(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মারউইয়্যাহ ফি সিফাতিল মাইয়াহ
(পৃষ্ঠা: -)
الآثار المروية في صفة المعية القسم: العقيدة
الكتاب: الآثار المروية في صفة المعية
المؤلف: محمد بن خليفة بن علي التميمي
الناشر: أضواء السلف، الرياض، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1422هـ / 2002م
عدد الصفحات: 78
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মা'ইয়্যাহ (সাথে থাকা) গুণ সম্পর্কিত বর্ণিত আছারসমূহ বিভাগ: আকীদা
কিতাব: মা'ইয়্যাহ (সাথে থাকা) গুণ সম্পর্কিত বর্ণিত আছারসমূহ
লেখক: মুহাম্মাদ বিন খলিফা বিন আলি আল-তামিমি
প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ, রিয়াদ, সৌদি আরব সাম্রাজ্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি / ২০০২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৮
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মারউইয়্যাহ ফি সিফাতিল মাইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
الآثار المروية في صفة المعية
تأليف: د/محمد بن خليفة التميمي
بسم الله الرحمن الرحيم
ال
مقدمةإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله وأمينه على وحيه، وحجته على عباده، وخِيرته من خلقه، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلم تسليماً كثيرا.
وبعد:
فإن الإيمان بأسماء الله وصفاته شطر باب الإيمان بالله عز وجل، ذلك أن الإيمان بالله إنما يتحقق بأمرين هما:
أولاً: توحيد الله في أسمائه وصفاته وأفعاله وهذا ما يسمى بالتوحيد العلمي الخبري.
ثانياً: توحيد الله في عبادته وحده لا شريك له، وهذا ما يسمى بالتوحيد الإرادي الطلبي.
وكلا التوحيدين لابد لتحقيقهما من الرجوع إلى كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم وفهم السلف الصالح رضوان الله عليهم؛ حتى تسلم للمسلم عقيدته التي هي مصدر فلاحه وسبب سعادته في الدنيا والآخرة.
هذا وإن العلم بأسماء الله وصفاته وأفعاله أجل العلوم وأشرفها وأعظمها، بل هو أصلها كلها
আল্লাহর সাথে থাকার (মা‘ইয়্যা) গুণ সম্পর্কিত বর্ণিত আছারসমূহ
রচনায়: ড. মুহাম্মাদ বিন খলিফা আত-তামিমী
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসুল, তাঁর ওহীর আমানতদার, তাঁর বান্দাদের ওপর আল্লাহর প্রমাণ এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই আল্লাহর নামসমূহ ও তাঁর গুণাবলির ওপর ঈমান আনা মহান আল্লাহর প্রতি ঈমানের অর্ধাংশ। কারণ, আল্লাহর প্রতি ঈমান কেবল দুটি বিষয়ের মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হয়:
প্রথমত: আল্লাহর নামসমূহ, গুণাবলি এবং কার্যাবলির ক্ষেত্রে তাঁর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করা; একে তাওহীদে ইলমি খবরী (জ্ঞান ও সংবাদ নির্ভর তাওহীদ) বলা হয়।
দ্বিতীয়ত: একমাত্র আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমে তাঁর একত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করা, যাঁর কোনো শরিক নেই; একে তাওহীদে ইরাদী তালাবী (ইচ্ছা ও লক্ষ্য নির্ভর তাওহীদ) বলা হয়।
আর এই উভয় প্রকার তাওহীদ বাস্তবায়নের জন্য অবশ্যই আল্লাহর কিতাব, তাঁর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহ এবং সালাফে সালেহীনের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বুঝ বা উপলব্ধির দিকে ফিরে যাওয়া আবশ্যক; যাতে একজন মুসলিমের আকিদা বা বিশ্বাস নিরাপদ থাকে, যা তার সফলতার উৎস এবং দুনিয়া ও আখেরাতে তার সৌভাগ্যের কারণ।
আর আল্লাহর নামসমূহ, গুণাবলি এবং কার্যাবলি সংক্রান্ত জ্ঞান হলো সবচেয়ে মহান, শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ জ্ঞান; বরং এটিই হলো সকল জ্ঞানের মূল ভিত্তি।
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মারউইয়্যাহ ফি সিফাতিল মাইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
فعلى أساس العلم الصحيح بالله وبأسمائه وصفاته يقوم الإيمان الصحيح وتنبني مطالب الرسالة جميعها، فهذا التوحيد أساس الهداية والإيمان وأصل الدين الذي يقوم عليه، ولذلك فإنه لا يتصور إيمان صحيح ممن لا يعرف ربه، فهذه المعرفة لازمة لانعقاد أصل الإيمان، وهي مهمة جداً للمؤمن لشدة حاجته إليها لسلامة قلبه وصلاح معتقده واستقامة عمله؛ وهي التي توجب للعبد التمييز بين الإيمان والكفر، والتوحيد والشرك، والإقرار والتعطيل، وتنزيه الرب عما لا يليق به، ووصفه بما هو أهله من الجلال والإكرام؛ وذلك يتم كما هو معلوم بتدبر كلام الله تعالى وما تعرَّف به سبحانه إلى عباده على ألسنة رسله من أسمائه وصفاته وأفعاله، وما نزه نفسه عنه مما لا ينبغي له ولا يليق به سبحانه.
ولما كانت صفة المعية إحدى الصفات الثابتة لله تعالى كما دلت على ذلك الآيات القرآنية، والأحاديث النبوية، والآثار السلفية؛ فقد أحببت أن أجمع النصوص المروية في ذلك لتقرير هذه الصفة ولتوضيح المسائل المتعلقة بها من جهة، والرد على شبهات المخالفين التي أثيرت حولها من جهة أخرى.
ومما دفعني للكتابة في هذا الموضوع ما أسمعه من بعض الشبه التي تثار بين الحين والآخر حول آيات المعية من قبل أتباع أهل الكلام الذين لا يعتمدون في هذا الباب أصلاً على النصوص الشرعية، ولكنهم حاولوا التمسك بآيات المعية في إنكارهم وردهم لصفة العلو زعماً منهم أن آيات المعية تدل على أن الله بذاته في كل مكان.
وقد لبَّسوا بذلك على بعض من ليس له بصيرة ولا علم بالمأثور عن السلف في هذه المسألة، فظنوا أن هناك تعارضا بين النصوص؛ أو أن النصوص تشهد
সুতরাং আল্লাহ সম্পর্কে এবং তাঁর নাম ও গুণাবলী সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের ভিত্তিতেই সঠিক ঈমান প্রতিষ্ঠিত হয় এবং রিসালাতের সমস্ত দাবি এর ওপরই নির্মিত হয়। এই তাওহীদই হলো হিদায়াত ও ঈমানের ভিত্তি এবং দ্বীনের মূল উৎস যার ওপর এটি দাঁড়িয়ে আছে। এই কারণেই, যে ব্যক্তি তার রবকে চেনে না তার পক্ষ থেকে কোনো সঠিক ঈমান কল্পনা করা যায় না। ঈমানের মূল ভিত্তি স্থাপনের জন্য এই জ্ঞান অপরিহার্য। আর মুমিনের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তার অন্তরের সুস্থতা, আকিদার বিশুদ্ধতা এবং আমলের সঠিকতার জন্য এর তীব্র প্রয়োজন রয়েছে। এটিই বান্দার জন্য ঈমান ও কুফর, তাওহীদ ও শিরক, স্বীকৃতি প্রদান ও গুণ অস্বীকার (তা'তিল), এবং রবকে তাঁর অযোগ্য বিষয় থেকে পবিত্র রাখা এবং তাঁকে তাঁর উপযুক্ত মর্যাদা ও মহিমা দ্বারা বিশেষিত করার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা আবশ্যক করে তোলে। আর এটি যেভাবে সুপরিচিত, তা অর্জিত হয় মহান আল্লাহর কালাম নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার মাধ্যমে এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর রাসূলগণের জবানে তাঁর নাম, গুণাবলী ও কার্যাবলীর মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের কাছে নিজেকে যেভাবে পরিচয় করিয়েছেন তার মাধ্যমে, এবং যেসব বিষয় তাঁর জন্য সমীচীন নয় ও তাঁর শানের সাথে সংগতিপূর্ণ নয় তা থেকে তিনি নিজেকে যেভাবে পবিত্র ঘোষণা করেছেন তার মাধ্যমে।
যেহেতু 'সাথে থাকা'র গুণটি (সিফাতে মায়িয়্যাহ) মহান আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত একটি গুণ, যেমনটি কুরআনের আয়াতসমূহ, নববী হাদীসসমূহ এবং সালাফদের বর্ণিত আছারসমূহ দ্বারা প্রমাণিত; তাই আমি এই গুণটিকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য এবং একদিক থেকে এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো স্পষ্ট করতে, আর অন্যদিকে একে কেন্দ্র করে বিরোধীদের উত্থাপিত সংশয়গুলোর খণ্ডন করতে এ সংক্রান্ত বর্ণিত দলীলসমূহ সংকলন করা পছন্দ করেছি।
এই বিষয়ে লেখার পেছনে আমাকে যা অনুপ্রাণিত করেছে তা হলো সেই সব সংশয় যা আমি মাঝেমধ্যে আহলে কালামের অনুসারীদের পক্ষ থেকে 'মায়িয়্যাহ' সংক্রান্ত আয়াতগুলো নিয়ে শুনতে পাই। তারা এই বিষয়ে মূলত শরয়ী দলীলের ওপর নির্ভর করে না, বরং তারা 'উচ্চতা'র গুণকে (সিফাতে উলুউ) অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করার জন্য 'মায়িয়্যাহ' সংক্রান্ত আয়াতগুলোকে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করেছে। তাদের দাবি হলো 'মায়িয়্যাহ' সংক্রান্ত আয়াতগুলো প্রমাণ করে যে, আল্লাহ তাঁর সত্তাগতভাবে সর্বস্থানে বিদ্যমান।
এর মাধ্যমে তারা এমন কিছু লোকের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে যাদের এ বিষয়ে কোনো গভীর অন্তর্দৃষ্টি নেই এবং এ মাসআলায় সালাফদের থেকে বর্ণিত ঐতিহ্যগত জ্ঞান নেই। ফলে তারা ধারণা করেছে যে দলীলসমূহের মধ্যে বৈপরীত্য রয়েছে; অথবা দলীলসমূহ সাক্ষ্য দিচ্ছে...
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মারউইয়্যাহ ফি সিফাতিল মাইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
بصحة قول أهل الكلام وزعمهم الفاسد.
فإزالة لتلك الشبه، ودفعاً لها، وإحقاقاً للحق الذي هو أحق أن يتبع، أدلي بدلوي وأقدم هذه الخدمة للحق وطالبيه، والتي تتمثل في جمع شتات الآثار والمباحث والقضايا المتعلقة بهذه المسألة، ليسهل على طلاب العلم الإطلاع عليها بأيسر طريق وأقل مؤنة.
وقد سرت في هذا البحث وفق الخطة التالية.
المقدمة.
المطلب الأول: آيات المعية.
المطلب الثاني: أقوال السلف في تفسير آيات المعية العامة.
المطلب الثالث: أقوال السلف التي تجمع بين صفتي العلو والمعية.
المطلب الرابع: أقوال الناس في صفة المعية.
وختمت البحث بخاتمة. ذكرت فيها نتائج البحث.
وقد ركزت في ثنايا بحثي هذا على تتبع الآثار الواردة عن سلف هذه الأمة في هذه المسألة واستخراجها من كتب المأثور، وترتيبها الترتيب الزمني حسب وفاياتهم، ومع ما في هذا العمل من الجهد والتعب الذي يستدعيه التنقيب في ثنايا كتب المأثور عن هذه الأقوال إلا أن الفائدة الحاصلة من وراء ذلك أعظم وأكبر، وذلك من وجهين:
الأول: بيان الحق في هذه المسألة من خلال ذكر أقوال الأئمة في مسألة المعية، بحيث يقف القارئ الكريم على أقوال الأئمة من علماء هذه الأمة في صفة المعية وتفسيرهم للآيات والنصوص الواردة فيها وبيان فهمهم لها.
ففي هذا الصنيع تجلية للحق وإعانة لطالبيه على فهمه والتمسك به.
কালাম শাস্ত্রবিদদের বক্তব্য এবং তাদের ভ্রান্ত দাবির শুদ্ধতা বিষয়ে।
সুতরাং সেই সকল সংশয় নিরসন করতে, তা প্রতিহত করতে এবং সত্য যা অনুসরণ করার অধিক যোগ্য তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে আমি আমার প্রচেষ্টা নিবেদন করছি এবং সত্য ও সত্যের অন্বেষণকারীদের জন্য এই খিদমত পেশ করছি। যা এই মাসয়ালা (বিষয়) সংশ্লিষ্ট বিক্ষিপ্ত আছার (বর্ণনা), গবেষণা ও বিষয়গুলো একত্রিত করার মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়েছে, যাতে ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য সহজতম উপায়ে ও স্বল্প পরিশ্রমে তা অবগত হওয়া সহজ হয়।
আমি এই গবেষণায় নিম্নোক্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্রসর হয়েছি।
ভূমিকা।
প্রথম পরিচ্ছেদ: মায়িয়্যাহ (সাথে থাকা) বিষয়ক আয়াতসমূহ।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সাধারণ মায়িয়্যাহ বিষয়ক আয়াতসমূহের তাফসীরে সালাফদের বক্তব্য।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সালাফদের সেই সকল বক্তব্য যা উলুউ (উচ্চতা) ও মায়িয়্যাহ (সাথে থাকা) গুণের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মায়িয়্যাহর গুণ সম্পর্কে মানুষের বিভিন্ন বক্তব্য।
এবং আমি একটি উপসংহারের মাধ্যমে গবেষণাটি সমাপ্ত করেছি, যাতে গবেষণার ফলাফলসমূহ উল্লেখ করেছি।
আমি আমার এই গবেষণার পরতে পরতে এই উম্মতের সালাফদের থেকে এই মাসয়ালা সম্পর্কে বর্ণিত আছারসমূহ অনুসন্ধানে এবং সেগুলো বর্ণনানির্ভর প্রাচীন গ্রন্থসমূহ থেকে বের করে আনার প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ করেছি। সাথে সাথে তাদের মৃত্যুসন অনুযায়ী কালানুক্রমিকভাবে তা সাজিয়েছি। এই কাজটিতে যে প্রচেষ্টা ও ক্লান্তি রয়েছে, যা এই বক্তব্যগুলো খুঁজে বের করার জন্য প্রাচীন গ্রন্থগুলোর গভীরে অনুসন্ধান করার দাবি রাখে, তা সত্ত্বেও এর মাধ্যমে অর্জিত উপকারিতা অনেক মহান ও বিশাল; আর তা দুটি দিক থেকে:
প্রথমত: মায়িয়্যাহর মাসয়ালায় ইমামদের বক্তব্যগুলো উল্লেখ করার মাধ্যমে এই বিষয়ের সত্যতা স্পষ্ট করা, যাতে সম্মানিত পাঠক এই উম্মতের উলামা ও ইমামদের মায়িয়্যাহর গুণ সম্পর্কে তাদের বক্তব্য এবং এই সংক্রান্ত আয়াত ও নসসমূহের ব্যাখ্যা এবং তাদের বুঝ সম্পর্কে অবগত হতে পারেন।
সুতরাং এই কাজের মাধ্যমে সত্য পরিস্ফুট হবে এবং সত্যের অন্বেষণকারীদের জন্য তা অনুধাবন ও আঁকড়ে ধরার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মারউইয়্যাহ ফি সিফাতিল মাইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
والثاني: إيضاح بطلان أقوال المخالفين وبيان مخالفتها لقول السلف وأنها أقوال لا أساس لها لا من النصوص الشرعية ولا من أقوال الأ~مة الذين يقتدى بهم ويستأنس بأقوالهم.
