(খণ্ড: ১)
ইতিকাদ আইম্মাতুস সালাফ আহলুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: -)
اعتقاد أئمة السلف أهل الحديث القسم: العقيدة
الكتاب: اعتقاد أئمة السلف أهل الحديث
المؤلف: محمد بن عبد الرحمن الخميس
الناشر: دار إيلاف الدولية، الكويت
الطبعة: الأولى، 1420هـ/1999م
عدد الصفحات: 424
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সালাফ ইমামগণ তথা আহলে হাদিসের আকিদা বিভাগ: আকিদা
বই: সালাফ ইমামগণ তথা আহলে হাদিসের আকিদা
লেখক: মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-খামিস
প্রকাশক: দার ইলাফ ইন্টারন্যাশনাল، কুয়েত
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২০ হিজরী/১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪২৪
[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ইতিকাদ আইম্মাতুস সালাফ আহলুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
ال
مقدمةإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمداً عبده ورسوله {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102] .
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} [النساء:1] .
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} [الأحزاب:70-71] .
أما بعد فإن أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها وكل محدثة بدعة وكل بدعة ضلالة وكل ضلالة في النار.
أما بعد: فقد تصدى الكثير من أهل العلم لبيان عقيدة السلف أهل الحديث وأهل السنة والجماعة والطائفة المنصورة والفرقة الناجية، والانتصار لتلك العقيدة، والذب عنها، ورد شبهات المضلين حولها، ودحض العقائد المخالفة، ومن هؤلاء الإمام أبو أحمد الحاكم "ت 387هـ" والإمام أبو الحسن علي بن إسماعيل الأشعري "ت 330هـ" والإمام أبو بكر الإسماعيلي "ت371هـ" فقد بينوا عقائد أهل الحديث وانتصروا لها، جزاهم الله على ذلك خير الجزاء، وكنت قد أفردت كتاباً مستقلاً لشرح ما قرره كل واحد منهم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকানিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তার কোনো পথভ্রষ্টকারী নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো পথপ্রদর্শক নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল। {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} [আলে ইমরান: ১০২] ।
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী বিস্তার করেছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো, যার নামে তোমরা একে অপরের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের উপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।} [আন-নিসা: ১] ।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।} [আল-আহজাব: ৭০-৭১] ।
অতঃপর, নিশ্চয়ই সবচাইতে সত্য কথা হলো আল্লাহর কিতাব, আর সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম কাজ হলো দ্বীনের মধ্যে নব উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো গোমরাহি এবং প্রতিটি গোমরাহি বা পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।
অতঃপর: আলেমদের অনেকেই সালাফদের আকিদা—অর্থাৎ আহলে হাদিস, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত, সাহায্যপ্রাপ্ত দল এবং নাজাতপ্রাপ্ত দলের আকিদা বর্ণনা করার জন্য সচেষ্ট হয়েছেন। তাঁরা এই আকিদার স্বপক্ষে দাঁড়িয়েছেন, এর প্রতিরক্ষা করেছেন, এ সম্পর্কে বিভ্রান্তদের সংশয় নিরসন করেছেন এবং বিরোধী আকিদাগুলোকে খণ্ডন করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইমাম আবু আহমাদ আল-হাকিম (মৃত্যু ৩৮৭ হি.), ইমাম আবু হাসান আলী বিন ইসমাইল আল-আশআরী (মৃত্যু ৩৩০ হি.) এবং ইমাম আবু বকর আল-ইসমাঈলী (মৃত্যু ৩৭১ হি.)। তাঁরা আহলে হাদিসদের আকিদা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। আল্লাহ তাঁদেরকে এর জন্য সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন। আমি তাঁদের প্রত্যেকের নির্ধারিত বিষয়ের ব্যাখ্যা করার জন্য একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছি।
(খণ্ড: ১)
ইতিকাদ আইম্মাতুস সালাফ আহলুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৬)
من عقائد أهل الحديث، ثم رأيت أن أجمع كل ذلك في مجلد واحد لمسيس الحاجة إليها، لاسيما وأننا في زمن كثر القادحون في عقائد أهل الحديث، وتعدد من يصفونهم بصفات ذميمة كالحشوية والمجسمة وغير ذلك- وهم منه براء- وذلك بقصد التنفير منهم ومن عقائدهم، ولهم أساليب أخرى كالتشكيك في صحة تلك المصنفات عن مؤلفيها، والطعن في أسانيدها، والأمر كما قيل "رمتني بدائها وانسلت" فهم أحق بالتشكيك في صحة كتبهم والقدح في أسانيدها، فإنها في الحقيقة "ظلمات بعضها فوق بعض".
وقد رتبت هذا الكتاب على أربعة أقسام:
الأول: اعتقاد السلف عامة.
الثاني: اعتقاد أهل الحديث لأبي أحمد الحاكم.
الثالث: اعتقاد أهل الحديث للأشعري.
الرابع: اعتقاد أهل الحديث للإسماعيلي.
هذا: والله أسأل القبول وأن ينفع بهذا الكتاب كل من قرأه ويجعله في ميزان حسناتي وصلى الله وسلم وبارك على نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين.
د. محمد بن عبد الرحمن الخميِّس
আহলে হাদিসের আকিদাহসমূহ থেকে; এরপর আমি এই সবগুলোকে একটি খণ্ডে একত্রিত করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলাম, বিশেষ করে আমরা এমন এক সময়ে বাস করছি যখন আহলে হাদিসের আকিদাহর নিন্দুকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকে তাদের হাশবিয়্যাহ, মুজাসসিমা ইত্যাদি মন্দ বিশেষণে বিশেষায়িত করে—অথচ তারা এসব থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। তাদের উদ্দেশ্য হলো মানুষকে আহলে হাদিস ও তাদের আকিদাহ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া। তাদের আরও কিছু অপকৌশল রয়েছে, যেমন—এই গ্রন্থগুলোর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করা এবং এগুলোর সনদ বা বর্ণনাপরম্পরার ওপর আক্রমণ করা। বিষয়টি ঠিক সেই প্রবাদের মতো "সে নিজের রোগ আমার ওপর চাপিয়ে দিয়ে সটকে পড়ল।" প্রকৃতপক্ষে তারাই নিজেদের কিতাবসমূহের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সংশয় এবং সেগুলোর সনদের ত্রুটি অনুসন্ধানের জন্য অধিকতর যোগ্য, কারণ সেগুলো বাস্তবার্থেই "অন্ধকারের ওপর অন্ধকার" ।
আমি এই কিতাবটিকে চারটি ভাগে বিন্যস্ত করেছি:
প্রথম: সাধারণভাবে সালাফদের আকিদাহ।
দ্বিতীয়: আবু আহমাদ আল-হাকিম বর্ণিত আহলে হাদিসের আকিদাহ।
তৃতীয়: আল-আশআরি বর্ণিত আহলে হাদিসের আকিদাহ।
চতুর্থ: আল-ইসমাঈলি বর্ণিত আহলে হাদিসের আকিদাহ।
পরিশেষে: আমি আল্লাহর কাছে কবুলিয়াতের প্রার্থনা করছি এবং যেন এই কিতাব দ্বারা প্রত্যেক পাঠক উপকৃত হয় এবং তিনি একে আমার নেক আমলের পাল্লায় জমা করেন। আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর রহমত, শান্তি ও বরকত নাযিল করুন।
ড. মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-খুমাইয়িস
(খণ্ড: ১)
ইতিকাদ আইম্মাতুস সালাফ আহলুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৯)
القسم الأول: اعتقاد السلف عامة.
…المقدمة
إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادى له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} [آل عمران: 102] .
{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} [النساء:1] .
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً * يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} [الأحزاب:70-71] .
أما بعد:
فإن خير الكلام كلام الله، وخير الهدى هدى محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار، ثم أما بعد.
فإن من أولى ما شغلت به الأوقات، تعلم العلم وتعليمه، ونشره بين الناس، ولاسيما علم أصول الدين الذي به يعرف الله عز وجل، وأسماؤه وصفاته، وما يجب له على خلقه، وما ينبغي في حقه وما لا يجوز، وغير ذلك من مسائل الإيمان، والقدر، واليوم الآخر، وغيرها كثير وقد اجتهدت طوائف المبتدعين في الانتصار لعقائدها، ونشرها بين الناس وأهل السنة والجماعة، من سلف هذه الأمة الصالحين ومن تبعهم -أولى بذلك منهم، فإنهم على الحق والهدى.
هذا ومما يؤسف له أن بعض الجامعات الإسلامية في كثير من البلدان، لم تعط عقائد السلف ما تستحقه من العناية والدراسة، والبحث والنشر، وإذا
প্রথম পরিচ্ছেদ: সাধারণভাবে সালাফদের আকিদা.
…ভূমিকা
নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছেই সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। {হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} [আলে ইমরান: ১০২]।
{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তা থেকে তাঁর স্ত্রীকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাঁদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন অটুট রাখার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন} [নিসা: ১]।
{হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সফলতা অর্জন করে} [আহযাব: ৭০-৭১]।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই সর্বোত্তম কথা হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম হেদায়েত হলো মুহাম্মাদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন)-এর হেদায়েত। আর নিকৃষ্টতম কাজ হলো (দ্বীনের মধ্যে) নব-আবিষ্কৃত বিষয়সমূহ, এবং প্রতিটি নব-আবিষ্কৃত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা, এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম। অতঃপর:
নিশ্চয়ই সময় ব্যয় করার মতো অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ হলো ইলম অর্জন করা, শিক্ষা দেওয়া এবং মানুষের মধ্যে তা প্রচার করা; বিশেষ করে দ্বীনের মৌলিক বিষয়ের (উসুলুদ দীন) ইলম, যার মাধ্যমে মহান আল্লাহ, তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলি সম্পর্কে জানা যায় এবং সৃষ্টির ওপর তাঁর কী অধিকার রয়েছে, তাঁর শানে কী ওয়াজিব, কী সমীচীন আর কোনটি অসম্ভব—তা জানা যায়। এছাড়াও ঈমান, তাকদির, পরকাল এবং আরও অনেক মাসআলা এর অন্তর্ভুক্ত। বিদআতি দলগুলো তাদের আকিদাকে বিজয়ী করতে এবং মানুষের মাঝে তা ছড়িয়ে দিতে অনেক প্রচেষ্টা চালিয়েছে। অথচ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত—যাঁরা এই উম্মতের পুণ্যবান সালাফ এবং তাঁদের অনুসারী—এ কাজের জন্য তাঁদের চেয়ে বেশি হকদার; কেননা তাঁরাই সত্য ও হেদায়েতের ওপর রয়েছেন।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, অনেক দেশের কিছু কিছু ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় সালাফদের আকিদাকে যতটা গুরুত্ব, অধ্যয়ন, গবেষণা ও প্রচারের দাবি রাখে ততটা দেয়নি, এবং যখন...
(খণ্ড: ১)
ইতিকাদ আইম্মাতুস সালাফ আহলুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১০)
نشرت شيئاً من الكتب والبحوث في مجال العقيدة، فإنما هي عقيدة الأشعرية والماتريدية وأشباههم، وإن كان هناك وجود لكتب تتحدث عن عقيدة السلف. أهل السنة والجماعة- فإنها مشوبة بكلام المتكلمين ومصطلحاتهم الحادثة المبتدعة، وليست بصفاء عقائد السلف المأثورة عنهم، البعيدة عن التكلف والكلام والجدل، المقصورة على ما جاء في كتاب الله، وحديث رسوله صلى الله عليه وسلم.
وقد أحببت- مستعيناً بالله تعالى- أن أسهم بهذا الجهد المتواضع في نشر عقيدة السلف الصالح والذب عنها، وإظهار ما كانوا عليه في مسائل أصول الدين، وما ردُّوا به على أصناف المبتدعة والملحدين.
وقد بدأت في جمع أقوال عدد من أئمة السلف أهل السنة والجماعة في مسائل أصول الدين، وذلك من مصادر مختلفة، حيث حكى كل منهم ما يعتقده من مسائل أصول الدين، وما يدين به لله رب العالمين، ورتبت ذكر هؤلاء الأئمة وكلامهم على حسب الزمن، فبدأت بأقدمهم ثم الذي يليه وهكذا وقد بلغت عدتهم ثمانية وعشرون إماماً مرتبة أقوالهم وعقائدهم، وذلك على الترتيب الآتي:
1- أبو حنيفة "155" هـ.
2- الأوزاعي "157" هـ.
3- الثوري "161" هـ.
4- مالك "179" هـ.
5- ابن المبارك "181" هـ.
6- ابن عيينه "198" هـ.
7- الشافعي "204" هـ.
8- الحميدي "219" هـ.
9- بشر بن الحارث "227" هـ.
10- ابن المديني "234" هـ.
আকিদা বা বিশ্বাসবিদ্যার ক্ষেত্রে কিছু কিতাব ও গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে, তবে সেগুলো আশআরিয়া, মাতুরিদিয়া এবং তাদের অনুরূপ দলগুলোর আকিদা বিষয়ক। যদিও সেখানে সালাফ তথা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকিদা নিয়ে আলোচনা করা কিতাব রয়েছে, তবে সেগুলো মুতাকাল্লিমদের (কালামশাস্ত্রবিদ) কথা এবং তাদের নবউদ্ভাবিত বিদআতি পরিভাষা দ্বারা কলুষিত। এগুলো সালাফদের থেকে বর্ণিত আকিদার ন্যায় স্বচ্ছ নয়, যা কৃত্রিমতা, কালামশাস্ত্র ও বিতর্ক থেকে দূরে এবং মহান আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
আমি মহান আল্লাহর সাহায্য নিয়ে এই বিনীত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সালাফে সালেহীনের আকিদা প্রচার এবং এর প্রতিরক্ষায় অবদান রাখতে চেয়েছি। এছাড়া দীনের মৌলিক বিষয়গুলোতে (উসুলুদ দীন) তাঁরা যে বিষয়ের ওপর অটল ছিলেন এবং বিভিন্ন প্রকারের বিদআতি ও নাস্তিকদের যেভাবে খণ্ডন করেছেন, তা প্রকাশ করতে চেয়েছি।
আমি বিভিন্ন উৎস থেকে দীনের মৌলিক বিষয়গুলোতে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের সালাফদের একদল ইমামের বক্তব্য সংগ্রহ করতে শুরু করেছি। এখানে তাঁদের প্রত্যেকেই দীনের মৌলিক বিষয়গুলো সম্পর্কে তাঁদের বিশ্বাস এবং রাব্বুল আলামীনের জন্য তাঁরা যে দীন পালন করেন তা বর্ণনা করেছেন। আমি এই ইমামদের উল্লেখ এবং তাঁদের বক্তব্যগুলোকে সময়ানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি; ফলে সবচেয়ে প্রাচীন ইমামের মাধ্যমে শুরু করে পরবর্তী ইমামদের ক্রমানুসারে এনেছি। এভাবে আটাশ জন ইমামের বক্তব্য ও আকিদা সাজানো হয়েছে, যার ক্রম নিম্নরূপ:
১- আবু হানিফা "১৫৫" হিজরি।
২- আওযায়ী "১৫৭" হিজরি।
৩- সাওরী "১৬১" হিজরি।
৪- মালিক "১৭৯" হিজরি।
৫- ইবনুল মুবারক "১৮১" হিজরি।
৬- ইবনে উয়াইনা "১৯৮" হিজরি।
৭- শাফেয়ী "২০৪" হিজরি।
৮- হুমাইদী "২১৯" হিজরি।
৯- বিশর বিন আল-হারিস "২২৭" হিজরি।
১০- ইবনুল মাদীনী "২৩৪" হিজরি।
(খণ্ড: ১)
ইতিকাদ আইম্মাতুস সালাফ আহলুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১১)
11- أبو ثور "240" هـ.
