(খণ্ড: ১) ইফতিরাআতুল মুনাসসিরিন আলাল কুরআনিল কারীম আন্নাহু ইউআইয়িদু জাসমা উলুহিয়াতিল মাসীহ আলাইহিস সালাম (পৃষ্ঠা: -)
افتراءات المنصرين على القرآن الكريم أنه يؤيد زعم ألوهية المسيح عليه السلام   (علي بن عتيق الحربي)

القسم: كتب عامة


الكتاب: افتراءات المنصرين على القرآن الكريم أنه يؤيد زعم ألوهية المسيح عليه السلام

المؤلف: الدكتور علي بن عتيق الحربي

الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف بالمدينة المنورة

عدد الصفحات: 92

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

পবিত্র কুরআনের বিরুদ্ধে মিশনারিদের অপবাদ যে এটি মসীহ আলাইহিস সালামের উলুহিয়্যাতের দাবিকে সমর্থন করে   (আলী বিন আতিক আল-হারবী)

বিভাগ: সাধারণ বইসমূহ


বই: পবিত্র কুরআনের বিরুদ্ধে মিশনারিদের অপবাদ যে এটি মসীহ আলাইহিস সালামের উলুহিয়্যাতের দাবিকে সমর্থন করে

লেখক: ডক্টর আলী বিন আতিক আল-হারবী

প্রকাশক: মদীনা মুনাওয়ারায় অবস্থিত পবিত্র মুসহাফ মুদ্রণের জন্য বাদশাহ ফাহদ কমপ্লেক্স

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৯২

[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইফতিরাআতুল মুনাসসিরিন আলাল কুরআনিল কারীম আন্নাহু ইউআইয়িদু জাসমা উলুহিয়াতিল মাসীহ আলাইহিস সালাম (পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم

ال‌‌مقدمة:

الحمد لله الواحد الأحد، الذي لم يلد ولم يولد، ولم يكن له كفواً أحد، المنزه عن الصاحبة والولد، القائل {هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ فَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاءَ تَأْوِيلِهِ وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَّا اللَّهُ وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ آمَنَّا بِهِ كُلٌّ مِنْ عِنْدِ رَبِّنَا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ} (آل عمران: 7) . وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأن محمد عبد الله ورسوله صلى الله عليه وسلم وأن عيسى عبد الله ورسوله وكلمته ألقاها إلى مريم وروح منه، أما بعد:

فعنوان هذا البحث هو:

افتراءات المنصرين على القرآن أنه يؤيد زعم ألوهية المسيح –عليه السلام "دراسة نقدية".

وقد كتب هذا البحث استجابة للدعوة التي تلقاها الباحث من قبل: الأمين العام لمجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف: رئيس اللجنة التحضيرية لندوة "عناية المملكة العربية السعودية بالقرآن الكريم وعلومه" فضيلة أ. د. محمد سالم بن شديد العوفي - حفظه الله -.

وإن مما دفع الباحث لاختيار هذا الموضوع:

1- المشاركة في الدفاع عن كتاب الله بخاصة والإسلام بعامة.
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

ভূমিকা (المقدمة):

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি এক ও অদ্বিতীয়, যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং যাকে জন্ম দেওয়া হয়নি, আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। তিনি স্ত্রী ও সন্তান গ্রহণ থেকে পবিত্র। তিনি বলেন, {তিনিই আপনার প্রতি এই কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, যার কিছু আয়াত সুস্পষ্ট ও সুদৃঢ় (محكمات), সেগুলোই কিতাবের মূল ভিত্তি; আর অন্যগুলো রূপক (متشابهات)। সুতরাং যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা ফিতনা সৃষ্টি ও ভুল ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে রূপক আয়াতগুলোর অনুসরণ করে। অথচ আল্লাহ ছাড়া কেউ এগুলোর প্রকৃত ব্যাখ্যা জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলে: আমরা এর ওপর ঈমান এনেছি, সবই আমাদের রবের পক্ষ থেকে। আর কেবল বুদ্ধিমানরাই শিক্ষা গ্রহণ করে।} (আলে ইমরান: ৭)। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আর মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। ঈসাও আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল এবং তাঁর সেই বাণী যা তিনি মারইয়ামের প্রতি নিক্ষেপ করেছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে প্রেরিত এক রূহ। অতঃপর:

এই গবেষণার শিরোনাম হলো:

কুরআনের ওপর মিশনারিদের অপবাদ যে তা মসীহের—তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক—ঈশ্বরত্বের দাবিকে সমর্থন করে: একটি "সমালোচনামূলক অধ্যয়ন (دراسة نقدية)"।

কিং ফাহদ পবিত্র কুরআন মুদ্রণ কমপ্লেক্সের মহাসচিব এবং 'সৌদি আরব রাজ্যের পবিত্র কুরআন ও এর সংশ্লিষ্ট জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রতি বিশেষ যত্ন' শীর্ষক সেমিনারের প্রস্তুতি কমিটির প্রধান, সম্মানিত প্রফেসর ডক্টর মুহাম্মদ সালেম বিন শাদিদ আল-আউফি—আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন—এর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত আমন্ত্রণের প্রেক্ষিতে এই গবেষণাটি রচিত হয়েছে।

গবেষককে এই বিষয়টি নির্বাচনে যা উদ্বুদ্ধ করেছে তা হলো:

১- বিশেষভাবে আল্লাহর কিতাব এবং সাধারণভাবে ইসলামের প্রতিরক্ষায় অংশগ্রহণ করা।
(খণ্ড: ১) ইফতিরাআতুল মুনাসসিরিন আলাল কুরআনিল কারীম আন্নাহু ইউআইয়িদু জাসমা উলুহিয়াতিল মাসীহ আলাইহিস সালাম (পৃষ্ঠা: ২)
2- ما يعتقده الباحث من خطورة مناهج المنصرين في محاربة الإسلام والمسلمين ولا سيما من خلال التهجم على كتاب الله العظيم: القرآن الكريم.

3- محاولة تنصير المسلمين وبلبلة اعتقاداتهم من خلال مسلماتهم وذلك بمحاولة إنزال معتقدات النصارى على بعض ما قد يكون متشابهاً من آي القرآن تلبيسا على المسلمين ومحاولة لإضلالهم كما ضلوا السبيل.

وعلى الرغم من أن الباحث اطلع على بعض الكتابات المتناثرة حول هذا الموضوع والتي تطرقه من جانب أو آخر إلا أنها تمس جوانب معينة من الموضوع لكنه لم يعثر على دراسة متكاملة لهذا الموضوع - رغم أهميته - تدرسه تفصيلاً وترد على ادعاءات المنصرين فيه على نحو مفصل.

كما أن المنهج المتبع في دراسة هذا الموضوع فيه محاولة للرد على المنصرين من جهتين: إسلامية (من خلال القرآن وما يرتبط بذلك) ، ونصرانية (من خلال التوراة والأناجيل) لرد دعوى النصارى على القرآن وفق منهج يبين كذبهم على كتاب الله ويلزمهم في الوقت نفسه من خلال مسلماتهم بما يدل عليه القرآن المهيمن على ما قبله من الكتاب.

كما أن من منهج الباحث في اقتباس نصوص كتب العهدين أخذها من النسخة العربية الحديثة المعتمدة "للكتاب المقدس": طبعة العيد المئوي (1883-1983م) ، طبعة دار الكتاب المقدس بمصر.

كما اصطلح الباحث على ما يأتي:-
2- ইসলাম ও মুসলিমদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মিশনারিদের (খ্রিস্টধর্ম প্রচারকদের) কর্মপদ্ধতির ভয়াবহতা সম্পর্কে গবেষকের বিশ্বাস, বিশেষ করে আল্লাহর মহান কিতাব আল-কুরআনুল কারীমের ওপর আক্রমণের মাধ্যমে।

3- মুসলিমদের স্বতঃসিদ্ধ বিশ্বাসের মাধ্যমে তাদের খ্রিস্টান বানানোর চেষ্টা এবং তাদের আকিদায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা; আর এটি হলো খ্রিস্টানদের বিশ্বাসসমূহকে কুরআনের এমন কিছু আয়াতের ওপর প্রয়োগ করার মাধ্যমে যা রূপক (متشابه) হতে পারে, যেন মুসলিমদের ধোঁকায় ফেলা যায় এবং তাদেরকে পথভ্রষ্ট করার চেষ্টা করা যায় যেভাবে তারা নিজেরাও পথভ্রষ্ট হয়েছে।

যদিও গবেষক এই বিষয়ে বিভিন্ন বিক্ষিপ্ত লেখা পাঠ করেছেন যা বিষয়টিকে কোনো না কোনো দিক থেকে স্পর্শ করেছে, তবে সেগুলো বিষয়ের নির্দিষ্ট কিছু দিক নিয়ে আলোচনা করে। কিন্তু তিনি এই বিষয়ের গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও এমন কোনো পূর্ণাঙ্গ গবেষণা খুঁজে পাননি, যা বিষয়টিকে বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করে এবং এতে মিশনারিদের দাবিগুলোর সবিস্তার জবাব প্রদান করে।

এছাড়া এই বিষয়টি অধ্যয়নে অনুসৃত পদ্ধতিতে দুই দিক থেকে মিশনারিদের জবাব দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে: ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গি (কুরআন এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদির মাধ্যমে) এবং খ্রিস্টীয় দৃষ্টিভঙ্গি (তাওরাত ও ইঞ্জিলের মাধ্যমে); যেন একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতির আলোকে কুরআনের বিরুদ্ধে খ্রিস্টানদের দাবিসমূহ খণ্ডন করা যায় যা আল্লাহর কিতাবের প্রতি তাদের মিথ্যাচারকে স্পষ্ট করে এবং একই সাথে তাদের নিজস্ব স্বীকৃত বিষয়াবলির মাধ্যমে তাদেরকে সেটি মেনে নিতে বাধ্য করে যা পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের ওপর রক্ষক ও নিয়ন্ত্রণকারী (مهيمن) হিসেবে আল-কুরআন নির্দেশ করে।

বাইবেলের উভয় অংশের (পুরাতন ও নতুন নিয়ম) উদ্ধৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে গবেষকের অনুসৃত পদ্ধতি হলো "পবিত্র বাইবেল"-এর আধুনিক নির্ভরযোগ্য আরবি সংস্করণ থেকে তা গ্রহণ করা: শতবর্ষী সংস্করণ (১৮৮৩-১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ), দারুল কিতাবিল মুকাদ্দাস, মিসর থেকে প্রকাশিত।

গবেষক নিম্নোক্ত পরিভাষাগুলো ব্যবহারের ব্যাপারে একমত হয়েছেন:-
(খণ্ড: ১) ইফতিরাআতুল মুনাসসিরিন আলাল কুরআনিল কারীম আন্নাহু ইউআইয়িদু জাসমা উলুহিয়াতিল মাসীহ আলাইহিস সালাম (পৃষ্ঠা: ৩)
مصطلحات البحث

1- التوراة: أي أسفار العهد القديم الحالية وعددها (39) سفراً إلا إذا أشير إلى غير ذلك.

2- الإنجيل أو الأناجيل: أي أسفار العهد الجديد الحالية وعددها (27) سفراً إلا إذا أشير إلى غير ذلك.

اصطلاحات أسفار العهد القديم

…

اصطلاحات أسفار العهد الجديد

الاصطلاح

…

المقصود به

…

الاصطلاح

…

المقصود به

التكوين

الخروج

التثنية

أشعياء

حزقيال

مزمور/المزامير

(1) صموئيل

(2) صموئيل

(1) الملوك

(2) الملوك

نشيد الإنشاد

…

سفر التكوين

سفر الخروج

سفر التثنية

سفر أشعياء

سفر حزقيال

أسفار المزامير

سفر صموئيل الأول

سفر صموئيل الثاني

سفر الملوك الأول

سفر الملوك الثاني

سفر نشيد الإنشاد

…

متى

مرقس

لوقا

يوحنا

رومية

(1) - تسالوينكي

عب

(2) - يوحنا

(3) - بطرس

رؤيا يوحنا

…

إنجيل متى

إنجيل مرقس

إنجيل لوقا

إنجيل يوحنا

رسالة بولس إلى أهل رومية

رسالة بولس الأولى إلى أهل تسالوينكي

الرسالة إلى العبرانيين

رسالة يوحنا الأولى

الرسالة الثانية لبطرس

سفر رؤيا يوحنا اللاهوتي

وإذا كُتِبَ هكذا: (2) تسالونيكي (3: 5-8و13)

فإن هذا يعني: الرسالة الثانية إلى أهل تسالونيكي، الاصحاح الثالث الفقرات من الخامسة إلى الثامنة. والفقرة الثالثة عشرة من الإصحاح نفسه.
গবেষণার পরিভাষাসমূহ

১- তাওরাত: অর্থাৎ বর্তমান পুরাতন নিয়মের (ওল্ড টেস্টামেন্ট) ৩৯টি পুস্তক, যদি না অন্য কিছু নির্দেশ করা হয়।

২- ইঞ্জিল বা ইঞ্জিলসমূহ: অর্থাৎ বর্তমান নতুন নিয়মের (নিউ টেস্টামেন্ট) ২৭টি পুস্তক, যদি না অন্য কিছু নির্দেশ করা হয়।

পুরাতন নিয়মের পুস্তকসমূহের পরিভাষা

…

নতুন নিয়মের পুস্তকসমূহের পরিভাষা

পরিভাষা

…

এর দ্বারা উদ্দেশ্য

…

পরিভাষা

…

এর দ্বারা উদ্দেশ্য

আদিপুস্তক

যাত্রাপুস্তক

দ্বিতীয় বিবরণ

যিশাইয়

যিহিষ্কেল

সামসংগীত/জবুর

(১) শমূয়েল

(২) শমূয়েল

(১) রাজাবলি

(২) রাজাবলি

পরমগীত

…

আদিপুস্তক

যাত্রাপুস্তক

দ্বিতীয় বিবরণ পুস্তক

যিশাইয় পুস্তক

যিহিষ্কেল পুস্তক

সামসংগীতের পুস্তকসমূহ

প্রথম শমূয়েল পুস্তক

দ্বিতীয় শমূয়েল পুস্তক

প্রথম রাজাবলি পুস্তক

দ্বিতীয় রাজাবলি পুস্তক

পরমগীত পুস্তক

…

মথি

মার্ক

লূক

যোহন

রোমীয়

(১) - থিষলনীকীয়

ইব্রীয়

(২) - যোহন

(৩) - পিতর

যোহনের প্রকাশিত বাক্য

…

মথি লিখিত ইঞ্জিল

মার্ক লিখিত ইঞ্জিল

লূক লিখিত ইঞ্জিল

যোহন লিখিত ইঞ্জিল

রোমীয়দের প্রতি পৌলের পত্র

থিষলনীকীয়দের প্রতি পৌলের প্রথম পত্র

ইব্রীয়দের প্রতি পত্র

যোহনের প্রথম পত্র

পিতরের দ্বিতীয় পত্র

ধর্মতাত্ত্বিক যোহনের প্রকাশিত বাক্য পুস্তক

আর যদি এইভাবে লেখা থাকে: (২) থিষলনীকীয় (৩: ৫-৮ ও ১৩)

তবে এর অর্থ হলো: থিষলনীকীয়দের প্রতি দ্বিতীয় পত্র, তৃতীয় অধ্যায়, ৫ থেকে ৮ নম্বর পদসমূহ এবং উক্ত অধ্যায়েরই ১৩ নম্বর পদ।
(খণ্ড: ১) ইফতিরাআতুল মুনাসসিরিন আলাল কুরআনিল কারীম আন্নাহু ইউআইয়িদু জাসমা উলুহিয়াতিল মাসীহ আলাইহিস সালাম (পৃষ্ঠা: ৪)
ختاماً أسأل الله -–تعالى- التوفيق والسداد فما كان صواباً فمن الله سبحانه وتعالى – وما كان من خطأ فمن نفسي وأستغفر الله منه ومن جميع ذنبي. والحمد لله أولاً وآخراً وصلى الله وسلم على سيدنا ونبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
উপসংহারে, আমি মহান আল্লাহ তাআলার নিকট তাওফিক ও সঠিকতার প্রার্থনা করছি। যা কিছু সঠিক হয়েছে তা মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার পক্ষ থেকে; আর যা কিছু ভুল হয়েছে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং আমি তার জন্য ও আমার সকল গুনাহের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। শুরুতে ও শেষে সকল প্রশংসা আল্লাহরই জন্য এবং আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) ইফতিরাআতুল মুনাসসিরিন আলাল কুরআনিল কারীম আন্নাহু ইউআইয়িদু জাসমা উলুহিয়াতিল মাসীহ আলাইহিস সালাম (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌التمهيد

…

تمهيد:

لمحبة تاريخية عن المؤلفات التنصيرية التي تفتري على القرآن تأيده بعض معتقدات النصارى الباطلة:

كان بعض أتباع اليهود والنصرانية في بعض بقاع الجزيرة العربية كالمدينة، وخيبر، ونجران. وما إن تبينت قوت الإسلام والمسلمين في الجزيرة العربية حتى بدأت وفود القبائل العربية تفد إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم من مختلف أنحاء الجزيرة، وكان من أوائل هذه الوفود وفد نصارى نجران الذين جادلوا رسول الله صلى الله عليه وسلم زاعمين أن القرآن يدل على التثليث، وعلى ألوهية عيسى عليه السلام وأنه ابن الله تعالى الله عن ذلك علواً كبيراً

وبذلك كانوا أول من سلك هذا الطريق المضل من النصارى في حيات الرسول صلى الله عليه وسلم وقد ذكر ابن هشام "أن الله سبحانه وتعالى أنزل في ذلك من قولهم (أي زعمهم دلالة القرآن على ألوهية عيسى – عليه السلام والتثليث وبنوته) واختلاف أمرهم: صدر سورة آل عمران إلى بضع وثمانين آية منها".

