাগত বিচ্যুতি বা ভ্রান্তির সম্মুখীন হয়েছে, যা সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হওয়ার কারণে তাদের মধ্য থেকে কিছু দলের চিন্তাধারা নিয়ে খেলা করেছে; এবং তারা এমন সব আঁকাবাঁকা পথ অবলম্বন করেছে যা ইসলামের শত্রুদের উদ্দেশ্য হাসিলে সাহায্য করে—যাতে তারা মুসলিমদের তাদের দ্বীন থেকে সরিয়ে দিতে পারে এবং তাদের আক্বীদার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারে। এটিই উম্মাহর আলেমদের এই বিষয়ের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যেন ইসলামের আক্বীদা সংরক্ষিত থাকে, এর পবিত্রতা রক্ষা পায় এবং শত্রুদের আক্রমণ প্রতিহত করা যায়। তাই তারা সেই সঠিক আক্বীদা বর্ণনা করতে এগিয়ে এসেছেন যা প্রত্যেক মুসলিমের লালন করা অপরিহার্য। এই আক্বীদা সেই উৎস থেকে সুষ্পষ্ট ও অকাট্য দলীল দ্বারা সমর্থিত যাকে সম্মান করা এবং যার সামনে আত্মসমর্পণ করা প্রতিটি মুসলিমের ওপর ওয়াজিব—আর তা হলো ওহী, যার দুটি অংশ রয়েছে: মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ। তারা এক্ষেত্রে সকল প্রকার ভ্রষ্ট ও কলুষিত চিন্তাধারা থেকে দূরে থেকেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকতিসাদু ফিল ইতিকাদি লিল মাকদিসি
(পৃষ্ঠা: ৬)
والمذاهب المنحرفة، فألفوا الكتب لتقرير الحق بأدلته التي تحمل في منطوقها ومفهومها تهافت كل ما خالفها، وفضح عواره، ولست في حاجة إلى ضرب أمثلة لذلك فهذه المكتبة السلفية تزخر بمؤلفاتهم على مختلف العصور، كمؤلفات ابن منده وابن خزيمة، وابن قتيبة، واللالكائي، وقبل هؤلاء جميعاً إمام أهل السنة الإمام أحمد بن حنبل الذي أصطلى بنار الأفكار الهدامة والعقائد الباطلة، فقارع أصحابها حتى أظهره الله عليهم.
وبعد هؤلاء جميعاً شيخ الإسلام ابن تيمية الذي ألقم كل صاحب فكر ضال أو منهج منحرف ألف حجر وحجر، وبين هؤلاء وأولئك كان ثمة علماء أجلاء، ساروا على الطريق نفسه وخدموا الهدف ذاته، ومن هؤلاء الإمام الحافظ عبد الغني المقدسي الذي أسهم في خدمة هذا الهدف النبيل، حيث جاهد في سبيل ذلك، فامتحن كما امتحن غيره، وأوذي في عقيدته كما أوذي غيره من العلماء المخلصين، وقد ألف كتباً قيمة، ولعل أهمها هذا الكتاب النفيس الذي يدل عنوانه على محتواه فهو كتاب يحمل في طياته إيضاحاً لعقيدة السلف، وأنها العقيدة المثلى التي يتبوأ أربابها الوسطية بين جميع الطوائف، ولذلك حمل هذا السفر النفيس اسم
...এবং পথভ্রষ্ট মতবাদসমূহ; তাই তারা সত্যকে তার দলিলাদিসহ প্রতিষ্ঠিত করার জন্য গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন, যা নিজের শব্দ ও অর্থের মাধ্যমে সকল বিরোধিতার অসারতা প্রমাণ করে এবং তাদের ত্রুটিসমূহ উন্মোচিত করে। এ বিষয়ে উদাহরণ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন আমার নেই, কারণ সালাফী লাইব্রেরি বিভিন্ন যুগের তাদের এই সকল রচনায় সমৃদ্ধ, যেমন ইবনে মানদাহ, ইবনে খুজায়মাহ, ইবনে কুতাইবাহ ও লালকাঈ-এর রচনাবলি। আর এসকলের পূর্বে রয়েছেন আহলে সুন্নাহর ইমাম, ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল, যিনি ধ্বংসাত্মক চিন্তাধারা ও বাতিল আকিদাহর অগ্নিতে দগ্ধ হয়েছিলেন, অতঃপর তিনি সেগুলোর প্রবক্তাদের মোকাবিলা করেন যতক্ষণ না আল্লাহ তাকে তাদের উপর বিজয়ী করেন।
আর এসকলের পর রয়েছেন শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ, যিনি প্রতিটি ভ্রান্ত চিন্তাধারা বা বিচ্যুত মানহাজের অনুসারীকে উপযুক্ত জবাব দিয়ে নিরুত্তর করেছেন। আর এদের সকলের মাঝে এমন বহু মহান আলেম ছিলেন, যারা একই পথে চলেছেন এবং একই লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ইমাম হাফেজ আব্দুল গণি আল-মাকদিসি, যিনি এই মহান লক্ষ্য অর্জনে অবদান রেখেছেন। তিনি এ পথে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন, ফলে অন্যদের মতো তিনিও পরীক্ষিত হয়েছেন এবং আকিদাহর কারণে নির্যাতিত হয়েছেন, যেমনটা অন্যান্য মুখলেস আলেমগণ নির্যাতিত হয়েছেন। তিনি অনেক মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার মধ্যে সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো এই অমূল্য কিতাবটি, যার শিরোনামই তার বিষয়বস্তুর পরিচয় দেয়। এটি এমন একটি কিতাব যা তার পাতায় পাতায় সালাফদের আকিদাহর স্পষ্ট ব্যাখ্যা বহন করে; আর এটিই হলো সেই সর্বোত্তম আকিদাহ যার অনুসারীরা সকল দলের মাঝে মধ্যপন্থা অবলম্বন করে। আর একারণেই এই মূল্যবান গ্রন্থটি নাম ধারণ করেছে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইকতিসাদু ফিল ইতিকাদি লিল মাকদিসি
(পৃষ্ঠা: ৭)
((الاقتصاد في الاعتقاد)) وهو اسم على مسمى، فعقيدة السلف وسط بين الإفراط والتفريط، عقيدة تجمع ولا تفرق، لها من الخصائص العظيمة ما لم ولن يتوافر في ما سواها من العقائد المنحرفة، التي ضلت الطريق القويم باطراح دلالة الوحي، والجري وراء عقليات سقيمة، وفلسفات عقيمة، أدت إلى تعطيل الخالق عن صفات الكمال، وإلى نفي القدر، وإلى القول بالجبر، والتكفير لمذنبي الأمة ونفي الغيبيات الثابتة، وغير ذلك من الانحرافات المزرية.
وكان حامل لواء الانحراف رجل دخيل هو الجهم بن صفوان الترمذي، الذي ظهر في نهاية المئة الأولى، فحمل لواء التعطيل، وتولى كبر الجحود والإنكار، فعطل صفات الرب تعالى، وحارب تعاليم الإسلام، وانتشرت بعد ذلك المذاهب الكلامية، والمناهج الفلسفية، وتوزعت تركته بين أربابها، ولكن الحق يعلو ولا يعلى عليه فهو أبلج ناصع، سهل ميسور، أما تعقيدات القوم فلم تنطل إلا على من فسدت فطرته، أو عظم جهله، أو غلبت عليه شقوته، وقد أدى علماء الأمة ومن بينهم الإمام المقدسي واجب الإيضاح والبيان، والتحذير من مجانبة طريق أهل القرآن، وإنني إذ أقدم هذا السفر القيم بما حوى من تعليقات توضح غامضاً، أو تفصل مجملاً،
((আল-ইকতিসাদ ফিল ইতিকাদ)) যা তার নামের সার্থকতা বহন করে, কারণ সালাফদের আকিদাহ হলো অতিরঞ্জন ও শিথিলতার মাঝে মধ্যমপন্থা, এমন এক আকিদাহ যা ঐক্যবদ্ধ করে এবং বিচ্ছিন্ন করে না। এর এমন সব মহান বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা অন্য কোনো বিচ্যুত আকিদাহর মধ্যে নেই এবং কখনো থাকবেও না; যে আকিদাহগুলো ওহীর দিকনির্দেশনা পরিত্যাগ করার কারণে এবং অসুস্থ বুদ্ধিবৃত্তিক চিন্তা ও অসার দর্শনের পেছনে ছোটার কারণে সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। যা স্রষ্টাকে তাঁর পূর্ণাঙ্গ গুণাবলি থেকে অস্বীকার করার দিকে, তাকদির অস্বীকার করার দিকে, জবরবাদের মতবাদের দিকে, উম্মতের গুনাহগারদের কাফির সাব্যস্ত করার দিকে, প্রমাণিত অদৃশ্যের বিষয়সমূহ অস্বীকার করার দিকে এবং এই জাতীয় অন্যান্য শোচনীয় বিচ্যুতির দিকে ধাবিত করেছে।
আর এই বিচ্যুতির পতাকাবাহী ছিল একজন বহিরাগত ব্যক্তি—জাহম বিন সাফওয়ান আত-তিরমিযী, যে প্রথম শতাব্দীর শেষভাগে আত্মপ্রকাশ করেছিল। সে আল্লাহর গুণাবলি অস্বীকার করার ঝাণ্ডা বহন করেছিল এবং প্রত্যাখ্যান ও অস্বীকৃতির বড় দায়ভার গ্রহণ করেছিল। ফলে সে মহান রবের গুণাবলিকে অস্বীকার করেছিল এবং ইসলামের শিক্ষাগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। এরপর কালামশাস্ত্রীয় মাযহাবসমূহ এবং দার্শনিক পদ্ধতিসমূহ ছড়িয়ে পড়ে এবং তার রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার তাদের অনুসারীদের মধ্যে বন্টিত হয়। কিন্তু সত্য সর্বদা বিজয়ী হয় এবং তাকে কেউ পরাজিত করতে পারে না; কারণ তা উজ্জ্বল, সুস্পষ্ট, সহজ ও সাবলীল। আর সেই লোকদের জটিল বিষয়সমূহ কেবল তাদেরই বিভ্রান্ত করতে পেরেছে যাদের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি নষ্ট হয়ে গেছে, কিংবা যাদের মূর্খতা চরম আকার ধারণ করেছে, অথবা যাদের ওপর দুর্ভাগ্য ছেয়ে গেছে। উম্মতের ওলামায়ে কিরাম, এবং তাদের মধ্যে ইমাম মাকদিসী, সত্য স্পষ্ট ও বর্ণনা করার এবং কুরআনওয়ালাদের পথ পরিহার করার ব্যাপারে সতর্ক করার দায়িত্ব পালন করেছেন। আমি যখন এই মূল্যবান গ্রন্থটি পেশ করছি, যা এমন কিছু টীকা সংবলিত যা অস্পষ্ট বিষয়কে স্পষ্ট করে অথবা সংক্ষেপিত বিষয়কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে,
(খণ্ড: ১)
আল-ইকতিসাদু ফিল ইতিকাদি লিল মাকদিসি
(পৃষ্ঠা: ৮)
لأرجو الله الكريم، رب العرش العظيم أن يجعل عملى خالصاً لوجهه، وأن يهئ لنا من أمرنا رشداً، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
د/ أحمد بن عطية الغامدي
المدينة المنورة في 25/12/1413هـ.
