(খণ্ড: ১)
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ ওয়া যিকর আহাদীসিহিমা ওয়া তাখরীজিহা ওয়া বায়ানি সহীহিহা
(পৃষ্ঠা: -)
الإسراء والمعراج وذكر أحاديثهما وتخريجها وبيان صحيحها القسم: السيرة النبوية
الكتاب: الإسراء والمعراج وذكر أحاديثهما وتخريجها وبيان صحيحها
المؤلف: أبو عبد الرحمن محمد ناصر الدين، بن الحاج نوح بن نجاتي بن آدم، الأشقودري الألباني (ت 1420هـ)
الناشر: المكتبة الإسلامية
الطبعة: 2000م 1421هـ
عدد الصفحات: 109
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ এবং এ সম্পর্কিত হাদীসসমূহের উল্লেখ, সেগুলোর তাখরীজ ও সহীহ হাদীসসমূহের বর্ণনা বিভাগ: সীরাতুন নবী
কিতাব: আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ এবং এ সম্পর্কিত হাদীসসমূহের উল্লেখ, সেগুলোর তাখরীজ ও সহীহ হাদীসসমূহের বর্ণনা
লেখক: আবু আব্দুর রহমান মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন, বিন আল-হাজ নুহ বিন নাজাতি বিন আদম, আল-আশকুন্দরী আল-আলবানী (মৃত্যু ১৪২০ হিজরী)
প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ
সংস্করণ: ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ ১৪২১ হিজরী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৯
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর ছাপানো সংস্করণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ ওয়া যিকর আহাদীসিহিমা ওয়া তাখরীজিহা ওয়া বায়ানি সহীহিহা
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الناشر
إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
أما بعد فهذا مصنف جديد - لم يطبع بعد - من نفائس ما خلفه الشيخ المحدث العلامة محمد ناصر الدين الألباني رحمه الله تعالى من كنوز السنة وهو "صحيح الإسراء والمعراج وذكر أحاديثهما وتخريجها وبيان صحيحها من سقيمها وسرد ما صح منها في سياق واحد بأسلوب فريد بديع لاتراه في كتاب"1 نقدمه اليوم للعالم الإسلامي لينشر علم
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
প্রকাশকের ভূমিকা
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্ট এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল।
অতঃপর, এটি একটি নতুন সংকলন - যা ইতিপূর্বে মুদ্রিত হয়নি - যা শাইখ মুহাদ্দিস আল্লামা মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর রেখে যাওয়া সুন্নাহর অমূল্য রত্নভাণ্ডারসমূহের অন্তর্ভুক্ত। এটি হলো "সহীহ আল-ইসরা ওয়াল মি’রাজ এবং এ সংক্রান্ত হাদিসসমূহের উল্লেখ, সেগুলোর তাখরিজ, সহীহ ও যঈফের বর্ণনা এবং সহীহ হাদিসগুলোকে এক অনন্য ও চমৎকার শৈলীতে ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন, যা অন্য কোনো গ্রন্থে দেখা যায় না"১ আজ আমরা এটি মুসলিম বিশ্বের সামনে পেশ করছি যেন ইলম ছড়িয়ে পড়ে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ ওয়া যিকর আহাদীসিহিমা ওয়া তাখরীজিহা ওয়া বায়ানি সহীহিহা
(পৃষ্ঠা: ৪)
الشيخ ويستفيد منه العلماء وطلبة العلم ويؤجر عليه الشيخ رحمه الله في قبره.
وهذا المصنف - كغيره - من ذخائر ونفائس مشروع الشيخ العظيم: "تقريب السنة بين يدي الأمة" الذي أفنى فيه عمره وقضى نحو سبعين سنة في خدمة السنة النبوية - على صاحبها أفضل الصلاة وأتم التسليم - في إحيائها وتمييز صحيحها من ضعيفها ودعوة الناس جميعا إليها فجزاه الله تعالى عن الإسلام والمسلمين خيرا.
ولكن الله - الذي كتب الموت على كل حي - شاء أن يموت الشيخ قبل أن يتم مشروعه العظيم فجاء هذا المصنف "صحيح الإسراء والمعراج" على هذه الصورة غير مكتمل.
ولقد رأت المكتبة الإسلامية بعمان أن تنشره ليعم به النفع مستعينة على إخراجه - في أحسن صورة ممكنة - ببعض طلبة العلم فجزاهم الله خيرا.
ونود الإشارة إل الرموز التي استعملها الشيخ في هذا المصنف وهي: "خ": البخاري، "م": مسلم، "حم": أحمد بن
শায়খ, এবং আলিম ও ইলম অন্বেষণকারীরা এর মাধ্যমে উপকৃত হন এবং শায়খ—আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—তাঁর কবরে এর জন্য সওয়াব প্রাপ্ত হন।
আর এই সংকলনটি—অন্যান্য সংকলনের মতো—শায়খের মহান প্রকল্পের এক মূল্যবান সম্পদ ও রত্নভাণ্ডার: "তাকরীবুস সুন্নাহ বাইনা ইয়াদাইল উম্মাহ" (উম্মতের নিকট সুন্নাহকে সহজবোধ্য করা), যার পেছনে তিনি তাঁর জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং সুন্নাতে নববীর খিদমতে প্রায় সত্তর বছর ব্যয় করেছেন—সুন্নাহর অধিকারীর (রাসূলুল্লাহর) ওপর সর্বোত্তম সালাত ও পূর্ণাঙ্গ সালাম বর্ষিত হোক—সুন্নাহর পুনর্জাগরণে, এর সহীহ ও যয়ীফের পার্থক্য নিরূপণে এবং সকল মানুষকে এর দিকে আহ্বানের ক্ষেত্রে। আল্লাহ তাআলা তাঁকে ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
কিন্তু আল্লাহ—যিনি প্রত্যেক প্রাণীর জন্য মৃত্যু অবধারিত করেছেন—চেয়েছিলেন যে শায়খ তাঁর এই মহান প্রকল্প সম্পন্ন করার আগেই ইন্তিকাল করবেন, ফলে "সহীহুল ইসরা ওয়াল মি'রাজ" নামক এই সংকলনটি অসম্পূর্ণ অবস্থায় প্রকাশিত হয়েছে।
আর আম্মানের মাকতাবাতুল ইসলামিয়্যাহ এটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যাতে এর উপকারিতা ব্যাপক হয়; এটি সর্বোত্তম সম্ভাব্য অবয়বে প্রকাশের জন্য তারা কয়েকজন ইলম অন্বেষণকারীর সাহায্য নিয়েছে। আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।
আমরা এই সংকলনে শায়খ কর্তৃক ব্যবহৃত সংকেতগুলোর দিকে ইঙ্গিত করতে চাই, আর সেগুলো হলো: "খ": বুখারী, "ম": মুসলিম, "হাম": আহমাদ বিন
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ ওয়া যিকর আহাদীসিহিমা ওয়া তাখরীজিহা ওয়া বায়ানি সহীহিহা
(পৃষ্ঠা: ৫)
حنبل، "عبد": عبد الله بن أحمد بن حنبل، "ت": الترمذي، "جرير": ابن جرير ويجدها القارئ داخل الزيادات والروايات للدلالة على مخرجيها.
وصلى الله وسلم على نبينا محمد والحمد لله رب العالمين.
عمان - الشام الناشر.
3 ذو القعدة 1420هـ
হাম্বল, "আব্দ": আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল, "তা": আত-তিরমিযী, "জারীর": ইবনে জারীর; পাঠক এগুলো অতিরিক্ত সংযোজন ও বর্ণনাগুলোর মধ্যে পাবেন যা দ্বারা তাদের মূল বর্ণনাকারীদের নির্দেশ করা হয়েছে।
আমাদের নবী মুহাম্মাদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক এবং সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
আম্মান - আশ-শাম, প্রকাশক।
৩ যুল-ক্বাদাহ ১৪২০ হিজরী
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ ওয়া যিকর আহাদীসিহিমা ওয়া তাখরীজিহা ওয়া বায়ানি সহীহিহা
(পৃষ্ঠা: ৭)
1-
حديث أبي هريرةوله عنه طرق:
الأولى: عن سعيد بن المسيب عن أبي هريرة قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم:
"حين أسري بي لقيت موسى عليه السلام" - فنعته النبي صلى الله عليه وسلم "فإذا رجل" - حسبته قال: - "مضطرب رجل الرأس كأنه من رجال شنوءة".
قال: "ولقيت عيسى" - فنعته النبي صلى الله عليه وسلم "فإذا ربعة أحمر كأنما خرج من ديماس. يعني: حماما"
قال: "ورأيت إبراهيم صلوات الله عليه وأنا أشبه ولده به.
فأتيت بإناءين في أحدهما لبن وفي الآخر خمر. فقيل لي: خذ أيهما شئت. فأخذت اللبن فشربته فقال: هديت الفطرة أما إنك لو أخذت الخمر غوت أمتك"
أخرجه البخاري 3394 و 3437 و 4709 و 5576 و 5603 ومسلم 272 وأحمد 2/282 و 512 والبغوي في شرح السنة 3761
১-
আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসতাঁর থেকে এটি একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে:
প্রথম সূত্র: সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"যে রাতে আমাকে নৈশভ্রমণে (ইসরা) নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, আমি মূসা আলাইহিস সালামের সাক্ষাৎ পেয়েছি।" – অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর দৈহিক বর্ণনা দিয়ে বললেন, "তিনি ছিলেন একজন সুঠামদেহী ব্যক্তি" – বর্ণনাকারী বলেন: আমার ধারণা তিনি বলেছিলেন – "অবিন্যস্ত ও কোঁকড়ানো চুলবিশিষ্ট, যেন তিনি শানুয়াহ গোত্রের একজন লোক।"
তিনি বললেন: "এবং আমি ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর সাক্ষাৎ পেয়েছি।" – অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বর্ণনা দিয়ে বললেন: "তিনি মাঝারি গড়নের ও লালচে বর্ণের, যেন তিনি মাত্র গোসলখানা থেকে বের হয়ে এসেছেন।"
তিনি বললেন: "আর আমি ইবরাহিম (আলাইহিস সালাম)-কে দেখেছি, আর আমিই তাঁর সন্তানদের মধ্যে তাঁর সাথে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ।
অতঃপর আমার কাছে দুটি পাত্র আনা হলো, যার একটিতে ছিল দুধ এবং অন্যটিতে ছিল মদ। আমাকে বলা হলো: 'আপনি এই দুটির মধ্যে যেটি ইচ্ছা গ্রহণ করুন।' আমি দুধ গ্রহণ করলাম এবং তা পান করলাম। তখন বলা হলো: 'আপনি স্বভাবজাত প্রকৃতি বা ফিতরাতের পথ প্রাপ্ত হয়েছেন। জেনে রাখুন, আপনি যদি মদ গ্রহণ করতেন, তবে আপনার উম্মত পথভ্রষ্ট হতো'।"
এটি বুখারি ৩৩৯৪, ৩৪৩৭, ৪৭০৯, ৫৫৭৬, ৫৬০৩; মুসলিম ২৭২; আহমাদ ২/২৮২, ৫১২ এবং বাগাভি 'শারহুস সুন্নাহ' ৩৭৬১ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ ওয়া যিকর আহাদীসিহিমা ওয়া তাখরীজিহা ওয়া বায়ানি সহীহিহা
(পৃষ্ঠা: ৮)
الثانية: عن أبي سلمة بن عبد الرحمن عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
"لقد رأيتني في الحجر وقريش تسألني عن مسراي فسألتني عن أشياء من بيت المقدس لم أثبتها فكربت كربة ما كربت مثلها قط قال: فرفعه الله لي أنظر إليه ما يسألوني عن شيء إلا أنبأتهم به. وقد رأيتني في جماعة من الأنبياء فإذا موسى قائم يصلي فإذا رجل ضرب جعد كأنه من رجال شنوءة. وإذا عيسى بن مريم عليه السلام قائم يصلي أقرب الناس به شبها عروة بن مسعود الثقفي. وإذا إبراهيم قائم يصلي أشبه الناس به صاحبكم ". يعني: نفسه.
فحانت الصلاة فأممتهم فلما فرغت من الصلاة قال قائل: يا محمد هذا مالك صاحب النار فسلم عليه. فالتفت إليه فبدأني بالسلام ".
