(খণ্ড: ১) ইইতিমাদ দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ - সালিহ আল-আতরাম (পৃষ্ঠা: -)
اعتماد دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب على الكتاب والسنة - صالح الأطرم   (صالح بن عبد الرحمن الأطرم)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: اعتماد فقه دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب على الكتاب والسنة (مطبوع ضمن بحوث ندوة دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب، الجزء الأول)

المؤلف: صالح بن عبد الرحمن بن عبد الله الأطرم (ت 1428هـ)

الناشر: عمادة البحث العلمي بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، الرياض، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الثانية، 1411هـ/1991م

عدد الصفحات: 376

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

কুরআন ও সুন্নাহর ওপর শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের দাওয়াতের নির্ভরতা - সালেহ আল-আতরাম   (সালেহ বিন আব্দুর রহমান আল-আতরাম)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


বই: কুরআন ও সুন্নাহর ওপর শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের দাওয়াতের ফিকহের নির্ভরতা (শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের দাওয়াহ বিষয়ক সেমিনারের গবেষণাপত্র সমূহের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত, প্রথম খণ্ড)

লেখক: সালেহ বিন আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ আল-আতরাম (মৃত্যু ১৪২৮ হিজরি)

প্রকাশক: বৈজ্ঞানিক গবেষণা ডিনশিপ, ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, রিয়াদ, সৌদি আরব রাজতন্ত্র

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪১১ হিজরি/১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭৬

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইইতিমাদ দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ - সালিহ আল-আতরাম (পৃষ্ঠা: ২৪৫)
اعتماد فقه دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب على الكتاب والسنة

صالح بن عبد الرحمن الأطرم

‌‌مقدمة البحث

الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وأصحابه ومن اهتدى بهداه.. وبعد:

أيها الإخوة الحضور - السلام عليكم ورحمة الله وبركاته.

معلوم ما اجتمعنا من أجله.. وهو البحث في جوانب دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب من اعتمادها على الكتاب والسنة، وصلتها بالسلف الصالح وتأثيرها في الفرد والمجتمع، ومهما طال بحثنا فما نرانا نقول إلا معاراً ومعاداً من لفظنا مكرورا؛ لأن دعوة الشيخ رحمه الله على حد قول القائل: الجواب ما ترى لا ما تسمع.. فتأثيرها في محيطها وخارجه أكثر مما نقوله، وإنما ما كتبته في اعتماد فقه دعوة الشيخ على الكتاب والسنة ما هو إلا إسهام مني في هذه المناسبة التي أقامتها جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية من جمع مؤلفاته وطبعها ونشرها وتوزيعها.. نفعنا الله بها.

أيها الإخوة الحضور - إن أهداف دعوة الشيخ سامية، نابعة من أهداف النبوة، وحاجة الإنسان إليها ماسة إلى أن يرث الله الأرض ومن عليها؛ لقيامها بالغرض الذي خلق من أجله الإنسان، وهو عبادة الله وحده.

{وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالأِنْسَ إِلَاّ لِيَعْبُدُونِ} 1.

وهذه دعوة الرسل من أولهم نوح عليه السلام إلى خاتمهم محمد - عليه وعلى سائر الأنبياء الصلاة والسلام. {لَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحاً إِلَى قَوْمِهِ فَقَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} 2.

--------------------------------------------

1 سورة الذاريات آية: 56.

2 سورة الأعراف آية: 59، والمؤمنون: 23.
কুরআন ও সুন্নাহর ওপর শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতের ফিকহের নির্ভরতা

সালেহ বিন আব্দুর রহমান আল-আতরাম

‌‌গবেষণার ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা তাঁর হেদায়েত অনুসরণ করেছেন তাদের ওপর। অত:পর:

উপস্থিত ভ্রাতৃমণ্ডলী—আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

আমরা যে উদ্দেশ্যে এখানে সমবেত হয়েছি তা সবারই জানা। আর তা হলো শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াতের বিভিন্ন দিক নিয়ে গবেষণা করা—কুরআন ও সুন্নাহর ওপর এর নির্ভরতা, সালাফে সালেহীনের সাথে এর সম্পর্ক এবং ব্যক্তি ও সমাজের ওপর এর প্রভাব। আমাদের গবেষণা যত দীর্ঘই হোক না কেন, আমরা যা-ই বলি না কেন তা সম্ভবত আমাদের কথারই পুনরাবৃত্তি হবে; কারণ শেখের (রহিমাহুল্লাহ) দাওয়াত হলো এক প্রবাদ অনুযায়ী: উত্তর তা-ই যা তুমি দেখছ, তা নয় যা তুমি শুনছ। এর নিজ পরিমণ্ডলে এবং এর বাইরে এর প্রভাব আমরা যা বলি তার চেয়েও বেশি। কুরআন ও সুন্নাহর ওপর শেখের দাওয়াতের ফিকহের নির্ভরতা সম্পর্কে আমি যা লিখেছি, তা কেবল ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজিত এই উপলক্ষে আমার একটি ক্ষুদ্র অবদান, যেখানে তাঁর রচনাবলি সংগ্রহ, মুদ্রণ, প্রকাশ ও বিতরণ করা হয়েছে। আল্লাহ আমাদের এর দ্বারা উপকৃত করুন।

উপস্থিত ভ্রাতৃমণ্ডলী—শেখের দাওয়াতের উদ্দেশ্যসমূহ সুমহান, যা নবুওয়াতের লক্ষ্যসমূহ থেকে উৎসারিত। পৃথিবী ও এর ওপর যা কিছু আছে তার উত্তরাধিকারী আল্লাহ না হওয়া পর্যন্ত মানুষের এই দাওয়াতের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম; কারণ এটি সেই মহান উদ্দেশ্যকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যার জন্য মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে, আর তা হলো কেবল এক আল্লাহর ইবাদত করা।

“আমি জিন ও মানুষকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি।” ১।

আর এটাই ছিল রাসূলগণের দাওয়াত—তাদের প্রথমজন নূহ (আলাইহিস সালাম) থেকে শুরু করে শেষ নবী মুহাম্মদ (তাঁর ওপর এবং অন্যান্য সকল নবীর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) পর্যন্ত। “নিশ্চয়ই আমি নূহকে তার কওমের কাছে পাঠিয়েছিলাম, অত:পর সে বলেছিল: হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই।” ২।

--------------------------------------------

১. সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত: ৫৬।

২. সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ৫৯, এবং আল-মুমিনুন: ২৩।
(খণ্ড: ১) ইইতিমাদ দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ - সালিহ আল-আতরাম (পৃষ্ঠা: ২৪৬)
{وَإِلَى عَادٍ أَخَاهُمْ هُوداً قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} 1، {وَإِلَى ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحاً قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ} 2، {وَإِلَى مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْباً فَقَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَارْجُوا الْيَوْمَ الآخِرَ وَلا تَعْثَوْا فِي الأَرْضِ مُفْسِدِينَ} 3.

وعلى خاتم الأنبياء ينزل تكليف الله له.

{يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ قُمْ فَأَنْذِرْ وَرَبَّكَ فَكَبِّرْ وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ وَلا تَمْنُنْ تَسْتَكْثِرُ وَلِرَبِّكَ فَاصْبِرْ} 4.

وهذه الآية نزلت تأمره بالعمل بعد الآية الأولى التي نزلت تعلمه، وهو قوله تعالى: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ خَلَقَ الأِنْسَانَ مِنْ عَلَقٍ اقْرَأْ وَرَبُّكَ الأَكْرَمُ الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ عَلَّمَ الأِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ} 5 فوضحت الآيتان أن العلم قبل القول والعمل، وأن العلم متبوع بالعمل.

فدعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب فقه في الدين عقيدة وفروعاً؛ لذا نجدها جماعية وليست جمعية، وعمومية وليست حزبية، أمر بمعروف ونهي عن منكر قولا وعملا وجهادا، وليست إصلاحية فردية، وليست سرية بل علنية، يبين الحلال والحرام من المعاملات، والصحيح والفاسد من العبادات، ينكر ما يخل بالعقيدة والأخلاق والمعاملات، يعرض قوله في الأصول والفروع مقرونا بالدليل، يلتمس من يشد عضده لنشر هذه الدعوة وتنفيذها وقمع من يقف ضدها - حتى قيض الله له من نور الله بصيرته.. أمير الدرعية / محمد بن سعود … فتعاهدا وشرعا في التنفيذ عام 1157هـ.. هذا يحمل مشعل النور، وهذا يحمل السيف والسنان لمن وقف وعاند في سبيل نشر هذا الفقه.

أيها الإخوة الحضور - إن هذا العمل من الشيخ رحمه الله كان قدوته في ذلك محمداً صلى الله عليه وسلم حيث يقف على صناديد كفار قريش ويقول لهم: "قولوا لا إله إلا

--------------------------------------------

1 سورة الأعراف آية: 65، وسورة هود آية: 50.

2 سورة الأعراف آية: 73، وسورة هود آية 61.

3 سورة العنكبوت آية: 36.

4 سورة المدثر آية: 1-2-3-4-5 -6-7.

5 سورة العلق آية: 1-2-3-4-5.
{এবং আ'দ জাতির নিকট তাদের ভাই হুদকে (পাঠিয়েছিলাম)। সে বলল: হে আমার কওম, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই} ১, {এবং সামুদ জাতির নিকট তাদের ভাই সালিহকে (পাঠিয়েছিলাম)। সে বলল: হে আমার কওম, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ছাড়া তোমাদের অন্য কোনো ইলাহ নেই} ২, {এবং মাদইয়ানবাসীদের নিকট তাদের ভাই শুআইবকে (পাঠিয়েছিলাম)। সে বলল: হে আমার কওম, তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং পরকালকে প্রত্যাশা করো এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করো না} ৩।

এবং সর্বশেষ নবীর ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর অর্পিত দায়িত্ব অবতীর্ণ হয়।

{হে চাদরাবৃত! ওঠো এবং সতর্ক করো। আর তোমার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করো। তোমার পোশাক পরিচ্ছন্ন রাখো। অপবিত্রতা বর্জন করো। আর অধিক পাওয়ার আশায় অনুগ্রহ করো না। এবং তোমার রবের জন্য ধৈর্য ধারণ করো} ৪।

এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছে তাকে কাজের নির্দেশ দেওয়ার জন্য, যা অবতীর্ণ হয়েছিল সেই প্রথম আয়াতের পর যা তাকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য অবতীর্ণ হয়। আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {পড়ো তোমার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন। তিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে রক্তপিণ্ড থেকে। পড়ো, আর তোমার রব অতি দয়ালু। যিনি কলমের মাধ্যমে শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে তা শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না} ৫। সুতরাং এই আয়াতদ্বয় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, কথা ও কাজের আগে হলো জ্ঞান, এবং আমল বা কাজ হলো জ্ঞানের অনুসারী।

শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াত ছিল দ্বীনের আকিদাহ ও শাখা-প্রশাখা বিষয়ক গভীর জ্ঞান (ফিকহ)। তাই আমরা একে দেখি একটি সামষ্টিক দাওয়াত হিসেবে, কোনো সীমাবদ্ধ সমিতি হিসেবে নয়; এটি ছিল সর্বজনীন, কোনো সংকীর্ণ দলবাজি নয়। এটি ছিল কথা, কাজ ও জিহাদের মাধ্যমে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ; এটি কোনো ব্যক্তিগত সংস্কার প্রচেষ্টা ছিল না। এটি কোনো গোপন বিষয় ছিল না বরং ছিল প্রকাশ্য। তিনি লেনদেনের ক্ষেত্রে হালাল ও হারাম এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে শুদ্ধ ও অশুদ্ধ বিষয়গুলো বর্ণনা করতেন। আকিদাহ, আখলাক ও লেনদেনের ক্ষেত্রে যা কিছু পরিপন্থী তা তিনি প্রত্যাখ্যান করতেন। তিনি মূলনীতি (উসুল) ও শাখা-প্রশাখা (ফুরু) সংক্রান্ত তাঁর বক্তব্যগুলো দলীলের সাথে উপস্থাপন করতেন। তিনি এমন কাউকে খুঁজতেন যিনি এই দাওয়াত প্রচার, বাস্তবায়ন এবং এর বিরোধিতাকারীদের দমনে তাঁর হাতকে শক্তিশালী করবেন—অবশেষে আল্লাহ তাঁর জন্য এমন একজনকে নির্ধারণ করলেন যার অন্তর্দৃষ্টিকে আল্লাহ নূর দিয়ে আলোকিত করেছেন... তিনি দিরইয়াহর আমির মুহাম্মদ বিন সাউদ... অতঃপর তাঁরা পরস্পর চুক্তিবদ্ধ হলেন এবং ১১৫৭ হিজরীতে এই দাওয়াত বাস্তবায়নের কাজ শুরু করলেন। একজন আলোর মশাল বহন করছিলেন, আর অন্যজন এই ফিকহ বা জ্ঞান প্রসারের পথে যারা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল তাদের বিরুদ্ধে তলোয়ার ও বর্শা ধারণ করেছিলেন।

উপস্থিত ভ্রাতৃমণ্ডলী—শায়খের (রহিমাহুল্লাহ) এই কাজে তাঁর আদর্শ ছিলেন মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যিনি কুরাইশ কাফেরদের সর্দারদের সামনে দাঁড়িয়ে বলতেন: "তোমরা বলো: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই..."

--------------------------------------------

১ সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত: ৬৫; সূরা হুদ, আয়াত: ৫০।

২ সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত: ৭৩; সূরা হুদ, আয়াত: ৬১।

৩ সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ৩৬।

৪ সূরা আল-মুদ্দাসসির, আয়াত: ১-৭।

৫ সূরা আল-আলাক, আয়াত: ১-৫।
(খণ্ড: ১) ইইতিমাদ দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ - সালিহ আল-আতরাম (পৃষ্ঠা: ২৪৭)
الله فإن أطعتموني فهذا ما أمرت به، وإلا فبيني وبينكم الله" أو كما قال صلى الله عليه وسلم. وقوله لهم هذه المقالة جواباً لهم لما ساوموه على ترك دعوته.

كما كان رسول الله صلى الله عليه وسلم قدوة الشيخ في التماس من ينصره حيث قال:"اللهم انصر الإسلام بأحد العمرين" وهو يعني عمر بن الخطاب وعمرو بن هشام (أبو جهل) .. فاستجاب الله دعوته بإسلام عمر بن الخطاب، فكان منه النصر والعزة قولا وفعلا، وأصبح غصة في حلوق أعداء الله وأعداء الرسول عليه الصلاة والسلام.

فمن هذا المنطلق تثبت دعوة الداعي وينتشر فقهه، ويجد له مكانه في القلوب حيث هدفه وغايته هداية الناس إلى معرفة خالقهم ورازقهم وحقه عليهم. ومعلوم أن مثل هذه الدعوة لا بد وأن تجد في طريقها الكثير من العقبات ابتلاء وامتحاناً لأصحابها ودعاتها.. أيصبرون ويمضون، أم يجزعون فيقفون. {الم أَحَسِبَ النَّاسُ أَنْ يُتْرَكُوا أَنْ يَقُولُوا آمَنَّا وَهُمْ لا يُفْتَنُونَ وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِنْ قَبْلِهِمْ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكَاذِبِينَ} 1.

أيها الأخوة … بعد هذه المقدمة السريعة أستعرض معكم نقاط بحثي في اعتماد فقه الشيخ محمد بن عبد الوهاب على الكتاب والسنة، ثم قراءة مقاطع منه كالمقدمة … ومقدمة بعض الأبواب.... وإن سنحت الفرصة لأستعرض معكم الكثير، فهذه رغبتي على أن أحظى بملاحظة أستنير بها من حضراتكم.

الحمد لله الذي أنزل على عبده الكتاب ولم يجعل له عوجاً قيما لينذر بأسا شديدا من لدنه، ويبشر المؤمنين الذين يعملون الصالحات أن لهم أجرا حسنا، ماكثين فيه أبدا، وينذر الذين قالوا اتخذ الله ولدا ما لهم به من علم ولا لآبائهم كبرت كلمة تخرج من أفواههم إن يقولون إلا كذبا. وصلى الله وسلم على من أنزل عليه هذا الكتاب ليخرج الناس من الظلمات إلى

--------------------------------------------

1 سورة العنكبوت آية: 1-2-3.
আল্লাহর কসম, যদি তোমরা আমার আনুগত্য করো তবে এটিই সে বিষয় যার আদেশ আমাকে দেয়া হয়েছে, অন্যথায় আমার ও তোমাদের মাঝে ফয়সালাকারী আল্লাহ।" অথবা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেমনটি বলেছেন। আর তারা যখন তাঁর দাওয়াত ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারে তাঁর সাথে দরাদরি করছিল, তখন তাদের প্রতি তাঁর এই বক্তব্যটি ছিল সেই প্রস্তাবের উত্তর।

যেমন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহায্যকারী অন্বেষণের ক্ষেত্রে শায়খের জন্য আদর্শ ছিলেন, যখন তিনি বলেছিলেন: "হে আল্লাহ! দুই উমরের যেকোনো একজনের মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী করুন।" এর দ্বারা তিনি উমর ইবনুল খাত্তাব এবং আমর ইবনে হিশামকে (আবু জাহল) উদ্দেশ্য করেছিলেন। অতঃপর আল্লাহ উমর ইবনুল খাত্তাবের ইসলামের মাধ্যমে তাঁর দুআ কবুল করেন, ফলে তাঁর মাধ্যমে কথা ও কাজে বিজয় ও মর্যাদা অর্জিত হয় এবং তিনি আল্লাহর শত্রু ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শত্রুদের কণ্ঠনালীতে কাঁটা হয়ে দাঁড়ান।

এই দৃষ্টিকোণ থেকেই একজন দয়ীর দাওয়াত সুদৃঢ় হয় এবং তাঁর ফিকহ প্রসারিত হয়, আর তা মানুষের অন্তরে স্থান করে নেয়; যেখানে তাঁর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হয় মানুষকে তাদের স্রষ্টা ও রিযিকদাতার পরিচয় এবং তাদের ওপর তাঁর অধিকার সম্পর্কে হিদায়াত প্রদান করা। আর এটি সুপরিচিত যে, এই ধরণের দাওয়াতের পথে অবশ্যই অনেক বাধা-বিপত্তি আসবে, যা এর অনুসারী ও দাঈদের জন্য এক পরীক্ষা ও যাচাইস্বরূপ— তারা কি ধৈর্য ধারণ করবে এবং এগিয়ে যাবে, নাকি তারা অস্থির হয়ে থেমে যাবে? {আলিফ-লাম-মীম। মানুষ কি মনে করে যে, তারা 'আমরা ঈমান এনেছি' এ কথা বললেই তাদের ছেড়ে দেয়া হবে এবং তাদেরকে পরীক্ষা করা হবে না? অথচ আমি তাদের পূর্ববর্তীদেরকেও পরীক্ষা করেছি। অবশ্যই আল্লাহ জেনে নেবেন কারা সত্যবাদী এবং অবশ্যই তিনি জেনে নেবেন কারা মিথ্যাবাদী।} ১।

হে ভ্রাতৃবৃন্দ … এই সংক্ষিপ্ত ভূমিকার পর আমি আপনাদের সামনে শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব-এর ফিকহ কিতাব ও সুন্নাহর ওপর কতটা নির্ভরশীল সে সংক্রান্ত আমার গবেষণার বিষয়গুলো তুলে ধরব, এরপর তাঁর রচনার কিছু অংশ পাঠ করব যেমন ভূমিকা … এবং কিছু অধ্যায়ের ভূমিকা...। আর যদি সুযোগ হয় তবে আমি আপনাদের সামনে আরও অনেক কিছু উপস্থাপন করতে চাই, এটিই আমার আকাঙ্ক্ষা, যাতে আমি আপনাদের পক্ষ থেকে এমন কিছু পর্যবেক্ষণ লাভ করতে পারি যা আমাকে উপকৃত করবে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি তাঁর বান্দার ওপর কিতাব নাযিল করেছেন এবং তাতে কোনো বক্রতা রাখেননি। একে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন যাতে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে এক কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করতে পারে এবং সেই মুমিনদের সুসংবাদ দিতে পারে যারা নেক আমল করে যে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তম প্রতিদান। তারা সেখানে চিরকাল অবস্থান করবে। আর যাতে তা সতর্ক করতে পারে তাদেরকে যারা বলে, 'আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন'। এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই এবং তাদের পিতৃপুরুষদেরও ছিল না। তাদের মুখ থেকে নির্গত হওয়া কথাটি কতই না জঘন্য! তারা তো কেবল মিথ্যাই বলে। আর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যার প্রতি এই কিতাব নাযিল হয়েছে যাতে তিনি মানুষকে অন্ধকার থেকে বের করে...

