(খণ্ড: ১)
উসুলুদ দ্বীন ইনদাল ইমাম আবি হানিফা
(পৃষ্ঠা: -)
أصول الدين عند الإمام أبي حنيفة القسم: العقيدة
الكتاب : أصول الدين عند الإمام أبي حنيفة
المؤلف : محمد بن عبد الرحمن الخميس
الناشر : دار الصميعي، المملكة العربية السعودية
عدد الصفحات: 683
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইমাম আবু হানিফার নিকট দ্বীনের মূলনীতি বিভাগ: আকিদাহ
গ্রন্থ : ইমাম আবু হানিফার নিকট দ্বীনের মূলনীতি
লেখক : মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান আল-খুমাইস
প্রকাশক : দারুস সুমাইয়ি, সৌদি আরব কিংডম
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৮৩
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ১)
উসুলুদ দ্বীন ইনদাল ইমাম আবি হানিফা
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[أصول الدين عند الإمام أبي حنيفة]ـ
المؤلف: محمد بن عبد الرحمن الخميس
الناشر: دار الصميعي، المملكة العربية السعودية
عدد الأجزاء: 1
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي]
--------------------------------------------
[ইমাম আবু হানিফার নিকট দ্বীনের মূলনীতিসমূহ]
লেখক: মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-খামিস
প্রকাশক: দারুস সুমাইয়ি, সৌদি আরব রাজ্য
খণ্ড সংখ্যা: ১
[বইটির পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি টীকা সংবলিত]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুদ দ্বীন ইনদাল ইমাম আবি হানিফা
(পৃষ্ঠা: ৫)
أصول الدين عند الإمام أبي حنيفة
تأليف: محمد بن عبد الرحمن الخميس
المقدمةإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستهديه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لاشريك له، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} "سورة آل عمران: الآية102".
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} "سورة النساء: الآية1".
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} "سورة الأحزاب: الآيتان70-71".
أما بعد: فإن أحسن الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها وكل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة.
وبعد:
فإن أعظم نعم الله عز وجل على هذه الأمة أن أنزل إليها خير كتبه،
ইমাম আবু হানিফার নিকট দ্বীনের মূলনীতি
রচনায়: মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-খামিস
ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য চাই, তাঁরই নিকট হেদায়েত প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে হেদায়েত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।
“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।” (সূরা আল-ইমরান: ১০২)।
“হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রবকে ভয় করো যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে অধিকার দাবি করো এবং রক্ত-সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বন করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।” (সূরা আন-নিসা: ১)।
“হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।” (সূরা আল-আহযাব: ৭০-৭১)।
অতঃপর: নিশ্চয়ই সর্বশ্রেষ্ঠ বাণী হচ্ছে আল্লাহর কিতাব, আর সর্বোত্তম পথনির্দেশ হচ্ছে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হচ্ছে (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই এই উম্মতের ওপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত হলো যে, তিনি তাদের প্রতি তাঁর শ্রেষ্ঠ কিতাব অবতীর্ণ করেছেন,
(খণ্ড: ১)
উসুলুদ দ্বীন ইনদাল ইমাম আবি হানিফা
(পৃষ্ঠা: ৬)
وأرسل إليها أفضل خلقه وجعلها خير أمة أخرجت للناس، وحفظ لها كتابها الكريم وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، وهما أصل هذا الدين ومنبعه الصافي فلا تنال منهما أبدا أيدي العابثين.
ثم جعل الصحابة والتابعين وأتباعهم بالحق على بصيرة، قائمين بالحق والهدى، مبتعدين عن الهوى والردى، همهم الأول فهم نصوص الكتاب والسنة والتمسك بهما، والاعتصام بهديهما.
ثم جعل من العلماء في كل عصر من دعا إلى الكتاب والسنة، ليبددوا بهما أرجاس الشركيات والوثنيات، ويبددوا بهما ظلمات البدع والخرافات ومنهم الأئمة الأربعة: أبو حنيفة، ومالك، والشافعي، وأحمد، فكلهم متفقون على وجوب التمسك بالكتاب والسنة والرجوع إليهما وترك كل قول يخالفهما؛ فهذا الإمام أبو حنيفة يقول:
"إذا صح الحديث فهو مذهبي" 1.
ويقول: "لا يحل لمن يفتي من كتبي أن يفتي حتى يعلم من أين قلت" 2.
وهذا قول الإمام مالك: "إنما أنا بشر أخطئ وأصيب، فانظروا رأيي فكل ما وافق الكتاب والسنة فخذوه، وكل ما لم يوافق الكتاب والسنة فاتركوه
… " 3.
--------------------------------------------
এবং তিনি তাদের কাছে তাঁর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তিকে পাঠিয়েছেন এবং একে মানুষের জন্য বের করা শ্রেষ্ঠ উম্মত বানিয়েছেন, আর এর জন্য এর সম্মানিত কিতাব এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাতকে সংরক্ষণ করেছেন; এই দুটিই হলো এ দ্বীনের মূল এবং এর স্বচ্ছ উৎস, সুতরাং বিকৃতকারীদের হাত কখনই এগুলোর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।
অতঃপর তিনি সাহাবী, তাবিঈ এবং সত্যের সাথে তাদের অনুসারীদের অন্তর্দৃষ্টির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছেন, যারা সত্য ও হিদায়াতের ওপর অবিচল এবং প্রবৃত্তি ও ধ্বংস থেকে দূরে ছিলেন; তাদের প্রধান চিন্তা ছিল কিতাব ও সুন্নাহর ভাষ্যসমূহ বোঝা, সেগুলোকে আঁকড়ে ধরা এবং তাদের হিদায়াতকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করা।
এরপর তিনি প্রতিটি যুগে এমন সব আলিম সৃষ্টি করেছেন যারা কিতাব ও সুন্নাহর দিকে আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তাঁরা এ দুটির মাধ্যমে শিরক ও মূর্তিপূজার অপবিত্রতা এবং বিদআত ও কুসংস্কারের অন্ধকার দূর করতে পারেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন চার ইমাম: আবু হানিফা, মালিক, শাফিঈ এবং আহমাদ। তাঁরা সকলেই কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরা, সেদিকে ফিরে আসা এবং এর পরিপন্থী সকল বক্তব্য বর্জন করার আবশ্যকতার ব্যাপারে একমত। যেমন এই ইমাম আবু হানিফা বলছেন:
"যখন হাদিস সহীহ হবে, সেটিই আমার মাযহাব" ১।
এবং তিনি বলেন: "আমার কিতাবসমূহ থেকে ফতোয়া প্রদানকারী ব্যক্তির জন্য ততক্ষণ পর্যন্ত ফতোয়া দেওয়া বৈধ নয়, যতক্ষণ না সে জানবে আমি কোথা থেকে (কোন দলীলের ভিত্তিতে) কথাটি বলেছি" ২।
আর এটি ইমাম মালিকের বক্তব্য: "আমি তো কেবল একজন মানুষ, আমি ভুলও করি আবার সঠিকও বলি। তাই তোমরা আমার মতের ব্যাপারে চিন্তা করে দেখো; এর মধ্যে যা কিছু কিতাব ও সুন্নাহর অনুকূলে হয় তা গ্রহণ করো, আর যা কিছু কিতাব ও সুন্নাহর অনুকূলে না হয় তা বর্জন করো..." ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুদ দ্বীন ইনদাল ইমাম আবি হানিফা
(পৃষ্ঠা: ৭)
وهذا الشافعي يقول: "إذا وجدتم في كتابي خلاف سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم فقولوا بسنة رسول الله صلى الله عليه وسلم ودعوا ما قلت"، وفي رواية: "فاتبعوها ولا تلتفتوا إلى قول أحد
… "1.
وهذا الإمام أحمد يقول: "من رد حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم فهو على شفا هلكة
… " 2. ويقول: "لا تقلدني ولا تقلد مالكا ولا الشافعي ولا الأوزاعي ولا الثوري وخذ من حيث أخذوا
… "3.
تلك أقوال الأئمة رضي الله عنهم في الأمر بالتمسك بالسنة والنهي عن مخالفتها، ومع ذلك فقد تعصب بعض الناس للأئمة وخاصة للإمام أبي حنيفة حتى قاربوا به منازل النبيين والمرسلين، فزعموا أن التوراة بشَّرت 4 به وأن محمدا صلى الله عليه وسلم ذكره باسمه وبيّن أنه سراج أمته 5، ونعتوه
--------------------------------------------
আর এই ইমাম শাফেঈ বলছেন: “যদি তোমরা আমার কিতাবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর পরিপন্থী কিছু পাও, তবে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুযায়ী কথা বলো এবং আমার উক্তি বর্জন করো।” অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: “তোমরা সেটিই অনুসরণ করো এবং অন্য কারো কথার দিকে ভ্রুক্ষেপ করো না
… ” ১।
আর এই ইমাম আহমাদ বলছেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিস প্রত্যাখ্যান করল, সে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে
… ” ২। তিনি আরও বলেন: “তুমি আমার তাকলিদ করো না, মালিকের তাকলিদ করো না, শাফেঈর তাকলিদ করো না, আওযায়ীর তাকলিদ করো না এবং সাওরিরও তাকলিদ করো না; বরং তারা যে উৎস থেকে গ্রহণ করেছেন, তুমিও সেখান থেকেই গ্রহণ করো
… ” ৩।
সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার নির্দেশ এবং তার বিরোধিতার ব্যাপারে নিষেধ সম্পর্কে এগুলো ইমামগণের (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) বক্তব্য। তা সত্ত্বেও কিছু মানুষ ইমামগণের প্রতি চরম অন্ধভক্তি প্রদর্শন করেছে, বিশেষ করে ইমাম আবু হানিফার ব্যাপারে, এমনকি তারা তাকে নবি ও রাসূলগণের মর্যাদার কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছে। তারা দাবি করেছে যে, তাওরাত তাঁর আগমনের সুসংবাদ ৪ প্রদান করেছে এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নাম উল্লেখ করেছেন ও বর্ণনা করেছেন যে তিনি তাঁর উম্মতের প্রদীপ ৫, এবং তারা তাঁর প্রশংসা করেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুদ দ্বীন ইনদাল ইমাম আবি হানিফা
(পৃষ্ঠা: ১১)
بالصفات والمناقب ما عدوا به رتبته وتجاوزا معه درجته 1، وتعصب
--------------------------------------------
গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে যার দ্বারা তারা তাঁর মর্যাদা নিরূপণ করেছেন এবং তাঁর স্তরকে অতিক্রম করে গিয়েছেন ১, এবং গোঁড়ামি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুদ দ্বীন ইনদাল ইমাম আবি হানিফা
(পৃষ্ঠা: ২১)
تمهيدفي بيان أن اعتقاد الأئمة الأربعة واحد في مسائل أصول الدين ما عدا مسألة الإيمان
اعتقاد الأئمة الأربعة ـ أبي حنيفة ومالك والشافعي وأحمد ـ هو ما نطق به الكتاب والسنَّة، وما كان عليه الصحابة والتابعون لهم بإحسان. وليس بين هؤلاء الأئمة ولله الحمد نزاع في أصول الدين، بل هم متفقون على الإيمان بصفات الرب، وأن القرآن كلام الله غير مخلوق، وأن الإيمان لا بدّ فيه من تصديق القلب واللسان. بل كانوا ينكرون على أهل الكلام، من جهمية وغيرهم وممن تأثروا بالفلسفة اليونانية والمذاهب الكلامية
…يقول شيخ الإسلام ابن تيمية:
"
… ولكن من رحمة الله بعباده، أن الأئمة الذين لهم في الأمة لسان صدق كالأئمة الأربعة وغيرهم
… كانوا ينكرون على أهل الكلام من الجهمية قولهم في القرآن والإيمان وصفات الرب، وكانوا متفقين على ما كان عليه السلف من أن الله يرى في الآخرة وأن القرآن كلام الله غير مخلوق، وأن الإيمان لا بد فيه من تصديق القلب واللسان
… " 1.
