(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - নূর কারূত
(পৃষ্ঠা: -)
السنة النبوية ومكانتها - نور قاروت القسم: علوم الحديث
الكتاب: السنة النبوية المصدر الثاني للتشريع الإسلامي ومكانتها من حيث الاحتجاج والعمل
المؤلف: نور بنت حسن قاروت
الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة
عدد الصفحات: 74
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
নববী সুন্নাহ (السنة النبوية) ও এর মর্যাদা - নূর কারুত বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)
বই: নববী সুন্নাহ (السنة النبوية): ইসলামী শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস এবং দালিলিক প্রামাণ্যতা (الاحتجاج) ও আমল (العمل)-এর ক্ষেত্রে এর মর্যাদা
লেখক: নূর বিনতে হাসান কারুত
প্রকাশক: মদিনা মুনাওয়ারায় পবিত্র কুরআন মুদ্রণের জন্য বাদশাহ ফাহদ কমপ্লেক্স
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৪
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - নূর কারূত
(পৃষ্ঠা: ১)
ال
مقدمة:الحمد لله الذي لا إله إلاّ هو الملك القدوس السلام المؤمن المهيمن العزيز الجبار المتكبر، والصلاة والسلام على الهادي البشير والسراج المنير وعلى آله وصحبه ومن استن بسنته إلى يوم الدين وبعد:
فهذا البحث في بيان أهم ما يلزم تأمله ومعرفته من كون السنة النبوية هي المصدر الثاني للتشريع الإسلامي شرعت في الكتابة فيه خدمة للسنة، راغبة في حصول الثواب من الكريم ذي الفضل العظيم، ثم استجابة للأمانة العامة لمجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف التي شرفتني بدعوتها للكتابة في هذا الموضوع.
وهذا البحث محاولة لتعميق الفهم الذي قصده علماء السلف من كون السنة النبوية هي المصدر الثاني للتشريع الإسلامي بوسطية لا مغالاة فيها ولا جفاء.
وبنيت خطة البحث على هذه المقدمة، وثلاثة فصول وخاتمة:
أما الفصل الأول فعنوانه: التعريف بكون السنة النبوية المصدر الثاني للتشريع الإسلامي:
وفيه خمسة مباحث:
المبحث الأول: التعريف بالسنة، وأدوار العناية بها.
فيه ثلاثة مطالب:
الأول: تعريف السنة لغة وشرعًا.
الثاني: الفرق بين السنة والحديث.
الثالث: أدوار العناية بالسنة.
ভূমিকা:প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; যিনি অধিপতি, অতি পবিত্র, শান্তিদাতা, নিরাপত্তাদানকারী, রক্ষণাবেক্ষণকারী, পরাক্রমশালী, প্রতাপশালী এবং মহিমান্বিত। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক সুসংবাদদাতা পথপ্রদর্শক ও উজ্জ্বল প্রদীপের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং যারা কিয়ামত পর্যন্ত তাঁর সুন্নাহর (سنة) অনুসরণ করবে তাদের ওপর। এরপর:
সুন্নাহে নববী (السنة النبوية) ইসলামী শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস হওয়ার বিষয়টি অনুধাবন ও জানার ক্ষেত্রে যেসব অতীব জরুরি বিষয় রয়েছে, তা বর্ণনা করাই এই গবেষণার মূল লক্ষ্য। সুন্নাহর (السنة) খিদমত করার উদ্দেশ্যে এবং সুমহান অনুগ্রহের অধিকারী মহান রবের নিকট থেকে সওয়াব অর্জনের আশায় আমি এটি লেখা শুরু করেছি। পাশাপাশি 'বাদশাহ ফাহদ পবিত্র কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্স'-এর সাধারণ সচিবালয়ের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমি এই বিষয়ে লেখার গৌরব অর্জন করেছি।
এই গবেষণাপত্রটি সুন্নাহে নববী (السنة النبوية) ইসলামী শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস হওয়ার বিষয়ে সালাফে সালেহীন বা পূর্বসূরি আলেমগণের (علماء السلف) উদ্দিষ্ট বুঝকে গভীর করার একটি প্রচেষ্টা; যাতে কোনো বাড়াবাড়ি কিংবা অবহেলা নেই বরং মধ্যপন্থা অবলম্বন করা হয়েছে।
গবেষণার পরিকল্পনাটি একটি ভূমিকা, তিনটি অধ্যায় ও একটি উপসংহারের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে:
প্রথম অধ্যায়ের শিরোনাম: ইসলামী শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস হিসেবে সুন্নাহে নববীর (السنة النبوية) পরিচয়:
এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর (السنة) পরিচয় এবং এর প্রতি যত্নবান হওয়ার পর্যায়সমূহ।
এতে তিনটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম: আভিধানিক ও শরয়ি (شرعًا) পরিভাষায় সুন্নাহর (السنة) সংজ্ঞা।
দ্বিতীয়: সুন্নাহ (السنة) ও হাদিসের মধ্যে পার্থক্য।
তৃতীয়: সুন্নাহর (السنة) প্রতি যত্নবান হওয়ার পর্যায়সমূহ।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - নূর কারূত
(পৃষ্ঠা: ২)
المبحث الثاني: التعريف بالشريعة ومصادرها ومقاصدها.
وفيه ثلاثة مطالب:
الأول: تعريف الشريعة لغة وشرعًا.
الثاني: مصادر التشريع.
الثالث: مقاصد الشريعة.
المبحث الثالث: الأدلة على حجية السنة.
المبحث الرابع: عناية المحدِّثين بالفقه، وعناية الفقهاء بالحديث.
وفيه مطلبان:
الأول: عناية المحدثين بالفقه.
الثاني: عناية الفقهاء بالحديث.
المبحث الخامس: أقسام السنة من حيث ثبوتها ومن حيث دلالاتها.
وفيه مطلبان:
الأول: أقسام السنة من حيث ثبوتها.
الثاني: أقسام السنة من حيث دلالاتها.
المبحث السادس: أنواع القرائن الصارفة العمل بظواهر السنة.
المبحث السابع: أسباب عدم الاحتجاج بالسنة.
المبحث الثامن: موقف العلماء من السنن التي ظاهرها التعارض.
الفصل الثاني: تبيين السنة لأحكام القرآن الكريم.
وفيه ثلاثة مباحث:
المبحث الأول: تفصيل السنة لأحكام مجملة في القرآن الكريم.
وفيه مطلبان:
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثاني): শরীয়তের পরিচিতি, এর উৎস এবং লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ।
এতে তিনটি অনুচ্ছেদ (مطالب) রয়েছে:
প্রথম: আভিধানিক ও শরীয়তি পরিভাষায় শরীয়তের সংজ্ঞা।
দ্বিতীয়: শরীয়ত প্রণয়নের উৎসসমূহ।
তৃতীয়: শরীয়তের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ (المبحث الثالث): সুন্নাহর প্রামাণিকতার (حجية) দলীলসমূহ।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ (المبحث الرابع): ফিকহের প্রতি মুহাদ্দিসগণের গুরুত্ব এবং হাদিসের প্রতি ফকিহগণের গুরুত্ব।
এতে দুইটি অনুচ্ছেদ (مطلبان) রয়েছে:
প্রথম: ফিকহের প্রতি মুহাদ্দিসগণের গুরুত্ব।
দ্বিতীয়: হাদিসের প্রতি ফকিহগণের গুরুত্ব।
পঞ্চম পরিচ্ছেদ (المبحث الخامس): সাব্যস্ত হওয়ার (ثبوت) এবং অর্থ নির্দেশনার (دلالة) দিক থেকে সুন্নাহর প্রকারভেদ।
এতে দুইটি অনুচ্ছেদ (مطلبان) রয়েছে:
প্রথম: সাব্যস্ত হওয়ার (ثبوت) দিক থেকে সুন্নাহর প্রকারভেদ।
দ্বিতীয়: অর্থ নির্দেশনার (دلالة) দিক থেকে সুন্নাহর প্রকারভেদ।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ (المبحث السادس): সুন্নাহর বাহ্যিক অর্থ (ظواهر) অনুযায়ী আমল করা থেকে বিমুখকারী লক্ষণসমূহের (القرائن الصارفة) প্রকারভেদ।
সপ্তম পরিচ্ছেদ (المبحث السابع): সুন্নাহর মাধ্যমে দলীল গ্রহণ (الاحتجاج) না করার কারণসমূহ।
অষ্টম পরিচ্ছেদ (المبحث الثامن): বাহ্যিকভাবে বৈপরীত্য (التعارض) পরিলক্ষিত হয় এমন সুন্নাহসমূহের ক্ষেত্রে আলেমদের অবস্থান।
দ্বিতীয় অধ্যায়: কুরআনুল কারিমের বিধানসমূহের ব্যাখ্যায় সুন্নাহ।
এতে তিনটি পরিচ্ছেদ (مباحث) রয়েছে:
প্রথম পরিচ্ছেদ (المبحث الأول): কুরআনুল কারিমের সংক্ষিপ্ত (مجمل) বিধানসমূহের বিস্তারিত বর্ণনায় সুন্নাহর ভূমিকা।
এতে দুইটি অনুচ্ছেদ (مطلبان) রয়েছে:
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - নূর কারূত
(পৃষ্ঠা: ৩)
الأول: تعريف المجمل والمفصل.
الثاني: أمثلة لأحكام مجملة في القرآن الكريم ورد تفصيلها في السنة.
المبحث الثاني: تفصيل السنة لأحكام عامة في القرآن الكريم.
وفيه مطلبان
الأول: تعريف العام والخاص.
الثاني: أمثلة لأحكام عامة في القرآن خصصتها السنة.
المبحث الثالث: تقييد السنة لأحكام مطلقة في القرآن الكريم.
وفيه مطلبان:
الأول: تعريف المطلق والمقيد.
الثاني: أمثلة لأحكام مطلقة في القرآن الكريم قيدتها السنة.
الفصل الثالث: أحكام وردت في السنة ولم تذكر في القرآن.
وفيه سبعة مباحث:
الأول: الفرق بين وحي القرآن ووحي السنة.
الثاني: مقاييس وضوابط لقبول ما صح من أخبار الآحاد.
الثالث: هل جاءت السنة بأحكام لم تثبت في القرآن؟
الرابع: أمثلة مما استقلت به السنة في العبادات.
الخامس: أمثلة مما استقلت به السنة في المعاملات.
السادس: أمثلة مما استقلت به السنة في النكاح.
السابع: أمثلة مما استقلت به السنة في الجنايات.
ثم الخاتمة في أهم النتائج التي توصل إليها البحث.
وكان المنهج المتبع في كتابة أغلب مواضيع البحث ما يلي:
প্রথম: মুজমাল (مجمل) এবং মুফাসসাল (مفصل)-এর সংজ্ঞা।
দ্বিতীয়: পবিত্র কুরআনের এমন মুজমাল (مجمل) বিধানাবলির উদাহরণ যেগুলোর বিস্তারিত বিবরণ সুন্নাহর মধ্যে বর্ণিত হয়েছে।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনের আম (عام) বিধানাবলির ক্ষেত্রে সুন্নাহর বিস্তারিত বর্ণনা।
এতে দুইটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম: আম (عام) এবং খাস (خاص)-এর সংজ্ঞা।
দ্বিতীয়: পবিত্র কুরআনের এমন আম (عام) বিধানাবলির উদাহরণ যেগুলোকে সুন্নাহ সুনির্দিষ্ট বা খাস (خاص) করেছে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনের মুতলাক (مطلق) বিধানাবলির ক্ষেত্রে সুন্নাহর তাকিদ বা সীমাবদ্ধকরণ (تقييد)।
এতে দুইটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম: মুতলাক (مطلق) এবং মুকাইয়াদ (مقيد)-এর সংজ্ঞা।
দ্বিতীয়: পবিত্র কুরআনের এমন মুতলাক (مطلق) বিধানাবলির উদাহরণ যেগুলোকে সুন্নাহ মুকাইয়াদ (مقيد) করেছে।
তৃতীয় অধ্যায়: সুন্নাহর মধ্যে বর্ণিত এমন বিধানাবলি যা কুরআনে উল্লেখ করা হয়নি।
এতে সাতটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:
প্রথম: কুরআনের ওহী এবং সুন্নাহর ওহীর মধ্যে পার্থক্য।
দ্বিতীয়: সহিহ (صحيح) হিসেবে প্রমাণিত একব্যক্তির বর্ণনা বা খবরে ওয়াহিদ (أخبار الآحاد) গ্রহণের মানদণ্ড ও নীতিমালা।
তৃতীয়: সুন্নাহ কি এমন কোনো বিধান প্রদান করেছে যা কুরআনে প্রমাণিত হয়নি?