--------------------------------------------

১. সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ১-২-৩।
(খণ্ড: ১) ইইতিমাদ দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ - সালিহ আল-আতরাম (পৃষ্ঠা: ২৪৮)
النور على يده، وعلى آله وأصحابه والمهتدين بهديه المستضيئين بنور كتاب ربهم، وسنة نبيهم، وعلى كل من حذا حذوهم إلى أن تقوم الساعة.

وبعد … فإن الله منذ خلق البشرية وحكمته قاضية بالصراع بين الحق والباطل … ، فالباطل له إبليس وجنوده من الجن والإنس، حيث أمر بالسجود لآدم فأبى استكباراً وعنادا، فحكم عليه بالطرد والإبعاد من رحمة الله …

قال تعالى: {وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلائِكَةِ اسْجُدُوا لآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَاّ إِبْلِيسَ أَبَى وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ} 1 وطلب إبليس الإنظار من ربه إلى يوم القيامة فأعطي مطلبه، وهو يريد بذلك تحقيق مأربه بأن يضل بني آدم ويجعلهم من أتباعه حيث عرف أن النار مثواه في الدار الآخرة.

والنصوص الواردة في القرآن الكريم والحديث الشريف في هذا المعنى كثيرة ومتعددة، ولكن من لطف الله ورحمته بعباده أن هذا العدو المصارع للحق لم يستطع الحكم الكامل بعدم الشكر على بني آدم، بل على أكثرهم.

قال تعالى حكاية عن إبليس:

{قَالَ فَبِمَا أَغْوَيْتَنِي لأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِيمَ ثُمَّ لآتِيَنَّهُمْ مِنْ بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَنْ شَمَائِلِهِمْ وَلا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَاكِرِينَ} 2

ولم يذكر الجهة الفوقية؛ لأن الذي يأتي من الفوق هو النور، والقابلون له هم الشاكرون الذين لا سبيل للشيطان عليهم، وذكره سائر الجهات دليل على أن الشر سفلي.

--------------------------------------------

1 سورة البقرة آية: 34.

2 سورة الأعراف آية: 16-17.
যাঁর হাতে আলো রয়েছে, এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং যারা তাঁর হেদায়েত দ্বারা সুপথপ্রাপ্ত হয়ে তাঁদের রবের কিতাব ও তাঁদের নবীর সুন্নাহর নূর দ্বারা আলোকিত হয়েছে, এবং কিয়ামত সংঘটিত হওয়া পর্যন্ত যারা তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে তাদের ওপর (সালাম বর্ষিত হোক)।

অতঃপর ... আল্লাহ তাআলা মানবজাতি সৃষ্টির সময় থেকেই তাঁর প্রজ্ঞা হক ও বাতিলের মাঝে দ্বন্দ্ব নির্ধারণ করে রেখেছেন ... , আর বাতিলের পক্ষে রয়েছে ইবলিস এবং জিন ও মানুষের মধ্য থেকে তার বাহিনী; তাকে যখন আদমকে সিজদাহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তখন সে অহংকার ও হঠকারিতাবশত তা অস্বীকার করেছিল, ফলে আল্লাহর রহমত থেকে তাকে বহিষ্কার ও বিতাড়নের দণ্ড দেওয়া হয়েছিল ...

আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং স্মরণ করো যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, তোমরা আদমকে সিজদাহ করো; তখন ইবলিস ব্যতীত তারা সকলেই সিজদাহ করল। সে অস্বীকার করল ও অহংকার প্রদর্শন করল এবং সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হলো} ১ আর ইবলিস তার রবের কাছে কিয়ামত পর্যন্ত অবকাশ প্রার্থনা করল এবং তার আবেদন মঞ্জুর করা হলো। সে এর মাধ্যমে তার উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায় যে, সে আদম সন্তানদের পথভ্রষ্ট করবে এবং তাদেরকে তার অনুসারী বানাবে, যেহেতু সে জেনেছে যে পরকালে জাহান্নামই তার আবাসস্থল।

পবিত্র কুরআন ও হাদীস শরীফে এই মর্মে অসংখ্য ও বহুবিধ বর্ণনা বিদ্যমান, কিন্তু বান্দাদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও দয়া হলো এই যে, হকের বিরুদ্ধে লড়াইকারী এই শত্রু আদম সন্তানদের অকৃতজ্ঞ করার ব্যাপারে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ লাভ করতে পারেনি, বরং তাদের অধিকাংশের ওপর পেরেছে।

আল্লাহ তাআলা ইবলিসের কথা বর্ণনা করে বলেন:

{সে বলল: আপনি যেহেতু আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, সেহেতু আমি অবশ্যই আপনার সরল পথে তাদের জন্য ওত পেতে বসে থাকব। তারপর আমি অবশ্যই তাদের কাছে আসব তাদের সম্মুখ থেকে, তাদের পেছন থেকে, তাদের ডান দিক থেকে এবং তাদের বাম দিক থেকে; আর আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না} ২

সে ওপরের দিকের কথা উল্লেখ করেনি; কারণ ওপর থেকে যা আসে তা হলো নূর, আর তা গ্রহণকারীরা হলো কৃতজ্ঞ বান্দা যাদের ওপর শয়তানের কোনো প্রভাব নেই; এবং তার অন্যান্য সকল দিকের কথা উল্লেখ করা এই বিষয়ের প্রমাণ যে মন্দ হলো নিম্নস্তরের বিষয়।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ৩৪।

২ সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ১৬-১৭।
(খণ্ড: ১) ইইতিমাদ দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ - সালিহ আল-আতরাম (পৃষ্ঠা: ২৪৯)
وإذا نزل النور من الفوق بدد ظلام الشر وفرقه، وأزهق الباطل، فلم يكن للشيطان على ذلكم الشاكر الذي تلقى النور من ربه عن طريق نبيه سلطان.

{إِنَّ عِبَادِي لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَانٌ إِلَاّ مَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْغَاوِينَ} 1 {إِنَّهُ لَيْسَ لَهُ سُلْطَانٌ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ إِنَّمَا سُلْطَانُهُ عَلَى الَّذِينَ يَتَوَلَّوْنَهُ وَالَّذِينَ هُمْ بِهِ مُشْرِكُونَ} 2.

ومن هنا يتضح وجود الحق وثبوته ومصارعة الباطل له، ولكن متى ثبت أهل الحق وعرفوه حق المعرفة دفع الباطل مهما كثر أعوانه وأنصاره.

{إِنَّ الْبَاطِلَ كَانَ زَهُوقاً} 3.

{وَمَنْ يَتَوَلَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا فَإِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْغَالِبُونَ} 4.

فالحق ثابت ما دامت البشرية على وجه المعمورة، وإن.. ضعف حينا قوي أحياناً، وإن خفي في مكان ظهر في مكان آخر - تلك هي:

{سُنَّتَ اللَّهِ الَّتِي قَدْ خَلَتْ فِي عِبَادِهِ وَخَسِرَ هُنَالِكَ الْكَافِرُونَ} 5.

ومتى فقد الحق وأهله قامت الساعة وانتهت الدنيا؛ لإخبار الصادق المصدوق:

--------------------------------------------

1 سورة الحجر آية: 42.

2 سورة النحل آية: 99-100.

3 سورة الإسراء آية: 81.

4 سورة المائدة آية: 56.

5 سورة غافر آية: 85.
যখন উপর থেকে নূর (আলো) নাযিল হয়, তখন তা মন্দের অন্ধকারকে বিদূরিত ও ছিন্নভিন্ন করে দেয় এবং বাতিলকে পরাভূত করে। ফলে সেই কৃতজ্ঞ বান্দার ওপর শয়তানের কোনো আধিপত্য থাকে না, যে তার রবের পক্ষ থেকে নবীর মাধ্যমে নূর লাভ করেছে।

{নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের ওপর তোমার কোনো আধিপত্য নেই, কেবল পথভ্রষ্টদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করে তারা ছাড়া।} ১ {নিশ্চয়ই যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের রবের ওপর ভরসা করে, তাদের ওপর তার (শয়তানের) কোনো আধিপত্য নেই। তার আধিপত্য তো কেবল তাদেরই ওপর যারা তাকে অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করে এবং যারা তাঁর সাথে শিরক করে।} ২।

এখান থেকে সত্যের (হক) অস্তিত্ব ও স্থায়িত্ব এবং এর বিরুদ্ধে মিথ্যার (বাতিল) সংগ্রামের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। কিন্তু সত্যপন্থীরা যখন অটল থাকে এবং সত্যকে যথাযথভাবে চিনতে পারে, তখন তারা মিথ্যাকে প্রতিহত করে দেয়, চাই তার সাহায্যকারী ও সমর্থক যত বেশিই হোক না কেন।

{নিশ্চয়ই মিথ্যা বিলুপ্ত হওয়ারই বিষয়।} ৩।

{আর যে ব্যক্তি আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, তবে আল্লাহর দলই বিজয়ী হবে।} ৪।

সুতরাং পৃথিবীতে মানবজাতির অস্তিত্ব থাকা পর্যন্ত সত্য সুপ্রতিষ্ঠিত থাকবে। যদি তা কখনও দুর্বল হয়, তবে অন্য সময় শক্তিশালী হয়; আর যদি এক স্থানে গোপন থাকে, তবে অন্য স্থানে প্রকাশ পায় - এটাই হলো:

{আল্লাহর সেই বিধান যা তাঁর বান্দাদের ক্ষেত্রে গত হয়েছে; আর সেখানে কাফিররা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।} ৫।

আর যখন সত্য ও সত্যপন্থীরা বিলুপ্ত হবে, তখন কিয়ামত সংঘটিত হবে এবং দুনিয়া শেষ হয়ে যাবে; যেহেতু সত্যবাদী ও সত্যপ্রত্যায়িত (রাসূল) সংবাদ দিয়েছেন:

--------------------------------------------

১ সূরা আল-হিজর, আয়াত: ৪২।

২ সূরা আন-নাহল, আয়াত: ৯৯-১০০।

৩ সূরা আল-ইসরা, আয়াত: ৮১।

৪ সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৫৬।

৫ সূরা গাফির, আয়াত: ৮৫।
(খণ্ড: ১) ইইতিমাদ দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ - সালিহ আল-আতরাম (পৃষ্ঠা: ২৫০)
"بأنها لا تقوم وعلى وجه الأرض مؤمن، بل على شرار الناس" 1 ولحديث: " لا تزال طائفة من أمتي ظاهرين على الحق لا يضرهم من خذلهم حتى يأتي أمر الله"، وفي رواية "حتى تقوم الساعة" 2.

ثم إن الله جل وعلا أثبت هذا الحق بتتابع رسله ووحيه عليهم: {ثُمَّ أَرْسَلْنَا رُسُلَنَا تَتْرَا كُلَّ مَا جَاءَ أُمَّةً رَسُولُهَا كَذَّبُوهُ فَأَتْبَعْنَا بَعْضَهُمْ بَعْضاً وَجَعَلْنَاهُمْ أَحَادِيثَ فَبُعْداً لِقَوْمٍ لا يُؤْمِنُونَ} 3.

ثم ختم هؤلاء الرسل بأشرفهم وإمامهم وسيد البشرية أجمع محمد صلى الله عليه وسلم فشملت رسالته الثقلين من عرب وعجم، وعمت أرجاء المعمورة،

ولم يعد في الدنيا كلها مكان إلا ووصلته هذه الدعوة الربانية المحمدية، وخاصة في زمننا الحديث بعد أن عمت أجهزة الإعلام جميع المناطق في العالم، وأنزل على هذا النبي الكريم كتاباً صار إعجاز الفصحاء العرب والعجم، والجن والإنس على أن يأتوا بمثله أو سورة منه، بل ولا آية، وجعله منهجاً خالداً للناس أجمعين.

والأدلة على إعجاز القرآن وتخليده وشموله لقضايا الحياة في شتى مجالاتها، وأنواع العقائد والعبادات الصحيح منها والفاسد، واضحة جدا وكثيرة لا تحصى.

ثم إن الله جعل رسالة كل نبي إلى قومه خاصة لعلم الله ببعثه خاتم الرسالات، وإنزاله الكتاب المهيمن على جميع الكتب والرسالات السابقة. {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقاً لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِناً عَلَيْهِ} 4.

--------------------------------------------

1 أخرجه مسلم راجع جامع الأصول جـ10 ص401.

2 أخرجه مسلم بهذا اللفظ 3/1523 في كتاب الإمارة، وأخرجه البخاري بمعناه 1/164.

3 سورة المؤمنون آية: 44.

4 سورة المائدة آية: 48.
"ভূপৃষ্ঠে কোনো মুমিন থাকা অবস্থায় কিয়ামত সংঘটিত হবে না, বরং তা কেবল নিকৃষ্টতম মানুষদের ওপর সংঘটিত হবে" ১ এবং হাদীসের কারণে: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে, যারা তাদের লাঞ্ছিত করতে চায় তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসে", এবং এক বর্ণনায় রয়েছে "যতক্ষণ না কিয়ামত কায়েম হয়" ২।

অতঃপর আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা তাঁর রাসূলগণের ধারাবাহিকতা এবং তাঁদের ওপর ওহী নাযিল করার মাধ্যমে এই সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন: "অতঃপর আমি আমার রাসূলগণকে একের পর এক পাঠিয়েছি; যখনই কোনো জাতির কাছে তাদের রাসূল এসেছেন, তখনই তারা তাকে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করেছে। ফলে আমি তাদের একের পর এক ধ্বংস করেছি এবং তাদেরকে কাহিনীর বিষয়ে পরিণত করেছি। সুতরাং ধ্বংস সেই কওমের জন্য যারা ঈমান আনে না" ৩।

অতঃপর তিনি এই রাসূলগণের ধারা সমাপ্ত করেছেন তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত ব্যক্তি, তাঁদের ইমাম এবং সমগ্র মানবজাতির সরদার মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে। ফলে তাঁর রিসালাত আরব ও অন-আরব নির্বিশেষে সকল জিন ও মানব জাতিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং বিশ্বের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে,

এবং বর্তমানে পৃথিবীতে এমন কোনো স্থান অবশিষ্ট নেই যেখানে এই রব্বানী মুহাম্মাদী দাওয়াত পৌঁছেনি, বিশেষ করে আমাদের এই আধুনিক যুগে যখন প্রচার মাধ্যমগুলো বিশ্বের সকল অঞ্চলে বিস্তৃত হয়েছে। আর তিনি এই সম্মানিত নবীর ওপর এমন এক কিতাব নাযিল করেছেন যা আরব ও অন-আরব, এবং জিন ও মানুষের বাগ্মীদের জন্য এর মতো কিছু অথবা এর একটি সূরাও, এমনকি একটি আয়াতও নিয়ে আসার ক্ষেত্রে অলৌকিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর তিনি একে সকল মানুষের জন্য একটি শাশ্বত জীবনবিধান হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

আর কুরআনের অলৌকিকত্ব, এর অমরত্ব এবং জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে জীবনের নানা বিষয়াবলি এবং সঠিক ও ভ্রান্ত আকিদা ও ইবাদতের প্রকারভেদকে এটি অন্তর্ভুক্ত করার প্রমাণাদি অত্যন্ত স্পষ্ট এবং অসংখ্য।

অতঃপর আল্লাহ প্রত্যেক নবীর রিসালাতকে কেবল তাঁর কওমের জন্য নির্দিষ্ট করেছিলেন, কারণ আল্লাহ জানতেন যে তিনি সর্বশেষ রিসালাত প্রেরণ করবেন এবং পূর্ববর্তী সকল কিতাব ও রিসালাতের ওপর প্রবল ও সংরক্ষক কিতাব নাযিল করবেন। "আর আমি আপনার প্রতি সত্যসহ কিতাব নাযিল করেছি, যা তার পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী এবং সেগুলোর ওপর প্রবল ও সংরক্ষক" ৪।

--------------------------------------------

১. মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন, দেখুন: জামিউল উসুল, ১০ম খণ্ড, ৪০১ পৃষ্ঠা।

২. মুসলিম এই শব্দে বর্ণনা করেছেন ৩/১৫২৩, কিতাবুল ইমারাহ অধ্যায়ে; এবং বুখারী এর সমার্থে বর্ণনা করেছেন ১/১৬৪।

৩. সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত: ৪৪।

৪. সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত: ৪৮।
(খণ্ড: ১) ইইতিমাদ দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ - সালিহ আল-আতরাম (পৃষ্ঠা: ২৫১)
ولعلم الله بنهاية الرسل وآخرهم محمد عليه الصلاة والسلام، أيقظ الله من أمته من حفظ القرآن منه، وتلقى سنته، وعلى رأس هؤلاء صحابته العدول رضي الله عنهم وأرضاهم-. وهكذا كل من أراد الله هدايته شرح الله صدره للإسلام، فتعلم علومه وعلمها وفهمها؛ لذا جاء في الحديث: "أن العلماء ورثة الأنبياء" 1 والحديث الآخر "من يرد الله به خيرا يفقه في الدين" 2.

