(খণ্ড: ১) আসইলাতু ওয়া আজউইবাতু ফী ইরাবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: -)
أسئلة وأجوبة في إعراب القرآن   (ابن هشام النحوي)

القسم: علوم القرآن وأصول التفسير


الكتاب: أسئلة وأجوبة في إعراب القرآن

المؤلف: عبد الله بن يوسف بن أحمد بن عبد الله ابن يوسف، أبو محمد، جمال الدين، ابن هشام (ت 761هـ)

المحقق: محمد نغش

الناشر: عمادة البحث العلمي بالجامعة الإسلامية، المدينة المنورة، المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1403هـ/1983م

عدد الصفحات: 68

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

কোরআনের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب) বিষয়ক প্রশ্নোত্তর   (ইবনে হিশাম আন-নাহবী)

বিভাগ: উলূমুল কুরআন এবং তাফসীরের মূলনীতি (أصول التفسير)


গ্রন্থ: কোরআনের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب) বিষয়ক প্রশ্নোত্তর

লেখক: আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন আহমদ বিন আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ, আবু মুহাম্মদ, জামালুদ্দীন, ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৭৬১ হিজরি)

মুহাক্কিক (গবেষক): মুহাম্মদ নাগশ

প্রকাশক: মদিনা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুষদ, মদিনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব কিংডম

সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৩ হিজরি/১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আসইলাতু ওয়া আজউইবাতু ফী ইরাবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৫)
التقديم

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف المرسلين سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

أما بعد،

فكتاب إعراب القرآن لابن هشام الأنصاري جدير بالنشر لسببين:

أولهما: علو مكانة مؤلفه ومقدرته الفائقة في صناعة النحو.

وثانيهما: أن الكتاب وإن صغر حجمه، قد عظم قدره، فالمؤلف قد تناول فيه ستا وأربعين مسألة وأجوبتها، منها اثنتان في الحديث الشريف والباقي في آيات من القرآن الكريم، ثم ختم الكتاب ببحث في الأثر الوارد (نعم العبد صهيب لو لم يخف الله لم يعصه) .

وهذه المسائل قال المؤلف: سئلت عنها بالحجاز عام سبعة وأربعين وسبعمائة ـ أي كانت قبل انتهائه من كتاب مغني اللبيب ـ بعامين. إذ يقول في‌‌ مقدمة كتابه المغني: وقد كنت في عام تسعة وأربعين وسبعمائة، أنشأت بمكة المكرمة ـ زادها الله شرفا ـ كتابا في
উপস্থাপনা

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক শ্রেষ্ঠ রাসূল, আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীদের ওপর।

অতঃপর,

ইবনে হিশাম আল-আনসারী রচিত 'ইরাবুল কুরআন' বইটি দুটি কারণে প্রকাশের যোগ্য:

প্রথমত: এর লেখকের উচ্চ মর্যাদা এবং নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে তাঁর অসাধারণ পারদর্শিতা।

দ্বিতীয়ত: বইটি আকারে ছোট হলেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। লেখক এখানে ছেচল্লিশটি মাসআলা ও সেগুলোর উত্তর নিয়ে আলোচনা করেছেন, যার মধ্যে দুটি মহান হাদিস সংক্রান্ত এবং বাকিগুলো পবিত্র কুরআনের আয়াত সংশ্লিষ্ট। এরপর তিনি গ্রন্থটি বর্ণিত আসার (أثر) — 'সুহাইব কতই না চমৎকার বান্দা, যদি সে আল্লাহকে ভয় নাও করত তবুও তাঁর অবাধ্য হতো না' — বিষয়ক একটি গবেষণার মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন।

এই মাসআলাগুলো সম্পর্কে লেখক বলেন: হিজাজ থাকাকালীন সাতশ সাতচল্লিশ হিজরিতে আমাকে এগুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—অর্থাৎ এটি ছিল তাঁর 'মুগনী আল-লাবীব' গ্রন্থটি সমাপ্ত করার দুই বছর পূর্বের কথা। কেননা তিনি তাঁর মুগনী গ্রন্থের‌‌ উপক্রমণিকায় বলেছেন: আমি সাতশ উনপঞ্চাশ হিজরিতে মক্কা মুকাররমায়—আল্লাহ এর মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করুন—একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলাম...
(খণ্ড: ১) আসইলাতু ওয়া আজউইবাতু ফী ইরাবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৬)
ذلك منورا من أرجاء قواعده كل حالك، ثم إنني أصبت به وبغيره في منصرفي إلى مصر.

ولهذا أقول: ربما كانت هذه المسائل هي التي دفعته إلى تأليف كتاب المغني الذي اشتمل على معظم الآيات القرآنية المشكلة في الإعراب. ولذلك لما قيل له: هلا فسرت القرآن أو أعربته؟ قال: أغناني المغني. وبمراجعتي لكتاب المغني وجدت فيه ثلاثين آية من الأربع والأربعين المذكورة في الكتاب المحقق. ووجدت منهجه في الكتابين واحدا مما يؤيد أن الكتاب المحقق لابن هشام الأنصاري صاحب كتاب المغني، وقد فصل ابن هشام في كتابه المغني وأجمل هنا في بعض المسائل، وأجمل وفصل هنا في بعضها.

ونترجم لمؤلف الكتاب في إيجاز، فنقول: ولد ابن هشام الأنصاري في ذي القعدة سنة ثمان وسبعمائة1 وتسع وثلاثمائة وألف للميلاد في القاهرة2.

وهو عبد الله بن يوسف بن عبد الله بن يوسف بن أحمد بن عبد الله بن هشام الأنصاري، جمال الدين، أبو محمد3 وكان أولا حنفيا ثم استقر حنبليا4

لزم الشيخ شهاب الدين عبد اللطيف بن المرحل، وتلا على ابن السراج وسمع من أبي حيان ديوان زهير بن أبي سلمى ولم يلازمه وقرأ عليه، وحضر دروس الشيخ تاج الدين التبريزي، وقرأ على الشيخ تاج الدين الفاكهاني جميع شرح الإشارة له إلا الورقة الأخيرة، وتفقه

--------------------------------------------

1 الدرر الكامنة جـ 2 ص 415

2 الأعلام جـ 5 ص 291، ودائرة المعارف الإسلامية جـ 1 ص 295

3 الدرر الكامنة جـ 2 ص 415.

4 النجوم الزاهرة جـ 10 ص 336.
এটি এর মূলনীতিগুলোর প্রতিটি অন্ধকার কোণকে আলোকিত করে তুলেছে। অতঃপর মিসর প্রত্যাবর্তনের পথে আমি এই কিতাবটি এবং অন্যান্য কিতাবগুলো হারিয়ে ফেলি।

এই কারণে আমি বলছি: সম্ভবত এই মাসআলাগুলোই তাকে ‘আল-মুগনি’ কিতাবটি রচনার দিকে ধাবিত করেছে, যা ই’রাব বা ব্যাকরণগত জটিলতাসম্পন্ন অধিকাংশ কুরআনী আয়াতকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। সেই কারণেই যখন তাকে বলা হয়েছিল: আপনি কেন কুরআনের তাফসীর অথবা এর পূর্ণাঙ্গ ই’রাব লিখলেন না? তিনি জবাবে বলেছিলেন: ‘আল-মুগনি’ আমাকে অমুখাপেক্ষী করে দিয়েছে। ‘আল-মুগনি’ কিতাবটি পর্যালোচনাকালে আমি সেখানে এই সম্পাদিত (محقق) কিতাবে বর্ণিত চুয়াল্লিশটি আয়াতের মধ্যে ত্রিশটি আয়াত পেয়েছি। আমি উভয় কিতাবেই তাঁর কর্মপদ্ধতি অভিন্ন দেখতে পেয়েছি, যা এই বিষয়টিকেই সমর্থন করে যে, সম্পাদিত (محقق) কিতাবটি ‘আল-মুগনি’ কিতাবের লেখক ইবনে হিশাম আল-আনসারীরই রচনা। ইবনে হিশাম তাঁর ‘আল-মুগনি’ কিতাবে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং এখানে কিছু বিষয়ে সংক্ষেপ করেছেন; আবার এখানে কিছু বিষয়ে সংক্ষেপ ও বিস্তারিত আলোচনা উভয়টিই করেছেন।

আমরা কিতাবটির লেখকের সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরছি: ইবনে হিশাম আল-আনসারী ৭০৮ হিজরি সালের জিলকদ মাসে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন, যা ইংরেজি ১৩০৯ সালের সাথে সংগতিপূর্ণ।

তিনি হলেন আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন আবদুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন আহমাদ বিন আবদুল্লাহ বিন হিশাম আল-আনসারী, জামালুদ্দীন, আবু মুহাম্মাদ। তিনি প্রথমে হানাফী ছিলেন, পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে হাম্বলী মাযহাব গ্রহণ করেন।

তিনি শেখ শিহাবুদ্দীন আব্দুল লতিফ বিন আল-মুরাহহাল-এর সান্নিধ্যে ছিলেন এবং ইবনুল সাররাজ-এর নিকট পাঠ গ্রহণ করেছেন। তিনি আবু হাইয়ানের নিকট থেকে যুহায়ের বিন আবি সুলমার কাব্যগ্রন্থ শ্রবণ (سماع) করেছেন, তবে দীর্ঘকাল তাঁর সাথে থাকেননি যদিও তাঁর নিকট পাঠ (قرأ) করেছেন। তিনি শেখ তাজউদ্দীন আত-তাবরিযীর দরসে উপস্থিত হতেন এবং শেখ তাজউদ্দীন আল-ফাকিহানী-র কাছে তাঁর রচিত ‘শরহুল ইশারা’-এর শেষ পৃষ্ঠাটি ব্যতীত সম্পূর্ণটি পাঠ করেছেন এবং ফিকহশাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছেন।

--------------------------------------------

১ আদ-দুরারুল কামিনাহ, ২য় খণ্ড, ৪১৫ পৃষ্ঠা।

২ আল-আ’লাম, ৫ম খণ্ড, ২৯১ পৃষ্ঠা এবং দাইরাতুল মা’আরিফ আল-ইসলামিয়া, ১ম খণ্ড, ২৯৫ পৃষ্ঠা।

৩ আদ-দুরারুল কামিনাহ, ২য় খণ্ড, ৪১৫ পৃষ্ঠা।

৪ আন-নুজুমুজ যাহিরাহ, ১০ম খণ্ড, ৩৩৬ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আসইলাতু ওয়া আজউইবাতু ফী ইরাবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৭)
للشافعي1 ثم تحنبل فحفظ مختصر الخرقي في دون أربعة أشهر، وذلك قبل موته بخمس سنين وأتقن العربية ففاق الأقران بل الشيوخ، وحدث عن ابن جماعة بالشاطبية2.

ثم تخرج به جماعة من أهل مصر وغيرهم. اشتهر في حياته وأقبل الناس عليه، وكان كثير المخالفة لأبي حيان، شديد الانحراف عنه رحمه الله وتصدر الشيخ جمال الدين لنفع الطالبين وانفرد بالفوائد الغريبة، والمباحث الدقيقة، والاستدراكات العجيبة، والتحقيق البالغ، والاطلاع المفرط، والاقتدار على التصرف في الكلام، والملكة التي كان يتمكن بها من التعبير عن مقصوده بما يزيد مسهبا أو موجزا، مع التواضع والشفقة ودماثة الخلق ورقة القلب.3

توفي ليلة الجمعة خامس ذي القعدة سنة إحدى وستين وسبعمائة4 18سبتمبر 136 م5. ودفن بعد صلاة الجمعة بمقابر الصوفية خارج باب النصر من القاهرة. . . ومات عن بضع وخمسين سنة6.

ويقول عنه ابن خلدون: ((إن ابن هشام على علم جم يشهد بعلو قدره في صناعة النحو، وكان ينحو في طريقته منحاة أهل الموصل الذين اقتفوا أثر ابن جني واتبعوا مصطلح تعليمه فأتى من ذلك بشيء عجيب، دال على قوة ملكته واطلاعه)) 7.

--------------------------------------------

1 لعله تفقه للشافعي من باب العلم ولكنه لم يعتنق مذهبه.

2 الدرر الكامنة جـ 2 ص 415.

3 الدرر الكامنة جـ 2 ص 415،416.

4 الدرر الكامنة جـ 2 ص 417.

5 الأعلام جـ 5 ص 291 ودائرة المعارف الإسلامية جـ 1 ص 295.

6 النجوم الزاهرة جـ 10 ص 336.

7 دائرة المعارف الإسلامية جـ 1 ص 296.
তিনি প্রথমে শাফিঈ মাযহাবের অনুসারী ছিলেন, অতঃপর হাম্বলি মাযহাব গ্রহণ করেন এবং চার মাসেরও কম সময়ে মুখতাসার আল-খিরাকি মুখস্থ করেন। এটি ছিল তার মৃত্যুর পাঁচ বছর আগের ঘটনা। তিনি আরবি ভাষায় পারদর্শিতা অর্জন করেন, ফলে তিনি তার সমসাময়িকদের এমনকি শিক্ষকদেরও ছাড়িয়ে যান। তিনি ইবনে জামাআহ থেকে আশ-শাতিবিয়্যাহ বর্ণনা করেছেন (حدث)।

অতঃপর মিসর ও অন্যান্য অঞ্চলের একদল লোক তার নিকট থেকে শিক্ষা সমাপ্ত করেন। তিনি নিজ জীবদ্দশায় প্রসিদ্ধি লাভ করেন এবং মানুষ তার প্রতি ধাবিত হয়। তিনি আবু হাইয়ানের সাথে প্রচুর দ্বিমত পোষণ করতেন এবং তার থেকে তীব্র বিমুখতা পোষণ করতেন (আল্লাহ তাকে রহম করুন)। শেখ জামালুদ্দিন ছাত্রদের উপকারের জন্য নিবেদিত ছিলেন এবং তিনি বিরল ফায়দা, সূক্ষ্ম আলোচনা, বিস্ময়কর পর্যালোচনা, চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই (تحقيق), অগাধ জ্ঞান এবং বক্তব্যে ব্যবহারের সক্ষমতায় অনন্য ছিলেন। তার এমন এক পাণ্ডিত্য ছিল যার মাধ্যমে তিনি তার উদ্দেশ্য সংক্ষেপে বা বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করতে পারতেন; সেই সঙ্গে তার মাঝে ছিল বিনয়, মমতা, চারিত্রিক মাধুর্য এবং হৃদয়ের কোমলতা।

তিনি ৭৬১ হিজরির ৫ই জিলকদ শুক্রবার রাতে (১৮ সেপ্টেম্বর ১৩৬০ খ্রি.) ইন্তেকাল করেন। জুমার সালাতের পর কায়রোর বাবুন নাসরের বাইরে সুফিদের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল পঞ্চাশের কিছু বেশি বছর।

ইবনে খালদুন তার সম্পর্কে বলেন: "নিশ্চয়ই ইবনে হিশাম এমন প্রভূত ইলমের অধিকারী ছিলেন যা নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে তার উচ্চমর্যাদার সাক্ষ্য দেয়। তিনি তার পদ্ধতিতে মসুলবাসীদের পথ অনুসরণ করতেন, যারা ইবনে জিন্নির পদাঙ্ক অনুসরণ করেছিল এবং তার শিক্ষা পদ্ধতি অনুসরণ করত। ফলে তিনি এমন এক বিস্ময়কর পাণ্ডিত্য নিয়ে এসেছেন যা তার শক্তিশালী প্রতিভা ও অগাধ জ্ঞানের পরিচায়ক।"

--------------------------------------------

১ সম্ভবত তিনি জ্ঞান অর্জনের উদ্দেশ্যে শাফিঈ ফিকহ শিখেছিলেন, তবে তিনি সেই মাযহাব গ্রহণ করেননি।

২ আদ-দুরারুল কামিনাহ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪১৫।

৩ আদ-দুরারুল কামিনাহ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪১৫, ৪১৬।

৪ আদ-দুরারুল কামিনাহ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৪১৭।

৫ আল-আলাম, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ২৯১ এবং দাইরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৯৫।

৬ আন-নুজুমুজ জাহিরাহ, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ৩৩৬।

৭ দাইরাতুল মাআরিফ আল-ইসলামিয়্যাহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৯৬।
(খণ্ড: ১) আসইলাতু ওয়া আজউইবাতু ফী ইরাবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৮)
وقال أيضا: ((مازلنا ونحن بالمغرب نسمع أنه ظهر بمصر عالم بالعربية، يقال له: ابن هشام أنحى من سيبويه)) 1.

ونسجل بعض أشعار هذا العالم الجليل التي تدل على علو همته، ومبدأه في تحصيل العلم هو الصبر حتى يظفر بالنصر، إذ يقول:

ومن يصطبر للعلم يظفر بنيله … ومن يخطب الحسناء يصبر على البذل

ومن لم يذل النفس في طلب العلا يسيرا يعش دهرا طويلا أخاذل2

[الطويل] وله: [من الرجز]

سوء الحساب أن يؤاخذ الفتى … بكل شيء في الحياة قد أتى3

وقد ورد البيت الأخير ضمن الأشعار التي استشهد بها ابن هشام في كتابه إعراب القرآن.

واهتم الذين ترجموا لابن هشام بحصر مؤلفاته المطبوعة والمخطوطة، منهم العسقلاني4، وطاش كبرى زادة5 واعتنت دائرة المعارف الإسلامية6 بالإتيان ببيان مفصل عنها في أنحاء العالم وهو يفيد بإذن الله تعالى الذين يقومون بدراسة هذا العالم الجليل أو يحققون آثاره القيمة.

ومخطوط إعراب القرآن لابن هشام الأنصاري يشتمل على اثنتي عشرة ورقة، ومقاس الصفحة 17×2سم، وعدد أسطرها تسعة عشر سطرا، وأصل المخطوط في الجامعة العثمانية بحيدرأباد بالهند تحت رقم 15432/297 علوم قرآن، وتاريخ نسخ المخطوط هو سنة 175?.

--------------------------------------------

1 الدرر الكامنة جـ 2 ص 416.

2 الدرر الكامنة جـ 2 ص 417.

3 شذرات الذهب جـ 6 ص 192.

4 الدرر الكامنة جـ 2 ص 415، 417.

5 مفتاح السعادة ومصباح السيادة جـ 1 ص 198، 200.

6 دائرة المعارف الإسلامية جـ 1 ص 295، 297.
তিনি আরও বলেন: ((আমরা যখন মাগরিবে অবস্থান করছিলাম তখন থেকেই শুনছিলাম যে মিসরে আরবি ভাষার একজন আলেম (عالم) আবির্ভূত হয়েছেন, যাঁকে ইবনে হিশাম বলা হয়; তিনি ব্যাকরণশাস্ত্রে সিবওয়াইহ অপেক্ষাও অধিক পারদর্শী)) ১।

আমরা এই মহান আলেম (عالم)-এর কিছু কবিতা লিপিবদ্ধ করছি যা তাঁর সুউচ্চ হিম্মত বা সংকল্পের পরিচয় দেয়। ইলম অর্জনে তাঁর মূলনীতি ছিল বিজয় লাভ না করা পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করা, যেমনটি তিনি বলেন:

যে ইলম অর্জনে ধৈর্য ধারণ করে সে তা লাভে সফল হয় … আর যে সুন্দরী রমণীকে পাণিপ্রার্থনা করে সে (মোহরানা) প্রদানে ধৈর্য ধরে

যে ব্যক্তি মর্যাদা অন্বেষণে সাময়িকভাবে নিজেকে বিনীত (কঠোর পরিশ্রমে নিয়োজিত) করে না, সে দীর্ঘকাল লাঞ্ছিত অবস্থায় জীবন অতিবাহিত করে২

[আত-তাবিল ছন্দ] এবং তাঁর আরও কবিতা: [আর-রাজায ছন্দ থেকে]

হিসাবের কঠোরতা হলো যুবককে পাকড়াও করা … জীবনে সে যা কিছু করেছে তার সবকিছুর জন্য৩

শেষোক্ত পঙক্তিটি ইবনে হিশাম তাঁর ‘ই’রাবুল কুরআন’ গ্রন্থে উদ্ধৃত কবিতাগুলোর মধ্যে উল্লেখ করেছেন।

যাঁরা ইবনে হিশামের জীবনী (ترجمة) রচনা করেছেন, তাঁরা তাঁর মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপি (مخطوط) রচনাবলি তালিকাভুক্ত করার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তাঁদের মধ্যে আসকালানি৪, এবং তাশ কুবরা জাদাহ৫ অন্যতম। ‘দাইরাতুল মাআরিফিল ইসলামিয়্যাহ’৬ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা তাঁর রচনাবলির একটি বিস্তারিত বিবরণ প্রদানের যত্ন নিয়েছে, যা ইনশাআল্লাহ সেই সকল গবেষকদের উপকারে আসবে যাঁরা এই মহান আলেম (عالم) সম্পর্কে অধ্যয়ন করছেন কিংবা তাঁর মূল্যবান রচনাবলি সম্পাদনা (تحقيق) করছেন।

ইবনে হিশাম আল-আনসারীর ‘ই’রাবুল কুরআন’ পাণ্ডুলিপিটি (مخطوط) বারোটি পত্র (ورقة) সম্বলিত, যার পৃষ্ঠার মাপ ১৭×২ সে.মি. এবং প্রতি পৃষ্ঠার লাইন সংখ্যা উনিশটি। পাণ্ডুলিপির মূল কপিটি ভারতের হায়দ্রাবাদের ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘উলুমুল কুরআন’ বিভাগে ১৫৪৩২/২৯৭ নম্বরে সংরক্ষিত আছে। পাণ্ডুলিপিটি লিপিবিদ্ধ করার তারিখ হলো ১৭৫? হিজরি।

--------------------------------------------

১ আদ-দুরারুল কামিনাহ, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪১৬।

২ আদ-দুরারুল কামিনাহ, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪১৭।

৩ শাযারাতুয যাহাব, ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৯২।

৪ আদ-দুরারুল কামিনাহ, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪১৫, ৪১৭।

৫ মিফতাহুস সাআদাহ ওয়া মিসবাহুস সিয়াদা, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৯৮, ২০০।

৬ দাইরাতুল মাআরিফিল ইসলামিয়্যাহ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৯৫, ২৯৭।
(খণ্ড: ১) আসইলাতু ওয়া আজউইবাতু ফী ইরাবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৯)
وقد قمت بتحقيقه وأيضا الرسالة الواردة في آخره في شرح ((نعم العبد صهيب … إلخ)) عن صورة المخطوط الموجودة بالمكتبة المركزية للجامعة الإسلامية في المدينة المنورة.

والمخطوط مكتوب بخط نسخي واضح غير مشكول، وهو خال من الشروح والتعليقات عدا الورقة الأولى منه، وهي عديمة الفائدة لأنها شروح بدائية لأشياء واضحة، كأن يقول في السؤال: علام انتصب الحقان في قوله تعالى: {قَالَ فَالْحَقُّ وَالْحَقَّ أَقُولُ} 1 الحقان أي لفظي الحق، وهو واضح من نص الآية الكريمة. لذا رأيت إسقاطها فلم أثبتها في المتن أو الهوامش. وأكتفي بنشر صورتها في صدر هذا الكتاب، وكذلك الصورة الأخيرة من المخطوط.

وفي الورقتين الحادية عشرة والثالثة عشرة من أعلى جهة اليمين خاتم مستطيل الشكل مزخرف وهو واحد فيهما، مكتوب عليه عبارة (كتب خانه) ثم اسم المكتبة غير واضح من تحتها، ولعله خاتم مكتبة الجامعة العثمانية الموجود فيها الأصل.

وألفينا في المخطوط بعض الكلمات أو العبارات مطموسة أو ممحوة ولكنها قليلة، مما يسر التوصل إلى معرفتها من سياق الكلام ويخلو المخطوط من الإجازات والسماعات والتمليكات بالرغم من قدم خطه والظاهر أنه لم يكن معروفا لدى الناس فقد أغفلته الكتب التي تفهرس للمخطوطات مثل تاريخ آداب اللغة العربية لبروكلمان، وتاريخ التراث العربي لفؤاد سزكين وغيرهما.

وطريقة ابن هشام باختصار في هذا الكتاب أنه يعرب الآيات ويستشهد بآيات أخرى تماثلها أو تختلف عنها في الإعراب، ويذكر أحيانا بعض القراءات، وهو يستشهد بالحديث الشريف، ويسرد الشواهد النحوية في الشعر والنثر على السواء.