আমি মহান আরশের রব, দয়াময় আল্লাহর নিকট আশা করি যে তিনি যেন আমার এই আমলকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং আমাদের সকল কাজে সঠিক পথ ও কল্যাণের ফয়সালা করে দেন। আমাদের শেষ কথা হলো—সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
ড. আহমদ বিন আতিয়্যাহ আল-গামদি
মদিনা মুনাওয়ারা, ২৫/১২/১৪১৩ হিজরী।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকতিসাদু ফিল ইতিকাদি লিল মাকদিসি
(পৃষ্ঠা: ৯)
(التعربف بالمؤلف)
اسمه ونسبه
هو الإمام الحافظ عبد الغني بن عبد الواحد بن علي بن سرور بن رافع بن حسين بن جعفر المقدسي1، الجَمّاعيلي2، ثم الدمشقي المنشأ، الصالحي3، يكنى أبا محمد، ويلقب بتقي الدين.
--------------------------------------------
(লেখকের পরিচিতি)
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়
তিনি হলেন ইমাম আল-হাফিজ আব্দুল গনি ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে আলি ইবনে সুরুর ইবনে রাফি ইবনে হুসাইন ইবনে জাফর আল-মাকদিসি১, আল-জাম্মাইলি২, অতঃপর দামেস্কি বংশোদ্ভূত, আস-সালিহি৩। তাঁর উপনাম আবু মুহাম্মাদ এবং তাঁর উপাধি তাকিউদ্দীন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকতিসাদু ফিল ইতিকাদি লিল মাকদিসি
(পৃষ্ঠা: ১০)
ولادته
ولد رحمه الله بجَمَّاعيل من أرض نابلس، واختلف في تاريخ ولادته، فبينما يذكر ابن رجب عن الحافظ ضياء الدين المقدسي1 أن ولادته كانت في ربيع الآخر من سنة إحدى وأربعين وخمسمائة 2 يذكر ابن طولون عن الضياء نفسه ترجيحه أنه ولد سنة أربع وأربعين وخمسمائة3، وقال المنذري: ذكر عنه بعض أصحابه ما يدل على أن مولده كان سنة أربع وأربعين وخمسمائة4، وهو ما ذكره ابن الدمياطي في المستفاد 5.
--------------------------------------------
তাঁর জন্ম
আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি নাবলুস ভূখণ্ডের জাম্মাইল নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মের তারিখ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। হাফেজ জিয়াউদ্দিন মাকদিসি১ থেকে ইবনে রজব উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর জন্ম হয়েছিল ৫৪১ হিজরির রবিউস সানি মাসে।২ আবার আল-জিয়া থেকেই ইবনে তুলুন তাঁর এই মতটিকে প্রাধান্য দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর জন্ম ৫৪৪ হিজরিতে হয়েছিল।৩ আল-মুনজিরি বলেন: তাঁর কোনো কোনো সাথী তাঁর থেকে এমন কিছু উল্লেখ করেছেন যা নির্দেশ করে যে তাঁর জন্ম ৫৪৪ হিজরিতে হয়েছিল।৪ আর এটিই ইবনে দিময়াতি 'আল-মুস্তাফাদ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।৫
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকতিসাদু ফিল ইতিকাদি লিল মাকদিসি
(পৃষ্ঠা: ১১)
وذكر ابن رجب نقلاً عن ابن النجار في تاريخه أنه سأل الحافظ عبد الغني عن مولده فقال: إما في سنة ثلاث، أو في سنة أربع وأربعين وخمسمائة 1، فهذه ثلاثة أقوال متقاربة في تاريخ ولادته.
--------------------------------------------
ইবনে রাজাব তাঁর ইতিহাস গ্রন্থে ইবনে আল-নাজ্জারের সূত্রে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি হাফেজ আব্দুল গানিকে তাঁর জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন: হয় পাঁচশত তেতাল্লিশ সালে, অথবা পাঁচশত চুয়াল্লিশ সালে। সুতরাং তাঁর জন্ম তারিখ সম্পর্কে এই তিনটি কাছাকাছি অভিমত রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকতিসাদু ফিল ইতিকাদি লিল মাকদিসি
(পৃষ্ঠা: ১২)
أسرته
ترعرع رحمه الله في أكناف أسرة كريمة، شغوفة بالعلم، نذرت نفسها لخدمته، وكانت هذه الأسرة تقيم في بيت المقدس، ثم رحلت بأبنائها إلى دمشق ونزلت عند مسجد أبي صالح، خارج الباب الشرقي أولاً، ثم انتقلوا إلى سفح جبل قاسيون، فعرفت محلة الصالحية بهم 1 وكان من أشهر هذه الأسرة وأجلهم الإمامان الحافظ عبد الغني، وابن خالته الإمام موفق الدين ابن قدامة المقدسي الذي وصف علاقته بالحافظ عبد الغني بقوله: " رفيقي في الصبا، وفي طلب العلم، وما كنا نستبق إلى خير إلا سبقني إليه إلا القليل
…" 2.
وحين استقرت هذه الأسرة بسفح جبل قاسيون، بنوا داراً
--------------------------------------------
তাঁর পরিবার
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) এক মহৎ ও ইলম-অনুরাগী পরিবারের সান্নিধ্যে লালিত-পালিত হন, যারা ইলমের খিদমতে নিজেদের উৎসর্গ করেছিলেন। এই পরিবারটি বাইতুল মাকদিসে বসবাস করত, এরপর তারা সন্তানদের নিয়ে দামেস্কে হিজরত করেন এবং প্রথমে বাবুল শারকির বাইরে আবু সালেহ মসজিদের নিকট অবস্থান করেন। পরবর্তীতে তারা কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে স্থানান্তরিত হন এবং তাদের মাধ্যমেই সালেহিয়া এলাকাটি প্রসিদ্ধি লাভ করে ১। এই পরিবারের অন্যতম প্রসিদ্ধ ও মহান ব্যক্তিত্ব ছিলেন দুই ইমাম— হাফিজ আব্দুল গনি এবং তাঁর খালাতো ভাই ইমাম মুওয়াফফাকুদ্দীন ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি। ইবনে কুদামা হাফিজ আব্দুল গনির সাথে তাঁর সম্পর্কের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন: "শৈশবে এবং ইলম অন্বেষণে তিনি ছিলেন আমার সহচর। আমরা যখনই কোনো কল্যাণের কাজে প্রতিযোগিতা করতাম, খুব সামান্য ক্ষেত্র ছাড়া তিনি সর্বদা আমার অগ্রগামী থাকতেন
..." ২।
যখন এই পরিবারটি কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে বসতি স্থাপন করল, তখন তারা একটি ঘর নির্মাণ করল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকতিসাদু ফিল ইতিকাদি লিল মাকদিসি
(পৃষ্ঠা: ১৩)
تحتوي على عدد كبير من الحجرات دعيت بدار الحنابلة، ثم شرعوا في بناء أول مدرسة في جبل قاسيون، وهي المعروفة بـ ((المدرسة العمرية)) 1.
ومن هذه الأسرة ظهر علماء أجلاء، أسهموا في نشر المذهب الحنبلي في الشام حيث انتشر هذا المذهب ومدارسه، لا في دمشق وحدها، بل حتى في المناطق المجاورة لها، وكان لهجرتهم الأثر البالغ في خدمة مذهب الإمام أحمد، حيث ألفوا فيه الكتب القيمة التي أصبحت عمدة في فقه المذهب حتى يومنا هذا، ومؤلفوها يعدون من جهابذة العلماء، كالحافظ عبد الغني، وابن خالته موفق الدين ابن قدامة صاحب أشهر كتاب في تاريخ الفقة الإسلامي ألا وهو كتاب المغني، وعميد أسرتهم العلامة الشيخ أحمد بن محمد بن قدامة المقدسي خال الحافظ عبد الغني 2.
--------------------------------------------
এতে বিপুল সংখ্যক কক্ষ ছিল যা 'দারুল হানাবিলা' নামে অভিহিত হতো, অতঃপর তারা জাবালে কাসিয়ুনে প্রথম মাদ্রাসা নির্মাণ শুরু করেন, যা 'আল-মাদরাসা আল-উমরিয়্যা' নামে পরিচিত ১।
এই পরিবার থেকে প্রথিতযশা আলেমগণ আবির্ভূত হয়েছেন, যারা শামে হাম্বলি মাযহাব প্রসারে অবদান রেখেছেন। ফলে এই মাযহাব ও এর মাদরাসাসমূহ কেবল দামেশকেই নয়, বরং এর পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ে। ইমাম আহমদের মাযহাবের খিদমতে তাদের হিজরতের সুদূরপ্রসারী প্রভাব ছিল, কেননা তারা এই বিষয়ে এমন সব মূল্যবান গ্রন্থ রচনা করেছিলেন যা বর্তমান সময় পর্যন্ত এই মাযহাবের ফিকহের মূল ভিত্তি হয়ে রয়েছে। আর এর লেখকরা প্রাজ্ঞ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য হন, যেমন হাফেজ আব্দুল গণি এবং তাঁর খালাতো ভাই মুয়াফ্ফাকুদ্দিন ইবনে কুদামা—যিনি ইসলামি ফিকহের ইতিহাসের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ গ্রন্থ 'আল-মুগনি'-র রচয়িতা—এবং তাদের পরিবারের প্রধান আল্লামা শেখ আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন কুদামা আল-মাকদিসি, যিনি হাফেজ আব্দুল গণির মামা ছিলেন ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকতিসাদু ফিল ইতিকাদি লিল মাকদিসি
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وأصبح لهذه الأسرة الكريمة شهرة عظيمة، سارت بها الركبان، وألفت في فضائلها وتاريخها الكتب، ومن أشهرها مؤلفات الضياء المقدسي وكتاب القلائد الجوهرية في تاريخ الصالحية لابن طولون، وغيرها.
