(খণ্ড: ১)
আল-গুররাতুল মুনীফাহ ফী তাহকীকী বাদি মাসাইলি ইমাম আবী হানীফাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الغرة المنيفة في تحقيق بعض مسائل الإمام أبي حنيفة القسم: الفقه الحنفي
الكتاب: الغرة المنيفة في تحقيق بعض مسائل الإمام أبي حنيفة
المؤلف: عمر بن إسحق بن أحمد الهندي الغزنوي، سراج الدين، أبو حفص الحنفي (ت 773هـ)
الناشر: مؤسسة الكتب الثقافية
الطبعة: الأولى 1406-1986 هـ
عدد الصفحات: 194
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আল-গুররাতুল মুনিফাহ ফি তাহকিকি বা'দি মাসাইলি আল-ইমাম আবি হানিফাহ বিভাগ: হানাফি ফিকহ
বই: ইমাম আবু হানিফার কিছু মাসআলা যাচাইকরণে আল-গুররাতুল মুনিফাহ
লেখক: উমর ইবন ইসহাক ইবন আহমদ আল-হিন্দি আল-গজনবি, সিরাজুদ্দিন, আবু হাফস আল-হানাফি (মৃ. ৭৭৩ হি.)
প্রকাশক: মুয়াসসাসাতুল কুতুব আল-সাকাফিয়্যাহ
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৬-১৯৮৬ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৪
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামিলাহতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-গুররাতুল মুনীফাহ ফী তাহকীকী বাদি মাসাইলি ইমাম আবী হানীফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
مقدمة المؤلف
بسم الله الرحمن الرحيم.
وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.
الحمد لله على آلائه، والشكر له على جزيل عطائه، وأفضل الصلاة والسلام على سيد أصفيائه، محمد أفضل الخليقة وخاتم أنبيائه، وعلى آله وأصحابه وأوليائه.
وبعد: فقد أشار إلى من طاعته قرض يلزمني أداؤه، وامتثاله فرض يجب عليّ قضاؤه. وهو الأمير الفاضل والكريم الباذل، مفخر الأمراء، كهف الفقراء، ذو الأخلاق المرضية، والأوصاف السنية، ولي الأيادي والنعم، صاحب السيف والقلم، المتعيّن بين أمثاله بمحبة العلم كالعلم، الأمير الكبير صرغتمش الملكي الناصري، نور الله بالعلوم النافعة بصيرته، وحسن سيرته وسريرته، وأدام عليه نعمته وبهجته، وحرس من الآفات مهجته، وأبقاه في خير وعافية لأهله ومحبيه، ويبلغه من خيري الدنيا والآخرة ما يؤمله ويرتجيه، أن أترجم بالعربية كتاب الطريقة البهائية، الذي صنفه الإمام فخر الدين للسلطان المرحوم بهاء الدين بالفارسية، وأزيد عليه دلائل وأجوبة من جانب الإمام الأعظم أبي حنيفة رضي الله عنه وأرضاه وجعل الجنة مثواه. فبادرت إلى امتثال أمره بالجد والهناء فجاء بحمد الله كما يرتضيه العلماء، ويثني عليه الفضلاء، وسميته "بالغرة المنيفة في تحقيق بعض مسائل الإمام أبي حنيفة" والله المستعان وعليه التكلان.
লেখকের ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষণ করুন।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য তাঁর নেয়ামতরাজির ওপর এবং শুকরিয়া তাঁর মহান দানসমূহের ওপর। সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর মনোনীত বান্দাদের নেতা, সৃষ্টির সেরা এবং নবীদের মোহর মুহাম্মদের ওপর, এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ ও ওলীগণের ওপর।
অতঃপর: যাঁর আনুগত্য করা আমার ওপর ঋণের মতো যা আদায় করা অপরিহার্য এবং যাঁর আদেশ পালন করা আমার ওপর ফরজের মতো যা সম্পন্ন করা আবশ্যক, তিনি আমাকে ইঙ্গিত করেছেন। তিনি হলেন গুণী আমির ও দানশীল মহানুভব, আমিরদের গৌরব, অভাবগ্রস্তদের আশ্রয়স্থল, সন্তোষজনক চরিত্র ও উচ্চতর গুণের অধিকারী, দান ও অনুগ্রহের মালিক, তলোয়ার ও কলমের অধিকারী, ইলমের প্রতি মহব্বতের কারণে নিজ সমসাময়িকদের মধ্যে পতাকার মতো সুপরিচিত, মহান আমির ‘সরগাতমিশ আল-মালিকি আন-নাসিরি’। আল্লাহ তাআলা উপকারী ইলমের মাধ্যমে তাঁর অন্তর্দৃষ্টিকে আলোকিত করুন, তাঁর প্রকাশ্য ও গোপন আচরণকে সুন্দর করুন, তাঁর ওপর তাঁর নেয়ামত ও আনন্দ অব্যাহত রাখুন, বিপদ-আপদ থেকে তাঁর জীবন রক্ষা করুন, তাঁর পরিবার ও প্রিয়জনদের জন্য তাঁকে কল্যাণ ও সুস্থতার সাথে দীর্ঘজীবী করুন এবং ইহকাল ও পরকালের সেই সকল কল্যাণ তাঁকে দান করুন যা তিনি আশা ও আকাঙ্ক্ষা করেন। (তাঁর সেই ইঙ্গিতটি ছিল) যেন আমি ‘আত-তরীকাহ আল-বাহায়িয়্যাহ’ নামক কিতাবটি আরবিতে অনুবাদ করি, যা ইমাম ফখরউদ্দীন মরহুম সুলতান বাহাউদ্দীনের জন্য ফারসি ভাষায় রচনা করেছিলেন, এবং আমি যেন তাতে ইমামে আজম আবু হানিফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)—আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন এবং জান্নাতকে তাঁর ঠিকানা বানান—তাঁর পক্ষ থেকে দলিল ও জবাবসমূহ যুক্ত করি। অতঃপর আমি গুরুত্ব ও আনন্দের সাথে তাঁর আদেশ পালনে ব্রতী হলাম; ফলে আল্লাহর প্রশংসায় এটি এমনভাবে সম্পন্ন হলো যা উলামায়ে কেরাম পছন্দ করবেন এবং গুণীজনরা প্রশংসা করবেন। আমি এর নামকরণ করেছি “আল-গুররাতুল মুনিফাহ ফী তাহকীকী বা’দি মাসায়িলি ইমাম আবী হানিফাহ”। আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাই এবং তাঁর ওপরই ভরসা।
(খণ্ড: ১)
আল-গুররাতুল মুনীফাহ ফী তাহকীকী বাদি মাসাইলি ইমাম আবী হানীফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
كتاب الطهارةمسألة: يجوز إزالة النجاسة من البدن والثوب بكل مائع طاهر يمكن إزالتها به كالخل وماء الورد عند أبي حنيفة رضي الله عنه وهو إحدى الروايتين عن أبي يوسف رحمه الله، وقال: الشافعي رضي الله عنه: لا يجوز إلا بالماء، وهو قول محمد رحمه الله. [حجة أبي حنيفة رضي الله عنه من وجوه:
الأول: ما روى مجاهد عن عائشة رضي الله عنها أنها قالت: "ما كان لإحدانا إلا ثوب تحيض فيه فإذا أصابه شيء من دم قالت بريقها فمصعته بظفرها، والمصع: الحك بالظفر لاستخراج الدم فإذا زالت النجاسة بالريق فبالخل وماء الورد أولى. أخرجه البخاري، وفي رواية الترمذي: "فإن أصابه شيء من دم بلته بريقها ثم قصعته، والقصع: هو الدلك".
الثاني: قوله تعالى: {وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ} 1. فإنه مطلق فمن قيد بالماء فقد زاد على النص من غير دليل.
الثالث: قوله صلى الله عليه وسلم: "إذا ولغ الكلب في الإناء فاغسلوه سبع مرات" أمر بالغسل مطلقا فيجري على إطلاقه، والغسل غير مختص بالماء، قال: الشاعر:
فيا حسنها إذ يغسل الدمع كحلها
الرابع: ما رواه أبو داود عن بكار بن يحيى قال: "حدثتني جدتي،
--------------------------------------------
পবিত্রতা অধ্যায়মাসআলা: ইমাম আবু হানিফা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মতে শরীর ও কাপড় থেকে এমন প্রতিটি পবিত্র তরল দ্বারা নাপাকি দূর করা জায়েজ যা দিয়ে তা দূর করা সম্ভব, যেমন সিরকা ও গোলাপ জল। এটি ইমাম আবু ইউসুফ রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার একটি। ইমাম শাফেয়ী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: পানি ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে তা জায়েজ নয়; আর এটিই ইমাম মুহাম্মদ রাহিমাহুল্লাহ-এর অভিমত। [ইমাম আবু হানিফা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর দলীলসমূহ কয়েকটি দিক থেকে:
প্রথমত: মুজাহিদ আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: "আমাদের কারো একটির বেশি কাপড় ছিল না যাতে তিনি ঋতুবতী হতেন। যখন তাতে রক্তের কোনো অংশ লাগত, তখন তিনি তার লালা দিয়ে তা ভিজাতেন এবং নখ দিয়ে খুঁটে ফেলতেন।" 'মাস'উ' অর্থ হচ্ছে রক্ত বের করার জন্য নখ দিয়ে ঘষা। সুতরাং যদি লালার মাধ্যমে নাপাকি দূর হয়ে যায়, তবে সিরকা ও গোলাপ জল দিয়ে তা দূর হওয়া আরও বেশি যুক্তিযুক্ত। এটি ইমাম বুখারী বর্ণনা করেছেন। তিরমিযীর বর্ণনায় এসেছে: "যদি তাতে রক্তের কিছু লাগত, তবে তিনি তা লালা দিয়ে ভিজাতেন তারপর তা রগড়াতেন।" আর 'কাস'উ' অর্থ হলো রগড়ানো বা ডলা।
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং আপনার পোশাক পবিত্র করুন} ১। নিশ্চয়ই এটি নিঃশর্ত, সুতরাং যে ব্যক্তি একে পানির সাথে সীমাবদ্ধ করল, সে কোনো দলীল ছাড়াই মূল পাঠের ওপর অতিরিক্ত শর্তারোপ করল।
তৃতীয়ত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "যখন কুকুর কোনো পাত্রে মুখ দেয়, তখন তোমরা তা সাতবার ধৌত করো।" এখানে তিনি নিঃশর্তভাবে ধোয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, তাই এটি তার সাধারণ অর্থেই বহাল থাকবে। আর ধৌত করা কেবল পানির সাথেই সুনির্দিষ্ট নয়। জনৈক কবি বলেছেন:
আহা! সে কতই না সুন্দরী যখন অশ্রু তার চোখের কাজল ধুয়ে দেয়!
চতুর্থত: আবু দাউদ বাকার বিন ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "আমার দাদী আমাকে বর্ণনা করেছেন যে,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গুররাতুল মুনীফাহ ফী তাহকীকী বাদি মাসাইলি ইমাম আবী হানীফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
قالت: دخلت على أم سلمة رضي الله عنها زوج النبي صلى الله عليه وسلم فسألتها امرأة من قريش عن الصلاة في ثوب الحائض، فقالت: قد كان يصيبنا الحيض على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم فتلبث إحدانا أيام حيضها ثم تطهر فتنظر الثوب الذي كانت تلتف فيه فإن أصابه دم غسلناه وصلينا فيه وإن لم يكن أصابه شيء تركناه ولم يمنعنا ذلك أن نصلي فيه. فقول أم سلمة غسلنا مطلق غير مقيد بالماء فيجرى على إطلاقه كما مر.
الخامس: دلالة النص وهو أنه لما زالت النجاسة بالماء فبالخل وماء الورد أولى، لأن تأثير الخل في قلع النجاسة أكثر لأنه قال: ع للأثر وماء الورد مذهب للرائحة الكريهة.
السادس: القياس وهو أن المائع قال: ع للنجاسة والطهورية بعلة القلع وإزالة النجاسة المجاورة إذ الثوب كان طاهرا قبل إصابة النجاسة وإزالة النجاسة كما تحصل بالماء تحصل بسائر المائعات المزيلة لها فإذا زالت النجاسة بقي الثوب طاهراً ولهذا لو قطع موضع النجاسة بالمقراض طهر الثوب.
حجة الشافعي رضي الله عنه من وجوه:
الأول: أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يغسل ثيابه بالماء ولم ينقل عنه أنه صلى الله عليه وسلم غسلها بالخل ومتابعته واجبة، لقوله تعالى: {فَاتَّبِعُوهُ} 1. فلزم على الأمة غسل الثوب بالماء دون الخل.
الجواب عنه: أن النبي صلى الله عليه وسلم إنما غسل الثياب بالماء لكثرته وسهولة إصابته وقلة الخل وماء الورد فلا يدل على عدم جواز الغسل بغيره إن لم يمنع عن ذلك بل أمره بالغسل مطلقا كما مر، ونحن نتبعه حيث تجوز إزالة النجاسة بالماء مع الزيادة وإنما تلزم المخالفة لو منع عن الإزالة بغير الماء ولم ينقل ذلك.
--------------------------------------------
তিনি বললেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্ত্রী উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহার নিকট প্রবেশ করলাম। তখন কুরাইশ বংশের এক মহিলা তাঁকে ঋতুবতী মহিলার পোশাকে নামাজ পড়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে আমরা ঋতুবতী হতাম। আমাদের কেউ তার ঋতুকালীন দিনগুলো অতিবাহিত করত, অতঃপর সে পবিত্র হতো। এরপর সে সেই পোশাকটি দেখত যা সে পরিধান করত; যদি তাতে রক্ত লাগত তবে আমরা তা ধুয়ে ফেলতাম এবং তাতে নামাজ পড়তাম। আর যদি তাতে কিছু না লাগত তবে আমরা তা (ধোয়া ছাড়াই) ছেড়ে দিতাম। এটি আমাদের সেই পোশাকে নামাজ পড়তে বাধা প্রদান করত না। উম্মে সালামার বক্তব্য 'আমরা ধুয়ে ফেলতাম' কথাটি নিরঙ্কুশ (মুতলাক), যা পানির সাথে শর্তযুক্ত নয়। সুতরাং এটি তার ব্যাপক অর্থের ওপরই প্রয়োগ হবে, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
পঞ্চম: দালালাতুন নাস (নصوصের ইঙ্গিত); আর তা হলো এই যে, যখন পানি দ্বারা নাপাকি দূরীভূত হয়, তখন সিরকা ও গোলাপজল দ্বারা তা দূর হওয়া আরও বেশি সমীচীন। কারণ নাপাকি দূর করার ক্ষেত্রে সিরকার প্রভাব অনেক বেশি; কেননা তা নাপাকির চিহ্নের ওপর ক্রিয়াশীল। আর গোলাপজল দুর্গন্ধ দূরকারী।
ষষ্ঠ: কিয়াস (অনুমান); আর তা হলো এই যে, তরল পদার্থ নাপাকি দূর করার এবং পবিত্রতা অর্জনের কারণ হলো নাপাকি উপড়ে ফেলা এবং সংলগ্ন নাপাকি দূরীভূত করা। কেননা নাপাকি লাগার পূর্বে কাপড়টি পবিত্র ছিল। আর নাপাকি দূর হওয়া যেমন পানি দ্বারা অর্জিত হয়, তেমনি নাপাকি দূরকারী অন্যান্য তরল পদার্থের মাধ্যমেও তা অর্জিত হয়। অতএব যখন নাপাকি দূরীভূত হলো, কাপড়টি পবিত্র থাকল। এই কারণেই যদি কাঁচি দিয়ে নাপাকির স্থানটি কেটে ফেলা হয়, তবে কাপড়টি পবিত্র হয়ে যায়।
ইমাম শাফেয়ী রাদিয়াল্লাহু আনহুর দলিলসমূহ কয়েকভাবে বর্ণিত:
প্রথম: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাপড় পানি দিয়ে ধৌত করতেন। তাঁর থেকে এটি বর্ণিত হয়নি যে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিরকা দিয়ে তা ধৌত করেছেন। আর তাঁর অনুসরণ করা ওয়াজিব, মহান আল্লাহর এই বাণীর কারণে: {সুতরাং তোমরা তাঁর অনুসরণ করো} ১। অতএব উম্মতের ওপর কাপড় পানি দিয়ে ধোয়া আবশ্যক হলো, সিরকা দিয়ে নয়।
এর উত্তর: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাপড় পানি দিয়ে ধৌত করতেন পানির সহজলভ্যতা ও প্রাচুর্যের কারণে এবং সিরকা ও গোলাপজলের স্বল্পতার কারণে। সুতরাং এটি পানি ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে ধোয়া নাজায়েজ হওয়ার দলিল নয়, যদি না তা থেকে নিষেধ করা হয়। বরং তিনি সাধারণভাবে ধোয়ার নির্দেশ দিয়েছেন যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আমরা তাঁর অনুসরণ করি যেখানে পানি দ্বারা নাপাকি দূর করা জায়েজ হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ফায়দাও রয়েছে। আর বিরোধিতা তখনই সাব্যস্ত হতো যদি তিনি পানি ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে নাপাকি দূর করতে নিষেধ করতেন, অথচ এমনটি বর্ণিত হয়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গুররাতুল মুনীফাহ ফী তাহকীকী বাদি মাসাইলি ইমাম আবী হানীফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
الثاني: ما أخرجه الترمذي عن أسماء بنت أبي بكر رضي الله عنها أن امرأة سألت النبي صلى الله عليه وسلم عن الثوب يصيبه الدم من الحيض فقال: النبي صلى الله عليه وسلم: "حتيه ثم اقرصيه ثم اغسليه بالماء" قيد غسل الثوب بالماء فلا يجوز بغيره.
الجواب عنه: أن ذكر الماء لا يدل على نفي ما عداه فإن مفهوم اللقب ليس بحجة بالاتفاق وقد جاز الاستنجاء بغير الأحجار اتفاقاً مع التقييد بالأحجار في قوله صلى الله عليه وسلم: "فليستنج بثلاثة أحجار" على أن ذكر الماء خرج مخرج الغالب لا مخرج الشرط والصفة، فإذا خرجت مخرج الغالب لا يقتضي النفي عما عداها كما في قوله تعالى: {وَرَبَائِبُكُمُ اللَّاتِي فِي حُجُورِكُمْ} 1. فاسم الجنس أوفى.
الثالث: أن الثوب إذا تنجس يبقى نجساً إلى وجود استعمال المطهر والمطهرية حكم شرعي فلا يعرف إلا منه ولم يرد في الشرع الأمر إلا بمطهرية الماء قال: تعالى: {وَأَنْزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً طَهُوراً} 2. ولم يقل خلا طهوراً فظهر أنه لا يطهر الثوب إلا الماء.
فالجواب عنه: كما مر من أن ذكر الشيء لا يدل على نفي ما عداه وأن ذكر الماء خرج مخرج الغالب.
الرابع: أن في غسل النجاسة بالخل وماء الورد إضاعة المال وهو منهي عنه لقوله صلى الله عليه وسلم: "نهى عن إضاعة المال".
الجواب عنه: إنما كان إضاعة لو استعمل بلا غرض وأي غرض أعظم من حصول الطهارة إذ لو لم نجوز إزالة النجاسة بالخل وماء الورد تلزم الصلاة مع النجاسة إذا لم يجد الماء ووجد الخل لأجل إضاعة خل قيمته فليس3 على أنا نفرض المسألة: في موضع يكون فيه أعز بحيث تكون قيمة
--------------------------------------------
দ্বিতীয় (দলিল): ইমাম তিরমিযী আসমা বিনতে আবি বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক মহিলা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ঋতুর রক্ত লেগেছে এমন কাপড় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: "তুমি এটি খুঁটে ফেলো, তারপর আঙ্গুল দিয়ে ঘষে পরিষ্কার করো, এরপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলো।" এখানে কাপড় ধোয়ার বিষয়টি পানির সাথে শর্তযুক্ত করা হয়েছে, তাই পানি ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে ধোয়া জায়েজ নয়।
এর উত্তর হলো: পানির উল্লেখ অন্য কিছুর কার্যকারিতাকে নাকচ করে দেয় না। কারণ ‘মাফহুমুল লাকাব’ (নামবাচক শব্দের বিপরীত অর্থ) সর্বসম্মতভাবে দলিল হিসেবে গণ্য নয়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী "সে যেন তিনটি পাথর দিয়ে ইস্তিনজা করে"-এ পাথরের কথা উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও পাথর ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে ইস্তিনজা করা সর্বসম্মতভাবে বৈধ। তাছাড়া পানির উল্লেখ করা হয়েছে সচরাচর ব্যবহারের ভিত্তিতে (মাখরাজুল গালিব), শর্ত বা বিশেষ গুণ হিসেবে নয়। আর যখন কোনো বিষয় সচরাচর ব্যবহারের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়, তখন তা অন্য সব কিছুকে নাকচ করে না, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "এবং তোমাদের সেই পালিতা কন্যারা যারা তোমাদের কোলে (লালিত-পালিত হচ্ছে)" ১। অতএব, জাতিবাচক নামই অধিকতর ব্যাপক।
তৃতীয় (দলিল): কাপড় অপবিত্র হলে তা অপবিত্রই থাকে যতক্ষণ না পবিত্রকারী কোনো বস্তু ব্যবহার করা হয়। আর পবিত্রকারী হওয়া একটি শরয়ি বিধান, যা কেবল শরিয়ত থেকেই জানা যায়। শরিয়তে কেবল পানির পবিত্রকারী হওয়ার ব্যাপারেই নির্দেশ এসেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন: "এবং আমি আকাশ থেকে পবিত্র পানি বর্ষণ করেছি" ২। তিনি 'পবিত্র সিরকা' বলেননি। সুতরাং স্পষ্ট হলো যে, পানি ছাড়া অন্য কিছু কাপড়কে পবিত্র করে না।
এর উত্তর হলো: যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, কোনো জিনিসের উল্লেখ অন্য কিছুকে নাকচ করে দেয় না এবং পানির উল্লেখ সচরাচর ব্যবহারের ভিত্তিতে হয়েছে।
চতুর্থ (দলিল): সিরকা বা গোলাপজল দিয়ে নাপাকি ধোয়া হলো সম্পদের অপচয়, যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী "তিনি সম্পদ নষ্ট করতে নিষেধ করেছেন" অনুযায়ী নিষিদ্ধ।
এর উত্তর হলো: এটি কেবল তখনই অপচয় হতো যদি কোনো উদ্দেশ্য ছাড়া ব্যবহার করা হতো। আর পবিত্রতা অর্জনের চেয়ে বড় উদ্দেশ্য আর কী হতে পারে? কারণ আমরা যদি সিরকা বা গোলাপজল দিয়ে নাপাকি দূর করা জায়েজ না করি, তবে পানি না পেয়ে সিরকা পাওয়া সত্ত্বেও এক ফুলাইস (সামান্য কড়ি) ৩ মূল্যের সিরকা নষ্ট হওয়ার ভয়ে নাপাকি নিয়েই সালাত আদায় করতে হবে। অধিকন্তু আমরা বিষয়টি এমন স্থানের ক্ষেত্রে ধরে নিচ্ছি যেখানে এটি (পানি) অতি দুষ্প্রাপ্য যার মূল্য...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গুররাতুল মুনীফাহ ফী তাহকীকী বাদি মাসাইলি ইমাম আবী হানীফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قدح من الماء ألف قدح من الخل ففي هذه الصورة لو أوجبنا استعمال الماء كان إضاعة للمال على أن الإضاعة لا تقتضي عدم حصول الطهارة بعد زوال النجاسة كما في القطع بالمقراض.
