(খণ্ড: ১)
আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: -)
التاج الجامع للأصول في أحاديث الرسول صلى الله عليه وسلم القسم: كتب السنة
الكتاب: التاج الجامع للأصول في أحاديث الرسول صلى الله عليه وسلم
المؤلف: منصور ناصف
الناشر: دار إحياء الكتب العربية - مصر
الطبعة: الثالثة، 1381 - 1382 هـ = 1961 - 1962 م
وصَوّرتْها: دار إحياء التراث العربي - لبنان
عدد الأجزاء: 5
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 3 شعبان 1443
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসসমূহে মূলনীতির পূর্ণাঙ্গ সংকলন (আত-তাজ আল-জামি লিল-উসুল ফি আহাদিসির রাসূল) বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
গ্রন্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসসমূহে মূলনীতির পূর্ণাঙ্গ সংকলন (আত-তাজ আল-জামি লিল-উসুল ফি আহাদিসির রাসূল)
লেখক: মনসুর নাসির
প্রকাশক: দারু ইহয়াইল কুতুবিল আরাবিয়্যাহ - মিশর
সংস্করণ: তৃতীয়، ১৩৮১ - ১৩৮২ হিজরি = ১৯৬১ - ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দ
এবং এটি পুনঃমুদ্রণ করেছে: দারু ইহয়াইত তুরাসিল আরাবি - লেবানন
খণ্ড সংখ্যা: ৫
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৩ শাবান ১৪৪৩
(খণ্ড: ১)
আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২)
التاج الجامع للأصول فى أحاديث الرسول كتاب جمع ما تفرق في صحيحي البخارى ومسلم وغيرهما من الأحاديث الصحيحة.
وقد قدر لهذا الكتاب أن ينتشر في البلاد الإسلامية لما امتاز به من سهولة المعنى، وتقريب ألفاظ الحديث لمن يريد البحث عن أدلة العبادات والمعاملات.
وإذا ذكر هذا الكتاب الجليل فإنما يذكر مقرونا باسم مؤلفه المرحوم العلامة الجليل الأستاذ منصور على ناصف، أحد علماء الأزهر الشريف وأساتذته المبرزين.
كان رحمه الله محل تقدير علماء الأزهر، و إعجابهم بمؤلفه العظيم.
وقد رأوا في هذا الكتاب الجليل من الفائدة ما حملهم على تقريظه، وحث المسلمين على اقتنائه والاستفادة منه، تجد ذلك في تقاريظهم التي ذكرت بعد ..
ويسر «دار إحياء الكتب العربية» أن تقدم هذا الكتاب الجليل الطلاب الحديث وأساتذة العلم في طبعته الثالثة، كعادتها في العناية بنشر الكتب المفيدة، وخصوصا ما يتصل بنشر الثقافة الإسلامية، وما يتعلق بالأحاديث النبوية والشريعة الإسلامية.
والله يجزي مؤلفه خير الجزاء، ويثيبه على هذا العمل الجليل.
دار إحياء الكتب العربية
আত-তাজুল জামিউ লিল-উসুল ফি আহাদিসির রাসূলএটি এমন একটি গ্রন্থ যা সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম এবং অন্যান্য গ্রন্থসমূহে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সহীহ হাদিসসমূহকে একত্রিত করেছে।
এই কিতাবটি মুসলিম দেশসমূহে ছড়িয়ে পড়ার সৌভাগ্য লাভ করেছে কারণ এটি অর্থের সহজবোধ্যতা এবং যারা ইবাদত ও লেনদেনের দলিল অনুসন্ধান করতে চান, তাদের নিকট হাদিসের শব্দাবলিকে সহজবোধ্য করার গুণে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।
যখনই এই মহান কিতাবটির নাম উল্লেখ করা হয়, তখনই এর সাথে এর লেখক মরহুম বিজ্ঞ আল্লামা উস্তাদ মানসুর আলী নাসিফ-এর নাম জড়িয়ে থাকে, যিনি আল-আযহার আশ-শরীফের অন্যতম আলেম এবং বিশিষ্ট শিক্ষকদের একজন ছিলেন।
তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আযহারের আলেমদের নিকট অত্যন্ত সমাদৃত ছিলেন এবং তাঁরা তাঁর এই মহান রচনার প্রতি মুগ্ধ ছিলেন।
তাঁরা এই মহান কিতাবটির মধ্যে এমন সব উপকারিতা খুঁজে পেয়েছিলেন যা তাঁদেরকে এর প্রশংসা করতে এবং মুসলিমদের এটি সংগ্রহ ও এর দ্বারা উপকৃত হতে উদ্বুদ্ধ করেছে; আপনি পরবর্তীতে উল্লিখিত তাঁদের প্রশংসাবাণীগুলোতে সেটি দেখতে পাবেন...
‘দারু ইহয়াইল কুতুবিল আরাবিয়্যাহ’ অত্যন্ত আনন্দের সাথে হাদিসের শিক্ষার্থী ও ইলমের উস্তাদদের নিকট এই মহান কিতাবটির তৃতীয় সংস্করণ পেশ করছে। উপকারী কিতাব প্রকাশের প্রতি বিশেষত ইসলামি সংস্কৃতি প্রচার এবং রাসুলের হাদিস ও ইসলামি শরিয়ত সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি প্রকাশের প্রতি তাঁদের যে চিরন্তন যত্নশীলতা রয়েছে, এটি তারই অংশ।
আল্লাহ তাআলা এর লেখককে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং এই মহান কর্মের জন্য তাঁকে পুরস্কৃত করুন।
দারু ইহয়াইল কুতুবিল আরাবিয়্যাহ
(খণ্ড: ১)
আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩)
تقاريظلحضرات أصحاب الفضيلة علماء الإسلام حفظهم الله تعالى
(التقريظ الأول) لحضرة صاحب الفضيلة شيخ المشايخ الأكبر وصاحب المؤلفات العديدة مولانا الشيخ محمد بخيت مفتي الديار المصرية سابقًا، ومن هيئة كبار العلماء حفظه الله آمين.
بسم الله الرحمن الرحيم. الحمد لله رب العالمين. والصلاة والسلام على خاتَم النبيين وإمام المرسلين. سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.
وبعد: فقد اطلعنا على الجزء الأول من مؤلف حضرة صاحب الفضيلة الأستاذ الجليل الشيخ منصور علي ناصف من علماء الأزهر الشريف ومدرس بالجامع الزينبي الموسوم باسم (التاج الجامع للأصول في أحاديث الرسول) وعليه غاية المأمول شرح ذلك التاج الجامع للأصول. فوجدته مؤلفًا قيمًا حسن التبويب والترتيب. جميل الشكل. سهل العبارة. متين الأسلوب. في جزالة معنى وفخامة تركيب. وقد حوى ما تَمس إليه الحاجة. من الموضوعات الدينية التي لا يستغني عنها مسلم في عبادة ربه. ومناجاة خالقه. مع الإلمام التام بمذاهب الأئمة المجتهدين ومناحي أقوالهم. وذكر طائفة من الآداب الإسلامية التي هي روح التشريع والمقصود الأهم من الأحكام العملية
…وبالجملة فهو مؤلف نفيس. يدل على قوة مؤلفه العلمية. ورسوخه في علم الفقه. وعلو كعبه في فمن الحديث. مع الذوق السليم والفكر الصائب. والبصيرة النيرة. نفع الله به المسلمين وأكثر من أمثاله. ورزقه التوفيق في جهاده العلمي وأثابه على حسن نيته. وجزاه بما يجزي به المؤمنين الصادقين العاملين. إنه على ما يشاء قدير وبالإجابة جدير. وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين آمين.
28 رجب سنة 1351 هـ.
مفتي الديار المصرية سابقًا
محمد بخيت
(بالإمضاء)
(التقريظ الثاني)لحضرة صاحب الفضيلة. المصلح الكبير. الناطق بالبرهان. وملك البيان أستاذي الشيخ عبد المجيد اللبان. شيخ كلية أصول الدين حفظه الله وأيده آمين.
بسم الله الرحمن الرحيم. نحمدك اللهم أن وفقت في كل حين من يجدد لهذه الأمة أمر دينها. حتى لا تنسى شرائعها ولا تبلى تعاليمها. فحققت لها الخير الدائم. وجعلته مصداقًا لوعدك الكريم. بحفظ كتابك العزيز وسنة نبيك الغراء. اللذين هما منارا هدايتك الحقة. وينبوعا سلسبيل رحمتك التي اختصصت بها من شئت من عبادك. فنشكرك شكر المستزيد من فضلك. ونصلي ونسلم على سيدنا محمد
প্রশংসা বাণীসমূহসম্মানিত ইসলামি আলেমগণের পক্ষ থেকে, আল্লাহ তাআলা তাঁদের হিফাজত করুন।
(প্রথম প্রশংসা বাণী) মহান শাইখুল মাশায়েখ এবং বহু গ্রন্থের প্রণেতা, মিসরের প্রাক্তন মুফতি এবং জেষ্ঠ আলেম পরিষদের সদস্য মাওলানা শাইখ মুহাম্মদ বাখিত-এর পক্ষ থেকে, আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন, আমিন।
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবীগণের শেষ জন এবং রাসূলগণের ইমাম আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।
অতঃপর: আমরা আল-আজহার আল-শরীফের অন্যতম আলেম এবং জামে যায়নাবীর শিক্ষক সম্মানিত উস্তাদ শাইখ মানসুর আলী নাসিফ রচিত 'আত-তাজুল জামে লিল-উসুল ফী আহাদিসির রাসূল' নামক কিতাবটির প্রথম খণ্ড এবং সেটির ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'গায়াতুল মামূল শারহু তাজিল জামে লিল-উসুল' পাঠ করেছি। আমি এটিকে একটি মূল্যবান গ্রন্থ হিসেবে পেয়েছি যা চমৎকারভাবে অধ্যায়ভিত্তিক ও সুবিন্যস্ত। এর অবয়ব সুন্দর, ভাষা সহজ এবং রচনাশৈলী সুদৃঢ়। এর অর্থ অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং গঠনশৈলী অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এটি সেই সকল ধর্মীয় বিষয়বস্তুকে অন্তর্ভুক্ত করেছে যেগুলোর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য এবং আপন রবের ইবাদত ও স্রষ্টার সাথে নিভৃত আলাপের ক্ষেত্রে কোনো মুসলিমের জন্য তা থেকে বিমুখ হওয়া সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি এতে মুজতাহিদ ইমামগণের মাযহাবসমূহ ও তাঁদের মতামতের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এতে একগুচ্ছ ইসলামি শিষ্টাচার উল্লেখ করা হয়েছে যা শরিয়তের প্রাণ এবং ব্যবহারিক বিধিবিধানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য …
সারকথা হলো, এটি একটি অনন্যসাধারণ গ্রন্থ, যা লেখকের বৈজ্ঞানিক শক্তি, ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর গভীরতা এবং হাদিস শাস্ত্রে তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার প্রমাণ দেয়। সাথে সাথে এতে ফুটে উঠেছে তাঁর নির্মল রুচি, সঠিক চিন্তা এবং উজ্জ্বল অন্তর্দৃষ্টি। আল্লাহ এর মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করুন এবং তাঁর মতো আরও ব্যক্তিত্ব বৃদ্ধি করে দিন। তাঁর জ্ঞানগত সাধনায় আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন এবং তাঁর নেক নিয়তের উত্তম প্রতিদান দিন। আল্লাহ তাঁকে সেই প্রতিদান দান করুন যা তিনি সত্যনিষ্ঠ আমলকারী মুমিনদের দিয়ে থাকেন। নিশ্চয়ই তিনি যা চান তা করতে সক্ষম এবং দোয়া কবুলের যোগ্য। আর আল্লাহ সালাত বর্ষণ করুন আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাঁদের ওপর। আমিন।
২৮ রজব, ১৩৫১ হিজরী।
প্রাক্তন মুফতি, মিসর
মুহাম্মদ বাখিত
(স্বাক্ষরিত)
(দ্বিতীয় প্রশংসা বাণী)মহান সংস্কারক, দলিলের মাধ্যমে কথা বলা ব্যক্তিত্ব এবং প্রাঞ্জল বর্ণনার অধিকারী আমার উস্তাদ শাইখ আব্দুল মাজীদ আল-লাব্বান-এর পক্ষ থেকে। তিনি উসুলুদ্দীন অনুষদের শাইখ (ডিন), আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন এবং সাহায্য করুন। আমিন।
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ! আমরা আপনার প্রশংসা করি যে আপনি সর্বদাই এমন কাউকে তাওফিক দিয়েছেন যিনি এই উম্মতের জন্য তাদের দ্বীনি বিষয়সমূহকে সংস্কার ও নবায়ন করেন, যাতে করে তারা তাদের শরিয়তকে ভুলে না যায় এবং তাদের শিক্ষাগুলো পুরনো বা জরাজীর্ণ হয়ে না যায়। আপনি এই উম্মতের জন্য চিরস্থায়ী কল্যাণ নিশ্চিত করেছেন এবং আপনার কিতাব ও আপনার নবীর উজ্জ্বল সুন্নাহর হিফাজতের মাধ্যমে আপনার সম্মানিত ওয়াদাকে সত্যে পরিণত করেছেন। এই কিতাব ও সুন্নাহ হলো আপনার সত্য হিদায়াতের আলোকবর্তিকা এবং আপনার রহমতের প্রস্রবণ, যা আপনি আপনার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দান করেছেন। অতএব আমরা আপনার শুকরিয়া আদায় করছি আপনার অনুগ্রহ বৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। আর আমরা সালাত ও সালাম পেশ করছি আমাদের নেতা মুহাম্মদ-এর ওপর।
(খণ্ড: ১)
আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৪)
خير خلقك. وعلى آله وصحبه الأئمة الهداة. الذين جاهدوا في سبيلك حق الجهاد. وبلغوا دينك بأقوم السند وأعلاه.
وبعد فإلى ذلك العلم الرفيع والطود الشامخ. والمنار الهادي. والعالم العامل صاحب الفضيلة الثقة الكامل العلامة ولدي الشيخ منصور ناصف. أكتب كلمة البشرى والشكر والدعاء.
أيها الأستاذ: حسبي أن أقول إنك إذ وفقك الله تعالى فعنيت بجمع كتابك الكريم (التاج الجامع للأصول في أحاديث الرسول) الذي حوى ما في أصول الحديث الخمسة الصحاح: صحيح البخاري. وصحيح مسلم. وسنن أبي داود. وجامع الترمذي. والمجتبى للنسائي. كنت من الذين جددوا للدين أمره. فلك فخار من خلقهم ويخلقهم الله على رؤوس الأزمان لتجديد أمر الدين كما أخبر بذلك الصادق الأمين، وكفاك بذلك فخرًا واغتباطًا.
وكنت أيضًا من أهل الحظوة التي حظي بها أهل الحديث واختصهم الله بها ببركة دعائه صلى الله عليه وسلم إذ يقول: "نضر الله امرأً سمع منا حديثًا فحفظه حتى يبلغه". وناهيك بتلك الحظوة غبطة. اطلعت على كتابك هذا فوجدته إلى الخير هاديًا. وإلى صحيح السنة مرشدًا. بأسلوبٍ بيّن. وطريق واضح. سهل التناول. يقرب الوصول إلى الغاية. ويرينا الأصول الخمسة في مرآةِ إخلاصك الصافية. ويروي عذبه نفوس طلاب الهداية.
قد حليت جيده بشرحك الذهبي. المختصر الوافي بحاجة المتفهم. وذلك عمل قلّ من قام به. خصوصًا في عصر ضعفت فيه الرغبة. وتقاعست الهمة.
أرضيت به ربك تعالى. وأقررت عين نبيك صلى الله عليه وسلم. وحبوت به أهل العلم. وشرحت به صدري. فلك جزاء الله، ورضا نبيه، وشكر العلم وأهله. ودعاء مني إلى الله تعالى أن يجعلك على الدوام موفقًا لإبراز مثل هذا الجوهر المكنون إلى عالم الوجود. فتكون لآلئ فضلك حلية لتيجان الفنون جميعها. أرجو قبول اغتباطي. وثنائي. واحترامي.
29 من رجب الفرد سنة 1351 هـ. 28 نوفمبر سنة 1932 م.
عبد المجيد اللبان
(بالإمضاء)
(التقريظ الثالث)لحضرة صاحب الفضيلة الوارث المحمدي. والعالم الرباني. الذابّ عن الدين. المؤيد له بالحجج والبراهين. السائر على قدم الأسلاف السابقين. مولانا الشيخ يوسف الدجوي من هيئة كبار العلماء. حفظه الله وأيده وأبقاه لنفع العلم والإسلام والدين آمين.
