(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - বা জামআন (পৃষ্ঠা: -)
السنة النبوية ومكانتها - با جمعان   (محمد بن عبد الله باجمعان)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: السنة النبوية المصدر الثاني للتشريع الإسلامي ومكانتها من حيث الإحتجاج والعمل

المؤلف: محمد بن عبد الله باجمعان

الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة

عدد الصفحات: 59

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সুন্নাহ (السنة) এবং এর মর্যাদা - বা জুমআন   (মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বা জুমআন)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)


বই: সুন্নাহ (السنة) ইসলামি শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস এবং প্রামাণ্যতা (الاحتجاج) ও আমল (العمل) করার ক্ষেত্রে এর মর্যাদা

লেখক: মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বা জুমআন

প্রকাশক: মদিনা মুনাওয়ারায় পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য কিং ফাহাদ কমপ্লেক্স

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৯

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - বা জামআন (পৃষ্ঠা: ১)
ال‌‌مقدمة:

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وسلم وعلى آله وأصحابه أجمعين أما بعد:

فإن الله تكفل بحفظ هذا الدين كتاباً وسنةً؛ من التحريف والتبديل؛ قال سبحانه: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر:9] ، وقد أرسل الله سبحانه وتعالى رسوله محمداً صلى الله عليه وسلم إلى الناس ليبلغهم دينهم، وقد بلغ الرسول صلى الله عليه وسلم هذا الدين كاملاً غير منقوص، وَبيَّنَه للناس بقوله وفعله وتقريراته، ونفذ تعاليمه كاملة في حياته صلى الله عليه وسلم، وقام بتربية المجتمع المسلم، وبتزكيتهم كما أمره الله عز وجل، وبقيت سيرته ومنهجه بعد موته؛ لتكون نبراساً للناس يستضيئون به بعد موته إلى قيام الساعة. قال صلى الله عليه وسلم: "لا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ لا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ وَهُمْ كَذَلِكَ " (1) . ومنهجه صلى الله عليه وسلم يتمثل في كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم؛ قال صلى الله عليه وسلم: "يا أيها الناس إني قد تركت فيكم ما لن تضلوا بعده إن اعتصمتم به: كتاب الله، وأنتم مسؤولون عني فما أنتم قائلون" (2) .

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم في صحيحه 3/1523، كتاب الإمارة، بَاب قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: "لا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ لا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَالَفَهُمْ"، الحديث رقم 1920.

(2) المستدرك على الصحيحين في الحديث 1/93. والحديث في صحيح مسلم 2/886-892، في كتاب الحج، باب حجة النبي صلى الله عليه وسلم، الحديث رقم 1218.
ভূমিকা (مقدمة):

নিশ্চয় সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ পথ প্রদর্শনকারী নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল, তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীদের ওপর আল্লাহর অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:

নিশ্চয়ই আল্লাহ কিতাব ও সুন্নাহর মাধ্যমে এই দ্বীনকে বিকৃতি ও পরিবর্তন থেকে সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আমি উপদেশ (কুরআন) নাযিল করেছি এবং অবশ্যই আমি এর সংরক্ষক।} [হিজর: ৯]। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মানুষের নিকট তাদের দ্বীন পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রেরণ করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দ্বীনকে কোনো প্রকার কমতি ছাড়াই পূর্ণাঙ্গভাবে পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি তাঁর কথা, কাজ এবং মৌন সম্মতির (تقريرات) মাধ্যমে তা মানুষের নিকট স্পষ্ট করেছেন এবং তাঁর জীবনে এর শিক্ষাগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করেছেন। তিনি মুসলিম সমাজকে গড়ে তুলেছেন এবং আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী তাদের আত্মশুদ্ধি করেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর সীরাত ও আদর্শ অবশিষ্ট রয়েছে, যাতে তা কিয়ামত পর্যন্ত মানুষের জন্য আলোকবর্তিকা হয় যার মাধ্যমে তারা আলো লাভ করবে। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে, যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চায় তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসে এবং তারা এই অবস্থাতেই থাকবে।" (১)। তাঁর আদর্শ আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর মধ্যে নিহিত; তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "হে লোকসকল! আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনোই পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব। আর তোমাদেরকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে, তখন তোমরা কী বলবে?" (২)।

--------------------------------------------

(১) এটি মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন ৩/১৫২৩, কিতাবুল ইমারাহ, অনুচ্ছেদ: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে, যারা তাদের বিরোধিতা করে তারা তাদের ক্ষতি করতে পারবে না", হাদিস নং ১৯২০।

(২) আল-মুস্তাদরাক আলাস সহীহাইন, হাদিস ১/৯৩। হাদিসটি সহীহ মুসলিমেও রয়েছে ২/৮৮৬-৮৯২, কিতাবুল হজ, অনুচ্ছেদ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হজ, হাদিস নং ১২১৮।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - বা জামআন (পৃষ্ঠা: ২)
لذلك كانت السنة مكملة للقرآن ومفسرة له؛ وهي بهذا المعنى المصدر الثاني للتشريع الإسلامي، ولكنها من حيث الاحتجاج والعمل بها فهي مثل القرآن الكريم، كما سنرى في هذا البحث.

وقد قسمت هذا البحث إلى تمهيد، وثلاثة فصول، وخاتمة؛ كما يلي:

تمهيد: في التعريف بمعاني السنة حسب اللغة والاصطلاح، وما تطلق عليه من المعاني.

المبحث الأول: تعريف السنة في اللغة، وبيان المعاني التي تطلق عليها. وفيه مطلبان هما:

المطلب الأول: تعريف السنة في اللغة.

المطلب الثاني: بيان المعاني التي يطلق عليها لفظ السنة.

المبحث الثاني: تعريف السنة في الاصطلاح. وفيه ثلاثة مطالب هي:

المطلب الأول: السبب في الاختلاف في تعريف السنة في الاصطلاح.

المطلب الثاني: تعريف السنة في الاصطلاح.

المطلب الثالث: مفهوم السنة في القرون الأولى.

الفصل الأول: مصادر التشريع الإسلامي: في مبحثين هما:

المبحث الأول: المصادر الأساسية للتشريع الإسلامي: وبه مطلبان هما:

المطلب الأول: المصدر الأول: القرآن الكريم.

المطلب الثاني: المصدر الثاني: السنة النبوية.

المبحث الثاني: المصادر الفرعية للتشريع الإسلامي: وبه مطلبان هما:

المطلب الأول: المصدر الأول: الإجماع.

المطلب الثاني: المصدر الثاني: القياس.
অতএব সুন্নাহ হলো কুরআনের পরিপূরক এবং এর ব্যাখ্যাকারী; এই অর্থে এটি ইসলামি শরীয়তের দ্বিতীয় উৎস। তবে দলীল হিসেবে গ্রহণ (الاحتجاج) এবং এর ওপর আমল করার ক্ষেত্রে এটি পবিত্র কুরআনের মতোই, যেমনটি আমরা এই গবেষণায় দেখতে পাব।

আমি এই গবেষণাকে একটি ভূমিকা, তিনটি পরিচ্ছেদ এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি; যা নিম্নরূপ:

ভূমিকা: আভিধানিক ও পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে সুন্নাহর পরিচিতি এবং এর দ্বারা নির্দেশিত অর্থসমূহ।

প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক অর্থে সুন্নাহর সংজ্ঞা এবং এর দ্বারা প্রচলিত অর্থসমূহের বর্ণনা। এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: আভিধানিক অর্থে সুন্নাহর সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সুন্নাহ শব্দের মাধ্যমে যে অর্থগুলো ব্যক্ত করা হয় তার বর্ণনা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে সুন্নাহর সংজ্ঞা। এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: পারিভাষিক (اصطلاح) সংজ্ঞায় মতভেদের কারণ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পারিভাষিক (اصطلاح) অর্থে সুন্নাহর সংজ্ঞা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: প্রাথমিক শতাব্দীগুলোতে সুন্নাহর ধারণা।

প্রথম অধ্যায়: ইসলামি শরীয়তের উৎসসমূহ: দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইসলামি শরীয়তের মৌলিক উৎসসমূহ: এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: প্রথম উৎস: পবিত্র কুরআন।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: দ্বিতীয় উৎস: সুন্নাহ নববী।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইসলামি শরীয়তের আনুষঙ্গিক উৎসসমূহ: এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: প্রথম উৎস: ইজমা (الإجماع)।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: দ্বিতীয় উৎস: কিয়াস (القياس)।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - বা জামআন (পৃষ্ঠা: ৩)
الفصل الثاني: مرتبة السنة النبوية في التشريع الإسلامي: في تمهيد ومبحثين.

تمهيد

المبحث الأول: السنة بيان للقرآن الكريم، ووحي نزل بها جبريل عليه السلام على الرسول صلى الله عليه وسلم وفيه مطلبان:

المطلب الأول: السنة بيان للقرآن الكريم.

المطلب الثاني: السنة وحي نزل بها جبريل عليه السلام على الرسول صلى الله عليه وسلم.

المبحث الثاني: مكانة السنة من القرآن. وفيه مطلبان هما:

المطلب الأول: مكانة السنة من القرآن من حيث الاحتجاجُ بها، وتكفُّلُ الله بحفظها.

المطلب الثاني: مكانة السنة من القرآن من حيث ثبوتها واعتبارها المصدر الثاني.

الفصل الثالث: مكانة السنة النبوية في التشريع الإسلامي من حيث الاحتجاج والعمل: في مبحثين، لكل مبحث مطلبان.

المبحث الأول: مكانة السنة النبوية في التشريع الإسلامي من حيث الاحتجاج بها.

المطلب الأول: معنى حجية السنة ودليل ذلك.

المطلب الثاني: حجية السنة عند علماء المسلمين، والأدلة على ذلك.

المبحث الثاني: مكانة السنة النبوية في التشريع الإسلامي من حيث وجوب العمل بها، وفيه مطلبان:
দ্বিতীয় অধ্যায়: ইসলামি শরিয়তে সুন্নাহর মর্যাদা: একটি ভূমিকা ও দুটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত।

ভূমিকা

প্রথম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ হলো পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা এবং ওহি (وحي) যা জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট নিয়ে অবতরণ করেছেন। এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: সুন্নাহ পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সুন্নাহ হলো ওহি (وحي) যা জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট নিয়ে অবতরণ করেছেন।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনের সাপেক্ষে সুন্নাহর অবস্থান। এতে দুটি অনুচ্ছেদ হলো:

প্রথম অনুচ্ছেদ: দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্যতার (الاحتجاج) দিক থেকে এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তা সংরক্ষণের জিম্মাদারির পরিপ্রেক্ষিতে কুরআনের সাপেক্ষে সুন্নাহর অবস্থান।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: সুন্নাহর নির্ভরযোগ্যতা (ثبوت) এবং একে দ্বিতীয় উৎস হিসেবে গণ্য করার দিক থেকে কুরআনের সাপেক্ষে এর অবস্থান।

তৃতীয় অধ্যায়: দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা (الاحتجاج) এবং আমল করার দিক থেকে ইসলামি শরিয়তে সুন্নাহর মর্যাদা: দুটি পরিচ্ছেদ সম্বলিত, যার প্রতিটি পরিচ্ছেদে দুটি করে অনুচ্ছেদ রয়েছে।

প্রথম পরিচ্ছেদ: দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্যতার (الاحتجاج) দিক থেকে ইসলামি শরিয়তে সুন্নাহর মর্যাদা।

প্রথম অনুচ্ছেদ: সুন্নাহর প্রামাণিকতার (حجية) অর্থ এবং এর স্বপক্ষে দলিল।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মুসলিম স্কলারদের নিকট সুন্নাহর প্রামাণিকতা (حجية) এবং এর স্বপক্ষে দলিলসমূহ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আমল করার আবশ্যকতা (وجوب)-এর দিক থেকে ইসলামি শরিয়তে সুন্নাহর মর্যাদা। এতে দুটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - বা জামআন (পৃষ্ঠা: ৪)
المطلب الأول: السنة كالقرآن من حيث وجوب العمل بها.

المطلب الثاني: الأدلة على وجوب العمل بالسنة.

الخاتمة: وأذكر فيها – بإذن الله عز وجل – أهم النتائج التي توصلت إليها، وأهم التوصيات والمقترحات التي تثري هذا الموضوع في شريعتنا الغراء.
প্রথম পরিচ্ছেদ: আমল করার আবশ্যকতা (وجوب العمل) হওয়ার দিক থেকে সুন্নাহ (السنة) কুরআনের সমতুল্য।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ (السنة) অনুযায়ী আমল করার আবশ্যকতা (وجوب العمل)-এর সপক্ষে দলীলসমূহ।

উপসংহার: এতে আমি—আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার অনুমতিক্রমে—আমার উপনীত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ এবং আমাদের এই সমুজ্জ্বল শরীয়তের এই বিষয়টিকে সমৃদ্ধ করে এমন গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ ও প্রস্তাবনাসমূহ উল্লেখ করব।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - বা জামআন (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌تمهيد في التعريف بمعاني السنة حسب اللغة والاصطلاح، وما تطلق عليه من المعاني

‌‌مدخل

…

تمهيد في التعريف بمعاني السنة حسب اللغة والاصطلاح، وما تطلق عليه من المعاني:

الحمد لله رب العالمين، الذي أنزل هذا الدين، وحفظه من التحريف والتبديل، حيث قال سبحانه: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر:9] ، والصلاة والسلام على سيدنا ونبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيراً.

أما بعد: فإن السنة لها مكانة عظيمة في هذا الدين، فإنها المفسرة للقرآن الكريم، والمبينة له. وهي وحي من الله عز وجل؛ كما قال الرسول صلى الله عليه وسلم: "ألا إني أوتيت القرآن ومثله معه" 1.

سأتحدث في هذه المقدمة عن تعريف السنة لغة وشرعاً، وذكر معانيها التي تطلق عليها، وأهميتها في معرفة الشريعة الإسلامية من خلال فروعها القولية والفعلية والتقريرية، التي تتمثل في حياة النبي صلى الله عليه وسلم في سيرته وعبادته وتشريعاته ومنهجه في حياته كلها.

--------------------------------------------

(1) رواه الإمام أحمد في مسنده، 28/410-411، برقم 17174، ورواه أبو داود في سننه، 5/10-12، كتاب السنة، بَاب فِي لُزُومِ السُّنَّةِ، الحديث رقم 4604.
ভাষাতাত্ত্বিক ও পারিভাষিক (اصطلاح) দৃষ্টিকোণ থেকে সুন্নাহর অর্থসমূহের পরিচিতি এবং এর প্রয়োগিক বিবিধ অর্থ বিষয়ক উপক্রমণিকা

ভূমিকা

…

ভাষাতাত্ত্বিক ও পারিভাষিক (اصطلاح) দৃষ্টিকোণ থেকে সুন্নাহর অর্থসমূহের পরিচিতি এবং এর প্রয়োগিক বিবিধ অর্থ বিষয়ক উপক্রমণিকা:

যাবতীয় প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি এই দ্বীন অবতীর্ণ করেছেন এবং একে বিকৃতি ও পরিবর্তন থেকে রক্ষা করেছেন। যেমনটি মহান আল্লাহ ইরশাদ করেছেন: {নিশ্চয় আমিই এই যিকির অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী} [হিজর: ৯]। এবং আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর অজস্র সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

অতঃপর: এই দ্বীনে সুন্নাহর গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা এটি পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা প্রদানকারী ও বিশদ বর্ণনাকারী। আর এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত প্রত্যাদেশ (وحي); যেমনটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: "জেনে রেখো, আমাকে কুরআন এবং এর সাথে অনুরূপ আরেকটি বস্তু প্রদান করা হয়েছে।" ১।

আমি এই ভূমিকায় সুন্নাহর ভাষাগত (لغة) ও শরয়ী (شرعاً) সংজ্ঞা সম্পর্কে আলোচনা করব এবং এর প্রয়োগিক বিবিধ অর্থসমূহ উল্লেখ করব। সেইসাথে এর মৌখিক (قولية), ব্যবহারিক (فعلية) এবং মৌন সম্মতিমূলক (تقريرية) প্রকারভেদের মাধ্যমে ইসলামী শরীয়াহ অনুধাবনের ক্ষেত্রে সুন্নাহর গুরুত্ব তুলে ধরব, যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সীরাত, ইবাদত, বিধি-বিধান এবং তাঁর সমগ্র জীবনপদ্ধতির মাঝে প্রতিফলিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) ইমাম আহমাদ এটি তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন, ২৮/৪১০-৪১১, হাদিস নং ১৭১৭৪; এবং আবু দাউদ এটি তাঁর সুনানে বর্ণনা করেছেন, ৫/১০-১২, কিতাবুস সুন্নাহ, সুন্নাহর আবশ্যকতা পরিচ্ছেদ, হাদিস নং ৪৬০৪।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - বা জামআন (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌المبحث الأول: تعريف السنة في اللغة، وبيان المعاني التي تطلق عليها:

‌‌المطلب الأول: تعريف السنة في اللغة:

هي السيرة والطريقة. قال ابن منظور: "السنة: السيرة حسنة كانت أو قبيحة.