وقال: "إن الأئمة المشهورين كلهم يثبتون الصفات لله تعالى
--------------------------------------------
ভূমিকাদ্বীনের মৌলিক বিষয়াবলির (উসুলুদ দীন) ক্ষেত্রে চার ইমামের আকিদা যে অভিন্ন, ঈমানের মাসআলা ব্যতীত, তার বর্ণনায়।
চার ইমাম — আবু হানিফা, মালিক, শাফিঈ এবং আহমাদ — এর আকিদা হলো তা-ই যা কিতাব ও সুন্নাহ ব্যক্ত করেছে এবং যার ওপর সাহাবী ও নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসারী তাবেয়িগণ ছিলেন। আল্লাহর প্রশংসা যে, দ্বীনের মৌলিক বিষয়াবলির ক্ষেত্রে এই ইমামদের মধ্যে কোনো বিবাদ নেই; বরং তাঁরা রবের সিফাতসমূহ (গুণাবলি) বিশ্বাস করার ব্যাপারে এবং কুরআন আল্লাহর কালাম ও তা মাখলুক (সৃষ্ট) নয় এবং ঈমানের ক্ষেত্রে অন্তরের বিশ্বাস ও মৌখিক স্বীকৃতির অপরিহার্যতা সম্পর্কে একমত ছিলেন। বরং তাঁরা ইলমুল কালামের অনুসারী জাহমিয়াহ ও অন্যান্যদের এবং যারা গ্রীক দর্শন ও কালামি মতবাদ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল, তাদের কঠোর বিরোধিতা করতেন
…শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেন:
"
… কিন্তু বান্দাদের প্রতি আল্লাহর রহমত এই যে, উম্মতের মাঝে যে সকল ইমামদের সুখ্যাতি রয়েছে, যেমন চার ইমাম এবং অন্যান্যরা
… তাঁরা কুরআন, ঈমান এবং রবের সিফাতসমূহ সম্পর্কে জাহমিয়াহ ও কালামপন্থীদের বক্তব্যের বিরোধিতা করতেন। আর তাঁরা সালফে সালেহীনের সেই পথের ওপর একমত ছিলেন যে, আখিরাতে আল্লাহকে দেখা যাবে, কুরআন আল্লাহর কালাম ও তা মাখলুক নয় এবং ঈমানের ক্ষেত্রে অন্তরের বিশ্বাস ও মৌখিক স্বীকৃতি অত্যাবশ্যক
… " ১।
তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই প্রসিদ্ধ ইমামগণের সকলেই মহান আল্লাহর জন্য সিফাতসমূহ সাব্যস্ত করেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুদ দ্বীন ইনদাল ইমাম আবি হানিফা
(পৃষ্ঠা: ২২)
ويقولون: إن القرآن كلام الله ليس بمخلوق، ويقولون: إن الله يرى في الآخرة، هذا مذهب الصحابة والتابعين لهم بإحسان من أهل البيت وغيرهم، وهذا مذهب الأئمة المتبوعين، مثل مالك بن أنس، والثوري، والليث بن سعد، والأوزاعي، وأبي حنيفة، والشافعي وأحمد.." 1.
وسئل شيخ الإسلام ابن تيمية عن اعتقاد الشافعي فأجاب بقوله:
"اعتقاد الشافعي رضي الله عنه، واعتقاد سلف الإسلام، كمالك، والثوري، والأوزاعي، وابن المبارك، وأحمد بن حنبل، وإسحاق بن راهوية، هو اعتقاد المشايخ المقتدى بهم، كالفضيل بن عياض، وأبي سليمان الدارمي، وسهل بن عبد الله التستري، وغيرهم، فإنه ليس بين هؤلاء الأئمة وأمثالهم نزاع في أصول الدين وكذلك أبو حنيفة رحمه الله فإن الاعتقاد الثابت عنه في التوحيد والقدر ونحو ذلك، موافق لاعتقاد هؤلاء واعتقاد هؤلاء هو ما كان عليه الصحابة والتابعون لهم بإحسان، وهو ما نطق به الكتاب والسنة" 2.
وهذا ما اختاره العلامة صديق حسن خان حيث يقول:
"فمذهبنا مذهب السلف إثبات بلا تشبيه، وتنزيه بلا تعطيل، وهو مذهب أئمة الإسلام، كمالك، والشافعي، والثوري، وابن المبارك، والإمام أحمد
… وغيرهم، فإنه ليس بين هؤلاء الأئمة نزاع في أصول الدين، وكذلك أبو حنيفة رضي الله عنه فإن الاعتقاد الثابت عنه موافق لاعتقاد هؤلاء، وهو الذي نطق به الكتاب والسنة
… " 3.
--------------------------------------------
তারা বলেন: নিশ্চয়ই কুরআন আল্লাহর কালাম, তা সৃষ্টি নয়। আর তারা বলেন: পরকালে আল্লাহকে দেখা যাবে। এটি সাহাবী এবং ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারী আহলে বাইত ও অন্যদের মাযহাব। আর এটিই অনুসরণীয় ইমামগণের মাযহাব, যেমন মালিক ইবনে আনাস, সাওরী, লাইস ইবনে সাদ, আওযায়ী, আবু হানিফা, শাফেয়ী এবং আহমাদ..." 1.
শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহকে শাফেয়ীর আকীদা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি এই বলে উত্তর দেন:
"ইমাম শাফেয়ী (রা.)-এর আকীদা এবং ইসলামের সালাফদের আকীদা—যেমন মালিক, সাওরী, আওযায়ী, ইবনুল মুবারক, আহমাদ ইবনে হাম্বল এবং ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ—হলো সেই সব অনুসরণীয় মাশায়েখদের আকীদা, যেমন ফুযাইল ইবনে ইয়াদ, আবু সুলাইমান আদ-দারিমি, সাহল বিন আব্দুল্লাহ আত-তুস্তারি এবং অন্যান্য। কেননা এই সকল ইমাম এবং তাদের সমমনাদের মাঝে দ্বীনের উসূল বা মূলনীতিসমূহ নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। অনুরূপভাবে আবু হানিফা (রহ.)-এর ক্ষেত্রেও তাই; তাওহীদ, তাকদীর এবং এই জাতীয় বিষয়ে তাঁর থেকে যা প্রমাণিত, তা এঁদের আকীদার সাথে সংগতিপূর্ণ। আর এঁদের আকীদা হলো তাই যার ওপর সাহাবীগণ এবং ইহসানের সাথে তাঁদের অনুসারীগণ ছিলেন, এবং যা কিতাব ও সুন্নাহ ব্যক্ত করেছে।" 2.
এটিই আল্লামা সিদ্দিক হাসান খান পছন্দ করেছেন, যেখানে তিনি বলেন:
"আমাদের মাযহাব হলো সালাফদের মাযহাব—সাদৃশ্য প্রদান ব্যতিরেকে সাব্যস্ত করা এবং নিষ্ক্রিয়করণ ব্যতিরেকে পবিত্রতা বর্ণনা করা। এটি ইসলামের ইমামগণের মাযহাব, যেমন মালিক, শাফেয়ী, সাওরী, ইবনুল মুবারক, ইমাম আহমাদ
… এবং অন্যান্য। কেননা এই ইমামদের মাঝে দ্বীনের মূলনীতিসমূহে কোনো বিরোধ নেই। অনুরূপভাবে আবু হানিফা (রা.)-এর ক্ষেত্রেও তাঁর থেকে যা প্রমাণিত তা এঁদের আকীদার সাথে সংগতিপূর্ণ, আর তা-ই কিতাব ও সুন্নাহ ব্যক্ত করেছে
… " 3.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুদ দ্বীন ইনদাল ইমাম আবি হানিফা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وهاك طائفة من أقوال الأئمة الثلاثة ـ مالك، والشافعي، وأحمد ـ "أما أبو حنيفة فستأتي أقواله مفصلة في موضعها" ـ فيما يعتقدونه في مسائل أصول الدين، مع بيان موقفهم من علم الكلام.
أولا ـ الإمام مالك بن أنس.
"أ" قوله في التوحيد:
1- أخرج الهروي عن الشافعي قال: سئل الإمام مالك عن الكلام والتوحيد؛ فقال مالك: "محال أن يُظنَّ بالنبي صلى الله عليه وسلم أنه علَّم أمَّته الاستنجاء، ولم يعلمهم التوحيد، والتوحيد ما قاله النبي صلى الله عليه وسلم: "أمرت أن أقاتل الناس حتى يقولوا لا إله إلا الله" 1، فما عصم به المال والدم حقيقة التوحيد" 2.
2- وأخرج الدارقطني عن الوليد بن مسلم قال: "سألت مالكا، والثوري، والأوزاعي، والليث بن سعد عن الأخبار في الصفات؛ فقالوا: أمرّوها كما جاءت" 3.
--------------------------------------------
এবং এখানে তিন ইমাম—মালেক, শাফেয়ী এবং আহমাদ (আবু হানিফার বক্তব্যসমূহ যথাস্থানে বিস্তারিতভাবে আসবে)—দীনের মূলনীতি সংক্রান্ত মাসআলাসমূহে তাঁদের বিশ্বাস এবং ইলমুল কালাম সম্পর্কে তাঁদের অবস্থানের বর্ণনা পেশ করা হলো।
প্রথমত — ইমাম মালেক ইবনে আনাস।
"ক" তাওহীদ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য:
১- আল-হারাওয়ী ইমাম শাফেয়ী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইমাম মালেককে ইলমুল কালাম এবং তাওহীদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল; তখন মালেক বললেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে এমন ধারণা করা অসম্ভব যে, তিনি তাঁর উম্মতকে ইস্তিনজা (শৌচকার্য) শিক্ষা দিয়েছেন, কিন্তু তাওহীদ শিক্ষা দেননি। আর তাওহীদ হলো তা-ই যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'আমাকে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা বলে—আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' ১। সুতরাং যার মাধ্যমে সম্পদ ও রক্ত নিরাপদ হয়, তা-ই হলো তাওহীদের হাকীকত বা প্রকৃত স্বরূপ" ২।
২- আদ-দারা কুতনী ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি মালেক, সাওরী, আওযাঈ এবং লাইস ইবনে সাদকে গুণাবলী সংক্রান্ত বর্ণনাগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম; তাঁরা বললেন: এগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই অতিক্রম করো (অপরিবর্তিতভাবে গ্রহণ করো)" ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুদ দ্বীন ইনদাল ইমাম আবি হানিফা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
3- وقال ابن عبد البر: "سئل مالك أيرى الله يوم القيامة؟ فقال: نعم يقول الله عز وجل {وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ} "سورة القيامة: الآيتان 22-23".
وقال لقوم آخرين: {كَلَاّ إِنَّهُمْ عَنْ رَبِّهِمْ يَوْمَئِذٍ لَمَحْجُوبُونَ} " سورة المطففين: الآية15"1 ".
أورد القاضي عياض في ترتيب المدارك 2، عن ابن نافع3، وأشهب 4، وأحدهما قال: يزيد على الآخر: يا أبا عبد الله: {وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ} ينظرون إلى الله؟ قال: نعم بأعينهم هاتين، فقلت له: فإن قوما يقولون: لا ينظر إلى الله، إن "ناظرة" بمعنى منتظرة قال: كذبوا بل ينظر إلى الله أما سمعت قول موسى عليه السلام {رَبِّ أَرِنِي أَنْظُرْ إِلَيْكَ} "سورة الأعراف: الآية143".
أترى موسى سأل ربه محالا؟ فقال الله: {لَنْ تَرَانِي} "سورة الأعراف: الآية143".
--------------------------------------------
৩- এবং ইবনে আব্দুল বার বলেন: "মালিককে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কিয়ামতের দিন কি আল্লাহকে দেখা যাবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, মহান ও সর্বশক্তিমান আল্লাহ বলেন: {সেদিন কতগুলো মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে, তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে} (সূরা আল-কিয়ামাহ: আয়াত ২২-২৩)।"
এবং তিনি অন্য একদল লোকের ব্যাপারে বলেছেন: {কখনোই না, নিশ্চয়ই তারা সেদিন তাদের রব থেকে পর্দার অন্তরালে থাকবে} (সূরা আল-মুতাফফিফিন: আয়াত ১৫)১।
কাযী আয়াদ 'তারতীবুল মাদারিক'-এ (২), ইবনে নাফে (৩) এবং আশহাব (৪) থেকে বর্ণনা করেছেন—যাদের একজন অন্যজনের চেয়ে কিছুটা বাড়িয়ে বর্ণনা করেছেন—যে: হে আবু আব্দুল্লাহ! {সেদিন কতগুলো মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে, তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে}—তারা কি আল্লাহর দিকে তাকাবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তাদের এই দুই চোখ দিয়ে। তখন আমি তাকে বললাম: একদল লোক তো বলে যে আল্লাহকে দেখা যাবে না, আর 'নাজিরাহ' (তাকিয়ে থাকা) অর্থ হলো 'মুনতাজিরাহ' (অপেক্ষা করা)। তিনি বললেন: তারা মিথ্যা বলেছে, বরং আল্লাহর দিকে তাকানো হবে। তুমি কি মুসা আলাইহিস সালামের কথা শোননি: {হে আমার রব! আমাকে দেখা দিন, যেন আমি আপনার দিকে তাকাতে পারি} (সূরা আল-আরাফ: আয়াত ১৪৩)।
তুমি কি মনে করো মুসা তাঁর রবের কাছে অসম্ভব কিছু চেয়েছিলেন? অতঃপর আল্লাহ বললেন: {তুমি আমাকে দেখতে পাবে না} (সূরা আল-আরাফ: আয়াত ১৪৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুদ দ্বীন ইনদাল ইমাম আবি হানিফা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أي في الدنيا لأنها دار فناء ولا ينظر ما يبقى بما يفنى فإذا صاروا إلى دار البقاء نظروا بما يبقى إلى ما يبقى وقال الله: {كَلَاّ إِنَّهُمْ عَنْ رَبِّهِمْ يَوْمَئِذٍ لَمَحْجُوبُونَ} "سورة المطففين: الآية15".
4- وأخرج أبو نعيم عن جعفر بن عبد الله قال: "كنا عند مالك بن أنس فجاءه رجل فقال: يا أبا عبد الله {الرَّحْمَنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَى} كيف استوى؟
فما وجد 1 مالك من شيء ما وجد من مسألته، فنظر إلى الأرض، وجعل ينكت بعود في يده علاه الرحضاء ـ يعني العرق ـ ثم رفع رأسه ورمى بالعود، وقال: الكيف منه غير معقول، والاستواء منه غير مجهول، والإيمان به واجب، والسؤال عنه بدعة، وأظنك صاحب بدعة وأمر به فأخرج" 2.
