(খণ্ড: ১) আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: -)
التاج الجامع للأصول في أحاديث الرسول صلى الله عليه وسلم   (منصور ناصف)

القسم: كتب السنة

الكتاب: التاج الجامع للأصول في أحاديث الرسول صلى الله عليه وسلم

المؤلف: منصور ناصف

الناشر: دار إحياء الكتب العربية - مصر

الطبعة: الثالثة، 1381 - 1382 هـ = 1961 - 1962 م

وصَوّرتْها: دار إحياء التراث العربي - لبنان

عدد الأجزاء: 5

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 3 شعبان 1443

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসসমূহে মূলনীতির পূর্ণাঙ্গ সংকলন (আত-তাজ আল-জামি লিল-উসুল ফি আহাদিসির রাসূল)   (মনসুর নাসির)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

গ্রন্থ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসসমূহে মূলনীতির পূর্ণাঙ্গ সংকলন (আত-তাজ আল-জামি লিল-উসুল ফি আহাদিসির রাসূল)

লেখক: মনসুর নাসির

প্রকাশক: দারু ইহয়াইল কুতুবিল আরাবিয়্যাহ - মিশর

সংস্করণ: তৃতীয়، ১৩৮১ - ১৩৮২ হিজরি = ১৯৬১ - ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দ

এবং এটি পুনঃমুদ্রণ করেছে: দারু ইহয়াইত তুরাসিল আরাবি - লেবানন

খণ্ড সংখ্যা: ৫

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৩ শাবান ১৪৪৩

(খণ্ড: ১) আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২)
‌‌التاج الجامع للأصول فى أحاديث الرسول

كتاب جمع ما تفرق في صحيحي البخارى ومسلم وغيرهما من الأحاديث الصحيحة.

 

وقد قدر لهذا الكتاب أن ينتشر في البلاد الإسلامية لما امتاز به من سهولة المعنى، وتقريب ألفاظ الحديث لمن يريد البحث عن أدلة العبادات والمعاملات.

وإذا ذكر هذا الكتاب الجليل فإنما يذكر مقرونا باسم مؤلفه المرحوم العلامة الجليل الأستاذ منصور على ناصف، أحد علماء الأزهر الشريف وأساتذته المبرزين.

كان رحمه الله محل تقدير علماء الأزهر، و إعجابهم بمؤلفه العظيم.

وقد رأوا في هذا الكتاب الجليل من الفائدة ما حملهم على تقريظه، وحث المسلمين على اقتنائه والاستفادة منه، تجد ذلك في تقاريظهم التي ذكرت بعد ..

ويسر «دار إحياء الكتب العربية» أن تقدم هذا الكتاب الجليل الطلاب الحديث وأساتذة العلم في طبعته الثالثة، كعادتها في العناية بنشر الكتب المفيدة، وخصوصا ما يتصل بنشر الثقافة الإسلامية، وما يتعلق بالأحاديث النبوية والشريعة الإسلامية.

والله يجزي مؤلفه خير الجزاء، ويثيبه على هذا العمل الجليل.

 

دار إحياء الكتب العربية
আত-তাজুল জামিউ লিল-উসুল ফি আহাদিসির রাসূল

এটি এমন একটি গ্রন্থ যা সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম এবং অন্যান্য গ্রন্থসমূহে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সহীহ হাদিসসমূহকে একত্রিত করেছে।

 

এই কিতাবটি মুসলিম দেশসমূহে ছড়িয়ে পড়ার সৌভাগ্য লাভ করেছে কারণ এটি অর্থের সহজবোধ্যতা এবং যারা ইবাদত ও লেনদেনের দলিল অনুসন্ধান করতে চান, তাদের নিকট হাদিসের শব্দাবলিকে সহজবোধ্য করার গুণে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত।

যখনই এই মহান কিতাবটির নাম উল্লেখ করা হয়, তখনই এর সাথে এর লেখক মরহুম বিজ্ঞ আল্লামা উস্তাদ মানসুর আলী নাসিফ-এর নাম জড়িয়ে থাকে, যিনি আল-আযহার আশ-শরীফের অন্যতম আলেম এবং বিশিষ্ট শিক্ষকদের একজন ছিলেন।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আযহারের আলেমদের নিকট অত্যন্ত সমাদৃত ছিলেন এবং তাঁরা তাঁর এই মহান রচনার প্রতি মুগ্ধ ছিলেন।

তাঁরা এই মহান কিতাবটির মধ্যে এমন সব উপকারিতা খুঁজে পেয়েছিলেন যা তাঁদেরকে এর প্রশংসা করতে এবং মুসলিমদের এটি সংগ্রহ ও এর দ্বারা উপকৃত হতে উদ্বুদ্ধ করেছে; আপনি পরবর্তীতে উল্লিখিত তাঁদের প্রশংসাবাণীগুলোতে সেটি দেখতে পাবেন...

‘দারু ইহয়াইল কুতুবিল আরাবিয়্যাহ’ অত্যন্ত আনন্দের সাথে হাদিসের শিক্ষার্থী ও ইলমের উস্তাদদের নিকট এই মহান কিতাবটির তৃতীয় সংস্করণ পেশ করছে। উপকারী কিতাব প্রকাশের প্রতি বিশেষত ইসলামি সংস্কৃতি প্রচার এবং রাসুলের হাদিস ও ইসলামি শরিয়ত সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি প্রকাশের প্রতি তাঁদের যে চিরন্তন যত্নশীলতা রয়েছে, এটি তারই অংশ।

আল্লাহ তাআলা এর লেখককে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং এই মহান কর্মের জন্য তাঁকে পুরস্কৃত করুন।

 

দারু ইহয়াইল কুতুবিল আরাবিয়্যাহ
(খণ্ড: ১) আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌تقاريظ

لحضرات أصحاب الفضيلة علماء الإسلام حفظهم الله تعالى

 

‌‌(التقريظ الأول) لحضرة صاحب الفضيلة شيخ المشايخ الأكبر وصاحب المؤلفات العديدة مولانا الشيخ محمد بخيت مفتي الديار المصرية سابقًا، ومن هيئة كبار العلماء حفظه الله آمين.

بسم الله الرحمن الرحيم. الحمد لله رب العالمين. والصلاة والسلام على خاتَم النبيين وإمام المرسلين. سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

وبعد: فقد اطلعنا على الجزء الأول من مؤلف حضرة صاحب الفضيلة الأستاذ الجليل الشيخ منصور علي ناصف من علماء الأزهر الشريف ومدرس بالجامع الزينبي الموسوم باسم (التاج الجامع للأصول في أحاديث الرسول) وعليه غاية المأمول شرح ذلك التاج الجامع للأصول. فوجدته مؤلفًا قيمًا حسن التبويب والترتيب. جميل الشكل. سهل العبارة. متين الأسلوب. في جزالة معنى وفخامة تركيب. وقد حوى ما تَمس إليه الحاجة. من الموضوعات الدينية التي لا يستغني عنها مسلم في عبادة ربه. ومناجاة خالقه. مع الإلمام التام بمذاهب الأئمة المجتهدين ومناحي أقوالهم. وذكر طائفة من الآداب الإسلامية التي هي روح التشريع والمقصود الأهم من الأحكام العملية …

وبالجملة فهو مؤلف نفيس. يدل على قوة مؤلفه العلمية. ورسوخه في علم الفقه. وعلو كعبه في فمن الحديث. مع الذوق السليم والفكر الصائب. والبصيرة النيرة. نفع الله به المسلمين وأكثر من أمثاله. ورزقه التوفيق في جهاده العلمي وأثابه على حسن نيته. وجزاه بما يجزي به المؤمنين الصادقين العاملين. إنه على ما يشاء قدير وبالإجابة جدير. وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين آمين.

 

28 رجب سنة 1351 هـ.

مفتي الديار المصرية سابقًا

محمد بخيت

(بالإمضاء)

 

‌‌(التقريظ الثاني)

لحضرة صاحب الفضيلة. المصلح الكبير. الناطق بالبرهان. وملك البيان أستاذي الشيخ عبد المجيد اللبان. شيخ كلية أصول الدين حفظه الله وأيده آمين.

بسم الله الرحمن الرحيم. نحمدك اللهم أن وفقت في كل حين من يجدد لهذه الأمة أمر دينها. حتى لا تنسى شرائعها ولا تبلى تعاليمها. فحققت لها الخير الدائم. وجعلته مصداقًا لوعدك الكريم. بحفظ كتابك العزيز وسنة نبيك الغراء. اللذين هما منارا هدايتك الحقة. وينبوعا سلسبيل رحمتك التي اختصصت بها من شئت من عبادك. فنشكرك شكر المستزيد من فضلك. ونصلي ونسلم على سيدنا محمد
‌‌প্রশংসা বাণীসমূহ

সম্মানিত ইসলামি আলেমগণের পক্ষ থেকে, আল্লাহ তাআলা তাঁদের হিফাজত করুন।

 

‌‌(প্রথম প্রশংসা বাণী) মহান শাইখুল মাশায়েখ এবং বহু গ্রন্থের প্রণেতা, মিসরের প্রাক্তন মুফতি এবং জেষ্ঠ আলেম পরিষদের সদস্য মাওলানা শাইখ মুহাম্মদ বাখিত-এর পক্ষ থেকে, আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন, আমিন।

পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবীগণের শেষ জন এবং রাসূলগণের ইমাম আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর।

অতঃপর: আমরা আল-আজহার আল-শরীফের অন্যতম আলেম এবং জামে যায়নাবীর শিক্ষক সম্মানিত উস্তাদ শাইখ মানসুর আলী নাসিফ রচিত 'আত-তাজুল জামে লিল-উসুল ফী আহাদিসির রাসূল' নামক কিতাবটির প্রথম খণ্ড এবং সেটির ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'গায়াতুল মামূল শারহু তাজিল জামে লিল-উসুল' পাঠ করেছি। আমি এটিকে একটি মূল্যবান গ্রন্থ হিসেবে পেয়েছি যা চমৎকারভাবে অধ্যায়ভিত্তিক ও সুবিন্যস্ত। এর অবয়ব সুন্দর, ভাষা সহজ এবং রচনাশৈলী সুদৃঢ়। এর অর্থ অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং গঠনশৈলী অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। এটি সেই সকল ধর্মীয় বিষয়বস্তুকে অন্তর্ভুক্ত করেছে যেগুলোর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য এবং আপন রবের ইবাদত ও স্রষ্টার সাথে নিভৃত আলাপের ক্ষেত্রে কোনো মুসলিমের জন্য তা থেকে বিমুখ হওয়া সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি এতে মুজতাহিদ ইমামগণের মাযহাবসমূহ ও তাঁদের মতামতের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এতে একগুচ্ছ ইসলামি শিষ্টাচার উল্লেখ করা হয়েছে যা শরিয়তের প্রাণ এবং ব্যবহারিক বিধিবিধানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য …

সারকথা হলো, এটি একটি অনন্যসাধারণ গ্রন্থ, যা লেখকের বৈজ্ঞানিক শক্তি, ফিকহ শাস্ত্রে তাঁর গভীরতা এবং হাদিস শাস্ত্রে তাঁর সুউচ্চ মর্যাদার প্রমাণ দেয়। সাথে সাথে এতে ফুটে উঠেছে তাঁর নির্মল রুচি, সঠিক চিন্তা এবং উজ্জ্বল অন্তর্দৃষ্টি। আল্লাহ এর মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করুন এবং তাঁর মতো আরও ব্যক্তিত্ব বৃদ্ধি করে দিন। তাঁর জ্ঞানগত সাধনায় আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন এবং তাঁর নেক নিয়তের উত্তম প্রতিদান দিন। আল্লাহ তাঁকে সেই প্রতিদান দান করুন যা তিনি সত্যনিষ্ঠ আমলকারী মুমিনদের দিয়ে থাকেন। নিশ্চয়ই তিনি যা চান তা করতে সক্ষম এবং দোয়া কবুলের যোগ্য। আর আল্লাহ সালাত বর্ষণ করুন আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাঁদের ওপর। আমিন।

 

২৮ রজব, ১৩৫১ হিজরী।

প্রাক্তন মুফতি, মিসর

মুহাম্মদ বাখিত

(স্বাক্ষরিত)

 

‌‌(দ্বিতীয় প্রশংসা বাণী)

মহান সংস্কারক, দলিলের মাধ্যমে কথা বলা ব্যক্তিত্ব এবং প্রাঞ্জল বর্ণনার অধিকারী আমার উস্তাদ শাইখ আব্দুল মাজীদ আল-লাব্বান-এর পক্ষ থেকে। তিনি উসুলুদ্দীন অনুষদের শাইখ (ডিন), আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন এবং সাহায্য করুন। আমিন।

পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ! আমরা আপনার প্রশংসা করি যে আপনি সর্বদাই এমন কাউকে তাওফিক দিয়েছেন যিনি এই উম্মতের জন্য তাদের দ্বীনি বিষয়সমূহকে সংস্কার ও নবায়ন করেন, যাতে করে তারা তাদের শরিয়তকে ভুলে না যায় এবং তাদের শিক্ষাগুলো পুরনো বা জরাজীর্ণ হয়ে না যায়। আপনি এই উম্মতের জন্য চিরস্থায়ী কল্যাণ নিশ্চিত করেছেন এবং আপনার কিতাব ও আপনার নবীর উজ্জ্বল সুন্নাহর হিফাজতের মাধ্যমে আপনার সম্মানিত ওয়াদাকে সত্যে পরিণত করেছেন। এই কিতাব ও সুন্নাহ হলো আপনার সত্য হিদায়াতের আলোকবর্তিকা এবং আপনার রহমতের প্রস্রবণ, যা আপনি আপনার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা দান করেছেন। অতএব আমরা আপনার শুকরিয়া আদায় করছি আপনার অনুগ্রহ বৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। আর আমরা সালাত ও সালাম পেশ করছি আমাদের নেতা মুহাম্মদ-এর ওপর।
(খণ্ড: ১) আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৪)
خير خلقك. وعلى آله وصحبه الأئمة الهداة. الذين جاهدوا في سبيلك حق الجهاد. وبلغوا دينك بأقوم السند وأعلاه.

وبعد فإلى ذلك العلم الرفيع والطود الشامخ. والمنار الهادي. والعالم العامل صاحب الفضيلة الثقة الكامل العلامة ولدي الشيخ منصور ناصف. أكتب كلمة البشرى والشكر والدعاء.

أيها الأستاذ: حسبي أن أقول إنك إذ وفقك الله تعالى فعنيت بجمع كتابك الكريم (التاج الجامع للأصول في أحاديث الرسول) الذي حوى ما في أصول الحديث الخمسة الصحاح: صحيح البخاري. وصحيح مسلم. وسنن أبي داود. وجامع الترمذي. والمجتبى للنسائي. كنت من الذين جددوا للدين أمره. فلك فخار من خلقهم ويخلقهم الله على رؤوس الأزمان لتجديد أمر الدين كما أخبر بذلك الصادق الأمين، وكفاك بذلك فخرًا واغتباطًا.

وكنت أيضًا من أهل الحظوة التي حظي بها أهل الحديث واختصهم الله بها ببركة دعائه صلى الله عليه وسلم إذ يقول: "نضر الله امرأً سمع منا حديثًا فحفظه حتى يبلغه". وناهيك بتلك الحظوة غبطة. اطلعت على كتابك هذا فوجدته إلى الخير هاديًا. وإلى صحيح السنة مرشدًا. بأسلوبٍ بيّن. وطريق واضح. سهل التناول. يقرب الوصول إلى الغاية. ويرينا الأصول الخمسة في مرآةِ إخلاصك الصافية. ويروي عذبه نفوس طلاب الهداية.

قد حليت جيده بشرحك الذهبي. المختصر الوافي بحاجة المتفهم. وذلك عمل قلّ من قام به. خصوصًا في عصر ضعفت فيه الرغبة. وتقاعست الهمة.

أرضيت به ربك تعالى. وأقررت عين نبيك صلى الله عليه وسلم. وحبوت به أهل العلم. وشرحت به صدري. فلك جزاء الله، ورضا نبيه، وشكر العلم وأهله. ودعاء مني إلى الله تعالى أن يجعلك على الدوام موفقًا لإبراز مثل هذا الجوهر المكنون إلى عالم الوجود. فتكون لآلئ فضلك حلية لتيجان الفنون جميعها. أرجو قبول اغتباطي. وثنائي. واحترامي.

 

29 من رجب الفرد سنة 1351 هـ. 28 نوفمبر سنة 1932 م.

عبد المجيد اللبان

(بالإمضاء)

 

‌‌(التقريظ الثالث)

لحضرة صاحب الفضيلة الوارث المحمدي. والعالم الرباني. الذابّ عن الدين. المؤيد له بالحجج والبراهين. السائر على قدم الأسلاف السابقين. مولانا الشيخ يوسف الدجوي من هيئة كبار العلماء. حفظه الله وأيده وأبقاه لنفع العلم والإسلام والدين آمين.

بسم الله الرحمن الرحيم. الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله وآله وأصحابه. حضرة صاحب الفضيلة الأستاذ الجليل والعلامة النبيل الشيخ منصور ناصف أيده الله بما أيد به
আপনার সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতমের প্রতি। আর তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর পথপ্রদর্শক ইমাম সাহাবীগণের প্রতি, যাঁরা আপনার পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন এবং আপনার দীনকে সুদৃঢ় ও সর্বোচ্চ সনদে পৌঁছে দিয়েছেন।

অতঃপর, সেই সুউচ্চ ইলম ও অটল পাহাড়ের ন্যায় ব্যক্তিত্ব, পথপ্রদর্শক বাতিঘর, আমলকারী আলেম, মহত্ত্বের অধিকারী, পূর্ণ বিশ্বস্ত আল্লামা, আমার পুত্র শায়খ মনসুর নাতিফ-এর উদ্দেশ্যে আমি সুসংবাদ, কৃতজ্ঞতা ও দোয়ার বাণী লিখছি।

হে উস্তায: আমার জন্য এতটুকুই বলা যথেষ্ট যে, আল্লাহ তাআলা যখন আপনাকে তাওফিক দান করেছেন, তখন আপনি আপনার এই সম্মানীত কিতাব ‘আত-তাজ আল-জামি’ লিল উসুল ফি আহাদিসির রাসুল’ সংকলনে মনোনিবেশ করেছেন; যা বিশুদ্ধ হাদিসের পাঁচটি মূল গ্রন্থকে অন্তর্ভুক্ত করেছে: সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, জামে তিরমিজি এবং নাসায়ির আল-মুজতাবা। আপনি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন যাঁরা দীনের বিষয়াদি সংস্কার করেছেন। আপনার জন্য রয়েছে সেই শ্রেষ্ঠত্ব যা আল্লাহ সময়ের সন্ধিক্ষণে দীনের সংস্কারের জন্য সৃষ্টি করেছেন ও করবেন, যেমনটি সত্যবাদী ও আমানতদার রাসুল সংবাদ দিয়েছেন। আপনার জন্য এটিই গৌরব ও আনন্দের বিষয় হিসেবে যথেষ্ট।

এছাড়াও আপনি সেই সৌভাগ্যের অধিকারী হয়েছেন যা হাদিসের পণ্ডিতগণ প্রাপ্ত হয়েছেন এবং আল্লাহ তাঁদেরকে তাঁর রাসুলের দোয়ার বরকতে বিশিষ্ট করেছেন, যখন তিনি বলেন: “আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও প্রফুল্ল রাখুন যে আমাদের থেকে কোনো হাদিস শুনল, অতঃপর তা মুখস্থ রাখল যতক্ষণ না সে তা অন্যের কাছে পৌঁছে দেয়।” এই সৌভাগ্যই আনন্দের জন্য আপনার কাছে যথেষ্ট। আমি আপনার এই কিতাবটি অধ্যয়ন করেছি এবং একে কল্যাণের দিশারি ও সহিহ সুন্নাহর পথপ্রদর্শক হিসেবে পেয়েছি। এটি অত্যন্ত প্রাঞ্জল শৈলী ও স্পষ্ট পদ্ধতিতে রচিত এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য। এটি অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোকে সহজ করে দেয় এবং আপনার ইখলাসের স্বচ্ছ আয়নায় আমাদের পাঁচটি মূল কিতাবকে দেখায়; এর মিষ্টতা হিদায়াতের অন্বেষণকারীদের তৃষ্ণা নিবারণ করে।

আপনি এর সৌন্দর্যকে আপনার স্বর্ণালি ব্যাখ্যা দ্বারা অলঙ্কৃত করেছেন, যা সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষার্থীর প্রয়োজন মেটাতে পর্যাপ্ত। এটি এমন এক কাজ যা খুব কম লোকই সম্পাদন করতে পেরেছে, বিশেষ করে এমন এক যুগে যখন অনুরাগ হ্রাস পেয়েছে এবং হিম্মত শিথিল হয়ে পড়েছে।

এর মাধ্যমে আপনি আপনার প্রতিপালক আল্লাহ তাআলাকে সন্তুষ্ট করেছেন, আপনার নবীর চক্ষু শীতল করেছেন, ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য এটি উপহার দিয়েছেন এবং এর মাধ্যমে আমার অন্তরকে প্রশস্ত করেছেন। আপনার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রতিদান, তাঁর নবীর সন্তুষ্টি এবং ইলম ও আহলে ইলমের কৃতজ্ঞতা রইল। আর আমার পক্ষ থেকে আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া, তিনি যেন আপনাকে সর্বদা জগতের সামনে এমন সুপ্ত রত্ন প্রকাশ করার তাওফিক দান করেন। ফলে আপনার শ্রেষ্ঠত্বের মুক্তাসমূহ যেন সকল শাস্ত্রের মুকুটের অলঙ্কার হয়ে থাকে। আশা করি আমার আনন্দ, প্রশংসা ও শ্রদ্ধা গ্রহণ করবেন।

 

২৯ রজব ১৩৫১ হিজরি। ২৮ নভেম্বর ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ।

আবদুল মাজিদ আল-লাব্বান

(স্বাক্ষরিত)

 

‌‌(তৃতীয় প্রশংসা বাণী)

মহত্ত্বের অধিকারী, মুহাম্মাদী উত্তরাধিকারী, রব্বানী আলেম, দীনের প্রতিরক্ষাকারী, দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে দীনকে শক্তিশালীকারী, পূর্বসূরি সালাফদের পদাঙ্ক অনুসারী, আমাদের নেতা শায়খ ইউসুফ আদ-দাজউয়ি—যিনি জ্যেষ্ঠ আলেম পরিষদের সদস্য—তাঁর পক্ষ থেকে। আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন, সাহায্য করুন এবং ইলম, ইসলাম ও দীনের উপকারের জন্য তাঁকে দীর্ঘজীবী করুন, আমিন।

পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম আল্লাহর রাসুল, তাঁর পরিবার ও তাঁর সাহাবীগণের প্রতি। মহত্ত্বের অধিকারী, মহান উস্তায এবং বিদগ্ধ আল্লামা শায়খ মনসুর নাতিফ—আল্লাহ তাঁকে সেই শক্তির মাধ্যমে সাহায্য করুন যার মাধ্যমে তিনি সাহায্য করেন...
(খণ্ড: ১) আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৫)
الخاصة من عباده.

أما بعد: فقد اطلعت على كتابك الموسوم بـ (التاج الجامع) فوجدته تاجًا حقًا وجامعًا صدقًا. قد فاق ما عداه وبرز على ما سواه بترتيبه الحكيم. وإيجازه البليغ. وتبريزه على غيره من تلك المختصرات التي أخلت بكثير من الأصول. وقد أحسنت الصنع وأتممت النفع بتلك التعليقات التي أفرغت فيها الوسع وبذلت فيها النصح للأمة المحمدية. فجزاك الله أحسن ما جازى به العاملين المخلصين.

وإن ظهور مثل هذا الكتاب الجليل في هذا العصر الذي كثرت به الفتن وعظمت فيه المحن، وشغل كل امرئ بدنياه. وكأن الناس قامت قيامتهم فلكل امرئ منهم شأن يغنيه وأمر يعنيه، وقد غفلوا عن كتاب مولاهم وسنة رسوله غريقين فيما أحاط بهم من الآفات والظلمات التي تلاطمت بها أمواج هذا العصر المظلم، ولم ينجُ من ذلك إلّا الكاملون الموفقون (وقليل ما هم) إني أعد ظهور هذا الكتاب في هذا الزمن الذي ذاك بعض وصفه وقليل من شرح حاله وعظيم أهواله، معجزة من معجزاته صلى الله عليه وسلم. وقد ذكر العلماء أن معجزاته صلى الله عليه وسلم قسمان: قسم انقضى، وقسم لا يزال يتجدد إلى يوم القيامة، وقد منّ الله بذلك عليك وأجراه على يديك، فأحمد الله على ذلك التوفيق العزيز.

وقد ورد عنه صلى الله عليه وسلم: أن من تمسك بسنته عند فساد أمته كان له أجر مائة شهيد. فما بالك بمن جمعها وأذاعها {ذَلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَنْ يَشَاءُ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ (4)} [سورة الجمعة] {ذَلِكَ مِنْ فَضْلِ اللَّهِ عَلَيْنَا وَعَلَى النَّاسِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَشْكُرُونَ (38)} [سورة يوسف].

أسأل الله أن يكثر في الأمة من العلماء العاملين والفضلاء المخلصين، وأن يزيدك تأييدًا وتسديدًا حتى ينتفع الناس بجليل أعمالك، وعظيم آثارك، بمنه وكرمه.

هذا: ولك من الاحترام والإعظام وخالص الدعاء وعاطر الثناء على قدر ما لك من جهد كبير ونية حسنة وهمة رفيعة، والسلام عليكم ورحمة الله.

 

26 رجب سنة 1351 هـ.

يوسف الدجوي

من هيئة كبار العلماء بالأزهر الشريف

(بالختم)

 

‌‌(التقريظ الرابع)

لحضرة صاحب الفضيلة والسماحة، ذي الأخلاق المحمدية والفرع الأعلى في الشجرة النبوية السيد محمد الببلاوي خطيب الجامع الحسيني ومن كبار العلماء وصاحب المؤلفات القيمة ونقيب السادة الأشراف حفظه الله وأيده آمين.

بسم الله الرحمن الرحيم. نحمدك اللهم والحمد من آلائك، ونشكرك والشكر من نعمائك، ونصلي ونسلم على سيدنا محمد صفوتك من خلقك، وأمينك على وحيك، المرسل إلى الناس كافة بشيرًا ونذيرًا، وداعيًا إلى الله بإذنه وسراجًا منيرًا، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه الذين حفظوا عهده وامتثلوا أمره ودعوا الخلق إلى دينه وبلغوا إليهم شريعته بيضاء نقية لا ترى فيها عوجًا ولا أمتًا، فقامت بعملهم الحجة واستقامت المحجة أولئك هم الذين رضي الله عنهم ورضوا عنه، فلهم أجرهم عند ربهم جزاء بما كانوا يعملون.
তাঁর বান্দাদের মধ্যে বিশিষ্টজনদের জন্য।

অতঃপর: আমি আপনার (আত-তাজুল জামে‘) নামক গ্রন্থটি দেখেছি এবং একে প্রকৃতপক্ষে একটি মুকুট এবং সত্যই এক সংকলন হিসেবে পেয়েছি। এটি তার বিজ্ঞোচিত বিন্যাস এবং প্রাঞ্জল সংক্ষেপণের মাধ্যমে অন্যান্য সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে এবং শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছে। এটি সেইসব সংক্ষিপ্তসারগুলোর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে যা অনেক মূলনীতিকে বাদ দিয়ে ফেলেছিল। আপনি চমৎকার কাজ করেছেন এবং সেইসব টীকা-টিপ্পনীর মাধ্যমে এর উপকারিতাকে পূর্ণতা দিয়েছেন যাতে আপনি আপনার পূর্ণ সামর্থ্য ব্যয় করেছেন এবং উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য নসিহত পেশ করেছেন। আল্লাহ আপনাকে সেই সর্বোত্তম প্রতিদান দিন যা তিনি একনিষ্ঠ কর্মীদের দিয়ে থাকেন।

বর্তমান এই যুগে যখন ফিতনা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিপদাপদ প্রকট হয়েছে, আর প্রত্যেকেই নিজ নিজ দুনিয়া নিয়ে মহাব্যস্ত, এমন সময়ে এই মহান গ্রন্থের আত্মপ্রকাশ সত্যই প্রশংসনীয়। মানুষের অবস্থা এমন যেন তাদের কিয়ামত শুরু হয়ে গেছে, প্রত্যেকেরই এমন অবস্থা যা তাকে অন্যের থেকে বিমুখ করে রাখে এবং নিজ চিন্তায় নিমগ্ন রাখে। তারা তাদের মাওলার কিতাব এবং তাঁর রাসূলের সুন্নাহ থেকে গাফেল হয়ে সে সমস্ত আপদ ও অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে যাতে এই অন্ধকার যুগের ঢেউ আছড়ে পড়ছে। পূর্ণতা ও তাওফিকপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ছাড়া আর কেউই তা থেকে মুক্তি পায়নি (এবং তারা সংখ্যায় খুবই কম)। আমি এই কিতাবের আত্মপ্রকাশকে—এই যুগে যার কিছু বর্ণনা ও অবস্থার কিঞ্চিৎ বিবরণ এবং যার ভয়াবহতা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুজিজাসম্মূহের একটি মুজিজা হিসেবে গণ্য করি। উলামায়ে কিরাম উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মুজিজাসমূহ দুই প্রকার: এক প্রকার যা শেষ হয়ে গেছে, আর অন্য প্রকার যা কিয়ামত পর্যন্ত নতুনভাবে প্রকাশিত হতে থাকবে। আল্লাহ আপনার ওপর সেই অনুগ্রহ করেছেন এবং আপনার হাতে তা সম্পন্ন করিয়েছেন। তাই এই বিরল তাওফিকের জন্য আল্লাহর প্রশংসা করছি।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: যে ব্যক্তি তাঁর উম্মতের বিপর্যয়ের সময় তাঁর সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবে, তার জন্য একশত শহীদের সওয়াব রয়েছে। তাহলে সেই ব্যক্তির মর্যাদা কত হবে যে সুন্নাহকে একত্রিত করেছে এবং তা প্রচার করেছে? {এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন। আর আল্লাহ মহা অনুগ্রহের অধিকারী। (৪)} [সূরা আল-জুমুআ] {এটা আমাদের এবং মানুষের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না। (৩৮)} [সূরা ইউসুফ]।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন উম্মতের মধ্যে আমলকারী আলেম এবং একনিষ্ঠ গুণীজনদের সংখ্যা বৃদ্ধি করেন এবং আপনার সাহায্য ও সঠিকতা বাড়িয়ে দেন যাতে মানুষ আপনার মহান কর্ম ও বিশাল কীর্তি দ্বারা উপকৃত হতে পারে, তাঁরই অনুগ্রহ ও দয়ায়।

পরিশেষে: আপনার মহৎ প্রচেষ্টা, সৎ উদ্দেশ্য এবং সুউচ্চ সংকল্পের জন্য আপনার প্রতি রইল শ্রদ্ধা, সম্মান, আন্তরিক দোয়া এবং সুগন্ধিময় প্রশংসা। আপনাদের ওপর শান্তি ও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

 

২৬শে রজব, ১৩৫১ হিজরী।

ইউসুফ আদ-দাজভী

আল-আযহার আশ-শরীফের হাইয়্যাতু কিবারিল উলামা (সিনিয়র উলামা পরিষদ)-এর সদস্য।

(সীলমোহরকৃত)

 

‌‌(চতুর্থ প্রশংসা বাণী)

সম্মানিত ফযীলাত ও সমাহাত সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব, মুহাম্মাদী চারিত্রিক গুণাবলী মণ্ডিত এবং নবুওয়াতী বৃক্ষের উচ্চ শাখা, আস-সৈয়দ মুহাম্মদ আল-বিবলাবী-এর পক্ষ থেকে। যিনি জামে হুসাইনীর খতীব, বরেণ্য আলেমদের অন্যতম, মূল্যবান গ্রন্থসমূহের রচয়িতা এবং আশরাফগণের নকীব। আল্লাহ তাঁকে হেফাযত করুন এবং সাহায্য করুন, আমীন।

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ! আমরা আপনার প্রশংসা করি এবং সকল প্রশংসা আপনারই দানকৃত অনুগ্রহ। আমরা আপনার শুকরিয়া আদায় করি এবং সকল শুকরিয়া আপনারই নেয়ামতরাজির অংশ। আমরা দরুদ ও সালাম পেশ করি আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর, যিনি আপনার সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত এবং আপনার ওহীর বিশ্বস্ত আমানতদার; যাকে সমগ্র মানবজাতির নিকট সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও প্রদীপ্ত চেরাগ হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে। আল্লাহ দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সহচরদের ওপর, যাঁরা তাঁর অঙ্গীকার রক্ষা করেছেন, তাঁর আদেশ পালন করেছেন, সৃষ্টিজগতকে তাঁর দ্বীনের দিকে আহ্বান করেছেন এবং তাঁদের নিকট শুভ্র ও স্বচ্ছ শরীয়ত পৌঁছে দিয়েছেন যাতে কোনো বক্রতা বা অস্পষ্টতা নেই। তাঁদের কর্মের মাধ্যমেই দলীল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সঠিক পথ সুগম হয়েছে। তাঁরাই সেই সকল ব্যক্তি যাদের ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও আল্লাহর ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন। তাঁদের জন্য তাঁদের রবের নিকট রয়েছে প্রতিদান, তাঁদের কর্মের পুরস্কার স্বরূপ।
(খণ্ড: ১) আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৬)
أما بعد: فخير ما شغل به العاقل وقته ووشى به صحيفته هو تفهم كتاب الله تعالى والعمل بما يدعو إليه وتبيين أوامره ونواهيه، ومعرفة وعظه وقصصه ومحكمه ومتشابهه وناسخه ومنسوخه، ولا سبيل لذلك إلّا بخدمة أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم والقيام على جمعها وتدوينها وتطهيرها من وهن الضعفاء وإفك الوضاعين، لذلك عني السلف الصالح بخدمة سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم خدمة لم تدع للخلف مجالًا للمزيد ولا موضعًا للاستدراك، وكانوا يرون أن العلم كل العلم في تفهم كتاب الله تعالى والاحتفاظ بسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم، كما قد قال في ذلك قائلهم:

كل العلوم سوى القرآن مضيعة … إلا الحديث وإلا الفقه في الدين

العلم ما قال فيه الناس حدثنا … وما سواه فوسواس الشياطين

وإن خير ما دوّن في ذلك الصحاح الستة المشهورة في الحديث قديمًا وحديثًا، ولما كان الحصول على غير البخاري ومسلم ربما يعز على الخاصة ولا يمكن وصول العامة إليه رأى - ورأيه الموفق - العالم العامل والإنسان الكامل والمرشد الواصل فرع الشجرة النبوية السيد منصور ناصف الحسيني الشافعي أن يتفرغ في الكثير من وقته ويبذل النفيس من جهده فيجمع بين الأصول الخمس من الصحاح فتم له ما قصد وأدرك من بغيته ما أمل، وألف في ذلك كتابه (التاج الجامع للأصول في أحاديث الرسول) وقد وقفت منه في روضة غناء قطوفها دانية، لا تسمع فيها لاغية، جمع فيه خمسًا من الصحاح تاركًا المكرر من الأحاديث فيها، مقتصرًا من الإسناد على اسم المخرج والراوي، ضامًا لمحل ما اتحد موضوعه من الأحاديث بعضه إلى بعض مرتبًا ذلك على ترتيب الأبواب الفقهية، جامعًا في أحاديث الأخلاق والآداب الشكل إلى شكله، والنظير إلى نظيره، فجاء كتابًا تقرّ به العيون، وتنشرح له الصدور، يحصل منه طالب العلم على مطلبه من أقرب الطرق وأيسر السبل.

