(খণ্ড: ১)
আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি - দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: -)
آداب المشي إلى الصلاة - ضمن مؤلفات الشيخ محمد بن عبد الوهاب القسم: الفقه الحنبلي
الكتاب: آداب المشي إلى الصلاة (مطبوع ضمن مؤلفات الشيخ محمد بن عبد الوهاب، الجزء الثالث)
المؤلف: محمد بن عبد الوهاب بن سليمان التميمي النجدي (ت 1206 هـ)
قام بالتصحيح والمقابلة: على نسخة خطية بالمكتبة السعودية برقم 269/ 86 وعدة نسخ أخرى مطبوعة
عبدالكريم بن محمد اللاحم - ناصر بن عبد الله الطريم- سعود بن محمد البشر
الناشر: جامعة الإمام محمد بن سعود، الرياض، المملكة العربية السعودية
عدد الصفحات: 52
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
সালাতের অভিমুখে গমনের আদবসমূহ - শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত বিভাগ: হাম্বলি ফিকহ
কিতাব: সালাতের অভিমুখে গমনের আদবসমূহ (শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের রচনাবলির তৃতীয় খণ্ডের অন্তর্ভুক্ত মুদ্রিত)
লেখক: মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন সুলাইমান আত-তামিমি আন-নাজদি (মৃ. ১২০৬ হি.)
সংশোধন ও পাণ্ডুলিপি যাচাই করেছেন: সৌদি লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত ২৬৯/৮৬ নম্বর পাণ্ডুলিপি এবং অন্যান্য একাধিক মুদ্রিত সংস্করণের আলোকে
আব্দুল কারিম বিন মুহাম্মদ আল-লাহিম - নাসের বিন আব্দুল্লাহ আত-তুরাইম - সাউদ বিন মুহাম্মদ আল-বিশর
প্রকাশক: ইমাম মুহাম্মদ বিন সউদ বিশ্ববিদ্যালয়, রিয়াদ, সৌদি আরব
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি - দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ৩)
باب: آدب المشي إلى الصلاة…كتاب آداب المشي إلى الصلاة
تأليف: الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله تعالى
بسم الله الرحمن الرحيم
باب آداب المشي إلى الصلاة
يسن الخروج إليها متطهرا بخشوع لقوله صلى الله عليه وسلم: "إذا توضأ أحدكم فأحسن وضوءه، ثم خرج عامدا إلى المسجد، فلا يشبكن بين أصابعه فإنه في صلاة" 1 وأن يقول إذا خرج من بيته - ولو لغير الصلاة-: (بسم الله آمنت بالله، اعتصمت بالله، توكلت على الله ولا حول ولا قوة إلا بالله، اللهم إني أعوذ بك أن أضل أو أضل أو أزل أو أزل أو أظلم أو أظلم أو أجهل أو يجهل علي) .
وأن يمشي إليها بسكينة ووقار لقوله صلى الله عليه وسلم: "وإذا سمعتم الإقامة فامشوا وعليكم السكينة، فما أدركتم فصلوا وما فاتكم فاقضوا" 2 وأن يقارب بين خطاه ويقول: اللهم إني أسألك بحق 3 السائلين عليك وبحق ممشاي هذا فإني لم أخرج أشراً ولا بطرا ولا رياء ولا سمعة، خرجت اتقاء سخطك وابتغاء مرضاتك، أسألك أن تنقذني
--------------------------------------------
পরিচ্ছেদ: সালাতের উদ্দেশ্যে গমনের আদব...সালাতের উদ্দেশ্যে গমনের আদব বিষয়ক গ্রন্থ
রচনায়: শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
পরিচ্ছেদ: সালাতের উদ্দেশ্যে গমনের আদব
পবিত্র অবস্থায় খুশু বা বিনম্রতার সাথে সালাতের উদ্দেশ্যে বের হওয়া সুন্নাত। কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন সুন্দরভাবে ওযু করে, অতঃপর মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হয়, সে যেন তার আঙুলসমূহের একটির ভেতর অন্যটি না ঢুকায়, কেননা সে তখন সালাতরত অবস্থায় থাকে।" ১ এবং ঘর থেকে বের হওয়ার সময় সে যেন বলে—এমনকি সালাত ব্যতীত অন্য কাজের জন্য হলেও—: (আল্লাহর নামে, আমি আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছি, আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ করেছি, আল্লাহর ওপর ভরসা করেছি, আর আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই। হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি পথভ্রষ্ট হওয়া বা পথভ্রষ্ট করা থেকে, পদস্খলিত হওয়া বা পদস্খলিত করা থেকে, জুলুম করা বা জুলুমের শিকার হওয়া থেকে, এবং মূর্খতা প্রকাশ করা বা আমার সাথে মূর্খতা প্রদর্শন করা থেকে।)
আর সালাতের দিকে গাম্ভীর্য ও ধীরস্থিরতার সাথে চলতে হবে। কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যখন তোমরা ইকামাত শুনবে, তখন গাম্ভীর্যের সাথে হেঁটে যাবে। সালাতের যতটুকু অংশ তোমরা পাবে তা আদায় করবে, আর যা ছুটে যাবে তা পূর্ণ করবে।" ২ আর সে যেন তার কদমগুলো কাছাকাছি রাখে (ছোট ছোট কদমে চলে) এবং বলে: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আপনার কাছে প্রার্থনাকারীদের অধিকারের উসিলায় এবং আমার এই চলার অধিকারের উসিলায় প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই আমি কোনো দম্ভ, অহংকার, লৌকিকতা বা সুখ্যাতির জন্য বের হইনি; বরং আমি বের হয়েছি আপনার অসন্তুষ্টি থেকে বাঁচতে এবং আপনার সন্তুষ্টি লাভের আশায়। আমি আপনার নিকট প্রার্থনা করছি যেন আপনি আমাকে রক্ষা করেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি - দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ৪)
من النار وأن تغفر لي ذنوبي جميعا إنه لا يغفر الذنوب إلا أنت ويقول: (اللهم اجعل في قلبي نورا وفي لساني نوراً واجعل في بصري نورا وفي سمعي نورا وأمامي نورا وخلفي نورا وعن يميني نورا وعن شمالي نورا وفوفي نورا وتحتي نورا اللهم أعطني نورا) .
فإذا دخل المسجد استحب له أن يقدم رجله اليمنى ويقول: (بسم الله، أعوذ بالله العظيم وبوجهه الكريم وسلطانه القديم من الشيطان الرجيم. اللهم صل على محمد. اللهم اغفر لي ذنوبي وافتح لي أبواب رحمتك) . وعند خروجه يقدم رجله اليسرى ويقول: (وافتح لي أبواب فضلك) .
وإذا دخل المسجد فلا يجلس حتى يصلي ركعتين لقوله صلى الله عليه وسلم: "إذا دخل أحدكم المسجد فلا يجلس حتى يصلي ركعتين" 1. ويشتغل بذكر الله أو يسكت، ولا يخوض في حديث الدنيا فما دام كذلك فهو في صلاح والملائكة تستغفر له ما لم يؤذ أو يحدث.
--------------------------------------------
জাহান্নামের আগুন থেকে এবং আপনি আমার সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন, নিশ্চয় আপনি ব্যতীত কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না। আর সে বলবে: (হে আল্লাহ! আমার অন্তরে নূর দান করুন, আমার জিহ্বায় নূর দান করুন, আমার দৃষ্টিতে নূর দান করুন, আমার শ্রবণে নূর দান করুন, আমার সামনে নূর দান করুন, আমার পেছনে নূর দান করুন, আমার ডানে নূর দান করুন, আমার বামে নূর দান করুন, আমার উপরে নূর দান করুন এবং আমার নিচে নূর দান করুন। হে আল্লাহ! আমাকে নূর দান করুন)।
অতঃপর যখন সে মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন তার জন্য ডান পা আগে দেওয়া মুস্তাহাব এবং সে বলবে: (আল্লাহর নামে শুরু করছি। আমি মহান আল্লাহর কাছে এবং আল্লাহর সম্মানিত চেহারার নিকট ও তাঁর চিরন্তন রাজত্বের মাধ্যমে বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। হে আল্লাহ! মুহাম্মাদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিন এবং আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দিন)। আর মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় সে তার বাম পা আগে দিবে এবং বলবে: (এবং আমার জন্য আপনার অনুগ্রহের দরজাসমূহ খুলে দিন)।
আর যখন সে মসজিদে প্রবেশ করবে, তখন সে দুই রাকাত সালাত আদায় না করা পর্যন্ত বসবে না। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করে, তখন সে যেন দুই রাকাত সালাত আদায় না করা পর্যন্ত না বসে" ১। আর সে আল্লাহর জিকিরে মগ্ন থাকবে অথবা চুপ থাকবে, এবং দুনিয়াবি কথাবার্তায় লিপ্ত হবে না। যতক্ষণ সে এ অবস্থায় থাকবে ততক্ষণ সে সালাতের মধ্যেই গণ্য হবে এবং ফেরেশতারা তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে যতক্ষণ না সে কাউকে কষ্ট দেয় অথবা তার ওযু নষ্ট হয় (হাদাস ঘটে)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি - দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ৫)
باب صفة الصلاةيستحب أن يقوم إليها عند قول المؤذن: قد قامت الصلاة إن كان الإمام في المسجد وإلا إذا رآه، قيل للإمام أحمد قبل التكبير تقول شيئا؟ قال: لا، إذ لم ينقل عن النبي صلى الله عليه وسلم. ولا عن أحد من أصحابه، ثم يسوي الإمام الصفوف بمحاذاة المناكب والأكعب.
ويسن تكميل الصف الأول فالأول وتراص المأمومين وسد خلل الصفوف ويمنة كل صف أفضل، وقرب الأفضل من الإمام لقوله صلى الله عليه وسلم: "ليلني منكم أولو الأحلام والنهى" 1. وخير صفوف الرجال أولها وشرها آخرها وخير صفوف النساء آخرها وشرها أولها، ثم يقول وهو قائم مع القدرة: "الله أكبر" لا يجزئه غيرها، والحكمة في افتتاحها بذلك ليستحضر عظمة من يقوم بين يديه فيخشع. فإن مد همزة الله أو أكبر أو قال: إكبار لم تنعقد، والأخرس يحرم بقلبه ولا يحرك لسانه وكذا حكم القراءة والتسبيح وغيرهما.
ويسن جهر الإمام بالتكبير لقوله صلى الله عليه وسلم: "إذا كبر الإمام فكبروا" 2 وبالتسميع لقوله: "وإذا قال سمع الله لمن حمده فقولوا: ربنا ولك الحمد" 3.
--------------------------------------------
সালাতের পদ্ধতির পরিচ্ছেদমুয়াজ্জিন যখন ‘কাদ কামাতিস সালাহ’ বলবে, তখন সালাতের জন্য দাঁড়ানো মুস্তাহাব—যদি ইমাম মসজিদে উপস্থিত থাকেন; অন্যথায় তাঁকে দেখার সময় দাঁড়াবে। ইমাম আহমাদকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: তাকবীরের পূর্বে আপনি কি কিছু বলেন? তিনি বললেন: না, কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এমন কিছু বর্ণিত হয়নি এবং তাঁর সাহাবীদের কারো থেকেও নয়। এরপর ইমাম কাঁধ ও গোড়ালি বরাবর করে কাতারসমূহ সোজা করবেন।
প্রথম কাতার, অতঃপর তার পরের কাতার পূর্ণ করা সুন্নাত। সালাত আদায়কারীদের পরস্পরের সাথে মিলেমিশে দাঁড়ানো এবং কাতারের ফাঁক বন্ধ করাও সুন্নাত। প্রতিটি কাতারের ডান দিক উত্তম। আর ইমামের নিকটবর্তী হওয়া গুণী ব্যক্তিদের জন্য অধিক শ্রেয়; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের মধ্যে যারা বয়স্ক ও বুদ্ধিমান তারা যেন আমার নিকটবর্তী থাকে।" ১. পুরুষদের কাতারের মধ্যে সর্বোত্তম হলো প্রথমটি এবং সর্বাপেক্ষা মন্দ হলো শেষটি; আর নারীদের কাতারের মধ্যে সর্বোত্তম হলো শেষটি এবং সর্বাপেক্ষা মন্দ হলো প্রথমটি। অতঃপর সক্ষম ব্যক্তি দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় বলবে: "আল্লাহু আকবার"। এটি ব্যতীত অন্য কোনো শব্দে সালাত আদায় হবে না। এর মাধ্যমে সালাত শুরু করার হিকমত হলো, যাঁর সামনে সে দাঁড়িয়েছে তাঁর মহানুভবতা অন্তরে উপস্থিত করা, যাতে সে বিনয়ী হতে পারে। যদি সে "আল্লাহ" শব্দের হামযা অথবা "আকবার" শব্দের হামযা দীর্ঘ করে অথবা "ইকবার" বলে, তবে সালাত শুরু হবে না। আর বাকপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি মনে মনে ইহরাম বাঁধবে, সে তার জিহ্বা নাড়াবে না। কিরাত, তাসবীহ ও অন্যান্য বিষয়ের হুকুমও অনুরূপ।
ইমামের জন্য উচ্চস্বরে তাকবীর বলা সুন্নাত। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন ইমাম তাকবীর বলেন, তখন তোমরাও তাকবীর বলো।" ২. তেমনিভাবে তাসমী‘ উচ্চস্বরে বলাও সুন্নাত, তাঁর এই বাণীর কারণে: "যখন ইমাম বলেন: ‘আল্লাহ সেই ব্যক্তির কথা শুনেন যে তাঁর প্রশংসা করে’, তখন তোমরা বলো: ‘হে আমাদের রব, আপনার জন্যই সকল প্রশংসা’।" ৩.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি - দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ৬)
ويسر مأموم ومنفرد ويرفع يديه ممدودتي الأصابع مضمومة، ويستقبل ببطونهما القبلة إلى حذو منكبيه إن لم يكن عذر، ويرفعهما إشارة إلى كشف الحجاب بينه وبين ربه كما أن السبابة إشارة إلى الوحدانية، ثم يقبض كوعه الأيسر بكفه الأيمن ويجعلها تحت سرته ومعناه ذل بين يدي ربه (. ويستحب نظره إلى موضع سجوده في كل حالات الصلاة إلا في التشهد فينظر إلى سبابته.
ثم يستفتح سرا فيقول: (سبحانك اللهم وبحمدك) ومعنى سبحانك اللهم أي أنزهك التنزيه اللائق بجلالك يا الله. وقوله وبحمدك، قيل: معناه أجمع لك بين التسبيح والحمد. (وتبارك اسمك) أي البركة تتال بذكرك. (وتعالى جدك) أي جلت عظمتك. (ولا إله غيرك) أي لا معبود في الأرض ولا في السماء بحق سواك يا الله. ويجوز الاستفتاح بكل ما ورد.
ثم يتعوذ سرا فيقول: أعوذ بالله من الشيطان الرجيم، وكيفما تعوذ من الوارد فحسن. ثم يبسمل سرا، وليست من الفاتحة ولا غيرها، بل آية من القرآن قبلها وبين كل سورتين سوى براءة والأنفال. ويسن كتابتها أوائل الكتب كما كتبها سليمان عليه السلام، وكما كان النبي صلى الله عليه وسلم يفعل. وتذكر في ابتداء جميع الأفعال؛ وهي تطرد الشيطان. قال أحمد: لا تكتب أمام الشعر ولا معه.
ثم يقرأ الفاتحة مرتبة متوالية مشددة، وهي ركن في كل ركعة كما في الحديث: "لا صلاة لمن لا يقرأ بفاتحة الكتاب". وتسمى أم القرآن لأن فيها الإلهيات والمعاد والنبوات وإثبات القدر. فالآيتان الأوليان يدلان على الإلهيات، و (ومالك يوم الدين) يدل على المعاد. (إياك نعبد وإياك نستعين) يدل على الأمر والنهي والتوكل وإخلاص ذلك كله لله، وفيها التنبيه على طريق الحق وأهله والمقتدى بهم، والتنبيه على طريق الغي والضلال.
ويستحب أن يقف عند
মুক্তাদি এবং একাকী সালাত আদায়কারী চুপিচুপি (তাকবীর) পাঠ করবে এবং তার দুই হাত আঙ্গুলগুলো প্রসারিত ও মিলিত অবস্থায় উঠাবে। কোনো ওজর না থাকলে হাতের তালুদ্বয় কিবলার দিকে রেখে তার দুই কাঁধ বরাবর উঠাবে। হাত উঠানো হলো বান্দা ও তার রবের মধ্যবর্তী পর্দা উন্মোচনের ইঙ্গিত, যেমন তর্জনী আঙ্গুল হলো একত্বের ইঙ্গিত। এরপর সে তার ডান হাতের তালু দিয়ে বাম হাতের কব্জি ধরবে এবং তা নাভির নিচে রাখবে; এর অর্থ হলো তার রবের দুই হাতের সামনে বিনয় প্রকাশ করা। সালাতের সকল অবস্থায় সিজদাহর জায়গার দিকে তাকিয়ে থাকা মুস্তাহাব, তবে তাশাহহুদের সময় তর্জনী আঙ্গুলের দিকে তাকাবে।
তারপর চুপিচুপি ছানা পড়বে এবং বলবে: (হে আল্লাহ! আমি আপনার প্রশংসার সাথে আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি)। 'সুবহানাকা আল্লাহুম্মা' এর অর্থ হলো: হে আল্লাহ! আমি আপনার মহিমার উপযুক্ত পবিত্রতা দ্বারা আপনাকে পবিত্র ঘোষণা করছি। আর 'ওয়া বিহামদিকা' সম্পর্কে বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো আমি আপনার জন্য তাসবীহ ও হামদ (প্রশংসা) একত্রিত করছি। (আপনার নাম বরকতময়) অর্থাৎ আপনার যিকিরের মাধ্যমে বরকত অর্জিত হয়। (আপনার মহিমা অতি মহান) অর্থাৎ আপনার শ্রেষ্ঠত্ব সুমহান। (আপনি ছাড়া আর কোনো সত্য উপাস্য নেই) অর্থাৎ হে আল্লাহ! জমিনে ও আসমানে আপনি ছাড়া সত্য কোনো মা'বুদ নেই। বর্ণিত সকল প্রকার ছানা পাঠ করা জায়েজ।
এরপর চুপিচুপি আউযুবিল্লাহ পড়বে এবং বলবে: বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। বর্ণিত যেকোনো শব্দে আশ্রয় প্রার্থনা করা উত্তম। তারপর চুপিচুপি বিসমিল্লাহ পড়বে, এটি সূরা ফাতিহার অংশ নয় এবং অন্য কোনো সূরারও অংশ নয়। বরং এটি কুরআনের একটি আয়াত যা সূরার আগে এবং সূরা বারাআত ও আনফাল ব্যতীত প্রত্যেক দুই সূরার মাঝখানে (অবস্থিত)। চিঠিপত্রের শুরুতে বিসমিল্লাহ লেখা সুন্নাত, যেমনটি সুলাইমান আলাইহিস সালাম লিখেছিলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম করতেন। সকল কাজের শুরুতে এটি পাঠ করা হয়; এটি শয়তানকে বিতাড়িত করে। ইমাম আহমাদ বলেন: কবিতার শুরুতে বা কবিতার সাথে বিসমিল্লাহ লিখবে না।
এরপর ধারাবাহিকতা বজায় রেখে, বিরতিহীনভাবে এবং তাসদীদগুলো ঠিক রেখে সূরা ফাতিহা পাঠ করবে। এটি প্রত্যেক রাকাআতে একটি রুকন, যেমন হাদীসে এসেছে: "যে ব্যক্তি কিতাবের জননী (সূরা ফাতিহা) পাঠ করে না তার সালাত হয় না।" একে উম্মুল কুরআন বলা হয় কারণ এতে ইলাহিয়্যাত, পরকাল, নবুওয়াত এবং তাকদীর সাব্যস্ত করার বিষয় রয়েছে। প্রথম দুই আয়াত ইলাহিয়্যাতের প্রমাণ দেয় এবং (মালিকি ইয়াউমিদ্দীন) পরকালের প্রমাণ দেয়। (আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য চাই) আয়াতটি আদেশ, নিষেধ, তাওয়াক্কুল এবং এই সবকিছু আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করার প্রমাণ দেয়। এতে সত্য পথ ও সত্য পথের অনুসারী এবং যাদের অনুসরণ করা হয় তাদের প্রতি নির্দেশ করা হয়েছে এবং ভ্রষ্টতা ও গোমরাহীর পথ সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।
এবং মুস্তাহাব হলো যে, সে থামবে (প্রতিটি আয়াতের শেষে)।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি - দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ৭)
كل آية لقراءته صلى الله عليه وسلم. وهي أعظم سورة في القرآن، وأعظم آية فيه آية الكرسي وفيها إحدى عشرة تشديدة. ويكره الإفراط في التشديد والإفراط في المد، فإذا فرغ قال: آمين بعد سكتة لطيفة، ليعلم أنها ليست من القرآن، ومعناها: اللهم استجب، يجهر بها إمام ومأموم معا في صلاة جهرية، ويستحب سكوت الإمام بعدها في صلاة جهرية لحديث سمرة. ويلزم الجاهل تعلمها فإن لم يفعل مع القدرة لم تصح صلاته، ومن لم يحسن شيئا منها ولا من غيرها من القرآن لزمه أن يقول: "سبحان الله والحمد لله ولا إله إلا الله والله أكبر" لقوله صلى الله عليه وسلم: "إن كان معك قرآن فاقرأ، وإلا فاحمد الله وهلله وكبره ثم اركع" 1 رواه أبو داود والترمذي.