بسم الله الرحمن الرحيم. الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وآله وأصحابه. حضرة صاحب الفضيلة الأستاذ الجليل والعلامة النبيل الشيخ منصور ناصف أيده الله بما أيد به
আপনার সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতমের প্রতি। আর তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর পথপ্রদর্শক ইমাম সাহাবীগণের প্রতি, যাঁরা আপনার পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন এবং আপনার দীনকে সুদৃঢ় ও সর্বোচ্চ সনদে পৌঁছে দিয়েছেন।
অতঃপর, সেই সুউচ্চ ইলম ও অটল পাহাড়ের ন্যায় ব্যক্তিত্ব, পথপ্রদর্শক বাতিঘর, আমলকারী আলেম, মহত্ত্বের অধিকারী, পূর্ণ বিশ্বস্ত আল্লামা, আমার পুত্র শায়খ মনসুর নাতিফ-এর উদ্দেশ্যে আমি সুসংবাদ, কৃতজ্ঞতা ও দোয়ার বাণী লিখছি।
হে উস্তায: আমার জন্য এতটুকুই বলা যথেষ্ট যে, আল্লাহ তাআলা যখন আপনাকে তাওফিক দান করেছেন, তখন আপনি আপনার এই সম্মানীত কিতাব ‘আত-তাজ আল-জামি’ লিল উসুল ফি আহাদিসির রাসুল’ সংকলনে মনোনিবেশ করেছেন; যা বিশুদ্ধ হাদিসের পাঁচটি মূল গ্রন্থকে অন্তর্ভুক্ত করেছে: সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, জামে তিরমিজি এবং নাসায়ির আল-মুজতাবা। আপনি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন যাঁরা দীনের বিষয়াদি সংস্কার করেছেন। আপনার জন্য রয়েছে সেই শ্রেষ্ঠত্ব যা আল্লাহ সময়ের সন্ধিক্ষণে দীনের সংস্কারের জন্য সৃষ্টি করেছেন ও করবেন, যেমনটি সত্যবাদী ও আমানতদার রাসুল সংবাদ দিয়েছেন। আপনার জন্য এটিই গৌরব ও আনন্দের বিষয় হিসেবে যথেষ্ট।
এছাড়াও আপনি সেই সৌভাগ্যের অধিকারী হয়েছেন যা হাদিসের পণ্ডিতগণ প্রাপ্ত হয়েছেন এবং আল্লাহ তাঁদেরকে তাঁর রাসুলের দোয়ার বরকতে বিশিষ্ট করেছেন, যখন তিনি বলেন: “আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও প্রফুল্ল রাখুন যে আমাদের থেকে কোনো হাদিস শুনল, অতঃপর তা মুখস্থ রাখল যতক্ষণ না সে তা অন্যের কাছে পৌঁছে দেয়।” এই সৌভাগ্যই আনন্দের জন্য আপনার কাছে যথেষ্ট। আমি আপনার এই কিতাবটি অধ্যয়ন করেছি এবং একে কল্যাণের দিশারি ও সহিহ সুন্নাহর পথপ্রদর্শক হিসেবে পেয়েছি। এটি অত্যন্ত প্রাঞ্জল শৈলী ও স্পষ্ট পদ্ধতিতে রচিত এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য। এটি অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোকে সহজ করে দেয় এবং আপনার ইখলাসের স্বচ্ছ আয়নায় আমাদের পাঁচটি মূল কিতাবকে দেখায়; এর মিষ্টতা হিদায়াতের অন্বেষণকারীদের তৃষ্ণা নিবারণ করে।
আপনি এর সৌন্দর্যকে আপনার স্বর্ণালি ব্যাখ্যা দ্বারা অলঙ্কৃত করেছেন, যা সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষার্থীর প্রয়োজন মেটাতে পর্যাপ্ত। এটি এমন এক কাজ যা খুব কম লোকই সম্পাদন করতে পেরেছে, বিশেষ করে এমন এক যুগে যখন অনুরাগ হ্রাস পেয়েছে এবং হিম্মত শিথিল হয়ে পড়েছে।
এর মাধ্যমে আপনি আপনার প্রতিপালক আল্লাহ তাআলাকে সন্তুষ্ট করেছেন, আপনার নবীর চক্ষু শীতল করেছেন, ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য এটি উপহার দিয়েছেন এবং এর মাধ্যমে আমার অন্তরকে প্রশস্ত করেছেন। আপনার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদান, তাঁর নবীর সন্তুষ্টি এবং ইলম ও আহলে ইলমের কৃতজ্ঞতা রইল। আর আমার পক্ষ থেকে আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া, তিনি যেন আপনাকে সর্বদা জগতের সামনে এমন সুপ্ত রত্ন প্রকাশ করার তাওফিক দান করেন। ফলে আপনার শ্রেষ্ঠত্বের মুক্তাসমূহ যেন সকল শাস্ত্রের মুকুটের অলঙ্কার হয়ে থাকে। আশা করি আমার আনন্দ, প্রশংসা ও শ্রদ্ধা গ্রহণ করবেন।
২৯ রজব ১৩৫১ হিজরি। ২৮ নভেম্বর ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ।
আবদুল মাজিদ আল-লাব্বান
(স্বাক্ষরিত)
(তৃতীয় প্রশংসা বাণী)মহত্ত্বের অধিকারী, মুহাম্মাদী উত্তরাধিকারী, রব্বানী আলেম, দীনের প্রতিরক্ষাকারী, দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে দীনকে শক্তিশালীকারী, পূর্বসূরি সালাফদের পদাঙ্ক অনুসারী, আমাদের নেতা শায়খ ইউসুফ আদ-দাজউয়ি—যিনি জ্যেষ্ঠ আলেম পরিষদের সদস্য—তাঁর পক্ষ থেকে। আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন, সাহায্য করুন এবং ইলম, ইসলাম ও দীনের উপকারের জন্য তাঁকে দীর্ঘজীবী করুন, আমিন।
পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম আল্লাহর রাসুল, তাঁর পরিবার ও তাঁর সাহাবীগণের প্রতি। মহত্ত্বের অধিকারী, মহান উস্তায এবং বিদগ্ধ আল্লামা শায়খ মনসুর নাতিফ—আল্লাহ তাঁকে সেই শক্তির মাধ্যমে সাহায্য করুন যার মাধ্যমে তিনি সাহায্য করেন...
(খণ্ড: ১)
আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
الخاصة من عباده.
أما بعد: فقد اطلعت على كتابك الموسوم بـ (التاج الجامع) فوجدته تاجًا حقًا وجامعًا صدقًا. قد فاق ما عداه وبرز على ما سواه بترتيبه الحكيم. وإيجازه البليغ. وتبريزه على غيره من تلك المختصرات التي أخلت بكثير من الأصول. وقد أحسنت الصنع وأتممت النفع بتلك التعليقات التي أفرغت فيها الوسع وبذلت فيها النصح للأمة المحمدية. فجزاك الله أحسن ما جازى به العاملين المخلصين.
وإن ظهور مثل هذا الكتاب الجليل في هذا العصر الذي كثرت به الفتن وعظمت فيه المحن، وشغل كل امرئ بدنياه. وكأن الناس قامت قيامتهم فلكل امرئ منهم شأن يغنيه وأمر يعنيه، وقد غفلوا عن كتاب مولاهم وسنة رسوله غريقين فيما أحاط بهم من الآفات والظلمات التي تلاطمت بها أمواج هذا العصر المظلم، ولم ينجُ من ذلك إلّا الكاملون الموفقون (وقليل ما هم) إني أعد ظهور هذا الكتاب في هذا الزمن الذي ذاك بعض وصفه وقليل من شرح حاله وعظيم أهواله، معجزة من معجزاته صلى الله عليه وسلم. وقد ذكر العلماء أن معجزاته صلى الله عليه وسلم قسمان: قسم انقضى، وقسم لا يزال يتجدد إلى يوم القيامة، وقد منّ الله بذلك عليك وأجراه على يديك، فأحمد الله على ذلك التوفيق العزيز.
وقد ورد عنه صلى الله عليه وسلم: أن من تمسك بسنته عند فساد أمته كان له أجر مائة شهيد. فما بالك بمن جمعها وأذاعها {ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ (4)} [سورة الجمعة] {ذَلِكَ مِنْ فَضْلِ اللَّهِ عَلَيْنَا وَعَلَى النَّاسِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَشْكُرُونَ (38)} [سورة يوسف].
أسأل الله أن يكثر في الأمة من العلماء العاملين والفضلاء المخلصين، وأن يزيدك تأييدًا وتسديدًا حتى ينتفع الناس بجليل أعمالك، وعظيم آثارك، بمنه وكرمه.
هذا: ولك من الاحترام والإعظام وخالص الدعاء وعاطر الثناء على قدر ما لك من جهد كبير ونية حسنة وهمة رفيعة، والسلام عليكم ورحمة الله.
26 رجب سنة 1351 هـ.
يوسف الدجوي
من هيئة كبار العلماء بالأزهر الشريف
(بالختم)
(التقريظ الرابع)لحضرة صاحب الفضيلة والسماحة، ذي الأخلاق المحمدية والفرع الأعلى في الشجرة النبوية السيد محمد الببلاوي خطيب الجامع الحسيني ومن كبار العلماء وصاحب المؤلفات القيمة ونقيب السادة الأشراف حفظه الله وأيده آمين.
بسم الله الرحمن الرحيم. نحمدك اللهم والحمد من آلائك، ونشكرك والشكر من نعمائك، ونصلي ونسلم على سيدنا محمد صفوتك من خلقك، وأمينك على وحيك، المرسل إلى الناس كافة بشيرًا ونذيرًا، وداعيًا إلى الله بإذنه وسراجًا منيرًا، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه الذين حفظوا عهده وامتثلوا أمره ودعوا الخلق إلى دينه وبلغوا إليهم شريعته بيضاء نقية لا ترى فيها عوجًا ولا أمتًا، فقامت بعملهم الحجة واستقامت المحجة أولئك هم الذين رضي الله عنهم ورضوا عنه، فلهم أجرهم عند ربهم جزاء بما كانوا يعملون.
তাঁর বান্দাদের মধ্যে বিশিষ্টজনদের জন্য।
অতঃপর: আমি আপনার (আত-তাজুল জামে‘) নামক গ্রন্থটি দেখেছি এবং একে প্রকৃতপক্ষে একটি মুকুট এবং সত্যই এক সংকলন হিসেবে পেয়েছি। এটি তার বিজ্ঞোচিত বিন্যাস এবং প্রাঞ্জল সংক্ষেপণের মাধ্যমে অন্যান্য সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে এবং শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে। এটি সেইসব সংক্ষিপ্তসারগুলোর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে যা অনেক মূলনীতিকে বাদ দিয়ে ফেলেছিল। আপনি চমৎকার কাজ করেছেন এবং সেইসব টীকা-টিপ্পনীর মাধ্যমে এর উপকারিতাকে পূর্ণতা দিয়েছেন যাতে আপনি আপনার পূর্ণ সামর্থ্য ব্যয় করেছেন এবং উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য নসিহত পেশ করেছেন। আল্লাহ আপনাকে সেই সর্বোত্তম প্রতিদান দিন যা তিনি একনিষ্ঠ কর্মীদের দিয়ে থাকেন।
বর্তমান এই যুগে যখন ফিতনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিপদাপদ প্রকট হয়েছে, আর প্রত্যেকেই নিজ নিজ দুনিয়া নিয়ে মহাব্যস্ত, এমন সময়ে এই মহান গ্রন্থের আত্মপ্রকাশ সত্যই প্রশংসনীয়। মানুষের অবস্থা এমন যেন তাদের কিয়ামত শুরু হয়ে গেছে, প্রত্যেকেরই এমন অবস্থা যা তাকে অন্যের থেকে বিমুখ করে রাখে এবং নিজ চিন্তায় নিমগ্ন রাখে। তারা তাদের মাওলার কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহ থেকে গাফেল হয়ে সে সমস্ত আপদ ও অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে যাতে এই অন্ধকার যুগের ঢেউ আছড়ে পড়ছে। পূর্ণতা ও তাওফিকপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ছাড়া আর কেউই তা থেকে মুক্তি পায়নি (এবং তারা সংখ্যায় খুবই কম)। আমি এই কিতাবের আত্মপ্রকাশকে—এই যুগে যার কিছু বর্ণনা ও অবস্থার কিঞ্চিৎ বিবরণ এবং যার ভয়াবহতা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুজিজাসম্মূহের একটি মুজিজা হিসেবে গণ্য করি। উলামায়ে কিরাম উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুজিজাসমূহ দুই প্রকার: এক প্রকার যা শেষ হয়ে গেছে, আর অন্য প্রকার যা কিয়ামত পর্যন্ত নতুনভাবে প্রকাশিত হতে থাকবে। আল্লাহ আপনার ওপর সেই অনুগ্রহ করেছেন এবং আপনার হাতে তা সম্পন্ন করিয়েছেন। তাই এই বিরল তাওফিকের জন্য আল্লাহর প্রশংসা করছি।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: যে ব্যক্তি তাঁর উম্মতের বিপর্যয়ের সময় তাঁর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবে, তার জন্য একশত শহীদের সওয়াব রয়েছে। তাহলে সেই ব্যক্তির মর্যাদা কত হবে যে সুন্নাহকে একত্রিত করেছে এবং তা প্রচার করেছে? {এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহের অধিকারী। (৪)} [সূরা আল-জুমুআ] {এটা আমাদের এবং মানুষের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না। (৩৮)} [সূরা ইউসুফ]।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন উম্মতের মধ্যে আমলকারী আলেম এবং একনিষ্ঠ গুণীজনদের সংখ্যা বৃদ্ধি করেন এবং আপনার সাহায্য ও সঠিকতা বাড়িয়ে দেন যাতে মানুষ আপনার মহান কর্ম ও বিশাল কীর্তি দ্বারা উপকৃত হতে পারে, তাঁরই অনুগ্রহ ও দয়ায়।
পরিশেষে: আপনার মহৎ প্রচেষ্টা, সৎ উদ্দেশ্য এবং সুউচ্চ সংকল্পের জন্য আপনার প্রতি রইল শ্রদ্ধা, সম্মান, আন্তরিক দোয়া এবং সুগন্ধিময় প্রশংসা। আপনাদের ওপর শান্তি ও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।
২৬শে রজব, ১৩৫১ হিজরী।
ইউসুফ আদ-দাজভী
আল-আযহার আশ-শরীফের হাইয়্যাতু কিবারিল উলামা (সিনিয়র উলামা পরিষদ)-এর সদস্য।
(সীলমোহরকৃত)
(চতুর্থ প্রশংসা বাণী)সম্মানিত ফযীলাত ও সমাহাত সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব, মুহাম্মাদী চারিত্রিক গুণাবলী মণ্ডিত এবং নবুওয়াতী বৃক্ষের উচ্চ শাখা, আস-সৈয়দ মুহাম্মদ আল-বিবলাবী-এর পক্ষ থেকে। যিনি জামে হুসাইনীর খতীব, বরেণ্য আলেমদের অন্যতম, মূল্যবান গ্রন্থসমূহের রচয়িতা এবং আশরাফগণের নকীব। আল্লাহ তাঁকে হেফাযত করুন এবং সাহায্য করুন, আমীন।
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ! আমরা আপনার প্রশংসা করি এবং সকল প্রশংসা আপনারই দানকৃত অনুগ্রহ। আমরা আপনার শুকরিয়া আদায় করি এবং সকল শুকরিয়া আপনারই নেয়ামতরাজির অংশ। আমরা দরুদ ও সালাম পেশ করি আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর, যিনি আপনার সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত এবং আপনার ওহীর বিশ্বস্ত আমানতদার; যাকে সমগ্র মানবজাতির নিকট সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও প্রদীপ্ত চেরাগ হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। আল্লাহ দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর, যাঁরা তাঁর অঙ্গীকার রক্ষা করেছেন, তাঁর আদেশ পালন করেছেন, সৃষ্টিজগতকে তাঁর দ্বীনের দিকে আহ্বান করেছেন এবং তাঁদের নিকট শুভ্র ও স্বচ্ছ শরীয়ত পৌঁছে দিয়েছেন যাতে কোনো বক্রতা বা অস্পষ্টতা নেই। তাঁদের কর্মের মাধ্যমেই দলীল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সঠিক পথ সুগম হয়েছে। তাঁরাই সেই সকল ব্যক্তি যাদের ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন। তাঁদের জন্য তাঁদের রবের নিকট রয়েছে প্রতিদান, তাঁদের কর্মের পুরস্কার স্বরূপ।
(খণ্ড: ১)
আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৬)
أما بعد: فخير ما شغل به العاقل وقته ووشى به صحيفته هو تفهم كتاب الله تعالى والعمل بما يدعو إليه وتبيين أوامره ونواهيه، ومعرفة وعظه وقصصه ومحكمه ومتشابهه وناسخه ومنسوخه، ولا سبيل لذلك إلّا بخدمة أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم والقيام على جمعها وتدوينها وتطهيرها من وهن الضعفاء وإفك الوضاعين، لذلك عني السلف الصالح بخدمة سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم خدمة لم تدع للخلف مجالًا للمزيد ولا موضعًا للاستدراك، وكانوا يرون أن العلم كل العلم في تفهم كتاب الله تعالى والاحتفاظ بسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، كما قد قال في ذلك قائلهم:
كل العلوم سوى القرآن مضيعة
… إلا الحديث وإلا الفقه في الدين
العلم ما قال فيه الناس حدثنا
… وما سواه فوسواس الشياطين
وإن خير ما دوّن في ذلك الصحاح الستة المشهورة في الحديث قديمًا وحديثًا، ولما كان الحصول على غير البخاري ومسلم ربما يعز على الخاصة ولا يمكن وصول العامة إليه رأى - ورأيه الموفق - العالم العامل والإنسان الكامل والمرشد الواصل فرع الشجرة النبوية السيد منصور ناصف الحسيني الشافعي أن يتفرغ في الكثير من وقته ويبذل النفيس من جهده فيجمع بين الأصول الخمس من الصحاح فتم له ما قصد وأدرك من بغيته ما أمل، وألف في ذلك كتابه (التاج الجامع للأصول في أحاديث الرسول) وقد وقفت منه في روضة غناء قطوفها دانية، لا تسمع فيها لاغية، جمع فيه خمسًا من الصحاح تاركًا المكرر من الأحاديث فيها، مقتصرًا من الإسناد على اسم المخرج والراوي، ضامًا لمحل ما اتحد موضوعه من الأحاديث بعضه إلى بعض مرتبًا ذلك على ترتيب الأبواب الفقهية، جامعًا في أحاديث الأخلاق والآداب الشكل إلى شكله، والنظير إلى نظيره، فجاء كتابًا تقرّ به العيون، وتنشرح له الصدور، يحصل منه طالب العلم على مطلبه من أقرب الطرق وأيسر السبل.