وهي أسرة جديرة بعناية المؤرخين، لما لها من دور بارز في نشر العلم وخدمته بشتى الوسائل، من تدريس، وتأليف، وإنشاء مدارس، وعناية بطلابه.
وقد رزق الإمام عبد الغني ثلاثة أولاد من زوجته إبنة خاله: رابعة بنت أحمد بن محمد بن قدامة المقدسي وهم، محمد، وعبد الله، وعبد الرحمن، وبنت واحدة أسماها فاطمة.
وقد كان أولاده الثلاثة علماء أجلاء، لهم شأن كبير في ميدان الفقه والحديث.
1 ـ فأما محمد فكان أكبرهم، وهو محدث حافظ إمام رحال، يلقب بعز الدين ويكنى أبا الفتح، مات سنة ثلاث عشرة وستمائة.
এই মহান পরিবারটি এক বিশাল খ্যাতি অর্জন করেছিল, যা দূর-দূরান্তের কাফেলাগুলোর মাধ্যমে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল। তাদের মর্যাদা ও ইতিহাসের ওপর বহু গ্রন্থ রচিত হয়েছে, যার মধ্যে সর্বাপেক্ষা প্রসিদ্ধ হলো দিয়া আল-মাকদিসীর রচনাবলি এবং ইবনে তুলুন রচিত ‘আল-কালাইদ আল-জাওহারিয়্যাহ ফি তারিখ আস-সালিহিয়্যাহ’ গ্রন্থসহ অন্যান্য গ্রন্থ।
এটি ইতিহাসবিদদের বিশেষ মনোযোগের দাবিদার একটি পরিবার; কারণ জ্ঞান প্রচার ও প্রসারে এবং বিভিন্ন পন্থায়—যেমন শিক্ষাদান, গ্রন্থরচনা, মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ও ছাত্রদের দেখাশোনা করার মাধ্যমে—তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
ইমাম আব্দুল গনি তাঁর মামাতো বোন রবেয়াহ বিনতে আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন কুদামা আল-মাকদিসীর গর্ভে তিন পুত্র সন্তান লাভ করেন। তাঁরা হলেন মুহাম্মাদ, আব্দুল্লাহ এবং আব্দুর রহমান। এছাড়া ফাতেমা নামে তাঁর এক কন্যা সন্তানও ছিল।
তাঁর তিন পুত্রই ছিলেন প্রথিতযশা আলেম, ফিকহ ও হাদিসের ময়দানে যাঁদের বিশাল অবদান ও সুউচ্চ মর্যাদা ছিল।
১— মুহাম্মাদ ছিলেন তাঁদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ। তিনি ছিলেন একজন মুহাদ্দিস, হাফেজ, ইমাম এবং ইলম অর্জনে দেশ-দেশান্তর ভ্রমণকারী। তাঁর উপাধি ছিল ইজ্জুদ্দীন এবং তাঁর উপনাম ছিল আবুল ফাতহ। তিনি ৬১৩ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকতিসাদু ফিল ইতিকাদি লিল মাকদিসি
(পৃষ্ঠা: ১৫)
2 ـ وأما عبد الله، فهو المحدث الحافظ المصنف جمال الدين أبو موسى، رحل وسمع من ابن كُلَيب، وخليل الرَّاراني، مات في رمضان سنة تسع وعشرين وستمائة.
3 ـ أما الابن الثالث وهو عبد الرحمن ويكنى أبا سليمان، فقد اشتغل بعلم الفقه حتى برز فيه، وأصبح من المفتين في مسائله، وسمع من البوصيري، وابن الجوزي 1.
وإذا علمنا أن زوجته رابعة كانت من المشتغلين بعلم الحديث، وكانت ذات دين وزهد وعبادة وصلاح فإنه يتضح لنا أن هذه الأسرة الفريدة كانت ذات سيرة حميدة ومكانة علمية مرموقة، أثرت في أبنائها بما جعلهم من أوعية العلم حفظاً، ومن حذاقه عناية وتدقيقاً ونشراً.
فرحمهم الله، وجزاهم عن الإسلام وأهله خير الجزاء.
--------------------------------------------
২- আর আবদুল্লাহর ব্যাপারে কথা হলো, তিনি ছিলেন মুহাদ্দিস, হাফেজ ও গ্রন্থকার জামালুদ্দিন আবু মুসা। তিনি জ্ঞানার্জনের উদ্দেশ্যে দেশভ্রমণ করেছেন এবং ইবনে কুলাইব ও খলিল আর-রাবরানি থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি ৬২৯ হিজরি সনের রমজান মাসে মৃত্যুবরণ করেন।
৩- আর তৃতীয় পুত্র হলেন আবদুর রহমান, তার উপনাম আবু সুলাইমান। তিনি ফিকহ শাস্ত্র নিয়ে চর্চা করেছেন এমনকি তাতে পারদর্শিতা অর্জন করেছেন এবং এর মাসআলাসমূহে ফতোয়া প্রদানকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তিনি বুসিরি ও ইবনুল জাওজি থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।
আর আমরা যখন জানতে পারি যে, তার স্ত্রী রাবেয়া হাদিস শাস্ত্রের চর্চাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তিনি ছিলেন দ্বীনদার, দুনিয়াবিমুখ, ইবাদতগুজার ও পুণ্যবতী, তখন আমাদের নিকট এটি স্পষ্ট হয়ে যায় যে, এই অনন্য পরিবারটি প্রশংসনীয় জীবনচরিত এবং সুউচ্চ ইলমি মর্যদার অধিকারী ছিল। যা তাদের সন্তানদের ওপর এমন প্রভাব ফেলেছিল যে, তারা হিফজের দিক থেকে ইলমের আধারে এবং ইলমের যত্ন, সূক্ষ্মতা ও প্রচারের ক্ষেত্রে দক্ষ ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন।
আল্লাহ তাদের প্রতি দয়া করুন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকতিসাদু ফিল ইতিকাদি লিল মাকদিসি
(পৃষ্ঠা: ১৬)
رحلاته العلمية
ما تحدثنا به كتب التاريخ عن الوسائل التي اتبعها علماؤنا الأجلاء من سلفنا الصالح في سبيل تحصيل العلم، وتتبع مصادره، وجمع شتاته، تحفز الهمم، وتبعث على الإعجاب والتقدير، فقد كانوا رحمهم الله يركبون الصعب والذلول، ويقطعون المفاوز، ويتعرضون للأخطار الجسام، في سبيل الوصول إلى العلماء في مواطن إقامتهم، والأخذ عنهم، وتدوين علمهم، وروايته ونشره، خدمة لهذا الدين، وأداءاً لواجب الأمانة، ونصحاً للأمة، وهداية لها بنور العلم الشرعي الأصيل.
والحافظ عبد الغني المقدسي لم يصل إلى ما وصل إليه من مكانة علمية سامقة، ولم يتمكن من النبوغ الفريد في علم الحديث، ويؤلف ما ألف فيه من كتب عظيمة، إلا بعد بذل جهد كبير، ومكابدة مشقة عظيمة، فقد سلك السنة المعروفة المميزة لجهابذة العلماء، ألا وهي الرحلة في سبيل الطلب، والإتصال بأئمة هذا
তাঁর জ্ঞানার্জনের সফরসমূহ
আমাদের সালাফে সালেহীনের মধ্য থেকে সম্মানিত আলিমগণ ইলম অর্জন, এর উৎসসমূহের অনুসন্ধান এবং এর বিক্ষিপ্ত অংশগুলো একত্রিত করার পথে যেসব উপায় অবলম্বন করেছিলেন, সে সম্পর্কে ইতিহাসের কিতাবসমূহ আমাদের যা জানায়, তা হিম্মতকে উজ্জীবিত করে এবং বিস্ময় ও শ্রদ্ধার উদ্রেক করে। আল্লাহ তাঁদের উপর রহম করুন, তাঁরা এই দ্বীনের খিদমত, আমানতের দায়িত্ব পালন, উম্মতের কল্যাণকামনা এবং খাঁটি শরয়ী ইলমের নূরের মাধ্যমে তাদের হিদায়াতের লক্ষ্যে আলিমদের অবস্থানস্থলে পৌঁছানোর জন্য, তাঁদের থেকে ইলম গ্রহণ এবং তাঁদের ইলম সংকলন, বর্ণনা ও প্রচারের নিমিত্তে কঠিন ও সহজ উভয় পথ পাড়ি দিতেন, মরুভূমি অতিক্রম করতেন এবং বিশাল সব বিপদের সম্মুখীন হতেন।
হাফেজ আব্দুল গণি আল-মাকদিসী যে সুউচ্চ ইলমি মাকামে পৌঁছেছিলেন, ইলমে হাদীসে যে অনন্য মেধার স্বাক্ষর রেখেছিলেন এবং এতে যেসব মহান গ্রন্থ রচনা করেছিলেন, তা তিনি অর্জন করতে পারেননি ব্যাপক প্রচেষ্টা ব্যয় এবং চরম কষ্ট সহ্য করা ছাড়া। তিনি দক্ষ ও প্রাজ্ঞ আলিমদের সেই পরিচিত ও বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত পথ অনুসরণ করেছিলেন, আর তা হলো ইলম অন্বেষণের পথে সফর করা এবং এই ইলমের ইমামদের সাথে সাক্ষাৎ করা...
(খণ্ড: ১)
আল-ইকতিসাদু ফিল ইতিকাদি লিল মাকদিসি
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الشأن في ما تيسر له الوصول إليه من بقاع العالم الإسلامي في ذلك الوقت، والتتلمذ على أيديهم، وتدوين ما تيسر له من علومهم، وكان يفصل بين مواطن رحلاته مسافات شاسعة، فمن أصبهان شرقاً، إلى ثغر مصر غرباً، وهي مسافات تعد بمقاييس المواصلات في ذلك العصر شاسعة متباعدة، ولكن همة طالب العلم تستسهل الصعب، ولا تقف به دون بلوغ مطامحه، سيما بين أولئك العلماء الأفذاذ من أسلافنا الكرام، الذين كانوا يطلبون العلم لله بإخلاص وتجرد، لا يهمهم في ذلك بلوغ جاه، أو نيل دنيا.
