(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল আউয়ালী মিন জুযই ইবনু আরাফাহ আল-আবদী (পৃষ্ঠা: -)
الأحاديث العوالي من جزء ابن عرفة العبدي   (ابن تيمية)

القسم: كتب السنة


الكتاب : الأحاديث العوالي من جزء ابن عرفة العبدي (150هـ - 257هـ)

المؤلف : تقي الدين أبو العباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (المتوفى : 728هـ)

انتقاء : الإمام الحافظ شمس الدين الذهبي (673هـ - 748هـ)

حققه ، وعلق عليه ، وخرج أحاديثه : الدكتور عبد الرحمن بن عبد الجبار الفريوائي

الناشر : دار الكتب السلفية

الطبعة : الطبعة الاولى 1407هـ

عدد الأجزاء : 1

حرره وعلق عليه : الشيخ أبو محمد الألفي السكندري

تنبيه: جميع الحواشي هي للمحقق عبد الرحمن الفريوائي، إلا ما كان مصدرا باسم الشيخ أبي محمد الألفي

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

জুয ইবনে আরাফাহ আল-আবদী থেকে সংকলিত উচ্চস্তরের (আওয়ালী) হাদীসসমূহ   (ইবনে তাইমিয়্যাহ)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ


কিতাব : জুয ইবনে আরাফাহ আল-আবদী থেকে সংকলিত উচ্চস্তরের (আওয়ালী) হাদীসসমূহ (১৫০ হিজরী - ২৫৭ হিজরী)

লেখক : তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালীম বিন আব্দুল সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবুল কাসিম বিন মুহাম্মাদ ইবনে তাইমিয়্যাহ আল-হাররানী আল-হাম্বালী আদ-দিমাশকী (মৃত্যু : ৭২৮ হিজরী)

চয়ন করেছেন : ইমাম হাফিজ শামসুদ্দীন আয-যাহাবী (৬৭৩ হিজরী - ৭৪৮ হিজরী)

তাহকীক , টীকা প্রদান , এবং হাদীস তাখরীজ করেছেন : ডক্টর আব্দুর রহমান বিন আব্দুল জব্বার আল-ফারিয়ায়ী

প্রকাশক : দারুল কুতুব আস-সালাফিয়্যাহ

সংস্করণ : প্রথম সংস্করণ ১৪০৭ হিজরী

খণ্ড সংখ্যা : ১

সম্পাদনা ও টীকা প্রদান করেছেন : শায়খ আবু মুহাম্মাদ আল-আলফী আস-স্কান্দারী

সতর্কবাণী: সকল পাদটীকা গবেষক আব্দুর রহমান আল-ফারিয়ায়ীর, তবে যেগুলোর উৎস হিসেবে শায়খ আবু মুহাম্মাদ আল-আলফীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো ছাড়া।

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল আউয়ালী মিন জুযই ইবনু আরাফাহ আল-আবদী (পৃষ্ঠা: -)
ـ[الأحاديث العوالي من جزء ابن عرفة العبدي (150هـ - 257هـ) ]ـ

المؤلف: تقي الدين أبو العَباس أحمد بن عبد الحليم بن عبد السلام بن عبد الله بن أبي القاسم بن محمد ابن تيمية الحراني الحنبلي الدمشقي (المتوفى: 728هـ)

انْتِقَاءُ: الإِمَامِ الْحَافِظِ شَمْسِ الدِّينِ الذَّهَبِيِّ (673هـ - 748هـ)

حَقَّقَهُ، وَعَلَّقَ عَلَيْهِ، وَخَرَّجَ أَحَادِيثَهُ: الدُّكْتُورُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ الْجَبَّارِ الْفَرْيَوَائِيُّ

الناشر: دَارُ الْكُتُبِ السَّلَفِيَّةِ

الطبعة: الطبعة الاولى 1407هـ

عدد الأجزاء: 1

حَرَّرَهُ وَعَلَّقَ عَلَيْهِ: الشيخ أَبُو مُحمَّدٍ الأَلْفِيُّ السَّكَنْدَرِيُّ

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي، وجميع الحواشي هي للمحقق عَبْد الرَّحْمَنِ الْفَرْيَوَائِيّ، إلا ما كان مُصَدَّرا باسم الشيخ أبي محمد الألفي]
ইবনে আরাফা আল-আবদির (১৫০ হি. - ২৫৭ হি.) জুজ থেকে উচ্চস্তরের হাদিসসমূহ (আল-আহাদিস আল-আওয়ালী)

লেখক: তাকিউদ্দীন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আব্দুল হালিম বিন আব্দুস সালাম বিন আব্দুল্লাহ বিন আবিল কাসিম বিন মুহাম্মাদ ইবনে তাইমিয়া আল-হাররানি আল-হানবালি আদ-দিমাশকি (মৃত্যু: ৭২৮ হি.)

নির্বাচন: ইমাম আল-হাফিজ শামসুদ্দিন আদ-দাহাবি (৬৭৩ হি. - ৭৪৮ হি.)

তাহকিক, টীকা প্রদান ও হাদিস তাখরিজ করেছেন: ডক্টর আব্দুর রহমান বিন আব্দুল জাব্বার আল-ফারিয়াওয়ায়ি

প্রকাশক: দারুল কুতুব আস-সালাফিয়্যাহ

সংস্করণ: প্রথম সংস্করণ ১৪০৭ হি.

খণ্ড সংখ্যা: ১

সম্পাদনা ও টীকা প্রদান করেছেন: শায়খ আবু মুহাম্মাদ আল-আলফি আল-ইসকান্দারি

[বইটির নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এতে টীকা সংযোজন করা হয়েছে; সকল টীকা গবেষক আব্দুর রহমান আল-ফারিয়াওয়ায়ি কর্তৃক প্রদানকৃত, তবে যেগুলো শায়খ আবু মুহাম্মাদ আল-আলফির নামে শুরু হয়েছে সেগুলো ব্যতীত]
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল আউয়ালী মিন জুযই ইবনু আরাফাহ আল-আবদী (পৃষ্ঠা: ১৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌[إِسْنَادُ شَيْخِ الإِسْلامِ ابْنِ تَيْمِيَّةَ]

أَخْبَرَنَا (1) الإمَامُ الْمُسْنِدُ أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الدَّائِمِ بْنِ نِعْمَةَ الْمَقْدِسِيُّ قِرَاءَةً عَلَيْهِ وَأَنَا أَسْمَعُ سَنَةَ سَبْعٍ وَسِتِّينَ وَسِتِّمِائَةٍ أَبْنَا أَبُو الْفَرَجِ عَبْدُ الْمُنْعِمِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ بْنِ كُلَيْبٍ الْحَرَّانِيُّ أَبْنَا أَبُو الْقَاسِمِ عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ بَيَانٍ الرَّزَّازُ أَبْنَا أَبُو الْحَسَنِ مُحَمَّدُ بْنُ مُحَمَّدِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ مَخْلَدٍ سَنَةَ ثَمَانِ عَشَرَةَ وَأَرْبَعِمِائَةٍ أَبْنَا أَبُو عَلِيٍّ إِسْمَاعِيلُ بْنُ مُحَمَّدٍ الصَّفَّارُ ثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ:

--------------------------------------------

(1) الْقَائِلُ هُوَ شَيْخُ الإِسْلامِ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الْحَلِيمِ بْنِ تَيْمِيَّةَ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

‌‌[শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর সনদ]

(১) ইমাম, মুসনিদ আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আবদুদ দায়িম ইবনে নিমাহ আল-মাকদিসী ৬৬৭ হিজরিতে তাঁর সামনে পঠিত হওয়া অবস্থায় আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এবং আমি তা শ্রবণ করেছি। তিনি বলেন, আবুল ফারাজ আব্দুল মুনইম ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে কুলাইব আল-হাররানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আবুল কাসিম আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে বায়ান আর-রাজজাজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আবুল হাসান মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মাখলাদ ৪১৮ হিজরিতে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আবু আলী ইসমাইল ইবনে মুহাম্মদ আস-সাফফার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। হাসান ইবনে আরাফাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন:

--------------------------------------------

(১) বক্তা হলেন শায়খুল ইসলাম আহমদ ইবনে আব্দুল হালীম ইবনে তাইমিয়্যাহ।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল আউয়ালী মিন জুযই ইবনু আরাফাহ আল-আবদী (পৃষ্ঠা: ২০)
[الذِّكْرُ فِي دُبُرِ الصَّلاةِ وَعِنْدَ النَّوْمِ]

1 - ثَنَا الْمُبَارَكُ بْنُ سَعِيدٍ أَخُو سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ عَنْ مُوسَى الْجُهَنِيِّ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ أبِي وَقَاصٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا يَمْنَعُ أَحَدَكُمْ أَنْ يُكَبِّرَ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلاةٍ عَشَرَاً، وَيُسَبِّحَ عَشَرَاً، وَيَحْمِدَ عَشَرَاً، فَذَلِكَ فِي خَمْسِ صَلَوَاتٍ، خَمْسُونَ وَمَائِةٍ بِاللِّسَانِ، وَأَلْفٌ وَخَمْسُمِائَةٍ فِي الْمِيزَانِ، وَإِذَا أَوَى إِلَى فِرَاشِهِ كَبَّرَ أَرْبَعَاً وَثَلاثِينَ، وَحَمِدَ ثَلاثَاً وَثَلاثِينَ، وَسَبَّحَ ثَلاثَاً وَثَلاثِينَ، فَتِلْكَ مَائِةٌ بِاللِّسَانِ وَأَلْفٌ فِي الْمِيزَانِ» . ثُمَّ قَالَ: «فَأَيُّكُمْ يَعْمَلُ فِي يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ أَلْفَيْنِ وَخَمْسُمِائَةِ سَيْئَةٍ!!» .

