(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তলাকিল গদবান - ত আফীফী
(পৃষ্ঠা: -)
إغاثة اللهفان في حكم طلاق الغضبان - ت عفيفي القسم: مسائل فقهية
الكتاب: إغاثة اللهفان في حكم طلاق الغضبان
المؤلف: محمد بن أبي بكر بن أيوب بن سعد شمس الدين ابن قيم الجوزية (ت 751هـ)
المحقق: محمد عفيفي
الناشر: المكتب الإسلامي، بيروت، لبنان / مكتبة فرقد الخاني، الرياض، المملكة العربية السعودية
الطبعة: الثانية، 1408هـ/1988م
عدد الصفحات: 75
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তালাকিল গাদবান - তাহকীক আফিফি বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তালাকিল গাদবান
লেখক: মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন আইয়ুব বিন সাদ শামসুদ্দিন ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ (মৃ. ৭৫১ হিজরি)
মুহাক্কিক: মুহাম্মদ আফিফি
প্রকাশক: আল-মাকতাবুল ইসলামী, বৈরুত, লেবানন / মাকতাবাতু ফারকাদ আল-খানি, রিয়াদ, সৌদি আরব
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০৮ হিজরি/১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৫
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা বিন্যাস মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তলাকিল গদবান - ত আফীফী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
إغاثة اللهفان في حكم طلاق الغضبان لابن قيم الجوزية
الحمد لله الحكيم الكريم العلي العظيم السميع العليم الرءوف الرحيم الذي أسبغ على عباده النعمة وكتب على نفسه الرحمة وضمن الكتاب الذي كتبه أن رحمته تغلب عضبه فهو ارحم بعباده من الوالدة بولدها كما هو اشد فرحا بتوبة التائب من الفاقد لراحلته التي عليها طعامه وشرابه في الأرض المهلكة إذا وجدها واشهد أن لا اله إلا الله وحده لا شريك له رب العالمين وارحم الراحمين الذي تعرف إلى خلقه بصفاته وأسمائه وتحبب إليهم بإحسانه وآلائه واشهد أن محمدا عبده ورسوله الذي ختم به
ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়্যাহ রচিত ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তালাকিল গদবান
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি পরম প্রজ্ঞাময়, মহানুভব, সুউচ্চ, মহান, সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ, পরম স্নেহশীল ও পরম দয়ালু; যিনি তাঁর বান্দাদের ওপর নিয়ামত পূর্ণ করেছেন, নিজের ওপর রহমত অবধারিত করেছেন এবং তাঁর লিখিত কিতাবে এই নিশ্চয়তা দিয়েছেন যে, তাঁর রহমত তাঁর ক্রোধের ওপর প্রবল হয়। তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি সেই মাতার চেয়েও অধিক দয়ালু যে তার সন্তানকে স্নেহ করে; ঠিক যেমন তিনি কোনো তাওবাকারীর তাওবায় সেই ব্যক্তির চেয়েও অধিক আনন্দিত হন, যে জনমানবহীন ধ্বংসাত্মক প্রান্তরে নিজের খাদ্য ও পানীয়সহ হারিয়ে যাওয়া সওয়ারি ফিরে পেয়ে আনন্দিত হয়। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই; তিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক এবং সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু, যিনি তাঁর সৃষ্টির নিকট নিজের গুণাবলী ও নামসমূহের মাধ্যমে পরিচিত হয়েছেন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও নিয়ামতরাজির মাধ্যমে তাদের প্রিয়পাত্র হয়েছেন। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যাঁর মাধ্যমে তিনি সমাপ্তি টেনেছেন...
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তলাকিল গদবান - ত আফীফী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
النبيين وأرسله رحمة للعالمين وبعثه بالحنيفية السمحة والدين المهيمن على كل دين فوضع به الإصار والإغلال وأغنى بشريعته عن طرق المكر والاحتيال وفتح لمن اعتصم بها طريقا واضحا ومنهجا وجعل لمن تمسك بها من كل ما ضاق عليه فرجا ومخرجا فعند رسول الله السعة والرحمة وعند غيره الشدة والنقمة فما جاءه مكروب إلا وجد عنده تفريج كربته ولا لهفان إلا وجد عنده إغاثة لهفته فما فرق بين زوجين إلا عن وطر واختيار ولا شتت شمل محبين إلا عن إرادة منهما وإيثار ولم يخرب ديار المحبين بغلظ اللسان ولم يفرق بينهم بما جرى عليه من غير قصد الإنسان،
নবীদের (পরম্পরায়) তাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছেন এবং তাঁকে উদার একনিষ্ঠ ধর্ম (الحنيفية السمحة) ও সকল দ্বীনের ওপর প্রাবল্য অর্জনকারী দ্বীনসহ পাঠিয়েছেন। তাঁর মাধ্যমে তিনি (আল্লাহ) পূর্ববর্তী উম্মতদের ওপর থাকা গুরুভার (الإصار) ও শৃঙ্খলসমূহ (الأغلال) মোচন করেছেন এবং তাঁর শরিয়তের মাধ্যমে প্রতারণা ও চাতুর্যপূর্ণ পথসমূহ হতে অমুখাপেক্ষী করেছেন। যারা এই শরিয়তকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরেছে, তাদের জন্য তিনি একটি সুস্পষ্ট পথ ও কর্মপন্থা (منهج) উন্মোচন করেছেন। আর যারা একে অবলম্বন করেছে, তাদের জন্য প্রতিটি সংকীর্ণতা থেকে মুক্তি (فرج) ও উত্তরণের পথ (مخرج) প্রশস্ত করেছেন। কেননা আল্লাহর রাসূলের নিকট রয়েছে প্রশস্ততা ও রহমত, আর অন্য সবার নিকট রয়েছে কঠোরতা ও লাঞ্ছনা। কোনো আর্ত-পীড়িত ব্যক্তি তাঁর নিকট আসেনি যার দুঃখ তিনি লাঘব করেননি, আর কোনো ব্যাকুল ব্যক্তি আসেনি যাকে তিনি সাহায্য করেননি। তিনি কোনো দম্পতির মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটাননি তাদের নিজস্ব প্রয়োজন ও চয়ন ব্যতীত, আর কোনো প্রেমিক যুগলের মিলনকে বিচ্ছিন্ন করেননি তাদের পারস্পরিক সদিচ্ছা ও অগ্রাধিকার ব্যতীত। তিনি কর্কশ ভাষার মাধ্যমে প্রেমিকদের ঘর ধ্বংস করেননি এবং মানুষের অনিচ্ছাকৃত কোনো বিষয়ের কারণে তাদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করেননি।
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তলাকিল গদবান - ত আফীফী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
بل رفع المؤاخذة بالكلام الذي لم يقصده بل جرى على لسانه بحكم الخطأ والنسيان او الاكراه والسبق على طريق الاتفاق فقال فيما رواه عنه أهل السنن من حديث عائشة أم المؤمنين: "لا طلاق ولا عتاق في إغلاق" رواه الإمام احمد وأبو داود
বরং সেই বক্তব্যের দায়বদ্ধতা রহিত করা হয়েছে যা সে সংকল্প করেনি, বরং ভুল, বিস্মৃতি, জবরদস্তি কিংবা অনিচ্ছাকৃতভাবে তার মুখে উচ্চারিত হয়েছে। অতঃপর সুনান গ্রন্থসমূহের সংকলকগণ উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে যা বর্ণনা করেছেন, তাতে তিনি (সা.) বলেছেন: "ইগলাক (তথা ক্রোধ বা জবরদস্তির মুখে আত্মনিয়ন্ত্রণহীন অবস্থা) অবস্থায় কোনো তালাক কিংবা দাসমুক্তি নেই।" এটি ইমাম আহমাদ ও আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তলাকিল গদবান - ত আফীফী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وابن ماجه والحاكم في صحيحه وقال هذا حديث صحيح على شرط مسلم ولم يخرجاه قال ابو داود "في غلاق" ثم قال: والغلاق أظنه الغضب وقال حنبل: سمعت ابا عبد الله - يعني احمد بن حنبل - يقول: هو الغضب ذكره الخلال أبو بكر عبد العزيز ولفظ احمد: يعني الغضب. قال أبو بكر سالت أبا محمد وابن دريد وأبا عبد الله وأبا طاهر النحويين عن قوله "لا طلاق ولا عتاق في إغلاق" قالوا: يريد الإكراه لأنه إذا اكره انغلق عليه رأيه ويدخل في هذا المعنى المبرسم "مكرر" والمجنون فقلت لبعضهم والغضب أيضا فقال:
এবং ইবন মাজাহ ও আল-হাকিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: এই হাদিসটি মুসলিমের শর্ত (شرط) অনুযায়ী বিশুদ্ধ (صحيح), যদিও তাঁরা (বুখারি ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি। আবু দাউদ বলেছেন: "ইগলাক (আবদ্ধ) অবস্থায়"; এরপর তিনি বলেন: আমি মনে করি 'ইগলাক' অর্থ হলো ক্রোধ। হানবাল বলেন: আমি আবু আবদুল্লাহকে—অর্থাৎ আহমদ বিন হানবালকে—বলতে শুনেছি, তিনি বলছেন: এটি হলো ক্রোধ। আল-খল্লাল ও আবু বকর আবদুল আজিজ এটি উল্লেখ করেছেন এবং আহমদের শব্দ ছিল: অর্থাৎ ক্রোধ। আবু বকর বলেন: আমি আবু মুহাম্মদ, ইবন দুরাইদ, আবু আবদুল্লাহ এবং আবু তাহির নাহবিদের (ব্যাকরণবিদদের) তাঁর এই বাণী "ইগলাক (আবদ্ধ) অবস্থায় কোনো তালাক ও দাসমুক্তি নেই" সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি। তাঁরা বললেন: এর দ্বারা জবরদস্তি (إكراه) বোঝানো হয়েছে; কারণ যখন কাউকে বাধ্য করা হয় তখন তার বিচারবুদ্ধি রুদ্ধ বা সংকীর্ণ হয়ে যায়। আর এই অর্থের অন্তর্ভুক্ত হলো প্রলাপকারী (المبرسم), পুনরাবৃত্তি (مكرر) এবং উন্মাদ (مجنون)। অতঃপর আমি তাঁদের কাউকে বললাম: এবং ক্রোধও কি এর অন্তর্ভুক্ত? তখন তিনি বললেন:
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তলাকিল গদবান - ত আফীফী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ويدخل فيه الغضب لان الإغلاق أحدهما الإكراه والآخر ما دخل عليه مما ينغلق به رايه عليه وهذا مقتضى تبويب البخاري فإنه قال في صحيحه: باب الطلاق في الإغلاق والكره والسكران والمجنون يفرق بين الطلاق وفي الإغلاق وبين هذه الوجوه وهو أيضا مقتضى كلام الشافعي فانه يسمي نذر اللجاج والغضب يمين الغلق ونذر الغلق
আর ক্রোধও এর অন্তর্ভুক্ত হবে; কেননা ‘ইগলাক’ (অবরুদ্ধতা) হলো দুই প্রকারের একটি: প্রথমটি হলো জবরদস্তি এবং অন্যটি হলো ব্যক্তির ওপর আপতিত এমন অবস্থা যার ফলে তার বিচারবুদ্ধি রুদ্ধ হয়ে পড়ে। ইমাম বুখারীর অধ্যায় বিন্যাস থেকেও এটিই প্রতীয়মান হয়; কারণ তিনি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বলেছেন: ‘পরিচ্ছেদ: ইগলাক (অবরুদ্ধতা), জবরদস্তি, মদ্যপ ও উন্মাদের অবস্থায় তালাক’। তিনি সাধারণ তালাক এবং ইগলাক তথা এই অবস্থাগুলোর মধ্যে পার্থক্য করেছেন। এটি ইমাম শাফেয়ীর বক্তব্যেরও মর্মানুসারী, কারণ তিনি হঠকারিতা ও ক্রোধের বশবর্তী মানতকে ‘ইয়ামিনুল গালাক’ (অবরুদ্ধতার শপথ) এবং ‘নাজরুল গালাক’ (অবরুদ্ধতার মানত) বলে অভিহিত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তলাকিল গদবান - ত আফীফী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
هذا اللفظ يريد به نذر الغظب وهو قوله غير واحد من أئمة اللغة والقول بموجبه وهو مقتضى الكتاب والسنة وأقوال الصحابة والتابعين وأئمة الفقهاء ومقتضى القياس الصحيح والاعتبار وأصول الشريعة.
أما "الكتاب" فمن وجوه:
أحدها: قوله تعالى: {لا يؤاخذهم الله باللغو في ايمانكم ولكن يؤاخذكم بما كسبت قلوبكم} قال ابن جرير في تفسيره حدثنا ابن وكيع "ثنا" مالك بن إسماعيل عن خالد عن عطاء بن رستم عن ابن عباس قال: لغو اليمين أن تحلف وأنت عضبان حدثنا ابن حمبد "ثنا" يحيى بن واضح "ثنا" أبو حمزة عن عطاء عن طاووس قال: كل يمين حلف عليها
এই শব্দ দ্বারা 'ক্রোধের মানত' বোঝানো হয়েছে এবং এটিই অনেক ভাষাবিদ ইমামগণের অভিমত। এর বিধান অনুযায়ী আমল করা কুরআন, সুন্নাহ, সাহাবী ও তাবিঈগণের বক্তব্য, ফকিহ ইমামগণের অভিমত এবং সঠিক কিয়াস (قياس صحيح), যৌক্তিক বিবেচনা ও শরীয়তের মূলনীতির (أصول الشريعة) দাবি।
'কিতাব' বা কুরআন থেকে এর সপক্ষে দলীলসমূহ:
প্রথমত: মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের বৃথা শপথের জন্য আল্লাহ তোমাদের ধরবেন না, কিন্তু তোমাদের অন্তরের সংকল্পের জন্য তিনি তোমাদের ধরবেন।} ইবনে জারীর তাঁর তাফসিরে বলেন: ইবনে ওয়াকী‘ আমাদের নিকট বর্ণনা (حدثنا) করেছেন, মালিক ইবনে ইসমাঈল আমাদের নিকট বর্ণনা (حدثنا) করেছেন খালিদ থেকে, তিনি আতা ইবনে রুস্তম থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: ‘অসার শপথ’ হলো রাগান্বিত অবস্থায় তোমার শপথ করা। ইবনে হুমাইদ আমাদের নিকট বর্ণনা (حدثنا) করেছেন, ইয়াহইয়া ইবনে ওয়াদিহ আমাদের নিকট বর্ণনা (حدثنا) করেছেন, আবু হামজা আতা থেকে, তিনি তাউস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: প্রতিটি শপথ যা করা হয়েছে...
