(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিশরাক ওয়া মাওকিফুহু মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الاستشراق وموقفه من السنة النبوية القسم: كتب عامة
الكتاب: الاستشراق وموقفه من السنة النبوية
المؤلف: فالح بن محمد بن فالح الصغير
الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة
عدد الصفحات: 98
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
প্রাচ্যতত্ত্ব এবং নববী সুন্নাহ (السنة النبوية)-র প্রতি এর দৃষ্টিভঙ্গি বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থসমূহ
গ্রন্থ: প্রাচ্যতত্ত্ব এবং নববী সুন্নাহ (السنة النبوية)-র প্রতি এর দৃষ্টিভঙ্গি
লেখক: ফালিহ বিন মুহাম্মাদ বিন ফালিহ আস-সগির
প্রকাশক: মদিনা মুনাওয়ারায় পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য কিং ফাহদ কমপ্লেক্স
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১ হিজরী
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিশরাক ওয়া মাওকিফুহু মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
ال
مقدمة:الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحبه والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين، وبعد:
فإنَّ من أهم ما ينبغي للمسلم إدراكه في الحياة العدوَّ الذي يتربص به وبدينه من كل جانب، ويحاول أن ينقضَّ عليه لاستئصاله، وانتزاع عقيدته من واقع حياته. وهذا العدو يظهر بأشكال كثيرة ومتنوعة، فأحياناً يكون بصورة استعمار عسكري يغزو البلاد وينهب الخيرات، وأحياناً يكون تحت شعارات إنسانية وحقوق الإنسان، ويأتي أحيانًا أخرى بهدف الحوار الحضاري أو المعرفي، وكلها صور مختلفة ولكن الهدف واحد، هو استعمار البلاد واستعمار العقول حسب ما تملي عليهم مبادئهم ومصالحهم. ولكن أخطر هذه الأنواع ذلك الذي يتغلغل داخل الأمة عبر الثقافة والمعرفة، ومنه ما يسمى بالاستشراق، فإنه عدو خطير بكل أدواته ووسائله؛ لأنه يحارب بالشبهة من خلال بعض ما يتوافر لديه من أحداث تاريخية أو روايات غير صحيحة، ولكنه يضعها في ثوب يثير الانتباه، ويشكك الضعفاء من أبناء الأمة في أمر دينهم وتاريخهم، مستفيدًا من بعض الصراعات التي حدثت في التاريخ الإسلامي في القرون الأولى لهذا الدين.
وهذا العدو خطير؛ لأنه مدعوم بأشياء كثيرة ومن أطراف متعددة، فتدعمه بعض الدول الكبرى والمؤسسات العلمية في الغرب والشرق، والتي لها شهرة معرفية لدى معظم دول العالم، هذا فضلاً عن القيادات التي ترأس هذه المؤسسات وعلاقاتهم مع الساسة الكبار في دولهم الاستعمارية.
وقد وضع هذا العدو المتمثل بالاستشراق والمستشرقين أمامهم عدة
উপক্রমণিকা:সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসুলের ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবি (الصحابة) এবং কিয়ামত দিবস পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন সেই তাবেয়ি (التابعين)গণের ওপর। অতঃপর:
একজন মুসলিমের জীবনে যে বিষয়গুলো উপলব্ধি করা সবচেয়ে জরুরি তার মধ্যে অন্যতম হলো সেই শত্রু, যে তার এবং তার দ্বীনের বিরুদ্ধে চারদিক থেকে ওত পেতে বসে আছে এবং তাকে সমূলে উৎপাটন করতে ও তার বাস্তব জীবন থেকে আকিদাহ তথা বিশ্বাস ছিনিয়ে নিতে আক্রমণ করার চেষ্টা করছে। এই শত্রু বিভিন্ন ও বিচিত্র রূপে আবির্ভূত হয়; কখনো সামরিক উপনিবেশ হিসেবে যা দেশ আক্রমণ করে এবং সম্পদ লুণ্ঠন করে, আবার কখনো তা মানবিকতা ও মানবাধিকারের স্লোগানের আড়ালে আসে, আবার কখনো আসে সভ্যতা বা জ্ঞানতাত্ত্বিক সংলাপের উদ্দেশ্য নিয়ে। এগুলো সবই ভিন্ন ভিন্ন রূপ কিন্তু লক্ষ্য অভিন্ন—তা হলো দেশ দখল করা এবং নিজেদের আদর্শ ও স্বার্থ অনুযায়ী মানুষের মগজ ধোলাই করা বা চিন্তাজগতকে উপনিবেশে পরিণত করা। তবে এই প্রকারগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক হলো সেটি, যা সংস্কৃতি ও জ্ঞানের মাধ্যমে উম্মাহর ভেতরে প্রবেশ করে। এর অন্যতম উদাহরণ হলো প্রাচ্যতত্ত্ব, যা তার যাবতীয় হাতিয়ার ও উপকরণসহ একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক শত্রু। কারণ এটি ঐতিহাসিক ঘটনাবলি কিংবা প্রাপ্ত কিছু অ-সহিহ (غير صحيح) বর্ণনা (روايات)-এর মাধ্যমে সংশয় ছড়িয়ে যুদ্ধ করে। তবে একে এমন আকর্ষণীয় অবয়বে উপস্থাপন করা হয় যা সহজেই দৃষ্টি কাড়ে এবং উম্মাহর দুর্বলমনা সন্তানদের মনে তাদের দ্বীন ও ইতিহাস নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করে; এক্ষেত্রে তারা ইসলামের প্রাথমিক শতাব্দীগুলোতে সংঘটিত বিভিন্ন দ্বন্দ্ব-সংঘাত থেকে ফায়দা গ্রহণ করে।
এই শত্রু অত্যন্ত ভয়াবহ; কারণ এটি বহুবিধ উপকরণ এবং বিভিন্ন পক্ষের দ্বারা সমর্থিত। পশ্চিম ও প্রাচ্যের এমন কিছু শক্তিশালী রাষ্ট্র ও বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান একে পৃষ্ঠপোষকতা দান করে, যাদের বিশ্বজুড়ে জ্ঞানতাত্ত্বিক খ্যাতি রয়েছে। এছাড়া এই প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান ব্যক্তিবর্গ এবং তাদের উপনিবেশবাদী রাষ্ট্রগুলোর প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের সাথে তাদের নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান।
প্রাচ্যতত্ত্ব ও প্রাচ্যতাত্ত্বিকদের রূপ ধারণকারী এই শত্রু তাদের সামনে বেশ কিছু...
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিশরাক ওয়া মাওকিফুহু মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
أهداف من أجل الوصول إلى تحقيقها، وهذه الأهداف كثيرة ومتفاوتة من حيث الأهمية بالنسبة لهم، ولكن الغاية الأخيرة لهم هي جعل الدين الإسلامي مجرد أسطورة ليس له حقيقة ربانية، وإنما هو مزيج من الآراء والأفكار التي اقتبست من بعض الأشخاص كبحيرى الراهب وغيره، ومن الأديان الأخرى كاليهودية والنصرانية، لذلك بادر هؤلاء المستشرقون إلى الطعن في أركان هذا الدين ومصادره الأصلية التي هي مصدر الأحكام والتشريعات، إذ أعلنوا حربًا فكرية شعواء على القرآن الكريم، وعدّ الوحي ضربا من الصرع أو الجنون، ولكنهم شددوا هذه الحرب وبوسائل أقوى على السنة المطهرة؛ لكونها المصدر الثاني من مصادر التشريع الإسلامي، ويقوم تفصيل التشريع عليها، مستغلين بعض الأحاديث الموضوعة والخلافات التاريخية بين المسلمين.
وقد بذل علماء الأمة بمختلف اتجاهاتهم وتخصصاتهم جهودًا جبارة في التصدي لهذا العدو الخطير وسمومه، مع أن بعضًا من أبناء الأمة تأثروا ببعض هذه السموم، ولكنها في النهاية كان مصيرها السقوط والهزيمة والحمد لله.
وقد أحسنت وزارة الشؤون الإسلامية والأوقاف والدعوة والإرشاد ممثلة في مجمع الملك فهد بإقامة ندوة (عناية المملكة العربية السعودية بالسنة والسيرة النبوية) ، وموضوع الاستشراق أحد محاور هذه الندوة، والذي يأتي هذا البحث مشاركة متواضعة فيه، فأسأل الله تعالى أن ينفع بهذه الندوة وبحوثها وأن تكون لها ثمار إيجابية، وجزى الله الجميع خير الجزاء.
وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
তাদের লক্ষ্য অর্জনের নিমিত্তে অনেক উদ্দেশ্য রয়েছে, এবং এই উদ্দেশ্যগুলো তাদের নিকট গুরুত্বের দিক থেকে বহুবিধ ও ভিন্ন ভিন্ন। তবে তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ইসলাম ধর্মকে একটি নিছক উপকথায় পরিণত করা যার কোনো ঐশী বাস্তবতা নেই; বরং এটি বাহিরা পাদ্রী ও অন্যদের মতো কিছু ব্যক্তি এবং ইহুদি ও খ্রিস্টধর্মের মতো অন্যান্য ধর্ম থেকে সংগৃহীত মতামত ও চিন্তাধারার এক সংমিশ্রণ মাত্র। একারণেই এই প্রাচ্যবিদরা এই ধর্মের স্তম্ভসমূহ এবং এর মৌলিক উৎসগুলোর ওপর আঘাত হানতে তৎপর হয়েছে, যা বিধান ও শরয়ি আইনের মূল উৎস। তারা পবিত্র কুরআনের বিরুদ্ধে এক প্রচণ্ড বুদ্ধিবৃত্তিক যুদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং ওহিকে এক প্রকার মৃগীরোগ বা উন্মাদনা বলে গণ্য করেছে। তবে তারা এই যুদ্ধকে আরও শক্তিশালী উপায়ে পবিত্র সুন্নাহর ওপর তীব্রতর করেছে; কারণ এটি ইসলামী বিধানের দ্বিতীয় উৎস এবং বিধানের বিস্তারিত ব্যাখ্যা এর ওপরই নির্ভরশীল। এক্ষেত্রে তারা কিছু জাল (موضوع) হাদিস এবং মুসলমানদের মধ্যকার ঐতিহাসিক মতভেদগুলোকে কাজে লাগিয়েছে।
উম্মাহর ওলামায়ে কেরাম তাদের বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশেষত্ব থাকা সত্ত্বেও এই বিপজ্জনক শত্রু ও তাদের বিষবাষ্প মোকাবিলায় বিশাল প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। যদিও উম্মাহর সন্তানদের কেউ কেউ এই বিষ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন, তবে শেষ পর্যন্ত এগুলোর পরিণতি ছিল পতন ও পরাজয়, আলহামদুলিল্লাহ।
ইসলামী বিষয়ক, ওয়াকফ, দাওয়াহ ও ইরশাদ মন্ত্রণালয় কিং ফাহদ কমপ্লেক্সের প্রতিনিধিত্বে (সুন্নাহ ও সিরাতে নববীর প্রতি সৌদি আরব রাজ্যের যত্ন) শীর্ষক একটি সেমিনারের আয়োজন করে অত্যন্ত প্রশংসনীয় কাজ করেছে। প্রাচ্যবাদ বিষয়টি এই সেমিনারের অন্যতম একটি আলোচ্য বিষয়, যেখানে এই গবেষণাটি একটি বিনম্র অংশগ্রহণ হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই সেমিনার এবং এর গবেষণাপত্রগুলোর মাধ্যমে উপকার দান করেন এবং এর ইতিবাচক ফল বয়ে আনেন। আল্লাহ সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিশরাক ওয়া মাওকিফুহু মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
منهج البحث:
انطلقت عند كتابتي هذا البحث من زاوية علمية معرفية بالاستشراق ونشأته وأهدافه، والشبهات التي يثيرها المستشرقون حول السنة النبوية، وذلك من خلال النقاط التالية:
1 – اعتمدت عند تناول هذا البحث على محاولة الاستدلال مع الاختصار قدر الإمكان.
2 – رجعت عند كتابة البحث إلى كتب المستشرقين أنفسهم وهي كثيرة، رغم قلة المترجَم منها، ومن أهم تلك الكتب كتاب "العقيدة والشريعة في الإسلام" لرأس المستشرقين "أجناس جولدتسيهر" وهو مترجم إلى العربية، وكذلك إلى كتابات المسلمين عن الاستشراق والمستشرقين وردودهم عليهم، وهي أيضًا كثيرة، وكان أهم مرجع اعتمدت عليه هو كتاب "السنة ومكانتها في التشريع الإسلامي" للدكتور مصطفى السباعي رحمه الله، فهو كتاب قيّم وشاف لمعرفة السنة والأطوار التي مرت بها، والشبهات التي أثيرت حولها من قبل الغربيين والرد عليها.
3 – عدم ذكر جميع الشبهات التي أثارها المستشرقون حول السنة النبوية؛ لأنها كثيرة جدًا، وتحتاج إلى كتابات طويلة لذكرها والرد عليها، ولكنني اكتفيت بذكر أهم هذه الشبهات حول السنة، والرد عليها بإيجاز.
4 – إذا نقلت نصًا من كتاب دون تصرف فإنني أضعه بين قوسي تنصيص صغيرين، وأشير إلى مرجعه في الحاشية في أسفل الصفحة، أما إذا نقلت النص بتصرف فإنني أشير في الحاشية فقط إلى المراجع التي اقتبست منها الفكرة.