أخرجه مسلم 278
দ্বিতীয় বর্ণনা: আবু সালামাহ ইবনে আবদুর রহমান আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"আমি নিজেকে হাতীমে (হিজর) এমতাবস্থায় দেখতে পেলাম যে, কুরাইশরা আমাকে আমার নৈশভ্রমণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছিল। তারা আমাকে বায়তুল মাকদিসের এমন কিছু বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল যা আমি সুনিশ্চিতভাবে স্মরণ রাখতে পারিনি। ফলে আমি এমন এক কঠিন উদ্বেগের সম্মুখীন হলাম যার সদৃশ উদ্বেগের সম্মুখীন আমি ইতিপূর্বে কখনো হইনি। তিনি বলেন: তখন আল্লাহ আমার সামনে সেটিকে (বায়তুল মাকদিসকে) তুলে ধরলেন যেন আমি সেটির দিকে তাকাতে পারি। অতঃপর তারা আমাকে যা কিছুই জিজ্ঞাসা করল, আমি তাদের সেটির সংবাদ প্রদান করলাম। আর আমি নিজেকে নবীদের একটি জামাতের মধ্যে দেখতে পেলাম। হঠাৎ দেখলাম মূসা (আলাইহিস সালাম) দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছেন। তিনি ছিপছিপে গড়ন ও কোঁকড়ানো চুলবিশিষ্ট একজন পুরুষ, যেন তিনি শানুআ গোত্রের একজন লোক। আর ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিস সালাম) দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছেন; মানুষের মধ্যে উরওয়াহ ইবনে মাসউদ আস-সাকাফী তার সাথে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। আর ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছেন; মানুষের মধ্যে তোমাদের এই সঙ্গী (অর্থাৎ তিনি স্বয়ং) তার সাথে সর্বাধিক সাদৃশ্যপূর্ণ।"
অতঃপর সালাতের সময় উপস্থিত হলো এবং আমি তাদের ইমামতি করলাম। আমি যখন সালাত সমাপ্ত করলাম, তখন এক ঘোষক বললেন: হে মুহাম্মদ, ইনি হলেন মালিক, জাহান্নামের রক্ষী; সুতরাং তাকে সালাম দিন। আমি তার দিকে তাকালাম, তখন তিনিই আগে আমাকে সালাম দিলেন।"
এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন, হাদিস নং ২৭৮।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ ওয়া যিকর আহাদীসিহিমা ওয়া তাখরীজিহা ওয়া বায়ানি সহীহিহা
(পৃষ্ঠা: ৯)
2 -
حديث أنس بن مالكوقد جاء عنه من طرق مع اختلاف أصحابه في إسناده على وجه:
1 - فرواه الزهري عنه عن أبي ذر رضي الله عنهما.
2 - ورواه قتادة عنه عن مالك بن صعصعة رضي الله عنهما.
3 - ورواه شريك بن أبي نمر وثابت البناني عنه رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم بلا واسطة.
وفي سياق كل من الثلاثة عنه؛ ما ليس عند الآخر كما أفاده الحافظ فيفتح الباري 1/460
فلنسق رواية كل منهم عنه؛ ليتيسر لنا فيما بعد التقاط ما عندهم من الزيادات على بعضهم؛ بشرط الصحة فأقول:
1 - عن الزهري عن أنس قال: كان أبو ذر يحدث أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:
"فرج عن سقف بيتي بمكة فنزل جبريل ففرج صدري ثم غسله بماء زمزم ثم جاء بطست من ذهب ممتلئ حكمة وإيمانا فأفرغه في صدري ثم أطبقه".
২ -
আনাস ইবনে মালিকের বর্ণিত হাদিসএটি তাঁর থেকে বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তবে তাঁর ছাত্রদের মাঝে এর সনদের বিন্যাসে ভিন্নতা রয়েছে:
১ - ইমাম যুহরী এটি তাঁর থেকে এবং তিনি আবু যার (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেছেন।
২ - এবং কাতাদাহ এটি তাঁর থেকে এবং তিনি মালিক ইবনে সা’সা’আহ (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেছেন।
৩ - এবং শারীক ইবনে আবি নামির ও সাবিত আল-বুনানী এটি সরাসরি তাঁর (আনাস) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কোনো মাধ্যম ছাড়াই বর্ণনা করেছেন।
এই তিনজনের বর্ণিত প্রতিটি বিবরণেই এমন কিছু তথ্য রয়েছে যা অন্যের বর্ণনায় নেই, যেমনটি হাফেজ ইবনে হাজার ফাতহুল বারী ১/৪৬০-এ উল্লেখ করেছেন।
অতএব, আমরা তাঁদের প্রত্যেকের বর্ণিত বর্ণনাগুলো উল্লেখ করব; যাতে পরবর্তীতে নির্ভরযোগ্যতার শর্ত সাপেক্ষে একে অপরের বর্ণনার তুলনায় যে অতিরিক্ত অংশগুলো রয়েছে তা গ্রহণ করা আমাদের জন্য সহজ হয়। আমি বলছি:
১ - যুহরী থেকে, তিনি আনাস থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু যার বর্ণনা করতেন যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"মক্কায় আমার ঘরের ছাদ উন্মুক্ত করা হলো, এরপর জিবরাঈল অবতীর্ণ হলেন এবং আমার বক্ষ বিদারণ করলেন। তারপর তিনি তা জমজমের পানি দিয়ে ধৌত করলেন। এরপর হিকমত (প্রজ্ঞা) ও ঈমানে পরিপূর্ণ একটি স্বর্ণের পাত্র নিয়ে আসলেন এবং তা আমার বক্ষে ঢেলে দিলেন, এরপর তা পুনরায় জোড়া দিয়ে দিলেন।"
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ ওয়া যিকর আহাদীসিহিমা ওয়া তাখরীজিহা ওয়া বায়ানি সহীহিহা
(পৃষ্ঠা: ১০)
ثم أخذ بيدي فعرج بي إلى السماء الدنيا فلما جئت إلى السماء الدنيا قال جبريل لخازن السماء: افتح. قال: من هذا؟ قال: هذا جبريل. قال: هل معك أحد؟ قال: نعم معي محمد صلى الله عليه وسلم. قال: أرسل إليه؟ قال: نعم. ففتح".
[قال: م] " فلما فتح علونا السماء الدنيا فإذا رجل قاعد على يمينه أسودة وعلى يساره أسودة إذا نظر قبل يمينه ضحك وإذا نظر قبل يساره بكى فقال: مرحبا بالنبي الصالح والابن الصالح.
قلت لجبريل: من هذا؟ 1 قال: هذا آدم وهذه الأسودة عن يمينه وشماله نسم بنيه فأهل اليمين منهم أهل الجنة والأسودة التي عن شماله أهل النار فإذا نظر عن يمينه ضحك وإذا نظر قبل شماله بكى.
حتى عرج بي إلى السماء الثانية فقال لخازنها: افتح. فقال له خازنها مثل ما قال الأول ففتح".
--------------------------------------------
এরপর তিনি আমার হাত ধরলেন এবং আমাকে নিয়ে প্রথম আসমানের দিকে আরোহণ করলেন। যখন আমি প্রথম আসমানে পৌঁছলাম, জিবরীল আসমানের রক্ষককে বললেন: ‘খোলো’। তিনি বললেন: ‘এ কে?’ তিনি বললেন: ‘এই যে জিবরীল’। তিনি বললেন: ‘আপনার সাথে কি কেউ আছে?’ তিনি বললেন: ‘হ্যাঁ, আমার সাথে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আছেন’। তিনি বললেন: ‘তাঁকে কি ডাকা হয়েছে?’ তিনি বললেন: ‘হ্যাঁ’। অতঃপর খোলা হলো।"
[তিনি বললেন:] "অতঃপর যখন খোলা হলো, আমরা প্রথম আসমানে আরোহণ করলাম। সেখানে একজন লোককে উপবিষ্ট অবস্থায় দেখা গেল, যার ডানে একদল মানুষ এবং বামে একদল মানুষ ছিল। যখন তিনি তাঁর ডান দিকে তাকাচ্ছিলেন তখন হাসছিলেন এবং যখন বাম দিকে তাকাচ্ছিলেন তখন কাঁদছিলেন। অতঃপর তিনি বললেন: 'স্বাগতম হে নেককার নবী এবং নেককার পুত্র'।"
আমি জিবরীলকে জিজ্ঞাসা করলাম: 'ইনি কে?' 1 তিনি বললেন: 'ইনি আদম এবং তাঁর ডানে ও বামে থাকা এই দলগুলো হলো তাঁর সন্তানদের রূহসমূহ। তাদের মধ্যে ডান দিকের লোকেরা জান্নাতী এবং বাম দিকের দলগুলো জাহান্নামী। তাই তিনি যখন ডান দিকে তাকাচ্ছিলেন হাসছিলেন এবং যখন বাম দিকে তাকাচ্ছিলেন কাঁদছিলেন'।"
অতঃপর আমাকে নিয়ে দ্বিতীয় আসমানে আরোহণ করা হলো। তিনি এর রক্ষককে বললেন: ‘খোলো’। এর রক্ষক তাঁকে প্রথমজনের মতো একই প্রশ্ন করলেন, অতঃপর খোলা হলো।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ ওয়া যিকর আহাদীসিহিমা ওয়া তাখরীজিহা ওয়া বায়ানি সহীহিহা
(পৃষ্ঠা: ১১)
قال أنس: فذكر أنه وجد في السماوات: آدم وإدريس وموسى وعيسى وإبراهيم صلوات الله عليهم ولم يثبت كيف منازلهم غير أنه ذكر: أنه وجد آدم في السماء الدنيا وإبراهيم في السماء السادسة1.
قال أنس: فلما مر جبريل بالنبي وفي رواية: ورسول الله: [م] صلى الله عليه وسلم بإدريس قال: مرحبا بالنبي الصالح والأخ الصالح.
"فقلت: من هذا؟ قال: هذا إدريس.
ثم مررت بموسى فقال: مرحبا بالنبي الصالح والأخ الصالح. قلت: من هذا؟ قال: هذا موسى.
ثم مررت بعيسى2 فقال: مرحبا بالأخ الصالح والنبي الصالح. قلت: من هذا؟ قال: هذا عيسى
ثم مررت بإبراهيم فقال: مرحبا بالنبي الصالح والأخ الصالح".
--------------------------------------------
আনাস বর্ণনা করেন: তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আকাশসমূহে আদম, ইদ্রিস, মূসা, ঈসা এবং ইবরাহীম (তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক)-কে পেয়েছেন। তাঁদের অবস্থানের স্তরগুলো ঠিক কেমন ছিল তা নিশ্চিতভাবে বর্ণিত হয়নি, তবে তিনি উল্লেখ করেছেন যে: তিনি আদমকে প্রথম আসমানে এবং ইবরাহীমকে ষষ্ঠ আসমানে পেয়েছেন১।
আনাস বলেন: জিবরীল যখন নবীকে নিয়ে—অন্য বর্ণনায়: এবং আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ইদ্রিসের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি (ইদ্রিস) বললেন: স্বাগতম হে নেককার নবী এবং নেককার ভাই।
"আমি জিজ্ঞেস করলাম: ইনি কে? তিনি বললেন: ইনি ইদ্রিস।
অতঃপর আমি মূসার নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম, তখন তিনি বললেন: স্বাগতম হে নেককার নবী এবং নেককার ভাই। আমি জিজ্ঞেস করলাম: ইনি কে? তিনি বললেন: ইনি মূসা।
অতঃপর আমি ঈসার২ নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম, তখন তিনি বললেন: স্বাগতম হে নেককার ভাই এবং নেককার নবী। আমি জিজ্ঞেস করলাম: ইনি কে? তিনি বললেন: ইনি ঈসা।
অতঃপর আমি ইবরাহীমের নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম, তখন তিনি বললেন: স্বাগতম হে নেককার নবী এবং নেককার ভাই।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ ওয়া যিকর আহাদীসিহিমা ওয়া তাখরীজিহা ওয়া বায়ানি সহীহিহা
(পৃষ্ঠা: ১২)
قال ابن شهاب: فأخبرني ابن حزم أن ابن عباس وأبا حية الأنصاري كانا يقولان: قال النبي صلى الله عليه وسلم:
"ثم عرج بي حتى ظهرت لمستوى أسمع فيه صريف الأقلام" 1. قال ابن حزم وأنس بن مالك: قال النبي صلى الله عليه وسلم:
"ففرض الله على أمتي خمسين صلاة.
[قال: م] فرجعت بذلك حتى مررت على موسى فقال: ما فرض الله لك على أمتك؟ قلت: فرض [عليهم: م] خمسين صلاة. قال: فارجع إلى ربك فإن أمتك لا تطيق ذلك
[قال: م] [فرجعت فراجعت ربي: خ] فراجعني فوضع شطرها2.
