(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মুশকিলাতুল ওয়ারিদাহ ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: -)
الأحاديث المشكلة الواردة في تفسير القرآن الكريم   (أحمد القصير)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: الأحاديْثُ المُشْكِلَةُ الواردةُ في تفسير القرآنِ الكريم (عَرْضٌ وَدِراسَةٌ)

المؤلف: د. أحمد بن عبد العزيز بن مُقْرِن القُصَيِّر

الناشر: دار ابن الجوزي للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1430 هـ

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

(وقد أهداه مؤلفه - جزاه الله خيرا - للمكتبة الشاملة)

تاريخ النشر بالشاملة: 30 ذو الحجة 1431

পবিত্র কুরআনের তাফসিরে বর্ণিত বাহ্যত পরস্পরবিরোধী হাদিসসমূহ   (আহমদ আল-কুসাইর)

বিভাগ: কুরআন বিজ্ঞান ও তাফসিরের মূলনীতিসমূহ


গ্রন্থ: পবিত্র কুরআনের তাফসিরে বর্ণিত বাহ্যত পরস্পরবিরোধী হাদিসসমূহ (উপস্থাপন ও পর্যালোচনা)

লেখক: ড. আহমদ বিন আব্দুল আজিজ বিন মুকরিন আল-কুসাইর

প্রকাশক: দার ইবনে আল-জাওজি প্রকাশনা ও বিতরণ, সৌদি আরব কিংডম

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩০ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

(এর লেখক এটি - আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন - আল-মাকতাবাতুশ শামিলাকে উপহার দিয়েছেন)

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৩০ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মুশকিলাতুল ওয়ারিদাহ ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১)
ـ[الأحاديْثُ المُشْكِلَةُ الواردةُ في تفسير القرآنِ الكريم (عَرْضٌ وَدِراسَةٌ)]ـ

المؤلف: د. أحمد بن عبد العزيز بن مُقْرِن القُصَيِّر

الناشر: دار ابن الجوزي للنشر والتوزيع، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1430 هـ

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

(وقد أهداه مؤلفه - جزاه الله خيرا - للمكتبة الشاملة)
[পবিত্র কুরআনের তাফসিরে বর্ণিত সমস্যাসংকুল হাদিসসমূহ (উপস্থাপন ও পর্যালোচনা)]

লেখক: ড. আহমদ বিন আব্দুল আজিজ বিন মুকরিন আল-কুসাইর

প্রকাশক: দার ইবনুল জাওজি প্রকাশনা ও বিতরণ, সৌদি আরব রাজতন্ত্র

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩০ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ১

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

(এর লেখক এটি আল-মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য উপহার হিসেবে প্রদান করেছেন - আল্লাহ তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন)
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মুশকিলাতুল ওয়ারিদাহ ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌أصل هذا الكتاب

اطروحة علمية تقدم بها المؤلف لنيل درجة الدكتوراه في التفسير وعلوم القرآن من جامعة أم القرى بمكة المكرمة، في كلية الدعوة وأصول الدين، قسم الكتاب والسنة.

وقد نوقشت من قبل اللجنة العلمية المكونة من أصحاب الفضيلة:

الدكتور: سليمان الصادق البيرة، الأستاذ المشارك في قسم الكتاب والسنة، في جامعة أم القرى، مشرفاً.

والدكتور: نايف بن قبلان العتيبي، الأستاذ في قسم الكتاب والسنة، في جامعة أم القرى، عضواً.

والدكتور: عادل بن علي الشدي، الأستاذ المشارك في كلية التربية، في جامعة الملك سعود، عضواً.

وأجيزت بتقدير ممتاز، مع مرتبة الشرف الأولى والتوصية بالطبع والتبادل مع الجامعات.

وتمت المناقشة مساء يوم الأربعاء الموافق: 20/ 5/1428هـ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌এই গ্রন্থের মূল পটভূমি

এটি লেখক কর্তৃক মক্কাতুল মুকাররমার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ ও উসুলুদ্দীন অনুষদের কিতাব ও সুন্নাহ বিভাগ থেকে তাফসীর ও উলূমুল কুরআনে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের জন্য পেশকৃত একটি বৈজ্ঞানিক অভিসন্দর্ভ।

এটি নিম্নোক্ত বিদগ্ধ ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত একটি বৈজ্ঞানিক কমিটির মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হয়েছে:

ডক্টর সুলাইমান আস-সাদিক আল-বীরা, সহযোগী অধ্যাপক, কিতাব ও সুন্নাহ বিভাগ, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় - তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে।

ডক্টর নায়েফ বিন কাবলান আল-উতায়েবী, অধ্যাপক, কিতাব ও সুন্নাহ বিভাগ, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় - সদস্য হিসেবে।

ডক্টর আদিল বিন আলী আশ-শাদ্দী, সহযোগী অধ্যাপক, শিক্ষা অনুষদ, কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয় - সদস্য হিসেবে।

এটি প্রথম শ্রেণির সম্মানসহ 'মুমতাজ' (চমৎকার) মান অর্জন করেছে এবং অভিসন্দর্ভটি মুদ্রণ ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে বিনিময়ের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

উক্ত আলোচনা ও মৌখিক পরীক্ষা ২০/০৫/১৪২৮ হিজরি মোতাবেক বুধবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মুশকিলাতুল ওয়ারিদাহ ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌المقدمة

إنَّ الحمدَ للهِ نحمدُه ونستعينُه ونستغفرُه ونتوبُ إليه، ونعوذُ بالله من شرورِ أنفسِنا، ومن سيئاتِ أعمالنا، من يهده الله فلا مُضِلَّ له، ومن يُضلل فلا هادي له، وأشهدُ أنْ لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهدُ أنَّ محمداً عبدُه ورسولُه، وصفوتُه من خلقه، بلّغ الرسالةَ، وأدّى الأمانةَ، ونصح الأمّةَ، وجاهدَ في الله حقَّ جهاده، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه وأتباعه إلى يوم الدين.

أما بعد:

فإنَّ المولى سبحانه أنزل كتابه (مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ) [آل عمران: 7]، وَوَكَلَ سبحانه بيان كتابه لنبيه صلى الله عليه وسلم، فجاءت السُّنةُ شارحةً للقرآن ومبيِّنةً له، تُفَسِّرُ مُبهَمه، وتُفَصِّلُ مُجْمَلَه، وتُقَيّد مُطْلَقه، وهي محكمةٌ في ذلك كله، إلا أنه رُبما وقع فيها ما يدخل في حكم المتشابه، فربما رُويَ عنه صلى الله عليه وسلم حديثاً يُوهِمُ معارضة آية قرآنية، وربما رُويَ عنه تفسير آيةٍ ما، وفي هذا التفسير ما يُوهِمُ معنىً مشكلاً.

ولما كانت نصوص الوحيين فيها محكم ومتشابه فقد نَفِذَ من تلك النصوص المتشابهة أعداءُ الإسلام؛ ليثيروا الشبهاتِ حولَ القرآنِ الكريمِ والسنةِ النبويةِ المطهرة، تارةً بالطعن فيهما، وتارةً بالتشكيك وإثارةِ الشبهِ حولهما، يريدون بذلك تضليلَ الأمة، وصدِّها عن دينها القويم، كما أخبر سبحانه عنهم بقوله: (فَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ) [آل عمران: 7].

إلا أنَّ الله رَدَّ كيدَهم في نحورهم؛ فهيأ لكتابه وسنةَ نبيه صلى الله عليه وسلم رجالاً
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য চাই, তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে বিভ্রান্ত করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে বিভ্রান্ত করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম মনোনীত ব্যক্তি। তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন। আল্লাহ তাঁর উপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সাহাবীগণ ও কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের অনুসারীদের উপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।

অতঃপর:

নিশ্চয়ই মহান প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর কিতাব অবতীর্ণ করেছেন যার (মধ্যে রয়েছে কিছু সুস্পষ্ট আয়াত, যা কিতাবের মূল ভিত্তি এবং অন্যগুলো অস্পষ্ট বা রূপক) [আলে ইমরান: ৭]। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর কিতাব বিবৃত করার দায়িত্ব তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর অর্পণ করেছেন। ফলে সুন্নাহ কুরআনের ব্যাখ্যাকারী ও বর্ণনাকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে; যা এর অস্পষ্ট বিষয়কে ব্যাখ্যা করে, সংক্ষিপ্ত বিষয়কে বিস্তারিত করে এবং সাধারণ বিষয়কে নির্দিষ্ট বা শর্তযুক্ত করে। এই সব ক্ষেত্রেই সুন্নাহ সুস্পষ্ট বা মুহকাম। তবে সুন্নাহর মধ্যেও কখনও কখনও এমন কিছু বিষয় চলে আসে যা অস্পষ্ট বা মুতাশাবিহ বিষয়ের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হয়। ফলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত কোনো হাদীস হয়তো কুরআনের কোনো আয়াতের সাথে আপাত বিরোধী বলে সংশয় সৃষ্টি করতে পারে, অথবা কোনো আয়াতের এমন কোনো ব্যাখ্যা বর্ণিত হতে পারে যা কোনো জটিল বা সমস্যাপূর্ণ অর্থের ধারণা দেয়।

যেহেতু উভয় ওহীর (কুরআন ও সুন্নাহ) ভাষ্যে সুস্পষ্ট (মুহকাম) ও অস্পষ্ট (মুতাশাবিহ) রয়েছে, তাই ইসলামের শত্রুরা এই অস্পষ্ট ভাষ্যগুলোকে ব্যবহার করে অনুপ্রবেশ করার সুযোগ নিয়েছে; যেন তারা পবিত্র কুরআন ও পবিত্র সুন্নাহ সম্পর্কে সংশয় সৃষ্টি করতে পারে। কখনও তারা এগুলোর ওপর কটাক্ষ করার মাধ্যমে, আবার কখনও সংশয় ও সন্দেহ তৈরির মাধ্যমে তা করে থাকে। এর দ্বারা তারা উম্মতকে পথভ্রষ্ট করতে এবং তাদের সঠিক দীন থেকে বিমুখ করতে চায়, যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের সম্পর্কে অবহিত করেছেন এই বাণীর মাধ্যমে: (যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে তারা ফিতনা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে যা অস্পষ্ট বা রূপক তার অনুসরণ করে) [আলে ইমরান: ৭]।

তবে আল্লাহ তাদের ষড়যন্ত্র তাদের দিকেই ফিরিয়ে দিয়েছেন; কারণ তিনি তাঁর কিতাব এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহর সুরক্ষার জন্য এমন সব ব্যক্তিদের প্রস্তুত করেছেন যারা...
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মুশকিলাতুল ওয়ারিদাহ ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৬)
أفذاذاً من علماء المسلمين، ينفون عنهما انتحال المبطلين وتحريف الغالين، فكشفوا زيفَ تلك الشبه والأكاذيب، وأزاحوا الستار عن خطرها وكيدها، ثم نظروا بعد ذلك في الصحيحِ من سُنَّةِ النبي صلى الله عليه وسلم، فيما يقع فيها من وهْمٍ وغَفْلةٍ، من رواةٍ ثقاتٍ عدول، فأبانوا عِللَها، وقَيَّدوا مُهْمَلَها، وأقاموا مُحرّفَها، وعانَوا سقيمها، وصححوا مُصحّفها (1)، وبيَّنوا أنَّ نصوص الوحيين حقٌّ وصدقٌ، لا تتعارض ولا تتناقض، وقد ألّفوا في ذلك تصانيف عِدَّة، اتخذها من جاء بعدهم قُدْوَة، فجزاهم الله عنا وعن سعيهم الحميدِ خير الجزاء، وجعلنا وإياهم عند لقائه من السعداء.

إلا أنَّ الأحاديثَ المُشْكِلَة - التي تتعلق بالتفسير - لا تزال تحتاجُ إلى مزيدٍ من الدراسةِ والتحقيق؛ إذ إنَّ علماءَنا رحمهم الله لم يفردوها بالدراسةِ على حِدة، وإنما كانت مبثوثةً في ثنايا كُتُبِهم؛ وقد يجد من يقفُ على بعضٍ من هذه الأحاديثِ صعوبةً في تحريرها، وجمعِ شتاتِ أقوالِ العلماء فيها، فتبقى الشبهةُ عالقةً في ذهنه دون جواب، ومن هذا المنطلقِ أحببتُ إفراد هذا الموضوعِ بالتصنيف، وعرضَ مسائِله بالدراسة والتحقيق، على منهجِ سلفِنا الصالحِ - رضوانُ الله عليهم - مُدعِّماً ذلك بأقوالهم وآرائِهم.

ويمكنُ إجمالُ أهميةِ الموضوعِ، وسببِ اختيارهِ في النقاط الآتية:

1 - أنه قد أُلّفَ في مشكلِ القرآنِ (2)، ومشكلِ الحديثِ (3)، على حين لم يُفردْ بالتصنيفِ الأحاديثُ التي تردُ في التفسير، وتُعدُّ: مشكلةً في ذاتها، أو يُوهِمُ ظاهرُها التعارضُ مع القرآنِ الكريم (4)، أو يُوهِمُ ظاهرُها التعارضُ فيما بينها.

--------------------------------------------

(1) انظر: مشارق الأنوار، للقاضي عياض (1/ 2).

(2) الكتب المؤلفة في مشكل القرآن أغلبها يتناول الآيات التي يوهم ظاهرها التعارض فيما بينها، ككتاب: «مشكل القرآن»، لابن قتيبة، وكتاب «دفع إيهام الاضطراب عن آي الكتاب»، للشنقيطي.

(3) الكتب المؤلفة في مشكل الحديث أغلبها يتناول الأحاديث التي يوهم ظاهرها التعارض فيما بينها، أو الأحاديث المشكلة في ذاتها، ككتاب: «تأويل مختلف الحديث»، لابن قتيبة، وكتاب «مشكل الحديث وبيانه»، لابن فورك، وكتاب «مشكل الآثار»، للطحاوي.

(4) للإمام نجم الدين سليمان بن عبد القوي الطوفي الحنبلي المقدسي، المتوفى سنة (710هـ) كتاب بعنوان «دفع التعارض عما يُوهِمُ التناقض في الكتاب والسنة»، ذكره حاجي خليفة في كشف الظنون (1/ 756)، ولم أقف عليه مطبوعاً أو مخطوطاً.
মুসলমান আলিমদের মধ্যে এমন কিছু অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্ব রয়েছেন, যারা এই দুই ওহী থেকে বাতিলপন্থীদের মিথ্যাচার এবং অতিরঞ্জনকারীদের বিকৃতি দূর করেন। তারা সেই সকল সংশয় ও মিথ্যার স্বরূপ উন্মোচন করেছেন এবং সেগুলোর বিপদ ও ষড়যন্ত্রের পর্দা সরিয়ে দিয়েছেন। অতঃপর তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর সহীহ বর্ণনাগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করেছেন—যেখানে নির্ভরযোগ্য ও ন্যায়পরায়ণ রাবীদের থেকে কোনো বিভ্রান্তি বা অসতর্কতা ঘটেছে। ফলে তারা সেগুলোর ইল্লত (নিগূঢ় ত্রুটি) স্পষ্ট করেছেন, অস্পষ্ট বিষয়গুলো নির্দিষ্ট করেছেন, বিকৃত বিষয়গুলো সংশোধন করেছেন, দুর্বল বর্ণনার কষ্ট স্বীকার করে তা চিহ্নিত করেছেন এবং শব্দগত ভুল সংশোধন করেছেন (১)। তারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, উভয় ওহীর ভাষ্যসমূহ সত্য ও সঠিক, সেগুলোর মাঝে কোনো বৈপরীত্য বা অসঙ্গতি নেই। এই বিষয়ে তারা অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা তাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আদর্শ হিসেবে গৃহীত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা আমাদের পক্ষ থেকে এবং তাদের এই প্রশংসনীয় প্রচেষ্টার জন্য তাদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁর সাথে সাক্ষাতের সময় আমাদের ও তাদেরকে সৌভাগ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত করুন।

তবে তাফসীর সংক্রান্ত জটিল (মুশকিল) হাদীসসমূহ—যা ব্যাখ্যার সাথে সম্পৃক্ত—সেগুলোর জন্য আরও অধিক অধ্যয়ন ও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। কেননা আমাদের আলিমগণ (রহিমাহুল্লাহ) এগুলোকে আলাদাভাবে একক গবেষণার বিষয়বস্তু করেননি, বরং এগুলো তাদের কিতাবসমূহের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। ফলে যারা এই ধরণের কিছু হাদীস সম্পর্কে জানতে চান, তারা অনেক সময় সেগুলোর বিশ্লেষণ এবং আলিমদের বিচ্ছিন্ন মতামতগুলো একত্রিত করতে সমস্যার সম্মুখীন হন। ফলে সংশয়টি কোনো উত্তর ছাড়াই তাদের মনে গেঁথে থাকে। এই প্রেক্ষাপট থেকেই আমি এই বিষয়টি এককভাবে রচনার জন্য পছন্দ করেছি এবং আমাদের সালাফে সালেহীন (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর মানহাজ বা পদ্ধতি অনুযায়ী সেগুলোর মাসআলাসমূহ অধ্যয়ন ও গবেষণার মাধ্যমে উপস্থাপন করেছি, যা তাঁদের বক্তব্য ও মতামতের মাধ্যমে সমৃদ্ধ।

এই বিষয়ের গুরুত্ব এবং এটি নির্বাচনের কারণসমূহ নিচের পয়েন্টগুলোতে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

১ - মুশকিলুল কুরআন (২) এবং মুশকিলুল হাদীস (৩) বিষয়ে গ্রন্থ রচিত হয়েছে, অথচ তাফসীরের ক্ষেত্রে বর্ণিত হাদীসগুলোকে এককভাবে বিন্যস্ত করা হয়নি; যা কি না স্বয়ংক্রিয়ভাবে জটিল কিংবা যেগুলোর বাহ্যিক রূপ কুরআনে কারীমের সাথে (৪) অথবা একে অপরের সাথে বৈপরীত্যের প্রতীয়মান করে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: কাযী ইয়ায রচিত মাশারিকুল আনওয়ার (১/২)।

(২) মুশকিলুল কুরআন বিষয়ে রচিত কিতাবগুলোর অধিকাংশ সেই সব আয়াত নিয়ে আলোচনা করে, যেগুলোর বাহ্যিক রূপ একে অপরের সাথে বৈপরীত্যের ধারণা দেয়; যেমন ইবনে কুতায়বাহ-এর ‘মুশকিলুল কুরআন’ এবং শানকীতী-এর ‘দাফউ ইহামিল ইদতিরাব আন আয়িল কিতাব’।

(৩) মুশকিলুল হাদীস বিষয়ে রচিত কিতাবগুলোর অধিকাংশ সেই সব হাদীস নিয়ে আলোচনা করে, যেগুলোর বাহ্যিক রূপ একে অপরের সাথে বৈপরীত্যের ধারণা দেয় কিংবা যা সরাসরি জটিল; যেমন ইবনে কুতায়বাহ-এর ‘তাওয়ীলু মুখতালিফিল হাদীস’, ইবনে ফুরাক-এর ‘মুশকিলুল হাদীস ওয়া বায়ানুহু’ এবং ত্বহাবী-এর ‘মুশকিলুল আসার’।

(৪) ইমাম নাজমুদ্দীন সুলাইমান ইবনে আব্দুল কাভী আত-তূফী আল-হাম্বালী আল-মাকদিসী (মৃত ৭১০ হি.)-এর ‘দাফউত তাআরুদ আম্মা ইউহিমুত তানাখুদ ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ’ শিরোনামে একটি কিতাব রয়েছে। হাজী খলীফা ‘কাশফুয যুনুন’ (১/৭৫৬) গ্রন্থে এর কথা উল্লেখ করেছেন, তবে আমি এটি মুদ্রিত বা পাণ্ডুলিপি আকারে পাইনি।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মুশকিলাতুল ওয়ারিদাহ ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৭)
2 - الرَّدُ على مطاعنِ أعداءِ الإسلام، والتصدي لكل ما يُثار حول القرآن الكريم والسنة النبوية.

3 - إبرازُ عظمةِ الوحيين، وخلوِهِما من التناقض.

