(খণ্ড: ১) আযওয়াজুম বিল কাযিব (পৃষ্ঠা: -)
أزواج بالكذب   (عبد الله الرحيلي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: أزواج بالكذب

المؤلف: عبد الله بن ضيف الله الرحيلي

الناشر: دار الاندلس الخضراء

الطبعة: الطبعه الاولى 1420هـ - 1999م

عدد الصفحات: 73

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মিথ্যার (الكذب) মাধ্যমে দাম্পত্য   (আবদুল্লাহ আর-রুহায়লী)

বিভাগ: ফিকহি মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: মিথ্যার (الكذب) মাধ্যমে দাম্পত্য

লেখক: আবদুল্লাহ ইবনে দাইফুল্লাহ আর-রুহায়লী

প্রকাশক: দারুল আন্দালুস আল-খাদরা

সংস্করণ: প্রথম সংস্করণ ১৪২০ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৩

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বরকরণ মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আযওয়াজুম বিল কাযিব (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌المجلد الأول

‌‌مقدمة

…

مقدّمة

إنّ الحمد لله، نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونتوب إليه، ونعوذ بالله مِن شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا. مَن يهده الله، فلا مضلَّ له، ومَن يُضلل، فلا هادي له.

وأشهد أن لا إله إلا الله، وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، صلى الله عليه وسلم.

أمّا بعد، فهذه رسالةٌ موجزة مخصَّصةٌ لمعالجة مشكلةٍ اجتماعية، اصطلى بنارها كثير مِن أفراد المجتمع، وعادتْ على الناس بشرٍّ مستطير، وخللٍ خطير؛ فاستدعى الأمر العناية والتنبيه؛ لعل إنساناً يستيقظ مِن غفلته، فيعود إلى القيام بواجبه، سواءٌ كان ظالماً أو مظلوماً. {إِنْ أُرِيدُ إِلَّا الْأِصْلاحَ مَا
প্রথম খণ্ড

ভূমিকা

…

ভূমিকা

নিশ্চয়ই যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

অতঃপর, এটি একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা যা একটি সামাজিক সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে নিবেদিত। সমাজের বহু মানুষ এর অনলে দগ্ধ হয়েছে এবং এটি মানুষের ওপর ভয়াবহ অনিষ্টতা ও মারাত্মক বিপর্যয় বয়ে এনেছে। তাই বিষয়টি বিশেষ যত্ন ও সতর্কবার্তার দাবি রাখে; যাতে কোনো ব্যক্তি হয়তো তার অসচেতনতা থেকে জাগ্রত হয় এবং স্বীয় দায়িত্ব পালনে ফিরে আসে, চাই সে জালেম হোক কিংবা মজলুম। {আমি তো কেবল আমার সাধ্যমতো সংশোধনই চাই...}
(খণ্ড: ১) আযওয়াজুম বিল কাযিব (পৃষ্ঠা: ৪)
1اسْتَطَعْتُ وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ} 2.

وأُؤكِّدُ هنا، منذ البداية، أنّ هدف هذا الموضوع ليس الدعوة إلى الفِراق أو الانفصال بين الزوجين مطْلقاً، أو الأخذ بالحل الأصعب دائماً، كلاّ كلاّ، إنما هو دعوةٌ للظالم والمظلوم، معاً، لكي يعود كلٌّ منهما إلى الجادّة والصواب، وأَنْ يتوب الظالم، وأن يسعى المظلوم لأخْذِ حقّه بالتي هي أَحسن، وبما تقتضيه الحكمة، ولا يتجاهل حقَّهُ ويَظنّ أنه لا سبيل له إليه.

وأترك القاريء العزيز مع الرسالة في وصْف المشكلة، ثم حلّها المقترح، ثم قصص من الواقع، وآراء.

ولا حول ولا قوّة إلا بالله العليّ العظيم.

وكتبه:

د. عبد الله بن ضيف الله الرحيلي

1/3/1420هـ - المدينة المنورة

--------------------------------------------

2 88: هود: 11.
{আর আমার তৌফিক কেবল আল্লাহরই সাহায্যে; আমি তাঁরই ওপর ভরসা করেছি এবং আমি তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করি।}

আমি এখানে শুরু থেকেই গুরুত্বারোপ করছি যে, এই প্রসঙ্গের উদ্দেশ্য মোটেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ বা বিচ্ছিন্নতার আহ্বান জানানো নয়, কিংবা সর্বদা কঠিনতম পথ বেছে নেওয়াও নয়; কখনোই না। বরং এটি জালেম এবং মাজলুম—উভয়ের প্রতিই একটি আহ্বান, যাতে তারা প্রত্যেকেই সঠিক ও ন্যায়ের পথে ফিরে আসে। জালেম যেন তাওবা করে এবং মাজলুম যেন সর্বোত্তম উপায়ে ও হিকমতের দাবিনুযায়ী নিজের অধিকার আদায়ের চেষ্টা করে। সে যেন নিজের অধিকারকে উপেক্ষা না করে এবং এটি মনে না করে যে, তার অধিকার লাভের কোনো পথ নেই।

আমি প্রিয় পাঠককে এই পত্রের সাথে ছেড়ে দিচ্ছি যাতে সমস্যার বিবরণ, এর প্রস্তাবিত সমাধান এবং বাস্তব জীবনের কিছু ঘটনা ও মতামত রয়েছে।

সুউচ্চ ও মহান আল্লাহ ছাড়া আর কোনো শক্তি বা সামর্থ্য নেই।

এটি লিখেছেন:

ড. আবদুল্লাহ বিন দাইফুল্লাহ আল-রুহাইলী

১/৩/১৪২০ হিজরি - মদিনা মুনাওয়ারা

--------------------------------------------

২ ৮৮: হুদ: ১১।
(খণ্ড: ১) আযওয়াজুম বিল কাযিব (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌‌‌أَزواجٌ بالكذب!!

‌‌وصْف المشكلة:

ما أَقبح الكذب والخداع في هذه الحياة!.

وإنّ مِن نذالة الأنذال في هذا العصر، ما نراه ونسمعه عن أُناسٍ يَدَّعون أنهم رجال، ويتزوجون أيضاً، ولكن يشترطون أو يختارون، ولكن ماذا يشترطون أو يختارون؟ ذات الخلق والدين؟.

كلاّ، إنهم يشترطون على الناس أو على أنفسهم أن تكون الزوجة مُدرِّسةً، وقد يَظن بعضهم بنفسه خيراً؛ فيُضيف إلى هذا الشرط المهم جداً عنده شرطاً آخر، وهو أن تكون ذات دين.

إنه يريد زوجة، ولكن المهم أن تكون مدرِّسةً أو موظفة!.

لماذا؟!.

أجاب أحدهم قبل الزواج بقوله: لتنفع البلد!.
‌‌‌মিথ্যার (الكذب) আশ্রয়ে স্বামীত্ব!!

‌‌সমস্যার স্বরূপ বিশ্লেষণ:

এই জীবনে মিথ্যা (الكذب) ও প্রতারণা কতই না জঘন্য!.

বর্তমান যুগে হীন ব্যক্তিদের নীচতার অন্যতম দৃষ্টান্ত হলো যা আমরা এমন কিছু লোক সম্পর্কে দেখি ও শুনি যারা নিজেদের পুরুষ বলে দাবি করে এবং বিবাহও করে, কিন্তু তারা শর্তারোপ করে কিংবা পছন্দ নির্ধারণ করে। তবে তারা কীসের শর্ত দেয় বা কী বাছাই করে? সচ্চরিত্র ও দ্বীনদারিতা? .

কখনোই নয়, বরং তারা মানুষের কাছে বা নিজেদের জন্য শর্ত দেয় যে স্ত্রীকে অবশ্যই শিক্ষিকা হতে হবে। তাদের কেউ কেউ আবার নিজেকে পুণ্যবান মনে করে; তাই সে তার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই শর্তের সাথে আরেকটি শর্ত জুড়ে দেয়, আর তা হলো—তাকে দ্বীনদার হতে হবে।

সে স্ত্রী চায়, তবে আসল কথা হলো তাকে শিক্ষিকা অথবা চাকুরিজীবী হতে হবে!.

কেন?!.

তাদের একজন বিবাহের পূর্বে উত্তর দিয়েছিল: যাতে সে দেশের কল্যাণে আসে!.
(খণ্ড: ১) আযওয়াজুম বিল কাযিব (পৃষ্ঠা: ৬)
وبعد الزواج تتبين الحقيقة، ويَنكشف السر للمساكين المغفلين، وهو أن هذا لا يريد زوجةً أوّلاً، وإنما يريد مدرِّسةً أوّلاً، ثم زوجةً ثانياً!.

وبعضهم يَكشف الأمر منذ البداية؛ فقبل العقد يسأل ويَتحقق مِن الصفات الشرعية عنده في زوجته وأُم أولاده، وأوّلها وأَولاها أن تكون معلِّمةً أو موظفةً، وهذا يكشف الأمر إما لأنه مغفلٌ خبيث، أو لأنه خبيث فيه شيء مِن الخير.

وبعد الزواج يوقد الزوج نار الشر التي يعتقد أنها من حقوق الزوج على زوجته التي استجدت في هذا العصر، ومِن ذلك أن له الحق في أن يستولي على راتب زوجته، كله أو بعضه-بحسب درجات الورع عنده-دون أن يشعر بأي غضاضةٍ أو حياء مِن الناس، ودون أن يحسب حساباً لرضا الزوجة أو أهلها أو مشاعرهم!.

بل ويقول: هذا حقي!.

ويستخدم حق القوامة الذي أعطاه الله إياه استخداماً ظالماً غير مشروع، فيستعبد الزوجة، ولا يعبأ بأهلها
বিবাহের পর প্রকৃত সত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং সরলমনা ও অসতর্ক লোকগুলোর সামনে গোপন রহস্য উন্মোচিত হয়; আর তা হলো, এই ব্যক্তি প্রধানত একজন স্ত্রী চাননি, বরং তিনি প্রারম্ভিকভাবে একজন শিক্ষিকা এবং দ্বিতীয়ত একজন স্ত্রী চেয়েছিলেন।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ শুরু থেকেই বিষয়টি প্রকাশ করে দেয়; বিবাহের চুক্তির পূর্বেই সে তার স্ত্রী ও সন্তানদের জননীর মাঝে কাঙ্ক্ষিত শরয়ি (شرعية) গুণাবলি সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ ও অনুসন্ধান করে, যার মধ্যে প্রথম ও প্রধান হলো তাকে একজন শিক্ষিকা অথবা চাকুরিজীবী হতে হবে। এটি প্রকৃত স্বরূপ উন্মোচন করে দেয়—হয় সে একজন নির্বোধ মন্দ লোক, নতুবা সে এমন এক মন্দ লোক যার মধ্যে কিছুটা কল্যাণ অবশিষ্ট আছে।

বিবাহের পর স্বামী অনিষ্টের সেই অগ্নি প্রজ্বলিত করে যা সে এই যুগে স্ত্রীর ওপর স্বামীর প্রাপ্য অধিকার বলে বিশ্বাস করে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো, সে তার স্ত্রীর বেতনের পুরোটা অথবা অংশবিশেষ—তার পরহেজগারির (ورع) মাত্রা অনুযায়ী—দখল করার অধিকার রাখে বলে মনে করে; এতে সে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠা বা লোকলজ্জা অনুভব করে না এবং স্ত্রীর সন্তুষ্টি, তার পরিবার কিংবা তাদের অনুভূতির কোনো তোয়াক্কা করে না!।

বরং সে বলে: এটি আমার অধিকার!

সে আল্লাহ প্রদত্ত কর্তৃত্বের (قوامة) অধিকারকে অন্যায় ও অবৈধভাবে ব্যবহার করে; এভাবে সে স্ত্রীকে দাসে পরিণত করে এবং তার পরিবারের কোনো পরোয়া করে না।
(খণ্ড: ১) আযওয়াজুম বিল কাযিব (পৃষ্ঠা: ৭)
وأرحامه، ولا يعبأ بما حرّمه الله من أموال الناس على الناس بغير طيبةٍ من أنفسهم!.

وهو في كل ذلك بين شخصين:

- إما أن يكون شخصاً مكابراً مناقضاً في تصرفاته هذه لقناعته في قرارة نفسه من أن هذا إثم واضح وعارٌ فاضحٌ!.