ثم يقرأ البسملة سرا، ثم يقرأ سورة كاملة ويجزي آية، إلا أن أحمد استحب أن تكون طويلة، فإن كان في غير الصلاة فإن شاء جهر بالبسملة وإن شاء أسر، وتكون السورة في الفجر من طوال المفصل، وأوله (ق) لقول أوس: "سألت أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم: كيف تحزبون القرآن؟ قالوا: ثلاثا، وخمسا وسبعا وتسعا، وإحدى عشرة وثلاث عشرة" وحزب المفصل واحد، ويكره أن يقرأ في الفجر من قصاره من غير عذر كسفر ومرض ونحوهما.
ويقرأ في المغرب من قصاره ويقرأ فيها بعض الأحيان من طواله لأنه صلى الله عليه وسلم قرأ فيها بالأعراف. ويقرأ في البواقي من أوساطه إن لم يكن عذر وإلا قرأ بأقصر منه. ولا بأس بجهر امرأة في الجهرية إذا لم يسمعها أجنبي. والمتنفل في الليل يراعي المصلحة، فإن كان قريبا منه من يتأذى بجهره أسر، وإن كان ممن يستمع له جهر، وإن أسر في جهر وجهر في سر، بنى على قراءته. وترتيب الآيات واجب لأنه بالنص، وترتيب السور بالاجتهاد
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পাঠের প্রতিটি আয়াত (পৃথক)। এটি কুরআনের মহানতম সূরা, আর এতে মহানতম আয়াত হলো আয়াতুল কুরসি, যার মধ্যে এগারোটি তাশদীদ রয়েছে। তাশদীদে বাড়াবাড়ি করা এবং মাদে (দীর্ঘ স্বরে) বাড়াবাড়ি করা মাকরূহ। যখন তিনি (পাঠ) শেষ করবেন, তখন একটি সামান্য বিরতির পর বলবেন: আমীন; যাতে জানা যায় যে এটি কুরআনের অংশ নয়। এর অর্থ হলো: হে আল্লাহ, কবুল করুন। সশব্দ নামাজে ইমাম এবং মুক্তাদি একত্রে এটি উচ্চস্বরে বলবেন। সামুরার হাদীসের কারণে সশব্দ নামাজে আমীন বলার পর ইমামের জন্য নীরব থাকা মুস্তাহাব। অজ্ঞ ব্যক্তির জন্য এটি শেখা আবশ্যক; যদি সে সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও তা না করে তবে তার নামাজ সহীহ হবে না। আর যে ব্যক্তি এর কিছুই এবং কুরআনের অন্য কিছুও ভালো করে জানে না, তার জন্য বলা আবশ্যক: "আল্লাহ অতি পবিত্র, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ"। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যদি তোমার সাথে কুরআন থাকে তবে তা পাঠ করো, অন্যথায় আল্লাহর প্রশংসা করো, তাঁর একত্ব ঘোষণা করো এবং তাঁর বড়ত্ব বর্ণনা করো, তারপর রুকু করো"। ১ এটি আবু দাউদ ও তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।
অতঃপর সংগোপনে বিসমিল্লাহ পাঠ করবেন, তারপর একটি পূর্ণ সূরা পাঠ করবেন, তবে একটি আয়াত পাঠ করলেও যথেষ্ট হবে। কিন্তু ইমাম আহমাদ তা দীর্ঘ হওয়াকে মুস্তাহাব বলেছেন। যদি নামাজের বাইরে হয় তবে চাইলে বিসমিল্লাহ উচ্চস্বরে পাঠ করবেন আর চাইলে সংগোপনে। ফজরের নামাজের সূরা হবে মুফাসসালের দীর্ঘ সূরাগুলো (তিওয়ালে মুফাসসাল) থেকে, যার শুরু হলো সূরা 'ক্বাফ' থেকে; আউসের উক্তির কারণে: "আমি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীদের জিজ্ঞেস করলাম: আপনারা কীভাবে কুরআনকে খণ্ডে খণ্ডে ভাগ করেন? তারা বললেন: তিন, পাঁচ, সাত, নয়, এগারো এবং তেরো (সূরার সমষ্টি)" আর মুফাসসাল খণ্ডটি একটি। সফর, অসুস্থতা বা অনুরূপ কোনো ওজর ব্যতীত ফজরের নামাজে মুফাসসালের ছোট সূরাগুলো পাঠ করা মাকরূহ।
আর মাগরিবের নামাজে এর (মুফাসসালের) ছোট সূরাগুলো পাঠ করবেন, তবে কখনো কখনো এর দীর্ঘ সূরাগুলোও পাঠ করবেন, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতে সূরা আল-আরাফ পাঠ করেছেন। আর বাকি নামাজগুলোতে ওজর না থাকলে এর মধ্যম সূরাগুলো পাঠ করবেন, অন্যথায় এর চেয়ে ছোট সূরা পাঠ করবেন। সশব্দ নামাজে কোনো পরপুরুষ না শুনলে নারীর উচ্চস্বরে পাঠ করাতে কোনো দোষ নেই। রাতে নফল নামাজ আদায়কারী মঙ্গলের দিকে লক্ষ্য রাখবেন; যদি তার নিকটবর্তী কেউ তার উচ্চস্বরে পাঠের কারণে কষ্ট পায় তবে তিনি সংগোপনে পাঠ করবেন, আর যদি কেউ শোনার মতো থাকে তবে উচ্চস্বরে পাঠ করবেন। যদি সশব্দ পাঠের স্থলে সংগোপনে আর সংগোপনে পাঠের স্থলে সশব্দে পাঠ করেন, তবে তিনি তার পাঠের ওপর ভিত্তি করেই নামাজ চালিয়ে যাবেন। আয়াতের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ওয়াজিব, কারণ তা সুস্পষ্ট বর্ণনা (নস) দ্বারা প্রমাণিত, আর সূরার ধারাবাহিকতা ইজতিহাদ দ্বারা নির্ধারিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি - দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ৮)
لا بالنص في قول جمهور العلماء فتجوز قراءة هذه، قبل هذه ولهذا تنوعت مصاحف الصحابة في كتابتها. وكره أحمد قراءة حمزة والكسائي، والإدغام الكبير لأبي عمرو. ثم يرفع يديه كرفعه الأول بعد فراغه من القراءة وبعد أن يثبت قليلا حتى يرجع إليه نفسه، ولا يصل قراءته بتكبير الركوع، ويكبر فيضع يديه مفرجتي الأصابع على ركبتيه ملقما كل يد ركبة، ويمد ظهره مستويا ويجعل رأسه حياله لا يرفعه ولا يخفضه، لحديث عائشة، ويجافي مرفقيه عن جنبيه لحديث أبي حميد، ويقول في ركوعه: سبحان ربي العظيم لحديث حذيفة رواه مسلم، وأدنى الكمال ثلاث، وأعلاه في حق الإمام عشر، وكذا حكم سبحان ربي الأعلى في السجود.
ولا يقرأ في الركوع والسجود لنهيه صلى الله عليه وسلم عن ذلك. ثم يرفع رأسه ويرفع يديه كرفعه الأول قائلا إمام ومنفرد: "سمع الله لمن حمده" وجوبا، ومعنى سمع: استجاب. فإذا استتم قائما قال: "ربنا ولك الحمد ملء السماوات والأرض وملء ما شئت من شيء بعد" وإن شاء زاد: "أهل الثناء والمجد أحق ما قال العبد وكلنا لك عبد، لا مانع لما أعطيت ولا معطي لما منعت ولا ينفع ذا الجد منك الجد". وله أن يقول غيره مما ورد. وإن شاء قال: "اللهم ربنا لك الحمد" بلا واو لوروده في حديث أبي سعيد وغيره.
فإن أدرك المأموم الإمام في هذا الركوع فهو مدرك للركعة. ثم يكبر ويخر ساجدا ولا يرفع يديه فيضع ركبته ثم يديه ثم وجهه، ويمكن جبهته وأنفه وراحتيه من الأرض، ويكون على أطراف أصابع رجليه موجها أطرافها إلى القبلة؛ والسجود على هذه الأعضاء السبعة ركن، ويستحب مباشرة المصلى ببطون كفيه وضم أصابعهما موجهة إلى القبلة غير مقبوضة، رافعا مرفقيه.
জমহুর (অধিকাংশ) আলিমদের মতে নস (সুস্পষ্ট দলীল) দ্বারা সাব্যস্ত নয়, তাই একটির আগে অন্যটি পাঠ করা বৈধ। এই কারণেই সাহাবীগণের মুসহাফসমূহের বিন্যাস ভিন্ন ভিন্ন ছিল। আর ইমাম আহমাদ হামযা ও কিসায়ীর ক্বিরাআত এবং আবু আমরের ইদগামে কাবীর অপছন্দ করেছেন। অতঃপর ক্বিরাআত শেষ করার পর এবং স্বাভাবিক নিশ্বাস ফিরে আসা পর্যন্ত সামান্য স্থির হওয়ার পর প্রথমবার হাত তোলার মতো করে হাত তুলবেন। তিনি তাঁর ক্বিরাআতকে রুকুর তাকবীরের সাথে মেলাবেন না। এরপর তাকবীর বলবেন এবং আঙুলগুলো প্রসারিত রেখে হাঁটুদ্বয়ের ওপর হাত রাখবেন, যেন প্রতিটি হাত দ্বারা হাঁটু আঁকড়ে ধরেন। তিনি তাঁর পিঠ সোজা করে প্রসারিত করবেন এবং মাথা পিঠের সমান্তরালে রাখবেন—তা উঁচুও করবেন না, আবার নিচুও করবেন না; আয়েশা (রাযি.)-এর হাদীসের কারণে। আর দুই কনুইকে দুই পার্শ্বদেশ থেকে পৃথক রাখবেন; আবু হুমাইদ (রাযি.)-এর হাদীসের কারণে। এবং রুকুতে বলবেন: 'আমার মহান রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি'; হুযাইফা (রাযি.)-এর হাদীসের কারণে যা মুসলিম বর্ণনা করেছেন। আর এর সর্বনিম্ন পূর্ণতা হলো তিনবার এবং ইমামের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দশবার। সিজদাহয় 'আমার সুউচ্চ রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি'-এর বিধানও অনুরূপ।
রুকু ও সিজদাহয় ক্বিরাআত পাঠ করবেন না, কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা থেকে নিষেধ করেছেন। অতঃপর মাথা উঠাবেন এবং প্রথমবার তোলার মতো হাত তুলবেন। ইমাম এবং একাকী সালাত আদায়কারী ওয়াজিব হিসেবে বলবেন: "আল্লাহ তাঁর প্রশংসা শ্রবণ করেছেন যিনি তাঁর প্রশংসা করেন।" আর 'সামিআ' (শুনেছেন) এর অর্থ হলো: 'কবুল করেছেন'। যখন সোজা হয়ে দাঁড়াবেন তখন বলবেন: "হে আমাদের রব, আপনার জন্যই সকল প্রশংসা—আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী পূর্ণ করে এবং এরপর আপনি যা চান তা পূর্ণ করে।" আর যদি চান তবে আরও বৃদ্ধি করে বলবেন: "আপনি প্রশংসা ও মর্যাদার যোগ্য, বান্দা যা বলে তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে সত্য কথা আর আমরা সবাই আপনারই বান্দা। আপনি যা দান করেছেন তা রদ করার কেউ নেই, আর আপনি যা নিষেধ করেছেন তা দান করার কেউ নেই। আর কোনো সম্পদশালীর সম্পদ আপনার পাকড়াও থেকে তাকে বাঁচাতে পারবে না।" বর্ণিত অন্যান্য দুআগুলো বলারও তাঁর সুযোগ রয়েছে। তিনি চাইলে "ওয়াও" ছাড়া "হে আল্লাহ, হে আমাদের রব, আপনার জন্যই সকল প্রশংসা"ও বলতে পারেন; কারণ এটি আবু সাঈদ (রাযি.) ও অন্যদের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
যদি মুক্তাদী এই রুকুতে ইমামকে পান, তবে তিনি রাকাতটি পেলেন। অতঃপর তাকবীর বলে সিজদাহয় লুটিয়ে পড়বেন এবং হাত উঠাবেন না। তিনি প্রথমে হাঁটু, এরপর দুই হাত, এরপর মুখমন্ডল রাখবেন। তিনি তাঁর কপাল, নাক এবং দুই হাতের তালু মাটির সাথে স্থিরভাবে স্থাপন করবেন। তিনি তাঁর দুই পায়ের আঙুলের ডগার ওপর থাকবেন এবং আঙুলের মাথাগুলো কিবলার দিকে মুখ করে রাখবেন। এই সাতটি অঙ্গের ওপর সিজদাহ করা রুকন। হাতের তালুর ভেতরের অংশ সরাসরি জায়নামাজে রাখা এবং আঙুলগুলো মুষ্টিবদ্ধ না করে কিবলার দিকে মিলিয়ে রাখা মুস্তাহাব, আর তিনি তাঁর দুই কনুই উপরে তুলে রাখবেন।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি - দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ৯)
وتكره الصلاة في مكان شديد الحر أو شديد البرد لأنه يذهب الخشوع، ويسن للساجد أن يجافي عضديه عن جنبيه وبطنه عن فخذيه وفخذيه عن ساقيه، ويضع يديه حذو منكبيه، ويفرق بين ركبتيه ورجليه.
ثم يرفع رأسه مكبرا ويجلس مفترشا يفرش رجله اليسرى ويجلس عليها وبنصب اليمنى ويخرجها من تحته، ويجعل بطون أصابعها إلى الأرض لتكون أطراف أصابعها إلى القبلة، لحديث أبي حميد في صفة صلاة النبي صلى الله عليه وسلم، باسطا يديه على فخذيه مضمومة الأصابع ويقول: "رب اغفر لي" ولا بأس بالزيادة لقول ابن عباس كان النبي صلى الله عليه وسلم يقول بين السجدتين: "رب اغفر لي وارحمني واهدني وارزقنى وعافني" 1 رواه أبو داود.
ثم يسجد الثانية كالأولى، وإن شاء دعا فيه لقوله صلى الله عليه وسلم "وأما السجود فأكثروا فيه من الدعاء، فقمن أن يستجاب لكم" 2 رواه مسلم، وله عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يقول في سجوده: "اللهم اغفر لي ذنبي كله، دقه وجله، وأوله وآخره، وعلانيته وسره" 3.
ثم يرفع رأسه مكبرا قائما على صدور قدميه معتمدا على ركبتيه لحديث وائل، إلا أن يشق لكبر أو مرض أو ضعف. ثم يصلي الركعة الثانية كالأولى إلا في تكبيرة الإحرام والاستفتاح ولو لم يأت به في الأولى، ثم يجلس للتشهد مفترشا جاعلا يديه على فخذيه، باسطا أصابع يسراه مضمومة مستقبلا بها القبلة، قابضا من يمناه الخنصر والبنصر، محلقا إبهامه مع وسطاه.
ثم يتشهد سرا، ويشير بسبابته اليمنى في تشهده إشارة إلى التوحيد، ويشير بها عند دعائه في صلاة وغيرها، لقول ابن الزبير: "كان النبي صلى الله عليه وسلم يشير بأصبعه إذا دعا ولا يحركها" 4 رواه أبو داود. فيقول: التحيات لله والصلوات والطيبات، السلام عليك أيها
--------------------------------------------
চরম গরম বা চরম ঠান্ডা স্থানে সালাত আদায় করা অপছন্দনীয়, কারণ এটি একাগ্রতা বিনষ্ট করে। সিজদাকারীর জন্য সুন্নাত হলো তার দুই বাহুকে দুই পার্শ্বদেশ থেকে, পেটকে দুই উরু থেকে এবং দুই উরুকে দুই নলা থেকে পৃথক রাখা। সে তার দুই হাত কাঁধ বরাবর রাখবে এবং দুই হাঁটু ও দুই পায়ের মধ্যে ফাঁকা রাখবে।
অতঃপর তাকবির বলে মাথা উঠাবে এবং ইফতিরাশ অবস্থায় বসবে; অর্থাৎ সে তার বাম পা বিছিয়ে দেবে এবং তার ওপর বসবে, আর ডান পা খাড়া রাখবে এবং তা নিজের নিচ থেকে বের করে আনবে। সে পায়ের আঙুলের পেট মাটির দিকে রাখবে যাতে আঙুলের অগ্রভাগ কিবলামুখী থাকে; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সালাতের বর্ণনা সম্বলিত আবু হুমাইদের হাদিসের কারণে। সে তার দুই হাত দুই উরুর ওপর আঙুলগুলো মিলিয়ে রেখে প্রসারিত করবে এবং বলবে: "হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন"। এতে শব্দ বৃদ্ধি করাতে কোনো সমস্যা নেই, কারণ ইবনে আব্বাসের বর্ণনায় এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুই সিজদার মাঝে বলতেন: "হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন, আমার ওপর দয়া করুন, আমাকে হিদায়াত দিন, আমাকে রিজিক দান করুন এবং আমাকে সুস্থতা দান করুন।" ১ আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন।
অতঃপর প্রথম সিজদার মতোই দ্বিতীয় সিজদা করবে। চাইলে তাতে দোয়া করবে, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "আর সিজদার মধ্যে তোমরা বেশি বেশি দোয়া করো, কেননা তা কবুল হওয়ার উপযুক্ত।" ২ মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন। আর মুসলিমেই আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সিজদায় বলতেন: "হে আল্লাহ, আমার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দিন—তার সূক্ষ্ম ও স্থূল, প্রথম ও শেষ এবং প্রকাশ্য ও গোপন।" ৩।
অতঃপর তাকবির বলে মাথা উঠিয়ে পায়ের সামনের অংশের ওপর ভর করে এবং হাঁটুর ওপর নির্ভর করে দাঁড়াবে—ওয়াইলের হাদিসের কারণে; তবে বার্ধক্য, অসুস্থতা বা দুর্বলতার কারণে কষ্টসাধ্য হলে ভিন্ন কথা। এরপর দ্বিতীয় রাকাত প্রথম রাকাতের মতোই পড়বে, তবে তাকবিরে তাহরিমা এবং ইস্তিফতাহ (সানা) ব্যতীত, যদিও সে প্রথম রাকাতে তা না পড়ে থাকে। এরপর তাশাহহুদের জন্য ইফতিরাশ অবস্থায় বসবে এবং দুই হাত দুই উরুর ওপর রাখবে। বাম হাতের আঙুলগুলো মিলিত অবস্থায় কিবলামুখী করে প্রসারিত রাখবে। আর ডান হাতের কনিষ্ঠা ও অনামিকা আঙুল মুষ্টিবদ্ধ করবে এবং বৃদ্ধাঙ্গুলিকে মধ্যমার সাথে বৃত্তাকার করবে।
অতঃপর নীরবে তাশাহহুদ পড়বে এবং তাশাহহুদে তাওহিদের ইঙ্গিত হিসেবে ডান হাতের তর্জনী দিয়ে ইশারা করবে। সালাত ও সালাতের বাইরে দোয়ার সময় এটি দিয়ে ইশারা করবে, ইবনুল জুবাইরের বর্ণনার কারণে যে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন দোয়া করতেন তখন তাঁর আঙুল দিয়ে ইশারা করতেন এবং তা নাড়াতেন না।" ৪ আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন। সে বলবে: সমস্ত অভিবাদন আল্লাহর জন্য, সমস্ত সালাত ও সমস্ত পবিত্রতা আল্লাহর জন্য। হে নবী, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি - দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ১০)
النبي ورحمة الله وبركاته السلام علينا وعلى عباد الله الصالحين، أشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمدا عبده ورسوله، وأي تشهد تشهده مما صح عن النبي صلى الله عليه وسلم جاز، والأولى تخفيفه وعدم الزيادة عليه وهذا التشهد الأول.