চতুর্থ: ইবাদতের ক্ষেত্রে সুন্নাহ কর্তৃক স্বতন্ত্রভাবে প্রবর্তিত বিধানাবলির উদাহরণ।
পঞ্চম: মুয়ামালাত বা লেনদেনের ক্ষেত্রে সুন্নাহ কর্তৃক স্বতন্ত্রভাবে প্রবর্তিত বিধানাবলির উদাহরণ।
ষষ্ঠ: নিকাহ বা বিয়ের ক্ষেত্রে সুন্নাহ কর্তৃক স্বতন্ত্রভাবে প্রবর্তিত বিধানাবলির উদাহরণ।
সপ্তম: জিনায়াত বা অপরাধদণ্ডের ক্ষেত্রে সুন্নাহ কর্তৃক স্বতন্ত্রভাবে প্রবর্তিত বিধানাবলির উদাহরণ।
অতঃপর গবেষণালব্ধ গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে উপসংহার।
গবেষণার অধিকাংশ বিষয়বস্তু রচনায় অনুসৃত পদ্ধতি ছিল নিম্নরূপ:
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - নূর কারূত
(পৃষ্ঠা: ৪)
- عرض أهم عناصر الموضوع باختصار دون ذكر الخلافات إلاّ في أضيق حدود.
- ذكر ما بدا لي راجحًا فيما لا بد من ذكر الخلاف فيه، دون الإسهاب في ذكر الأدلة والردود عليها ومناقشتها.
- الحرص ما أمكن على تسهيل أسلوب الكتابة وتبسيطه.
- تشكيل وعزو الآيات إلى سورها.
- تخريج الأحاديث والحكم عليها من غير الصحيحين، فإن خرجتها منهما اكتفيت بهما أو بأحدهما، وقد أكتفي بالرجوع إلى كتاب اللؤلؤ المرجان.
- التوضيح للكلمات الغريبة.
والله الرحمن الرحيم البر الكريم الجواد الحكيم أسأل أن يجعل هذا البحث عملاً صالحًا ولوجهه خالصًا وأن يكتب له القبول والبركة، ويغفر لي ما كان به من زلل أو تقصير، ويجزي كل من صوّبه أو نصحني فيه خير الجزاء إنه ولي ذلك والقادر عليه. والحمد لله على نعمه التي لا تعدُّ ولا تحصى، والصلاة والسلام على النبي المجتبى وعلى آله وصحبه ومن اصطفى.
- বিষয়ের প্রধান উপাদানসমূহ সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে মতভেদগুলো অত্যন্ত সীমিত পরিসর ব্যতীত উল্লেখ করা হয়নি।
- যেখানে মতভেদ উল্লেখ করা অপরিহার্য ছিল, সেখানে আমার নিকট যা অগ্রগণ্য (راجح) মনে হয়েছে তা উল্লেখ করেছি; তবে দলীল-প্রমাণ, সেগুলোর উত্তর এবং পর্যালোচনার ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করা হয়েছে।
- লিখনশৈলীকে যথাসম্ভব সহজ ও প্রাঞ্জল করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকা হয়েছে।
- আয়াতসমূহে হরকত প্রদান এবং সেগুলোকে সংশ্লিষ্ট সূরার সাথে যুক্ত করা হয়েছে।
- সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম ব্যতীত অন্যান্য গ্রন্থের হাদিসসমূহের উৎস নির্দেশ (تخريج) করা হয়েছে এবং সেগুলোর ওপর মান নির্ধারণ (الحكم) করা হয়েছে। যদি আমি হাদিসগুলো এই দুই গ্রন্থ থেকে বর্ণনা করি, তবে উভয়টি অথবা যেকোনো একটির উদ্ধৃতি দেওয়াকেই যথেষ্ট মনে করেছি; আবার কখনো কখনো আল-লু'লু ওয়াল মারজান গ্রন্থের উদ্ধৃতি দেওয়াকেই যথেষ্ট মনে করেছি।
- অপরিচিত শব্দগুলোর (الكلمات الغريبة) ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।
মহান আল্লাহ—যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু, মহানুভব, অতি দাতা, সর্বশ্রেষ্ঠ দাতা ও প্রজ্ঞাময়—তাঁর নিকট আমি প্রার্থনা করি যেন তিনি এই গবেষণাকে একটি নেক আমল হিসেবে কবুল করেন এবং একে একমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ (خالص) করেন। তিনি যেন এর জন্য গ্রহণযোগ্যতা ও বরকত নির্ধারণ করেন, আমার সকল পদস্খলন ও ত্রুটি-বিচ্যুতি ক্ষমা করেন এবং যারা এটি সংশোধন করেছেন বা আমাকে সদুপদেশ দিয়েছেন তাদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং তিনি সবকিছুর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর অগণিত নেয়ামতরাজির ওপর, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক মনোনীত নবী এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ ও তিনি যাদের মনোনীত করেছেন তাদের সবার ওপর।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - নূর কারূত
(পৃষ্ঠা: ৬)
الفصل الأول: التعريف بكون السنة المصدر الثاني للتشريع الإسلامي
المبحث الأول: التعريف بالشريعة ومصادرها ومقاصدها
أولاً: تعريف الشريعة لغةً وشرعًا…المبحث الأول: التعريف بالشريعة ومصادرها ومقاصدها
أولاً: تعريف الشريعة لغةً وشرعًا
الشريعة في اللغة:
موْرِدُ الشاربة التي يردها الناس فيشربون منها ويستقون، والعرب لا تسميها شريعة حتى يكون الماء لا انقطاع له، ويكون ظاهرًا معينا لا يُسقى بالدلو، وشرعت في هذا الأمر شُرُعا: أي خضت (1) .
الشريعة شرعًا:
استعمل العلماء لفظ الشريعة باستعمالات متعددة وذلك حسب المقام فمنهم من أطلقها على التوحيد وما سواه من الفروع ومنهم من أطلقها وأراد بها التوحيد فقط ومنهم من أطلقها وأراد بها الفروع فقط (2) .
والرأي الراجح في معنى الشريعة عند الباحثين: هي الفرائض والحدود والأمر والنهي (3) .
فيدخل في تعريفها التوحيد وسائر الأحكام، وهي بذلك أعم من الحكم الشرعي الذي عرفه العلماء بأنه: الخطاب المتعلق بأفعال المكلفين بالطلب، أو التخيير أو الوضع (4) .
--------------------------------------------
প্রথম অধ্যায়: ইসলামী আইন প্রণয়নের (التشريع الإسلامي) দ্বিতীয় উৎস হিসেবে সুন্নাহর (السنة) পরিচিতি
প্রথম পরিচ্ছেদ: শরিয়াহ (الشريعة), এর উৎসসমূহ ও উদ্দেশ্যসমূহের পরিচিতি
প্রথমত: শরিয়াহর শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা…প্রথম পরিচ্ছেদ: শরিয়াহ (الشريعة), এর উৎসসমূহ ও উদ্দেশ্যসমূহের পরিচিতি
প্রথমত: শরিয়াহর শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা
ভাষাগতভাবে শরিয়াহ (الشريعة):
পানির এমন ঘাট যেখানে মানুষ পানি পানের উদ্দেশ্যে গমন করে এবং যেখান থেকে তারা পানি পান করে ও সংগ্রহ করে। আরবরা একে ততক্ষণ পর্যন্ত শরিয়াহ (الشريعة) বলে অভিহিত করে না, যতক্ষণ না পানির ধারাটি অবিচ্ছিন্ন হয় এবং তা বালতি ছাড়াই সরাসরি পান করার মতো দৃশ্যমান ও বহমান থাকে। আর ‘আমি এই বিষয়ে লিপ্ত হয়েছি বা প্রবেশ করেছি’ বোঝাতে ‘শরাতু’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
পরিভাষাগতভাবে শরিয়াহ (الشريعة):
আলেমগণ প্রেক্ষাপট অনুযায়ী শরিয়াহ (الشريعة) শব্দটি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এটি তাওহিদ (التوحيد) এবং এর বাইরের অন্যান্য শাখা-প্রশাখা বা ফুরু (الفروع) উভয় ক্ষেত্রেই প্রয়োগ করেছেন। আবার কেউ কেউ এর দ্বারা কেবল তাওহিদ (التوحيد) বুঝিয়েছেন, আবার কেউ কেউ কেবল শাখা-প্রশাখা বা ফুরু (الفروع) বুঝিয়েছেন।
গবেষকদের মতে শরিয়াহর (الشريعة) সংজ্ঞার ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য মত (الرأي الراجح) হলো: এটি ফরজসমূহ (الفرائض), দণ্ডবিধি (الحدود) এবং আদেশ ও নিষেধের (الأمر والنهي) সমষ্টি।
ফলে এর সংজ্ঞায় তাওহিদ (التوحيد) এবং অন্যান্য সকল বিধান অন্তর্ভুক্ত হয়। সেই হিসেবে এটি ‘শরিয়াহর বিধান’ (الحكم الشرعي) অপেক্ষা অধিক ব্যাপক; যার সংজ্ঞা আলেমগণ এভাবে দিয়েছেন যে: মুকাল্লাফ বা শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের (المكلفين) কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট আল্লাহর সেই সম্বোধন, যা কোনো কিছু করার দাবি (الطلب), ঐচ্ছিকতা প্রদান (التخيير) কিংবা আনুষঙ্গিক নির্ধারণের (الوضع) সাথে সম্পর্কিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - নূর কারূত
(পৃষ্ঠা: ৭)
فيمثل الحكم الشرعي الوجه العملي للدين فقط، والشريعة تمثل الوجهين العقدي والعملي معًا.
ثانيًا: مصادر الشريعة
ذكر العلماء أن مصادر الشريعة الأساسية أربعة مصادر: القرآن الكريم، والسنة المطهرة، والإجماع، والقياس (1) .
ولا يخفى على المتأمل أن أدلة حجية الإجماع والقياس الكتاب والسنة.
أتى رجل إلى الإمام الشافعي فسأله عن الدليل في أن اتفاق الأمة حجة في الدين؟ فذهب الإمام الشافعي ولم يخرج ثلاثة أيام، ثم خرج وجاءه الشيخ فسلم ثم جلس، فقال حاجتي؟ فقال الشافعي رحمه الله: نعم أعوذ بالله من الشيطان الرجيم بسم الله الرحمن الرحيم قال الله تعالى: {وَمَن يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَسَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءتْ مَصِيرًا} [النساء:115] . لا يصليه – تعالى- جهنم على خلاف سبيل المؤمنين إلاّ وهو فرض. قال: فقال: صدقت. وقام وذهب. قال الشافعي: قرأت القرآن في كل يوم وليلة ثلاث مرات حتى وقفت عليه (2) .أي الدليل على أن حجية الإجماع ثابتة في الكتاب.
--------------------------------------------
শরয়ী বিধান শুধুমাত্র দ্বীনের ব্যবহারিক দিককে প্রতিনিধিত্ব করে, আর শরীয়াহ আকিদাগত এবং ব্যবহারিক উভয় দিককে একত্রে প্রতিনিধিত্ব করে।
দ্বিতীয়ত: শরীয়াহর উৎসসমূহ
আলেমগণ উল্লেখ করেছেন যে শরীয়াহর মৌলিক উৎস চারটি: আল-কুরআনুল কারীম, সুন্নাহ, ঐক্যমত (الإجماع), এবং পদ্ধতিগত তুলনা (القياس) (১)।
চিন্তাশীল ব্যক্তিদের নিকট এটি অস্পষ্ট নয় যে, ঐক্যমত (الإجماع) এবং পদ্ধতিগত তুলনা (القيাস)-এর প্রামাণিকতার দলিল হলো কুরআন ও সুন্নাহ।
এক ব্যক্তি ইমাম শাফেয়ীর নিকট এসে জিজ্ঞাসা করলেন যে, উম্মতের ঐক্যমত দ্বীনের ক্ষেত্রে দলিল হওয়ার সপক্ষে প্রমাণ কী? তখন ইমাম শাফেয়ী চলে গেলেন এবং তিন দিন পর্যন্ত বের হলেন না। অতঃপর তিনি বের হলেন এবং সেই ব্যক্তিটি তাঁর নিকট এসে সালাম দিয়ে বসলেন। তিনি বললেন, আমার কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি কী হলো? ইমাম শাফেয়ী (রহিমাহুল্লাহ) বললেন: হ্যাঁ, আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি, পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি। মহান আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর যে ব্যক্তি তার কাছে সঠিক পথ প্রকাশ পাওয়ার পর রাসূলের বিরোধিতা করে এবং মুমিনদের পথ ব্যতীত অন্য পথ অনুসরণ করে, আমি তাকে সেই পথেই পরিচালিত করব যা সে বেছে নিয়েছে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব; আর তা কতই না মন্দ আবাস।" [আন-নিসা: ১১৫]। তিনি—তাআলা—মুমিনদের পথের বিপরীতে চলার কারণে কাউকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন না, যদি না তা অনুসরণ করা আবশ্যিক (فرض) হয়। বর্ণনাকারী বলেন: তখন সেই ব্যক্তি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। এরপর তিনি উঠে চলে গেলেন। শাফেয়ী বলেন: আমি প্রতিদিন এবং রাতে তিনবার করে কুরআন তিলাওয়াত করেছি যতক্ষণ না আমি এই দলিলটির ওপর উপনীত হয়েছি (২)। অর্থাৎ, ঐক্যমত (الإجماع)-এর প্রামাণিকতা যে কুরআনে সাব্যস্ত এটি তার দলিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - নূর কারূত
(পৃষ্ঠা: ৮)
وكذلك رُوِيَ في السنة قوله صلى الله عليه وسلم: (ما رآه المسلون حسنًا فهو عند الله حسن) (1) .
وذكر أهل القياس ونفاته أدلتهم من الكتاب والسنة (2) .