فإن جمع الأحاديث مرتبة على حروف المعجم باعتبار أول كلمة في الحديث في صنع الكثير من المؤلفين لا يسهل إلا على الحفاظ المتقنين، وقليل ما هم الآن.

وبالجملة فهذا (التاج) فيه غاية كل طالب، وأمنية كل راغب، فمن حاز التاج فقد حاز الخير الكثير والعلم الغزير، واستغنى عن الخمسة الأصول، وماذا عسى في مدح هذا التاج أن أقول، وقد حدت بالمؤلف الشفقة الإسلامية والغيرة الدينية إلى أن يضيف إلى هذه الحسنة حسنة أخرى رصعت هذا (التاج) وزادته رونقًا وبهجة، إذ قد شرح هذه الأحاديث شرحًا يشرح الصدور ويسر القلوب، وبين غريبها بيانًا جزلًا بين الإيجاز والإطناب، ليس بالطويل الممل ولا بالقصير المخل.

فجزى الله مولانا المؤلف عن السنة النبوية أحسن الجزاء، ونفع الأنام بهذا التأليف الجليل ومد في عمر مؤلفه حتى يتحف الناس بدرر أفكاره وجميل آثاره وعظيم أسراره، إنه ولي التوفيق لا رب غيره ولا معبود سواه.

 

حرر بالقاهرة في الخامس والعشرين من رجب سنة 1351 هجرية.

محمد الببلاوي الحسني

الإدريسي نقيب السادة الأشراف

(بالإمضاء)
অতঃপর: একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি তার সময়কে যা দিয়ে ব্যস্ত রাখতে পারে এবং তার আমলনামাকে যা দিয়ে অলঙ্কৃত করতে পারে, তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো মহান আল্লাহর কিতাব অনুধাবন করা, এটি যার দিকে আহ্বান জানায় সে অনুযায়ী আমল করা এবং এর আদেশ ও নিষেধসমূহ ব্যাখ্যা করা। এছাড়া এর উপদেশমালা, কাহিনীসমূহ, সুষ্পষ্ট ও রূপক আয়াতসমূহ এবং রহিতকারী ও রহিতকৃত বিধানসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসসমূহের খিদমত করা, সেগুলো সংগ্রহ ও সংকলন করা এবং দুর্বল বর্ণনাকারীদের দুর্বলতা ও মিথ্যাবাদীদের মিথ্যাচার থেকে সেগুলো পবিত্র করা ব্যতীত এর কোনো পথ নেই। এ কারণেই সালাফে সালেহীন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর খিদমতে এমনভাবে আত্মনিয়োগ করেছিলেন যে, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য অতিরিক্ত কিছু করার বা সংশোধনের কোনো সুযোগ অবশিষ্ট রাখেননি। তারা মনে করতেন যে, প্রকৃত জ্ঞান হলো মহান আল্লাহর কিতাব অনুধাবন করা এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে সংরক্ষণ করার মধ্যে। যেমন তাদের মধ্যে কেউ এই বিষয়ে বলেছিলেন:

কুরআন ব্যতীত অন্য সকল জ্ঞানই পণ্ডশ্রম … তবে হাদীস এবং দ্বীনের ফিকহ ব্যতীত।

প্রকৃত ইলম হলো তা-ই যাতে লোকেরা বলে 'আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন' … আর এর বাইরে যা কিছু আছে তা শয়তানের কুমন্ত্রণা।

আর এই বিষয়ে যা কিছু সংকলিত হয়েছে তার মধ্যে প্রাচীন ও আধুনিক কালে সুপ্রসিদ্ধ ছয়টি সহীহ গ্রন্থ হলো সর্বোত্তম। যেহেতু বুখারী ও মুসলিম ব্যতীত অন্যান্য গ্রন্থগুলো পাওয়া সম্ভবত বিশিষ্টজনদের জন্যও কঠিন হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের পক্ষে তা সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না, তাই মহান আলিম, কর্মনিষ্ঠ ব্যক্তিত্ব, পূর্ণাঙ্গ মানুষ, আধ্যাত্মিক পথপ্রদর্শক এবং নববী বৃক্ষের শাখা জনাব সাইয়্যেদ মানসুর নাসিফ আল-হুসাইনী আশ-শাফিঈ—আল্লাহ তাকে তাওফীক দান করুন—মনে করলেন যে, তিনি তার সময়ের একটি বড় অংশ এই কাজে ব্যয় করবেন এবং তার মূল্যবান শ্রম বিলিয়ে দেবেন। তিনি (হাদীসের) পাঁচটি মূল সহীহ গ্রন্থকে একত্রিত করার সিদ্ধান্ত নিলেন। ফলে তিনি যা চেয়েছিলেন তা সুসম্পন্ন হলো এবং তিনি তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারলেন। তিনি এই বিষয়ে তার কিতাব 'আত-তাজুল জামিউ লিল-উসুলি ফি আহাদিসির রাসূল' রচনা করলেন। আমি এই কিতাবটি প্রত্যক্ষ করেছি যা এমন এক সুশোভিত উদ্যানের মতো যার ফলসমূহ অবনত ও নিকটবর্তী, সেখানে কোনো নিরর্থক কথা শোনা যায় না। তিনি এতে পাঁচটি সহীহ গ্রন্থকে একত্রিত করেছেন এবং হাদীসের পুনরাবৃত্তি বর্জন করেছেন। সনদের ক্ষেত্রে কেবল মূল সংকলক ও রাবীর নামের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন। একই বিষয়ের হাদীসগুলোকে ফিকহী অধ্যায়ের বিন্যাস অনুযায়ী একস্থানে সন্নিবেশিত করেছেন। আখলাক ও আদব বিষয়ক হাদীসগুলোর সমজাতীয় বিষয়গুলোকে একত্রে সাজিয়েছেন। ফলে এটি এমন এক কিতাবে পরিণত হয়েছে যা চক্ষুকে শীতল করে এবং অন্তরকে প্রশান্ত করে। এর মাধ্যমে ইলম অন্বেষণকারী অত্যন্ত নিকটবর্তী পথে ও সহজ উপায়ে তার উদ্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন করতে পারে।

কেননা হাদীসের প্রথম শব্দের ভিত্তিতে বর্ণনানুক্রমিকভাবে হাদীস সংগ্রহ করা যা অনেক লেখকই করেছেন, তা কেবল দক্ষ হাফেজে হাদীসদের জন্যই সহজসাধ্য, আর বর্তমানে তাদের সংখ্যা খুবই নগণ্য।

সংক্ষেপে, এই 'তাজ' গ্রন্থে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরম লক্ষ্য এবং প্রত্যেক প্রত্যাশীর আকাঙ্ক্ষা বিদ্যমান। সুতরাং যে ব্যক্তি এই 'তাজ' লাভ করল, সে প্রভূত কল্যাণ ও অগাধ ইলম লাভ করল এবং পাঁচটি মূল গ্রন্থ থেকে অমুখাপেক্ষী হলো। এই 'তাজ'-এর প্রশংসায় আমি আর কী-ই বা বলতে পারি! লেখকের ইসলামী মমতা ও ধর্মীয় আবেগ তাকে এই নেক কাজের সাথে আরও একটি নেক কাজ যুক্ত করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, যা এই 'তাজ'-কে অলঙ্কৃত করেছে এবং এর জৌলুস ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে। তিনি এই হাদীসসমূহের এমন এক ব্যাখ্যা লিখেছেন যা অন্তরকে উন্মুক্ত করে এবং হৃদয়কে আনন্দিত করে। তিনি এর দুর্বোধ্য শব্দগুলোর এমন চমৎকার ব্যাখ্যা দিয়েছেন যা অতি সংক্ষেপ ও অতি বিস্তারের মাঝামাঝি; যা বিরক্তিদায়ক দীর্ঘও নয়, আবার অস্পষ্টতা সৃষ্টিকারী সংক্ষিপ্তও নয়।

অতএব, মহান আল্লাহ আমাদের মাওলা লেখককে নববী সুন্নাহর পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। এই মহান রচনার মাধ্যমে মানবজাতিকে উপকৃত করুন এবং লেখকের আয়ু বৃদ্ধি করুন যাতে তিনি তার চিন্তার মুক্তাসমূহ, সুন্দর কীর্তিগাথা এবং মহান রহস্যসমূহ মানুষকে উপহার দিতে পারেন। নিশ্চয়ই তিনি তাওফীক দাতা, তিনি ব্যতীত কোনো রব নেই এবং তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই।

 

কায়রোতে লিখিত, ২৫ রজব, ১৩৫১ হিজরী।

মুহাম্মাদ আল-বাবলাওয়ী আল-হাসানী

আল-ইদ্রিসী, সায়্যেদ আশরাফগণের নকীব

(স্বাক্ষরিত)
(খণ্ড: ১) আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌(التقريظ الخامس)

لحضرة صاحب الفضيلة خادم السنة بالحرمين الشريفين العلامة الكبير والمحدث الشهير مولانا الشيخ محمد حبيب الله الشنقيطي صاحب كتاب (زاد المسلم فيما اتفق عليه البخاري ومسلم) ومدرس علم الحديث في كلية أصول الدين حفظه الله آمين.

بسم الله الرحمن الرحيم. الحمد لله الذي نرل على نبينا عليه وعلى آله الصلاة والسلام أحسن الحديث، وأكرم علماء الحديث بخدمته في القديم والحديث، والصلاة والسلام على رسولنا الذي أعطى جوامع الكلم واختصرت له اختصارًا، وعلى آله وأصحابه المجاهدين لإعلاء كلمته حيث اختارهم له أعوانًا وأنصارًا، وعلى تابعيهم من أئمة الحديث الباذلين جهدهم في جمعه والذّبّ عنه حتى نقحوا الصحيح من الضعيف، فجمعوا من أنواع فنونه التالد والطريف.

أما بعد: فقد أمعنت نظري وتأملت في تاج كتب الحديث المسمى (التاج الجامع للأصول في أحاديث الرسول) صلى الله عليه وعلى آله وسلم، للعلامة المحقق الذائق، صاحب الديانة الفائق، الشيخ منصور بن علي ناصف الحسيني أحد علماء الأزهر الشريف المدرس بالجامع الزينبي، وكتابته عليه المسماة غاية المأمول، فإذا هو اسم وافق مسماه وطابقه، ودل عليه دلالة المطابقة. فإنه كتاب كالتاج لكتب الحديث، القديم منها والحديث، لجمعه بين الكتب الخمسة التي صرح الإمام النووي في التقريب بأنَّه لم يفتها من الصحيح إلا النادر، وهي الصحيحان وسنن أبى داود، وجامع الترمذي، والمجتبى للنسائي، وفي ضمنها أحاديث الموطأ، إذا ما ترك أصحاب الخمسة منها إلا ما ندر، فقد وفق الله تعالى الأستاذ المذكور لجمعها مع حذف الأسانيد وترك المكرر والاكتفاء بأطول الروايات منه وأجمعها، فتم بتوفيق الله مع شرحه في نحو خمس مجلدات متوسطة، فكان من أنفع كتب الحديث الجامعة لأصول كتب الحديث المعتبرة مع حسن الترتيب، وكمال التقريب والتهذيب، فينبغي لكل من له رغبة في تحصيل زبدة كتب الحديث في أقرب وقت، مع العثور على أي دليل من الأحاديث الخمسة أراده، أن يعتني بحفظ هذا الكتاب الذي هو في الحقيقة كتب كثيرة الأسفار. لأئمة حفاظ كبار. ويجب على كل عالم له رغبة في أنفس كتب الحديث اقتناء هذا الكتاب والاستغناء به عن كل مؤلف قديم وحديث. لا سيما في هذا الوقت الذي كلَّت فيه الهمم عن حفظ مطولات الكتب الحديثية. فلهذا وشبهه عظمت بهذا المصنف النافع المزية. فكان تاجًا لكتب الحديث المشهورة عند الأمة. فجزى الله مؤلفه العلامة الديّن الناسك بأتم الرحمة. ونفع بمؤلفه هذا جميع المسلمين في مشارق الأرض ومغاربها ونفع به طبقات العلماء على اختلاف مشاربها.

 

قاله بلسانه وقيده ببنانه. خادم علوم السنة بالحرمين الشريفين سابقًا وبالتخصص بالأزهر المعمور لاحقًا. في يوم 27 رجب سنة 1351.

 

محمد حبيب الله بن سيدي عبد الله بن مايابي

الجكني ثم اليوسفي نسبًا الشنقيطي إقليمًا وفقه الله

(بالإمضاء)
(পঞ্চম প্রশংসা বাণী)

মান্যবর ফযিলতপ্রাপ্ত, হারামাাইন আশ-শারিফাইনের সুন্নাহর খাদেম, মহান আল্লামা এবং প্রখ্যাত মুহাদ্দিস মাওলানা শাইখ মুহাম্মাদ হাবিবুল্লাহ আশ-শিনকিতি, যিনি 'জাদুল মুসলিম ফীমা ইত্তাফাকা আলাইহিল বুখারি ওয়া মুসলিম' কিতাবের রচয়িতা এবং কুল্লিয়াতু উসুলুদ্দিনে ইলমে হাদীসের শিক্ষক, আল্লাহ তাঁকে হিফাযত করুন, আমীন।

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের নবী—তাঁর এবং তাঁর পরিবারের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক—তাঁর ওপর সর্বোত্তম কথা অবতীর্ণ করেছেন, এবং হাদীসের খিদমতের মাধ্যমে প্রাচীন ও আধুনিক সর্বকালে হাদীস বিশারদ উলামায়ে কিরামকে সম্মানিত করেছেন। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের রাসূলের ওপর, যাকে ‘জাওয়ামিউল কালিম’ (সংক্ষিপ্ত ও অর্থবহ বাণী) দান করা হয়েছে এবং যাঁর জন্য কথাকে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। আরও সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন এবং সেই সকল সাহাবায়ে কিরামের ওপর, যারা আল্লাহর কালিমাকে সমুন্নত করার জন্য জিহাদ করেছেন এবং আল্লাহ যাদেরকে তাঁর সাহায্যকারী ও আনসার হিসেবে মনোনীত করেছেন। আর তাঁদের অনুসারী হাদীসের ইমামদের ওপর, যারা হাদীস সংগ্রহ এবং এর প্রতিরক্ষায় নিজেদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন, এমনকি তাঁরা সহীহ হাদীসকে যঈফ থেকে পৃথক করেছেন এবং এই শাস্ত্রের প্রাচীন ও আধুনিক সকল প্রকার শৈলীকে একত্রিত করেছেন।

অতঃপর: আমি হাদীসের কিতাবসমূহের মুকুট স্বরূপ 'আত-তাজুল জামে লি-উসুল ফী আহাদিসির রাসূল' (সালালাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলা আলিহি ওয়া সাল্লাম) নামক কিতাবটির প্রতি গভীর দৃষ্টিপাত করেছি এবং তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করেছি; যা বিজ্ঞ গবেষক আল্লামা, আধ্যাত্মিক রুচিসম্পন্ন ও শ্রেষ্ঠ দ্বীনদার শাইখ মানসুর বিন আলী নাসিফ আল-হুসাইনির সংকলন—যিনি আজহার শরীফের উলামাদের অন্যতম এবং জামে যাইনাবিতে শিক্ষকতা করেন। কিতাবটির ওপর তাঁর রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘গয়াতুল মামুল’ও আমি দেখেছি। এটি এমন একটি নাম যা এর নামকরণের উদ্দেশ্যের সাথে পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং তার যথাযথ পরিচয় প্রদানকারী। নিশ্চয়ই এটি হাদীসের কিতাবসমূহের জন্য মুকুট স্বরূপ, তা প্রাচীন হোক বা আধুনিক। কারণ এটি এমন পাঁচটি কিতাবের সমন্বয়ে গঠিত, যেগুলোর ব্যাপারে ইমাম নববী 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই কিতাবগুলো থেকে অতি সামান্য কিছু বাদে আর কোনো সহীহ হাদীস বাদ পড়েনি। সেই কিতাবগুলো হলো—সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম), সুনানে আবু দাউদ, জামি তিরমিযী এবং নাসাঈর আল-মুজতাবা। এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে মুয়াত্তার হাদীসসমূহও, কারণ উক্ত পাঁচটি কিতাবের সংকলকগণ মুয়াত্তার অতি সামান্য কিছু হাদীস ব্যতীত বাকি সবই গ্রহণ করেছেন। আল্লাহ তাআলা উক্ত উস্তাদকে (শাইখ মানসুর) হাদীসগুলো একত্রে সংকলন করার তাওফিক দান করেছেন, যেখানে তিনি সনদগুলো বাদ দিয়েছেন এবং পুনরাবৃত্তি পরিহার করেছেন এবং দীর্ঘতম ও পূর্ণাঙ্গ বর্ণনাটি গ্রহণে তুষ্ট থেকেছেন। ফলে আল্লাহর তাওফিকে তাঁর ব্যাখ্যাসহ এটি পাঁচটি মাঝারি খণ্ডে সমাপ্ত হয়েছে। কিতাবটি হাদীসের নির্ভরযোগ্য মূল কিতাবসমূহের সংকলন হিসেবে অত্যন্ত উপকারী সাব্যস্ত হয়েছে, যা চমৎকার বিন্যাস এবং সুন্দর পরিমার্জন ও সহজীকরণে অনন্য। তাই যারা স্বল্পতম সময়ে হাদীসের কিতাবসমূহের নির্যাস হাসিল করতে আগ্রহী এবং উল্লিখিত পাঁচটি কিতাব থেকে যেকোনো দলিল খুঁজে পেতে ইচ্ছুক, তাঁদের প্রত্যেকের উচিত এই কিতাবটি গুরুত্ব সহকারে অধ্যয়ন করা ও মুখস্থ করা, যা প্রকৃতপক্ষে বড় বড় হাফেজে হাদীস ইমামদের অনেকগুলো কিতাবের সমষ্টি। প্রত্যেক আলিম, যিনি হাদীসের মূল্যবান কিতাবগুলো পেতে আগ্রহী, তাঁর জন্য এই কিতাবটি সংগ্রহ করা এবং এটি লাভের পর অন্য কোনো প্রাচীন বা আধুনিক রচনার মুখাপেক্ষী না হওয়া আবশ্যক। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে, যখন হাদীসের বিশদ ও দীর্ঘ কিতাবসমূহ আয়ত্ত করার ক্ষেত্রে মানুষের হিম্মত ও মনোবল কমে গেছে। এই কারণে এবং অনুরূপ অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের দরুন এই উপকারী সংকলনটির মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি উম্মতের নিকট পরিচিত হাদীসের কিতাবসমূহের জন্য একটি মুকুট হিসেবে গণ্য হয়েছে। আল্লাহ এর সংকলক মহান আল্লামা এবং নিবেদিতপ্রাণ দ্বীনদার ব্যক্তিকে পূর্ণ রহমতে সিক্ত করুন। তাঁর এই সংকলন দ্বারা পৃথিবীর পূর্ব থেকে পশ্চিমের সমস্ত মুসলিমকে উপকৃত করুন এবং বিভিন্ন মতাদর্শের আলিমদেরকেও এর মাধ্যমে ফায়দা পৌঁছান।

 

তিনি মুখে এটি ব্যক্ত করেছেন এবং নিজ কলমে তা লিপিবদ্ধ করেছেন। যিনি পূর্বে হারামাাইন আশ-শারিফাইনের সুন্নাহর খিদমতে নিয়োজিত ছিলেন এবং পরবর্তীতে সমৃদ্ধ আল-আজহারের বিশেষ শাখায় যুক্ত হয়েছেন। ২৭শে রজব, ১৩৫১ হিজরী।

 

মুহাম্মাদ হাবিবুল্লাহ ইবনে সিদি আব্দুল্লাহ ইবনে মায়াবি

বংশগতভাবে আল-জাকানি ও আল-ইউসুফি এবং এলাকাগতভাবে আশ-শিনকিতি, আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন।

(স্বাক্ষর সম্বলিত)
(খণ্ড: ১) আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌(التقريظ السادس)

لحضرة الأستاذ العظيم والمؤرخ الكبير عبد الوهاب بك النجار ناظر مدرسة المرحوم ماهر باشا وصاحب المؤلفات في التاريخ، ومدرس بكلية أصول الدين حفظه الله.

بسم الله الرحمن الرحيم. الحمد لله يسر ما شاء لمن شاء. ووفق أهل السعادة إلى سبيل السواء.

وبعد: فإن الأمة الإسلامية قد كان في عنقها دين طالما طاولت في أدائه. وما طلت في قضائه. وذلك أنها قد آلت إليها من أحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم ثروة لم تظفر بمثلها أمة من رسولها فجمعتها على ترتيب لا يلائم عصرنا الحاضر وبقيت في بطون الكتب على ترتيب ذلك العصر الغابر. وهي بيان للكتاب. وهدى لأولي الألباب.

ظلت تلك الثروة الحقب الطويلة. تنتظر من يجمع شتاتها. ويبعد مؤتلفها عن مختلفها. ويسهل على المسلمين مراجعتها. ويقرب النفع بها. حتى انتضى الأستاذ العلامة الشيخ منصور علي ناصف الحسيني عزمته الماضية. وهمته العالية. فقضى ذلك الديّن عن الأمة أحسن قضاء. وأعتقها من المطالبة والأداء. فعمد إلى الأحاديث التي وعتها الأصول الخمسة الصحاح. وهي: صحيح البخاري وصحيح مسلم وسنن أبي داود وجامع الترمذي والمجتبى للنسائي. فجمعها في كتاب وسماه التاج. واكتفى من الأسانيد بالنص على الراوي والمخرج. فجاء الكتاب طرفة من الطرف. وتحفة تفوق كل التحف. ورتب تلك الأحاديث على الأبواب الفقهية. فلا يضل فيها مراجع، ولا يتعب طالب.

وقد قسم كتابه أربعة أقسام: القسم الأول في الإيمان والعلم والعبادات. والقسم الثاني في المعاملات والأحكام والعادات. والقسم الثالث في الفضائل والتفسير والجهاد. والقسم الرابع في الأخلاق والسمعيات. وأتم الفائدة بشرح لطيف. يوضح من الحديث مبهمه. ويفصل مجمله. ويبيّن غامضه. وعلى الجملة قد جمع الشرح كثيرًا من المحاسن. وجاء في أكثر مواضعه بما يشرح صدر المطلع ويملؤه سرورًا.

وقد أهدي إلي الجزء الأول من ذلك الكتاب. فسرحت طرفي منه في رياض ناضرة. وأزهار باهرة. إلى طبع جميل متقن. وورق صقيل. وتصحيح دقيق. فله الشكر الأوفر على هذه الهمة العالية.

أسأل الله أن يجزيه خير ما جزى من هدى من حيرة. وبذل العلم محتسبًا. وجاهد في الدين حق جهاده. إنه لا يضيع أجر من أحسن عملًا.

 

تحريرًا في غرة شعبان سنة 1351 هـ الموافق 29 نوفمبر سنة 1932 م.

عبد الوهاب النجار

(إمضاء)

 

‌‌(التقريظ السابع)

لحضرة صاحب الفضيلة العلامة الجليل والأستاذ العظيم الشيخ أمين محمود سرور المدرس بشعب التخصص في كلية اللغة العربية، وصاحب كتاب (حسن الأثر في التعريف برجال الأثر) فإنه كتب إليّ بالآتي: لتقريظ كتاب التاج الجامع لأصول الحديث تأليف صاحب الفضيلة المحدث الكبير الشيخ منصور ناصف حفظه الله أمليته على بعد عهد بالفراغ. وقرب عهد بالشواغل. وأرجو أن يغض النظر عن ضعف فيها وسقط. ومن ذا الذي ما ساء قط.
‌‌(ষষ্ঠ অভিমত)

মহান উস্তাদ ও প্রখ্যাত ঐতিহাসিক আব্দুল ওয়াহাব বেগ আন-নাজ্জার মহোদয়ের পক্ষ থেকে, যিনি মরহুম মাহের পাশা মাদরাসার অধ্যক্ষ, ইতিহাসের বহু গ্রন্থের রচয়িতা এবং ধর্মতত্ত্ব অনুষদের (কুল্লিয়াতু উসুলুদ্দিন) শিক্ষক, আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন।

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি যা চেয়েছেন যার জন্য চেয়েছেন তা সহজ করে দিয়েছেন। এবং সৌভাগ্যবান ব্যক্তিদের সরল ও সঠিক পথের তাওফীক দিয়েছেন।

অতপর: মুসলিম উম্মাহর ঘাড়ের ওপর একটি ঋণ ছিল যা পরিশোধে তারা দীর্ঘকাল ধরে বিলম্ব করছিল এবং তা আদায়ে গড়িমসি করছিল। আর তা হলো এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসসমূহ থেকে তারা এমন এক সম্পদ লাভ করেছিল যার নজির অন্য কোনো উম্মত তাদের রাসূল থেকে লাভ করতে পারেনি। তারা সেই হাদীসগুলো এমন এক বিন্যাসে সংকলন করেছিল যা আমাদের বর্তমান যুগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তা বিগত সেই প্রাচীন যুগের বিন্যাস অনুযায়ী কিতাবসমূহের উদরে রয়ে গিয়েছিল। অথচ তা ছিল আল্লাহর কিতাবের ব্যাখ্যা এবং জ্ঞানীদের জন্য হিদায়াত।

সেই সম্পদ দীর্ঘকাল ধরে এমন একজনের অপেক্ষায় ছিল যিনি এর বিক্ষিপ্ত অংশগুলোকে একত্রিত করবেন, এর সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়গুলোকে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়গুলো থেকে পৃথক করবেন, মুসলমানদের জন্য তা দেখা ও গবেষণা করা সহজ করে দেবেন এবং এর উপকারিতাকে মানুষের নিকটবর্তী করবেন। অবশেষে উস্তাদ আল্লামা শেখ মনসুর আলী নাসিফ আল-হুসাইনি তাঁর সুদৃঢ় সংকল্প ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে অগ্রসর হলেন। তিনি উম্মাহর পক্ষ থেকে সেই ঋণ অত্যন্ত সুন্দরভাবে পরিশোধ করলেন এবং তাদের সেই দায়বদ্ধতা ও দাবি থেকে মুক্ত করলেন। তিনি সেই হাদীসগুলোর প্রতি মনোনিবেশ করলেন যা পাঁচটি সহীহ মূল গ্রন্থে সংরক্ষিত রয়েছে; আর সেগুলো হলো: সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনানে আবু দাউদ, জামে তিরমিযী এবং নাসাঈর আল-মুজতাবা। তিনি এগুলোকে এক কিতাবে সংকলন করলেন এবং এর নাম দিলেন "আত-তাজ"। সনদের ক্ষেত্রে তিনি কেবল মূল বর্ণনাকারী এবং কিতাবের নাম উল্লেখ করার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকলেন। ফলে কিতাবটি এক অনন্য সৃষ্টিতে পরিণত হলো এবং এমন এক শ্রেষ্ঠ উপহারে রূপ নিল যা সকল উপহারকে ছাড়িয়ে যায়। তিনি এই হাদীসগুলোকে ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছেন, ফলে কোনো অনুসন্ধানকারী পথ হারাবে না এবং কোনো জ্ঞানান্বেষী ক্লান্ত হবে না।

তিনি তাঁর কিতাবটিকে চারটি ভাগে বিভক্ত করেছেন: প্রথম ভাগ ঈমান, ইলম ও ইবাদত প্রসঙ্গে। দ্বিতীয় ভাগ মুয়ামালাত (লেনদেন), আহকাম ও আদত (আচার-আচরণ) প্রসঙ্গে। তৃতীয় ভাগ ফাযায়েল, তাফসীর ও জিহাদ প্রসঙ্গে। আর চতুর্থ ভাগ আখলাক ও শ্রবণযোগ্য পরলৌকিক বিষয়াবলি (সামইয়াত) প্রসঙ্গে। তিনি একটি চমৎকার ব্যাখ্যা প্রদানের মাধ্যমে এর উপযোগিতা পূর্ণ করেছেন, যা হাদীসের অস্পষ্ট বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করে, সংক্ষিপ্ত বিষয়গুলোর বিস্তারিত বিবরণ দেয় এবং দুর্বোধ্য অংশসমূহ ব্যাখ্যা করে। মোদ্দাকথা, এই ব্যাখ্যাটি অসংখ্য সৌন্দর্যের আধার হয়েছে এবং এর অধিকাংশ স্থানে এমন সব বিষয় এসেছে যা পাঠকের হৃদয়কে উন্মুক্ত করে দেয় এবং আনন্দে ভরিয়ে দেয়।

আমাকে এই কিতাবটির প্রথম খণ্ড উপহার হিসেবে প্রদান করা হয়েছিল। আমি এর সজীব উদ্যান ও উজ্জ্বল পুষ্পরাজির মাঝে দৃষ্টি বুলালাম; এর মুদ্রণ অত্যন্ত সুন্দর ও মজবুত, কাগজ মসৃণ এবং এর প্রুফ সংশোধনও ছিল অত্যন্ত নিখুঁত। এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার জন্য তাঁর প্রতি রইল অশেষ কৃতজ্ঞতা।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাঁকে সেই সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন যা তিনি বিভ্রান্তি থেকে হিদায়াতদানকারীকে দিয়ে থাকেন, এবং যিনি সওয়াবের আশায় ইলম বিলিয়ে দেন এবং দ্বীনের পথে প্রকৃত জিহাদ করেন। নিশ্চয়ই তিনি উত্তম আমলকারীর প্রতিদান নষ্ট করেন না।

 

লিখিত তারিখ: ১লা শাবান, ১৩৫১ হিজরী মোতাবেক ২৯শে নভেম্বর, ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দ।

আব্দুল ওয়াহাব আন-নাজ্জার

(স্বাক্ষর)

 

‌‌(সপ্তম অভিমত)

মহান আল্লামা ও মহান উস্তাদ শেখ আমিন মাহমুদ সুরুর মহোদয়ের পক্ষ থেকে, যিনি আরবি ভাষা অনুষদের বিশেষায়িত শাখার শিক্ষক এবং "হুসনুল আসার ফি তা’রিফি বি-রিজালিল আসার" গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি আমাকে নিম্নোক্ত কথাগুলো লিখেছেন: বড় মুহাদ্দিস শেখ মনসুর নাসিফ (আল্লাহ তাঁকে রক্ষা করুন) রচিত হাদীসের মূল উৎসসমূহের সংকলন "আত-তাজ আল-জামে" কিতাবের অভিমত হিসেবে আমি এটি লিখেছি অবসর সময় অতিবাহিত হওয়ার অনেক পরে এবং ব্যস্ততার ঠিক আগ মুহূর্তে। আমি আশা করি যে, এর দুর্বলতা ও বিচ্যুতিগুলোকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখা হবে। আর এমন কে আছে যার কখনোই কোনো ভুল হয়নি?
(খণ্ড: ১) আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৯)
أَعَدْتَ إِلَى الدَّينِ عَصْرَ الأُوَل … وَأَجْرَيْتَ ذِكْرَكَ مَجْرَى الْمَثَل

وَجَدَّدْتَ لِلنَّاسِ عَهْدَ الْحَدِيـ … ـثِ غَضَّ الشَّبَابِ قَشِيبَ الْحُلَل

وَوَافَى كِتَابُكَ حَلْيَ الْقُلُو … بِ جَلْيَ الْمَسَامِع حَلْيَ الْمُقَل

جَلَوْتَ بِهَا مِنْ صِحَاحِ الْحَدِيث … عَرَائِسَ تُزْهَى بِحُسْنٍ وَدَلّْ

تَهَاوَى الشِّفَاهُ إِلَى لَثْمِهَا … فَتَشْتَارُ مِنْهُنَّ أَرْيَ الْعَسَل

فَمِنْهَا الشِّفَاءُ وَمِنْهَا الضِّيَاءُ … وَمِنْهَا الرَّجَاءُ وَمِنْهَا الْأَمَل

هُوَ التَّاجُ لِلْكُتُبِ مِنْ قَبْلِهِ … وَجَامِعُ مَا دَقَّ مِنْهَا وَجَل

أَسَرَّ الْقُلُوبَ بِأَسْرَارِهِ … فَنَبَّهَ مِنْ جَمْعِهَا مَا خَمَل

وَعَرَّفَهُن طَرِيقَ الْهُدَى … وَجَنَّبَهُنَ طَرِيقَ الْخَطَل

فَوَافَتْ إِلَيْهِ كَقِطعِ الظّبَاءِ … رَنَتْ نَحْوَ ظِلٍّ وَمَاءٍ نُهَل

إِذَا ابْنُ الأَثِير‌‌(1) اجْتَلَى حُسْنَهُ … أُثِيرَ الْحَيَاءُ بِهِ وَالْخَجَل

وَعَادَ الْيَمَانِى‌‌(2) أَدْرَاجَهُ … وَعَاوَدَ تَرْتِيبَهُ الْمُنْتَحَل

أَبَا نَاصِفٍ قَدْ قَرَأْنَا الْكِتَابْ … فَمَا إِنْ رَأَيْنَا لَهُ مِنْ مَثَل

يُرَاوحُنَا مِنْهُ رَوْحُ الْحَيَاةِ … يَشْفِي الْغَلِيلَ وَيُبْرِي الْعِلَل

--------------------------------------------

‌‌(1) ابن الأثير هذا هو المشهور بابي السعادات ابن الأثير الجزري المتوفى سنة 606 هـ المؤرخ الكبير والمحدث الشهير الذي جمع أصول الحديث في كتاب على حروف المعجم وسماه الجامع للأصول، ومعلوم أن أعول الحديث هذه لم يجمعها سواه. فيريد الناظم أن ابن الأثير هذا على علو مقامه لو رأى كتاب التاج لعظمه واعترف لمؤلفه بالفضل. اهـ مصححه.