والحديث الآخر "رب مبلغ أوعى من سامع" 3 ومصداق هده الأحاديث ما دلت على معاني هذه الآيات.

"أولا"

{شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلَاّ هُوَ وَالْمَلائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِماً بِالْقِسْطِ لا إِلَهَ إِلَاّ هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} 4.

فدلت هذه الآية على فضل العلماء من أمة محمد وأنهم الوارثون لسنته، والمتفقهون في دينه؛ إذ جعلهم الله في صف ملائكته وجعلهم أهلا لشهادة ما شهدت به، ولولا ما في صدورهم من العلم بالله وخشيته لما نزلوا هذه المنزلة. {إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ} 5.

ولما أوتوه من النور الذي ورثوه عن نبيهم محمد وعدهم الله برفع الدرجات. {يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ} 6.

--------------------------------------------

1 مختصر سنن أبي داود جـ5 ص243. وفي السنن 3/317 كتاب العلم، والترمذي جـ5 ص48-49 في كتاب العلم.

2 فتح الباري جـ1 ص141. ومسلم 3/1524 في كتاب الإمارة.

3 أخرجه البخاري جـ3/574 كتاب الحج.

4 سورة آل عمران آية: 18.

5 سورة فاطر آية: 28.

6 سورة المجادلة آية: 11.
রাসূলগণের পরিসমাপ্তি এবং তাঁদের সর্বশেষ মুহাম্মাদ (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) সম্পর্কে আল্লাহর জ্ঞান থাকার কারণে, আল্লাহ তাঁর উম্মতের মধ্য থেকে এমন একদলকে জাগ্রত করেছেন যারা তাঁর থেকে কুরআন হিফজ করেছেন এবং তাঁর সুন্নাহ লাভ করেছেন; তাঁদের অগ্রভাগে রয়েছেন তাঁর ন্যায়পরায়ণ সাহাবীগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন এবং তাঁদেরকে সন্তুষ্ট করুন)। এভাবেই আল্লাহ যার হিদায়াত চান, আল্লাহ তার অন্তরকে ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দেন, ফলে সে এর জ্ঞান অর্জন করে, তা শিক্ষা দেয় এবং তা অনুধাবন করে। এ কারণেই হাদীসে এসেছে: "নিশ্চয়ই আলিমগণ নবীদের উত্তরসূরি" ১ এবং অন্য হাদীসে এসেছে "আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন" ২।

এবং অন্য হাদীসটি হলো "অনেক সময় যাকে (জ্ঞান) পৌঁছানো হয় সে শ্রবণকারীর চেয়ে অধিক সংরক্ষণকারী হয়ে থাকে" ৩ এবং এই হাদীসগুলোর সত্যতার প্রমাণ হলো যা এই আয়াতগুলোর অর্থের ওপর প্রমাণ বহন করে।

"প্রথমত"

{আল্লাহ সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, নিশ্চয়ই তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, এবং ফেরেশতাগণ ও ন্যায়নিষ্ঠ জ্ঞানীগণও (সাক্ষ্য দিয়েছেন); তিনি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়} ৪।

এই আয়াতটি মুহাম্মাদ (সা.)-এর উম্মতের আলিমগণের শ্রেষ্ঠত্বের ওপর প্রমাণ পেশ করে এবং এটি নির্দেশ করে যে তাঁরাই তাঁর সুন্নাহর উত্তরাধিকারী এবং তাঁর দ্বীনের গভীর জ্ঞানসম্পন্ন; কারণ আল্লাহ তাঁদেরকে তাঁর ফেরেশতাদের কাতারে শামিল করেছেন এবং তিনি যে বিষয়ের সাক্ষ্য দিয়েছেন তার সাক্ষ্য দেওয়ার যোগ্য বানিয়েছেন। যদি তাঁদের অন্তরে আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান এবং তাঁর ভয় না থাকত, তবে তাঁরা এই উচ্চ মর্যাদা লাভ করতে পারতেন না। {আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলিমগণই তাঁকে ভয় করে} ৫।

এবং তাঁদেরকে যে নূর প্রদান করা হয়েছে যা তাঁরা তাঁদের নবী মুহাম্মাদ (সা.) থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন, তার কারণে আল্লাহ তাঁদেরকে মর্যাদা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদের জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা উচ্চ করে দেবেন} ৬।

--------------------------------------------

১ মুখতাসার সুনান আবু দাউদ, ৫ম খণ্ড, ২৪৩ পৃষ্ঠা। এবং সুনান ৩/৩১৭, ইলম অধ্যায়; তিরমিযী ৫ম খণ্ড, ৪৮-৪৯ পৃষ্ঠা, ইলম অধ্যায়।

২ ফাতহুল বারী, ১ম খণ্ড, ১৪১ পৃষ্ঠা। এবং মুসলিম ৩/১৫২৪, ইমারাহ অধ্যায়।

৩ বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন, ৩/৫৭৪, হজ অধ্যায়।

৪ সূরা আল-ইমরান, আয়াত: ১৮।

৫ সূরা ফাতির, আয়াত: ২৮।

৬ সূরা আল-মুজাদালা, আয়াত: ১১।
(খণ্ড: ১) ইইতিমাদ দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ - সালিহ আল-আতরাম (পৃষ্ঠা: ২৫২)
وفي الأنفال يذكر الله صفات المؤمنين بقوله تعالى: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَاناً وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ أُولَئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقّاً لَهُمْ دَرَجَاتٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَمَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ} 1.

وفي سورة الزمر ينوه الله جل شأنه عن فضل المتعلمين على الجاهلين ويبين صفة المتذكرين. {هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لا يَعْلَمُونَ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُولُو الأَلْبَابِ} 2.

وفي سورة الأنعام يبين الله تعالى أن العلم بالقرآن والسنة هو النور وهو الحياة الحقيقية والأبدية، وأن الجهل بهما هو الموت والظلمة.

{أَوَمَنْ كَانَ مَيْتاً فَأَحْيَيْنَاهُ وَجَعَلْنَا لَهُ نُوراً يَمْشِي بِهِ فِي النَّاسِ كَمَنْ مَثَلُهُ فِي الظُّلُمَاتِ لَيْسَ بِخَارِجٍ مِنْهَا كَذَلِكَ زُيِّنَ لِلْكَافِرِينَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ أَوَمَنْ كَانَ مَيْتاً فَأَحْيَيْنَاهُ وَجَعَلْنَا لَهُ نُوراً يَمْشِي بِهِ فِي النَّاسِ كَمَنْ مَثَلُهُ فِي الظُّلُمَاتِ لَيْسَ بِخَارِجٍ مِنْهَا كَذَلِكَ زُيِّنَ لِلْكَافِرِينَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} 3.

ويصور الشاعر الجهل ومعناه وأنه الموت العاجل:

وفي الجهل قبل الموت موت لأهله … وأجسامهم قبل القبور قبور

وهذا الموضوع واسع وأدلته أكثر من أن تحصر، وإنما المقصود الإشارة بأن شرع محمد صلى الله عليه وسلم خالد لوجود ورثته وبيان مكانتهم ومنزلتهم عند الله، وأنهم إذا قاموا على طريقة نبيهم أثروا في الناس وغيروا المجتمعات من السيئ إلى الحسن، وأظهروا الحق وأزهقوا الباطل.

--------------------------------------------

1 سورة الأنفال آية: 2-3-4.

2 سورة الزمر آية: 9.

3 سورة الأنعام آية: 122.
এবং সূরা আল-আনফালে আল্লাহ মুমিনদের গুণাবলি উল্লেখ করে বলেন: {নিশ্চয়ই মুমিন তো তারাই, যাদের সামনে যখন আল্লাহর জিকির করা হয়, তখন তাদের অন্তরসমূহ কেঁপে ওঠে। আর যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করা হয়, তখন তা তাদের ঈমানকে বৃদ্ধি করে দেয় এবং তারা তাদের রবের ওপরই ভরসা করে। যারা সালাত কায়েম করে এবং আমি তাদের যে রিজিক দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে। এরাই হলো প্রকৃত মুমিন। তাদের রবের কাছে তাদের জন্য রয়েছে উচ্চ মর্যাদা, ক্ষমা এবং সম্মানজনক রিজিক} ১।

এবং সূরা আয-জুমারে আল্লাহ জাল্লা শানুহু অজ্ঞদের ওপর জ্ঞানীদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি আলোকপাত করেছেন এবং উপদেশ গ্রহণকারীদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন। {বলুন, যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান হতে পারে? কেবল বিবেকবানরাই উপদেশ গ্রহণ করে} ২।

এবং সূরা আল-আনআমে আল্লাহ তাআলা বর্ণনা করেছেন যে, কুরআন ও সুন্নাহর জ্ঞানই হলো নূর এবং এটিই প্রকৃত ও চিরস্থায়ী জীবন; আর এ দুটির ব্যাপারে অজ্ঞতা হলো মৃত্যু ও অন্ধকার।

{আর যে ব্যক্তি মৃত ছিল, অতঃপর আমি তাকে জীবিত করেছি এবং তাকে এমন এক নূর দান করেছি যা নিয়ে সে মানুষের মধ্যে চলাফেরা করে, সে কি ঐ ব্যক্তির মতো হতে পারে যে অন্ধকারের মধ্যে রয়েছে এবং সেখান থেকে বের হতে পারছে না? এভাবেই কাফেরদের কাছে তাদের কৃতকর্মসমূহ সুশোভিত করে দেওয়া হয়েছে। আর যে ব্যক্তি মৃত ছিল, অতঃপর আমি তাকে জীবিত করেছি এবং তাকে এমন এক নূর দান করেছি যা নিয়ে সে মানুষের মধ্যে চলাফেরা করে, সে কি ঐ ব্যক্তির মতো হতে পারে যে অন্ধকারের মধ্যে রয়েছে এবং সেখান থেকে বের হতে পারছে না? এভাবেই কাফেরদের কাছে তাদের কৃতকর্মসমূহ সুশোভিত করে দেওয়া হয়েছে} ৩।

কবি অজ্ঞতা এবং এর স্বরূপকে চিত্রায়িত করেছেন যে, এটি হলো উপস্থিত মৃত্যু:

মৃত্যুর পূর্বেই অজ্ঞ ব্যক্তিদের জন্য অজ্ঞতাই হলো মৃত্যু … আর কবরে যাওয়ার আগেই তাদের দেহসমূহ হলো কবর

এই বিষয়টি অত্যন্ত ব্যাপক এবং এর দলিলসমূহ সীমাবদ্ধ করার ঊর্ধ্বে। মূলত উদ্দেশ্য হলো এই ইশারা দেওয়া যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শরীয়ত তাঁর উত্তরাধিকারীদের অস্তিত্বের কারণে শাশ্বত। সেইসাথে আল্লাহর কাছে তাদের মর্যাদা ও অবস্থানের বর্ণনা দেওয়া। আর তারা যদি তাদের নবীর তরীকার ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে, তবে তারা মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করবে এবং সমাজকে মন্দ থেকে ভালোর দিকে পরিবর্তিত করবে, এবং তারা সত্যকে প্রকাশ করবে ও বাতিলকে পরাভূত করবে।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-আনফাল, আয়াত: ২-৩-৪।

২ সূরা আয-জুমার, আয়াত: ৯।

৩ সূরা আল-আনআম, আয়াত: ১২২।
(খণ্ড: ১) ইইতিমাদ দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ - সালিহ আল-আতরাম (পৃষ্ঠা: ২৫৩)
ومن ورثة محمد صلى الله عليه وسلم في القرن الثاني عشر الهجري محمد بن عبد الوهاب.. الذي دعا إلى شرع الله عقيدةً وقولاً وعملاً، وجهاداً لمن وقف ضد هذه الدعوة قامعاً لبدعته، مبطلاً لخرافته بالحجة والبرهان، وهيئ له العضد والساعد ليحمل السيف والسنان محمد بن سعود أمير الدرعية الذي شد أزر محمد بن عبد الوهاب على الحق والبر والتقوى، فهذا ينشر النور والضياء، وهذا يزيل الحجب والغطاء والعراقيل التي توضع دون هذه الخطى بدليل من القرآن وحديث من سنة المصطفى، ومن أجاب داعي الله وهذا النداء فله الجنات نزلاً ومأوى والسعادة في هذه الدنيا والنصر والتأييد من رب الورى.

وحان الشروع فيما قصدناه من اعتماد الشيخ محمد بن عبد الوهاب على الأدلة والهدى من كتاب ربنا وسنة سيدنا ونبينا محمد صلى الله عليه وسلم وأقوال صحابته أئمة الهدى، وما فهمه أولي النهي ممن فتح الله عليهم المحبة والرغبة لفهم شرعه، فصاروا سببا لحفظه الذي تكفل الله به: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} 1.

فحفظ الله لكتابه وسنة نبيه هو على أيدي ورثة رسوله.. لذا يكون نزع العلم بموت أهله لا بانتزاعه من صدور الرجال، وإذا انتزع العلم تصدى للمسئولية الجهلة، فأفتوا بغير علم، ونفذوا بغير نور، وحينئذ تنقلب السنة بدعة والبدعة سنة.

وفي الحديث: "فإذا أضيعت الأمانة فانتظر الساعة، قال: كيف إضاعتها؟ قال: إذا وسد الأمر إلى غير أهله فانتظر الساعة" 2.

وهذا البحث يشتمل على مقدمة وأربعة أبواب:

الباب الأول: نبذة عن حياة الشيخ وفيه أربعة فصول:

الفصل الأول: ترجمة موجزة للشيخ وتتلخص في النقاط التالية: نسبه / ولادته / بيئته / نشأته / طلبه للعلم / بداية دعوته / رحلاته في طلب العلم / مكان بدء نشر دعوته / وفاته.

--------------------------------------------

1 سورة الحجر آية: 9.

2 عن أبي هريرة في صحيح البخاري جـ1 ص141/142 في كتاب العلم، وأحمد في مسنده 2/361.
এবং হিজরি দ্বাদশ শতাব্দীতে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উত্তরাধিকারীদের অন্যতম হলেন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব.. যিনি আকিদাহ, কথা ও কাজের মাধ্যমে আল্লাহর শরীয়তের দিকে দাওয়াত দিয়েছেন এবং এই দাওয়াতের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছেন, দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে তাদের বিদআতকে দমন করেছেন এবং তাদের কুসংস্কারকে বাতিল করেছেন। তাঁর জন্য সাহায্যকারী ও সহযোগী হিসেবে নির্ধারিত হয়েছিলেন দিরইয়ার আমির মুহাম্মাদ বিন সাউদ, যিনি সত্য, নেকি ও তাকওয়ার ওপর মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের হাতকে শক্তিশালী করেছিলেন। ফলে একজন (ইমাম) আলো ও জ্যোতি ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন, আর অন্যজন (আমির) কুরআন ও সুন্নাতে মুস্তাফার দলিলের আলোকে এই চলার পথের প্রতিবন্ধকতা, আবরণ ও বাধাগুলো অপসারণ করছিলেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর আহ্বায়কের এই ডাকে সাড়া দিবে, তার জন্য জান্নাত হলো মেহমানদারি ও আশ্রয়স্থল এবং এই দুনিয়ায় রয়েছে সৌভাগ্য ও সৃষ্টির রবের পক্ষ থেকে সাহায্য ও সমর্থন।

এখন আমাদের কাঙ্ক্ষিত মূল বিষয়ে প্রবেশ করার সময় হয়েছে, আর তা হলো আমাদের রবের কিতাব, আমাদের নেতা ও নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ এবং হিদায়াতের ইমাম সাহাবায়ে কিরামের বাণীর দলিলের ওপর শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের নির্ভরতা এবং সেই সব প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের বুঝের বর্ণনা, যাদের জন্য আল্লাহ তাঁর শরীয়ত বোঝার মহব্বত ও আগ্রহ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। ফলে তাঁরা সেই সংরক্ষণের মাধ্যম হয়েছেন যার দায়িত্ব আল্লাহ নিজেই নিয়েছেন: "নিশ্চয় আমিই যিকর (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।" ১।

সুতরাং আল্লাহর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহর এই সংরক্ষণ তাঁর রাসূলের উত্তরাধিকারীদের মাধ্যমেই সাধিত হয়.. এই কারণেই ইলম তুলে নেওয়া হয় ইলমওয়ালাদের মৃত্যুর মাধ্যমে, মানুষের অন্তর থেকে তা সরাসরি ছিনিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে নয়। আর যখন ইলম বিলুপ্ত হয়ে যায়, তখন মূর্খরা দায়িত্বভার গ্রহণ করে। তারা ইলম ছাড়াই ফতোয়া দেয় এবং কোনো আলো ছাড়াই তা কার্যকর করে। তখন সুন্নাহ বিদআতে এবং বিদআত সুন্নাহয় রূপান্তরিত হয়।

হাদীসে এসেছে: "যখন আমানত নষ্ট করা হবে, তখন কিয়ামতের অপেক্ষা করো। তিনি (প্রশ্নকারী) জিজ্ঞেস করলেন: তা কীভাবে নষ্ট হবে? তিনি (নবীজী) বললেন: যখন কোনো দায়িত্ব অযোগ্য লোকের ওপর ন্যস্ত করা হবে, তখন কিয়ামতের অপেক্ষা করো।" ২।

এই গবেষণাটি একটি ভূমিকা ও চারটি অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম অধ্যায়: শায়খের জীবন সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা, এতে চারটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: শায়খের সংক্ষিপ্ত জীবনী যা নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলোতে সংক্ষেপে আলোচনা করা হয়েছে: তাঁর বংশপরিচয় / জন্ম / পরিবেশ / বেড়ে ওঠা / ইলম অর্জন / তাঁর দাওয়াতের সূচনা / ইলম অর্জনের উদ্দেশ্যে সফরসমূহ / দাওয়াত প্রচার শুরুর স্থান / মৃত্যু।

--------------------------------------------

১. সূরা আল-হিজর, আয়াত: ৯।

২. আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, সহীহ বুখারী, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৪১/১৪২, কিতাবুল ইলম; এবং আহমাদ তাঁর মুসনাদে ২/৩৬১।
(খণ্ড: ১) ইইতিমাদ দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ - সালিহ আল-আতরাম (পৃষ্ঠা: ২৫৪)
الفصل الثاني: زمن الشيخ محمد بن عبد الوهاب.