وقد استعملت السنة في القرآن الكريم بمعنى الطريقة. قال الراغب الأصفهاني: "وسنة النبي طريقته التي كان يتحراها، وسنة الله -تعالى- قد تقال لطريقة حكمته، وطريقة طاعته. نحو: {سُنَّةَ اللَّهِ الَّتِي قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلُ وَلَنْ تَجِدَ لِسُنَّةِ اللَّهِ تَبْدِيلاً} [الفتح:23] ، {فَلَنْ تَجِدَ لِسُنَّتِ اللَّهِ تَبْدِيلاً وَلَنْ تَجِدَ لِسُنَّتِ اللَّهِ تَحْوِيلاً} [فاطر:43] . فنبه على فروع الشرائع وإن اختلفت صورها، فالغرض المقصود منها لا يختلف ولا يتبدل؛ وهو تطهير النفس وإعدادها لتنال ثواب الله تعالى وجواره" (1) .

وتطلق السنة في اللغة على معان أخرى كثيرة (2) .

--------------------------------------------

(1) المفردات في غريب القرآن ص 250.

(2) منها: الدوام، والمثال المتبع، والإمام المؤتم به، كما تطلق على الطبيعة، والوجه، وعلى الخط الأسود على متن الحمار، وعلى تمر بالمدينة معروف. نقل ذلك كله الدكتور عبد الغني عبد الخالق، في كتابه "حجية السنة" ص 47-48.
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক অর্থে সুন্নাহর (السنة) সংজ্ঞা এবং এর বিভিন্ন ব্যবহারের বর্ণনা:

‌‌প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: আভিধানিক অর্থে সুন্নাহর (السنة) সংজ্ঞা:

এটি হলো জীবনপদ্ধতি (السيرة) এবং পথ (الطريقة)। ইবনে মানযুর বলেছেন: "সুন্নাহ (السنة): জীবনপদ্ধতি (السيرة), তা ভালো হোক বা মন্দ।"

পবিত্র কুরআনে সুন্নাহ (السنة) শব্দটি পথ (الطريقة) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। রাغب আল-ইসফাহানী বলেছেন: "নবীর সুন্নাহ (سنة) হলো তাঁর সেই পদ্ধতি যা তিনি অনুসরণ করতেন। আর মহান আল্লাহর সুন্নাহ (سنة) কখনো তাঁর প্রজ্ঞার পদ্ধতি এবং কখনো তাঁর আনুগত্যের পদ্ধতিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। যেমন: {আল্লাহর সেই নীতি (سنة) যা পূর্ব থেকেই চলে আসছে। আপনি আল্লাহর নীতিতে (لسنة) কোনো পরিবর্তন পাবেন না} [আল-ফাতহ: ২৩], {আপনি আল্লাহর নীতিতে (لسنة) কোনো পরিবর্তন পাবেন না এবং আল্লাহর নীতিতে (لسنة) কোনো বিচ্যুতিও পাবেন না} [ফাতির: ৪৩]। এখানে তিনি শরীয়তের শাখা-প্রশাখাগুলোর প্রতি নির্দেশ করেছেন যে, সেগুলোর বাহ্যিক রূপ ভিন্ন হলেও এগুলোর মূল উদ্দেশ্য অভিন্ন ও অপরিবর্তনীয়; আর তা হলো আত্মশুদ্ধি এবং মহান আল্লাহর সওয়াব ও নৈকট্য লাভের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা।" (১) ।

আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে সুন্নাহ (السنة) আরও অনেক অর্থে ব্যবহৃত হয় (২) ।

--------------------------------------------

(১) আল-মুফরাদাত ফি গারিবিল কুরআন, পৃষ্ঠা ২৫০।

(২) সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: স্থায়িত্ব, অনুসরণীয় আদর্শ এবং যে ইমামকে অনুসরণ করা হয়। এছাড়াও এটি প্রকৃতি, চেহারা, গাধার পিঠের কালো রেখা এবং মদিনার একটি পরিচিত খেজুর অর্থেও ব্যবহৃত হয়। এই সমস্ত অর্থ ডক্টর আব্দুল গণি আব্দুল খালিক তাঁর 'হুজজিয়াতুস সুন্নাহ' গ্রন্থের ৪৭-৪৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - বা জামআন (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌المطلب الثاني: بيان المعاني التي تطلق عليها السنة:

ذكر الشاطبي إطلاقات السنة في الشرع فقال:

"1- يطلق لفظ (السنة) على ما جاء منقولاً عن النبي صلى الله عليه وسلم على الخصوص، مما لم ينص عليه في الكتاب العزيز، بل إنما نص عليه من جهته عليه الصلاة والسلام، كان بياناً للكتاب أو لا.

2-ويطلق أيضاً في مقابلة البدع، فيقال: (فلان على سنة) إذا عمل على وفق ما عمل عليه النبي صلى الله عليه وسلم، كان ذلك مما نص عليه في الكتاب أو لا، ويقال: (فلان على بدعة) ، إذا عمل على خلاف ذلك.

3- ويطلق أيضاً لفظ السنة على ما عمل عليه الصحابة، وجد ذلك في الكتاب أو السنة أو لم يوجد؛ لكونه اتباعاً لسنة ثبتت عندهم لم تنقل إلينا، أو اجتهاداً مجتمعاً عليه منهم أو من خلفائهم، فإن إجماعهم إجماع، وعمل خلفائهم راجع أيضاً إلى حقيقة الإجماع، من جهة حمل الناس عليه حسبما اقتضاه النظر المصلحي عنهم. فيدخل تحت هذا الإطلاق المصالح المرسلة والاستحسان؛ كما فعلوا في حد الخمر، وتضمين الصُّنَّاع، وجمع المصحف … ويدل على هذا الإطلاق قوله (1) عليه الصلاة والسلام: "فَعَلَيْكُمْ بِسُنَّتِي وَسُنَّةِ الْخُلَفَاءِ الرَّاشِدِينَ الْمَهْدِيِّينَ" (2) .

--------------------------------------------

(1) رواه أبو داود في سننه 5/13-14، في كتاب السنة، باب لزوم السنة، الحديث رقم 4607، وسنن ابن ماجه 1/15-16، في المقدمة، باب اتباع سنة الخلفاء الراشدين المهديين، الحديث رقم الحديث 42.

وهو صحيح، انظر: صحيح سنن أبي داود للشيخ الألباني (3/118-119) برقم 4607، وصحيح ابن ماجه برقم 42.

(2) الموافقات 4/3-7.
‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ যে সকল অর্থে ব্যবহৃত হয় তার বর্ণনা:

ইমাম শাতবী শরিয়তে সুন্নাহর প্রয়োগসমূহ উল্লেখ করে বলেন:

"১- ‘সুন্নাহ’ শব্দটি বিশেষভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হয়, যা মহান গ্রন্থে (আল-কুরআন) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি, বরং কেবল তাঁর পক্ষ থেকেই বর্ণিত হয়েছে; চাই তা আল-কুরআনের ব্যাখ্যা হোক বা না হোক।

২-এটি বিদআতের বিপরীতেও ব্যবহৃত হয়। তাই বলা হয়: ‘অমুক ব্যক্তি সুন্নাহর ওপর রয়েছেন’, যখন তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যা করেছেন সে অনুযায়ী আমল করেন; চাই তা আল-কুরআনে স্পষ্টভাবে বর্ণিত থাক বা না থাক। আর বলা হয়: ‘অমুক ব্যক্তি বিদআতের ওপর রয়েছেন’, যখন তিনি এর বিপরীতে আমল করেন।

৩- সুন্নাহ শব্দটি সাহাবীগণের আমলের ওপরও প্রয়োগ করা হয়, চাই তা আল-কুরআন বা সুন্নাহতে পাওয়া যাক অথবা না যাক। এর কারণ হলো, তা হয়তো তাঁদের নিকট প্রমাণিত এমন কোনো সুন্নাহর অনুসরণ যা আমাদের নিকট বর্ণিত হয়নি, অথবা তা তাঁদের সকলের কিংবা তাঁদের উত্তরসূরি খলিফাগণের পক্ষ থেকে করা একটি সম্মিলিত ইজতিহাদ (اجتهاد)। কেননা তাঁদের ঐক্যবদ্ধ হওয়া হলো ইজমা (إجماع), আর তাঁদের খলিফাগণের আমলও প্রকৃত ইজমার (إجماع) দিকেই প্রত্যাবর্তন করে; কারণ তাঁরা জনস্বার্থের নিরিখে যা আবশ্যক মনে করেছেন সে অনুযায়ী মানুষকে তার ওপর পরিচালিত করেছেন। সুতরাং এই প্রয়োগের অধীনে জনস্বার্থ (المصالح المرسلة) এবং ইসতিহসান (الاستحسان) অন্তর্ভুক্ত হবে; যেমনটি তাঁরা মদ্যপানের দণ্ডবিধি নির্ধারণ, কারিগরদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিতকরণ এবং মাসহাফ সংকলনের ক্ষেত্রে করেছিলেন... এবং এই ব্যবহারের ওপর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণীটি (১) প্রমাণ পেশ করে: “তোমরা আমার সুন্নাহ এবং আমার পরবর্তী সুপথপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবে” (২)।

--------------------------------------------

(১) আবু দাউদ তাঁর সুনান গ্রন্থে ৫/১৩-১৪ পৃষ্ঠায়, কিতাবু সুন্নাহ-র ‘সুন্নাহর আবশ্যকতা’ পরিচ্ছেদে ৪৬০৭ নম্বর হাদিসে এটি বর্ণনা করেছেন এবং সুনানে ইবনে মাজাহ ১/১৫-১৬ পৃষ্ঠায়, মুকাদ্দিমা অংশের ‘সুপথপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহ অনুসরণ’ পরিচ্ছেদে ৪২ নম্বর হাদিসে এটি বর্ণনা করেছেন।

হাদিসটি সহিহ (صحيح); দেখুন: শায়খ আলবানীর সহিহ সুনানে আবু দাউদ (৩/১১৮-১১৯), হাদিস নম্বর ৪৬০৭ এবং সহিহ ইবনে মাজাহ, হাদিস নম্বর ৪২।

(২) আল-মুওয়াফাকাত ৪/৩-৭।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - বা জামআন (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌المبحث الثاني: تعريف السنة في الاصطلاح:

‌‌المطلب الأول: تعريف السنة في الاصطلاح:

عرفها علماء الحديث: بأنها "كل ما أثر عن النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير، أو صفة خَلْقية أو خُلُقية أو سيرة، سواء أكان ذلك قبل البعثة

-كتحنثه في غار حراء- أم بعدها، والسنة بهذا مرادفة للحديث النبوي" (1) .

هل يختلف مفهوم السنة عن مفهوم الحديث؟

لقد سبق بيان تعريف السنة فيما سبق، وسأتحدث الآن عن تعريف الحديث؛ ليتضح مدى اتفاقهما أو اختلافهما في المعنى.

الحديث يطلق في اللغة على الجديد ضد القديم، كما يطلق على الخبر والقصص. قال في القاموس المحيط: "والحديث: الجديد والخبر" (2) .

وتخصيص الحديث بما قاله الرسول صلى الله عليه وسلم، قد بدأ في حياته صلى الله عليه وسلم، فعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه أَنَّهُ قَالَ: قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَنْ أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِكَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ فَقَالَ: "لَقَدْ ظَنَنْتُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أَلَاّ يَسْأَلَنِي عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ أَحَدٌ أَوَّلَ مِنْكَ لِمَا رَأَيْتُ مِنْ حِرْصِكَ عَلَى الْحَدِيثِ. أَسْعَدُ النَّاسِ بِشَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ مَنْ قَالَ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ خَالِصًا مِنْ قِبَلِ نَفْسِهِ" (3) .

--------------------------------------------

(1) أصول الحديث علومه ومصطلحه ص 19، وانظر كتاب الحديث والمحدثون أو عناية الأمة الإسلامية بالسنة النبوية لمحمد أبو زهو، ص 10.

(2) انظر القاموس المحيط مادة "حدث". (1/170) .

(3) صحيح البخاري مع فتح الباري 11/418، كتاب الرقاق، باب صفة الجنة والنار، الحديث رقم 6570.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পরিভাষায় সুন্নাহ-এর সংজ্ঞা:

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: পরিভাষায় সুন্নাহ-এর সংজ্ঞা:

হাদিস বিশারদগণ সুন্নাহ-এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত (أثر) প্রতিটি কথা, কাজ, মৌন সম্মতি (تقرير), অথবা শারীরিক বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য কিংবা জীবনী (سيرة); তা নবুয়ত প্রাপ্তির (بعثة) আগের হোক -যেমন হেরা গুহায় তাঁর নিভৃত ইবাদত করা- কিংবা পরের হোক। আর এই অর্থে সুন্নাহ হলো নববী হাদিসের সমার্থক।" (১)।

সুন্নাহ-এর ধারণা কি হাদিসের ধারণা থেকে ভিন্ন?

ইতিপূর্বে সুন্নাহ-এর সংজ্ঞা বর্ণনা করা হয়েছে, এখন আমি হাদিসের সংজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করব; যাতে অর্থের দিক থেকে এই দুইয়ের সামঞ্জস্য বা পার্থক্যের বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

আভিধানিক অর্থে 'হাদিস' শব্দটি পুরাতনের বিপরীত 'নতুন' অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন এটি সংবাদ (الخبر) ও গল্পের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়। আল-কামুস আল-মুহিত গ্রন্থে বলা হয়েছে: "হাদিস: নতুন এবং সংবাদ (الخبر)" (২)।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন তার জন্য 'হাদিস' শব্দটিকে নির্দিষ্ট করার বিষয়টি তাঁর জীবদ্দশাতেই শুরু হয়েছিল। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যে তিনি বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামতের দিন আপনার সুপারিশ (شفاعة) লাভের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি সৌভাগ্যবান কে হবে? তিনি বললেন: "হে আবু হুরায়রা! আমি ধারণা করেছিলাম যে, তোমার আগে আর কেউ আমাকে এই হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবে না; কারণ হাদিসের প্রতি তোমার প্রবল আগ্রহ আমি দেখেছি। কিয়ামতের দিন আমার সুপারিশ (شفاعة) লাভের মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি সৌভাগ্যবান হবে সেই ব্যক্তি, যে নিজের অন্তরের অন্তস্তল থেকে একনিষ্ঠভাবে বলবে 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই'।" (৩)।

--------------------------------------------

(১) উসুলুল হাদিস উলুমুহু ওয়া মুসতালাহুহু, পৃ. ১৯; আরও দেখুন মুহাম্মদ আবু জাহউ রচিত কিতাবুল হাদিস ওয়াল মুহাদ্দিসুন অথবা ইনায়াতুল উম্মাহ আল-ইসলামিয়্যাহ বিস-সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ, পৃ. ১০।

(২) দেখুন আল-কামুস আল-মুহিত, মূলশব্দ: "হাদাথা" (حدث)। (১/১৭০)।

(৩) ফাতহুল বারীসহ সহীহ বুখারী ১১/৪১৮, কিতাবুর রিকাক, জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা অধ্যায়, হাদিস নং ৬৫৭০।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - বা জামআন (পৃষ্ঠা: ৯)
ثم بعد وفاة الرسول صلى الله عليه وسلم، اتسع هذا المصطلح حتى أصبح بعد ظهور علم مصطلح الحديث، يطلق معنى الحديث على: "ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم قولاً أو فعلاً أو تقريراً أو صفةً" (1) .

بعد عرض تعريف السنة والحديث، اتضح أنه لا فرق بينهما في التعريف الشرعي؛ وقد بَيَّنَ شيخ الإسلام ابن تيمية هذا الأمر فقال: " الحديث النبوي عند الإطلاق ينصرف إلى ما حدث به بعد النبوة: من قوله وفعله وإقراره". ثم قال: "فإن سنته ثبتت من هذه الوجوه الثلاثة" (2) .