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তলাকিল গদবান - ত আফীফী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
رجل وهو غضبان فلا كفارة عليه فيها لقوله {لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ} وهذا احد الأقوال في مذهب مالك ان لغو اليمين هو اليمين في الغضب وهذا اختيار اجل المالكية وأفضلهم على الإطلاق وهو: القاضي إسماعيل بن اسحق فانه ذهب إلى أن الغضبان لا تنعقد يمينه ولا تنافي بين هذا القول وبين قول ابن عباس وعائشة ان لغو اليمين هو قول الرجل لا والله وبلى والله وقول عائشة وغيرها أيضا: انه يمين الرجل على الشيء يعتقده كما حلف عليه فيتبين بخلافه فان الجميع من لغو اليمين والذي فسر لغو اليمين بأنها يمين الغضب يقول بان النوعين الآخرين من اللغو وهذا هو الصحيح فإن الله سبحانه جعل لغو اليمين مقابلا لكسب القلب ومعلوم أن الغضبان والحالف على الشيء يظنه كما حلف عليه والقائل: لا والله وبلى والله من غير عقد
একজন ব্যক্তি রাগান্বিত অবস্থায় (শপথ করলে) তার ওপর কোনো কাফফারা (كفارة) নেই; কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ তোমাদের অনিচ্ছাকৃত শপথের (لغو اليمين) জন্য পাকড়াও করবেন না}। এটি মালিকি মাযহাবের (مذهب) অন্যতম একটি অভিমত যে, অনিচ্ছাকৃত শপথ (لغو اليمين) হলো রাগান্বিত অবস্থার শপথ। এটি মালিকিগণের মধ্যে সর্বাধিক মর্যাদাবান ও নিরঙ্কুশভাবে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির পছন্দকৃত অভিমত, আর তিনি হলেন: কাজী ইসমাইল ইবনে ইসহাক। কেননা তিনি এই মত পোষণ করেছেন যে, রাগান্বিত ব্যক্তির শপথ কার্যকর (تنعقد) হয় না। এই অভিমত এবং ইবনে আব্বাস ও আয়েশা (রা.)-এর অভিমতের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই যে, অনিচ্ছাকৃত শপথ (لغو اليمিন) হলো মানুষের এই কথা বলা— "না, আল্লাহর কসম" এবং "হ্যাঁ, আল্লাহর কসম"। আয়েশা (রা.) ও অন্যদেরও অভিমত হলো: এটি কোনো বিষয়ের ওপর মানুষের এমন শপথ যা সে নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী করে, কিন্তু পরবর্তীতে তার বিপরীতটি প্রকাশ পায়। বস্তুত এই সবগুলোই অনিচ্ছাকৃত শপথের (لغو اليمিন) অন্তর্ভুক্ত। যারা অনিচ্ছাকৃত শপথের (لغو اليمিন) ব্যাখ্যা রাগান্বিত অবস্থার শপথ হিসেবে দিয়েছেন, তারা বলেন যে অন্য দুটি প্রকারও 'লগো' (অনিচ্ছাকৃত শপথের) অন্তর্ভুক্ত; আর এটিই হলো সঠিক (الصحيح)। কেননা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা অনিচ্ছাকৃত শপথকে (لغو اليمিন) অন্তরের সংকল্পের বিপরীতে রেখেছেন। আর এটি সুবিদিত যে, রাগান্বিত ব্যক্তি, কোনো বিষয়কে সত্য মনে করে তার ওপর শপথকারী এবং কোনো দৃঢ় সংকল্প (عقد) ছাড়াই "না, আল্লাহর কসম" ও "হ্যাঁ, আল্লাহর কসম" বলা ব্যক্তি—
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তলাকিল গদবান - ত আফীফী
(পৃষ্ঠা: ৩২)
اليمين لم يكسب قلبه عقد اليمين ولا قصدها والله سبحانه قد رفع المؤاخذة بلفظ جرى على اللسان لم يكسبه القلب ولا يقصده فلا تجوز المؤاخذة بما رفع الله المؤاحذة به بل قد يقال: لغو الغضبان اظهر من لغو القسمين الآخرين: لما سيأتي بيانه إن شاء الله تعالى.
فصل
"
الوجه الثاني" من دلالة الكتاب قوله سبحانه {وَلَوْ يُعَجِّلُ اللَّهُ لِلنَّاسِ الشَّرَّ اسْتِعْجَالَهُمْ بِالْخَيْرِ لَقُضِيَ إِلَيْهِمْ أَجَلُهُمْ فَنَذَرُ الَّذِينَ لا يَرْجُونَ لِقَاءَنَا فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ} وفي تفسير ابن ابي نجيح عن مجاهد: هو قول الإنسان لولده وماله إذا عضب عليهم "اللهم لا تبارك فيه والعنه" فلو يعجل لهم الاستجابة في ذلك كما يستجاب في الخير لأهلكهم. انتهض الغضب مانعا من انعقاد سبب الدعاء الذي تاثيره في الإجابة أسرع من تأثير الأسباب في أحكامها فان الله سبحانه يجيب دعاء الصبي والسفيه والمبرسم ومن لا يصح طلاقه ولا عقوده فإذا كان الغضب قد منع كون الدعاء سببا لان الغضبان لم يقصده بقلبه فان عاقلا لا يختار أهلاك نفسه وأهله وذهاب ماله وقطع يده ورجله وغير ذلك بما يدعو به فاقتضت رحمة العزيز العليم أن لا يؤاخذه بذلك ولا يجيب دعاءه لأنه عن غير قصد منه بل الحامل له عليه الغضب الذي هو من الشيطان. "فإن قيل" إن هذا ينتقض عليكم بالحديث الذي رواه ابو داود عن جابر بن عبد الله عن النبي صلى الله عليه وسلم انه قال: "لا تدعوا على أولادكم ولا على أموالكم ولا تدعوا على خدمكم لا توافقوا من الله ساعة لا يسال فيها شيئا إلا أعطاه".
শপথের ক্ষেত্রে তার অন্তর শপথের সংকল্প করেনি এবং এর কোনো উদ্দেশ্যও পোষণ করেনি। মহান আল্লাহ এমন শব্দের দায়মুক্তি দিয়েছেন যা কেবল মুখ দিয়ে উচ্চারিত হয় কিন্তু অন্তর তা অর্জন করেনি বা এর সংকল্প করেনি। সুতরাং আল্লাহ যা থেকে দায়মুক্তি দিয়েছেন, সেটির জন্য জবাবদিহি করা বৈধ নয়। বরং বলা যেতে পারে: ক্রোধাক্রান্ত ব্যক্তির অসার কথা অন্য দুই প্রকার অসার কথার চেয়েও অধিক স্পষ্ট; যার বর্ণনা ইনশাআল্লাহ তাআলা সামনে আসবে।
পরিচ্ছেদ
"
দ্বিতীয় দিক" যা কিতাবুল্লাহর দলিল থেকে গৃহীত মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি আল্লাহ মানুষের জন্য অকল্যাণ ত্বরান্বিত করতেন যেভাবে তিনি তাদের জন্য কল্যাণ ত্বরান্বিত করেন, তবে তাদের মৃত্যু নির্ধারিত হয়ে যেত। সুতরাং যারা আমার সাথে সাক্ষাতের আশা পোষণ করে না, আমি তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায় বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে বেড়ানোর জন্য ছেড়ে দেই।} (সূরা ইউনুস: ১১)। ইবনে আবি নাজিহ-এর তাফসিরে মুজাহিদ থেকে বর্ণিত হয়েছে: এটি হলো কোনো ব্যক্তির রাগান্বিত অবস্থায় তার সন্তান ও সম্পদের উদ্দেশ্যে এ কথা বলা যে, "হে আল্লাহ! এতে বরকত দিও না এবং এর ওপর অভিশাপ দাও।" যদি আল্লাহ তাদের কল্যাণের দোয়ায় সাড়া দেওয়ার মতো এতেও ত্বরিত সাড়া দিতেন, তবে তিনি তাদের ধ্বংস করে দিতেন। রাগ দোয়ার কারণ হওয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছে, যার প্রভাব সাড়াদানের ক্ষেত্রে অন্যান্য উপকরণের প্রভাবের চেয়ে দ্রুততর। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ শিশু, নির্বোধ, বিকারগ্রস্ত ব্যক্তি এবং যার তালাক বা চুক্তি কার্যকর হয় না তাদের দোয়াও কবুল করেন। তবে যখন ক্রোধ দোয়ার কারণ হওয়াকে বাধাগ্রস্ত করে, যেহেতু ক্রোধাক্রান্ত ব্যক্তি মনেপ্রাণে এর ইচ্ছা পোষণ করেনি (কেননা কোনো সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ নিজের ও পরিবারের ধ্বংস কামনা করে না কিংবা সম্পদহানি ও হাত-পা বিচ্ছিন্ন করার আকাঙ্ক্ষা করে না), তখন মহা পরাক্রমশালী ও সর্বজ্ঞ আল্লাহর রহমত এটাই দাবি করে যে, তিনি এর জন্য তাকে পাকড়াও করবেন না এবং তার দোয়া কবুল করবেন না। কারণ এটি তার সদিচ্ছা থেকে নয়, বরং শয়তানের পক্ষ থেকে আসা রাগ তাকে এ কাজে প্ররোচিত করেছে। "যদি বলা হয়" যে, আপনার এই দাবিটি আবু দাউদ-এ জাবের ইবনে আব্দুল্লাহর সূত্রে বর্ণিত হাদিস দ্বারা খণ্ডন হয়, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা তোমাদের সন্তানদের জন্য বদদোয়া করো না, তোমাদের সম্পদের জন্য বদদোয়া করো না এবং তোমাদের সেবকদের জন্যও বদদোয়া করো না; পাছে তোমরা আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন এক মুহূর্তের সম্মুখীন হও যখন যা-ই চাওয়া হয় তিনি তা প্রদান করেন।"
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তলাকিল গদবান - ত আফীফী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
"قيل": لا تنافي بين الآية والحديث. فان الآية اقتضت الفرق بين دعاء المختار ودعاء الغضبان الذي لا يختار ما دعا به والحديث دل على: أن لله سبحانه أوقاتا لا يرد فيها داعيا ولا يسال فيها شيئا إلا اعطاه. فنهى الأمة إن يدعوا احدهم على نفسه أو أهله أو ماله خشية أن يوافق تلك الساعة فيجاب له ولا ريب أن الدعاء بالشر كثيرا ما يجلب الدعاء بالخير والإنسان
"বলা হয়েছে যে": আয়াত এবং হাদিসের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। কারণ আয়াতটি স্বেচ্ছায় কৃত দোয়া এবং রাগান্বিত ব্যক্তির—যিনি রাগের মাথায় কী দোয়া করছেন তার ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন—কৃত দোয়ার মধ্যে পার্থক্যের দাবি রাখে। পক্ষান্তরে হাদিসটি নির্দেশ করে যে: মহান আল্লাহর এমন কিছু বিশেষ সময় রয়েছে যখন তিনি কোনো আহ্বানকারীর ডাক প্রত্যাখ্যান করেন না এবং যা কিছু তাঁর নিকট প্রার্থনা করা হয় তিনি তা দান করেন। তাই উম্মতকে নিজের ওপর, নিজের পরিবার কিংবা সম্পদের ওপর বদদোয়া করতে নিষেধ করা হয়েছে এই আশঙ্কায় যে, পাছে তা সেই কবুলিয়তের সময়ের সাথে মিলে যায় এবং তার প্রার্থনা মঞ্জুর হয়ে যায়। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, অকল্যাণের প্রার্থনা অনেক সময় কল্যাণের প্রার্থনার মতোই মানুষের মুখে চলে আসে, আর মানুষ...
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তলাকিল গদবান - ত আফীফী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
يدعو على غيره ظلما وعدوانا مع ذلك فقد يستجاب له لكن اجابة دعاء الخير من صفة الرحمة وإجابة ضده من صفة الغضب والرحمة تغلب الغضب والمقصود ان الغضب مؤثر في عدم انعقاد السبب في الجملة ومن هذا قوله تعالى: {وَيَدْعُ الإنسان بِالشَّرِّ دُعَاءَهُ بِالْخَيْرِ وَكَانَ الإنسان عَجُولاً} وهو الرجل يدعو على نفسه واهله بالشر في حال الغضب
فصل
"
الوجه الثالث" قوله تعالى {وَلَمَّا رَجَعَ مُوسَى إِلَى قَوْمِهِ غَضْبَانَ أَسِفاً قَالَ بِئْسَمَا خَلَفْتُمُونِي مِنْ بَعْدِي أَعَجِلْتُمْ أَمْرَ رَبِّكُمْ وَأَلْقَى الْأَلْوَاحَ وَأَخَذَ بِرَأْسِ أَخِيهِ يَجُرُّهُ إِلَيْهِ قَالَ ابْنَ أُمَّ إِنَّ الْقَوْمَ اسْتَضْعَفُونِي وَكَادُوا يَقْتُلُونَنِي فَلا تُشْمِتْ بِيَ الْأَعْدَاءَ وَلا تَجْعَلْنِي مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ} ووجه الاستدلال بالآية: ان موسى "صلوات الله عليه" لم يكن ليلقي الواحا كتبها الله تعالى فيها كلامه من على راسه الى الارض فيكسرها اختيارا منه لذلك ولا كان فيه مصلحة لبني اسرائيل ولذلك جره بلحيته وراسه وهو اخوه وانما حمله على ذلك الغضب فعذره الله سبحانه به ولم يعتب عليه بما فعل اذ كان مصدره الغضب الخارج عن قدرة العبد واختياره فالمتولد عنه غير منسوب الى اختياره ورضاه به يوضحه
"
الوجه الرابع" وهو قوله {وَلَمَّا سَكَتَ عَنْ مُوسَى الْغَضَبُ أَخَذَ الأَلْوَاحَ} فعدل سبحانه عن قوله سكن الى قوله "سكت" تنزيلا للغضب منزلة السلطان الآمر الناهي الذي يقول لصاحبه: افعل لا تفعل فهو مستجيب لداعي الغضب الناطق فيه المتكلم على لسانه فهو أولى بان يعذر من المكره الذي لم يتسلط عليه غضب يأمره وينهاه كما سياتي تقريره بعد هذا ان شاء الله وإذا كان الغضب هو الناطق على لسانه
কেউ অন্যের বিরুদ্ধে অন্যায় ও শত্রুতা বশত বদদোয়া করে, তা সত্ত্বেও অনেক সময় তা কবুল হয়ে যায়। তবে কল্যাণের দোয়া কবুল হওয়া রহমতের একটি গুণ, আর এর বিপরীতটি ক্রোধের গুণ। আর রহমত ক্রোধের ওপর বিজয়ী হয়। মূল উদ্দেশ্য হলো, ক্রোধ সাধারণভাবে কোনো কারণ বা বিধান কার্যকর হওয়ার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। এ বিষয়ে মহান আল্লাহর বাণী: "মানুষ যেভাবে কল্যাণ প্রার্থনা করে, সেভাবেই অকল্যাণ প্রার্থনা করে; আর মানুষ তো অতিশয় ক্ষিপ্রতাপ্রবণ।" এটি ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে রাগের মাথায় নিজের এবং নিজের পরিবারের জন্য অকল্যাণের দোয়া করে।
পরিচ্ছেদ
"
তৃতীয় দিক" মহান আল্লাহর বাণী: "আর মূসা যখন অত্যন্ত রাগান্বিত ও ব্যথিত অবস্থায় নিজ কওমের কাছে ফিরে এলেন, তখন বললেন, আমার অনুপস্থিতিতে তোমরা আমার কতই না জঘন্য প্রতিনিধিত্ব করেছ! তোমরা কি তোমাদের রবের আদেশের আগেই তাড়াহুড়ো করলে? এরপর তিনি তখতিগুলো ফেলে দিলেন এবং নিজের ভাইয়ের মাথা ধরে নিজের দিকে টানতে লাগলেন। হারুন বললেন, হে আমার মায়ের পুত্র! এই লোকগুলো আমাকে দুর্বল (ضعيف) মনে করেছিল এবং তারা প্রায় আমাকে হত্যা করতে উদ্যত হয়েছিল; সুতরাং আপনি আমাকে নিয়ে শত্রুদের হাসাহাসির সুযোগ দেবেন না এবং আমাকে জালিমদের অন্তর্ভুক্ত করবেন না।" এই আয়াত থেকে দলিল গ্রহণের পদ্ধতি হলো: মূসা 'আলাইহিস সালাম' স্বেচ্ছায় আল্লাহর কালাম লিখিত তখতিগুলো হাত থেকে মাটিতে ছুড়ে ফেলে দিয়ে ভেঙে ফেলার মতো ব্যক্তি ছিলেন না, আর এর মধ্যে বনী ইসরাঈলের কোনো কল্যাণও ছিল না। একইভাবে তিনি তাঁর আপন ভাইয়ের দাড়ি ও মাথা ধরে টানছিলেন। মূলত প্রচণ্ড ক্রোধই তাঁকে এমনটি করতে বাধ্য করেছিল। মহান আল্লাহ এ কারণে তাঁকে ক্ষমা করেছেন এবং তাঁর কৃতকর্মের জন্য তাঁকে তিরস্কার করেননি। কারণ, এর উৎস ছিল এমন ক্রোধ যা বান্দার সামর্থ্য ও ইচ্ছার বাইরে ছিল। সুতরাং ক্রোধের বশবর্তী হয়ে যা উৎপন্ন হয়, তা ব্যক্তির ইচ্ছা ও সন্তুষ্টির অন্তর্ভুক্ত ধরা হয় না। বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে—
"
চতুর্থ দিক" তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর যখন মূসার ক্রোধ নিবৃত্ত হলো, তখন তিনি তখতিগুলো তুলে নিলেন।" এখানে মহান আল্লাহ 'সাকানা' (শান্ত হওয়া) শব্দের পরিবর্তে 'সাকাতা' (চুপ হওয়া) শব্দ ব্যবহার করেছেন। রাগকে এখানে একজন আদেশদাতা ও নিষেধকারী শাসকের মর্যাদায় রাখা হয়েছে যে তার সঙ্গীকে বলে: 'এটি করো' বা 'এটি করো না'। ফলে তিনি (মূসা) সেই ক্রোধের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছিলেন যা তাঁর অন্তরে উচ্চকিত ছিল এবং তাঁর জিহবা দিয়ে কথা বলছিল। এমতাবস্থায় তিনি সেই বাধ্য হওয়া ব্যক্তির চেয়েও ক্ষমা পাওয়ার অধিক যোগ্য যার ওপর এমন কোনো ক্রোধ জেঁকে বসেনি যে তাকে আদেশ বা নিষেধ করবে—যেমনটি ইনশাআল্লাহ সামনে বিস্তারিত বর্ণনা করা হবে। আর যখন ক্রোধই জিহবার ওপর প্রভাব বিস্তার করে কথা বলে...