--------------------------------------------

1 سورة ص من الآية 84.
আমি এটি এবং এর শেষে থাকা ‘সুহাইব কতই না চমৎকার বান্দা … ইত্যাদি’ শীর্ষক ব্যাখ্যা সম্বলিত পুস্তিকাটিও সম্পাদনা করেছি, যা মদিনা মুনাওয়ারার ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপির প্রতিলিপি থেকে প্রস্তুত করা হয়েছে।

পাণ্ডুলিপিটি স্পষ্ট নাসখ লিপিতে লিখিত এবং এতে কোনো হরকত (জের-যবর) দেওয়া নেই। প্রথম পাতাটি ব্যতীত এটি কোনো প্রকার ব্যাখ্যা ও টীকা থেকে মুক্ত। তবে প্রথম পাতাটি মূলত নিষ্প্রয়োজনীয়, কারণ এতে অত্যন্ত স্পষ্ট বিষয়াবলির প্রাথমিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। যেমন প্রশ্নের আকারে বলা হয়েছে: আল্লাহ তাআলার বাণী—{তিনি বললেন, তবে সত্য এটাই এবং আমি সত্যই বলি} ১-এ ‘হাক্ক’ শব্দ দুটি কেন মানসুব (নসবযুক্ত) হয়েছে? এখানে ‘হাক্কান’ বলতে ‘হাক্ক’ শব্দের দুটি রূপকেই বোঝানো হয়েছে, যা আয়াতের মূল পাঠ থেকেই সুস্পষ্ট। তাই আমি এটি বর্জন করা সমীচীন মনে করেছি এবং মূল পাঠ বা পাদটীকায় তা যুক্ত করিনি। আমি কেবল এই বইয়ের শুরুতে এর ছবি এবং পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠার ছবি প্রকাশ করেই ক্ষান্ত হয়েছি।

একাদশ ও ত্রয়োদশ পাতার ওপরের ডান দিকে একটি কারুকার্যখচিত আয়তাকার মোহর রয়েছে এবং উভয় পাতায় মোহরটি অভিন্ন। তাতে ‘কুতুব খানা’ কথাটি লেখা আছে, তবে এর নিচের লাইব্রেরির নামটি অস্পষ্ট। সম্ভবত এটি ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরির মোহর, যেখানে মূল পাণ্ডুলিপিটি সংরক্ষিত রয়েছে।

পাণ্ডুলিপিতে আমরা কিছু শব্দ বা বাক্য অস্পষ্ট বা মুছে যাওয়া অবস্থায় পেয়েছি, তবে তা সংখ্যায় খুবই কম। ফলে প্রসঙ্গের ধারা থেকে সেগুলো উদ্ধার করা সহজ হয়েছে। পাণ্ডুলিপিটি প্রাচীন হওয়া সত্ত্বেও এতে কোনো অনুমতিপত্র (إجازات), শ্রবণলিপি (سماعات) বা মালিকানা স্বত্ব (تمليكات) সংক্রান্ত কোনো বিবরণ নেই। প্রতীয়মান হয় যে এটি মানুষের কাছে তেমন পরিচিত ছিল না; তাই পাণ্ডুলিপির সূচিপত্র সম্বলিত গ্রন্থাবলি, যেমন—ব্রোকলম্যানের ‘তারিখু আদাবিল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ’ এবং ফুয়াদ সেজগিনের ‘তারিখুত তুরাসিল আরাবি’ ও অন্যান্য গ্রন্থে এর উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

সংক্ষেপে এই গ্রন্থে ইবন হিশামের অনুসৃত পদ্ধতি হলো—তিনি আয়াতের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ করেন এবং এর সপক্ষে বা বৈসাদৃশ্যে অনুরূপ বা ভিন্নতর অন্য আয়াতের উদ্ধৃতি দেন। মাঝে মাঝে তিনি কিছু কিরাআত উল্লেখ করেন; তিনি হাদিস থেকেও দলিল পেশ করেন এবং কবিতা ও গদ্য উভয় ক্ষেত্র থেকেই ব্যাকরণিক সাক্ষ্য-প্রমাণসমূহ উপস্থাপন করেন।

--------------------------------------------

১. সূরা সোয়াদ, আয়াত: ৮৪।
(খণ্ড: ১) আসইলাতু ওয়া আজউইবাতু ফী ইরাবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১০)
ويمتاز ابن هشام بطول النفس في استخراج أوجه الإعراب المختلفة، ففي كتابه هذا رغم صغر حجمه رياضة عقلية من عالم ضليع في ميداني النحو والصرف.

وقد أكملت الآيات التي استشهد ببعضها في هوامش الكتاب، حتى تكمل الفائدة لأن ابن هشام عادة يربط الإعراب كعادته في كتابه مغني اللبيب بباقي الآيات التي يعتقد أن القاري على علم بها، ولما كان الحفظة لكتاب الله الكريم أقل في وقتنا الحاضر، وجدت أن استكمال الآيات يؤتي ثمرته المرجوة

وأما بالنسبة للأحاديث النبوية فقد ذكرت رواتها، وأما بالنسبة لأشطار الأبيات التي استشهد بها، فقد عزوتها إلى قائليها، وأكملت أشطارها، وبينت مواطنها في الدواوين وكتب المختارات، وشرحت الكلمات الصعبة والمعاني المستغلقة الواردة فيها، وبينت مواطن الشواهد فيها وكذلك فعلت بأبيات الشعر الكاملة.

وعرفت الأعلام الوارد ذكرهم في المخطوط باختصار، وحرصت على ذكر مصادر عديدة عنهم ليستفيد بها طلبة العلم، وقد وضعت بحور الأبيات بين أقواس معقوفة.

وذيلت الكتاب بفهارس تفصيلية للآيات القرآنية الكريمة والأحاديث النبوية الشريفة، وكذا الأعلام والقبائل، والطبقات، والأشعار، والبلدان.

وإني أسأل الله تعالى أن يجعل هذا العمل خالصا لوجهه الكريم، وأن ينفع به الناس.

محمد نغش
ইবনে হিশাম ব্যাকরণগত বিশ্লেষণের (ইরাব) বিভিন্ন দিক বের করার ক্ষেত্রে তাঁর গভীরতা ও ধৈর্যের জন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। তাঁর এই গ্রন্থটি আকারে ছোট হওয়া সত্ত্বেও এটি নাহু ও সরফ উভয় শাস্ত্রে পারদর্শী একজন পণ্ডিতের এক অনন্য বুদ্ধিবৃত্তিক অনুশীলনের বহিঃপ্রকাশ।

আমি গ্রন্থের পাদটীকায় সেই আয়াতগুলোকে পূর্ণাঙ্গভাবে উল্লেখ করেছি যেগুলোর একাংশ তিনি উদ্ধৃত করেছিলেন, যাতে এর উপযোগিতা পূর্ণতা পায়। কারণ ইবনে হিশাম সাধারণত তাঁর 'মুগনি আল-লাবিব' গ্রন্থের ন্যায় এখানেও ব্যাকরণগত বিশ্লেষণকে সংশ্লিষ্ট আয়াতের অবশিষ্ট অংশের সাথে যুক্ত করেন, যা তিনি পাঠক অবগত আছেন বলে ধরে নেন। বর্তমান সময়ে পবিত্র কুরআনের হাফেজদের সংখ্যা কম হওয়ায় আমি আয়াতের পূর্ণাঙ্গ উল্লেখ করাকে কাঙ্ক্ষিত ফলপ্রসূ মনে করেছি।

আর হাদিসসমূহের ক্ষেত্রে আমি সেগুলোর বর্ণনাকারীদের (راوي) উল্লেখ করেছি। কবিতার চরণের যে অংশগুলো তিনি উদ্ধৃতি হিসেবে ব্যবহার করেছেন, আমি সেগুলো মূল কবির নামে নামাঙ্কিত করেছি, অসম্পূর্ণ পংক্তিগুলো পূর্ণ করেছি এবং কাব্যগ্রন্থ ও সংকলনসমূহে সেগুলোর উৎস নির্দেশ করেছি। পাশাপাশি ব্যবহৃত কঠিন শব্দ ও দুর্বোধ্য অর্থগুলো ব্যাখ্যা করেছি এবং কাব্যের প্রমাণস্থলগুলো স্পষ্ট করেছি। পূর্ণাঙ্গ কবিতাগুলোর ক্ষেত্রেও আমি একই পদ্ধতি অবলম্বন করেছি।

পাণ্ডুলিপিতে উল্লিখিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের (أعلام) সংক্ষিপ্ত পরিচয় প্রদান করেছি এবং তাঁদের সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্যসূত্র উল্লেখ করার চেষ্টা করেছি যাতে ইলম অন্বেষণকারীরা উপকৃত হতে পারেন। কবিতার ছন্দসমূহ আমি তৃতীয় বন্ধনীতে স্থাপন করেছি।

আমি গ্রন্থটির শেষে পবিত্র কুরআনের আয়াত, হাদিস, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ (أعلام), গোত্র, স্তর (طبقات), কবিতা ও দেশসমূহের বিস্তারিত নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি।

আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এই কাজটিকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর মাধ্যমে মানুষকে উপকৃত করেন।

মুহাম্মদ নাগশ
(খণ্ড: ১) আসইলাতু ওয়া আজউইবাতু ফী ইরাবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌أسئلة وأجوبة في إعراب القرآن

[2أ] بسم الله الرحمن الرحيم

وبه نستعين

قال الشيخ الإمام العلامة جمال الدين بن هشام الأنصاري الحنبلي رحمه الله أما بعد، حمدا لله على أفضاله حمدا كثيرا طيبا كما يليق بجلاله، والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى آله 0

فإني ذاكر في هذه الأوراق مسائل سئلت عنها في بعض الأسفار، وأجوبة أجبت بها على سبيل الاختصار، ومسائل ظهرت لي في تلك السفرة يعم إن شاء1 الله تعالى نفعها، ويعظم عند اللبيب وقعها، وبالله تعالى أعتصم وأسأله العصمة مما يصم، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلي العظيم 0

مسألة: علام انتصب عُرْفا في قوله تعالى: {وَالْمُرْسَلاتِ عُرْفاً} 2؟

الجواب: إن كانت المرسلات الملائكة، والعرف المعروف. فعرفا إما مفعول لأجله، وإما منصوب على نزع الخافض وهو الياء، والتقدير أقسم بالملائكة المرسلة للمعروف أو بالمعروف. وإن كانت المرسلات الأرواح أو الملائكة، وعرفا بمعنى متتابعة فانتصابها على الحال، والتقدير أقسم بالأرواح أو الملائكة المرسلة عرفا.

--------------------------------------------

1 في الأصل: إنشاء.

2 سورة المرسلات الآية 1.
কুরআনের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ইরাব) বিষয়ক প্রশ্নোত্তর

[২ক] পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি

শাইখ, ইমাম, প্রাজ্ঞ পণ্ডিত জামালুদ্দীন ইবনে হিশাম আল-আনসারী আল-হাম্বলী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: হামদ ও সালাতের পর; মহান আল্লাহর অনুগ্রহের জন্য তাঁর মহিমা অনুযায়ী অজস্র ও পবিত্র প্রশংসা, এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

আমি এই পত্রগুলোতে এমন কিছু মাসয়ালা উল্লেখ করছি যা আমাকে বিভিন্ন সফরে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল এবং সংক্ষেপে সেগুলোর উত্তর প্রদান করছি। এছাড়া এমন কিছু মাসয়ালাও রয়েছে যা সেই সফরে আমার নিকট স্পষ্ট হয়েছে; ইনশাআল্লাহ তাআলা এগুলোর উপকারিতা ব্যাপক হবে এবং বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের নিকট এর গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে। আমি মহান আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি এবং কলঙ্কজনক বিষয় থেকে তাঁর নিকট সুরক্ষা কামনা করি। সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ক্ষমতা ও শক্তি নেই।

মাসয়ালা: মহান আল্লাহর বাণী: {ওয়াল মুরসালাতি উরফা} -তে ‘উরফান’ শব্দটি কেন নসবপ্রাপ্ত (منصوب) হয়েছে?

উত্তর: যদি ‘মুরসালাত’ দ্বারা ফেরেশতা এবং ‘উরফ’ দ্বারা সৎকাজ (মা'রুফ) উদ্দেশ্য হয়, তবে ‘উরফান’ শব্দটি হয় মফুল লাহু (مفعول لأجله) হবে, অথবা এটি হরফে জার উহ্য থাকার কারণে নসবপ্রাপ্ত (منصوب على نزع الخافض) হয়েছে; আর সেই উহ্য হরফটি হলো ‘বা’। এমতাবস্থায় এর বিশ্লেষণ হবে: আমি শপথ করছি সেই ফেরেশতাদের যারা সৎকাজের জন্য বা সৎকাজের সাথে প্রেরিত। আর যদি ‘মুরসালাত’ দ্বারা রূহসমূহ বা ফেরেশতা উদ্দেশ্য হয় এবং ‘উরফান’ দ্বারা ‘ধারাবাহিক’ অর্থ নেওয়া হয়, তবে তার নসব হওয়ার কারণ হবে অবস্থা (حال); এমতাবস্থায় এর বিশ্লেষণ হবে: আমি শপথ করছি সেই রূহসমূহ বা ফেরেশতাদের যারা ধারাবাহিকভাবে প্রেরিত।

--------------------------------------------

১ মূল পাণ্ডুলিপিতে: ‘ইনশাআল্লাহ’ শব্দটি এক শব্দে (إنشاء) লেখা ছিল।

২ সূরা আল-মুরসালাত, আয়াত: ১।
(খণ্ড: ১) আসইলাতু ওয়া আজউইবাতু ফী ইরাবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৪)
مسألة: علام انتصب الحقان في قوله تعالى: {قَالَ فَالْحَقُّ وَالْحَقَّ أَقُولُ} 1؟

الجواب: الحق الأول: منصوب بنزع الخافض. والحق الثاني: منصوب بالفعل الذي بعده ولأملأن جواب القسم، والجملة بينهما معترضة لتقوية معنى الكلام. والتقدير أقسم بالحق لأملأن جهنم وأقول الحق.

مسألة: ما إعراب أحوى في قوله تعالى: {فَجَعَلَهُ غُثَاءً أَحْوَى} 2؟

الجواب: إن فسر بالأخضر كان حالا من المرعى، أو بالأسود كان صفة للغثاء.

مسألة: علام انتصب عينا من قوله تعالى: {عَيْناً يَشْرَبُ بِهَا عِبَادُ اللَّهِ} 3؟

الجواب: إما على البدل من كافورا، أو من كأس على الموضع، أو بتقدير فعل أي يشربون [2ب] عينا. وعلى الأول فلا بد من تقدير مضاف أي ماء عين، فهي كقول حسان4:

--------------------------------------------

1 سورة {ص} من الآية (84) وتمامها {قَالَ فَالْحَقُّ وَالْحَقَّ أَقُولُ}

2 سورة الأعلى الآية (5) ، والآية التي قبلها {وَالَّذِي أَخْرَجَ الْمَرْعَى} ذكرتها لتعلقها بالإعراب.

3 سورة الإنسان من الآية (6) وتمامها {عَيْناً يَشْرَبُ بِهَا عِبَادُ اللَّهِ يُفَجِّرُونَهَا تَفْجِيراً} والآية التي قبلها {إِنَّ الأبْرَارَ يَشْرَبُونَ مِنْ كَأْسٍ كَانَ مِزَاجُهَا كَافُوراً} ذكرتها لتعلقها بالإعراب.

4 حسان بن ثابت بن منذر الخزرجي الأنصاري، أبو الوليد، الصحابي، شاعر النبي صلى الله عليه وسلم، وأحد المخضرمين الذين أدركو الجاهلية والإسلام. توفي سنة 54 هـ =674 م (تهذيب التهذيب جـ 2 ص 247 والإصابة جـ 1 ص 326 وابن عساكر جـ 4 ص125 ومعاهد التنصيص جـ 1 ص 209 وخزانة البغدادي جـ 1 ص 11 والأغاني جـ 4 ص 134 وابن سلام ص 52 والشعراء ص 104 وحسن الصحابة ص 17)
মাসআলা: আল্লাহ তাআলার বাণী: {قَالَ فَالْحَقُّ وَالْحَقَّ أَقُولُ} ১ —এখানে ‘হাক্ক’ শব্দ দুটি কোন কারণে মানসুব (منصوب) হয়েছে?

উত্তর: প্রথম ‘হাক্ক’ শব্দটি ‘নযউল খাফিয’ (نزع الخافض) এর কারণে মানসুব (منصوب) হয়েছে। আর দ্বিতীয় ‘হাক্ক’ শব্দটি তার পরবর্তী ফেল (ক্রিয়া) দ্বারা মানসুব (منصوب) হয়েছে এবং ‘লা-আমলাআন্না’ হলো কসমের উত্তর। এই দুইয়ের মাঝখানের বাক্যটি কথার অর্থকে শক্তিশালী করার জন্য ‘জুমলা মু’তারিযাহ’ (جملة معترضة) বা মধ্যবর্তী বাক্য হিসেবে এসেছে। এর মূল কাঠামো হলো—আমি সত্যের কসম করছি যে, আমি অবশ্যই জাহান্নাম পূর্ণ করব এবং আমি সত্য কথাই বলি।

মাসআলা: আল্লাহ তাআলার বাণী: {فَجَعَلَهُ غُثَاءً أَحْوَى} ২ —এখানে ‘আহওয়া’ শব্দের ইরাব (إعراب) কী?

উত্তর: যদি এর অর্থ ‘সবুজ’ করা হয়, তবে তা ‘তৃণভূমি’ থেকে হাল (حالا) হবে। আর যদি ‘কালো’ অর্থ করা হয়, তবে তা ‘গুসা’ (আবর্জনা) এর সিফাত (صفة) বা বিশেষণ হবে।

মাসআলা: আল্লাহ তাআলার বাণী: {عَيْناً يَشْرَبُ بِهَا عِبَادُ اللَّهِ} ৩ —এখানে ‘আইন’ (عَيْناً) শব্দটি কোন কারণে মানসুব (منصوب) হয়েছে?

উত্তর: হয় এটি ‘কাফুর’ থেকে বাদাল (البدل) হয়েছে, অথবা ‘কাস’ (পেয়ালা) এর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কারণে মানসুব (منصুব) হয়েছে, অথবা একটি উহ্য ফেল (ক্রিয়া) এর কারণে—অর্থাৎ তারা [২ব] একটি ঝরনা থেকে পান করবে। প্রথম মতানুসারে, এখানে একটি মুযাফ (مضاف) উহ্য মানতে হবে, অর্থাৎ ‘ঝরনার পানি’। এটি হাসসান ৪-এর কবিতার মতো:

--------------------------------------------

১ সূরা সোয়াদ, আয়াত ৮৪; এর পূর্ণ অংশ হলো {قَالَ فَالْحَقُّ وَالْحَقَّ أَقُولُ}

২ সূরা আল-আলা, আয়াত ৫; এর পূর্ববর্তী আয়াতটি হলো {وَالَّذِي أَخْرَجَ الْمَرْعَى}। ইরাবের সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে আমি এটি উল্লেখ করেছি।

৩ সূরা আল-ইনসান, আয়াত ৬; এর পূর্ণ অংশ হলো {عَيْناً يَشْرَبُ بِهَا عِبَادُ اللَّهِ يُفَجِّرُونَهَا تَفْجِيراً}। এর পূর্ববর্তী আয়াতটি হলো {إِنَّ الأبْرَارَ يَশْرَبُونَ مِنْ كَأْسٍ كَانَ مِزَاجُهَا كَافُوراً}। ইরাবের সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে আমি এটি উল্লেখ করেছি।

৪ হাসসান বিন সাবিত বিন মুনযির আল-খাযরাজি আল-আনসারি, আবু আল-ওয়ালিদ; তিনি একজন সাহাবী (الصحابي), নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কবি এবং মুখাযরামদের (المخضرمين) অন্তর্ভুক্ত একজন, যারা জাহেলি এবং ইসলামি উভয় যুগ পেয়েছেন। তিনি ৫৪ হিজরি = ৬৭৪ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। (তাজহীবুত তাজহীব, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৪৭; আল-ইসাবাহ, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩২৬; ইবনে আসাকির, ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ১২৫; মাআহিদুত তানসিস, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২০৯; খিযানাতুল বাগদাদি, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১১; আল-আগানি, ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৩৪; ইবনে সালাম, পৃষ্ঠা ৫২; আশ-শুয়ারা, পৃষ্ঠা ১০৪; হুসনুল সাহাবাহ, পৃষ্ঠা ১৭)।
(খণ্ড: ১) আসইলাতু ওয়া আজউইবাতু ফী ইরাবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৫)
يسقون1 من ورد البريص عليهم … بردى يصفق بالرحيق السلسل2

[الكامل]

أي ماء بردى. وجوز بعضهم وجها رابعا، وهو أن يكون حالا من الضمير المضاف إليه المزاج وفيه بعد.

مسألة: أين مفعول رأيت من قوله تعالى: {وَإِذَا رَأَيْتَ ثَمَّ رَأَيْتَ نَعِيماً} 3؟

الجواب: قال المحققون: لا مفعول لها. وقال قوم: لها مفعول. واختلف هؤلاء، فقيل: موصول حذف وبقيت صلته، والتقدير: إذا رأيت ما ثم قيل: ومثله {لَقَدْ تَقَطَّعَ بَيْنَكُمْ} 4 أي ما بينكم. {قَالَ هَذَا فِرَاقُ بَيْنِي وَبَيْنِكَ} 5 أي ما بيني. وقيل: مذكور وهو نفس. ثم يرد الأول أن الموصول وصلته كالكلمة الواحدة، فلا يحسن حذف أحدهماوبقاء الآخر. والثاني: أن ثم لم تستعمل في العربية إلا ظرفا، كقوله تعالى: {وَأَزْلَفْنَا ثَمَّ الْآخَرِينَ} 6 أو يجرون بمن أو بإلى.

--------------------------------------------

1 في الأصل: فيقولن، والوزن يقتضي ما أثبتناه.

2 أراد ماء بردى. وبردى نهردمشق. والرحيق: الخمر. والسلسل: السهلة السلسلة. يصفق: يمزج. أما البريص بالصاد المهملة فقد اختلفوا فيه، فقال أكثرهم: إنه نهر دمشق، ورأى البعض أنه غوطة دمشق. (ديوان حسان بن ثابت تحقيق د. وليد عرفات جـ 2 ص 74 ط. بيروت)

3 سورة الإنسان من الآية (94) وتمامها {وَإِذَا رَأَيْتَ ثَمَّ رَأَيْتَ نَعِيماً وَمُلْكاً كَبِيراً} .

4 سورة الأنعام من الآية (94) وتمامها {وَلَقَدْ جِئْتُمُونَا فُرَادَى كَمَا خَلَقْنَاكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَتَرَكْتُمْ مَا خَوَّلْنَاكُمْ وَرَاءَ ظُهُورِكُمْ وَمَا نَرَى مَعَكُمْ شُفَعَاءَكُمُ الَّذِينَ زَعَمْتُمْ أَنَّهُمْ فِيكُمْ شُرَكَاءُ لَقَدْ تَقَطَّعَ بَيْنَكُمْ وَضَلَّ عَنْكُمْ مَا كُنْتُمْ تَزْعُمُونَ} .

5 من سورة الكهف من الآية 78 وتمامها {قَالَ هَذَا فِرَاقُ بَيْنِي وَبَيْنِكَ سَأُنَبِّئُكَ بِتَأْوِيلِ مَا لَمْ تَسْتَطِعْ عَلَيْهِ صَبْراً} .

6 سورة الشعراء الآية 64.
তাদেরকে আল-বারীস-এর সুপেয় পানি পান করানো হয়... বারাদা যা সুপেয় ও স্বচ্ছ সুধার সাথে মিশ্রিত।

[আল-কামিল ছন্দ (الكامل)]

অর্থাৎ বারাদার পানি। কেউ কেউ চতুর্থ একটি দিক বৈধ বলেছেন, আর তা হলো এটি ‘আল-মিজাজ’-এর সাথে যুক্ত সর্বনাম থেকে অবস্থা (حال) হওয়া, তবে এতে দূরবর্তিতা (দুর্বলতা) রয়েছে।

মাসআলা: মহান আল্লাহর বাণী: {আর যখন আপনি সেখানে দেখবেন, তখন নেয়ামতরাজি দেখতে পাবেন}-এর মধ্যে ‘রআইতা’ (رأيت) ক্রিয়াটির কর্ম (مفعول) কোথায়?

উত্তর: গবেষকগণ (المحققون) বলেছেন: এর কোনো কর্ম (مفعول) নেই। একদল বলেছেন: এর কর্ম (مفعول) আছে। তারা আবার মতভেদ করেছেন; বলা হয়েছে: এটি একটি উহ্য সম্বন্ধসূচক সর্বনাম (موصول) যার সম্বন্ধসূচক বাক্য (صلة) অবশিষ্ট রয়েছে। তখন প্রাক্কলিত রূপ হবে: ‘ইযা রআইতা মা সাম্মা’ (যখন আপনি সেখানে যা আছে তা দেখবেন)। বলা হয়েছে: অনুরূপ উদাহরণ হলো: {তোমাদের মধ্যকার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে} অর্থাৎ ‘মা বাইনাকুম’ (যা তোমাদের মাঝে ছিল)। {তিনি বললেন, এটা আমার ও তোমার মধ্যকার বিচ্ছেদ} অর্থাৎ ‘মা বাইনি’ (যা আমার মাঝে)। আবার বলা হয়েছে: কর্মটি উল্লিখিত আছে এবং তা হলো স্বয়ং ‘নাফস’। অতঃপর প্রথম মতটি এই বলে খণ্ডন করা হয় যে, সম্বন্ধসূচক সর্বনাম (موصول) এবং তার সম্বন্ধসূচক বাক্য (صلة) একটি শব্দের ন্যায়, তাই একটিকে বিলোপ করে অন্যটিকে অবশিষ্ট রাখা সমীচীন নয়। দ্বিতীয়টি হলো: ‘সাম্মা’ শব্দটি আরবি ভাষায় কেবল স্থান বা কালবাচক অব্যয় (ظرف) হিসেবেই ব্যবহৃত হয়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি সেখানে অন্যদেরকে নিকটবর্তী করেছিলাম}; অথবা এগুলো ‘মিন’ বা ‘ইলা’ দ্বারা মাজরুর হয়।

--------------------------------------------

১ মূলে রয়েছে: ‘ফায়াকুলনা’, এবং ছন্দ (الوزن) আমরা যা সাব্যস্ত করেছি তাই দাবি করে।

২ তিনি বারাদার পানি বুঝিয়েছেন। বারাদা হলো দামেস্কের একটি নদী। আর ‘রাহীক’ অর্থ শরাব। ‘সালসাল’ অর্থ সহজ ও সাবলীল। ‘ইউসাফ্ফাকু’ অর্থ মিশ্রিত করা। আর ‘বারীস’ শব্দটির ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে; অধিকাংশের মতে এটি দামেস্কের একটি নদী, আবার কেউ কেউ মনে করেন এটি দামেস্কের ‘গূত্বাহ’ বা উপবন। (দিওয়ান হাসসান ইবনে সাবিত, তাহকীক: ড. ওয়ালিদ আরাফাত, ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৭৪, বৈরুত মুদ্রণ)।

৩ সূরা আল-ইনসান, আয়াত ২০-এর অংশ বিশেষ; পূর্ণ আয়াতটি হলো: {আর যখন আপনি সেখানে দেখবেন, তখন দেখতে পাবেন নেয়ামতরাজি ও এক বিশাল রাজত্ব}।

৪ সূরা আল-আনআম, আয়াত ৯৪-এর অংশ বিশেষ; পূর্ণ আয়াতটি হলো: {তোমরা আমার কাছে একে একে চলে এসেছ, যেমন আমি তোমাদের প্রথমবার সৃষ্টি করেছিলাম। আর আমি তোমাদের যা দিয়েছিলাম তা তোমরা পেছনে ফেলে এসেছ। আমি তোমাদের সাথে তোমাদের সেই সুপারিশকারীদের দেখছি না, যাদের সম্পর্কে তোমাদের দাবি ছিল যে তারা তোমাদের মাঝে আল্লাহর অংশীদার। অবশ্যই তোমাদের মধ্যকার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তোমরা যা দাবি করতে তা তোমাদের থেকে হারিয়ে গেছে}।

৫ সূরা আল-কাহাফ, আয়াত ৭৮-এর অংশ বিশেষ; পূর্ণ আয়াতটি হলো: {তিনি বললেন, এটাই আমার ও তোমার মধ্যে বিচ্ছেদের সময়। তুমি যে বিষয়গুলোতে ধৈর্য ধরতে পারোনি, আমি অচিরেই তোমাকে সেগুলোর তাৎপর্য জানিয়ে দিচ্ছি}।

৬ সূরা আশ-শুয়ারা, আয়াত ৬৪।
(খণ্ড: ১) আসইলাতু ওয়া আজউইবাতু ফী ইরাবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৬)
مسألة: علام انتصب خيرا من قوله تعالى: {وَأَنْفِقُوا خَيْراً لِأَنْفُسِكُمْ} 1؟

الجواب: إما على المفعولية، وعاملها إما محذوف: أي وأتوا خيرا، وهو محكي عن سيبويه2 وأنما أحفظه عنه3 في {انْتَهُوا خَيْراً لَكُمْ} 4 أو مذكور: وهو وأنفقوا على أن يكون المراد بالخير المال. كقوله تعالى: {إِنْ تَرَكَ خَيْراً} 5 وقد يبعده قوله: لكم.