ثم أضاف شيخ الإسلام ابن تيمية أنه يدخل في تعريف السنة ما يتعلق بسيرته وحسن أخلاقه؛ فقال - بعد أن تحدث عن بعض أفعاله وتقريراته -: "فهذا كله يدخل في مسمى الحديث، وقد يدخل فيها بعض أخباره قبل النبوة، وبعض سيرته قبل النبوة، مثل: تحنثه بغار حراء. ومثل حسن سيرته، كقول خديجة له:" كلا والله لا يخزيك الله أبداً، إنك لتصل الرحم، وتحمل الكل، وتقري الضيف، وتكسب المعدوم، وتعين على نوائب الحق … " (3) .

أما تعريف السنة عند علماء الأصول: فقد عَرَّفها الآمدي بأنها: "تطلق على ما صدر عن الرسول صلى الله عليه وسلم من الأدلة الشرعية مما ليس بمتلوٍ، ولا هو معجز، ولا داخل في المعجز" (4) . كما عَرَّفها غيره بأنها: "كل ما صدر عن

--------------------------------------------

(1) قواعد التحديث من فنون مصطلح الحديث ص 61.

(2) مجموع فتاوى شيخ الإسلام أحمد بن تيمية 18/6-7.

(3) مجموع فتاوى شيخ الإسلام أحمد بن تيمية 18/10.

(4) الإحكام في أصول الأحكام للآمدي 1/156.
এরপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর এই পরিভাষাটির পরিধি আরও বিস্তৃত হয়, এমনকি হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (مصطلح الحديث) বিজ্ঞানের আবির্ভাবের পর হাদিস শব্দটি এই অর্থে ব্যবহৃত হতে শুরু করে: "যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা, কাজ, মৌনসম্মতি (تقرير) কিংবা গুণাবলির (صفة) সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে" (১)।

সুন্নাহ ও হাদিসের সংজ্ঞা উপস্থাপনের পর এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, শরয়ী সংজ্ঞার ক্ষেত্রে উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেছেন: "সাধারণভাবে নববী হাদিস বলতে নবুওয়াত পরবর্তী সময়ে তাঁর কথা, কাজ ও মৌনসম্মতি (إقرار) থেকে বর্ণিত বিষয়াদিকেই বোঝায়।" এরপর তিনি বলেন: "কেননা তাঁর সুন্নাহ এই তিনটি বিষয়ের মাধ্যমেই প্রমাণিত" (২) ।

অতঃপর শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ আরও যোগ করেন যে, সুন্নাহর সংজ্ঞার মধ্যে তাঁর সীরাত ও উন্নত চরিত্র সংক্রান্ত বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত। তিনি তাঁর কিছু কাজ ও মৌনসম্মতি (تقريرات) সম্পর্কে আলোচনার পর বলেন: "এসবই হাদিস নামকরণের অন্তর্ভুক্ত। এমনকি এতে নবুওয়াত পূর্বকালীন তাঁর কিছু সংবাদ ও সীরাতও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে; যেমন: হেরা গুহায় তাঁর ইবাদতে মগ্ন থাকা এবং তাঁর উন্নত সীরাত বা চরিত্র, যেমন খাদিজা (রা.) তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন: "কখনো নয়! আল্লাহর কসম, আল্লাহ আপনাকে কখনোই অপমানিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেন, অক্ষমদের বোঝা বহন করেন, মেহমানদারি করেন, নিঃস্বদের জন্য উপার্জনের ব্যবস্থা করেন এবং সত্যের পথে আগত বিপদে সাহায্য করেন … " (৩) ।

পক্ষান্তরে উসুল শাস্ত্রবিদগণের (علماء الأصول) নিকট সুন্নাহর সংজ্ঞা প্রসঙ্গে আল-আমিদী বলেন: "সুন্নাহ বলতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রাপ্ত সেই সকল শরয়ী দলিলকে (الأدلة الشرعية) বোঝায় যা পঠিত (متلو) নয়, মুজিজা নয় এবং মুজিজার অন্তর্ভুক্তও নয়" (৪) । অন্যদের সংজ্ঞামতে এটি হলো: "এমন সব কিছু যা...

--------------------------------------------

(১) কাওয়ায়েদুত তাহদিস মিন ফুনুনি মুসতালাহিল হাদিস, পৃ. ৬১।

(২) মাজমুউ ফাতাওয়া শায়খুল ইসলাম আহমদ ইবনে তাইমিয়্যাহ ১৮/৬-৭।

(৩) মাজমুউ ফাতাওয়া শায়খুল ইসলাম আহমদ ইবনে তাইমিয়্যাহ ১৮/১০।

(৪) আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম লিল আমিদী ১/১৫৬।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - বা জামআন (পৃষ্ঠা: ১০)
النبي صلى الله عليه وسلم، غير القرآن الكريم، من قول، أو فعل، أو تقرير (1) ، مما يصلح أن يكون دليلاً لحكم شرعي" (2) .

والسنة في اصطلاح الفقهاء: "هي كل ما ثبت عن النبي صلى الله عليه وسلم، ولم يكن من باب الفرض ولا الواجب" (3) .

--------------------------------------------

(1) انظر إرشاد الفحول ص 33؛ حيث قال في تعريف السنة شرعاً: "قول النبي صلى الله عليه وسلم وفعله وتقريره".

(2) أصول الحديث علومه ومصطلحه ص 19.

(3) أصول الحديث علومه ومصطلحه ص 19.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে পবিত্র কুরআন ব্যতীত বর্ণিত কথা (قول), কাজ (فعل) অথবা মৌনসম্মতি (تقرير) (১), যা কোনো শরয়ী বিধানের দলিল হওয়ার যোগ্য।" (২)।

এবং ফকিহগণের পরিভাষায় সুন্নাহ হলো: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা কিছু প্রমাণিত হয়েছে এবং যা ফরজ (فرض) কিংবা ওয়াজিব (واجب)-এর অন্তর্ভুক্ত নয়" (৩)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইরশাদুল ফুহুল, পৃষ্ঠা ৩৩; যেখানে তিনি শরয়ী পরিভাষায় সুন্নাহর সংজ্ঞায় বলেছেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কথা (قول), কাজ (فعل) এবং মৌনসম্মতি (تقرير)"।

(২) উসুলুল হাদিস উলুমুহু ওয়া মুসতালাহুহু, পৃষ্ঠা ১৯।

(৩) উসুলুল হাদিস উলুমুহু ওয়া মুসতালাহুহু, পৃষ্ঠা ১৯।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - বা জামআন (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌المطلب الثاني: مفهوم السنة في القرون الأولى:

ولكن السنة مرت في مفهومها في القرون الأولى بمراحل:

أولاً: إطلاقها على الشريعة كلها

حيث إن الشريعة كلها هي طريقة الرسول صلى الله عليه وسلم، كما ورد هذا المعنى في القرآن الكريم، قال تعالى: {يُرِيدُ اللَّهُ لِيُبَيِّنَ لَكُمْ وَيَهْدِيَكُمْ سُنَنَ الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ وَيَتُوبَ عَلَيْكُمْ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ} [النساء:26] ، قال ابن كثير في تفسير هذه الآية: "يعني طرائقهم الحميدة واتباع شرائعه التي يحبها ويرضاها" (4) .

ثانياً: إطلاقها على العقيدة عند أهل السنة والجماعة

بعد ظهور الفرق المبتدعة، أُلِّفت الكتب باسم السنة لبيان منهج العقيدة

--------------------------------------------

(4) تفسير ابن كثير 2/233.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: প্রথম শতাব্দীগুলোতে সুন্নাহর ধারণা:

তবে প্রথম শতাব্দীগুলোতে সুন্নাহর ধারণাগত অর্থ বিভিন্ন স্তরের মধ্য দিয়ে অতিক্রান্ত হয়েছে:

প্রথমত: সমগ্র শরীয়তের ওপর এর প্রয়োগ

যেহেতু সমগ্র শরীয়ত হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পদ্ধতি, যেমনটি পবিত্র কুরআনে এই অর্থ বর্ণিত হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ চান তোমাদের নিকট বিষয়গুলো পরিষ্কার করতে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদের রীতিনীতি বা সুন্নাহ (سنن) প্রদর্শন করতে এবং তোমাদের ক্ষমা করতে; আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়} [নিসা: ২৬]। এই আয়াতের তাফসিরে ইবনে কাসির বলেছেন: "অর্থাৎ তাদের প্রশংসনীয় রীতিনীতি এবং তাঁর প্রবর্তিত বিধানাবলির অনুসরণ, যা তিনি পছন্দ করেন ও যার ওপর তিনি সন্তুষ্ট হন" (৪) ।

দ্বিতীয়ত: আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের নিকট আকীদা বা বিশ্বাসের ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ

বিদআতি (مبتدعة) দলগুলোর আবির্ভাবের পর, আকীদার মানহাজ বা পদ্ধতি (منهج) বর্ণনার উদ্দেশ্যে 'সুন্নাহ' নামে বহু গ্রন্থ রচিত হয়েছে

--------------------------------------------

(৪) তাফসিরে ইবনে কাসির ২/২৩৩।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - বা জামআন (পৃষ্ঠা: ১১)
الذي يميز ما كان عليه الرسول صلى الله عليه وسلم وأصحابه عن غيرهم، ولهذا أطلق عليهم اسم أهل السنة والجماعة. وقد أُلِّفت الكتب باسم السنة لبيان أصول الدين ومسائل الاعتقاد، وساد هذا الاصطلاح في القرن الثالث الهجري. ومن الكتب التي أُلِّفت في ذلك: السنة للإمام أحمد، وصريح السنة لأبي جعفر محمد بن جرير الطبري، والسنة لابن أبي عاصم الضحاك، وكتاب شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة للالكائي وغيرهم (1) . ولذا عرَّف علماء العقيدة السنة بأن المراد بها: "الطريقة التي كان عليها رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه قبل ظهور البدع والمقالات" (2) . وعرفها ناصر العقل -من الجانب العقدي- بقوله: "الهدي الذي كان عليه الرسول صلى الله عليه وسلم وأصحابه، علماً واعتقاداً وقولاً وعملاً، وهي السنة التي يجب اتباعها، ويحمد أهلها، ويذم من خالفها" (3) .

ثالثاً: ورد التفريق بين السنة والحديث عند بعض المتقدمين في القرن الثاني الهجري

فقد ورد ذلك عن الأعمش حيث قال: "لا أعلم لِله قوماً أفضل من قوم يطلبون هذا الحديث، ويحبون السنة" (4) ، وأوضح منه في هذا المعنى قول عبد الرحمن بن مهدي: "الناس على وجوه؛ فمنهم من هو إمام في السنة،

--------------------------------------------

(1) انظر تفصيل أسماء الكتب التي ألفت في ذلك: كتاب شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة من الكتاب والسنة وإجماع الصحابة والتابعين من بعدهم للالكائي ص 50 من مقدمة المحقق، وكتاب مفهوم أهل السنة والجماعة عند أهل السنة والجماعة ص 44.

(2) شرح العقيدة الواسطية ص 15-16.

(3) مباحث في عقيدة أهل السنة والجماعة ص 13.

(4) المحدث الفاصل بين الراوي والواعي، للرامهرمزي ص 177،
যা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ যে আদর্শের ওপর ছিলেন তাকে অন্যদের থেকে পৃথক করে, আর একারণেই তাঁদেরকে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত নামে অভিহিত করা হয়। দ্বীনের মূলনীতি (أصول الدين) এবং আকিদাগত বিষয়সমূহ বর্ণনার জন্য 'সুন্নাহ' শিরোনামে অনেক গ্রন্থ সংকলিত হয়েছে এবং হিজরি তৃতীয় শতাব্দীতে এই পরিভাষাটি ব্যাপকতা লাভ করে। এ বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো: ইমাম আহমদের 'আস-সুন্নাহ', আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে জারির তাবারির 'সারিহুস সুন্নাহ', ইবনে আবি আসিম আদ-দাহহাকের 'আস-সুন্নাহ' এবং লালকায়ীর 'শারহু উসুলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাত' ইত্যাদি (১)। একারণে আকিদা শাস্ত্রের আলেমগণ সুন্নাহর সংজ্ঞায় বলেছেন যে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: "বিদআত (بدع) ও ভ্রান্ত মতবাদসমূহ (مقالات) প্রকাশের পূর্বে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ যে পদ্ধতির ওপর ছিলেন তা-ই সুন্নাহ" (২)। নাসির আল-আকল আকিদাগত দিক থেকে এর সংজ্ঞা প্রদান করে বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ ইলম, আকিদা, কথা ও কাজের ক্ষেত্রে যে হেদায়েত বা আদর্শের ওপর ছিলেন তা-ই সুন্নাহ; যা অনুসরণ করা ওয়াজিব (واجب), এর অনুসারীরা প্রশংসিত এবং এর বিরোধীরা নিন্দিত" (৩)।

তৃতীয়ত: হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর কিছু পূর্বসূরী (متقدمين) আলেমদের নিকট সুন্নাহ ও হাদিস এর মধ্যে পার্থক্যের বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে।

আমাশ থেকে এ বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেন: "আমি আল্লাহর নিকট এমন কোনো সম্প্রদায়ের কথা জানি না যারা এই হাদিস অন্বেষণ করে এবং সুন্নাহকে ভালোবাসে তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ" (৪)। এ প্রসঙ্গে আব্দুর রহমান ইবনে মাহদির উক্তিটি আরও স্পষ্ট, তিনি বলেন: "মানুষ বিভিন্ন পর্যায়ের হয়ে থাকে; তাদের মধ্যে কেউ সুন্নাহর ক্ষেত্রে ইমাম (إمام)...

--------------------------------------------

(১) এ বিষয়ে রচিত গ্রন্থসমূহের নামের বিস্তারিত বিবরণের জন্য দেখুন: লালকায়ী রচিত 'শারহু উসুলি ইতিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাত মিনাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ ওয়া ইজমাইস সাহাবা ওয়াত তাবিঈন মিন বা'দিহিম', গবেষক (محقق)-এর ভূমিকার ৫০ পৃষ্ঠা; এবং 'মাফহুমু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাত ইনদা আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাত' পৃষ্ঠা ৪৪।

(২) শারহুল আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১৫-১৬।

(৩) মাবাহিস ফি আকিদাতি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামাত, পৃষ্ঠা ১৩।

(৪) রামাহুরমুজি রচিত 'আল-মুহাদ্দিসুল ফাসিল বাইনার রাওয়ি ওয়াল ওয়ায়ি', পৃষ্ঠা ১৭৭।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - বা জামআন (পৃষ্ঠা: ১২)
وليس بإمام في الحديث، ومنهم من هو إمام في الحديث وليس بإمام في السنة" (1) .

وربما كان أساس التفريق هو أنهم كانوا ينظرون إلى أن "الحديث أمر علمي نظري، وأن السنة أمر عملي (2) ؛ إذ إنها كانت تعتبر المثل الأعلى للسلوك في كل أمور الدين والدنيا، وكان هذا سبب الاجتهاد في البحث عنها والاعتناء بحفظها والاقتداء بها" (3) . قال الدكتور رفعت فوزي: "وربما كان الأساس هو أن بعضهم كان ينظر إلى السنة على أنها أعم من فعل الرسول صلى الله عليه وسلم وقوله وتقريره، وتشمل أفعال الصحابة والتابعين" (4) .

رابعاً: استقر الأمر على المساواة بين السنة والحديث في المعنى

بعد كتابة علم مصطلح الحديث، استقر الأمر على عدم التفريق بين السنة والحديث في المعنى؛ كما سبق أن بينته.

--------------------------------------------

(1) كتاب الجرح والتعديل للرازي ص 118.

(2) وربما كان وجه تفريق السلف بين الإمامة في الحديث والإمامة في السنة ما ذكره ابن الصلاح في فتاواه (1/213) بتحقيق عبد المعطي قلعجي، حينما سئل عن قول بعضهم عن الإمام مالك: إنه جمع بين السنة والحديث، فما الفرق بين السنة والحديث؟ فأجاب: بأن السنة هاهنا ضد البدعة، وقد يكون الإنسان من أهل الحديث وهو مبتدع، ومالك رحمة الله عليه جمع السنتين فكان عالماً بالسنة أي الحديث، ومعتقداً للسنة، أي كان على مذهب أهل الحق من غير بدعة، والله أعلم. (اللجنة العلمية) .

(3) الاتجاهات الفقهية ص 16.