4 - بيانُ عنايةِ علماءِ الأمةِ بهذا الموضوع.
২ - ইসলামের শত্রুদের অপবাদের জবাব দেওয়া এবং পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ সম্পর্কে উত্থাপিত সকল সংশয় ও আপত্তির মোকাবিলা করা।

৩ - ওহীদ্বয়ের (কুরআন ও সুন্নাহ) মাহাত্ম্য ফুটিয়ে তোলা এবং এ দুটির বৈপরীত্য ও অসংগতিমুক্ত হওয়াকে স্পষ্ট করা।

৪ - এই বিষয়ের প্রতি উম্মতের আলিমগণের গুরুত্ব ও মনোযোগ প্রদানের বিষয়টি বর্ণনা করা।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মুশকিলাতুল ওয়ারিদাহ ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌خطة البحث

يتكونُ البحثُ من مقدمةٍ، وقسمين، وخاتمة.

المقدمة: وفيها بيانُ أهميةِ الموضوع، وسببِ اختياره، وخطةِ البحث، والمنهجِ المتبعِ فيه.

القسم الأول: دراسةٌ نظريةٌ في الأحاديثِ المُشْكِلَةِ الواردةِ في تفسير القرآن الكريم، وفيه فصول:

الفصلُ الأول: تعريفُ المشكل، وبيانُ الفرقِ بينه وبين التعارضِ والمختلف، وفيه مباحث:

الأول: تعريفُ المشكل في اللغة والاصطلاح.

الثاني: تعريف التعارض في اللغة والاصطلاح.

الثالث: تعريف المختلف في اللغة والاصطلاح.

الرابع: الفرق بين المشكل والتعارض والمختلف.

الفصل الثاني: أسباب التعارض، وشروطه، ومسالك العلماء في دفعه، وفيه مباحث:

الأول: أسباب وقوع التعارض بين النصوص الشرعية.

الثاني: شروط التعارض بين النصوص الشرعية.

الثالث: مسالك العلماء في دفع التعارض بين النصوص الشرعية.

الفصل الثالث: المراد بالأحاديث المشكلة الواردة في تفسير القرآن الكريم، وبيان الفرق بينها وبين مشكل القرآن، ومشكل الحديث، وفيه مباحث:

الأول: المراد بالأحاديث المشكلة الواردة في تفسير القرآن الكريم.

الثاني: الفرق بين الأحاديث المشكلة الواردة في تفسير القرآن الكريم، ومشكل القرآن.
গবেষণা পরিকল্পনা

গবেষণাটি একটি ভূমিকা, দুইটি অংশ এবং একটি উপসংহার নিয়ে গঠিত।

ভূমিকা: এতে বিষয়ের গুরুত্ব, এটি নির্বাচনের কারণ, গবেষণা পরিকল্পনা এবং এতে অনুসৃত পদ্ধতির বর্ণনা রয়েছে।

প্রথম অংশ: পবিত্র কুরআনের তাফসিরে বর্ণিত মুশকিল হাদিসসমূহের একটি তাত্ত্বিক পর্যালোচনা; এতে কয়েকটি অধ্যায় রয়েছে:

প্রথম অধ্যায়: মুশকিল-এর সংজ্ঞা এবং এর সাথে পরস্পরবিরোধিতা (তাআরুদ) ও ভিন্নতাপূর্ণ (মুখতালিফ) হাদিসের পার্থক্যের বর্ণনা; এতে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে মুশকিল-এর সংজ্ঞা।

দ্বিতীয়: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে পরস্পরবিরোধিতা (তাআরুদ)-এর সংজ্ঞা।

তৃতীয়: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে ভিন্নতাপূর্ণ (মুখতালিফ)-এর সংজ্ঞা।

চতুর্থ: মুশকিল, পরস্পরবিরোধিতা এবং ভিন্নতাপূর্ণ হাদিসের মধ্যকার পার্থক্য।

দ্বিতীয় অধ্যায়: পরস্পরবিরোধিতার কারণ, শর্তাবলি এবং তা নিরসনে আলেমদের অনুসৃত পন্থাসমূহ; এতে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম: শরয়ি নস বা পাঠ্যপ্রমাণসমূহের মধ্যে পরস্পরবিরোধিতা ঘটার কারণসমূহ।

দ্বিতীয়: শরয়ি নস বা পাঠ্যপ্রমাণসমূহের মধ্যে পরস্পরবিরোধিতার শর্তাবলি।

তৃতীয়: শরয়ি নস বা পাঠ্যপ্রমাণসমূহের মধ্যে বিদ্যমান পরস্পরবিরোধিতা নিরসনে আলেমদের অনুসৃত পন্থাসমূহ।

তৃতীয় অধ্যায়: পবিত্র কুরআনের তাফসিরে বর্ণিত মুশকিল হাদিসসমূহ দ্বারা যা উদ্দেশ্য এবং এর সাথে 'মুশকিলুল কুরআন' ও 'মুশকিলুল হাদিস'-এর পার্থক্যের বর্ণনা; এতে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম: পবিত্র কুরআনের তাফসিরে বর্ণিত মুশকিল হাদিসসমূহ দ্বারা যা উদ্দেশ্য।

দ্বিতীয়: পবিত্র কুরআনের তাফসিরে বর্ণিত মুশকিল হাদিসসমূহ এবং মুশকিলুল কুরআন-এর মধ্যকার পার্থক্য।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মুশকিলাতুল ওয়ারিদাহ ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১০)
الثالث: الفرق بين الأحاديث المشكلة الواردة في تفسير القرآن الكريم، ومشكل الحديث.

الفصل الرابع: عناية العلماء بالأحاديث المشكلة الواردة في تفسير القرآن الكريم، وفيه أربعة مباحث:

الأول: أحاديث التفسير المشكلة في كتب «التفسير وعلوم القرآن».

الثاني: أحاديث التفسير المشكلة في كتب «مشكل الحديث».

الثالث: أحاديث التفسير المشكلة في كتب «الحديث وشروحه».

الرابع: أحاديث التفسير المشكلة في كتبٍ أخرى متفرقة.

القسم الثاني: دراسة تطبيقية للأحاديث المُشْكِلَة الواردة في تفسير القرآن الكريم، وفيه فصول:

الفصل الأول: الأحاديث التي يُوهِمُ ظاهرها التعارض مع القرآن الكريم.

الفصل الثاني: الأحاديث التي ترد في تفسير آيةٍ ما، ويُوهِمُ ظاهرها التعارض فيما بينها.

الفصل الثالث: الأحاديث التي ترد في تفسير آيةٍ ما، ويُوهِمُ ظاهرها معنىً مشكلاً.
তৃতীয়: পবিত্র কুরআনের তাফসির সংক্রান্ত দুর্বোধ্য হাদিসসমূহ এবং ‘মুশকিলুল হাদিস’-এর মধ্যে পার্থক্য।

চতুর্থ অধ্যায়: পবিত্র কুরআনের তাফসির সংক্রান্ত দুর্বোধ্য হাদিসসমূহের প্রতি আলেমদের বিশেষ মনোযোগ, এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম: «তাফসির ও উলূমুল কুরআন» বিষয়ক গ্রন্থসমূহে তাফসির সংক্রান্ত দুর্বোধ্য হাদিসসমূহ।

দ্বিতীয়: «মুশকিলুল হাদিস» বিষয়ক গ্রন্থসমূহে তাফসির সংক্রান্ত দুর্বোধ্য হাদিসসমূহ।

তৃতীয়: «হাদিস ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ» সমূহে তাফসির সংক্রান্ত দুর্বোধ্য হাদিসসমূহ।

চতুর্থ: অন্যান্য বিবিধ গ্রন্থসমূহে তাফসির সংক্রান্ত দুর্বোধ্য হাদিসসমূহ।

দ্বিতীয় বিভাগ: পবিত্র কুরআনের তাফসিরে বর্ণিত দুর্বোধ্য হাদিসসমূহের প্রায়োগিক অধ্যয়ন, এতে কয়েকটি অধ্যায় রয়েছে:

প্রথম অধ্যায়: ওই সকল হাদিস যার বাহ্যিক দিক পবিত্র কুরআনের সাথে বিরোধের বিভ্রম সৃষ্টি করে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: কোনো আয়াতের তাফসিরে বর্ণিত ওই সকল হাদিস যেগুলোর বাহ্যিক রূপ নিজেদের মধ্যে বিরোধের বিভ্রম সৃষ্টি করে।

তৃতীয় অধ্যায়: কোনো আয়াতের তাফসিরে বর্ণিত ওই সকল হাদিস যেগুলোর বাহ্যিক রূপ কোনো দুর্বোধ্য অর্থের বিভ্রম সৃষ্টি করে।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মুশকিলাতুল ওয়ারিদাহ ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌منهج البحث

اصطنعت منهجاً في البحث يقوم على الخطوات الآتية:

1 - جمعُ الأحاديثِ المشكلة - الواردة في تفسير القرآن الكريم - من كتب: الحديث، والتفسير، ومشكل الحديث، وشروح الحديث، وغيرها من مظان مشكل الحديث.

2 - اقتصرتُ على دراسةِ الأحاديث المشكلة الواردة في الكتب التسعة، وهي: صحيحا البخاري ومسلم، وسننُ أبي داود، والترمذي، والنسائي، وابنُ ماجة، والدارمي، وموطأ مالك، ومسندُ الإمام أحمد. (1)

3 - قمتُ بدراسة جميع الأحاديث المشكلة الواردة في تفسير جميع سور القرآن.

4 - جعلتُ البحث في مسائل، وقسَّمتُ المسائل على ثلاثة فصول، ورتبتها في كل فصل حسب ترتيب سور وآيات القرآن الكريم.

5 - في كل مسألة أذكر المباحث الآتية:

الأول: ذكرُ الآيةِ، أو الآيات الواردة في المسألة، وإذا كان في المسألة أكثرُ من آية فإني أذكر بعضها وأحيل في الحاشية على المتبقي منها.

الثاني: ذكرُ الأحاديث المشكلة الواردة في تفسير الآية أو الآيات، وقد جعلتُ للأحاديث رقماً متسلسلاً في البحث كله، وعددها [76] حديثاً،

وجعلتُ لكل حديثٍ رقمين: الأول ويعني التسلسل العام للأحاديث في البحث كله،

--------------------------------------------

(1) جميع الأحاديث المشكلة الواردة في هذا البحث لم تخرج عن هذا الشرط؛ ما عدا قصة الغرانيق، فإنها لم تروَ في شيء من الكتب التسعة، وقد عمدتُ إلى دراستها نظراً لأهميتها، واتكاء عدد من المستشرقين عليها، واتخاذها أداة للطعن في نبينا الكريم صلى الله عليه وسلم.
গবেষণা পদ্ধতি

আমি গবেষণার ক্ষেত্রে এমন একটি পদ্ধতি অবলম্বন করেছি যা নিম্নোক্ত ধাপগুলোর ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত:

১ - কুরআনুল কারিমের তাফসির সংক্রান্ত মুশকিল (আপাত-অসংগতিপূর্ণ) হাদিসসমূহ সংগ্রহ করা—হাদিস, তাফসির, মুশকিলুল হাদিস ও হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং মুশকিলুল হাদিস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন অন্যান্য উৎসসমূহ থেকে।

২ - আমি গবেষণাকে শুধুমাত্র ‘কুতুবে তিসআ’ বা নয়টি কিতাবে বর্ণিত মুশকিল হাদিসসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছি। কিতাবগুলো হলো: সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ, দারেমি, মুয়াত্তা মালিক এবং ইমাম আহমদের মুসনাদ। (১)

৩ - আমি কুরআনের সকল সূরার তাফসির সংশ্লিষ্ট সকল মুশকিল হাদিস নিয়ে আলোচনা সম্পন্ন করেছি।

৪ - আমি গবেষণাকে বিভিন্ন মাসআলায় (বিষয়) বিন্যস্ত করেছি এবং এই মাসআলাগুলোকে তিনটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি। প্রত্যেক পরিচ্ছেদে কুরআনের সূরা ও আয়াতের ক্রম অনুসারে সেগুলো সাজিয়েছি।

৫ - প্রত্যেক মাসআলায় আমি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো উল্লেখ করেছি:

প্রথম: মাসআলা সংশ্লিষ্ট আয়াত বা আয়াতসমূহ উল্লেখ করা। যদি কোনো মাসআলায় একাধিক আয়াত থাকে, তবে আমি কিছু আয়াত উল্লেখ করেছি এবং অবশিষ্টাংশের জন্য টীকায় তথ্যসূত্র প্রদান করেছি।

দ্বিতীয়: আয়াত বা আয়াতসমূহের তাফসিরে বর্ণিত মুশকিল হাদিসগুলো উল্লেখ করা। আমি সম্পূর্ণ গবেষণায় হাদিসগুলোর একটি নিরবচ্ছিন্ন ক্রমিক নম্বর প্রদান করেছি এবং এর মোট সংখ্যা হলো [৭৬] টি হাদিস।

আমি প্রত্যেক হাদিসের জন্য দুইটি নম্বর নির্ধারণ করেছি: প্রথমটি দ্বারা সম্পূর্ণ গবেষণায় হাদিসটির সাধারণ ক্রমধারা বোঝানো হয়েছে,

--------------------------------------------

(১) এই গবেষণায় উল্লিখিত সকল মুশকিল হাদিস এই শর্তের বহির্ভূত নয়; কেবল গারানিকের কাহিনী ব্যতীত। কারণ এটি নয়টি কিতাবের কোনোটিতেই বর্ণিত হয়নি। তবে বিষয়টির গুরুত্ব এবং বেশ কয়েকজন প্রাচ্যবিদের এর ওপর নির্ভর করা ও একে আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শানে কটাক্ষ করার হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করার কারণে আমি এটি নিয়ে পর্যালোচনার সংকল্প করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মুশকিলাতুল ওয়ারিদাহ ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১২)
والثاني ويعني تسلسل الأحاديث ذات المعنى المختلف؛ فإذا كان الحديث - في المسألة الواحدة - شاهداً للذي قبله، وفي معناه، وليس فيه معنىً زائداً؛ جعلتُ رقمه الثاني خالياً من الترقيم هكذا: ( .. )؛ للدلالة على أنه بمعنى الذي قبله، وإذا كان يحمل معنى زائداً جعلتُ له رقماً خاصاً، وهكذا.

وقد بلغ مجموع الأحاديث التي تمت دراستها بجميع الروايات [89] حديثاً، وبلغ مجموع الأحاديث ذات المعنى المختلف [76] حديثاً.

الثالث: بيان وجه الإشكال في الأحاديث.

الرابع: ذكر مسالك العلماء في توجيه الإشكال، مع بيان أدلتهم إن وجدت.

الخامس: بيان القول الراجح في كل مسألة، مع ذكر حجة الترجيح.

6 - اقتصرتُ على دراسة الصحيح، أو المختلف في تصحيحه، من الأحاديث المشكلة في التفسير، دون المتفق على تضعيفه، إلا أنْ يرد في المسألة الواحدة أكثر من حديث فإني أذكرها جميعاً وإن كان بعضها متفقاً على ضعفه، بشرط أنْ لا تخرج عن الكتب التسعة.

7 - ضابط الأحاديث المشكلة في هذا البحث: ما نص عالم أو أكثر على وجود الإشكال أو نفيه (1)، مع مراعاة اصطلاح المحدِّثين دون الأصوليين في ضابط المشكل. (2)

8 - لم أدخل في هذا البحث أحاديث الصفات، والتي يعدها البعض من المشكل. (3)

9 - خرّجتُ الأحاديث الواردة في ثنايا البحث من الكتب المعتمدة في ذلك، فإن كانت في الصحيحين أو في أحدهما اكتفيت بهما لصحتهما، وإذا لم تكن فيهما فإني أخرجها من مظانها في كتب الحديث الأخرى، وأذكر كلام أهل العلم فيها؛ فإن لم أجد اجتهدتُ رأيي في الحكم على الحديث حسب الصناعة الحديثية.

--------------------------------------------

(1) ويدخل في هذا الضابط: ما نص عالم أو أكثر على وجود التعارض أو نفيه.

(2) لمعرفة الفرق بين اصطلاح المحدِّثين والأصوليين في تعريف المشكل انظر: ص (10) وما بعدها.

(3) أحاديث الصفات يعدها بعض الأشاعرة من الأحاديث المشكلة، ومن الذين قالوا بإشكالها:

ابن فورك، والسيوطي.
দ্বিতীয়ত, এটি ভিন্ন অর্থবোধক হাদীসসমূহের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে; যদি কোনো হাদীস—একটি নির্দিষ্ট মাসআলায়—পূর্ববর্তী হাদীসটির সমর্থক এবং একই অর্থবোধক হয় এবং তাতে কোনো অতিরিক্ত অর্থ না থাকে, তবে আমি তার দ্বিতীয় নম্বরটি সংখ্যাবিহীন রেখে এভাবে ( .. ) লিখেছি; এটি নির্দেশ করতে যে এটি পূর্ববর্তী হাদীসের অর্থই বহন করে। আর যদি তাতে অতিরিক্ত কোনো অর্থ থাকে, তবে আমি সেটিকে একটি স্বতন্ত্র নম্বর প্রদান করেছি, এবং এভাবেই কাজ করা হয়েছে।

সমস্ত বর্ণনা সহকারে অধ্যয়নকৃত হাদীসের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে [৮৯] টি, আর ভিন্ন অর্থবিশিষ্ট হাদীসের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে [৭৬] টি।

তৃতীয়: হাদীসসমূহে বিদ্যমান জটিলতার দিকগুলো বর্ণনা করা।

চতুর্থ: জটিলতা নিরসনে ওলামায়ে কেরামের কর্মপন্থাগুলো উল্লেখ করা এবং তাদের কোনো দলিল থাকলে তা বর্ণনা করা।

পঞ্চম: প্রতিটি মাসআলায় অগ্রগণ্য মতটি বর্ণনা করা এবং তা অগ্রাধিকার দেওয়ার যুক্তি বা প্রমাণ উল্লেখ করা।

৬ - তাফসীর সংক্রান্ত জটিল হাদীসসমূহের মধ্যে আমি কেবল সহীহ অথবা যার বিশুদ্ধতা নিয়ে মতভেদ আছে এমন হাদীসগুলো পর্যালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছি। যে হাদীসগুলোর দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে সেগুলো বর্জন করেছি; তবে শর্ত হলো যদি একটি নির্দিষ্ট মাসআলায় একাধিক হাদীস বর্ণিত হয়, তবে আমি সেগুলো সব উল্লেখ করেছি যদিও তাদের কোনোটির দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য থাকে, যদি তা নয়টি মৌলিক হাদীস গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে।

৭ - এই গবেষণায় জটিল হাদীস নির্ধারণের মানদণ্ড হলো: যে বিষয়ে একজন বা একাধিক আলেম জটিলতার অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন (১), এক্ষেত্রে জটিল হাদীসের মানদণ্ড নির্ধারণে উসূলবিদদের পরিভাষার পরিবর্তে মুহাদ্দিসগণের পরিভাষা বিবেচনা করা হয়েছে। (২)

৮ - আমি এই গবেষণায় আল্লাহর গুণাবলি সংক্রান্ত হাদীসসমূহ অন্তর্ভুক্ত করিনি, যেগুলোকে কেউ কেউ জটিল হাদীসের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করেন। (৩)

৯ - গবেষণার মাঝে উল্লেখিত হাদীসগুলো আমি এ সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহ থেকে উৎস নির্দেশ করেছি; যদি সেগুলো সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) বা এর কোনো একটিতে থেকে থাকে, তবে তাদের বিশুদ্ধতার কারণে সেগুলোর উদ্ধৃতিই যথেষ্ট মনে করেছি। আর যদি সেগুলোতে না থাকে, তবে আমি অন্যান্য হাদীস গ্রন্থসমূহের সম্ভাব্য উৎস থেকে সেগুলো সংগ্রহ করেছি এবং সেগুলোর ব্যাপারে বিজ্ঞ আলেমদের বক্তব্য উল্লেখ করেছি। যদি কোনো বক্তব্য না পাই, তবে হাদীসশাস্ত্রীয় রীতি অনুযায়ী হাদীসটির হুকুম নির্ধারণে আমার নিজস্ব বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করেছি।

--------------------------------------------

(১) এই মানদণ্ডের অন্তর্ভুক্ত হলো: যার ব্যাপারে একজন বা একাধিক আলেম বিরোধপূর্ণ হওয়ার অস্তিত্ব বা অনস্তিত্ব সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

(২) জটিল হাদীসের সংজ্ঞায় মুহাদ্দিস ও উসূলবিদদের পরিভাষাগত পার্থক্য জানতে দেখুন: পৃষ্ঠা (১০) ও পরবর্তী অংশ।

(৩) আল্লাহর গুণাবলি সংক্রান্ত হাদীসসমূহকে কিছু আশআরী আলেম জটিল হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেছেন; আর যারা এগুলোকে জটিল বলেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: ইবনে ফুরাক এবং আস-সুয়ূতী।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মুশকিলাতুল ওয়ারিদাহ ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৩)
وقد توسعت في تخريج الأحاديث المشكلة - الواردة في كل مسألة - فبينت طرقها ومخارجها وما فيها من علل إن وجدت، وذلك لما في التوسع من فائدة لمعرفة منشأ الإشكال، والذي غالباً ما يكون بسبب وهم أو اضطراب من بعض الرواة، وأما إذا كان الحديث ليس هو في صلب المسألة؛ فإني اختصر في تخريجه وبيان حكمه، إلا أن يكون معلولاً وهو محل استدلال فإني ربما توسعت في تخريجه لبيان علله.