فأصحاب الأقوال الباطلة أسسوا بنيانهم على جرف هار، ودعاوى زائفة إذا ما سلِّط عليها الحق اتضح بطلانها وانكشف فسادها.
فأرجو من الله عز وجل أن أكون قد وفقت في تحقيق المقصود من هذا البحث، وأن ينفع به قارئيه، والله الموفق والهادي إلى سواء السبيل.
দ্বিতীয়ত: বিরোধীদের বক্তব্যের অসারতা স্পষ্ট করা এবং সালাফদের বক্তব্যের সাথে তাদের বিরোধের বিষয়টি ফুটিয়ে তোলা; এবং এ কথা স্পষ্ট করা যে, তাদের এসব বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই—না শারয়ী দলীল-প্রমাণে, আর না এমন ইমামদের বাণীতে যাদের অনুসরণ করা হয় এবং যাদের কথা দ্বারা দিকনির্দেশনা লাভ করা হয়।
সুতরাং বাতিল মতবাদ পোষণকারীরা তাদের ইমারত নির্মাণ করেছে এক পতনোন্মুখ ধ্বংসস্তূপের কিনারায় এবং মিথ্যা দাবির ওপর; যার ওপর যখনই সত্যের আলোকপাত করা হয়, তখনই তার অসারতা স্পষ্ট হয়ে যায় এবং তার ভ্রষ্টতা উন্মোচিত হয়।
অতঃপর আমি মহান আল্লাহর নিকট আশা করি যে, আমি এই গবেষণার উদ্দেশ্য হাসিল করতে সমর্থ হয়েছি এবং তিনি এর দ্বারা পাঠকদের উপকৃত করবেন। আল্লাহই তাওফীকদাতা এবং সঠিক পথের দিশারী।
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মারউইয়্যাহ ফি সিফাতিল মাইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
المطلب الأول: آيات المعيةوردت صفة المعية في القرآن لمعنيين هما
المعنى الأول: المعية العامة.
وقد وردت في مواضع من القرآن الكريم وهي:
* الموضع الأول: في سورة الحديد (الآية 4) قال تعالى {هُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَى عَلَى الْعَرْشِ يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الْأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ} .
* الموضع الثاني: في سورة المجادلة (الآية 7) قال تعالى {أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلاثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ وَلا خَمْسَةٍ إِلَّا هُوَ سَادِسُهُمْ وَلا أَدْنَى مِنْ ذَلِكَ وَلا أَكْثَرَ إِلَاّ هُوَ مَعَهُمْ أَيْنَ مَا كَانُوا ثُمَّ يُنَبِّئُهُمْ بِمَا عَمِلُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} .
* الموضع الثالث: في سورة النساء (الآية 108) قال تعالى {يَسْتَخْفُونَ مِنَ النَّاسِ وَلا يَسْتَخْفُونَ مِنَ اللَّهِ وَهُوَ مَعَهُمْ إِذْ يُبَيِّتُونَ مَا لا يَرْضَى مِنَ الْقَوْلِ وَكَانَ اللَّهُ بِمَا يَعْمَلُونَ مُحِيطاً}
وهذا النوع من أنواع المعية المراد به أن الله مع جميع الخلق بعلمه فهو مطلع على خلقه شهيد عليهم وعالم بهم؛ وسميت عامة لأنها تعم جميع الخلق.
المعنى الثاني: المعية الخاصة.
وقد وردت في القرآن الكريم في مواطن كثيرة أورد منها على سبيل المثال لا الحصر الآيات التالية: قال تعالى {إِنَّ اللَّهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَوْا وَالَّذِينَ هُمْ مُحْسِنُونَ} الآية (128) من سورة النحل. وقال تعالى {إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ} الآية (153) من سورة البقرة. وقال
প্রথম পরিচ্ছেদ: মা'ইয়্যাত (সাথে থাকা) সংক্রান্ত আয়াতসমূহকুরআনে মা'ইয়্যাত (সাথে থাকা)-এর গুণটি দুটি অর্থে বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো হলো-
প্রথম অর্থ: সাধারণ মা'ইয়্যাত (সাধারণভাবে সাথে থাকা)।
এটি পবিত্র কুরআনের কয়েকটি স্থানে বর্ণিত হয়েছে, আর সেগুলো হলো:
* প্রথম স্থান: সূরা আল-হাদিদ (আয়াত ৪), মহান আল্লাহ বলেন: {তিনিই আসমানসমূহ ও জমিন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন, তারপর আরশের উপর উঠেছেন। তিনি জানেন যা জমিনে প্রবেশ করে এবং যা তা থেকে বের হয়, আর যা আসমান থেকে নাজিল হয় এবং যা তাতে আরোহণ করে। তোমরা যেখানেই থাক না কেন, তিনি তোমাদের সাথে আছেন। আর তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা।}।
* দ্বিতীয় স্থান: সূরা আল-মুজাদালাহ (আয়াত ৭), মহান আল্লাহ বলেন: {তুমি কি দেখনি যে, আসমানসমূহে যা আছে এবং জমিনে যা আছে আল্লাহ তা জানেন? তিন ব্যক্তির এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি চতুর্থ জন না থাকেন, আর পাঁচ ব্যক্তিরও হয় না যাতে তিনি ষষ্ঠ জন না থাকেন; এর চেয়ে কম হোক কিংবা বেশি, তারা যেখানেই থাকুক না কেন তিনি তাদের সাথে থাকেন। তারপর কিয়ামতের দিন তিনি তাদেরকে তাদের আমল সম্পর্কে জানিয়ে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।}।
* তৃতীয় স্থান: সূরা আন-নিসা (আয়াত ১০৮), মহান আল্লাহ বলেন: {তারা মানুষের কাছ থেকে আত্মগোপন করে, কিন্তু আল্লাহর কাছ থেকে আত্মগোপন করতে পারে না; অথচ তিনি তাদের সাথে থাকেন যখন তারা রাতে এমন কথার পরিকল্পনা করে যা তিনি পছন্দ করেন না। আর তারা যা করে আল্লাহ তা পরিবেষ্টন করে আছেন।}
মা'ইয়্যাতের এই প্রকারের দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল্লাহ তাঁর জ্ঞানের মাধ্যমে সমস্ত সৃষ্টির সাথে আছেন। তিনি তাঁর সৃষ্টির ওপর অবগত, তাদের ব্যাপারে প্রত্যক্ষদর্শী এবং তাদের সম্পর্কে পরিজ্ঞাত। একে 'সাধারণ' বলা হয় কারণ এটি সমস্ত সৃষ্টিকে অন্তর্ভুক্ত করে।
দ্বিতীয় অর্থ: বিশেষ মা'ইয়্যাত (বিশেষভাবে সাথে থাকা)।
এটি পবিত্র কুরআনে অনেক স্থানে বর্ণিত হয়েছে, উদাহরণস্বরূপ এবং সীমাবদ্ধ না থেকে নিচের আয়াতগুলো উল্লেখ করছি: মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাথে আছেন যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা সৎকর্মশীল।} (সূরা আন-নাহল, আয়াত ১২৮)। মহান আল্লাহ আরও বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।} (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৫৩)। আর তিনি বলেন...
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মারউইয়্যাহ ফি সিফাতিল মাইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
تعالى {ثَانِيَ اثْنَيْنِ إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ إِذْ يَقُولُ لِصَاحِبِهِ لا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا} الآية (40) من سورة التوبة. وهذه هي معية الإطلاع والنصرة والتأييد، وسميت خاصة لأنها تخص أنبياء الله وأولياءه دون غيرهم من الخلق.
ومما ورد في السنة بهذا الخصوص حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم "يقول الله تعالى: أنا عند ظن عبدي بي، وأنا معه إذا ذكرني" 1.
وبناءً على هذا التقسيم للمعية الوارد في النصوص، نص عدد من أهل العلم على ذلك في كتبهم وممن ذكره شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله حيث قال:
"ولفظ (مع) جائت في القرآن عامة وخاصة، فالعامة في هذه الآية (يقصد آية الحديد) وفي آية المجادلة فافتتح الكلام بالعلم وختمه بالعلم، ولهذا قال ابن عباس والضحاك وسفيان الثوري وأحمد بن حبل: هو معهم بعلمه.
وأما "المعية الخاصة" ففي قوله تعالى: {إِنَّ اللَّهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَوْا وَالَّذِينَ هُمْ مُحْسِنُونَ} وقوله تعالى لموسى: {إِنَّنِي مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَأَرَى} وقال تعالى: {إِذْ يَقُولُ لِصَاحِبِهِ لا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا} يعني النبي صلى الله عليه وسلم وأبا بكر رضي الله عنه. فهو مع موسى وهارون دون فرعون، ومع محمد وصاحبه دون أبي جهل وغيره من أعدائه. ومع الذين اتقوا والذين هم محسنون دون الظالمين المعتدين"2
--------------------------------------------
মহান আল্লাহ বলেন, "দুইজনের দ্বিতীয় জন, যখন তারা উভয়ে গুহার মধ্যে ছিলেন, যখন তিনি তার সাথীকে বলছিলেন, 'চিন্তিত হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন'।" এটি সূরা আত-তাওবাহ্-এর ৪০ নম্বর আয়াত। আর এটি হলো পরিজ্ঞাত হওয়া, সাহায্য করা এবং সমর্থন করার সান্নিধ্য (মাঈয়্যাত), একে ‘বিশেষ’ বলা হয়েছে কারণ এটি আল্লাহর নবীগণ এবং তাঁর ওলিদের জন্য নির্দিষ্ট, সৃষ্টি জগতের অন্যদের জন্য নয়।
সুন্নাহর মধ্যে এই বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসটি অন্যতম। তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, "মহান আল্লাহ বলেন: আমি আমার বান্দার ধারণার অনুরূপ হই যা সে আমার প্রতি পোষণ করে, এবং আমি তার সাথে থাকি যখন সে আমাকে স্মরণ করে।" ১।
নصوص (দলিল)-এ বর্ণিত সান্নিধ্যের এই বিভাজনের ওপর ভিত্তি করে বহু আলেম তাদের কিতাবসমূহে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। তাদের মধ্যে শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) অন্যতম। তিনি বলেন:
"কুরআনে 'সাথে' (মা'আ) শব্দটি সাধারণভাবে এবং বিশেষভাবে এসেছে। সাধারণ সান্নিধ্য এই আয়াতে (অর্থাৎ সূরা আল-হাদিদের আয়াত) এবং সূরা আল-মুজাদিলাহর আয়াতে এসেছে, যেখানে আলোচনার শুরু হয়েছে জ্ঞান (ইলম) দিয়ে এবং শেষ হয়েছে জ্ঞান দিয়ে। এই কারণেই ইবনে আব্বাস, দাহহাক, সুফিয়ান সাওরি এবং আহমাদ বিন হাম্বল বলেছেন: তিনি তাঁর জ্ঞান (ইলম) দ্বারা তাদের সাথে আছেন।
আর 'বিশেষ সান্নিধ্য' মহান আল্লাহর এই বাণীতে রয়েছে: 'নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাথে আছেন যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা সৎকর্মশীল।' এবং মূসা (আ.)-এর প্রতি মহান আল্লাহর বাণী: 'নিশ্চয়ই আমি তোমাদের উভয়ের সাথে আছি, আমি শুনি এবং দেখি।' এবং মহান আল্লাহ বলেন: 'যখন তিনি তাঁর সাথীকে বলছিলেন, চিন্তিত হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন'—অর্থাৎ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং আবু বকর (রা.)। সুতরাং তিনি মূসা ও হারুনের সাথে ছিলেন, ফিরআউনের সাথে নয়; এবং মুহাম্মাদ ও তাঁর সাথীর সাথে ছিলেন, আবু জাহেল ও তাঁর অন্যান্য শত্রুদের সাথে নয়। আর তিনি মুত্তাকী ও সৎকর্মশীলদের সাথে আছেন, জালিম ও সীমালঙ্ঘনকারীদের সাথে নয়।" ২
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মারউইয়্যাহ ফি সিফাতিল মাইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وقال الإمام ابن القيم رحمه الله: "
… فمعية الله تعالى مع عبده نوعان عامة وخاصة وقد اشتمل القرآن على النوعين وليس ذلك بطريق الاشتراك اللفظي بل حقيقتها ما تقدم من الصحبة اللائقة"1.