5- وأخرج أبو نعيم عن يحيى بن الربيع قال: "كنت عند مالك بن أنس، ودخل عليه رجل فقال: يا أبا عبد الله، ما تقول فيمن يقول القرآن مخلوق؟ "
--------------------------------------------
অর্থাৎ এই দুনিয়াতে, কারণ এটি নশ্বর জগত। যা অবিনশ্বর তা দিয়ে নশ্বর কিছুর দিকে তাকানো হয় না। সুতরাং তারা যখন অবিনশ্বর জগতে গমন করবে, তখন যা অবিনশ্বর তা দিয়ে অবিনশ্বর সত্তার দিকে তাকাবে। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "কখনোই না, নিশ্চয়ই সেদিন তারা তাদের প্রতিপালক থেকে পর্দার অন্তরালে থাকবে।" (সূরা আল-মুতাফফিফীন: আয়াত ১৫)।
৪- আবু নুয়াইম জাফর ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা মালিক ইবনে আনাসের নিকট ছিলাম। তখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল: হে আবু আব্দুল্লাহ, 'পরম করুণাময় আরশের উপর উঠেছেন', তিনি কীভাবে উঠেছেন?
মালিক (রহ.) এই প্রশ্নের কারণে যতটা রাগান্বিত হয়েছিলেন, অন্য কোনো কিছুতে ততটা হননি। তিনি মাটির দিকে তাকালেন এবং হাতে থাকা একটি কাঠি দিয়ে মাটি খুঁড়তে লাগলেন। তাঁর শরীর থেকে ঘাম ঝরতে লাগল। এরপর তিনি মাথা তুললেন এবং কাঠিটি ছুড়ে ফেলে দিয়ে বললেন: এর ধরণ বোধগম্য নয়, আর 'উঠা' অপরিচিত নয়, এর ওপর ঈমান রাখা ওয়াজিব এবং এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদআত। আমার মনে হয় তুমি একজন বিদআতী। এরপর তিনি নির্দেশ দিলেন এবং তাকে বের করে দেওয়া হলো।" ২।
৫- আবু নুয়াইম ইয়াহইয়া ইবনে রাবী' থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি মালিক ইবনে আনাসের নিকট ছিলাম। এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি তাঁর কাছে প্রবেশ করে বলল: হে আবু আব্দুল্লাহ, যে ব্যক্তি বলে কুরআন সৃষ্ট, তার ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুদ দ্বীন ইনদাল ইমাম আবি হানিফা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فقال مالك: زنديق 1 فاقتلوه فقال: يا أبا عبد الله، إنما أحكي كلاما سمعته فقال: لم أسمعه من أحد، إنما سمعته منك، وعظَّم هذا القول" 2.
6- وأخرج ابن عبد البر عن عبد الله بن نافع قال: "كان مالك بن أنس يقول: من قال القرآن مخلوق يوجع ضربا ويحبس حتى يتوب" 3.
7- وأخرج أبو داود عن عبد الله بن نافع قال: "قال مالك: الله في السماء، وعلمه في كل مكان"4.
"ب" قوله في القدر:
1- أخرج أبو نعيم عن ابن وهب 5 قال: "سمعت مالكا يقول لرجل: سألتني أمس عن القدر؟ قال: نعم. قال: إن الله تعالى يقول: {وَلَوْ شِئْنَا لآتَيْنَا كُلَّ نَفْسٍ هُدَاهَا وَلَكِنْ حَقَّ الْقَوْلُ مِنِّي لأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ} "سورة السجدة:13".
--------------------------------------------
অতঃপর মালিক বললেন: সে একজন যিন্দিক ১ সুতরাং তাকে হত্যা করো। সে ব্যক্তি বলল: হে আবু আব্দুল্লাহ, আমি তো কেবল এমন একটি কথা বর্ণনা করছি যা আমি শুনেছি। তিনি বললেন: আমি এটি কারো থেকে শুনিনি, আমি এটি কেবল তোমার থেকেই শুনেছি, এবং তিনি এই কথাটিকে অত্যন্ত গুরুতর মনে করলেন ২।
৬- এবং ইবনে আব্দুল বার আব্দুল্লাহ ইবনে নাফে থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "মালিক ইবনে আনাস বলতেন: যে ব্যক্তি বলে কুরআন সৃষ্ট, তাকে যন্ত্রণাদায়কভাবে প্রহার করা হবে এবং তাওবা করা পর্যন্ত বন্দি করে রাখা হবে" ৩।
৭- এবং আবু দাউদ আব্দুল্লাহ ইবনে নাফে থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "মালিক বলেছেন: আল্লাহ আসমানে আছেন, আর তাঁর জ্ঞান সর্বত্র বিদ্যমান" ৪।
"খ" তাকদীর সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য:
১- আবু নুআইম ইবনে ওয়াহাব ৫ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি মালিককে এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছি: তুমি কি আমাকে গতকাল তাকদীর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলে? সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর আমি যদি চাইতাম তবে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার সঠিক পথনির্দেশ দান করতাম; কিন্তু আমার পক্ষ থেকে এই কথা সত্য হয়েছে যে, আমি অবশ্যই জিন ও মানুষ উভয় দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করব} "সূরা আস-সাজদাহ: ১৩"।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুদ দ্বীন ইনদাল ইমাম আবি হানিফা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
فلا بد أن يكون ما قال الله تعالى" 1.
2- وقال القاضي عياض: "سئل الإمام مالك عن القدرية من هم؟ قال: من قال: ما خلق المعاصي، وسئل كذلك عن القدرية؟ قال: هم الذين يقولون إن الاستطاعة إليهم، إن شاؤوا أطاعوا، وإن شاؤوا عصوا" 2.
3- وأخرج ابن أبي عاصم عن سعيد بن عبد الجبار قال: "سمعت مالك بن أنس يقول: رأيي فيهم أن يستتابوا؛ فإن تابوا، وإلا قتلوا ـ يعني القدرية ـ" 3.
4- وقال ابن عبد البر: "قال مالك: ما رأيت أحدا من أهل القدر، إلا أهل سخافة وطيش وخفة" 4.
5- وأخرج ابن أبي عاصم عن مروان بن محمد الطاطري قال: "سمعت مالك بن أنس يسأل عن تزويج القدري؟ فقرأ {وَلَعَبْدٌ مُؤْمِنٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكٍ} "سورة البقرة: الآية221" 5.
6- وقال القاضي عياض: "قال مالك: لا تجوز شهادة القدري الذي يدعو 6 ولا الخارجي، والرافضي" 7.
--------------------------------------------
আল্লাহ তাআলা যা বলেছেন তা অবশ্যই হতে হবে। ১.
২- এবং কাযী আইয়াদ বলেন: "ইমাম মালিককে কাদারিয়া সম্প্রদায় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তারা কারা? তিনি বললেন: যারা বলে: (আল্লাহ) পাপসমূহ সৃষ্টি করেননি। এবং তাকে আবারও কাদারিয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: তারা হলো ঐ সকল লোক যারা বলে যে সক্ষমতা তাদের নিজেদের হাতে, তারা চাইলে আনুগত্য করবে আর চাইলে অবাধ্য হবে।" ২.
৩- এবং ইবনুল আবী আসিম সাঈদ বিন আব্দুল জাব্বার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি মালিক বিন আনাসকে বলতে শুনেছি: তাদের (কাদারিয়াদের) ব্যাপারে আমার অভিমত হলো, তাদেরকে তওবা করতে বলা হবে; যদি তারা তওবা করে (তবে ভালো), অন্যথায় তাদেরকে হত্যা করা হবে।" ৩.
৪- এবং ইবনু আবদিল বার বলেন: "মালিক বলেছেন: আমি কদরপন্থীদের (কাদারিয়াদের) মধ্যে নির্বুদ্ধিতা, চপলতা ও লঘুতা ছাড়া আর কিছুই দেখিনি।" ৪.
৫- এবং ইবনুল আবী আসিম মারওয়ান বিন মুহাম্মদ আত-তাতরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি মালিক বিন আনাসকে কাদারিয়া মতাবলম্বীর সাথে বিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি। তখন তিনি পাঠ করলেন: {আর অবশ্যই একজন মুমিন ক্রীতদাস একজন মুশরিকের চেয়ে উত্তম} (সূরা আল-বাকারাহ: আয়াত ২২১)।" ৫.
৬- এবং কাযী আইয়াদ বলেন: "মালিক বলেছেন: যে কাদারি দাওয়াত দেয় ৬ তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা বৈধ নয়, আর খারেজী ও রাফেযীদের সাক্ষ্যও নয়।" ৭.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুদ দ্বীন ইনদাল ইমাম আবি হানিফা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
7 - وقال القاضي عياض: "سئل مالك عن أهل القدر؟ أنكف عن كلامهم؟ قال: نعم إذا كان عارفا بما هو عليه، وفي رواية أخرى قال: لا يصلى خلفهم، ولا يقبل عنهم الحديث، وإن وافيتموهم في ثغر؛ فأخرجوهم منه" 1.
"ج" قوله في الإيمان:
1- أخرج ابن عبد البر، عن عبد الرزاق بن همام، قال: "سمعت ابن جريج 2، وسفيان الثوري، ومعمر بن راشد، وسفيان بن عيينة، ومالك بن أنس يقولون: الإيمان قول وعمل يزيد وينقص" 3.
2- وأخرج أبونعيم، عن عبد الله بن نافع قال: "كان مالك بن أنس يقول: الإيمان قول وعمل" 4.
وأخرج ابن عبد البر، عن أشهب بن عبد العزيز، قال: "قال مالك: فقام الناس يصلون نحو بيت المقدس ستة عشر شهرا، ثم أمروا بالبيت الحرام، فقال الله تعالى: {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ} "سورة البقرة: الآية143".
أي صلاتكم إلى بيت المقدس. قال مالك: وإني لأذكر بهذه قول المرجئة: إن الصلاة ليست من الإيمان"5.
--------------------------------------------
৭ - এবং কাজী আয়াজ বলেন: "মালেককে কাদারিয়াদের (তাকদীর অস্বীকারকারী) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: আমি কি তাদের সাথে কথা বলা থেকে বিরত থাকব? তিনি বললেন: হ্যাঁ, যদি সে তার ভ্রষ্টতা সম্পর্কে অবগত থাকে। অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেন: তাদের পিছনে সালাত আদায় করা যাবে না, তাদের থেকে হাদিস গ্রহণ করা যাবে না এবং তোমরা যদি সীমান্ত চৌকিতে তাদের পাও, তবে তাদের সেখান থেকে বের করে দাও।" ১।
"জিম" ঈমান সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য:
১- ইবনে আব্দুল বার বর্ণনা করেছেন আব্দুর রাজ্জাক বিন হাম্মাম থেকে, তিনি বলেন: "আমি ইবনে জুরাইজ ২, সুফিয়ান আস-সাওরী, মা'মার বিন রাশিদ, সুফিয়ান বিন উয়াইনা এবং মালেক বিন আনাসকে বলতে শুনেছি: ঈমান হলো কথা ও কাজের সমষ্টি, যা বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়।" ৩।
২- এবং আবু নুআইম বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন নাফে থেকে, তিনি বলেন: "মালেক বিন আনাস বলতেন: ঈমান হলো কথা ও কাজ।" ৪।
এবং ইবনে আব্দুল বার আশহাব বিন আব্দুল আজিজ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "মালেক বলেছেন: মানুষ ষোল মাস পর্যন্ত বাইতুল মাকদিসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছেন, এরপর তাদের বাইতুল হারামের দিকে মুখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়, তখন আল্লাহ তাআলা বললেন: {এবং আল্লাহ তোমাদের ঈমান বিনষ্ট করবেন না} (সূরা আল-বাকারাহ: আয়াত ১৪৩)।
অর্থাৎ বাইতুল মাকদিসের দিকে তোমাদের সালাত। মালেক বলেন: আমি এর দ্বারা মুরজিয়াদের সেই কথার প্রতিবাদ করি যারা বলে: সালাত ঈমানের অংশ নয়।" ৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুদ দ্বীন ইনদাল ইমাম আবি হানিফা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
"د" قوله في الصحابة:
أخرج أبو نعيم، عن عبد الله العنبري 1 قال: "قال مالك بن أنس: من تنقَّص أحدا من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، أو كان في قلبه عليهم غل فليس له حق في فيء المسلمين. ثم تلا قوله تعالى: {وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالأِيمَانِ وَلا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلّاً لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَؤُوفٌ رَحِيمٌ} "سورة الحشر:10".
فمن تنقصهم، أو كان في قلبه عليهم غل، فليس له في الفيء حق" 2.
2- وأخرج أبو نعيم، عن رجل من ولد الزبير 3 قال: "كنا عند مالك، فذكروا رجلا يتنقَّص أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فقرأ مالك هذه الآية {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ} ـ جتى بلغ ـ {يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ} "سورة الفتح: الآية29".
فقال مالك: من أصبح في قلبه غيظ على أحد من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فقد أصابته الآية" 4.