(4) توثيق السنة في القرن الثاني الهجري أسسه واتجاهاته ص 20.
"এবং তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে ইমাম (إمام) নন; আবার তাঁদের মধ্যে কেউ এমনও আছেন যিনি হাদিসের ক্ষেত্রে ইমাম (إمام), কিন্তু সুন্নাহ (السنة) এর ক্ষেত্রে ইমাম (إمام) নন" (১)।

"সম্ভবত এই পার্থক্যের ভিত্তি ছিল যে, তাঁরা মনে করতেন 'হাদিস হলো একটি তাত্ত্বিক জ্ঞানগত বিষয় এবং সুন্নাহ (السنة) হলো একটি প্রায়োগিক বিষয় (২); যেহেতু সুন্নাহকে (السنة) দ্বীন ও দুনিয়ার সকল বিষয়ে আচরণের সর্বোত্তম আদর্শ হিসেবে গণ্য করা হতো। আর এটিই ছিল সুন্নাহ (السنة) অন্বেষণে প্রচেষ্টা চালানো, তা সংরক্ষণে যত্নবান হওয়া এবং তা অনুসরণের (الاقتداء) মূল কারণ'" (৩)। ডক্টর রিফাত ফাওজি বলেন: "সম্ভবত এর ভিত্তি হলো, তাঁদের কেউ কেউ সুন্নাহকে (السنة) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাজ, কথা ও মৌনসম্মতির (تقريره) চেয়েও অধিক ব্যাপক মনে করতেন, যা সাহাবী ও তাবিঈগণের (التابعين) কার্যাবলীকেও অন্তর্ভুক্ত করে" (৪)।

চতুর্থত: অর্থগত দিক থেকে সুন্নাহ (السنة) ও হাদিসের সমার্থক হওয়ার বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া

হাদিস পরিভাষা শাস্ত্র (علم مصطلح الحديث) সংকলিত হওয়ার পর, অর্থগত দিক থেকে সুন্নাহ (السنة) ও হাদিসের মধ্যে পার্থক্য না করার বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে; যেমনটি আমি ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি।

--------------------------------------------

(১) আল-রাজি রচিত কিতাব আল-জারহ ওয়াত তাদিল, পৃষ্ঠা ১১৮।

(২) সম্ভবত সালাফগণের (السلف) নিকট হাদিসের ইমামত (الإمامة) এবং সুন্নাহর (السنة) ইমামতের (الإمامة) মধ্যে পার্থক্যের কারণ হলো সেটিই, যা ইবনে আস-সালাহ তাঁর ফাতাওয়া গ্রন্থে (১/২১৩, আব্দুল মুতি কালআজি সম্পাদিত) উল্লেখ করেছেন। যখন তাঁকে ইমাম মালিক সম্পর্কে কিছু লোকের উক্তি: 'তিনি সুন্নাহ (السنة) ও হাদিস উভয়কে একত্রিত করেছেন' সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, সুন্নাহ (السنة) ও হাদিসের মধ্যে পার্থক্য কী? তখন তিনি উত্তরে বলেছিলেন: এখানে সুন্নাহ (السنة) হলো বিদআতের (البدعة) বিপরীত। কখনও একজন ব্যক্তি হাদিসশাস্ত্রে অভিজ্ঞ (أهل الحديث) হওয়া সত্ত্বেও বিদআতী (مبتدع) হতে পারেন। আর মালিক (রহমতুল্লাহি আলাইহি) উভয় সুন্নাহকে (السنتين) একত্রিত করেছিলেন; তিনি সুন্নাহ (السنة) অর্থাৎ হাদিস সম্পর্কে অবগত ছিলেন এবং সুন্নাহর (السنة) অনুসারী (معتقداً للسنة) ছিলেন, অর্থাৎ তিনি কোনো বিদআত (بدعة) ছাড়াই সত্যপন্থীদের (أهل الحق) মানহাজের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। আল্লাহই ভালো জানেন। (বৈজ্ঞানিক কমিটি)।

(৩) আল-ইত্তি জাহাত আল-ফিকহিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১৬।

(৪) তাওসিক আস-সুন্নাহ ফিল কারনিল সানি আল-হিজরি: উসুসুহু ওয়া ইত্তি জাহাতুহু, পৃষ্ঠা ২০।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - বা জামআন (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌الفصل الأول: مصادر التشريع الإسلامي

‌‌المبحث الأول: المصادر الأساسية للتشريع الإسلامي

‌‌المطلب الأول: المصدر الأول القرآن الكريم

…

الفصل الأول: مصادر التشريع الإسلامي:

الشريعة لها مصادر تستقي منها علومها التي انبثقت منها، وهي كلها تعتمد على الوحي المنزل على الرسول صلى الله عليه وسلم، قرآناً وسنة. وهذان هما المصدران الأساسيان، وهناك مصادر فرعية أرشدت إليها نصوص الكتاب والسنة: كالإجماع والقياس (1) .

المبحث الأول: المصادر الأساسية للتشريع الإسلامي:

المطلب الأول: المصدر الأول: القرآن الكريم:

تعريف القرآن لغة:

القرآن مصدر للفعل قرأ، بمعنى: تلا (2) . وقال الجوهري: "قرأت الشيء قرآناً: جمعته وضممت بعضه إلى بعض، … ، وقرأت الكتاب: قراءة وقُرْآناً، ومنه سمي القرآن. وقال أبو عبيدة: سُمِّي القرآن؛ لأنه يجمع السور فيضمها. وقوله تعالى: {إِنَّ عَلَيْنَا جَمْعَهُ وَقُرْآنَهُ} [القيامة:17] ، أي جمعه وقراءته، {فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ} [القيامة:18] ، أي قراءته" (3) . ثم أطلق هذا الاسم على القرآن الكريم، وصار علماً له.

--------------------------------------------

(1) انظر كتاب المدخل لدراسة الشريعة الإسلامية ص 183.

(2) انظر القاموس المحيط 1/25.

(3) الصحاح 1/65.
‌‌প্রথম অধ্যায়: ইসলামি শরিয়তের উৎসসমূহ

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: ইসলামি শরিয়তের মৌলিক উৎসসমূহ

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: প্রথম উৎস আল-কুরআনুল কারিম

…

প্রথম অধ্যায়: ইসলামি শরিয়তের উৎসসমূহ:

শরিয়তের এমন কিছু উৎস রয়েছে যা থেকে এটি তার উদ্ভূত জ্ঞানসমূহ আহরণ করে থাকে। এর সবগুলোই রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ প্রত্যাদেশের ওপর নির্ভরশীল, যা কুরআন ও সুন্নাহ হিসেবে বিন্যস্ত। এই দুটিই হলো মৌলিক উৎস। এছাড়াও কিছু আনুষঙ্গিক উৎস রয়েছে যেগুলোর প্রতি কিতাব ও সুন্নাহর বাণীসমূহ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে: যেমন ঐক্যমত (إجماع) এবং সাদৃশ্যবিধান (قياس) (১)।

প্রথম পরিচ্ছেদ: ইসলামি শরিয়তের মৌলিক উৎসসমূহ:

প্রথম অনুচ্ছেদ: প্রথম উৎস: আল-কুরআনুল কারিম:

কুরআনের আভিধানিক সংজ্ঞা:

কুরআন শব্দটি ‘ক্বারা’ ক্রিয়াপদ থেকে আগত একটি মূলশব্দ (مصدر), যার অর্থ: তিলাওয়াত করা বা পাঠ করা (২)। আল-জাওহারি বলেন: "আমি কোনো কিছু সংগ্রহ করে একত্রিত করার অর্থে পাঠ করলাম... এবং আমি কিতাবটি পাঠ করলাম: অর্থাৎ পাঠ ও তিলাওয়াত করা, আর এ থেকেই এর নামকরণ করা হয়েছে কুরআন। আবু উবায়দাহ বলেন: একে কুরআন বলা হয়; কারণ এটি সুরাগুলোকে নিজের মধ্যে একত্র করে ও মিলায়। মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয় এর সংরক্ষণ ও তা পাঠ করানোর দায়িত্ব আমাদেরই} [আল-কিয়ামাহ: ১৭], অর্থাৎ এর সংকলন ও পাঠ। {সুতরাং যখন আমরা তা পাঠ করি, তখন আপনি সেই পাঠের অনুসরণ করুন} [আল-কিয়ামাহ: ১৮], অর্থাৎ এর কিরাত" (৩)। এরপর এই নামটি আল-কুরআনুল কারিমের জন্য নির্ধারিত হয়ে যায় এবং এটি এর একটি সংজ্ঞাবাচক নাম (علم) হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

--------------------------------------------

(১) আল-মাদখাল লি-দিরাসাতিশ শারিয়াতিল ইসলামিয়াহ, পৃষ্ঠা ১৮৩ দেখুন।

(২) আল-কামুস আল-মুহিত ১/২৫ দেখুন।

(৩) আস-সিহাহ ১/৬৫।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - বা জামআন (পৃষ্ঠা: ১৪)
تعريف القرآن اصطلاحاً:

وأما تعريف القرآن الاصطلاحي، فهو: "كلام الله المنزل على محمد صلى الله عليه وسلم، بلسان عربي مبين، والمكتوب بين دفتي المصاحف، والمنقول إلينا تواتراً" (1) . وعرفه الزرقاني بأنه "اللفظ المنزل على النبي صلى الله عليه وسلم المنقول عنه بالتواتر، المتعبد بتلاوته" (2) . وهذا التعريف الذي استقر عليه الأمر واشتهر عن المؤلفين (3) .

ومن خصائص القرآن الكريم أنه معجز للبشر عن أن يأتوا بمثله، وإذا ثبت العجز من الجميع، ثبت أن القرآن من عند الله عز وجل، وإذ ثبت ذلك وجب على الناس اتباعه، وعلى هذا فالقرآن الكريم حجة على جميع الناس؛ قال تعالى مبيناً ذلك: {أَفَلا يَتَدَبَّرُونَ الْقُرْآنَ وَلَوْ كَانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافاً كَثِيراً} [النساء:82] .

--------------------------------------------

(1) التعريف بالقرآن والحديث لمحمد الزفزاف ص 5.

(2) مناهل العرفان في علوم القرآن 1/20.

(3) والراجح في تعريف القرآن ما ذكره الطحاوي في شرح العقيدة الطحاوية (1/172) " إن القرآن كلام الله منه بدا بلا كيفية قولاً، وأنزله على رسوله وحياً، وصدقه المؤمنون على ذلك حقاً، وأيقنوا أنه كلام الله تعالى بالحقيقة ليس بمخلوق ككلام البرية ". (اللجنة العلمية) .
পরিভাষায় কুরআনের সংজ্ঞা:

আর পরিভাষায় কুরআনের সংজ্ঞা হলো: "আল্লাহর কালাম যা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে, যা মুসহাফের দুই মলাটের মাঝে লিখিত এবং যা আমাদের নিকট নিরবচ্ছিন্নভাবে (تواترًا) বর্ণিত হয়েছে" (১)। যুরকানি একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে যে, এটি হলো "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর অবতীর্ণ সেই শব্দসমষ্টি যা তাঁর থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে (تواترًا) বর্ণিত হয়েছে এবং যার তিলাওয়াত করা ইবাদত গণ্য হয়" (২)। আর এটিই সেই সংজ্ঞা যার ওপর বিষয়টি স্থির হয়েছে এবং যা লেখকগণের মাঝে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে (৩)।

কুরআনুল কারীমের একটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি মানবজাতির জন্য অলৌকিক বা মুজিজা, তারা এর সদৃশ কিছু আনতে অক্ষম। যখন সকলের পক্ষ থেকে এই অক্ষমতা প্রমাণিত হলো, তখন এটিও সাব্যস্ত হলো যে কুরআন মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। আর যখন তা সাব্যস্ত হলো, তখন মানুষের ওপর এর অনুসরণ করা আবশ্যক হয়ে গেল। সেই হিসেবে কুরআনুল কারীম সকল মানুষের ওপর অকাট্য দলিল (حجة); আল্লাহ তাআলা এটি বর্ণনা করে বলেন: {তবে কি তারা কুরআন নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করে না? যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক বৈপরীত্য দেখতে পেত।} [নিসা: ৮২]।

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মাদ যিফযাফ রচিত আত-তারিফ বিল কুরআন ওয়াল হাদিস, পৃষ্ঠা ৫।

(২) মানাহিলুল ইরফান ফি উলুমিল কুরআন, ১/২০।

(৩) কুরআনের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে সঠিক হলো ইমাম তহাবী শারহুল আকিদাহ আত-তহাবী (১/১৭২) গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন— "নিশ্চয়ই কুরআন আল্লাহর কালাম, তাঁর থেকেই এর সূচনা হয়েছে কোনো ধরন বা প্রকৃতি ছাড়াই বক্তব্য হিসেবে, এবং তিনি তা তাঁর রাসূলের ওপর ওহী (وحي) হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন। মুমিনগণ এর ওপর সত্য হিসেবে বিশ্বাস স্থাপন করেছেন এবং তারা সুনিশ্চিতভাবে জেনেছেন যে এটি প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কালাম, এটি মানুষের কালামের মতো কোনো সৃষ্টি (مخلوق) নয়"। (ইলমি কমিটি)।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - বা জামআন (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌المطلب الثاني: المصدر الثاني هو السنة النبوية:

للسنة مع القرآن ثلاثة أحوال هي:

1-إما موافقة للقرآن ومؤكدة لما ثبت فيه من أحكام، أو مفرعة على أصل تقرر فيه. ومثال ذلك جميع الأحاديث التي تدل على وجوب الصلاة والزكاة والصوم والحج وغير ذلك، وكذلك ما جاء في السنة من النهي عن عقوق الوالدين، وشهادة الزور، وقتل النفس بغير حق ونحو ذلك.

2- أحكام مبينة ومفصلة لمجمل القرآن. ومن ذلك السنة التي بينت مقادير الزكاة، ومقدار المال المسروق الذي تقطع فيه يد السارق. وأنواع البيان الأخرى مثل: تخصيص العام في القرآن، وتقييد مطلق القرآن.

3- أحكام جديدة لم يذكرها القرآن الكريم؛ وليست بياناً له، ولا تأكيداً لما ثبت فيه من أحكام. مثل تحريم الحمر الأهلية، وكل ذي ناب من السباع، وتحريم نكاح المرأة على عمتها، أو على خالتها (1) .

ومما يبين أن هذين المصدرين هما مصدران أساسيان؛ أن الله تعالى أمر بالرجوع إليهما عند التنازع، لكون ما عداهما تابعاً لهما. قال ابن حزم: "فكانت الأخبار التي ذكرنا أحد الأصول الثلاثة التي ألزمنا طاعتها في الآية الجامعة لجميع الشرائع، أولها عن آخرها: وهي قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ} [النساء:59] ، فهذا أصل وهو القرآن، ثم قال تعالى:

--------------------------------------------

(1) انظر كتاب أصول الحديث علومه ومصطلحه ص 47-49، وكتاب المدخل لدراسة الشريعة الإسلامية ص 194.
‌দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: দ্বিতীয় উৎস হলো নববী সুন্নাহ:

কুরআনের সাথে সুন্নাহর তিনটি অবস্থা রয়েছে, সেগুলো হলো:

১-হয় তা কুরআনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ এবং তাতে সাব্যস্তকৃত বিধানাবলিকে জোরালোকারী (مؤكدة), অথবা কুরআনে প্রতিষ্ঠিত কোনো মূলনীতির (أصل) শাখা হিসেবে বিবেচিত। এর উদাহরণ হলো সেই সমস্ত হাদিস যা সালাত, জাকাত, সিয়াম, হজ এবং অন্যান্য বিষয়ের আবশ্যকতা নির্দেশ করে। অনুরূপভাবে সুন্নাহর সেই বর্ণনা যা পিতা-মাতার অবাধ্যতা, মিথ্যা সাক্ষ্য দান, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা এবং এ জাতীয় কাজের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে এসেছে।

২- কুরআনের সংক্ষেপিত (مجمل) বিষয়ের স্পষ্টকারী (مبينة) ও বিস্তারিত (مفصلة) বিধানাবলি। এর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই সুন্নাহ যা জাকাতের পরিমাণ এবং চুরির মালের সেই পরিমাণ স্পষ্ট করেছে যার কারণে চোরের হাত কাটা হয়। অন্যান্য প্রকারের স্পষ্টীকরণ (بيان) যেমন: কুরআনের সাধারণ (عام) বিধানকে বিশেষায়িত (تخصيص) করা এবং কুরআনের নিঃশর্ত (مطلق) বিধানকে শর্তযুক্ত (تقييد) করা।

৩- নতুন কিছু বিধান যা পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করা হয়নি; এবং তা কুরআনের স্পষ্টীকরণ (بيان) বা তাতে সাব্যস্তকৃত বিধানের জোরালোকারী (تأكيد) হিসেবেও আসেনি। যেমন গৃহপালিত গাধা হারাম হওয়া, প্রত্যেক দাঁতবিশিষ্ট শিকারি পশু হারাম হওয়া এবং কোনো নারীকে তার ফুফু বা খালার সাথে একত্রে বিবাহ করা হারাম হওয়া।

এই বিষয়টি স্পষ্ট করে যে, এই উৎস দুটিই মৌলিক উৎস; আল্লাহ তাআলা কোনো বিরোধের ক্ষেত্রে এই দুটির দিকে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছেন, কারণ এ দুটি ছাড়া অন্য সব বিষয় এগুলোর অনুসারী। ইবনে হাজম বলেন: "আমরা যে সংবাদগুলোর (أخبار) কথা উল্লেখ করেছি তা সেই তিনটি মূলনীতির (أصول) একটি যার আনুগত্য করা আমাদের জন্য অপরিহার্য করা হয়েছে সেই আয়াতের মাধ্যমে যা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত শরিয়তকে একত্রিত করেছে; সেটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো} [আন-নিসা: ৫৯], এটি একটি মূল (أصل) যা হলো কুরআন, এরপর আল্লাহ তাআলা বলেছেন..."