- أو يكون شخصاً مغفلاً قد غَرَّته فتوى أو كلمة سمعها من بعض الناس؛ فأخذها بطرفها، ولم يُوْغِلْ في التحقق منها والتثبت فيها؛ وذلك خوفاً من أن يحق الحق ويترجح الراجح ويتبين له حرمة ما ظنه غنيمة باردة، وما عَلِمَ أنها ظليمة في شرعنا غير واردة!.

ولكن هذا وذاك إنما يعبران عن رداءةٍ يتبرأ منها شُمُّ الرجال والمترفعون عن أموال الرجال فضلاً عن أموال النساء العواني!.

وحتى لو كان الرجل الشهم ذا حاجةٍ واحتاج إلى شيء من أهله فإنه لا يأخذه إلا بالمعروف وبطيبةٍ من أنفسهم يتيَقَّنُها، أو يأخذه على سبيل القرض الحسن
এবং তার আত্মীয়-স্বজন; আর মানুষের যে সম্পদ আল্লাহ অন্যদের জন্য তাদের আন্তরিক সম্মতি ব্যতীত হারাম (حرمة) করেছেন, তিনি তার কোনো তোয়াক্কাই করেন না!

তিনি এই সবকিছুর ক্ষেত্রে দুই ধরনের ব্যক্তির মাঝে অবস্থান করেন:

- হয় তিনি এমন একজন হঠকারী ব্যক্তি, যার এই আচরণসমূহ তার অন্তরের এই দৃঢ় বিশ্বাসের পরিপন্থী যে, এটি একটি স্পষ্ট গুনাহ এবং লজ্জাজনক কলঙ্ক!

- অথবা তিনি এমন একজন অসতর্ক ব্যক্তি, যাকে কোনো ফতোয়া (فتوى) বা মানুষের কাছ থেকে শোনা কোনো কথা প্রলুব্ধ করেছে; ফলে তিনি তা ভাসাভাসাভাবে গ্রহণ করেছেন এবং তা যাচাইকরণ (تحقيق) ও নিশ্চিতকরণের (تثبت) গভীরে প্রবেশ করেননি। আর তা এই ভয়ে যে, পাছে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় এবং অগ্রগণ্য (راجح) বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, আর তার কাছে যা অনায়াসলব্ধ গনিমত (غنيمة) বলে মনে হয়েছিল তার নিষিদ্ধতা (حرمة) ফুটে ওঠে। তিনি জানতেন না যে, এটি এমন এক জুলুম যা আমাদের শরিয়তে মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়!

কিন্তু এই উভয় প্রকার ব্যক্তিই এমন এক হীনমন্যতা প্রকাশ করে, যা থেকে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন এবং অন্যের সম্পদ—তা সে পুরুষদের সম্পদই হোক কিংবা অসহায় নারীদের—থেকে বিমুখ ব্যক্তিরা নিজেদের পবিত্র রাখেন!

এমনকি একজন মহৎ ব্যক্তি যদি অভাবগ্রস্ত হন এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো কিছুর প্রয়োজন হয়, তবে তিনি তা কেবল ন্যায়সঙ্গতভাবে (بالمعروف) এবং তাদের নিশ্চিত সন্তুষ্টির ভিত্তিতেই গ্রহণ করেন, অথবা তা উত্তম ঋণ (قرض حسن) হিসেবে গ্রহণ করেন।
(খণ্ড: ১) আযওয়াজুম বিল কাযিব (পৃষ্ঠা: ৮)
المسجَّل الموثَّق، بعد أن يتيقّن وتطمئنّ نفسُهُ برضاها عن طِيبةِ نفسٍ، لا عن إكراهٍ، ولا عن استخدامٍ لعصا القوامة بعد أن نسي يوم القيامة، ونسي حسابَهُ ووقوفه بين يدي الله ومقامَه!.

والحقيقة أن هذه الظاهرة قد أثقلتْ كثيراً مِن بيوت المسلمين اليوم بمشكلاتٍ خفيّةٍ وظاهرة، وأصبح المظلومون والمظلومات، بسبب ذلك، يعانون مِن ظلمِ الظالمين من الأزواج في هذا العصر. نَعَمْ، واللهِ، إنهم يُعانون، ولكنهم مع ذلك لا يُعانون1!.

لماذا؟.

لأسبابٍ، منها: أنّ الظالم يتعامل كما لو كان زوجاً في الحقيقة، ويستخدم حق القوامة، لا أطال الله مقامه، وقَطَفَ منه تلك الهامة!.

وهذه ظاهرةٌ جديدةٌ مِن ظواهر النذالة والأنذال التي لا

--------------------------------------------

1 "يعانون" الأُولى مِن المعاناة، و"يعانون" الثانية مِن الإعانة.
নিবন্ধিত ও নির্ভরযোগ্য (الموثق), যখন সে নিশ্চিত হবে এবং তার মন প্রশান্ত হবে যে এটি তার (স্ত্রীর) স্বতঃস্ফূর্ত সন্তুষ্টির মাধ্যমে এসেছে, কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই, এবং কিয়ামত দিবসের কথা এবং আল্লাহর সামনে তার হিসাব ও দণ্ডায়মান হওয়ার অবস্থান ভুলে গিয়ে অভিভাবকত্বের (القوامة) লাঠি ব্যবহারের মাধ্যমে নয়!

প্রকৃতপক্ষে, এই প্রবণতা বর্তমান যুগে অনেক মুসলিম গৃহকে গোপন ও প্রকাশ্য বহু সমস্যায় ভারাক্রান্ত করেছে এবং এর ফলে মজলুম নর-নারীরা এই যুগের অত্যাচারী স্বামীদের জুলুমের কারণে কষ্টের সম্মুখীন হচ্ছে। হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! তারা অবশ্যই কষ্টের সম্মুখীন (يعانون) হচ্ছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও তারা সাহায্যপ্রাপ্ত (يعانون) হচ্ছে না!

কেন?

এর নানাবিধ কারণ রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো: অত্যাচারী ব্যক্তি এমন আচরণ করে যেন সে প্রকৃতপক্ষে একজন স্বামী, এবং সে অভিভাবকত্বের (القوامة) অধিকার প্রয়োগ করে; আল্লাহ তার অবস্থানকে দীর্ঘায়িত না করুন এবং তার সেই মস্তককে ছিন্ন করুন!

আর এটি হলো নীচতা ও নীচ ব্যক্তিদের এমন এক নতুন বহিঃপ্রকাশ যা

--------------------------------------------

১. প্রথম "কষ্টের সম্মুখীন হওয়া" (يعانون) শব্দটি কষ্টভোগ (المعاناة) থেকে এবং দ্বিতীয় "সাহায্যপ্রাপ্ত হওয়া" (يعانون) শব্দটি সাহায্য করা (الإعانة) থেকে এসেছে।
(খণ্ড: ১) আযওয়াজুম বিল কাযিব (পৃষ্ঠা: ৯)
أحسِبُ أنها وُجِدتْ إلا في هذا العصر، وإنْ وُجِدتْ فبصورةٍ لا تَصِلُ إلى هذا الحد.

وإذا سئل عن صنيعه احتج بفتوى فلان وفلان، ونسي كلام الرحمن وكلام رسوله صلى الله عليه وسلم وسيرته العطرة. وما هذا في الحقيقة إلا وسنان في صورة يقظان، هذا في الوقت الذي ربما كان بمقدوره أن يُمَيِّزَ ويَعْرِف فيه

حكم الله وحججه وبيِّناته!.

وإذا ذكرت له أدنى اعتراضٍ على ذلك ربما أبغضك في الله وأحب ذاك الذي أفتاه محبة في الله-والله أعلم-!.

وكم استفتاني المستفتون: ماذا يصنعون؟.

ولست من أهل الفتوى، ولكن حكم الله واضح، والحلال بينٌ، والحرام بينٌ، وقد قال رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لِوَابِصَةَ: "جِئْتَ تَسْأَلُ عَنِ الْبِرِّ وَالإِثْمِ؟ ". قَالَ: قُلْتُ: نَعَمْ. ..قَالَ: "اسْتَفْتِ نَفْسَكَ، اسْتَفْتِ قَلْبَكَ، يَا وَابِصَةُ، ثَلاثاً، الْبِرُّ مَا اطْمَأَنَّتْ إِلَيْهِ النَّفْسُ، وَاطْمَأَنَّ إِلَيْهِ الْقَلْبُ، وَالإِثْمُ مَا حَاكَ فِي النَّفْسِ وَتَرَدَّدَ فِي الصَّدْرِ، وَإِنْ أَفْتَاكَ النَّاسُ وَأَفْتَوْكَ" 1.

--------------------------------------------

1 أحمد، 17540، و17545، والدارمي، 2533، البيوع.
আমি মনে করি না যে এটি এই যুগ ব্যতীত অন্য কোথাও বিদ্যমান ছিল, আর যদি বিদ্যমান থেকেও থাকে, তবে তা এমন কোনো রূপে যা এই পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

আর যখন তাকে তার কর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, সে অমুক অমুক ব্যক্তির ফতোয়া দ্বারা দলিল পেশ করে, অথচ সে পরম করুণাময়ের বাণী এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী ও তাঁর সুগন্ধিময় সীরাত ভুলে যায়। প্রকৃতপক্ষে এটি জাগ্রত ব্যক্তির বেশে একজন তন্দ্রাচ্ছন্ন ব্যক্তি ভিন্ন আর কিছুই নয়; অথচ এই সময়ে সম্ভবত তার পক্ষে আল্লাহর বিধান (حكم), তাঁর দলিল-প্রমাণসমূহ (حجج) ও সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ পৃথক করা এবং অনুধাবন করা সম্ভব ছিল!

আর যদি আপনি তার এই কাজের ওপর সামান্যতম আপত্তিও তোলেন, তবে সম্ভবত সে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আপনাকে ঘৃণা করবে এবং যে ব্যক্তি তাকে ফতোয়া দিয়েছে তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসবে—আল্লাহই ভালো জানেন!।

ফতোয়া প্রার্থীরা কতবারই না আমার কাছে ফতোয়া চেয়েছে যে, তারা কী করবে?।

যদিও আমি ফতোয়া প্রদানের যোগ্য (أهل الفتوى) নই, তবে আল্লাহর বিধান (حكم) স্পষ্ট, হালাল (حلال) স্পষ্ট এবং হারাম (حرام) স্পষ্ট। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ওয়াবিসাহকে বলেছিলেন: "তুমি কি পুণ্য (البر) ও পাপ (الإثم) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে এসেছ?" তিনি বললেন: আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: "তোমার নিজের বিবেকের কাছে ফতোয়া চাও, তোমার হৃদয়ের কাছে ফতোয়া চাও, হে ওয়াবিসাহ—তিনবার—পুণ্য (البر) হলো তা, যাতে আত্মা প্রশান্তি পায় এবং হৃদয় প্রশান্তি অনুভব করে। আর পাপ (الإثم) হলো তা, যা আত্মার মধ্যে খটকা সৃষ্টি করে এবং বক্ষে দ্বিধা তৈরি করে, যদিও মানুষ তোমাকে ফতোয়া দেয় এবং তারা তোমাকে ফতোয়া দিতেই থাকে।" 1.

--------------------------------------------

১. আহমদ, ১৭৫৪০ ও ১৭৫ ৪৫; দারেমি, ২৫৩৩, ক্রয়-বিক্রয়।
(খণ্ড: ১) আযওয়াজুম বিল কাযিব (পৃষ্ঠা: ১০)
وبعض هذه الصُّور المخزية في أخلاق الرجال، صورٌ ملفوفة، لكنها في الحقيقة مكشوفة، ومِن ذلك أن يُظْهر الرجل تورّعاً أن يأخذ من راتب زوجته أو مالها شيئاً، لكنه يَدَعها لراتبها؛ فيُلزمها بالصرف على نفسها، وكأن الأمر لا يعنيه، وكأنها في الحقيقة لم تتزوج!.

وبعضهم يُلزمها أن تشاطره النفقة ودفع إيجار البيت، وأما ملابسها وحاجاتها التي تخصها فلا شأن له بها، فتتولاها الزوجة التي كادت، والحالة هذه أن تكون تاء التأنيث فيها زائدة وبه لاحقة؛ لأنها أصبحت ملزمةً بالإنفاق على الرجل العاني، وملزمة بمقتضى حق القوامة عليه أن تُخَصِّص للبيت خادمةً أيضاً.

