(খণ্ড: ১) আল-আইয়াদু ওয়া আসারুহা আলাল মুসলিমিন (পৃষ্ঠা: -)
الأعياد وأثرها على المسلمين   (سليمان بن سالم السحيمي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: الأعياد وأثرها على المسلمين

المؤلف: سليمان بن سالم السحيمي

الناشر: عمادة البحث العلمي بالجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الثانية، 1424هـ/2003م

عدد الصفحات: 538

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

উৎসবসমূহ এবং মুসলমানদের ওপর এর প্রভাব   (সুলাইমান বিন সালিম আস-সুহাইমি)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


বই: উৎসবসমূহ এবং মুসলমানদের ওপর এর প্রভাব

লেখক: সুলাইমান বিন সালিম আস-সুহাইমি

প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা ডিনশিপ, মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়، সৌদি আরব রাজ্য

সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪২৪ হিজরি/২০০৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৩৮

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-আইয়াদু ওয়া আসারুহা আলাল মুসলিমিন (পৃষ্ঠা: ৭)
ال‌‌مقدمة

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} 1.

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} 2.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} 3.

أما بعد: فإن خير الحديث كتاب الله وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم وشر الأمور محدثاتها وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة 4.

--------------------------------------------

1 سورة آل عمران، آية (102) .

2 سورة النساء، آية (1) .

3 سورة الأحزاب، آية (70-71) .

4 هذه الخطبة تسمى خطبة الحاجة، وهي تشرع بين يدي كل حاجة. انظر سنن أبي داود (2/238) ، حديث (2118) ، والنسائي (3/104) ، حديث (1404) ، ومسند الإمام أحمد (1/392) ، حديث (3720) ، وسنن الدارمي (2/191) ، حديث (2202) ، والسنن الكبرى للبيهقي (3/214) ، حديث (5593) والمستدرك للحاكم (2/199) . وقد أفردها العلامة الألباني رحمه الله برسالة خاصة جمع الأحاديث الواردة فيها وطرقها فلتراجع.
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছেই সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং তোমরা মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না।} ১।

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় হতে বহু নর ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে আবেদন করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} ২।

{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করল।} ৩।

অত:পর: নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশনা হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পথনির্দেশনা। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআত হলো গোমরাহি (পথভ্রষ্টতা)। ৪।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-ইমরান, আয়াত (১০২)।

২ সূরা আন-নিসা, আয়াত (১)।

৩ সূরা আল-আহযাব, আয়াত (৭০-৭১)।

৪ এই খুতবাটিকে খুতবাতুল হাজাহ বলা হয়, যা প্রতিটি প্রয়োজনীয় কাজের শুরুতে পাঠ করা শরীয়তসম্মত। দেখুন: সুনান আবু দাউদ (২/২৩৮), হাদিস (২১১৮); আন-নাসাঈ (৩/১০৪), হাদিস (১৪০৪); মুসনাদে ইমাম আহমাদ (১/৩৯২), হাদিস (৩৭২০); সুনান আদ-দারিমি (২/১৯১), হাদিস (২২০২); আল-বায়হাক্বী রচিত আল-সুনান আল-কুবরা (৩/২১৪), হাদিস (৫৫৯৩) এবং আল-হাকিম রচিত আল-মুস্তাদরাক (২/১৯৯)। আল্লামা আলবানী (রহিমাহুল্লাহ) এটিকে একটি স্বতন্ত্র রিসালায় সংকলন করেছেন যেখানে তিনি এর সকল হাদিস ও সূত্রসমূহ একত্রিত করেছেন, সুতরাং তা দেখে নেওয়া যেতে পারে।
(খণ্ড: ১) আল-আইয়াদু ওয়া আসারুহা আলাল মুসলিমিন (পৃষ্ঠা: ৮)
منهجي في البحث:

قد سرت في هذا البحث على المنهج التالي:

1 - بينت أشهر أعياد الكفار من اليهود والنصارى والمجوس والعرب في الجاهلية، لما لها من تأثير في الأعياد البدعية.

2 - بينت أن النهي عن مشابهة الكفار من مقاصد الشريعة وأوردت نماذج لأهم الأعياد التي وقعت فيها المشابهة.

3 - بينت الأعياد الشرعية الزمانية والمكانية وما اشتملت عليه من خصال.

4 بينت أشهر الأعياد المبتدعة، وذلك بذكر صفة الاحتفال بالعيد، ودليل من قال به من خلال كتب القوم بقدر المستطاع، ثم بينت بدعية ذلك العيد.

5 - قمت بعزو الآيات القرآنية الواردة في الرسالة إلى مواضعها من القرآن بذكر السورة ورقم الآية.

6 - قمت بتخريج الأحاديث النبوية، وذلك بذكر الكتاب والباب والجزء ورقم الصفحة ورقم الحديث إن وجد، ناقلاً حكم العلماء عليها إذا وجدته، إلا إذا كان الحديث في الصحيحين أو في أحدهما فأكتفي بعزوه فقط.

7 - اجتهدت في تفسير الكلمات الغريبة التي مرّت في البحث، وذلك بالرجوع إلى الكتب التي تعنى بذلك.
আমার গবেষণার পদ্ধতি:

আমি এই গবেষণায় নিমোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:

১ - আমি ইয়াহুদি, খ্রিষ্টান, মাজুসি এবং জাহিলি যুগের আরব কাফিরদের প্রসিদ্ধ উৎসবগুলো বর্ণনা করেছি, কারণ বিদআতি উৎসবসমূহের উপর এগুলোর প্রভাব রয়েছে।

২ - আমি স্পষ্ট করেছি যে, কাফিরদের সাদৃশ্য অবলম্বন করার নিষেধাজ্ঞা শরিয়তের অন্যতম উদ্দেশ্য এবং আমি এমন গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলোর নমুনা তুলে ধরেছি যেগুলোতে এই সাদৃশ্য সংঘটিত হয়েছে।

৩ - আমি শরিয়তসম্মত সময় ও স্থানভিত্তিক উৎসবসমূহ এবং সেগুলো যেসব বৈশিষ্ট্যাবলি অন্তর্ভুক্ত করে তা বর্ণনা করেছি।

৪ - আমি প্রসিদ্ধ বিদআতি উৎসবগুলো বর্ণনা করেছি; এক্ষেত্রে উৎসব পালনের পদ্ধতি এবং যথাসম্ভব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কিতাবসমূহ হতে তাদের স্বপক্ষে উপস্থাপিত দলিল উল্লেখ করেছি, এরপর উক্ত উৎসবের বিদআতি হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করেছি।

৫ - আমি এই গবেষণাপত্রে উল্লিখিত কুরআনের আয়াতসমূহকে সূরা ও আয়াত নম্বর উল্লেখ করার মাধ্যমে কুরআনে তাদের নিজ নিজ স্থানের সাথে সম্পৃক্ত করেছি।

৬ - আমি হাদিসসমূহের তাখরিজ (উৎস নির্দেশ) করেছি; এক্ষেত্রে কিতাব, অধ্যায়, খণ্ড, পৃষ্ঠা নম্বর এবং হাদিস নম্বর (যদি থাকে) উল্লেখ করেছি এবং আলেমদের কোনো হুকুম বা মন্তব্য পেয়ে থাকলে তা উদ্ধৃত করেছি। তবে হাদিসটি যদি সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) অথবা এই দুটির কোনো একটিতে থাকে, তবে আমি শুধু সেটির উৎস নির্দেশের ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছি।

৭ - গবেষণায় আসা অপরিচিত বা কঠিন শব্দাবলির ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে আমি সংশ্লিষ্ট কিতাবসমূহের সাহায্য নিয়ে যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-আইয়াদু ওয়া আসারুহা আলাল মুসলিমিন (পৃষ্ঠা: ৯)
8 - قمت بالترجمة لبعض الأعلام غير المشهورين الوارد ذكرهم في الرسالة ما أمكن ذلك وخاصة من استشهدت بقوله.

9 - اختصرت بعض أسماء الكتب بذكر اسمها المشهور المتداول، فمثلاً: جامع البيان عن تأويل القرآن للطبري، اكتفيت بتسميته "بتفسير الطبري".

10 - أنهيت البحث بخاتمة سجلت فيها أهمّ النتائج التي توصلت إليها.

11 - عملت فهارس في آخر البحث فهرساً للآيات، وفهرساً للأحاديث، وفهرساً للآثار، وفهرساً للأعلام المترجم لهم، وفهرساً لمصادر البحث، وفهرساً تفصيلي للموضوعات.

وقد سرت في تطبيق هذا المنهج على الخطة التالية: فقسمت البحث إلى مقدمة، وتمهيد، وأربعة أبواب، وخاتمة.

ذكرت في المقدمة: سبب اختياري للموضوع ومنهجي في البحث والخطة التي سرت عليها في كتابته.

وأما التمهيد فهو في تعريف العيد: في اللغة والاصطلاح.

الباب الأول: أعياد الكفار والعرب في الجاهلية، ويشتمل على أربعة فصول:

الفصل الأول: أعياد اليهود وعاداتهم فيها.

الفصل الثاني: أعياد النصارى وعاداتهم فيها.

الفصل الثالث: أعياد المجوس وعاداتهم فيها.
৮ - আমি এই গবেষণাপত্রে উল্লিখিত কিছু স্বল্প পরিচিত মনীষীদের জীবনী সাধ্যমতো বর্ণনা করেছি, বিশেষ করে যাদের বক্তব্য আমি উদ্ধৃত করেছি।

৯ - আমি কিছু কিতাবের নাম সংক্ষেপ করার জন্য সেগুলোর বহুল প্রচলিত নাম উল্লেখ করেছি। উদাহরণস্বরূপ: তাবারীর 'জামিঊল বায়ান আন তাবীলিল কুরআন'-এর ক্ষেত্রে আমি কেবল 'তাফসীরে তাবারী' নামেই সীমাবদ্ধ থেকেছি।

১০ - আমি একটি উপসংহারের মাধ্যমে গবেষণাটি সমাপ্ত করেছি, যেখানে আমার প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলো লিপিবদ্ধ করেছি।

১১ - আমি গবেষণার শেষে বিভিন্ন সূচিপত্র যুক্ত করেছি—আয়াতের সূচিপত্র, হাদীসের সূচিপত্র, আসার (সাহাবী ও তাবেয়ীদের বাণী)-এর সূচিপত্র, যাদের জীবনী অনুবাদ করা হয়েছে তাদের সূচিপত্র, গবেষণার উৎসসমূহের সূচিপত্র এবং বিষয়বস্তুর বিস্তারিত সূচিপত্র।

এই পদ্ধতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে আমি নিম্নোক্ত পরিকল্পনা অনুসরণ করেছি: আমি গবেষণাপত্রটিকে ভূমিকা, প্রারম্ভিকা, চারটি অধ্যায় এবং উপসংহারে বিভক্ত করেছি।

ভূমিকায় আমি উল্লেখ করেছি: বিষয়টি নির্বাচনের কারণ, আমার গবেষণা পদ্ধতি এবং এটি রচনার ক্ষেত্রে আমি যে পরিকল্পনা অনুসরণ করেছি।

আর প্রারম্ভিকাটি হলো ঈদের সংজ্ঞা সম্পর্কে: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে।

প্রথম অধ্যায়: জাহেলী যুগে কাফের ও আরবদের উৎসবসমূহ; এটি চারটি পরিচ্ছেদ সংবলিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইহুদিদের উৎসব এবং তাতে তাদের রীতিনীতি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: খ্রিস্টানদের উৎসব এবং তাতে তাদের রীতিনীতি।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: অগ্নিপূজকদের উৎসব এবং তাতে তাদের রীতিনীতি।
(খণ্ড: ১) আল-আইয়াদু ওয়া আসারুহা আলাল মুসলিমিন (পৃষ্ঠা: ১০)
الفصل الرابع: أعياد العرب في الجاهلية وعاداتهم فيها، ويشتمل على ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: الدين السائد عند العرب في الجاهلية.

المبحث الثاني: الأعياد المكانية عند العرب في الجاهلية.

المبحث الثالث: الأعياد الزمانية عند العرب في الجاهلية.

الباب الثاني: مشروعية مخالفة الكفار، وفيه فصلان:

الفصل الأول: النهي عن مشابهة الكفار، ويشتمل على أربعة مباحث:

المبحث الأول: تعريف التشبه في اللغة والاصطلاح.

المبحث الثاني: أدلة تحريم التشبه بالكفار.

المبحث الثالث: إخباره صلى الله عليه وسلم بوقوع المشابهة في أمته.

المبحث الرابع: أثر مشابهة الكفار.

الفصل الثاني: مشابهة الكفار في أعيادهم، ويشتمل على ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: الأدلة على تحريم مشابهة الكفار في أعيادهم

المبحث الثاني: أمثلة لوقوع مشابهة الكفار في أعيادهم.

المبحث الثالث: أثر مشابهة الكفار في أعيادهم.

الباب الثالث: الأعياد الشرعية وآثارها الحميدة، وفيه فصلان:

الفصل الأول: تحديد الأعياد الشرعية، ويشتمل على مبحثين:
চতুর্থ অধ্যায়: জাহেলিয়াত যুগে আরবদের উৎসবসমূহ এবং এ ক্ষেত্রে তাদের রীতিনীতি, এটি তিনটি পরিচ্ছেদ সংবলিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: জাহেলিয়াত যুগে আরবদের মধ্যে প্রচলিত ধর্ম।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: জাহেলিয়াত যুগে আরবদের স্থানকেন্দ্রিক উৎসবসমূহ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: জাহেলিয়াত যুগে আরবদের সময়কেন্দ্রিক উৎসবসমূহ।

দ্বিতীয় খণ্ড: কাফেরদের বিরোধিতা করার বিধান, এতে দুইটি অধ্যায় রয়েছে:

প্রথম অধ্যায়: কাফেরদের সাদৃশ্য অবলম্বন করার নিষেধাজ্ঞা, এটি চারটি পরিচ্ছেদ সংবলিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে সাদৃশ্যের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কাফেরদের সাদৃশ্য অবলম্বনের হারামের দলিলসমূহ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: উম্মতের মধ্যে সাদৃশ্য ঘটার ব্যাপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সংবাদ প্রদান।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: কাফেরদের সাদৃশ্য অবলম্বনের প্রভাব।

দ্বিতীয় অধ্যায়: উৎসবের ক্ষেত্রে কাফেরদের সাদৃশ্য অবলম্বন, এটি তিনটি পরিচ্ছেদ সংবলিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: উৎসবের ক্ষেত্রে কাফেরদের সাদৃশ্য অবলম্বন হারাম হওয়ার দলিলসমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: উৎসবের ক্ষেত্রে কাফেরদের সাদৃশ্য অবলম্বনের কিছু দৃষ্টান্ত।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: উৎসবের ক্ষেত্রে কাফেরদের সাদৃশ্য অবলম্বনের প্রভাব।

তৃতীয় খণ্ড: শরয়ি উৎসবসমূহ এবং এর কল্যাণকর প্রভাব, এতে দুইটি অধ্যায় রয়েছে:

প্রথম অধ্যায়: শরয়ি উৎসবসমূহ নির্ধারণ, এটি দুইটি পরিচ্ছেদ সংবলিত:
(খণ্ড: ১) আল-আইয়াদু ওয়া আসারুহা আলাল মুসলিমিন (পৃষ্ঠা: ১১)
ولقد بعث الله رسوله محمداً صلى الله عليه وسلم على حين فترة من الرسل، وفي جاهلية لا تعرف من الحق رسماً، ولا تقيم به في مقاطع الحقوق حكماً، بل كانوا ينتحلون ما تهواه نفوسهم، وما تزينه لهم شياطينهم، وما وجدوا عليه آباءهم، فجاهدهم وجاد لهم باللين والحكمة، وقارعهم بالسنان والحجة، لمن كابر وعاند، فدعا إلى التوحيد وإخلاص العبادة ونبذ الشرك تحقيقاً لقوله تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْأِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} 1.

فكان نصر الله حليفه، فاستقام أمره، وانتصر على عدو الله وظهر دينه ودخل الناس في دين الله أفواجاً.

