(খণ্ড: ১) আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা (পৃষ্ঠা: -)
آداب الزفاف في السنة المطهرة   (ناصر الدين الألباني)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: آداب الزفاف في السنة المطهرة

المؤلف: أبو عبد الرحمن محمد ناصر الدين، بن الحاج نوح بن نجاتي بن آدم، الأشقودري الألباني (ت 1420هـ)

الناشر: دار السلام

الطبعة: الطبعة الشرعية الوحيدة 1423هـ/2002مـ

عدد الصفحات: 292

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

পবিত্র সুন্নাহর আলোকে বাসর রাতের আদব   (নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী)

বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ


গ্রন্থ: পবিত্র সুন্নাহর আলোকে বাসর রাতের আদব

লেখক: আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন, বিন আল-হাজ নুহ বিন নাজাতি বিন আদম, আল-আশকুন্দরী আল-আলবানী (মৃত্যু ১৪২০ হিজরী)

প্রকাশক: দারুস সালাম

সংস্করণ: একমাত্র শরয়ী সংস্করণ ১৪২৩ হিজরী/২০০২ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা (পৃষ্ঠা: ৮৯)
‌‌مقدمة

…

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله القائل في محكم كتابه: {وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجاً لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً} [الروم: 21] . والصلاة والسلام على نبيه محمد الذي ورد عنه فيما ثبت من حديثه: "تزوجوا الودود الولود فإني مكاثر بكم الأنبياء يوم القيامة" 1.

وبعد فإن لمن تزوج وأراد الدخول بأهله آدابا في الإسلام قد ذهل عنها أو جهلها أكثر الناس حتى المتعبدين منهم فأحببت أن أضع في بيانها هذه الرسالة المفيدة بمناسبة زفاف أحد الأحبة إعانة له ولغيره من الإخوة المؤمنين على القيام بما شرعه سيد المرسلين

--------------------------------------------

1 رواه أحمد والطبراني بسند حسن وصححه ابن حبان عن أنس وله شواهد سيأتي ذكرها في المسألة 19.
ভূমিকা

…

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সুদৃঢ় কিতাবে বলেছেন: {আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি লাভ করো এবং তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন} [আর-রুম: ২১]। এবং দরুদ ও সালাম তাঁর নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি, যাঁর থেকে তাঁর প্রমাণিত (ثابت) হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "তোমরা অধিক প্রেমময়ী ও অধিক সন্তান প্রসবকারিনী নারীকে বিবাহ করো, কারণ কিয়ামতের দিন আমি তোমাদের মাধ্যমে অন্যান্য নবীদের সামনে আধিক্যের গৌরব করব।" ১।

অতঃপর, যে ব্যক্তি বিবাহ করে এবং স্ত্রীর সাথে বাসর করার ইচ্ছা পোষণ করে, ইসলামে তার জন্য কিছু শিষ্টাচার রয়েছে যা অধিকাংশ মানুষ ভুলে গেছে অথবা সে সম্পর্কে অজ্ঞ রয়ে গেছে, এমনকি তাদের মধ্যে অনেক ইবাদতগুজার ব্যক্তিও। তাই আমি একজন প্রিয় পাত্রের বিবাহ উপলক্ষে এই শিষ্টাচারগুলো বর্ণনার উদ্দেশ্যে এই উপকারী পুস্তিকাটি সংকলন করা পছন্দ করেছি, যাতে তাঁকে এবং অন্য মুমিন ভাইদেরকে রাসূলগণের সরদার যা প্রবর্তন করেছেন তা পালনে সহযোগিতা করা যায়।

--------------------------------------------

১. এটি আহমদ এবং তাবারানি একটি হাসান (حسن) সনদে (سند) বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে হিব্বান আনাস (রা.) হতে বর্ণিত এই হাদিসটিকে সহিহ (صحيح) বলেছেন। এর আরও কিছু শাহিদ বা সমর্থক বর্ণনা (شواهد) রয়েছে যা ১৯ নং মাসআলায় উল্লেখ করা হবে।
(খণ্ড: ১) আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা (পৃষ্ঠা: ৯০)
عن رب العالمين وعقبتها بالتنبيه على بعض الأمور التي تهم كل متزوج وقد ابتلي بها كثير من الزوجات.

أسأل الله تعالى أن ينفع بها وأن يجعلها خالصة لوجهه الكريم إنه هو البر الرحيم.

وليعلم أن آداب الزفاف كثيرة وإنما يعنيني منها في هذه العجالة ما ثبت منها في السنة المحمدية مما لا مجال لإنكارها من حيث إسنادها أو محاولة التشكيك فيها من جهة مبناها حتى يكون القائم بها على بصيرة من دينه وثقة من أمره وإني لأرجو أن يختم الله له بالسعادة جزاء افتتاحه حياته الزوجة بمتابعة السنة وأن يجعله من عباده الذين وصفهم بأن من قولهم: {رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَاماً} . [الفرقان: 74] . والعاقبة للمتقين كما قال رب العالمين: {إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي ظِلالٍ وَعُيُونٍ،وَفَوَاكِهَ مِمَّا يَشْتَهُونَ، كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئاً بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ، إِنَّا كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ} [المرسلات: 41 - 44] .

وهاك تلك الآداب:
বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে (যা বর্ণিত হয়েছে) এবং এর শেষে আমি এমন কিছু বিষয়ে সতর্ক করেছি যা প্রত্যেক বিবাহিত ব্যক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং যার দ্বারা অনেক স্ত্রীই বিপদগ্রস্ত হয়েছেন।

আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে উপকার দান করেন এবং একে তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম দয়ালু ও অতিশয় মেহেরবান।