الفصل الثالث: الحالة الاجتماعية في زمن الشيخ.

الفصل الرابع: سبب قيام دعوة الشيخ.

الباب الثاني: ما قيل عن اعتماد فقه الشيخ محمد بن عبد الوهاب على الكتاب والسنة. وفيه مقدمة وأحد عشر فصلاً.

الفصل الأول: القواعد الأربع التي قررها الشيخ لدوران الدين عليها.

الفصل الثاني: في كلام الشيخ عن طريقة الأخذ فيما اختلف فيه العلماء وأقوالهم.

الفصل الثالث: في كلام الشيخ على قولهم (اتفاق العلماء حجة واختلافهم رحمة) .

الفصل الرابع: في كلام الشيخ على من قال: (لا يقرأ الكتاب لعدم إمكان فهمه) ودليله على بطلان هذا القول.

الفصل الخامس: في كلام الشيخ على الذين يحاولون طرح أقوال العلماء وبيان مبدئه وموقفه منها.

الفصل السادس: في كلام الشيخ لابن معمر لما هدره.

الفصل السابع: في كلام الشيخ في المدينة لما سئل عن الأصوات عند قبر الرسول صلى الله عليه وسلم.

الفصل الثامن: ما قاله أحفاده عن اعتماده على الكتاب والسنة.

الفصل التاسع: ما قاله غير أحفاده وأبنائه مما يدل على اعتماده في دعوته على الكتاب والسنة.

الفصل العاشر: في ثناء العلماء على الشيخ ووجهة نظري في إيراد هذا الثناء.

الفصل الحادي عشر: في الأصول التي دعا إليها الشيخ، وهى أهم دعواته وأجلها مدعومة بالأدلة.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব-এর যুগ।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শায়খের যুগে সামাজিক অবস্থা।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শায়খের দাওয়াহ শুরুর কারণ।

দ্বিতীয় অধ্যায়: কুরআন ও সুন্নাহর ওপর শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব-এর ফিকহ-এর নির্ভরতা সম্পর্কে যা বলা হয়েছে। এতে একটি ভূমিকা এবং এগারোটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

প্রথম পরিচ্ছেদ: দ্বীন যে চারটি মূলনীতির ওপর আবর্তিত হয়, শায়খ কর্তৃক নির্ধারিত সেই নিয়মাবলী।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আলেমদের মতভেদপূর্ণ বিষয়সমূহ এবং তাঁদের বক্তব্য গ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কে শায়খের আলোচনা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: "আলেমদের ঐক্যমত একটি দলিল এবং তাঁদের মতভেদ রহমত"—এই উক্তি সম্পর্কে শায়খের আলোচনা।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: যারা বলে, "বুঝা সম্ভব নয় বিধায় কিতাব পড়া যাবে না", তাদের বিষয়ে শায়খের বক্তব্য এবং এই উক্তির অসারতার প্রমাণ।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: যারা আলেমদের বক্তব্যসমূহ বর্জন করার চেষ্টা করে তাদের সম্পর্কে শায়খের আলোচনা এবং এ বিষয়ে তাঁর মূলনীতি ও অবস্থানের বর্ণনা।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: ইবনে মুয়াম্মার যখন তাঁকে অবজ্ঞা করেছিল তখন তাঁর প্রতি শায়খের বক্তব্য।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: মদিনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কবরের নিকট উচ্চস্বরে আওয়াজ করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হওয়ার পর শায়খের বক্তব্য।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: কুরআন ও সুন্নাহর ওপর তাঁর নির্ভরতা সম্পর্কে তাঁর বংশধরগণ যা বলেছেন।

নবম পরিচ্ছেদ: কুরআন ও সুন্নাহর ওপর তাঁর দাওয়াহর নির্ভরতার প্রমাণ স্বরূপ তাঁর বংশধর ব্যতীত অন্যরা যা বলেছেন।

দশম পরিচ্ছেদ: শায়খের প্রতি আলেমদের প্রশংসা এবং এই প্রশংসা উল্লেখ করার ক্ষেত্রে আমার দৃষ্টিভঙ্গি।

একাদশ পরিচ্ছেদ: শায়খ যে সকল মূলনীতির দিকে আহ্বান জানিয়েছেন, যা তাঁর দাওয়াহর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মহান অংশ এবং যা দলিলের মাধ্যমে সমর্থিত।
(খণ্ড: ১) ইইতিমাদ দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ - সালিহ আল-আতরাম (পৃষ্ঠা: ২৫৫)
الباب الثالث: الاستدلال على اعتماده في مؤلفات العقائد على الكتاب والسنة.

وفي هذا الباب خمسة عشر فصلا هي:

الفصل الأول: في ثلاث مسائل يجب تعلمها.

الفصل الثاني: في المسألة التي بها نجاة المسلم من الخسارة والهلاك.

الفصل الثالث: في مراتب الدين.

الفصل الرابع: في اعتناء الشيخ بتوحيد العبادة.

الفصل الخامس: القواعد الأربع التي قرر بها توحيد العبادة.

الفصل السادس: ما ورد في مؤلفه كتاب (فضل الإسلام) على اعتماده على الكتاب والسنة.

الفصل السابع: فيما ألفه في أصول الإيمان.

الفصل الثامن: في وجوب اعتقاد حق الرسول صلى الله عليه وسلم واستدلاله على ذلك.

الفصل التاسع: في لزوم السنة والتحذير من البدع واستدلاله على ذلك.

الفصل العاشر: في وجوب عداوة أعداء الله واستدلاله على ذلك.

الفصل الحادي عشر: من كتابه "مسائل الجاهلية".

الفصل الثاني عشر: ست موضوعات من السيرة لها صلة قوية بأسس الدعوة.

الفصل الثالث عشر: من مؤلفاته تلقين أصول العقيدة للعامة على طريقة السؤال والجواب.

الفصل الرابع عشر: في معنى الطاغوت.

الفصل الخامس عشر: في كتابه (الكبائر) .
তৃতীয় অধ্যায়: আকিদাহ বিষয়ক গ্রন্থাবলীতে কুরআন ও সুন্নাহর ওপর তাঁর নির্ভরশীলতার প্রমাণাদি।

এবং এই অধ্যায়ে পনেরটি পরিচ্ছেদ রয়েছে, সেগুলো হলো:

প্রথম পরিচ্ছেদ: তিনটি মাসআলা সম্পর্কে যা শেখা ওয়াজিব।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সেই মাসআলা সম্পর্কে যার মাধ্যমে একজন মুসলিম ক্ষতি ও ধ্বংস থেকে মুক্তি পায়।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: দ্বীনের স্তরসমূহ সম্পর্কে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ইবাদতের তাওহীদের প্রতি শাইখের গুরুত্বারোপ সম্পর্কে।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: চারটি মূলনীতি যার মাধ্যমে তিনি ইবাদতের তাওহীদকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাঁর রচিত 'ফাদলুল ইসলাম' গ্রন্থে কুরআন ও সুন্নাহর ওপর তাঁর নির্ভরশীলতার বর্ণনা।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: ঈমানের মূলনীতিসমূহের ওপর তাঁর রচিত কিতাবসমূহ প্রসঙ্গে।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হকের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন ওয়াজিব হওয়া এবং এর সপক্ষে তাঁর উপস্থাপিত প্রমাণাদি।

নবম পরিচ্ছেদ: সুন্নাহর অনুসরণ অপরিহার্য হওয়া এবং বিদআত থেকে সতর্ক করা এবং এর সপক্ষে তাঁর উপস্থাপিত প্রমাণাদি।

দশম পরিচ্ছেদ: আল্লাহর শত্রুদের সাথে শত্রুতা রাখা ওয়াজিব হওয়া এবং এর সপক্ষে তাঁর উপস্থাপিত প্রমাণাদি।

একাদশ পরিচ্ছেদ: তাঁর 'মাসায়েলুল জাহিলিয়্যাহ' গ্রন্থ থেকে।

দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: সীরাত থেকে ছয়টি বিষয় যার সাথে দাওয়াতের মূলভিত্তির সুদৃঢ় সম্পর্ক রয়েছে।

ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ: সাধারণ মানুষের জন্য প্রশ্নোত্তর পদ্ধতিতে আকিদার মূলনীতি শিক্ষাদান বিষয়ক তাঁর রচনাবলি থেকে।

চতুর্দশ পরিচ্ছেদ: তাগুতের অর্থ প্রসঙ্গে।

পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ: তাঁর 'আল-কাবায়ির' নামক গ্রন্থ প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ১) ইইতিমাদ দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ - সালিহ আল-আতরাম (পৃষ্ঠা: ২৫৬)
الباب الرابع: في مؤلفات الشيخ فيما عدا العقائد، وفيه تمهيد وعشرون فصلا:

الفصل الأول: في مؤلفات الشيخ في الحديث.

الفصل الثاني: في فضائل الأعمال.

الفصل الثالث: في صلاة التطوع.

الفصل الرابع: في فقه الشيخ في قراءة القرآن.

الفصل الخامس: في الزكاة.

الفصل السادس: في بر الوالدين وصلة الأرحام.

الفصل السابع: في الصيام.

الفصل الثامن: في المناسك (أي في الحج والعمرة) .

الفصل التاسع: في الحج والعمرة.

الفصل العاشر: في الهدي والأضاحي والعقيقة.

الفصل الحادي عشر: في الجهاد.

الفصل الثاني عشر: في البيوع.

الفصل الثالث عشر: في مؤلفات الشيخ مما عدا الحديث.

الفصل الرابع عشر: في رسائل الشيخ الشخصية.

الفصل الخامس عشر: في كتابة الشيخ بالسيرة النبوية.

الفصل السادس عشر: في التفسير.

الفصل السابع عشر: في كتابه مختصر زاد المعاد.

الفصل الثامن عشر: في مختصر الشرح الكبير والإنصاف.

الفصل التاسع عشر: في مؤلفاته المبتدأة

الفصل العشرون: في استنباطات الشيخ وتلخيصاته.

الخاتمة.
চতুর্থ অধ্যায়: আকাইদ ব্যতীত শাইখের অন্যান্য রচনাবলি প্রসঙ্গে, এতে একটি ভূমিকা ও বিশটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: হাদিস শাস্ত্রে শাইখের রচনাবলি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আমলের ফজিলত প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নফল সালাত প্রসঙ্গে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: কুরআন তিলাওয়াত বিষয়ে শাইখের ফিকহ।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: জাকাত প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণ ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা প্রসঙ্গে।

সপ্তম পরিচ্ছেদ: সিয়াম প্রসঙ্গে।

অষ্টম পরিচ্ছেদ: মানাসিক (অর্থাৎ হজ ও ওমরাহ) প্রসঙ্গে।

নবম পরিচ্ছেদ: হজ ও ওমরাহ প্রসঙ্গে।

দশম পরিচ্ছেদ: হাদি, কোরবানি ও আকিকা প্রসঙ্গে।

একাদশ পরিচ্ছেদ: জিহাদ প্রসঙ্গে।

দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: ক্রয়-বিক্রয় প্রসঙ্গে।

ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ: হাদিস ব্যতীত শাইখের অন্যান্য রচনাবলি।

চতুর্দশ পরিচ্ছেদ: শাইখের ব্যক্তিগত পত্রাবলি।

পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ: সিরাতে নববী বিষয়ে শাইখের রচনা।

ষোড়শ পরিচ্ছেদ: তাফসির প্রসঙ্গে।

সপ্তদশ পরিচ্ছেদ: তাঁর গ্রন্থ মুখতাসার জাদুল মা'আদ প্রসঙ্গে।

অষ্টাদশ পরিচ্ছেদ: মুখতাসার আশ-শারহুল কাবির ও আল-ইনসাফ প্রসঙ্গে।

ঊনবিংশ পরিচ্ছেদ: তাঁর মৌলিক রচনাবলি প্রসঙ্গে।

বিংশ পরিচ্ছেদ: শাইখের উদ্ভাবিত মাসায়েল ও সারসংক্ষেপসমূহ।

উপসংহার।
(খণ্ড: ১) ইইতিমাদ দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ - সালিহ আল-আতরাম (পৃষ্ঠা: ২৫৭)
‌‌الباب الأول: نبذة عن حياة الشيخ

‌‌الفصل الأول: ترجمة موجزة وتتلخص في النقاط التالية

…

الفصل الأول: ترجمة موجزة وتتلخص في النقاط التالية:

نسبه، ولادته، بيئته، نشأته، طلبه للعلم، بداية دعوته، رحلاته في طلب العلم، مكان بدء نشر دعوته، وفاته.

أولا: هو شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب بن سليمان بن علي بن محمد بن أحمد بن راشد بن محمد بن مشرف، ثم إن آل مشرف بيت مشتهر، فمنهم من ينسب الشيخ له، ومنهم من نسبه إلى جد بعده، هم الوهبة، ومنهم من ينسبه إلى التميمي، وقد ذكر الشيخ عبد الله بن عبد الرحمن بن صالح البسام نسبا متسلسلا إلى عدنان في كتابه "علماء نجد"، وقد أكد ذلك حسب ما اطلع عليه من كتب التراجم والأنساب.

ويقرب من الحقيقة لوجود الصهر بين البسام وجد الشيخ محمد بن عبد الوهاب، إذ أن الشيخ عبد الوهاب أخواله البسام، وهذا المبحث في المجلد الأول من علماء نجد (25) .

ثانيا: ولد الشيخ محمد بن عبد الوهاب سنة 1115هـ.

ثالثا: إنه من بيت علم كبير، والده وأجداده وأعمامه، ونهج نهجه أحفاده.

رابعا: نشأ الشيخ محمد بن عبد الوهاب مولعا بحب العلم والمعرفة والاطلاع على العلوم الشرعية.

خامسا: درس على والده عبد الوهاب الفقيه المتنقل من روضة سدير إلى العيينة ثم إلى حريملاء، وتوفي عبد الوهاب فيها.
প্রথম অধ্যায়: শায়খের জীবনীর সংক্ষিপ্ত বিবরণী

প্রথম পরিচ্ছেদ: সংক্ষিপ্ত জীবনী যা নিম্নোক্ত পয়েন্টসমূহে সারসংক্ষেপ করা হয়েছে

…

প্রথম পরিচ্ছেদ: সংক্ষিপ্ত জীবনী যা নিম্নোক্ত পয়েন্টসমূহে সারসংক্ষেপ করা হয়েছে:

তাঁর বংশপরিচয়, জন্ম, পরিবেশ, লালন-পালন, জ্ঞানার্জন, দাওয়াতের সূচনা, জ্ঞানার্জনে সফরসমূহ, দাওয়াত প্রচার শুরুর স্থান এবং তাঁর মৃত্যু।

প্রথমত: তিনি হলেন শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন সুলাইমান বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন রাশিদ বিন মুহাম্মাদ বিন মুশাররাফ। এরপর 'আলে মুশাররাফ' একটি প্রসিদ্ধ ঘরানা; কেউ কেউ শায়খকে এর দিকেই সম্বন্ধ করেন, আবার কেউ কেউ তাঁর পরবর্তী কোনো দাদার দিকে সম্বন্ধ করেন, যারা হলেন 'ওয়াহবাহ'। আবার কেউ তাঁকে 'তামিমী' গোত্রের দিকে সম্বন্ধ করেন। শায়খ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান বিন সালিহ আল-বাসসাম তাঁর 'উলামায়ে নাজদ' গ্রন্থে আদনান পর্যন্ত একটি ধারাবাহিক বংশতালিকা উল্লেখ করেছেন এবং জীবনী ও বংশলতিকার কিতাবসমূহ পর্যালোচনার ভিত্তিতে তা নিশ্চিত করেছেন।

এটি সত্যের কাছাকাছি হওয়ার কারণ হলো আল-বাসসাম এবং শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাদার মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল, যেহেতু শায়খ আব্দুল ওয়াহহাবের মামারা ছিলেন আল-বাসসাম পরিবারের। এই আলোচনাটি 'উলামায়ে নাজদ' এর প্রথম খণ্ডের ২৫ পৃষ্ঠায় রয়েছে।

দ্বিতীয়ত: শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ১১১৫ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন।

তৃতীয়ত: তিনি একটি বৃহৎ জ্ঞানসমৃদ্ধ পরিবার থেকে এসেছেন—তাঁর পিতা, দাদাগণ এবং চাচাগণ সবাই জ্ঞানী ছিলেন এবং তাঁর নাতি-পুতিরাও তাঁর পথ অনুসরণ করেছেন।

চতুর্থত: শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব জ্ঞান ও প্রজ্ঞার প্রতি গভীর অনুরাগী হিসেবে এবং শরয়ী জ্ঞান অন্বেষণে মগ্ন অবস্থায় বেড়ে ওঠেন।

পঞ্চমত: তিনি তাঁর পিতা ফকিহ আব্দুল ওয়াহহাবের কাছে পড়াশোনা করেন, যিনি রওদাত সুুদাইর থেকে উয়াইনা এবং পরে হুরাইমিলাতে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন এবং আব্দুল ওয়াহহাব সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) ইইতিমাদ দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ - সালিহ আল-আতরাম (পৃষ্ঠা: ২৫৮)
سادسا: بدأ محمد بن عبد الوهاب في حدود عام 1140هـ ينشر آثار علمه وثمرات غرس والده من بيان الصحيح والفاسد من عبادات ومعاملات مجتمعه.

سابعا: أن الشيخ محمد بن عبد الوهاب امتد باعه إلى بعض العلماء المعاصرين في المدينة المنورة والبصرة، فرحل إليهم واستفاد من علومهم، ونهل من معينهم.

ثامنا: بدأ بنشر دعوته في حريملاء -البلدة التي توفي فيها والده- ولكن لكثرة صدأ القلوب فيها لم تكن عندها قابلية لدعوته، فآذوه أميرا ومأمورين. فانتقل إلى العيينة أملا منه وغلبة ظن بأن أميرها عثمان بن معمر سيساعده؛ لعلمه أن الحق لا بد له من سلطان وسيف وسنان يقمع به كل مارد وشيطان؛ لأن الله يزع بالسلطان مالا يزع بالقرآن كما قال الخليفة الراشد عثمان بن عفان رضي الله عنه.

وفهم ذلك محمد بن عبد الوهاب من سيرة سيد ولد عدنان؛ إذ أقام بمكة يدعو ثلاث عشرة سنة فلم يستجب لدعوته إلا أفراد من الضعفاء والمساكين، وامتنع أهل الأموال والمتغطرسون.