‌‌(2) اليماني هذا هو عبد الرحمن بن علي المشهور بالشيباني الزبيدي الشافعي المتوفى سنة 944 هـ، وهو الذي اختصر جامع الأصول لابن الأثير في كتاب وسماه تيسير الوصول، وهو المشهور بيننا الآن، فيريد الناظم حفظه الله أن اليماني هذا لو رأى كتاب التاج لنظر إليه بعين الإجلال وعاد إلى كتابه (تيسير الوصول) فرتبه كرتيب التاج الذي جاء آيةً في الإعجاب. نفع الله به العباد. آمين. اهـ مصححه.
আপনি দ্বীনের মাঝে পূর্ববর্তীদের সোনালী যুগকে ফিরিয়ে এনেছেন … এবং আপনার আলোচনাকে প্রবাদের মতো ছড়িয়ে দিয়েছেন।

আপনি মানুষের জন্য হাদীসের যুগকে নবায়ন করেছেন … যা নবযৌবনের মতো প্রাণবন্ত এবং জাঁকজমকপূর্ণ পোশাকে সজ্জিত।

আর আপনার কিতাবটি এসেছে হৃদয়ের অলংকার, … শ্রবণের নির্মলতা এবং চোখের শোভা হিসেবে।

আপনি এর মাধ্যমে সহীহ হাদীসসমূহ থেকে … এমন সব কনেদের উন্মোচিত করেছেন, যারা রূপ-মাধুর্য ও লাবণ্যে গৌরবান্বিত।

ঠোঁটগুলো সেগুলোকে চুম্বন করতে উন্মুখ হয়ে পড়ে … আর সেখান থেকে খাঁটি মধু সংগ্রহ করে।

এর মধ্যেই রয়েছে আরোগ্য এবং এর মধ্যেই রয়েছে আলো … এর মধ্যেই রয়েছে প্রত্যাশা এবং এর মধ্যেই রয়েছে আকাঙ্ক্ষা।

এটি পূর্ববর্তী সকল কিতাবের জন্য মুকুটস্বরূপ … এবং সেগুলোর ক্ষুদ্র ও মহৎ সকল বিষয়ের সংকলন।

এটি তার রহস্যভাণ্ডার দিয়ে হৃদয়সমূহকে বিমোহিত করেছে … ফলে হৃদয়ের সুপ্ত ও বিস্মৃত বিষয়গুলোকে জাগ্রত করেছে।

এটি সেগুলোকে হিদায়াতের পথ দেখিয়েছে … এবং ভ্রান্ত পথ থেকে দূরে রেখেছে।

তাই এগুলো তার দিকে ছুটে এসেছে হরিণ পালের মতো … যারা শীতল ছায়া এবং সুপেয় পানির প্রস্রবণের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।

যদি ইবনুল আসীর‌‌(১) এর সৌন্দর্য অবলোকন করতেন … তবে এতে তার মাঝে লজ্জা ও কুণ্ঠা জেগে উঠত।

আর ইয়ামানী‌‌(২) ব্যক্তিটি তার নিজের পথে ফিরে যেতেন … এবং তার গৃহীত বিন্যাসকে পুনরায় বিন্যস্ত করতেন।

হে আবু নাসিফ! আমরা কিতাবটি পড়েছি … আর আমরা এর সমতুল্য কোনো কিছু দেখিনি।

এটি আমাদের মাঝে জীবনের প্রশান্তি বয়ে আনে … যা প্রবল তৃষ্ণা মেটায় এবং রোগ নিরাময় করে।

--------------------------------------------

‌‌(১) এই ইবনুল আসীর হলেন প্রসিদ্ধ আবুস সাআদাত ইবনুল আসীর আল-জাযারি (মৃত্যু ৬০৬ হিজরী), যিনি একজন বড় ঐতিহাসিক এবং প্রখ্যাত মুহাদ্দিস। তিনি বর্ণমালার ক্রমানুসারে হাদীসের মূল কিতাবগুলোকে একটি কিতাবে সংকলন করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন ‘জামেউল উসুল’। এটা সুবিদিত যে, হাদীসের এই মূল গ্রন্থগুলো তিনি ব্যতীত অন্য কেউ এভাবে একত্র করতে পারেননি। কবি এখানে বোঝাতে চেয়েছেন যে, ইবনুল আসীর তার উচ্চ মর্যাদা সত্ত্বেও যদি ‘আত-তাজ’ কিতাবটি দেখতেন, তবে তিনি এটিকে সম্মান করতেন এবং এর লেখকের শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করে নিতেন। - (সংশোধনকারীর মন্তব্য)।

‌‌(২) এই ইয়ামানী ব্যক্তিটি হলেন আব্দুর রহমান বিন আলী, যিনি আশ-শাইবানী আয-যাবিদী আশ-শাফিঈ নামে পরিচিত (মৃত্যু ৯৪৪ হিজরী)। তিনি ইবনুল আসীরের ‘জামেউল উসুল’ কিতাবটিকে একটি কিতাবে সংক্ষেপিত করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন ‘তাইসীরুল উসুল’, যা বর্তমানে আমাদের মাঝে বেশ পরিচিত। আল্লাহ হাফিযাহুল্লাহ কবি এখানে বোঝাতে চেয়েছেন যে, এই ইয়ামানী যদি ‘আত-তাজ’ কিতাবটি দেখতেন, তবে তিনি একে অত্যন্ত শ্রদ্ধার চোখে দেখতেন এবং তার নিজের কিতাব (তাইসীরুল উসুল)-এ ফিরে যেতেন এবং সেটিকে ‘আত-তাজ’-এর বিন্যাসের মতো সাজাতেন, যা বিস্ময়কর সৌন্দর্যের এক উজ্জ্বল নিদর্শন। আল্লাহ এর মাধ্যমে বান্দাদের উপকৃত করুন। আমীন। - (সংশোধনকারীর মন্তব্য)।
(খণ্ড: ১) আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১০)
وَلَمَّا بَصُرْتَ بِهِ مُفْرَدًا … كَحَوْرَاءَ مَقْصُورَةً فِي الْكِلَل

خَلَعْتَ عَلَيْهِ وِشَاحَ الْبَيَانِ … وَأَكْمَلتَ مِنْ حُسْنِهِ فَاكْتَمَل

الأربعاء في 2 شعبان سنة 1351 هـ

 

قاله ونظمه وسطره ورقمه أمين بن محمود بن سرور

المدرس بكلية اللغة العربية بشعب التخصص بالأزهر الشريف

(إمضاء)

 

‌‌كلمة للمؤلف

‌‌(حسن الفأل فأل حسن)

من محاسن الصدف في تأليف كتاب التاج أني بعون الله بدأته في شهر رجب سنة 1341 هـ وأتممته في شهر ذي الحجة سنة 1347 هـ، فكان بدؤه وختامه كلاهما في شهر حرام من عام وتري، في عقد وتري، وشرعت في التعليق عليه في شهر المحرم من تلك السنة، وبدئ في طبعه في شهر المحرم من سنة 1351 هـ، وتم طبع الجزء الأول وظهر في شهر رجب من هذه السنة، فكان بدء طبعه وظهور الجزء الأول منه كلاهما في شهر حرام من عام وتري، وفي الحديث الشريف: "إِن الله وِتْرٌ يحب الوِتْرٌ".

وفي هذا العام تقرر العمل بحرف التاج، وقد أراد الله فكان اسم الكتاب التاج، فظهر لي الفأل الحسن من خلال أطواره. وقد كان النبي صلى الله عليه وسلم يحب الفأل الحسن. أسأل الله أن يجعله فألًا حسنًا. آمين.

 

‌‌كلمة موجهة للهداة والولاة

القول الفصل في هذا الكتاب - وقد وضعته بيد الإخلاص لله تعالى، وعقلته بفكري ولبي، والخوف من الله يحيط بي - اْنه يلزم لكل الناس على اختلاف طبقاتهم، ولكني أخص من بين الناس طائفة الآمرين بالمعروف الناهين عن المنكر، فلهم الحظ الأوفر من هذا الكتاب، ولا سيما كتاب علامات الساعة، وكتاب القيامة والجنة والنار، وقسم الأخلاق، وكتاب الزهد، وكتاب الأذكار والأدعية الآتية في القسم الرابع، ففيها من الترغيب والترهيب ومكارم الأخلاق ما فيه تمام الكفاية، وأزيد في التخصيص بالذكر طائفة القضاة والحكام، فكتاب التاج لهم ألزم من الظل للإنسان، ولا سيما كتاب الإمارة والقضاء الآتي في القسم الثاني فهو لهم الحصن الحصين والدواء الشافي، وقد نبهت على خصوص هاتين الطائفتين لأن الأولى هداة الأمة، والثانية حراس الأمة وقوادها، بل هم قلب الأمة ورأسها، فبصلاحهم تنصلح الأمة، وبفسادهم تفسد الأمة.

اللهم وفقنا وأصلح حالنا يا رحمن في الحال والمآل، آمين آمين آمين، والحمد لله رب العالمين.

 

منصور ناصف
যখন তুমি তাকে একাকী দেখলে … অন্দরমহলে পর্দার আড়ালে থাকা হুরদের মতো

তুমি তাকে বাগ্মিতার অলংকার পরিয়ে দিলে … এবং তার সৌন্দর্য পূর্ণ করলে, ফলে তা পূর্ণতা পেল

বুধবার, ২ শাবান, ১৩৫১ হিজরি

 

এটি বলেছেন, ছন্দবদ্ধ করেছেন, লিপিবদ্ধ করেছেন এবং অঙ্কিত করেছেন আমিন বিন মাহমুদ বিন সুরুর

আল-আযহার আল-শরিফের আরবি ভাষা অনুষদের বিশেষজ্ঞ বিভাগের শিক্ষক

(স্বাক্ষর)

 

‌‌লেখকের কথা

‌‌(শুভ লক্ষণ একটি উত্তম বিষয়)

‘আত-তাজ’ কিতাবটি রচনার ক্ষেত্রে এক চমৎকার সংযোগ এই যে, আল্লাহর সাহায্যে আমি এটি ১৩৪১ হিজরির রজব মাসে শুরু করি এবং ১৩৪৭ হিজরির জিলহজ মাসে শেষ করি। সুতরাং এর শুরু এবং শেষ উভয়ই ছিল একটি বিজোড় বছরের হারাম (নিষিদ্ধ) মাসে এবং একটি বিজোড় দশকে। আমি সেই বছরের মহররম মাসে এর টিকা লেখার কাজ শুরু করি এবং ১৩۵১ হিজরির মহররম মাসে এর মুদ্রণ শুরু হয়। এর প্রথম খণ্ডের মুদ্রণ সমাপ্ত হয় এবং এই বছরের রজব মাসে তা প্রকাশিত হয়। ফলে এর মুদ্রণ শুরু এবং প্রথম খণ্ডের আত্মপ্রকাশ উভয়ই ছিল একটি বিজোড় বছরের হারাম মাসে। আর শরিফ হাদিসে এসেছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহ বেজোড়, তিনি বেজোড়কে পছন্দ করেন।"

এই বছর ‘তাজ’ হরফ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, আর আল্লাহ চেয়েছিলেন বলেই কিতাবটির নাম হয়েছে ‘তাজ’। ফলে এর প্রতিটি স্তরেই আমার নিকট শুভ লক্ষণ প্রকাশ পেয়েছে। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুভ লক্ষণ পছন্দ করতেন। আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন একে একটি শুভ লক্ষণ হিসেবে কবুল করেন। আমিন।

 

‌‌পথপ্রদর্শক ও শাসকদের উদ্দেশ্যে একটি কথা

এই কিতাব সম্পর্কে চূড়ান্ত কথা হলো—যা আমি মহান আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠতার সাথে লিখেছি এবং আমার চিন্তা ও মেধা দিয়ে সুবিন্যস্ত করেছি, আর আল্লাহর ভয় আমাকে পরিবেষ্টন করে ছিল—এটি সর্বস্তরের মানুষের জন্য আবশ্যক। তবে আমি মানুষের মধ্য থেকে বিশেষভাবে সৎকাজের আদেশদানকারী এবং অসৎকাজে নিষেধকারী দলের কথা উল্লেখ করছি। এই কিতাব থেকে তাদের পাওনাই সবচেয়ে বেশি; বিশেষ করে কিয়ামতের আলামত অধ্যায়, কিয়ামত, জান্নাত ও জাহান্নাম অধ্যায়, চরিত্র বা আখলাক অধ্যায়, যুহদ (সংসারবিরাগ) অধ্যায় এবং চতুর্থ খণ্ডে আগত জিকির ও দোয়ার অধ্যায়সমূহ। কারণ এগুলোতে পরকালের উৎসাহ ও ভীতি এবং মহান চরিত্রের এমন বর্ণনা রয়েছে যা পূর্ণাঙ্গভাবে যথেষ্ট। আমি বিশেষভাবে কাজি ও শাসকদের কথা উল্লেখ করছি; তাদের জন্য ‘আত-তাজ’ কিতাবটি মানুষের সাথে তার ছায়ার মতো অবিচ্ছেদ্য হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে দ্বিতীয় খণ্ডে আগত শাসন ও বিচার বিভাগ সংক্রান্ত অধ্যায়টি তাদের জন্য সুদৃঢ় দুর্গ এবং নিরাময়কারী ওষুধ। আমি এই দুটি শ্রেণির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছি কারণ প্রথম দলটি হলো উম্মতের পথপ্রদর্শক এবং দ্বিতীয় দলটি হলো উম্মতের প্রহরী ও নেতা। বরং তারাই উম্মতের হৃদপিণ্ড ও মস্তক; তাদের সংশোধনের মাধ্যমে উম্মত সংশোধিত হয়, আর তাদের বিচ্যুতিতে উম্মত পথভ্রষ্ট হয়।

হে আল্লাহ! আমাদের তাওফিক দান করুন এবং বর্তমান ও ভবিষ্যতে আমাদের অবস্থা সংশোধন করে দিন, হে রহমান। আমিন, আমিন, আমিন। সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

 

মানসুর নাসিফ
(খণ্ড: ১) আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌خطبة الكتاب

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ‌‌(1)

نَحْمَدُكَ اللَّهُمَّ عَلَى نِعْمَةِ التَّوْفِيقِ‌‌(2) وَنَسْأَلُكَ اللَّهُمَّ الْهِدَايَةَ إِلَى أَقْوَمِ طَرِيقٍ، وَنُصَلِّي وَنُسَلِّمُ عَلَى نَبِيِّكَ وَرَسُولِكَ سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ الَّذِي بَعَثْتَهُ لِلنَّاسِ رَحْمَةً‌‌(3) وَأَنْطَقْتَهُ بِالْهُدَى وَالْحِكْمَةِ‌‌(4) وَعَلَى آلِهِ وَصَحبهِ الَّذِينَ حَفِظُوا هُدَاهُ‌‌(5) وَبَلَّغُوهُ وَرَأَوْا نُوْرَهُ‌‌(6) فَاتَّبَعُوهُ.

--------------------------------------------

الشرح

بسم الله الرحمن الرحيم. الحمد لله رب العالمين وأشهد أن لا إله إلا الله وأشهد أن سيدنا محمدًا رسول الله. اللهم صل وسلم وبارك على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه والتابعين.

أما بعد: فلما منّ الله عليّ وألفت كتاب "التاج لجامع للأصول" عرضته على أولى الرأي من كبار العلماء وعلى وزارة الأوقاف فحبذوه واستحسنوه، ولكنهم أشاروا عليّ بشرحه ليكمل النفع به. فتوقفت واعتذرت لضعف عينىّ من جهة، ولصعوبة الشرح من جهة أخرى. فإن شارح الحديث يعترضه أمور صعاب لا يدريها كثير من الناس، وذلك كتحقيق الحديث ومعرفة متونه من صحيح وحسن وضعيف متصلًا كان أو منقطعًا أو مرسلًا، ومن مشهور وغريب ومتواتر وآحاد وغير ذلك، كالناسخ والمنسوخ والخاص والعام والمجمل والمبين، فضلًا عن هذا فهو مضطر إلى بيان الأمر في الحديث هل هو للوجوب أو للندب أو للإباحة، وبيان النهي هل هو للتحريم أو للكراهة، وما طريق ذلك البيان. وهذه أشق أنواع التأليف وأبعدها مدى في الحديث، ولكنه سهل على من يسره الله عليه. لهذا توقفت كثيرًا فقال لي أحد كبار العلماء: يا أستاذ لا يمكن لأي شخص تدريس البخاري وحده بدون شرح فما بالك بالأصول الخمسة. وقال لي عالم فاضل: كتابك بغير شرح لا ينتفع به إلا الخواص، فإذا شرحته انتفع به الخاص والعام. فاقتنعت بضرورة الشرح ولكني لا زلت وجلًا من تلك الصعوبات السالفة، وطالما تمنيت أن يقوم بالشرح رجل من أهل العلم فما تيسر لي ذلكَ. فتضرعت إلى الله تعالى أن يشرح لي صدري وأن ييسر لي أمري وأن يوفقني للصواب وأن يرشدني للمراد وأن يتفضل عليّ بروح من عنده كما تفضل عليّ بالأصل إنه واسع الفضل والعطاء آمين.

 

‌‌(1) بدأته بالبسملة والحمدلة كما فعل ربي في كتابه. وفي الحديث: "تخلقوا بأخلاق الله تعالى ".

‌‌(2) الإضافة للبيان.

‌‌(3) قال تعالى: {وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعَالَمِينَ} [الأنبياء: 107].

‌‌(4) قال تعالى: {هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ} [الجمعة: 2].

‌‌(5) هو القرآن. قال تعالى: {ذَلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ فِيهِ هُدًى لِلْمُتَّقِينَ} [البقرة: 2].

‌‌(6) قال تعالى: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكُمْ نُورًا مُبِينًا} [النساء: 174].
‌‌গ্রন্থের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।‌‌(১)

হে আল্লাহ, তাওফীক লাভের নিয়ামতের জন্য আমরা আপনার প্রশংসা করি‌‌(২) এবং হে আল্লাহ, আপনার নিকট সরলতম পথের হিদায়েত প্রার্থনা করি। আমরা দরুদ ও সালাম পেশ করি আপনার নবী ও রাসূল আমাদের সরদার মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি, যাকে আপনি মানুষের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছেন‌‌(৩) এবং যাকে হিদায়েত ও হিকমতের সাথে বাকশক্তি দান করেছেন‌‌(৪) এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের প্রতি, যারা তাঁর হিদায়েতকে সংরক্ষণ করেছেন‌‌(৫) ও তা পৌঁছে দিয়েছেন এবং তাঁর নূর প্রত্যক্ষ করেছেন‌‌(৬) ও তা অনুসরণ করেছেন।

--------------------------------------------

ব্যাখ্যা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আমাদের সরদার মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। হে আল্লাহ, আমাদের সরদার মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ, সাহাবীগণ ও অনুসারীদের ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন।

অতঃপর: যখন আল্লাহ আমার প্রতি অনুগ্রহ করলেন এবং আমি "আত-তাজ আল-জামি লিল-উসুল" গ্রন্থটি রচনা করলাম, তখন আমি এটি প্রাজ্ঞ আলেম সমাজ এবং ওয়াকফ মন্ত্রণালয়ের নিকট পেশ করলাম। তাঁরা এটি পছন্দ করলেন এবং এর প্রশংসা করলেন। কিন্তু তাঁরা এর পূর্ণ উপকারিতা লাভের জন্য এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শারহ) রচনার পরামর্শ দিলেন। আমি ইতস্তত করলাম এবং একদিকে আমার দৃষ্টিশক্তির দুর্বলতা এবং অন্যদিকে ব্যাখ্যা প্রদানের কাঠিন্যের কারণে অক্ষমতা প্রকাশ করলাম। কেননা হাদিসের ব্যাখ্যাকারীকে এমন সব কঠিন বিষয়ের সম্মুখীন হতে হয় যা অনেক মানুষ জানে না। যেমন— হাদিসের তাহকীক এবং সহীহ, হাসান, যয়ীফ, মুত্তাসিল, মুনকাতি‘, মুরসাল, মাশহুর, গারীব, মুতাওয়াতির ও আহাদ ইত্যাদি ভেদে হাদিসের মতন (পাঠ) সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা। এছাড়া নাসেখ-মানসুখ, খাস-আম এবং মুজমাল-মুবাইয়্যান সংক্রান্ত জ্ঞান তো আছেই। এর পাশাপাশি তিনি হাদিসের নির্দেশটি কি ওয়াজিব নাকি মানদুব (মুস্তাহাব) নাকি মুবাহ—তা বর্ণনা করতে এবং নিষেধটি কি হারাম নাকি মাকরূহ—তা স্পষ্ট করতে বাধ্য হন; এবং এই বর্ণনার পদ্ধতি কী হবে তাও নির্ধারণ করতে হয়। এটি গ্রন্থ রচনার সবচেয়ে কষ্টসাধ্য প্রকার এবং হাদিস শাস্ত্রের সবচেয়ে সুদূরপ্রসারী কাজ। তবে আল্লাহ যার জন্য সহজ করে দেন, তার জন্য তা সহজ। এ কারণে আমি অনেক দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম। তখন একজন বিশিষ্ট আলেম আমাকে বললেন: "হে উস্তাদ! কোনো ব্যক্তির পক্ষেই ব্যাখ্যাগ্রন্থ ব্যতীত শুধু বুখারী পড়ানো সম্ভব নয়, সেখানে পাঁচটি মূল গ্রন্থের (উসুল) ক্ষেত্রে কী অবস্থা হবে?" আরেকজন মহৎ আলেম আমাকে বললেন: "আপনার গ্রন্থটি ব্যাখ্যা ব্যতীত শুধু বিশিষ্ট ব্যক্তিরাই উপকৃত হতে পারবেন, আর আপনি যদি এর ব্যাখ্যা লেখেন তবে বিশিষ্ট ও সাধারণ—উভয়ই উপকৃত হবে।" ফলে আমি ব্যাখ্যাগ্রন্থের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলাম, কিন্তু পূর্বোক্ত কঠিন বিষয়গুলোর কারণে তখনও ভীত ছিলাম। আমি দীর্ঘকাল আকাঙ্ক্ষা করতাম যদি কোনো আলেম এই ব্যাখ্যার কাজটি সম্পন্ন করতেন, কিন্তু তা আমার জন্য সহজ হয়ে ওঠেনি। অতঃপর আমি মহান আল্লাহর কাছে বিনয়াবনত প্রার্থনা করলাম তিনি যেন আমার বক্ষ উন্মোচিত করে দেন, আমার কাজ সহজ করে দেন, আমাকে সঠিক পথের তাওফীক দান করেন, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পথনির্দেশ করেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ দ্বারা আমাকে ধন্য করেন—যেভাবে তিনি মূল গ্রন্থটির ক্ষেত্রে অনুগ্রহ করেছেন। নিশ্চয়ই তিনি সুপ্রশস্ত অনুগ্রহ ও দানশীলতার অধিকারী। আমীন।

 

‌‌(১) আমি এটি বিসমিল্লাহ ও আলহামদুলিল্লাহ দ্বারা শুরু করেছি, যেমনটি আমার প্রতিপালক তাঁর কিতাবে করেছেন। আর হাদিসে আছে: "তোমরা আল্লাহর গুণাবলীতে গুণান্বিত হও।"

‌‌(২) এই সম্বন্ধটি বর্ণনামূলক বা স্পষ্টীকরণের জন্য।

‌‌(৩) আল্লাহ তাআলা বলেন: "আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।" [আল-আম্বিয়া: ১০৭]

‌‌(৪) আল্লাহ তাআলা বলেন: "তিনিই উম্মীদের মধ্যে তাদের মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন।" [আল-জুমুআ: ২]

‌‌(৫) তা হলো কুরআন। আল্লাহ তাআলা বলেন: "এটি সেই কিতাব যাতে কোনো সন্দেহ নেই, মুত্তাকীদের জন্য হিদায়েত।" [আল-বাকারা: ২]

‌‌(৬) আল্লাহ তাআলা বলেন: "আমি তোমাদের নিকট এক উজ্জ্বল নূর অবতীর্ণ করেছি।" [আন-নিসা: ১৭৪]
(খণ্ড: ১) আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৪)
أَمَّا بَعْدُ: فَإِنَّ عِلْمَ الْحَدِيثِ مِنْ أَجَلَّ الْعُلُومِ قَدْرًا وَأَعْظَمِهَا نَفْعًا، لأَنَّ مَوْضُوعَهُ سُنَنُ‌‌(1) الرَّسُولِ وَآثَارُهُ الْقَوْلِيَّةُ وَالْفِعْلِيَّةُ، وَفِى هذِهِ خَيْرُ النَّاسِ وَهِدَايَتُهُمْ‌‌(2) وَفَوْزُهُمْ وَسَعَادَتُهُمْ‌‌(3). فَالْمُشْتَغِلُ بِهِ‌‌(4) دَاعٍ يَدْعُو إِلَى الْحَقِّ وَسِرَاجٌ يَهْدِي إِلَى الرُّشْدِ حَتى قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: "نَضَّرَ الله امْرَأً سَمِعَ مِنَّا حَدِيثًا فَحَفِظَهُ حَتى يُبَلِّغَهُ"‌‌(5). وَقَالَ أَيْضًا: "مَنْ حَفِظَ عَلَى أُمَّتِي‌‌(6) أَرْبَعِيْنَ حَدِيثًا مِنْ أَمْرِ دِينِهَا بَعَثَهُ الله يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَقِيهًا عَالِمًا". وَفِي رِوَايَةٍ: "كُتِبَ فِي زمْرَةِ الْعُلَمَاءِ وَحُشِرَ في زُمْرَةِ الشُّهَدَاءِ"‌‌(7). (وَالْأُمُورُ بِمَقَاصِدِهَا)‌‌(8).

فَلِهذَا‌‌(9) وَلِمَا فَطَرَنِي الله عَلَيْهِ مِنْ حُبِّ الْحَدِيثِ وَالشَّغَفِ بِهِ‌‌(10) فَكَّرْتُ في جَمْعِ كِتَابٍ في الْحَدِيثِ، وَاستَشَرْتُ أَهْلَ الْعِلْمِ بِهِ، وَاسْتَخَرْتُ الله تَعَالَى فَلَاحَتْ لِي لَوَائِحُ التَّيْسيْرِ، وَاسْتَضَاءَتْ لِي مَصَابِيحُ التَّبْشِيْرِ، فَاعْتَمَدْتُ عَلَى رَبِّي وَأَجْمَعْتُ أَمْرَي‌‌(11)

--------------------------------------------

‌‌(1) جمع سنة وهي الطريقة المتبعة. وسنن الرسول صلى الله عليه وسلم أقواله وأفعاله وتقريراته ووصفه وسمته

وهديه التي كان متصفًا بها، فآثاره القولية والفعلية بيان للسنن.

‌‌(2) أي في دنياهم.

‌‌(3) في أخراهم.

‌‌(4) أي بالحديث يدعو الناس إلى الله تعالى وما أسعده بذلك، قال تعالى: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلًا مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحًا وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ} [فصلت: 33]. وقد دعا له النبي صلى الله عليه وسلم بالبهجة في الدنيا والبعث على أحسن حال.

‌‌(5) سيأتي في العلم بسند صحيح.

‌‌(6) أي نقل لها في مكتوب وإن لم يحفظ اللفظ والمعنى لحصول النفع به ولو درسها لجماعة من المسلمين لكان أفضل.

‌‌(7) هذا الحديث أورده إمام المحدثين النووي في خطبة كتابه الأربعين وقال: اتفق الحفاظ على أنه ضعيف وإن كثرت طرقه، ولكنهم اتفقوا على جواز العمل بالحديث الضعيف في فضائل الأعمال. كما اتفقوا على كتابته ودرسه.

‌‌(8) أي معتبرة بالمراد منها فكلما كان القصد ساميًا كان العمل الموصل إليه أسمى وأرفع؛ لأنَّه الوسيلة إليه ولا وجود له إلا به. والقصد من تأليف هذا الكتاب تقريب الشريعة إلى العباد حتى يتناولوها بسهولة، فيسعدوا في دنياهم وأخراهم، وهذا نهاية ما يمكن عمله من الكمال.

‌‌(9) لرفعة قدر الحديث وشرف المشتغل به.

‌‌(10) بالتحريك شدة التلهف عليه وعدم الشبع منه، وهذه حالي من نشأتي والحمد لله. فقد وفقني الله تعالى حفظ الأربعين النووية ومختصر البخاري قبل نيلي شهادة العالمية ببضع سنين.

‌‌(11) عزمت وصممت عليه. ومنه: {فَأَجْمِعُوا أَمْرَكُمْ} [يونس: 71] وسيأتي في الصوم "من لم يجمع الصيام قبل الفجر فلا صيام له".
অতঃপর: ইলমুল হাদিস বা হাদিস শাস্ত্র মর্যাদার দিক থেকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং উপকারের দিক থেকে সর্বাপেক্ষা মহান; কারণ এর আলোচ্য বিষয় হলো রাসূলুল্লাহর সুন্নাহ এবং তাঁর কথা ও কাজ সম্পর্কিত নিদর্শনসমূহ। আর এতেই নিহিত রয়েছে মানুষের কল্যাণ, তাদের হেদায়েত, বিজয় এবং পরম সৌভাগ্য। সুতরাং যে ব্যক্তি হাদিস শাস্ত্র নিয়ে ব্যস্ত থাকে, সে মূলত সত্যের দিকে আহ্বানকারী এবং এক উজ্জ্বল প্রদীপ যা সঠিক পথের দিশা দেয়। এমনকি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে সজীব ও উজ্জ্বল রাখুন, যে আমাদের থেকে কোনো হাদিস শুনল, অতঃপর তা মুখস্থ করল, যতক্ষণ না সে তা অন্যের কাছে পৌঁছে দেয়।" তিনি আরও বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার উম্মতের জন্য তাদের দ্বীনি বিষয় সম্পর্কিত চল্লিশটি হাদিস সংরক্ষণ করবে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে ফকিহ ও আলেম হিসেবে পুনরুত্থিত করবেন।" অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "তাকে আলেমদের দলভুক্ত হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হবে এবং শহীদদের দলভুক্ত হিসেবে হাশর করা হবে।" (আর সমস্ত বিষয় তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল)।

এই কারণে এবং আল্লাহ আমাকে হাদিসের প্রতি যে ভালোবাসা ও গভীর আসক্তির ওপর সৃষ্টি করেছেন, তার ফলে আমি হাদিসের একটি সংকলন তৈরি করার চিন্তা করি। আমি এ বিষয়ে বিজ্ঞজনদের পরামর্শ গ্রহণ করি এবং মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করি। অতঃপর আমার সামনে সহজীকরণের পথ উন্মোচিত হলো এবং সুসংবাদের আলো উদ্ভাসিত হলো। তাই আমি আমার রবের ওপর ভরসা করলাম এবং আমার কাজে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হলাম।

--------------------------------------------

‌‌(১) সুন্নাহর বহুবচন, যা হলো অনুসৃত পদ্ধতি। আর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ হলো তাঁর কথা, কাজ, মৌনসম্মতি, শারীরিক ও চারিত্রিক গুণাবলি এবং তাঁর জীবনপদ্ধতি যা তিনি ধারণ করতেন। সুতরাং তাঁর কথা ও কাজ সম্পর্কিত নিদর্শনসমূহ সুন্নাহরই বর্ণনা।

‌‌(২) অর্থাৎ, তাদের দুনিয়াবি জীবনে।

‌‌(৩) তাদের পরকালীন জীবনে।

‌‌(৪) অর্থাৎ, হাদিসের মাধ্যমে সে মানুষকে মহান আল্লাহর দিকে আহ্বান করে; আর এ কারণে সে কতই না সৌভাগ্যবান! আল্লাহ তাআলা বলেন: {সেই ব্যক্তির চেয়ে কার কথা উত্তম, যে আল্লাহর দিকে আহ্বান করে, নেক আমল করে এবং বলে যে আমি অবশ্যই মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত} [ফুসসিলাত: ৩৩]। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য দুনিয়াতে সজীবতা এবং কিয়ামতের দিন সর্বোত্তম অবস্থায় পুনরুত্থানের দোয়া করেছেন।

‌‌(৫) এটি সামনে 'ইলম' (জ্ঞান) অধ্যায়ে সহিহ সনদে আসবে।

‌‌(৬) অর্থাৎ, লিখিত আকারে তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া, যদিও শব্দ ও অর্থ মুখস্থ না থাকে, যেন এর দ্বারা উপকার অর্জিত হয়। আর যদি তা একদল মুসলিমকে পাঠদান করা হয়, তবে তা হবে অধিক উত্তম।

‌‌(৭) এই হাদিসটি মুহাদ্দিসদের ইমাম নববী তাঁর 'আরবাঈন' গ্রন্থের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: হাদিস বিশারদগণ একমত যে এটি দুর্বল, যদিও এর অনেকগুলো সূত্র রয়েছে। তবে তারা আমলের ফজিলতের ক্ষেত্রে দুর্বল হাদিসের ওপর আমল করার বৈধতার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। যেমন তারা এটি লিপিবদ্ধ করা ও পাঠদানের বিষয়েও একমত পোষণ করেছেন।

‌‌(৮) অর্থাৎ, আমলসমূহ তার উদ্দেশ্যের নিরিখে বিবেচিত হয়। সুতরাং উদ্দেশ্য যত মহৎ হবে, সেই উদ্দেশ্য হাসিল করার মাধ্যম বা আমলও তত মহৎ ও উচ্চতর হবে; কারণ এটিই সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথ এবং মাধ্যম ব্যতীত লক্ষ্যের অস্তিত্ব সম্ভব নয়। আর এই কিতাব সংকলনের উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর বান্দাদের নিকট শরিয়তকে সহজবোধ্য করা যেন তারা তা অনায়াসে গ্রহণ করতে পারে এবং দুনিয়া ও আখিরাতে সৌভাগ্যবান হতে পারে; আর এটিই কর্মের পূর্ণতার চূড়ান্ত সীমা।

‌‌(৯) হাদিসের সুউচ্চ মর্যাদা এবং এতে ব্যাপৃত ব্যক্তির সম্মানের কারণে।

‌‌(১০) এর অর্থ হলো হাদিসের প্রতি তীব্র ব্যাকুলতা এবং তা থেকে তৃপ্ত না হওয়া; আর শৈশব থেকেই এটি আমার অবস্থা, আলহামদুলিল্লাহ। কেননা আল্লাহ তাআলা আমাকে 'আলেমিয়া' ডিগ্রি লাভের কয়েক বছর পূর্বেই 'আরবাঈন নববী' ও 'মুখতাসার বুখারি' মুখস্থ করার তাওফিক দান করেছিলেন।

‌‌(১১) আমি সংকল্প ও দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করেছি। এ থেকেই পবিত্র কুরআনের আয়াত: {অতঃপর তোমরা তোমাদের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করো} [ইউনুস: ৭১]। রোজা অধ্যায়ে সামনে আসবে: "যে ব্যক্তি ফজরের আগে রোজার নিয়ত (সংকল্প) করবে না, তার রোজা হবে না।"
(খণ্ড: ১) আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৫)
وَشَرَعْتُ فِي تَأْلِيفِهِ عَلِى بَرَكَةِ اللهِ تَعَالَى، فَاسْتَحْضَرْتُ أَصَحَّ كُتُبِ الْحَدِيثِ وَأَعْلَاهَا سَنَدًا‌‌(1) وَهِيَ:

صَحِيْحُ الْبُخَارِيِّ‌‌(2)، وَصَحِيْحُ مُسْلِمٍ‌‌(3)، وَسُنَنُ أَبِي دَاوُدَ‌‌(4)، وَجَامِعُ التِّرْمِذِيِّ‌‌(5)،

--------------------------------------------

‌‌(1) أقصرها في السند. وكان المحدثون يرون لقصر السند منزلة عظيمة. حتى إن الشيخين أخذا كثيرًا من الأحاديث عن أحمد عن الشافعي (ولكنهما) لم يرويا من هذا السند لوجود أسانيد أقصر منه. وأما أصحاب السنن فقد رووا من هذا السند كثيرًا، رضي الله عنهم.