ولست أدري كيف وصل الانتكاس بهذا الصنف من الناس إلى الحدّ الذي توهّموا فيه أن ما أعطاهم الله من حق القوامة على النساء إنما هو ليحصلوا على كل هذه الحقوق والأموال المغتصبة مِن زوجاتهم!.

وتجاهلوا أن الله أعطاهم حق القوامة لكي يُسعِدوا أهليهم،
পুরুষদের চরিত্রের এই অবমাননাকর রূপগুলোর কোনো কোনোটি বেশ প্রচ্ছন্ন হলেও বাস্তবে তা অত্যন্ত উন্মোচিত। এর একটি দৃষ্টান্ত হলো—কোনো পুরুষ স্ত্রীর বেতন বা সম্পদ থেকে কোনো অংশ না নেওয়ার ক্ষেত্রে এমনভাবে পরহেজগারি প্রদর্শন করে, অথচ সে স্ত্রীকে তার উপার্জনের ওপরই ছেড়ে দেয়; ফলে সে স্ত্রীকে নিজ ব্যয়ভার বহনে বাধ্য করে। বিষয়টি এমন যেন এতে তার কোনো দায় নেই এবং বাস্তবে সেই নারী যেন বিবাহবন্ধনেই আবদ্ধ হননি!

আবার তাদের কেউ কেউ স্ত্রীকে ঘরের খরচ ও বাড়ির ভাড়া প্রদানে অংশীদার হতে বাধ্য করে, অথচ স্ত্রীর পোশাক-পরিচ্ছদ বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনাবলির ব্যাপারে তার কোনো ভ্রুক্ষেপই থাকে না। ফলে সেই স্ত্রীকেই যাবতীয় দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়। এমতাবস্থায় পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, স্ত্রীর ক্ষেত্রে ‘স্ত্রীলিঙ্গবাচক তা’ বর্ণটি যেন একটি অতিরিক্ত ও অনাবশ্যক সংলগ্ন বর্ণ মাত্র, যা বরং স্বামীর নামের সাথেই যুক্ত হওয়া অধিক সংগত ছিল; কারণ স্ত্রীই এখন সেই অক্ষম পুরুষের ভরণপোষণে বাধ্য হচ্ছে এবং কর্তৃত্বের অধিকারের দোহাই দিয়ে গৃহপরিচারিকা নিয়োগের দায়িত্বও যেন স্ত্রীর ওপরই বর্তাচ্ছে।

আমি জানি না এই শ্রেণির মানুষের নৈতিক অধঃপতন কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তারা ধারণা করে নিয়েছে—আল্লাহ নারীদের ওপর তাদের যে কর্তৃত্বের অধিকার দান করেছেন, তা কেবল তাদের স্ত্রীদের থেকে এসব অধিকার এবং হরণকৃত সম্পদ ভোগ করার জন্য!

তারা এটি উপেক্ষা করেছে যে, আল্লাহ তাদের কর্তৃত্বের অধিকার দিয়েছেন যাতে তারা তাদের পরিবারকে সুখী করতে পারে,
(খণ্ড: ১) আযওয়াজুম বিল কাযিব (পৃষ্ঠা: ১১)
وليس لِيُشقوهم أو يظلموهم أو يغتصبوا أموالهن!.

والغنيمة كل الغنيمة أن يظفر اللئيم بيتيمة!.

وقد علمت أن بعضهم يُنذِر حربه على زوجته منذ البداية، فيُحذّرها أن تُخبر أهلها بأي شيء يصنعه بها، وإلا سوف يكون الطلاق مصيرها! {وَلا تَحْسَبَنَّ اللَّهَ غَافِلاً عَمَّا يَعْمَلُ الظَّالِمُونَ إِنَّمَا يُؤَخِّرُهُمْ لِيَوْمٍ تَشْخَصُ فِيهِ الْأَبْصَارُ} 1!.

ولست أدري ما الجديد في مثل هذا الزواج سوى استرقاقِ الزوجة، والارتفاقِ بمالها وجُهْدها، وإضرامِ نار الكَمَد في قلبها، وقَتْلِها بغير سِكِّين!.

وإذا تحولت الزوجة إلى أن تكون هي المنفقة على الزوج-وقد قال الله تعالى: {الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ} 2-فماذا بقي للزوج مِن هذا الصنف مِن الناس،

--------------------------------------------

1 42: إبراهيم: 14.

2 34: النساء: 4.
এবং তাদের কষ্ট দেওয়া, কিংবা তাদের ওপর জুলুম করা অথবা তাদের সম্পদ আত্মসাৎ করার জন্য (বিয়ে) নয়।

আর চরম গনিমতের বিষয় হলো একজন হীন ব্যক্তির কোনো অনাথ মেয়ের ওপর জয়ী হওয়া!.

আমি জানতে পেরেছি যে, তাদের কেউ কেউ শুরু থেকেই স্ত্রীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে; তাকে সতর্ক করে দেয় যে সে তার সাথে যা কিছু করে তা যেন সে তার পরিবারকে না জানায়, অন্যথায় তার পরিণতি হবে তালাক! {আর তুমি কখনো মনে করো না যে, জালেমরা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ গাফেল; তিনি তো কেবল তাদের সেই দিন পর্যন্ত অবকাশ দেন, যেদিন চক্ষুসমূহ স্থির হয়ে যাবে} ১!.

আমি জানি না এ জাতীয় বিয়েতে স্ত্রীকে দাসী বানানো, তার সম্পদ ও শ্রম ভোগ করা, তার হৃদয়ে দীর্ঘশ্বাসের আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া এবং ছুরি ছাড়াই তাকে হত্যা করা ছাড়া নতুন আর কী আছে!.

আর স্ত্রী যখন স্বামীর ভরণপোষণকারী হয়ে যায়—অথচ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {পুরুষেরা নারীদের ওপর কর্তৃত্বশীল, যেহেতু আল্লাহ তাদের এককে অন্যের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং তারা নিজেদের সম্পদ থেকে ব্যয় করে} ২—তবে এই শ্রেণির লোকেদের ক্ষেত্রে স্বামী হিসেবে আর কী অবশিষ্ট থাকল,

--------------------------------------------

১ ৪২: ইব্রাহিম: ১৪।

২ ৩৪: আন-নিসা: ৪।
(খণ্ড: ১) আযওয়াজুম বিল কাযিব (পৃষ্ঠা: ১২)
والحالة هذه؟!.

هل يتنازل هؤلاء لزوجاتهم عن القِوَامة ويقعدون في البيوت، لا كَثَّرهم الله في البيوت ولا خارجها!.

لقد رأينا وسمعنا كثيراً عن زيجات لا يَدفع فيها الزوج المزعوم سوى المهر-وربما على لَكاعَةٍ-وشيءٍ مِن أثاث ما هو إلا كذَرِّ الرماد في العيون، ثم يُمْسِك الزوج ماله إلى مال زوجته العزيزة، فلا يُنفِق كما يُنفِق الأزواج؛ فتتبَيَّن الحقيقة واضحةً عندئذٍ، وهي أن هذه ليست عقود زواجٍ، وإنما هي عقودٌ تجاريّة، والتاجر فيها واحدٌ مِن الطرفين فقط، وهو الزوج!.

ولست أدري هل يَرْضى مثل هؤلاء هذه المعاملةَ لأخواتهم وبناتهم أو لأمهاتهم؟! أو أن هذا خاصٌّ لهم مع بنات الناس!.

إن كانوا لا يَرضونه فهم ذئاب في ثياب، كَسَرَ الله منهم كلَّ ناب، وهذا هو المعهود في الكلاب، أنها تنبح كلَّ غريب، وتفترسه لأنه غريب.
এবং এমতাবস্থায় কি এটি সম্ভব?!

এই লোকগুলো কি তাদের স্ত্রীদের অনুকূলে তাদের অভিভাবকত্ব বিসর্জন দিয়ে ঘরে বসে থাকবে? আল্লাহ ঘরে বা বাইরে কোথাও তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি না করুন!

আমরা এমন অনেক বিবাহ সম্পর্কে দেখেছি ও শুনেছি যেখানে তথাকথিত স্বামী মোহরানা—তাও সম্ভবত অত্যন্ত কৃপণতা ও হীনম্মন্যতার সাথে—এবং সামান্য কিছু আসবাবপত্র ছাড়া আর কিছুই প্রদান করে না, যা কেবল লোকদেখানো প্রতারণা মাত্র। এরপর সেই স্বামী নিজের সম্পদ কুক্ষিগত করে তার প্রিয়তমা স্ত্রীর সম্পদের ওপর ভাগ বসায়; সে সাধারণ স্বামীদের মতো ব্যয় করে না। তখনই প্রকৃত সত্যটি স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে যে, এগুলো কোনো বিবাহ চুক্তি নয়, বরং এগুলো বাণিজ্যিক চুক্তি; আর সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে কেবল একজনই ব্যবসায়ী, আর সে হলো স্বামী!

আমি জানি না, এই শ্রেণির লোকেরা কি তাদের বোন, কন্যা কিংবা মায়েদের জন্য এমন আচরণ পছন্দ করবে?! নাকি এটি কেবল অন্যের কন্যাদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে তাদের বিশেষ নিয়ম!

যদি তারা এটি পছন্দ না করে, তবে তারা মূলত মানুষের পোশাকে নেকড়ে; আল্লাহ তাদের প্রতিটি বিষদাঁত চূর্ণ করে দিন! আর কুকুরের চিরাচরিত স্বভাব হলো, সে প্রত্যেক আগন্তুককে দেখে ঘেউ ঘেউ করে এবং কেবল অপরিচিত হওয়ার কারণেই তাকে আক্রমণ করে।
(খণ্ড: ১) আযওয়াজুম বিল কাযিব (পৃষ্ঠা: ১৩)
وكيف يَرضونه لزوجاتهم؟ وأين علاقةُ المودّة والرحمة التي أخبر الله عنها بأنه جعلها بين الزوجين!.

وإن كانوا يَرضونه للجميع ففطرتهم ممسوخة، وغيرتهم على العار والضعيف والمسكين ممسوحة!.

ولقد كنت رأيت في بريطانيا قبل سنوات في أول زيارة لها ظاهرة غريبةً جداً، وهي أن الزوج والزوجة قد يأكلان في المطعم ثم يحاسب كل واحدٍ منهما عن نفسه؛ فعجبتُ من هذا المسخ في الحقوق الزوجية والعلاقة الأُسرية.

ثم ها نحن نشاهد اليوم الظاهرة تتكرر عندنا، بل أسوأ، ولكن في داخل البيوت، أعني بيوت الزوجية التي جعلها الله سكناً!!.

كيف يرضى هؤلاء الرجال أن يعتدوا هذا الاعتداء على النساء!.

كيف يرضى هؤلاء الرجال أن يعيشوا على نفقة النساء عليهم!.

ماذا ينتظر هؤلاء لأنفسهم ولزوجاتهم ولأولادهم!.

আর তারা তাদের স্ত্রীদের জন্য এটি কীভাবে মেনে নিতে পারে? আর সেই সৌহার্দ্য ও দয়ার সম্পর্কেরই বা কী হলো, যা স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সৃষ্টি করেছেন বলে আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন!.

আর তারা যদি সকলের জন্যই এটি সমীচীন মনে করে, তবে তাদের সহজাত প্রকৃতি বিকৃত হয়ে গেছে এবং সম্ভ্রম, দুর্বল (ضعيف) ও অভাবীদের প্রতি তাদের আত্মমর্যাদাবোধ বিলুপ্ত হয়ে গেছে!.

কয়েক বছর আগে ব্রিটেনে আমার প্রথম সফরের সময় আমি অত্যন্ত অদ্ভুত এক দৃশ্য দেখেছিলাম; তা হলো, স্বামী ও স্ত্রী হয়তো কোনো রেস্তোরাঁয় আহার করছে এবং এরপর তাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ বিল পরিশোধ করছে। দাম্পত্য অধিকার ও পারিবারিক সম্পর্কের এই বিকৃতি দেখে আমি বিস্মিত হয়েছিলাম।

অতঃপর আজ আমরা আমাদের এখানেও সেই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করছি, বরং তার চেয়েও জঘন্য রূপে; আর তা ঘটছে ঘরের ভেতরেই, অর্থাৎ সেই দাম্পত্য গৃহে যেটিকে আল্লাহ প্রশান্তির আধার হিসেবে নির্ধারণ করেছেন!!.