أَخْرَجَهُ " ن " عَنْ زَكَرِيَّا بْنِ يَحْيَى عَنِ ابْنِ عَرَفَةَ بِهِ (1) .

--------------------------------------------

(1) الْحَدِيثُ فِي «جُزْءِ ابْنِ عَرَفَةَ» (79) . =
[নামাযের শেষে এবং ঘুমানোর সময়ের যিকরসমূহ]

১ - সুফিয়ান আস-সাওরীর ভাই মুবারক ইবনে সাঈদ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন মূসা আল-জুহানী হতে, তিনি মুসআব ইবনে সা'দ হতে, তিনি সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «তোমাদের কাউকে কিসে বাধা দেয় যে, সে প্রত্যেক নামাযের শেষে দশবার তাকবীর (আল্লাহু আকবার) বলবে, দশবার তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ) পাঠ করবে এবং দশবার তাহমীদ (আলহামদুলিল্লাহ) করবে? তা পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে মুখে একশত পঞ্চাশবার, আর মিযানের পাল্লায় এক হাজার পাঁচশত। আর যখন সে তার বিছানায় যাবে, তখন যেন চৌত্রিশবার তাকবীর বলে, তেত্রিশবার তাহমীদ করে এবং তেত্রিশবার তাসবীহ পাঠ করে; তা মুখে একশত বার এবং মিযানের পাল্লায় এক হাজার (নেকি) হিসেবে গণ্য হবে।» এরপর তিনি বললেন: «তোমাদের মধ্যে এমন কে আছে যে দিন ও রাতে দুই হাজার পাঁচশত পাপাচার করে!!»

এটি ইমাম নাসাঈ বর্ণনা করেছেন যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া হতে, তিনি ইবনে আরাফা হতে এই সূত্রে।

--------------------------------------------

(১) হাদীসটি «জুযউ ইবনে আরাফা» (৭৯)-তে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল আউয়ালী মিন জুযই ইবনু আরাফাহ আল-আবদী (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌[فَضِيلَةُ الْجَهْرِ وَالإِسْرَارِ بِالْقُرْآنِ]

2 - وَبِهَذَا الإِسْنَادِ إِلَى ابْنِ عَرَفَةَ ثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ بَحِيْرِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ كَثِيْرِ بْنِ مُرَّةَ عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «الْجَاهِرُ بِالْقُرْآنِ كَالْجَاهِرِ بِالصَّدَقَةِ، وَالْمُسِرُّ بِالْقُرْآنِ كَالْمُسَرِّ بِالصَّدَقَةِ» (1) .

أَخْرَجَهُ " ت " عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَرَفَةَ، فَوَقَعَ مُوَافَقَةً عَالِيَاً عَلَى طَرِيقِنَا فِي التِّرْمِذِيِّ بِرَجُلَيْنِ (2) .

--------------------------------------------

= وَأَخْرَجَهُ الذَّهَبِيُّ فِي «السير» (11/ 55) ، وَالْمِزِّيُّ فِي «تَهْذِيبُ الْكَمَالِ» فِي تَرْجَمَةِ ابْنِ عَرَفَةَ بِسَنَدِهِ عَنْهُ بِهِ.

وَأَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ (4/2073) ، وَالتِّرْمِذِيُّ فِي «الدَّعَوَاتِ» (5/510-511) مِنْ طَرِيقِ مُوسَى الْجُهَنِيِّ بِهِ.

وَأَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ فِي «عَمَلِ الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ» (153) .

(1) الْحَدِيثُ فِي «جُزْءِ ابْنِ عَرَفَةَ» (84) ، وَهُوَ فِي الأَرْبَعِينَ فِي «مَجْمُوعِ الْفَتَاوِى» (رقم 13، 18/90-91) بِرِوَايَةِ الذَّهَبِيِّ عَنِ ابْنِ تَيْمِيَّةَ بِسَنَدِهِ إِلَى ابْنِ عَرَفَةَ بِهِ.

وَأَخْرَجَهُ الذَّهَبِيُّ فِي «تَذْكِرَةِ الْحُفَّاظِ» (1/255) ، و «مُعْجَمِ الشُّيُوخِ» (ق 44/1) و (ق 75/1) و (ق 57/1) مِنْ طَرِيقِ ابْنِ عَرَفَةَ بِهِ.

(2) أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ فِي «فَضَائِلِ الْقُرْآنِ» (5/180) ، وَقَالَ: حَسَنٌ غَرِيبٌ.

وَأَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ فِي «الصَّلاةِ» (2/83) عَنْ عُثْمَانَ بْنِ أبِي شَيْبَةَ عَنِ ابْنِ عَيَّاشٍ بِهِ.

وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ رِوَايَتُهُ عَنْ أَهْلِ بَلَدِهِ صَالِحَةٌ، وَهَذِهِ مِنْهَا، وَقَدْ تَابَعَهُ مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ كَمَا يَأْتِي.
[কুরআন উচ্চৈঃস্বরে এবং নিভৃতে পাঠের ফযীলত]

২ - আর এই একই সূত্রে ইবনে আরাফাহ থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসমাঈল ইবনে আইয়াশ, তিনি বাহীর ইবনে সাদ থেকে, তিনি খালিদ ইবনে মাদান থেকে, তিনি কাসীর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি উকবা ইবনে আমির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: «উচ্চৈঃস্বরে কুরআন পাঠকারী প্রকাশ্যে দানকারীর মতো, আর নিভৃতে কুরআন পাঠকারী গোপনে দানকারীর মতো» (১)।

এটি ইমাম তিরমিযী (ত) হাসান ইবনে আরাফাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। ফলে এটি আমাদের সূত্রে তিরমিযীতে বর্ণিত বর্ণনার সাথে উচ্চ পর্যায়ের (আলি) সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে দুজন ব্যক্তির মাধ্যমে মিলে গেছে (২)।

--------------------------------------------

= এবং ইমাম যাহাবী এটি «আস-সিয়ার» (১১/৫৫) গ্রন্থে এবং মিযযী «তাহযীবুল কামাল» গ্রন্থে ইবনে আরাফাহর জীবনীতে তাঁর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

এবং মুসলিম (৪/২০৭৩) ও তিরমিযী «আদ-দাওয়াত» (৫/৫১০-৫১১) অধ্যায়ে মুসা আল-জুহানির সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

এবং ইমাম নাসাঈ এটি «আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ» (১৫৩) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

(১) হাদীসটি «জুযউ ইবনু আরাফাহ» (৮৪) গ্রন্থে রয়েছে এবং এটি «মাজমুউল ফাতাওয়া»র (নং ১৩, ১৮/৯০-৯১) চল্লিশ হাদীস অংশে ইবনে তাইমিয়া থেকে যাহাবীর বর্ণনায় ইবনে আরাফাহর সূত্র পর্যন্ত বিদ্যমান।

এবং ইমাম যাহাবী এটি «তাজকিরাতুল হুফফায» (১/২৫৫), «মুজামুশ শুয়ুখ» (ক ৪৪/১), (ক ৭৫/১) ও (ক ৫৭/১) গ্রন্থে ইবনে আরাফাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

(২) ইমাম তিরমিযী এটি «ফাযাইলুল কুরআন» (৫/১৮০) অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: হাদীসটি হাসান গরীব।

এবং আবু দাউদ এটি «আস-সালাত» (২/৮৩) অধ্যায়ে উসমান ইবনে আবি শায়বা থেকে, তিনি ইবনে আইয়াশ থেকে—এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

ইসমাঈল ইবনে আইয়াশ যখন নিজ দেশবাসীর থেকে বর্ণনা করেন তখন তা গ্রহণযোগ্য হয়, আর এটিও সেই রকম একটি বর্ণনা; আর মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ তাঁর অনুসরণ করেছেন যেমন সামনে আসবে।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল আউয়ালী মিন জুযই ইবনু আরাফাহ আল-আবদী (পৃষ্ঠা: ২২)
وَرَوَاهُ " س " عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَلَمَةَ عَنِ ابْنِ وَهْبٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ صَالِحٍ عَنْ بَحِيْرٍ (1) .

--------------------------------------------

(1) أَخْرَجَهُ النَّسَائِيُّ فِي «الزَّكَاةِ» (1/292) ، وَشَيْخُ الإِسْلامِ ابْنُ تَيْمِيَّةَ فِي «الأَرْبَعِينَ» (رقم 13) .