ولم ينتقل صلى الله عليه وسلم إلى الرفيق الأعلى إلا بعد أن أكمل الله لهذه الأمة الدين وأتمّ عليها النعمة ورضي لها الإسلام ديناً. قال تعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْأِسْلامَ دِيناً} 2.

وقد أمرنا أن نطيع رسول الله صلى الله عليه وسلم. فقال عز وجل: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ} 3.

--------------------------------------------

1 سورة الذاريات، آية (56) .

2 سورة المائدة، آية (3) .

3 سورة الحشر، آية (7) .
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর রাসূল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে রাসূলগণের আগমনের এক দীর্ঘ বিরতিকালে পাঠিয়েছেন, এমন এক জাহিলিয়াতের যুগে যখন সত্যের কোনো চিহ্নও অবশিষ্ট ছিল না এবং সত্যের ভিত্তিতে কোনো বিষয়ের মীমাংসা করা হতো না। বরং তারা তা-ই আঁকড়ে ধরত যা তাদের প্রবৃত্তি কামনা করত, যা তাদের শয়তানরা তাদের জন্য সুশোভিত করত এবং যার ওপর তারা তাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছে। অতঃপর তিনি তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছেন এবং যারা দাম্ভিকতা ও হঠকারিতা দেখিয়েছে তাদের সাথে কোমলতা ও হিকমতের মাধ্যমে বিতর্ক করেছেন এবং শক্তি ও দলীলের মাধ্যমে মোকাবিলা করেছেন। তিনি তাওহীদ, একনিষ্ঠ ইবাদত এবং শিরক বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন মহান আল্লাহর এই বাণীর বাস্তবায়নে: "আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।" ১

অতঃপর আল্লাহর সাহায্য তাঁর সঙ্গী হয়েছিল, ফলে তাঁর কাজ সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং তিনি আল্লাহর শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয়ী হয়েছিলেন। তাঁর দ্বীন বিজয়ী হিসেবে প্রকাশ পেয়েছিল এবং মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করেছিল।

আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ততক্ষণ পর্যন্ত 'রফিক আল-আলা' (সর্বোচ্চ বন্ধুর সান্নিধ্য)-তে প্রস্থান করেননি, যতক্ষণ না আল্লাহ এই উম্মতের জন্য দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন, তাদের ওপর তাঁর নেয়ামত সম্পূর্ণ করেছেন এবং তাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম।" ২

আর তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আনুগত্য করি। মহান আল্লাহ বলেন: "রাসূল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো। আর আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ কঠোর শাস্তিদাতা।" ৩

--------------------------------------------

১ সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত (৫৬)।

২ সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত (৩)।

৩ সূরা আল-হাশর, আয়াত (৭)।
(খণ্ড: ১) আল-আইয়াদু ওয়া আসারুহা আলাল মুসলিমিন (পৃষ্ঠা: ১২)
فشرع لنا من الأعياد ما يفرحنا دون بطر وما يحدد شخصيتنا دون تقليد وما يشيع في حياتنا السعادة والاستقرار.

فدين الإسلام كامل لا يحتاج إلى زيادة ولا نقص وهو صالح لكل زمان ومكان، فمن زاد فيه فقد افترى على الله، وأتهم الشريعة بالنقص وعدم الكمال، وكأنّه استدرك على الله وعلى رسوله صلى الله عليه وسلم، وكفى بذلك قبحاً.

وقد حذر النبي صلى الله عليه وسلم من البدع والإحداث في الدين. فقال: "من أحدث في أمرنا هذا ما ليس منه فهو رد" 1.

وقال أيضاً: "عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين، تمسكوا بها وعضوا عليها بالنواجذ، وإياكم ومحدثات الأمور، فإنّ كلّ محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة" 2.

ولا شيء أفسد للدين وأشد تقويضاً لبنيانه من البدع، فهي تسري في كيانه سريان النار في الهشيم، وهي بريد الشرك والموصلة إليه، ولو خرج الرجل كفافاً لا عليه ولا له لكان الأمر خفيفاً، بل لابد أن توجب له فساداً، منه نقص منفعة الشريعة في حقه، إذ القلب لا يتسع للعوض والمعوض منه.

ومن أشدّ وأخطر ما تساهل فيه بعض المسلمين إحداث أعياد بدعية ما أنزل الله بها من سلطان، ومنشأ ذلك كله: الابتعاد عن كتاب الله وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم، والمسارعة إلى التشبه بالأمم الأخرى في أعيادها واحتفالاتها لهم فزين الشيطان

--------------------------------------------

1 سيأتي تخريجه، ص (220) .

2 سيأتي تخريجه، ص (219) .
তিনি আমাদের জন্য এমন সব উৎসবের বিধান দিয়েছেন যা আমাদের অহংকারমুক্ত আনন্দ দান করে, অন্ধ অনুকরণ ব্যতিরেকে আমাদের স্বকীয়তাকে সুনির্দিষ্ট করে এবং আমাদের জীবনে সুখ ও স্থিতিশীলতা ছড়িয়ে দেয়।

ইসলাম ধর্ম পূর্ণাঙ্গ, এতে কোনো বৃদ্ধি বা হ্রাসের প্রয়োজন নেই এবং এটি সর্বকাল ও সর্বস্থানের জন্য উপযোগী। সুতরাং যে এতে নতুন কিছু যোগ করল, সে আল্লাহর ওপর মিথ্যা অপবাদ আরোপ করল এবং শরীয়তকে অসম্পূর্ণ ও অপূর্ণাঙ্গ হওয়ার অপবাদ দিল। এটি যেন আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর সংশোধনী দেওয়ার শামিল; আর জঘন্য বিষয় হিসেবে এটিই যথেষ্ট।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) দ্বীনের মধ্যে বিদআত এবং নতুন কিছু উদ্ভাবন করা থেকে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন: "যে আমাদের এই (দ্বীনের) বিষয়ে এমন নতুন কিছুর উদ্ভাবন করল যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত" ১।

তিনি আরও বলেছেন: "তোমরা আমার সুন্নাহ এবং হিদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো। একে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং মাড়ির দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরে থাকো। আর তোমরা (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকো; কেননা প্রত্যেক নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত এবং প্রত্যেক বিদআত হলো ভ্রষ্টতা" ২।

বিদআতের চেয়ে দ্বীনকে অধিক ধ্বংসকারী এবং এর ভিত্তিকে অধিক ক্ষতিগ্রস্তকারী আর কিছু নেই। এটি দ্বীনের কাঠামোর মধ্যে এমনভাবে ছড়িয়ে পড়ে যেমন শুকনো খড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এটি শিরকের বার্তাবাহক এবং তার দিকে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম। মানুষ যদি এর থেকে কোনো লাভ বা ক্ষতি ছাড়াই নিষ্কৃতি পেত, তবে বিষয়টি হালকা হতো। বরং এটি অবশ্যই তার জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে, যার একটি হলো তার ক্ষেত্রে শরীয়তের কল্যাণ হ্রাস পাওয়া; কারণ অন্তর একই সাথে শরীয়তের বিধান এবং তার বিপরীতে উদ্ভাবিত বিদআতকে ধারণ করতে পারে না।

কিছু মুসলিম যে সমস্ত অত্যন্ত কঠিন ও বিপজ্জনক বিষয়ে শিথিলতা প্রদর্শন করেছে তার মধ্যে একটি হলো বিদআতি উৎসবের প্রচলন করা, যার স্বপক্ষে আল্লাহ কোনো প্রমাণ অবতীর্ণ করেননি। এই সবকিছুর মূলে রয়েছে: আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ থেকে দূরে সরে যাওয়া এবং অন্যান্য জাতির উৎসব ও অনুষ্ঠানগুলোর অনুকরণের দিকে দ্রুত ধাবিত হওয়া, যা শয়তান তাদের নিকট সুশোভিত করেছে।

--------------------------------------------

১ এর তাখরীজ সামনে ২২০ পৃষ্ঠায় আসবে।

২ এর তাখরীজ সামনে ২১৯ পৃষ্ঠায় আসবে।
(খণ্ড: ১) আল-আইয়াদু ওয়া আসারুহা আলাল মুসলিমিন (পৃষ্ঠা: ১৩)
ذلك حتى استحكمت الأهواء والفتن والجهالات، التي زينت الباطل وشوهت الحق وبلغ من استحكامها فيهم أن سموا الشرك توحيداً، فاتخذوا من الموتى وقبورهم آلهة وأنداداً من دون الله، وشرعوا لها أعياداً وموالد جعلوها فروضاً لازمة ومناسك ومشاعر صارت أحب إلى قلوبهم الغاوية. من فروض ومناسك عبادة رب العالمين.

ولا يكاد يمرّ أسبوع إلا وتجد فيه عيداً، وهي في زيادة حتى جعلوا لكل شيء عيداً؛ وذلك أن هذا الأمر لا ضابط له إلا الشرع؛ لأن مسألة الأعياد من المسائل الشرعية التعبدية التي لا يجوز الابتداع فيها ولا الزيادة ولا النقصان، وقد حدد سبحانه هذه الأعياد فحرّم اتخاذ أعياد سواها.

فلزوم السنة ومحاربة البدعة وحماية العقيدة من أيّ دخيل، واجب على كل مسلم ومسلمة وعلى العلماء وطلبة العلم خاصة.

وقد رأيت أن يكون موضوع بحثي لنيل درجة الماجستير في هذا الموضوع، فجاء عنوان البحث " الأعياد وأثرها على المسلمين " وكان اختياري هذا الموضوع لأسباب منها:

1 - إن الأعياد من أهمّ الخصائص التي تتميز بها الديانات، ولكل ديانة أعيادها النابعة من أصل الاعتقاد فيها.

2 - الرغبة في معرفة الأصل في الأعياد المبتدعة، وأقوال العلماء فيها.

3 - الآثار المترتبة عليها وخطرها على الأمة.

4 - زعم البعض أن الأعياد والاحتفالات لا علاقة لها بالدين.
এটি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে প্রবৃত্তির অনুসরণ, ফিতনা ও মূর্খতা দৃঢ়মূল হয়েছে, যা বাতিলকে সুশোভিত করেছে এবং সত্যকে বিকৃত করেছে। তাদের মধ্যে এর প্রভাব এতটাই প্রবল হয়েছে যে, তারা শিরককে তাওহিদ হিসেবে নামকরণ করেছে। ফলে তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে মৃত ব্যক্তি ও তাদের কবরসমূহকে উপাস্য ও সমকক্ষ হিসেবে গ্রহণ করেছে। তারা সেগুলোর জন্য উৎসব ও জন্মোৎসব প্রবর্তন করেছে, যেগুলোকে তারা আবশ্যকীয় ফরজ, ইবাদত ও নিদর্শন বানিয়ে নিয়েছে। এগুলো তাদের বিভ্রান্ত হৃদয়ে রব্বুল আলামীনের ইবাদতের ফরজ ও নিদর্শনাবলির চেয়েও অধিক প্রিয় হয়ে উঠেছে।

খুব কম সপ্তাহই অতিবাহিত হয় যাতে আপনি কোনো উৎসবের দেখা পাবেন না। এগুলো ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, এমনকি তারা প্রতিটি জিনিসের জন্যই একটি করে উৎসব বানিয়ে নিয়েছে। কারণ হলো, শরিয়ত ব্যতীত এই বিষয়ের আর কোনো মানদণ্ড নেই; কেননা উৎসবের বিষয়টি হলো শরিয়তসম্মত ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত বিষয়, যাতে কোনো প্রকার নব উদ্ভাবন (বিদআত), বৃদ্ধি কিংবা হ্রাস করা জায়েজ নেই। মহান আল্লাহ এই উৎসবসমূহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন এবং এগুলো ব্যতীত অন্য কোনো উৎসব গ্রহণ করা হারাম করেছেন।

সুতরাং সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরা, বিদআতের বিরুদ্ধে লড়াই করা এবং আকিদাকে যেকোনো বিজাতীয় অনুপ্রবেশ থেকে রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলিম পুরুষ ও নারীর জন্য এবং বিশেষ করে আলেম ও জ্ঞানান্বেষীদের জন্য ওয়াজিব।

আমি আমার মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের লক্ষ্যে গবেষণার বিষয় হিসেবে এই বিষয়টিকেই বেছে নেওয়া সমীচীন মনে করেছি। তাই গবেষণার শিরোনাম নির্ধারণ করা হয়েছে "উৎসবসমূহ এবং মুসলমানদের ওপর এর প্রভাব"। এই বিষয়টি নির্বাচনের পেছনে বেশ কিছু কারণ ছিল, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - উৎসবসমূহ হলো ধর্মসমূহের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য যা দ্বারা সেগুলো স্বতন্ত্র হয়। প্রতিটি ধর্মেরই নিজস্ব উৎসব রয়েছে যা তাদের বিশ্বাসের মূল উৎস থেকে উৎসারিত।

২ - বিদআতি উৎসবগুলোর উৎস এবং এ বিষয়ে আলেমদের বক্তব্য জানার আকাঙ্ক্ষা।

৩ - এর ফলে উদ্ভূত প্রভাব এবং উম্মাহর ওপর এর বিপদ।

৪ - কারো কারো এই দাবি যে, উৎসব ও উদযাপনের সাথে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই।
(খণ্ড: ১) আল-আইয়াদু ওয়া আসারুহা আলাল মুসলিমিন (পৃষ্ঠা: ১৪)
المبحث الأول: الأعياد الزمانية، وفيه ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: عيد الفطر والأضحى.

المطلب الثاني: الأدلة على أن أيام التشريق وعرفة أيام عيد.

المطلب الثالث: يوم الجمعة.

المبحث الثاني: الأعياد المكانية الشرعية.

الفصل الثاني: بيان أن الله تعالى أغنى المسلمين بأعيادهم الشرعية، ويشتمل على أربعة مباحث:

المبحث الأول: ارتباط الأعياد الشرعية بالفرائض الدينية.

المبحث الثاني: اشتمالها على تغذية الروح والبدن.

المبحث الثالث: أثر الأعياد في التكافل الاجتماعي.

المبحث الرابع: مقارنة بين الأعياد الشرعية والأعياد الأخرى

الباب الرابع: الأعياد والمواسم المبتدعة وأثرها السيئ، وفيه أربعة فصول:

الفصل الأول: في البدعة، ويشتمل على أربعة مباحث:

المبحث الأول: تعريف البدعة في اللغة.

المبحث الثاني: تعريف البدعة في الاصطلاح.

المبحث الثالث: أسباب انتشار البدع.

المبحث الرابع: أحكام البدع.
প্রথম পরিচ্ছেদ: সময়ভিত্তিক ঈদসমূহ, এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আইয়ামে তাশরিক এবং আরাফার দিন ঈদের দিন হওয়ার সপক্ষে দলীলসমূহ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: জুমার দিন।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শরীয়তসম্মত স্থানভিত্তিক ঈদসমূহ।

দ্বিতীয় অধ্যায়: আল্লাহ তাআলা মুসলমানদেরকে তাদের শরীয়তসম্মত ঈদসমূহের মাধ্যমে অভাবমুক্ত করেছেন তার বর্ণনা, এটি চারটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ধর্মীয় ফরযসমূহের সাথে শরীয়তসম্মত ঈদসমূহের সম্পর্ক।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আত্মা ও শরীরের খোরাক অন্তর্ভুক্তকরণে এগুলোর বৈশিষ্ট্য।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সামাজিক সংহতিতে ঈদসমূহের প্রভাব।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শরীয়তসম্মত ঈদ ও অন্যান্য ঈদের মধ্যে তুলনা।

চতুর্থ খণ্ড: বিদআতী ঈদ ও উৎসবসমূহ এবং এর কুপ্রভাব, এতে চারটি অধ্যায় রয়েছে:

প্রথম অধ্যায়: বিদআত প্রসঙ্গে, এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: শাব্দিক অর্থে বিদআতের সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পারিভাষিক অর্থে বিদআতের সংজ্ঞা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: বিদআত প্রসারের কারণসমূহ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বিদআতের বিধানসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-আইয়াদু ওয়া আসারুহা আলাল মুসলিমিন (পৃষ্ঠা: ১৫)
الفصل الثاني: بعض البدع والمخالفات التي وقعت في الأعياد الشرعية، ويشتمل على مبحثين:

المبحث الأول: بدع ومخالفات في عيدي الفطر والأضحى.