জেনে রাখা আবশ্যক যে, বাসর রাতের আদবসমূহ অনেক। তবে এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে আমার উদ্দেশ্য হলো মুহাম্মাদী সুন্নাহর (سنة) সেই প্রমাণিত (ثابت) বিষয়গুলো আলোচনা করা, যার সনদ (إسناد) অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই কিংবা যার মূল পাঠগত (متن) কাঠামোর ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করার কোনো সুযোগ নেই; যাতে আমলকারী ব্যক্তি তার দ্বীন সম্পর্কে সুস্পষ্ট প্রজ্ঞা এবং নিজের কার্যাবলীর ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাসের ওপর থাকতে পারেন। আমি আশা করি যে, সুন্নাহ (سنة) অনুসরণের মাধ্যমে দাম্পত্য জীবন শুরু করার প্রতিদান স্বরূপ আল্লাহ তায়ালা তার জীবনের সমাপ্তি সৌভাগ্যমণ্ডিত করবেন এবং তাকে তাঁর ঐ সকল বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করবেন যাদের প্রার্থনা সম্পর্কে তিনি বর্ণনা করেছেন: "হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য আমাদের স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততিদের পক্ষ থেকে চক্ষুশীতলকারী সম্পদ দান করুন এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের (متقين) জন্য আদর্শ (إمام) স্বরূপ করুন।" [আল-ফুরকান: ৭৪]। আর শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের (متقين) জন্যই, যেমনটি বিশ্বজগতের প্রতিপালক বলেছেন: "নিশ্চয়ই মুত্তাকীরা (متقين) থাকবে ছায়া ও ঝরনাধারার মধ্যে, এবং তাদের পছন্দনীয় ফলমূলের মাঝে। (তাদেরকে বলা হবে,) তোমরা যা করতে তার বিনিময়ে তৃপ্তির সাথে পানাহার করো। এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের (محسنين) প্রতিদান দিয়ে থাকি।" [আল-মুরসালাত: ৪১-৪৪]।

নিচে সেই আদবসমূহ প্রদান করা হলো:
(খণ্ড: ১) আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা (পৃষ্ঠা: ৯১)
1-‌‌ ملاطفة الزوجة عند البناء بها:

يستحب له إذا دخل على زوجته أن يلاطفها كأن يقدم إليها شيئا من الشراب ونحوه لحديث أسماء بنت يزيد بن السكن قالت:

إني قينت1 عائشة لرسول الله صلى الله عليه وسلم ثم جئته فدعوته لجلوتها2 فجاء فجلس إلى جنبها فأتي بعس3 لبن فشرب ثم ناولها النبي صلى الله عليه وسلم فخفضت رأسها واستحيت قالت أسماء: فانتهرتها وقلت لها: خذي من يد النبي صلى الله عليه وسلم قالت: فأخذت فشربت شيئا ثم قال لها النبي صلى الله عليه وسلم: "أعطي تربك" 4 قالت أسماء: فقلت: يا رسول الله! بل خذه فاشرب منه ثم ناولنيه من يدك فأخذه فشرب منه ثم ناولنيه قالت: فجلست ثم وضعته على ركبتي ثم طفقت أديره وأتبعه بشفتي

--------------------------------------------

1 أي: زينت.

2 أي: للنظر إليها مجلوة مكشوفة.

3 هو القدح الكبير.

4 أي: صديقتك.
1-‌‌ বাসর রাতে স্ত্রীর সাথে কোমল আচরণ করা:

বাসর রাতে যখন স্বামী তার স্ত্রীর নিকট প্রবেশ করে, তখন তার জন্য পছন্দনীয় (مستحب) হলো স্ত্রীর সাথে কোমল আচরণ করা। যেমন তাকে কোনো পানীয় বা অনুরূপ কিছু পেশ করা; আসমা বিনতে ইয়াজিদ ইবনে আস-সাকান বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, তিনি বলেন:

আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য আয়েশাকে সজ্জিত করেছিলাম। অতঃপর আমি তাঁর নিকট গিয়ে তাঁকে নববধূর সাক্ষাতের জন্য আহ্বান জানালাম। তিনি আসলেন এবং তাঁর পাশে বসলেন। তখন একটি বড় পেয়ালা ভর্তি দুধ আনা হলো। তিনি তা থেকে পান করলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা তাঁর (আয়েশার) দিকে বাড়িয়ে দিলেন। তখন তিনি (আয়েশা) মাথা নিচু করলেন এবং লজ্জাবোধ করলেন। আসমা বলেন: আমি তাঁকে মৃদু ধমক দিয়ে বললাম, 'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাত থেকে তা গ্রহণ করো।' আসমা বলেন: তখন তিনি তা গ্রহণ করলেন এবং সামান্য পান করলেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, "তোমার সঙ্গিনীকেও দাও।" আসমা বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! বরং আপনিই তা গ্রহণ করুন এবং পান করুন, অতঃপর আপনার হাত থেকে সেটি আমাকে দিন। তিনি সেটি নিলেন এবং পান করে আমাকে প্রদান করলেন। আসমা বলেন: আমি বসলাম এবং তা আমার হাঁটুর ওপর রাখলাম। এরপর আমি পাত্রটি ঘোরাতে লাগলাম এবং যেখানে তাঁর পবিত্র ঠোঁট লেগেছিল সেখানে আমার ঠোঁট লাগিয়ে পান করার চেষ্টা করতে লাগলাম।

--------------------------------------------

১ অর্থাৎ: সাজিয়েছিলাম।

২ অর্থাৎ: তাঁকে নববধূর সাজে দেখার জন্য।

৩ এটি একটি বড় পেয়ালা।

৪ অর্থাৎ: তোমার বান্ধবী বা সমবয়সী সঙ্গিনী।
(খণ্ড: ১) আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা (পৃষ্ঠা: ৯২)
لأصيب منه شرب النبي صلى الله عليه وسلم ثم قال لنسوة عندي: "ناوليهن" فقلن: لا نشتهيه! فقال صلى الله عليه وسلم: "لا تجمعن جوعا وكذبا" 1.

--------------------------------------------

1 أخرجه أحمد 6/438 و 452 و 453 و 458 مطولا ومختصرا بإسنادين يقوي أحدهما الآخر. وأشار المنذري 4/29 إلى تقويته والحميدي أيضا في مسنده 61/2. وله شاهد في الطبراني في " الصغير " و " الكبير " و " تاريخ أصبهان " لأبي الشيخ 282- 283 وكتاب " الصمت " لابن الدنيا 26/2.
যাতে আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পানীয় হতে কিছু অংশ গ্রহণ করতে পারি। অতঃপর তিনি আমার নিকট থাকা নারীদের উদ্দেশ্যে বললেন: "তাদেরকে এটি দাও।" তারা বলল: "আমাদের এর প্রতি কোনো ক্ষুধা বা আকাঙ্ক্ষা নেই!" তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমরা ক্ষুধা এবং মিথ্যাকে (كذبا) একত্রিত করো না।" 1.