গবেষণা পদ্ধতি:
এই গবেষণাটি রচনার ক্ষেত্রে আমি প্রাচ্যতত্ত্ব (الاستشراق), এর উদ্ভব ও লক্ষ্য এবং সুন্নাতে নববী সম্পর্কে প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের (المستشرقون) উত্থাপিত সংশয়সমূহ (الشبهات) বিষয়ে একটি তাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে অগ্রসর হয়েছি, যা নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোর মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা হলো:
১ – এই গবেষণাটি পরিচালনার ক্ষেত্রে আমি যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ততার সাথে দলিল উপস্থাপনের (الاستدلال) পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেছি।
২ – গবেষণাটি রচনার সময় আমি প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের (المستشرقون) মূল গ্রন্থরাজির শরণাপন্ন হয়েছি, যা সংখ্যায় প্রচুর, যদিও তার মধ্যে অনূদিত কর্মের সংখ্যা খুবই নগণ্য। এই বইগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো প্রধান প্রাচ্যতত্ত্ববিদ 'ইগনাস গোল্ডজিহার'-এর 'ইসলামে আকিদা ও শরিয়ত' নামক গ্রন্থটি, যা আরবিতে অনূদিত হয়েছে। পাশাপাশি আমি প্রাচ্যতত্ত্ব (الاستشراق) ও প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের (المستشرقون) সম্পর্কে মুসলিমদের রচিত গ্রন্থসমূহ এবং তাদের খণ্ডনমূলক জবাবের সাহায্য নিয়েছি, যেগুলোও সংখ্যায় অনেক। এ ক্ষেত্রে আমার নির্ভর করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো ড. মুস্তফা আস-সিবায়ি (রহিমাহুল্লাহ)-এর 'সুন্নাহ ও ইসলামী আইনবিধানে এর মর্যাদা' নামক গ্রন্থটি। এটি সুন্নাহ, সুন্নাহর বিবর্তনের ইতিহাস এবং প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের পক্ষ থেকে সুন্নাহ সম্পর্কে উত্থাপিত সংশয়সমূহ (الشبهات) ও তার নিরসন সম্পর্কে জানার জন্য একটি অত্যন্ত মূল্যবান ও স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রন্থ।
৩ – সুন্নাতে নববী সম্পর্কে প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের (المستشرقون) উত্থাপিত সকল সংশয় (الشبهات) এখানে উল্লেখ করা হয়নি; কারণ সেগুলো সংখ্যায় অত্যধিক এবং সেগুলো বিস্তারিত বর্ণনা ও খণ্ডন করার জন্য দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন। তবে আমি সুন্নাহ সম্পর্কে প্রধান প্রধান সংশয়সমূহ (الشبهات) উল্লেখ করে সংক্ষেপে তার উত্তর প্রদানের চেষ্টা করেছি।
৪ – আমি যদি কোনো গ্রন্থ থেকে কোনো পাঠ্য কোনো রূপ পরিবর্তন ব্যতীত (دون تصرف) হুবহু উদ্ধৃত করি, তবে আমি তা উদ্ধৃতি চিহ্নের (" ") মধ্যে রেখেছি এবং পৃষ্ঠার পাদটীকায় তার মূল উৎস নির্দেশ করেছি। আর যদি পাঠ্যটি পরিমার্জনসহ (تصرف) বা ভাবানুবাদ করে গ্রহণ করি, তবে পাদটীকায় কেবল সেই তথ্যসূত্রগুলো উল্লেখ করেছি যেখান থেকে আমি মূল ধারণাটি গ্রহণ করেছি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিশরাক ওয়া মাওকিফুহু মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
5 – عزوتُ الآيات إلى مصادرها في القرآن الكريم.
6 – بالنسبة للأحاديث النبوية، فإنني وضعتها بين قوسي تنصيص صغيرين، وأشير في الحاشية إلى تخريجها حسب الطرق العلمية في التخريج.
أما خطة البحث فكانت على الشكل التالي:
* مفهوم الاستشراق.
* تاريخ الاستشراق وتطوره.
* دوافع الاستشراق:
1 – الدافع الديني.
2 – الدافع الاستعماري.
3 – الدافع السياسي.
4 – الدافع الاقتصادي.
5 – الدافع العلمي.
* شبهات الاستشراق حول السنة النبوية ومناقشتها:
1- مفهوم السنة عند المستشرقين.
2- الطعن في رسالة النبي صلى الله عليه وسلم.
3- الطعن في شخصية النبي صلى الله عليه وسلم، ومنها:
أ- زعمهم انشغاله صلى الله عليه وسلم بالنساء.
ب- زعمهم اهتمام الرسول صلى الله عليه وسلم بالغنائم والسلب.
4- الطعن في الأحاديث النبوية سندًا ومتنًا.
وينقسم إلى ما يلي:
أ - زعمهم أن الحديث مزيج من عقائد الأديان السابقة وأفكارها من اليهودية والنصرانية.
৫ – আমি পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহকে তাদের মূল উৎসের সাথে সংশ্লিষ্ট করেছি।
৬ – হাদিসসমূহের ক্ষেত্রে, আমি সেগুলোকে উদ্ধৃতি চিহ্নের ভেতরে রেখেছি এবং পাদটীকায় হাদিসের সূত্র নির্দেশ (تخريج) সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুযায়ী সেগুলোর সূত্র নির্দেশ (تخريج) করেছি।
গবেষণার রূপরেখা ছিল নিম্নরূপ:
* প্রাচ্যতত্ত্বের ধারণা।
* প্রাচ্যতত্ত্বের ইতিহাস ও ক্রমবিকাশ।
* প্রাচ্যতত্ত্বের উদ্দেশ্যসমূহ:
১ – ধর্মীয় উদ্দেশ্য।
২ – ঔপনিবেশিক উদ্দেশ্য।
৩ – রাজনৈতিক উদ্দেশ্য।
৪ – অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য।
৫ – জ্ঞানতাত্ত্বিক উদ্দেশ্য।
* সুন্নাহর বিষয়ে প্রাচ্যবিদদের সংশয়সমূহ ও সেগুলোর পর্যালোচনা:
১- প্রাচ্যবিদদের নিকট সুন্নাহর ধারণা।
২- নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রিসালাতের ওপর অপবাদ আরোপ।
৩- নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যক্তিত্বের ওপর অপবাদ আরোপ, যার অন্তর্ভুক্ত:
ক- নারীদের প্রতি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আসক্তি সম্পর্কে তাদের মিথ্যা দাবি।
খ- গনিমত ও লুণ্ঠনের প্রতি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আগ্রহের বিষয়ে তাদের মিথ্যা দাবি।
৪- হাদিসের সনদ (سند) ও মতনের (متن) ওপর অপবাদ আরোপ।
যা নিম্নোক্ত ভাগে বিভক্ত:
ক - তাদের দাবি যে, হাদিস হলো পূর্ববর্তী ইহুদি ও খ্রিস্টধর্মের বিশ্বাস ও ধ্যান-ধারণার এক সংমিশ্রণ।
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিশরাক ওয়া মাওকিফুহু মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
ب- الطعن في رواة الحديث.
ج- موقفهم من الأحاديث المتعارضة في الظاهر.
د- زعمهم أن الأحاديث النبوية هي نتيجة التطور الديني.
هـ- الطعن في منهج النقد عند المحدثين في سند الحديث ومتنه.
و تأخر التدوين.
علاقة المستشرقين بالمذاهب والفرق القديمة والحديثة:
1 – الاستشراق والمعتزلة.
2 – الاستشراق والعقلانيون المعاصرون.
3 – الاستشراق والقرآنيون.
* الخاتمة
وفيها بعض التوصيات والمقترحات حول الاستشراق ومدى حاجة الأمة إلى إنشاء مؤسسات علمية تتخصص بالدراسات الاستشراقية والغزو الفكري، تبيّن لأبناء المسلمين خطورتها على دينها وعقيدتها، وإيجاد وسائل الوقاية منها.
খ- হাদিস বর্ণনাকারীদের (رواة) ওপর আক্রমণ।
গ- আপাতবিরোধী (متعارضة) হাদিসসমূহের বিষয়ে তাদের অবস্থান।
ঘ- তাদের দাবি যে, নববী হাদিসসমূহ হলো ধর্মীয় বিবর্তনের ফলাফল।
ঙ- হাদিসের সনদ (سند) ও মতন (متن) যাচাইয়ে মুহাদ্দিসগণের সমালোচনা পদ্ধতির (منهج النقد) ওপর আক্রমণ।
চ- হাদিস সংকলন (تدوين) বিলম্বে হওয়া।
প্রাচীন ও আধুনিক মাযহাব ও ফেরকাগুলোর সাথে প্রাচ্যবিদদের সম্পর্ক:
১ – প্রাচ্যবাদ ও মুতাজিলা সম্প্রদায়।
২ – প্রাচ্যবাদ ও সমসাময়িক যুক্তিবাদীরা।
৩ – প্রাচ্যবাদ ও কুরআনিউন (আহলে কুরআন)।
* উপসংহার
এতে প্রাচ্যবাদ সম্পর্কে কিছু সুপারিশ ও প্রস্তাবনা রয়েছে এবং প্রাচ্যতাত্ত্বিক গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন মোকাবিলায় উম্মাহর জন্য বিশেষায়িত বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে; যা মুসলিম সন্তানদের সামনে তাদের দ্বীন ও আকিদার ওপর এর ভয়াবহতা স্পষ্ট করবে এবং তা থেকে প্রতিরোধের উপায় খুঁজে বের করবে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিশরাক ওয়া মাওকিফুহু মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
مفهوم الاستشراق:اختلف الباحثون في إيجاد تعريف موحد للاستشراق، رغم أن هذا الاختلاف شكلي وجزئي، إلا أنهم يتفقون فيما بينهم على عناصر مشتركة للاستشراق والمستشرقين، ويعود ذلك إلى تصور كل واحد منهم لحقيقة الاستشراق وأهدافه. وعلى كل حال فهو في صورته العامة: عبارة عن اتجاه فكري غربي يقوم بدراسة حضارة الأمم من جوانبها الثقافية والفكرية والدينية والاقتصادية والسياسية كافة، لغرض التأثير فيها.
وقد عرّفه إدوارد سعيد في كتابه "الاستشراق": "بأنه أسلوب غربي للهيمنة على الشرق، وإعادة صياغته وتشكيله وممارسة السلطة عليه" (1) .
وقدّم أحمد عبد الحميد غراب تعريفات كثيرة للاستشراق من الغربيين وغيرهم، وقسّمها إلى قسمين، عام وخاص:
أما التعريف العام: فهو أن الاستشراق أسلوب فكري غربي (أي منهج غربي في رؤية الأشياء والتعامل معها) يقوم على أن هناك اختلافًا جذريًا في الوجود والمعرفة بين الغرب والشرق، وأن الأول يتميز بالتفوق العنصري والثقافي على الثاني.
وأما التعريف الخاص: فهو عبارة عن دراسات "أكاديمية"، يقوم بها غربيون من الدول الاستعمارية، للشرق بشتى جوانبه: تاريخه وثقافاته،
--------------------------------------------
প্রাচ্যতত্ত্বের ধারণা:প্রাচ্যতত্ত্বের একটি সর্বজনীন সংজ্ঞা নির্ধারণে গবেষকগণ ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। যদিও এই মতপার্থক্য বাহ্যিক ও আংশিক, তবুও তাঁরা প্রাচ্যতত্ত্ব এবং প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের সাধারণ উপাদানসমূহের বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন। এর কারণ হলো প্রাচ্যতত্ত্বের স্বরূপ ও লক্ষ্য সম্পর্কে তাঁদের প্রত্যেকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি। যা-ই হোক, সাধারণ প্রেক্ষাপটে এর পরিচয় হলো: এটি একটি পশ্চিমা বুদ্ধিবৃত্তিক ধারা, যা কোনো জাতির সভ্যতাকে তার সাংস্কৃতিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সকল দিক থেকে অধ্যয়ন করে, যাতে তার ওপর প্রভাব বিস্তার করা যায়।
এডওয়ার্ড সাঈদ তাঁর "প্রাচ্যতত্ত্ব" গ্রন্থে এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেছেন: "এটি প্রাচ্যের ওপর আধিপত্য বিস্তার, তাকে পুনর্গঠন ও নতুন রূপদান এবং তার ওপর কর্তৃত্ব চর্চার একটি পশ্চিমা পদ্ধতি।" (১)
আহমদ আব্দুল হামিদ গুরাব প্রাচ্যতত্ত্বের বিষয়ে পশ্চিমা ও অন্যান্যদের পক্ষ থেকে আসা অনেক সংজ্ঞা পেশ করেছেন এবং সেগুলোকে সাধারণ ও বিশেষ—এই দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন:
সাধারণ সংজ্ঞা হলো: প্রাচ্যতত্ত্ব একটি পশ্চিমা বুদ্ধিবৃত্তিক শৈলী (অর্থাৎ বিষয়াবলি পর্যবেক্ষণ ও তা মোকাবিলার একটি পশ্চিমা পদ্ধতি), যা এই বিশ্বাসের ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, অস্তিত্ব ও জ্ঞানতত্ত্বের ক্ষেত্রে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মধ্যে এক আমূল পার্থক্য বিদ্যমান এবং পাশ্চাত্য জাতিগত ও সাংস্কৃতিকভাবে প্রাচ্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।
আর বিশেষ সংজ্ঞা হলো: এটি মূলত সেই সকল "একাডেমিক" বা প্রাতিষ্ঠানিক অধ্যয়ন, যা ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রসমূহের পশ্চিমা পণ্ডিতগণ প্রাচ্যের ইতিহাস ও সংস্কৃতিসহ এর নানাবিধ দিক নিয়ে পরিচালনা করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিশরাক ওয়া মাওকিফুহু মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
وأديانه، ولغاته، ونظمه الاجتماعية والسياسية، وثرواته، وإمكاناته.. من منطلق التفوق العنصري والثقافي على الشرق، وبهدف السيطرة عليه لمصلحة الغرب، وتسويغ هذه السيطرة بدراسات وبحوث ونظريات تتظاهر بالعلمية والموضوعية (1) .
وخلص إلى إيجاد تعريف أكثر شمولية من التعريفات السابقة، آخذًا في الحسبان النقص والتزوير الذي اعترى تلك التعريفات، فيقول في تعريف الاستشراق بمفهومه الاصطلاحي: "إن الاستشراق دراسات "أكاديمية" يقوم بها غربيون من أهل الكتاب للإسلام والمسلمين من شتى الجوانب: عقيدة، وثقافة، وشريعة، وتاريخًا، ونظمًا، وثروات، وإمكانيات.. بهدف تشويه الإسلام، ومحاولة تشكيك المسلمين فيه، وتضليلهم عنه، وفرض التبعية للغرب عليهم، ومحاولة تبرير هذه التبعية بدراسات ونظريات تدعي العلمية والموضوعية، وتزعم التفوق العنصري والثقافي للغرب المسيحي على الشرق الإسلامي" (2) .