هذا فيما يتعلق ببداية الافتراء على كتاب الله من النصارى وادعاء أنه يؤيد بعض اعتقاداتهم. أما من حيث كتابة المنصرين والنصارى لذلك في مؤلفاتٍ فإن أقدم ما اطلعت عليه من ذلك يعود إلى أواخر القرن الثاني وأوائل القرن الثالث الهجري - وهي "رسالة عبد المسيح بن إسحاق الكندي إلى عبد الله الهاشمي" كما سيأتي إن شاء الله، ثم تتابعت بعد ذلك الكتب والرسائل التنصيرية التي زعمت أن كتاب الله يؤيد بعض معتقدات النصارى: كألوهية المسيح عليه السلام،
উপক্রমণিকা

…

ভূমিকা:

কুরআনের বিরুদ্ধে খ্রিষ্টান মিশনারিদের সেইসব রচনার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, যাতে মিথ্যা দাবি করা হয়েছে যে কুরআন তাদের কিছু বাতিল আকিদাকে সমর্থন করে:

আরব উপদ্বীপের কিছু অঞ্চল যেমন মদিনা, খায়বার এবং নাজরানে ইয়াহুদি ও খ্রিষ্টধর্মের কিছু অনুসারী বসবাস করত। আরব উপদ্বীপে ইসলাম ও মুসলিমদের শক্তি যখনই সুস্পষ্ট হয়ে উঠল, তখনই উপদ্বীপের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরব গোত্রগুলোর প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসতে শুরু করল। এই প্রতিনিধি দলগুলোর মধ্যে প্রথম দিকের অন্যতম ছিল নাজরানের খ্রিষ্টান প্রতিনিধি দল, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়েছিল। তাদের দাবি ছিল যে, কুরআন ত্রিত্ববাদ এবং ঈসা আলাইহিস সালামের উলুহিয়্যাত (খোদাউত্ব) ও তিনি আল্লাহর পুত্র হওয়ার সপক্ষে প্রমাণ দেয়—মহান আল্লাহ তাদের এই অপবাদ থেকে অনেক ঊর্ধ্বে এবং অতি পবিত্র।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় খ্রিষ্টানদের মধ্যে তারাই প্রথম এই বিভ্রান্তিকর পথ অবলম্বন করেছিল। ইবনে হিশাম উল্লেখ করেছেন যে, "আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের এই বক্তব্য (অর্থাৎ ঈসা আলাইহিস সালামের উলুহিয়্যাত, ত্রিত্ববাদ এবং তাঁর পুত্রত্ব বিষয়ে কুরআনের প্রমাণের দাবি) এবং তাদের বিষয়ের ভিন্নতা সম্পর্কে সূরা আল-ইমরানের শুরু থেকে আশিটিরও বেশি আয়াত নাযিল করেছেন।"

এটি ছিল আল্লাহর কিতাবের ওপর খ্রিষ্টানদের অপবাদ আরোপ এবং এটি তাদের আকিদাকে সমর্থন করে—এই জাতীয় দাবির সূচনাপর্ব। তবে মিশনারি ও খ্রিষ্টানদের পক্ষ থেকে গ্রন্থাকারে এসব বিষয় রচনার ক্ষেত্রে আমি যা জানতে পেরেছি তার মধ্যে প্রাচীনতমটি হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীর শেষভাগ এবং তৃতীয় শতাব্দীর শুরুর দিকের। সেটি হলো—"আবদুল্লাহ আল-হাশিমির প্রতি আবদুল মসীহ ইবনে ইসহাক আল-কিন্ডির পত্র", যা ইনশাআল্লাহ সামনে আলোচিত হবে। এরপর ধারাবাহিকভাবে এমন সব মিশনারি গ্রন্থ ও পত্র রচিত হয়েছে যাতে দাবি করা হয়েছে যে, আল্লাহর কিতাব খ্রিষ্টানদের কিছু আকিদাকে সমর্থন করে; যেমন: মাসীহ আলাইহিস সালামের উলুহিয়্যাত (খোদাউত্ব),
(খণ্ড: ১) ইফতিরাআতুল মুনাসসিরিন আলাল কুরআনিল কারীম আন্নাহু ইউআইয়িদু জাসমা উলুহিয়াতিল মাসীহ আলাইহিস সালাম (পৃষ্ঠা: ৬)
أو بنوته، أو التثليث، أو صلب المسيح، أو أن القرآن يدل على صحت كتب النصارى وأنها ليست محرفة، إلى غير ذلك من مزاعم وافتراءات على كتاب الله أرادوا بها تحقيق أهدافٍ عدة منها:

1-إبعاد النصارى عن الإسلام بزعم أن القرآن يؤيدهم على ما هم فيه من معتقدات باطلة، وأن ما في القرآن موجود في التوراة والإنجيل فَلِمَ الإسلام مادام الأمر - في زعمهم - كذلك؟

1- الطعن في القرآن لبلبلة اعتقادات المسلمين، وإبعادهم عن دينهم، توطئةً لتنصيرهم من خلال القرآن نفسه، بحجة أن ما عليه النصارى ليس باطلاً فضلاً عن أن يكون كفراً، لما زعموه من تأييد القرآن لهم.

وإن المؤلفات النصرانية التي انتهجت الأسلوب الآنف الذكر ما يلي:

1- "رسالة عبد المسيح إلى الهاشمي يرد بها على الهاشمي ويدعوه إلى النصرانية "وذلك في عصر الخليفة المأمون (198-218)

2- "رسالة راهب فرنسا إلى المسلمين وجواب القاضي أبي الوليد الباجي عليها" في عصر الباجي (403-474هـ) .

3- "رسالة حنا مقار العيسوي إلى أبي عبيدة الخزرجي"، في عصر أبي عبيدة المتوفي سنة (582هـ) .

4- "الكتاب المنطيقي الدولة خاني المبرهن عن الاعتقاد الصحيح والرأي المستقيم " لبولص الراهب - أسقف صيدا - الأنطاكي، في عصر شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله المتوفي سنة (728هـ)

5- "مفتاح الخزائن ومصباح الدفائن "لأحد المنصرين في عهد الشيخ عبد العزيز آل معمر رحمه الله (1203-1244هـ) .
অথবা তাঁর পুত্রত্ব, কিংবা ত্রিত্ববাদ, কিংবা মসীহের ক্রুশবিদ্ধ হওয়া, অথবা কুরআন নাসারাদের কিতাবসমূহের বিশুদ্ধতা প্রমাণ করে এবং সেগুলো বিকৃত (محرفة) নয়—এরূপ আরও বহু দাবি ও আল্লাহর কিতাবের ওপর মিথ্যারোপের মাধ্যমে তারা বেশ কিছু লক্ষ্য হাসিল করতে চেয়েছিল, যার মধ্যে রয়েছে:

1-নাসারাদের ইসলাম থেকে দূরে রাখা; এই দাবি করার মাধ্যমে যে, কুরআন তাদের বর্তমান বাতিল আকিদা (معتقدات باطلة)-এর সমর্থন করে এবং কুরআনে যা আছে তা তাওরাত ও ইঞ্জিলেও বিদ্যমান। সুতরাং বিষয়টি যদি—তাদের দাবি অনুযায়ী—তেমনই হয়, তবে ইসলামের প্রয়োজনীয়তা কোথায়?

1-মুসলমানদের আকিদায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে কুরআনের ওপর অপবাদ (الطعن) আরোপ করা এবং তাদের দ্বীন থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া, যাতে খোদ কুরআনের মাধ্যমেই তাদের খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত করার পথ প্রশস্ত হয়। তাদের যুক্তি ছিল—নাসারাদের বর্তমান পথ ও মত বাতিল নয়, এমনকি কুফর (كفر) হওয়া তো দূরের কথা; কারণ তাদের দাবি মতে কুরআনই তাদের সমর্থন করে।

আর যেসব খ্রিস্টীয় গ্রন্থ উপরোক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করেছে, সেগুলো হলো:

1- "রিসালাতু আবদিল মাসিহ ইলাল হাশেমি": যাতে সে হাশেমির বক্তব্যের উত্তর দিয়েছে এবং তাকে খ্রিস্টধর্মের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এটি খলিফা আল-মামুনের যুগে (১৯৮-২১৮ হিজরি) রচিত।

2- "রিসালাতু রাহিবি ফারানসা ইলাল মুসলিমিন ওয়া জাওয়াবুল কাজি আবি ওয়ালিদ আল-বাজি আলাইহা": ফ্রান্সের এক পাদ্রির পক্ষ থেকে মুসলমানদের প্রতি চিঠি এবং তার জবাবে কাজি আবু ওয়ালিদ আল-বাজির উত্তর। এটি আল-বাজির যুগে (৪০৩-৪৭৪ হিজরি) রচিত।

3- "রিসালাতু হান্না মাকার আল-ঈসাবি ইলা আবি উবাইদাহ আল-خাজরাজি": এটি আবু উবাইদাহর যুগে রচিত, যিনি ৫৮২ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

4- "আল-কিতাব আল-মানতিকি আদ-দাওলাখানি আল-মুবরাহান আনিল ইতিকাদ আস-সহিহ ওয়ার রা’য়িল মুসতাকিম": এটি সাইদা ও আন্তাকিয়ার বিশপ সন্ন্যাসী পল (বুলাস)-এর রচনা। এটি শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রহিমাহুল্লাহ-এর যুগে রচিত, যিনি ৭২৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

5- "মিফতাহুল খাজাইন ওয়া মিসবাহুদ দাফাইন": জনৈক মিশনারির লেখা, যা শাইখ আবদুল আজিজ আল-মুয়াম্মার রহিমাহুল্লাহ-এর যুগে (১২০৩-১২৪৪ হিজরি) রচিত।
(খণ্ড: ১) ইফতিরাআতুল মুনাসসিরিন আলাল কুরআনিল কারীম আন্নাহু ইউআইয়িদু জাসমা উলুহিয়াতিল মাসীহ আলাইহিস সালাম (পৃষ্ঠা: ৭)
6- "الأقاويل القرآنية في كتب المسيحية "لمنصر بروتستاني في أواخر القرن التاسع عشر الميلادي.

7- "ميزان الحق"للقسيس فندر، في القرن الثالث عشر الهجري، التاسع عشر الميلادي.

8- "الصلب في الإسلام "لحبيب زيات طبع سنة (1935م) .

9- "المسيحية في الإسلام" لإبراهيم لوقا. في بدايات القرن العشرين الميلادي.

10- "أدلة قرآنية على صحة الديانة النصرانية "لمؤلف مجهول.

11- "الإنجيل والقرآن"ليوسف درة الحداد.

12- "القرآن والكتاب "لمؤلف نفسه، وهو منصر لبناني معاصر.

إن هذه المؤلفات غيضٌ من فيضٍ وإلا فإن الكتب والرسائل المشابهة لما سبق بيانه كثيرة وإن كان الغالب في العصر الحاضر - فيما يرى الكاتب - كتابة خلاصات مركزة في مطويات صغيرة مستلة من الكتب القديمة والحديثة في هذا المجال: مسايرة للعصر، ومحاولةً منهم للهجوم على المسلمين من خلال الافتراء على آي القرآن الكريم، للتأثير فيهم وبلبلة أفكارهم، سعياً لتنصيرهم. والمتوقع اليوم استغلال وسائل الاتصال الأكثر حداثة في عرض هذا الأسلوب وبخاصة: الإنترنت.

وفيما يلي سوف نستعرض إدعاءات المنصرين التي زعموا فيها أن القرآن يؤيد ما ادعوه من ألوهية المسيح عليه السلام.
৬- "খ্রিস্টধর্মের গ্রন্থসমূহে কুরআন সংক্রান্ত উক্তিমালা" — এটি উনবিংশ শতাব্দী এর শেষলগ্নে একজন প্রোটেস্ট্যান্ট মিশনারির লেখা।

৭- পাদ্রি ফেন্ডার রচিত "মিজানুল হক" (সত্যের মানদণ্ড), হিজরি ত্রয়োদশ তথা খ্রিস্টীয় উনবিংশ শতাব্দীতে।

৮- হাবিব জায়য়াত রচিত "ইসলামে ক্রুশবিদ্ধকরণ", যা ১৯৩৫ সালে মুদ্রিত হয়েছে।

৯- ইব্রাহিম লুকার "ইসলামে খ্রিস্টধর্ম", বিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে।

১০- অজ্ঞাত লেখকের "খ্রিস্টীয় ধর্মের সত্যতার ওপর কুরআনিক প্রমাণসমূহ"।

১১- ইউসুফ দুররাহ আল-হাদ্দাদের "ইঞ্জিল ও কুরআন"।

১২- একই লেখকের "কুরআন ও কিতাব", তিনি একজন সমসাময়িক লেবানিজ মিশনারি।

এই গ্রন্থসমূহ মহাসমুদ্রের সামান্য এক ফোঁটা মাত্র। অন্যথায়, পূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে তার অনুরূপ গ্রন্থ ও পুস্তিকা প্রচুর রয়েছে। যদিও লেখকের মতে বর্তমান যুগে অধিকাংশ ক্ষেত্রে যা পরিলক্ষিত হয় তা হলো—যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য এবং মুসলমানদের ওপর পবিত্র কুরআনের আয়াতের প্রতি মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আক্রমণ করার জন্য এই বিষয়ের প্রাচীন ও আধুনিক গ্রন্থসমূহ থেকে নির্যাস গ্রহণ করে ছোট ছোট প্রচারপত্র আকারে প্রকাশ করা; যাতে তাদের প্রভাবিত করা যায় এবং তাদের চিন্তাধারাকে বিভ্রান্ত করে খ্রিস্টান ধর্মে দীক্ষিত করার চেষ্টা করা যায়। আর বর্তমানে এই পদ্ধতি প্রদর্শনের ক্ষেত্রে যোগাযোগের আধুনিকতম মাধ্যমগুলো, বিশেষ করে ইন্টারনেটকে ব্যবহারের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

নিম্নে আমরা মিশনারিদের সেইসব দাবিগুলো পর্যালোচনা করব যেখানে তারা দাবি করেছে যে, কুরআন মাসিহ (আলাইহিস সালাম)-এর দেবত্বের দাবির পক্ষে সমর্থন দেয়।
(খণ্ড: ১) ইফতিরাআতুল মুনাসসিরিন আলাল কুরআনিল কারীম আন্নাহু ইউআইয়িদু জাসমা উলুহিয়াতিল মাসীহ আলাইহিস সালাম (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌المبحث الأول: عرض ادعاءات المنصرين على القرآن أنه يؤيد اعتقادهم بألوهية المسيح عليه السلام

‌‌الادعاء الأول:- أن ضمائر الجمع التي تكلم الله بها عن نفسه في القرآن تدل على ألوهية المسيح عليه السلام.

الادعاء الثاني:- أن المسيح – عليه السلام روح من الله -بجعل (مِنْ) للتبعيض - وكلمته التي تجسدت وصارت إنساناً.

الادعاء الثالث:- أن المعجزات التي أيد الله بها عيسى – عليه السلام وذكرت في القرآن تدل على ألوهية عيسى ولا سيما إحياء الموتى.
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআন সম্পর্কে মিশনারিদের সেই দাবিসমূহ উপস্থাপন করা যে, এটি ঈসা আলাইহিস সালাম-এর উপাস্য হওয়ার বিশ্বাসকে সমর্থন করে

‌‌প্রথম দাবি:- আল্লাহ কুরআনে নিজের জন্য যে বহুবচনবাচক সর্বনাম ব্যবহার করেছেন, তা ঈসা আলাইহিস সালাম-এর উপাস্য হওয়ার প্রমাণ বহন করে.

দ্বিতীয় দাবি:- মসীহ আলাইহিস সালাম আল্লাহর পক্ষ থেকে এক রূহ—এখানে 'মিন' (من) অব্যয়টিকে অংশবাচক (تبعيض) অর্থে গ্রহণ করে—এবং তাঁর বাণী, যা দেহ ধারণ করেছে এবং মানুষে রূপান্তরিত হয়েছে।

তৃতীয় দাবি:- আল্লাহ ঈসা আলাইহিস সালাম-কে যেসব মুজিজা দ্বারা শক্তিশালী করেছেন এবং যা কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, তা ঈসা আলাইহিস সালাম-এর উপাস্য হওয়ার প্রমাণ দেয়, বিশেষ করে মৃতকে জীবিত করা।
(খণ্ড: ১) ইফতিরাআতুল মুনাসসিরিন আলাল কুরআনিল কারীম আন্নাহু ইউআইয়িদু জাসমা উলুহিয়াতিল মাসীহ আলাইহিস সালাম (পৃষ্ঠা: ৯)
المبحث الأول عرض ادعاءات المنصرين على القرآن أنه يؤيد اعتقادهم بألوهية المسيح عليه السلام

يزعم بعض النصارى، والمنصرين أن القرآن يدل على ألوهية عيسى عليه السلام ولهم في ذلك حجج واهيةٌ حاولوا التمسك بها ظناً منهم أنها تؤيد ما يعتقدون، والواقع أنهم سعوا لتسويغ اعتقاداتهم من خلال القرآن الكريم وحملوا آيات الله ما لا تحتمل من المعاني بل كذبوا على الله وعلى كتابه، واغمضوا أعينهم عن محكم القرآن وجنحوا إلى ألفاظ زعموا أنها تمكنهم من الوصول إلى مقاصدهم الفاسدة.