ثم إن كانت الصلاة ركعتين فقط صلى على النبي صلى الله عليه وسلم فيقول: اللهم صل على محمد وعلى آل محمد كما صليت على آل إبراهيم إنك حميد مجيد، وبارك على محمد وعلى آل محمد كما باركت على آل إبراهيم إنك حميد مجيد. ويجوز أن يصلي على النبي صلى الله عليه وسلم مما ورد. وآل محمد أهل بيته وقوله: "التحيات" أي جميع التحيات لله تعالى استحقاقا وملكا، "والصلوات" الدعوات "والطيبات" الأعمال الصالحة، فهو سبحانه يُحَيَّى ولا يُسَلَّم عليه لأن السلام دعاء.
وتجوز الصلاة على غير النبي صلى الله عليه وسلم منفردا إذا لم يكثر ولم تتخذ شعارا لبعض الناس، أو يقصد بها بعض الصحابة دون بعض. وتسن الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم في غير الصلاة، وتتأكد تأكدا كثيرا عند ذكره، وفي يوم الجمعة وليلتها. ويسن أن يقول: "اللهم إني أعوذ بك من عذاب جهنم، ومن عذاب القبر. وأعوذ بك من فتنة المحيا والممات، وأعوذ بك من فتنة المسيح الدجال" وإن دعا بغير ذلك مما ورد فحسن. لقوله صلى الله عليه وسلم: "ثم يتخير من الدعاء أعجبه إليه" 1 ما لم يشق على المأموم.
ويجوز الدعاء لشخص معين لفعله صلى الله عليه وسلم في دعائه للمستضعفين بمكة، ثم يسلم وهو جالس، مبتدئا عن يمينه قائلا. "السلام عليكم ورحمة الله" وعن يساره كذلك. والالتفات سنة، ويكون عن يساره أكثر بحيث يرى خده. ويجهر إمام بالتسليمة الأولى فقط ويسرهما غيره، ويسن حذفه وهو عدم تطويله أي لا يمد به صوته، وينوي
--------------------------------------------
নবী এবং আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকতসমূহ। আমাদের ওপর এবং আল্লাহর নেক বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সহীহভাবে বর্ণিত যে কোনো তাশাহহুদ পাঠ করা বৈধ। তবে তা সংক্ষেপ করা এবং এর ওপর বৃদ্ধি না করা উত্তম এবং এটিই প্রথম তাশাহহুদ।
অতঃপর যদি সালাত কেবল দুই রাকাতের হয়, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠ করবেন এবং বলবেন: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর দরুদ বর্ষণ করুন, যেমন আপনি ইব্রাহীমের পরিবারের ওপর দরুদ বর্ষণ করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। আর আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর বরকত দান করুন, যেমন আপনি ইব্রাহীমের পরিবারের ওপর বরকত দান করেছেন। নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর বর্ণিত যে কোনো দরুদ পাঠ করা বৈধ। আর মুহাম্মাদের পরিবার বলতে তাঁর আহলে বাইত বা পরিজন উদ্দেশ্য। তাঁর উক্তি: "আত-তাহিয়্যাত" এর অর্থ হলো মর্যাদা ও মালিকানা হিসেবে যাবতীয় অভিবাদন আল্লাহ তাআলার জন্য প্রাপ্য। আর "আস-সালাওয়াত" অর্থ সকল দুআ। এবং "আত-তয়্যিবাত" অর্থ হলো নেক আমলসমূহ। সুতরাং মহান আল্লাহকে সম্মান প্রদর্শন করা হয়, কিন্তু তাঁর ওপর "সালাম" পেশ করা হয় না, কারণ সালাম হলো একটি দুআ।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছাড়া অন্য কারো ওপর এককভাবে দরুদ পাঠ করা বৈধ যদি তা খুব বেশি না হয় এবং একদল মানুষের জন্য স্বতন্ত্র প্রতীক হিসেবে গ্রহণ না করা হয়, অথবা কোনো নির্দিষ্ট সাহাবীকে উদ্দেশ্য করে অন্যদের বাদ দিয়ে না করা হয়। সালাত ছাড়াও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ওপর দরুদ পাঠ করা সুন্নত এবং তাঁর নাম উল্লেখ করার সময় এবং জুমার দিন ও রাতে তা পাঠ করার তাকিদ অত্যধিক। আর এটি বলা সুন্নত: "হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট জাহান্নামের আজাব থেকে এবং কবরের আজাব থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আর আমি আপনার নিকট জীবন ও মরণের ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি এবং আপনার নিকট মাসীহ দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" এছাড়া বর্ণিত অন্যান্য দুআগুলোর মাধ্যমে দুআ করলেও তা উত্তম। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "অতঃপর সে দুআসমূহের মধ্য থেকে তার নিকট অধিক পছন্দনীয়টি বেছে নিবে।" ১ যতক্ষণ না তা মুক্তাদীর জন্য কষ্টসাধ্য হয়।
নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির জন্য দুআ করা বৈধ, কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কার অসহায়দের জন্য দুআ করেছিলেন। অতঃপর তিনি বসে থাকা অবস্থায় সালাম ফিরাবেন, নিজের ডান দিক থেকে শুরু করে বলবেন: "আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ" এবং বাম দিকেও তদ্রূপ। মুখ ফিরানো সুন্নত, এবং বাম দিকে ফিরানো অধিক হবে যাতে তার গাল দেখা যায়। ইমাম কেবল প্রথম সালামটি উচ্চস্বরে দেবেন এবং অন্যরা উভয়টি নিচু স্বরে দেবেন। সালাম দ্রুত শেষ করা সুন্নত অর্থাৎ তা দীর্ঘ না করা বা আওয়ায টেনে লম্বা না করা। এবং নিয়ত করবেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি - দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ১১)
به الخروج من الصلاة، وينوي أيضا السلام على الحفظة وعلى الحاضرين.
وإن كانت الصلاة أكثر من ركعتين نهض مكبرا على صدور قدميه إذا فرغ من التشهد الأول، ويأتي بما بقى من صلاته كما سبق، إلا أنه لا يجهر ولا يقرا شيئا بعد الفاتحة، فإن فعل لم يكره.
ثم يجلس في التشهد الثاني متوركا يفرش رجله اليسرى وينصب اليمنى ويخرجهما عن يمينه، ويجعل إليته على الأرض، فيأتي بالتشهد الأول، ثم بالصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم، ثم بالدعاء، ثم يسلم. وينحرف الإمام إلى المأمومين على يمينه أو على شماله، ولا يطيل الإمام الجلوس بعد السلام مستقبل القبلة. ولا ينصرف المأموم قبله لقوله صلى الله عليه وسلم: "إني إمامكم فلا تسبقوني بالركوع ولا بالسجود ولا بانصراف" 1. فإن صلى معهم نساء انصرف النساء وثبت الرجال قليلا لئلا يدركوا من انصرف منهن.
ويسن ذكر الله والدعاء والاستغفار عقب الصلاة فيقول: استغفر الله – ثلاثا، ثم يقول: "اللهم أنت السلام ومنك السلام، تباركت يا ذا الجلال والإكرام. لا إله إلا الله وحده لا شريك له، له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير، ولا حول ولا قوة إلا بالله. لا إله إلا الله، ولا نعبد إلا إياه، له النعمة وله الفضل، وله الثناء الحسن. لا إله إلا الله مخلصين له الدين ولو كره الكافرون. "اللهم لا مانع لما أعطيت، ولا معطي لما منعت ولا ينفع ذا الجد منك الجد".
ثم يسبح ويحمد ويكبر كل واحدة ثلاثا وثلاثين، ويقول تمام المائة: "لا إله إلا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير". ويقول بعد صلاة الفجر وصلاة المغرب قبل أن يكلم أحدا من الناس: "اللهم أجرني من النار" سبع مرات. والإسرار بالدعاء أفضل، وكذا بالدعاء المأثور، ويكون بتأدب وخشوع وحضور قلب ورغبة ورهبة لحديث:
--------------------------------------------
এর মাধ্যমে সালাত থেকে বের হবে এবং হিফাযতকারী ফেরেশতাগণ ও উপস্থিতদের ওপর সালাম দেওয়ার নিয়ত করবে।
আর যদি সালাত দুই রাকাআতের বেশি হয়, তবে প্রথম তাশাহহুদ শেষ করার পর পায়ের পাতার সম্মুখভাগের ওপর ভর দিয়ে তাকবীর বলতে বলতে দাঁড়িয়ে যাবে। সালাতের অবশিষ্ট অংশ পূর্বের ন্যায় আদায় করবে, তবে সে উচ্চস্বরে পড়বে না এবং ফাতিহার পর অতিরিক্ত কিছু পড়বে না; তবে পড়লে তা অপছন্দনীয় হবে না।
অতঃপর দ্বিতীয় তাশাহহুদের জন্য ‘তাওয়াররুক’ পদ্ধতিতে বসবে; অর্থাৎ সে তার বাম পা বিছিয়ে দিবে এবং ডান পা খাড়া রাখবে এবং উভয় পা তার ডান দিক দিয়ে বের করে দিবে এবং নিজের নিতম্ব মাটির ওপর রাখবে। অতঃপর প্রথম তাশাহহুদ পাঠ করবে, এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরূদ পড়বে, এরপর দুআ করবে এবং সালাম ফিরাবে। আর ইমাম তার ডানে অথবা বামে মুক্তাদীদের দিকে ঘুরে বসবেন। ইমাম সালামের পর কিবলামুখী হয়ে বেশিক্ষণ বসে থাকবেন না। আর মুক্তাদী তাঁর আগে চলে যাবে না; কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের ইমাম, সুতরাং তোমরা রুকু, সাজদাহ কিংবা চলে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমার আগে যেও না।” ১। যদি তাদের সাথে মহিলারা সালাত আদায় করে, তবে মহিলারা আগে চলে যাবে এবং পুরুষরা কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবে, যাতে তারা চলে যাওয়া মহিলাদের সাথে মিশে না যায়।
সালাতের পর আল্লাহর যিকির, দুআ ও ইস্তিগফার করা সুন্নাত। সুতরাং সে বলবে: ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ (আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি) - তিনবার। অতঃপর বলবে: “হে আল্লাহ! আপনিই শান্তিময় এবং আপনার থেকেই শান্তি আসে। আপনি বরকতময়, হে মহিমা ও সম্মানের অধিকারী। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা মাত্রই তাঁর; আর তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান। আল্লাহ ছাড়া কোনো পরিবর্তনকারী ও শক্তিদাতা নেই। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমরা কেবল তাঁরই ইবাদত করি। নেয়ামত ও অনুগ্রহ তাঁরই এবং উত্তম প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য। আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই; আমরা তাঁর দ্বীনের প্রতি একনিষ্ঠ যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে। হে আল্লাহ! আপনি যা দান করেন তা রোধ করার কেউ নেই, আর আপনি যা রোধ করেন তা দান করার কেউ নেই। আর কোনো সামর্থ্যবানের সামর্থ্য আপনার পাকড়াও থেকে তাকে রক্ষা করতে পারবে না।”
এরপর তেত্রিশ বার সুবহানাল্লাহ, তেত্রিশ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং তেত্রিশ বার আল্লাহু আকবার বলবে এবং একশত পূর্ণ করতে বলবে: “আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। রাজত্ব তাঁরই এবং প্রশংসা মাত্রই তাঁর; আর তিনি সব কিছুর ওপর ক্ষমতাবান।” আর ফজর ও মাগরিবের সালাতের পর কারো সাথে কথা বলার আগে সাতবার বলবে: “হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন।” আর নিভৃতে দুআ করা উত্তম, অনুরূপভাবে বর্ণিত মাসনূন দুআসমূহ পাঠ করাও উত্তম। আর তা হতে হবে আদব, বিনয়, একাগ্রতা, আগ্রহ ও ভীতির সাথে; কারণ হাদীসে এসেছে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি - দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ১২)
"لا يستجاب الدعاء من قلب غافل" ويتوسل بالأسماء والصفات والتوحيد، ويتحرى أوقات الإجابة، وهي ثلث الليل الآخر، وبين الأذان والإقامة، وإدبار الصلاة المكتوبة، وآخر ساعة يوم الجمعة. وينتظر الإجابة ولا يعجل فيقول: قد دعوت ودعوت فلم يستحب لي. ولا يكره أن يخص نفسه إلا في دعاء يؤمن عليه، ويكره رفع الصوت.
ويكره في الصلاة التفات يسير، ورد بصره إلى السماء، وصلاته إلى صورة منصوبة أو إلى وجه آدمي، واستقبال نار ولو سراجا، وافتراش ذراعيه في السجود. ولا يدخل فيها وهو حاقن أو حاقب أو بحضرة طعام يشتهيه، بل يؤخرها ولو فاتته الجماعة. ويكره مس الحصى، وتشبيك أصابعه، واعتماده على يديه في جلوس، ولمس لحيته، وعقص شعره، وكف ثوبه. وإن تثاءب كظم ما استطاع، فإن غلبه وضع يده في فمه. ويكره تسوية التراب بلا عذر. ويرد المار بين يديه ولو بدفعه، آدميا كان المار أو غيره، فرضا كانت الصلاة أو نفلا؛ فإن أبى فله قتاله ولو مشى يسيرا.
ويحرم المرور بين المصلِّي وبين سترته وبين يديه إن لم يكن له سترة، وله قتل حية وعقرب وقملة، وتعديل ثوب وعمامة، وحمل شيء ووضعه. وله إشارة بيد ووجه وعين لحاجة.
ولا يكره السلام على المصلي وله رده بالإشارة ويفتح على أمامه إذا أُرتج عليه أو غلط، وإن نابه شيء في صلاته سبح رجل وصفقت امرأة. وإن بدره بصاق أو مخاط وهو في المسجد بصق في ثوبه وفي غير المسجد عن يساره، ويكره أن يبصق قدامه أو عن يمينه.
وتكره صلاة غير مأموم إلى غير سترة ولو لم يخش مارا، من جدار أو شيء شاخص كحربة أو غير ذلك مثل آخرة الرحل، ويسن أن يدنو منها
"গাফিল হৃদয়ের দোয়া কবুল হয় না।" এবং আল্লাহর নামসমূহ, গুণাবলি ও তাওহীদের ওসিলায় দোয়া করবে। দোয়া কবুলের সময়গুলো অন্বেষণ করবে, আর সেগুলো হলো: রাতের শেষ তৃতীয়াংশ, আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়, ফরজ সালাতসমূহের পর এবং জুমার দিনের শেষ মুহূর্ত। সে কবুলের অপেক্ষা করবে এবং তাড়াহুড়া করবে না—এই বলে যে: "আমি অনেক দোয়া করেছি, কিন্তু আমার দোয়া কবুল হয়নি।" কেবল নিজের জন্য দোয়া করা মাকরূহ নয়, তবে এমন দোয়ার ক্ষেত্রে মাকরূহ যাতে অন্যেরা 'আমীন' বলে। আর উচ্চস্বরে শব্দ করা মাকরূহ।
সালাতে সামান্য এদিক-ওদিক তাকানো, আকাশের দিকে দৃষ্টি উত্তোলন করা, কোনো স্থাপিত ছবি কিংবা মানুষের চেহারার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করা মাকরূহ। আগুনের দিকে মুখ করাও মাকরূহ, এমনকি তা প্রদীপ হলেও। সিজদাহ করার সময় দুই বাহু বিছিয়ে দেওয়া মাকরূহ। মল-মূত্রের বেগ থাকা অবস্থায় কিংবা পছন্দনীয় খাবার উপস্থিত থাকা অবস্থায় সালাতে প্রবেশ করবে না; বরং সালাতকে বিলম্বিত করবে যদিও জামাআত ছুটে যায়। কাঁকর স্পর্শ করা, আঙুল ফোটানো বা আঙুলে আঙুল ঢোকানো, বসা অবস্থায় দুই হাতের ওপর ভর দেওয়া, দাড়ি স্পর্শ করা, চুল বেঁধে রাখা এবং কাপড় গুটিয়ে রাখা মাকরূহ। হাই আসলে সাধ্যমতো তা দমন করবে, আর যদি তা প্রবল হয় তবে হাত মুখের ওপর রাখবে। ওজর ছাড়া মাটি সমান করা মাকরূহ। সালাতরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে অতিক্রমকারীকে প্রতিহত করবে যদিও তাকে ধাক্কা দিতে হয়, অতিক্রমকারী মানুষ হোক বা অন্য কিছু, সালাত ফরজ হোক বা নফল। যদি সে অস্বীকার করে, তবে তার সাথে লড়াই করার (তীব্র প্রতিরোধ করার) অবকাশ আছে যদিও তাকে সামান্য হাঁটতে হয়।
মুসল্লি এবং তার সুতরার মাঝখান দিয়ে অথবা সুতরা না থাকলে তার সামনে দিয়ে অতিক্রম করা হারাম। সালাত অবস্থায় সাপ, বিচ্ছু ও উকুন মারা, কাপড় ও পাগড়ি ঠিক করা এবং কোনো কিছু বহন করা বা রাখা বৈধ। প্রয়োজনবোধে হাত, মুখমণ্ডল ও চোখের ইশারায় ইঙ্গিত করাও তার জন্য বৈধ।
মুসল্লিকে সালাম দেওয়া মাকরূহ নয় এবং সে ইশারার মাধ্যমে এর উত্তর দিতে পারে। ইমামের কিরাত আটকে গেলে বা ভুল করলে তাকে সংশোধন করে দেবে। সালাতে কোনো বিষয়ের উদ্ভব হলে পুরুষ 'সুবহানাল্লাহ' বলবে এবং নারী হাত তালি দেবে। যদি থুতু বা শ্লেষ্মা আসে এবং সে মসজিদে থাকে, তবে নিজের কাপড়ে ফেলবে; আর মসজিদের বাইরে থাকলে বাম দিকে ফেলবে। সামনের দিকে বা ডান দিকে থুতু ফেলা মাকরূহ।
মুক্তাদি ব্যতীত অন্যের জন্য সুতরা ছাড়া সালাত আদায় করা মাকরূহ, যদিও সামনে দিয়ে কেউ অতিক্রম করার আশঙ্কা না থাকে। সুতরা দেয়াল হতে পারে কিংবা কোনো দণ্ডায়মান বস্তু যেমন বর্শা বা হাওদার পেছনের কাঠের মতো কোনো কিছু। সুতরার নিকটবর্তী হওয়া সুন্নাত।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি - দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ১৩)
لقوله: صلى الله عليه وسلم "إذا صلى أحدكم فليصل إلى سترة ويدن منها" 1 وينحرف عنها يسيرا لفعله صلى الله عليه وسلم. وإن تعذر خط خطا، وإذا مر من ورائها شيء لم يكره، فإن لم يكن سترة أو مر بينه وبينها امرأة أو كلب أو حمار بطلت صلاته.
وله قراءة في المصحف والسؤال عند آية الرحمة والتعوذ عند آية العذاب.
والقيام ركن في الفرض لقوله تعالى: {وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ} 2 إلا العاجز أو عريان أو خائف أو مأموم خلف إمام الحي العاجز عنه. وإن أدرك الإمام في الركوع فبقدر التحريمة.
وتكبيرة الإحرام ركن، وكذا قراءة الفاتحة على الإمام والمنفرد، وكذا الركوع لقوله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا ارْكَعُوا وَاسْجُدُوا} 3 وعن أبي هريرة رضي الله عنه "أن رجلا دخل المسجد فصلى ثم جاء إلى النبي صلى الله عليه وسلم فسلم عليه. قال له: ارجع فصلِّ فإنك لم تصلّ. فعلها ثلاثا. فقال: والذي بعثك بالحق نبيا لا أحسن غير هذا فعلمني. قال له النبي صلى الله عليه وسلم: إذا قمت إلى الصلاة فكبر، ثم اقرأ ما تيسر معك من القرآن، ثم اركع حتى تطمئن راكعا، ثم ارفع حق تعتدل قائما، ثم اسجد حتى تطمئن ساجدا، ثم اجلس حتى تطمئن جالسا. ثم افعل ذلك في صلاتك كلها" رواه الجماعة. فدل على أن المسمى في هذا الحديث لا يسقط بحال؛ إذ لو سقطت لسقطت عن هذا الأعرابي الجاهل.