12- أحمد بن حنبل "241" هـ.
13- البخاري "256" هـ.
14- الذهلي "258" هـ.
15- أبو زرعة الرازي "264" هـ.
16- أبو حاتم الرازي "277" هـ.
17- ابن أبي حاتم "327" هـ.
18- ابن جرير "310" هـ.
19- أبو بكر بن أبي داود "316" هـ.
20- نصر المقدسي "490" هـ.
21- القادر بالله "422" هـ.
22- الهاشمي "428" هـ
23- الصابوني "449" هـ
24- الخطيب البغدادي "463" هـ
25- الزنجاني "471" هـ.
26- الكلوذاني "510" هـ.
27- الكرجي "532" هـ.
28-السلفي "576" هـ.
كما قمت بعمل ترجمة مختصرة لكل واحد منهم أذكرها عند الكلام عن عقيدته، وذلك لبيان منزلته عند أهل العلم.
১১- আবু সওর "২৪০" হি.
১২- আহমদ বিন হাম্বল "২৪১" হি.
১৩- আল-বুখারী "২৫৬" হি.
১৪- আয-যুহালী "২৫৮" হি.
১৫- আবু যুরআহ আর-রাযী "২৬৪" হি.
১৬- আবু হাতিম আর-রাযী "২৭৭" হি.
১৭- ইবনে আবি হাতিম "৩২৭" হি.
১৮- ইবনে জারীর "৩১০" হি.
১৯- আবু বকর বিন আবি দাউদ "৩১৬" হি.
২০- নাসর আল-মাকদিসী "৪৯০" হি.
২১- আল-কাদির বিল্লাহ "৪২২" হি.
২২- আল-হাশিমি "৪২৮" হি
২৩- আস-সাবুনী "৪৪৯" হি
২৪- আল-খাতীব আল-বাগদাদী "৪৬৩" হি
২৫- আয-যানজানী "৪৭১" হি.
২৬- আল-কালওয়াযানী "৫১০" হি.
২৭- আল-কারজী "৫৩২" হি.
২৮- আস-সিলাফী "৫৭৬" হি.
একইভাবে আমি তাঁদের প্রত্যেকের একটি সংক্ষিপ্ত জীবনীও তৈরি করেছি যা তাঁদের আকিদা আলোচনার সময় উল্লেখ করব, যাতে বিজ্ঞজনদের নিকট তাঁদের মর্যাদা স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
(খণ্ড: ১)
ইতিকাদ আইম্মাতুস সালাফ আহলুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১২)
1- اعتقاد الإمام أبي حنيفة
أ- أقوال الإمام أبي حنيفة في التوحيد:
أولاً: عقيدته في توحيد الله وبيان التوسل الشرعي وإبطال التوسل البدعي:
قال أبو حنيفة: "لا ينبغي لأحد أن يدعو الله إلا به والدعاء المأذون فيه المأمور به ما استفيد من قوله تعالى: {وَلِلَّهِ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} 1
… "2.
2- قال أبو حنيفة: "يكره أن يقول الداعي أسألك بحق فلان أو بحق أنبيائك ورسلك وبحق البيت الحرام والمشعر الحرام"3.
3- وقال أبو حنيفة: "لا ينبغي لأحد أن يدعو الله إلا به وأكره أن يقول بمعاقد العز من عرشك4، أو بحق خلقك"5.
--------------------------------------------
১- ইমাম আবু হানিফার আকিদা (বিশ্বাস)
ক- তাওহীদ প্রসঙ্গে ইমাম আবু হানিফার বক্তব্যসমূহ:
প্রথমত: আল্লাহর তাওহীদ সম্পর্কে তাঁর আকিদা, শরয়ি উসিলা ও বিদআতি উসিলার অসারতার বর্ণনা:
আবু হানিফা বলেন: "আল্লাহ ছাড়া আর কারো মাধ্যমে আল্লাহর কাছে দোয়া করা কারো জন্য উচিত নয়। যে দোয়ার অনুমতি ও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা মহান আল্লাহর বাণী থেকেই গৃহীত: {আর আল্লাহর রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকো। আর যারা তাঁর নামসমূহে বিকৃতি ঘটায় তাদের বর্জন করো। তারা যা করছে অচিরেই তাদের তার প্রতিফল দেওয়া হবে} ১
… "২।
২- আবু হানিফা বলেন: "দোয়াকারীর জন্য এটি অপছন্দনীয় (মাকরুহ) যে সে বলবে—আমি আপনার কাছে অমুকের উসিলায় বা আপনার নবী ও রাসূলগণের উসিলায় অথবা বায়তুল হারাম ও মাশআরুল হারামের উসিলায় প্রার্থনা করছি"৩।
৩- আবু হানিফা বলেন: "আল্লাহ ছাড়া আর কারো মাধ্যমে আল্লাহর কাছে দোয়া করা কারো জন্য উচিত নয়। আর আমি 'আপনার আরশের সম্মানের স্থানগুলোর উসিলায়'৪ অথবা 'আপনার সৃষ্টির উসিলায়'৫ বলাকে অপছন্দ করি।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিকাদ আইম্মাতুস সালাফ আহলুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ثانياً: قوله في إثبات الصفات والرد على الجهمية:
4- وقال: "لا يوصف الله تعالى بصفات المخلوقين، وغضبه ورضاه صفتان من صفاته بلا كيف، وهو قول أهل السُّنَّة والجماعة وهو يغضب ويرضى ولا يقال: غضبه عقوبته ورضاه ثوابه، ونصفه كما وصف نفسه أحدٌ صمد لم يلد ولم يولد ولم يكن له كفواً أحد، حيُّ قادر سميع بصير عالم، يد الله فوق أيديهم ليست كأيدي خلقه ووجهه ليس كوجوه خلقه"1.
5-وقال: "وله يد ووجه ونفس، كما ذكره الله تعالى في القرآن، فما ذكره الله تعالى في القرآن من ذكر الوجه واليد والنفس، فهو له صفات بلا كيف ولا يقال إن يده قدرته أو نعمته، لأن فيه إبطال الصفة وهو قول أهل القدر والاعتزال"2.
6- وقال: "لا ينبغي لأحد أن ينطق في ذات الله بشيء بل يصفه بما وصف به نفسه ولا يقول فيه برأيه شيئاً تبارك الله وتعالى رب العالمين"3.
7- ولما سئل عن النزول الإلهي قال: "ينزل بلا كيف"4.
8- وقال أبو حنيفة: "والله تعالى يدعى من أعلى لا من أسفل لأن الأسفل ليس من وصف الربوبية والألوهية في شيء"5.
9- وقال: "وهو يغضب ويرضى ولا يقال غضبه عقوبته ورضاه ثوابه"6.
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: সিফাত (বৈশিষ্ট্য) সাব্যস্তকরণ এবং জাহমিয়াদের খণ্ডন প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য:
৪- এবং তিনি বলেছেন: "আল্লাহ তাআলাকে মাখলুকের (সৃষ্টির) গুণাবলীতে বিশেষিত করা যাবে না। তাঁর রাগ এবং সন্তুষ্টি তাঁর গুণাবলির অন্তর্ভুক্ত দুটি গুণ, যার ধরণ জানা নেই (বিলা কাইফ)। আর এটিই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অভিমত। তিনি রাগান্বিত হন এবং সন্তুষ্ট হন; কিন্তু এ কথা বলা যাবে না যে, তাঁর রাগ মানে তাঁর শাস্তি এবং তাঁর সন্তুষ্টি মানে তাঁর সওয়াব। আমরা তাঁর বর্ণনা সেভাবেই দেব যেভাবে তিনি নিজের বর্ণনা দিয়েছেন—তিনি এক, অমুখাপেক্ষী, কাউকে জন্ম দেননি এবং তাকেও জন্ম দেওয়া হয়নি, আর তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সর্বশক্তিমান, সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা, সর্বজ্ঞ। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপরে; তাঁর হাত তাঁর সৃষ্টির হাতের মতো নয় এবং তাঁর চেহারা তাঁর সৃষ্টির চেহারার মতো নয়।"১।
৫-এবং তিনি বলেছেন: "আল্লাহর হাত, চেহারা ও নফস রয়েছে, যেমনটি আল্লাহ তাআলা কুরআনে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং আল্লাহ তাআলা কুরআনে চেহারা, হাত ও নফসের যা উল্লেখ করেছেন, তা তাঁর জন্য গুণ (সিফাত), যার ধরণ জানা নেই (বিলা কাইফ)। এটি বলা যাবে না যে, তাঁর হাত মানে তাঁর কুদরত (ক্ষমতা) বা তাঁর নেয়ামত। কারণ এতে সিফাতকে অস্বীকার করা হয়, আর এটি কদরিয়া ও মুতাজিলাদের অভিমত।"২।
৬- এবং তিনি বলেছেন: "আল্লাহর সত্তা সম্পর্কে কারো পক্ষেই নিজ থেকে কিছু বলা উচিত নয়। বরং তিনি নিজেকে যে গুণাবলীতে গুণান্বিত করেছেন, কেবল সেভাবেই তাঁকে বিশেষিত করবে। এ বিষয়ে নিজের রায় (মতামত) দিয়ে কোনো কথা বলবে না। জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ বরকতময় ও সুউচ্চ।"৩।
৭- আর যখন তাঁকে আল্লাহর অবতরণ (নুযুল) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো, তিনি বললেন: "তিনি অবতরণ করেন এর ধরণ ব্যতিরেকে (বিলা কাইফ)।"৪।
৮- আবু হানিফা আরও বলেছেন: "আল্লাহ তাআলাকে উপর দিক থেকে ডাকা হয়, নিচ থেকে নয়। কারণ নিচের দিকটি কোনোভাবেই রুবুবিয়্যাত (প্রতিপালন) ও উলুহিয়্যাতের (উপাস্যতা) বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত নয়।"৫।
৯- এবং তিনি বলেছেন: "তিনি রাগান্বিত হন এবং সন্তুষ্ট হন; এ কথা বলা যাবে না যে, তাঁর রাগ মানে তাঁর শাস্তি এবং তাঁর সন্তুষ্টি মানে তাঁর সওয়াব।"৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিকাদ আইম্মাতুস সালাফ আহলুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৪)
10- وقال: "ولا يشبه شيئاً من الأشياء من خلقه ولا يشبهه شيء من خلقه، لم يزل ولا يزال بأسمائه وصفاته"1.
11- وقال: "وصفاته بخلاف صفات المخلوقين يعلم لا كعلمنا، ويقدر لا كقدرتنا، ويرى لا كرؤيتنا، ويسمع لا كسمعنا، ويتكلم لا ككلامنا"2.
12- وقال: "لا يوصف الله تعالى بصفات المخلوقين"3.
13- وقال: "ومن وصف الله بمعنى من معاني البشر فقد كفر"4.
14- وقال: "وصفاته الذاتية والفعلية، أما الذاتية فالحياة؟ والقدرة والعلم والكلام والسمع والبصر والإرادة، وأما الفعلية فالتخليق والترزيق والإنشاء والإبداع والصنع وغير ذلك من صفات الفعل لم يزل ولا يزال بأسمائه وصفاته"5.
15- وقال: "ولم يزل فاعلاً بفعله والفعل صفة في الأزل والفاعل هو الله تعالى والفعل صفة في الأزل والمفعول مخلوق وفعل الله تعالى غير مخلوق"6.
16- وقال: "من قال لا أعرف ربي في السماء أو في الأرض فقد كفر، وكذا من قال إنه على العرش ولا أدري العرش أفي السماء أم في الأرض"7.
--------------------------------------------
10- এবং তিনি বলেছেন: "তিনি তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুর সদৃশ নন এবং তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছু তাঁর সদৃশ নয়; তিনি তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলিসহ সর্বদা ছিলেন এবং সর্বদা থাকবেন।"১
11- এবং তিনি বলেছেন: "তাঁর গুণাবলি সৃষ্টিজীবের গুণাবলির বিপরীত। তিনি জানেন কিন্তু আমাদের জানার মতো নয়, তিনি সক্ষম কিন্তু আমাদের সক্ষমতার মতো নয়, তিনি দেখেন কিন্তু আমাদের দেখার মতো নয়, তিনি শোনেন কিন্তু আমাদের শোনার মতো নয় এবং তিনি কথা বলেন কিন্তু আমাদের কথা বলার মতো নয়।"২
12- এবং তিনি বলেছেন: "আল্লাহ তাআলাকে সৃষ্টিজীবের গুণাবলি দ্বারা বিশেষিত করা যাবে না।"৩
13- এবং তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহকে মানুষের কোনো বৈশিষ্ট্য বা অর্থ দ্বারা বিশেষিত করল, সে কুফরি করল।"৪
14- এবং তিনি বলেছেন: "তাঁর গুণাবলি সত্তাগত ও কর্মগত। সত্তাগত গুণাবলি হলো: জীবন, ক্ষমতা, জ্ঞান, কথা, শ্রবণ, দর্শন ও ইচ্ছা। আর কর্মগত গুণাবলি হলো: সৃষ্টি করা, রিযিক দেওয়া, অস্তিত্ব দান করা, উদ্ভাবন করা, প্রস্তুত করা এবং অন্যান্য কর্মগত গুণাবলি। তিনি তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলিসহ সর্বদা ছিলেন এবং সর্বদা থাকবেন।"৫
15- এবং তিনি বলেছেন: "তিনি অনাদিকাল থেকেই তাঁর কর্মের মাধ্যমে সম্পাদনকারী। কর্ম অনাদিতেই একটি গুণ, আর কর্তা হলেন আল্লাহ তাআলা। কর্ম অনাদিতেই গুণ, কর্মের ফল (মাফ'উল) সৃষ্ট কিন্তু আল্লাহ তাআলার কর্ম সৃষ্ট নয়।"৬
16- এবং তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি বলে যে, 'আমি জানি না আমার রব আকাশে নাকি জমিনে', সে কুফরি করল। অনুরূপভাবে সে ব্যক্তিও, যে বলে যে, 'তিনি আরশের উপর, কিন্তু আমি জানি না আরশ কি আকাশে নাকি জমিনে'।"৭
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিকাদ আইম্মাতুস সালাফ আহলুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৫)
17- وقال للمرأة التي سألته أين إلهك الذي تعبده قال: "إن الله سبحانه وتعالى في السماء دون الأرض، فقال له رجل: أرأيت قول الله تعالى: {وَهُوَ مَعَكُمْ} 1 قال: هو كما تكتب للرجل إني معك وأنت غائب عنه"2.