‌‌(2) هو أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن المغيرة الجعفي البخاري ولد ببخارى سنة 194 هـ أربع وتسعين ومائة. وتوفى سنة 256 هـ ست وخمسين ومائتين. ولم يعقب ولدًا ذكرًا وقال: خرّجت كتابي هذا من زهاء (قدر) ستمائة ألف حديث. ما وضعت فيه حديثًا إلا وصليت ركعتين. وصنفه في ست عشرة سنة وسمعه منه تسعون ألف رجل. وعدد أحاديثه بدون المكرر أربعة آلاف حديث كما قاله النووي. وقال الحافظ: عدد ما فيه بدود المكرر والموقوف والمعلق 2760 ستون وسبعمائة وألفان فقط.

‌‌(3) هو أبو الحسين مسلم بن الحجاج بن مسلم القشيري النيسابوري. ولد سنة 204 هـ أربع ومائتين وتوفى سنة 261 هـ إحدى وستين ومائتين. وقال رحمه الله: صنفت كتابي هذا من ثلاثمائة ألف حديث مسموعة. ولو اجتمع أهل الحديث وكتبوا فيه مائتي سنة فمدارهم على هذا المسند وعدد ما فيه أربعة آلاف حديث. وفضله بعضهم على البخاري. فقد قال الحافظ النيسابوري شيخ الحاكم: ما تحت أديم السماء أصح من كتاب مسلم. ووافقه بعض علماء المغرب. وهذا مسلّم بالنسبة إلى قلة تكراره وحسن وضعه، فإنه يستوفي الوارد في الموضوع ثم لا يعود له بعد ذلك بخلاف البخاري. ولكن جمهور الحفاظ وأهل الإتقان والغوص في أسرار الحديث على أن البخاري أفضل، فإنه أصح وأدق وأوسع في صناعة الحديث، وكان مسلم إذا دخل عليه قبّل يده وقال له: يا طبيب الحديث. وكان الترمذي يسأله عن أحاديث مرة بعد أخرى، رضي الله عنهم.

‌‌(4) هو سليمان بن الأشعث بن إسحاق السجستاني. ولد سنة 202 هـ اثنتين ومائتين وتوفي بالبصرة سنة 275 هـ خمس وسبعين ومائتين. قال رضي الله عنه: كتبت عن رسول الله صلى الله عليه وسلم خمسمائة ألف حديث، فانتخبت منها أريعة آلاف وثمانمائة ضمنتها هذا الكتاب، ذكرت فيه الصحيح وما يشبهه ويقاربه، وهو كتاب لا تَرِد عليك سنة عن النبي صلى الله عليه وسلم إلا وهي فيه ولا أعلم شيئًا بعد القرآن ألزم للناس أن يتعلموه من هذا الكتاب. ولا يضر رجلًا ألا يكتب من العلم شيئًا إلا هذا الكتاب.

‌‌(5) هو أبو عيسى محمد بن سورة الترمذي. ولد سنة 200 هـ مائتين، بترمذ وتوفي بها سنة 279 هـ تسع وسبعين ومائتين وكان حافظًا متقنًا بارعًا في صناعة الحديث، وفي كتابه فوق خمسة آلاف حديث.
এবং আমি আল্লাহ তাআলার বরকতের ওপর ভরসা করে এটি সংকলন করতে শুরু করলাম। অতঃপর আমি হাদিসের বিশুদ্ধতম এবং উচ্চতর সনদসম্পন্ন গ্রন্থসমূহ সংগ্রহ করলাম‌‌(১) আর সেগুলো হলো:

সহিহুল বুখারি‌‌(২), সহিহ মুসলিম‌‌(৩), সুনানু আবি দাউদ‌‌(৪), এবং জামিউত তিরমিজি‌‌(৫),

--------------------------------------------

‌‌(১) এর দ্বারা সনদের সংক্ষিপ্ততা উদ্দেশ্য। মুহাদ্দিসগণ সনদের সংক্ষিপ্ততাকে অত্যন্ত উচ্চ মর্যাদাপূর্ণ মনে করতেন। এমনকি শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) ইমাম আহমদ থেকে তিনি ইমাম শাফেয়ি থেকে—এই সূত্রে অনেক হাদিস গ্রহণ করেছেন, কিন্তু (তাঁরা উভয়ে) এই সনদটি বর্ণনা করেননি কারণ এর চেয়েও সংক্ষিপ্ততর সনদ বিদ্যমান ছিল। পক্ষান্তরে সুনান গ্রন্থকারগণ এই সনদ থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

‌‌(২) তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল ইবনে মুগিরা আল-জু’ফি আল-বুখারি। তিনি ১৯৪ হিজরিতে বুখারায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৫৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি কোনো পুত্রসন্তান রেখে যাননি। তিনি বলেছেন: আমি প্রায় ছয় লক্ষ হাদিস থেকে আমার এই কিতাবটি সংকলন করেছি। আমি এতে এমন কোনো হাদিস যুক্ত করিনি যার আগে আমি দুই রাকাত নামাজ আদায় করিনি। তিনি এটি ষোলো বছরে রচনা করেছেন এবং নব্বই হাজার লোক তাঁর থেকে এটি শুনেছেন। ইমাম নববির মতে পুনরাবৃত্তি ছাড়া এর হাদিস সংখ্যা চার হাজার। হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেছেন: পুনরাবৃত্তি, মাওকুফ ও মুয়াল্লাক বর্ণনা বাদে এর হাদিস সংখ্যা মাত্র ২৭৬০টি।

‌‌(৩) তিনি হলেন আবুল হুসাইন মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ ইবনে মুসলিম আল-কুশাইরি আন-নিশাবুরি। তিনি ২০৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৬১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: আমি আমার এই কিতাবটি তিন লক্ষ শ্রুত হাদিস থেকে সংকলন করেছি। যদি মুহাদ্দিসগণ একত্রিত হয়ে দুইশ বছর ধরে হাদিস লিখেন, তবে তাঁদের মূল ভিত্তি হবে এই মুসনাদটি। এতে চার হাজার হাদিস রয়েছে। কেউ কেউ এটিকে বুখারির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। হাকেমের উস্তাদ হাফেজ নিশাবুরি বলেছেন: আসমানের নিচে মুসলিমের কিতাবের চেয়ে সহিহ আর কোনো কিতাব নেই। মাগরিবের (মরক্কো ও তিউনিসিয়া অঞ্চল) কিছু আলেমও তাঁর সাথে একমত হয়েছেন। পুনরাবৃত্তির স্বল্পতা এবং চমৎকার বিন্যাসের দিক থেকে এটি স্বীকৃত, কারণ তিনি একটি বিষয়ের হাদিসগুলো একস্থানে পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেন এবং পরে আর পুনরাবৃত্তি করেন না, যা বুখারির পদ্ধতির বিপরীত। কিন্তু জমহুর হাফেজ, বিশেষজ্ঞ এবং হাদিসের নিগূঢ় রহস্যভেদীদের মতে বুখারিই শ্রেষ্ঠ, কারণ এটি অধিক বিশুদ্ধ, সূক্ষ্ম এবং হাদিসশাস্ত্রে অধিক বিস্তৃত। মুসলিম যখন তাঁর (বুখারি) কাছে আসতেন, তখন তাঁর হাতে চুমু খেতেন এবং বলতেন: হে হাদিসের চিকিৎসক। তিরমিজি বারবার তাঁর কাছে বিভিন্ন হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

‌‌(৪) তিনি হলেন সুলায়মান ইবনে আশ’আস ইবনে ইসহাক আস-সিজিস্তানি। তিনি ২০২ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৭৫ হিজরিতে বসরায় মৃত্যুবরণ করেন। তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে পাঁচ লক্ষ হাদিস লিখেছি, সেখান থেকে আমি চার হাজার আটশ হাদিস নির্বাচন করে এই কিতাবে অন্তর্ভুক্ত করেছি। এতে আমি সহিহ এবং তার সদৃশ ও কাছাকাছি পর্যায়ের হাদিস উল্লেখ করেছি। এটি এমন এক কিতাব যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সুন্নাহ বাদ পড়েনি। আর আমি কোরআনের পরে মানুষের জন্য এই কিতাবটি শেখার চেয়ে অধিক জরুরি আর কিছু জানি না। কোনো ব্যক্তির জন্য এই কিতাব ছাড়া অন্য কোনো জ্ঞান না লেখাতেও কোনো ক্ষতি নেই।

‌‌(৫) তিনি হলেন আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে সুরাহ আত-তিরমিজি। তিনি ২০০ হিজরিতে তিরমিজে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই ২৭৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন একজন প্রাজ্ঞ হাফেজ এবং হাদিসশাস্ত্রে অত্যন্ত দক্ষ। তাঁর কিতাবে পাঁচ হাজারের অধিক হাদিস রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৬)
وَالْمُجْتَبَى لِلنَّسَائِيِّ‌‌(1) رضي الله عنهم. وَهذِهِ هِيَ الأُصُولُ الْخَمْسَةُ الَّتِي اشْتَهَرَتْ فِي الأُمَّةِ وَارْتَضَتْهَا

لِمَا لَهَا مِنَ الْمَكَانَةِ الْعُلْيَا فِي الْحَدِيثِ‌‌(2) وَلِأنَّهَا جَمَعَتْ مِنَ الشَّرِيعَةِ مَا عَزَّ وَغَلَا ثَمَنُهُ

--------------------------------------------

‌‌(1) هو أبو عبد الرحمن أحمد بن شعيب بن علي بن بحر النَّسَائِيّ كان ورعًا تقيًا حافظًا، وكتابه أكثر الكتب تكرارًا، حتى إنني أذكر له في الصوم أنه كرر حديث النية ست عشرة مرة. ولد سنة 215 خمس عشرة ومائتين. ومات بمكة سنة 303 هـ ثلاث وثلاثمائة. وبلده الأصلي نسا، ومسلم من نيسابور وكلاهما بإقليم خراسان، والبخاري من بخارى، والترمذي من ترمذ وكلاهما بإقليم ما وراء النهر. وأبو داود من سجستان بإقليم السند. وهذه أقاليم أعجمية فارسية شرق الخليج الفارسي، إلا أن السند بإزاء المدينة نصًا، وخراسان وما وراء النهر مائلان إلى الشمال، كما في خريطة الممالك الإسلامية للمرحوم أمين بك واصف، فليس فيهم عربي ولا من جزيرة العرب إلا الإمام مسلمًا، فإنه قشيري، من أحد قبائل العرب. ولكن الله ألان لهم علم الحديث كما ألان الحديد لداود عليه السلام، وهؤلاء الأئمة كانوا يتعبّدون على مذهب الشافعي رضي الله عنه، إلا البخاري فلم يعلم مذهبه. وقد اشتركوا في أخذ العلم عن شيوخ معلومة، فإنهم كانوا في عصر واحد وهو القرن الثالث الذي ظهرت فيه شمس الحديث وبسطت أنوارها على الأرض بمن فيها. ولكن مسلمًا والترمذي كانا كثيري الاجتماع بالبخاري رضي الله عنهم.

‌‌(2) التي فاقت كل كتاب ظهر إلى الآن في علم الحديث. فإن البخاري ومسلمًا التزما ألا يرويا حديثًا إلا إذا كان متصل السند بنقل الثقة عن الثقة، من أوله إلى منتهاه سالمًا من الشذوذ والعلة. وهذا حد الصحيح عند العلماء بلا خلاف، إلا أن مسلمًا اكتفى في الراوي والمروي عنه أن يكونا في عصر واحد وإن لم يجتمعا، بخلاف البخاري فإنه اشترط اجتماعهما زيادة احتياط. قال ابن الصلاح رحمه الله: كل ما حكم مسلم بصحته في كتابه فهو مقطوع بصحته، والعلم النظري حاصل بصحته في نفس الأمر، وكذا ما حكم البخاري بصحته في كتابه؛ لأن الأمة تلقت ذلك بالقبول إلا من لا يعتد به. وقال إمام الحرمين: لو حلف إنسان بطلاق امرأته أن كل ما في البخاري ومسلم صحيح لما ألزمته الطلاق، لإجماع المسلمين على صحتها، وما قيل في بعض أحاديثهما إنه لم يصل إلى درجة الصحيح فهو من اختلاف نظر النقاد في الرواة. وحسبنا اتفاق العلماء على أنهما أصح الكتب بعد كتاب الله تعالى، وكذا المجتبى للنسائي كله صحيح، فإنه لما ألف السنن الكبرى وقدمها لأمير الرملة قال له: يا أبا عبد الرحمن أكلّ ما فيها صحيح؟ فقال: فيها الصحيح وغيره. فقال الأمير: جرّد لنا الصحيح، فجمع الصحيح في كتاب وأسماه المجتبى فهو هذا الذي بأيدينا. وأما أبو داود رحمه الله فقد قال: ما وضعت في كتابي حديثًا أجمع الناس على تركه، وما فيه من وهن شديد بينته، وما لم أذكر فيه شيئًا فهو صالح، وبعضها أصح من بعض. قال الحافظ ابن حجر: لفظ صالح في كلامه أعم من أن يكون للاحتجاج أو للاعتبار، فما أرتقى إلى الحسن ثم إلى الصحة فهو بالمعنى الأول وما عداهما فهو بالمعنى الثاني. وما قصر عن ذلك فهو ما فيه وهن شديد ا هـ. فعلى هذا كل حديث سكت عنه أبو داود فهو صالح، وسأتبع ذلك في بيان درجة ما رواه بقولي بسند صالح. قال الخطابي رحمه الله: لم يصنف في علم الدين مثل السنن لأبي داود، وقد رزق القبول من كافة الناس على اختلاف مذاهبهم، وكفاه أن الأمة لم تجمع على ترك حديث واحد فيه. وأما الترمذي رحمه الله فقد قال في آخر كتابه: جميع ما في هذا الكتاب فهو معمول به وقد أخذ به بعض أهل العلم إلا حديثين أحدهما: جمع النبي صلى الله عليه وسلم الظهر والعصر والمغرب والعشاء بالمدينة من غير خوف ولا مطر. وثانيهما: إذا شرب العبد الخمر فاجلدوه فإن عاد في الرابعة فاقتلوه اهـ. ولكنه رضي الله عنه سها في الأول فقد أخذ به بعض المحدثين والفقهاء كما سيأتي في عذر الصلاة. وأما الثاني فمصيب فيه لأنَّه لم يقل به أحد من الأمة. والترمذي رحمه الله لم يترك بعده لأحد قولًا، فقد أبان عن درجة كل حديث بعد إخراجه بل وزاد على هذا أنه ذكر رواته عن النبي صلى الله عليه وسلم كما ذكر من أخذ به من الصحب والتابعين والفقهاء، ففيه ضروب من العلم وأنواع من نفائسه وتحقيق من صناعة الحديث التي لم توجد في غيره من كتب القوم. وهو أقل الكتب تكرارًا كمسلم وأبي داود وفيه قسط عظيم من التفسير والأخلاق والسمعيات كالشيخين، بخلاف النَّسَائِيّ فليس فيه شيء من ذلك. قال الترمذي رحمه الله: عرضت هذا الكتاب على علماء الحجاز والعراق وخراسان فرضوا به واستحسنوه، ومن كان كتابي في بيته فكأنّما في بيته نبي يتكلم.
এবং নাসাঈর আল-মুজতাবা‌‌(১) তাঁদের সবার ওপর আল্লাহ সন্তুষ্ট হোন। এগুলোই হলো সেই পাঁচটি মূল গ্রন্থ যা উম্মতের মধ্যে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং উম্মত এগুলোকে পছন্দ করে নিয়েছে

কারণ হাদীস শাস্ত্রে এগুলোর সুউচ্চ মর্যাদা রয়েছে‌‌(২) এবং এগুলো শরীয়তের এমন দুর্লভ ও মহামূল্যবান বিষয়সমূহ সংগ্রহ করেছে যা অত্যন্ত বিরল ও দামী।

--------------------------------------------

‌‌(১) তিনি হলেন আবু আবদুর রহমান আহমাদ ইবনে শুআইব ইবনে আলী ইবনে বাহর আন-নাসাঈ। তিনি ছিলেন পরহেজগার, মুত্তাকী ও হাফেজে হাদীস। তাঁর কিতাবে পুনরাবৃত্তি সবচেয়ে বেশি, এমনকি রোজা অধ্যায়ে আমার স্মরণে আছে যে তিনি নিয়তের হাদীসটি ষোলবার পুনরাবৃত্তি করেছেন। তিনি ২১৫ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৩০৩ হিজরিতে মক্কায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর আদি শহর নাসা। ইমাম মুসলিম নিশাপুরের বাসিন্দা এবং উভয়ই খোরাসান অঞ্চলের; বুখারী বুখারার বাসিন্দা; তিরমিযী তিরমিযের বাসিন্দা এবং উভয়ই মা-ওয়ারাউন নাহর অঞ্চলের। আবু দাউদ সিন্ধু অঞ্চলের সিজিস্তানের বাসিন্দা। এগুলো পারস্য উপসাগরের পূর্বদিকের অনারব পারসিক অঞ্চল। তবে সিন্ধু অঞ্চলটি সুনির্দিষ্টভাবে মদীনার সমান্তরালে অবস্থিত। মরহুম আমীন বেগ ওয়াাসিফ-এর ইসলামী দেশগুলোর মানচিত্র অনুযায়ী খোরাসান ও মা-ওয়ারাউন নাহর অঞ্চল উত্তর দিকে হেলে আছে। তাই ইমাম মুসলিম ব্যতীত তাঁদের মধ্যে কেউই আরব বা আরব উপদ্বীপের বাসিন্দা ছিলেন না; ইমাম মুসলিম ছিলেন কুশাইরী, যা আরবের একটি অন্যতম গোত্র। কিন্তু আল্লাহ তাঁদের জন্য হাদীস শাস্ত্রের জ্ঞানকে তেমন সহজ করে দিয়েছিলেন যেমন দাউদ আলাইহিস সালামের জন্য লোহাকে নরম করে দিয়েছিলেন। এই ইমামগণ ইমাম শাফেঈ রহ.-এর মাযহাব অনুযায়ী ইবাদত করতেন, কেবল বুখারীর মাযহাব জানা যায়নি। তাঁরা সুপরিচিত শায়খদের থেকে জ্ঞান অর্জনে অংশীদার ছিলেন, কারণ তাঁরা একই যুগের ছিলেন যা ছিল তৃতীয় শতাব্দী, যখন হাদীসের সূর্য উদিত হয়েছিল এবং পৃথিবীতে তার আলো ছড়িয়ে দিয়েছিল। তবে মুসলিম ও তিরমিযী প্রায়ই ইমাম বুখারী রহ.-এর সাথে সাক্ষাৎ ও বৈঠক করতেন।

‌‌(২) যা হাদীস শাস্ত্রে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত সকল কিতাবকে ছাড়িয়ে গেছে। কেননা বুখারী ও মুসলিম প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন যে, তাঁরা কেবল এমন হাদীস বর্ণনা করবেন যার সনদ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিশ্বস্ত বর্ণনাকারী থেকে বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীর মাধ্যমে অবিচ্ছিন্নভাবে যুক্ত, এবং যা শায (অস্বাভাবিকতা) ও ইল্লত (ত্রুটি) থেকে মুক্ত। আলেমদের নিকট কোনো মতভেদ ছাড়াই এটিই সহীহ হাদীসের সংজ্ঞা। তবে ইমাম মুসলিম বর্ণনাকারী এবং যার থেকে বর্ণনা করা হয়েছে তাদের মধ্যে কেবল সমসাময়িক হওয়াকেই যথেষ্ট মনে করেছেন যদিও তাঁদের সাক্ষাৎ না হয়, পক্ষান্তরে ইমাম বুখারী অতিরিক্ত সতর্কতা হিসেবে তাঁদের মধ্যে সাক্ষাতের শর্তারোপ করেছেন। ইবনে আস-সালাহ রহ. বলেন: ইমাম মুসলিম তাঁর কিতাবে যা কিছু সহীহ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন তা নিশ্চিতভাবেই সহীহ, এবং বাস্তবিকভাবেই তা সহীহ হওয়ার তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জিত হয়। অনুরূপভাবে ইমাম বুখারী তাঁর কিতাবে যা সহীহ হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন তাও; কারণ উম্মত এগুলোকে কবুল করে নিয়েছে, কেবল তাদের কথা ধর্তব্য নয় যারা এর বিরোধিতা করে। ইমামুল হারামাইন বলেন: কোনো ব্যক্তি যদি তার স্ত্রীর তালাকের ওপর শপথ করে বলে যে বুখারী ও মুসলিমের সবকিছু সহীহ, তবে আমি তার তালাক কার্যকর হবে না বলে রায় দেব, কারণ এগুলোর বিশুদ্ধতার ওপর মুসলিমদের ইজমা (ঐকমত্য) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। আর তাঁদের কোনো কোনো হাদীসের ব্যাপারে যে বলা হয় সেগুলো সহীহ-এর স্তরে পৌঁছেনি, তা মূলত বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে সমালোচকদের দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতার কারণে। আমাদের জন্য আল্লাহর কিতাবের পর এই দুটি কিতাব সবচেয়ে বিশুদ্ধ—এই মর্মে আলেমদের ঐকমত্যই যথেষ্ট। অনুরূপভাবে নাসাঈর আল-মুজতাবাও পুরোটাই সহীহ। কারণ তিনি যখন সুনানুল কুবরা রচনা করে রামলার আমিরের কাছে পেশ করেন, তখন আমির তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: হে আবু আবদুর রহমান, এর ভেতর কি সবকিছু সহীহ? তিনি বললেন: এতে সহীহ এবং অন্যান্যও আছে। আমির বললেন: আমাদের জন্য কেবল সহীহ হাদীসগুলো পৃথক করে দিন। তখন তিনি সহীহ হাদীসগুলো একটি কিতাবে জমা করেন এবং এর নাম দেন আল-মুজতাবা; আর এটিই এখন আমাদের হাতে রয়েছে। আর আবু দাউদ রহ. বলেছেন: আমি আমার কিতাবে এমন কোনো হাদীস অন্তর্ভুক্ত করিনি যা বর্জন করার ব্যাপারে মানুষ একমত হয়েছে। এতে যে তীব্র দুর্বলতা (ওহনে শাদীদ) রয়েছে তা আমি স্পষ্ট করে দিয়েছি, আর যেটির ব্যাপারে আমি কিছুই বলিনি সেটি 'সালিহ' (যোগ্য), এবং এর কোনোটি কোনোটির চেয়ে অধিক সহীহ। হাফেজ ইবনে হাজার রহ. বলেন: তাঁর পরিভাষায় 'সালিহ' শব্দটি ব্যাপক, যা দলিল হিসেবে গ্রহণের (ইতিজাজ) অথবা সমর্থক হিসেবে গ্রহণের (ইতিবার)—উভয় অর্থই প্রকাশ করে। সুতরাং যা 'হাসান' এবং তারপর 'সহীহ' স্তরে উন্নীত হয় তা প্রথম অর্থের অন্তর্ভুক্ত, আর বাকিগুলো দ্বিতীয় অর্থের অন্তর্ভুক্ত। আর এর নিচের স্তরের হাদীসগুলোই হলো তীব্র দুর্বলতাপূর্ণ। এই ভিত্তিতে আবু দাউদ যে হাদীসের ব্যাপারে নীরব থেকেছেন তা 'সালিহ', আর আমি হাদীসের মান বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করে বলব 'সালিহ সনদে বর্ণিত'। খাত্তাবী রহ. বলেন: দ্বীনী ইলমের ক্ষেত্রে আবু দাউদের 'সুনান'-এর মতো কোনো কিতাব রচিত হয়নি। বিভিন্ন মাযহাবের সকল মানুষের কাছে এটি গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। তাঁর জন্য এটাই যথেষ্ট যে, উম্মত এর একটি হাদীসকেও বর্জন করার ওপর একমত হয়নি। আর ইমাম তিরমিযী রহ. তাঁর কিতাবের শেষে বলেছেন: এই কিতাবে যা কিছু আছে তার ওপর আমল করা হয় এবং আলেমদের কেউ কেউ তা গ্রহণ করেছেন, কেবল দুটি হাদীস ছাড়া। এক: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় কোনো ভয় বা বৃষ্টি ছাড়াই যোহর ও আসর এবং মাগরিব ও এশা একত্রে পড়েছেন। দুই: যদি কোনো দাস মদ পান করে তবে তাকে বেত্রাঘাত করো, চতুর্থবার পান করলে তাকে হত্যা করো। কিন্তু তিনি প্রথমটির ব্যাপারে ভুল করেছেন, কারণ কিছু মুহাদ্দিস ও ফকীহ এটি গ্রহণ করেছেন, যা নামাযের ওজরের অধ্যায়ে সামনে আসবে। আর দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে তিনি সঠিক বলেছেন কারণ উম্মতের কেউ এটি গ্রহণ করেননি। তিরমিযী রহ. তাঁর পরে আর কারো জন্য কোনো কথা অবশিষ্ট রাখেননি, তিনি হাদীসটি বর্ণনা করার পরপরই সেটির মান স্পষ্ট করেছেন, এমনকি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এর বর্ণনাকারীদের কথা এবং সাহাবী, তাবেঈ ও ফকীহদের মধ্যে কারা এটি গ্রহণ করেছেন তাও উল্লেখ করেছেন। এতে বিভিন্ন প্রকারের ইলম এবং মূল্যবান সূক্ষ্ম বিষয়াদি রয়েছে এবং হাদীস বিজ্ঞানের এমন বিশ্লেষণ রয়েছে যা অন্যদের কিতাবে পাওয়া যায় না। মুসলিম ও আবু দাউদের মতো এটিও খুব কম পুনরাবৃত্তি বিশিষ্ট কিতাব। এতে শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম)-এর মতো তাফসীর, আখলাক এবং সামইয়াত (পরকাল সংক্রান্ত বিষয়) এর বিশাল অংশ রয়েছে, যা নাসাঈর কিতাবে নেই। তিরমিযী রহ. বলেন: আমি এই কিতাবটি হিজায, ইরাক ও খোরাসানের আলেমদের সামনে পেশ করেছি, তাঁরা এতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং এর প্রশংসা করেছেন। যার ঘরে এই কিতাবটি রয়েছে, তার ঘরে যেন স্বয়ং নবী কথা বলছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৭)
بَلْ هِيَ الشَّرِيعَةُ كُلُّهَا‌‌(1) كَمَا قَالَ الإِمَامُ النَّوَوِيُّ رضي الله عنه: مَا شَذَّ عَنِ الأُصُولِ الْخَمْسَةِ مِنْ صَحِيْحِ حَدِيثِ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم إِلَّا النَّزْرُ الْيَسيْرُ‌‌(2) وَلَا شَكَّ أَنَّ فِيهَا حَاجَةُ الإِنْسَانِ لِسَعَادَة الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ‌‌(3).

--------------------------------------------

‌‌(1) أي ففيها أحكام حاجة الناس للدنيا والآخرة.

‌‌(2) ليس المراد أنها جمعت كل أحاديث النبي صلى الله عليه وسلم فإن هذا لم يقله أحد فضلًا عن إمام المحدثين النووي، بل المراد أنه ما من موضوع للدنيا والآخرة إلا وحكمه فيها سوى بضعة مواضع، منه ما يأتي في عد التراويح عشرين ركعة، فإني ما وجدته في الأصول ولكني وجدته في موطأ مالك رضي الله عنه فوضعته في التاج تكميلًا للموضوع، ومنه ما يأتي في فضل الحرمين فإني ما وجدت في الأصول شيئًا من زيارة قبر النبي صلى الله عليه وسلم إلا حديثًا في أبي داود لا يشفي، فبحثت ونقبت حتى عثرت على بضعة أحاديث في الشفا للقاضي عياض رحمه الله فوضعتها في التاج، وكأني ملكت الدنيا وما فيها، ومنه ما يأتي في كتاب النكاح فإني لم أعثر في الأصول على عيوب النكاح التي توجب الفسخ، وكذا لم أعثر على حكم غيبة الزوج. وبعد البحث وجدتها في موطأ مالك فاثبتها تكميلًا للكتاب.

‌‌(3) يؤيد هذا ما سبق عن كل إمام من أنه انتقى كتابه من بضع مائة ألف حديث، فقد رأى كل منهم أن في كتابه كفاية لأمر الدنيا والآخرة وإلا زاد، ولا سيما مسلم في قوله: لو اجتمع أهل الحديث وكتبوا فيه مائتي سنة فمدارهم على هذا المسند. وكذا قول أبي داود: لا ترد عليك سنة عن النبي صلى الله عليه وسلم إلا وهي فيه فما بالك باجتماع الأصول الخمسة.
বরং এটিই পূর্ণাঙ্গ শরীয়ত‌‌(১) যেমন ইমাম নববী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহীহ হাদীসের মধ্য থেকে অতি সামান্য পরিমাণ ব্যতীত কোনো কিছুই এই পাঁচটি মূল গ্রন্থ (উসুলুল খামসাহ) থেকে বাদ পড়েনি‌‌(২) এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইহকালীন ও পরকালীন সৌভাগ্যের জন্য মানুষের যা প্রয়োজন তা এতে বিদ্যমান রয়েছে‌‌(৩)।

--------------------------------------------

‌‌(1) অর্থাৎ এতে দুনিয়া ও আখেরাতের জন্য মানুষের প্রয়োজনীয় বিষয়াদির বিধানসমূহ রয়েছে।

‌‌(2) এর অর্থ এই নয় যে, এই গ্রন্থগুলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সকল হাদীস একত্রিত করেছে, কারণ মুহাদ্দিসগণের ইমাম নববী তো দূরের কথা, এমন কথা কেউ বলেননি। বরং উদ্দেশ্য হলো, দুনিয়া ও আখেরাতের এমন কোনো বিষয় নেই যার বিধান এতে বিদ্যমান নেই, কেবল গুটিকয়েক স্থান ব্যতীত। তার মধ্যে রয়েছে তারাবীহ বিশ রাকাত গণনার বিষয়টি; আমি তা মূল গ্রন্থসমূহে (উসুল) পাইনি, কিন্তু ইমাম মালেক রাযিয়াল্লাহু আনহুর মুয়াত্তা গ্রন্থে পেয়েছি, তাই বিষয়টি পূর্ণ করার লক্ষ্যে আমি তা 'তাজ' গ্রন্থে যুক্ত করেছি। অনুরূপভাবে দুই হারামের ফযীলত সংক্রান্ত বিষয়াবলী; আমি মূল গ্রন্থগুলোতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রওজা যিয়ারত সম্পর্কে আবু দাউদের একটি হাদীস ছাড়া এমন কিছুই পাইনি যা পর্যাপ্ত তথ্য প্রদান করে। অতঃপর আমি অনুসন্ধান ও গবেষণা চালিয়েছি যতক্ষণ না কাজী আয়াজ রাহিমাহুল্লাহ-এর 'আশ-শিফা' গ্রন্থে কয়েকটি হাদীস খুঁজে পেয়েছি এবং তা 'তাজ' গ্রন্থে যুক্ত করেছি। তখন আমার মনে হলো যেন আমি দুনিয়া ও তার মধ্যকার সবকিছুর মালিক হয়ে গেছি। তদ্রূপ বিবাহ অধ্যায়ে বিবাহের এমন ত্রুটিসমূহ যা বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ হয় এবং স্বামীর অনুপস্থিতির বিধান সম্পর্কে আমি মূল গ্রন্থগুলোতে কিছুই পাইনি। অনুসন্ধানের পর আমি সেগুলো মুয়াত্তা মালেক-এ পেয়েছি, তাই কিতাবটি পূর্ণ করার লক্ষ্যে আমি সেগুলো সেখানে সাব্যস্ত করেছি।

‌‌(3) এই বিষয়টিকে ইতিপূর্বে প্রত্যেক ইমাম সম্পর্কে বর্ণিত তথ্যটি সমর্থন করে যে, তারা কয়েক লক্ষ হাদীস থেকে তাদের গ্রন্থগুলো চয়ন করেছেন। তাদের প্রত্যেকেই মনে করেছেন যে, দুনিয়া ও আখেরাতের বিষয়ের জন্য তাদের কিতাবটিই যথেষ্ট, নতুবা তারা আরও হাদীস বৃদ্ধি করতেন। বিশেষ করে ইমাম মুসলিমের এই উক্তি: "যদি মুহাদ্দিসগণ একত্রিত হয়ে দুইশত বছর ধরে হাদীস লিখতেন, তবে তাদের আবর্তন ও নির্ভরতা হতো এই মুসনাদটির ওপর।" অনুরূপভাবে আবু দাউদের উক্তি: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এমন কোনো সুন্নাহ তোমার নিকট আসবে না যা এতে বিদ্যমান নেই।" এমতাবস্থায় পাঁচটি মূল গ্রন্থ একত্রিত হওয়ার বিষয়টি কতই না ব্যাপক ও মহৎ হবে!
(খণ্ড: ১) আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৮)
ثُمَّ نَظَرْتُ‌‌(1) فِيْهَا نَظْرَةً عَامَّةً وَطَفِقْتُ‌‌(2) أُدْمِجُهَا‌‌(3) كُلَّهَا بِتَمَامِهَا فِي مُؤَلَفٍ وَاحِدٍ‌‌(4) أُهَذِّبُ كُتُبَهُ‌‌(5) تَهْذِيبًا وَأُحَرِّرُ أَبْوَابَهُ تَحْرِيرًا لِكَيْ أَشْفِىَ بِهِ غَلِيلِي‌‌(6) وَأُتْحِفَ بِهِ عُشَّاقَ عِلْمِ الْحَدِيثِ.