ولعلنا نأخذ بالتعريف الذي اقترحه الدكتور مازن مطبقاني، والذي أضاف إلى تعريف غراب بعض الزيادات، وتفرع ليشمل نطاقًا أوسع مما يتصوره الباحث، فقال عن الاستشراق:
"بأنه كل ما يصدر عن الغربيين من أوروبيين (شرقيين وغربيين بما في ذلك السوفيت) وأمريكيين من دراسات أكاديمية (جامعية) تتناول قضايا
--------------------------------------------
...এবং তাঁর ধর্মসমূহ, ভাষাসমূহ, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা, সম্পদ এবং সম্ভাবনা.. প্রাচ্যের ওপর জাতিগত ও সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্বের ধারণা থেকে এবং পাশ্চাত্যের স্বার্থে একে নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যে; আর এই নিয়ন্ত্রণকে এমন সব অধ্যয়ন, গবেষণা ও তত্ত্বের মাধ্যমে বৈধতা প্রদান করা যা বৈজ্ঞানিক ও বস্তুনিষ্ঠ হওয়ার ভান করে (১)।
তিনি পূর্ববর্তী সংজ্ঞাগুলোর ত্রুটি ও বিকৃতি বিবেচনায় নিয়ে আগের চেয়ে আরও ব্যাপক একটি সংজ্ঞায় উপনীত হয়েছেন। তিনি প্রাচ্যতত্ত্বের পারিভাষিক সংজ্ঞায় বলেন: "প্রাচ্যতত্ত্ব হলো আহলে কিতাবভুক্ত পশ্চিমাদের দ্বারা ইসলাম ও মুসলিমদের বিভিন্ন দিক নিয়ে পরিচালিত 'একাডেমিক' অধ্যয়ন। যেমন: আকীদা, সংস্কৃতি, শরীয়াহ, ইতিহাস, ব্যবস্থা, সম্পদ ও সম্ভাবনা.. যার উদ্দেশ্য হলো ইসলামকে বিকৃত করা, মুসলিমদের মনে ইসলাম সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি করা, তাদের বিভ্রান্ত করা, তাদের ওপর পাশ্চাত্যের আনুগত্য চাপিয়ে দেওয়া এবং এই আনুগত্যকে এমন সব অধ্যয়ন ও তত্ত্বের মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গত প্রমাণের চেষ্টা করা যা বৈজ্ঞানিক ও বস্তুনিষ্ঠ হওয়ার দাবি করে এবং যা ইসলামি প্রাচ্যের ওপর খ্রিস্টান পাশ্চাত্যের জাতিগত ও সাংস্কৃতিক শ্রেষ্ঠত্বের দাবি করে" (২)।
সম্ভবত আমরা ড. মাজেন মুতাবেকানি কর্তৃক প্রস্তাবিত সংজ্ঞাটি গ্রহণ করতে পারি, যিনি গুরাব-এর সংজ্ঞায় কিছু সংযোজন করেছেন এবং এর পরিধিকে গবেষকদের ভাবনার চেয়েও বিস্তৃত করেছেন। তিনি প্রাচ্যতত্ত্ব সম্পর্কে বলেছেন:
"ইউরোপীয় (সোভিয়েতসহ পূর্ব ও পশ্চিম ইউরোপীয়) এবং আমেরিকান পশ্চিমাদের থেকে প্রকাশিত সেই সমস্ত একাডেমিক (বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক) অধ্যয়ন যা বিভিন্ন বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিশরাক ওয়া মাওকিফুহু মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
الإسلام والمسلمين في العقيدة، وفي الشريعة، وفي الاجتماع، وفي السياسة أو الفكر أو الفن، كما يلحق بالاستشراق كل ما تبثه وسائل الإعلام الغربية سواء بلغاتهم أو باللغة العربية من إذاعات أو تلفاز أو أفلام سينمائية أو رسوم متحركة أو قنوات فضائية، أو ما تنشره صحفهم من كتابات تتناول المسلمين وقضاياهم. كما أن من الاستشراق ما يخفى علينا مما يقرره الباحثون والسياسيون الغربيون في ندواتهم ومؤتمراتهم العلنية أو السرية. ويمكننا أن نلحق بالاستشراق ما يكتبه النصارى العرب من أقباط ومارونيين وغيرهم، ممن ينظر إلى الإسلام من خلال المنظار الغربي، ولا بد أن نلحق بالاستشراق ما ينشره الباحثون المسلمون الذين تتلمذوا على أيدي المستشرقين، وتبنَّوا كثيرًا من أفكار المستشرقين حتى إن بعض هؤلاء التلاميذ تفوق على أساتذته في الأساليب والمناهج الاستشراقية، ويدل على ذلك احتفال دور النشر الاستشراقية بإنتاج هؤلاء ونشره باللغات الأوروبية على أنها بحوث علمية رصينة أو ما يترجمونه من كتابات بعض العرب والمسلمين إلى اللغات الأوروبية" (1) .
ويمكن من خلال هذه التعريفات استخلاص عدة أمور تعد أركانًا متينة للاستشراق:
1 – أن الاستشراق هو حركة علمية (أكاديمية) من أهل الكتاب من شرقيين وغربيين وأمريكيين وغيرهم ممن ينظر إلى الإسلام بالمنظار الغربي.
--------------------------------------------
আকিদাহ (العقيدة), শরিয়াহ (الشريعة), সমাজনীতি, রাজনীতি, চিন্তা বা শিল্পকলার ক্ষেত্রে ইসলাম ও মুসলিমদের অবস্থান; সেইসাথে পশ্চিমা মিডিয়া তাদের নিজস্ব ভাষায় কিংবা আরবি ভাষায় রেডিও, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, কার্টুন বা স্যাটেলাইট চ্যানেলের মাধ্যমে যা কিছু প্রচার করে তার সবই প্রাচ্যতত্ত্ব (الاستشراق)-এর অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে তাদের পত্রপত্রিকায় মুসলিম ও তাদের বিভিন্ন সমস্যা সংক্রান্ত যে সকল লেখা প্রকাশিত হয় তাও এর অংশ। এছাড়া প্রাচ্যতত্ত্ব (الاستشراق)-এর এমন কিছু দিকও আমাদের কাছে অস্পষ্ট রয়ে যায় যা পশ্চিমা গবেষক ও রাজনীতিবিদগণ তাদের প্রকাশ্য বা গোপন সেমিনার ও কনফারেন্সগুলোতে নির্ধারণ করে থাকেন। আমরা প্রাচ্যতত্ত্ব (الاستشراق)-এর সাথে কিবতি, মারোনি ও অন্যান্য আরব খ্রিষ্টানদের সেই সকল লেখাকেও অন্তর্ভুক্ত করতে পারি যারা পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে ইসলামকে প্রত্যক্ষ করে। অধিকন্তু সেই সব মুসলিম গবেষকদের কাজকেও প্রাচ্যতত্ত্ব (الاستشراق)-এর অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য যারা প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের (المستشرقين) নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছেন এবং তাদের বহু চিন্তা-চেতনা লালন করেন; এমনকি এই শিষ্যদের কেউ কেউ প্রাচ্যতাত্ত্বিক পদ্ধতি ও কর্মপন্থা প্রয়োগের ক্ষেত্রে তাদের শিক্ষকদেরও ছাড়িয়ে গেছেন। প্রাচ্যতাত্ত্বিক প্রকাশনা সংস্থাগুলো কর্তৃক এই ব্যক্তিদের কাজসমূহ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করা এবং সেগুলোকে সুগভীর তাত্ত্বিক গবেষণা হিসেবে ইউরোপীয় ভাষায় প্রকাশ করা, কিংবা কোনো কোনো আরব ও মুসলিমের লেখনি ইউরোপীয় ভাষায় অনুবাদ করা—এসবই এর প্রমাণ দেয়। (১)
এই সংজ্ঞাগুলোর মাধ্যমে এমন কয়েকটি বিষয় নির্যাস হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব যা প্রাচ্যতত্ত্ব (الاستشراق)-এর মজবুত স্তম্ভ হিসেবে গণ্য হয়:
১- প্রাচ্যতত্ত্ব (الاستشراق) হলো আহলে কিতাবদের (পূর্বদেশীয়, পশ্চিমা, আমেরিকান বা অন্য যে কেউ) মধ্য থেকে সেই সকল ব্যক্তিদের একটি তাত্ত্বিক (একাডেমিক) আন্দোলন যারা পশ্চিমা দৃষ্টিভঙ্গিতে ইসলামকে বিচার করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিশরাক ওয়া মাওকিফুহু মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
2 – الهدف منه تشويه الإسلام وتشكيك المسلمين في دينهم، وذلك بالطعن في أهم مصادر التشريع: القرآن والسنة وتاريخ المسلمين (1) .
3 – إنشاء مجتمعات تابعة للغرب في الفكر والاقتصاد والسياسة والاجتماع، ليسهل استغلالهم اقتصادياً وسياسياً وعسكرياً.
4 – أن الاستشراق ذو علاقة وطيدة مع الاستعمار، فلا استعمار بدون استشراق ولا استشراق من غير دول استعمارية.
5 – أن الاستشراق له علاقة بالتنصير؛ لأن معظم المستشرقين من أهل الكتاب، يبذلون قصارى جهدهم في سبيل أن يحوّل المسلمون دينهم إلى النصرانية، وهذا ما أكدته البعثات التنصيرية التي كانت ترافق الاستعمار في المنطقة الإسلامية.
6 – أن كثيراً من المستشرقين يفتقدون المنهجية العلمية في طرح شبهاتهم وأباطيلهم، فهم يحتجون ببعض الموضوعات من الآثار والروايات الموضوعة التي لا أصل لها في الواقع، وأحيانًا كثيرة لا يعتمدون على شيء وإنما يعتمدون على وساوس شياطينهم لتشكيك الأمة في دينها.
--------------------------------------------
২ – এর লক্ষ্য হলো ইসলামকে বিকৃত করা এবং মুসলমানদের তাদের দ্বীন সম্পর্কে সংশয়ে নিমজ্জিত করা। আর তা করা হয় শরীয়তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসসমূহ: কুরআন, সুন্নাহ এবং মুসলমানদের ইতিহাসের ওপর অপবাদ আরোপের মাধ্যমে (১)।
৩ – চিন্তা-চেতনা, অর্থনীতি, রাজনীতি ও সমাজব্যবস্থায় পাশ্চাত্যের অনুগামী সমাজ গঠন করা, যাতে তাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে শোষণ করা সহজ হয়।
৪ – প্রাচ্যতত্ত্বের সাথে সাম্রাজ্যবাদের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে; সাম্রাজ্যবাদ ছাড়া যেমন প্রাচ্যতত্ত্ব সম্ভব নয়, তেমনি সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্র ছাড়া প্রাচ্যতত্ত্বের অস্তিত্ব থাকতে পারে না।
৫ – প্রাচ্যতত্ত্বের সাথে খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের সম্পর্ক রয়েছে; কারণ অধিকাংশ প্রাচ্যবিদই হলেন আহলে কিতাব, যারা মুসলমানদের খ্রিষ্টধর্মে ধর্মান্তরিত করার জন্য তাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেন। মুসলিম অঞ্চলে সাম্রাজ্যবাদের সহযাত্রী মিশনারি দলগুলোও এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
৬ – অনেক প্রাচ্যবিদই তাদের সংশয় ও অসারতা উপস্থাপনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করেন না। তারা এমন কিছু বানোয়াট (موضوع) আছার (أثر) এবং জাল (موضوع) বর্ণনার (رواية) মাধ্যমে দলিল পেশ করেন, বাস্তবে যার কোনো ভিত্তি নেই। অনেক সময় তারা কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ওপর নির্ভর না করে কেবল তাদের শয়তানি কুমন্ত্রণার ওপর ভিত্তি করে উম্মাহকে তাদের দ্বীন সম্পর্কে সংশয়ে ফেলার চেষ্টা করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিশরাক ওয়া মাওকিফুহু মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
تاريخ الاستشراق وتطورهإن المتمعن في تاريخ الاستشراق سيجد أن جذوره تمتد إلى الصدر الأول من الإسلام، متمثلاً باليهود والنصارى الذين لم يألوا جهدًا من أجل محاربة هذا الدين، وذلك بالطعن فيه والهمز واللمز في أحكامه وتشريعاته، واتهام الرسول صلى الله عليه وسلم بالمجنون والساحر والشاعر، يقول الله تعالى: {بَلْ قَالُوا أَضْغَاثُ أَحْلامٍ بَلِ افْتَرَاهُ بَلْ هُوَ شَاعِرٌ} [الأنبياء: 5] ، ويقول جلّ ذكره عنهم أيضًا: {وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ هَذَا إِلَّا إِفْكٌ افْتَرَاهُ وَأَعَانَهُ عَلَيْهِ قَوْمٌ آخَرُونَ فَقَدْ جَاءُوا ظُلْماً وَزُوراً} {وَقَالُوا أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ اكْتَتَبَهَا فَهِيَ تُمْلَى عَلَيْهِ بُكْرَةً وَأَصِيلاً} [الفرقان: 4-5] . وقوله: {إِِنْ هَذَا إِلَّا سِحْرٌ يُؤْثَر} {إِنْ هَذَا إِلَّا قَوْلُ الْبَشَرِ} [سورة المدثر: 24-25] .
وقد اتخذ هؤلاء المشركون سبلاً كثيرة للطعن في هذا الدين لإعراض الناس عنه، فتارة يحرفون آياته وتارة يكتمون الحق وهم يعلمون، وأخرى يشككون فيه بالطعن في الوحي نفسه، يقول الله تعالى: {أَفَتَطْمَعُونَ أَنْ يُؤْمِنُوا لَكُمْ وَقَدْ كَانَ فَرِيقٌ مِنْهُمْ يَسْمَعُونَ كَلامَ اللَّهِ ثُمَّ يُحَرِّفُونَهُ مِنْ بَعْدِ مَا عَقَلُوهُ وَهُمْ يَعْلَمُونَ} [البقرة: 75] . ويقول جل ذكره: {وَآمِنُوا بِمَا أَنْزَلْتُ مُصَدِّقاً لِمَا مَعَكُمْ وَلا تَكُونُوا أَوَّلَ كَافِرٍ بِهِ وَلا تَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَناً قَلِيلاً وَإِيَّايَ فَاتَّقُونِ} {وَلا تَلْبِسُوا الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ
প্রাচ্যতত্ত্বের ইতিহাস ও তার বিবর্তনপ্রাচ্যতত্ত্বের ইতিহাসের গভীর পর্যালোচনাকারী দেখতে পাবেন যে, এর শিকড় ইসলামের প্রথম যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি সেই ইহুদি ও নাসারাদের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে যারা এই ধর্মের বিরুদ্ধে লড়াই করতে কোনো প্রচেষ্টাই বাকি রাখেনি। তারা এর বিধি-বিধান ও শরয়ি বিধানসমূহের ওপর অপবাদ (الطعن) আরোপ করে এবং ইশারা-ইঙ্গিতে বিদ্রূপ করার মাধ্যমে তা করেছে। তদুপরি তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে পাগল, জাদুকর ও কবি হিসেবে অভিযুক্ত করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: {বরং তারা বলে, ‘এগুলো অলীক স্বপ্নের সমষ্টি; না, সে তা উদ্ভাবন করেছে; বরং সে একজন কবি’} [আল-আম্বিয়া: ৫]। মহান আল্লাহ তাদের সম্পর্কে আরও বলেন: {আর কাফিররা বলে, ‘এটি মিথ্যা বৈ নয়, যা সে উদ্ভাবন করেছে এবং অন্য একদল লোক তাকে এতে সাহায্য করেছে।’ প্রকৃতপক্ষে তারা জুলুম ও মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে} {তারা আরও বলে, ‘এগুলো তো প্রাচীনদের উপকথা, যা সে লিখিয়ে নিয়েছে; অতঃপর এগুলো তার কাছে সকাল-সন্ধ্যা পাঠ করা হয়’} [আল-ফুরকান: ৪-৫]। এবং তাঁর বাণী: {এটি তো পরম্পরাগত জাদু ছাড়া আর কিছু নয়} {এটি তো মানুষের কথা ছাড়া আর কিছু নয়} [সূরা আল-মুদ্দাসসির: ২৪-২৫]।
এই মুশরিকরা মানুষকে এই ধর্ম থেকে বিমুখ করার জন্য অপবাদ (الطعن) আরোপের অনেক পথ অবলম্বন করেছে। কখনও তারা এর আয়াতসমূহ বিকৃত (تحريف) করেছে, কখনও তারা জেনে-শুনে সত্য গোপন করেছে, আবার কখনও ওহির প্রতি সংশয় তৈরির উদ্দেশ্যে খোদ ওহির ওপরই অপবাদ (الطعن) আরোপ করেছে। মহান আল্লাহ বলেন: {তোমরা কি আশা করো যে তারা তোমাদের প্রতি ঈমান আনবে? অথচ তাদের একদল আল্লাহর কালাম শ্রবণ করত, অতঃপর তা অনুধাবন করার পর জেনে-বুঝে তা বিকৃত (تحريف) করত} [আল-বাকারাহ: ৭৫]। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর আমি যা অবতীর্ণ করেছি তার প্রতি তোমরা ঈমান আনো—যা তোমাদের নিকট যা আছে তার সত্যায়নকারী হিসেবে এবং তোমরাই এর প্রথম অস্বীকারকারী হয়ো না। আর আমার আয়াতের বিনিময়ে তুচ্ছ মূল্য গ্রহণ করো না এবং কেবল আমাকেই ভয় করো} {আর তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না...}
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিশরাক ওয়া মাওকিফুহু মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وَتَكْتُمُوا الْحَقَّ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ} [البقرة: 41-42] .