ثم أذن الله له بالهجرة إلى المدينة فقوي الإسلام لكثرة المسلمين، فشرع في صد المعاندين وجهاد الكافرين لما أبوا عن إجابة الداعين إلى رب العالمين، فأذل الله الكفر وأهله وأزهق الباطل وخذله، وبهذا يقول الشاعر:

دعا المصطفى دهرا بمكة لم يجب … وقد لان منه جانب وخطاب

فلما دعا والسيف صلت بكفه … له أسلموا واستسلموا وأنابوا

والقرآن مملوء بالنصوص الآمرة بقتال الكفرة والمشركين؛ كقوله تعالى: {قَاتِلُوا الَّذِينَ لا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلا بِالْيَوْمِ الآخِرِ وَلا يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَلا يَدِينُونَ دِينَ الْحَقِّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حَتَّى يُعْطُوا الْجِزْيَةَ عَنْ يَدٍ وَهُمْ صَاغِرُونَ} 1.

--------------------------------------------

1 سورة التوبة آية: 29.
ষষ্ঠত: মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ১১৪০ হিজরি সালের দিকে তাঁর জ্ঞানের প্রভাব এবং তাঁর পিতার রোপিত বৃক্ষের ফল স্বরূপ তাঁর সমাজের ইবাদত ও মুয়ামালাতের মধ্যকার সঠিক ও অশুদ্ধ বিষয়গুলো প্রচার করতে শুরু করেন।

সপ্তমত: শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব মদিনা মুনাওয়ারা এবং বসরার কিছু সমসাময়িক আলেমদের সংস্পর্শ লাভ করেন, তাই তিনি তাঁদের কাছে সফর করেন, তাঁদের জ্ঞান থেকে উপকৃত হন এবং তাঁদের জ্ঞানের উৎস থেকে সুধা পান করেন।

অষ্টমত: তিনি হুরয়মিলাতে তাঁর দাওয়াত প্রচার শুরু করেন—যে শহরে তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেছিলেন—কিন্তু সেখানে হৃদয়ে অধিক মরিচা পড়ার কারণে তাঁর দাওয়াতের প্রতি তাদের কোনো গ্রহণযোগ্যতা ছিল না, ফলে শাসক ও শাসিত সবাই মিলে তাঁকে কষ্ট দিতে থাকে। অতঃপর তিনি উয়ায়নায় স্থানান্তরিত হন এই আশায় এবং প্রবল ধারণায় যে, সেখানকার আমির উসমান বিন মুয়াম্মার তাঁকে সাহায্য করবেন; কারণ তিনি জানতেন যে সত্যের জন্য অবশ্যই একজন শাসক, একটি তলোয়ার এবং একটি বল্লমের প্রয়োজন যা দ্বারা প্রতিটি অবাধ্য ও শয়তানকে দমন করা যায়; কেননা আল্লাহ শাসনকর্তার মাধ্যমে তা দমন করেন যা কুরআন দ্বারা করেন না, যেমনটি খুলাফায়ে রাশিদিন উসমান বিন আফফান (রা.) বলেছেন।

আর মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব এটি আদনান-সন্তানদের সরদারের সীরাত থেকে অনুধাবন করেছেন; কারণ তিনি মক্কায় তের বছর অবস্থান করে দাওয়াত দিয়েছেন, কিন্তু দুর্বল ও নিঃস্ব কতিপয় ব্যক্তি ব্যতীত কেউ তাঁর দাওয়াতে সাড়া দেয়নি, আর সম্পদশালী ও অহংকারীরা বিমুখ ছিল।

এরপর আল্লাহ তাঁকে মদিনায় হিজরতের অনুমতি দেন, ফলে মুসলমানদের আধিক্যের কারণে ইসলাম শক্তিশালী হয়। অতঃপর তিনি বিরোধীদের প্রতিহত করা এবং কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদ শুরু করেন যখন তারা রাব্বুল আলামীনের দিকে আহ্বানকারীদের ডাকে সাড়া দিতে অস্বীকার করল। তখন আল্লাহ কুফর ও কুফরি শক্তিকে অপদস্থ করলেন এবং বাতিলকে নিশ্চিহ্ন ও লাঞ্ছিত করলেন। এ সম্পর্কে কবি বলেন:

মুস্তফা দীর্ঘকাল মক্কায় দাওয়াত দিলেন কিন্তু সাড়া মেলেনি … যদিও তাঁর পক্ষ থেকে আচরণ ও ভাষণ ছিল অত্যন্ত কোমল।

অতঃপর যখন তিনি দাওয়াত দিলেন এমতাবস্থায় যে তাঁর হাতে তলোয়ার ছিল উন্মুক্ত … তখন তারা ইসলাম গ্রহণ করল, আত্মসমর্পণ করল এবং বিনীত হয়ে ফিরে এল।

আর কুরআন কাফের ও মুশরিকদের বিরুদ্ধে লড়াই করার নির্দেশ সম্বলিত দলিলে পরিপূর্ণ; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা আহলে কিতাবদের মধ্যে যারা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি ঈমান আনে না এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন তা হারাম মনে করে না এবং সত্য দ্বীন অনুসরণ করে না, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো যতক্ষণ না তারা অবনত অবস্থায় নিজ হাতে জিজিয়া প্রদান করে।} ১।

--------------------------------------------

১. সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ২৯।
(খণ্ড: ১) ইইতিমাদ দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ - সালিহ আল-আতরাম (পৃষ্ঠা: ২৫৯)
وقوله: {فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدْتُمُوهُمْ وَخُذُوهُمْ وَاحْصُرُوهُمْ وَاقْعُدُوا لَهُمْ كُلَّ مَرْصَدٍ فَإِنْ تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ} 1.

والمقصود أن الشيخ محمد بن عبد الوهاب في ذهابه إلى العيينة يلتمس نصرة لدعوته وعضدا يشد أزره ذا سلطان، فوعده عثمان بن معمر، ولكنه خذله بتهديد من ابن عريعر أمير الأحساء الذي هو أعلى منه قوة، ثم خرج محمد بن عبد الوهاب مختفيا إلى الدرعية، فشرع يلقي فيها الدروس، فآوى إلى مجلسه أميرها محمد بن سعود، فأنس به وشرح الله صدره لقبول نشر دعوته وحمايتها، وبدأ في ذلك عام 1158هـ.

واستمر على ذلك حتى محا الله على يديهما كل بدعة وخرافة، وكل شرك وضلال في الجزيرة العربية، واستمر أحفادهما على هذا الوعد والعهد حتى وقتنا الحاضر.

نسأل الله لنا ولهم الثبات في الحياة والممات.

تاسعا: توفي الشيخ محمد بن عبد الوهاب سنة 1206هـ في بلدة الدرعية بعد أن استقرت وانتشرت دعوته.

وما أحسن ما أوجزه ابن بدران في كتابه "المدخل إلى مذهب الإمام أحمد" صفحتي 229، 230، فلقد وصف الإمام محمد بن عبد الوهاب وصفا موجزا مفيدا متضمنا لبدء دعوته وفقهه ومصدر علمه.. وهذا مما جعلنى أستحسن نقله، وقد كتبه ابن بدران بمناسبة الكلام على مختصر الإنصاف والشرح الكبير حينما تكلم عن كتب الحنابلة.. قال ابن بدران:

"مختصر الشرح الكبير والإنصاف"

"تأليف العالم الأثري والإمام الكبير محمد بن عبد الوهاب بن سليمان بن علي، يتصل نسبه بعبد مناة بن تميم التميمي، ولد سنة خمس عشرة ومائة وألف، وقد رحل إلى البصرة

--------------------------------------------

1 سورة التوبة آية: 5.
এবং তাঁর বাণী: {অতঃপর মুশরিকদের হত্যা কর যেখানেই তোমরা তাদের পাও, তাদের ধর, তাদের অবরুদ্ধ কর এবং প্রতিটি ঘাঁটিতে তাদের সন্ধানে ওত পেতে বসে থাক। অতঃপর যদি তারা তাওবা করে, সালাত কায়েম করে এবং জাকাত প্রদান করে, তবে তাদের পথ ছেড়ে দাও। নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু।} ১.

উদ্দেশ্য হলো এই যে, শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব যখন উইয়াইনাহ অভিমুখে যাত্রা করেন, তখন তিনি তাঁর দাওয়াতের জন্য সাহায্য এবং তাঁর হাতকে শক্তিশালী করবে এমন একজন ক্ষমতাধর সহযোগীর অন্বেষণ করছিলেন। উসমান বিন মুয়াম্মার তাঁকে প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন, কিন্তু আল-আহসার আমির ইবনে উরাইয়ারের পক্ষ থেকে হুমকির মুখে তিনি তাঁকে পরিত্যাগ করেন, কারণ ইবনে উরাইয়ার শক্তিতে তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিলেন। এরপর মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব গোপনে দিরইয়াহ অভিমুখে যাত্রা করেন এবং সেখানে দরস প্রদান শুরু করেন। তখন সেখানকার আমির মুহাম্মদ বিন সাউদ তাঁর মজলিসে আশ্রয় নেন এবং তাঁর সান্নিধ্যে এসে প্রশান্তি লাভ করেন। আল্লাহ তাঁর অন্তরকে এই দাওয়াত প্রচার ও সুরক্ষার কাজে কবুল করার জন্য উন্মুক্ত করে দেন। এর সূচনা হয়েছিল ১১৫৮ হিজরি সনে।

এটি এভাবেই অব্যাহত ছিল যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁদের দুইজনের মাধ্যমে আরব উপদ্বীপ থেকে সকল বিদআত, কুসংস্কার এবং প্রতিটি শিরক ও পথভ্রষ্টতা মুছে দিলেন। তাঁদের বংশধরগণ বর্তমান সময় পর্যন্ত এই প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকারের ওপর অটল রয়েছেন।

আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের ও তাঁদের জন্য ইহকাল ও পরকালে অবিচলতা কামনা করছি।

নবম: শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ১২০৬ হিজরি সনে দিরইয়াহ শহরে ইন্তেকাল করেন, ততদিনে তাঁর দাওয়াত সুপ্রতিষ্ঠিত ও প্রসারিত হয়েছিল।

ইবনে বদরান তাঁর "আল-মাদখাল ইলা মাযহাবি আল-ইমাম আহমদ" গ্রন্থের ২২৯ ও ২৩০ পৃষ্ঠায় যা সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন তা কতই না চমৎকার! তিনি ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের একটি সংক্ষিপ্ত ও তথ্যবহ বর্ণনা দিয়েছেন, যা তাঁর দাওয়াতের সূচনা, তাঁর ফিকহ এবং তাঁর ইলমের উৎসকে অন্তর্ভুক্ত করে। আর এ বিষয়টিই আমাকে এটি উদ্ধৃত করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। ইবনে বদরান এটি হাম্বলি গ্রন্থসমূহ নিয়ে আলোচনার সময় 'মুখতাসারুল ইনসাফ' ও 'আশ-শারহুল কাবীর' প্রসঙ্গের আলোচনায় লিখেছেন। ইবনে বদরান বলেন:

"মুখতাসারুশ শারহিল কাবীর ওয়াল ইনসাফ"

"এটি আছারি আলিম এবং মহান ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন সুলাইমান বিন আলীর রচনা। তাঁর বংশধারা তামিমি গোত্রের আব্দ মানাত বিন তামিমের সাথে মিলিত হয়েছে। তিনি ১১১৫ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং তিনি বসরার উদ্দেশ্যে সফর করেন...

--------------------------------------------

১. সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ৫।
(খণ্ড: ১) ইইতিমাদ দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ - সালিহ আল-আতরাম (পৃষ্ঠা: ২৬০)
والحجاز لطلب العلم، وأخذ عن الشيخ على أفندي الداغستاني وعن المحدث الشيخ إسماعيل العجلوني وغيرهما من العلماء، وأجازه محدثو العصر بكتب الحديث وغيرها على اصطلاح أهل الحديث من المتأخرين، ولما امتلأ وطابه من الآثار وعلم السنة وبرع في مذهب أحمد أخذ ينصر الحق ويحارب البدع ويقاوم ما أدخله الجاهلون في هذا الدين الحنيفي والشريعة السمحاء، وأعانه قوم أخلصوا العبادة لله وحده على طريقته التي هي إقامة التوحيد الخالص، والدعاية إليه، وإخلاص الوحدانية والعبادة كلها بسائر أنواعها لخالق الخلق وحده، فحبا إلى معارضته أقوام ألفوا الجمود على ما كان عليه الآباء وتدرعوا الكسل على طلب الحق، وهم لا يزالون إلى اليوم يضربون على ذلك الوتر، وجنود الحق تكافحهم فلا تبقي منهم ولا تزر، وما أحقهم بقول القائل:

كناطح صخرة يوما ليوهنها … فلم يضرها وأوهى قرنه الوعل

ولم يزل مثابرا على الدعوة إلى دين الله تعالى حتى توفاه الله تعالى سنة ست ومائتين وألف هجرية.

ولقد شهدت الأقطار بعلمية محمد بن عبد الوهاب، وتناقلها المسلمون على مر السنين، وحتى كتاب عصرنا تحدثوا عنه وعن فقهه وعزمه في كتاباتهم سواء أرادوا الكلام عن مواطن حركات الإصلاح أو المصلحين..

ومنها ما قاله الدكتور محمد عمارة في بحثه الذي نشر بجريدة "الخليج" عدد 1110 يوم 28 /6 /1402هـ الموافق 22/4 /1982م.. حيث قال: "في بيئة بدوية بسيطة، هي "نجد" بشبه الجزيرة العربية، ولد ونشأ محمد بن عبد الوهاب (1115- 1206هـ) .. وكانت السيادة الاسمية والرسمية على موطنه لخلفاء آل عثمان.

وكان ابن عبد الوهاب سليل أسرة من الفقهاء، أخذ عنهم علوم الدين، كما درس على علماء الحرمين؛ مكة، والمدينة، وظهر نزوعه منذ فجر حياته إلى النهج السلفي الرافض لما طرأ على عقائد الإسلام وعباداته من بدع وخرافات وإضافات.

لقد نظر ابن عبد الوهاب، فوجد عامة الناس يتخذون الوسائل والوسائط شفعاء إلى الله، بل ويتوجهون إليهم بالطلب والدعاء والاستغاثة في الملمات.. كما وجد العبادات قد أصابتها البدع بالنقص والزيادة.. فشابت الشوائب كلا من العقائد والعبادات.
এবং জ্ঞান অন্বেষণের জন্য হিজাজ গমন করেন এবং শেখ আলী এফেন্দি আল-দাঘেস্তানি ও মুহাদ্দিস শেখ ইসমাইল আল-আজলুনিসহ অন্যান্য আলেমদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। সমসাময়িক মুহাদ্দিসগণ তাঁকে পরবর্তী যুগের মুহাদ্দিসদের পরিভাষা অনুযায়ী হাদিসের কিতাবসমূহ এবং অন্যান্য বিষয়ে ইজাজত প্রদান করেন। যখন তাঁর জ্ঞানভাণ্ডার আসার (সাহাবীদের বাণী) ও সুন্নাহর জ্ঞানে পূর্ণ হলো এবং তিনি ইমাম আহমদের মাযহাবে পারদর্শী হয়ে উঠলেন, তখন তিনি সত্যের পক্ষে অবস্থান নিতে, বিদআতের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে এবং জাহেলরা এই হানীফ ধর্ম ও সহজ-সরল শরিয়তে যা কিছু অনুপ্রবেশ করিয়েছিল তা প্রতিরোধ করতে শুরু করলেন। একদল লোক তাঁকে সাহায্য করলেন যারা শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য ইবাদতকে একনিষ্ঠ করেছিলেন সেই পন্থায় যা হলো বিশুদ্ধ তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করা, তার দিকে দাওয়াত দেওয়া এবং সৃষ্টির স্রষ্টা একক সত্তার জন্য সকল প্রকার ইবাদত ও একত্ববাদকে একনিষ্ঠ করা। ফলে তাঁর বিরোধিতায় এমন কিছু সম্প্রদায় এগিয়ে এল যারা পূর্বপুরুষদের অন্ধ অনুকরণের ওপর জমে থাকতে অভ্যস্ত ছিল এবং সত্য অনুসন্ধানে অলসতা অবলম্বন করেছিল। তারা আজও সেই একই সুরে কথা বলে যাচ্ছে, অন্যদিকে সত্যের সৈনিকরা তাদের মোকাবিলা করছে, ফলে তাদের কোনো অস্তিত্বই অবশিষ্ট থাকছে না। তাদের সম্পর্কে কবির এই কথাটি কতই না যথার্থ:

যেমন কোনো পাহাড়ী ছাগল একদিন এক বিশাল পাথরকে দুর্বল করার জন্য গুঁতো মারল … কিন্তু তা পাথরের কোনো ক্ষতি করতে পারল না, বরং সেই ছাগলটির শিং-ই দুর্বল হয়ে গেল।

তিনি আল্লাহর দ্বীনের দাওয়াতের ওপর অবিচল ছিলেন যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা ১২০৬ হিজরি সনে তাঁর মৃত্যু দান করেন।

সমগ্র বিশ্ব মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহাবের পাণ্ডিত্যের সাক্ষ্য দিয়েছে এবং বছরের পর বছর ধরে মুসলমানরা তা বর্ণনা করে আসছে। এমনকি আমাদের যুগের লেখকরাও তাঁদের লেখায় তাঁর সম্পর্কে এবং তাঁর ফিকহ ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে আলোচনা করেছেন, চাই তাঁরা সংস্কার আন্দোলন বা সংস্কারকদের নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েই হোক না কেন।

তার মধ্যে একটি হলো যা ড. মুহাম্মদ ইমারা তাঁর গবেষণায় বলেছেন, যা 'আল-খালিজ' পত্রিকার ১১১০ সংখ্যায় ২৮/৬/১৪০২ হিজরি মোতাবেক ২২/৪/১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছিল। যেখানে তিনি বলেছেন: "আরব উপদ্বীপের নজদ নামক একটি সাধারণ মরুময় পরিবেশে মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহাব (১১১৫-১২০৬ হিজরি) জন্মগ্রহণ করেন ও বেড়ে ওঠেন। তখন তাঁর জন্মভূমির ওপর উসমানীয় বংশের খলিফাদের নামমাত্র ও আনুষ্ঠানিক সার্বভৌমত্ব ছিল।

ইবন আব্দুল ওয়াহাব এক ফকিহ পরিবারের সন্তান ছিলেন, তাঁদের কাছ থেকে তিনি দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি মক্কা ও মদীনার হারামাইন শরীফের আলেমদের কাছে পড়াশোনা করেন। তাঁর জীবনের শুরু থেকেই সালাফি মানহাজের প্রতি তাঁর ঝোঁক প্রকাশ পায়, যা ইসলামের আকিদা ও ইবাদতের মধ্যে অনুপ্রবেশকারী বিদআত, কুসংস্কার ও নতুন সংযোজনসমূহকে প্রত্যাখ্যান করে।

ইবন আব্দুল ওয়াহাব লক্ষ্য করলেন যে, সাধারণ মানুষ আল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন মাধ্যম ও মধ্যস্থতাকারীদের সুপারিশকারী হিসেবে গ্রহণ করছে, এমনকি বিপদের সময় তাদের কাছে প্রার্থনা, দোয়া ও সাহায্য প্রার্থনা করছে। এছাড়াও তিনি দেখলেন যে ইবাদতসমূহে বিদআতের কারণে হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটেছে। ফলে আকিদা ও ইবাদত উভয় ক্ষেত্রেই নানাবিধ ত্রুটি ও মিশ্রণ প্রবেশ করেছে।
(খণ্ড: ১) ইইতিমাদ দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ - সালিহ আল-আতরাম (পৃষ্ঠা: ২৬১)
بدأ ابن عبد الوهاب يدعو إلى إسلام السلف، ويبشر بفكر ابن حنبل، وابن تيمية، وابن القيم، ويركز على إصلاح العقائد، وتصحيح العبادات.. فحكم بالشرك الظاهر والجلي على المتوسلين إلى الله بالأولياء والمشاهد والرموز، بل رأى شركهم أعظم من شرك الجاهلية الأولى "فلقد كان ابن عبد الوهاب أكثر من "شيخ" وأعظم من "فقيه" ومن ثم فإنه لم يشأ أن يقف بدعوته عند رسائل يؤلفها أو مواعظ يلقيها، أو حتى حلقة من الأتباع والمريدين.. لقد أراد أن تكون لدعوته "دولة" تضمن لها الانتشار والاستمرار.. فالله يزع بالسلطان ما لا يزع بالقرآن".