--------------------------------------------
ইবনু শিহাব (রহ.) বলেন: অতঃপর ইবনু হাযম আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, ইবনু আব্বাস ও আবু হাইয়াহ আল-আনসারী (রাযি.) বলতেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"অতঃপর আমাকে উপরে নিয়ে যাওয়া হলো, এমনকি আমি এমন এক উচ্চতায় উন্নীত হলাম যেখানে আমি কলমসমূহের ঘর্ষণের শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম।" ১। ইবনু হাযম ও আনাস বিন মালিক (রাযি.) বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
"অতঃপর আল্লাহ আমার উম্মতের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করলেন।
[তিনি বলেন: ম] আমি তা নিয়ে ফিরে আসলাম এবং মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বললেন: আল্লাহ আপনার উম্মতের উপর কী ফরয করেছেন? আমি বললাম: [তাদের উপর: ম] পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরয করা হয়েছে। তিনি বললেন: আপনি আপনার রবের নিকট ফিরে যান, কেননা আপনার উম্মত তা পালন করতে সক্ষম হবে না।
[তিনি বলেন: ম] [অতঃপর আমি ফিরে গেলাম এবং আমার রবের নিকট বারবার আবেদন জানালাম: খ] অতঃপর তিনি আমার আবেদন গ্রহণ করলেন এবং তার অর্ধেক অংশ কমিয়ে দিলেন।" ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ ওয়া যিকর আহাদীসিহিমা ওয়া তাখরীজিহা ওয়া বায়ানি সহীহিহা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
[قال: م] فرجعت إلى موسى قلت: وضع شطرها. فقال: راجع ربك فإن أمتك لا تطيق فراجعت فوضع شطرها.
فرجعت إليه فقال: ارجع إلى ربك فإن أمتك لا تطيق ذلك
[قال: م] فراجعته فقال: هي خمس وهي خمسون لا يبدل القول لدي.
[قال: م] فرجعت إلى موسى فقال: راجع ربك. فقلت: استحييت من ربي.
[قال: م] ثم انطلق بي [جبريل: م] حتى انتهى بي إلى سدرة المنتهى فغشيها ألوان لا أدري ما هي؟
[قال: م] ثم أدخلت الجنة فإذا فيها حبائل وفي رواية: جنابذ: [خ عبد] 1 اللؤلؤ وإذا ترابها المسك".
أخرجه البخاري 349 و 1636 و 3342 ومسلم 263 وروى النسائي بعضه في أول الصلاة لكنه لم يذكر أبا ذر.
ورواه عبد الله بن أحمد 5/143 - 144 لكنه ذكر أبي
--------------------------------------------
[তিনি বললেন: মুসলিম] অতঃপর আমি মূসার নিকট ফিরে এলাম এবং বললাম: তিনি এর অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছেন। তিনি বললেন: আপনার প্রতিপালকের নিকট ফিরে যান, কেননা আপনার উম্মত তা সহ্য করতে পারবে না। ফলে আমি পুনরায় আবেদন জানালাম এবং তিনি এর অর্ধেক কমিয়ে দিলেন।
অতঃপর আমি তাঁর নিকট ফিরে এলাম, তখন তিনি বললেন: আপনার প্রতিপালকের নিকট পুনরায় ফিরে যান, কেননা আপনার উম্মত তা সহ্য করতে সক্ষম হবে না।
[তিনি বললেন: মুসলিম] অতঃপর আমি তাঁর নিকট পুনরায় আবেদন জানালাম, তখন তিনি বললেন: এটি (গণনায়) পাঁচ, কিন্তু (সওয়াবের দিক থেকে) তা পঞ্চাশ; আমার নিকট কথার কোনো পরিবর্তন হয় না।
[তিনি বললেন: মুসলিম] এরপর আমি মূসার নিকট ফিরে এলাম, তিনি বললেন: আপনার প্রতিপালকের নিকট ফিরে যান। আমি বললাম: আমি আমার প্রতিপালকের নিকট (পুনরায় যেতে) লজ্জা বোধ করছি।
[তিনি বললেন: মুসলিম] এরপর জিবরাঈল আমাকে নিয়ে চললেন এবং সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত নিয়ে পৌঁছালেন। সেখানে তাকে এমন সব রঙ ঢেকে রেখেছিল যা আমি জানি না সেগুলো কী?
[তিনি বললেন: মুসলিম] অতঃপর আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হলো। সেখানে আমি মুক্তার মালা (অন্য বর্ণনায়: গম্বুজ: [বুখারী, আবদুল্লাহ]) দেখতে পেলাম এবং তার মাটি ছিল কস্তুরী।
এটি বুখারী (৩৪৯, ১৬৩৬ ও ৩৩৪২) এবং মুসলিম (২৬৩) বর্ণনা করেছেন। নাসায়ী সালাত অধ্যায়ের শুরুতে এর কিছু অংশ বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি আবু যর-এর কথা উল্লেখ করেননি।
আর এটি আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ (৫/১৪৩-১৪৪) বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি উবাই-এর কথা উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ ওয়া যিকর আহাদীসিহিমা ওয়া তাখরীজিহা ওয়া বায়ানি সহীহিহা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ابن كعب مكان أبي ذر وهو وهم من بعض الرواة؛ كما أشار إليه ابن كثير.
2 - عن قتادة: ثنا أنس عن مالك بن صعصعة رضي الله عنهما قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم:
"بينا أنا عند البيت وفي رواية: عند الكعبة: حم. وفي أخرى: في الحطيم. وربما قال قتادة: في الحجر مضطجع: [حم خ] بين النائم واليقظان؛ إذ أقبل أحد الثلاثة بين الرجلين فأتيت بطست من ذهب ملأه حكمة وإيمانا فشق من النحر إلى مراق البطن فغسل القلب بماء زمزم ثم ملئ حكمة وإيمانا [ثم أعيد: حم خ] [مكانه: جرير]
ثم أتيت بدابة دون البغل وفوق الحمار". [قال: فقال الجارود: هو البراق يا أبا حمزة؟ قال: نعم] . [يقع خطوه عند أقصى طرفه فحملت عليه: حم خ] .
[ثم انطلقنا حتى أتينا إلى بيت المقدس فصليت فيه بالنبيين والمرسلين إماما: جرير] . ثم انطلقت مع جبريل عليه السلام فأتينا السماء الدنيا قيل: من هذا؟ قيل: جبريل. قيل: ومن معك؟ قيل: محمد. قيل: وقد أرسل إليه؟ قال:
ইবনে কা’ব আবু যর-এর স্থলে (উল্লিখিত হয়েছে), আর এটি কয়েকজন বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে একটি বিভ্রম; যেমনটি ইবনে কাসীর এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন।
২ - কাতাদাহ থেকে বর্ণিত: আনাস আমাদের নিকট মালিক ইবনে সা’সা’আহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
“একদা আমি বায়তুল্লাহর নিকটে ছিলাম—আর অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে: কাবার নিকটে: আহমদ। অন্য একটি বর্ণনায়: হাতীমে। আর সম্ভবত কাতাদাহ বলেছিলেন: হিজরে শায়িত অবস্থায়: [আহমদ, বুখারী] নিদ্রিত ও জাগ্রত অবস্থার মাঝামাঝি; তখন তিনজন ব্যক্তির মাঝখানের একজন এগিয়ে আসলেন। এরপর আমার নিকট একটি স্বর্ণের পাত্র আনা হলো যা প্রজ্ঞা ও ঈমানে পরিপূর্ণ ছিল। অতঃপর কণ্ঠনালী থেকে পেটের তলদেশ পর্যন্ত বিদীর্ণ করা হলো। এরপর অন্তরটি যমযমের পানি দিয়ে ধৌত করা হলো এবং প্রজ্ঞা ও ঈমান দ্বারা পূর্ণ করা হলো। [অতঃপর তা পুনরায় যথাস্থানে ফিরিয়ে আনা হলো: আহমদ, বুখারী] [তার স্থানে: জারীর]
অতঃপর আমার নিকট একটি পশু আনা হলো যা খচ্চরের চেয়ে ছোট এবং গাধার চেয়ে বড়।” [বর্ণনাকারী বলেন: তখন আল-জারূদ বললেন: হে আবু হামযাহ, এটি কি বুরাক? তিনি বললেন: হ্যাঁ]। [সেটির প্রতিটি পদক্ষেপ তার দৃষ্টির শেষ সীমানায় পড়ে, অতঃপর আমাকে তার ওপর আরোহণ করানো হলো: আহমদ, বুখারী]।
[অতঃপর আমরা চলতে থাকলাম যতক্ষণ না বায়তুল মাকদিসে পৌঁছালাম, সেখানে আমি নবী ও রাসূলগণের ইমাম হয়ে সালাত আদায় করলাম: জারীর]। এরপর আমি জিবরীল (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে রওনা হলাম এবং আমরা দুনিয়ার আসমানে পৌঁছালাম। জিজ্ঞাসা করা হলো: ইনি কে? উত্তর দেওয়া হলো: জিবরীল। জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনার সাথে কে? উত্তর দেওয়া হলো: মুহাম্মদ। জিজ্ঞাসা করা হলো: তাঁকে কি ডাকা হয়েছে? তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ ওয়া যিকর আহাদীসিহিমা ওয়া তাখরীজিহা ওয়া বায়ানি সহীহিহা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
نعم. قيل: مرحبا به ونعم المجيء جاء. [قال: ففتح: حم] .
فأتيت على آدم عليه السلام [فقال: هذا أبوك آدم فسلم عليه: حم خ] فسلمت عليه ف [رد السلام و: حم خ] قال: مرحبا بك من ابن ونبي وفي رواية: بالابن الصالح والنبي الصالح: [حم خ] .
ثم [صعد [بي: خ] حتى: حم] أتينا السماء الثانية [فاستفتح ف: حم] قيل: من هذا؟ قيل: جبريل. قيل: ومن معك؟ قال: محمد. فأتيت على يحيى وعيسى عليهما السلام [وهما ابنا الخالة فقال: هذا يحيى وعيسى فسلم عليهما: حم خ] فسلمت عليهما ف [ردا السلام ثم: حم خ] قالا: مرحبا بك من أخ ونبي وفي الرواية الأخرى: بالأخ الصالح والنبي الصالح: [حم خ] .
ثم [صعد [بي: خ] حتى: حم] أتينا السماء الثالثة فمثل ذلك.
فأتيت على يوسف عليه السلام [قال: هذا يوسف فسلم عليه. قال: حم خ] فسلمت عليه ف [رد السلام و: حم خ] قال: مرحبا بك من أخ ونبي وفي الرواية الأخرى: بالأخ
হ্যাঁ। বলা হলো: তাঁকে স্বাগতম এবং তাঁর আগমন কতই না উত্তম। [তিনি বললেন: অতঃপর দ্বার খোলা হলো: আহমাদ]।
অতঃপর আমি আদম আলাইহিস সালামের নিকট আসলাম [তিনি বললেন: ইনি আপনার পিতা আদম, তাঁকে সালাম দিন: আহমাদ ও বুখারি]। আমি তাঁকে সালাম দিলাম, অতঃপর তিনি [সালামের উত্তর দিলেন এবং: আহমাদ ও বুখারি] বললেন: পুত্র ও নবী হিসেবে তোমাকে স্বাগতম। অন্য বর্ণনায় এসেছে: নেককার পুত্র ও নেককার নবী হিসেবে: [আহমাদ ও বুখারি]।
অতঃপর [আমাকে নিয়ে উপরে আরোহণ করলেন যতক্ষণ না: আহমাদ] আমরা দ্বিতীয় আসমানে পৌঁছালাম [অতঃপর তিনি দ্বার খোলার আবেদন করলেন: আহমাদ]। জিজ্ঞাসা করা হলো: ইনি কে? উত্তর দেওয়া হলো: জিবরাঈল। জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনার সাথে কে? তিনি বললেন: মুহাম্মাদ। অতঃপর আমি ইয়াহইয়া ও ঈসা আলাইহিমাস সালামের নিকট আসলাম [তাঁরা দু’জন ছিলেন খালাতো ভাই। তিনি বললেন: ইনি ইয়াহইয়া ও ঈসা, তাঁদের সালাম দিন: আহমাদ ও বুখারি]। আমি তাঁদের সালাম দিলাম, অতঃপর তাঁরা [সালামের উত্তর দিলেন এবং: আহমাদ ও বুখারি] বললেন: ভাই ও নবী হিসেবে তোমাকে স্বাগতম। অন্য বর্ণনায় এসেছে: নেককার ভাই ও নেককার নবী হিসেবে: [আহমাদ ও বুখারি]।
অতঃপর [আমাকে নিয়ে উপরে আরোহণ করলেন যতক্ষণ না: আহমাদ] আমরা তৃতীয় আসমানে পৌঁছালাম এবং সেখানেও অনুরূপ ঘটল।
অতঃপর আমি ইউসুফ আলাইহিস সালামের নিকট আসলাম [তিনি বললেন: ইনি ইউসুফ, তাঁকে সালাম দিন। তিনি বললেন: আহমাদ ও বুখারি]। আমি তাঁকে সালাম দিলাম, অতঃপর তিনি [সালামের উত্তর দিলেন এবং: আহমাদ ও বুখারি] বললেন: ভাই ও নবী হিসেবে তোমাকে স্বাগতম। অন্য বর্ণনায় এসেছে: নেককার ভাই হিসেবে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ ওয়া যিকর আহাদীসিহিমা ওয়া তাখরীজিহা ওয়া বায়ানি সহীহিহা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
الصالح والنبي الصالح: [حم خ] .