وكثيرًا ما كان يتبع المشركون سبيل الدخول في الإسلام لفترة وجيزة ثم الارتداد عنه ليبين للناس أنهم جربوا هذا الدين؛ لأنه غير نافع وغير صحيح، لإخراجهم إلى ظلماتهم وضلالهم، يقول الله تعالى: {وَقَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ آمِنُوا بِالَّذِي أُنْزِلَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَجْهَ النَّهَارِ وَاكْفُرُوا آخِرَهُ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ} [آل عمران: 72] .
هذه المواقف والأفعال لم تكن ذات أبعاد إنسانية أو إيجاد الخير للناس وإظهار الحق واتباعه، وإنما كانت جميعها منصبة ليردوا الناس عن دينهم ويتبعوا دياناتهم المنحرفة، يقول الله تعالى فيهم: {مَا يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَلا الْمُشْرِكِينَ أَنْ يُنَزَّلَ عَلَيْكُمْ مِنْ خَيْرٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَاللَّهُ يَخْتَصُّ بِرَحْمَتِهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ} [البقرة: 105] .
ويقول أيضًا: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تُطِيعُوا فَرِيقاً مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ يَرُدُّوكُمْ بَعْدَ إِيمَانِكُمْ كَافِرِينَ} [آل عمران: 100] .
وكل هذه الوسائل وغيرها اتبعها المشركون للصد عن دين الله، ويتبعها المستشرقون المعاصرون في نشاطاتهم الفكرية والثقافية، وهذا يعني حقًا أنهم امتداد لذلك التيار المعارض والمحارب لدين الله تعالى في بداية بزوغه.
إلا أن نشوء الاستشراق في القرون المتأخرة ليس له تاريخ محدد ومعلوم، وإنما بدأ تأسيسه عندما حاول بعض الرهبان الغربيين السفر إلى الأندلس
...এবং তোমরা জেনে-বুঝে সত্যকে গোপন করো না। [আল-বাকারা: ৪১-৪২]।
মুশরিকরা প্রায়শই অল্প সময়ের জন্য ইসলামে প্রবেশ করার এবং তারপর তা থেকে ধর্মত্যাগ করার পথ অনুসরণ করত, যাতে মানুষের কাছে এটা স্পষ্ট করা যায় যে তারা এই ধর্মটি পরীক্ষা করে দেখেছে; কারণ এটি অকেজো এবং সঠিক (صحيح) নয়, যাতে তাদের অন্ধকার ও পথভ্রষ্টতায় ফিরিয়ে নেওয়া যায়। মহান আল্লাহ বলেন: {কিতাবীদের একটি দল বলে, মুমিনদের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তার ওপর দিনের শুরুতে ঈমান আনো এবং দিনের শেষে তা অস্বীকার করো, যাতে তারা ফিরে যায়।} [আল ইমরান: ৭২]।
এই অবস্থান এবং কর্মকাণ্ডগুলোর কোনো মানবিক মাত্রা ছিল না কিংবা মানুষের কল্যাণ সাধন বা সত্য প্রকাশ ও অনুসরণের কোনো উদ্দেশ্য ছিল না; বরং এগুলোর সবই ছিল মানুষকে তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করা এবং তাদের বিভ্রান্ত ধর্মগুলোর অনুসারী করার লক্ষ্যে। মহান আল্লাহ তাদের সম্পর্কে বলেন: {আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে, তারা চায় না যে তোমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে তোমাদের ওপর কোনো কল্যাণ অবতীর্ণ হোক। অথচ আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর রহমতের জন্য খাস করে নেন এবং আল্লাহ মহান অনুগ্রহের অধিকারী।} [আল-বাকারা: ১০৫]।
তিনি আরও বলেন: {হে মুমিনগণ, যদি তোমরা কিতাবীদের কোনো দলের আনুগত্য করো, তবে তারা তোমাদের ঈমান আনার পর পুনরায় কাফির অবস্থায় ফিরিয়ে দেবে।} [আল ইমরান: ১০০]।
আল্লাহর দ্বীন থেকে মানুষকে বাধা দেওয়ার জন্য মুশরিকরা এই সমস্ত এবং অন্যান্য উপায় অবলম্বন করেছিল। সমসাময়িক প্রাচ্যবিদরা তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে এগুলো অনুসরণ করে থাকেন। এর অর্থ হলো, তারা প্রকৃতপক্ষে সেই বিরোধী ও যুদ্ধংদেহী ধারারই একটি সম্প্রসারণ, যারা মহান আল্লাহর দ্বীনের আবির্ভাবের সূচনাপর্বে তার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিল।
তবে পরবর্তী শতাব্দীগুলোতে প্রাচ্যবিদ্যার উদ্ভবের কোনো নির্দিষ্ট ও সুপরিচিত ইতিহাস নেই; বরং এর ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল তখন, যখন কিছু পশ্চিমা সন্ন্যাসী আন্দালুসিয়ায় ভ্রমণের চেষ্টা করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিশরাক ওয়া মাওকিফুহু মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
ودرسوا القرآن والكتب العربية وترجموها إلى لغاتهم، وذلك بالاستعانة بالعلماء المسلمين في الطب والفلك والفلسفة والرياضيات وغيرها، ومن أوائل هؤلاء الغربيين الراهب الفرنسي "جربرت" الذي انتخب بابا لكنيسة روما عام 999م بعد تعلمه في معاهد الأندلس وعودته إلى بلاده، وكذلك "بطرس المحترم 1092-1156م" و"جيراردي كريمون 1114-1187م".
وبعد عودة هؤلاء الرهبان إلى بلادهم نشروا هذه الثقافة التي ارتأوها من الأندلس في بلادهم واستفادوا منها قرابة ستة قرون تقريبًا، من حيث دراسة اللغة العربية وترجمات القرآن الكريم وأمهات الكتب والمراجع العربية العلمية، إلى أن جاء عهد الاستعمار في القرن الثامن عشر، على العالم الإسلامي، للاستيلاء على خيراته وثرواته المادية والثقافية، فقد ظهرت فئة من هؤلاء الغربيين الذين تفرغوا تمامًا بالتعاون مع الاستعمار لنهب ثروات العالم الإسلامي العلمية والفكرية، والمتمثلة بالدرجة الأولى في الكتب والمخطوطات القيمة بأبخس الأثمان، مستفيدين من الفوضى العارمة في العالم الإسلامي، حتى بلغ عدد هذه المخطوطات والوثائق العلمية في أوائل القرن التاسع عشر مائتين وخمسين ألف مجلد، والعدد يتزايد يومًا بعد يوم (1) .
وقد عقد أول مؤتمر للمستشرقين في باريس عام 1873م، (2) وكان بداية لعشرات المؤتمرات التي بدأت تدرس أحوال العالم الإسلامي وطرائق الوصول إلى ثرواته، ودراسة نقاط الضعف والقوة فيه، مستعينة بالقوى الاستعمارية
--------------------------------------------
তারা কুরআন ও আরবি গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন করেন এবং চিকিৎসা বিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান, দর্শন, গণিত ও অন্যান্য ক্ষেত্রে মুসলিম মনীষীদের সহযোগিতা নিয়ে সেগুলো নিজ নিজ ভাষায় অনুবাদ করেন। এই সকল পশ্চিমাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ফরাসি সন্ন্যাসী "জেরবার্ট", যিনি আন্দালুসের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অধ্যয়ন শেষ করে নিজ দেশে ফেরার পর ৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে রোম গির্জার পোপ হিসেবে নির্বাচিত হন। এছাড়াও ছিলেন "পিটার দ্য ভেনারেবল (১০৯২-১১৫৬ খ্রি.)" এবং "জেরার্ড অফ ক্রেমোনা (১১১৪-১১৮৭ খ্রি.)"।
এই সন্ন্যাসীগণ নিজ দেশে ফিরে আসার পর আন্দালুস থেকে আহরিত এই সংস্কৃতি তাদের স্বদেশে প্রচার করেন এবং আরবি ভাষা শিক্ষা, পবিত্র কুরআনের অনুবাদ এবং আরবি জ্ঞান-বিজ্ঞানের মৌলিক উৎস (أمهات الكتب) ও রেফারেন্স গ্রন্থসমূহ অধ্যয়নের মাধ্যমে প্রায় ছয় শতাব্দীকাল তা থেকে উপকৃত হন। অতঃপর আঠারো শতকে মুসলিম বিশ্বের ওপর ঔপনিবেশিক শাসনের যুগ শুরু হয়, যার লক্ষ্য ছিল এর বস্তুগত ও সাংস্কৃতিক সম্পদ এবং বৈভব দখল করা। তখন পশ্চিমাদের মধ্যে এমন একটি গোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটে যারা ঔপনিবেশিক শক্তির সাথে যোগসাজশ করে মুসলিম বিশ্বের জ্ঞানতাত্ত্বিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ লুণ্ঠনে পূর্ণরূপে আত্মনিয়োগ করে। তারা মুসলিম বিশ্বের চরম বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে অত্যন্ত সামান্য মূল্যে মূল্যবান বই এবং পাণ্ডুলিপিগুলো হস্তগত করতে থাকে। উনবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে এই বৈজ্ঞানিক পাণ্ডুলিপি এবং নথিপত্রের সংখ্যা দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার খণ্ডে পৌঁছায় এবং এই সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকে (১)।
১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দে প্যারিসে প্রাচ্যবিদদের প্রথম সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় (২), যা ছিল পরবর্তী কয়েক ডজন সম্মেলনের সূচনা। এসব সম্মেলনে ঔপনিবেশিক শক্তির সহায়তায় মুসলিম বিশ্বের পরিস্থিতি, এর সম্পদ হস্তগত করার উপায় এবং এর সবল ও দুর্বল দিকগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করা শুরু হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিশরাক ওয়া মাওকিফুহু মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الكبرى، ولا تزال هذه المؤتمرات والندوات في أوجها حتى هذا العصر، والتي كانت من إحدى نتائجها الحرب الحالية على العالم الإسلامي، ومحاولة مسح الهوية الإسلامية من الوجود وذلك باتهام المسلمين ومصادر تشريعهم، ولكن أنّى لهم ذلك، وقد تكفل الله تعالى بحفظ كتابه {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر:9] . ويقول أيضًا: {يُرِيدُونَ أَنْ يُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَيَأْبَى اللَّهُ إِلَّا أَنْ يُتِمَّ نُورَهُ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ} [التوبة: 32] .
وهذه المحاولات الجادة لتشويه صورة الإسلام والنيل منه تحتم على المختصين من أبناء المسلمين اليقظة والوعي والدراسات الجادة للقيام بمهمتهم، والسعي لنشر دينهم والحفاظ على مصادر تشريعهم.
বৃহৎ পরিসরে, আর এই সম্মেলন ও সেমিনারগুলো বর্তমান কাল পর্যন্ত পূর্ণ মাত্রায় অব্যাহত রয়েছে, যার অন্যতম ফলাফল হলো মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে বর্তমান যুদ্ধ এবং মুসলিম ও তাদের শরয়ি বিধানের উৎসসমূহের ওপর অপবাদ আরোপের মাধ্যমে অস্তিত্ব থেকে ইসলামি পরিচয় মুছে ফেলার অপচেষ্টা। কিন্তু তাদের পক্ষে তা কীভাবে সম্ভব? অথচ মহান আল্লাহ নিজেই তাঁর কিতাব সংরক্ষণের জিম্মাদারি নিয়েছেন। (তিনি বলেন:) "নিশ্চয় আমিই এই উপদেশ অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী" [আল-হিজর: ৯]। তিনি আরও বলেন: "তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণতা দান করা ছাড়া আর কিছুই চান না, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে" [আত-তাওবাহ: ৩২] ।
ইসলামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার এবং এর ক্ষতি সাধনের এই ঐকান্তিক প্রচেষ্টাগুলো মুসলিম সন্তানদের মধ্যে যারা বিশেষজ্ঞ রয়েছেন, তাদের ওপর সতর্কতা, সচেতনতা এবং স্বীয় দায়িত্ব পালনে ঐকান্তিক গবেষণার বিষয়টিকে অপরিহার্য করে দেয়, যেন তারা দ্বীন প্রচারে সচেষ্ট হতে পারেন এবং তাদের শরয়ি বিধানের উৎসসমূহকে সুরক্ষিত রাখতে পারেন।
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিশরাক ওয়া মাওকিফুহু মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
دوافع الاستشراق:
1 – الدافع الديني:تتبين حقيقة هذا الدافع للاستشراق من خلال دراسة نشأته وتاريخه، فقد نشأ على أيدي الرهبان وكان خروجه من الكنيسة، وهذا الدافع كان أمرًا ضروريًا للكنيسة، ولاسيما أنه قد حدثت مواجهة بين الكنيسة والعلم، وأفلست الكنيسة في أطروحاتها ومبادئها التي كانت تتغنى بها، فما كان لها من سبيل إلا الهجوم على دين الإسلام، وكما قيل: أفضل وسيلة للدفاع هو الهجوم، فجعل الاستشراق غايته الهجوم على الإسلام في عقيدته وعبادته وأحكامه، وتصويره بأنه دين القتل وسفك الدماء والشهوات، كل ذلك من أجل التغطية على فشل الكنيسة واصطدام مبادئها بالعلم والواقع والتاريخ، وتزعزت ثقة الغربيين بالكنيسة التي كانت عندهم المركز العصامي لتعاليمهم وأفكارهم، ومن جهة أخرى خوفًا من انتشار الدين الإسلامي الذي بدأ يزحف شرقًا وغربًا على أيدي الدعاة والتجار والمسافرين والذين اختلطوا مع المجتمعات الإسلامية، وأخذوا الإسلام من منابعه الأصيلة.