--------------------------------------------
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর কারণে: "তোমাদের কেউ যখন সালাত আদায় করে, সে যেন সুতরাহ সামনে রেখে সালাত আদায় করে এবং তার নিকটবর্তী হয়" ১ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্মের কারণে সুতরাহ থেকে সামান্য একপাশে সরে দাঁড়াবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তবে একটি রেখা টানবে। সুতরাহর ওপাশ দিয়ে কোনো কিছু অতিক্রম করলে তা অপছন্দনীয় হবে না। কিন্তু যদি সুতরাহ না থাকে অথবা তার ও সুতরাহর মাঝখান দিয়ে কোনো নারী, কুকুর বা গাধা অতিক্রম করে, তবে তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে।
তার জন্য মুসহাফ (কুরআন) দেখে পাঠ করা এবং রহমতের আয়াতের নিকট প্রার্থনা করা ও আযাবের আয়াতের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা বৈধ।
ফরয সালাতে দাঁড়ানো একটি রুকন; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {এবং তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিনীতভাবে দাঁড়াও} ২ তবে অক্ষম ব্যক্তি, বস্ত্রহীন, ভীত ব্যক্তি অথবা এমন স্থায়ী ইমামের পিছনে ইকতিদাকারী যে ইমাম নিজে দাঁড়াতে অক্ষম—তাদের জন্য ব্যতিক্রম। আর যদি কেউ ইমামকে রুকু অবস্থায় পায়, তবে (দাঁড়ানোর পরিমাণ হবে) কেবল তাকবীরে তাহরীমার সময়টুকু পর্যন্ত।
তাকবীরে তাহরীমা একটি রুকন, অনুরূপভাবে ইমাম ও একাকী সালাত আদায়কারীর ওপর সূরা ফাতিহা পাঠ করা এবং রুকু করাও রুকন; মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {হে মুমিনগণ! তোমরা রুকু করো ও সিজদাহ করো} ৩ আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, "এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে সালাত আদায় করল, তারপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে তাঁকে সালাম দিল। তিনি তাঁকে বললেন: ফিরে যাও এবং সালাত আদায় করো, কেননা তুমি সালাত আদায় করোনি। এভাবে তিনি তিনবার করলেন। তখন সে বলল: সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্যসহ নবী হিসেবে পাঠিয়েছেন! আমি এর চেয়ে উত্তম কিছু জানি না, তাই আমাকে শিক্ষা দিন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: যখন তুমি সালাতে দাঁড়াবে তখন তাকবীর দেবে, তারপর কুরআনের যা তোমার জন্য সহজ হয় তা পাঠ করবে। এরপর রুকু করবে যতক্ষণ না রুকুতে স্থির হও। তারপর মাথা উঠাবে যতক্ষণ না সোজা হয়ে দাঁড়াও। এরপর সিজদাহ করবে যতক্ষণ না সিজদাহয় স্থির হও। এরপর মাথা উঠাবে যতক্ষণ না স্থিরভাবে বসো। তারপর তোমার পুরো সালাতে এভাবেই করো।" এটি জামাআত (প্রধান হাদীস সংকলকগণ) বর্ণনা করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, এই হাদীসে যা নামত উল্লেখ করা হয়েছে তা কোনো অবস্থাতেই বাদ পড়বে না; কারণ যদি তা বাদ পড়ার মতো হতো, তবে এই অজ্ঞ বেদুঈনের ক্ষেত্রে তা বাদ দেওয়া হতো।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি - দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ১৪)
والطمأنينة في هذه الأفعال ركن لما تقدم. "ورأى حذيفة رجلا لا يتم ركوعه ولا سجوده فقال له: ما صليت، ولو مت لمت على غير فطرة الله التي فطر عليها محمدا صلى الله عليه وسلم".
والتشهد الأخير ركن لقول ابن مسعود: "كنا نقول قبل أن يفرض علينا التشهد: السلام على الله، السلام على جبريل وميكائيل، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: لا تقولوا هكذا، ولكن قولوا التحيات لله" 1 رواه النسائي، ورواته ثقات.
والواجبات التي تسقط سهوا (ثمانية) : التكبيرة غير الأولى، والتسميع للإمام والمنفرد، والتحميد للكل، وتسبيح ركوع وسجود، وقول "رب اغفر لي"، والتشهد الأول والجلوس له، وما عدا ذلك سنن أقوال وأفعال.
فسنن الأقوال سبع عشرة: الاستفتاح والتعوذ والبسملة والتأمين وقراءة السورة في الأوليين وفي صلاة الفجر والجمعة والعيد والتطوع كله والجهر والإخفات وقول "ملء السماء والأرض إلى آخره"، وما زاد على المرة في تسبيح ركوع وسجود وقول "رب اغفر لي" والتعوذ في التشهد الأخير والصلاة على آل النبي صلى الله عليه وسلم والبركة عليه وعليهم. وسوى ذلك فسنن أفعال مثل كون الأصابع مضمومة مبسوطة مستقبلا بها القبلة عند الإحرام والركوع والرفع منه، وحطهما عقب ذلك، وقبض اليمين على كوع الشمال وجعلهما تحت سرته، والنظر إلى موضع سجوده، وتفريقه بين قدميه، في قيامه ومراوحته بينهما، وترتيل القراءة، والتخفيف للإمام، وكون الأولى أطول من الثانية، وقبض ركبتيه بيديه مفرجتي الأصابع في الركوع، ومد ظهره مستويا، وجعل رأسه حياله، ووضع ركبتيه قبل يديه في سجوده، ورفع يديه قبلهما في
--------------------------------------------
এই কর্মসমূহে স্থিরতা (তমানিনাহ) অবলম্বন করা একটি রুকন, যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। "আর হুজাইফা (রা.) এক ব্যক্তিকে দেখলেন যে সে তার রুকু ও সিজদা পূর্ণ করছে না, তখন তিনি তাকে বললেন: তুমি সালাত আদায় করোনি, আর যদি তুমি এই অবস্থায় মৃত্যুবরণ করতে তবে আল্লাহর সেই ফিতরাত (স্বভাবজাত দ্বীন) এর ওপর মৃত্যুবরণ করতে না যার ওপর তিনি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সৃষ্টি করেছেন।"
এবং শেষ তাশাহহুদ একটি রুকন, ইবনে মাসউদ (রা.)-এর বাণীর কারণে: "আমাদের ওপর তাশাহহুদ ফরজ করার আগে আমরা বলতাম: আল্লাহর ওপর সালাম, জিবরাঈল ও মিকাঈলের ওপর সালাম। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: তোমরা এরূপ বলো না, বরং বলো 'সমস্ত সম্মান আল্লাহর জন্য' (আত্তাহিইয়াতু লিল্লাহ)" ১ নাসায়ি এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।
আর ওয়াজিবসমূহ যা ভুলে গেলে (সাজদায়ে সাহুর মাধ্যমে) মাফ হয়ে যায় তা আটটি: প্রথম তাকবির ব্যতীত অন্য সকল তাকবির, ইমাম ও একাকী সালাত আদায়কারীর জন্য 'আল্লাহু প্রশংসা শ্রবণ করেন যে তাঁর প্রশংসা করে' (তাসমি') বলা, সকলের জন্য 'হে আমাদের রব, আপনার জন্যই সকল প্রশংসা' (তাহমিদ) বলা, রুকু ও সিজদার তাসবিহ পাঠ করা, 'হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন' বলা, প্রথম তাশাহহুদ এবং এর জন্য বসা; আর এগুলো ব্যতীত অন্য বিষয়গুলো হলো বাচনিক ও কর্মগত সুন্নাতসমূহ।
বাচনিক সুন্নাতসমূহ সতেরোটি: সানা (ইস্তিফতাহ), আউযুবিল্লাহ (তাআউউয), বিসমিল্লাহ, আমিন বলা, প্রথম দুই রাকাতে সূরা পাঠ করা এবং ফজর, জুমা, ঈদ ও সকল নফল সালাতে সূরা পাঠ করা, উচ্চস্বরে ও নিচুস্বরে কিরাত পাঠ করা, "আকাশ ও পৃথিবী পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত..." শেষ পর্যন্ত দোয়াটি বলা, রুকু ও সিজদার তাসবিহ এবং "হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করুন" দোয়াটি একবারের বেশি বলা, শেষ তাশাহহুদে আশ্রয় প্রার্থনা করা, নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পরিজনের ওপর দরুদ পাঠ করা এবং তাঁর ও তাঁদের ওপর বরকতের দোয়া করা। আর এছাড়া বাকিগুলো হলো কর্মগত সুন্নাত, যেমন: ইহরাম (তাকবিরে তাহরিমা), রুকু এবং রুকু থেকে ওঠার সময় আঙুলগুলো মিলিত ও প্রসারিত রেখে কিবলামুখী রাখা, এরপর হাত নামিয়ে নেওয়া, বাম হাতের কব্জির ওপর ডান হাত রাখা এবং তা নাভির নিচে রাখা, সিজদার স্থানের দিকে তাকিয়ে থাকা, দাঁড়ানো অবস্থায় দুই পায়ের মাঝে ফাঁকা রাখা এবং দুই পায়ের ওপর ভর পরিবর্তন করা, তারতিলের সাথে কিরাত পাঠ করা, ইমামের জন্য সালাত সংক্ষেপ করা, প্রথম রাকাত দ্বিতীয় রাকাতের চেয়ে দীর্ঘ করা, রুকুতে আঙুলগুলো ফাঁকা রেখে দুই হাত দিয়ে দুই হাঁটু ধরা, পিঠ সোজা রাখা, মাথাকে পিঠের বরাবর রাখা, সিজদায় যাওয়ার সময় হাতের আগে হাঁটু রাখা এবং সিজদা থেকে ওঠার সময় হাঁটুর আগে হাত তোলা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি - দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ১৫)
القيام، وتمكين جبهته وأنفه من الأرض، ومجافاة عضديه عن جنبيه وبطنه عن فخذيه وفخذيه عن ساقيه، وإقامة قدميه وجعل بطون أصابعهما إلى الأرض مفرقة، ووضع يديه حذو منكبيه مبسوطة الأصابع إذا سجد وتوجيه أصابع يديه مضمومة إلى القبلة، ومباشرة المصلى بيديه وجبهته وقيامه إلى الركعة على صدور قدميه معتمدا بيديه على فخذيه، والافتراش في الجلوس بين السجدتين والتشهد، والتورك في الثاني، ووضع يديه على فخذيه مبسوطتين مضمومتي الأصابع مستقبلا بهما القبلة بين السجدتين وفي التشهد، وقبض الخنصر والبنصر من اليمنى وتحليق إبهامها مع الوسطى والإشارة بسبابتها، والالتفات يمينا وشمالا في تسليمه، وتفضيل الشمال على اليمين في الالتفات.
وأما سجود السهو فقال أحمد: يحفظ فيه عن النبي صلى الله عليه وسلم خمسة أشياء: سلم من اثنتين فسجد، وسلم من ثلاث فسجد، وفي الزيادة والنقصان، وقام من الثنتين فلم يتشهد. قال الخطابي: المعتمد عليه عند أهل العلم هذه الأحاديث الخمسة يعني حديثي ابن مسعود وأبي سعيد وأبي هريرة وابن بحينة. وسجود السهو يشرع للزيادة والنقص وشك في فرض ونفل، إلا أن يكثر فيصير كوسواس فيطرحه. وكذا في الوضوء والغسل وإزالة النجاسة، فمتى زاد من جنس الصلاة قياما أو ركوعا أو سجودا أو قعودا عمدا بطلت، وسهوا يسجد له لقوله صلى الله عليه وسلم: "إذا زاد الرجل أو نقص في صلاته فليسجد سجدتين" 1 رواه مسلم. ومتى ذكر عاد إلى ترتيب الصلاة بغير تكبير، وإن زاد ركعة قطع متى ذكر، وبنى على فعله قبلها، ولا يتشهد إن كان قد تشهد، ثم سجد وسلم. ولا يعتد بالركعة الزائدة مسبوق، ولا يدخل معه من علم أنها زائدة، وإن كان إماما أو منفردا فنبهه ثقتان لزمه الرجوع
--------------------------------------------
দাঁড়ানো, এবং কপাল ও নাক জমিনে স্থির রাখা, দুই বাহুকে দুই পার্শ্ব থেকে এবং পেটকে দুই উরু থেকে এবং দুই উরুকে দুই নলা থেকে দূরে রাখা, উভয় পা খাড়া রাখা এবং আঙ্গুলগুলোর নিচের অংশ জমিনের দিকে কিবলামুখী করে পৃথক রাখা, সেজদা করার সময় দুই হাত কাঁধ বরাবর আঙ্গুলগুলো প্রসারিত অবস্থায় রাখা এবং হাতের আঙ্গুলগুলো মিলিত করে কিবলামুখী করা। মুসল্লির উভয় হাত ও কপাল সরাসরি জমিনে রাখা, এবং উভয় পায়ের সামনের দিকের ওপর ভর করে পরবর্তী রাকাতের জন্য উঠে দাঁড়ানো এবং হাত দিয়ে দুই উরুর ওপর ভর দেওয়া। দুই সেজদার মধ্যবর্তী বৈঠক ও তাশাহহুদের সময় বাম পায়ের ওপর বসা (ইফতিরাশ), এবং দ্বিতীয় তাশাহহুদে নিতম্বের ওপর বসা (তাওয়াররুক)। দুই সেজদার মাঝে এবং তাশাহহুদের সময় উভয় হাত উরুর ওপর আঙ্গুলগুলো মিলিত ও প্রসারিত অবস্থায় কিবলামুখী করে রাখা। ডান হাতের কনিষ্ঠা ও অনামিকা আঙ্গুল মুষ্টিবদ্ধ করা এবং বৃদ্ধাঙ্গুলিকে মধ্যমার সাথে বৃত্তাকার করা এবং তর্জনী দিয়ে ইশারা করা। সালাম ফেরানোর সময় ডানে ও বামে মুখ ফেরানো এবং ডানে মুখ ফেরানোকে বামের চেয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া।
আর সিজদায়ে সাহু সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বলেছেন: নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এ বিষয়ে পাঁচটি বিষয় সংরক্ষিত আছে: তিনি দুই রাকাত শেষে সালাম ফিরিয়েছিলেন অতঃপর সিজদাহ করেছিলেন, তিনি তিন রাকাত শেষে সালাম ফিরিয়েছিলেন অতঃপর সিজদাহ করেছিলেন, রাকাত বৃদ্ধি ও হ্রাসের ক্ষেত্রে সিজদাহ করা, এবং তিনি দুই রাকাত শেষে (প্রথম তাশাহহুদ না পড়ে) দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন। খাত্তাবি বলেছেন: আলেমদের নিকট নির্ভরযোগ্য ভিত্তি হলো এই পাঁচটি হাদিস, অর্থাৎ ইবনে মাসউদ, আবু সাঈদ, আবু হুরায়রা এবং ইবনে বুহাইনার বর্ণিত হাদিসসমূহ। আর ফরয ও নফল সালাতে বৃদ্ধি, হ্রাস কিংবা সন্দেহের কারণে সিজদায়ে সাহু বিধিবদ্ধ করা হয়েছে; তবে যদি এটি অনেক বেশি হয় এবং ওয়াসওয়াসার পর্যায়ে চলে যায়, তবে তা বর্জন করবে। অনুরূপ নিয়ম ওযু, গোসল এবং নাপাকি দূর করার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সুতরাং যখন কেউ সালাতের সমজাতীয় কোনো রুকন যেমন কিয়াম, রুকু, সিজদাহ বা বৈঠক ইচ্ছাকৃতভাবে বৃদ্ধি করবে, তখন সালাত বাতিল হয়ে যাবে। আর যদি ভুলবশত হয়, তবে তার জন্য সিজদাহ করবে; কারণ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যখন কোনো ব্যক্তি তার সালাতে বৃদ্ধি করে বা হ্রাস করে, তখন সে যেন দুটি সিজদাহ করে।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। আর যখনই তার স্মরণ হবে, সে কোনো তাকবীর ছাড়াই সালাতের পূর্বের নিয়মে ফিরে আসবে। যদি সে এক রাকাত বেশি পড়ে থাকে, তবে যখনই মনে পড়বে তা ত্যাগ করবে এবং তার পূর্বের কার্যাবলীর ওপর ভিত্তি করবে; আর সে যদি আগেই তাশাহহুদ পড়ে থাকে তবে পুনরায় তা পড়বে না, বরং সিজদাহ করবে এবং সালাম ফেরাবে। মাসবুক (পরে জামাতে যোগদানকারী) ব্যক্তি অতিরিক্ত রাকাতকে নিজের রাকাত হিসেবে গণ্য করবে না, আর যে ব্যক্তি জানে যে এটি অতিরিক্ত রাকাত, সে ইমামের সাথে তাতে প্রবেশ করবে না। যদি ইমাম বা একাকী নামাজ আদায়কারী ভুল করে এবং দুইজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি তাকে সতর্ক করে, তবে তার জন্য ফিরে আসা অনিবার্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি - দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ولا يرجع إن نبهه واحد إلا أن يتيقن صوابه لأنه صلى الله عليه وسلم لم يرجع إلى قول ذي اليدين.
ولا يبطل الصلاة عمل يسير كفتحه صلى الله عليه وسلم الباب لعائشة وحمله أمامة ووضعها. وإن أتى بقول مشروع في الصلاة في غير موضعه كالقراءة في القعود والتشهد في القيام، لم تبطل به.
وينبغي السجود لسهوه لعموم قوله صلى الله عليه وسلم: "إذا نسي أحدكم فليسجد سجدتين" 1، وإن سلم قبل إتمامها عمدا بطلت. وإن كان سهوا ثم ذكر قريبا أتمها ولو خرج من المسجد أو تكلم يسيرا لمصلحتها، وإن تكلم سهوا أو نام فتكلم أو سبق على لسانه حال قراءته كلمة من غير القرآن لم تبطل، وإن قهقه بطلت إجماعا، لا إن تبسم.
وإن نسي ركنا غير التحريمة فذكره في قراءة الركعة التي بعدها بطلت التي تركه منها وصارت الأخرى عوضا عنها، ولا يعيد الافتتاح قاله أحمد، وإن ذكره قبل الشروع في القراءة عاد فأتى به وبما بعده، وإن نسي التشهد الأول ونهض لزمه الرجوع والإتيان به ما لم يستتم قائما، لحديث المغيرة رواه أبو داود، ويلزم المأموم متابعته ويسقط عنه التشهد ويسجد للسهو.
ومن شك في عدد الركعات بنى على اليقين، ويأخذ مأموم عند شكه بفعل إمامه، ولو أدرك الإمام راكعا وشك هل رفع الإمام رأسه قبل إدراكه راكعا لم يعتد بتلك الركعة، وإذا بنى على اليقين أتى بما بقي، ويأتي به المأموم بعد سلام إمامه ويسجد للسهو، وليس على المأموم سجود سهو إلا أن يسهو إمامه فيسجد معه ولو لم يتم التشهد ثم يتمه بعد سجوده.