10 - خرّجتُ الآثار من الكتب المعتمدة في ذلك قدر جهدي واستطاعتي.

11 - تركتُ الآثار المروية عن الصحابة والتابعين دون حكم على أسانيدها؛ إلا ما كان له أثر على الخلاف في المسألة، أو كان له حكم الرفع؛ فإني أبين حكمه حسب ما ورد في الفقرة التاسعة.

12 - وثّقتُ القراءات من مصادرها الأصلية.

13 - بيَّنْتُ معاني الكلمات الغريبة التي تحتاج إلى بيان عند أول ورودها، وذلك بالرجوع إلى مصادرها المختصة.

14 - خرّجتُ الأبيات الشعرية من دواوين قائليها إن وجدت، وإلا فمن المعاجم التي تذكر الأبيات، مع عزو البيت لقائله.

15 - ترجمتُ للأعلام غير المشهورين الذين يردون في البحث.

16 - عند إيراد إسنادِ حديثٍ ما فإني لا أترجم لرجال إسناده؛ إلا إذا تطلب الأمر ذلك؛ لفائدة تتعلق بالراوي أو السند.

17 - أشرتُ إلى مواضع الآيات، بذكر أسماء السور وأرقام الآيات.

18 - عرّفتُ بالأماكن المبهمة - التي تُذكر في البحث - عند أول ورودها، وذلك بالرجوع إلى المعاجم المختصة.

 

الخاتمة: وذكرتُ فيها أهم النتائج التي توصلت إليها من خلال البحث.

 

‌‌شكر وتقدير

وفي ختام هذه المقدمة أرى لزاماً علي أن أُزجي الشكر والثناء لكل من أعانني على إتمام هذا البحث، فبعد شكر الله تعالى الذي له الحمد أولاً وآخراً أتوجه بالشكر الجزيل لوالدي الكريمين، فقد كان فضلهما علي عظيماً، وهما اللذان غرسا في نفسي حب الخير والعلم وأهله، وقد كان لتشجيعهما ووقوفهما معي الأثر البالغ في مواصلة مسيرتي العلمية، فلا أملك في هذا المقام إلا أن أرفع أكف الضراعة إلى الله تعالى بأن يرحمهما كما ربياني
প্রতিটি মাসআলায় বর্ণিত জটিল (মুশকিলাত) হাদিসগুলোর তাখরিজের ক্ষেত্রে আমি বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমি সেগুলোর সূত্র, উৎস এবং যদি কোনো ত্রুটি থাকে তা বর্ণনা করেছি। এর কারণ হলো, বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার উৎস জানার উপকারিতা পাওয়া যায়, যা সাধারণত কোনো বর্ণনাকারীর বিভ্রম বা অস্থিরতার (ইদতিরাব) কারণে ঘটে থাকে। আর হাদিসটি যদি মাসআলার মূল ভিত্তি না হয়, তবে আমি এর তাখরিজ ও হুকুম বর্ণনায় সংক্ষেপ করেছি। তবে যদি তা ত্রুটিযুক্ত (মালুল) হয় এবং তা থেকে দলিল গ্রহণ করা হয়, তবে আমি তার ত্রুটিগুলো বর্ণনার জন্য তাখরিজে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

১০ - আমি আমার সাধ্য ও সামর্থ্য অনুযায়ী নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ থেকে আসারসমূহ (বর্ণনাসমূহ) তাখরিজ করেছি।

১১ - আমি সাহাবী ও তাবেয়ীদের থেকে বর্ণিত আসারগুলোর সনদের ওপর হুকুম লাগানো বর্জন করেছি; তবে মাসআলার মতপার্থক্য নিরসনে যার প্রভাব রয়েছে অথবা যা মারফু হওয়ার হুকুম রাখে, তার হুকুম আমি নবম অনুচ্ছেদে বর্ণিত নিয়ম অনুযায়ী উল্লেখ করেছি।

১২ - আমি কিরাতসমূহকে তাদের মূল উৎস থেকে যাচাই করেছি।

১৩ - আমি অপ্রচলিত শব্দগুলোর অর্থ প্রথমবার আসার সময় বিশেষায়িত উৎসসমূহের বরাতে ব্যাখ্যা করেছি।

১৪ - আমি কাব্যগ্রন্থসমূহ থেকে কবিতার পঙক্তিগুলোর উৎস বের করেছি (যদি পাওয়া যায়), অন্যথায় অভিধানসমূহ থেকে তা উল্লেখ করেছি এবং কবিতার পঙক্তিটিকে তার কবির দিকে সম্বন্ধ করেছি।

১৫ - গবেষণায় আসা অপ্রসিদ্ধ ব্যক্তিবর্গের সংক্ষিপ্ত জীবনী বর্ণনা করেছি।

১৬ - কোনো হাদিসের সনদ উল্লেখ করার সময় আমি সনদের বর্ণনাকারীদের জীবনী বর্ণনা করিনি; তবে বর্ণনাকারী বা সনদ সংক্রান্ত কোনো বিশেষ প্রয়োজনে যদি দরকার হয়, তবে করেছি।

১৭ - আমি সূরার নাম ও আয়াতের নম্বর উল্লেখের মাধ্যমে আয়াতের অবস্থান নির্দেশ করেছি।

১৮ - গবেষণায় উল্লেখিত অস্পষ্ট স্থানগুলোর পরিচয় প্রথমবার আসার সময় বিশেষায়িত অভিধানসমূহের বরাতে প্রদান করেছি।

 

উপসংহার: এতে আমি এই গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলো উল্লেখ করেছি।

 

‌‌কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ

এই ভূমিকার শেষে, যারা আমাকে এই গবেষণা সম্পন্ন করতে সাহায্য করেছেন তাদের সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জ্ঞাপন করা আমি আমার জন্য আবশ্যক মনে করি। প্রথম ও শেষে সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; এরপর আমি আমার সম্মানীত পিতা-মাতাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমার প্রতি তাদের অনুগ্রহ ছিল অপরিসীম, তারাই আমার অন্তরে কল্যাণ, জ্ঞান এবং জ্ঞানীদের প্রতি ভালোবাসা রোপণ করেছেন। আমার শিক্ষা জীবন অব্যাহত রাখতে তাদের উৎসাহ ও পাশে থাকা অত্যন্ত গভীর প্রভাব ফেলেছে। এই মুহূর্তে মহান আল্লাহর দরবারে বিনীতভাবে দুই হাত তুলে প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁদের প্রতি তেমনি দয়া করেন যেমনটি তাঁরা শৈশবে আমাকে লালন-পালন করার সময় করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মুশকিলাতুল ওয়ারিদাহ ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৪)
صغيراً، وأن يرزقني برهما والقيام بحقهما على الوجه الذي يُرضيه عني.

كما أتقدم بالشكر لفضيلة شيخي وأستاذي سعادة الدكتور سليمان الصادق البيرة، حفظه الله ورعاه، الذي تفضل بقبول الإشراف على هذه الرسالة، وقد أعطاني من وقته - مع كثرة أعماله وأشغاله - الشيء الكثير، وكان لآرائه وتوجيهاته الأثر الكبير في تقويم هذا البحث، وإخراجه بهذه الحلة، فجزاه الله عني خير الجزاء، وأجزل له المثوبة والعطاء.

كما أتوجه بالشكر لجامعة أم القرى ممثلة في كلية الدعوة وأصول الدين، قسم الكتاب والسنة، التي منحتني الفرصة لمواصلة تعليمي العالي، والتزود من معين العلم الشرعي، وأخص بالشكر سعادة عميد الكلية الدكتور عبد الله بن محمد الرميان، حفظه الله ورعاه، فقد كان معروفه علي وارفاً، وله وقفات، ستبقى خالدةً لا تُنسى.

 

وبعد: فقد بذلت قصارى جهدي في إخراج هذا البحث على أحسن ما يكون، متحرياً فيه الدقة والأمانة العلمية، فما كان من صواب فمن الله وحده، وله الشكر على ذلك، وما كان من خطأ فمن نفسي والشيطان، وأستغفر الله من ذلك.

وفي الختام: أسأل الله العلي القدير أن يجعل عملي هذا خالصاً لوجهه الكريم، وأن ينفعني به دنياً وأخرى، وأن يكلل جميع أعمالي بالتوفيق والنجاح، إنه ولي ذلك والقادر عليه، وصلى الله وبارك على سيدنا ونبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

 

20/ 5/1428 هـ

 

*****
ছোটবেলায় (যেমন তারা আমাকে লালন-পালন করেছিলেন), এবং তিনি যেন আমাকে তাদের প্রতি সদ্ব্যবহার করার এবং তাদের প্রাপ্য অধিকার এমনভাবে আদায় করার তাওফিক দান করেন যা তাঁর কাছে পছন্দনীয় হয়।

সেই সাথে আমি আমার সম্মানিত শাইখ ও উস্তাদ ডক্টর সুলাইমান আস-সাদিক আল-বীরা (আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন এবং তাঁর রক্ষণাবেক্ষণ করুন)-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি, যিনি অনুগ্রহ করে এই গবেষণাপত্রটির তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁর অসংখ্য কর্মব্যস্ততা থাকা সত্ত্বেও আমাকে অনেক সময় দিয়েছেন। এই গবেষণার মানোন্নয়নে এবং একে বর্তমান রূপে প্রকাশে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ও দিকনির্দেশনার এক বড় প্রভাব রয়েছে। আল্লাহ তাঁকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং তাঁকে প্রচুর সওয়াব ও দান প্রদান করুন।

এছাড়াও আমি উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, বিশেষ করে দাওয়াহ ও উসুলুদ দ্বীন অনুষদের কিতাব ও সুন্নাহ বিভাগকে, যারা আমাকে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার এবং শরয়ি ইলমের ঝরনাধারা থেকে জ্ঞান আহরণের সুযোগ করে দিয়েছেন। আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি অনুষদের সম্মানিত ডিন ডক্টর আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-রুমায়্যানকে (আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন ও তাঁর রক্ষণাবেক্ষণ করুন), কেননা আমার ওপর তাঁর অশেষ অনুগ্রহ রয়েছে এবং তাঁর এমন কিছু অবদান রয়েছে যা চিরকাল অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

 

অতঃপর: আমি এই গবেষণাপত্রটি সর্বোত্তম আকারে প্রকাশ করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি এবং এতে নির্ভুলতা ও বৈজ্ঞানিক আমানতদারিতার প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রেখেছি। এতে যা কিছু সঠিক তা একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর তার জন্য শুকরিয়া কেবল তাঁরই। আর যা কিছু ভুল হয়েছে তা আমার নিজের এবং শয়তানের পক্ষ থেকে, আর এ জন্য আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

পরিশেষে: আমি মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার এই কাজটিকে কেবল তাঁরই সম্মানিত চেহারার (সন্তুষ্টির) জন্য কবুল করেন, এবং এর মাধ্যমে আমাকে ইহকাল ও পরকালে উপকৃত করেন। তিনি যেন আমার সকল কাজকে তাওফিক ও সাফল্যের মাধ্যমে পূর্ণতা দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীদের ওপর দরুদ ও বরকত বর্ষণ করুন।

 

২০/ ৫/ ১৪২৮ হিজরি

 

*****
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মুশকিলাতুল ওয়ারিদাহ ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌القسم الأول

دراسة نظرية في الأحاديث المُشْكِلَة الواردة في تفسير القرآن الكريم
প্রথম অংশ

পবিত্র কুরআনের তাফসিরের ক্ষেত্রে বর্ণিত অস্পষ্ট হাদিসসমূহের একটি তাত্ত্বিক আলোচনা
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মুশকিলাতুল ওয়ারিদাহ ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌الفصل الأول

تعريف المشكل، وبيان الفرق بينه وبين التعارض والمختلف

وفيه مباحث:
প্রথম পরিচ্ছেদ

'মুশকিল'-এর সংজ্ঞা এবং এর সাথে 'তাআরুদ' ও 'মুখতালিফ'-এর মধ্যকার পার্থক্যের বর্ণনা

এতে কয়েকটি আলোচনা রয়েছে:
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মুশকিলাতুল ওয়ারিদাহ ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৮)
الفصل الأول: تعريف المشكل، وبيان الفرق بينه وبين التعارض والاختلاف.

 

‌‌المبحث الأول: تعريف المُشْكِل في اللغة والاصطلاح:

 

‌‌المطلب الأول: تعريف المُشْكِل في اللغة:

المُشْكِل: اسم فاعل، مِنْ أشْكَلَ يُشْكِلُ إشْكالاً؛ فهو مُشْكِلٌ.

واسم الفاعل من غير الثُلاثي يأتي على زِنَةِ مُضارِعه، بإبدال حرف المضارعة ميماً مضمومة، وكسر ما قبل الآخر. (1)

والمعنى اللغوي للمُشْكِل يدور حول: الاختلاط، والالتباس، والاشتباه، والمماثلة. (2)

تقول: أشكل عليَّ الأمر، أي: اختلط بغيره. (3)

ويُقال: حرف مُشْكِلٌ، أي: مُشْتَبِهٌ مُلتبسٌ، وأمورٌ أشكال، أي: ملتبسة، وبينهم أشكلة، أي: لبس. (4)

والشَّكْلُ: الشَّبَهُ والمِثْلُ، والجمع أشْكَالٌ، وشُكُولٌ، يُقال: هذا أشْكَلُ بكذا، أي:

أشْبَه. (5)

--------------------------------------------

(1) انظر: شذا العرف في فن الصرف، لأحمد بن محمد الحملاوي، ص (97).

(2) انظر: مشكل القرآن، للمنصور، ص (46).

(3) انظر: الزاهر في معاني كلمات الناس، لابن الأنباري (2/ 151)، وتهذيب اللغة، للأزهري

(10/ 25).

(4) انظر: تهذيب اللغة، للأزهري (10/ 25)، ولسان العرب، لابن منظور (11/ 357)، والمصباح المنير، للفيومي، ص (321).

(5) انظر: مختار الصحاح، لأبي بكر بن عبد القادر الرازي (1/ 145)، والقاموس المحيط، للفيروز آبادي، ص (1317).
প্রথম অধ্যায়: মুশ্কিল (অস্পষ্ট বিষয়)-এর সংজ্ঞা এবং এর সাথে বৈপরীত্য ও পার্থক্যের বর্ণনা।

 

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে মুশ্কিল-এর সংজ্ঞা:

 

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: আভিধানিক অর্থে মুশ্কিল-এর সংজ্ঞা:

মুশ্কিল: এটি একটি কর্তৃবাচক বিশেষ্য (ইসম ফায়িল), যা 'আশকালা-ইউশকিলু-ইশকালান' ক্রিয়ামূল থেকে নির্গত; সুতরাং এটি 'মুশ্কিল'।

তিন অক্ষরবিশিষ্ট নয় এমন ক্রিয়ামূল থেকে কর্তৃবাচক বিশেষ্য তার বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন রূপের (মুদারি) ওজনে গঠিত হয়; এক্ষেত্রে বর্তমানকালীন আলামতকে একটি পেশযুক্ত 'মিম' দ্বারা পরিবর্তন করতে হয় এবং শেষ অক্ষরের পূর্ববর্তী বর্ণে জের প্রদান করতে হয়। (১)

আভিধানিক অর্থে 'মুশ্কিল' বিষয়টি সংমিশ্রণ, সংশয়, অস্পষ্টতা এবং সাদৃশ্যকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। (২)

বলা হয়: বিষয়টি আমার নিকট 'আশকালা' হয়েছে, অর্থাৎ তা অন্য বিষয়ের সাথে সংমিশ্রিত হয়ে গেছে। (৩)

আরও বলা হয়: 'মুশ্কিল' বর্ণ, অর্থাৎ সংশয়যুক্ত ও অস্পষ্ট বর্ণ; এবং 'আশকাল' বিষয়সমূহ, অর্থাৎ অস্পষ্ট বিষয়াবলি; আর তাদের মাঝে 'আশকালা' রয়েছে, অর্থাৎ সংশয় বা অস্পষ্টতা রয়েছে। (৪)

আর 'আশ-শাকলু' অর্থ হলো সাদৃশ্য ও অনুরূপ হওয়া, এর বহুবচন হলো 'আশকাল' এবং 'শুকুল'। বলা হয়: এটি ওটির সাথে 'আশকাল', অর্থাৎ অধিক সদৃশ। (৫)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: শাযাল উরফ ফি ফান্নিস সরফ, আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আল-হামলাভি, পৃষ্ঠা (৯৭)।

(২) দেখুন: মুশ্কিলুল কুরআন, আল-মানসুর, পৃষ্ঠা (৪৬)।

(৩) দেখুন: আয-যাহির ফি মা'আনি কালিমাতিন নাস, ইবনুল আনবারি (২/ ১৫১), এবং তাহযিবুল লুগাহ, আল-আযহারি

(১০/ ২৫)।

(৪) দেখুন: তাহযিবুল লুগাহ, আল-আযহারি (১০/ ২৫), লিসানুল আরব, ইবনু মানযুর (১১/ ৩৫৭), এবং আল-মিসবাহুল মুনির, আল-ফাইয়ুমি, পৃষ্ঠা (৩২১)।

(৫) দেখুন: মুখতারুস সিহাহ, আবু বকর বিন আব্দুল কাদির আর-রাযি (১/ ১৪৫), এবং আল-কামুসুল মুহিত, আল-ফিরোযাবাদি, পৃষ্ঠা (১৩১৭)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মুশকিলাতুল ওয়ারিদাহ ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ১৯)
قال ابن فارس (1):

«الشين والكاف واللام، مُعظمُ بابِهِ المُماثَلة، تقول: هذا شَِكْل هذا، أي: مِثْلُه، ومن ذلك يُقال: أمرٌ مُشْكِل، كما يُقال: أمرٌ مُشْتبِه». اهـ (2)

 

‌‌المطلب الثاني: تعريف المُشْكِل في الاصطلاح:

تباينت آراء العلماء في تعريف المُشْكِل، فتعريفه عند الأصوليين يختلف عن تعريفه عند المُحَدِّثين والمفسرين، وسأذكر أولاً تعريفه عند أهل كلِّ فن، ثم أُبَيّن أوجه الفرق بين هذه التعريفات، ثم بعد هذا سأذكر تعريفاً جامعاً مانعاً يضبط معناه في اصطلاح المحدثين؛ لأن ما يعنينا في هذا البحث هو معناه في اصطلاح المحدثين دون الأصوليين، ثم أُتْبِع ذلك كله بتعريفٍ عامٍ للمشكل، يشمل معناه في اصطلاح الأصوليين، والمحدثين، والمفسرين.