ولا بد من الإشارة هنا إلى أن الاستشراق التقى في هدفه الديني مع تلك الجمعيات التنصيرية التي كان من أهم أهدافها تحويل المسلمين عن دينهم في الأحكام والأخلاق والمعاملات، إلى دين النصرانية، وذلك بتقديم الخدمات لهم في جميع المجالات، فإن استجابوا لذلك ودخلوا النصرانية كان هو المطلوب والمرسوم، وإن لم يستجيبوا في دخول النصرانية، فيكفي إخراجهم من دينهم إلى الإلحاد والشيوعية وغيرها، وقد أصاب هذا الداء كثيرًا من أبناء
প্রাচ্যতত্ত্বের (الاستشراق) মূল প্রেরণা:১ – ধর্মীয় প্রেরণা:প্রাচ্যতত্ত্বের (الاستشراق) এই প্রেরণার প্রকৃত রূপটি এর উৎপত্তি ও ইতিহাস পর্যালোচনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এটি সন্ন্যাসীদের হাতে সূচিত হয়েছিল এবং এর বহিঃপ্রকাশ ঘটেছিল গির্জা থেকে। এই প্রেরণাটি গির্জার জন্য একটি অপরিহার্য বিষয় ছিল, বিশেষ করে যখন গির্জা ও বিজ্ঞানের মধ্যে একটি সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছিল। গির্জা তার সেই সমস্ত প্রস্তাবনা ও মূলনীতির ক্ষেত্রে দেউলিয়া হয়ে পড়েছিল যা নিয়ে তারা একসময় গর্ববোধ করত। ফলে ইসলাম ধর্মের ওপর আক্রমণ করা ছাড়া তাদের সামনে আর কোনো গত্যন্তর ছিল না। যেমনটি বলা হয়ে থাকে: ‘আক্রমণই হলো আত্মরক্ষার সর্বোত্তম উপায়’। ফলে প্রাচ্যতত্ত্ব (الاستشراق) ইসলামের বিশ্বাস (عقيدة), ইবাদত (عبادة) ও বিধানাবলির (أحكام) ওপর আক্রমণ করাকেই নিজেদের মূল লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করে। তারা ইসলামকে হত্যা, রক্তপাত ও লালসার ধর্ম হিসেবে চিত্রায়িত করার অপচেষ্টা চালায়। এই সবকিছুর উদ্দেশ্য ছিল গির্জার ব্যর্থতা এবং বিজ্ঞান, বাস্তবতা ও ইতিহাসের সাথে এর মূলনীতির যে সংঘাত ঘটেছিল তা ধামাচাপা দেওয়া। এর ফলে গির্জার প্রতি পশ্চিমাদের সেই আস্থা টলে গিয়েছিল যা ছিল তাদের শিক্ষা ও চিন্তাধারার মূল ভিত্তি ও কেন্দ্র। অন্যদিকে, ইসলাম ধর্মের প্রসারের ভয়ও ছিল একটি বড় কারণ, যা দাঈ, ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের মাধ্যমে পূর্ব ও পশ্চিমে ছড়িয়ে পড়ছিল; যারা মুসলিম সমাজের সাথে মেলামেশা করেছিলেন এবং ইসলামের মৌলিক উৎসসমূহ থেকে জ্ঞান আহরণ করেছিলেন।
এখানে উল্লেখ করা আবশ্যক যে, ধর্মীয় লক্ষ্যের ক্ষেত্রে প্রাচ্যতত্ত্ব (الاستشراق) সেই সকল খ্রিস্টান মিশনারি (تنصيري) সংগঠনগুলোর সাথে একীভূত হয়েছিল যাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল মুসলিমদের তাদের বিধান (أحكام), নৈতিকতা ও লেনদেনের (معاملات) ক্ষেত্র থেকে বিচ্যুত করে খ্রিস্টধর্মের (النصرانية) দিকে ধাবিত করা। এর জন্য তারা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করত। যদি তারা এতে সাড়া দিয়ে খ্রিস্টধর্মে (النصرانية) দীক্ষিত হতো, তবে সেটিই ছিল তাদের মূল কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য ও পরিকল্পনা। আর যদি তারা খ্রিস্টধর্ম (النصرانية) গ্রহণে অসম্মত হতো, তবে তাদের নিজেদের ধর্ম থেকে বিচ্যুত করে নাস্তিকতা (إلحاد), সাম্যবাদ (شيوعية) ইত্যাদির দিকে ঠেলে দেওয়াই ছিল তাদের জন্য যথেষ্ট। এই ব্যাধি উম্মাহর অনেক সন্তানদের...
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিশরাক ওয়া মাওকিফুহু মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الأمة التي تخلت عن دينها إلى لا دين، فصاروا ملاحدة وزنادقة، فوزعت سموم الإلحاد وقذارة التغريب على المجتمعات الإسلامية التي لا تزال تعاني منها ومن أتباعها.
সেই উম্মাহ যারা তাদের ধর্ম বর্জন করে ধর্মহীনতার পথে ধাবিত হয়েছে, ফলে তারা নাস্তিক (ملاحدة) ও ধর্মদ্রোহীতে (زنادقة) পরিণত হয়েছে। তারা মুসলিম সমাজগুলোতে নাস্তিকতার (إلحاد) বিষ এবং প্রাশ্চাত্যায়নের (تغريب) পঙ্কিলতা ছড়িয়ে দিয়েছে, যা থেকে উক্ত সমাজ এবং তাদের অনুসারীরা অদ্যাবধি নিস্তার পায়নি।
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিশরাক ওয়া মাওকিফুহু মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
2 – الدافع الاستعماري:بعد أن انهزم الغرب في حروبه الصليبية على العالم الإسلامي، وكانت شديدة الوطأة على الغرب من النواحي كافة، العقدية والنفسية والاقتصادية والاجتماعية، والعسكرية، إلا أن الغرب بدأ يعيد حساباته، ويخطط للاحتلال والغزو مرة أخرى، ولكن في هذه المرة يكون بشكل آخر واستراتيجية مختلفة، حيث لجأ هذا العدو إلى تأسيس مراكز وأكاديميات مختصة بشؤون العالم الإسلامي، وصرف جهودًا جبارة وأموالاً طائلة، لتكون مرافقة مع استعمارها للأمة وبلادها.
لقد درست هذه المراكز حال الأمة الإسلامية عقديًا وجغرافيًا واقتصاديا وعسكريا، وعرفت نقاط الضعف فيها ودرستها دراسة عميقة وواعية، فبدأ الاحتلال العسكري مرة أخرى، من خلال تلك النقاط، وكان احتلالاً عسكريًا وفكريا في آن واحد، وبعد أن تمركزت قوتهم في العالم الإسلامي، بدأ الاحتلال الفكري أو الغزو الفكري لعقول أبناء الأمة ونفوسها، وذلك بإظهار تفوقهم العلمي والتقني، وتخلف المسلمين في ذلك، وكذا بث روح الضعف والوهن في نفوسهم؛ لقتل روح المقاومة والتمسك بدينهم، وإظهار هذا الدين بصورة مشوهة غير صحيحة، مما كان له أثره الخطير في الأمة، فقد تأثر جمع غفير من أبنائها بهذه الوسائل، وقد ساعدهم على ذلك حصولهم على الثروات العلمية الإسلامية في البلاد المستعمرة، وتمكنهم من دراسة
২ – ঔপনিবেশিক প্রেষণা:মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে ক্রুসেড যুদ্ধে পাশ্চাত্য পরাজিত হওয়ার পর—যা আকিদাগত, মানসিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং সামরিক সব দিক থেকেই তাদের জন্য অত্যন্ত বিপর্যয়কর ছিল—পাশ্চাত্য পুনরায় নতুনভাবে হিসাব-নিকাশ এবং দখলদারিত্ব ও আগ্রাসনের পরিকল্পনা শুরু করে। তবে এবারের রূপ ও রণকৌশল ছিল ভিন্ন। এই শত্রু পক্ষ মুসলিম বিশ্বের বিষয়াবলিতে বিশেষায়িত বিভিন্ন কেন্দ্র ও একাডেমি প্রতিষ্ঠার আশ্রয় নেয় এবং উম্মাহ ও তাদের ভূখণ্ডে নিজেদের উপনিবেশ স্থাপনের সমান্তরালে ব্যাপক শ্রম ও অঢেল অর্থ ব্যয় করে।
এই কেন্দ্রগুলো আকিদাগত, ভৌগোলিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে মুসলিম উম্মাহর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে এবং তাদের দুর্বল দিকগুলো অত্যন্ত নিবিড় ও সচেতনভাবে অধ্যয়ন করে। অতঃপর সেই দুর্বল পয়েন্টগুলোর মাধ্যমেই পুনরায় সামরিক আধিপত্য শুরু হয়, যা একই সাথে সামরিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দখলদারিত্ব ছিল। মুসলিম বিশ্বে তাদের শক্তি সুসংহত হওয়ার পর, তারা উম্মাহর সন্তানদের মন ও মননে বুদ্ধিবৃত্তিক আধিপত্য বা বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন শুরু করে। এর জন্য তারা নিজেদের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব এবং সেই তুলনায় মুসলিমদের অনগ্রসরতাকে ফুটিয়ে তোলে। সেই সাথে তাদের অন্তরে হীনম্মন্যতা ও দুর্বলতা ছড়িয়ে দেয়; যাতে প্রতিরোধের মানসিকতা ও দ্বীনের ওপর অবিচল থাকার স্পৃহা ধূলিসাৎ করা যায় এবং এই দ্বীনকে একটি বিকৃত ও অযথার্থ রূপে উপস্থাপন করা সম্ভব হয়। উম্মাহর ওপর এর প্রভাব ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ; ফলে উম্মাহর সন্তানদের এক বিশাল অংশ এই মাধ্যমগুলোর দ্বারা প্রভাবিত হয়। অধিকৃত দেশগুলো থেকে সংগৃহীত ইসলামি জ্ঞানসম্পদ হস্তগত করা এবং তা অধ্যয়ন করতে সক্ষম হওয়া তাদের এই কাজে সহায়ক হয়েছিল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিশরাক ওয়া মাওকিফুহু মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
علومها في اللغة والأدب والدين والفقه والسيرة، واستطاعوا أن يخرجوا من بطون هذه الكتب نماذج من الأدب الوضيع والفكر المنحرف والعقيدة الفاسدة كالتصوف، والتركيز عليها وتوصيلها إلى المثقفين والدارسين من أبناء الأمة على أنها الإسلام، فكان وسيلة قوية لتلك الدول على الاحتلال العسكري والبقاء لفترات أطول في ديار المسلمين، والاستيلاء على ثرواتهم وتسخيرها في مصالحهم المعيشية والتقنية والعسكرية.
هذا بالإضافة إلى الدور الذي قام به هؤلاء المستشرقون في إفشاء روح الإقليمية والعنصرية بين المسلمين والتركيز على إثارة الفتن القومية بين الشعوب، كافتخار العربي بالعروبة والتركي بالتركية والمصري بالفرعونية، والكردي بالكردية، والفارسي بالفارسية وهكذا، فكان كل ذلك معول هدم وخراب، لذلك البناء المتين الذي أرسى قواعده الرسول صلى الله عليه وسلم والصحابة رضوان الله عليهم، والعمالقة من أبناء الإسلام على مرّ العصور والأزمان، رغم أن الدين الإسلامي جاء وأزال كل هذه التصورات التي عدّها صفات جاهلية لا تتناسب مع الرسالة الربانية.
والحق أن الاستشراق صار ملازمًا للاستعمار أينما حلّ وأناخ، وتوسع مجاله ونطاقه بتوسع احتلاله واغتصابه لحقوق الشعوب عامة والمسلمين خاصة، حيث يقول المستشرق الهولندي سنوك هرجرنجي عن ذلك بقوله: "إن الشريعة الإسلامية موضوع مهم للدراسات الاستشراقية، ليس فقط لأسباب تجريدية [نظرية] متعلقة بتاريخ القانون والحضارة والدين، ولكن كذلك لأهداف عملية: وذلك أنه كلما توثقت العلاقات بين أوروبا والشرق الإسلامي، وكلما زاد [عدد] البلاد الإسلامية التي تقع تحت السيادة الأوروبية
ভাষা, সাহিত্য, ধর্ম, ফিকহ (فقه) এবং সিরাত (سيرة) বিষয়ে তাদের জ্ঞান; তারা এই গ্রন্থগুলোর অভ্যন্তর থেকে নিম্নমানের সাহিত্য, বিচ্যুত চিন্তা এবং সুফিবাদ (تصوف)-এর মতো কলুষিত আকিদা (عقيدة)-র নমুনা বের করে আনতে সক্ষম হয়। তারা এগুলোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে এবং উম্মাহর বুদ্ধিজীবী ও গবেষকদের কাছে একেই ‘ইসলাম’ হিসেবে উপস্থাপন করে। এটি সেই রাষ্ট্রগুলোর জন্য সামরিক দখলদারিত্ব বজায় রাখা এবং মুসলিম ভূখণ্ডে দীর্ঘকাল অবস্থান করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছিল। পাশাপাশি এটি তাদের সম্পদ দখল এবং তাদের জীবনযাত্রা, প্রযুক্তিগত ও সামরিক স্বার্থে সেই সম্পদ ব্যবহারের পথ সুগম করেছিল।
এর পাশাপাশি এই প্রাচ্যবিদরা মুসলমানদের মধ্যে আঞ্চলিকতা ও বর্ণবাদের চেতনা ছড়িয়ে দিতে এবং বিভিন্ন জাতির মধ্যে জাতীয়তাবাদী ফিতনা (فتنة) উসকে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। যেমন—আরবদের আরবত্ব নিয়ে, তুর্কিদের তুর্কি পরিচয় নিয়ে, মিশরীয়দের ফেরাউনত্ব নিয়ে, কুর্দিদের কুর্দি পরিচয় এবং ফারসিদের ফারসি পরিচয় নিয়ে গর্ব করা। এর সবকিছুই ছিল সেই মজবুত কাঠামোর জন্য ধ্বংসের হাতিয়ার, যার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন রাসূল (সা.) এবং সাহাবী (صحابة) (রা.), আর পরবর্তী যুগের ইসলামের শ্রেষ্ঠ সন্তানরা। অথচ ইসলাম ধর্ম এসে এই সকল ধারণা বিলুপ্ত করেছিল এবং এগুলোকে জাহেলি (جاهلية) বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করেছিল, যা ঐশী বার্তার সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।
প্রকৃতপক্ষে, প্রাচ্যবাদ উপনিবেশবাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছিল যেখানেই এটি জেঁকে বসেছে। সাধারণ মানুষের এবং বিশেষভাবে মুসলমানদের অধিকার হরণ ও দখলদারিত্ব বিস্তারের সাথে সাথে এর ক্ষেত্র ও পরিধিও বিস্তৃত হয়েছে। এই প্রসঙ্গে ওলন্দাজ প্রাচ্যবিদ স্নুক হুরগ্রোনিয়ে বলেন: "ইসলামি শরিয়ত (شريعة) প্রাচ্যতাত্ত্বিক গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়; এটি কেবল আইন, সভ্যতা ও ধর্মের ইতিহাসের সাথে সম্পর্কিত বিমূর্ত [তাত্ত্বিক] কারণে নয়, বরং ব্যবহারিক উদ্দেশ্যেও। কারণ, ইউরোপ ও ইসলামি প্রাচ্যের মধ্যে সম্পর্ক যত দৃঢ় হবে এবং ইউরোপীয় আধিপত্যের অধীনে আসা মুসলিম দেশগুলোর সংখ্যা যত বৃদ্ধি পাবে..."