وقال في موضع آخر: "
… فمن المعية الخاصة قوله {إِنَّ اللَّهَ مَعَ الصَّابِرِينَ} ، {إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ} ، {إِنَّ اللَّهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَوْا وَالَّذِينَ هُمْ مُحْسِنُونَ} ، {وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ} 2، {لا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا} ، ومن العامة {وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُمْ} ، وقوله {مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلاثَةٍ إِلَاّ هُوَ رَابِعُهُمْ} الآية"3.
وقال الحافظ ابن رجب الحنبلي رحمه الله: "ومعيته مع أهل طاعته خاصة فهو سبحانه مع الذين اتقوا والذين هم محسنون.
فالمعية العامة تقتضي التحذير من علمه واطلاعه وقدرته وبطشه وانتقامه.
والمعية الخاصة تقتضي حسن الظن بإجابته ورضاه وحفظه وصيانته"4.
وقال الشوكاني رحمه الله في شرح حديث "أنا عند ظن عبدي بي، وأنا معه إذا ذكرني".
قال: "فيه تصريح بأن الله تعالى مع عباده عند ذكرهم له، ومن مقتضى ذلك أن ينظر إليه برحمته، ويمده بتوفيقه وتسديده، فإن قلت: هو مع جميع عباده كما قال سبحانه وتعالى {وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُمْ} ، وقوله جلّ ذكره {مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلاثَةٍ إِلَاّ هُوَ رَابِعُهُمْ} الآية.
--------------------------------------------
ইমাম ইবনুল কায়্যিম রহিমানুল্লাহ বলেছেন: "
… বান্দার সাথে মহান আল্লাহর সংশ্রব দুই প্রকার: সাধারণ ও বিশেষ। পবিত্র কুরআন এই দুই প্রকারকেই অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং এটি কেবল শাব্দিক সমার্থকতা নয়, বরং এর বাস্তবতা হলো সেই উপযুক্ত সাহচর্য যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।"১
তিনি অন্য স্থানে বলেছেন: "
… বিশেষ সংশ্রবের উদাহরণ হলো তাঁর বাণী {নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন}, {নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন}, {নিশ্চয় আল্লাহ তাদের সাথে আছেন যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা সৎকর্মশীল}, {আর জেনে রাখো যে, নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে আছেন}২, {চিন্তা করো না, নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন}। আর সাধারণ সংশ্রবের উদাহরণ হলো {আর তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তিনি তোমাদের সাথে আছেন} এবং তাঁর বাণী {তিন ব্যক্তির এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি চতুর্থজন না থাকেন} শেষ আয়াত পর্যন্ত।"৩
হাফেজ ইবনে রজব আল-হাম্বলী রহিমানুল্লাহ বলেছেন: "তাঁর আনুগত্যকারীদের সাথে তাঁর সংশ্রব বিশেষ ধরনের; সুতরাং তিনি সুবহানাহু ওয়াতাআলা তাদের সাথে আছেন যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা সৎকর্মশীল।
সাধারণ সংশ্রব তাঁর জ্ঞান, পর্যবেক্ষণ, ক্ষমতা, পাকড়াও এবং প্রতিশোধ সম্পর্কে সতর্ক হওয়ার দাবি রাখে।
আর বিশেষ সংশ্রব তাঁর প্রার্থনা কবুল করা, তাঁর সন্তুষ্টি, তাঁর রক্ষণাবেক্ষণ এবং সুরক্ষার প্রতি সুধারণা পোষণ করার দাবি রাখে।"৪
শাওকানী রহিমানুল্লাহ "আমি আমার বান্দার ধারণার অনুরূপ, আর সে যখন আমাকে স্মরণ করে আমি তার সাথে থাকি" হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন:
তিনি বলেন: "এতে স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে যে, বান্দা যখন মহান আল্লাহকে স্মরণ করে তখন তিনি তাদের সাথে থাকেন। আর এর দাবি হলো তিনি যেন তার প্রতি রহমতের দৃষ্টি প্রদান করেন এবং তাকে তাঁর তাওফিক ও সঠিক পথে অটল থাকার শক্তি দিয়ে সাহায্য করেন। যদি তুমি বলো: তিনি তো তাঁর সকল বান্দার সাথেই আছেন যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআলা বলেছেন {আর তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তিনি তোমাদের সাথে আছেন}, এবং তাঁর মহান বাণী {তিন ব্যক্তির এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি চতুর্থজন না থাকেন} শেষ আয়াত পর্যন্ত।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মারউইয়্যাহ ফি সিফাতিল মাইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
قلت: هذه معية عامة، وتلك معية خاصة حاصلة للذاكر على الخصوص بعد دخوله مع أهل المعية العامة، وذلك يقتضي مزيد العناية ووفور الإكرام له والتفضل عليه، ومن هذه المعية الخاصة ما ورد في كتابه العزيز من كونه مع الصابرين، وكونه مع الذين اتقوا، وما ورد هذا المورد في الكتاب العزيز أو السنة، فلا منافاة بين إثبات المعية الخاصة وإثبات المعية العامة"1.
وقال الشيخ عبد الرحمن بن ناصر السعدي رحمه الله: "معية الله التي ذكرها في كتابه نوعان:
معية العلم والاحاطة وهي المعية العامة، فإنه مع عباده أينما كانوا.
ومعية خاصة، وهي معيته مع خواص خلقه، بالنصرة والعطف والتأييد"2.
هذه بعض النقول أوردتها على سبيل التمثيل لا على سبيل الحصر لأثبات أصالة هذا التقسيم وأخذ المحققين من العلماء به وهناك نقول أخرى عن جمع أخر من العلماء كلهم قالوا بهذا التقسيم للمعية تركتها خشية الإطالة وإنما أردت بهذا التنبيه على ورود هذا التقسيم في كلام أهل العلم.
--------------------------------------------
আমি বলেছি: এটি সাধারণ সাথিত্ব, আর সেটি যিকরকারীর জন্য বিশেষভাবে অর্জিত বিশেষ সাথিত্ব, যা সাধারণ সাথিত্বের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর অর্জিত হয়। এটি তার প্রতি অধিক যত্ন, প্রচুর সম্মান এবং অনুগ্রহ প্রদানের দাবি রাখে। এই বিশেষ সাথিত্বের অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর সুমহান কিতাবে বর্ণিত ধৈর্যশীলদের সাথে তাঁর থাকা এবং মুত্তাকীদের সাথে তাঁর থাকা। মহান কিতাব বা সুন্নাহয় যা কিছু এই ধারায় বর্ণিত হয়েছে, তাতে বিশেষ সাথিত্ব সাব্যস্ত করা এবং সাধারণ সাথিত্ব সাব্যস্ত করার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই।"১।
এবং শাইখ আব্দুর রহমান বিন নাসির আস-সা’দী (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আল্লাহর সাথিত্ব যা তিনি তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন তা দুই প্রকার:
জ্ঞান ও পরিবেষ্টনকারী সাথিত্ব, যা সাধারণ সাথিত্ব; কেননা তিনি তাঁর বান্দারা যেখানেই থাকুক না কেন তাদের সাথেই থাকেন।
এবং বিশেষ সাথিত্ব, যা তাঁর সৃষ্টির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে সাহায্য, করুণা ও সমর্থনের মাধ্যমে অর্জিত হয়।"২।
এগুলো কিছু উদ্ধৃতি যা আমি উদাহরণস্বরূপ উল্লেখ করেছি, সীমাবদ্ধ করার জন্য নয়; যাতে এই বিভাজনের প্রামাণিকতা এবং বিজ্ঞ আলেমদের এটি গ্রহণ করার বিষয়টি সাব্যস্ত হয়। আরও একদল আলেম থেকে আরও অনেক উদ্ধৃতি রয়েছে যারা সকলেই সাথিত্বের এই বিভাজনের কথা বলেছেন, কিন্তু দীর্ঘ হওয়ার ভয়ে আমি তা বর্জন করেছি। আমি শুধু এর মাধ্যমে আলেমদের বক্তব্যে এই বিভাজনের উপস্থিতির বিষয়টি অবগত করতে চেয়েছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মারউইয়্যাহ ফি সিফাতিল মাইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
المطلب الثاني: أقوال العلماء في تفسير آيات المعية العامة…المطلب الثاني: أقوال السلف في تفسير آيات المعية العامة
تتابع أهل السنة قرنا بعد قرن وجيلا بعد جيل على تفسير آيات المعية بأنها معية العلم والاطلاع، والنقول التي سأوردها في هذا المطلب شملت عددا من أعلام الأمة وأئمتها بما في ذلك القرون المفضلة، وأئمة الفقه والحديث والتفسير1.
فكيف تطيب نفس مسلم إلى ترك أقوال هؤلاء إلى قول من يحتج بقوله.
وقد نقل غير واحد من أهل العلم إجماع علماء السلف على تفسيرهم لآيات المعية العامة بأن المراد بها معية العلم، وسأورد لك هنا ما وقفت عليه من آثار في تفسير تلك الآيات ليتضح لك حقيقة قولهم في المسألة.
والمقصود من إيراد هذا الكمِّ الكبير من الآثار هو تفنيد تلك الدعوى التي تمسك بها المخالفون لاعتقاد السلف في هذه المسألة ومسألة العلو ـ التي لها ارتباط وثيق بمسألة المعية ـ فأوردوا حولها دعوى هي أوهى من بيت العنكبوت، وهي زعمهم أن أيات المعية العامة المراد بها أن الله معنا بذاته في كل مكان تعالى الله عما يقولون علواً كبيرا.
وسيجد القارئ لهذا المطلب أن تفسيرهم ذاك لم يقل به أحد من السلف ولا الأئمة المعتبرين، بل ولا حتى جمع من قدماء الأشاعرة وعلى رأسهم أبو الحسن الأشعري الذي ينتسبون إليه، فالأشعري وقدماء أصحابه وافقوا السلف في تفسيرهم لآيات المعية العامة بأنها معية العلم والاطلاع.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সাধারণ মা'ইয়াত (সাথে থাকা) সংক্রান্ত আয়াতসমূহের ব্যাখ্যায় ওলামায়ে কেরামের উক্তি...দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সাধারণ মা'ইয়াত সংক্রান্ত আয়াতসমূহের ব্যাখ্যায় সালাফদের উক্তি
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত যুগ যুগ ধরে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে মা'ইয়াত সংক্রান্ত আয়াতসমূহের ব্যাখ্যায় একমত যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জ্ঞান ও অবগতির মাধ্যমে সাথে থাকা। এই পরিচ্ছেদে আমি যে উদ্ধৃতিগুলো পেশ করব, তাতে উম্মতের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও ইমামদের বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার মধ্যে শ্রেষ্ঠ যুগসমূহের ইমামগণ এবং ফিকহ, হাদিস ও তাফসির শাস্ত্রের ইমামগণ রয়েছেন।১
এমতাবস্থায় একজন মুসলিমের অন্তর কীভাবে এই মহান ব্যক্তিদের বক্তব্য ছেড়ে এমন কারো বক্তব্য গ্রহণ করতে আগ্রহী হতে পারে যার কথা দলিল হিসেবে পেশ করা হয়?
একাধিক আলেম সালাফদের ইজমা (ঐক্যমত) বর্ণনা করেছেন যে, সাধারণ মা'ইয়াত সংক্রান্ত আয়াতগুলোর মাধ্যমে 'ইলম' বা জ্ঞানের মাধ্যমে সাথে থাকা উদ্দেশ্য। এই মাসআলায় তাদের বক্তব্যের প্রকৃত স্বরূপ আপনার কাছে স্পষ্ট করার জন্য আমি এখানে সেই আয়াতগুলোর তাফসির সম্পর্কে যা যা পেয়েছি তা উল্লেখ করব।
এত বিপুল সংখ্যক বর্ণনা উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো সেই দাবিটিকে খণ্ডন করা, যা সালাফদের আকিদার বিরোধীরা এই মাসআলা এবং 'উলুউ' (আল্লাহর উচ্চতা) সংক্রান্ত মাসআলায় আঁকড়ে ধরেছে—যে 'উলুউ' মাসআলাটি মা'ইয়াতের মাসআলার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তারা এই বিষয়ে মাকড়সার জালের চেয়েও দুর্বল একটি দাবি উত্থাপন করেছে। তাদের সেই দাবিটি হলো—সাধারণ মা'ইয়াত সংক্রান্ত আয়াতগুলো দ্বারা নাকি এটি বুঝায় যে, আল্লাহ তাঁর সত্তাসহ সর্বত্র বিদ্যমান; তারা যা বলে তা থেকে আল্লাহ অতি উচ্চ ও মহান।
এই পরিচ্ছেদের পাঠক দেখতে পাবেন যে, সালাফ বা নির্ভরযোগ্য ইমামদের মধ্যে কেউ তাদের (বিরোধীদের) মতো ওই ব্যাখ্যা দেননি। এমনকি প্রাচীন আশায়েরা উলামাদের একটি দলও তা বলেননি, যাদের নেতৃত্বে ছিলেন খোদ আবুল হাসান আল-আশআরী, যাঁর দিকে তারা নিজেদের সম্পৃক্ত করে। কেননা আশআরী এবং তাঁর প্রাচীন অনুসারীগণ সাধারণ মা'ইয়াত সংক্রান্ত আয়াতগুলোর তাফসিরে সালাফদের সাথে একমত ছিলেন যে, এর দ্বারা জ্ঞান ও অবগতির মাধ্যমে সাথে থাকা উদ্দেশ্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মারউইয়্যাহ ফি সিফাতিল মাইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
فأصحاب هذه الدعوى مخصومون بما سنورده من آثار من أوجه عديدة.