المبحث الثاني: البدع والمخالفات في الجمعة.

الفصل الثالث: الأعياد الزمانية المبتدعة، وفيه المباحث التالية:

المبحث الأول: يوم عاشوراء، ويشتمل على ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: اتخاذ عاشوراء مأتماً.

المطلب الثاني: اتخاذ عاشوراء عيداً.

المطلب الثالث: السنة في يوم عاشوراء.

المبحث الثاني: الاحتفال بمولد النبي صلى الله عليه وسلم، ويشتمل على ستة مطالب:

المطلب الأول: نشأته وأول من أحدثه.

المطلب الثاني: صورة الاحتفال بالمولد.

المطلب الثالث: المنكرات التي تحصل في المولد.

المطلب الرابع: الشبه التي اعتمد عليها من قال بالاحتفال بالمولد وردّها.

المطلب الخامس: دعوى أن ترك الاحتفال بالمولد ينافي محبة النبي صلى الله عليه وسلم.

المطلب السادس: في حكم الاحتفال بمولده صلى الله عليه وسلم.

المبحث الثالث: صلاة الرغائب، ويشتمل على مطلبين:
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শরয়ি ঈদসমূহে সংঘটিত কিছু বিদআত ও গর্হিত কাজ, এবং এটি দুটি অনুচ্ছেদকে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহায় বিদআত ও গর্হিত কাজসমূহ।

второй অনুচ্ছেদ: জুমুআর দিনে বিদআত ও গর্হিত কাজসমূহ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নবউদ্ভাবিত সময়ভিত্তিক ঈদসমূহ, এবং এতে নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদসমূহ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: আশুরার দিন, এবং এটি তিনটি উপ-অনুচ্ছেদকে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: আশুরাকে শোক দিবস হিসেবে গ্রহণ করা।

দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: আশুরাকে ঈদ হিসেবে গ্রহণ করা।

তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: আশুরার দিনে সুন্নাহ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মবার্ষিকী (মাওলিদ) উদযাপন, এবং এটি ছয়টি উপ-অনুচ্ছেদকে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: এর উৎপত্তি এবং সর্বপ্রথম যারা এটি উদ্ভাবন করেছে।

দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: মাওলিদ উদযাপনের স্বরূপ।

তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদ: মাওলিদ অনুষ্ঠানে সংঘটিত অনাচারসমূহ।

চতুর্থ উপ-অনুচ্ছেদ: যারা মাওলিদ উদযাপনের প্রবক্তা তাদের সংশয়সমূহ এবং সেগুলোর খণ্ডন।

পঞ্চম উপ-অনুচ্ছেদ: মাওলিদ উদযাপন বর্জন করা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি ভালোবাসার পরিপন্থী—এই দাবির পর্যালোচনা।

ষষ্ঠ উপ-অনুচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মবার্ষিকী উদযাপনের বিধান সম্পর্কে।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: সালাতুর রাগায়েব, এবং এটি দুটি উপ-অনুচ্ছেদকে অন্তর্ভুক্ত করে:
(খণ্ড: ১) আল-আইয়াদু ওয়া আসারুহা আলাল মুসলিমিন (পৃষ্ঠা: ১৬)
المطلب الأول: متى أحدثت وصفتها.

المطلب الثاني: الأدلة على بدعيتها.

المبحث الرابع: الاحتفال بالإسراء والمعراج، ويشتمل على ثلاثة مطالب:

المطلب الأول: تاريخ الإسراء والمعراج.

المطلب الثاني: صفة الاحتفال.

المطلب الثالث: الأدلة على بدعيته.

المبحث الخامس: الاحتفال بليلة النصف من شعبان، ويشتمل على مطلبين:

المطلب الأول: أقوال العلماء في ذلك.

المطلب الثاني: الصلاة الألفية في ليلة النصف من شعبان.

المبحث السادس: الاحتفال بليلة القدر، ويشتمل على مطلبين:

المطلب الأول: صفة الاحتفال بها.

المطلب الثاني: الأدلة على بدعيته.

المبحث السابع: الاحتفال بعيد الأبرار.

المبحث الثامن: الاحتفال بالهجرة، ويشتمل على مطلبين:

المطلب الأول: صفة الاحتفال به.

المطلب الثاني: الأدلة على بدعيته.
প্রথম অনুচ্ছেদ: এটি কখন উদ্ভাবিত হয়েছে এবং এর ধরণ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এটি বিদআত হওয়ার স্বপক্ষে দলিলসমূহ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ইসরা ও মিরাজ উদযাপন, যা তিনটি অনুচ্ছেদকে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ইসরা ও মিরাজের ইতিহাস।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: উদযাপনের ধরণ।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: এটি বিদআত হওয়ার স্বপক্ষে দলিলসমূহ।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: শাবান মাসের মধ্যরাত্রি উদযাপন, যা দুটি অনুচ্ছেদকে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: এ বিষয়ে আলেমগণের বক্তব্য।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: শাবান মাসের মধ্যরাত্রিতে সালাতুল আলফিয়াহ।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: লাইলাতুল কদর উদযাপন, যা দুটি অনুচ্ছেদকে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: এটি উদযাপনের ধরণ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এটি বিদআত হওয়ার স্বপক্ষে দলিলসমূহ।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: ঈদুল আবরার উদযাপন।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: হিজরত উদযাপন, যা দুটি অনুচ্ছেদকে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: এটি উদযাপনের ধরণ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এটি বিদআত হওয়ার স্বপক্ষে দলিলসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-আইয়াদু ওয়া আসারুহা আলাল মুসলিমিন (পৃষ্ঠা: ১৭)
المبحث التاسع: الاحتفال بعيد الغدير، ويشتمل على أربعة مطالب:

المطلب الأول: متى احتفل به.

المطلب الثاني: منزلته عند الرافضة والأدلة على ذلك.

المطلب الثالث: مظاهر الاحتفال به.

المطلب الرابع: الأدلة على بدعيته.

المبحث العاشر: الاحتفال بمقتل عمر بن الخطاب رضي الله عنه، ويشتمل على مطلبين:

المطلب الأول: منزلته عند الرافضة وصورة الاحتفال به.

المطب الثاني: الأدلة على بطلان هذا العيد.

الفصل الرابع: الأعياد المكانية المبتدعة، ويشتمل على أربعة مباحث:

المبحث الأول: اتخاذ القبور أعياداً، ويشتمل على ثلاثة مطالب.

المطلب الأول: زيارة القبور.

المطب الثاني: النهي عن اتخاذ القبور أعياداً.

المطلب الثالث: أمثلة لاتخاذ القبور أعياداً.

المبحث الثاني: اتخاذ الآثار أعياداً.

المبحث الثالث: اتخاذ الأحجار والأشجار ونحوها أعياداً.

المبحث الرابع: المفاسد الناتجة عن تلك الأعياد.
নবম আলোচনা: গাদীর ঈদ উদযাপন, এটি চারটি পরিচ্ছেদ সংবলিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: এটি কখন উদযাপন করা শুরু হয়।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রাফেজিদের নিকট এর মর্যাদা এবং এর সপক্ষে দলিলসমূহ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এটি উদযাপনের পদ্ধতিসমূহ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: এর বিদআত হওয়ার দলিলসমূহ।

দশম আলোচনা: উমর ইবনুল খাত্তাব (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন)-এর শাহাদাত উদযাপন, এটি দুটি পরিচ্ছেদ সংবলিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: রাফেজিদের নিকট এর মর্যাদা এবং এটি উদযাপনের চিত্র।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এই উৎসবের অসারতার দলিলসমূহ।

চতুর্থ অধ্যায়: স্থানভিত্তিক নব-উদ্ভাবিত উৎসবসমূহ, এটি চারটি আলোচনা সংবলিত:

প্রথম আলোচনা: কবরসমূহকে উৎসবে পরিণত করা, এটি তিনটি পরিচ্ছেদ সংবলিত।

প্রথম পরিচ্ছেদ: কবর জিয়ারত।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কবরসমূহকে উৎসবে পরিণত করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কবরসমূহকে উৎসবে পরিণত করার উদাহরণসমূহ।

দ্বিতীয় আলোচনা: ঐতিহাসিক নিদর্শনসমূহকে উৎসবে পরিণত করা।

তৃতীয় আলোচনা: পাথর, বৃক্ষ এবং এই জাতীয় বস্তুসমূহকে উৎসবে পরিণত করা।

চতুর্থ আলোচনা: উক্ত উৎসবসমূহ থেকে উদ্ভূত অনিষ্টসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-আইয়াদু ওয়া আসারুহা আলাল মুসলিমিন (পৃষ্ঠা: ১৮)
هذا وبعد فإن هذا العمل قد أخذ مني جهداً ووقتاً كبيرين، وقد حرصت على ألا آلو جهداً ولا أدخر وسعاً في إعطاء هذا الموضوع حقه نظراً لأهميته، فإن أكن قد وفقت وأصبت في هذا البحث فذلك من نعم الله عليّ التي لا تعد ولا تحصى، وإن أخطأت فحسبي، أنني بذلت كل ما في وسعي وبذلت جهدي واعترف بتقصيري، وأني طالب مبتدئ وأبحث عن الحق.

وبعد أن منّ الله عليّ بإتمام هذا البحث أشكر الله تعالى على فضله وتوفيقه وأعانته وتسديده، ثم أشكر كل من أعانني على إنجاز هذه البحث من مشايخي الأفاضل وزملائي الأعزاء.

وأتوجه بالشكر إلى الجامعة الإسلامية التي كان لي شرف الانتساب إليها والنهل من معينها العذب العلم النافع وعقيدة السلف الصالح من غير أن تشوبها شائبة.

كلية الدعوة وأصول الدين، وقسم العقيدة فيها الذي شرفني بأن أكون أحد طلابه، وأخصّ منهم بالذكر أستاذي الفاضل وشيخي الدكتور أحمد عطية الغامدي الأستاذ بقسم العقيدة والذي أشرف على هذا البحث فكان نعم الموجه والمرشد، فقد أسدى لي من النصح والتوجيه وبذل لي من الجهد والوقت كل ذلك في حلم وأناة ورحابة صدر، مما مكنني - بعد عون الله - من إنجاز هذا البحث، فجزاه الله كل خير وأثابه على ذلك.

وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين،،.
এরপর কথা হলো, এই কাজটি সম্পন্ন করতে আমার প্রচুর শ্রম ও দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়েছে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে এর যথাযথ হক আদায়ের ক্ষেত্রে আমি কোনো প্রচেষ্টায় ত্রুটি না করতে এবং কোনো সাধ্যই বাকি না রাখতে সচেষ্ট ছিলাম। এই গবেষণায় যদি আমি তাওফিকপ্রাপ্ত হই এবং সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হই, তবে তা আমার প্রতি আল্লাহর অগণিত ও অশেষ নিআমতসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর যদি আমি ভুল করে থাকি, তবে আমার জন্য এটিই যথেষ্ট যে আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা ও শ্রম ব্যয় করেছি; এবং আমি আমার সীমাবদ্ধতা স্বীকার করছি, কারণ আমি সত্যের সন্ধানী একজন প্রাথমিক স্তরের ছাত্র।

আল্লাহ তাআলা এই গবেষণাটি সম্পন্ন করার অনুগ্রহ দান করার পর আমি তাঁর কৃপা, তাওফিক, সাহায্য ও সঠিক পথপ্রদর্শনের জন্য শোকর আদায় করছি। অতঃপর আমার সেই সকল সম্মানিত শাইখ এবং প্রিয় সহকর্মীদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি, যারা এই গবেষণাটি সুসম্পন্ন করতে আমাকে সহযোগিতা করেছেন।

আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতি, যার সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার এবং এর সুমিষ্ট প্রস্রবণ থেকে কোনো প্রকার কালিমাযুক্ত হওয়া ছাড়াই উপকারী ইলম ও সালাফে সালেহীনের আকিদা আহরণ করার সৌভাগ্য আমার হয়েছে।

দাওয়া ও উসুলুদ্দিন অনুষদ এবং এর আকিদা বিভাগ, যার ছাত্র হওয়ার গৌরব আমি অর্জন করেছি। তাঁদের মধ্য থেকে আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করছি আমার পরম শ্রদ্ধেয় উস্তাদ ও শাইখ ড. আহমাদ আতিয়্যাহ আল-গামিদীকে, যিনি আকিদা বিভাগের একজন অধ্যাপক এবং এই গবেষণার তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন উত্তম নির্দেশক ও পথপ্রদর্শক। তিনি আমাকে যে উপদেশ ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং অত্যন্ত ধৈর্য, স্থিরতা ও প্রশস্ত হৃদয়ে যে শ্রম ও সময় ব্যয় করেছেন, তা-ই আল্লাহর সাহায্যের পর আমাকে এই গবেষণাটি সম্পন্ন করতে সক্ষম করেছে। আল্লাহ তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং এর জন্য পুরস্কৃত করুন।

আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) আল-আইয়াদু ওয়া আসারুহা আলাল মুসলিমিন (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌تمهيد في تعريف العيد

* تعريف العيد في اللغة:

العيد كل يوم فيه جمع، واشتقاقه من عاد يعود كأنهم عادوا إليه، وقيل اشتقاقه من العادة؛ لأنهم اعتادوه، وعيد المسلمون شهدوا عيدهم 1.

والجمع أعياد على لفظ الواحد فرقاً بينه وبين أعواد الخشب، وقيل للزوم الياء في واحده2.

والعيد الموسم وعيدت "تعييداً" شهدت العيد وعاد إلى كذا وعاد له أيضاً يعود، عودة وعوداً صار إليه3.

وفي التنزيل قال تعالى: {وَلَوْ رُدُّوا لَعَادُوا لِمَا نُهُوا عَنْهُ وَإِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ} 4.

والعيد عند العرب الوقت الذي يعود فيه الفرح والحزن، وكان في الأصل العود فلما سكنت الواو كسرت ما قبلها صارت ياء 5.

قال تأبط شرا 6:

يا عيد مالك من شوق وإيراق … ومر طيف على الأهواء طراق 7

--------------------------------------------

1 لسان العرب (3/318) ، مادة عود، وانظر القاموس المحيط (386) .

2 المصباح المنير (2/436) ، وانظر لسان العرب (3/319) ، مادة عود.

3 المصدر السابق (2/436) .

4 سورة الأنعام، آية (28) .

5 لسان العرب (3/319) ، وتاج العروس (2/438) .

6 هو: ثابت بن جابر بن سفيان أحد بني فهم بن قيس بن عيلان يكنى أبا زهير، توفى عام 80 قبل الهجرة. انظر ترجمته: الشعر والشعراء لابن قتيبة (143) ، والأعلام للزركلي (2/97) .