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তলাকিল গদবান - ত আফীফী
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
الأمر الناهي له لم يكن ما جرى على لسانه في هذا الحال منسوبا الى اختياره ورضاه فلا يتم عليه أثره.
"
الوجه الخامس" قوله تعالى {وَإِمَّا يَنْزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ} في ثلاثة مواضع من القران. وما يتكلم به الفضبان في حال شدة غضبه من طلاق وأو شتم ونحوه هو من: نزغات الشيطان فإنه يلجئه إلى ان يقول ما لم يكن مختارا لقوله: فإذا سرى عنه علم ان ذلك من القاء الشيطان على لسانه مما لم يكن يرضاه واختياره والغضب من الشيطان واثره منه كما في الصحيح ان رجلين استبا عند النبي حتى احمر وجه احدهما وانتفخت أوداجه فقال النبي صلى الله عليه وسلم " اني لاعلم كلمة لو قالها لذهب عنه ما يجد: "اعوذ بالله من الشيطان الرجيم" وفي السنن ان النبي صلى الله عليه وسلم قال "ان الغضب من الشيطان وان الشيطان من النار وانما تطفأ النار بالماء فإذا غضب احدكم فليتوضأ".
আদেশ ও নিষেধকারী হিসেবে তার জিহ্বা দিয়ে এই অবস্থায় যা প্রকাশ পেয়েছে তা তার ইচ্ছা বা সন্তুষ্টির ওপর ভিত্তি করে নয়, ফলে এর কোনো প্রভাব তার ওপর কার্যকর হবে না।
"
পঞ্চম দিক" মহান আল্লাহর বাণী: {আর যদি শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো প্ররোচনা আপনাকে প্ররোচিত করে, তবে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করুন}—এটি কুরআনের তিনটি স্থানে বর্ণিত হয়েছে। রাগান্বিত ব্যক্তি তার প্রচণ্ড রাগের অবস্থায় তালাক বা গালিগালাজ জাতীয় যা কিছু বলে, তা শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকেই হয়ে থাকে; কারণ শয়তান তাকে এমন কিছু বলতে বাধ্য করে যা সে নিজ ইচ্ছায় বলত না। ফলে যখন তার রাগ প্রশমিত হয়, তখন সে বুঝতে পারে যে এটি ছিল তার জিহ্বায় শয়তানের পক্ষ থেকে নিক্ষিপ্ত কিছু কথা, যা সে সন্তুষ্টচিত্তে বা স্বেচ্ছায় বলেনি। আর রাগ শয়তানের পক্ষ থেকে আসে এবং এর প্রভাবও শয়তানেরই কাজ; যেমনটি সহিহ (صحيح) বর্ণনায় রয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট দুই ব্যক্তি একে অপরকে গালি দিচ্ছিল, এমনকি তাদের একজনের মুখমণ্ডল লাল হয়ে গিয়েছিল এবং ঘাড়ের রগগুলো ফুলে উঠেছিল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "আমি এমন একটি বাক্য জানি, যা সে পাঠ করলে তার বর্তমান উত্তেজনা দূর হয়ে যেত: 'আমি বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি'।" আর সুনান গ্রন্থসমূহে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই রাগ শয়তানের পক্ষ থেকে, আর শয়তান আগুনের তৈরি, আর আগুন কেবল পানি দিয়েই নেভানো যায়। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন রাগান্বিত হয়, সে যেন অজু করে।"
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তলাকিল গদবান - ত আফীফী
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
وإذا كان هذا السبب واثره من الجاء الشيطان لم يكن من اختيار العبد فلا يترتب عليه حكمه
فصلفاما دلالة السنة فمن وجوه
أحدها حديث عائشة المتقدم وهو قوله "لا طلاق ولا عتاق في اغلاق". وقد اختلف في الاغلاق فقال اهل الحجاز: هو الاكراه. وقال اهل العراق: هو الغضب وقالت طائفة: هو جمع الثلاث بكلمة واحدة. حكى الأقوال الثلاثة صاحب كتاب مطالع الانوار وكان الذي فسره بجمع الثلاث اخذه من التغليق وهو ان المطلق غلق طلاقه كما يغلق صاحب الدين ما عليه وهو من غلق الباب فكأنه اغلق على نفسه باب الرحمة بجمعه الثلاث فلم يجعل له الشارع ذلك ولم يملكه اياه رحمة به انما ملكه طلاقا يملك فيه الرجعة بعد الدخول وحجر عليه في وقته ووضعه وقدره. فلم يملكه اياه في وقت الحيض ولا في وقت طهر جامعها فيه ولم يملكه ان يبينها بغير عوض بعد الدخول فيكون قد غير صفة الكلام وهذا عند الجمهور فلو قال لها: انت طالق طلقة لا رجعة لي فيها أو طلقة بائنة لغا ذلك وثبتت له الرجعة وكذلك لم يملكه جمع الثلاث في
আর যখন এই কারণ এবং এর প্রভাব শয়তানের প্ররোচনা থেকে উদ্ভূত হয়, তখন তা বান্দার ইচ্ছাধীন থাকে না; ফলে এর ওপর এর বিধান কার্যকর হবে না।
পরিচ্ছেদ (فصل)আর সুন্নাহর প্রমাণের দিকগুলো নিম্নরূপ:
প্রথমটি হলো আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত পূর্বে উল্লিখিত হাদিস, যা হলো: "ইগলাক (اغلاق) অবস্থায় কোনো তালাক বা দাসমুক্তি নেই।" এই ইগলাক (اغلاق) শব্দের ব্যাখ্যায় মতভেদ রয়েছে। হিজাযের আলিমগণ বলেছেন: এটি হলো জবরদস্তি (إكراه)। ইরাকের আলিমগণ বলেছেন: এটি হলো ক্রোধ (الغضب)। অন্য একদল বলেছেন: এটি হলো এক শব্দে তিন তালাক একত্র করা। 'মাতালিউল আনওয়ার' গ্রন্থের লেখক এই তিনটি অভিমত উল্লেখ করেছেন। যিনি তিন তালাক একত্র করা দ্বারা এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তিনি একে 'তাগলিক' (التغليق) শব্দ থেকে গ্রহণ করেছেন; এর অর্থ হলো তালাকদাতা তার তালাককে রুদ্ধ করে দিয়েছে, যেমন ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি তার ওপর যা আছে তা রুদ্ধ বা আটক করে রাখে। এটি মূলত 'দরজা বন্ধ করা' থেকে উদ্ভূত। যেন সে তিন তালাক একত্র করার মাধ্যমে নিজের ওপর রহমতের দরজা রুদ্ধ করে দিল; তাই শারিয়াত প্রণেতা (الشارع) তার জন্য এমনটি নির্ধারণ করেননি এবং তার প্রতি দয়াবশত তাকে এর মালিকানা দেননি। বরং তাকে কেবল এমন তালাকের মালিকানা দিয়েছেন যাতে বাসর রাতের (الدخول) পর সে প্রত্যাবর্তনের (الرجعة) অধিকার রাখে এবং এর সময়, পদ্ধতি ও মাত্রার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছেন। ফলে ঋতুকালীন (الحيض) অবস্থায় কিংবা এমন পবিত্রাবস্থায় যাতে সে স্ত্রীর সাথে সহবাস করেছে, তাকে তালাক প্রদানের মালিকানা দেওয়া হয়নি। এছাড়া বাসর রাতের (الدخول) পর বিনিময় ব্যতীত তাকে চূড়ান্ত বিচ্ছেদ বা বাইন (بائن) করার মালিকানাও তাকে দেওয়া হয়নি, কারণ এতে কথার বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করা হয়। এটি জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ (الجمهور) আলিমদের মত। সুতরাং সে যদি তাকে বলে: "তোমাকে এমন এক তালাক দিলাম যাতে আমার ফেরার কোনো পথ নেই" অথবা "এক তালাক যা চূড়ান্ত বিচ্ছেদ (بائن)", তবে তা অকার্যকর হবে এবং তার প্রত্যাবর্তনের (الرجعة) অধিকার সাব্যস্ত থাকবে। একইভাবে তাকে তিন তালাক একত্র করার মালিকানা দেওয়া হয়নি
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তলাকিল গদবান - ত আফীফী
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
مرة واحدة بل حجر عليه في هذا وهذا وكان ذلك من حجة من لم يوقع الطلاق المحرم ولا الثلاث بكلمة واحدة لانه طلاق محجور على صاحبه شرعا وحجر الشارع يمنع نفوذ التصرف وصحته كما يمنع نفوذ التصرف في العقود المالية فهذه حجة من اكثر من ثلاثين حجة ذكروها على كلام وقع الطلاق المحجور على المطلق فيه. والمقصود هاهنا ان هؤلاء فسروا الاغلاق بجمع الثلاث لكونه اغلق على نفسه باب الرحمة الذي لم يغلقه الله عليه الا في المرة الثالثة "واما الآخرون" فقالوا: الإغلاق مأخوذ من إغلاق الباب وهو ارتاجه واطباقه فالأمر المغلق ضد الأمر المنفرج والذي أغلق عليه الأمر ضد الذي فرج له وفتح عليه فالمكره "مكرر" الذي اكره على أمر إن لم يفعله وإلا حصل له من الضرر ما اكره عليه قد أغلق عليه باب القصد والإرادة لما اكره عليه فالإغلاق في حقه بمعنى أغلاق أبواب القصد والإرادة له فلم يكن قلبه منفتحا لإرادة القول والفعل الذي اكره عليه ولا لاختيارهما فليس مطلق الإرادة والاختيار بحيث إن شاء طلق وان شاء لم يطلق وان شاء تكلم وان شاء لم يتكلم بل أغلق عليه باب الإرادة إلا للذي قد اكره عليه. ولهذا قال النبي صلى الله عليه وسلم "لا يقل أحدكم اللهم اغفر لي إن شئت اللهم ارحمني إن
একবারে, বরং তার ওপর এটি এবং ওটি উভয় ক্ষেত্রেই নিষেধাজ্ঞা (حجر) আরোপ করা হয়েছে। এটি ছিল তাদের দলিল যারা নিষিদ্ধ তালাক অথবা এক শব্দে তিন তালাককে কার্যকর গণ্য করেন না; কারণ এটি এমন এক তালাক যা শরীয়ত অনুযায়ী (شرعا) এর প্রদানকারীর ওপর নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর শরীয়ত প্রণেতার পক্ষ থেকে কোনো কার্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা (حجر) আরোপ করা সেই কার্যের কার্যকরিতা (نفوذ) এবং শুদ্ধতা (صحة) অর্জনে বাধা প্রদান করে, যেমনটি আর্থিক চুক্তিসমূহের কার্যকরিতার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এটি সেই ত্রিশটিরও অধিক দলিলের একটি যা তারা তালাকদাতার জন্য নিষিদ্ধ তালাকের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন। আর এখানে উদ্দেশ্য হলো এই যে, তারা রুদ্ধতা (إغلاق)-কে তিন তালাক একত্রিত করার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেছেন, কারণ এর মাধ্যমে তালাকদাতা নিজের ওপর রহমতের সেই দরজা বন্ধ করে দেয় যা আল্লাহ তাআলা তৃতীয়বারের আগে তার জন্য বন্ধ করেননি।
"পক্ষান্তরে অন্যান্যরা" বলেন: রুদ্ধতা (إغلاق) শব্দটি দরজা বন্ধ করা থেকে গৃহীত, যার অর্থ হলো তা মজবুতভাবে আটকে দেওয়া। সুতরাং রুদ্ধ বিষয়টি হলো উন্মুক্ত বিষয়ের বিপরীত, আর যার ওপর বিষয়টি রুদ্ধ হয়ে গেছে সে ওই ব্যক্তির বিপরীত যার জন্য বিষয়টি প্রশস্ত ও উন্মুক্ত করা হয়েছে। সুতরাং বাধ্যকৃত (مكره) ব্যক্তি—যাকে এমন কোনো বিষয়ে বাধ্য করা হয়েছে যা সে না করলে ক্ষতির সম্মুখীন হবে—তার জন্য যে বিষয়ে সে বাধ্য হয়েছে তাতে সংকল্প (قصد) ও ইচ্ছা (إرادة) এর দরজা রুদ্ধ হয়ে গেছে। সুতরাং তার ক্ষেত্রে রুদ্ধতা (إغلاق) এর অর্থ হলো তার সংকল্প (قصد) ও ইচ্ছা (إرادة) এর দ্বারসমূহ রুদ্ধ হওয়া। ফলে যে কথা বা কাজে তাকে বাধ্য করা হয়েছে, তা করার জন্য তার অন্তর উন্মুক্ত ছিল না এবং সে বিষয়ে তার কোনো পছন্দ বা স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা (اختيار) ছিল না। এমতাবস্থায় তার ইচ্ছা (إرادة) ও পছন্দ (اختيار) এমন স্বাধীন থাকে না যে, সে চাইলে তালাক দেবে আর না চাইলে দেবে না, কিংবা চাইলে কথা বলবে আর না চাইলে বলবে না; বরং তাকে যে বিষয়ে বাধ্য করা হয়েছে তা ব্যতীত তার ইচ্ছার দ্বার রুদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এ কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন এভাবে না বলে যে—হে আল্লাহ! আপনি চাইলে আমাকে ক্ষমা করুন; হে আল্লাহ! আপনি চাইলে আমাকে দয়া করুন..."