منها أن هذا المدعي إن كان حمله تعصبه لمذهب معين أوطائفة معينة على ماقال، مثل أن ينتسب إلى أحد المذاهب الأربعة، أو العقيدة الأشعرية، فإن كان ممن ينتسب إلى أحد من أصحاب المذاهب الفقهية المتعارف عليها بين المسلمين فسيجد من النقول عن أولئك الأئمة وكبار تلاميذهم والعلماء المنتسبين إليهم ما يثبت له أنه مخالف لهم في الاعتقاد وإن كان يزعم أنه من أتباعهم في الفروع الفقهية، ومن ثَمَّ يدرك حقيقة الانفصال الواقع بين أئمة المذاهب الفقهية وتلاميذهم والأئمة المبرزين في مذاهبهم وبين المتأخرين ممن يزعمون أنهم من أتباعهم في الأساس وهوالمعتقد الذي هو أهم بكثير من تقليدهم في الفروع الفقهية فأين هذا الاتباع المزعوم؟!! ولو أن هؤلاء تجردوا من التعصب والهوى ونظروا بعين الحق والإنصاف لعلموا يقينا أنهم مخالفون لهم لا أتباعا لهم.
وإن كان هذا المتعصب ينتسب إلى الأشعرية، فسيدرك من خلال ماأوردناه من آثار عن متقدمي الأشاعرة، أنهم لايوافقون المتأخرين على دعواهم، وأن تلك الدعوى إنما هي عقيدة باطلة تلقاها المتأخرون ـ الذين كانوا جهمية خلّص في هذا الباب. ـ عن قدماء الجهمية والمعتزلة
فبعد ذلك لا تبقى حجة أو بالأحرى دعوى لمدع في التفسير الباطل الذي ذهبوا إليه وهذا أوان الشروع في إيراد الآثار وأولها:
1 - قول ابن عباس رضي الله عنه
أخرج ابن أبي حاتم عن ابن عباس في قوله {وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُمْ} قال: "عالم بكم أينما كنتم"1.
--------------------------------------------
সুতরাং এই দাবির প্রবক্তারা আমাদের উপস্থাপিত বর্ণনাসমূহের মাধ্যমে বিভিন্ন দিক থেকে খণ্ডিত হবেন।
এর মধ্যে একটি হলো, এই দাবিদার যদি কোনো নির্দিষ্ট মাযহাব বা দলের প্রতি অন্ধ আনুগত্যের কারণে এমনটি বলে থাকে—যেমন সে চার মাযহাবের কোনো একটির অনুসারী অথবা আশ'আরি আকিদার অনুসারী হওয়ার দাবি করে—তবে সে যদি মুসলিমদের মাঝে প্রচলিত কোনো ফিকহি মাযহাবের ইমামদের সাথে সম্পৃক্ত হয়, তবে সে ঐ সকল ইমাম, তাঁদের প্রধান ছাত্রবৃন্দ এবং তাঁদের অনুসারী আলেমদের থেকে বর্ণিত এমন সব বর্ণনা খুঁজে পাবে যা তার সামনে প্রমাণ করবে যে, সে আকিদার ক্ষেত্রে তাঁদের বিরোধী, যদিও সে ফিকহি শাখাগত মাসআলায় তাঁদের অনুসারী হওয়ার দাবি করে। এর মাধ্যমে সে ফিকহি মাযহাবের ইমামগণ, তাঁদের ছাত্রগণ ও তাঁদের মাযহাবের শ্রেষ্ঠ ইমামগণ এবং পরবর্তী যুগের দাবিদারদের মধ্যকার বাস্তব বিচ্ছেদের বিষয়টি অনুধাবন করতে পারবে। অথচ ফিকহি শাখাগত বিষয়ে তাকলিদ করার চেয়ে আকিদার বিষয়ে তাঁদের অনুসরণ করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং এই তথাকথিত অনুসরণ কোথায়?!! আর যদি তারা গোঁড়ামি ও প্রবৃত্তি থেকে মুক্ত হতো এবং সত্য ও ইনসাফের দৃষ্টিতে তাকাত, তবে তারা নিশ্চিতভাবে জানতে পারত যে তারা তাঁদের বিরোধী, অনুসারী নয়।
আর এই গোঁড়া ব্যক্তিটি যদি আশ'আরিদের সাথে সম্পৃক্ত হয়, তবে সে প্রাচীন আশ'আরিদের থেকে আমাদের বর্ণিত বর্ণনাসমূহের মাধ্যমে বুঝতে পারবে যে, তারা পরবর্তী যুগের লোকদের দাবির সাথে একমত নন। আর সেই দাবিটি মূলত একটি বাতিল আকিদা যা পরবর্তী যুগের লোকেরা—যারা এই বিষয়ে কট্টর জাহমিয়া ছিল—প্রাচীন জাহমিয়া ও মুতাজিলাদের থেকে গ্রহণ করেছে।
অতএব, এরপর তাদের গৃহীত সেই বাতিল ব্যাখ্যার স্বপক্ষে কোনো দাবিদারের কাছে কোনো দলিল বা নিছক দাবিও অবশিষ্ট থাকে না। আর এখন বর্ণনাসমূহ পেশ করার প্রারম্ভকাল, যার প্রথমটি হলো:
১ - ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তি
ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস থেকে আল্লাহর এই বাণী {এবং তিনি তোমাদের সাথেই আছেন তোমরা যেখানেই থাকো না কেন} এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "তোমরা যেখানেই থাকো না কেন তিনি তোমাদের সম্পর্কে সম্যক অবগত।"১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মারউইয়্যাহ ফি সিফাতিল মাইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
2 - قول الضحاك بن مزاحم رحمه الله1 (بعد المائة)
عن مقاتل بن حيان عن الضحاك في قوله عز وجل {مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلاثَةٍ إِلَاّ هُوَ رَابِعُهُمْ وَلا خَمْسَةٍ إِلَاّ هُوَ سَادِسُهُمْ} قال: "هو فوق العرش وعلمه معهم أينما كانوا."2.
--------------------------------------------
২ - দহ্হাক বিন মুজাহিম (রহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তি১ (১০০ হিজরীর পর)
মুকাতিল বিন হাইয়ান থেকে বর্ণিত, তিনি দহ্হাক থেকে মহান আল্লাহর বাণী {তিন ব্যক্তির এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি চতুর্থ জন না থাকেন এবং পাঁচ ব্যক্তিরও হয় না যাতে তিনি ষষ্ঠ জন না থাকেন} সম্পর্কে বলেন: "তিনি আরশের উপরে, আর তাঁর জ্ঞান তাদের সাথে আছে তারা যেখানেই থাকুক না কেন।"২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মারউইয়্যাহ ফি সিফাতিল মাইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
3 - قول مقاتل بن حيان رحمه الله1 (قبل 150 هـ)
قال في قوله تعالى {مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلاثَةٍ إِلَاّ هُوَ رَابِعُهُمْ} قال: "هو على العرش ولا يخل شيء من علمه"2.
4 - قول أبي حنيفة رحمه الله (150 هـ)
قال نعيم بن حماد: سمعت نوح بن أبي مريم يقول: كنا عند أبي حنيفة رحمه الله أول ما ظهر، (أي أمر الجهم بن صفوان) إذ جاءته امرأة من ترمذ كانت تجالس جهما، فدخلت الكوفة، فأظنني أقل ما رأيت عليها عشرة ألاف من الناس، تدعو إلى رأيها، فقيل لها إن رجلا هاهنا قد نظر في المعقول يقال له أبو حنيفة، فأتته وقالت: أنت الذي تعلم الناس المسائل وقد تركت دينك، أين إلهك الذي تعبده؟ فسكت عنها، ثم مكث سبعة أيام لا يجيبها، ثم خرج إلينا وقد وضعكتابا أن الله في السماء دون الأرض، فقال له رجل: أرأيت قول الله تعالى {وَهُوَ مَعَكُمْ} قال: "هو كما تكتب إلى الرجل إني معك وأنت غائب عنه"3.
--------------------------------------------
৩ - মুকাতিল বিন হাইয়্যান (রাহিমাহুল্লাহ) এর উক্তি১ (১৫০ হিজরির পূর্বে)
তিনি মহান আল্লাহর এই বাণী— {তিন ব্যক্তির এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি চতুর্থ জন না থাকেন} সম্পর্কে বলেন: "তিনি আরশের ওপর রয়েছেন এবং তাঁর জ্ঞানের বাইরে কোনো কিছুই নেই।"২।
৪ - আবু হানিফা (রাহিমাহুল্লাহ) এর উক্তি (১৫০ হিজরি)
নুআইম বিন হাম্মাদ বলেন: আমি নূহ বিন আবি মারইয়ামকে বলতে শুনেছি: জাহম বিন সাফওয়ানের ফেতনা যখন প্রথম প্রকাশ পেল, তখন আমরা আবু হানিফা (রাহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট ছিলাম। এমতাবস্থায় তিরমিয থেকে এক নারী এল যে জাহমের সাথে বসত। সে কুফায় প্রবেশ করার পর, আমার মনে হয় আমি তাকে অন্তত দশ হাজার মানুষের সামনে নিজের মতবাদের দিকে আহ্বান করতে দেখেছি। তাকে বলা হলো যে, এখানে একজন ব্যক্তি আছেন যিনি বুদ্ধিবৃত্তিক বিষয়ে প্রাজ্ঞ, তাঁকে আবু হানিফা বলা হয়। সে তাঁর নিকট এসে বলল: আপনিই কি সেই ব্যক্তি যিনি মানুষকে বিভিন্ন মাসআলা শেখান অথচ আপনি নিজের দ্বীন বর্জন করেছেন? আপনার ইলাহ কোথায় যাঁর আপনি ইবাদত করেন? তিনি তার কথায় চুপ থাকলেন। এরপর সাত দিন অতিবাহিত হলো তিনি তাকে কোনো উত্তর দিলেন না। অতঃপর তিনি আমাদের নিকট বের হয়ে আসলেন এবং একটি কিতাব লিখলেন যে, আল্লাহ আসমানে রয়েছেন, জমিনে নন। তখন এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করল: মহান আল্লাহর এই বাণী {এবং তিনি তোমাদের সাথেই আছেন} সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: "এটি তেমনই যেমন তুমি কোনো ব্যক্তিকে লিখে পাঠাও যে 'আমি তোমার সাথেই আছি' অথচ তুমি তার নিকট হতে অনুপস্থিত।"৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মারউইয়্যাহ ফি সিফাতিল মাইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
5 - قول سفيان الثوري رحمه الله (161 هـ)
عن معدان، قال سألت سفيان الثوري عن قول الله عز وجل {وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُمْ} قال: "علمه"1.
6 - قول الإمام مالك رحمه الله (179 هـ)
قال عبد الله بن أحمد حدثني أبي رحمه الله قال حدثنا سريج بن النعمان أخبرني عبد الله بن نافع قال: كان مالك بن أنس رحمه الله يقول: "من قال القرآن مخلوق يوجع ضرباً ويحبس حتى يموت"، وقال مالك رحمه الله: "الله عز وجل في السماء، وعلمه في كل مكان" وتلا هذه الآية {مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلاثَةٍ إِلَاّ هُوَ رَابِعُهُمْ وَلا خَمْسَةٍ إِلَاّ هُوَ سَادِسُهُمْ} وعظم عليه الكلام في هذا واستشنعه2.
--------------------------------------------
৫ - সুফিয়ান আস-সাওরী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তি (১৬১ হিজরি)
মা’দান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সুফিয়ান আস-সাওরীকে মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম: {এবং তিনি তোমাদের সাথেই আছেন তোমরা যেখানেই থাক না কেন}। তিনি বললেন: "তাঁর জ্ঞান"১।
৬ - ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তি (১৭৯ হিজরি)
আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ বলেন, আমার পিতা (রাহিমাহুল্লাহ) আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন, সুরাইজ ইবনুন নু’মান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবদুল্লাহ ইবনে নাফে’ আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, মালিক ইবনে আনাস (রাহিমাহুল্লাহ) বলতেন: "যে ব্যক্তি বলে যে কুরআন সৃষ্টি, তাকে কঠোরভাবে প্রহার করা হবে এবং মৃত্যু পর্যন্ত বন্দি রাখা হবে।" এবং মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "মহান আল্লাহ আসমানের উপরে আছেন, আর তাঁর জ্ঞান সর্বস্থানে বিদ্যমান।" এরপর তিনি এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন: {তিন ব্যক্তির মধ্যে এমন কোনো গোপন কথা হয় না যাতে চতুর্থজন হিসেবে তিনি (আল্লাহ) থাকেন না, আর পাঁচ ব্যক্তির মধ্যেও হয় না যাতে ষষ্ঠজন হিসেবে তিনি থাকেন না}। এবং তিনি এই বিষয়ে (তিলপনা করা) কথা বলাকে গুরুতর এবং অত্যন্ত ঘৃণ্য মনে করতেন২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মারউইয়্যাহ ফি সিফাতিল মাইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
7 - قول نعيم بن حماد الخزاعي1 رحمه الله (228 هـ)
قال أحمد بن منصور الرمادي سمعت نعيم بن حماد الخزاعي في قوله
{وَهُوَ مَعَكُمْ} : "أنه لا يخفى عليه خافية بعلمه، ألا ترى قوله {مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلاثَةٍ إِلَاّ هُوَ رَابِعُهُمْ} الآية، أراد أنه لا يخفى عليه خافية"2.
8 - قول علي بن المديني (234 هـ)
--------------------------------------------
৭ - নুআইম বিন হাম্মাদ আল-খুজায়ী ১ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) এর উক্তি (২২৮ হিজরি)
আহমদ বিন মানসুর আল-রাবাদী বলেন, আমি নুআইম বিন হাম্মাদ আল-খুজায়ীকে আল্লাহর বাণী {আর তিনি তোমাদের সাথেই আছেন} সম্পর্কে বলতে শুনেছি:
"নিশ্চয়ই তাঁর জ্ঞানের কারণে কোনো গোপন বিষয়ই তাঁর কাছে গোপন থাকে না। আপনি কি তাঁর এই বাণী দেখেননি: {তিন ব্যক্তির এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি চতুর্থ জন না থাকেন} - আয়াতের শেষ পর্যন্ত; তিনি এর দ্বারা উদ্দেশ্য করেছেন যে, কোনো গোপন বিষয়ই তাঁর নিকট গোপন থাকে না।"২।
৮ - আলী বিন আল-মাদীনী (২৩৪ হিজরি) এর উক্তি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মারউইয়্যাহ ফি সিফাতিল মাইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
سئل عن قوله تعالى {مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلاثَةٍ إِلَاّ هُوَ رَابِعُهُمْ} فقال: اقرأ ما قبله {أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ} 1.