فإن جمع الأحاديث مرتبة على حروف المعجم باعتبار أول كلمة في الحديث في صنع الكثير من المؤلفين لا يسهل إلا على الحفاظ المتقنين، وقليل ما هم الآن.
وبالجملة فهذا (التاج) فيه غاية كل طالب، وأمنية كل راغب، فمن حاز التاج فقد حاز الخير الكثير والعلم الغزير، واستغنى عن الخمسة الأصول، وماذا عسى في مدح هذا التاج أن أقول، وقد حدت بالمؤلف الشفقة الإسلامية والغيرة الدينية إلى أن يضيف إلى هذه الحسنة حسنة أخرى رصعت هذا (التاج) وزادته رونقًا وبهجة، إذ قد شرح هذه الأحاديث شرحًا يشرح الصدور ويسر القلوب، وبين غريبها بيانًا جزلًا بين الإيجاز والإطناب، ليس بالطويل الممل ولا بالقصير المخل.
فجزى الله مولانا المؤلف عن السنة النبوية أحسن الجزاء، ونفع الأنام بهذا التأليف الجليل ومد في عمر مؤلفه حتى يتحف الناس بدرر أفكاره وجميل آثاره وعظيم أسراره، إنه ولي التوفيق لا رب غيره ولا معبود سواه.
حرر بالقاهرة في الخامس والعشرين من رجب سنة 1351 هجرية.
محمد الببلاوي الحسني
الإدريسي نقيب السادة الأشراف
(بالإمضاء)
অতঃপর: একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি তার সময়কে যা দিয়ে ব্যস্ত রাখতে পারে এবং তার আমলনামাকে যা দিয়ে অলঙ্কৃত করতে পারে, তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো মহান আল্লাহর কিতাব অনুধাবন করা, এটি যার দিকে আহ্বান জানায় সে অনুযায়ী আমল করা এবং এর আদেশ ও নিষেধসমূহ ব্যাখ্যা করা। এছাড়া এর উপদেশমালা, কাহিনীসমূহ, সুষ্পষ্ট ও রূপক আয়াতসমূহ এবং রহিতকারী ও রহিতকৃত বিধানসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসসমূহের খিদমত করা, সেগুলো সংগ্রহ ও সংকলন করা এবং দুর্বল বর্ণনাকারীদের দুর্বলতা ও মিথ্যাবাদীদের মিথ্যাচার থেকে সেগুলো পবিত্র করা ব্যতীত এর কোনো পথ নেই। এ কারণেই সালাফে সালেহীন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর খিদমতে এমনভাবে আত্মনিয়োগ করেছিলেন যে, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অতিরিক্ত কিছু করার বা সংশোধনের কোনো সুযোগ অবশিষ্ট রাখেননি। তারা মনে করতেন যে, প্রকৃত জ্ঞান হলো মহান আল্লাহর কিতাব অনুধাবন করা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে সংরক্ষণ করার মধ্যে। যেমন তাদের মধ্যে কেউ এই বিষয়ে বলেছিলেন:
কুরআন ব্যতীত অন্য সকল জ্ঞানই পণ্ডশ্রম
… তবে হাদীস এবং দ্বীনের ফিকহ ব্যতীত।
প্রকৃত ইলম হলো তা-ই যাতে লোকেরা বলে 'আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন'
… আর এর বাইরে যা কিছু আছে তা শয়তানের কুমন্ত্রণা।
আর এই বিষয়ে যা কিছু সংকলিত হয়েছে তার মধ্যে প্রাচীন ও আধুনিক কালে সুপ্রসিদ্ধ ছয়টি সহীহ গ্রন্থ হলো সর্বোত্তম। যেহেতু বুখারী ও মুসলিম ব্যতীত অন্যান্য গ্রন্থগুলো পাওয়া সম্ভবত বিশিষ্টজনদের জন্যও কঠিন হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের পক্ষে তা সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না, তাই মহান আলিম, কর্মনিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, পূর্ণাঙ্গ মানুষ, আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক এবং নববী বৃক্ষের শাখা জনাব সাইয়্যেদ মানসুর নাসিফ আল-হুসাইনী আশ-শাফিঈ—আল্লাহ তাকে তাওফীক দান করুন—মনে করলেন যে, তিনি তার সময়ের একটি বড় অংশ এই কাজে ব্যয় করবেন এবং তার মূল্যবান শ্রম বিলিয়ে দেবেন। তিনি (হাদীসের) পাঁচটি মূল সহীহ গ্রন্থকে একত্রিত করার সিদ্ধান্ত নিলেন। ফলে তিনি যা চেয়েছিলেন তা সুসম্পন্ন হলো এবং তিনি তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারলেন। তিনি এই বিষয়ে তার কিতাব 'আত-তাজুল জামিউ লিল-উসুলি ফি আহাদিসির রাসূল' রচনা করলেন। আমি এই কিতাবটি প্রত্যক্ষ করেছি যা এমন এক সুশোভিত উদ্যানের মতো যার ফলসমূহ অবনত ও নিকটবর্তী, সেখানে কোনো নিরর্থক কথা শোনা যায় না। তিনি এতে পাঁচটি সহীহ গ্রন্থকে একত্রিত করেছেন এবং হাদীসের পুনরাবৃত্তি বর্জন করেছেন। সনদের ক্ষেত্রে কেবল মূল সংকলক ও রাবীর নামের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন। একই বিষয়ের হাদীসগুলোকে ফিকহী অধ্যায়ের বিন্যাস অনুযায়ী একস্থানে সন্নিবেশিত করেছেন। আখলাক ও আদব বিষয়ক হাদীসগুলোর সমজাতীয় বিষয়গুলোকে একত্রে সাজিয়েছেন। ফলে এটি এমন এক কিতাবে পরিণত হয়েছে যা চক্ষুকে শীতল করে এবং অন্তরকে প্রশান্ত করে। এর মাধ্যমে ইলম অন্বেষণকারী অত্যন্ত নিকটবর্তী পথে ও সহজ উপায়ে তার উদ্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন করতে পারে।
কেননা হাদীসের প্রথম শব্দের ভিত্তিতে বর্ণনানুক্রমিকভাবে হাদীস সংগ্রহ করা যা অনেক লেখকই করেছেন, তা কেবল দক্ষ হাফেজে হাদীসদের জন্যই সহজসাধ্য, আর বর্তমানে তাদের সংখ্যা খুবই নগণ্য।
সংক্ষেপে, এই 'তাজ' গ্রন্থে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরম লক্ষ্য এবং প্রত্যেক প্রত্যাশীর আকাঙ্ক্ষা বিদ্যমান। সুতরাং যে ব্যক্তি এই 'তাজ' লাভ করল, সে প্রভূত কল্যাণ ও অগাধ ইলম লাভ করল এবং পাঁচটি মূল গ্রন্থ থেকে অমুখাপেক্ষী হলো। এই 'তাজ'-এর প্রশংসায় আমি আর কী-ই বা বলতে পারি! লেখকের ইসলামী মমতা ও ধর্মীয় আবেগ তাকে এই নেক কাজের সাথে আরও একটি নেক কাজ যুক্ত করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যা এই 'তাজ'-কে অলঙ্কৃত করেছে এবং এর জৌলুস ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে। তিনি এই হাদীসসমূহের এমন এক ব্যাখ্যা লিখেছেন যা অন্তরকে উন্মুক্ত করে এবং হৃদয়কে আনন্দিত করে। তিনি এর দুর্বোধ্য শব্দগুলোর এমন চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন যা অতি সংক্ষেপ ও অতি বিস্তারের মাঝামাঝি; যা বিরক্তিদায়ক দীর্ঘও নয়, আবার অস্পষ্টতা সৃষ্টিকারী সংক্ষিপ্তও নয়।
অতএব, মহান আল্লাহ আমাদের মাওলা লেখককে নববী সুন্নাহর পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। এই মহান রচনার মাধ্যমে মানবজাতিকে উপকৃত করুন এবং লেখকের আয়ু বৃদ্ধি করুন যাতে তিনি তার চিন্তার মুক্তাসমূহ, সুন্দর কীর্তিগাথা এবং মহান রহস্যসমূহ মানুষকে উপহার দিতে পারেন। নিশ্চয়ই তিনি তাওফীক দাতা, তিনি ব্যতীত কোনো রব নেই এবং তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই।
কায়রোতে লিখিত, ২৫ রজব, ১৩৫১ হিজরী।
মুহাম্মাদ আল-বাবলাওয়ী আল-হাসানী
আল-ইদ্রিসী, সায়্যেদ আশরাফগণের নকীব
(স্বাক্ষরিত)
(খণ্ড: ১)
আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
(التقريظ الخامس)لحضرة صاحب الفضيلة خادم السنة بالحرمين الشريفين العلامة الكبير والمحدث الشهير مولانا الشيخ محمد حبيب الله الشنقيطي صاحب كتاب (زاد المسلم فيما اتفق عليه البخاري ومسلم) ومدرس علم الحديث في كلية أصول الدين حفظه الله آمين.
بسم الله الرحمن الرحيم. الحمد لله الذي نرل على نبينا عليه وعلى آله الصلاة والسلام أحسن الحديث، وأكرم علماء الحديث بخدمته في القديم والحديث، والصلاة والسلام على رسولنا الذي أعطى جوامع الكلم واختصرت له اختصارًا، وعلى آله وأصحابه المجاهدين لإعلاء كلمته حيث اختارهم له أعوانًا وأنصارًا، وعلى تابعيهم من أئمة الحديث الباذلين جهدهم في جمعه والذّبّ عنه حتى نقحوا الصحيح من الضعيف، فجمعوا من أنواع فنونه التالد والطريف.
أما بعد: فقد أمعنت نظري وتأملت في تاج كتب الحديث المسمى (التاج الجامع للأصول في أحاديث الرسول) صلى الله عليه وعلى آله وسلم، للعلامة المحقق الذائق، صاحب الديانة الفائق، الشيخ منصور بن علي ناصف الحسيني أحد علماء الأزهر الشريف المدرس بالجامع الزينبي، وكتابته عليه المسماة غاية المأمول، فإذا هو اسم وافق مسماه وطابقه، ودل عليه دلالة المطابقة. فإنه كتاب كالتاج لكتب الحديث، القديم منها والحديث، لجمعه بين الكتب الخمسة التي صرح الإمام النووي في التقريب بأنَّه لم يفتها من الصحيح إلا النادر، وهي الصحيحان وسنن أبى داود، وجامع الترمذي، والمجتبى للنسائي، وفي ضمنها أحاديث الموطأ، إذا ما ترك أصحاب الخمسة منها إلا ما ندر، فقد وفق الله تعالى الأستاذ المذكور لجمعها مع حذف الأسانيد وترك المكرر والاكتفاء بأطول الروايات منه وأجمعها، فتم بتوفيق الله مع شرحه في نحو خمس مجلدات متوسطة، فكان من أنفع كتب الحديث الجامعة لأصول كتب الحديث المعتبرة مع حسن الترتيب، وكمال التقريب والتهذيب، فينبغي لكل من له رغبة في تحصيل زبدة كتب الحديث في أقرب وقت، مع العثور على أي دليل من الأحاديث الخمسة أراده، أن يعتني بحفظ هذا الكتاب الذي هو في الحقيقة كتب كثيرة الأسفار. لأئمة حفاظ كبار. ويجب على كل عالم له رغبة في أنفس كتب الحديث اقتناء هذا الكتاب والاستغناء به عن كل مؤلف قديم وحديث. لا سيما في هذا الوقت الذي كلَّت فيه الهمم عن حفظ مطولات الكتب الحديثية. فلهذا وشبهه عظمت بهذا المصنف النافع المزية. فكان تاجًا لكتب الحديث المشهورة عند الأمة. فجزى الله مؤلفه العلامة الديّن الناسك بأتم الرحمة. ونفع بمؤلفه هذا جميع المسلمين في مشارق الأرض ومغاربها ونفع به طبقات العلماء على اختلاف مشاربها.
قاله بلسانه وقيده ببنانه. خادم علوم السنة بالحرمين الشريفين سابقًا وبالتخصص بالأزهر المعمور لاحقًا. في يوم 27 رجب سنة 1351.
محمد حبيب الله بن سيدي عبد الله بن مايابي
الجكني ثم اليوسفي نسبًا الشنقيطي إقليمًا وفقه الله
(بالإمضاء)
(পঞ্চম প্রশংসা বাণী)মান্যবর ফযিলতপ্রাপ্ত, হারামাাইন আশ-শারিফাইনের সুন্নাহর খাদেম, মহান আল্লামা এবং প্রখ্যাত মুহাদ্দিস মাওলানা শাইখ মুহাম্মাদ হাবিবুল্লাহ আশ-শিনকিতি, যিনি 'জাদুল মুসলিম ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিল বুখারি ওয়া মুসলিম' কিতাবের রচয়িতা এবং কুল্লিয়াতু উসুলুদ্দিনে ইলমে হাদীসের শিক্ষক, আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন, আমীন।
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের নবী—তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—তাঁর ওপর সর্বোত্তম কথা অবতীর্ণ করেছেন, এবং হাদীসের খিদমতের মাধ্যমে প্রাচীন ও আধুনিক সর্বকালে হাদীস বিশারদ উলামায়ে কিরামকে সম্মানিত করেছেন। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের রাসূলের ওপর, যাকে ‘জাওয়ামিউল কালিম’ (সংক্ষিপ্ত ও অর্থবহ বাণী) দান করা হয়েছে এবং যাঁর জন্য কথাকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। আরও সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সেই সকল সাহাবায়ে কিরামের ওপর, যারা আল্লাহর কালিমাকে সমুন্নত করার জন্য জিহাদ করেছেন এবং আল্লাহ যাদেরকে তাঁর সাহায্যকারী ও আনসার হিসেবে মনোনীত করেছেন। আর তাঁদের অনুসারী হাদীসের ইমামদের ওপর, যারা হাদীস সংগ্রহ এবং এর প্রতিরক্ষায় নিজেদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন, এমনকি তাঁরা সহীহ হাদীসকে যঈফ থেকে পৃথক করেছেন এবং এই শাস্ত্রের প্রাচীন ও আধুনিক সকল প্রকার শৈলীকে একত্রিত করেছেন।
অতঃপর: আমি হাদীসের কিতাবসমূহের মুকুট স্বরূপ 'আত-তাজুল জামে লি-উসুল ফী আহাদিসির রাসূল' (সালালাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম) নামক কিতাবটির প্রতি গভীর দৃষ্টিপাত করেছি এবং তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করেছি; যা বিজ্ঞ গবেষক আল্লামা, আধ্যাত্মিক রুচিসম্পন্ন ও শ্রেষ্ঠ দ্বীনদার শাইখ মানসুর বিন আলী নাসিফ আল-হুসাইনির সংকলন—যিনি আজহার শরীফের উলামাদের অন্যতম এবং জামে যাইনাবিতে শিক্ষকতা করেন। কিতাবটির ওপর তাঁর রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘গয়াতুল মামুল’ও আমি দেখেছি। এটি এমন একটি নাম যা এর নামকরণের উদ্দেশ্যের সাথে পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তার যথাযথ পরিচয় প্রদানকারী। নিশ্চয়ই এটি হাদীসের কিতাবসমূহের জন্য মুকুট স্বরূপ, তা প্রাচীন হোক বা আধুনিক। কারণ এটি এমন পাঁচটি কিতাবের সমন্বয়ে গঠিত, যেগুলোর ব্যাপারে ইমাম নববী 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই কিতাবগুলো থেকে অতি সামান্য কিছু বাদে আর কোনো সহীহ হাদীস বাদ পড়েনি। সেই কিতাবগুলো হলো—সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম), সুনানে আবু দাউদ, জামি তিরমিযী এবং নাসাঈর আল-মুজতাবা। এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে মুয়াত্তার হাদীসসমূহও, কারণ উক্ত পাঁচটি কিতাবের সংকলকগণ মুয়াত্তার অতি সামান্য কিছু হাদীস ব্যতীত বাকি সবই গ্রহণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা উক্ত উস্তাদকে (শাইখ মানসুর) হাদীসগুলো একত্রে সংকলন করার তাওফিক দান করেছেন, যেখানে তিনি সনদগুলো বাদ দিয়েছেন এবং পুনরাবৃত্তি পরিহার করেছেন এবং দীর্ঘতম ও পূর্ণাঙ্গ বর্ণনাটি গ্রহণে তুষ্ট থেকেছেন। ফলে আল্লাহর তাওফিকে তাঁর ব্যাখ্যাসহ এটি পাঁচটি মাঝারি খণ্ডে সমাপ্ত হয়েছে। কিতাবটি হাদীসের নির্ভরযোগ্য মূল কিতাবসমূহের সংকলন হিসেবে অত্যন্ত উপকারী সাব্যস্ত হয়েছে, যা চমৎকার বিন্যাস এবং সুন্দর পরিমার্জন ও সহজীকরণে অনন্য। তাই যারা স্বল্পতম সময়ে হাদীসের কিতাবসমূহের নির্যাস হাসিল করতে আগ্রহী এবং উল্লিখিত পাঁচটি কিতাব থেকে যেকোনো দলিল খুঁজে পেতে ইচ্ছুক, তাঁদের প্রত্যেকের উচিত এই কিতাবটি গুরুত্ব সহকারে অধ্যয়ন করা ও মুখস্থ করা, যা প্রকৃতপক্ষে বড় বড় হাফেজে হাদীস ইমামদের অনেকগুলো কিতাবের সমষ্টি। প্রত্যেক আলিম, যিনি হাদীসের মূল্যবান কিতাবগুলো পেতে আগ্রহী, তাঁর জন্য এই কিতাবটি সংগ্রহ করা এবং এটি লাভের পর অন্য কোনো প্রাচীন বা আধুনিক রচনার মুখাপেক্ষী না হওয়া আবশ্যক। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে, যখন হাদীসের বিশদ ও দীর্ঘ কিতাবসমূহ আয়ত্ত করার ক্ষেত্রে মানুষের হিম্মত ও মনোবল কমে গেছে। এই কারণে এবং অনুরূপ অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের দরুন এই উপকারী সংকলনটির মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি উম্মতের নিকট পরিচিত হাদীসের কিতাবসমূহের জন্য একটি মুকুট হিসেবে গণ্য হয়েছে। আল্লাহ এর সংকলক মহান আল্লামা এবং নিবেদিতপ্রাণ দ্বীনদার ব্যক্তিকে পূর্ণ রহমতে সিক্ত করুন। তাঁর এই সংকলন দ্বারা পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিমের সমস্ত মুসলিমকে উপকৃত করুন এবং বিভিন্ন মতাদর্শের আলিমদেরকেও এর মাধ্যমে ফায়দা পৌঁছান।
তিনি মুখে এটি ব্যক্ত করেছেন এবং নিজ কলমে তা লিপিবদ্ধ করেছেন। যিনি পূর্বে হারামাাইন আশ-শারিফাইনের সুন্নাহর খিদমতে নিয়োজিত ছিলেন এবং পরবর্তীতে সমৃদ্ধ আল-আজহারের বিশেষ শাখায় যুক্ত হয়েছেন। ২৭শে রজব, ১৩৫১ হিজরী।
মুহাম্মাদ হাবিবুল্লাহ ইবনে সিদি আব্দুল্লাহ ইবনে মায়াবি
বংশগতভাবে আল-জাকানি ও আল-ইউসুফি এবং এলাকাগতভাবে আশ-শিনকিতি, আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন।
(স্বাক্ষর সম্বলিত)
(খণ্ড: ১)
আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
(التقريظ السادس)لحضرة الأستاذ العظيم والمؤرخ الكبير عبد الوهاب بك النجار ناظر مدرسة المرحوم ماهر باشا وصاحب المؤلفات في التاريخ، ومدرس بكلية أصول الدين حفظه الله.