وإذا نظر المرء إلى زعمهم هذا في تأييد القرآن لما ادعوه من ألوهية عيسى عليه السلام يجد أن افتراءهم هذا منبثق من جملة ادعاءات من أهمها ثلاثة:

فالادعاء الأول:-

هو: أن ضمائر الجمع التي تكلم الله بها عن نفسه في القرآن تدل على ألوهية المسيح عليه السلام لأنها - بزعمهم - تدل على أن الإله ثلاثة أشخاص منهم: المسيح عليه السلام فقد كان نصارى نجران "يقولون [عن عيسى عليه السلام] : هو الله، ويقولون: هو ولد الله، ويقولون: هو ثالث ثلاثة ويحتجون بأنه ثالث ثلاثة بقول الله: فعلنا، وأمرنا، وخلقنا وقضينا فيقولون: لو كان الله واحداً ما قال إلا فعلتُ، وقضيتُ وأمرتُ وخلقتُ ولكنه هو وعيسى
প্রথম পরিচ্ছেদ: কুরআন ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর উপাস্যত্বে বিশ্বাসকে সমর্থন করে—মিশনারিদের এই দাবির উপস্থাপনা।

কিছু খ্রিস্টান ও মিশনারি দাবি করে যে, কুরআন ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর উপাস্যত্বের ইঙ্গিত দেয়। এ বিষয়ে তাদের কিছু অসার যুক্তি রয়েছে, যা তারা তাদের বিশ্বাসকে সমর্থন করে বলে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করেছে। প্রকৃতপক্ষে, তারা পবিত্র কুরআনের মাধ্যমে তাদের বিশ্বাসকে বৈধ করার চেষ্টা করেছে এবং আল্লাহর আয়াতসমূহের ওপর এমন অর্থ চাপিয়ে দিয়েছে যা সেই আয়াতগুলো বহন করে না। বরং তারা আল্লাহ ও তাঁর কিতাবের ওপর মিথ্যাচার করেছে এবং কুরআনের সুস্পষ্ট বা দ্ব্যর্থহীন (محكم) আয়াতসমূহ থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়েছে এবং এমন কিছু শব্দের দিকে ঝুঁকেছে যেগুলোকে তারা তাদের ভ্রষ্ট উদ্দেশ্য হাসিলের মাধ্যম হিসেবে মনে করেছে।

ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর উপাস্যত্বের সপক্ষে কুরআন সমর্থন দেয়—তাদের এই দাবির দিকে তাকালে দেখা যায় যে, তাদের এই অপবাদ মূলত কতগুলো দাবির সমষ্টি থেকে উদ্ভূত, যার মধ্যে প্রধান হলো তিনটি:

প্রথম দাবি:-

তা হলো: কুরআনে আল্লাহ নিজের জন্য যে বহুবচনবাচক সর্বনাম ব্যবহার করেছেন, তা মাসীহ (আলাইহিস সালাম)-এর উপাস্যত্ব প্রমাণ করে। কারণ—তাদের দাবি অনুযায়ী—তা নির্দেশ করে যে উপাস্য হলেন তিন ব্যক্তি, যাদের একজন হলেন মাসীহ (আলাইহিস সালাম)। নাজরানের খ্রিস্টানরা [ঈসা আলাইহিস সালাম সম্পর্কে] বলত: "তিনিই আল্লাহ", এবং তারা বলত: "তিনি আল্লাহর পুত্র", এবং তারা আরও বলত: "তিনি তিনের তৃতীয়"। তারা আল্লাহর বাণী: "আমরা করেছি", "আমরা আদেশ দিয়েছি", "আমরা সৃষ্টি করেছি" এবং "আমরা ফয়সালা করেছি"—এই শব্দগুলো দ্বারা তিনি (আল্লাহ) তিনের তৃতীয় হওয়ার পক্ষে দলিল পেশ করত। তারা বলত: "আল্লাহ যদি এক হতেন, তবে তিনি কেবল বলতেন—আমি করেছি, আমি ফয়সালা করেছি, আমি আদেশ দিয়েছি এবং আমি সৃষ্টি করেছি; কিন্তু তিনি হলেন স্বয়ং আল্লাহ এবং ঈসা..."
(খণ্ড: ১) ইফতিরাআতুল মুনাসসিরিন আলাল কুরআনিল কারীম আন্নাহু ইউআইয়িদু জাসমা উলুহিয়াতিল মাসীহ আলাইহিস সালাম (পৃষ্ঠা: ১০)
ومريم" (1) ، كما احتجوا على الرسول صلى الله عليه وسلم بقوله تعالى: {إِنَّا نَحْنُ} (الحجر،: 9) . قالوا: وهذا يدل على أنهم ثلاثة" (2) .

كذلك ردَدّ عبد المسيح الكندي هذا الزعم حيث يقول - مخاطباً عبد الله الهاشمي-: "وفي كتابك أيضاً شبيه بما ذكرنا من قول موسى، ودانيال عن الله تعالى: فعلنا، وخلقنا، وأمرنا، وأوحينا، وأهلكنا، ودمرنا، مع نظائر لهذه كثيرة" (3) فحجتهم أن الله تكلم عن نفسه في القرآن بصيغة الجمع ومن ثم زعموا أن ذلك دليل على أن عيسى عليه السلام واحد من الذين تدل عليهم الضمائر المذكورة، وأن هذا الجمع إنما هو ثلاثة وزعموا بذلك أن القرآن يدل على ألوهية المسيح عليه السلام

ويقول المنصر فندر إن "مما لا يصح إغفاله إن القرآن يتفق مع الكتاب المقدس (4) في إسناد الفعل، وضمير المتكلم في صيغة الجمع إلى الله. وفي القرآن ما ورد في سورة العلق حيث يقول: {سَنَدْعُ الزَّبَانِيَةَ} وإنما أوردنا ذلك إشعاراً بأننا لا نخطئ إذا اعتبرنا عقيدة التثليث موافقة لإسناد ضمير الجمع إلى الله في القرآن" (5) .

--------------------------------------------

(1) ابن هشام: "السيرة النبوية". ج1 ص: (575) .

(2) انظر: ابن تيمية "الجواب الصحيح" ج3، ص: (448) .

(3) "رسالة عبد المسيح الكندي إلى الهاشمي يرد بها عليه ويدعوه إلى النصرانية"، طبعت في مصر سنة 1895م، ص38.

(4) الكتاب المقدس عند النصارى هو المكون من قسمين: العهد القديم والعهد الجديد، وتبلغ أسفار العهد القديم (أو التوراة) : (39) سفراً كما هو عند البروتستانت و: (46) سفراً عند الكاثوليك والأورثوذكس، أما العهد الجديد (أو الأناجيل) فتبلغ أسفاره: (27) سفراً. [انظر: علي الحربي: "نصرانية عيسى عليه السلام ونصرانية بولس دراسة مقارنة من أسفار العهد الجديد" بحث ماجستير (1407هـ) ص (4و6) ] .

(5) نقلاً عن: عبد الرحمن الجزيري: "أدلة اليقين في الرد على كتاب ميزان الحق وغيره من مطاعن المبشرين المسيحين في الإسلام" الطبعة الأولى (1353-1943م) ص (219) .
...এবং মারইয়াম" (১), যেমন তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বিরুদ্ধে মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছিল: {নিশ্চয়ই আমরা} (আল-হিজর: ৯)। তারা বলেছিল: "এটি প্রমাণ করে যে তারা তিনজন" (২)।

অনুরূপভাবে আবদুল মাসিহ আল-কিন্দি এই দাবিটি (الزعم) প্রত্যাখ্যান করেছেন যেখানে তিনি আবদুল্লাহ আল-হাশিমিকে সম্বোধন করে বলেন: "তোমার কিতাবেও আমরা যা উল্লেখ করেছি তার অনুরূপ বিষয় রয়েছে, যেমন মুসা এবং দানিয়াল মহান আল্লাহ সম্পর্কে বলেছেন: 'আমরা করেছি', 'আমরা সৃষ্টি করেছি', 'আমরা আদেশ দিয়েছি', 'আমরা ওহি পাঠিয়েছি', 'আমরা ধ্বংস করেছি' এবং 'আমরা চূর্ণ-বিচূর্ণ করেছি', এর সাথে আরও অনেক সদৃশ উদাহরণ রয়েছে" (৩)। তাদের যুক্তি ছিল এই যে, আল্লাহ কুরআনে নিজের সম্পর্কে বহুবচন বাচক শব্দ (صيغة الجمع) ব্যবহার করে কথা বলেছেন এবং এর ভিত্তিতে তারা দাবি করেছিল যে, এটিই প্রমাণ করে যে ঈসা আলাইহিস সালাম হলেন সেই সত্তাদের একজন যাদের দিকে উল্লিখিত সর্বনামগুলো (الضمائر) নির্দেশ করে। আর এই বহুবচন মূলত তিনজনকে বোঝায় এবং এর মাধ্যমে তারা দাবি করেছিল যে কুরআন مسیح (আলাইহিস সালাম)-এর উপাস্য হওয়ার (الألوهية) প্রমাণ দেয়।

ধর্মপ্রচারক ফেন্ডার বলেন: "যে বিষয়টি উপেক্ষা করা সমীচীন নয় তা হলো, আল্লাহ তাআলার দিকে বহুবচন বাচক শব্দে (صيغة الجمع) কোনো ক্রিয়া এবং উত্তম পুরুষের সর্বনাম (ضمير المتكلم) সম্বন্ধ করার (إسناد) ক্ষেত্রে কুরআন পবিত্র বাইবেলের (৪) সাথে একমত পোষণ করে। কুরআনের সূরা আল-আলাক-এ বর্ণিত হয়েছে যেখানে তিনি বলেন: {আমরা অচিরেই জাহান্নামের প্রহরী ফেরেশতাদের ডাকব}। আমরা এটি এজন্যই উল্লেখ করেছি যাতে স্পষ্ট হয় যে, আমরা যদি ত্রিত্ববাদ (التثليث) আকিদাকে কুরআনে আল্লাহর প্রতি বহুবচন বাচক সর্বনাম ব্যবহারের সাথে সংগতিপূর্ণ মনে করি, তবে আমরা ভুল করব না" (৫)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে হিশাম: "আস-সিরাহ আন-নাবাউইয়্যাহ"। ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: (৫৭৫)।

(২) দ্রষ্টব্য: ইবনে তাইমিয়া "আল-জাওয়াব আস-সহিহ" ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা: (৪৪৮)।

(৩) "আবদুল মাসিহ আল-কিন্দি-এর পত্র আল-হাশিমিকে, যার মাধ্যমে তিনি তাকে উত্তর দিচ্ছেন এবং খ্রিস্টধর্মে আহ্বান করছেন", মিশরে মুদ্রিত ১৮৯৫ খ্রিষ্টাব্দ, পৃষ্ঠা ৩৮।

(৪) খ্রিস্টানদের নিকট পবিত্র বাইবেল দুটি অংশে বিভক্ত: পুরাতন নিয়ম এবং নতুন নিয়ম। প্রটেস্ট্যান্টদের নিকট পুরাতন নিয়মের (বা তাওরাত) পুথি সংখ্যা (৩৯) টি এবং ক্যাথলিক ও অর্থোডক্সদের নিকট (৪৬) টি। আর নতুন নিয়মের (বা ইঞ্জিল) পুথি সংখ্যা (২৭) টি। [দ্রষ্টব্য: আলী আল-হারবী: "ঈসা আলাইহিস সালামের খ্রিস্টবাদ বনাম পৌলের খ্রিস্টবাদ: নতুন নিয়মের পুথিগুলোর আলোকে একটি তুলনামূলক আলোচনা" মাস্টার্স গবেষণা (১৪০৭ হিজরি) পৃষ্ঠা (৪ ও ৬)]।

(৫) উদ্ধৃত: আবদুর রহমান আল-জাযিরি: "আদিল্লাতুল ইয়াকিন ফি আর-রাদ্দি আলা কিতাবি মিজানিল হাক ও অন্যান্য খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারকদের ইসলামের প্রতি আপত্তির খণ্ডন", প্রথম সংস্করণ (১৩৫৩-১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দ) পৃষ্ঠা (২১৯)।
(খণ্ড: ১) ইফতিরাআতুল মুনাসসিরিন আলাল কুরআনিল কারীম আন্নাহু ইউআইয়িদু জাসমা উলুহিয়াতিল মাসীহ আলাইহিস সালাম (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌الادعاء الثاني:- أن المسيح – عليه السلام روح من الله -بجعل (مِنْ) للتبعيض - وكلمته التي تجسدت وصارت إنساناً.

…

أما الادعاء الثاني:-

فهو: أن المسيح عليه السلام روحٌ من الله بجعل (مِنْ) للتبعيض إذ يرونه إلهً من إلهٍ وكلمة الله التي تجسدت - بزعمهم - وصارت إنساناً أي أن كلمة الله هي عيسى عليه السلام إلى غير ذلك مما يتعلق بهذا الزعم.

يقول عبد المسيح الكندي - مخاطباً عبد الله الهاشمي: "فافهم كيف أوجب [يقصد الرسول صلى الله عليه وسلم وقد كذب عليه في ذلك] أن الله تبارك وتعالى ذو كلمةٍ وروح، وصرح بأن المسيح كلمة الله تجسدت وصارت إنساناً" (1) .

كما يقول منصر آخر: "إذا أردت أن يتغمدك الله [الخطاب موجه لأبي عبيدة الخزرجي رحمه الله] برحمته، وتفوز بجنته فآمن بالله، وقل: إن المسيح ابن الله الذي هو الله [تعالى الله عن ذلك علواً كبيراً] . ألم تسمع ما في الكتاب الذي جاء به صاحب شريعتك أنه [أي عيسى عليه السلام] روح الله وكلمته" (2) مسقطاً بذلك اعتقاد النصارى المعروف المنصوص عليه في مستهل إنجيل يوحنا في قوله "في البدء كان الكلمة والكلمة كان عند الله وكان الكلمة الله" (3) . بجعل الكلمة هي عين عيسى مما يعني أن عيسى هو الله تعالى الله عن ذلك علواً كبيراً.

كما يقول فندر: "توجد بعض الآيات الأخرى التي تعطي له [أي لعيسى] أعظم الألقاب التي لم تعط لغيره فيه [أي في القرآن] البتة، منها:

--------------------------------------------

(1) "رسالة عبد المسيح إلى الهاشمي يرد بها عليه ويدعوه إلى النصرانية" ص (42) .

(2) "بين الاسلام والمسيحية" ص75-76.

(3) يوحنا. (1:1) .
দ্বিতীয় দাবি: মসীহ (আলাইহিস সালাম) আল্লাহর পক্ষ থেকে এক রূহ—এখানে 'মিন' (مِنْ) অব্যয়টিকে অংশবাচকতা (تبعيض) অর্থে গ্রহণ করা হয়েছে—এবং তাঁর কালেমা যা দেহ ধারণ করেছে এবং মানুষে পরিণত হয়েছে।

…

দ্বিতীয় দাবির বিষয়টি হলো:

তা হলো: মসীহ (আলাইহিস সালাম) আল্লাহর পক্ষ থেকে এক রূহ—এখানে 'মিন' (مِنْ) অব্যয়টিকে অংশবাচকতা (تبعيض) অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে; কেননা তারা তাঁকে ইলাহ থেকে জাত ইলাহ এবং আল্লাহর কালেমা হিসেবে গণ্য করে, যা—তাদের দাবি অনুযায়ী—দেহ ধারণ করেছে এবং মানুষে রূপান্তরিত হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহর কালেমাই হলেন ঈসা (আলাইহিস সালাম)—এই জাতীয় আরও নানা ভ্রান্ত ধারণা এই দাবির সাথে সংশ্লিষ্ট।

আব্দুল মসীহ আল-কিন্দি, আব্দুল্লাহ আল-হাশিমীকে সম্বোধন করে বলেন: "অতঃপর অনুধাবন করুন যে, তিনি [এখানে তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বুঝিয়েছেন এবং তাঁর নামে মিথ্যাচার (كذب) করেছেন] কীভাবে আবশ্যক করেছেন যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা কালেমা ও রূহের অধিকারী, এবং তিনি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে, মসীহ আল্লাহর কালেমা, যা দেহ ধারণ করেছে এবং মানুষে পরিণত হয়েছে।" (১)

অন্য একজন ধর্মপ্রচারক বলেন: "আপনি যদি চান যে আল্লাহ [এখানে আবু উবাইদাহ আল-খাযরাজি রহিমাহুল্লাহ-কে সম্বোধন করা হয়েছে] আপনাকে তাঁর রহমত দ্বারা আচ্ছাদিত করুন এবং আপনি তাঁর জান্নাত লাভ করেন, তবে আল্লাহর ওপর ঈমান আনুন এবং বলুন: নিশ্চয়ই মসীহ আল্লাহর পুত্র, যিনি স্বয়ং আল্লাহ [আল্লাহ তায়ালা তাদের এই অপবাদ থেকে অনেক ঊর্ধ্বে এবং অতি মহান]। আপনার শরীয়ত প্রবর্তক যে কিতাব নিয়ে এসেছেন তাতে কি আপনি শোনেননি যে, তিনি [অর্থাৎ ঈসা আলাইহিস সালাম] আল্লাহর রূহ এবং তাঁর কালেমা?" (২) এর মাধ্যমে তিনি খ্রিস্টানদের সেই সুপরিচিত বিশ্বাস (اعتقاد) ফুটিয়ে তুলেছেন যা ইউহান্না ইঞ্জিলের শুরুতে বর্ণিত হয়েছে: "শুরুতে কালেমা ছিল, কালেমা আল্লাহর কাছে ছিল এবং কালেমাই ছিল আল্লাহ।" (৩) এখানে কালেমাকে খোদ ঈসা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যার অর্থ দাঁড়ায় ঈসাই হলেন আল্লাহ। আল্লাহ তায়ালা তাদের এই বর্ণনা থেকে অতি পবিত্র ও সুমহান।

ফ্যান্ডার বলেন: "আরও কিছু আয়াত রয়েছে যা তাঁকে [অর্থাৎ ঈসাকে] এমন কিছু শ্রেষ্ঠ উপাধি দান করে যা এতে [অর্থাৎ কুরআনে] অন্য কাউকে মোটেও দেওয়া হয়নি। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

--------------------------------------------

(১) "আব্দুল মসীহ কর্তৃক হাশিমীর নিকট প্রেরিত পত্র, যার মাধ্যমে তিনি উত্তর দিয়েছেন এবং তাঁকে খ্রিস্টধর্মের দিকে আহ্বান জানিয়েছেন" পৃষ্ঠা (৪২)।

(২) "ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের মাঝে" পৃষ্ঠা ৭৫-৭৬।

(৩) ইউহান্না (১:১)।
(খণ্ড: ১) ইফতিরাআতুল মুনাসসিরিন আলাল কুরআনিল কারীম আন্নাহু ইউআইয়িদু জাসমা উলুহিয়াতিল মাসীহ আলাইহিস সালাম (পৃষ্ঠা: ১২)
كلمة الله وهذا اللقب لا يصح أن يسمى به أي مخلوق كان" (1) . لأنه يرى مثل كثير من النصارى اليوم أن كلمة الله - التي هي عندهم عيسى - هي الله تعالى الله عن ذلك علواً كبيراً. اتباعاً للنص الانجيلي المزعوم السابق.