--------------------------------------------

(১) দেখুন: উসুলুল হাদিস উলুমিহি ওয়া মুসতালাহিহি, পৃষ্ঠা ৪৭-৪৯, এবং কিতাবুল মাদখাল লি-দিরাসাতিল শারিয়াতিল ইসলামিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১৯৪।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - বা জামআন (পৃষ্ঠা: ১৬)
{وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ} [النساء:59] ، فهذا ثانٍ، وهو الخبر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، ثم قال تعالى: {وَأُولِي الأَمْرِ مِنْكُمْ} [النساء:59] ، فهذا ثالثٌ وهو الإجماع المنقول إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم حكمه، وصح لنا بنص القرآن أن الأخبار هي أحد الأصلين المرجوع إليهما عند التنازع. ثم قال تعالى: {فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ} [النساء:59] " (1) . فدل كلام ابن حزم على أن المصدرين الأساسيين، هما القرآن والسنة؛ بدليل الاعتماد عليهما عند التنازع، وبدليل أن الإجماع لا يصح إلا بدليل من الكتاب أو السنة.

وهناك مصادر تشريعية تابعة لهذين المصدرين الأساسيين، أرشدت إليها نصوص الكتاب والسنة، هي: الإجماع والقياس.

--------------------------------------------

(1) الإحكام في أصول الأحكام لابن حزم 1/108-109.
"{এবং তোমরা রাসূলের আনুগত্য করো} [নিসা: ৫৯]; এটি হলো দ্বিতীয় (উৎস), আর তা হলো রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সংবাদ (الخبر)। অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: {এবং তোমাদের মধ্য থেকে যারা উলিল আমর (আদেশ দানকারী)} [নিসা: ৫৯]; এটি হলো তৃতীয় (উৎস), আর তা হলো ঐকমত্য (الإجماع), যার বিধান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত পৌঁছেছে। কুরআনের অকাট্য দলিলের মাধ্যমে আমাদের কাছে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, বিরোধের সময় সংবাদসমূহ (الأخبار) হলো সেই মৌলিক উৎস দুটির একটি, যেগুলোর দিকে ফিরে যেতে হয়। অতঃপর মহান আল্লাহ বলেন: {অতঃপর যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের দিকে ফিরিয়ে দাও—যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান পোষণ করো} [নিসা: ৫৯]। (১)" ইবনে হাজমের বক্তব্য একথাই প্রমাণ করে যে, মৌলিক উৎস দুটি হলো কুরআন ও সুন্নাহ; যার প্রমাণ হলো বিবাদের সময় এ দুটির ওপর নির্ভর করা এবং এই দলিল যে, কুরআন বা সুন্নাহর প্রমাণ ব্যতিরেকে কোনো ঐকমত্য (الإجماع) বিশুদ্ধ (صحيح) হয় না।

এই দুটি প্রধান উৎসের অধীনস্থ আরও কিছু বিধিবদ্ধ উৎস রয়েছে, যার প্রতি কুরআন ও সুন্নাহর বর্ণনাগুলো দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে; সেগুলো হলো: ঐকমত্য (الإجماع) এবং কিয়াস (القياس)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে হাজম রচিত আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম, ১/১০৮-১০৯।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - বা জামআন (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌المبحث الثاني: المصادر الفرعية للتشريع الإسلامي:

‌‌المطلب الأول: المصدر الأول: الإجماع:

معنى الإجماع في اللغة: الاتفاق، وجعل الأمر جميعاً بعد تفرقه، والعزم على الأمر: أجمعت الأمر وعليه، والأمر مجمع (1) . "قال الكسائي: يقال: أجمعت الأمر وعلى الأمر، إذا عزمت عليه؛ والأمر مُجمَعٌ … وقال تعالى: {فَأَجْمِعُوا أَمْرَكُمْ وَشُرَكَاءَكُمْ} [يونس:71] ، أي وادعوا شركاءكم؛ لأنه لا يقال: أجمعت شركائي، إنما يقال: جمعت" (2) .

وقسم الآمدي معنى الإجماع في اللغة إلى اعتبارين:

أحدهما: العزم على الشيء والتصميم عليه. ومنه يقال: أجمع فلان على كذا، إذا عزم عليه … وعلى هذا يصح إطلاق اسم الإجماع على عزم الواحد (3) .

والثاني: الاتفاق؛ ومنه يقال: أجمع القوم على كذا؛ إذا اتفقوا عليه. وعلى هذا فاتفاق كل طائفةٍ على أمرٍ من الأمور، دينياً كان أو دنيوياً، يسمى إجماعاً حتى اتفاق اليهود والنصارى" (4) .

--------------------------------------------

(1) انظر القاموس المحيط 3/15، مادة (جمع) .

(2) الصحاح للجوهري 3/1199. ومراد الجوهري أن معنى الآية: أجمعوا أمركم، وادعوا شركاءكم، وليس المراد "وأجمعوا شركاءكم"؛ لأنه لا يقال: أجمعت شركائي، وإنما يقال: جمعت شركائي.

(3) الإحكام في أصول الأحكام 1/179. وأشار إلى الآية المذكورة قبله. وإلى حديث:"لا صيام لمن لم يجمع الصيام من الليل" أي يعزم.

(4) الإحكام في أصول الأحكام 1/179.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইসলামি শরিয়তের গৌণ উৎসসমূহ:

প্রথম অনুচ্ছেদ: প্রথম উৎস: ইজমা (الإجماع):

আভিধানিক অর্থে ইজমা (الإجماع)-এর অর্থ হলো: ঐক্যমত (الاتفاق), কোনো বিষয়কে বিচ্ছিন্নতার পর একত্রিত করা এবং কোনো বিষয়ে দৃঢ় সংকল্প করা: ‘আমি বিষয়টি নিয়ে বা বিষয়ের ওপর দৃঢ় সংকল্প করেছি’, আর বিষয়টি সুসংকল্পিত (مجمع) (১)। "কিসায়ি বলেন: বলা হয়: ‘আমি বিষয়টি নিয়ে বা বিষয়ের ওপর দৃঢ় সংকল্প করেছি’, যখন তুমি তার ওপর দৃঢ় সংকল্প (عزمت) করবে; আর বিষয়টি সুসংকল্পিত (مجمع) ... আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতএব তোমরা তোমাদের সিদ্ধান্ত এবং তোমাদের শরীকদের সুসংহত করো} [ইউনুস: ৭১], অর্থাৎ তোমাদের শরীকদের আহ্বান করো; কেননা ‘আমি আমার শরীকদের সুসংকল্পিত করেছি’ (أجمعت شركائي) বলা হয় না, বরং বলা হয়: ‘আমি একত্রিত করেছি’ (جمعت)" (২)।

ইমাম আমেদি আভিধানিক অর্থে ইজমা (الإجماع)-এর অর্থকে দুটি দিক বিবেচনায় বিভক্ত করেছেন:

প্রথমটি: কোনো বিষয়ের ওপর দৃঢ় সংকল্প করা এবং সিদ্ধান্তে অটল থাকা। এখান থেকেই বলা হয়: ‘অমুক ব্যক্তি এই বিষয়ের ওপর দৃঢ় সংকল্প করেছে’, যখন সে তার ওপর সংকল্প (عزم) করে... এর ভিত্তিতে এক ব্যক্তির সংকল্পের ওপরও ইজমা (الإجماع) শব্দটি প্রয়োগ করা সঠিক হবে (৩)।

দ্বিতীয়টি: ঐক্যমত (الاتفاق); এখান থেকেই বলা হয়: ‘কওম এই বিষয়ের ওপর ঐক্যমত হয়েছে’; যখন তারা সেই বিষয়ে একমত (اتفقوا) হয়। এর ভিত্তিতে কোনো বিষয়ের ওপর প্রতিটি দলের একমত হওয়াকে, তা ধর্মীয় হোক বা পার্থিব, ইজমা (الإجماع) বলা হয়, এমনকি ইহুদি ও খ্রিস্টানদের ঐক্যমতকেও (৪)।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-কামুস আল-মুহিত ৩/১৫, মূলশব্দ (جمع)।

(২) জাওহারি প্রণীত আস-সিহাহ ৩/১১৯৯। জাওহারির উদ্দেশ্য হলো আয়াতের অর্থ: তোমাদের সিদ্ধান্ত সুসংহত করো এবং তোমাদের শরীকদের ডাকো, আর এর উদ্দেশ্য ‘তোমাদের শরীকদের সুসংহত করো’ নয়; কারণ ‘আমি আমার শরীকদের সুসংকল্পিত করেছি’ (أجمعت شركائي) বলা হয় না, বরং ‘আমি আমার শরীকদের একত্রিত করেছি’ (جمعت) বলা হয়।

(৩) আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম ১/১৭৯। তিনি পূর্বে উল্লিখিত আয়াতের দিকে এবং এই হাদিস এর দিকে ইঙ্গিত করেছেন: "যে ব্যক্তি রাত থেকে রোজা পালনের সংকল্প (يجمع) করেনি তার কোনো রোজা নেই" অর্থাৎ সংকল্প করা (يعزم)।

(৪) আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম ১/১৭৯।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - বা জামআন (পৃষ্ঠা: ১৮)
ومعنى الإجماع اصطلاحاً: "اتفاق أمة محمد صلى الله عليه وسلم خاصة على أمر من الأمور الدينية" (1) .

وعرفه الآمدي بقوله: "الإجماع عبارة عن اتفاق جملة من أهل الحل والعقد من أمة محمد في عصر من الأعصار على حكم واقعة من الوقائع. هذا إن قلنا: إن العامِّيَّ لا يعتبر في الإجماع. وإلا فالواجب أن يقال: الإجماع عبارة عن اتفاق المكلفين من أمة محمد … "إلخ (2) . وقال الباجي: الإجماع هو: "إجماع علماء العصر في حكم حادثة لم يتقدم فيها خلاف" (3) .

وقال شيخ الإسلام ابن تيمية: "معنى الإجماع: أن تجتمع علماء المسلمين على حكم من الأحكام. وإذا ثبت إجماع الأمة على حكم من الأحكام لم يكن لأحد أن يخرج عن إجماعهم؛ فإن الأمة لا تجتمع على ضلالة، ولكنْ كثير من المسائل يظن بعض الناس فيها إجماعاً، ولا يكون الأمر كذلك، بل يكون القول الآخر أرجح في الكتاب والسنة" (4) .

وبهذا يتضح أن الإجماع يعد مُلْزِماً ويجب العمل به. ولكن بعض المؤلفين قد يتساهلون في إطلاق الإجماع على مسائل فيها خلاف، لذلك نبه شيخ الإسلام ابن تيمية على هذا الأمر، كما سبق في كلامه.

--------------------------------------------

(1) المستصفى من علم الأصول 2/294.

(2) الإحكام في أصول الأحكام 1/180، قال هذا التعريف جمعاً بين الأقوال التي ذكرها.

(3) كتاب الحدود في الأصول ص 64.

(4) مجموع فتاوى شيخ الإسلام أحمد بن تيمية 20/10، ثم بيَّن أن قول الأئمة الأربعة ليس حجة لازمة ولا إجماعاً.
পরিভাষায় ইজমা (الإجماع) এর অর্থ হলো: "বিশেষভাবে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের কোনো ধর্মীয় বিষয়ে ঐকমত্য (اتفاق) পোষণ করা" (১)।

আমেদী এটিকে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন: "ইজমা (الإجماع) হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের মধ্য হতে কোনো এক যুগের আহলুল হাল্লি ওয়াল আকদ (أهل الحل والعقد)-এর কোনো ঘটনার বিধানের ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। এটি তখন প্রযোজ্য যখন আমরা বলি যে, ইজমার (الإجماع) ক্ষেত্রে সাধারণ ব্যক্তির (العامي) মত ধর্তব্য নয়। অন্যথায়, এটি বলা ওয়াজিব যে, ইজমা (الإجماع) হলো মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উম্মতের মধ্য হতে সকল শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তির (المكلفين) ঐকমত্য (اتفاق) … " ইত্যাদি (২)। বাজি বলেছেন: ইজমা (الإجماع) হলো: "এমন কোনো নতুন ঘটনার বিধানে সমকালীন ওলামায়ে কেরামের ঐকমত্য (إجماع), যাতে ইতিপূর্বে কোনো মতভেদ (خلاف) বিদ্যমান ছিল না" (৩)।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন: "ইজমা (الإجماع) এর অর্থ হলো: কোনো বিধানের ওপর মুসলিম ওলামায়ে কেরামের ঐক্যবদ্ধ হওয়া। আর যখন কোনো বিধানের ওপর উম্মতের ইজমা (الإجماع) প্রমাণিত হয়, তখন কারো জন্য তাদের ইজমা (الإجماع) থেকে বিচ্যুত হওয়া বৈধ নয়; কেননা উম্মত কখনো ভ্রষ্টতার (ضلالة) ওপর ঐক্যবদ্ধ হয় না। তবে অনেক মাসআলায় কিছু মানুষ ইজমা (الإجماع) আছে বলে ধারণা করে, অথচ বিষয়টি তেমন নয়; বরং অন্য মতটিই কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে অধিক অগ্রাধিকারযোগ্য (أرجح) হয়ে থাকে" (৪)।

এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, ইজমা (الإجماع) একটি বাধ্যতামূলক (ملزم) দলিল হিসেবে গণ্য এবং এর ওপর আমল করা ওয়াজিব। কিন্তু কোনো কোনো লেখক এমন সব মাসআলায় ইজমা (الإجماع) শব্দটির প্রয়োগে শিথিলতা প্রদর্শন করেন যেগুলোতে মতভেদ (خلاف) বিদ্যমান। একারণেই শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এই বিষয়ে সতর্ক করেছেন, যা পূর্বে তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে অতিবাহিত হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আল-মুসতাসফা মিন ইলমিল উসুল ২/২৯৪।

(২) আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম ১/১৮০; তিনি তাঁর উল্লিখিত মতসমূহকে সমন্বয় করে এই সংজ্ঞাটি প্রদান করেছেন।

(৩) কিতাবুল হুদুদ ফিল উসুল, পৃষ্ঠা ৬৪।

(৪) মাজমুউল ফাতাওয়া শাইখুল ইসলাম আহমাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ ২০/১০; অতঃপর তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, চার ইমামের বক্তব্য কোনো অপরিহার্য দলিল (حجة) নয় এবং এটি ইজমাও (إجماعاً) নয়।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - বা জামআন (পৃষ্ঠা: ১৯)
كيف نشأ الإجماع؟

كان الصحابة ملتفين حول الرسول صلى الله عليه وسلم، يتعلمون منه، ويلازمونه في أموره كلها، وشاهدوا الوقائع والحوادث، وعايشوا التنزيل، ولذلك فهم أعرف الناس بمعاني آيات القرآن الكريم، ونصوص السنة؛ وإضافة إلى ذلك فقد هيأهم الله سبحانه وتعالى لأن يهتدوا بهدي النبي صلى الله عليه وسلم، ويقتفوا أثره، وفضلهم على من بعدهم بشرف الصحبة. قال الرسول صلى الله عليه وسلم: "مَا مِنْ نَبِيٍّ بَعَثَهُ اللَّهُ فِي أُمَّةٍ قَبْلِي إِلَاّ كَانَ لَهُ مِنْ أُمَّتِهِ حَوَارِيُّونَ وَأَصْحَابٌ يَأْخُذُونَ بِسُنَّتِهِ وَيَقْتَدُونَ بِأَمْرِهِ " (1) . ثم بعد وفاة الرسول صلى الله عليه وسلم، كانوا إذا حدثت لهم قضية، تشاوروا فيها، وبحثوا عن دليل عند أحدٍ منهم، فإن لم يجدوا اجتهدوا في الوصول إلى رأي واحد. فإذا استطاعوا أن يجتمعوا على رأي واحد في القضية فعلوا؛ فكان ذلك أساساً للعمل بالإجماع، والاحتجاج به. وقد دل القرآن والسنة على العمل بإجماعهم، قال تعالى: {وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيراً} [النساء:115] ، وبهذا يتضح مدى اعتماد هذا المصدر على المصدرين الرئيسين الكتاب والسنة؛"فإن إجماعهم يرجع لنفس النص، أو أنه يكشف عن دليل سمعوه من الرسول صلى الله عليه وسلم، ولاستحالة اجتماعهم على خطأ أصلاً" (2) ؛ لقول النبي صلى الله عليه وسلم: " لا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ لا

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم في صحيحه، 1/69-70، كتاب الإيمان، بَاب بَيَانِ كَوْنِ النَّهْيِ عَنْ الْمُنْكَرِ مِنْ الإيمان وَأَنَّ الإِيمَانَ يَزِيدُ وَيَنْقُصُ وَأَنَّ الأَمْرَ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّهْيَ عَنْ الْمُنْكَرِ وَاجِبَانِ، الحديث رقم 50.