بسم الله الرحمن الرحيم. الحمد لله يسر ما شاء لمن شاء. ووفق أهل السعادة إلى سبيل السواء.
وبعد: فإن الأمة الإسلامية قد كان في عنقها دين طالما طاولت في أدائه. وما طلت في قضائه. وذلك أنها قد آلت إليها من أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم ثروة لم تظفر بمثلها أمة من رسولها فجمعتها على ترتيب لا يلائم عصرنا الحاضر وبقيت في بطون الكتب على ترتيب ذلك العصر الغابر. وهي بيان للكتاب. وهدى لأولي الألباب.
ظلت تلك الثروة الحقب الطويلة. تنتظر من يجمع شتاتها. ويبعد مؤتلفها عن مختلفها. ويسهل على المسلمين مراجعتها. ويقرب النفع بها. حتى انتضى الأستاذ العلامة الشيخ منصور علي ناصف الحسيني عزمته الماضية. وهمته العالية. فقضى ذلك الديّن عن الأمة أحسن قضاء. وأعتقها من المطالبة والأداء. فعمد إلى الأحاديث التي وعتها الأصول الخمسة الصحاح. وهي: صحيح البخاري وصحيح مسلم وسنن أبي داود وجامع الترمذي والمجتبى للنسائي. فجمعها في كتاب وسماه التاج. واكتفى من الأسانيد بالنص على الراوي والمخرج. فجاء الكتاب طرفة من الطرف. وتحفة تفوق كل التحف. ورتب تلك الأحاديث على الأبواب الفقهية. فلا يضل فيها مراجع، ولا يتعب طالب.
وقد قسم كتابه أربعة أقسام: القسم الأول في الإيمان والعلم والعبادات. والقسم الثاني في المعاملات والأحكام والعادات. والقسم الثالث في الفضائل والتفسير والجهاد. والقسم الرابع في الأخلاق والسمعيات. وأتم الفائدة بشرح لطيف. يوضح من الحديث مبهمه. ويفصل مجمله. ويبيّن غامضه. وعلى الجملة قد جمع الشرح كثيرًا من المحاسن. وجاء في أكثر مواضعه بما يشرح صدر المطلع ويملؤه سرورًا.
وقد أهدي إلي الجزء الأول من ذلك الكتاب. فسرحت طرفي منه في رياض ناضرة. وأزهار باهرة. إلى طبع جميل متقن. وورق صقيل. وتصحيح دقيق. فله الشكر الأوفر على هذه الهمة العالية.
أسأل الله أن يجزيه خير ما جزى من هدى من حيرة. وبذل العلم محتسبًا. وجاهد في الدين حق جهاده. إنه لا يضيع أجر من أحسن عملًا.
تحريرًا في غرة شعبان سنة 1351 هـ الموافق 29 نوفمبر سنة 1932 م.
عبد الوهاب النجار
(إمضاء)
(التقريظ السابع)لحضرة صاحب الفضيلة العلامة الجليل والأستاذ العظيم الشيخ أمين محمود سرور المدرس بشعب التخصص في كلية اللغة العربية، وصاحب كتاب (حسن الأثر في التعريف برجال الأثر) فإنه كتب إليّ بالآتي: لتقريظ كتاب التاج الجامع لأصول الحديث تأليف صاحب الفضيلة المحدث الكبير الشيخ منصور ناصف حفظه الله أمليته على بعد عهد بالفراغ. وقرب عهد بالشواغل. وأرجو أن يغض النظر عن ضعف فيها وسقط. ومن ذا الذي ما ساء قط.
(ষষ্ঠ অভিমত)মহান উস্তাদ ও প্রখ্যাত ঐতিহাসিক আব্দুল ওয়াহাব বেগ আন-নাজ্জার মহোদয়ের পক্ষ থেকে, যিনি মরহুম মাহের পাশা মাদরাসার অধ্যক্ষ, ইতিহাসের বহু গ্রন্থের রচয়িতা এবং ধর্মতত্ত্ব অনুষদের (কুল্লিয়াতু উসুলুদ্দিন) শিক্ষক, আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন।
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি যা চেয়েছেন যার জন্য চেয়েছেন তা সহজ করে দিয়েছেন। এবং সৌভাগ্যবান ব্যক্তিদের সরল ও সঠিক পথের তাওফীক দিয়েছেন।
অতপর: মুসলিম উম্মাহর ঘাড়ের ওপর একটি ঋণ ছিল যা পরিশোধে তারা দীর্ঘকাল ধরে বিলম্ব করছিল এবং তা আদায়ে গড়িমসি করছিল। আর তা হলো এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসসমূহ থেকে তারা এমন এক সম্পদ লাভ করেছিল যার নজির অন্য কোনো উম্মত তাদের রাসূল থেকে লাভ করতে পারেনি। তারা সেই হাদীসগুলো এমন এক বিন্যাসে সংকলন করেছিল যা আমাদের বর্তমান যুগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তা বিগত সেই প্রাচীন যুগের বিন্যাস অনুযায়ী কিতাবসমূহের উদরে রয়ে গিয়েছিল। অথচ তা ছিল আল্লাহর কিতাবের ব্যাখ্যা এবং জ্ঞানীদের জন্য হিদায়াত।
সেই সম্পদ দীর্ঘকাল ধরে এমন একজনের অপেক্ষায় ছিল যিনি এর বিক্ষিপ্ত অংশগুলোকে একত্রিত করবেন, এর সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়গুলোকে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়গুলো থেকে পৃথক করবেন, মুসলমানদের জন্য তা দেখা ও গবেষণা করা সহজ করে দেবেন এবং এর উপকারিতাকে মানুষের নিকটবর্তী করবেন। অবশেষে উস্তাদ আল্লামা শেখ মনসুর আলী নাসিফ আল-হুসাইনি তাঁর সুদৃঢ় সংকল্প ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে অগ্রসর হলেন। তিনি উম্মাহর পক্ষ থেকে সেই ঋণ অত্যন্ত সুন্দরভাবে পরিশোধ করলেন এবং তাদের সেই দায়বদ্ধতা ও দাবি থেকে মুক্ত করলেন। তিনি সেই হাদীসগুলোর প্রতি মনোনিবেশ করলেন যা পাঁচটি সহীহ মূল গ্রন্থে সংরক্ষিত রয়েছে; আর সেগুলো হলো: সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, জামে তিরমিযী এবং নাসাঈর আল-মুজতাবা। তিনি এগুলোকে এক কিতাবে সংকলন করলেন এবং এর নাম দিলেন "আত-তাজ"। সনদের ক্ষেত্রে তিনি কেবল মূল বর্ণনাকারী এবং কিতাবের নাম উল্লেখ করার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকলেন। ফলে কিতাবটি এক অনন্য সৃষ্টিতে পরিণত হলো এবং এমন এক শ্রেষ্ঠ উপহারে রূপ নিল যা সকল উপহারকে ছাড়িয়ে যায়। তিনি এই হাদীসগুলোকে ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন, ফলে কোনো অনুসন্ধানকারী পথ হারাবে না এবং কোনো জ্ঞানান্বেষী ক্লান্ত হবে না।
তিনি তাঁর কিতাবটিকে চারটি ভাগে বিভক্ত করেছেন: প্রথম ভাগ ঈমান, ইলম ও ইবাদত প্রসঙ্গে। দ্বিতীয় ভাগ মুয়ামালাত (লেনদেন), আহকাম ও আদত (আচার-আচরণ) প্রসঙ্গে। তৃতীয় ভাগ ফাযায়েল, তাফসীর ও জিহাদ প্রসঙ্গে। আর চতুর্থ ভাগ আখলাক ও শ্রবণযোগ্য পরলৌকিক বিষয়াবলি (সামইয়াত) প্রসঙ্গে। তিনি একটি চমৎকার ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে এর উপযোগিতা পূর্ণ করেছেন, যা হাদীসের অস্পষ্ট বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করে, সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোর বিস্তারিত বিবরণ দেয় এবং দুর্বোধ্য অংশসমূহ ব্যাখ্যা করে। মোদ্দাকথা, এই ব্যাখ্যাটি অসংখ্য সৌন্দর্যের আধার হয়েছে এবং এর অধিকাংশ স্থানে এমন সব বিষয় এসেছে যা পাঠকের হৃদয়কে উন্মুক্ত করে দেয় এবং আনন্দে ভরিয়ে দেয়।
আমাকে এই কিতাবটির প্রথম খণ্ড উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়েছিল। আমি এর সজীব উদ্যান ও উজ্জ্বল পুষ্পরাজির মাঝে দৃষ্টি বুলালাম; এর মুদ্রণ অত্যন্ত সুন্দর ও মজবুত, কাগজ মসৃণ এবং এর প্রুফ সংশোধনও ছিল অত্যন্ত নিখুঁত। এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য তাঁর প্রতি রইল অশেষ কৃতজ্ঞতা।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাঁকে সেই সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন যা তিনি বিভ্রান্তি থেকে হিদায়াতদানকারীকে দিয়ে থাকেন, এবং যিনি সওয়াবের আশায় ইলম বিলিয়ে দেন এবং দ্বীনের পথে প্রকৃত জিহাদ করেন। নিশ্চয়ই তিনি উত্তম আমলকারীর প্রতিদান নষ্ট করেন না।
লিখিত তারিখ: ১লা শাবান, ১৩৫১ হিজরী মোতাবেক ২৯শে নভেম্বর, ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ।
আব্দুল ওয়াহাব আন-নাজ্জার
(স্বাক্ষর)
(সপ্তম অভিমত)মহান আল্লামা ও মহান উস্তাদ শেখ আমিন মাহমুদ সুরুর মহোদয়ের পক্ষ থেকে, যিনি আরবি ভাষা অনুষদের বিশেষায়িত শাখার শিক্ষক এবং "হুসনুল আসার ফি তা’রিফি বি-রিজালিল আসার" গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি আমাকে নিম্নোক্ত কথাগুলো লিখেছেন: বড় মুহাদ্দিস শেখ মনসুর নাসিফ (আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন) রচিত হাদীসের মূল উৎসসমূহের সংকলন "আত-তাজ আল-জামে" কিতাবের অভিমত হিসেবে আমি এটি লিখেছি অবসর সময় অতিবাহিত হওয়ার অনেক পরে এবং ব্যস্ততার ঠিক আগ মুহূর্তে। আমি আশা করি যে, এর দুর্বলতা ও বিচ্যুতিগুলোকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখা হবে। আর এমন কে আছে যার কখনোই কোনো ভুল হয়নি?