3- وأورد القاضي عياض، عن أشهب بن عبد العزيز قال: "كنا
--------------------------------------------
"দ" সাহাবীদের ব্যাপারে তাঁর বক্তব্য:
আবু নুআইম আবদুল্লাহ আল-আনবারী ১ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "মালিক ইবনে আনাস বলেছেন: যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের কাউকে খাটো করে দেখবে বা তাদের প্রতি তার অন্তরে বিদ্বেষ পোষণ করবে, মুসলিমদের ফায়-এর সম্পদে (বিনা যুদ্ধে অর্জিত সম্পদ) তার কোনো অধিকার নেই। এরপর তিনি মহান আল্লাহর বাণী পাঠ করলেন: {আর যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে: হে আমাদের রব! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানের সাথে আমাদের পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছেন। আর যারা ঈমান এনেছে তাদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আপনি অতি দয়ালু, পরম করুণাময়।} (সূরা আল-হাশর: ১০)।
অতএব, যে ব্যক্তি তাদের খাটো করে দেখে অথবা তাদের প্রতি যার অন্তরে বিদ্বেষ রয়েছে, ফায়-এর সম্পদে তার কোনো অধিকার নেই" ২।
২- আবু নুআইম যুবায়ের-এর বংশধর জনৈক ব্যক্তি ৩ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা মালিকের নিকট উপস্থিত ছিলাম, তখন তারা এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের মানহানি করত। তখন মালিক এই আয়াতটি পাঠ করলেন: {মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা (কাফিরদের প্রতি) অত্যন্ত কঠোর...} - যতক্ষণ না তিনি এই অংশ পর্যন্ত পৌঁছালেন - {যা কৃষকদের আনন্দিত করে, যেন তিনি তাদের মাধ্যমে কাফিরদের অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি করতে পারেন।} (সূরা আল-ফাতহ: আয়াত ২৯)।
তখন মালিক বললেন: যার অন্তরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো সাহাবীর প্রতি আক্রোশ সৃষ্টি হয়, এই আয়াতটি তার ওপর আপতিত হবে" ৪।
৩- কাযী আইয়ায আশহাব ইবনে আব্দুল আযীয থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুদ দ্বীন ইনদাল ইমাম আবি হানিফা
(পৃষ্ঠা: ৩০)
عند مالك إذ وقف عليه رجل من العلَويين، وكانوا يقبلون على مجلسه فناداه: يا أبا عبد الله، فأشرف له مالك، ولم يكن إذا ناداه أحد يجيبه أكثر من أن يشرف برأسه فقال له الطالبي: إني أريد أن أجعلك حجة فيما بيني وبين الله، إذا قدمت عليه فسألني، قلت له: مالك قال لي.
فقال له: قل.
فقال: من خير الناس بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم؟
قال: أبو بكر، قال العلوي: ثم من؟ قال مالك: ثم عمر. قال العلوي: ثم من؟ قال: الخليفة المقتول ظلما، عثمان، قال العلوي: والله لا أجالسك أبدا. قال له مالك: فالخيار إليك" 1.
"هـ" نهيه عن الكلام والخصومات في الدين.
أخرج ابن عبد البر، عن مصعب بن عبد الله الزبيري 2 قال: "كان مالك بن أنس يقول: الكلام في الدين أكرهه، ولم يزل أهل بلدنا يكرهونه وينهون عنه، نحو الكلام في رأي جهم والقدر وكل ما أشبه ذلك، ولا يحب الكلام إلا فيما تحته عمل. فأما الكلام في دين الله، وفي الله عز وجل، فالسكوت أحب إليّ لأني رأيت أهل بلدنا ينهون عن الكلام في الدين، إلا فيما تحته عمل" 3.
--------------------------------------------
ইমাম মালিকের নিকট একদা একজন আলওয়ী ব্যক্তি এসে দাঁড়ালেন; তারা তাঁর মজলিসে উপস্থিত হতেন। তিনি তাঁকে ডেকে বললেন: হে আবু আব্দুল্লাহ! তখন মালিক তাঁর দিকে লক্ষ্য করলেন। কেউ তাঁকে ডাকলে তিনি মাথা তুলে তাকানো ছাড়া সাধারণত তেমন কোনো উত্তর দিতেন না। এরপর সেই তালিবী (আলওয়ী) ব্যক্তি তাঁকে বলল: "আমি আপনাকে আমার এবং আল্লাহর মাঝে প্রমাণ বানাতে চাই। যখন আমি আল্লাহর সামনে উপস্থিত হব এবং তিনি আমাকে প্রশ্ন করবেন, তখন আমি তাঁকে বলব: মালিক আমাকে এটি বলেছেন।"
তিনি তাঁকে বললেন: "বলো।"
সে বলল: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কে?"
তিনি বললেন: "আবু বকর।" আলওয়ী ব্যক্তি বলল: "তারপর কে?" মালিক বললেন: "তারপর উমর।" আলওয়ী ব্যক্তি বলল: "তারপর কে?" তিনি বললেন: "অন্যায়ভাবে নিহত খলিফা উসমান।" আলওয়ী ব্যক্তি বলল: "আল্লাহর কসম, আমি আর কখনো আপনার মজলিসে বসব না।" মালিক তাঁকে বললেন: "সিদ্ধান্ত তোমারই।" 1.
"ঙ" দ্বীনের বিষয়ে কালাম এবং ঝগড়া-বিবাদ থেকে তাঁর নিষেধ করা।
ইবনে আব্দুল বার মাসআব ইবনে আব্দুল্লাহ আল-জুবাইরী 2 থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "মালিক ইবনে আনাস বলতেন: আমি দ্বীনের বিষয়ে কালাম অপছন্দ করি। আমাদের শহরের লোকেরা সর্বদা এটি অপছন্দ করতেন এবং তা থেকে নিষেধ করতেন; যেমন জাহমের মতবাদ, তাকদীর এবং এই জাতীয় বিষয়ে কালাম করা। যে আলোচনার পেছনে কোনো আমল নেই, তা পছন্দনীয় নয়। আর আল্লাহর দ্বীন এবং মহান আল্লাহ সম্পর্কে কথা বলার ক্ষেত্রে নীরব থাকাই আমার কাছে অধিক প্রিয়। কারণ আমি আমাদের শহরের লোকদের দেখেছি যে, তাঁরা দ্বীনের বিষয়ে কথা বলতে নিষেধ করতেন, তবে যে বিষয়ের পেছনে কোনো আমল রয়েছে তা ব্যতীত।" 3.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুদ দ্বীন ইনদাল ইমাম আবি হানিফা
(পৃষ্ঠা: ৩১)
2- وأخرج أبو نعيم، عن عبد الله بن نافع قال: "سمعت مالكا يقول: لو أن رجلا ارتكب الكبائر كلها بعد ألَاّ يشرك بالله، ثم تخلى من هذه الأهواء والبدع ـ وذكر كلاما ـ دخل الجنة" 1.
3- وأخرج الهروي، عن إسحاق بن عيسى 2 قال: "قال مالك: من طلب الدين بالكلام تزندق، ومن طلب المال بالكيمياء أفلس، ومن طلب غريب الحديث كُذِّب" 3.
4- وأخرج الخطيب، عن إسحاق بن عيسى قال: "سمعت مالك بن أنس يعيب الجدال في الدين، ويقول: كلما جاءنا رجل أجدل من رجل؛ أرادنا أن نرد ما جاء به جبريل إلى النبي صلى الله عليه وسلم " 4.
5- وأخرج الهروي، عن عبد الرحمن بن مهدي قال: "دخلت على مالك وعنده رجل يسأله، فقال: لعلك من أصحاب عمرو بن عبيد لعن الله عمرو بن عبيد، فإنه ابتدع هذه البدعة من الكلام، ولو كان الكلام علما لتكلم فيه الصحابة والتابعون، كما تكلموا في الأحكام والشرائع" 5.
6- وأخرج الهروي، عن أشهب بن عبد العزيز قال: "سمعت مالكا يقول: إياكم والبدع، قيل: يا أبا عبد الله، وما البدع؟ قال: أهل البدع الذين يتكلمون في أسماء الله، وصفاته، وكلامه، وعلمه، وقدرته، ولايسكتون عما سكت عنه الصحابة والتابعون لهم بإحسان" 6.
--------------------------------------------
২- এবং আবু নুয়াইম আবদুল্লাহ ইবনে নাফি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি মালিককে বলতে শুনেছি: 'যদি কোনো ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক না করার পর সমস্ত কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়, অতঃপর এই প্রবৃত্তি ও বিদআতগুলো বর্জন করে — এবং তিনি কিছু কথা উল্লেখ করলেন — তবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে'।" ১.
৩- এবং আল-হারাবি ইসহাক ইবনে ঈসা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "মালিক বলেছেন: 'যে ব্যক্তি কালাম শাস্ত্রের (তাত্ত্বিক বিতর্ক) মাধ্যমে দ্বীন অন্বেষণ করে সে যিন্দীক (ধর্মত্যাগী) হয়ে যায়, যে ব্যক্তি কিমিয়ার (আলকেমি) মাধ্যমে সম্পদ অন্বেষণ করে সে দেউলিয়া হয়, আর যে ব্যক্তি বিরল হাদিস অন্বেষণ করে সে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হয়'।" ৩.
৪- এবং আল-খাতিব ইসহাক ইবনে ঈসা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি মালিক বিন আনাসকে দ্বীনের বিষয়ে বিতর্কের নিন্দা করতে শুনেছি, তিনি বলতেন: 'যখনই আমাদের কাছে কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির চেয়ে অধিক বিতর্ককারী হয়ে আসে, সে চায় যে জিবরাঈল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যা নিয়ে এসেছেন তা যেন আমরা প্রত্যাখ্যান করি'।" ৪.
৫- এবং আল-হারাবি আবদুর রহমান ইবনে মাহদী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি মালিকের কাছে প্রবেশ করলাম এবং তাঁর নিকট একজন লোক তাঁকে প্রশ্ন করছিল। তিনি বললেন: 'সম্ভবত তুমি আমর বিন উবাইদের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত? আল্লাহ আমর বিন উবাইদকে লানত করুন, কেননা সে কালাম শাস্ত্রের এই বিদআত উদ্ভাবন করেছে। যদি কালাম কোনো জ্ঞান (ইলম) হতো তবে সাহাবী ও তাবিঈগণ এ বিষয়ে কথা বলতেন, যেমন তাঁরা বিধি-বিধান ও শরীয়তের বিষয়ে কথা বলেছেন'।" ৫.
৬- এবং আল-হারাবি আশহাব বিন আবদুল আজিজ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি মালিককে বলতে শুনেছি: 'তোমরা বিদআত থেকে বেঁচে থাকো।' জিজ্ঞেস করা হলো: 'হে আবু আবদুল্লাহ, বিদআত কী?' তিনি বললেন: 'বিদআতী হলো তারা যারা আল্লাহর নামসমূহ, তাঁর গুণাবলি, তাঁর কথা, তাঁর জ্ঞান এবং তাঁর ক্ষমতা নিয়ে কথা বলে এবং সাহাবী ও নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীগণ (তাবিঈগণ) যে বিষয়ে নীরব ছিলেন সে বিষয়ে তারা নীরব থাকে না'।" ৬.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুদ দ্বীন ইনদাল ইমাম আবি হানিফা
(পৃষ্ঠা: ৩২)
7- وأخرج أبونعيم، عن الشافعي قال: "كان مالك بن أنس إذا جاءه بعض أهل الأهواء قال: أما إني على بينة من ربي وديني، وأما أنت فشاكٌّ، فاذهب إلى شاكٍّ فخاصمه" 1.
8- روى ابن عبد البر، عن محمد بن أحمد بن خويزِ منداد المصري المالكي، قال في كتاب الإجارات من كتابه الخلاف: قال مالك: لا تجوز الإجارات في شيء من كتب الأهواء والبدع والتنجيم وذكر كتبا، ثم قال: وكتب أهل الأهواء والبدع عند أصحابنا هي كتب أصحاب الكلام من المعتزلة وغيرهم، وتفسخ الإجارة في ذلك" 2.
ثانيا ـ الإمام الشافعي
"أ" قوله في التوحيد:
1- أخرج البيهقي، عن الربيع بن سليمان قال: "قال الشافعي: من حلف بالله، أو باسم من أسمائه، فحنث؛ فعليه الكفارة. ومن حلف بشيء غير الله، مثل أن يقول الرجل: والكعبة، وأبي، وكذا وكذا ما كان، فحنث؛ فلا كفارة عليه. ومثل ذلك قوله: لعمري.. لا كفارة عليه. ويمين بغير الله فهي مكروهة، منهي عنها من قبل قول الرسول صلى الله عليه وسلم: "إن الله عز وجل نهاكم أن تحلفوا بآبائكم، فمن كان حالفا فليحلف بالله أو ليسكت" 3
… " 4.