(2) أسباب اختلاف الفقهاء/للدكتور عبد الله بن عبد المحسن التركي، ص 102.
ইজমা (إجماع) বা ঐকমত্যের উদ্ভব কীভাবে হয়েছিল?

সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চারপাশে বেষ্টিত থাকতেন, তাঁর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতেন এবং তাঁর সকল বিষয়ে তাঁর সান্নিধ্যে থাকতেন। তাঁরা বিভিন্ন ঘটনা ও পরিস্থিতি প্রত্যক্ষ করেছেন এবং ওহি অবতীর্ণ হওয়ার সময়কালকে প্রত্যক্ষ করেছেন। এই কারণেই তাঁরা পবিত্র কুরআনের আয়াত এবং সুন্নাহর নস (نص) বা ভাষ্যসমূহের অর্থ সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক অবগত ছিলেন। এর পাশাপাশি মহান আল্লাহ তাঁদেরকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হেদায়েত দ্বারা পরিচালিত হওয়ার এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করার জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। সাহচর্যের মর্যাদার মাধ্যমে তিনি তাঁদেরকে পরবর্তী প্রজন্মের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার পূর্বে আল্লাহ কোনো উম্মতের মধ্যে এমন কোনো নবী প্রেরণ করেননি, যাঁর উম্মতের মধ্যে তাঁর কিছু হাওয়ারি ও সাহাবী ছিল না, যারা তাঁর সুন্নাহ গ্রহণ করত এবং তাঁর আদেশ অনুসরণ করত।" (১) অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওফাতের পর যখনই তাঁদের সামনে কোনো সমস্যার উদ্ভব হতো, তাঁরা সে বিষয়ে পরামর্শ করতেন এবং তাঁদের কারো কাছে কোনো দলিলের অনুসন্ধান করতেন। যদি তাঁরা কোনো দলিল না পেতেন, তবে তাঁরা একটি অভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য ইজতিহাদ (اجتهاد) করতেন। যদি তাঁরা ওই বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারতেন, তবে তাঁরা তা পালন করতেন। এটিই ছিল ইজমা (إجماع) অনুযায়ী আমল করার এবং একে দলিল হিসেবে গ্রহণ করার ভিত্তি। কুরআন ও সুন্নাহ তাঁদের ইজমার (إجماع) ওপর আমল করার সপক্ষে প্রমাণ পেশ করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যে ব্যক্তি তার কাছে সঠিক পথ স্পষ্ট হওয়ার পর রাসূলের বিরোধিতা করবে এবং মুমিনদের পথ ছাড়া অন্য পথ অনুসরণ করবে, আমি তাকে সেই পথেই ছেড়ে দেব যা সে বেছে নিয়েছে এবং তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাব, আর তা কতই না মন্দ আবাস} [আন-নিসা: ১১৫]। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, এই উৎসটি প্রধান দুটি উৎস অর্থাৎ কুরআন ও সুন্নাহর ওপর কতটা নির্ভরশীল; "কেননা তাঁদের ঐকমত্য (إجماع) কোনো একটি নস (نص) বা মূল ভাষ্যের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে, অথবা এটি এমন কোনো দলিলকে উন্মোচন করে যা তাঁরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে শুনেছেন। তাছাড়া মূলত তাঁদের সকলের কোনো ভুলের ওপর একমত হওয়া অসম্ভব" (২); নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর কারণে: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে..."

--------------------------------------------

(১) মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, ১/৬৯-৭০, কিতাবুল ঈমান, অধ্যায়: মন্দের প্রতিবাদ করা ঈমানের অংশ এবং ঈমান বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায় এবং সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ ওয়াজিব হওয়ার বর্ণনা, হাদিস নম্বর ৫০।

(২) আসবাবুল ইখতিলাফ আল-ফুকাহা/ডক্টর আবদুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আত-তুর্কি, পৃ. ১০২।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - বা জামআন (পৃষ্ঠা: ২০)
يَضُرُّهُمْ مَنْ خَذَلَهُمْ حَتَّى يَأْتِيَ أَمْرُ اللَّهِ وَهُمْ كَذَلِكَ" (1) . واستدل العلماء بذلك على العمل بالإجماع، قال النووي: "وَفِي هَذَا الْحَدِيث دَلِيل لِكَوْنِ الإجماع حُجَّة، وَهُوَ أَصَحّ مَا اسْتُدِلَّ بِهِ لَهُ مِن الْحَدِيث، وَأَمَّا حَدِيث " لا تَجْتَمِع أُمَّتِي عَلَى ضَلالة " فَضَعِيف. وَاللَّهُ أَعْلَم" (2) .

وقد بَيَّن شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله هذه الأصول الثلاثة، الكتاب والسنة والإجماع، وأنها مصادر صحيحة لمعرفة الحق، وتمييزه من الباطل؛ حيث قال: "إن الحق الذي لا باطل فيه: هو ما جاءت به الرسل عن الله، وذلك في حقنا يعرف: بالكتاب والسنة والإجماع. وأما ما لم تجئ به الرسل عن الله، أو جاءت به، ولكن ليس لنا طريق موصلة إلى العلم به؛ ففيه الحق والباطل؛ فلهذا كانت الحجة الواجبة الاتباع: للكتاب والسنة والإجماع؛ فإن هذا حق لا باطل فيه، واجب الاتباع، لا يجوز تركه بحال، عام الوجوب، لا يجوز ترك شيء مما دلت عليه هذه الأصول، وليس لأحد الخروج عن شيء مما دلت عليه. وهي مبنية على أصلين: أحدهما: أن هذا جاء به الرسول. والثاني: أن ما جاء به الرسول وجب اتباعه" (3) .

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم في صحيحه 3/1523، كتاب الإمارة، بَاب قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم: "لا تَزَالُ طَائِفَةٌ مِنْ أُمَّتِي ظَاهِرِينَ عَلَى الْحَقِّ لا يَضُرُّهُمْ مَنْ خَالَفَهُمْ"، الحديث رقم 1920.

(2) شرح النووي لمسلم 13/67. والحديث رواه أبو داود 4/452، في كتاب الفتن، باب الفتن ودلائلها. الحديث رقم 4253، وابن ماجه 2/1303، في كتاب الفتن، باب السواد الأعظم. الحديث رقم 3950، وأحمد في مسنده 45/200، ورقم الحديث 27224. وقال عنه المحقق: "صحيح لغيره، وهذا إسناد ضعيف؛ لإيهام الراوي عن أبي بصرة … وبقية رجال السند ثقات، رجال الصحيح" وذكر له شواهد كثيرة. وحسنه الألباني في سلسلة الأحاديث الصحيحة 3/320.

(3) مجموع فتاوى شيخ الإسلام أحمد بن تيمية 19/5-6.
"...যারা তাদের সহায়তা বর্জন করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ চলে আসে এবং তারা এই অবস্থাতেই থাকবে" (১)। আলেমগণ এর মাধ্যমে ইজমার (إجماع) ওপর আমল করার দলিল পেশ করেছেন। ইমাম নববী বলেন: "এই হাদিসে ইজমা (إجماع) প্রমাণ (حجة) হওয়ার দলিল রয়েছে, আর এটি ইজমার (إجماع) সপক্ষে হাদিস থেকে পেশকৃত দলিলগুলোর মধ্যে সর্বাধিক বিশুদ্ধ। আর 'আমার উম্মত ভ্রষ্টতার ওপর একত্রিত হবে না' হাদিসটি দুর্বল (ضعيف)। আল্লাহই ভালো জানেন" (২)।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) এই তিনটি মূলনীতি—কিতাব, সুন্নাহ ও ইজমা (إجماع)—স্পষ্ট করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, এগুলো সত্য জানা এবং সত্যকে মিথ্যা থেকে পৃথক করার সঠিক উৎস। তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই যে সত্যের মধ্যে কোনো মিথ্যা নেই, তা হলো যা রাসুলগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ে এসেছেন। আর আমাদের ক্ষেত্রে তা কিতাব, সুম্মাহ এবং ইজমার (إجماع) মাধ্যমে জানা যায়। আর যা রাসুলগণ আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ে আসেননি, অথবা নিয়ে এসেছেন কিন্তু আমাদের কাছে তা জানার কোনো মাধ্যম নেই, তাতে সত্য ও মিথ্যা উভয়ই থাকতে পারে। এই কারণেই অনুসরণ করা ওয়াজিব এমন প্রমাণ (حجة) হলো: কিতাব, সুন্নাহ এবং ইজমা (إجماع); কেননা এটি এমন সত্য যাতে কোনো মিথ্যা নেই, যা অনুসরণ করা ওয়াজিব, যা কোনো অবস্থাতেই ত্যাগ করা বৈধ নয় এবং এর বাধ্যবাধকতা সর্বজনীন। এই মূলনীতিগুলো যা নির্দেশ করে তার কোনো কিছু বর্জন করা জায়েজ নয় এবং কারো পক্ষে এর নির্দেশনার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। আর এগুলো দুটি মূল ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত: প্রথমটি হলো—এটি রাসুল নিয়ে এসেছেন। দ্বিতীয়টি হলো—রাসুল যা নিয়ে এসেছেন তা অনুসরণ করা ওয়াজিব" (৩)।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, ৩/১৫২৩, কিতাবুল ইমারাহ, অনুচ্ছেদ: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা সত্যের ওপর বিজয়ী থাকবে, যারা তাদের বিরোধিতা করবে তারা তাদের ক্ষতি করতে পারবে না", হাদিস নং ১৯২০।

(২) মুসলিমের শরহ নববী ১৩/৬৭। হাদিসটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন ৪/৪৫২, কিতাবুল ফিতান, ফিতনা ও তার আলামত অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ৪২৫৩; এবং ইবনে মাজাহ ২/১৩০৩, কিতাবুল ফিতান, বড় জামাত অনুচ্ছেদ, হাদিস নং ৩৯৫০; এবং আহমদ তাঁর মুসনাদে ৪৫/২০০, হাদিস নং ২৭২২৪। মুহাক্কিক এর সম্পর্কে বলেছেন: "অন্যান্য বর্ণনার কারণে বিশুদ্ধ (صحيح لغيره), তবে এই সনদটি (إسناد) দুর্বল (ضعيف); কারণ আবু বাসরা থেকে বর্ণনাকারীর অস্পষ্টতা রয়েছে... এবং সনদের বাকি বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات), তারা সহিহ-এর বর্ণনাকারী (رجال الصحيح)" এবং তিনি এর অনেকগুলো সহায়ক বর্ণনা (شواهد) উল্লেখ করেছেন। আলবানী সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহাহ ৩/৩২০-এ একে হাসান (حسنه) বলেছেন।

(৩) মাজমু' ফাতাওয়া শাইখুল ইসলাম আহমদ ইবনে তাইমিয়্যাহ ১৯/৫-৬।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - বা জামআন (পৃষ্ঠা: ২১)
مستند الإجماع:

لابد أن يستند الإجماع إلى دليل؛ لأن القول في الأمور الشرعية من غير دليل خطأ، والأمة الإسلامية لا تجتمع على خطأ … فلابد إذن أن يكون إجماع المجتهدين عن دليل لئلا تجتمع الأمة على خطأ؛ لأن غير المجتهدين تبع للمجتهدين، فإذا وقع المجتهدون في الخطأ وقعت الأمة في الخطأ، واجتماعها على الخطأ منفي عنها بنص الأحاديث. ومستند الإجماع، أي دليله قد يكون نصاً من الكتاب والسنة، كما قد يكون قياساً، أو عرفاً، أو غير ذلك من أنواع الاجتهاد" (1) .

الإجماع في العصر الحاضر:

هل يمكن الاستفادة من هذا المصدر في عصرنا الحاضر؟ وكيف يمكن ذلك؟ أجاب الدكتور عبد الكريم زيدان عن هذا السؤال بالإيجاب، وَبيَّنَ كيفية الاستفادة من ذلك فقال: "ونعتقد أن هذه الاستفادة لا يمكن أن تتم إلا عن طريق إيجاد مجمع فقهي يضم جميع المجتهدين من جميع الأقطار الإسلامية، ويكون لهذا المجمع مكان معين، ويهيأ (2) له جميع ما يلزم لعمله، وتعرض عليه المسائل والوقائع الجديدة لدراستها وإيجاد الأحكام لها، ثم تنشر هذه الأحكام في نشرات دورية أو كتب خاصة لإطلاع الناس عليها، وإبداء أولي العلم آراءهم فيها. فإذا ما اتفقت الآراء على هذه الأحكام كانت من الأحكام المجمع عليها، وكان هذا الإجماع قريباً من الإجماع المنصوص عليه عند الفقهاء، ولزم اتباعه، والعمل بموجبه" (3) .

--------------------------------------------

(1) المدخل لدراسة الشريعة الإسلامية/ لعبد الكريم زيدان ص 196.

(2) في الأصل "ويهيء" ولا تستقيم العبارة.

(3) المدخل لدراسة الشريعة الإسلامية ص 198.
ইজমার ভিত্তি (مستند الإجماع):

ঐকমত্য (إجماع) অবশ্যই কোনো দলিলের (دليل) ওপর ভিত্তি করে হতে হবে; কারণ দলিল (دليل) ছাড়া শরয়ি বিষয়ে কোনো কথা বলা ভুল, আর মুসলিম উম্মাহ কোনো ভুলের ওপর ঐক্যবদ্ধ হয় না … সুতরাং মুজতাহিদগণের (مجتهدين) ঐকমত্য (إجماع) অবশ্যই দলিলের (دليل) ভিত্তিতে হতে হবে যাতে উম্মাহ ভুলের ওপর একত্রিত না হয়; কারণ যারা মুজতাহিদ (مجتهد) নন তারা মুজতাহিদগণের (مجتهدين) অনুসারী, তাই যদি মুজতাহিদগণ (مجتهدون) ভুলের শিকার হন তবে পুরো উম্মাহ ভুলের মধ্যে নিপতিত হবে, অথচ হাদিসের সুস্পষ্ট ভাষ্য (نص) দ্বারা উম্মাহর ভুলের ওপর ঐক্যবদ্ধ হওয়া নাকচ করা হয়েছে। ইজমার ভিত্তি (مستند الإجماع) অর্থাৎ এর দলিল (دليل) কখনো কিতাব ও সুন্নাহর সুস্পষ্ট ভাষ্য (نص) হতে পারে, আবার কখনো কিয়াস (قياس), উরফ (عرف) কিংবা ইজতিহাদের (اجتهاد) অন্যান্য প্রকারও হতে পারে (১)।

বর্তমান যুগে ইজমা (الإجماع):

বর্তমান যুগে কি এই উৎস থেকে উপকৃত হওয়া সম্ভব? এবং তা কীভাবে সম্ভব? ড. আব্দুল কারীম যাইদান এই প্রশ্নের ইতিবাচক উত্তর দিয়েছেন এবং এর পদ্ধতি বর্ণনা করে বলেছেন: "আমরা বিশ্বাস করি যে, এই উপকারিতা কেবল একটি ফিকহ একাডেমি (مجمع فقهي) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই সম্ভব যা সমস্ত মুসলিম ভূখণ্ডের সকল মুজতাহিদকে (مجتهدين) অন্তর্ভুক্ত করবে। এই একাডেমির জন্য একটি নির্দিষ্ট স্থান থাকবে এবং এর কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুর ব্যবস্থা (২) করা হবে। এরপর নতুন মাসআলা ও ঘটনাবলি পর্যালোচনার জন্য এবং সেগুলোর বিধান বের করার জন্য এর নিকট পেশ করা হবে। অতঃপর এই বিধানগুলো পর্যায়ক্রমিক বুলেটিন বা বিশেষ বই আকারে প্রকাশ করা হবে যাতে মানুষ সেগুলো সম্পর্কে অবগত হতে পারে এবং প্রাজ্ঞ আলেমগণ সে বিষয়ে তাদের মতামত দিতে পারেন। যখন এই বিধানগুলোর ওপর মতৈক্য প্রতিষ্ঠিত হবে, তখন সেগুলো ঐকমত্যপূর্ণ (مجمع عليها) বিধান হিসেবে গণ্য হবে এবং এই ঐকমত্য (إجماع) ফকিহগণের (فقهاء) নিকট বর্ণিত ইজমার (إجماع) কাছাকাছি হবে, ফলে তা অনুসরণ করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক হয়ে যাবে" (৩)।

--------------------------------------------

(১) আল-মাদখাল লি-দিরাসাত আল-শরীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ/ আব্দুল কারীম যাইদান, পৃ. ১৯৬।

(২) মূলে শব্দ বিন্যাসটি ভিন্ন ছিল যা বাক্যরীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

(৩) আল-মাদখাল লি-দিরাসাত আল-শরীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ, পৃ. ১৯৮।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - বা জামআন (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌المطلب الثاني: المصدر الثاني: القياس:

القياس لغة: مأخوذ من "قاسه بغيره وعليه: يقيسه قيساً وقياساً، واقتاسه: قَدَّره على مثاله فانقاس" (1) . "وقايست بين الأمرين مقايسةً وقياساً. ويقال أيضاً: قايست فلاناً، إذا جاريته في القياس. وهو يقتاس الشيء بغيره، أي يقيسه به. ويقتاس بأبيه اقتياساً: أي يسلك سبيله ويقتدي به" (2) .