الخامس: أنه لو استعمل الخل في إزالة النجاسة يصير حراماً وتحريم الطعام الطاهر لا يجوز لقوله تعالى: {لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ} 1.
الجواب عنه: أن هذا بعينه وارد في الماء فإنه جاز استعماله وإن كان فيه تحريم الماء الطاهر، على أنه جاز ذلك لغرض صحيح كما بينا، على أن النص ورد في تحريم النبي صلى الله عليه وسلم مارية القبطية على نفسه فالمراد من تحريم النبي صلى الله عليه وسلم غير ما ذكره.
السادس: أن الطهارة عن النجاسة أقوى من الطهارة عن الحدث لأن الأول: ى حقيقية والثاني: حكمية وبالاتفاق لا يقيد الخل وماء الورد طهارة الحدث فلا يفيد أيضاً طهارة الخبث.
الجواب عنه: بالفرق بينهما وهو أن النص جعل الماء مطهراً للحدث غير معقول المعنى لأنه لا نجاسة على الأعضاء عيناً لتزول به فيقتصر على ما ورد به الشرع وهو الماء بخلاف النجاسة الحقيقية فإن الإزالة ثمة معقولة وهي حاصلة بالمائعات أيضاً ولم يذكر الإمام لأبي حنيفة إلا القياس.
ثم قال: دلائلنا من النصوص ودليلكم من القياس والنص أولى منه ففي هذا القول قلة الإنصاف وكثرة الاعتساف فإن الدلائل المذكورة لنا أيضاً من النصوص فإن لم يعلم بها فهو دليل على عدم إطلاعه على مدارك العلماء فكيف تجزم بأن دليلنا قياس فقط وإن علم بها ولم يذكرها ترويجا لدلائله الضعيفة فذلك أشنع فهو كما قيل:
فإن كنت لا تدري فتلك مصيبة
… وإن كنت تدري فالمصيبة أعظم
--------------------------------------------
এক পেয়ালা পানির বিপরীতে যদি হাজার পেয়ালা সিরকা পাওয়া যায়, তবে এই অবস্থায় যদি আমরা পানি ব্যবহার করাকে আবশ্যক করি, তবে তা সম্পদের অপচয় হবে। অথচ অপচয় হওয়া অপবিত্রতা দূর হওয়ার পর পবিত্রতা অর্জিত না হওয়াকে আবশ্যক করে না, যেমনটি কাঁচি দিয়ে কেটে ফেলার ক্ষেত্রে ঘটে।
পঞ্চম: যদি অপবিত্রতা দূর করতে সিরকা ব্যবহার করা হয় তবে তা হারাম (অব্যবহারযোগ্য) হয়ে যায়, অথচ পবিত্র খাদ্যদ্রব্যকে হারাম করা জায়েয নয়। কারণ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: {আল্লাহ আপনার জন্য যা হালাল করেছেন তা কেন আপনি হারাম করছেন?} ১।
এর উত্তর হলো: এই বিষয়টি পানির ক্ষেত্রেও হুবহু প্রযোজ্য। কারণ পানি ব্যবহার করা জায়েয, যদিও এতে পবিত্র পানিকে হারাম (অব্যবহারযোগ্য) করা হয়। তাছাড়া, আমরা যেমনটি বর্ণনা করেছি, এটি একটি সঠিক উদ্দেশ্যে জায়েয করা হয়েছে। তদুপরি, এই আয়াতটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিজের ওপর মারিয়া কিবতিয়াকে নিষিদ্ধ করার প্রেক্ষাপটে অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিষিদ্ধ করার উদ্দেশ্য তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা থেকে ভিন্ন।
ষষ্ঠ: অপবিত্রতা (নাজাসাত) থেকে পবিত্রতা অর্জন হাদাস (অজু-গোসলের অপবিত্রতা) থেকে পবিত্র হওয়ার চেয়ে অধিক জোরালো। কারণ প্রথমটি হলো প্রকৃত (হাকিকি) এবং দ্বিতীয়টি হলো বিধিগত (হুকমি)। আর ঐকমত্য অনুযায়ী যেহেতু সিরকা এবং গোলাপ জল হাদাসের পবিত্রতায় কোনো উপকারে আসে না, সেহেতু এটি প্রকৃত নাপাকি (খবাসাত) দূর করার ক্ষেত্রেও ফলদায়ক হবে না।
এর উত্তর হলো: এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আর তা হলো, শরিয়তের নস পানিকে হাদাস থেকে পবিত্রকারী হিসেবে নির্ধারণ করেছে যার নিগূঢ় রহস্য বুদ্ধিগ্রাহ্য নয়। কারণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে দৃশ্যত কোনো নাপাকি নেই যা এর মাধ্যমে দূর হবে। তাই শরিয়তে যা বর্ণিত হয়েছে অর্থাৎ পানির মাধ্যমেই পবিত্রতা অর্জন সীমাবদ্ধ থাকবে। পক্ষান্তরে প্রকৃত নাজাসাতের বিষয়টি ভিন্ন; কারণ সেখানে অপবিত্রতা দূর করা বুদ্ধিগ্রাহ্য এবং তা অন্যান্য তরল পদার্থের মাধ্যমেও অর্জিত হয়। আর ইমাম আবু হানিফার স্বপক্ষে তিনি কিয়াস ব্যতীত অন্য কিছু উল্লেখ করেননি।
অতঃপর তিনি বললেন: আমাদের দলিলগুলো নস থেকে আর আপনাদের দলিল কিয়াস থেকে, আর নস কিয়াসের চেয়ে অগ্রগণ্য। এই বক্তব্যে ইনসাফের স্বল্পতা এবং জবরদস্তির আধিক্য রয়েছে। কারণ আমাদের উল্লিখিত দলিলগুলোও নস থেকে সংগৃহীত। যদি তিনি তা না জানেন, তবে এটি আলেমদের জ্ঞানের উৎস সম্পর্কে তার অনভিজ্ঞতারই প্রমাণ। এমতাবস্থায় আপনি কীভাবে নিশ্চিত করে বলছেন যে আমাদের দলিল কেবল কিয়াস? আর যদি তিনি তা জেনেও নিজের দুর্বল দলিলগুলোকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য তা উল্লেখ না করেন, তবে তা আরও জঘন্য। বিষয়টি ঠিক তেমনই যেমন বলা হয়েছে:
তুমি যদি না জানো তবে তা এক মুসিবত
… আর যদি জেনে থাকো তবে সেই মুসিবত আরও গুরুতর।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গুররাতুল মুনীফাহ ফী তাহকীকী বাদি মাসাইলি ইমাম আবী হানীফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
مسألة: الوضوء: يجوز بدون النية عند الإمام أبي حنيفة وأصحابه رحمهم الله، وعند الشافعي رحمه الله لا يجوز بدونهما.
حجة الإمام أبي حنيفة رضي الله عنه من وجوه:
الأول: ما رواه مسلم عن أم سلمة رضي الله عنها أنها قالت: يا رسول الله: "إني امرأة أشد ضفر رأسي أفأنقضه لغسل الجنابة؟ فقال: "لا إنما يكفيك أن تحثي على رأسك ثلاث حثيات ثم تفيضين الماء عليك فتطهرين" فما زاد على الجواب النية وقد علمنا أنه عليه الصلاة والسلام أراد تعليمها صفة الغسل المجزي فلو كانت النية شرطاً لعلمها.
الثاني: أن الله تعالى: أمر في آية الوضوء بغسل الأعضاء الثلاثة ومسح الرأس ولم يزد عليها فلو كانت النية شرطاً لذكرها.
الثالث: أنه لو شرطنا النية في الوضوء والغسل يلزم منه الزيادة على الكتاب بخبر الواحد وهو نسخ فلا يجوز.
الرابع: أن النبي صلى الله عليه وسلم حين علم الأعرابي أركان الوضوء لم يذكر فيها النية.
الخامس: أن الماء خلق مطهراً طبعاً فلا يحتاج التطهير إلى النية كما لا يحتاج في حصول الري به إليها.
حجة الإمام الشافعي رحمه الله من وجوه:
الأول: قوله تعالى: {وَأَنْ لَيْسَ لِلْإِنْسَانِ إِلَّا مَا سَعَى} 1. فإذا لم يقصد رفع الحدث لا يرتفع عنه.
الجواب عنه: أن رفع الحدث بالماء لا يتوقف على القصد لكونه مطهرا طبعاً.
والمراد بالنص والله أعلم أن ليس للإنسان إلا ثواب ما سعى ونحن
--------------------------------------------
মাসআলা: অজু: ইমাম আবু হানিফা এবং তাঁর অনুসারীদের (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) নিকট নিয়ত ব্যতীত অজু করা বৈধ, আর ইমাম শাফেয়ীর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) নিকট নিয়ত ব্যতীত এটি বৈধ নয়।
ইমাম আবু হানিফার (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) দলিলসমূহ নিম্নরূপ:
প্রথম: ইমাম মুসলিম উম্মে সালামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছিলেন: হে আল্লাহর রাসুল! "আমি একজন নারী যে আমার মাথার চুল শক্ত করে বেণী করি। জানাবাতের গোসলের জন্য আমি কি তা খুলে ফেলব? তিনি বললেন: "না, তোমার মাথার ওপর তিন আজলা পানি ঢেলে দেওয়াই তোমার জন্য যথেষ্ট, এরপর তোমার পুরো শরীরের ওপর পানি প্রবাহিত করবে, তাহলেই তুমি পবিত্র হয়ে যাবে।" তিনি উত্তরের অতিরিক্ত হিসেবে নিয়তের কথা উল্লেখ করেননি। অথচ আমরা জানি যে, তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) তাকে পর্যাপ্ত গোসলের পদ্ধতি শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন; সুতরাং যদি নিয়ত শর্ত হতো, তবে তিনি অবশ্যই তা তাকে শিক্ষা দিতেন।
দ্বিতীয়: আল্লাহ তাআলা অজুর আয়াতে তিনটি অঙ্গ ধৌত করা এবং মাথা মাসেহ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং এর অতিরিক্ত কিছু উল্লেখ করেননি। সুতরাং নিয়ত যদি শর্ত হতো, তবে তিনি অবশ্যই তা উল্লেখ করতেন।
তৃতীয়: যদি আমরা অজু ও গোসলে নিয়তকে শর্ত হিসেবে সাব্যস্ত করি, তবে এর দ্বারা ‘খবরে ওয়াহিদ’ (একক বর্ণনা) এর মাধ্যমে কিতাবুল্লাহর ওপর অতিরিক্ত বিধান আরোপ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, যা মূলত মানসুখ বা রহিতকরণের নামান্তর; আর এটি জায়েজ নয়।
চতুর্থ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জনৈক গ্রাম্য ব্যক্তিকে অজুর আরকানসমূহ শিক্ষা দিয়েছিলেন, তখন তাতে নিয়তের কথা উল্লেখ করেননি।
পঞ্চম: পানি সৃষ্টিগতভাবেই পবিত্রকারী, তাই এর মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনের জন্য নিয়তের প্রয়োজন নেই, যেমন পানির দ্বারা তৃষ্ণা নিবারণের ক্ষেত্রে নিয়তের প্রয়োজন হয় না।
ইমাম শাফেয়ীর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) দলিলসমূহ নিম্নরূপ:
প্রথম: আল্লাহ তাআলার বাণী: {মানুষ যা চেষ্টা করে, তা ছাড়া তার জন্য আর কিছুই নেই} ১। সুতরাং যদি কেউ অপবিত্রতা দূর করার সংকল্প না করে, তবে তার থেকে অপবিত্রতা দূর হবে না।
এর উত্তর: পানির মাধ্যমে অপবিত্রতা দূর হওয়া নিয়তের ওপর নির্ভরশীল নয়, কারণ এটি প্রকৃতিগতভাবেই পবিত্রকারী।
আর নস (কুরআনের বাণী) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো—আল্লাহই ভালো জানেন—মানুষের জন্য কেবল সেই আমলের সওয়াব রয়েছে যার জন্য সে চেষ্টা করেছে, আর আমরা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গুররাতুল মুনীফাহ ফী তাহকীকী বাদি মাসাইলি ইমাম আবী হানীফাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
نقول بموجبه فإنه لا يحصل له ثواب الوضوء بدون النية، إذ الثواب لا يحصل إلا بالقربة ولا يقع قربة إلا بالنية عندنا أيضاً، ولكنه يقع مفتاحاً للصلاة بدونها.
الثاني: أن الوضوء عبادة لأنه مأمور به وكل مأمور به عبادة محتاج إلى النية؛ لقوله تعالى: {وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ} 1. والإخلاص لا يتحقق إلا بالنية فالوضوء لا يصح إلا بالنية.
الجواب عنه: لا نسلم أن كل عبادة تحتاج إلى النية فإن تطهير الثوب مأمور به وعبادة بقوله تعالى: {وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ} 2. وستر العورة بقوله تعالى: {خُذُوا زِينَتَكُمْ عِنْدَ كُلِّ مَسْجِدٍ} 3. أي استروا عورتكم عند كل صلاة، واستقبال القبلة بقوله تعالى: {فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ} 4. وأداء الأمانة بقوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا} 5. وغير ذلك ومع هذا لا يشترط لهذه الأشياء النية، على أن العبادة على نوعين: مقصودة لذاتها كالصلاة وهي لا تصح إلا بالنية، وغير مقصودة لذاتها بل هي وسيلة لغيرها كالوضوء وغيره من الشرائط فإنه لا يراعى وجودها قصداً فيتحقق بدون النية، وهذا لأن النص مطلق فيقتضي كون الإخلاص شرطاً في العبادة المطلقة الكاملة.
الثالث: قوله صلى الله عليه وسلم: "ليس للمرء من عمله إلا ما نوى" فالوضوء الذي لا يكون منويا لا يرفع الحدث.
الجواب عنه: أن معنى الحديث "ليس للمرء من ثواب عمله إلا
--------------------------------------------
আমরা এর ভিত্তিতে বলি যে, নিয়ত ব্যতীত তার অযুর সওয়াব অর্জিত হবে না। কারণ, সওয়াব নৈকট্য লাভ ব্যতীত অর্জিত হয় না এবং আমাদের নিকটও নিয়ত ব্যতীত কোনো কাজ নৈকট্য হিসেবে গণ্য হয় না। তবে নিয়ত ছাড়াই তা সালাতের চাবিকাঠি হিসেবে গণ্য হবে।
দ্বিতীয়ত: অযু একটি ইবাদত, কারণ এটি নির্দেশিত। আর নির্দেশিত প্রত্যেক ইবাদত নিয়তের মুখাপেক্ষী; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "আর তাদেরকে কেবল এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে, তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁর প্রতি আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে।" ১। আর নিয়ত ব্যতীত ইখলাস অর্জিত হয় না, সুতরাং নিয়ত ছাড়া অযু সহিহ হবে না।
এর উত্তর হলো: আমরা এটি স্বীকার করি না যে, প্রত্যেক ইবাদতের জন্য নিয়ত প্রয়োজন। কেননা কাপড় পবিত্র করাও আল্লাহ তাআলার নির্দেশ এবং একটি ইবাদত, তাঁর বাণী: "আর আপনার পোশাক পবিত্র করুন।" ২। তদ্রূপ সতর ঢাকাও ইবাদত, আল্লাহর বাণী: "প্রত্যেক সালাতের সময় তোমরা তোমাদের সৌন্দর্য (পোশাক) গ্রহণ করো।" ৩। অর্থাৎ প্রত্যেক সালাতের সময় তোমাদের সতর আবৃত করো। কিবলার দিকে মুখ করাও ইবাদত, আল্লাহর বাণী: "সুতরাং আপনি আপনার চেহারা মাসজিদুল হারামের দিকে ফেরান।" ৪। আমানত আদায় করাও ইবাদত, আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তোমরা যেন আমানতসমূহ তার হকদারদের নিকট পৌঁছে দাও।" ৫। এছাড়াও আরও অনেক কিছু রয়েছে এবং এতদসত্ত্বেও এসব বিষয়ের জন্য নিয়ত শর্ত নয়। তদুপরি ইবাদত দুই প্রকার: এক প্রকার যা স্বয়ং উদ্দেশ্য, যেমন সালাত; আর এটি নিয়ত ব্যতীত সহিহ হয় না। অন্য প্রকারটি হলো যা স্বয়ং উদ্দেশ্য নয়, বরং অন্যের জন্য মাধ্যম, যেমন অযু ও অন্যান্য শর্তাবলি; এগুলোর অস্তিত্ব ইচ্ছাকৃতভাবে হওয়া আবশ্যক নয়, তাই এগুলো নিয়ত ছাড়াই সম্পন্ন হয়ে যায়। আর এটি এই কারণে যে, দলিলটি সাধারণ, যা কেবল নিরঙ্কুশ ও পূর্ণাঙ্গ ইবাদতের ক্ষেত্রেই ইখলাস শর্ত হওয়াকে আবশ্যক করে।
তৃতীয়ত: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "মানুষের জন্য তার কর্মের কেবল তা-ই প্রাপ্য যা সে নিয়ত করেছে।" সুতরাং যে অযুর নিয়ত করা হয়নি, তা অপবিত্রতা দূর করবে না।
এর উত্তর হলো: হাদিসটির অর্থ হলো "মানুষের জন্য তার আমলের সওয়াব থেকে কেবল তা-ই রয়েছে যা..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গুররাতুল মুনীফাহ ফী তাহকীকী বাদি মাসাইলি ইমাম আবী হানীফাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
ما نوى". ونحن نقول بموجبه، فإن الثواب لا يحصل له بالوضوء إلا إذا نوى.
الرابع: قوله صلى الله عليه وسلم: "لا وضوء لمن لم يسم الله عليه" ومعلوم أن من لم ينو لم يذكر اسم الله عليه فلا يصح وضوءه.
الجواب عنه: أن هذا الحديث لا دلالة له على اشتراط النية، وإنما يدل على اشترط التسمية والخصم لا يقول به، والنية غير التسمية.
الخامس: إنا اتفقنا على أن الوضوء المنوي أفضل من غيره فالوضوء الذي كان النبي صلى الله عليه وسلم يفعله ما يكون إلا منويا لأن النبي صلى الله عليه وسلم كان يفعل ما هو الأفضل فيجب على الأمة الاتباع، لقوله تعالى: {فَاتَّبِعُوهُ} 1. فعلم أن النية واجبة في الوضوء.
ثم قال: لا يجب على الأمة المتابعة في جميع الأفعال، وإلا يلزم أن يجوز للأمة التزوج بالتسع. قلنا: العام المخصوص حجة فيما بقي والمتابعة في ذلك كان واجباً لولا قوله تعالى: {فَانْكِحُوا مَا طَابَ لَكُمْ مِنَ النِّسَاءِ مَثْنَى وَثُلاثَ وَرُبَاعَ} 2.
الجواب عنه: المتابعة عبارة عن إتيان الفعل على الصفة التي أتى بها النبي صلى الله عليه وسلم، والنبي صلى الله عليه وسلم إنما أتى بها على سبيل الندب فيجب علينا إتيانها على تلك الصفة إذ لو وجب علينا لكان مخالفة لا اتباعاً، فنحن متبعون له والخصم مخالفه في الصفة.
مسألة: الترتيب في الوضوء ليس بشرط عند أبي حنيفة وأصحابه رحمهم الله، وعند الشافعي رحمه الله شرط. حجة الإمام أبي حنيفة رحمه الله من وجوه:
--------------------------------------------
"যা সে নিয়ত করেছে"। আমরাও এর মর্ম অনুযায়ী বলে থাকি যে, নিয়ত ব্যতীত ওযুর সওয়াব অর্জিত হয় না।
চতুর্থ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "ঐ ব্যক্তির ওযু হবে না যে আল্লাহর নাম নেয়নি।" আর এটি সর্বজনবিদিত যে, যে ব্যক্তি নিয়ত করেনি সে আল্লাহর নামও নেয়নি, সুতরাং তার ওযু শুদ্ধ হবে না।
এর উত্তর: এই হাদীসটি নিয়ত শর্ত হওয়ার ওপর কোনো প্রমাণ বহন করে না, বরং এটি তাসমিয়াহ (বিসমিল্লাহ বলা) শর্ত হওয়ার প্রমাণ দেয়। অথচ প্রতিপক্ষ তা স্বীকার করেন না। আর নিয়ত এবং তাসমিয়াহ এক বিষয় নয়।
পঞ্চম: আমরা এ বিষয়ে একমত হয়েছি যে, নিয়তসহ ওযু করা নিয়তবিহীন ওযুর চেয়ে উত্তম। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে ওযু করতেন তা কেবল নিয়তসহই হতো, কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বদা সর্বোত্তম আমলটিই করতেন। আর মহান আল্লাহর বাণী: {সুতরাং তোমরা তাঁর অনুসরণ করো} ১—অনুযায়ী উম্মতের ওপর তাঁর অনুসরণ করা ওয়াজিব। সুতরাং জানা গেল যে, ওযুতে নিয়ত করা ওয়াজিব।
অতঃপর তিনি (প্রতিপক্ষ) বললেন: সকল কর্মে উম্মতের জন্য নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুসরণ করা ওয়াজিব নয়, অন্যথায় উম্মতের জন্য একসাথে নয়টি বিয়ে করা জায়েজ হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ত। আমরা বলি: 'আম' (সাধারণ) বিধান থেকে যা কিছু 'খাস' (বিশেষিত) করা হয়েছে, তা ব্যতীত অবশিষ্ট ক্ষেত্রে সেটিই দলিল হিসেবে গণ্য হয়। এক্ষেত্রেও অনুসরণ করা ওয়াজিব হতো যদি মহান আল্লাহর এই বাণী না থাকত: {তবে নারীদের মধ্য থেকে তোমাদের যাদের ভালো লাগে তাদের বিয়ে করো—দুই, তিন কিংবা চারটি} ২।
এর উত্তর: 'অনুসরণ' (মুতাবায়াত) হলো কোনো কাজকে ঠিক সেই বৈশিষ্ট্যে সম্পন্ন করা যেভাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটি নফল বা মুস্তাহাব হিসেবে করেছেন, তাই আমাদের জন্যও তা সেই বৈশিষ্ট্যে (অর্থাৎ মুস্তাহাব হিসেবে) পালন করা ওয়াজিব। কারণ আমাদের ওপর যদি তা (ফরয হিসেবে) ওয়াজিব হতো, তবে তা অনুসরণ না হয়ে বরং ভিন্নতা হয়ে যেত। সুতরাং আমরাই তাঁর অনুসরণকারী, আর প্রতিপক্ষ এর বৈশিষ্ট্যের ক্ষেত্রে তাঁর বিরুদ্ধাচরণকারী।
মাসআলা: ইমাম আবু হানিফা এবং তাঁর অনুসারীদের (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) নিকট ওযুর ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা (তারতীব) বজায় রাখা শর্ত নয়, তবে ইমাম শাফেঈর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) নিকট এটি শর্ত। ইমাম আবু হানিফার (রহ.) দলিলসমূহ কয়েক দিক থেকে উপস্থাপিত হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গুররাতুল মুনীফাহ ফী তাহকীকী বাদি মাসাইলি ইমাম আবী হানীফাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الأول: قوله تعالى: {فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ} 1. الآية وجه التمسك أنه تعالى عطف بعض الأعضاء على البعض بحرف الواو، وهو لمطلق الجمع عند الجمهور دون الترتيب.