وتعريف القرآن بالأحكام الشرعية أكثره كلي لا جزئي، فهو محتاج إلى كثير من البيان، والسنة إنما هي بيان للقرآن (3) .فمصادر الشريعة: الكتاب والسنة وغيرهما تبع لهما.
ثالثًا: مقاصد الشريعة
القرآن الكريم والسنة الشريفة أتيا للتعريف بمصالح الدارين جلبا لها، والتعريف بمفاسدهما دفعًا لها.
وهذه المصالح لها ثلاثة أقسام: الضروريات، والحاجيات، والتحسينيّات.
والضروريات خمس: حفظ الدين، وحفظ النفس، وحفظ العرض، وحفظ المال، وحفظ العقل.
والحاجيات تدور على التوسعة، والتيسير، ورفع الحرج، والرفق في هذه المقاصد.
والتحسينيّات ترجع إلى العمل بمكارم الأخلاق وما يحسن في مجاري العادات في هذه المقاصد الخمس.
ولكل مما تقدم أمثلة عديدة وردت في الكتاب والسنة (4) .
--------------------------------------------
একইভাবে সুন্নাহতে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মুসলিমরা যা সুন্দর (حسن) হিসেবে গণ্য করে, আল্লাহর নিকটও তা সুন্দর (حسن)" (১)।
কিয়াস (قياس) পন্থী এবং এর অস্বীকারকারীরা কুরআন ও সুন্নাহ থেকে তাদের সপক্ষে প্রমাণাদি উল্লেখ করেছেন (২)।
কুরআনের মাধ্যমে শরয়ী বিধিবিধানের সংজ্ঞায়ন অধিকাংশ ক্ষেত্রে সামগ্রিক (كلي), আংশিক (جزئي) নয়; তাই এটি অনেক ব্যাখ্যার মুখাপেক্ষী, আর সুন্নাহ মূলত কুরআনেরই ব্যাখ্যা (৩)। সুতরাং শরীয়তের উৎসসমূহ হলো: কুরআন, সুন্নাহ এবং এতদুভয়ের অনুগামী অন্যান্য উৎস।
তৃতীয়ত: শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ (مقاصد الشريعة)
কুরআনুল কারীম ও সুন্নাহ উভয়ই দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণসমূহ (مصالح) অর্জনের লক্ষ্যে সেগুলোর পরিচয় দান করতে এবং উভয় জগতের অকল্যাণ (مفاسد) দূর করার লক্ষ্যে সেগুলোর বর্ণনা দিতে অবতীর্ণ হয়েছে।
এই কল্যাণগুলোর তিনটি স্তর রয়েছে: আবশ্যকতা (الضروريات), প্রয়োজন (الحاجيات) এবং সৌন্দর্যবর্ধন (التحسينيّات)।
আবশ্যকতা (الضروريات) পাঁচটি: দ্বীন রক্ষা, জীবন রক্ষা, বংশমর্যাদা রক্ষা, সম্পদ রক্ষা এবং বিবেক রক্ষা।
প্রয়োজনসমূহ (الحاجيات) এই উদ্দেশ্যগুলোর ক্ষেত্রে ব্যাপ্তি, সহজীকরণ, সংকীর্ণতা দূরীকরণ এবং কোমলতার ওপর আবর্তিত হয়।
সৌন্দর্যবর্ধন (التحسينيّات) এই পাঁচটি উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে উত্তম চরিত্রের অনুসরণ এবং সামাজিক রীতিনীতিতে যা সুন্দর বলে গণ্য হয়, তার দিকে প্রত্যাবর্তন বোঝায়।
উপরোক্ত প্রত্যেকটির জন্য কুরআন ও সুন্নাহতে অসংখ্য উদাহরণ বর্ণিত হয়েছে (৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - নূর কারূত
(পৃষ্ঠা: ৯)
والفقهاء وهم ينظرون في السنن يجدون بالاستقراء أنه لا يمكن أن تشذ سنة فتدفع مصلحة أو تجلب مفسدة راجحة، فإن وجدت مفسدة، فهو دليل ضعفها أو كذب ناقلها.
ফকিহগণ যখন সুন্নাহসমূহ পর্যালোচনা করেন, তখন তাঁরা আরোহী পদ্ধতির (استقراء) মাধ্যমে এটি দেখতে পান যে, কোনো সুন্নাহর পক্ষে এমন বিচ্ছিন্ন (شاذ) হওয়া সম্ভব নয় যা কোনো জনকল্যাণকে (مصلحة) বাধাগ্রস্ত করে কিংবা কোনো প্রবল ক্ষতির (مفسدة) কারণ হয়। সুতরাং যদি কোনো ক্ষতির উপস্থিতি পাওয়া যায়, তবে তা উক্ত বর্ণনার দুর্বলতা (ضعف) অথবা এর বর্ণনাকারীর মিথ্যাচারের (كذب) প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয়।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - নূর কারূত
(পৃষ্ঠা: ১০)
المبحث الثاني: التعريف بالسنة، وأدوار العناية بها
أولاً: السنة لغة وشرعًاالسنة في اللغة:
تأتي في اللغة بمعاني منها الصورة وما أقبل من الوجه، والطريقة: سنّ الله سنّة أبي بيّن طريقا قويما، قال تعالى: {سُنَّةَ اللَّهِ فِي الَّذِينَ خَلَوْا مِن قَبْلُ} [الأحزاب:38] .
والسنّة السيرة، حسنة كانت أو قبيحة:
يقول الشاعر:
فلا تجْزعن من سيرة أنت سِرْتها
… فأول راضٍ عن سنّةً يَسيرُها (1)
السنة شرعًا: ما جاء منقولاً عن النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو تقرير بالوحي أو الاجتهاد (2) .
وتطلق السنة في الشرع أيضًا فيما يقابل البدعة، يقال: فلان على سنة إذا عمل على وفق ما عمل عليه النبي صلى الله عليه وسلم.
ويطلق أيضًا لفظ السنة على ما عمل عليه الصحابة مجتمعًا عليه منهم أو من خلفائهم (3) .يدل عليه قوله عليه الصلاة والسلام: "عليكم بسنتي وسنة الخلفاء الراشدين المهديين من بعدي، وتمسكوا بها وعضوا عليها بالنواجذ (4) " (5)
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ (سنة) এর পরিচয় এবং এর সংরক্ষণে বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বারোপ
প্রথমত: আভিধানিক ও শরয়ি দৃষ্টিতে সুন্নাহ (سنة)আভিধানিক অর্থে সুন্নাহ (سنة):
অভিধানে এর বেশ কিছু অর্থ রয়েছে, যার মধ্যে চিত্র, চেহারার সম্মুখভাগ এবং পদ্ধতি (طريقة) অন্যতম: আল্লাহ সুন্নাহ সাব্যস্ত করেছেন মানে তিনি একটি সঠিক পথ (طريق) বর্ণনা করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহর সেই বিধান (سُنَّةَ اللَّهِ) যা পূর্ববর্তীদের ক্ষেত্রেও কার্যকর ছিল} [সূরা আল-আহযাব: ৩৮]।
আর সুন্নাহ (سنة) হলো সীরাত (سيرة) বা জীবনপদ্ধতি, তা উত্তম হোক বা মন্দ:
কবি বলেন:
তুমি যে জীবনপদ্ধতি (سيرة) অনুসরণ করছ তাতে বিচলিত হয়ো না... কারণ যে সুন্নাহ (سنة) চালু করে সে-ই তার প্রথম সন্তুষ্ট অনুসারী (১)
শরয়ি পরিভাষায় সুন্নাহ (سنة): নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে ওহি (وحي) অথবা ইজতিহাদের (اجتهاد) ভিত্তিতে কথা (قول), কাজ (فعل) কিংবা মৌনসম্মতি (تقرير) হিসেবে যা বর্ণিত হয়েছে তাকে সুন্নাহ (سنة) বলা হয় (২)।
শরয়ি পরিভাষায় সুন্নাহ (سنة) শব্দটি বিদআতের (بدعة) বিপরীতেও ব্যবহৃত হয়। বলা হয়: অমুক ব্যক্তি সুন্নাহর (سنة) ওপর রয়েছেন, যখন তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমল অনুযায়ী কাজ করেন।
সুন্নাহ (سنة) শব্দটি সাহাবীগণের (صحابة) সম্মিলিত কর্ম অথবা তাঁদের উত্তরসূরী খলিফাদের (خلفاء) কর্মপদ্ধতির ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় (৩)। এর প্রমাণ নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের এই বাণী: "তোমরা আমার সুন্নাহ (سنة) এবং আমার পরবর্তী হিদায়াতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে (سنة) আঁকড়ে ধরো, তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং তা মাড়ির দাঁত (نواجذ) দিয়ে কামড়ে ধরে রাখো (৪)" (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - নূর কারূত
(পৃষ্ঠা: ১১)
ثانيًا: الفرق بين السنة والحديثللحديث قسمان عند علماء الحديث:
علم الحديث رواية وهو العلم الذي يشتمل على أقوال الرسول صلى الله عليه وسلم وأفعاله وتقريراته وروايتها وضبطها وتحرير ألفاظها. وهذا القسم ينطبق تعريفه على تعريف السنة.
والقسم الثاني علم الحديث دراية ويقصد به العلم الذي يعرف به حقيقة الرواية وشروطها وأنواعها وأحكامها وحال الرواة وشروطهم وأصناف مروياتهم (1) .
يقول الدكتور رفعت فوزي:" قد يبدو في أقوال بعض العلماء في القرن الثاني الهجري التفرقة بينهما ذلك في قول الأعمش رحمه الله تعالى:" لا أعلم لله قومًا يطلبون هذا الحديث، ويحبون هذه السنة"وأوضح من هذا قول عبد الرحمن بن مهدي: (الناس على وجوه، فمنهم من هو إمام في السنة وليس بإمام في الحديث، ومنهم من هو إمام في الحديث وليس بإمام في السنة) وربما كان أساس هذا التفريق هو أنهم كانوا ينظرون إلى أن الحديث أمر علمي نظري، وأن السنة أمر عملي، إذ إنها كانت تعتبر المثل الأعلى للسلوك في كل أمور الدين والدنيا، وكان هذا سبب الاجتهاد في البحث عنها والاعتناء بحفظها والاقتداء بها. وربما كان الأساس هو أن بعضهم كان ينظر إلى السنة على أنها أعم من فعل الرسول وقوله وتقريره وتشمل أفعال الصحابة والتابعين" (2) .
وسأسير في البحث على طريق من اختار أن السنة والحديث معناهما واحد.
--------------------------------------------
দ্বিতীয়: সুন্নাহ (السنة) ও হাদিসের মধ্যে পার্থক্যহাদিস শাস্ত্রবিদদের নিকট হাদিসের দুটি প্রকার রয়েছে:
বর্ণনাকেন্দ্রিক হাদিস বিজ্ঞান (علم الحديث رواية): এটি এমন একটি বিজ্ঞান যা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী (أقوال), কর্ম (أفعال), মৌনসম্মতি (تقريرات), সেগুলোর বর্ণনা (رواية), যথাযথ সংরক্ষণ (ضبط) এবং শব্দমালার পরিমার্জনকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই বিভাগের সংজ্ঞাটি সুন্নাহর (السنة) সংজ্ঞার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
দ্বিতীয় প্রকারটি হলো বিশ্লেষণধর্মী হাদিস বিজ্ঞান (علم الحديث دراية): এর দ্বারা এমন বিজ্ঞানকে বোঝানো হয় যার মাধ্যমে বর্ণনার (رواية) প্রকৃত স্বরূপ, এর শর্তাবলি (شروط), প্রকারভেদ (أنواع), বিধানসমূহ (أحكام), বর্ণনাকারীদের অবস্থা (حال الرواة), তাদের গুণাবলি বা শর্তসমূহ এবং বর্ণিত বিষয়গুলোর শ্রেণিবিভাগ জানা যায় (১)।
ডক্টর রিফাত ফাউজি বলেন: "হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর কিছু আলেমের বক্তব্যে এই দুটির মধ্যে পার্থক্যের বিষয়টি পরিলক্ষিত হতে পারে; যেমন ইমাম আমাশ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর এই উক্তিতে: 'আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এমন কোনো সম্প্রদায়কে জানি না যারা এই হাদিস অন্বেষণ করে এবং এই সুন্নাহকে (السنة) ভালোবাসে।' এর চেয়েও স্পষ্ট হলো আব্দুর রহমান ইবনে মাহদির উক্তি: (মানুষ বিভিন্ন স্তরের; তাদের মধ্যে কেউ সুন্নাহর (السنة) ক্ষেত্রে ইমাম হলেও হাদিসের ক্ষেত্রে ইমাম নন, আবার কেউ হাদিসের ক্ষেত্রে ইমাম হলেও সুন্নাহর (السنة) ক্ষেত্রে ইমাম নন)। সম্ভবত এই পার্থক্যের ভিত্তি ছিল এই যে, তারা হাদিসকে একটি তাত্ত্বিক বিষয় হিসেবে দেখতেন এবং সুন্নাহকে (السنة) একটি প্রায়োগিক বিষয় হিসেবে বিবেচনা করতেন। কেননা সুন্নাহকে দ্বীন ও দুনিয়ার সকল বিষয়ে আচরণের সর্বোচ্চ আদর্শ হিসেবে গণ্য করা হতো। আর এটিই ছিল সুন্নাহ (السنة) অন্বেষণে বিশেষ শ্রম প্রদান, তা সংরক্ষণে যত্নবান হওয়া এবং তার অনুসরণের মূল কারণ। আবার সম্ভবত এর ভিত্তি এটিও হতে পারে যে, তাঁদের কেউ কেউ সুন্নাহকে রাসুলের কর্ম, বাণী ও মৌনসম্মতির চেয়েও ব্যাপক মনে করতেন, যা সাহাবী ও তাবিঈগণের (تابعين) কর্মসমূহকেও অন্তর্ভুক্ত করত" (২)।
এবং আমি এই গবেষণায় তাদের পথ অনুসরণ করব যারা মনে করেন যে, সুন্নাহ (السنة) ও হাদিস একই অর্থবোধক।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - নূর কারূত
(পৃষ্ঠা: ১২)
ثالثًا: الأدوار التي مرّت بها السنة وتدوينهاالدور الأول: القرن الأول الهجري
السنة في عصر النبي صلى الله عليه وسلم وعصر الصحابة:
كان المعول في حفظ السنة وضبطها صدور الصحابة رضوان الله عليهم، وذلك لشيوع الأمية فيهم فكان اعتمادهم على السماع والحفظ لا على القراءة والكتابة، لم يكن للتدوين ضرورة، ولاسيما وأن حرصهم على تدوين القرآن الكريم وخشيتهم من أن يكون في تدوين الحديث ما يؤدي إلى اتخاذ الناس صحف الحديث مصاحف يضاهون بها صحف القرآن العزيز، فيشتبه على بعضهم القرآن بالأحاديث وربما اشتغلوا به عن التلاوة (1) .