وهكذا عاشت دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب في عقول الناس وأفئدتهم وعبرت به كلماتهم وكتاباتهم جيلا بعد جيل؛ لاعتماده على شريعة الدين والدنيا فقها في العقيدة وفي شتى مجالات الحياة.
ইবন আব্দুল ওয়াহহাব সালাফদের ইসলামের দিকে দাওয়াত দিতে শুরু করেন এবং ইবন হাম্বল, ইবন তাইমিয়্যাহ ও ইবনুল কাইয়্যিমের চিন্তাধারার সুসংবাদ প্রচার করতে থাকেন। তিনি আকিদা সংস্কার এবং ইবাদতসমূহ সংশোধনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। যারা ওলী-আউলিয়া, মাজার এবং প্রতীকের মাধ্যমে আল্লাহর নিকট অসিলা তালাশ করত, তাদের ওপর তিনি প্রকাশ্য ও স্পষ্ট শিরকের ফয়সালা প্রদান করেন। বরং তিনি তাদের শিরককে প্রথম জাহেলিয়াতের শিরকের চেয়েও গুরুতর বলে মনে করতেন। "নিশ্চয়ই ইবন আব্দুল ওয়াহহাব একজন 'শায়েখ'-এর চেয়েও বেশি এবং একজন 'ফকিহ'-এর চেয়েও মহান ছিলেন। ফলে তিনি চাননি যে তার দাওয়াত কেবল তার রচিত রিসালাহ বা চিঠিপত্র, তার প্রদত্ত ওয়াজ-নসিহত, কিংবা অনুসারী ও মুরিদদের একটি বৃত্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকুক। তিনি চেয়েছিলেন যে তার দাওয়াতের জন্য একটি 'রাষ্ট্র' থাকুক, যা এর প্রসার ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করবে। কারণ, আল্লাহ শাসনের মাধ্যমে এমন কিছু দমন করেন যা কুরআনের মাধ্যমে করেন না।"

এভাবেই শায়েখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াত মানুষের চিন্তা ও অন্তরে বেঁচে রইল এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাদের কথা ও লেখনীতে তা প্রকাশিত হতে থাকল; কারণ এটি আকিদা এবং জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বীন ও দুনিয়ার শরিয়তসম্মত গভীর প্রাজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল ছিল।
(খণ্ড: ১) ইইতিমাদ দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ - সালিহ আল-আতরাম (পৃষ্ঠা: ২৬২)
الفصل الثاني: زمن الشيخ من 1115هـ - 1206هـ

ويشمل النقاط التالية:

أمضى الشيخ رحمه الله تعالى عمره كله فيما يلي:

أولا: في التعليم، ثم نشر العلم.

ثانيا: حفظ القرآن لعشر سنين، ثم بدأ بعلومه من تفسير وفقه على والده، ومن هنا يتبين لنا أنه شعلة ضياء من صغره، وبعد أن تكامل بلوغه رغب في الاطلاع على العلوم الشرعية متنقلا بين المدينة والبصرة.

ثالثا: بعد أن نهل من العلم واستبانت له الحقيقة الموصلة إلى الله، لم يهدأ له بال إلا أن يعلم ما تعلمه من شرع الله، فبدأ شعاع نوره بالبصرة يبين ما عليه الناس من خطأ في العقيدة والفروع، ولكن لاستحكام الجهل فيهم ورسوخ البدع حدث منهم رد فعل لدعوته بالبصرة، فضيقوا عليه حتى خرج منها عائدا إلى بلده.

رابعا: استمر يدرس على والده وعلى المشايخ الموجودين بالعيينة وحريملاء، ثم انتقل مع والده إلى حريملاء بعد أن ضاقت بهم العيينة زرعا، واستمر معلنا للحق، آمرا بالمعروف، ناهيا عن المنكر حتى توفي والده في حريملاء سنة 1153هـ.

خامسا: أعلن دعوته في حريملاء وتعليمه التوحيد، ولكنهم لم يتقبلوا منه وضايقوه، فرجع إلى العيينة، واستقبله أميرها عثمان بن معمر وساعده على هدم القبة التي بنيت على قبر زيد بن الخطاب، ورجم المرأة الزانية، ولفشو الجهل استنكروا ذلك حتى وشي بعثمان بن معمر عند ابن عريعر فاضطر إلى إبعاد الشيخ ابن عبد الوهاب عن بلده.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শাইখের সময়কাল ১১১৫ হিজরি - ১২০৬ হিজরি

এটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:

শাইখ (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর সমগ্র জীবন নিম্নোক্ত কাজে ব্যয় করেছেন:

প্রথমত: শিক্ষা অর্জনে, এরপর জ্ঞান প্রসারে।

দ্বিতীয়ত: দশ বছর বয়সে কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন, এরপর তাঁর পিতার নিকট কুরআনের ইলমসমূহ যেমন তাফসীর ও ফিকহ শিক্ষা শুরু করেন। এখান থেকে আমাদের নিকট স্পষ্ট হয় যে, তিনি শৈশব থেকেই ছিলেন এক দীপ্তিময় প্রদীপ। পূর্ণ বয়সে উপনীত হওয়ার পর তিনি মদীনা ও বসরার মাঝে যাতায়াত করে শারঈ জ্ঞান অন্বেষণের আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন।

তৃতীয়ত: জ্ঞান আহরণের পর এবং আল্লাহর পথে নিয়ে যাওয়ার সত্যতা তাঁর নিকট সুস্পষ্ট হওয়ার পর, আল্লাহর শরীয়ত থেকে যা তিনি শিখেছেন তা শিক্ষা না দেওয়া পর্যন্ত তাঁর মন শান্ত হয়নি। ফলে বসরার মাটিতে তাঁর নূরের বিচ্ছুরণ শুরু হয়, যেখানে তিনি মানুষের আকীদা ও শাখা-প্রশাখার ভুলসমূহ বর্ণনা করতে থাকেন। কিন্তু তাদের মধ্যে মূর্খতা ও বিদআতের শিকড় গেড়ে থাকার কারণে বসরার লোকেরা তাঁর দাওয়াতের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখায়। তারা তাঁর ওপর সংকীর্ণতা সৃষ্টি করে, ফলে তিনি সেখান থেকে বের হয়ে নিজ জনপদে ফিরে আসেন।

চতুর্থত: তিনি তাঁর পিতা এবং উয়াইনা ও হুরয়মিলায় বিদ্যমান শাইখদের নিকট অধ্যয়ন অব্যাহত রাখেন। এরপর উয়াইনায় পরিস্থিতি প্রতিকূল হয়ে পড়লে তিনি তাঁর পিতার সাথে হুরয়মিলায় চলে যান। সেখানে তিনি সত্যের ঘোষণা দেওয়া, সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ অব্যাহত রাখেন, এমনকি ১১৫৩ হিজরিতে হুরয়মিলায় তাঁর পিতার মৃত্যু হয়।

পঞ্চমত: তিনি হুরয়মিলায় তাঁর দাওয়াত এবং তাওহীদের শিক্ষা প্রচার করেন। কিন্তু তারা তা গ্রহণ করেনি বরং তাঁকে কষ্ট দেয়। ফলে তিনি উয়াইনায় ফিরে যান। সেখানকার আমীর উসমান বিন মুয়াম্মার তাঁকে স্বাগত জানান এবং যায়েদ ইবনুল খাত্তাব-এর কবরের ওপর নির্মিত গম্বুজ ধ্বংস করতে ও ব্যভিচারিণী নারীকে রজম করতে তাঁকে সহায়তা করেন। তবে মূর্খতা ব্যাপক হওয়ার কারণে লোকেরা এর প্রতিবাদ জানায়, এমনকি ইবনে উরাইয়ারের নিকট উসমান বিন মুয়াম্মারের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করা হয়। ফলে তিনি শাইখ ইবনে আব্দুল ওয়াহাবকে তাঁর এলাকা থেকে বহিষ্কার করতে বাধ্য হন।
(খণ্ড: ১) ইইতিমাদ দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ - সালিহ আল-আতরাম (পৃষ্ঠা: ২৬৩)
سادسا: بعد خروج الشيخ من العيينة اختار الله له الدرعية لتكون مقرا لدعوته، فنزل على أفراد منها كانوا قد اتصلوا به في العيينة، ثم بلغ خبره محمد بن سعود أمير الدرعية فبايعه على الجهاد والنصرة، فاستمر زمن الشيخ محمد بن عبد الوهاب في نشر دين الغفور التواب.

والمقصود أن زمن حياة الشيخ كلها تعليم وتعلم وهداية إلى الصراط المستقيم.
ষষ্ঠত: শায়খ উয়াইনা থেকে বের হওয়ার পর আল্লাহ তাঁর জন্য দিরিয়াকে তাঁর দাওয়াতের কেন্দ্র হিসেবে মনোনীত করেন। তিনি সেখানে এমন কিছু ব্যক্তির নিকট অবস্থান করেন যাদের সাথে উয়াইনায় থাকাকালীন তাঁর যোগাযোগ হয়েছিল। এরপর দিরিয়ার আমির মুহাম্মদ বিন সাউদের নিকট তাঁর সংবাদ পৌঁছালে তিনি জিহাদ ও সহযোগিতার ভিত্তিতে তাঁর নিকট বায়আত প্রদান করেন। এভাবে শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের সময়কাল পরম ক্ষমাশীল ও তওবা কবুলকারীর দ্বীন প্রসারের কাজে অতিবাহিত হয়।

উদ্দেশ্য হলো, শায়খের সমগ্র জীবনই ছিল শিক্ষা দান, শিক্ষা গ্রহণ এবং সরল পথের দিকে হিদায়েত বা নির্দেশনার জন্য।
(খণ্ড: ১) ইইতিমাদ দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ - সালিহ আল-আতরাম (পৃষ্ঠা: ২৬৪)
‌‌الفصل الثالث: الحالة الاجتماعية في زمن الشيخ

وتتلخص فيما يأتي:

أولا: تردي السلطة الإسلامية بعد القرن الثامن الهجري علما وعملا وتنفيذا وخاصة في قلب الجزيرة.

ثانيا: بسبب هذا التردي لا يلوي أحد على أحد، ولا يقبل أحد من أحد، بل كل ركب رأسه، فتحكم فيهم الجهل، وتشتتت بهم السبل، فكانوا في أمر مريج -أي مضطرب مختلف- لذا تفشت فيهم كل رذيلة وكل مرض ووباء، نمثل بشيء منها:

1. خلو المساجد من المصلين إلا ما شاء الله.

2. انتشار الخرافات والصوفية الزائفة.

3. ادعاء الجهلاء ما ليس لهم، وما ليس لهم به علم.

4. حمل التمائم في رقابهم والتي لا تغني من الله شيئا.

5. ترغيب في الحج إلى قبور الأولياء ورجاء الشفاعة منهم.

وهذه الأمور تنافي ما أمر به محمد صلى الله عليه وسلم.

6. تغييب فضائل القرآن عن الناس مما جعلهم لا يعرفون عنها شيئا.

7. لهذا انتهكوا حرماته -أي القرآن- فصاروا إلى ما يلي:

أ- يشربون المسكرات ويتناولون الأفيون، فانتشرت الرذائل.

ب. هتك ستر الحرمات.

ج. أن ذلك كله بلا خشية ولا استحياء، ومن لم يستح فليصنع ما يشاء.

8. أن مكة والمدينة في زمن الشيخ دب إليهما ما في المجتمعات الأخرى من الوباء والأمراض الشهوانية والشبهية.
তৃতীয় অধ্যায়: শাইখের যুগে সামাজিক অবস্থা

যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে সংক্ষেপিত করা যায়:

প্রথমত: অষ্টম হিজরি শতাব্দীর পর ইসলামি কর্তৃত্বের অবনতি—জ্ঞান, আমল ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে; বিশেষ করে আরব উপদ্বীপের কেন্দ্রস্থলে।

দ্বিতীয়ত: এই অবনতির কারণে কেউ কারো প্রতি ভ্রুক্ষেপ করত না এবং কেউ কারো কথা গ্রহণ করত না, বরং প্রত্যেকেই নিজের খেয়ালখুশিমতো চলত। ফলে তাদের ওপর অজ্ঞতা চেপে বসেছিল এবং পথসমূহ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। তারা এক বিশৃঙ্খল অবস্থায় নিপতিত ছিল—অর্থাৎ অস্থির ও মতপার্থক্যপূর্ণ। তাই তাদের মধ্যে যাবতীয় অনৈতিকতা, ব্যাধি ও মড়ক ছড়িয়ে পড়েছিল; আমরা তার কিছু উদাহরণ দিচ্ছি:

১. আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত (অর্থাৎ সামান্য কয়েকজন ছাড়া) মসজিদগুলো মুসল্লি শূন্য হয়ে পড়া।

২. কুসংস্কার এবং ভণ্ড সুফিবাদের ব্যাপক বিস্তার।

৩. মূর্খদের এমন জিনিসের দাবি করা যা তাদের অধিকারভুক্ত নয় এবং যে বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই।

৪. গলায় তাবীজ ব্যবহার করা, যা আল্লাহর মুকাবিলায় কোনো কাজে আসে না।

৫. ওলীগণের কবরে হজ্জ করার (যাওয়ার) উৎসাহ প্রদান এবং তাদের কাছে সুপারিশের আশা করা।

আর এই বিষয়গুলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশিত বিষয়ের পরিপন্থী।

৬. মানুষের কাছ থেকে কুরআনের ফযীলতসমূহকে আড়াল করে রাখা, যার ফলে তারা সে সম্পর্কে কিছুই জানত না।

৭. এ কারণেই তারা কুরআনের পবিত্রতা লঙ্ঘন করেছিল এবং নিম্নোক্ত অবস্থায় পতিত হয়েছিল:

ক. তারা মাদকদ্রব্য পান করত এবং আফিম গ্রহণ করত, ফলে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়েছিল।

খ. পবিত্রতার পর্দা লঙ্ঘন করা (অশ্লীলতায় লিপ্ত হওয়া)।

গ. এই সবকিছুই ছিল কোনো প্রকার ভয় ও লজ্জা ব্যতীত; আর যার লজ্জা নেই, সে যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারে।

৮. শাইখের যুগে মক্কা ও মদিনাতেও অন্যান্য সমাজের মতো কুপ্রবৃত্তি ও সংশয়জনিত ব্যাধি এবং মহামারি ছড়িয়ে পড়েছিল।
(খণ্ড: ১) ইইতিমাদ দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ - সালিহ আল-আতরাম (পৃষ্ঠা: ২৬৫)
9. أن هذه الحالة السيئة في مجتمع نجد وغيره من العالم الإسلامي ليس راجعا إلى عدم وجود علماء; بل هناك الفقهاء ولكنهم سائرون في الفروع أكثر من البحث في العقائد، وذلك والله أعلم أن الخطأ في العقائد بدع ثابتة وراسخة وخرافة طاغية على الفكر والأوهام.

ومتى كانت البدعة هكذا فإن اقتلاعها يصعب ويعسر؛ لتأصلها في القلوب بمجرد كلام العلماء، فتحتاج إلى معاول تهدمها وأيدي سلطة تقلعها. إن الله يزع بالسلطان ما لا يزع بالقرآن، والعلماء حينئذ لم يوفقوا إلى حاكم إداري ينفذ ما يقولون ويحكم ما يبرمون.
৯. নজদ সমাজ এবং মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের এই শোচনীয় অবস্থা আলেমদের অনুপস্থিতির কারণে ছিল না; বরং সেখানে ফকিহগণ বিদ্যমান ছিলেন, কিন্তু তারা আকিদা নিয়ে গবেষণার চেয়ে ফিকহি শাখা-প্রশাখা নিয়ে চর্চায় অধিক নিমগ্ন ছিলেন। আর এর কারণ—আল্লাহই ভালো জানেন—আকিদাগত ভুলগুলো ছিল সুপ্রতিষ্ঠিত ও বদ্ধমূল বিদআত এবং চিন্তা ও কল্পনার ওপর প্রভাবশালী কুসংস্কার।

আর বিদআত যখন এমন রূপ ধারণ করে, তখন কেবল আলেমদের কথার মাধ্যমে তা উপড়ে ফেলা কঠিন ও দুষ্কর হয়ে পড়ে; কারণ তা হৃদয়ে গভীরভাবে গেঁথে থাকে। ফলে এটি ধ্বংস করার জন্য কুঠার এবং উপড়ে ফেলার জন্য শক্তিশালী প্রশাসনিক হস্তের প্রয়োজন হয়। নিশ্চয়ই আল্লাহ শাসনকর্তার মাধ্যমে এমন বিষয় দমন করেন যা কুরআনের মাধ্যমে করেন না। আর তৎকালীন আলেমগণ এমন কোনো প্রশাসনিক শাসকের সহায়তা পাননি, যিনি তাদের বক্তব্য বাস্তবায়ন করবেন এবং তাদের সিদ্ধান্তসমূহ কার্যকর করবেন।
(খণ্ড: ১) ইইতিমাদ দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ - সালিহ আল-আতরাম (পৃষ্ঠা: ২৬৬)
‌‌الفصل الرابع: سبب قيام دعوة الشيخ

ولما تقدم - على قلته - تصورنا ظلمة "نجد" الاعتقادية والعملية، وإن وجد أفراد متمسكون كالأفراد الذين وجدهم الرسول متشبثين بملة إبراهيم، ولكن الحكم للسلطة والأغلبية، وأيضا بتصور هذه الحالة السيئة للعالم الإسلامي ولعالم الجزيرة ونجد خاصة التي يسكنها الشيخ محمد بن عبد الوهاب، يتضح لنا السبب الباعث لقيام الشيخ بهذه الدعوة إلى التوحيد وصرف الناس إلى محبة الله وحده، وتعريفهم بعظم ما أمر الله به ليمتثلوه، وتحذيرهم عن الوقوع في أعظم ما نهى الله عنه وهو الشرك.