7 ديوان تأبط شرا (125) ، جمع وتحقيق وشرح علي ذو الفقار شاكر.
উপস্থাপনা ঈদের সংজ্ঞায়নে

* ভাষাগতভাবে ঈদের সংজ্ঞা:

ঈদ হচ্ছে এমন প্রতিটি দিন যাতে সমাবেশ ঘটে। এর ব্যুৎপত্তি 'আদা ইয়াউদু' (ফিরে আসা) থেকে, যেন তারা এর দিকে বারবার ফিরে আসে। আবার বলা হয়েছে যে, এর ব্যুৎপত্তি 'আদাহ' (অভ্যাস) থেকে; কারণ তারা এতে অভ্যস্ত হয়েছে। আর 'মুসলমানরা ঈদ উদযাপন করেছে' এর অর্থ তারা তাদের ঈদে উপস্থিত হয়েছে ১।

এর বহুবচন হলো 'আইয়াদ' (أعياد), যা একবচনের শব্দের ওপর ভিত্তি করে গঠিত যাতে কাঠের টুকরো 'আওয়াদ' (أعواد)-এর সাথে পার্থক্য করা যায়। আবার কেউ কেউ বলেছেন যে, একবচনে 'ইয়া' (ي) অক্ষরটি অপরিহার্য হওয়ার কারণে এমনটি হয়েছে ২।

ঈদ হলো বিশেষ মৌসুম। আর 'আমি ঈদ উদযাপন করেছি' মানে আমি ঈদে উপস্থিত হয়েছি। এটি কোনকিছুর দিকে ফিরে আসা এবং তাতে পুনরায় ফিরে যাওয়া অর্থেও ব্যবহৃত হয় ৩।

পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর যদি তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হতো, তবে তারা যে কাজে তাদের নিষেধ করা হয়েছিল তাতেই ফিরে যেত। আর নিশ্চয় তারা মিথ্যাবাদী} ৪।

আরবদের কাছে ঈদ হলো এমন সময় যাতে আনন্দ অথবা দুঃখ ফিরে আসে। এটি মূলে 'আওদ' (العود) ছিল, যখন 'ওয়াও' (و) সাকিন হলো এবং তার পূর্বের অক্ষরে কাসরা (জের) দেওয়া হলো, তখন তা 'ইয়া' (ي) তে পরিণত হলো ৫।

তাব্বাতা শাররান বলেছেন ৬:

হে ঈদ, তোমার জন্য কতই না ব্যাকুলতা ও অনিদ্রা … আর প্রবৃত্তির ওপর দিয়ে এক রাত্রীকালীন আগন্তুকের প্রতিচ্ছবি অতিক্রান্ত হলো ৭

--------------------------------------------

১ লিসানুল আরব (৩/৩১৮), 'আওদ' পরিচ্ছেদ; আরও দেখুন আল-কামুসুল মুহিত (৩৮৬)।

২ আল-মিসবাহুল মুনির (২/৪৩৬), আরও দেখুন লিসানুল আরব (৩/৩১৯), 'আওদ' পরিচ্ছেদ।

৩ পূর্বোক্ত উৎস (২/৪৩৬)।

৪ সূরা আল-আনআম, আয়াত (২৮)।

৫ লিসানুল আরব (৩/৩১৯) এবং তাজুল আরুস (২/৪৩৮)।

৬ তিনি হলেন: সাবেত বিন জাবির বিন সুফিয়ান, বনু ফাহম বিন কায়স বিন আয়লান গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। তার উপনাম আবু জুহায়র, তিনি হিজরতের ৮০ বছর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেন। তার জীবনী দেখুন: ইবনে কুতাইবার আশ-শি’র ওয়াশ-শুয়ারা (১৪৩) এবং আয-যিরিকলির আল-আ'লাম (২/৯৭)।

৭ দিওয়ানে তাব্বাতা শাররান (১২৫), সংগ্রহ, সম্পাদনা ও ব্যাখ্যা: আলী জুলফিকার শাকের।
(খণ্ড: ১) আল-আইয়াদু ওয়া আসারুহা আলাল মুসলিমিন (পৃষ্ঠা: ২০)
قال ابن الأنباري1: في قوله يا عيد مالك: العيد ما يعتاده من الحزن والشوق2.

وأيضاً يكون العيد ما أعتاد من الهمّ وغيره.

قال الشاعر: والقلب من حبها عيد.

وقال ابن الأعرابي3: سمي العيد عيداً؛ لأنه يعود كل سنة بفرح مجدد4.

وقد جاءت كلمة العيد بلفظها في موضع واحد من كتاب الله عز وجل ضمن قصة عيسى عليه السلام عند قوله تعالى: {قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ اللَّهُمَّ رَبَّنَا أَنْزِلْ عَلَيْنَا مَائِدَةً مِنَ السَّمَاءِ تَكُونُ لَنَا عِيداً لِأَوَّلِنَا وَآخِرِنَا وَآيَةً مِنْكَ} 5.

--------------------------------------------

1 هو: محمد بن القاسم بن محمد بن بشار بن الحسن بن بيان بن سماعة بن فروة الإمام أبو بكر الأنباري النحوي واللغوي، كان من أعلم الناس بالنحو والأدب وأكثرهم حفظاً، وكان صدوقاً فاضلاً من أهل السنة، ولد سنة 271هـ، وكانت وفاته ببغداد سنة 327هـ. انظر: بغية الوعاة للسيوطي (1/212-215) .

2 لسان العرب (3/318) ، وانظر: القاموس المحيط (386) ، وتاج العروس (2/438) .

3 هو: محمد بن زياد أبو عبد الله بن الأعرابي من موالي بني هاشم، كان نحوياً عالماً باللغة والشعر، ولد سنة 150هـ، وكانت وفاته بسر من رأى سنة 231هـ، وقيل 233هـ. انظر: بغية الوعاة للسيوطي (1/105-106) .

4 لسان العرب (3/318-319) .

5 سورة المائدة، آية (114) .
ইবনে আল-আনবারী ১ বলেছেন: "হে ঈদ, তোমার কী হয়েছে?" এই উক্তির ক্ষেত্রে: ঈদ হলো এমন বিষয় যা দুঃখ ও আকাঙ্ক্ষার মধ্য দিয়ে বারবার ফিরে আসে। ২

এছাড়াও ঈদ হলো যা কিছু বিষাদ ও অন্যান্য বিষয় থেকে অভ্যাসে পরিণত হয়।

কবি বলেছেন: "তার ভালোবাসায় হৃদয়টি একটি ঈদে (ক্রমাগত স্মরণে) পরিণত হয়েছে।"

ইবনে আল-আ’রাবী ৩ বলেছেন: ঈদকে ‘ঈদ’ নামে অভিহিত করা হয়েছে; কারণ এটি প্রতি বছর নতুন আনন্দ নিয়ে ফিরে আসে। ৪

মহান আল্লাহর কিতাবে ‘ঈদ’ শব্দটি স্বীয় শব্দমূলসহ ঈসা আলাইহিস সালামের কাহিনীর বর্ণনায় এক স্থানে এসেছে, যেখানে মহান আল্লাহ বলেছেন: {ঈসা ইবনে মরিয়ম বললেন: হে আল্লাহ, হে আমাদের রব! আমাদের জন্য আসমান থেকে খাদ্যভর্তি একটি দস্তরখান অবতীর্ণ করুন যা আমাদের প্রথম ও শেষ ব্যক্তিবর্গের জন্য একটি উৎসব (ঈদ) হবে এবং আপনার পক্ষ থেকে একটি নিদর্শন হবে।} ৫

--------------------------------------------

১ তিনি হলেন: মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন বাশশার বিন আল-হাসান বিন বায়ান বিন সামাআহ বিন ফারওয়াহ, ইমাম আবু বকর আল-আনবারী, নাহুবিদ ও ভাষাবিদ। তিনি নাহু ও সাহিত্যে মানুষের মধ্যে অন্যতম বিজ্ঞ এবং সবচেয়ে বেশি মুখস্থকারী ছিলেন। তিনি ছিলেন সত্যবাদী, উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন এবং আহলে সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত। তিনি ২৭১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩২৭ হিজরিতে বাগদাদে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: সুয়ূতী রচিত বুগইয়াতুল উয়াত (১/২১২-২১৫)।

২ লিসানুল আরব (৩/৩১৮), আরও দেখুন: আল-কামুসুল মুহীত (৩৮৬) এবং তাজুল আরুস (২/৪৩৮)।

৩ তিনি হলেন: মুহাম্মদ বিন যিয়াদ আবু আব্দুল্লাহ ইবনুল আ’রাবী, বনী হাশেমের মুক্তদাসদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি নাহুবিদ এবং ভাষা ও কবিতায় বিজ্ঞ ছিলেন। তিনি ১৫০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৩১ হিজরিতে সামাররায় মৃত্যুবরণ করেন, কেউ বলেন ২৩৩ হিজরি। দেখুন: সুয়ূতী রচিত বুগইয়াতুল উয়াত (১/১০৫-১০৬)।

৪ লিসানুল আরব (৩/৩১৮-৩১৯)।

৫ সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত (১১৪)।
(খণ্ড: ১) আল-আইয়াদু ওয়া আসারুহা আলাল মুসলিমিন (পৃষ্ঠা: ২১)
أما في الاصطلاح:

قال شيخ الإسلام ابن تيمية: العيد اسم لما يعود من الاجتماع على وجه معتاد عائد، إما بعود السنة أو بعود الأسبوع أو الشهر أو نحو ذلك.

فالعيد يجمع أمور منها: يوم عائد، كيوم الفطر، ويوم الجمعة.

ومنها: اجتماع فيه.

ومنها: أعمال تتبع ذلك من العبادات والعادات، وقد يختص العيد بمكان بعينه، وقد يكون مطلقاً، وكل هذه الأمور قد تسمى عيداً.

فالزمان كقوله صلى الله عليه وسلم في يوم الجمعة: "إن هذا يوم جعله الله للمسلمين عيداً" 1. والاجتماع والأعمال كقول ابن عباس: "شهدت العيد مع رسول الله صلى الله عليه وسلم" 2. والمكان كقوله صلى الله عليه وسلم: "لا تتخذوا قبري عيداً" 3.

وقد يكون لفظ العيد اسماً لمجموع اليوم والعمل فيه وهو الغالب، كقوله صلى الله عليه وسلم: "دعهما يا أبا بكر، فإن لكل قوم عيداً، وإن هذا عيدنا "45.

--------------------------------------------

1 السنن الكبرى للبيهقي ك الجمعة (3/243) ، وأورده الألباني في صحيح الجامع (2/259) ..

2 صحيح البخاري ك العيدين باب الخطبة بعد العيد (1/171) .

3 المصنف لابن أبي شيبة ك الصلوات عند قبر النبي إتيانه (2/375) ، وفي مسند الإمام أحمد (2/367) وسنن أبي داود ك الحج باب زيارة القبور (2/218) ، حديث (2042) ، بلفظ "لا تجعلوا قبري عيداً" وأورده الألباني في صحيح الجامع (6/132) .

4 صحيح البخاري ك العيدين، باب سنة العيدين لأهل الإسلام (1/170) ، وصحيح مسلم ك صلاة العيدين، باب في اللعب الذي لا معصية فيه أيام العيد (1/607-608) ، حديث (892) .

5 اقتضاء الصراط المستقيم (1/441-442) ، وانظر: البحر المحيط لأبي حيان (4/56) .
পরিভাষায়:

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: ঈদ এমন একটি জনসমাবেশের নাম যা একটি অভ্যস্ত পদ্ধতিতে পুনরাবৃত্ত হয়; চাই তা বছর ঘুরে আসুক কিংবা সপ্তাহ বা মাস বা এই জাতীয় কোনো সময়ের আবর্তনে আসুক।

সুতরাং ঈদ কয়েকটি বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে, তার মধ্যে রয়েছে: পুনরাবৃত্ত দিবস, যেমন ঈদুল ফিতর এবং জুমুআর দিন।

তার মধ্যে রয়েছে: তাতে সমবেত হওয়া।

আরও রয়েছে: এর সাথে সংশ্লিষ্ট ইবাদত ও অভ্যাসগত কার্যাবলি। ঈদ কোনো নির্দিষ্ট স্থানের সাথে বিশেষায়িত হতে পারে, আবার তা সাধারণও হতে পারে। এই সমস্ত বিষয়কেই 'ঈদ' বলা যেতে পারে।

সময় হিসেবে উদাহরণ হলো জুমুআর দিন সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "নিশ্চয় এটি এমন একটি দিন যা আল্লাহ মুসলিমদের জন্য ঈদ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন" ১। সমবেত হওয়া ও কার্যাবলির উদাহরণ হলো ইবনে আব্বাসের উক্তি: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ঈদে উপস্থিত হয়েছি" ২। এবং স্থান হিসেবে উদাহরণ হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তোমরা আমার কবরকে ঈদে পরিণত করো না" ৩।

অনেক সময় ঈদ শব্দটি দিবস এবং তাতে সম্পাদিত কার্যাবলির সমষ্টিকেও বোঝায়, আর এটাই অধিকাংশ ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "হে আবু বকর, ওদের ছেড়ে দাও, কেননা প্রতিটি জাতিরই ঈদ রয়েছে, আর এটি আমাদের ঈদ" ৪ ৫।

--------------------------------------------

১ বায়হাকির আস-সুনানুল কুবরা, কিতাবুল জুমুআহ (৩/২৪৩); আলবানি এটি সহীহুল জামি'-তে উল্লেখ করেছেন (২/২৫৯)।

২ সহীহ বুখারী, কিতাবুল ঈদাঈন, অনুচ্ছেদ: ঈদের পর খুতবা (১/১৭১)।

৩ ইবনে আবি শায়বাহর আল-মুসান্নাফ, কিতাবুস সালাত, নবীর কবরের নিকট আসা (২/৩৭৫); মুসনাদে ইমাম আহমাদ (২/৩৬৭); সুনানে আবু দাউদ, কিতাবুল হাজ্জ, অনুচ্ছেদ: কবর যিয়ারত (২/২১৮), হাদিস (২০৪২), "তোমরা আমার কবরকে ঈদে পরিণত করো না" শব্দে; আলবানি এটি সহীহুল জামি'-তে উল্লেখ করেছেন (৬/১৩২)।

৪ সহীহ বুখারী, কিতাবুল ঈদাঈন, অনুচ্ছেদ: ইসলাম অনুসারীদের জন্য দুই ঈদের সুন্নত (১/১৭০); সহীহ মুসলিম, কিতাবুস সালাতুল ঈদাঈন, অনুচ্ছেদ: ঈদের দিনগুলোতে অবাধ্যতামুক্ত খেলাধুলা প্রসঙ্গে (১/৬০৭-৬০৮), হাদিস (৮৯২)।

৫ ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম (১/৪৪১-৪৪২); আরও দেখুন: আবু হাইয়ানের আল-বাহরুল মুহিত (৪/৫৬)।
(খণ্ড: ১) আল-আইয়াদু ওয়া আসারুহা আলাল মুসলিমিন (পৃষ্ঠা: ২২)
ولذلك سمي العيد بهذا الاسم لتكرره كل عام، وقيل لعود السرور بعوده، وقيل لكثرة عوائد الله على عباده فيه1.

فعلى هذا كل اجتماع عام يحدثه الناس أو يعتادونه في زمان معين، أو مكان معين، أو هما معا؛ فإنه يكون عيداً، وكذلك كل أثر من الآثار القديمة، أو الجديدة يحييه الناس، أو يرتادونه، يصدق عليه العيد.

وبهذا يتبين ارتباط التعريفين الشرعي واللغوي، وأنه لا فرق بينهما في مسمى العيد، ولكن الشرعي: ما بينه الشارع، وحده من الأعياد الزمانية والمكانية، كما سيأتي الكلام على ذلك مفصلاً.