وإما على أنه خبر لكان محذوفة أي يكن الإنفاق خيرا. قال الكسائي6 والفراء7 [هو نعت لمصدر محذوف تقديره:

--------------------------------------------

1 سورة التغابن من الآية 16 وتمامها {فَاتَّقُوا اللَّهَ مَا اسْتَطَعْتُمْ وَاسْمَعُوا وَأَطِيعُوا وَأَنْفِقُوا خَيْراً لأنْفُسِكُمْ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} وليست في سيبويه كما ذكر ابن هشام.

2 سيبويه: عمرو بن عثمان بن قنبر الحارثي بالولاء، أبو بشر: إمام النحاة. صنف (الكتاب) في النحو. وناظر الكسائي، وأجازه الرشيد بعشرة الآف درهم، توفي سنة 180 هـ = 796 م. (ابن خلكان جـ 1 ص 385 والشريشي جـ 2 ص 17والبداية والنهاية جـ 10 ص 167 والسيرافي ص 48 وتاريخ بغداد جـ 12 ص 195 وطبقات النحويين ص 66: 74)

3 عنه: لعلها زائدة في المخطوط، حيث إن الرأي المذكور ورد منسوبا لسيبويه في مشكل إعراب القرآن جـ 2 ص 383.

4 سورة النساء من الآية 171 وتمامها {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ وَلا تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلاّ الْحَقَّ إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوحٌ مِنْهُ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَلا تَقُولُوا ثَلاثَةٌ انْتَهُوا خَيْراً لَكُمْ إِنَّمَا اللَّهُ إِلَهٌ وَاحِدٌ سُبْحَانَهُ أَنْ يَكُونَ لَهُ وَلَدٌ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأرْضِ وَكَفَى بِاللَّهِ وَكِيلاً} .

5 سورة البقرة من الآية: 180 وتمامها {كُتِبَ عَلَيْكُمْ إِذَا حَضَرَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ إِنْ تَرَكَ خَيْراً الْوَصِيَّةُ لِلْوَالِدَيْنِ وَالأقْرَبِينَ بِالْمَعْرُوفِ حَقّاً عَلَى الْمُتَّقِينَ} .

6 الكسائي: علي بن حمزة بن عبد الله الأسدي بالولاء، الكوفي، أبو الحسن: إمام في اللغة والنحو والقراءة. سكن بغداد، وتوفي بالري، وهو مؤدب الرشيد العباسي، وابنه الأمين. وله عدة مصنفات. توفي سنة 189هـ = 805 م (غاية النهاية جـ 1 ص 535 وابن خلكان جـ 1 ص 330 وتاريخ بغداد جـ 11 ص 403 ونزهة الألبا ص 81: 94 وطبقات النحويين ص 138 وإنباه الرواة جـ 2 ص 256) .

7 الفراء: يحيى بن زياد بن عبد الله بن منظور الديلمي، مولى بني أسد أو (بني منقر) أبو زكريا، المعروف بالفراء إمام الكوفيين، وأعلمهم بالنحو واللغة وفنون الأدب. كان يقال: الفراء أمير المؤمنين في النحو ومن كلام ثعلب: لولا الفراء ما كانت اللغة. (إرشاد الأريب جـ 7 ص 276 ووفيات الأعيان جـ 2ص 228 وابن النديم ط. فلوجل ص 66: 67 ومفتاح السعادة جـ 1 ص 144 وغاية النهاية جـ 2 ص 271 ونزهة الألبا ص 126 ومراتب النحويين ص 86: 89 وتهذيب التهذيب جـ 11 ص 212 وتاريخ بغداد جـ 14 ص 149: 155) .
বিষয়: মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তোমরা নিজেদের কল্যাণে ব্যয় করো} ১ -এ 'খাইরান' শব্দটি কেন নাসব অবস্থায় রয়েছে?

উত্তর: এটি হয় মাফউল (কর্মপদ) হওয়ার কারণে, আর এর আমিল (ক্রিয়া) হয় উহ্য: অর্থাৎ 'তোমরা কল্যাণ নিয়ে আসো', যা সিবাওয়াইহ২ থেকে বর্ণিত। আমি তাঁর থেকে৩ এটি {তোমরা বিরত হও, তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর হবে} ৪ -এর ক্ষেত্রে সংরক্ষিত হিসেবে জানি। অথবা আমিলটি উল্লিখিত হয়েছে: আর তা হলো 'তোমরা ব্যয় করো' এই অর্থে যে, এখানে 'খাইর' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সম্পদ। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {যদি সে সম্পদ রেখে যায়} ৫। তবে 'তোমাদের জন্য' কথাটি একে দূরবর্তী সাব্যস্ত করতে পারে।

অথবা এটি একটি উহ্য 'কানা' ক্রিয়ার খবর হওয়ার কারণে, অর্থাৎ 'তোমাদের ব্যয় করাটা যেন কল্যাণকর হয়'। আল-কিসায়ি৬ এবং আল-ফাররা৭ বলেছেন [এটি একটি উহ্য মাসদারের সিফাত (গুণবাচক শব্দ), যার প্রাক্কলিত রূপ হলো:

--------------------------------------------

১ সূরা আত-তাগাবুন, আয়াত ১৬-এর অংশ, যার পূর্ণাঙ্গ রূপ হলো {অতএব তোমরা যথাসম্ভব আল্লাহকে ভয় করো, শ্রবণ করো, আনুগত্য করো এবং নিজেদের কল্যাণে ব্যয় করো। আর যাদেরকে মনের কার্পণ্য থেকে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফলকাম}। ইবনে হিশাম যেমন উল্লেখ করেছেন, এটি সিবাওয়াইহ-এর গ্রন্থে নেই।

২ সিবাওয়াইহ: আমর বিন উসমান বিন কানবার আল-হারিসি আল-ওয়ালা, আবু বিশর: ব্যাকরণবিদদের ইমাম। তিনি নাহু শাস্ত্রে 'আল-কিতাব' রচনা করেন। তিনি আল-কিসায়ির সাথে বিতর্ক করেছিলেন এবং খলিফা আল-রশীদ তাকে দশ হাজার দিরহাম পুরস্কার দিয়েছিলেন। তিনি ১৮০ হিজরি = ৭৯৬ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। (ইবনে খাল্লিকান, ১ম খণ্ড, ৩৮৫ পৃষ্ঠা; আল-শারীশি, ২য় খণ্ড, ১৭ পৃষ্ঠা; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১০ম খণ্ড, ১৬৭ পৃষ্ঠা; আস-সিরাফি, ৪৮ পৃষ্ঠা; তারিখ বাগদাদ, ১২তম খণ্ড, ১৯৫ পৃষ্ঠা এবং তাবাকাতুন নাহুয়্যিন, ৬৬-৭৪ পৃষ্ঠা)।

৩ তাঁর থেকে: সম্ভবত এটি পাণ্ডুলিপিতে অতিরিক্ত, কারণ উল্লিখিত মতটি 'মুশকিল ই'রাব আল-কুরআন' (২য় খণ্ড, ৩৮৩ পৃষ্ঠা) গ্রন্থে সিবাওয়াইহ-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে।

৪ সূরা আন-নিসা, আয়াত ১৭১-এর অংশ, যার পূর্ণাঙ্গ রূপ হলো {হে আহলে কিতাবগণ, তোমরা তোমাদের ধর্মোবাড়াবাড়ি করো না এবং আল্লাহর সম্বন্ধে সত্য ছাড়া কিছু বলো না। মারইয়াম পুত্র ঈসা মসীহ তো আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর বাণী, যা তিনি মারইয়ামের নিকট পাঠিয়েছিলেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে এক রূহ। সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণের ওপর ঈমান আনো এবং বলো না যে, আল্লাহ তিনজন। তোমরা বিরত হও, এটি তোমাদের জন্য কল্যাণকর হবে। আল্লাহ তো কেবল এক ইলাহ, তাঁর কোনো সন্তান হওয়া থেকে তিনি পবিত্র। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁরই এবং কর্মবিধায়ক হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট}।

৫ সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ১৮০-এর অংশ, যার পূর্ণাঙ্গ রূপ হলো {তোমাদের কারো যখন মৃত্যু উপস্থিত হয়, যদি সে সম্পদ রেখে যায়, তবে পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য ইনসাফের সাথে অসিয়ত করা তোমাদের ওপর ফরয করা হলো; এটি মুত্তাকীদের জন্য একটি কর্তব্য}।

৬ আল-কিসায়ি: আলী বিন হামজাহ বিন আব্দুল্লাহ আল-আসাদি আল-ওয়ালা, আল-কুফি, আবু আল-হাসান: ভাষা, নাহু (ব্যাকরণ) এবং কিরাআত শাস্ত্রের ইমাম। তিনি বাগদাদে বসবাস করতেন এবং রাই শহরে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি আব্বাসীয় খলিফা আল-রশীদ এবং তার পুত্র আল-আমীনের শিক্ষক ছিলেন। তার বেশ কিছু গ্রন্থ রয়েছে। তিনি ১৮৯ হিজরি = ৮০৫ খ্রিস্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন। (গায়াতুন নিহায়া, ১ম খণ্ড, ৫৩৫ পৃষ্ঠা; ইবনে খাল্লিকান, ১ম খণ্ড, ৩৩০ পৃষ্ঠা; তারিখ বাগদাদ, ১১তম খণ্ড, ৪০৩ পৃষ্ঠা; নুযহাতুল আলিব্বা, ৮১-৯৪ পৃষ্ঠা; তাবাকাতুন নাহুয়্যিন, ১৩৮ পৃষ্ঠা এবং ইনবাহুর রুওয়াত, ২য় খণ্ড, ২৫৬ পৃষ্ঠা)।

৭ আল-ফাররা: ইয়াহইয়া বিন যিয়াদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মানযুর আদ-দাইলামি, বনু আসাদ বা (বনু মিনকার)-এর মুক্তদাস, আবু যাকরিয়া, আল-ফাররা নামে পরিচিত। তিনি কুফাবাসীদের ইমাম এবং নাহু, ভাষা ও সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তাদের মধ্যে সর্বাধিক জ্ঞানী ছিলেন। বলা হতো: আল-ফাররা ব্যাকরণ শাস্ত্রের আমিরুল মুমিনিন। ছালাবের উক্তি: আল-ফাররা না থাকলে ভাষা থাকতো না। (ইরশাদুল আরিব, ৭ম খণ্ড, ২৭৬ পৃষ্ঠা; ওফায়াতুল আ’য়ান, ২য় খণ্ড, ২২৮ পৃষ্ঠা; ইবনে নাদিম ফ্লাগেল সংস্করণ, ৬৬-৬৭ পৃষ্ঠা; মিফতাহুস সা’আদাহ, ১ম খণ্ড, ১৪৪ পৃষ্ঠা; গায়াতুন নিহায়া, ২য় খণ্ড, ২৭১ পৃষ্ঠা; নুযহাতুল আলিব্বা, ১২৬ পৃষ্ঠা; মারাতীবুন নাহুয়্যিন, ৮৬-৮৯ পৃষ্ঠা; তাহযীবুত তাহযীব, ১১তম খণ্ড, ২১২ পৃষ্ঠা এবং তারিখ বাগদাদ, ১৪তম খণ্ড, ১৪৯-১৫৫ পৃষ্ঠা)।
(খণ্ড: ১) আসইলাতু ওয়া আজউইবাতু ফী ইরাবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৭)
وأنفقوا إنفاقا خيرا] 1. أو على الحال من ضمير مصدر الفعل. أي أنفقوا الإنفاق. قال بعضهم: فهي خمسة أقوال وهي مشهورة في كتب الأعاريب، ونسبتها إلى من ذكر من كتاب مكي2 والذي أحفظه أن الذي يقدر كان الكسائي، فلعل له قولين، ويتأتى منها في إعراب قوله تعالى: {انْتَهُوا خَيْراً لَكُم} 3 ثلاثة أقوال فقط، وهي ما عدا القول بأنه مفعول لفعل مذكور أو ما عدا الحال، فإنه الأول لا سبيل إليه [3 أ] والثاني ضعيف بعيد من حيث المعنى.

مسألة: علام انتصب {وَهُدىً وَمَوْعِظَةً} 4 في سورة المائدة؟

الجواب: على العطف على محل فيه هدى ونور، فإنه في محل النصب على الحال من الإنجيل. ونظيره {وَيُكَلِّمُ النَّاسَ فِي الْمَهْدِ وَكَهْلاً} 5 ولا يحسن عطفه على مصدقا لأنه يصير حالا من عيسى لا من الإنجيل فيلزم التكرار فإن قيل: يؤنس

--------------------------------------------

1 ما بين قوسين من مشكل إعراب القرآن جـ 2 ص 383.

2 مكي بن أبي طالب بن حموش من أئمة المغاربة في القرن الرابع مالكي روى الفقه عن ابن أبي زيد صاحب الرسالة، ولمكي كتاب مشكل إعراب القرآن.

3 سورة النساء من الآية 171.

4 سورة المائدة من الآية 46 وتمامها {وَقَفَّيْنَا عَلَى آثَارِهِمْ بِعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ مُصَدِّقاً لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ التَّوْرَاةِ وَآتَيْنَاهُ الْأِنْجِيلَ فِيهِ هُدىً وَنُورٌ وَمُصَدِّقاً لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ التَّوْرَاةِ وَهُدىً وَمَوْعِظَةً لِلْمُتَّقِينَ} .

5 سورة آل عمران من الآية 46 وتمامها {وَيُكَلِّمُ النَّاسَ فِي الْمَهْدِ وَكَهْلاً وَمِنَ الصَّالِحِينَ}
এবং তোমরা উত্তম ব্যয় করো] ১। অথবা ক্রিয়ামূলের (مصدر) সর্বনাম থেকে অবস্থা (حال) হিসেবে। অর্থাৎ, তোমরা প্রকৃত ব্যয় হিসেবে ব্যয় করো। কেউ কেউ বলেছেন: এ বিষয়ে পাঁচটি অভিমত রয়েছে এবং সেগুলো ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের (إعراب) গ্রন্থসমূহে প্রসিদ্ধ। আর এগুলো মক্কী-র [২] কিতাবে উল্লিখিত ব্যক্তিদের প্রতি সম্পৃক্ত করা হয়েছে। আমার যা স্মরণে আছে তা হলো, যিনি এটি নির্ধারণ করেছেন তিনি হলেন আল-কিসায়ি; সম্ভবত এ বিষয়ে তাঁর দুটি অভিমত রয়েছে। এ থেকে মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা বিরত হও, তা তোমাদের জন্য কল্যাণকর} [৩]-এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে (إعرাব) মাত্র তিনটি অভিমত পাওয়া যায়; আর তা হলো উল্লিখিত ক্রিয়ার কর্ম (مفعول) হওয়ার অভিমত বা অবস্থা (حال) হওয়ার অভিমত ব্যতীত। কেননা প্রথমটির কোনো অবকাশ নেই [৩ ক] এবং দ্বিতীয়টি অর্থের দিক থেকে দুর্বল (ضعيف) ও দূরবর্তী।

মাসআলা: সূরা আল-মায়িদাহ-তে {পথনির্দেশ ও উপদেশ} [৪] শব্দদ্বয় কেন নসব (نصب) হয়েছে?

আল-জওয়াব (উত্তর): এটি {তাতে রয়েছে পথনির্দেশ ও আলো} এর স্থলাভিষিক্তের ওপর সংযোজন (عطف) হওয়ার কারণে। কেননা এটি 'ইনজিল' থেকে অবস্থা (حال) হিসেবে নসবের (نصب) স্থানে রয়েছে। এর অনুরূপ উদাহরণ হলো: {এবং তিনি দোলনায় থাকা অবস্থায় ও পূর্ণ বয়সে মানুষের সাথে কথা বলবেন} [৫]। আর একে 'মুসাদ্দিকান' (সত্যায়নকারী)-এর ওপর সংযোজন (عطف) করা সঙ্গত নয়, কারণ তখন এটি ঈসা (আ.) থেকে অবস্থা (حال) হয়ে যাবে, ইনজিল থেকে নয়; ফলে অর্থের পুনরাবৃত্তি আবশ্যক হয়ে পড়বে। যদি বলা হয়: এটি আশ্বস্ত করে...

--------------------------------------------

১. বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু 'মুশকিল ই'রাব আল-কুরআন', ২য় খণ্ড, ৩৮৩ পৃষ্ঠা থেকে গৃহীত।

২. মক্কী বিন আবি তালিব বিন হাম্মুশ ছিলেন চতুর্থ শতাব্দীর মাগরেব অঞ্চলের অন্যতম ইমাম (إمام) এবং মালিকি মাজহাবের অনুসারী। তিনি 'আর-রিসালাহ' প্রণেতা ইবনে আবি যায়িদ থেকে ফিকহ (فقه) বর্ণনা করেছেন। মক্কী-র 'মুশকিল ই'রাব আল-কুরআন' নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে।

৩. সূরা আন-নিসা, আয়াত ১৭১-এর অংশ।

৪. সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ৪৬। এর পূর্ণাঙ্গ আয়াতটি হলো: {আমি তাদের পদাঙ্ক অনুসরণে মরিয়ম-তনয় ঈসাকে পাঠিয়েছিলাম, তাঁর সম্মুখে বিদ্যমান তাওরাতের সত্যায়নকারীরূপে এবং আমি তাঁকে ইনজিল দান করেছিলাম, যাতে ছিল পথনির্দেশ ও আলো এবং যা তাঁর সম্মুখে বিদ্যমান তাওরাতের সত্যায়নকারী এবং মুত্তাকিদের জন্য পথনির্দেশ ও উপদেশ।}

৫. সূরা আল-ইমরান, আয়াত ৪৬। এর পূর্ণাঙ্গ আয়াতটি হলো: {এবং তিনি দোলনায় থাকা অবস্থায় ও পূর্ণ বয়সে মানুষের সাথে কথা বলবেন এবং তিনি পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।}
(খণ্ড: ১) আসইলাতু ওয়া আজউইবাতু ফী ইরাবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৮)
لقصد تكرر ذكر الهدى. فالجواب: إن أعيد لتعلق الجار والمجرور لتبيين من هو له.

مسألة: أين الفاعل في قراءة أبي جعفر يزيد بن القعقاع المدني1 {بِمَا حَفِظَ اللَّهُ} 2 ينتصب اسم الله عز وجل؟

الجواب: يحتمل وجهين أحدهما: أن يكون اسم الله تعالى [فاعلا] ولكنه نصب لفهم المعنى، فإنه من كلامهم أن الفاعل ربما نصب إذا أمن الإلباس كقولهم: كسر الزجاج الحجر، وخرق الثوب المسمار. رويا برفع الزجاج والثوب ونصب الحجر والمسمار وقال الشاعر:

قد سالم الحيات منه القدما3.

رُوي بنصب الحيات، وعلى هذا فيتحد مع قراءة السبعة. والمعنى عليهما بحفظ الله لهن، والمفعول محذوف كما في قوله تعالى: {وَالْحَافِظِينَ فُرُوجَهُمْ وَالْحَافِظَاتِ} 4.

--------------------------------------------

1 أحد القراء ((العشرة)) من التابعين. كان إمام أهل المدينة في القراءة، وكان من المفتين، توفي سنة 132هـ = 750 م بالمدينة المنورة. (وفيات الأعيان 5/278 وغاية النهاية 2/382 وتاريخ الإسلام للذهبي 5/188) .

2 سورة النساء من الآية 34 وتمامها {الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ وَاللاّتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلاً إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيّاً كَبِيراً} .

3 هذا الشطر من أرجوزة لأبي حيان الفقعسي وفي سيبويه قيل أن القائل هو عبد بني عبس، وقيل: هي لغيره وعجز البيت:

ألأفعوان والشجاع الشجما

والشاهد: نصب الفاعل والمفعول في رواية من نصب الحيات، وقيل القدما تثنية حذفت نونه للضروة. (شرح شواهد المغني للسيوطي ق 2 س 973، وخزانة الأدب للبغدادي جـ 4 870، وحاشية الشيخ محمد الأمير علي مغني اللبيب لابن هشام جـ 2 ص 202، وكتاب سيبويه جـ 1 ص 145 والأشموني جـ 3 ص 52) .

4 سورة الأحزاب من الآية 35 وتمامها {إِنَّ الْمُسْلِمِينَ وَالْمُسْلِمَاتِ وَالْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَالْقَانِتِينَ وَالْقَانِتَاتِ وَالصَّادِقِينَ وَالصَّادِقَاتِ وَالصَّابِرِينَ وَالصَّابِرَاتِ وَالْخَاشِعِينَ وَالْخَاشِعَاتِ وَالْمُتَصَدِّقِينَ وَالْمُتَصَدِّقَاتِ وَالصَّائِمِينَ وَالصَّائِمَاتِ وَالْحَافِظِينَ فُرُوجَهُمْ وَالْحَافِظَاتِ وَالذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيراً وَالذَّاكِرَاتِ أَعَدَّ اللَّهُ لَهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْراً عَظِيماً} .
‘হেদায়েত’ (هدى) এর উল্লেখ পুনরাবৃত্তির উদ্দেশ্যে। উত্তর হলো: এটি পুনরায় আনা হয়েছে যাতে ‘জার’ ও ‘মাজরুর’ (جار ومجرور) এর সংশ্লিষ্টতা স্পষ্ট করা যায় যে, এটি কার জন্য।

মাসআলা: আবু জাফর ইয়াজিদ ইবনুল ক্বাক্বাহ আল-মাদানি-এর কিরাআতে (قراءة)১ {আল্লাহর পক্ষ থেকে হেফাজতের কারণে} আয়াতাংশে ‘কর্তৃপদ’ (فاعل) কোনটি, যেখানে মহান আল্লাহর নাম মুবারক ‘মানসুব’ (منصوب) বা নসব ২ যুক্ত হয়েছে?

উত্তর: এর দুটি দিক হতে পারে। প্রথমটি হলো: আল্লাহর নাম মূলত ‘কর্তৃপদ’ (فاعل), কিন্তু অর্থ স্পষ্ট করার খাতিরে তা ‘নসব’ (نصب) হয়েছে। কেননা আরবদের রীতি অনুযায়ী, যখন অর্থের অস্পষ্টতার ভয় থাকে না, তখন কখনো কখনো ‘কর্তৃপদ’ (فاعل) ‘মানসুব’ (منصوب) হতে পারে। যেমন তাদের উক্তি: “কাঁচ পাথরকে ভেঙেছে” এবং “কাপড়টি পেরেককে ছিঁড়েছে”। যদিও বর্ণনাগুলোতে ‘কাঁচ’ ও ‘কাপড়’ শব্দ দুটিকে ‘রাফ’ (رفع) এবং ‘পাথর’ ও ‘পেরেক’ শব্দ দুটিকে ‘নসব’ (نصب) দিয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। জনৈক কবি বলেছেন:

সাপগুলো তার পা থেকে নিরাপদ থেকেছে ৩।

এখানে ‘সাপসমূহ’ শব্দটিকে ‘মানসুব’ (منصوب) হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই হিসেবে এটি সাতজন ক্বারীর (قراء) কিরাআতের (قراءة) সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। উভয় কিরাআতের অর্থ হলো—আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের হেফাজতের মাধ্যমে। আর এখানে ‘কর্মপদ’ (مفعول) টি ঊহ্য রয়েছে, যেমনটি মহান আল্লাহর এই বাণীতে রয়েছে: {নিজেদের লজ্জাস্থান হেফাজতকারী পুরুষ ও হেফাজতকারী নারী} ৪।

--------------------------------------------

১ তিনি তাবেঈদের (تابعين) অন্তর্ভুক্ত দশজন ক্বারীর (قراء) একজন। তিনি কিরাআতের ক্ষেত্রে মদিনাবাসীদের ইমাম ছিলেন এবং মুফতিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি ১৩২ হিজরি (৭৫০ খ্রিস্টাব্দ) সালে মদিনা মুনাওয়ারায় মৃত্যুবরণ করেন। (ওয়াফায়াতুল আ'ইয়ান ৫/২৭৮, গায়াতুন নিহায়া ২/৩৮২ এবং আয-যাহাবির তারিখুল ইসলাম ৫/১৮৮)।

২ সূরা আন-নিসা, আয়াত ৩৪-এর অংশ। পূর্ণ আয়াতটি হলো: {পুরুষেরা নারীদের ওপর কর্তৃত্বশীল, যেহেতু আল্লাহ তাদের এককে অন্যের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন এবং যেহেতু তারা তাদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে। সুতরাং পুণ্যবতী নারীরা অনুগত এবং আল্লাহর সংরক্ষণে তারা স্বামীদের অনুপস্থিতিতেও নিজেদের সতীত্ব ও সম্পদ সংরক্ষণকারিনী। আর যাদের অবাধ্যতার আশঙ্কা করো, তাদের সদুপদেশ দাও, তাদের শয্যা ত্যাগ করো এবং তাদের প্রহার করো। এরপর যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো পথ খুঁজো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমুন্নত, মহান}।

৩ এই পঙ্ক্তিটি আবু হাইয়ান আল-ফাক'আসি-এর একটি কবিতাংশ। সিবওয়াইহ-তে বর্ণিত হয়েছে যে, এর রচয়িতা হলেন আবদে বনি আবস, আবার কারো মতে অন্য কেউ। কবিতার পরবর্তী অংশ হলো: “বিষধর সাপ এবং সাহসী যোদ্ধা”। এখানে প্রমাণ (شاهد) হলো—যে বর্ণনায় ‘সাপসমূহ’ শব্দটিকে ‘নসব’ (نصب) দেওয়া হয়েছে সেখানে ‘কর্তৃপদ’ (فاعل) এবং ‘কর্মপদ’ (مفعول) উভয়ই ‘মানসুব’ (منصوب) হওয়া। বলা হয়ে থাকে যে, এখানে ‘পা’ শব্দটি দ্বিবচন ছিল যার ‘নুন’ ছন্দগত প্রয়োজনে বিলুপ্ত হয়েছে। (সুয়ূতী রচিত শারহু সাওয়াহিদুল মুগনি ২/৯৭৩, বাগদাদী রচিত খিজানাতুল আদব ৪/৮৭০, ইবনে হিশাম রচিত মুগনিউল লাবিব-এর ওপর শেখ মুহাম্মদ আল-আমির আলীর হাশিয়া ২/২০২, কিতাবু সিবওয়াইহ ১/১৪৫ এবং আল-আশমুনি ৩/৫২)।

৪ সূরা আল-আহযাব, আয়াত ৩৫-এর অংশ। পূর্ণ আয়াতটি হলো: {নিশ্চয়ই মুসলিম পুরুষ ও মুসলিম নারী, মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারী, অনুগত পুরুষ ও অনুগত নারী, সত্যবাদী পুরুষ ও সত্যবাদী নারী, ধৈর্যশীল পুরুষ ও ধৈর্যশীল নারী, বিনীত পুরুষ ও বিনীত নারী, দানশীল পুরুষ ও দানশীল নারী, রোজা পালনকারী পুরুষ ও রোজা পালনকারী নারী, নিজেদের লজ্জাস্থান হেফাজতকারী পুরুষ ও হেফাজতকারী নারী এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণকারী পুরুষ ও স্মরণকারী নারী—আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহাপুরস্কার প্রস্তুত রেখেছেন}।
(খণ্ড: ১) আসইলাতু ওয়া আজউইবাতু ফী ইরাবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ৯)
الثاني: أن يكون ضميرا مستترا في حفظ، وفي مرجعه وجهان:

أحدهما: النسوة المذكورات وذلك باعتبار المعنى دون اللفظ، أي بما حفظ هو أي بما حفظ من ذكر كما جاء خبر النساء: ((صوالح نساء قريش أحناه على ولد في صغره، أدعاه على زوج في ذات يده)) أي أحنى من ذكر وأدعى من ذكر.