ثم [صعد [بي: خ] حتى: حم] أتينا السماء الرابعة فمثل ذلك.
فأتيت على إدريس عليه السلام [قال: هذا إدريس فسلم عليه. قال: حم خ] فسلمت عليه ف [رد السلام ثم: حم] قال: مرحبا بك من أخ ونبي وفي الرواية الأخرى: بالأخ الصالح والنبي الصالح: [حم خ] .
[قال: حم] : ثم [صعد [بي: خ] حتى: حم] أتينا السماء الخامسة فمثل ذلك.
فأتيت على هارون عليه السلام [قال: هذا هارون فسلم عليه. قال: حم خ] فسلمت عليه.
[قال: فرد السلام ثم: حم] قال: مرحبا بك من أخ ونبي وفي الرواية الأخرى: بالأخ الصالح والنبي الصالح: [حم خ] .
[قال: حم] ثم [صعد [بي: خ] حتى: حم] أتينا السماء السادسة فمثل ذلك1.
--------------------------------------------
নেককার এবং নেককার নবী: [আহমাদ ও বুখারী] ।
অতঃপর [আমাকে নিয়ে উপরে আরোহণ করা হলো: বুখারী, যতক্ষণ না: আহমাদ] আমরা চতুর্থ আসমানে পৌঁছলাম, সেখানেও অনুরূপ ঘটল।
অতঃপর আমি ইদরীস আলাইহিস সালাম-এর নিকট আসলাম। [তিনি (জিবরাঈল) বললেন: ইনি ইদরীস, তাকে সালাম দিন। আহমাদ ও বুখারী]। আমি তাকে সালাম দিলাম, অতঃপর তিনি [সালামের উত্তর দিলেন, তারপর: আহমাদ] বললেন: হে ভাই ও নবী! আপনাকে স্বাগতম। অন্য বর্ণনায় রয়েছে: নেককার ভাই ও নেককার নবীর প্রতি স্বাগতম: [আহমাদ ও বুখারী] ।
[তিনি বললেন: আহমাদ]: অতঃপর [আমাকে নিয়ে উপরে আরোহণ করা হলো: বুখারী, যতক্ষণ না: আহমাদ] আমরা পঞ্চম আসমানে পৌঁছলাম, সেখানেও অনুরূপ ঘটল।
অতঃপর আমি হারুন আলাইহিস সালাম-এর নিকট আসলাম। [তিনি বললেন: ইনি হারুন, তাকে সালাম দিন। আহমাদ ও বুখারী]। আমি তাকে সালাম দিলাম।
[তিনি বললেন: অতঃপর তিনি সালামের উত্তর দিলেন, তারপর: আহমাদ] তিনি বললেন: হে ভাই ও নবী! আপনাকে স্বাগতম। অন্য বর্ণনায় রয়েছে: নেককার ভাই ও নেককার নবীর প্রতি স্বাগতম: [আহমাদ ও বুখারী] ।
[তিনি বললেন: আহমাদ] অতঃপর [আমাকে নিয়ে উপরে আরোহণ করা হলো: বুখারী, যতক্ষণ না: আহমাদ] আমরা ষষ্ঠ আসমানে পৌঁছলাম এবং সেখানেও অনুরূপ ঘটল ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ ওয়া যিকর আহাদীসিহিমা ওয়া তাখরীজিহা ওয়া বায়ানি সহীহিহা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ثم أتيت على موسى عليه السلام [قال: هذا موسى فسلم عليه: حم خ] . فسلمت عليه ف [رد السلام ثم: حم] قال: مرحبا بك من أخ ونبي وفي الرواية الأخرى: بالأخ الصالح والنبي الصالح: [حم خ] .
فلما جاوزته بكى. قيل: ما أبكاك؟ قال: يا رب هذا الغلام الذي بعثته بعدي يدخل من أمته الجنة أكثر وأفضل مما يدخل من أمتي.
[قال: حم] ثم [صعد [بي: خ] حتى: حم] أتينا السماء السابعة فمثل ذلك.
فأتيت على إبراهيم عليه السلام [فقال: هذا [أبوك: خ] إبراهيم فسلم عليه: حم] فسلمت عليه ف [رد السلام ثم: حم خ] قال: مرحبا بك من ابن ونبي وفي الرواية الأخرى: بالابن الصالح والنبي الصالح: [حم خ] ".
[قال قتادة: وحدثنا الحسن عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه: حم خ] قال: "ثم رفع إلي البيت المعمور فسألت جبريل عليه السلام؟ فقال: هذا البيت المعمور يصلي فيه كل يوم سبعون
এরপর আমি মুসা আলাইহিস সালামের নিকট আসলাম [তিনি (জিবরাঈল) বললেন: ইনি মুসা, তাঁকে সালাম দিন: আহমাদ, বুখারি]। আমি তাঁকে সালাম দিলাম। অতঃপর তিনি [সালামের উত্তর দিলেন এবং: আহমাদ] বললেন: স্বাগতম হে ভাই ও নবি। অন্য বর্ণনায় এসেছে: সৎ ভাই ও সৎ নবি: [আহমাদ, বুখারি]।
যখন আমি তাঁকে অতিক্রম করে গেলাম, তখন তিনি কাঁদতে লাগলেন। জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বললেন: হে রব! এই যুবক যাকে আমার পরে পাঠানো হয়েছে, তাঁর উম্মতের জান্নাতে প্রবেশকারীদের সংখ্যা আমার উম্মতের জান্নাতে প্রবেশকারীদের তুলনায় অধিক এবং তারা অধিক শ্রেষ্ঠ হবে।
[তিনি বললেন: আহমাদ] তারপর [আমাকে নিয়ে উপরে আরোহণ করা হলো যতক্ষণ না: আহমাদ, বুখারি] আমরা সপ্তম আসমানে পৌঁছলাম, সেখানেও অনুরূপ ঘটল।
অতঃপর আমি ইবরাহিম আলাইহিস সালামের নিকট আসলাম [তিনি (জিবরাঈল) বললেন: ইনি [আপনার পিতা: বুখারি] ইবরাহিম, তাঁকে সালাম দিন: আহমাদ]। আমি তাঁকে সালাম দিলাম। অতঃপর তিনি [সালামের উত্তর দিলেন এবং: আহমাদ, বুখারি] বললেন: স্বাগতম হে পুত্র ও নবি। অন্য বর্ণনায় এসেছে: সৎ পুত্র ও সৎ নবি: [আহমাদ, বুখারি]।
[কাতাদা বলেন: হাসান আমাদের নিকট আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে, তিনি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি: আহমাদ, বুখারি] বলেছেন: "অতঃপর আমার সামনে বায়তুল মামুর উপস্থাপন করা হলো। তখন আমি জিবরাঈল আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞাসা করলাম (এটি কী)? তিনি বললেন: এটি বায়তুল মামুর, এখানে প্রতিদিন সত্তর" (হাজার ফেরেশতা সালাত আদায় করেন)।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ ওয়া যিকর আহাদীসিহিমা ওয়া তাখরীজিহা ওয়া বায়ানি সহীহিহা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ألف ملك إذا خرجوا منه لم يعودوا فيه آخر ما عليهم1".
[ثم رجع إلى حديث أنس قال: حم]
[ثم أتيت بإناء من خمر وإناء من لبن وإناء من عسل قال: فأخذت اللبن. قال: هذه الفطرة أنت عليها وأمتك: حم] .
قال: "ثم رفعت إلى سدرة المنتهى فإذا نبقها مثل قلال هجر وإذا ورقها مثل آذان الفيلة. [فقال: هذه سدرة المنتهى: حم خ] . وإذا في أصلها أربعة أنهار: نهران باطنان ونهران ظاهران فسألت جبريل؟ فقال: أما الباطنان ففي الجنة وأما الظاهران فالفرات والنيل".
قال: "ثم فرضت علي خمسون صلاة [كل يوم: حم خ] " [قال: "فرجعت: حم خ] فأتيت على موسى عليه السلام فقال: ما صنعت؟ قلت: فرضت علي خمسون صلاة [كل يوم: حم خ] . فقال: إني [والله: خ] أعلم بالناس منك
--------------------------------------------
হাজার ফেরেশতা, যখন তারা সেখান থেকে বের হন, তারা আর সেখানে ফিরে আসেন না; এটাই তাদের জন্য শেষবার১।"
[অতঃপর আনাসের বর্ণিত হাদিসে ফিরে আসা হলো, তিনি বললেন: আহমাদ]
[অতঃপর আমার সামনে মদের একটি পাত্র, দুধের একটি পাত্র এবং মধুর একটি পাত্র আনা হলো। তিনি বললেন: আমি দুধ গ্রহণ করলাম। তিনি বললেন: এটিই ফিতরাত (স্বভাবজাত ধর্ম), যার ওপর আপনি এবং আপনার উম্মত প্রতিষ্ঠিত: আহমাদ]।
তিনি বললেন: "অতঃপর আমাকে সিদরাতুল মুনতাহায় নিয়ে যাওয়া হলো। তার ফলগুলো হাজার নামক স্থানের মাটির কলসির মতো বড় বড় এবং তার পাতাগুলো হাতির কানের মতো। [তিনি বললেন: এটিই সিদরাতুল মুনতাহা: আহমাদ ও বুখারি]। আর তার মূলে ছিল চারটি নদী: দুটি অপ্রকাশ্য নদী এবং দুটি প্রকাশ্য নদী। আমি জিবরাঈলকে জিজ্ঞেস করলাম? তিনি বললেন: অপ্রকাশ্য দুটি জান্নাতে অবস্থিত, আর প্রকাশ্য দুটি হলো ফুরাত ও নীল।"
তিনি বললেন: "অতঃপর আমার ওপর [প্রতিদিন: আহমাদ ও বুখারি] পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হলো।" [তিনি বললেন: "অতঃপর আমি ফিরে আসলাম: আহমাদ ও বুখারি] এবং মূসা আলাইহিস সালামের কাছে আসলাম। তিনি বললেন: আপনি কী করেছেন? আমি বললাম: আমার ওপর প্রতিদিন পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করা হয়েছে। তিনি বললেন: আমি [আল্লাহর কসম: বুখারি] মানুষ সম্পর্কে আপনার চেয়ে অধিক অবগত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ ওয়া যিকর আহাদীসিহিমা ওয়া তাখরীজিহা ওয়া বায়ানি সহীহিহা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وفي رواية: قد جربت الناس قبلك و: [خ] إني عالجت بني إسرائيل أشد المعالجة وإن أمتك لن يطيقوا ذلك فارجع إلى ربك فاسأله أن يخفف عنك".
قال: "فرجعت إلى ربي عز وجل فسألته أن يخفف عني فجعلها أربعين.
ثم رجعت إلى موسى فأتيت عليه فقال: ما صنعت؟ قلت: جعلها أربعين. فقال لي مثل مقالته الأولى".
فرجعت إلى ربي عز وجل فجعلها ثلاثين.
فأتيت موسى عليه السلام فأخبرته فقال لي مثل مقالته الأولى فرجعت إلى ربي فجعلها عشرين ثم عشرة ثم خمسة.
فأتيت على موسى فأخبرته فقال لي مثل مقالته الأولى.
فقلت: إني أستحي من ربي عز وجل من كم أرجع إليه؟ [ولكن أرضى وأسلم: حم خ] . ف [لما نفذت: حم] نودي" وفي رواية: "نادى مناد: [حم خ] ) : أن قد أمضيت فريضتي وخففت عن عبادي وأجزي بالحسنة عشر أمثالها".