لكن وجد من الصحابة من كان يكتب ويكثر من الكتابة لنفسه كعبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما فكانت عنده صحيفة يسميها الصادقة (2) .
وأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم بالكتابة لرجل من أهل اليمن عام الفتح سمع النبي صلى الله عليه وسلم يخطب فقال: اكتب لي يا رسول الله. فقال: اكتبوا لأبي فلان (3) .
وذكر أن عليًا صلى الله عليه وسلم كان لديه كتاب فيه حكم النبي صلى الله عليه وسلم في الزكاة (4) .
وثبت أن لديه صحيفة فيها فكاك الأسير والدية ولا يقتل مسلم بكافر (5)
--------------------------------------------
তৃতীয়: সুন্নাহর বিবর্তন ও তা সংকলনের (تدوين) পর্যায়সমূহপ্রথম পর্যায়: প্রথম হিজরি শতাব্দী
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরামের যুগে সুন্নাহ:
সুন্নাহ সংরক্ষণ ও তা আত্মস্থ করার ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর স্মৃতির ওপরই নির্ভর করা হতো। তাদের মাঝে নিরক্ষরতার ব্যাপকতার কারণে তারা পাঠ ও লিখনের পরিবর্তে শ্রবণ ও মুখস্থের (حفظ) ওপরই বেশি নির্ভর করতেন। সে সময় সংকলনের (تدوين) কোনো আবশ্যকতা ছিল না, বিশেষ করে পবিত্র কুরআন সংকলনের (تدوين) প্রতি তাদের গভীর আগ্রহ এবং হাদিস সংকলনের (تدوين) ফলে মানুষ যদি হাদিসের পাণ্ডুলিপিগুলোকে কুরআনের সমকক্ষ মাসহাফ হিসেবে গ্রহণ করে ফেলে—এমন ভয়ের কারণে। ফলে অনেকের কাছে কুরআনের সাথে হাদিস গুলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল এবং সম্ভবত তারা তিলাওয়াতের পরিবর্তে হাদিস নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ত (১)।
তবে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে এমন কেউ কেউ ছিলেন যারা লিখতেন এবং নিজের প্রয়োজনে প্রচুর লেখালেখি করতেন, যেমন আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.)। তাঁর নিকট একটি সহিফা (صحيفة) ছিল যার নাম তিনি দিয়েছিলেন 'আস-সাদিকাহ' (২)।
আর মক্কা বিজয়ের বছর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়ামেনের এক ব্যক্তির জন্য লিখে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে খুতবা দিতে শুনে বলেছিল: "হে আল্লাহর রাসুল, আমার জন্য লিখে দিন।" তখন তিনি বলেছিলেন: "আবু অমুকের জন্য লিখে দাও" (৩)।
বর্ণিত আছে যে, আলী (রা.)-এর নিকট একটি কিতাব ছিল যাতে জাকাত বিষয়ে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিধানাবলি লিপিবদ্ধ ছিল (৪)।
এটিও প্রমাণিত যে, তাঁর নিকট একটি সহিফা (صحيفة) ছিল যাতে যুদ্ধবন্দিদের মুক্তি ও রক্তপণ (دية) এবং কোনো মুসলিমকে কাফিরের বিনিময়ে হত্যা না করার বিধান ছিল (৫)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - নূর কারূত
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الدور الثاني: القرن الثاني الهجري
بدأ تدوين السنة في هذا القرن بطريقة أوسع وبشكل أمر رسمي من ولي أمر المسلمين حيث كتب عمر بن عبد العزيز أمير المؤمنين الخليفة الراشد رحمه الله تعالى إلى الآفاق: (انظروا حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم فاجمعوه) (1) .
والأرجح أن أول من جمع الحديث من العلماء الإمام محمد بن شهاب الزهري. ومن وقته شاع جمع الحديث وتدوينه فكتب بعده: ابن إسحاق ومالك بالمدينة، وحماد بن سلمة بالبصرة، ومعمر باليمن.
ثم تلا هؤلاء: عبد الرزاق باليمن وأبو قُرة موسى بن طارق، وتفرد بالكوفة أبو بكر بن أبي شيبة بتكثير الأبواب، وجودة الترتيب وحسن التأليف (2) .
الدور الثالث: القرن الثالث الهجري
في هذا الدور بلغ الحديث غايته ومنتهاه، فلم يزل يروى ويجمع ويدوَّن ويُسطّر في الأجزاء، والكتب إلى زمن الإمامين البخاري ومسلم، ورزقهما الله حسن القبول شرقًا وغربًا، ثم ازداد الجمع والتدوين وظهر جهابذة المحدّثين كالترمذي وأبي داود والنسائي وكان هذا العصر خلاصة العصور في تحصيل هذا العلم وإليه المنتهى (3) .
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পর্যায়: দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দী
এই শতাব্দীতে সুন্নাহ সংকলনের (تدوين) কাজ আরও ব্যাপকভাবে এবং মুসলিম উম্মাহর অভিভাবকের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক আদেশের মাধ্যমে শুরু হয়। আমিরুল মুমিনীন খলিফায়ে রাশেদ উমর ইবনে আবদুল আজিজ (রহমতুল্লাহি আলাইহি) বিভিন্ন অঞ্চলে লিখে পাঠিয়েছিলেন: (তোমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের প্রতি লক্ষ্য রাখো এবং তা সংগ্রহ করো) (১)।
আলেমদের মধ্যে সর্বপ্রথম যিনি হাদিস সংগ্রহ করেছিলেন, তিনি হলেন ইমাম মুহাম্মদ ইবনে শিহাব আল-জুহরি—এটাই অধিক গ্রহণযোগ্য মত। তাঁর সময় থেকেই হাদিস সংগ্রহ ও সংকলন (تدوين) করার বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। এরপর মদিনায় ইবনে ইসহাক ও মালিক, বসরায় হাম্মাদ ইবনে সালামাহ এবং ইয়েমেনে মা’মার কিতাব রচনা করেন।
অতঃপর তাঁদের অনুগামী হয়ে ইয়েমেনে আবদুর রাজ্জাক এবং আবু কুররাহ মুসা ইবনে তারিক কাজ করেন। আর কুফায় আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ একচেটিয়াভাবে অধ্যায়সমূহের আধিক্য, বিন্যাসের উৎকর্ষতা এবং উত্তম রচনার মাধ্যমে অনন্য বৈশিষ্ট্য অর্জন করেন (২)।
তৃতীয় পর্যায়: তৃতীয় হিজরি শতাব্দী
এই পর্যায়ে হাদিস তার চূড়ান্ত লক্ষ্য ও পূর্ণতায় পৌঁছে। ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিমের সময় পর্যন্ত হাদিস নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত হতে থাকে এবং সংগ্রহ ও সংকলন (تدوين) করে বিভিন্ন খণ্ড (أجزاء) ও কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ করা হতে থাকে। আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়কে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা দান করেছেন। এরপর সংগ্রহ ও সংকলনের (تدوين) পরিধি আরও বৃদ্ধি পায় এবং তিরমিজি, আবু দাউদ ও নাসায়ির মতো প্রাজ্ঞ হাদিস বিশারদগণের (محدثين) আবির্ভাব ঘটে। এই যুগটি ছিল ইলমে হাদিস অর্জনের সারনির্যাস এবং এই শাস্ত্রের চূড়ান্ত শিখর (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - নূর কারূত
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الدور الرابع: القرن الرابع الهجري
طغى التدوين في هذا القرن على الرواية الشفهية عن الشيوخ كما كان الحال فيمن سبق من علماء الحديث (1) .
وكثرت المستخرجات (2) ، وظهرت كتب جمعت أدلة المذاهب الفقهية من الأحاديث (3) .
الدور الخامس: من القرن الخامس الهجري وحتى سقوط بغداد على أيدي التتار عام 656هجري
ما كاد القرن الرابع أن ينتهي، حتى أصبح عمل العلماء قاصرًا على الجمع، والانتقاء، والترتيب، أو التهذيب لكتب السابقين (4) .
الدور السادس: بعد سقوط بغداد وحتى نهاية القرن العاشر
بعد سقوط بغداد تقاعست الهمم وفترت العزائم عن الرحلة إلى الأقطار، وخدمة الحديث فانقرضت الرواية الشفهية إلاّ في أفراد يجددون ما خلق ويحيون ما اندثر من وقت لآخر، (5) .ويشتكي الإمام الذهبي من قتلهم فيقول:"فأين علم الحديث وأين أهله؟ كدت لا أراهم إلاّ في كتاب أو تحت تراب" (6) .
--------------------------------------------
চতুর্থ স্তর: চতুর্থ হিজরি শতাব্দী
এই শতাব্দীতে শায়খদের থেকে শ্রুত মৌখিক বর্ণনা (رواية)-র তুলনায় গ্রন্থায়ন বা সংকলন অধিক প্রাধান্য লাভ করে, যেমনটি পূর্ববর্তী হাদিস শাস্ত্রবিদদের ক্ষেত্রে ছিল (১)।
মুস্তাখরাজসমূহ (مستخرجات) বৃদ্ধি পায় (২), এবং এমন সব কিতাব প্রকাশ পায় যা হাদিস থেকে ফিকহি মাজহাবসমূহের দলিলসমূহ একত্রিত করেছিল (৩)।
পঞ্চম স্তর: পঞ্চম হিজরি শতাব্দী থেকে ৬৫৬ হিজরিতে তাতারদের হাতে বাগদাদের পতন পর্যন্ত
চতুর্থ শতাব্দী শেষ হতে না হতেই আলেমদের কাজ পূর্ববর্তীদের কিতাবসমূহ সংগ্রহ, নির্বাচন, বিন্যাস অথবা পরিমার্জন (تهذيب)-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে (৪)।
ষষ্ঠ স্তর: বাগদাদের পতনের পর থেকে দশম শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত
বাগদাদের পতনের পর বিভিন্ন জনপদে সফর এবং হাদিসের খেদমতের ক্ষেত্রে হিম্মত ও সংকল্পে ভাটা পড়ে। ফলে মৌখিক বর্ণনা (رواية) বিলুপ্ত হয়ে যায়, তবে গুটিকতক ব্যক্তি ব্যতীত যারা সময়ে সময়ে জীর্ণ বিষয়কে নতুন করেন এবং বিলুপ্তপ্রায় বিষয়কে পুনরুজ্জীবিত করেন (৫)। ইমাম যাহাবি তাদের বিলুপ্তি নিয়ে আক্ষেপ করে বলেন: "হাদিস শাস্ত্র কোথায় আর এর ধারক-বাহকরাই বা কোথায়? আমি তাদের কিতাবের পাতায় অথবা মাটির নিচে (কবরে) ছাড়া আর কোথাও দেখি না বললেই চলে" (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - নূর কারূত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وأصبح للسنة شأن في مصر على مدار ثلاثة قرون حيث اهتم المماليك بالعلوم وأنشأوا فيها مدارس الحديث، حبسوا الأموال على المؤسسات الدينية والعلمية واستمرت هذه النهضة بمصر إلى أوائل القرن العاشر ثم أخذ النشاط العلمي يتضاءل ويضمحل، وطفق يرحل شيئًا فشيئًا إلى الهند (1) .
الدور السابع: من بداية القرن الحادي عشر وحتى اليوم
سخر الله عز وجل بفضله ومنه في الهند من حمل لواء السنة يدعو إليها وينافح عنها. وكانت لهم آثار ملموسة وأحيا الله بهم الحديث والسنة (2) .
وممّا هو جدير بالذكر الإشادة بالجهود الطيبة المباركة التي قام بها جلالة الملك الراحل (عبد العزيز بن عبد الرحمن آل سعود) عليه رحمة الله وعدد من أبنائه وعدد من علماء الجزيرة الذين عُنوا بكتب السنة والفقه وبذلوا الأموال في تحقيقها وطبعها ونشرها بين أيدي الناس دون مقابل (3) .