18- وقال كذلك: "يد الله فوق أيديهم ليست كأيدي خلقه"3.
19- وقال: "إن الله سبحانه وتعالى في السماء دون الأرض، فقال له رجل: أرأيت قول الله تعالى: {وَهُوَ مَعَكُمْ} 4 قال: هو كما تكتب لرجل إني معك وأنت غائب عنه"5.
25- وقال: "قد كان متكلماً ولم يكن كلم موسى عليه السلام"6.
21- وقال: "ومتكلماً بكلامه والكلام صفة في الأزل"7.
22- وقال: "وتكلم لا ككلامنا"8.
23- وقال: "وسمع موسى عليه السلام كلام الله تعالى كما قال الله تعالى: {وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيماً} 9 وقد كان الله تعالى متكلماً ولم يكن كلم موسى عليه السلام"10.
24- وقال: "والقران كلام الله في المصاحف مكتوب وفي القلوب محفوظ، وعلى الألسن مقروء، وعلى النبي صلى الله عليه وسلم، أنزل"11.
--------------------------------------------
১৭- এবং তিনি সেই নারীকে বলেছিলেন যে তাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, আপনার ইলাহ (উপাস্য) কোথায় যার আপনি ইবাদত করেন? তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আসমানে আছেন, জমিনে নন। তখন এক ব্যক্তি তাকে বললেন: আল্লাহ তাআলার এই বাণী সম্পর্কে আপনার অভিমত কী: {আর তিনি তোমাদের সাথেই আছেন}? তিনি বললেন: এটি সেরূপ যেমন তুমি কোনো ব্যক্তিকে লিখে থাকো যে ‘আমি তোমার সাথে আছি’, অথচ তুমি তার থেকে অনুপস্থিত।"
১৮- এবং তিনি আরও বলেছেন: "আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপরে, যা তাঁর সৃষ্টির হাতের মতো নয়।"
১৯- এবং তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ আসমানে আছেন, জমিনে নন। তখন এক ব্যক্তি তাকে বললেন: আল্লাহ তাআলার এই বাণী সম্পর্কে আপনার অভিমত কী: {আর তিনি তোমাদের সাথেই আছেন}? তিনি বললেন: এটি সেরূপ যেমন তুমি কোনো ব্যক্তিকে লিখে থাকো যে ‘আমি তোমার সাথে আছি’, অথচ তুমি তার থেকে অনুপস্থিত।"
২৫- এবং তিনি বলেছেন: "তিনি কথা বলতেন (মুতাকাল্লিম ছিলেন), অথচ তখনও তিনি মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে কথা বলেননি।"
২১- এবং তিনি বলেছেন: "এবং তিনি তাঁর কালামের (কথার) মাধ্যমে কথা বলেন, আর কালাম (কথা বলা) অনাদিকাল থেকেই তাঁর একটি গুণ।"
২২- এবং তিনি বলেছেন: "এবং তিনি কথা বলেছেন তবে আমাদের কথার মতো নয়।"
২৩- এবং তিনি বলেছেন: "এবং মুসা (আলাইহিস সালাম) মহান আল্লাহর কথা শুনেছেন, যেমনটি মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর আল্লাহ মুসার সাথে স্পষ্টভাবে কথা বলেছেন}। অথচ আল্লাহ তাআলা অনাদিকাল থেকেই কথা বলার গুণের অধিকারী ছিলেন যদিও তখনো তিনি মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে কথা বলেননি।"
২৪- এবং তিনি বলেছেন: "আর কুরআন হলো আল্লাহর বাণী যা মাসহাফসমূহে লিপিবদ্ধ, অন্তরসমূহে সংরক্ষিত, জিহ্বাসমূহে পঠিত এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর অবতীর্ণ।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিকাদ আইম্মাতুস সালাফ আহলুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৬)
25- وقال: "والقرآن غير مخلوق"1.
ب- أقوال الإمام أبي حنيفة في القدر
1- جاء رجل إلى الإمام أبي حنيفة يجادله في القدر فقال له: "ما علمت أن الناظر في القدر كالناظر في عيني الشمس كلما إزداد نظراً إزداد تحيراً"2.
2- يقول الإمام أبو حنيفة: "وكان الله تعالى عالماً في الأزل بالأشياء قبل كونها"3.
3- وقال: "يعلم الله تعالى المعدوم في حالة عدمه معدوماً، ويعلم أنه كيف يكون إذا أوجده، ويعلم الله تعالى الموجود في حال وجوده موجوداً ويعلم كيف يكون فناؤه"4.
4- يقول الإمام أبو حنيفة: "وقدره في اللوح المحفوظ"5.
5- وقال: "ونقر بأن الله تعالى أمر القلم أن يكتب فقال القلم: ماذا أكتب يا رب؟ فقال الله تعالى: أكتب ما هو كائن إلى يوم القيامة لقوله تعالى: {وَكُلُّ شَيْءٍ فَعَلُوهُ فِي الزُّبُرِ * وَكُلُّ صَغِيرٍ وَكَبِيرٍ مُسْتَطَرٌ} 6"7.
6- وقال الإمام أبو حنيفة: "ولا يكون في الدنيا ولا في الآخرة شيء إلا بمشيئته"8.
--------------------------------------------
২৫- এবং তিনি বলেছেন: "কুরআন সৃষ্টি নয়"১।
খ- তকদির সম্পর্কে ইমাম আবু হানিফার উক্তি
১- এক ব্যক্তি ইমাম আবু হানিফার কাছে তকদির নিয়ে বিতর্ক করতে আসলেন। তখন তিনি তাকে বললেন: "তুমি কি জানো না যে, তকদিরের দিকে তাকানো ব্যক্তি সূর্যের চোখের দিকে তাকানো ব্যক্তির মতো; সে যত বেশি তাকাবে, তার বিভ্রান্তি তত বাড়বে"২।
২- ইমাম আবু হানিফা বলেন: "আল্লাহ তাআলা অনাদিকাল থেকেই বস্তুসমূহ অস্তিত্বে আসার পূর্বেই সে সম্পর্কে অবগত ছিলেন"৩।
৩- এবং তিনি বলেন: "আল্লাহ তাআলা অবিদ্যমান বস্তুকে তার অবিদ্যমান অবস্থায় অবিদ্যমান হিসেবে জানেন, এবং তিনি জানেন যে তিনি যখন তাকে অস্তিত্ব দান করবেন তখন সেটি কেমন হবে। আল্লাহ তাআলা বিদ্যমান বস্তুকে তার বিদ্যমান অবস্থায় বিদ্যমান হিসেবে জানেন এবং তিনি জানেন কীভাবে তার বিনাশ ঘটবে"৪।
৪- ইমাম আবু হানিফা বলেন: "এবং তিনি তা লাওহে মাহফুজে নির্ধারণ করে রেখেছেন"৫।
৫- এবং তিনি বলেন: "আমরা স্বীকার করি যে, আল্লাহ তাআলা কলমকে লিখার আদেশ দিলেন। তখন কলম বলল: হে রব! আমি কী লিখব? আল্লাহ তাআলা বললেন: কিয়ামত পর্যন্ত যা কিছু ঘটবে তা লিখো। মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {তারা যা কিছু করেছে তা আমলনামায় রয়েছে। আর ক্ষুদ্র ও বৃহৎ সমস্ত কিছুই লিপিবদ্ধ।}৬"৭।
৬- এবং ইমাম আবু হানিফা বলেন: "দুনিয়া ও আখেরাতে তাঁর ইচ্ছা ব্যতীত কোনো কিছুই সংঘটিত হয় না"৮।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিকাদ আইম্মাতুস সালাফ আহলুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৭)
7- ويقول الإمام أبو حنيفة: "خلق الله الأشياء لا من شيء"1.
8- وقال: "وكان الله تعالى خالقاً قبل أن يخلق"2.
9- وقال: "نقر بأن العبد مع أعماله وإقراره ومعرفته مخلوق، فلما كان الفاعل مخلوقاً فأفعاله أولى أن تكون مخلوقة"3.
10- وقال: "جميع أفعال العباد من الحركة والسكون كسبهم والله تعالى خالقها وهي كلها بمشيئته وعلمه وقضائه وقدره"4.
11- قال الإمام أبو حنيفة: "وجميع أفعال العباد من الحركة والسكون كسبهم على الحقيقة والله تعالى خلاقها وهي كلها بمشيئته وعلمه وقضائه وقدره، والطاعات كلها كانت واجبة بأمر الله تعالى وبمحبته وبرضاه وعلمه ومشيئته وقضائه وتقديره، والمعاصي كلها بعلمه وقضائه وتقديره، ومشيئته لا بمحبته ولا برضاه ولا بأمره"5.
12- وقال: "خلق الله تعالى الخلق سليماً من الكفر والإيمان6 ثم خاطبهم وأمرهم ونهاهم، فكفر من كفر بفعله وإنكاره وجحوده الحق بخذلان الله تعالى إياه، وآمن من آمن بفعله وإقراره وتصديقه بتوفيق الله تعالى ونصرته له"7.
13- وقال: "وأخرج ذرية آدم من صلبه على صور الذر، فجعلهم عقلاء فخاطبهم وأمرهم بالإيمان ونهاهم عن الكفر، فأقروا له بالربوبية فكان ذلك منهم إيماناً فهم يولدون على تلك الفطرة، ومن كفر بعد
--------------------------------------------
7- ইমাম আবু হানিফা বলেন: "আল্লাহ কোনো কিছু ছাড়াই বস্তুসমূহ সৃষ্টি করেছেন।"১।
8- এবং তিনি বলেন: "আল্লাহ তাআলা সৃষ্টি করার পূর্বেই স্রষ্টা ছিলেন।"২।
9- এবং তিনি বলেন: "আমরা স্বীকার করি যে বান্দা তার আমল, স্বীকৃতি এবং পরিচয়সহ মাখলুক (সৃষ্ট), সুতরাং যখন কর্তা নিজে মাখলুক, তখন তার কার্যাবলি মাখলুক হওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত।"৩।
10- এবং তিনি বলেন: "বান্দাদের সকল কাজ—নড়াচড়া ও স্থিরতা—তাদের নিজেদের অর্জন (কাসব), আর আল্লাহ তাআলা সেগুলোর স্রষ্টা; এবং এ সবকিছুই তাঁর ইচ্ছা, জ্ঞান, ফয়সালা ও তাকদির অনুযায়ী হয়।"৪।
11- ইমাম আবু হানিফা বলেন: "বান্দাদের সকল কাজ—নড়াচড়া ও স্থিরতা—প্রকৃতপক্ষে তাদের অর্জন (কাসব), আর আল্লাহ তাআলা সেগুলোর স্রষ্টা; এবং এ সবকিছুই তাঁর ইচ্ছা, জ্ঞান, ফয়সালা ও তাকদির অনুযায়ী হয়। সমস্ত ইবাদত বা আনুগত্য আল্লাহর আদেশ, তাঁর ভালোবাসা, তাঁর সন্তুষ্টি, তাঁর জ্ঞান, তাঁর ইচ্ছা এবং তাঁর ফয়সালা ও তাকদির অনুযায়ী আবশ্যক হয়েছে। আর সমস্ত গুনাহ আল্লাহর জ্ঞান, ফয়সালা, তাকদির ও ইচ্ছা অনুযায়ী হয়, তবে তা তাঁর ভালোবাসা, সন্তুষ্টি বা আদেশ অনুযায়ী নয়।"৫।
12- এবং তিনি বলেন: "আল্লাহ তাআলা সৃষ্টিজগতকে কুফর ও ঈমান থেকে মুক্ত অবস্থায় সৃষ্টি করেছেন৬ এরপর তিনি তাদের সম্বোধন করেছেন এবং তাদের আদেশ ও নিষেধ করেছেন। ফলে যে কুফর করেছে সে তার নিজের কাজ, অস্বীকার এবং সত্যকে প্রত্যাখ্যান করার মাধ্যমে কুফর করেছে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে সাহায্যহীন (খিজলান) ছেড়ে দেওয়ার কারণে। আর যে ঈমান এনেছে সে তার নিজের কাজ, স্বীকৃতি এবং বিশ্বাসের মাধ্যমে ঈমান এনেছে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাকে তাওফিক ও সাহায্য প্রদানের কারণে।"৭।
13- এবং তিনি বলেন: "তিনি আদমের বংশধরদের তাঁর পৃষ্ঠদেশ থেকে অণু সদৃশ বের করে আনলেন, এরপর তাদের বুদ্ধিমান বানালেন এবং তাদের সম্বোধন করলেন। তিনি তাদের ঈমানের আদেশ দিলেন এবং কুফর থেকে নিষেধ করলেন। তখন তারা তাঁর রুবুবিয়্যতের (প্রভুত্বের) স্বীকৃতি দিল, যা ছিল তাদের পক্ষ থেকে ঈমান। তাই তারা সেই ফিতরাতের (প্রকৃতি) ওপর জন্মগ্রহণ করে। আর এরপর যে কুফর করল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিকাদ আইম্মাতুস সালাফ আহলুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ذلك فقد بذل وغيّر، ومن آمن وصدّق فقد ثبت عليه وداوم"1.
14- وقال: "وهو الذي قدّر الأشياء وقضاها ولا يكون في الدنيا ولا في الآخرة شيء إلا بمشيئته وعلمه وقضائه وقدره، وكتبه في اللوح المحفوظ"2.
15- وقال: "لم يجبر أحداً من خلقه على الكفر ولا على الإيمان، ولكن خلقهم أشخاصاً والإيمان والكفر فعل العباد، ويعلم تعالى من يكفر في حال كفره كافراً، فإذا آمن بعد ذلك فإذا علمه مؤمناً أحبه من غير أن يتغيّر علمه"3.