 

‌‌اصْطِلَاحُ الْكِتَابِ ‌‌(7)

رَغْبَةً‌‌(8) فِي الاِخْتِصَارِ الْمَألُوفِ اكْتَفَيْتُ مِنَ الرِّوَايَاتِ الْمُكَرَّرَةِ بِأَجْمَعِهَا لِلأَحْكَامِ كَمَا اكْتَفَيْتُ مِنَ السَّنَدِ بِرَاوِي الْحَدِيثِ‌‌(9) فِي أَوَّلِهِ وَمُخَرِّجِهِ‌‌(10) فِي آخِرِهِ. وَقَصْدًا

--------------------------------------------

‌‌(1) معطوف على (فاستحضرت)، أي أحضرتها وسرحت النظر فيها مرة بعد أخرى فوجدتها لا غنى لأي إنسان عنها للدنيا والآخرة، بل هو مضطر أو محتاج إليها ولو على سبيل الكمال.

‌‌(2) أي شرعت.

‌‌(3) بضم الهمزة من الإدماج.

‌‌(4) وقد تم لي ذلك والحمد لله فلم أترك في ظني حديثًا واحدًا إلا ما كان مستغنى عنه بما كتبته، وما يظهر للقارئ أني تركته فقد نقلته في باب آخر أشد له مناسبة. فمن هذا حديث النية في أول البخاري ولكني نقلته في كتاب النية والإخلاص. ومنه حديث بدء الوحي في أول البخاري ولكني نقلته في كتاب النبوة، ومنه حديث من تبع جنازة مسلم في البخاري في الإيمان ولكني وضعته في فضل تشييع الجنازة، ومنه حديث الحلال بيّن والحرام بيّن في البخاري في الإيمان، وقد وضعته في المعاملات، ومنه المعراج في مسلم في الإيمان ولكني وضعته في النبوة، ومنه أحاديث الجنة في عدة مواضع في الشيخين، ولكني وضعتها في كتاب الجنة والنار، ومنه أحاديث رؤية الله تعالى في الأصول في مواضع شتى ولكني وضعتها في كتاب القيامة والجنة، فإنه أنسب بها. وقد لقيت من هذا النوع في التأليف صعوبات عظيمة ولكن الله أعانني عليها والحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات كلها. بل وزدت على هذه الأصول من مسندي الشافعي وأحمد وموطأ مالك وابن ماجه والحاكم وغيرها مما مست إليه الحاجة.

‌‌(5) أي هذا المؤلف.

‌‌(6) أي لأطفئ به حرارة شوقي للحديث وأهديه للعاشقين له.

 

‌‌(7) أي الأمور التي التزمتها ودرجت عليها في تأليفه.

‌‌(8) علة لاكتفيت.

‌‌(9) هو الصحابي الذي سمعه من النبي صلى الله عليه وسلم.

‌‌(10) الذي خرجه بالسند في كتابه.
অতঃপর আমি সেগুলোর ওপর এক সামগ্রিক দৃষ্টি নিবদ্ধ করলাম‌‌(১) এবং সেগুলোকে পূর্ণাঙ্গভাবে একটি একক সংকলনের‌‌(৪) অন্তর্ভুক্ত করতে শুরু করলাম‌‌(২)‌‌(৩)। আমি এর অধ্যায়সমূহকে সুবিন্যস্ত করেছি‌‌(৫) এবং এর পরিচ্ছেদসমূহকে পরিমার্জিত করেছি, যাতে এর মাধ্যমে আমি আমার জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করতে পারি‌‌(৬) এবং হাদিস শাস্ত্রের অনুরাগীদের জন্য উপহার পেশ করতে পারি।

 

‌‌কিতাবের পরিভাষা ‌‌(৭)

প্রচলিত সংক্ষেপায়নের আকাঙ্ক্ষায়‌‌(৮) আমি পুনরাবৃত্ত বর্ণনাগুলোর মধ্যে বিধানের ক্ষেত্রে সবচাইতে পূর্ণাঙ্গ বর্ণনার ওপর নির্ভর করেছি। অনুরূপভাবে সনদের ক্ষেত্রে হাদিসের শুরুতে মূল বর্ণনাকারীর‌‌(৯) এবং শেষে হাদিস সংকলনকারীর‌‌(১০) উল্লেখের ওপর যথেষ্ট মনে করেছি। এবং উদ্দেশ্যে...

--------------------------------------------

‌‌(১) এটি (অতঃপর আমি উপস্থিত করলাম) ক্রিয়ার সাথে অন্বয়যুক্ত, অর্থাৎ আমি সেগুলোকে উপস্থিত করেছি এবং বারবার সেগুলোর প্রতি দৃষ্টিপাত করেছি। অতঃপর আমি সেগুলোকে দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য যে কারো জন্য অপরিহার্য হিসেবে পেয়েছি; বরং মানুষ এগুলোর প্রতি অত্যন্ত মুখাপেক্ষী ও অভাবী, এমনকি পূর্ণতা অর্জনের পথেও।

‌‌(২) অর্থাৎ আমি শুরু করেছি।

‌‌(৩) 'ইদমাজ' শব্দ হতে হামজায় পেশ যোগে।

‌‌(৪) আল্লাহর প্রশংসায় আমার জন্য তা সম্পন্ন হয়েছে। আমার ধারণায় আমি একটি হাদিসও বাদ দেইনি, তবে সেগুলোর কথা ভিন্ন যেগুলোর প্রয়োজন আমার লিখিত অন্য বর্ণনার মাধ্যমে পূর্ণ হয়েছে। আর পাঠকের নিকট যদি প্রতীয়মান হয় যে আমি কোনো হাদিস বাদ দিয়েছি, তবে আমি তা অধিকতর উপযুক্ত অন্য কোনো পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছি। এর মধ্যে রয়েছে বুখারির শুরুর নিয়ত সংক্রান্ত হাদিস, কিন্তু আমি তা ‘নিয়ত ও ইখলাস’ অধ্যায়ে স্থানান্তর করেছি। তদ্রূপ বুখারির শুরুর ওহি সংক্রান্ত হাদিসটি আমি ‘নবুওয়াত’ অধ্যায়ে বর্ণনা করেছি। বুখারির ‘ঈমান’ অধ্যায়ের জানাজার অনুসরণ সংক্রান্ত হাদিসটি আমি ‘জানাজার অনুসরণের ফজিলত’ অধ্যায়ে রেখেছি। বুখারির ‘ঈমান’ অধ্যায়ের ‘হালাল স্পষ্ট ও হারাম স্পষ্ট’ হাদিসটি আমি ‘মুয়ামালাত’ (লেনদেন) অধ্যায়ে রেখেছি। মুসলিমের ‘ঈমান’ অধ্যায়ের ‘মিরাজ’ সংক্রান্ত হাদিসটি আমি ‘নবুওয়াত’ অধ্যায়ে রেখেছি। বুখারি ও মুসলিমের বিভিন্ন স্থানে বর্ণিত ‘জান্নাত’ সংক্রান্ত হাদিসগুলো আমি ‘জান্নাত ও জাহান্নাম’ কিতাবে রেখেছি। মূল উৎসগ্রন্থগুলোর বিভিন্ন স্থানে বর্ণিত ‘আল্লাহ তাআলাকে দেখার’ হাদিসগুলো আমি ‘কিয়ামত ও জান্নাত’ কিতাবে রেখেছি, কারণ এটিই এগুলোর জন্য অধিকতর উপযুক্ত। এই ধরনের সংকলন পদ্ধতিতে আমি অনেক বড় ধরনের প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছি, কিন্তু আল্লাহ আমাকে সাহায্য করেছেন। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ পূর্ণতা লাভ করে। বরং আমি এই মূল উৎসগুলোর সাথে মুসনাদে শাফেয়ি, মুসনাদে আহমাদ, মুওয়াত্তায়ে মালিক, ইবনে মাজাহ, হাকেম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উৎস থেকে হাদিস সংযোজন করেছি।

‌‌(৫) অর্থাৎ এই সংকলনটি।

‌‌(৬) অর্থাৎ যাতে এর মাধ্যমে আমি হাদিসের প্রতি আমার অনুরাগের তীব্রতা প্রশমিত করতে পারি এবং হাদিস প্রেমিকদের উপহার দিতে পারি।

 

‌‌(৭) অর্থাৎ সেই বিষয়সমূহ যা আমি এই সংকলনের ক্ষেত্রে নিজের ওপর আবশ্যক করেছি এবং যার ওপর ভিত্তি করে সংকলনটি পরিচালনা করেছি।

‌‌(৮) এটি 'যথেষ্ট মনে করেছি' (ইকতাফাইতু) ক্রিয়ার কারণ।

‌‌(৯) তিনি হলেন সেই সাহাবি যিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তা শুনেছেন।

‌‌(১০) যিনি তাঁর কিতাবে সনদসহ হাদিসটি সংকলন করেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ১৯)
لِلإِفَادَةِ بِأَحْسَنِ أُسْلُوبٍ الْتَزَمْتُ فِي النَّقْلِ مَا يَقَعُ اخْتِيَارِي عَلَيْهِ مِنْ لَفْظِ الْبُخَارِيِّ أَوْ مُسْلِمٍ‌‌(1) فِيْمَا اشْتَرَكَا فِيهِ وَلَوْ مَعَ غَيْرِهِمَا، فَإِنِ اشْتَرَكَ الْبُخَارِيُّ مَعَ غَيْرِ مُسْلِمٍ نَقَلْتُ لَفْظَ الْبُخَارِيِّ، وَإِنِ اشْتَرَكَ مُسْلِمٌ مَعَ غَيْرِ الْبُخَارِيِّ نَقَلْتُ لَفْظَ مُسْلِمٍ، وَإِنْ كَانَ الْحَدِيثُ مَرْوِيًّا لأَصْحَابِ السُّنَنِ‌‌(2) نَقَلْتُ لَفْظَ أَبِى دَاوُدَ‌‌(3)، وَإِنْ نَقَلْتُ غَيْرَهُ بَيَّنْتُهُ وَرُبَّمَا قُلْتُ رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ‌‌(4) وَصَاحِبَاهُ، وَإِنْ قُلْتُ رَوَاهُ الشَّيْخَانِ عَنَيْتُ الْبُخَارِيَّ‌‌(5) وَمُسْلْمًا، وَإِنْ قُلْتُ رَوَاهُ الثَّلَاثَةُ أَرَدْتُ الشَّيْخَيْنِ وَأَبَا دَاوُدَ، وَإِنْ قُلْتُ رَوَاهُ الأَرْبَعَةُ قَصَدْتُ الثَّلاثَةَ وَالتِّرْمِذِيَّ، وَإِنْ قُلْتُ رَوَاهُ الْخَمْسَةُ عَنَيْتُ الأَرْبَعَةَ وَالنَّسَائِيَّ، وَإِنْ قُلْتُ رَوَاهُ أَصْحَابُ السُّنَنِ قَصَدْتُ أَبَا دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيَّ وَالنَّسَائِيَّ، وَلَوِ اخْتَلَفَ النِّظامُ عَنْ هذَا بَيَّنْتُهُ بِالنَّصِّ عَلَيْهِ‌‌(6).

وَكُلُّ مَوْضُوعٍ يَدُلُّ عَلَى عَمَلٍ مُرَتَّبٍ كَالصَّلَاةِ وَالْحَجِّ وَفعْتُ أَحَادِيثَهُ عَلى وَفْقِ التَّرْتِيبِ الَّذِي أَمَرَ بِهِ الشَّارِعُ‌‌(7)، وَأَمَّا فِي غَيْرِ ذلِكَ‌‌(8) فَقَدْ كُنْتُ فِي الْغَالِبِ أُقَدِّمُ

--------------------------------------------

‌‌(1) فإن شرطهما في السند أوثق وأحوط كما سبق، وشرطهما في لفظ الحديث أدق وأضبط؛ لأنهما يوجبان تعيين الرواية باللفظ لمن يحفظ اللفظ والمعنى خلافًا للجمهور فإنهم لا يوجبون ذلك؛ لأن الصحابة رضي الله عنهم كانوا يسمعون الحديث من النبي صلى الله عليه وسلم وينقله كل منهم بلفظ غير لفظ الآخر وما عيب عليهم في ذلك. وقد حصل بين البخاري وبين شيخه محمد بن يحيى جدل عظيم في هذا، ولما اشتد النزاع بينهما قال الأستاذ محمد بن يحيى: من قال باللفظ فلا يحضر مجلسنا، فقام البخاري من حلقة الدرس وتبعه مسلم ولم يحضرا مجلسه بعد هذا. وربما حدّث البخاري في كتابه عن شيخه هذا بقوله حدثنا محمد فقط ولم يقل ابن يحيى لما وقع بينهما رضي الله عنهم.

‌‌(2) هم أبو داود والترمذي والنسائي.

‌‌(3) لأنَّه أولهم في الرتبة.

‌‌(4) إذا كان اللفظ له.

‌‌(5) عبّرت بـ "عنيت"، و "أردت"، و "قصدت" تفننًا في اللفظ وإلا فالألفاظ الثلاثة بمعنى واحد.

‌‌(6) كأن رواه البخاري والترمذي فأصرح بذكرهما.

‌‌(7) فمثلًا في الوضوء بدأت بحديث التسمية وغسل الكفين وهكذا، وفي الصلاة قدمت شروط الصلاة على سننها المتقدمة عليها كالأذان، ثم أعقبتها ببيانها الذي بدأته بالنية ثم بتكبيرة الإحرام وهكذا. فلاحظت في وضع الأحاديث الترتيب الخارجي.

‌‌(8) مواضع الأعمال المرتبة.
উত্তম পদ্ধতিতে উপকার প্রদানের জন্য, উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে আমি ইমাম বুখারী অথবা ইমাম মুসলিমের‌‌(1) শব্দাবলি চয়ন করার নীতি অবলম্বন করেছি—যেসব বর্ণনায় তাঁরা উভয়ে শরিক রয়েছেন, যদিও তাঁদের সাথে অন্য কেউ শরিক থাকুক না কেন। যদি বুখারী মুসলিম ব্যতীত অন্য কারো সাথে শরিক থাকেন, তবে আমি বুখারীর শব্দাবলি উদ্ধৃত করেছি; আর যদি মুসলিম বুখারী ব্যতীত অন্য কারো সাথে শরিক থাকেন, তবে আমি মুসলিমের শব্দাবলি উদ্ধৃত করেছি। আর যদি হাদীসটি সুনান গ্রন্থকারদের‌‌(2) মাধ্যমে বর্ণিত হয়, তবে আমি আবু দাউদের‌‌(3) শব্দাবলি উদ্ধৃত করেছি। আর যদি আমি অন্য কারো শব্দাবলি উদ্ধৃত করি, তবে তা স্পষ্ট করে দিয়েছি। কখনও কখনও আমি বলেছি: এটি তিরমিযী‌‌(4) ও তাঁর দুই সাথী বর্ণনা করেছেন। যখন আমি বলি 'শাইখাইন বর্ণনা করেছেন', তখন আমি বুখারী‌‌(5) ও মুসলিমকে বুঝাই। যখন আমি বলি 'তিনজন বর্ণনা করেছেন', তখন আমি শাইখাইন ও আবু দাউদকে উদ্দেশ্য করি। যখন আমি বলি 'চারজন বর্ণনা করেছেন', তখন আমি পূর্বোক্ত তিনজন ও তিরমিযীকে উদ্দেশ্য করি। যখন আমি বলি 'পাঁচজন বর্ণনা করেছেন', তখন আমি পূর্বোক্ত চারজন ও নাসাঈকে বুঝাই। আর যখন আমি বলি 'সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন', তখন আমি আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈকে উদ্দেশ্য করি। যদি এই নিয়মের ব্যতিক্রম হয়, তবে আমি তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে দিয়েছি‌‌(6)।

আর এমন প্রতিটি বিষয় যা পর্যায়ক্রমিক কোনো আমল বা কাজের প্রতি নির্দেশ করে, যেমন সালাত ও হজ, সেগুলোর হাদীসসমূহকে আমি শরীয়ত প্রণেতার নির্দেশিত ক্রম অনুযায়ী বিন্যস্ত করেছি‌‌(7)। তবে এর বাইরে অন্যান্য ক্ষেত্রে‌‌(8) আমি অধিকাংশ সময় প্রাধান্য দিয়েছি...

--------------------------------------------

‌‌(1) কারণ সনদ বা বর্ণনাসূত্রের ক্ষেত্রে তাঁদের শর্তাবলি অধিক নির্ভরযোগ্য ও সতর্কতাপূর্ণ, যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে; আর হাদীসের শব্দের ক্ষেত্রেও তাঁদের শর্তাবলি অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও সুসংহত। কেননা, যারা শব্দ ও অর্থ উভয়ই মুখস্থ রাখেন, তাঁদের ক্ষেত্রে তাঁরা শব্দগত বর্ণনার শর্তারোপ করেন; জমহুর বা সংখ্যাগুরু আলিমদের মত এর বিপরীত, তাঁরা একে আবশ্যক মনে করেন না। কারণ সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীস শুনতেন এবং তাঁদের প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্ন শব্দে তা বর্ণনা করতেন, অথচ এজন্য তাঁদের সমালোচনা করা হয়নি। ইমাম বুখারী ও তাঁর উস্তাদ মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়ার মধ্যে এ বিষয়ে এক বিশাল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। যখন বিবাদ চরম আকার ধারণ করল, তখন উস্তাদ মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বললেন: "যে ব্যক্তি শব্দের প্রবক্তা সে যেন আমাদের মজলিসে উপস্থিত না হয়।" তখন ইমাম বুখারী দরসের হালকাহ থেকে উঠে দাঁড়ালেন এবং মুসলিমও তাঁকে অনুসরণ করলেন; এরপর থেকে তাঁরা আর তাঁর মজলিসে উপস্থিত হননি। ইমাম বুখারী হয়তো তাঁর কিতাবে নিজের এই উস্তাদ থেকে হাদীস বর্ণনার সময় কেবল 'মুহাম্মদ' বলেছেন, 'ইবনে ইয়াহইয়া' বলেননি—তাঁদের মধ্যে যা ঘটেছিল সে কারণে (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)।

‌‌(2) তাঁরা হলেন আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসাঈ।

‌‌(3) কারণ তিনি তাঁদের মধ্যে মর্যাদার দিক থেকে অগ্রগামী।

‌‌(4) যদি শব্দাবলি তাঁর হয়।

‌‌(5) আমি শব্দের বৈচিত্র্য আনার জন্য 'বুঝিয়েছি', 'উদ্দেশ্য করেছি' এবং 'লক্ষ্য করেছি' শব্দগুলো ব্যবহার করেছি; নতুবা এই তিনটি শব্দের অর্থ একই।

‌‌(6) যেমন হাদীসটি বুখারী ও তিরমিযী বর্ণনা করলে আমি স্পষ্টভাবে তাঁদের নাম উল্লেখ করি।

‌‌(7) উদাহরণস্বরূপ ওযুর অধ্যায়ে আমি 'বিসমিল্লাহ' বলা ও কবজি পর্যন্ত দুই হাত ধৌত করার হাদীস দিয়ে শুরু করেছি এবং এভাবেই ধারাবাহিকভাবে এগিয়েছি। সালাতের ক্ষেত্রে আমি নামাযের পূর্ববর্তী সুন্নাতসমূহ যেমন আযানের ওপর সালাতের শর্তাবলিকে প্রাধান্য দিয়েছি, অতঃপর এর ব্যাখ্যা প্রদান করেছি যা নিয়ত এবং পরে তাকবীরে তাহরীমা দিয়ে শুরু হয়েছে। এভাবে আমি হাদীস বিন্যাসের ক্ষেত্রে বাহ্যিক ক্রমধারা লক্ষ্য রেখেছি।

‌‌(8) অর্থাৎ যেসকল ক্ষেত্রে আমলগুলো পর্যায়ক্রমিক নয়।
(খণ্ড: ১) আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২০)
مَا يَرْوِيهِ الْكَثِيْرُ عَلَى غَيْرِهِ حَتَّى أَخْتِمَ الْبَابَ بِالأَحَادِيثِ الْفَرْدِيَّةِ‌‌(1) إِنْ كَانَتْ، مُرَاعِيًا تَقْدِيمَ الصَّحِيحِ عَلَى غَيْرِهِ‌‌(2) إِلَّا مَا يَقْتَضِي خِلَافَ ذلِكَ كَتَقْدِيْمِ مَنْسُوخٍ عَلَى نَاسِخِهِ وَمُجْمَلٍ عَلَى مُفَسِّرِهِ‌‌(3).

--------------------------------------------

‌‌(1) التي انفرد بروايتها واحد، وهذا في الترمذي كثير، فإني أذكر له في الذكر والزهد أنه انفرد في بعض الأبواب بأحد عشر حديثًا.

‌‌(2) من حسن وضعيف.

‌‌(3) فإنه من حسن الوضع. وهذا اصطلاح الكتاب، أما اصطلاح الشرح فحل الألفاظ اللغوية وبيان المعنى المراد باختصار، وبيان الخلاف الفقهي في أحاديث الأحكام مع بيان وجهة كل من الأئمة رضي الله عنهم، وبيان درجة الحديث المروي لأصحاب السنن وما سكتوا عنه فسنجري فيه على طريقة أبي داود السابقة. ومصادر الشرح هي: شروح البخاري، وشروح مسلم، وعون المعبود شرح أبي داود، ونفع قوت المغتذي شرح الترمذي، والسيوطي والسندي على النَّسَائِيّ، وشروح الجامع الصغير، وكتاب الفقه في المذاهب الأربعة، وكثيرًا ما أرجع في حل الألفاظ اللغوية إلى القاموس المحيط ولسان العرب.

بيان الفرق بين التاج وبين غيره

الفرق بين كتاب التاج وبين الكتب التي عندنا من نوعه وهي ثلاثة: أولها المصابيح للإمام البغوي المتوفى سنة 516 هـ. وثانيها تيسير الوصول للشيباني المتوفى سنة 944 هـ. وثالثها المنتقى للإمام ابن تيمية المتوفى سنة 652 هـ رضي الله عنهم.

أما المصابيح فكتاب عظيم في بابه بديع في زمانه، ولكنه محذوف الراوي من أول الحديث والمخرج في آخره، فهو كالمبتور بين كتب الحديث، وهذا مما لا يطمئن النفس، زد على هذا أنه مختصر من الأصول وخال من قسم التفسير. وأما تيسير الوصول فهو مؤلف عظيم لم يظهر في الناس مثله ولكنه مختصر من جامع الأصول لابن الأثير ومرتب على حروف المعجم وهذا وضع لا يداني الترتيب الفقهي في جمع شتات الموضوعات. وأما المنتقى فهو كتاب جليل القدر رفيع المكانة عظيم الشأن لدقة وضعه وجميل صنعه إلا أنه قاصر على أحاديث الأحكام فقط، فهو خلو من قسم الفضائل كله، وقسم التفسير كله، وقسم الأخلاق والسمعيات. ولا شك أن هذه تربو كثيرًا على أحاديث الأحكام وتدفع بالهمم إلى معالي الأمور وصالح الأعمال. وأما بلوغ المرام ونحوه في أحاديث الأحكام، فهي كفروع من كتاب المنتقى، هذا تحديد تلك الكتب. وأما كتاب التاج فإنه والحمد لله جامع للأصول وموضوع على الترتيب الفقهي وليس فيه ما أخذ على تلك الكتب رضي الله عن مؤلفيها، فلهم مزيد الفضل والأولية. وتلك الفوارق هي التي سألني عنها مولانا الأستاذ الأكبر الشيخ محمد مصطفى المراغي شيخ الجامع الأزهر وهو على
অনেক বর্ণনাকারী অন্যের তুলনায় যা বর্ণনা করেছেন তা আমি উল্লেখ করি, যতক্ষণ না আমি অধ্যায়টি একক হাদিসসমূহ‌‌(১) দিয়ে শেষ করি (যদি থেকে থাকে)। এক্ষেত্রে আমি সহিহ হাদিসকে অন্যের ওপর প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়টি রক্ষা করি‌‌(২), তবে যেখানে এর বিপরীত করা প্রয়োজন সেখানে তা করি; যেমন রহিতকারী হাদিসের আগে রহিত হাদিস এবং ব্যাখ্যাকৃত হাদিসের আগে অস্পষ্ট বা সংক্ষিপ্ত হাদিস উল্লেখ করা‌‌(৩)।

--------------------------------------------

‌‌(১) যা কেবল একজন রাবি বা বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। এটি তিরমিজিতে প্রচুর রয়েছে। আমি জিকির ও জুহদ (অনাশক্তি) অধ্যায়ে তাঁর ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছি যে, তিনি কোনো কোনো অনুচ্ছেদে এককভাবে এগারোটি হাদিস বর্ণনা করেছেন।

‌‌(২) হাসান ও জয়িফ হাদিস হতে।

‌‌(৩) কেননা এটি উত্তম বিন্যাসের অন্তর্ভুক্ত। এটি হলো মূল কিতাবের পরিভাষা। আর ব্যাখ্যাগ্রন্থের (শরহ) পরিভাষা হলো শাব্দিক বিশ্লেষণ এবং সংক্ষেপে উদ্দিষ্ট অর্থ বর্ণনা করা। সেই সঙ্গে আইম্মায়ে কেরাম (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর প্রত্যেকের দৃষ্টিভঙ্গিসহ আহকামের হাদিসসমূহে ফিকহি মতভেদ বর্ণনা করা। সুনান গ্রন্থকারদের বর্ণিত হাদিসসমূহের মান বর্ণনা করা এবং তাঁরা যে বিষয়ে নীরব থেকেছেন, সেখানে আমরা আবু দাউদের পূর্বে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করব। ব্যাখ্যাগ্রন্থের উৎসগুলো হলো: বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ, মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ, আবু দাউদের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘আউনুল মাবুদ’, তিরমিজির ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘নাফউ কুতিল মুগতাজি’, নাসায়ির ওপর সুয়ূতি ও সিন্ধির ব্যাখ্যাগ্রন্থ, জামে আস-সগিরের ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ, চার মাজহাবের ফিকহ বিষয়ক গ্রন্থ এবং শাব্দিক অর্থ বিশ্লেষণের জন্য আমি অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘আল-কামুস আল-মুহিত’ ও ‘লিসানুল আরব’-এর শরণাপন্ন হয়েছি।

‘আত-তাজ’ এবং অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে পার্থক্যের বর্ণনা

‘আত-তাজ’ কিতাব এবং আমাদের কাছে থাকা সমজাতীয় কিতাবগুলোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, যা সংখ্যায় তিনটি: প্রথমটি ইমাম বাগাউয়ি (মৃত্যু ৫১৬ হিজরি) রচিত ‘আল-মাসাবিহ’। দ্বিতীয়টি আশ-শায়বানি (মৃত্যু ৯৪৪ হিজরি) রচিত ‘তাইসিরুল উসুল’। তৃতীয়টি ইমাম ইবনে তাইমিয়া (মৃত্যু ৬৫২ হিজরি) রচিত ‘আল-মুনতাকা’। আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

‘আল-মাসাবিহ’ গ্রন্থটি তার নিজ বিষয়ে এক মহান কিতাব এবং তার যুগে এক অনন্য সৃষ্টি, তবে এতে হাদিসের শুরু থেকে বর্ণনাকারীর নাম এবং শেষে হাদিস সংকলনকারীর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে হাদিসের কিতাবসমূহের মাঝে এটি মস্তকবিহীন বা অপূর্ণাঙ্গ কিতাবের মতো মনে হয়, যা মনে প্রশান্তি দেয় না। অধিকন্তু, এটি মূল উৎসসমূহ থেকে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে এবং এতে তাফসিরের কোনো অংশ নেই। আর ‘তাইসিরুল উসুল’ একটি মহান রচনা যার সমতুল্য মানুষের মাঝে প্রকাশ পায়নি, তবে এটি ইবনুল আসিরের ‘জামেউল উসুল’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ এবং এটি বর্ণানুক্রমিক সাজানো। এই বিন্যাসটি বিক্ষিপ্ত বিষয়াবলিকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে ফিকহি বিন্যাসের সমতুল্য হতে পারে না। আর ‘আল-মুনতাকা’ গ্রন্থটি এর নিখুঁত বিন্যাস ও চমৎকার শৈলীর কারণে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও গুরুত্ববহ, তবে এটি কেবল আহকামের (বিধিনিষেধ) হাদিসসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ। এতে ফজিলত, তাফসির, আখলাক এবং পরকাল বিষয়ক কোনো আলোচনা নেই। অথচ কোনো সন্দেহ নেই যে, এই বিষয়গুলো আহকামের হাদিসের চেয়ে সংখ্যায় অনেক বেশি এবং এগুলো মানুষকে মহৎ লক্ষ্য ও নেক আমলের দিকে ধাবিত করে। ‘বুলুগুল মারাম’ এবং এই জাতীয় আহকাম বিষয়ক গ্রন্থগুলো ‘আল-মুনতাকা’ কিতাবের শাখা স্বরূপ। এটিই হলো উক্ত কিতাবসমূহের পরিচয়। আর ‘আত-তাজ’ কিতাবটি আলহামদুলিল্লাহ মূল উৎসসমূহের সংকলন এবং এটি ফিকহি বিন্যাসে সাজানো। এতে ওইসব ত্রুটি নেই যা অন্য কিতাবগুলোর ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আল্লাহ তাঁদের লেখকদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন; তাঁদের বিশেষ মর্যাদা ও অগ্রগণ্যতা রয়েছে। এই পার্থক্যগুলো সম্পর্কেই জামিউল আজহারের শাইখ, আমাদের মহান উস্তাদ শাইখ মুহাম্মদ মোস্তফা আল-মারাগি আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন এবং তিনি...
(খণ্ড: ১) আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌تَقسِيمُ الكِتَابِ

أَقْسَامُ الْكتَابِ أَرْبَعَةٌ: الْقِسْمُ الأَوَّلُ فِي الإِيْمَانِ وَالْعِلْمِ وَالْعِبَادَاتِ‌‌(1).

الْقِسْمُ الثَّانِي فِي الْمُعَامَلَاتِ وَالأَحْكَامِ وَالْعَادَاتِ‌‌(2).

الْقِسْمُ الثَّالِثُ فِي الْفَضَائِلِ وَالتَّفْسِيْرِ وَالْجِهَادِ‌‌(3).

الْقِسْمُ الرَّابِعُ فِي الأَخْلَاقِ وَالسَّمْعِيَّاتِ‌‌(4).

وَقَدْ رَتَّبْتُ قِسْمَي الْعِبَادَاتِ وَالْمُعَامَلَاتِ عَلَى الأَبْوَابِ الْفِقْهِيَّةِ لأَنَّهُ الْكَثِيْرُ الْمَأْلُوفُ وَلأنَّهُ أَوْفَى وَأَسْرَعُ فِي شِفَاءِ الْغَلِيْلِ مِنْ كُلِّ مَوْضُوع يُرِيدُهُ الطَّالِبُ.

--------------------------------------------

كرسي المشيخة حينما عرضت الكتاب عليه بعد الفراغ من تأليفه سنة 347 هـ. فلما أجبته بما سلف تهلل وجهه وعاد فسرح نظره في بعض وريقات من الكتاب وكان قد استوعب خطبته قبل ذلك. ثم رفع رأسه فقال: أنا لا أشك في أنه كتاب نافع وشرع يحبذ علم الحديث وأنَّه علم جليل وفيه كل شيء. وأظهر الأسف على إهمال الخلف له بقدر عناية السلف به وأطال في هذا، فقال له أحد علماء الأعلام وكان جالسًا معنا: ينبغي لمولانا الأستاذ عرض الكتاب على لجنة تبحثه لاعتماده للتدريس فقال: للآن لم تؤلف اللجنة التي ستنتقي الكتب الجديدة وقريبًا تكون، فإذا شكلت اللجنة قدم الأستاذ لنا كتابه، فشكرناه وانصرفنا. وبعد ذلك انحصرت همتي في شرح الكتاب تكميلًا للنفع به كطلب السالف ذكرهم، والله يتولانا برعايته آمين.

‌‌(1) وبيان كتبه كالآتي: كتاب الإسلام والإيمان. كتاب العلم كتاب النية والإخلاص. كتاب الطهارة. كتاب الصلاة. كتاب الزكاة. كتاب الصيام. كتاب الحج. وقدمت هذا القسم لأنَّه أصول الدين وأركانه.