--------------------------------------------
তিন শতাব্দীকাল ধরে মিশরে সুন্নাহর (السنة) এক বিশেষ মর্যাদা বিদ্যমান ছিল, যেখানে মামলুকগণ জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছিলেন এবং সেখানে হাদিসের মাদরাসাসমূহ গড়ে তুলেছিলেন। তাঁরা ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের জন্য অর্থ উৎসর্গ (ওয়াকফ) করেছিলেন এবং মিশরে এই নবজাগরণ দশম শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এরপর জ্ঞানতাত্ত্বিক তৎপরতা সংকুচিত হতে থাকে এবং ক্রমান্বয়ে তা ভারতের দিকে স্থানান্তরিত হতে শুরু করে (১)।
সপ্তম পর্যায়: একাদশ শতাব্দীর শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত
আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর অনুগ্রহ ও দানে ভারতে এমন কিছু মানুষ নিয়োজিত করেছেন যারা সুন্নাহর (السنة) ঝাণ্ডা বহন করেছেন, এর দিকে দাওয়াত দিয়েছেন এবং একে রক্ষা করেছেন। তাঁদের উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল এবং আল্লাহ তাঁদের মাধ্যমে হাদিস ও সুন্নাহকে (السنة) পুনরুজ্জীবিত করেছেন (২)।
আর যা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য তা হলো মরহুম মহামান্য বাদশাহ (আবদুল আজিজ বিন আবদুর রহমান আল সৌদ) —আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন— এবং তাঁর কতিপয় সন্তান ও জাজিরাতুল আরবের বেশ কয়েকজন আলেমের বরকতময় ও উত্তম প্রচেষ্টার প্রশংসা করা, যারা সুন্নাহ (السنة) ও ফিকহ (الفقه) শাস্ত্রের কিতাবসমূহের প্রতি যত্নবান হয়েছেন এবং সেগুলো সম্পাদনা (تحقيق), মুদ্রণ ও মানুষের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য অর্থ ব্যয় করেছেন (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - নূর কারূত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المبحث الثالث: الأدلة على حجية السنة
أولاً من القرآن:- قوله جلّ شأنه: {مَّنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللهَ} [النساء:80] .
- قوله تعالى: {أَطِيعُواْ اللهَ وَأَطِيعُواْ الرَّسُولَ وَأُوْلِيالأَمْرِ مِنكُمْ} [النساء:59] .
- قوله عزّ من قائل: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّىَ يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُواْفِي أَنفُسِهِمْ حَرَجًا مِّمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُواْ تَسْلِيمًا} [النساء:65] .
- قوله سبحانه: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَانَهَاكُمْ عَنْهُ فَانتَهُوا} [الحشر:7] .
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর (سنة) প্রামাণিকতার (حجية) দলীলসমূহপ্রথমত কুরআন থেকে:- মহান মহিমান্বিতের বাণী: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল, সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল} [আন-নিসা: ৮০] ।
- আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহর এবং আনুগত্য করো রাসূলের আর তোমাদের মধ্য থেকে যারা উলিল আমর (কর্তৃত্বের অধিকারী) তাদের} [আন-নিসা: ৫৯] ।
- মহান পরাক্রমশালী সত্তার বাণী: {না, আপনার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদপূর্ণ বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করে; অতঃপর আপনি যে ফয়সালা প্রদান করেন সে বিষয়ে তাদের মনে কোনো সংকীর্ণতা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে নেয়} [আন-নিসা: ৬৫] ।
- মহান পবিত্র সত্তার বাণী: {রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} [আল-হাশর: ৭] ।
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - নূর কারূত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ثانيا: من السنة الشريفة:حذر الرسول صلى الله عليه وسلم من ترك سنته ففي الحديث الذي يرويه المقدام بن معد يكرب صلى الله عليه وسلم: (لا ألفين أحدكم متكئًا على أريكته يأتيه الأمر مما أمرت به أو النهي مما نهيت عنه، فيقول: ما أدري؟ ما وجدنا في كتاب الله اتبعناه) وفي لفظ (يوشك أحدكم أن يكذبني وهو متكئ على أريكته يُحدَّث بحديثي، فيقول: بيننا وبينكم كتاب الله، فما وجدنا فيه من حلال استحللناه وما وجدنا فيه من حرام حرمناه، ألا وإن ما حرم رسول الله صلى الله عليه وسلم مثل ما حرّم الله) (1) .والشاهد من الحديث (ألا وإن ما حرم رسول الله مثل ما حرم الله) .
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: সুন্নাহ শরীফ থেকে:রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সুন্নাহ বর্জন করার ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। মিকদাম ইবনে মা'দী কারিব (রা.) বর্ণিত হাদিসে এসেছে: (আমি যেন তোমাদের কাউকে এমন অবস্থায় না পাই যে, সে তার আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে, আর তার কাছে আমার কোনো আদেশ বা নিষেধ পৌঁছালে সে বলবে: 'আমি জানি না; আল্লাহর কিতাবে আমরা যা পেয়েছি কেবল তারই অনুসরণ করেছি')। অন্য শব্দে বর্ণিত হয়েছে: (শীঘ্রই তোমাদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তির দেখা পাওয়া যাবে, যে তার আসনে হেলান দিয়ে বসে থাকবে এবং তার কাছে আমার কোনো হাদিস বর্ণনা করা হলে সে বলবে: 'আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট; তাতে আমরা যা হালাল পেয়েছি তাকেই হালাল জ্ঞান করেছি এবং যা হারাম পেয়েছি তাকেই হারাম জ্ঞান করেছি। সাবধান! নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল যা হারাম করেছেন তা আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ের মতোই') (১)। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো: (সাবধান! নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল যা হারাম করেছেন তা আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ের মতোই)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - নূর কারূত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ثالثًا: الإجماع:المتتبع لتصرفات الصحابة رضي الله عنهم في وقائع كثيرة لا تنحصر يجد أنهم حيث وجدوا السنة عملوا بها، وجعلوها حجة في الدين ولم يستجيزوا مخالفتها أو إغفالها أو طرحها، مما لا يدع مجالاً للشك أنه كان مقررً لديهم أن سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم حجة على عباده، وأن العمل بها عمل بالدين، فانعقد على ذلك إجماعهم (1) .
--------------------------------------------
তৃতীয়ত: ঐক্যমত (الإجماع):সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর অগণিত কর্মপন্থা ও ঘটনাবলি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, যখনই তাঁরা সুন্নাহ (السنة) পেয়েছেন, তখনই তাঁরা সে অনুযায়ী আমল করেছেন এবং একে দ্বীনের ক্ষেত্রে প্রমাণ (حجة) হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তাঁরা সুন্নাহর বিরোধিতা করা, একে উপেক্ষা করা কিংবা বর্জন করাকে কখনোই বৈধ মনে করেননি। এর মাধ্যমে সন্দেহের কোনো অবকাশ থাকে না যে, তাঁদের নিকট এটি সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল যে—রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ (السنة) তাঁর বান্দাদের ওপর একটি প্রমাণ (حجة), এবং সুন্নাহ অনুযায়ী আমল করা মূলত দ্বীনেরই অনুসরণ। আর এ বিষয়ের ওপরই তাঁদের ঐক্যমত (الإجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - নূর কারূত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
رابعًا: المعقول:كيف لا تكون السنة حجة وهي التي جاءت ببيان كيفية العمل ففيها ذكر الأسباب والشروط والموانع واللواحق وما أشبه ذلك كبيانها مواقيت الصلوات والركوع والسجود، وبيانها للزكاة في مقاديرها وأوقاتها وتعيين ما يزكى، وبيان أحكام الصوم وما فيه مما لم يقع النص عليه في الكتاب، وكذلك الطهارة من الحدث والخبث، والحج، والذبائح والصيد وما يؤكل مما لا يؤكل والأنكحة وما يتعلق بها من الطلاق والرجعة والظهار واللعان، والبيوع وأحكامها، والجنايات من القصاص وغيره كل ذلك بيان لما وقع مجملاً في القرآن (2) .
وكيف لا تكون حجة وقد استقلت بأحكام كثيرة في الحلال والحرام عمل بها سلف الأمة وخلفها؟
فمن قال: إن السنّة ليست حجة في التشريع الإسلامي معطل بالعقل لأحكام الشرع حيث إن معظمها لا يعرف إلاّ عن طريق السنة (3) .
--------------------------------------------
চতুর্থত: যুক্তিভিত্তিক প্রমাণ:সুন্নাহ কীভাবে প্রমাণ (حجة) হবে না, অথচ এটিই শরয়ি আমল বা কর্মপদ্ধতির বিস্তারিত বর্ণনা নিয়ে এসেছে? এতেই আমলের কারণসমূহ, শর্তাবলি, প্রতিবন্ধকতা, আনুষঙ্গিক বিষয়াদি এবং এজাতীয় বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে; যেমন নামাজের ওয়াক্তসমূহ, রুকু ও সিজদার বর্ণনা; জাকাতের পরিমাণ ও সময় এবং জাকাতযোগ্য মালের নির্ধারণ; সিয়ামের বিধানাবলি এবং এর মধ্যকার এমন সব বিষয়ের বর্ণনা যা কিতাবুল্লাহ তথা কুরআনে সরাসরি বর্ণিত হয়নি। অনুরূপভাবে অপবিত্রতা (حدث) ও নাপাকি (خبث) থেকে পবিত্রতা অর্জন, হজ, পশু জবেহ, শিকার, ভক্ষণযোগ্য ও অভক্ষণযোগ্য বিষয়াদি, বিবাহ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট তালাক, রাজআ (رجعة), যিহার (ظهار) ও লিআন (لعان), ক্রয়-বিক্রয় ও এর বিধিবিধান এবং কিসাসসহ (قصاص) অপরাধের দণ্ডবিধি—এসবই মূলত কুরআনে যা সংক্ষিপ্ত (مجمل) ভাবে এসেছে তার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ (২)।
আর সুন্নাহ কীভাবে প্রমাণ (حجة) হবে না, অথচ এটি হালাল ও হারামের ক্ষেত্রে এমন অনেক স্বতন্ত্র বিধান প্রদান করেছে যার ওপর উম্মাহর পূর্ববর্তী (سلف) এবং পরবর্তী (خلف) প্রজন্ম আমল করে আসছেন?
সুতরাং যে ব্যক্তি বলে যে, ইসলামি বিধান প্রণয়নে (تشريع) সুন্নাহ কোনো প্রমাণ (حجة) নয়, সে মূলত যুক্তির নিরিখেই শরিয়তের বিধানসমূহকে অকার্যকর করে দিচ্ছে; কেননা শরিয়তের অধিকাংশ বিধান সুন্নাহর মাধ্যম ছাড়া জানা সম্ভব নয় (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - নূর কারূত
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المبحث الرابع: عناية الفقهاء بالحديث وعناية المحدثين بأحكام الشريعةلا يخفى على أحد اهتمام الفقهاء بالحديث وأنهم لا يستغنون عنه لاستنباط الحكم الشرعي، يقول الإمام النووي مبينًا أهمية ذلك: " على السنن مدار أكثر الأحكام الفقهيات، فإن أكثر الآيات الفروعيات مجملات، وبيانها في السنن المحكمات، وقد اتفق العلماء على أن من شروط القاضي والمفتي أن يكون عالمًا بالأحاديث الحكميات" (1) .وكان تأثر الأئمة المحدثين أمثال البخاري ومسلم وأبي داود والترمذي بمذاهب أئمة الفقه كبيرًا.
والمتأمل في كتبهم يظهر له حرصهم على وزن المذاهب الفقهية ومقارنتها بما صح من حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم ومناقشتها أحيانًا.
ولقد تفاوت حظ الفقهاء من الحديث كما تفاوت حظ المحدثين من الفقه. فالإمامان مالك وأحمد بن حنبل محدثان ولكن شهرتهما في الفقه غلبت شهرتهما في الحديث (2) .