ج- أقوال الإمام أبن حنيفة في الإيمان
1- قال: "والإيمان هو الإقرار والتصديق"4.
2- وقال: "الإيمان إقرار باللسان وتصديق بالجنان والإقرار وحده لا يكون إيماناً"5. ونقله الطحاوي عن أبي حنيفة وصاحبه"6.
3- وقال أبو حنيفة: "والإيمان لا يزيد ولا ينقص"7.
قلت: قوله في عدم زيادة الإيمان ونقصانه وقوله في مسمى الإيمان وأنه تصديق بالجنان وإقرار باللسان وأن العمل خارج عن حقيقة الإيمان.
قوله هذا هو الفارق بين عقيدة الإمام أبي حنيفة في الإيمان وبين عقيدة سائر أئمة الإسلام مالك والشافعي وأحمد وإسحاق والبخاري وغيرهم والحق معهم، وقول أبي حنيفة مجانب للصواب وهو مأجور في
--------------------------------------------
তবে তিনি তা পরিবর্তন ও রদবদল করেছেন; আর যে ব্যক্তি ঈমান এনেছে এবং তা সত্য বলে বিশ্বাস করেছে, সে এর ওপর অবিচল ও স্থায়ী হয়েছে।"১।
১৪- এবং তিনি বলেছেন: "তিনিই সকল বিষয় নির্ধারণ ও ফয়সালা করেছেন। দুনিয়া ও আখিরাতে যা কিছু ঘটে, তা কেবল তাঁর ইচ্ছা, জ্ঞান, ফয়সালা ও তকদির অনুযায়ী ঘটে থাকে; এবং তিনি তা লাওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ করেছেন।"২।
১৫- এবং তিনি বলেছেন: "তিনি তাঁর সৃষ্টির কাউকে কুফরি বা ঈমানের জন্য বাধ্য করেননি। বরং তিনি তাঁদের ব্যক্তি হিসেবে সৃষ্টি করেছেন এবং ঈমান ও কুফরি হলো বান্দারই কাজ। মহান আল্লাহ জানেন যে ব্যক্তি কুফরি অবস্থায় থাকে সে কাফির, এরপর সে যদি ঈমান আনে এবং আল্লাহ তাকে মুমিন হিসেবে জানেন, তবে তাঁর জ্ঞানের কোনো পরিবর্তন ছাড়াই তিনি তাকে ভালোবাসেন।"৩।
গ- ঈমান সম্পর্কে ইমাম আবু হানিফার বক্তব্যসমূহ
১- তিনি বলেছেন: "ঈমান হলো মৌখিক স্বীকৃতি ও অন্তরের বিশ্বাস।"৪।
২- এবং তিনি বলেছেন: "ঈমান হলো মুখে স্বীকৃতি প্রদান এবং অন্তরে বিশ্বাস করা; আর কেবল মৌখিক স্বীকৃতিই ঈমান হতে পারে না।"৫। ইমাম তহাবি এটি আবু হানিফা ও তাঁর দুই সাথী থেকে বর্ণনা করেছেন।"৬।
৩- এবং আবু হানিফা বলেছেন: "ঈমান বাড়ে না এবং কমে না।"৭।
আমি বলছি: ঈমান বৃদ্ধি বা হ্রাস না পাওয়া সম্পর্কে তাঁর উক্তি এবং ঈমানের সংজ্ঞার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য যে এটি হলো অন্তরে বিশ্বাস ও মুখে স্বীকৃতি এবং আমল ঈমানের হাকিকত বা মূল সত্তার বহির্ভূত—
তাঁর এই উক্তিটিই ঈমান সংক্রান্ত আকিদার ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফা এবং ইসলামের অন্যান্য ইমাম—মালেক, শাফেয়ী, আহমাদ, ইসহাক, বুখারি ও অন্যান্যদের আকিদার মধ্যে পার্থক্যের বিষয়। আর সত্য তাঁদের সাথেই রয়েছে। আবু হানিফার বক্তব্যটি সঠিকতা থেকে বিচ্যুত, তবে তিনি এতে প্রতিদান পাবেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিকাদ আইম্মাতুস সালাফ আহলুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ১৯)
الحالين، وقد ذكر ابن عبد البر وابن أبي العزّ ما يشعر أن أبا حنيفة رجع عن قوله والله أعلم1.
د- أقوال الإمام أبي حنيفة في الصحابة:
1- قال الإمام أبو حنيفة: "ولا نذكر أحداً من صحابة الرسول صلى الله عليه وسلم إلا بخير"2.
2- وقال: "ولا نتبرأ من أحد من أصحاب الرسول صلى الله عليه وسلم، ولا نوالي أحداً دون أحد"3.
3- ويقول: "مقام أحدهم مع رسول الله صلى الله عليه وسلم، ساعة واحدة خير من عمل أحدنا جميع عمره وإن طال"4.
4- وقال: "ونقر بأن أفضل هذه الأمة بعد نبينا محمد صلى الله عليه وسلم أبو بكر الصديق ثم عمر ثم عثمان ثم علي رضوان الله عليهم أجمعين"5.
- وقال: "أفضل الناس بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم: أبو بكر وعمر وعثمان وعلي، ثم نكف عن جميع أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، إلا بذكر جميل"6.
هـ- نهيه عن الكلام والخصومات في الدين
1- قال الإمام أبو حنيفة: "أصحاب الأهواء في البصرة كثير، ودخلتها عشرين مرة ونيفاً وربما أقمت بها سنة أو أكثر أو أقل ظاناً أن علم
--------------------------------------------
উভয় অবস্থা, এবং ইবন আবদুল বার ও ইবন আবিল ইয এমন কিছু উল্লেখ করেছেন যা ইঙ্গিত দেয় যে আবু হানিফা তাঁর বক্তব্য থেকে ফিরে এসেছিলেন, আর আল্লাহই ভালো জানেন ১।
ঘ- সাহাবীগণের ব্যাপারে ইমাম আবু হানিফার উক্তিঃ
১- ইমাম আবু হানিফা বলেছেন: "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের কাউকেই কল্যাণ ছাড়া স্মরণ করি না" ২।
২- এবং তিনি বলেছেন: "আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের কারো থেকেই সম্পর্ক ছিন্ন করি না, আর একজনকে ছেড়ে অন্য কারো সাথে বন্ধুত্ব করি না" ৩।
৩- তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে তাঁদের কারো এক মুহূর্তের অবস্থান আমাদের কারো সারা জীবনের আমল অপেক্ষা উত্তম, যদিও সেই আয়ু দীর্ঘ হয়" ৪।
৪- এবং তিনি বলেছেন: "আমরা স্বীকার করি যে, আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর এই উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন আবু বকর সিদ্দীক, তারপর উমর, তারপর উসমান, তারপর আলী, আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন" ৫।
- এবং তিনি বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম হলেন: আবু বকর, উমর, উসমান এবং আলী। অতঃপর আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সকল সাহাবীর ব্যাপারে কেবল সুন্দর আলোচনা ছাড়া অন্য সব কিছু থেকে বিরত থাকি" ৬।
ঙ- দ্বীনের ব্যাপারে কালাম (তর্কশাস্ত্র) ও ঝগড়া-বিবাদ থেকে তাঁর নিষেধ
১- ইমাম আবু হানিফা বলেছেন: "বসরায় প্রবৃত্তি পূজারীদের সংখ্যা অনেক, আমি সেখানে বিশবারেরও বেশি প্রবেশ করেছি এবং কখনো সেখানে এক বছর বা তার কমবেশি অবস্থান করেছি এই ধারণায় যে ইলমে (কালাম)...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিকাদ আইম্মাতুস সালাফ আহলুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২০)
الكلام أجل العلوم"1.
2- وقال: "كنت أنظر في الكلام حتى بلغت مبلغاً يشار إليّ فيه بالأصابع، وكنا نجلس بالقرب من حلقة حماد بن أبي سليمان فجاءتني امرأة فقالت: رجل له امرأة أمة أراد أن يطلقها للسنة كم يطلقها؟.
فلم أدر ما أقول فأمرتها أن تسأل حماداً ثم ترجع فتخبرني فسألت حماداً فقال: يطلقها وهي طاهر من الحيض والجماع تطليقة ثم يتركها حتى تحيض حيضتين فإذا اغتسلت فقد حلّت للأزواج، فرجعت فأخبرتني فقلت: لا حاجة لي في الكلام وأخذت نعلي فجلست إلى حماد"2.
3- وقال: " لعن الله عمرو بن عبيد فإنه أحدث للناس الطريق إلى الكلام فيما لا ينفعهم في الكلام"3.
وسأله رجل وقال: "ما تقول فيما أحدثه الناس في الكلام في الأعراض والأجسام، فقال: "مقالات الفلاسفة عليك بالأثر وطريق السلف، وإيّاك وكل محدثة فإنها بدعة"4.
4- قال حماد ابن أبي حنيفة: "دخل عليّ أبي- رحمه الله يوماً وعندي جماعة من أصحاب الكلام ونحن نتناظر في باب، قد علت أصواتنا فلما سمعت حسَّه في الدار خرجت إليه فقال لي يا حماد من عندك؟ قلت: فلان وفلان وفلان، سمَّيتُ من كان عندي، قال: وفيم أنتم؟ قلت: في باب كذا وكذا، فقال لي: يا حماد دع الكلام- قال: ولم أعهد أبي صاحب تخليط ولا ممن يأمر بالشيء ثم ينهي
--------------------------------------------
কালাম শাস্ত্র হলো শাস্ত্রসমূহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।"১।
২- তিনি বলেছেন: "আমি কালাম শাস্ত্র নিয়ে চর্চা করতাম যতক্ষণ না আমি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছালাম যে আমাকে আঙুল দিয়ে নির্দেশ করা হতো (অর্থাৎ প্রসিদ্ধি লাভ করলাম)। আমরা হাম্মাদ ইবনে আবি সুলায়মানের মজলিসের কাছে বসতাম। একদা এক মহিলা আমার কাছে এসে জিজ্ঞাসা করল: জনৈক ব্যক্তির স্ত্রী হচ্ছে একজন দাসী, সে তাকে সুন্নাহ অনুযায়ী তালাক দিতে চায়, সে তাকে কতবার তালাক দেবে?
আমি কী বলব তা বুঝতে পারলাম না। তাই তাকে আদেশ দিলাম যেন সে হাম্মাদকে জিজ্ঞাসা করে এবং ফিরে এসে আমাকে বিষয়টি জানায়। সে হাম্মাদকে জিজ্ঞাসা করল এবং তিনি বললেন: সে তাকে ঋতুস্রাব ও সহবাসমুক্ত অবস্থায় একবার তালাক দেবে, তারপর তাকে ছেড়ে রাখবে যতক্ষণ না তার দুই ঋতু অতিবাহিত হয়। যখন সে গোসল করবে, তখন সে অন্য স্বামীদের জন্য হালাল হয়ে যাবে। মহিলাটি ফিরে এসে আমাকে সংবাদটি জানাল। আমি বললাম: কালাম শাস্ত্রে আমার কোনো প্রয়োজন নেই। অতঃপর আমি আমার জুতো জোড়া হাতে নিলাম এবং হাম্মাদের মজলিসে গিয়ে বসে পড়লাম।"২।
৩- তিনি আরও বলেছেন: "আল্লাহ আমর ইবনে উবাইদকে লানত করুন, কারণ সে মানুষের জন্য কালাম শাস্ত্রের এমন এক পথ তৈরি করেছে যা কালামের ক্ষেত্রে তাদের কোনো উপকারে আসে না।"৩।
এক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসা করে বললেন: "মানুষ 'আরায' (অস্থায়ী গুণাবলী) ও 'আকসাম' (বস্তু বা দেহ) নিয়ে কালাম শাস্ত্রে যে নতুন কথার উদ্ভব ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে আপনার মত কী? তিনি বললেন: "এগুলো দার্শনিকদের উক্তি। তুমি 'আসার' (সালাফদের বর্ণনা) ও সালাফদের পথ আঁকড়ে ধরো। আর প্রতিটি নতুন সৃষ্ট বিষয় থেকে বেঁচে থাকো, কারণ তা বিদআত।"৪।
৪- আবু হানিফার পুত্র হাম্মাদ ইবনে আবি হানিফা বলেন: "একদিন আমার পিতা—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—আমার কাছে প্রবেশ করলেন। তখন আমার কাছে কালাম শাস্ত্রের একদল লোক ছিল এবং আমরা একটি বিষয়ে বিতর্ক করছিলাম। আমাদের কণ্ঠস্বর উঁচুতে উঠে গিয়েছিল। যখন আমি ঘরে তাঁর উপস্থিতি টের পেলাম, তখন তাঁর কাছে বেরিয়ে গেলাম। তিনি আমাকে বললেন: হে হাম্মাদ! তোমার কাছে কারা? আমি বললাম: অমুক, অমুক এবং অমুক; আমি আমার কাছে যারা ছিল তাদের নাম বললাম। তিনি বললেন: তোমরা কোন বিষয়ে লিপ্ত আছ? আমি বললাম: অমুক অমুক বিষয়ে। তিনি আমাকে বললেন: হে হাম্মাদ! কালাম শাস্ত্র বর্জন করো। (হাম্মাদ) বললেন: আমি আমার পিতাকে কখনো অসংলগ্ন বা তালগোল পাকানো স্বভাবের দেখিনি এবং এমন লোকও তিনি ছিলেন না যিনি কোনো বিষয়ের আদেশ দিয়ে পরে তা থেকে নিষেধ করবেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিকাদ আইম্মাতুস সালাফ আহলুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২১)
عنه. فقلت له: يا أبت ألست كنت تأمرني به، قال: بلى يا بني وأنا اليوم أنهاك عنه، قلت: ولم ذاك، فقال: يا بني إن هؤلاء المختلفين في أبواب من الكلام ممن ترى كانوا على قول واحد ودين واحد حتى نزغ الشيطان بينهم فألقى بينهم العداوة والاختلاف فتباينوا...." 1.
5- وقال أبو حنيفة لأبي يوسف: "إيّاك أن تكلم العامة في أصول الدين من الكلام فإنهم قوم يقلدونك فيشتغلون بذلك"2.
هذه طائفة من أقواله- رحمه الله وما يعتقده في مسائل أصول الدين وموقفه من الكلام والمتكلمين.