ولذلك نرى أثار رحلاتهم انعكست على سعة تحصيلهم، وجودة تأليفهم، وعموم نفعها لمن بعدهم. فكلما تعددت الرحلات، وكثر الشيوخ، وطالت المدد، كلما كان صاحبها أوسع علماً، وأكثر إتقاناً، وأحظى مكانة بين تلاميذه وأقرانه.
وتحدثنا كتب التاريخ عن رحلات كثيرة للحافظ عبد الغني، بدأها بهجرته مع أسرته من مسقط رأسه في فلسطين، إلى دمشق وهو صغير، وكان ذلك سنة إحدى وخمسين وخمسمائة، وكانت سنه آنذاك إحدى عشرة سنة على القول بأن ولادته كانت سنة
সেই সময়ের মুসলিম বিশ্বের যে সকল অঞ্চলে তাঁর পক্ষে পৌঁছানো সম্ভব ছিল, সেখানে গমন করা, সেখানকার আলেমদের কাছে শিষ্যত্ব গ্রহণ করা এবং তাঁদের ইলম থেকে যা সম্ভব ছিল তা লিপিবদ্ধ করাই ছিল মূল বিষয়। তাঁর সফরের স্থানগুলোর মধ্যে বিশাল দূরত্ব ছিল; পূর্বে ইসফাহান থেকে শুরু করে পশ্চিমে মিশরের সীমান্ত পর্যন্ত। তৎকালীন যাতায়াত ব্যবস্থার মানদণ্ডে এই দূরত্বগুলো ছিল অত্যন্ত দীর্ঘ ও সুদূরপ্রসারী। কিন্তু একজন ইলম অন্বেষণকারীর উচ্চাকাঙ্ক্ষা কঠিনকে সহজ করে দেয় এবং লক্ষ্য অর্জন না করা পর্যন্ত তাকে থামিয়ে দেয় না; বিশেষ করে আমাদের পূর্বসূরি সেই সকল অনন্য সাধারণ আলেমদের ক্ষেত্রে, যাঁরা একনিষ্ঠতা ও নির্লিপ্ততার সাথে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ইলম অন্বেষণ করতেন এবং পদমর্যাদা বা দুনিয়া অর্জন তাঁদের কাছে মুখ্য ছিল না।
আর এই কারণেই আমরা দেখি যে, তাঁদের সফরের প্রভাব তাঁদের অর্জিত জ্ঞানের বিশালতা, তাঁদের রচনার গুণগত মান এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এর ব্যাপক উপকারের মাঝে প্রতিফলিত হয়েছে। সফর যত বেশি হয়েছে, উস্তাদদের সংখ্যা যত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সফরের সময়কাল যত দীর্ঘ হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তত বেশি ইলমের অধিকারী, অধিকতর পারদর্শী এবং তাঁর ছাত্র ও সমসাময়িকদের মাঝে তত বেশি উচ্চ মর্যাদার অধিকারী হয়েছেন।
ইতিহাসের কিতাবসমূহ আমাদের হাফেজ আব্দুল গনী-র বহু সফরের কথা বর্ণনা করে। তিনি এই সফর শুরু করেছিলেন শৈশবে নিজ জন্মভূমি ফিলিস্তিন থেকে সপরিবারে দামেস্কে হিজরতের মাধ্যমে। এটি ছিল ৫৫১ হিজরী সনের ঘটনা; সেই মত অনুযায়ী যে তাঁর জন্ম হয়েছিল... সালে, সেই সময় তাঁর বয়স ছিল এগারো বছর।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকতিসাদু ফিল ইতিকাদি লিল মাকদিসি
(পৃষ্ঠা: ১৮)
إحدى وأربعين وخمسمائة، وثمان سنين على القول بأن ولادته كانت سنة أربع وأربعين وخسمائة، وكان أول طلبه العلم بها، حيث سمع من أبي المكارم عبد الواحد بن محمد بن هلال، وأبي علي الحسن بن مكي بن جعفر الصوفي وغيرهما.
وكانت هذه الرحلة بداية الانطلاق لمراحل أرحب، ورحلات أشق وأوسع، ففي سنة ستين وقيل إحدى وستين وخمسمائة رحل إلى بغداد، وكانت حاضرة العلم والعلماء في ذلك الوقت، وقد صحبه في هذه الرحلة ابن خالته الإمام موفق الدين أبي محمد عبد الله بن أحمد بن قدامة المقدسي، وكان بين ميولهما العلمية اختلاف، فبينما فضل الإمام الموفق الاتجاه إلى الفقه والعناية به، والتبحر فيه، وجه الحافظ عبد الغني عنايته إلى الحديث.
وفيها نزلا على الشيخ عبد القادر الجيلي في مدرسته، وكان لا ينزل بها أحداً، إلا أنه توسم فيهما الخير والنجابة والصلاح، وكان يراعيهما، ويحسن إليهما، وقرآ عليه شيئاً من الحديث والفقه، ودامت إقامتهما عنده أربعين يوماً ـ كما ذكر الشيخ الموفق، وقيل خمسين، توفي بعدها الشيخ عبد القادر، ثم تتلمذا بعده في الفقه
পাঁচশত একচল্লিশ হিজরি, এবং আট বছর ঐ অভিমত অনুযায়ী যে তাঁর জন্ম ছিল পাঁচশত চুয়াল্লিশ হিজরিতে। সেখানেই তাঁর ইলম অর্জনের সূচনা হয়, যেখানে তিনি আবুল মাকারিম আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মাদ বিন হিলাল এবং আবু আলী হাসান বিন মাক্কি বিন জাফর আস-সুফী ও অন্যদের থেকে শ্রবণ করেন।
এই সফরটি ছিল আরও প্রশস্ত পর্যায়ের এবং অধিকতর কষ্টসাধ্য ও বিস্তৃত ভ্রমণের প্রারম্ভিক সূচনা। অতঃপর পাঁচশত ষাট হিজরিতে, মতান্তরে পাঁচশত একষট্টি হিজরিতে তিনি বাগদাদের উদ্দেশ্যে সফর করেন, যা সেই সময়ে ইলম ও উলামায়ে কেরামের প্রাণকেন্দ্র ছিল। এই সফরে তাঁর সঙ্গী ছিলেন তাঁর খালাতো ভাই ইমাম মুওয়াফফাকুদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন কুদামা আল-মাকদিসি। তাঁদের জ্ঞানতাত্ত্বিক ঝোঁকের মধ্যে ভিন্নতা ছিল; ইমাম মুওয়াফফাক ফিকহ শাস্ত্রের প্রতি গুরুত্বারোপ ও এতে ব্যুৎপত্তি অর্জনকে পছন্দ করেছিলেন, পক্ষান্তরে হাফেজ আব্দুল গনী তাঁর মনোযোগ হাদীস শাস্ত্রের দিকে নিবদ্ধ করেন।
সেখানে তাঁরা শায়খ আব্দুল কাদির আল-জিলির মাদরাসায় অবস্থান করেন। তিনি সেখানে সাধারণত কাউকে থাকতে দিতেন না, তবে তিনি তাঁদের মাঝে কল্যাণ, মেধা ও নেককারির লক্ষণ দেখতে পেয়েছিলেন। তিনি তাঁদের তদারকি করতেন এবং তাঁদের প্রতি সদাচরণ করতেন। তাঁরা তাঁর কাছে হাদীস ও ফিকহের কিয়দাংশ পাঠ করেন। শায়খ মুওয়াফফাকের বর্ণনা অনুযায়ী তাঁদের অবস্থান ছিল চল্লিশ দিন, মতান্তরে পঞ্চাশ দিন। এরপর শায়খ আব্দুল কাদির ইন্তেকাল করেন। অতঃপর তাঁরা ফিকহ শাস্ত্রে অন্যদের কাছে ছাত্রত্ব গ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকতিসাদু ফিল ইতিকাদি লিল মাকদিসি
(পৃষ্ঠা: ১৯)
والخلاف على الشيخ نصر بن فتيان المعروف بابن المنى، وأكثرا فيها من السماع على عدد كبير من الشيوخ، ثم قدما دمشق بعد أربع سنوات.
ورحل الشيخ عبد الغني إلى مصر والاسكندرية وكان ذلك سنة ست وستين وخمسمائة فأقام هناك مدة، إلا أنه عاد إلى الاسكندرية سنة سبعين، وسمع بها من الحافظ أبي طاهر السلفي وأكثر عنه، حتى قيل: إنه كتب عنه ألف جزء.
وسمع بمصر من عدد كبير من العلماء من أبرزهم العلامة أبو محمد عبد الله بن بَرّي، وأبو عبد الله محمد بن علي الرحبي، وغيرهم.
وكانت له رحلة إلى الجزيرة 1 كما يذكر الإمام ابن كثير، ورحلة أخرى إلى بغداد، أما رحلته إلى أصبهان فكانت بعد
--------------------------------------------
তারা শায়খ নাসর বিন ফিতইয়ান—যিনি ইবনুল মুন্নি নামে পরিচিত—তার নিকট খিলাফ (ইলমুল খিলাফ) অধ্যয়ন করেন এবং সেখানে বিপুল সংখ্যক শায়খের নিকট থেকে প্রচুর পরিমাণে শ্রবণ করেন, অতঃপর চার বছর পর তারা দামেশকে ফিরে আসেন।
শায়খ আবদুল গনি মিশর ও আলেকজান্দ্রিয়ায় সফর করেন; এটি ছিল পাঁচশ ছেষট্টি হিজরি সালে। তিনি সেখানে কিছুকাল অবস্থান করেন, অতঃপর তিনি পাঁচশ সত্তর সালে পুনরায় আলেকজান্দ্রিয়ায় ফিরে যান এবং সেখানে হাফেজ আবু তাহের আস-সিলাফির নিকট থেকে শ্রবণ করেন ও তার থেকে প্রচুর বর্ণনা গ্রহণ করেন, এমনকি বলা হয় যে, তিনি তার নিকট থেকে এক হাজার জুজ অনুলিপি করেছিলেন।
তিনি মিশরে বিপুল সংখ্যক আলেমের নিকট থেকে শ্রবণ করেন, যাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আল্লামা আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন বাররি, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলি আর-রাহবি এবং আরও অনেকে।
ইমাম ইবনে কাসির যেমনটি উল্লেখ করেছেন, তার জাজিরা ১ অভিমুখে একটি সফর ছিল এবং বাগদাদে অপর একটি সফর ছিল। আর ইসফাহানে তার সফরটি ছিল এর পরে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকতিসাদু ফিল ইতিকাদি লিল মাকদিসি
(পৃষ্ঠা: ২০)
السبعين، وفي هذه الرحلة كابد شظف العيش حيث لم يتيسر له فيها إلا القليل من المال الذي لا يكفيه لمؤنة سفره، إلا أن الله أعانه عليها لصفاء مقصده، حيث هيأ له من أعانه على أعباء المعيشة حتى دخل أصبهان، وحصّل بها الكثير من العلم، والنفيس من الكتب، وبها تتلمذ على أئمة أجلاء من أبرزهم الحافظ: أبو موسى محمد بن أبي بكر المَدِيني، وأبو سعد محمد بن عبد الواحد بن عبد الوهاب الصائغ، وخلق كثير سواهم.