 

‌‌أولاً: تعريف المُشْكِل في اصطلاح الأصوليين:

أكثر من تناول تعريف المُشْكِل في اصطلاح الأصوليين هم علماء الحنفية، وقد عرَّفه السرخسي (3)، بقوله: «هو اسم لما يشتبه المراد منه، بدخوله في أشكاله على وجهٍ لا يُعرف المُراد إلا بدليل يتميز به من بين سائر الأشكال». اهـ (4)

وقد أوضح السرخسي مراده بهذا التعريف عند بيانه للفرق بين المُشْكِل والمجمل، فقال: «والمُشْكِل قريب من المجمل، ولهذا خفي على بعضهم فقالوا: المُشْكِل والمجمل سواء، ولكن بينهما فرق، فالتمييز بين الإشكال ـ ليوقف على المراد ـ قد يكون بدليل آخر، وقد يكون بالمبالغة في التأمل حتى يظهر به الراجح، فيتبين به المراد، فهو من هذا الوجه قريب من الخفي، ولكنه فوقه، فهناك الحاجة إلى التأمل في الصيغة وفي أشكالها، وحكمه

--------------------------------------------

(1) هو: أحمد بن فارس بن زكريا، القزويني الرازي، أبو الحسين: من أئمة اللغة والأدب، من تصانيفه (مقاييس اللغة)، و (المجمل)، و (الصاحبي) في علم العربية، ألفه لخزانة الصاحب بن عباد، و (جامع التأويل) في تفسير القرآن، وغيرها، توفي سنة (395هـ). انظر: سير أعلام النبلاء، للذهبي

 

(17/ 103)، والأعلام، للزركلي (1/ 193).

(2) معجم مقاييس اللّغة، لابن فارس (3/ 204).

(3) هو: محمد بن أحمد بن سهل، أبو بكر، السرخسي، شمس الأئمة: قاضٍ، من كبار الأحناف، مجتهد، من أهل سرخس (في خراسان). أشهر كتبه (المبسوط) في الفقه والتشريع، ثلاثون جزءاً، أملاه وهو سجين بالجب في أوزجند (بفرغانة) وله (شرح الجامع الكبير للإمام محمد) و (الأصول) في أصول الفقه، وغيرها. وكان سبب سجنه كلمة نصح بها الخاقان، ولما أُطلق سكن فرغانة إلى أن توفي بها سنة

(483هـ). انظر: الأعلام، للزركلي (5/ 315).

(4) أصول السرخسي (1/ 168).
ইবন ফারিস বলেছেন (১):

«শীন, কাফ এবং লাম; এই মূলশব্দটির অধিকাংশ ব্যবহারের ভিত্তি হলো সাদৃশ্য। আপনি বলেন: এটি এর শিক্ল (শিন-কাফ-লাম), অর্থাৎ: এটি তার মতো। আর এখান থেকেই বলা হয়: বিষয়টি মুশকিল (জটিল/অস্পষ্ট), যেমনটি বলা হয়: বিষয়টি মুশতাবিহ (সন্দিগ্ধ)»। সমাপ্ত। (২)

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পারিভাষিক অর্থে মুশকিল-এর সংজ্ঞা:

মুশকিল-এর সংজ্ঞা প্রদানে আলিমদের মতামত ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে। উসুলবিদদের নিকট এর সংজ্ঞা মুহাদ্দিস ও মুফাসসিরদের দেওয়া সংজ্ঞা থেকে ভিন্ন। আমি প্রথমে প্রত্যেক শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট এর সংজ্ঞা উল্লেখ করব, এরপর এই সংজ্ঞাগুলোর মধ্যকার পার্থক্যের দিকগুলো স্পষ্ট করব। এরপর মুহাদ্দিসদের পরিভাষায় এর অর্থ সুনির্দিষ্ট করার জন্য একটি جامع مانع (সারগর্ভ ও ব্যবচ্ছেদকারী) সংজ্ঞা উল্লেখ করব; কারণ এই গবেষণায় আমাদের উদ্দেশ্য হলো মুহাদ্দিসদের পরিভাষা অনুযায়ী এর অর্থ জানা, উসুলবিদদের পরিভাষা নয়। এরপর আমি মুশকিল-এর একটি সাধারণ সংজ্ঞা প্রদান করব, যা উসুলবিদ, মুহাদ্দিস এবং মুফাসসিরদের পারিভাষিক অর্থকে শামিল করবে।

 

‌‌প্রথমত: উসুলবিদদের পরিভাষায় মুশকিল-এর সংজ্ঞা:

উসুলবিদদের পরিভাষায় মুশকিল-এর সংজ্ঞা নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা করেছেন হানাফী আলিমগণ। আস-সারাকসী (৩) এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন: «এটি এমন একটি নাম, যা দ্বারা এমন বিষয়কে বোঝানো হয় যার উদ্দেশ্য অস্পষ্ট হয়ে যায় তার সমজাতীয় বিষয়গুলোর মধ্যে এমনভাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে যে, স্বতন্ত্র কোনো দলিল ছাড়া যা দ্বারা তাকে অন্যান্য সমজাতীয় রূপ থেকে পৃথক করা যায়, তার প্রকৃত উদ্দেশ্য চেনা সম্ভব হয় না»। সমাপ্ত। (৪)

আস-সারাকসী মুশকিল এবং মুজমাল-এর মধ্যে পার্থক্য বর্ণনা করার সময় এই সংজ্ঞার উদ্দেশ্য আরও স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেন: «মুশকিল হলো মুজমালের কাছাকাছি বিষয়। এই কারণেই কারো কারো নিকট বিষয়টি অস্পষ্ট হওয়ায় তারা বলেছেন: মুশকিল এবং মুজমাল একই। কিন্তু তাদের উভয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। মুশকিল-এর অস্পষ্টতা দূর করা—যাতে উদ্দেশ্য অনুধাবন করা যায়—তা কখনো অন্য কোনো দলিলের মাধ্যমে হতে পারে, আবার কখনো গভীর চিন্তাভাবনার মাধ্যমে হতে পারে যতক্ষণ না তার মাঝে অগ্রগণ্য বিষয়টি প্রকাশ পায় এবং তার মাধ্যমে উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়। ফলে এটি এই দিক থেকে খাফী (অস্পষ্ট)-র কাছাকাছি, তবে এটি তার চেয়ে উপরের স্তরের। তাই এখানে শব্দগঠন এবং তার সমজাতীয় রূপগুলোর ওপর গভীর চিন্তার প্রয়োজন হয়, আর এর বিধান হলো...

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন: আহমদ বিন ফারিস বিন যাকারিয়া, আল-কাযভিনী আর-রাযী, আবু আল-হুসাইন: ভাষা ও সাহিত্যের ইমামদের অন্তর্ভুক্ত। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে (মাকায়িসুল লুগাহ), (আল-মুজমাল), (আস-সাহিবী) যা তিনি সাহেব ইবন আব্বাদের গ্রন্থাগারের জন্য ইলমে আরাবিয়্যাহ বিষয়ে রচনা করেছিলেন এবং কুরআনের তাফসীরে (জামি আত-তাবিল) ইত্যাদি। তিনি ৩৯৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: সিয়ারু আলামিন নুবালা, আয-যাহাবী

 

(১৭/ ১০৩), এবং আল-আলাম, আয-যিরিকলী (১/ ১৯৩)।

(২) মুজাম মাকায়িসুল লুগাহ, ইবন ফারিস (৩/ ২০৪)।

(৩) তিনি হলেন: মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন সাহল, আবু বকর, আস-সারাকসী, শামসুল আইম্মাহ: একজন বিচারক (কাযী), বড় হানাফী আলিমদের অন্যতম এবং মুজতাহিদ। তিনি সারাকস (খোরাসান) এলাকার অধিবাসী ছিলেন। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে ফিকহ ও আইনশাস্ত্রের ওপর (আল-মাবসুত), যা ত্রিশ খণ্ডে সমাপ্ত; এটি তিনি উযজান্দ (ফারগানা) এলাকায় কূপে কারাবন্দী থাকা অবস্থায় মুখস্থ বলে লিখিয়েছিলেন। এছাড়াও তাঁর রয়েছে (শারহুল জামি আল-কাবীর লিল ইমাম মুহাম্মদ) এবং উসুলুল ফিকহ বিষয়ে (আল-উসুল) ইত্যাদি। তাঁর কারাবরণের কারণ ছিল একটি নসিহত যা তিনি খাকানকে দিয়েছিলেন। যখন তিনি মুক্তি পান, তখন ফারগানায় বসবাস করেন এবং সেখানেই ৪৮৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আল-আলাম, আয-যিরিকলী (৫/ ৩১৫)।

(৪) উসুলুস সারাকসী (১/ ১৬৮)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মুশকিলাতুল ওয়ারিদাহ ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২০)
اعتقاد الحقيقة فيما هو المراد، ثم الإقبال على الطلب والتأمل فيه إلى أنْ يتبين المراد فيعمل به.

وأما المجمل فهو ضد المُفَسَّر، مأخوذ من الجملة، وهو لفظ لا يُفهم المراد منه إلا باستفسار من المُجْمِلِ، وبيان من جهته يُعرف به المراد.

وبهذا يتبين أنَّ المجمل فوق المُشْكِل؛ فإنَّ المراد في المُشْكِل قائم، والحاجة إلى تمييزه من أشكاله، والمراد في المجمل غير قائم، ولكن فيه توهم معرفة المراد بالبيان

والتفسير». اهـ (1)

وعرَّفه الشاشي (2) فقال: «هو ما ازداد خفاءً على الخفي، كأنه بعدما خفي على السامع حقيقة دخل في أشكاله وأمثاله، حتى لا يُنال المراد إلا بالطلب ثم بالتأمل، حتى يتميز عن أمثاله». اهـ (3)

وعرَّفه أبو زيد الدَّبُوسي (4)، فقال: «هو الذي أشكل على السامع طريق الوصول إلى المعنى الذي وضعه له واضع اللغة، أو أراده المستعير». اهـ (5)

وعرَّفه الجُرْجَاني (6)، فقال: «المُشْكِل: هو ما لا يُنال المراد منه إلا بتأملٍ بعد الطلب، وهو الداخل في أشكاله، أي: في أمثاله وأشباهه، مأخوذ من قولهم: أشكل، أي: صار ذا شَكْلٍ، كما يُقال: أحرم، إذا دخل في الحرم، وصار ذا حُرْمَةٍ». اهـ (7)

وجمع بين هذه التعريفات الأستاذ عبد الوهاب خلاف؛ فقال: «المراد بالمُشْكِل في اصطلاح الأصوليين: اللفظ الذي لا يدل بصيغته على المراد منه، بل لا بُدَّ من قرينة خارجية تُبيّن ما يُراد منه». اهـ (8)

ويلاحظ من مجموع هذه التعريفات أنَّ معنى المُشْكِل عند الأصوليين:

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق.

(2) هو: إسحاق بن إبراهيم، أبو يعقوب الخراساني، الشاشي: فقيه الحنفية في زمانه. نسبته إلى الشاش (مدينة وراء نهر سيحون) انتقل منها إلى مصر، وولي القضاء في بعض أعمالها، وتوفي بها. له كتاب (أصول الفقه)، يُعرف بأصول الشاشي، توفي سنة (325هـ). انظر: الأعلام، للزركلي (1/ 293).

(3) نقله عنه: الدكتور رفيق العجم في «موسوعة مصطلحات أصول الفقه عند المسلمين»، ص (1428)، وانظر: مشكل القرآن، للمنصور، ص (50).

(4) هو: عبد الله بن عمر بن عيسى، أبو زيد الدبوسي: أول من وضع علم الخلاف وأبرزه إلى الوجود. كان فقيهاً باحثاً، نسبته إلى دبوسية (بين بخارى وسمرقند) ووفاته في بخارى، عن 63 سنة. له (تأسيس النظر) في ما اختلف به الفقهاء أبو حنيفة وصاحباه ومالك، و (الأسرار)، في الأصول والفروع، عند الحنفية، وغيرها، توفي سنة (430هـ). انظر: الأعلام، للزركلي (4/ 109).

(5) نقله عنه: الدكتور محمد أديب الصالح في «تفسير النصوص» (1/ 253)، وانظر: مشكل القرآن، للمنصور، ص (50).

(6) هو: علي بن محمد بن علي، المعروف بالشريف الجرجاني: فيلسوف. من كبار العلماء بالعربية. ولد في تاكو (قرب استراباد) ودرس في شيراز. ولما دخلها تيمور سنة 789 هــ فر الجرجاني إلى سمرقند ثم عاد إلى شيراز بعد موت تيمور، فأقام إلى أن توفي. له نحو خمسين مصنفاً، منها (التعريفات)، و (شرح مواقف الإيجي)، وغيرهما، توفي سنة (816هـ). انظر: الأعلام، للزركلي (5/ 7).

(7) التعريفات، للجرجاني، ص (276).

(8) علم أصول الفقه، لعبد الوهاب خلاف، ص (171).
উদ্দেশ্য সম্পর্কে সত্যের বিশ্বাস রাখা, অতঃপর তা অন্বেষণ করা এবং তাতে চিন্তা-গবেষণা করা যতক্ষণ না উদ্দেশ্যটি স্পষ্ট হয় এবং সে অনুযায়ী আমল করা যায়।

পক্ষান্তরে মুজমাল হলো মুফাসসার (ব্যাখ্যায়িত)-এর বিপরীত, যা ‘জুমলা’ (সমষ্টি) শব্দ থেকে গৃহীত। এটি এমন শব্দ যার উদ্দেশ্য মুজমিল (বক্তা)-এর পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা তলব এবং তার পক্ষ থেকে বর্ণনা ছাড়া বোঝা যায় না, যার মাধ্যমে উদ্দেশ্য অবগত হওয়া যায়।

এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, মুজমাল হলো মুশকিলের ঊর্ধ্বে; কেননা মুশকিলে উদ্দেশ্য বিদ্যমান থাকে, কেবল তার সদৃশ বিষয়গুলো থেকে তাকে পৃথক করার প্রয়োজন পড়ে। আর মুজমালে উদ্দেশ্য বিদ্যমান থাকে না, তবে বর্ণনার মাধ্যমে উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানার ধারণা পাওয়া যায় এবং তা ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্ত। সমাপ্ত। (১)

আশ-শাশী (২) একে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন: «এটি খাফী (অস্পষ্ট) অপেক্ষা অধিকতর অস্পষ্ট। যেন এটি শ্রোতার কাছে প্রকৃত অর্থ অস্পষ্ট হওয়ার পর তার সদৃশ ও সমজাতীয় বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে, ফলে অন্বেষণ ও চিন্তা-গবেষণা ব্যতীত তার উদ্দেশ্য অর্জন করা সম্ভব হয় না, যতক্ষণ না তা তার সমজাতীয় বিষয়গুলো থেকে পৃথক হয়»। সমাপ্ত। (৩)

আবু যায়েদ আদ-দাব্বূসী (৪) একে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন: «এটি এমন বিষয় যা শ্রোতার নিকট সেই অর্থে পৌঁছানোর পথকে জটিল করে দেয়, যে অর্থের জন্য ভাষাবিদ তা নির্ধারণ করেছেন অথবা রূপক ব্যবহারকারী তা উদ্দেশ্য করেছেন»। সমাপ্ত। (৫)

আল-জোরজানী (৬) একে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন: «মুশকিল হলো তা, অন্বেষণের পর চিন্তা-গবেষণা ছাড়া যার উদ্দেশ্য অর্জন করা যায় না। এটি তার সদৃশ বা সমজাতীয় বিষয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত। এটি তাদের এই কথা থেকে গৃহীত: আশকালা, অর্থাৎ সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়া। যেমন বলা হয়: আহরামা, যখন সে হারামে প্রবেশ করে এবং মর্যাদাবান হয়»। সমাপ্ত। (৭)

উস্তায আব্দুল ওয়াহহাব খাল্লাফ এই সংজ্ঞাগুলোর সমন্বয় করে বলেছেন: «উসূলবিদদের পরিভাষায় মুশকিল বলতে এমন শব্দকে বোঝায়, যা তার কাঠামোর দ্বারা উদ্দেশ্যের ওপর প্রমাণ পেশ করে না, বরং এর মাধ্যমে কী উদ্দেশ্য তা স্পষ্ট করার জন্য বাহ্যিক অনুষঙ্গের প্রয়োজন হয়»। সমাপ্ত। (৮)

এই সকল সংজ্ঞার সমষ্টি থেকে লক্ষ্য করা যায় যে, উসূলবিদদের নিকট মুশকিলের অর্থ হলো:

--------------------------------------------

(১) প্রাগুক্ত উৎস।

(২) তিনি হলেন: ইসহাক বিন ইব্রাহিম, আবু ইয়াকুব আল-খুরাসানি, আশ-শাশী: আপন সময়ের হানাফী ফকীহ। তার নিসবত শাশ-এর দিকে (সীহুন নদীর ওপারের একটি শহর)। সেখান থেকে তিনি মিশরে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানকার কিছু বিচারকার্যের দায়িত্ব পালন করেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর ‘উসূলুল ফিকহ’ নামে একটি গ্রন্থ রয়েছে যা ‘উসূলুশ শাশী’ নামে পরিচিত। তিনি ৩২৫ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আল-আলাম, যিরিকলী (১/২৯৩)।

(৩) তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন: ডক্টর রফীক আল-আজম তাঁর ‘মাওসুআতু মুসতালাহাতু উসূলিল ফিকহ ইনদাল মুসলিমীন’ গ্রন্থে, পৃষ্ঠা (১৪২৮); আরও দেখুন: মুশকিলাল কুরআন, মানসুর, পৃষ্ঠা (৫০)।

(৪) তিনি হলেন: আব্দুল্লাহ বিন উমর বিন ঈসা, আবু যায়েদ আদ-দাব্বূসী: তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি ইলমুল খিলাফ (মতামত পার্থক্যের জ্ঞান) প্রণয়ন করেন এবং তা জনসমক্ষে আনেন। তিনি একজন গবেষক ফকীহ ছিলেন। তার নিসবত দাব্বূসিয়া-এর দিকে (বুখারা ও সমরকন্দের মধ্যবর্তী স্থান)। ৬৩ বছর বয়সে বুখারায় তার মৃত্যু হয়। তার রচিত গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে ফকীহ আবু হানিফা ও তাঁর দুই ছাত্র এবং ইমাম মালিকের মতপার্থক্য বিষয়ক ‘তাসিসুন নাযার’ এবং হানাফী মাযহাবের উসূল ও ফুরু বিষয়ক ‘আল-আসরার’ ইত্যাদি। তিনি ৪৩০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আল-আলাম, যিরিকলী (৪/১০৯)।

(৫) তাঁর থেকে এটি বর্ণনা করেছেন: ডক্টর মুহাম্মদ আদীব আস-সালিহ তাঁর ‘তাফসিরুন নুসূস’ (১/২৫৩) গ্রন্থে; আরও দেখুন: মুশকিলাল কুরআন, মানসুর, পৃষ্ঠা (৫০)।

(৬) তিনি হলেন: আলী বিন মুহাম্মদ বিন আলী, আশ-শরীফ আল-জোরজানী নামে পরিচিত: একজন দার্শনিক। তিনি আরবি ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলেম ছিলেন। তাকু (আস্তরাবাদের নিকটবর্তী) নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন এবং শিরাজ-এ পড়াশোনা করেন। ৭৮৯ হিজরীতে যখন তৈমুর সেখানে প্রবেশ করেন, তখন আল-জোরজানী সমরকন্দে চলে যান। অতঃপর তৈমুরের মৃত্যুর পর শিরাজ-এ ফিরে আসেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন। তার প্রায় পঞ্চাশটি গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে ‘আত-তারিফাত’ এবং ‘শারহু মাওয়াকিফ আল-ঈজী’ অন্যতম। তিনি ৮১৬ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আল-আলাম, যিরিকলী (৫/৭)।

(৭) আত-তারিফাত, আল-জোরজানী, পৃষ্ঠা (২৭৬)।

(৮) ইলমু উসূলিল ফিকহ, আব্দুল ওয়াহহাব খাল্লাফ, পৃষ্ঠা (১৭১)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মুশকিলাতুল ওয়ারিদাহ ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২১)
هو اللفظ الذي استغلق وخفي معناه على السامع، ولم يتبين إلا بعد طلبٍ وتأمل، فقد يظهر معناه من قرينةٍ في النص، أو من دليلٍ آخر منفصلٍ عن النص، أو بتأمل ونظر، وقد لا يظهر.