--------------------------------------------
...তার থেকে। আমি তাকে বললাম: হে পিতা, আপনি কি আমাকে এটি করতে আদেশ করতেন না? তিনি বললেন: হ্যাঁ হে বৎস, কিন্তু আজ আমি তোমাকে তা থেকে নিষেধ করছি। আমি বললাম: কেন এমন? তিনি বললেন: হে বৎস, ইলমুল কালামের বিভিন্ন অধ্যায়ে যাদেরকে তুমি মতবিরোধ করতে দেখছ, তারা পূর্বে একই মত ও একই দ্বীনের ওপর ছিল, যতক্ষণ না শয়তান তাদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করল এবং তাদের মধ্যে শত্রুতা ও মতভেদ নিক্ষেপ করল, ফলে তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল...। ১।
৫- এবং ইমাম আবু হানিফা আবু ইউসুফকে বললেন: "সাবধান! ইলমুল কালামের মাধ্যমে জনসাধারণের সাথে দ্বীনের মৌলিক বিষয়াবলি নিয়ে আলোচনা করবে না, কারণ তারা তোমাকে অনুসরণ করবে এবং এ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে।" ২।
এগুলো তাঁর (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বাণীসমূহের একটি অংশ এবং দ্বীনের মৌলিক বিষয়াবলিতে তাঁর বিশ্বাস এবং ইলমুল কালাম ও কালামশাস্ত্রবিদদের ব্যাপারে তাঁর অবস্থান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিকাদ আইম্মাতুস সালাফ আহলুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২২)
2- اعتقاد أبي عمرو عبد الرحمن بن عمرو الأوزاعي1-2 المتوفى 157هـ
قال اللالكائي أخبرنا الحسن بن عثمان قال أخبرنا أحمد بن حمدان قال حدثنا بشر بن موسى قال حدثنا معاوية بن عمرو قال حدثنا أبو إسحاق قال: سألت الأوزاعي فقال: اصبر نفسك على السنة وقف حيث وقف القوم وقل بما قالوا وكف عما كفوا عنه واسلك سبيل سلفك الصالح فإنه يسعك ما وسعهم.
وقد كان أهل الشام في غفلة من هذه البدعة حتى قذفها إليهم بعض أهل العراق ممن دخل في تلك البدعة- القول بخلق القرآن- بعدما ردها عليهم فقهاؤهم وعلماؤهم فأشربها قلوب طوائف من أهل الشام واستحلتها ألسنتهم (وأصابهم) ما أصاب غيرهم من الاختلاف فيه.
ولو كان هذا خيراً ما خصصتم به دون أسلافكم فإنه لم يدخر عنهم خير خبىء لكم دونهم لفضل عندكم وهم أصحاب نبيه صلى الله عليه وسلم الذين اختارهم وبعثه فيهم ووصفهم (بما وصفهم) به فقال: {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعاً سُجَّداً يَبْتَغُونَ فَضْلاً مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَاناً} [الفتح: 29] .
--------------------------------------------
২- ইমাম আবু আমর আবদুর রহমান বিন আমর আল-আওযায়ী (রহ.)-এর আকিদা (মৃত্যু ১৫৭ হি.)।
আল-লালকায়ি বলেন: আল-হাসান বিন উসমান আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আহমদ বিন হামদান আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: বিশর বিন মুসা আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: মুয়াবিয়া বিন আমর আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু ইসহাক আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আওযায়ীকে জিজ্ঞাসা করলাম, তখন তিনি বললেন: "সুন্নাহর ওপর নিজেকে অবিচল রাখো, আর তারা (সালাফরা) যেখানে থেমে গিয়েছেন তুমিও সেখানে থেমে যাও। তারা যা বলেছেন তুমিও তা বলো, আর তারা যা থেকে বিরত থেকেছেন তুমিও তা থেকে বিরত থাকো। তোমার নেককার পূর্বসূরিদের পথ অনুসরণ করো; কেননা তারা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছেন তোমার জন্যও তাতে স্বাচ্ছন্দ্য রয়েছে।"
সিরিয়াবাসীরা এই বিদআত থেকে গাফেল ছিল, যতক্ষণ না ইরাকের কিছু লোক তাদের মধ্যে এটি ছড়িয়ে দিয়েছিল যারা এই বিদআতে—অর্থাৎ কুরআন সৃষ্টির মতবাদে—লিপ্ত হয়েছিল। যদিও তাদের ফকিহ ও আলেমগণ এটি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এরপর সিরিয়ার কিছু গোষ্ঠীর অন্তরে তা গেঁথে যায় এবং তাদের জবান তা গ্রহণ করে নেয়। ফলে অন্যান্যদের মতো তাদের মধ্যেও এ বিষয়ে মতপার্থক্য দেখা দেয় যা অন্যদের মাঝেও ঘটেছিল।
যদি এতে কোনো কল্যাণ থাকত, তবে তোমাদের পূর্বসূরিদের বাদ দিয়ে তোমাদের জন্য তা নির্দিষ্ট করা হতো না। কারণ এমন কোনো কল্যাণ তাদের কাছ থেকে সরিয়ে রেখে তোমাদের জন্য জমা রাখা হয়নি যা তোমাদের কোনো বিশেষ শ্রেষ্ঠত্বের কারণে দেওয়া হয়েছে। অথচ তারা ছিলেন তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাথী, যাদের তিনি নির্বাচন করেছিলেন এবং যাদের মাঝে তাঁকে পাঠানো হয়েছিল। তিনি তাদের প্রশংসা করে বলেছেন: "মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর, নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়ালু। তুমি তাদেরকে রুকু ও সিজদাহরত অবস্থায় আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অনুসন্ধান করতে দেখবে।" [আল-ফাতহ: ২৯]
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিকাদ আইম্মাতুস সালাফ আহলুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৩)
3- اعتقاد أبي عبد الله سفيان بن سعيد الثوري رضي الله عنه1 المتوفى سنة 161
قال اللالكائي أخبرنا محمد بن عبد الرحمن بن العباس قال حدثنا أبو الفضل شعيب بن محمد بن الراجيان قال حدثنا علي بن حرب الموصلي- بسر من رأي سنة سبع وخمسين ومائتين- قال سمعت شعيب بن حرب يقول: قلت لأبي عبد الله سفيان بن سعيد الثوري: حدثني بحديث من السنة ينفعني الله عز وجل به فإذا وقفت بين يدي الله تبارك وتعالى وسألني عنه فقال لي من أين أخذت هذا؟ قلت يا رب حدثني بهذا الحديث سفيان الثوري وأخذته عنه فأنجو أنا وتؤاخذ أنت.
فقال يا شعيب هذا توكيد وأي توكيد اكتب:
بسم الله الرحمن الرحيم
القرآن كلام الله غير مخلوق منه بدأ وإليه يعود من قال غير هذا فهو كافر.
والإيمان قول وعمل ونية يزيد وينقص، يزيد بالطاعة وينقص بالمعصية. ولا يجوز القول إلا بالعمل ولا يجوز القول والعمل إلا بالنية ولا يجوز القول والعمل والنية إلا بموافقة السنة.
قال شعيب:
فقلت له يا أبا عبد الله وما موافقة السنة؟
قال: تقدمة الشيخين: أبي بكر وعمر رضي الله عنهما.
--------------------------------------------
৩- ইমাম আবু আব্দুল্লাহ সুফিয়ান ইবনে সাঈদ আস-সাওরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর আকিদা, মৃত্যু ১৬১ হিজরি।
আল-লালকায়ী বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনুল আব্বাস, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আবু আল-ফজল শুয়াইব ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল রাজিয়ান, তিনি বলেন আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন আলী ইবনে হারব আল-মাওসিলি—সামাররা শহরে, ২৫৭ হিজরিতে—তিনি বলেন, আমি শুয়াইব ইবনে হারবকে বলতে শুনেছি: আমি আবু আব্দুল্লাহ সুফিয়ান ইবনে সাঈদ আস-সাওরীকে বললাম: আমাকে সুন্নাহর এমন একটি হাদিস বর্ণনা করুন যার মাধ্যমে মহান আল্লাহ আমাকে উপকৃত করবেন। যেন যখন আমি আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার সামনে দাঁড়াব এবং তিনি আমাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করবেন যে, তুমি এটি কোথা থেকে পেয়েছ? তখন আমি বলব: হে আমার রব, সুফিয়ান সাওরী আমাকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন এবং আমি এটি তাঁর থেকেই গ্রহণ করেছি; ফলে আমি মুক্তি পেয়ে যাব আর আপনার কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হবে।
তিনি বললেন, হে শুয়াইব, এটি তো অনেক বড় অঙ্গীকার! লেখো:
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
কুরআন আল্লাহর কালাম, তা সৃষ্টি নয়। তাঁর থেকেই এর সূচনা এবং তাঁর দিকেই এটি ফিরে যাবে। যে ব্যক্তি এর ব্যতিক্রম কিছু বলবে সে কাফির।
ঈমান হলো কথা, কাজ এবং নিয়তের নাম; যা বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়। আনুগত্যের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় এবং নাফরমানির মাধ্যমে হ্রাস পায়। আমল ব্যতীত কেবল কথা বলা বৈধ নয়, এবং নিয়ত ব্যতীত কথা ও আমল বৈধ নয়, আর সুন্নাহর অনুকূলে হওয়া ব্যতীত কথা, আমল ও নিয়ত কোনোটিই বৈধ নয়।
শুয়াইব বলেন:
আমি তাঁকে বললাম, হে আবু আব্দুল্লাহ, সুন্নাহর অনুকূলে হওয়া বলতে কী বোঝায়?
তিনি বললেন: দুই শাইখ—আবু বকর ও উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-কে অগ্রগণ্য মনে করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিকাদ আইম্মাতুস সালাফ আহলুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৪)
يا شعيب: لا ينفعك ما كتبت حتى تقدم عثماناً وعلياً على من بعدهما.
يا شعيب بن حرب: لا ينفعك ما كتبت لك حتى لا تشهد لأحد بجنة ولا نار إلا للعشرة الذين شهد لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم وكلهم من قريش.
يا شعيب بن حرب: لا ينفعك ما كتبت لك حتى ترى المسح على الخفين دون خلعهما أعدل عندك من غسل قدميك.
يا شعيب بن حرب: ولا ينفعك ما كتبت حتى يكون إخفاء بسم الله الرحمن الرحيم في الصلاة أفضل عندك من أن تجهر بهما.
يا شعيب بن حرب: لا ينفعك الذي كتبت حتى تؤمن بالقدر خيره وشره، وحلوه ومره كل من عند الله عز وجل.
يا شعيب بن حرب: والله ما قالت القدرية ما قال الله ولا ما قالت الملائكة ولا ما قالت النبيون (ولا ما قال أهل الجنة) ولا ما قال أهل النار ولا ما قال أخوهم إبليس لعنه الله.
قال الله عز وجل {أَفَرَأَيْتَ مَنِ اتَّخَذَ إِلَهَهُ هَوَاهُ وَأَضَلَّهُ اللَّهُ عَلَى عِلْمٍ وَخَتَمَ عَلَى سَمْعِهِ وَقَلْبِهِ وَجَعَلَ عَلَى بَصَرِهِ غِشَاوَةً فَمَنْ يَهْدِيهِ مِنْ بَعْدِ اللَّهِ أَفَلا تَذَكَّرُونَ} [الجاثية: 23] . وقال تعالى: {وَمَا تَشَاءُونَ إِلا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ} [الإنسان: 30] . وقال تعالى: {قَالُوا سُبْحَانَكَ لا عِلْمَ لَنَا إِلا مَا عَلَّمْتَنَا إِنَّكَ أَنْتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ} [البقرة: 32] .
وقال نوح عليه السلام: {وَلا يَنْفَعُكُمْ نُصْحِي إِنْ أَرَدْتُ أَنْ أَنْصَحَ لَكُمْ إِنْ كَانَ اللَّهُ يُرِيدُ أَنْ يُغْوِيَكُمْ هُوَ رَبُّكُمْ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ} [هود: 34] .
وقال شعيب عليه السلام:
{وَمَا يَكُونُ لَنَا أَنْ نَعُودَ فِيهَا إِلا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ رَبُّنَا وَسِعَ رَبُّنَا كُلَّ شَيْءٍ عِلْماً} [الأعراف: 89] .
হে শুআইব: তুমি যা লিখেছ তা তোমার কোন উপকারে আসবে না যতক্ষণ না তুমি উসমান ও আলীকে তাদের পরবর্তী ব্যক্তিদের ওপর প্রাধান্য দাও।
হে শুআইব ইবনে হারব: আমি তোমার জন্য যা লিখেছি তা তোমার কোন উপকারে আসবে না যতক্ষণ না তুমি সেই দশজন ব্যক্তি ব্যতীত আর কারো জান্নাতী বা জাহান্নামী হওয়ার সাক্ষ্য দাও যাদের জন্য আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং তারা সবাই কুরাইশ বংশের।
হে শুআইব ইবনে হারব: আমি তোমার জন্য যা লিখেছি তা তোমার কোন উপকারে আসবে না যতক্ষণ না তুমি মোজা না খুলে তার ওপর মাসেহ করাকে তোমার দুই পা ধৌত করার চেয়ে অধিক ন্যায়সঙ্গত মনে করো।
হে শুআইব ইবনে হারব: তুমি যা লিখেছ তা তোমার কোন উপকারে আসবে না যতক্ষণ না সালাতে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' নিম্নস্বরে পাঠ করা তোমার কাছে উচ্চস্বরে পাঠ করার চেয়ে অধিক উত্তম না হয়।
হে শুআইব ইবনে হারব: তুমি যা লিখেছ তা তোমার কোন উপকারে আসবে না যতক্ষণ না তুমি তাকদিরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করো—এর ভালো ও মন্দ, এর মিষ্টতা ও তিক্ততা—সবই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে।
হে শুআইব ইবনে হারব: আল্লাহর শপথ, কাদারিয়াহ সম্প্রদায় তা বলেনি যা আল্লাহ বলেছেন, যা ফেরেশতারা বলেছেন, যা নবীগণ বলেছেন, (যা জান্নাতবাসীরা বলেছে), যা জাহান্নামীরা বলেছে, এমনকি তাদের ভাই ইবলিস (আল্লাহর অভিশাপ তার ওপর) যা বলেছে তাও তারা বলেনি।
মহান আল্লাহ বলেছেন {তুমি কি তাকে দেখেছ, যে তার প্রবৃত্তিকে নিজ ইলাহ বানিয়ে নিয়েছে? আল্লাহ তাকে জেনে-বুঝে পথভ্রষ্ট করেছেন এবং তার কান ও অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন আর তার চোখের ওপর রেখেছেন পর্দা। অতএব আল্লাহর পর কে তাকে পথপ্রদর্শন করবে? তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?} [আল-জাসিয়াহ: ২৩]। এবং মহান আল্লাহ আরও বলেন: {তোমরা তা-ই চাও যা আল্লাহ চান} [আল-ইনসান: ৩০]। এবং তিনি আরও বলেন: {তারা বলল, আপনি পবিত্র! আপনি আমাদের যা শিখিয়েছেন তা ছাড়া আমাদের কোনো জ্ঞান নেই। নিশ্চয়ই আপনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়} [আল-বাকারা: ৩২]।
এবং নূহ (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: {আর আমি তোমাদের উপদেশ দিতে চাইলেও আমার উপদেশ তোমাদের কোনো উপকারে আসবে না, যদি আল্লাহ তোমাদের পথভ্রষ্ট করতে চান। তিনিই তোমাদের রব এবং তাঁরই কাছে তোমাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে} [হুদ: ৩৪]।
এবং শুআইব (আলাইহিস সালাম) বলেছেন:
{তাতে ফিরে যাওয়া আমাদের জন্য সম্ভব নয়, তবে আমাদের রব আল্লাহ চাইলে ভিন্ন কথা। আমাদের রবের জ্ঞান প্রতিটি বস্তুকে পরিব্যাপ্ত করে আছে} [আল-আ’রাফ: ৮৯]।
(খণ্ড: ১)
ইতিকাদ আইম্মাতুস সালাফ আহলুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وقال أهل الجنة:
{الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ} [الأعراف: 43] .