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তলাকিল গদবান - ত আফীফী
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
شئت ولكن ليعزم المسالة فان الله لا مكره له" فبين النبي صلى الله عليه وسلم أن الله لا يفعل إلا إذا شاء بخلاف المكره الذي يفعل ما لا يشاؤه فانه لا يقال يفعل ما يشاء إلا إذا كان مطلق الدواعي وهو المختار وأما من الزم بفعل معين فلا ولهذا يقال المكره غير مختار ويجعل قسيم المختار لا قسما منه ومن سماه مختارا فانه يعني أن له إرادة واختيارا بالقصد الثاني فانه يريد الخلاص من الشر ولا خلاص له إلا بفعل ما اكره عليه فصار مريدا له بالقصد الثاني لا بالقصد الأول والغضبان الذي يمنعه الغضب من معرفة ما يقول وقصده فهذا من أعظم الاغلاق وهو في هذا الحال بمنزلة المبرسم والمجنون والسكران بل أسوأ حالا من السكران لان السكران لا يقتل نفسه ولا يلقي ولده من علو والغضبان يفعل ذلك وهذا لا يتوجه فيه نزاع انه لا يقع طلاقه والحديث يتناول هذا القسم قطعا. وحينئذ فنقول الغضب ثلاثة أقسام:
"...তুমি চাও, কিন্তু সে যেন দৃঢ়তার সাথে প্রার্থনা করে, কেননা আল্লাহকে বাধ্যকারী (مكره) কেউ নেই।" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্পষ্ট করেছেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর ইচ্ছা ব্যতীত কোনো কাজ করেন না, যা সেই বাধ্য (مكره) ব্যক্তির বিপরীত যে এমন কাজ করে যা সে করতে চায় না। কেননা, 'যা ইচ্ছা তা-ই করে' কথাটি কেবল তখনই বলা যায় যখন কাজের প্রেরণা নিরঙ্কুশ হয় এবং ব্যক্তিটি স্বেচ্ছাপ্রবৃত্ত (مختار) হয়। আর যাকে কোনো নির্দিষ্ট কাজ করতে বাধ্য করা হয়েছে, তার ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়। এজন্য বলা হয় যে, বাধ্য (مكره) ব্যক্তি স্বেচ্ছাপ্রবৃত্ত (مختار) নয়; বরং তাকে স্বেচ্ছাপ্রবৃত্তের বিপরীত হিসেবে গণ্য করা হয়, তার কোনো প্রকারভেদ হিসেবে নয়। আর যারা তাকে স্বেচ্ছাপ্রবৃত্ত (مختار) বলে অভিহিত করেছেন, তারা এর দ্বারা বুঝিয়েছেন যে তার মধ্যে গৌণ সংকল্পের (بالقصد الثاني) ভিত্তিতে ইচ্ছা ও চয়ন বিদ্যমান; কেননা সে অনিষ্ট থেকে মুক্তি চায় এবং তাকে যা করতে বাধ্য করা হয়েছে তা করা ব্যতীত তার নিষ্কৃতির কোনো পথ নেই। ফলে সে গৌণ সংকল্পের (بالقصد الثاني) নিরিখে ইচ্ছাকারী হয়েছে, প্রাথমিক সংকল্পের (بالقصد الأول) নিরিখে নয়। আর সেই ক্রুদ্ধ ব্যক্তি যাকে তার ক্রোধ সে কী বলছে তা বুঝতে এবং তার সংকল্প অনুধাবন করতে বাধা দেয়, এটিই হলো চরম রুদ্ধাবস্থার (إغلاق) অন্তর্ভুক্ত। এমতাবস্থায় সে মস্তিষ্কপ্রদাহে আক্রান্ত (المبرسم), উন্মাদ (مجنون) ও মাতালের (سكران) পর্যায়ভুক্ত। বরং সে মাতালের (سكران) চেয়েও গুরুতর অবস্থায় থাকে; কেননা মাতাল নিজেকে হত্যা করে না কিংবা তার সন্তানকে উপর থেকে নিচে নিক্ষেপ করে না, অথচ ক্রুদ্ধ ব্যক্তি তা করে বসে। এ ব্যাপারে কোনো বিরোধ নেই যে তার তালাক (طلاق) কার্যকর হবে না এবং এই হাদিসটি নিশ্চিতভাবেই এই পর্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করে। এমতাবস্থায় আমরা বলি যে, রাগ তিন প্রকার:
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তলাকিল গদবান - ত আফীফী
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
"احدها" إن يحصل للإنسان مبادئه وأوائله بحيث لا يتغير عليه عقله ولا ذهنه ويعلم ما يقول وما يقصده فهذا لا إشكال في وقوع طلاقه وعتقه وصحة عقوده ولا سيما إذا وقع منه ذلك بعد تردده فكره "القسم
الثاني" أن يبلغ به الغضب نهايته بحيث ينغلق عليه باب العلم والإرادة فلا يعلم ما يقول ولا يريده فهذا لا يتوجه خلاف في عدم وقوع طلاقه كما تقدم والغضب غول العقل فإذا اغتال الغضب عقله حتى لم يعلم ما يقول فلا ريب انه لا ينفذ شيء من أقواله في هذه الحالة فإن أقوال المكلف إنما مع علم القائل بصدورها منه ومعناها وإرادته للتكلم بها. "فالأول" يخرج النائم والمجنون والمبرسم والسكران وهذا الغضبان "والثاني" يخرج من تكلم باللفظ وهو لا يعلم معناه البتة فإنه لا يلزم مقتضاه "والثالث" يخرج من تكلم به مكرها وان كان عالما بمعناه. "القسم الثالث" من توسط في الغضب بين المرتبتين فتعدى مبادئه ولم ينته إلى أخره بحيث صار كالمجنون فهذا موضع الخلاف ومحل النظر والأدلة الشرعية تدل على عدم نفوذ طلاقه وعتقه وعقوده التي يعتبر فيها الاختيار والرضا وهو فرع من الاغلاق كما فسره به الأئمة وقد ذكرنا دلالة الكتاب على ذلك من وجوه.
"وأما دلالة السنة" فمن وجوه "أحدهما" حديث عائشة وقد تقدم ذكر وجه دلالته.
"الثاني" ما رواه احمد والحاكم في مستدركه من حديث عمران بن حصين قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا نذر في غضب وكفارته كفارة يمين".
"প্রথমটি" হলো কোনো ব্যক্তির মধ্যে ক্রোধের সূচনা ও প্রাথমিক অবস্থা প্রকাশ পাওয়া, যাতে তার বিবেক বা বুদ্ধিবৃত্তি পরিবর্তিত হয় না এবং সে যা বলছে ও যা উদ্দেশ্য করছে তা অবগত থাকে। এই অবস্থায় তার তালাক ও দাসমুক্তি কার্যকর হওয়া এবং তার চুক্তিসমূহ শুদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে কোনো সংশয় নেই, বিশেষ করে যদি তা চিন্তা-ভাবনা করার পর তার পক্ষ থেকে সংঘটিত হয়। "
দ্বিতীয় প্রকার" হলো ক্রোধ এমন চরম পর্যায়ে পৌঁছানো যাতে তার জ্ঞান ও ইচ্ছার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়, ফলে সে কী বলছে তা জানে না এবং সেটির ইচ্ছাও পোষণ করে না। এমতাবস্থায় তার তালাক কার্যকর না হওয়ার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। ক্রোধ হলো বিবেকের সংহারক; সুতরাং যখন ক্রোধ বিবেককে গ্রাস করে নেয় এবং সে যা বলছে তা বুঝতে পারে না, তখন নিঃসন্দেহে এই অবস্থায় তার কোনো উক্তি কার্যকর হবে না। কেননা শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তির উক্তি তখনই ধর্তব্য হয় যখন বক্তা তা নিজের থেকে প্রকাশ হওয়া ও তার অর্থ সম্পর্কে অবগত থাকে এবং তা বলার ইচ্ছা পোষণ করে। "প্রথম বিষয়টি" নিদ্রিত ব্যক্তি, উন্মাদ, বিকারগ্রস্ত, নেশাগ্রস্ত এবং এই প্রকার রাগান্বিত ব্যক্তিকে বহির্ভূত রাখে। "দ্বিতীয়টি" তাকে বহির্ভূত রাখে যে এমন শব্দ উচ্চারণ করেছে যার অর্থ সে মোটেও জানে না, কেননা তার দাবি বা হুকুম সেই ব্যক্তির ওপর বর্তাবে না। "তৃতীয়টি" তাকে বহির্ভূত রাখে যে জবরদস্তির শিকার হয়ে কথা বলেছে, যদিও সে তার অর্থ সম্পর্কে অবগত থাকে। "
তৃতীয় প্রকার" হলো যার ক্রোধ দুই স্তরের মাঝামাঝি থাকে, অর্থাৎ সে প্রাথমিক পর্যায় অতিক্রম করেছে কিন্তু চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেনি যাতে সে উন্মাদের মতো হয়ে যায়। এটিই মতভেদের স্থল এবং পর্যালোচনার বিষয়। শরিয়তসম্মত দলীলসমূহ তার তালাক, দাসমুক্তি এবং চুক্তিসমূহ—যেখানে পছন্দ করার স্বাধীনতা ও সন্তুষ্টি শর্ত—তা কার্যকর না হওয়ার প্রতি নির্দেশ করে। এটি মূলত বুদ্ধি বিভ্রম বা আচ্ছন্নতার একটি শাখা যেমনটি ইমামগণ এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আমরা এ বিষয়ে কিতাব বা কুরআনের দলীলের বিভিন্ন দিক ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি।
"আর সুন্নাহর দলীলের ক্ষেত্রে" কয়েকটি দিক রয়েছে; "প্রথমটি" হলো আয়েশার বর্ণিত হাদিস এবং এর দলীলের দিকটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
"দ্বিতীয়টি" হলো যা আহমাদ এবং হাকেম তার মুস্তাদরাক গ্রন্থে ইমরান বিন হুসাইন থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ক্রোধের অবস্থায় কোনো মানত নেই এবং এর কাফফারা হলো শপথের কাফফারা।"
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তলাকিল গদবান - ত আফীফী
(পৃষ্ঠা: ৪০)
وهو حديث صحيح وله طرق وجه الاستدلال به أنه صلى الله عليه وسلم الغي وجوب الوفاء بالنذر إذا كان في حال بالغضب مع أن الله "سبحانه وتعالى" اثنى على الموفين بالنذور وأمر النبي صلى الله عليه وسلم الناذر لطاعة الله بالوفاء بنذره. وقال "من نذر أن يطيع الله فليطعمه ومن نذر أن يعصيه فلا يعصه".
এটি একটি সঠিক (صحيح) হাদিস এবং এর একাধিক সূত্র (طرق) রয়েছে। এর দ্বারা দলিলের পদ্ধতি (وجه الاستدلال) হলো যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) রাগান্বিত অবস্থায় কৃত মানত পূরণ করার আবশ্যকতা (وجوب) বাতিল করে দিয়েছেন, যদিও আল্লাহ "সুবহানাহু ওয়া তাআলা" মানত পূরণকারীদের প্রশংসা করেছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর আনুগত্যের উদ্দেশ্যে মানতকারীকে তা পূরণ করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বলেছেন, "যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্য করার মানত করে, সে যেন তাঁর আনুগত্য করে; আর যে ব্যক্তি তাঁর অবাধ্য হওয়ার মানত করে, সে যেন তাঁর অবাধ্য না হয়।"
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তলাকিল গদবান - ত আফীফী
(পৃষ্ঠা: ৪১)
فإذا كان النذر الذي أثنى الله من أوفى به وأمر رسوله بالوفاء بما كان منه طاعة قد اثر الغضب في انعقاده لكون الغضبان لم يقصده وإنما حمله على بيانه الغضب فالطلاق بطريق الأولى والأخرى فإن قيل: فكيف رتب عليه كفارة اليمين "قيل" ترتب الكفارة عليه لا يدل على ترتب موجبه ومقتضاه عليه والكفارة لا تستلزم التكليف ولهذا تجب في مال الصبي والمجنون إذا قتلا صيدا أو غيره وتجب على قاتل الصيد ناسيا أو مخطئا وتجب على من وطئ في نهار رمضان ناسيا عند الأكثرين فلا يلزم من ترتب الكفارة اعتبار كلام الغضبان وهذا هو الذي يسميه الشافعي نذر الغلق ومنصوصه عدم وجوب الوفاء به إذا حلف به بل يخير بينه وبين الكفارة. وحكى له قول آخر بتعين الكفارة عينا وقول آخر بعين الوفاء به إذا حنث كما يلزمه الطلاق والعتاق وهذا قول مالك واشهر الروايتين عن أبي حنيفة
সুতরাং যে মানত (نذر) পূরণকারীর প্রশংসা আল্লাহ তাআলা করেছেন এবং তাঁর রাসূল আনুগত্যমূলক মানতগুলো পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছেন, সেই মানত সংঘটিত হওয়ার ক্ষেত্রে যদি রাগ (غضب) প্রভাব বিস্তার করে—যেহেতু রাগান্বিত ব্যক্তি এটি করার ইচ্ছা পোষণ করেনি বরং রাগই তাকে এটি প্রকাশ করতে বাধ্য করেছে—তবে তালাক (طلاق) না হওয়ার বিষয়টি আরও জোরালোভাবে প্রযোজ্য হবে। যদি প্রশ্ন করা হয়: তবে এর ওপর শপথের কাফফারা (كفارة اليمين) কেন সাব্যস্ত করা হলো? উত্তর হলো: এর ওপর কাফফারা সাব্যস্ত হওয়া এর মূল দাবি ও কার্যকারিতা সাব্যস্ত হওয়ার প্রমাণ নয়। কাফফারা শরয়ি দায়বদ্ধতা (تكليف) কে আবশ্যক করে না। এই কারণেই শিশু ও উন্মাদের সম্পদের ওপর কাফফারা ওয়াজিব হয় যদি তারা কোনো শিকার বা অন্য কিছু নষ্ট করে। অনুরূপভাবে, ভুলবশত বা অসাবধানতাবশত শিকার হত্যাকারীর ওপর এবং অধিকাংশ ফকীহদের মতে রমজানের দিনে ভুলবশত সহবাসকারীর ওপরও কাফফারা ওয়াজিব হয়। সুতরাং কাফফারা সাব্যস্ত হওয়া থেকে রাগান্বিত ব্যক্তির কথাকে ধর্তব্য হিসেবে গণ্য করা আবশ্যক হয় না। ইমাম শাফিঈ একেই রাগের বশবর্তী মানত (نذر الغلق) হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর সুস্পষ্ট বক্তব্য (منصوص) হলো, যদি কেউ এর মাধ্যমে শপথ করে তবে তা পূরণ করা ওয়াজিব নয়; বরং সে মানত পূরণ করা অথবা কাফফারা প্রদানের মধ্যে স্বাধীনতা পাবে। তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য একটি মত অনুযায়ী নির্দিষ্টভাবে কাফফারা আদায় করতে হবে। আবার অন্য একটি মত হলো, শপথ ভঙ্গ করলে মানত পূরণ করাই আবশ্যক হবে, যেমনটি তালাক (طلاق) ও দাসমুক্তির (عتاق) ক্ষেত্রে আবশ্যক হয়ে থাকে। এটিই ইমাম মালিকের অভিমত এবং ইমাম আবু হানিফা থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার (روايتين) মধ্যে অধিক প্রসিদ্ধ (أشهر) মত।
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তলাকিল গদবান - ত আফীফী
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
"
الثالث" ماثبت في الصحيح عنه صلى الله عليه وسلم انه قال: "لا يقضي القاضي بين اثنين وهو غضبان" ولولا أن الغضب يؤثر في قصده وعلمه لم ينهه عن الحكم حال الغضب وقد اختلف الفقهاء في صحة حكم الحاكم في حال غضبه على ثلاثة أقوال سنذكرها بعد إن شاء الله
فصل
"
وأما آثار الصحابة" فمن وجوه"
أحدها" ما ذكره البخاري في صحيحه عن ابن عباس انه قال الطلاق عن وطر والعتق ما ينبغي به وجه الله فحصر الطلاق فيما كان عن وطر وهو الغرض المقصود والغضبان لا وطر له وهذا في الطلاق عن ابن عباس نظير قوله وقول أصحابه لغو اليمين أن تحلف وأنت غضبان
"
الوجه الثاني" أن الزهري روى عن أبان بن عثمان عن عثمان انه رد طلاق
"
তৃতীয়ত (الثالث)" সহিহ (الصحيح) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে যা সাব্যস্ত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: "বিচারক যখন রাগান্বিত থাকে, তখন যেন সে দুই ব্যক্তির মধ্যে বিচার না করে।" যদি রাগ তার সংকল্প ও জ্ঞানের ওপর প্রভাব বিস্তার না করত, তবে রাগান্বিত অবস্থায় বিচারকার্য পরিচালনা করতে তাকে নিষেধ করা হতো না। রাগান্বিত অবস্থায় বিচারকের রায়ের সঠিকতা (صحة) সম্পর্কে ফকিহগণ তিনটি মতভেদে (أقوال) বিভক্ত হয়েছেন, যা আমরা ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে উল্লেখ করব।
পরিচ্ছেদ (فصل)
"
আর সাহাবিগণের আছার (آثار) সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো কয়েকটি দিক (وجوه) থেকে বর্ণিত হয়েছে:"
"
প্রথমত (أحدها)" ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "তালাক হতে হবে প্রয়োজনের (وطر) প্রেক্ষিতে, আর দাসমুক্তি হতে হবে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে।" সুতরাং তিনি তালাককে প্রয়োজনের (وطر) মাঝে সীমাবদ্ধ করেছেন, যা মূলত একটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যকে বোঝায়; অথচ রাগান্বিত ব্যক্তির কোনো সঠিক উদ্দেশ্য (وطر) থাকে না। তালাকের ক্ষেত্রে ইবনে আব্বাসের এই অভিমতটি তাঁর এবং তাঁর সঙ্গীদের সেই বক্তব্যের সদৃশ যেখানে তারা বলেছেন: "অসার শপথ (لغو اليمين) হলো তোমার রাগান্বিত অবস্থায় শপথ করা।"
"
দ্বিতীয় দিক (الوجه الثاني)" ইমাম জুহরি আবান ইবনে উসমান থেকে, তিনি উসমান (রা.) থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন যে, তিনি তালাক প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তলাকিল গদবান - ত আফীফী
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
السكران ولا يعرف له مخالف من الصحابة وهذا هو الصحيح وهو الذي رجع إليه الإمام احمد أخيرا قال في رواية أبي طالب والذي لا يأمر بالطلاق فإنما أتى خصلة واحدة والذي يأمر الطلاق قد أتى خصلتين حرمها عليه وأحلها لغيره فهذا خير من هذا وانا اتقي جميعها وقال في رواية عبد الله الميموني قد كنت أقول: ان طلاق السكران يجوز حتى تبينته فغلب علي انه لا يجوز طلاقه لان لو اقر لم يلزمه ولو باع لم يجز بيعه "قال": والزمه الجناية وما كان من غير ذلك فلا يلزمه. قال ابو بكر: وبهذا أقول وقال في رواية ابي الحرث: ارفع شيء في حديث
মাতাল ব্যক্তির তালাক সম্পর্কে সাহাবীগণের মধ্যে কোনো বিরোধী মত জানা নেই এবং এটিই সঠিক (الصحيح) মত। আর ইমাম আহমাদ শেষ পর্যন্ত এই মতেরই দিকে ফিরে এসেছিলেন। আবু তালিবের বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী তিনি বলেছেন, "যে ব্যক্তি তালাক কার্যকর করার নির্দেশ দেয় না, সে কেবল একটি কাজ করল। আর যে ব্যক্তি তালাকের নির্দেশ দেয়, সে দুটি কাজ করল—সেটি নিজের জন্য হারাম করল এবং অন্যের জন্য হালাল করল। সুতরাং এটি ঐটির চেয়ে উত্তম, আর আমি এর সবগুলো থেকেই বেঁচে থাকি।" আব্দুল্লাহ আল-মায়মুনীর বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী তিনি বলেছেন, "আমি আগে বলতাম যে মাতালের তালাক কার্যকর হয়, যতক্ষণ না বিষয়টি আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে; এরপর আমার কাছে এটাই প্রবল হয়েছে যে, তার তালাক কার্যকর হবে না। কারণ সে যদি কোনো বিষয়ের স্বীকৃতি (إقرار) প্রদান করে, তবে তা তার ওপর বাধ্যতামূলক হয় না, আর সে যদি কোনো কিছু বিক্রি করে, তবে তার সেই বিক্রয় বৈধ হয় না।" তিনি বলেন, "তবে অপরাধের (جناية) ক্ষেত্রে তাকে দায়ী করা হবে, কিন্তু এছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে সে দায়বদ্ধ হবে না।" আবু বকর বলেন, "আমিও এই মতই পোষণ করি।" আবু আল-হারিসের বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী তিনি বলেছেন, "হাদিসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে উচ্চমানের (أرفع شيء)..."