এই পুরুষরা নারীদের ওপর এই ধরণের সীমালঙ্ঘন করতে কীভাবে সম্মত হয়!.

এই পুরুষরা কীভাবে নারীদের ভরণপোষণের ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকতে রাজি হয়!.

তারা নিজেদের জন্য, তাদের স্ত্রীদের জন্য এবং তাদের সন্তানদের জন্য কিসের প্রতীক্ষা করছে!.

(খণ্ড: ১) আযওয়াজুম বিল কাযিব (পৃষ্ঠা: ১৪)
ماذا ينتظر هؤلاء لأنفسهم عند ربهم في الدنيا والآخرة!.

ولا أدري كيف يَعُدُّ الرجلُ زواجَهُ زواجاً إذا كان كهذا!.

وكيف تَطِيب نفسُهُ بزواجٍ لا يتكلّف فيه الإنفاق على أهله، بل ربما هم يُنفِقون عليه، أَنفَقَهُ الله!.

إنّ مِن أهمّ معاني الزواج وواجباته الشرعيّة أن يُصْبح الرجل صاحب مسؤوليةٍ يَتحَمَّلُها بعرقِهِ وجُهْده ووقتِهِ؛ فإذا ما عَجِزَ عن ذلك فإن له أن يستقرِض مِن أجْل ذلك في حدود ما يستطيع؛ فإنْ لم يكن قادراً، فإنّ حُكْم الشرع هو أنّ مِن حقِّ الزوجة طلب فسْخ الزواج؛ فأين هذا الصنف مِن الأزواج الماديين العائشين على أنانيّتِهم، الغافلين عن ساعةِ مَنِيَّتهم! أو قُلْ: الذين يَرْجح على حَيِّهم مَيِّتُهِم!.

الحقُّ أنني في شكٍّ أصلاً مِن شرعيّةِ زواجٍ مثل هذا بالنسبة لهذا الزوج؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم يقول: "إنما الأعمال بالنيات، وإنما لكل امريء ما نوى".

وعَنْ خَيْثَمَةَ قَالَ كُنَّا جُلُوساً مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو إِذْ جَاءَهُ قَهْرَمَانٌ لَهُ، فَدَخَلَ، فَقَالَ: أَعْطَيْتَ الرَّقِيقَ قُوتَهُمْ؟.
দুনিয়া ও আখেরাতে তারা তাদের প্রতিপালকের নিকট নিজেদের জন্য কীসের প্রতীক্ষা করছে!

আমি জানি না, একজন ব্যক্তি কীভাবে তার বিবাহকে বিবাহ হিসেবে গণ্য করতে পারে যদি তা এমন হয়!

আর তার মন কীভাবে এমন একটি বিবাহে তুষ্ট হতে পারে, যেখানে সে তার পরিবারের জন্য ব্যয় (إنفاق) করার কোনো কষ্ট স্বীকার করে না, বরং সম্ভবত তারাই তার ওপর ব্যয় করে; আল্লাহ তাকে নিঃস্ব করুন!

নিশ্চয়ই বিবাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য ও শরয়ি ওয়াজিবাতের (واجبات شرعية) অন্তর্ভুক্ত হলো এই যে, পুরুষ একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তিতে পরিণত হবে, যা সে তার ঘাম, শ্রম ও সময়ের মাধ্যমে বহন করবে; যদি সে তাতে অক্ষম হয়, তবে তার জন্য সামর্থ্যের সীমার মধ্যে ঋণ গ্রহণ করার অবকাশ রয়েছে; আর যদি সে তাতেও সক্ষম না হয়, তবে শরয়ি বিধান হলো স্ত্রীর অধিকার রয়েছে বিবাহ বিচ্ছেদের (فسخ) আবেদন করার; তাহলে এই শ্রেণির বস্তুবাদী স্বামীরা কোথায়, যারা কেবল নিজেদের স্বার্থপরতার ওপর বেঁচে আছে এবং তাদের মৃত্যুর সময় সম্পর্কে গাফেল! অথবা বলুন: যাদের জীবিত অবস্থার চেয়ে মৃত অবস্থাই উত্তম!

সত্য কথা হলো, এই স্বামীর ক্ষেত্রে এ জাতীয় বিবাহের শরয়ি বৈধতা নিয়ে আমি মূলত সংশয়ের মধ্যে রয়েছি; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পায় যার সে নিয়ত করে।"

এবং খাইসামাহ থেকে (عن) বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা আবদুল্লাহ ইবনে আমর-এর সাথে বসা ছিলাম, এমতাবস্থায় তাঁর একজন তত্ত্বাবধায়ক তাঁর নিকট আসলেন এবং ভেতরে প্রবেশ করলেন। তখন তিনি (আবদুল্লাহ) জিজ্ঞাসা করলেন: "তুমি কি দাসদের তাদের খাদ্য প্রদান করেছ?"
(খণ্ড: ১) আযওয়াজুম বিল কাযিব (পৃষ্ঠা: ১৫)
قَالَ: لا. قَالَ: فَانْطَلِقْ فَأَعْطِهِمْ، قَالَ: قال رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: "كَفَى بِالْمَرْءِ إِثْماً أَنْ يَحْبِسَ عَمَّنْ يَمْلِكُ قُوتَهُ" 1، وعند أبي داود وأحمد: "كَفَى بِالْمَرْءِ إِثْماً أَنْ يُضَيِّعَ مَنْ يَقُوتُ" 2؛ فما بالك بِمن أصبح مِن الأزواج طوال دهره يُعال، ولا يُحِسُّ ولو ضُرب بالنعال!.

يا هذا! مَن الإنسان عندك؟ أَهُوَ أنت فقط، أَمْ أنّ سِواك مِن الناس كذلك هم مِن بني آدم الذين تَثْبت لهم حقوق بني آدم؟!.

أَليست زوجتك وأولادك وأهْل زوجتك أُناسٌ مِن بني آدم، لهم حقوق الإنسان على الإنسان-فضلاً عن حقوق المسلم على المسلم، وفضلاً عن حقوق الرَّحِم وهذه العلاقةِ التي جَمَعتْك بهم-؟!.

لعلّك تفكّر فيمن معك، أو أنت معهم، وتفكّر في حقوقهم، كما تفكّر في حقوقك، أو أشدّ، بل لعلك تُؤْثِرهم على نفسك؛ بِمَحْض إيمانك ومروءتك وشهامتك ورجولتك.

--------------------------------------------

1 مسلم، 996، الزكاة.

2 أبو داود، 1692، الزكاة، وأحمد، 6459، و6789، و6803.
তিনি বললেন: না। তিনি বললেন: তবে যাও এবং তাদের দিয়ে দাও। তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "একজন ব্যক্তির পাপী হওয়ার জন্য এটিই যথেষ্ট যে, সে তার খাদ্য-বস্ত্রের অধীনস্ত ব্যক্তির জীবিকা আটকে রাখে" ১, এবং আবু দাউদ ও আহমাদ-এর বর্ণনায় রয়েছে: "একজন ব্যক্তির পাপী হওয়ার জন্য এটিই যথেষ্ট যে, সে যার ভরণ-পোষণের দায়িত্বশীল তাকে ধ্বংস (অবহেলার মাধ্যমে) করে" ২; তবে সেই স্বামীদের অবস্থা কী হবে যারা সারাজীবন অন্যের গলগ্রহ হয়ে থাকে এবং জুতো দিয়ে প্রহার করলেও যাদের কোনো বোধোদয় হয় না!

হে ব্যক্তি! তোমার কাছে মানুষ কে? কেবল কি তুমিই মানুষ, নাকি তোমার বাইরে অন্য সকলেও বনী আদমের অন্তর্ভুক্ত যাদের জন্য বনী আদমের অধিকারসমূহ সাব্যস্ত রয়েছে?!

তোমার স্ত্রী, তোমার সন্তান এবং তোমার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা কি বনী আদমের অন্তর্ভুক্ত মানুষ নয়? একজন মানুষের ওপর অন্য মানুষের যে মানবিক অধিকার রয়েছে—একজন মুসলিমের ওপর অন্য মুসলিমের অধিকার, এমনকি আত্মীয়তার বন্ধন এবং এই সম্পর্কের অধিকার যা তোমাকে তাদের সাথে একত্র করেছে—তা কি তাদের প্রাপ্য নয়?!

সম্ভবত তুমি তাদের সম্পর্কে চিন্তা করবে যারা তোমার সাথে আছে অথবা যাদের সাথে তুমি আছো, এবং তাদের অধিকারের ব্যাপারে ভাববে যেমনটি তুমি নিজের অধিকারের ক্ষেত্রে ভেবে থাকো অথবা তার চেয়েও বেশি; বরং স্রেফ তোমার ঈমান, পৌরুষ, মহত্ত্ব ও বীরত্বের খাতিরে তুমি হয়তো তাদেরকে নিজের ওপর প্রাধান্য দেবে।

--------------------------------------------

১ মুসলিম, ৯৯৬, যাকাত।

২ আবু দাউদ, ১৬৯২, যাকাত, এবং আহমাদ, ৬৪৫৯, ৬৭৮৯ ও ৬৮০৩।
(খণ্ড: ১) আযওয়াজুম বিল কাযিব (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌آياتٌ قرآنية وأحاديث نبويةٌ

وإن كان لأحدٍ من هؤلاء الرجال شبهة تجعله يتورّع عن القول بتحريم مال الغير، ولاسيما النساء العواني، فها هي أمثلة ونماذج قليلة من نصوص القرآن الكريم والسنة النبوية المطهرة، فليستمع إليها أو يقرأها مَن يَتحجج بالشرع، أو مَن يدّعي من هؤلاء الوقوف عند حرمات الله وحدوده، فها هي بعض نصوص وحْي الله تعالى:

* قال الله تعالى: {وَآتُوا النِّسَاءَ صَدُقَاتِهِنَّ نِحْلَةً فَإِنْ طِبْنَ لَكُمْ عَنْ شَيْءٍ مِنْهُ نَفْساً فَكُلُوهُ هَنِيئاً مَرِيئاً} 1.

* وقال سبحانه: {وَلا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ وَتُدْلُوا بِهَا إِلَى الْحُكَّامِ لِتَأْكُلُوا فَرِيقاً مِنْ أَمْوَالِ النَّاسِ بِالْأِثْمِ وَأَنْتُمْ تَعْلَمُونَ} 2.

* وقال تعالى: {إِنَّ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ أَمْوَالَ الْيَتَامَى ظُلْماً

--------------------------------------------

1 4: النساء: 4.

2 188: البقرة: 2.
কুরআনের আয়াত ও নববী হাদিসসমূহ

যদি এই সকল ব্যক্তিদের মধ্যে এমন কোনো সংশয় থেকে থাকে যা তাদের অন্যের সম্পদ, বিশেষ করে অসহায় নারীদের সম্পদ হারাম হওয়ার ব্যাপারে বলতে বিরত রাখে, তবে এখানে পবিত্র কুরআন এবং সুসংরক্ষিত সুন্নাহ (سنة)-এর কিছু উদাহরণ ও নমুনা পেশ করা হলো। যারা শরীয়াহ (شرع)-এর অজুহাত দেয় অথবা যারা আল্লাহর পবিত্র বিষয়াবলী (حرمات) ও তাঁর নির্ধারিত সীমার (حدود) ওপর অটল থাকার দাবি করে, তারা যেন এই বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে শোনে অথবা পাঠ করে। মহান আল্লাহর ওহি (وحي)-এর কিছু অংশ নিচে দেওয়া হলো:

* আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর তোমরা নারীদের তাদের মোহরানা সন্তুষ্টচিত্তে প্রদান করো। অতঃপর যদি তারা খুশি হয়ে তোমাদের জন্য এর কোনো অংশ ছেড়ে দেয়, তবে তোমরা তা স্বাচ্ছন্দ্যে তৃপ্তিসহকারে ভোগ করো।} ১।

* মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আর তোমরা নিজেদের মধ্যে একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না এবং মানুষের সম্পদের কোনো অংশ জেনেশুনে পাপের মাধ্যমে গ্রাস করার উদ্দেশ্যে তা বিচারকদের নিকট পেশ করো না।} ২।

* আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {নিশ্চয় যারা এতিমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করে...