 

‌‌(2) وبيان كتبه كالآتي: كتاب البيوع والزروع. كتاب الفرائض والوصايا والعتق. كتاب النكاح والطلاق. كتاب الحدود والديات. كتاب الإمامة والقضاء. كتاب الأيمان والنذور. كتاب الصيد والذبائح. كتاب الطعام والشراب. كتاب اللباس. كتاب الطب.

‌‌(3) وبيان كتبه هكذا: كتاب النبوة. كتاب فضائل القرآن. كتاب التفسير. كتاب الجهاد والغزوات.

‌‌(4) وبيان كتبه هكذا: كتاب الأدب. كتاب الأخلاق. كتاب الرؤيا. كتاب الزهد. كتاب الأذكار والأدعية والاستغفار. كتاب الفق وعلامات الساعة. كتاب القيامة والجنة والنار. فعدة هذه الكتب ثلاثون، كل كتاب منها تشد له الرحال. نسأل الله أن تكون خالصة لوجهه الكريم.
কিতাবের বিন্যাস

কিতাবের ভাগসমূহ চারটি: প্রথম ভাগ ঈমান, ইলম ও ইবাদত সংক্রান্ত(১)।

দ্বিতীয় ভাগ মুআমালাত (লেনদেন), আহকাম (বিধান) ও অভ্যাস সংক্রান্ত(২)।

তৃতীয় ভাগ ফজিলত, তাফসির ও জিহাদ সংক্রান্ত(৩)।

চতুর্থ ভাগ আখলাক ও সামইয়াত (পারলৌকিক বিষয়) সংক্রান্ত(৪)।

আমি ইবাদত ও মুআমালাতের অংশ দুটিকে ফিকহী অধ্যায় অনুসারে বিন্যস্ত করেছি; কারণ এটিই অধিক পরিচিত পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীর কাঙ্ক্ষিত যেকোনো বিষয়ের জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণে এটি অধিক পূর্ণাঙ্গ ও দ্রুত ফলপ্রসূ।

--------------------------------------------

৩৪৭ হিজরিতে কিতাবটি রচনার কাজ সমাপ্ত করার পর যখন আমি শাইখদের মজলিসে (মাশাইখাহ) এটি পেশ করলাম, তখন আমার পূর্বোক্ত উত্তরগুলো শুনে তাঁর চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠল। তিনি কিতাবের কিছু পৃষ্ঠার ওপর পুনরায় দৃষ্টি বুলালেন, যদিও এর পূর্বেই তিনি এর ভূমিকাটি আদ্যোপান্ত পড়েছিলেন। এরপর মাথা তুলে বললেন: "আমার কোনো সন্দেহ নেই যে এটি একটি উপকারী গ্রন্থ।" অতঃপর তিনি ইলমে হাদিসের প্রশংসা করতে শুরু করলেন এবং বললেন যে এটি একটি মহান ইলম এবং এতে সবকিছু রয়েছে। পূর্বসূরিরা (সালাফ) এই ইলমের প্রতি যতটা যত্নবান ছিলেন, পরবর্তী প্রজন্ম (খালাফ) এর প্রতি ততটাই উদাসীন—এ নিয়ে তিনি দীর্ঘক্ষণ আক্ষেপ প্রকাশ করলেন। আমাদের সাথে উপবিষ্ট জনৈক প্রখ্যাত আলেম তাঁকে বললেন: "মাওলানা উস্তাদের উচিত কিতাবটি একটি কমিটির কাছে পেশ করা, যাতে তারা এটি পর্যালোচনা করে পাঠ্যভুক্ত করার অনুমোদন দান করেন।" তিনি বললেন: "নতুন কিতাব নির্বাচনের জন্য যে কমিটি গঠিত হওয়ার কথা, তা এখনো হয়নি, তবে শীঘ্রই হবে। কমিটি গঠিত হলে উস্তাদ যেন আমাদের কাছে কিতাবটি জমা দেন।" আমরা তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিদায় নিলাম। এরপর পূর্বোল্লিখিত ব্যক্তিদের অনুরোধ অনুযায়ী কিতাবটির উপযোগিতা পূর্ণ করার লক্ষ্যে আমি এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করলাম। আল্লাহ তাআলা তাঁর বিশেষ তদারকিতে আমাদের অভিভাবকত্ব কবুল করুন। আমিন।

(১) এর অন্তর্ভুক্ত কিতাবসমূহ নিম্নরূপ: ইসলাম ও ঈমান অধ্যায়। ইলম অধ্যায়। নিয়ত ও ইখলাস অধ্যায়। পবিত্রতা অধ্যায়। সালাত অধ্যায়। জাকাত অধ্যায়। সিয়াম অধ্যায়। হজ অধ্যায়। আমি এই অংশটিকে প্রথমে এনেছি কারণ এটি দ্বীনের মূল এবং স্তম্ভসমূহ।

 

(২) এর অন্তর্ভুক্ত কিতাবসমূহ নিম্নরূপ: ক্রয়-বিক্রয় ও কৃষি অধ্যায়। ফারায়েজ (উত্তরাধিকার), অসিয়ত ও দাসমুক্তি অধ্যায়। বিবাহ ও তালাক অধ্যায়। হুদুদ (দণ্ডবিধি) ও দিয়াত অধ্যায়। ইমারাত (শাসনব্যবস্থা) ও বিচারব্যবস্থা অধ্যায়। শপথ ও মানত অধ্যায়। শিকার ও জবেহ অধ্যায়। খাদ্য ও পানীয় অধ্যায়। পোশাক-পরিচ্ছদ অধ্যায়। চিকিৎসা অধ্যায়।

(৩) এর অন্তর্ভুক্ত কিতাবসমূহ নিম্নরূপ: নবুওয়ত অধ্যায়। কুরআনের ফজিলত অধ্যায়। তাফসির অধ্যায়। জিহাদ ও যুদ্ধাভিযান অধ্যায়।

(৪) এর অন্তর্ভুক্ত কিতাবসমূহ নিম্নরূপ: আদব (শিষ্টাচার) অধ্যায়। আখলাক (চরিত্র) অধ্যায়। রুইয়া (স্বপ্ন) অধ্যায়। জুহদ (দুনিয়া-বিমুখতা) অধ্যায়। আজকার (জিকির), দোয়া ও ইস্তিগফার অধ্যায়। ফিতনা ও কিয়ামতের আলামত অধ্যায়। কিয়ামত, জান্নাত ও জাহান্নাম অধ্যায়। এই কিতাবগুলোর মোট সংখ্যা ত্রিশটি; যার প্রত্যেকটি অর্জনের জন্যই দীর্ঘ সফর করা সার্থক। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন একে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত হিসেবে কবুল করেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২২)
وَقَدِ ابْتَدَأْتُهُ مُسْتَعِينًا بِاللهِ فِي رَجَبٍ الْفَرْدِ‌‌(1) سَنَةَ إِحْدَى وَأَرْبَعِيْنَ وَثَلَاثمِائَةٍ بَعْدَ الْأَلْفِ مِنْ هِجْرَةِ الْمُصْطَفَى صلى الله عليه وسلم. وَأَتْمَمْتُهُ بِتَوْفِيقِ اللهِ تَعَالَى فِي صَبِيحَةِ الاِثْنَيْنِ الْمُبَارَكِ الْخَامِسِ وَالْعِشْرِينَ مِنْ ذِي الْحِجَّةِ سَنَةَ سَبْعٍ وَأَرْبَعِيْنَ وَثَلَاثِمَائَةٍ بَعْدَ الْأَلْفِ الْهِجْرِي‌‌(2). وَلَا أَقُولُ فِي عَمَلِي هذَا إِنِّي وَفَّيْتُ بِالْمُرَادِ، وَلكِنِّي أَجْهَدْتُ نَفْسِي عَلَى قَدرِ طَاقَتِي لَعَلِّي أُوَافِقُ الصَّوَابَ، فَإِنْ أَصَبْتُهُ فَذاكَ مَا أَرَدْتُ وَرَجَوْتُ، وَإِلَّا فَمَا أَنَا إِلَّا إِنْسَانٌ شَأْنُهُ الْخَطَأُ وَالنِّسْيَانُ‌‌(3). وَإِنِّي أَضْرَعُ إِلَى اللهِ تَعَالَى أَنْ يَكْسُوَهُ ثَوْبَ الإِخْلَاصِ وَأَنْ يُجَمِّلَهُ بِحُلَّةِ الْقَبُولِ فَهُوَ سُبْحَانَهُ خَيْرُ مَسْؤُولٍ وَأَكْرَمُ مَأْمُولٍ.

--------------------------------------------

‌‌(1) الذي انفرد عن بقية الأشهر الحرم، وستأتي في الصوم إن شاء الله.

‌‌(2) وهذا ليس بكثير بالنسبة للأصول الخمسة التي هي خمسة وعشرون مجلدًا. فإذا جمعت وهذبت ورتبت وأحكمت في بضع سنين فهو عمل كثير في زمن قصير، ولا سيما طريقة الأصول التي ترجمت لكل حديث، وهذا من دواعي الإطالة والسآمة. ولكني بتوفيق الله تعالى كنت أبذل غاية جهدي للعثور على عنوان يشرف على طائفة من الأحاديث وأضعها على الاصطلاح السالف، وهذا بالطبع يقتضي فهمها أولًا ومراعاة ما يحيط بها من صناعة فمن الحديث ثانيًا، كلما لا يخفى. وقد قيل إن الحافظ ابن حجر رحمه الله ابتدأ شرح البخاري سنة 817 هـ وانتهى منه سنة 841 هـ، وهذا هو شمس العلماء في زمانه. فأين مثلي الضعيف من هؤلاء القوم أساطين العلم وشموس الهدى رضي الله عنهم. ومع هذا فالأمور لا ينظر إليها من حيث إيجادها وقطع الزمن في تحصيلها، إنَّما ينظر إليها من حيث قيمتها والنفع بها. فبهذا يسمو شأنها ويعلو كبيت العنكبوت وحرير الدود في سرعة وجود الأول وكثرته مع خسته وبطء الثاني وقلته مع عزته.

‌‌(3) وبهذا اعتذرت للقارئ الكريم عما يجده في الكتاب، وبه أعتذر أيضًا للقارئ اللبيب عما يعثر عليه في الشرح، فإن في زماننا هذا ألف عذر وعذر لمن اشتغل بالتأليف. وما رأينا مؤلفًا ولا غيره سلم للآن. وأنا لست بإنسان معصوم بل إني إنسان ضعيف من شأني الخطأ والنسيان. أسأل الله الحفظ من الزلل والغواية، والتوفيق للرشد والهداية، فما توفيقي إلا بالله عليه توكلت وإليه أنيب.
আমি আল্লাহর সাহায্য নিয়ে এটি শুরু করেছি মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হিজরতের এক হাজার তিনশত একচল্লিশ হিজরি সনের একক মাস রজবে‌‌(১)। আর মহান আল্লাহর তাওফিকে আমি এটি সমাপ্ত করেছি হিজরি এক হাজার তিনশত সাতচল্লিশ সনের পঁচিশে জিলহজ, বরকতময় সোমবারের সকালে‌‌(২)। আমি আমার এই কাজ সম্পর্কে বলছি না যে আমি অভীষ্ট লক্ষ্যে পুরোপুরি পৌঁছাতে পেরেছি, তবে আমি আমার সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি যাতে সঠিকের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারি। যদি আমি সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে থাকি, তবে সেটিই ছিল আমার লক্ষ্য ও প্রত্যাশা; আর যদি তা না হয়, তবে আমি একজন মানুষ মাত্র, যার স্বভাবই হলো ভুল করা এবং ভুলে যাওয়া‌‌(৩)। আমি মহান আল্লাহর কাছে আকুতি জানাচ্ছি যেন তিনি একে ইখলাসের পোশাকে আবৃত করেন এবং কবুলিয়াতের অলঙ্কারে সুশোভিত করেন; নিশ্চয়ই তিনি পবিত্র, সর্বোত্তম প্রার্থিত এবং সর্বশ্রেষ্ঠ আশাস্থল।

--------------------------------------------

‌‌(১) যা অন্যান্য হারাম (পবিত্র) মাসগুলো থেকে পৃথক হয়েছে, আর সিয়াম অধ্যায়ে ইনশাআল্লাহ এ ব্যাপারে আলোচনা আসবে।

‌‌(২) আর পঁচিশ খণ্ডের 'উসুলুল খামসা'র তুলনায় এটি বেশি কিছু নয়। যদি এটি কয়েক বছরে সংকলন, সংস্কার, বিন্যাস ও সুবিন্যস্ত করা হয়ে থাকে, তবে অল্প সময়ে এটি একটি বিশাল কাজ; বিশেষ করে 'উসুল' পদ্ধতির ক্ষেত্রে, যেখানে প্রতিটি হাদিসের অনুবাদ করা হয়েছে, আর এটি দীর্ঘ হওয়া ও ক্লান্তি আসার অন্যতম কারণ। কিন্তু মহান আল্লাহর তাওফিকে আমি আমার সর্বাত্মক চেষ্টা ব্যয় করেছি এমন একটি শিরোনাম খুঁজে পেতে যা হাদিসের একটি দলের ওপর আলোকপাত করে এবং পূর্ববর্তী পরিভাষা অনুযায়ী তা বিন্যস্ত করে। এটি স্বাভাবিকভাবেই প্রথমে তা অনুধাবন করা এবং দ্বিতীয়ত হাদিসের জ্ঞান সংক্রান্ত বিষয়াদি যা একে ঘিরে রয়েছে তা লক্ষ্য করার দাবি রাখে, যেমনটি অস্পষ্ট নয়। বলা হয়ে থাকে যে, হাফেজ ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) ৮১৭ হিজরি সনে বুখারি শরিফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ শুরু করেছিলেন এবং ৮৪১ হিজরি সনে তা সমাপ্ত করেছিলেন, অথচ তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের আলেমদের সূর্য। সুতরাং সেই সকল ইলমের স্তম্ভ এবং হেদায়েতের সূর্যস্বরূপ ব্যক্তিদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) তুলনায় আমার মতো দুর্বল ব্যক্তি কোথায়! তা সত্ত্বেও, বিষয়গুলোকে কেবল তাদের অস্তিত্ব লাভ এবং অর্জনে ব্যয় হওয়া সময়ের নিরিখে দেখা উচিত নয়, বরং তাদের মান এবং উপকারের নিরিখে দেখা উচিত। এর মাধ্যমেই বিষয়গুলোর মর্যাদা উচ্চ হয়; যেমন মাকড়সার জাল এবং রেশম পোকার রেশম—প্রথমটির দ্রুত ও অধিক উপস্থিতি সত্ত্বেও তা অতি নগণ্য, আর দ্বিতীয়টির ধীরগতি ও স্বল্পতা সত্ত্বেও তা অত্যন্ত মূল্যবান।

‌‌(৩) আর এর মাধ্যমেই আমি সম্মানিত পাঠকের কাছে কিতাবটিতে যা পাবেন সে বিষয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আর এর মাধ্যমেই আমি বিজ্ঞ পাঠকের কাছে সেই সব বিষয়েও ক্ষমা চাচ্ছি যা তারা ব্যাখ্যাগ্রন্থটিতে খুঁজে পাবেন। কেননা আমাদের বর্তমান সময়ে গ্রন্থ রচনায় নিয়োজিত ব্যক্তির জন্য হাজারো অজুহাত রয়েছে। আমরা এমন কোনো লেখক বা অন্য কাউকে দেখিনি যিনি এখন পর্যন্ত (সমালোচনা থেকে) নিরাপদ রয়েছেন। আমি কোনো নিষ্পাপ মানুষ নই, বরং আমি একজন দুর্বল মানুষ যার স্বভাব হলো ভুল করা ও ভুলে যাওয়া। আমি স্খলন ও পথভ্রষ্টতা থেকে আল্লাহর কাছে হেফাজত কামনা করছি এবং সঠিক পথ ও হেদায়েতের জন্য তাঁর তাওফিক প্রার্থনা করছি। আমার সফলতা কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই, তাঁর ওপরই আমি ভরসা করেছি এবং তাঁর দিকেই আমি প্রত্যাবর্তন করি।
(খণ্ড: ১) আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৩)
وَقَدْ أَسْمَيْتُهُ "التَّاجَ‌‌(1) الْجَامِعَ لِلْأُصُولِ‌‌(2) فِي أَحَادِيثِ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم ". أَسْأَلُهُ تَعَالَى أَنْ يَجْعَلَهُ فَأْلًا حَسَنًا عَلَى الْبِلَادِ وَأَنْ يَنْفَعَ بِهِ الْعِبَادَ إِنَّهُ سَمِيعٌ مُجِيبٌ.

منصور علي ناصف الحسيني

--------------------------------------------

‌‌(1) تفاؤلًا بأن يكون مقبولًا معظمًا مرفوعًا ساميًا عاليًا كما يعلو التاج على رؤوس الملوك. اللهم حقق ذلك يا من بيدك كل شيء يا إله العالمين.

‌‌(2) حقًا إنه جامع للأصول وزاد عليها كما سيراه القارئ الكريم إن شاء الله. أسأل الله تعالى أن يكون أثرًا صالحًا. وأن يكون قبلة لأهل العلم والعلماء. أسأل الله الكريم رب العرش العظيم أن يثيبني عليه جميل الذكر في الدنيا وجزيل الأجر في الآخرة مع الذين أنعم الله عليهم من النبيين والصديقين والشهداء والصالحين وحسن أولئك رفيقًا، آمين. والحمد لله رب العالمين.
আমি এর নামকরণ করেছি "আত্তাজুল জামিউ‌‌(১) লিল উসুলি‌‌(২) ফি আহাদিসির রাসুল (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীসসমূহের মূলনীতির পূর্ণাঙ্গ মুকুট)"। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন একে জনপদের জন্য এক শুভ লক্ষণ হিসেবে সাব্যস্ত করেন এবং এর দ্বারা বান্দাদের উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বশ্রোতা, দুআ কবুলকারী।

মানসুর আলী নাসিফ আল-হুসাইনি

--------------------------------------------

‌‌(১) এই আশাবাদ নিয়ে (নামকরণ করা হয়েছে) যেন এটি কবুলযোগ্য, সম্মানিত, সুউচ্চ, মহিমান্বিত ও সমুন্নত হয়, যেমন রাজাদের মস্তকে মুকুট সমুন্নত থাকে। হে আল্লাহ! আপনি একে বাস্তবায়ন করুন, হে সেই সত্তা যাঁর হাতে সবকিছু নিহিত, হে বিশ্বজগতের ইলাহ।

‌‌(২) প্রকৃতপক্ষে এটি মূলনীতিসমূহের সংকলন এবং এতে আরও অতিরিক্ত কিছু সংযোজন করা হয়েছে, যেমনটি সম্মানিত পাঠক ইনশাআল্লাহ দেখতে পাবেন। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন এটি একটি নেক আমল হিসেবে গণ্য হয় এবং ইলম অন্বেষী ও আলিমদের জন্য একটি গন্তব্যস্থলে পরিণত হয়। আমি মহানুভব আল্লাহ, মহান আরশের রব-এর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাকে এর বিনিময়ে দুনিয়াতে সুখ্যাতি এবং আখেরাতে সেই সব ব্যক্তিদের সাথে মহাপুরস্কার দান করেন যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছেন—অর্থাৎ নবীগণ, সিদ্দিকগণ, শহীদগণ এবং নেককারগণ; আর সঙ্গী হিসেবে তারা কতই না উত্তম! আমীন। আর সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌كتاب الإسلام‌‌(1) والإيمان ‌‌(2)

وفيه سبعة أبواب

 

‌‌الباب الأول: في بيانهما

• عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رضي الله عنهما قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «بُنِيَ الإِسُلَامُ عَلَى خَمْسٍ‌‌(3) شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلهَ إِلا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّداً رَسُولُ اللَّهِ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ‌‌(4) وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَالحَجِّ وَصَوْمِ رَمَضَانَ». رَوَاهُ البُخَارِيُّ وَمُسْلِمٌ والتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ.

 

• عَنْ عُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ رضي الله عنه قَالَ: بَيْنَمَا نَحْنُ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ يَوْمٍ إِذْ طَلَعَ‌‌(5) عَلَيْنَا رَجُلٌ شَدِيدُ‌‌(6) بَيَاضِ الثِّيَابِ شَدِيدُ‌‌(7) سَوَادِ الشَّعَرِ، لَا يُرَى عَلَيْهِ أَثَرُ السَّفَر وَلَا يَعْرِفُهُ مِنَّا أَحَدٌ حَتَّى جَلَسَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَسْنَدَ رُكْبَتَيْهِ إِلَى رُكْبَتَيْهِ وَوَضَعَ كَفَّيْهِ عَلَى فَخذَيْهِ‌‌(8) وَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ أَخْبِرْنِي عَنِ الإِسْلَامِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: «الإِسْلَامُ أَنْ تَشْهَدَ أَنْ لَا إِلهَ إِلا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّداً رَسُولُ اللَّهِ وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ‌‌(9) وَتُؤْتِيَ‌‌(10) الزَّكَاةَ وَتَصُومَ رَمَضانَ وَتَحُجَّ البَيْتَ إِنِ اسْتَطَعْتَ إِلَيْهِ سَبِيلاً». قَالَ: صَدَقْتَ. قَالَ فَعَجِبْنَا لَهُ‌‌(11)

--------------------------------------------

كتاب الإسلام والإيمان

‌‌(1) الإسلام في اللغة: الاستسلام والانقياد الظاهري وفي الشرع شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدًا رسول الله الخ ما يأتي.

‌‌(2) الإيمان في اللغة: التصديق القلبي وفي الشرع أن تؤمن بالله وملائكته الخ الآتي في الحديث الثاني.

 

(الباب الأول في بيانهما)

‌‌(3) أي ركب من هذه الخمس كتركيب الشيء من أجزائه التي لا بد منها في تكوينه.

‌‌(4) ستأتي هذه الخمس وافية في أبوابها إن شاء الله تعالى.

‌‌(5) جاءنا رجل.

‌‌(6) عليه ملابس شديدة البياض.

‌‌(7) شعر رأسه ولحيته شديد السواد.

‌‌(8) أي فخذي نفسه كهيئة المتأدب.

‌‌(9) تحافظ عليها في أوقاتها الخمس.

‌‌(10) تعطيها لمستحقيها.

‌‌(11) لأنه سأل كشأن من لم يعلم ثم قال صدقت كحال من يعلم.
‌ইসলাম ও ঈমান অধ্যায়‌‌(১) ‌‌(২)

এতে সাতটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

 

‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: এ দুটির বর্ণনায়

• আবদুল্লাহ বিন উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন: «ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের‌‌(৩) ওপর প্রতিষ্ঠিত: এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল; সালাত কায়েম করা;‌‌(৪) যাকাত প্রদান করা; হজ করা এবং রমাদানের সিয়াম পালন করা।» এটি বর্ণনা করেছেন বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী এবং নাসাঈ।

 

• উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম, এমতাবস্থায় হঠাৎ আমাদের সামনে এমন এক ব্যক্তি আত্মপ্রকাশ‌‌(৫) করলেন যার পোশাক ছিল ধবধবে সাদা,‌‌(৬) চুল ছিল কুচকুচে কালো।‌‌(৭) তাঁর ওপর সফরের কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল না এবং আমাদের মধ্য থেকে কেউ তাঁকে চিনত না। অবশেষে তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকটে গিয়ে বসলেন। তিনি তাঁর দুই হাঁটু রাসূলুল্লাহর দুই হাঁটুর সাথে মিলালেন এবং নিজের দুই হাত তাঁর নিজের উরুর ওপর‌‌(৮) রাখলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ, আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: «ইসলাম হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল; সালাত কায়েম করা;‌‌(৯) যাকাত প্রদান করা;‌‌(১০) রমাদানের সিয়াম পালন করা এবং সামর্থ্য থাকলে বায়তুল্লাহর হজ সম্পাদন করা।» তিনি বললেন: আপনি সত্য বলেছেন। বর্ণনাকারী বলেন: আমরা তাঁর বিষয়ে আশ্চর্যান্বিত হলাম‌‌(১১)

--------------------------------------------

ইসলাম ও ঈমান অধ্যায়

‌‌(১) আভিধানিক অর্থে ইসলাম: আত্মসমর্পণ এবং বাহ্যিক আনুগত্য। আর শরয়ী পরিভাষায়: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল—এই সাক্ষ্য প্রদান করা এবং যা সামনে আসছে।

‌‌(২) আভিধানিক অর্থে ঈমান: অন্তরের বিশ্বাস বা স্বীকৃতি। আর শরয়ী পরিভাষায়: আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ এবং দ্বিতীয় হাদীসে যা সামনে আসছে সেগুলোর ওপর ঈমান আনা।

 

(প্রথম পরিচ্ছেদ: এ দুটির বর্ণনায়)

‌‌(৩) অর্থাৎ এটি এই পাঁচটি জিনিসের সমন্বয়ে গঠিত, যেমন কোনো বস্তুর অস্তিত্বের জন্য তার অপরিহার্য অংশগুলোর সমন্বয় প্রয়োজন হয়।

‌‌(৪) এই পাঁচটি বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা ইনশাআল্লাহ তাদের নির্দিষ্ট অধ্যায়গুলোতে সামনে আসবে।

‌‌(৫) আমাদের নিকট এক ব্যক্তি আসলেন।

‌‌(৬) তাঁর পরনে অত্যন্ত সাদা পোশাক ছিল।

‌‌(৭) তাঁর মাথার চুল ও দাড়ি ছিল অত্যন্ত কালো।

‌‌(八) অর্থাৎ আদব রক্ষার্থে তিনি নিজের উরুর ওপর হাত রাখলেন।

‌‌(৯) পাঁচ ওয়াক্ত নির্ধারিত সময়ে সালাতের হিফাযত করা।

‌‌(১০) এর হকদারদের নিকট তা প্রদান করা।

‌‌(১১) কেননা তিনি এমনভাবে প্রশ্ন করলেন যেন তিনি জানেন না, আবার বললেন ‘আপনি সত্য বলেছেন’ যেন তিনি আগে থেকেই জানেন।
(খণ্ড: ১) আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৫)
يَسْأَلُهُ وَيُصَدِّقهُ قَالَ: فَأَخْبِرنِي عَنِ الإِيمَانِ قَالَ: «أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ‌‌(1) وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ‌‌(2) وَتُؤْمِنَ بِالقَدَرِ‌‌(3) خَيْرِهِ وَشَرِّهِ» قَالَ: صَدَقْتَ، قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ الإِحْسَانِ‌‌(4) قَالَ: «أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ‌‌(5) تَرَاهُ فإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ»‌‌(6) قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنِ السَّاعَةِ‌‌(7). قَالَ: «مَا المَسْؤُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ»‌‌(8)، قَالَ: فَأَخْبِرْنِي عَنْ أَمَارَاتِهَا‌‌(9)، قَالَ: «أَنْ تَلِدَ الأَمَةُ رَبَّتَهَا‌‌(10) وَأَنْ تَرَى الحُفَاةَ‌‌(11) العُرَاةَ العَالَةَ رِعَاءَ‌‌(12) الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي البُنْيَانِ»، قَالَ: ثُمَّ انْطَلَقَ فَلَبِثْتُ مَلِيَا‌‌(13) ثِمَّ قَالَ لِي: «يَا عُمَرُ أَتَدْرِي مَنِ السَّائِلُ؟» قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمَ، قَالَ: «فَإِنَّهُ جِبْرِيلُ أَتَاكُمْ يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ». رَوَاهُ الخَمْسَةُ وَزيدَ فِي رِوَايَةٍ‌‌(14) فِي خَمْسٍ‌‌(15) لَا يَعْلَمُهُنَّ إِلا اللَّهُ، ثُمَّ تَلَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: {إِنَّ اللَّهَ عِندَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ} الآيَةَ ثُمَّ أَدْبَرَ‌‌(16) فَقَالَ: «رُدُّوهُ فَلَمْ يَرَوْا شَيئاً»، فَقَالَ: «هذَا جِبْرِيلُ جَاءَ يُعَلِّمُ النَّاسَ دِينَهُمْ».

--------------------------------------------

‌‌(1) تصدق بوجود الله وأن له ملائكة لا يعلمهم إلا الله - وما يعلم جنود ربك إلا هو - وأنه جل شأنه أنزل كتبًا على رسله لهداية الناس.

‌‌(2) وهو اليوم الذي يجمع الله فيه الخلق كلهم لإقامة العدل بينهم جزاء وفاقا ثم يزيد المؤمنين من فضله.

‌‌(3) أي بتقدير الله للأشياء كلها.

‌‌(4) أي الإخلاص.

‌‌(5) أي تخلص في عبادة الله تعالى ولا تلاحظ فيها سواه مع تمام الإتقان كأنك تراه وقت عبادته.

‌‌(6) فإن لم تقدر على ذلك فلاحظ أنه يراك - وهو معكم أينما كنتم -.

‌‌(7) وقت مجيء القيامة.

‌‌(8) أي فأنا وأنت سواء في عدم العلم بها، قال الله تعالى - يسألونك عن الساعة أيان مرساها قل إنما علمها عند ربي لا يجليها لوقتها إلا هو -.

‌‌(9) أي علاماتها.

‌‌(10) ربتها أي سيدتها وفي رواية ربها أي سيدها، أي من علامات الساعة كثرة اتخاذ الإماء ووطئهن بملك اليمين فتأتي بأولاد وهم أحرار كآبائهم، فإن ولدها من سيدها بمنزلة سيدها؛ لأنه ملك الوالد سائر إلى ولده فهو ربها من هذه الجهة، وقيل: هو كناية عن كثرة عقوق الأولاد حتى يخاف الوالد من ولده كما يخاف الرقيق من سيده.

‌‌(11) الحفاة جمع حاف وهو الذي لا نعل له. العراة جمع عار من الثياب. العالة جمع عائل وهو الفقير.

‌‌(12) رعاء جمع راع ويقال رعاة كولاة والشاء والشياه الغنم، أي ومن علامات الساعة أن ترى أصاغر الناس يفتخرون بطول البنيان.

‌‌(13) كعشيا، زمنا طويلا أي غبت عن النبي صلى الله عليه وسلم ثلاث ليال كما في رواية ثم لقيته.

‌‌(14) أي الشيخين عن أبي هريرة.

‌‌(15) أي علم الساعة داخل في خمس لا يعلمهن إلا الله.