واختلف تأثر المحدثين بالفقهاء، يقول في ذلك الإمام ابن تيمية:" أما البخاري وأبو داود فإمامان في الفقه والاجتهاد، وأما مسلم والترمذي والنسائي وابن ماجه وابن خزيمة ونحوهم فهم على مذهب أهل الحديث ليسوا مقلدين لواحد بعينه من العلماء، وهم إلى مذاهب أهل الحجاز كمالك وأمثاله أميل منهم إلى مذاهب أهل العراق كأبي حنيفة والثوري ووكيع. ويحي بن سعيد وابن المبارك يميلان إلى مذهب العراقيين
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: হাদিসের প্রতি ফকিহগণের (فقهاء) যত্ন এবং শরিয়তের বিধানের প্রতি মুহাদ্দিসগণের (محدثون) গুরুত্বহাদিসের প্রতি ফকিহগণের (فقهاء) গুরুত্ব কারো কাছে অস্পষ্ট নয় এবং তারা শরয়ি বিধান উদ্ঘাটনের (استنباط) জন্য হাদিস থেকে বিমুখ হতে পারেন না। ইমাম নববী এর গুরুত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন: "অধিকাংশ ফিকহি বিধানের ভিত্তি হলো সুন্নাহর ওপর; কেননা শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত অধিকাংশ আয়াতই সংক্ষিপ্ত (مجملات), আর সেগুলোর ব্যাখ্যা সুষ্পষ্ট (محكمات) সুন্নাহর মধ্যে বিদ্যমান। উলামাগণ একমত হয়েছেন যে, বিচারক এবং মুফতি হওয়ার অন্যতম শর্ত হলো বিধান সংক্রান্ত হাদিসসমূহ (الأحاديث الحكميات) সম্পর্কে জ্ঞান রাখা।" (১)। ইমাম বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ এবং তিরমিযির মতো ইমাম মুহাদ্দিসগণের (محدثون) ওপর ফিকহের ইমামদের মাজহাবের প্রভাব ছিল ব্যাপক।
তাদের কিতাবসমূহ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে ফিকহি মাজহাবগুলোর গুরুত্ব অনুধাবন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশুদ্ধ (صحيح) হাদিসের সাথে সেগুলোর তুলনা ও মাঝে মাঝে পর্যালোচনার ক্ষেত্রে তাদের আগ্রহ প্রকাশ পায়।
হাদিসের ক্ষেত্রে ফকিহগণের (فقهاء) পাণ্ডিত্য যেমন ভিন্ন ভিন্ন ছিল, তেমনি ফিকহের ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের (محدثون) পাণ্ডিত্যও ভিন্ন ছিল। ইমাম মালিক এবং ইমাম আহমদ বিন হাম্বল ছিলেন মুহাদ্দিস (محدثون), তবে হাদিসের তুলনায় ফিকহশাস্ত্রে তাদের খ্যাতি বেশি প্রভাব বিস্তার করেছে (২)।
মুহাদ্দিসগণ (محدثون) ফকিহদের (فقهاء) দ্বারা বিভিন্নভাবে প্রভাবিত হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে ইমাম ইবনে তাইমিয়া বলেন: "বুখারি এবং আবু দাউদ হলেন ফিকহ ও ইজতিহাদের (اجتهاد) ইমাম। আর মুসলিম, তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ, ইবনে খুযাইমা এবং তাদের সমপর্যায়ভুক্তগণ হলেন আহলে হাদিস (أهل الحديث) এর মাজহাবের অনুসারী, তারা নির্দিষ্ট কোনো একজন আলেমের অন্ধ অনুসারী (مقلدون) ছিলেন না। তারা ইরাকের অধিবাসী যেমন আবু হানিফা, সাওরি এবং ওয়াকি’র মাজহাবের তুলনায় হেজাজের অধিবাসী যেমন মালিক ও তাঁর সমমনাদের মাজহাবের দিকে বেশি ঝোঁক রাখতেন। পক্ষান্তরে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ এবং ইবনুল মুবারক ইরাকিদের মাজহাবের দিকে বেশি ঝুঁকেছিলেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - নূর কারূত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
كأبي حنيفة والثوري، والبيهقي على مذهب الإمام الشافعي، والدارقطني يميل إلى مذهب الشافعي ولكن اجتهاده أقوى من البيهقي وكان أعلم منه وأفقه" (1) .
فالسنن والأحكام الشرعية علمان يكمل أحدهما الآخر كعلم الصيدلة والطب لا يستغني أحدهما عن الآخر (2) .
وقد يكون الفقيه محدثًا فقيهًا. مع التسليم جميعًا من الجميع أن الحكم الشرعي ينبغي أن لا يخالف الحديث القطعي الدلالة والقطعي الثبوت بحال من الأحوال.
يقول الإمام أبو حنيفة رحمه الله تعالى:" لم يزل الناس في صلاح ما دام فيهم من يطلب الحديث، فإن طلبوا العلم بلا حديث فسدوا" (3) .
يقول أبو يوسف رحمه الله:" لا يحل لأحد أن يقول قولنا حتى يعلم من أين قلناه" (4) .
وقول الإمام مالك بن أنس رحمه الله المشهور:" ما كان من كلامي موافقًا للكتاب والسنة فخذوه وما لم يوافق فاتركوه" (5) .
وقول الإمام الشافعي رحمه الله:" الحديث مذهبي فما خالفه فاضربوا به الحائط" (6) .
--------------------------------------------
যেমন আবু হানিফা ও সওরি; এবং বায়হাকি ইমাম শাফেয়ীর মাযহাবের অনুসারী ছিলেন, আর দারাকুতনি শাফেয়ী মাযহাবের প্রতি ঝুঁকে থাকতেন, তবে তার ইজতিহাদ (اجتهاد) বায়হাকির চেয়ে শক্তিশালী ছিল এবং তিনি তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী ও বিজ্ঞ ফকিহ (فقيه) ছিলেন" (১)।
সুতরাং সুন্নাহ (السنن) এবং শরয়ী বিধানাবলি (الأحكام الشرعية) হলো এমন দুটি জ্ঞান যা একটি অপরটির পরিপূরক, যেমন ফার্মেসি এবং চিকিৎসাবিজ্ঞান—একটি অপরটি ছাড়া স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় (২)।
আর কখনও একজন ফকিহ (فقيه) একইসাথে মুহাদ্দিস (محدث) ও ফকিহ (فقيه) হতে পারেন। তবে সকলের ঐকমত্য এই যে, শরয়ী বিধান (الحكم الشرعي) কোনোভাবেই অকাট্য অর্থবোধক (قطعي الدلالة) এবং অকাট্যভাবে প্রমাণিত (قطعي الثبوت) হাদিসের বিরোধী হওয়া উচিত নয়।
ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "মানুষ ততক্ষণ কল্যাণের মধ্যে থাকবে যতক্ষণ তাদের মধ্যে হাদিস অন্বেষণকারী থাকবে; কিন্তু যখন তারা হাদিস ছাড়া জ্ঞান অন্বেষণ করবে, তখন তারা পথভ্রষ্ট হবে" (৩)।
আবু ইউসুফ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আমরা কোথা থেকে বলেছি (আমাদের বক্তব্যের উৎস) তা না জানা পর্যন্ত কারো জন্য আমাদের কথা বলা বৈধ নয়" (৪)।
ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রহিমাহুল্লাহ)-এর বিখ্যাত উক্তি: "আমার যে কথা কিতাব ও সুন্নাহর (السنة) অনুকূলে হবে তা গ্রহণ করো, আর যা অনুকূলে হবে না তা বর্জন করো" (৫)।
ইমাম শাফেয়ী (রহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তি: "হাদিসই আমার মাযহাব; সুতরাং যা এর বিরোধী হয়, তা তোমরা দেয়ালে ছুড়ে মারো" (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - নূর কারূত
(পৃষ্ঠা: ২০)
ويقول الإمام أحمد رحمه الله:" عليكم بأصحاب الآثار والسنن" (1) .
والمتأمل بعمق في كتابي الإمامين البخاري والترمذي يلحظ الترابط القوي بين الأحكام الشرعية التي ناقشها الأئمة الفقهاء وإثباتها بما صح من الأحاديث والآثار (2) .
وهذه الأقوال توضح أن مذهب أعلام وعلماء الأمة محدثين وفقهاء: اعتماد السنة مصدرًا أساسيًا للتشريع الإسلامي، فمن شذّ عنهم بإنكار حجيتها، فقد جاء ببهتان وإثم عظيم، ومن شذّ فقد شذّ في النار.
--------------------------------------------
ইমাম আহমাদ (রহ.) বলেন: "তোমরা আসার (الآثار) এবং সুন্নাহর অনুসারীদের আঁকড়ে ধরো" (১)।
আর ইমাম বুখারি ও ইমাম তিরমিজির গ্রন্থদ্বয় নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণাকারী ফকিহ ইমামগণ কর্তৃক আলোচিত শরীয়তের বিধানাবলি (الأحكام الشرعية) এবং হাদিস ও আসার (الآثار)-এর মধ্য থেকে যা সহিহ (صح) তার মাধ্যমে সেগুলোর প্রমাণের মধ্যে এক শক্তিশালী যোগসূত্র লক্ষ্য করবেন (২)।
আর এই বাণীগুলো স্পষ্ট করে দেয় যে, উম্মাহর শ্রেষ্ঠ মনীষী ও আলিমদের—চাই তারা মুহাদ্দিস (محدثين) হোন কিংবা ফকিহ (فقهاء)—মাযহাব হলো: সুন্নাহকে ইসলামি আইন প্রণয়নের (التشريع الإسلامي) মৌলিক উৎস হিসেবে গ্রহণ করা। সুতরাং যে ব্যক্তি সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجيتها) অস্বীকার করার মাধ্যমে তাদের থেকে বিচ্যুত হলো, সে এক বড় অপবাদ ও মহাপাপ নিয়ে আসলো; আর যে ব্যক্তি বিচ্যুত হলো, সে জাহান্নামেই বিচ্যুত হলো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - নূর কারূত
(পৃষ্ঠা: ২১)
المبحث الخامس: أقسام السنة من حيث ثبوتها ومن حيث دلالاتها
أولاً: أقسام السنة من حيث ثبوتها…المبحث الخامس: أقسام السنة من حيث ثبوتها ومن حيث دلالاتها
ينبغي لطلبة العلم بعد معرفتهم أن جميع الأئمة المقبولين عند الأمة قبولاً عامّاً لا يتعمدون مخالفة السنة في دقيق ولا جليل، وأنهم متفقون يقينًا على وجوب إتباع الرسول صلى الله عليه وسلم: معرفة أن تلك السنن منها المعتبر في التشريع من حيث الثبوت والدلالة ومنها غير المعتبر. وفصّل العلماء في ذلك حيث ذكروا أن بعض الأحاديث لا تصلح مصدرًا للتشريع، وأن بعض أفعاله صلى الله عليه وسلم الخاصة به ليست حجة لعمل سائر الأمة ويوضح ذلك أكثر المبحث التالي:
أولاً: أقسام السنة من حيث ثبوتها
تنقسم من حيث ثبوتها إلى قسمين: ثابتة وغير ثابتة. والثابتة إما قطعية الثبوت أو ظنية الثبوت.
والقطعية هي الأحاديث المتواترة التي تفيد العلم اليقيني: أي الضروري الذي يضطر الإنسان إليه فلا يستطيع دفعه، والفرق بينه وبين العلم النظري: أن العلم الضروري يفيد العلم بلا استدلال والنظري يفيد العلم لكن مع الاستدلال، والضروري يحصل لكل سامع، والنظري لا يحصل إلاّ لمن فيه أهلية النظر (1) .
أما الظنية الثبوت فهي الأحاديث المقبولة التي رواها آحاد يغلب على الظن فيها صدق الخبر لصدق ناقله. فيؤخذ بها، ويجب العمل بها عند الجمهور، وتفيد غلبة الظن ما لم تعارض بمثلها.
--------------------------------------------
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: প্রামাণিকতা ও নির্দেশনার দিক থেকে সুন্নাহর প্রকারভেদপ্রথমত: প্রামাণিকতার দিক থেকে সুন্নাহর প্রকারভেদ...পঞ্চম পরিচ্ছেদ: প্রামাণিকতা ও নির্দেশনার দিক থেকে সুন্নাহর প্রকারভেদ
জ্ঞানান্বেষীদের জন্য এটি অবগত হওয়ার পর—যে উম্মাহর নিকট সর্বজনগ্রাহ্য ইমামগণ সূক্ষ্ম বা স্থূল কোনো বিষয়েই ইচ্ছাকৃতভাবে সুন্নাহর বিরোধিতা করেন না এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণের আবশ্যকতা সম্পর্কে তাঁরা নিশ্চিতভাবে একমত—এখন এটি জানা প্রয়োজন যে, এই সুন্নাহগুলোর মধ্যে প্রামাণিকতা ও নির্দেশনার দিক থেকে কোনোটি শরয়ি বিধানে গ্রহণযোগ্য (معتبر) আবার কোনোটি গ্রহণযোগ্য (معتبر) নয়। ওলামায়ে কেরাম এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, কিছু হাদিস শরয়ি বিধানের উৎস হওয়ার উপযুক্ত নয় এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিশেষ কিছু আমল উম্মাহর বাকিদের জন্য প্রমাণ (حجة) নয়। পরবর্তী পরিচ্ছেদটি এ বিষয়টি আরও স্পষ্ট করবে:
প্রথমত: প্রামাণিকতার দিক থেকে সুন্নাহর প্রকারভেদ
প্রামাণিকতার দিক থেকে এটি দুই প্রকার: সাব্যস্ত (ثابتة) এবং অ-সাব্যস্ত (غير ثابتة)। সাব্যস্ত বিষয়গুলো আবার হয় অকাট্য প্রামাণিকতা (قطعية الثبوت) সম্পন্ন অথবা ধারণা প্রসূত প্রামাণিকতা (ظنية الثبوت) সম্পন্ন।
অকাট্য (قطعية) হলো মুতাওয়াতির (متواترة) হাদিসগুলো, যা সুনিশ্চিত জ্ঞান (العلم اليقيني) প্রদান করে: অর্থাৎ এমন আবশ্যিক (الضروري) জ্ঞান যা গ্রহণ করতে মানুষ বাধ্য হয় এবং তা অস্বীকার করতে পারে না। আবশ্যিক জ্ঞান (العلم الضروري) ও তাত্ত্বিক জ্ঞানের (العلم النظري) মধ্যে পার্থক্য হলো: আবশ্যিক জ্ঞান (الضروري) কোনো প্রকার যুক্তিতর্ক বা প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই জ্ঞান প্রদান করে, পক্ষান্তরে তাত্ত্বিক জ্ঞান (النظري) প্রমাণের মাধ্যমে জ্ঞান প্রদান করে। আবশ্যিক জ্ঞান (الضروري) প্রত্যেক শ্রোতারই অর্জিত হয়, কিন্তু তাত্ত্বিক জ্ঞান (النظري) কেবল তাদেরই অর্জিত হয় যাদের চিন্তা-গবেষণার যোগ্যতা রয়েছে (১)।
পক্ষান্তরে ধারণা প্রসূত প্রামাণিকতা (الظنية الثبوت) সম্পন্ন বলতে সেই গ্রহণযোগ্য (المقبولة) হাদিসগুলোকে বোঝায়, যা একক (آحاد) বর্ণনাকারীরা বর্ণনা করেছেন এবং বর্ণনাকারীর সত্যবাদিতার কারণে সংবাদটি সত্য হওয়ার প্রবল ধারণা (غلبة الظن) তৈরি হয়। এই হাদিসগুলো গ্রহণ করা হয় এবং জমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ ওলামায়ে কেরামের মতে এর ওপর আমল করা ওয়াজিব বা আবশ্যক। যতক্ষণ পর্যন্ত না এর সমপর্যায়ের অন্য কোনো দলিলের সাথে এটি সাংঘর্ষিক হয়, এটি প্রবল ধারণা (غلبة الظن) প্রদান করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - নূর কারূত
(পৃষ্ঠা: ২২)
ثم إذا اجتمعت لها قرائن مثل كون الحديث في الصحيحين، وله طرق متعددة، ورواه الأئمة فلا يبعد حينئذ القطع بصدقه (1) .