وَهَذِهِ مُتَابَعَةٌ جَيِّدَةٌ، وَالْحَدِيثُ لَهُ طُرُقٌ أُخْرَى، وَأَوْرَدَهُ الألْبَانِيُّ فِي «صَحِيحِ الْجَامِعِ الصَّغِيْرِ» (3/83) .
এটি ইমাম নাসায়ী বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ থেকে এবং তিনি বাহীর থেকে (১)।

--------------------------------------------

(১) ইমাম নাসায়ী এটি 'যাকাত' অধ্যায়ে (১/২৯২) এবং শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ 'আল-আরবাঈন' (নং ১৩) গ্রন্থে সংকলন করেছেন।

আর এটি একটি উত্তম সমর্থক বর্ণনা (মুতাবায়াহ জাইয়্যিদাহ) এবং হাদিসটির আরও অন্যান্য সূত্র রয়েছে। আলবানী এটি 'সহীহুল জামি আস-সাগীর' (৩/৮৩) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল আউয়ালী মিন জুযই ইবনু আরাফাহ আল-আবদী (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌[نَهْيُ الْحَائِضِ وَالْجُنُبِ عَنْ قِرَاءةِ الْقُرْآنِ]

3 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ ثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ موسى بْن عقبة عَنْ نافع عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «لا تَقْرَأُ الْحَائِضُ وَلا الْجُنُبُ شَيْئَاً مِنَ الْقُرْآنِ» . (1)

أَخْرَجَهُ " ت " عَنِ ابْنِ عَرَفَةَ، وَقَالَ: لا نَعْرِفْهُ إِلَاّ مِنْ حَدِيثِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَيَّاشٍ الْحِمْصِىِّ رحمه الله. (2)

--------------------------------------------

(1) الْحَدِيثُ فِي «جُزْءِ ابْنِ عَرَفَةَ» (60) .

وَأَخْرَجَهُ الذَّهَبِيُّ فِي «السِّيَرِ» (6/118) و (8/285) ، و «مُعْجَمُ الشُّيُوخِ» (ق 121/أ) بِسَنَدِهِ عَنِ ابْنِ عَرَفَةَ بِهِ.

(2) أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ فِي «الطَّهَارَةِ» (1/236) عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُجْرٍ، وَالْحَسَنِ بْنِ عَرَفَةِ بِهِ.

وَإِسْنَادُهُ ضَعِيفٌ؛ لأَنَّهُ مِنْ رِوَايَةِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عَيَّاشٍ عَنْ غَيْرِ أَهْلِ بَلَدِهِ.

وَقَدْ ذَكَرْتُ كَلامَ أَهْلِ الْعِلْمِ عَلَى الْحَدِيثِ فِي «جُزْءِ ابْنِ عَرَفَةَ» (ص 77) .
[ঋতুবতী ও অপবিত্র (জুনুবী) ব্যক্তির জন্য কুরআন পাঠের নিষেধাজ্ঞা]

৩ - হাসান ইবন আরাফাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসমাঈল ইবন আইয়াশ থেকে, তিনি মূসা ইবন উকবা থেকে, তিনি নাফে থেকে, তিনি ইবন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «ঋতুবতী এবং অপবিত্র (জুনুবী) ব্যক্তি কুরআনের কোনো অংশই পাঠ করবে না»। (১)

এটি তিরমিযী ইবন আরাফাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: আমরা এটি ইসমাঈল ইবন আইয়াশ আল-হিমসী (রহিমাহুল্লাহ)-এর হাদীস ব্যতীত অন্য কোনোভাবে চিনি না। (২)

--------------------------------------------

(১) হাদীসটি «জুয ইবন আরাফাহ» (৬০) গ্রন্থে রয়েছে।

এবং আয-যাহাবী এটি «আস-সিয়ার» (৬/১১৮) ও (৮/২৮৫) এবং «মু'জামুশ শুয়ূখ» (পত্র ১২১/ক) গ্রন্থে ইবন আরাফাহর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) ইমাম তিরমিযী এটি «আত-তাহারাহ» অধ্যায়ে (১/২৩৬) আলী ইবন হুজর ও হাসান ইবন আরাফাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

এর সনদটি দুর্বল; কারণ এটি ইসমাঈল ইবন আইয়াশ কর্তৃক তার নিজ দেশীয় (হিমস) বাসিন্দা ব্যতীত অন্যদের থেকে বর্ণিত।

আমি «জুয ইবন আরাফাহ» (পৃষ্ঠা ৭৭) গ্রন্থে এই হাদীসটির ওপর আলিমগণের বক্তব্য উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল আউয়ালী মিন জুযই ইবনু আরাফাহ আল-আবদী (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌[دُعَاءُ الصَّبَاحِ وَالْمَسَاءِ]

4 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ ثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ الأَلْهَانِيِّ عَنْ أبِي رَاشِدٍ
[সকাল ও সন্ধ্যার দুআ]

৪ - আল-হাসান ইবনে আরাফাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসমাইল ইবনে আইয়্যাশ মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ আল-আলহানী থেকে, তিনি আবু রাশিদ থেকে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল আউয়ালী মিন জুযই ইবনু আরাফাহ আল-আবদী (পৃষ্ঠা: ২৩)
الْحُبْرَانِيِّ قَالَ: أَتَيْتُ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَمْرٍو، فَقُلْتُ لَهُ: حَدِّثْنَا مَا سَمِعْتَ مِنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَلْقَى إِلَيَّ صَحِيفَةً، فَقَالَ: هَذَا مَا كَتَبَ لِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: فَنَظَرْتُ، فَإِذَا فِيهَا: إِنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ رضي الله عنه قَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ؛ عَلِّمْنِي مَا أَقُولُ إِذَا أَصْبَحْتُ، وَإِذَا أَمْسَيْتُ، فَقَالَ: «يَا أَبَا بَكْرٍ؛ قُلْ: اللَّهُمَّ فَاطِرَ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضِ، عَالِمَ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ، لا إِلَهَ إِلَاّ أَنْتَ، رَبَّ كُلِّ شَيْءٍ وَمَلِيكَهُ، أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ نَفْسِي، وَمِنْ شَرِّ الشَّيْطَانِ وَشَرَكِهِ، وَأَنْ أَقْتَرِفَ عَلَى نَفْسِي سُوءَاً، أَوْ أَجُرَّهُ إِلَى مُسْلِمٍ» . (1)

أَخْرَجَهُ " ت " عَنِ ابْنِ عَرَفَةَ، وَقَالَ: حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ. (2)

--------------------------------------------

(1) الْحَدِيثُ فِي «جُزْءِ ابْنِ عَرَفَةَ» (85) .

وَأَخْرَجَهُ أَبُو الْعَبَّاسِ أَحْمَدُ بْنُ أبِي الْفُتُوحِ الأُمَوِيُّ فِي «الْمَشْيَخَةِ الْبَغْدَادِيَّةِ» بِسَنَدِهِ إِلَى ابْنِ عَرَفَةَ بِهِ.

(2) أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِي فِي «الدَّعَوَاتِ» (5/542) ، وَقَالَ: حَسَنٌ غَرِيبٌ.
হুবরানী বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমর-এর নিকট আসলাম এবং তাকে বললাম: আপনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট থেকে যা শুনেছেন তা আমাদের নিকট বর্ণনা করুন। তখন তিনি আমার দিকে একটি লিপি ছুড়ে দিলেন এবং বললেন: এটি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমার জন্য লিখে দিয়েছেন। তিনি বলেন: আমি সেটিতে দৃষ্টিপাত করলাম এবং দেখলাম তাতে রয়েছে: আবু বকর সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) আরয করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি সকাল ও সন্ধ্যায় যা পাঠ করব তা আমাকে শিখিয়ে দিন। তিনি বললেন: «হে আবু বকর! তুমি বলো: হে আল্লাহ! আসমান ও জমিনের স্রষ্টা, দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাত, আপনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, আপনি প্রতিটি জিনিসের রব ও মালিক। আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি আমার নফসের অনিষ্ট হতে এবং শয়তানের অনিষ্ট ও তার শিরক হতে, আর নিজের ওপর কোনো মন্দ কাজ করা অথবা কোনো মুসলিমের প্রতি তা টেনে আনা হতে।’ (১)

তিরমিযী এটি ইবনে আরাফা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এই সূত্রে হাদীসটি হাসান গরীব। (২)

--------------------------------------------

(১) হাদীসটি ‘জুযউ ইবনে আরাফা’ (৮৫)-তে রয়েছে।

এবং আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন আবি আল-ফুতুহ আল-উমাভী ‘আল-মাশইয়াখাহ আল-বাগদাদিয়্যাহ’-তে তাঁর সনদে ইবনে আরাফা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) তিরমিযী এটি ‘আদ-দাওয়াত’ অধ্যায়ে (৫/৫৪২) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: হাসান গরীব।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল আউয়ালী মিন জুযই ইবনু আরাফাহ আল-আবদী (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌[ذِكْرُ بَابٍ مِنْ أَبْوَابِ الْفِتَنِ]

5 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ ثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ عَنْ أبِي بَكْرِ بْنِ أبِي مَرْيَمَ الْغَسَّانِيِّ عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ عَنْ سَعْدِ بْنِ أبِي وَقَّاصٍ عَنِ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذِهِ الآيَةِ «قُلْ هُوَ الْقَادِرُ عَلَى أَنْ يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عَذَاباً مِنْ فَوْقِكُمْ، أَوْ مِنْ تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ» ، فقَالَ رَسُولُ اللهِ: «أَمَا إِنَّهَا كَائِنَةٌ، وَلَمْ يَأْتِ تَأْوِيلُهَا بَعْدُ» . (1)

أَخْرَجَهُ " ت " عَنِ ابْنِ عَرَفَةَ، وَقَالَ: حَسَنٌ غَرِيبٌ. (2)

--------------------------------------------

(1) الْحَدِيثُ فِي «جُزْءِ ابْنِ عَرَفَةَ» (77) .

وَأَخْرَجَهُ الذَّهَبِيُّ فِي «مُعْجَمُ الشُّيُوخِ» (ق 58/أ) مِنْ طَرِيقِ ابْنِ عَرَفَةَ بِهِ.

(2) أَخْرَجَهُ التِّرْمِذِيُّ فِي «التَّفْسِيْرِ» (5/262) وَقَالَ: غَرِيبٌ.