فالمسيح عليه السلام كما يزعم الكندي، والعيسوي، وفندر، وغيرهم من النصارى والمنصرين - ليس مخلوقاً وإنما هو إله بل هو الله - تعالى الله عن ذلك علواً كبيراً.

والأدهى من ادعائهم هذا - فيما أرى - المناقض للأديان السماوية والفطر السليمة هو البهتان الذي افتروه على الله سبحانه وتعالى بأن كتابه العظيم القرآن الكريم يؤيدهم في كفرهم ووثنيتهم هذه.

--------------------------------------------

(1) نقلاً عن: الجزيري: "أدلة اليقين"ص (359) .
"আল্লাহর বাণী", আর এই উপাধিটি কোনো সৃষ্টির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা সঠিক (يصح) নয় (১)। কারণ তিনি বর্তমানকালের অনেক খ্রিস্টানের মতো মনে করেন যে, "আল্লাহর বাণী"—যা তাদের নিকট ঈসা—স্বয়ং আল্লাহ; আল্লাহ তাআলা তাদের এই বক্তব্য থেকে বহু ঊর্ধ্বে ও পবিত্র। এটি তাদের পূর্বোক্ত তথাকথিত ইঞ্জিলের পাঠের অনুসরণে বলা হয়েছে।

সুতরাং মসীহ (আলাইহিস সালাম), যেমনটি আল-কিন্দী, আল-ঈসাভী, ফেন্ডার এবং অন্যান্য খ্রিস্টান ও মিশনারিরা দাবি করেন—তিনি কোনো সৃষ্টি নন, বরং তিনি উপাস্য, এমনকি তিনি স্বয়ং আল্লাহ—আল্লাহ তাআলা তাদের এসব দাবি থেকে বহু ঊর্ধ্বে ও পবিত্র।

আমার দৃষ্টিতে তাদের এই দাবির চেয়েও অধিক ভয়াবহ বিষয়—যা আসমানি ধর্মসমূহ ও সুস্থ স্বভাবজাত প্রবৃত্তির পরিপন্থী—হলো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নামে তাদের এই অপবাদ যে, তাঁর মহান কিতাব আল-কুরআনুল কারীম তাদের এই কুফর ও পৌত্তলিকতাকে সমর্থন করে।

--------------------------------------------

(১) উদ্ধৃত: আল-জাযীরি: "আদিল্লাহ আল-ইয়াকীন", পৃষ্ঠা (৩৫৯)।
(খণ্ড: ১) ইফতিরাআতুল মুনাসসিরিন আলাল কুরআনিল কারীম আন্নাহু ইউআইয়িদু জাসমা উলুহিয়াতিল মাসীহ আলাইহিস সালাম (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌الادعاء الثالث:- أن المعجزات التي أيد الله بها عيسى – عليه السلام وذكرت في القرآن تدل على ألوهية عيسى ولا سيما إحياء الموتى.

…

أما الادعاء الثالث:-

فهو زعمهم أن المعجزات التي أيد الله بها عيسى – عليه السلام التي ذكرت في القرآن تدل على ألوهية عيسى عليه السلام ولا سيما إحياء الموتى. وقد كان وفد نصارى نجران الذين وفدوا على الرسول صلى الله عليه وسلم "يحتجون في قولهم [عن عيسى بأنه] هو الله بأنه كان يحي الموتى، ويبرئ الأسقام، ويخبر بالغيوب، ويخلق من الطين كهيئة الطير ثم ينفخ فيه فيكون طائراً" (2) أي بالمعجزات التي أيد الله بها عيسى عليه السلام والتي ذكرت في القرآن.

--------------------------------------------

(2) ابن هشام: "السيرة النبوية" ج1، ص: (575) .
‌‌তৃতীয় দাবি: আল্লাহ তাআলা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-কে যে সকল মুজিজা (معجزات) দ্বারা সাহায্য করেছেন এবং যা কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, তা ঈসার উলুহিয়্যাত (ঐশ্বরিকতা) প্রমাণ করে, বিশেষ করে মৃতকে জীবিত করা।.

…

তৃতীয় দাবির প্রসঙ্গে বলা যায়:-

তা হলো তাদের এই দাবি যে, আল্লাহ ঈসা (আলাইহিস সালাম)-কে যে সকল মুজিজা (معجزات) দ্বারা শক্তিশালী করেছেন এবং যা কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, তা ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর উলুহিয়্যাত প্রমাণ করে, বিশেষ করে মৃতদের জীবিত করা। নাজরানের খ্রিস্টান প্রতিনিধি দল, যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসেছিল, তারা [ঈসা সম্পর্কে] তাদের এই বক্তব্যে যুক্তি পেশ করত যে, তিনিই আল্লাহ; কারণ তিনি মৃতকে জীবিত করতেন, রোগব্যাধি নিরাময় করতেন, অদৃশ্যের (غيوب) সংবাদ দিতেন এবং কাদা দিয়ে পাখির মতো আকৃতি তৈরি করতেন, অতঃপর তাতে ফুঁ দিতেন এবং সেটি পাখি হয়ে যেত। (২) অর্থাৎ সেই সকল মুজিজা (معجزات) এর মাধ্যমে যা দ্বারা আল্লাহ ঈসা (আলাইহিস সালাম)-কে সাহায্য করেছিলেন এবং যা কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(২) ইবনে হিশাম: "আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ", ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা: (৫৭৫)।
(খণ্ড: ১) ইফতিরাআতুল মুনাসসিরিন আলাল কুরআনিল কারীম আন্নাহু ইউআইয়িদু জাসমা উলুহিয়াতিল মাসীহ আলাইহিস সালাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
كما يقول العيسوي مخاطباً أبا عبيدة الخزرجي: "وفي الكتاب الذي جاء به صاحب شريعتك أنه [أي عيسى] أحيا الموتى وكفى بذلك دليلاً على أنه هو الله" (1) تعالى الله عن ذلك علواً كبيراً.

كما أن المنصر المشهور فندر زعم أن ما ورد في القرآن من أن عيسى خلق طيراً من الطين إنما هو من صفات الله وحده ذاهباً إلى أن القرآن يؤيد بذلك ألوهية المسيح (2) .

ويورد المنصر المعاصر يوسف الحداد قولاً مجملاً عن دلالة القرآن على ألوهية المسيح - بزعمه - وتفرده عن غيره من الأنبياء فضلاً عن سائر البشر فيقول: "إن القرآن يقرر بصورةٍ عامة أن المسيح آيةٌ في حداثته، آيه في رسالته، آيه في قداسته وكماله، آية في شخصيته، آية في انفراده، وأن هذه الشخصية في القرآن تسمو على جميع الأنبياء، وأن الآيات بمجملها لا يمكن إلا أن تترك في نفس القارئ فكرة عظيمة عن سمو المسيح حتى لتخرج به عن طبقة البشر وتترك الباب مفتوحاً لاعتقاد النصارى بألوهيته" (3) .

هذه من أبرز الإدعاءات التي زعم المنصرون قديماً وحديثاً إستناداً إليها أن القرآن يؤيد اعتقادهم بألوهية المسيح – عليه السلام وقد بدأت منذ عصر الرسول صلى الله عليه وسلم كما مر آنفاً - على يد نصارى عرب مثل: وفد نصارى نجران، ثم تبعهم فيما بعد عبد المسيح الكندي، وغيره.

--------------------------------------------

(1) "بين الإسلام والمسيحية"، ص: (75-76) .

(2) عبد الرحمن الجزيري: "أدلة اليقين" ص: (363) .

(3) نقلاً عن: محمد عزة دروزة: "القرآن والمبشرون" الطبعة الثانية (1392هـ-1972م) ، ص: (399) .
যেমন আল-ইসাউয়ি আবু উবাইদাহ আল-খাজরাজিকে সম্বোধন করে বলেন: "তোমার শরীয়ত প্রবর্তক যে কিতাব নিয়ে এসেছেন তাতে উল্লেখ আছে যে, তিনি [অর্থাৎ ঈসা] মৃতকে জীবিত করতেন এবং এটিই তিনি যে স্বয়ং আল্লাহ তার স্বপক্ষে যথেষ্ট দলিল" (১)। আল্লাহ তাআলা তাদের এই দাবি থেকে বহু ঊর্ধ্বে।

অনুরূপভাবে বিখ্যাত খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারক ফেন্ডার দাবি করেছেন যে, কুরআনে ঈসা (আ.) কর্তৃক কাদা দিয়ে পাখি তৈরির যে বর্ণনা এসেছে, তা মূলত একমাত্র আল্লাহরই গুণাবলি। তিনি এর মাধ্যমে এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, কুরআন মসিহের ঈশ্বরত্ব (ألوهية) সমর্থন করে (২)।

সমকালীন ধর্মপ্রচারক ইউসুফ আল-হাদ্দাদ মসিহের ঈশ্বরত্ব (ألوهية) —তার দাবি অনুযায়ী— এবং অন্যান্য নবী ও সাধারণ মানুষের তুলনায় তাঁর অনন্যতার বিষয়ে কুরআনের নির্দেশনার একটি সারসংক্ষেপ তুলে ধরে বলেন: "কুরআন সাধারণভাবে এটিই প্রতিষ্ঠিত করে যে, মসিহ তাঁর জন্মলগ্নে এক নিদর্শন, তাঁর রিসালাতে এক নিদর্শন, তাঁর পবিত্রতা ও পূর্ণতায় এক নিদর্শন, তাঁর ব্যক্তিত্বে এক নিদর্শন, তাঁর অনন্যতায় এক নিদর্শন; এবং কুরআনে বর্ণিত এই ব্যক্তিত্ব সকল নবীর ঊর্ধ্বে অবস্থান করে। এই আয়াতসমূহ সামগ্রিকভাবে পাঠকের মনে মসিহের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে এমন এক সুমহান ধারণা সৃষ্টি করে যা তাঁকে মানবীয় স্তরের ঊর্ধ্বে নিয়ে যায় এবং তাঁর ঈশ্বরত্ব (ألوهية) সম্পর্কে খ্রিস্টানদের বিশ্বাসের পথ উন্মুক্ত করে দেয়" (৩)।

এগুলো হলো সেই সব প্রধান দাবি যা প্রাচীন ও আধুনিক যুগের খ্রিস্টান ধর্মপ্রচারকরা মসিহ (আ.)-এর ঈশ্বরত্ব (ألوهية) সম্পর্কে তাদের বিশ্বাসের সমর্থনে কুরআনের উদ্ধৃতি দিয়ে পেশ করে থাকেন। ইতিপূর্বে যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, এই ধারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগ থেকেই আরব খ্রিস্টানদের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল—যেমন: নাজরানের খ্রিস্টান প্রতিনিধি দল, অতঃপর পরবর্তীতে তাদের অনুসরণ করেন আব্দুল মসিহ আল-কিন্দি এবং অন্যান্যরা।

--------------------------------------------

(১) "বাইনাল ইসলাম ওয়াল মাসিহিয়্যাহ", পৃষ্ঠা: (৭৫-৭৬)।

(২) আব্দুর রহমান আল-জাজিরি: "আদিল্লাতুল ইয়াকিন", পৃষ্ঠা: (৩৬৩)।

(৩) উদ্ধৃত: মুহাম্মদ ইজ্জাহ দারওয়াজাহ: "আল-কুরআন ওয়াল মুবাশশিরুন", দ্বিতীয় সংস্করণ (১৩৯২ হি.-১৯৭২ খ্রি.), পৃষ্ঠা: (৩৯৯)।
(খণ্ড: ১) ইফতিরাআতুল মুনাসসিরিন আলাল কুরআনিল কারীম আন্নাহু ইউআইয়িদু জাসমা উলুহিয়াতিল মাসীহ আলাইহিস সালাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
والمنصرون تبعاً لذلك وتطويراً له وصلوا إلى مرحلة خطيرة من التلبيس في عرض بهتانهم هذا وما شابهه على المسلمين، ولا سيما غير المتقنين للعربية. ثم إن هذا الأسلوب أسلوب فكري (هجومي) يخاطب عقل المسلم ويرمي إلى التأثير فيه من خلال مسلماته لزلزلة اعتقاده وإيمانه بربه سبحانه وتعالى، ومحاولة الوصول به في مرحلةٍ تاليةٍ إلى تنصيره إن لم يكن من المرحلة الأولى، ولخطورة هذا الأسلوب وما يتطلبه - فيما يرى الباحث - من مقدمات عامة يُستند إليها في الرد المفصل لاحقاً رُئي نقد هذه الادعاءات التي افتراها المنصرون على كتاب الله سبحانه وتعالى في المبحثين الآتيين على نحوٍ مجملٍ أولاً، ثم على نحوٍ مفصل - إن شاء الله تعالى - ثانياً.

ফলশ্রুতিতে এবং এরই ধারাবাহিকতায় খ্রিস্টান মিশনারিরা তাদের এই অপবাদ ও অনুরূপ বিষয়গুলো মুসলমানদের সামনে, বিশেষত যারা আরবি ভাষায় পারদর্শী নয় তাদের কাছে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে প্রতারণার (التلبيس) এক বিপজ্জনক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। অধিকন্তু, এই পদ্ধতিটি একটি বুদ্ধিবৃত্তিক (আক্রমণাত্মক) শৈলী যা মুসলিম মানসকে সম্বোধন করে এবং তার স্বতঃসিদ্ধ বিশ্বাসসমূহের মাধ্যমে তার ওপর প্রভাব বিস্তার করার লক্ষ্য রাখে, যাতে করে মহান রবের প্রতি তার আকিদা (اعتقاد) ও ঈমানকে টলিয়ে দেওয়া যায়। আর প্রথম পর্যায়ে সম্ভব না হলেও পরবর্তী ধাপে তাকে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার অপপ্রয়াস চালানো হয়। এই পদ্ধতির ভয়াবহতা এবং—গবেষকের দৃষ্টিতে—পরবর্তী বিস্তারিত খণ্ডনে (الرد) যে মৌলিক ভূমিকাগুলোর ওপর নির্ভর করা আবশ্যক, তার প্রেক্ষিতে আল্লাহর কিতাব সম্পর্কে মিশনারিদের উদ্ভাবিত এই মিথ্যা দাবিগুলোর সমালোচনা নিম্নোক্ত দুটি পরিচ্ছেদে প্রথমে সংক্ষিপ্ত আকারে এবং পরবর্তীতে বিস্তারিতভাবে—ইনশাআল্লাহ—আলোচনা করা সমীচীন মনে হয়েছে।

(খণ্ড: ১) ইফতিরাআতুল মুনাসসিরিন আলাল কুরআনিল কারীম আন্নাহু ইউআইয়িদু জাসমা উলুহিয়াতিল মাসীহ আলাইহিস সালাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌المبحث الثاني: رد إجمالي على ما سبق من ادعاءات المنصرين على القرآن:

‌‌أولاً:- وحدانية الله من خلال القرآن وكتب العهدين.

…

المبحث الثاني: رد إجمالي على ما سبق من ادعاءات المنصرين على القرآن:

هناك أدلة عامة ومجملة تفند ادعاءات المنصرين بأن القرآن يؤيد ما زعموه من ألوهية عيسى عليه السلام سواء من خلال القرآن نفسه أو من خلال التوراة أو الانجيل.

وقد رُتبت هذه الأدلة في الموضوعات الآتية:

أولاً:- وحدانية الله من خلال القرآن وكتب العهدين.

ثانياً:- نفي الألوهية عن عيسى – عليه السلام من خلال القرآن والأناجيل.

ثالثاً:- بشرية عيسى عليه السلام وعبوديته من خلال القرآن والأناجيل.

رابعاً:- نبوة عيسى عليه السلام ورسالته من خلال القرآن والأناجيل.

والآن وقت الشروع في تفصيل هذه الموضوعات:
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনের বিষয়ে মিশনারিদের পূর্বোক্ত দাবিগুলোর সামগ্রিক খণ্ডন:

প্রথমত: কুরআন এবং উভয় বাইবেলের (পুরাতন ও নতুন নিয়ম) কিতাবসমূহের আলোকে আল্লাহর একত্ববাদ।.

…

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: কুরআনের বিষয়ে মিশনারিদের পূর্বোক্ত দাবিগুলোর সামগ্রিক খণ্ডন:

এখানে কিছু সাধারণ ও সংক্ষিপ্ত প্রমাণ রয়েছে যা মিশনারিদের এই দাবিকে নস্যাৎ করে দেয় যে, কুরআন ঈসা আলাইহিস সালামের প্রভুত্ব সম্পর্কে তাদের দাবিকৃত বিষয়কে সমর্থন করে; চাই তা স্বয়ং কুরআনের মাধ্যমে হোক কিংবা তাওরাত বা ইঞ্জিলের মাধ্যমে।

এই প্রমাণগুলো নিম্নলিখিত বিষয়গুলোতে বিন্যস্ত করা হয়েছে:

প্রথমত: কুরআন এবং উভয় বাইবেলের কিতাবসমূহের আলোকে আল্লাহর একত্ববাদ।

দ্বিতীয়ত: কুরআন এবং ইঞ্জিলসমূহের আলোকে ঈসা আলাইহিস সালামের প্রভুত্ব বা উপাস্য হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করা।

তৃতীয়ত: কুরআন এবং ইঞ্জিলসমূহের আলোকে ঈসা আলাইহিস সালামের মানবিক সত্তা ও তাঁর দাসত্ব।

চতুর্থত: কুরআন এবং ইঞ্জিলসমূহের আলোকে ঈসা আলাইহিস সালামের নবুওয়াত ও রিসালাত।

আর এখন এই বিষয়গুলোর বিস্তারিত আলোচনার সূচনা করার সময়:
(খণ্ড: ১) ইফতিরাআতুল মুনাসসিরিন আলাল কুরআনিল কারীম আন্নাহু ইউআইয়িদু জাসমা উলুহিয়াতিল মাসীহ আলাইহিস সালাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
أولاً: وحدانية الله (1) من خلال القرآن وكتب العهدين:

أنزل الله سبحانه وتعالى التوراة على رسوله موسى عليه السلام وأنزل الإنجيل على رسوله عيسى عليه السلام ثم دخلهما التحريف بعد ذلك. وعلى الرغم من هذا إلا أن الموجود منها اليوم فيه ما يدل دلالة واضحة على وحدانية الله سبحانه وتعالى وأنه لا يشاركه في ألوهيته أحدٌ لا نبي مرسل ولا ملك مقرب فهما في هذه الجزئية - المصطلح عليها في هذا البحث - يوافقان القرآن الكريم.