أخرجه أحمد 4/207 - 210 والسياق له في إحدى رواياته من طريق هشام الدستوائي والبخاري 3207 و 3393
অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "আমি আপনার পূর্বে মানুষের অভিজ্ঞতা লাভ করেছি এবং: [বুখারী] আমি বনী ইসরাঈলকে অত্যন্ত কঠোরভাবে পরীক্ষা করেছি। নিশ্চয়ই আপনার উম্মত তা সহ্য করতে পারবে না। তাই আপনি আপনার রবের কাছে ফিরে যান এবং তাঁর নিকট তা লাঘব করার প্রার্থনা করুন।"
তিনি বললেন: "অতঃপর আমি আমার মহা মহিমান্বিত রবের নিকট ফিরে গেলাম এবং তাঁর কাছে তা লাঘব করার প্রার্থনা করলাম। তখন তিনি তা চল্লিশ করে দিলেন।
এরপর আমি মূসার নিকট আসলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: আপনি কী করলেন? আমি বললাম: তিনি তা চল্লিশ করে দিয়েছেন। তখন তিনি আমাকে পূর্বের ন্যায় পরামর্শই দিলেন।"
অতঃপর আমি আমার মহা মহিমান্বিত রবের নিকট ফিরে গেলাম এবং তিনি তা ত্রিশ করে দিলেন।
আমি মূসা আলাইহিস সালামের কাছে এসে তাঁকে জানালাম। তিনি আমাকে আগের মতোই বললেন। আমি পুনরায় আমার রবের কাছে ফিরে গেলাম এবং তিনি তা বিশ, তারপর দশ এবং এরপর পাঁচ করে দিলেন।
আমি মূসার নিকট এসে তাঁকে জানালাম। তিনি আবারও আমাকে আগের মতো বললেন।
আমি বললাম: "আমি আমার মহা মহিমান্বিত রবের নিকট কতবার ফিরে যাব? এতে আমি লজ্জা বোধ করছি। [বরং আমি এতেই সন্তুষ্ট হলাম এবং তা মেনে নিলাম: আহমাদ, বুখারী]। অতঃপর [যখন আমি প্রস্থান করলাম: আহমাদ] ঘোষণা করা হলো" এবং অন্য বর্ণনায় রয়েছে: "একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দিলেন: [আহমাদ, বুখারী]: নিশ্চয়ই আমি আমার ফরজ বিধান কার্যকর করেছি এবং আমার বান্দাদের জন্য তা লাঘব করেছি। আর আমি প্রতিটি সৎ কাজের বিনিময়ে দশগুণ প্রতিদান প্রদান করব।"
ইমাম আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন ৪/২০৭-২১০; তাঁর একটি বর্ণনার শব্দবিন্যাস হিশাম আদ-দাস্তাওয়ায়ীর সূত্রে বর্ণিত এবং ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন ৩২০৭ ও ৩৩9৩ নম্বর হাদিসে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ ওয়া যিকর আহাদীসিহিমা ওয়া তাখরীজিহা ওয়া বায়ানি সহীহিহা
(পৃষ্ঠা: ২০)
و 3430 و 3887 ومسلم 264 و 265 وابن جرير 15/3.
واعلم أن الرواة قد اختلفوا على قتادة في ترتيب ما بعد السماء السابعة من الآيات ففي رواية الدستوائي منهم - وهو أوثقهم - جعلها على الترتيب الآتي كما سبق:
1 - البيت المعمور.
2 - الأواني.
3 - السدرة.
4 - الأنهار.
أما رواية همام - وهو ثقة ربما وهم عند ابن حجر - فقد رتبها هكذا:
1 - السدرة.
2 - الأنهار.
3 - البيت المعمور.
4 - الأواني.
وهي رواية البخاري. وفي أخرى عنده عنه خلافها لكنه قرن معه سعيدا وهشاما فذكر البيت المعمور أولا ثم السدرة.
এবং ৩৪৩০ এবং ৩৮৮৭ ও মুসলিম ২৬৪ ও ২৬৫ এবং ইবনে জারীর ১৫/৩।
জেনে রাখুন যে, সপ্তম আসমানের পরবর্তী নিদর্শনসমূহের বিন্যাস সম্পর্কে বর্ণনাকারীরা কাতাদাহ থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে মতভেদ করেছেন। তাঁদের মধ্যে আদ-দাস্তাওয়ায়ীর বর্ণনায়—যিনি তাঁদের মাঝে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য—তিনি সেগুলোকে পূর্বের ন্যায় নিম্নলিখিত বিন্যাসে উল্লেখ করেছেন:
১ - আল-বাইতুল মামুর।
২ - পাত্রসমূহ।
৩ - সিদরাতুল মুনতাহা।
৪ - নদীসমূহ।
তবে হাম্মামের বর্ণনা—যিনি নির্ভরযোগ্য হলেও ইবনে হাজারের মতে সম্ভবত বিভ্রান্তিতে পড়েছেন—তিনি সেগুলোকে এভাবে বিন্যস্ত করেছেন:
১ - সিদরাতুল মুনতাহা।
২ - নদীসমূহ।
৩ - আল-বাইতুল মামুর।
৪ - পাত্রসমূহ।
আর এটিই হলো বুখারীর বর্ণনা। তবে তাঁর নিকট বর্ণিত অন্য একটি সূত্রে এর বিপরীত বর্ণনাও রয়েছে, কিন্তু তিনি সেখানে হাম্মামের সাথে সাঈদ এবং হিশামকেও যুক্ত করেছেন, ফলে তিনি প্রথমে আল-বাইতুল মামুর এবং এরপর সিদরাতুল মুনতাহার কথা উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ ওয়া যিকর আহাদীসিহিমা ওয়া তাখরীজিহা ওয়া বায়ানি সহীহিহা
(পৃষ্ঠা: ২১)
ثم الأنهار ولم يذكر الأواني ويغلب على الظن أنها رواية سعيد - وهو ابن أبي عروبة - لموافقتها لرواية سعيد عند أحمد 4/210 لكن هذه عند مسلم مطابقة تماما لرواية الدستوائي في الترتيب لكنها لم تذكر السدرة.
3 - أما رواية أنس عن النبي صلى الله عليه وسلم بلا واسطة فقد رواه عنه ثابت البناني وشريك بن أبي نمر؛ كما تقدم:
أ - أما رواية ثابت؛ فقال: عن أنس بن مالك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:
"أتيت بالبراق - وهو دابة أبيض طويل فوق الحمار ودون البغل يضع حافره عند منتهى طرفه - قال: فركبته حتى أتيت بيت المقدس قال: فربطته بالحلقة التي يربط به الأنبياء.
قال: ثم دخلت المسجد فصليت فيه ركعتين ثم خرجت.
فجاءني جبريل عليه السلام بإناء من خمر وإناء من لبن فاخترت اللبن فقال جبريل: اخترت الفطرة1.
--------------------------------------------
এরপর নদীসমূহ, আর তিনি পাত্রগুলোর কথা উল্লেখ করেননি। প্রবল ধারণা হয় যে, এটি সাঈদের বর্ণনা—যিনি হলেন ইবনে আবি আরুবাহ—কেননা এটি আহমাদ ৪/২১০-এ বর্ণিত সাঈদের বর্ণনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে মুসলিমের এই বর্ণনাটি বিন্যাসের দিক থেকে আদ-দাস্তাওয়ায়ীর বর্ণনার সাথে হুবহু মিল থাকলেও এতে সিদরাতুল মুনতাহার কথা উল্লেখ নেই।
৩ - আর কোনো মাধ্যম ছাড়াই নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আনাস (রা.)-এর বর্ণনার বিষয়টি হলো, তাঁর থেকে সাবিত আল-বুনানি এবং শারিক বিন আবি নামির এটি বর্ণনা করেছেন; যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে:
ক - সাবিতের বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি বলেন: আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"আমার নিকট বুরাক নিয়ে আসা হলো—তা গাধার চেয়ে বড় এবং খচ্চরের চেয়ে ছোট একটি সাদা রঙের দীর্ঘাকৃতি জন্তু, যা তার দৃষ্টির শেষ সীমানায় পা রাখে। তিনি বলেন: অতঃপর আমি তাতে আরোহণ করলাম এবং বাইতুল মাকদিসে পৌঁছলাম। তিনি বলেন: এরপর আমি সেটিকে সেই আংটার সাথে বাঁধলাম যার সাথে নবিগণ (তাঁদের বাহন) বাঁধতেন।
তিনি বলেন: অতঃপর আমি মসজিদে প্রবেশ করে তাতে দুই রাকাত নামাজ পড়লাম, তারপর বের হলাম।
অতঃপর জিবরাইল (আ.) আমার কাছে একটি মদের পাত্র এবং একটি দুধের পাত্র নিয়ে আসলেন। আমি দুধ পছন্দ করলাম। তখন জিবরাইল বললেন: আপনি ফিতরাত (সহজাত স্বভাব) বেছে নিয়েছেন।১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ ওয়া যিকর আহাদীসিহিমা ওয়া তাখরীজিহা ওয়া বায়ানি সহীহিহা
(পৃষ্ঠা: ২২)
ثم عرج بنا إلى السماء الدنيا فاستفتح جبريل فقيل: ومن أنت؟ قال: جبريل. قيل: ومن معك؟ قال: محمد. فقيل: وقد أرسل إليه؟ قال: قد أرسل إليه1. ففتح لنا فإذا أنا بآدم فرحب ودعا لي بخير.
ثم عرج بنا إلى السماء الثانية فاستفتح جبريل فقيل: ومن أنت؟ قال: جبريل. فقيل: ومن معك؟ قال: محمد. فقيل: وقد أرسل إليه؟ قال: قد أرسل إليه. قال: ففتح لنا فإذا أنا بابني الخالة يحيى وعيسى فرحبا ودعوا لي بخير.
ثم عرج بنا إلى السماء الثالثة فاستفتح جبريل فقيل: من أنت؟ قال: جبريل. فقيل: ومن معك؟ قال: محمد صلى الله عليه وسلم فقيل: وقد أرسل إليه؟ قال: قد أرسل إليه. ففتح لنا فإذا أنا بيوسف عليه السلام وإذا هو قد أعطي شطر الحسن فرحب ودعا لي بخير.
ثم عرج بنا إلى السماء الرابعة فاستفتح جبريل. فقيل: من أنت: قال: جبريل. قيل: ومن معك؟ قال: محمد. فقيل: قد أرسل إليه؟ قال: قد أرسل إليه. ففتح الباب فإذا
--------------------------------------------
তারপর আমাদের প্রথম আসমানে নিয়ে যাওয়া হলো। জিবরাঈল দ্বার খোলার প্রার্থনা করলেন। জিজ্ঞেস করা হলো: আপনি কে? তিনি বললেন: জিবরাঈল। জিজ্ঞেস করা হলো: আপনার সাথে কে? তিনি বললেন: মুহাম্মদ। জিজ্ঞেস করা হলো: তাঁর নিকট কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন: তাঁর নিকট পাঠানো হয়েছে১। অতঃপর আমাদের জন্য দ্বার উন্মুক্ত করা হলো। তখন আমি আদম (আলাইহিস সালাম)-এর সাক্ষাত পেলাম। তিনি আমাকে স্বাগত জানালেন এবং আমার কল্যাণের জন্য দোয়া করলেন।
অতঃপর আমাদের দ্বিতীয় আসমানে নিয়ে যাওয়া হলো। জিবরাঈল দ্বার খোলার প্রার্থনা করলেন। জিজ্ঞেস করা হলো: আপনি কে? তিনি বললেন: জিবরাঈল। জিজ্ঞেস করা হলো: আপনার সাথে কে? তিনি বললেন: মুহাম্মদ। জিজ্ঞেস করা হলো: তাঁর নিকট কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন: তাঁর নিকট পাঠানো হয়েছে। তিনি বললেন: অতঃপর আমাদের জন্য দ্বার উন্মুক্ত করা হলো। সেখানে আমি দুই খালাতো ভাই ইয়াহইয়া ও ঈসা (আলাইহিমাস সালাম)-এর সাক্ষাত পেলাম। তাঁরা আমাকে স্বাগত জানালেন এবং আমার কল্যাণের জন্য দোয়া করলেন।
অতঃপর আমাদের তৃতীয় আসমানে নিয়ে যাওয়া হলো। জিবরাঈল দ্বার খোলার প্রার্থনা করলেন। জিজ্ঞেস করা হলো: আপনি কে? তিনি বললেন: জিবরাঈল। জিজ্ঞেস করা হলো: আপনার সাথে কে? তিনি বললেন: মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। জিজ্ঞেস করা হলো: তাঁর নিকট কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন: তাঁর নিকট পাঠানো হয়েছে। অতঃপর আমাদের জন্য দ্বার উন্মুক্ত করা হলো। সেখানে আমি ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর সাক্ষাত পেলাম। আর তাঁকে সৌন্দর্যের অর্ধেক দান করা হয়েছিল। তিনি আমাকে স্বাগত জানালেন এবং আমার কল্যাণের জন্য দোয়া করলেন।
অতঃপর আমাদের চতুর্থ আসমানে নিয়ে যাওয়া হলো। জিবরাঈল দ্বার খোলার প্রার্থনা করলেন। জিজ্ঞেস করা হলো: কে আপনি? তিনি বললেন: জিবরাঈল। জিজ্ঞেস করা হলো: আপনার সাথে কে? তিনি বললেন: মুহাম্মদ। জিজ্ঞেস করা হলো: তাঁর নিকট কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন: তাঁর নিকট পাঠানো হয়েছে। অতঃপর দরজা খুলে দেওয়া হলো, তখন আমি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ ওয়া যিকর আহাদীসিহিমা ওয়া তাখরীজিহা ওয়া বায়ানি সহীহিহা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
بإدريس فرحب بي ودعا لي بخير ثم قال: يقول الله عز وجل:؟ {وَرَفَعْنَاهُ مَكَاناً عَلِيّاً} [مريم /57] .