والثاني: ما على أن تقدر موصولة واقعة على دينهن. أي حافظات للغيب بالذي حفظ الله من دينهن وقد يقدح في الوجه الأول بأن ما اعتمد في إثباته ليس بحجة.

أما البيت فلأن سالم فاعل يقتضي اسمين كل منهما فاعل ومفعول من حيث المعنى، فكذلك صح أن ينصب فاعله لما فيه [3ب] من الفاعلية المعنوية، ولا كذلك هنا.

وأما المثالان فلأنهم نصبوا فيهما الفاعل ورفعوا المفعول، ولا يلزم من جواز ذلك نصب الفاعل إذا انفرد عن المفعول لأن نصبه حينئذ يؤدي إلى خلو الكلام من مرفوع البتة، ولنا أن نقدر في هذا [ما] ينصب
দ্বিতীয়ত: এটি 'হিফজ' এর মাঝে একটি উহ্য (مستتر) সর্বনাম হতে পারে এবং এর নির্দেশক শব্দের (مرجع) ক্ষেত্রে দুটি অভিমত রয়েছে:

তার একটি হলো: উল্লিখিত নারীগণ, আর এটি শব্দের চেয়ে অর্থের বিবেচনার ভিত্তিতে। অর্থাৎ, পুরুষ যা হেফাজত করেছে, অর্থাৎ পুরুষদের পক্ষ থেকে যা সংরক্ষিত হয়েছে, যেমনটি নারীদের সম্পর্কে বর্ণিত খবরে (خبر) এসেছে: "কুরাইশ বংশীয় পুণ্যবতী নারীগণ তাদের সন্তানদের শৈশবে অধিক মমতাশীল এবং স্বামীর সম্পদের বিষয়ে অধিক যত্নশীল।" অর্থাৎ পুরুষদের তুলনায় যারা অধিক মমতাশীল এবং অধিক যত্নশীল।

দ্বিতীয়টি হলো: 'মা' (ما) শব্দটিকে সম্বন্ধবাচক অব্যয় (موصولة) হিসেবে গণ্য করা যা তাদের দ্বীনের ওপর আপতিত। অর্থাৎ, তারা অদৃশ্যের রক্ষণাবেক্ষণকারী ওই বিষয়ের মাধ্যমে যা আল্লাহ তাদের দ্বীনের মধ্য হতে সংরক্ষণ করেছেন। তবে প্রথম অভিমতটির ক্ষেত্রে এই আপত্তি তোলা হতে পারে যে, এটি প্রমাণের জন্য যার ওপর নির্ভর করা হয়েছে তা অকাট্য দলিল (حجة) নয়।

কাব্যাংশের বিষয়ে বক্তব্য হলো, 'সালিম' (سالم) এমন এক কর্তা (فاعل) যা দুটি বিশেষ্য দাবি করে যাদের প্রত্যেকটি অর্থের দিক থেকে কর্তা (فاعل) ও কর্ম (مفعول)। তাই এর কর্তাকে (فاعل) নসব (نصب) প্রদান করা সঠিক হয়েছে, কারণ এর মধ্যে [৩-খ] অর্থগত কর্তৃত্ব বিদ্যমান, কিন্তু এখানে বিষয়টি সেরূপ নয়।

আর উদাহরণ দুটির ক্ষেত্রে বিষয় হলো, তারা উভয়টিতে কর্তাকে (فاعل) নসব (نصب) এবং কর্মকে (مفعول) রফা (رفع) প্রদান করেছে। আর কর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় কর্তাকে নসব (نصب) দেওয়া এটি জায়েজ হওয়া থেকে আবশ্যক হয় না। কারণ, তখন তাকে নসব (نصب) দিলে বাক্যটি রফাযুক্ত (مرفوع) শব্দ থেকে সম্পূর্ণ শূন্য হয়ে পড়ে। আর আমাদের সুযোগ আছে এখানে এমন কিছু উহ্য ধরার যা নসব (نصب) প্রদান করবে।
(খণ্ড: ১) আসইলাতু ওয়া আজউইবাতু ফী ইরাবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১০)
الفاعل والمفعول معا في البيت، فقد خلا الكلام من المرفوع ـ والله أعلم.

مسألة: علام انتصب {عَالِيَهُمْ} 1؟

الجواب: على الحال من جزاهم، وعن ثعلبة أن نصبه على الظرف بمنزلة فوقهم، وهو مردود لأن عالي الدار وداخلها أو خارجها ونحو ذلك من الأماكن المختصة، فلا يجوز نصبها على الظرفية، وارتفاع الثياب على الأول بعاليهم، وعلى الثاني به أو بالابتداء، وعاليهم الخبر.

مسألة: لم أجمعوا على النصب في {فَشَرِبُوا مِنْهُ إلاّ قَلِيلاً} 2 واختلفوا في {مَا فَعَلُوهُ إلاّ قَلِيلٌ} 3؟

الجواب: لأن قليلا الأول استثناء من موجب، والثاني استثناء من منفي.

فقيل: لِمَ أجمعوا على النصب في {فَلا يُؤْمِنُونَ إلاّ قَلِيلاً} 4 مع أنه استثناء من غير موجب.

--------------------------------------------

1 سورة الإنسان من الآية 21 وتمامها {عَالِيَهُمْ ثِيَابُ سُنْدُسٍ خُضْرٌ وَإِسْتَبْرَقٌ وَحُلُّوا أَسَاوِرَ مِنْ فِضَّةٍ وَسَقَاهُمْ رَبُّهُمْ شَرَاباً طَهُوراً} ونذكر هنا الآية 12 من سورة الإنسان لتعلقها في الإعراب بالآية المذكورة وهي {وَجَزَاهُمْ بِمَا صَبَرُوا جَنَّةً وَحَرِيراً} .

2 سورة البقرة من الآية 249 وتمامها {فَلَمَّا فَصَلَ طَالُوتُ بِالْجُنُودِ قَالَ إِنَّ اللَّهَ مُبْتَلِيكُمْ بِنَهَرٍ فَمَنْ شَرِبَ مِنْهُ فَلَيْسَ مِنِّي وَمَنْ لَمْ يَطْعَمْهُ فَإِنَّهُ مِنِّي إِلاّ مَنِ اغْتَرَفَ غُرْفَةً بِيَدِهِ فَشَرِبُوا مِنْهُ إِلاّ قَلِيلاً مِنْهُمْ فَلَمَّا جَاوَزَهُ هُوَ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ قَالُوا لا طَاقَةَ لَنَا الْيَوْمَ بِجَالُوتَ وَجُنُودِهِ قَالَ الَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُمْ مُلاقُو اللَّهِ كَمْ مِنْ فِئَةٍ قَلِيلَةٍ غَلَبَتْ فِئَةً كَثِيرَةً بِإِذْنِ اللَّهِ وَاللَّهُ مَعَ الصَّابِرِينَ} .

3 سورة النساء من الآية 66 وتمامها {وَلَوْ أَنَّا كَتَبْنَا عَلَيْهِمْ أَنِ اقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ أَوِ اخْرُجُوا مِنْ دِيَارِكُمْ مَا فَعَلُوهُ إِلاّ قَلِيلٌ مِنْهُمْ وَلَوْ أَنَّهُمْ فَعَلُوا مَا يُوعَظُونَ بِهِ لَكَانَ خَيْراً لَهُمْ وَأَشَدَّ تَثْبِيتاً} .

4 سورة النساء من الآية 155 وتمامها {فَبِمَا نَقْضِهِمْ مِيثَاقَهُمْ وَكُفْرِهِمْ بِآيَاتِ اللَّهِ وَقَتْلِهِمُ الأنْبِيَاءَ بِغَيْرِ حَقٍّ وَقَوْلِهِمْ قُلُوبُنَا غُلْفٌ بَلْ طَبَعَ اللَّهُ عَلَيْهَا بِكُفْرِهِمْ فَلا يُؤْمِنُونَ إِلاّ قَلِيلاً} .
কবিতায় কর্তা এবং কর্ম উভয়ই একত্রে থাকায় কালাম (বাক্য) মারফু (কর্তৃকারকীয় রূপ) থেকে শূন্য হয়েছে - আল্লাহ্ই সর্বজ্ঞ।

মাসআলা: {আলিইয়াহুম} ১ শব্দটি কেন নাসব (কর্মকারকীয় বিভক্তি) প্রাপ্ত হয়েছে?

উত্তর: এটি ‘জাজাহুম’ এর অন্তর্ভুক্ত সর্বনাম থেকে হাল (অবস্থা) হিসেবে এসেছে। ছালাবাহ থেকে বর্ণিত আছে যে, এর নাসব হয়েছে জরফ (আধার) হিসেবে যা ‘ফাওকাহুম’ এর সমপর্যায়ভুক্ত। তবে এই মতটি প্রত্যাখ্যাত (مردود); কারণ বাড়ির উপরিভাগ, ভেতর বা বাহির এবং এজাতীয় বিশেষায়িত স্থানসমূহকে জরফ হিসেবে নাসব প্রদান করা বৈধ নয়। প্রথম মত অনুযায়ী ‘থিয়াব’ শব্দটি ‘আলিইয়াহুম’ দ্বারা রাফা (কর্তৃকারকীয় রূপ) প্রাপ্ত হয়েছে, আর দ্বিতীয় মত অনুযায়ী এর দ্বারা অথবা ইবতিদা (প্রারম্ভ) এর কারণে এটি মারফু হয়েছে এবং ‘আলিইয়াহুম’ শব্দটি খবর হিসেবে গণ্য হয়েছে।

মাসআলা: {ফাশারিবু মিনহু ইল্লা কালিলান} ২ আয়াতাংশে ‘কালিলান’ শব্দটির নাসব হওয়ার ব্যাপারে কেন সকলে একমত হয়েছেন, অথচ {মা ফায়ালুহু ইল্লা কালিলুন} ৩ আয়াতাংশে কেন মতভেদ করেছেন?

উত্তর: কারণ প্রথম ‘কালিলান’ শব্দটি একটি ইতিবাচক বাক্য থেকে ইসতিসনা (ব্যতিক্রম) হিসেবে এসেছে, আর দ্বিতীয়টি একটি নেতিবাচক বাক্য থেকে ইসতিসনা হিসেবে এসেছে।

অতঃপর প্রশ্ন করা হয়েছে: {ফালা ইউ’মিনুনা ইল্লা কালিলান} ৪ আয়াতাংশে কেন সকলে নাসব হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন, যদিও এটি একটি নেতিবাচক বাক্য থেকে ইসতিসনা হিসেবে এসেছে।

--------------------------------------------

১ সুরা আল-ইনসান-এর ২১ নম্বর আয়াতের অংশবিশেষ, যার পূর্ণরূপ হলো: {তাদের উপরে থাকবে সূক্ষ্ম সবুজ রেশম ও স্থূল রেশমের বস্ত্র, আর তাদের অলংকৃত করা হবে রৌপ্য নির্মিত কঙ্কণ দ্বারা এবং তাদের পালনকর্তা তাদের পান করাবেন পবিত্র পানীয়}। ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের খাতিরে আমরা এখানে সুরা আল-ইনসান-এর ১২ নম্বর আয়াতটিও উল্লেখ করছি: {এবং তাদের সবরের বিনিময়ে তিনি তাদের জান্নাত ও রেশমি বস্ত্র প্রদান করবেন}।

২ সুরা আল-বাকারাহ-এর ২৪৯ নম্বর আয়াতের অংশবিশেষ, যার পূর্ণরূপ হলো: {অতঃপর তালুত যখন সৈন্যসামন্ত নিয়ে বের হলেন, তখন বললেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের একটি নদী দ্বারা পরীক্ষা করবেন; সুতরাং যে সেই নদী থেকে পান করবে সে আমার দলভুক্ত নয়, আর যে তার স্বাদ গ্রহণ করবে না সে অবশ্যই আমার দলভুক্ত, তবে যে ব্যক্তি তার হাত দিয়ে এক আঁজলা ভরে নেবে (তার কথা ভিন্ন)। অতঃপর তাদের অল্প সংখ্যক ব্যতীত সকলেই তা থেকে পান করল। এরপর যখন তিনি ও তাঁর সাথে থাকা ঈমানদারগণ তা অতিক্রম করলেন, তখন তারা বলতে লাগল, জালুত ও তার সৈন্যবাহিনীর বিরুদ্ধে আজ আমাদের কোনো শক্তি নেই। যারা বিশ্বাস করত যে আল্লাহর সাথে তাদের সাক্ষাৎ হবে, তারা বলল, আল্লাহর হুকুমে কত ক্ষুদ্র দল কত বিশাল দলের ওপর বিজয়ী হয়েছে! আর আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন}।

৩ সুরা আন-নিসা-এর ৬৬ নম্বর আয়াতের অংশবিশেষ, যার পূর্ণরূপ হলো: {আর যদি আমি তাদের ওপর বিধান দিতাম যে, তোমরা নিজেদের হত্যা করো অথবা নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যাও, তবে তাদের অল্প সংখ্যক ব্যতীত তা করত না। আর যদি তারা তাদের প্রদত্ত উপদেশ অনুযায়ী আমল করত, তবে তা অবশ্যই তাদের জন্য উত্তম এবং ঈমানের ওপর দৃঢ় থাকার জন্য অধিকতর মজবুত হতো}।

৪ সুরা আন-নিসা-এর ১৫৫ নম্বর আয়াতের অংশবিশেষ, যার পূর্ণরূপ হলো: {অতঃপর তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করার কারণে, আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করার কারণে, অন্যায়ভাবে নবীগণকে হত্যা করার কারণে এবং তাদের এই কথার কারণে যে ‘আমাদের হৃদয়গুলো আবৃত’, বরং তাদের কুফরি করার কারণে আল্লাহ তাদের হৃদয়ে মোহর মেরে দিয়েছেন; তাই তাদের অল্প সংখ্যক ব্যতীত তারা ঈমান আনে না}।
(খণ্ড: ১) আসইলাতু ওয়া আজউইবাতু ফী ইরাবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১১)
فقلت: لأن هذا استثناء مفرغ، وهو نعت لمصدر محذوف، فالتقدير: فلا يؤمنون إلا إيمانا قليلا.

فقيل: ما معنى وصفه الإيمان بالقلة؟ فقلت: لأنه باللسان دون القلب.

مسألة: بم تعلق الظرف في قوله تعالى: {وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ} 1؟

الجواب: بمحذوف على أنه حال من المفعول، أي اهجروهن كائنات في المضاجع، أي لا تهجروهن في البيوت، وإنما لم أعقله بفعل الهجر لأني لم أذق أن يقال: هجره في منزله. فقيل لي: زعم بعض المعربين أن التعلق به على تقدير في للسببية، وأن المعنى اهجروهن بسبب المضاجع، أي بسبب تخلفهن عن مضاجعكم. فقلت: لا يخفى ما فيه من تكلف الحذف وتقدير في للسببية.

مسألة: [4 أ] {وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ خَيْرٍ فَلِأَنْفُسِكُمْ وَمَا تُنْفِقُونَ إلاّ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ خَيْرٍ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ} 2 لم جاء الفعل الأول والأخير بغير نون والثاني بنون؟

--------------------------------------------

1 سورة النساء من الآية 34 وتمامها {الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ فَالصَّالِحَاتُ قَانِتَاتٌ حَافِظَاتٌ لِلْغَيْبِ بِمَا حَفِظَ اللَّهُ وَاللاّتِي تَخَافُونَ نُشُوزَهُنَّ فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ وَاضْرِبُوهُنَّ فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلاً إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيّاً كَبِيراً} .

2 سورة البقرة من الآية 272 وتمامها {لَيْسَ عَلَيْكَ هُدَاهُمْ وَلَكِنَّ اللَّهَ يَهْدِي مَنْ يَشَاءُ وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ خَيْرٍ فَلأنْفُسِكُمْ وَمَا تُنْفِقُونَ إِلاّ ابْتِغَاءَ وَجْهِ اللَّهِ وَمَا تُنْفِقُوا مِنْ خَيْرٍ يُوَفَّ إِلَيْكُمْ وَأَنْتُمْ لا تُظْلَمُونَ} .
আমি বললাম: কারণ এটি একটি ‘ইস্তিসনায়ে মুফাররাগ’ (পরিশুদ্ধ ব্যতিক্রম), এবং এটি একটি উহ্য ক্রিয়ামূলের (মাশদার) বিশেষণ। এর প্রকৃত রূপ হলো: তারা সামান্য ঈমান ব্যতীত বিশ্বাস স্থাপন করে না।

জিজ্ঞেস করা হলো: ঈমানকে ‘সামান্য’ হিসেবে বিশেষিত করার অর্থ কী? আমি বললাম: কারণ এটি কেবল মৌখিক, আন্তরিক নয়।

মাসআলা: মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তাদেরকে শয্যায় বর্জন করো} ১-এ স্থানবাচক অব্যয়টি (জরফ) কার সাথে সংশ্লিষ্ট?

উত্তর: এটি একটি উহ্য পদের সাথে সংশ্লিষ্ট যা এখানে কর্মকারকের (মাফউল) অবস্থা (হাল) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে; অর্থাৎ তাদেরকে শয্যায় থাকা অবস্থায় বর্জন করো। এর অর্থ হলো তাদেরকে ঘরবাড়ি থেকে বহিষ্কার করো না। আমি একে সরাসরি ‘বর্জন’ ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট করিনি কারণ ভাষাগতভাবে ‘তাকে তার বাড়িতে বর্জন করা হয়েছে’—এমন প্রয়োগের কোনো স্বাদ বা নজির আমি পাইনি। আমাকে বলা হলো: কিছু ব্যাকরণবিদের মতে, এখানে ‘ফি’ অব্যয়টি কারণবাচক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে এবং এর সংশ্লিষ্টতা সেই অনুযায়ী। অর্থাৎ শয্যার কারণে তাদের বর্জন করো, যার অর্থ হলো তোমাদের শয্যায় আসতে তাদের অস্বীকৃতির কারণে। আমি বললাম: এতে উহ্য পদের অনুমান এবং ‘ফি’-কে কারণবাচক ধরার যে কৃত্রিমতা রয়েছে, তা অত্যন্ত স্পষ্ট।

মাসআলা: [৪ ক] {তোমরা যে উত্তম বস্তু ব্যয় করো, তা তোমাদের নিজেদের জন্যই; তোমরা তো কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই ব্যয় করো এবং তোমরা যে উত্তম বস্তু ব্যয় করো, তার পূর্ণ প্রতিদান তোমাদেরকে প্রদান করা হবে} ২—এখানে প্রথম ও শেষ ক্রিয়াটি ‘নুন’ অক্ষর ব্যতীত এবং দ্বিতীয়টি ‘নুন’ অক্ষরসহ কেন এসেছে?

--------------------------------------------

১. সূরা আন-নিসা, আয়াত ৩৪-এর অংশ। পূর্ণ আয়াতটি হলো: {পুরুষগণ নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল, যেহেতু আল্লাহ তাদের এককে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং যেহেতু তারা তাদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে। সুতরাং পুণ্যবতী নারীরা অনুগত এবং আল্লাহর সংরক্ষণে অদৃশ্যের হিফাযতকারী। আর যাদের অবাধ্যতার তোমরা আশঙ্কা করো, তাদেরকে উপদেশ দাও, শয্যায় তাদের বর্জন করো এবং প্রহার করো; অতঃপর যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো পথ অন্বেষণ করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমুন্নত, মহান।}

২. সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ২৭২-এর অংশ। পূর্ণ আয়াতটি হলো: {তাদেরকে সৎপথে পরিচালনার দায়িত্ব তোমার নয়, বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন। তোমরা যে উত্তম বস্তু ব্যয় করো, তা তোমাদের নিজেদের জন্যই; তোমরা তো কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই ব্যয় করো এবং তোমরা যে উত্তম বস্তু ব্যয় করো, তার পূর্ণ প্রতিদান তোমাদেরকে প্রদান করা হবে এবং তোমাদের প্রতি জুলুম করা হবে না।}
(খণ্ড: ১) আসইলাতু ওয়া আজউইবাতু ফী ইরাবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১২)
الجواب: لأن ما الأولى والثالثة شرطيتان فجزمتا الفعل، والثانية نافية فالفعل بعدها مرفوع يدل على ذلك مجيء الفعل الأول1، وجزم الفعل بعد الثالثة، ومجيء الإيجاب بإلا بعد الثانية.

فقيل: فما الواوان2 في الجملة الثانية والجملة الثالثة؟

فقلت: أما التي في الثالثة فعاطفة. وأما التي في الثانية فيحتمل ذلك، ويحتمل أن تكون واو الحال ليكون ذلك مفيدًا لثبوت اتفاق الخير لأنفسهم، فيكون المعنى وما تنفقوا من خير فلأنفسكم في حالة كونه لا يراد به إلا وجه الله، نظيره قوله تعالى: {وَمَا آتَيْتُمْ مِنْ زَكَاةٍ تُرِيدُونَ وَجْهَ اللَّهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُضْعِفُونَ} 3 وقوله تعالى: {فَآتِ ذَا الْقُرْبَى حَقَّهُ وَالْمِسْكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ ذَلِكَ خَيْرٌ لِلَّذِينَ يُرِيدُونَ وَجْهَ اللَّه} 4 وقول النبي صلى الله عليه وسلم: "واعلم أنك لن تنفق نفقة تبتغي بها وجه الله إلا أجرت عليها حتى ما تجعل في فيّ امرأتك" 5.

مسألة: قال الزمخشري6 في قوله تعالى: {فَلَوْلا نَصَرَهُمُ الَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِ اللَّهِ قُرْبَاناً آلِهَةً} 7 ما معناه أن التقدير

--------------------------------------------

1 هكذا بالأصل والصواب مجيء الفاء في الأولى ـ كما في المغني.

2 في الأصل المرادان والصواب فما الواوان ـ بدليل ما بعده.

3 سورة الروم من الآية 39 وتمامها {وَمَا آتَيْتُمْ مِنْ رِباً لِيَرْبُوَ فِي أَمْوَالِ النَّاسِ فَلا يَرْبُو عِنْدَ اللَّهِ وَمَا آتَيْتُمْ مِنْ زَكَاةٍ تُرِيدُونَ وَجْهَ اللَّهِ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُضْعِفُونَ} .

4 سورة الروم من الآية 38 وتمامها {فَآتِ ذَا الْقُرْبَى حَقَّهُ وَالْمِسْكِينَ وَابْنَ السَّبِيلِ ذَلِكَ خَيْرٌ لِلَّذِينَ يُرِيدُونَ وَجْهَ اللَّهِ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} .

5 رواه الشيخان.

6 الزمخشري: محمود بن عمر بن محمد بن أحمد الخوارزمي، جار الله، أبو القاسم: من أئمة العلم بالدين والتفسير واللغة والآداب، كان شديد الإنكار على المتصوفة (توفي سنة 583 هـ = 1144م) وفيات الأعيان جـ 2 ص 81 وإرشاد الأريب جـ 7 ص 47 ولسان الميزان جـ 6 ص 4 ونزهة الألبا ص 469 والجواهر المضية جـ 2 ص 160 وآداب اللغة جـ 3 ص 46) .

7 سورة الأحقاف من الآية 28 وتمامها {فَلَوْلا نَصَرَهُمُ الَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِ اللَّهِ قُرْبَاناً آلِهَةً بَلْ ضَلُّوا عَنْهُمْ وَذَلِكَ إِفْكُهُمْ وَمَا كَانُوا يَفْتَرُونَ} .
উত্তর: কারণ প্রথম এবং তৃতীয় 'মা' (ما) হলো শর্তবাচক (شرطية), তাই সেগুলো ক্রিয়াকে জজম প্রদান করেছে; আর দ্বিতীয়টি হলো না-বোধক (نافية), ফলে এর পরবর্তী ক্রিয়াটি মারফু (مرفوع) হয়েছে। প্রথম ক্রিয়ার উপস্থিতি, তৃতীয়টির পরে ক্রিয়ার জজম হওয়া এবং দ্বিতীয়টির পরে 'ইল্লা' (إلا) এর মাধ্যমে ইতিবাচকতা প্রকাশ এর প্রমাণ দেয়।

অতঃপর জিজ্ঞেস করা হলো: তাহলে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বাক্যের 'ওয়াও' (و) দুটি কী?