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিশরাক ওয়া মাওকিফুহু মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
زادت الأهمية بالنسبة لنا نحن الأوروبيين لنتعرف على الحياة الفكرية، وعلى الشريعة، وعلى خلفية المفاهيم الإسلامية" (1) .
--------------------------------------------
আমাদের ইউরোপীয়দের জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক জীবন, শরীয়াহ এবং ইসলামি ধারণাসমূহের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে অবগত হওয়ার গুরুত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে" (১) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিশরাক ওয়া মাওকিফুহু মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
3 – الدافع السياسي:يقول الدكتور مصطفى السباعي رحمه الله "وهنالك دافع آخر أخذ يتجلى في عصرنا الحاضر بعد استقلال أكثر الدول العربية والإسلامية، ففي كل سفارة من سفارات الدول الغربية لدى هذه الدول سكرتير أو ملحق ثقافي يحسن اللغة العربية؛ ليتمكن من الاتصال برجال الفكر والصحافة والسياسة فيتعرف إلى أفكارهم، ويبث فيهم من الاتجاهات السياسية ما تريده دولته، وكثيرًا ما كان لهذا الاتصال أثره الخطير في الماضي حين كان السفراء الغربيون - ولا يزالون في بعض البلاد العربية والإسلامية - يبثون الدسائس للتفرقة بين الدول العربية بعضها مع بعض، وبين الدول العربية والدول الإسلامية، بحجة توجيه النصح وإسداء المعونة بعد أن درسوا تماماً نفسية كثيرين من المسؤولين في تلك البلاد، وعرفوا نواحي الضعف في سياستهم العامة، كما عرفوا الاتجاهات الشعبية الخطيرة على مصالحهم واستعمارهم" (2) .
وقد ظهر - حقًا - في الآونة الأخيرة في معظم الدول الإسلامية والعربية نوعٌ من التواصل الثقافي بين الملحقيات الثقافية للدول الغربية والطبقات المثقفة من الدول الإسلامية التي تحتضن هذه الملحقيات، وتعقد الندوات العلمية
--------------------------------------------
৩ – রাজনৈতিক উদ্দেশ্য:ড. মুস্তফা আস-সিবাঈ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, "বর্তমান যুগে অধিকাংশ আরব ও ইসলামি রাষ্ট্রগুলোর স্বাধীনতা লাভের পর আরও একটি উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়ে উঠতে শুরু করেছে। এই রাষ্ট্রগুলোতে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিটি দূতাবাসে একজন করে সচিব বা সাংস্কৃতিক অ্যাটাশে (Cultural Attaché) রয়েছেন যিনি আরবি ভাষায় পারদর্শী; যাতে তিনি বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে সক্ষম হন এবং তাদের চিন্তাধারা সম্পর্কে অবগত হতে পারেন। এর মাধ্যমে তিনি তাদের মাঝে নিজ রাষ্ট্রের অভীষ্ট রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ছড়িয়ে দেন। অতীতে এই যোগাযোগের অত্যন্ত বিপজ্জনক প্রভাব পরিলক্ষিত হয়েছে যখন পশ্চিমা রাষ্ট্রদূতগণ—এবং এখনও কিছু আরব ও ইসলামি রাষ্ট্রে—আরব দেশগুলোর পরস্পরের মধ্যে এবং আরব ও ইসলামি রাষ্ট্রগুলোর মাঝে বিভেদ সৃষ্টির লক্ষ্যে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করতেন। উপদেশ প্রদান ও সাহায্য-সহযোগিতার অজুহাতে তারা এই কাজগুলো করতেন। মূলত তারা ওই দেশগুলোর বহু দায়িত্বশীল ব্যক্তির মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে গভীরভাবে অধ্যয়ন করেছিলেন এবং তাদের সাধারণ রাজনীতির দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করেছিলেন। পাশাপাশি তারা তাদের স্বার্থ ও ঔপনিবেশিক শাসনের জন্য হুমকিস্বরূপ জনমুখী প্রবণতাগুলো সম্পর্কেও অবগত ছিলেন।" (২)।
প্রকৃতপক্ষে, সাম্প্রতিককালে অধিকাংশ ইসলামি ও আরব রাষ্ট্রে পশ্চিমা দেশগুলোর সাংস্কৃতিক দপ্তর এবং ইসলামি দেশগুলোর শিক্ষিত সমাজের মধ্যে এক ধরনের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে; যারা এই সাংস্কৃতিক দপ্তরগুলোকে গ্রহণ করে নিয়েছে এবং সেখানে বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিশরাক ওয়া মাওকিফুহু মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
والحفلات الأدبية، بحجة تبادل الآراء والأفكار أو ما سمي في العصر الحديث بالتقارب الديني أو الحوار الحضاري، والهدف الأول والأخير من انعقاد هذه الندوات هو تحويل المسلمين عن دينهم، وإيجاد طبقة من المثقفين ولاسيما الذين يشغلون مناصب عالية في الدولة من تحقيق بعض أهدافهم السياسية في كسر الحواجز وإزالة العراقيل التي تحول دون الوصول إلى مآربهم في تلك البلاد، وأيضًا هناك مطلب مهم جدًا يقصدونه هؤلاء من وراء ملحقياتهم وهو اختيار بعض الناس من أبناء البلاد التي هم فيها ليكونوا لهم عيونًا لخدمة مصالحهم في جميع المجالات.
এবং সাহিত্যিক সমাবেশসমূহ, যা মতামত ও চিন্তাধারা বিনিময় কিংবা আধুনিক যুগে যাকে ‘ধর্মীয় সংহতি’ বা ‘সভ্যতার সংলাপ’ বলা হয়—তার অজুহাতে অনুষ্ঠিত হয়; এই সেমিনারগুলো আয়োজনের আদি ও অন্ত লক্ষ্য হলো মুসলিমদের তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করা এবং এমন এক বুদ্ধিজীবী শ্রেণি তৈরি করা—বিশেষ করে যারা রাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা—যাতে তাদের মাধ্যমে প্রতিবন্ধকতাগুলো চূর্ণ করা যায় এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের পথে অন্তরায় হওয়া বাধাগুলো দূর করার মতো কিছু রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়। এছাড়া তাদের এই বৈদেশিক মিশনগুলোর পেছনে আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য রয়েছে, আর তা হলো—সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের মধ্য থেকে কিছু লোককে এমনভাবে নির্বাচন করা, যাতে তারা সকল ক্ষেত্রে তাদের স্বার্থ উদ্ধারে গোয়েন্দা হিসেবে কাজ করতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিশরাক ওয়া মাওকিফুহু মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
4 – الدافع الاقتصادي:وهو من الدوافع التي ساعدت على تنشيط حركة الاستشراق وهي أن الدول الغربية بعد أن تعرفت على المنطقة الإسلامية وتعرفت على ثرواتها وخيراتها، أرادت أن تفتح مع هذه المنطقة صفحة أخرى أو علاقة أخرى من العلاقات التي تروي اقتصادهم وتدعم مصانعهم وشركاتهم، وبالتالي تسهل عليهم حركة التطور العلمي والتقني، وذلك بالاتصال المباشر مع العالم الإسلامي اقتصاديًا وذلك باستيراد ما تفتقر إليه من المواد الخام الطبيعية وبأسعار زهيدة وبخسة، حفاظاً على مستوى التصنيع والتقنية عندهم، وإبقاء لمستوى التراجع والتخلف في منطقتنا الإسلامية، التي كانت مهداً للصناعات والاختراعات، وجعلها منطقة استهلاك فحسب، وبذلك يتم القضاء كليا على الصناعات الوطنية والمحلية.
ومن أهم نتائج هذا الدافع وثمراته أن أموال المسلمين ومصالحهم صارت بأيدي الغربيين، فمعظم أغنياء المسلمين وأصحاب الثروات الكبيرة والأرصدة
৪ – অর্থনৈতিক প্রেষণা:এটি সেই প্রেষণাসমূহের অন্যতম যা প্রাচ্যতত্ত্ব চর্চার গতিধারাকে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করেছিল। বিষয়টি হলো, পশ্চিমা দেশসমূহ যখন মুসলিম ভূখণ্ড এবং এর সম্পদ ও ঐশ্বর্যের সন্ধান পেল, তখন তারা এই অঞ্চলের সাথে সম্পর্কের এমন এক নতুন অধ্যায় বা সেতুবন্ধন উন্মোচন করতে চাইল যা তাদের অর্থনীতিকে সচল রাখবে এবং তাদের কলকারখানা ও কোম্পানিগুলোকে সমৃদ্ধ করবে। ফলস্বরূপ, মুসলিম বিশ্বের সাথে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের পথ সুগম হবে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল তাদের প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক কাঁচামাল অত্যন্ত সস্তা ও নামমাত্র মূল্যে আমদানি করে নিজেদের শিল্পায়ন ও প্রযুক্তির উৎকর্ষ বজায় রাখা এবং আমাদের মুসলিম অঞ্চলকে অনগ্রসরতা ও পশ্চাৎপদতার অন্ধকারে নিমজ্জিত রাখা—অথচ এই অঞ্চলটিই একদা শিল্প ও উদ্ভাবনের সূতিকাগার ছিল। তারা একে কেবল একটি ভোগবাদী বাজারে পরিণত করতে চেয়েছিল, যার মাধ্যমে স্থানীয় ও জাতীয় শিল্পসমূহকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেওয়া যায়।
এই প্রেষণার অন্যতম প্রধান ফলাফল ও প্রভাব হলো যে, মুসলমানদের ধন-সম্পদ ও স্বার্থসমূহ পশ্চিমাদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। ফলে অধিকাংশ মুসলিম ধনী ব্যক্তি, বিপুল সম্পদের অধিকারী এবং বিশাল ব্যাংক ব্যালেন্সের মালিকগণ...
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিশরাক ওয়া মাওকিফুহু মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
العالية، يودعون أموالهم وأسهمهم في بنوك الغربيين، حيث لا يصل إليهم من هذه البنوك إلا النزر اليسير من الأرباح، أما الغربيون فيربحون من وراء هذه الأرصدة الملايين والمليارات، وإذا صارت هناك إشكالات أو مشكلات سياسية بين هذه الدول الغربية والدول الإسلامية، ربما تؤدي بتلك الأموال المودعة إلى التجميد أو إلى الاستيلاء عليها، ولا يحق لأصحابها استرجاعها أو المطالبة بها، كما حدث في الآونة الأخيرة في أمريكا وبعض الدول الغربية الأخرى، التي اتهمت مؤسسات وشركات ومنظمات خيرية بدعمها للإرهاب من أجل حيازة أرصدتهم وأموالهم، وكل ذلك ثمرة واضحة لمخططات المستشرقين مع دولهم الاستعمارية لنهب ثروات الأمة الإسلامية بشتى السبل والوسائل.