‌‌(16) أي ذهب السائل فقال عليه=
তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করছিলেন এবং তাঁর কথা সত্যায়ন করছিলেন। তিনি বললেন: "আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলুন।" তিনি বললেন: "তা হলো এই যে, আপনি বিশ্বাস করবেন আল্লাহর প্রতি‌‌(১), তাঁর ফেরেশতাগণ, তাঁর কিতাবসমূহ, তাঁর রাসূলগণ এবং শেষ দিবসের প্রতি‌‌(২), আর আপনি বিশ্বাস করবেন ভাগ্যের প্রতি‌‌(৩)—তার ভালো ও মন্দের প্রতি।" তিনি বললেন: "আপনি সত্য বলেছেন।" তিনি বললেন: "আমাকে ইহসান‌‌(৪) সম্পর্কে বলুন।" তিনি বললেন: "তা হলো এই যে, আপনি আল্লাহর ইবাদত করবেন এমনভাবে যেন আপনি তাঁকে দেখতে পাচ্ছেন‌‌(৫); আর যদি আপনি তাঁকে দেখতে না-ও পান, তবে তিনি তো আপনাকে দেখছেন।"‌‌(৬) তিনি বললেন: "আমাকে কিয়ামত‌‌(৭) সম্পর্কে বলুন।" তিনি বললেন: "এ বিষয়ে যাকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে, তিনি জিজ্ঞাসাকারীর চেয়ে অধিক অবগত নন।"‌‌(৮) তিনি বললেন: "তবে আমাকে এর নিদর্শনসমূহ‌‌(৯) সম্পর্কে বলুন।" তিনি বললেন: "তা হলো এই যে, দাসী তার মালিকানিকে‌‌(১০) প্রসব করবে এবং আপনি দেখবেন নগ্নপদ‌‌(১১), বস্ত্রহীন, নিঃস্ব মেষপালকদের‌‌(১২) সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করতে।" তিনি বললেন: এরপর তিনি চলে গেলেন, আর আমি দীর্ঘক্ষণ‌‌(১৩) অবস্থান করলাম। এরপর তিনি আমাকে বললেন: "হে উমর, আপনি কি জানেন জিজ্ঞাসাকারী কে ছিলেন?" আমি বললাম: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।" তিনি বললেন: "তিনি ছিলেন জিবরীল, তিনি তোমাদের নিকট তোমাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন।" এটি পাঁচজন ইমাম বর্ণনা করেছেন এবং একটি বর্ণনায়‌‌(১৪) এই অংশটুকু বেশি আছে: "পাঁচটি বিষয়‌‌(১৫), যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।" এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তিলাওয়াত করলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে}—আয়াতের শেষ পর্যন্ত। এরপর তিনি চলে গেলেন‌‌(১৬), তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তাকে ফিরিয়ে আনো।" কিন্তু তারা কিছুই দেখতে পেল না। তখন তিনি বললেন: "ইনি জিবরীল, মানুষের নিকট তাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন।"

--------------------------------------------

‌‌(১) আল্লাহর অস্তিত্বকে সত্য বলে বিশ্বাস করা এবং এটি বিশ্বাস করা যে তাঁর এমন ফেরেশতা রয়েছে যাদের কথা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না—'আর আপনার রবের সৈন্যবাহিনী সম্পর্কে তিনি ছাড়া আর কেউ জানে না'—এবং মহান আল্লাহ তাঁর রাসূলদের ওপর মানুষের হেদায়েতের জন্য কিতাব অবতীর্ণ করেছেন।

‌‌(২) এটি এমন এক দিন যখন আল্লাহ সমস্ত সৃষ্টিজগতকে তাদের মাঝে ইনসাফ কায়েম করার জন্য একত্রিত করবেন যাতে উপযুক্ত প্রতিদান দেওয়া যায়, অতঃপর তিনি মুমিনদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ আরও বৃদ্ধি করবেন।

‌‌(৩) অর্থাৎ সমস্ত বিষয়ে আল্লাহর নির্ধারণের প্রতি।

‌‌(৪) অর্থাৎ নিষ্ঠা বা ইখলাস।

‌‌(৫) অর্থাৎ আল্লাহর ইবাদতে একনিষ্ঠ হওয়া এবং তাঁর ইবাদতের সময় পূর্ণ নিপুণতার সাথে তিনি ছাড়া অন্য কারো দিকে ভ্রুক্ষেপ না করা, যেন আপনি ইবাদতের সময় তাঁকে দেখতে পাচ্ছেন।

‌‌(৬) যদি আপনি তাতে সক্ষম না হন, তবে খেয়াল রাখুন যে তিনি আপনাকে দেখছেন—'আর তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, তিনি তোমাদের সাথেই আছেন'।

‌‌(৭) কিয়ামত আসার সময়।

‌‌(৮) অর্থাৎ এ সম্পর্কে জ্ঞান না থাকার বিষয়ে আমি এবং আপনি সমান। আল্লাহ তাআলা বলেন—'তারা আপনাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে যে তা কখন ঘটবে? বলুন, এর জ্ঞান তো কেবল আমার রবের নিকট রয়েছে, তিনিই যথাসময়ে তা প্রকাশ করবেন'।

‌‌(৯) অর্থাৎ এর আলামতসমূহ।

‌‌(১০) 'রাব্বাতাহা' অর্থাৎ তার মালিকানি, আর অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে 'রাব্বাহা' অর্থাৎ তার মালিক। অর্থাৎ কিয়ামতের একটি আলামত হলো দাসীদের আধিক্য এবং মালিকানা সূত্রে তাদের সাথে সহবাস করা, ফলে তারা সন্তান প্রসব করবে যারা তাদের পিতার মতো স্বাধীন হবে। যেহেতু পিতার সম্পদ সন্তানের প্রাপ্য হয়, সেহেতু সেই সন্তান তার মায়ের মালিকের স্থলাভিষিক্ত হয়; তাই সে এই দিক থেকে তার মায়ের মালিক বা মনিব। আবার বলা হয়েছে: এটি সন্তানদের অধিক মাত্রায় অবাধ্য হওয়ার রূপক, এমনকি পিতা তার সন্তানকে তেমনি ভয় পাবে যেমন দাস তার মালিককে ভয় পায়।

‌‌(১১) 'আল-হুফাত' শব্দটি 'হাফি' এর বহুবচন, যার অর্থ যার পায়ে জুতো নেই। 'আল-উরাত' অর্থ বস্ত্রহীন। 'আল-আলাহ' অর্থ অভাবগ্রস্ত বা দরিদ্র।

‌‌(১২) 'রিআ' শব্দটি 'রাঈ' এর বহুবচন, যাকে 'রুআহ'ও বলা হয়। 'আশ-শা' ও 'আশ-শিয়াহ' অর্থ ছাগল। অর্থাৎ কিয়ামতের অন্যতম আলামত হলো আপনি দেখবেন সমাজের নিচু স্তরের লোকেরা অট্টালিকার উচ্চতা নিয়ে গর্ব করছে।

‌‌(১৩) দীর্ঘ সময়। অর্থাৎ আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিকট থেকে তিন রাত অনুপস্থিত ছিলাম যেমনটি একটি বর্ণনায় এসেছে, তারপর তাঁর সাথে আমার সাক্ষাৎ হয়।

‌‌(১৪) অর্থাৎ আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত বুখারী ও মুসলিমের বর্ণনা।

‌‌(১৫) অর্থাৎ কিয়ামতের জ্ঞান সেই পাঁচটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না।

‌‌(১৬) অর্থাৎ জিজ্ঞাসাকারী চলে গেলেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন=
(খণ্ড: ১) আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌الباب الثاني: في أوصاف الإيمان الكامل

• عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِك رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى أَكُونَ أَحَبَّ إِلَيْهِ‌‌(1) مِنْ وَالِدِهِ وَوَلَدِهِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ». رَوَاهُ الشَّيْخَان وَالنَّسَائِيُّ.

 

• وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يَحِبَّ لأَخِيهِ مَا يُحِبُّ لِنَفْسِهِ»‌‌(2). رَوَاهُ الخَمْسَةُ إِلا أَبَا دَاوُدَ.

 

• وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «ثَلاثٌ مَنْ كُنَّ فِيهِ وَجَدَ‌‌(3) حَلَاوَةَ الإِيمَانِ: أَنْ يَكُونَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا سِوَاهُمَا‌‌(4) وَأَنْ يُحِبَّ المَرْءَ لَا يُحِبُّهُ إِلا لِلَّهِ تَعَالَى‌‌(5) وَأَنْ يَكُرَهَ أَنْ يَعُودَ‌‌(6) فِي الكُفْرِ كَمَا يَكْرَهُ أَنْ يُقْذَفَ فِي النار». رَوَاهُ الخَمْسَةُ إِلا أَبَا دَاوُدَ.

 

• وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَال: «آيَةُ‌‌(7) الإِيمَانِ حُبُّ الأَنْصَارِ وَآيةُ النِّفَاقِ بُغْضُ الأَنْصَارِ»‌‌(8). رَوَاهُ الشَّيْخَانِ وَالنَّسَائِيُّ.

 

• عَنْ عَلِيَ رضي الله عنه قَالَ: وَالَّذِي فَلَقَ الحَبَّةَ‌‌(9) وَبَرَأَ النَّسَمَةَ‌‌(10) إِنَّهُ لَعَهْدُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِلَيَّ أَلا يُحِبَّنِي إِلا مُؤْمِنٌ وَلَا يُبْغِضَنِي إِلا مُنَافِقٌ‌‌(11). رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ.

--------------------------------------------

=الصلاة والسلام: ردوه عليّ. فذهبوا وراءه فلم يجدوه، ولعل هذا السؤال من جبريل تعدد، فإن عمر لم يرو هذه الزيادة ولو سمعها لرواها والله أعلم.

 

(الباب الثاني في أوصاف الإيمان الكامل)

‌‌(1) أي عنده من كل الناس أي لا يكمل إيمان شخص حتى يقدم ما يرضى الله ورسوله على ما يرضي عشيرته الأقربين، وليس المراد بالمحبة هنا محبة الحنان والشفقة كمحبة الأولاد، ولا محبة العشق كمحبة العاشق، فإن هاتين ليستا بالاختيار، وإنما المراد بالمحبة لازمها، وهو امتثال أمر المحبوب، فإن من أحب إنسانا سارع في هواه.

‌‌(2) كما يحب لنفسه فلا يكمل إيمان شخص حتى يحب للمسلمين مثل ما يحب لنفسه من الصحة واليسار والتوفيق ونحوها.

‌‌(3) أي ذاق طعم الإيمان الكامل.

‌‌(4) أي فيؤثر ما يرضيهما على كل شيء.

‌‌(5) أي وأن تكون محبته للسلم لله تعالى لأنه عبد الله.

‌‌(6) أي يصير كافرا كما يكره الوقوع في النار.

‌‌(7) أي علامة.

‌‌(8) هم أهل المدينة، فعلامة الإيمان الكامل محبهم ولا يبغضهم إلا منافق.

‌‌(9) والله الذي شق الحبة ليخرج نبها.

‌‌(10) خلق النفس.

‌‌(11) إنه لقول النبي صلى الله عليه وسلم لي:=
দ্বিতীয় অধ্যায়: পূর্ণাঙ্গ ঈমানের বৈশিষ্ট্যসমূহ

• আনাস ইবনে মালিক (রা.) হতে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার কাছে তার পিতা, তার সন্তান এবং সমস্ত মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয় হই।" এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি ও মুসলিম এবং নাসাঈ।

 

• তাঁর (আনাস রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।" এটি আবু দাউদ ব্যতীত অন্য পাঁচজন (ইমাম) বর্ণনা করেছেন।

 

• তাঁর (আনাস রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তিনটি গুণ যার মধ্যে রয়েছে, সে ঈমানের মিষ্টতা লাভ করবে: আল্লাহ ও তাঁর রাসুল যেন তার কাছে অন্য সকল কিছুর চেয়ে প্রিয়তর হন; সে যেন কোনো ব্যক্তিকে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই ভালোবাসে; এবং কুফরিতে ফিরে যাওয়াকে সে যেন সেরূপ অপছন্দ করে, যেরূপ সে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে অপছন্দ করে।" এটি আবু দাউদ ব্যতীত অন্য পাঁচজন (ইমাম) বর্ণনা করেছেন।

 

• তাঁর (আনাস রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "ঈমানের নিদর্শন হলো আনসারদের ভালোবাসা এবং মুনাফেকির নিদর্শন হলো আনসারদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা।" এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি ও মুসলিম এবং নাসাঈ।

 

• আলী (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: সেই সত্তার শপথ, যিনি বীজ বিদীর্ণ করেছেন এবং প্রাণ সৃষ্টি করেছেন! অবশ্যই এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আমার প্রতি একটি প্রতিশ্রুতি যে, মুমিন ব্যক্তি ছাড়া কেউ আমাকে ভালোবাসবে না এবং মুনাফিক ছাড়া কেউ আমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে না। এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম, তিরমিজি এবং নাসাঈ।

--------------------------------------------

=(দরুদ ও সালামের পর:) তাকে আমার কাছে ফিরিয়ে নিয়ে এসো। এরপর তারা তাঁর পেছনে গেল কিন্তু তাকে খুঁজে পেল না। সম্ভবত জিবরাঈল (আ.)-এর এই প্রশ্ন করার বিষয়টি একাধিকবার ঘটেছিল, কেননা ওমর (রা.) এই অতিরিক্ত অংশটি বর্ণনা করেননি; যদি তিনি এটি শুনতেন তবে অবশ্যই বর্ণনা করতেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

(দ্বিতীয় অধ্যায়: পূর্ণাঙ্গ ঈমানের বৈশিষ্ট্যসমূহ)

‌‌(১) অর্থাৎ সমস্ত মানুষের তুলনায় তাঁর কাছে; এর অর্থ হলো কোনো ব্যক্তির ঈমান ততক্ষণ পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না সে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সন্তুষ্টিকে তার নিকটাত্মীয় ও বংশের সন্তুষ্টির ওপর অগ্রাধিকার দেবে। এখানে ভালোবাসার অর্থ মমতা ও করুণার ভালোবাসা নয়, যেমন সন্তানদের প্রতি হয়ে থাকে; আবার আসক্তির ভালোবাসাও নয়, যেমন প্রেমিকের ভালোবাসা হয়; কেননা এই দুই প্রকারের ভালোবাসা মানুষের ঐচ্ছিক নয়। বরং এখানে ভালোবাসার উদ্দেশ্য হলো তার অনিবার্য দাবি, আর তা হলো প্রিয়পাত্রের আদেশের অনুসরণ করা। কারণ যে ব্যক্তি কাউকে ভালোবাসে সে তার ইচ্ছার অনুবর্তনে দ্রুত সাড়া দেয়।

‌‌(২) যেমন সে নিজের জন্য ভালোবাসে; সুতরাং কোনো ব্যক্তির ঈমান ততক্ষণ পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না সে মুসলমানদের জন্য সুস্থতা, সচ্ছলতা, তাওফিক এবং অনুরূপ বিষয়গুলো পছন্দ করবে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে।

‌‌(৩) অর্থাৎ পূর্ণাঙ্গ ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করল।

‌‌(৪) অর্থাৎ সে সকল কিছুর ওপর তাদের উভয়ের সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেবে।

‌‌(৫) অর্থাৎ কোনো মুসলমানের প্রতি তার ভালোবাসা যেন কেবল মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই হয়, যেহেতু সে আল্লাহর বান্দা।

‌‌(৬) অর্থাৎ কাফের হয়ে যাওয়াকে সে অপছন্দ করবে যেভাবে সে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়াকে অপছন্দ করে।

‌‌(৭) অর্থাৎ চিহ্ন বা নিদর্শন।

‌‌(৮) তাঁরা হলেন মদিনাবাসী। সুতরাং পূর্ণাঙ্গ ঈমানের নিদর্শন হলো তাদের ভালোবাসা, আর মুনাফিক ছাড়া কেউ তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে না।

‌‌(৯) আল্লাহর শপথ! যিনি বীজ বিদীর্ণ করেছেন তা থেকে অঙ্কুর বের করার জন্য।

‌‌(১০) প্রাণ সৃষ্টি করেছেন।

‌‌(১১) এটি আমার প্রতি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একটি বাণী।=
(খণ্ড: ১) আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৭)
• عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْروٍ رضي الله عنهما عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «المُسْلِمُ مَنْ سَلِمَ المُسْلِمُونَ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ‌‌(1) وَالمُهَاجِرُ مَنْ هَجَرَ مَا نَهَى اللَّهُ عَنْهُ»‌‌(2). رَوَاهُ الخَمْسَةُ وَزَادَ التِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ: «وَالمُؤْمِنُ مَنْ أَمِنَهُ النَّاسُ عَلَى دِمَائِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ»‌‌(3).

 

• وَعَنْهُ أَنَّ رَجُلاً سَأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَيُّ الإِسْلَامِ خَيْرٌ‌‌(4)؟ قَالَ: «تُطْعِمُ الطَّعَامَ وَتَقْرَأُ السَّلَامَ عَلَى مَنْ عَرَفْتَ وَمَنْ لَمْ تَعْرِفْ»‌‌(5). رَوَاهُ الخَمْسَةُ إِلا التِّرْمِذِيُّ.

 

• عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُونَ أَوْ بِضْعٌ وَسِتُّونَ‌‌(6) شُعْبَةً، فَأَفْضَلُهَا قَوْلُ لَا إِلهَ إِلا اللَّهُ‌‌(7) وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ‌‌(8) وَالحَياءُ شُعْبَةٌ‌‌(9) مِنَ الإِيمَانِ».

 

• عَنْ تَمِيمٍ الدَّارِيِّ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «الدِّينُ النَّصِيحَةُ»‌‌(10) قُلْنَا: لِمَنْ؟ قَالَ: «لِلَّهِ‌‌(11) وَلِكِتَابِهِ‌‌(12) وَلِرَسُولِهِ‌‌(13) وَلِأَئمَّةِ

--------------------------------------------

=لا يحبك يا على إلا مؤمن ولا يبغضك إلا منافق، وذلك لأنه ابن عم النبي صلى الله عليه وسلم الشقيق وزوج بنته فاطمة البتول وأبو السبطين النيرين، وهؤلاء هم خواص أهل البيت رضي الله عنهم، وسيأتي في الفضائل إن شاء الله.

‌‌(1) فكامل الإسلام لا يؤذي أحدا لا بلسانه ولا بيده.

‌‌(2) والمهاجر من هجر الحرام فلم يفعله.

‌‌(3) وكامل الإيمان من كان الناس منه في أمان.

‌‌(4) أي خصاله أكثر ثوابا.

‌‌(5) لأن نفعهما يعود على الخلق وهما ينتشر الأمان في الأرض.

‌‌(6) وفي رواية بضع وسبعون بدون شك، والبضعة والبضع بكسر أولها وفتحه في العدد ما بين الثلاث والعشر وقيل البضع سبع وقيل من ثلاث إلى تسع وسيأتي في تفسير سورة الروم، والشعبة: القطعة من الشيء، والمراد بها هنا الخصلة من أمور الدين.

‌‌(7) أكثرها ثوابا لا إله إلا الله محمد رسول الله، لأنها أصل الدين ولا تقبل بقية أعماله إلا بعد الاعتراف بها، وبعدها في الأفضلية إقامة الصلوات وإيتاء الزكوات وصوم رمضان وحج البيت لمن استطاع إليه سبيلا، والإيمان بالله وملائكته وكتبه ورسله واليوم الآخر والإيمان بالأقدار والجهاد لإعلاء كلمة الله ورفع المظالم وإقامة العدل بين الناس وهداية الأمة والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر وأنواع البر وأنواع الإثم ومكارم الأخلاق التي ستأتي في كتاب الأخلاق، وتفضيل بعض هذه الخصال على بعض لما لها من الأثر الصالح في العمران الكوني والمجتمع الإنساني. والفضل بيد الله وحده.

‌‌(8) إزالته عن طريق الناس.

‌‌(9) والحياء لباس جميل وهو خلق يبعث على ترك القبيح وفعل المليح.

‌‌(10) أي مداره على النصيحة كحديث "الحج عرفة".

‌‌(11) بالإيمان به والقيام بواجب شكره وحمل الناس على ذلك.

‌‌(12) بتعلمه والعمل به وإرشاد الناس إلى ذلك.

‌‌(13) باتباعه ونصره في كل شيء.
• আবদুল্লাহ ইবনে আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার জিহ্বা ও হাত‌‌(১) থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ থাকে। আর মুহাজির সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা বর্জন করে»‌‌(২)। এটি পাঁচজন ইমাম বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিজি ও নাসায়ি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন: «আর মুমিন সেই ব্যক্তি, যার কাছে মানুষ তাদের জান ও মালের বিষয়ে নিরাপদ বোধ করে»‌‌(৩)।

 

• আর তাঁর থেকেই বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন: ইসলামের কোন কাজগুলো উত্তম‌‌(৪)? তিনি বললেন: «তুমি খাদ্য দান করবে এবং পরিচিত-অপরিচিত সকলকে সালাম দেবে»‌‌(৫)। তিরমিজি ব্যতীত পাঁচজন ইমাম এটি বর্ণনা করেছেন।

 

• আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «ঈমানের সত্তরের অধিক অথবা ষাটের অধিক‌‌(৬) শাখা রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ শাখা হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’‌‌(৭) বলা এবং সর্বনিম্ন শাখা হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা‌‌(৮)। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা»‌‌(৯)।

 

• তামীম আদ-দারী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «দ্বীন হলো কল্যাণকামিতা (নসিহত)»‌‌(১০) আমরা বললাম: কার জন্য? তিনি বললেন: «আল্লাহর জন্য‌‌(১১), তাঁর কিতাবের জন্য‌‌(১২), তাঁর রাসূলের জন্য‌‌(১৩) এবং মুসলিমদের ইমামদের জন্য...»

--------------------------------------------

=মু’মিন ছাড়া তোমাকে (আলী) কেউ ভালোবাসবে না এবং মুনাফিক ছাড়া কেউ তোমাকে ঘৃণা করবে না। আর এটি একারণে যে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আপন চাচাতো ভাই, তাঁর কন্যা ফাতেমা আল-বাতুলের স্বামী এবং দুই উজ্জ্বল নক্ষত্রস্বরূপ নাতির পিতা। তাঁরাই হলেন আহলে বাইতের বিশিষ্ট সদস্য রাদিয়াল্লাহু আনহুম। ফাদায়েল (মর্যাদা) অধ্যায়ে ইনশাআল্লাহ এ সম্পর্কে বিস্তারিত আসবে।

‌‌(১) সুতরাং পূর্ণাঙ্গ ইসলাম হলো—নিজের জিহ্বা বা হাত দ্বারা কাউকে কষ্ট না দেওয়া।

‌‌(২) আর মুহাজির হলো সেই ব্যক্তি যে হারাম বর্জন করে এবং তা করে না।

‌‌(৩) আর পূর্ণাঙ্গ ঈমানদার সেই ব্যক্তি যার থেকে মানুষ নিরাপদ থাকে।

‌‌(৪) অর্থাৎ কোন কাজগুলোর সওয়াব বেশি।

‌‌(৫) কারণ এ দুটির উপকার সৃষ্টির দিকে ফিরে আসে এবং এগুলোর মাধ্যমে পৃথিবীতে নিরাপত্তা ছড়িয়ে পড়ে।

‌‌(৬) অন্য এক বর্ণনায় সন্দেহ ছাড়াই সত্তরের অধিক বলা হয়েছে। ‘বিদ’উন’ বা ‘বিদ্ব’ শব্দের অর্থ হলো তিন থেকে দশের মধ্যবর্তী সংখ্যা। কেউ বলেছেন সাত, আবার কেউ বলেছেন তিন থেকে নয় পর্যন্ত। সূরা রূমের তাফসীরে এটি সামনে আসবে। আর ‘শু’বাহ’ অর্থ হলো কোনো জিনিসের অংশ বা টুকরো; এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো দ্বীনি বিষয়াবলীর কোনো একটি গুণ বা কাজ।

‌‌(৭) সওয়াবের দিক থেকে সবচেয়ে বড় হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’। কারণ এটি দ্বীনের মূল ভিত্তি এবং এটি স্বীকার করা ছাড়া অন্য কোনো আমল কবুল হয় না। এরপর শ্রেষ্ঠত্বের ক্রমানুসারে হলো নামাজ কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, রমজানের রোজা রাখা এবং সামর্থ্যবান ব্যক্তির জন্য বায়তুল্লাহর হজ করা। এছাড়া আল্লাহর ওপর, তাঁর ফেরেশতাগণের ওপর, তাঁর কিতাবসমূহের ওপর, তাঁর রাসূলগণের ওপর, শেষ দিবসের ওপর এবং তাকদীরের ওপর ঈমান আনা। আরও অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহর কালিমাকে সমুন্নত করার জন্য জিহাদ করা, জুলুম দূর করা, মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার কায়েম করা, উম্মতকে হেদায়েত করা, সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ, বিভিন্ন প্রকার নেক কাজ ও গোনাহের বিষয়াবলী এবং উত্তম চরিত্রসমূহ যা চরিত্র অধ্যায়ে সামনে আসবে। এই বৈশিষ্ট্যগুলোর একটিকে অন্যটির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে মহাজাগতিক আবাদ এবং মানবসমাজে এগুলোর ইতিবাচক প্রভাবের কারণে। আর শ্রেষ্ঠত্ব একমাত্র আল্লাহর হাতেই।

‌‌(৮) মানুষের চলাচলের পথ থেকে তা দূর করা।

‌‌(৯) লজ্জা হলো একটি সুন্দর পোশাক এবং এমন এক চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য যা মানুষকে মন্দ কাজ বর্জন করতে এবং সুন্দর কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে।

‌‌(১০) অর্থাৎ দ্বীন মূলত কল্যাণকামিতার ওপরই আবর্তিত, যেমনটি ‘হজ হলো আরাফা’ হাদিসে বলা হয়েছে।

‌‌(১১) তাঁর প্রতি ঈমান আনার মাধ্যমে, তাঁর শোকরিয়া আদায়ের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে এবং মানুষকে এর প্রতি উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে।

‌‌(১২) তা শেখার মাধ্যমে, সে অনুযায়ী আমল করার মাধ্যমে এবং মানুষকে সেদিকে পথপ্রদর্শনের মাধ্যমে।

‌‌(১৩) তাঁর অনুসরণ করার মাধ্যমে এবং সকল বিষয়ে তাঁকে সাহায্য করার মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৮)
المُسْلِمِينَ‌‌(1) وَعَامَّتِهِمْ»‌‌(2). رَوَاهُمَا الخَمْسَةُ.

 

• عَنِ العَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ المُطَّلِب رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «ذَاقَ طَعْمَ الإِيمَانِ مَنْ رضي بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلَامِ دِيناً وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولاً»‌‌(3). رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَالتِّرْمِذِيُّ.

وَلأبِي دَاوُدَ‌‌(4) «مَنْ أَحَبَّ لِلَّهِ وَأَبْغَضَ لِلَّهِ وَأَعْطَى لِلَّهِ وَمَنَعَ لِلَّهِ فَقَدِ اسْتَكْمَلَ الإِيمَانَ»‌‌(5).

 

• عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَكْمَلُ المُؤْمِنينَ إِيمَاناً أَحْسَنُهُمْ خُلُقاً‌‌(6) وَخِيَارُكُمْ خِيَارُكُمْ لِنِسَائِهِمْ»‌‌(7). رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ وَالتِّرْمِذِيُّ‌‌(8).

 

• وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ المَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ»‌‌(9). رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ‌‌(10) في الزُّهْدِ وَابْنُ مَاجَهُ.

 

• عَنْ أَبِي سَعِيدٍ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِذَا رَأَيْتُمُ الرَّجُلَ يَتَعَاهَدُ المَسجِدَ‌‌(11) فَاشْهَدُوا لَهُ بالإِيمَانِ، فَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى يَقُولُ: {إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ} الآية. رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ‌‌(12).

--------------------------------------------

‌‌(1) ولاتهم باحترامهم وإطاعة أمرهم فيما يرضى الله ورسوله - يأيها الذين آمنوا أطيعوا الله وأطيعوا الرسول وأولي الأمر منكم -.

‌‌(2) بإرشادهم إلى ما فيه سعدهم في الدنيا والآخرة، فمن كان بهذه الصفات كان خليفة الله في أرضه.

‌‌(3) أي تمكن الإيمان في قلب من رضي بربه وبفعله معه، فلم يسخط في وقت من الأوقات لعلمه أن الله بعباده حكيم ورحيم فلا يفعل بهم إلا ما فيه مصلحتهم في العاجل والآجل بل كامل الإيمان يلتذ بالبلايا والامتحان على حد قوله:

تلذ لي الآلام مذ أنت مسقمي … وإن تمتحني فهي عندي صنائع

‌‌(4) بسند صالح ورواه الضياء المقدسي وهذه إحدى طرق الاختصار التي درجت عليها كثيرا في الكتاب.

‌‌(5) أي بلغ نهاية الإيمان من كان عمله وتركه وحبه وبغضه لله تعالى.

‌‌(6) حسن الخلق في ثلاث: بشاشة الوجه وكف الأذى وبذل الندى، وقد فاز صاحب الخلق الحسن بخيري الدنيا والآخرة.

‌‌(7) أي أرحمهم وألطفهم بأهله.

‌‌(8) بسند حسن.

‌‌(9) أي ابتعاده عما لا حاجة له فيه ولا يهم الإنسان إلا درهم لمعاشه أو راحة لجسمه أو حسنة لمعاده، وغير ذلك وبال عليه.

‌‌(10) بسند غريب ولكنه روي من عدة طرق تصل به إلى رتبة الحسن.

‌‌(11) وفي لفظ يعتاد المساجد، أي يتردد إليها لعبادة الله تعالى.

‌‌(12) بسند حسن.
মুসলিমদের‌‌(১) এবং তাদের সাধারণ জনগণের (২)। তাঁদের উভয়কে পাঁচজন ইমাম বর্ণনা করেছেন।

 

• আব্বাস ইবন আব্দুল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «সেই ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করেছে, যে আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রাসূল হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করেছে»‌‌(৩)। ইমাম মুসলিম ও তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন।

আর আবু দাউদের বর্ণনায়‌‌(৪) আছে: «যে আল্লাহর জন্য ভালোবাসল, আল্লাহর জন্য ঘৃণা করল, আল্লাহর জন্য দান করল এবং আল্লাহর জন্যই দান করা থেকে বিরত থাকল, সে তার ঈমান পূর্ণ করল»‌‌(৫)।

 

• আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «মুমিনদের মধ্যে ঈমানের দিক থেকে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ হলো সেই ব্যক্তি, যার চরিত্র সর্বোত্তম‌‌(৬); আর তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম তারা, যারা তাদের স্ত্রীদের নিকট সর্বোত্তম»‌‌(৭)। এটি আবু দাউদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন‌‌(৮)।

 

• তাঁর (আবু হুরায়রা) থেকেই বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «কোনো ব্যক্তির ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো তার অনর্থক বিষয় ত্যাগ করা»‌‌(৯)। ইমাম তিরমিযী‌‌(১০) যুহদ অধ্যায়ে এবং ইবন মাজাহ এটি বর্ণনা করেছেন।

 

• আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যখন তোমরা কোনো ব্যক্তিকে মসজিদের প্রতি যত্নশীল হতে দেখ‌‌(১১), তখন তোমরা তার ঈমানের সাক্ষ্য দাও। কেননা মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয় আল্লাহর মসজিদসমূহ তারাই আবাদ করে যারা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান আনে, নামাজ কায়েম করে এবং জাকাত প্রদান করে} -আয়াত। এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন‌‌(১২)।

--------------------------------------------

‌‌(১) তাদের নেতৃবর্গের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টির পরিমণ্ডলে তাদের আনুগত্য করার মাধ্যমে - "হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো, রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার উলুল আমরের (নেতৃবর্গের) আনুগত্য করো।"

‌‌(২) তাদের দুনিয়া ও আখেরাতের সৌভাগ্য অর্জনের পথে পরিচালিত করার মাধ্যমে। যার মধ্যে এই গুণাবলি থাকবে, সে পৃথিবীতে আল্লাহর খলিফা হিসেবে গণ্য হবে।

‌‌(৩) অর্থাৎ যার অন্তরে ঈমান বদ্ধমূল হয়েছে, যে তার রবের প্রতি এবং তার সাথে রবের ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট। সে কোনো সময়ই অসন্তুষ্ট হয় না, কারণ সে জানে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি প্রজ্ঞাময় ও দয়ালু; তিনি তাদের জন্য কেবল তাই করেন যাতে ইহকাল ও পরকালে তাদের কল্যাণ নিহিত। বরং পূর্ণাঙ্গ ঈমানদার ব্যক্তি বিপদ-আপদ ও পরীক্ষায় আনন্দ পায়, যেমন কবি বলেছেন:

যেহেতু আপনিই আমাকে অসুস্থ করেছেন, তাই আমার কাছে এই বেদনাও মধুর... আর আপনি যদি আমায় পরীক্ষায় ফেলেন, তবে তা আমার কাছে অনুগ্রহ স্বরূপ।

‌‌(৪) একটি গ্রহণযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে, এবং যিয়া আল-মাকদিসি এটি বর্ণনা করেছেন। এটি সংক্ষেপ করার অন্যতম পদ্ধতি যা এই বইয়ে আমি প্রায়শই অনুসরণ করেছি।

‌‌(৫) অর্থাৎ ঈমানের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে সেই ব্যক্তি, যার কর্ম, বর্জন, ভালোবাসা এবং ঘৃণা কেবল আল্লাহর জন্যই নিবেদিত।

‌‌(৬) উত্তম চরিত্র তিনটি জিনিসের ওপর প্রতিষ্ঠিত: প্রফুল্ল মুখচ্ছবি, কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা এবং উদারতা প্রদর্শন। উত্তম চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তি দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ লাভে সফল হয়েছে।

‌‌(৭) অর্থাৎ যে তার পরিবারের প্রতি সবচেয়ে বেশি দয়ালু এবং কোমল।

‌‌(৮) হাসান সনদে।

‌‌(৯) অর্থাৎ এমন বিষয় থেকে দূরে থাকা যাতে তার কোনো প্রয়োজন নেই। মানুষের কেবল পার্থিব জীবিকার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ, শারীরিক প্রশান্তি অথবা পরকালীন পাথেয় হিসেবে নেক আমলেরই গুরুত্ব দেওয়া উচিত, এ ছাড়া বাকি সব তার জন্য আপদ স্বরূপ।

‌‌(১০) গারিব সনদে, তবে এটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যা এটিকে হাসান পর্যায়ে নিয়ে যায়।

‌‌(১১) অন্য বর্ণনায় 'মসজিদে যাতায়াতে অভ্যস্ত' শব্দ এসেছে, অর্থাৎ আল্লাহর ইবাদতের জন্য সেখানে বারবার গমন করা।

‌‌(১২) হাসান সনদে।
(খণ্ড: ১) আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌يزيد الإيمان وينقص ولا تضره الوسوسة

قَالَ اللَّهُ جَلَّ شَأْنَهُ: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ‌‌(1) قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَاناً وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ}.

 

• عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخُدْرِيِّ رضي الله عنه عَنِ النِّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ رَأَى مِنْكُمْ مُنْكَراً‌‌(2) فَلْيُغَيِّرْهُ بيَدِهِ‌‌(3) فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعَ فَبِلِسَانِهِ‌‌(4) فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ‌‌(5) وَذلِكَ أَضْعَفُ الإِيمَانِ»‌‌(6). رَوَاهُ الخَمْسَةُ إِلا البُخَارِيَّ.

 

• عَنِ ابْنِ عُمَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «يَا مَعْشَرَ النِّسَاءِ تَصَدَّقْنَ وَأَكْثِرْنَ الاسْتِغْفَارَ، فَإِنِّي رَأَيْتُكُنَّ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ»‌‌(7) فَقَالَتِ امْرَأَةٌ مِنْهُنَّ جَزْلَةٌ‌‌(8): وَمَا لَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ أَكْثَرَ أَهْلِ النَّارِ؟ قَالَ: «تَكْثِرْنَ اللَّعْنَ‌‌(9) وَتَكْفُرْنَ العَشِيرَ‌‌(10) وَمَا رَأَيْتُ مِنَ نَاقِصَاتِ عَقْلٍ وَدِينٍ أَغْلَبَ لِذِي لُبَ مِنْكُنَّ»‌‌(11) قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَمَا نقْصَانُ العَقْلِ وَالدِّينِ؟ قَالَ: «أَمَّا نقْصَانُ العَقْلِ فَشَهَادَةُ امْرَأَتَيْنِ تَعْدِلُ شَهَادَةَ رَجُلٍ‌‌(12) فَهذَا نُقْصَانُ العَقْلِ. وَتَمْكُثُ اللَّيَالِيَ مَا تُصَلِّي وَتُفْطِرُ فِي رَمَضَانَ‌‌(13)

--------------------------------------------

يزيد الإيمان وينقص ولا تضره الوسوسة

التحقيق أن الإيمان يزيد وينقص ويقوي ويضعف، فإن الآية والحديثين بعدها صرحت بذلك، ولأن الإيمان هو التصديق والأعمال الصالحة.

‌‌(1) خافت من هيبة الله تعالى.

‌‌(2) هو ما أنكره الشارع وحرمه كالزني وشرب الخمر.

‌‌(3) فليمنعه بقوته على سبيل الوجوب إن أمكنه ولم ينله ضرر وإلا فعلى سبيل الندب.

‌‌(4) كقوله: ارجع عن هذا فإنه حرام يغضب الله ورسوله.

‌‌(5) أي فلينكر بقلبه بينه وبين ربه كقوله: إن هذا منكر لا يرضيك ولا أرضاه يا رب.

‌‌(6) أي صاحب الدرجة الأخيرة ضعيف الإيمان وإلا فقوى الإيمان ينكر ولا يبالي بما يناله، للحديث الآتي: أفضل الجهاد كلمة حق عند سلطان جائر.