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তলাকিল গদবান - ত আফীফী
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
الزهري عن أبان بن عثمان عن عثمان: ليس لمجنون ولا سكران طلاق وهو اختيار الطحاوي وابي الحسن الكرخي وإمام الحرمين وشيخ الإسلام ابن تيمية واحد قولي الشافعي وإذا كان هؤلاء لا يوقعون طلاق السكران لأنه غير قاصد للطلاق فمعلوم ان الغضبان كثيرا ما يكون أسوأ حالا من السكران.
যুহরি, আবান ইবনে উসমান হতে এবং তিনি উসমান হতে বর্ণনা করেন: উন্মাদ ও নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির তালাক কার্যকর হয় না। এটিই ইমাম ত্বহাবি, আবুল হাসান আল-কারখি, ইমামুল হারামাইন এবং শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ-এর মনোনীত অভিমত এবং ইমাম শাফেয়ির দুটি মতের একটি। যেহেতু এই ফকিহগণ নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির তালাককে কার্যকর গণ্য করেন না এই কারণে যে, সে তালাক প্রদানের সংকল্প করে না; তাই এটি সুস্পষ্ট যে, চরম রাগান্বিত ব্যক্তি অনেক সময় নেশাগ্রস্ত ব্যক্তির চেয়েও শোচনীয় অবস্থায় থাকে।
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তলাকিল গদবান - ত আফীফী
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
والسكر نوعان: سكر طرب وسكر غضب وقد يكون هذا اشد وقد يكون الآخر اشد فإذا اشتد به الغضب حتى صار كالسكران كان أولى بعدم وقوع الطلاق منه لانه يعذر ما لا يعذر السكران ويبلغ به الغضب اشد ما يبلغ به السكران كما يشاهد من حال السكران الغضبان
فصل
"
واما الاعتبار وأصول الشريعة" فمن وجوه: "
الأول": ان المؤاخده إنما ترتبت على الأقوال لكونها أدلة على ما في القلب من كسبه وارداته كما قال تعالى {لا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا كَسَبَتْ قُلُوبُكُمْ} فجعل سبب المؤاخذة كسب القلب وكسبه هو إرادته وقصده ومن جرى على لسانه الكلام من غير قصد واختيار بل لشدة غضب وسكر أو غير ذلك لم يكن من كسب قلبه ولهذا لم يؤاخذ الله سبحانه الذي اشتد فرحه بوجود راحلته بعد الاباس منها فلما وجدها أخطأ من شدة الفرح وقال: "اللهم انت عبدي وانا ربك" فجرى هذا اللفظ على لسانه من غير قصد فلم يؤاخذه كما يجري الغلط في القران على لسان القارىء ولكن قد يقال هذا قصد الصواب فأخطأ فلم يؤاخذ إذا كان قصده ضد ما تكلم به بخلاف الغضبان إذا طلق فانه قاصد للطلاق. "قيل" لا كلام في الغضبان العالم بما يقول القاصد المختار لحكمه دفعا لمكروه
নেশা দুই প্রকার: আনন্দের নেশা ও ক্রোধের নেশা। কখনো এটি অধিক তীব্র হয়, আবার কখনো অন্যটি অধিক তীব্র হয়। সুতরাং যখন ক্রোধ তীব্র আকার ধারণ করে এবং সে মাতালের মতো হয়ে যায়, তখন তার পক্ষ থেকে তালাক কার্যকর না হওয়ার বিষয়টিই অধিক যুক্তিযুক্ত। কেননা সে এমন ক্ষেত্রেও ওজরগ্রস্ত বিবেচিত হয় যেখানে মাতালকে ওজরগ্রস্ত গণ্য করা হয় না। আর ক্রোধ মানুষকে মত্ততার সেই চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যায় যেখানে নেশা তাকে পৌঁছে দেয়, যেমনটি ক্রোধান্বিত মাতালের অবস্থার ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায়।
পরিচ্ছেদ
"
আর যুক্তিনির্ভর বিচার (اعتبار) এবং শরিয়তের মূলনীতি (أصول الشريعة)" এর প্রেক্ষিতে বিষয়টি বেশ কিছু দিক থেকে বিবেচ্য: "
প্রথমত": পাকড়াও বা জবাবদিহিতা কেবল বাণীর ওপরই নির্ধারিত হয় যেহেতু তা অন্তরের উপার্জন ও সংকল্পের প্রমাণ। যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন— {আল্লাহ তোমাদের অর্থহীন শপথের জন্য পাকড়াও করেন না, কিন্তু তোমাদের অন্তর যা অর্জন করেছে তার জন্য তিনি তোমাদের পাকড়াও করবেন।} এখানে তিনি জবাবদিহিতার কারণ হিসেবে অন্তরের অর্জনকে নির্ধারণ করেছেন; আর অন্তরের অর্জন হলো ব্যক্তির সংকল্প ও উদ্দেশ্য। সুতরাং যার জিহ্বায় সংকল্প ও ইচ্ছাশক্তি ব্যতিরেকেই কোনো কথা উচ্চারিত হয়—বরং তীব্র ক্রোধ, নেশা বা অনুরূপ অন্য কোনো কারণে—তবে তা তার অন্তরের অর্জন হিসেবে গণ্য হবে না। এই কারণেই মহান আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে পাকড়াও করেননি, যে তার হারিয়ে যাওয়া সওয়ারি খুঁজে পাওয়ার পর প্রচণ্ড খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়েছিল। সে যখন তা খুঁজে পেল, তখন অত্যধিক খুশিতে ভুলবশত বলে ফেলেছিল: "হে আল্লাহ! আপনি আমার বান্দা আর আমি আপনার রব।" তার অনিচ্ছাসত্ত্বেও এই শব্দগুলো মুখে উচ্চারিত হয়েছিল, তাই তিনি তাকে পাকড়াও করেননি; যেমন তিলওয়াতকারীর জিহ্বায় কুরআনের পাঠে ভুল হয়ে যায়। তবে বলা যেতে পারে যে, সে তো সঠিক কথা বলারই সংকল্প করেছিল কিন্তু ভুল করে ফেলেছে, তাই তাকে পাকড়াও করা হয়নি কারণ তার উদ্দেশ্য ছিল তার উচ্চারিত শব্দের বিপরীত; কিন্তু সেই ক্রোধান্বিত ব্যক্তির অবস্থা এর বিপরীত যে তালাক দেয়, কারণ সে তো তালাক প্রদানেরই সংকল্পকারী। "বলা হয়ে থাকে" যে, এমন ক্রোধান্বিত ব্যক্তি সম্পর্কে কোনো বিতর্ক নেই যে যা বলছে তা অবগত এবং কোনো অপছন্দনীয় বিষয় প্রতিহত করার জন্য নিজ সিদ্ধান্তে স্বাধীন ও সংকল্পকারী।
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তলাকিল গদবান - ত আফীফী
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
البقاء مع الزوجة وانما الكلام في الذي اشتد غضبه حتى الجاه الشيطان إلى التكلم بما لم يكن مختارا للتكلم به كما يلجئه إلى فعل ما لم يكن لولا الغضب يفعله يوضحه
"
الوجه الثاني" وهو: ان الإرادة فيه هو محمول عليها ملجأ اليه كالمكره بل المكره احسن حالا منه فان له قصدا وإرادة حقيقة لكن هو محمول عليه وهذا ليس له قصد في الحقيقة فإذا لم يقع طلاق المكره فطلاق هذا أولى بعدم الوقوع. يوضحه
"
الوجه الثالث" وهو: ان الامر الحامل المكره على التكلم بالطلاق يشبه الحامل للغضبان على التكلم به فان المتكلم مكرها انما يقصد الاستراحة من توقع ما اكره به ان لم يباشر به أو من حصوله ان كان قد باشره بشيء منه فيتكلم بالطلاق قاصدا لراحته من الم ما اكره به وهكذا الغضبان فإنه إذا اشتد به الغضب يألم بحمله فيقول ما يقول ويفعل ما يفعل ليدفع عن نفسه حرارة الغضب فيستريح بذلك وكذلك يلطم وجهه ويصيح صياحا قويا ويشق ثيابه ويلقي ما في يده دفعا لألم الغضب وإلقاء لحمه منه وكذلك يدعو على نفسه واحب الناس اليه فهو يتكلم بصيغة الطلب والاستدعاء والدعاء وهو غير طالب لذلك في الحقيقة فكذلك يتكلم بصيغة الانشاء وهو غير قاصد لمعناها ولهذا يأمر الملوك وغيرهم عند الغضب بأمور يعلم خواصهم انهم تكلموا بها دفعا لحرارة الغضب وانهم لا يريدون مقتضاها فلا يمتثله خواصهم بل يؤخرونه فيحمدونهم على ذلك إذا سكن غضبهم وكذلك الرجل وقت شدة الغضب يقوم ليبطش بولده أو صديقه فيحول غيره بينه وبين ذلك فيحمدهم بعد ذلك كما يحمد السكران والمحموم ونحوهما من يحول بينه وبين ما يهم بفعله في تلك الحالة
"
الوجه الرابع": ان العاقل لا يستدعي الغضب ولا يريده بل هو اكره شيء اليه وهو كما قال النبي صلى الله عليه وسلم: "جمرة في قلب ابن ادم اما رأيتم من احمرار عينيه وانتفاخ أوداجه".
স্ত্রীর সাথে অবস্থান করা; তবে আলোচনা মূলত সেই ব্যক্তিকে নিয়ে যার রাগ এতটাই তীব্র রূপ নিয়েছিল যে, শয়তান তাকে এমন কথা বলতে বাধ্য করেছে যা সে স্বেচ্ছায় বলত না; যেমনটি রাগ তাকে এমন কাজ করতে বাধ্য করে যা রাগ না থাকলে সে করত না। বিষয়টি স্পষ্ট করছে
"
দ্বিতীয় দিক" আর তা হলো: এ ক্ষেত্রে তার ইচ্ছাটি তার ওপর এমনভাবে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে যে সে বাধ্য হয়েছে, ঠিক যেন বাধ্যকৃত ব্যক্তির মতো। বরং বাধ্যকৃত ব্যক্তির অবস্থা এর চেয়েও ভালো; কারণ তার একটি প্রকৃত সংকল্প ও ইচ্ছা থাকে, যদিও তা তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এই ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রকৃতপক্ষে কোনো সংকল্পই থাকে না। সুতরাং যদি বাধ্যকৃত ব্যক্তির তালাক কার্যকর না হয়, তবে এই ব্যক্তির তালাক কার্যকর না হওয়া আরও বেশি যুক্তিযুক্ত। বিষয়টি স্পষ্ট করছে
"
তৃতীয় দিক" আর তা হলো: বাধ্যকৃত ব্যক্তিকে তালাক উচ্চারণে প্ররোচিতকারী বিষয়টি রাগান্বিত ব্যক্তিকে তা উচ্চারণে প্ররোচিতকারী বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। কেননা, বাধ্যকৃত ব্যক্তি তালাক উচ্চারণের মাধ্যমে মূলত সেই সম্ভাব্য বিপদ থেকে মুক্তি পেতে চায় যার ভয় তাকে দেখানো হয়েছে—যদি সে তা না করে; অথবা সেই বিপদ থেকে বাঁচতে চায় যা ইতোমধ্যেই তার ওপর আপতিত হয়েছে। সে তার কষ্টের অনুভূতি থেকে স্বস্তি পাওয়ার উদ্দেশ্যে তালাক উচ্চারণ করে। রাগান্বিত ব্যক্তির বিষয়টিও ঠিক তেমনই। যখন তার রাগ চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়, তখন সে এর ভারে যন্ত্রণাবোধ করতে থাকে। ফলে সে যা বলার বলে এবং যা করার করে যাতে নিজের ভেতর থেকে রাগের উত্তাপ দূর করতে পারে এবং এর মাধ্যমে স্বস্তি লাভ করতে পারে। একইভাবে সে নিজের মুখমণ্ডলে চপেটাঘাত করে, উচ্চস্বরে চিৎকার করে, নিজের কাপড় ছিঁড়ে ফেলে এবং রাগের যন্ত্রণা দূর করতে ও এর তীব্রতা ঝেড়ে ফেলতে হাতের কাছে যা পায় তা ছুড়ে মারে। একইভাবে সে নিজের বিরুদ্ধে এবং নিজের প্রিয়তম ব্যক্তির বিরুদ্ধেও দোয়া করে থাকে। সে মূলত অনুরোধ ও প্রার্থনার ভঙ্গিতে কথা বলে, অথচ প্রকৃতপক্ষে সে তা চায় না। অনুরূপভাবে সে প্রবর্তক বাক্যের ভঙ্গিতে কথা বলে, অথচ সে এর অর্থ বা পরিণাম উদ্দেশ্য করে না। এই কারণেই রাজা-বাদশাহ ও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ রাগের মাথায় এমন সব নির্দেশ প্রদান করেন যা তাদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা জানেন যে, তারা কেবল রাগের উত্তাপ প্রশমনের জন্যই এমনটি বলেছেন এবং তারা এর বাস্তবায়ন চান না। তাই তাদের ঘনিষ্ঠরা সেই নির্দেশ পালন করেন না, বরং তা বিলম্বিত করেন এবং যখন তাদের রাগ দমে যায় তখন তারা এর জন্য তাদের প্রশংসা করেন। ঠিক তেমনিভাবে কোনো ব্যক্তি চরম রাগের মুহূর্তে তার সন্তান বা বন্ধুকে প্রহার করতে উদ্যত হলে অন্য কেউ যদি তাকে বাধা দেয়, তবে পরবর্তীতে সে তাদের প্রশংসা করে; যেমনটি মাতাল বা বিকারগ্রস্ত ব্যক্তি তার অনিষ্টকর কাজে বাধা দানকারীকে পরে প্রশংসা করে থাকে।
"
চতুর্থ দিক": নিশ্চয়ই বুদ্ধিমান ব্যক্তি রাগ ডেকে আনে না এবং তা কামনাও করে না, বরং এটি তার কাছে সবচাইতে অপ্রিয় বিষয়। এটি ঠিক তেমন যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "এটি আদম সন্তানের হৃদয়ে একটি জ্বলন্ত অঙ্গার; তোমরা কি তার চোখের লাল আভা এবং ঘাড়ের রগ ফুলে ওঠা দেখনি?"