9 - قول إسحاق بن راهويه (238 هـ)
قال حرب بن إسماعيل: قلت لإسحاق بن راهويه في قول الله {مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلاثَةٍ إِلَاّ هُوَ رَابِعُهُمْ} كيف تقول فيه؟ قال: "حيث ما كنت فهو أقرب إليك من حبل الوريد، وهو بائن من خلقه"2.
10 - قول الإمام أحمد رحمه الله (241 هـ)
قال أبو طالب سألت أحمد بن حنبل عن رجل قال: إن الله معنا، وتلا {مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلاثَةٍ إِلَاّ هُوَ رَابِعُهُمْ} . قال: "قد تجهم هذا، يأخذون بآخر الآية، ويدعون أولها هلا قرأت عليه {أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ} فالعلم معهم، وقال في سورة (ق) {وَنَعْلَمُ مَا تُوَسْوِسُ بِهِ نَفْسُهُ وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْ حَبْلِ الْوَرِيدِ} فعلمه معهم"3.
--------------------------------------------
মহান আল্লাহর বাণী "তিন ব্যক্তির এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না, যাতে তিনি তাদের চতুর্থ না হন" সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "এর আগের অংশটি পড়ুন: 'আপনি কি দেখেননি যে, আল্লাহ জানেন'।" 1.
৯ - ইসহাক বিন রাহাওয়াইহ-এর উক্তি (২৩৮ হিজরি)
হারব ইবনে ইসমাইল বলেন: আমি ইসহাক বিন রাহাওয়াইহকে আল্লাহর বাণী "তিন ব্যক্তির এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না, যাতে তিনি তাদের চতুর্থ না হন" সম্পর্কে বললাম, এ বিষয়ে আপনি কী বলেন? তিনি বললেন: "আপনি যেখানেই থাকুন না কেন, তিনি আপনার শাহরগ (জীবন ধমনী) অপেক্ষাও অধিক নিকটবর্তী, আর তিনি তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে পৃথক।" 2.
১০ - ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ-এর উক্তি (২৪১ হিজরি)
আবু তালিব বলেন, আমি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে বলে, "আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন" এবং সে আয়াতটি তিলাওয়াত করে: "তিন ব্যক্তির এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না, যাতে তিনি তাদের চতুর্থ না হন।" তিনি বললেন: "এই ব্যক্তি জাহমি মতাদর্শ গ্রহণ করেছে; তারা আয়াতের শেষাংশ গ্রহণ করে এবং প্রথমাংশ ছেড়ে দেয়। আপনি কেন তার সামনে 'আপনি কি দেখেননি যে, আল্লাহ জানেন' এই অংশটি পাঠ করলেন না? সুতরাং (আল্লাহর) জ্ঞান তাদের সাথে আছে। আর তিনি সূরা কাফ-এ বলেছেন: 'তার অন্তরে যে কুমন্ত্রণা দেয় তা আমরা জানি এবং আমরা তার শাহরগ অপেক্ষাও অধিক নিকটবর্তী।' সুতরাং তাঁর জ্ঞান তাদের সাথে আছে।" 3.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মারউইয়্যাহ ফি সিফাতিল মাইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
قال المروزي: قلت لأبي عبد الله أحمد بن حنبل، إن رجلا قال: أقول كما قال الله {مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلاثَةٍ إِلَاّ هُوَ رَابِعُهُمْ} ، أقول هذا ولا أجاوزه إلى غيره. فقال أبو عبد الله: "هذا كلام الجهمية". قلت: فكيف نقول؟ قال: {مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلاثَةٍ إِلَاّ هُوَ رَابِعُهُمْ وَلا خَمْسَةٍ إِلَاّ هُوَ سَادِسُهُمْ}
علمه في كل مكان وعلمه معهم" ثم قال: "أول الآية يدل على أنه علمه"1.
قال حنبل: قلت لأبي عبد الله ما معنى قوله {وَهُوَ مَعَكُمْ} ، و {مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلاثَةٍ إِلَاّ هُوَ رَابِعُهُمْ} ؟. قال: "علمه محيط بالكل، وربنا على العرش بلا حد ولا صفة"2.
قال أحمد بن جعفر الفارسي الإصطخري: قال أبو عبد الله أحمد بن محمد بن حنبل: "هذه مذاهب أهل العلم وأصحاب الأثر وأهل السنة المتمسكين بعروقها، المعروفين بها المقتدى بهم فيها من لدن أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم
--------------------------------------------
আল-মারওয়াযী বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে হাম্বলকে বললাম, এক ব্যক্তি বলেছে: আমি আল্লাহ যেমন বলেছেন তেমন বলি—{তিনজনের কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি তাদের চতুর্থজন না হন}, আমি এটাই বলি এবং এর বাইরে অন্য কিছু বলি না। তখন আবু আব্দুল্লাহ বললেন: "এটি জাহমিয়াদের কথা।" আমি বললাম: তবে আমরা কীভাবে বলব? তিনি বললেন: {তিনজনের কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি তাদের চতুর্থজন না হন, আর পাঁচজনেরও হয় না যাতে তিনি তাদের ষষ্ঠজন না হন}
"তাঁর জ্ঞান প্রতিটি স্থানে এবং তাঁর জ্ঞান তাদের সাথে রয়েছে।" এরপর তিনি বললেন: "আয়াতের শুরুই প্রমাণ করে যে এটি তাঁর জ্ঞান।"১।
হাম্বল বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে তাঁর বাণী {এবং তিনি তোমাদের সাথে আছেন} এবং {তিনজনের কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি তাদের চতুর্থজন না হন}-এর অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: "তাঁর জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে, আর আমাদের রব আরশের উপর উঠেছেন কোনো সীমা বা ধরন ছাড়াই।"২।
আহমাদ ইবনে জাফর আল-ফারসি আল-ইসতাখরি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাম্বল বলেছেন: "এগুলো হলো ইলমের অধিকারী, আসার বা বর্ণনার অনুসারী এবং সুন্নতের ওপর সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত আহলুস সুন্নাহর মাযহাব, যারা এর মাধ্যমে পরিচিত এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের যুগ থেকে যাদের অনুসরণ করা হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মারউইয়্যাহ ফি সিফাতিল মাইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
إلى يومنا هذا وأدركت من أدركت من علماء أهل الحجاز والشام وغيرهم عليها، فمن خالف شيئا من هذه المذاهب أو طعن فيها أو عاب قائلها، فهو مبتدع خارج من الجماعة زائل عن منهج السنة وسبيل الحق".
ثم ساق الإمام أحمد أقوالهم في العقيدة إلى أن قال: "وخلق سبع سموات بعضها فوق بعض، وسبع أراضين بعضها أسفل من بعض، وبين الأرض العليا والسماء الدنيا مسيرة خمسمائة عام، وبين كل سماء إلى سماء مسيرة خمسمائة عام، والماء فوق السماء العليا السابعة، وعرش الرحمن عز وجل فوق الماء، والله عز وجل على العرش، والكرسي موضع قدميه، وهو يعلم ما في السموات والأرضين السبع وما بينهما، وما تحت الثرى، وما في قعر البحار، ومنبت كل شعرة وشجرة، وكل زرع وكل نبات، ومسقط كل ورقة، وعددكل كلمة، وعدد الحصى والرمل والتراب، ومثاقيل الجبال، وأعمال العباد وآثارهم وكلامهم وأنفاسهم، ويعلم كل شيء، وهو على العرش فوق السماء السابعة، ودونه حجب من نور ونار وظلمة وما هو أعلم به.
فإن احتج مبتدع ومخالف بقول الله عز وجل {وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْ حَبْلِ الْوَرِيدِ} وبقوله {وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُمْ}
وبقوله {مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلاثَةٍ إِلَاّ هُوَ رَابِعُهُمْ} إلى قوله {إِلَاّ هُوَ مَعَهُمْ أَيْنَ مَا كَانُوا} ونحو هذا من متشابه القرآن فقل: إنما يعني بذلك العلم، لأن الله تعالى على العرش فوق السماء السابعة العليا ويعلم ذلك كله وهو بائن من خلقه لا يخلو من علمه مكان"1.
--------------------------------------------
আমাদের এই দিন পর্যন্ত এবং হিজায, শাম ও অন্যান্য অঞ্চলের যেসব আলেমকে আমি পেয়েছি, তারা সবাই এর ওপর অটল ছিলেন। সুতরাং যে ব্যক্তি এই মাযহাবসমূহের কোনো কিছুর বিরোধিতা করবে, অথবা সে বিষয়ে কটূক্তি করবে, অথবা এর প্রবক্তাকে দোষারোপ করবে, তবে সে একজন বিদআতি, জামায়াত থেকে বিচ্যুত এবং সুন্নাহর মানহাজ ও সত্যের পথ থেকে বিচ্যুত।"
অতঃপর ইমাম আহমদ আকিদাহ বিষয়ে তাদের বক্তব্যসমূহ উদ্ধৃত করেছেন যতক্ষণ না তিনি বলেছেন: "এবং তিনি সাত আসমান সৃষ্টি করেছেন একটির ওপর আরেকটি, এবং সাত জমিন সৃষ্টি করেছেন একটির নিচে আরেকটি। উপরিভাগের জমিন এবং নিকটতম আসমানের মধ্যবর্তী দূরত্ব পাঁচশ বছরের পথ, এবং এক আসমান থেকে অন্য আসমানের মধ্যবর্তী দূরত্ব পাঁচশ বছরের পথ। পানি সপ্তম আসমানের ওপর অবস্থিত, আর মহিয়ান ও গরীয়ান রহমানের আরশ পানির ওপর। আর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আরশের ওপর উঠেছেন, এবং কুরসি হলো তাঁর দুপায়ের রাখার স্থান। তিনি সাত আসমান ও সাত জমিন এবং এই দুইয়ের মাঝে যা কিছু আছে, মাটির নিচে যা আছে, সমুদ্রের অতল গহ্বরে যা আছে, প্রতিটি চুল ও বৃক্ষের উৎপত্তিস্থল, প্রতিটি শস্য ও উদ্ভিদ, প্রতিটি পাতার ঝরে পড়া, প্রতিটি শব্দের সংখ্যা, কণা, বালু ও মাটির সংখ্যা, পাহাড়সমূহের ওজন, বান্দাদের আমল, তাদের পদাঙ্ক, তাদের কথা ও তাদের নিঃশ্বাস সম্পর্কে জানেন; তিনি সবকিছুর বিষয়ে পরিজ্ঞাত। এবং তিনি সপ্তম আসমানের ওপর আরশের ওপর উঠেছেন, আর তাঁর নিচে নূর, আগুন ও অন্ধকারের পর্দা রয়েছে এবং এমন সব বিষয় রয়েছে যা তিনিই ভালো জানেন।
যদি কোনো বিদআতি ও বিরোধী ব্যক্তি মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে দলিল পেশ করে যে—{আমরা তাঁর ঘাড়ের শাহরগ অপেক্ষাও অধিক নিকটবর্তী} এবং তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে যে—{তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তিনি তোমাদের সাথেই আছেন}—
এবং তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে যে—{তিন ব্যক্তির এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি চতুর্থ জন না হন} থেকে তাঁর এই বাণী—{বরং তারা যেখানেই থাকুক না কেন, তিনি তাদের সাথেই আছেন} পর্যন্ত এবং কুরআনের এ জাতীয় মুতাশাবিহ আয়াতের মাধ্যমে, তবে তুমি বলো: 'নিশ্চয়ই এর দ্বারা ইলম (জ্ঞান) উদ্দেশ্য। কেননা আল্লাহ তাআলা সর্বোচ্চ সপ্তম আসমানের ওপর আরশের ওপর উঠেছেন এবং তিনি এই সবকিছু জানেন। তিনি তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে সম্পূর্ণ পৃথক, কোনো স্থানই তাঁর জ্ঞানের বাইরে নয়।"১.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মারউইয়্যাহ ফি সিফাতিল মাইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
11 - قول عبد الله بن مسلم بن قتيبة1 رحمه الله (276 هـ)
قال الإمام أبو محمد عبد الله بن مسلم بن قتيبة في كتاب "تأويل مختلف الحديث" له: "نحن نقول في قوله {مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلاثَةٍ إِلَاّ هُوَ رَابِعُهُمْ} إنه معهم يعلم ما هم عليه، كما تقول للرجل وجّهته إلى بلد شاسع، احذر التقصير فإني معك، تريد أنه لا يخفى عليَّ تقصيرك، وكيف يسوغ لأحد أن يقول: إنه سبحانه بكل مكان على الحلول فيه مع قوله {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} ومع قوله {إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ} كيف يصعد إليه شيء هو معه، وكيف تعرج الملائكة إليه وهي معه، ولولا أن هؤلاء رجعوا إلى فطرهم، وما ركبت عليه خِلَقُهم من معرفة الخالق لعلموا أن الله هو العلي وهو الأعلى، وأن الأيدي ترتفع بالدعاء إليه، والأمم كلها عجميها وعربيها، تقول: إن الله في السماء. ما تركت على فطرها"2.
12 - قول الإمام الدارمي3 رحمه الله (280 هـ)
قال في كتابه "الرد على الجهمية" باب -استواء الرب تبارك وتعالى على العرش، وارتفاعه إلى السماء وبينونته من الخلق:
--------------------------------------------
১১ - আবদুল্লাহ বিন মুসলিম বিন কুতায়বা (রহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তি (২৭৬ হি.)