আমি বললাম: তৃতীয়টিতে যে 'ওয়াও' রয়েছে তা হলো সংযোজক অব্যয় (عاطفة)। আর দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রেও এটি হওয়ার সম্ভাবনা আছে, আবার সেটি অবস্থা প্রকাশক (واو الحال) হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে; যাতে করে তাদের নিজেদের জন্য কল্যাণ সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এমতাবস্থায় অর্থ হবে— তোমরা যা কিছু কল্যাণ ব্যয় করো তা তোমাদের নিজেদের জন্যই, যখন তা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেই করা হয়। এর উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে যে যাকাত দাও, তারাই মূলত সমৃদ্ধি লাভকারী।} এবং মহান আল্লাহর বাণী: {অতএব নিকটাত্মীয়কে তার প্রাপ্য দাও এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও। এটি তাদের জন্য উত্তম যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে।} এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "জেনে রেখো, তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় যে অর্থই ব্যয় করো না কেন, তোমাকে তার প্রতিদান দেওয়া হবে; এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যে লোকমাটি তুলে দাও তার জন্যও।"

মাসআলা: যামাখশারী মহান আল্লাহর বাণী— {অতঃপর তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে নৈকট্য লাভের জন্য উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছিল, তারা কেন তাদেরকে সাহায্য করল না?} প্রসঙ্গে বলেন, এর অর্থ এই যে, বাক্যটির উহ্য রূপ (تقدير) হলো—

--------------------------------------------

১. মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, তবে সঠিক হলো প্রথমটিতে 'ফা' (ف) এর উপস্থিতি—যেমনটি আল-মুগনি গ্রন্থে রয়েছে।

২. মূল পাঠে 'উদ্দেশ্যদ্বয়' ছিল, তবে সঠিক হলো 'ওয়াও দুটি'—পরবর্তী আলোচনার প্রমাণ অনুযায়ী।

৩. সূরা আর-রূম, আয়াত ৩৯; এর পূর্ণাঙ্গ অংশ হলো: {আর মানুষের ধন-সম্পদে বৃদ্ধি পাবে বলে তোমরা যে সুদ দাও, আল্লাহর কাছে তা বৃদ্ধি পায় না। আর আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে তোমরা যে যাকাত দাও, তারাই মূলত সমৃদ্ধি লাভকারী।}

৪. সূরা আর-রূম, আয়াত ৩৮; এর পূর্ণাঙ্গ অংশ হলো: {অতএব নিকটাত্মীয়কে তার প্রাপ্য দাও এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও। এটি তাদের জন্য উত্তম যারা আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করে এবং তারাই সফলকাম।}

৫. দুই শাইখ (الشيخان) এটি বর্ণনা করেছেন।

৬. যামাখশারী: মাহমুদ বিন উমর বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-খাওয়ারিজমি, জারুল্লাহ, আবুল কাসিম: তিনি দ্বীন, তাফসির, ভাষা ও সাহিত্যের অন্যতম ইমাম ছিলেন। তিনি সুফিদের তীব্র সমালোচনা করতেন (মৃত্যু ৫৮৩ হিজরি = ১১৪৪ খ্রিস্টাব্দ)। (উফায়াতুল আইয়ান, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৮১; ইরশাদুল আরিব, খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৪৭; লিসানুল মিজান, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৪; নুজহাতুল আলিব্বা, পৃষ্ঠা ৪৬৯; আল-জাওয়াহিরুল মুদিয়্যাহ, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ১৬০ এবং আদাবুল লুগাহ, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৬।)

৭. সূরা আল-আহকাফ, আয়াত ২৮; এর পূর্ণাঙ্গ অংশ হলো: {অতঃপর তারা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে নৈকট্য লাভের জন্য উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছিল, তারা কেন তাদেরকে সাহায্য করল না? বরং তারা তাদের থেকে অন্তর্হিত হয়ে গেল। আর এটিই ছিল তাদের মিথ্যাচার এবং তাদের মনগড়া অপবাদ।}
(খণ্ড: ১) আসইলাতু ওয়া আজউইবাতু ফী ইরাবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৩)
اتخذوهم في حالة كونهم قربانا آلهة. فالمفعول الأول محذوف، وهو صاحب الحال وآلهة مفعول ثان، ومنع كون قربانا مفعولا ثانيا ، وآلهة حال، فما وجه ذلك؟

الجواب: وجهه لو قدر كذلك صار المعنى الذم على ترك اتخاذ الله تعالى غير متقرب، لأنك إذا قلت: أنتخذ فلانا سيدا لودني1 فقد لمته على نسبة السيادة لغيرك، والله سبحانه وتعالى يتقرب إليه ولا يتقرب به.

فقيل: فهل يجوز أن يكون قربانا مفعولا لأجله؟

فقلت: لا يكون المفعول لأجله إلا مصدرا أو اسم مصدر. والقربان اسم لما يتقرب به [4 ب] وليس اسما للحدث، وعلى هذا فيكون قربانا في قوله تعالى: {إِذْ قَرَّبَا قُرْبَاناً} 2 منصوبا نصب المفعول به، لا نصب المصدر.

مسألة: {كُلّاً نُمِدُّ هَؤُلاءِ وَهَؤُلاءِ مِنْ عَطَاءِ رَبِّكَ} 3 علام [انتصب] كلاًّ وما إعراب هؤلاء؟

الجواب: انتصب كلا على المفعولية لنمد، وهؤلاء وهؤلاء بدلان من (كلا) بدل تفصيل. والمراد أن المؤمنين والكافرين كلهم يرزقون، لا نمنع الرزق على أحد منهم.

--------------------------------------------

1 هكذا بالأصل والصواب دوني كما في المغني.

2 سورة المائدة من الآية 27 وتمامها {وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ ابْنَيْ آدَمَ بِالْحَقِّ إِذْ قَرَّبَا قُرْبَاناً فَتُقُبِّلَ مِنْ أَحَدِهِمَا وَلَمْ يُتَقَبَّلْ مِنَ الْآخَرِ قَالَ لَأَقْتُلَنَّكَ قَالَ إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللَّهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ} .

3 سورة الإسراء من الآية 20 وتمامها {كُلّاً نُمِدُّ هَؤُلاءِ وَهَؤُلاءِ مِنْ عَطَاءِ رَبِّكَ وَمَا كَانَ عَطَاءُ رَبِّكَ مَحْظُوراً} .
তারা যখন নৈকট্য লাভের মাধ্যম (قربانا) ছিল তখন তাদেরকে উপাস্য (آلهة) হিসেবে গ্রহণ করেছিল। এখানে প্রথম কর্ম (مفعول أول) উহ্য রয়েছে, যা মূলত অবস্থার বর্ণনাকারীর (صاحب الحال) ভূমিকা পালন করছে এবং উপাস্য (آلهة) শব্দটি দ্বিতীয় কর্ম (مفعول ثان)। এখানে 'নৈকট্য লাভের মাধ্যম' (قربانا) শব্দটিকে দ্বিতীয় কর্ম (مفعول ثان) এবং 'উপাস্য' (آلهة) শব্দটিকে অবস্থা (حال) হিসেবে গণ্য করতে বারণ করা হয়েছে; এর কারণ কী?

উত্তর: এর কারণ হলো, যদি বিষয়টি সেভাবে ধরা হতো তবে অর্থটি মহান আল্লাহকে নৈকট্য লাভের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ না করার নিন্দার দিকে চলে যেত। কারণ আপনি যখন বলেন: "তুমি কি অমুককে আমার পরিবর্তে ১ নেতা হিসেবে গ্রহণ করেছ?" তখন আপনি মূলত আপনার পরিবর্তে অন্যের দিকে নেতৃত্ব সম্পৃক্ত করার কারণে তাকে তিরস্কার করছেন। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এমন সত্তা যাঁর নিকট নৈকট্য প্রার্থনা করা হয়, যাঁর মাধ্যমে (অন্যের নিকট) নৈকট্য লাভ করা হয় না।

জিজ্ঞেস করা হলো: তবে কি 'নৈকট্য লাভের মাধ্যম' (قربانا) শব্দটি কারণবাচক কর্ম (مفعول لأجله) হওয়া বৈধ?

আমি বললাম: কারণবাচক কর্ম (مفعول لأجله) কেবল মাসদার (مصدر) বা ইসম মাসদার (اسم مصدر) হতে পারে। আর 'কুরবান' (القربان) হলো সেই জিনিসের নাম যার মাধ্যমে নৈকট্য লাভ করা হয় [৪ খ], এটি কোনো ঘটনার নাম (اسم للحدث) নয়। এই ভিত্তিতে মহান আল্লাহর বাণী: {যখন তারা উভয়ে কোরবানি (قربانا) পেশ করেছিল} ২-এ 'কুরবান' শব্দটি কর্ম (مفعول به) হিসেবে নসব প্রাপ্ত হয়েছে, মাসদার (مصدر) হিসেবে নয়।

মাসআলা: {আমি এদেরকে এবং ওদেরকে—আপনার রবের দান থেকে সাহায্য করি} ৩। এখানে 'কুল্লান' (كلاًّ) শব্দটি কিসের ভিত্তিতে নসবপ্রাপ্ত হয়েছে এবং 'হা-উলাই' (هؤلاء)-এর ব্যাকরণিক অবস্থান (إعرাব) কী?

উত্তর: 'নুমিন্দ্দু' (نمد) ক্রিয়াপদের কর্ম (مفعولية) হওয়ার কারণে 'কুল্লান' শব্দটি নসবপ্রাপ্ত হয়েছে। আর 'হা-উলাই ওয়া হা-উলাই' হলো 'কুল্লান' থেকে বিস্তারিত বর্ণনামূলক স্থলাভিষিক্ত বা বদল (بدل تفصيل)। এর উদ্দেশ্য হলো, মুমিন এবং কাফের সকলকেই রিযিক প্রদান করা হয়; আমি তাদের কারো থেকেই রিযিক বন্ধ করি না।

--------------------------------------------

১. মূলে এভাবেই আছে, তবে সঠিক হলো 'দুনী' (দুনী/আমার পরিবর্তে), যেমনটি আল-মুগনি গ্রন্থে রয়েছে।

২. সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ২৭-এর অংশ। এর পূর্ণরূপ: {আর তাদের কাছে আদমের দুই পুত্রের সংবাদ যথাযথভাবে পাঠ করুন, যখন তারা উভয়ে কুরবানি পেশ করেছিল। অতঃপর তাদের একজনের থেকে কবুল করা হলো এবং অন্যজনের থেকে কবুল করা হলো না। সে বলল: আমি অবশ্যই তোমাকে হত্যা করব। অন্যজন বলল: আল্লাহ কেবল মুত্তাকীদের পক্ষ থেকেই কবুল করেন।}

৩. সূরা আল-ইসরা, আয়াত ২০-এর অংশ। এর পূর্ণরূপ: {আমি এদেরকে এবং ওদেরকে—আপনার রবের দান থেকে সাহায্য করি। আর আপনার রবের দান কখনো সীমিত বা বারিত নয়।}
(খণ্ড: ১) আসইলাতু ওয়া আজউইবাতু ফী ইরাবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৪)
مسألة: {فَسَلِّمُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ تَحِيَّةً مِنْ عِنْدِ اللَّهِ} 1 علام انتصب تحية؟

الجواب: على أنه مفعول مطلق عامله سلموا، لأنه من معناه، ونظيره قول الحماسي2

عليك سلام الله قيس بن عاصم3 ورحمته ما شاء أن يترحما

تحية من غادرته عرض الردى إذا زار عن شحط ديارك سلما

[طويل]

ومن قدر في قعدت جلوسا عاملا محذوفا من لفظ المصدر ومعناه وهو سيبويه قدر هنا مثله.

مسألة: {فَجَزَاءٌ مِثْلُ مَا قَتَلَ مِنَ النَّعَمِ} 4. من قراء بتنوين الجزاء

--------------------------------------------

1 سورة النور من الآية 61 وتمامها {لَيْسَ عَلَى الأعْمَى حَرَجٌ وَلا عَلَى الأعْرَجِ حَرَجٌ وَلا عَلَى الْمَرِيضِ حَرَجٌ وَلا عَلَى أَنْفُسِكُمْ أَنْ تَأْكُلُوا مِنْ بُيُوتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ آبَائِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أُمَّهَاتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ إِخْوَانِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أَخَوَاتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أَعْمَامِكُمْ أَوْ بُيُوتِ عَمَّاتِكُمْ أَوْ بُيُوتِ أَخْوَالِكُمْ أَوْ بُيُوتِ خَالاتِكُمْ أَوْ مَا مَلَكْتُمْ مَفَاتِحَهُ أَوْ صَدِيقِكُمْ لَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ أَنْ تَأْكُلُوا جَمِيعاً أَوْ أَشْتَاتاً فَإِذَا دَخَلْتُمْ بُيُوتاً فَسَلِّمُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ تَحِيَّةً مِنْ عِنْدِ اللَّهِ مُبَارَكَةً طَيِّبَةً كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآياتِ لَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ} .

2 أي في ديوان الحماسة لأبي تمام والبيت لعبدة بن الطيب يرثي قيس بن عاصم.

3 قيس بن عاصم: بن سنان المنقري السعدي التميمي، أبو علي: أحد أمراء العرب وعقلائهم والموصوفين بالحلم والشجاعة فيهم. كان شاعرا. اشتهر وساد في الجاهلية. وهو ممن حرم على نفسه الخمر فيها. ووفد على النبي صلى الله عليه وسلم في وفد تميم سنة 9هـ فأسلم. توفي في البصرة سنة 20هـ =640م (الإصابة ت 7196 وإمتاع الأسماع 1/434 والنقائض ط ليدن 1023 ورغبة الآمل 3/10 ثم 4/99و 234 ثم 5/144 و148 والمرزباني ص 324 وحسن الصحابة ص 329 ومجمع الزوائد 9/404 ومجالس ثعلب ص 36) .

4 سورة المائدة من الآية 95 وتمامها {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تَقْتُلُوا الصَّيْدَ وَأَنْتُمْ حُرُمٌ وَمَنْ قَتَلَهُ مِنْكُمْ مُتَعَمِّداً فَجَزَاءٌ مِثْلُ مَا قَتَلَ مِنَ النَّعَمِ يَحْكُمُ بِهِ ذَوَا عَدْلٍ مِنْكُمْ هَدْياً بَالِغَ الْكَعْبَةِ أَوْ كَفَّارَةٌ طَعَامُ مَسَاكِينَ أَوْ عَدْلُ ذَلِكَ صِيَاماً لِيَذُوقَ وَبَالَ أَمْرِهِ عَفَا اللَّهُ عَمَّا سَلَفَ وَمَنْ عَادَ فَيَنْتَقِمُ اللَّهُ مِنْهُ وَاللَّهُ عَزِيزٌ ذُو انْتِقَامٍ} .
মাসআলা: {অতঃপর তোমরা নিজেদের প্রতি সালাম করো, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অভিবাদন} ১ ‘তাহিয়্যাহ’ শব্দটি কোন কারণে নাসব (জবর) প্রাপ্ত হয়েছে?

উত্তর: এটি একটি পরম কর্ম (مفعول مطلق) হিসেবে নাসব হয়েছে যার আমিল (عامل) হলো ‘সাল্লিমূ’ ক্রিয়াটি, কারণ এটি উক্ত ক্রিয়ার অনুরূপ অর্থ প্রকাশ করে। এর সমজাতীয় উদাহরণ হলো আল-হামাসাহ২ কাব্যগ্রন্থের কবির উক্তি—

হে কাইস বিন আসিম৩, আপনার ওপর আল্লাহর সালাম ও রহমত বর্ষিত হোক যতক্ষণ তিনি রহমত বর্ষণ করতে চান।

সেই ব্যক্তির অভিবাদন যে আপনাকে মৃত্যুর মুখে রেখে গেছে, যখন সে দূর থেকে আপনার আবাসস্থল যিয়ারত করে তখন সে সালাম দেয়।

[তওয়ীল ছন্দ]

আর যারা ‘কাআদতু জুলুসান’ বাক্যে শব্দ ও অর্থের দিক থেকে ক্রিয়ামূল (مصدر) এর একটি উহ্য আমিল (عامل) নির্ধারণ করেন—আর তিনি হলেন সিবওয়াইহি—তিনি এখানেও অনুরূপ আমিল উহ্য ধরেছেন।

মাসআলা: {তবে এর বিনিময় হবে অনুরূপ চতুষ্পদ জন্তু, যা সে হত্যা করেছে} ৪। যারা ‘জাযাউ’ শব্দটিকে তানউইন (تنوين) সহকারে পাঠ করেছেন—

--------------------------------------------

১ সূরা আন-নূর-এর ৬১ নম্বর আয়াতের অংশ, যার পূর্ণাঙ্গ রূপ হলো: {অন্ধের জন্য কোন দোষ নেই, খোঁড়ার জন্য কোন দোষ নেই, রুগ্ন ব্যক্তির জন্য কোন দোষ নেই এবং তোমাদের নিজেদের জন্যও কোন দোষ নেই যে, তোমরা আহার করবে তোমাদের নিজেদের ঘর থেকে অথবা তোমাদের পিতাদের ঘর থেকে অথবা তোমাদের মাতাদের ঘর থেকে অথবা তোমাদের ভাইদের ঘর থেকে অথবা তোমাদের বোনদের ঘর থেকে অথবা তোমাদের চাচাদের ঘর থেকে অথবা তোমাদের ফুফুদের ঘর থেকে অথবা তোমাদের মামাদের ঘর থেকে অথবা তোমাদের খালাদের ঘর থেকে অথবা সেই ঘর থেকে যার চাবি তোমাদের অধিকারে রয়েছে অথবা তোমাদের বন্ধুদের ঘর থেকে। তোমরা একত্রে আহার করো অথবা পৃথক পৃথকভাবে, তাতে তোমাদের কোন পাপ নেই। অতঃপর যখন তোমরা কোন ঘরে প্রবেশ করবে, তখন তোমরা তোমাদের স্বজনদের প্রতি সালাম করবে, যা আল্লাহর নিকট থেকে এক কল্যাণময় ও পবিত্র অভিবাদন। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করেন যাতে তোমরা বুঝতে পারো।}।

২ অর্থাৎ আবু তামাম সংকলিত দিওয়ান আল-হামাসাহ-তে এটি উদ্ধৃত হয়েছে; কবিতাটি কাইস বিন আসিমের শোকগাঁথা হিসেবে আবদাহ বিন আত-তয়্যিব রচনা করেছেন।

৩ কাইস বিন আসিম: বিন সিনান আল-মানকারি আস-সাদি আত-তামিমি, আবু আলী: আরবদের অন্যতম আমির ও বিজ্ঞ ব্যক্তিদের একজন এবং তাদের মধ্যে ধৈর্য ও সাহসিকতার জন্য গুণান্বিত। তিনি একজন কবি ছিলেন। জাহেলি যুগে তিনি খ্যাতি ও নেতৃত্ব অর্জন করেছিলেন। তিনি সেই সব ব্যক্তিদের একজন যারা জাহেলি যুগেই নিজেদের ওপর মদ পান নিষিদ্ধ করেছিলেন। তিনি ৯ম হিজরিতে তামিমি প্রতিনিধি দলের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট উপস্থিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি ২০ হিজরি মোতাবেক ৬৪০ খ্রিস্টাব্দে বসরায় মৃত্যুবরণ করেন। (আল-ইসাবাহ, ক্রমিক ৭১৯৬; ইমতাউল আসমা ১/৪৩৪; আন-নাকাইদ, লাইডেন সংস্করণ ১০২৩; রাগবাতুল আমিল ৩/১০, অতঃপর ৪/৯৯ ও ২৩৪, অতঃপর ৫/১৪৪ ও ১৪৮; আল-মারযুবানি, পৃষ্ঠা ৩২৪; হুসনুত সাহাবাহ, পৃষ্ঠা ৩২৯; মাজমাউয যাওয়াইদ ৯/৪০৪; মাজালিসু সালাব, পৃষ্ঠা ৩৬)।

৪ সূরা আল-মায়িদাহ-এর ৯৫ নম্বর আয়াতের অংশ, যার পূর্ণাঙ্গ রূপ হলো: {হে মুমিনগণ, তোমরা ইহরাম অবস্থায় শিকারকে হত্যা করো না। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে তা হত্যা করবে, তবে তার বিনিময় হবে অনুরূপ চতুষ্পদ জন্তু যা সে হত্যা করেছে, যার ফয়সালা করবে তোমাদের মধ্য হতে দুজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি। এটি হাদয় হিসেবে কাবায় পৌঁছাতে হবে। অথবা কাফফারা হিসেবে মিসকিনকে অন্নদান করবে অথবা এর সমপরিমাণ রোজা রাখবে, যাতে সে নিজ কৃতকর্মের স্বাদ গ্রহণ করে। যা গত হয়ে গেছে আল্লাহ তা ক্ষমা করেছেন। যে পুনরায় করবে আল্লাহ তার থেকে প্রতিশোধ গ্রহণ করবেন। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রতিশোধ গ্রহণকারী।}।
(খণ্ড: ১) আসইলাতু ওয়া আজউইবাতু ফী ইরাবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৫)
ورفع المثل فقراءته ظاهرة. لأن الجزاء الواجب موصوف بكونه مماثلا لما قتل من النعم. وأما من أضاف الجزاء للمثل فقراءته مشكلة. لأن الواجب جزاء نفس المقتول، لا جزاء مثل المقتول.

الجواب: إن هذا الإشكال يرتفع بأن لا يقدر مثل بمعنى مماثل، كما هي في تلك القراءة، بل يقدر مراد بها ذات الشيء ونفسه بمنزلتها في قوله تعالى: {لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ} 1 وقول الشاعر:

على مثل ليلى يقتل المرء نفسه

أي على ليلى بدليل قوله:

وإن بات من ليلى على اليأس طاويا2 [الطويل]

وقد جاء ذلك أيضا في المثل، قال الله تعالى: {كَمَنْ مَثَلُهُ فِي الظُّلُمَات} 3 وذلك لأن المثل والمثل بمعنى كما أن الشبه والشبه كذلك.

مسألة: {يَحْكُمُ بِهَا النَّبِيُّونَ الَّذِينَ أَسْلَمُوا} 4 والنبيون كلهم مسلمون [5 أ] فما هذا التقييد؟

--------------------------------------------

1 سورة الشورى من الآية 11وتمامها {فَاطِرُ السَّمَاوَاتِ وَالأرْضِ جَعَلَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجاً وَمِنَ الأنْعَامِ أَزْوَاجاً يَذْرَأُكُمْ فِيهِ لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ} .

2 ديوان مجنون لقيس بن الملوح ص 292: 296 من قصيدة طويلة له مطلعها:

تذكرت ليلى والسنين الخواليا وأيام لا تخشى على اللهو ناهيا

3 سورة الأنعام من الآية 122 وتمامها {أَوَمَنْ كَانَ مَيْتاً فَأَحْيَيْنَاهُ وَجَعَلْنَا لَهُ نُوراً يَمْشِي بِهِ فِي النَّاسِ كَمَنْ مَثَلُهُ فِي الظُّلُمَاتِ لَيْسَ بِخَارِجٍ مِنْهَا كَذَلِكَ زُيِّنَ لِلْكَافِرِينَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ} .

4 سورة المائدة من الآية 44وتمامها {إِنَّا أَنْزَلْنَا التَّوْرَاةَ فِيهَا هُدىً وَنُورٌ يَحْكُمُ بِهَا النَّبِيُّونَ الَّذِينَ أَسْلَمُوا لِلَّذِينَ هَادُوا وَالرَّبَّانِيُّونَ وَالأحْبَارُ بِمَا اسْتُحْفِظُوا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ وَكَانُوا عَلَيْهِ شُهَدَاءَ فَلا تَخْشَوُا النَّاسَ وَاخْشَوْنِ وَلا تَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَناً قَلِيلاً وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ} .
এবং 'মিছল' (مثل) শব্দটিকে পেশ (رفع) দিয়ে পড়ার বিষয়টি সুস্পষ্ট। কারণ ওয়াজিবকৃত বিনিময়টি (جزاء) যা শিকার করা হয়েছে সেই চতুষ্পদ জন্তুর অনুরূপ (مماثل) হওয়ার গুণে গুণান্বিত। পক্ষান্তরে যারা বিনিময়কে (جزاء) অনুরূপের (مثل) দিকে সম্বন্ধ (إضافة) করেছেন, তাঁদের কিরাআত (قراءة) কিছুটা জটিল। কারণ ওয়াজিব হলো খোদ শিকারকৃত বস্তুর বিনিময় প্রদান করা, শিকারকৃত বস্তুর 'অনুরূপের' বিনিময় নয়।

উত্তর: এই জটিলতাটি তখন দূর হয়ে যায় যখন 'মিছল' (مثل) শব্দটিকে 'অনুরূপ' (مماثل) অর্থে ধরা না হয়—যেমনটি ঐ কিরাআতে (قراءة) মনে করা হয়েছে—বরং এর দ্বারা যদি স্বয়ং বস্তুর সত্তাকেই উদ্দেশ্য নেওয়া হয়। যেমন মহান আল্লাহর এই বাণীতে এর অবস্থান: "তাঁর সদৃশ (مثل) কিছুই নেই।" ১ এবং কবির উক্তিতে:

লাইলার মতো (مثل) কারো জন্য মানুষ নিজেকে বিলীন করে দেয়

অর্থাৎ স্বয়ং লাইলার ওপর, যার প্রমাণ কবির উক্তি:

যদিও সে লাইলার পক্ষ থেকে নিরাশার ওপর রাত অতিবাহিত করে। ২ [তওয়ীল ছন্দ]

উপমা বা প্রবাদের ক্ষেত্রেও এমনটি এসেছে। মহান আল্লাহ বলেন: "যার অবস্থা (مثل) অন্ধকারে নিমজ্জিত ব্যক্তির ন্যায়।" ৩ এর কারণ হলো 'মিছল' (مثل) এবং 'মাছাল' (مثل) একই অর্থবোধক, যেমন 'শিবহ' (شبه) এবং 'শাবাহ' (شبه) একই অর্থ প্রদান করে।

মাসআলা: "নবীগণ, যারা আত্মসমর্পণকারী (أَسْلَمُوا) ছিলেন, তাঁরা এর দ্বারা ফয়সালা দিতেন।" ৪ অথচ সকল নবীই তো মুসলিম (مسلمون), তাহলে এখানে এই বিশেষণের (تقييد) রহস্য কী?