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তলাকিল গদবান - ত আফীফী
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
والعاقل لا يقصد القاء الجمرة في قلبه فهو ناشئ فيه بغير اختياره وإذا كان هو السبب الحامل على المتكلم بالطلاق وغيره لم يكن ذلك أيضا مضافا إلى اختياره وإرادته وهذا كما ان إرادة السبب إرادة للمسبب فكراهة السبب وبغضه كراهة للمسبب يوضحه
"
الوجه الخامس" وهو: انك تقول للغضبان إذا اشتد غضبه ففعل ما لم يكن يفعله أو تكلم بما لم يكن يتكلم به قبل الغضب: هل اردت ذلك أو قصدته ? فيحلف انه ما اراده ولا قصده ولا كان له باختيار ويحلف انه وقع بغير اختيار ولا تنكر هذا فانك تجده من نفسك وتحقيق الأمر ان له فيه إرادة هو: محمول عليها حملة عليها الغضب فهي: كإرادة المكره بل المكره ادخل في الإرادة كما تقدم وهذا يدل على ان الغضبان أولى بعدم الوقوع من المكره. يوضحه
"
الوجه السادس" وهو: ان الخوف في قلب المكره كالغضب في قلب الغضبان لكن المكره مقهور بغيره من خارج والغضبان مقهور بغضبه الداخل فيه وقهر الاكراه يبطل حكم الأقوال التي اكره عليها ويجعلها بمنزلة كلام النائم والمجنون دون حكم الأفعال فانه يقتل إذا قتل ويضمن إذا تلف فكذلك قهر الغضب يبطل حكم أقوال الغضبان دون أفعاله حتى لو قتل في هذه الحالة قتل أو أتنلف شيئا ضمنه هذا كله في الغضبان الذي يكره ما قاله حقيقة فما من هو مريد له على تقدير عدم غضبه لاقتضاء السبب ذلك فليس من هذا الباب كمن زنت امراته فغضب فطلقها لانه لا يرى المقام مع زانية فلم يقصد بالطلاق إطفاء نار الغضب بل التخلص من المقام مع زانية فهذا يقع
একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি তার হৃদয়ে জ্বলন্ত কয়লা নিক্ষেপ করার ইচ্ছা পোষণ করেন না; বরং এটি তার অনিচ্ছায় (بغير اختياره) সেখানে উৎপন্ন হয়। যখন এই ক্রোধই বক্তাকে তালাক বা অন্য কিছু বলতে প্ররোচিত করার কারণ হয়, তখন সেটিও তার ইচ্ছা (إرادة) বা সংকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে না। বিষয়টি এমন যে, যেমন কোনো কারণের প্রতি ইচ্ছা পোষণ করা সেই কারণের কার্যের (المسبب) প্রতি ইচ্ছা পোষণেরই নামান্তর, ঠিক তেমনি কোনো কারণের প্রতি ঘৃণা ও বিদ্বেষ পোষণ করা সেই কারণের কার্যের (المسبب) প্রতিও ঘৃণা পোষণের নামান্তর। বিষয়টি স্পষ্ট করে:
পঞ্চম দিক হলো: আপনি যখন কোনো প্রচণ্ড রাগান্বিত ব্যক্তিকে—যে রাগের মাথায় এমন কাজ করেছে যা সে সচরাচর করে না বা এমন কথা বলেছে যা রাগের আগে বলত না—জিজ্ঞেস করেন: 'তুমি কি এটি ইচ্ছা করেছিলে বা এটিই কি তোমার উদ্দেশ্য ছিল?' তখন সে শপথ করে বলে যে, সে তা ইচ্ছা (إرادة) করেনি, তার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না এবং এতে তার কোনো ইখতিয়ারও ছিল না। সে কসম খেয়ে বলে যে, এটি অনিচ্ছাকৃতভাবে (بغير اختيار) সংঘটিত হয়েছে। আপনি এটি অস্বীকার করবেন না, কারণ আপনি নিজের মাঝেও এটি অনুভব করেন। বিষয়টির প্রকৃত স্বরূপ হলো, এক্ষেত্রে তার যে ইচ্ছা (إرادة) থাকে, তার ওপর তাকে রাগের দ্বারা প্ররোচিত (محمول) করা হয়েছে। সুতরাং এটি কোনো বাধ্যকৃত (المكره) ব্যক্তির ইচ্ছার মতোই; বরং বাধ্যকৃত ব্যক্তি কর্মের ইচ্ছার ক্ষেত্রে রাগান্বিত ব্যক্তির তুলনায় বেশি সংশ্লিষ্ট থাকে, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, বাধ্যকৃত ব্যক্তির তুলনায় রাগান্বিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে তালাক বা অনুরূপ বিষয় কার্যকর না হওয়া (عدم الوقوع) অধিকতর যুক্তিযুক্ত। বিষয়টি স্পষ্ট করে:
ষষ্ঠ দিক হলো: বাধ্যকৃত (المكره) ব্যক্তির হৃদয়ে ভীতি যেমন কাজ করে, রাগান্বিত ব্যক্তির হৃদয়ে ক্রোধও তেমনি কাজ করে। তবে পার্থক্য হলো, বাধ্যকৃত ব্যক্তি বাইরের অন্য কোনো শক্তির দ্বারা পরাভূত (مقهور) হয়, আর রাগান্বিত ব্যক্তি তার অভ্যন্তরীণ ক্রোধ দ্বারা পরাভূত (مقهور) হয়। আর বাধ্যকরণের (الاكراه) চাপ সেই সকল কথার বিধানকে (حكم) বাতিল (يبطل) করে দেয় যা তাকে বলতে বাধ্য করা হয়েছে; এবং এটি সেই কথাগুলোকে ঘুমন্ত বা উন্মাদ ব্যক্তির কথার স্তরে নিয়ে যায়। তবে এটি কর্মের বিধানের (حكم الأفعال) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়; কারণ সে যদি কাউকে হত্যা করে তবে তার মৃত্যুদণ্ড হবে এবং কোনো সম্পদ নষ্ট করলে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অনুরূপভাবে, ক্রোধের প্রবলতা রাগান্বিত ব্যক্তির কথার বিধানকে (حكم) বাতিল (يبطل) করে দিলেও তার কাজের বিধানকে বাতিল করে না। এমনকি যদি সে এই অবস্থায় কাউকে হত্যা করে তবে তার প্রাণদণ্ড হবে, অথবা কোনো কিছু নষ্ট করলে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এই সবকিছু সেই রাগান্বিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে প্রকৃতপক্ষে নিজের বলা কথাকে অপছন্দ করে। তবে যে ব্যক্তি রাগ না থাকলেও কোনো সুনির্দিষ্ট কারণে বিষয়টি করতে ইচ্ছুক ছিল, সে এই অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত নয়। যেমন—কারো স্ত্রী ব্যভিচার করার কারণে সে রাগান্বিত হয়ে তাকে তালাক দিল, কারণ সে একজন ব্যভিচারিণীর সাথে দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত করা সমীচীন মনে করে না। এক্ষেত্রে তালাকের মাধ্যমে তার উদ্দেশ্য ক্রোধ প্রশমিত করা নয়, বরং ব্যভিচারিণী থেকে মুক্তি পাওয়া। সুতরাং এই তালাক কার্যকর (يقع) হবে।
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তলাকিল গদবান - ত আফীফী
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
طلاقة فتأمل هذا الفرق فانه حرف المسالة ونكتتها وهذا بخلاف من خاصمته امرأته وهو يعلم من نفسه إرادة المقام معها على الخصومة وسوء الخلق ولكن حملة الغضب على ان شفي نفسه بالتكلم بالطلاق كسرا لها وأطفأء لنار غضبه. يوضحه
"
الوجه السابع" وهو: ان الغضبان يفعل أمورا من شق الثياب واتلاف المال وغير ذلك مما لو اكره حتى يتكلم بالطلاق لم ينفذ طلاقه ولغت أقواله فإذا فعل هو هذه الأمور علم ان الذي الجأه اليها اعظم من الاكراه فإن المكره لو اكره بها لم يفعلها وهذا قد فعلها ان المقتضي لفعلها فيه أولى من اقتضاء الاكراه لفعلها والمكره لو فعل به ذلك كان مكرها فالغضبان كذلك وهذا واضح جدا "فإن قيل": المكره إذا تكلم بما اكره عليه دفع عنه الضرر والغضبان لا يدفع عنه بهذا القول ضررا فليس كالمكره. "قيل" لا ريب انهما يفترقان في هذا الوجه ولكن لا يوجب ذلك ان يكون الغضبان مختارا مريدا لما قاله أو فعله بك اكره شيء اليه وهذا امر لا يمكن دفعه. "فإن قيل": فما الحامل على ما يكره ويؤديه من غير ان يتوصل به إلى ما هو احب اليه منه ? "قيل" لما كان الغضب عدو العقل وهو له كالذئب للشاة قل ما يتمكن منه الا اغتال عقله فقد إزاله الغضب وأطفأ ناره وهذا مقصود صحيح في نفسه لكن لما غاب عنه عقله قصد ازالة ذلك مما فيه ضرر عليه ليخفف عن نفسه ما هو فيه من البلاء ولولا ذلك لم يفعل ما لا يفعله في الرضا ولا تكلم بما لم يكن به فهو قصد ان يستريح ويسكن ويبرد غضبه بتلك الأقوال والأفعال وان لم يدفع ذلك عنه بجملته تلك الشدة فانها تخفف وتضعف فاقتضت رحمة الشارع به ان الغي أقواله في هذه الحال ان تمكن ان لا يترتب عليها اثرها وتكون كأقوال المبرسم والمجنون الهاجر ونحوهما واما الأفعال فلا يمكن الغاء اثرها فرتب عليه موجب فعله.
তার তালাক প্রদান। অতএব এই পার্থক্যটি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন, কারণ এটিই এই বিষয়ের মূল দিক এবং এর নিগূঢ় রহস্য। এটি সেই ব্যক্তির অবস্থার বিপরীত, যার সাথে তার স্ত্রী ঝগড়া করে অথচ সে নিজের অন্তরে স্ত্রীর সাথেই বসবাস করার ইচ্ছা পোষণ করে—তার ঝগড়া এবং দুশ্চরিত্র জানা সত্ত্বেও; কিন্তু প্রচণ্ড রাগ তাকে এমন অবস্থায় নিয়ে যায় যে, সে তালাক প্রদানের মাধ্যমে নিজের ক্ষোভ মেটানো এবং রাগের আগুন নেভানোর মাধ্যমে নিজেকে শান্ত করতে চায়। এটি স্পষ্ট করে দেয়:
"
সপ্তম দিক" যা হলো: রাগান্বিত ব্যক্তি কাপড় ছেঁড়া, সম্পদ নষ্ট করা এবং এই জাতীয় আরও অনেক কাজ করে থাকে, যে সব কাজের হুমকি দিয়ে যদি কাউকে তালাক প্রদানে বাধ্য (مكره) করা হতো, তবে তার তালাক কার্যকর (ينفذ) হতো না এবং তার কথা বাতিল (لغت) বলে গণ্য হতো। সুতরাং সে যখন নিজেই এসব কাজ করে বসে, তখন বোঝা যায় যে, যা তাকে এসব করতে বাধ্য করেছে তা জবরদস্তি বা বাধ্যবাধকতা (إكراه) অপেক্ষা গুরুতর। কারণ যাকে বাধ্য করা হচ্ছে, তাকে যদি এসবের মাধ্যমে বাধ্য করা হতো তবুও সে তা করত না, অথচ এই রাগান্বিত ব্যক্তি তা করে ফেলেছে। সুতরাং তার মাঝে এসব কাজ করার যে প্রেরণা বিদ্যমান তা বাধ্যবাধকতার (إكراه) প্রেরণা অপেক্ষা অধিক শক্তিশালী। আর যাকে বাধ্য করা হচ্ছে তার সাথে যদি এমন আচরণ করা হতো তবে সে তো বাধ্য (مكره) হিসেবেই গণ্য হতো, তেমনি রাগান্বিত ব্যক্তির অবস্থাও তদ্রূপ। এটি অত্যন্ত স্পষ্ট বিষয়। "যদি বলা হয়": যাকে বাধ্য করা হয়েছে সে যখন সেই কথাটি বলে যার জন্য তাকে বাধ্য করা হয়েছে, তখন সে নিজের থেকে ক্ষতি প্রতিহত করে। কিন্তু রাগান্বিত ব্যক্তি এই কথার মাধ্যমে নিজের কোনো ক্ষতি প্রতিহত করে না, তাই সে বাধ্য (مكره) ব্যক্তির মতো নয়। "উত্তরে বলা হয়": এতে কোনো সন্দেহ নেই যে তারা উভয়ই এই দিক থেকে পৃথক, কিন্তু এর ফলে এটি আবশ্যক হয়ে যায় না যে, রাগান্বিত ব্যক্তি যা বলেছে বা করেছে তা সে স্বেচ্ছায় (مختارا) বা ইচ্ছাকৃতভাবে (مريدا) করেছে; বরং সেটি তার কাছে অত্যন্ত অপছন্দনীয় ছিল এবং এটি এমন এক বিষয় যা অস্বীকার করা সম্ভব নয়। "যদি পুনরায় বলা হয়": তবে তাকে এমন কাজে কিসের ওপর প্ররোচিত করল যা সে অপছন্দ করে এবং যা তাকে তার প্রিয় কোনো গন্তব্যের দিকে নিয়ে যায় না? "বলা হয়": যেহেতু রাগ হলো আকল বা বুদ্ধির শত্রু, আর বুদ্ধির জন্য রাগের উদাহরণ হলো ভেড়ার জন্য নেকড়ের মতো—রাগ যখন আকলের ওপর চড়াও হয় তখন তা আকলকে পরাস্ত করে ফেলে; রাগ বুদ্ধিকে অপসারিত করে দেয় এবং এর তেজ নিভিয়ে দেয়। এটি নিজের ক্ষেত্রে একটি সঠিক উদ্দেশ্য, কিন্তু যখন তার বুদ্ধি লোপ পায়, তখন সে এমন কিছুর মাধ্যমে সেই রাগকে দূর করার ইচ্ছা করে যাতে তার নিজেরই ক্ষতি হয়, যাতে সে যে কষ্টের মধ্যে আছে তা থেকে কিছুটা নিষ্কৃতি পেতে পারে। যদি এমনটি না হতো, তবে সে সন্তুষ্টির (الرضا) অবস্থায় যা করে না তা করত না, আর এমন কথা বলত না যা তার স্বাভাবিক অবস্থার নয়। মূলত সে এসব কথা ও কাজের মাধ্যমে প্রশান্তি পেতে এবং তার রাগকে শান্ত ও শীতল করতে চেয়েছে। যদিও সেই তীব্রতা এর দ্বারা পুরোপুরি দূর হয় না, তবে তা হ্রাস পায় ও দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে তার প্রতি শরিয়ত প্রণেতার (الشارع) করুণা এটিই দাবি করে যে, এই অবস্থায় তার কথাগুলোকে বাতিল (الغي) বলে গণ্য করা হবে যেন সেগুলোর কোনো প্রভাব কার্যকর না হয়; এবং তার কথাগুলো যেন বিকারগ্রস্ত (المبرسم) বা প্রলাপকারী পাগল (المجنون الهاجر) এবং এই জাতীয় ব্যক্তিদের কথার মতো গণ্য হয়। তবে কর্মের ক্ষেত্রে সেগুলোর ফলাফল বাতিল করা সম্ভব নয়, তাই তার কর্মের আবশ্যিক পরিণাম তার ওপর বর্তাবে।
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তলাকিল গদবান - ত আফীফী
(পৃষ্ঠা: ৫০)
"فإن قيل": فيلزمكم على هذا انه لوحلف في هذه الحال ان لا تنعقد يمينه "قيل" قد قال بذلك جماعة من السلف والخلف واختاره من لا يرتاب في امامته وجلالته وكان يقرن بالأئمة الكبار اسماعيل بن اسحاق القاضي. "فان قيل" لكن المنقول عن الصحابة وجمهور التابعين والأئمة الاربعة اعتبار نذر اللجاج والغضب وان تنازعوا في موجبه فأوجب مالك واهل العراق الوفاء به كنذر التبرر وخبر الليث بن سعد والشافعي واحمد بن حنبل بين فعله وبين فعله وبين كفارة اليمين ولم يقل احد منهم: انه لا ينعقد وانه لغو. وقد ذكر الله تعالى الكفارة في الإيمان كلها ولم يحصل منها يمين الغضب دون يمين الرضا. "قيل" نعم هذا حق ولكن اليمين لما قصد صاحبها الحض أو المنع كانت الكفارة رافعة لما حصل بها من الضرر بخلاف الطلاق والعتاق فانهما اتلاف محض لملك البضع والرقبة ولا كفارة فيهما فالضرر الحاصل بوقوعهما لا يندفع بكفارة ولا غيرها وكما انه يفرق في الإكراه بين نوع ونوع فالإكراه يبيح الأقوال عندنا وعند الجمهور وكل قول اكره عليه بغير حق فانه باطل وأبو حنيفة يفرق بين نوع ونوع والإكراه على الأفعال ثلاثة أنواع. "نوع" لا يباح بالإكراه كقتل المعصوم وإتلاف أطرافه "ونوع" يبيحه الإكراه بشرط الضمان كإتلاف مال المعصوم. "ونوع" مختلف فيه كالزنا والشرب والسرقة وفيه روايتان عن الإمام احمد فما أمكن تلافيه أبيح بالإكراه كالأقوال والأموال وما كان ضرره كضرر الإكراه لم يبح به كالقتل فانه ليس قتل المعصوم بحياة المكره أولى من العكس.