وفيما يلي عرض لهذه الوحدانية في القرآن أولاً ثم في التوراة والإنجيل:

أ- وحدانية الله سبحانه وتعالى من خلال القرآن الكريم:

إن النصوص الدالة على وحدانية الله في القرآن الكريم كثيرة جداً بل إن القرآن كله ناطق بتوحيد الله جل جلاله حق التوحيد، ولكن لاكتمال الرد على المنصرين ولبيان أنهم ينتقون من القرآن ما يزعمون أنه يؤيدهم، وأنه يُمْكِنُ لهم صرفه إلى مرادهم الذي يوافق أهواءهم، ويتركون المحكم الواضح

--------------------------------------------

(1) المقصود بالوحدانية - في هذا البحث - ما يقابل التثليث، أي أن الله سبحانه وتعالى واحدٌ أحدٌ ليس معه إلهٌ غيره فضلاً عن آلهة أخرى، كما أنه ليس ثالث ثلاثة كما يزعم النصارى وليس المقصود بذلك وحدانية الله في أسمائه وصفاته وعبادته وربوبيته ذلك أن اليهود - كما هو معلوم - في باب الصفات مجسمة، والنصارى مجسدة، والمسلمون السائرون على منهج السلف الصالح - رضوان الله عليهم - من الصحابة ومن تبعهم بإحسانٍ يؤمنون بما وصف الله به نفسه ووصفه به رسوله صلى الله عليه وسلم من غير تحريف ولا تمثيل ولا تشبيه ولا تعطيل ولا تكييف. فالجزئية التي سوف يُستدل عليها من التوراة أو الأناجيل هي هذه الوحدانية المصطلح عليها آنفاً فقط.
প্রথমত: কুরআন ও উভয় নিয়মের (ওল্ড ও নিউ টেস্টামেন্ট) কিতাবসমূহের আলোকে আল্লাহর একত্ববাদ (১):

মহান আল্লাহ তাঁর রাসূল মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর ওপর তাওরাত অবতীর্ণ করেছেন এবং তাঁর রাসূল ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর ওপর ইঞ্জিল অবতীর্ণ করেছেন; অতঃপর সেগুলোতে বিকৃতি প্রবেশ করেছে। তা সত্ত্বেও বর্তমানে এগুলোর মধ্যে যা বিদ্যমান রয়েছে, তাতে মহান আল্লাহর একত্ববাদের ওপর স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায় এবং এ কথাও প্রমাণিত হয় যে, তাঁর উলুহিয়্যাত বা উপাস্য হওয়ার ক্ষেত্রে কেউ তাঁর অংশীদার নয়—না কোনো প্রেরিত নবী (مرسل), আর না কোনো নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতা। সুতরাং এই বিশেষ দিকটিতে—যা এই গবেষণায় পরিভাষা হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে—উক্ত কিতাবদ্বয় পবিত্র কুরআনের সাথে একমত।

নিম্নে প্রথমে কুরআন এবং এরপর তাওরাত ও ইঞ্জিলে বর্ণিত এই একত্ববাদের একটি উপস্থাপনা পেশ করা হলো:

ক- পবিত্র কুরআনের আলোকে মহান আল্লাহর একত্ববাদ:

পবিত্র কুরআনে আল্লাহর একত্ববাদের সপক্ষে বিদ্যমান দলিলসমূহ অগণিত; বরং গোটা কুরআনই মহান আল্লাহর যথার্থ তাওহিদের কথা ঘোষণা করে। তবে খ্রিষ্টান মিশনারিদের উপযুক্ত জবাব দেওয়ার জন্য এবং তারা কুরআন থেকে তাদের দাবির সপক্ষে যা চয়ন করে—যা তারা মনে করে তাদের সমর্থন করে এবং যেটিকে তারা নিজেদের খেয়ালখুশি অনুযায়ী ব্যাখ্যা করতে সক্ষম এবং এর মাধ্যমে তারা সুস্পষ্ট সুদৃঢ় (محكم) বিষয়সমূহ বর্জন করে—তা স্পষ্ট করার জন্যই এই আলোচনা।

--------------------------------------------

(১) এই গবেষণায় একত্ববাদ বলতে 'ত্রিত্ববাদ'-এর বিপরীত অর্থ বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ মহান আল্লাহ একক ও অদ্বিতীয়, তাঁর সাথে অন্য কোনো উপাস্য নেই, অন্য অনেক উপাস্য থাকা তো দূরের কথা। তেমনিভাবে তিনি 'তিনজনের মধ্যে তৃতীয়' নন যেমনটি খ্রিষ্টানরা দাবি করে। এখানে আল্লাহর নাম, গুণাবলি, ইবাদত ও রুবুবিয়্যাতের একত্ববাদ উদ্দেশ্য নয়। কারণ এটি সুপরিচিত যে, সিফাত বা গুণাবলির ক্ষেত্রে ইহুদিরা হলো আল্লাহর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সাব্যস্তকারী (মুজাসসিমা) এবং খ্রিষ্টানরা হলো দেহবাদী। পক্ষান্তরে সাহাবী (الصحابة) এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন—এমন সালাফে সালেহীনদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) মানহাজ অনুসরণকারী মুসলিমগণ আল্লাহ নিজের জন্য যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর যে গুণাবলি বর্ণনা করেছেন সেগুলোর ওপর কোনো প্রকার বিকৃতি, উপমা, তুলনা, অর্থহীন করা এবং ধরন নির্ধারণ ছাড়াই বিশ্বাস স্থাপন করেন। সুতরাং তাওরাত বা ইঞ্জিল থেকে যে বিষয়টি দলিল হিসেবে পেশ করা হবে, তা হলো কেবল পূর্বোক্ত পরিভাষায় বর্ণিত এই একত্ববাদ।
(খণ্ড: ১) ইফতিরাআতুল মুনাসসিরিন আলাল কুরআনিল কারীম আন্নাহু ইউআইয়িদু জাসমা উলুহিয়াতিল মাসীহ আলাইহিস সালাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
الذي يُرد عليهم افتراءاتهم، آثرت الاكتفاء بالآيات التي تبين التوحيد بأكثر من طريق وبخاصة تلك الآيات التي ترد على النصارى مبينةً التوحيد ونافية الشريَك عن الله سبحانه وتعالى أو ألوهية غيره، أو كونه ثالث ثلاثة، أو أن له ولداً أو اتخذ صاحبة إلى غير ذلك من الآيات المحكمات التي تبين حقيقة التوحيد صافٍ من أدران الشرك والتثليث والبنوة وغيرها. فمن ذلك:

1- يقول الله - تعالى: {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ اللَّهُ الصَّمَدُ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُواً أَحَدٌ} (الإخلاص) . فهذه السورة الكريمة نص في أن الله واحدٌ أحد، وأنه لم يلد ولم يولد فليس له ابن لا عيسى عليه السلام ولا غيره، ولا يشاركه في وحدانيته أحد.

2- يقول تعالى: {وَقَالَ اللَّهُ لا تَتَّخِذُوا إِلَهَيْنِ اثْنَيْنِ إِنَّمَا هُوَ إِلَهٌ وَاحِدٌ فَإِيَّايَ فَارْهَبُونِ} (النحل،: (51) . وهنا نهى الله سبحانه وتعالى عن اتخاذ إلهين وأبان - سبحانه على الحصر أنما هو إله واحد لا إله غيره.

3- يقول تعالى: {قُلْ أَيُّ شَيْءٍ أَكْبَرُ شَهَادَةً قُلِ اللَّهُ شَهِيدٌ بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ وَأُوحِيَ إِلَيَّ هَذَا الْقُرْآنُ لِأُنْذِرَكُمْ بِهِ وَمَنْ بَلَغَ أَإِنَّكُمْ لَتَشْهَدُونَ أَنَّ مَعَ اللَّهِ آلِهَةً أُخْرَى قُلْ لا أَشْهَدُ قُلْ إِنَّمَا هُوَ إِلَهٌ وَاحِدٌ وَإِنَّنِي بَرِيءٌ مِمَّا تُشْرِكُونَ} (الأنعام: 19)

4- قال - جل وعلا - {لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلَّا اللَّهُ لَفَسَدَتَا فَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُونَ} (الأنبياء: 22) .
যারা তাদের অপবাদের প্রত্যুত্তর দেন, (তাদের বক্তব্যের পরিবর্তে) আমি এমন কিছু আয়াতের ওপর সীমাবদ্ধ থাকাকেই শ্রেয় মনে করেছি যা তাওহিদকে বহুমুখী পন্থায় বর্ণনা করে। বিশেষত সেই আয়াতগুলো যা নাসারাদের (খ্রিস্টানদের) জবাব দেয়—তাওহিদকে সুস্পষ্ট করে এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার সাথে কোনো অংশীদার থাকাকে, অন্যের উপাস্য হওয়াকে, তাঁর তিনের তৃতীয় হওয়াকে, তাঁর সন্তান থাকাকে কিংবা তাঁর স্ত্রী গ্রহণ করাকে অস্বীকার করে। এছাড়াও আরও অনেক সুদৃঢ় ও সুস্পষ্ট (محكمات) আয়াত রয়েছে যা শিরক, ত্রিত্ববাদ, পুত্রত্ব এবং অন্যান্য কলুষতা থেকে মুক্ত তাওহিদের প্রকৃত স্বরূপ তুলে ধরে। তার মধ্যে কিছু নিম্নরূপ:

1- আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: {বলুন, তিনিই আল্লাহ, অদ্বিতীয়। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাঁকে জন্ম দেয়নি। আর তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।} (আল-ইখলাস)। এই মহিমান্বিত সূরাটি একটি সুস্পষ্ট বর্ণনা (نص) যে, আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং নিজেও জন্মলাভ করেননি; সুতরাং তাঁর কোনো সন্তান নেই—না ঈসা (আলাইহিস সালাম) আর না অন্য কেউ। তাঁর একত্ববাদে অন্য কেউ অংশীদার নেই।

2- আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: {আর আল্লাহ বললেন, তোমরা দুই ইলাহ গ্রহণ করো না; তিনিই তো একমাত্র ইলাহ। সুতরাং তোমরা আমাকেই ভয় করো।} (আন-নাহল: ৫১)। এখানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা দুই ইলাহ গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন এবং তিনি সীমাবদ্ধকরণের (حصر) মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি একমাত্র ইলাহ, তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই।

3- আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: {বলুন, সাক্ষ্যের দিক দিয়ে সবচেয়ে বড় কী? বলুন, আল্লাহ আমার ও তোমাদের মধ্যে সাক্ষী। আর আমার নিকট এই কুরআন ওহী করা হয়েছে যাতে এর মাধ্যমে আমি তোমাদেরকে এবং যার নিকট এটি পৌঁছাবে তাদেরকে সতর্ক করি। তোমরা কি সত্যিই সাক্ষ্য দাও যে, আল্লাহর সাথে অন্য ইলাহও আছে? বলুন, আমি সাক্ষ্য দেই না। বলুন, তিনিই তো একমাত্র ইলাহ এবং তোমরা যা শরিক করো তা থেকে আমি অবশ্যই মুক্ত।} (আল-আনআম: ১৯)

4- আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা ইরশাদ করেন: {যদি নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলে আল্লাহ ছাড়া আরও ইলাহ থাকত, তবে উভয়ই বিশৃঙ্খল হয়ে যেত। সুতরাং তারা যা বর্ণনা করে, তা থেকে আরশের মালিক আল্লাহ অতি পবিত্র।} (আল-আম্বিয়া: ২২)।
(খণ্ড: ১) ইফতিরাআতুল মুনাসসিরিন আলাল কুরআনিল কারীম আন্নাহু ইউআইয়িদু জাসমা উলুহিয়াতিল মাসীহ আলাইহিস সালাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
5- وقال تعالى: {اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَاباً مِنْ دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَهاً وَاحِداً لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ} (التوبة:31) .

6- ويقول - تعالى: {قُلْ لَوْ كَانَ مَعَهُ آلِهَةٌ كَمَا يَقُولُونَ إِذاً لَابْتَغَوْا إِلَى ذِي الْعَرْشِ سَبِيلاً} (الإسراء:42) .

7- ويقول - تعالى: {مَا اتَّخَذَ اللَّهُ مِنْ وَلَدٍ وَمَا كَانَ مَعَهُ مِنْ إِلَهٍ إِذاً لَذَهَبَ كُلُّ إِلَهٍ بِمَا خَلَقَ وَلَعَلا بَعْضُهُمْ عَلَى بَعْضٍ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يَصِفُونَ} (المؤمنون:91) .

8- ويقول تعالى: {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ وَلا تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِنْهُ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَلا تَقُولُوا ثَلاثَةٌ انْتَهُوا خَيْراً لَكُمْ إِنَّمَا اللَّهُ إِلَهٌ وَاحِدٌ سُبْحَانَهُ أَنْ يَكُونَ لَهُ وَلَدٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَكَفَى بِاللَّهِ وَكِيلاً} (النساء:171) .

9- وقال تعالى: {لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ ثَالِثُ ثَلاثَةٍ وَمَا مِنْ إِلَهٍ إِلَّا إِلَهٌ وَاحِدٌ وَإِنْ لَمْ يَنْتَهُوا عَمَّا يَقُولُونَ لَيَمَسَّنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} (المائدة:73) .

10- وقال عز وجل {وَقَالَتِ الْيَهُودُ عُزَيْرٌ ابْنُ اللَّهِ وَقَالَتِ النَّصَارَى الْمَسِيحُ ابْنُ اللَّهِ ذَلِكَ قَوْلُهُمْ بِأَفْوَاهِهِمْ يُضَاهِئُونَ قَوْلَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَبْلُ قَاتَلَهُمُ اللَّهُ أَنَّى يُؤْفَكُونَ} (التوبة:30) .
৫- মহান আল্লাহ বলেন: {তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পন্ডিত ও সংসারবিরাগীদের প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে এবং মারইয়ামের পুত্র মাসীহকেও; অথচ তারা কেবল এক ইলাহের ইবাদত করার জন্য আদিষ্ট হয়েছিল। তিনি ছাড়া অন্য কোনো (সত্য) উপাস্য নেই। তারা যা শরিক করে, তিনি তা থেকে পবিত্র।} (আত-তাওবাহ: ৩১) ।

৬- মহান আল্লাহ বলেন: {বলুন, তাদের কথামতো যদি তাঁর সাথে আরও অনেক ইলাহ থাকত, তবে তারা আরশের অধিপতির (সাথে মোকাবিলা করার) কোনো না কোনো পথ খুঁজত।} (আল-ইসরা: ৪২) ।

৭- মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ কোনো সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে কোনো ইলাহ নেই। থাকলে প্রত্যেক ইলাহ নিজ নিজ সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে যেত এবং একে অপরের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করত। তারা যা বর্ণনা করে তা থেকে আল্লাহ কতই না পবিত্র!} (আল-মুমিনুন: ৯১) ।

৮- মহান আল্লাহ বলেন: {হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর নামে সত্য ছাড়া কিছু বলো না। মারইয়াম-পুত্র ঈসা মাসীহ তো আল্লাহর রাসুল এবং তাঁর বাণী, যা তিনি মারইয়ামের নিকট পাঠিয়েছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে এক রূহ। সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলগণের ওপর ঈমান আনো এবং বলো না যে, (উপাস্য) তিন। তোমরা বিরত হও, তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর হবে। আল্লাহ তো কেবল এক ইলাহ; তাঁর কোনো সন্তান হওয়া থেকে তিনি পবিত্র। আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁরই। আর কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট।} (আন-নিসা: ১৭১) ।

৯- মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই তারা কুফরি করেছে যারা বলে, আল্লাহ তো তিনের একজন; অথচ এক ইলাহ ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। তারা যা বলে তা থেকে যদি বিরত না হয়, তবে তাদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে তাদের ওপর অবশ্যই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে।} (আল-মায়িদাহ: ৭৩) ।

১০- এবং পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ বলেন: {আর ইহুদিরা বলে, উযায়ের আল্লাহর পুত্র এবং খ্রিষ্টানরা বলে, মাসীহ আল্লাহর পুত্র। এগুলো তাদের মুখের কথা। তারা পূর্ববর্তী কাফিরদের কথার অনুকরণ করছে। আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন! তারা সত্য বিচ্যুত হয়ে কোথায় যাচ্ছে?} (আত-তাওবাহ: ৩০) ।
(খণ্ড: ১) ইফতিরাআতুল মুনাসসিরিন আলাল কুরআনিল কারীম আন্নাহু ইউআইয়িদু জাসমা উলুহিয়াতিল মাসীহ আলাইহিস সালাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
هذه الآيات غيض من فيضٍ، ذلك أن القرآن الكريم مليء بأدلة وحدانية الله سبحانه وتعالى وتوحيده حق التوحيد كما هو معلوم لكن منهج النصارى والمنصرين التلبيس والتضليل.

ب- وحدانية الله سبحانه وتعالى من خلال التوراة:

تدل التوراة الحالية على وحدانية الله سبحانه وتعالى وفق ما اصطلح عليه سابقاً (1) - بوضوح، ولذا فإن هذه الوحدانية من العقائد الأساسية لليهودية التي تخالف فيها النصرانية الحالية مخالفةً جذرية وتتفق فيها مع الإسلام على سبيل الإجمال.