وَقَالَ الذَّهَبِيُّ: هَذَا إِسْنَادٌ ضَعِيفٌ مِنْ قِبَلِ أبِي بَكْرٍ الْغَسَّانِيِّ.

وَقَالَ فِي «السِّيَرِ» (7/65) فِي تَرْجَمَةِ أبِي بَكْرٍ هَذَا: يَقَعُ مِنْ عَوَالِيهِ فِي «جُزْءِ ابْنِ عَرَفَةَ» و «مُعْجَمِ الطَّبَرَانِيِّ» ، وَلا يَبْلَغُ حَدِيثُهُ إِلَى دَرَجَةِ الْحَسَنِ.
[ফিতনাসমূহের অধ্যায়গুলোর মধ্যে একটির উল্লেখ]

৫ - হাসান ইবনে আরাফাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি ইসমাঈল ইবনে আইয়াশ থেকে, তিনি আবু বকর ইবনে আবু মারিয়াম আল-গাসসানি থেকে, তিনি রাশিদ ইবনে সাদ থেকে, তিনি সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এই আয়াতের ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন: «বলুন, তিনি সক্ষম যে তোমাদের উপর তোমাদের উপর দিক থেকে অথবা তোমাদের পায়ের নিচ থেকে আজাব পাঠাবেন», অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «জেনে রেখো, এটি অবশ্যই ঘটবে, তবে এর বাস্তবতা (বা ব্যাখ্যা) এখনও আসেনি»। (১)

এটি ইমাম তিরমিযী ইবনে আরাফাহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: হাসান গরীব। (২)

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি 'জুযউ ইবনে আরাফাহ' (৭৭)-তে রয়েছে।

এবং ইমাম যাহাবি এটি 'মুজামুশ শুয়ুখ' (পৃষ্ঠা ৫৮/ক)-এ ইবনে আরাফাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি ইমাম তিরমিযী 'আত-তাফসীর' (৫/২৬২) অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: গরীব।

এবং ইমাম যাহাবি বলেছেন: আবু বকর আল-গাসসানির কারণে এই সনদটি দুর্বল।

এবং তিনি 'আস-সিয়ার' (৭/৬৫) গ্রন্থে এই আবু বকরের জীবনীতে বলেছেন: তার উচ্চ সনদগুলোর মধ্যে কিছু 'জুযউ ইবনে আরাফাহ' এবং 'মুজামুত তাবারানি'-তে রয়েছে, তবে তার হাদিস হাসান স্তরে পৌঁছে না।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল আউয়ালী মিন জুযই ইবনু আরাফাহ আল-আবদী (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌[الْجَمَاعَةُ فِي صَلاةِ اللَّيْلِ]

6 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ ثَنَا هُشَيْمٌ عَنْ أبِي بِشْرٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: بِتُّ ذَاتَ لَيْلَةٍ عِنْدَ خَالِتِي مَيْمُونَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ،
[রাতের সালাতে জামাআত]

৬ - হাসান ইবন আরাফাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুশাইম আমাদের নিকট আবু বিশর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি সাঈদ ইবন জুবাইর থেকে, তিনি ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: এক রাতে আমি আমার খালা মাইমুনা বিনতে আল-হারিসের নিকট রাত যাপন করেছিলাম,
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল আউয়ালী মিন জুযই ইবনু আরাফাহ আল-আবদী (পৃষ্ঠা: ২৫)
قَالَ: فَقَامَ النَّبيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي مِنَ اللَّيْلِ، قَالَ: فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ، أُصَلِّي بِصَلاتِهِ، قَالَ: فَأَخَذَ بِذواب كَانَ لِي، أَوْ بِرَأْسِي، فَأَقَامَنِي عَنْ يَمِينِهِ. (1)

أَخْرَجَهُ " خ " عَنْ قُتَيْبَةَ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ هُشَيْمٍ بِهِ. (2)

--------------------------------------------

(1) الْحَدِيثُ فِي «جُزْءِ ابْنِ عَرَفَةَ» (81) .

(2) أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ فِي «كِتَابِ اللِّبَاسِ» (10/363) .

وَأَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ فِي «الصَّلاةِ» (1/407) مِنْ طَرِيقِ هُشَيْمٍ بِهِ، وَلِلْحَدِيثِ طُرُقٌ أُخْرَى.
তিনি বললেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাতে সালাত আদায় করতে দাঁড়ালেন। তিনি বললেন: আমি তাঁর বাম পাশে দাঁড়ালাম এবং তাঁর সাথে সালাত আদায় করতে লাগলাম। তিনি বললেন: এরপর তিনি আমার মাথার চুল অথবা আমার মাথা ধরলেন এবং আমাকে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করালেন। (১)

এটি ইমাম বুখারী (খ) কুতায়বা ইবনে সাঈদ থেকে, তিনি হুশায়মের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। (২)

--------------------------------------------

(১) হাদীসটি ‘জুযউ ইবনে আরাফাহ’ (৮১) গ্রন্থে রয়েছে।

(২) ইমাম বুখারী এটি ‘কিতাবুল লিবাস’ (১০/৩৬৩) অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।

আবু দাউদ এটি ‘আস-সালাত’ (১/৪০৭) অধ্যায়ে হুশায়মের সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং হাদীসটির অন্যান্য সূত্রও রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল আউয়ালী মিন জুযই ইবনু আরাফাহ আল-আবদী (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌[اتِّخَاذُ الْكَلْبِ]

7 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ ثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ عَنْ عُمَرَ بْنِ حَمْزَةَ الْعُمَرِيِّ أَخْبَرَنِي سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللهِ عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَنْ اتَّخَذَ كَلْبَاً، إِلَاّ كَلْبَ مَاشِيَةٍ، أَوْ كَلْبَاً ضَارِيَاً، نَقَصَ مِنْ عَمَلِهِ كُلَّ يَوْمٍ قِيرَاطٌ» . (1)

أَخْرَجَهُ " م " عَنْ دَاوُدَ بْنِ رُشَيْدٍ عَنْ مَرْوَانَ بْنِ مُعَاوِيَةَ الْفَزَارِيِّ بِهِ. (2)

--------------------------------------------

(1) الْحَدِيثُ فِي «جُزْءِ ابْنِ عَرَفَةَ» (58) .

وَأَخْرَجَهُ الذَّهَبِيُّ فِي «الْمُعْجَمِ الْمُخْتَصِّ» (ق 100-101) .

(2) أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ فِي «كِتَابِ الْمُسَاقَاةِ» (3/1201) .

 

‌‌[ إيْقَاظٌ وَبَيَانٌ ]

قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ الأَلْفِيُّ: عِبَارَةُ شَيْخِ الإِسْلامِ تُوهِمُ أَنَّ مُسْلِمَاً أَخْرَجَهَ بِلَفْظِ حَدِيثِ الْحَسَنِ بْنِ عَرَفَةَ، وَلَيْسَ كَذَلِكَ! . إِذْ الْفَرْقُ بَيْنَهُمَا شَاسِعٌ فِي جُمْلَةٍ مِنَ الْمَعَانِي، أَبْيَنُهَا التَّفَاوُتُ فِي مِقْدَارِ النَّقْصِ فِي الأَجْرِ، فَهَاهُنَا قِيْرَاطٌ، وَعِنْدَ مُسْلِمٍ قِيرَاطَانِ! .

فَكَانَ يَلْزَمُ الْمُحَقِّقَ التَّنْبِيهُ عَلَى هَذِهِ الْمُخَالِفَةِ، وَبَيَانِ لَفْظِ الْحَدِيثِ عِنْدَ الإمَامِ مُسْلِمٍ.

فَقَدْ قَالَ الإِمَامُ مُسْلِمٌ «كِتَابُ الْمُسَاقَاةِ» (1574) : حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ ثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ حَمْزَةَ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ ثَنَا سَالِمُ بْنُ عَبْدِ اللهِ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «أَيُّمَا أَهْلِ دَارٍ اتَّخَذُوا كَلْبَاً، إِلَاّ كَلْبَ مَاشِيَةٍ، أَوْ كَلْبَ صَائِدٍ، نَقَصَ مِنْ عَمَلِهِمْ كُلَّ يَوْمٍ قِيرَاطَانِ» .
[কুকুর পালন করা]

৭ - হাসান ইবনে আরাফাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মারওয়ান ইবনে মুআবিয়াহ উমর ইবনে হামযাহ আল-উমারী থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন সালেম ইবনে আবদুল্লাহ আমাকে ইবনে উমর (রা.) থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি গবাদি পশুর রক্ষক কুকুর অথবা শিকারি কুকুর ব্যতীত অন্য কোনো কুকুর পালন করে, তার আমল থেকে প্রতিদিন এক কিরাত পরিমাণ (সওয়াব) হ্রাস পায়।" (১)

এটি ইমাম মুসলিম দাউদ ইবনে রুশায়দ থেকে, তিনি মারওয়ান ইবনে মুআবিয়াহ আল-ফাযারী থেকে অত্র সনদে বর্ণনা করেছেন। (২)

--------------------------------------------

(১) হাদীসটি 'জুযউ ইবনে আরাফাহ' (৫৮) গ্রন্থে রয়েছে।

এবং যাহাবী এটি 'আল-মু'জামুল মুখতাস' (পৃষ্ঠা ১০০-১০১) এ বর্ণনা করেছেন।

(২) এটি মুসলিম তার 'কিতাবুল মুসাকাত' (৩/১২০১) এ বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌[ সতর্কীকরণ ও স্পষ্টীকরণ ]

আবু মুহাম্মদ আল-আলফী বলেন: শাইখুল ইসলামের এই অভিব্যক্তিটি এমন এক বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে যে, ইমাম মুসলিম এই হাদীসটি হাসান ইবনে আরাফাহ-র হাদীসের শব্দেই বর্ণনা করেছেন, অথচ বিষয়টি তেমন নয়! কারণ বেশ কিছু অর্থের ক্ষেত্রে উভয়ের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট হলো সওয়াব হ্রাসের পরিমাণের ব্যবধান; এখানে বলা হয়েছে 'এক কিরাত', আর ইমাম মুসলিমের নিকট রয়েছে 'দুই কিরাত'!