ইমাম আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন মুসলিম বিন কুতায়বা তাঁর "তাউয়িলু মুখতালিফিল হাদিস" গ্রন্থে বলেছেন: "আমরা তাঁর এই বাণী সম্পর্কে বলি {তিনজনের এমন কোনো গোপন পরামর্শ নেই যাতে তিনি চতুর্থজন নন}, অর্থাৎ তিনি তাদের সাথে আছেন এ অর্থে যে তিনি তাদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত। যেমন আপনি কোনো ব্যক্তিকে দূরবর্তী কোনো দেশে পাঠানোর সময় বলেন, 'সাবধানতা অবলম্বন করো, কেননা আমি তোমার সাথে আছি', এর মাধ্যমে আপনি বোঝাতে চান যে তোমার কোনো অবহেলাই আমার কাছে গোপন থাকবে না। আর কারো পক্ষে এটা বলা কীভাবে বৈধ হতে পারে যে, তিনি সুবহানাহু প্রতিটি স্থানেই প্রবিষ্ট হয়ে (হুলুল) বিরাজমান, অথচ তাঁর বাণী হলো {দয়াময় আরশের উপর উঠেছেন} এবং তাঁর বাণী {তাঁরই দিকে পবিত্র বাক্যসমূহ আরোহণ করে}? কোনো কিছু কীভাবে তাঁর দিকে আরোহণ করবে যদি তিনি তার সাথেই থাকেন? আর ফেরেশতারা কীভাবে তাঁর দিকে আরোহণ করবে যদি তিনি তাদের সাথেই থাকেন? যদি এরা তাদের স্বভাবজাত প্রকৃতি (ফিতরাত) এবং স্রষ্টাকে চেনার ক্ষেত্রে তাদের সৃষ্টির যে মূল উপাদানের দিকে ফিরে যেত, তবে তারা অবশ্যই জানত যে আল্লাহ সুউচ্চ ও সর্বশ্রেষ্ঠ। আর দোয়ার সময় হাত তাঁর দিকেই উত্তোলন করা হয়। অনারব ও আরব নির্বিশেষে সকল জাতিই বলে যে আল্লাহ আসমানে আছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের স্বভাবজাত প্রকৃতির ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়।"২
১২ - ইমাম দারেমি (রহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তি (২৮০ হি.)
তিনি তাঁর "আর-রাদ আলাল জাহমিয়্যাহ" গ্রন্থে 'আরশের উপর বরকতময় সুউচ্চ রবের উঠা, আসমানের দিকে তাঁর উচ্চতা এবং সৃষ্টিজগত থেকে তাঁর পৃথক হওয়া' নামক অধ্যায়ে বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মারউইয়্যাহ ফি সিফাতিল মাইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
"فاحتج بعضهم فيه بكلمة زندقة استوحش من ذكرها وتستر آخر من زندقة صاحبه فقال: قال تعالى {أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلاثَةٍ إِلَّا هُوَ رَابِعُهُمْ وَلا خَمْسَةٍ إِلَاّ هُوَ سَادِسُهُمْ وَلا أَدْنَى مِنْ ذَلِكَ وَلا أَكْثَرَ إِلَاّ هُوَ مَعَهُمْ أَيْنَ مَا كَانُوا ثُمَّ يُنَبِّئُهُمْ بِمَا عَمِلُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} قلنا: هذه الآية لنا عليكم لا لكم، إنما يعني أنه حاضر كل نجوى، ومع كل أحد من فوق العرش بعلمه، لأن علمه بهم محيط، وبصره فيهم نافذ، لا يحجبه شيء عن علمه وبصره، ولا يتوارون منه بشيء، وهو بكماله فوق العرش بائن من خلقه {يَعْلَمُ السِّرَّ وَأَخْفَى} ، أقرب إلى أحدهم من فوق العرش من حبل الوريد، قادر على أن يكون له ذلك، لأنه لا يبعد عن شيء ولا يخفى عليه خافية في السموات ولا في الأرض، فهو كذلك رابعهم، وخامسهم، وسادسهم، لا أنه معهم بنفسه في الأرض كما ادعيتم، وكذلك فسرته العلماء..".1
13 - قول محمد بن عثمان بن أبي شيبة2 رحمه الله (297 هـ)
وقال محمد بن عثمان بن أبي شيبة، في كتاب "العرش" له: "ذكروا أن الجهمية يقولون: إن ليس بين الله وبين خلقه حجاب، وأنكروا العرش، وأن يكون الله فوقه، وقالوا إنه في كل مكان" وذكر أشياء إلى أن قال: "فسرت العلماء {وَهُوَ مَعَكُمْ} يعني بعلمه، توافرت الأخبار أن الله خلق العرش فاستوى عليه بذاته فهو فوق العرش بذاته، متخلصا من خلقه بائنا منهم"3.
--------------------------------------------
তাদের কেউ কেউ এতে এমন এক ধর্মদ্রোহী (জিন্দিকি) কথা দিয়ে দলিল পেশ করেছে যা উল্লেখ করতে ঘৃণা বোধ হয়, আর অন্য একজন তার সাথীর ধর্মদ্রোহিতাকে আড়াল করার জন্য বলল: মহান আল্লাহ বলেছেন: {আপনি কি লক্ষ্য করেননি যে, আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং যমীনে যা কিছু আছে আল্লাহ তা জানেন? তিন ব্যক্তির এমন কোন গোপন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি চতুর্থ না হন এবং পাঁচ ব্যক্তিরও না যাতে তিনি ষষ্ঠ না হন; এর চেয়ে কম হোক বা বেশি, তারা যেখানেই থাকুক না কেন তিনি তাদের সাথে থাকেন। তারপর কিয়ামতের দিন তিনি তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে জানিয়ে দেবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সব বিষয়ে সর্বজ্ঞ।} আমরা বললাম: এই আয়াতটি আমাদের পক্ষে, তোমাদের বিপক্ষে নয়। এর দ্বারা কেবল এটাই বোঝানো হয়েছে যে, তিনি প্রতিটি গোপন পরামর্শে উপস্থিত এবং প্রত্যেকের সাথে আছেন আরশের উপর থেকে তাঁর ইলমের (জ্ঞানের) মাধ্যমে। কেননা তাঁর ইলম তাদেরকে পরিবেষ্টন করে আছে, এবং তাদের মাঝে তাঁর দৃষ্টি নিবদ্ধ। কোন কিছুই তাঁর ইলম ও দৃষ্টি থেকে আড়াল হতে পারে না, এবং তারা কোনো কিছু দিয়েই তাঁর থেকে লুক্কায়িত হতে পারে না। তিনি তাঁর পূর্ণ সত্তাসহ আরশের উপরে রয়েছেন, তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে পৃথক। {তিনি গোপন ও অতি গোপন বিষয় জানেন}। তিনি আরশের উপর থেকে তাদের প্রত্যেকের শাহরগের চেয়েও নিকটবর্তী। এটি তাঁর জন্য সম্ভব, কারণ তিনি কোনো কিছু থেকে দূরে নন এবং আসমান ও যমীনে কোনো গোপন বিষয়ই তাঁর কাছে গোপন নয়। সুতরাং তিনি সেভাবেই তাদের চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ; এমন নয় যে তিনি সশরীরে তাদের সাথে যমীনে আছেন যেমনটি তোমরা দাবি করেছ। আলেমগণ এভাবেই এর ব্যাখ্যা করেছেন.."।১
১৩ - মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে আবি শায়বাহ ২ রহিমাহুল্লাহ-এর উক্তি (২৯৭ হিজরি)
মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে আবি শায়বাহ তাঁর "আল-আরশ" কিতাবে বলেছেন: "তারা উল্লেখ করেছেন যে, জাহমিয়্যাহরা বলে: আল্লাহ ও তাঁর সৃষ্টির মাঝে কোনো পর্দা নেই, এবং তারা আরশকে অস্বীকার করেছে, আর আল্লাহ যে তার উপরে আছেন তা-ও অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে যে, তিনি প্রতিটি স্থানে আছেন।" তিনি আরও কিছু বিষয় উল্লেখ করে বলেন: "আলেমগণ {তিনি তোমাদের সাথে আছেন} এর ব্যাখ্যায় বলেছেন: অর্থাৎ তাঁর ইলমের মাধ্যমে। সংবাদসমূহ (হাদিসসমূহ) সমভাবে পৌঁছেছে যে, আল্লাহ আরশ সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি তাঁর সত্তাসহ তার উপর উঠেছেন। সুতরাং তিনি তাঁর সত্তাসহ আরশের উপরে, তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে মুক্ত ও পৃথক।"৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মারউইয়্যাহ ফি সিফাতিল মাইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
14 - قول محمد بن جرير الطبري رحمه الله (310 هـ)
قال في تفسير قوله تعالى {يَعْلَمُ مَا يَلِجُ فِي الأَرْضِ وَمَا يَخْرُجُ مِنْهَا وَمَا يَنْزِلُ مِنَ السَّمَاءِ وَمَا يَعْرُجُ فِيهَا وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ} : "يقول: هو شاهد لكم أيها الناس أينما كنتم، يعلمكم ويعلم أعمالكم ومتقلبكم ومثواكم، وهو على عرشه فوق سبع سمواته"1.
وقال في تفسير قوله تعالى {أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ
… } الآية: "وعنى بقوله {هُوَ رَابِعُهُمْ} بمعنى مشاهدهم بعلمه وهو على عرشه"2.
15 - قول أبي الحسن الأشعري3 رحمه الله (324 هـ)
قال في "رسالة إلى أهل الثغر" "
… وأنه يعلم السر وأخفى من السر، ولا يغيب عنه شيء في السموات والأرض حتى كأنه حاضر مع كل شيء، وقد دل الله عز وجل على ذلك في قوله {وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُمْ} وفسَّر ذلك أهل العلم بالتأويل أن علمه محيط بهم حيث كانوا"4.
16 - قول أبي بكر الآجري5 رحمه الله (360 هـ)
--------------------------------------------
১৪ - মুহাম্মাদ ইবনে জারির আত-তাবারী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তি (৩১০ হিজরি)
তিনি মহান আল্লাহর এই বাণীর তাফসিরে {তিনি জানেন যা জমিনে প্রবেশ করে এবং যা তা থেকে নির্গত হয়, আর যা আকাশ থেকে অবতীর্ণ হয় এবং যা তাতে আরোহণ করে। আর তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তিনি তোমাদের সাথে আছেন। আর তোমরা যা করো আল্লাহ তা দেখেন} বলেন: "তিনি বলছেন: হে লোকসকল, তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তিনি তোমাদের প্রত্যক্ষকারী, তিনি তোমাদের সম্পর্কে জানেন এবং তোমাদের আমলসমূহ, তোমাদের বিচরণ ও তোমাদের অবস্থানস্থল সম্পর্কে অবগত। আর তিনি তাঁর আরশের উপরে, তাঁর সাত আসমানের ঊর্ধ্বে।"১।
এবং তিনি মহান আল্লাহর বাণী {তুমি কি দেখনি যে, আসমানসমূহ ও জমিনে যা কিছু আছে আল্লাহ তা জানেন...} আয়াতের তাফসিরে বলেন: "তিনি তাঁর বাণী {তিনি তাদের চতুর্থজন}-এর মাধ্যমে উদ্দেশ্য নিয়েছেন যে, তিনি তাঁর জ্ঞানের মাধ্যমে তাদের প্রত্যক্ষকারী এবং তিনি তাঁর আরশের উপরে।"২।
১৫ - আবুল হাসান আল-আশআরী৩ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তি (৩২৪ হিজরি)
তিনি "রিসালা ইলা আহলিল সাগরা" গ্রন্থে বলেন: "...আর নিশ্চয়ই তিনি গোপন ও অতি গোপন বিষয় সম্পর্কে অবগত, আসমানসমূহ ও জমিনের কোনো কিছুই তাঁর অগোচরে নয়, এমনকি তিনি প্রতিটি বিষয়ের সাথেই উপস্থিত। আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী তাঁর এই বাণীতে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন {তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তিনি তোমাদের সাথে আছেন} এবং ইলমে তাফসিরের পণ্ডিতগণ এর ব্যাখ্যা করেছেন যে, তারা যেখানেই থাকুক না কেন, তাঁর জ্ঞান তাদেরকে পরিবেষ্টন করে আছে।"৪।
১৬ - আবু বকর আল-আজুররী৫ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তি (৩৬০ হিজরি)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মারউইয়্যাহ ফি সিফাতিল মাইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
قال الإمام أبو بكر الآجري الحافظ، في كتاب "الشريعة" له: - باب في التحذير من مذهب الحلولية -:
"الذي يذهب إليه أهل العلم، أن الله عز وجل على عرشه، فوق سمواته، وعلمه محيط بكل شيء، قد أحاط علمه بجميع ما خلق في السموات العلى، وبجميع ما في سبع أراضين، يرفع إليه أعمال العباد.
فإن قال قائل: إيش يكون معنى قوله {مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلاثَةٍ إِلَاّ هُوَ رَابِعُهُمْ} الآية التي احتجوا بها؟. قيل له: علمه، والله عز وجل على عرشه، وعلمه محيط بهم، كذا فسره أهل العلم، والآية يدل أولها وآخرها على أنه العلم، وهو على عرشه، فهذا قول المسلمين"1.
17 - قول ابن بطة العكبري2 رحمه الله (387 هـ)
قال الإمام الزاهد أبو عبد الله بن بطة العكبري، في كتاب "الإبانة": - باب الإيمان بأن الله على عرشه، بائن من خلقه، وعلمه محيط بخلقه - أجمع المسلمون من الصحابة والتابعين، أن الله على عرشه، فوق سمواته، بائن من خلقه3.