ويسجد مسبوق لسلامه مع إمامه
--------------------------------------------
যদি মাত্র একজন ব্যক্তি তাকে সতর্ক করে, তবে তিনি তার কথায় ফিরে যাবেন না যতক্ষণ না তিনি নিজের সঠিকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হন। কেননা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ‘জুল ইয়াদাইন’-এর কথায় ফিরে যাননি।
সামান্য কাজ নামায বাতিল করে না, যেমন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক আয়েশা (রা.)-এর জন্য দরজা খুলে দেওয়া এবং উমামাহ-কে বহন করা ও নামিয়ে রাখা। আর যদি নামাযের মধ্যে কোনো অনুমোদিত জিকির তার স্বস্থান ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে করা হয়—যেমন বসা অবস্থায় তিলাওয়াত করা অথবা দাঁড়ানো অবস্থায় তাশাহহুদ পড়া—তবে এর দ্বারা নামায বাতিল হবে না।
আর তার এই ভুলের জন্য সাজদাহ (সাহু) করা উচিত, কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাধারণ বাণী হলো: "যখন তোমাদের কেউ ভুলে যায়, সে যেন দুটি সাজদাহ করে" ১। যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে নামায পূর্ণ করার আগেই সালাম ফিরিয়ে দেয়, তবে তা বাতিল হয়ে যাবে। আর যদি তা ভুলবশত হয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই স্মরণ হয়, তবে সে তা পূর্ণ করবে; যদিও সে মসজিদ থেকে বের হয়ে যায় কিংবা নামাযের সংশোধনের স্বার্থে সামান্য কথা বলে। যদি কেউ ভুলবশত কথা বলে কিংবা ঘুমের ঘোরে কথা বলে অথবা তিলাওয়াতের সময় জিহ্বায় অনিচ্ছাবশত কুরআন বহির্ভূত কোনো শব্দ চলে আসে, তবে নামায বাতিল হবে না। আর যদি উচ্চৈঃস্বরে হাসে, তবে সর্বসম্মতিক্রমে নামায বাতিল হয়ে যাবে, কিন্তু মুচকি হাসলে বাতিল হবে না।
যদি কেউ তাকবিরে তাহরিমা ছাড়া অন্য কোনো রুকন ভুলে যায় এবং পরবর্তী রাকাতের তিলাওয়াতের সময় তা স্মরণ হয়, তবে যে রাকাত থেকে তা বাদ পড়েছে সেটি বাতিল হয়ে যাবে এবং বর্তমান রাকাতটি তার স্থলাভিষিক্ত হবে। এক্ষেত্রে নতুন করে নামায শুরু করার প্রয়োজন নেই—একথা ইমাম আহমাদ (রহ.) বলেছেন। আর যদি তিলাওয়াত শুরু করার আগেই তা স্মরণ হয়, তবে ফিরে গিয়ে উক্ত রুকন এবং তার পরবর্তী অংশগুলো আদায় করবে। যদি কেউ প্রথম তাশাহহুদ ভুলে গিয়ে দাঁড়িয়ে যায়, তবে যতক্ষণ পুরোপুরি সোজা হয়ে না দাঁড়াবে, ততক্ষণ ফিরে এসে তা আদায় করা তার জন্য আবশ্যক; মুগিরা (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে যা আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। আর মুক্তাদির জন্য ইমামের অনুসরণ করা আবশ্যক এবং তার থেকে তাশাহহুদ রহিত হয়ে যাবে ও সে ইমামের সাথে সাহু সাজদাহ করবে।
যে ব্যক্তি রাকাত সংখ্যা নিয়ে সন্দেহে পতিত হয়, সে যেন নিশ্চিতের ওপর ভিত্তি করে। মুক্তাদি তার সন্দেহের সময় ইমামের কাজ অনুযায়ী আমল করবে। যদি সে ইমামকে রুকু অবস্থায় পায় এবং তার সন্দেহ হয় যে ইমাম মাথা উঠানোর আগেই সে তাকে রুকুতে পেয়েছে কি না, তবে ওই রাকাতটি গণ্য হবে না। যখন সে নিশ্চিতের ওপর ভিত্তি করবে, তখন অবশিষ্ট অংশ আদায় করবে। আর মুক্তাদি ইমামের সালামের পর তা আদায় করবে এবং সাহু সাজদাহ করবে। মুক্তাদির ওপর আলাদা কোনো সাহু সাজদাহ নেই, যদি না তার ইমাম ভুল করেন। সেক্ষেত্রে সে ইমামের সাথেই সাজদাহ করবে, যদিও তার তাশাহহুদ পূর্ণ না হয়; সাজদাহর পর সে তা পূর্ণ করে নেবে।
আর মাসবুক ব্যক্তি ইমামের সাথে সালাম ফেরানোর কারণে সাজদাহ করবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি - দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ১৭)
سهوا ولسهوه معه وفيما انفرد به، ومحله قبل السلام إلا إذا سلم عن نقص ركعة فأكثر لحديث عمران وذي اليدين، وإلا في ما إذا بنى على غالب ظنه إن قلنا به فيسجد ندبا بعد السلام، لحديث علي وابن مسعود، وإن نسيه قبل السلام أو بعده أتى به ما لم يطل الفصل، وسجود السهو وما يقول فيه وبعد رفعه كسجود الصلاة.
ভুলবশত (কোনো কিছু ঘটার কারণে), এবং ইমামের ভুলের কারণে তাঁর সাথে এবং সে যা এককভাবে আদায় করেছে তাতে (ভুলের কারণে সাহু সিজদা দিতে হয়)। এর স্থান হলো সালামের পূর্বে; তবে যদি এক রাকাত বা তার অধিক ঘাটতি থাকা অবস্থায় সালাম ফিরিয়ে দেয়, তবে ইমরান ও যুল ইয়াদাইনের হাদিসের প্রেক্ষিতে (সালামের পরে সিজদা দিবে)। এছাড়া যদি সে প্রবল ধারণার ওপর ভিত্তি করে (নামাজ পূর্ণ) করে—যদি আমরা এই মতটি গ্রহণ করি—তবে আলী ও ইবনে মাসউদের হাদিসের প্রেক্ষিতে মুস্তাহাব হিসেবে সালামের পরে সিজদা করবে। আর যদি সে সালামের পূর্বে বা পরে তা ভুলে যায়, তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত সে তা আদায় করবে। সাহু সিজদা, তাতে পঠিতব্য জিকির এবং সিজদা থেকে মাথা তোলার পরবর্তী বিষয়াদি নামাজের সিজদার অনুরূপ।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি - দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ১৮)
باب صلاة التطوعقال أبو العباس: التطوع تكمل به صلاة الفرض يوم القيامة إن لم يكن أتمها، وفيه حديث مرفوع، وكذلك الزكاة وبقية الأعمال. وأفضل التطوع الجهاد، ثم توابعه من نفقة فيه وغيرها، ثم تعلّم العلم وتعليمه، قال أبو الدرداء: "العالم والمتعلم في الأجر سواء، وسائر الناس همج لا خير فيهم".
وعن أحمد: طلب العلم أفضل الأعمال لمن صحت نيته. وقال: تذاكر بعض ليلة أحب إلي من إحيائها. وقال: يجب أن يطلب الرجل من العلم ما يقوم به دينه. قيل له: مثل أي شيء؟ قال: الذي لا يسعه جهله: صلاته وصومه ونحو ذلك ثم بعد ذلك الصلاة لحديث: "استقيموا ولن تحصوا، واعلموا أن خير أعمالكم الصلاة" 1، ثم بعد ذلك ما يتعدى نفعه من عيادة مريض أو قضاء حاجة مسلم، أو إصلاح بين الناس، لقوله صلى الله عليه وسلم: "ألا أخبركم بخير أعمالكم، وبأفضل من درجة الصوم والصلاة؟ إصلاح ذات البين، فإن فساد ذات البين هي الحالقة" صححه الترمذي.
وقال أحمد: إتباع الجنازة أفضل من الصلاة. وما يتعدى نفعه يتفاوت، فصدقة على قريب محتاج أفضل من عتق، وهو أفضل من صدقة على أجنبي إلا زمن مجاعة، ثم حج. وعن أنس مرفوعا: "من خرج في طلب العلم فهو في سبيل الله حتى يرجع" 2 قال الترمذي: حسين غريب.
قال الشيخ: تعلم العلم وتعليمه يدخل في الجهاد، وأنه نوع منه. وقال: استيعاب عشر ذي الحجة بالعبادة ليلا
--------------------------------------------
নফল সালাত অধ্যায়আবু আল-আব্বাস বলেন: কিয়ামতের দিন নফল আমলের মাধ্যমে ফরয সালাতের পরিপূরণ করা হবে যদি তা পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় করা না হয়ে থাকে। এ বিষয়ে একটি মারফু হাদীস রয়েছে; অনুরূপভাবে যাকাত এবং অন্যান্য আমলের ক্ষেত্রেও একই হুকুম। আর নফল ইবাদতের মধ্যে সর্বোত্তম হলো জিহাদ, অতঃপর জিহাদের আনুষঙ্গিক ব্যয় ও অন্যান্য বিষয়। এরপর ইলম অর্জন ও তা শিক্ষা দান। আবু আদ-দারদা বলেন: "শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সওয়াবের ক্ষেত্রে সমান, আর অবশিষ্ট মানুষেরা হলো লক্ষ্যহীন অসার লোক, যাদের মধ্যে কোনো কল্যাণ নেই।"
ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত: যার নিয়ত সঠিক, তার জন্য ইলম অন্বেষণ করা সর্বোত্তম আমল। তিনি আরও বলেন: রাতের কিছু অংশ ইলম চর্চা করা আমার নিকট সারারাত জেগে ইবাদত করার চেয়ে বেশি প্রিয়। তিনি বলেন: একজন ব্যক্তির জন্য ততটুকু ইলম অর্জন করা ওয়াজিব যা দ্বারা তার দ্বীন সঠিকভাবে পালিত হয়। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: সেটা কোন পর্যায়ের? তিনি বললেন: যে বিষয়ে অজ্ঞ থাকা তার জন্য কাম্য নয়: যেমন তার সালাত, সিয়াম এবং অনুরূপ বিষয়সমূহ। এরপর (মর্যাদার দিক থেকে) হলো সালাত; হাদীসের কারণে: "তোমরা ইস্তেকামাত (দ্বীনের ওপর অটলতা) অবলম্বন করো, তবে তোমরা এর সওয়াব গণনা করে শেষ করতে পারবে না। আর জেনে রেখো, তোমাদের সর্বোত্তম আমল হলো সালাত।" ১ এরপর হলো ঐসব আমল যার উপকারিতা অন্যের নিকট পৌঁছায়, যেমন রোগী দেখতে যাওয়া, কোনো মুসলিমের প্রয়োজন পূরণ করা, অথবা মানুষের মধ্যে বিবাদ মিটিয়ে দেওয়া। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি কি তোমাদের তোমাদের আমলসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম আমল এবং যা সিয়াম ও সালাতের মর্যাদার চেয়েও শ্রেষ্ঠ—তা সম্পর্কে সংবাদ দেব না? তা হলো বিবাদমানদের মধ্যে মীমাংসা করে দেওয়া; কেননা মানুষের মধ্যকার পারস্পরিক কলহ হলো দ্বীনকে মুণ্ডনকারী (বিনাশকারী)।" তিরমিযী একে সহীহ বলেছেন।
ইমাম আহমাদ বলেন: জানাযার অনুসরণ করা (নফল) সালাতের চেয়ে উত্তম। আর যার উপকারিতা অন্যের নিকট পৌঁছায় এমন আমলসমূহের মধ্যে তারতম্য রয়েছে; যেমন অভাবী আত্মীয়কে সদকা করা দাসমুক্ত করার চেয়ে উত্তম, আর দাসমুক্ত করা অপরিচিত কাউকে সদকা করার চেয়ে উত্তম—দুর্ভিক্ষের সময় ব্যতীত। এরপর হলো হজ। আনাস (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত: "যে ব্যক্তি ইলম অন্বেষণে বের হয়, সে ফিরে আসা পর্যন্ত আল্লাহর রাস্তায় থাকে।" ২ তিরমিযী একে হাসান গরীব বলেছেন।
শায়খ (ইবনে তাইমিয়্যাহ) বলেন: ইলম অর্জন ও তা শিক্ষা দান জিহাদের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি জিহাদেরই একটি প্রকার। তিনি আরও বলেন: যিলহজ্জের প্রথম দশ দিন রাতে ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি - দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ونهارا أفضل من الجهاد الذي لم يذهب فيه نفسه وماله. وعن أحمد ليس يشبه الحج شيء للتعب الذي فيه ولتلك المشاعر، وفيه مشهد ليس في الإسلام مثله: عشية عرفة. وفيه إنهاك المال والبدن. وعن أبي أمامة: "أن رجلا سأل النبي صلى الله عليه وسلم أي الأعمال أفضل؟ قال: عليك بالصوم فإنه لا مثل له" 1 رواه أحمد وغيره بسند حسن. وقال الشيخ: قد يكون كل واحد أفضل في حال، لفعل النبي صلى الله عليه وسلم وخلفائه بحسب الحاجة والمصلحة، ومثله قول أحمد: انظر ما هو أصلح لقلبك فافعله. ورجح أحمد فضيلة الفكر على الصلاة والصدقة، فقد يتوجه منه أن عمل القلب أفضل من عمل الجوارح، وأن مراد الأصحاب عمل الجوارح ويؤيده حديث: "أحب الأعمال إلى الله الحب في الله والبغض في الله" 2 وحديت "أوثق عرى الإيمان".
وآكد التطوع الكسوف، ثم الوتر، ثم سنة الفجر، ثم سنة المغرب، تم بقية الرواتب. ووقت صلاة الوتر بعد العشاء إلى طلوع الفجر، والأفضل آخر الليل لمن وثق بقيامه، وإلا أوتر قبل أن يرقد؛ وأقله ركعة وأكثره إحدى عشرة، والأفضل أن يسلم من ركعتين ثم يوتر بركعة، وإن فعل غير ذلك مما صح عن النبي صلى الله عليه وسلم فحسن، وأدنى الكمال ثلاث، والأفضل بسلامين ويجوز بسلام واحد، ويجوز كالمغرب.
والسنن الراتبة عشر، وفعلها في البيت أفضل، وهي: ركعتان قبل الظهر وركعتان بعدها، وركعتان بعد المغرب، وركعتان بعد العشاء، وركعتا الفجر.
ويخفف ركعتي الفجر ويقرأ فيهما بسورتي الإخلاص، أو يقرأ في الأولى بقوله تعالى: {قولوا آمنا بالله وما أنزل إلينا} 3 الآية، التي في البقرة.
--------------------------------------------
...এবং দিনের বেলা এমন জিহাদ থেকেও উত্তম যাতে জিহাদকারী তার জান ও মাল হারায়নি। ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত যে, হজের ক্লান্তি এবং সেসব পবিত্র স্থানের কারণে হজের সদৃশ অন্য কিছু নেই। আর হজে এমন এক দৃশ্য রয়েছে যার মতো ইসলামে আর নেই: আরাফাহর সন্ধ্যা। এতে সম্পদ ও শরীরের ক্লান্তি ও ব্যয় রয়েছে। আবু উমামা থেকে বর্ণিত: "এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, কোন আমল সর্বোত্তম? তিনি বললেন: তুমি রোজা রাখো, কারণ এর কোনো সমকক্ষ নেই।" ১ আহমাদ এবং অন্যরা এটি হাসান সনদে বর্ণনা করেছেন। শাইখ বলেন: প্রয়োজন ও কল্যাণের নিরিখে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর খলিফাদের আমল অনুযায়ী একেকটি আমল একেক অবস্থায় উত্তম হতে পারে। ইমাম আহমাদের উক্তিটিও অনুরূপ: "তোমার অন্তরের জন্য যা অধিক সংশোধনকারী তা দেখো এবং সেটিই করো।" ইমাম আহমাদ নামাজ ও সদকার চেয়ে চিন্তা-গবেষণার ফযীলতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এ থেকে এটি প্রতীয়মান হতে পারে যে, অন্তরের আমল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমলের চেয়ে উত্তম। আর ইমামগণের সাথীদের উদ্দেশ্য হলো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল। একে সমর্থন করে এই হাদিসটি: "আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো আল্লাহর জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্য ঘৃণা করা।" ২ এবং "ঈমানের সুদৃঢ় রশি" সংক্রান্ত হাদিসটি।
নফল ইবাদতসমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সূর্যগ্রহণের নামাজ, তারপর বিতর, তারপর ফজরের সুন্নত, তারপর মাগরিবের সুন্নত, অতঃপর বাকি সুন্নতে রাতেবাগুলো। বিতর নামাজের ওয়াক্ত হলো এশার পর থেকে ফজর উদয় পর্যন্ত। যারা শেষ রাতে জাগ্রত হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত, তাদের জন্য শেষ রাতই উত্তম; অন্যথায় ঘুমানোর আগে বিতর পড়বে। এর সর্বনিম্ন রাকাত হলো এক এবং সর্বোচ্চ এগারো। দুই রাকাত অন্তর সালাম ফিরিয়ে অতঃপর এক রাকাত বিতর পড়া উত্তম। তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত অন্য কোনো পদ্ধতিতে করলেও তা ভালো। পূর্ণতার সর্বনিম্ন স্তর হলো তিন রাকাত; যা দুই সালামে পড়া উত্তম, তবে এক সালামেও জায়েয এবং মাগরিবের নামাজের মতো পড়াও জায়েয।
সুন্নতে রাতেবা হলো দশ রাকাত এবং সেগুলো বাড়িতে আদায় করা উত্তম। সেগুলো হলো: যোহরের আগে দুই রাকাত ও যোহরের পরে দুই রাকাত, মাগরিবের পরে দুই রাকাত, এশার পরে দুই রাকাত এবং ফজরের দুই রাকাত।
ফজরের দুই রাকাত সংক্ষিপ্ত করবে এবং তাতে দুই ইখলাস সূরা (সূরা কাফিরুন ও সূরা ইখলাস) পাঠ করবে, অথবা প্রথম রাকাতে মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা বলো, আমরা আল্লাহর প্রতি এবং আমাদের প্রতি যা নাযিল করা হয়েছে তার প্রতি ঈমান এনেছি} ৩ —এই আয়াতটি পাঠ করবে যা সূরা বাকারায় রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি - দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ২০)
وفي الثانية: {قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ} الآية. وله فعلها راكبا.
ولا سنة للجمعة قبلها، وبعدها ركعتان أو أربع، وتجزيء السنة عن تحية المسجد، ويسن له الفصل بين الفرض والسنة بكلام أو قيام لحديث معاوية، ومن فاته شيء منها استحب له قضاؤه. ويستحب أن يتنفل بين الأذان والإقامة.
والتراويح سنة سنها رسول الله صلى الله عليه وسلم، وفعلها جماعة أفضل. ويجهر الإمام بالقراءة لنقل الخلف عن السلف. ويسلم من كل ركعتين لحديث "صلاة الليل مثنى مثنى" 1. ووقتها بعد العشاء، وسنتها قبل الوتر إلى طلوع الفجر. ويوتر بعدها. فإن كان له تهجد جعل الوتر بعده لقوله صلى الله عليه وسلم: "اجعلوا آخر صلاتكم بالليل وترا" 2؛ فإن أحب من له تهجد متابعة الإمام قام إذا سلم الإمام فجاء بركعة لقوله صلى الله عليه وسلم: "من قام مع الإمام حتى ينصرف كتب له قيام ليلة" 3 صححه الترمذي.
ويستحب حفظ القرآن إجماعا، وهو أفضل من سائر الذكر، ويجب منه ما يجب في الصلاة. ويبدأ الصبي وليه به قبل العلم إلا أن يعسر، ويسن ختمه في كل أسبوع، وفيما دونه أحيانا. ويحرم تأخير القراءة إن خاف نسيانه، وبتعوذ قبل القراءة، ويحرص على الإخلاص ودفع ما يضاده، ويختم في الشتاء أول الليل، وفي الصيف أول النهار.