--------------------------------------------

1 انظر نهاية المحتاج إلى شرح المنهاج للرملي (2/376) ، والمجموع شرح المهذب للنووي (2/5) ، وأنيس الفقهاء للشيخ قاسم القونوي (118) ، والبناية في شرح الهداية للعيني (2/849) ، وكشاف القناع للبهوتي (2/49-50) .
এজন্যই ঈদকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে প্রতি বছর এর পুনরাবৃত্তির কারণে। কেউ কেউ বলেছেন, এর প্রত্যাবর্তনে আনন্দের পুনরাবৃত্তি ঘটে বলে একে ঈদ বলা হয়। আবার কেউ বলেছেন, এতে বান্দাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে অগণিত অনুগ্রহ বারবার বর্ষিত হয় বলে একে ঈদ বলা হয়১।

সুতরাং এই দৃষ্টিকোণ থেকে, মানুষ যে কোনো সাধারণ সমাবেশ যা তারা উদ্ভাবন করে বা নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট স্থানে কিংবা উভয় ক্ষেত্রেই যাতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, সেটি ঈদ হিসেবে গণ্য হবে। একইভাবে, প্রাচীন বা নতুন নিদর্শনসমূহের মধ্য থেকে যা মানুষ পুনরুজ্জীবিত করে বা যেখানে তারা যাতায়াত করে, তার ওপরও ঈদ শব্দটি প্রযোজ্য হবে।

এর মাধ্যমে শরয়ি এবং আভিধানিক সংজ্ঞার মধ্যকার যোগসূত্র স্পষ্ট হয় এবং এটিও প্রতীয়মান হয় যে, ঈদ নামকরণের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তবে শরয়ি ঈদ হলো তা-ই, যা শরিয়ত প্রণেতা সময় ও স্থানের ভিত্তিতে নির্ধারণ ও সংজ্ঞায়িত করেছেন, যার বিস্তারিত আলোচনা সামনে আসবে।

--------------------------------------------

১. দেখুন: রামলি কৃত নেহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ (২/৩৭৬), নববী কৃত আল-মাজমু শারহুল মুহাযযাব (২/৫), শেখ কাসেম আল-কুনুয়ি কৃত আনিসুল ফুকাহা (১১৮), আইনি কৃত আল-বিনায়াহ ফি শারহিল হিদায়াহ (২/৮৪৯) এবং বুহুতি কৃত কাশশাফুল কিনা (২/৪৯-৫০)।
(খণ্ড: ১) আল-আইয়াদু ওয়া আসারুহা আলাল মুসলিমিন (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌الباب الأول: أعياد الكفار والعرب في الجاهلية

‌‌الفصل الأول: أعياد اليهود وعاداتهم فيها

…

الفصل الأول: أعياد اليهود وعاداتهم فيها

لكل دين من الأديان ولكل ملة من الملل ما تتميز به عن غيرها من المعتقدات والعبادات والعادات، ومن أهمّ هذه المميزات التي تختلف من ديانة إلى أخرى هي مسألة الأفراح والأعياد التي يحتفلون بها.

ولقد تميزت الديانة اليهودية كغيرها من الديانات بأفراحها وأعيادها التي تقيمها في مواسم معينة من أيام السنة.

وقد جاء في الكتاب المقدس تعيين هذه الأيام وكونها أياماً فاضلة، وأعياداً دينية يتوجهون بالعبادة فيها إلى الله تعالى ويحتفلون بها ويعترفون بفضلها على غيرها، وإليك أشهرها:

1 - يوم السبت:

وهو من أهمّ الأيام وأعظمها عندهم تقديساً، حيث كان تقديسه من أبرز الواجبات الدينية التي زعموا أنهم أمروا بها والتي تضمنتها الوصايا العشر، التي هي أساس شريعتهم وعقيدتهم.
প্রথম পরিচ্ছেদ: জাহেলিয়াত যুগে কাফের ও আরবদের উৎসবসমূহ

প্রথম অধ্যায়: ইহুদিদের উৎসব এবং তাতে তাদের রীতিনীতি

...

প্রথম অধ্যায়: ইহুদিদের উৎসব এবং তাতে তাদের রীতিনীতি

প্রত্যেকটি ধর্মের এবং প্রতিটি মিল্লাতের এমন কিছু বৈশিষ্ট্য থাকে যার মাধ্যমে তা অন্যান্য বিশ্বাস, ইবাদত এবং রীতিনীতি থেকে স্বতন্ত্র হয়ে থাকে। এক ধর্ম থেকে অন্য ধর্মের ভিন্নতার ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো আনন্দ-উৎসব এবং সে সকল দিবস যা তারা পালন করে থাকে।

অন্যান্য ধর্মের ন্যায় ইহুদি ধর্মও তার আনন্দ-উৎসব ও দিবসগুলোর মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত যা তারা বছরের নির্দিষ্ট সময়ে পালন করে।

পবিত্র কিতাবে এই দিনগুলোকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং এগুলোকে মর্যাদাপূর্ণ দিন ও ধর্মীয় উৎসব হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, যাতে তারা মহান আল্লাহর ইবাদতের প্রতি মনোনিবেশ করে, উৎসব পালন করে এবং অন্য দিনগুলোর তুলনায় এগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে। নিম্নে তাদের প্রসিদ্ধ উৎসবগুলোর বিবরণ দেয়া হলো:

১ - শনিবার (সাবত দিবস):

এটি তাদের নিকট সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং পবিত্রতম দিন। এর পবিত্রতা রক্ষা করা তাদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত যা তারা পালন করতে আদিষ্ট হয়েছে বলে দাবি করে। এটি দশ আজ্ঞার (The Ten Commandments) অন্তর্ভুক্ত, যা তাদের শরিয়ত ও আকিদার মূল ভিত্তি।
(খণ্ড: ১) আল-আইয়াদু ওয়া আসারুহা আলাল মুসলিমিন (পৃষ্ঠা: ২৭)
إذا جاء فيها "اذكر يوم السبت لتقدسه، ستة أيام تعمل وتصنع جميع عملك، وأما اليوم السابع ففيه سبت للرب إلهك"1.

وفي هذا اليوم محرم العمل على الجميع حتى البهائم؛ لأنه يوم مقدس، وفيه انتهى الرب من الخلق.

كما جاء في سفر الخروج "لا تصنع عملاً ما أنت وأبنك وأبنتك وعبدك وأمتك وبهيمتك ونزيلك الذي داخل أبوابك؛ لأن في ستة أيام صنع الرب السماء والأرض والبحر وكل ما فيها واستراح 2 في اليوم السابع؛ لذلك بارك الرب يوم السبت وقدسه " 3.

كما ورد أيضاً النهي عن البيع والشراء فيه.

--------------------------------------------

1 سفر الخروج الإصحاح (20) ، الفقرة (8ـ10) ، وانظر: سفر نحميا الإصحاح (9) الفقرة (14) ، وانظر: سفر التثنية الإصحاح (5) ، الفقرة (12ـ24) .

2 هذا مما وصف به اليهود الله عز وجل افتراءً عليه، حيث قالوا: استراح. والاستراحة تعقب التعب تعالى الله عما يقولون، فهو القائل: قال تعالى: {وَلَقَدْ خَلَقْنَا السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَمَا بَيْنَهُمَا فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَمَا مَسَّنَا مِنْ لُغُوبٍ} [ق:38] . وقد ذكر بعض المفسرين أن هذه الآية نزلت تكذيباً لهم ورداً عليهم. انظر: تفسير البغوي (4/226) ، وتفسير ابن كثير (4/229) ، كما أنه جل وعلا هو القائل: قال تعالى: {اللَّهُ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلا نَوْمٌ} [البقرة:255] . وهو القائل: قال تعالى: {إِنَّمَا أَمْرُهُ إِذَا أَرَادَ شَيْئاً أَنْ يَقُولَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ} [يس:82] . ولا يصح نسبة ذلك إلى الكتاب المقدس وإنما هو تحريف منهم لما أنزل الله.

3 الإصحاح (20) ، الفقرة (10ـ12) ، وانظر: سفر التكوين الإصحاح (2) ، الفقرة (1ـ3) ، وسفرة التثنية الإصحاح (5) ، الفقرة (14ـ15) .
সেখানে এসেছে: "বিশ্রামবারকে পবিত্র রাখার কথা স্মরণ রাখবে। ছয় দিন তুমি পরিশ্রম করবে এবং তোমার সমস্ত কাজ সম্পাদন করবে, কিন্তু সপ্তম দিনটি তোমার প্রতিপালক আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিশ্রামবার।"১

আর এই দিনে গবাদিপশুসহ সবার জন্যই কাজ করা নিষিদ্ধ; কারণ এটি একটি পবিত্র দিন এবং এতেই প্রতিপালক সৃষ্টিকার্য সমাপ্ত করেছেন।

যেমন যাত্রাপুস্তকে এসেছে: "তুমি, তোমার পুত্র, তোমার কন্যা, তোমার দাস, তোমার দাসী, তোমার গবাদিপশু এবং তোমার গৃহের ফটকের অভ্যন্তরে থাকা মুসাফির—কেউ কোনো কাজ করবে না; কারণ ছয় দিনে প্রতিপালক আকাশ, পৃথিবী, সমুদ্র এবং তার মধ্যে যা কিছু আছে তা নির্মাণ করেছেন এবং সপ্তম দিনে বিশ্রাম২ নিয়েছেন; এই কারণেই প্রতিপালক বিশ্রামবারকে বরকতময় করেছেন এবং একে পবিত্র করেছেন।"৩

এছাড়াও এই দিনে কেনাবেচা করার ব্যাপারেও নিষেধ বর্ণিত হয়েছে।

--------------------------------------------

১ যাত্রাপুস্তক, অধ্যায় (২০), অনুচ্ছেদ (৮-১০); এবং দেখুন: নহিমিয় পুস্তক, অধ্যায় (৯), অনুচ্ছেদ (১৪); এবং দেখুন: দ্বিতীয় বিবরণ, অধ্যায় (৫), অনুচ্ছেদ (১২-২৪)।

২ এটি সেই সব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা ইহুদিরা মহান আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করে বর্ণনা করেছে, যেখানে তারা বলেছে: 'তিনি বিশ্রাম নিয়েছেন'। আর বিশ্রাম মূলত ক্লান্তির পরবর্তী অবস্থা, তারা যা বলে আল্লাহ তা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে ও পবিত্র। তিনি ইরশাদ করেছেন: "আমি আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং এই দুয়ের মধ্যবর্তী যা কিছু আছে তা ছয় দিনে সৃষ্টি করেছি এবং আমাকে কোনো ক্লান্তি স্পর্শ করেনি" [সূরা ক্বাফ: ৩৮]। কোনো কোনো মুফাসসির উল্লেখ করেছেন যে, এই আয়াতটি তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে এবং তাদের বক্তব্যের প্রতিবাদে অবতীর্ণ হয়েছে। দেখুন: তাফসীরে বাগভী (৪/২২৬), এবং তাফসীরে ইবনে কাসীর (৪/২২৯)। মহান আল্লাহ আরও ইরশাদ করেছেন: "আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তাঁকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করে না" [সূরা বাকারা: ২৫৫]। তিনি আরও ইরশাদ করেছেন: "তাঁর আদেশ তো এই যে, যখন তিনি কোনো কিছুর ইচ্ছা করেন তখন তাকে বলেন: 'হও', ফলে তা হয়ে যায়" [সূরা ইয়াসীন: ৮২]। আর একে পবিত্র কিতাবের (আসমানী কিতাবের) দিকে সম্বন্ধ করা সঠিক নয়, বরং এটি আল্লাহর নাযিলকৃত বিষয়ের মধ্যে তাদের কৃত বিকৃতি মাত্র।

৩ অধ্যায় (২০), অনুচ্ছেদ (১০-১২); এবং দেখুন: আদিপুস্তক, অধ্যায় (২), অনুচ্ছেদ (১-৩); এবং দ্বিতীয় বিবরণ, অধ্যায় (৫), অনুচ্ছেদ (১৪-১৫)।
(খণ্ড: ১) আল-আইয়াদু ওয়া আসারুহা আলাল মুসলিমিন (পৃষ্ঠা: ২৮)
حيث جاء في سفر نحميا: " وشعوب الأرض الذين يأتون بالبضائع وكل الطعام يوم السبت للبيع لا تأخذ منهم في سبت ولا في يوم مقدس " 1.

وأما من يخالف ذلك فيعمل في يوم السبت فجزاؤه القتل والنفي من بني إسرائيل؛ لأن العمل يعد تدنيساً لهذا اليوم وامتهاناً لتقديسه.

وقد جاء النص على ذلك في سفر الخروج: " فتحفظون السبت؛ لأنه مقدس لكم، من دنسه يقتل قتلاً، أن كل من صنع فيه عملاً تقطع تلك النفس من بين شعبها..كل من صنع عملاً في يوم السبت يقتل قتلاً " 2.

ومن خصائص يوم السبت تقديم القرابين للمحرقة تقديساً للرب، وبهذا تتم العبادة الإلهية كما يزعمون.

فقد جاء في سفر حزقيال صفة تقديم هذه القرابين إلى الكهنة وكيفية حرقها وما هي القرابين المطلوبة لذلك.

فقال: " والمحرقة التي يقربها الرئيس للرب في يوم السبت ستة حملان صحيحة وكبش صحيح " 3.

ومع أنه كان يوماً معظماً ومقدساً فلم يرعوا تلك الحرمة التي أمرهم الله بها، بل خالفوا وتجاوزوا ما حده الله لهم فيه، وذلك هو حال اليهود وطبعهم من التلون والخداع. وقد حكى الله سبحانه وتعالى في كتابه العزيز قصتهم في

--------------------------------------------

1 الإصحاح (10) ، الفقرة (31) .

2 الإصحاح (31) ، الفقرة (14،16) ، وانظر: سفر العدد الإصحاح (15) ، الفقرة (32ـ36) ، والخروج (35) ، الفقرة (2ـ3) .

3 الإصحاح، الفقرة (1ـ4) .
যেরূপ নহিমিয়ের পুস্তকে এসেছে: "আর পৃথিবীর যে সকল জাতি বিশ্রামবারে বিক্রয়ের জন্য পণ্যদ্রব্য ও সব ধরণের খাদ্যদ্রব্য নিয়ে আসে, তাদের নিকট থেকে বিশ্রামবারে বা কোনো পবিত্র দিনে তা গ্রহণ করো না।" ১।

আর যারা এর বিরোধিতা করে বিশ্রামবারে কাজ করবে, তাদের শাস্তি হলো হত্যা এবং বনী ইসরাঈল থেকে নির্বাসন; কেননা কাজ করাকে এই দিনের অবমাননা এবং এর পবিত্রতার লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হয়।

যাত্রাপুস্তকে এ সম্পর্কে সুস্পষ্ট পাঠ এসেছে: "অতএব তোমরা বিশ্রামবার পালন করবে; কেননা তা তোমাদের জন্য পবিত্র, যে কেউ একে অপবিত্র করবে তাকে অবশ্যই হত্যা করা হবে, যে কেউ ওই দিনে কোনো কাজ করবে সেই ব্যক্তিকে তার জাতির মধ্য থেকে উচ্ছেদ করা হবে.. বিশ্রামবারে যে কেউ কোনো কাজ করবে তাকে অবশ্যই হত্যা করা হবে।" ২।

আর বিশ্রামবারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো প্রভুর পবিত্রতার উদ্দেশ্যে হোমবলি উৎসর্গ করা, আর এভাবেই তাদের দাবি অনুযায়ী খোদায়ী ইবাদত সম্পন্ন হয়।

যিহিষ্কেলের পুস্তকে যাজকদের নিকট এই উৎসর্গসমূহ পেশ করার পদ্ধতি, সেগুলো পোড়ানোর নিয়ম এবং এর জন্য কী কী উৎসর্গ প্রয়োজন তা বর্ণিত হয়েছে।

সেখানে বলা হয়েছে: "আর বিশ্রামবারে অধিপতি প্রভুর উদ্দেশ্যে যে হোমবলি উৎসর্গ করবেন, তা হলো ছয়টি ত্রুটিহীন মেষশাবক ও একটি ত্রুটিহীন মেষ।" ৩।

দিনটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও পবিত্র হওয়া সত্ত্বেও তারা সেই পবিত্রতাকে রক্ষা করেনি যা আল্লাহ তাদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, বরং তারা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘন ও অতিক্রম করেছে। আর এটিই হলো ইহুদিদের অবস্থা এবং ছলচাতুরী ও প্রতারণা তাদের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর মহাগ্রন্থ (আল-কুরআন)-এ তাদের কাহিনী বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

১ অধ্যায় (১০), অনুচ্ছেদ (৩১)।

২ অধ্যায় (৩১), অনুচ্ছেদ (১৪, ১৬); এবং দেখুন: গণনাপুস্তক অধ্যায় (১৫), অনুচ্ছেদ (৩২-৩৬), এবং যাত্রাপুস্তক (৩৫), অনুচ্ছেদ (২-৩)।

৩ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ (১-৪)।
(খণ্ড: ১) আল-আইয়াদু ওয়া আসারুহা আলাল মুসলিমিন (পৃষ্ঠা: ২৯)
ذلك، وما حل بهم؛ بسبب ذلك الإعراض ومخالفة أمره. فقال تعالى: {وَلَقَدْ عَلِمْتُمُ الَّذِينَ اعْتَدَوْا مِنْكُمْ فِي السَّبْتِ فَقُلْنَا لَهُمْ كُونُوا قِرَدَةً خَاسِئِينَ} 1.