الثاني: ما ذكره أبو داود أن النبي صلى الله عليه وسلم: تيمم فبدأ بذراعيه ثم بوجهه. فترك النبي صلى الله عليه وسلم الترتيب في التيمم، فلو كان شرطاً لما تركه. وإذا لم يكن شرطاً في التيمم لا يكون شرطاً في الوضوء لعدم القائل بالفصل.
الثالث: ما روي أن النبي صلى الله عليه وسلم، نسي مسح الرأس في وضوئه فتذكره بعد فراغه فمسح ببلل كفه وهو دليل ظاهر على أن الترتيب ليس بشرط.
الرابع: ما رواه الدارقطني عن علي رضي الله عنه أنه قال: "ما أبالي إذا أتممت وضوئي بأي أعضائي بدأت" وكذلك روى عن ابن مسعود، وبه قال: سعيد بن المسيب وعطاء والنخعي والثوري رحمهم الله.
الخامس: أن الركن تطهير الأعضاء وذلك حاصل بدون الترتيب ألا ترى أنه لو انغمس بنية الوضوء أجزأه ولم يوجد الترتيب.
حجة الشافعي رحمه الله من وجوه:
الأول: قوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاةِ فَاغْسِلُوا} 2. الآية والفاء للتعقيب ويقتضي بداية الوجه عقيب القيام إلى الصلاة فيثبت الترتيب في الجميع لعدم القائل بالفصل.
الجواب عنه: أن المذكور في الآية كلمتان الفاء والواو وهو لمطلق الجمع كما مر فكان العمل بهما أولى من ترك العمل بأحدهما فيكون مقتضى الآية إعقاب غسل جملة الأعضاء من غير اشتراط الترتيب.
الثاني: قوله صلى الله عليه وسلم: "لا يقبل الله صلاة امرئ حتى يضع الطهور
--------------------------------------------
প্রথম: মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল এবং তোমাদের হাত ধৌত করো} ১। আয়াতের যুক্তি হলো, মহান আল্লাহ ‘ওয়াও’ হরফ দ্বারা একটি অঙ্গকে অন্য অঙ্গের ওপর আতফ (সংযুক্ত) করেছেন, যা জমহুর (সংখ্যাগরিষ্ঠ) আলেমদের মতে কেবল সমষ্টি বুঝাতে আসে, ধারাক্রম (তারতীব) বুঝাতে নয়।
দ্বিতীয়: আবু দাউদ যা উল্লেখ করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়াম্মুম করলেন এবং তাঁর দুই বাহু দিয়ে শুরু করে তারপর মুখমণ্ডল মাসাহ করলেন। সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে ধারাক্রম ছেড়ে দিয়েছেন, যদি তা শর্ত হতো তবে তিনি তা ছাড়তেন না। আর যেহেতু তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে তা শর্ত নয়, তাই ওযুর ক্ষেত্রেও তা শর্ত হবে না; কারণ উভয়টির বিধানের মধ্যে পার্থক্যের কোনো প্রবক্তা নেই।
তৃতীয়: যা বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ওযুতে মাথা মাসাহ করতে ভুলে গিয়েছিলেন, অতঃপর ওযু শেষ করার পর তা স্মরণ হওয়ায় তিনি তাঁর হাতের তালুর আর্দ্রতা দিয়ে তা মাসাহ করলেন। এটি একটি সুস্পষ্ট দলীল যে ধারাক্রম বজায় রাখা শর্ত নয়।
চতুর্থ: দারাকুতনী আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "আমি যখন আমার ওযু পূর্ণ করি তখন পরোয়া করি না যে কোন অঙ্গ দিয়ে আমি শুরু করলাম।" অনুরূপভাবে ইবনে মাসউদ থেকেও বর্ণিত হয়েছে। সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, আতা, নাখঈ এবং সাওরী রাহিমাহুমুল্লাহও একই মত পোষণ করেছেন।
পঞ্চম: রুকন হলো অঙ্গসমূহ পবিত্র করা, আর তা ধারাক্রম ছাড়াও অর্জিত হয়। আপনি কি দেখেন না যে, যদি কেউ ওযুর নিয়তে পানিতে ডুব দেয় তবে তা যথেষ্ট হবে, অথচ সেখানে ধারাক্রম পাওয়া যায়নি।
ইমাম শাফেয়ী রাহিমাহুল্লাহ-এর পক্ষ থেকে দলিলসমূহ বিভিন্ন দিক থেকে দেওয়া হয়েছে:
প্রথম: মহান আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ, যখন তোমরা সালাতের জন্য দাঁড়াবে, তখন ধৌত করো...} ২। আয়াতটিতে ‘ফা’ হরফটি পরম্পরা বা ধারাবাহিকতা বুঝাতে আসে এবং এটি সালাতে দাঁড়ানোর পরপরই মুখমণ্ডল ধোয়ার দাবি রাখে। ফলে সবগুলোর ক্ষেত্রে ধারাক্রম সাব্যস্ত হয়, কারণ এর পার্থক্যের কোনো প্রবক্তা নেই।
এর উত্তর হলো: আয়াতে উল্লিখিত শব্দ দুটি হলো ‘ফা’ এবং ‘ওয়াও’। ‘ওয়াও’ কেবল সমষ্টি বুঝানোর জন্য আসে যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং কোনো একটিকে বাদ দেওয়ার চেয়ে উভয়টি অনুযায়ী আমল করাই উত্তম। ফলে আয়াতের দাবি হবে ধারাক্রমের শর্ত ছাড়াই সামগ্রিক অঙ্গসমূহ ধৌত করা।
দ্বিতীয়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আল্লাহ কোনো ব্যক্তির সালাত কবুল করেন না যতক্ষণ না সে পবিত্রতা অর্জন করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গুররাতুল মুনীফাহ ফী তাহকীকী বাদি মাসাইলি ইমাম আবী হানীফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
مواضعه، فيغسل وجهه، ثم يغسل ذراعيه، ثم يمسح برأسه، ثم يغسل رجليه، وكلمة ثم للترتيب.
الجواب عنه: أن الحديث ليس بصحيح، ولو صح لحملت كلمة ثم على الواو كما في قوله تعالى: {ثُمَّ اللَّهُ شَهِيدٌ} 1. توفيقاً بين هذا الحديث وبين ما روينا على أنه لو عمل بهذا الحديث يلزم الزيادة على الكتاب بخبر الواحد، فإنه يقتضي مطلق الجمع والزيادة نسخ فلا يجوز بخبر الواحد.
الثالث: قوله صلى الله عليه وسلم: "ابدؤوا بما بدأ الله تعالى" والله تعالى: بدأ بالوجه فيكون الترتيب شرطاً.
الجواب عنه: أن الحديث وقع جواباً عن سؤال الصحابة حين اشتبه عليهم أمر البداية بالصفا والمروة، فقالوا: بماذا نبدأ يا رسول الله فلا تكون كلمة ما للعموم إذ لو كانت للعموم يلزم أن يكون الترتيب واجباً بين الصلاة والزكاة لأن الله تعالى بدأ بالصلاة في قوله تعالى: {وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ} 2. على أنه لا يمكن حمله على الترتيب لئلا يلزم الزيادة على الكتاب بخبر الواحد.
مسألة: الخارج النجس من غير السبيلين كالدم، والقيح، والقيء، ملء الفم ينقض الوضوء عند أبي حنيفة وأصحابه رحمهم الله، وهو مذهب العشرة المبشرين بالجنة، وابن مسعود وابن عمر وزيد بن ثابت وأبي موسى الأشعري وأبي الدرداء وصدور التابعين كسعيد بن المسيب وسعيد بن جبير وعطاء والحسن البصري وغيرهم من جمهور العلماء.
وعند الشافعي رحمه الله، لا ينقض.
--------------------------------------------
তার অঙ্গসমূহ, অতঃপর সে তার মুখমণ্ডল ধৌত করে, অতঃপর তার দুই বাহু ধৌত করে, অতঃপর তার মাথা মাসাহ করে, অতঃপর তার দুই পা ধৌত করে; আর 'অতঃপর' শব্দটি ধারাবাহিকতার জন্য।
এর উত্তর হলো: হাদিসটি সহিহ নয়। যদি এটি সহিহ হতো তবে 'অতঃপর' শব্দটিকে 'এবং' অর্থে গ্রহণ করা হতো, যেমনটি আল্লাহ তায়ালার বাণীতে রয়েছে: {অতঃপর আল্লাহ সাক্ষী} ১। এটি এই হাদিস এবং আমাদের বর্ণিত হাদিসগুলোর মধ্যে সমন্বয় করার জন্য। তাছাড়া, যদি এই হাদিসের ওপর আমল করা হয়, তবে খবর-এ ওয়াহিদ দ্বারা কিতাবুল্লাহর ওপর অতিরিক্ত বিধান আরোপ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। কেননা এটি কেবল সমাবেশের দাবি রাখে, আর অতিরিক্ত বিধান হলো রহিতকরণ, যা খবর-এ ওয়াহিদ দ্বারা জায়েজ নয়।
তৃতীয় দলিল: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আল্লাহ যা দিয়ে শুরু করেছেন, তোমরাও তা দিয়ে শুরু করো।" আর আল্লাহ তায়ালা মুখমণ্ডল দিয়ে শুরু করেছেন, ফলে ধারাবাহিকতা শর্ত হবে।
এর উত্তর হলো: হাদিসটি সাহাবায়ে কেরামের একটি প্রশ্নের উত্তরে বর্ণিত হয়েছে, যখন সাফা ও মারওয়ার মধ্যে কোনটি দিয়ে শুরু করবেন সে ব্যাপারে তাদের নিকট অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছিল। তখন তারা বলেছিলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কী দিয়ে শুরু করব? সুতরাং এখানে 'যা' শব্দটি ব্যাপক অর্থবোধক নয়। কেননা যদি এটি ব্যাপক অর্থবোধক হতো, তবে সালাত ও জাকাতের মধ্যেও ধারাবাহিকতা ওয়াজিব হওয়া আবশ্যক হতো। কারণ আল্লাহ তায়ালা তাঁর বাণীতে সালাত দিয়ে শুরু করেছেন: {তোমরা সালাত কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো} ২। তদুপরি, এটিকে ধারাবাহিকতার অর্থে গ্রহণ করা সম্ভব নয়, যাতে করে খবর-এ ওয়াহিদ দ্বারা কিতাবুল্লাহর ওপর অতিরিক্ত বিধান আরোপ করা আবশ্যক না হয়।
মাসআলা: দুই রাস্তা ব্যতীত অন্য কোনো পথ দিয়ে নির্গত অপবিত্র বস্তু, যেমন: রক্ত, পুঁজ এবং মুখভর্তি বমি; ইমাম আবু হানিফা এবং তাঁর সঙ্গীদের (রহিমাহুমুল্লাহ) মতে অজু নষ্ট করে দেয়। এটি জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবী, ইবনে মাসউদ, ইবনে উমর, যায়েদ বিন সাবিত, আবু মুসা আল-আশআরি, আবুদ্দারদা এবং তাবেয়িদের অগ্রগণ্য ব্যক্তিবর্গ যেমন সাঈদ বিন মুসাইয়িব, সাঈদ বিন জুবায়ের, আতা, হাসান বসরী এবং অন্যান্য জমহুর ওলামায়ে কেরামের মাযহাব।
আর ইমাম শাফেয়ী (রহিমাহুল্লাহ)-এর মতে, এটি অজু নষ্ট করে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গুররাতুল মুনীফাহ ফী তাহকীকী বাদি মাসাইলি ইমাম আবী হানীফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
حجة أبي حنيفة رضي الله عنه من وجوه:
الأول: ما رواه الدارقطني وابن ماجة عن عائشة رضي الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إذا قاء أحدكم في صلاته أو قلس فلينصرف وليتوضأ ثم ليبن على صلاته ما لم يتكلم".
الثاني: ما رواه الدارقطني عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "ليس في القطرة والقطرتين وضوء إلا أن يكون سائلاً".
الثالث: عن سلمان رضي الله عنه قال: قال: له رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أحدث لما حدث بك وضوءاً".
الرابع: ما أخرجه الدارقطني، عن تميم الداري رضي الله عنه: "الوضوء من كل دم سائل".
الخامس: عن زيد بن علي عن أبيه عن جده، قال: قال: رسول الله صلى الله عليه وسلم: "القلس حدث". رواه الخلال.
السادس: عن معدان بن أبي طلحة عن أبي الدرداء رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم: "قاء فتوضأ، فلقيت ثوبان في مسجد دمشق فذكرت له ذلك فقال: "صدق أنا صببت له وضوءاً". رواه أحمد وقال: الترمذي: حديث حسين المعلم أصح شيء في الباب.
السابع: ما رواه البيهقي، أن النبي صلى الله عليه وسلم: قال: "يعاد الوضوء من سبع من نوم غالب، وقيء ذارع، وتقطار بول، ودم سائل، ودسعة تملأ الفم، والقهقهة في الصلاة والإغماء".
الثامن: عن علي رضي الله عنه حين عد الأحداث أو دسعة تملأ الفم وعن ابن عباس رضي الله عنهما "إذا كان القيء يملأ الفم أوجب الوضوء". قال: الخطابي: أكثر الفقهاء على انتقاض الوضوء بسيلان الدم، وهو أقوى في الاتباع وروى مالك عن نافع أن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما كان إذا رعف انصرف وتوضأ، ثم رجع فبنى ولم يتكلم ولأن المؤثر في انتقاض الطهارة
আবু হানিফা (রা.)-এর দলীলসমূহ বিভিন্ন দিক থেকে:
প্রথম: দারা কুতনী ও ইবনে মাজাহ আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে কেউ যদি নামাজের মধ্যে বমি করে অথবা মুখ ভরে অল্প বমি আসে, তবে সে যেন নামাজ ছেড়ে চলে যায় এবং অজু করে, এরপর তার নামাজের অবশিষ্ট অংশ পূর্ণ করে—যতক্ষণ না সে কথা বলে।"
দ্বিতীয়: দারা কুতনী আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: "এক বা দুই ফোঁটা রক্তের জন্য অজু নেই, যতক্ষণ না তা প্রবাহিত হয়।"
তৃতীয়: সালমান (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে বলেছেন: "তোমার যা ঘটেছে তার জন্য নতুন করে অজু করো।"
চতুর্থ: দারা কুতনী তামীম আদ-দারী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: "প্রত্যেক প্রবাহিত রক্তের কারণেই অজু করতে হবে।"
পঞ্চম: জায়েদ ইবনে আলী তার পিতা ও তার দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "অল্প বমি (কালস) হলো অজু ভঙ্গকারী।" এটি খাল্লাল বর্ণনা করেছেন।
ষষ্ঠ: মা'দান ইবনে আবু তালহা আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বমি করলেন এবং অজু করলেন। এরপর আমি দামেস্কের মসজিদে সাওবানের সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাকে বিষয়টি জানালাম। তখন তিনি বললেন: "তিনি সত্য বলেছেন, আমিই তাঁর অজুর পানি ঢেলে দিয়েছিলাম।" এটি আহমদ বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি বলেছেন: এ অধ্যায়ে হুসাইন আল-মুয়াল্লিমের বর্ণিত হাদিসটি সবচেয়ে বিশুদ্ধ।
সপ্তম: বায়হাকী বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: "সাতটি কারণে অজু পুনরায় করতে হয়: গভীর ঘুম, প্রবল বমি, ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব নির্গত হওয়া, প্রবাহিত রক্ত, মুখভর্তি বমি, নামাজে উচ্চস্বরে হাসি এবং অজ্ঞান হওয়া।"
অষ্টম: আলী (রা.) থেকে বর্ণিত, যখন তিনি অজু ভঙ্গকারী বিষয়গুলো গণনা করছিলেন অথবা মুখভর্তি বমির কথা বলছিলেন। এবং ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত: "যখন বমি মুখভর্তি হয়, তখন তা অজু ওয়াজিব করে।" খাত্তাবী বলেছেন: অধিকাংশ ফকিহ রক্ত প্রবাহিত হওয়ার কারণে অজু ভেঙে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন এবং এটিই অনুসরণের ক্ষেত্রে অধিক শক্তিশালী। মালেক নাফে' থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর যখন নাক দিয়ে রক্ত ঝরত, তখন তিনি নামাজ ছেড়ে চলে যেতেন এবং অজু করতেন, এরপর ফিরে এসে নামাজের অবশিষ্ট অংশ পূর্ণ করতেন এবং কোনো কথা বলতেন না। কেননা পবিত্রতা ভঙ্গের ক্ষেত্রে যা প্রভাব ফেলে—
(খণ্ড: ১)
আল-গুররাতুল মুনীফাহ ফী তাহকীকী বাদি মাসাইলি ইমাম আবী হানীফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
خروج النجاسة من السبيلين وإليه الإشارة في قوله عليه الصلاة والسلام:: "فإنهما دم عرق انفجر" وقد وجد ذلك المعنى في الخارج النجس من غير السبيلين فوجد الانتقاض.
حجة الشافعي رحمه الله من وجوه:
الأول: ما رواه الدارقطني أن النبي صلى الله عليه وسلم: "احتجم وصلى ولم يتوضأ ولم يزد على غسل حجامته".
الجواب عنه: أن ما ذكرناه من الأحاديث قول وهذا فعل والقول مقدم على الفعل، أو نقول ما ذكرناه مثبت وهذا ناف والمثبت أولى من النافي، ولئن سلم التعارض فالترجيح فيما ذكرنا لأنه أحوط في باب العبادة، إذ المراد بالاحتجام قص الأظفار وحلق الشعر دفعاً للتعارض وهو لا ينقض الوضوء.
الثاني: ما رواه الدارقطني أن النبي صلى الله عليه وسلم: قاء ولم يتوضأ. وروى عنه أنه قاء ولم يتوضأ، فغسل فمه فقيل له: ألا تتوضأ وضوء الصلاة فقال: "هكذا الوضوء من القيء".
الجواب عنه: أن هذا الحديث غريب فلا يعارض ما ذكرناه، أو يحمل على ما دون ملء الفم توفيقاً بين الأحاديث وهو الظاهر من حال النبي صلى الله عليه وسلم، فإن كثرة القيء إنما تنشأ من كثرة الأكل والنبي صلى الله عليه وسلم لم يشبع مدة عمره، أو يحتمل أنه كان ذلك في غير وقت الصلاة؛ فلا يحتاج إلى الوضوء فاكتفى بذلك.
الثالث: ما رواه أبو داود أن أنصاريا رمى في فيه في غزوة ذات الرقاع، فنزعه حتى رمى ثلاثة أسهم وهو في الصلاة فلم يقطعها فلما فرغ من صلاته نبه صاحبه المهاجري ما بالأنصاري من الدماء قال: سبحان الله هلا نبهتني أول ما رميت؟ فقال: كنت في سورة أقرؤها فلم أحب أن أقطعها.