--------------------------------------------

1. এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ (৬/৪৩৮, ৪৫২, ৪৫৩ ও ৪৫৮) বিস্তারিত ও সংক্ষিপ্তভাবে এমন দুটি সূত্রের (إسنادين) মাধ্যমে যার একটি অন্যটিকে শক্তিশালী (يقوي) করে। আল-মুনজিরি (৪/২৯) এবং আল-হুমাইদিও তার মুসনাদে (২/৬১) এটি শক্তিশালী (تقويته) করার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আত-তাবারানির 'আস-সগির' ও 'আল-কাবির', আবুশ শায়খের 'তারিখ আসবাহান' (২৮২-২৮৩) এবং ইবনু আবুদ দুনিয়ার 'কিতাবুস সামত' (২/২৬) গ্রন্থে এর সমর্থক বর্ণনা (شاهد) রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা (পৃষ্ঠা: ৯২)
2-‌‌ وضع اليد على رأس الزوجة والدعاء لها:

وينبغي أن يضع يده على مقدمة رأسها عند البناء بها أو قبل ذلك وأن يسمي الله تبارك وتعالى ويدعو بالبركة ويقول ما جاء في قوله صلى الله عليه وسلم: "إذا تزوج أحدكم امرأة أو اشترى خادما [فليأخذ بناصيتها] 2 [وليسم الله عز وجل] [وليدع بالبركة] وليقل:

--------------------------------------------

2 الناصية: منبت الشعر في مقدم الرأس كما في "اللسان".
২-‌‌ স্ত্রীর মাথায় হাত রাখা এবং তার জন্য দোয়া করা:

বাসর রাতে বা তার পূর্বে স্ত্রীর মাথার সম্মুখভাগে হাত রাখা এবং আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার নাম স্মরণ করা ও বরকতের জন্য দোয়া করা বাঞ্ছনীয়। এছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীতে যা বর্ণিত হয়েছে তা বলা উচিত: "তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিবাহ করে অথবা কোনো সেবক ক্রয় করে, [তবে সে যেন তার কপালের অগ্রভাগ ধরে] ২ [এবং মহান আল্লাহর নাম স্মরণ করে] [ও বরকতের জন্য দোয়া করে] এবং বলে:

--------------------------------------------

২ নাসিয়া: মাথার সম্মুখভাগে চুল গজানোর স্থান, যেমনটি 'আল-লিসান' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা (পৃষ্ঠা: ৯৩)
اللهم إني أسألك من خيرها وخير ما جبلتها عليه وأعوذ بك من شرها وشر ما جبلتها عليه" 1.

[وإذا اشترى بعيرا فليأخذ بذروه سنامه وليقل مثل ذلك] " 2.

--------------------------------------------

1 أي: خلقتها وطبعتها عليه. "نهاية".

قلت: وفي الحديث دليل على أن الله خالق الخير والشر خلافا لمن يقول - من المعتزلة وغيرهم - بأن الشر ليس من خلقه تبارك وتعالى وليس في كون الله خالقا للشر ما ينافي كماله تعالى بل هو من كماله تبارك وتعالى. وتفصيل ذلك في المطولات ومن أحسنها كتاب "شفاء العليل في القضاء والقدر والتعليل "لابن القيم فليراجعه من شاء. وهل يشرع هذا الدعاء في شراء مثل السيارة؟ وجوابي: نعم لما يرجى من خيرها ويخشى من شرها

2 أخرجه البخاري في "أفعال العباد" ص 77وأبو داود 1/336 وابن ماجه 1/592 والحاكم 2/185 والبيهقي 7/148 وأبو يعلى في "مسنده" ق 308/2 بإسناد حسن وصححه الحاكم ووافقه الذهبي. وقال الحافظ العراقي في " تخريج الإحياء" 1/298:

" إسناده جيد". وأشار لصحته عبد الحق الإشبيلي في "الأحكام الكبرى" 42/2 بسكوته عليه كما نص في المقدمة وكذا ابن دقيق العيد في "الإلمام"127/2.
"হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট এর কল্যাণ এবং আপনি একে যে প্রকৃতির ওপর সৃষ্টি করেছেন তার কল্যাণ প্রার্থনা করছি; আর আমি আপনার নিকট এর অনিষ্ট এবং আপনি একে যে প্রকৃতির ওপর সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে পানাহ চাচ্ছি।" ১।

[আর যখন কেউ কোনো উট ক্রয় করে, সে যেন তার কুঁজের অগ্রভাগ ধরে এবং অনুরূপ দোয়া পাঠ করে।] ২।

--------------------------------------------

১ অর্থাৎ: তার সৃষ্টি এবং যে স্বভাবের ওপর তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। "নিহায়া"।

আমি বলছি: এই হাদিসে এর প্রমাণ রয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা কল্যাণ ও অকল্যাণ উভয়েরই স্রষ্টা; যা মুতাজিলা ও অন্যদের মতের পরিপন্থী—যারা মনে করে যে মন্দ বা অকল্যাণ আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার সৃষ্টি নয়। আল্লাহ তাআলা মন্দের স্রষ্টা হওয়ার মাঝে তাঁর পরিপূর্ণতার কোনো পরিপন্থী বিষয় নেই, বরং এটি তাঁরই মহান সত্তার পরিপূর্ণতার অংশ। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা দীর্ঘ কিতাবসমূহে রয়েছে, যার মধ্যে ইবনুল কাইয়্যিম-এর 'শিফাউল আলিল ফি আল-কাদা ওয়াল কাদার ওয়াত তালিল' গ্রন্থটি সর্বোত্তম; আগ্রহী ব্যক্তি তা দেখে নিতে পারেন। আর গাড়ি ক্রয়ের মতো ক্ষেত্রেও কি এই দোয়া পাঠ করা বিধেয় হবে? আমার উত্তর হলো: হ্যাঁ, যেহেতু এর থেকে কল্যাণের আশা করা হয় এবং এর অনিষ্টের ভয় করা হয়।

২ এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি 'আফআলুল ইবাদ' (পৃ. ৭৭), আবু দাউদ (১/৩৩৬), ইবনে মাজাহ (১/৫৯২), হাকেম (২/১৮৫), বায়হাকি (৭/১৪৮) এবং আবু ইয়ালা তার 'মুসনাদ'-এ (খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৩০৮)। এর সনদটি হাসান (حسن) এবং হাকেম একে সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং যাহাবি তার সাথে একমত পোষণ করেছেন। হাফেজ ইরাকি 'তাখরিজুল ইহয়া' (১/২৯৮) গ্রন্থে বলেছেন: "এর সনদটি জাইয়্যিদ (جيد)"। আবদুল হক আল-ইশবিলি 'আল-আহকামুল কুবরা' (২/৪২) গ্রন্থে এর ওপর নীরব থেকে এর বিশুদ্ধতার (صحة) প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যেমনটি তিনি ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন। অনুরূপভাবে ইবনু দাকিকিল ঈদ 'আল-ইলমাম' (২/১২৭) গ্রন্থেও এরূপ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা (পৃষ্ঠা: ৯৪)
3-‌‌ صلاة الزوجين معا:

ويستحب لهما أن يصليا ركعتين معا لأنه منقول عن السلف. وفيه أثران:

الأول: عن أبي سعيد مولى أبي أسيد قال:

"تزوجت وأنا مملوك فدعوت نفرا من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم فيهم ابن مسعود وأبو ذر وحذيفة قال: وأقيمت الصلاة قال: فذهب أبو ذر ليتقدم فقالوا: إليك! قال: أو كذلك؟ قالوا: نعم1 قال: فتقدمت بهم وأنا عبد مملوك وعلموني فقالوا:

"إذا دخل عليك أهلك فصل ركعتين ثم سل الله من خير ما دخل عليك وتعوذ به من شره ثم شأنك وشأن أهلك"2.

--------------------------------------------

1 قلت: يشيرون بذلك إلى أن الزائر لا يؤم المزور في بيته إلا أن يأذن له لقوله صلى الله عليه وسلم: "ولا يؤم الرجل في بيته ولا في سلطانه". أخرجه مسلم وأبو عوانة في "صحيحيهما" وهو في "صحيح أبي داود "رقم 594.

2 أخرجه أبو بكر بن أبي شيبة في "المصنف" ج 7 ورقة 50 =.
3-‌‌ স্বামী-স্ত্রীর একত্রে সালাত আদায়:

তাদের উভয়ের জন্য একত্রে দুই রাকাত সালাত আদায় করা মুস্তাহাব (مستحب); কেননা এটি সালাফদের (سلف) থেকে বর্ণিত হয়েছে। আর এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা (أثر) রয়েছে:

প্রথমটি: আবু আসিদের মুক্তদাস আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

"আমি যখন ক্রীতদাস ছিলাম তখন বিবাহ করি এবং নবী (সা.)-এর একদল সাহাবীকে দাওয়াত করি, যাদের মধ্যে ইবনে মাসউদ, আবু যার এবং হুযায়ফা (রা.) ছিলেন। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: সালাতের ইকামত দেওয়া হলো। তখন আবু যার (রা.) ইমামতি করতে সামনে অগ্রসর হতে চাইলেন। তারা বললেন: 'আপনি পেছনে থাকুন!' তিনি বললেন: 'বিষয়টি কি তাই?' তারা বললেন: 'হ্যাঁ'১। তিনি বলেন: আমি তাদের ইমামতি করলাম অথচ আমি তখন একজন ক্রীতদাস ছিলাম। তারা আমাকে শিক্ষা দিলেন এবং বললেন:

"যখন তোমার স্ত্রী তোমার নিকট আসবে, তখন দুই রাকাত সালাত আদায় করবে। অতঃপর তোমার নিকট যা এসেছে (স্ত্রী) তার কল্যাণ আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবে এবং তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় (تعوذ) প্রার্থনা করবে। এরপর তোমার ও তোমার স্ত্রীর ব্যক্তিগত বিষয়"২।

--------------------------------------------

১ আমি বলছি: এর মাধ্যমে তারা এই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কোনো মেহমান গৃহকর্তার অনুমতি ব্যতীত তার ঘরে ইমামতি করবে না। কেননা নবী (সা.) বলেছেন: "কোনো ব্যক্তি যেন অন্য কারো ঘরে বা তার কর্তৃত্বাধীন স্থানে ইমামতি না করে।" এটি মুসলিম এবং আবু আওয়ানা তাদের সহীহ (صحيح) গ্রন্থদ্বয়ে বর্ণনা করেছেন এবং এটি সহীহ আবু দাউদ এর ৫৯৪ নং হাদিস।

২ এটি আবু বকর ইবনে আবি শায়বা আল-মুসান্নাফ এর ৭ম খণ্ড, ৫০ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা (পৃষ্ঠা: ৯৫)
الثاني: عن شقيق قال:

"جاء رجل يقال له: أبو حريز1 فقال: إني تزوجت جارية شابة [بكرا] وإني أخاف أن تفركني2 فقال عبد الله يعني ابن مسعود:

--------------------------------------------

= وجه 1 وج 12 ورقة 43 وجه 2 وعبد الرزاق أيضا 6/191 - 192 وسنده صحيح إلى أبي سعيد وهو مستور لم أجد من ذكره سوى أن الحافظ أورده في "الإصابة" فيمن روى عن مولاه أبي أسيد مالك بن ربيعة الأنصاري ثم رأيته في ثقات ابن حبان قال 5/588 هندية:

" يروي عن جماعة من الصحابة روى عنه أبو نضرة".

ثم ساق هذه القصة دون قوله: فقالوا: … إلخ وهو رواية لابن أبي شيبة 2/23/1.

1 بحاء مفتوحة والأصل " حرير " بدون إعجام وقد أورده الذهبي في "المشتبه" بالحاء وقال:

" له صحبة". ثم تناقض فذكره في " التجريد " بالجيم والراء المكسورة كما حكاه عنه ابن ناصر الدين في " التوضيح " وقد حكى الوجهين عن غير واحد من المتقدمين. والله أعلم.