ويقابل المُشْكِل عند الأصوليين: المتشابه، فقد يُعَبِّرُ بعضهم عن المُشْكِل بالمُتَشَابِه، كما إنَّ تعريفهم للمتشابه هو بعينه تعريف المُشْكِل، وقد عرَّفه أبو الوليد الباجي فقال: «المتشابه: هو المُشْكِل الذي يُحتاج في فهم المراد به إلى تفكرٍ وتأمل». اهـ (1)

وعرَّفه الشاطبي فقال: «ومعنى المتشابه: ما أشكل معناه، ولم يتبين مغزاه». اهـ (2)

وقد أشار إلى هذا التداخل بين اللفظين شيخ الإسلام ابن تيمية فقال: «ولهذا كان السلف رضي الله عنهم يُسَمُّون ما أشكل على بعض الناس حتى فُهِمَ منه غير المراد:

مُتشابهاً». اهـ (3)

وهذا المصطلح للمُشكل استعمله بعض المفسرين والمحدثين، فقد يُطلقون الإشكال ويريدون به الخفاء وعدم وضوح المعنى، وقد ألَّفَ مكي بن أبي طالب كتاباً في غريب القرآن سمَّاه: «تفسير المُشْكِل من غريب القرآن»، حيث سمَّى الغريبَ مُشْكِلاً. (4)

وألَّف ابن الجوزي كتاباً سمَّاه: «كشف المُشْكِل من حديث الصحيحين»، ومراده: شرح الألفاظ التي يراها غريبة، أو بحاجة إلى توضيح وبيان. (5)

 

‌‌ثانياً: تعريف المُشْكِل في اصطلاح المحدثين:

لم يتطرق الأوائل ـ ممن ألف في مشكل الحديث ـ لتعريفِ المُشْكِلِ

--------------------------------------------

(1) إحكام الفصول في أحكام الأصول، للباجي (1/ 176)، وانظر: التعاريف، للمناوي، ص (633).

(2) الاعتصام، للشاطبي (2/ 736).

(3) نقض أساس التقديس، لابن تيمية، مخطوط (2/ 495).

(4) انظر: مشكل القرآن، للمنصور، ص (55).

(5) انظر: مقدمة تحقيق الكتاب، للدكتور علي حسين البواب (1/ 16).
এটি এমন এক শব্দ যার অর্থ শ্রোতার কাছে অস্পষ্ট ও প্রচ্ছন্ন হয়ে থাকে এবং অনুসন্ধান ও গভীরভাবে চিন্তা করা ছাড়া তা স্পষ্ট হয় না। এর অর্থ কখনো টেক্সটের মধ্যস্থ কোনো সূত্র থেকে, অথবা টেক্সট থেকে পৃথক অন্য কোনো দলিল থেকে, অথবা গভীর চিন্তা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকাশ পেতে পারে, আবার কখনো তা প্রকাশ না-ও পেতে পারে।

উসুলবিদদের নিকট মুশকিল (জটিল)-এর সমার্থক শব্দ হলো: মুতাশাবিহ। তাঁদের কেউ কেউ মুশকিলকে মুতাশাবিহ শব্দ দিয়ে ব্যক্ত করেছেন। তদ্রূপ মুতাশাবিহ-এর ব্যাপারে তাঁদের দেওয়া সংজ্ঞা মূলত মুশকিল-এরই সংজ্ঞা। আবুল ওয়ালিদ আল-বাজি একে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন: «মুতাশাবিহ হলো এমন মুশকিল বা জটিল বিষয়, যার উদ্দেশ্য বোঝার জন্য চিন্তা ও গবেষণার প্রয়োজন হয়।» সমাপ্ত (১)

আশ-শাতিবি এর সংজ্ঞা দিয়ে বলেছেন: «মুতাশাবিহ-এর অর্থ হলো: যার অর্থ জটিল হয়ে পড়েছে এবং যার মর্মার্থ স্পষ্ট হয়নি।» সমাপ্ত (২)

এই দুই শব্দের মধ্যকার এই সংমিশ্রণের প্রতি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া ইঙ্গিত করে বলেছেন: «একারণেই পূর্বসূরিগণ (সালাফ), আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, এমন বিষয়কে যা কিছু মানুষের কাছে অস্পষ্ট হয়ে পড়ত এমনকি যার ভুল অর্থ বোঝা হতো, তাকে:

মুতাশাবিহ বলতেন।» সমাপ্ত (৩)

মুশকিল-এর এই পরিভাষাটি কিছু মুফাসসির ও মুহাদ্দিস ব্যবহার করেছেন। তাঁরা কখনো 'ইশকাল' (জটিলতা) শব্দটি প্রয়োগ করে তার দ্বারা অস্পষ্টতা ও অর্থের অস্পষ্টতাকে বুঝিয়ে থাকেন। মাক্কি বিন আবি তালিব কুরআনের বিরল শব্দাবলি বিষয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন যার নাম দিয়েছেন: «তাফসিরুল মুশকিল মিন গারিবিল কুরআন», যেখানে তিনি বিরল শব্দকে 'মুশকিল' হিসেবে অভিহিত করেছেন। (৪)

ইবনুল জাওজি একটি কিতাব লিখেছেন যার নাম দিয়েছেন: «কাশফুল মুশকিল মিন হাদিসিস সাহিহাইন», এর দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য হলো: সেই শব্দগুলোর ব্যাখ্যা করা যেগুলোকে তিনি বিরল মনে করেছেন অথবা যা ব্যাখ্যা ও বিবরণের মুখাপেক্ষী। (৫)

 

‌‌দ্বিতীয়ত: মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় মুশকিল-এর সংজ্ঞা:

হাদীসের মুশকিল (জটিলতা) বিষয়ে গ্রন্থ রচনাকারী পূর্ববর্তীরা মুশকিল-এর সংজ্ঞা নিয়ে আলোচনা করেননি।

--------------------------------------------

(১) আল-বাজি কৃত ইহকামুল ফুসুল ফি আহকামিল উসুল (১/ ১৭৬), এবং দেখুন: আল-মানাবি কৃত আত-তারিফাত, পৃ. (৬৩৩)।

(২) আশ-শাতিবি কৃত আল-ইতিসাম (২/ ৭৩৬)।

(৩) ইবনে তাইমিয়া কৃত নাকদু আসাসিত তাকদিস, পাণ্ডুলিপি (২/ ৪৯৫)।

(৪) দেখুন: আল-মানসুর কৃত মুশকিলুল কুরআন, পৃ. (৫৫)।

(৫) দেখুন: কিতাবটির তাহকিক-এর ভূমিকা, ড. আলি হুসাইন আল-বাওয়াব (১/ ১৬)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মুশকিলাতুল ওয়ারিদাহ ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২২)
بمعناه في اصطلاح المحدثين ـ إلا ما ذكره أبو جعفر الطحاوي في كتابه «مشكل الآثار»، حيث أشار في مقدمة كتابه لمعنى المُشْكِل فقال: «وإني نظرت في الآثار المروية عنه صلى الله عليه وسلم، بالأسانيد المقبولة، التي نقلها ذوو التثبت فيها والأمانة عليها، وحسن الأداء لها، فوجدت فيها أشياء مما يسقط معرفتها، والعلم بما فيها عن أكثر الناس، فمال قلبي إلى تأملها، وتبيان ما قدرت عليه من مشكلها، ومن استخراج الأحكام التي فيها، ومن نفي الإحالات عنها». اهـ (1)

وهذا الذي ذكره الطحاوي يُعد وصفاً لمعنى المشكل، لا تعريفاً له، وقد استفاد منه من جاء بعده من المتأخرين، حيث نقله الدكتور أسامة خياط، واستخلص منه تعريفاً لمشكل الحديث بأنه: «أحاديثُ مرويةٌ عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، بأسانيد مقبولة، يُوهِمُ ظاهرها معاني مستحيلة، أو مُعارضة لقواعد شرعية ثابتة». (2)

وأفاد من هذين التعريفين الدكتور فهد بن سعد الجهني، فإنه نقل كلام الطحاوي ثم قال: «فمن الممكن استخلاص تعريفٍ للمشكل من خلال نص الطحاوي هذا بأنه: الحديث المروي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم بسند مقبول، وفي ظاهره تعارض يقتضي معنى مستحيلاً، عقلاً أو شرعاً؛ يحتاج في دفعه إلى نظر وتأمل». (3)

وقد أشار إلى أنه أفاد من تعريف الدكتور أسامة. (4)

وذكر الأستاذ عبد الله المنصور في كتابه «مشكل القرآن» تعريفاً مقارباً لما ذُكِرَ، مع إضافة بعض الضوابط التي استخلصها من خلال استقرائه لبعض المؤلفات في مشكل الحديث، وقد خلص إلى أنَّ المراد بمشكل الحديث:

--------------------------------------------

(1) مشكل الآثار، للطحاوي (1/ 6).

(2) مختلف الحديث، لأسامة خياط، ص (36).

(3) قواعد دفع التعارض عند الإمام الشافعي، للدكتور فهد بن سعد الجهني، بحث منشور في مجلة جامعة أم القرى، لعلوم الشريعة واللغة العربية وآدابها، المجلد (17)، العدد (32)، ص (262).

(4) المصدر السابق، ص (296)، حاشية رقم (30).
মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় এর অর্থ অনুযায়ী— তবে আবু জাফর আত-তাহাবী তাঁর «মুশকিলুল আসার» গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন তা ব্যতীত, যেখানে তিনি তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় মুশকিল-এর অর্থের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন: «আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এমন সব বর্ণনার (আসার) প্রতি দৃষ্টিপাত করেছি, যা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সনদে বর্ণিত হয়েছে, যারা বিষয়গুলো সংরক্ষণে দৃঢ় এবং বর্ণনায় বিশ্বস্ত ও নির্ভুল ছিলেন। আমি তাতে এমন কিছু বিষয় পেয়েছি যা অধিকাংশ মানুষের কাছে অজ্ঞাত এবং সেগুলোর প্রকৃত অর্থ তাদের বোধগম্য নয়। ফলে আমার অন্তর সেগুলোর প্রতি গভীরভাবে চিন্তা করতে এবং সেগুলোর জটিল বিষয়গুলো যতটুকু সম্ভব ব্যাখ্যা করতে, তা থেকে বিধানসমূহ উদ্ঘাটন করতে এবং সেগুলো থেকে অসম্ভব বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থগুলো দূর করতে আগ্রহী হয়েছে।» সমাপ্ত। (১)

তাহাবী যা উল্লেখ করেছেন তা মুশকিল-এর অর্থের একটি বর্ণনা হিসেবে গণ্য হয়, কোনো সংজ্ঞা নয়। তাঁর পরবর্তী আলেমগণ এটি থেকে উপকৃত হয়েছেন। যেমন— ড. উসামা খইয়াত এটি উদ্ধৃত করেছেন এবং তা থেকে মুশকিলুল হাদিসের একটি সংজ্ঞা বের করেছেন যে: «তা হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এমন সব হাদিস, যা গ্রহণযোগ্য সনদে বর্ণিত, কিন্তু এর বাহ্যিক রূপ অসম্ভব কোনো অর্থের অথবা প্রতিষ্ঠিত শারঈ মূলনীতির বিরোধী হওয়ার ভ্রম সৃষ্টি করে।» (২)

এই দুটি সংজ্ঞা থেকে ড. ফাহাদ বিন সাদ আল-জুহানি উপকৃত হয়েছেন। তিনি তাহাবীর বক্তব্য উদ্ধৃত করার পর বলেছেন: «তাহাবীর এই বক্তব্যের আলোকে মুশকিলের একটি সংজ্ঞা বের করা সম্ভব যে: তা হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এমন হাদিস যা গ্রহণযোগ্য সনদে বর্ণিত, কিন্তু এর বাহ্যিক রূপে এমন বিরোধ পরিলক্ষিত হয় যা যৌক্তিকভাবে বা শরয়িভাবে অসম্ভব কোনো অর্থ দাবি করে; যা দূর করার জন্য গভীর চিন্তা ও গবেষণার প্রয়োজন হয়।» (৩)

তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ড. উসামার সংজ্ঞা থেকে উপকৃত হয়েছেন। (৪)

উস্তাদ আবদুল্লাহ আল-মনসুর তাঁর «মুশকিলুল কুরআন» গ্রন্থে উপরে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার কাছাকাছি একটি সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, সাথে কিছু নীতিমালা যোগ করেছেন যা তিনি মুশকিলুল হাদিস বিষয়ক কিতাবসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে বের করেছেন। তিনি মুশকিলুল হাদিসের উদ্দেশ্য সম্পর্কে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে:

--------------------------------------------

(১) মুশকিলুল আসার, আত-তাহাবী (১/৬)।

(২) মুখতালিফুল হাদিস, উসামা খইয়াত, পৃষ্ঠা (৩৬)।

(৩) কাওয়াইদু দাফয়িত তাআরুদ ইনদাল ইমামিশ শাফিয়ি, ড. ফাহাদ বিন সাদ আল-জুহানি, উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা, শরীয়াহ ও আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, ভলিউম (১৭), সংখ্যা (৩২), পৃষ্ঠা (২৬২)।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা (২৯৬), টিকা নম্বর (৩০)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মুশকিলাতুল ওয়ারিদাহ ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৩)
«الآثار المروية عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، بالأسانيد المقبولة، وجاء ما يُناقضها في الظاهر من آية أو حديث أو غير ذلك، مما هو ظاهر ومعتبر، أو فيها ألفاظ أو معانٍ لا تُعلم عند كثير من الناس». (1)

ويلاحظ من مجموع هذه التعريفات أنها لم تأتِ بتعريف جامعٍ مانعٍ لمشكل الحديث، وإنما ذكرت بعض أنواعه.

كما يُلاحظ أنَّ معنى المُشْكِل عند عامة المحدثين مغاير تماماً لمعناه عند الأصوليين؛ إلا أنَّ بعضهم ربما أطلق الإشكال وأراد به معناه عند الأصوليين.

وهذه التعريفات التي ذكرناها سابقاً نستطيع أنْ نستخلص منها تعريفاً جامعاً مانعاً شاملاً لكل أنواع مشكل الحديث، مع إضافة بعض الضوابط التي لم تُذكر في تلك التعريفات.

وعليه فإن مشكل الحديث: هو الحديث المروي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم بسند مقبول، ويُوهِمُ ظاهره مُعارضةَ آيةٍ قرآنية، أو حديثٍ آخر مثله، أو يُوهِمُ ظاهره مُعارضةَ مُعْتَبَرٍ مِنْ: إجماعٍ، أو قياسٍ، أو قاعدةٍ شرعيةٍ كليةٍ ثابتة، أو أصلٍ لغوي، أو حقيقةٍ علميةٍ،

أو حِسٍ، أو معقولٍ.

 

‌‌ثالثاً: تعريف المُشْكِل عند علماء التفسير وعلوم القرآن:

معرفة المُشْكِل عند علماء التفسير وعلوم القرآن يتطلب النظر في نوعين من المؤلفات:

الأول: الكتب المؤلفة في تفسير القرآن الكريم، والثاني: الكتب المؤلفة في علوم القرآن.

ففي الكتب المؤلفة في التفسير نجد أنَّ هناك نوعين من التأليف:

الأول: كتبٌ مفردة في مشكل القرآن، وموهم التعارض بين آياته.

والثاني: كتبٌ عامة، جل اهتمامها هو التفسير؛ إلا أنَّ مؤلفيها ربما تطرقوا لحلِّ بعض مشكلات القرآن.

فمن الأول: كتاب «تأويل مشكل القرآن»، لابن قتيبة، وكتاب «حل

--------------------------------------------

(1) مشكل القرآن، للمنصور، ص (53).
«রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে গ্রহণযোগ্য সনদে বর্ণিত আছারসমূহ (হাদিস ও বর্ণনা), যার বাহ্যিক রূপটি কোনো আয়াত, হাদিস বা অন্য কোনো প্রকাশ্য ও নির্ভরযোগ্য বিষয়ের সাথে আপাতবিরোধী বলে মনে হয়, অথবা যাতে এমন সব শব্দ বা অর্থ রয়েছে যা অধিকাংশ মানুষের কাছে পরিচিত নয়।» (১)

এই সংজ্ঞাগুলোর সামগ্রিক আলোচনা থেকে লক্ষ্য করা যায় যে, এগুলো ‘মুশকিলুল হাদিস’-এর জন্য কোনো পূর্ণাঙ্গ ও সুনির্দিষ্ট (জামে-মানে) সংজ্ঞা প্রদান করেনি, বরং কেবল এর কিছু প্রকার উল্লেখ করেছে।

আরও লক্ষ্য করা যায় যে, সাধারণ মুহাদ্দিসগণের নিকট ‘মুশকিল’-এর পরিভাষাগত অর্থ উসুলবিদগণের নিকট এর অর্থ থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন; তবে তাঁদের কেউ কেউ হয়তো ‘ইশকাল’ শব্দটি ব্যবহারের মাধ্যমে উসুলবিদগণের নিকট প্রচলিত অর্থটিই উদ্দেশ্য নিয়ে থাকতে পারেন।

পূর্বে উল্লেখিত এই সংজ্ঞাগুলো থেকে আমরা ‘মুশকিলুল হাদিস’-এর এমন একটি তাত্ত্বিক ও সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নিরূপণ করতে পারি যা এর সকল প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করবে, সেই সাথে এমন কিছু নীতিমালাও যুক্ত করতে পারি যা আগের সংজ্ঞাগুলোতে বর্ণিত হয়নি।

সেই অনুযায়ী ‘মুশকিলুল হাদিস’ হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে গ্রহণযোগ্য সনদে বর্ণিত এমন হাদিস, যার বাহ্যিক রূপটি কোনো কুরআনের আয়াতের সাথে, বা অনুরূপ অন্য কোনো হাদিসের সাথে বিরোধের সংশয় তৈরি করে, অথবা যার বাহ্যিক রূপটি কোনো নির্ভরযোগ্য বিষয়ের সাথে যেমন—ইজমা (ঐক্যমত্য), কিয়াস (যৌক্তিক অনুমান), কোনো অকাট্য সার্বজনীন শরয়ি মূলনীতি, ভাষাগত ভিত্তি, কিংবা বৈজ্ঞানিক সত্যের সাথে বিরোধের সংশয় তৈরি করে,

অথবা ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞান কিংবা যুক্তিগ্রাহ্য বিষয়ের সাথে বিরোধের সংশয় তৈরি করে।

 

‌‌তৃতীয়ত: তাফসিরবিদ ও উলুমুল কুরআন বিশারদগণের নিকট ‘মুশকিল’-এর সংজ্ঞা:

তাফসিরবিদ ও উলুমুল কুরআন বিশারদগণের নিকট ‘মুশকিল’ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করার জন্য দুই ধরনের রচনাবলির প্রতি দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন:

প্রথমত: কুরআনুল কারিমের তাফসির বিষয়ক গ্রন্থসমূহ এবং দ্বিতীয়ত: উলুমুল কুরআন (কুরআন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞান) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ।

তাফসির বিষয়ক গ্রন্থসমূহের মধ্যে আমরা দুই ধরনের রচনা দেখতে পাই:

প্রথমত: এমন সব গ্রন্থ যা স্বতন্ত্রভাবে কুরআনের ‘মুশকিল’ (জটিল বিষয়) এবং আয়াতসমূহের মধ্যকার আপাতবিরোধ নিরসনের উদ্দেশ্যে রচিত।

দ্বিতীয়ত: সাধারণ তাফসির গ্রন্থসমূহ, যেগুলোর মূল লক্ষ্য হলো তাফসির করা; তবে সেগুলোর রচয়িতাগণ হয়তো কুরআনের কিছু জটিল বিষয়ের (মুশকিলাত) সমাধানের ওপরও আলোকপাত করেছেন।

প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হলো: ইবনে কুতায়বাহ রচিত ‘তাউয়িলু মুশকিলিল কুরআন’ এবং ‘হাল...’ গ্রন্থ (বাক্যটি অসম্পূর্ণ)

--------------------------------------------

(১) মুশকিলুল কুরআন, আল-মানসুর, পৃষ্ঠা (৫৩)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মুশকিলাতুল ওয়ারিদাহ ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৪)
مشكلات القرآن»، لابن فورك، وكتاب «درة التنزيل وغرة التأويل»، للخطيب الإسكافي، وكتاب «دفع إيهام الاضطراب عن آي الكتاب»، للشنقيطي. (1)

ومن أشهر الذين اعتنوا بحل بعض مشكلات القرآن في مؤلفاتهم التفسيرية: القاضي ابن عطية، في كتابه «المحرر الوجيز»، وأبو عبد الله القرطبي في كتابه «الجامع لأحكام القرآن»، والخازن في كتابه «لباب التأويل في معاني التنزيل»، والآلوسي في كتابه «روح المعاني».