--------------------------------------------
৭- আবু নুআইম শাফেঈ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "মালিক বিন আনাস-এর নিকট যখন কুপ্রবৃত্তির অনুসারীদের কেউ আসত, তিনি বলতেন: আমি তো আমার রব ও আমার দ্বীনের ব্যাপারে সুষ্পষ্ট প্রমাণের ওপর আছি, আর তুমি হলে সন্ধিহান; সুতরাং কোনো এক সংশয়বাদীর কাছে যাও এবং তার সাথে বিতর্ক করো।" ১।
৮- ইবনে আব্দুল বার মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন খুওয়াইয মানদাদ আল-মিসরি আল-মালিকি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি তাঁর 'আল-খিলাফ' নামক গ্রন্থের 'কিতাবুল ইজারাত' (ভাড়া সংক্রান্ত অধ্যায়) এ বলেন: মালিক বলেছেন: "কুপ্রবৃত্তি, বিদআত এবং জ্যোতিষশাস্ত্রের কোনো কিতাব ভাড়ায় আদান-প্রদান করা বৈধ নয়।" তিনি আরও কিছু কিতাবের নাম উল্লেখ করেন, অতঃপর বলেন: "আমাদের সঙ্গীদের নিকট কুপ্রবৃত্তি ও বিদআতী লোকদের কিতাব বলতে মুতাযিলা ও অন্যদের ইলমুল কালামের কিতাবসমূহকে বোঝায়, এবং এগুলোর ক্ষেত্রে ভাড়ার চুক্তি বাতিল গণ্য হবে।" ২।
দ্বিতীয়ত — ইমাম শাফেঈ
"ক" তাওহীদ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য:
১- বাইহাকী রাবী বিন সুলায়মান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "শাফেঈ বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে অথবা তাঁর নামসমূহের কোনো একটির নামে শপথ করল, অতঃপর তা ভঙ্গ করল; তার ওপর কাফফারা ওয়াজিব হবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর নামে শপথ করল, যেমন কোনো লোক বলল: কাবার কসম, আমার পিতার কসম, অথবা অমুক অমুক জিনিসের কসম, অতঃপর তা ভঙ্গ করল; তার ওপর কোনো কাফফারা নেই। অনুরূপভাবে তার কথা: 'আমার জীবনের কসম'.. এতে কোনো কাফফারা নেই। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো নামে শপথ করা মাকরূহ, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর মাধ্যমে নিষিদ্ধ করা হয়েছে: 'নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের পিতৃপুরুষদের নামে শপথ করতে নিষেধ করেছেন; সুতরাং কেউ যদি শপথ করতে চায়, সে যেন আল্লাহর নামে শপথ করে অথবা চুপ থাকে' ৩
… " ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুদ দ্বীন ইনদাল ইমাম আবি হানিফা
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وعلَّل الشافعي ذلك بأن أسماء الله غير مخلوقة؛ فمن حلف باسم الله، فحنث؛ فعليه الكفارة 1.
2- وأورد ابن القيم في اجتماع الجيوش الإسلامية، عن الشافعي أنه قال: "القول في السنة التي أنا عليها، ورأيت أصحابنا عليها، أهل الحديث الذين رأيتهم، وأخذت عنهم مثل سفيان، ومالك، وغيرهما: الإقرار بشهادة أن لا إله إلا الله، وأن محمدا رسول الله، وأن الله تعالى على عرشه في سمائه يقرب من خلقه كيف شاء، وأن الله تعالى ينزل إلى السماء الدنيا كيف شاء" 2.
3- وأورد الذهبي عن المزني قال: "قلت إن كان أحد يخرج ما في ضميري، وما تعلَّق بخاطري من أمر التوحيد؛ فالشافعي، فصرت إليه وهو في مسجد مصر، فلما جثوت بين يديه، قلت: هجس في ضميري مسألة في التوحيد، فعلمت أن أحدا لا يعلم علمك، فما الذي عندك؟ فغضب ثم قال: أتدري أين أنت؟ قلت: نعم. قال: هذا الموضع الذي أغرق الله فيه فرعون، أبلغك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أمر بالسؤال عن ذلك؟ قلت: لا، قال: هل تكلم فيه الصحابة؟ قلت: لا، قال: أتدري كم نجما في السماء؟ قلت: لا، قال: فكوكب منها تعرف جنسه، طلوعه، أفوله،
--------------------------------------------
ইমাম শাফেঈ এর কারণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর নামসমূহ সৃষ্ট নয়; সুতরাং কেউ যদি আল্লাহর নামে শপথ করে এবং তা ভঙ্গ করে, তবে তার ওপর কাফফারা ওয়াজিব। ১।
২- ইবনুল কায়্যিম ‘ইজতিমাউল জুইউশিল ইসলামিয়া’ গ্রন্থে ইমাম শাফেঈ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: “সুন্নাহর ব্যাপারে আমার অভিমত—যার ওপর আমি আছি এবং আমাদের সাথীদের অর্থাৎ হাদীস বিশারদদের যাদের আমি দেখেছি এবং যাদের থেকে আমি জ্ঞান অর্জন করেছি যেমন সুফিয়ান, মালিক ও অন্যান্যদের যে মতাদর্শের ওপর দেখেছি, তা হলো: এই সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; আর আল্লাহ তাআলা তাঁর আসমানে তাঁর আরশের ওপর রয়েছেন, তিনি যেভাবে চান তাঁর সৃষ্টির নিকটবর্তী হন এবং আল্লাহ তাআলা যেভাবে চান দুনিয়ার আসমানে অবতরণ করেন।” ২।
৩- আয-যাহাবী আল-মুযানী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: “আমি বললাম, তাওহীদের বিষয়ে আমার অন্তরে যে সংশয় ও খটকা তৈরি হয়েছে তা যদি কেউ দূর করতে পারেন, তবে তিনি হলেন শাফেঈ। ফলে আমি তাঁর কাছে গেলাম, তখন তিনি মিসরের মসজিদে ছিলেন। আমি যখন তাঁর সামনে হাঁটু গেড়ে বসলাম, তখন বললাম: ‘তাওহীদ সংক্রান্ত একটি বিষয় আমার মনে উদয় হয়েছে, আর আমি জানি যে আপনার মতো জ্ঞান আর কারো নেই, তাই এ বিষয়ে আপনার নিকট কী সমাধান আছে?’ তিনি রাগান্বিত হলেন এবং বললেন: ‘তুমি কি জানো তুমি কোথায় আছো?’ আমি বললাম: ‘হ্যাঁ’। তিনি বললেন: ‘এটি সেই স্থান যেখানে আল্লাহ ফেরাউনকে ডুবিয়েছিলেন। তোমার কাছে কি এ সংবাদ পৌঁছেছে যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়ে প্রশ্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন?’ আমি বললাম: ‘না’। তিনি বললেন: ‘সাহাবীগণ কি এ বিষয়ে কোনো কথা বলেছেন?’ আমি বললাম: ‘না’। তিনি বললেন: ‘তুমি কি জানো আকাশে কতগুলো নক্ষত্র আছে?’ আমি বললাম: ‘না’। তিনি বললেন: ‘তাহলে সেগুলোর মধ্য থেকে কোনো একটি গ্রহের ধরন, এর উদয় হওয়া এবং এর অস্ত যাওয়া সম্পর্কে কি তুমি জানো?’”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুদ দ্বীন ইনদাল ইমাম আবি হানিফা
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
ممَّ خلق؟ قلت: لَا، قال: فشيء تراه بعينك من الخلق لست تعرفه تتكلم في علم خالقه؟ ثم سألني عن مسألة في الوضوء فأخطأت فيها، ففرَّعها على أربعة أوجه، فلم أصب في شيء منه، فقال: شيء تحتاج إليه في اليوم خمس مرات؛ تدع علمه وتتكلف علم الخالق إذا هجس في ضميرك ذلك. فارجع إلى قول الله تعالى: {وَإِلَهُكُمْ إِلَهٌ وَاحِدٌ لا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمَنُ الرَّحِيمُ إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَاخْتِلافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَالْفُلْكِ الَّتِي تَجْرِي فِي الْبَحْرِ بِمَا يَنْفَعُ النَّاسَ} "سورة البقرة: الآيتان 163-164".
فاستدل بالمخلوق على الخالق، ولا تتكلف على ما لم يبلغه عقلك" 1.
4- وأخرج ابن عبد البر، عن يونس بن عبد الأعلى 2، قال: "سمعت الشافعي يقول: إذا سمعت الرجل يقول الاسم غير المسمى، أو الشيء غير الشيء، فاشهد عليه بالزندقة" 3.
5- وقال الشافعي في كتابه الرسالة: "والحمد لله
… الذي هو كما وصف به نفسه، وفوق ما يصفه به خلقه" 4.
6- وأورد الذهبي في السير عن الشافعي أنه قال: "نثبت هذه الصفات التي جاء بها القرآن، ووردت بها السنة، وننفي التشبيه عنه، كما نفى عن نفسه، فقال: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} "سورة الشورى: الآية11" 5.
--------------------------------------------
...কী দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে? আমি বললাম: না। তিনি বললেন: সৃষ্টির মধ্যে এমন কিছু যা তুমি নিজের চোখে দেখছো অথচ তুমি তা চেনো না, সেই তুমি কি তার স্রষ্টার জ্ঞান নিয়ে কথা বলছো? তারপর তিনি আমাকে ওজুর একটি মাসআলা জিজ্ঞেস করলেন, যাতে আমি ভুল করলাম। তিনি একে চারটি শাখায় বিন্যস্ত করলেন, কিন্তু আমি কোনোটিতেই সঠিক হতে পারিনি। তখন তিনি বললেন: এমন বিষয় যা তোমার দিনে পাঁচবার প্রয়োজন হয়, তার জ্ঞান তুমি ছেড়ে দিচ্ছ আর স্রষ্টার জ্ঞান নিয়ে নিজেকে কষ্ট দিচ্ছ যখন তোমার মনে তার উদয় হয়? সুতরাং তুমি মহান আল্লাহর বাণীর দিকে ফিরে যাও: {আর তোমাদের ইলাহ একমাত্র ইলাহ, তিনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি পরম দয়াময়, অতি দয়ালু। নিশ্চয় আসমানসমূহ ও জমিনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের পরিবর্তনের মধ্যে এবং সেই সব নৌযানে যা মানুষের উপকারের জন্য সমুদ্রে চলাচল করে...} "সূরা আল-বাকারা: আয়াত ১৬৩-১৬৪"।"
সুতরাং সৃষ্টির মাধ্যমে স্রষ্টার পরিচয় লাভ করো এবং তোমার বুদ্ধি যা পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম নয়, তা নিয়ে নিজেকে কষ্ট দিও না।" ১।
৪- ইবনে আবদুল বার ইউনুস ইবনে আবদিল আলা ২ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি শাফেয়ীকে বলতে শুনেছি: যখন তুমি কোনো ব্যক্তিকে বলতে শুনবে যে 'নাম' (ইসম) 'নামধারী' (মুসাম্মা) থেকে ভিন্ন, অথবা 'বস্তু' (শাই) 'বস্তু' থেকে ভিন্ন, তবে তার ব্যাপারে জিন্দিক হওয়ার সাক্ষ্য দাও।" ৩।
৫- শাফেয়ী তাঁর 'আর-রিসালাহ' গ্রন্থে বলেছেন: "আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য... যিনি ঠিক তেমন, যেমন তিনি নিজের বর্ণনা দিয়েছেন এবং তাঁর সৃষ্টিরা তাঁর যে বর্ণনা দেয়, তিনি তার ঊর্ধ্বে।" ৪।
৬- আয-যাহাবী 'আস-সিয়ার' গ্রন্থে শাফেয়ী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "আমরা সেই সব গুণাবলি সাব্যস্ত করি যা কুরআন নিয়ে এসেছে এবং সুন্নাহতে বর্ণিত হয়েছে। আর আমরা তাঁর থেকে সৃষ্টির সাদৃশ্যকে অস্বীকার করি, যেমনটি তিনি নিজের থেকে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন: {কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়} "সূরা আশ-শুরা: আয়াত ১১"।" ৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুদ দ্বীন ইনদাল ইমাম আবি হানিফা
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
7- وأخرج ابن عبد البر عن الربيع بن سليمان قال: "سمعت الشافعي يقول في قول الله عز وجل {كَلَاّ إِنَّهُمْ عَنْ رَبِّهِمْ يَوْمَئِذٍ لَمَحْجُوبُونَ} "سورة المطففين: الآية15".
أعلمنا الله أن ثم قوما غير محجوبين، ينظرون إليه، لا يضامون في رؤيته" 1.
8- وأخرج اللالكائي، عن الربيع بن سليمان قال: "حضرت محمد بن إدريس الشافعي، جاءته رقعة من الصعيد فيها: ما تقول في قوله تعالى: {كَلَاّ إِنَّهُمْ عَنْ رَبِّهِمْ يَوْمَئِذٍ لَمَحْجُوبُونَ} ، قال الشافعي: "فلما حجبوا هؤلاء في السخط، كان هذا دليلا على أنه يرونه في الرضا. قال الربيع: قلت يا أبا عبد الله وبه تقول؟ قال: نعم به أدين الله" 2.