ثم عرج بنا إلى السماء الخامسة فاستفتح جبريل. فقيل: من أنت؟ قال: جبريل. فقيل: ومن معك؟ قال: محمد. فقيل: وقد بعث إليه؟ قال: قد بعث إليه. ففتح لنا فإذا أنا بهارون فرحب ودعا لي بخير.
ثم عرج بنا إلى السماء السادسة فاستفتح جبريل. فقيل: من أنت؟ قال: جبريل. قيل: ومن معك؟ قال: محمد. فقيل: وقد بعث إليه؟ قال: قد بعث إليه. ففتح لنا فإذا أنا بموسى عيه السلام فرحب ودعا لي بخير.
ثم عرج بنا إلى السماء السابعة فاستفتح جبريل فقيل: من أنت؟ قال: جبريل. قيل: ومن معك؟ قال: محمد. قيل: وقد بعث إليه؟ قال: قد بعث إليه ففتح لنا فإذا أنا بإبراهيم صلى الله عليه وسلم وإذا هو مستند وفي رواية: مسند ظهره إلى البيت المعمور وإذا هو يدخله كل يوم سبعون ألف ملك لا يعودون إليه.
ثم ذهب بي إلى سدرة المنتهى وإذا ورقها كآذان الفيلة وإذا ثمرها كالقلال فلما غشيها من أمر الله ما غشيها تغيرت فما أحد.
আমি ইদ্রিসের দেখা পেলাম, তিনি আমাকে স্বাগত জানালেন এবং আমার জন্য কল্যাণের দোয়া করলেন। এরপর তিনি বললেন: মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেন: "এবং আমি তাকে উচ্চ স্থানে উন্নীত করেছি" [মারিয়াম: ৫৭]।
এরপর তিনি আমাদের নিয়ে পঞ্চম আসমানে আরোহণ করলেন এবং জিবরাঈল দরজা খোলার আবেদন করলেন। জিজ্ঞেস করা হলো: আপনি কে? তিনি বললেন: জিবরাঈল। জিজ্ঞেস করা হলো: আপনার সাথে কে? তিনি বললেন: মুহাম্মদ। জিজ্ঞেস করা হলো: তাঁকে কি ডাকা হয়েছে? তিনি বললেন: তাঁকে ডাকা হয়েছে। তখন আমাদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া হলো এবং সেখানে আমি হারুনের দেখা পেলাম। তিনি আমাকে স্বাগত জানালেন এবং আমার জন্য কল্যাণের দোয়া করলেন।
এরপর তিনি আমাদের নিয়ে ষষ্ঠ আসমানে আরোহণ করলেন এবং জিবরাঈল দরজা খোলার আবেদন করলেন। জিজ্ঞেস করা হলো: আপনি কে? তিনি বললেন: জিবরাঈল। জিজ্ঞেস করা হলো: আপনার সাথে কে? তিনি বললেন: মুহাম্মদ। জিজ্ঞেস করা হলো: তাঁকে কি ডাকা হয়েছে? তিনি বললেন: তাঁকে ডাকা হয়েছে। তখন আমাদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া হলো এবং সেখানে আমি মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর দেখা পেলাম। তিনি আমাকে স্বাগত জানালেন এবং আমার জন্য কল্যাণের দোয়া করলেন।
এরপর তিনি আমাদের নিয়ে সপ্তম আসমানে আরোহণ করলেন এবং জিবরাঈল দরজা খোলার আবেদন করলেন। জিজ্ঞেস করা হলো: আপনি কে? তিনি বললেন: জিবরাঈল। জিজ্ঞেস করা হলো: আপনার সাথে কে? তিনি বললেন: মুহাম্মদ। জিজ্ঞেস করা হলো: তাঁকে কি ডাকা হয়েছে? তিনি বললেন: তাঁকে ডাকা হয়েছে। তখন আমাদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া হলো এবং সেখানে আমি ইব্রাহিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দেখা পেলাম। এমতাবস্থায় তিনি বাইতুল মামুরে হেলান দিয়ে ছিলেন—অন্য বর্ণনায় এসেছে: তাঁর পিঠ বাইতুল মামুরে ঠেকিয়ে রাখা অবস্থায়। সেখানে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করেন, যারা আর সেখানে দ্বিতীয়বার ফিরে আসেন না।
এরপর তিনি আমাকে সিদরাতুল মুনতাহায় নিয়ে গেলেন। তার পাতাগুলো ছিল হাতির কানের মতো এবং ফলগুলো ছিল বড় কলসির মতো। যখন মহান আল্লাহর নির্দেশে যা আচ্ছন্ন করার তা তাকে আচ্ছন্ন করে ফেলল, তখন তার রূপ বদলে গেল, ফলে সৃষ্টির এমন কেউ নেই যে...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ ওয়া যিকর আহাদীসিহিমা ওয়া তাখরীজিহা ওয়া বায়ানি সহীহিহা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
من خلق الله يستطيع أن يصفها وفي رواية: ينعتها من حسنها.
قال: فأوحى الله عز وجل إلي ما أوحى وفرض علي في كل يوم وليلة خمسين صلاة فنزلت حتى انتهيت إلى موسى فقال: ما فرض ربك على أمتك؟ قال: قلت: خمسين صلاة في كل يوم وليلة. قال: ارجع إلى ربك فاسأله التخفيف؛ فإن أمتك لا تطيق ذلك وإني قد بلوت بني إسرائيل وخبرتهم.
قال: فرجعت إلى ربي عز وجل فقلت: أي رب! خفف عن أمتي. فحط عني خمسا.
فرجعت إلى موسى فقال: ما فعلت؟ قلت: حط عني خمسا. قال: إن أمتك لا تطيق ذلك فارجع إلى ربك فاسأله التخفيف لأمتك.
قال: فلم أزل أرجع بين ربي وبين موسى ويحط عني خمسا خمسا حتى قال: يا محمد! هن خمس صلوات في كل يوم وليلة بكل صلاة عشر فتلك خمسون صلاة.
ومن هم بحسنة فلم يعملها؛ كتبت [له] حسنة فإن عملها كتبت [له] عشرا. ومن هم بسيئة فلم يعملها؛ لم تكتب شيئا فإن عملها كتبت سيئة واحدة.
আল্লাহর সৃষ্টিজগতের এমন কেউ কি আছে যে তার সৌন্দর্য বর্ণনা করতে পারবে? অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: সেটির সৌন্দর্যের কারণে তার গুণাবলি বর্ণনা করা অসম্ভব।
তিনি বললেন: অতঃপর মহান আল্লাহ আমার প্রতি যা ওহী করার তা ওহী করলেন এবং আমার ওপর দিন ও রাতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করলেন। এরপর আমি নেমে এলাম এবং মূসার কাছে এসে পৌঁছালাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: আপনার রব আপনার উম্মতের ওপর কী ফরজ করেছেন? তিনি বললেন: আমি বললাম: দিন ও রাতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত। তিনি বললেন: আপনি আপনার রবের কাছে ফিরে যান এবং এটি কমানোর আবেদন করুন; কেননা আপনার উম্মত তা সহ্য করতে পারবে না। আমি বনী ইসরাঈলকে পরীক্ষা করেছি এবং তাদের সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা রয়েছে।
তিনি বললেন: আমি আমার মহান রবের কাছে ফিরে গেলাম এবং বললাম: হে আমার রব! আমার উম্মতের জন্য এটি সহজ করে দিন। তখন তিনি আমার থেকে পাঁচটি কমিয়ে দিলেন।
অতঃপর আমি মূসার কাছে ফিরে এলাম এবং তিনি জিজ্ঞেস করলেন: আপনি কী করলেন? আমি বললাম: আমার থেকে পাঁচটি কমানো হয়েছে। তিনি বললেন: আপনার উম্মত এটিও বহন করতে পারবে না, সুতরাং আপনার রবের কাছে পুনরায় ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য আরও সহজ করার প্রার্থনা করুন।
তিনি বললেন: এভাবে আমি আমার রব এবং মূসার মধ্যে বারবার যাতায়াত করতে থাকলাম এবং তিনি প্রতিবার আমার থেকে পাঁচটি করে কমাতে থাকলেন। অবশেষে তিনি বললেন: হে মুহাম্মাদ! এগুলো হলো দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত। প্রতি সালাতের বিনিময়ে দশগুণ সওয়াব রয়েছে, ফলে তা পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাতের সমতুল্য।
আর যে ব্যক্তি কোনো নেক কাজের সংকল্প করল কিন্তু তা সম্পন্ন করল না, তার জন্য একটি নেকি লেখা হয়। আর যদি সে তা সম্পন্ন করে, তবে তার জন্য দশটি নেকি লেখা হয়। আর যে ব্যক্তি কোনো পাপ কাজের সংকল্প করল কিন্তু তা করল না, তার জন্য কিছুই লেখা হয় না। আর যদি সে তা করে ফেলে, তবে তার জন্য একটি মাত্র পাপ লেখা হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ ওয়া যিকর আহাদীসিহিমা ওয়া তাখরীজিহা ওয়া বায়ানি সহীহিহা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
[قال:] فنزلت حتى انتهيت إلى موسى فأخبرته فقال: ارجع إلى ربك فاسأله التخفيف لأمتك فإن أمتك لا تطيق ذلك.
فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: [فقلت:] لقد رجعت إلى ربي حتى لقد استحيت [منه] ".
أخرجه أحمد 3/148 والسياق له ومسلم 259 من طريق حماد بن سلمة: أنا ثابت البناني عن أنس بن مالك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال.... فذكره.
والروايات الأخرى مع الزيادات لمسلم.
وفي رواية لأحمد 3/152 و 247 من الوجه المذكور عنه: أنه قرأ هذه الآية: {إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ} قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
"أعطيت الكوثر فإذا هو نهر يجري ولم يشق شقا فإذا حافتاه قباب اللؤلؤ فضربت بيدي إلى تربته؛ فإذا هو مسكة ذفرة وإذا حصاه اللؤلؤ".
وهذا طرف من حديث المعراج كما يأتي في بعض الطرق ولذلك أوردته.
وفي رواية عن حماد بن سلمة عن ثابت البناني وسليمان التيمي عن أنس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:
[তিনি বললেন:] অতঃপর আমি নিচে অবতরণ করলাম যতক্ষণ না আমি মুসার নিকট পৌঁছালাম এবং তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলাম। তিনি বললেন: আপনার রবের নিকট ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য (বিধান) সহজ করার প্রার্থনা করুন, কেননা আপনার উম্মত তা সহ্য করতে সক্ষম হবে না।
অতঃপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: [আমি বললাম:] আমি আমার রবের নিকট বারবার ফিরে গিয়েছি, এমনকি এখন আমি [তাঁর নিকট] লজ্জাবোধ করছি।"
এটি আহমাদ ৩/১৪৮ (শব্দবিন্যাস তাঁর) এবং মুসলিম ২৫৯ বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ-এর সূত্রে: সাবিত আল-বুনানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আনাস ইবনে মালিক থেকে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন.... অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেন।
আর অতিরিক্ত অংশসহ অন্যান্য বর্ণনাগুলো মুসলিমের।
আহমাদের ৩/১৫২ এবং ২৪৭-এর একটি বর্ণনায় উক্ত সূত্রেই বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এই আয়াতটি পাঠ করলেন: {নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাউসার দান করেছি}। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"আমাকে কাউসার দান করা হয়েছে, দেখা গেল তা একটি বহমান নদী যা (কৃত্রিমভাবে) খনন করা হয়নি। এর দুই তীরে রয়েছে মুক্তার গম্বুজ। আমি আমার হাত দিয়ে এর মাটিতে আঘাত করলাম; দেখা গেল তা তীব্র সুগন্ধিযুক্ত কস্তুরী এবং এর কণাগুলো হলো মুক্তা।"
এটি মিরাজের হাদিসের একটি অংশ যেমনটি কিছু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, আর একারণেই আমি এটি উল্লেখ করেছি।
হাম্মাদ ইবনে সালামাহ থেকে সাবিত আল-বুনানি ও সুলাইমান আত-তাইমি-এর সূত্রে আনাস হতে বর্ণিত অন্য একটি বর্ণনায় আছে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ ওয়া যিকর আহাদীসিহিমা ওয়া তাখরীজিহা ওয়া বায়ানি সহীহিহা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
"أتيت وفي رواية: مررت على موسى ليلة أسري بي عند الكثيب الأحمر وهو قائم يصلي في قبره".