وإن من نصوص التوراة التي تدل على وحدانية الله سبحانه وتعالى وأنه الله الذي لا إله غيره ما يلي:

1- جاء في التوراة قوله: "اسمع يا إسرائيل الرب إلهنا رب واحدٌ فتحب الرب إلهك من كل قلبك، ومن كل نفسك، ومن كل قوتك - الرب الهك تتقي وإياه تعبد وباسمه تحلف، لا تسيروا وراء آلهةٍ أخرى من آلهة الأمم التي حولكم" (2) .

2- وجاء فيها: "أنا الرب وليس آخر، لا إله سواي - لكي يعلموا من مشرق الشمس ومن مغربها أن ليس غيري أنا الرب وليس آخر" (3) .

3- وجاء فيها: "أليس أنا الرب، ولا إله آخر غيري إلهٌ بار ومخلص ليس سواي" (4) .

--------------------------------------------

(1) انظر ص: (10) .

(2) التثنيه: (6:4-14) .

(3) اشعياء: (45: 5-6) .

(4) اشعياء: (45: 21) .
এই আয়াতগুলো বিশাল সমুদ্রের এক বিন্দু সদৃশ, কারণ পবিত্র কুরআন মহান আল্লাহর একত্ববাদ এবং তাঁর যথার্থ তাওহীদের প্রমাণে পরিপূর্ণ—যেমনটি সর্বজনবিদিত; তবে খ্রিষ্টান ও মিশনারিদের অনুসৃত পদ্ধতি হলো সত্য গোপন করা ও বিভ্রান্তি ছড়ানো।

খ- তাওরাতের আলোকে মহান আল্লাহর একত্ববাদ:

বর্তমান তাওরাত মহান আল্লাহর একত্ববাদের প্রতি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে—যেমনটি পূর্বে (১) পারিভাষিক সংজ্ঞায় আলোচিত হয়েছে। তাই এই একত্ববাদ ইহুদি ধর্মের এমন এক মৌলিক আকিদা বা বিশ্বাস, যা বর্তমান খ্রিষ্টধর্মের আকিদার সাথে আমূল বৈপরীত্য রাখে এবং সাধারণভাবে ইসলামের সাথে সংগতিপূর্ণ।

তাওরাতের যেসব ভাষ্য মহান আল্লাহর একত্ববাদ এবং তিনি ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই—তা প্রমাণ করে, সেগুলো হলো:

১- তাওরাতে এসেছে: "হে ইসরায়েল শ্রবণ করো, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ এক প্রতিপালক। সুতরাং তুমি তোমার প্রতিপালক আল্লাহকে তোমার সমস্ত অন্তর দিয়ে, তোমার সমস্ত প্রাণ দিয়ে এবং তোমার সমস্ত শক্তি দিয়ে ভালোবাসবে। তোমার প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করবে, তাঁরই ইবাদত করবে এবং তাঁর নামেই শপথ করবে। তোমাদের চারপাশের জাতিগুলোর অন্যান্য মাবুদের অনুসরণ করো না।" (২)

২- এতে আরও এসেছে: "আমিই প্রতিপালক এবং অন্য কেউ নেই, আমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই—যাতে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত মানুষ জানতে পারে যে, আমি ব্যতীত আর কেউ নেই; আমিই প্রতিপালক এবং অন্য কেউ নেই।" (৩)

৩- এতে আরও এসেছে: "আমি কি প্রতিপালক নই? আমি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই; সত্যনিষ্ঠ ও ত্রাণকর্তা ইলাহ আমি ব্যতীত আর কেউ নেই।" (৪)

--------------------------------------------

(১) দেখুন পৃষ্ঠা: (১০)।

(২) দ্বিতীয় বিবরণ (Deuteronomy): (৬:৪-১৪)।

(৩) ইশাইয়া (Isaiah): (৪৫: ৫-৬)।

(৪) ইশাইয়া (Isaiah): (৪৫: ২১)।
(খণ্ড: ১) ইফতিরাআতুল মুনাসসিরিন আলাল কুরআনিল কারীম আন্নাহু ইউআইয়িদু জাসমা উলুহিয়াতিল মাসীহ আলাইহিস সালাম (পৃষ্ঠা: ২০)
4- وجاء فيها: "إنك قد أُريت لتعلم أن الرب هو الإله ليس آخر سواه فاعلم اليوم وردد في قلبك أن الرب هو الإله في السماء فوق وعلى الأرض من أسفل ليس سواه" (1) .

5- وجاء فيها "أنا الرب إلهك الذي أخرجك من أرض مصر من بيت العبودية لا يكن لك آلهة أخرى أمامي" (2) .

فهذه نصوص واضحة في الدلالة على وحدانية الله سبحانه وتعالى من خلال التوراة وهي بذلك تتفق مع ماجاء في القرآن الكريم، ولذا تتفق اليهودية مع الإسلام في هذه العقيدة - على نحو عام - بينما تشذ النصرانية الحالية عن هذين الدينين السماويين وتضاهي الذين كفروا من قبل حيث تعتقد بالتثليث بكل ما يستلزمه ذلك من ألوهية لعبد الله ورسوله عيسى بن مريم – عليه السلام ومن بنوته لله - تعالى الله عن ذلك علواً كبيراً - إلى غير ذلك من أمور شركية.

ج- وحدانية الله سبحانه وتعالى من خلال الأناجيل:

على الرغم مما يعتقده النصارى من تثليث وما دخل الأناجيل من تحريف إلا أن في الأناجيل الحالية من الأقوال المنسوبة لعيسى – عليه السلام – ما يدل دلالة واضحة على وحدانية الله سبحانه وتعالى فمن ذلك:

1- جاء في الإنجيل قوله: "فأجابه يسوع (3) [عيسى] : إن أول كل الوصايا هي: اسمع يا إسرائيل الرب إلهنا رب واحد وتحب الرب إلهك من كل

--------------------------------------------

(1) التثنية: (4: 35-39) .

(2) التثنية: (5: 6-7) ، وانظر النص نفسه مكرراً في الخروج: (20: 2-3) .

(3) يسوع هي: الصيغة اليونانية للاسم العبري (يشوع) . [انظر حنا الله جرجس ووهيب مالك: القاموس الموجز للكتاب المقدس: ج (2) ، ص: (743) ] والمقصود به عيسى عليه السلام.
4- সেখানে বর্ণিত হয়েছে: "তোমাকে এসব দেখানো হয়েছে যাতে তুমি জানতে পারো যে, মহান প্রতিপালকই একমাত্র উপাস্য, তিনি ছাড়া আর কেউ নেই। অতএব আজ তুমি জেনে নাও এবং তোমার অন্তরে গেঁথে নাও যে, উপরে আসমানে এবং নিচে জমিনে মহান প্রতিপালকই একমাত্র উপাস্য, তিনি ছাড়া আর কেউ নেই।" (১) ।

5- সেখানে আরও এসেছে: "আমিই তোমার প্রতিপালক উপাস্য, যিনি তোমাকে মিসর দেশ থেকে অর্থাৎ দাসত্বের ঘর থেকে বের করে এনেছেন। আমার সামনে তোমার অন্য কোনো উপাস্য যেন না থাকে।" (২) ।

তাওরাতের এই পাঠ্যসমূহ মহান আল্লাহর একত্ববাদের ওপর সুস্পষ্ট প্রমাণ, যা পবিত্র কুরআনের বাণীর সাথেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই কারণে ইহুদি ধর্ম—সাধারণভাবে—এই আকিদার ক্ষেত্রে ইসলামের সাথে ঐকমত্য পোষণ করে। পক্ষান্তরে বর্তমান খ্রিস্টধর্ম এই দুটি আসমানি ধর্ম থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং পূর্ববর্তী কাফিরদের সাদৃশ্য গ্রহণ করেছে। তারা ত্রিত্ববাদে বিশ্বাস করে এবং এর আবশ্যিক ফলাফল হিসেবে আল্লাহর বান্দা ও রাসূল ঈসা ইবনে মারিয়াম—আলাইহিস সালাম—কে উপাস্য হিসেবে সাব্যস্ত করে এবং আল্লাহর পুত্র হিসেবে দাবি করে—আল্লাহ তাআলা তাদের এই দাবি থেকে বহু ঊর্ধ্বে এবং অতি পবিত্র। এছাড়াও এতে অন্যান্য শিরকি বিষয়াদি বিদ্যমান রয়েছে।

গ- ইঞ্জিলসমূহের আলোকে মহান আল্লাহর একত্ববাদ:

খ্রিস্টানদের ত্রিত্ববাদী বিশ্বাস এবং ইঞ্জিলের মধ্যে অনুপ্রবেশকৃত বিকৃতি (تحريف) সত্ত্বেও বর্তমান ইঞ্জিলসমূহে ঈসা—আলাইহিস সালাম—এর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত (منسوب) এমন কিছু বক্তব্য রয়েছে, যা মহান আল্লাহর একত্ববাদের ওপর সুস্পষ্ট প্রমাণ বহন করে। যেমন:

1- ইঞ্জিলে তাঁর উক্তি এসেছে: "যীশু (৩) [ঈসা] তাকে উত্তর দিলেন: সকল আদেশের মধ্যে প্রধান আদেশ হলো: হে ইসরায়েল শোনো, আমাদের প্রতিপালক প্রভু এক; এবং তুমি তোমার প্রতিপালক প্রভুকে তোমার সমস্ত অন্তর দিয়ে ভালোবাসবে..."

--------------------------------------------

(১) দ্বিতীয় বিবরণ: (৪: ৩৫-৩৯)।

(২) দ্বিতীয় বিবরণ: (৫: ৬-৭); এবং একই পাঠ্যের পুনরাবৃত্তি দেখুন যাত্রাপুস্তক: (২০: ২-৩)।

(৩) 'যীশু' হলো হিব্রু নাম 'যিহোশূয়'-এর গ্রিক রূপ। [দেখুন হান্নাল্লাহ জিরজিস ও ওয়াহিব মালিক: আল-কামুস আল-মুজিজ লিল-কিতাব আল-মুকাদ্দাস: খণ্ড (২), পৃষ্ঠা: (৭৪৩)]। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঈসা আলাইহিস সালাম।
(খণ্ড: ১) ইফতিরাআতুল মুনাসসিরিন আলাল কুরআনিল কারীম আন্নাহু ইউআইয়িদু জাসমা উলুহিয়াতিল মাসীহ আলাইহিস সালাম (পৃষ্ঠা: ২১)
قلبك، ومن كل نفسك، ومن كل فكرك، ومن كل قدرتك، هذه هي الوصية الأولى، وثانية مثلها ليس وصية أخرى أعظم من هاتين فقال له الكاتب جيداً يا معلم بالحق قلت لأنه الله واحد وليس آخر سواه" (1) .

2- جاء فيها قوله "وهذه هي الحياة الأبدية أن يعرفوك أنت الإله الحقيقي وحدك وأن يسوع المسيح الذي أرسلته" (2) ففي هذا النص بيان واضح أن الله هو الإله الحق وحده سبحانه وتعالى فلا إله غيره، كما أن النص أبان أن عيسى عليه السلام هو الرسول الذي أرسله الله آنذاك.

ولذا يذكر عبد الأحد داود أن هذا النص يشبه قولنا: أشهد أن لا إله إلا الله وأن محمداً رسول الله (3) . وهو كما قال، بل إن هذا النص وحده كافٍ في بيان وحدانية الله سبحانه وتعالى من الأناجيل وأن عيسى عبد الله ورسوله.

3- جاء في الأناجيل -كما زعموا- أن الشيطان طلب من عيسى أن يسجد له فقال له عيسى: اذهب يا شيطان لأنه مكتوب للرب الهك تسجد وإياه وحده تعبد" (4) . وهذا إيضاح من المسيح عليه السلام إن كان النص صحيحا ً- يرد به على الشيطان أنه لا يسجد إلا لله وحده ولا يعبد إلا إياه. وهذا موضح لوحدانية الله سبحانه وتعالى في ربوبيته وفي عبادته وموضح لعبودية عيسى وبشريته عليه السلام.

--------------------------------------------

(1) مرقس: (12: 28-34) وانظر: متى (2: 35-39) .

(2) يوحنا (17: 3) .

(3) انظر: عبد الأحد داود: "الإنجيل والصليب" تعريب مسلم عراقي، (القاهرة، 1350هـ) ص:159.

(4) متى: (4: 10) .
...আপনার অন্তর দিয়ে, আপনার সমস্ত প্রাণ দিয়ে, আপনার সমস্ত চিন্তা দিয়ে এবং আপনার সমস্ত শক্তি দিয়ে; এটিই হলো প্রথম আদেশ। দ্বিতীয়টি এর সদৃশ, এই দুটির চেয়ে মহান অন্য কোনো আদেশ নেই। তখন লেখক তাঁকে বললেন, হে শিক্ষক, আপনি যথার্থই বলেছেন যে আল্লাহ এক এবং তিনি ছাড়া অন্য কেউ নেই" (১)।

২- এতে তাঁর এই উক্তি এসেছে: "আর এটিই হলো অনন্ত জীবন যে, তারা আপনাকে একমাত্র সত্য উপাস্য হিসেবে জানবে এবং ঈসা মসিহকে, যাকে আপনি পাঠিয়েছেন" (২)। এই পাঠ্যটিতে স্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে যে, আল্লাহই একমাত্র সত্য ইলাহ, তিনি মহাপবিত্র ও সুউচ্চ, তিনি ছাড়া আর কোনো ইলাহ নেই। তেমনিভাবে এই পাঠ্যটি এটিও স্পষ্ট করেছে যে, ঈসা আলাইহিস সালাম হলেন সেই রাসুল যাকে আল্লাহ সেই সময়ে পাঠিয়েছিলেন।

এই কারণে আব্দুল আহাদ দাউদ উল্লেখ করেছেন যে, এই পাঠ্যটি আমাদের এই বাণীর সদৃশ: "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসুল" (৩)। তিনি যেমনটি বলেছেন বিষয়টি তেমনই, বরং ইনজিলসমূহ থেকে আল্লাহর একত্ববাদ এবং ঈসা (আ.) যে আল্লাহর বান্দা ও রাসুল তা প্রমাণের জন্য এই একটি পাঠ্যই যথেষ্ট।

৩- ইনজিলসমূহে এসেছে—যেমনটি তারা দাবি করে—শয়তান ঈসা (আ.)-এর কাছে তাকে সেজদা করার দাবি জানায়। তখন ঈসা (আ.) তাকে বললেন: "হে শয়তান, দূর হও! কারণ লেখা আছে যে, তুমি তোমার প্রতিপালক প্রভুকে সেজদা করবে এবং কেবল তাঁরই ইবাদত করবে" (৪)। এটি মসিহ আলাইহিস সালামের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট বর্ণনা—যদি পাঠ্যটি সহিহ (صحيح) হয়—যার মাধ্যমে তিনি শয়তানের প্রতিবাদ করেছেন যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সেজদা করা যাবে না এবং কেবল তাঁরই ইবাদত করতে হবে। এটি আল্লাহর রুবুবিয়্যাহ ও ইবাদতে তাঁর একত্ববাদের সুস্পষ্ট প্রমাণ এবং ঈসা (আ.)-এর দাসত্ব ও তাঁর মানবীয় বৈশিষ্ট্যেরও পরিচায়ক।

--------------------------------------------

(১) মার্ক: (১২: ২৮-৩৪) এবং দেখুন: মথি (২: ৩৫-৩৯)।

(২) ইউহোন্না (১৭: ৩)।

(৩) দেখুন: আব্দুল আহাদ দাউদ: "আল-ইনজিল ওয়া আস-সালিদ", অনুবাদ: মুসলিম ইরাকি, (কায়রো, ১৩৫০ হিজরি) পৃষ্ঠা: ১৫৯।

(৪) মথি: (৪: ১০)।
(খণ্ড: ১) ইফতিরাআতুল মুনাসসিরিন আলাল কুরআনিল কারীম আন্নাহু ইউআইয়িদু জাসমা উলুহিয়াতিল মাসীহ আলাইহিস সালাম (পৃষ্ঠা: ২২)
4- وجاء فيها قوله: "انا قد أتيت باسم أبي ولستم تقبلونني كيف تقدرون أن تؤمنوا وأنتم تقبلون مجداً بعضكم من بعض والمجد الذي من الإله الواحد لستم تطلبونه" (1) .

5- وجاء فيها قوله: "قولي لهم: إني أصعد إلى أبي، وأبيكم، وإلهي وإلهكم" (2) فعيسى عليه السلام يصرح أن الله سبحانه وتعالى كما أنه إله للحواريين وبني إسرائيل وغيرهم فهو - أيضاً - إلهٌ له عليه السلام فالله واحد أحد لا إله سواه وعيسى عبد مربوب لله مثله مثل غيره من الأنبياء والمرسلين يوحد الله سبحانه وتعالى كما يجب.

6- وجاء فيها قوله: " لماذا تدعونني صالحاً ليس أحدٌ صالحاً إلا واحد هو الله" (3) . وهذا يوضح أن عيسى عليه السلام ليس له حظ في الألوهية وليس شريكاً لله وإنما الله سبحانه وتعالى واحد أحد لذا أفرد عيسى عليه السلام هنا الله - جل وعلا - وحده بالصلاح ونفاه عن نفسه، والله أعلم بالمقصود بذلك إن كان النص صحيحاً.

إن هذه النصوص تدل على وحدانية الله سبحانه وتعالى في الأناجيل الحالية فهو واحد أحد لا إله غيره عز وجل وعيسى ليس بإله وإنما إلهه هو الله سبحانه وتعالى إله عيسى وإله غيره.

--------------------------------------------

(1) يوحنا: (5: 43-44) .

(2) يوحنا: (20: 17) .