9- وأخرج ابن عبد البر، عن الجارودي 3 قال: "ذُكر عند الشافعي، إبراهيم بن إسماعيل بن عليَّة 4 فقال: أنا مخالف له في كل شيء، وفي قول لا إله إلا الله، لست أقول كما يقول. أنا أقول لا إله إلا الله الذي كلم موسى عليه السلام تكليما من وراء حجاب، وذاك يقول
--------------------------------------------
৭- ইবনুল বার রাবী ইবনে সুলায়মান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি শাফেয়ীকে মহান আল্লাহর বাণী {কখনো না, সেদিন তারা তাদের প্রতিপালক থেকে অবশ্যই পর্দার অন্তরালে থাকবে} [সূরা আল-মুতাফফিফীন: আয়াত ১৫] সম্পর্কে বলতে শুনেছি:
আল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন যে, সেখানে এমন এক দল লোক থাকবে যারা পর্দার অন্তরালে থাকবে না, তারা তাঁর দিকে তাকাবে এবং তাঁকে দেখার ক্ষেত্রে তারা কোনো ভিড় বা বাধার সম্মুখীন হবে না।" ১।
৮- আল-লালকায়ী রাবী ইবনে সুলায়মান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি মুহাম্মাদ ইবনে ইদরীস আশ-শাফেয়ীর নিকট উপস্থিত ছিলাম, তখন উচ্চ মিশর থেকে তাঁর কাছে একটি চিরকুট এল যাতে লেখা ছিল: মহান আল্লাহর বাণী {কখনো না, সেদিন তারা তাদের প্রতিপালক থেকে অবশ্যই পর্দার অন্তরালে থাকবে} সম্পর্কে আপনি কী বলেন? শাফেয়ী বললেন: 'যখন এদেরকে (কাফেরদের) রাগান্বিত অবস্থায় পর্দার অন্তরালে রাখা হয়েছে, তখন এটিই প্রমাণ যে তারা (মুমিনরা) সন্তুষ্টির অবস্থায় তাঁকে দেখবে।' রাবী বলেন: আমি বললাম, হে আবু আব্দুল্লাহ, আপনি কি এই কথাই বলেন? তিনি বললেন: 'হ্যাঁ, আমি এরই মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্য করি'।" ২।
৯- ইবনুল বার আল-জারুদী ৩ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "শাফেয়ীর নিকট ইব্রাহীম ইবনে ইসমাঈল ইবনে উলাইয়্যাহ ৪-এর কথা উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন: 'আমি প্রতিটি বিষয়ে তার বিরোধী, এমনকি 'আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই' (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) এ কথা বলার ক্ষেত্রেও আমি তার মতো বলি না। আমি বলি: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই যিনি পর্দার অন্তরাল থেকে মূসা আলাইহিস সালামের সাথে সরাসরি কথা বলেছেন, আর সে বলে...'"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুদ দ্বীন ইনদাল ইমাম আবি হানিফা
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
لا إله إلا الله الذي خلق كلاما أسمعه موسى من وراء حجاب" 1.
10- وأخرج اللالكائي عن الربيع بن سليمان، قال الشافعي: "من قال القرآن مخلوق؛ فهو كافر"2.
11- وأخرج البيهقي عن أبي محمد الزبيري قال: "قال رجل للشافعي، أخبرني عن القرآن خالق هو؟ قال الشافعي: اللهم لا، قال: فمخلوق؟ قال الشافعي: اللهم لا، قال: فغير مخلوق: قال الشافعي: اللهم نعم، قال: فما الدليل على أنه غير مخلوق؟ فرفع الشافعي رأسه وقال: تقر بأن القرآن كلام الله؟ قال: نعم. قال الشافعي: سبقت في هذه الكلمة، قال الله تعالى ذكره: {وَإِنْ أَحَدٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّى يَسْمَعَ كَلامَ اللَّهِ} "سورة التوبة: الآية6".
{وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيماً} .
قال الشافعي: فتقر بأن الله كان، وكان كلامه؟ أو كان الله، ولم يكن كلامه؟ فقال الرجل: بل كان الله، وكان كلامه قال: فتبسم الشافعي وقال: يا كوفيون إنكم لتأتوني بعظيم من القول إذا كنتم تقرّون بأن الله كان قبل القبل، وكان كلامه. فمن أين لكم الكلام: إن الكلام اللهُ، أو سوى اللهِ، أو غير اللهِ، أو دون الله؟ قال: فسكت الرجل وخرج" 3.
12- وفي جزء الاعتقاد المنسوب للشافعي ـ من رواية أبي طالب العشاري 4 ـ ما نصه قال: وقد سئل عن صفات الله عز وجل، وما ينبغي
--------------------------------------------
আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, যিনি এমন বাণী সৃষ্টি করেছেন যা তিনি পর্দার আড়াল থেকে মূসাকে শুনিয়েছেন। ১.
১০- এবং আল-লালকায়ী রাবি ইবনে সুলায়মান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, শাফেঈ বলেছেন: "যে ব্যক্তি বলে যে কুরআন সৃষ্টি (মাখলুক); সে কাফির।" ২.
১১- এবং আল-বায়হাকী আবু মুহাম্মাদ আল-যুবাইরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি শাফেঈকে বললেন, আমাকে কুরআন সম্পর্কে বলুন, এটি কি স্রষ্টা? শাফেঈ বললেন: হে আল্লাহ, না। সে বলল: তবে কি সৃষ্টি? শাফেঈ বললেন: হে আল্লাহ, না। সে বলল: তবে কি অ-সৃষ্ট? শাফেঈ বললেন: হে আল্লাহ, হ্যাঁ। সে বলল: এটি যে অ-সৃষ্ট তার দলিল কী? তখন শাফেঈ মাথা তুললেন এবং বললেন: আপনি কি স্বীকার করেন যে কুরআন আল্লাহর কালাম? সে বলল: হ্যাঁ। শাফেঈ বললেন: আপনি এই বিষয়ে আগেই স্বীকৃতি দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা উল্লেখ করেছেন: {আর যদি মুশরিকদের মধ্যে কেউ আপনার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দিন, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়} "সূরা আত-তাওবাহ: আয়াত ৬"।
{আর আল্লাহ মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন}।
শাফেঈ বললেন: তবে কি আপনি স্বীকার করেন যে আল্লাহ ছিলেন এবং তাঁর কালামও ছিল? নাকি আল্লাহ ছিলেন কিন্তু তাঁর কালাম ছিল না? তখন লোকটি বলল: বরং আল্লাহ ছিলেন এবং তাঁর কালামও ছিল। শাফেঈ মুচকি হাসলেন এবং বললেন: হে কূফাবাসী, তোমরা আমার কাছে এক ভয়াবহ দাবি নিয়ে এসেছ যদি তোমরা স্বীকার করো যে আল্লাহ অনাদিকাল থেকে ছিলেন এবং তাঁর কালামও ছিল। তবে তোমাদের এই কথা কোত্থেকে এলো: যে কালাম কি আল্লাহ, নাকি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছু, নাকি আল্লাহর ভিন্ন কিছু, নাকি আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছু? বর্ণনাকারী বলেন: তখন লোকটি চুপ হয়ে গেল এবং বেরিয়ে গেল। ৩.
১২- এবং শাফেঈর প্রতি নিসবতকৃত (সম্পর্কিত) 'জুযউল ইতিকাদ'-এ —আবু তালিব আল-উশারীর বর্ণনা থেকে ৪— যার পাঠ নিম্নরূপ: তিনি বলেন: তাঁকে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা-র গুণাবলি এবং যা সমীচীন সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুদ দ্বীন ইনদাল ইমাম আবি হানিফা
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
أن يؤمن به؛ فقال: "لله تبارك وتعالى أسماء وصفات، جاء بها كتابه وخبَّر بها نبيه صلى الله عليه وسلم أمته، لا يسع 1 أحدا من خلق الله عز وجل قامت لديه 1 الحجة أن القرآن نزل به، وصحَّ عنده 2 قول النبي صلى الله عليه وسلم فيما روى عنه، العدلَ خلافه 3، فإن خالف ذلك بعد ثبوت الحجّة عليه؛ فهو كافر بالله 4 عز وجل. فأما قبل ثبوت الحجة عليه من جهة الخبر؛ فمعذور بالجهل؛ لأن علم ذلك لا يدرك بالعقل، ولا بالدراية 5 والفكر. ونحو ذلك إخبار الله عز وجل أنه سميع وأن له يدين بقوله عز وجل:
{بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ} "سورة المائدة: الآية64".
وأن له يمينا بقوله عز وجل: {وَالسَّمَاوَاتُ مَطْوِيَّاتٌ بِيَمِينِهِ} "سورة الزمر: الآية67".
وأن له وجها بقوله عز وجل: {كُلُّ شَيْءٍ هَالِكٌ إِلَّا وَجْهَهُ} "سورة القصص: الآية88".
--------------------------------------------
যে তিনি তাঁর প্রতি ঈমান আনবেন; অতঃপর তিনি বললেন: "আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার অনেক নাম ও গুণাবলি রয়েছে, যা তাঁর কিতাব নিয়ে এসেছে এবং তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে সে বিষয়ে অবহিত করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে এমন কারো জন্য এর বিরুদ্ধাচরণ করার অবকাশ নেই যার নিকট এই প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে কুরআন তা নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে এবং তাঁর নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের মাধ্যমে বিশুদ্ধ প্রমাণিত হয়েছে। অতএব তার নিকট প্রমাণ সাব্যস্ত হওয়ার পর যদি সে এর বিরোধিতা করে, তবে সে মহান আল্লাহর সাথে কুফরি করল। আর সংবাদের মাধ্যমে তার নিকট প্রমাণ সাব্যস্ত হওয়ার আগে সে অজ্ঞতার কারণে ক্ষমাপ্রাপ্ত; কারণ এই বিষয়ের জ্ঞান কেবল বিবেক-বুদ্ধি, প্রজ্ঞা কিংবা চিন্তাশক্তি দ্বারা অর্জিত হয় না। আর অনুরুপ উদাহরণ হলো আল্লাহ আয্যা ওয়া জাল্লার এই সংবাদ প্রদান যে তিনি সর্বশ্রোতা এবং তাঁর দুই হাত রয়েছে, মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে:
{বরং তাঁর উভয় হাতই প্রসারিত} "সূরা আল-মায়িদাহ: আয়াত ৬৪"।
এবং তাঁর ডান হাত রয়েছে, মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: {আর আসমানসমূহ তাঁর ডান হাতে গুটিয়ে রাখা হবে} "সূরা আয-যুমার: আয়াত ৬৭"।
এবং তাঁর চেহারা রয়েছে, মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে: {তাঁর চেহারা ব্যতীত প্রতিটি জিনিসই ধ্বংসশীল} "সূরা আল-কাসাস: আয়াত ৮৮"。
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুদ দ্বীন ইনদাল ইমাম আবি হানিফা
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
وقوله: {وَيَبْقَى وَجْهُ رَبِّكَ ذُو الْجَلالِ وَالأِكْرَامِ} "سورة الرحمن: الآية27"..
وأن له قدما بقوله صلى الله عليه وسلم: "حتى يضع الرب عز وجل فيها قدمه" 1.
يعني جهنم؛ لقوله صلى الله عليه وسلم للذي قتل في سبيل الله عز وجل أنه: "لقي الله عز وجل وهو يضحك إليه " 2، وأنه يهبط كل ليلة إلى السماء الدنيا، بخبر رسول الله صلى الله عليه وسلم بذلك، وأنه ليس بأعور لقول النبي صلى الله عليه وسلم إذ ذكر الدجال فقال: "إنه أعور وإن ربكم ليس بأعور " 3، وأن المؤمنين يرون ربهم عز وجل يوم القيامة بأبصارهم كما يرون القمر ليلة البدر، وأن له أصبعا بقوله صلى الله عليه وسلم: "ما من قلب إلا هو بين أصبعين من أصابع الرحمن عز وجل " 4.
--------------------------------------------
এবং তাঁর বাণী: {এবং তোমার রবের মহিমময় ও মহানুভব মুখমণ্ডলই অবশিষ্ট থাকবে} (সূরা আর-রহমান: আয়াত ২৭)।
এবং তাঁর পা রয়েছে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীর পরিপ্রেক্ষিতে: "যতক্ষণ না মহান ও পরাক্রমশালী রব তাতে তাঁর পা রাখবেন" ১।
অর্থাৎ জাহান্নাম; আল্লাহর পথে নিহত ব্যক্তি সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণীর কারণে যে: "সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করেছে এমন অবস্থায় যে, তিনি তার দিকে তাকিয়ে হাসছিলেন" ২, এবং তিনি প্রতি রাতে দুনিয়ার আকাশে নেমে আসেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই সংক্রান্ত খবরের ভিত্তিতে, এবং তিনি কানা নন, যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন: "নিশ্চয়ই সে (দাজ্জাল) কানা, আর তোমাদের রব কানা নন" ৩, এবং মুমিনরা কিয়ামতের দিন তাদের চর্মচক্ষে তাদের রবকে দেখতে পাবে যেমন তারা পূর্ণিমার রাতের চাঁদকে দেখতে পায়, এবং তাঁর আঙুল রয়েছে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীর ভিত্তিতে: "এমন কোনো অন্তর নেই যা পরম করুণাময় আল্লাহর আঙুলসমূহের মধ্য হতে দুটি আঙুলের মাঝে অবস্থিত নয়" ৪।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুদ দ্বীন ইনদাল ইমাম আবি হানিফা
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
وإن 1 هذه المعاني التي وصف الله عز وجل بها نفسه، ووصفه بها رسول صلى الله عليه وسلم لا تُدرَك 2 حقيقتها 3 تلك بالفكر والدراية 4، ولا يكفر بجهلها أحد إلا بعد انتهاء الخبر إليه به، وإن 5 كان الوارد بذلك خبرا يقوم في الفهم مقام المشهادة في السَّماع؛ "وجبت الدينونة" 6 على سامعه بحقيقته والشهادة عليه، كما عاين وسمع وسمع من رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولكن نثبت 7 هذه الصفات، وننفي 8 التشبيه كما نفى ذلك عن نفسه تعالى ذكره فقال: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} "سورة الشورى: الآية11"
… " 9 آخر الاعتقاد.