وقال أهل النار:
{قَالُوا رَبَّنَا غَلَبَتْ عَلَيْنَا شِقْوَتُنَا وَكُنَّا قَوْماً ضَالِّينَ} [المؤمنون: 106] .
وقال أخوهم إبليس لعنه الله:
{رَبِّ بِمَا أَغْوَيْتَنِي} [الحجر: 39] .
يا شعيب: لا ينفعك ما كتبت حتى ترى: الصلاة خلف كل بر وفاجر. والجهاد ماض إلى يوم القيامة، والصبر تحت لواء السلطان جار أم عدل.
قال شعيب: فقلت لسفيان يا أبا عبد الله: الصلاة كلها؟
قال: لا. ولكن صلاة الجمعة والعيدين صل خلف من أدركت وأما سائر ذلك فأنت مخير لا تصل إلا خلف من تثق به وتعلم أنه من أهل السنة والجماعة.
يا شعيب بن حرب: إذا وقفت بين يدي الله عز وجل فسألك عن هذا الحديث فقل: يا رب حدثني بهذا الحديث سفيان بن سعيد الثوري ثم خل بيني وبين ربي عز وجل.
এবং জান্নাতবাসীরা বলবে:
“সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন। আল্লাহ আমাদের দিশা না দিলে আমরা হেদায়েত পেতাম না।” [আল-আরাফ: ৪৩] ।
এবং জাহান্নামবাসীরা বলবে:
“হে আমাদের রব! আমাদের দুর্ভাগ্য আমাদের ওপর প্রবল হয়েছিল এবং আমরা এক বিভ্রান্ত জাতি ছিলাম।” [আল-মুমিনুন: ১০৬] ।
এবং তাদের ভাই ইবলিস—আল্লাহর লানত তার ওপর—বলেছে:
“হে আমার রব! যেহেতু আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন।” [আল-হিজর: ৩৯] ।
হে শুয়াইব! তুমি যা লিখেছ তা তোমার কোনো উপকারে আসবে না যতক্ষণ না তুমি বিশ্বাস করো যে: প্রত্যেক পুণ্যবান ও পাপাচারী ব্যক্তির পেছনে সালাত আদায় করা বৈধ; জিহাদ কিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে; এবং শাসকের পতাকাতলে ধৈর্য ধারণ করতে হবে, সে অত্যাচারী হোক বা ন্যায়পরায়ণ।
শুয়াইব বলেন: আমি সুফিয়ানকে বললাম, হে আবু আব্দুল্লাহ! সকল সালাতই কি এমন?
তিনি বললেন: না। তবে জুমুআ এবং দুই ঈদের সালাত যাকে পাওয়া যায় তার পেছনেই আদায় করো। আর অন্যান্য সালাতের ক্ষেত্রে তোমার এখতিয়ার রয়েছে; তুমি কেবল এমন ব্যক্তির পেছনেই সালাত আদায় করো যাকে তুমি বিশ্বাস করো এবং জানো যে সে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের অন্তর্ভুক্ত।
হে শুয়াইব ইবনে হারব! যখন তুমি মহান আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে এবং তিনি তোমাকে এই হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন, তখন তুমি বলো: হে আমার রব! সুফিয়ান ইবনে সাঈদ আস-সাওরি আমাকে এই হাদিস বর্ণনা করেছেন। অতঃপর বিষয়টি আমার ও আমার রবের ওপর ছেড়ে দাও।
(খণ্ড: ১)
ইতিকাদ আইম্মাতুস সালাফ আহলুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৬)
4- اعتقاد الإمام مالك بن أنس (179) هـ
أ- قوله في التوحيد:
(1) أخرج الهروي عن الشافعي قال: سُئل مالك عن الكلام والتوحيد، فقال مالك: "محال أن يظن بالنبي صلى الله عليه وسلم، أنه علَّم أمته الاستنجاء ولم يعلمهم التوحيد، والتوحيد ما قاله النبي صلى الله عليه وسلم: "أُمرت أن أُقاتل الناس حتى يقولوا لا إله إلا الله" 1 فما عصم به المال والدم حقيقة التوحيد"2.
(2) وأخرج الدارقطني عن الوليد بن مسلم قال: "سألت مالكاً والثوري والأوزاعي والليث بن سعد عن الأخبار في الصفات فقالوا أمروها كما جاءت"3.
(3) وقال ابن عبد البر: "سُئل مالك أيُرى الله يوم القيامة؟ فقال: نعم. يقول الله عز وجل: {وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ * إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ} 4. وقال لقوم آخرين: {كَلا إِنَّهُمْ عَنْ رَبِّهِمْ يَوْمَئِذٍ لَمَحْجُوبُونَ} 5.6
وأورد القاضي عياض في ترتيب المدارك7 عن ابن
--------------------------------------------
৪- ইমাম মালিক ইবনে আনাস (১৭৯ হিজরী)-এর আকিদা
ক- তাওহীদ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য:
(১) আল-হারাওয়ী ইমাম শাফিঈ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইমাম মালিককে কালাম শাস্ত্র (দর্শন) এবং তাওহীদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তখন মালিক বললেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে এমন ধারণা করা অসম্ভব যে, তিনি তাঁর উম্মতকে ইসতিনজা (শৌচকার্য) শিক্ষা দিয়েছেন কিন্তু তাদের তাওহীদ শিক্ষা দেননি। আর তাওহীদ হলো তা-ই যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: 'আমি মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি যতক্ষণ না তারা বলে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই)' ১ সুতরাং যার মাধ্যমে ধন-সম্পদ ও রক্ত নিরাপদ হয়, তা-ই তাওহীদের প্রকৃত হাকীকত।" ২
(২) আদ-দারাকুতনী ওয়ালিদ ইবনে মুসলিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি মালিক, সাওরী, আওযাঈ এবং লাইস ইবনে সা'দকে আল্লাহর গুণাবলী সম্পর্কিত হাদীসগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তারা সকলেই বলেছিলেন: সেগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই (অপরিবর্তিত অবস্থায়) অতিক্রম করতে দাও।" ৩
(৩) ইবনে আবদিল বার বলেন: "মালিককে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কিয়ামতের দিন কি আল্লাহকে দেখা যাবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। আল্লাহ আযযা ওয়া জাল বলেন: {সেদিন অনেক মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে। তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে} ৪। আর অন্য একদল সম্পর্কে তিনি বলেছেন: {কখনোই নয়, নিশ্চয় তারা সেদিন তাদের রব থেকে পর্দার অন্তরালে (বঞ্চিত) থাকবে} ৫।" ৬
আর কাজী আইয়াদ 'তারতীবুল মাদারিক' ৭ গ্রন্থে ইবনে
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিকাদ আইম্মাতুস সালাফ আহলুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৭)
نافع1 وأشهب2 قالا: وأحدهم يزيد على الآخر يا أبا عبد الله: {وُجُوهٌ يَوْمَئِذٍ نَاضِرَةٌ * إِلَى رَبِّهَا نَاظِرَةٌ} ينظرون إلى الله؟ قال: نعم بأعينهم هاتين؛ فقلت له: فإن قوماً يقولون لا ينظر إلى الله، إن ناظرة بمعنى منتظرة إلى الثواب قال: كذبوا بل ينظر إلى الله، أما سمعت قول موسى عليه السلام: {رَبِّ أَرِنِي أَنْظُرْ إِلَيْكَ} 3 أفترى موسى سأل ربه محالاً؟ فقال الله: {لَنْ تَرَانِي} 4 أي في الدنيا لأنها دار فناء، ولا ينظر ما يبقى بما يفنى، فإذا صاروا إلى دار البقاء نظروا بما يبقى إلى ما يبقى وقال الله: {كَلا إِنَّهُمْ عَنْ رَبِّهِمْ يَوْمَئِذٍ لَمَحْجُوبُونَ} 5.
وأخرج أبو نعيم عن جعفر بن عبد الله قال: "كنا عند مالك بن أنس فجاءه رجل فقال: يا أبا عبد الله، الرحمن على العرش استوى، كيف استوى؟
فما وجد6 مالك من شيء ما وجد من مسألته، فنظر إلى الأرض وجعل ينكت بعود في يده حتى علاه الرحضاء -يعني العرق- ثم رفع رأسه ورمى بالعود وقال: الكيف منه غير معقول، والاستواء منه
--------------------------------------------
নাফে১ এবং আশহাব২ বলেন, তাদের একজন অন্যজনের চেয়ে বর্ণনায় কিছুটা বাড়িয়ে বলেছেন: হে আবু আব্দুল্লাহ, {সেদিন অনেক মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে, তারা তাদের রবের দিকে তাকিয়ে থাকবে} তারা কি আল্লাহর দিকে তাকাবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তাদের এই দুই চোখের মাধ্যমে। তখন আমি তাঁকে বললাম: একদল লোক বলে যে তারা আল্লাহর দিকে তাকাবে না, এখানে ‘তাকানো’ অর্থ হলো সওয়াবের জন্য ‘অপেক্ষা করা’। তিনি বললেন: তারা মিথ্যা বলেছে, বরং তারা আল্লাহর দিকে তাকাবে। তুমি কি মুসা আলাইহিস সালামের কথা শোননি: {হে আমার রব! আমাকে দর্শন দিন, আমি আপনাকে দেখব}৩। তুমি কি মনে করো যে মুসা তাঁর রবের কাছে অসম্ভব কোনো কিছু চেয়েছিলেন? তখন আল্লাহ বললেন: {তুমি আমাকে দেখতে পাবে না}৪ অর্থাৎ দুনিয়াতে, কারণ এটি নশ্বর জগত, আর যা নশ্বর তা দিয়ে যা অবিনশ্বর তাকে দেখা যায় না। অতঃপর যখন তারা অবিনশ্বর জগতে যাবে, তখন তারা অবিনশ্বর (অঙ্গ) দিয়ে অবিনশ্বর সত্তার দিকে তাকাবে। আর আল্লাহ বলেছেন: {কখনোই নয়, নিশ্চয়ই সেদিন তারা তাদের রব থেকে পর্দার অন্তরালে থাকবে}৫।
আবু নুআইম জাফর বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমরা মালিক বিন আনাসের কাছে ছিলাম, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি এসে বলল: হে আবু আব্দুল্লাহ, রহমান আরশের উপর উঠেছেন, তিনি কীভাবে উঠেছেন?
মালিক কোনো কিছুতেই এতোটা বিচলিত হননি যতটা এই ব্যক্তির প্রশ্নে হয়েছিলেন। তিনি মাটির দিকে তাকিয়ে রইলেন এবং হাতের একটি কাঠি দিয়ে মাটি খুঁড়তে লাগলেন, এমনকি তিনি ঘামে ভিজে গেলেন। তারপর তিনি মাথা তুললেন এবং কাঠিটি ছুড়ে ফেলে দিয়ে বললেন: ‘কীভাবে’ তা বুদ্ধিগ্রাহ্য নয়, আর ‘উঠা’ বিষয়টি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিকাদ আইম্মাতুস সালাফ আহলুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৮)
غير مجهول، والإيمان به واجب، والسؤال عنه بدعة وأظنك صاحب بدعة وأمر به فأخرج"1.
(5) وأخرج أبو نعيم عن يحيى بن الربيع قال: "كنت عند مالك بن أنس ودخل عليه رجل فقال يا أبا عبد الله، ما تقول فيمن يقول القرآن مخلوق؟
فقال مالك: زنديق2 فاقتلوه، فقال: يا أبا عبد الله إنما أحكي كلاماً سمعته، فقال: لم أسمعه من أحد إنما سمعته منك، وعظم هذا القول"3.
(6) واخرج ابن عبد البر عن عبد الله بن نافع قال: "كان مالك بن أنس يقول من قال القرآن مخلوق يوجع ضرباً ويحبس حتى يتوب"4.
(7) وأخرج أبو داود عن عبد الله بن نافع قال: "قال مالك: الله في السماء وعلمه في كل مكان"5.
--------------------------------------------
অজানা নয়, আর এর ওপর ঈমান আনা ওয়াজিব এবং এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা বিদআত। আমি তোমাকে একজন বিদআতী বলে মনে করি। অতঃপর তিনি তাকে বের করে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন।"১।
(৫) আবু নুয়াইম ইয়াহইয়া ইবনুর রাবী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি মালিক ইবনে আনাসের নিকট ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে প্রবেশ করে বলল: হে আবু আব্দুল্লাহ, যে ব্যক্তি বলে কুরআন মাখলুক (সৃষ্ট), তার ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?