والجواب عنه: من وجوه:
দুই রাস্তা দিয়ে নাপাকি বের হওয়া, যার দিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর এই বাণীতে ইঙ্গিত করেছেন: "নিশ্চয়ই তা হলো ফেটে যাওয়া একটি শিরার রক্ত।" আর দুই রাস্তা ব্যতীত অন্য অঙ্গ দিয়ে নাপাকি বের হওয়ার ক্ষেত্রেও এই একই অর্থ পাওয়া যায়, ফলে অজু ভঙ্গের হুকুম সাব্যস্ত হয়।
ইমাম শাফেয়ী রহমাতুল্লাহি আলাইহির দলিলসমূহ বিভিন্ন দিক থেকে:
প্রথমত: দারা কুতনী বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সিঙা লাগালেন এবং সালাত আদায় করলেন কিন্তু অজু করলেন না এবং সিঙা লাগানোর স্থান ধোয়া ব্যতীত অতিরিক্ত কিছু করেননি।
এর উত্তর হলো: আমরা যে সকল হাদিস উল্লেখ করেছি সেগুলো হলো বাচনিক (কথা), আর এটি হলো একটি ক্রিয়া (কাজ); আর ক্রিয়ার চেয়ে বাচনিক নির্দেশ অগ্রগণ্য। অথবা আমরা বলতে পারি যে, আমরা যা উল্লেখ করেছি তা (অজু ভঙ্গ হওয়াকে) সাব্যস্তকারী, আর এটি হলো অস্বীকারকারী; আর অস্বীকারকারীর চেয়ে সাব্যস্তকারী দলিলই অধিক উত্তম। আর যদি বৈপরীত্য মেনেও নেওয়া হয়, তবুও আমাদের বর্ণিত মতটিই প্রাধান্য পাবে, কারণ ইবাদতের ক্ষেত্রে এটিই অধিক সতর্কতামূলক। এছাড়া বৈপরীত্য নিরসনের লক্ষে এখানে সিঙা লাগানো দ্বারা নখ কাটা বা চুল কামানো উদ্দেশ্য হতে পারে, যা অজু ভঙ্গ করে না।
দ্বিতীয়ত: দারা কুতনী বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বমি করেছেন এবং অজু করেননি। তাঁর থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বমি করলেন এবং অজু করলেন না, বরং কেবল মুখ ধুয়ে নিলেন। অতঃপর তাঁকে বলা হলো: আপনি কি সালাতের ন্যায় অজু করবেন না? তিনি বললেন: "বমির অজু এরূপই।"
এর উত্তর হলো: এই হাদিসটি 'গরীব' (সূত্রে একাকী), তাই এটি আমাদের বর্ণিত হাদিসসমূহের সাথে সংঘাতপূর্ণ হবে না। অথবা হাদিসগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্য একে মুখভর্তি হওয়ার চেয়ে কম পরিমাণের ওপর ধরা হবে, আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবস্থা থেকে এটাই স্বাভাবিক মনে হয়। কারণ অধিক বমি মূলত অতিভোজনের ফলে হয়ে থাকে, অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সারা জীবনে কখনো পেটভরে আহার করেননি। অথবা সম্ভাবনা আছে যে এটি সালাতের সময় ছিল না, তাই অজুর প্রয়োজন ছিল না এবং তিনি কেবল ঐটুকুতেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন।
তৃতীয়ত: আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন যে, জাতুর রিকা যুদ্ধে এক আনসারী সাহাবীর শরীরে তীর নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তিনি সালাত অবস্থায় থাকাকালে তাঁর শরীরে তিনটি তীর বিদ্ধ হয় এবং তিনি সেগুলো টেনে বের করেন, কিন্তু সালাত ত্যাগ করেননি। যখন তিনি সালাত শেষ করলেন, তখন তাঁর সাথী মুহাজির সাহাবী যখন আনসারীর শরীরের রক্ত দেখলেন তখন সচকিত হয়ে বললেন: সুবহানাল্লাহ! প্রথম তীরবিদ্ধ হওয়ার সময় কেন আমাকে জাগালে না? তিনি বললেন: আমি একটি সূরা তিলাওয়াত করছিলাম, তাই আমি তা মাঝপথে বন্ধ করতে চাইনি।
এর উত্তর কয়েকটি দিক থেকে প্রদান করা যায়:
(খণ্ড: ১)
আল-গুররাতুল মুনীফাহ ফী তাহকীকী বাদি মাসাইলি ইমাম আবী হানীফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الأول: أن الدماء التي خرجت من ثلاثة أسهم أصابت ثوبه وبدنه بلا شك ولا تجوز الصلاة معها بالاتفاق ولا يمكن إنكار ذلك فإنه قد رآه المهاجري بالليل حتى هاله ما رأى من الدماء فلما لم يدل مضيه في الصلاة على جواز الصلاة مع النجاسة كذلك لم يدل على أن الدم لا ينقض الوضوء.
الثاني: أنه فعل واحد من الصحابة فلعله كان مذهباً له، أو كان غير عالم بحكمه ولم ينقل أنه عرف النبي صلى الله عليه وسلم حاله وقدره ولم ينكر عليه، أو يجعل له ذهول في ذلك الوقت غير كون الدم ناقضاً، ولئن سلم ففعل الصحابي ليس بحجة عند الشافعي فكيف يحتج به.
الثالث: أن البخاري رواه تعليقا وهو ليس بحجة.
الرابع: أنه لا معارضة بين ما ذكرنا من قول النبي صلى الله عليه وسلم وفعله وبين فعل الصحابي، ولو سلم التعارض فالترجيح معنا، لأن مذهبنا مروي عن أكثر الصحابة وهو أحفظ، وأحاديثنا أصح وأكثر والترجيح بالكثرة ثابت عندهم وعند بعض أصحابنا، لأن ما ذكرناه مثبت وما ذكره ناف والمثبت أولى.
الحجة الرابعة له: أنه لو كان القيء الكثير مبطلاً للوضوء لكان القليل أيضاً مبطلاً له كالبول والغائط فلما سلم أبو حنيفة أن القليل غير ناقض لزم أن الكثير أيضاً غير ناقض.
الجواب عنه: أن هذا قياس في مقابلة النص الذي ذكرنا فلا يقبل، أو نقول الفرق ثابت بين القليل والكثير، وهو أن الناقض هو الخارج النجس والفم له حكم الظاهر من وجه وحكم الباطن من وجه بدليل أن المضمضة لا تفسد صومه وكذا لو بلع بصاقه لا يفسد صومه أيضاً عملاً بالشبيهين فالقيء الكثير أعطى له حكم الخارج، فإنه يمكن ضبطه نظراً إلى الوجهين.
ثم قال: دلائلنا نصوص ودليلكم قياس والنص أولى.
فالجواب عنه: أن ما ذكرناه نصوص صحيحة وما ذكره ضعيف كما مر تحقيقه.
প্রথমত: তিনটি তীরের আঘাত থেকে নির্গত রক্ত নিঃসন্দেহে তাঁর পোশাক ও শরীরে লেগেছিল। আর ঐকমত্য অনুযায়ী নাপাকি সাথে নিয়ে সালাত জায়েয নয় এবং বিষয়টি অস্বীকার করারও কোনো উপায় নেই। কেননা মুহাজির সাহাবী তাঁকে রাতে দেখেছিলেন, এমনকি রক্তের আধিক্য দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। সুতরাং তাঁর সালাত চালিয়ে যাওয়া যেমন অপবিত্রতা থাকা অবস্থায় সালাত জায়েয হওয়ার ওপর দলিল হয় না, তেমনি রক্ত ওযু ভঙ্গ করে না—এ কথার ওপরও তা কোনো প্রমাণ বহন করে না।
দ্বিতীয়ত: এটি একজন সাহাবীর ব্যক্তিগত কাজ। হতে পারে এটি তাঁর নিজস্ব মাযহাব (অভিমত) ছিল, অথবা তিনি এর বিধান সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। আর এমন কোনো বর্ণনা পাওয়া যায় না যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অবস্থা ও ঘটনা সম্পর্কে অবগত হয়েছিলেন এবং তা অস্বীকার করেননি। অথবা এমনও হতে পারে যে, রক্ত ওযু ভঙ্গকারী হওয়া সত্ত্বেও ঐ মুহূর্তে তিনি সেদিকে খেয়াল করতে পারেননি। আর যদি তর্কের খাতিরে মেনেও নেওয়া হয়, তবুও ইমাম শাফেয়ীর নিকট সাহাবীর একক আমল দলিল হিসেবে গণ্য নয়; এমতাবস্থায় তিনি কীভাবে এটি দিয়ে দলিল পেশ করছেন?
তৃতীয়ত: ইমাম বুখারী এটি তালীক হিসেবে (সনদ ছাড়া) বর্ণনা করেছেন, আর তা দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
চতুর্থত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যে বাণী ও কর্ম আমরা উল্লেখ করেছি, তার সাথে এই সাহাবীর কর্মের কোনো বৈপরীত্য নেই। যদি বৈপরীত্য মেনেও নেওয়া হয়, তবুও আমাদের মতটিই অগ্রগণ্য হবে। কারণ আমাদের মাযহাব অধিকাংশ সাহাবী থেকে বর্ণিত এবং এটি অধিক সংরক্ষিত। আমাদের বর্ণিত হাদিসগুলো অধিক সহীহ ও সংখ্যায় বেশি। আর আধিক্যের ভিত্তিতে কোনো বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া তাঁদের নিকট এবং আমাদের কিছু সঙ্গীদের নিকটও স্বীকৃত। অধিকন্তু, আমরা যা উল্লেখ করেছি তা হলো ইতিবাচক (প্রমাণকারী) এবং তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা হলো নেতিবাচক (অস্বীকারকারী), আর ইতিবাচক বিষয়টিই অগ্রগণ্য।
তাঁর চতুর্থ দলিল: যদি অধিক বমি ওযু ভঙ্গকারী হতো, তবে প্রস্রাব-পায়খানার ন্যায় অল্প বমিও ওযু ভঙ্গকারী হতো। যেহেতু ইমাম আবু হানীফা এটি স্বীকার করেছেন যে অল্প বমি ওযু ভঙ্গকারী নয়, তাই এটিই আবশ্যক হয় যে অধিক বমিও ওযু ভঙ্গকারী হবে না।
এর উত্তর: এটি আমাদের উল্লিখিত নস বা অকাট্য দলিলের বিপরীতে একটি কিয়াস (অনুমান), যা গ্রহণযোগ্য নয়। অথবা আমরা বলতে পারি, অল্প ও অধিকের মধ্যে পার্থক্য সুসাব্যস্ত। ওযু ভঙ্গকারী বিষয় হলো অপবিত্র বস্তুর নির্গমন। আর মুখ এক দিক থেকে শরীরের বাহ্যিক অংশের হুকুম রাখে, আবার অন্য দিক থেকে অভ্যন্তরীণ অংশের হুকুম রাখে। এর প্রমাণ হলো, কুলি করলে রোজা ভাঙে না এবং একইভাবে লালা গিলে ফেললেও রোজা ভাঙে না—উভয় দিক বিবেচনা করেই এমন বিধান রাখা হয়েছে। সুতরাং অধিক বমিকে শরীর থেকে নির্গত হওয়ার হুকুম দেওয়া হয়েছে, কারণ উভয় দিক বিবেচনায় একে সংজ্ঞায়িত করা সম্ভব।
এরপর তিনি বললেন: আমাদের দলিলসমূহ হলো নস (অকাট্য বর্ণনা), আর আপনাদের দলিল হলো কিয়াস (অনুমান); আর কিয়াসের তুলনায় নস-ই অগ্রগণ্য।
এর উত্তর: আমরা যা উল্লেখ করেছি তা হলো সহীহ নস, আর তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা দুর্বল; যা ইতিপূর্বে সবিস্তারে আলোচনা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-গুররাতুল মুনীফাহ ফী তাহকীকী বাদি মাসাইলি ইমাম আবী হানীফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
كتاب الصلاةمسألة: الصلاة في أول الوقت أفضل عند الشافعي رحمه الله، وعند أبي حنيفة وأصحابه رضي الله عنهم يستحب الإسفار بالفجر، والإبراد بالظهر في الصيف وتقديمهما في الشتاء، وتأخير العصر ما لم يتغير قرص الشمس، وتعجيل المغرب، وتأخير العشاء إلى ما قبل ثلث الليل.
حجة أبي حنيفة رضي الله عنه في الإسفار بالفجر من وجوه:
الأول: ما رواه أبو داود والترمذي عن رافع بن خديج رضي الله عنه قال: سمعت رسرل الله صلى الله عليه وسلم يقول: "أسفروا بالفجر فإنه أعظم للأجر" وفي لفظ أبي داود: "أصبحوا بالصبح فإنه أعظم لأجوركم" قال: الترمذي هذا حديث حسن صحيح.
الثاني: ما قاله ابن مسعود رضي الله عنه ما رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى صلاة قبل ميقاتها إلا صلاة الفجر صبيحة الجمعة فإنه صلاها يومئذ بغلس. ولفظ البخاري: "ما رأيت النبي صلى الله عليه وسلم صلى صلاة لغير ميقاتها إلا صلاتين جمع بين المغرب والعشاء وصلى الفجر قبل ميقاتها" يعني بمزدلفة. فدل أن المعهود إسفاره بها والتغليس كان بعذر الخروج إلى سفر. أو كان ذلك حين تحضر النساء المساجد ثم انتسخ ذلك حين أمرن بالقرار في البيوت.
الثالث: ما رواه الطحاوي عن القضبي عن عيسى بن يونس عن إبراهيم قال: ما اجتمع أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم على شيء ما اجتمعوا على التنوير بالفجر. وهذا لا يكون إلا بعد ثبوت نسخ التغليس عندهم.
الرابع: مارواه الطحاوي عن شعبة عن قتادة عن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: صلى بنا أبو بكر صلاة الصبح فقرأ سورة آل عمران فقالوا: كادت الشمس تطلع فقال: لو طلعت لم تجدنا غافلين ولم ينكر عليه أحد.
সালাত অধ্যায়মাসআলা: ইমাম শাফেঈ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট ওয়াক্তের শুরুতে সালাত আদায় করা উত্তম। আর ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর সাথীদের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) নিকট ফজরের সালাতে আলো ছড়ানো (ইসফার), গ্রীষ্মকালে যোহরের ওয়াক্ত ঠান্ডা করা এবং শীতকালে এই দুই সালাত জলদি আদায় করা মুস্তাহাব। এছাড়াও আসর দেরি করে পড়া যতক্ষণ না সূর্যের চাকতি বিবর্ণ হয়, মাগরিব দ্রুত আদায় করা এবং ইশাকে রাতের এক-তৃতীয়াংশের পূর্ব পর্যন্ত দেরি করে পড়া মুস্তাহাব।
ফজরের সালাতে আলো ছড়ানোর (ইসফার) বিষয়ে ইমাম আবু হানিফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর দলিলসমূহ কয়েক প্রকার:
প্রথম: আবু দাউদ ও তিরমিযী রাফে ইবনে খাদীজ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "তোমরা ফজরের সময় আলো ছড়িয়ে দাও, কারণ এটি সওয়াবের জন্য অধিক বড়।" আবু দাউদের শব্দে আছে: "তোমরা ফজরে সকাল করো (আলো ছড়াও), নিশ্চয়ই তা তোমাদের সওয়াবের জন্য অধিক মহত্তর।" তিরমিযী বলেন, এই হাদিসটি হাসান সহীহ।
দ্বিতীয়: ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) যা বলেছেন— আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তাঁর নির্ধারিত সময়ের আগে কোনো সালাত আদায় করতে দেখিনি কেবল জুমআর (মুযদালিফার) সকালে ফজরের সালাত ছাড়া; সেদিন তিনি সালাতটি অন্ধকারে (গালাস) আদায় করেছিলেন। বুখারীর শব্দে আছে: "আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে তার নির্ধারিত সময় ছাড়া অন্য সময় কোনো সালাত আদায় করতে দেখিনি কেবল দুইটি সালাত ছাড়া—তিনি মাগরিব ও ইশাকে একত্রে আদায় করেছিলেন এবং ফজর তার (অভ্যস্ত) সময়ের আগে আদায় করেছিলেন।" অর্থাৎ মুযদালিফায়। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, সাধারণ নিয়ম ছিল আলো ছড়িয়ে ফজর আদায় করা, আর অন্ধকারে আদায় করা ছিল সফরের ওজরের কারণে। অথবা তা ছিল তখনকার সময়ের বিধান যখন নারীরা মসজিদে উপস্থিত হতেন, এরপর যখন তাঁদের ঘরে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয় তখন তা রহিত হয়ে যায়।
তৃতীয়: ইমাম তাহাবী কাযবী থেকে, তিনি ঈসা ইবনে ইউনুস থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ কোনো বিষয়ে এমনভাবে ঐক্যবদ্ধ হননি যেমনটি তাঁরা ফজরের সালাতে আলো উজ্জ্বল করার (তানবীর) বিষয়ে হয়েছিলেন। আর এটি কেবল তখনই সম্ভব যখন তাঁদের নিকট অন্ধকারে সালাত আদায়ের বিধান রহিত হওয়া প্রমাণিত হয়েছে।
চতুর্থ: ইমাম তাহাবী শু’বা থেকে, তিনি কাতাদা থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু বকর আমাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন এবং সূরা আলে ইমরান পাঠ করলেন। লোকেরা বলল: সূর্য তো প্রায় উদিত হয়ে যাচ্ছিল। তিনি বললেন: যদি উদিতও হতো তবুও তা আমাদের গাফেল অবস্থায় পেত না। আর কেউ তাঁর এই কাজের প্রতিবাদ করেনি।
(খণ্ড: ১)
আল-গুররাতুল মুনীফাহ ফী তাহকীকী বাদি মাসাইলি ইমাম আবী হানীফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الخامس: ما رواه الطحاوي عن السائب بن يزيد قال: صليت خلف عمر بن الخطاب الصبح فقرأ فيها البقرة فلما انصرفوا استشرقوا الشمس فقالوا ما طلعت فقال: لو طلعت لم تجدنا غافلين فكان يدخل فيها بغلس ويخرج منها بتنوير وكذلك كتب إلى عامله وهو اختيار الطحاوي.
السادس: أن مكث المصلي في موضع صلاته حتى تطلع الشمس مندوب قال: صلى الله عليه وسلم "من صلى الفجر ومكث في مكان الصلاة حتى تطلع فكأنما أعتق أربع رقاب من ولد إسماعيل" وبالاسفار يمكن إحراز هذه الفضيلة وبالتغليس قل ما يتمكن منها.
وأما الحجة على الأبراد بالظهر في الصيف فمن وجوه:
الأول: ما رواه البخاري عن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: قال: رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أبردوا بالظهر فإن شدة الحر من فيح جهنم".
الثاني: ما رواه الترمذي عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال: رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إذا اشتد الحر فأبردوا عن الصلاة فإن شدة الحر من فيح جهنم". قال: الترمذي هذا حديث حسن صحيح.
الثالث: ما رواه الترمذي عن أبي ذر رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان في سفر ومعه بلال فأراد أن يقيم، فقال: "أبرد" ثم أراد أن يقيم، فقال: "أبرد" ثم أراد أن يقيم فقال: رسول الله صلى الله عليه وسلم "أبرد" حتى رأينا فيء التلول. ثم أقام فصلى فقال: رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إن شدة الحر من فيح جهنم فأبردوا عن الصلاة". قال: حديث حسن صحيح.
الرابع: قال: النبي صلى الله عليه وسلم لمعاذ حين وجهه إلى اليمن: "إذا كان الصيف فأبرد فإنهم يقيلون فأمهلهم حتى يدركوا وإذا كان الشتاء فصل الظهر حين تزول الشمس فان الليالي طوال".
الخامس: أن فيتن التعجيل في الصيف تقليل الجماعات وإضرارا بالناس فإن الحر يؤذيهم.
পঞ্চম: ইমাম তাহাবি সায়িব বিন ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ওমর ইবনুল খাত্তাব-এর পেছনে ফজরের নামাজ আদায় করলাম, তিনি তাতে সূরা আল-বাকারা পাঠ করলেন। যখন তাঁরা নামাজ শেষ করলেন, তখন তাঁরা উদীয়মান সূর্যের দিকে তাকালেন। তাঁরা বললেন, সূর্য এখনও ওঠেনি। তিনি বললেন: যদি উদয় হতো, তবে আমাদের গাফেল পেত না। তিনি অন্ধকারের সময় নামাজে প্রবেশ করতেন এবং ফর্সা হওয়ার সময় বের হতেন। তিনি তাঁর আমিলের কাছেও এমনই লিখেছিলেন এবং এটিই ইমাম তাহাবির পছন্দ।
ষষ্ঠ: মুসল্লির জন্য সূর্যোদয় পর্যন্ত নামাজের স্থানে অবস্থান করা মুস্তাহাব। নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ আদায় করল এবং সূর্যোদয় পর্যন্ত নামাজের স্থানে অবস্থান করল, সে যেন ইসমাঈলের বংশধর থেকে চারজন গোলামকে মুক্ত করল।" ফর্সা হওয়ার পর নামাজ পড়ার মাধ্যমে এই ফজিলত অর্জন করা সম্ভব, কিন্তু অন্ধকারের সময় নামাজ পড়ার মাধ্যমে তা খুব কমই সম্ভব হয়।
আর গ্রীষ্মকালে জোহরের নামাজ ঠান্ডা করে (বিলম্বে) পড়ার ব্যাপারে দলিলসমূহ কয়েকভাবে বর্ণিত হয়েছে:
প্রথম: ইমাম বুখারি আবু সাঈদ খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তোমরা জোহর ঠান্ডা করে পড়ো, কারণ প্রচণ্ড গরম জাহান্নামের উত্তাপের অংশ।"
দ্বিতীয়: ইমাম তিরমিজি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যখন গরম প্রচণ্ড হয়, তখন নামাজ ঠান্ডা করে পড়ো। কেননা উত্তাপের তীব্রতা জাহান্নামের নিশ্বাস থেকে হয়ে থাকে।" ইমাম তিরমিজি বলেন: এটি একটি হাসান সহিহ হাদিস।
তৃতীয়: ইমাম তিরমিজি আবু জর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক সফরে ছিলেন এবং বিলাল তাঁর সাথে ছিলেন। বিলাল যখন ইকামত দিতে চাইলেন, তখন তিনি বললেন: "ঠান্ডা হতে দাও।" এরপর তিনি পুনরায় ইকামত দিতে চাইলেন, তখন তিনি বললেন: "ঠান্ডা হতে দাও।" এরপর তিনি পুনরায় ইকামত দিতে চাইলেন, তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "ঠান্ডা হতে দাও," এমনকি আমরা টিলাগুলোর ছায়া দেখতে পেলাম। এরপর তিনি ইকামত দিলেন এবং নামাজ আদায় করলেন। তারপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: "নিশ্চয়ই প্রচণ্ড গরম জাহান্নামের নিশ্বাস থেকে হয়ে থাকে, তাই নামাজ ঠান্ডা করে আদায় করো।" তিনি বলেন: এটি হাসান সহিহ হাদিস।
চতুর্থ: নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুআজকে যখন ইয়েমেনে পাঠালেন তখন বললেন: "যখন গ্রীষ্মকাল হয় তখন জোহর ঠান্ডা করে পড়ো, কারণ মানুষ দুপুরে বিশ্রাম নেয়; অতএব তাদের সময় দাও যাতে তারা নামাজে শরিক হতে পারে। আর যখন শীতকাল হয়, তখন সূর্য ঢলে পড়ার সাথে সাথে জোহর পড়ে নাও, কারণ রাত দীর্ঘ হয়।"
পঞ্চম: গ্রীষ্মকালে নামাজ দ্রুত পড়ার কারণে জামাতে মুসল্লির সংখ্যা কমে যায় এবং মানুষের কষ্ট হয়, কারণ উত্তাপ তাদের কষ্ট দেয়।
(খণ্ড: ১)
আল-গুররাতুল মুনীফাহ ফী তাহকীকী বাদি মাসাইলি ইমাম আবী হানীফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وأما الحجة على تأخير العصر في الصيف والشتاء فمن وجوه:
الأول: مارواه البخاري عن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "يتعاقبون فيكم ملائكة بالليل وملائكة بالنهار ويجتمعون في صلاة الفجر وصلاة العصر ثم يعرج الذين باتوا فيكم فيسألهم ربهم وهو أعلم بهم كيف تركتم عبادي فيقولون تركناهم وهم يصلون" وأتيناهم وهم يصلون"وفيه دليل على أنه يستحب فعلهما في آخر الوقت حين تعرج الملائكة
الثاني: ما رواه أبو داود عن علي بن شيبان قال: قدمنا على رسول الله صلى الله عليه وسلم المدينة فكان يؤخر العصر ما دامت الشمس بيضاء نقية.