"ب" قوله في القدر:
1- أخرج البيهقي عن الربيع بن سليمان، قال: سئل الشافعي عن القدر، فقال:
ما شئتَ كان وإن لم أشأ
… وما شئتُ إن لم تشأ لم يكن
خلقت العباد على ما علمت
… ففي العلم يجري الفتى والمسنُ
--------------------------------------------
আর ১ নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ নিজেকে যে সকল অর্থে গুণান্বিত করেছেন এবং তাঁর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে যে সকল অর্থে গুণান্বিত করেছেন, সেগুলোর ২ প্রকৃত ৩ স্বরূপ চিন্তা ও ৪ বুদ্ধির মাধ্যমে অনুধাবন করা সম্ভব নয়। এবং এ সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে কাউকে ততক্ষণ পর্যন্ত কাফির বলা যাবে না, যতক্ষণ না তার কাছে এ সংক্রান্ত সংবাদ পৌঁছায়। ৫ আর যদি এ বিষয়ে আগত সংবাদটি শ্রবণের ক্ষেত্রে অনুধাবনের দিক থেকে চাক্ষুষ দর্শনের স্থলাভিষিক্ত হয়; তবে শ্রবণকারীর জন্য এর প্রকৃতত্বের ওপর ৬ "বিশ্বাস স্থাপন করা ওয়াজিব" এবং এর সাক্ষ্য প্রদান করা আবশ্যক, যেন সে তা প্রত্যক্ষ করেছে এবং স্বয়ং রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে শ্রবণ করেছে। কিন্তু আমরা ৭ এই গুণাবলী সাব্যস্ত করি এবং ৮ সাদৃশ্য প্রদান করাকে অস্বীকার করি, যেমনটি তিনি তাঁর নিজের সত্তা সম্পর্কে অস্বীকার করেছেন—তাঁর আলোচনা অতি মহান—এবং বলেছেন: "তাঁর সদৃশ কোনো কিছুই নেই, আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" (সূরা আশ-শূরা: আয়াত ১১)
… ৯ আকিদার শেষ পর্যন্ত।
"খ" তাকদীর সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য:
১- বায়হাকী রাবী ইবনে সুলাইমান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: শাফেয়ীকে তাকদীর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন:
আপনি যা চেয়েছেন তা-ই হয়েছে, যদিও আমি তা না চাই
… আর আমি যা চেয়েছি তা হবে না, যদি আপনি না চান।
আপনি বান্দাদের সৃষ্টি করেছেন আপনার জ্ঞান অনুযায়ী
… সুতরাং আপনার সেই জ্ঞান অনুযায়ীই যুবক ও বৃদ্ধ পরিচালিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুদ দ্বীন ইনদাল ইমাম আবি হানিফা
(পৃষ্ঠা: ৪০)
على ذا مننت وذا خذلت
… وهذا أعنت وذا لم تعن
فمنهم شقيّ ومنهم سعيد
… ومنهم قبيحٌ ومنهم حسن 1
2- أورد البيهقي في مناقب الشافعي أن الشافعي، قال: "إن مشيئة العباد هي إلى الله تعالى، ولا يشاؤون إلا أن يشاء الله رب العالمين، فإن الناس لم يخلقوا أعمالهم، وهي خلق من خلق الله تعالى، أفعال العباد وإن القدر خيره وشرَّه من الله عز وجل، وإن عذاب القبر حقٌّ، ومساءلة أهل القبور حقٌّ، والبعث حقٌّ، والحساب حق والجنَّة والنار حق، وغير ذلك مما جاءت به السنن" 2.
3- وأخرج اللالكائي، عن المزني، قال: "قال الشافعي: تدري ما القدري؟ الذي يقول: إن الله لم يخلق الشيء حتى عمل به" 3.
4- وأورد البيهقي، عن الشافعي حيث قال: "القدرية الذين قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "هم مجوس هذه الأمة" 4، الذين يقولون إن الله لا يعلم المعاصي حتى تكون" 5.
5- وأخرج البيهقي، عن الربيع بن سليمان عن الشافعي أنه كان يكره الصلاة خلف القدري 6.
--------------------------------------------
এর ওপর আপনি অনুগ্রহ করেছেন, আর তাকে লাঞ্ছিত করেছেন
… একে আপনি সাহায্য করেছেন, আর তাকে সাহায্য করেননি।
তাদের মধ্যে কেউ দুর্ভাগা, কেউ ভাগ্যবান
… তাদের মধ্যে কেউ কুৎসিত, কেউ সুন্দর ১
২- ইমাম বায়হাকী 'মানাকিবুশ শাফিঈ'-তে বর্ণনা করেছেন যে, ইমাম শাফিঈ বলেছেন: "নিশ্চয়ই বান্দাদের ইচ্ছা মহান আল্লাহর ইচ্ছাধীন; তারা তা-ই ইচ্ছা করে যা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহ ইচ্ছা করেন। কেননা মানুষ তাদের নিজেদের কাজ (আমল) সৃষ্টি করেনি, বরং বান্দাদের কাজসমূহ মহান আল্লাহর সৃষ্টিরই অন্তর্ভুক্ত। আর তাকদীরের ভালো ও মন্দ মহান আল্লাহর পক্ষ থেকেই। কবরের আজাব সত্য, কবরবাসীদের জিজ্ঞাসাবাদ সত্য, পুনরুত্থান সত্য, হিসাব সত্য এবং জান্নাত ও জাহান্নাম সত্য; এছাড়াও সুন্নাহর মাধ্যমে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা সবই সত্য।" ২।
৩- আল-লালকাঈ মুযানী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "ইমাম শাফিঈ বলেছেন: তুমি কি জান কাদারী কারা? যারা বলে যে, আল্লাহ কোনো কিছু সৃষ্টি করেননি যতক্ষণ না তা সংঘটিত হয়েছে।" ৩।
৪- বায়হাকী ইমাম শাফিঈ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "কাদারিয়া হলো তারা, যাদের সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'তারা এই উম্মতের মাজুস (অগ্নিপূজক)', ৪ যারা বলে যে, আল্লাহ পাপকাজসমূহ সংঘটিত হওয়ার আগে তা জানেন না।" ৫।
৫- বায়হাকী রাবী বিন সুলাইমান থেকে, তিনি ইমাম শাফিঈ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি কাদারীদের পেছনে সালাত আদায় করা অপছন্দ করতেন। ৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুদ দ্বীন ইনদাল ইমাম আবি হানিফা
(পৃষ্ঠা: ৪১)
"ج" قوله في الإيمان:
1- أخرج ابن عبد البر، عن الربيع، قال: "سمعت الشافعي يقول: الإيمان قول وعمل واعتقاد بالقلب، ألا ترى قول الله عز وجل: {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ} "سورة البقرة: الآية143".
يعني صلاتكم إلى بيت المقدس؛ فسمى الصلاة إيمانا وهي قول وعمل وعقد" 1.
2- وأخرج البيهقي، عن الربيع بن سليمان، قال: "سمعت الشافعي يقول: الإيمان قول وعمل يزيد وينقص" 2.
3- وأخرج البيهقي، عن أبي محمد الزبيري قال: "قال رجل للشافعي: أي ُّ الأعمال عند الله أفضل؟ قال الشافعي: ما لا يقبل عملا إلا به قال: وما ذاك؟ قال: الإيمان بالله الذي لا إله إلا هو، أعلى الأعمال درجة، وأشرفها منزلة، وأسناها حظا، قال الرجل: ألا تخبرني عن الإيمان: قول وعمل، أو قول بلا عمل؟ قال الشافعي: الإيمان عمل لله، والقول بعض ذلك العمل، قال الرجل: صف لي ذلك حتى أفهمه. قال: الشافعي: إن للإيمان حالات ودرجات وطبقات، فمنها التام، المنتهي تمامه، والناقص البين نقصانه، والراجح الزائدة رجحانه؛ قال الرجل: وإن الإيمان لا يتم وينقص ويزيد؟ قال الشافعي: نعم، قال: وما الدليل على ذلك؟ قال الشافعي: إن الله جل ذكره فرض الإيمان على جوارح بني آدم، فقسَّمه فيها، وفرَّقه عليها، فليس من جوارحه جارحة إلا وقد وكلت من الإيمان بغير ما وُكِّلت به أختها لفرض من الله تعالى:
--------------------------------------------
"গ" ঈমান সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য:
১- ইবনে আবদিল বারর রাবী’ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি শাফেঈকে বলতে শুনেছি: ঈমান হলো কথা, কাজ ও অন্তরের বিশ্বাস। আপনি কি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর বাণী দেখেননি: {আর আল্লাহ তোমাদের ঈমানকে বিনষ্ট করবেন না} "সূরা আল-বাকারাহ: আয়াত ১৪৩"।
অর্থাৎ বাইতুল মাকদিসের দিকে তোমাদের সালাত; সুতরাং তিনি সালাতকে ঈমান হিসেবে নামকরণ করেছেন, আর এটি হলো কথা, কাজ ও সংকল্প" ১।
২- আর বায়হাকী রাবী’ ইবনে সুলাইমান থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি শাফেঈকে বলতে শুনেছি: ঈমান হলো কথা ও কাজ, যা বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়" ২।
৩- আর বায়হাকী আবু মুহাম্মাদ আয-যুবাইরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি শাফেঈকে জিজ্ঞাসা করলেন: আল্লাহর নিকট কোন আমলটি সর্বোত্তম? শাফেঈ বললেন: সেটি, যা ছাড়া কোনো আমল কবুল করা হয় না। তিনি বললেন: সেটি কী? তিনি বললেন: আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা যাঁর ব্যতয় কোনো উপাস্য নেই, এটি মর্যাদায় আমলসমূহের মধ্যে সর্বোচ্চ, অবস্থানের দিক থেকে সর্বাধিক সম্মানিত এবং ভাগে সর্বশ্রেষ্ঠ। লোকটি বলল: আপনি কি আমাকে ঈমান সম্পর্কে বলবেন না: এটি কি কথা ও কাজ, নাকি কাজ ছাড়া শুধু কথা? শাফেঈ বললেন: ঈমান হলো আল্লাহর জন্য কাজ, আর কথা সেই কাজেরই অংশ। লোকটি বলল: আমার কাছে এটি বর্ণনা করুন যাতে আমি বুঝতে পারি। শাফেঈ বললেন: নিশ্চয়ই ঈমানের বিভিন্ন অবস্থা, স্তর ও ধাপ রয়েছে; তার মধ্যে কিছু হলো পূর্ণাঙ্গ যার পূর্ণতা চূড়ান্ত, কিছু হলো ত্রুটিপূর্ণ যার ত্রুটি স্পষ্ট, আর কিছু হলো অগ্রগণ্য যার আধিক্য বৃদ্ধিমান। লোকটি বলল: ঈমান কি অপূর্ণ হয়, হ্রাস পায় এবং বৃদ্ধি পায়? শাফেঈ বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: এর দলিল কী? শাফেঈ বললেন: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আদম সন্তানের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপর ঈমানকে ফরজ করেছেন, তিনি তাদের মধ্যে একে বণ্টন করেছেন এবং বিভিন্ন অংশে ভাগ করেছেন। তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের এমন কোনো অঙ্গ নেই যাকে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট ফরজের মাধ্যমে ঈমানের এমন কোনো দায়িত্ব অর্পণ করা হয়নি যা তার অন্য অঙ্গকে অর্পণ করা হয়নি:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
উসুলুদ দ্বীন ইনদাল ইমাম আবি হানিফা
(পৃষ্ঠা: ৪২)
فمنها: قلبه الذي يعقل به، ويفقه ويعلم، وهو أمير بدنه الذي لا ترد الجوارح ولا تصدر إلا عن رأيه وأمره.
ومنها: عيناه اللتان ينظر بهما، وأذناه اللتان يسمع بهما، ويداه اللتان يبطش بهما، ورجلاه اللتان يمشي بهما، وفرجه الذي الباه من قِبَله، ولسانه الذي ينطق به، ورأسه الذي فيه وجهه.
فرض على القلب غير ما فرض على اللسان، وفرض على السمع غير ما فرض على العينين، وفرض على اليدين غير ما فرض على الرجلين، وفرض على الفرج غير ما فرض على الوجه.
فأما فرض الله على القلب من الإيمان: فالإقرار، والمعرفة، والعقد، والرضا، والتسليم بأن الله لا إله إلا هو وحده لا شريك له، لم يتخذ صاحبة ولا ولدا، وأن محمدا صلى الله عليه وسلم عبده ورسوله، والإقرار بما جاء من عند الله من نبيٍّ أو كتاب فذلك ما فرض الله جل ثناؤه على الخلق وهو عمله:
{إِلَاّ مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌّ بِالأِيمَانِ وَلَكِنْ مَنْ شَرَحَ بِالْكُفْرِ صَدْراً} "سورة النحل: الآية106".
وقال: {أَلا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ} "سورة الرعد: الآية28".
وقال: {مِنَ الَّذِينَ قَالُوا آمَنَّا بِأَفْوَاهِهِمْ وَلَمْ تُؤْمِنْ قُلُوبُهُمْ} "سورة المائدة: الآية41.
وقال: {وَإِنْ تُبْدُوا مَا فِي أَنْفُسِكُمْ أَو تُخْفُوهُ يُحَاسِبْكُمْ بِهِ اللَّهُ} "سورة البقرة: الآية284".
فذلك ما فرض الله على القلب من الإيمان، وهو عمله، وهو رأس الإيمان.