"যদি বলা হয়": তাহলে আপনাদের মূলনীতি অনুযায়ী এটি আবশ্যক হয় যে, এই অবস্থায় শপথ করলে তার শপথ সংঘটিত (انعقاد) হবে না। "বলা হয়": পূর্বসূরি (سلف) এবং উত্তরসূরিদের (خلف) একদল আলিম এই মত ব্যক্ত করেছেন এবং এমন একজন ইমাম এটি পছন্দ করেছেন যার ইমামত ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই, এবং তাকে মহান ইমামদের সমপর্যায়ে গণ্য করা হতো—তিনি হলেন ইসমাঈল ইবনে ইসহাক আল-কাদি। "যদি বলা হয়" কিন্তু সাহাবীগণ, তাবেয়িগণের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ (جمهور التابعين) এবং চার ইমাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা হলো জেদ ও ক্রোধের মানত (نذر اللجاج والغضب) ধর্তব্য হওয়া, যদিও এর আবশ্যিক পরিণাম সম্পর্কে তাঁরা মতভেদ করেছেন। ইমাম মালিক এবং ইরাকবাসীরা একে পুণ্য ও ইবাদতের মানতের (نذر التبرر) ন্যায় পূর্ণ করা ওয়াজিব করেছেন। আর লাইস ইবন সাদ, শাফেয়ি এবং আহমাদ ইবন হাম্বল এটি পালন করা অথবা শপথের কাফফারা (كفارة اليمين) প্রদানের মধ্যে ইখতিয়ার দিয়েছেন। তাঁদের কেউ বলেননি যে, এটি সংঘটিত (انعقاد) হবে না বা এটি অসার (لغو)। আল্লাহ তাআলা সমস্ত শপথের ক্ষেত্রেই কাফফারা (كفارة) উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে সন্তুষ্টির শপথ বাদ দিয়ে ক্রোধের শপথকে আলাদা করা হয়নি। "বলা হয়" হ্যাঁ, এটি সত্য; কিন্তু শপথের মাধ্যমে যখন শপথকারী কোনো বিষয়ে উৎসাহিত করা বা বিরত রাখার ইচ্ছা করেন, তখন কাফফারা (كفارة) এর ফলে সৃষ্ট ক্ষতি নিরসনকারী হয়। কিন্তু তালাক ও দাসমুক্তির বিষয়টি ভিন্ন, কারণ এ দু’টি হলো দাম্পত্য অধিকার ও মালিকানা স্বত্বের নিরঙ্কুশ বিলুপ্তি, এবং এগুলোতে কোনো কাফফারা (كفارة) নেই। ফলে এই দু’টি কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে যে ক্ষতি হয়, তা কাফফারা (كفারা) বা অন্য কিছু দিয়ে দূর করা সম্ভব নয়। এবং যেমন জবরদস্তির (إكراه) ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে পার্থক্য করা হয়; আমাদের এবং জমহুর (جمهور) বা সংখ্যাগরিষ্ঠ আলিমদের মতে জবরদস্তি (إكراه) মৌখিক বিষয়গুলোকে বৈধতা দেয়, আর অন্যায়ভাবে বাধ্য করে বলানো প্রতিটি কথা বাতিল (باطل)। কিন্তু আবু হানিফা বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে পার্থক্য করেছেন। কর্মের ওপর জবরদস্তি (إكراه) তিন প্রকার। এক প্রকার (نوع): যা জবরদস্তির (إكراه) মাধ্যমেও বৈধ হয় না, যেমন নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করা বা তার অঙ্গহানি করা। অন্য প্রকার (نوع): যা জবরদস্তি (إكراه) বৈধ করে দেয় ক্ষতিপূরণের (ضمان) শর্তে, যেমন নিরপরাধ ব্যক্তির সম্পদ নষ্ট করা। অন্য প্রকার (نوع): যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে, যেমন ব্যভিচার, মদ্যপান এবং চুরি; এই বিষয়ে ইমাম আহমাদ থেকে দুটি বর্ণনা (روايتان) রয়েছে। সুতরাং যা সংশোধন করা সম্ভব, তা জবরদস্তির (إكراه) কারণে বৈধ হয়, যেমন কথা এবং সম্পদ। আর যার ক্ষতি খোদ জবরদস্তির (إكراه) ক্ষতির সমান, তা বৈধ হয় না, যেমন হত্যা; কেননা বাধ্য হওয়া ব্যক্তির জীবনের জন্য নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করা অধিকতর উত্তম নয়, ঠিক যেমন এর বিপরীতটিও নয়।
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তলাকিল গদবান - ত আফীফী
(পৃষ্ঠা: ৫১)
"واما الأفعال" كالقران يدل على رفع الإثم فيها. كقوله تعالى {وَلا تُكْرِهُوا فَتَيَاتِكُمْ عَلَى الْبِغَاءِ إِنْ أَرَدْنَ تَحَصُّناً لِتَبْتَغُوا عَرَضَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَمَنْ يُكْرِهْهُنَّ فَإِنَّ اللَّهَ مِنْ بَعْدِ إِكْرَاهِهِنَّ غَفُورٌ رَحِيمٌ} "الوجه الثامن": أن النبي صلى الله عليه وسلم شرع للغضبان ان يقول: "أعوذ بالله من الشيطان الرجيم" وان يتوضأ وان يتحول عن حالته فإن كان قائما فليقعد وإذا كان قاعدا فليضطجع. قال: "ان الغضب من الشيطان وان الشيطان من النار وإنما تطفأ النار بالماء فإذا غضب أحدكم فليتوضأ". وهذا يدل على انه محمول عليه من غيره وان الشيطان يغضبه ليحمله بغضبه على
"আর কর্মসমূহের ক্ষেত্রে" কুরআনের ন্যায় এগুলো থেকেও পাপের দায়মুক্তির প্রমাণ পাওয়া যায়। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের দাসীরা সতীত্ব বজায় রাখতে চাইলে পার্থিব জীবনের নশ্বর সম্পদের লালসায় তাদেরকে ব্যভিচারে লিপ্ত হতে বাধ্য করো না। আর যারা তাদেরকে বাধ্য করবে, তবে তাদের ওপর এই জবরদস্তির পর নিশ্চয়ই আল্লাহ (তাদের প্রতি) ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।} "অষ্টম দিক:" নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ক্রোধান্বিত ব্যক্তির জন্য বিধান দিয়েছেন যে, সে যেন বলে: "আউযুবিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজীম" এবং সে যেন অজু করে ও নিজের অবস্থা পরিবর্তন করে; সে যদি দণ্ডায়মান থাকে তবে যেন বসে পড়ে, আর যদি উপবিষ্ট থাকে তবে যেন শয়ন করে। তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই ক্রোধ শয়তানের পক্ষ থেকে, আর শয়তান আগুনের সৃষ্টি, আর আগুন কেবল পানি দ্বারা নির্বাপিত করা যায়। সুতরাং তোমাদের কেউ রাগান্বিত হলে সে যেন অজু করে।" এটি প্রমাণ করে যে, এই ক্রোধ তার ওপর অন্যের পক্ষ থেকে আরোপিত হয় এবং শয়তান তাকে রাগান্বিত করে যাতে তার ক্রোধের মাধ্যমে তাকে কোনো কিছুর দিকে ধাবিত করতে পারে।
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তলাকিল গদবান - ত আফীফী
(পৃষ্ঠা: ৫২)
فعل ما يحبه الشيطان وعلى التكلم به وما يضاف إلى الشيطان مما يكره العبد ولا يحبه فلا يؤاخذ به الإنسان كالوسوسة والنسيان كما قال فتى موسى لموسى {وَمَا أَنْسَانِيهُ إِلَاّ الشَّيْطَانُ أَنْ أَذْكُرَهُ} فالله تعالى لا يؤاخذ بالوسوسة ولا بالنسيان اذ هما من اثر فعل الشيطان في القلب وقد اخبر النبي صلى الله عليه وسلم ان الغضب من الشيطان" فيكون اثره مضافا اليه أيضا فلا يؤاخذ به العبد كأثر النسيان فإنه لو حلف ان لا يتكلم بكذا فتكلم به ناسيا لم يحنث لعدم قصده وإرادته لمخالفة ما عقد يمينه عليه وان كان قاصدا للكلام فانه لم يقع منه الا بقصده وإرادته وهذه حال الغضبان فانه لم يقصد حقيقة ما تكلم به وموجبه بل جرى على لسانه كما جرى كلام الناسي على لسانه بل قصد الناسي للتكلم اظهر من قصد الغضبان ولهذا يقول الناسي: قصدت ان أقول كذا وكذا والغضبان يحلف انه لم يقصد
"
الوجه التاسع": إن المقصود في العقود معتبرة في عقدها كلها والغضبان ليس له قصد معتبر في حل عقدة النكاح كما ليس له قصد في قتل نفسه وولده واتلاف ماله فانه يفعل في الغضب هذا ويقول: هذا فإذا لم يكن له قصد معتبر لم يصح طلاقه "فإن قيل": هذا ينقص عليكم بالهازل فانه يصح طلاقه وان لم يكن له فيه قصد "قيل": الفرق بينهما: ان الهازل قصد التكلم باللفظ وأراده رضا واختيار منه لم يحمل على التلفظ به وغايته ان لم يرد حكمة وموجبه وذلك إلى الشارع ليس إيه فالسبب الذي اليه قد اتى به اختيارا وقصدا مع علمه به لم يحمل عليه والسبب إلى المشرع ليس اليه فلا يصح اعتبار احدهما بالآخر وكيف يقاس الغضبان على المتخذ آيات الله هزؤا وهذا من افسد القياس ?
শয়তান যা পছন্দ করে এমন কাজ করা, এমন কথা বলা এবং যা কিছু শয়তানের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয় যা বান্দা অপছন্দ করে ও ভালোবাসে না, সে জন্য মানুষকে পাকড়াও করা হবে না; যেমন কুমন্ত্রণা (وسوسة) এবং বিস্মৃতি (نسيان)। যেমনিভাবে মূসা (আ.)-এর সঙ্গী মূসা (আ.)-কে বলেছিলেন: {শয়তানই আমাকে তা স্মরণ রাখতে ভুলিয়ে দিয়েছিল}। মহান আল্লাহ কুমন্ত্রণা (وسوسة) ও বিস্মৃতির (نسيان) কারণে পাকড়াও করেন না, কারণ এই উভয়টি অন্তরে শয়তানের কাজের প্রভাব মাত্র। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সংবাদ দিয়েছেন যে, "ক্রোধ (غضب) শয়তানের পক্ষ থেকে।" ফলে ক্রোধের প্রভাবও তার (শয়তানের) দিকেই সম্বন্ধযুক্ত হবে। অতএব এর জন্য বান্দাকে পাকড়াও করা হবে না, যেমন বিস্মৃতির (نسيان) প্রভাবের ক্ষেত্রে হয় না। কেননা কোনো ব্যক্তি যদি শপথ করে যে সে অমুক কথা বলবে না, অতঃপর সে বিস্মৃত (ناسي) হয়ে তা বলে ফেলে, তবে সে শপথ ভঙ্গকারী (حنث) হবে না; কারণ তার শপথের চুক্তিকৃত বিষয় লঙ্ঘনের কোনো সংকল্প (قصد) ও ইচ্ছা (إرادة) ছিল না। যদিও সে কথা বলার সংকল্প (قصد) করেছিল, তবুও তা (শপথ লঙ্ঘন) তার সংকল্প (قصد) ও ইচ্ছা (إرادة) ছাড়া সংঘটিত হয়নি। আর এটাই হলো রাগান্বিত (غضبان) ব্যক্তির অবস্থা; কেননা সে যা বলেছে তার হাকিকত ও পরিণাম সে সংকল্প (قصد) করেনি, বরং তা তার মুখ দিয়ে বের হয়ে গেছে যেভাবে বিস্মৃত (ناسي) ব্যক্তির কথা তার মুখ দিয়ে বের হয়ে যায়। বরং কথা বলার ক্ষেত্রে বিস্মৃত (ناسي) ব্যক্তির সংকল্প (قصد) রাগান্বিত (غضبان) ব্যক্তির সংকল্পের (قصد) চেয়েও স্পষ্টতর। এই কারণেই বিস্মৃত (ناسي) ব্যক্তি বলে: "আমি অমুক অমুক কথা বলার সংকল্প (قصد) করেছিলাম", আর রাগান্বিত (غضبان) ব্যক্তি কসম করে বলে যে সে সংকল্প (قصد) করেনি।
"
নবম দিক": নিশ্চয়ই সমস্ত চুক্তির (عقود) ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যসমূহ (مقصود) তাদের আকদ হওয়ার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য (معتبر)। আর রাগান্বিত (غضبان) ব্যক্তির বৈবাহিক বন্ধন (عقدة النكاح) ছিন্ন করার ক্ষেত্রে কোনো গ্রহণযোগ্য সংকল্প (قصد معتبر) থাকে না, যেমনিভাবে নিজের প্রাণ নাশ, সন্তান হত্যা কিংবা সম্পদ বিনষ্ট করার ক্ষেত্রেও তার কোনো সংকল্প (قصد) থাকে না। কেননা সে রাগের মাথায় এগুলো করে বসে এবং এমন কথা বলে। সুতরাং যখন তার কোনো গ্রহণযোগ্য সংকল্প (قصد معتبر) নেই, তখন তার তালাক (طلاق) সহিহ হবে না। "যদি বলা হয়": আপনাদের এই মূলনীতি কৌতুককারীর (هازل) মাধ্যমে খণ্ডিত হয়; কারণ কৌতুককারীর তালাক (طلاق) সহিহ হয় যদিও তাতে তার কোনো সংকল্প (قصد) থাকে না। "উত্তরে বলা হবে": উভয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো: কৌতুককারী (هازل) শব্দ উচ্চারণের সংকল্প (قصد) করেছে এবং স্বেচ্ছায় ও সন্তুষ্টির (اختيار) সাথে তা করতে চেয়েছে, তাকে তা উচ্চারণে বাধ্য করা হয়নি। বড়জোর সে এর হিকমত ও পরিণাম চায়নি, কিন্তু সেটি তো শারিয়াত প্রণেতার (شارع) এখতিয়ারে, তার নয়। সুতরাং যে কারণটি (سبب) তার আয়ত্তে ছিল, সে তা স্বেচ্ছায় (اختيار) ও সংকল্পবদ্ধ (قصد) হয়ে এবং জেনেশুনেই সম্পাদন করেছে, তাকে এটি করতে বাধ্য করা হয়নি। আর বিধানদাতার (مشرع) এখতিয়ারভুক্ত বিষয় তার আয়ত্তে নেই। সুতরাং একটিকে অন্যটির সাথে তুলনা করা সঠিক নয়। আর কীভাবে রাগান্বিত (غضبان) ব্যক্তিকে এমন লোকের সাথে তুলনা করা যায় যে আল্লাহর আয়াতসমূহকে উপহাসের (هزؤ) বস্তু হিসেবে গ্রহণ করে? অথচ এটি তো অত্যন্ত অসার একটি অনুমান (قياس)?