وفي تلك الكتب لم نجد أحداً منهم تطرق لتعريف المُشْكِل، إلا أنَّ مقتضى صنيعهم يدلُّ على أنَّ مصطلح المُشْكِل عندهم عامٌ يشمل كل إشكال يطرأ على الآية، سواء كان في اللفظ أم في المعنى، أو كان لتوهم تعارض، أو توهم إشكال في اللغة، أو غير ذلك. (2)

وأما كتب علوم القرآن فقد أفرد بعض مؤلفيها أبواباً خاصة لمشكل القرآن، تناولوا فيها تعريف المُشْكِل، وموهم التناقض بين آي القرآن، ومن أبرز من اعتنى بذلك: الزركشي، في كتابه «البرهان في علوم القرآن»، والسيوطي في كتابه «الإتقان في علوم القرآن»، وابن عقيلة المكي (3)، في كتابه «الزيادة والإحسان في علوم القرآن».

قال الزركشي في النوع الخامس والثلاثين: «معرفة موهم المُخْتلف»، ثم عرَّف هذا النوع فقال: «وهو ما يُوهِمُ التعارض بين آياته». (4)

ويلاحظ اقتصار الزركشي على نوع واحد من أنواع مشكل القرآن، وهو ما يُوهِمُ التعارض بين آياته، وقد ذكر نوعاً آخر في فصل مستقل، وهو موهم التعارض بين القرآن والسنة (5)، وفي النوع السادس والثلاثين جعل خفاء اللفظ من المُشْكِل وأدخله في نوع المتشابه والذي يَعُدُّه من المُشْكِل. (6)

--------------------------------------------

(1) انظر: مشكل القرآن، للمنصور، ص (53 - 54).

(2) انظر: مشكل القرآن، للمنصور، ص (53 - 54).

(3) هو: محمد بن أحمد بن سعيد الحنفي المكي، شمس الدين، المعروف بابن عقيلة: مؤرخ، من المشتغلين بالحديث، من أهل مكة، مولده ووفاته فيها. من كتبه (لسان الزمان) في التاريخ، رتبه على حوادث السنين إلى سنة 1123 هـ، و (الفوائد الجليلة) في الحديث، وغيرهما، توفي سنة (1150). انظر: الرسالة المستطرفة، للكتاني، ص (84)، والأعلام، للزركلي (6/ 13).

(4) البرهان في علوم القرآن، للزركشي (2/ 176).

(5) المصدر السابق (2/ 193).

(6) انظر: المصدر السابق (2/ 200).
ইবনে ফুরাকের ‘মুশকিলাল কুরআন’, খতিব আল-ইস্কিফীর ‘দুররাতুত তানজিল ওয়া গুররাতুত তাবীল’ এবং শানকিতীর ‘দাফউ ইহামিল ইদতিরাব আন আয়িল কিতাব’। (১)

আর যারা নিজেদের তাফসির গ্রন্থে কুরআনের কতিপয় জটিল বিষয়ের সমাধানের প্রতি যত্নবান হয়েছেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলেন: কাজী ইবনে আতিয়্যাহ তাঁর ‘আল-মুহাররারুল ওয়াজিজ’ গ্রন্থে, আবু আব্দুল্লাহ আল-কুরতুবী তাঁর ‘আল-জামি’ লি-আহকামিল কুরআন’ গ্রন্থে, আল-খাযিন তাঁর ‘লুবাবুত তাবীল ফী মাআনিত তানজিল’ গ্রন্থে এবং আল-আলুসী তাঁর ‘রুহুল মাআনী’ গ্রন্থে।

ঐ সকল কিতাবে আমরা তাদের কাউকে ‘মুশকিল’-এর সংজ্ঞা প্রদান করতে দেখিনি, তবে তাদের কর্মপন্থা নির্দেশ করে যে, তাদের নিকট ‘মুশকিল’ পরিভাষাটি ব্যাপক, যা আয়াতের ওপর আপতিত প্রতিটি অস্পষ্টতাকেই অন্তর্ভুক্ত করে; চাই তা শব্দের ক্ষেত্রে হোক বা অর্থের ক্ষেত্রে, কিংবা বৈপরীত্যের সংশয় বা ভাষাগত অস্পষ্টতার সংশয় অথবা অন্য কিছু হোক। (২)

আর কুরআন বিজ্ঞানের কিতাবসমূহের ক্ষেত্রে, তাদের অনেক লেখকই ‘মুশকিলাল কুরআন’-এর জন্য বিশেষ পরিচ্ছেদ বরাদ্দ করেছেন, সেখানে তারা ‘মুশকিল’-এর সংজ্ঞা এবং কুরআনের আয়াতসমূহের মধ্যে আপাত বৈপরীত্যের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন। এ বিষয়ে যারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন: যারকাশী তাঁর ‘আল-বুরহান ফী উলূমিল কুরআন’ গ্রন্থে, আস-সুয়ুতী তাঁর ‘আল-ইতকান ফী উলূমিল কুরআন’ গ্রন্থে এবং ইবনে আকিলাহ আল-মাক্কী (৩) তাঁর ‘আয-যিয়াদাতু ওয়াল ইহসান ফী উলূমিল কুরআন’ গ্রন্থে।

যারকাশী পঁয়ত্রিশতম প্রকারে বলেছেন: ‘আপাত ভিন্নতর বিষয়াবলি পরিজ্ঞাত হওয়া’, এরপর তিনি এই প্রকারের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন: ‘আর তা হলো যা আয়াতসমূহের মধ্যে বৈপরীত্যের সংশয় তৈরি করে’। (৪)

লক্ষ্য করা যায় যে, যারকাশী কুরআনের মুশকিল বিষয়সমূহের প্রকারভেদের মধ্যে কেবল একটি প্রকারের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন, আর তা হলো যা আয়াতসমূহের মধ্যে বৈপরীত্যের সংশয় তৈরি করে। তিনি স্বতন্ত্র একটি পরিচ্ছেদে অন্য একটি প্রকার উল্লেখ করেছেন, যা হলো কুরআন ও সুন্নাহর মধ্যে আপাত বৈপরীত্য (৫)। আর ছত্রিশতম প্রকারে তিনি শব্দের অস্পষ্টতাকে মুশকিল-এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং একে ‘মুতাশাবিহ’ প্রকারের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যেটিকে তিনি মুশকিল-এরই অন্তর্ভুক্ত গণ্য করেন। (৬)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মানসুরের ‘মুশকিলাল কুরআন’, পৃষ্ঠা (৫৩ - ৫৪)।

(২) দেখুন: আল-মানসুরের ‘মুশকিলাল কুরআন’, পৃষ্ঠা (৫৩ - ৫৪)।

(৩) তিনি হলেন: মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন সাঈদ আল-হানাফী আল-মাক্কী, শামসুদ্দীন, যিনি ইবনে আকিলাহ নামে পরিচিত: তিনি একজন ঐতিহাসিক এবং হাদীসশাস্ত্রবিদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, মক্কাবাসী ছিলেন এবং সেখানেই তার জন্ম ও মৃত্যু। তাঁর রচিত কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে ইতিহাসের ওপর ‘লিসানুয যামান’, যা তিনি ১১২৩ হিজরি পর্যন্ত বছরওয়ারি ঘটনাক্রম অনুযায়ী সাজিয়েছেন, এবং হাদীসের ওপর ‘আল-ফাওয়াইদুল জালীল্লাহ’ সহ আরও অন্যান্য গ্রন্থ। তিনি (১১৫০) হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। দেখুন: আল-কাত্তানীর ‘আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ’, পৃষ্ঠা (৮৪) এবং আয-যারকলীর ‘আল-আলাম’ (৬/ ১৩)।

(৪) যারকাশীর ‘আল-বুরহান ফী উলূমিল কুরআন’ (২/ ১৭৬)।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস (২/ ১৯৩)।

(৬) দেখুন: পূর্বোক্ত উৎস (২/ ২০০)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মুশকিলাতুল ওয়ারিদাহ ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৫)
وأما السيوطي في الإتقان فقد أفاد من الزركشي وزاد عليه، حيث قال: «النوع الثامن والأربعون: في معرفة مُشكله، وموهم الاختلاف والتناقض». (1)

وظاهر صنيعه أنَّ المُشْكِل مغايرٌ لموهم الاختلاف والتناقض، لكن هذا الظاهر غير مراد منه قطعاً، بل مراده أنَّ موهم الاختلاف والتناقض هو المُشْكِل بعينه، يدل على ذلك ما سطَّره في كتابه «معترك الأقران»؛ فإنه قال: «الوجه السابع من وجوه إعجازه: ورود مشكله حتى يُوهِمَ التعارض بين الآيات». (2)

وأما ابن عقيلة فقد فرَّق بين المُشْكِل وموهم التناقض؛ فالمُشْكِل عنده هو ما خفي معناه من الآيات، وموهم التناقض هو ما جاء من آيات يُعارض بعضها بعضاً.

قال ابن عقيلة في تعريف المُشْكِل: «هو ما أشكل معناه على السامع، ولم يصل إلى إدراكه إلا بدليلٍ آخر». (3)

وقال ـ بعد أنْ أورد كلام السيوطي في الإتقان ـ: «قلت: تقدم تعريف المُشْكِل، وأنه هو الذي أشكل معناه فلم يتبين حتى بُيّن، وليس هذا النوع من ذلك، بل هذا النوع آيات يُعارض بعضها بعضاً، وكلام الله تعالى مُنزَّهٌ عن ذلك». اهـ (4)

ومن مجموع ما سبق يتبين أنَّ علماء التفسير وعلوم القرآن يطلقون المُشْكِل ويعنون به: الآيات التي يُوهِمُ ظاهرها التعارض فيما بينها، أو الآيات التي يُوهِمُ ظاهرها معارضة حديث نبوي، أو الآيات التي في معناها خفاء وغموض، لا يدرك إلا بدليل آخر.

وربما أطلقوا المُشْكِل على الآيات أو القراءات التي خالفت قاعدة لغوية، من نحوٍ أو تصريف أو إعراب.

والتعريف الجامع المانع ـ في نظري ـ أنْ يُقال: مشكل القرآن: هو

--------------------------------------------

(1) الإتقان في علوم القرآن، للسيوطي (2/ 724).

(2) معترك الأقران في إعجاز القرآن، للسيوطي (1/ 72).

(3) الزيادة والإحسان، لابن عقيلة (5/ 134).

(4) المصدر السابق (5/ 196).
আর আস-সুয়ূতী 'আল-ইতকান' গ্রন্থে আয-যারকাশী থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং তার ওপর সংযোজন করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: «আটচল্লিশতম প্রকার: কুরআনের মুশকিল (অস্পষ্টতা) এবং বিরোধ ও বৈপরীত্যের সংশয় সৃষ্টিকারী বিষয়গুলো চেনা সম্পর্কে।» (১)

এবং তাঁর কর্মপদ্ধতির বাহ্যিক রূপ হলো—মুশকিল বিরোধ ও বৈপরীত্যের সংশয় সৃষ্টিকারী বিষয় থেকে ভিন্ন, কিন্তু এই বাহ্যিক দিকটি তাঁর নিকট নিশ্চিতভাবে উদ্দিষ্ট নয়, বরং তাঁর উদ্দেশ্য হলো বিরোধ ও বৈপরীত্যের সংশয় সৃষ্টিকারী বিষয়টিই স্বয়ং মুশকিল। তাঁর 'মু'তারাকুল আক্ব রান' গ্রন্থে তিনি যা লিপিবদ্ধ করেছেন তা এর প্রমাণ দেয়; কারণ তিনি বলেছেন: «এর (কুরআনের) অলৌকিকত্বের সপ্তম দিক হলো: এর মুশকিল বিষয়ের উপস্থিতি, যা আয়াতসমূহের মাঝে বিরোধের সংশয় তৈরি করে।» (২)

আর ইবনে আক্বীলা মুশকিল এবং বিরোধের সংশয় সৃষ্টিকারী বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করেছেন; তাঁর নিকট মুশকিল হলো আয়াতসমূহের মধ্যে যার অর্থ অস্পষ্ট, আর বিরোধের সংশয় সৃষ্টিকারী হলো সেই সব আয়াত যা একে অপরের সাথে সাংঘর্ষিক বলে মনে হয়।

ইবনে আক্বীলা মুশকিলের সংজ্ঞায় বলেছেন: «এটি এমন বিষয় যার অর্থ শ্রোতার কাছে অস্পষ্ট হয়ে যায় এবং অন্য কোনো প্রমাণ ছাড়া এর উপলব্ধিতে পৌঁছানো যায় না।» (৩)

তিনি—'আল-ইতকান' গ্রন্থে আস-সুয়ূতীর কথা উল্লেখ করার পর—বলেছেন: «আমি বলি: মুশকিলের সংজ্ঞা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, আর তা হলো যার অর্থ অস্পষ্ট এবং ব্যাখ্যার আগে যা স্পষ্ট হয় না। এই প্রকারটি তার অন্তর্ভুক্ত নয়, বরং এই প্রকারটি হলো এমন সব আয়াত যা একে অপরের সাথে বিরোধপূর্ণ মনে হয়, অথচ মহান আল্লাহর কালাম তা থেকে পবিত্র।» সমাপ্ত। (৪)

আর পূর্বোক্ত আলোচনার সমষ্টি থেকে স্পষ্ট হয় যে, তাফসীর ও কুরআন বিজ্ঞানের আলেমগণ 'মুশকিল' শব্দটি ব্যবহার করেন এবং এর দ্বারা উদ্দেশ্য নেন: সেই সব আয়াত যেগুলোর বাহ্যিক রূপ নিজেদের মধ্যে বিরোধের সংশয় সৃষ্টি করে, অথবা সেই সব আয়াত যেগুলোর বাহ্যিক রূপ কোনো নববী হাদীসের সাথে বিরোধের সংশয় তৈরি করে, অথবা সেই সব আয়াত যেগুলোর অর্থের মধ্যে অস্পষ্টতা ও জটিলতা রয়েছে যা অন্য কোনো প্রমাণ ছাড়া বোঝা যায় না।

কখনো কখনো তাঁরা মুশকিল শব্দটি সেই সব আয়াত বা পাঠরীতির (ক্বিরাআত) ক্ষেত্রেও ব্যবহার করেন যা কোনো ভাষাগত নিয়ম যেমন নাহু (বাক্যতত্ত্ব), সারফ (শব্দতত্ত্ব) বা ই'রাব (পদবিন্যাস)-এর পরিপন্থী।

আর আমার দৃষ্টিতে পূর্ণাঙ্গ ও বর্জনশীল সংজ্ঞা হলো এই যে: কুরআনের মুশকিল হলো

--------------------------------------------

(১) আল-ইতকান ফী উলূমিল কুরআন, আস-সুয়ূতী (২/ ৭২৪)।

(২) মু'তারাকুল আক্ব রান ফী ই'জাযিল কুরআন, আস-সুয়ূতী (১/ ৭২)।

(৩) আয-যিয়াদাতু ওয়াল ইহসান, ইবনে আক্বীলা (৫/ ১৩৪)।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস (৫/ ১৯৬)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মুশকিলাতুল ওয়ারিদাহ ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৬)
الآيات القرآنية التي يُوهِمُ ظاهرها معارضة نصٍ آخر؛ من آيةٍ قرآنية، أو حديث نبوي ثابت، أو يُوهِمُ ظاهرها معارضة مُعْتَبَرٍ مِنْ: إجماعٍ، أو قياسٍ، أو قاعدةٍ شرعيةٍ كليةٍ ثابتة، أو أصلٍ لغوي، أو حقيقةٍ علميةٍ، أو حِسٍ، أو معقولٍ.

 

‌‌رابعاً: التعريف العام للمُشْكِل:

مما سبق يمكن استخلاص تعريفٍ عامٍ للمشكل، يشمل معناه في جميع الاصطلاحات، فيقال:

هو: كلُّ نصٍ شرعي؛ استغلق وخفي معناه، أو أوهم مُعارضة نصٍ شرعي آخر؛ من آيةٍ قرآنية، أو سنةٍ ثابتة، أو أوهم مُعارضة مُعْتَبَرٍ مِنْ: إجماعٍ، أو قياسٍ، أو قاعدةٍ شرعيةٍ كليةٍ ثابتة، أو أصلٍ لغوي، أو حقيقةٍ علميةٍ، أو حِسٍ، أو معقولٍ. (1)

ويمكن اختصار هذا التعريف فيكون باللفظ الآتي:

هو: كلُّ نصٍ شرعي؛ استغلق وخفي معناه، أو أوهم مُعارضة نصٍ شرعي آخر،

أو أوهم معاني مستحيلة؛ شرعاً أو عقلاً، أو شرعاً وعقلاً.

وبهذا التعريف نكون قد استوعبنا معناه في جميع الاصطلاحات، فيكون شاملاً لكل ما تقدم من تعريفات للمشكل؛ في اصطلاح الأصوليين، والمحدثين، وعلماء التفسير وعلوم القرآن.

 

****

--------------------------------------------

(1) مما يحسن التنبيه له أنه لم يُفرد بالدراسة والتصنيف الآيات أو الأحاديث التي يُوهِمُ ظاهرها معارضة أصلٍ لغوي، أو حقيقةٍ علمية ثابتة، أو حسٍ، أو معقول، وهذا الموضوع جدير بالدراسة، وهو مكمل لما أُلف قديماً وحديثاً حول مشكل القرآن والحديث.
কুরআনের ঐ সকল আয়াত যার বাহ্যিক রূপ অন্য কোনো দলিলের সাথে বিরোধের সংশয় তৈরি করে; হোক তা অন্য কোনো কুরআনের আয়াত কিংবা সাব্যস্তকৃত কোনো হাদিস। অথবা যার বাহ্যিক রূপ নির্ভরযোগ্য কোনো বিষয়ের সাথে বিরোধের সংশয় তৈরি করে, যেমন: ইজমা, কিয়াস, কোনো সাব্যস্তকৃত সর্বজনীন শরয়ি মূলনীতি, ভাষাগত ভিত্তি, বৈজ্ঞানিক সত্য, ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞান কিংবা যুক্তি।

 

‌‌চতুর্থ: মুশকিলের সাধারণ সংজ্ঞা:

পূর্বোক্ত আলোচনার আলোকে মুশকিলের একটি সাধারণ সংজ্ঞা গ্রহণ করা সম্ভব, যা সকল পারিভাষিক অর্থকে শামিল করবে। সুতরাং বলা যায়:

তা হলো: এমন প্রতিটি শরয়ি নস (পাঠ); যার অর্থ দুবোধ্য ও অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে, অথবা যা অন্য কোনো শরয়ি নসের সাথে বিরোধের সংশয় তৈরি করে; হোক তা কুরআনের আয়াত কিংবা সাব্যস্তকৃত সুন্নাহ। অথবা যা নির্ভরযোগ্য কোনো বিষয়ের সাথে বিরোধের সংশয় সৃষ্টি করে, যেমন: ইজমা, কিয়াস, কোনো সাব্যস্তকৃত সর্বজনীন শরয়ি মূলনীতি, ভাষাগত ভিত্তি, বৈজ্ঞানিক সত্য, ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞান কিংবা যুক্তি। (১)

এই সংজ্ঞাকে সংক্ষেপ করাও সম্ভব, যা হবে নিম্নরূপ শব্দে:

তা হলো: এমন প্রতিটি শরয়ি নস; যার অর্থ দুবোধ্য ও অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে, অথবা যা অন্য কোনো শরয়ি নসের সাথে বিরোধের সংশয় তৈরি করে,

অথবা যা এমন কোনো অর্থের সংশয় দেয় যা অসম্ভব; শরয়ি বিচারে কিংবা যুক্তির নিরিখে, অথবা শরিয়ত ও যুক্তি উভয়ের নিরিখেই।

এই সংজ্ঞার মাধ্যমে আমরা সকল পরিভাষার অর্থকে আয়ত্ত করতে পেরেছি। ফলে এটি মুশকিলের পূর্বোল্লিখিত সকল সংজ্ঞাকে অন্তর্ভুক্ত করে; চাই তা উসুলবিদ, মুহাদ্দিস কিংবা তাফসির ও উলুমুল কুরআনের পণ্ডিতদের পরিভাষা অনুযায়ী হোক না কেন।

 

****

--------------------------------------------

(১) এখানে লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন যে, ঐ সকল আয়াত বা হাদিসকে স্বতন্ত্রভাবে অধ্যয়ন বা শ্রেণীবদ্ধ করা হয়নি যেগুলোর বাহ্যিক রূপ কোনো ভাষাগত ভিত্তি, সাব্যস্তকৃত বৈজ্ঞানিক সত্য, ইন্দ্রিয়লব্ধ জ্ঞান কিংবা যুক্তির সাথে বিরোধের সংশয় তৈরি করে। এই বিষয়টি গবেষণার দাবি রাখে এবং এটি কুরআন ও হাদিসের ‘মুশকিল’ সংক্রান্ত প্রাচীন ও আধুনিক জ্ঞানভাণ্ডারের একটি পরিপূরক অংশ।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মুশকিলাতুল ওয়ারিদাহ ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌المبحث الثاني: تعريف التعارض في اللغة والاصطلاح:

 

‌‌المطلب الأول: تعريف التعارض في اللغة:

التعارض لغة: مصدر للفعل تَعَارَضَ، يقال: تعارض تعارُضاً، فهو متعارض، وهو يدل على المشاركة بين اثنين فأكثر.