2 أي: تبغضني وفي " النهاية ": " فركت المرأة زوجها تفركه فركا بالكسر وفركا وفروكا فهي فروك".
দ্বিতীয় (অনুচ্ছেদ): শাকিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

"আবু হারিজ নামক জনৈক ব্যক্তি এসে বললেন: আমি এক যুবতী [কুমারী] মেয়েকে বিয়ে করেছি এবং আমি ভয় পাচ্ছি যে সে আমাকে ঘৃণা করবে। অতঃপর আবদুল্লাহ অর্থাৎ ইবনে মাসউদ বললেন:

--------------------------------------------

= পৃষ্ঠা ১ এবং খণ্ড ১২, পত্র ৪৩, পৃষ্ঠা ২ এবং আবদুর রাজ্জাকও ৬/১৯১ - ১৯২; এবং আবু সাঈদ পর্যন্ত এর সনদ (سند) সহিহ (صحيح); তবে তিনি অপরিচিত (مستور), হাফিজ (الحافظ) তাঁকে 'আল-ইসাবাহ' গ্রন্থে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা ছাড়া আর কেউ তাঁকে উল্লেখ করেছেন বলে আমি পাইনি যাঁরা তাঁদের মনিব আবু আসিদ মালিক ইবনে রাবিআ আল-আনসারী থেকে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর আমি তাঁকে ইবনে হিব্বানের নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী (ثقات) বিষয়ক গ্রন্থে দেখেছি, তিনি (৫/৫৮৮, ইন্ডিয়া মুদ্রণ) বলেন:

"তিনি সাহাবীদের একটি দল থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁর থেকে আবু নাদরা বর্ণনা করেছেন।"

অতঃপর তিনি এই কাহিনীটি বর্ণনা করেছেন তবে 'অতঃপর তারা বললেন: ...' ইত্যাদি অংশটুকু ছাড়া। এটি ইবনে আবি শায়বার একটি বর্ণনা (رواية) ২/২৩/১।

১. জবরযুক্ত 'হা' দিয়ে, এবং মূল পাঠে এটি নুকতাহীন 'হারির' ছিল। যাহাবি 'আল-মুশতাবিহ' গ্রন্থে এটি 'হা' দিয়ে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন:

"তিনি সাহাবী হওয়ার মর্যাদা (صحبة) লাভ করেছেন।" অতঃপর তিনি স্ববিরোধিতা করেছেন এবং একে 'আত-তাজরিদ' গ্রন্থে 'জিম' এবং কাসরাহ (জের) যুক্ত 'রা' দিয়ে উল্লেখ করেছেন যেমনটি তাঁর থেকে ইবনে নাসিরুদ্দিন 'আত-তাওদিহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তিনি পূর্ববর্তী একাধিক আলিমের নিকট থেকে উভয় প্রকার বর্ণনাটিই উল্লেখ করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

২. অর্থাৎ: সে আমাকে ঘৃণা করবে। 'আন-নিহায়াহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "স্ত্রী তার স্বামীকে ঘৃণা করেছে, সে তাকে ঘৃণা করে; এখানে 'ফারক' শব্দটি কাসরাহ (জের) যোগে এবং মাজদার বা ক্রিয়ামূল হিসেবে ফারকান ও ফুরূকান ব্যবহৃত হয়, আর সেই স্ত্রীকে বলা হয় ফারূক।"
(খণ্ড: ১) আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা (পৃষ্ঠা: ৯৬)
إن الإلف من الله والفرك من الشيطان يريد أن يكره إليكم ما أحل الله لكم فإذا أتتك فأمرها أن تصلي وراءك ركعتين". زاد في رواية أخرى عن ابن مسعود:

"وقل: اللهم بارك لي في أهلي وبارك لهم في اللهم اجمع بيننا ما جمعت بخير وفرق بيننا إذا فرقت إلى خير" 1.

--------------------------------------------

1 أخرجه أبو بكر بن أبي شيبة في المصدر السابق وكذا عبد الرزاق في "مصنفه" 6/191/10460- 10461 وسنده صحيح وأخرجه الطبراني 3/21/2 بسندين صحيحين والزيادة مع الرواية الأخرى له ورواه في "الأوسط" كما في الجمع بينه وبين "الصغير" 166/2 من طريق الحسين بن واقد عن عطاء بن السائب عن أبي عبد الرحمن السلمي عن عبد الله بن مسعود أن النبي صلى الله عليه وسلم قال:

"إذا دخلت المرأة على زوجها يقوم الرجل فتقوم من خلفه فيصليان ركعتين ويقول: اللهم بارك لي في أهلي وبارك لأهلي في اللهم ارزقهم مني وارزقني منهم اللهم اجمع بيننا ما جمعت في خير وفرق بيننا إذا فرقت في خير".

وقال: "لم يروه عن عطاء إلا الحسين".

قلت: يعني مرفوعا وعطاء بن السائب كان اختلط وقد رواه =
"নিশ্চয়ই সৌহার্দ্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং বিদ্বেষ শয়তানের পক্ষ থেকে, সে চায় তোমাদের প্রতি যা আল্লাহ হালাল করেছেন তা তোমাদের নিকট অপ্রিয় করে তুলতে। অতএব, সে যখন তোমার কাছে আসবে, তখন তাকে নির্দেশ দাও যাতে সে তোমার পেছনে দুই রাকাত সালাত আদায় করে।" ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত অন্য একটি বর্ণনায় বর্ধিত অংশ রয়েছে:

"এবং বলো: হে আল্লাহ! আমার পরিবারে আমার জন্য বরকত দান করুন এবং তাদের মাঝে আমার জন্য বরকত দান করুন। হে আল্লাহ! আমাদের যতক্ষণ একত্রে রাখেন কল্যাণের সাথেই একত্রে রাখুন এবং যখন আমাদের আলাদা করবেন কল্যাণের দিকেই আলাদা করবেন।" 1.

--------------------------------------------

১. এটি আবু বকর ইবনে আবি শাইবা পূর্বোক্ত উৎসে এবং একইভাবে আবদুর রাজ্জাক তাঁর 'মুসান্নাফ' (৬/১৯১/১০৪৬০-১০৪৬১) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ (سند) সহিহ (صحيح)। ইমাম তাবারানি (৩/২১/২) এটি দুটি সহিহ (صحيح) সনদে (سندين) বর্ণনা করেছেন এবং বর্ধিত অংশটি তাঁর নিকট অন্য বর্ণনায় বিদ্যমান। তিনি এটি 'আল-আওসাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি 'আল-জামউ বাইনাহু ওয়া বাইনাস সাগির' (২/১৬৬) গ্রন্থে রয়েছে হুসাইন ইবনে ওয়াকিদ—আতা ইবনাস সাইব—আবু আবদুর রহমান আস-সুলামি—আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ সূত্রে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"যখন স্ত্রী তার স্বামীর নিকট প্রবেশ করবে, তখন স্বামী দাঁড়াবে এবং স্ত্রী তার পেছনে দাঁড়াবে, অতঃপর তারা দুই রাকাত সালাত আদায় করবে এবং স্বামী বলবে: হে আল্লাহ! আমার পরিবারে আমার জন্য বরকত দান করুন এবং আমার মাঝে আমার পরিবারের জন্য বরকত দান করুন। হে আল্লাহ! তাদের পক্ষ থেকে আমাকে রিজিক দান করুন এবং আমার পক্ষ থেকে তাদেরকে রিজিক দান করুন। হে আল্লাহ! আমাদের যতক্ষণ একত্রে রাখেন কল্যাণের সাথেই একত্রে রাখুন এবং যখন আমাদের আলাদা করবেন কল্যাণের দিকেই আলাদা করবেন।"