فالله سبحانه وتعالى أباح لبني إسرائيل العمل في ستة أيام من الأسبوع وحظر عليهم العمل في يوم واحد وهو يوم السبت، وفرض عليهم في هذا اليوم الاجتهاد في الأعمال الدينية إحياء للشعور الديني في قلوبهم وإضعافاً لشراهتهم في جمع الحطام وحبهم للدنيا، فتجاوز طائفة منهم حدود الله في السبت واعتدوها فكان لهم ذلك الجزاء2.

قال ابن عباس رضي الله عنهما: "إن الله إنما افتراض على بني إسرائيل اليوم الذي افترض عليكم في عيدكم يوم الجمعة، فخالفوا إلى السبت فعظموه وتركوا ما أمروا به، فلما أبوا إلا لزوم السبت ابتلاهم فيه فحرم عليهم ما أحل لهم في غيره"3.

كما في قوله تعالى: {وَاسْأَلْهُمْ عَنِ الْقَرْيَةِ الَّتِي كَانَتْ حَاضِرَةَ الْبَحْرِ إِذْ يَعْدُونَ فِي السَّبْتِ إِذْ تَأْتِيهِمْ حِيتَانُهُمْ يَوْمَ سَبْتِهِمْ شُرَّعاً وَيَوْمَ لا يَسْبِتُونَ لا تَأْتِيهِمْ كَذَلِكَ نَبْلُوهُمْ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ} 4.

--------------------------------------------

1 سورة البقرة، آية (65) .

2 تفسير المنار (1/343) .

3 تفسير الطبري (1/330) .

4 سورة الأعراف، آية (163) .
সেটি এবং তাদের ওপর যা আপতিত হয়েছিল; তা ছিল সেই বিমুখতা এবং তাঁর আদেশের বিরোধিতার কারণে। মহান আল্লাহ বলেন: “আর তোমরা অবশ্যই তাদের কথা জানো যারা তোমাদের মধ্যে শনিবারের ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘন করেছিল, ফলে আমি তাদেরকে বলেছিলাম, তোমরা লাঞ্ছিত বানর হয়ে যাও।” ১।

সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বনী ইসরাঈলের জন্য সপ্তাহের ছয় দিন কাজ করা বৈধ করেছিলেন এবং একদিন তাদের জন্য কাজ করা নিষিদ্ধ করেছিলেন, আর সেটি হলো শনিবার। তিনি তাদের ওপর এই দিনে ধর্মীয় কাজকর্মে আত্মনিয়োগ করা আবশ্যক করেছিলেন, যাতে তাদের অন্তরে ধর্মীয় অনুভূতি পুনরুজ্জীবিত হয় এবং নশ্বর পার্থিব সম্পদ সঞ্চয়ের লালসা ও দুনিয়ার প্রতি তাদের আসক্তি হ্রাস পায়। কিন্তু তাদের একটি দল শনিবারের ব্যাপারে আল্লাহর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছিল এবং তা লঙ্ঘন করেছিল, ফলে তাদের জন্য সেই শাস্তিই নির্ধারিত হয়েছিল। ২।

ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: “নিশ্চয়ই আল্লাহ বনী ইসরাঈলের ওপর সেই দিনটিই নির্ধারিত করেছিলেন যা তোমাদের ঈদের দিন হিসেবে তোমাদের ওপর নির্ধারণ করেছেন, আর তা হলো জুমাবার। কিন্তু তারা এর বিরোধিতা করে শনিবারের দিকে ধাবিত হলো এবং একে মহিমান্বিত করল, আর যা তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল তা বর্জন করল। যখন তারা শনিবার আঁকড়ে ধরা ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণে অস্বীকৃতি জানাল, তখন আল্লাহ তাদেরকে এই দিনেই পরীক্ষায় ফেললেন এবং অন্যান্য দিনে যা তাদের জন্য বৈধ ছিল তা এই দিনে তাদের ওপর নিষিদ্ধ করে দিলেন।” ৩।

যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে এসেছে: “আর তুমি তাদের কাছে সমুদ্রতীরবর্তী সেই জনপদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো, যখন তারা শনিবারের ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘন করত; যখন শনিবারের দিন তাদের মাছগুলো পানির ওপর ভেসে তাদের কাছে আসত, আর যেদিন তারা শনিবার পালন করত না সেদিন সেগুলো আসত না। এভাবেই আমি তাদের পরীক্ষা করতাম, কারণ তারা অবাধ্যতা করত।” ৪।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত (৬৫)।

২ তাফসিরে আল-মানার (১/৩৪৩)।

৩ তাফসিরে আত-তাবারী (১/৩৩০)।

৪ সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত (১৬৩)।
(খণ্ড: ১) আল-আইয়াদু ওয়া আসারুহা আলাল মুসলিমিন (পৃষ্ঠা: ৩০)
فبذلك الاعتداء وتلك المخالفة لأمره جل وعلا مسخهم الله قردة وخنازير نكالاً لهم وعقوبة لما فعلوا1.

فالسبت هو عيد الأسبوع عند اليهود وهو بمنزلة الجمعة عند المسلمين كما جاء ذلك في الحديث الصحيح عن حذيفة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أضل الله عن الجمعة من كان قبلنا، فكان لليهود يوم السبت، وكان للنصارى يوم الأحد، فجاء الله بنا فهدانا الله ليوم الجمعة، فجعل الجمعة والسبت والأحد، وكذلك هم تبع لنا يوم القيامة، نحن الآخرون من أهل الدنيا الأولون يوم القيامة، المقضي لهم قبل الخلائق" 2.

2 - عيد رأس السنة:

ويكون في اليوم الأول من شهر تشري3 ويحتفل فيه بنفخ البوق، ويحرم فيه العمل كما يحرم في يوم السبت، وهو الذي فدى فيه إسحاق عليه السلام

--------------------------------------------

1 انظر: تفسير البغوي (1/81) .

2 صحيح مسلم، كتاب الجمعة، باب هداية هذه الأمة ليوم الجمعة (2/586) ، حديث (856) .

3 تشري: هو الشهر الأول من شهور اليهود، وهي: تشرى، مرحشوان، كسلا طابات، شباط، آذار، نيسان، آيار، سيوان، تموز، أب، أيلون. انظر: نهاية الأرب للنويري (1/159) ، والخطط للمقريزي (2/472) .
সেই সীমালঙ্ঘন এবং মহান আল্লাহর নির্দেশের সেই অবাধ্যতার কারণে আল্লাহ তাদেরকে বানর ও শুকরে রূপান্তরিত করে দেন, যা ছিল তাদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান১।

শনিবার হলো ইহুদিদের সাপ্তাহিক উৎসবের দিন এবং এটি মুসলমানদের নিকট জুমার দিনের স্থলাভিষিক্ত, যেমনটি হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত সহিহ হাদিসে এসেছে। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ আমাদের পূর্ববর্তীদের জুমার দিন থেকে বিচ্যুত করে রেখেছিলেন। ফলে ইহুদিদের জন্য ছিল শনিবার এবং খ্রিস্টানদের জন্য ছিল রবিবার। অতঃপর আল্লাহ আমাদের নিয়ে আসলেন এবং আমাদের জুমার দিনের দিশা দান করলেন। এভাবে তিনি জুমার দিন, শনিবার এবং রবিবার—এই পর্যায়ক্রম নির্ধারণ করলেন। একইভাবে তারা কিয়ামতের দিনও আমাদের অনুসারী হবে। আমরা দুনিয়াবাসীদের মধ্যে সবশেষে আসলেও কিয়ামতের দিন হব প্রথম এবং সকল সৃষ্টির বিচার সম্পন্ন হওয়ার পূর্বেই আমাদের বিচার করা হবে" ২।

২ - নববর্ষের উৎসব:

এটি তিশরি৩ মাসের প্রথম দিনে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে শিঙা ফুঁকিয়ে উদযাপন করা হয়। এই দিনে কাজ করা নিষিদ্ধ, যেমনটি শনিবারের দিনেও নিষিদ্ধ। এটি সেই দিন, যাতে ইসহাক (আলাইহিস সালাম)-এর প্রাণের বিনিময় (ফিদয়া) দেওয়া হয়েছিল।

--------------------------------------------

১ দেখুন: তাফসির আল-বাগাভি (১/৮১)।

২ সহিহ মুসলিম, জুমার অধ্যায়, এই উম্মতকে জুমার দিনের দিশা দান সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ (২/৫৮৬), হাদিস (৮৫৬)।

৩ তিশরি: এটি ইহুদি মাসসমূহের প্রথম মাস। মাসগুলো হলো: তিশরি, মারহেশভান, কিসলেভ, তেভেত, শেভাত, আদার, নিসান, ইয়ার, সিভান, তামমুজ, আব, এলুল। দেখুন: নুওয়াইরি কৃত নিহায়াতুল আরাব (১/১৫৯) এবং মাকরিজি কৃত আল-খুতাত (২/৪৭২)।
(খণ্ড: ১) আল-আইয়াদু ওয়া আসারুহা আলাল মুসলিমিন (পৃষ্ঠা: ৩১)
من الذبح، كما يزعمون1، ويسمى أيضاً رأس هشايا أي رأس السنة وينزل منزلة عيد الأضحى عند المسلمين2.

وقد جاء في سفر العدد: "وفي يوم فرحكم وفي أعيادكم ورؤوس شهوركم تضربون بالأبواق على محرقاتكم وذبائح سلامتكم فتكون تذكاراً أمام إلهكم"3.

وجاء في سفر العدد كيفية تقديم القرابين: "وفي رؤوس شهوركم تقربون محرقة للرب ثورين التي ابنى بقر وكبشاً واحداً وسبعة خراف حولية صحيحة "4.

3 - عيد المظال:

وهو في اليوم الخامس عشر من شهر تشري وأيامه سبعة متوالية يستظلون فيها بأغصان الخلاف والقصب وغيرها من الأشجار التي لا يتناثر ورقها على

--------------------------------------------

1والصواب: أن الذبيح إسماعيل عليه السلام. قال شيخ الإسلام ابن تيمية " الذي يجب القطع به أنه إسماعيل، وهو الذي عليه الكتاب والسنة والدلائل المشهور، وهو الذي تدل عليه التوراة التي بأبدي أهل الكتاب. انظر: تفسير الفتاوى (4/331) ، وما بعدها في تقرير ذلك، وانظر: السعدي (6/388) ، وكشف الخفأ (1/232) ، وما بعدها.

2 انظر: تاريخ الإسرائيليين لشاهين بك مكاريوس (101) ، وتاريخ اليعقوبي (1/66) ، والآثار الباقية للبيروني (375) ، والخطط للمقريزي (2/473ـ479) ، ونهاية الأدب للنويري (1/195) ، صبح الأعشى للقلقشندي (2/436) ، وبلوغ للألوسي (1/36) .

3 الإصحاح (10) ، الفقرة (10) ، وانظر: سفر المزامير الإصحاح (1) ، الفقرة (1ـ3) .

4 الإصحاح (10) ، الفقرة (11ـ15) .
কুরবানি থেকে, যেমনটি তারা দাবি করে১, এবং একে 'রাস হাশায়া' অর্থাৎ নববর্ষও বলা হয় এবং এটি মুসলিমদের নিকট ঈদুল আযহার স্থলাভিষিক্ত২।

গণনাপুস্তকে এসেছে: "তোমাদের আনন্দের দিনে, তোমাদের উৎসবসমূহে এবং তোমাদের মাসসমূহের শুরুতে তোমরা তোমাদের হোমবলি ও মঙ্গলার্থক বলির ওপর তূরী বাজাবে, যা তোমাদের ইলাহের সামনে স্মারক হিসেবে গণ্য হবে"৩।

গণনাপুস্তকে কুরবানি পেশ করার নিয়ম সম্পর্কে এসেছে: "তোমাদের মাসসমূহের শুরুতে তোমরা রবের উদ্দেশ্যে হোমবলি হিসেবে দুটি গরু, একটি মেষ এবং সাতটি এক বছর বয়সী নিখুঁত মেষশাবক উৎসর্গ করবে"৪।

৩ - কুটির উৎসব (ঈদুল মাজাল):

এটি তিশরি মাসের পনেরোতম দিনে এবং এর দিনগুলো হলো টানা সাত দিন, যাতে তারা উইলোর শাখা, নলখাগড়া এবং এমন অন্যান্য গাছের ডালপালা দিয়ে ছায়া তৈরি করে যেগুলোর পাতা ঝরে পড়ে না...

--------------------------------------------

১ সঠিক মত হলো: যাকে জবেহ করার আদেশ দেওয়া হয়েছিল তিনি হলেন ইসমাঈল আলাইহিস সালাম। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন, "যে বিষয়টি অকাট্যভাবে গ্রহণ করা আবশ্যক তা হলো তিনি ইসমাঈল, এবং কিতাব, সুন্নাহ ও প্রসিদ্ধ প্রমাণাদি এর পক্ষেই রয়েছে। এটিই সেই বিষয় যার প্রতি আহলে কিতাবদের নিকট বিদ্যমান তাওরাত ইঙ্গিত করে।" দেখুন: তাফসিরুল ফাতাওয়া (৪/৩৩১) ও এর পরবর্তী অংশ, এবং দেখুন: আস-সাদী (৬/৩৮৮), কাশফুল খাফা (১/২৩২) ও এর পরবর্তী অংশ।

২ দেখুন: শাহিন বেগ মাকারিওস রচিত 'তারিখুল ইসরাইলিয়্যিন' (১০১), তারিখুল ইয়াকুবি (১/৬৬), আল-বেরুনির 'আল-আসারুল বাকিয়্যাহ' (৩৭৫), আল-মাকরিজির 'আল-খিতাত' (২/৪৭৩-৪৭৯), আন-নুওয়াইরির 'নিহায়াতুল আরাব' (১/১৯৫), আল-কালকাশান্দির 'সুবহুল আশা' (২/৪৩৬), আল-আলুসির 'বুলুগ' (১/৩৬)।

৩ অধ্যায় (১০), অনুচ্ছেদ (১০), এবং দেখুন: সামসঙ্গীত (সিফরুল মাজামির) অধ্যায় (১), অনুচ্ছেদ (১-৩)।

৪ অধ্যায় (১০), অনুচ্ছেদ (১১-১৫)।
(খণ্ড: ১) আল-আইয়াদু ওয়া আসারুহা আলাল মুসলিমিন (পৃষ্ঠা: ৩২)
الأرض، وذلك تذكاراً منهم لإظلال الله إياهم في التيه بالغمام. وفيه يحرم العمل، ويسمى أيضاً بعيد الجمع1.

وقد جاء في سفر اللاويين: أما اليوم الخامس عشر من الشهر السابع ففيه عندما تجمعون غلة الأرض تعيدون عيداً للرب سبعة أيام التي اليوم الأول عطلة وفي اليوم الثامن عطلة.

وتأخذون لأنفسكم في اليوم الأول ثمر أشجار بهجة وسعف النخل وتفرحون أمام الرب إلهكم سبعة أيام، وتعيدونه عيد للرب سبعة أيام في السنة فريضة دهرية في أجيالكم، في الشهر السابع تعيدونه، في مظال تسكنون سبعة أيام. كل الوطنيين في إسرائيل يسكنون في المظال، لكي تعلم أجيالكم أني في مظال أسكنت بني إسرائيل لما أخرجتهم من أرض مصر2.

--------------------------------------------

1 انظر: تاريخ الإسرائيليين (101) ، وتاريخ اليعقوبي (1/67) ، والآثار الباقية للبيروني (377) ، وصبح الأعشى للقلقشندي (2/436ـ437) ، والخطط للمقريزي (2/473) ، وبلوغ الأرب للألوسي (1/361) .