وأصله راجع لمادة «عَرَضَ»، وهذه المادة تدور حول المعاني الآتية:

الأول: المنع: يُقال: عَرَضَ الشيء يَعْرِضُ واعترض، إذا انتصب ومنع وصار عارضاً؛ كالخشبة المنتصبة في النهر والطريق ونحوها تمنع السالكين سلوكها.

والعَرَض: هو ما يعْرِضُ للإنسان من أمر يحبِسُه، من مرضٍ أو لُصوص أو نحو ذلك.

الثاني: الظهور: يُقال: عرض عليه الشيء، إذا أظهره وأبداه، ومنه قوله تعالى: {وَعَلَّمَ آدَمَ الأَسْمَاء كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلَائِكَةِ} (? ? ? ? ? ? ? ?) [البقرة: 31].

الثالث: المُعارَضَة: يُقال: عارض الشيء بالشيء مُعارضة، أي قابله، وعارضتُ كتابي بكتابه، أي قابلته، وفي الحديث: «إنَّ جبريل عليه السلام كان يُعارضه القرآن في كل سنة مرة، وإنه عارضه العام مرتين» (1)، أي كان يُدارسه جميع ما نزل من القرآن، من المعارضة أي المقابلة. (2)

الرابع: المساواة والمِثْل: يُقال: عارض فلانٌ فلاناً إذا فعل مثل فعله،

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في صحيحه، في كتاب الاستئذان، حديث (6285)، ومسلم في صحيحه، في كتاب فضائل الصحابة، حديث (2450).

(2) انظر: النهاية في غريب الحديث والأثر، لابن الأثير (3/ 212).
‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে তাআ’রুদ (বিরোধ)-এর সংজ্ঞা:

 

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: আভিধানিক অর্থে তাআ’রুদ-এর সংজ্ঞা:

আভিধানিক অর্থে তাআ’রুদ: এটি ‘তাআ’রাযা’ ক্রিয়ার একটি মাসদার বা ক্রিয়ামূল। বলা হয়: সে ‘তাআ’রাযা’ (পরস্পর বিরোধী হয়েছে) ‘তাআ’রুদন’ (বিরোধিতা করা), সুতরাং তা ‘মুতাআ’রিদ’ (পরস্পর বিরোধী)। এটি দুই বা ততোধিক পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব বা ক্রিয়াকে নির্দেশ করে।

এর মূল উৎস ‘আরাযা’ ধাতুর দিকে ফিরে যায়। আর এই ধাতুটি নিম্নোক্ত অর্থসমূহকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়:

প্রথম: বাধা প্রদান: বলা হয়: বস্তুটি ‘আরাযা’ (আড়াআড়ি হয়েছে) ‘ইয়া’রিযু’ এবং ‘ই’তারাযা’ (প্রতিবন্ধক হয়েছে), যখন সেটি সোজাসুজি দণ্ডায়মান হয়, বাধা দেয় এবং প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়; যেমন নদী বা রাস্তায় খাড়া করে রাখা কাঠ বা অনুরূপ কিছু যা পথচারীদের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে।

আর ‘আরায’ হলো মানুষের সামনে আপতিত এমন বিষয় যা তাকে আটকে দেয় বা গতিরোধ করে, যেমন অসুস্থতা, চোর অথবা এই জাতীয় কিছু।

দ্বিতীয়: প্রকাশ পাওয়া: বলা হয়: ‘আরাযা আলাইহিশ শাইয়া’, যখন সে বিষয়টিকে প্রকাশিত ও দৃশ্যমান করল। এরই অন্তর্ভুক্ত মহান আল্লাহর বাণী: {আর তিনি আদমকে যাবতীয় নাম শিক্ষা দিলেন, তারপর সেগুলোকে ফেরেশতাদের সামনে উপস্থাপন করলেন} [সূরা আল-বাকারাহ: ৩১]।

তৃতীয়: মোকাবিলা বা তুলনা করা: বলা হয়: ‘আরাযা আশ-শাইয়া বিশ-শাইয়ি মুআরাযাতান’, অর্থাৎ একটিকে অপরটির মুখোমুখি করা। যেমন: ‘আমি আমার কিতাবকে তার কিতাবের সাথে মুআরাযাহ (তুলনা) করেছি’, অর্থাৎ আমি সেটি মিলিয়ে দেখেছি বা মোকাবিলা করেছি। হাদীসে এসেছে: “নিশ্চয়ই জিবরাঈল আলাইহিস সালাম প্রতি বছর একবার তাঁর সাথে কুরআন মুআরাযাহ (পরস্পর পঠন ও পর্যালোচনা) করতেন এবং যে বছর তিনি ইন্তেকাল করেন সে বছর দুইবার মুআরাযাহ করেছেন” (১)। অর্থাৎ কুরআনের যা কিছু নাযিল হয়েছিল, তার সবটুকুই তিনি তাঁর সাথে পঠন-পাঠন ও পর্যালোচনা করতেন। এখানে মুআরাযাহ অর্থ হলো মোকাবিলা বা মুখোমুখি যাচাই করা। (২)

চতুর্থ: সমতা ও সদৃশ হওয়া: বলা হয়: ‘অমুক ব্যক্তি অমুক ব্যক্তির মুআরাযাহ করেছে’ যখন সে তার অনুরূপ কাজ করে।

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারী তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, অনুমতি প্রার্থনা অধ্যায়ে, হাদীস নং (৬২৮৫); এবং মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, সাহাবীদের মর্যাদা অধ্যায়ে, হাদীস নং (২৪৫০)।

(২) দেখুন: ইবনুল আসীর রচিত ‘আন-নিহায়াহ ফী গারীবিল হাদীস ওয়াল আসার’ (৩/ ২১২)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মুশকিলাতুল ওয়ারিদাহ ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৮)
وأتى إليه مثل الذي أتى به. (1)

والمنع هو المقصود في معنى التعارض الذي يقع بين النصوص الشرعية، بمعنى أنَّ أحد الدليلين يمنع مدلول الآخر، ويَعْتَرِضُ له.

 

‌‌المطلب الثاني: تعريف التعارض في الاصطلاح:

أكثر من تناول تعريف التعارض في الاصطلاح هم الأصوليون، ولم نجد في كتابات المتقدمين ممن ألف في مشكل الحديث تعريفاً للتعارض بعينه، وإنْ كانوا يعبرون عنه في بعض كتاباتهم، فقد ذكر الحاكم في النوع التاسع والعشرين من معرفة علوم الحديث أنَّ من هذا النوع: معرفة سُننٍ لرسول الله صلى الله عليه وسلم يُعارضها مثلها. (2)

وأفرد الخطيب البغدادي في كتابه «الكفاية» باباً للتعارض قال فيه: «باب القول في تعارض الأخبار، وما يصح التعارض فيه وما لا يصح». (3)

واستعمل هذا اللفظ جمع من المحدثين، كابن حبان، (4)، والطبري (5)، والطحاوي (6)، وغيرهم.

وقد كانوا يستعملون لفظاً مرادفاً للتعارض، وهو مختلف الحديث، وظاهر صنيعهم أنْ لا فرق بين المصطلحين، وقد عرَّفوا المختلف بتعريفات عدة، هي في جملتها راجعة لمعنى التعارض، وستأتي في المبحث الثالث إنْ شاء الله تعالى.

--------------------------------------------

(1) انظر: كتاب العين، للخليل بن أحمد (1/ 272)، وتهذيب اللغة، للأزهري (1/ 454)، ومعجم مقاييس اللغة، لابن فارس (4/ 272)، ولسان العرب، لابن منظور (7/ 168 - 169)، والتعارض والترجيح للبرزنجي (1/ 15).

(2) معرفة علوم الحديث، للحاكم (1/ 122).

(3) الكفاية في علم الرواية، للخطيب البغدادي (1/ 432).

(4) انظر: صحيح ابن حبان (5/ 483)، (11/ 207)، (13/ 446).

(5) انظر: تهذيب الآثار، للطبري (2/ 635).

(6) انظر: شرح معاني الآثار، للطحاوي (1/ 510)، (3/ 161).
এবং তার নিকট এসেছে তার অনুরূপ যা তিনি নিয়ে এসেছেন। (১)

এবং শরয়ী দলীলসমূহের মধ্যে সংঘটিত বিরোধের (তাআ’রুয) অর্থের ক্ষেত্রে 'বাধা প্রদান'ই উদ্দেশ্য, অর্থাৎ দুটি দলীলের একটি অপরটির মর্মার্থকে বাধা প্রদান করে এবং তার মোকাবিলা করে।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: পারিভাষিক সংজ্ঞায় বিরোধের (তাআ’রুয) পরিচয়:

পারিভাষিক সংজ্ঞায় বিরোধের (তাআ’রুয) সংজ্ঞা নিয়ে যারা সবচেয়ে বেশি আলোচনা করেছেন তারা হলেন উসূলবিদগণ। যারা 'মুশকিলাল হাদীস' বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন এমন পূর্ববর্তীদের লেখায় আমরা বিরোধের (তাআ’রুয) নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞা পাইনি, যদিও তারা তাদের কিছু লেখায় এটি ব্যক্ত করেছেন। ইমাম হাকেম 'মা'রিফাতু উলূমিল হাদীস'-এর উনত্রিশতম প্রকারের আলোচনায় উল্লেখ করেছেন যে, এই প্রকারের অন্তর্ভুক্ত হলো: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এমন সুন্নাহ সম্পর্কে জানা যা তার অনুরূপ অন্য একটির সাথে বিরোধপূর্ণ হয়। (২)

খতীব আল-বাগদাদী তাঁর 'আল-কিফায়া' গ্রন্থে বিরোধের (তাআ’রুয) জন্য একটি পৃথক অধ্যায় নির্ধারণ করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: 'বর্ণনা বা সংবাদের বিরোধ সংক্রান্ত বক্তব্য এবং যাতে বিরোধ হওয়া সহীহ ও যাতে সহীহ নয় তার অধ্যায়'। (৩)

এবং একদল মুহাদ্দিস এই পরিভাষাটি ব্যবহার করেছেন, যেমন ইবনে হিব্বান (৪), তাবারী (৫), তাহাবী (৬) এবং অন্যান্যরা।

তারা বিরোধের (তাআ’রুয) সমার্থক শব্দ হিসেবে একটি শব্দ ব্যবহার করতেন, যা হলো 'মুখতালিফুল হাদীস'। তাদের কার্যক্রম থেকে এটি স্পষ্ট যে এই দুটি পরিভাষার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তারা 'মুখতালিফ' এর বেশ কিছু সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, যা সামগ্রিকভাবে 'তাআ’রুয' বা বিরোধের অর্থেই ফিরে যায়, আর তা ইনশাআল্লাহ তাআলা তৃতীয় অনুচ্ছেদে সামনে আসবে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: কিতাবুল আইন, খলিল বিন আহমদ (১/ ২৭২); তাহযীবুল লুগাহ, আজহারী (১/ ৪৫৪); মু'জামু মাকায়িসিল লুগাহ, ইবনে ফারিস (৪/ ২৭২); লিসানুল আরব, ইবনে মানযুর (৭/ ১৬৮ - ১৬৯); এবং আত-তাআ’রুয ওয়াত-তারজীহ, আল-বারযানজী (১/ ১৫)।

(২) মা'রিফাতু উলূমিল হাদীস, হাকেম (১/ ১২২)।

(৩) আল-কিফায়া ফী ইলমির রিওয়ায়াহ, খতীব আল-বাগদাদী (১/ ৪৩২)।

(৪) দেখুন: সহীহ ইবনে হিব্বান (৫/ ৪৮৩), (১১/ ২০৭), (১৩/ ৪৪৬)।

(৫) দেখুন: তাহযীবুল আসার, তাবারী (২/ ৬৩৫)।

(৬) দেখুন: শারহু মা'আনিল আসার, তাহাবী (১/ ৫১০), (৩/ ১৬১)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মুশকিলাতুল ওয়ারিদাহ ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ২৯)
بقي أنْ نُشير إلى تعريفات الأصوليين للتعارض في الاصطلاح، ونُحيل في تعريفه عند المحدثين للمبحث الثالث بعد هذا.

وقد عرَّف الأصوليون التَّعارض بصيغٍ عدَّةٍ هي في جملتها راجعة لمعنى واحد، ومن هذه التعريفات:

تعريف ابن الهُمام (1) من الحنفية بأنه: «اقتضاء كل من دليلين عدم مقتضى الآخر». (2)

وعرَّفه الزركشي من الشافعية بأنه: «تقابل الدليلين على سبيل الممانعة». (3)

ونحوه تعريف الإسنوي (4) من الشافعية حيث قال: «التعارض بين الشيئين: هو تقابلهما على وجه يمنع كل منهما مُقتضى صاحبه». (5)

وعرَّفه الفتوحي (6) من الحنابلة بأنه: «تقابل دليلين - ولو عامَّين - على سبيل الممانعة». (7)

--------------------------------------------

(1) هو: محمد بن عبد الواحد بن عبد الحميد بن مسعود، السيواسي ثم الإسكندري، كمال الدين، المعروف بابن الهمام: إمام، من علماء الحنفية. عارف بأصول الديانات والتفسير والفرائض والفقه والحساب واللغة والمنطق. أصله من سيواس. ولد بالإسكندرية، ونبغ في القاهرة. وأقام بحلب مدة. وجاور بالحرمين. ثم كان شيخ الشيوخ بالخانقاه الشيخونية بمصر. وكان معظماً عند الملوك وأرباب الدولة. من كتبه (فتح القدير) في شرح الهداية، ثماني مجلدات في فقه الحنفية، و (التحرير) في أصول الفقه، وغيرهما، توفي بالقاهرة، سنة 861 هـ. انظر: الأعلام، للزركلي (6/ 255).

(2) التقرير والتحبير، لابن أمير حاج (3/ 2).

(3) البحر المحيط، للزركشي (8/ 120).

(4) هو: عبد الرحيم بن الحسن بن علي الإسنوي الشافعي، أبو محمد، جمال الدين: فقيه أصولي، من علماء العربية. ولد بإسنا، وقدم القاهرة سنة 721 هـ، فانتهت إليه رياسة الشافعية. وولي الحسبة ووكالة بيت المال، ثم اعتزل الحسبة. من كتبه (المبهمات على الروضة)، و (نهاية السول شرح منهاج الأصول) وغيرهما، توفي سنة (772هـ). انظر: الأعلام، للزركلي (3/ 344).

(5) نهاية السول، للإسنوي (3/ 35).

(6) هو: محمد بن أحمد بن عبد العزيز الفتوحي، تقي الدين أبو البقاء، الشهير بابن النجار: فقيه حنبلي مصري. من القضاة. قال الشعراني: صحبته أربعين سنة فما رأيت عليه شيئاً يشينه، وما رأيت أحداً أحلى منطقاً منه، ولا أكثر أدباً مع جليسه. له (منتهى الإرادات في جمع المقنع مع التنقيح وزيادات) مع شرحه للبهوتي، في فقه الحنابلة، و (الكوكب المنير) في أصول الفقه، مع شرحه، وغيرهما، توفي سنة

(972هـ). انظر: الأعلام، للزركلي (6/ 6).

(7) شرح الكوكب المنير، للفتوحي، ص (634).
পরিভাষায় বিরোধ (তাআুরুদ)-এর ব্যাপারে উসূলবিদগণের সংজ্ঞাসমূহ উল্লেখ করা এখন বাকি রয়েছে; আর মুহাদ্দিসগণের নিকট এর সংজ্ঞার বিষয়টি আমরা এর পরবর্তী তৃতীয় পরিচ্ছেদের জন্য স্থগিত রাখছি।

উসূলবিদগণ 'তাআুরুদ'-এর বেশ কিছু সংজ্ঞা প্রদান করেছেন, যা সামগ্রিকভাবে একই অর্থের দিকে ফিরে যায়। সেই সংজ্ঞাসমূহ থেকে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো:

হানাফী মাযহাবের ইবনুল হুমাম (১) প্রদত্ত সংজ্ঞা: «দুটি দলিলের এমন হওয়া যেখানে তাদের প্রত্যেকটি অপরটির দাবিকৃত বিষয়কে নাকচ করে দেয়»। (২)

শাফেয়ী মাযহাবের যারকাশী একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: «পরস্পর বাধা প্রদানের ভিত্তিতে দুটি দলিলের মুখোমুখি হওয়া»। (৩)

অনুরূপ সংজ্ঞা দিয়েছেন শাফেয়ী মাযহাবের আসনাভী (৪)। তিনি বলেছেন: «দুটি বিষয়ের মাঝে বিরোধ হলো: এমনভাবে তাদের মুখোমুখি হওয়া যাতে তাদের প্রত্যেকেই অপরটির দাবিকৃত বিষয়কে বাধাগ্রস্ত করে»। (৫)

হাম্বলী মাযহাবের ফুতুহী (৬) একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: «পরস্পর বাধা প্রদানের ভিত্তিতে দুটি দলিলের—চাই তা সাধারণ (আম) হোক না কেন—মুখোমুখি হওয়া»। (৭)

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আব্দুল হামিদ বিন মাসউদ, সিওয়াসি অতঃপর ইস্কান্দারি, কামালুদ্দীন, যিনি ইবনুল হুমাম নামে পরিচিত: একজন ইমাম এবং হানাফী উলামাদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি দ্বীনের মূলনীতি (উসূল), তাফসীর, ফারায়েজ, ফিকহ, গণিত, ভাষা ও যুক্তিবিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। তাঁর আদি নিবাস সিওয়াসে। তিনি ইস্কান্দারিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং কায়রোতে খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি কিছুকাল হালবে অবস্থান করেন। তিনি হারামাইন শরীফাইনেও অবস্থান করেছিলেন। এরপর তিনি মিসরের খানকাহে শাইখুনিয়ার 'শাইখুশ শুয়ুখ' (প্রধান শাইখ) হন। রাজা-বাদশাহ এবং রাষ্ট্রীয় উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের নিকট তিনি অত্যন্ত সম্মানিত ছিলেন। তাঁর লিখিত গ্রন্থের মধ্যে হিদায়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থ (ফাতহুল কাদীর) আট খণ্ডে হানাফী ফিকহের কিতাব, এবং উসূলে ফিকহের উপর (আত-তাহরীর) উল্লেখযোগ্য। তিনি ৮৬১ হিজরিতে কায়রোতে ইন্তেকাল করেন। দ্রষ্টব্য: আল-আ'লাম, যারকালী (৬/ ২৫৫)।