أو يمكن أن يقال: القياس في اللغة يدور حول التقدير والمساواة (3) .

وأما في الشرع: القياس: حمل معلوم على معلوم، في إثبات حكم لهما أو نفيه عنهما، بأمرٍ يجمع بينهما، من إثبات حكم أو صفة أو نفيهما" (4) .

ويمكن تعريفه بأنه: "حمل فرع على أصل في حكم بجامعٍ بينهما" (5) .

والقياس له أهمية كبيرة في الشريعة الإسلامية؛ حيث إن نصوص الكتاب والسنة محصورة، والقضايا التي تحتاجها الأمة غير محصورة؛ بل متجددة وغير متناهية. قال الجويني مبيناً أهميته في الدين: "القياس مناط الاجتهاد، وأصل الرأي، ومنه يتشعب الفقه، وأساليب الشريعة، وهو المفضي إلى الاستقلال بتفاصيل أحكام الوقائع، مع انتفاء الغاية والنهاية؛ فإن نصوص الكتاب والسنة محصورة مقصورة، ومواقع الإجماع معدودة مأثورة، فما ينقل منهما تواتراً،

--------------------------------------------

(1) القاموس المحيط 2/253، وانظر الصحاح للجوهري 3/967.

(2) الصحاح للجوهري 3/967-968.

(3) انظر الإحكام في أصول الأحكام 3/167، وأصول مذهب الإمام أحمد ص 549.

(4) البرهان في أصول الفقه للجويني 2/745.

(5) روضة الناظر وجنة المناظر ص 145.
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: দ্বিতীয় উৎস: কিয়াস (القياس):

আভিধানিক অর্থে কিয়াস (القياس): এটি 'সেটিকে অন্যটির সাথে এবং তার ওপর পরিমাপ করেছে' থেকে গৃহীত; অর্থাৎ: সে সেটিকে তার অনুরূপ বিষয়ের ওপর অনুমান বা পরিমাপ করেছে এবং তা পরিমিত হয়েছে (১)। "আমি বিষয় দুটির মধ্যে তুলনা ও পরিমাপ করেছি। আরও বলা হয়: আমি অমুক ব্যক্তির সাথে কিয়াস (القياس) করেছি, অর্থাৎ আমি যুক্তিতে তার সমকক্ষ হয়েছি। সে এক বস্তুকে অন্যটি দ্বারা অনুমান করে (يقتاس), অর্থাৎ সেটির সাথে তুলনা করে। সে তার পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে (يقتاس): অর্থাৎ তার পথ অবলম্বন করে এবং তাকে অনুসরণ করে" (২)।

অথবা এভাবেও বলা যেতে পারে: আভিধানিক অর্থে কিয়াস (القياس) পরিমাপ (التقدير) ও সমতা (المساواة) এর অর্থ প্রদান করে (৩)।

আর শরয়ি পরিভাষায়: কিয়াস (القياس) হলো: বিধান (حكم) সাব্যস্ত করা বা নাকচ করার ক্ষেত্রে কোনো একটি জানা বিষয়কে অন্য একটি জানা বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা; এমন একটি বিষয়ের মাধ্যমে যা উভয়ের মাঝে বিধান (حكم) বা বৈশিষ্ট্য সাব্যস্তকরণ বা নাকচ করার ক্ষেত্রে সাধারণ যোগসূত্র হিসেবে কাজ করে (৪)।

একে এভাবেও সংজ্ঞায়িত করা যেতে পারে যে: "একটি সাধারণ কারণের (جامع) ভিত্তিতে শাখাকে (فرع) মূলের (أصل) বিধানে (حكم) অন্তর্ভুক্ত করা" (৫)।

ইসলামি শরিয়তে কিয়াস (القياس)-এর গুরুত্ব অপরিসীম; কেননা কুরআন ও সুন্নাহর মূল ভাষ্যসমূহ (النصوص) সীমিত, কিন্তু উম্মাহর জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়াবলি অগণিত; বরং তা সদা নতুন ও অন্তহীন। ইমাম জুওয়াইনী দ্বীনের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব বর্ণনা করে বলেন: "কিয়াস (القياس) হলো ইজতিহাদ (الاجتهاد)-এর ভিত্তি এবং মতামতের মূল উৎস। এখান থেকেই ফিকহ (الفقه) ও শরিয়তের বিভিন্ন পদ্ধতি শাখা-প্রশাখায় বিস্তৃত হয়। এটিই অসীম ও অনিরূপিত ঘটনাবলির বিস্তারিত বিধান উদ্ভাবনের দিকে নিয়ে যায়; কারণ কুরআন ও সুন্নাহর মূল ভাষ্যসমূহ (النصوص) সীমিত ও সীমাবদ্ধ, এবং ইজমা (الإجماع)-এর ক্ষেত্রগুলোও সংখ্যাবদ্ধ ও বর্ণিত। সুতরাং যা কিছু এই দুটি থেকে অবিচ্ছিন্ন (متواتر) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে..."

--------------------------------------------

(১) আল-কামুস আল-মুহিত ২/২৫৩, এবং দেখুন আল-জওহরীর আস-সিহাহ ৩/৯৬৭।

(২) আল-জওহরীর আস-সিহাহ ৩/৯৬৭-৯৬৮।

(৩) দেখুন আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম ৩/১৬৭, এবং উসুলু মাযহাবিল ইমাম আহমাদ পৃ. ৫৪৯।

(৪) আল-জুওয়াইনীর আল-বুরহান ফি উসুলিল ফিকহ ২/৭৪৫।

(৫) রওদাতুন নাযির ওয়া জান্নাতুল মানাযির পৃ. ১৪৫।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - বা জামআন (পৃষ্ঠা: ২৩)
فهو المستنِد إلى القطع وهو معوز قليل، وما ينقله الآحاد عن علماء الأعصار ينزل منزلة أخبار الآحاد، وهي على الجملة متناهية، ونحن نعلم قطعاً أن الوقائع التي يتوقع وقوعها لا نهاية لها. والرأي المبتوت المقطوع به عندنا: أنه لا تخلو واقعة عن حكم الله تعالى، متلقى من قاعدة الشرع، والأصل الذي يسترسل على جميع الوقائع القياس، وما يتعلق به من وجوه النظر والاستدلال فهو إذن أحق الأصول باعتناء الطالب، ومن عرف مأخذه وتقاسيمه، وصحيحه وفاسده، وما يصح من الاعتراضات عليها، وما يفسد منها، وأحاط بمراتبه جلاءً وخفاءً، وعرف مجاريها ومواقعها، فقد احتوى على مجامع الفقه" (1) .

وفي الحقيقة: يعدُّ القياس من أعظم مميزات هذا الدين، يوضح ذلك صاحب كتاب إثبات القياس بقوله: "والقياس مظهر من أعظم مظاهر شمول الشريعة وعمومها، وأبرز سمات بقائها ودوامها، فبالقياس ترد الأحكام التي يجتهد فيها المجتهد إلى الكتاب والسنة؛ لأن الحكم الشرعي يكون نصاً أو حملاً على نصٍ بطريق القياس" (2) .

حجية القياس:

القياس حجة عند الصحابة وجمهور علماء السلف والخلف.

قال الغزالي: "والذي ذهب إليه الصحابة رضي الله عنهم بأجمعهم، وجماهير الفقهاء والمتكلمين بعدهم رحمهم الله، وقوع التعبد به شرعاً" (3) .

--------------------------------------------

(1) البرهان في أصول الفقه 2/743-744.

(2) كتاب إثبات القياس في الشريعة والرد على منكريه، لعبد القادر شيبة الحمد ص 3.

(3) المستصفى 3/494.
সুতরাং এটি অকাট্য নিশ্চয়তার (القطع) ওপর নির্ভরশীল, যা অত্যন্ত দুর্লভ ও সামান্য। আর বিভিন্ন যুগের আলেমদের থেকে একক বর্ণনাকারীরা (الآحاد) যা বর্ণনা করেন, তা একক সংবাদসমূহের (أخبار الآحاد) পর্যায়ভুক্ত; আর সামগ্রিকভাবে এগুলো সসীম। আমরা নিশ্চিতভাবে জানি যে, ভবিষ্যতে ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে এমন ঘটনাবলি অসীম। আমাদের নিকট অকাট্য ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলো এই যে: এমন কোনো ঘটনা নেই যা শরিয়তের মূলনীতি থেকে গৃহীত মহান আল্লাহর বিধানের বাইরে; আর যে মূলনীতিটি সমস্ত ঘটনার ক্ষেত্রে বিচরণ করে তা হলো কিয়াস (القياس)। এর সাথে সংশ্লিষ্ট গবেষণার পাণ্ডিত্য ও দলিল উপস্থাপনের (الاستدلال) পদ্ধতিসমূহ একজন শিক্ষার্থীর জন্য সর্বাধিক গুরুত্ব পাওয়ার দাবিদার। যে ব্যক্তি এর উৎস ও প্রকারভেদ, এর সঠিক (صحيح) ও ত্রুটিপূর্ণ (فাসد) দিকসমূহ সম্পর্কে অবগত হলো, এবং এর ওপর উত্থাপিত আপত্তিসমূহের মধ্যে কোনটি সঠিক ও কোনটি অসার তা জানল, এবং এর স্তরসমূহের স্পষ্টতা ও অস্পষ্টতা সম্পর্কে পরিবেষ্টনকারী জ্ঞান লাভ করল, এবং এর প্রয়োগস্থল ও ক্ষেত্রসমূহ চিনল, সে যেন ফিকহ শাস্ত্রের মূল নির্যাসসমূহ আয়ত্ত করল।" (১) .

প্রকৃতপক্ষে, কিয়াস (القياس) এই দ্বীনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য। 'ইসবাতুল কিয়াস' কিতাবের লেখক বিষয়টি স্পষ্ট করে বলেছেন: "কিয়াস (القياس) হলো শরিয়তের ব্যাপকতা ও সর্বজনীনতার অন্যতম শ্রেষ্ঠ প্রকাশ এবং এর স্থায়িত্ব ও চিরন্তন হওয়ার এক উজ্জ্বল বৈশিষ্ট্য। কেননা কিয়াসের (القياس) মাধ্যমেই মুজতাহিদের গবেষণালব্ধ বিধানসমূহকে কুরআন ও সুন্নাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করানো হয়; কারণ শরয়ি বিধান হয় সরাসরি নস (نص) হিসেবে থাকে, অথবা কিয়াসের (القياس) পদ্ধতিতে নস-এর ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।" (২) .

কিয়াসের (القياس) প্রামাণ্যতা (حجية):

সাহাবীগণ এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী জমহুর আলেমদের নিকট কিয়াস (القياس) একটি প্রমাণ (حجة)।

ইমাম গাজালী বলেন: "সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) সর্বসম্মতিক্রমে এবং তাঁদের পরবর্তী জমহুর ফকীহ ও মুতাকাল্লিমগণ (রহিমাহুল্লাহ) যে মতটি গ্রহণ করেছেন তা হলো, শরয়ি দৃষ্টিকোণ থেকে এর ওপর আমল করা ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত।" (৩) .

--------------------------------------------

(১) আল-বুরহান ফি উসুলিল ফিকহ ২/৭৪৩-৭৪৪।

(২) কিতাবু ইসবাতিল কিয়াস ফিশ শারিয়া ওয়ার রাদ্দু আলা মুনকিরিহি, আব্দুল কাদির শাইবাহ আল-হামদ, পৃ. ৩।

(৩) আল-মুসতাসফা ৩/৪৯৪।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - বা জামআন (পৃষ্ঠা: ২৪)
وقال الجويني: "ذهب علماء الشريعة، وأهل الحل والعقد إلى أن التعبد بالقياس في مجال الظنون جائز غير ممتنع" (1) ، ثم قال: "نحن نعلم قطعاً أن الوقائع التي جرت فيها فتاوى علماء الصحابة وأقضيتهم، تزيد على المنصوصات زيادة لا يحصرها عد، ولا يحويها حد؛ فإنهم كانوا قايسين في قريب من مائة سنة، والوقائع تترى" (2) .

وقال شيبة الحمد: "ذهب عامة الفقهاء والمتكلمين من سلف الأمة وخلفها إلى أن القياس حجة شرعية، وأصل من أصول الفقه في الشريعة الإسلامية، مستدلين بكتاب الله -تعالى-، وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، وإجماع الصحابة رضي الله عنهم، والفطرة والعقل" (3) .

--------------------------------------------

(1) البرهان 2/753.

(2) البرهان 2/764-765.

(3) كتاب إثبات القياس في الشريعة والرد على منكريه ص 15.
আল-জুওয়াইনি বলেছেন: "শরিয়াহর আলেমগণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারী ব্যক্তিবর্গ (أهل الحل والعقد) এই মত পোষণ করেছেন যে, ধারণানির্ভর (الظنون) ক্ষেত্রে কিয়াস (القياس) দ্বারা আমল করা বৈধ এবং তা অসম্ভব নয়" (১), অতঃপর তিনি বলেন: "আমরা সুনিশ্চিতভাবে (قطعاً) জানি যে, সাহাবায়ে কেরামের ফকীহদের ফতোয়া ও বিচারিক রায়সমূহ যেসব ঘটনার প্রেক্ষিতে সংঘটিত হয়েছে, তা অকাট্যভাবে বর্ণিত নসসমূহ (المنصوصات) অপেক্ষা বহুগুণ বেশি, যা কোনো গণনা দ্বারা সীমাবদ্ধ করা যায় না এবং কোনো সীমানায় আবদ্ধ করা যায় না; কেননা তাঁরা প্রায় একশ বছর ধরে কিয়াস (القياس) করতেন এবং ঘটনাপ্রবাহ নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছিল" (২)।

শায়বা আল-হামদ বলেছেন: "উম্মতের পূর্বসূরি (سلف) এবং উত্তরসূরিদের (خلف) অধিকাংশ ফকীহ ও ইলমুল কালামের পণ্ডিতগণ এই মত পোষণ করেছেন যে, কিয়াস (القياس) একটি শরয়ি দলিল (حجة شرعية) এবং ইসলামি শরিয়াহর উসুলুল ফিকহের (أصول الفقه) একটি অন্যতম মূল ভিত্তি। তাঁরা এ ব্যাপারে মহান আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ, সাহাবায়ে কেরামের ঐক্যমত (إجماع), মানুষের সহজাত ফিতরাত এবং বিবেক-বুদ্ধি দ্বারা দলিল পেশ করেছেন" (৩)।

--------------------------------------------

(১) আল-বুরহান ২/৭৫৩।

(২) আল-বুরহান ২/৭৬৪-৭৬৫।

(৩) কিতাব ইসবাতুল কিয়াস ফিশ শারিয়াহ ওয়ার রাদ্দু আলা মুনকিরিহি, পৃষ্ঠা ১৫।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - বা জামআন (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الفصل الثاني: مرتبة السنة النبوية في التشريع الإسلامي

‌‌مدخل

…

الفصل الثاني: مرتبة السنة النبوية في التشريع الإسلامي:

تمهيد:

إن الله عز وجل أرسل الرسل عليهم صلوات الله وسلامه إلى أقوامهم؛ لكي يبلغوهم دين الله عز وجل، وأنزل على كل نبي كتاباً سماوياً ليعلم أمته كتاب ربهم، بأقواله وأفعاله؛ وقد أرسل كل رسول بلسان قومه؛ ليفهموا منه دين الله عز وجل قال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَا مِنْ رَسُولٍ إِلَّا بِلِسَانِ قَوْمِهِ لِيُبَيِّنَ لَهُمْ} [إبراهيم:4] ، وكذلك جعل الله سبحانه وتعالى الاقتداء بالأنبياء، والتأسي بهم واجب على الأمة، قال تعالى: {أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِهْ} [الأنعام:90] وقال تعالى: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ} [الأحزاب:21] ، مهمة الأنبياء إذن هي: تعليم الناس دين الله سبحانه وتعالى بسيرتهم قولاً وفعلاً، وبإقامة حياة الناس، وتحقيق مصالحهم؛ بحسب ما يقتضيه دين الله عز وجل، والناس مطالبون بكل تلك الأعمال التي يقوم بها النبي صلى الله عليه وسلم، والتأسي بها كلها، وهذا ما يسمى بالاتباع، وهو أحد شرطي الشهادتين.