--------------------------------------------
ইমাম হাফেজ আবু বকর আল-আজুরি তাঁর 'আশ-শরীয়াহ' গ্রন্থে বলেছেন: - হুলুলিয়া (সর্বেশ্বরবাদী) মতবাদ সম্পর্কে সতর্কীকরণ অধ্যায় -:
"ইলমধারী বা আলেমগণ যে মত পোষণ করেন তা হলো, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর আরশের উপর, তাঁর আসমানসমূহের উপরে, এবং তাঁর জ্ঞান প্রতিটি বস্তুকে পরিবেষ্টন করে আছে। তাঁর জ্ঞান সুউচ্চ আসমানসমূহে যা কিছু তিনি সৃষ্টি করেছেন এবং সাত জমিনে যা কিছু আছে তার সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে। তাঁর কাছে বান্দাদের আমলসমূহ উত্তোলন করা হয়।
যদি কেউ প্রশ্ন করে: তাঁর বাণী {তিন ব্যক্তির এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি তাদের চতুর্থ জন না হন} - এই আয়াতের অর্থ কী হবে যা দিয়ে তারা দলিল পেশ করে? তাকে বলা হবে: (এর অর্থ হলো) তাঁর জ্ঞান। আর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর আরশের উপর রয়েছেন এবং তাঁর জ্ঞান তাদেরকে পরিবেষ্টন করে আছে। আলেমগণ এভাবেই এর ব্যাখ্যা করেছেন। আয়াতের শুরু এবং শেষ নির্দেশ করে যে এটি 'ইলম' বা জ্ঞানকে বোঝাচ্ছে, আর তিনি তাঁর আরশের উপর রয়েছেন। এটাই মুসলিমদের বক্তব্য।"১।
১৭ - ইবনে বাত্তাহ আল-উকবরি২ (রহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তি (৩৮৭ হিজরি)
ইমাম যাহিদ আবু আব্দুল্লাহ ইবনে বাত্তাহ আল-উকবরি তাঁর 'আল-ইবানাহ' গ্রন্থে বলেছেন: - আল্লাহ তাঁর আরশের উপর, তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে পৃথক এবং তাঁর জ্ঞান তাঁর সৃষ্টিকে পরিবেষ্টন করে আছে - এই বিষয়ের প্রতি ঈমান আনা সম্পর্কিত অধ্যায় - সাহাবী এবং তাবেয়ীগণের মধ্য থেকে মুসলিমরা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, আল্লাহ তাঁর আরশের উপর, তাঁর আসমানসমূহের উপরে এবং তাঁর সৃষ্টিজগত থেকে পৃথক৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মারউইয়্যাহ ফি সিফাতিল মাইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فأما قوله {وَهُوَ مَعَكُمْ} ، فهو كما قالت العلماء: علمه.
وأما قوله {وَهُوَ اللَّهُ فِي السَّمَاوَاتِ وَفِي الأَرْضِ} معناه: أنه هو الله في السموات، وهو الله في الأرض، وتصديقه في كتاب الله {وَهُوَ الَّذِي فِي السَّمَاءِ إِلَهٌ وَفِي الأَرْضِ إِلَهٌ} ، واحتج الجهمي بقوله {مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلاثَةٍ إِلَاّ هُوَ رَابِعُهُمْ} ، فقال: إن الله معنا وفينا، وقد فسر العلماء أن ذلك علمه، ثم قال في آخرها {إِنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} "1
18 - قول الثعلبي2 رحمه الله (427 هـ)
قال في قوله {مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلاثَةٍ إِلَاّ هُوَ رَابِعُهُمْ} 3: "في العلم"4
19 - قول الإمام أبي عمر الطلمنكي5 رحمه الله (429 هـ)
قال في كتابه "الوصول إلى علم الأصول": "وأجمع المسلمون من أهل السنة على أن معنى {وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُمْ} ونحو ذلك من القرآن أن ذلك علمه، وأن الله فوق السموات بذاته مستو على عرشه كيف شاء"6
--------------------------------------------
আর তাঁর বাণী {এবং তিনি তোমাদের সাথে আছেন}, তা আলেমগণ যেভাবে বলেছেন: তা হলো তাঁর জ্ঞান।
আর তাঁর বাণী {এবং তিনিই আল্লাহ আসমানসমূহে ও পৃথিবীতে}-এর অর্থ হলো: তিনিই আসমানসমূহে আল্লাহ এবং তিনিই পৃথিবীতে আল্লাহ। আল্লাহর কিতাবে এর সত্যায়ন হলো: {এবং তিনিই যিনি আসমানে মাবুদ এবং পৃথিবীতে মাবুদ}। আর জাহমি এই আয়াত দিয়ে দলিল দিয়েছে {তিনজনের কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি চতুর্থ জন না হন}, সে বলেছে: নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সাথে এবং আমাদের মাঝে রয়েছেন। অথচ আলেমগণ এর ব্যাখ্যা করেছেন যে এটি তাঁর জ্ঞান। এরপর তিনি এর শেষে বলেছেন {নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ}। ১
১৮ - সা'লাবী ২ (রহ.)-এর উক্তি (মৃ. ৪২৭ হি.)
তিনি {তিনজনের কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি চতুর্থ জন না হন} ৩ আয়াতের ব্যাপারে বলেছেন: "জ্ঞানের ক্ষেত্রে" ৪
১৯ - ইমাম আবু উমর আত-তালামনকি ৫ (রহ.)-এর উক্তি (মৃ. ৪২৯ হি.)
তিনি তাঁর কিতাব "আল-উসুল ইলা ইলমিল উসুল"-এ বলেছেন: "আহলুস সুন্নাহর মুসলিমগণ একমত হয়েছেন যে, {এবং তিনি তোমাদের সাথেই আছেন তোমরা যেখানেই থাকো না কেন} এবং কুরআনের এ জাতীয় আয়াতের অর্থ হলো তাঁর জ্ঞান। আর আল্লাহ তাঁর সত্তাসহ আসমানসমূহের উপরে, যেভাবে ইচ্ছা তিনি তাঁর আরশের উপর উঠেছেন।" ৬
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মারউইয়্যাহ ফি সিফাতিল মাইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
20 - قول أبي زكريا يحي بن عمار1 رحمه الله (442 هـ)
قال الإمام أبو زكريا يحي بن عمار السجستاني، في رسالته:
"لا نقول كما قال الجهمية، إنه مداخل للأمكنة، وممازج لكل شيء ولا نعلم أين هو؛ بل هو بذاته على العرش، وعلمه محيط بكل شيء، وعلمه، وسمعه، وبصره، وقدرته، مدركة لكل شيء، وهو معنى قوله
{وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُمْ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ} ، وهو بذاته على عرشه كما قال سبحانه وكما قال نبيه صلى الله عليه وسلم"2.
21 - قول البيهقي رحمه الله (458 هـ)
قال الإمام أبو بكر بن الحسين البيهقي في كتاب "الاعتقاد":
"وفي كثير من الآيات دلالة على إبطال قول من زعم من الجهمية أن الله بذاته في كل مكان. وقوله {وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُمْ} إنما أراد به بعلمه لا بذاته"3
22 - قول الإمام ابن عبد البر رحمه الله (463 هـ)
قال: "وأما احتجاجهم بقوله عز وجل {مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلاثَةٍ} الآية، فلا حجة لهم في ظاهر هذه الآية، لأن علماء الصحابة والتابعين الذين
--------------------------------------------
২০ - আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন আম্মার (রাহিমাহুল্লাহ) এর উক্তি (৪৪২ হিজরি)
ইমাম আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন আম্মার আস-সিজিস্তানি তাঁর রিসালায় (পত্রে) বলেছেন:
"আমরা জহমিয়াদের মতো বলি না যে, তিনি স্থানসমূহের ভেতরে প্রবেশকারী এবং প্রতিটি বিষয়ের সাথে সংমিশ্রিত, আর আমরা জানি না তিনি কোথায়; বরং তিনি তাঁর সত্তাসহ আরশের উপরে রয়েছেন, আর তাঁর জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে আছে। তাঁর জ্ঞান, শ্রবণ, দৃষ্টি এবং ক্ষমতা সবকিছুকে পরিধিস্থ করে আছে। আর এটাই মহান আল্লাহর এই বাণীর অর্থ—
{এবং তিনি তোমাদের সাথেই আছেন তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, আর তোমরা যা করো আল্লাহ তা দেখেন}। তিনি তাঁর সত্তাসহ তাঁর আরশের উপরে রয়েছেন যেমনটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেছেন এবং যেমনটি তাঁর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন।"২
২১ - আল-বায়হাকী (রাহিমাহুল্লাহ) এর উক্তি (৪৫৮ হিজরি)
ইমাম আবু বকর বিন আল-হুসাইন আল-বায়হাকী 'আল-ইতিকাদ' গ্রন্থে বলেছেন:
"অনেক আয়াতেই জহমিয়াদের মধ্যে যারা দাবি করে যে আল্লাহ তাঁর সত্তাসহ প্রতিটি স্থানে রয়েছেন, তাদের উক্তি বাতিল হওয়ার প্রমাণ রয়েছে। আর তাঁর বাণী {এবং তিনি তোমাদের সাথেই আছেন তোমরা যেখানেই থাকো না কেন}-এর মাধ্যমে তিনি কেবল তাঁর জ্ঞানের কথা উদ্দেশ্য করেছেন, তাঁর সত্তার কথা নয়।"৩
২২ - ইমাম ইবনে আব্দুল বার (রাহিমাহুল্লাহ) এর উক্তি (৪৬৩ হিজরি)
তিনি বলেছেন: "আর তাদের মহান আল্লাহর বাণী {তিনজনের কোনো গোপন পরামর্শ হয় না...} আয়াতের মাধ্যমে দলিল পেশ করার বিষয়ে কথা হলো, এই আয়াতের বাহ্যিক পাঠে তাদের জন্য কোনো দলিল নেই। কারণ সাহাবী এবং তাবিঈদের মধ্য থেকে আলেমগণ যারা..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মারউইয়্যাহ ফি সিফাতিল মাইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
حملت عنهم التأويل في القرآن قالوا في تأويل هذه الآية: هو على العرش، وعلمه في كل مكان، وما خالفهم في ذلك أحد يحتج بقوله"1.
23 - قول البغوي رحمه الله (510 هـ)
قال في قوله {مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلاثَةٍ إِلَاّ هُوَ رَابِعُهُمْ} "في العلم"2.
24 - قول قوّام السنة أبي القاسم الأصبهاني3 رحمه الله (535 هـ)
قال: "فإن قيل: قد تأولتم قوله عز وجل {وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُمْ} وحملتموه على العلم. قلنا: ما تأولنا ذلك، وإنما الآية دلت على أن المراد بذلك العلم، لأنه قال في آخرها {نَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ} "4
25 - قول أبي محمد اليمني5 رحمه الله (من علماء القرن السادس الهجري)
قال رحمه الله: "وربما نقول ثاني اثنين وثالث ثلاثة ورابع أربعة وأكثر من ذلك، بمعنى العلم والحفظ لا بمعنى الشريك لأنه يقول وقوله الحق {أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلاثَةٍ إِلَاّ هُوَ رَابِعُهُمْ وَلا خَمْسَةٍ إِلَاّ هُوَ سَادِسُهُمْ وَلا أَدْنَى مِنْ ذَلِكَ وَلا أَكْثَرَ إِلَاّ هُوَ مَعَهُمْ أَيْنَ مَا كَانُوا} أي عليم بهم وحفيظ لهم
--------------------------------------------
আমি তাদের থেকে কুরআনের ব্যাখ্যা বর্ণনা করেছি, তারা এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন: তিনি আরশের উপরে, আর তাঁর জ্ঞান সব স্থানে। তাদের এই কথার সাথে এমন কেউ দ্বিমত করেননি যার কথা প্রমাণ হিসেবে পেশ করা যায়।১
২৩ - ইমাম বাগাভী রহমাতুল্লাহি আলাইহির উক্তি (৫১০ হিজরী)
তিনি মহান আল্লাহর এই বাণী {তিন ব্যক্তির এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি তাদের চতুর্থজন থাকেন না}-এর ব্যাপারে বলেছেন: "অর্থাৎ জ্ঞানে (ইলমে)"।২
২৪ - কাওয়ামুস সুন্নাহ আবুল কাসিম আল-আসবাহানী৩ রহমাতুল্লাহি আলাইহির উক্তি (৫৩৫ হিজরী)
তিনি বলেন: "যদি বলা হয়: আপনারা মহান আল্লাহর বাণী {এবং তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তিনি তোমাদের সাথে আছেন}-এর ব্যাখ্যা করেছেন এবং একে জ্ঞানের (ইলম) অর্থে গ্রহণ করেছেন। আমরা বলব: আমরা এর নিজস্ব কোনো ব্যাখ্যা করিনি, বরং এই আয়াতটিই প্রমাণ করে যে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জ্ঞান, কারণ তিনি এর শেষাংশে বলেছেন {নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত}।"৪
২৫ - আবু মুহাম্মদ আল-ইয়ামানী৫ রহমাতুল্লাহি আলাইহির উক্তি (ষষ্ঠ হিজরী শতাব্দীর আলেমদের অন্তর্ভুক্ত)
তিনি রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: "কখনো কখনো আমরা বলি দুইজনের দ্বিতীয়জন, তিনজনের তৃতীয়জন, চারজনের চতুর্থজন বা এর চেয়েও বেশি; যা জ্ঞান ও সংরক্ষণের অর্থে, অংশীদারিত্বের অর্থে নয়। কারণ তিনি বলেন এবং তাঁর কথা সত্য {তুমি কি দেখনি যে, আসমানসমূহে যা আছে এবং যমীনে যা আছে আল্লাহ তা জানেন? তিন ব্যক্তির এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যাতে তিনি চতুর্থজন না থাকেন এবং পাঁচ ব্যক্তিরও হয় না যাতে তিনি ষষ্ঠজন না থাকেন। তারা এর চেয়ে কম হোক বা বেশি, তারা যেখানেই থাকুক না কেন তিনি তাদের সাথে থাকেন}। অর্থাৎ তিনি তাদের সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত এবং তাদের সংরক্ষণকারী।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মারউইয়্যাহ ফি সিফাতিল মাইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
أينما كانوا، لا بمعنى التشريك"1
26 - قول ابن كثير رحمه الله (774 هـ)
قال في تفسير قوله تعالى {مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلاثَةٍ
… } الآية:
"أي مطلع عليهم يسمع كلامهم وسرهم ونجواهم، ورسله أيضاً مع ذلك تكتب ما يتناجون به مع علم الله به وسمعه له كما قال تعالى {أَلَمْ يَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ سِرَّهُمْ وَنَجْوَاهُمْ وَأَنَّ اللَّهَ عَلَاّمُ الْغُيُوبِ} . ولهذا حكى غير واحد الإجماع على أن مراد بهذه الآية معية علمه تعالى ولا شك في إرادة ذلك"2.