তার মধ্যে রয়েছে: তার অন্তর, যার মাধ্যমে সে অনুধাবন করে, উপলব্ধি করে এবং জ্ঞান লাভ করে। আর তা হলো তার শরীরের আমীর (প্রধান), যার সিদ্ধান্ত ও নির্দেশ ছাড়া শরীরের কোনো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নড়াচড়া করে না বা কোনো কাজে লিপ্ত হয় না।
আর তার মধ্যে আরও রয়েছে: তার দুই চোখ যা দিয়ে সে দেখে, দুই কান যা দিয়ে সে শোনে, দুই হাত যা দিয়ে সে পাকড়াও করে, দুই পা যা দিয়ে সে হাঁটে, তার লজ্জাস্থান যার মাধ্যমে তার যৌন আকাঙ্ক্ষা চরিতার্থ হয়, তার জিহ্বা যা দিয়ে সে কথা বলে এবং তার মাথা যাতে তার মুখমণ্ডল অবস্থিত।
অন্তরের ওপর যা ফরজ করা হয়েছে তা জিহ্বার ওপর ফরজকৃত বিষয়ের চেয়ে ভিন্ন, কানের ওপর যা ফরজ করা হয়েছে তা দুই চোখের ওপর ফরজকৃত বিষয়ের চেয়ে ভিন্ন, দুই হাতের ওপর যা ফরজ করা হয়েছে তা দুই পায়ের ওপর ফরজকৃত বিষয়ের চেয়ে ভিন্ন এবং লজ্জাস্থানের ওপর যা ফরজ করা হয়েছে তা মুখমণ্ডলের ওপর ফরজকৃত বিষয়ের চেয়ে ভিন্ন।
আর ঈমানের অন্তর্ভুক্ত বিষয় হিসেবে অন্তরের ওপর আল্লাহ যা ফরজ করেছেন তা হলো: স্বীকৃতি প্রদান, পরিচয় লাভ, দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন, সন্তুষ্টি এবং এই আত্মসমর্পণ করা যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি কোনো স্ত্রী বা সন্তান গ্রহণ করেননি; আর নিশ্চয়ই মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসুল; এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে যা কিছু কোনো নবী বা কিতাব মারফত এসেছে তার স্বীকৃতি প্রদান করা। এটিই সেই কাজ যা আল্লাহ জাল্লা সানাউহু সৃষ্টির ওপর ফরজ করেছেন এবং এটিই তার (অন্তরের) আমল:
{তবে তার কথা ভিন্ন যাকে বাধ্য করা হয়েছে অথচ তার অন্তর ঈমানে অবিচল, কিন্তু যে ব্যক্তি কুফরির জন্য বুক উন্মুক্ত করে দিয়েছে} "সুরা আন-নাহল: আয়াত ১০৬"।
এবং তিনি বলেছেন: {জেনে রেখো, আল্লাহর জিকিরেই অন্তরসমূহ প্রশান্ত হয়} "সুরা আর-রাদ: আয়াত ২৮"।
এবং তিনি বলেছেন: {সেইসব ব্যক্তিদের মধ্য থেকে যারা মুখে বলে আমরা ঈমান এনেছি, অথচ তাদের অন্তর ঈমান আনেনি} "সুরা আল-মায়িদাহ: আয়াত ৪১"।
এবং তিনি বলেছেন: {তোমাদের মনে যা আছে তা যদি তোমরা প্রকাশ করো কিংবা গোপন করো, আল্লাহ তোমাদের থেকে তার হিসাব নেবেন} "সুরা আল-বাকারাহ: আয়াত ২৮৪"।
সুতরাং এটিই ঈমানের অন্তর্ভুক্ত সেই বিষয় যা আল্লাহ অন্তরের ওপর ফরজ করেছেন, আর এটিই তার আমল এবং এটিই ঈমানের মূল ভিত্তি।
(খণ্ড: ১)
উসুলুদ দ্বীন ইনদাল ইমাম আবি হানিফা
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
"وفرض الله على اللسان": القول والتعبير عن القلب بما عقد وأقر به، فقال في ذلك: {قُولُوا آمَنَّا} .
وقال: {وَقُولُوا لِلنَّاسِ حُسْنا} "سورة البقرة: الآية83".
فذلك ما فرض الله على اللسان من القول، والتعبير عن القلب، وهو عمله، والفرض عليه من الإيمان.
"وفرض الله على السمع": أن يتنزه عن الاستماع إلى ما حرم الله، وأن يغض عما نهى الله عنه، فقال في ذلك: {وَقَدْ نَزَّلَ عَلَيْكُمْ فِي الْكِتَابِ أَنْ إِذَا سَمِعْتُمْ آيَاتِ اللَّهِ يُكْفَرُ بِهَا وَيُسْتَهْزَأُ بِهَا فَلا تَقْعُدُوا مَعَهُمْ حَتَّى يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ إِنَّكُمْ إِذاً مِثْلُهُمْ} "سورة النساء: الآية140".
ثم استثتنى موضع النسيان، فقال جل وعز: {إِمَّا يُنْسِيَنَّكَ الشَّيْطَانُ} "سورة الأنعام: الآية68". أي: فقعدت معهم {فَلا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرَى مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ} "سورة الأنعام: الآية68".
وقال: {فَبَشِّرْ عِبَادِ الَّذِينَ يَسْتَمِعُونَ الْقَوْلَ فَيَتَّبِعُونَ أَحْسَنَهُ أُولَئِكَ الَّذِينَ هَدَاهُمُ اللَّهُ وَأُولَئِكَ هُمْ أُولُو الأَلْبَابِ} "سورة الزمر: الآيتان17-18".
وقال: {قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ هُمْ فِي صَلاتِهِمْ خَاشِعُونَ} "سورة المؤمنون: الآيتان1، 2"
إلى قوله: {لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ} "سورة المؤمنون: الآيات من1-4".
وقال: {وَإِذَا سَمِعُوا اللَّغْوَ أَعْرَضُوا عَنْهُ} "سورة القصص: الآية55".
وقال: {وَإِذَا مَرُّوا بِاللَّغْوِ مَرُّوا كِرَاماً} "سورة الفرقان: الآية72".
"আর আল্লাহ জিহ্বার ওপর ফরয করেছেন": কথা বলা এবং অন্তর যা বিশ্বাস ও স্বীকার করেছে তা ব্যক্ত করা। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন: {তোমরা বলো, আমরা ঈমান এনেছি}।
এবং তিনি বলেছেন: {মানুষের সাথে সদালাপ করো} "সূরা আল-বাকারাহ: আয়াত ৮৩"।
সুতরাং কথা বলা এবং অন্তরের বিষয় ব্যক্ত করাই হলো আল্লাহ জিহ্বার ওপর যা ফরয করেছেন। এটিই জিহ্বার আমল এবং ঈমানের অন্তর্ভুক্ত ফরয।
"আর আল্লাহ কানের ওপর ফরয করেছেন": আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা শোনা থেকে বিরত থাকা এবং যা তিনি নিষেধ করেছেন তা থেকে বিমুখ থাকা। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন: {আর তিনি কিতাবে তোমাদের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন যে, যখন তোমরা শুনবে আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করা হচ্ছে এবং তা নিয়ে উপহাস করা হচ্ছে, তখন তোমরা তাদের সাথে বসো না যতক্ষণ না তারা অন্য প্রসঙ্গে লিপ্ত হয়; নতুবা তোমরাও তাদের মতো গণ্য হবে} "সূরা আন-নিসা: আয়াত ১৪০"।
অতঃপর তিনি বিস্মৃতির ক্ষেত্রটিকে ব্যতিক্রম করেছেন। মহামহিম আল্লাহ বলেছেন: {যদি শয়তান তোমাকে ভুলিয়ে দেয়} "সূরা আল-আন’আম: আয়াত ৬৮"। অর্থাৎ: (ভুলবশত) তুমি যদি তাদের সাথে বসে পড়ো, তবে {স্মরণ হওয়ার পর যালিম সম্প্রদায়ের সাথে বসো না} "সূরা আল-আন’আম: আয়াত ৬৮"।
এবং তিনি বলেছেন: {সুতরাং সুসংবাদ দাও আমার সেই বান্দাদেরকে, যারা কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং তার মধ্যে যা উত্তম তা অনুসরণ করে। এরাই তারা যাদেরকে আল্লাহ হিদায়াত দান করেছেন এবং এরাই বুদ্ধিমান} "সূরা আয-যুমার: আয়াত ১৭-১৮"।
এবং তিনি বলেছেন: {অবশ্যই মুমিনগণ সফলকাম হয়েছে, যারা নিজেদের সালাতে বিনয়ী} "সূরা আল-মুমিনুন: আয়াত ১, ২"
তাঁর এই বাণী পর্যন্ত: {যারা যাকাত প্রদানে সক্রিয়} "সূরা আল-মুমিনুন: আয়াত ১-৪"।
এবং তিনি বলেছেন: {আর তারা যখন অসার বাক্য শোনে, তখন তা থেকে বিমুখ হয়} "সূরা আল-কাসাস: আয়াত ৫৫"।
এবং তিনি বলেছেন: {আর তারা যখন অসার ক্রিয়াকলাপের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তখন সসম্মানে তা এড়িয়ে যায়} "সূরা আল-ফুরকান: আয়াত ৭২"।
(খণ্ড: ১)
উসুলুদ দ্বীন ইনদাল ইমাম আবি হানিফা
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
فذلك ما فرض الله جل ذكره، على السمع من التنزيه عما لا يحل له، وهو عمله، وهو من الإيمان.
"وفرض على العينين": ألا ينظر بهما إلى ما حرم الله، وأن يغضهما عما نهاه عنه، فقال تبارك وتعالى في ذلك: {قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ} "سورة النور: من الآية30".
نهى في الآيتين: أن ينظر أحدهم إلى فرج أخيه، ويحفظ فرجه من أن ينظر إليه.
وقال: كل شيء من حفظ الفرج، في كتاب الله، فهو من الزنا إلا هذه الآية، فإنها من النظر.
فذلك ما فرض الله على العينين من غض البصر، وهو عملهما، وهو من الإيمان.
ثم أخبر عما فرض على القلب والسمع والبصر، في آية واحدة، فقال سبحانه وتعالى، في ذلك: {وَلا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولَئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْؤُولاً} "سورة الإسراء:36".
قال: يعني وفرض على الفرج: أن لا يهتكه بما حرم الله عليه: {وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ} "سورة المؤمنون: الآبة5".
وقال: {وَمَا كُنْتُمْ تَسْتَتِرُونَ أَنْ يَشْهَدَ عَلَيْكُمْ سَمْعُكُمْ وَلا أَبْصَارُكُمْ وَلا جُلُودُكُمْ} "سورة فصلت: الآية22".
يعني بالجلود: الفروج والأفخاذ، فذلك ما فرض الله على الفروج من حفظها عما لا يحل له، هو عملها.
"وفرض على اليدين": ألا يبطش بها "إلى ما حرم الله تعالى، وأن
সুতরাং আল্লাহ তাআলা কানের ওপর এই আবশ্যকতা অর্পণ করেছেন যে, যা তার জন্য বৈধ নয় তা থেকে শ্রবণেন্দ্রিয়কে পবিত্র রাখা; এটিই কানের কাজ এবং এটি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।
“আর তিনি দুই চোখের ওপর ফরজ করেছেন”: যেন তা দিয়ে সেই সবের দিকে না তাকানো হয় যা আল্লাহ হারাম করেছেন এবং যা থেকে তিনি নিষেধ করেছেন তা থেকে যেন দৃষ্টি নিচু রাখা হয়। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা বলেছেন: {মুনিমদেরকে বলো, তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে} [সুরা আন-নূর: ৩০-এর অংশ]।
এই দুই আয়াতে তিনি নিষেধ করেছেন: যেন কেউ তার ভাইয়ের লজ্জাস্থানের দিকে না তাকায় এবং তার লজ্জাস্থানকে যেন অন্যের দৃষ্টি থেকে রক্ষা করে।
আর তিনি বলেছেন: আল্লাহর কিতাবে লজ্জাস্থান হেফাজত করার কথা যেখানেই এসেছে, তা ব্যভিচার সম্পর্কিত, কেবল এই আয়াতটি ছাড়া; কারণ এটি দৃষ্টিপাত করা সম্পর্কিত।
সুতরাং এটিই আল্লাহ দুই চোখের ওপর দৃষ্টি অবনত রাখার ব্যাপারে ফরজ করেছেন, এটিই তাদের কাজ এবং এটি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।
এরপর তিনি এক আয়াতে অন্তর, শ্রবণ এবং দৃষ্টির ওপর যা ফরজ করেছেন তা সংবাদ দিয়েছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এ বিষয়ে বলেছেন: {যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই তার অনুসরণ করো না; নিশ্চয়ই কান, চোখ ও অন্তর—এদের প্রত্যেকটি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে} [সুরা আল-ইসরা: ৩৬]।
তিনি বলেছেন: অর্থাৎ তিনি লজ্জাস্থানের ওপর ফরজ করেছেন: যেন তা আল্লাহর হারামকৃত বিষয়ের মাধ্যমে কলুষিত না করা হয়: {আর যারা তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে} [সুরা আল-মুমিনুন: ৫]।
আর তিনি বলেছেন: {তোমরা কিছু গোপন করতে না এই ভয়ে যে, তোমাদের কান, চোখ ও চামড়া তোমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে} [সুরা ফুসসিলাত: ২২]।
চামড়া দ্বারা এখানে লজ্জাস্থান ও উরু উদ্দেশ্য। সুতরাং আল্লাহ লজ্জাস্থানের ওপর যা ফরজ করেছেন তা হলো যা তার জন্য হালাল নয় তা থেকে তাকে রক্ষা করা; এটিই তার কাজ।
“আর তিনি আল্লাহর দুই হাতের ওপর ফরজ করেছেন”: যেন তা দিয়ে এমন কিছুর দিকে হাত না বাড়ানো হয় যা আল্লাহ তাআলা হারাম করেছেন এবং যেন...