أما الأحاديث غير الثابتة، أو المردودة فهي التي يغلب على الظن فيها كذب الخبر، لثبوت كذب ناقليه، وهذه الأحاديث الضعيفة، والتي لها أنواع قد يعمل ببعضها في فضائل الأعمال والمواعظ وأشباهها (2) .
والخلاصة: أن المتواترة يجب العمل بها إجماعًا وتفيد العلم اليقيني، والآحاد الصحيحة يجب العمل بها عند الجمهور وتفيد غلبة الظن، فإذا اجتمعت لها قرائن وجب العمل بها وأفادت العلم النظري، والمردودة الضعيفة لا تفيد علمًا ولا عملاً.
--------------------------------------------
তারপর যদি এর সাথে এমন কিছু আনুষঙ্গিক নিদর্শন (قرائن) যুক্ত হয় যেমন— হাদিসটি দুই সহিহ (সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম) গ্রন্থে থাকা, এর বহুবিধ সূত্র (طرق) থাকা এবং ইমামগণ কর্তৃক তা বর্ণিত হওয়া; তবে সেক্ষেত্রে এর সত্যতার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া (القطع) অসম্ভব নয় (১)।
আর অপ্রমাণিত (غير الثابتة) বা বর্জনীয় (المردودة) হাদিসগুলো এমন যার সংবাদের মিথ্যা হওয়ার বিষয়টিই প্রবল ধারণার (يغلب على الظن) অন্তর্ভুক্ত হয়, কারণ এর বর্ণনাকারীদের মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এই দুর্বল (الضعيفة) হাদিসগুলোর বিভিন্ন প্রকার রয়েছে, যার মধ্য থেকে কিছু প্রকারের ওপর আমল করা যেতে পারে ফজিলতপূর্ণ আমল (فضائل الأعمال), নসিহত (المواعظ) এবং এই জাতীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে (২)।
সারসংক্ষেপ: মুতাওয়াতির (المتواترة) হাদিসের ওপর আমল করা সর্বসম্মতিক্রমে (إجماعًا) আবশ্যক এবং তা নিশ্চিত জ্ঞান (العلم اليقيني) প্রদান করে। আর সহিহ একক (الآحاد الصحيحة) হাদিসের ওপর জমহুর (الجمهور) আলিমের মতে আমল করা আবশ্যক এবং তা প্রবল ধারণার (غلبة الظن) উদ্রেক করে। তবে যদি এর সাথে আনুষঙ্গিক নিদর্শন (قرائن) যুক্ত হয়, তবে তার ওপর আমল করা আবশ্যক হয়ে যায় এবং তা তাত্ত্বিক জ্ঞান (العلم النظري) প্রদান করে। আর বর্জনীয় (المردودة) ও দুর্বল (الضعيفة) হাদিস জ্ঞান বা আমল— কোনোটিরই ফায়দা দেয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - নূর কারূত
(পৃষ্ঠা: ২২)
ثانيًا: أقسام السنة من حيث دلالتها (3)تنقسم سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم من حيث دلا لتها إلى ثلاثة أقسام: أقوال، أفعال، تقريرات. ولكل قسم فرع ولكل فرع دلالة ذكرها العلماء.
القسم الأول:
أقواله صلى الله عليه وسلم وهي على خمسة أنواع: أوامر وهي تدل على الوجوب ما لم
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: নির্দেশকতার (دلالة) বিচারে সুন্নাহর প্রকারভেদ (৩)রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ তার নির্দেশকতার (دلالة) বিচারে তিন ভাগে বিভক্ত: বাণীসমূহ (أقوال), কাজসমূহ (أفعال) এবং মৌন সম্মতিসমূহ (تقريرات)। প্রত্যেকটি প্রকারের শাখা রয়েছে এবং প্রত্যেক শাখার জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশকতা (دلالة) রয়েছে যা ওলামায়ে কেরাম উল্লেখ করেছেন।
প্রথম প্রকার:
তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণীসমূহ যা পাঁচ প্রকার: আদেশসমূহ (أوامر), যা আবশ্যকতা (وجوب) নির্দেশ করে যতক্ষণ না...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - নূর কারূত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
يقم دليل على خروج الوجوب إلى الندب وغيره (1) . وللوجوب صور وأمثلة. (2) .
ونواهٍ، والنهي عند الجمهور يفيد التحريم ما لم تأت قرينة أو دليل يصرفه عن التحريم إلى الكراهة (3) .وللتحريم صور وأمثلة (4)
وإذا مدح رسول الله صلى الله عليه وسلم أمرًا، أو أثنى عليه دون أن يأمر به فإنه يدل على استحباب ذلك الأمر (5) . وله صور وأمثلة (6) .
وإذا ذم الرسول صلى الله عليه وسلم أمرًا ولم ينه عنه أو يتوعد عليه بعقوبة فإنه يدل على الكراهة (7) . وله صور وأمثلة (8)
--------------------------------------------
যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো দলিল না পাওয়া যায় যা আবশ্যকতাকে (وجوب) মুস্তাহাব (ندب) বা অন্য কোনো বিধানের দিকে সরিয়ে নেয় (১)। আর আবশ্যকতার (وجوب) বিভিন্ন রূপ ও উদাহরণ রয়েছে (২)।
এবং নিষেধসমূহ; জুমহুর (جمهور) তথা অধিকাংশ আলিমের মতে নিষেধ (نهي) হারাম (تحريم) হওয়ার অর্থ প্রদান করে, যতক্ষণ না এমন কোনো قرينة (আনুষঙ্গিক প্রমাণ) বা দলিল আসে যা একে হারাম (تحريم) থেকে মাকরূহ (كراهة) হওয়ার দিকে ফিরিয়ে নেয় (৩)। আর হারামের (تحريم) বিভিন্ন রূপ ও উদাহরণ রয়েছে (৪)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি কোনো বিষয়ের প্রশংসা করেন অথবা তার গুণগান করেন অথচ সেটির আদেশ প্রদান করেননি, তবে তা সেই বিষয়টি মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে (৫)। এরও বিভিন্ন রূপ ও উদাহরণ রয়েছে (৬)।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যদি কোনো বিষয়ের নিন্দা করেন অথচ তা থেকে নিষেধ করেননি অথবা তার ওপর কোনো শাস্তির ধমকি দেননি, তবে তা মাকরূহ (كراهة) হওয়ার প্রমাণ দেয় (৭)। এরও বিভিন্ন রূপ ও উদাহরণ রয়েছে (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - নূর কারূত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
أما إذا قال الرسول صلى الله عليه وسلم عن شيء: ((شأنكم به)) فمعناه أمره إليكم فمن شاء فعله، ومن شاء تركه، فيدل هذا القول على الإباحة (1) ففي الحديث عن عائشة رضي الله عنها: ((أن النبي صلى الله عليه وسلم سمع أصواتًا، فقال: ما هذا الصوت؟ قالوا: النخل يؤبرونها (2) . فقال: لو لم يفعلوا لصلح. فلم يؤبروها عامئذ، فصار شيصًا (3) ، فذكروا للنبي صلى الله عليه وسلم فقال: إن كان شيئاً من أمور دنياكم فشأنكم به، وإن كان من أمور دينكم فإلي)) (4) .
وكذلك قوله صلى الله عليه وسلم عن شيء هذا حلال فإنه يدل على الإباحة. كقوله صلى الله عليه وسلم عن البحر: ((هو الطهور ماؤه الحل ميتته)) (5) .
أما القسم الثاني فدلالات أفعاله صلى الله عليه وسلم، ولها ثلاثة فروع:
1- أفعال تدل على الإباحة، ولا قدوة فيها للأمة. ولها ثلاث صور:
الفعل الجبلي الطبيعي المركوز في أصل الخِلْقة (6) :
والمقصود به المحبة والكراهة الطبيعيتان، كحبه صلى الله عليه وسلم الحلواء والعسل والدباء والثريد من الخبز واللحم ومن الشراب الحلو البارد، وكراهته لرائحة الحناء (7) .
--------------------------------------------
পক্ষান্তরে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন কোনো বিষয় সম্পর্কে বলেন: "এটি তোমাদের বিষয়," তখন এর অর্থ হলো এর বিষয়টি তোমাদের ওপর ন্যস্ত; সুতরাং যে চায় সে তা করবে এবং যে চায় সে তা বর্জন করবে। এই বাণীটি বৈধতা (الإباحة) নির্দেশ করে (১)। আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিছু আওয়াজ শুনতে পেলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন: এই আওয়াজ কিসের? তারা বললেন: তারা খেজুর গাছে পরাগায়ন (২) করছে। তিনি বললেন: তারা যদি এটি না করত তবে হয়তো ভালো হতো। ফলে তারা সেই বছর আর পরাগায়ন করেনি, যার ফলে খেজুরগুলো নিম্নমানের হয়ে গেল (৩)। বিষয়টি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন: যদি এটি তোমাদের দুনিয়াবি কোনো বিষয় হয় তবে তা তোমাদের ইচ্ছাধীন (তোমাদের বিষয়), আর যদি তা তোমাদের দ্বীনি কোনো বিষয় হয় তবে তা আমার প্রতি ন্যস্ত (অর্থাৎ আমার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবে)" (৪)।
তদ্রূপ কোনো বিষয় সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর এই বাণী যে, "এটি হালাল", তাও বৈধতা (الإباحة) নির্দেশ করে। যেমন সমুদ্র সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "এর পানি পবিত্র এবং এর মৃত প্রাণী হালাল" (৫)।
দ্বিতীয় প্রকার হলো রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কার্যাবলির নির্দেশনাসমূহ, যার তিনটি শাখা রয়েছে:
১- এমন কার্যাবলি যা বৈধতা (الإباحة) নির্দেশ করে এবং যেগুলোর ক্ষেত্রে উম্মতের জন্য অনুসরণীয় হওয়ার বিষয়টি প্রযোজ্য নয়। এর তিনটি রূপ রয়েছে:
স্বভাবজাত ও প্রাকৃতিক কাজ যা সৃষ্টিগত স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত (৬):
এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রাকৃতিক পছন্দ ও অপছন্দ। যেমন রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মিষ্টি, মধু, কদু, সারীদ (রুটি ও গোশতের ঝোল মিশ্রিত খাবার) এবং মিষ্টি ও ঠান্ডা পানীয় পছন্দ করা এবং মেহেদির ঘ্রাণ অপছন্দ করা (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - নূর কারূত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
o الفعل العادي: ويقصد بالأمور العادية ما سوى الأمور العبادية أي ما فعله الرسول صلى الله عليه وسلم على عادة قومه ومألوفهم مما لم يدل دليل على ارتباطه بالشرع، مثال ذلك: لبسه صلى الله عليه وسلم الثوب المخطط، وإطالة شعره، وأنواع الطيب والعطور.
o الفعل الدنيوي: كالوسائل التي استخدمها الرسول صلى الله عليه وسلم في الطب والزراعة والتجارة والتدابير من اتخاذ الولاة والحراس والسفراء (1)
2- أفعال خاصة به صلى الله عليه وسلم:
إذا ثبتت الخصوصية في فعل من أفعال النبي صلى الله عليه وسلم فإنها تقتضي أن حكم غيره ليس كحكمه، وذلك إجماع (2) ، كاختصاصه صلى الله عليه وسلم بوجوب الوتر والتهجد بالليل.
وقد تكون واجبة عليه محرمة على أمته، كاختصاصه بإباحة الوصال في الصوم فلا يفطر بين اليومين أو الأيام (3) .