(3) لوقا: (18: 19) وانظر: متى (19: 17) .
4- সেখানে তাঁর এই বক্তব্য এসেছে: "আমি আমার পিতার নামে এসেছি কিন্তু তোমরা আমাকে গ্রহণ করছ না। তোমরা কীভাবে বিশ্বাস করতে পারো যখন তোমরা একে অপরের নিকট থেকে মহিমা গ্রহণ করো, অথচ একমাত্র ইলাহ-এর নিকট থেকে যে মহিমা আসে তা তোমরা অন্বেষণ করো না?" (১)।

5- সেখানে তাঁর এই উক্তিও বর্ণিত হয়েছে: "তাদেরকে বলো: আমি আমার পিতা ও তোমাদের পিতা, এবং আমার ইলাহ ও তোমাদের ইলাহ-এর নিকট আরোহণ করছি" (২)। অতএব ঈসা আলাইহিস সালাম দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করছেন যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা যেমন হাওয়ারীগণ, বনী ইসরাঈল ও অন্যদের ইলাহ, তেমনি তিনি তাঁরও (ঈসা আলাইহিস সালাম) ইলাহ। সুতরাং আল্লাহ একক ও অদ্বিতীয়, তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। আর ঈসা আলাইহিস সালাম আল্লাহর এক সৃষ্টি ও দাস, অন্যান্য নবী ও রাসূলগণের ন্যায় তিনিও আল্লাহ তাআলার তাওহিদ বর্ণনা করেন যেভাবে করা আবশ্যক।

6- সেখানে তাঁর এই কথা এসেছে: "কেন তুমি আমাকে উত্তম বলছ? একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত উত্তম আর কেউ নেই" (৩)। এটি স্পষ্ট করে যে, ঈসা আলাইহিস সালামের উলুহিয়্যাত বা উপাস্য হওয়ার কোনো অংশ নেই এবং তিনি আল্লাহর শরিক নন। বরং মহান আল্লাহ একক ও অদ্বিতীয়। একারণেই ঈসা আলাইহিস সালাম এখানে একমাত্র আল্লাহ তাআলাকেই 'উত্তম' গুণের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন এবং নিজের সত্তা থেকে তা নাকচ করেছেন। আর যদি এই পাঠটি সহিহ (صحيح) হয়, তবে এর প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

বর্তমান ইঞ্জিলসমূহের এই পাঠগুলো মহান আল্লাহর একত্ববাদের প্রমাণ দেয়। তিনি একক ও অদ্বিতীয়, পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোনো ইলাহ নেই। আর ঈসা আলাইহিস সালাম কোনো ইলাহ নন, বরং তাঁর ইলাহ হলেন মহান আল্লাহ—যিনি ঈসা এবং অন্য সকলের ইলাহ।

--------------------------------------------

(১) ইউহান্না: (৫: ৪৩-৪৪)।

(২) ইউহান্না: (২০: ১৭)।

(৩) লূক: (১৮: ১৯) এবং দেখুন: মথি (১৯: ১৭)।
(খণ্ড: ১) ইফতিরাআতুল মুনাসসিরিন আলাল কুরআনিল কারীম আন্নাহু ইউআইয়িদু জাসমা উলুহিয়াতিল মাসীহ আলাইহিস সালাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌ثانياً: نفي الألوهية عن عيسى – عليه السلام من خلال القرآن والأناجيل:

إن الآيات التي مرت سابقاً (1) والتي تبين وحدانية الله سبحانه وتعالى من خلال القرآن هي نفسها نافية بمفاهيمها ولوازمها لألوهية المسيح عليه السلام وبعضها بمنطوقها وكذا ما جاء في التوراة والأناجيل حول وحدانية الله. إلا أن النصارى كثيراً ما يجادلون بالباطل ويتعسفون الأدلة ويؤولونها وفق أهوائهم، ولذا يود الباحث دحض افتراء أن القرآن دال على ألوهية المسيح من خلال طريق آخر سوى ما سبق ألا وهو آيات من القرآن ناطقة بنفي الألوهية عن عيسى نطقاً صريحاً وكذا من خلال الأناجيل لإلزام النصارى والمنصرين من خلال مسلماتهم وما يؤمنون به إن كانوا يعقلون، وذلك كما يأتي:

أ- نفي الألوهية عن عيسى من خلال القرآن:

جاءت في القرآن آياتٌ محكمات متعددة تنفي الألوهية عن المسيح عليه السلام منها:

1- قوله تعالى: {لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ … } (المائدة:17) وانظر (72) .

2- وقوله تعالى: {وَإِذْ قَالَ اللَّهُ يَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ أَأَنْتَ قُلْتَ لِلنَّاسِ اتَّخِذُونِي وَأُمِّيَ إِلَهَيْنِ مِنْ دُونِ اللَّهِ قَالَ سُبْحَانَكَ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أَقُولَ مَا لَيْسَ لِي بِحَقٍّ إِنْ كُنْتُ قُلْتُهُ فَقَدْ عَلِمْتَهُ تَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِي وَلا أَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِكَ إِنَّكَ أَنْتَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ} (المائدة: 116) . فهذا عبد الله ورسوله إلى بني

--------------------------------------------

(1) انظر ص: (10) .
‌‌দ্বিতীয়ত: কুরআন ও ইঞ্জিলের আলোকে ঈসা আলাইহিস সালামের উলুহিয়্যাত (ألوهية) অস্বীকার:

নিশ্চয়ই পূর্বে বর্ণিত আয়াতসমূহ (১), যা কুরআনের মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার একত্ববাদ (وحدانية) স্পষ্ট করে, সেগুলো নিজ থেকেই তাদের অন্তর্নিহিত অর্থ ও অপরিহার্য দাবি অনুযায়ী মসীহ আলাইহিস সালামের উলুহিয়্যাত (ألوهية) অস্বীকারকারী। এর কোনো কোনোটি সরাসরি বক্তব্যের (منطوق) মাধ্যমে এটি প্রমাণ করে। তেমনিভাবে তাওরাত ও ইঞ্জিলেও আল্লাহর একত্ববাদ সম্পর্কে বর্ণনা এসেছে। তবে খ্রিস্টানরা প্রায়শই বাতিলের পক্ষে বিতর্ক করে, দলিলের ক্ষেত্রে হঠকারিতা করে এবং নিজেদের খেয়ালখুশি অনুযায়ী সেগুলোর অপব্যাখ্যা করে। এ কারণেই গবেষক এই অপবাদকে খণ্ডন করতে চান যে, কুরআন মসীহের উলুহিয়্যাত (ألوهية)-এর প্রমাণ দেয়। এজন্য পূর্ববর্তী আলোচনার অতিরিক্ত অন্য একটি পথ অবলম্বন করা হয়েছে; আর তা হলো কুরআনের এমন কিছু আয়াত যা স্পষ্টভাবে ঈসা আলাইহিস সালামের উলুহিয়্যাত (ألوهية) অস্বীকারের ব্যাপারে উচ্চকণ্ঠ। পাশাপাশি ইঞ্জিলের মাধ্যমেও খ্রিস্টান ও ধর্মপ্রচারকদের তাদের নিজস্ব স্বীকৃত বিষয়াদি ও বিশ্বাসের আলোকে নিরুত্তর করার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে, যদি তারা বিবেকসম্পন্ন হয়। বিষয়টি নিম্নরূপ:

ক- কুরআনের আলোকে ঈসা আলাইহিস সালামের উলুহিয়্যাত (ألوهية) অস্বীকার:

কুরআনে একাধিক সুস্পষ্ট (محكمات) আয়াত এসেছে যা মসীহ আলাইহিস সালামের উলুহিয়্যাত (ألوهية) অস্বীকার করে, তার মধ্যে রয়েছে:

১- মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই তারা কাফের হয়েছে যারা বলে যে, আল্লাহই হলেন মারইয়ামের পুত্র মসীহ...} (আল-মায়িদাহ: ১৭)। আরও দেখুন (৭২ নং আয়াত)।

২- মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন আল্লাহ বলবেন: হে মারইয়ামের পুত্র ঈসা! তুমি কি মানুষকে বলেছিলে যে, আল্লাহকে ছেড়ে আমাকে ও আমার মাকে দুই ইলাহ হিসেবে গ্রহণ করো? সে বলবে: আপনি অতি পবিত্র! যার অধিকার আমার নেই, এমন কথা বলা আমার জন্য শোভনীয় নয়। আমি যদি তা বলতাম, তবে নিশ্চয়ই আপনি তা জানতেন। আমার অন্তরে যা আছে আপনি তা জানেন, কিন্তু আপনার অন্তরে যা আছে আমি তা জানি না। নিশ্চয়ই আপনি অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা।} (আল-মায়িদাহ: ১১৬)। সুতরাং ইনিই আল্লাহর বান্দা এবং বনী [ইসরাঈলের] প্রতি প্রেরিত রাসুল...

--------------------------------------------

(১) দেখুন পৃষ্ঠা: (১০)।
(খণ্ড: ১) ইফতিরাআতুল মুনাসসিরিন আলাল কুরআনিল কারীম আন্নাহু ইউআইয়িদু জাসমা উলুহিয়াতিল মাসীহ আলাইহিস সালাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
إسرائيل يكذب النصارى في دعوى تأليههم له وينزه الله سبحانه وتعالى عن أن يقول قولاً لا ينبغي له أن يقوله وهو أنه دعا النصارى إلى تأليهه.

3-وقوله: {اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَاباً مِنْ دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَهاً وَاحِداً لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ} (التوبة:31) .

4- وقوله: {لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ ثَالِثُ ثَلاثَةٍ وَمَا مِنْ إِلَهٍ إِلَّا إِلَهٌ وَاحِدٌ وَإِنْ لَمْ يَنْتَهُوا عَمَّا يَقُولُونَ لَيَمَسَّنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} (المائدة: 73) وانظر النساء 171) .فالله واحدٌ أحدٌ ليس معه إله غيره، وهذا تهديد وتحذير من الله للنصارى عن القول بالتثليث وتأليه أحدٍ معه ومن أول ذلك تأليه المسيح عليه السلام لأن الخطاب للنصارى.

5- وقوله تعالى: { … وَقَالَتِ النَّصَارَى الْمَسِيحُ ابْنُ اللَّهِ ذَلِكَ قَوْلُهُمْ بِأَفْوَاهِهِمْ يُضَاهِئُونَ قَوْلَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَبْلُ قَاتَلَهُمُ اللَّهُ أَنَّى يُؤْفَكُونَ} (التوبه: 30) . فقد شابهوا من كان يقول إن للآلهة أبناء من وثنيي اليونان والرومان وغيرهم من الوثنيين (1) .

6- وقوله تعالى: {ذَلِكَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ قَوْلَ الْحَقِّ الَّذِي فِيهِ يَمْتَرُونَ مَا كَانَ لِلَّهِ أَنْ يَتَّخِذَ مِنْ وَلَدٍ سُبْحَانَهُ إِذَا قَضَى أَمْراً فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ} (مريم: 34-35) .

--------------------------------------------

(1) انظر حول هذا الموضوع: محمد طاهر التنير: "العقائد الوثنية في الديانة النصرانية" - (1330هـ) ص: (20-21) ، وأحمد شلبي: "المسيحية"، ط (7) القاهرة مكتبة النهضة المصرية (1983م) ، ص (130) . ومحمد عصفور: "معالم حضارات الشرق الأدني القديم" (لبنان: دار النهضة العربية -1981م) ص: (216) .
ইসরাঈল খ্রিস্টানদের সেই দাবির ক্ষেত্রে তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছেন যেখানে তারা তাকে উপাস্য হিসেবে সাব্যস্ত করে এবং তিনি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে এমন কথা বলা থেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন যা তাঁর জন্য বলা সমীচীন নয়, আর তা হলো—তিনি খ্রিস্টানদেরকে তাঁর উপাসনা করার জন্য আহ্বান করেছেন।

৩-এবং তাঁর বাণী: {তারা আল্লাহকে ছেড়ে তাদের পন্ডিত ও সংসারবিরাগীদেরকে প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে এবং মারইয়াম পুত্র মসীহকেও। অথচ তারা কেবল এক উপাস্যের ইবাদত করার জন্য আদিষ্ট হয়েছিল। তিনি ছাড়া আর কোনো সত্য উপাস্য নেই। তারা যে শিরক করে তা থেকে তিনি পবিত্র।} (আত-তাওবাহ: ৩১)।

৪- এবং তাঁর বাণী: {তারা অবশ্যই কুফরি করেছে যারা বলে যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তিনের তৃতীয় জন; অথচ এক উপাস্য ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। তারা যা বলে তা থেকে যদি বিরত না হয়, তবে তাদের মধ্যে যারা কুফরি করেছে তাদের ওপর অবশ্যই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে।} (আল-মায়িদাহ: ৭৩ এবং দেখুন আন-নিসা ১৭১)। সুতরাং আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়, তাঁর সাথে অন্য কোনো উপাস্য নেই। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে খ্রিস্টানদের জন্য ত্রিত্ববাদ এবং তাঁর সাথে অন্য কাউকে উপাস্য সাব্যস্ত করা সম্পর্কে একটি কঠোর হুমকি ও সতর্কবাণী। এর প্রথমেই আসে মসীহ আলাইহিস সালামকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করার বিষয়টি, কারণ এই সম্বোধনটি খ্রিস্টানদের প্রতি।

৫- এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: { … এবং খ্রিস্টানরা বলে, মসীহ আল্লাহর পুত্র। এটি তাদের মুখের কথা। তারা তাদের আগে যারা কুফরি করেছিল তাদের কথার অনুকরণ করে। আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন, তারা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছে?} (আত-তাওবাহ: ৩০)। তারা গ্রীক ও রোমান পৌত্তলিক এবং অন্যান্য পৌত্তলিকদের সদৃশ হয়ে গিয়েছে যারা বলত যে দেবতাদের সন্তান রয়েছে। (১) ।

৬- এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {এই হলেন মারইয়াম পুত্র ঈসা। এটিই সত্য কথা, যে বিষয়ে তারা সন্দেহ পোষণ করে। আল্লাহর জন্য কোনো সন্তান গ্রহণ করা শোভনীয় নয়, তিনি পবিত্র। যখন তিনি কোনো বিষয়ের ফয়সালা করেন, তখন শুধু বলেন 'হও', অমনি তা হয়ে যায়।} (মারইয়াম: ৩৪-৩৫) ।

--------------------------------------------

(১) এই বিষয়ে দেখুন: মুহাম্মদ তাহের আত-তানীর: "আল-আকাইদ আল-ওয়াসানিয়্যাহ ফি আদ-দিয়ানাহ আন-নাসরানিয়্যাহ" - (১৩৩০ হিজরি) পৃষ্ঠা: (২০-২১), এবং আহমদ শালবি: "আল-মাসিহিয়্যাহ", ৭ম সংস্করণ, কায়রো, মাকতাবাতুন নাহদাতিল মিসরিয়্যাহ (১৯৮৩ খ্রি.), পৃষ্ঠা (১৩০)। এবং মুহাম্মদ আসফুর: "মাআলিমু হাদারাতুশ শারকিল আদনাল ক্বদীম" (লেবানন: দারুন নাহদাতিল আরাবিয়্যাহ - ১৯৮১ খ্রি.) পৃষ্ঠা: (২১৬)।
(খণ্ড: ১) ইফতিরাআতুল মুনাসসিরিন আলাল কুরআনিল কারীম আন্নাহু ইউআইয়িদু জাসমা উলুহিয়াতিল মাসীহ আলাইহিস সালাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
7- وقوله: {مَا الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ وَأُمُّهُ صِدِّيقَةٌ كَانَا يَأْكُلانِ الطَّعَامَ انْظُرْ كَيْفَ نُبَيِّنُ لَهُمُ الْآياتِ ثُمَّ انْظُرْ أَنَّى يُؤْفَكُونَ} (المائدة: 75) .

يقول ابن تيمية رحمه الله في تفسير قوله تعالى: {كَانَا يَأْكُلانِ الطَّعَامَ} "وهذا من أظهر الصفات النافية للإلهية لحاجة الآكل إلى ما يدخل في جوفه ولما يخرج منه مع ذلك من الفضلات" (1) .

ب- نفي الألوهية عن عيسى – عليه السلام من خلال الأناجيل:

يقوم هذا الموضوع على ما نسب لعيسى عليه السلام من أقوال يثبت فيها صفاتٍ وأسماء لله نفاها هو عن نفسه عليه السلام فإضافة إلى كل عوارض البشرية التي طرأت على المسيح وتطرأ عليه مما سوف يمر (2) والدالة على الحدوث والتغير من حالٍ إلى حالٍ وأنه لا يختلف في شيء عن غيره من الرسل إلا ما اختصه الله به. إضافة إلى ذلك جاء في الأناجيل:

1- قوله: "فقال [أي عيسى] لها [لأم ابني زبدي] ماذا تريدين؟ قالت له: قل، أن يجلس ابناي هذان واحداً عن يمينك والآخر عن اليسار في ملكوتك فأجاب يسوع وقال لستما تعلمان ما تطلبان. أما الجلوس عن يميني وعن يساري فليس لي أن أعطيه إلا للذين أعدِّ لهم من أبي" (3) .

--------------------------------------------

(1) ابن تيمية، "الجواب الصحيح" ج2 ص: (171) .

(2) انظر ص: (19) .