وهذه سجية كل عالم بالله وبكتابه وبشرع نبيه.

فأنار الله بصيرة الشيخ محمد بن عبد الوهاب فلم ير السكوت على هذه المنكرات التي هي معصية لله، فدفعته عقيدته وعلمه لإنقاذ هؤلاء الفقراء من اتباع الشيطان والهوى وردهم إلى الصواب وسلوكهم سلوك المصطفى.

والخلاصة أن الباعث إلى قيام الشيخ بهذه الدعوة ما يأتي:-

أولا: امتثالا لأمر ربه ولرسوله ولأتباعه: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ} 1.

ثانيا: تنزيه الله عما لا يليق بجلاله وعظمته على حد قوله تعالى: {وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ} 1.

--------------------------------------------

1 سورة يوسف آية: 108.

2 سورة يوسف آية: 108.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শায়খের দাওয়াত উত্থানের কারণ

পূর্বোক্ত আলোচনা—সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও—থেকে আমরা নজদের আকিদাগত এবং আমলগত অন্ধকারের একটি চিত্র লাভ করেছি, যদিও সেখানে এমন কিছু একনিষ্ঠ ব্যক্তি বিদ্যমান ছিলেন যেমন রাসুল (সা.) ইবরাহিমের আদর্শকে আঁকড়ে থাকা কিছু ব্যক্তিকে পেয়েছিলেন। তবে শাসন ক্ষমতা ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই প্রকৃত অবস্থা নির্ধারিত হয়। তদুপরি, মুসলিম বিশ্ব, আরব উপদ্বীপ এবং বিশেষ করে শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের বসবাসস্থল নজদের এই শোচনীয় অবস্থার কথা কল্পনা করলে আমাদের কাছে শায়খের পক্ষ থেকে তাওহিদের এই দাওয়াত নিয়ে রুখে দাঁড়ানোর কারণ স্পষ্ট হয়ে যায়। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে একমাত্র আল্লাহর ভালোবাসার দিকে ফিরিয়ে আনা, আল্লাহ যা আদেশ করেছেন তার মাহাত্ম্য সম্পর্কে তাদের অবগত করা যাতে তারা তা পালন করে, এবং আল্লাহ যা থেকে সবচেয়ে বড় নিষেধ করেছেন—অর্থাৎ শিরক—তাতে লিপ্ত হওয়া থেকে তাদের সতর্ক করা।

আর এটিই হচ্ছে আল্লাহ, তাঁর কিতাব এবং তাঁর নবির শরিয়ত সম্পর্কে অবগত প্রত্যেক আলেমের স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য।

ফলে আল্লাহ শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের অন্তর্দৃষ্টিকে আলোকিত করে দিলেন। তিনি এসব বর্জনীয় কাজের প্রতি নীরব থাকা সমীচীন মনে করেননি যা আল্লাহর অবাধ্যতা হিসেবে গণ্য। তাই তাঁর আকিদা এবং ইলম তাঁকে শয়তান ও প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে এসকল নিঃস্ব মানুষদের উদ্ধার করতে, তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে এবং মুস্তফা (সা.)-এর আদর্শে পরিচালিত করতে উদ্বুদ্ধ করল।

সারকথা এই যে, শায়খের এই দাওয়াত শুরু করার পেছনের কারণগুলো নিম্নরূপ:-

প্রথমত: তাঁর প্রতিপালক, তাঁর রাসুল এবং তাঁর অনুসারীদের প্রতি প্রদত্ত আদেশের আনুগত্যস্বরূপ: "বলুন, এটিই আমার পথ। আমি আল্লাহর দিকে জাগ্রত জ্ঞান বা দূরদৃষ্টির সাথে আহ্বান করি—আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারা। আর আল্লাহ পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।" ১।

দ্বিতীয়ত: আল্লাহকে এমন সব বিষয় থেকে পবিত্র ঘোষণা করা যা তাঁর মহিমা ও মহানুভবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, যেমনটি আল্লাহ তাআলার বাণীতে রয়েছে: "আর আল্লাহ পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।" ২।

--------------------------------------------

১. সুরা ইউসুফ, আয়াত: ১০৮।

২. সুরা ইউসুফ, আয়াত: ১০৮।
(খণ্ড: ১) ইইতিমাদ দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ - সালিহ আল-আতরাম (পৃষ্ঠা: ২৬৭)
ثالثا: لينجو من الخسران المحكوم به على الإنسان بقوله تعالى: {وَالْعَصْرِ إِنَّ الأِنْسَانَ لَفِي خُسْرٍ إِلَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ وَتَوَاصَوْا بِالصَّبْرِ} 1.

رابعا: ليحصل على فضل الدعوة كما قال تعالى: {وَمَنْ أَحْسَنُ قَوْلاً مِمَّنْ دَعَا إِلَى اللَّهِ وَعَمِلَ صَالِحاً وَقَالَ إِنَّنِي مِنَ الْمُسْلِمِينَ} 2.

خامسا: امتثالا لقول رسوله: "لا يؤمن أحدكم حتى يحب لأخيه ما يحب لنفسه" 3.

سادسا: رحمة بهؤلاء القوم من أن يقذف بهم الشيطان معه في النيران، لقول الرسول صلى الله عليه وسلم: "ارحموا من في الأرض يرحمكم من في السماء" 4.

سابعا: رغبة في قول الرسول صلى الله عليه وسلم: "لأن يهدي الله بك رجلا واحدا خير لك من حمر النعم" 5.

ثامنا: طلبا للخير لقول الرسول: "خيركم من تعلم القرآن وعلمه" 6.

تاسعا: امتثالا لقول الرسول صلى الله عليه وسلم: "بلغوا عني ولو آية" 7.

عاشرا: ليحظى بدعوة عباد الرحمن.

{وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَاماً} 8.

--------------------------------------------

1 سورة العصر آية: 1-2-3.

2 سورة فصلت آية: 33.

3 رواه البخاري 1/56-57 في كتاب الإيمان، ومسلم 1/67.

4 رواه الترمذي 4/324 في كتاب البر والصلة، وأبو داود 4/285.

5 البخاري 6/111.

6 البخاري 9/74.

7 البخاري 6/494 في كتاب الأنبياء.

8 سورة الفرقان آية: 74.
তৃতীয়ত: যেন মানুষ সেই ক্ষতিগ্রস্ততা থেকে মুক্তি পায় যার হুকুম আল্লাহ তাআলার এই বাণীর মাধ্যমে মানুষের উপর দেওয়া হয়েছে: {সময়ের কসম, নিশ্চয়ই মানুষ ক্ষতিগ্রস্ততার মধ্যে রয়েছে। তবে তারা ব্যতীত যারা ঈমান এনেছে, সৎকাজ করেছে এবং পরস্পরকে হকের উপদেশ দিয়েছে ও পরস্পরকে ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে} ১।

চতুর্থত: দাওয়াতের ফজিলত অর্জনের জন্য, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তার চেয়ে কার কথা অধিক উত্তম যে আল্লাহর দিকে আহ্বান জানায়, সৎকাজ করে এবং বলে, নিশ্চয়ই আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত} ২।

পঞ্চমত: তাঁর রাসূলের বাণীর অনুসরণকল্পে: "তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য তা-ই পছন্দ করে যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে" ৩।

ষষ্ঠত: এই কওমের প্রতি দয়াবশত, পাছে শয়তান তাদের তার সাথে জাহান্নামে নিক্ষেপ করে; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর কারণে: "তোমরা জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি দয়া করো, তাহলে যিনি আসমানে আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন" ৪।

সপ্তমত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণীর প্রতি আকাঙ্ক্ষাবশত: "তোমার মাধ্যমে আল্লাহ যদি একজন মানুষকেও হিদায়াত দান করেন, তবে তা তোমার জন্য লাল উটের চেয়েও উত্তম" ৫।

অষ্টমত: কল্যাণের অন্বেষায়, রাসূলের বাণীর কারণে: "তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম সে ব্যক্তি, যে কুরআন শিক্ষা করে এবং তা শিক্ষা দেয়" ৬।

নবমত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই নির্দেশের আনুগত্যস্বরূপ: "আমার পক্ষ থেকে একটি আয়াত হলেও পৌঁছে দাও" ৭।

দশমত: ইবাদুর রহমান বা রহমানের বান্দাদের দোয়ার সৌভাগ্য অর্জনের জন্য।

{আর আমাদের মুত্তাকীদের ইমাম বানিয়ে দিন} ৮।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-আসর আয়াত: ১-২-৩।

২ সূরা ফুসসিলাত আয়াত: ৩৩।

৩ বুখারি ১/৫৬-৫৭ ঈমান অধ্যায়ে এবং মুসলিম ১/৬৭ বর্ণনা করেছেন।

৪ তিরমিযী ৪/৩২৪ বির ও সিলাহ অধ্যায়ে এবং আবু দাউদ ৪/২৮৫ বর্ণনা করেছেন।

৫ বুখারি ৬/১১১।

৬ বুখারি ৯/৭৪।

৭ বুখারি ৬/৪৯৪ আম্বিয়া অধ্যায়ে।

৮ সূরা আল-ফুরকান আয়াত: ৭৪।
(খণ্ড: ১) ইইতিমাদ দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ - সালিহ আল-আতরাম (পৃষ্ঠা: ২৬৮)
الحادي عشر: تنفيذا لأمر الله: {ادْعُ إِلَى سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُمْ بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنْ ضَلَّ عَنْ سَبِيلِهِ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ} 1.

--------------------------------------------

1 سورة النحل آية: 125.
এগারোতম: আল্লাহর আদেশের বাস্তবায়নে: {আপনি আপনার রবের পথের দিকে হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আহ্বান করুন এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন সেই পদ্ধতিতে যা সর্বোত্তম। নিশ্চয় আপনার রব ভালোভাবেই জানেন কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং তিনি হেদায়েতপ্রাপ্তদের সম্পর্কেও সম্যক অবগত।} ১।

--------------------------------------------

১. সূরা আন-নাহল, আয়াত: ১২৫।
(খণ্ড: ১) ইইতিমাদ দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ - সালিহ আল-আতরাম (পৃষ্ঠা: ২৬৯)
‌‌الباب الثاني: ما قيل عن اعتماد فقه الشيخ محمد بن عبد الوهاب على الكتاب والسنة

‌‌المقدمة

…

"المقدمة"

من المعلوم أن كل داعية سيدلي بأدلة إما أن تكون صحيحة فمآلها إلى الثبوت والاستمرار، وإما أن تكون باطلة فيكون مآلها للرد.

إن قبول الناس المنصفين وردهم للدعوة يرجع إلى صدق الداعية وكذبه، وليس كل من يدعي وصلا يقر له بالوصول، ولا كل من زعم أمرا ثبت له المزعوم.

وكل يدعي وصلا بليلى … وليلى لا تقر لهم بذاك

قال الله تعالى: {قُلْ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ هَادُوا إِنْ زَعَمْتُمْ أَنَّكُمْ أَوْلِيَاءُ لِلَّهِ مِنْ دُونِ النَّاسِ فَتَمَنَّوُا الْمَوْتَ إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ} 1.

فاليهود زعموا ولاية الله ولكن ليس لهذا الزعم ما يثبته. {زَعَمَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنْ لَنْ يُبْعَثُوا قُلْ بَلَى وَرَبِّي لَتُبْعَثُنَّ ثُمَّ لَتُنَبَّؤُنَّ بِمَا عَمِلْتُمْ وَذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ} 2.

--------------------------------------------

1 سورة الجمعة آية: 6.

2 سورة التغابن آية: 7.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের ফিকহ কিতাব ও সুন্নাহর ওপর নির্ভরশীল হওয়া সম্পর্কে যা বলা হয়েছে

ভূমিকা

…

"ভূমিকা"

এটি সর্বজনবিদিত যে, প্রত্যেক দাঈ এমন সব দলিল পেশ করবেন যা হয় সহিহ হবে—যার ফলাফল হবে সত্যতা সাব্যস্ত হওয়া ও স্থায়িত্ব লাভ করা, অথবা বাতিল হবে—যার ফলাফল হবে তা প্রত্যাখ্যাত হওয়া।

ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিদের দাওয়াত গ্রহণ করা বা বর্জন করা নির্ভর করে দাঈর সত্যবাদিতা বা মিথ্যাচারিতার ওপর। আর যে ব্যক্তিই সম্পর্কের দাবি করে, তার সেই দাবির সত্যতা স্বীকার করা হয় না; এবং যে কেউ কোনো বিষয়ে দাবি করলেই তার সেই দাবি প্রমাণিত হয়ে যায় না।

প্রত্যেকেই লায়লার সাথে সম্পর্কের দাবি করে … কিন্তু লায়লা তাদের সেই দাবি স্বীকার করে না।

আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "বলুন, হে ইয়াহুদীগণ! যদি তোমরা দাবি করো যে অন্য সব লোক বাদ দিয়ে তোমরাই আল্লাহর বন্ধু, তবে তোমরা মৃত্যু কামনা করো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।" ১।

ইয়াহুদীরা আল্লাহর বন্ধুত্বের দাবি করেছিল, কিন্তু তাদের এই দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। "কাফিররা দাবি করে যে, তারা কখনোই পুনরুত্থিত হবে না। বলুন, অবশ্যই হবে, আমার রবের কসম! তোমরা অবশ্যই পুনরুত্থিত হবে, অতঃপর তোমরা যা করতে সে সম্পর্কে তোমাদেরকে অবশ্যই অবহিত করা হবে এবং আল্লাহর পক্ষে তা অত্যন্ত সহজ।" ২।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-জুমুআ, আয়াত: ৬।

২ সূরা আত-তাগাবুন, আয়াত: ৭।
(খণ্ড: ১) ইইতিমাদ দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ - সালিহ আল-আতরাম (পৃষ্ঠা: ২৭০)
فالكفار زعموا عدم البعث، وحيث أنهم لم يبنوا زعمهم على أسس من الحقيقة أبطله الله وأثبت ضده وما ينافيه. وبهذه المقدمة البسيطة يتضح لنا صدق القول بأن فقه الشيخ محمد بن عبد الوهاب معتمد على الكتاب والسنة.

فليس ما قيل في ذلك مجرد زعم أو توهم، بل ما قاله عن نفسه من اعتماد على الأدلة وما قاله غيره واضح جلي، وثابت في مراسلاته وكتاباته ومؤلفاته المنتشرة بين العالم، لا يستطيع أحد إنكارها إلا من أغمض عينيه عن الحقيقة، وتغلب عليه الهوى والتقليد الأعمى والعصبية الممقوتة.

وما انطلت عليه شبه المشبهين من الخرافيين بأن الشيخ محمد بن عبد الوهاب لا يحب الأنبياء والصالحين، غرس هذه الشبهة الشيطان بأدمغة أوليائه، وأغفلهم عن مراد الداعية، وهو أنه ينهى عن زيارة القبور البدعية، وإعطاء الأولياء الصالحين فوق حقهم وتشريكهم بحق الله.

وما ثبت من زيارة القبور الشرعية، فمحمد بن عبد الوهاب يأمر بها ولم ينه عنها. ويعطي الأنبياء والأولياء حقهم من محبتهم التي تجعل من يحبهم يتأسى بأقوالهم وأفعالهم حتى يكون وليا بما كانوا به أولياء، وصالحا بما كانوا به صلحاء. قال تعالى: {أَلا إِنَّ أَوْلِيَاءَ اللَّهِ لا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلا هُمْ يَحْزَنُونَ الَّذِينَ آمَنُوا وَكَانُوا يَتَّقُونَ} 1.

فلم يثبت الولاية إلا للمؤمنين المتقين، ولم يقل إن الولاية لمن عظم قبور الصالحين وتبرك بهم وجعل لهم النذور والذبائح.