--------------------------------------------

১ ৪: আন-নিসা: ৪।

২ ১৮৮: আল-বাকারাহ: ২।
(খণ্ড: ১) আযওয়াজুম বিল কাযিব (পৃষ্ঠা: ১৭)
* إِنَّمَا يَأْكُلُونَ فِي بُطُونِهِمْ نَاراً وَسَيَصْلَوْنَ سَعِيراً} 1.

* وقال عزَّ مِن قائل: {فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْراً يَرَهُ. وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَراً يَرَهُ} 2.

* وقال صلى الله عليه وسلم: "خَيْرُكُمْ خَيْرُكُمْ لأَهْلِهِ وَأَنَا خَيْرُكُمْ لأَهْلِي" 3.

* وقَضَى صلى الله عليه وسلم: "أَنْ لا ضَرَرَ وَلا ضِرَار" َ4.

وقال صلى الله عليه وسلم في خطبته في حَجَّةِ الْوَدَاعِ: "أَيُّ يَوْمٍ أَحْرَمُ؟ أَيُّ يَوْمٍ أَحْرَمُ؟ أَيُّ يَوْمٍ أَحْرَمُ؟ ". فَقَالَ النَّاسُ: يَوْمُ الْحَجِّ الأَكْبَرِ يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ: "فَإِنَّ دِمَاءَكُمْ، وَأَمْوَالَكُمْ، وَأَعْرَاضَكُمْ، عَلَيْكُمْ حَرَامٌ كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا، فِي بَلَدِكُمْ هَذَا، فِي شَهْرِكُمْ هَذَا، أَلا لا يَجْنِي جَانٍ إِلا عَلَى نَفْسِهِ، وَلا يَجْنِي وَالِدٌ عَلَى وَلَدِهِ، وَلا وَلَدٌ عَلَى وَالِدِهِ، أَلا: إِنَّ الْمُسْلِمَ

--------------------------------------------

1 10: النساء: 4.

2 7-8: الزلزلة: 99.

3 الترمذي، 3895، المناقب، وابن ماجه، 1977، النكاح.

4 ابن ماجه، 2340، و2341، الأحكام، وأحمد، 2862، وغيرهما.
* {নিশ্চয়ই তারা তাদের পেটে কেবল আগুনই ভক্ষণ করে এবং অচিরেই তারা প্রজ্বলিত আগুনে প্রবেশ করবে।} ১।

* এবং মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে সে তা দেখতে পাবে। আর কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে সে তা দেখতে পাবে।} ২।

* এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই সর্বোত্তম যে তার পরিবারের নিকট সর্বোত্তম, আর আমি তোমাদের মধ্যে আমার পরিবারের নিকট সর্বোত্তম।" ৩।

* এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ফয়সালা প্রদান করেছেন: "ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতির বিনিময়ে ক্ষতি করা যাবে না।" ৪।

এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিদায় হজের ভাষণে বলেছেন: "কোন দিনটি সর্বাধিক পবিত্র? কোন দিনটি সর্বাধিক পবিত্র? কোন দিনটি সর্বাধিক পবিত্র?"। তখন লোকসকল বলল: হে আল্লাহর রাসূল! হজ্জে আকবরের দিন। তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের সম্মান তোমাদের জন্য তেমনই পবিত্র যেমন পবিত্র তোমাদের আজকের এই দিনটি, তোমাদের এই শহরটি এবং তোমাদের এই মাসটি। জেনে রেখো, কোনো অপরাধী তার নিজের সত্তা ব্যতীত অন্য কারো বিরুদ্ধে অপরাধ করে না, এবং কোনো পিতা তার সন্তানের ওপর অপরাধের দায় চাপাবে না, আর কোনো সন্তান তার পিতার ওপর অপরাধের দায় চাপাবে না। জেনে রেখো: নিশ্চয়ই মুসলিম...

--------------------------------------------

১. ১০: আন-নিসা: ৪।

২. ৭-৮: আয-যিলযাল: ৯৯।

৩. তিরমিযী, ৩৮৯৫, আল-মানাকিব এবং ইবনে মাজাহ, ১৯৭৭, আন-নিকাহ।

৪. ইবনে মাজাহ, ২৩৪০ এবং ২৩৪১, আল-আহকাম, এবং আহমাদ, ২৮৬২ সহ অন্যান্য।
(খণ্ড: ১) আযওয়াজুম বিল কাযিব (পৃষ্ঠা: ১৮)
أَخُو الْمُسْلِمِ؛ فَلَيْسَ يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ مِنْ أَخِيهِ شَيْءٌ إِلا مَا أَحَلَّ مِنْ نَفْسِهِ، أَلا وَإِنَّ كُلَّ رِباً فِي الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعٌ، لَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ، لا تَظْلِمُونَ وَلا تُظْلَمُونَ غَيْرَ رِبَا الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، فَإِنَّهُ مَوْضُوعٌ كُلُّهُ، أَلا وَإِنَّ كُلَّ دَمٍ كَانَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعٌ، وَأَوَّلُ دَمٍ وُضِعَ مِنْ دِمَاءِ الْجَاهِلِيَّةِ دَمُ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِالْمُطَّلِبِ كَانَ مُسْتَرْضَعاً فِي بَنِي لَيْثٍ فَقَتَلَتْهُ هُذَيْلٌ، أَلا وَاسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْراً، فَإِنَّمَا هُنَّ عَوَانٍ عِنْدَكُمْ، لَيْسَ تَمْلِكُونَ مِنْهُنَّ شَيْئاً غَيْرَ ذَلِكَ، إِلا أَنْ يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ، فَإِنْ فَعَلْنَ فَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ، وَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْباً غَيْرَ مُبَرِّحٍ، فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلاً، أَلا إِنَّ لَكُمْ عَلَى نِسَائِكُمْ حَقّاً، وَلِنِسَائِكُمْ عَلَيْكُمْ حَقّاً، فَأَمَّا حَقُّكُمْ عَلَى نِسَائِكُمْ فَلا يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ مَنْ تَكْرَهُونَ، وَلا يَأْذَنَّ فِي بُيُوتِكُمْ لِمَنْ تَكْرَهُونَ، أَلا وَإِنَّ حَقَّهُنَّ عَلَيْكُمْ أَنْ تُحْسِنُوا إِلَيْهِنَّ فِي كِسْوَتِهِنَّ وَطَعَامِهِنَّ … " 1.

--------------------------------------------

1 الترمذي، 3087، تفسير القرآن، و1163، الرضاع، وقال فيه: حسن صحيح.

...মুসলমানের ভাই; সুতরাং কোনো মুসলমানের জন্য তার ভাইয়ের কোনো কিছু বৈধ নয়, তবে সে নিজে যা সন্তুষ্টচিত্তে প্রদান করে তা ব্যতীত। সাবধান! জাহেলিয়াত যুগের সকল সুদ রহিত (موضوع); তোমাদের জন্য কেবল তোমাদের মূলধন প্রাপ্য, তোমরা জুলুম করবে না এবং তোমরাও জুলুমের শিকার হবে না। তবে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের সুদ ব্যতীত, কেননা তা সম্পূর্ণভাবে রহিত (موضوع)। সাবধান! জাহেলিয়াত যুগের সকল রক্তের দাবি (প্রতিশোধ) রহিত (موضوع)। জাহেলিয়াত যুগের রক্তসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম যে রক্তের দাবি রহিত করা হলো, তা হলো হারেস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের রক্ত; সে বনু লাইস গোত্রে দুগ্ধপানের জন্য অবস্থান করছিল এবং হুযাইল গোত্র তাকে হত্যা করেছিল। সাবধান! তোমরা নারীদের ব্যাপারে কল্যাণের ওসিয়ত গ্রহণ করো, কারণ তারা তোমাদের নিকট বন্দিনীর মতো; এ ব্যতীত তাদের ওপর তোমাদের অন্য কোনো অধিকার নেই, যতক্ষণ না তারা প্রকাশ্য কোনো অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়। যদি তারা তা করে, তবে শয্যায় তাদের বর্জন করো এবং তাদের প্রহার করো—যা গুরুতর নয়। অতঃপর যদি তারা তোমাদের অনুগত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে (অত্যাচারের) কোনো পথ খুঁজো না। সাবধান! তোমাদের নারীদের ওপর যেমন তোমাদের অধিকার রয়েছে, তেমনি তোমাদের ওপরও তোমাদের নারীদের অধিকার রয়েছে। তোমাদের নারীদের ওপর তোমাদের অধিকার হলো—যাদের তোমরা অপছন্দ করো, তারা যেন তোমাদের বিছানায় স্থান না পায় এবং তোমরা যাদের অপছন্দ করো, তারা যেন তোমাদের ঘরে প্রবেশের অনুমতি না পায়। সাবধান! তোমাদের ওপর তাদের অধিকার হলো—তোমরা তাদের পোশাক ও খাদ্যের ব্যাপারে তাদের প্রতি সদয় আচরণ করবে … " 1.

--------------------------------------------

1 তিরমিজি, ৩০৮৭, তাফসিরুল কুরআন, এবং ১১৬৩, আর-রাদা'আ; আর তিনি এতে বলেছেন: হাসান (حسن) সহিহ (صحيح)।

(খণ্ড: ১) আযওয়াজুম বিল কাযিব (পৃষ্ঠা: ১৯)
وفي لفظٍ للحديث أنه قال صلى الله عليه وسلم:

"يَا أَيُّهَا النَّاسُ: أَتَدْرُونَ فِي أَيِّ شَهْرٍ أَنْتُمْ؟ وَفِي أَيِّ يَوْمٍ أَنْتُمْ؟ وَفِي أَيِّ بَلَدٍ أَنْتُم؟ قَالُوا: فِي يَوْمٍ حَرَام، وَشَهْرٍ حَرَامٍ، وَبَلَدٍ حَرَامٍ، قَالَ: فَإِنَّ دِمَاءَكُمْ، وَأَمْوَالَكُمْ، وَأَعْرَاضَكُمْ، عَلَيْكُمْ حَرَامٌ كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا، فِي شَهْرِكُمْ هَذَا، فِي بَلَدِكُمْ هَذَا، إِلَى يَوْمِ تَلْقَوْنَهُ، ثُمَّ قَالَ: اسْمَعُوا مِنِّي تَعِيشُوا: أَلا لا تَظْلِمُوا، أَلا لا تَظْلِمُوا، أَلا لا تَظْلِمُوا، إِنَّهُ لا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ إِلا بِطِيبِ نَفْسٍ مِنْهُ، أَلا وَإِنَّ كُلَّ دَمٍ وَمَالٍ وَمَأْثَرَةٍ كَانَتْ فِي الْجَاهِلِيَّةِ تَحْتَ قَدَمِي هَذِهِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، وَإِنَّ أَوَّلَ دَمٍ يُوضَعُ دَمُ رَبِيعَةَ ابْنِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِالْمُطَّلِبِ، كَانَ مُسْتَرْضِعاً فِي بَنِي لَيْثٍ فَقَتَلَتْهُ هُذَيْلٌ، أَلا وَإِنَّ كُلَّ رِباً كَانَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعٌ، وَإِنَّ اللَّهَ عز وجل قَضَى أَنَّ أَوَّلَ رِباً يُوضَعُ رِبَا الْعَبَّاسِ بْنِ عَبْدِالْمُطَّلِبِ لَكُمْ رُءُوسُ أَمْوَالِكُمْ لا تَظْلِمُونَ وَلا تُظْلَمُونَ، أَلا وَإِنَّ الزَّمَانَ قَدِ اسْتَدَارَ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ خَلَقَ اللَّهُ السَّمَوَاتِ وَالأَرْضَ"، ثُمَّ قَرَأَ: {إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِنْدَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْراً فِي كِتَابِ اللَّهِ يَوْمَ خَلَقَ
হাদিসের একটি ভাষ্যে (لفظ) বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"হে লোকসকল: তোমরা কি জানো তোমরা কোন মাসে আছো? তোমরা কোন দিনে আছো? এবং তোমরা কোন শহরে আছো? তারা বললেন: (আমরা) একটি পবিত্র দিনে, পবিত্র মাসে এবং একটি পবিত্র শহরে আছি। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ এবং তোমাদের ইজ্জত-সম্মান তোমাদের জন্য তেমনি পবিত্র, যেমন পবিত্র তোমাদের এই দিন, তোমাদের এই মাস এবং তোমাদের এই শহর—তোমরা তাঁর (আল্লাহর) সাথে সাক্ষাৎ করার দিন পর্যন্ত। অতঃপর তিনি বললেন: তোমরা আমার নিকট থেকে শোনো, তবেই তোমরা (সঠিকভাবে) জীবনযাপন করতে পারবে: সাবধান! তোমরা জুলুম করো না; সাবধান! তোমরা জুলুম করো না; সাবধান! তোমরা জুলুম করো না। কোনো ব্যক্তির সম্পদ তার মনের তুষ্টি ছাড়া (অন্যের জন্য) বৈধ নয়। জেনে রেখো! জাহেলিয়াত আমলের যাবতীয় রক্ত, সম্পদ এবং আভিজাত্যের গৌরবগাথা কিয়ামত পর্যন্ত আমার এই দুই চরণের নিচে রহিত করা হলো। আর জাহেলিয়াত আমলের রক্তের প্রতিশোধের মধ্যে আমি প্রথম যে রক্তের দাবি রহিত করছি, তা হলো রাবিআহ ইবনুল হারিস ইবন আবদিল মুত্তালিবের রক্ত; সে বনী লাইস গোত্রে দুগ্ধপোষ্য ছিল এবং হুযাইল গোত্র তাকে হত্যা করেছিল। জেনে রেখো! জাহেলিয়াত আমলের যাবতীয় সুদ রহিত করা হলো। আর আল্লাহ মহান ও পরাক্রমশালী ফয়সালা করেছেন যে, প্রথম যে সুদ রহিত করা হচ্ছে তা হলো আব্বাস ইবন আবদিল মুত্তালিবের সুদ। তোমাদের জন্য কেবল তোমাদের মূলধন প্রাপ্য; তোমরা জুলুম করবে না এবং তোমাদের প্রতিও জুলুম করা হবে না। জেনে রেখো! কাল আবর্তিত হয়ে আজ তার সেই আদিরূপে ফিরে এসেছে, যেদিন আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছিলেন।" এরপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহর নিকট আল্লাহর কিতাবে মাসসমূহের সংখ্যা বারোটি, যেদিন তিনি সৃষ্টি করেছেন...}
(খণ্ড: ১) আযওয়াজুম বিল কাযিব (পৃষ্ঠা: ২০)
السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ فَلا تَظْلِمُوا فِيهِنَّ أَنْفُسَكُمْ} ، أَلا لا تَرْجِعُوا بَعْدِي كُفَّاراً يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ، أَلا إِنَّ الشَّيْطَانَ قَدْ أَيِسَ أَنْ يَعْبُدَهُ الْمُصَلُّونَ، وَلَكِنَّهُ فِي التَّحْرِيشِ بَيْنَكُمْ، فَاتَّقُوا اللَّهَ عز وجل فِي النِّسَاءِ؛ فَإِنَّهُنَّ عِنْدَكُمْ عَوَانٌ، لا يَمْلِكْنَ لأَنْفُسِهِنَّ شَيْئاً، وَإِنَّ لَهُنَّ عَلَيْكُمْ، وَلَكُمْ عَلَيْهِنَّ حَقّاً: أَنْ لا يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ أَحَداً غَيْرَكُمْ، وَلا يَأْذَنَّ فِي بُيُوتِكُمْ لأَحَدٍ تَكْرَهُونَهُ، فَإِنْ خِفْتُمْ نُشُوزَهُنَّ، فَعِظُوهُنَّ وَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ، وَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْباً غَيْرَ مُبَرِّحٍ". قَالَ حُمَيْدٌ: قُلْتُ لِلْحَسَنِ: مَا الْمُبَرِّحُ؟. قَالَ: الْمُؤَثِّرُ. "وَلَهُنَّ رِزْقُهُنَّ، وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ، وَإِنَّمَا أَخَذْتُمُوهُنَّ بِأَمَانَةِ اللَّهِ، وَاسْتَحْلَلْتُمْ فُرُوجَهُنَّ بِكَلِمَةِ اللَّهِ عز وجل، وَمَنْ كَانَتْ عِنْدَهُ أَمَانَةٌ فَلْيُؤَدِّهَا إِلَى مَنِ ائْتَمَنَهُ عَلَيْهَا. وَبَسَطَ يَدَيْهِ فَقَالَ: "أَلا هَلْ بَلَّغْتُ؟ أَلا هَلْ بَلَّغْتُ؟ أَلا هَلْ بَلَّغْتُ؟ ثُمَّ قَالَ: لِيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ، فَإِنَّهُ رُبَّ مُبَلَّغٍ أَسْعَدُ مِنْ سَامِعٍ". قَالَ حُمَيْدٌ قَالَ الْحَسَنُ حِينَ بَلَّغَ هَذِهِ الْكَلِمَةَ: قَدْ
...আসমান ও জমিন [সৃষ্টির দিন থেকেই], তার মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত (حرم)। এটিই সুপ্রতিষ্ঠিত দীন, সুতরাং তোমরা এই মাসগুলোতে নিজেদের প্রতি জুলুম করো না।} সাবধান! তোমরা আমার পরে পুনরায় কাফিরে পরিণত হয়ে যেও না যে তোমরা একে অপরের গর্দান আঘাত করবে। সাবধান! শয়তান এই ব্যাপারে নিরাশ হয়ে গিয়েছে যে মুসল্লিরা তার ইবাদত করবে, কিন্তু সে তোমাদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টির (التحريش) ব্যাপারে লিপ্ত থাকবে। সুতরাং তোমরা নারীদের বিষয়ে আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত-কে ভয় করো; কেননা তারা তোমাদের নিকট আশ্রিতা (عوان), তারা নিজেদের জন্য কোনো কিছুর মালিকানা রাখে না। তোমাদের উপর তাদের অধিকার রয়েছে এবং তোমাদের উপরও তাদের অধিকার রয়েছে: (তা হলো) তারা তোমাদের শয্যায় তোমাদের ব্যতীত অন্য কাউকে স্থান দেবে না এবং তোমাদের ঘরে তোমাদের অপছন্দনীয় কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেবে না। যদি তোমরা তাদের অবাধ্যতার (نشوزهن) আশঙ্কা করো, তবে তাদের উপদেশ দাও, তাদের শয্যা হতে পৃথক করো এবং তাদের মৃদু প্রহার করো যা কঠোর (غير مبرح) নয়। হুমায়দ বলেন: আমি হাসানকে জিজ্ঞেস করলাম, 'মুবররিহ' (المبرح) কী? তিনি বললেন: "যা শরীরে চিহ্ন রেখে যায়।" তাদের জন্য নিয়মমাফিক অন্ন ও বস্ত্রের সংস্থান করা তোমাদের দায়িত্ব। তোমরা তাদের আল্লাহর আমানতের মাধ্যমে গ্রহণ করেছ এবং আল্লাহর বাণীর মাধ্যমে তাদের লজ্জাস্থানকে নিজেদের জন্য হালাল করেছ। যার কাছে কোনো আমানত গচ্ছিত থাকে, সে যেন তা আমানতকারীর কাছে ফিরিয়ে দেয়। অতঃপর তিনি স্বীয় হস্তদ্বয় প্রসারিত করে বললেন: "আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?" এরপর বললেন: "উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট সংবাদটি পৌঁছে দেয়, কেননা অনেক ক্ষেত্রে যাকে সংবাদ পৌঁছানো হয় (مبلغ), সে শ্রবণকারীর (سامع) চেয়েও অধিক সৌভাগ্যবান হয়ে থাকে।" হুমায়দ বলেন: হাসান যখন এই বাণীটি পৌঁছালেন তখন বললেন: "নিশ্চয়ই..."
(খণ্ড: ১) আযওয়াজুম বিল কাযিব (পৃষ্ঠা: ২১)
وَاللَّهِ بَلَّغُوا أَقْوَاماً كَانُوا أَسْعَدَ بِهِ1".

وقال الإمام البخاري في صحيحه: بَاب هِبَةِ الرَّجُلِ لامْرَأَتِهِ وَالْمَرْأَةِ لِزَوْجِهَا، قَالَ إِبْرَاهِيمُ: جَائِزَةٌ وَقَالَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِالْعَزِيزِ: لا يَرْجِعَانِ. وَاسْتَأْذَنَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم نِسَاءَهُ فِي أَنْ يُمَرَّضَ فِي بَيْتِ عَائِشَةَ، وَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم: "الْعَائِدُ فِي هِبَتِهِ كَالْكَلْبِ يَعُودُ فِي قَيْئِهِ"، وَقَالَ الزُّهْرِيُّ فِيمَنْ قَالَ لامْرَأَتِهِ: هَبِي لِي بَعْضَ صَدَاقِكِ، أَوْ كُلَّهُ، ثُمَّ لَمْ يَمْكُثْ إِلا يَسِيراً حَتَّى طَلَّقَهَا؛ فَرَجَعَتْ فِيهِ. قَالَ: يَرُدُّ إِلَيْهَا إِنْ كَانَ خَلَبَهَاأي: خَدَعَها، وَإِنْ كَانَتْ أَعْطَتْهُ عَنْ طِيبِ نَفْسٍ لَيْسَ فِي شَيْءٍ مِنْ أَمْرِهِ خَدِيعَةٌ جَازَ؛ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: {فَإِنْ طِبْنَ لَكُمْ عَنْ شَيْءٍ مِنْهُ نَفْساً فَكُلُوهُ} 2.

وعَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ قَالَ: سَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَأَعْطَانِي، ثُمَّ سَأَلْتُهُ فَأَعْطَانِي، ثُمَّ سَأَلْتُهُ فَأَعْطَانِي، ثُمَّ قَالَ: "هَذَا الْمَالُ وَرُبَّمَا" - قَالَ سُفْيَانُ: قَالَ لِي يَا حَكِيمُ إِنَّ هَذَا الْمَالَ- "خَضِرَةٌ حُلْوَةٌ؛ فَمَنْ أَخَذَهُ بِطِيبِ نَفْسٍ؛ بُورِكَ لَهُ فِيهِ، وَمَنْ

--------------------------------------------

1 أحمد، 20172.

2 الجامع الصحيح، كتاب الهبة.
আল্লাহর কসম, তারা এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন যারা এর দ্বারা অধিক সৌভাগ্যবান হয়েছিল১।

ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে বলেছেন: ‘পরিচ্ছেদ: স্বামীর প্রতি স্ত্রীর এবং স্ত্রীর প্রতি স্বামীর দান’। ইবরাহিম বলেছেন: এটি বৈধ। উমর বিন আব্দুল আজিজ বলেছেন: তারা (প্রদত্ত দান) ফেরত নেবে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশার ঘরে অসুস্থ থাকাকালীন সেবা গ্রহণের জন্য তাঁর অন্যান্য স্ত্রীদের নিকট অনুমতি চেয়েছিলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘নিজের দান ফেরত গ্রহণকারী সেই কুকুরের ন্যায় যে বমি করে তা পুনরায় ভক্ষণ করে’। যুহরি এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে তার স্ত্রীকে বলে: ‘তোমার মোহরের কিছু অংশ বা পুরোটা আমাকে দান করো’, এরপর সে তাকে তালাক দিতে সামান্য সময়ও অতিবাহিত করল না; এমতাবস্থায় স্ত্রী তা ফেরত পেতে চায়। তিনি (যুহরি) বলেন: যদি সে তাকে প্ররোচিত করে থাকে—অর্থাৎ প্রতারিত করে থাকে—তবে সে তা তাকে ফিরিয়ে দেবে। আর যদি স্ত্রী স্বতঃস্ফূর্তভাবে তা দিয়ে থাকে এবং তার কোনো আচরণে কোনো প্রতারণা না থাকে তবে তা বৈধ হবে। মহান আল্লাহ বলেছেন: {অতঃপর তারা যদি খুশিমনে তোমাদের জন্য তা থেকে কিছু অংশ ছেড়ে দেয়, তবে তোমরা তা স্বাচ্ছন্দ্যে ভোগ করো}২।

হাকিম বিন হিযাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট যাঞ্চা করলাম, তিনি আমাকে দিলেন। পুনরায় চাইলাম, তিনি আমাকে দিলেন। আবারও চাইলাম, তিনি আমাকে দিলেন। অতঃপর তিনি বললেন: ‘এই সম্পদ এবং সম্ভবত’ - সুফিয়ান বলেন: তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘হে হাকিম! নিশ্চয়ই এই সম্পদ সুস্বাদু ও আকর্ষণীয়; যে ব্যক্তি তা স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করবে, তার জন্য তাতে বরকত দেওয়া হবে। আর যে...’