--------------------------------------------

১ সূরা আশ-শূরা, আয়াত ১১-এর অংশ বিশেষ এবং এর পূর্ণরূপ হলো: "তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর স্রষ্টা; তিনি তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং চতুষ্পদ জন্তুর মধ্য হতে জোড়া সৃষ্টি করেছেন; এভাবে তিনি তোমাদের বংশ বিস্তার করেন। তাঁর সদৃশ (مثل) কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।"

২ কায়স ইবনুল মুলুওয়াহ (মজনুন)-এর দিওয়ান, পৃ. ২৯২-২৯৬; এটি তাঁর একটি দীর্ঘ কাসিদা থেকে নেওয়া যার প্রারম্ভিক পঙক্তি হলো: "আমি লাইলা ও বিগত বছরগুলোর কথা স্মরণ করলাম, আর সেই দিনগুলোর কথা যখন ক্রীড়া-কৌতুকের ওপর কোনো নিষেধকারীর ভয় ছিল না।"

৩ সূরা আল-আনআম, আয়াত ১২২-এর অংশ বিশেষ এবং এর পূর্ণরূপ হলো: "যে ব্যক্তি মৃত ছিল যাকে আমি পরে জীবিত করেছি এবং যাকে মানুষের মধ্যে চলার জন্য আলো দিয়েছি, সে কি ঐ ব্যক্তির ন্যায় যে অন্ধকারে নিমজ্জিত (مثل) এবং সেখান থেকে বের হতে পারছে না? এভাবে কাফিরদের নিকট তাদের আমলসমূহকে শোভনীয় করে দেওয়া হয়েছে।"

৪ সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ৪৪-এর অংশ বিশেষ এবং এর পূর্ণরূপ হলো: "আমি তাওরাত অবতীর্ণ করেছি, যাতে রয়েছে হিদায়াত ও নূর। নবীগণ, যারা আত্মসমর্পণকারী (أَسْلَمُوا) ছিলেন, তাঁরা এর দ্বারা ইয়াহুদিদের ফয়সালা দিতেন; এবং রব্বানি ও পণ্ডিতগণও (ফয়সালা দিতেন), কারণ তাদেরকে আল্লাহর কিতাবের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁরা এর ওপর সাক্ষী ছিলেন। সুতরাং তোমরা মানুষকে ভয় করো না, আমাকেই ভয় করো এবং আমার আয়াতের বিনিময়ে নগণ্য মূল্য গ্রহণ করো না। যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সে অনুযায়ী ফয়সালা দেয় না, তারাই কাফির।"
(খণ্ড: ১) আসইলাতু ওয়া আজউইবাতু ফী ইরাবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৬)
الجواب: هذه الصفة مدح مثلها في {هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ} 1 لا صفة تقييد مثلها في رأيت زيداً التاجر.

مسألة: {إِنِّي أَحْبَبْتُ حُبَّ الْخَيْرِ} 2.

الجواب: حب الخير مفعول به، وأعربوا حب الشحيح من قوله:

أحبه حب الشحيح ماله قد كان ذاق الفقر ثم ناله3

[الرجز]

مفعولا مطلقا، فما الفرق؟

الجواب: إن المحبوب في الآية نفس حب الخير، والمحبوب في البيت، إنما هو الضمير الراجع إلى الولد، وأما حب الشحيح، فإنما جيء به للتشبيه.

مسألة: {إِنَّمَا تَقْضِي هَذِهِ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا} 4 ، {وَلا تَمُدَّنَ عَيْنَيْكَ إِلَى مَا مَتَّعْنَا بِهِ أَزْوَاجاً مِنْهُمْ زَهْرَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا} 5 علام انتصب هذه الحياة وزهرة الحياة؟

الجواب: أما هذه الحياة فهذه ظرف زمان على معنى في، والحياة صفة أو

--------------------------------------------

1 سورة الحشر من الآية 24 وتمامها {هُوَ اللَّهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الأسْمَاءُ الْحُسْنَى يُسَبِّحُ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالأرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} .

2 سورة ص من الآية 32 وتمامها {فَقَالَ إِنِّي أَحْبَبْتُ حُبَّ الْخَيْرِ عَنْ ذِكْرِ رَبِّي حَتَّى تَوَارَتْ بِالْحِجَابِ} .

3 في الأصل: الخير. والرجز المذكور نسب لأعرابي رقص به ابنه، وبقيته: (إذا يريد بذله بدا له) . عيون الأخبار لابن قتيبة جـ 3 ص 99.

4 سورة طه من الآية 72 وتمامها {فَاقْضِ مَا أَنْتَ قَاضٍ إِنَّمَا تَقْضِي هَذِهِ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا} .

5سورة طه من الآية 131 وتمامها {وَلا تَمُدَّنَ عَيْنَيْكَ إِلَى مَا مَتَّعْنَا بِهِ أَزْوَاجاً مِنْهُمْ زَهْرَةَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا لِنَفْتِنَهُمْ فِيهِ وَرِزْقُ رَبِّكَ خَيْرٌ وَأَبْقَى}
উত্তর: এই গুণটি হলো প্রশংসা বা স্তুতিমূলক, যেমনটি রয়েছে {তিনিই আল্লাহ, স্রষ্টা} ১; এটি কোনো সীমাবদ্ধকারী গুণ নয়, যেমনটি ‘আমি ব্যবসায়ী জায়েদকে দেখেছি’ বাক্যে হয়ে থাকে।

মাসআলা: {আমি তো মালের মহব্বতে মত্ত হয়ে পড়েছি} ২।

উত্তর: ‘মালের মহব্বত’ (حب الخير) হলো কর্মপদ (মাফউল বিহি)। আর ব্যাকরণবিদগণ নিম্নোক্ত চরণে ‘কৃপণ ব্যক্তির ভালোবাসা’ (حب الشحيح)-কে মাফউল মুতলাক হিসেবে গণ্য করেছেন:

আমি তাকে ভালোবাসি যেমন কৃপণ ব্যক্তি তার ধন-সম্পদকে ভালোবাসে; সে অভাবের স্বাদ আস্বাদন করেছিল, অতঃপর তা লাভ করেছিল ৩

[রাজায ছন্দ]

মাফউল মুতলাক হিসেবে; তাহলে পার্থক্য কী?

উত্তর: আয়াতের ক্ষেত্রে যা ভালোবাসার বস্তু, তা হলো স্বয়ং ‘মালের প্রতি ভালোবাসা’। আর কবিতার চরণে যা ভালোবাসার বস্তু, তা হলো সেই সর্বনাম (জমির) যা সন্তানের দিকে প্রত্যাবর্তন করেছে। আর ‘কৃপণ ব্যক্তির ভালোবাসা’ বিষয়টি কেবল উপমা প্রদানের জন্য আনা হয়েছে।

মাসআলা: {তুমি তো কেবল এই দুনিয়ার জীবনের ওপরই ফয়সালা করতে পারো} ৪, {আর আমি তাদের বিভিন্ন শ্রেণিকে পরীক্ষা করার জন্য পার্থিব জীবনের যে জৌলুস দান করেছি, তার দিকে তুমি তোমার চক্ষুদ্বয় প্রসারিত করো না} ৫—এখানে ‘এই জীবন’ এবং ‘জীবনের জৌলুস’ শব্দদ্বয় কেন মানসুব (যবরযুক্ত) হয়েছে?

উত্তর: ‘এই জীবন’-এর ক্ষেত্রে, ‘এই’ (হাজিহি) শব্দটি ‘মধ্যে’ (ফি) অর্থে কালবাচক ক্রিয়াবিশেষণ (যরফে যামান) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আর ‘জীবন’ (হায়াত) শব্দটি তার গুণ বা...

--------------------------------------------

১. সূরা হাশর, আয়াত ২৪-এর অংশ। পূর্ণ আয়াতটি হলো: {তিনিই আল্লাহ—স্রষ্টা, উদ্ভাবক, রূপদানকারী; তাঁর জন্যই রয়েছে সকল উত্তম নাম। আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে, সবই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়}।

২. সূরা সাদ, আয়াত ৩২-এর অংশ। পূর্ণ আয়াতটি হলো: {অতঃপর সে বলল, আমি তো আমার রবের স্মরণের পরিবর্তে মালের মহব্বতে মত্ত হয়ে পড়েছি; শেষ পর্যন্ত (সূর্য) পর্দার আড়ালে আত্মগোপন করল}।

৩. মূলে ‘আল-খায়র’ রয়েছে। উল্লিখিত রাজায ছন্দটি জনৈক বেদুইনের প্রতি নিসবত করা হয়েছে, যে তার সন্তানকে নাচানোর সময় এটি আবৃত্তি করত। এর অবশিষ্টাংশ হলো: (যখন সে তা দান করতে চায়, তখন তার মনে কার্পণ্য উদিত হয়)। উয়ুনুল আখবার, ইবনে কুতাইবা, ৩য় খণ্ড, ৯৯ পৃষ্ঠা।

৪. সূরা ত্বহা, আয়াত ৭২-এর অংশ। পূর্ণ আয়াতটি হলো: {সুতরাং তুমি যা ফয়সালা করার করো; তুমি তো কেবল এই দুনিয়ার জীবনের ওপরই ফয়সালা করতে পারো}।

৫. সূরা ত্বহা, আয়াত ১৩১-এর অংশ। পূর্ণ আয়াতটি হলো: {আর আমি তাদের বিভিন্ন শ্রেণিকে পরীক্ষা করার জন্য পার্থিব জীবনের যে জৌলুস দান করেছি, তার দিকে তুমি তোমার চক্ষুদ্বয় প্রসারিত করো না। তোমার রবের রিযিকই উত্তম ও অধিক স্থায়ী}।
(খণ্ড: ১) আসইলাতু ওয়া আজউইবাতু ফী ইরাবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৭)
عطف بيان. وأما زهرة الحياة الدنيا فبدل من الهاء في [به] 1 على الموضع، أو معمول لمضمر دل عليه متعنا لأنه بمنزلة جعلنا، فكأنه قيل: جعلناهم زهرة الحياة الدنيا، ولا يكون حالا لتعريفه.

ومن قال في (مررت به المسكين) إنه حال جازت الحالية عندها هنا، وزعم بعضهم أن الزهرة هنا في موضع المصدر أي زينة الحياة الدنيا، فيكون من باب صنع الله. ولمكي هنا قو ل غريب زعم أنه أحسن من غيره وهو أن يكون الأصل زهرة بالتنوين، ولكنه حذف لالتقاء الساكنين، وخفض الحياة على البدل من ما، أي تمدن عينيك إلى الحياة الدنيا حالة كونها زهرة، انتهى.

ولا يكون بدلا من ما لأن لنفتنهم متعلق بمتعنا، فهو داخل في الصلة ولا يبدل من الموصول قبل تمام صلته.

مسألة: {فَمَكَثَ غَيْرَ بَعِيدٍ} 2 غير نعت لمصدر محذوف أو لظرف محذوف أي مكثا غير بعيد، أو وقتا [5ب] غير بعيد.

مسألة: {وَأُزْلِفَتِ الْجَنَّةُ لِلْمُتَّقِينَ غَيْرَ بَعِيدٍ} 3

الجواب: غير حال من الجنة، مؤكد لعاملها، مثلها في {وَلَّى مُدْبِراً} 4 لأن الإزلاف هو التقرب، وكل مقرب غير بعيد.

مسألة: {أَلَّا يَسْجُدُوا لِلَّهِ} 5 ما محله من الإعراب؟

--------------------------------------------

1 زيادة يقتضيها السياق.

2 سورة النمل من الآية 22وتمامها {فَمَكَثَ غَيْرَ بَعِيدٍ فَقَالَ أَحَطْتُ بِمَا لَمْ تُحِطْ بِهِ وَجِئْتُكَ مِنْ سَبَأٍ بِنَبَأٍ يَقِينٍ} .

3 سورة ق الآية 31.

4 سورة النمل من الآية 10 وتمامها {وَأَلْقِ عَصَاكَ فَلَمَّا رَآهَا تَهْتَزُّ كَأَنَّهَا جَانٌّ وَلَّى مُدْبِراً وَلَمْ يُعَقِّبْ يَا مُوسَى لا تَخَفْ إِنِّي لا يَخَافُ لَدَيَّ الْمُرْسَلُونَ} وجاءت في سورة القصص من الآية 31.

5 سورة النمل من الآية 25 وتمامها {أَلاّ يَسْجُدُوا لِلَّهِ الَّذِي يُخْرِجُ الْخَبْءَ فِي السَّمَاوَاتِ وَالأرْضِ وَيَعْلَمُ مَا تُخْفُونَ وَمَا تُعْلِنُونَ} .
এটি ব্যাখ্যাসূচক অনুবর্তী (عطف بيان)। আর 'যোহরাতাল হায়াতিদ দুনিয়া' (পার্থিব জীবনের চাকচিক্য) অংশটি [به] এর অন্তর্গত 'হা' (هاء) সর্বনাম থেকে তার ব্যাকরণিক অবস্থানের ভিত্তিতে স্থলাভিষিক্ত (بدل), অথবা এটি একটি ঊহ্য ক্রিয়ার কর্ম (معمول), যা 'متعنا' (আমরা ভোগ করতে দিয়েছি) শব্দ দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে। কারণ এটি 'جعلنا' (আমরা বানিয়েছি) এর সমপর্যায়ভুক্ত। ফলে বিষয়টি এমন দাঁড়ায়: 'আমরা তাদেরকে পার্থিব জীবনের চাকচিক্য স্বরূপ বানিয়েছি'। এটি অবস্থাসূচক পদ (حال) হতে পারবে না, কারণ এটি নির্দিষ্ট (معرفة)।

আর যারা 'مررت به المسكين' (আমি তার পাশ দিয়ে গেলাম যে অভাবী) বাক্যে 'আল-মিসকিন' শব্দটিকে অবস্থাসূচক পদ (حال) হিসেবে গণ্য করেন, তাদের মতে এখানেও অবস্থাসূচক পদ (حال) হওয়া বৈধ। কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, এখানে 'যোহরাহ' শব্দটি ক্রিয়ামূলের (مصدر) স্থলাভিষিক্ত, অর্থাৎ পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য; যা 'আল্লাহর সৃষ্টি' (صنع الله) পরিভাষার পর্যায়ভুক্ত। মাক্কী এখানে একটি বিরল (غريب) মত উল্লেখ করেছেন এবং দাবি করেছেন যে এটি অন্য সব মতের চেয়ে উত্তম। তা হলো—মূল শব্দটি মূলত তানউইন (تنوين) সহ 'যোহরাতান' ছিল, কিন্তু দুটি স্থির বর্ণের মিলন (التقاء الساكنين) পরিহার করার জন্য তানউইন বিলুপ্ত করা হয়েছে। আর 'আল-হায়াত' শব্দটি 'মা' (ما) এর পরিবর্তে স্থলাভিষিক্ত (بدل) হিসেবে জের যুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ—আপনি পার্থিব জীবনের দিকে দৃষ্টি প্রসারিত করবেন এমতাবস্থায় যে তা চাকচিক্যময়। (সমাপ্ত)

এটি 'মা' (ما) এর স্থলাভিষিক্ত (بدل) হতে পারবে না, কারণ 'লিনাফতিনাহুম' (যাতে আমি তাদেরকে পরীক্ষা করতে পারি) অংশটি 'মাত্তা'না' এর সাথে সংশ্লিষ্ট। ফলে এটি সম্বন্ধ পদের (صلة) অন্তর্ভুক্ত। আর সম্বন্ধ পদ (صلة) পূর্ণ হওয়ার আগে সম্বন্ধসূচক সর্বনাম (موصول) থেকে কোনো স্থলাভিষিক্ত (بدل) আনা যায় না।

মাসআলা: {অতঃপর সে অল্প সময় অপেক্ষা করল} - এখানে 'গাইরা' (غير) শব্দটি একটি ঊহ্য ক্রিয়ামূলের (مصدر) বিশেষণ (نعت) অথবা একটি ঊহ্য সময় বা স্থানবাচক বিশেষ্যের (ظرف) বিশেষণ (نعت)। অর্থাৎ—অল্প সময় অবস্থান করা অথবা অল্প সময়।

মাসআলা: {এবং জান্নাতকে মুত্তাকীদের নিকটবর্তী করা হবে, যা মোটেও দূরে নয়}

উত্তর: 'গাইরা' শব্দটি জান্নাত থেকে অবস্থাসূচক পদ (حال), যা তার প্রভাবকের (عامل) অর্থকে তাকিদ বা জোরালো করে। যেমন—{সে পশ্চাদপসরণ করে ফিরে চলল} আয়াতে হয়েছে। কারণ 'ইযলাফ' মানেই হলো নিকটবর্তী করা, আর যা কিছু নিকটবর্তী করা হয় তা দূরে নয়।

মাসআলা: {তারা যেন আল্লাহকে সেজদা না করে} - ব্যাকরণগত দিক থেকে এর অবস্থান কী?

--------------------------------------------

১. প্রসঙ্গের প্রয়োজনে সংযোজিত।

২. সূরা আন-নামল-এর ২২ নম্বর আয়াতের অংশ। পূর্ণ আয়াতটি হলো: {অতঃপর সে অল্প সময় অপেক্ষা করল এবং বলল: আপনি যা অবগত নন আমি তা অবগত হয়েছি এবং আমি সাবা থেকে আপনার কাছে নিশ্চিত সংবাদ নিয়ে এসেছি}।

৩. সূরা ক্বাফ, আয়াত ৩১।

৪. সূরা আন-নামল-এর ১০ নম্বর আয়াতের অংশ। পূর্ণ আয়াতটি হলো: {এবং আপনি আপনার লাঠি নিক্ষেপ করুন। অতঃপর যখন তিনি সেটাকে সর্পের ন্যায় ছুটাছুটি করতে দেখলেন, তখন তিনি পেছন ফিরে পালালেন এবং ফিরে তাকালেন না। হে মুসা! ভয় পাবেন না, নিশ্চয়ই আমার দরবারে রাসূলগণ ভয় পান না}। আয়াতটি সূরা আল-কাসাস-এর ৩১ নম্বর আয়াতেও এসেছে।

৫. সূরা আন-নামল-এর ২৫ নম্বর আয়াতের অংশ। পূর্ণ আয়াতটি হলো: {তারা কেন আল্লাহকে সেজদা করে না, যিনি আসমান ও জমিনের লুকায়িত বস্তু প্রকাশ করেন এবং তোমরা যা গোপন করো ও যা প্রকাশ করো তা তিনি জানেন}।
(খণ্ড: ১) আসইলাতু ওয়া আজউইবাতু ফী ইরাবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৮)
الجواب: إما جر بدلا من (السبيل) 1. ولا زائدة مثلها في {مَا مَنَعَكَ أَلَّا تَسْجُد} 2 أو نصب بدلا من أعمالهم.

فالتقدير: {وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ أَعْمَالَهُمْ. .. أَلَّا يَسْجُدُوا لِلَّهِ} فلا نافية ويحتمل أن يكون معمولا ليهتدون على تقدير اللام، ولا على هذا الوجه زائدة أيضا، والتقدير: فهم لا يهتدون للسجود لله، وحذف حرف الجر من أن، وأن والموضع على هذا جر عند الخليل3.

والكسائي نصب عند سيبويه والفراء.

مسألة: {أَلَمْ نَجْعَلِ الأرْضَ كِفَاتاً أَحْيَاءً وَأَمْوَاتاً} 4 علام انتصب أحياء وأمواتا؟

الجواب: هذا يظهر بعد تفسير المعنى، وفي معناها قولان:

أحدهما: أن الكفاة الأوعية وهي جمع ومفردها كفت، والأحياء والأموات كناية عما ينبت منها وما لا ينبت.

--------------------------------------------

1 سورة النمل من الآية 24.

2 سورة الأعراف من الآية 12 وتمامها {قَالَ مَا مَنَعَكَ أَلاّ تَسْجُدَ إِذْ أَمَرْتُكَ قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِنْهُ خَلَقْتَنِي مِنْ نَارٍ وَخَلَقْتَهُ مِنْ طِينٍ} والآية التي قبلها {وَلَقَدْ خَلَقْنَاكُمْ ثُمَّ صَوَّرْنَاكُمْ ثُمَّ قُلْنَا لِلْمَلائِكَةِ اسْجُدُوا لآدَمَ فَسَجَدُوا إِلاّ إِبْلِيسَ لَمْ يَكُنْ مِنَ السَّاجِدِينَ} . ذكرتها لتعلق الإعراب بها.

3 الخليل بن أحمد: بن عمرو بن تميم الفراهيدي الأزدي اليحمدي، أبو عبد الرحمن، من أئمة اللغة والأدب، وواضع علم العروض، وهو أستاذ سيبويه النحوي، ولد ومات بالبصرة. توفي سنة 170هـ = 786م (وفيات الأعيان جـ 1 ص 172، وإنباه الرواة جـ 1 ص 341 والسيرافي ص 38 والحور العين ص 112 والجاسوس على القاموس ص 22 والفهرس التمهيدي ص 239 ونزهة الجليس جـ 1 ص 80) .

4 سورة المرسلات الآية 25، 26.
উত্তর: এটি হয় ‘সাবীল’ শব্দের স্থলাভিষিক্ত বা বদল হিসেবে মাজরুর হবে। [১] আর ‘লা’ এখানে অতিরিক্ত, যেমনটি {কিসে তোমাকে সিজদাহ করতে বাধা দিল?} [২] আয়াতে রয়েছে; অথবা এটি তাদের কর্মসমূহের বদল হিসেবে মানসুব হবে।

এর ব্যাখ্যা হলো: {শয়তান তাদের কর্মসমূহকে তাদের নিকট সুশোভিত করেছিল... যেন তারা আল্লাহকে সিজদাহ না করে}। এখানে ‘লা’ হলো না-বোধক। আর এটি ‘লাম’ উহ্য থাকার ভিত্তিতে ‘ইয়াহ্তাদুন’ ক্রিয়ার আমলকৃত পদ হওয়ার সম্ভাবনা রাখে; আর এই সুরতেও ‘লা’ অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হবে। এমতাবস্থায় অর্থ হবে: তারা আল্লাহর প্রতি সিজদাহ করার জন্য সঠিক পথ প্রাপ্ত হয় না। আর ‘আন’ থেকে হরফে জার বিলুপ্ত হয়েছে; খলীলের মতে এ অবস্থায় ‘আন’ ও তার পরবর্তী পদের স্থানটি মাজরুর হবে। [৩]

সীবওয়াইহ ও আল-ফাররা-এর বর্ণনা অনুযায়ী কিসাঈ-এর মতে এটি মানসুব হবে।

মাসআলা: {আমি কি ভূমিকে আধার বানাইনি— জীবিত ও মৃতদের জন্য?} [৪] এখানে ‘আহ্ইয়া’ ও ‘আমওয়াতা’ শব্দ দুটি কেন মানসুব হয়েছে?

উত্তর: এটি অর্থের ব্যাখ্যার পর স্পষ্ট হবে। এর অর্থের ব্যাপারে দুটি অভিমত রয়েছে:

প্রথমটি হলো: ‘কিফাত’ অর্থ হলো আধার বা পাত্র, যা বহুবচন এবং এর একবচন হলো ‘কিফ্ত’। আর ‘জীবিত’ ও ‘মৃত’ শব্দ দুটি ভূমি থেকে যা উৎপন্ন হয় এবং যা উৎপন্ন হয় না— তার রূপক অর্থ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

--------------------------------------------

১. সুরা আন-নামল, আয়াত ২৪-এর অংশ।

২. সুরা আল-আরাফ, আয়াত ১২; এর পূর্ণ অংশ হলো {তিনি বললেন: আমি যখন তোমাকে আদেশ দিয়েছি, তখন কিসে তোমাকে সিজদাহ করতে বাধা দিল? সে বলল: আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ, আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে কাদা থেকে সৃষ্টি করেছেন}। এর পূর্ববর্তী আয়াত হলো: {আমি তো তোমাদের সৃষ্টি করেছি, এরপর তোমাদের আকৃতি দান করেছি, তারপর আমি ফেরেশতাদের বললাম: আদমকে সিজদাহ করো; তখন ইবলিস ছাড়া সবাই সিজদাহ করল, সে সিজদাহকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না}। ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের সাথে সংশ্লিষ্টতার কারণে আমি এটি উল্লেখ করেছি।

৩. খলীল বিন আহমদ: বিন আমর বিন তামীম আল-ফারাহিদী আল-আযদী আল-ইয়াহমাদী, আবু আবদুর রহমান; তিনি ভাষা ও সাহিত্যের অন্যতম ইমাম এবং ছন্দবিজ্ঞানের উদ্ভাবক। তিনি ব্যাকরণবিদ সীবওয়াইহ-এর শিক্ষক। তিনি বসরায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ১৭০ হিজরি মোতাবেক ৭৮৬ খ্রিস্টাব্দে ইন্তেকাল করেন। (ওয়াফায়াতুল আইয়ান, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৭২; ইনবাহুর রুওয়াত, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৪১; আস-সিরাফী, পৃষ্ঠা ৩৮; আল-হুরুল ইন, পৃষ্ঠা ১১২; আল-জাসুস আলাল কামুস, পৃষ্ঠা ২২; আল-ফিহরাসাত আত-তামহিদী, পৃষ্ঠা ২৩৯; নুযহাতুল জালিস, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৮০)।

৪. সুরা আল-মুরসালাত, আয়াত ২৫, ২৬।
(খণ্ড: ১) আসইলাতু ওয়া আজউইবাতু ফী ইরাবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ১৯)
والثاني: أن الكفات مفرد مصدر كفته إذا ضمه وجمعه ونظيره في المعنى والوزن كتبه كتابا. والتقدير: ذا كفات، كما تقول: زيد عدل، والأحياء والأموات مراد به بنو آدم1. فعلى التفسير الأول أحياء وأمواتا صفتان لكفاتا، وكأنه قيل: أوعية حية وميتة أو حالا من الأرض، أو من كفاتا على ضعف في ذلك، لكونه نكرة، ولا يسوغ ذلك. تقدم النفي لأن النفي المقرون بهمزة الاستفهام يراد به الثبوت. فكأنه قيل: جعلنا الأرض كفاتا. وأجاز بعضهم أن يكون تمييزا. كما تقول: عندي نحى سمنا وراقود خلا.