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তলাকিল গদবান - ত আফীফী
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
"الوجه العاشر" ان الغضب مرض من الأمراض وداء من الأدواء فهو في أمراض القلوب نظير الحمى والوسواس والصرع في أمراض الا بدان فالغضبان المغلوب في غضبه كالمريض والمحموم والمصروع المغلوب في مرضه والمبرسم المغلوب في برسامه وهذا قياس صحيح في الغضبان الذي قد اشتد به الغضب حتى لا يعلم ما يقول واما إذا كان يعلم ما يقول ولكن يتكلم به حرجا وضيقا وغلقا لا قصدا للوقوع فو يشبه المبرسم والهاجر من الحمى من وجه ويشبه المكره القاصد للتكلم من وجه ويشبه المختار القاصد للطلاق من وجه فهو متردد بين هذا وهذا وهذا ولكن جهة الاختيار والقصد فيه ضعيف فإنه يعلم من نفسه انه لم يكن مختارا لما صدر منه من خراب بيته وفراق حبيبه وكونه يراه في يد غيره فان كان عاقلا لايختار هذا إلا ليدفع به ما هو اكره إليه منه أو ليحصل به ما هو أحب إليه فإذا انتفى هذا أو هذا لم يكن مختارا لذلك وهذا امر يعلمه كل إنسان من نفسه فصار تردده بين المريض المغلوب والمكره المحمول على الطلاق وأيهما كان فانه لا ينفذ طلاقه. "فان قيل" الفرق بينهما ان المريض المغلوب لا يملك نفسه في الحال والمكره وان يملك نفسه لكنه لا يملك دفع المكروه عنه وأما الغضبان فإنه يملك نفسه. كما قال النبي: "ليس الشديد بالصرعه ولكنه الذي يملك نفسه عند الغضب"
দশম দিক ক্রোধ হলো রোগসমূহের মধ্যে একটি রোগ এবং পীড়াসমূহের মধ্যে একটি পীড়া। হৃদরোগের ক্ষেত্রে এটি তেমন, যেমনটি শারীরিক রোগের ক্ষেত্রে জ্বর, কুমন্ত্রণা এবং মৃগীরোগ। সুতরাং যে ব্যক্তি ক্রোধের বশীভূত হয়েছে, সে ওই অসুস্থ, জ্বরাক্রান্ত এবং মৃগী রোগীর মতো যে তার রোগের কাছে পরাভূত, এবং সে ফুসফুসের ঝিল্লির প্রদাহে আক্রান্ত ওই ব্যক্তির মতো যে তার অসুস্থতার কাছে পরাভূত। এটি ওই ক্রুদ্ধ ব্যক্তির ক্ষেত্রে একটি সঠিক (صحيح) কিয়াস বা তুলনা, যার ক্রোধ অত্যন্ত তীব্র হয়ে উঠেছে এমনকি সে কী বলছে তাও অনুধাবন করতে পারছে না। আর যদি সে যা বলছে তা জানে, কিন্তু সংকীর্ণতা, অস্থিরতা এবং মানসিক চাপের কারণে তা বলে থাকে—ঘটানোর সংকল্প ব্যতীত—তবে সে একদিক থেকে বিকারগ্রস্ত ও জ্বরের ঘোরে প্রলাপ বকা ব্যক্তির সদৃশ, আবার একদিক থেকে কথা বলার ইচ্ছা পোষণকারী বাধ্য ব্যক্তির সদৃশ, এবং অন্য দিক থেকে তালাক প্রদানে ইচ্ছুক স্বেচ্ছাধীন ব্যক্তির সদৃশ। সে এগুলোর মাঝে দোলায়মান, কিন্তু তার মধ্যে ইচ্ছাশক্তি ও সংকল্পের দিকটি অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف)। কারণ সে নিজের ভেতর থেকে জানে যে, তার ঘর ধ্বংস হওয়া, প্রিয়তমার সাথে বিচ্ছেদ ঘটা এবং তাকে অন্য কারো অধীনে দেখা—এসবের ক্ষেত্রে সে স্বেচ্ছাধীন ছিল না। কেননা সে যদি বুদ্ধিমান হয়, তবে সে কখনোই এমনটি বেছে নেবে না, যদি না এর দ্বারা সে তার চেয়েও অপ্রিয় কোনো কিছু প্রতিহত করতে চায় অথবা এর চেয়েও প্রিয় কোনো কিছু অর্জন করতে চায়। যখন এর কোনোটিই অবশিষ্ট থাকে না, তখন সে স্বেচ্ছাধীন বলে গণ্য হয় না। এটি এমন এক সত্য যা প্রত্যেক মানুষ নিজের ভেতর থেকে অনুভব করতে পারে। সুতরাং তার অবস্থাটি বশীভূত রোগী এবং তালাক প্রদানে বাধ্য করা ব্যক্তির মাঝামাঝি পর্যায়ে পর্যবসিত হলো। আর এই দুই অবস্থার যে কোনোটিই হোক না কেন, তার তালাক কার্যকর হবে না। "যদি বলা হয়" যে, তাদের মধ্যে পার্থক্য হলো—বশীভূত রোগী তাৎক্ষণিকভাবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, আর বাধ্য ব্যক্তি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেও তার ওপর আরোপিত কষ্টদায়ক বিষয়টি প্রতিহত করতে পারে না, কিন্তু ক্রুদ্ধ ব্যক্তি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। যেমনটি নবী বলেছেন: "কুস্তিতে অন্যকে ধরাশায়ীকারী প্রকৃত শক্তিশালী নয়, বরং প্রকৃত শক্তিশালী হলো সেই ব্যক্তি যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।"
(খণ্ড: ১)
ইগাসাতুল লাহফান ফি হুকমি তলাকিল গদবান - ত আফীফী
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
"قيل": من الغضب ما يمكن صاحبه أن يملك نفسه عنده وهو الغضب في مبادئه فإذا استحكم وتمكن منه لم يملك نفسه عند ذلك وكذلك الحزن الحامل على الجزع يمكن صاحبه أن يملك نفسه في أوله فإذا استحكم وقهر لم يملك نفسه وكذلك الغضب يمكن صاحبه أن يملك نفسه في أوله فإذا تمكن واستولى سلطانه على القلب لم يملك صاحبه قلبه فهو اختياري في أوله اضطراري في نهايته كما قال القائل
يا عاذلي والأمر في يده
… هلا عذلت وفي يدي الأمر
وهكذا السكران سبب السكر مقدور له يمكنه فعله وتركه فإذا اتى بالسبب خرج الأمر عن يده ولم يملك نفسه عند السكر فإذا كان السكر الذي هو مفرط بتعاطي أسبابه ويقدر على ملك نفسه باجتنابها قد عذر الصحابة وغيرهم من الفقهاء صاحبة إذا طلق في هذه الحال مع كونه غير مغدور في تعاطي سببه فلان يعذر سكران الغضب الذي لم يفر مع شدة سكره على سكر الخمر أولى وأحرى.
"
الوجه الحادي عشر" وهو أن من الناس من إذا لم ينفذ غضبه قتله غضب غضبه ومات أو مرض أو اغشي عليه كما يذكر عن بعض العرب أن رجلا سبه فأراد أن يرد على الساب فامسك جليس له بيده على فمه ثم رفع يده لما ظن أن غضبه قد سكن فقال: قتلتني رددت غضبي في جوفي ومات من ساعته فإذا نفذ مثل هذا غضبه بقتل أو ظلم لغيره لم يعذر بذلك السكران واما إذا نفذ بقول فانه يمكن اهدار قوله وان لا يترتب اثره عليه كما أهدر الله سبحانه دعاءه ولم يرتب اثره عليه ولم يستجبه له ولهذا ذهب بعض الفقهاء إلى انه لا يجلد القذف في حال الخصومة والغضب وانما يجلد به إذا اتى به اختيارا وقصدا لقذفه وهو قول قوي جدا ويدل عليه ان الخصم لا يعذر بجرحه لخصمه وطعنه فيه حال الخصومة بقوله: هو فاجر ظالم غاشم يحلف على الكذب ونحو ذلك: ومن يحده في هذه الحال يفرق بين قذفه وطلاقة بان القدف حق لآدمي وانتهاك لعرضه أو قدحه في نفسه فيجري مجرى اتلاف نفسه وماله فلا يعذر فيه بالغضب لا
"বলা হয়েছে": রাগ বা ক্রোধের এমন পর্যায় রয়েছে যেখানে ব্যক্তি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়, আর তা হলো ক্রোধের প্রাথমিক অবস্থা। কিন্তু যখন তা চরম আকার ধারণ করে এবং ব্যক্তির ওপর জেঁকে বসে, তখন সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। একইভাবে বিলাপ বা হা-হুতাশ উদ্রেককারী শোকের ক্ষেত্রেও ব্যক্তি তার শুরুর দিকে নিজেকে সংবরণ করতে পারে, তবে তা প্রবল হয়ে তাকে পরাভূত করলে সে আর নিজেকে সংবরণ করতে পারে না। ক্রোধের বিষয়টিও তদ্রূপ; শুরুতে ব্যক্তি নিজেকে সামলাতে পারে, কিন্তু যখন তা জেঁকে বসে এবং অন্তরের ওপর তার আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন ব্যক্তি আর তার অন্তরের মালিক থাকে না। সুতরাং এটি শুরুতে ঐচ্ছিক (اختياري) হলেও শেষে গিয়ে অনিচ্ছাকৃত বা বাধ্যগত (اضطراري) হয়ে পড়ে। যেমনটি জনৈক কবি বলেছেন:
হে আমার নিন্দাকারী! যখন বিষয়টি তার হাতে
… কেন নিন্দা করছ? কেন আগে নিন্দা করলে না যখন বিষয়টি আমার হাতে ছিল?
মাদকাসক্ত বা মাতালের অবস্থাও তদ্রূপ। মত্ততার কারণ ঘটানো তার সাধ্যাধীন ছিল; সে তা করতে পারত আবার বর্জনও করতে পারত। কিন্তু যখন সে সেই কারণটি ঘটিয়ে ফেলল, তখন বিষয়টি তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেল এবং মত্ত অবস্থায় সে আর নিজেকে সংবরণ করতে পারল না। সুতরাং যদি মত্ততার কারণসমূহ লিপ্ত হওয়ার মাধ্যমে যে মত্ততা সৃষ্টি হয়, যেখানে ব্যক্তি সেই কারণ বর্জন করে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম ছিল, তা সত্ত্বেও সাহাবায়ে কেরাম এবং অন্যান্য ফকিহগণ এমন ব্যক্তিকে ওজর বা ক্ষমার যোগ্য মনে করেছেন যদি সে এই অবস্থায় তালাক প্রদান করে; অথচ সে মত্ততার কারণসমূহ গ্রহণে নির্দোষ ছিল না। এমতাবস্থায়, ক্রোধে মত্ত ব্যক্তি যার মত্ততা মদের মত্ততার চেয়েও তীব্র হওয়া সত্ত্বেও সে পলায়ন করেনি, সে ক্ষমার যোগ্য হওয়া অধিকতর সংগত ও অগ্রাধিকারযোগ্য।
একাদশ দিকআর তা হলো এই যে, কিছু মানুষ এমন রয়েছে যারা যদি তাদের ক্রোধ চরিতার্থ করতে না পারে, তবে সেই পুঞ্জীভূত ক্রোধ তাকে মেরে ফেলে, সে মৃত্যুবরণ করে অথবা অসুস্থ হয়ে পড়ে কিংবা মূর্ছিত হয়ে যায়। যেমন জনৈক আরব ব্যক্তি সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, এক ব্যক্তি তাকে গালি দিয়েছিল। তখন সে গালিদাতার উত্তর দিতে চাইল, কিন্তু তার জনৈক সঙ্গী তার মুখ চেপে ধরলেন। এরপর যখন তিনি ভাবলেন যে তার রাগ দমে গেছে, তখন হাত সরিয়ে নিলেন। তখন লোকটি বলল: "তুমি তো আমাকে মেরেই ফেললে, তুমি আমার রাগ আমার ভেতরেই ঠেলে দিলে।" এরপর সে তৎক্ষণাৎ মারা গেল। এমতাবস্থায়, যদি এই ব্যক্তি ক্রোধ চরিতার্থ করার জন্য অন্যকে হত্যা বা জুলুম করে, তবে মত্ত ব্যক্তির ন্যায় তাকে ক্ষমা করা হবে না। কিন্তু সে যদি কথার মাধ্যমে তা চরিতার্থ করে, তবে তার সেই কথাকে বাতিল বা অকার্যকর গণ্য করা সম্ভব এবং তার ওপর কোনো আইনি ফলাফল আরোপ না করা যেতে পারে, যেমন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এমন ব্যক্তির দোয়া বাতিল করে দিয়েছেন, তার ওপর কোনো ফলাফল রাখেননি এবং তা কবুল করেননি। এই কারণেই কোনো কোনো ফকিহ এই মত পোষণ করেছেন যে, ঝগড়া ও ক্রোধের অবস্থায় মিথ্যা অপবাদ (قذف) দিলে তার ওপর দণ্ড (حد) প্রয়োগ করা হবে না; বরং কেবল তখনই দণ্ড দেওয়া হবে যখন সে স্বেচ্ছায় ও ইচ্ছাকৃতভাবে অপবাদ দেয়। এটি অত্যন্ত শক্তিশালী একটি মত। এর স্বপক্ষে দলিল হলো এই যে, বিবাদ চলাকালীন বিবাদী তার প্রতিপক্ষকে এই বলে সমালোচনা বা আক্রমণ করলে তাকে ওজর বা ক্ষমার অযোগ্য ধরা হয় না যে: "সে পাপাচারী, জালিম, অকৃতজ্ঞ, মিথ্যার ওপর শপথকারী" এবং এই জাতীয় শব্দাবলী। আর যারা এই অবস্থায় দণ্ড প্রয়োগ করেন, তারা অপবাদ ও তালাকের মধ্যে পার্থক্য করেন এই বলে যে, অপবাদ (قذف) হলো মানুষের হক এবং তার সম্মানের হানি বা তার চরিত্রে আঘাত। এটি জান ও মাল ধ্বংস করার সমপর্যায়ভুক্ত। তাই ক্রোধের কারণে তাকে এখানে ক্ষমা করা হবে না।