الثالث: ما رواه الترمذي عن أم سلمة رضي الله عنها قالت كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أشد تعجيلا للظهر وأنتم أشد تعجيلا للعصر.
الرابع: ما رواه الطحاوي عن الحكم بن أبان عن عكرمة قال: كنا مع أبي هريرة رضي الله عنه في جنازة فلم يصل العصر وسكت حتى راجعناه مرارا فلم يصل العصر حتى رأينا الشمس على رأس أطول جبل في المدينة.
الخامس: أن في تأخير العصر تكثير النوافل لأن أداء النافلة بعدها مكروه ولهذا كان التعجيل في المغرب أفضل لأن النافلة قبله مكروهة.
السادس: أن المكث بعد العصر إلى غروب الشمس مندوب إليه قال: النبي صلى الله عليه وسلم: "من صلى العصر ومكث في المسجد إلى غروب الشمس فكأنما أعتق ثمانية من ولد إسماعيل عليه السلام" وإذا أخر العصر يتمكن من إحراز هذه الفضيلة فيكون أفضل وقيل سميت العصر لأنها تعصر أي تؤخر.
وأما الحجة على تعجيل المغرب فالمستحب تعجيلها مطلقا لقوله عليه الصلاة والسلام:: "لا تزال أمتي بخير ما لم تؤخر المغرب إلى أن تشتبك النجوم".
গ্রীষ্ম ও শীতকালে আসরের নামায বিলম্বে পড়ার স্বপক্ষে প্রমাণসমূহ বেশ কয়েকটি দিক থেকে:
প্রথমত: ইমাম বুখারী আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: "তোমাদের মাঝে পর্যায়ক্রমে রাতের ফেরেশতারা এবং দিনের ফেরেশতারা আসে। তারা ফজরের নামাযে এবং আসরের নামাযে একত্রিত হয়। অতঃপর যারা তোমাদের সাথে রাত অতিবাহিত করেছিল তারা উপরে উঠে যায়, তখন তাদের প্রতিপালক—তাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত থাকা সত্ত্বেও—জিজ্ঞেস করেন, 'তোমরা আমার বান্দাদের কোন অবস্থায় রেখে এসেছ?' তারা বলে, 'আমরা যখন তাদের ছেড়ে এসেছি তখন তারা নামায পড়ছিল এবং আমরা যখন তাদের কাছে গিয়েছিলাম তখনও তারা নামায পড়ছিল'।" এতে এই দলীল রয়েছে যে, ফেরেশতারা যখন উপরে উঠে যান সেই শেষ সময়ে এই দুই নামায আদায় করা মুস্তাহাব।
দ্বিতীয়ত: ইমাম আবু দাউদ আলী ইবনে শায়বান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা মদীনায় রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট উপস্থিত হলাম, তখন তিনি আসরের নামাযকে ততক্ষণ বিলম্ব করতেন যতক্ষণ সূর্য উজ্জ্বল ও পরিষ্কার থাকত।"
তৃতীয়ত: ইমাম তিরমিযী উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) যোহরের নামায খুব দ্রুত পড়তেন, আর তোমরা আসরের নামায খুব বেশি তাড়াতাড়ি পড়ছ।"
চতুর্থত: ইমাম তহাবী হাকাম ইবনে আবান থেকে এবং তিনি ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমরা আবু হুরায়রা (রা.)-এর সাথে একটি জানাযায় ছিলাম। তিনি আসরের নামায আদায় করেননি এবং নীরব ছিলেন। আমরা তাকে বারবার মনে করিয়ে দিলেও তিনি আসরের নামায পড়েননি, এমনকি আমরা মদীনার সর্বোচ্চ পাহাড়ের চূড়ায় সূর্যকে দেখলাম।"
পঞ্চমত: আসরের নামায বিলম্বে পড়ার মধ্যে নফল ইবাদত বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। কারণ আসরের পর নফল আদায় করা মাকরূহ। এই কারণেই মাগরিবের নামায দ্রুত আদায় করা উত্তম, কারণ এর আগে নফল আদায় করা মাকরূহ।
ষষ্ঠত: আসরের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করা মুস্তাহাব। নবী (সা.) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আসরের নামায আদায় করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মসজিদে অবস্থান করবে, সে যেন ইসমাইল (আ.)-এর বংশধর থেকে আটজন দাস মুক্ত করল।" যদি আসর বিলম্ব করে পড়া হয়, তবে এই ফযীলত অর্জন করা সম্ভব হয়, তাই এটিই উত্তম। আরও বলা হয়েছে যে, একে 'আসর' নাম দেওয়া হয়েছে কারণ এটি 'তা'সীর' বা বিলম্ব করা হয়।
আর মাগরিবের নামায দ্রুত আদায়ের স্বপক্ষে প্রমাণ হলো—এটি সাধারণভাবে দ্রুত আদায় করাই মুস্তাহাব। কারণ রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "আমার উম্মত ততক্ষণ কল্যাণের ওপর থাকবে, যতক্ষণ তারা মাগরিবের নামাযকে নক্ষত্ররাজি ফুটে ওঠা পর্যন্ত বিলম্ব না করবে।"
(খণ্ড: ১)
আল-গুররাতুল মুনীফাহ ফী তাহকীকী বাদি মাসাইলি ইমাম আবী হানীফাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
وأما الحجة على تأخير العشاء إلى ما قبل ثلث الليل فمن وجوه:
الأول: ما رواه الترمذي عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال: رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لولا أن أشق على أمتي لأمرتهم أن يؤخروا العشاء إلى ثلث الليل" حديث حسن صحيح.
الثاني: ما رواه أبو داود عن النبي صلى الله عليه وسلم أخر العشاء إلى ثلث الليل ثم خرج فوجد أصحابه في المسجد ينتظرونه فقال: "أما إنه لا ينتظر هذه الصلاة إلى هذا الوقت أحد غيركم ولولا سقم السقيم وضعف الضعيف لأخرت العشاء إلي هذا الوقت".
الثالث: ما رواه البخاري قال: سئل أنس رضي الله عنه هل اصطنع رسول الله صلى الله عليه وسلم خاتما؟ قال: نعم أخر الصلاة ليلة إلى شطر الليل فلما صلى أقبل بوجهه فقال: "إن الناس قد رقدوا وإنكم لن تزالوا في الصلاة ما انتظرتم الصلاة".
الرابع: عن عائشة رضي الله عنها قالت أعتم النبي صلى الله عليه وسلم ذات ليلة فذهب عامة الليل ونام أهل المسجد ثم خرج فصلى فقال: "إنه لوقتها لولا أن أشق على أمتي".
الخامس: كتب عمر رضي الله عنه إلي أبي موسي الأشعري أن صل العشاء حتي يذهب ثلث الليل.
السادس: أن في التأخير قطع السمر المنهي بعد العشاء فانه عليه الصلاة والسلام كان لا يحب النوم قبلها ولا الحديث بعدها.
حجة الشافعي رحمه الله من وجوه:
الأول: أن العبادة في أول الوقت رضوان وهو أكبر الدرجات فيلزم أن تكون الصلوات أول الوقت أفضل. أما بيان أن العبادة في أول الوقت رضوان الله فإنه تعالى قال: حكاية عن موسى عليه السلام: {وَعَجِلْتُ إِلَيْكَ
আর এশার নামাজ রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বিলম্ব করার স্বপক্ষে প্রমাণসমূহ বেশ কয়েকটি দিক থেকে উপস্থাপিত:
প্রথম: তিরমিযী আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যদি আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর না হতো, তবে আমি তাদের এশার নামাজ রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বিলম্ব করার নির্দেশ দিতাম।" এটি একটি হাসান সহীহ হাদিস।
দ্বিতীয়: আবু দাউদ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি এশাকে রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত বিলম্ব করলেন, অতঃপর বের হয়ে মসজিদে তাঁর সাহাবীদের অপেক্ষমাণ পেলেন। তখন তিনি বললেন: "জেনে রেখো, তোমাদের ছাড়া আর কেউ এই সময়ের জন্য এই নামাজের অপেক্ষা করছে না। আর যদি অসুস্থদের রোগ এবং দুর্বলদের দুর্বলতা না থাকত, তবে আমি এশার নামাজকে এই সময় পর্যন্তই বিলম্ব করতাম।"
তৃতীয়: বুখারী বর্ণনা করেছেন যে, আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি কোনো আংটি তৈরি করেছিলেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, এক রাতে তিনি নামাজকে মধ্যরাত পর্যন্ত বিলম্ব করলেন। যখন তিনি নামাজ শেষ করলেন, তখন আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন: "নিশ্চয়ই লোকেরা ঘুমিয়ে পড়েছে, আর তোমরা যতক্ষণ নামাজের জন্য অপেক্ষা করছিলে ততক্ষণ নামাজেই ছিলে।"
চতুর্থ: আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক রাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এশা বিলম্ব করলেন এমনকি রাতের একটি বড় অংশ অতিবাহিত হলো এবং মসজিদের লোকজন ঘুমিয়ে পড়লেন। অতঃপর তিনি বের হলেন এবং নামাজ আদায় করলেন। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই এটাই এর সঠিক সময় ছিল, যদি না তা আমার উম্মতের জন্য কষ্টকর হতো।"
পঞ্চম: ওমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আবু মূসা আল-আশআরী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর কাছে লিখেছিলেন যে, এশার নামাজ রাতের এক-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত পড়ো।
ষষ্ঠ: বিলম্ব করার মধ্যে এশার পরের নিষিদ্ধ গল্পগুজব বন্ধ করার বিষয়টি রয়েছে। কেননা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এশার আগে ঘুমানো এবং এর পরে কথা বলা পছন্দ করতেন না।
ইমাম শাফেয়ী (রহিমাহুল্লাহ)-এর দলিল কয়েকটি দিক থেকে:
প্রথম: ওয়াক্তের শুরুতে ইবাদত করা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, যা সর্বোচ্চ স্তরের মর্যাদা। তাই ওয়াক্তের শুরুতে নামাজ আদায় করা অধিক উত্তম হওয়া আবশ্যক। আর ওয়াক্তের শুরুতে ইবাদত করা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম হওয়ার বর্ণনায় মহান আল্লাহ মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর কথা উদ্ধৃত করে বলেন: {আর আমি তোমার কাছে দ্রুত চলে এলাম...}
(খণ্ড: ১)
আল-গুররাতুল মুনীফাহ ফী তাহকীকী বাদি মাসাইলি ইমাম আবী হানীফাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
رَبِّ لِتَرْضَى} 1 فعلم أن تعجيل العبادة سبب الرضوان وقد قال: النبي صلى الله عليه وسلم: "أول الوقت رضوان الله" فهذه الآية وهذا الحديث بهما علم أن تعجيل العبادة سبب الرضوان وأما بيان أن الرضوان أكبر الدرجات فلأنه تعالى قال: {وَرِضْوَانٌ مِنَ اللَّهِ أَكْبَرُ} 2 فصح أن تعجيل الصلاة أعلى الدرجات.
الجواب عنه: أن التعجيل إنما يكون سببا في العبادات التي ندب تعجيلها كالمغرب والظهر في الشتاء أما في العبادات التي ندب تأخيرها فالرضوان إنما هو باتباع النبي صلى الله عليه وسلم فانه سبب لمحبة الله تعالى قال: الله تعالى: {فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ} 3 وقد أخرالنبي صلى الله عليه وسلم بعض الصلوات وأمر بتأخير بعضها كما مر من قوله صلى الله عليه وسلم: "أسفروا بالفجر وأبردوا بالظهر" وحذر الله تعالى عن مخالفة أمره حيث قال: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ} 4 على أن التعجيل ليس بأولى في جميع العبادات بالإجماع فإن تأخير المغرب إلى مزدلفة واجب وتأخير الوتر مستحب فلما دل الدليل على استحباب تأخير بعض العبادات فقد خرج دليلكم عن الدلالة لأن الدليل قد دل على تأخير بعض الصلوات كما ذكرناه فيجب إعمال دليلكم في غير ما دل دليلنا عليه عملا بالدليلين على أن الآية فيها إنكار التعجيل في نفسه حيث قال: {وَمَا أَعْجَلَكَ عَنْ قَوْمِكَ} 5وحديث أول الوقت رضوان ضعيف الحجة.
الثاني: أن الله تعالى أمر بتعجيل العبادة ورغب فيها بأربع آيات الأولى بقوله تعالى: {وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَاوَاتُ وَالْأَرْضُ} 6 والثانية: بقوله تعالى: {سَابِقُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ} 7 الثالثة: مدح
--------------------------------------------
হে আমার প্রতিপালক, যাতে আপনি সন্তুষ্ট হন।} ১ সুতরাং জানা গেল যে, ইবাদতে ত্বরা করা সন্তুষ্টির কারণ। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ওয়াক্তের শুরু হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি।" এই আয়াত এবং এই হাদিস—উভয়ের দ্বারা জানা গেল যে, ইবাদতে ত্বরা করা সন্তুষ্টির কারণ। আর সন্তুষ্টি যে সর্বোচ্চ মর্যাদা, তার প্রমাণ হলো আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আল্লাহর পক্ষ থেকে সন্তুষ্টিই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ} ২ অতএব এটি প্রমাণিত হলো যে, সালাতে ত্বরা করা সর্বোচ্চ স্তরের আমল।
এর উত্তর হলো: ত্বরা করা কেবল সেই ইবাদতগুলোর ক্ষেত্রে সন্তুষ্টির কারণ হবে যেগুলোতে ত্বরা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেমন মাগরিব এবং শীতকালে জোহর। পক্ষান্তরে যে ইবাদতগুলোতে বিলম্ব করা মুস্তাহাব বা নির্দেশিত, সেগুলোতে সন্তুষ্টি মূলত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণের মধ্যেই নিহিত। কেননা অনুসরণই হলো আল্লাহর মহব্বত লাভের কারণ। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {সুতরাং তোমরা আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন} ৩ আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কোনো কোনো সালাত দেরিতে আদায় করেছেন এবং কোনো কোনোটি দেরিতে পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যেমনটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী থেকে অতিক্রান্ত হয়েছে: "তোমরা ফজরকে আলোকিত সময়ে আদায় করো এবং জোহরকে শীতল করে আদায় করো।" আল্লাহ তাআলা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করা থেকে সতর্ক করে বলেছেন: {সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয়} ৪ তাছাড়া ইজমা অনুযায়ী সকল ইবাদতে ত্বরা করা সর্বোত্তম নয়; কেননা মুজদালিফায় মাগরিবের সালাত বিলম্বিত করা ওয়াজিব এবং বিতর সালাত বিলম্বিত করা মুস্তাহাব। যখন কোনো কোনো ইবাদত বিলম্বে আদায়ের মুস্তাহাব হওয়ার দলিল পাওয়া গেল, তখন আপনাদের উপস্থাপিত দলিলটি সাধারণ প্রয়োগযোগ্যতা থেকে বিচ্যুত হলো। কারণ আমাদের উল্লিখিত দলিল কোনো কোনো সালাত বিলম্বে আদায়ের প্রমাণ দিয়েছে। অতএব উভয় দলিলের ওপর আমল করার লক্ষ্যে আমাদের দলিলের নির্দেশিত বিষয় ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে আপনাদের দলিলটি প্রয়োগ করা আবশ্যক। তাছাড়া উক্ত আয়াতে স্বয়ং ত্বরা করার ওপর আপত্তি জানানো হয়েছে যেখানে আল্লাহ বলেছেন: {তোমার সম্প্রদায়কে পেছনে ফেলে তোমাকে কিসে দ্রুত নিয়ে এল?} ৫ আর "ওয়াক্তের শুরু সন্তুষ্টির কারণ" শীর্ষক হাদিসটি প্রমাণের দিক থেকে দুর্বল।
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তাআলা ইবাদতে ত্বরা করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং চারটি আয়াতের মাধ্যমে এতে উৎসাহিত করেছেন। প্রথমটি হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমা এবং সেই জান্নাতের দিকে দ্রুত ধাবিত হও যার প্রশস্ততা আসমান ও জমিনের সমান} ৬ দ্বিতীয়টি আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমরা ক্ষমার দিকে অগ্রগামী হও} ৭ তৃতীয়টি: প্রশংসা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গুররাতুল মুনীফাহ ফী তাহকীকী বাদি মাসাইলি ইমাম আবী হানীফাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
الأنبياء به وقال: تعالى {إِنَّهُمْ كَانُوا يُسَارِعُونَ فِي الْخَيْرَاتِ} 1 والرابعة بقوله تعالى: {فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَاتِ} 2 وهذه النصوص قاطعة دالة على أن تعجيل العبادة في غاية الفضيلة.
الجواب عنه: أن ما ذكرنا من الأدلة صريحة على استحباب التأخير في بعض العبادات وهذه الآيات ليست بصريحة على استحباب تعجيلها فيحمل على استحباب ما اتفق العلماء على تعجيله عملا بالدليل على أن قوله تعالى: {سَابِقُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ، وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ} نكرة في الإثبات فلا تقتضي العموم: وباقي الآيات وإن كانت عامة لكنها خصت عنها المواضع التي ندب التأخير فيها بالإجماع فليخص بما ذكرناه من الأدلة المتنازع فيها إذ العام إذا خص منه البعض يخص الباقي بخبر الواحد فبقي تحته المواضع التي لم يدل الدليل على تأخيرها.
الثالث: أن الصحابي الذي تقدم إيمانه أفضل من غيره قال: الله تعالى: {وَالسَّابِقُونَ الأول: ونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ3} وإذا كان السبق في الإيمان سببا لزيادة الفضيلة والرضى فكذا السبق في الطاعة التي هي ثمرته.
الجواب عنه: أن قياس الطاعة على الإيمان قياس في مقابلة النصوص الدالة على استحباب تأخير بعضها لما ذكرنا فلا يقبل على أن هذا قياس مع الفارق فان الإيمان حسن في جميع الأوقات والكفر قبيح في كلها فلا يجوز تأخير الإيمان بخلاف غيره من الطاعات.
الرابع: قوله تعالى: {وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ ، أُولَئِكَ الْمُقَرَّبُونَ} 4 وهذا نص قاطع فيمن يكون سابقا في العبادة يكون مقربا إلى حضرة الله تعالى.
--------------------------------------------
নবীদের বিষয়ে তিনি এবং মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই তারা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করত} ১ এবং চতুর্থটি মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা সৎকাজে প্রতিযোগিতা করো} ২। এই পাঠ্যগুলো চূড়ান্তভাবে প্রমাণ করে যে, ইবাদত দ্রুত সম্পাদন করা অত্যন্ত ফযিলতপূর্ণ।
এর উত্তর হলো: আমরা যে সকল দলিলের কথা উল্লেখ করেছি তা কিছু ইবাদত দেরিতে করার মুস্তাহাব হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট, আর এই আয়াতগুলো সেগুলো দ্রুত করার ব্যাপারে সুস্পষ্ট নয়। অতএব এগুলোকে এমন সব বিষয়ের মুস্তাহাব হওয়ার ওপর প্রয়োগ করা হবে যা দ্রুত করার ব্যাপারে উলামায়ে কেরাম ঐক্যমত পোষণ করেছেন। এর পাশাপাশি মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা ক্ষমার দিকে ধাবিত হও এবং তোমরা ক্ষমার দিকে দ্রুত অগ্রসর হও} ইতিবাচক বাক্যে অনির্দিষ্ট শব্দ হিসেবে এসেছে, যা ব্যাপকতা দাবি করে না। আর অবশিষ্ট আয়াতগুলো যদিও ব্যাপক, তবে ইজমার মাধ্যমে সেই বিষয়গুলোকে এর থেকে বিশেষায়িত করা হয়েছে যেখানে দেরি করা পছন্দনীয়। সুতরাং আমাদের উল্লিখিত বিতর্কিত দলিলগুলোর মাধ্যমেও একে বিশেষায়িত করা উচিত; কারণ সাধারণ বিধান থেকে যখন কিছু অংশ বিশেষায়িত করা হয়, তখন অবশিষ্ট অংশকে খবর-এ-ওয়াহিদ দ্বারা বিশেষায়িত করা যায়। ফলে এর অধীনে এমন বিষয়গুলোই বাকি থাকে যেগুলোর ব্যাপারে দেরি করার কোনো দলিল নেই।
তৃতীয়ত: যে সাহাবী আগে ঈমান এনেছেন তিনি অন্যদের চেয়ে উত্তম। মহান আল্লাহ বলেছেন: {মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হয়েছে ৩}। আর যদি ঈমানে অগ্রগামী হওয়া অধিক ফযিলত ও সন্তুষ্টির কারণ হয়, তবে আনুগত্যে অগ্রগামী হওয়াও তেমনই হবে, কারণ এটি ঈমানেরই ফল।
এর উত্তর হলো: ঈমানের ওপর আনুগত্যকে তুলনা করা এমন এক তুলনা যা সেই পাঠ্যসমূহের বিরোধী যেগুলো কিছু আনুগত্য দেরিতে করার মুস্তাহাব হওয়ার প্রমাণ দেয়—যা আমরা উল্লেখ করেছি। সুতরাং এটি গ্রহণযোগ্য নয়। তদুপরি এটি একটি অসম তুলনা; কারণ ঈমান সর্বাবস্থায় উত্তম এবং কুফর সর্বাবস্থায় নিকৃষ্ট, তাই ঈমান আনয়নে দেরি করা বৈধ নয়, যা অন্যান্য আনুগত্যের বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
চতুর্থত: মহান আল্লাহর বাণী: {আর অগ্রগামীগণ তো অগ্রগামীই, তারাই তো নৈকট্যপ্রাপ্ত ৪}। এটি এমন এক চূড়ান্ত পাঠ্য যে, যে ব্যক্তি ইবাদতে অগ্রগামী হবে সে মহান আল্লাহর দরবারে নৈকট্যপ্রাপ্ত হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গুররাতুল মুনীফাহ ফী তাহকীকী বাদি মাসাইলি ইমাম আবী হানীফাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الجواب عنه: أن المفسرين قد اختلفوا في المراد من السابق فقيل المراد بالسابق في الإيمان وقيل في الهجرة إلى النبي صلى الله عليه وسلم وقيل: السابق في طلب معرفة الله تعالى فلا تكون الآية دليلا على تعجيل العبادة فتحمل على عبادة لم يدل الدليل على تأخيرها عملا بالدليلين.