তিনি (তাবারানি) বলেছেন: "আতা থেকে হুসাইন ব্যতীত অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেননি।"

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: অর্থাৎ মারফু (مرفوع) হিসেবে; আর আতা ইবনাস সাইব স্মৃতিবিভ্রমে (اختلط) পতিত হয়েছিলেন এবং এটি বর্ণিত হয়েছে =
(খণ্ড: ১) আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা (পৃষ্ঠা: ৯৭)
_________

= عنه حماد بن زيد به نحوه موقوفا عليه وهو الصواب لأن حماد بن زيد روى عن عطاء قبل أن يختلط ولذلك أوردناه في المتن وهي الرواية الأخرى عن ابن مسعود.

ثم رأيته من طريق آخر عن ابن مسعود عند الثقفي فانظر: "إذا تزوج أحدكم. .." من "المعجم".

وله شاهد مرفوع عن سلمان أخرجه ابن عدي 71/2 وأبو نعيم في "أخبار أصبهان" 1/56 والبزار في "مسنده" بسند ضعيف تكلمت عليه في "معجم الحديث" بلفظ: "إذا تزوج أحدكم. .." ورواه ابن عساكر 7/2091 - 2 عنه وعن ابن عباس.

وروى عبد الزراق 6/192 عن ابن جريج قال:

حدثت أن سلمان الفارسي تزوج امرأة فلما دخل عليها وقف على بابها فإذا هو بالبيت مستور فقال:

ما أدري أمحموم بيتكم أم تحولت الكعبة إلى كندة؟! والله لا أدخله حتى تهتك أستاره.

فلما هتكوها … دخل … ثم عمد إلى أهله فوضع يده على رأسها … فقال: هل أنت مطيعتي رحمك الله؟ قالت: قد جلست مجلس من يطاع قال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لي:

"إن تزوجت يوما فليكن أول ما تلتقيان عليه من طاعة الله"

= তাঁর থেকে হাম্মাদ ইবনে যাইদ অনুরূপ বর্ণনা করেছেন যা তাঁর (ইবনে মাসউদ) ওপর স্থগিত (موقوف) হিসেবে বর্ণিত এবং এটিই সঠিক। কারণ হাম্মাদ ইবনে যাইদ আতা থেকে তাঁর স্মৃতিবিভ্রম (اختلط) ঘটার পূর্বে বর্ণনা করেছেন; এই কারণেই আমরা এটি মূল পাঠে (متن) এনেছি এবং এটি ইবনে মাসউদের পক্ষ থেকে বর্ণিত অন্য একটি বর্ণনা।

অতঃপর আমি আস-সাকাফীর নিকট ইবনে মাসউদ থেকে অন্য একটি সূত্রে (طريق) এটি দেখেছি। সুতরাং আল-মুজাম থেকে "যখন তোমাদের কেউ বিয়ে করবে..." অংশটি দেখুন।

আর সালমান থেকে এর একটি রাসূল পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) সমর্থনকারী বর্ণনা (شاهد) রয়েছে যা ইবনে আদি (২/৭১), আবু নুআইম 'আখবার আসবাহান' (১/৫৬) গ্রন্থে এবং আল-বজ্জার তাঁর 'মুসনাদ'-এ একটি দুর্বল (ضعيف) সূত্রে (سند) বর্ণনা করেছেন। আমি এ বিষয়ে 'মুজাম আল-হাদিস'-এ "যখন তোমাদের কেউ বিয়ে করবে..." শব্দে আলোচনা করেছি। ইবনে আসাকির (৭/২০৯১-২) তাঁর থেকে এবং ইবনে আব্বাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

আর আবদুর রাজ্জাক (৬/১৯২) ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

আমাকে জানানো হয়েছে যে, সালমান আল-ফারসি এক নারীকে বিয়ে করেছিলেন। যখন তিনি তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন, তিনি তাঁর ঘরের দরজায় দাঁড়ালেন এবং দেখলেন ঘরটি পর্দাবৃত। তখন তিনি বললেন:

আমি জানি না তোমাদের ঘর কি জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে নাকি কাবা কিন্দাহ্ গোত্রে স্থানান্তরিত হয়েছে?! আল্লাহর কসম, আমি এতে প্রবেশ করব না যতক্ষণ না এর পর্দাগুলো সরিয়ে ফেলা হয়।

অতঃপর যখন তারা সেগুলো সরিয়ে ফেলল … তিনি প্রবেশ করলেন … এরপর তিনি তাঁর স্ত্রীর নিকট গিয়ে তাঁর মাথায় হাত রাখলেন … এরপর বললেন: আল্লাহ তোমার ওপর রহম করুন, তুমি কি আমার আনুগত্য করবে? তিনি বললেন: আপনি এমন এক আসনে বসেছেন যেখানে আনুগত্য করা হয়। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছিলেন:

"যদি তুমি কোনোদিন বিয়ে করো, তবে তোমাদের উভয়ের প্রথম মিলন যেন আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে হয়।"
(খণ্ড: ১) আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা (পৃষ্ঠা: ৯৮)
4-‌‌ ما يقول حين يجامعها:

وينبغي أن يقول حين يأتي أهله:

"بسم الله اللهم جنبنا الشيطان وجنب الشيطان ما رزقتنا".

قال صلى الله عليه وسلم:

"فإن قضى الله بينما ولدا لم يضره الشيطان أبدا" 1.