2 الإصحاح (23) ، الفقرة (39ـ43) ، وانظر: التثنية الإصحاح (16) ، الفقرة (13ـ15) .
ভূমি, আর এটি ছিল মূলত তীহ প্রান্তরে মেঘমালা দ্বারা আল্লাহ তাদের ওপর ছায়া প্রদান করার স্মারক হিসেবে। এতে কাজকর্ম করা নিষিদ্ধ এবং একে একত্র হওয়ার উৎসবও বলা হয়১।

লেবীয় পুস্তকে এসেছে: সপ্তম মাসের পনেরোতম দিনে, যখন তোমরা ভূমির ফসল সংগ্রহ করবে, তখন তোমরা সাত দিন ধরে রবের উদ্দেশ্যে একটি উৎসব পালন করবে; যার প্রথম দিন হবে ছুটির দিন এবং অষ্টম দিনটিও হবে ছুটির দিন।

আর প্রথম দিনে তোমরা নিজেদের জন্য আনন্দদায়ক বৃক্ষের ফল ও খেজুরের শাখা গ্রহণ করবে এবং সাত দিন ধরে তোমাদের রব ইলাহের সামনে আনন্দ করবে। তোমরা প্রতি বছর সাত দিন রবের উদ্দেশ্যে এটি উৎসব হিসেবে পালন করবে; এটি তোমাদের বংশপরম্পরায় একটি চিরস্থায়ী বিধান, সপ্তম মাসে তোমরা এটি পালন করবে। তোমরা সাত দিন কুটিরে বাস করবে। ইসরায়েলের সকল অধিবাসী কুটিরে বাস করবে, যাতে তোমাদের পরবর্তী প্রজন্ম জানতে পারে যে, আমি যখন বনী ইসরায়েলকে মিসর দেশ থেকে বের করে এনেছিলাম, তখন তাদের কুটিরেই বাস করিয়েছিলাম২।

--------------------------------------------

১ দেখুন: তারিখুল ইসরাইলিয়্যিন (১০১), তারিখুল ইয়াকুবি (১/৬৭), আল-আসারুল বাকিয়া লিল বিরুনি (৩৭৭), সুব্হুল আশা লিল কালকাশান্দি (২/৪৩৬-৪৩৭), আল-খিতাত লিল মাকরিজি (২/৪৭৩), বুলুগুল আরিব লিল আলূসি (১/৩৬১)।

২ অধ্যায় (২৩), অনুচ্ছেদ (৩৯-৪৩); এবং দেখুন: দ্বিতীয় বিবরণ (তাষনিয়া) অধ্যায় (১৬), অনুচ্ছেদ (১৩-১৫)।
(খণ্ড: ১) আল-আইয়াদু ওয়া আসারুহা আলাল মুসলিমিন (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وجاء أيضاً وفي اليوم الأول محفل مقدس عملاً ما من الشغل لا تعملوا سبعة أيام تقربون وقود للرب1.

وفي سفر زكريا "ليسجدوا للملك رب الجنود وليعيدوا عيد المظال"2.

4 - عيد الاعتكاف:

ويكون في اليوم الثامن من أيام المظلّة وهو اليوم الثاني والعشرون من شهر تشرى3.

كما جاء ذلك في سفر نحميا بعد أن ذكر عيد المظال وما يفعل فيه قال: "وفي اليوم الثامن اعتكاف حسب المرسوم"4.

وفي سفر اللاّويين: "وفي اليوم الثامن يكون محفل مقدس تقربون وقوداً للرب انه اعتكاف كل عمل شغل لا تعلموا"5.

5 - عيد الفطير، أو الفصح:

كما يسمى بعيد الربيع وعيد الحرية 6، ويكون في اليوم الخامس عشر من شهر نيسان، وهو سبعة أيام لا يأكلون فيها إلا الفطير؛ وذلك تذكاراً لهم

--------------------------------------------

1 الإصحاح (23) ، الفقرة (33ـ36) ، وانظر: العدد الإصحاح (29) ، الفقرة (13ـ16) .

2 الإصحاح (14) ، الفقرة (16) .

3 الخطط للمقريزي (2/473) .

4 الإصحاح (8) ، الفقرة (18) .

5 الإصحاح (23) ، الفقرة (36) .

6 انظر: في الفكر اليهود لحايم ناحوم (265-266) .
আরও বর্ণিত হয়েছে: "আর প্রথম দিনে একটি পবিত্র সমাবেশ হবে; তোমরা কোনো ধরনের পরিশ্রমের কাজ করবে না। সাত দিন ধরে তোমরা রবের উদ্দেশ্যে অগ্নিবলি উৎসর্গ করবে"১।

যাকারিয়্যাহ পুস্তকে রয়েছে: "যাতে তারা বাদশাহ, বাহিনীসমূহের রবের সিজদা করতে এবং কুটিরোৎসব পালন করতে পারে"২।

৪ - এতেকাফ উৎসব:

এটি কুটিরোৎসবের অষ্টম দিনে অনুষ্ঠিত হয়, যা তিশরি মাসের বাইশতম দিন৩।

যেমনটি নেহেমিয়া পুস্তকে কুটিরোৎসব এবং তাতে যা করণীয় তা বর্ণনা করার পর বলা হয়েছে: "আর অষ্টম দিনে বিধান অনুযায়ী এতেকাফ (পবিত্র সমাবেশ) হবে"৪।

লেবীয় পুস্তকে রয়েছে: "অষ্টম দিনে একটি পবিত্র সমাবেশ হবে, তোমরা রবের উদ্দেশ্যে অগ্নিবলি উৎসর্গ করবে; এটি একটি এতেকাফ (পবিত্র সমাবেশ), তোমরা কোনো পরিশ্রমের কাজ করবে না"৫।

৫ - খামিরবিহীন রুটির উৎসব, বা ফিসাহ (নিস্তারপর্ব):

একে বসন্ত উৎসব এবং স্বাধীনতার উৎসবও বলা হয়৬, এবং এটি নিসান মাসের পনেরোতম দিনে শুরু হয়। এটি সাত দিন স্থায়ী হয়, যে দিনগুলোতে তারা খামিরবিহীন রুটি ব্যতীত অন্য কিছু খায় না; এটি তাদের জন্য স্মারকস্বরূপ...

--------------------------------------------

১ অধ্যায় (২৩), অনুচ্ছেদ (৩৩-৩৬); এবং দেখুন: গণনাপুস্তক, অধ্যায় (২৯), অনুচ্ছেদ (১৩-১৬)।

২ অধ্যায় (১৪), অনুচ্ছেদ (১৬)।

৩ মাকরিজীর খিতাত (২/৪৭৩)।

৪ অধ্যায় (৮), অনুচ্ছেদ (১৮)।

৫ অধ্যায় (২৩), অনুচ্ছেদ (৩৬)।

৬ দেখুন: হাইয়িম নাহুম রচিত 'ফি আল-ফিকর আল-ইয়াহুদি' (২৬৫-২৬৬)।
(খণ্ড: ১) আল-আইয়াদু ওয়া আসারুহা আলাল মুসলিমিন (পৃষ্ঠা: ৩৪)
عندما خلصهم الله من أسر فرعون ومن العبودية، وليتذكروا خروجهم من مصر إلى أرض التيه1.

وقد جاء وصفه في سفر التثنية: "احفظ شهر أبيب وأعمل فصحاً للرب إلهك؛ لأنه في شهر أبيب أخرجك الرب إلهك من مصر ليلاً.. لا تأكل عليه خميراً، سبعة أيام تأكل عليه فطيراً خبز المشقة؛ لأنه بعجلة خرجت من أرض مصر، لكي تذكر يوم خروجك من أرض مصر كل أيام حياتك"2.

وقد نحا اليهود في هذا العيد منحى وحشياً إجرامياً، حيث جعلوه من أفضل المناسبات التي يستخدمون فيها دماء البشر ويكون أعظم هدية تقدم إلى الحاخام، ويفضل أن يكون مسيحياً فإن لم يوجد، فإن دم المسلم يفي بالغرض المطلوب، وبناءً على ذلك يتم تناول الفطير المفروض على اليهود ممزوجاً بدم الضحية.

ويؤيد هذا ما جاء في التلمود " عندنا مناسبتان دمويتان ترضيان إلهنا يهوه، إحداهما: عيد الفطائر الممزوجة بالدماء البشرية، والأخرى: مراسيم ختان الأطفال"3.

--------------------------------------------

1 انظر: تاريخ الإسرائيليين (101) ، وتاريخ اليعقوبي (1/66) ، والآثار الباقية للبيروني (381) ، وصبح الأعشى للقلقشندي (2/437) ، والخطط للمقريزي (2/474،479) ، وبلوغ الأرب للألوسي (1/362) .

2 الإصحاح (16) ، الفقرة (1-8) ، وانظر: سفر العدد الإصحاح (28) ، الفقرة (16-25) ، وسفر للاويين الإصحاح (23) ، الفقرة (4/8) .

3 انظر: خطر اليهود على الإسلام والمسيحية لعبد الله التل (80) ، نقلاً عن سيكوم زوهار.
যখন আল্লাহ তাদের ফেরাউনের বন্দিত্ব ও দাসত্ব থেকে মুক্তি দেন, এবং যাতে তারা মিশর থেকে তীহ্ প্রান্তরের দিকে তাদের প্রস্থানের কথা স্মরণ করতে পারে ১।

এবং এর বর্ণনা দ্বিতীয় বিবরণ (ডিউটেরনমি) পুস্তকে এসেছে: "আবিব মাস পালন করো এবং তোমার প্রভু আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিস্তারপর্ব (পাসওভার) উদযাপন করো; কারণ আবিব মাসে তোমার প্রভু আল্লাহ তোমাকে রাতে মিশর থেকে বের করে এনেছেন... তার সাথে খামিরযুক্ত কিছু খেয়ো না, সাত দিন তার সাথে তাড়িশূন্য রুটি (ফিতির) তথা কষ্টের রুটি আহার করো; কারণ তুমি মিশর দেশ থেকে দ্রুতগতিতে বেরিয়েছিলে, যেন তুমি তোমার জীবনের সমস্ত দিন মিশর দেশ থেকে তোমার প্রস্থানের দিনটি স্মরণ করো" ২।

এই উৎসবে ইহুদিরা এক বর্বরোচিত ও অপরাধমূলক পথ অবলম্বন করেছে, যেখানে তারা এটিকে মানুষের রক্ত ব্যবহারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপলক্ষে পরিণত করেছে এবং এটি রাব্বাইয়ের নিকট পেশকৃত সর্বশ্রেষ্ঠ উপহার হিসেবে গণ্য হয়। এক্ষেত্রে খ্রিষ্টান হওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, আর যদি না পাওয়া যায়, তবে মুসলমানের রক্ত কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য পূরণে যথেষ্ট হয়। এরই ভিত্তিতে, ইহুদিদের ওপর নির্ধারিত তাড়িশূন্য রুটি (ফিতির) বলির রক্তের সাথে মিশ্রিত করে আহার করা হয়।

তালমুদে যা এসেছে তা একে সমর্থন করে: "আমাদের নিকট দুটি রক্তক্ষয়ী উপলক্ষ রয়েছে যা আমাদের প্রভু ইয়াহওয়েহ-কে সন্তুষ্ট করে; একটি হলো মানুষের রক্তমিশ্রিত তাড়িশূন্য রুটির উৎসব এবং অপরটি হলো শিশুদের খতনা করার অনুষ্ঠান" ৩।

--------------------------------------------

১ দেখুন: তারিক আল-ইসরাঈলিয়্যিন (১০১), তারিক আল-ইয়াকুবি (১/৬৬), আল-আসার আল-বাকিয়্যাহ লিল-বিরুনি (৩৮১), সুবহ আল-আশা লিল-কালকাশান্দি (২/৪৩৭), আল-খুতাত লিল-মাকরিজি (২/৪৭৪, ৪৭৯), বুলুগ আল-আরাব লিল-আলুসি (১/৩৬২)।

২ অধ্যায় (১৬), অনুচ্ছেদ (১-৮), এবং দেখুন: গণনা পুস্তক অধ্যায় (২৮), অনুচ্ছেদ (১৬-২৫), এবং লেবীয় পুস্তক অধ্যায় (২৩), অনুচ্ছেদ (৪/৮)।

৩ দেখুন: আব্দুল্লাহ আত-তাল রচিত 'খাতারুল ইয়াহুদ আলাল ইসলাম ওয়াল মাসিহিয়্যাহ' (৮০), সিকুম জোহার থেকে উদ্ধৃত।
(খণ্ড: ১) আল-আইয়াদু ওয়া আসারুহা আলাল মুসলিমিন (পৃষ্ঠা: ৩৫)
فأصبح الدم ضرورياً لإقامة هذا العيد.

وقد جمع أحد كتاب أوربا "أزنولدلير" أهم جرائم اليهود الثابتة بالأدلة القطعية في مختلف بلدان العالم بهذا الخصوص منذ منتصف القرن الثامن عشر حتى العقد الثالث من القرن العشرين ودونها في كتاب نشر عام 1938م تحت عنوان (طقوس الاغتيال اليهودية) فذكر فيه أكثر من ستين حادثاً1.

ولعل من أشنع الحوادث في ذلك حادثة دمشق عام 1840م، والتي راح ضحيتها الأب توما وخادمه إبراهيم عمار من أجل الاحتفال بهذا العيد2.

ولا يستغرب من اليهود مثل هذا العمل، فالمكر والحقد دينهم، والخديعة والجريمة ديدنهم.

6 - عيد سنة العطلة:

وهي السنة السابعة من كل سبع سنوات وتكون عطلة، حيث يتركون الأرض بدون زراعة سبتاً للرب ولا يقطف زرعها، بل يترك لفقراء الشعب ووحوش البرية3.

كما جاء ذلك في سفر اللاويين " وأما السنة السابعة ففيها يكون للأرض سبت عطلة سبتاً للرب لا تزرع حقلك ولا تقضب كرمك"4.

--------------------------------------------

1 انظر: أضواء على اليهودية من خلال مصادرها، للدكتور / محمد أحمد دياب (114) .

2 انظر: كتاب دم لفطير صهيون لنجيب الكيلاني، وأضواء على اليهودية (122-124) ، والكنز المرصود في قواعد التلمود.

3 تاريخ الإسرائيليين لشاهين بك مكاريوس (101) .

4 الإصحاح (25) ، الفقرة (1-7) .
ফলে এই উৎসব উদযাপনের জন্য রক্ত অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

ইউরোপীয় লেখকদের একজন "আর্নল্ড লিস" অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি থেকে বিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশক পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই বিষয়ে অকাট্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রমাণিত ইহুদিদের প্রধান অপরাধগুলো সংগ্রহ করেছেন এবং ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত (ইহুদি হত্যার আচার) শিরোনামের একটি বইয়ে সেগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন, যেখানে তিনি ষাটেরও বেশি ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন।১

সম্ভবত এই সংক্রান্ত জঘন্যতম ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি হলো ১৮৪০ সালের দামেস্কের ঘটনা, যেখানে এই উৎসব পালনের জন্য ফাদার টোমা এবং তার সেবক ইব্রাহিম আম্মার প্রাণ হারিয়েছিলেন।২

ইহুদিদের থেকে এ ধরনের কাজ বিস্ময়কর নয়, কারণ ষড়যন্ত্র ও বিদ্বেষ তাদের ধর্ম, আর প্রতারণা ও অপরাধ তাদের স্বভাব।

৬ - বিশ্রাম বছরের উৎসব:

এটি প্রতি সাত বছরের মধ্যে সপ্তম বছর এবং এটি একটি ছুটির বছর হয়, যেখানে তারা রবের উদ্দেশে বিশ্রাম হিসেবে জমি চাষাবাদ না করে ফেলে রাখে এবং তার ফসল সংগ্রহ করে না, বরং তা জনপদের দরিদ্রদের এবং বন্য পশুদের জন্য রেখে দেওয়া হয়।৩

যেমনটি লেবীয় পুস্তকে এসেছে: "কিন্তু সপ্তম বছরে ভূমির জন্য বিশ্রামের পূর্ণ বিশ্রাম হবে, যা রবের উদ্দেশে বিশ্রাম; তুমি তোমার ক্ষেতে বীজ বপন করবে না এবং তোমার আঙ্গুর বাগান ছাঁটাই করবে না।"৪

--------------------------------------------

১ দেখুন: আদওয়া আলাল ইয়াহুদিয়্যাহ মিন খিলালি মাসাদিরিহা, ডক্টর মুহাম্মদ আহমদ দিয়াব (১১৪)।

২ দেখুন: নাজিব আল-কিলানির কিতাবু দাম্মিন লি-ফিতিরি সাহইউন, আদওয়া আলাল ইয়াহুদিয়্যাহ (১২২-১২৪), এবং আল-কানজুল মারসুদ ফি কাওয়াইদিত তালমুদ।

৩ শাহিন বেগ মাকারিওস রচিত তারিখুল ইসরাইলিইয়িন (১০১)।

৪ অধ্যায় (২৫), অনুচ্ছেদ (১-৭)।
(খণ্ড: ১) আল-আইয়াদু ওয়া আসারুহা আলাল মুসলিমিন (পৃষ্ঠা: ৩৬)
7 - عيد سنة الخمسين أو اليوبيل:

وهي سنة مقدسة لا يكون فيها زرع ولا حصاد1؛ وذلك أنهم يزرعون الأرض لمدة ست سنوات متتالية، وفي السنة السابعة يتركونها بدون زراعة سبتاً للرب، وهكذا تستمر العملية ست سنوات زراعة والسابعة سبوتاً للرب فيكون مجموع المدة سبع سنوات.