3- أفعال تدل على الوجوب أو الندب في حقه صلى الله عليه وسلم وحق أمته:
كالأفعال التي تصدر عنه صلى الله عليه وسلم بيانًا لآية دالة على الوجوب في حقه وحقنا كبيانه صلاة الظهر وأنها أربع ركعات، والجمعة وأنها ركعتان، وبيانه صلى الله عليه وسلم لكيفية الصلاة، ففي الحديث: ((كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا قام إلى الصلاة يكبر حين يقوم ثم يكبّر حين يركع ثم يقول سمع الله لمن حمده حين يرفع صُلبه من الركعة ثم يقول: وهو قائم: ربنا ولك الحمد ثم يكبّر حين يهوي، ثم يكبر
--------------------------------------------
o সাধারণ কাজ (الفعل العادي): সাধারণ বিষয় বলতে ইবাদত সংক্রান্ত কার্যাবলি ছাড়া অন্যান্য বিষয়কে বোঝানো হয়েছে, অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কওমের সাধারণ প্রথা ও অভ্যাসের আলোকে যা করেছেন, যার সাথে শরীয়তের সম্পৃক্ততার কোনো দলিল নেই। উদাহরণস্বরূপ: তাঁর ডোরাকাটা চাদর পরিধান করা, চুল লম্বা রাখা এবং বিভিন্ন প্রকার সুগন্ধি ও আতর ব্যবহার করা।
o পার্থিব কাজ (الفعل الدنيوي): যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় যেমন গভর্নর, প্রহরী ও রাষ্ট্রদূত নিয়োগের ক্ষেত্রে যেসব উপায়-উপকরণ ব্যবহার করেছেন (১)
২- তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্য নির্দিষ্ট কার্যাবলি:
যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো কাজের ক্ষেত্রে বিশেষত্ব (الخصوصية) প্রমাণিত হয়, তবে তা দাবি করে যে, অন্যদের বিধান তাঁর বিধানের মতো হবে না, আর এটি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (إجماع) (২); যেমন—তাঁর জন্য বিতর এবং রাতের তাহাজ্জুদ ওয়াজিব হওয়া।
কখনো কখনো কোনো কাজ তাঁর ওপর ওয়াজিব হতে পারে কিন্তু উম্মতের জন্য তা হারাম হতে পারে। যেমন—তাঁর জন্য বিরতিহীন রোজা পালন বা সাওমে বিসাল (الوصال في الصوم) বৈধ হওয়া, ফলে তিনি দুই দিন বা তার অধিক দিন ইফতার করতেন না (৩)।
৩- এমন সব কার্যাবলি যা তাঁর এবং তাঁর উম্মতের ক্ষেত্রে ওয়াজিব (الوجوب) অথবা মুস্তাহাব (الندب) হওয়ার প্রমাণ দেয়:
যেমন এমন সব কাজ যা তাঁর এবং আমাদের ক্ষেত্রে ওয়াজিবের প্রমাণ দেয় এমন আয়াতের ব্যাখ্যা হিসেবে তাঁর থেকে সম্পাদিত হয়েছে। যেমন—যোহরের নামাজ চার রাকাত এবং জুমার নামাজ দুই রাকাত হওয়া সম্পর্কে তাঁর বর্ণনা, এবং নামাজের পদ্ধতির বর্ণনায় তাঁর কর্মকাণ্ড। হাদিসে এসেছে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নামাজের জন্য দাঁড়াতেন, দাঁড়ানোর সময় তাকবির বলতেন, এরপর রুকু করার সময় তাকবির বলতেন, এরপর রুকু থেকে পিঠ সোজা করার সময় 'সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ' বলতেন, এরপর দাঁড়ানো অবস্থায় বলতেন: 'রব্বানা ওয়া লাকাল হামদ', অতঃপর সিজদায় যাওয়ার সময় তাকবির বলতেন, এরপর তাকবির..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - নূর কারূত
(পৃষ্ঠা: ২৬)
حين يرفع رأسه، ثم يكبر حين يسجد، ثم يكبر حين يرفع رأسه ثم يفعل ذلك في الصلاة كلها حين يقضيها، ويكبر حين يقوم من الثنتين بعد الجلوس)) (1) .
أما الأفعال التي يفعلها صلى الله عليه وسلم من ذات نفسه مطابقًا لما فرضه الله تعالى له من إنشاء بعض الأحكام فإن دل الدليل على أنه صلى الله عليه وسلم فعله واجبًا دل على وجوبه، وإن دل الدليل على أنه فعله ندبًا كان مندوبًا في حقه وحق أمته (2) . مثال ذلك ما ورد في الحديث ((كان صلى الله عليه وسلم يعجبه التيامن في تنعله وترجله وفي شأنه كله)) (3) ." يعجبه" دليل أن هذا الفعل للاستحباب.
أما القسم الثالث: تقريراته صلى الله عليه وسلم:
إذا رأى الرسول صلى الله عليه وسلم شيئًا، أو علمه، فسكت عنه ولم ينكره، فهذا يدل على إباحته لذلك الشيء فقط غير موجب له، ولا ندب إليه (4) .
عن عمرو بن خارجة صلى الله عليه وسلم قال: ((خطبنا رسول الله صلى الله عليه وسلم بمنى وهو على راحلته ولعابها يسيل على كتفي)) (5) .دلّ الحديث على أن لعاب ما يؤكل لحمه طاهر، وهو مبني على أنه صلى الله عليه وسلم علم سيلان لعاب الناقة على الصحابي راوي الحديث ولم يأمره بغسله، ولا إزالته. وأخذ العلماء بذلك فلم ينقل عن أحد من الأئمة القول بوجوب غسل لعاب ما يؤكل لحمه لأن تأخير البيان عن وقت الحاجة لا يجوز بالاتفاق (6) .
--------------------------------------------
...যখন তিনি মাথা তোলেন, তারপর যখন সিজদা করেন তখন তকবির বলেন, তারপর যখন মাথা তোলেন তখন তকবির বলেন। এরপর তিনি তাঁর পুরো সালাত সম্পন্ন করা পর্যন্ত এভাবেই করতে থাকেন এবং দুই রাকাত শেষ করে বসার পর যখন দাঁড়ান তখনও তকবির বলেন)) (১)।
আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বতস্ফূর্তভাবে যেসব কাজ করেছেন, যা আল্লাহ তাআলা তাঁর জন্য কতিপয় বিধান প্রবর্তনের অনুসরণে নির্ধারিত করেছেন; তবে যদি দলিল এক কথা নির্দেশ করে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা আবশ্যিক (واجب) হিসেবে করেছেন, তবে তা ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ বহন করে। আর যদি দলিল এক কথা নির্দেশ করে যে তিনি তা পছন্দনীয় (ندب) হিসেবে করেছেন, তবে তা তাঁর নিজের এবং তাঁর উম্মতের জন্য মুস্তাহাব (مندوب) হিসেবে গণ্য হবে (২)। এর উদাহরণ হলো হাদিসে যা বর্ণিত হয়েছে: ((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুতা পরিধান করা, চুল আঁচড়ানো এবং তাঁর প্রতিটি কাজেই ডান দিক থেকে শুরু করা পছন্দ করতেন)) (৩)। "পছন্দ করতেন" শব্দটি এই কাজের মুস্তাহাব (استحباب) হওয়ার দলিল।
তৃতীয় বিভাগ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৌন সমর্থন (تقريرات):
যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো কিছু দেখতেন অথবা সে সম্পর্কে জানতেন, অতঃপর সে বিষয়ে নীরব থাকতেন এবং তা প্রত্যাখ্যান করতেন না, তবে এটি কেবল সেই বিষয়টি বৈধ (إباحة) হওয়ার প্রমাণ দেয়, যা সেই বিষয়টিকে আবশ্যক করে না এবং এর প্রতি উৎসাহিতও (ندب) করে না (৪)।
আমর ইবনে খারিজা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ((রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিনায় তাঁর সওয়ারিতে আসীন অবস্থায় আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিচ্ছিলেন, এমতাবস্থায় সওয়ারিটির লালা আমার কাঁধের ওপর গড়িয়ে পড়ছিল)) (৫)। এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, যেসব পশুর গোশত খাওয়া যায় তাদের লালা পবিত্র। এটি এই বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিস বর্ণনাকারী সাহাবীর ওপর উটের লালা গড়িয়ে পড়ার বিষয়টি জেনেছিলেন কিন্তু তাঁকে তা ধৌত করার বা অপসারণ করার নির্দেশ দেননি। উলামায়ে কেরাম এটি গ্রহণ করেছেন এবং কোনো ইমাম থেকেই ভক্ষণযোগ্য পশুর লালা ধৌত করা ওয়াজিব হওয়ার কথা বর্ণিত হয়নি। কারণ প্রয়োজনের সময় ব্যাখ্যা প্রদানে বিলম্ব করা সর্বসম্মতভাবে জায়েজ নয় (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সুন্নাতুন নাবাবিয়্যাহ ওয়া মাকানাতুহা - নূর কারূত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
المبحث السادس: أنواع القرائن الصارفة عن العمل بظاهر السن…المبحث السادس: أنواع القرائن الصارفة عن العمل بظواهر السنن
ورد في تعريف القرينة عدة مصطلحات منها:
القرينة: الأمر الذي يصرف الذهن عن المعنى الوضعي إلى المعنى المجازي، وقيل هي: ما يدل على المراد من غير أن يكون صريحًا فيه. وقيل: أمر يشير إلى المطلوب (1) .
والمتتبع لمسائل الأمر عند جمهور الأصوليين يجد أنهم متفقون على أن القرينة بجميع أنواعها تعتبر صارفة الأمر عن حقيقته فإنه متى وجدت ترك تحديد المراد من الأمر حينئذ إليها (2) .
فالسنة النبوية المصدر الثاني للتشريع الإسلامي والجميع متفقون على مكانتها المهمة من حيث الاحتجاج والعمل لكن ينبغي عدم إغفال ما تقدم من ثبوت السنة، ووضوح دلالتها، ومعرفة القرائن التي لها أثر في صرف السنة عن ظاهرها. ويوضح ذلك الأمثلة التالية:
عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما أنه طلق امرأته وهي حائض فذكر ذلك عمر رضي الله عنه لرسول الله صلى الله عليه وسلم فتغيظ رسول الله صلى الله عليه وسلم ثم قال له: ((مره فليراجعها)) (3) . فدلّ ظاهر الحديث على وجوب الرجعة، ولكن ذهب
--------------------------------------------
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর বাহ্যিক (ظاهر) অর্থ অনুযায়ী আমল করা থেকে বিরত রাখার নির্দেশকসমূহের (قرينة) প্রকারভেদ...ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর বাহ্যিক (ظاهر) অর্থসমূহ অনুযায়ী আমল করা থেকে বিমুখকারী নির্দেশকসমূহের (قرينة) প্রকারভেদ
কারিনাহ বা নির্দেশকের (قرينة) সংজ্ঞায় বেশ কিছু পরিভাষা বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
কারিনাহ (قرينة): এমন একটি বিষয় যা চিন্তাকে আভিধানিক অর্থ থেকে রূপক (مجাজي) অর্থের দিকে ফিরিয়ে নেয়। আবার বলা হয়েছে: যা সরাসরি স্পষ্ট (صريح) না হয়েও উদ্দেশ্যকে নির্দেশ করে। আরও বলা হয়েছে: এটি এমন বিষয় যা উদ্দিষ্ট বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করে (১)।
অধিকাংশ উসুলবিদের (أصوليون) নিকট আদেশ (أمر) সংক্রান্ত মাসয়ালাসমূহ পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, তাঁরা এ বিষয়ে একমত যে, কারিনাহ (قرينة) তার সকল প্রকারসহ আদেশকে (أمر) তার প্রকৃত (حقيقة) অর্থ থেকে সরিয়ে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। সুতরাং যখনই কারিনাহ (قرينة) পাওয়া যায়, তখন থেকে আদেশের (أمر) উদ্দেশ্য নির্ধারণের বিষয়টি কারিনাহর দিকেই ন্যস্ত করা হয় (২)।
ইসলামি শরিয়ত প্রণয়নে সুন্নাহ নববী হলো দ্বিতীয় উৎস এবং দলিল হিসেবে গ্রহণ (احتجاج) ও আমল করার ক্ষেত্রে এর গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদার বিষয়ে সকলে একমত। তবে সুন্নাহ সাব্যস্ত হওয়া (ثبوت), এর নির্দেশনার (دلالة) স্পষ্টতা এবং সেই সকল নির্দেশক (قرينة) সম্পর্কে জানার বিষয়টি উপেক্ষা করা উচিত নয় যা সুন্নাহকে তার বাহ্যিক (ظاهر) অর্থ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব রাখে। নিচের উদাহরণগুলো বিষয়টি স্পষ্ট করবে:
আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তাঁর স্ত্রীকে ঋতুবতী অবস্থায় তালাক দিয়েছিলেন। ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জানালে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাগান্বিত হলেন এবং তাঁকে বললেন: "তাকে আদেশ দাও যেন সে তাকে ফিরিয়ে নেয়" (৩)। হাদিসের বাহ্যিক (ظاهر) দিকটি স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়া ওয়াজিব (واجب) হওয়ার প্রতি নির্দেশ করে, কিন্তু...
--------------------------------------------