উচ্চমাত্রার, তারা তাদের ধন-সম্পদ ও শেয়ারসমূহ পশ্চিমা ব্যাংকগুলোতে গচ্ছিত রাখে, যেখান থেকে লভ্যাংশের অতি সামান্য অংশই তাদের নিকট পৌঁছায়। পক্ষান্তরে পশ্চিমারা এই আমানতের মাধ্যমে কোটি কোটি ও বিলিয়ন বিলিয়ন মুনাফা অর্জন করে। আর যখনই এই পশ্চিমা রাষ্ট্রসমূহ ও মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে কোনো রাজনৈতিক জটিলতা বা সংকটের সৃষ্টি হয়, তখন সম্ভবত সেই গচ্ছিত অর্থ অবরুদ্ধ করা হয় কিংবা তা বাজেয়াপ্ত করা হয়। এমতাবস্থায় সেগুলোর মালিকদের জন্য তা পুনরুদ্ধার বা দাবি করার কোনো অধিকার থাকে না; যেমনটি সাম্প্রতিককালে আমেরিকা ও অন্যান্য কিছু পশ্চিমা দেশে ঘটেছে, যারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি ও দাতব্য সংস্থাকে তাদের গচ্ছিত সম্পদ ও অর্থ কুক্ষিগত করার হীন উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে। আর এ সব কিছুই হলো মুসলিম উম্মাহর ধন-সম্পদ বিভিন্ন পন্থায় ও উপায়ে লুণ্ঠন করার নিমিত্তে তাদের ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রগুলোর সাথে প্রাচ্যবিদদের সুপরিকল্পিত নীল নকশার এক সুস্পষ্ট ফল।
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিশরাক ওয়া মাওকিফুহু মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
5 – الدافع العلمي:بعد أن تعرفنا على مجموعة من الدوافع المغرضة للاستشراق والمستشرقين، فإن هناك فئة قليلة ونادرة جدًا من هؤلاء الغربيين الذين يقبلون على دراسة الإسلام دراسة حقيقية لفهمه والاطلاع عليه، مجردين من الدوافع والأغراض التي سبق ذكرها، وهؤلاء يعدون من الصادقين في أبحاثهم ودراساتهم، إلا أنهم غير مدعومين من الدول الغربية، ولا من المؤسسات الاستشراقية التي تأسست على أساس تشويه الإسلام وتحريف أحكامه عند الناس، من أجل ذلك لا يكون لهم صيت قوي وشهرة شائعة في الأوساط العلمية والسياسية والدولية. وربما يجد هذا القسم من المستشرقين مضايقات وعقوبات من قبل حكوماتهم لأنهم لا يمثلون وجهة نظرهم ولا يخدمون مصالحهم، ومن هؤلاء المستشرقين من يعتنق الإسلام بعد أن يدرس الإسلام دراسة عميقة ومجردة، وربما يتحول
৫ – জ্ঞানতাত্ত্বিক অনুপ্রেরণা:প্রাচ্যতত্ত্ব ও প্রাচ্যবিদদের একগুচ্ছ হীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অনুপ্রেরণা সম্পর্কে জানার পর, পশ্চিমা গবেষকদের মধ্যে এমন একটি অত্যন্ত স্বল্প ও বিরল গোষ্ঠী লক্ষ্য করা যায় যারা ইসলামকে অনুধাবন ও তা সম্পর্কে অবগত হওয়ার লক্ষ্যে এর প্রকৃত অধ্যয়নে ব্রতী হন। তাঁরা ইতিপূর্বে উল্লিখিত হীন উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যসমূহ থেকে বিমুক্ত থাকেন। তাঁরা তাঁদের গবেষণা ও অধ্যয়নে সত্যনিষ্ঠ (صادقون) হিসেবে গণ্য হন; তবে তাঁরা পশ্চিমা রাষ্ট্রসমূহ কিংবা সেই সকল প্রাচ্যতাত্ত্বিক প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো সমর্থন পান না, যেগুলি মূলত ইসলামের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা এবং মানুষের নিকট এর বিধানাবলি বিকৃত (تحريف) করার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ কারণেই বৈজ্ঞানিক, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তাঁদের বিশেষ কোনো প্রভাব বা সুখ্যাতি থাকে না। সম্ভবত প্রাচ্যবিদদের এই গোষ্ঠীটি তাঁদের নিজ নিজ সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন হয়রানি ও শাস্তির সম্মুখীন হন, কারণ তাঁরা সরকারের বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিনিধিত্ব করেন না এবং তাঁদের স্বার্থসিদ্ধিতে সহায়ক হন না। এই সকল প্রাচ্যবিদদের মধ্য থেকে এমন অনেকে আছেন যারা ইসলামকে গভীরভাবে ও নিরপেক্ষভাবে অধ্যয়নের পর ইসলাম গ্রহণ করেন, এবং সম্ভবত পরিবর্তিত হন...
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিশরাক ওয়া মাওকিফুহু মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
إلى داعية ومفكر يدافع عن حمى الإسلام ودياره، ومن هؤلاء المستشرقين الذين كان هذا شأنهم المفكر محمد أسد صاحب كتاب "الإسلام على مفترق الطرق"، وتوماس أرنولد صاحب كتاب "الدعوة إلى الإسلام" والذي ركز فيه على التسامح الديني في الإسلام والتزام المسلمين بهذا المبدأ عبر التاريخ، إلا أنه تعرض لأكبر هجمة استشراقية واتهموه بأنه لم يعتمد في كتابه على الأدلة العلمية، وإنما على عاطفته تجاه المسلمين، رغم أنه لم يورد حادثة من التاريخ إلا ووثقها من مصادرها ومراجعها العلمية.
ومن هؤلاء المستشرقين أيضًا المستشرق الفرنسي "دينيه" الذي أسلم في الجزائر وغيّر اسمه إلى "ناصرالدين دينيه" وألف مع كاتب جزائري كتابًا في السيرة النبوية، وله كتاب "أشعة خاصة بنور الإسلام" الذي بيّن فيه حقد الغرب وتحاملهم على الرسول صلى الله عليه وسلم (1) .
--------------------------------------------
এমন একজন দাঈ ও চিন্তাবিদ যিনি ইসলামের মর্যাদা ও এর ভূখণ্ড রক্ষায় নিয়োজিত। এই সকল প্রাচ্যবিদদের মধ্যে অন্যতম হলেন চিন্তাবিদ মুহাম্মদ আসাদ, যিনি "ইসলাম অ্যাট দ্য ক্রসরোডস" গ্রন্থের রচয়িতা এবং থমাস আর্নল্ড, যিনি "দ্য প্রিচিং অব ইসলাম" গ্রন্থের লেখক। তিনি তার গ্রন্থে ইসলামের ধর্মীয় সহিষ্ণুতা এবং ইতিহাসজুড়ে মুসলিমদের এই নীতির প্রতি অবিচল থাকার ওপর আলোকপাত করেছেন। তবে তিনি তীব্র প্রাচ্যবাদী আক্রমণের শিকার হন এবং তারা অভিযোগ করে যে, তিনি তার গ্রন্থে বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ওপর নির্ভর না করে বরং মুসলিমদের প্রতি তার আবেগের ওপর ভিত্তি করেছেন। যদিও তিনি ইতিহাসের এমন কোনো ঘটনা বর্ণনা করেননি যার নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত (وثقها) তিনি তার মূল উৎস ও বৈজ্ঞানিক তথ্যসূত্র থেকে করেননি।
এই সকল প্রাচ্যবিদদের মধ্যে ফরাসি প্রাচ্যবিদ "দিনিও" অন্যতম, যিনি আলজেরিয়ায় ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে "নাসিরুদ্দিন দিনিও" রাখেন। তিনি একজন আলজেরীয় লেখকের সাথে সীরাত শাস্ত্রের ওপর একটি গ্রন্থ রচনা করেন। এছাড়াও তার "অ্যাশেয়া খাসসা বি-নুরিল ইসলাম" নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে যেখানে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি পাশ্চাত্যের বিদ্বেষ ও পক্ষপাতমূলক আচরণ ফুটিয়ে তুলেছেন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিশরাক ওয়া মাওকিফুহু মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
شبهات الاستشراق حول السنة النبوية
مدخل…شبهات الاستشراق حول السنة النبوية:
إن المتتبع للشبهات التي تثار حول السنة النبوية من قبل المستشرقين والمعادين لدين الله، فإنه سيجد أن هؤلاء يحاولون التشكيك في كل شيء في هذا الدين، وليست هناك شبهات محددة وإنما الدين كله مثار للشك والشبهة عندهم، ويظهر ذلك واضحًا في كتاباتهم ومحاضراتهم وندواتهم، وحتى في صحفهم ومجلاتهم، وهذا يعني أن التصدي الحقيقي للاستشراق يكمن في دراسة أصوله وحقيقة أهدافه، وبيان ذلك لأبناء الأمة، في كل مناسبة وكل مكان، لأن كثيرًا من هذه الشبهات هي قديمة في حقيقتها ومضمونها تبنتها المعتزلة والخوارج في فترات معينة، وخمدت نارها بعد أن تصدى لها علماء الأمة المخلصون، حتى جاء هؤلاء المستشرقون وأعادوا إثارتها وصياغتها من جديد.
لذلك لا نستطيع أن نبحث هذه الشبهات جميعها ونناقشها بالأدلة العقلية والمنطقية، وبالأحداث التاريخية، والدراسات الموضوعية، لأن ذلك يحتاج إلى مجلدات ومصنفات، ولكننا سنذكر بعض الشبهات التي اتفقت عليها كلمة معظم المستشرقين حول السنة النبوية، والنيل من شخصية الرسول صلى الله عليه وسلم، ابتداء من تشكيكهم في مفهوم السنة نفسها.
সুন্নাহর ব্যাপারে প্রাচ্যতত্ত্বের (الاستشراق) সংশয়সমূহ (شبهات)
ভূমিকা…সুন্নাহর ব্যাপারে প্রাচ্যতত্ত্বের (الاستشراق) সংশয়সমূহ (شبهات):
প্রাচ্যতত্ত্ববিদ (المستشرقون) এবং আল্লাহর দ্বীনের শত্রুদের পক্ষ থেকে সুন্নাহর ব্যাপারে উত্থাপিত সংশয়গুলোর (شبهات) যারা অনুসন্ধান করবেন, তারা দেখতে পাবেন যে, তারা এই দ্বীনের প্রতিটি বিষয়েই সন্দেহ সৃষ্টির চেষ্টা করে। তাদের নিকট কোনো সুনির্দিষ্ট সংশয় (شبهات) নেই, বরং তাদের দৃষ্টিতে পুরো দ্বীনই সংশয় ও সন্দেহের আবর্তে। এটি তাদের লেখালেখি, বক্তৃতা, সেমিনার এবং এমনকি তাদের সংবাদপত্র ও সাময়িকীগুলোতে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এর অর্থ হলো, প্রাচ্যতত্ত্বের (الاستشراق) প্রকৃত মোকাবিলা নিহিত রয়েছে এর মূল উৎস ও লক্ষ্যসমূহের প্রকৃত স্বরূপ পর্যালোচনার মধ্যে এবং প্রতিটি সুযোগ ও স্থানে উম্মাহর সন্তানদের নিকট তা বর্ণনা করার মধ্যে। কারণ, এই সংশয়গুলোর (شبهات) অনেকগুলোই বিষয়বস্তুর দিক থেকে প্রাচীন, যা একটি নির্দিষ্ট সময়ে মুতাজিলা (المعتزلة) ও খারিজিরা (الخوارج) গ্রহণ করেছিল। উম্মাহর একনিষ্ঠ আলেমগণ সেগুলোর মোকাবিলা করার পর সেই আগুন নিভে গিয়েছিল, যতক্ষণ না এই প্রাচ্যতত্ত্ববিদরা (المستشرقون) এসে সেগুলোকে পুনরায় সামনে এনেছে এবং নতুন আঙ্গিকে সাজিয়েছে।
তাই আমরা এই সমস্ত সংশয় (شبهات) নিয়ে আলোচনা করা এবং সেগুলোকে যৌক্তিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক দলীল, ঐতিহাসিক ঘটনাবলি এবং বস্তুনিষ্ঠ গবেষণার মাধ্যমে পর্যালোচনা করতে সক্ষম নই; কারণ এর জন্য বহু খণ্ড ও বিশাল গ্রন্থের প্রয়োজন। তবে আমরা সুন্নাহ এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মহান ব্যক্তিত্বকে হেয় করার লক্ষ্যে অধিকাংশ প্রাচ্যতত্ত্ববিদ (المستشرقون) যেসব সংশয়ের (شبهات) ব্যাপারে একমত হয়েছেন, সেগুলো উল্লেখ করব; যা শুরু হবে স্বয়ং সুন্নাহর (السنة) ধারণা সম্পর্কে তাদের সংশয় (شبهات) সৃষ্টির মধ্য দিয়ে।
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিশরাক ওয়া মাওকিফুহু মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
أولاً: السنة في مفهوم المستشرقينيقول جولد تسيهر عن مفهوم السنة: "هي جوهر العادات وتفكير الأمة الإسلامية قديمًا وتعد شرحًا لألفاظ القرآن الغامضة التي جعلتها أمرًا عملياً حياً" (1) .
كما يقول أيضًا هذا المستشرق: "ما من أمر أو فعل يوصف عندهم بالفضل أو العدالة إلا إذا كان له أصل في عاداتهم الموروثة أو كان متفقًا معها، وهذه العادات التي تتألف منها السنة تقوم عندهم مقام القانون أو الديانة، كما أنهم كانوا يرونها المصدر الأوحد للشريعة والدين، ويعدون اطراحها خطأ جسيما، ومخالفة خطيرة للقواعد المعروفة والتقاليد المرعية التي لا يصح الخروج عليها، وما يصدق على الأفعال يصدق أيضًا على الأفكار الموروثة، والجماعة يتحتم عليها أن لا تقبل في هذا المجال شيئًا جديدًا لا يتفق مع آراء أسلافها الأقدمين" ثم يقول: "فكرة السنة يمكن إدراجها بين الظواهر التي سماها سبنسر ب العواطف القائمة مقام غيرها وهي النتائج العضوية التي جمعتها بيئة من البيئات خلال الأجيال والأحقاب، والتي تركزت وتجمعت في غريزة وراثية تتألف منها الصفة أو الصفات التي يتوارثها أفراد هذه البيئة" (2) .
ثم يتطرق هذا المستشرق إلى تحديد مفهوم الحديث الذي يفصله عن مفهوم السنة بقوله إن الحديث: "الشكل الذي وصلت به السنة إلينا، فهما
--------------------------------------------
প্রথমত: প্রাচ্যবিদদের ধারণায় সুন্নাহ (السنة)গোল্ডজিহার সুন্নাহর (السنة) ধারণা সম্পর্কে বলেন: "এটি প্রাচীন মুসলিম উম্মাহর প্রথা ও চিন্তাধারার মূল নির্যাস এবং কুরআনের অস্পষ্ট শব্দাবলির ব্যাখ্যা হিসেবে গণ্য করা হয়, যা সেগুলোকে একটি জীবন্ত ব্যবহারিক বিষয়ে পরিণত করেছে।" (১) ।
এই প্রাচ্যবিদ আরও বলেন: "তাদের নিকট কোনো বিষয় বা কাজকে ততক্ষণ পর্যন্ত শ্রেষ্ঠত্ব বা ন্যায়পরায়ণতা দ্বারা বিশেষায়িত করা হয় না, যতক্ষণ না তাদের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত রীতিনীতিতে এর কোনো ভিত্তি থাকে অথবা তা এর সাথে সংগতিপূর্ণ হয়। আর এই রীতিনীতিগুলো—যা দ্বারা সুন্নাহ (السنة) গঠিত—তাদের নিকট আইন বা ধর্মের স্থলাভিষিক্ত। এমনকি তারা একে শরীয়ত ও দ্বীনের একমাত্র উৎস হিসেবে দেখত এবং এর বর্জন করাকে একটি গুরুতর ভুল এবং প্রতিষ্ঠিত নিয়ম ও পালিত ঐতিহ্যের মারাত্মক লঙ্ঘন মনে করত যা থেকে বিচ্যুত হওয়া সমীচীন নয়। কাজের ক্ষেত্রে যা প্রযোজ্য, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত চিন্তাধারার ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য; আর সম্প্রদায়ের জন্য এটি আবশ্যক যে, তারা এই ক্ষেত্রে নতুন এমন কিছু গ্রহণ করবে না যা তাদের প্রাচীন পূর্বপুরুষদের মতামতের সাথে সংগতিপূর্ণ নয়।" অতঃপর তিনি বলেন: "সুন্নাহর (السنة) ধারণাকে স্পেন্সার বর্ণিত 'অন্যান্য আবেগের স্থলাভিষিক্ত আবেগসমূহ' নামক প্রপঞ্চের অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে; আর এগুলো হলো সেই জৈব ফলাফল যা কোনো একটি পরিবেশ যুগ যুগ ধরে সঞ্চয় করেছে এবং যা একটি বংশগত সহজাত প্রবৃত্তি হিসেবে ঘনীভূত ও পুঞ্জীভূত হয়েছে, যা থেকে ওই পরিবেশের ব্যক্তিদের দ্বারা উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত বৈশিষ্ট্য বা গুণাবলি গঠিত হয়।" (২) ।
এরপর এই প্রাচ্যবিদ হাদিসের সংজ্ঞায়নের দিকে আলোকপাত করেন, যা তিনি সুন্নাহর (السنة) ধারণা থেকে পৃথক করেছেন। তিনি বলেন যে, হাদিস হলো: "সেই রূপ বা কাঠামো যার মাধ্যমে সুন্নাহ (السنة) আমাদের কাছে পৌঁছেছে; সুতরাং তারা দুটি..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিশরাক ওয়া মাওকিফুহু মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ليسا بمعنى واحد، وإنما السنة دليل الحديث، فهو عبارة عن سلسلة من المحدِّثين الذين يوصلون إلينا هذه الأخبار والأعمال المشار إليها طبقة بعد طبقة، مما ثبت عند الصحابة أنه حاز موافقة الرسول صلى الله عليه وسلم في أمور الدين أو الدنيا، وما ثبت أيضًا حسب هذا المعنى من المُثُل التي تحتذى كل يوم" (1) .