(খণ্ড: ১)
আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
أَعَدْتَ إِلَى الدَّينِ عَصْرَ الأُوَل
… وَأَجْرَيْتَ ذِكْرَكَ مَجْرَى الْمَثَل
وَجَدَّدْتَ لِلنَّاسِ عَهْدَ الْحَدِيـ
… ـثِ غَضَّ الشَّبَابِ قَشِيبَ الْحُلَل
وَوَافَى كِتَابُكَ حَلْيَ الْقُلُو
… بِ جَلْيَ الْمَسَامِع حَلْيَ الْمُقَل
جَلَوْتَ بِهَا مِنْ صِحَاحِ الْحَدِيث
… عَرَائِسَ تُزْهَى بِحُسْنٍ وَدَلّْ
تَهَاوَى الشِّفَاهُ إِلَى لَثْمِهَا
… فَتَشْتَارُ مِنْهُنَّ أَرْيَ الْعَسَل
فَمِنْهَا الشِّفَاءُ وَمِنْهَا الضِّيَاءُ
… وَمِنْهَا الرَّجَاءُ وَمِنْهَا الْأَمَل
هُوَ التَّاجُ لِلْكُتُبِ مِنْ قَبْلِهِ
… وَجَامِعُ مَا دَقَّ مِنْهَا وَجَل
أَسَرَّ الْقُلُوبَ بِأَسْرَارِهِ
… فَنَبَّهَ مِنْ جَمْعِهَا مَا خَمَل
وَعَرَّفَهُن طَرِيقَ الْهُدَى
… وَجَنَّبَهُنَ طَرِيقَ الْخَطَل
فَوَافَتْ إِلَيْهِ كَقِطعِ الظّبَاءِ
… رَنَتْ نَحْوَ ظِلٍّ وَمَاءٍ نُهَل
إِذَا ابْنُ الأَثِير
(1) اجْتَلَى حُسْنَهُ
… أُثِيرَ الْحَيَاءُ بِهِ وَالْخَجَل
وَعَادَ الْيَمَانِى
(2) أَدْرَاجَهُ
… وَعَاوَدَ تَرْتِيبَهُ الْمُنْتَحَل
أَبَا نَاصِفٍ قَدْ قَرَأْنَا الْكِتَابْ
… فَمَا إِنْ رَأَيْنَا لَهُ مِنْ مَثَل
يُرَاوحُنَا مِنْهُ رَوْحُ الْحَيَاةِ
… يَشْفِي الْغَلِيلَ وَيُبْرِي الْعِلَل
--------------------------------------------
আপনি দ্বীনের মাঝে পূর্ববর্তীদের সোনালী যুগকে ফিরিয়ে এনেছেন
… এবং আপনার আলোচনাকে প্রবাদের মতো ছড়িয়ে দিয়েছেন।
আপনি মানুষের জন্য হাদীসের যুগকে নবায়ন করেছেন
… যা নবযৌবনের মতো প্রাণবন্ত এবং জাঁকজমকপূর্ণ পোশাকে সজ্জিত।
আর আপনার কিতাবটি এসেছে হৃদয়ের অলংকার,
… শ্রবণের নির্মলতা এবং চোখের শোভা হিসেবে।
আপনি এর মাধ্যমে সহীহ হাদীসসমূহ থেকে
… এমন সব কনেদের উন্মোচিত করেছেন, যারা রূপ-মাধুর্য ও লাবণ্যে গৌরবান্বিত।
ঠোঁটগুলো সেগুলোকে চুম্বন করতে উন্মুখ হয়ে পড়ে
… আর সেখান থেকে খাঁটি মধু সংগ্রহ করে।
এর মধ্যেই রয়েছে আরোগ্য এবং এর মধ্যেই রয়েছে আলো
… এর মধ্যেই রয়েছে প্রত্যাশা এবং এর মধ্যেই রয়েছে আকাঙ্ক্ষা।
এটি পূর্ববর্তী সকল কিতাবের জন্য মুকুটস্বরূপ
… এবং সেগুলোর ক্ষুদ্র ও মহৎ সকল বিষয়ের সংকলন।
এটি তার রহস্যভাণ্ডার দিয়ে হৃদয়সমূহকে বিমোহিত করেছে
… ফলে হৃদয়ের সুপ্ত ও বিস্মৃত বিষয়গুলোকে জাগ্রত করেছে।
এটি সেগুলোকে হিদায়াতের পথ দেখিয়েছে
… এবং ভ্রান্ত পথ থেকে দূরে রেখেছে।
তাই এগুলো তার দিকে ছুটে এসেছে হরিণ পালের মতো
… যারা শীতল ছায়া এবং সুপেয় পানির প্রস্রবণের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।
যদি ইবনুল আসীর
(১) এর সৌন্দর্য অবলোকন করতেন
… তবে এতে তার মাঝে লজ্জা ও কুণ্ঠা জেগে উঠত।
আর ইয়ামানী
(২) ব্যক্তিটি তার নিজের পথে ফিরে যেতেন
… এবং তার গৃহীত বিন্যাসকে পুনরায় বিন্যস্ত করতেন।
হে আবু নাসিফ! আমরা কিতাবটি পড়েছি
… আর আমরা এর সমতুল্য কোনো কিছু দেখিনি।
এটি আমাদের মাঝে জীবনের প্রশান্তি বয়ে আনে
… যা প্রবল তৃষ্ণা মেটায় এবং রোগ নিরাময় করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
وَلَمَّا بَصُرْتَ بِهِ مُفْرَدًا
… كَحَوْرَاءَ مَقْصُورَةً فِي الْكِلَل
خَلَعْتَ عَلَيْهِ وِشَاحَ الْبَيَانِ
… وَأَكْمَلتَ مِنْ حُسْنِهِ فَاكْتَمَل
الأربعاء في 2 شعبان سنة 1351 هـ
قاله ونظمه وسطره ورقمه أمين بن محمود بن سرور
المدرس بكلية اللغة العربية بشعب التخصص بالأزهر الشريف
(إمضاء)
كلمة للمؤلف
(حسن الفأل فأل حسن)من محاسن الصدف في تأليف كتاب التاج أني بعون الله بدأته في شهر رجب سنة 1341 هـ وأتممته في شهر ذي الحجة سنة 1347 هـ، فكان بدؤه وختامه كلاهما في شهر حرام من عام وتري، في عقد وتري، وشرعت في التعليق عليه في شهر المحرم من تلك السنة، وبدئ في طبعه في شهر المحرم من سنة 1351 هـ، وتم طبع الجزء الأول وظهر في شهر رجب من هذه السنة، فكان بدء طبعه وظهور الجزء الأول منه كلاهما في شهر حرام من عام وتري، وفي الحديث الشريف: "إِن الله وِتْرٌ يحب الوِتْرٌ".
وفي هذا العام تقرر العمل بحرف التاج، وقد أراد الله فكان اسم الكتاب التاج، فظهر لي الفأل الحسن من خلال أطواره. وقد كان النبي صلى الله عليه وسلم يحب الفأل الحسن. أسأل الله أن يجعله فألًا حسنًا. آمين.
كلمة موجهة للهداة والولاةالقول الفصل في هذا الكتاب - وقد وضعته بيد الإخلاص لله تعالى، وعقلته بفكري ولبي، والخوف من الله يحيط بي - اْنه يلزم لكل الناس على اختلاف طبقاتهم، ولكني أخص من بين الناس طائفة الآمرين بالمعروف الناهين عن المنكر، فلهم الحظ الأوفر من هذا الكتاب، ولا سيما كتاب علامات الساعة، وكتاب القيامة والجنة والنار، وقسم الأخلاق، وكتاب الزهد، وكتاب الأذكار والأدعية الآتية في القسم الرابع، ففيها من الترغيب والترهيب ومكارم الأخلاق ما فيه تمام الكفاية، وأزيد في التخصيص بالذكر طائفة القضاة والحكام، فكتاب التاج لهم ألزم من الظل للإنسان، ولا سيما كتاب الإمارة والقضاء الآتي في القسم الثاني فهو لهم الحصن الحصين والدواء الشافي، وقد نبهت على خصوص هاتين الطائفتين لأن الأولى هداة الأمة، والثانية حراس الأمة وقوادها، بل هم قلب الأمة ورأسها، فبصلاحهم تنصلح الأمة، وبفسادهم تفسد الأمة.
اللهم وفقنا وأصلح حالنا يا رحمن في الحال والمآل، آمين آمين آمين، والحمد لله رب العالمين.
منصور ناصف
যখন তুমি তাকে একাকী দেখলে
… অন্দরমহলে পর্দার আড়ালে থাকা হুরদের মতো
তুমি তাকে বাগ্মিতার অলংকার পরিয়ে দিলে
… এবং তার সৌন্দর্য পূর্ণ করলে, ফলে তা পূর্ণতা পেল
বুধবার, ২ শাবান, ১৩৫১ হিজরি
এটি বলেছেন, ছন্দবদ্ধ করেছেন, লিপিবদ্ধ করেছেন এবং অঙ্কিত করেছেন আমিন বিন মাহমুদ বিন সুরুর
আল-আযহার আল-শরিফের আরবি ভাষা অনুষদের বিশেষজ্ঞ বিভাগের শিক্ষক
(স্বাক্ষর)
লেখকের কথা
(শুভ লক্ষণ একটি উত্তম বিষয়)‘আত-তাজ’ কিতাবটি রচনার ক্ষেত্রে এক চমৎকার সংযোগ এই যে, আল্লাহর সাহায্যে আমি এটি ১৩৪১ হিজরির রজব মাসে শুরু করি এবং ১৩৪৭ হিজরির জিলহজ মাসে শেষ করি। সুতরাং এর শুরু এবং শেষ উভয়ই ছিল একটি বিজোড় বছরের হারাম (নিষিদ্ধ) মাসে এবং একটি বিজোড় দশকে। আমি সেই বছরের মহররম মাসে এর টিকা লেখার কাজ শুরু করি এবং ১৩۵১ হিজরির মহররম মাসে এর মুদ্রণ শুরু হয়। এর প্রথম খণ্ডের মুদ্রণ সমাপ্ত হয় এবং এই বছরের রজব মাসে তা প্রকাশিত হয়। ফলে এর মুদ্রণ শুরু এবং প্রথম খণ্ডের আত্মপ্রকাশ উভয়ই ছিল একটি বিজোড় বছরের হারাম মাসে। আর শরিফ হাদিসে এসেছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ বেজোড়, তিনি বেজোড়কে পছন্দ করেন।"
এই বছর ‘তাজ’ হরফ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, আর আল্লাহ চেয়েছিলেন বলেই কিতাবটির নাম হয়েছে ‘তাজ’। ফলে এর প্রতিটি স্তরেই আমার নিকট শুভ লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুভ লক্ষণ পছন্দ করতেন। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন একে একটি শুভ লক্ষণ হিসেবে কবুল করেন। আমিন।
পথপ্রদর্শক ও শাসকদের উদ্দেশ্যে একটি কথাএই কিতাব সম্পর্কে চূড়ান্ত কথা হলো—যা আমি মহান আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতার সাথে লিখেছি এবং আমার চিন্তা ও মেধা দিয়ে সুবিন্যস্ত করেছি, আর আল্লাহর ভয় আমাকে পরিবেষ্টন করে ছিল—এটি সর্বস্তরের মানুষের জন্য আবশ্যক। তবে আমি মানুষের মধ্য থেকে বিশেষভাবে সৎকাজের আদেশদানকারী এবং অসৎকাজে নিষেধকারী দলের কথা উল্লেখ করছি। এই কিতাব থেকে তাদের পাওনাই সবচেয়ে বেশি; বিশেষ করে কিয়ামতের আলামত অধ্যায়, কিয়ামত, জান্নাত ও জাহান্নাম অধ্যায়, চরিত্র বা আখলাক অধ্যায়, যুহদ (সংসারবিরাগ) অধ্যায় এবং চতুর্থ খণ্ডে আগত জিকির ও দোয়ার অধ্যায়সমূহ। কারণ এগুলোতে পরকালের উৎসাহ ও ভীতি এবং মহান চরিত্রের এমন বর্ণনা রয়েছে যা পূর্ণাঙ্গভাবে যথেষ্ট। আমি বিশেষভাবে কাজি ও শাসকদের কথা উল্লেখ করছি; তাদের জন্য ‘আত-তাজ’ কিতাবটি মানুষের সাথে তার ছায়ার মতো অবিচ্ছেদ্য হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে দ্বিতীয় খণ্ডে আগত শাসন ও বিচার বিভাগ সংক্রান্ত অধ্যায়টি তাদের জন্য সুদৃঢ় দুর্গ এবং নিরাময়কারী ওষুধ। আমি এই দুটি শ্রেণির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছি কারণ প্রথম দলটি হলো উম্মতের পথপ্রদর্শক এবং দ্বিতীয় দলটি হলো উম্মতের প্রহরী ও নেতা। বরং তারাই উম্মতের হৃদপিণ্ড ও মস্তক; তাদের সংশোধনের মাধ্যমে উম্মত সংশোধিত হয়, আর তাদের বিচ্যুতিতে উম্মত পথভ্রষ্ট হয়।
হে আল্লাহ! আমাদের তাওফিক দান করুন এবং বর্তমান ও ভবিষ্যতে আমাদের অবস্থা সংশোধন করে দিন, হে রহমান। আমিন, আমিন, আমিন। সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
মানসুর নাসিফ
(খণ্ড: ১)
আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
خطبة الكتاببِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
(1)نَحْمَدُكَ اللَّهُمَّ عَلَى نِعْمَةِ التَّوْفِيقِ
(2) وَنَسْأَلُكَ اللَّهُمَّ الْهِدَايَةَ إِلَى أَقْوَمِ طَرِيقٍ، وَنُصَلِّي وَنُسَلِّمُ عَلَى نَبِيِّكَ وَرَسُولِكَ سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ الَّذِي بَعَثْتَهُ لِلنَّاسِ رَحْمَةً
(3) وَأَنْطَقْتَهُ بِالْهُدَى وَالْحِكْمَةِ
(4) وَعَلَى آلِهِ وَصَحبهِ الَّذِينَ حَفِظُوا هُدَاهُ
(5) وَبَلَّغُوهُ وَرَأَوْا نُوْرَهُ
(6) فَاتَّبَعُوهُ.
--------------------------------------------
গ্রন্থের ভূমিকাপরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(১)হে আল্লাহ, তাওফীক লাভের নিয়ামতের জন্য আমরা আপনার প্রশংসা করি
(২) এবং হে আল্লাহ, আপনার নিকট সরলতম পথের হিদায়েত প্রার্থনা করি। আমরা দরুদ ও সালাম পেশ করি আপনার নবী ও রাসূল আমাদের সরদার মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি, যাকে আপনি মানুষের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন
(৩) এবং যাকে হিদায়েত ও হিকমতের সাথে বাকশক্তি দান করেছেন
(৪) এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের প্রতি, যারা তাঁর হিদায়েতকে সংরক্ষণ করেছেন
(৫) ও তা পৌঁছে দিয়েছেন এবং তাঁর নূর প্রত্যক্ষ করেছেন
(৬) ও তা অনুসরণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
أَمَّا بَعْدُ: فَإِنَّ عِلْمَ الْحَدِيثِ مِنْ أَجَلَّ الْعُلُومِ قَدْرًا وَأَعْظَمِهَا نَفْعًا، لأَنَّ مَوْضُوعَهُ سُنَنُ
(1) الرَّسُولِ وَآثَارُهُ الْقَوْلِيَّةُ وَالْفِعْلِيَّةُ، وَفِى هذِهِ خَيْرُ النَّاسِ وَهِدَايَتُهُمْ
(2) وَفَوْزُهُمْ وَسَعَادَتُهُمْ
(3). فَالْمُشْتَغِلُ بِهِ
(4) دَاعٍ يَدْعُو إِلَى الْحَقِّ وَسِرَاجٌ يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ حَتى قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: "نَضَّرَ الله امْرَأً سَمِعَ مِنَّا حَدِيثًا فَحَفِظَهُ حَتى يُبَلِّغَهُ"
(5). وَقَالَ أَيْضًا: "مَنْ حَفِظَ عَلَى أُمَّتِي
(6) أَرْبَعِيْنَ حَدِيثًا مِنْ أَمْرِ دِينِهَا بَعَثَهُ الله يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَقِيهًا عَالِمًا". وَفِي رِوَايَةٍ: "كُتِبَ فِي زمْرَةِ الْعُلَمَاءِ وَحُشِرَ في زُمْرَةِ الشُّهَدَاءِ"
(7). (وَالْأُمُورُ بِمَقَاصِدِهَا)
(8).
فَلِهذَا
(9) وَلِمَا فَطَرَنِي الله عَلَيْهِ مِنْ حُبِّ الْحَدِيثِ وَالشَّغَفِ بِهِ
(10) فَكَّرْتُ في جَمْعِ كِتَابٍ في الْحَدِيثِ، وَاستَشَرْتُ أَهْلَ الْعِلْمِ بِهِ، وَاسْتَخَرْتُ الله تَعَالَى فَلَاحَتْ لِي لَوَائِحُ التَّيْسيْرِ، وَاسْتَضَاءَتْ لِي مَصَابِيحُ التَّبْشِيْرِ، فَاعْتَمَدْتُ عَلَى رَبِّي وَأَجْمَعْتُ أَمْرَي
(11)--------------------------------------------
অতঃপর: ইলমুল হাদিস বা হাদিস শাস্ত্র মর্যাদার দিক থেকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং উপকারের দিক থেকে সর্বাপেক্ষা মহান; কারণ এর আলোচ্য বিষয় হলো রাসূলুল্লাহর সুন্নাহ এবং তাঁর কথা ও কাজ সম্পর্কিত নিদর্শনসমূহ। আর এতেই নিহিত রয়েছে মানুষের কল্যাণ, তাদের হেদায়েত, বিজয় এবং পরম সৌভাগ্য। সুতরাং যে ব্যক্তি হাদিস শাস্ত্র নিয়ে ব্যস্ত থাকে, সে মূলত সত্যের দিকে আহ্বানকারী এবং এক উজ্জ্বল প্রদীপ যা সঠিক পথের দিশা দেয়। এমনকি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন, যে আমাদের থেকে কোনো হাদিস শুনল, অতঃপর তা মুখস্থ করল, যতক্ষণ না সে তা অন্যের কাছে পৌঁছে দেয়।" তিনি আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার উম্মতের জন্য তাদের দ্বীনি বিষয় সম্পর্কিত চল্লিশটি হাদিস সংরক্ষণ করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে ফকিহ ও আলেম হিসেবে পুনরুত্থিত করবেন।" অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "তাকে আলেমদের দলভুক্ত হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হবে এবং শহীদদের দলভুক্ত হিসেবে হাশর করা হবে।" (আর সমস্ত বিষয় তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল)।
এই কারণে এবং আল্লাহ আমাকে হাদিসের প্রতি যে ভালোবাসা ও গভীর আসক্তির ওপর সৃষ্টি করেছেন, তার ফলে আমি হাদিসের একটি সংকলন তৈরি করার চিন্তা করি। আমি এ বিষয়ে বিজ্ঞজনদের পরামর্শ গ্রহণ করি এবং মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করি। অতঃপর আমার সামনে সহজীকরণের পথ উন্মোচিত হলো এবং সুসংবাদের আলো উদ্ভাসিত হলো। তাই আমি আমার রবের ওপর ভরসা করলাম এবং আমার কাজে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হলাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وَشَرَعْتُ فِي تَأْلِيفِهِ عَلِى بَرَكَةِ اللهِ تَعَالَى، فَاسْتَحْضَرْتُ أَصَحَّ كُتُبِ الْحَدِيثِ وَأَعْلَاهَا سَنَدًا
(1) وَهِيَ:
صَحِيْحُ الْبُخَارِيِّ
(2)، وَصَحِيْحُ مُسْلِمٍ
(3)، وَسُنَنُ أَبِي دَاوُدَ
(4)، وَجَامِعُ التِّرْمِذِيِّ
(5)،
--------------------------------------------
এবং আমি আল্লাহ তাআলার বরকতের ওপর ভরসা করে এটি সংকলন করতে শুরু করলাম। অতঃপর আমি হাদিসের বিশুদ্ধতম এবং উচ্চতর সনদসম্পন্ন গ্রন্থসমূহ সংগ্রহ করলাম
(১) আর সেগুলো হলো:
সহিহুল বুখারি
(২), সহিহ মুসলিম
(৩), সুনানু আবি দাউদ
(৪), এবং জামিউত তিরমিজি
(৫),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وَالْمُجْتَبَى لِلنَّسَائِيِّ
(1) رضي الله عنهم. وَهذِهِ هِيَ الأُصُولُ الْخَمْسَةُ الَّتِي اشْتَهَرَتْ فِي الأُمَّةِ وَارْتَضَتْهَا
لِمَا لَهَا مِنَ الْمَكَانَةِ الْعُلْيَا فِي الْحَدِيثِ
(2) وَلِأنَّهَا جَمَعَتْ مِنَ الشَّرِيعَةِ مَا عَزَّ وَغَلَا ثَمَنُهُ
--------------------------------------------
এবং নাসাঈর আল-মুজতাবা
(১) তাঁদের সবার ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন। এগুলোই হলো সেই পাঁচটি মূল গ্রন্থ যা উম্মতের মধ্যে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং উম্মত এগুলোকে পছন্দ করে নিয়েছে
কারণ হাদীস শাস্ত্রে এগুলোর সুউচ্চ মর্যাদা রয়েছে
(২) এবং এগুলো শরীয়তের এমন দুর্লভ ও মহামূল্যবান বিষয়সমূহ সংগ্রহ করেছে যা অত্যন্ত বিরল ও দামী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
بَلْ هِيَ الشَّرِيعَةُ كُلُّهَا
(1) كَمَا قَالَ الإِمَامُ النَّوَوِيُّ رضي الله عنه: مَا شَذَّ عَنِ الأُصُولِ الْخَمْسَةِ مِنْ صَحِيْحِ حَدِيثِ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم إِلَّا النَّزْرُ الْيَسيْرُ
(2) وَلَا شَكَّ أَنَّ فِيهَا حَاجَةُ الإِنْسَانِ لِسَعَادَة الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ
(3).