أما رحلته إلى همذان، فلم أجد من أرّخها إلا أنه رحل إليها، ولعل رحلته إليها كانت بعد خروجه من أصبهان، حيث سمع بها من أبي المحاسن عبد الرزاق بن إسماعيل القرماني، وأبي سعيد المطهر بن عبد الكريم القومساني وسواهما.
ويذكر المنذري أنه حدث بدمياط، وهذا يدل على أنه رحل إليها أيضاً، ورحل إلى الموصل، وسمع من خطيبها أبي الفضل الطوسي. وله رحلات جانبية أخرى، إذ كان رحمه الله عالي الهمة، شديد التعلق بكل ما يزيد في علمه، ويخدم هدفه 1.
--------------------------------------------
সত্তর (সাল বা দশক), আর এই সফরে তিনি জীবনযাত্রার কঠোর দৈন্যের সম্মুখীন হন, কারণ এই যাত্রায় তাঁর কাছে যৎসামান্য অর্থ ছাড়া আর কিছুই সহজলভ্য ছিল না যা তাঁর সফরের ব্যয়ের জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। তবে তাঁর উদ্দেশ্যের স্বচ্ছতার কারণে আল্লাহ তাঁকে এ কাজে সাহায্য করেন, যেখানে তিনি তাঁর জন্য এমন সাহায্যকারীর ব্যবস্থা করে দেন যিনি তাঁকে জীবনধারণের বোঝা বহনে সহায়তা করেন যতক্ষণ না তিনি আসবাহানে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি প্রচুর ইলম এবং অনেক মূল্যবান কিতাবাদি অর্জন করেন এবং সেখানে তিনি প্রথিতযশা ইমামগণের নিকট ছাত্রত্ব গ্রহণ করেন, যাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন আল-হাফিজ: আবু মুসা মুহাম্মাদ বিন আবি বকর আল-মাদিনি, এবং আবু সা'দ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব আস-সাইগ, এবং তাঁদের ছাড়া আরও অগণিত লোক।
আর হামাদানে তাঁর সফরের বিষয়টি সম্পর্কে আমি কাউকে কোনো ইতিহাস লিপিবদ্ধ করতে দেখিনি কেবল এটুকু ছাড়া যে তিনি সেখানে সফর করেছিলেন। সম্ভবত সেখানে তাঁর সফরটি আসবাহান থেকে বের হওয়ার পর হয়েছিল, সেখানে তিনি আবুল মাহাসিন আব্দুর রাজ্জাক বিন ইসমাইল আল-কারমানি, আবু সা'দ আল-মুতাহহার বিন আব্দুল কারিম আল-কউমাসানি এবং অন্যান্যের নিকট থেকে শ্রবণ করেন।
আর আল-মুনযিরি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি দামিয়াতে হাদিস বর্ণনা করেছেন, যা নির্দেশ করে যে তিনি সেখানেও সফর করেছিলেন। তিনি মুসিলেও সফর করেন এবং সেখানকার খতিব আবুল ফজল আত-তুসির নিকট থেকে শ্রবণ করেন। তাঁর আরও কিছু পার্শ্ববর্তী সফর ছিল, কেননা তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছিলেন এবং যা কিছু তাঁর ইলম বৃদ্ধি করে ও তাঁর লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হয়, সে সবকিছুর প্রতি তিনি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকতিসাদু ফিল ইতিকাদি লিল মাকদিসি
(পৃষ্ঠা: ২১)
وإذا كان الحافظ عبد الغني قد طوف حواضر العلم شرقاً وغرباً، وحصل بذلك العلم الغزير وتبحر فيه حتى أصبح من أعلامه البارزين، فإنه لابد من أن يبذل كما أخذ، فقد حدث بأكثر البلاد التي دخلها، وروى عنه خلق كثير 1.
--------------------------------------------
হাফেজ আব্দুল গনি যেহেতু ইলমের কেন্দ্রসমূহে পূর্ব থেকে পশ্চিমে পরিভ্রমণ করেছিলেন এবং এর মাধ্যমে বিপুল জ্ঞান অর্জন করে তাতে এমন ব্যুৎপত্তি লাভ করেছিলেন যে তিনি ইলমের এক বিশিষ্ট ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন, তাই তিনি যা গ্রহণ করেছিলেন তা বিলিয়ে দেওয়াও ছিল তাঁর জন্য আবশ্যক। ফলে তিনি যেসব দেশে ভ্রমণ করেছেন তার অধিকাংশতেই হাদিস শুনিয়েছেন এবং বহু মানুষ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকতিসাদু ফিল ইতিকাদি লিল মাকদিসি
(পৃষ্ঠা: ২২)
شيوخه
لقد كان الإكثار من الشيوخ سمة بارزة بين علماء السلف الصالح، فما من عالم له شأن إلا ونجد وراء نبوغه عدداً غير قليل من العلماء الذين تتلمذ على أيديهم، والحافظ عبد الغني المقدسي ممن أكثر من الشيوخ، حيث حرص على أن لا يفوته السماع من مشاهير عصره، ورحلاته التي سبق الحديث عنها، كانت وسيلة رئيسة في الاتصال بهم، وفيما يلي أورد أهم شيوخه في كل بلد رحل إليه، كما ذكرهم المنذري وهو من تلاميذه، وهو لذلك كان من أكثر الناس معرفة به، وهم:
1ـ أبو المكارم عبد الواحد بن محمد بن هلال.
2ـ أبو علي الحسن بن مكي بن جعفر الصوفي.
3ـ أبو المعالي عبد الله بن عبد الرحمن بن صابر.
أبو عبد الله محمد بن حمزة بن أبي جميل.
তাঁর শিক্ষকগণ
সলফে সালেহীন আলেমদের মাঝে অধিক সংখ্যক শিক্ষকের সান্নিধ্য লাভ করা একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য ছিল। এমন কোনো প্রথিতযশা আলেম নেই যার মেধা ও প্রজ্ঞার পেছনে এমন এক বিশাল সংখ্যক আলেমদের অবদান পাওয়া যাবে না যাদের নিকট তিনি শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছেন। হাফেজ আব্দুল গনি আল-মাকদিসি সেই সকল আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা প্রচুর শিক্ষকের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন। তিনি তাঁর সমসাময়িক যুগের প্রসিদ্ধ আলেমদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণের সুযোগ হাতছাড়া না করার ব্যাপারে অত্যন্ত সচেষ্ট ছিলেন। ইতিপূর্বে আলোচিত তাঁর সফরগুলো ছিল তাঁদের সাথে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। নিম্নে তাঁর সফর করা প্রতিটি দেশের উল্লেখযোগ্য শিক্ষকদের নাম উল্লেখ করা হলো, যেভাবে তাঁর ছাত্র আল-মুনযিরি তাঁদের বর্ণনা করেছেন; আর এই কারণেই তিনি তাঁর সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। তাঁরা হলেন:
১- আবু আল-মাকারিম আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মাদ বিন হিলাল।
২- আবু আলী আল-হাসান বিন মক্কি বিন জাফর আস-সুফি।
৩- আবু আল-মাআলি আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন সাবের।
আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন হামজা বিন আবি জামিল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকতিসাদু ফিল ইতিকাদি লিল মাকদিসি
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ومن هؤلاء وغيرهم كان سماعه بدمشق.
5ـ الخطيب أبو الفضل عبد الله بن أحمد الطوسي. وكان سماعه منه بالموصل.
6ـ أبو محمد عبد القادر بن أبي صالح الجيلي ـ شيخه في الفقه.
7ـ أبو طالب المبارك بن علي بن محمد بن خضير الصيرفي.
8ـ أبو الفضل المبارك بن المبارك بن صدقه السّمْسَار.
9ـ أبوالفتوح عبد القاهر بن محمد بن عبد الله بن الوكيل.
10ـ أبو بكر أحمد بن المُقَرَّب الكَرْخي.
11ـ أبو المعالي أحمد بن عبد الغني بن محمد الباجِسرائي.
12ـ أبو الحسن سعد الله بن نصر بن الدَّجَاجي.
13ـ الحافظ أبو أحمد معمر بن عبد الواحد بن الفاخر.
14ـ أبو الفتح محمد بن عبد الباقي بن سلمان.
15ـ أبو المظفر يحيى بن علي بن خطاب الخِيَميّ.
16ـ أبو بكر عبد الله بن محمد ابن النقور.
17ـ أبوالقاسم يحيى بن ثابت بن بُنْدار.
18ـ أبو زرعة طاهر بن محمد المقدسي.
أبو المكارم المبارك بن محمد بن المُعَمَّر البادرائي.
এদের থেকে এবং অন্যদের থেকে দামেস্কে তাঁর শ্রবণ (হাদিস গ্রহণ) সম্পন্ন হয়েছিল।
৫- আল-খতীব আবুল ফজল আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ আত-তুসী। এবং মুসুলে তাঁর নিকট থেকে তাঁর শ্রবণ সম্পন্ন হয়েছিল।
৬- আবু মুহাম্মদ আব্দুল কাদির ইবনে আবি সালিহ আল-জীলী — ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর শাইখ।
৭- আবু তালিব আল-মুবারক ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে খুদাইর আস-সাইরাফী।
৮- আবুল ফজল আল-মুবারক ইবনে আল-মুবারক ইবনে সাদাকা আস-সামসার।
৯- আবুল ফুতূহ আব্দুল কাহির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনুল ওয়াকীল।
১০- আবু বকর আহমদ ইবনুল মুকাররাব আল-কারখী।
১১- আবুল মা’আলী আহমদ ইবনে আব্দুল গনী ইবনে মুহাম্মদ আল-বাজিসরাঈ।
১২- আবুল হাসান সাদুল্লাহ ইবনে নাসর ইবনুদ দাজাজী।
১৩- আল-হাফিজ আবু আহমদ মুয়াম্মার ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনুল ফাখির।
১৪- আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকী ইবনে সালমান।
১৫- আবুল মুজাফফর ইয়াহইয়া ইবনে আলী ইবনে খাত্তাব আল-খিয়ামী।
১৬- আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুন নাকূর।
১৭- আবুল কাসিম ইয়াহইয়া ইবনে সাবিত ইবনে বুন্দার।
১৮- আবু জুরআ তাহির ইবনে মুহাম্মদ আল-মাকদিসী।
আবুল মাকারিম আল-মুবারক ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল মুয়াম্মার আল-বাদিরায়ী।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকতিসাদু ফিল ইতিকাদি লিল মাকদিসি
(পৃষ্ঠা: ২৪)
20ـ أبو الحسن علي بن المبارك بن الحسين الواسطي.