27 - قول الشوكاني رحمه الله (1250هـ)
قال في تفسير قوله تعالى {وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُمْ} : "أي بقدرته وسلطانه وعلمه" 3.
وقال في تفسير قوله تعالى {مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلاثَةٍ} الآية: "مستأنفة لتقرير سمو علمه وإحاطته بكل المعلومات
… ومعنى {أَيْنَ مَا كُنْتُمْ} إحاطة علمه بكل تناج يكون منهم في أي مكان من الأمكنة"4.
قال الشوكاني رحمه الله في شرح حديث "أنا عند ظن عبدي بي، وأنا معه إذا ذكرني"5.
قال: "فيه تصريح بأن الله تعالى مع عباده عند ذكرهم له، ومن مقتضى
--------------------------------------------
যেখানেই তারা থাকুক না কেন, তা অংশীদারিত্বের অর্থে নয়।১
২৬ - ইবন কাসীর (রহিমাহুল্লাহ) (৭৭৪ হি.)-এর উক্তি
তিনি মহান আল্লাহর বাণী {তিনজনের কোনো গোপন পরামর্শ বা কানাঘুষা হয় না...} আয়াতের তাফসীরে বলেন:
"অর্থাৎ তিনি তাদের বিষয়ে অবগত, তিনি তাদের কথা, তাদের গোপন বিষয় এবং তাদের কানাঘুষা শোনেন। এর পাশাপাশি তাঁর ফেরেশতারাও তাদের সেই গোপন আলাপ লিখে নেয়, আল্লাহর নিকট তা জ্ঞাত থাকা এবং তাঁর তা শ্রবণ করা সত্ত্বেও। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: {তারা কি জানে না যে, আল্লাহ তাদের গোপন বিষয় ও কানাঘুষা জানেন এবং আল্লাহ সকল অদৃশ্যের পরিজ্ঞাত?}। এই কারণেই একাধিক আলেম এই মর্মে ঐকমত্য (ইজমা) বর্ণনা করেছেন যে, এই আয়াত দ্বারা মহান আল্লাহর জ্ঞানগতভাবে সাথে থাকা (মা'ইয়াতুল ইলম) উদ্দেশ্য; আর এই অর্থটি উদ্দেশ্য হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই।"২।
২৭ - শাওকানী (রহিমাহুল্লাহ) (১২৫০ হি.)-এর উক্তি
তিনি মহান আল্লাহর বাণী {তোমরা যেখানেই থাক না কেন, তিনি তোমাদের সাথে আছেন} এর তাফসীরে বলেন: "অর্থাৎ তাঁর ক্ষমতা, আধিপত্য এবং তাঁর জ্ঞানের মাধ্যমে" ৩।
এবং তিনি মহান আল্লাহর বাণী {তিনজনের কোনো গোপন পরামর্শ হয় না...} আয়াতের তাফসীরে বলেন: "এটি আল্লাহর জ্ঞানের শ্রেষ্ঠত্ব এবং সমস্ত জ্ঞাত বিষয়কে পরিবেষ্টন করে থাকার বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য নতুন বাক্য হিসেবে এসেছে... আর {তোমরা যেখানেই থাক না কেন} এর অর্থ হলো যে কোনো স্থানে তাদের মধ্যে সংঘটিত হওয়া প্রতিটি কানাঘুষাকেই তাঁর জ্ঞান পরিবেষ্টন করে রাখে"৪।
শাওকানী (রহিমাহুল্লাহ) এই হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন: "আমি আমার বান্দার ধারণার নিকটবর্তী, আর সে যখন আমাকে স্মরণ করে তখন আমি তার সাথেই থাকি"৫।
তিনি বলেন: "এতে সুস্পষ্ট বক্তব্য রয়েছে যে, মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সাথে থাকেন যখন তারা তাঁকে স্মরণ করে, আর এর দাবি হলো..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মারউইয়্যাহ ফি সিফাতিল মাইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
ذلك أن ينظر إليه برحمته، ويمده بتوفيقه وتسديده، فإن قلت: هو مع جميع عباده كما قال سبحانه وتعالى {وَهُوَ مَعَكُمْ أَيْنَ مَا كُنْتُمْ} ، وقوله جلّ ذكره {مَا يَكُونُ مِنْ نَجْوَى ثَلاثَةٍ إِلَاّ هُوَ رَابِعُهُمْ} الآية.
قلت: هذه معية عامة، وتلك معية خاصة حاصلة للذاكر على الخصوص بعد دخوله مع أهل المعية العامة، وذلك يقتضي مزيد العناية ووفور الاكرام له والتفضل عليه، ومن هذه المعية الخاصة ما ورد في كتابه العزيز من كونه مع الصابرين، وكونه مع الذين اتقوا، وما ورد هذا المورد في الكتاب العزيز أو السنة، فلا منافاة بين إثبات المعية الخاصة وإثبات المعية العامة"1
--------------------------------------------
এর অর্থ হলো তিনি তাঁর প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে তাকান এবং তাকে তাঁর তাওফিক ও সঠিক পথনির্দেশনা দিয়ে সাহায্য করেন। যদি আপনি বলেন: তিনি তো তাঁর সকল বান্দার সাথেই আছেন যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: "তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তিনি তোমাদের সাথেই আছেন", এবং তাঁর মহান বাণী: "তিন ব্যক্তির এমন কোনো গোপন পরামর্শ হয় না যেখানে তিনি চতুর্থজন হিসেবে উপস্থিত না থাকেন" (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)।
আমি বলব: এটি হলো সাধারণ সান্নিধ্য, আর ওটি হলো বিশেষ সান্নিধ্য যা বিশেষভাবে জিকিরকারীর জন্য অর্জিত হয়, সাধারণ সান্নিধ্যের অধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর। আর এটি তার প্রতি অতিরিক্ত যত্ন, প্রচুর সম্মান ও অনুগ্রহের দাবি রাখে। এই বিশেষ সান্নিধ্যের অন্তর্ভুক্ত হলো যা তাঁর মহাগ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন এবং তিনি তাদের সাথে আছেন যারা তাকওয়া অবলম্বন করে। আর কুরআন বা সুন্নাহতে এ প্রসঙ্গে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তাতে বিশেষ সান্নিধ্য সাব্যস্ত করা এবং সাধারণ সান্নিধ্য সাব্যস্ত করার মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মারউইয়্যাহ ফি সিফাতিল মাইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
المطلب الثالث: الآثار والأقوال عن العلماء في الجمع بين صفتي العلو والمعية…المطلب الثالث: الآثار والأقوال المروية عن أئمة السلف في الجمع بين صفتي العلو والمعية
مما يؤكد تفسير السلف لآيات المعية العامة بأنها معية العلم والاطلاع ما ورد عنهم من أقوال جمعوا فيها بين إثبات معية العلم وإثبات صفة العلو لله عز وجل فبينوا بذلك عدم التعارض بين نصوص المعية والنصوص التي جاء فيها إثبات علو الله سبحانه على خلقه.
ودعوى التعارض بين نصوص المعية ونصوص العلو، من الشبه التي تمسَّك بها المبتدعة أيضاً في هذا الباب، فبإيراد هذه الآثار عن سلف الأمة من الصحابة ومن بعدهم ـ والذين أمرنا بالتزام فهمهم ـ تزول أي دعوى للتعارض بين نصوص القرآن والسنة. فيما جاء فيهما من إثبات العلو الله عز وجل على خلقه وما جاء فيهما من إثبات معية الله لخلقه بعلمه.
وبالإضافة إلى ذلك فإن هذه النقول تبطل وبشكل صريح دعوى القائلين بالمعية الذاتية، فدعواهم لا مستند لها من الكتاب أو السنة أو قول أحد من سلف الأمة وأئمتها
وإليك الآثار الواردة في ذلك مرتبة ترتيباً زمانياً
1 - قول عبد الله بن مسعود رضي الله عنه
وعن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: "ما بين السماء القصوى والكرسي خمسمائة عام، ويبن الكرسي والماء كذلك، والعرش فوق الماء والله فوق العرش، ولا يخفى عليه شيء من أعمالكم"1
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সুউচ্চতা ও সান্নিধ্য—এই উভয় গুণের সমন্বয়ে আলেমদের বর্ণনা ও উক্তিসমূহ...তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সুউচ্চতা ও সান্নিধ্য—এই উভয় গুণের সমন্বয়ে সালাফে সালেহীনের ইমামদের থেকে বর্ণিত বর্ণনা ও উক্তিসমূহ
সাধারণ সান্নিধ্যের (মা'ইয়্যাত) আয়াতগুলোর ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীনের ব্যাখ্যা যে এটি জ্ঞান ও অবগতির সান্নিধ্য—তা আরও সুদৃঢ় হয় তাঁদের থেকে বর্ণিত সেই সব উক্তির মাধ্যমে যেখানে তাঁরা জ্ঞানগত সান্নিধ্য প্রমাণের পাশাপাশি মহান আল্লাহর সুউচ্চতার (উলু) গুণটিকেও একত্রে প্রমাণ করেছেন। এর মাধ্যমে তাঁরা সান্নিধ্য বিষয়ক দলিলসমূহ এবং সৃষ্টির উপরে আল্লাহর সুউচ্চতা সাব্যস্ত করার দলিলসমূহের মধ্যে কোনো বিরোধ না থাকার বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন।
সান্নিধ্য ও সুউচ্চতার দলিলগুলোর মধ্যে বিরোধের দাবিটি বিদআতিদের অন্যতম একটি সংশয় যা তারা এই ক্ষেত্রে আঁকড়ে ধরে থাকে। সুতরাং এই উম্মতের সালাফ—সাহাবায়ে কেরাম ও তাঁদের পরবর্তীগণের বর্ণনাগুলো উল্লেখ করার মাধ্যমে (যাঁদের বুঝকে অনুসরণ করতে আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে) কুরআন ও সুন্নাহর দলিলগুলোর মাঝে বিরোধের যেকোনো দাবি দূরীভূত হয়ে যায়। চাই তা সৃষ্টির উপরে মহান আল্লাহর সুউচ্চতা সাব্যস্ত করার বিষয়ে হোক, অথবা তাঁর জ্ঞানের মাধ্যমে সৃষ্টির সাথে তাঁর সান্নিধ্য সাব্যস্ত করার বিষয়ে হোক।
তদুপরি, এই উদ্ধৃতিগুলো স্পষ্টভাবে তাদের দাবিকে বাতিল করে দেয় যারা আল্লাহর সত্তাগত সান্নিধ্যের (মা'ইয়্যাতে জাতিয়া) কথা বলে। কারণ তাদের দাবির সপক্ষে কিতাব, সুন্নাহ কিংবা এই উম্মতের সালাফ ও ইমামদের কোনো উক্তি থেকে কোনো প্রমাণ নেই।
আপনার সামনে কালানুক্রমিকভাবে এই বিষয়ক বর্ণনাগুলো তুলে ধরা হলো:
১ - আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর উক্তি
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "সর্বোচ্চ আসমান ও কুরসির মধ্যবর্তী দূরত্ব পাঁচশ বছরের পথ, কুরসি ও পানির মধ্যবর্তী দূরত্বও অনুরূপ। আর আরশ পানির উপরে এবং আল্লাহ আরশের উপরে; তোমাদের কোনো আমলই তাঁর কাছে গোপন থাকে না।"১
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মারউইয়্যাহ ফি সিফাতিল মাইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
2 - قول كعب الأحبار رحمه الله1
قال: "قال الله في التوراة: أنا الله فوق عبادي، وعرشي فوق خلقي، وأنا على عرشي، أدبر أمر عبادي، ولا يخفى علي شيء في السماء، ولا في الأرض"2.
--------------------------------------------
২ - কা'ব আল-আহবার (রহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তি ১
তিনি বলেন: "আল্লাহ তাআলা তাওরাতে বলেছেন: আমিই আল্লাহ, আমার বান্দাদের উপরে; আর আমার আরশ আমার সৃষ্টির উপরে, এবং আমি আমার আরশের উপরে; আমি আমার বান্দাদের বিষয়াদি পরিচালনা করি, আর আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই আমার কাছে গোপন থাকে না" ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আল-আসারুল মারউইয়্যাহ ফি সিফাতিল মাইয়াহ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
3 - قول عبد الله بن المبارك رحمه الله (181 هـ)
ثبت عن علي بن الحسن بن شقيق، شيخ البخاري، قال: قلت لعبد الله ابن المبارك كيف نعرف ربنا؟ قال: "في السماء السابعة على عرشه".
وفي لفظ "على السماء السابعة على عرشه، ولا نقول كما تقول الجهمية إنه هاهنا في الأرض".
وقال أيضاً: سألت ابن المبارك: كيف ينبغي لنا أن نعرف ربنا؟. قال: "على السماء السابعة، على عرشه، ولا نقول كما تقول الجهمية إنه هاهنا في الأرض"1.
--------------------------------------------
৩ - আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহি.)-এর উক্তি (১৮১ হিজরি)
ইমাম বুখারীর শিক্ষক আলী ইবনুল হাসান ইবনে শাকীক থেকে প্রমাণিত, তিনি বলেন: আমি আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারককে বললাম, আমরা আমাদের রবকে কীভাবে চিনব? তিনি বললেন: "সপ্তম আসমানের উপরে, তাঁর আরশের উপরে।"
অন্য বর্ণনায় রয়েছে: "সপ্তম আসমানের উপরে, তাঁর আরশের উপরে; আর আমরা জাহমিয়্যাহদের মতো বলি না যে, তিনি এখানে জমিনে আছেন।"
তিনি আরও বলেন: আমি ইবনুল মুবারককে জিজ্ঞেস করলাম, আমাদের জন্য আমাদের রবকে কীভাবে চেনা উচিত? তিনি বললেন: "সপ্তম আসমানের উপরে, তাঁর আরশের উপরে; আর আমরা জাহমিয়্যাহদের মতো বলি না যে, তিনি এখানে জমিনে আছেন।"১
--------------------------------------------