قال طلحة بن مصرف: "أدركت أهل الخير من هذه الأمة يستحبون ذلك، يقولون: إذا ختم أول النهار صلت عليه
--------------------------------------------
এবং দ্বিতীয় রাকাআতে: "বলুন, হে কিতাবধারীগণ! এসো এমন এক কথার দিকে যা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে অভিন্ন" - এই আয়াত। আর সাওয়ারিতে আরোহণ অবস্থায় তা আদায় করা তার জন্য বৈধ।
জুমার সালাতের পূর্বে কোনো সুন্নাত নেই, তবে এরপর দুই বা চার রাকাআত। আর এই সুন্নাত তাহিয়্যাতুল মাসজিদের স্থলাভিষিক্ত হয়। মুআবিয়াহ (রা.)-এর বর্ণিত হাদীসের কারণে ফরজ ও সুন্নাতের মাঝে কথা বলা বা দাঁড়ানোর মাধ্যমে পার্থক্য করা সুন্নাত। যার এর কোনো অংশ ছুটে যায়, তার জন্য তা কাযা করা মুস্তাহাব। আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ে নফল সালাত আদায় করা মুস্তাহাব।
তারাবীহ হলো একটি সুন্নাত যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রবর্তন করেছেন এবং এটি জামাআতে আদায় করা উত্তম। উত্তরসূরিগণ পূর্বসূরিদের থেকে বর্ণনা করার কারণে ইমাম উচ্চস্বরে তিলাওয়াত করবেন। "রাতের সালাত দুই দুই রাকাআত করে" ১ - এই হাদীসের কারণে প্রতি দুই রাকাআত পর পর সালাম ফিরাবেন। এর সময় এশার পর থেকে শুরু হয় এবং এর সুন্নাত পদ্ধতি হলো বিতরের পূর্বে ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত। এরপর বিতর পড়বে। যদি তার তাহাজ্জুদ পড়ার অভ্যাস থাকে, তবে বিতরকে তার পরে পড়বে; যেহেতু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তোমরা বিতরকে রাতের শেষ সালাত বানাও" ২। যার তাহাজ্জুদ পড়ার ইচ্ছা আছে সে যদি ইমামের অনুসরণ পছন্দ করে, তবে ইমাম সালাম ফিরালে সে দাঁড়িয়ে যাবে এবং আরও এক রাকাআত পড়ে (জোড় বানিয়ে) নিবে; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি ইমাম বিদায় নেওয়া পর্যন্ত তার সাথে দাঁড়িয়ে থাকে, তার জন্য পুরো রাত ইবাদতের সওয়াব লেখা হয়" ৩; তিরমিযী একে সহীহ বলেছেন।
সর্বসম্মতিক্রমে কুরআন হিফজ করা মুস্তাহাব এবং এটি অন্য সকল যিকিরের চেয়ে উত্তম। এর মধ্য থেকে ততটুকু পরিমাণ মুখস্থ করা ওয়াজিব যতটুকু সালাতের জন্য আবশ্যক। অভিভাবক তার সন্তানকে অন্য কোনো জ্ঞান শিক্ষার পূর্বেই কুরআন শিক্ষা শুরু করাবেন, যদি না তা কষ্টসাধ্য হয়। প্রতি সপ্তাহে একবার কুরআন খতম করা সুন্নাত, তবে কখনো কখনো এর চেয়ে কম সময়েও করা যায়। যদি ভুলে যাওয়ার ভয় থাকে তবে তিলাওয়াত করা বিলম্বিত করা হারাম। তিলাওয়াতের শুরুতে তাআউউয (আউযুবিল্লাহ) পড়বে। ইখলাস বজায় রাখা এবং এর পরিপন্থী বিষয়গুলো দূর করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকবে। শীতকালে রাতের শুরুতে এবং গ্রীষ্মকালে দিনের শুরুতে কুরআন খতম করা উত্তম।
তালহা ইবন মুসাররিফ বলেন: "আমি এই উম্মতের নেককার লোকদের পেয়েছি যারা এটি মুস্তাহাব মনে করতেন; তারা বলতেন: যখন দিনের শুরুতে খতম করা হয়, তখন তার জন্য রহমতের দোয়া করা হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি - দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ২১)
الملائكة حتى يمسي وإذا ختم أول الليل صلت عليه الملائكة حتى يصبح" رواه الدارمي عن سعد بن أبي وقاص، إسناده حسن. ويحسن صوته بالقرآن ويرتله، ويقرأ بحزن وتدبر، ويسأل الله تعالى عند آية الرحمة، ويتعوذ عند آية العذاب. ولا يجهر بين مصلين أو نيام أو تالين جهرا يؤذيهم.
ولا بأس بالقراءة قائما وقاعدا ومضطجعا وراكبا وماشيا. ولا تكره في الطريق ولا مع حدث أصغر، وتكره في المواضع القذرة، ويستحب الاجتماع لها والاستماع للقارئ، ولا يتحدث عندها بما لا فائدة فيه. وكره أحمد السرعة في القراءة، وكره قراءة الألحان وهو الذي يشبه الغناء، ولا يكره الترجيع. ومن قال في القرآن برأيه وبما لا يعلم فليتبوأ مقعده من النار، وأخطأ ولو أصاب.
ولا يجوز للمحدث مس المصحف، وله حمله بعلاقة أو في خرج فيه متاع وفي كمه، وله تصفحه بعود ونحوه، وله مس تفسير وكتب فيه قرآن. ويجوز للمحدث كتابته من غير مس، وأخذ الأجرة على نسخه. ويجوز كسيه الحرير. ولا يجوز استدباره أو مد الرجل إليه ونحو ذلك مما فيه ترك تعظيمه، ويكره تحليته بذهب أو فضة، وكتابة الأعشار وأسماء السور وعدد الآيات وغير ذلك مما لم يكن على عهد الصحابة.
ويحرم أن يكتب القرآن أو شيء فيه ذكر الله بغير طاهر، فإن كتب به أو عليه وجب غسله، وإن بلي المصحف أو اندرس دفن لأن "عثمان (دفن المصاحف بين القبر والمنبر".
وتستحب النوافل المطلقة في جميع الأوقات إلا أوقات النهي. وصلاة الليل مرغب فيها وهي أفضل من صلاة النهار، وبعد النوم أفضل لأن الناشئة لا تكون إلا بعده، فإذا استيقظ ذكر الله تعالى وقال ما ورد، ومنه: "لا إله
"ফেরেশতারা সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য দুআ করে, আর যদি সে রাতের শুরুতে (কুরআন) খতম করে, তবে ফেরেশতারা সকাল পর্যন্ত তার জন্য দুআ করে।" এটি দারেমী সা'দ ইবন আবী ওয়াক্কাস থেকে বর্ণনা করেছেন, এর সনদ হাসান। সে কুরআনের মাধ্যমে নিজের কণ্ঠকে সুন্দর করবে এবং তারতীলের সাথে তিলাওয়াত করবে। সে বিষণ্ণ মনে ও গভীরভাবে চিন্তা-গবেষণাপূর্বক পাঠ করবে। রহমতের আয়াত আসলে আল্লাহর কাছে তা প্রার্থনা করবে এবং আযাবের আয়াত আসলে তা থেকে আশ্রয় চাইবে। আর মুসল্লী, ঘুমন্ত ব্যক্তি বা অন্য পাঠকারীদের মাঝে এমন উচ্চস্বরে পড়বে না যা তাদের কষ্টের কারণ হয়।
দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে, কোনো আরোহীতে চড়ে কিংবা হেঁটে কিরাত পাঠ করায় কোনো সমস্যা নেই। রাস্তায় অথবা ওজু না থাকা অবস্থায় (ছোট নাপাকি) তিলাওয়াত করা মাকরূহ নয়। তবে নাপাক বা নোংরা স্থানে তিলাওয়াত করা মাকরূহ। তিলাওয়াতের জন্য একত্রিত হওয়া এবং তিলাওয়াতকারীর পাঠ শ্রবণ করা মুস্তাহাব। আর তিলাওয়াতের সময় কোনো অহেতুক কথা বলবে না। ইমাম আহমদ তিলাওয়াতের সময় তাড়াহুড়ো করা অপছন্দ করেছেন এবং সুর করে তিলাওয়াত করা যা গানের মতো শোনায় তাও তিনি অপছন্দ করেছেন। তবে তিলাওয়াতের সময় কণ্ঠ প্রকম্পিত করা (তারজী‘) মাকরূহ নয়। যে ব্যক্তি কুরআনের ব্যাপারে নিজ মতামত দিয়ে অথবা না জেনে কিছু বলবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়; সে সঠিক বললেও ভুল করল।
ওজুহীন ব্যক্তির জন্য মুসহাফ (কুরআন মাজীদ) স্পর্শ করা জায়েয নয়। তবে ফিতা বা ঝোলার সাথে যাতে আসবাবপত্র থাকে অথবা জামার হাতার মাধ্যমে তা বহন করতে পারবে। কাঠি বা এ জাতীয় কোনো কিছুর মাধ্যমে মুসহাফের পাতা উল্টাতে পারবে। তাফসীর এবং এমন কিতাব যাতে কুরআন আছে তা স্পর্শ করা জায়েয। ওজুহীন ব্যক্তির জন্য স্পর্শ করা ব্যতীত কুরআন লেখা এবং তা অনুলিপি করার বিনিময় গ্রহণ করা জায়েয। কুরআন শরীফে রেশমের কভার লাগানো জায়েয। কুরআনের দিকে পিঠ ফিরিয়ে বসা বা সেদিকে পা প্রসারিত করা এবং এ জাতীয় যা সম্মান প্রদর্শনের পরিপন্থী তা জায়েয নয়। সোনা বা রূপা দিয়ে তা অলংকৃত করা এবং প্রতিটি দশ আয়াতের চিহ্ন (আ’শার), সূরার নাম, আয়াতের সংখ্যা এবং এ জাতীয় যা সাহাবীগণের যুগে ছিল না তা লেখা মাকরূহ।
অপবিত্র বস্তু দিয়ে কুরআন বা আল্লাহর যিকির সংবলিত কিছু লেখা হারাম। যদি অপবিত্র কিছু দিয়ে বা তার ওপর লেখা হয়, তবে তা ধুয়ে ফেলা ওয়াজিব। আর যদি মুসহাফ জরাজীর্ণ হয়ে যায় বা লেখা মুছে যায়, তবে তা দাফন করে দেওয়া হবে; কারণ উসমান (রা.) কবর ও মিম্বরের মাঝখানে মুসহাফসমূহ দাফন করেছিলেন।
নিষিদ্ধ সময়গুলো ব্যতীত সব সময়েই সাধারণ নফল সালাত মুস্তাহাব। রাতের সালাতের ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং তা দিনের সালাতের চেয়ে উত্তম। ঘুমের পরের সালাত অধিকতর উত্তম; কেননা রাতের জাগরণ কেবল ঘুমের পরেই হয়ে থাকে। সুতরাং যখন সে জাগ্রত হবে, তখন আল্লাহর যিকির করবে এবং বর্ণিত দুআগুলো পাঠ করবে, যার অন্তর্ভুক্ত হলো: "আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই...
(খণ্ড: ১)
আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি - দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ২২)
إلا الله وحده لا شريك له له الملك وله الحمد وهو على كل شيء قدير، الحمد لله وسبحان الله ولا إله إلا الله والله أكبر ولا حول ولا قوة إلا بالله". ثم إن قال: "اللهم اغفر لي"، أو دعا استجيب له. فإن توضأ وصلى قبلت صلاته. ثم يقول: "الحمد لله الذي أحياني بعد ما أماتني وإليه النشور. لا إله إلا أنت وحدك لا شريك لك سبحانك. استغفرك لذنبي وأسألك رحمتك. اللهم زدني علما ولا تزع قلبي بعد إذ هديتني وهب به من لدنك رحمة إنك أنت الوهاب. الحمد لله الذي رد علي روحي وعافاني في جسدي وأذن لي بذكره"، ثم يستاك.
فإذا قام إلى الصلاة إن شاء استفتح باستفتاح المكتوبة وإن شاء بغيره كقوله: "اللهم لك الحمد أنت نور السماوات والأرض ومن فيهن، ولك الحمد أنت قيوم السماوات والأرض ومن فيهن، ولك الحمد أنت ملك السماوات والأرض ومن فيهن، ولك الحمد أنت الحق ووعدك الحق وقولك الحق ولقاؤك حق والجنة حق والنار حق والنبيون حق والساعة حق. اللهم لك أسلمت وبك آمنت وعليك توكلت وإليك أنبت وبك خاصمت وإليك حاكمت، فاغفر لي ما قدمت وما أخرت وما أسررت وما أعلنت وما أنت أعلم به مني، أنت المقدم وأنت المؤخر لا إله إلا أنت ولا قوة إلا بك" 1.
وإن شاء قال: "اللهم رب جبريل وميكائيل وإسرافيل، فاطر السماوات والأرض عالم الغيب والشهادة أنت تحكم بين عبادك فيما كانوا فيه يختلفون، اهدني لما اختلف فيه من الحق بإذنك، إنك تهدي من تشاء إلى صراط مستقيم ".
--------------------------------------------
...আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই, রাজত্ব তাঁরই এবং সকল প্রশংসাও তাঁরই; তিনি সকল বিষয়ে ক্ষমতাবান। আল্লাহর জন্য সমস্ত প্রশংসা, আল্লাহ অতি পবিত্র, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আল্লাহ সুমহান। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া পাপ থেকে বেঁচে থাকার এবং ইবাদত করার কোনো শক্তি নেই।" অতঃপর যদি সে বলে: "হে আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন", অথবা দুআ করে, তবে তার দুআ কবুল করা হবে। যদি সে ওযু করে সালাত আদায় করে, তবে তার সালাত কবুল করা হবে। এরপর সে বলবে: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে মৃত্যু প্রদানের (নিদ্রার) পর পুনরায় জীবন দান করেছেন এবং তাঁরই নিকট ফিরে যেতে হবে। আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, আপনি একক, আপনার কোনো অংশীদার নেই, আপনি পবিত্র। আমি আমার পাপের জন্য আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার রহমত কামনা করছি। হে আল্লাহ, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন এবং আমাকে হিদায়াত প্রদানের পর আমার অন্তরকে বক্র করে দেবেন না এবং আপনার পক্ষ থেকে আমাকে রহমত দান করুন; নিশ্চয়ই আপনি পরম দাতা। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমার রূহ আমার নিকট ফিরিয়ে দিয়েছেন, আমার শরীরকে সুস্থ রেখেছেন এবং আমাকে তাঁর স্মরণের অনুমতি দিয়েছেন", এরপর সে মিসওয়াক করবে।
অতঃপর যখন সে সালাতে দাঁড়াবে, চাইলে সে ফরয সালাতের প্রারম্ভিক দুআ পড়বে, আবার চাইলে অন্য কিছুও পড়তে পারে যেমন: "হে আল্লাহ, সকল প্রশংসা আপনারই জন্য, আপনি আসমানসমূহ, যমীন এবং এগুলোর মধ্যে যা কিছু আছে তাদের নূর। আপনারই জন্য সকল প্রশংসা, আপনি আসমানসমূহ, যমীন এবং এগুলোর মধ্যে যা কিছু আছে তাদের রক্ষণাবেক্ষণকারী। আপনারই জন্য সকল প্রশংসা, আপনি আসমানসমূহ ও যমীনের রাজত্বকারী। আপনারই জন্য সকল প্রশংসা, আপনিই সত্য, আপনার ওয়াদা সত্য, আপনার কথা সত্য, আপনার সাথে সাক্ষাৎ সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, নবীগণ সত্য এবং কিয়ামত সত্য। হে আল্লাহ, আপনার নিকট আমি আত্মসমর্পণ করেছি, আপনার ওপর ঈমান এনেছি, আপনার ওপর ভরসা করেছি, আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তন করেছি, আপনার সাহায্যেই বিতর্ক করেছি এবং আপনার নিকট বিচার চেয়েছি। অতএব আমার পূর্বের ও পরের এবং গোপন ও প্রকাশ্য সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিন এবং ঐসব গুনাহও যা আপনি আমার চেয়ে অধিক জানেন। আপনিই অগ্রগামী করেন এবং আপনিই পশ্চাতে প্রেরণ করেন, আপনি ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আপনার সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই" ১।
আর সে চাইলে বলতে পারে: "হে আল্লাহ! জিবরাঈল, মিকাঈল ও ইসরাফীলের রব, আসমানসমূহ ও যমীনের স্রষ্টা, অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাতা; আপনার বান্দারা যে বিষয়ে মতভেদ করত আপনি তাদের মধ্যে তার ফয়সালা করবেন। যে বিষয়ে মতভেদ সৃষ্টি হয়েছে, তাতে আপনার অনুমতিতে আমাকে সত্যের দিকে পরিচালিত করুন। নিশ্চয়ই আপনি যাকে ইচ্ছা সরল পথের দিকে হিদায়াত দান করেন" ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি - দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ويسن أن يستفتح تهجده بركعتين خفيفتين، وأن يكون له تطوع يداوم عليه، وإذا فاته قضاه.
ويستحب أن يقول عند الصباح والمساء ما ورد، وكذلك عند النوم والانتباه، ودخول المنزل والخروج منه، وغير ذلك. والتطوع في البيت أفضل وكذا الإسرار به إن كان مما لا تشرع له الجماعة، ولا بأس بالتطوع جماعة إذا لم يتخذ عادة. ويستحب الاستغفار بالسحر والإكثار منه، ومن فاته تهجده قضاه قبل الظهر، ولا يصح التطوع من مضطجع.
وتسن صلاة الضحى ووقتها من خروج وقت النهي إلى قبيل الزوال، وفعلها إذا اشتد الحر أفضل؛ وهي ركعتان وإن زاد فحسن.
وتسن صلاة الاستخارة، إذا هم بأمر فيركع ركعتين من غير الفريضة ثم يقول: "اللهم إني أستخيرك بعلمك وأستقدرك بقدرتك وأسألك من فضلك العظيم، فإنك تقدر ولا أقدر وتعلم ولا أعلم وأنت علام الغيوب. اللهم إن كنت تعلم أن هذا الأمر - ويسميه بعينه - خير لي في ديني ودنياي ومعاشي وعاقبة أمري (عاجله وآجله) فاقدره لي ويسره لي ثم بارك لي فيه، وإن كنت تعلم أن هذا الأمر شر لي في ديني ودنياي ومعاشي وعاقبة أمري فاصرفه عني واصرفني عنه. واقدر لي الخير حيث كان ثم رضني به." ثم يستشير. ولا يكون وقت الاستخارة عازما على الفعل أو الترك.
وتسن تحية المسجد وسنة الوضوء (وإحياء ما بين العشاءين) . وسجدة التلاوة سنة مؤكدة وليست بواجبة لقول عمر "من سجد فقد أصاب
তাহাজ্জুদ দুই রাকাত সংক্ষিপ্ত সালাতের মাধ্যমে শুরু করা সুন্নত। আর ব্যক্তির এমন কিছু নফল ইবাদত থাকা উচিত যাতে সে সর্বদা অবিচল থাকে; এবং যদি তা ছুটে যায়, তবে সে তা কাজা করে নেবে।
সকাল এবং সন্ধ্যায় যা বর্ণিত হয়েছে তা পাঠ করা মুস্তাহাব। অনুরূপভাবে ঘুমানোর সময় ও জাগ্রত হওয়ার সময়, ঘরে প্রবেশ ও তা থেকে বের হওয়ার সময় এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও (দোয়াসমূহ পাঠ করা মুস্তাহাব)। বাড়িতে নফল আদায় করা উত্তম, একইভাবে তা সংগোপনে করাও উত্তম যদি তা এমন ইবাদত হয় যার জন্য জামাত শরীয়তসম্মত নয়। তবে একে অভ্যাসে পরিণত না করলে জামাতের সাথে নফল আদায়ে কোনো অসুবিধা নেই। শেষ রাতে ইস্তিগফার করা এবং তা অধিক পরিমাণে করা মুস্তাহাব। যার তাহাজ্জুদ ছুটে যায়, সে জোহরের পূর্বে তা কাজা করে নেবে। আর শুয়ে থাকা অবস্থায় নফল সালাত সহীহ হবে না।
চাশতের (যুহা) সালাত সুন্নত। এর সময় হলো নিষিদ্ধ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর থেকে নিয়ে সূর্য ঢলে পড়ার (যাওয়াল) পূর্ব পর্যন্ত। রোদ যখন প্রখর হয় তখন তা আদায় করা উত্তম; এটি দুই রাকাত, তবে যদি বৃদ্ধি করা হয় তবে তা উত্তম।
ইস্তিখারার সালাত সুন্নত। যখন কেউ কোনো কাজের সংকল্প করে, তখন সে ফরজ ব্যতীত দুই রাকাত সালাত আদায় করবে, অতঃপর বলবে: "হে আল্লাহ! আমি আপনার জ্ঞানের মাধ্যমে আপনার নিকট কল্যাণ প্রার্থনা করছি, আপনার ক্ষমতার মাধ্যমে আপনার নিকট শক্তি প্রার্থনা করছি এবং আপনার মহান অনুগ্রহ যাঞ্চা করছি। কেননা আপনি সক্ষম, আমি সক্ষম নই; আপনি জানেন, আমি জানি না; আর আপনিই অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা। হে আল্লাহ! যদি আপনি জানেন যে এই বিষয়টি—সে নির্দিষ্টভাবে বিষয়টির নাম উল্লেখ করবে—আমার দ্বীন, আমার জীবন ও জীবিকা এবং আমার কর্মের পরিণামের ক্ষেত্রে (বর্তমানে ও ভবিষ্যতে) কল্যাণকর, তবে তা আমার জন্য নির্ধারিত করুন ও তা আমার জন্য সহজ করে দিন, অতঃপর তাতে আমাকে বরকত দান করুন। আর যদি আপনি জানেন যে এই বিষয়টি আমার দ্বীন, আমার জীবন ও জীবিকা এবং আমার কর্মের পরিণামের ক্ষেত্রে অকল্যাণকর, তবে তা আমার থেকে সরিয়ে দিন এবং আমাকেও তা থেকে বিমুখ রাখুন। আর আমার জন্য কল্যাণ নির্ধারিত করুন তা যেখানেই থাকুক না কেন, অতঃপর আমাকে তার ওপর সন্তুষ্ট করে দিন।" এরপর সে পরামর্শ করবে। আর ইস্তিখারার সময় কাজটি করা বা বর্জন করার ব্যাপারে সে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ থাকবে না।
তাহিয়্যাতুল মাসজিদ এবং ওজুর সুন্নত (এবং মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময় ইবাদতের মাধ্যমে সজীব রাখা) সুন্নত। তিলাওয়াতের সিজদা সুন্নতে মুয়াক্কাদা, তা ওয়াজিব নয়; উমর (রা.)-এর এই বাণীর কারণে যে, "যে ব্যক্তি সিজদা করল সে সঠিক কাজ করল...।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি - দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ومن لم يسجد فلا إثم عليه". رواه في الموطأ وتسن للمستمع. والراكب يومئ بسجوده حيث كان وجهه، والماشي يسجد بالأرض مستقبل القبلة. ولا يسجد السامع لما روي عن الصحابة وقال ابن مسعود للقارئ وهو غلام: "اسجد فإنك إمامنا".