‌‌(7) حينما نظرت إليها في ليلة المعراج.

‌‌(8) فصيحة بليغة.

‌‌(9) أي السب والطعن.

‌‌(10) الزوج، تستر نعمه ولأقل شيء تقول المرأة لزوجها: ما رأيت منك خيرًا قط.

‌‌(11) وما علمت مخلوقًا ناقصًا في عقله ودينه أكثر غلبة للرجل ذي اللب أي العقل من النساء.

‌‌(12) فشهادة المرأتين بشهادة رجل، قال تعالى: فإن لم يكونا رجلين فرجل وامرأتان من ترضون من الشهداء.

‌‌(13) بسبب الحيض.
ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায় এবং কুমন্ত্রণা একে ক্ষতি করে না

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: {মুমিন তো কেবল তারাই, যাদের সামনে যখন আল্লাহর নাম স্মরণ করা হয়, তখন তাদের অন্তর প্রকম্পিত হয়‌‌(১) এবং যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয়, তখন তা তাদের ঈমান বৃদ্ধি করে দেয় এবং তারা তাদের রবের ওপরই ভরসা করে।}

 

• আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে কেউ যদি কোনো অন্যায় কাজ‌‌(২) হতে দেখে, তবে সে যেন তা তার হাত দ্বারা‌‌(৩) পরিবর্তন করে দেয়। যদি তাতে সক্ষম না হয়, তবে তার মুখ দ্বারা‌‌(৪)। আর যদি তাতেও সক্ষম না হয়, তবে তার অন্তর দ্বারা‌‌(৫); এবং এটিই ঈমানের দুর্বলতম স্তর»‌‌(৬)। বুখারী ব্যতীত পাঁচজন ইমাম এটি বর্ণনা করেছেন।

 

• ইবনে উমর থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «হে নারী জাতি! তোমরা দান-সদকা করো এবং অধিক পরিমাণে ক্ষমা প্রার্থনা করো। কারণ আমি তোমাদেরকে জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসী হিসেবে দেখেছি»‌‌(৭) তখন তাদের মধ্য থেকে এক বুদ্ধিমতী‌‌(৮) নারী বলল: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের জাহান্নামের অধিকাংশ অধিবাসী হওয়ার কারণ কী? তিনি বললেন: «তোমরা অধিক পরিমাণে অভিশাপ দিয়ে থাকো‌‌(৯) এবং স্বামীর অকৃতজ্ঞতা করো‌‌(১০)। আমি বুদ্ধি ও দ্বীনের ক্ষেত্রে অপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও জ্ঞানবান পুরুষের ওপর তোমাদের চেয়ে অধিক প্রভাবশালী আর কাউকে দেখিনি»‌‌(১১) সে বলল: হে আল্লাহর রাসূল! বুদ্ধি ও দ্বীনের অপূর্ণতা কী? তিনি বললেন: «বুদ্ধির অপূর্ণতা এই যে, দুইজন মহিলার সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমান‌‌(১২)। এটিই বুদ্ধির অপূর্ণতা। আর নারী বহু রাত সালাত আদায় না করে অতিবাহিত করে এবং রমজানে রোজা ভঙ্গ করে‌‌(১৩)

--------------------------------------------

ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায় এবং কুমন্ত্রণা একে ক্ষতি করে না

সঠিক মত হলো ঈমান বৃদ্ধি পায়, হ্রাস পায়, শক্তিশালী হয় এবং দুর্বল হয়। কারণ আয়াত এবং এর পরবর্তী হাদীসদ্বয় তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছে। তাছাড়া ঈমান হলো সত্য বলে বিশ্বাস করা এবং সৎ আমল করা।

‌‌(১) আল্লাহর গাম্ভীর্যের ভয়ে ভীত হওয়া।

‌‌(২) শরীয়ত যা অস্বীকার করেছে এবং হারাম করেছে, যেমন ব্যভিচার ও মদ্যপান।

‌‌(৩) সাধ্য থাকলে আবশ্যিকভাবে তার শক্তি দ্বারা তা প্রতিহত করবে যদি তার কোনো ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে, অন্যথায় এটি মুস্তাহাব।

‌‌(৪) যেমন তার কথা: তুমি এ থেকে ফিরে এসো, কারণ এটি হারাম যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ক্রোধান্বিত করে।

‌‌(৫) অর্থাৎ নিজের এবং তাঁর রবের মাঝে অন্তরে তা ঘৃণা করা। যেমন বলা: হে রব! এটি একটি অন্যায় যা আপনাকে সন্তুষ্ট করে না এবং আমিও এতে সন্তুষ্ট নই।

‌‌(৬) অর্থাৎ সর্বনিম্ন স্তরের অধিকারী ব্যক্তি দুর্বল ঈমানের অধিকারী। নতুবা শক্তিশালী ঈমানের অধিকারী ব্যক্তি অন্যায়ের প্রতিবাদ করে এবং তার ওপর আপতিত কোনো বিপদের পরোয়া করে না। যেমন সামনের হাদীসে আসবে: শ্রেষ্ঠ জিহাদ হলো অত্যাচারী শাসকের সামনে হকের কথা বলা।

‌‌(৭) যখন তিনি মিরাজের রাতে তাদের দেখেছিলেন।

‌‌(৮) স্পষ্টভাষিণী ও বাগ্মী।

‌‌(৯) গালি দেওয়া ও বিদ্ধ করা।

‌‌(১০) স্বামী। তাঁর অনুগ্রহ গোপন করা এবং সামান্য কারণেই নারী তার স্বামীকে বলে: আমি তোমার কাছ থেকে কখনো কোনো কল্যাণ দেখিনি।

‌‌(১১) বুদ্ধি ও দ্বীনের দিক থেকে অপূর্ণ এমন কোনো সৃষ্টি সম্পর্কে আমার জানা নেই যা নারীদের তুলনায় বুদ্ধিমান পুরুষকে অধিক পরাস্ত করতে পারে।

‌‌(১২) দুইজন মহিলার সাক্ষ্য একজন পুরুষের সাক্ষ্যের সমান। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "যদি দুইজন পুরুষ না থাকে, তবে একজন পুরুষ ও দুইজন মহিলা যাদের তোমরা সাক্ষী হিসেবে পছন্দ করো।"

‌‌(১৩) ঋতুস্রাবের কারণে।
(খণ্ড: ১) আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩০)
فَهذَا نُقْصَانُ الدِّينِ». وَعِبَارَةُ البُخَارِيِّ: أَلَيْسَ إِذَا حَاضَتْ لَمْ تُصَلِّ وَلَمْ تَصُمْ؟ قْلْنَ: بَلَى. قَالَ: «فَذلِكَ مِنْ نُقْصَانِ دِينِهَا». رَوَاهُ الخَمْسَة.

 

• عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «يَأْتِي الشَّيْطَانُ أَحَدَكُمْ فَيَقُولُ مَنْ خَلَقَ كَذَا مَنْ خَلَقَ كَذَا حَتَّى يَقُولَ مَنْ خَلَقَ رَبَّكَ، فِإِذَا بَلَغَ ذلِكَ‌‌(1) فَلْيَسْتَعِذْ بِاللَّهِ‌‌(2) وَلْيَنْتَهِ»‌‌(3). رَوَاهُ الثَّلَاثَةُ.

 

• وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «يَأْتِي الشَّيْطَانُ أَحَدَكُمْ فَيَقُولُ مَنْ خَلَقَ السَّمَاءِ‌‌(4) مَنُ خَلَقَ الأَرْضَ فَيَقُولُ اللَّهُ، فَمَنْ وَجَدَ مِنْ ذلِكَ شَيْئاً فَلْيَقُلْ آمَنْتَ بِاللَّهِ‌‌(5) وَرُسُلِهِ».

 

• عَنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «قَالَ اللَّهُ عز وجل: إِنَّ أُمَّتَكَ لَا يَزَالُونَ‌‌(6) يَقُولُونَ مَا كَذَا مَا كَذَا حَتَّى يَقُولُوا هذَا اللَّهُ خَلَقَ الخَلْقَ فَمَنْ خَلَقَ اللَّهَ». رَوَاهُمَا الشَّيْخَانِ.

 

• عَنْ عَبْدِ اللَّهِ رضي الله عنه قَالَ: سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الوَسْوَسَةِ قَالَ: «تِلْكَ مَحْضُ الإِيمَانِ»‌‌(7). رَوَاهُ مُسْلِمٌ.

 

‌‌الباب الثالث: في فضائل الدين ‌‌(8)

قَالَ اللَّهُ جَلَّ شَأْنُهُ: {وَرَضِيتُ لَكُمُ الأِسْلَامَ دِيناً}‌‌(9).

 

• عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ رضي الله عنه عَنِ النِّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ

--------------------------------------------

‌‌(1) أي من خلق ربك.

‌‌(2) فليتعوذ بالله من الشيطان الرجيم، قال الله تعالى: وإما ينزغنك من الشيطان نزغ فاستعذ بالله.

‌‌(3) أي يترك الاسترسال معه.

‌‌(4) فهو مفسر للحديث قبله.

‌‌(5) أي أرجع إلى الله تعالى، فهو الذي يحفظني من مكايده، وبه يتضح أن المراد بالاستعاذة في الحديث السابق الالتجاء إلى الله تعالى، أي من وسوسة الشيطان اللعين.

‌‌(6) قيل يا رسول الله يخطر على قلوبنا ما يعظم علينا أن نتكلم به، ولعله ما صرح به في الحديثين قبله.

‌‌(7) أي هذه الوسوسة واستعظامكم التكلم بها هو الإيمان الخالص، فالوسوسة لا تضر المؤمن ما دام يستعيذ بالله. والله أعلم.

 

(الباب الثالث في فضائل الدين)

‌‌(8) مزاياه التي تترتب عليه في الدنيا والآخرة كالحفظ من القتل والأسر في الدنيا، وكالحفظ من عذاب القبر وأهوال القيامة وعذاب النار في الآخرة، هذا فضلا عن النعيم الواسع الدائم في جنات فيها ما تشتهيه الأنفس وتلذ الأعين وأنتم فيها خالدون.

‌‌(9) وكفانا فخرًا به أنه دين الله جل شأنه. قال في =
এটি দ্বীনের অপূর্ণতা।" বুখারীর বর্ণনা হলো: "এমনটি কি নয় যে, যখন সে ঋতুবতী হয় তখন সে সালাত আদায় করে না এবং রোজা রাখে না?" তারা বললেন, "হ্যাঁ।" তিনি বললেন, "এটিই তার দ্বীনের অপূর্ণতা।" এটি পাঁচজন ইমাম বর্ণনা করেছেন।

 

• আবু হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "শয়তান তোমাদের কারোর কাছে আসে এবং বলে, 'এটি কে সৃষ্টি করেছেন? ওটি কে সৃষ্টি করেছেন?' এমনকি সে বলে বসে, 'তোমার রবকে কে সৃষ্টি করেছেন?' যখন বিষয়টি এই পর্যায়ে পৌঁছাবে‌‌(১) তখন সে যেন আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে‌‌(২) এবং বিরত থাকে"‌‌(৩)। এটি তিনজন ইমাম বর্ণনা করেছেন।

 

• তাঁর (আবু হুরায়রা) থেকেই বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "শয়তান তোমাদের কারোর কাছে আসে এবং বলে, 'আসমান কে সৃষ্টি করেছেন?‌‌(৪) জমিন কে সৃষ্টি করেছেন?' সে বলে, 'আল্লাহ'। সুতরাং কেউ যখন এ জাতীয় কিছু অনুভব করবে, তখন সে যেন বলে, 'আমি আল্লাহ‌‌(৫) এবং তাঁর রাসূলগণের ওপর ঈমান আনলাম'।"

 

• আনাস ইবনে মালিক (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা বলেছেন: নিশ্চয়ই আপনার উম্মত সর্বদা‌‌(৬) বলতে থাকবে—এটি কী, ওটি কী? এমনকি শেষ পর্যন্ত তারা বলবে, 'আল্লাহ সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন, তাহলে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছেন'।" এটি শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) বর্ণনা করেছেন।

 

• আবদুল্লাহ (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে কুমন্ত্রণা (ওয়াসওয়াসা) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "এটিই তো খাঁটি ঈমান"‌‌(৭)। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: দ্বীনের শ্রেষ্ঠত্ব প্রসঙ্গে ‌‌(৮)

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আমি তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে ইসলামকে মনোনীত করেছি}‌‌(৯)।

 

• উবাদাহ ইবনে সামিত (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক...

--------------------------------------------

‌‌(১) অর্থাৎ, তোমার রবকে কে সৃষ্টি করেছেন।

‌‌(২) অর্থাৎ, সে যেন বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "আর যদি শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে তুমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করো।"

‌‌(৩) অর্থাৎ, শয়তানের প্ররোচনার সাথে সেই চিন্তা চালিয়ে যাওয়া ছেড়ে দেবে।

‌‌(৪) এটি এর আগের হাদীসের ব্যাখ্যামূলক।

‌‌(৫) অর্থাৎ, আমি আল্লাহ তাআলার দিকেই ফিরে যাচ্ছি। তিনিই আমাকে শয়তানের চক্রান্ত থেকে রক্ষা করবেন। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, পূর্ববর্তী হাদীসে আশ্রয় প্রার্থনার অর্থ হলো অভিশপ্ত শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আল্লাহ তাআলার কাছে আশ্রয় নেওয়া।

‌‌(৬) বলা হয়েছে, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মনে এমন সব কথা উদিত হয় যা মুখে বলা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুতর মনে হয়। সম্ভবত এটিই যা পূর্ববর্তী দুটি হাদীসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।

‌‌(৭) অর্থাৎ, এই কুমন্ত্রণা এবং এটি মুখে বলাকে তোমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুতর মনে হওয়া-ই হলো খাঁটি ঈমান। সুতরাং যতক্ষণ মুমিন ব্যক্তি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করবে, ততক্ষণ এই কুমন্ত্রণা তার কোনো ক্ষতি করবে না। আল্লাহই ভালো জানেন।

 

(তৃতীয় পরিচ্ছেদ: দ্বীনের শ্রেষ্ঠত্ব প্রসঙ্গে)

‌‌(৮) দ্বীনের সেসব বৈশিষ্ট্য বা শ্রেষ্ঠত্ব যা দুনিয়া ও আখেরাতে এর সাথে সংশ্লিষ্ট। যেমন দুনিয়াতে হত্যা ও বন্দিত্ব থেকে সুরক্ষা, আর আখেরাতে কবরের আজাব, কিয়ামতের বিভীষিকা ও জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি। এছাড়া জান্নাতের সেই প্রশস্ত ও চিরস্থায়ী নেয়ামত তো আছেই, যেখানে মন যা চায় এবং চোখ যাতে তৃপ্ত হয় তা রয়েছে, আর তোমরা সেখানে চিরকাল থাকবে।

‌‌(৯) আমাদের জন্য এই গর্বই যথেষ্ট যে, এটি মহান আল্লাহর দ্বীন। তিনি বলেছেন...
(খণ্ড: ১) আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩১)
لَا شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ وَأَنَّ عِيسى عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ وَكَلِمَتُهُ‌‌(1) أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوحٌ‌‌(2) مِنْهُ وَالجَنَّةَ حَقٌّ وَالنَّارَ حَقٌّ أَدْخَلَهُ الجَنَّةَ‌‌(3) عَلَى مَا كَانَ عَلَيْهِ مِنْ عَمَلٍ‌‌(4). رَوَاهُ الشَّيْخَانِ.

 

• عَنْ أَبِي ذَرَ الغِفَارِيِّ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «أَتَانِي جِبْرِيلُ عليه السلام فَبَشَّرَنِي أنَّهُ مَنْ مَاتَ مِنْ أُمَّتِكَ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيِئاً‌‌(5) دَخَلَ الجَنَّةَ»‌‌(6). قُلْتُ: وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ؟ قَالَ: «وَإِن زَنَى وَإِنْ سَرَقَ»؟ قُلْتُ: وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ؟ قَالَ: «وَإِن زَنَى وَإِنْ سَرَقَ»، ثُمَّ قَالَ فِي الرَّابِعَةِ: «عَلَى رَغْمِ أَنْفِ أَبِي ذَرَ»‌‌(7). رَوَاهُ الشَّيْخَانِ وَالتِّرْمِذِيُّ‌‌(8).

 

• عَنْ مُعَاذ بْنِ جَبَلٍ رضي الله عنه عَنِ النِّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَا مِنْ أَحَدٍ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلهَ إِلا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّداً رَسُولُ اللَّهِ صِدْقاً مِنْ قَلْبِهِ‌‌(9) إِلا حَرَّمَهُ اللَّهُ عَلَى النَّارِ»‌‌(10)، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَلَا أُخْبِرُ بِهِ النَّاسَ فَيَسْتَبْشِرُوا، قَالَ: «إِذاً يَتَّكِلُوا»‌‌(11) وَأَخْبَرَ بِهَا مُعَاذٌ عِنْدَ مَوْتِهِ تَأَثُّماً‌‌(12).

--------------------------------------------

=كتابه العزيز - إن الدين عند الله الإسلام -.

‌‌(1) هي قوله كن فيكون.

‌‌(2) رحمة من عنده.

‌‌(3) أي فمن مات على هذه العقيدة فهو من أهل الجنة، إلا أنه إن كان فاعلا للواجبات بعيدًا عن المحرمات دخل الجنة بدون عذاب، وإلا فأمره إلى الله تعالى إن شاء عذبه بقدر تقصيره وأدخله الجنة، وإن شاء عفا عنه وأدخله الجنة.

‌‌(4) أي من العاصي.

‌‌(5) بأن مات على عقيدة لا إله إلا الله محمد رسول الله.

‌‌(6) يقال فيه ما قيل في الحديث الذي قبله.

‌‌(7) أي قهرًا عنه.

‌‌(8) وقال: سئل الزهري عن حديث من قال لا إله إلا الله دخل الجنة، فقال: إنما كان هذا في أول الإسلام قبل إزال الشرائع والأحكام ترغيبا في الدين الحنيف.

‌‌(9) أي موقنا ومخلصا بها.

‌‌(10) كان هذا في أول الإسلام كما سبق عن الزهري، أو المراد بالنار نار الخلود وإلا عارضتنا الأدلة الدالة على تعذيب العصاة كقوله تعالى - إن الذين يأكلون أموال اليتامى ظلمًا إنما يأكلون في بطونهم نارًا وسيصلون سعيرًا - وقوله: ومن يعص الله ورسوله ويتعد حدوده يدخله نارًا خالدًا فيها. وقوله: ومن يقتل مؤمنًا متعمدًا فجزاؤه جهنم خالدًا فيها. وستأتي إن شاء الله عدة أحاديث في أول الصلاة وفي أول الزكاة والحج والبيوع والحدود كلها تصرح بتعذيب العصاة فلا بد من التأويل كما قلنا حتى تلتئم نصوص الشريعة.

‌‌(11) على هذا ويتركون العمل.

‌‌(12) خروجًا من الإثم أي من ذنب كتمان العلم.
তাঁর কোনো শরিক নেই এবং মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল এবং ঈসা আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং তাঁর বাণী‌‌(১) যা তিনি মরিয়মের প্রতি নিক্ষেপ করেছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে এক রূহ‌‌(২)। আর জান্নাত সত্য এবং জাহান্নাম সত্য, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন‌‌(৩) তার আমল যা-ই হোক না কেন‌‌(৪)। এটি শাইখাইন (বুখারী ও মুসলিম) বর্ণনা করেছেন।

 

• আবু যার আল-গিফারি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «আমার কাছে জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) আসলেন এবং আমাকে সুসংবাদ দিলেন যে, আপনার উম্মতের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করে মৃত্যুবরণ করবে‌‌(৫), সে জান্নাতে প্রবেশ করবে»‌‌(৬)। আমি বললাম: যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে? তিনি বললেন: «যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে»। আমি বললাম: যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে? তিনি বললেন: «যদিও সে ব্যভিচার করে এবং যদিও সে চুরি করে», অতঃপর চতুর্থবারে তিনি বললেন: «আবু যারের নাসিকা ধূলিধূসরিত হওয়া সত্ত্বেও (অর্থাৎ তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও)»‌‌(৭)। এটি শাইখাইন ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন‌‌(৮)।

 

• মুয়ায ইবনে জাবাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: «এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে অন্তরের সততার সাথে সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল‌‌(৯), তবে আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দিয়েছেন»‌‌(১০)। তিনি (মুয়ায) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি মানুষকে এ সংবাদ দেব না যাতে তারা আনন্দিত হয়? তিনি বললেন: «তাহলে তারা এর ওপরই ভরসা করে বসে থাকবে (আমল ছেড়ে দেবে)»‌‌(১১)। মুয়ায (রাযিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর মৃত্যুর সময় গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য‌‌(১২) এ সংবাদটি প্রদান করেছিলেন।

--------------------------------------------

=তাঁর মহাগ্রন্থ—নিশ্চয় আল্লাহর নিকট মনোনীত দ্বীন হলো ইসলাম—।

‌‌(১) তা হলো তাঁর বাণী 'হও', ফলে তা হয়ে যায়।

‌‌(২) তাঁর পক্ষ থেকে এক রহমত।

‌‌(৩) অর্থাৎ যে ব্যক্তি এই আকিদার ওপর মৃত্যুবরণ করবে সে জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে; তবে সে যদি ওয়াজিব পালনকারী এবং হারাম বর্জনকারী হয় তবে বিনা শাস্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করবে, অন্যথায় তার বিষয়টি আল্লাহর ইচ্ছাধীন—তিনি চাইলে তার ত্রুটির পরিমাণ শাস্তি দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, আর চাইলে তাকে ক্ষমা করে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

‌‌(৪) অর্থাৎ পাপিষ্ঠদের মধ্য থেকে হলেও।

‌‌(৫) এভাবে যে, সে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' আকিদার ওপর মৃত্যুবরণ করেছে।

‌‌(৬) এর ব্যাখ্যায় তাই বলা হবে যা পূর্ববর্তী হাদিসের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে।

‌‌(৭) অর্থাৎ তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে বা তার অনিচ্ছা সত্ত্বেও।

‌‌(৮) এবং তিনি বলেছেন: জুহরীকে এই হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, 'যে ব্যক্তি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে', তখন তিনি বললেন: এটি ইসলামের প্রাথমিক যুগে শরিয়ত ও বিধিবিধান অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে ছিল, যাতে এই হানীফ ধর্মের প্রতি মানুষকে আগ্রহী করা যায়।

‌‌(৯) অর্থাৎ এর ওপর দৃঢ় বিশ্বাসী এবং একনিষ্ঠ হয়ে।

‌‌(১০) এটি ইসলামের শুরুর দিকে ছিল যেমনটি জুহরী থেকে পূর্বে বর্ণিত হয়েছে, অথবা জাহান্নাম বলতে চিরস্থায়ী জাহান্নাম বোঝানো হয়েছে, নতুবা এটি অবাধ্যদের শাস্তির সপক্ষে বিদ্যমান দলিলগুলোর সাথে সাংঘর্ষিক হবে। যেমন আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয় যারা এতিমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে, তারা তাদের পেটে আগুনই ভক্ষণ করে এবং তারা শীঘ্রই প্রজ্জ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে।" এবং তাঁর বাণী: "যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হবে এবং তাঁর সীমা লঙ্ঘন করবে, তিনি তাকে আগুনে প্রবেশ করাবেন যেখানে সে চিরকাল থাকবে।" এবং তাঁর বাণী: "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করবে তার প্রতিদান হলো জাহান্নাম, সেখানে সে চিরকাল থাকবে।" আর সালাত, জাকাত, হজ, ক্রয়-বিক্রয় এবং হদ (দণ্ডবিধি)-এর শুরুতে শীঘ্রই ইনশাআল্লাহ অনেক হাদিস আসবে যা পাপিষ্ঠদের শাস্তির বিষয়ে সুস্পষ্ট বর্ণনা দেবে। তাই পূর্বের ন্যায় এর ব্যাখ্যা করা আবশ্যক যাতে শরিয়তের দলিলসমূহ সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

‌‌(১১) এর ওপর (নির্ভর করবে) এবং আমল ত্যাগ করবে।

‌‌(১২) গুনাহ থেকে নিষ্কৃতি পেতে, অর্থাৎ জ্ঞান গোপন করার পাপ থেকে বাঁচতে।
(খণ্ড: ১) আত-তাজুল জামিউ লিল উসূল ফী আহাদীসির রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (পৃষ্ঠা: ৩২)
• وَعَنْهُ قَالَ: كُنْتُ رِدْفَ النَّبِيِّ‌‌(1) صلى الله عليه وسلم عَلَى حِمَارٍ يُقَالُ لَهُ عُفَيْرٌ‌‌(2) فَقَالَ: «يَا مُعَاذُ هَلْ تَدْرِي مَا حَقُّ اللَّهِ عَلَى العِبَادِ وَمَا حَقُّ العِبَادِ عَلَى اللَّهِ»؟‌‌(3) قُلْتُ: اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: «فَإِنَّ حَقَّ اللَّهِ عَلَى العِبَادِ أَنْ يَعْبُدُوا اللَّهَ‌‌(4) وَلَا يُشْرِكُوا بِهِ شَيْئاً، وَحَقَّ العِبَاد عَلَى اللَّهِ عز وجل أَلا يُعَذِّبَ مَنْ لَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئاً»‌‌(5). قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَلَا أُبَشِّرُ النَّاسَ؟ قَالَ: «لَا تُبَشِّرْهُمْ فَيَتَّكِلُوا». رَوَاهُمَا الشَّيْخَانِ وَالتِّرْمِذِيُّ.

 

• عَنْ أَبِي هُرَيْرَة أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ أَيُّ العَمَلِ أَفْضَلُ؟‌‌(6) قَالَ: «إِيمَانٌ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ»‌‌(7)، قِيلَ: ثُمَّ مَاذَا؟ قَالَ: «الجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ»‌‌(8)، قِيلَ: ثُمَّ مَاذَا قَالَ: «حَجٌّ مَبْرُورٌ»‌‌(9). رَوَاهُ الشَّيْخَانِ وَالنَّسَائِيُّ.

 

• وَعَنْهُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «إِذَا أَحْسَنَ أَحَدُكُمْ إِسْلَامَهُ‌‌(10) فَكُلُّ حَسَنَةٍ يَعْمَلُهَا تُكْتَبُ لَهُ بِعَشْر أَمْثَالِهَا إِلَى سَبْعِمِائَةِ ضِعْفٍ، وَكُلُّ سَيِّئَةٍ يَعْمَلهَا تُكْتَبُ لَهُ بِمِثْلِهَا». وَفِي رِوَايَةٍ إِلا أَنْ يَتَجَاوَزَ اللَّهُ عَنْهَا.

رَوَاهُ الشَّيْخَانِ.

 

• عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «يَخْرُجُ مِنَ النَّارِ‌‌(11) مَنْ قَالَ لَا إِلهَ إِلا اللَّهُ‌‌(12) وَفِي قَلْبِهِ وَزْنُ شَعِيرَةٍ مِنْ إِيمَانٍ‌‌(13) وَيَخْرُجُ مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ لَا إِلهَ إِلا اللَّهُ وَفِي قَلْبِهِ وَزْنُ بُرَّةٍ مِنْ إِيمَانٍ، وَيَخْرُجُ مِنَ النَّارِ مَنْ قَالَ لَا إِلهَ إِلا اللَّهُ وَفِي قَلْبِهِ وَزْنُ ذَرَّةٍ مِنْ إِيمَانٍ». قَالَ أَبُو سَعِيدٍ: فَمَنْ شَكَّ

--------------------------------------------

‌‌(1) أي راكبًا خلفه.

‌‌(2) عفير بالتصغير.

‌‌(3) أي فضلا منه وكرمًا لا وجوبًا عليه جل شأنه.

‌‌(4) يوحدونه بألسنتهم وقلوبهم فلا بد من الجمع بينهما.

‌‌(5) يقال فيه ما قيل في الذي قبله.

‌‌(6) أي أي أمور الدين أوجب وأرفع في الدرجة.

‌‌(7) لأنه المطلوب أولا من كل إنسان؛ ولأنه كفيل بسعادة الدارين.

‌‌(8) لأنه لنشر دين الله وإخراج الناس من الظلمات إلى النور.

‌‌(9) لأنه يكفر الذنوب كلها.

‌‌(10) أي أخلص في عبادة الله.

‌‌(11) أي بشفاعة من يأذن الله لهم في الشفاعة أو رحمة الله تعالى.

‌‌(12) مع قرينتها محمد رسول الله.

‌‌(13) أي من مات معترفا بالشهادتين وفي قلبه إيمان ناقص بترك بعض الواجبات أو بفعل بعض المحرمات، ولا يفهم من التعبير بوزن شعيرة أو برة أو ذرة إلا ذلك، والشعيرة حبة الشعير. والبرة حبة البر وهو القمح، والذرة أصغر النمل. وسيأتي في كتاب القيامة أحاديث الشفاعة بما لم يوجد له نظير إن شاء الله.
• তাঁর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী‌‌(১) সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পেছনে এক গাধার পিঠে আরোহী ছিলাম যাকে উফাইর‌‌(২) বলা হতো। তিনি বললেন: «হে মুআয! তুমি কি জানো বান্দার ওপর আল্লাহর হক কী এবং আল্লাহর ওপর বান্দার হক কী?»‌‌(৩) আমি বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক ভালো জানেন। তিনি বললেন: «বান্দার ওপর আল্লাহর হক হলো তারা যেন কেবল আল্লাহরই ইবাদত করে‌‌(৪) এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করে। আর মহান আল্লাহর ওপর বান্দার হক হলো এই যে, যে ব্যক্তি তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করবে না, তিনি তাকে শাস্তি দেবেন না»‌‌(৫)। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি মানুষকে এই সুসংবাদ দেব না? তিনি বললেন: «তাদের সুসংবাদ দিয়ো না, কারণ তারা এর ওপরই ভরসা করে বসে থাকবে»। শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) এবং তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন।

 

• আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করা হলো কোন আমলটি সর্বোত্তম?‌‌(৬) তিনি বললেন: «আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা»‌‌(৭)। জিজ্ঞাসা করা হলো: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: «আল্লাহর পথে জিহাদ করা»‌‌(৮)। জিজ্ঞাসা করা হলো: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: «হজ্জে মাবরুর (কবুল হজ্জ)»‌‌(৯)। শাইখাইন এবং নাসাঈ এটি বর্ণনা করেছেন।

 

• তাঁর থেকেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: «যখন তোমাদের কেউ তার ইসলামকে সুন্দর করে‌‌(১০), তখন সে যে নেক আমল করে তার প্রতিটি আমল দশ গুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত সওয়াব হিসেবে লেখা হয়। আর সে যে মন্দ কাজ করে, তা কেবল সমপরিমাণই লেখা হয়»। অন্য বর্ণনায় রয়েছে—যতক্ষণ না আল্লাহ তা ক্ষমা করে দেন।

শাইখাইন এটি বর্ণনা করেছেন।

 

• আনাস থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: «জাহান্নাম থেকে বের হবে‌‌(১১) সেই ব্যক্তি যে বলেছে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ‌‌(১২) এবং তার হৃদয়ে একটি যবের দানা পরিমাণ ঈমান রয়েছে‌‌(১৩)। জাহান্নাম থেকে সেই ব্যক্তি বের হবে যে বলেছে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং তার হৃদয়ে একটি গমের দানা পরিমাণ ঈমান রয়েছে। জাহান্নাম থেকে সেই ব্যক্তিও বের হবে যে বলেছে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং তার হৃদয়ে একটি অণু পরিমাণ ঈমান রয়েছে»। আবু সাঈদ বলেন: অতএব যার সন্দেহ হবে...

--------------------------------------------

‌‌(১) অর্থাৎ তাঁর পেছনে আরোহণকারী হিসেবে।

‌‌(২) উফাইর শব্দটি তাসগির বা ক্ষুদ্রতাবোধক।

‌‌(৩) অর্থাৎ এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও দানস্বরূপ, তাঁর সুমহান সত্তার ওপর কোনো আবশ্যিক বিষয় হিসেবে নয়।

‌‌(৪) তারা তাদের জিহ্বা ও অন্তর দিয়ে তাঁকে একত্ববাদী হিসেবে স্বীকার করবে; সুতরাং এই দুটির সমন্বয় আবশ্যক।

‌‌(৫) এর ক্ষেত্রেও তা-ই বলা হবে যা এর পূর্ববর্তীটির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে।

‌‌(৬) অর্থাৎ দ্বীনের কোন কাজগুলো অধিক আবশ্যক এবং মর্যাদায় উচ্চতর।

‌‌(৭) কারণ এটিই প্রত্যেক মানুষের কাছে সর্বপ্রথম কাম্য; এবং এটি ইহকাল ও পরকালের সৌভাগ্যের জামিন।

‌‌(৮) কারণ এটি আল্লাহর দ্বীন প্রচারের জন্য এবং মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনার জন্য।

‌‌(৯) কারণ এটি সমস্ত গুনাহ মিটিয়ে দেয়।

‌‌(১০) অর্থাৎ আল্লাহর ইবাদতে একনিষ্ঠ হয়েছে।

‌‌(১১) অর্থাৎ তাদের সুপারিশে যাদের আল্লাহ সুপারিশ করার অনুমতি দেবেন অথবা মহান আল্লাহর রহমতে।

‌‌(১২) এর সহযোগী বাক্য 'মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ' সহ।

‌‌(১৩) অর্থাৎ যে ব্যক্তি দুই শাহাদাত পাঠ করে মারা গেছে অথচ তার হৃদয়ে ত্রুটিপূর্ণ ঈমান ছিল—কিছু ওয়াজিব বর্জন করার কারণে অথবা কিছু হারাম কাজ করার কারণে; এবং যবের দানা, গমের দানা বা অণু পরিমাণ শব্দগুলো দ্বারা কেবল এটিই বোঝানো হয়েছে। 'শাঈরা' হলো যবের দানা, 'বুররা' হলো গমের দানা এবং 'যাররা' হলো ক্ষুদ্রতম পিঁপড়া। কিয়ামত অধ্যায়ে সুপারিশের এমন সব হাদিস আসবে যার কোনো নজির নেই, ইনশাআল্লাহ।