وفيه نظر لأنه مشتق. ولأن النحى والراقود ليسا نفس السمن والخل بل محل لهما، والأحياء والأموات نفس الكفات.

وعلى التفسير الثاني هما مفعولان لفعل دل عليه [6أ] كفاتا، والتقدير {أَلَمْ نَجْعَلِ الأرْضَ كِفَاتاً} 2 تجمع {أَحْيَاءً وَأَمْوَاتاً} 3

وأجاز بعضهم أن يكونا مفعولين لكفاتا نفسه، وليس بشيء لأن ليس مقدرا بأن والفعل.

مسألة: {قُلْ أَفَغَيْرَ اللَّهِ تَأْمُرُونِّي أَعْبُدُ} 4 بم انتصب غير؟

الجواب: ينبغي أن يكون انتصابه بتأمروني على إسقاط الخافض أي تأمروني بغير الله. كما قالوا: (أمرتك الخير) أي بالخير، ويكون

--------------------------------------------

1 في الأصل: بنوا.

2 سورة المرسلات الآية 25.

3 سورة المرسلات الآية 26.

4 سورة الزمر من الآية 64 وتمامها {قُلْ أَفَغَيْرَ اللَّهِ تَأْمُرُونِّي أَعْبُدُ أَيُّهَا الْجَاهِلُو} .
দ্বিতীয়ত: 'কিফাত' (كفات) শব্দটি 'কাফাতাহু' (كفته) এর একবচন মূলধাতু (مصدر), যার অর্থ হলো কোনো কিছুকে গুটিয়ে নেওয়া বা একত্রিত করা। অর্থ ও ওজনের দিক থেকে এর সদৃশ শব্দ হলো 'কাতাবাহু কিতাবান' (كتبه كتابا)। এর প্রচ্ছন্ন রূপ (تقدير) হলো: 'আধার বা ধারণকারী' (ذا كفات), যেমন আপনি বলে থাকেন: 'যায়েদ ন্যায়পরায়ণ' (زيد عدل)। আর 'জীবিত ও মৃত' (الأحياء والأموات) বলতে আদম সন্তানকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে১। প্রথম ব্যাখ্যা অনুযায়ী, 'জীবিত ও মৃত' শব্দ দুটি 'কিফাতান' (كفاتاً) এর দুটি বিশেষণ (صفة)। যেন বলা হয়েছে: 'জীবিত ও মৃতদের আধার'। অথবা এগুলো 'জমিন' (الأرض) থেকে 'হাল' (حال) হিসেবে এসেছে, কিংবা 'কিফাতান' থেকে 'হাল' (حال) হয়েছে, তবে তা দুর্বল (ضعيف) মত; কারণ শব্দটি অনির্দিষ্ট (نكرة), আর তা ব্যাকরণগতভাবে সংগত নয়। এখানে নেতিবাচক অব্যয়টি আগে আসার কারণ হলো, প্রশ্নবোধক হামজার সাথে যুক্ত নেতিবাচক বাক্য দ্বারা ইতিবাচকতা বা কোনো বিষয় সাব্যস্ত করা উদ্দেশ্য হয়। সুতরাং বিষয়টি এমন: 'আমরা জমিনকে আধার বানিয়েছি'। কেউ কেউ একে 'তাময়িজ' (تمييز) হিসেবেও বৈধ বলেছেন। যেমন আপনি বলেন: 'আমার নিকট এক মশক ঘি ও এক কলস সিরকা আছে।'

তবে এই মতটিতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে, কারণ এটি একটি উদ্ভূত শব্দ (مشتق)। তাছাড়া মশক ও কলস ঘি ও সিরকার মূল সত্তা নয়, বরং সেগুলোর আধার মাত্র। অন্যদিকে 'জীবিত ও মৃত' স্বয়ং 'কিফাত' বা আধারেরই অন্তর্ভুক্ত।

দ্বিতীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই শব্দ দুটি এমন একটি ক্রিয়ার (فعل) কর্ম (مفعول), যার প্রতি [৬-অ] 'কিফাতান' শব্দটি ইঙ্গিত করছে। এর প্রচ্ছন্ন রূপটি হবে: {আমরা কি জমিনকে আধার করিনি} যা একত্রিত করে {জীবিত ও মৃতদের}৩।

কেউ কেউ এই শব্দ দুটিকে স্বয়ং 'কিফাতান' এরই কর্ম (مفعول) হওয়া বৈধ বলেছেন। তবে এটি ধর্তব্য নয়, কারণ শব্দটি এখানে 'আন' (أن) এবং ক্রিয়ার (فعل) স্থলাভিষিক্ত হয়ে আসেনি।

মাসআলা: {বলুন, তবে কি তোমরা আমাকে আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত করতে আদেশ দিচ্ছ?}৪ এখানে 'গাইরা' (غير) শব্দটি কেন মানসুব (منصوب) হয়েছে?

উত্তর: এটি 'তা'মুরুনি' (تأمروني) ক্রিয়ার কারণে মানসুব (منصوب) হওয়া উচিত, যেখানে অব্যয় বা হারফে জার উহ্য রয়েছে। অর্থাৎ—'তোমরা কি আমাকে আল্লাহ ব্যতীত অন্যের (ইবাদতের) আদেশ দিচ্ছ?' যেমন আরবরা বলে থাকে: 'আমি তোমাকে কল্যাণের আদেশ দিয়েছি' অর্থাৎ কল্যাণের প্রতি। এবং এটি হবে...

--------------------------------------------

১. মূল পাণ্ডুলিপিতে: 'বানুয়া' (بنوا)।

২. সূরা আল-মুরসালাত, আয়াত ২৫।

৩. সূরা আল-মুরসালাত, আয়াত ২৬।

৪. সূরা আজ-জুমার, আয়াত ৬৪; এর পূর্ণ অংশ হলো: {বলুন, হে মূর্খরা! তবে কি তোমরা আমাকে আল্লাহ ছাড়া অন্যের ইবাদত করতে আদেশ দিচ্ছ?}।
(খণ্ড: ১) আসইলাতু ওয়া আজউইবাতু ফী ইরাবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২০)
أعبد بدل اشتمال من غير ، والتقدير: أتأمروني بغير الله عبادته، لأن أعبد أصله أن أعبد، فحذفت أن ولم ينصب1 الفعل بعدها. وجاز كون المفعول الثاني لأمر ذاتا، وإنما حقه أن يكون معنى كالخير والبر ونحوهما، إذا2 كانت الذوات لا يؤمر بها، لكونه قد أبدل منه اسم معنى، وهو أعبد، والبدل هو المعتمد بالحديث، وهو في نية الإحلال محلّ الأول، وإنما قدرت أن أعبد بعبادته، لأن أعبد فعل متعد لم يذكر مفعوله، فلا بد من مفعول مقدر، وذلك الضمير المقدر وهو المصحح لبدل الاشتمال لأنه لا بد من اتصاله بضمير يعود على المبدل منه، وإنما لم أقدر غيرا معمولة لأعبد كما هو الظاهر، وكما قال قوم من المعبرين3 لأنه لا يتقدم معمول الصلة على الموصول، وأعبد صلة لأن المقدرة قطعا.

مسألة: {وَالَّذِينَ يُظَاهِرُونَ مِنْ نِسَائِهِمْ ثُمَّ يَعُودُونَ لِمَا قَالُوا} 4بماذا5 تتعلق اللام، وما معنى عودهم لما قالوا؟

الجواب: اختلف في متعلق اللام على قولين: أحدهما أنه يعودون، وعلى هذا ما مصدرية، مثلها في قوله تعالى: {بِمَا نَسُوا يَوْمَ الْحِسَابِ} 6 واختلف في ذلك المصدر

--------------------------------------------

1 من الأصل: يقع ، ولعل الصواب ما أثبتناه.

2 لعلها إذ وزيدت الألف من الناسخ.

3 لعلها من المعربين.

4 سورة المجادلة من الآية 3 وتمامها {وَالَّذِينَ يُظَاهِرُونَ مِنْ نِسَائِهِمْ ثُمَّ يَعُودُونَ لِمَا قَالُوا فَتَحْرِيرُ رَقَبَةٍ مِنْ قَبْلِ أَنْ يَتَمَاسَّا ذَلِكُمْ تُوعَظُونَ بِهِ وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ} .

5 في الأصل: ماذا، والسياق يقتضي ما أثبتناه.

6 سورة ص من الآية 26 وتمامها {يَا دَاوُدُ إِنَّا جَعَلْنَاكَ خَلِيفَةً فِي الأرْضِ فَاحْكُمْ بَيْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَلا تَتَّبِعِ الْهَوَى فَيُضِلَّكَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ إِنَّ الَّذِينَ يَضِلُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ بِمَا نَسُوا يَوْمَ الْحِسَابِ} .
"আ'বুদু" শব্দটি "গাইর" থেকে বদল ইশতিমাল, আর এর প্রাক্কলন হলো: "তোমরা কি আমাকে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কিছুর ইবাদত করার আদেশ দিচ্ছ?", কারণ "আ'বুদু" এর মূল রূপ হলো "আন আ'বুদা", অতঃপর "আন" বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং এর পরবর্তী ক্রিয়াটি নসব প্রাপ্ত হয়নি। 'আমা'রা' (আদেশ করা) এর দ্বিতীয় কর্মপদটি সত্তাবাচক হওয়া জায়েজ হয়েছে, যদিও নিয়ম অনুযায়ী তা অর্থবাচক হওয়া উচিত ছিল যেমন কল্যাণ, পুণ্য বা এই জাতীয় কিছু; যেহেতু সত্তাসমূহ সরাসরি আদেশের বিষয় হয় না। কারণ এখানে সত্তা থেকে একটি অর্থবাচক বিশেষ্য দ্বারা বদল করা হয়েছে, আর সেটি হলো "আ'বুদু"। আর এই বদলটিই হাদিস এর মূল প্রতিপাদ্য এবং এটি পূর্ববর্তী শব্দের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার নিয়তে রয়েছে। আমি "আন আ'বুদা" শব্দটিকে "ইবাদাতাহু" (তার ইবাদত) দ্বারা প্রাক্কলন করেছি কারণ "আ'বুদু" একটি সকর্মক ক্রিয়া যার কর্মপদ উল্লিখিত হয়নি; তাই একটি প্রাক্কলিত কর্মপদ থাকা আবশ্যক। আর সেই প্রাক্কলিত সর্বনামটিই বদল ইশতিমাল হওয়ার বিষয়টিকে শুদ্ধ করে, কারণ মুবদাল মিনহুর দিকে ফিরে যায় এমন একটি সর্বনামের সাথে 'বদল'-এর যুক্ত থাকা আবশ্যক। আমি "গাইর" শব্দটিকে "আ'বুদু" এর মা'মুল (আমলযোগ্য পদ) হিসেবে গণ্য করিনি যেমনটি দৃশ্যত মনে হয় এবং যেমনটি একদল বিশ্লেষক বলেছেন; কারণ সিলাহ এর মা'মুল মাওসুলের পূর্বে আসতে পারে না, আর "আ'বুদু" এখানে নিশ্চিতভাবেই প্রাক্কলিত 'আন' এর সিলাহ।

মাসআলা: {আর যারা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে জিহার করে, অতঃপর তারা যা বলেছে তা থেকে ফিরে আসে} এখানে 'লাম' কিসের সাথে সংশ্লিষ্ট এবং তাদের বলা কথায় ফিরে আসার অর্থ কী?

উত্তর: 'লাম'-এর সংশ্লিষ্টতা নিয়ে দুটি মত রয়েছে: একটি হলো এটি "ইয়া'উদুনা" (ফিরে আসা) এর সাথে সংশ্লিষ্ট। এই ভিত্তিতে 'মা' শব্দটি মাসদারিয়্যাহ, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণী: {যেহেতু তারা হিসাব দিবসকে ভুলে গিয়েছিল}। আর এই মাসদার নিয়ে মতভেদ রয়েছে...

--------------------------------------------

১. মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'য়াক্বা'উ', সম্ভবত সঠিক পাঠ সেটিই যা আমরা উল্লেখ করেছি।

২. সম্ভবত এটি 'ইয' ছিল এবং অনুলিপিকারীর মাধ্যমে আলিফ অতিরিক্ত যুক্ত হয়েছে।

৩. সম্ভবত এটি 'আল-মু'রিবিন' (ব্যাকরণবিদগণ)।

৪. সূরা আল-মুজাদালাহ, আয়াত ৩ এর অংশ। পূর্ণ আয়াতটি হলো: {আর যারা নিজেদের স্ত্রীদের সাথে জিহার করে, অতঃপর তারা যা বলেছে তা থেকে ফিরে আসে, তবে (তাদের প্রায়শ্চিত্ত হলো) একে অপরকে স্পর্শ করার আগে একটি দাস মুক্ত করা। তোমাদেরকে এর মাধ্যমে উপদেশ দেওয়া হচ্ছে। আর তোমরা যা করো সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত।}

৫. মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'মাযা', তবে প্রসঙ্গের প্রয়োজনে আমরা যা উল্লেখ করেছি তাই হওয়া আবশ্যক।

৬. সূরা সোয়াদ, আয়াত ২৬ এর অংশ। পূর্ণ আয়াতটি হলো: {হে দাউদ! আমি তোমাকে পৃথিবীতে খলীফা বানিয়েছি, সুতরাং তুমি মানুষের মাঝে ন্যায়বিচার করো এবং খেয়াল-খুশির অনুসরণ করো না, যা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। নিশ্চয় যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি; যেহেতু তারা হিসাব দিবসকে ভুলে গিয়েছিল।}
(খণ্ড: ১) আসইলাতু ওয়া আজউইবাতু ফী ইরাবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২১)
على قولين، أحدهما: أن يؤول بالمفعول مثله في قولهم (درهم ضرب الأمير) و (ثوب نسج اليمن) فالتقدير: ثم يعودون للنساء المقول فيهن لفظ الظهار، وهذا قول جمهور العلماء.

والثاني: [6ب] أنه غير مؤول، وهو قول أهل الظاهر فتجب عندهم الكفارة بتكرير العبارة.

والقول الثاني: من قولي متعلق اللام أنه التحرير. والتقدير: والذين يظاهرون1 ثم يعودون فعليهم تحرير رقبة، لأجل ما قالوه من الظهار، نقل ذلك عن الأخفش2 وما على هذا القول إما مصدرية أو موصول اسمي، ويرد هذا القول أن ما بعد الفاء لا يعمل فيما قبلها إلا في باب. أما نحو {فَأَمَّا الْيَتِيمَ فَلا تَقْهَرْ} 3 وأن المصدر لا يعمل فيما قبله ولو كان ظرفا، وأن التحرير للقول والعود لا للقول فقط.

مسألة: {لِيَسْتَأْذِنْكُمُ الَّذِينَ مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ وَالَّذِينَ لَمْ يَبْلُغُوا الْحُلُمَ مِنْكُمْ ثَلاثَ مَرَّاتٍ} 4 علام انتصب ثلاث مرات وثلاث عورات؟

--------------------------------------------

1 في الأصل يظهرون، وهو خطاء.

2 الأخفش: الأخفش الأوسط: سعيد بن مسعدة المجاشعي بالولاء، البلخي ثم البصري، أبو الحسن، المعروف بالأخفش الأوسط: نحوي، عالم باللغة والأدب، من أهل بلخ. سكن البصرة وأخذ العربية عن سيبويه. توفي سنة 215 هـ = 830 م (وفيات الأعيان جـ1 ص 208 وإنباه الرواة جـ 2 ص 36 ومعجم الأدباء (ط. دار المأمون) جـ11 ص 224 وبغية الوعاة ص 258 ومرآة الجنان جـ 2 ص 61 ونزهة الألبا ص 184) .

3 سورة الضحى الآية 9.

4 سورة النور من الآية 58 وتمامها {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِيَسْتَأْذِنْكُمُ الَّذِينَ مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ وَالَّذِينَ لَمْ يَبْلُغُوا الْحُلُمَ مِنْكُمْ ثَلاثَ مَرَّاتٍ مِنْ قَبْلِ صَلاةِ الْفَجْرِ وَحِينَ تَضَعُونَ ثِيَابَكُمْ مِنَ الظَّهِيرَةِ وَمِنْ بَعْدِ صَلاةِ الْعِشَاءِ ثَلاثُ عَوْرَاتٍ لَكُمْ لَيْسَ عَلَيْكُمْ وَلا عَلَيْهِمْ جُنَاحٌ بَعْدَهُنَّ طَوَّافُونَ عَلَيْكُمْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمُ الْآياتِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ} .
এটি দুটি মতের ওপর ভিত্তি করে। প্রথমটি হলো: একে কর্মবাচক বিশেষ্য (مفعول) হিসেবে ব্যাখ্যা করা হবে, যেমনটি তাদের এই উক্তিতে দেখা যায়: "আমির কর্তৃক মুদ্রিত দিরহাম" এবং "ইয়ামেনে বোনা কাপড়"। এর সারমর্ম হলো: অতঃপর তারা সেই নারীদের নিকট ফিরে যায় যাদের ব্যাপারে যিহারের শব্দ উচ্চারণ করা হয়েছে। আর এটি সংখ্যাগরিষ্ঠ (جمهور) আলেমদের মত।

দ্বিতীয়টি হলো: [৬খ] এটি ব্যাখ্যাযোগ্য নয়। আর এটি জাহেরি (أهل الظاهر) মতাদর্শীদের বক্তব্য; তাদের মতে যিহারের বাক্যটি পুনরায় উচ্চারণ করার মাধ্যমেই কাফফারা ওয়াজিব হয়ে যায়।

আর 'লাম' হরফের সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে দ্বিতীয় বক্তব্যটি হলো যে, তা হলো দাস মুক্তি (تحرير)। এর ব্যাখ্যা হলো: যারা যিহার করে এবং পরে ফিরে আসে, তাদের ওপর দাস মুক্ত করা আবশ্যক, তারা যিহারের যে কথা বলেছিল তার কারণে। এই মতটি আখফাশ থেকে বর্ণিত হয়েছে। এই মত অনুযায়ী 'মা' শব্দটি হয় মাসদারিয়্যাহ (مصدرية) অথবা মাউসুল ইসমী (موصول اسمي)। তবে এই মতটি প্রত্যাখ্যাত হয় এই কারণে যে, 'ফা' এর পরবর্তী অংশ তার পূর্ববর্তী অংশে কাজ করতে পারে না, কেবল 'আম্মা' যুক্ত বাক্যের ক্ষেত্র ব্যতীত। যেমন: "সুতরাং আপনি এতিমের প্রতি কঠোর হবেন না"। এছাড়া মাসদার (مصدر) তার পূর্ববর্তী অংশে আমল বা প্রভাব বিস্তার করে না, যদিও তা স্থান-কাল বাচক (ظرف) শব্দ হয়। আর দাস মুক্তির বিধানটি যিহারের উক্তি ও ফিরে আসা—উভয় বিষয়ের জন্য, কেবল উক্তির জন্য নয়।

মাসআলা: "তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা এখনও সাবালকত্ব লাভ করেনি, তারা যেন তিন সময়ে তোমাদের কাছে অনুমতি গ্রহণ করে।" —এখানে 'তিন বার' এবং 'তিনটি গোপনীয় সময়' কেন মানসুব (منصوب) হয়েছে?

--------------------------------------------

১. মূল পাণ্ডুলিপিতে 'ইয়াজহারুন' রয়েছে, যা একটি ভুল।

২. আখফাশ: তিনি হলেন আল-আখফাশ আল-আওসাত: সাঈদ ইবনে মাসআদাহ আল-মুজাশেয়ি (মুক্তকৃত দাস), আল-বালখি অতঃপর আল-বাসরি, আবু আল-হাসান; তিনি আল-আখফাশ আল-আওসাত নামে পরিচিত। তিনি একজন নাহুবিদ বা ব্যাকরণবিদ, ভাষা ও সাহিত্যের পণ্ডিত এবং বালখ অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন। তিনি বসরায় বসবাস করতেন এবং সিবাওয়াইহ-এর নিকট আরবি ভাষা শিখেছিলেন। তিনি ২১৫ হিজরি (৮৩০ খ্রিস্টাব্দ) সনে মৃত্যুবরণ করেন। (ওয়াফায়াতুল আইয়ান, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২০৮; ইনবাহুর রুওয়াত, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩৬; মুজামুল উদাবা [দারুল মামুন সংস্করণ], খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা ২২৪; বুগইয়াতুল উয়াত, পৃষ্ঠা ২৫৮; মিরআতুল জানান, খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৬১; নুযহাতুল আলিব্বা, পৃষ্ঠা ১৮৪)।

৩. সূরা আদ-দুহা, আয়াত ৯।

৪. সূরা আন-নূর, আয়াত ৫৮ এর অংশবিশেষ, যার পূর্ণ রূপ হলো: "হে মুমিনগণ! তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা এখনও সাবালকত্ব লাভ করেনি, তারা যেন তিন সময়ে তোমাদের কাছে অনুমতি গ্রহণ করে; ফজরের নামাজের আগে, যখন তোমরা দুপুরে তোমাদের পোশাক খুলে রাখো এবং এশার নামাজের পর। এই তিনটি সময় তোমাদের জন্য গোপনীয় (عورات)। এই সময়ের পরে তোমাদের ও তাদের জন্য কোনো গুনাহ নেই, তোমাদের একে অন্যের কাছে যাতায়াত করতেই হয়। এভাবেই আল্লাহ তোমাদের জন্য আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন। আর আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।"
(খণ্ড: ১) আসইলাতু ওয়া আজউইবাতু ফী ইরাবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২২)
الجواب: على الظرف، وقيل: على المصدر، والمعنى في ثلاثة أوقات، أو ثلاثة استئذانات. والأول: هو الصحيح، لأنه قد بين ذلك بقوله سبحانه وتعالى: {مِنْ قَبْلِ صَلاةِ الْفَجْرِ} 1 إلى آخره. وإذا ثبت ذلك في هذه الآية، فليحمل عليه نحو قوله تعالى: {وَلَقَدْ مَنَنَّا عَلَيْكَ مَرَّةً أُخْرَى} 2 فيعرب ظرفا. وأما ثلاث عورات فيمن قرأه بالنصب، فهو بدل من ثلاث مرات، وذلك على وجهين:

أحدهما: أن يكون ظرفا على حذف مضاف أي أوقات ثلاث عورات.

والثاني: أن يكون على غير حذف. وجعلت الأوقات نفسها عورات لحصول انكشاف العورات فيها. ((مثل نهاره صائم وليله صائم)) .

ومن قرأ ثلاث عورات بالرفع. فالتقدير: هذه أوقات ثلاث عورات، أو هذه ثلاث عورات على المجاز الذي بيناه.

مسألة: {وَقَالَ إِنَّمَا اتَّخَذْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَوْثَاناً مَوَدَّةَ بَيْنِكُمْ} 3 ما معنى ما في إنما، وأين مفعولا اتخذ، وعلام ارتفع مودة، وعلام انتصب على القراءتين، وما توجيه تنوين المودة وترك تنوينه، وما موقع الظرف على قراءة [7 أ] النصب؟

--------------------------------------------

1 سورة النور من الآية 58 وتمامها (راجع هامش (2) في هذه الصفحة) .

2 سورة طه الآية 37.

3 سورة العنكبوت من الآية 25 وتمامها {وَقَالَ إِنَّمَا اتَّخَذْتُمْ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَوْثَاناً مَوَدَّةَ بَيْنِكُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ثُمَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَكْفُرُ بَعْضُكُمْ بِبَعْضٍ وَيَلْعَنُ بَعْضُكُمْ بَعْضاً وَمَأْوَاكُمُ النَّارُ وَمَا لَكُمْ مِنْ نَاصِرِينَ} .
উত্তর: এটি আধার (ظرف) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে, আবার কেউ কেউ বলেছেন এটি ক্রিয়ামূল (مصدر) হিসেবে। এর অর্থ হলো তিনটি সময় অথবা তিনবার অনুমতি চাওয়ার ক্ষেত্রে। প্রথম মতটিই বিশুদ্ধ (صحيح), কারণ মহান আল্লাহ তাআলা তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে তা স্পষ্ট করেছেন: {ফজরের সালাতের আগে} ১ শেষ পর্যন্ত। যখন এই আয়াতে এটি সাব্যস্ত হলো, তখন মহান আল্লাহর বাণী: {আমি তোমার ওপর আরও একবার অনুগ্রহ করেছিলাম} ২ এর মতো উদাহরণগুলোকে এর ওপর ভিত্তি করে আধার (ظرف) হিসেবে গণ্য করতে হবে। আর যারা "তিনটি গোপনীয়তা" (ثلاث عورات) জবর (نصب) দিয়ে পাঠ করেছেন, সেটি "তিনবার" (ثلاث مرات) এর স্থলাভিষিক্ত বা বদল (بدل) হিসেবে গণ্য হবে; যা দুটি পদ্ধতিতে হতে পারে:

প্রথমটি: এটি একটি উহ্য মুদাফ (সংযোজিত শব্দ) বিশিষ্ট আধার (ظرف) হবে, অর্থাৎ তিনটি গোপনীয়তার সময়সমূহ।

দ্বিতীয়টি: কোনো উহ্য শব্দ ছাড়াই এটি ব্যবহৃত হবে। এখানে সময়গুলোকেই সরাসরি 'আওরাত' বা গোপনীয়তা হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, কারণ ওই সময়ে সতর বা গোপনীয়তা উন্মোচিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ((যেমন বলা হয়: তার দিনটি রোজা রাখা অবস্থায় এবং তার রাতটি রোজা রাখা অবস্থায়))।

আর যারা "তিনটি গোপনীয়তা" (ثلاث عورات) পেশ (رفع) দিয়ে পাঠ করেছেন, সেক্ষেত্রে উহ্য বাক্যটি হবে: এগুলো তিনটি গোপনীয়তার সময়, অথবা এগুলো তিনটি গোপনীয়তা—সেই রূপক (مجاز) অর্থের ভিত্তিতে যা আমরা বর্ণনা করেছি।

মাসআলা: {তিনি বললেন, তোমরা তো আল্লাহর পরিবর্তে মূর্তিদের গ্রহণ করেছ কেবল পার্থিব জীবনে তোমাদের পারস্পরিক ভালোবাসার খাতিরে} ৩ এখানে 'ইন্নামা' (إنما)-তে 'মা' (ما)-এর অর্থ কী? 'ইত্তখাজতুম' (اتخذتم) এর দুটি কর্মপদ (مفعول) কোথায়? 'মাওয়াদ্দাত' (مودة) শব্দটিতে কিসের ভিত্তিতে পেশ হয়েছে এবং উভয় পাঠরীতি (قراءة) অনুযায়ী কিসের ভিত্তিতে জবর হয়েছে? 'মাওয়াদ্দাহ' শব্দে তানউইন যুক্ত হওয়া এবং তানউইন না হওয়ার বিশ্লেষণ কী? আর জবর (نصب) দিয়ে পাঠ করার ক্ষেত্রে [৭-আ] আধারের (ظرف) অবস্থান কী হবে?