وتستحب سجدة الشكر عند تجدد نعمة ظاهرة عامة أو أمر يخصه. ويقول إذا رأى مبتلى في دينه أو بدنه: "الحمد لله الذي عافاني مما ابتلاك به وفضلني على كثير ممن خلق تفضيلا".
وأوقات النهي خمسة: بعد صلاة الفجر حتى تطلع الشمس وبعد طلوعها حتى ترتفع قيد رمح، وعند قيامها حتى تزول، وبعد صلاة العصر حتى تدنو من الغروب، وبعد ذلك حتى تغرب. ويجوز قضاء الفرائض فيها، وفعل النذورات وركعتي الطواف، وإعادة جماعة إذا أقيمت وهو في المسجد، وتفعل صلاة الجنازة في الوقتين الطويلين.
“আর যে ব্যক্তি সিজদাহ করবে না তার কোনো গুনাহ নেই।” এটি মুওয়াত্তা গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আর এটি শ্রবণকারীর জন্য সুন্নত। আর আরোহী ব্যক্তি তার সিজদাহর জন্য ইশারাহ করবে তার চেহারা যেদিকেই থাকুক না কেন, এবং পথচারী ব্যক্তি কিবলার দিকে মুখ করে জমিনে সিজদাহ করবে। আর আকস্মিক শ্রবণকারী সিজদাহ করবে না, কারণ সাহাবীগণ থেকে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। ইবনে মাসউদ এক কিশোর তিলাওয়াতকারীকে বলেছিলেন: “তুমি সিজদাহ করো, কারণ তুমি আমাদের ইমাম।”
আর কোনো প্রকাশ্য সাধারণ নিআমত নতুন করে লাভ করলে বা নিজের বিশেষ কোনো নিআমত অর্জিত হলে শোকরিয়ার সিজদাহ করা মুস্তাহাব। আর যখন সে দ্বীন বা শরীরের দিক থেকে বিপদগ্রস্ত কোনো ব্যক্তিকে দেখবে, তখন বলবে: “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে তা থেকে নিরাপদ রেখেছেন যাতে আপনাকে লিপ্ত করেছেন এবং তাঁর সৃষ্টির অনেকের ওপর আমাকে যথাযথ শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।”
আর নামায নিষিদ্ধ হওয়ার সময় হলো পাঁচটি: ফজর সালাতের পর থেকে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত, সূর্য উদিত হওয়ার পর থেকে তা এক বর্শা পরিমাণ উপরে ওঠা পর্যন্ত, সূর্য ঠিক মধ্যগগনে অবস্থানকালে তা ঢলে পড়া পর্যন্ত, আসর সালাতের পর থেকে সূর্য অস্তমিত হওয়ার উপক্রম হওয়া পর্যন্ত এবং এরপর থেকে সূর্য পূর্ণরূপে অস্ত যাওয়া পর্যন্ত। এসব সময়ে ফরয নামাযের কাযা আদায় করা, মানত করা নামায এবং তাওয়াফের দুই রাকাত আদায় করা জায়েয। এছাড়া সে মসজিদে থাকা অবস্থায় যদি জামাত শুরু হয় তবে পুনরায় জামাতে অংশগ্রহণ করা বৈধ। আর জানাযার নামায দীর্ঘ দুই সময়ে (ফজর ও আসরের পরবর্তী দীর্ঘ সময়) আদায় করা যাবে।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি - দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ২৫)
باب صلاة الجماعةأقلها اثنان في غير جمعة وعيد، وهي واجبة على الأعيان حضرا وسفرا حتى في خوف لقوله تعالى: {وَإِذَا كُنْتَ فِيهِمْ فَأَقَمْتَ لَهُمُ الصَّلاةَ} 1 الآية. وتفضل على صلاة المنفرد بسبع وعشرين درجة، وتفعل في المسجد. والعتيق أفضل، وكذلك الأكثر جماعة، وكذلك الأبعد.
ولا يؤم في مسجد قبل إمامه الراتب إلا بإذنه إلا أن يتأخر، فلا يكره ذلك لفعل أبي بكر وعبد الرحمن بن عوف.
وإذا أقيمت الصلاة فلا يجوز الشروع في نفل، وإن أقيمت وهو فيها أتمها خفيفة. ومن أدرك ركعة مع الإمام فقد أدرك الجماعة، وتدرك بإدراك الركوع مع الإمام. وتجزيء تكبيرة الإحرام عن تكبيرة الركوع لفعل زيد بن ثابت وابن عمر، ولا يعرف لهما مخالف من الصحابة. وإتيانه بهما أفضل خروجا من خلاف من أوجبه، فإن أدركه بعد الركوع لم يكن مدركا للركعة وعليه متابعته، ويسن دخوله معه للخبر.
ولا يقوم المسبوق إلا بعد سلام الإمام التسليمة الثانية، فإن أدركه في سجود السهو بعد السلام لم يدخل معه، وإن فاتته الجماعة استحب له أن يصلى معه لقوله صلى الله عليه وسلم: "من يتصدق على هذا فيصلي معه" 2.
ولا تجب القراءة على مأموم لقوله تعالى:
--------------------------------------------
জামাআতে সালাত আদায়ের অধ্যায়জুমা ও ঈদ ব্যতীত অন্য সালাতে জামাআতের সর্বনিম্ন সংখ্যা দুইজন। আবাসস্থলে হোক বা সফরে, এমনকি ভীতিকর পরিস্থিতিতেও এটি প্রত্যেকের জন্য ব্যক্তিগতভাবে ওয়াজিব। কেননা মহান আল্লাহ বলেন: "আর যখন আপনি তাদের মাঝে অবস্থান করবেন, অতঃপর তাদের জন্য সালাত কায়েম করবেন" ১ - আয়াতের শেষ পর্যন্ত। একাকী সালাত আদায়ের চেয়ে জামাআতে সালাত আদায় সাতাশ গুণ বেশি মর্যাদাপূর্ণ এবং তা মসজিদে আদায় করা হয়। প্রাচীন মসজিদ উত্তম, তেমনি যে মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা অধিক এবং যে মসজিদ অধিক দূরে সেটিও উত্তম।
মসজিদের নির্ধারিত ইমামের অনুমতি ব্যতীত তার আগে কেউ ইমামতি করবে না, তবে যদি তিনি বিলম্ব করেন তবে তা অপছন্দনীয় হবে না; আবু বকর এবং আব্দুর রহমান ইবনে আউফ-এর আমলের কারণে।
যখন সালাতের ইকামত দেওয়া হয়, তখন কোনো নফল সালাত শুরু করা জায়েজ নয়। আর যদি সালাতরত অবস্থায় ইকামত হয়ে যায়, তবে তা সংক্ষেপে পূর্ণ করবে। যে ব্যক্তি ইমামের সাথে এক রাকাত পেল, সে জামাআত পেল; আর ইমামের সাথে রুকু পাওয়ার মাধ্যমে রাকাত পাওয়া সাব্যস্ত হয়। জায়েদ ইবনে সাবিত এবং ইবনে উমর-এর আমল অনুযায়ী রুকুর তাকবীরের পরিবর্তে তাকবীরে তাহরীমা যথেষ্ট হবে; সাহাবীদের মধ্যে তাদের কোনো বিরোধিতাকারী জানা নেই। তবে যারা রুকুর তাকবীরকে ওয়াজিব বলেছেন, তাদের সাথে মতভেদ এড়ানোর জন্য উভয় তাকবীর আদায় করা উত্তম। যদি কেউ ইমামকে রুকুর পরে পায়, তবে সে রাকাতটি পেল না, তবে তার জন্য ইমামের অনুসরণ করা আবশ্যক; হাদিসের কারণে তার সাথে জামাআতে প্রবেশ করা সুন্নাত।
মাসবূক ইমামের দ্বিতীয় সালাম শেষ করার আগে দাঁড়াবে না। যদি সে ইমামকে সালামের পর সাহু সিজদাহরত অবস্থায় পায়, তবে তার সাথে শামিল হবে না। আর যদি কারো জামাআত ছুটে যায়, তবে অন্য কারো জন্য তার সাথে সালাত আদায় করা মুস্তাহাব। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "কে আছো যে এই ব্যক্তির ওপর সদকা করবে এবং তার সাথে সালাত আদায় করবে?" ২।
মুক্তাদীর ওপর কিরাত পাঠ করা ওয়াজিব নয়, কেননা মহান আল্লাহ বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি - দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ২৬)
{وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} 1 قال أحمد: أجمع الناس على أن هذه الآية في الصلاة.
وتسن قراءته فيما لا يجهر فيه الإمام، أكثر أهل العلم من الصحابة والتابعين يرون القراءة خلف الإمام فيما أسر فيه خروجا من خلاف من أوجبه، لكن تركناه إذا جهر الإمام للأدلة. ويشرع في أفعالها بعد إمامه من غير تخلف بعد فراغ الإمام، فإن وافقه كره، وتحرم مسابقته؛ فإن ركع أو سجد قبله سهوا رجع ليأتي به بعده، فإن لم يفعل عالما عمدا بطلت صلاته. وإن تخلف عنه بركن بلا عذر فكالسبق به، وإن كان لعذر، من نوم أو غفلة أو عجلة إمام فعله ولحقه، وإن تخلف بركعة لعذر تابعه فيما بقي من صلاته وقضاها بعد سلام الإمام.
ويسن له إذا عرض عارض لبعض المأمومين يقتضي خروجه أن يخفف، وتكره سرعة تمنع مأموما من فعل ما يسن.
ويسن تطويل قراءة الركعة الأولى أطول من الثانية، ويستحب للإمام انتظار الداخل ليدرك الركعة إن لم يشق على مأموم.
وأولى الناس بالإمامة أقرؤهم لكتاب الله. وأما تقديم النبي صلى الله عليه وسلم أبا بكر مع أن غيره أقرأ منه كأبي ومعاذ، فأجاب أحمد أن ذلك ليفهموا أنه المقدم في الإمامة الكبرى، وقال غيره: لما قدمه مع قوله يؤم القوم أقرؤهم لكتاب الله، فإن كانوا في القراءة سواء فأعلمهم بالسنة علم أن أبا بكر أقرؤهم وأعلمهم، لأنهم لم يكونوا يتجاوزون شيئا من القرآن حتى يتعلموا معانيه والعمل به كما قال ابن مسعود "كان الرجل منا إذا تعلم عشر آيات من
--------------------------------------------
"আর যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শোনো এবং চুপ থাকো যাতে তোমাদের প্রতি রহম করা হয়।" ১ আহমাদ বলেন: আলিমগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, এই আয়াতটি সালাত সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে।
ইমাম যে সালাতে উচ্চস্বরে কিরাত পাঠ করেন না, তাতে কিরাত পাঠ করা সুন্নাত। সাহাবী ও তাবিঈদের মধ্যে অধিকাংশ আলিম ইমামের পেছনে কিরাত পাঠ করাকে বিধেয় মনে করেন সেসকল সালাতে যেখানে ইমাম নিঃশব্দে পাঠ করেন, যাতে যারা এটিকে ওয়াজিব মনে করেন তাদের মতভেদের ঊর্ধ্বে থাকা যায়। তবে ইমাম যখন উচ্চস্বরে পাঠ করেন, তখন আমরা দলীলসমূহের কারণে তা বর্জন করি। সালাতের কার্যাবলিতে ইমামের অনুসরণে তাঁর কাজ শেষ হওয়ার পর কোনো বিলম্ব ছাড়াই সম্পাদন করা বিধেয়। যদি কেউ ইমামের সাথে সাথে একই সময়ে করে তবে তা মাকরুহ হবে, আর ইমামের আগে করা হারাম। যদি কেউ ভুলবশত ইমামের আগে রুকু বা সাজদাহ করে ফেলে, তবে সে পুনরায় ফিরে আসবে যাতে তা ইমামের পরে আদায় করতে পারে। আর যদি কেউ জেনে-বুঝে ইচ্ছাকৃতভাবে তা না করে, তবে তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে। আর যদি কোনো ওজর ছাড়া কোনো রুকন পালনে ইমাম থেকে পিছিয়ে থাকে, তবে তা ইমামের আগে করার মতোই গণ্য হবে। কিন্তু যদি ঘুমের কারণে বা অমনোযোগিতার কারণে অথবা ইমামের দ্রুত করার কারণে ওজরের সাথে পিছিয়ে পড়ে, তবে সে তা আদায় করে ইমামের সাথে যুক্ত হবে। আর যদি কোনো ওজরের কারণে পূর্ণ এক রাকাআত পিছিয়ে পড়ে, তবে বাকি সালাতে সে ইমামের অনুসরণ করবে এবং ইমামের সালাম ফেরানোর পর তা কাযা করবে।
ইমামের জন্য সুন্নাত হলো যখন কোনো মুক্তাদির এমন কোনো সমস্যা দেখা দেয় যার কারণে তার বেরিয়ে যাওয়া প্রয়োজন, তখন সালাত সংক্ষিপ্ত করা। আর এমন দ্রুততা মাকরুহ যা মুক্তাদিকে সুন্নাত কাজগুলো পালন করতে বাধা দেয়।
প্রথম রাকাআতের কিরাত দ্বিতীয় রাকাআতের চেয়ে দীর্ঘ করা সুন্নাত। আর সালাতে নতুন প্রবেশকারী ব্যক্তিকে রাকাআত পাওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য ইমামের অপেক্ষা করা মুস্তাহাব, যদি তা অন্য মুক্তাদির জন্য কষ্টকর না হয়।
মানুষের মধ্যে ইমামতির জন্য সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি হলেন তিনি, যিনি আল্লাহর কিতাব পাঠে সবচেয়ে পারদর্শী। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকরকে ইমামতিতে অগ্রগণ্য করেছিলেন যদিও অন্যদের মধ্যে উবাই এবং মুআযের মতো ব্যক্তিরা তাঁর চেয়ে অধিক পারদর্শী ক্বারী ছিলেন; এর উত্তরে আহমাদ বলেন যে, এটি করা হয়েছিল যাতে তারা বুঝতে পারে যে তিনিই বড় ইমামতির (খিলাফতের) ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য। অন্যরা বলেন: যেহেতু নবী (সা.) তাঁকে সামনে এগিয়ে দিয়েছিলেন এবং তাঁর বাণী ছিল "লোকদের ইমামতি করবে সে-ই যে আল্লাহর কিতাব পাঠে সবচেয়ে পারদর্শী, যদি তারা কিরাতে সমান হয় তবে যে সুন্নাহ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী", তা থেকে বোঝা যায় যে আবু বকরই ছিলেন সবচেয়ে বড় ক্বারী এবং সবচেয়ে বড় জ্ঞানী। কারণ তাঁরা কুরআনের কোনো অংশ অতিক্রম করতেন না যতক্ষণ না তার অর্থ এবং তার ওপর আমল করা শিখতেন, যেমনটি ইবনে মাসউদ বলেছিলেন: "আমাদের মধ্য থেকে কোনো ব্যক্তি যখন দশটি আয়াত শিখতেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি - দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ২৭)
القرآن لم يتجاوزهن حتى يتعلم معانيهن والعمل بهن".
وروى مسلم عن أبي مسعود البدري يرفعه: "يؤم القوم أقرؤهم لكتاب الله، فإن كانوا في القراءة سواء فأعلمهم بالسنة، فإن كانوا في السنة سواء فأقدمهم هجرة، فإن كانوا في الهجرة سواء فأقدمهم سنا" 1.
ولا يؤمن الرجل الرجل في سلطانه، ولا يقعد في بيته على تكرمته إلا بإذنه. وفي الصحيحين: "يؤمكم أكبركم" وفي بعض ألفاظ ابن مسعود: "فإن كانوا في الهجرة سواء فأقدمهم سلما" 2 أي إسلاما.
ومن صلى بأجرة لم يصل خلفه. قال أبو داود: سئل أحمد عن إمام يقول: أصلي بكم رمضان بكذا وكذا فقال: اسأل الله العافية، ومن يصلي خلف هذا؟! ولا يصلى خلف عاجز عن القيام، إلا إمام الحي - وهو كل إمام مسجد راتب - إذا اعتل صلوا وراءه جلوسا.
وإن صلى الإمام وهو محدث أو عليه نجاسة ولم يعلم إلا بعد فراغ الصلاة لم يعد من خلفه، وأعاد الإمام وحده في الحدث، ويكره أن يؤم قوما أكثرهم يكرهه بحق. ويصح ائتمام متوضئ بمتيمم.
والسنة وقوف المأمومين خلف الأمام لحديث "جابر وجبار لما وقفا عن يمينه ويساره أخذ بأيديهما فأقامهما خلفه" رواه مسلم.