الخامس: قوله تعالى: {أَقِمِ الصَّلاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلَى غَسَقِ اللَّيْلِ وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُوداً} 1 قال: المفسرون أشار بقوله {أَقِمِ الصَّلاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ} إلى صلاة الظهر والعصر وأشار بقوله: {إِلَى غَسَقِ اللَّيْلِ} يعني ظلمته إلى صلاة المغرب والعشاء وأشار بقوله: {وَقُرْآنَ الْفَجْرِ} إلى صلاة الصبح ثم قال: {كَانَ مَشْهُوداً} يعني صلاة الفجر مشهود بحضور الملائكة وهم الشهداء ومعلوم أن هذا المعنى إنما يمكن إذا أدى الفجر في الغلس أول الصبح لتحضر ملائكة النهار.
الجواب: أن هذا الاستدلال تكلف بعيد لا نترك به الدلائل الصريحة ولا نسلم أن كون الفجر مشهودا لا يمكن إلا بالصلاة في الغلس فإن قيل إن المراد بكونه المشهود إنه يشهده الكثير من المصلين في العادة وذلك يقتضي أن تؤخر لتكثير الجماعة فإنه وقت النوم والقيام منه ولهذا قيل قوله {إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ} حث على طول القراءة وقد قال: الطحاوي: من أصحابنا إنه إذا أراد تطويل القراءة يدخل في الغلس ويخرج في الإسفار جمعا بين الدلائل.
السادس: قول النبي صلى الله عليه وسلم: "أول الوقت رضوان الله وآخره عفو الله" ورضاه أفضل من عفوه لأن الرضى للمطيعين والعفو للمقصرين.
الجواب عنه: هذا الحديث رواه يعقوب بن الوليد عن العمري وهما ضعيفان قال: أحمد بن حنبل رحمه الله لا أعرف شيئا يثبت في أوقات الصلوات أولها أو آخرها يعني الرضوان والعفو وإن صح فنقول: المراد
--------------------------------------------
এর উত্তর হলো: মুফাসসিরগণ 'সাবেক' (অগ্রগামী) বলতে কী বোঝানো হয়েছে সে বিষয়ে মতভেদ করেছেন। বলা হয়েছে, এর দ্বারা ঈমানে অগ্রগামী হওয়া বোঝানো হয়েছে; কেউ বলেছেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে হিজরতে অগ্রগামী হওয়া; আবার কেউ বলেছেন: মহান আল্লাহর পরিচয় লাভের সন্ধানে অগ্রগামী হওয়া। সুতরাং এই আয়াতটি ইবাদত ত্বরান্বিত করার দলীল হবে না। বরং একে এমন ইবাদতের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হবে যা বিলম্বিত করার সপক্ষে কোনো দলীল নেই, যাতে উভয় দলীলের ওপর আমল সম্ভব হয়।
পঞ্চম: মহান আল্লাহর বাণী: {সূর্য ঢলে পড়ার সময় থেকে রাতের অন্ধকার পর্যন্ত সালাত কায়েম করুন এবং ফজরের কুরআন পাঠ (সালাত) আদায় করুন। নিশ্চয়ই ফজরের কুরআন পাঠ সাক্ষ্যপ্রদ হয়ে থাকে} ১ মুফাসসিরগণ বলেছেন: তাঁর বাণী {সূর্য ঢলে পড়ার সময় থেকে সালাত কায়েম করুন} দ্বারা যোহর ও আসর সালাতকে নির্দেশ করা হয়েছে। আর {রাতের অন্ধকার পর্যন্ত} -এর অর্থ হলো রাতের আঁধার - দ্বারা মাগরিব ও ইশা সালাতকে নির্দেশ করা হয়েছে। এবং {ফজরের কুরআন পাঠ} দ্বারা সকালের (ফজরের) সালাতকে নির্দেশ করা হয়েছে। অতঃপর তিনি বলেছেন: {সাক্ষ্যপ্রদ হয়ে থাকে} অর্থাৎ ফজরের সালাত ফেরেশতাদের উপস্থিতির মাধ্যমে সাক্ষ্যপ্রদ হয়, আর তাঁরাই হলেন সাক্ষী। এটি সুবিদিত যে, এই অর্থ তখনই সম্ভব যখন ফজরের সালাত ভোরের শুরুতে অন্ধকার থাকতেই আদায় করা হয়, যাতে দিনের ফেরেশতাগণ উপস্থিত হতে পারেন।
উত্তর: এই যুক্তি প্রদর্শন একটি দূরবর্তী কষ্টকল্পনা, যার কারণে আমরা সুস্পষ্ট দলীলসমূহ বর্জন করতে পারি না। আমরা এই দাবিও স্বীকার করি না যে, ফজরের সালাত সাক্ষ্যপ্রদ হওয়া কেবল অন্ধকারের মধ্যে সালাত আদায়ের মাধ্যমেই সম্ভব। যদি বলা হয় যে, 'সাক্ষ্যপ্রদ' হওয়ার অর্থ হলো সাধারণভাবে সেখানে অনেক মুসল্লির উপস্থিতি ঘটে, তবে এটি জামাত বড় করার উদ্দেশ্যে সালাত বিলম্বিত করাকেই দাবি করে। কেননা এটি ঘুমের এবং ঘুম থেকে জাগার সময়। এই কারণেই বলা হয়েছে যে, তাঁর বাণী {নিশ্চয়ই ফজরের কুরআন পাঠ} দীর্ঘ কিরাতের প্রতি উৎসাহ প্রদান স্বরূপ। আমাদের আলিমগণের মধ্য থেকে ইমাম তাহাবী বলেছেন: যদি কেউ কিরাত দীর্ঘ করতে চায়, তবে সে অন্ধকারের মধ্যে সালাত শুরু করবে এবং ফর্সা হওয়ার সময় শেষ করবে, যাতে সকল দলীলের মধ্যে সমন্বয় সাধিত হয়।
ষষ্ঠ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "ওয়াক্তের শুরু হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং এর শেষ হলো আল্লাহর ক্ষমা।" আর তাঁর সন্তুষ্টি তাঁর ক্ষমার চেয়ে উত্তম, কারণ সন্তুষ্টি হলো অনুগতদের জন্য এবং ক্ষমা হলো ত্রুটিবিচ্যুতি বা অবহেলাকারীদের জন্য।
এর উত্তর হলো: এই হাদীসটি ইয়াকুব বিন ওয়ালিদ আল-উমারী থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা উভয়েই দুর্বল। ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন: সালাতের ওয়াক্তসমূহের শুরু বা শেষ সম্পর্কে—অর্থাৎ সন্তুষ্টি ও ক্ষমা বিষয়ে—সাব্যস্ত হয়েছে এমন কোনো কিছু আমার জানা নেই। আর যদি এটি সহীহও হয়, তবে আমরা বলব: এর উদ্দেশ্য হলো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গুররাতুল মুনীফাহ ফী তাহকীকী বাদি মাসাইলি ইমাম আবী হানীফাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
بالعفو هو الفضل قال: الله تعالى: {وَيَسْأَلونَكَ مَاذَا يُنْفِقُونَ قُلِ الْعَفْوَ} 1 أي الفضل من المال ولا يجوز أن يحمل العفو هنا على التجاوز عن التقصير فقد ذكر في إمامة جبريل عليه السلام تأخير أداء الصلوات في اليوم الثاني: إلى آخر الوقت ولايجوز أن يقصر جبريل ومتابعة النبي صلى الله عليه وسلم شيئا فيه تقصير يحتاج إلى العفو على أن مذهبنا ليس فيه أداء الصلاة في آخر الوقت بل وسطه حتى قلنا إن أداء الصلاة بعد تغيير قرص الشمس مكروه فيكون من قبل عفو الله تعالى وكذا تأخير العشاء والمغرب إلى آخر وقتهما فنحن قائلون بموجب دليلكم وفي التحقيق ما قلناه أولى لأنه أوسط الأمور وهو الذي أشار إليه جبريل عليه السلام بقوله: [والوقت ما بين هذين الوقتين لك ولأمتك] أي وقت الاستحباب والأول: وية إذ الجواز ثابت في أول الوقت وفي آخره فلو كان أول الوقت أولى لكان ينبغي لجبريل عليه السلام في معرض التعليم أن يقول أول الوقت وقت لك ولأمتك.
السابع: المسافر له الإفطار والصوم في رمضان وقد اتفقنا على أن تعجيل الصوم أفضل قال الله تعالى: {وَأَنْ تَصُومُوا خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ تَعْلَمُونَ} 2 فعلم أن تأخير الصلاة وإن كان جائزا ولكن الأفضل تقديمها.
الجواب: أن هذا قياس في مقابلة النصوص الدالة على استحباب تأخير بعض الصلوات فلا يقبل مع أن الفرق بين الصوم والصلاة ثابت وهو أن في تعجيل الصوم أداءها في وقته وفي تأخيرها قضاءها في أيام أخر والأداء أفضل من القضاء ولا يلزم من تأخير الصلاة إلى الوقت المستحب قضاء.
الثامن: أن التعجيل حرفة العباد المخلصين والتأخير حرفة الكسالى المقصرين ولا شك أن الأول: أفضل وقد ذم الله تعالى وأوعد الكسالى في الصلاة وقال: {فَوَيْلٌ لِلْمُصَلِّينَ، الَّذِينَ هُمْ عَنْ صَلاتِهِمْ سَاهُونَ} 3 فإذا
--------------------------------------------
ক্ষমা বা উদ্বৃত্ত অংশই হলো অতিরিক্ত। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে তারা কী ব্যয় করবে? বলুন: যা উদ্বৃত্ত} ১ অর্থাৎ সম্পদের অতিরিক্ত অংশ। এখানে 'আফওয়া' শব্দটিকে ত্রুটি মার্জনা বা ক্ষমা অর্থে গ্রহণ করা বৈধ নয়। কেননা জিবরাঈল আলাইহিস সালামের ইমামতির বর্ণনায় দ্বিতীয় দিনে সালাত আদায়কে ওয়াক্তের শেষ সময় পর্যন্ত বিলম্ব করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আর জিবরাঈল আলাইহিস সালাম এবং তাঁর অনুসরণে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পক্ষে এমন কোনো ত্রুটি করা বৈধ নয় যার জন্য ক্ষমার প্রয়োজন পড়ে। তদুপরি আমাদের মাযহাব অনুযায়ী সালাত একেবারে শেষ ওয়াক্তে আদায় করার বিধান নেই, বরং ওয়াক্তের মাঝামাঝি সময়ে। এমনকি আমরা বলেছি যে, সূর্যের চাকতি পরিবর্তনের পর (হলুদ বর্ণ ধারণ করলে) সালাত আদায় করা মাকরূহ, সুতরাং তা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে ক্ষমা হিসেবে গণ্য হবে। একইভাবে ইশা ও মাগরিবের সালাত তাদের শেষ ওয়াক্ত পর্যন্ত বিলম্ব করা। তাই আমরা আপনাদের দলিলের দাবি অনুযায়ী প্রবক্তা। আর সূক্ষ্ম বিচারে আমরা যা বলেছি তাই অগ্রগণ্য, কারণ এটিই মধ্যম পন্থা। আর জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তাঁর একথার মাধ্যমে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন: [এবং এই দুই সময়ের মধ্যবর্তী সময়টিই আপনার এবং আপনার উম্মতের জন্য সময়] অর্থাৎ এটি পছন্দনীয় সময় এবং উত্তম। কেননা বৈধতা তো ওয়াক্তের শুরু এবং শেষে প্রমাণিত। যদি ওয়াক্তের শুরুই উত্তম হতো, তবে জিবরাঈল আলাইহিস সালামের জন্য শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি বলা উচিত ছিল যে, ওয়াক্তের শুরুই আপনার ও আপনার উম্মতের জন্য নির্ধারিত সময়।
সপ্তম: মুসাফিরের জন্য রমজানে রোজা রাখা বা না রাখার অবকাশ আছে। আর আমরা একমত হয়েছি যে, দ্রুত রোজা রাখা উত্তম। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর তোমরা যদি রোজা রাখো তবে তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর যদি তোমরা জানতে} ২। এর দ্বারা জানা গেল যে, সালাত বিলম্ব করা জায়েয হলেও তা আগে আদায় করাই উত্তম।
উত্তর: এটি এমন এক কিয়াস (যৌক্তিক তুলনা) যা ঐ সকল সুস্পষ্ট দলিলের বিরোধী যা কিছু সালাত বিলম্ব করা মুস্তাহাব হওয়ার প্রমাণ দেয়। তাই এটি গ্রহণযোগ্য নয়। তাছাড়া রোজা ও সালাতের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। তা হলো—রোজা দ্রুত আদায়ের অর্থ হলো তা তার নির্ধারিত সময়ে আদায় করা, আর তা বিলম্ব করার অর্থ হলো অন্য দিনে তার কাজা করা। আর আদায় কাজার চেয়ে উত্তম। কিন্তু সালাতকে মুস্তাহাব ওয়াক্ত পর্যন্ত বিলম্ব করার কারণে তা কাজা হয়ে যায় না।
অষ্টম: দ্রুত আদায় করা একনিষ্ঠ ইবাদতকারীদের স্বভাব এবং বিলম্ব করা অলস ও ত্রুটিপূর্ণদের কাজ। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে প্রথমটিই উত্তম। আল্লাহ তাআলা সালাতের ক্ষেত্রে অলসদের নিন্দা করেছেন এবং কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: {অতএব দুর্ভোগ সেই সালাত আদায়কারীদের জন্য, যারা তাদের সালাত সম্পর্কে উদাসীন} ৩ সুতরাং যখন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গুররাতুল মুনীফাহ ফী তাহকীকী বাদি মাসাইলি ইমাম আবী হানীফাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
كان كذلك كان التقديم أفضل.
الجواب عنه: أن حرفة المخلصين الاتباع في أقوال النبي صلى الله عليه وسلم وأفعاله وهو ما ذكرنا وهو واضح لمن تأمل وترك التعصب وحرفة المقصرين التأخير عن وقت الاستحباب لا التأخير لإدراك الفضيلة والوعيد لقوله تعالى: {فَوَيْلٌ لِلْمُصَلِّينَ، الَّذِينَ هُمْ عَنْ صَلاتِهِمْ سَاهُونَ} لأجل اشتغالهم بأمور تلهيهم عن أداء الصلاة في أوقاتها ولا دلالة للاية على مذهب الخصم وهو ظاهر لا يخفى على المنصف.
ثم قال: يفرض في مذهب الشافعي رحمه الله في ركعتين خمسة وثلاثون شيئا النية وتكبيرة الافتتاح والجمع بين النية والتكبيرة والقيام وقت القراءة وقراءة فاتحة الكتاب في جميع الركعات والركوع والطمأنينة فيه والقومة من الركوع والطمأنينة فيها والسجود والطمأنينة فيه والرفع من السجود والطمأنينة فيه والسجدة الثاني: ة والطمأنينة فيها والترتيب بين هذه الأركان والموالاة ومجموع هذه الأركان سبعة عشر في الركعة الأول: ى وفي الركعة الثاني: ة تسقط من هذا المجموع ثلاثة وهي النية والتكبير والجمع بينهما وتبقى أربعة عشر إذا ضمت مع ما في الأول: ى يصير المجموع إحدى وثلاثين وأربعة أخرى تفرض في التشهد وهي القعدة وقراءة التشهد والصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم والسلام للخروج وإذا ضمت هذه الأربعة مع السابع: ة يصير المجموع خمسة وثلاثين فهذه هي أركان الصلاة عنده تفرض رعايتها فإن وقع الخلل في واحدة منها تبطل الصلاة وعند الإمام أبي حنيفة رضي الله عنه جميع هذه الأشياء ليس من الأركان بل الأركان منها ستة والباقي من الواجبات والسنن وعند أبي حنيفة لا تشترط المقارنة بين النية والتكبير حتى لو نوى حين توضأ في بيته ولم يشتغل بعده بشيء يقطع النية جاز وتجعل المقدمة كالقائمة عند التكبير حكما كما في الصوم ولا يشترط عند أبي حنيفة رضي الله عنه تعيين لفظة التكبير حتى لو قال: بدلا منه الله أجل أو أعظم أو الرحمن أكبر أو لا إله إلا الله جاز لأن التكبير هو التعظيم لغة قال: الله تعالى: {فَلَمَّا رَأَيْنَهُ أَكْبَرْنَهُ} 1 أي
--------------------------------------------
যদি তাই হতো তবে অগ্রবর্তী করা উত্তম হতো।
এর উত্তর হলো: একনিষ্ঠ ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্য হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা ও কাজের অনুসরণ করা, যা আমরা উল্লেখ করেছি। আর যারা গভীরভাবে চিন্তা করবেন এবং গোঁড়ামি বর্জন করবেন, তাদের কাছে এটি স্পষ্ট। আর অবহেলার পরিচয় দানকারীদের স্বভাব হলো মুস্তাহাব ওয়াক্ত থেকে দেরি করা, ফযীলত অর্জনের জন্য দেরি করা নয়। আর মহান আল্লাহর বাণী: "অতএব দুর্ভোগ সেই সব মুসল্লীদের জন্য, যারা তাদের সালাত সম্পর্কে উদাসীন" — এই ধমকি তাদের জন্য যারা এমন কাজে লিপ্ত থাকে যা তাদের যথাসময়ে সালাত আদায় থেকে বিমুখ করে। প্রতিপক্ষের মাযহাবের সপক্ষে এই আয়াতের কোনো দলীল নেই, যা কোনো ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির কাছে গোপন নয়।
এরপর তিনি বললেন: ইমাম শাফিঈ রহ.-এর মাযহাব অনুযায়ী দুই রাকাতে পঁয়ত্রিশটি বিষয় ফরয গণ্য করা হয়। সেগুলো হলো: নিয়ত, তাকবীরে ইফতিতাহ, নিয়ত ও তাকবীরের মধ্যে সমন্বয় সাধন, কিরাআতের সময় কিয়াম (দাঁড়ানো), সকল রাকাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করা, রুকু, রুকুতে স্থিরতা (তুমানীনাহ), রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো, তাতে স্থিরতা, সিজদাহ, সিজদাহয় স্থিরতা, সিজদাহ থেকে উঠা, তাতে স্থিরতা, দ্বিতীয় সিজদাহ, তাতে স্থিরতা, এই রুকনগুলোর মধ্যে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং বিরতিহীনভাবে সম্পাদন করা। এই রুকনগুলোর সমষ্টি প্রথম রাকাতে সতেরোটি। দ্বিতীয় রাকাতে এই সমষ্টি থেকে তিনটি বিষয় বাদ যায়, যা হলো নিয়ত, তাকবীর এবং এই দুইয়ের সমন্বয়; ফলে চৌদ্দটি অবশিষ্ট থাকে। প্রথম রাকাতের সতেরোটির সাথে এই চৌদ্দটি যোগ করলে মোট একত্রিশটি হয়। আরও চারটি বিষয় তাশাহহুদে ফরয হয়, যা হলো: বৈঠক, তাশাহহুদ পাঠ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর দরূদ পাঠ এবং নামায থেকে বের হওয়ার জন্য সালাম। এই চারটিকে একত্রিশের সাথে যোগ করলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় পঁয়ত্রিশ। এগুলোই তাঁর নিকট সালাতের রুকন যেগুলোর প্রতি লক্ষ্য রাখা ফরয। যদি এর কোনো একটিতে ত্রুটি ঘটে, তবে সালাত বাতিল হয়ে যাবে। আর ইমাম আবু হানীফা রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট এই সবগুলি রুকন নয়, বরং এগুলোর মধ্যে রুকন হলো ছয়টি এবং অবশিষ্টগুলো ওয়াজিব ও সুন্নাত। আবু হানীফার নিকট নিয়ত ও তাকবীরের মধ্যে যুগপৎ হওয়া শর্ত নয়। এমনকি যদি কেউ নিজের ঘরে ওযু করার সময় নিয়ত করে এবং এরপর নিয়ত ভঙ্গ করে এমন কোনো কাজে লিপ্ত না হয়, তবে তা জায়েয হবে। হুকুমের দিক থেকে তাকবীরের সময় পূর্ববর্তী নিয়তটিকে বিদ্যমান নিয়তের মতো গণ্য করা হবে, যেমনটি রোযার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। ইমাম আবু হানীফা রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর নিকট তাকবীরের শব্দ নির্দিষ্ট হওয়া শর্ত নয়। এমনকি যদি কেউ এর পরিবর্তে 'আল্লাহু আজাল্লু' বা 'আ’জম' বা 'আর-রাহমানু আকবার' বা 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলে, তবে তা জায়েয হবে। কারণ আভিধানিক অর্থে তাকবীর হলো মহত্ত্ব বর্ণনা করা। মহান আল্লাহ বলেছেন: "যখন তারা তাকে দেখল, তখন তারা তাকে অতি মহান মনে করল।" ১ অর্থাৎ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গুররাতুল মুনীফাহ ফী তাহকীকী বাদি মাসাইলি ইমাম আবী হানীফাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
عظمنه وقال: {وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ} 1 أي فعظم والتعظيم حاصل بقوله الله أعظم ولأن الركن ذكر الله على وجه التعظيم وهو الثابت بالنص قال: الله تعالى: {وَذَكَرَ اسْمَ رَبِّهِ فَصَلَّى} 2 وإذا قال: الله أعظم فقد وجد ما هو الركن وأما لفظ التكبير فثابت في الخبر فيعمل به حتى يكره غيره لمن يحسنه ولكن الركن ما هو الثابت بالنص ثم من قال: الرحمن أكبر فقد أتى بالتكبير قال: الله تعالى: {قُلِ ادْعُوا اللَّهَ أَوِ ادْعُوا الرَّحْمَنَ أَيّاً مَا تَدْعُوا فَلَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَى} 3 وروى مجاهد أن الأنبياء صلوات الله عليهم كانوا يفتتحون الصلاة بلا إله إلا الله وكذا تعيين قراءة الفاتحة ليس بفرض عند أبي حنيفة رحمه الله وهي واجبة والفرض مطلق القرآن لقوله تعالى: {فَاقْرَأُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ} 4 في الأول: يين ولو لم يقرأ في الأخريين بشيء جاز لقوله عليه الصلاة والسلام::"القراءة في الأوليين قراءة في الأخريين" والقومة من الركوع ليس بواجب عنده وكذلك الرفع من السجود والطمأنينة فيها ليس بفرض وكذا قراءة التشهد والصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم ليس بفرض وكذا لفظة السلام حتى لو قعد مقدار التشهد وتعمد الحدث أو عمل ما ينافي الصلاة تتم صلاته.