21ـ أبو محمد عبد الله بن أحمد بن أحمد ابن الخشّاب.
ومن هؤلاء وغيرهم سمع في بغداد.
22ـ أبو المحاسن عبد الرزاق بن إسماعيل.
23ـ أبو سعيد المُطَهَّر بن عبد الكريم.
24ـ أبو الفرج إسماعيل بن محمد بن إسماعيل القومساني.
ومن هؤلاء وغيرهم سمع في همذان.
25ـ أبو موسى محمد بن أبي بكر المَدِينِيّ.
26ـ أبو سعد محمد بن عبد الواحد بن عبد الوهاب الصائغ.
27ـ أبو الفتح عبد الله بن أحمد بن أبي الفتح الخِرَقي.
28ـ ابو العباس أحمد بن أبي منصور أحمد بن محمد بن يَنَال.
29ـ أبو رشيد حبيب بن إبراهيم بن عبد الله المقرئ.
30ـ ابو رشيد إسماعيل بن غانم بن خالد البيّع.
31ـ أبو غالب محمد بن محمد بن ناصر.
32ـ أبو القاسم عبد الله سفيان وأبو القاسم عليّ ابني أبي الفضل بن طاهر الخرقي.
أبو بكر بنيمان بن أبي الفوارس بن أبي الفتح السبّاك. وسمع
২০ـ আবুল হাসান আলী বিন আল-মুবারক বিন আল-হুসাইন আল-ওয়াসিতি।
২১ـ আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন আহমাদ ইবনুল খাশশাব।
এদের নিকট থেকে এবং অন্যদের নিকট থেকে তিনি বাগদাদে (হাদিস) শুনেছেন।
২২ـ আবু আল-মাহাসিন আবদুর রাজ্জাক বিন ইসমাইল।
২৩ـ আবু সাঈদ আল-মুতাহহার বিন আবদুল কারিম।
২৪ـ আবুল ফারাজ ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-কূমাসানি।
এদের নিকট থেকে এবং অন্যদের নিকট থেকে তিনি হামাদানে শুনেছেন।
২৫ـ আবু মুসা মুহাম্মদ বিন আবি বকর আল-মাদিনি।
২৬ـ আবু সা'দ মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহিদ বিন আবদুল ওয়াহহাব আস-সা-ইগ।
২৭ـ আবুল ফাতহ আবদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন আবিল ফাতহ আল-খিরাকি।
২৮ـ আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আবি মানসুর আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন ইয়ানাল।
২৯ـ আবু রাশিদ হাবিব বিন ইবরাহিম বিন আবদুল্লাহ আল-মুকরি।
৩০ـ আবু রাশিদ ইসমাইল বিন গানিম বিন খালিদ আল-বাইয়্যি।
৩১ـ আবু গালিব মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন নাসির।
৩২ـ আবুল কাসিম আবদুল্লাহ সুফিয়ান এবং আবুল কাসিম আলী—আবুল ফাদল বিন তাহির আল-খিরাকির দুই পুত্র।
আবু বকর বুনাইমান বিন আবিল ফাওয়ারিস বিন আবিল ফাতহ আস-সাব্বাক। এবং তিনি শুনেছেন
(খণ্ড: ১)
আল-ইকতিসাদু ফিল ইতিকাদি লিল মাকদিসি
(পৃষ্ঠা: ২৫)
من هؤلاء وسواهم في أصبهان.
34ـ العلامة أبو محمد عبد الله بن بَرّي.
35ـ أبو عبد الله محمد بن علي الَّرحْبي.
36ـ أبو الحسن علي بن هبة الله بن عبد الصمد الكاملي. وكان سماعه منهم في مصر. وسمع بالاسكندرية من
37ـ الحافظ أبي طاهر أحمد بن محمد الأصبهاني. وهو من أشهر مشايخه الذين أكثر عنهم.
38ـ وأبي محمد عبد الله بن عبد الرحمن العثماني.
39ـ وأبي القاسم عبد الرحمن بن خلف المقري.
40ـ وأبي الحسين يحيى بن أبي عبد الله محمد بن أحمد الرازي، وغيرهم 1.
هؤلاء هم بعض أبرز مشايخه، وهم كثر، ولم يدع أحد من المؤرخين أنه استوعب ذكر مشايخه في أي بلد من البلدان التي رحل
--------------------------------------------
এদের কাছ থেকে এবং ইসফাহানের অন্যদের কাছ থেকে।
৩৪- আল্লামা আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন বাররি।
৩৫- আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী আল-রাহবি।
৩৬- আবু হাসান আলী বিন হিবাতুল্লাহ বিন আবদুস সামাদ আল-কামিলি। মিসরে থাকাকালীন তিনি তাদের কাছ থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। আর আলেকজান্দ্রিয়ায় তিনি যাদের কাছ থেকে হাদিস শুনেছেন তারা হলেন:
৩৭- হাফেজ আবু তাহের আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-ইসফাহানি। তিনি তার সেই প্রসিদ্ধ শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত যাদের কাছ থেকে তিনি প্রচুর বর্ণনা করেছেন।
৩৮- এবং আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন আবদুর রহমান আল-উসমানি।
৩৯- এবং আবু কাসেম আবদুর রহমান বিন খালাফ আল-মুকরি।
৪০- এবং আবু হুসাইন ইয়াহইয়া বিন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ আর-রাজি এবং আরও অনেকে ১।
এরা হচ্ছেন তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু শিক্ষক, আর তাঁদের সংখ্যা অনেক। ঐতিহাসিকদের কেউই এমন দাবি করেননি যে, তিনি যেসকল দেশে ভ্রমণ করেছেন সেগুলোর শিক্ষকদের সকলের নাম উল্লেখ করতে সক্ষম হয়েছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকতিসাদু ফিল ইতিকাদি লিল মাকদিসি
(পৃষ্ঠা: ২৬)
إليها. إلا أن أكثر مشايخه كان في بغداد، ولعل السبب في ذلك أنها كانت عامرة بعدد كبير من جهابذة العلماء، فكانت تُعد بحق عاصمة العلم في ذلك العصر، إذ لم يجتمع من العلماء بذلك العدد الضخم، والشهرة الواسعة في أي بلد كما اجتمع فيها. والله أعلم.
সেখানে। তবে তাঁর অধিকাংশ উস্তাদ বাগদাদেই ছিলেন। সম্ভবত এর কারণ ছিল এই যে, শহরটি তখন বিপুল সংখ্যক প্রাজ্ঞ ও প্রথিতযশা আলেমদের দ্বারা সমৃদ্ধ ছিল। ফলে সেই যুগে শহরটি যথার্থই ইলমের রাজধানী হিসেবে গণ্য হতো। কেননা, সে সময় অন্য কোনো জনপদে এতো বিশাল সংখ্যক ও বিশ্ববিখ্যাত আলেমদের সমাগম ঘটেনি, যেমনটি বাগদাদে ঘটেছিল। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইকতিসাদু ফিল ইতিকাদি লিল মাকদিসি
(পৃষ্ঠা: ২৭)
تلاميذه
إن عالماً جليلاً مثل الإمام عبد الغني المقدسي بلغ مرتبة الحفاظ المتقنين لا بد أن يتطلع إليه طلاب العلم للتتلمذ على يديه والإفادة منه، ولا بد أن يكون نشر العلم أحد أهدافه السامية التي أراد تكريس حياته لها، إلا أنه انشغل في طلب العلم وجمعه، وحينما اتجه لنشره توفاه الله قبل أن يتم ما عزم عليه، ولذلك يقول عنه ابن خالته الإمام موفق الدين ابن قدامة المقدسي: " رزق العلم وتحصيل الكتب الكثيرة، إلا أنه لم يعمر حتى يبلغ غرضه في روايتها ونشرها "1 ومع ذلك حدث وعقد حلق العلم، وتتلمذ على يديه الكثير، ومن أشهرهم إبناه أبو موسى عبد الله بن عبد الغني المقدسي الملقب بجمال الدين الذي نال ثناء العلماء وإعجابهم 2، وأبو الفتح محمد بن عبد الغني الملقب بعزالدين.
--------------------------------------------
তাঁর ছাত্রগণ
ইমাম আব্দুল গনি আল-মাকদিসি’র মতো একজন মহান আলেম, যিনি পারদর্শী হাফেজদের স্তরে পৌঁছেছেন, জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থীরা অবশ্যই তাঁর নিকট ছাত্রত্ব গ্রহণ এবং তাঁর কাছ থেকে উপকৃত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা করবেন। আর জ্ঞান প্রচার করা তাঁর সেই মহৎ লক্ষ্যগুলোর মধ্যে অন্যতম হওয়া অনিবার্য ছিল যার জন্য তিনি তাঁর জীবন উৎসর্গ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি ইলম অর্জন ও তা সংগ্রহে ব্যস্ত ছিলেন। আর যখন তিনি তা প্রচারের দিকে মনোনিবেশ করলেন, তখন তাঁর সংকল্প পূর্ণ করার আগেই আল্লাহ তাঁর মৃত্যু দান করলেন। এজন্যই তাঁর খালাতো ভাই ইমাম মুওয়াফফাকুদ্দিন ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তাঁকে ইলম এবং প্রচুর কিতাব সংগ্রহের নেয়ামত দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেই কিতাবগুলো বর্ণনা ও প্রচারের ক্ষেত্রে তাঁর উদ্দেশ্য পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তিনি দীর্ঘজীবী হননি।" ১ তা সত্ত্বেও তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং ইলমি মজলিস পরিচালনা করেছেন এবং বহু লোক তাঁর নিকট ছাত্রত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলেন তাঁর দুই পুত্র: আবু মুসা আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল গনি আল-মাকদিসি, যাঁর উপাধি ছিল জামালুদ্দিন, যিনি ওলামায়ে কেরামের প্রশংসা ও শ্রদ্ধা অর্জন করেছিলেন ২ এবং আবু আল-ফাতহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল গনি, যাঁর উপাধি ছিল ইজ্জুদ্দিন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকতিসাদু ফিল ইতিকাদি লিল মাকদিসি
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وممن تتلمذ على يديه محمد بن الواحد بن أحمد المقدسي الجماعيلي الدمشقي الصالحي المعروف بالضياء المقدسي. الذي جمع سيرة الإمام عبد الغني في مجلدين، وابن خالته الإمام موفق الذين أبي محمد عبد الله بن أحمد بن قدامة المقدسي وكان من أقرانه.