তাই মুহাক্কিকের (গবেষক) জন্য এই বৈসাদৃশ্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং ইমাম মুসলিমের নিকট হাদীসের শব্দগুলো কেমন ছিল তা বর্ণনা করা আবশ্যক ছিল।

ইমাম মুসলিম 'কিতাবুল মুসাকাত' (১৫৭৪) এ বলেন: দাউদ ইবনে রুশায়দ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, মারওয়ান ইবনে মুআবিয়াহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনে হামযাহ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সালেম ইবনে আবদুল্লাহ তার পিতা থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ঘরের অধিবাসীরাই গবাদি পশুর রক্ষক কুকুর অথবা শিকারি কুকুর ব্যতীত অন্য কোনো কুকুর রাখবে, তাদের আমল থেকে প্রতিদিন দুই কিরাত পরিমাণ (সওয়াব) হ্রাস পাবে।"
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল আউয়ালী মিন জুযই ইবনু আরাফাহ আল-আবদী (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌[أَفْضَلُ الصَّدَقَةِ]

8 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ ثَنَا جَرِيرُ بْنُ عَبْدِ الْحَمِيدِ عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ عَنْ أَبِي زُرْعَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: أَيُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ؟ ، قَالَ: «لَتُنَبَّأَنَّ: أَنَّ تَصَدَّقَ، وَأَنْتَ صَحِيحٌ شَحِيحٌ، تَأْمُلُ الْبَقَاءَ، وَتَخَافُ الْفَقْرَ، وَلا تُمْهِلَ حَتَّى إِذَا بَلَغَتْ الْحُلْقُومَ، قُلْتَ: لِفُلانٍ كَذَا، وَلِفُلانٍ كَذَا، أَلا وَقَدْ كَانَ لِفُلانٍ» . (1)

أخرجه " خ " عَنْ أَبِي كُرَيْبٍ عَنْ حَمَّادِ بْنِ أُسَامَةَ عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِىِّ عَنْ عُمَارَةَ. (2)

و" م " عَنْ زُهَيْرٍ عَنْ جَرِيرٍ بِهِ. (3)

--------------------------------------------

(1) الْحَدِيثُ فِي «جُزْءِ ابْنِ عَرَفَةَ» (29) .

وَأَخْرَجَهُ ابْنُ الْجَوْزِيِّ فِي «مَشْيَخَتِهِ» (189) بِسَنَدِهِ عَنِ ابْنِ عَرَفَةَ بِهِ.

(2) أَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ فِي «كِتَابِ الزَّكَاةِ» (3/284-285) و «الْوَصَايَا» (5/ 373) .

(3) أخْرَجَهُ مُسْلِمٌ فِي «كِتَابِ الزَّكَاةِ» (2/716) .

 

‌‌[ إيْقَاظٌ وَبَيَانٌ ]

قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ الأَلْفِيُّ: عِبَارَةُ شَيْخِ الإِسْلامِ تُوهِمُ أَنَّ الشَّيْخَيْنِ أَخْرَجَاهُ بِلَفْظِ حَدِيثِ الْحَسَنِ بْنِ عَرَفَةَ، وَلَيْسَ كَذَلِكَ! .

فَأَمَّا الْبُخَارِيُّ، فَرِوَايَتُهُ عَنِ الثَّوْرِيِّ بِلَفْظِ «أَيُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ؟ ، قَالَ: «أَنْ تَصَدَّقَ، وَأَنْتَ صَحِيحٌ حَرِيصٌ، تَأْمُلُ الْغِنَى، وَتَخْشَى الْفَقْرَ» .

وَأَمَّا مُسْلِمٌ، فَرِوَايَتُهُ عَنْ جَرِيرٍ بِلَفْظِ «أَيُّ الصَّدَقَةِ أَعْظَمُ؟ ، فَقَالَ: «أَنْ تَصَدَّقَ، وَأَنْتَ صَحِيحٌ شَحِيحٌ، تَخْشَى الْفَقْرَ، وَتَأْمُلُ الْغِنَى» ، وَبَاقِي الْحَدِيثِ مِثْلُ رِوَايَةِ ابْنِ عَرَفَةَ.

وَتَعَقُّبٌ آخَرُ: أَنَّ مُسْلِمَاً أَخْرَجَهُ كَذَلِكَ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ وَابْنِ نُمَيْرٍ كِلاهُمَا عَنِ ابْنِ فُضَيْلٍ، وعن أَبِي كَامِلٍ الْجَحْدَرِيِّ عَنْ عَبْدِ الْوَاحِدِ بْنِ زِيَادٍ، كِلاهُمَا عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ بِنَحْوِ رِوَايَةِ جَرِيرٍ.
[সর্বোত্তম সদকা]

৮ - হাসান বিন আরাফাহ আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি জারীর বিন আবদুল হামীদ থেকে, তিনি উমারাহ বিন আল-কাক্কা থেকে, তিনি আবু যুরআহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো: কোন সদকা সর্বোত্তম? তিনি বললেন: «অবশ্যই তোমাকে জানানো হবে: তোমার এমন অবস্থায় সদকা করা, যখন তুমি সুস্থ ও কৃপণ, তুমি বেঁচে থাকার আশা করো এবং দারিদ্র্যের ভয় করো। আর তুমি (সদকা করতে) বিলম্ব করো না, এমনকি যখন প্রাণ কণ্ঠাগত হয়, তখন তুমি বলো: অমুকের জন্য এতটুকু, অমুকের জন্য এতটুকু; অথচ তা তো তখন অমুকের হয়েই গেছে»। (১)

এটি ইমাম বুখারী (খ) আবু কুরায়ব থেকে, তিনি হাম্মাদ বিন উসামাহ থেকে, তিনি সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে, তিনি উমারাহ থেকে বর্ণনা করেছেন। (২)

এবং ইমাম মুসলিম (ম) যুহাইর থেকে, তিনি জারীর থেকে উক্ত সনদে বর্ণনা করেছেন। (৩)

--------------------------------------------

(১) হাদীসটি ‘জুযউ ইবনে আরাফাহ’ (২৯)-এ রয়েছে।

এবং ইবনুল জাওযী তাঁর ‘মাশয়াখাহ’ (১৮৯) গ্রন্থে ইবনে আরাফাহ থেকে তাঁর সনদে এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) ইমাম বুখারী এটি ‘যাকাত অধ্যায়’ (৩/২৮৪-২৮৫) এবং ‘অসিয়ত অধ্যায়’ (৫/৩৭৩)-এ বর্ণনা করেছেন।

(৩) ইমাম মুসলিম এটি ‘যাকাত অধ্যায়’ (২/৭১৬)-এ বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌[ সতর্কবার্তা ও স্পষ্টীকরণ ]

আবু মুহাম্মদ আল-আলফী বলেন: শায়খুল ইসলামের শব্দচয়ন এমন ভ্রম সৃষ্টি করে যে, শায়খাইন (বুখারী ও মুসলিম) হাদীসটি হাসান বিন আরাফার শব্দের অনুরূপ শব্দে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়!

বুখারীর ক্ষেত্রে, সাওরী থেকে তাঁর বর্ণনাটি এই শব্দে: «কোন সদকা সর্বোত্তম? তিনি বললেন: তোমার এমন অবস্থায় সদকা করা যখন তুমি সুস্থ ও লোভী, তুমি সচ্ছলতার আশা করো এবং দারিদ্র্যের ভয় করো»।

আর মুসলিমের ক্ষেত্রে, জারীর থেকে তাঁর বর্ণনাটি এই শব্দে: «কোন সদকা সবচেয়ে মহান? তখন তিনি বললেন: তোমার এমন অবস্থায় সদকা করা যখন তুমি সুস্থ ও কৃপণ, তুমি দারিদ্র্যের ভয় করো এবং সচ্ছলতার আশা করো» — হাদীসের বাকি অংশ ইবনে আরাফার বর্ণনার মতোই।

আরেকটি পর্যবেক্ষণ হলো: ইমাম মুসলিম হাদীসটি আবু বকর বিন আবু শাইবাহ এবং ইবনে নুমাইর থেকেও বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে ইবনে ফুযাইল থেকে, এবং আবু কামিল আল-জাহদারী থেকে, তিনি আবদুল ওয়াহিদ বিন যিয়াদ থেকে; তাঁরা উভয়ে উমারাহ বিন আল-কাক্কা থেকে জারীরের বর্ণনার অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল আউয়ালী মিন জুযই ইবনু আরাফাহ আল-আবদী (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌[التَّيْسِيرُ لِلأَعْمَالِ]

9 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ ثَنَا ابْنُ عُلَيَّةَ
[আমলসমূহের সহজীকরণ]

৯ - আমাদের নিকট আল-হাসান বিন আরাফাহ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইবন উলাইয়্যাহ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল আউয়ালী মিন জুযই ইবনু আরাফাহ আল-আবদী (পৃষ্ঠা: ২৭)
عَنْ يَزِيدَ عَنْ مُطَرِّفِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ الشِّخِّيرِ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ: قَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللهِ، أَعُلِمَ أَهْلُ الْجَنَّةِ مَنْ أَهْلِ النَّارِ؟ ، قَالَ: «نَعَمْ» ، قَالَ: فَفِيمَ يَعْمَلُ الْعَامِلُونَ؟ ، قَالَ: «كُلٌّ مُيَسَّرٌ لِمَا خُلِقَ لَهُ» ، أَوْ كَمَا قَالَ.

هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ مِنْ حَدِيثِ يَزِيدَ الرَّشْكِ، وَالرَّشْكُ: الْقَسَّامُ. (1)

أَخْرَجَهُ " م " عَنِ ابْنِ نُمَيْرٍ عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ عُلَيَّةَ، وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُثَنَّى عَنْ غُنْدَرٍ عَنْ شُعْبَةَ عَنْ يَزِيدَ بِهِ. (2)

--------------------------------------------

(1) الْحَدِيثُ فِي «جُزْءِ ابْنِ عَرَفَةَ» (52) .

(2) أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ فِي «الْقَدَرِ» (4/2041) . وَهُوَ مُخَرَّجٌ فِي «الْبُخَارِيِّ» (11/491) أيضَاً.

 

‌‌[ إيْقَاظٌ وَبَيَانٌ ]

قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ الأَلْفِيُّ: عِبَارَةُ شَيْخِ الإِسْلامِ تُوهِمُ أَنَّ مُسْلِمَاً أَخْرَجَهَ مِنَ الطَّرِيقَيْنِ الْمَذْكُورَيْنِ عَنِ ابْنِ عُلَيَّةَ وَشُعْبَةَ فَقَطْ، وَلَيْسَ كَذَلِكَ، إِذْ رَوَاهُ عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، وَعَبْدِ الْوَارِثِ بْنِ سَعِيدٍ، وَابْنِ عُلَيَّةَ، وَشُعْبَةَ، وَجَعْفَرِ بْنِ سُلَيْمَانَ خَمْسَتُهُمْ عَنْ يَزِيدَ الرِّشْكِ، وَسَاقَهُ بِلَفْظِ حَدِيثِ حَمَّادٍ.

قَالَ الإِمَامُ مُسْلِمٌ «كِتَابُ الْقَدَرُ» (2649) : حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى أَخْبَرَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ يَزِيدَ الضُّبَعِيِّ حَدَّثَنَا مُطَرِّفٌ عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ: قِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ؛ أَعُلِمَ أَهْلُ الْجَنَّةِ مَنْ أَهْلِ النَّارِ؟ ، قَالَ: فَقَالَ: نَعَمْ، قَالَ: قِيلَ: فَفِيمَ يَعْمَلُ الْعَامِلُونَ؟ ، قَالَ: «كُلٌّ مُيَسَّرٌ لِمَا خُلِقَ لَهُ» .

حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ فَرُّوخَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ (ح) وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ وَإِسْحَقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ وَابْنُ نُمَيْرٍ عَنْ ابْنِ عُلَيَّةَ (ح) وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ (ح) وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ كُلُّهُمْ عَنْ يَزِيدَ الرِّشْكِ فِي هَذَا الإِسْنَادِ بِمَعْنَى حَدِيثِ حَمَّادٍ.
ইয়াযীদ থেকে, তিনি মুতাররিফ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে শিখখীর থেকে, তিনি ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাতী ও জাহান্নামীদের কি (পূর্বেই) জেনে নেওয়া হয়েছে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: তাহলে আমলকারীরা কেন আমল করে? তিনি বললেন: "প্রত্যেককে সেই কাজের জন্য সহজ করে দেওয়া হয় (তাওফিক দেওয়া হয়) যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।" অথবা তিনি যেমনটি বলেছিলেন।

এটি ইয়াযীদ আর-রাশকের বর্ণনা থেকে একটি সহীহ হাদীস; আর 'আর-রাশক' অর্থ হলো: বণ্টনকারী। (১)

ইমাম মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে নুমাইর থেকে, তিনি ইসমাইল ইবনে উলাইয়্যা থেকে; এবং মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না থেকে, তিনি গুন্দার থেকে, তিনি শু'বা থেকে, তিনি ইয়াযীদ থেকে এই সূত্রে। (২)

--------------------------------------------

(১) হাদীসটি ‘জুযউ ইবনু আরাফাহ’ (৫২) গ্রন্থে রয়েছে।

(২) এটি মুসলিম ‘আল-কদর’ অধ্যায়ে (৪/২০৪১) বর্ণনা করেছেন। এটি ‘বুখারী’তেও (১১/৪৯১) বর্ণিত হয়েছে।

 

‌‌[ সতর্কবার্তা ও ব্যাখ্যা ]

আবু মুহাম্মাদ আল-আলফী বলেন: শাইখুল ইসলামের বক্তব্য এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে যে, মুসলিম হাদীসটি শুধুমাত্র ইবনে উলাইয়্যা এবং শু'বার মাধ্যমে বর্ণিত উল্লিখিত দুটি পথেই বর্ণনা করেছেন, কিন্তু বিষয়টি তেমন নয়। কারণ তিনি এটি হাম্মাদ ইবনে যায়েদ, আব্দুল ওয়ারিস ইবনে সাঈদ, ইবনে উলাইয়্যা, শু'বা এবং জাফর ইবনে সুলাইমান—এই পাঁচজন থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা সবাই ইয়াযীদ আর-রিশক থেকে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি হাম্মাদের হাদীসের শব্দাবলীতে এটি উল্লেখ করেছেন।

ইমাম মুসলিম ‘কিতাবুল কদর’ (২৬৪৯)-এ বলেছেন: ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন হাম্মাদ ইবনে যায়েদ আমাদের খবর দিয়েছেন ইয়াযীদ আদ-দুবায়ী থেকে, তিনি বলেন মুতাররিফ আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন ইমরান ইবনে হুসাইন থেকে, তিনি বলেন: জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! জান্নাতী ও জাহান্নামীদের কি জেনে নেওয়া হয়েছে? তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" বলা হলো: তবে আমলকারীরা কেন আমল করে? তিনি বললেন: "প্রত্যেককে সেই কাজের জন্য সহজ করে দেওয়া হয় যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।"

শাইবান ইবনে ফাররুখ আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আব্দুল ওয়ারিস আমাদের হাদীস বর্ণনা করেছেন (হ)। আবু বকর ইবনে আবি শাইবা, যুহাইর ইবনে হারব, ইসহাক ইবনে ইব্রাহীম এবং ইবনে নুমাইর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইবনে উলাইয়্যা থেকে (হ)। ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াহইয়া আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন জাফর ইবনে সুলাইমান আমাদের খবর দিয়েছেন (হ)। ইবনুল মুসান্না আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ ইবনে জাফর আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন শু'বা আমাদের বর্ণনা করেছেন; তাঁরা সবাই ইয়াযীদ আর-রিশক থেকে এই সনদে হাম্মাদের হাদীসের অর্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল আউয়ালী মিন জুযই ইবনু আরাফাহ আল-আবদী (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌[إِزَالَةُ الْمَنِيِّ عَنِ الثَّوْبِ]

10 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ ثَنَا هُشَيْمٌ عَنْ مُغِيرَةِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنِ الأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ:
[বস্ত্র হতে বীর্য অপসারণ]

১০ - হাসান বিন আরাফাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, হুশাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি মুগীরাহ থেকে, তিনি ইব্রাহীম থেকে, তিনি আসওয়াদ থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল আউয়ালী মিন জুযই ইবনু আরাফাহ আল-আবদী (পৃষ্ঠা: ২৮)
«إنْ كُنْتُ لأَجَدُهُ فِي ثَوْبِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَحُتُّهُ عَنْهُ» . (1)

أخرجه " م " عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ أَبِي شَيْبَةَ عَنْ هُشَيْم، وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ حَاتِمٍ عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ مَنْصُورٍ عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إبْرَاهِيمَ، فَوَقَعَ عَالِيَاً مِنْ هَذَا الطَّرِيقِ، كَأَنَّنِي سَمِعْتُهُ مِنَ الْفُرَاوِيِّ. (2)

--------------------------------------------

(1) الْحَدِيثُ فِي «جُزْءِ ابْنِ عَرَفَةَ» (68) ، وَفِيهِ زِيَادَةٌ فِي آخِرِهِ: (يَعْنِي الْمَنِيَّ) .

وَأَخْرَجَهُ الذَّهَبِي فِي «مُعْجَمِ الشُّيُوخِ» (ق 129/ أ) و (ق 67- أ) مِنْ طَرِيقِ ابْنِ عَرَفَةَ بِهِ.