إن شهادة أن لا إله إلا الله، تعني: أن لا معبود بحقٍ إلا الله عز وجل، وأن العباد يجب عليهم أن يعبدوا الله تعالى وحده، ويخلصوه بالعبادة؛ فلا يشركوا معه غيره. وشهادة أن محمداً رسول الله، تعني توحيد اتباع النبي صلى الله عليه وسلم، فلا تصح العبادة حتى تكون موافقة لما جاء به الرسول صلى الله عليه وسلم، عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: قَالَ
‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইসলামী শরিয়ত প্রণয়নে সুন্নাহর (السنة) মর্যাদা

‌‌ভূমিকা

…

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইসলামী শরিয়ত প্রণয়নে সুন্নাহর (السنة) মর্যাদা:

প্রারম্ভিকা:

নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ রসূলগণকে (তাঁদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) তাঁদের নিজ নিজ জাতির নিকট প্রেরণ করেছেন; যাতে তাঁরা তাঁদের নিকট মহান আল্লাহর দ্বীন পৌঁছে দিতে পারেন। তিনি প্রত্যেক নবীর নিকট একটি আসমানী কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যাতে তিনি স্বীয় উম্মতকে তাঁর কথা ও কাজের মাধ্যমে তাঁদের রবের কিতাব শিক্ষা দিতে পারেন। আর প্রত্যেক রসূলকে তাঁর নিজ জাতির ভাষায় প্রেরণ করা হয়েছে; যেন তাঁরা তাঁর নিকট থেকে মহান আল্লাহর দ্বীন বুঝতে পারেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমি প্রত্যেক রসূলকেই তাঁর স্বজাতির ভাষাভাষী করে পাঠিয়েছি তাঁদের নিকট পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করার জন্য} [ইব্রাহিম: ৪]। তদ্রূপ মহান আল্লাহ আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের পদাঙ্ক অনুসরণ এবং তাঁদের আদর্শ গ্রহণ করা উম্মতের জন্য আবশ্যক করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {তাঁরা এমন ছিলেন যাঁদেরকে আল্লাহ হেদায়েত করেছিলেন, অতএব আপনি তাঁদের পথ অনুসরণ করুন} [আল-আনআম: ৯০]। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর রসূলের মধ্যে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ রয়েছে} [আল-আহজাব: ২১]। অতএব নবীদের দায়িত্ব হলো: তাঁদের জীবনচরিত্রের মাধ্যমে কথা ও কাজে মানুষকে মহান আল্লাহর দ্বীন শিক্ষা দেওয়া এবং মানুষের জীবনধারা গঠন ও তাঁদের জনকল্যাণ নিশ্চিত করা; যেভাবে মহান আল্লাহর দ্বীন দাবি করে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সকল কাজ সম্পাদন করেছেন তা পালন করা এবং সেই সমস্ত বিষয়ের আদর্শ গ্রহণ করা মানুষের জন্য কাম্য। আর একেই অনুসরণ (اتباع) বলা হয়, যা শাহাদাতাইনের (কালিমা শাহাদাতের) দুটি শর্তের অন্যতম।

নিশ্চয়ই 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' সাক্ষ্য দেওয়ার অর্থ হলো: মহান আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো সত্য মাবুদ নেই এবং বান্দাদের ওপর কেবল মহান আল্লাহর ইবাদত করা এবং ইবাদতকে তাঁর জন্য একনিষ্ঠ করা আবশ্যক; ফলে তাঁরা যেন তাঁর সাথে অন্য কাউকে শরিক না করে। আর 'মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ' সাক্ষ্য দেওয়ার অর্থ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণে একত্ব (توحيد الاتباع) বজায় রাখা। সুতরাং কোনো ইবাদত ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক হবে না যতক্ষণ না তা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার অনুগামী হয়। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - বা জামআন (পৃষ্ঠা: ২৬)
رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم:"مَنْ أَحْدَثَ فِي أَمْرِنَا هَذَا مَا لَيْسَ مِنْهُ فَهُوَ رَدٌّ". وفي رواية عنها أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ "مَنْ عَمِلَ عَمَلاً لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ" (1) .

وقال تعالى: {فَمَنْ كَانَ يَرْجُوا لِقَاءَ رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلاً صَالِحاً وَلا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَداً} [الكهف:110] .

وبهذا تصبح حياة الرسول صلى الله عليه وسلم كلها سنة، مطابقة لما أمر به الله سبحانه وتعالى، وهذا هو البيان الذي أمره الله به. قال الله تعالى في محكم كتابه:

{وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} [النحل:44] .

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم في صحيحه، 3/1343-1344، كتاب الأقضية، بَاب نَقْضِ الأَحْكَامِ الْبَاطِلَةِ وَرَدِّ مُحْدَثَاتِ الأُمُورِ. رقم الحديث 1718.
আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমাদের এই (দ্বীনের) বিষয়ে নতুন কিছু উদ্ভাবন করবে যা তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত (رد)"। এবং তাঁর থেকে বর্ণিত অপর একটি বর্ণনায় (رواية) আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজ করল যাতে আমাদের কোনো নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত (رد)" (১)।

এবং মহান আল্লাহ বলেন: "অতএব যে ব্যক্তি তার রবের সাক্ষাৎ কামনা করে, সে যেন সৎকর্ম করে এবং তার রবের ইবাদতে অন্য কাউকে শরিক না করে" [আল-কাহফ: ১১০]।

আর এভাবেই রাসূল (সা.)-এর সম্পূর্ণ জীবন সুন্নাহ (سنة)-তে পরিণত হয়, যা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার আদেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর এটিই হলো সেই ব্যাখ্যা ও বর্ণনা যা আল্লাহ তাকে প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহ তাঁর সুষ্পষ্ট কিতাবে বলেছেন:

"আমি আপনার প্রতি যিক্‌র অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের জন্য তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা (تبيين) করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা-গবেষণা করে" [আন-নাহল: ৪৪]।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা (رواه) করেছেন, ৩/১৩৪৩-১৩৪৪, কিতাবুল আকদিয়াহ (বিচারকার্য অধ্যায়), পরিচ্ছেদ: বাতিল হুকুমসমূহ নাকচ করা এবং নব-উদ্ভাবিত বিষয় প্রত্যাখ্যাত হওয়া। হাদিস নম্বর ১৭১৮।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - বা জামআন (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌المبحث الأول: السنة بيان للقرآن الكريم، ووحي نزل بها جبريل عليه السلام على الرسول صلى الله عليه وسلم:

‌‌المطلب الأول: السنة بيان للقرآن الكريم:

والبيان المقصود في الآية يشمل نوعين من البيان، هما:

1- بيان لفظه ونظمه، وهو تبليغ القرآن الكريم، وعدم كتمانه، وأداؤه إلى الأمة، كما أنزله الله تبارك وتعالى. وهو المراد بقوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ} [المائدة:67] . وحديث عائشة في عدم كتمان النبي صلى الله عليه وسلم شيئاً في الصحيحين (1) .

2- بيان معاني القرآن الكريم في الآيات المجملة، أو العامة أو المطلقة؛ فتأتي السنة فتوضح المجمل، وتخصص العام، وتقيد المطلق؛ وذلك يكون بقوله صلى الله عليه وسلم، وبفعله، وبتقريره (2) .

وهذا البيان المطلوب للقرآن الكريم يكون بالسنة النبوية، وكلاهما وحي من عند الله عز وجل. قال ابن حزم -مبيِّناً هذه القضية-: "لما بينَّا أن القرآن هو الأصل المرجوع إليه في الشرائع، نظرنا فيه فوجدنا فيه إيجاب طاعة ما

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري بلفط: "مَنْ حَدَّثَكَ أَنَّ مُحَمَّدًا صلى الله عليه وسلم كَتَمَ شَيْئًا مِمَّا أَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيْهِ فَقَدْ كَذَبَ وَاللَّهُ يَقُولُ {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ} الآيةَ. انظر الصحيح مع فتح الباري: 8/270، كتاب التفسير، باب {يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَبِّكَ} (المائدة 67) ، الحديث رقم 4612، واللفظ له، ورواه مسلم 1/159، كتاب الإيمان، بَاب مَعْنَى قَوْلِ اللَّهِ عز وجل (وَلَقَدْ رَآهُ نَزْلَةً أُخْرَى) (النجم 13) ، وَهَلْ رَأَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رَبَّهُ لَيْلَةَ الإِسْرَاءِ؟ من حديث طويل، رقمه 177.

(2) انظر كتاب منزلة السنة في الإسلام وبيان أنه لا يستغنى عنها بالقرآن للألباني ص 5-6.
প্রথম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ হলো পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা এবং জিবরাঈল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর অবতীর্ণ ওহী:

প্রথম অনুচ্ছেদ: সুন্নাহ হলো পবিত্র কুরআনের ব্যাখ্যা:

আয়াতে যে ব্যাখ্যা (بيان) উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে, তা দুই প্রকারের ব্যাখ্যাকে অন্তর্ভুক্ত করে, সেগুলো হলো:

১- শব্দ ও বিন্যাসের ব্যাখ্যা; আর তা হলো পবিত্র কুরআন প্রচার করা, তা গোপন না করা এবং আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা যেভাবে নাযিল করেছেন ঠিক সেভাবেই উম্মতের নিকট তা পৌঁছে দেওয়া। মহান আল্লাহর এই বাণীর উদ্দেশ্যও তাই: {হে রাসূল, আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা প্রচার করুন} [আল-মায়িদাহ: ৬৭]। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কিছু গোপন না করার ব্যাপারে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার বর্ণিত হাদিসটি সহীহাইন (১)-এ রয়েছে।

২- সংক্ষিপ্ত (مجمل), সাধারণ (عام) অথবা নিঃশর্ত (مطلق) আয়াতসমূহের ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআনের অর্থের ব্যাখ্যা প্রদান করা; ফলে সুন্নাহ এসে সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিষয়কে স্পষ্ট করে, সাধারণ (عام) বিষয়কে সুনির্দিষ্ট (تخصيص) করে এবং নিঃশর্ত (مطلق) বিষয়কে শর্তযুক্ত (تقييد) করে। আর এটি সম্পন্ন হয় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা, কাজ এবং মৌনসম্মতির (تقرير) মাধ্যমে (২)।

পবিত্র কুরআনের জন্য নির্দেশিত এই ব্যাখ্যা সুন্নাহে নববীর মাধ্যমেই হয়ে থাকে এবং উভয়টিই আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার পক্ষ থেকে আগত ওহী। ইবনে হাজম —এই বিষয়টি স্পষ্ট করতে গিয়ে— বলেন: "যখন আমরা প্রমাণ করলাম যে, শরিয়তের বিধানসমূহের ক্ষেত্রে কুরআনই হলো মূল উৎস, তখন আমরা তাতে লক্ষ্য করে দেখলাম যে, তাতে এমন বিষয়ের আনুগত্য করাকে আবশ্যক করা হয়েছে...

--------------------------------------------

(১) ইমাম বুখারি এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি তোমাকে বলবে যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ওপর আল্লাহর অবতীর্ণ কোনো কিছু গোপন করেছেন, তবে সে অবশ্যই মিথ্যা বলেছে। আর আল্লাহ বলেন: {হে রাসূল, আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রচার করুন} আয়াতটি।" দেখুন: ফাতহুল বারীসহ সহীহ বুখারি: ৮/২৭০, কিতাবুত তাফসীর, পরিচ্ছেদ: {হে রাসূল, আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রচার করুন} (আল-মায়িদাহ: ৬৭), হাদিস নম্বর ৪৬১২, শব্দগুলো তাঁরই। আর ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন: ১/১৫৯, কিতাবুল ঈমান, মহান আল্লাহর বাণী {নিশ্চয়ই তিনি তাকে আরেকবার দেখেছিলেন} (আন-নাজম: ১৩)-এর অর্থ সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ এবং মিরাজের রাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তাঁর প্রতিপালককে দেখেছিলেন? শীর্ষক দীর্ঘ হাদিসের অংশ, হাদিস নম্বর ১৭৭।

(২) দেখুন: আলবানী রচিত 'মানযিলাতুস সুন্নাহ ফিল ইসলাম ওয়া বায়ানু আন্নাহু লা ইউস্তাগনা আনহা বিল কুরআন' পৃষ্ঠা ৫-৬।
(খণ্ড: ১) আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - বা জামআন (পৃষ্ঠা: ২৮)
أمرنا به رسول الله صلى الله عليه وسلم، ووجدناه عز وجل يقول فيه واصفاً لرسوله صلى الله عليه وسلم: {وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [النجم: 3، 4] ، فصحَّ لنا بذلك أن الوحي ينقسم من الله عز وجل إلى رسوله صلى الله عليه وسلم على قسمين:

أحدهما: وحي متلو، مؤلف تأليفاً معجز النظام، وهو القرآن.

والثاني: وحي مروي، منقول غير مؤلف ولا معجز النظام، ولا متلو، لكنه مقروء، وهو الخبر الوارد عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو المبين عن الله عز وجل مراده منا. قال الله تعالى: {لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ} [النحل:44] ، ووجدناه تعالى قد أوجب طاعة هذا القسم الثاني، كما أوجب طاعة القسم الأول الذي هو القرآن ولا فرق" (1) .

--------------------------------------------

(1) الإحكام في أصول الأحكام لابن حزم 1/108.
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের এটি নির্দেশ করেছেন এবং আমরা মহান আল্লাহকে তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর গুণাবলি বর্ণনায় বলতে দেখেছি: {এবং তিনি নিজ প্রবৃত্তি থেকে কথা বলেন না। তা তো ওহী যা তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ হয়} [আন-নাজম: ৩, ৪]। এর মাধ্যমে আমাদের নিকট এটি সহীহ (صحَّ) হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে যে, আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আগত ওহী দুই ভাগে বিভক্ত:

একটি হলো: তিলাওয়াতকৃত ওহী (وحي متلو), যা এক অলৌকিক বিন্যাসে রচিত, আর তা হলো কুরআন।

আর দ্বিতীয়টি হলো: বর্ণিত ওহী (وحي مروي), যা বর্ণিত ও হস্তান্তরিত কিন্তু তা অলৌকিক বিন্যাসে রচিত নয় এবং তা তিলাওয়াতকৃত (وحي متلو) ও নয়, তবে তা পঠিত। আর এটি হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে প্রাপ্ত খবর (الخبر), যা আমাদের নিকট মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে। মহান আল্লাহ বলেছেন: {যাতে আপনি মানুষের জন্য তা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যা তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে} [আন-নাহল: ৪৪]। আমরা দেখতে পাই যে, আল্লাহ তাআলা এই দ্বিতীয় প্রকারের আনুগত্যকেও তেমনি আবশ্যক করেছেন যেমনটি তিনি প্রথম প্রকার তথা কুরআনের আনুগত্যকে আবশ্যক করেছেন, এবং এর মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। (১)

--------------------------------------------

(১) ইবনে হাজম রচিত আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম, ১/১০৮।