--------------------------------------------

১ আহমদ, ২০১৭২।

২ আল-জামি আস-সহিহ, দান অধ্যায়।
(খণ্ড: ১) আযওয়াজুম বিল কাযিব (পৃষ্ঠা: ২২)
أَخَذَهُ بِإِشْرَافِ نَفْسٍ، لَمْ يُبَارَكْ لَهُ فِيهِ، وَكَانَ كَالَّذِي يَأْكُلُ وَلا يَشْبَعُ، وَالْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى"1.

وروى الإمام أحمد عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ السَّاعِدِيِّ-مُعَلَّقاً- أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "لا يَحِلُّ لِلرَّجُلِ أَنْ يَأْخُذَ عَصَا أَخِيهِ بِغَيْرِ طِيبِ نَفْسِهِ"؛ وَذَلِكَ لِشِدَّةِ مَا حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ مَالِ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ"2.

وعَنْ أَبِي أُمَامَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: "مَنِ اقْتَطَعَ حَقَّ امْرِئٍ مُسْلِمٍ بِيَمِينِهِ؛ فَقَدْ أَوْجَبَ اللَّهُ لَهُ النَّارَ، وَحَرَّمَ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ"؛ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ: وَإِنْ كَانَ شَيْئاً يَسِيراً يَا رَسُولَ اللَّهِ؟. قَالَ: " وَإِنْ قَضِيباً مِنْ أَرَاكٍ3". وفي لفظ الحديث عند مالك في الموطأ: قَالَ: وَإِنْ كَانَ قَضِيباً مِنْ أَرَاكٍ، "وَإِنْ كَانَ قَضِيباً مِنْ أَرَاكٍ، وَإِنْ كَانَ قَضِيباً مِنْ أَرَاكٍ". قَالَهَا ثَلاثَ مَرَّاتٍ4.

فهل أيقنتَ أيها الأخ الواقع في شيءٍ مِن الظلم أو

--------------------------------------------

1 البخاري، 6441، الرقاق، ومسلم 1035، الزكاة.

2 أحمد، 27803.

3 مسلم، 137، الإيمان.

4 مالك، 1435، الأقضية.
"...যে ব্যক্তি লালসার সাথে তা গ্রহণ করবে, তার জন্য তাতে বরকত দেওয়া হবে না; আর সে এমন ব্যক্তির ন্যায় হবে যে আহার করে কিন্তু তৃপ্ত হয় না। আর উপরের হাত নিচের হাতের চেয়ে উত্তম।"১।

ইমাম আহমাদ আবু হুমাইদ আস-সাঈদী থেকে সূত্রবিহীন (معلقا) বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "কোনো ব্যক্তির জন্য তার ভাইয়ের লাঠি তার মনের সন্তুষ্টি ব্যতীত গ্রহণ করা বৈধ নয়।" আর এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক মুসলিমের জন্য অন্য মুসলিমের সম্পদ হরণ করাকে যে কঠোরভাবে হারাম করেছেন, তার অন্তর্ভুক্ত।২।

আবু উমামাহ থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি শপথের মাধ্যমে কোনো মুসলিম ব্যক্তির অধিকার আত্মসাৎ করবে, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম অবধারিত করবেন এবং তার ওপর জান্নাত হারাম করবেন।" তখন এক ব্যক্তি আরজ করল: হে আল্লাহর রাসূল! যদি তা সামান্য কোনো বস্তুও হয়? তিনি বললেন: "যদি তা আরাক গাছের একটি ডালও হয়।"৩। মুওয়াত্তা মালিক-এ হাদিসের শব্দে বর্ণিত হয়েছে: তিনি বললেন: "যদি তা আরাক গাছের একটি ডালও হয়", "যদি তা আরাক গাছের একটি ডালও হয়", "যদি তা আরাক গাছের একটি ডালও হয়"। তিনি এটি তিনবার বললেন।৪।

অতএব হে জুলুম বা অন্যায়ের কোনো বিষয়ে লিপ্ত ভাই! আপনি কি নিশ্চিত হয়েছেন অথবা...

--------------------------------------------

১ বুখারি, ৬৪৪১, আর-রিকাক; এবং মুসলিম, ১০৩৫, আজ-যাকাত।

২ আহমাদ, ২৭৮০৩।

৩ মুসলিম, ১৩৭, আল-ঈমান।

৪ মালিক, ১৪৩৫, আল-আকদিয়াহ।
(খণ্ড: ১) আযওয়াজুম বিল কাযিব (পৃষ্ঠা: ২৩)
التعدي، أو التجاهل للواجبات والحقوق عليك تُجَاه زوجتك وأولادك وأرحامك، هل أيقنتَ الأمر الذي أخبرك الله به في كتابه وعلى لسان رسوله صلى الله عليه وسلم، ومَن أَصْدقُ مِن الله حديثاً؟!.

لعلّك تُفكِّر وتَعُود مِن قريب؛ فَتُقيم العلاقة على ما يوجبه عليك الإيمان والشرع ومكارم الأخلاق. ولو أَنصفَ الناسُ استراحَ القاضي!.
আপনার স্ত্রী, সন্তান এবং নিকটাত্মীয়দের প্রতি আপনার ওপর অর্পিত দায়িত্ব ও অধিকারের ক্ষেত্রে সীমালঙ্ঘন করা কিংবা সেগুলোকে উপেক্ষা করা—আপনি কি সেই বিষয়টি সম্যক উপলব্ধি করেছেন যা আল্লাহ তাঁর কিতাবে এবং তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জবানিতে সংবাদ দিয়েছেন? আর কথায় আল্লাহর চেয়ে অধিক সত্যবাদী আর কে হতে পারে?!

সম্ভবত আপনি বিষয়টি নিয়ে ভাববেন এবং শীঘ্রই সুপথে ফিরে আসবেন; ফলে ঈমান, শরীয়ত এবং উন্নত নৈতিকতা আপনার ওপর যা আবশ্যক করে, তার ভিত্তিতেই পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তুলবেন। আর মানুষ যদি ইনসাফ করত, তবে বিচারক স্বস্তি পেতেন!
(খণ্ড: ১) আযওয়াজুম বিল কাযিব (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌مِن الواجب على الآخرين:

هذا، وإنّ مِن الواجب على كلِّ غيورٍ مخْلِصٍ التفكير والسعي الجادّ في علاج هذه المشكلة، سواءٌ لَحِقَهُ شيءٌ مباشرٌ من مثل هذا الظلم أو لا؛ قياماً بالواجب الشرعي تجاه نصْرة أخيه المسلم، ظالماً أو مظلوماً، لكن بمفهوم النُّصْرة الشرعيّ.

ولقد شَرَع الله تعالى الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وهذا المجال مِن النُّصْرة للمظلومين والمظلومات مما يقوم المسلم القادر فيه بشيءٍ مِن الأمر المعروف والنهي عن المنكر، لكن على أن يكون ذلك بما أَمر الله به من الحكمة والإخلاص للمنصوح، والشفقةِ بكلٍ مِن الطرفين، دون انحيازٍ، ودون تهوّرٍ أو تَسرُّعٍ. ولِهذا الجانب مِن الموضوع بقيّةٌ ستأتي في "حلّ المشكلة".
অন্যদের কর্তব্যসমূহের অন্তর্ভুক্ত:

এমতাবস্থায়, এই সমস্যার সমাধানে চিন্তা করা এবং ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালানো প্রত্যেক আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও একনিষ্ঠ ব্যক্তির জন্য আবশ্যক, চাই সে নিজে সরাসরি এই ধরনের জুলুমের শিকার হোক বা না হোক; এটি মূলত তার মুসলিম ভাইকে সাহায্যের ক্ষেত্রে শরয়ী দায়িত্ব পালনার্থে—সে জালিম হোক বা মজলুম—তবে তা হতে হবে সাহায্যের শরয়ী ধারণার আলোকে।

আর মহান আল্লাহ সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ বা গর্হিত (منكر) কাজের নিষেধকে বিধিবদ্ধ করেছেন। মজলুম নর-নারীদের সাহায্যের এই ক্ষেত্রটি এমন একটি বিষয় যেখানে একজন সক্ষম মুসলিম সৎ কাজের আদেশ ও মন্দ বা গর্হিত (منكر) কাজের নিষেধের ক্ষেত্রে কিছু ভূমিকা পালন করতে পারে; তবে শর্ত হলো তা হতে হবে মহান আল্লাহর নির্দেশিত হিকমত তথা প্রজ্ঞা, যাকে উপদেশ দেওয়া হচ্ছে তার প্রতি একনিষ্ঠতা এবং উভয় পক্ষের প্রতি মমত্ববোধের সাথে; কোনো প্রকার পক্ষপাতিত্ব এবং হঠকারিতা বা তাড়াহুড়ো ছাড়াই। বিষয়ের এই দিকটি সম্পর্কে অবশিষ্ট আলোচনা "সমস্যার সমাধান" অংশে আসবে।
(খণ্ড: ১) আযওয়াজুম বিল কাযিব (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌‌‌حلُّ المشكلة

وإنْ سألَ سائلٌ: فما الحلّ لهذا الداء العضال، وماذا نصنع بهؤلاء الرجال؟.

فالجواب هو:
‌‌সমস্যার সমাধান

যদি কোনো প্রশ্নকারী প্রশ্ন করেন: তবে এই দুরারোগ্য ব্যাধির সমাধান কী এবং এই বর্ণনাকারীদের (رجال) ব্যাপারে আমাদের করণীয়ই বা কী?

এর উত্তর হলো:
(খণ্ড: ১) আযওয়াজুম বিল কাযিব (পৃষ্ঠা: ২৪)
-‌‌ أوّلاً: الوقاية قبْل العلاج:

هناك حلٌّ وقائيٌّ يجب على أولياء المرأة أو وليِّها أن يَتنبّه له، وهو أن يَجتهد في التعرف على الشخص المتقدِّم له، وذلك مِن حيث الاستقامة والدين والخُلُق والسيرة، ومِن ذلك أن يتعرف على طبيعة الشخص هل عنده مادّيّة وحبٌّ زائد للدنيا؟ وهل له رغبةٌ في أن يستغل الزوجة مادّيّاً؟ وقد يَتّضح هذا مِن خلال كلامه، ومِن خلال سيرته، ومِن طبيعة تفكيره، وقد يكون لِوضْع الشخص المادّيِّ أحياناً أثرٌ في هذا التوجّه.

فإذا ما تَبَيّن للوليّ أن الرجل مِن هذا الصنف، فإياه ثم إياه مِن الإقدام على إعطائه، ولْيتّقِ الله ربَّه؛ فإنها أمانةٌ عنده،
প্রথমত: প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই শ্রেয়:

এখানে একটি প্রতিরোধমূলক সমাধান রয়েছে যা মহিলার অভিভাবকদের বা তার অভিভাবকের বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখা উচিত। আর তা হলো, প্রস্তাবকারী ব্যক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য যথাযথ প্রচেষ্টা চালানো; বিশেষ করে তার সততা, দ্বীনদারিতা, চরিত্র ও জীবনবৃত্তান্তের দিক থেকে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো—ব্যক্তির স্বভাব সম্পর্কে অবগত হওয়া যে, তার মাঝে বস্তুবাদিতা ও দুনিয়ার প্রতি অতিরিক্ত মোহ রয়েছে কি না? এবং স্ত্রীকে আর্থিকভাবে শোষণ করার কোনো আকাঙ্ক্ষা তার আছে কি না? কখনো কখনো তার কথাবার্তা, জীবন-আচরণ ও চিন্তাধারার ধরন থেকে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। আবার মাঝে মাঝে ব্যক্তির আর্থিক অবস্থাও এই মানসিকতার ওপর প্রভাব ফেলে থাকে।

যদি অভিভাবকের নিকট প্রতীয়মান হয় যে লোকটি এই শ্রেণির, তবে তাকে (কন্যা বা বোনকে) বিয়ে দেওয়া থেকে তিনি যেন অবশ্যই সাবধান থাকেন। তিনি যেন তার প্রতিপালক আল্লাহকে ভয় করেন; কেননা এই নারী তার নিকট একটি আমানত।
(খণ্ড: ১) আযওয়াজুম বিল কাযিব (পৃষ্ঠা: ২৫)
فلا يَخُنِ الأمانة، ولا يَغِشّ مَن هو في مكان الناصح له.