أخرجه مسلم 164 والنسائي في قيام الليل وأحمد 3/148 و 248.
فائدة: قال الحافظ ابن كثير - بعد أن ساق الحديث بطوله من رواية أحمد-:
رواه مسلم بهذا السياق وهو أصح من سياق شريك يعني: الآتي قريبا. قال البيهقي: وفي هذا السياق دليل على أن المعراج كان ليلة أسري به عليه الصلاة والسلام من مكة إلى بيت المقدس. وهذا الذي قاله هو الحق الذي لا شك فيه ولا مرية.
ورواه النسائي في أول الصلاة من طريق أخرى عن البناني عنه:
(أن الصلوات فرضت بمكة وأن ملكين أتيا رسول الله صلى الله عليه وسلم فذهبا به إلى زمزم فشقا بطنه وأخرجا حشوه في طست من ذهب فغسلاه بماء زمزم ثم كبسا جوفه حكمة وعلما.
وسنده صحيح.
ب - أما رواية شريك بن أبي نمر؛ فقال: سمعت أنس بن
"আমি এসেছি এবং এক বর্ণনায় রয়েছে: আমি মেরাজের রাতে লাল বালুর ঢিবির নিকট মূসার পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি, তিনি তখন তাঁর কবরে দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন।"
এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম ১৬৪, নাসাঈ কিয়ামুল লাইল অধ্যায়ে এবং আহমাদ ৩/১৪৮ ও ২৪৮।
উপকারিতা: হাফিয ইবনু কাসীর -আহমাদ থেকে বর্ণিত দীর্ঘ হাদীসটি উল্লেখ করার পর- বলেন:
মুসলিম এই শব্দবিন্যাসে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এটি শারীকের বর্ণনা—অর্থাৎ যা সামনে আসছে—তার চেয়ে অধিক বিশুদ্ধ। বায়হাকী বলেন: এই বর্ণনায় প্রমাণ রয়েছে যে, মিরাজ সেই রাতেই হয়েছিল যে রাতে তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কা থেকে বায়তুল মাকদিস পর্যন্ত নৈশ ভ্রমণ (ইসরা) করানো হয়েছিল। তিনি যা বলেছেন তা-ই সত্য, যাতে কোনো সন্দেহ বা সংশয় নেই।
নাসাঈ সালাত অধ্যায়ের শুরুতে বুনানী থেকে তাঁর সূত্রে অন্যভাবে বর্ণনা করেছেন:
(মক্কায় সালাত ফরয করা হয়েছিল এবং দুজন ফেরেশতা আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন। তাঁরা তাঁকে যমযমের নিকট নিয়ে গেলেন এবং তাঁর বক্ষ বিদীর্ণ করলেন। এরপর তাঁরা তাঁর ভেতরকার অংশ বের করে একটি স্বর্ণের পাত্রে রাখলেন এবং যমযমের পানি দিয়ে তা ধৌত করলেন। এরপর হিকমত ও ইলম দ্বারা তাঁর বক্ষদেশ পূর্ণ করে দিলেন।)
এর সনদ সহীহ।
খ - আর শারীক বিন আবী নামিরের বর্ণনার ব্যাপারে তিনি বলেন: আমি আনাস বিন...
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ ওয়া যিকর আহাদীসিহিমা ওয়া তাখরীজিহা ওয়া বায়ানি সহীহিহা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
مالك يقول: وفي رواية: يحدثنا عن ليلة أسري برسول الله صلى الله عليه وسلم من مسجد الكعبة:
أنه جاءه ثلاثة نفر قبل أن يوحى إليه وهو نائم في المسجد الحرام فقال أولهم: أيهم هو؟ فقال أوسطهم: هو خيرهم. فقال أحدهم: خذوا خيرهم.
فكانت تلك الليلة فلم يرهم حتى أتوه ليلة أخرى فيما يرى قلبه و [النبي صلى الله عليه وسلم] تنام عينه ولا ينام قلبه وكذلك الأنبياء تنام أعينهم ولا تنام قلوبهم فلم يكلموه حتى احتملوه فوضعوه عند بئر زمزم فتولاه منهم جبريل.
فشق جبريل ما بين نحره إلى لبته حتى فرغ من صدره وجوفه فغسله من ماء زمزم بيده حتى أنقى جوفه ثم أتى بطست من ذهب فيه تور من ذهب محشوا إيمانا وحكمة فحشا به صدره ولغاديده - يعني: عروق حلقه - ثم أطبقه.
[ثم ركب البراق فسار حتى أتى به إلى بيت المقدس فصلى فيه بالنبيين والمرسلين إماما جرير] 1.
--------------------------------------------
মালিক বলেন: এবং এক বর্ণনায় রয়েছে: তিনি আমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কাবার মসজিদ থেকে ইসরা (নৈশভ্রমণ) করানোর রাত সম্পর্কে বর্ণনা করেন:
তাঁর কাছে ওহী আসার আগে তিনি যখন মসজিদুল হারামে ঘুমন্ত ছিলেন, তখন তাঁর নিকট তিনজন ব্যক্তি আসলেন। তাঁদের প্রথমজন বললেন: তিনি কে? তাঁদের মধ্যমজন বললেন: তিনি তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তাঁদের একজন বললেন: তাঁদের মধ্যে যিনি শ্রেষ্ঠ তাঁকে গ্রহণ করো।
সেই রাতে এমনটি ঘটেছিল, অতঃপর তিনি তাঁদের আর দেখেননি যতক্ষণ না তাঁরা অন্য এক রাতে তাঁর নিকট আসলেন যা তাঁর অন্তর দেখতে পাচ্ছিল। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চোখ ঘুমায় কিন্তু তাঁর অন্তর ঘুমায় না। নবীদের অবস্থাও তদ্রূপ, তাঁদের চোখ ঘুমায় কিন্তু অন্তর ঘুমায় না। তাঁরা তাঁর সাথে কোনো কথা বলেননি যতক্ষণ না তাঁকে বহন করে নিয়ে গেলেন এবং যমযম কূপের পাশে রাখলেন। তাঁদের মধ্য থেকে জিবরাঈল তাঁর দায়িত্ব নিলেন।
জিবরাঈল তাঁর কণ্ঠনালী থেকে বুকের শেষ সীমানা পর্যন্ত বিদীর্ণ করলেন, এমনকি তাঁর বক্ষ ও উদরদেশ খালি করলেন। অতঃপর তাঁর হাত দিয়ে যমযমের পানি দ্বারা তা ধৌত করলেন যতক্ষণ না তাঁর উদরদেশ পবিত্র করলেন। এরপর একটি স্বর্ণের তশতরী আনা হলো যাতে স্বর্ণের একটি পাত্র ছিল, যা ঈমান ও হিকমতে (প্রজ্ঞা) পূর্ণ ছিল। তা দিয়ে তিনি তাঁর বক্ষ ও লুগাদীদের—অর্থাৎ তাঁর কণ্ঠনালীর শিরাসমূহ—পূর্ণ করলেন। তারপর তিনি তা মিলিয়ে দিলেন।
[অতঃপর তিনি বুরাকে আরোহণ করলেন এবং পথ চললেন যতক্ষণ না তাঁকে বাইতুল মাকদিসে নিয়ে আসা হলো। সেখানে তিনি নবী ও রাসূলগণের ইমাম হিসেবে সালাত আদায় করলেন—ইবনে জারীর] ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ ওয়া যিকর আহাদীসিহিমা ওয়া তাখরীজিহা ওয়া বায়ানি সহীহিহা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ثم عرج به إلى السماء الدنيا فضرب بابا من أبوابها فناداه أهل السماء: من هذا؟ فقال: جبريل. قالوا: ومن معك؟ قال: معي محمد. قال: وقد بعث إليه؟ قال: نعم. قالوا: فمرحبا به وأهلا. فيستبشر به أهل السماء لا يعلم أهل السماء بما يريد الله به في الأرض حتى يعلمهم.
فوجد في السماء الدنيا آدم. فقال له جبريل: هذا أبوك فسلم عليه. فسلم عليه ورد عليه آدم وقال: مرحبا وأهلا يا بني نعم الابن أنت.
فإذا هو في السماء الدنيا بنهرين يطردان فقال: "ما هذان النهران يا جبريل؟ ". قال: هذان النيل والفرات: عنصرهما.
ثم مضى به في السماء فإذا بنهر آخر1 عليه قصر من لؤلؤ وزبرجد فضرب يده فإذا هو مسك أذفر. قال: "ما هذا يا جبريل؟ ". قال: هذا الكوثر الذي خبأ لك ربك.
ثم عرج إلى السماء الثانية فقالت الملائكة له مثل ما قالت له الأولى: من هذا؟ قال: جبريل. قالوا: ومن معك؟
--------------------------------------------
তারপর তিনি তাঁকে নিয়ে নিকটবর্তী আসমানে আরোহণ করলেন এবং তার একটি দরজায় করাঘাত করলেন। তখন আসমানবাসীরা তাঁকে ডেকে জিজ্ঞেস করল: এটি কে? তিনি বললেন: জিবরীল। তারা বলল: আপনার সাথে কে? তিনি বললেন: আমার সাথে মুহাম্মদ আছেন। তারা জিজ্ঞেস করল: তাঁর নিকট কি দূত পাঠানো হয়েছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তারা বলল: তাঁকে স্বাগত ও মোবারকবাদ। এতে আসমানবাসীরা আনন্দিত হলেন। আসমানবাসীরা পৃথিবীতে তাঁর বিষয়ে আল্লাহ কী ইচ্ছা করেন তা জানতে পারেন না, যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁদেরকে তা অবহিত করেন।
এরপর তিনি নিকটবর্তী আসমানে আদমকে পেলেন। জিবরীল তাঁকে বললেন: ইনি আপনার পিতা, সুতরাং তাঁকে সালাম দিন। তিনি তাঁকে সালাম দিলেন এবং আদম তাঁর সালামের উত্তর দিলেন ও বললেন: স্বাগত ও শুভেচ্ছা হে আমার পুত্র, তুমি কতই না উত্তম পুত্র।
হঠাৎ তিনি নিকটবর্তী আসমানে দুটি প্রবহমান নদী দেখতে পেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "হে জিবরীল, এই নদী দুটি কী?" তিনি বললেন: "এই দুটি হলো নীল ও ফুরাত: এদের মূল উৎস।"
তারপর তিনি তাঁকে নিয়ে আসমানের দিকে এগিয়ে চললেন, তখন হঠাৎ আরেকটি নদী দেখা গেল১ যার উপরে মুক্তা ও জবরজদ পাথরের প্রাসাদ ছিল। তিনি তাঁর হাত দিয়ে আঘাত করলেন, দেখা গেল তা তীব্র সুগন্ধিযুক্ত মিশক। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "হে জিবরীল, এটি কী?" তিনি বললেন: "এটি সেই কাউসার যা আপনার রব আপনার জন্য সঞ্চয় করে রেখেছেন।"
তারপর তিনি দ্বিতীয় আসমানে আরোহণ করলেন, সেখানে ফেরেশতারা তাঁকে তাই বলল যা প্রথম আসমানের ফেরেশতারা বলেছিল: এটি কে? তিনি বললেন: জিবরীল। তারা বলল: আপনার সাথে কে?
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ ওয়া যিকর আহাদীসিহিমা ওয়া তাখরীজিহা ওয়া বায়ানি সহীহিহা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
قال: محمد صلى الله عليه وسلم. قالوا وقد بعث إليه؟ قال: نعم. قالوا: مرحبا به وأهلا.
ثم عرج به إلى السماء الثالثة وقالوا له مثل ما قالت الأولى والثانية.
ثم عرج به إلى الرابعة فقالوا له مثل ذلك.
ثم عرج به إلى الخامسة فقالوا له مثل ذلك.
ثم عرج به إلى السادسة فقالوا له مثل ذلك.