(3) متى (20: 21-23) .
৭- এবং মহান আল্লাহর বাণী: {মারইয়াম-তনয় মসীহ তো কেবল একজন রাসূল; তাঁর পূর্বে বহু রাসূল অতিবাহিত হয়েছেন। আর তাঁর মাতা ছিলেন পরম সত্যনিষ্ঠ। তাঁরা উভয়েই খাদ্য গ্রহণ করতেন। লক্ষ্য করুন, আমি তাদের জন্য কীভাবে নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করি, আবার লক্ষ্য করুন, তারা সত্য থেকে কীভাবে বিমুখ হচ্ছে।} (আল-মায়িদাহ: ৭৫)।

ইবনে তাইমিয়া (রহিমাহুল্লাহ) মহান আল্লাহর বাণী {তাঁরা উভয়েই খাদ্য গ্রহণ করতেন} এর ব্যাখ্যায় বলেন: "এটি উপাস্যত্ব অস্বীকারকারী গুণাবলির মধ্যে সবচেয়ে সুস্পষ্ট; কারণ আহারকারীর উদরে যা প্রবেশ করে তার প্রতি তার মুখাপেক্ষিতা এবং সেই সাথে যা বর্জ্য হিসেবে নির্গত হয় তার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।" (১)।

খ- ইঞ্জিলসমূহের মাধ্যমে ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর উপাস্যত্ব অস্বীকার করা:

এই বিষয়টি ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি আরোপিত এমন সব বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, যাতে তিনি আল্লাহর জন্য এমন কিছু গুণাবলি ও নাম সাব্যস্ত করেছেন যা তিনি নিজের সত্তা থেকে অস্বীকার করেছেন। মসীহ (আলাইহিস সালাম)-এর ওপর আপতিত সকল মানবিক সীমাবদ্ধতা—যা সামনে আলোচিত হবে (২)—তার নব্যতা এবং এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তনের প্রমাণ বহন করে এবং এটিও নির্দেশ করে যে, আল্লাহ তাঁকে যে বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন তা ব্যতীত তিনি অন্য কোনো রাসূলের থেকে ভিন্ন কিছু নন। এর পাশাপাশি ইঞ্জিলসমূহে এসেছে:

১- তাঁর উক্তি: "অতঃপর তিনি [অর্থাৎ ঈসা] তাকে [জবদির পুত্রদ্বয়ের মাতাকে] বললেন, তুমি কী চাও? সে তাঁকে বলল: আপনি বলুন যেন আপনার রাজ্যে আমার এই দুই পুত্রের একজন আপনার ডান পাশে এবং অন্যজন বাম পাশে বসতে পারে। তখন যিশু উত্তরে বললেন, তোমরা কী চাইছ তা তোমরা জানো না। আমার ডানে বা বামে বসার সুযোগ দেওয়া আমার এখতিয়ারভুক্ত নয়, বরং আমার পিতা যাদের জন্য তা প্রস্তুত করেছেন তারাই তা পাবে।" (৩)।

--------------------------------------------

(১) ইবনে তাইমিয়া, "আল-জাওয়াবুস সহীহ", ২য় খণ্ড, পৃ: ১৭১।

(২) দেখুন পৃ: ১৯।

(৩) মথি (২০: ২১-২৩)।
(খণ্ড: ১) ইফতিরাআতুল মুনাসসিরিন আলাল কুরআনিল কারীম আন্নাহু ইউআইয়িদু জাসমা উলুহিয়াতিল মাসীহ আলাইহিস সালাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
2- قوله: "فأجاب يسوع وقال لهم الحق أقول لكم لا يقدر الابن أن يعمل من نفسه شيئاً إلا ما ينظر الأب يعمل" (1) . وقال: "ليس كل من يقول يا رب يدخل ملكوت السموات بل الذي يفعل إرادة أبي الذي في السموات" (2) .

ففي النصوص السابقة نفى عيسى عليه السلام القدرة على إدخال من شاء ملكوت الله وأبان أنه لا يدخل ملكوت الله إلا من أراد الله وحده له ذلك وليس ذلك للمسيح لأن مشيئة المسيح تحت مشيئة الله، وقدرته تحت قدرة الله كما في النص - الآنف الذكر - حيث يقول: "لا يقدر الابن [المسيح] أن يعمل من نفسه شيئاً إلا ما ينظر الأب [الله] يعمل" فالله وحده - سبحانه - هو القادر على كل شيء قدرة تليق بجلاله وعظمته. وقد جاء في نص آخر " لأنه ليس شيء غير ممكن لدى الله" (3) وكذا القول المنسوب إلى المسيح عليه السلام نفسه "عند الناس غير مستطاع ولكن ليس عند الله لأن كل شيء مستطاع عند الله" (4) .

أما قدرة المسيح فهي قدرة محدودة تناسب مقامه وليس له إلا ما أقدره الله عليه. ومشيئة المسيح تحت مشيئة الله وبإذن الله كما قال المسيح -فيما نسب إليه-: "يا أبتاه إن أمكن فلتعبر عني هذه الكأس ولكن ليس كما أريد أنا بل كما تريد أنت" (5) .

--------------------------------------------

(1) يوحنا (5: 19) .

(2) متى (7: 21) .

(3) لوقا (1: 37) .

(4) مرقس (10: 27) .

(5) متى (26: 39) .
২- তাঁর উক্তি: "যিশু তাদের উত্তর দিলেন এবং বললেন, আমি তোমাদের সত্য বলছি, পিতা যা করেন তা না দেখলে পুত্র নিজ থেকে কিছুই করতে পারে না" (১)। এবং তিনি বলেছেন: "যারা আমাকে 'প্রভু, প্রভু' বলে তারা সবাই স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে না, বরং যে ব্যক্তি স্বর্গে অবস্থিত আমার পিতার ইচ্ছা পালন করে সেই প্রবেশ করবে" (২)।

পূর্বোক্ত পাঠ্যসমূহে ঈসা আলাইহিস সালাম যাকে ইচ্ছা আল্লাহর স্বর্গরাজ্যে প্রবেশ করানোর ক্ষমতা অস্বীকার করেছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে, আল্লাহ যার জন্য ইচ্ছা করেন তিনি ব্যতীত কেউ আল্লাহর রাজ্যে প্রবেশ করতে পারবে না। এটি মসীহের এখতিয়ারে নেই, কারণ মসীহের ইচ্ছা আল্লাহর ইচ্ছার অনুগত এবং তাঁর ক্ষমতা আল্লাহর ক্ষমতার অধীন; যেমনটি পূর্বোল্লিখিত পাঠ্যে বলা হয়েছে: "পুত্র [মসীহ] নিজ থেকে কিছুই করতে পারে না, যদি না সে পিতাকে [আল্লাহ] তা করতে দেখে।" সুতরাং একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাই সবকিছুর ওপর এমনভাবে ক্ষমতাবান যা তাঁর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের উপযোগী। অন্য একটি পাঠ্যে এসেছে, "কারণ আল্লাহর কাছে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়" (৩)। একইভাবে খোদ ঈসা আলাইহিস সালাম-এর নিজের দিকে আরোপিত (منسوب) উক্তিতে বলা হয়েছে, "মানুষের কাছে এটি অসাধ্য হতে পারে, কিন্তু আল্লাহর কাছে নয়, কারণ আল্লাহর কাছে সবকিছুই সম্ভব" (৪)।

পক্ষান্তরে মসীহের ক্ষমতা হচ্ছে তাঁর মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি সীমাবদ্ধ ক্ষমতা এবং আল্লাহ তাঁকে যতটুকু সামর্থ্য দিয়েছেন তার বাইরে তাঁর কোনো ক্ষমতা নেই। মসীহের ইচ্ছা আল্লাহর ইচ্ছার অধীন এবং আল্লাহর অনুমতির ওপর নির্ভরশীল, যেমনটি মসীহ—তাঁর দিকে যা আরোপিত (منسوب) হয়েছে তাতে—বলেছেন: "হে পিতা, যদি সম্ভব হয় তবে এই পেয়ালাটি আমার কাছ থেকে সরিয়ে নিন, তবে আমার ইচ্ছামতো নয়, বরং আপনার ইচ্ছানুযায়ী হোক" (৫)।

--------------------------------------------

(১) যোহন (৫: ১৯)।

(২) মথি (৭: ২১)।

(৩) লূক (১: ৩৭)।

(৪) মার্ক (১০: ২৭)।

(৫) মথি (২৬: ৩৯)।
(খণ্ড: ১) ইফতিরাআতুল মুনাসসিরিন আলাল কুরআনিল কারীম আন্নাহু ইউআইয়িদু জাসমা উলুহিয়াতিল মাসীহ আলাইহিস সালাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
3- نسب إلى عيسى في الإنجيل قوله: "لا يقدر أحد أن يُقبل إلي إن لم يجتذبه الأب الذي أرسلني" (1) .

فهنا الاجتذاب أو الهداية هداية توفيق خاصة بالله سبحانه وتعالى وليس للمسيح أن يهدي أحداً إلا أن يشاء الله له الهداية على يد المسيح أو غيره.

4- نسب إلى عيسى قوله: "وأما ذلك اليوم وتلك الساعة فلا يعلم بهما أحد ولا الملائكة الذين في السماء ولا الابن إلا الأب" (2) وفي نصٍ آخر عن الموضوع نفسه -"إلا أبي وحده" (3) وهذه النصوص في سياق إخباره لبني إسرائيل عن تهدم الهيكل (4) . فعيسى هنا يخبر النصارى بأمر مستقبلي- وإن صح النقل عنه فهو بإعلام الله له- وعلى الرغم من هذا حينما سُئل عن وقت التهدم نفى علمه بوقت ذلك وأخبر أنه لا أحد يعلم ذلك لا الملائكة ولا هو عليه السلام وإنما الذي يعلم ذلك هو علام الغيوب وحده وهو الله سبحانه وتعالى وليس للمسيح من علم الغيب شيء إلا ما أطلعه الله عليه.

وجاء في نص آخر "وفي الغد لما خرجوا من بيت عينا جاع فنظر شجرة تينٍ من بعيد عليها ورق وجاء لعله يجد فيها شيئاً فلما جاء إليها لم يجد شيئاً إلا ورقاً لأنه لم يكن وقت التين" (5) فسبحان الله هذا النص ظاهر جلي في بشرية عيسى – عليه السلام ونفي لألوهيته من وجوه منها:

--------------------------------------------

(1) يوحنا (6: 44) .

(2) مرقس (13: 32) .

(3) متى (24: 36) .

(4) أنظر: متى الإصحاح الرابع والعشرين كاملاً.

(5) مرقس (11: 12-14) .
৩- ইঞ্জিলে ঈসার প্রতি এই উক্তিটি আরোপ করা হয়েছে: "কেউ আমার কাছে আসতে পারে না, যদি না পিতা—যিনি আমাকে পাঠিয়েছেন—তাকে আকর্ষণ করেন।" (১) .

এখানে এই আকর্ষণ বা হেদায়েত হলো তাওফিকমূলক পথনির্দেশ, যা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার জন্য নির্দিষ্ট। মসীহের পক্ষে কাউকে হেদায়েত দান করা সম্ভব নয়, যতক্ষণ না আল্লাহ মসীহ বা অন্য কারো মাধ্যমে তার জন্য হেদায়েতের ইচ্ছা করেন।

৪- ঈসার প্রতি এই উক্তিটি আরোপ করা হয়েছে: "আর সেই দিন ও সেই মুহূর্ত সম্পর্কে কেউ জানে না, এমনকি আসমানের ফেরেশতারাও নয়, পুত্রও নয়, কেবল পিতা ছাড়া।" (২) একই বিষয় সম্পর্কে অন্য একটি পাঠে এসেছে—"কেবল আমার পিতা একা" (৩)। এই পাঠগুলো বনী ইসরাঈলকে হাইকাল ধ্বংস হওয়া সম্পর্কে তাঁর সংবাদ দেওয়ার প্রেক্ষাপটে এসেছে (৪)। সুতরাং ঈসা এখানে নাসারাদের একটি ভবিষ্যৎ বিষয় সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন—আর যদি তাঁর থেকে বর্ণনাটি সহিহ (صحيح) হয়, তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁকে জানানোর মাধ্যমেই হয়েছে—তা সত্ত্বেও, যখন তাঁকে ধ্বংসের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি সেই সময়ের জ্ঞান থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং জানান যে, ফেরেশতারা বা তিনি (আলাইহিস সালাম) নিজেও তা জানেন না; বরং এটি কেবল অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালাই জানেন। মসীহের অদৃশ্যের জ্ঞানের কোনো কিছুই জানা নেই, কেবল আল্লাহ তাঁকে যা অবগত করেছেন তা ছাড়া।

অন্য একটি পাঠে এসেছে: "পরদিন যখন তারা বৈথনিয়া থেকে বের হলেন, তখন তিনি ক্ষুধার্ত হলেন। তিনি দূর থেকে পাতায় ভরা একটি ডুমুর গাছ দেখে সেখানে গেলেন এই আশায় যে, হয়তো সেখানে কিছু পাবেন। কিন্তু যখন তিনি গাছটির কাছে এলেন, তখন পাতা ছাড়া আর কিছুই পেলেন না, কারণ সেটি ডুমুর ধরার সময় ছিল না" (৫)। সুবহানাল্লাহ, এই পাঠটি ঈসা আলাইহিস সালামের মানবীয় প্রকৃতির ওপর এক সুস্পষ্ট দলিল এবং বিভিন্ন দিক থেকে তাঁর উলুহিয়্যাত বা উপাস্য হওয়ার বিষয়টি নাকচ করে দেয়, যার মধ্যে রয়েছে:

--------------------------------------------

(১) ইউহান্না (৬: ৪৪) .

(২) মার্কাস (১৩: ৩২) .

(৩) মথি (২৪: ৩৬) .

(৪) দেখুন: মথি, চব্বিশতম অধ্যায় সম্পূর্ণ।

(৫) মার্কাস (১১: ১২-১৪) .
(খণ্ড: ১) ইফতিরাআতুল মুনাসসিরিন আলাল কুরআনিল কারীম আন্নাহু ইউআইয়িদু জাসমা উলুহিয়াতিল মাসীহ আলাইহিস সালাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
- أنه لا يعلم من الغيب إلا ما أطلعه الله عليه فلو كان إلهاً - تعالى الله عن قولهم علواً كبيراً لما كلف نفسه مشقة الذهاب إلى الشجرة الخالية من اثمار التين.

- ثم لو كان إلهاً لعلم أن هذا ليس وقت إثمار أشجار التين، فهل يجهل الإله أمراً كهذا؟

- ثم لو كان إلهاً لأمر الشجرة أن تنبت تيناً فأنبتت.

-ثم هل الإله يجوع؟ إن هذا نقص في إلههم المزعوم أما الله الإله الحق فهو الغني جل وعلا.

6- ينسب إلى عيسى قوله: "لو كنتم تحبونني لكنتم تفرحون لأنني قلت أمضي إلى الأب لأن أبي أعظم مني" (1) فعيسى يصرح أن الآب [الله] أعظم منه فهناك فارق كبير عبر عنه بأفعل التفضيل بينه وبين ربه وخالقه سبحانه وتعالى وإذا كان عيسى قد نطق بأن الله أعظم منه فإن هذا وفق مفهوم المخالفة يعني أن عيسى أقل من الله، وهو ما يوضح أنه ليس هو الله، ولا ابن الله كما تزعم النصارى حيث يقولون إنه ابن الله الذي هو: (الله في المسيح) (2) تعالى الله عن ذلك علواً كبيراً.

7- ينسب إلى عيسى قوله "وإن سمع أحد كلامي ولم يؤمن فأنا لا أدينه [أحاكمه وأحاسبه] لأني لم آت لأدين العالم بل لأخلص العالم من

--------------------------------------------

(1) يوحنا (14: 28) .

(2) جوجيا هاركنس "بماذا يؤمن المسيحيون" ترجمة إسحق مسعد (القاهرة دار التأيف والنشر للكنيسة الأسقفية) ص: (69) .
তিনি অদৃশ্যের (الغيب) কিছুই জানেন না কেবল আল্লাহ যা তাঁকে অবগত করেছেন তা ছাড়া। তিনি যদি ইলাহ হতেন—আল্লাহ তাদের কথা থেকে অনেক ঊর্ধ্বে—তবে তিনি ফলহীন ডুমুর গাছের নিকট যাওয়ার কষ্ট সহ্য করতেন না।

তারপর তিনি যদি ইলাহ হতেন, তবে জানতেন যে এটি ডুমুর গাছের ফল দেওয়ার সময় নয়। একজন ইলাহ কি এমন বিষয়ে অজ্ঞ থাকতে পারেন?

তারপর তিনি যদি ইলাহ হতেন, তবে গাছকে ডুমুর উৎপন্ন করার আদেশ দিতেন এবং তা উৎপন্ন হতো।

তারপর ইলাহ কি ক্ষুধার্ত হন? এটি তাদের দাবিকৃত ইলাহের একটি ত্রুটি। আর আল্লাহ, যিনি সত্য ইলাহ, তিনি অভাবমুক্ত (الغني) ও মহান।

৬- ঈসার প্রতি এই উক্তিটি আরোপ করা হয়: "তোমরা যদি আমাকে ভালোবাসতে তবে আনন্দিত হতে যে আমি বলেছি, আমি পিতার কাছে যাচ্ছি; কারণ আমার পিতা আমার চেয়ে মহান।" (১) এখানে ঈসা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করছেন যে, পিতা [আল্লাহ] তাঁর চেয়ে মহান। সুতরাং শ্রেষ্ঠত্ববাচক শব্দ (أفعل التفضيل)-এর মাধ্যমে তাঁর এবং তাঁর রব ও স্রষ্টা (সুবহানাহু ওয়া তাআলা)-এর মাঝে একটি বড় পার্থক্য প্রকাশ করা হয়েছে। আর ঈসা যদি এই কথা বলে থাকেন যে আল্লাহ তাঁর চেয়ে মহান, তবে বিপরীতমুখী অর্থ (مفهوم المخالفة) অনুযায়ী এর অর্থ দাঁড়ায় ঈসা আল্লাহর চেয়ে ছোট। এটিই স্পষ্ট করে যে তিনি আল্লাহ নন, আর খ্রিস্টানদের দাবি অনুযায়ী আল্লাহর পুত্রও নন, যারা বলে তিনি আল্লাহর পুত্র অর্থাৎ: (খ্রিস্টের মাঝে আল্লাহ) (২), আল্লাহ তাদের এসব থেকে অনেক ঊর্ধ্বে।

৭- ঈসার প্রতি এই উক্তিটি আরোপ করা হয়: "যদি কেউ আমার কথা শুনে এবং বিশ্বাস না করে, তবে আমি তাকে দণ্ড [বিচার ও হিসাব গ্রহণ] প্রদান করি না; কারণ আমি বিশ্ববাসীকে দণ্ড দিতে আসিনি বরং বিশ্ববাসীকে মুক্তি দিতে..."

--------------------------------------------

(১) ইউহান্না (১৪: ২৮)।

(২) জর্জিয়া হার্কনেস "খ্রিস্টানরা কী বিশ্বাস করে", অনুবাদ: ইসহাক মুসআদ (কায়রো: দারুত তালিফ ওয়ান নাশর লিল কানিসাহ আল-উসকুফিয়্যাহ), পৃষ্ঠা: ৬৯।