أيها الأولياء، اتقوا الله، واحذروا -قبل الزواج-هذه الذئاب البشرية، فلا تدفعوا بناتكم إلى براثنها؛ فتفترسها تحت سمعكم وبصركم، فلا تتمكّنوا مِن استنقاذهن إلا بعد أن يُصِيبوهن إصابات بليغة في نفوسهن وعقولهن وأجسادهن وأموالهن!.
সুতরাং তিনি যেন আমানতের খিয়ানত না করেন এবং এমন ব্যক্তিকে প্রতারণা না করেন যার জন্য তিনি একজন উপদেশদাতার (ناصح) অবস্থানে রয়েছেন।

হে অভিভাবকগণ, আপনারা আল্লাহকে ভয় করুন এবং বিবাহের পূর্বে এই মানুষরূপী নেকড়েদের থেকে সতর্ক থাকুন। আপনাদের কন্যাদের তাদের থাবায় ঠেলে দেবেন না; অন্যথায় তারা আপনাদের চোখের সামনেই তাদের শিকার করবে এবং আপনারা তাদের উদ্ধার করতে সক্ষম হবেন না যতক্ষণ না তারা তাদের মন, মস্তিষ্ক, শরীর ও সম্পদের ওপর গুরুতর আঘাত হানবে!
(খণ্ড: ১) আযওয়াজুম বিল কাযিব (পৃষ্ঠা: ২৫)
-‌‌ ثانياً: حلّ المشكلة بمبادرةٍ مِن الزوج:

أمّا في حالِ حدوثِ هذا الأمر، فأوّل الحلول وأَولاها أن يَبدأ الحل مِن هؤلاء الأزواج أنفسهم؛ فيستغفروا الله ويتوبوا إليه، ويَعتذروا لِمَن ظلموه، ويُعِيدوا ما أخذوه ظلماً وعُدواناً، ولكم رؤوس أموالكم لا تَظلمون ولا تُظْلمون. وهذا الحل لا يُغني عنه -في حقّ هؤلاء الأزواج- أيُّ حلٍّ آخر، ولا تَبرأ ذمتهم بغيره؛ وذلك لِمَا عليهم مِن خطورةٍ عظيمةٍ بعدم المبادرة إليه، وهي خطورةٌ تنالهم في عباداتهم وفي حياتهم في الدنيا وفي حياتهم في الآخرة؛ وذلك لأنّ كثيراً منهم يَدْخل عليه هذا المال
দ্বিতীয়ত: স্বামীর উদ্যোগে সমস্যার সমাধান:

বস্তুত এই বিষয়টি সংঘটিত হওয়ার ক্ষেত্রে, প্রথম এবং প্রধান সমাধান হলো এটি ঐ সকল স্বামীদের নিজেদের পক্ষ থেকেই শুরু হওয়া; সুতরাং তারা আল্লাহর নিকট ইস্তিগফার করবে এবং তাঁর নিকট তওবা করবে, আর যাদের প্রতি তারা জুলুম করেছে তাদের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করবে এবং অন্যায় ও শত্রুতা হেতু তারা যা গ্রহণ করেছে তা প্রত্যর্পণ করবে; (কেননা) তোমাদের জন্য কেবল তোমাদের মূলধনটুকুই প্রাপ্য, তোমরা জুলুম করবে না এবং তোমরা জুলুমের শিকার হবে না। আর এই স্বামীদের ক্ষেত্রে এই সমাধান ব্যতিরেকে অন্য কোনো সমাধান যথেষ্ট নয় এবং এটি ছাড়া তারা দায়মুক্ত হতে পারবে না; কেননা এতে উদ্যোগী না হওয়ার কারণে তাদের ওপর এক মহা বিপদের আশঙ্কা রয়েছে, যে বিপদ তাদের ইবাদত-বন্দেগিতে, পার্থিব জীবনে এবং পরকালীন জীবনেও প্রভাব ফেলবে; কারণ তাদের অনেকের নিকটই এই সম্পদ (এভাবে) প্রবেশ করে।
(খণ্ড: ১) আযওয়াজুম বিল কাযিব (পৃষ্ঠা: ২৬)
المأخوذ ظلماً في صيامه وفي صلاته وفي حجِّه وفي صدقاته وفيما يَنبُتُ عليه جسدُهُ؛ إذْ يَصْرف مِن هذا المال في كل ذلك شاء أم أبى؛ فعياذاً بالله مِن حالٍ كهذا.

وعلى مَن تُعلِّلُ له نفسُهُ بأُمْنِيَةِ أن يكون هذا المال حلالاً أن يَأتي بآيةٍ صريحةٍ بذلك، أو بحديث صحيحٍ صريح. وهيهات أن يَجِد في دين الإسلام ما يُسْعفه بهذا المطلب الظالم، أو بالظلمِ للمسلمين والمسلمات، بل إنه في الوقت الذي لا يَجِد فيه ما يُسْعفه بِطَلِبَتِهِ من آيات الكتاب العزيز والسنّة المطهرة؛ فإنّ الآيات والأحاديث تترى لبيان الحق اليقين بأنّ الظلم لا يَحِل لأحدٍ، وبأنّ أكل المال الحرام لا يَحِلُّ لأحدٍ، مهما كان صاحبُ هذا المال: غنياً أو فقيراً، قوياً أو ضعيفاً، رجلاً أو امرأةً!.

فالتوبةَ التوبةَ، أيها الناس، قبْل أن تؤخذوا بالحَوْبة؛ فيُغْلَق عليكم الباب، وتواجِهون الحساب.

وإذا قَدِرْتَ على الناس، فتذكَّر قدرةَ الله عليك، واعلمْ أنّ الله عليك أقدر، وأنه لا مفرّ لك منه سبحانه.
অন্যায়ভাবে লব্ধ সম্পদ তার সিয়াম, সালাত, হজ, সদকা এবং যার দ্বারা তার শরীর গঠিত হয়—সবকিছুর মধ্যেই নিহিত থাকে; কেননা সে ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায়, এই অর্থ থেকেই এসব ক্ষেত্রে ব্যয় করে। সুতরাং এ জাতীয় অবস্থা থেকে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

আর যার প্রবৃত্তি তাকে এই কামনায় প্রলুব্ধ করে যে এই সম্পদ হালাল হতে পারে, তাকে এর স্বপক্ষে একটি সুস্পষ্ট আয়াত অথবা একটি সহিহ (صحيح) ও সুস্পষ্ট হাদিস উপস্থাপন করতে হবে। আর এটি সুদূরপরাহত যে, সে ইসলাম ধর্মে এমন কিছু খুঁজে পাবে যা তার এই অন্যায় দাবিকে কিংবা মুসলিম নর-নারীর প্রতি জুলুমকে সমর্থন করবে। বরং মহান কিতাব ও পবিত্র সুন্নাহর কোথাও যখন সে তার কামনার সপক্ষে কোনো সাহায্যকারী দলিল পাবে না, তখন অকাট্য সত্য স্পষ্ট করার জন্য একের পর এক আয়াত ও হাদিস বিদ্যমান রয়েছে যে, জুলুম কারো জন্য বৈধ নয় এবং হারাম সম্পদ ভক্ষণ করা কারো জন্য হালাল নয়; চাই সেই সম্পদের মালিক ধনী হোক বা গরিব, শক্তিশালী হোক বা দুর্বল, পুরুষ হোক কিংবা নারী!

অতএব হে লোকসকল, তাওবা করুন, তাওবা করুন; পাপে পাকড়াও হওয়ার পূর্বেই। নতুবা আপনাদের ওপর তাওবার দরজা বন্ধ হয়ে যাবে এবং আপনারা হিসাবের সম্মুখীন হবেন।

আর যখন আপনি মানুষের ওপর ক্ষমতা লাভ করবেন, তখন আপনার ওপর আল্লাহর ক্ষমতার কথা স্মরণ করবেন; জেনে রাখুন যে, আল্লাহ আপনার ওপর অধিক শক্তিশালী এবং তাঁর পাকড়াও থেকে আপনার পালানোর কোনো পথ নেই।
(খণ্ড: ১) আযওয়াজুম বিল কাযিব (পৃষ্ঠা: ২৭)
وعلى الناس أنْ يُذَكِّروا كلَّ مَن وقَعَ في مثل هذا الإثم؛ فإنّ هذا مِن حقّه عليهم وحقِّ المسلمين جميعاً.

ولا شكَّ في أنّ أيّ زوجةٍ يَسرّها-وترضى-بأن يعود زوجها، الظالم لها، إلى الجادة، وتستمر حياتهما على الوئام والصفاء، في أُخوّةٍ لا ظُلْمَ معها.
মানুষের কর্তব্য হলো যারা এই রূপ পাপে লিপ্ত হয়েছে তাদের প্রত্যেককে স্মরণ করিয়ে দেওয়া; কেননা এটি তাদের ওপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এবং সকল মুসলিমের অধিকার।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, যেকোনো স্ত্রী এতে আনন্দিত ও সন্তুষ্ট হবেন যে তার প্রতি অবিচারকারী স্বামী সঠিক পথে ফিরে আসুক এবং তাদের জীবন সৌহার্দ্য ও নির্মলতার সাথে এমন এক ভ্রাতৃত্বের মাঝে অতিবাহিত হোক যেখানে কোনো জুলুম থাকবে না।
(খণ্ড: ১) আযওয়াজুম বিল কাযিব (পৃষ্ঠা: ২৭)
-‌‌ ثالثاً: الحل إذا لم يُبادِر الزوج:

- فإنْ لم يَفعل الأزواج، ولم يتوبوا؛ فإنّ الواجب على المظلوم أن لا يُقِرَّ الظلم، وأن يأخذ بالأسباب التي جعلها الله له للخروج مِن هذا الظلم، ومنها: البيان له والإيضاح والإفصاح، ومنها: مطالبته بالتي هي أحسنُ بالكف عن الظلم، ومنها: توثيق الحقوق، ومنها: الشكوى إلى مَن يُنصِف منه، ومنها: مخاصمته لدى القاضي، ومنها: الدعاء عليه، ودعوة المظلوم ليس بينها وبين الله حجاب!.

- وينبغي أن تَعْلم الزوجة منذ البداية أن الأمرَ يَعْنيها بالدرجة الأُولى، وأن الحل يَرجع إليها بالدرجة الأُولى كذلك، وتستطيع أن تقوم بما لا يستطيع سواها؛ فعليها
-‌‌ তৃতীয়ত: স্বামী যদি উদ্যোগী না হয় তবে সমাধান:

- যদি স্বামীরা তা না করে এবং তওবা না করে; তবে মজলুমের জন্য কর্তব্য হলো জুলুমকে মেনে না নেওয়া এবং এই জুলুম থেকে নিষ্কৃতির জন্য আল্লাহ তাআলা যে সকল উপায় নির্ধারণ করেছেন তা গ্রহণ করা। যার মধ্যে রয়েছে: তাকে বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানানো ও ব্যাখ্যা করা, উত্তম পন্থায় জুলুম থেকে বিরত থাকার দাবি জানানো, অধিকারসমূহ সুনিশ্চিত করা, এমন ব্যক্তির নিকট অভিযোগ পেশ করা যে ইনসাফ করতে পারে, বিচারকের নিকট মামলা দায়ের করা এবং তার বিরুদ্ধে দোয়া করা; আর মজলুমের দোয়ার মাঝে এবং আল্লাহর মাঝে কোনো অন্তরায় নেই!

- স্ত্রীর শুরু থেকেই জানা উচিত যে, বিষয়টি মুখ্যত তাকেই কেন্দ্র করে এবং এর সমাধানও একইভাবে প্রধানত তার ওপরই নির্ভর করে। সে এমন কিছু করতে সক্ষম যা অন্য কেউ পারে না; সুতরাং তার কর্তব্য হলো