(2) أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ فِي «الطَّهَارَةِ» (1/239) .
«আমি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাপড়ে তা খুঁজে পেতাম, অতঃপর আমি সেটি তাঁর কাপড় থেকে খুঁটে খুঁটে তুলে ফেলতাম।» (১)

'ম' (মুসলিম) এটি বর্ণনা করেছেন আবু বকর ইবনে আবি শাইবা থেকে, তিনি হুশাইম থেকে; এবং মুহাম্মদ ইবনে হাতিম থেকে, তিনি ইসহাক ইবনে মানসুর থেকে, তিনি ইসরাঈল থেকে, তিনি মানসুর থেকে, তিনি ইব্রাহিম থেকে। ফলে এই সূত্রে হাদিসটি 'আলি' (উচ্চ সনদসম্পন্ন) হয়েছে, যেন আমি এটি আল-ফুরাভি থেকে শুনেছি। (২)

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি 'জুয ইবনে আরাফাহ' (৬৮) গ্রন্থে রয়েছে এবং এর শেষে একটি অতিরিক্ত অংশ রয়েছে: (অর্থাৎ বীর্য)।

এবং ইমাম জাহাবি এটি 'মুজামুশ শুয়ুখ' (পত্র ১২৯/ক) ও (পত্র ৬৭-ক) গ্রন্থে ইবনে আরাফাহর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

(২) মুসলিম এটি 'পবিত্রতা' অধ্যায়ে (১/২৩৯) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল আউয়ালী মিন জুযই ইবনু আরাফাহ আল-আবদী (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌[شَفَاعَةُ النَّبيِّ صلى الله عليه وسلم يَوْمَ الْقِيَامَةِ]

11 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ ثَنَا الْقَاسِمُ بْنُ مَالِكٍ عَنِ الْمُخْتَارِ بْنِ فُلْفُلٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «أَنَا أَوَّلُ شَفِيعٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَأَنَا أَكْثَرُ الأَنْبِيَاءِ تَبَعَاً يَوْمَ الْقِيَامَةِ، إِنَّ مِنَ الأَنْبِيَاءِ لَمَنْ يَأْتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ، مَا مَعَهُ مُصَدِّقٌ غَيْرَ وَاحِدٍ» (1) .

--------------------------------------------

(1) الْحَدِيثُ فِي «جُزْءِ ابْنِ عَرَفَةَ» (34) .
[কিয়ামতের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শাফায়াত (সুপারিশ)]

১১ - হাসান ইবনে আরাফা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি কাসেম ইবনে মালিক থেকে, তিনি মুখতার ইবনে ফুলফুল থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কিয়ামতের দিন আমিই হব প্রথম শাফায়াতকারী, এবং কিয়ামতের দিন নবীদের মধ্যে আমার অনুসারীর সংখ্যাই হবে সর্বাধিক। নবীদের মধ্যে এমনও কেউ থাকবেন, যিনি কিয়ামতের দিন এমন অবস্থায় আসবেন যে, তাঁর সাথে মাত্র একজন সত্যায়নকারী ছাড়া আর কেউ থাকবে না।» (১) ।

--------------------------------------------

(১) হাদিসটি «জুযউ ইবনে আরাফা» (৩৪) গ্রন্থে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল আউয়ালী মিন জুযই ইবনু আরাফাহ আল-আবদী (পৃষ্ঠা: ২৯)
أَخْرَجَهُ " م " عَنْ قُتَيْبَةَ عَنْ جَرِيرٍ عَنِ الْمُخْتَارِ، وَعَنْ أبِي بَكْرِ بْنِ أبِي شَيْبَةَ عَنْ حُسَيْنِ بْنِ عَلِيٍّ عَنْ زَائِدَةَ عَنِ الْمُخْتَارِ بِهِ. (1)

--------------------------------------------

(1) أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ فِي «كِتَابِ الإِيْمَانِ» (1/188) .

 

‌‌[ إيْقَاظٌ وَبَيَانٌ ]

قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ الأَلْفِيُّ: عِبَارَةُ شَيْخِ الإِسْلامِ تُوهِمُ أَنَّ مُسْلِمَاً أَخْرَجَهَ مِنَ الطَّرِيقَيْنِ الْمَذْكُورَيْنِ عَنْ جَرِيرٍ وَزَائِدَةَ بِلَفْظِ حَدِيثِ الْحَسَنِ بْنِ عَرَفَةَ، وَلَيْسَ كَذَلِكَ! .

فَأَمَّا جَرِيرٌ، فَقَدْ اخْتَصَرَهُ جِدَّاً، فَقَالَ «أَنَا أَوَّلُ النَّاسِ يَشْفَعُ فِي الْجَنَّةِ، وَأَنَا أَكْثَرُ الأَنْبِيَاءِ تَبَعَاً» .

وَأَمَّا زَائِدَةُ، فَطَوَّلَهُ بِلَفْظِ «أَنَا أَوَّلُ شَفِيعٍ فِي الْجَنَّةِ، لَمْ يُصَدَّقْ نَبِيٌّ مِنْ الأَنْبِيَاءِ مَا صُدِّقْتُ، وَإِنَّ مِنْ الأَنْبِيَاءِ نَبِيَّاً مَا يُصَدِّقُهُ مِنْ أُمَّتِهِ إِلَاّ رَجُلٌ وَاحِدٌ» .

وَتَعَقُّبٌ آخَرُ: أَنَّ مُسْلِمَاً أَخْرَجَهُ كَذَلِكَ عَنْ أَبِي كُرَيْبٍ عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ هِشَامٍ عَنِ الثَّوْرِيِّ عَنِ الْمُخْتَارِ بِلَفْظِ «أَنَا أَكْثَرُ الأَنْبِيَاءِ تَبَعَاً يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَأَنَا أَوَّلُ مَنْ يَقْرَعُ بَابَ الْجَنَّةِ» .
ইমাম মুসলিম (ম) এটি কুতাইবা থেকে, তিনি জারীর থেকে, তিনি মুখতারের সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এবং আবু বকর ইবনে আবি শায়বা থেকে, তিনি হুসাইন ইবনে আলী থেকে, তিনি যায়িদা থেকে, তিনি মুখতারের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। (১)

--------------------------------------------

(১) ইমাম মুসলিম এটি 'কিতাবুল ঈমান'-এ (১/১৮৮) বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌[সতর্কীকরণ ও স্পষ্টীকরণ]

আবু মুহাম্মাদ আল-আলফি বলেছেন: শাইখুল ইসলামের বক্তব্যটি এমন ধারণা দেয় যে, ইমাম মুসলিম বর্ণিত জারীর ও যায়িদার উভয় সূত্র থেকে হাদীসটি হাসান ইবনে আরাফাহ-এর হাদীসের শব্দে বর্ণিত হয়েছে, অথচ বিষয়টি তেমন নয়!

জারীর হাদীসটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "আমিই প্রথম ব্যক্তি যে জান্নাতের জন্য সুপারিশ করব, এবং নবীদের মধ্যে আমার অনুসারীর সংখ্যা হবে সর্বাধিক।"

আর যায়িদা হাদীসটি দীর্ঘভাবে বর্ণনা করেছেন এই শব্দে: "আমি জান্নাতের প্রথম সুপারিশকারী, নবীদের মধ্যে কাউকেও তেমনভাবে সত্যয়ন করা হয়নি যেমনটি আমাকে করা হয়েছে, আর নবীদের মধ্যে এমন নবীও থাকবেন যার উম্মতের মধ্য থেকে মাত্র একজন ব্যক্তি তাকে সত্য বলে মেনে নেবে।"

অন্য একটি পর্যবেক্ষণ হলো: ইমাম মুসলিম একইভাবে আবু কুরাইব থেকে, তিনি মুয়াবিয়া ইবনে হিশাম থেকে, তিনি সাওরী থেকে, তিনি মুখতারের সূত্রে এই শব্দে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন: "কিয়ামতের দিন নবীদের মধ্যে আমার অনুসারীর সংখ্যা হবে সর্বাধিক, এবং আমিই প্রথম ব্যক্তি যে জান্নাতের কপাটে করাঘাত করবে।"
(খণ্ড: ১) আল-আহাদীসুল আউয়ালী মিন জুযই ইবনু আরাফাহ আল-আবদী (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌[مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ]

12 - حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَرَفَةَ ثَنَا عَمَّارُ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنِ الصَّلْتِ بْنِ قُوَيْدٍ قَالَ: سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ يَقُولُ: سَمِعْتُ خَلِيلِي أَبَا الْقَاسِمِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ: «لا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى لا تَنْطَحُ ذَاتُ قَرْنٍ جَمَّاءَ» . (1)

هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ عَالِي الإِسْنَادِ، وَقَعَ لَنَا تُسَاعِيَّاً مِنْ حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَلَيْسَ لَهُ نَظِيْرٌ. (2)

(آخِرُهُ. بَلَغَ مُقَابِلَةً بِأَصْلِهِ، فَصَحَّ) .

--------------------------------------------

(1) الْحَدِيثُ فِي «جُزْءِ ابْنِ عَرَفَةَ» (86) .

(2) أَخْرَجَهُ الذَّهَبِيُّ فِي تَرْجَمَةِ عَمَّارِ بْنِ مُحَمَّدٍ «الْمِيزَانُ» (3/168) ، و «مُعْجَمُ الشُّيُوخِ» (ق 55/ب) بِسَنَدِهِ عَنِ ابْنِ عَرَفَةَ بِهِ.

وَقَالَ فِي ذَيْلِ «دِيوَانِ الضُّعَفَاءِ» (18) : الصَّلْتُ بْنُ قُوَيْدٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: لا يُعْرَفُ، وَحَدِيثُهُ فِي جُزْءِ الْحَسَنِ بْنِ عَرَفَةَ.

وَأَخْرَجَهُ أَحْمَدُ (2/442) عَنْ عَمَّارِ بْنِ مُحَمَّدٍ بِهِ.

وَأَخْرَجَهُ الْبُخَارِيُّ فِي «التَّارِيْخِ الْكَبِيْرِ» فِي تَرْجَمَةِ الصَّلْتِ بْنِ قُوَيْدٍ (أَوْ قُدَيْدٍ) .