মালিক বললেন: সে একজন যিনদীক২, তাকে তোমরা হত্যা করো। লোকটি বলল: হে আবু আব্দুল্লাহ, আমি তো কেবল একটি কথা বর্ণনা করছি যা আমি শুনেছি। তিনি বললেন: আমি এটি কারো থেকে শুনিনি, বরং তোমার থেকেই শুনলাম। তিনি এই বক্তব্যকে অত্যন্ত গুরুতর মনে করলেন"৩।
(৬) ইবনে আব্দিল বার আব্দুল্লাহ ইবনে নাফে থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "মালিক ইবনে আনাস বলতেন: যে ব্যক্তি বলে কুরআন মাখলুক, তাকে ব্যথাদায়ক প্রহার করা হবে এবং তওবা করা পর্যন্ত বন্দী রাখা হবে"৪।
(৭) আবু দাউদ আব্দুল্লাহ ইবনে নাফে থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "মালিক বলেছেন: আল্লাহ আসমানে রয়েছেন এবং তাঁর জ্ঞান সব জায়গায় বিদ্যমান"৫।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিকাদ আইম্মাতুস সালাফ আহলুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ২৯)
ب- قوله في القدر:
(1) أخرج أبو نعيم عن ابن وهب1 قال: "سمعت مالكاً يقول لرجل سألتني أمس عن القدر؟ قال: نعم، قال: إن الله تعالى يقول: {وَلَوْ شِئْنَا لآتَيْنَا كُلَّ نَفْسٍ هُدَاهَا وَلَكِنْ حَقَّ الْقَوْلُ مِنِّي لأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ} 2.
فلا بد أن يكون ما قال الله تعالى"3.
(2) وقال القاضي عياض: "سُئل الإمام مالك عن القدرية مَن هم؟ قال: من قال: ما خلق المعاصي، وسُئل كذلك عن القدرية؟ قال: هم الذين يقولون إن الاستطاعة إليهم إن شاءوا أطاعوا وإن شاءوا عصوا"4.
(3) وأخرج ابن أبي عاصم عن سعيد بن عبد الجبار قال: "سمعت مالك بن أنس يقول: رأي فيهم أن يستتابوا فإن تابوا وإلا قتلوا- يعني القدرية-"5.
(4) وقال ابن عبد البر: "قال مالك: ما رأيت أحداً من أهل القدر إلا أهل سخافة وطيش وخفة"6.
(5) وأخرج ابن أبي عاصم عن مروان بن محمد الطاطري قال: "سمعت مالك بن أنس يسأل عن تزويج القدري؟ فقرأ: {وَلَعَبْدٌ مُؤْمِنٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكٍ} 7
… "8.
--------------------------------------------
খ- তাকদীর প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য:
(১) আবু নুআইম ইবন ওয়াহব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি মালিককে এক ব্যক্তির উদ্দেশ্যে বলতে শুনেছি, যে আমাকে গতকাল তাকদীর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল? তিনি বললেন: হ্যাঁ, এরপর তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি ইচ্ছা করলে প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার সঠিক পথ প্রদর্শন করতাম; কিন্তু আমার এই কথা সুনিশ্চিত যে, আমি অবশ্যই জিন ও মানুষ উভয় দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করব}।
সুতরাং আল্লাহ তাআলা যা বলেছেন তা অবশ্যই বাস্তবায়িত হতে হবে।"
(২) কাজী ইয়াদ বলেছেন: "ইমাম মালিককে কাদারিয়াদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তারা কারা? তিনি বললেন: যারা বলে যে, আল্লাহ পাপ সৃষ্টি করেননি। তাকে আবারও কাদারিয়াদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: তারা হলো সেই সব লোক যারা বলে যে, সক্ষমতা তাদের নিজেদের কাছেই; তারা চাইলে আনুগত্য করে এবং চাইলে অবাধ্য হয়।"
(৩) ইবন আবি আসিম সাঈদ ইবন আবদুল জব্বার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি মালিক ইবন আনাসকে কাদারিয়াদের সম্পর্কে বলতে শুনেছি যে, তাদের বিষয়ে আমার অভিমত হলো—তাদের তওবা করতে বলা হবে; যদি তারা তওবা করে তবে ভালো, অন্যথায় তাদের হত্যা করা হবে।"
(৪) ইবন আবদুল বার বলেছেন: "মালিক বলেছেন: আমি কাদারিয়াদের মাঝে নির্বুদ্ধিতা, চপলতা এবং হালকা স্বভাবের লোক ছাড়া আর কাউকে দেখিনি।"
(৫) ইবন আবি আসিম মারওয়ান ইবন মুহাম্মদ আত-তাতারি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি মালিক ইবন আনাসকে কাদারিয়াদের সাথে বিয়ে দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি। তখন তিনি পাঠ করলেন: {আর একজন মুমিন দাস একজন মুশরিকের চেয়ে উত্তম...}।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিকাদ আইম্মাতুস সালাফ আহলুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩০)
(6) وقال القاضي عياض: قال مالك: لا تجوز شهادة القدري الذي يدعو1، ولا الخارجي والرافضي"2.
(7) وقال القاضي عياض: "سُئل مالك عن أهل القدر أنكف عن كلامهم؟ قال: نعم إذا كان عارفاً بما هو عليه، وفي رواية أخرى قال: لا يصلي خلفهم ولا يقبل عنهم الحديث وإن وافيتموهم في ثغر فأخرجوهم منه"3.
جـ- قوله في الإيمان:
(1) أخرج ابن عبد البر عن عبد الرزاق بن همام قال: "سمعت ابن جريج4 وسفيان الثوري ومعمر بن راشد وسفيان بن عيينة ومالك بن أنس يقولون: الإيمان قول وعمل يزيد وينقص"5.
(2) وأخرج أبو نعيم عن عبد الله بن نافع قال: "كان مالك بن أنس يقول: الإيمان قول وعمل"6.
(3) وأخرج ابن عبد البر عن أشهب بن عبد العزيز قال: "قال مالك: فقام الناس يصلون نحو بيت المقدس ستة عشر شهراً، ثم أُمروا بالبيت الحرام فقال الله تعالى: {وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ} 7 أي صلاتكم إلى بيت المقدس، قال مالك: وإني لأذكر بهذه قول المرجئه:
--------------------------------------------
(৬) এবং কাযী ইয়াদ বলেন: মালিক বলেছেন: "যে কাদারিয়া তার বিদআতের দিকে আহ্বান করে১, তার সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য নয়, এবং খারেজী ও রাফেজীদের সাক্ষ্যও গ্রহণযোগ্য নয়"২।
(৭) এবং কাযী ইয়াদ বলেন: "মালিককে কাদারিয়াপন্থীদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, আমি কি তাদের সাথে কথা বলা বন্ধ করব? তিনি বললেন: হ্যাঁ, যদি সে তার ভ্রান্ত মতবাদ সম্পর্কে অবগত হয়। অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেছেন: তাদের পেছনে সালাত পড়বে না এবং তাদের নিকট থেকে হাদিস গ্রহণ করবে না। আর যদি তোমরা তাদেরকে সীমান্ত এলাকায় পাও, তবে সেখান থেকে তাদেরকে বের করে দাও"৩।
গ- ঈমান সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য:
(১) ইবন আব্দুল বার আব্দুর রাজ্জাক বিন হাম্মাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি ইবন জুরাইজ৪, সুফিয়ান আস-সাওরী, মা'মার বিন রাশিদ, সুফিয়ান বিন উয়াইনা এবং মালিক বিন আনাসকে বলতে শুনেছি: ঈমান হলো কথা ও কাজ, যা বৃদ্ধি পায় এবং হ্রাস পায়"৫।
(২) আবু নুয়াইম আব্দুল্লাহ বিন নাফে' থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "মালিক বিন আনাস বলতেন: ঈমান হলো কথা ও কাজ"৬।
(৩) ইবন আব্দুল বার আশহাব বিন আব্দুল আজিজ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "মালিক বলেছেন: লোকেরা ষোল মাস পর্যন্ত বায়তুল মাকদিসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছিল, তারপর তাদেরকে বায়তুল হারামের দিকে মুখ করার নির্দেশ দেওয়া হলো। তখন আল্লাহ তাআলা বললেন: {এবং আল্লাহ তোমাদের ঈমানকে বিনষ্ট করবেন না} ৭ অর্থাৎ বায়তুল মাকদিসের দিকে তোমাদের আদায়কৃত সালাত। মালিক বলেন: আমি এর মাধ্যমে মুরজিয়াদের মতবাদকে স্মরণ করিয়ে দেই:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিকাদ আইম্মাতুস সালাফ আহলুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩১)
إن الصلاة ليست من الإيمان"1.
د- قوله في الصحابة:
(1) أخرج أبو نعيم عن عبد الله العنبري2 قال: "قال مالك بن أنس: من تَنَقَّصَ أحداً من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، أو كان في قلبه عليهم غِل، فليس له حق في فيء المسلمين، ثم تلا قوله تعالى: {وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالأِيمَانِ وَلا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلاً لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَؤُوفٌ رَحِيمٌ} 3. فمن تَنَقَّصهم أو كان في قلبه عليهم غل، فليس له في الفيء حق"4.
(2) وأخرج أبو نعيم عن رجل من ولد الزبير5 قال: "كنا عند مالك - فذكروا رجلاً يَتَنَقَّص أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقرأ مالك هذه الآية: {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعاً سُجَّداً يَبْتَغُونَ فَضْلاً مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَاناً سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ ذَلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَمَثَلُهُمْ فِي الْأِنْجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوَى عَلَى سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ} 6. فقال مالك: "من أصبح في قلبه غيظ على أحد من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقد أصابته الآية"7.
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই সালাত ঈমানের অংশ নয়"১।
দ- সাহাবীদের সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য:
(১) আবু নুয়াইম আবদুল্লাহ আল-আনবারী২ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "মালিক ইবনে আনাস বলেছেন: যে ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের মধ্য থেকে কাউকে তুচ্ছজ্ঞান করবে, অথবা যার হৃদয়ে তাদের প্রতি কোনো বিদ্বেষ থাকবে, মুসলিমদের ফায়-তে (যুদ্ধলব্ধ বা রাষ্ট্রীয় সম্পদ) তার কোনো অধিকার নেই। এরপর তিনি মহান আল্লাহর এই বাণী তিলাওয়াত করেন: {আর যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে: হে আমাদের রব! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানের সাথে আমাদের অগ্রবর্তী হয়েছেন, আর মুমিনদের প্রতি আমাদের হৃদয়ে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! নিশ্চয়ই আপনি অত্যন্ত দয়ালু, পরম করুণাময়} ৩। সুতরাং যে তাদের তুচ্ছজ্ঞান করবে অথবা যার হৃদয়ে তাদের প্রতি বিদ্বেষ থাকবে, ফায়-তে তার কোনো অধিকার নেই"৪।
(২) আবু নুয়াইম জুবাইরের বংশধর এক ব্যক্তি৫ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা মালিকের কাছে ছিলাম - তখন তারা এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করলেন যে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের তুচ্ছজ্ঞান করত। তখন মালিক এই আয়াতটি পাঠ করলেন: {মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর, নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়ালু। আপনি তাদের রুকু ও সিজদাবনত অবস্থায় আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করতে দেখবেন। তাদের চিহ্ন তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার প্রভাবে বিদ্যমান। তাওরাতে তাদের দৃষ্টান্ত এরূপ এবং ইঞ্জিলে তাদের দৃষ্টান্ত এমন একটি চারাগাছের মতো, যা তার অঙ্কুর বের করে, অতঃপর তা শক্ত হয়, এরপর তা মোটা হয় এবং নিজ কাণ্ডের ওপর উঠে দাঁড়ায়, যা কৃষকদের আনন্দ দেয়, যাতে তিনি তাদের দ্বারা কাফিরদের অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি করতে পারেন} ৬। মালিক বললেন: "যার হৃদয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের কারো প্রতি অন্তর্জ্বালা বা ক্রোধ জন্মাবে, এই আয়াতটি তার ওপর আপতিত হয়েছে"৭।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিকাদ আইম্মাতুস সালাফ আহলুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩২)
(3) وأورد القاضي عياض عن أشهب بن عبد العزيز قال: "كنا عند مالك إذ وقف عليه رجل من العلويين وكانوا يقبلون على مجلسه فناداه: يا أبا عبد الله فأشرف له مالك، ولم يكن إذا ناداه أحد يجيبه أكثر من أن يشرف برأسه، فقال له الطالبي: إني أريد أن أجعلك حجة فيما بيني وبين الله، إذا قدمت عليه فسألني، قلت له: مالك قال لي.
- فقال له: قل.
- فقال: من خير الناس بعد رسول الله صلى الله عليه وسلم؟
- قال: أبو بكر، قال العلوي: ثم مَن؟ قال مالك: ثم عمر. قال العلوي: ثم مَن؟ قال: الخليفة المقتول ظلماً، عثمان قال العلوي: والله لا أجالسك أبداً.
- قال له مالك: فالخيار إليك"1.
هـ- نهيه عن الكلام والخصومات في الدين:
(1) أخرج ابن عبد البر عن مصعب بن عبد الله الزبيري2 قال: "كان مالك بن أنس يقول: الكلام في الدين أكرهه ولم يزل أهل بلدنا يكرهونه وينهون عنه، نحو الكلام في رأي جهم والقدر وكل ما أشبه ذلك، ولا يحب الكلام إلا فيما تحته عمل، فأما الكلام في دين الله وفي الله عز وجل فالسكوت أحَبُّ إليَّ لأني رأيت أهل بلدنا ينهون عن الكلام في الدين إلا فيما تحته عمل"3.
(2) وأخرج أبو نعيم عن عبد الله بن نافع قال: "سمعت مالكاً يقول: لو
--------------------------------------------
(৩) এবং কাজী আইয়াজ আশহাব ইবনে আব্দুল আজিজ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা মালিকের কাছে ছিলাম, এমতাবস্থায় আলীয়্যীনদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে দাঁড়ালেন—তাঁরা তাঁর মজলিসে আসতেন—অতঃপর তিনি তাঁকে সম্বোধন করে বললেন: হে আবু আব্দুল্লাহ! তখন মালিক তাঁর দিকে মাথা তুলে তাকালেন; সাধারণত কেউ তাঁকে ডাকলে তিনি মাথা তোলার চেয়ে বেশি কোনো উত্তর দিতেন না। তখন তালিবী ব্যক্তিটি তাঁকে বললেন: আমি আপনাকে আমার এবং আল্লাহর মাঝে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করতে চাই; যখন আমি আল্লাহর নিকট উপস্থিত হব এবং তিনি আমাকে জিজ্ঞাসা করবেন, তখন আমি তাঁকে বলব যে মালিক আমাকে এটি বলেছেন।
- মালিক তাঁকে বললেন: বলো।
- তিনি বললেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরে মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কে?