(২) আত-তাকরীর ওয়াত-তাহবীর, ইবনে আমীর হাজ (৩/ ২)।

(৩) আল-বাহরুল মুহীত, যারকাশী (৮/ ১২০)।

(৪) তিনি হলেন: আব্দুর রহীম বিন আল-হাসান বিন আলী আস-আসনাভী আশ-শাফেয়ী, আবু মুহাম্মাদ, জামালুদ্দীন: একজন ফকীহ, উসূলবিদ এবং আরবী ভাষাবিদ। তিনি ইসনা নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭২১ হিজরিতে কায়রোতে আসেন। সেখানে শাফেয়ী মাযহাবের নেতৃত্ব তাঁর নিকট এসে সমাপ্ত হয়। তিনি হাসবাহ (তদারকি) এবং বাইতুল মালের প্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব পালন করেন, পরবর্তীতে হাসবাহ থেকে অবসর নেন। তাঁর গ্রন্থের মধ্যে (আল-মুবহামাত আলা আর-রাওদাহ) এবং (নিহায়াতুস সূল শারহু মিনহাজিল উসূল) অন্যতম। তিনি ৭৭২ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। দ্রষ্টব্য: আল-আ'লাম, যারকালী (৩/ ৩৪৪)।

(৫) নিহায়াতুস সূল, আসনাভী (৩/ ৩৫)।

(৬) তিনি হলেন: মুহাম্মাদ বিন আহমদ বিন আব্দুল আজিজ আল-ফুতুহী, তাকিয়ুদ্দীন আবু আল-বাকা, যিনি ইবনুন নাজ্জার নামে পরিচিত: একজন মিশরীয় হাম্বলী ফকীহ এবং বিচারক (কাজী)। শায়রানী বলেন: আমি চল্লিশ বছর তাঁর সংশ্রবে ছিলাম, এমন কিছু দেখিনি যা তাঁকে কলঙ্কিত করে। আমি তাঁর চেয়ে সুমিষ্টভাষী কাউকে দেখিনি এবং মজলিসে উপস্থিত সঙ্গীদের সাথে তাঁর চেয়ে বেশি আদব রক্ষা করতে কাউকে দেখিনি। তাঁর গ্রন্থের মধ্যে (মুনতাহাল ইরাদাত ফি জাময়িল মুকনা মাআত তানকীহ ওয়া যিয়াদাত) যা বাহুতির ব্যাখ্যাসহ হাম্বলী ফিকহের গ্রন্থ, এবং উসূলে ফিকহের উপর (আল-কাওকাবুল মুনীর) নিজস্ব ব্যাখ্যাসহ অন্যতম। তিনি ৯৭২ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। দ্রষ্টব্য: আল-আ'লাম, যারকালী (৬/ ৬)।

(৭) শারহুল কাওকাবিল মুনীর, ফুতুহী, পৃ. (৬৩৪)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মুশকিলাতুল ওয়ারিদাহ ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌المبحث الثالث: تعريف المختلف في اللغة والاصطلاح:

 

‌‌المطلب الأول: تعريف المختلف في اللغة:

المُخْتلِف ـ بكسر اللام ـ اسم فاعل للفعل: اختلَفَ، والمصدر: اختلاف، يقال: اختلف اختلافاً، فهو مختلِف.

والمُختلَف ـ بفتح اللام ـ اسم مفعول، والاختلاف ضد الاتفاق، يُقال: تَخَالَفَ الأمْرانِ واختلفا؛ إذا لم يَتَّفِقَا، وكَلُّ ما لم يَتَسَاوَ فقد تَخَالَفَ واخْتَلَفَ.

وتَخَالَفَ القوم واخْتَلَفُوا؛ إذا ذهب كلّ واحد إلى خِلافِ ما ذهب إليه الآخر. (1)

 

‌‌المطلب الثاني: تعريف مختلف الحديث في الاصطلاح:

لمختلف الحديث تعريفات عدة ذَكَرَهَا من كَتَبَ في مصطلح الحديث، هي في جُملتها راجعة لمعنى واحد، ومن أشهرها تعريف النووي، حيث قال: «هو أنْ يأتي حديثان متضادَّان في المعنى ظاهراً، فيُوفَّقُ بينهما، أو يُرجَّح أحدهما». (2)

--------------------------------------------

(1) انظر: القاموس المحيط، للفيروز آبادي، ص (1042)، ولسان العرب، لابن منظور (9/ 91)، والمصباح المنير، للفيومي، ص (179).

(2) التقريب للنووي (2/ 115)، مطبوع مع شرحه «تدريب الراوي»، للسيوطي.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে মুখতালিফ-এর সংজ্ঞা:

 

প্রথম অনুচ্ছেদ: আভিধানিক অর্থে মুখতালিফ-এর সংজ্ঞা:

মুখতালিফ — ‘লাম’ বর্ণে কাসরা (যের) যোগে — এটি ‘ইখতালাফা’ ক্রিয়ার ইসমে ফায়েল (কর্তৃবাচক বিশেষ্য), এবং এর মাসদার (ক্রিয়ামূল) হলো ‘ইখতিলাফ’। বলা হয়: সে ভিন্নতা পোষণ করল, সুতরাং সে ভিন্নতাকারী বা মুখতালিফ।

আর মুখতালাফ — ‘লাম’ বর্ণে ফাতহাহ (যবর) যোগে — এটি ইসমে মাফউল (কর্মবাচক বিশেষ্য)। ইখতিলাফ হলো ইত্তিফাক বা ঐক্যের বিপরীত। বলা হয়: ‘বিষয় দুটি ভিন্ন হয়েছে এবং একে অপরের বিপরীত হয়েছে’; যখন তারা একমত হয় না। আর যা কিছুই সমান নয়, তা-ই একে অপরের বিপরীত ও ভিন্ন হয়েছে।

লোকেরা একে অপরের বিরোধী হলো এবং ভিন্ন মত পোষণ করল; যখন তাদের প্রত্যেকে অন্যজনের মতের বিপরীতে ভিন্ন পথ অবলম্বন করল। (১)

 

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: পরিভাষায় মুখতালিফুল হাদীস-এর সংজ্ঞা:

মুখতালিফুল হাদীসের বেশ কিছু সংজ্ঞা হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা বিষয়ক লেখকগণ উল্লেখ করেছেন, যা মূলত একই অর্থের দিকে ধাবিত হয়। এর মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ হলো ইমাম নববীর সংজ্ঞা, যেখানে তিনি বলেছেন: «তা হলো এমন দুটি হাদীস আসা যা বাহ্যিকভাবে অর্থের দিক থেকে পরস্পরবিরোধী, অতঃপর সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করা হয় অথবা তাদের কোনো একটিকে অগ্রাধিকার প্রদান করা হয়»। (২)

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-কামুসুল মুহীত, ফিরোযাবাদী, পৃষ্ঠা (১০৪২); লিসানুল আরব, ইবনুল মানযুর (৯/ ৯১); এবং আল-মিসবাহুল মুনীর, ফাইয়ূমী, পৃষ্ঠা (১৭৯)।

(২) আত-তাকরীব, নববী (২/ ১১৫), যা সুয়ূতী রচিত এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ «তাদরীবুর রাবী»-এর সাথে মুদ্রিত।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মুশকিলাতুল ওয়ারিদাহ ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৩১)
وعرفه الحافظ ابن حجر بأنه: «الحديث الذي عارضه ظاهراً مثله». (1)

وعرَّفه بعض المتأخرين بأنه: «تقابل حديثين نبويين على وجه يمنع كل منهما مقتضى الآخر، تقابلاً ظاهراً». (2)

وهذا التعريف الأخير يصلح تعريفاً للتعارض لا المختلف، لأن التعارض فيه تناقض بخلاف المختلف.

وعُرِّف التعارض بأنه: «تناقض ظاهري، واقع بين مدلولي حديثين أو أكثر، وخفي وجه الجمع بينهما». (3)

وهذا التعريف الأخير هو الأقرب في معنى التعارض، والله تعالى أعلم.

--------------------------------------------

(1) شرح نخبة الفكر في مصطلح أهل الأثر، لابن حجر، ص (20).

(2) انظر: منهج التوفيق والترجيح بين مختلف الحديث، للدكتور عبد المجيد السوسوة، ص (51).

(3) مختلف الحديث، لأسامة خياط، ص (51).
হাফেজ ইবনে হাজার একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: «এমন হাদিস যার বাহ্যিকভাবে এর অনুরূপ একটি হাদিস বিরোধিতা করে»। (১)

পরবর্তী যুগের কিছু আলেম একে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: «দুটি নববী হাদিসের এমনভাবে মুখোমুখি অবস্থান করা যাতে তাদের প্রত্যেকটি অপরটির দাবিকে বাহ্যিক দৃষ্টিতে বাধাগ্রস্ত করে»। (২)

আর এই শেষোক্ত সংজ্ঞাটি মুখতালাফ (পরস্পর বিরোধী প্রতীয়মান হাদিস) এর পরিবর্তে তাআরুদ (পরস্পর বিরোধিতা) এর সংজ্ঞা হিসেবে অধিক উপযুক্ত; কারণ তাআরুদ-এর মধ্যে স্ববিরোধিতা বিদ্যমান থাকে, যা মুখতালাফ-এর ক্ষেত্রে ভিন্ন।

আর তাআরুদ (পরস্পর বিরোধিতা)-কে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে: «এটি হলো দুই বা ততোধিক হাদিসের অর্থের মধ্যে সংঘটিত একটি বাহ্যিক স্ববিরোধিতা, এবং যেগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের পথটি অস্পষ্ট»। (৩)

এই শেষোক্ত সংজ্ঞাটিই তাআরুদ (পরস্পর বিরোধিতা) এর অর্থের ক্ষেত্রে অধিকতর নিকটবর্তী, আর আল্লাহ তায়ালাই সবচেয়ে ভালো জানেন।

--------------------------------------------

(১) শরহু নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার, ইবনে হাজার রচিত, পৃষ্ঠা (২০)।

(২) দেখুন: মানহাজুত তাওফিক ওয়াত তারজিহ বাইনা মুখতালাফিল হাদিস, ডক্টর আব্দুল মাজীদ আস-সুসওয়াহ রচিত, পৃষ্ঠা (৫১)।

(৩) মুখতালাফুল হাদিস, উসামা খাইয়াত রচিত, পৃষ্ঠা (৫১)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মুশকিলাতুল ওয়ারিদাহ ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌المبحث الرابع: الفرق بين المشكل والتعارض والمختلف:

 

‌‌المطلب الأول: الفرق بين مشكل الحديث ومختلف الحديث:

مشكل الحديث أعم من مختلف الحديث، فمشكل الحديث يتناول كل إشكال يطرأ على الحديث، على النحو الذي ذكرته في تعريف مشكل الحديث. (1)

وأما مختلف الحديث فهو خاص بالأحاديث التي يُوهِمُ ظاهرها الاختلاف فيما بينها وحسب.

وعليه فإن مختلف الحديث أخص من مشكل الحديث، فكل مختلف مشكل، وليس كل مشكل مختلفاً، إذ بينهما عموم وخصوص مطلق. (2)

 

‌‌المطلب الثاني: الفرق بين التعارض والمختلف:

ظاهر صنيع المتقدمين أنْ لا فرق بين موهم التعارض والمختلف، وقد أسلفت أنَّ بعضهم يُعبر بالتعارض تارة والبعض الآخر يُعبر بالمختلف تارة أخرى.

--------------------------------------------

(1) انظر: ص (15).

(2) انظر: الوسيط في علوم ومصطلح الحديث، للدكتور محمد أبو شهبة، ص (442)، ومختلف الحديث، للدكتور أسامة خياط، ص (37 - 38)، ومنهج التوفيق والترجيح بين مختلف الحديث، للدكتور عبدالمجيد السوسوة، ص (56).
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মুশকিল, তাআ'রুজ এবং মুখতালিফের মধ্যে পার্থক্য:

 

প্রথম অনুচ্ছেদ: মুশকিলুল হাদিস এবং মুখতালিফুল হাদিসের মধ্যে পার্থক্য:

মুশকিলুল হাদিস হলো মুখতালিফুল হাদিস অপেক্ষা অধিক ব্যাপক। মুশকিলুল হাদিস এমন প্রতিটি জটিলতাকে অন্তর্ভুক্ত করে যা হাদিসের ক্ষেত্রে দেখা দেয়, যেমনটি আমি মুশকিলুল হাদিসের সংজ্ঞায় উল্লেখ করেছি। (১)

আর মুখতালিফুল হাদিস কেবল সেই সব হাদিসের সাথে সংশ্লিষ্ট যেগুলোর বাহ্যিক রূপ পরস্পরের মধ্যে বৈপরীত্যের বিভ্রান্তি তৈরি করে।

সেই অনুযায়ী মুখতালিফুল হাদিস হলো মুশকিলুল হাদিস অপেক্ষা অধিক নির্দিষ্ট (খাস)। অতএব, প্রতিটি মুখতালিফ-ই মুশকিল, কিন্তু প্রতিটি মুশকিল মুখতালিফ নয়; কারণ এদের মধ্যে আম ও খাস মুতলাক (সাধারণ ও বিশেষের নিরঙ্কুশ) সম্পর্ক বিদ্যমান। (২)

 

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাআ'রুজ এবং মুখতালিফের মধ্যে পার্থক্য:

পূর্বসূরিদের কর্মপদ্ধতি থেকে বাহ্যত মনে হয় যে, বৈপরীত্যের বিভ্রান্তি (মুহিমুত তাআ'রুজ) এবং মুখতালিফের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আমি আগেই উল্লেখ করেছি যে, তাঁদের কেউ কেউ কখনো একে 'তাআ'রুজ' শব্দে প্রকাশ করেছেন এবং অন্য কেউ একে 'মুখতালিফ' শব্দে প্রকাশ করেছেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: পৃষ্ঠা (১৫)।

(২) দেখুন: আল-ওয়াসিত ফি উলুম ওয়া মুসতালাহিল হাদিস, ডক্টর মুহাম্মদ আবু শাহবাহ, পৃষ্ঠা (৪৪২); মুখতালিফুল হাদিস, ডক্টর উসামা খাইয়াত, পৃষ্ঠা (৩৭-৩৮); এবং মানহাজুত তাওফিক ওয়াত তারজিহ বাইনা মুখতালিফুল হাদিস, ডক্টর আব্দুল মাজিদ আস-সুসওয়াহ, পৃষ্ঠা (৫৬)।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল মুশকিলাতুল ওয়ারিদাহ ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ولم أجد في كتابات المتأخرين تفريقاً بينهما أيضاً، ويظهر لي أنَّ ثمة فرق في المعنى بين المصطلحين؛ إذ المُختلف يقع على أفراد ذُكِرَتْ في نصٍ ما، وجاء في نصٍ آخر ما يُخالف في الوصف بعض تلك الأفراد، كأن يأتي في حديث وصف شيء ما بعدة أوصاف، ويأتي في حديث آخر ما يُخالفه في ذكر بعض هذه الأوصاف، أو يأتي في حديث ذكر عدد معين، ويأتي في حديث آخر اختلاف في العدد، وهكذا.

وأما التعارض فإنه تقابل نصين شرعيين، بحيث يمنع مدلول أحدهما مدلول الآخر؛ كأن يأتي نص بإثبات شيء ما، ويأتي في نص آخر نفيٌ له، أو يأتي نص بتحريم أمر ما، ويأتي في نص آخر الأمر به، فالأول تناقض في الخبر، والآخر تناقض في الحكم. (1)

إلا أنَّ هذا التفريق هو في المعنى وحسب، ولا يلزم منه تخطئة من لم يُفرق بينهما، أو التثريب على من لم يتقيد بهذا التفريق؛ إذ لا مُشاحة في الاصطلاح؛ لأن العبرة في المصطلحات هو ما تعارف عليه أهل كل مصطلح وتناقلوه فيما بينهم، بغض النظر عن الاختلاف في معاني المصطلحات من ناحية اللغة.

 

‌‌المطلب الثالث: الفرق بين مشكل الحديث وموهم التعارض:

أما في اصطلاح المحدثين فالفرق هو ما تقدم في الفرق بين مختلف الحديث ومشكل الحديث؛ إذ لا فرق عندهم بين المختلف وموهم التعارض، وأما على التفريق الذي ذكرته بين المختلف وموهم التعارض، فيكون موهم التعارض أخص من المشكل، على المعنى الذي ذكرته سابقاً.

 

****

--------------------------------------------

(1) انظر: أصول في التفسير، لابن عثيمين، ص (52).
পরবর্তী আলেমদের লেখাতেও আমি এই দুইয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য দেখতে পাইনি। আমার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, এই দুটি পরিভাষার অর্থের মধ্যে সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে; কারণ 'মুখতালিফ' (ভিন্নতাপূর্ণ) প্রযোজ্য হয় এমন সব বিষয়ের ক্ষেত্রে যা কোনো একটি পাঠে (নস) বর্ণিত হয়েছে এবং অন্য একটি পাঠে সেগুলোর কোনো কোনোটির বর্ণনার ক্ষেত্রে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়েছে। যেমন কোনো একটি হাদিসে কোনো বিষয়কে কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে বর্ণনা করা হলো, আর অন্য একটি হাদিসে এই বৈশিষ্ট্যগুলোর কোনো কোনোটি বর্ণনার ক্ষেত্রে তার ভিন্নতা আসলো। অথবা কোনো হাদিসে নির্দিষ্ট একটি সংখ্যা উল্লেখ করা হলো এবং অন্য হাদিসে সংখ্যার ক্ষেত্রে ভিন্নতা দেখা দিল—বিষয়টি এমনই।

আর 'তাআরুদ' (পারস্পরিক বিরোধিতা) হলো দুটি শরয়ি পাঠের এমনভাবে মুখোমুখি হওয়া যেখানে একটির মর্মার্থ অন্যটির মর্মার্থকে বাধা প্রদান করে। যেমন কোনো একটি পাঠে কোনো বিষয়কে সাব্যস্ত করা হলো এবং অন্য একটি পাঠে তা অস্বীকার করা হলো। অথবা কোনো পাঠে কোনো বিষয়কে হারাম করা হলো এবং অন্য একটি পাঠে সেটির নির্দেশ দেওয়া হলো। এর মধ্যে প্রথমটি হলো সংবাদের ক্ষেত্রে স্ববিরোধিতা এবং দ্বিতীয়টি হলো বিধানের ক্ষেত্রে স্ববিরোধিতা। (১)

তবে এই পার্থক্যকরণটি কেবল অর্থগত দিক থেকেই সীমাবদ্ধ। যারা এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করেন না তাদেরকে ভুল সাব্যস্ত করা কিংবা যারা এই পার্থক্যের অনুসারী নন তাদেরকে নিন্দা করা আবশ্যক নয়; কারণ পরিভাষার ক্ষেত্রে কোনো বিবাদ নেই। পরিভাষার ক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য বিষয় হলো সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞগণ যেটির ওপর একমত হয়েছেন এবং নিজেদের মধ্যে আদান-প্রদান করেছেন, ভাষাগত দিক থেকে শব্দের অর্থের পার্থক্য এখানে মুখ্য নয়।

 

‌‌তৃতীয় অনুচ্ছেদ: মুশকিলুল হাদিস এবং আপাত বিরোধপূর্ণ (মুহামুত তাআরুদ) হাদিসের মধ্যে পার্থক্য:

মুহাদ্দিসগণের পরিভাষায় এ দুটির মধ্যকার পার্থক্য তাই যা মুখতালিফুল হাদিস এবং মুশকিলুল হাদিসের পার্থক্যের আলোচনায় পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে; কেননা তাঁদের নিকট মুখতালিফ এবং আপাত বিরোধপূর্ণ হাদিসের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তবে মুখতালিফ এবং আপাত বিরোধপূর্ণ হাদিসের মধ্যে আমি যে পার্থক্যের কথা উল্লেখ করেছি সেই অনুযায়ী, পূর্বে বর্ণিত অর্থ বিচারে 'আপাত বিরোধপূর্ণ হাদিস' বিষয়টি 'মুশকিল' অপেক্ষা অধিকতর সুনির্দিষ্ট বা বিশেষ হবে।

 

****

--------------------------------------------

(১) দেখুন: উসুলুন ফিত তাফসির, ইবনে উসাইমিন, পৃষ্ঠা (৫২)।