--------------------------------------------
বরং এটিই পূর্ণাঙ্গ শরীয়ত
(১) যেমন ইমাম নববী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহীহ হাদীসের মধ্য থেকে অতি সামান্য পরিমাণ ব্যতীত কোনো কিছুই এই পাঁচটি মূল গ্রন্থ (উসুলুল খামসাহ) থেকে বাদ পড়েনি
(২) এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইহকালীন ও পরকালীন সৌভাগ্যের জন্য মানুষের যা প্রয়োজন তা এতে বিদ্যমান রয়েছে
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ثُمَّ نَظَرْتُ
(1) فِيْهَا نَظْرَةً عَامَّةً وَطَفِقْتُ
(2) أُدْمِجُهَا
(3) كُلَّهَا بِتَمَامِهَا فِي مُؤَلَفٍ وَاحِدٍ
(4) أُهَذِّبُ كُتُبَهُ
(5) تَهْذِيبًا وَأُحَرِّرُ أَبْوَابَهُ تَحْرِيرًا لِكَيْ أَشْفِىَ بِهِ غَلِيلِي
(6) وَأُتْحِفَ بِهِ عُشَّاقَ عِلْمِ الْحَدِيثِ.
اصْطِلَاحُ الْكِتَابِ (7)رَغْبَةً
(8) فِي الاِخْتِصَارِ الْمَألُوفِ اكْتَفَيْتُ مِنَ الرِّوَايَاتِ الْمُكَرَّرَةِ بِأَجْمَعِهَا لِلأَحْكَامِ كَمَا اكْتَفَيْتُ مِنَ السَّنَدِ بِرَاوِي الْحَدِيثِ
(9) فِي أَوَّلِهِ وَمُخَرِّجِهِ
(10) فِي آخِرِهِ. وَقَصْدًا
--------------------------------------------
অতঃপর আমি সেগুলোর ওপর এক সামগ্রিক দৃষ্টি নিবদ্ধ করলাম
(১) এবং সেগুলোকে পূর্ণাঙ্গভাবে একটি একক সংকলনের
(৪) অন্তর্ভুক্ত করতে শুরু করলাম
(২)(৩)। আমি এর অধ্যায়সমূহকে সুবিন্যস্ত করেছি
(৫) এবং এর পরিচ্ছেদসমূহকে পরিমার্জিত করেছি, যাতে এর মাধ্যমে আমি আমার জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করতে পারি
(৬) এবং হাদিস শাস্ত্রের অনুরাগীদের জন্য উপহার পেশ করতে পারি।
কিতাবের পরিভাষা (৭)প্রচলিত সংক্ষেপায়নের আকাঙ্ক্ষায়
(৮) আমি পুনরাবৃত্ত বর্ণনাগুলোর মধ্যে বিধানের ক্ষেত্রে সবচাইতে পূর্ণাঙ্গ বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছি। অনুরূপভাবে সনদের ক্ষেত্রে হাদিসের শুরুতে মূল বর্ণনাকারীর
(৯) এবং শেষে হাদিস সংকলনকারীর
(১০) উল্লেখের ওপর যথেষ্ট মনে করেছি। এবং উদ্দেশ্যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
لِلإِفَادَةِ بِأَحْسَنِ أُسْلُوبٍ الْتَزَمْتُ فِي النَّقْلِ مَا يَقَعُ اخْتِيَارِي عَلَيْهِ مِنْ لَفْظِ الْبُخَارِيِّ أَوْ مُسْلِمٍ
(1) فِيْمَا اشْتَرَكَا فِيهِ وَلَوْ مَعَ غَيْرِهِمَا، فَإِنِ اشْتَرَكَ الْبُخَارِيُّ مَعَ غَيْرِ مُسْلِمٍ نَقَلْتُ لَفْظَ الْبُخَارِيِّ، وَإِنِ اشْتَرَكَ مُسْلِمٌ مَعَ غَيْرِ الْبُخَارِيِّ نَقَلْتُ لَفْظَ مُسْلِمٍ، وَإِنْ كَانَ الْحَدِيثُ مَرْوِيًّا لأَصْحَابِ السُّنَنِ
(2) نَقَلْتُ لَفْظَ أَبِى دَاوُدَ
(3)، وَإِنْ نَقَلْتُ غَيْرَهُ بَيَّنْتُهُ وَرُبَّمَا قُلْتُ رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
(4) وَصَاحِبَاهُ، وَإِنْ قُلْتُ رَوَاهُ الشَّيْخَانِ عَنَيْتُ الْبُخَارِيَّ
(5) وَمُسْلْمًا، وَإِنْ قُلْتُ رَوَاهُ الثَّلَاثَةُ أَرَدْتُ الشَّيْخَيْنِ وَأَبَا دَاوُدَ، وَإِنْ قُلْتُ رَوَاهُ الأَرْبَعَةُ قَصَدْتُ الثَّلاثَةَ وَالتِّرْمِذِيَّ، وَإِنْ قُلْتُ رَوَاهُ الْخَمْسَةُ عَنَيْتُ الأَرْبَعَةَ وَالنَّسَائِيَّ، وَإِنْ قُلْتُ رَوَاهُ أَصْحَابُ السُّنَنِ قَصَدْتُ أَبَا دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيَّ وَالنَّسَائِيَّ، وَلَوِ اخْتَلَفَ النِّظامُ عَنْ هذَا بَيَّنْتُهُ بِالنَّصِّ عَلَيْهِ
(6).
وَكُلُّ مَوْضُوعٍ يَدُلُّ عَلَى عَمَلٍ مُرَتَّبٍ كَالصَّلَاةِ وَالْحَجِّ وَفعْتُ أَحَادِيثَهُ عَلى وَفْقِ التَّرْتِيبِ الَّذِي أَمَرَ بِهِ الشَّارِعُ
(7)، وَأَمَّا فِي غَيْرِ ذلِكَ
(8) فَقَدْ كُنْتُ فِي الْغَالِبِ أُقَدِّمُ
--------------------------------------------
উত্তম পদ্ধতিতে উপকার প্রদানের জন্য, উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে আমি ইমাম বুখারী অথবা ইমাম মুসলিমের
(1) শব্দাবলি চয়ন করার নীতি অবলম্বন করেছি—যেসব বর্ণনায় তাঁরা উভয়ে শরিক রয়েছেন, যদিও তাঁদের সাথে অন্য কেউ শরিক থাকুক না কেন। যদি বুখারী মুসলিম ব্যতীত অন্য কারো সাথে শরিক থাকেন, তবে আমি বুখারীর শব্দাবলি উদ্ধৃত করেছি; আর যদি মুসলিম বুখারী ব্যতীত অন্য কারো সাথে শরিক থাকেন, তবে আমি মুসলিমের শব্দাবলি উদ্ধৃত করেছি। আর যদি হাদীসটি সুনান গ্রন্থকারদের
(2) মাধ্যমে বর্ণিত হয়, তবে আমি আবু দাউদের
(3) শব্দাবলি উদ্ধৃত করেছি। আর যদি আমি অন্য কারো শব্দাবলি উদ্ধৃত করি, তবে তা স্পষ্ট করে দিয়েছি। কখনও কখনও আমি বলেছি: এটি তিরমিযী
(4) ও তাঁর দুই সাথী বর্ণনা করেছেন। যখন আমি বলি 'শাইখাইন বর্ণনা করেছেন', তখন আমি বুখারী
(5) ও মুসলিমকে বুঝাই। যখন আমি বলি 'তিনজন বর্ণনা করেছেন', তখন আমি শাইখাইন ও আবু দাউদকে উদ্দেশ্য করি। যখন আমি বলি 'চারজন বর্ণনা করেছেন', তখন আমি পূর্বোক্ত তিনজন ও তিরমিযীকে উদ্দেশ্য করি। যখন আমি বলি 'পাঁচজন বর্ণনা করেছেন', তখন আমি পূর্বোক্ত চারজন ও নাসাঈকে বুঝাই। আর যখন আমি বলি 'সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন', তখন আমি আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈকে উদ্দেশ্য করি। যদি এই নিয়মের ব্যতিক্রম হয়, তবে আমি তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে দিয়েছি
(6)।
আর এমন প্রতিটি বিষয় যা পর্যায়ক্রমিক কোনো আমল বা কাজের প্রতি নির্দেশ করে, যেমন সালাত ও হজ, সেগুলোর হাদীসসমূহকে আমি শরীয়ত প্রণেতার নির্দেশিত ক্রম অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি
(7)। তবে এর বাইরে অন্যান্য ক্ষেত্রে
(8) আমি অধিকাংশ সময় প্রাধান্য দিয়েছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
مَا يَرْوِيهِ الْكَثِيْرُ عَلَى غَيْرِهِ حَتَّى أَخْتِمَ الْبَابَ بِالأَحَادِيثِ الْفَرْدِيَّةِ
(1) إِنْ كَانَتْ، مُرَاعِيًا تَقْدِيمَ الصَّحِيحِ عَلَى غَيْرِهِ
(2) إِلَّا مَا يَقْتَضِي خِلَافَ ذلِكَ كَتَقْدِيْمِ مَنْسُوخٍ عَلَى نَاسِخِهِ وَمُجْمَلٍ عَلَى مُفَسِّرِهِ
(3).
--------------------------------------------
অনেক বর্ণনাকারী অন্যের তুলনায় যা বর্ণনা করেছেন তা আমি উল্লেখ করি, যতক্ষণ না আমি অধ্যায়টি একক হাদিসসমূহ
(১) দিয়ে শেষ করি (যদি থেকে থাকে)। এক্ষেত্রে আমি সহিহ হাদিসকে অন্যের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি রক্ষা করি
(২), তবে যেখানে এর বিপরীত করা প্রয়োজন সেখানে তা করি; যেমন রহিতকারী হাদিসের আগে রহিত হাদিস এবং ব্যাখ্যাকৃত হাদিসের আগে অস্পষ্ট বা সংক্ষিপ্ত হাদিস উল্লেখ করা
(৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
تَقسِيمُ الكِتَابِأَقْسَامُ الْكتَابِ أَرْبَعَةٌ: الْقِسْمُ الأَوَّلُ فِي الإِيْمَانِ وَالْعِلْمِ وَالْعِبَادَاتِ
(1).
الْقِسْمُ الثَّانِي فِي الْمُعَامَلَاتِ وَالأَحْكَامِ وَالْعَادَاتِ
(2).
الْقِسْمُ الثَّالِثُ فِي الْفَضَائِلِ وَالتَّفْسِيْرِ وَالْجِهَادِ
(3).
الْقِسْمُ الرَّابِعُ فِي الأَخْلَاقِ وَالسَّمْعِيَّاتِ
(4).
وَقَدْ رَتَّبْتُ قِسْمَي الْعِبَادَاتِ وَالْمُعَامَلَاتِ عَلَى الأَبْوَابِ الْفِقْهِيَّةِ لأَنَّهُ الْكَثِيْرُ الْمَأْلُوفُ وَلأنَّهُ أَوْفَى وَأَسْرَعُ فِي شِفَاءِ الْغَلِيْلِ مِنْ كُلِّ مَوْضُوع يُرِيدُهُ الطَّالِبُ.
--------------------------------------------
কিতাবের বিন্যাসকিতাবের ভাগসমূহ চারটি: প্রথম ভাগ ঈমান, ইলম ও ইবাদত সংক্রান্ত
(১)।
দ্বিতীয় ভাগ মুআমালাত (লেনদেন), আহকাম (বিধান) ও অভ্যাস সংক্রান্ত
(২)।
তৃতীয় ভাগ ফজিলত, তাফসির ও জিহাদ সংক্রান্ত
(৩)।
চতুর্থ ভাগ আখলাক ও সামইয়াত (পারলৌকিক বিষয়) সংক্রান্ত
(৪)।
আমি ইবাদত ও মুআমালাতের অংশ দুটিকে ফিকহী অধ্যায় অনুসারে বিন্যস্ত করেছি; কারণ এটিই অধিক পরিচিত পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীর কাঙ্ক্ষিত যেকোনো বিষয়ের জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণে এটি অধিক পূর্ণাঙ্গ ও দ্রুত ফলপ্রসূ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
وَقَدِ ابْتَدَأْتُهُ مُسْتَعِينًا بِاللهِ فِي رَجَبٍ الْفَرْدِ
(1) سَنَةَ إِحْدَى وَأَرْبَعِيْنَ وَثَلَاثمِائَةٍ بَعْدَ الْأَلْفِ مِنْ هِجْرَةِ الْمُصْطَفَى صلى الله عليه وسلم. وَأَتْمَمْتُهُ بِتَوْفِيقِ اللهِ تَعَالَى فِي صَبِيحَةِ الاِثْنَيْنِ الْمُبَارَكِ الْخَامِسِ وَالْعِشْرِينَ مِنْ ذِي الْحِجَّةِ سَنَةَ سَبْعٍ وَأَرْبَعِيْنَ وَثَلَاثِمَائَةٍ بَعْدَ الْأَلْفِ الْهِجْرِي
(2). وَلَا أَقُولُ فِي عَمَلِي هذَا إِنِّي وَفَّيْتُ بِالْمُرَادِ، وَلكِنِّي أَجْهَدْتُ نَفْسِي عَلَى قَدرِ طَاقَتِي لَعَلِّي أُوَافِقُ الصَّوَابَ، فَإِنْ أَصَبْتُهُ فَذاكَ مَا أَرَدْتُ وَرَجَوْتُ، وَإِلَّا فَمَا أَنَا إِلَّا إِنْسَانٌ شَأْنُهُ الْخَطَأُ وَالنِّسْيَانُ
(3). وَإِنِّي أَضْرَعُ إِلَى اللهِ تَعَالَى أَنْ يَكْسُوَهُ ثَوْبَ الإِخْلَاصِ وَأَنْ يُجَمِّلَهُ بِحُلَّةِ الْقَبُولِ فَهُوَ سُبْحَانَهُ خَيْرُ مَسْؤُولٍ وَأَكْرَمُ مَأْمُولٍ.
--------------------------------------------
আমি আল্লাহর সাহায্য নিয়ে এটি শুরু করেছি মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হিজরতের এক হাজার তিনশত একচল্লিশ হিজরি সনের একক মাস রজবে
(১)। আর মহান আল্লাহর তাওফিকে আমি এটি সমাপ্ত করেছি হিজরি এক হাজার তিনশত সাতচল্লিশ সনের পঁচিশে জিলহজ, বরকতময় সোমবারের সকালে
(২)। আমি আমার এই কাজ সম্পর্কে বলছি না যে আমি অভীষ্ট লক্ষ্যে পুরোপুরি পৌঁছাতে পেরেছি, তবে আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি যাতে সঠিকের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারি। যদি আমি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে থাকি, তবে সেটিই ছিল আমার লক্ষ্য ও প্রত্যাশা; আর যদি তা না হয়, তবে আমি একজন মানুষ মাত্র, যার স্বভাবই হলো ভুল করা এবং ভুলে যাওয়া
(৩)। আমি মহান আল্লাহর কাছে আকুতি জানাচ্ছি যেন তিনি একে ইখলাসের পোশাকে আবৃত করেন এবং কবুলিয়াতের অলঙ্কারে সুশোভিত করেন; নিশ্চয়ই তিনি পবিত্র, সর্বোত্তম প্রার্থিত এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আশাস্থল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وَقَدْ أَسْمَيْتُهُ "التَّاجَ
(1) الْجَامِعَ لِلْأُصُولِ
(2) فِي أَحَادِيثِ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم ". أَسْأَلُهُ تَعَالَى أَنْ يَجْعَلَهُ فَأْلًا حَسَنًا عَلَى الْبِلَادِ وَأَنْ يَنْفَعَ بِهِ الْعِبَادَ إِنَّهُ سَمِيعٌ مُجِيبٌ.