--------------------------------------------

১ সূরা আন-নূর, আয়াত: ৫৮ এর অংশবিশেষ (এই পৃষ্ঠার ২ নং টীকা দ্রষ্টব্য)।

২ সূরা ত্বহা, আয়াত: ৩৭।

৩ সূরা আল-আনকাবুত, আয়াত: ২৫ এর অংশবিশেষ {তিনি বললেন, তোমরা তো আল্লাহর পরিবর্তে মূর্তিদের গ্রহণ করেছ কেবল পার্থিব জীবনে তোমাদের পারস্পরিক ভালোবাসার খাতিরে। এরপর কিয়ামতের দিন তোমরা একে অপরকে অস্বীকার করবে এবং একে অপরকে লানত করবে। তোমাদের আবাসস্থল হবে জাহান্নাম এবং তোমাদের কোনো সাহায্যকারী থাকবে না}।
(খণ্ড: ১) আসইলাতু ওয়া আজউইবাতু ফী ইরাবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৩)
الجواب: أما معنى ما فإنه بني على اختلاف القراءتين في مودة، فمن رفعها فما اسم موصول في موضع نصب اسما لإن، واتخذتم صلة، والعائد محذوف، والتقدير: أن الذين اتخذتموه. ومن نصبها فما حرف كاف لا موضع لها من الإعراب، ولا ضمير محذوف، وأما مفعولا اتخذ فعلى قراءة الرفع ، المفعول الأول محذوف، وهو الهاء التي قدرناها عائدة على الموصول، والمفعول الثاني أوثانا. وعلى قراءة النصب أوثانا مفعول أول، والمفعول الثاني محذوف أي إنما اتخذتم أوثانا آلهة. ونظيره في حذف المفعول الثاني {إِنَّ الَّذِينَ اتَّخَذُوا الْعِجْلَ سَيَنَالُهُمْ غَضَبٌ} 1 وقوله {اتَّخَذُوهُ وَكَانُوا ظَالِمِينَ} 2 تقدير الأولى: إن الذين اتخذوا العجل إلها، وتقدير الثانية: اتخذوه إلها. وأما رفع المودة، فعلى أنها خبر لأن والتقدير: إن الذين اتخذتموه مودة، وجعلوا نفس المودة مبالغة واتساعا. والأصل ذوو3 مودة.

وقيل: إنه مبتدأ وفي الحياة خبر، والجملة خبر إن وصاغ الابتداء بالنكرة لأجل الوصف بالظرف أو للإضافة إليه.

وقيل: إنها خبر مبتدأ محذوف أي هي مودة، ويرده أنه لا حاجة إلى دعوة الحذف، ويرد الذي قبله عدم الراجع من الجملة المخبر بها. وأما نصبها فعلى أنها مفعول لأجله أي أنهم إنما اتخذوها من دون الله للمودة فيما بينهم، لا لأن عندها نفعا ولا ضرا. وأما تنوين المودة فهو الأصل، وأما ترك التنوين فعلى الإضافة، وهو من الاتساع في الكلام.

--------------------------------------------

1 سورة الأعراف من الآية 152 وتمامها {إِنَّ الَّذِينَ اتَّخَذُوا الْعِجْلَ سَيَنَالُهُمْ غَضَبٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَبذِلَّةٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُفْتَرِينَ} .

2 سورة الأعراف من الآية 148 وتمامها {وَاتَّخَذَ قَوْمُ مُوسَى مِنْ بَعْدِهِ مِنْ حُلِيِّهِمْ عِجْلاً جَسَداً لَهُ خُوَارٌ أَلَمْ يَرَوْا أَنَّهُ لا يُكَلِّمُهُمْ وَلا يَهْدِيهِمْ سَبِيلاً اتَّخَذُوهُ وَكَانُوا ظَالِمِينَ} .

3 في الأصل: ذووا.
উত্তর: 'মা' (ما) এর অর্থ সম্পর্কে বক্তব্য হলো, এটি 'মাওয়াদ্দাহ' শব্দের দুই প্রকার কিরাআত (قراءة)-এর পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে। যারা একে রাফ (رفع) বা পেশযুক্ত পড়েছেন, তাদের মতে 'মা' হলো একটি ইসমে মাউসুল (اسم موصول) যা 'ইন্না'-এর ইসিম হিসেবে নাসব (نصب)-এর অবস্থানে রয়েছে। আর 'ইত্তাখাযতুম' হলো সিলাহ (صلة), যার আয়িদ (عائد) বা প্রত্যাবর্তনকারী সর্বনামটি উহ্য রয়েছে; এর সম্ভাব্য রূপ হলো: 'নিশ্চয় যাদের তোমরা গ্রহণ করেছ'। আর যারা একে নাসব (نصب) বা জবরযুক্ত পড়েছেন, তাদের মতে 'মা' হলো হারফে কাফ (حرف كاف) যার কোনো ব্যাকরণিক অবস্থান নেই এবং এখানে কোনো উহ্য সর্বনামও নেই। আর 'ইত্তাখাযা' এর মাফউল (مفعول) বা কর্ম সম্পর্কে কথা হলো: রাফ (رفع)-এর কিরাআত অনুযায়ী প্রথম মাফউল (مفعول) উহ্য রয়েছে, যা হলো সেই 'হা' সর্বনাম যাকে আমরা ইসমে মাউসুল (اسم موصول)-এর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী হিসেবে ধরেছি; আর দ্বিতীয় মাফউল (مفعول) হলো 'আওছানান' (মূর্তিসমূহ)। নাসব (نصب)-এর কিরাআত অনুযায়ী 'আওছানান' হলো প্রথম মাফউল (مفعول), আর দ্বিতীয় মাফউল (مفعول) উহ্য রয়েছে; অর্থাৎ: 'তোমরা মূর্তিদের উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছ'। দ্বিতীয় মাফউল (مفعول) উহ্য থাকার সদৃশ উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয় যারা বাছুরকে গ্রহণ করেছে, অচিরেই তাদের ওপর ক্রোধ আপতিত হবে" এবং তাঁর বাণী: "তারা ওটাকে গ্রহণ করেছিল এবং তারা ছিল জালিম"। এখানে প্রথম আয়াতের সম্ভাব্য রূপ হলো: 'নিশ্চয় যারা বাছুরকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছে', আর দ্বিতীয়টির সম্ভাব্য রূপ হলো: 'তারা ওটাকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছিল'। আর 'মাওয়াদ্দাহ' শব্দটিকে রাফ (رفع) করার কারণ হলো এটি 'ইন্না'-এর খবর (خبر); এর সম্ভাব্য ভাবার্থ হলো: 'নিশ্চয় যাদের তোমরা গ্রহণ করেছ তারা ভালোবাসা'। এখানে আধিক্য ও অলঙ্কার প্রকাশের জন্য ভালোবাসার অধিকারী না বলে সরাসরি 'মাওয়াদ্দাহ' বা ভালোবাসা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মূল রূপ হলো 'ভালোবাসার অধিকারী (ذوو مودة)'।

কারো মতে: এটি মুবতাদা (مبتدأ) এবং 'ফিল হায়াতি' হলো খবর (خبر), আর পুরো বাক্যটি 'ইন্না'-এর খবর (خبر)। এখানে অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (নাকিরাহ) হওয়া সত্ত্বেও বাক্য শুরু করা বা মুবতাদা (مبتدأ) হওয়া বৈধ হয়েছে যরফ (ظرف) দ্বারা বিশেষিত হওয়া বা তার দিকে ইদাফাহ (إضافة) হওয়ার কারণে।

আবার বলা হয়েছে: এটি একটি উহ্য মুবতাদা (مبتدأ)-এর খবর (خبر), অর্থাৎ 'তা হলো ভালোবাসা'। তবে এটি প্রত্যাখ্যাত, কারণ এখানে উহ্য কিছু মানার প্রয়োজন নেই। আর এর আগের মতটি প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হলো খবর (خبر) হিসেবে ব্যবহৃত বাক্যটিতে কোনো প্রত্যাবর্তনকারী সর্বনাম নেই। আর শব্দটিকে নাসব (نصب) করার কারণ হলো এটি মাফউল লি-আজলিহি (مفعول لأجله); অর্থাৎ তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে মূর্তিদের কেবল পারষ্পরিক বন্ধুত্বের খাতিরেই গ্রহণ করেছে, মূর্তিদের কোনো উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা আছে বলে নয়। আর 'মাওয়াদ্দাহ' শব্দে তানউইন (تنوين) হওয়াই মূল ব্যাকরণিক নিয়ম। আর তানউইন বর্জন করা হয়েছে ইদাফাহ (إضافة)-এর কারণে, যা ভাষার সাবলীলতা ও প্রশস্ততার অন্তর্ভুক্ত।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-আরাফ, আয়াত ১৫২-এর অংশ বিশেষ। পূর্ণ আয়াতটি হলো: "নিশ্চয় যারা বাছুরকে (উপাস্য হিসেবে) গ্রহণ করেছে, অচিরেই তাদের ওপর তাদের রবের পক্ষ থেকে ক্রোধ এবং পার্থিব জীবনে লাঞ্ছনা আপতিত হবে। এভাবেই আমি মিথ্যাচারীদের প্রতিফল দিয়ে থাকি।"

২ সূরা আল-আরাফ, আয়াত ১৪৮-এর অংশ বিশেষ। পূর্ণ আয়াতটি হলো: "মুসার সম্প্রদায় তার (তুর পাহাড়ে যাওয়ার) পর তাদের অলঙ্কার দিয়ে একটি বাছুরের অবয়ব নির্মাণ করল, যা হাম্বা রব করত। তারা কি দেখল না যে, ওটা তাদের সাথে কথা বলে না এবং তাদের কোনো পথও দেখায় না? তারা ওটাকে গ্রহণ করল এবং তারা ছিল জালিম।"

৩ মূলে রয়েছে: যাউ (ذووا)।
(খণ্ড: ১) আসইলাতু ওয়া আজউইবাতু ফী ইরাবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৪)
وأما موضع الظرف فمحتمل بوجهين:

أحدهما: أن يكون ظرفا للمودة، فيتعلق بها، ويكون خاليا من الضمير، وحينئذ كون في الحياة ظرفا للمودة أيضا متعلقا بها، لأن العامل الواحد يجوز أن يعمل في ظرفي زمان ومكان.

والثاني: أن يكون [7 ب] صفة للمودة، لأنها نكرة فتتعلق بمحذوف ويكون فيه حينئذ ضمير عائد على الموصوف، ويكون في الحياة في موضع الحال من ذلك الضمير، وفيه على هذا أيضا ضمير، ويتعلق أيضا بمحذوف.

مسألة: {بُشْرَاكُمُ الْيَوْمَ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الأنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا} 1 ما إعراب خالدين، وما ناصبه؟ فإن قيل عامله البشرى. فكيف أخبر عن المصدر قبل مجيء معموله؟

الجواب: خالدين حال عامله إما مصدر مضاف إلى جنات محذوف. والتقدير: بشراكم اليوم دخول جنات، وهي حال مقدرة مثلها في {فَادْخُلُوهَا خَالِدِينَ} 2 وفيه إعمال المصدر محذوفا، وسهله ظهور المعنى، وكثرة حذف المضاف. وأن عمله في اسم شبيه بالظرف وهو الحال. وأما بشرى وجاز في ذلك لأنه ليس مقدرا بأن والفعل، ولا بما والفعل، فلم يلزم الفصل بين صلة وموصولها، وصاحب الحال على هذا الوجه

--------------------------------------------

1 سورة الحديد من الآية 12 وتمامها {يَوْمَ تَرَى الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ يَسْعَى نُورُهُمْ بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَبِأَيْمَانِهِمْ بُشْرَاكُمُ الْيَوْمَ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الأنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} .

2 سورة الزمر من الآية 73 وتمامها {وَسِيقَ الَّذِينَ اتَّقَوْا رَبَّهُمْ إِلَى الْجَنَّةِ زُمَراً حَتَّى إِذَا جَاءُوهَا وَفُتِحَتْ أَبْوَابُهَا وَقَالَ لَهُمْ خَزَنَتُهَا سَلامٌ عَلَيْكُمْ طِبْتُمْ فَادْخُلُوهَا خَالِدِين} .
আর জুরফ (ظرف) বা ক্রিয়াবিশেষণের অবস্থানের বিষয়টি দুটি দিক থেকে সম্ভাব্য:

একটি হলো: এটি 'মাওয়াদ্দাহ' বা হৃদ্যতার জন্য জুরফ (ظرف) হবে এবং তার সাথেই সংশ্লিষ্ট (متعلق) হবে এবং এটি দমির (ضمير) বা সর্বনাম মুক্ত হবে। এমতাবস্থায় 'ফিল হায়াতি' (في الحياة) অংশটিও 'মাওয়াদ্দাহ' এর জন্য জুরফ (ظرف) হিসেবে তার সাথে সংশ্লিষ্ট (متعلق) হবে। কারণ, একজন আমেল (عامل) বা চালক একই সাথে কালবাচক ও স্থানবাচক উভয় জুরফের (ظرف) ওপর আমল করতে পারে।

দ্বিতীয়টি হলো: এটি [৭ খ] 'মাওয়াদ্দাহ' এর সিফাত (صفة) বা বিশেষণ হওয়া, কারণ শব্দটি নাকিরাহ (نكرة) বা অনির্দিষ্ট। ফলে এটি একটি মাহযুফ (محذوف) বা উহ্য বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট (متعلق) হবে এবং তখন তাতে মাওসুফ (الموصوف) বা বিশেষিত শব্দের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী একটি দমির (ضمير) থাকবে। এমতাবস্থায় 'ফিল হায়াতি' (في الحياة) অংশটি সেই দমির (ضمير) থেকে হাল (حال) বা অবস্থার স্থানে থাকবে এবং এই হিসেবে এতেও একটি দমির (ضمير) থাকবে এবং এটিও একটি মাহযুফ (محذوف) বা উহ্য বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হবে।

মাসআলা: {আজ তোমাদের জন্য সুসংবাদ হলো জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তোমরা চিরকাল থাকবে}১ এখানে 'খালিদিন' (خالدين) এর ই'রাব (إعراب) বা ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ কী এবং এর নাসব (ناصب) প্রদানকারী কে? যদি বলা হয় যে এর আমেল (عامل) হলো 'বুশরা' (البشرى), তবে মাসদার (مصدر) এর সংবাদ কীভাবে তার মামুল (معمول) আসার আগেই প্রদান করা হলো?

উত্তর: 'খালিদিন' (خالدين) হলো হাল (حال), যার আমেল (عامل) হয় জান্নাতের দিকে মুদাফ (مضاف) হওয়া একটি মাহযুফ (محذوف) বা উহ্য মাসদার (مصدر)। এর তাকদীর (تقدير) বা সম্ভাব্য রূপ হলো: 'আজ তোমাদের সুসংবাদ হলো জান্নাতে প্রবেশ করা'; এটি একটি হাল মুকাদ্দারা (حال مقدرة) বা অনুমিত অবস্থা, যেমনটি {অতঃপর তোমরা তাতে চিরকাল থাকার জন্য প্রবেশ করো}২ আয়াতে রয়েছে। এতে একটি মাহযুফ (محذوف) মাসদারের আমল (إعمال) রয়েছে এবং অর্থের স্পষ্টতা ও মুদাফ (مضاف) বিলুপ্ত হওয়ার আধিক্য বিষয়টিকে সহজ করে দিয়েছে। আর এখানে মাসদারের আমল জুরফ (ظرف) সদৃশ একটি ইসম (اسم) তথা হাল (حال) এর মধ্যে হয়েছে। আর 'বুশরা' এর ক্ষেত্রে এটি জায়েয বা বৈধ হয়েছে কারণ এটি 'আন' ও ফেল (ক্রিয়া) কিংবা 'মা' ও ফেল দ্বারা ব্যাখ্যাযোগ্য (মুকাদ্দার) নয়। ফলে সিলাহ (صلة) ও তার মউসুল (موصول) এর মাঝে ব্যবধান সৃষ্টি হওয়া আবশ্যক হয়নি। আর এই সুরতে সাহিবুল হাল (صاحب الحال)...

--------------------------------------------

১ সূরা আল-হাদীদ-এর ১২ নম্বর আয়াতের অংশ, যার পূর্ণরূপ হলো: {যেদিন তুমি মুমিন নর-নারীদের দেখবে যে, তাদের নূর তাদের সামনে ও ডানে ধাবিত হচ্ছে। আজ তোমাদের জন্য সুসংবাদ হলো জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তোমরা চিরকাল থাকবে। এটাই হলো মহাসাফল্য}।

২ সূরা আয-যুমার-এর ৭৩ নম্বর আয়াতের অংশ, যার পূর্ণরূপ হলো: {আর যারা তাদের রব্বকে ভয় করত তাদেরকে দলে দলে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। যখন তারা সেখানে পৌঁছাবে এবং এর দরজাগুলো খুলে দেওয়া হবে, তখন জান্নাতের রক্ষীরা তাদেরকে বলবে, 'তোমাদের প্রতি সালাম, তোমরা সুখী হও, অতএব তোমরা তাতে চিরকাল থাকার জন্য প্রবেশ করো'}।
(খণ্ড: ১) আসইলাতু ওয়া আজউইবাতু ফী ইরাবিল কুরআন (পৃষ্ঠা: ২৫)
الضمير بإضافة البشرى، ونظيره في مجيء الحال مما أضيف إليه المصدر {إِلَيْهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعاً} 1

وعلى الوجه الأول معمول المصدر محذوف، لأن دخول جنات معناها دخولكم جنات، فحذف فاعل المصدر للعلم به.

مسألة: {إِنِّي أَرَانِي أَعْصِرُ خَمْراً} 2 والخمر لا يعصر.

الجواب: إن للناس في هذة الآية طريقين:

فمنهم من زعم أنها مشتملة على المجاز ،ومنهم من زعم أن لا مجاز فيها، واختلف القائلون بالمجاز على طريقين.

فمنهم من زعم أنه في الاسم، وهو خمر، أفاد على أنه أطلق، وأريد به العنب لأنه فرعه. وهذا القول هو المشهور بين الناس.

ومنهم من زعم أنه في الفعل، وهو أعصر، فادعى أنه أطلق وأريد به استخرج. وإلى هذا ذهب ابن عزيز في غريبه.

ومن قال [8 أ] إنه لا مجاز في هذه الآية نقل أنه لغة عمان، إنهم يسمون العنب خمرا بالحقيقة.

مسألة: {أَنِّي أَخْلُقُ لَكُمْ مِنَ الطِّينِ كَهَيْئَةِ الطَّيْرِ فَأَنْفُخُ فِيهِ} 3 إلام يرجع الضمير المجرور بفي؟

--------------------------------------------

1 سورة يونس من الآية 4 وتمامها {إِلَيْهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعاً وَعْدَ اللَّهِ حَقّاً إِنَّهُ يَبْدأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ لِيَجْزِيَ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ بِالْقِسْطِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا لَهُمْ شَرَابٌ مِنْ حَمِيمٍ وَعَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْفُرُونَ} .

2 سورة يوسف من الآية 36 وتمامها {وَدَخَلَ مَعَهُ السِّجْنَ فَتَيَانِ قَالَ أَحَدُهُمَا إِنِّي أَرَانِي أَعْصِرُ خَمْراً وَقَالَ الْآخَرُ إِنِّي أَرَانِي أَحْمِلُ فَوْقَ رَأْسِي خُبْزاً تَأْكُلُ الطَّيْرُ مِنْهُ نَبِّئْنَا بِتَأْوِيلِهِ إِنَّا نَرَاكَ مِنَ الْمُحْسِنِينَ} .

3 سورة آل عمران من الآية 49 وتمامها {وَرَسُولاً إِلَى بَنِي إِسْرائيلَ أَنِّي قَدْ جِئْتُكُمْ بِآيَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ أَنِّي أَخْلُقُ لَكُمْ مِنَ الطِّينِ كَهَيْئَةِ الطَّيْرِ فَأَنْفُخُ فِيهِ فَيَكُونُ طَيْراً بِإِذْنِ اللَّهِ وَأُبْرِئُ الأكْمَهَ وَالأبْرَصَ وَأُحْيِي الْمَوْتَى بِإِذْنِ اللَّهِ وَأُنَبِّئُكُمْ بِمَا تَأْكُلُونَ وَمَا تَدَّخِرُونَ فِي بُيُوتِكُمْ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ} .
সর্বনামটি 'সুসংবাদ' (বুশরা) শব্দের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার কারণে এসেছে, আর এর দৃষ্টান্ত হলো মাজদার বা ক্রিয়ামূল যে শব্দের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয়েছে সেখান থেকে 'হাল' বা অবস্থা আসা, যেমন: {তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন তাঁরই দিকে} ১

প্রথম মত অনুযায়ী মাজদারের মামুল (সংশ্লিষ্ট পদ) বিলুপ্ত রয়েছে, কারণ জান্নাতে প্রবেশের অর্থ হলো তোমাদের জান্নাতে প্রবেশ করা। সুতরাং মাজদারের ফায়েল বা কর্তা সম্পর্কে জানা থাকার কারণে তা বিলুপ্ত করা হয়েছে।

মাসআলা: {আমি স্বপ্নে দেখলাম যে আমি মদ নিংড়াচ্ছি} ২ অথচ মদ তো নিংড়ানো হয় না।

উত্তর: এই আয়াতের ব্যাখ্যায় মানুষের (বিদ্বানদের) দুটি পদ্ধতি রয়েছে:

তাদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, এতে রূপক (مجاز) রয়েছে; আবার কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, এতে কোনো রূপক (مجاز) নেই। আর যারা রূপকের প্রবক্তা, তারা আবার দুই পদ্ধতিতে বিভক্ত হয়েছেন।

তাদের কেউ কেউ মনে করেন রূপকটি ইসিম বা বিশেষ্যের ক্ষেত্রে ঘটেছে, আর তা হলো 'মদ' (খামর)। এর দ্বারা বুঝানো হয়েছে যে, শব্দটি সাধারণভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে কিন্তু এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আঙ্গুর, কারণ এটি তারই মূল। আর এই মতটিই মানুষের মাঝে প্রসিদ্ধ।

আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ দাবি করেছেন যে এটি ফে’ল বা ক্রিয়ার ক্ষেত্রে ঘটেছে, আর তা হলো 'আমি নিংড়াচ্ছি'। তিনি দাবি করেছেন যে, শব্দটি প্রয়োগ করা হয়েছে কিন্তু এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো 'আমি বের করছি'। ইবনুল আজিজ তাঁর বিরল (غريب) শব্দ সংক্রান্ত গ্রন্থে এই মতটিই গ্রহণ করেছেন।

আর যারা বলেন [৮ ক] যে এই আয়াতে কোনো রূপক (مجاز) নেই, তারা বর্ণনা করেন যে এটি ওমানের ভাষা; তারা আঙ্গুরকেই প্রকৃত অর্থে মদ (খামর) বলে অভিহিত করে।

মাসআলা: {নিশ্চয়ই আমি তোমাদের জন্য কাদা মাটি দিয়ে পাখির অবয়ব তৈরি করি, তারপর তাতে ফুঁ দেই} ৩ এখানে 'ফি' (في) অব্যয়ের সাথে যুক্ত মাজরুর সর্বনামটি কার দিকে প্রত্যাবর্তন করছে?

--------------------------------------------

১ সূরা ইউনুস, আয়াত ৪ এর অংশ, যার পূর্ণ রূপ হলো: {তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন তাঁরই দিকে; আল্লাহর ওয়াদা সত্য। তিনিই প্রথমবার সৃষ্টি করেন, অতঃপর পুনরায় সৃষ্টি করবেন যাতে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তাদেরকে ন্যায়সঙ্গত প্রতিদান দেন। আর যারা কুফরি করেছে তাদের জন্য রয়েছে ফুটন্ত পানি ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি, যেহেতু তারা কুফরি করত।}

২ সূরা ইউসুফ, আয়াত ৩৬ এর অংশ, যার পূর্ণ রূপ হলো: {আর তার সাথে দুই যুবক কারাগারে প্রবেশ করল। তাদের একজন বলল, আমি স্বপ্নে দেখলাম যে আমি মদ নিংড়াচ্ছি। আর অন্যজন বলল, আমি স্বপ্নে দেখলাম যে আমি আমার মাথায় রুটি বহন করছি এবং তা থেকে পাখিরা খাচ্ছে। আমাদের এগুলোর ব্যাখ্যা জানিয়ে দিন, নিশ্চয়ই আমরা আপনাকে পুণ্যবানদের অন্তর্ভুক্ত দেখতে পাচ্ছি।}

৩ সূরা আলে ইমরান, আয়াত ৪৯ এর অংশ, যার পূর্ণ রূপ হলো: {আর তাকে বনী ইসরাঈলের জন্য রাসুল করবেন (এই বলে) যে, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে এক নিদর্শন নিয়ে এসেছি যে, আমি তোমাদের জন্য কাদা মাটি দিয়ে একটি পাখির মত অবয়ব তৈরি করি, তারপর তাতে ফুঁ দেই, ফলে আল্লাহর অনুমতিক্রমে সেটি পাখি হয়ে যায়। আর আমি জন্মন্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করি এবং আল্লাহর অনুমতিক্রমে মৃতকে জীবিত করি। আর তোমরা যা খাও এবং তোমাদের ঘরে যা জমা করে রাখো তা আমি তোমাদের জানিয়ে দেই। নিশ্চয়ই এতে তোমাদের জন্য নিদর্শন রয়েছে যদি তোমরা মুমিন হও।}