ويوسف بن خليل بن قراجا عبد الله شمس الدين أبو الحجاج الدمشقي الأدمي. وعثمان بن مكي الشارعي، وعبد القادر الرهاوي ومحمد بن مهلهل الحسني، وهو آخر من سمع منه 1 وغيرهم.
ويذكر المنذري أنه حدث ببغداد، ودمشق، ومصر، ودمياط، والإسكندرية
… ولم يزل يَجمع ويَسْمع ويُسْمع، وذكر أنه ممن حضر عنده وسمع منه 2، وإذا كان رحمه الله قد حدّث في جميع هذه البلدان، وهو بالمكانة التي لا تخفى على أحد، فلنا أن نتصور العدد الهائل من طلاب العلم الذين سمعوا منه وتتلمذوا على يديه، إلا إن كتب التاريخ لم تسعفنا عنهم إلا بأمثلة قليلة ذكرت
--------------------------------------------
তাঁর নিকট যারা শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন মুহাম্মদ বিন আল-ওয়াহিদ বিন আহমদ আল-মাকদিসি আল-জামাঈলি আদ-দিমাশকি আস-সালিহি, যিনি জিয়া আল-মাকদিসি নামে পরিচিত। তিনি ইমাম আব্দুল গনির জীবনী দুই খণ্ডে সংকলন করেছেন। আরও রয়েছেন তাঁর খালাতো ভাই ইমাম মুওয়াফফাকুদ্দিন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন কুদামা আল-মাকদিসি, যিনি তাঁর সমসাময়িকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
এবং ইউসুফ বিন খলিল বিন কারাজা আব্দুল্লাহ শামসুদ্দিন আবুল হাজ্জাজ আদ-দিমাশকি আল-আদামি, উসমান বিন মক্কি আশ-শারিঈ, আব্দুল কাদির আর-রাহাউয়ি এবং মুহাম্মদ বিন মুহালহিল আল-হাসানি; তিনি ছিলেন সর্বশেষ ব্যক্তি যিনি তাঁর থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন ১ এবং আরও অনেকে।
আল-মুনযিরি উল্লেখ করেন যে, তিনি বাগদাদ, দামেস্ক, মিশর, দিমইয়াত এবং আলেকজান্দ্রিয়াতে হাদিস বর্ণনা করেছেন
... তিনি সর্বদা ইলম সংগ্রহ করতেন, শ্রবণ করতেন এবং অন্যকে শ্রবণ করাতেন। তিনি (মুনযিরি) উল্লেখ করেছেন যে, তিনিও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে হাদিস শ্রবণ করেছেন ২। যেহেতু তিনি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—এই সমস্ত জনপদে হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এমন এক সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী যা কারো নিকট অস্পষ্ট নয়, তাই আমরা সেই বিশাল সংখ্যক ইলম অন্বেষণকারীর কথা কল্পনা করতে পারি যারা তাঁর নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তবে ইতিহাসের গ্রন্থসমূহ আমাদের নিকট তাঁদের সামান্য কিছু উদাহরণই সংরক্ষণ করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকতিসাদু ফিল ইতিকাদি লিল মাকদিসি
(পৃষ্ঠা: ২৯)
بعضاً منها.
وكان رحمه الله ذا عناية بتلاميذه، يكرمهم، ويحسن إليهم، ويتعهد النابهين منهم ويرشدهم إلى الرحلة من أجل الطلب، بل ويحملهم عليها ويعينهم على أعبائها 1؛ لأنه رحمه الله يرى فيها أنجح السبل لتحصيل العلم، من واقع تجربته التي عاشها، وكابدها.
--------------------------------------------
সেগুলোর কিছু অংশ।
তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর ছাত্রদের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন; তিনি তাদের সম্মান করতেন, তাদের প্রতি ইহসান (সদাচরণ) করতেন এবং তাদের মধ্যকার মেধাবীদের বিশেষ তত্ত্বাবধান করতেন। তিনি তাদের ইলম অন্বেষণের উদ্দেশ্যে সফরের দিকনির্দেশনা প্রদান করতেন, এমনকি তাদের সেই সফরে উদ্বুদ্ধ করতেন এবং এর ভার বহনে সহায়তা করতেন ১; কেননা তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) নিজের জীবনলব্ধ ও কষ্টসাধ্য অভিজ্ঞতার আলোকে জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে সফর করাকেই সবচেয়ে সফল মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকতিসাদু ফিল ইতিকাদি লিল মাকদিসি
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ثقافته وثناء العلماء عليه
كان الإمام المقدسي شغوفاً بالحديث وعلومه، فقد قضى جل طلبه في هذا الميدان حتى برز فيه، وفاق مشايخه وأقرانه، وأصبح من جهابذته وأعلامه، وإنتاجه العلمي في هذا الفن تميز بالجودة والدقة والإتقان، فكتابه الشهير الضخم في الرجال المعروف بـ ((الكمال)) والكتاب الذي ألفه مستدركاً فيه بعض الأوهام التي وقع فيها الحافظ أبو نعيم الأصبهاني في كتابه ((معرفة الصحابة)) يدلان على نبوغ وبراعة وإتقان، فعمله في كتاب ((تبيين الإصابة)) كان عملاً جسوراً هابه جهابذة سواه، فهذا شيخه أبو موسى محمد بن أبي بكر المديني تمنى أن يقوم بهذا العمل فلم يجسر عليه كما ذكر الضياء المقدسي حين قال:
… فكان الحافظ أبو موسى يشتهي أن يأخذ على أبي نعيم في كتابه الذي في الصحابة فلم يجسر، فلما قدم الحافظ عبد الغني أشار إليه بذلك، قال: فأخذ على أبي نعيم نحواً من مئتين وتسعين موضعاً 1.
--------------------------------------------
তাঁর জ্ঞান-গরিমা এবং তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা
ইমাম মাকদিসী হাদিস এবং এর জ্ঞানসমূহের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন। তিনি তাঁর জ্ঞান অন্বেষণের সিংহভাগ সময় এই ময়দানেই ব্যয় করেন, ফলে তিনি এতে অনন্য হয়ে ওঠেন এবং তাঁর শিক্ষক ও সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে যান। তিনি এই শাস্ত্রের প্রথিতযশা পণ্ডিত ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের অন্তর্ভুক্ত হন। এই শিল্পে তাঁর ইলমি অবদান গুণগত মান, সূক্ষ্মতা এবং নিখুঁত কর্মের দ্বারা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। রাবী বা বর্ণনাকারীদের বিষয়ে রচিত তাঁর সুবিখ্যাত ও সুবিশাল গ্রন্থ 'আল-কামাল' এবং হাফেজ আবু নুআইম আল-আসফাহানী তাঁর 'মা'রিফাতুস সাহাবা' গ্রন্থে যেসব ভ্রান্তিতে পড়েছিলেন, তা সংশোধন করে তিনি যে কিতাবটি রচনা করেছেন, তা তাঁর মেধা, নিপুণতা এবং পাণ্ডিত্যের প্রমাণ দেয়। 'তাবয়ীনুল ইসাবাহ' নামক গ্রন্থে তাঁর কাজ ছিল অত্যন্ত সাহসিকতাপূর্ণ, যা অন্য বড় বড় পণ্ডিতরাও করতে ভয় পেতেন। এমনকি তাঁর শিক্ষক আবু মুসা মুহাম্মদ বিন আবু বকর আল-মাদীনী এই কাজটি করার আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন, কিন্তু তা করার সাহস পাননি; যেমনটি যিয়া আল-মাকদিসী উল্লেখ করেছেন যখন তিনি বলেছিলেন:
... হাফেজ আবু মুসা আকাঙ্ক্ষা করতেন যে তিনি সাহাবীদের বিষয়ে লেখা আবু নুআইমের কিতাবটির ভুলগুলো ধরবেন, কিন্তু তিনি সাহস করেননি। যখন হাফেজ আব্দুল গনী আসলেন, তিনি তাঁকে সেই কাজের প্রতি ইঙ্গিত করলেন। তিনি বলেন: ফলে তিনি আবু নুআইমের কিতাব থেকে প্রায় দুইশত নব্বইটি স্থান (ভুল হিসেবে) চিহ্নিত করলেন। ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকতিসাদু ফিল ইতিকাদি লিল মাকদিসি
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ووصف الذهبي عمله فيه بأنه يدل على براعته وحفظه1.
وللحافظ عبد الغني اهتمامات علمية أخرى، وإن كان اشتهر عنه نبوغه في الحديث بحيث لا يعرف عنه إلا أنه محدث نحرير لا يشق له غبار، فقد درس الفقه والخلاف وأخذ منه بنصيب وافر حتى أصبح فيه متكلماً، وفي مسائله مناظراً، وكان أبرز شيوخه في هذا الفن هو وابن خالته الإمام موفق الدين ابن قدامة الشيخ نصر بن فتيان المشهور بابن المنى، والشيخ عبد القادر الجيلي في بغداد، وكان عالماً في عقيدة السلف متمكناً فيها واسع الدراية بها، وكان ذا دراية بالمذاهب المخالفة، وكتابه هذا أكبر شاهد على معرفته بعقيدة السلف وتضلعه في مسائلها، وإحاطته بالمذاهب الأخرى.
وله مؤلفات أخرى تدل على تمكنه في هذا العلم العظيم، مثل كتاب التوحيد، وكتاب الصفات، وغيرها.