منصور علي ناصف الحسيني
--------------------------------------------
আমি এর নামকরণ করেছি "আত্তাজুল জামিউ
(১) লিল উসুলি
(২) ফি আহাদিসির রাসুল (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসসমূহের মূলনীতির পূর্ণাঙ্গ মুকুট)"। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন একে জনপদের জন্য এক শুভ লক্ষণ হিসেবে সাব্যস্ত করেন এবং এর দ্বারা বান্দাদের উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, দুআ কবুলকারী।
মানসুর আলী নাসিফ আল-হুসাইনি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
كتاب الإسلام(1) والإيمان (2)وفيه سبعة أبواب
الباب الأول: في بيانهما• عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «بُنِيَ الإِسُلَامُ عَلَى خَمْسٍ
(3) شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلهَ إِلا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّداً رَسُولُ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ
(4) وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَالحَجِّ وَصَوْمِ رَمَضَانَ». رَوَاهُ البُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ والتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ.
• عَنْ عُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ رضي الله عنه قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ إِذْ طَلَعَ
(5) عَلَيْنَا رَجُلٌ شَدِيدُ
(6) بَيَاضِ الثِّيَابِ شَدِيدُ
(7) سَوَادِ الشَّعَرِ، لَا يُرَى عَلَيْهِ أَثَرُ السَّفَر وَلَا يَعْرِفُهُ مِنَّا أَحَدٌ حَتَّى جَلَسَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَسْنَدَ رُكْبَتَيْهِ إِلَى رُكْبَتَيْهِ وَوَضَعَ كَفَّيْهِ عَلَى فَخذَيْهِ
(8) وَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ أَخْبِرْنِي عَنِ الإِسْلَامِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الإِسْلَامُ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إِلهَ إِلا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّداً رَسُولُ اللَّهِ وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ
(9) وَتُؤْتِيَ
(10) الزَّكَاةَ وَتَصُومَ رَمَضانَ وَتَحُجَّ البَيْتَ إِنِ اسْتَطَعْتَ إِلَيْهِ سَبِيلاً». قَالَ: صَدَقْتَ. قَالَ فَعَجِبْنَا لَهُ
(11)--------------------------------------------
ইসলাম ও ঈমান অধ্যায়(১) (২)এতে সাতটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
প্রথম পরিচ্ছেদ: এ দুটির বর্ণনায়• আবদুল্লাহ বিন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: «ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের
(৩) ওপর প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল; সালাত কায়েম করা;
(৪) যাকাত প্রদান করা; হজ করা এবং রমাদানের সিয়াম পালন করা।» এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী এবং নাসাঈ।
• উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমতাবস্থায় হঠাৎ আমাদের সামনে এমন এক ব্যক্তি আত্মপ্রকাশ
(৫) করলেন যার পোশাক ছিল ধবধবে সাদা,
(৬) চুল ছিল কুচকুচে কালো।
(৭) তাঁর ওপর সফরের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না এবং আমাদের মধ্য থেকে কেউ তাঁকে চিনত না। অবশেষে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকটে গিয়ে বসলেন। তিনি তাঁর দুই হাঁটু রাসূলুল্লাহর দুই হাঁটুর সাথে মিলালেন এবং নিজের দুই হাত তাঁর নিজের উরুর ওপর
(৮) রাখলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «ইসলাম হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল; সালাত কায়েম করা;
(৯) যাকাত প্রদান করা;
(১০) রমাদানের সিয়াম পালন করা এবং সামর্থ্য থাকলে বায়তুল্লাহর হজ সম্পাদন করা।» তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। বর্ণনাকারী বলেন: আমরা তাঁর বিষয়ে আশ্চর্যান্বিত হলাম
(১১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقهُ قَالَ: فَأَخْبِرنِي عَنِ الإِيمَانِ قَالَ: «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ
(1) وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ
(2) وَتُؤْمِنَ بِالقَدَرِ
(3) خَيْرِهِ وَشَرِّهِ» قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ الإِحْسَانِ
(4) قَالَ: «أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ
(5) تَرَاهُ فإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ»
(6) قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ السَّاعَةِ
(7). قَالَ: «مَا المَسْؤُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ»
(8)، قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنْ أَمَارَاتِهَا
(9)، قَالَ: «أَنْ تَلِدَ الأَمَةُ رَبَّتَهَا
(10) وَأَنْ تَرَى الحُفَاةَ
(11) العُرَاةَ العَالَةَ رِعَاءَ
(12) الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي البُنْيَانِ»، قَالَ: ثُمَّ انْطَلَقَ فَلَبِثْتُ مَلِيَا
(13) ثِمَّ قَالَ لِي: «يَا عُمَرُ أَتَدْرِي مَنِ السَّائِلُ؟» قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمَ، قَالَ: «فَإِنَّهُ جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ». رَوَاهُ الخَمْسَةُ وَزيدَ فِي رِوَايَةٍ
(14) فِي خَمْسٍ
(15) لَا يَعْلَمُهُنَّ إِلا اللَّهُ، ثُمَّ تَلَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: {إِنَّ اللَّهَ عِندَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ} الآيَةَ ثُمَّ أَدْبَرَ
(16) فَقَالَ: «رُدُّوهُ فَلَمْ يَرَوْا شَيئاً»، فَقَالَ: «هذَا جِبْرِيلُ جَاءَ يُعَلِّمُ النَّاسَ دِينَهُمْ».
--------------------------------------------
তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করছিলেন এবং তাঁর কথা সত্যায়ন করছিলেন। তিনি বললেন: "আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন।" তিনি বললেন: "তা হলো এই যে, আপনি বিশ্বাস করবেন আল্লাহর প্রতি
(১), তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং শেষ দিবসের প্রতি
(২), আর আপনি বিশ্বাস করবেন ভাগ্যের প্রতি
(৩)—তার ভালো ও মন্দের প্রতি।" তিনি বললেন: "আপনি সত্য বলেছেন।" তিনি বললেন: "আমাকে ইহসান
(৪) সম্পর্কে বলুন।" তিনি বললেন: "তা হলো এই যে, আপনি আল্লাহর ইবাদত করবেন এমনভাবে যেন আপনি তাঁকে দেখতে পাচ্ছেন
(৫); আর যদি আপনি তাঁকে দেখতে না-ও পান, তবে তিনি তো আপনাকে দেখছেন।"
(৬) তিনি বললেন: "আমাকে কিয়ামত
(৭) সম্পর্কে বলুন।" তিনি বললেন: "এ বিষয়ে যাকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে, তিনি জিজ্ঞাসাকারীর চেয়ে অধিক অবগত নন।"
(৮) তিনি বললেন: "তবে আমাকে এর নিদর্শনসমূহ
(৯) সম্পর্কে বলুন।" তিনি বললেন: "তা হলো এই যে, দাসী তার মালিকানিকে
(১০) প্রসব করবে এবং আপনি দেখবেন নগ্নপদ
(১১), বস্ত্রহীন, নিঃস্ব মেষপালকদের
(১২) সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করতে।" তিনি বললেন: এরপর তিনি চলে গেলেন, আর আমি দীর্ঘক্ষণ
(১৩) অবস্থান করলাম। এরপর তিনি আমাকে বললেন: "হে উমর, আপনি কি জানেন জিজ্ঞাসাকারী কে ছিলেন?" আমি বললাম: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।" তিনি বললেন: "তিনি ছিলেন জিবরীল, তিনি তোমাদের নিকট তোমাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন।" এটি পাঁচজন ইমাম বর্ণনা করেছেন এবং একটি বর্ণনায়
(১৪) এই অংশটুকু বেশি আছে: "পাঁচটি বিষয়
(১৫), যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।" এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিলাওয়াত করলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে}—আয়াতের শেষ পর্যন্ত। এরপর তিনি চলে গেলেন
(১৬), তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তাকে ফিরিয়ে আনো।" কিন্তু তারা কিছুই দেখতে পেল না। তখন তিনি বললেন: "ইনি জিবরীল, মানুষের নিকট তাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الباب الثاني: في أوصاف الإيمان الكامل• عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِك رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ
(1) مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ». رَوَاهُ الشَّيْخَان وَالنَّسَائِيُّ.
• وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يَحِبَّ لأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ»
(2). رَوَاهُ الخَمْسَةُ إِلا أَبَا دَاوُدَ.
• وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «ثَلاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ
(3) حَلَاوَةَ الإِيمَانِ: أَنْ يَكُونَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا
(4) وَأَنْ يُحِبَّ المَرْءَ لَا يُحِبُّهُ إِلا لِلَّهِ تَعَالَى
(5) وَأَنْ يَكُرَهَ أَنْ يَعُودَ
(6) فِي الكُفْرِ كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُقْذَفَ فِي النار». رَوَاهُ الخَمْسَةُ إِلا أَبَا دَاوُدَ.
• وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَال: «آيَةُ
(7) الإِيمَانِ حُبُّ الأَنْصَارِ وَآيةُ النِّفَاقِ بُغْضُ الأَنْصَارِ»
(8). رَوَاهُ الشَّيْخَانِ وَالنَّسَائِيُّ.
• عَنْ عَلِيَ رضي الله عنه قَالَ: وَالَّذِي فَلَقَ الحَبَّةَ
(9) وَبَرَأَ النَّسَمَةَ
(10) إِنَّهُ لَعَهْدُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَيَّ أَلا يُحِبَّنِي إِلا مُؤْمِنٌ وَلَا يُبْغِضَنِي إِلا مُنَافِقٌ
(11). رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অধ্যায়: পূর্ণাঙ্গ ঈমানের বৈশিষ্ট্যসমূহ• আনাস ইবনে মালিক (রা.) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, তার সন্তান এবং সমস্ত মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।" এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি ও মুসলিম এবং নাসাঈ।
• তাঁর (আনাস রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।" এটি আবু দাউদ ব্যতীত অন্য পাঁচজন (ইমাম) বর্ণনা করেছেন।
• তাঁর (আনাস রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তিনটি গুণ যার মধ্যে রয়েছে, সে ঈমানের মিষ্টতা লাভ করবে: আল্লাহ ও তাঁর রাসুল যেন তার কাছে অন্য সকল কিছুর চেয়ে প্রিয়তর হন; সে যেন কোনো ব্যক্তিকে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই ভালোবাসে; এবং কুফরিতে ফিরে যাওয়াকে সে যেন সেরূপ অপছন্দ করে, যেরূপ সে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে অপছন্দ করে।" এটি আবু দাউদ ব্যতীত অন্য পাঁচজন (ইমাম) বর্ণনা করেছেন।
• তাঁর (আনাস রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ঈমানের নিদর্শন হলো আনসারদের ভালোবাসা এবং মুনাফেকির নিদর্শন হলো আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা।" এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি ও মুসলিম এবং নাসাঈ।
• আলী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: সেই সত্তার শপথ, যিনি বীজ বিদীর্ণ করেছেন এবং প্রাণ সৃষ্টি করেছেন! অবশ্যই এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আমার প্রতি একটি প্রতিশ্রুতি যে, মুমিন ব্যক্তি ছাড়া কেউ আমাকে ভালোবাসবে না এবং মুনাফিক ছাড়া কেউ আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে না। এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম, তিরমিজি এবং নাসাঈ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
• عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْروٍ رضي الله عنهما عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «المُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ المُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ
(1) وَالمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللَّهُ عَنْهُ»
(2). رَوَاهُ الخَمْسَةُ وَزَادَ التِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ: «وَالمُؤْمِنُ مَنْ أَمِنَهُ النَّاسُ عَلَى دِمَائِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ»
(3).
• وَعَنْهُ أَنَّ رَجُلاً سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَيُّ الإِسْلَامِ خَيْرٌ
(4)؟ قَالَ: «تُطْعِمُ الطَّعَامَ وَتَقْرَأُ السَّلَامَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لَمْ تَعْرِفْ»
(5). رَوَاهُ الخَمْسَةُ إِلا التِّرْمِذِيُّ.
• عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ أَوْ بِضْعٌ وَسِتُّونَ
(6) شُعْبَةً، فَأَفْضَلُهَا قَوْلُ لَا إِلهَ إِلا اللَّهُ
(7) وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ
(8) وَالحَياءُ شُعْبَةٌ
(9) مِنَ الإِيمَانِ».
• عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الدِّينُ النَّصِيحَةُ»
(10) قُلْنَا: لِمَنْ؟ قَالَ: «لِلَّهِ
(11) وَلِكِتَابِهِ
(12) وَلِرَسُولِهِ
(13) وَلِأَئمَّةِ
--------------------------------------------
• আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত
(১) থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে। আর মুহাজির সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা বর্জন করে»
(২)। এটি পাঁচজন ইমাম বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি ও নাসায়ি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: «আর মুমিন সেই ব্যক্তি, যার কাছে মানুষ তাদের জান ও মালের বিষয়ে নিরাপদ বোধ করে»
(৩)।
• আর তাঁর থেকেই বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন: ইসলামের কোন কাজগুলো উত্তম
(৪)? তিনি বললেন: «তুমি খাদ্য দান করবে এবং পরিচিত-অপরিচিত সকলকে সালাম দেবে»
(৫)। তিরমিজি ব্যতীত পাঁচজন ইমাম এটি বর্ণনা করেছেন।
• আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ঈমানের সত্তরের অধিক অথবা ষাটের অধিক
(৬) শাখা রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ শাখা হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’
(৭) বলা এবং সর্বনিম্ন শাখা হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা
(৮)। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা»
(৯)।
• তামীম আদ-দারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «দ্বীন হলো কল্যাণকামিতা (নসিহত)»
(১০) আমরা বললাম: কার জন্য? তিনি বললেন: «আল্লাহর জন্য
(১১), তাঁর কিতাবের জন্য
(১২), তাঁর রাসূলের জন্য
(১৩) এবং মুসলিমদের ইমামদের জন্য...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المُسْلِمِينَ
(1) وَعَامَّتِهِمْ»
(2). رَوَاهُمَا الخَمْسَةُ.
• عَنِ العَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ المُطَّلِب رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «ذَاقَ طَعْمَ الإِيمَانِ مَنْ رضي بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلَامِ دِيناً وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولاً»
(3). رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَالتِّرْمِذِيُّ.
وَلأبِي دَاوُدَ
(4) «مَنْ أَحَبَّ لِلَّهِ وَأَبْغَضَ لِلَّهِ وَأَعْطَى لِلَّهِ وَمَنَعَ لِلَّهِ فَقَدِ اسْتَكْمَلَ الإِيمَانَ»
(5).
• عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَكْمَلُ المُؤْمِنينَ إِيمَاناً أَحْسَنُهُمْ خُلُقاً
(6) وَخِيَارُكُمْ خِيَارُكُمْ لِنِسَائِهِمْ»
(7). رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ
(8).
• وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ المَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ»
(9). رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
(10) في الزُّهْدِ وَابْنُ مَاجَهُ.
• عَنْ أَبِي سَعِيدٍ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِذَا رَأَيْتُمُ الرَّجُلَ يَتَعَاهَدُ المَسجِدَ
(11) فَاشْهَدُوا لَهُ بالإِيمَانِ، فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ: {إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ} الآية. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ
(12).
--------------------------------------------
মুসলিমদের
(১) এবং তাদের সাধারণ জনগণের (২)। তাঁদের উভয়কে পাঁচজন ইমাম বর্ণনা করেছেন।
• আব্বাস ইবন আব্দুল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «সেই ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করেছে, যে আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাসূল হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করেছে»
(৩)। ইমাম মুসলিম ও তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন।
আর আবু দাউদের বর্ণনায়
(৪) আছে: «যে আল্লাহর জন্য ভালোবাসল, আল্লাহর জন্য ঘৃণা করল, আল্লাহর জন্য দান করল এবং আল্লাহর জন্যই দান করা থেকে বিরত থাকল, সে তার ঈমান পূর্ণ করল»
(৫)।
• আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «মুমিনদের মধ্যে ঈমানের দিক থেকে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ হলো সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র সর্বোত্তম
(৬); আর তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম তারা, যারা তাদের স্ত্রীদের নিকট সর্বোত্তম»
(৭)। এটি আবু দাউদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন
(৮)।
• তাঁর (আবু হুরায়রা) থেকেই বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কোনো ব্যক্তির ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো তার অনর্থক বিষয় ত্যাগ করা»
(৯)। ইমাম তিরমিযী
(১০) যুহদ অধ্যায়ে এবং ইবন মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন।
• আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যখন তোমরা কোনো ব্যক্তিকে মসজিদের প্রতি যত্নশীল হতে দেখ
(১১), তখন তোমরা তার ঈমানের সাক্ষ্য দাও। কেননা মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় আল্লাহর মসজিদসমূহ তারাই আবাদ করে যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান আনে, নামাজ কায়েম করে এবং জাকাত প্রদান করে} -আয়াত। এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন
(১২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
يزيد الإيمان وينقص ولا تضره الوسوسةقَالَ اللَّهُ جَلَّ شَأْنَهُ: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ
(1) قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَاناً وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ}.
• عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ رضي الله عنه عَنِ النِّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَراً
(2) فَلْيُغَيِّرْهُ بيَدِهِ
(3) فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعَ فَبِلِسَانِهِ
(4) فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ
(5) وَذلِكَ أَضْعَفُ الإِيمَانِ»
(6). رَوَاهُ الخَمْسَةُ إِلا البُخَارِيَّ.
• عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ وَأَكْثِرْنَ الاسْتِغْفَارَ، فَإِنِّي رَأَيْتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ»
(7) فَقَالَتِ امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ جَزْلَةٌ
(8): وَمَا لَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ؟ قَالَ: «تَكْثِرْنَ اللَّعْنَ
(9) وَتَكْفُرْنَ العَشِيرَ
(10) وَمَا رَأَيْتُ مِنَ نَاقِصَاتِ عَقْلٍ وَدِينٍ أَغْلَبَ لِذِي لُبَ مِنْكُنَّ»
(11) قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا نقْصَانُ العَقْلِ وَالدِّينِ؟ قَالَ: «أَمَّا نقْصَانُ العَقْلِ فَشَهَادَةُ امْرَأَتَيْنِ تَعْدِلُ شَهَادَةَ رَجُلٍ
(12) فَهذَا نُقْصَانُ العَقْلِ. وَتَمْكُثُ اللَّيَالِيَ مَا تُصَلِّي وَتُفْطِرُ فِي رَمَضَانَ
(13)--------------------------------------------
ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায় এবং কুমন্ত্রণা একে ক্ষতি করে নামহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: {মুমিন তো কেবল তারাই, যাদের সামনে যখন আল্লাহর নাম স্মরণ করা হয়, তখন তাদের অন্তর প্রকম্পিত হয়
(১) এবং যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয়, তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে দেয় এবং তারা তাদের রবের ওপরই ভরসা করে।}
• আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো অন্যায় কাজ
(২) হতে দেখে, তবে সে যেন তা তার হাত দ্বারা
(৩) পরিবর্তন করে দেয়। যদি তাতে সক্ষম না হয়, তবে তার মুখ দ্বারা
(৪)। আর যদি তাতেও সক্ষম না হয়, তবে তার অন্তর দ্বারা
(৫); এবং এটিই ঈমানের দুর্বলতম স্তর»
(৬)। বুখারী ব্যতীত পাঁচজন ইমাম এটি বর্ণনা করেছেন।
• ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «হে নারী জাতি! তোমরা দান-সদকা করো এবং অধিক পরিমাণে ক্ষমা প্রার্থনা করো। কারণ আমি তোমাদেরকে জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসী হিসেবে দেখেছি»
(৭) তখন তাদের মধ্য থেকে এক বুদ্ধিমতী
(৮) নারী বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসী হওয়ার কারণ কী? তিনি বললেন: «তোমরা অধিক পরিমাণে অভিশাপ দিয়ে থাকো
(৯) এবং স্বামীর অকৃতজ্ঞতা করো
(১০)। আমি বুদ্ধি ও দ্বীনের ক্ষেত্রে অপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও জ্ঞানবান পুরুষের ওপর তোমাদের চেয়ে অধিক প্রভাবশালী আর কাউকে দেখিনি»
(১১) সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! বুদ্ধি ও দ্বীনের অপূর্ণতা কী? তিনি বললেন: «বুদ্ধির অপূর্ণতা এই যে, দুইজন মহিলার সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমান
(১২)। এটিই বুদ্ধির অপূর্ণতা। আর নারী বহু রাত সালাত আদায় না করে অতিবাহিত করে এবং রমজানে রোজা ভঙ্গ করে
(১৩)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فَهذَا نُقْصَانُ الدِّينِ». وَعِبَارَةُ البُخَارِيِّ: أَلَيْسَ إِذَا حَاضَتْ لَمْ تُصَلِّ وَلَمْ تَصُمْ؟ قْلْنَ: بَلَى. قَالَ: «فَذلِكَ مِنْ نُقْصَانِ دِينِهَا». رَوَاهُ الخَمْسَة.
• عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «يَأْتِي الشَّيْطَانُ أَحَدَكُمْ فَيَقُولُ مَنْ خَلَقَ كَذَا مَنْ خَلَقَ كَذَا حَتَّى يَقُولَ مَنْ خَلَقَ رَبَّكَ، فِإِذَا بَلَغَ ذلِكَ
(1) فَلْيَسْتَعِذْ بِاللَّهِ
(2) وَلْيَنْتَهِ»
(3). رَوَاهُ الثَّلَاثَةُ.
• وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «يَأْتِي الشَّيْطَانُ أَحَدَكُمْ فَيَقُولُ مَنْ خَلَقَ السَّمَاءِ
(4) مَنُ خَلَقَ الأَرْضَ فَيَقُولُ اللَّهُ، فَمَنْ وَجَدَ مِنْ ذلِكَ شَيْئاً فَلْيَقُلْ آمَنْتَ بِاللَّهِ
(5) وَرُسُلِهِ».
• عَنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «قَالَ اللَّهُ عز وجل: إِنَّ أُمَّتَكَ لَا يَزَالُونَ
(6) يَقُولُونَ مَا كَذَا مَا كَذَا حَتَّى يَقُولُوا هذَا اللَّهُ خَلَقَ الخَلْقَ فَمَنْ خَلَقَ اللَّهَ». رَوَاهُمَا الشَّيْخَانِ.
• عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنه قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الوَسْوَسَةِ قَالَ: «تِلْكَ مَحْضُ الإِيمَانِ»
(7). رَوَاهُ مُسْلِمٌ.
الباب الثالث: في فضائل الدين (8)قَالَ اللَّهُ جَلَّ شَأْنُهُ: {وَرَضِيتُ لَكُمُ الأِسْلَامَ دِيناً}
(9).
• عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ رضي الله عنه عَنِ النِّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ
--------------------------------------------
এটি দ্বীনের অপূর্ণতা।" বুখারীর বর্ণনা হলো: "এমনটি কি নয় যে, যখন সে ঋতুবতী হয় তখন সে সালাত আদায় করে না এবং রোজা রাখে না?" তারা বললেন, "হ্যাঁ।" তিনি বললেন, "এটিই তার দ্বীনের অপূর্ণতা।" এটি পাঁচজন ইমাম বর্ণনা করেছেন।
• আবু হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "শয়তান তোমাদের কারোর কাছে আসে এবং বলে, 'এটি কে সৃষ্টি করেছেন? ওটি কে সৃষ্টি করেছেন?' এমনকি সে বলে বসে, 'তোমার রবকে কে সৃষ্টি করেছেন?' যখন বিষয়টি এই পর্যায়ে পৌঁছাবে
(১) তখন সে যেন আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে
(২) এবং বিরত থাকে"
(৩)। এটি তিনজন ইমাম বর্ণনা করেছেন।
• তাঁর (আবু হুরায়রা) থেকেই বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "শয়তান তোমাদের কারোর কাছে আসে এবং বলে, 'আসমান কে সৃষ্টি করেছেন?
(৪) জমিন কে সৃষ্টি করেছেন?' সে বলে, 'আল্লাহ'। সুতরাং কেউ যখন এ জাতীয় কিছু অনুভব করবে, তখন সে যেন বলে, 'আমি আল্লাহ
(৫) এবং তাঁর রাসূলগণের ওপর ঈমান আনলাম'।"
• আনাস ইবনে মালিক (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা বলেছেন: নিশ্চয়ই আপনার উম্মত সর্বদা
(৬) বলতে থাকবে—এটি কী, ওটি কী? এমনকি শেষ পর্যন্ত তারা বলবে, 'আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন, তাহলে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছেন'।" এটি শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) বর্ণনা করেছেন।
• আবদুল্লাহ (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কুমন্ত্রণা (ওয়াসওয়াসা) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "এটিই তো খাঁটি ঈমান"
(৭)। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: দ্বীনের শ্রেষ্ঠত্ব প্রসঙ্গে (৮)আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আমি তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে ইসলামকে মনোনীত করেছি}
(৯)।
• উবাদাহ ইবনে সামিত (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَأَنَّ عِيسى عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ وَكَلِمَتُهُ
(1) أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوحٌ
(2) مِنْهُ وَالجَنَّةَ حَقٌّ وَالنَّارَ حَقٌّ أَدْخَلَهُ الجَنَّةَ
(3) عَلَى مَا كَانَ عَلَيْهِ مِنْ عَمَلٍ
(4). رَوَاهُ الشَّيْخَانِ.
• عَنْ أَبِي ذَرَ الغِفَارِيِّ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَتَانِي جِبْرِيلُ عليه السلام فَبَشَّرَنِي أنَّهُ مَنْ مَاتَ مِنْ أُمَّتِكَ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيِئاً
(5) دَخَلَ الجَنَّةَ»
(6). قُلْتُ: وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ؟ قَالَ: «وَإِن زَنَى وَإِنْ سَرَقَ»؟ قُلْتُ: وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ؟ قَالَ: «وَإِن زَنَى وَإِنْ سَرَقَ»، ثُمَّ قَالَ فِي الرَّابِعَةِ: «عَلَى رَغْمِ أَنْفِ أَبِي ذَرَ»
(7). رَوَاهُ الشَّيْخَانِ وَالتِّرْمِذِيُّ
(8).
• عَنْ مُعَاذ بْنِ جَبَلٍ رضي الله عنه عَنِ النِّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَا مِنْ أَحَدٍ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلهَ إِلا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّداً رَسُولُ اللَّهِ صِدْقاً مِنْ قَلْبِهِ
(9) إِلا حَرَّمَهُ اللَّهُ عَلَى النَّارِ»
(10)، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَلَا أُخْبِرُ بِهِ النَّاسَ فَيَسْتَبْشِرُوا، قَالَ: «إِذاً يَتَّكِلُوا»
(11) وَأَخْبَرَ بِهَا مُعَاذٌ عِنْدَ مَوْتِهِ تَأَثُّماً
(12).
--------------------------------------------
তাঁর কোনো শরিক নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল এবং ঈসা আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং তাঁর বাণী
(১) যা তিনি মরিয়মের প্রতি নিক্ষেপ করেছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে এক রূহ
(২)। আর জান্নাত সত্য এবং জাহান্নাম সত্য, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন
(৩) তার আমল যা-ই হোক না কেন
(৪)। এটি শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) বর্ণনা করেছেন।
• আবু যার আল-গিফারি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমার কাছে জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আসলেন এবং আমাকে সুসংবাদ দিলেন যে, আপনার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করে মৃত্যুবরণ করবে
(৫), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে»
(৬)। আমি বললাম: যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে? তিনি বললেন: «যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে»। আমি বললাম: যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে? তিনি বললেন: «যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে», অতঃপর চতুর্থবারে তিনি বললেন: «আবু যারের নাসিকা ধূলিধূসরিত হওয়া সত্ত্বেও (অর্থাৎ তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও)»
(৭)। এটি শাইখাইন ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন
(৮)।
• মুয়ায ইবনে জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে অন্তরের সততার সাথে সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল
(৯), তবে আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দিয়েছেন»
(১০)। তিনি (মুয়ায) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি মানুষকে এ সংবাদ দেব না যাতে তারা আনন্দিত হয়? তিনি বললেন: «তাহলে তারা এর ওপরই ভরসা করে বসে থাকবে (আমল ছেড়ে দেবে)»
(১১)। মুয়ায (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর মৃত্যুর সময় গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য
(১২) এ সংবাদটি প্রদান করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(পৃষ্ঠা: ৩২)
• وَعَنْهُ قَالَ: كُنْتُ رِدْفَ النَّبِيِّ
(1) صلى الله عليه وسلم عَلَى حِمَارٍ يُقَالُ لَهُ عُفَيْرٌ
(2) فَقَالَ: «يَا مُعَاذُ هَلْ تَدْرِي مَا حَقُّ اللَّهِ عَلَى العِبَادِ وَمَا حَقُّ العِبَادِ عَلَى اللَّهِ»؟
(3) قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «فَإِنَّ حَقَّ اللَّهِ عَلَى العِبَادِ أَنْ يَعْبُدُوا اللَّهَ
(4) وَلَا يُشْرِكُوا بِهِ شَيْئاً، وَحَقَّ العِبَاد عَلَى اللَّهِ عز وجل أَلا يُعَذِّبَ مَنْ لَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئاً»
(5). قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَلَا أُبَشِّرُ النَّاسَ؟ قَالَ: «لَا تُبَشِّرْهُمْ فَيَتَّكِلُوا». رَوَاهُمَا الشَّيْخَانِ وَالتِّرْمِذِيُّ.
• عَنْ أَبِي هُرَيْرَة أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ أَيُّ العَمَلِ أَفْضَلُ؟
(6) قَالَ: «إِيمَانٌ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ»
(7)، قِيلَ: ثُمَّ مَاذَا؟ قَالَ: «الجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ»
(8)، قِيلَ: ثُمَّ مَاذَا قَالَ: «حَجٌّ مَبْرُورٌ»
(9). رَوَاهُ الشَّيْخَانِ وَالنَّسَائِيُّ.
• وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِذَا أَحْسَنَ أَحَدُكُمْ إِسْلَامَهُ
(10) فَكُلُّ حَسَنَةٍ يَعْمَلُهَا تُكْتَبُ لَهُ بِعَشْر أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِمِائَةِ ضِعْفٍ، وَكُلُّ سَيِّئَةٍ يَعْمَلهَا تُكْتَبُ لَهُ بِمِثْلِهَا». وَفِي رِوَايَةٍ إِلا أَنْ يَتَجَاوَزَ اللَّهُ عَنْهَا.
رَوَاهُ الشَّيْخَانِ.
• عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «يَخْرُجُ مِنَ النَّارِ
(11) مَنْ قَالَ لَا إِلهَ إِلا اللَّهُ
(12) وَفِي قَلْبِهِ وَزْنُ شَعِيرَةٍ مِنْ إِيمَانٍ
(13) وَيَخْرُجُ مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ لَا إِلهَ إِلا اللَّهُ وَفِي قَلْبِهِ وَزْنُ بُرَّةٍ مِنْ إِيمَانٍ، وَيَخْرُجُ مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ لَا إِلهَ إِلا اللَّهُ وَفِي قَلْبِهِ وَزْنُ ذَرَّةٍ مِنْ إِيمَانٍ». قَالَ أَبُو سَعِيدٍ: فَمَنْ شَكَّ
--------------------------------------------
• তাঁর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী
(১) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে এক গাধার পিঠে আরোহী ছিলাম যাকে উফাইর
(২) বলা হতো। তিনি বললেন: «হে মুআয! তুমি কি জানো বান্দার ওপর আল্লাহর হক কী এবং আল্লাহর ওপর বান্দার হক কী?»
(৩) আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক ভালো জানেন। তিনি বললেন: «বান্দার ওপর আল্লাহর হক হলো তারা যেন কেবল আল্লাহরই ইবাদত করে
(৪) এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করে। আর মহান আল্লাহর ওপর বান্দার হক হলো এই যে, যে ব্যক্তি তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, তিনি তাকে শাস্তি দেবেন না»
(৫)। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি মানুষকে এই সুসংবাদ দেব না? তিনি বললেন: «তাদের সুসংবাদ দিয়ো না, কারণ তারা এর ওপরই ভরসা করে বসে থাকবে»। শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) এবং তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন।
• আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হলো কোন আমলটি সর্বোত্তম?
(৬) তিনি বললেন: «আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা»
(৭)। জিজ্ঞাসা করা হলো: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: «আল্লাহর পথে জিহাদ করা»
(৮)। জিজ্ঞাসা করা হলো: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: «হজ্জে মাবরুর (কবুল হজ্জ)»
(৯)। শাইখাইন এবং নাসাঈ এটি বর্ণনা করেছেন।
• তাঁর থেকেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: «যখন তোমাদের কেউ তার ইসলামকে সুন্দর করে
(১০), তখন সে যে নেক আমল করে তার প্রতিটি আমল দশ গুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত সওয়াব হিসেবে লেখা হয়। আর সে যে মন্দ কাজ করে, তা কেবল সমপরিমাণই লেখা হয়»। অন্য বর্ণনায় রয়েছে—যতক্ষণ না আল্লাহ তা ক্ষমা করে দেন।
শাইখাইন এটি বর্ণনা করেছেন।
• আনাস থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: «জাহান্নাম থেকে বের হবে
(১১) সেই ব্যক্তি যে বলেছে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ
(১২) এবং তার হৃদয়ে একটি যবের দানা পরিমাণ ঈমান রয়েছে
(১৩)। জাহান্নাম থেকে সেই ব্যক্তি বের হবে যে বলেছে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং তার হৃদয়ে একটি গমের দানা পরিমাণ ঈমান রয়েছে। জাহান্নাম থেকে সেই ব্যক্তিও বের হবে যে বলেছে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং তার হৃদয়ে একটি অণু পরিমাণ ঈমান রয়েছে»। আবু সাঈদ বলেন: অতএব যার সন্দেহ হবে...
--------------------------------------------