- তিনি বললেন: আবু বকর। আলভী ব্যক্তিটি বললেন: তারপর কে? মালিক বললেন: তারপর উমর। আলভী ব্যক্তিটি বললেন: তারপর কে? তিনি বললেন: অন্যায়ভাবে নিহত খলিফা উসমান। আলভী ব্যক্তিটি বললেন: আল্লাহর কসম, আমি আর কখনো আপনার সাথে বসব না।
- মালিক তাঁকে বললেন: তবে সিদ্ধান্ত তোমারই।" ১।
ঙ- দ্বীনের মধ্যে কালাম (তর্কশাস্ত্র) ও বিবাদ থেকে তাঁর নিষেধ করা:
(১) ইবনে আব্দুল বার মুসআব ইবনে আব্দুল্লাহ আল-যুবায়রী ২ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "মালিক ইবনে আনাস বলতেন: দ্বীনের বিষয়ে কালাম (তর্ক-বিতর্ক) আমি অপছন্দ করি। আমাদের শহরের (মদিনার) অধিবাসীরা সর্বদা এটি অপছন্দ করতেন এবং এটি থেকে নিষেধ করতেন, যেমন জাহম-এর মতবাদ, কদর (তকদির) এবং এই জাতীয় সকল বিষয়। তিনি কোনো বিষয়ে কালাম বা আলোচনা পছন্দ করতেন না যদি না তার পেছনে কোনো আমল বা কর্ম নিহিত থাকে। আর আল্লাহর দ্বীন এবং মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহ সম্পর্কে কালাম বা আলোচনার চেয়ে নীরব থাকাই আমার নিকট অধিক প্রিয়; কারণ আমি আমাদের শহরের আলেমদের দেখেছি যে তাঁরা দ্বীনের বিষয়ে কালাম করতে নিষেধ করতেন, যদি না তার অধীনে কোনো আমল থাকে।" ৩।
(২) এবং আবু নুয়াইম আব্দুল্লাহ ইবনে নাফি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি মালিককে বলতে শুনেছি: যদি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিকাদ আইম্মাতুস সালাফ আহলুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
أن رجلاً ركب الكبائر كلها بعد ألا يشرك بالله ثم تخلى من هذه الأهواء والبدع- وذكر كلاماً- دخل الجنة"1.
(3) وأخرج الهروي عن إسحاق بن عيسى2 قال: "قال مالك: من طلب الدين بالكلام تزندق ومن طلب المال بالكيمياء أفلس ومن طلب غريب الحديث كذب"3.
(4) وأخرج الخطيب عن إسحاق بن عيسى قال: "سمعت مالك بن أنس يعيب الجدال في الدين ويقول: كلما جاءنا رجل أجدل من رجل أرادنا أن نرد ما جاء به جبريل إلى النبي صلى الله عليه وسلم"4.
(5) وأخرج الهروي عن عبد الرحمن بن مهدي قال: "دخلت على مالك - وعنده رجل يسأله فقال: لعلك من أصحاب عمرو بن عبيد، لعن الله عمرو بن عبيد فإنه ابتدع هذه البدعة من الكلام، ولو كان الكلام علماً لتكلَّم فيه الصحابة والتابعون كما تكلموا في الأحكام والشرائع "5.
(6) وأخرج الهروي عن أشهب بن عبد العزيز قال: "سمعت مالكاً يقول: إيّاكم والبدع، قيل يا أبا عبد الله، وما البدع؟ قال: أهل البدع الذين يتكلمون في أسماء الله وصفاته وكلامه وعلّمه وقدرته ولا يسكتون عمّا سكت عنه الصحابة والتابعون لهم بإحسان"6.
(7) وأخرج أبو نعيم عن الشافعي قال: "كان مالك بن أنس إذا جاءه بعض أهل الأهواء قال: أما إني على بيّنة من ربي وديني، وأما أنت
--------------------------------------------
"একজন ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক না করার পর সমস্ত কবিরা গুনাহে লিপ্ত হলো, অতঃপর সে এই সকল খেয়াল-খুশি ও বিদআত ত্যাগ করল—এবং তিনি আরও কিছু কথা উল্লেখ করলেন—সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।"১.
(৩) আল-হারাওয়ী ইসহাক ইবনে ঈসা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "মালেক বলেছেন: যে ব্যক্তি ইলমে কালামের (তর্কশাস্ত্র) মাধ্যমে দ্বীন অন্বেষণ করবে সে যিন্দিক (ধর্মত্যাগী) হবে, যে ব্যক্তি কিমিয়ার (তৎকালীন রসায়ন) মাধ্যমে সম্পদ অন্বেষণ করবে সে দেউলিয়া হবে, আর যে ব্যক্তি অদ্ভুত বা বিরল হাদিস অন্বেষণ করবে সে মিথ্যুক সাব্যস্ত হবে।"৩.
(৪) আল-খাতিব ইসহাক ইবনে ঈসা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি মালেক ইবনে আনাসকে দ্বীনের ব্যাপারে বিতর্ক করাকে অপছন্দ করতে শুনেছি। তিনি বলতেন: যখনই আমাদের কাছে কোনো ব্যক্তি অন্য ব্যক্তির চেয়ে অধিক বিতর্কপ্রিয় হয়ে আসে, সে চায় যে জিবরাঈল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যা নিয়ে এসেছেন আমরা যেন তা প্রত্যাখ্যান করি।"৪.
(৫) আল-হারাওয়ী আব্দুর রহমান ইবনে মাহদী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি মালেকের নিকট প্রবেশ করলাম—তখন তাঁর কাছে একজন লোক তাঁকে প্রশ্ন করছিল। তিনি বললেন: সম্ভবত তুমি আমর ইবনে উবাইদের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ আমর ইবনে উবাইদকে অভিশাপ দিন, কেননা সে ইলমে কালামের এই বিদআত উদ্ভাবন করেছে। যদি ইলমে কালাম প্রকৃত ইলম বা জ্ঞান হতো, তবে সাহাবী এবং তাবেয়ীগণ অবশ্যই এ সম্পর্কে আলোচনা করতেন, যেমন তাঁরা হুকুম-আহকাম ও শরীয়ত নিয়ে আলোচনা করেছেন।"৫.
(৬) আল-হারাওয়ী আশহাব ইবনে আব্দুল আজিজ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি মালেককে বলতে শুনেছি: তোমরা বিদআত থেকে সাবধান থাকো। জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আবু আব্দুল্লাহ! বিদআত কী? তিনি বললেন: বিদআতী হলো তারা, যারা আল্লাহর নাম, আল্লাহর গুণাবলি, আল্লাহর কথা, আল্লাহর জ্ঞান এবং আল্লাহর ক্ষমতা সম্পর্কে বিতর্ক করে এবং সে বিষয়ে নীরব থাকে না যে বিষয়ে সাহাবী এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারীগণ নীরব থেকেছেন।"৬.
(৭) আবু নুআইম শাফেঈ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "মালেক ইবনে আনাসের কাছে যখন প্রবৃত্তিপূজারীদের কেউ আসত, তিনি বলতেন: আমি তো আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আসা সুস্পষ্ট প্রমাণ ও আমার দ্বীনের ওপর অটল রয়েছি। আর তোমার ক্ষেত্রে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিকাদ আইম্মাতুস সালাফ আহলুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
فشاكٌّ فاذهب إلى شاكٍّ فخاصمه"1.
(8) روى ابن عبد البر عن محمد بن أحمد بن خويز منداد المصري المالكي قال في كتاب الإجارات من كتابه الخلاف: قال مالك لا تجوز الإجارات في شيء من كتب الأهواء والبدع والتنجيم وذكر كتباً ثم قال: وكتب أهل الأهواء والبدع عند أصحابنا هي كتب أصحاب الكلام من المعتزلة وغيرهم وتفسخ إجارة في ذلك"2.
فهذه لمحات من موقف الإمام مالك وأقواله في التوحيد والصحابة والإيمان وعِلم الكلام وغيره.
--------------------------------------------
"তুমি সংশয়ী, সুতরাং কোনো সংশয়ীর কাছে যাও এবং তার সাথে বিতর্ক করো।"১.
(৮) ইবন আব্দুল বার মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন খুওয়াইয মানদাদ আল-মিসরী আল-মালিকী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি তাঁর 'আল-খিলাফ' গ্রন্থের 'কিতাবুল ইজারাত' (ভাড়া বা পারিশ্রমিক সংক্রান্ত অধ্যায়) এ বলেছেন: ইমাম মালিক বলেছেন, প্রবৃত্তি পূজারী, বিদআতি এবং জ্যোতিষশাস্ত্রের কোনো কিতাবের ক্ষেত্রে ইজারা (পারিশ্রমিক গ্রহণ) জায়েজ নয়। তিনি কিছু কিতাবের নাম উল্লেখ করে আরও বলেন: আমাদের সাথীদের (মালিকী মাযহাবের ফকীহদের) নিকট প্রবৃত্তি পূজারী ও বিদআতিদের কিতাব বলতে মুতাযিলা ও অন্যান্য ইলমুল কালামপন্থীদের কিতাবসমূহকে বোঝায় এবং এই সংক্রান্ত ইজারা চুক্তি বাতিল করা হবে।"২.
এগুলো হলো তাওহীদ, সাহাবীগণ, ঈমান, ইলমুল কালাম এবং অন্যান্য বিষয়ে ইমাম মালিকের অবস্থান ও তাঁর বক্তব্যের কিছু সংক্ষিপ্ত নমুনা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইতিকাদ আইম্মাতুস সালাফ আহলুল হাদীস
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
5- اعتقاد عبد الله بن المبارك1 المتوفى سنة 181 هـ
قال ابن المبارك2 رحمه الله: أدركت الناس بمكة والمدينة والكوفة والبصرة وبمصر وخراسان، فأدركتهم مجتمعين على السنة والجماعة، من شهد أن لا إله إلا الله وأن محمداً عبده ورسوله، وفوض الأمر إلى الله عز وجل، وعلم أن كل شيء بقضاء الله وقدره، الخير والشر والكفر والإيمان، وعرف حق السلف الماضين، الذين اختارهم الله عز وجل لصحبة نبيه صلى الله عليه وسلم، وقدم أبا بكر الصديق وعمر بن الخطاب وعثمان بن عفان وعلي بن أبي طالب رضوان الله عليهم أجمعين وترحم على أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم كبيرهم وصغيرهم، وحدث بفضائلهم، وأمسك عما شجر بينهم، وصلى العيدين وعرفات والجماعات، مع كل إمام بر أو فاجر، والقرآن كلام الله وتنزيله، ليس بمخلوق، والإيمان قول وعمل ونية مع إصابة السنة، والإيمان يزيد وينقص بالقلب والجوارح، والجهاد ماض منذ بعث الله محمداً صلى الله عليه وسلم إلى آخر عصابة يقاتلون الدجال لا يضر جور جائر، والإيمان بعذاب القبر، ومنكر ونكير، والحوض، والشفاعة، والميزان، أهل الجنة يرون ربهم عز رجل، وما أتت به الأنبياء والرسل عليهم السلام نؤمن بها، ولا نضرب لها الأمثال، وأن صفة أهل السنة الأخذ بكتاب الله عز وجل، وأحاديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، وأحاديث الصحابة رضي الله عنهم أجمعين، وترك الرأي والقياس، فهذا الذي أدركت عليه علماءنا القدماء، يرزقنا الله- وإياكم- الاستقامة واللحوق بالصالحين.
وقال رحمه الله تعالى: "
… إنا لنحكى كلام اليهود والنصارى، ولا نستطيع أن نحكي كلام الجهمية".
--------------------------------------------
৫- আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারকের১ আকিদাহ, যিনি ১৮১ হিজরি সালে ইন্তেকাল করেছেন।
ইবনুল মুবারক২ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) বলেন: আমি মক্কা, মদিনা, কুফা, বসরা, মিসর ও খোরাসানের লোকদের পেয়েছি। আমি তাদের আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের ওপর ঐক্যবদ্ধ পেয়েছি। যারা এই সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল, আর যাবতীয় বিষয় আল্লাহর ওপর সোপর্দ করে। তারা জানে যে, সবকিছুই আল্লাহর ফয়সালা ও তাকদির অনুযায়ী হয়—ভালো-মন্দ এবং কুফর ও ঈমান। তারা পূর্ববর্তী সালাফদের অধিকার চিনেছিল, যাদের আল্লাহ তাআলা তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহচর্যের জন্য মনোনীত করেছিলেন। তারা আবু বকর আস-সিদ্দিক, উমর ইবনুল খাত্তাব, উসমান ইবনে আফফান এবং আলী ইবনে আবি তালিবকে (আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হোন) অগ্রগণ্য মনে করতেন। রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বড় ও ছোট সকল সাহাবীর জন্য রহমতের দোয়া করতেন, তাঁদের মর্যাদাসমূহ বর্ণনা করতেন এবং তাঁদের মধ্যকার বিবাদ সম্পর্কে নীরবতা অবলম্বন করতেন। তারা দুই ঈদ, আরাফাত এবং জামাতের নামাজ প্রত্যেক ইমামের পেছনেই আদায় করতেন, চাই তিনি পুণ্যবান হোন কিংবা পাপাচারী। কুরআন আল্লাহর কালাম ও তাঁর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, তা সৃষ্টি নয়। ঈমান হলো কথা, কাজ ও নিয়ত এবং সুন্নাহর অনুসারী হওয়া। ঈমান অন্তর ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাধ্যমে বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায়। জিহাদ জারি থাকবে সেই থেকে যখন আল্লাহ মুহাম্মদকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঠিয়েছেন এবং তা চলবে একদল লোকের দাজ্জালের সাথে লড়াই করা পর্যন্ত; কোনো জালেমের জুলুম এতে বাধা সৃষ্টি করবে না। কবরের আজাব, মুনকার-নাকির, হাউজ, শাফায়াত ও মিজানের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। জান্নাতবাসীরা তাদের মহিমান্বিত পালনকর্তাকে দেখতে পাবেন। নবী ও রাসুলগণ (তাঁদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক) যা কিছু নিয়ে এসেছেন, আমরা তাতে বিশ্বাস করি এবং সেগুলোর জন্য কোনো উদাহরণ পেশ করি না। আহলুস সুন্নাহর বৈশিষ্ট্য হলো আল্লাহর কিতাব, রাসুলুল্লাহর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাদিস এবং সাহাবায়ে কেরামের (আল্লাহ তাঁদের সবার ওপর সন্তুষ্ট হোন) আসার বা বর্ণনা গ্রহণ করা এবং রায় (ব্যক্তিগত মতামত) ও কিয়াস বর্জন করা। এগুলোর ওপরই আমি আমাদের প্রাচীন আলেমদের পেয়েছি। আল্লাহ আমাদের ও আপনাদের সঠিক পথে অবিচল থাকার এবং নেককারদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার তাওফিক দান করুন।
তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) আরও বলেন: "আমরা ইহুদি ও খ্রিস্টানদের কথা বর্ণনা করতে পারি, কিন্তু জাহমিয়াদের কথা বর্ণনা করার সক্ষমতা আমাদের নেই।"
--------------------------------------------