حجة الشافعي رحمه الله أن النبي صلى الله عليه وسلم في مدة ثلاث وعشرين سنة صلى وقد اتفق المسلمون أن صلاته لم تخل عن جميع ما ذكرنا من خمس وثلاثين خصلة وكل شيء فعله النبي صلى الله عليه وسلم يجب علينا المتابعة فيه قال: الله تعالى: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ} 5 وقال: النبي صلى الله عليه وسلم: "صلوا كما رأيتموني أصلي" ففي هذا الحديث دليل ظاهر على وجوب هذه الأركان نعم لو قام دليل من الآية أو الخبر على أن بعض هذه الأشياء ليس من الأركان نقره بذلك.
--------------------------------------------
তিনি তাঁর মাহাত্ম্য বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: {আর আপনার রবের মহিমা ঘোষণা করুন} ১ অর্থাৎ তাঁর বড়ত্ব বর্ণনা করুন। আর ‘আল্লাহু আজম’ (আল্লাহ মহানতম) বলার মাধ্যমে এই মহিমা বর্ণনা অর্জিত হয়। কারণ রুকন (মৌলিক স্তম্ভ) হলো মহিমা প্রকাশের উদ্দেশ্যে আল্লাহর যিকির করা, যা অকাট্য দলীল (নাস) দ্বারা প্রমাণিত। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এবং সে তার রবের নাম স্মরণ করে, অতঃপর সালাত আদায় করে} ২। সুতরাং যখন কেউ ‘আল্লাহু আজম’ বলল, তখন রুকনটি আদায় হয়ে গেল। আর ‘তাকবীর’ (আল্লাহু আকবার) শব্দটির বিষয়টি হাদীস দ্বারা প্রমাণিত, তাই এর ওপর আমল করা হবে; এমনকি যারা এটি বলতে সক্ষম তাদের জন্য অন্য শব্দ ব্যবহার করা মাকরূহ হবে। তবে রুকন হলো তা-ই যা অকাট্য দলীল (নাস) দ্বারা প্রমাণিত। এরপর, যে ব্যক্তি বলল ‘আর-রাহমানু আকবার’ (করুণাময় মহানতম), সে তাকবীর আদায় করল। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলুন, তোমরা আল্লাহ নামে ডাকো বা রাহমান নামে ডাকো, তোমরা যে নামেই ডাকো না কেন, সকল সুন্দর নাম তো তাঁরই} ৩। মুজাহিদ (রহ.) বর্ণনা করেছেন যে, নবীগণ (আলাইহিমুস সালাত ওয়াস সালাম) ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে সালাত শুরু করতেন। তদ্রূপ ইমাম আবু হানীফা (রহ.)-এর নিকট সূরা ফাতিহা নির্দিষ্ট করে পাঠ করা ফরয নয়, বরং তা ওয়াজিব। আর ফরয হলো কুরআনের যে কোনো অংশ পাঠ করা, কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতএব কুরআনের যতটুকু তোমাদের জন্য সহজ ততটুকু পাঠ করো} ৪ প্রথম দুই রাকাআতে। আর যদি শেষ দুই রাকাআতে কিছুই পাঠ না করে তবে তা জায়েয হবে। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "প্রথম দুই রাকাআতের কিরাত শেষ দুই রাকাআতের কিরাত হিসেবে গণ্য।" তাঁর মতে রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো ওয়াজিব নয়, একইভাবে সিজদা থেকে মাথা তোলা এবং এগুলোতে স্থিরতা (তামানীনাহ) বজায় রাখা ফরয নয়। তেমনিভাবে তাশাহহুদ পাঠ করা এবং নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওপর দরূদ পাঠ করা ফরয নয়। তেমনিভাবে ‘সালাম’ শব্দটিও (ফরয নয়)। এমনকি যদি কেউ তাশাহহুদ পরিমাণ সময় বসে থাকে এবং এরপর ইচ্ছা করে ওযু নষ্ট করে ফেলে বা এমন কোনো কাজ করে যা সালাতের পরিপন্থী, তবে তার সালাত সম্পন্ন হয়ে যাবে।
ইমাম শাফিঈ (রহ.)-এর দলীল হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তেইশ বছর সময়কালে সালাত আদায় করেছেন এবং মুসলিমগণ একমত হয়েছেন যে, তাঁর সালাত আমাদের বর্ণিত এই পয়ত্রিশটি বৈশিষ্ট্যের কোনোটি থেকেই মুক্ত ছিল না। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা কিছু করেছেন, সেগুলোতে তাঁর অনুসরণ করা আমাদের জন্য ওয়াজিব। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন} ৫ এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা সেভাবেই সালাত আদায় করো যেভাবে আমাকে আদায় করতে দেখেছ।" সুতরাং এই হাদীসে এই রুকনগুলো ওয়াজিব হওয়ার স্পষ্ট দলীল রয়েছে। হ্যাঁ, যদি কুরআন বা হাদীস থেকে এমন কোনো দলীল পাওয়া যায় যে এগুলোর কোনোটি রুকন নয়, তবে আমরা তা মেনে নেব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গুররাতুল মুনীফাহ ফী তাহকীকী বাদি মাসাইলি ইমাম আবী হানীফাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
الجواب عنه: أنه يجب علينا متابعة النبي صلى الله عليه وسلم على الصفة التي فعلها ولم يدل دليل على أن النبي صلى الله عليه وسلم فعل هذه الأشياء على أنها من الأركان ولو كان جميع مافعل النبي صلى الله عليه وسلم في الصلاة ركنا لكان ينبغي أن يكون رفع اليدين في تكبيرة الافتتاح وفي كل خفض ورفع عنده والثناء في الافتتاح والتحميد والتسميع وتسبيحات الركوع والسجود وسائر ما فعله من الآداب أيضا من الأركان لعين ما ذكره الخصم لأن النبي صلى الله عليه وسلم مدة ثلاث وعشرين سنة فعله واتفق المسلمون على ذلك فلما لم تجعل هذه الأشياء من الأركان دل على أن ما ذكره من الدليل لا يصلح أن يكون دليلا على إثبات ركنية جميع ما جعله ركنا فكما قام الدليل عنده على كون هذه الأشياء ليس من الأركان فكذلك قام الدليل عند خصمه على كون بعض ما ذكره من الأركان ليس من الأركان على أن الركنية لا تثبت إلا بدليل قطعي وفي كون فعل النبي صلى الله عليه وسلم موجبا خلاف المعروف عند أهل الأصول فكيف يصلح دليلا على الركنية نعم إذا واظب النبي صلى الله عليه وسلم على فعل ولم يتركه ولم يدل دليل آخر على عدم الوجوب دل على الوجوب ونحن نقول بموجبه دون الركنية.
مسألة: قراءة فاتحة الكتاب لا يتعين ركنا في الصلاة بل الركن مطلق القراءة وتعيين الفاتحة واجب في مذهب أبي حنيفة وأصحابه رضي الله عنهم وعند الشافعي رحمه الله قراءة الفاتحة ركن في الصلاة.
حجة الإمام أبي حنيفة رضي الله عنه من وجوه:
الأول: قوله تعالى: {فَاقْرَأُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ} 1 مطلق فتعيين الفاتحة يكون زيادة على هذا النص وهو نسخ فلا يثبت بخبر الواحد.
الثاني: ما رواه البخاري ومسلم في حديث الأعرابي الذي صلى وخفف فجاء فسلم على النبي صلى الله عليه وسلم فرده عليه الصلاة والسلام قال: "ارجع فصل فإنك لم تصل" ثلاث مرات فقال: الرجل والذي بعثك بالحق ما أحسن غير
--------------------------------------------
এর উত্তর হলো: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেভাবে আমল করেছেন সেই পদ্ধতিতে তাঁর অনুসরণ করা আমাদের জন্য আবশ্যক। তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই বিষয়গুলোকে রুকন (অপরিহার্য স্তম্ভ) হিসেবে পালন করেছেন মর্মে কোনো দলিল নেই। যদি সালাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা কিছু করেছেন তার সবই রুকন হতো, তবে প্রতিপক্ষের উল্লিখিত যুক্তিতেই তাকবীরে তাহরীমার সময় এবং প্রতিটি অবনমন ও উত্থানের সময় হাত তোলা, ছানা পাঠ করা, তাহমীদ (রাব্বানা লাকাল হামদ), তাসমী’ (সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদাহ), রুকু ও সিজদাহর তাসবীহসমূহ এবং অন্যান্য আদব যা তিনি পালন করেছেন, সেগুলোরও রুকন হওয়া আবশ্যক ছিল। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দীর্ঘ তেইশ বছর যাবত তা পালন করেছেন এবং মুসলিমগণ এ ব্যাপারে একমত। যেহেতু এই বিষয়গুলোকে রুকন হিসেবে গণ্য করা হয়নি, তা প্রমাণ করে যে প্রতিপক্ষ যে দলিল উল্লেখ করেছেন তা তার দাবিকৃত সমস্ত বিষয়কে রুকন হিসেবে সাব্যস্ত করার জন্য দলিল হওয়ার যোগ্য নয়। সুতরাং তাঁর নিকট যেমন এই বিষয়গুলো রুকন না হওয়ার ব্যাপারে দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তেমনি তাঁর প্রতিপক্ষের নিকটও তাঁর দাবিকৃত কিছু বিষয় রুকন না হওয়ার ব্যাপারে দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাছাড়া রুকন হওয়া কেবল অকাট্য দলিলের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কেবল আমল করা কোনো বিষয়কে আবশ্যক (ওয়াজিব) করে কি না, এ ব্যাপারে উসুলবিদদের নিকট মতভেদ সুবিদিত; সুতরাং তা কীভাবে রুকন হওয়ার দলিল হতে পারে? হ্যাঁ, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কোনো আমল নিরবচ্ছিন্নভাবে পালন করেছেন এবং তা ত্যাগ করেননি, আর এর আবশ্যকতা না হওয়ার ব্যাপারে অন্য কোনো দলিল নেই, তখন তা ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ দেয়। আর আমরা একে ওয়াজিব হওয়ার দলিল হিসেবে গ্রহণ করি, রুকন হিসেবে নয়।
মাসআলা: ফাতিহাতুল কিতাব (সুরা ফাতিহা) পাঠ করা সালাতে রুকন হিসেবে নির্দিষ্ট নয়, বরং সাধারণ কিরাআতই রুকন। ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর সাথীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) মাযহাব অনুযায়ী সুরা ফাতিহা নির্দিষ্ট করা ওয়াজিব। আর ইমাম শাফেঈর (রাহিমাহুল্লাহ) নিকট সালাতে সুরা ফাতিহা পাঠ করা রুকন।
ইমাম আবু হানিফার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) দলিল কয়েক দিক থেকে:
প্রথমত: আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতএব তোমরা কুরআন থেকে যতটুকু সহজ হয় ততটুকু পাঠ করো} ১ এটি একটি নিরঙ্কুশ (মুতলাক) নির্দেশ। সুতরাং সুরা ফাতিহাকে নির্দিষ্ট করা এই নসের (সুস্পষ্ট পাঠ) ওপর অতিরিক্ত বিধান হবে, যা মূলত নসখের (রহিতকরণ) নামান্তর; আর তা খবরে ওয়াহেদ (একক বর্ণনা) দ্বারা সাব্যস্ত হয় না।
দ্বিতীয়ত: ইমাম বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক বর্ণিত সেই গ্রাম্য ব্যক্তির হাদিস, যিনি সালাত আদায় করেছিলেন এবং তা সংক্ষেপে করেছিলেন। এরপর তিনি এসে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সালাম দিলেন। তিনি সালামের উত্তর দিয়ে বললেন: "ফিরে যাও এবং সালাত আদায় করো, কারণ তোমার সালাত হয়নি" - এভাবে তিনবার বললেন। তখন লোকটি বলল: "যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন তাঁর কসম! আমি এর চেয়ে উত্তম আর জানি না..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গুররাতুল মুনীফাহ ফী তাহকীকী বাদি মাসাইলি ইমাম আবী হানীফাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
هذا فعلمني فقال: "إذا قمت في الصلاة فكبر ثم اقرأ ما تيسر معك من القرآن ثم اركع" إلى آخر الحديث فلو كان قراءة الفاتحة ركنا لعلمه النبي صلى الله عليه وسلم لأنه كان في معرض بيان الأركان وتعليمها فدل على أن الركن مطلق القراءة:
الثالث: ما روى عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال: لي رسول الله صلى الله عليه وسلم: "أخرج فناد في المدينة لا صلاة إلا بالقرآن ولو بفاتحة الكتاب".
حجة الشافعي رحمه الله من وجوه:
الأول: أن النبي صلى الله عليه وسلم في مدة ثلاث وعشرين سنة صلى وقرأ بفاتحة الكتاب في صلاته فيجب متابعته على جميع الناس لقوله تعالى: {فَاتَّبِعُوهُ} 1 فظهر أنه لا تجوز الصلاة بدون الفاتحة إذ لو كانت الصلاة جائزة بدونها لكان النبي صلى الله عليه وسلم يتركها مرة فإذا لم يتركها مرة علم أن الصلاة بدونها لا تجوز.
الجواب عنه: ما مر أن المواظبة تدل على الوجوب دون الركنية ونحن نقول بموجبه فإن الفاتحة عندنا واجبة ولا يلزم من كونها واجبة أن تبطل الصلاة بتركها وإذا لم يتركها النبي صلى الله عليه وسلم لكونها واجبة وتركه الواجب قصدا لا يجوز فنحن نقول بالإجماع على الصفة التي أتى أتى بها.
الثاني: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "يقول الله تعالى قسمت الصلاة بيني وبين عبدي نصفين فإذا قال: العبد الحمد لله رب العالمين يقول الله تعالى حمدني عبدي وإذا قال: الرحمن الرحيم يقول الله تعالى مجدني عبدي وإذا قال: مالك يوم الدين يقول الله تعالى أثنى علي عبدي وفوض أمره إلي فإذا قال: إياك نعبد وإياك نستعين إلى آخر السورة يقول الله تعالى هذا بيني وبين عبدي نصفين ولعبدي ما سأل" المقصود من هذا الخبر أن الله تعالى قال: قسمت الصلاة نصفين نصفها لي ونصفها لعبدي وهذه القسمة بناء على قراءة الفاتحة
--------------------------------------------
এটি, সুতরাং আমাকে শিখিয়ে দিন। এরপর তিনি বললেন: "যখন তুমি সালাতে দাঁড়াবে তখন তাকবির দেবে, এরপর কুরআন থেকে যা তোমার জন্য সহজ হয় তা পাঠ করবে, এরপর রুকু করবে..." হাদিসের শেষ পর্যন্ত। সুতরাং সুরা ফাতিহা পাঠ করা যদি রুকন হতো, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অবশ্যই তাকে তা শিখিয়ে দিতেন। কারণ তিনি তখন রুকনসমূহ বর্ণনা ও তা শিক্ষা দেওয়ার অবস্থায় ছিলেন। এটি প্রমাণ করে যে, রুকন হলো সাধারণভাবে কিরাত পাঠ করা।
তৃতীয়ত: আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে যা বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন: "বের হও এবং মদিনায় ঘোষণা করে দাও যে, কুরআন পাঠ ব্যতীত কোনো সালাত নেই, যদিও তা কেবল সুরা ফাতিহা হয়।"
ইমাম শাফেয়ী রাহিমাহুল্লাহর দলিলসমূহ কয়েকটি দিক থেকে:
প্রথমত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তেইশ বছর সময়কালে সালাত আদায় করেছেন এবং তাঁর সালাতে সুরা ফাতিহা পাঠ করেছেন। সুতরাং মহান আল্লাহর বাণী: {অতএব তোমরা তাঁর অনুসরণ করো} ১ এর কারণে সকল মানুষের জন্য তাঁর অনুসরণ করা ওয়াজিব। ফলে এটি স্পষ্ট হলো যে, ফাতিহা ব্যতীত সালাত জায়েজ নয়। কারণ যদি ফাতিহা ব্যতীত সালাত জায়েজ হতো, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্তত একবার হলেও তা ছেড়ে দিতেন। যেহেতু তিনি একবারও তা ত্যাগ করেননি, তাই জানা গেল যে ফাতিহা ব্যতীত সালাত জায়েজ নয়।
এর উত্তর: ইতিপূর্বে যা অতিক্রান্ত হয়েছে যে, কোনো কাজের ধারাবাহিকতা তা ওয়াজিব হওয়ার প্রমাণ দেয়, রুকন হওয়ার নয়। আমরাও সেই দাবিই করছি, কেননা আমাদের নিকট ফাতিহা পাঠ করা ওয়াজিব। আর ওয়াজিব হওয়ার অর্থ এই নয় যে, তা ছেড়ে দিলে সালাত বাতিল হয়ে যাবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা ওয়াজিব হওয়ার কারণেই বর্জন করেননি, আর ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়াজিব বর্জন করা জায়েজ নয়। সুতরাং তিনি যেভাবে সালাত আদায় করেছেন, সেই পদ্ধতির ওপর আমরা ঐকমত্য পোষণ করি।
দ্বিতীয়ত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা বলেন, আমি সালাতকে আমার ও আমার বান্দার মাঝে দুই ভাগে বিভক্ত করেছি। যখন বান্দা বলে: সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: আমার বান্দা আমার প্রশংসা করেছে। যখন সে বলে: পরম করুণাময়, অতি দয়ালু, তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: আমার বান্দা আমার মহিমা বর্ণনা করেছে। যখন সে বলে: বিচার দিবসের মালিক, তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: আমার বান্দা আমার গুণগান করেছে এবং তার সকল বিষয় আমার ওপর সোপর্দ করেছে। যখন সে বলে: আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য প্রার্থনা করি—সূরার শেষ পর্যন্ত, তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: এটি আমার ও আমার বান্দার মাঝে দুই ভাগে বিভক্ত, আর আমার বান্দা যা চেয়েছে তা-ই তার জন্য।" এই বার্তার উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহ তাআলা বলেছেন: আমি সালাতকে দুই ভাগে ভাগ করেছি, যার অর্ধেক আমার জন্য এবং অর্ধেক আমার বান্দার জন্য। আর এই বিভাজন সুরা ফাতিহা পাঠের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গুররাতুল মুনীফাহ ফী তাহকীকী বাদি মাসাইলি ইমাম আবী হানীফাহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
في الصلاة فلو صحت الصلاة بدونها لما صحت هذه القسمة.
الجواب عنه: المراد بالصلاة في هذا الحديث الفاتحة مجازا لأن الصلاة لا تجوز عنده ولا تكمل عندنا إلا بها فوجدت المناسبة بينهما ثم هذه القسمة لا تختص بالصلاة فإن الفاتحة تحميد وتمجيد وثناء ودعاء مطلقا سواء كان في الصلاة أو في غيرها فإذا قرأ العبد فاتحة الكتاب خارج الصلاة تصح هذه القسمة أيضا فلا تتعين كونها في الصلاة ولئن سلم كونها في الصلاة فلا تثبت الركنية بمثله إذ الركنية بخبر الواحد الصريح لاتثبت فبالمحتمل بطريق الأول: ى فغاية الحديث على تقدير التسليم أن تقتضي الوجوب فنحن نقول بموجبه:
الثالث: قوله عليه الصلاة والسلام: "لا صلاة إلا بفاتحة الكتاب".
الجواب عنه: أن الركنية لا تثبت بخبر الواحد بل يثبت به الوجوب فالذي ذهبنا إليه عمل بالكتاب والسنة حيث قلنا إن مطلق القراءة ركن بالكتاب وهو قوله تعالى: {فَاقْرَأُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ} 1 وتعيين الفاتحة واجب بالحديث عملا بالدليلين بقدر قوتهما والخصم مذهبه ضعيف من وجهين:
الأول: أنه حط رتبة الكتاب حيث زاد عليه بخبر الواحد.