ثم عرج به إلى السابعة فقالوا له مثل ذلك كل سماء فيها أنبياء قد سماهم فأوعيت منهم إدريس في الثانية.
وهارون في الرابعة.
وآخر في الخامسة لم أحفظ اسمه.
وإبراهيم في السادسة.
وموسى في السابعة بتفضيل كلام الله فقال موسى: رب! لم أظن أن يرفع علي أحد.
ثم علا به فوق ذلك بما لا يعلمه إلا الله.
حتى جاء سدرة المنتهى ودنا الجبار رب العزة فتدلى
তিনি বললেন: মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তারা বলল: তাঁকে কি আহ্বান করা হয়েছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। তারা বলল: তাঁকে স্বাগতম এবং অভিনন্দন।
অতঃপর তাঁকে নিয়ে তৃতীয় আসমানে আরোহণ করা হলো এবং তারা তাঁকে তেমনটিই বলল যা প্রথম ও দ্বিতীয় আসমানের ফেরেশতারা বলেছিল।
অতঃপর তাঁকে চতুর্থ আসমানে নিয়ে যাওয়া হলো এবং তারা তাঁকে তেমনই বলল।
অতঃপর তাঁকে পঞ্চম আসমানে নিয়ে যাওয়া হলো এবং তারা তাঁকে তেমনই বলল।
অতঃপর তাঁকে ষষ্ঠ আসমানে নিয়ে যাওয়া হলো এবং তারা তাঁকে তেমনই বলল।
অতঃপর তাঁকে সপ্তম আসমানে নিয়ে যাওয়া হলো এবং তারা তাঁকে তেমনই বলল। প্রতিটি আসমানেই নবীগণ ছিলেন যাদের নাম তিনি উল্লেখ করেছেন; আমি তাঁদের মধ্য থেকে দ্বিতীয় আসমানে ইদরিসকে স্মরণ রেখেছি।
এবং চতুর্থ আসমানে হারুনকে।
এবং পঞ্চম আসমানে অন্য একজনকে যার নাম আমি মুখস্থ রাখতে পারিনি।
এবং ষষ্ঠ আসমানে ইবরাহিমকে।
এবং সপ্তম আসমানে আল্লাহর সাথে সরাসরি কথা বলার শ্রেষ্ঠত্বপ্রাপ্ত মুসাকে। তখন মুসা বললেন: হে রব! আমি ভাবিনি যে আমার উপরে কাউকে উন্নীত করা হবে।
অতঃপর তিনি তাঁকে তার উপরে এমন উচ্চতায় নিয়ে গেলেন যা আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না।
অবশেষে তিনি সিদরাতুল মুনতাহায় পৌঁছালেন এবং মহা পরাক্রমশালী ইজ্জতের রব নিকটে আসলেন ও আরও নিকটবর্তী হলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ ওয়া যিকর আহাদীসিহিমা ওয়া তাখরীজিহা ওয়া বায়ানি সহীহিহা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
حتى كان منه قاب قوسين أو أدنى.
فأوحى الله فيما أوحى خمسين صلاة على أمتك كل يوم وليلة.
ثم هبط حتى بلغ موسى فاحتبسه موسى فقال: يا محمد ماذا عهد إليك ربك؟ قال النبي صلى الله عليه وسلم: "عهد إلي خمسين صلاة كل يوم وليلة". قال: إن أمتك لا تستطيع ذلك فارجع فليخفف عنك ربك وعنهم. فالتفت النبي صلى الله عليه وسلم إلى جبريل كأنه يستشيره في ذلك فأشار إليه جبريل أن نعم إن شئت. فعلا به إلى الجبار فقال - وهو مكانه -: "يا رب! خفف عنا فإن أمتي لا تستطيع هذا". فوضع عنه عشر صلوات.
ثم رجع إلى موسى فاحتبسه فلم يزل يردده موسى إلى ربه؛ حتى صارت إلى خمس صلوات.
ثم احتبسه موسى عند الخمس فقال: يا محمد! والله لقد راودت بني إسرائيل قومي على أدنى من هذا فضعفوا فتركوه فأمتك أضعف أجسادا وقلوبا وأبدانا وأبصارا وأسماعا فارجع فليخفف عنك ربك.
كل ذلك يلتفت النبي صلى الله عليه وسلم إلى جبريل ليشير عليه ولا يكره ذلك جبريل.
এমনকি তিনি তাঁর থেকে দুই ধনুকের ব্যবধান বা তার চেয়েও নিকটে আসলেন।
অতঃপর আল্লাহ যা ওহী করার তা ওহী করলেন এবং আপনার উম্মতের ওপর প্রতি দিন ও রাতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত নির্ধারণ করলেন।
অতঃপর তিনি নিচে নামলেন এবং মূসার কাছে পৌঁছালে মূসা তাঁকে আটকে দিলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মাদ, আপনার রব আপনার প্রতি কী নির্দেশ দিয়েছেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তিনি আমার প্রতি প্রতি দিন ও রাতে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত নির্ধারণ করেছেন"। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আপনার উম্মত এতে সক্ষম হবে না, সুতরাং ফিরে যান যাতে আপনার রব আপনার ও তাদের জন্য এটি সহজ করে দেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাঈলের দিকে তাকালেন যেন তিনি এ বিষয়ে তাঁর পরামর্শ চাচ্ছেন, তখন জিবরাঈল ইশারায় জানালেন যে, হ্যাঁ, আপনি চাইলে যেতে পারেন। অতঃপর তিনি তাঁকে নিয়ে মহাপ্রতাপশালী আল্লাহর দিকে উপরে উঠলেন এবং তিনি (আল্লাহ) তাঁর নিজ স্থানেই ছিলেন— তখন নবী বললেন: "হে আমার রব! আমাদের জন্য এটি সহজ করে দিন, কারণ আমার উম্মত এটি করতে সক্ষম হবে না"। তখন আল্লাহ তাঁর থেকে দশ ওয়াক্ত সালাত কমিয়ে দিলেন।
অতঃপর তিনি মূসার কাছে ফিরে এলেন এবং মূসা পুনরায় তাঁকে আটকে দিলেন। এভাবে মূসা বারবার তাঁকে তাঁর রবের কাছে পাঠাতে থাকলেন, যতক্ষণ না তা পাঁচ ওয়াক্তে পরিণত হলো।
অতঃপর পাঁচ ওয়াক্তের সময়ও মূসা তাঁকে আটকে দিলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মাদ! আল্লাহর কসম, আমি আমার কওম বনী ইসরাঈলকে এর চেয়েও কম বিষয়ের ওপর পরিচালিত করতে চেয়েছিলাম কিন্তু তারা দুর্বলতা প্রকাশ করেছিল এবং তা বর্জন করেছিল। আর আপনার উম্মত দেহ, অন্তর, শরীর, দৃষ্টি ও শ্রবণের দিক থেকে আরও অধিক দুর্বল। সুতরাং ফিরে যান, যাতে আপনার রব আপনার জন্য এটি আরও সহজ করে দেন।
এই প্রতিটি বারই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিবরাঈলের দিকে তাকাচ্ছিলেন যাতে তিনি তাঁকে ইশারা প্রদান করেন, আর জিবরাঈল এতে বিরক্তি বোধ করছিলেন না।
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ ওয়া যিকর আহাদীসিহিমা ওয়া তাখরীজিহা ওয়া বায়ানি সহীহিহা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
فرفعه عند الخامسة1 فقال: "يا رب! إن أمتي ضعفاء أجسادهم وقلوبهم وأسماعهم وأبدانهم؛ فخفف عنا". فقال الجبار: يا محمد! قال: لبيك وسعديك! قال: إنه لا يبدل القول لدي؛ كما فرضت عليك في الكتاب. قال: فكل حسنة بعشر أمثالها فهي خمسون في أم الكتاب وهي خمس عليك.
فرجع إلى موسى فقال: كيف فعلت؟ فقال: "خفف عنا؛
--------------------------------------------
এরপর তিনি তাঁকে পঞ্চমবারের সময় উপরে উঠালেন এবং তিনি বললেন: "হে আমার রব! নিশ্চয়ই আমার উম্মত তাদের দেহ, অন্তর, শ্রবণশক্তি ও শরীরের দিক থেকে দুর্বল; সুতরাং আমাদের ওপর থেকে বোঝা লাঘব করুন।" তখন পরাক্রমশালী আল্লাহ বললেন: "হে মুহাম্মাদ!" তিনি উত্তর দিলেন: "আমি আপনার দরবারে হাজির এবং আপনার আদেশের অনুগত!" আল্লাহ বললেন: "নিশ্চয়ই আমার কাছে কথার কোনো পরিবর্তন হয় না; যেমনটি আমি কিতাবে তোমার ওপর ফরজ করেছি।" তিনি বললেন: "প্রতিটি নেকির দশগুণ সওয়াব রয়েছে; সুতরাং উম্মুল কিতাবে (মূল কিতাবে) এটি পঞ্চাশ, কিন্তু তোমার ওপর এটি পাঁচ।"
এরপর তিনি মূসার কাছে ফিরে এলেন, তখন তিনি (মূসা) বললেন: আপনি কী করলেন? তিনি উত্তর দিলেন: "আমাদের ওপর থেকে বোঝা লাঘব করা হয়েছে;"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইসরা ওয়াল মিরাজ ওয়া যিকর আহাদীসিহিমা ওয়া তাখরীজিহা ওয়া বায়ানি সহীহিহা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
أعطانا بكل حسنة عشر أمثالها".
قال موسى: قد - والله - راودت بني إسرائيل على أدنى من ذلك فتركوه ارجع إلى ربك فليخفف عنك أيضا.
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "يا موسى! قد - والله - استحييت من ربي مما اختلفت إليه".
قال: فاهبط باسم الله.
قال: واستيقظ وهو في مسجد الحرام.
أخرجه البخاري 3570 و 7517 ومسلم 262 والرواية الثانية له وهي رواية للبخاري وفيها الزيادة ولم يسق مسلم الحديث إلا طرفه الأول إلى قوله: "وهو نائم في المسجد الحرام" وقال عقبه:
"وساق الحديث بقصته نحو حديث ثابت البناني وقدم فيه شيئا وأخر وزاد ونقص".
ورواه ابن جرير أيضا 15/3 - 5؛لكن وقع في متنه اختلاف فإنه ذكر نهري الفرات والنيل في السماء الثانية ونهر الكوثر في السماء الثالثة بينما هي عند البخاري في السماء الدنيا.
"তিনি আমাদের প্রতিটি নেক কাজের বিনিময়ে তার দশগুণ দান করেছেন।"
মূসা বললেন: "আল্লাহর কসম, আমি বনী ইসরাঈলকে এর চেয়েও কম বিষয়ের ওপর রাজি করাতে চেয়েছিলাম কিন্তু তারা তা ছেড়ে দিয়েছিল। সুতরাং আপনি আপনার রবের নিকট ফিরে যান এবং তিনি যেন আপনার জন্য আরও সহজ করে দেন।"
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "হে মূসা! আল্লাহর কসম, আমি আমার রবের কাছে (বারবার ফিরে যেতে যেতে) লজ্জিত হয়ে পড়েছি।"
তিনি বললেন: "তবে আল্লাহর নামে নিচে অবতরণ করুন।"
বর্ণনাকারী বলেন: "তিনি জাগ্রত হলেন এমতাবস্থায় যে, তিনি মসজিদে হারামে ছিলেন।"
এটি বুখারী (৩৫৭০ ও ৭৫১৭) এবং মুসলিম (২৬২) বর্ণনা করেছেন। দ্বিতীয় বর্ণনাটি বুখারীর এবং তাতে অতিরিক্ত অংশ রয়েছে। মুসলিম হাদীসটির কেবল প্রথম অংশটুকু উল্লেখ করেছেন এই পর্যন্ত: "এমতাবস্থায় তিনি মসজিদে হারামে ঘুমন্ত ছিলেন", এবং এরপর তিনি বলেছেন:
"তিনি পুরো ঘটনা সংবলিত হাদীসটি ছাবিত আল-বুনানীর হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং এতে কিছু বিষয় আগে-পরে করেছেন এবং কিছু বাড়িয়েছেন ও কমিয়েছেন।"
ইবনে জারীরও এটি বর্ণনা করেছেন (১৫/৩-৫); তবে এর মূল পাঠে (মতন) ভিন্নতা দেখা যায়। তিনি ফুরাত ও নীল নদকে দ্বিতীয় আসমানে এবং কাওসার নদীকে তৃতীয় আসমানে উল্লেখ করেছেন, যেখানে বুখারীর বর্ণনা অনুযায়ী এগুলো দুনিয়ার আসমানে অবস্থিত।