وبعد أن تتكرر العملية سبع مرات، أي سبع دورات زراعية، فإنه يصبح مجموع السنوات تسعاً وأربعين سنة، وعليه فتكون السنة الخمسون يوبيلاً، وعيداً لهم يقيمون فيه احتفالات ضخمة بهذه المناسبة مستعملين بوق الهتاف، تعبيراً عن فرحتهم الكبرى منادين بالعتق في الأرض لجميع سكانها.

كما نص على ذلك سفر اللاويين، حيث جاء فيه "وتعد ذلك سبعة سبوت سنين، سبع سنين مرات، فتكون لك أيام السبعة السبوت السنوية تسعاً وأربعين سنة. ثم تعبر بوق الهتاف في الشهر السابع في عاشر الشهر في يوم الكفارة تعبرون البوق في جميع أرضكم وتقدسون السنة الخمسين وتنادون بالعتق في الأرض لجميع سكانها … يوبيلاً، تكون لكم السنة الخمسون لا تزرعوا ولا تحصدوا زريعها ولا تقلفوا كرمها المحول، إنها يوبيل مقدسة تكون لكم2.

--------------------------------------------

1 تاريخ الإسرائيليين (101) ، وانظر: مزيد بيان عن اليوبيل، ص (132) من البحث.

2 الإصحاح (5) ، الفقرة (8-12) .
৭ - পঞ্চাশতম বর্ষের উৎসব বা জুবিলি (Jubilee):

এটি একটি পবিত্র বছর, যাতে কোনো বপন বা ফসল সংগ্রহ করা হয় না; কারণ তারা টানা ছয় বছর জমিতে চাষাবাদ করে এবং সপ্তম বছরে রবের উদ্দেশ্যে বিশ্রাম (সাবত) হিসেবে জমিটি চাষাবাদ ছাড়াই ফেলে রাখে। এভাবে ছয় বছর চাষাবাদ এবং সপ্তম বছর রবের জন্য বিশ্রামের প্রক্রিয়া চলতে থাকে, যার ফলে মোট সময়কাল হয় সাত বছর।

এই প্রক্রিয়া সাতবার পুনরাবৃত্ত হওয়ার পর, অর্থাৎ সাতটি কৃষি চক্র পূর্ণ হওয়ার পর, মোট বছরের সংখ্যা দাঁড়ায় ঊনপঞ্চাশ। ফলশ্রুতিতে পঞ্চাশতম বছরটি জুবিলি হিসেবে গণ্য হয়। এটি তাদের জন্য একটি উৎসবের বছর, যাতে তারা এই উপলক্ষে উচ্চৈঃস্বরে শিঙা বাজিয়ে বিশাল অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। তারা তাদের মহান আনন্দের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেশের সমস্ত অধিবাসীর জন্য মুক্তির ঘোষণা দেয়।

যেমনটি লেবীয় পুস্তকে (Leviticus) বর্ণিত হয়েছে, সেখানে এসেছে: "আর তুমি নিজের জন্য সাতটি বছর-বিশ্রাম অর্থাৎ সাতবার সাত বছর গণনা করবে; তাতে সেই সাতটি বছর-বিশ্রামের সময়কাল তোমার জন্য ঊনপঞ্চাশ বছর হবে। অতঃপর সপ্তম মাসের দশম দিনে, অর্থাৎ প্রায়শ্চিত্তের দিনে, তোমরা উচ্চৈঃস্বরে শিঙা বাজাবে; তোমরা তোমাদের সমস্ত দেশে শিঙা বাজাবে। আর তোমরা পঞ্চাশতম বছরটিকে পবিত্র করবে এবং দেশের সমস্ত অধিবাসীর জন্য মুক্তির ঘোষণা দেবে... এটি জুবিলি, পঞ্চাশতম বছরটি তোমাদের জন্য এমন হবে যে, তোমরা বীজ বপন করবে না, আপনাআপনি উৎপন্ন হওয়া ফসল কাটবে না এবং পরিচর্যাবিহীন দ্রাক্ষাক্ষেতের আঙুর সংগ্রহ করবে না। কারণ এটি জুবিলি, এটি তোমাদের জন্য পবিত্র হবে।"

--------------------------------------------

১ ইসরায়েলিদের ইতিহাস (১০১); এবং দেখুন: জুবিলি সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা, গবেষণার ১৩২ পৃষ্ঠা।

২ অধ্যায় (৫), অনুচ্ছেদ (৮-১২)।
(খণ্ড: ১) আল-আইয়াদু ওয়া আসারুহা আলাল মুসলিমিন (পৃষ্ঠা: ৩৭)
8 - عيد الأسابيع أو عيد الحصاد:

وهي الأسابيع التي فرضت فيها الفرائض وكمل الدين، ويكون بعد عيد الفطير بسبعة أسابيع، وهو يوم عظيم وحج من حجوج بني إسرائيل.

ويكون في اليوم السادس من شهر سيوان، ويسمى أيضاً بعيد العنصرة وعيد الخطاب وعيد الخميس1.

وقد جاء في تحديده كما في سفر اللاويين " ثم تحسبون لكم من غد السبت من يوم إتيانكم بحزمة الترديد سبعة أسابيع، وتكون كاملة إلى غد السبت خمسين يوماُ، ثم تقربون تقدمة جديدة للرب من مساكنكم"2.

9 - يوم الكفارة أو عيد الغفران3:

وهو من أعظم الأعياد عندهم، ويكون في اليوم العاشر من الشهر السابع.

حيث جاء في سفر اللاويين: "وكلم الرب موسى قائلاً: أما العاشر من هذا الشهر السابع، فهو يوم الكفارة محفلاً مقدساً، يكون لكم تذللون نفوسكم وتقربون وقود للرب"4.

وفيه ينقطع اليهود عن العمل ويتفرغون للعبادة وتكفير الذنوب التي اقترفوها في العام الماضي.

--------------------------------------------

1 انظر: تاريخ الإسرائيليين (101) ، والآثار الباقية للبيروني (281) ، وصبح الأعشى للقلقشندي (2/437) ، والخطط للمقريزي (2/474-479) ، وبلوغ الأرب للألوسي (1/363) .

2 الإصحاح (23) ، الفقرة (15-16) .

3 في الفكر اليهودي لحايم ناحوم (297) .

4 الإصحاح (23) ، الفقرة (26-27) ، وانظر: الإصحاح (16) ، الفقرة (29-30) .
৮ - সপ্তাহোৎসব বা শস্য কর্তন উৎসব:

এটি সেই সপ্তাহসমূহ যাতে ফরজসমূহ নির্ধারিত হয়েছিল এবং দ্বীন পূর্ণতা লাভ করেছিল। এটি ফিতির উৎসবের (খামিরবিহীন রুটির উৎসব) সাত সপ্তাহ পর অনুষ্ঠিত হয়। এটি একটি মহান দিন এবং বনী ইসরাঈলের হজের মধ্য থেকে অন্যতম একটি হজ।

এটি সীওয়ান মাসের ষষ্ঠ দিনে হয়ে থাকে। একে পঞ্চাশত্তমী উৎসব (পেন্টেকোস্ট), খিতাব উৎসব এবং বৃহস্পতিবারের উৎসবও বলা হয়।১

এর সময় নির্ধারণ সম্পর্কে লেবীয় পুস্তকে বর্ণিত হয়েছে: "অতঃপর তোমরা তোমাদের জন্য বিশ্রামের দিনের (সাব্বাত) পরের দিন থেকে, অর্থাৎ যে দিন তোমরা দোলনীয় শস্যের আঁটি আনবে, সেই দিন থেকে পূর্ণ সাত সপ্তাহ গণনা করবে। সপ্তম বিশ্রামের দিনের পরের দিন পর্যন্ত তোমরা পঞ্চাশ দিন পূর্ণ করবে, তারপর তোমরা তোমাদের বাসস্থান থেকে রবের উদ্দেশ্যে একটি নতুন নৈবেদ্য উৎসর্গ করবে।"২

৯ - কাফফারা দিবস বা ক্ষমা উৎসব:৩

এটি তাদের নিকট অন্যতম মহান উৎসব। এটি সপ্তম মাসের দশম দিনে হয়ে থাকে।

যেখানে লেবীয় পুস্তকে বর্ণিত হয়েছে: "এবং রব মুসাকে উদ্দেশ্য করে বললেন: এই সপ্তম মাসের দশম দিনটি হলো কাফফারা দিবস, এটি একটি পবিত্র মহাসভা হবে। তোমরা তোমাদের নফসকে বিনীত করবে এবং রবের উদ্দেশ্যে অগ্নিবলি উৎসর্গ করবে।"৪

এই দিনে ইয়াহুদিরা কর্মবিরতি পালন করে এবং ইবাদত ও গত বছরে তাদের দ্বারা সংঘটিত পাপের প্রায়শ্চিত্তের জন্য নিমগ্ন হয়।

--------------------------------------------

১ দ্রষ্টব্য: তারীখুল ইসরাঈলিয়্যীন (১০১), আল-আসারুল বাকিয়া লিল-বীরুনী (২৮১), সুবহুল আশা লিল-কালকাশান্দী (২/৪৩৭), আল-খিতাত লিল-মাকরীযী (২/৪৭৪-৪৭৯), বুলুগুল আরাব লিল-আলুসী (১/৩৬৩)।

২ অধ্যায় (২৩), শ্লোক (১৫-১৬)।

৩ ফিল ফিকরিল ইয়াহুদী লি-হাইম নাহুম (২৯৭)।

৪ অধ্যায় (২৩), শ্লোক (২৬-২৭), এবং আরও দেখুন: অধ্যায় (১৬), শ্লোক (২৯-৩০)।
(খণ্ড: ১) আল-আইয়াদু ওয়া আসারুহা আলাল মুসলিমিন (পৃষ্ঠা: ৩৮)
حيث جاء النص على أن جزاء من يعمل فيه أن يقتل ويباد من شعب بني إسرائيل؛ لأن ذلك فريضة دهرية لجميع الأجيال فلا يجوز العمل فيه.

"عملاً ما لا تعملوا في هذا اليوم عينه؛ لأنه يوم كفارة للتكفير عنكم، أمام الرب إلهكم، إن كل نفس لا تتذلل في هذا اليوم عينه تقطع من شعبها"1.

وقد كانت الطريقة المتبعة لديهم في التكفير غريبة سخيفة، وهي أن يحضر الكاهن تيساً حياً، ويضع يديه على رأسه ويعترف بكل ذنوب بني إسرائيل وكل سيئاتهم مع كل خطاياهم، ويجعلها على رأس التيس، ثم يطلقه في البرية حاملاً كل خطايا الشعب، ثم يعمل محرقه له ومحرقه للشعب للتكفير عن نفسه وعن الشعب2.

وقد نص سفر اللاويين: على أن ذلك العمل فريضة دهرية في كل عام، حيث قال: "وتكون هذه لكم فريضة دهرية للتكفير عن بني إسرائيل من جميع خطاياهم مرة في السنة"3.

ويقول الدكتور حسن ظاظا: "إن اليهود على طول تعرضهم للاضطهاد من الأمم التي عاشوا بين ظهرانيها، قد جعلوا من يوم الغفران، أو التكفير هذا يوماً يعلنون فيه نقضهم للعهود والمواثيق التي قطعوها لغير اليهود، وأفتى

--------------------------------------------

1 الإصحاح السابق الفقرة (28-29) .

2 انظر: اللاويين الإصحاح: (16) ، الفقرة (20-22) .

3 الإصحاح (16) ، الفقرة (34) .
যেখানে বর্ণিত হয়েছে যে, যে ব্যক্তি এই দিনে কাজ করবে তার প্রতিফল হলো তাকে হত্যা করা হবে এবং বনী ইসরাঈল জাতি থেকে তাকে বিলুপ্ত করা হবে; কারণ এটি সকল প্রজন্মের জন্য একটি চিরন্তন বিধান, তাই এই দিনে কাজ করা বৈধ নয়।

"এই বিশেষ দিনে তোমরা কোনো কাজ করবে না; কারণ এটি তোমাদের প্রতিপালক ইলাহের সামনে তোমাদের জন্য কাফফারা প্রদানের দিন। যে ব্যক্তি এই বিশেষ দিনে নিজেকে বিনীত করবে না, তাকে তার জাতি থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে।"১।

তাদের মাঝে কাফফারা আদায়ের অনুসৃত পদ্ধতিটি ছিল অদ্ভুত ও হাস্যকর; তা হলো, পুরোহিত একটি জীবিত পাঁঠা আনবে এবং তার উভয় হাত এর মাথার ওপর রাখবে এবং বনী ইসরাঈলের সকল পাপ, অন্যায় ও অপরাধ স্বীকার করবে এবং সেগুলো সেই পাঁঠার মাথার ওপর অর্পণ করবে। অতঃপর জাতির সমস্ত পাপ বহনকারী অবস্থায় তাকে জনশূন্য প্রান্তরে ছেড়ে দেবে। এরপর সে নিজের জন্য এবং জাতির জন্য কাফফারা স্বরূপ নিজের পক্ষ থেকে ও জাতির পক্ষ থেকে একটি হোমবলি প্রদান করবে।২।

লেবীয় পুস্তকে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, এই কাজটি প্রতি বছরের জন্য একটি চিরন্তন বিধান। যেখানে বলা হয়েছে: "বছরে একবার বনী ইসরাঈলের সকল পাপ মোচনের জন্য এটি তোমাদের জন্য একটি চিরন্তন বিধানে পরিণত হবে।"৩।

ডক্টর হাসান জাজা বলেন: "ইয়াহুদিরা যেসব জাতির মাঝে বসবাস করত, তাদের দ্বারা দীর্ঘকাল নির্যাতনের শিকার হওয়ার ফলে তারা এই ‘ক্ষমা দিবস’ বা ‘কাফফারা দিবস’কে এমন এক দিনে পরিণত করেছে, যে দিনটিতে তারা অ-ইয়াহুদিদের সাথে কৃত তাদের সকল অঙ্গীকার ও চুক্তি ভঙ্গের ঘোষণা দেয় এবং ফতোয়া প্রদান করে...

--------------------------------------------

১ পূর্ববর্তী অধ্যায়, অনুচ্ছেদ (২৮-২৯)।

২ দেখুন: লেবীয় পুস্তক, অধ্যায়: (১৬), অনুচ্ছেদ: (২০-২২)।

৩ অধ্যায় (১৬), অনুচ্ছেদ (৩৪)।