وأما "صلاة ابن مسعود بعلقمة والأسود وهو بينهما" فأجاب ابن سيرين أن المكان كان ضيقا. وإن كان المأموم واحدا وقف عن يمينه، وإن وقف عن يساره أداره عن يمينه ولا تبطل تحريمته. وإن أم رجلا وامرأة وقف الرجل عن يمينه والمراة خلفه، لحديث أنس رواه مسلم
وقرب الصف منه أفضل، وكذا قرب الصفوف بعضها من
--------------------------------------------
"তারা কুরআন (এর দশটি আয়াত) অতিক্রম করতেন না যতক্ষণ না তারা সেগুলোর অর্থ শিখতেন এবং সে অনুযায়ী আমল করতেন।"
আর ইমাম মুসলিম আবু মাসঊদ আল-বদরি থেকে মারফূ’ সূত্রে বর্ণনা করেছেন: “লোকদের ইমামতি করবে তাদের মধ্যে আল্লাহর কিতাবের অধিক অভিজ্ঞ পাঠক, যদি তারা কিরাআতে সমান হয় তবে সুন্নাহ সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী ব্যক্তি, যদি সুন্নাহতেও সমান হয় তবে হিজরতে অগ্রগামী ব্যক্তি, আর যদি হিজরতেও সমান হয় তবে বয়সে বড় ব্যক্তি।” ১।
কোনো ব্যক্তি যেন অন্য কোনো ব্যক্তির কর্তৃত্বাধীন স্থানে তার ইমামতি না করে এবং তার ঘরে তার জন্য সংরক্ষিত আসনে তার অনুমতি ব্যতিরেকে না বসে। আর সহীহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ রয়েছে: “তোমাদের মধ্যে যে বড় সে যেন তোমাদের ইমামতি করে।” ইবনে মাসঊদের কিছু বর্ণনায় রয়েছে: “যদি তারা হিজরতে সমান হয়, তবে যারা ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামী” ২ অর্থাৎ ইসলামে।
আর যে ব্যক্তি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে সালাত পড়ায়, তার পেছনে সালাত পড়া যাবে না। আবু দাউদ বলেন: ইমাম আহমাদকে এমন একজন ইমাম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে বলে: আমি তোমাদের রমজানে এত এত (টাকার) বিনিময়ে সালাত পড়াব। তখন তিনি বললেন: আমি আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করি, এ ব্যক্তির পেছনে কে সালাত পড়বে?! আর দণ্ডায়মান হতে অক্ষম ব্যক্তির পেছনে সালাত পড়া যাবে না, তবে মহল্লার নির্ধারিত ইমাম হলে ভিন্ন কথা - আর তিনি হলেন মসজিদের স্থায়ী ইমাম - তিনি যদি অসুস্থ হন, তবে তারা তার পেছনে বসে সালাত আদায় করবে।
ইমাম যদি অপবিত্র অবস্থায় অথবা গায়ে নাপাকি থাকা অবস্থায় সালাত পড়ান এবং সালাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা না জানতে পারেন, তবে মুক্তাদিদের সালাত পুনরায় পড়তে হবে না। কেবল ইমাম একাকী অপবিত্রতার কারণে সালাত পুনরায় পড়বেন। আর কোনো কওমের ইমামতি করা মাকরূহ যদি তাদের অধিকাংশ তাকে ন্যায়সঙ্গত কারণে অপছন্দ করে। আর ওযুকারীর জন্য তায়াম্মুমকারীর পেছনে ইকতিদা করা সঠিক।
আর সুন্নাত হলো মুক্তাদিগণ ইমামের পেছনে দাঁড়ানো, জাবির এবং জাব্বারের হাদীসের কারণে, যখন তারা তাঁর ডানে ও বামে দাঁড়িয়েছিলেন, তখন তিনি তাদের হাত ধরে তাঁদেরকে তাঁর পেছনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছিলেন। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
আর ইবনে মাসঊদ কর্তৃক আলকামা ও আসওয়াদের ইমামতি করার সময় তাঁদের উভয়ের মাঝে দাঁড়ানোর বিষয়ে ইবনে সীরীন উত্তর দিয়েছেন যে, জায়গা সংকীর্ণ ছিল। আর যদি মুক্তাদি একজন হয়, তবে সে তাঁর ডানে দাঁড়াবে। যদি সে বামে দাঁড়ায়, তবে তাঁকে ঘুরিয়ে ডানে নিয়ে আসবে এবং এতে তার তাকবীরে তাহরীমা বাতিল হবে না। আর যদি তিনি একজন পুরুষ ও একজন মহিলার ইমামতি করেন, তবে পুরুষটি তাঁর ডানে দাঁড়াবে এবং মহিলাটি তাঁদের পেছনে দাঁড়াবে, আনাসের হাদীসের কারণে যা মুসলিম বর্ণনা করেছেন।
আর (ইমামের) নিকটবর্তী কাতার হওয়া অধিক উত্তম, তেমনিভাবে কাতারসমূহ একে অপরের কাছাকাছি হওয়া...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি - দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ২৮)
بعض، وكذا توسطه الصف لقوله صلى الله عليه وسلم: "وسطوا الإمام وسدوا الخلل " 1. وتصح مصافة صبي لقول أنس: "صففت أنا واليتيم وراءه، والعجوز خلفنا". وإن صلى فذا لم تصح، وإن كان المأموم يرى الإمام أو من وراءه صح ولو لم تتصل الصفوف، وكذا لو لم ير أحدهما إن سمع التكبير لإمكان الاقتداء بسماع التكبير كالمشاهدة.
وإن كان بينهما طريق وانقطعت الصفوف لم يصح، واختار الموفق وغيره أن ذلك لا يمنع الاقتداء لعدم النص والإجماع.
ويكره أن يكون الإمام أعلى من المأمومين قال ابن مسعود لحذيفة: ألم تعلم أنهم كانوا ينهون عن ذلك؟ قال: بلى". رواه الشافعي بإسناد ثقات. ولا بأس بعلو يسير كدرجة منبر لحديث سهل "أنه صلى الله عليه وسلم صلى على المنبر ثم نزل القهقرى وسجد" 2 الحديث. ولا بأس بعلو مأموم لأن "أبا هريرة صلى على ظهر المسجد بصلاة الإمام" رواه الشافعي، ويكره تطوّع الإمام في موضع المكتوبة بعدها، لحديث المغيرة مرفوعا رواه أبو داود لكن قال أحمد: لا أعرفه عن غير علي. ولا ينصرف المأموم قبله لقوله صلى الله عليه وسلم: "لا تسبقوني بالركوع ولا بالسجود ولا بالانصراف" 3. ويكره لغير الإمام اتخاذ مكان في المسجد لا يصلي فرضه إلا فيه لنهيه صلى الله عليه وسلم عن إيطان كإيطان البعير.
ويعذر في ترك الجمعة والجماعة مريض وخائف ضياع ماله أو ما هو مستحفظ عليه، لأن المشقة اللاحقة بذلك أكثر من بلل الثياب بالمطر الذي هو عذر بالاتفاق، لقول عمر: "كان النبي صلى الله عليه وسلم ينادي مناديه في الليلة الباردة أو المطيرة في السفر. صلوا في رحالكم" 4، أخرجاه، ولهما عن ابن عباس
--------------------------------------------
অংশবিশেষ; আর একইভাবে ইমামের কাতারের মাঝখানে থাকা মুস্তাহাব। কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা ইমামকে মাঝখানে রাখো এবং ফাঁকা জায়গাগুলো পূরণ করো।" ১। আর শিশুর সাথে কাতারে দাঁড়ানো শুদ্ধ; আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর উক্তির কারণে: "আমি ও এক ইয়াতিম বালক তাঁর পেছনে কাতারবদ্ধ হলাম এবং বৃদ্ধা মহিলাটি আমাদের পেছনে দাঁড়ালেন।" আর যদি কেউ একাকী সালাত আদায় করে তবে তা শুদ্ধ হবে না। যদি মুক্তাদি ইমামকে অথবা তাঁর পেছনের কাউকে দেখতে পায় তবে কাতারগুলো সংযুক্ত না থাকলেও সালাত শুদ্ধ হবে। একইভাবে যদি তাদের কাউকে না দেখে কিন্তু তাকবীর শুনতে পায়, তবে তা শুদ্ধ হবে। কারণ তাকবীর শোনার মাধ্যমে অনুসরণ করা সম্ভব, যেমনটি সরাসরি দেখার মাধ্যমে সম্ভব হয়।
আর যদি উভয়ের মাঝে রাস্তা থাকে এবং কাতার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তবে তা শুদ্ধ হবে না। তবে মুয়াফ্ফাক এবং অন্যান্যেরা এই মত বেছে নিয়েছেন যে, তা অনুসরণ করতে বাধা দেয় না; কারণ এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট টেক্সট (নাস) বা ইজমা নেই।
আর ইমাম মুক্তাদিদের চেয়ে উচ্চতর স্থানে অবস্থান করা মাকরুহ। ইবনু মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হুজায়ফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-কে বলেছিলেন: "আপনি কি জানেন না যে তারা (রাসূলুল্লাহ ও সাহাবাগণ) এটি করতে নিষেধ করতেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।" ইমাম শাফেঈ এটি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সনদে বর্ণনা করেছেন। তবে মিম্বরের ধাপের মতো সামান্য উচ্চতা হওয়াতে কোনো সমস্যা নেই। এটি সাহল (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসের কারণে যেখানে বলা হয়েছে যে, "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিম্বরের ওপর সালাত আদায় করেছিলেন এবং এরপর পেছনের দিকে নেমে এসে সিজদাহ করেছিলেন।" ২। আর মুক্তাদির উচ্চস্থানে থাকাতেও কোনো দোষ নেই, কারণ "আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) মসজিদের ছাদে দাঁড়িয়ে ইমামের সালাতের অনুসরণ করে সালাত আদায় করেছিলেন।" এটি শাফেঈ বর্ণনা করেছেন। আর ফরজ সালাতের পর একই স্থানে ইমামের জন্য নফল সালাত আদায় করা মাকরুহ। মুগীরাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হাদিসের কারণে যা আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন, তবে ইমাম আহমাদ বলেছেন: "আমি এটি আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) ছাড়া অন্য কারও মাধ্যমে জানি না।" আর মুক্তাদি ইমামের আগে ফিরবে না (সালাত শেষ করবে না); কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা রুকু, সিজদাহ এবং প্রস্থানে আমাকে অগ্রগামী করো না।" ৩। আর ইমাম ছাড়া অন্যদের জন্য মসজিদে কোনো স্থান নির্দিষ্ট করে নেওয়া মাকরুহ যেখানে সে কেবল তার ফরজ সালাত আদায় করবে। কারণ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উটের মতো নির্দিষ্ট জায়গা আঁকড়ে থাকতে নিষেধ করেছেন।
জুমা ও জামাতে উপস্থিত না হওয়ার ক্ষেত্রে ওজর হিসেবে গণ্য হবেন অসুস্থ ব্যক্তি এবং এমন ব্যক্তি যে তার সম্পদ হারিয়ে যাওয়ার বা যা তার সংরক্ষণে আছে তা নষ্ট হওয়ার ভয় করে। কারণ এর ফলে যে কষ্ট হবে তা বৃষ্টির কারণে কাপড় ভিজে যাওয়ার কষ্টের চেয়েও বেশি, যা সর্বসম্মতভাবে একটি ওজর। কেননা উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সফরে থাকাকালীন শীতল বা বৃষ্টির রাতে তাঁর ঘোষণাকারীকে দিয়ে ঘোষণা করাতেন যে, তোমরা তোমাদের আবাসনস্থলেই সালাত আদায় করে নাও।" ৪। বুখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেছেন এবং ইবনু আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকেও তাদের কিতাবে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি - দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ২৯)
"أنه قال لمؤذنه في يوم مطير يوم جمعة: إذا قلت أشهد أن محمدا رسول الله فلا تقل: حي على الصلاة قل: صلوا في بيوتكم. فكأن الناس استنكروا ذلك فقال: فعله من هو خير مني - يعني رسول الله صلى الله عليه وسلم وإني كرهت أن أخرجكم في الطين والدحض".
ويكره حضور المسجد لمن أكل ثوما أو بصلا ولو خلا من آدمي لتأذي الملائكة بذلك.
তিনি এক বৃষ্টির দিনে জুমুআর দিনে তাঁর মুয়াজ্জিনকে বলেছিলেন: যখন তুমি বলবে ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল’, তখন ‘নামাযের জন্য এসো’ বলো না; বরং বলো ‘তোমরা তোমাদের ঘরে নামায পড়ে নাও’। যেন লোকেরা বিষয়টি অপছন্দ করল, তখন তিনি বললেন: এটি এমন একজন করেছেন যিনি আমার চেয়ে উত্তম—অর্থাৎ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)—আর আমি তোমাদের কাদা ও পিচ্ছিলতার মধ্যে বের করা অপছন্দ করেছি।
আর যে ব্যক্তি রসুন বা পেঁয়াজ খেয়েছে, তার জন্য মসজিদে উপস্থিত হওয়া মাকরূহ, যদিও সেখানে কোনো মানুষ না থাকে; কেননা এর দ্বারা ফেরেশতারা কষ্ট পান।
(খণ্ড: ১)
আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি - দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ৩০)
باب صلاة أهل الأعذاريجب أن يصلي المريض قائما في فرض لحديث عمران: "صل قائما، فإن لم تستطع فقاعدا فإن لم تستطع فعلى جنب" 1 رواه البخاري. زاد النسائي "فإن لم تستطع فمستلقيا" ويومئ لركوعه وسجوده برأسه ما أمكنه لقوله صلى الله عليه وسلم: " إذا أمرتكم بأمر فأتوا منه ما استطعتم" 2.
وتصح صلاة فرض على راحلة واقفة أو سائرة خشية تأذ بوحل ومطر لحديث يعلى بن أمية رواه الترمذي وقال: العمل عليه عند أهل العلم.
والمسافر يقصر الرباعية خاصة، وله الفطر في رمضان. وإن ائتم بمن يلزمه الإتمام أتم. ولو أقام لقضاء حاجة بلا نية إقامة ولا يعلم متى تنقضي، أو حبسه مطر أو مرض قصر أبدا. والأحكام المتعلقة بالسفر أربعة: القصر والجمع، والمسح، والفطر.
ويجوز الجمع بين الظهرين وبين العشائين في وقت أحدهما للمسافر. وتركه أفضل غير جمعي عرفة ومزدلفة، ولمريض يلحقه بتركه مشقة لأنه "صلى الله عليه وسلم جمع من غير خوف ولا سفر". وثبت الجمع للمستحاضة وهو نوع مرض. واحتج أحمد بأن المرض أشد من السفر، وقال: الجمع في الحضر إذا كان من ضرورة أو شغل.
وقال: صحت صلاة الخوف عن
--------------------------------------------
ওযরপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সালাত অধ্যায়ফরয সালাতে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করা ওয়াজিব, ইমরানের বর্ণিত হাদীসের কারণে: "দাঁড়িয়ে সালাত আদায় কর, যদি সক্ষম না হও তবে বসে, আর যদি তাও সক্ষম না হও তবে পার্শ্বদেশে কাত হয়ে।" ১ এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন। নাসায়ী এতে আরও বর্ধিত করেছেন "যদি তাও সক্ষম না হও তবে চিৎ হয়ে শুয়ে।" আর সে তার রুকু ও সিজদার জন্য মাথা দিয়ে যতটুকু সম্ভব ইশারা করবে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর কারণে: "যখন আমি তোমাদের কোনো কাজের নির্দেশ দিই, তখন তোমরা তা থেকে সাধ্য অনুযায়ী পালন কর।" ২
কাদা এবং বৃষ্টির কারণে কষ্টের আশঙ্কা থাকলে স্থির অথবা চলন্ত বাহনের ওপর ফরয সালাত আদায় করা বৈধ; ইয়ালা ইবনে উমাইয়ার হাদীসের কারণে, যা তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: ইলমের অধিকারী ব্যক্তিদের নিকট এর ওপর আমল প্রচলিত।
মুসাফির ব্যক্তি বিশেষভাবে চার রাকাত বিশিষ্ট সালাতসমূহ কসর করবে এবং তার জন্য রমযানে সিয়াম ভঙ্গ করার সুযোগ রয়েছে। আর যদি সে এমন কারো অনুসরণ করে যার ওপর সালাত পূর্ণ করা আবশ্যক, তবে সে সালাত পূর্ণ করবে। যদি সে কোনো প্রয়োজন পূরণের জন্য অবস্থান করে কিন্তু দীর্ঘ অবস্থানের নিয়ত না থাকে এবং কখন তা শেষ হবে তাও না জানে, অথবা বৃষ্টি বা অসুস্থতা তাকে আটকে রাখে, তবে সে সর্বদা কসর করবে। সফর সংশ্লিষ্ট বিধানসমূহ চারটি: কসর করা, দুই সালাত একত্রে আদায় করা, মাসেহ করা এবং সিয়াম ভঙ্গ করা।
মুসাফিরের জন্য দুই জোহর (জোহর ও আসর) এবং দুই এশা (মাগরিব ও এশা) এর যেকোনো একটির ওয়াক্তে একত্রে আদায় করা জায়েয। তবে আরাফাহ ও মুজদালিফার একত্রে আদায় করা ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে এটি বর্জন করা উত্তম। আর সেই অসুস্থ ব্যক্তির জন্যও এটি জায়েয যার জন্য একত্রে সালাত আদায় না করা কষ্টকর; কেননা "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভয় বা সফর ছাড়াই একত্রে সালাত আদায় করেছেন।" আর ইস্তিহাযাগ্রস্ত মহিলার জন্য একত্রে সালাত আদায় সাব্যস্ত হয়েছে, যা এক প্রকার অসুস্থতা। ইমাম আহমাদ যুক্তি প্রদান করেছেন যে, অসুস্থতা সফরের চেয়েও বেশি কঠিন। তিনি বলেন: কোনো প্রয়োজন বা ব্যস্ততা থাকলে আবাসে অবস্থানকালেও একত্রে সালাত আদায় করা যাবে।
তিনি বলেন: ভয়ের সালাত সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুল মাশয়ি ইলাস সালাতি - দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব
(পৃষ্ঠা: ৩১)
النبي صلى الله عليه وسلم من ستة أوجه أو سبعة كلها جائزة، وأما حديث سهل فأنا أختاره، وهي صلاة ذات الرقاع "طائفة صفت معه وطائفة وجاه العدو، فصلى بالتي معه ركعة، ثم ثبت قائما وأتموا لأنفسهم، ثم انصرفوا وصفوا وجاه العدو. وجاءت الطائفة الأخرى فصلى بهم الركعة التي بقيت من صلاته، ثم ثبت جالسا وأتموا لأنفسهم، ثم سلم بهم" 1 متفق عليه، وله أن يصلي بكل طائفة صلاة ويسلم بها، رواه أحمد وأبو داود والنسائي. ويستحب حمل السلاح فيها لقوله تعالى: {وَلْيَأْخُذُوا حِذْرَهُمْ وَأَسْلِحَتَهُمْ} 2 ولو قيل بوجوبه لكان له وجه لقوله تعالى: {وَلا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ إِنْ كَانَ بِكُمْ أَذىً مِنْ مَطَرٍ أَوْ كُنْتُمْ مَرْضَى أَنْ تَضَعُوا أَسْلِحَتَكُمْ} 3.
وإذا اشتد الخوف صلوا رجالا وركبانا مستقبلي القبلة وغير مستقبليها لقوله تعالى: {فَإِنْ خِفْتُمْ فَرِجَالاً أَوْ رُكْبَاناً} 4 يومئون إيماء بقدر الطاقة، ويكون السجود أخفض من الركوع، ولا تجوز جماعة إذا لم تمكن المتابعة.
--------------------------------------------
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে ছয় বা সাতটি পদ্ধতিতে (ভয়ের সালাত) বর্ণিত হয়েছে যার সবগুলোই জায়েজ। তবে আমি সাহল-এর বর্ণিত হাদিসটি বেছে নিচ্ছি, আর তা হলো জাতুর রিকা-এর সালাত: "এক দল তাঁর সাথে কাতারবদ্ধ হলো এবং অন্য দল শত্রুর মুখোমুখি থাকল। তিনি তাঁর সাথে থাকা দলটিকে নিয়ে এক রাকাত সালাত আদায় করলেন, তারপর তিনি দাঁড়িয়ে স্থির থাকলেন এবং তারা নিজেদের সালাত পূর্ণ করে নিল। এরপর তারা চলে গেল এবং শত্রুর মুখোমুখি অবস্থানে কাতারবদ্ধ হলো। অতঃপর অন্য দলটি এল এবং তিনি তাদেরকে নিয়ে তাঁর সালাতের অবশিষ্ট এক রাকাত আদায় করলেন। এরপর তিনি বসে স্থির থাকলেন এবং তারা নিজেদের সালাত পূর্ণ করে নিল। এরপর তিনি তাদের নিয়ে সালাম ফিরালেন।" ১ এটি বুখারি ও মুসলিম কর্তৃক সর্বসম্মতভাবে বর্ণিত। ইমামের জন্য প্রতিটি দলের সাথে পৃথকভাবে সালাত আদায় করা এবং সালাম ফিরানোও জায়েজ, যা আহমদ, আবু দাউদ ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন। আর এই সালাতে অস্ত্র বহন করা মুস্তাহাব। কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {তারা যেন নিজেদের সতর্কতা অবলম্বন করে এবং নিজেদের অস্ত্র সাথে রাখে} ২। যদি এর আবশ্যকতা (ওয়াজিব হওয়ার) কথা বলা হতো, তবে তারও জোরালো ভিত্তি থাকত। কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {যদি বৃষ্টির কারণে তোমাদের কোনো কষ্ট হয় অথবা তোমরা অসুস্থ থাকো, তবে তোমাদের অস্ত্র রেখে দিলে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই} ৩।
আর যখন ভয় তীব্রতর হবে, তখন তারা পদব্রজে কিংবা আরোহী অবস্থায় কিবলামুখী হয়ে অথবা অন্য কোনো দিকে মুখ করে সালাত আদায় করবে। মহান আল্লাহর বাণী অনুযায়ী: {যদি তোমরা ভীত থাকো, তবে হেঁটে কিংবা সওয়ার হয়ে (সালাত আদায় করো)} ৪। তারা সামর্থ্য অনুযায়ী ইশারার মাধ্যমে সালাত আদায় করবে এবং সাজদাহ রুকুর চেয়ে নিচু হবে। আর যখন ইমামের অনুসরণ করা সম্ভব হবে না, তখন জামাতে সালাত জায়েজ হবে না।
--------------------------------------------