كما أن تأليفه في مشكل الحديث يدل على أنه عالم لغوي متمكن حيث ألف في ذلك كتابه ((غنية الحفاظ في تحقيق مشكل
--------------------------------------------
ইমাম আয-যাহাবী এই বিষয়ে তাঁর কর্মকে তাঁর দক্ষতা ও হিফজ বা স্মরণশক্তির প্রমাণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন১।
হাফেজ আবদুল গনির অন্যান্য ইলমি বা জ্ঞানতাত্ত্বিক বিষয়ের প্রতিও আগ্রহ ছিল, যদিও তিনি হাদিস শাস্ত্রে তাঁর মেধার জন্য প্রসিদ্ধ ছিলেন, এমনকি তাঁকে একজন এমন দক্ষ ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী হাদিস বিশারদ হিসেবেই জানা যেত যার সমকক্ষ কেউ ছিল না। তিনি ফিকহ এবং ইখতিলাফ (মতামতের ভিন্নতা) অধ্যয়ন করেছিলেন এবং তা থেকে পর্যাপ্ত জ্ঞান আহরণ করেছিলেন, এমনকি তিনি এই বিষয়ে একজন প্রাজ্ঞ বক্তা এবং এর মাসয়ালাসমূহে একজন বিতার্কিকে পরিণত হয়েছিলেন। এই শাস্ত্রে তাঁর এবং তাঁর খালাতো ভাই ইমাম মুওয়াফফাকুদ্দিন ইবনে কুদামার প্রধান শায়খ বা শিক্ষক ছিলেন শায়খ নাসর বিন ফিতইয়ান, যিনি ইবনুল মুন্নী নামে প্রসিদ্ধ ছিলেন, এবং বাগদাদের শায়খ আবদুল কাদির জিলানী। তিনি সালাফদের আকিদা বা বিশ্বাস সম্পর্কে একজন পারদর্শী আলেম এবং এতে ব্যাপক প্রজ্ঞার অধিকারী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি বিরোধী মাযহাবসমূহ সম্পর্কেও অবগত ছিলেন। তাঁর এই বইটি সালাফদের আকিদা সম্পর্কে তাঁর গভীর জ্ঞান, এর মাসয়ালাসমূহে তাঁর পূর্ণ দক্ষতা এবং অন্যান্য মাযহাব সম্পর্কে তাঁর সম্যক পরিজ্ঞাত হওয়ার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
এই মহান ইলম বা শাস্ত্রে তাঁর পারদর্শিতার প্রমাণ হিসেবে তাঁর আরও কিছু রচনা রয়েছে, যেমন কিতাবুত তাওহিদ, কিতাবুস সিফাত এবং অন্যান্য।
তদুপরি, মুশকিলুল হাদিস (হাদিসের জটিল বিষয়াবলি) বিষয়ে তাঁর রচনা প্রমাণ করে যে তিনি একজন দক্ষ ভাষাবিদ আলেম ছিলেন, যেখানে তিনি এই বিষয়ে তাঁর গ্রন্থ ‘গুনইয়াতুল হাফাজ ফি তাহকিকি মুশকিল...’ রচনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকতিসাদু ফিল ইতিকাদি লিল মাকদিসি
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الألفاظ)) وإن كنت لم أطلع عليه إلا أن عنوانه يدل على أنه في علم الغريب الذي لا يؤلف فيه عادة إلا من كان له من علم العربية نصيب.
أما مكانته بين العلماء وثناؤهم عليه فكان مداره على ما اشتهر به وتبحر فيه، ألا وهو علم الحديث ورجاله، إذ أنه ـ يرحمه الله ـ أولاه العناية الكبرى حتى أصبح إماماً فيه، وجهبذاً من أبرز جهابذته، وعلماً من أعلامه ومشاهيره. ولذلك وصفه الحافظ الضياء بقوله: كان الحافظ عبد الغني أمير المؤمنين في الحديث 1.
ووصفه ابن النجار بقوله: كان غزير الحفظ، من أهل الحفظ والإتقان والتجويد، قيّماً بجميع فنون الحديث، عارفاً بقوانينه وأصوله، وعلله، وصحيحه وسقيمه، وناسخه ومنسوخه، وغريبه، ومشكله، وفقهه، ومعانيه، وضبط أسماء رواته، ومعرفة أحوالهم 2.
--------------------------------------------
(আল-আলফাজ)) যদিও আমি কিতাবটি দেখার সুযোগ পাইনি, তবুও এর শিরোনাম একথাই নির্দেশ করে যে, এটি ‘ইলমুল গারিব’ (দুর্লভ শব্দতত্ত্ব) বিষয়ক গ্রন্থ, যাতে সাধারণত কেবল ওই ব্যক্তিই রচনা করার সামর্থ্য রাখেন যার আরবি ভাষার ওপর গভীর পাণ্ডিত্য রয়েছে।
আলেমদের নিকট তাঁর অবস্থান এবং তাঁর সম্পর্কে তাঁদের উচ্চ প্রশংসা সেই বিষয়ের ওপরই আবর্তিত হয়েছে যেটিতে তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন এবং গভীর বুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন; আর তা হলো ইলমে হাদিস ও রিজাল শাস্ত্র (বর্ণনাকারীদের পরিচয়)। কেননা তিনি—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—এই শাস্ত্রের প্রতি সর্বোচ্চ মনোযোগ দিয়েছিলেন, যার ফলে তিনি এই শাস্ত্রে একজন ইমাম, এর অন্যতম প্রধান বিশেষজ্ঞ এবং এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ও জগৎবিখ্যাত ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন। আর একারণেই হাফেজ আদ-দিয়া তাঁকে বর্ণনা করে বলেছেন: হাফেজ আব্দুল গনি ছিলেন হাদিস শাস্ত্রে আমিরুল মুমিনীন।
ইবনুন নাজ্জার তাঁকে বর্ণনা করে বলেন: তিনি ছিলেন প্রখর স্মৃতিশক্তির অধিকারী, হিফজ (স্মৃতি), ইত্বকান (দৃঢ়তা) ও তাজউইদ (নিখুঁত করার) গুণের অধিকারী এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। তিনি হাদিসের সকল শাখায় পারদর্শী ছিলেন এবং এর নিয়মাবলী, মূলনীতি, ‘ইলল’ (সূক্ষ্ম ত্রুটি), সহিহ ও জয়িফ (সবল ও দুর্বল), নাসিখ ও মানসুখ (রহিতকারী ও রহিত), গারিব (দুর্লভ শব্দ), মুশকিল (জটিল বিষয়), ফিকহ এবং এর অর্থসমূহ সম্পর্কে গভীর প্রজ্ঞার অধিকারী ছিলেন। সেই সাথে তিনি বর্ণনাকারীদের নামের সঠিক উচ্চারণ ও তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইকতিসাদু ফিল ইতিকাদি লিল মাকদিসি
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
ووصفه الحافظ ابن كثير قارناً بينه وبين شيخه المزي حيث قال: لقد كانا نادرين في زمانهما في أسماء الرجال، حفظاً وإنقاناً، وسماعاً وإسماعاً وسرداً للمتون وأسماء الرجال 1.
وقد دون شيخه أبو موسى المديني ثناءه على الحافظ على كتاب ((تبيين الإصابة)) حيث قال: قَلَّ من قدم علينا يفهم هذا الشأن كفهم الشيخ الإمام ضياء الدين أبي محمد عبد الغني المقدسي، وقد وفق لتبيين هذه الغَلَطات، ولو كان الدارقطني وأمثاله في الأحياء لصوبوا فعله، وقَلّ من يفهم في زماننا ما فهم. 2
وقال عنه الضياء: كان شيخنا الحافظ لا يكاد يُسأل عن حديث إلا ذكره وبيَّنه وذكر صحته أو سقمه، ولا يُسأل عن رجل إلا قال: هو فلان بن فلان الفلاني ويذكر نسبه 3.
هذا قليل من كثير قيل بحق هذا الجهبذ الفذ، فقد نال إعجاب العلماء في عصره وفي كل عصر جاء بعده إلى يومنا هذا، وكتبه تعد مرجعاً أميناً وكنزاً ثميناً من كنوز هذا العلم العظيم.
--------------------------------------------
হাফেজ ইবনু কাসীর তাঁর সম্পর্কে তাঁর উস্তাদ আল-মিজ্জির সাথে তুলনা করে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন: তারা উভয়ই আসমাউর রিজাল (বর্ণনাকারীদের জীবনী), মুখস্থকরণ, নির্ভুলতা, শ্রবণ, বর্ণনা এবং মতন (মূল পাঠ) ও আসমাউর রিজাল পাঠের ক্ষেত্রে তাঁদের সময়ে অনন্য ছিলেন। ১।
তাঁর উস্তাদ আবু মুসা আল-মাদীনী 'তাবয়ীনুল ইসাবাহ' কিতাবে হাফেজের প্রতি তাঁর প্রশংসা লিপিবদ্ধ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে আগতদের মধ্যে শাইখ আল-ইমাম যিয়াউদ্দীন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল গণী আল-মাকদিসীর মতো এই শাস্ত্র বুঝতে সক্ষম এমন লোক খুব কমই এসেছে। তিনি এই ভুলগুলো স্পষ্ট করার তাওফীক পেয়েছেন। ইমাম আদ-দারা কুতনী এবং তাঁর সমসাময়িকরা যদি জীবিত থাকতেন, তবে তাঁরা অবশ্যই তাঁর কর্মকে সঠিক বলে সত্যায়ন করতেন। আমাদের সময়ে তিনি যা বুঝেছেন, তা বোঝার মতো লোক খুব কমই আছে। ২
আদ-দিয়া তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: আমাদের উস্তাদ হাফেজকে কোনো হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলেই তিনি তা উল্লেখ করতেন, বিশ্লেষণ করতেন এবং তার বিশুদ্ধতা বা দুর্বলতা বর্ণনা করতেন। আর কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলেই তিনি বলতেন: তিনি অমুকের পুত্র অমুক, এবং তাঁর বংশপরিচয় উল্লেখ করতেন। ৩।
এই অনন্য প্রতিভাধর মনীষীর ব্যাপারে যা বলা হয়েছে এটি তার অতি সামান্য অংশ মাত্র। তিনি তাঁর সমসাময়িক এবং পরবর্তী সকল যুগের আলিমদের প্রশংসা অর্জন করেছেন যা আজ পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে। তাঁর গ্রন্থসমূহ এই মহান ইলমের ভাণ্ডারে একটি নির্ভরযোগ্য উৎস এবং অমূল্য রত্ন হিসেবে গণ্য হয়।
--------------------------------------------