وَالصَّلْتُ هَذَا وَثَّقَهُ ابْنُ حِبَّانَ. وَقَالَ النَّسَائِيُّ: حَدِيثُهُ مُنْكَرٌ. وَسَكَتَ عَنْهُ الْبُخَارِيُّ، وَالرَّازِيُّ (2/1/436) .

 

‌‌[ إيْقَاظٌ وَبَيَانٌ ]

قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ الأَلْفِيُّ: بَلْ الْحَدِيثُ حَسَنٌ عَالِي الإِسْنَادِ، كَمَا قَالَ شَيْخُ الإِسْلامِ، وَوَافَقَهُ الْحَافِظَانِ الْعِرَاقِيُّ وَابْنُ حَجَرٍ.

فَقَدْ أَخْرَجَهُ الْعِرَاقِيُّ فِي «الأَرْبَعِينَ الْعُشَارِيَّةِ» (ح 1) مِنْ طَرِيقَيْنِ عَنِ ابْنِ عَرَفَةَ مِثْلَهُ، أَحَدُهُمَا عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ بْن الْخَبَّازِ عَنْ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الدَّائِمِ الْمَقْدِسِيِّ، فَوَقَعَ لَهُ مِنْ هَذِهِ الطَّرِيقِ بَدَلاً عَالِيَاً، فَكَأَنَّمَا رَوَاهُ عَنْ شَيْخِ الإِسْلامِ ابْنِ تَيْمِيَّةَ.

ثُمَّ قَالَ الْحَافِظُ: «هَذَا حَدِيثٌ عَجِيبُ التَّسَلِسُّلِ بِالآخِرِيَّةِ حَتَّى رَوَاهُ الإِمَامُ أَحْمَدُ فِي مُسْنَدِهِ عَنْ عَمَّارِ بْنِ مُحَمَّدٍ، فَوَقَعَ مُوَافَقَةً لَهُ عَالِيَةً وَإِسْنَادُهُ حَسَنٌ. عَمَّارُ بْنُ مُحَمَّدٍ يُكْنَى أَبَا الْيَقْظَانِ، وَهُوَ ابْنُ أُخْتِ سُفْيَانَ الثَّوْرِيُّ وَثَّقَهَ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ وَغَيْرُهُ، وَاحْتَجَّ بِهِ مُسْلِمٌ. وَالصَّلْتُ بْنُ قُوَيْدٍ ذَكَرَهُ ابْنُ حِبَّانَ فِي ثِقَاتِ التَّابِعِينَ، وَرَوَى عَنْهُ غَيْرُ وَاحِدٍ. وَأَمَّا النَّسَائِيُّ فَقَالَ: لا أَدْرِي كَيْفَ هُوَ؟! . وَقَدْ صَرَّحَ الصَّلْتُ بِسَمَاعِهِ لَهُ مِنْ أَبِي هُرَيْرَةَ. وَقَالَ أَبُو أَحْمَدَ الْحَاكِمُ فِي الْكُنَى: سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ.

وَأَمَّا الرِّوَايَةُ الَّتِي رَوَاهُا عَبْدُ اللهِ بْنُ أَحْمَدَ بْنُ حَنْبَلٍ فِي زِيَادَاتِهِ عَلَى الْمُسَنْدِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْهَرَوِيِّ عَنْ عَمَّارِ عَنِ الصَّلْتِ بْنِ قُوَيْدٍ عَنْ أَبِي أَحْمَرَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ فَهِيَ وَهْمٌ مِنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْهَرَوِيِّ، وَسَبَبُ الْوَهْمِ أَنَّ الصَّلْتَ كُنْيَتُهُ أَبُو أَحْمَرَ كَمَا قَالَ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ وَالنَّسَائِيُّ وَأَبُو أَحْمَدَ الْحَاكِمُ وَابْنُ حِبَّانَ فِي الثِّقَاتِ، وَإبْرَاهِيمُ الْهَرَوِيُّ ضَعَّفَهُ أَبُو دَاوُدَ وَالنَّسَائِيُّ، وَوَثَّقَهُ إِبْرَاهِيمُ الْحَرْبِيُّ واَلدَّارَقُطْنِيُّ، وَلَكِنْ زِيَادَةُ أَبِي أَحْمَرَ فِي الإِسْنَادِ وَهْمٌ مِنْهُ، وَاللهُ سُبْحَانَهُ أَعْلَمُ» .
[কিয়ামতের আলামতসমূহ থেকে]

১২ - হাসান ইবনে আরাফাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আম্মার ইবনে মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আস-সালত ইবনে কুওয়াইদ থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন: আমি আমার বন্ধু আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না শিং বিশিষ্ট পশু শিংহীন পশুকে গুঁতো দেবে।" (১)

এটি একটি হাসান হাদীস এবং এর সনদ সুউচ্চ। আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদীসসমূহের মধ্যে এটি আমাদের নিকট নয় স্তরের সনদে পৌঁছেছে এবং এর কোনো সমতুল্য নেই। (২)

(সমাপ্ত। মূল পাণ্ডুলিপির সাথে এটি মিলিয়ে দেখা হয়েছে, সুতরাং এটি সঠিক)।

--------------------------------------------

(১) হাদীসটি 'জুযউ ইবনুল আরাফাহ' (৮৬) গ্রন্থে রয়েছে।

(২) আয-যাহাবী এটি আম্মার ইবনে মুহাম্মদের জীবনীতে 'আল-মিজান' (৩/১৬৮) এবং 'মু'জামুশ শুয়ুখ' (পৃষ্ঠা ৫৫/খ)-এ ইবনে আরাফার সূত্রে তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন।

তিনি 'দাওয়ানুয যুয়াফা'-এর পরিশিষ্টে (১৮) বলেছেন: আস-সালত ইবনে কুওয়াইদ, আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন: তিনি অপরিচিত, এবং তাঁর হাদীস হাসান ইবনে আরাফার জুয-এ রয়েছে।

আহমদ (২/৪৪২) আম্মার ইবনে মুহাম্মদের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

বুখারী এটি 'আত-তারীখুল কাবীর'-এ আস-সালত ইবনে কুওয়াইদ (বা কুদাইদ)-এর জীবনীতে বর্ণনা করেছেন।

এই সালতকে ইবনে হিব্বান নির্ভরযোগ্য বলেছেন। নাসায়ী বলেছেন: তাঁর হাদীস মুনকার। বুখারী ও রাযী (২/১/৪৩৬) এ ব্যাপারে নীরব থেকেছেন।

 

‌‌[ সতর্কীকরণ ও স্পষ্টীকরণ ]

আবু মুহাম্মদ আল-আলফী বলেন: বরং হাদীসটি হাসান এবং এর সনদ সুউচ্চ, যেমনটি শাইখুল ইসলাম বলেছেন, এবং হাফেজ ইরাকী ও ইবনে হাজার তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন।

ইরাকী এটি 'আল-আরবাউন আল-উশারিয়্যাহ' (হাদীস ১) গ্রন্থে ইবনে আরাফার মাধ্যমে দুটি সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। যার একটি মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম ইবনুল খাব্বায থেকে, তিনি আহমদ ইবনে আব্দুল দায়েম আল-মাকদিসী থেকে। এই সূত্রে এটি তাঁর জন্য একটি উচ্চতর বিকল্প সনদ হিসেবে গণ্য হয়েছে, যেন তিনি এটি সরাসরি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেছেন।

অতঃপর হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: "এটি শেষোক্ত ব্যক্তিদের পরম্পরার দিক থেকে একটি বিস্ময়কর হাদীস, এমনকি ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদে এটি আম্মার ইবনে মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি তাঁর জন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের সমর্থনমূলক সনদ হিসেবে এসেছে এবং এর সনদ হাসান। আম্মার ইবনে মুহাম্মদের উপনাম আবু ইয়াকজান, তিনি সুফিয়ান আস-সাওরীর ভাগ্নে। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন ও অন্যান্যরা তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন এবং ইমাম মুসলিম তাঁর দ্বারা দলিল গ্রহণ করেছেন। আর আস-সালত ইবনে কুওয়াইদকে ইবনে হিব্বান নির্ভরযোগ্য তাবেয়ীদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তাঁর থেকে একাধিক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন। নাসায়ী বলেছেন: আমি জানি না তিনি কেমন?! তবে সালত আবু হুরায়রা থেকে তাঁর শ্রবণ করার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। আবু আহমদ আল-হাকিম 'আল-কুনা' গ্রন্থে বলেছেন: তিনি আবু হুরায়রা থেকে শুনেছেন।

আর যে বর্ণনাটি আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদ ইবনে হাম্বল তাঁর মুসনাদের অতিরিক্ত অংশে ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হারাবী থেকে, তিনি আম্মার থেকে, তিনি আস-সালত ইবনে কুওয়াইদ থেকে, তিনি আবু আহমার থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন—তা ইব্রাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হারাবীর একটি বিভ্রম। এই বিভ্রমের কারণ হলো আস-সালতের উপনামই হলো আবু আহমার, যেমনটি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, নাসায়ী, আবু আহমদ আল-হাকিম এবং ইবনে হিব্বান 'আস-সিকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। ইব্রাহিম আল-হারাবীকে আবু দাউদ ও নাসায়ী দুর্বল বলেছেন, তবে ইব্রাহিম আল-হারবী ও দারা কুতনী তাঁকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। কিন্তু সনদে আবু আহমারের নাম অতিরিক্ত আসাটা তাঁর একটি ভুল। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সবচেয়ে ভালো জানেন।"