والثاني: أنه رفع رتبة خبر الواحد حيث جعله ناسخا لإطلاق الكتاب التحقيق فيما قلناه حيث جمعنا بينهما وحملنا قوله عليه الصلاة والسلام: "لا صلاة إلا بفاتحة الكتاب" على نفي الكمال دون نفي الجواز فإن الصلاة بدون الفاتحة ناقصة عندنا وإليه الإشارة في قوله عليه الصلاة والسلام: "كل صلاة لا يقرأ فيها بفاتحة الكتاب فهي خداج" الخداج عبارة عن النقصان مع بقاء الذات دون البطلان كما في قوله عليه الصلاة والسلام: "لا صلاة لجار المسجد إلا في المسجد" الرابع: جميع أهل الشرق والغرب والموافق والمخالف يقرؤون بفاتحة
--------------------------------------------
সালাতে; সুতরাং যদি তা ব্যতীত সালাত শুদ্ধ হতো, তবে এই বিভাজন সঠিক হতো না।
এর উত্তর হলো: এই হাদিসে 'সালাত' দ্বারা রূপকভাবে সূরা ফাতিহা উদ্দেশ্য। কারণ তাঁর নিকট এটি ছাড়া সালাত বৈধ হয় না এবং আমাদের নিকট এটি ছাড়া সালাত পূর্ণাঙ্গ হয় না। ফলে উভয়ের মধ্যে একটি সামঞ্জস্য পাওয়া যায়। অতঃপর এই বিভাজন কেবল সালাতের সাথে নির্দিষ্ট নয়; কারণ সূরা ফাতিহা হলো সাধারণভাবে প্রশংসা, মহিমা কীর্তন, গুণগান এবং দুআ, তা সালাতের ভেতরে হোক বা বাইরে। সুতরাং বান্দা যখন সালাতের বাইরে ফাতিহাতুল কিতাব পাঠ করে, তখন এই বিভাজন সেখানেও কার্যকর হয়। তাই এটি সালাতের ক্ষেত্রে হওয়া আবশ্যক নয়। আর যদি মেনেও নেওয়া হয় যে এটি সালাতের মধ্যে, তবে এর দ্বারা রুকন হওয়া সাব্যস্ত হয় না; কারণ স্পষ্ট খবরে ওয়াহিদ দ্বারা রুকন হওয়া সাব্যস্ত হয় না, তবে অস্পষ্ট বা ব্যাখ্যামূলক বর্ণনার ক্ষেত্রে তা আরও অগ্রগণ্য। সুতরাং হাদিসটি মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে এর চূড়ান্ত দাবি হলো এটি ওয়াজিব হওয়াকে অপরিহার্য করবে, আর আমরা তার দাবি অনুযায়ীই বলে থাকি।
তৃতীয়ত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "সূরা ফাতিহা ব্যতীত কোনো সালাত নেই।"
এর উত্তর হলো: খবরে ওয়াহিদ দ্বারা রুকন হওয়া সাব্যস্ত হয় না, বরং এর দ্বারা ওয়াজিব সাব্যস্ত হয়। সুতরাং আমরা যা গ্রহণ করেছি তা কুরআন এবং সুন্নাহ উভয়টির ওপর আমল করার নামান্তর। কারণ আমরা বলেছি যে, সাধারণ কিরাত বা পাঠ করা কুরআনের দলিলে রুকন; আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {কুরআন থেকে যা সহজসাধ্য তা পাঠ করো।} ১ আর সূরা ফাতিহাকে নির্দিষ্ট করা হাদিসের ভিত্তিতে ওয়াজিব। এটি উভয় দলিলের শক্তিমত্তা অনুযায়ী উভয়ের ওপর আমল করার ভিত্তিতে। অন্যদিকে প্রতিপক্ষের মাযহাব দুই কারণে দুর্বল:
প্রথমত: তিনি কুরআনের মর্যাদাকে নিম্নগামী করেছেন যেহেতু তিনি খবরে ওয়াহিদের মাধ্যমে কুরআনের নির্দেশের ওপর অতিরিক্ত বিধান আরোপ করেছেন।
দ্বিতীয়ত: তিনি খবরে ওয়াহিদের মর্যাদাকে উন্নীত করেছেন যেহেতু তিনি একে কুরআনের সাধারণ নির্দেশের জন্য রহিতকারী হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। প্রকৃত সত্য হলো যা আমরা বলেছি, যেখানে আমরা উভয় দলিলের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী—"সূরা ফাতিহা ব্যতীত কোনো সালাত নেই"—একে পূর্ণাঙ্গতা না থাকার অর্থে গ্রহণ করেছি, সালাত বৈধ না হওয়ার অর্থে নয়। কারণ সূরা ফাতিহা ব্যতীত সালাত আমাদের নিকট অপূর্ণাঙ্গ। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীতে সেই দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে: "যে সালাতে ফাতিহাতুল কিতাব পাঠ করা হয় না, তা ত্রুটিপূর্ণ।" ত্রুটিপূর্ণ হওয়া বলতে মূল অস্তিত্ব বজায় থাকা সত্ত্বেও অপূর্ণতা থাকাকে বুঝায়, বাতিল হওয়াকে নয়। যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীতে রয়েছে: "মসজিদের প্রতিবেশীর সালাত মসজিদ ব্যতীত (পূর্ণাঙ্গ) হয় না।" চতুর্থত: পূর্ব ও পশ্চিমের সকল অধিবাসী এবং এর সাথে একমত পোষণকারী ও ভিন্নমত পোষণকারী সকলেই ফাতিহা পাঠ করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গুররাতুল মুনীফাহ ফী তাহকীকী বাদি মাসাইলি ইমাম আবী হানীফাহ
(পৃষ্ঠা: ৪০)
الكتاب في الصلاة فالمخالف لهم يدخل تحت الوعيد لقوله تعالى: {وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى} 1 الآية.
الجواب عنه: إنما لم نترك الفاتحة قصدا في الصلاة لأنها واجبة عندنا وترك الواجب قصدا لا يجوز فلا نكون مخالفين ولكن الكلام في كونها ركنا أو غير ركن ودليلكم لم يدل على كونها ركنا على أنا نعارضه بالمثل بأن نقول إن أهل الشرق والغرب كلهم يسبحون في الركوع والسجود فيقتضي أن تكون تسبيحات الركوع والسجود ركنا والمخالف لهم يدخل تحت هذا الوعيد فكل جواب للخصم في تلك الصورة فهو جواب لنا في هذه على أنه قد عرف بأنه قيل إن المراد بسبيل المؤمنين الإيمان فاتباع غير سبيل المؤمنين الكفر فيكون الوعيد للكفار لا لمن ترك الفاتحة في الصلاة والشافعي رحمه الله استدل به على كون الإجماع حجة وما سلم له الإستدلال به على ذلك فكيف نسلم استدلال الرازي به على كون الفاتحة ركنا في الصلاة وهو يعلم بضعف هذه الأدلة ولعل غرضه ترويج مذهبه على المقلدين فإنه يعلم قطعا أن كل شيء يفعله جميع المسلمين في الصلاة لا يقتضي أن يكون ركنا فيها.
الخامس: أن قوله تعالى: {فَاقْرَأُوا مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ} 2 في الحقيقة حجة للشافعي رحمه الله تقريره أن الخطاب بقوله فاقرؤوا متوجه إلى جميع الأمة فما تيسر لجميع الأمة يكون مراده به وقراءة الفاتحة متيسرة لهم فعلم أن هذا دليل ظاهر على أن الفاتحة ركن في الصلاة.
الجواب عنه: أن قول: {مَا تَيَسَّرَ مِنَ الْقُرْآنِ} أعم من أن يكون فاتحة الكتاب أو غير ذلك كسورة الإخلاص والكوثر والعصر وغيرها كما أن الفاتحة متيسرة لهم فكذلك سورة الإخلاص فتعيين الفاتحة بالإرادة من الآية دون
--------------------------------------------
সালাত সংক্রান্ত এই কিতাবে বর্ণিত বিষয়ে যারা তাদের বিরোধিতা করবে, তারা আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে শাস্তির হুমকির অন্তর্ভুক্ত হবে: “আর হেদায়েত স্পষ্ট হওয়ার পর যে ব্যক্তি রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে এবং মুমিনদের পথ ভিন্ন অন্য পথ অনুসরণ করে, তাকে আমি সেদিকেই ফিরিয়ে দেব যেদিকে সে ফিরেছে।” ১ - আয়াত।
এর উত্তর: আমরা সালাতে ইচ্ছাকৃতভাবে সূরা ফাতিহা বর্জন করি না, কারণ আমাদের নিকট এটি ওয়াজিব। আর ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়াজিব বর্জন করা বৈধ নয়, সুতরাং আমরা বিরুদ্ধাচরণকারী নই। কিন্তু আলোচনার বিষয় হলো এটি রুকন হওয়া বা না হওয়া নিয়ে। আপনাদের পেশকৃত দলিল এটি রুকন হওয়ার ওপর প্রমাণ দেয় না। অধিকন্তু, আমরা এর পাল্টা যুক্তি হিসেবে বলতে পারি যে, পূর্ব ও পশ্চিমের সকল মুসলমান রুকু ও সিজদাহয় তাসবিহ পাঠ করে থাকেন, এর দাবি অনুযায়ী তো রুকু ও সিজদাহর তাসবিহগুলোও রুকন হওয়া উচিত এবং এদের বিরোধিতাকারীও এই শাস্তির হুমকির আওতায় আসা উচিত। সুতরাং প্রতিপক্ষ ওই সুরতে যে উত্তর দেবেন, আমাদের ক্ষেত্রেও এই সুরতে তাই উত্তর হবে। তদুপরি এটি জানা কথা যে, বলা হয়েছে ‘মুমিনদের পথ’ দ্বারা ঈমানকে বোঝানো হয়েছে; সুতরাং মুমিনদের পথ ভিন্ন অন্য পথের অনুসরণ হলো কুফর। অতএব এই হুমকি কাফিরদের জন্য, সালাতে সূরা ফাতিহা বর্জনকারীর জন্য নয়। ইমাম শাফিয়ী (রহ.) এই আয়াত দ্বারা ইজমা হুজ্জাত হওয়ার সপক্ষে দলিল পেশ করেছেন, অথচ তাঁর সেই দলিলই প্রশ্নাতীতভাবে গ্রহণ করা হয়নি, এমতাবস্থায় ইমাম রাযী সালাতে সূরা ফাতিহা রুকন হওয়ার ব্যাপারে এই আয়াত দ্বারা দলিল পেশ করলে আমরা তা কীভাবে মেনে নেব? অথচ তিনি এই দলিলগুলোর দুর্বলতা সম্পর্কে অবগত। সম্ভবত তাঁর উদ্দেশ্য হলো মুকাল্লিদদের কাছে তাঁর মাযহাবের প্রচার করা; কেননা তিনি নিশ্চিতভাবে জানেন যে, মুসলমানরা সালাতে যা কিছু করে, তার সবকিছুই রুকন হওয়া অপরিহার্য করে না।
পঞ্চম: আল্লাহ তাআলার বাণী: “অতএব তোমরা কুরআন থেকে যা সহজসাধ্য তা পাঠ করো” ২ প্রকৃতপক্ষে ইমাম শাফিয়ী (রহ.)-এর সপক্ষে একটি দলিল। এর বিশ্লেষণ হলো, ‘তোমরা পাঠ করো’ সম্বোধনটি সমগ্র উম্মতের প্রতি নির্দেশিত। সুতরাং উম্মতের জন্য যা সহজসাধ্য, তা-ই এর দ্বারা উদ্দেশ্য হবে। আর সূরা ফাতিহা পাঠ করা তাদের সকলের জন্য সহজসাধ্য, তাই জানা গেল যে এটি সালাতে সূরা ফাতিহা রুকন হওয়ার ব্যাপারে একটি প্রকাশ্য দলিল।
এর উত্তর: “কুরআন থেকে যা সহজসাধ্য” কথাটি সূরা ফাতিহা অপেক্ষা ব্যাপক। এটি সূরা ইখলাস, কাওসার, আসর বা অন্য কিছুও হতে পারে। যেমন সূরা ফাতিহা তাদের জন্য সহজসাধ্য, ঠিক তেমনি সূরা ইখলাসও তাদের জন্য সহজসাধ্য। অতএব আয়াত থেকে অন্য কিছুর পরিবর্তে কেবল সূরা ফাতিহাকে নির্দিষ্ট করা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-গুররাতুল মুনীফাহ ফী তাহকীকী বাদি মাসাইলি ইমাম আবী হানীফাহ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
سورة الإخلاص وغيرها ترجيح بلا مرجح وتخصيص بلا مخصص وهو مكابرة ظاهرة.
مسألة: {بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ} ليست آية من الفاتحة بل هي آية مستقلة من القرآن أنزلت للفصل بين السور عند أبي حنيفة وأصحابه رضي الله عنهم وعند الشافعي رحمه الله هي آية من الفاتحة.
حجة أبي حنيفة رضي الله عنه ما جاء في صحيح مسلم من حديث أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: الله تعالى: "قسمت الصلاة بيني وبين عبدي نصفين نصفها لي ونصفها لعبدي ولعبدي ما سأل فاذا قال: الحمد لله رب العالمين يقول الله تعالى حمدني عبدي" إلى آخر الحديث الاحتجاج به من وجوه:
الأول: أنه عليه الصلاة والسلام لم يذكر التسمية فلو كانت آية من الفاتحة لذكرها
والثاني: أنه تعالى قال: "جعلت الصلاة" أي الفاتحة كما مر "بيني وبين عبدي نصفين" وهذا التنصيف إنما يحصل إذا قلنا إن التسمية ليست آية من الفاتحة لأن الفاتحة سبع ايات فيكون لله ثلاث ايات ونصف وهو من قوله: الحمد لله إلى قوله إياك نعبد وللعبد ثلاث آيات ونصف وهو من قوله: وإياك نستعين إلى آخر السورة فإذا جعلنا التسمية آية من الفاتحة حصل لله أربع آيات ونصف وللعبد إثنان ونصف وذلك يبطل التنصيف.
الثالث: ماجاء في صحيح مسلم عن عائشة رضي الله عنها كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يفتتح الصلاة بالتكبير والقراءة بالحمد لله رب العالمين فلو كانت التسمية آية منها لافتتح الصلاة بها.
الرابع: نقل أهل المدينة بأسرهم عن ابائهم التابعين عن الصحابة رضي الله عنهم افتتاح الصلاة بالحمد لله رب العالمين.
সূরা আল-ইখলাস ও অন্যান্য সূরার ক্ষেত্রে কোনো সংগত কারণ ছাড়াই প্রাধান্য দেওয়া এবং কোনো বিশেষত্ব ছাড়াই নির্দিষ্ট করা এক স্পষ্ট হঠকারিতা।
মাসআলা: বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম সূরা ফাতিহার অংশ নয়; বরং ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর অনুসারীদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মতে এটি কুরআনের একটি স্বতন্ত্র আয়াত যা সূরাগুলোর মধ্যে বিভাজন করার জন্য অবতীর্ণ হয়েছে। তবে ইমাম শাফেঈর (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) মতে এটি সূরা ফাতিহার একটি আয়াত।
ইমাম আবু হানিফার (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) দলিল হলো সহিহ মুসলিমে বর্ণিত আবু হুরাইরার (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) হাদিস, যা তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি সালাতকে (অর্থাৎ সূরা ফাতিহাকে) আমার ও আমার বান্দার মাঝে দুই ভাগে বিভক্ত করেছি। এর অর্ধেক আমার জন্য আর অর্ধেক আমার বান্দার জন্য, এবং আমার বান্দা যা প্রার্থনা করবে তা-ই পাবে। সুতরাং যখন সে বলে: 'সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য', তখন আল্লাহ তাআলা বলেন: 'আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল'..." হাদীসের শেষ পর্যন্ত। এর মাধ্যমে দলিল পেশ করার কয়েকটি দিক রয়েছে:
প্রথমত: নবী (তাঁর ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক) বিসমিল্লাহ উল্লেখ করেননি। যদি এটি সূরা ফাতিহার অংশ হতো, তবে তিনি অবশ্যই তা উল্লেখ করতেন।
দ্বিতীয়ত: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আমি সালাতকে (অর্থাৎ পূর্বোল্লিখিত সূরা ফাতিহাকে) আমার ও আমার বান্দার মাঝে দুই ভাগে বিভক্ত করেছি।" এই দ্বিভাজন তখনই সম্ভব হয় যখন আমরা বলব যে বিসমিল্লাহ সূরা ফাতিহার আয়াত নয়। কারণ সূরা ফাতিহা সাতটি আয়াত সংবলিত সূরা। এমতাবস্থায় আল্লাহর জন্য হবে সাড়ে তিন আয়াত, যা "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য" থেকে "আমরা কেবল তোমারই ইবাদত করি" পর্যন্ত। আর বান্দার জন্য হবে সাড়ে তিন আয়াত, যা "এবং আমরা কেবল তোমারই সাহায্য চাই" থেকে সূরার শেষ পর্যন্ত। কিন্তু যদি আমরা বিসমিল্লাহকে সূরা ফাতিহার অংশ ধরি, তবে আল্লাহর অংশে পড়বে সাড়ে চার আয়াত এবং বান্দার অংশে পড়বে আড়াই আয়াত, যা এই সমান দ্বিভাজনকে বাতিল করে দেয়।
তৃতীয়ত: সহিহ মুসলিমে আয়েশা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকবিরের মাধ্যমে সালাত এবং "সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য" পাঠের মাধ্যমে কিরাত শুরু করতেন। যদি বিসমিল্লাহ সূরার অংশ হতো, তবে তিনি তা দিয়েই কিরাত শুরু করতেন।
চতুর্থত: মদিনাবাসী সকলে তাঁদের পূর্বসূরি তাবেঈগণের মাধ্যমে এবং তাঁরা সাহাবিগণের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা "সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য" পাঠের মাধ্যমেই সালাত শুরু করতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-গুররাতুল মুনীফাহ ফী তাহকীকী বাদি মাসাইলি ইমাম আবী হানীফাহ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
الخامس: أن القرآن لا يثبت إلا بالتواتر ولا تواتر بكونها آية من الفاتحة.
السادس: أن العلماء اختلفوا في كونها أنها من الفاتحة وسوغوا الخلاف فيه وأدنى درجات الخلاف إيراث الشبهة والقرآن لا يثبت بدون اليقين.
حجة الشافعي رحمه الله: أن التسمية مكتوبة بخط المصحف فإنهم كانوا يشددون في منع كتابة ما ليس من القرآن مبالغة في حفظ القرآن وصيانته وتمييزه عما ليس منه.
الجواب عنه: أن القرآن يشترط فيه التواتر في المحل وعدم تواترة في المحل دليل على أنه ليس آية من الفاتحة فلا يثبت كونها من الفاتحة بالاحتمال غاية ما ذكرتم أن تقتضي كونها آية من القرآن وهو مسلم عندنا ولكن مطلوبكم كونها من الفاتحة ودليلكم لا يدل على ذلك وأما المعوذتان فلا خلاف في كونها من القرآن وغاية الأمر أنهما لم توجدا في مصحف ابن مسعود رضي الله عنه وذلك لا يدل على أنهما ليسا من القرآن فإن عدم كتابته بناء على وضوح أمرهما فإنه لم يصرح بأنهما ليسا من القرآن وقد وقع الإجماع والتواتر على أنهما من القرآن والله أعلم.
مسألة: لا يجب على المقتدي أن يقرأ الفاتحة أو القراءة خلف الإمام لا في صلاة سر ولا جهر عند أبي حنيفة وأصحابه رضي الله عنهم ومذهب الشافعي رحمه الله أن يقرأ الفاتحة إذا قرأ الإمام سرا أو جهرا وهو قول مالك رضي الله عنه.
حجة أبي حنيفة رضي الله عنه من وجوه:
الأول: ما رواه الترمذي عن أبي نعيم وهب بن كيسان أنه سمع جابر بن عبد الله يقول من صلى ركعة ولم يقرأ فيها بأم القرآن فلم يصل إلا أن يكون وراء الإمام قال: ابن عبد البر رواه يحيى بن سلام عن مالك عن أبي نعيم وهب بن كيسان عن جابر بن عبد الله رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم.
الثاني: قوله عليه الصلاة والسلام: "من كان له إمام فقراءة الإمام له
পঞ্চম: কুরআন কেবল মুতাওয়াতির বর্ণনার মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়, আর এটি (বিসমিল্লাহ) সূরা ফাতিহার আয়াত হওয়ার ব্যাপারে কোনো মুতাওয়াতির বর্ণনা নেই।
ষষ্ঠ: এটি ফাতিহার অংশ কি না সে বিষয়ে উলামাগণ মতভেদ করেছেন এবং তারা এ বিষয়ে ইজতিহাদকে বৈধ রেখেছেন। মতভেদের সর্বনিম্ন পর্যায় হলো সংশয় সৃষ্টি করা, আর কুরআন নিশ্চিত জ্ঞান ব্যতীত সাব্যস্ত হয় না।
ইমাম শাফেঈ (রহিমাহুল্লাহ)-এর দলিল: 'তাসমিয়াহ' (বিসমিল্লাহ) মুসহাফের লিপিতে লিখিত হয়েছে। অথচ সাহাবায়ে কেরাম কুরআনের সংরক্ষণ ও সুরক্ষার খাতিরে এবং কুরআনকে অন্য কিছু থেকে পৃথক করার জন্য যা কুরআন নয় তা লিখতে চূড়ান্ত কড়াকড়ি করতেন।
এর উত্তর: কুরআনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্থানে মুতাওয়াতির হওয়া শর্ত। আর সংশ্লিষ্ট স্থানে এর মুতাওয়াতির না হওয়া এ কথার প্রমাণ যে, এটি ফাতিহার কোনো আয়াত নয়। সুতরাং নিছক সম্ভাবনার ভিত্তিতে এটি ফাতিহার অংশ হিসেবে সাব্যস্ত হবে না। আপনাদের পেশকৃত দলিলের সর্বোচ্চ দাবি হতে পারে যে এটি কুরআনের একটি আয়াত, যা আমাদের নিকটও স্বীকৃত। কিন্তু আপনাদের দাবি হলো এটি ফাতিহার অংশ হওয়া, অথচ আপনাদের দলিল তা প্রমাণ করে না। আর 'মুআউবিযাতাইন' (সূরা ফালাক ও নাস) কুরআনের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই। বড়জোর এতটুকুই যে, সেগুলো ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মুসহাফে পাওয়া যায়নি। তবে এটি প্রমাণ করে না যে সেগুলো কুরআনের অংশ নয়। কারণ তাঁর না লেখার বিষয়টি ছিল সেগুলোর মর্যাদা অত্যন্ত সুস্পষ্ট হওয়ার কারণে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেননি যে সেগুলো কুরআনের অংশ নয়। বরং সেগুলো যে কুরআনের অংশ এ ব্যাপারে ইজমা এবং মুতাওয়াতির বর্ণনা বিদ্যমান। আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
মাসআলা: ইমাম আবু হানিফা এবং তাঁর সাথীদের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) মতে ইমামের পেছনে মুক্তাদির জন্য সূরা ফাতিহা বা অন্য কোনো তিলাওয়াত করা ওয়াজিব নয়, চাই তা নিভৃত সালাত হোক বা সশব্দ সালাত। ইমাম শাফেঈ (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাব হলো, ইমাম নিভৃতে বা সশব্দে যেভাবেই কিরাত পড়ুন না কেন মুক্তাদি ফাতিহা পাঠ করবে। ইমাম মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এরও একটি অভিমত এটিই।
ইমাম আবু হানিফা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর স্বপক্ষে বিভিন্ন দিক থেকে দলিল রয়েছে:
প্রথম: ইমাম তিরমিযী আবু নুআইম ওয়াহাব বিন কায়সান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি জাবির বিন আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছেন: "যে ব্যক্তি এক রাকাত সালাত আদায় করল অথচ তাতে উম্মুল কুরআন পাঠ করল না, সে যেন সালাতই আদায় করল না; তবে সে যদি ইমামের পেছনে থাকে (তবে ভিন্ন কথা)।" ইবনে আব্দুল বার বলেন: ইয়াহইয়া বিন সালাম এটি ইমাম মালিকের সূত্রে আবু নুআইম ওয়াহাব বিন কায়সান থেকে, তিনি জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন।
দ্বিতীয়: নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম)-এর বাণী: "যার ইমাম রয়েছে, তবে ইমামের কিরাতই তার জন্য কিরাত হিসেবে গণ্য হবে..."