وأما شاخت فيقول: "إن الأحاديث ليست هي السنة بل هي تدوين السنة بالوثائق" (2) .
ويمكن استخلاص مفهوم السنة عند المستشرقين في النقاط التالية:
1 – أن السنة هي جوهر العادات والتقاليد الموروثة.
2 – أن السنة شرح لألفاظ القرآن الغامضة.
3 – أن السنة وحدها هي القانون أو الديانة وهي المصدر الوحيد للشريعة.
4 – أن السنة غير الحديث، وأنهما ليسا بمعنى واحد.
وهنا لا بد من بيان حقيقة مفهوم السنة والحديث لدحض هذا الخلط الذي انتهجه المستشرقون بقصد التشويش والتضليل على أبناء الأمة، والتشكيك في المصدر الثاني من مصادر التشريع الإسلامي.
فالسنة في اللغة: كما في القاموس المحيط هي الطريقة والعادة حسنة كانت أم سيئة، وقد جاءت بهذا المعنى في قوله تعالى: {سُنَّةَ مَنْ قَدْ أَرْسَلْنَا قَبْلَكَ مِنْ رُسُلِنَا وَلا تَجِدُ لِسُنَّتِنَا تَحْوِيلاً} [الإسراء،: 77] .
--------------------------------------------
এ দু’টি একই অর্থে ব্যবহৃত হয় না, বরং সুন্নাহ (سنة) হলো হাদিসের পথপ্রদর্শক; এটি মূলত সেই সকল হাদিস বিশারদগণের (المحدِّثين) একটি পরম্পরা, যাঁরা আমাদের নিকট উল্লিখিত এই সংবাদ ও আমলসমূহ স্তরের পর স্তর (طبقة بعد طبقة) পৌঁছে দিয়েছেন; যা সাহাবীগণের নিকট প্রমাণিত যে তা দ্বীন বা দুনিয়াবী বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মতি লাভ করেছে এবং এই অর্থ অনুযায়ী যা প্রাত্যহিক অনুসৃত আদর্শ হিসেবেও সাব্যস্ত হয়েছে।" (১) ।
আর শ্যাখট বলেন: "নিশ্চয়ই হাদিসসমূহ সুন্নাহ (سنة) নয়, বরং তা হলো প্রামাণিক দলিলের মাধ্যমে সুন্নাহর (سنة) বিধিবদ্ধ সংকলন" (২) ।
প্রাচ্যবিদদের নিকট সুন্নাহর (سنة) ধারণাকে নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোতে সারসংক্ষেপ করা যেতে পারে:
১ – সুন্নাহ (سنة) হলো উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত আচার-আচরণ ও ঐতিহ্যের মূল নির্যাস।
২ – সুন্নাহ (سنة) হলো কুরআনের অস্পষ্ট শব্দাবলির ব্যাখ্যা।
৩ – সুন্নাহ (سنة) একাই হলো আইন বা ধর্ম এবং এটিই শরীয়তের একমাত্র উৎস (مصدر)।
৪ – সুন্নাহ (سنة) হাদিস থেকে ভিন্ন এবং এ দু’টি একই অর্থে ব্যবহৃত হয় না।
উম্মাহর সন্তানদের মাঝে বিভ্রান্তি ও বিভ্রান্তকরণ এবং ইসলামী শরীয়তের দ্বিতীয় উৎসের (مصدر) ব্যাপারে সংশয় সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রাচ্যবিদরা যে গোলযোগের আশ্রয় নিয়েছেন, তা খণ্ডন করার জন্য এখানে সুন্নাহ (سنة) ও হাদিসের প্রকৃত স্বরূপ স্পষ্ট করা আবশ্যক।
আভিধানিক অর্থে সুন্নাহ (سنة): যেমনটি আল-কামুস আল-মুহিত গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে—তা হলো পদ্ধতি ও অভ্যাস, চাই তা ভালো হোক বা মন্দ। মহান আল্লাহর বাণীতে এই অর্থেই শব্দটি এসেছে: {আপনার পূর্বে আমি যে সকল রাসূল প্রেরণ করেছিলাম, তাদের ক্ষেত্রেও এটাই ছিল নিয়ম (سنة) এবং আপনি আমার নিয়মের (لسنتنا) কোনো পরিবর্তন পাবেন না।} [আল-ইসরা: ৭৭] ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিশরাক ওয়া মাওকিফুহু মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وجاءت في الأحاديث النبوية الشريفة، كما في قوله صلى الله عليه وسلم: "من سن في الإسلام سنة حسنة فله أجرها وأجر من عمل بها بعده، من غير أن ينقص من أجورهم شيء، ومن سنّ في الإسلام سنة سيئة كان عليه وزرها ووزر من عمل بها من بعده من غير أن ينقص من أوزارهم شيء" (1) .
أما السنة اصطلاحًا: فقد تباينت تعريفات العلماء لها حسب نوع العلم الشرعي الذي تستعمل فيه السنة:
1 – السنة عند المحدثين: ما أثر عن النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير أو صفة خلُقية أو خَلقية.
فالقول: وهو الكلام الذي نطقه النبي صلى الله عليه وسلم وتناقله الناس بعد ذلك، مثل حديث: "إنما الأعمال بالنيات" (2) .
الفعل: وهو ما كان يقوم به النبي عليه الصلاة والسلام من سلوك وتصرف وفعل، مثل كيفية صلاته، وصيامه، وحجه، مثل قوله: "صلوا كما رأيتموني أصلي" وقوله "خذوا عني مناسككم".
التقرير: وهو ما أقره النبي صلى الله عليه وسلم من أفعال الصحابة بسكوته أو بإظهار رضاه له، كإقراره عليه الصلاة والسلام لمن تيمم لعدم وجود الماء ثم وجده بعد الانتهاء من الصلاة ولم يعد صلاته.
الصفات: وهي إما خَلقية كطوله ومشيه ولونه وشعره..إلخ، أو خُلقية كالشجاعة والكرم والحلم والصفح وغيرها.
--------------------------------------------
এটি সম্মানিত নববীয় হাদিসসমূহে এসেছে, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো উত্তম পদ্ধতি (سنة حسنة) প্রবর্তন করবে, সে এর সওয়াব পাবে এবং তার পরে যারা এটি আমল করবে তাদের সওয়াবও সে পাবে, তবে তাদের সওয়াব থেকে কিছুই কমানো হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোনো মন্দ পদ্ধতি (سنة سيئة) প্রবর্তন করবে, তার ওপর সেই মন্দ কাজের গুনাহ বর্তাবে এবং তার পরে যারা এটি আমল করবে তাদের গুনাহও তার ওপর বর্তাবে, তবে তাদের গুনাহ থেকে কিছুই কমানো হবে না।" (১) .
আর পারিভাষিক (اصطلاحا) অর্থে সুন্নাহ (سنة): যে শরয়ী শাস্ত্রের অধীনে সুন্নাহ (سنة) শব্দটি ব্যবহৃত হয়, তার ধরন অনুযায়ী উলামায়ে কেরামের নিকট এর সংজ্ঞায় ভিন্নতা রয়েছে:
১ – হাদিসবিশারদদের (المحدثين) নিকট সুন্নাহ (سنة): নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বাণী (قول), কর্ম (فعل), মৌনসম্মতি (تقرير) কিংবা নৈতিক (خُلقية) বা শারীরিক (خَلقية) বৈশিষ্ট্যকে সুন্নাহ (سنة) বলা হয়।
বাণী (قول): এটি হলো সেই কথা যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উচ্চারণ করেছেন এবং পরবর্তীতে মানুষ তা বর্ণনা করেছে, যেমন হাদিস: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।" (২) .
কর্ম (فعل): এটি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আচরণ, কাজ ও পদক্ষেপসমূহ, যেমন তাঁর সালাত আদায়, রোজা পালন এবং হজের পদ্ধতি। যেমন তাঁর বাণী: "তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে সালাত আদায় করতে দেখেছ" এবং তাঁর বাণী "তোমরা আমার নিকট থেকে তোমাদের হজের নিয়মাবলি শিখে নাও।"
মৌনসম্মতি (تقرير): এটি হলো সাহাবায়ে কেরামের এমন কোনো কাজ যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নীরবতা বা সন্তুষ্টি প্রকাশের মাধ্যমে অনুমোদন দিয়েছেন। উদাহরণস্বরূপ, পানি না থাকায় তায়াম্মুম করে সালাত আদায়কারী ব্যক্তির ক্ষেত্রে তাঁর অনুমোদন; যে ব্যক্তি সালাত শেষ করার পর পানি পেয়েছিল কিন্তু পুনরায় সালাত আদায় করেনি।
বৈশিষ্ট্যসমূহ: এগুলো হয় শারীরিক (خَلقية), যেমন তাঁর উচ্চতা, হাঁটার ভঙ্গি, গায়ের রং, চুল ইত্যাদি; অথবা নৈতিক (خُلقية), যেমন বীরত্ব, উদারতা, সহনশীলতা, ক্ষমাশীলতা এবং অন্যান্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-ইস্তিশরাক ওয়া মাওকিফুহু মিনাস সুন্নাতিন নাবাবিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
2 – السنة عند علماء أصول الفقه، هي: ما نقل عن النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير، وبعضهم يضيف ما يصلح أن يكون دليلاً شرعيًا (1) .
3 – السنة عند الفقهاء: تعددت تعريفات السنة عند الفقهاء ولكن مدلول هذه التعريفات واحد، فمنها: ما يثاب على فعله ولا يعاقب على تركه، ومنها: كل ما ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم ولم يكن من باب الفرض والواجب (2) .
4 – السنة عند علماء العقيدة: هي كل ما دل الدليل الشرعي عليه سواء كان هذا الدليل من الكتاب أو الحديث أو من قواعد الشريعة. ومنه قوله عليه الصلاة والسلام: "عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين من بعدي تمسكوا بها وعضوا عليها بالنواجذ، وإياكم ومحدثات الأمور فإن كل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة".
أما تعريف الحديث: فإنه علم يعرف به أقوال رسول الله صلى الله عليه وسلم وأفعاله وأحواله. أو هو: كل ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم.
وهذا التفصيل والتوضيح كاف لأن يزيل الغمة عن أفهام بعض من قد يجد التشويش الاستشراقي إلى فكره سبيلاً، هذا التشويش الذي يقصد به إلحاق اللغط وعدم الضبط في أهم علم من علوم هذا الدين وهو علم السنة والحديث، فيسقط ادعاء هؤلاء المغرضين من أن السنة خليط من المأثور القديم، وليعلموا بعد ذلك هؤلاء القوم جهود العلماء الأفذاذ الكبيرة
--------------------------------------------
২ – উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট সুন্নাহ হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত বাণী (قول), কর্ম (فعل) বা মৌনসম্মতি (تقرير); এবং তাঁদের কেউ কেউ এমন বিষয়কেও এর সাথে যুক্ত করেন যা শরয়ি দলিল (دليل شرعي) হওয়ার উপযুক্ত (১)।
৩ – ফকিহগণের নিকট সুন্নাহ: ফকিহগণের নিকট সুন্নাহর সংজ্ঞা বহুবিধ হলেও এসব সংজ্ঞার সারমর্ম অভিন্ন। তন্মধ্যে একটি হলো: যার পালনে সওয়াব রয়েছে কিন্তু বর্জনে কোনো শাস্তি নেই। অন্যটি হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত প্রতিটি বিষয় যা ফরজ (فرض) বা ওয়াজিব (واجب)-এর অন্তর্ভুক্ত নয় (২)।
৪ – আকিদা শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট সুন্নাহ: শরয়ি দলিল (دليل شرعي) যার নির্দেশ দেয় তা-ই সুন্নাহ, চাই সেই দলিল কুরআন থেকে হোক বা হাদিস থেকে কিংবা শরীয়তের নীতিমালা থেকে। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তোমরা আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরো; তা মজবুতভাবে ধারণ করো এবং দাঁত দিয়ে কামড়ে ধরো। আর দ্বীনের নবউদ্ভাবিত বিষয়াদি সম্পর্কে সতর্ক থাকো, কারণ প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত (بدعة) এবং প্রতিটি বিদআত (بدعة) হলো পথভ্রষ্টতা (ضلالة)।"
আর হাদিসের সংজ্ঞা হলো: এটি এমন এক ইলম বা বিদ্যা যার মাধ্যমে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী (قول), কর্ম (فعل) এবং অবস্থা সম্পর্কে জানা যায়। অথবা এটি হলো: যা কিছু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে।
এই বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণ তাদের বোধগম্যতা থেকে অস্পষ্টতা দূর করার জন্য যথেষ্ট, যাদের চিন্তাধারায় প্রাচ্যবিদদের সৃষ্ট বিভ্রান্তি প্রবেশের পথ খুঁজে পেতে পারে। এই বিভ্রান্তির উদ্দেশ্য হলো এই দ্বীনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইলম তথা সুন্নাহ ও হাদিস শাস্ত্রে ভুল-ভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা আরোপ করা। এর ফলে ঐ সকল স্বার্থান্বেষী মহলের দাবি অসার প্রমাণিত হয় যে, সুন্নাহ হলো প্রাচীন ঐতিহ্যের এক সংমিশ্রণ; এবং এর মাধ্যমে যেন তারা বরেণ্য আলেমদের বিশাল ও মহান প্রচেষ্টা সম্পর্কে জানতে পারে।
--------------------------------------------