وهذه الحقيقة ثابتة في مؤلفات الشيخ المجدد للقرن الثاني عشر الهجري، والذي ما زال إصلاحه مستمرا وتأليفه فيه مستقرا. فهو بين أيدينا منظورا ومقروءا، فنسأل الله أن يرينا الحق حقا ويرزقنا اتباعه، ويرينا الباطل باطلا ويرزقنا اجتنابه. فكانت عناية الشيخ بالعقيدة وتصحيحها وتعديل مفاهيم الناس، ولكنه مع ذلك لم

--------------------------------------------

1 سورة يونس آية: 62-63.
কাফিররা পুনরুত্থান অস্বীকার করার দাবি করেছিল, আর যেহেতু তারা তাদের এই দাবিকে কোনো সত্য ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেনি, তাই আল্লাহ তা বাতিল করে দিয়েছেন এবং এর বিপরীতে যা সত্য তা সাব্যস্ত করেছেন। এই সংক্ষিপ্ত ভূমিকার মাধ্যমে আমাদের কাছে সেই কথার সত্যতা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাবের ফিকহ কুরআন ও সুন্নাহর ওপর নির্ভরশীল।

এ সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা কেবল নিছক দাবি বা কল্পনা নয়, বরং দলীলের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার ব্যাপারে তিনি নিজের সম্পর্কে যা বলেছেন এবং অন্যরা তাঁর ব্যাপারে যা বলেছে তা অত্যন্ত স্পষ্ট ও সুপ্রকাশিত। এটি তাঁর পত্রাবলি, লেখালেখি এবং সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা তাঁর গ্রন্থাবলিতে সুপ্রতিষ্ঠিত। সত্য থেকে চোখ ফিরিয়ে নেওয়া ব্যক্তি এবং কুপ্রবৃত্তি, অন্ধ অনুসরণ ও ঘৃণ্য গোঁড়ামির বশবর্তী হওয়া লোক ছাড়া কেউ তা অস্বীকার করতে পারে না।

কুসংস্কারাচ্ছন্ন সংশয়বাদীদের এই সংশয় যে, শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব নবী ও নেককার ব্যক্তিদের ভালোবাসতেন না—শয়তান এই সংশয়টি তার অনুসারীদের মস্তকে গেঁথে দিয়েছে এবং তাদেরকে এই দাঈর উদ্দেশ্য সম্পর্কে গাফেল করে রেখেছে। অথচ তাঁর উদ্দেশ্য হলো তিনি বিদআতি কবর যিয়ারত এবং সৎকর্মশীল ওলিদের তাঁদের পাওনার চেয়ে বেশি মর্যাদা প্রদান ও আল্লাহর হকের সাথে তাঁদের শরিক করা থেকে নিষেধ করেন।

আর শরীয়তসম্মত কবর যিয়ারত যা সাব্যস্ত হয়েছে, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব সেটির আদেশ দিয়েছেন, নিষেধ করেননি। তিনি নবী ও ওলিদের ভালোবাসার সেই যথাযথ হক প্রদান করেন, যা তাঁদের ভালোবাসাকারীদের তাঁদের কথা ও কাজের অনুসরণ করতে উদ্বুদ্ধ করে, যাতে সেও সেই গুণের কারণে ওলি হতে পারে যার মাধ্যমে তাঁরা ওলি হয়েছিলেন এবং সেভাবে নেককার হতে পারে যেভাবে তাঁরা নেককার হয়েছিলেন। মহান আল্লাহ বলেন: "জেনে রেখো, নিশ্চয়ই আল্লাহর ওলিদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না। যারা ঈমান এনেছে এবং যারা তাকওয়া অবলম্বন করত।" ১।

সুতরাং ওলায়াত বা আল্লাহর ওলি হওয়া কেবল মুমিন ও মুত্তাকিদের জন্যই সাব্যস্ত হয়েছে। তিনি এ কথা বলেননি যে, ওলায়াত তাদের জন্য যারা নেককার লোকদের কবরকে সম্মান করে, তাদের মাধ্যমে বরকত হাসিল করে এবং তাদের জন্য মানত ও পশু জবাই করে।

এই সত্য হিজরি দ্বাদশ শতাব্দীর সংস্কারক শাইখের গ্রন্থাবলিতে সুপ্রতিষ্ঠিত, যাঁর সংস্কার কার্যক্রম আজও অব্যাহত এবং তাঁর রচনাবলি সুদৃঢ়। তা আমাদের সামনে দৃশ্যমান ও পঠিত হচ্ছে। আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের নিকট সত্যকে সত্য হিসেবে স্পষ্ট করেন এবং তা অনুসরণের তৌফিক দান করেন, আর বাতিলকে বাতিল হিসেবে স্পষ্ট করেন এবং তা বর্জনের তৌফিক দান করেন। আকিদাহ সংশোধন এবং মানুষের ধারণাকে মার্জিত করার প্রতি শাইখের বিশেষ মনোযোগ ছিল, কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি...

--------------------------------------------

১. সূরা ইউনুস, আয়াত: ৬২-৬৩।
(খণ্ড: ১) ইইতিমাদ দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ - সালিহ আল-আতরাম (পৃষ্ঠা: ২৭১)
يغفل الفروع، بل أدى لها جملة من الاهتمام، يتضح ذلك فيما قرره وأنه من أبعد الناس عن التعصب والتقليد.

يدعو إلى التحاكم إلى كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، يتوخى الدليل ويرى الاقتداء بالأئمة بما لم يقم الدليل على خلاف من اجتهاداتهم.

ومؤلفاته حافلة بذلك سواء ما ألفه ابتداء في التوحيد والفروع، أو ما اختصره من كتب الأئمة والمحققين تقريبا منه إلى الأذهان القاصرة، ونظرا منه بوصل طلابه بالأئمة السابقين ونفعهم العاجل؛ لأنه ليس كل طالب علم يقوى على قراءة الكتب المطولة، فإذا قرأ المنصف والمحب للفائدة والراغب في الإطلاع والذب عن أئمة الدعوة مؤلفاته التي قامت بجمعها وطبعها جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية، تجلى للقارئ اعتماد الشيخ على الكتاب والسنة.

وقد ألزم نفسه رحمه الله أن يسير في دعوته على الكتاب والسنة بالقول والفعل، وأن يأخذ بما قرره علماء المسلمين الثقاة في مسائل الاجتهاد مما لا نص فيه من كتاب أو سنة أو إجماع، وحينما يختلفون حسب مفاهيمهم من النصوص فإنه يأخذ بما ترجح عنده.

وأما التزامه بالفعل فسيظهر جليا للقارئ من مؤلفاته.

وأما التزامه بالقول فمنه ما يأتي.. وهو الفصل الأول من هذا الباب بما قرره عن نفسه وقرره أحفاده وطلابه من اعتمادهم على الكتاب والسنة.
তিনি শাখা-প্রশাখা বা গৌণ বিষয়সমূহকে উপেক্ষা করেননি, বরং সেগুলোর প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব প্রদান করেছেন। এটি তাঁর নির্ধারিত সিদ্ধান্তসমূহ থেকে স্পষ্ট হয় এবং তিনি গোঁড়ামি ও অন্ধ অনুসরণ থেকে মানুষের মাঝে সবচেয়ে দূরে ছিলেন।

তিনি আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর বিধান মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি দলীল অনুসন্ধান করেন এবং ইমামগণের ইজতিহাদী বিষয়ে তাঁদের অনুসরণ করাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সঠিক মনে করেন যতক্ষণ না তার বিপরীতে কোনো দলীল পাওয়া যায়।

তাঁর রচনাবলি এই বৈশিষ্ট্যে পরিপূর্ণ, চাই তা তিনি তাওহীদ ও গৌণ বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে মৌলিকভাবে রচনা করে থাকুন, অথবা ইমাম ও গবেষকগণের কিতাব থেকে যা তিনি সংক্ষিপ্ত করেছেন তা হোক—যাতে তা সাধারণ মেধার নিকটবর্তী হয় এবং তাঁর ছাত্ররা যেন পূর্ববর্তী ইমামগণের সাথে সংযুক্ত হতে পারে ও দ্রুত উপকৃত হতে পারে; কারণ প্রত্যেক জ্ঞানান্বেষীর দীর্ঘ কিতাবসমূহ পড়ার সামর্থ্য থাকে না। সুতরাং যখন কোনো ইনসাফকামী, জ্ঞানপিপাসু এবং দাওয়াতের ইমামগণের পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষা করতে আগ্রহী ব্যক্তি তাঁর ঐ সকল গ্রন্থ পাঠ করেন যা ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় সংগ্রহ ও মুদ্রণ করেছে, তখন পাঠকের কাছে কিতাব ও সুন্নাহর ওপর শাইখের নির্ভরতা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।

তিনি (রহিমাহুল্লাহ) নিজের জন্য আবশ্যক করে নিয়েছিলেন যে, তিনি তাঁর দাওয়াতের পথে কথা ও কাজে কিতাব ও সুন্নাহ অনুসরণ করবেন। আর ইজতিহাদী মাসয়ালাসমূহের ক্ষেত্রে—যাতে কিতাব, সুন্নাহ বা ইজমার কোনো স্পষ্ট বক্তব্য নেই—মুসলিমদের নির্ভরযোগ্য উলামাগণ যা নির্ধারণ করেছেন তা গ্রহণ করবেন। আর যখন তাঁরা নস বা দলীলসমূহ বুঝার ক্ষেত্রে মতভেদ করেন, তখন তাঁর নিকট যা অধিক শক্তিশালী বা অগ্রগণ্য মনে হয় তিনি তা-ই গ্রহণ করেন।

আর কর্মের ক্ষেত্রে তাঁর এই দায়বদ্ধতা পাঠকের নিকট তাঁর রচনাবলি থেকে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে।

আর বক্তব্যের ক্ষেত্রে তাঁর এই দায়বদ্ধতা সম্পর্কে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা নিম্নরূপ: আর এটিই এই অধ্যায়ের প্রথম পরিচ্ছেদ, যেখানে তিনি নিজের পক্ষ থেকে যা ব্যক্ত করেছেন এবং তাঁর বংশধর ও ছাত্রগণ কিতাব ও সুন্নাহর ওপর তাঁদের নির্ভরতা সম্পর্কে যা সাব্যস্ত করেছেন তা আলোচনা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইইতিমাদ দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ - সালিহ আল-আতরাম (পৃষ্ঠা: ২৭২)
‌‌الفصل الأول: القواعد الأربع التي قررها الشيخ لدوران الدين عليها

قال شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب قدس الله روحه ونور ضريحه: "هذه أربع قواعد من قواعد الدين التي تدور الأحكام عليها، وهي من أعظم ما أنعم الله به على محمد صلى الله عليه وسلم وأمته، حيث جعل دينهم دينا كاملا وافيا، وأكمل وأكثر علما من جميع الأديان، ومن ذلك جمعه لهم في لفظ قليل، وهذا ما ينبغي التفطن له قبل معرفة القواعد الأربع، وهو أن تعلم قول النبي صلى الله عليه وسلم لما ذكر ما خصه الله به على الرسل يريد منا أن نعرف منة الله علينا ونشكرها. قال: لما ذكر الخصائص " وأعطيت جوامع الكلم " 1. قال إمام الحجاز محمد بن شهاب الزهري معناه: أن يجمع الله له المسائل الكثيرة في الألفاظ القليلة.

القاعدة الأولى: تحريم القول على الله بلا علم؛ لقوله تعالى: {قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالأِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَنْ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَاناً وَأَنْ تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لا تَعْلَمُونَ} 2.

القاعدة الثانية: أن كل شيء سكت عنه الشارع فهو عفو لا يحل لأحد أن يحرمه أو يوجبه أو يستحبه أو يكرهه؛ لقوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَسْأَلوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ وَإِنْ تَسْأَلوا

--------------------------------------------

1 رواه البخاري 12/390 في كتاب التعبير رقم الحديث 6998 ، ورواه مسلم 1/371 كتاب المساجد.

2 سورة الأعراف آية: 33.
প্রথম অধ্যায়: সেই চারটি মূলনীতি যা শায়খ নির্ধারণ করেছেন যার ওপর দ্বীন আবর্তিত হয়

শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (আল্লাহ তাঁর আত্মাকে পবিত্র করুন এবং তাঁর কবরকে নূরানি করুন) বলেন: "এগুলো দ্বীনের মূলনীতিসমূহের মধ্য হতে চারটি মূলনীতি যার ওপর বিধানসমূহ আবর্তিত হয়। আর এটি আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তাঁর উম্মতের ওপর যা নিআমত দান করেছেন তার মধ্যে অন্যতম মহান নিআমত। কেননা তিনি তাদের দ্বীনকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও পর্যাপ্ত দ্বীন করেছেন, যা সকল দ্বীনের চেয়ে অধিক পূর্ণাঙ্গ এবং অধিক জ্ঞানসমৃদ্ধ। এর মধ্যে একটি হলো তাদের জন্য অল্প শব্দে অনেক বিষয়কে একত্রিত করা। চারটি মূলনীতি জানার পূর্বে এই বিষয়টি অনুধাবন করা উচিত। আর তা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী সম্পর্কে জানা যখন তিনি তাঁর প্রতি আল্লাহর বিশেষ দানগুলো উল্লেখ করেছিলেন—যা অন্যান্য রাসূলদের ওপর তাঁকে প্রদান করা হয়েছে। এর দ্বারা তিনি চেয়েছিলেন যেন আমরা আমাদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ সম্পর্কে জানি এবং তাঁর শুকরিয়া আদায় করি। তিনি তাঁর বৈশিষ্ট্যসমূহ বর্ণনা করার সময় বলেন: "আমাকে জাওয়ামিউল কালিম (অল্প শব্দে ব্যাপক অর্থবহ কথা বলার ক্ষমতা) প্রদান করা হয়েছে।" ১। হিজাযের ইমাম মুহাম্মাদ বিন শিহাব আজ-জুহরী বলেন, এর অর্থ হলো: আল্লাহ তাঁর জন্য অল্প শব্দের মধ্যে অনেক মাসআলা বা বিষয় একত্রিত করে দিয়েছেন।

প্রথম মূলনীতি: ইলম বা জ্ঞান ছাড়া আল্লাহর ব্যাপারে কোনো কথা বলা হারাম হওয়া; কেননা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "বলুন, আমার প্রতিপালক তো কেবল হারাম করেছেন অশ্লীল কাজ—যা প্রকাশ্য এবং যা গোপন, আর পাপ কাজ ও অসংগত বিদ্রোহ এবং আল্লাহর সাথে তোমাদের এমন কিছু শরিক করা যার কোনো প্রমাণ তিনি অবতীর্ণ করেননি, আর আল্লাহর সম্বন্ধে এমন কিছু বলা যা তোমরা জান না।" ২।

দ্বিতীয় মূলনীতি: শরীয়ত প্রণেতা যে বিষয়ে নীরব থেকেছেন তা মার্জনীয়। কারো জন্য এটি বৈধ নয় যে সেটিকে হারাম করবে অথবা ওয়াজিব করবে অথবা মুস্তাহাব করবে অথবা মাকরূহ করবে। কেননা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "হে মুমিনগণ, তোমরা এমন সব বিষয়ে প্রশ্ন করো না যা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হলে তোমাদের খারাপ লাগবে। আর যদি তোমরা প্রশ্ন করো...

--------------------------------------------

১ বুখারী ১২/৩৯০, কিতাবুত তাবীর, হাদিস নং ৬৯৯৮; এবং মুসলিম ১/৩৭১, কিতাবুল মাসাজিদ-এ এটি বর্ণনা করেছেন।

২ সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ৩৩।
(খণ্ড: ১) ইইতিমাদ দাওয়াতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আবদিল ওয়াহহাব আলাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ - সালিহ আল-আতরাম (পৃষ্ঠা: ২৭৩)
عَنْهَا حِينَ يُنَزَّلُ الْقُرْآنُ تُبْدَ لَكُمْ عَفَا اللَّهُ عَنْهَا وَاللَّهُ غَفُورٌ حَلِيمٌ} 1.

قال النبي صلى الله عليه وسلم "وسكت عن أشياء رحمة بكم غير نسيان فلا تسألوا عنها" 2.

القاعدة الثالثة: أن ترك الدليل الواضح والاستدلال بلفظ متشابه هو طريق أهل الزيغ كالرافضة والخوارج، قال الله تعالى: {فَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاءَ تَأْوِيلِهِ} 3.

والواجب على المسلم اتباع المحكم، فإن عرف معنى المتشابه وجده لا يخالف المحكم بل يوافقه، وإلا فالواجب عليه اتباع الراسخين في العلم في قولهم: {آمَنَّا بِهِ كُلٌّ مِنْ عِنْدِ رَبِّنَا} 4.

القاعدة الرابعة: أن النبي صلى الله عليه وسلم ذكر أن "الحلال بين وأن الحرام بين وبينهما أمور متشابهات" 5، فمن لم يفطن لهذه القاعدة وأراد أن يتكلم على كل مسألة بكلام فاصل فقد ضل وأضل.

فهذه أربع قواعد ثلاث ذكرها الله في كتابه والرابعة ذكرها رسول الله صلى الله عليه وسلم6، وهي واضحة في بيان مسلك الشيخ نحو الكتاب والسنة، فهل يقوى أحد

--------------------------------------------

1 سورة المائدة آية: 101.

2 أخرجه الدارقطني 4/297-298. قال النووي في الأربعين: حديث حسن.

3 سورة آل عمران آية: 7.

4 سورة آل عمران آية: 7.

5 رواه البخاري في كتاب الإيمان 1/126 حديث رقم 52.

6 الدرر السنية جـ4 صفحة 1.
সেগুলো সম্পর্কে, যখন কুরআন অবতীর্ণ হয় তখন যদি তা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হয় তবে তোমাদের কষ্ট হবে। আল্লাহ তা ক্ষমা করেছেন এবং আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম ধৈর্যশীল। ১।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "এবং তিনি তোমাদের প্রতি দয়াপরবশ হয়ে কিছু বিষয়ে নীরব থেকেছেন, বিস্মৃতির কারণে নয়; সুতরাং তোমরা সেগুলো সম্পর্কে প্রশ্ন করো না।" ২।

তৃতীয় নীতি: সুস্পষ্ট দলিল বর্জন করা এবং অস্পষ্ট (মুতাশাবিহ) শব্দের মাধ্যমে দলিল পেশ করা হলো বিভ্রান্তিগ্রস্তদের পথ, যেমন রাফেজি ও খারেজি সম্প্রদায়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "অতঃপর যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা ফিতনা সৃষ্টি ও অপব্যাখ্যার সন্ধানে কুরআনের অস্পষ্ট আয়াতগুলোর অনুসরণ করে।" ৩।

আর মুসলিমের ওপর আবশ্যক হলো সুস্পষ্ট (মুহকাম) বিষয়ের অনুসরণ করা। সে যদি অস্পষ্টের অর্থ অনুধাবন করতে পারে, তবে দেখবে যে তা সুস্পষ্টের বিরোধী নয় বরং তার সাথে সংগতিপূর্ণ। অন্যথায় তার ওপর আবশ্যক হলো জ্ঞানে সুগভীরদের কথা অনুসরণ করা যারা বলে: "আমরা এগুলোর ওপর ঈমান এনেছি, সবকিছুই আমাদের রবের পক্ষ থেকে।" ৪।

চতুর্থ নীতি: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উল্লেখ করেছেন যে, "নিশ্চয়ই হালাল স্পষ্ট এবং হারামও স্পষ্ট, আর এ দুয়ের মাঝে রয়েছে অনেক অস্পষ্ট বিষয়।" ৫। যে ব্যক্তি এই মূলনীতিটি বুঝতে পারেনি এবং প্রতিটি মাসআলায় একটি চূড়ান্ত কথা বলতে চেয়েছে, সে পথভ্রষ্ট হয়েছে এবং অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করেছে।

এই হলো চারটি মূলনীতি, যার তিনটি আল্লাহ তাঁর কিতাবে উল্লেখ করেছেন এবং চতুর্থটি আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উল্লেখ করেছেন। কিতাব ও সুন্নাহর ক্ষেত্রে শাইখের অনুসৃত পথের বর্ণনায় এগুলো সুস্পষ্ট। সুতরাং কেউ কি সক্ষম হবে...

--------------------------------------------

১. সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ১০১।

২. দারাকুতনি ৪/২৯৭-২৯৮। ইমাম নববী আরবাঈন-এ বলেছেন: হাদিসটি হাসান।

৩. সূরা আল ইমরান, আয়াত: ৭।

৪. সূরা আল ইমরান, আয়াত: ৭।

৫. বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন ঈমান অধ্যায়ে, ১/১২৬, হাদিস নং ৫২।

৬. আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১।