--------------------------------------------

فقومي فلتصل ركعتين فما سمعتني أدعو فأمني فصليا ركعتين وأمنت فبات عندها فلما أصبح جاءه أصحابه فانتحاه رجل من القوم فقال: كيف وجدت أهلك؟ فأعرض عنه ثم الثاني ثم الثالث فلما رأى ذلك صرف وجهه إلى القوم وقال:

رحمكم الله فيما المسألة عما غيبت الجدران والحجب والأستار؟ بحسب امرئ أن يسأل عما ظهر إن أخبر أو لم يخبر

وفي إسناده انقطاع كما هو ظاهر

1 أخرجه البخاري في صحيحه 9/187 وبقية أصحاب السنن إلا النسائي ففي "العشرة 79/1 وعبد الرزاق 6/193 والطبراني 3/151/2 عن ابن عباس. وهو مخرج في الإرواء 2012 بأتم مما هنا.
৪-‌‌ সহবাসের সময় যা বলতে হয়:

যখন কেউ তার স্ত্রীর নিকট আসে (সহবাসের ইচ্ছা করে), তখন তার বলা উচিত:

"আল্লাহর নামে শুরু করছি। হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে শয়তান থেকে দূরে রাখুন এবং আমাদেরকে আপনি যা দান করবেন (সন্তান), তা থেকেও শয়তানকে দূরে রাখুন।"

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"যদি আল্লাহ তাদের মাঝে কোনো সন্তান নির্ধারণ করেন, তবে শয়তান কখনোই তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না" ১।

--------------------------------------------

"উঠে দাঁড়াও এবং দুই রাকাত নামাজ পড়। যখন দেখবে আমি দোয়া করছি তখন তুমি 'আমীন' বলবে। অতঃপর তারা দুই রাকাত নামাজ পড়লেন এবং তিনি (স্ত্রী) 'আমীন' বললেন। এরপর তিনি তার কাছে রাত যাপন করলেন। ভোর হলে তাঁর নিকট তাঁর সাথীরা এলেন এবং তাঁদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি একপাশে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসা করল: আপনি আপনার স্ত্রীকে কেমন পেলেন? তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এরপর দ্বিতীয়বার এবং তৃতীয়বারও (জিজ্ঞাসা করা হলো)। যখন তিনি এটি দেখলেন, তখন লোকজনের দিকে মুখ ফিরিয়ে বললেন: আল্লাহ আপনাদের ওপর রহম করুন, দেয়াল, পর্দা এবং আবরণের আড়ালে যা কিছু গোপন থাকে, সে সম্পর্কে কেন এই প্রশ্ন? একজন মানুষের জন্য এটিই যথেষ্ট যে, সে কেবল তা নিয়েই প্রশ্ন করবে যা প্রকাশ্য; চাই তা ব্যক্ত করা হোক বা না হোক।"

আর এর সানাদে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) রয়েছে, যেমনটি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

১. এটি বুখারি তাঁর সহিহ গ্রন্থে (৯/১৮৭) এবং নাসাঈ ব্যতীত অন্যান্য সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন। এছাড়া নাসাঈর 'আশরাতুত নিসা' (১/৭৯), আব্দুর রাজ্জাক (৬/১৯৩) এবং তাবারানি (৩/১৫১/২) ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। এটি ইরওয়াউল গালিল (২০১২) গ্রন্থে এখানে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার চেয়ে অধিক পূর্ণাঙ্গরূপে সংকলিত (مخرج) হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা (পৃষ্ঠা: ৯৯)
5-‌‌ كيف يأتيها:

ويجوز له أن يأتيها في قبلها من أي جهة شاء من خلفها أو من أمامها لقول الله تبارك وتعالى: {نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ} أي: كيف شئتم مقبلة ومدبرة وفي ذلك أحاديث أكتفي باثنين منها:

الأول: عن جابر رضي الله عنه قال:

"كانت اليهود تقولك إذا أتى الرجل امرأته من دبرها في قبلها كان الولد أحول! فنزلت: {نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ} [فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "مقبلة ومدبرة إذا كان ذلك في الفرج] " 1.

--------------------------------------------

1 رواه البخاري 8/154 ومسلم 4/156 ومسلم والنسائي عشرة النساء 76/1 - 2 وابن أبي حاتم ق 39/1 - محمودية والزيادة له والبغوي في "حديث علي بن الجعد 8/79/1 والجرجاني 293/440 وكذا البيهقي 7/195 وابن عساكر 8/93/2 والواحدي ص 53 وقال:

"قال الشيخ أبو حامد ابن الشرقي: هذا حديث جليل يساوي مائة حديث".
৫-‌‌ যেভাবে স্ত্রীর নিকট গমণ করতে হবে:

স্বামীর জন্য তার স্ত্রীর যোনিপথে যে কোনো দিক থেকে—পিছন থেকে হোক বা সামনে থেকে—গমণ করা বৈধ। মহান আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার বাণী: {তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র, অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো।} অর্থাৎ: যেভাবে ইচ্ছা, সামনে থেকে হোক বা পিছন থেকে। এ প্রসঙ্গে বেশ কিছু হাদিস রয়েছে, আমি এখানে মাত্র দুটি উল্লেখ করছি:

প্রথমটি: জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

"ইহুদিরা বলত যে, যদি কোনো পুরুষ তার স্ত্রীর পিছন দিক থেকে সামনের পথে (যোনিপথে) সঙ্গম করে, তবে সন্তান টেরা হবে! তখন নাযিল হয়: {তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র, অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো।} [অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সামনে থেকে হোক বা পিছন থেকে, যতক্ষণ তা যোনিপথে হয়।"]" ১।

--------------------------------------------

১. এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি ৮/১৫৪, মুসলিম ৪/১৫৬, মুসলিম এবং নাসাঈ 'ইশরাতুন নিসা' ৭৬/১-২, ইবনু আবি হাতিম ১/৩৯- মাহমুদিয়া পাণ্ডুলিপি এবং অতিরিক্ত অংশটি (الزيادة) তাঁর থেকে বর্ণিত। এছাড়াও বাগাউয়ি 'হাদিস আলি বিন আল-জাদ' ১/৭৯/৮, জুরজানি ৪৪০/২৯৩, বায়হাকি ৭/১৯৫, ইবনু আসাকির ২/৯৩/৮ এবং ওয়াহিদি পৃষ্ঠা ৫৩। তিনি বলেছেন:

"শায়খ আবু হামিদ ইবনুশ শারকি বলেছেন: এটি একটি মহান (جليل) হাদিস যা একশত হাদিসের সমান।"
(খণ্ড: ১) আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা (পৃষ্ঠা: ১০০)
الثاني: عن ابن عباس قال:

"كان هذا الحي من الأنصار وهم أهل وثن مع هذا الحي من يهود وهم أهل كتاب وكانوا يرون لهم فضلا عليهم في العلم فكانوا يقتدون بكثير من فعلهم وكان من أمر أهل الكتاب أن لا يأتوا النساء إلا على حرف1 وذلك أستر ما تكون المرأة فكان هذا الحي من الأنصار قد أخذوا بذلك من فعلهم وكان هذا الحي من قريش يشرحون النساء شرحا منكرا ويتلذذون منهن مقبلات ومدبرات ومستلقيات فلما قدم المهاجرون المدينة تزوج رجل منهم امرأة من الأنصار فذهب يصنع بها ذلك فأنكرته عليه وقالت: إنما كنا نؤتى على حرف فاصنع ذلك وإلا فاجتنبني حتى شري2 أمرها فبلغ ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم فأنزل الله عز وجل: {نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ} أي: مقبلات ومدبرات ومستلقيات يعني بذلك موضع

--------------------------------------------

1 أي: على جانب. "نهاية".

2 أي: عظم وتفاقم.
দ্বিতীয়: ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

"আনসারদের এই গোত্রটি ছিল মূর্তিপূজারী এবং তারা ইহুদিদের এই গোত্রের সাথে বসবাস করত যারা ছিল কিতাবধারী। তারা ইলম বা জ্ঞানের ক্ষেত্রে ইহুদিদেরকে নিজেদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করত এবং তাদের অনেক রীতিনীতি অনুসরণ করত। কিতাবধারীদের নিয়ম ছিল যে, তারা পার্শ্বদেশ1 ব্যতীত অন্য কোনোভাবে স্ত্রীদের সাথে মিলিত হতো না; এটি ছিল নারীর সতর বা আব্রু রক্ষার জন্য অধিক উপযোগী। আনসারদের এই গোত্রটি তাদের নিকট থেকে এই কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করেছিল। অন্যদিকে কুরাইশদের এই গোত্রটি স্ত্রীদের সাথে মেলামেশার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক পদ্ধতি অবলম্বন করত এবং তারা সম্মুখ, পশ্চাৎ ও শায়িত—সবভাবেই তাদের থেকে আনন্দ লাভ করত। অতঃপর যখন মুহাজিরগণ মদীনায় আসলেন, তখন তাদের এক ব্যক্তি জনৈক আনসারী নারীকে বিয়ে করলেন। তিনি তার সাথে সেরূপ আচরণ করতে চাইলেন, কিন্তু ওই নারী তা অস্বীকার করলেন এবং বললেন: 'আমাদের সাথে কেবল পার্শ্বদেশ থেকেই মিলিত হওয়া হতো। সুতরাং আপনি সেভাবেই করুন, নতুবা আমার থেকে দূরে থাকুন।' একপর্যায়ে বিষয়টি জটিল2 হয়ে উঠল এবং তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছাল। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: {তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র; সুতরাং তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো} অর্থাৎ: সম্মুখ থেকে, পশ্চাৎ থেকে এবং শায়িত অবস্থায়; এর দ্বারা মিলনের স্থানকেই বোঝানো হয়েছে।

--------------------------------------------

১ অর্থাৎ: এক পাশে বা পার্শ্বদেশে। "নিহায়া"।

২ অর্থাৎ: প্রকট হওয়া এবং বৃদ্ধি পাওয়া।
(খণ্ড: ১) আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা (পৃষ্ঠা: ১০১)
الولد"1.

--------------------------------------------

1 أخرجه أبو داود 1/377 والحاكم 2/195، 279 والبيهقي 7/195 والواحدي في "الأسباب" ص 52 والخطابي في "غريب الحديث" 73/2 وسنده حسن وصححه الحاكم على شرط مسلم ووافقه الذهبي!

وله عند الطبراني طريق آخر مختصر.

وله شاهد من حديث ابن عمر نحوه. أخرجه النسائي في "العشرة" 76/2 بسند صحيح ثم روى هو والقاسم السرقسطي في "الغريب" 2/93/2 وغيرهما عن سعيد بن يسار قال:

قلت لابن عمر: إنا نشتري الجواري فنحمض لهن قال: وما التحميض؟ قلت: نأتيهن في أدبارهن قال: أف أو يفعل ذلك مسلم؟!

قلت: وسنده صحيح وهو نص صريح من ابن عمر في إنكاره أشد الإنكار إتيان النساء في الدبر فما أورده السيوطي في "أسباب النزول" وغيره في غيره مما ينافي هذا النص خطأ عليه قطعا فلا يلتفت إليه.
সন্তান।"১.

--------------------------------------------

১. আবূ দাউদ ১/৩৭৭, আল-হাকিম ২/১৯৫, ২৭৯, আল-বাইহাকী ৭/১৯৫, আল-ওয়াহিদী তাঁর "আসবাব" গ্রন্থের ৫২ পৃষ্ঠায় এবং আল-খাত্তাবী তাঁর "গারীবুল হাদিস" গ্রন্থের ৭৩/২ পৃষ্ঠায় এটি বর্ণনা করেছেন। এর সনদ (سند) হাসান (حسن) এবং আল-হাকিম একে মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح) সাব্যস্ত করেছেন এবং আয-যাহাবী তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন!

আত-তাবারানির নিকট এর আরেকটি সংক্ষিপ্ত সূত্র (طريق) রয়েছে।

এর সমর্থনে ইবনে ওমরের হাদিস থেকে একই ধরনের একটি শাহিদ (شاهد) বর্ণিত হয়েছে। আন-নাসায়ী এটি "আল-আশরাহ" গ্রন্থের ৭৬/২ পৃষ্ঠায় সহিহ (صحيح) সনদে (سند) বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি এবং আল-কাসিম আস-সারাকুস্তি "আল-গারীব" গ্রন্থের ২/৯৩/২ পৃষ্ঠায় এবং অন্যান্যরা সাঈদ ইবনে ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

আমি ইবনে ওমরকে বললাম: আমরা দাসী ক্রয় করি এবং তাদের সাথে 'তাহমিদ' করি। তিনি বললেন: 'তাহমিদ' কী? আমি বললাম: আমরা তাদের মলদ্বারে সঙ্গম করি। তিনি বললেন: উফ! কোনো মুসলিম কি এমন কাজ করতে পারে?!

আমি বলছি: এর সনদ (سند) সহিহ (صحيح) এবং এটি নারীদের মলদ্বারে সঙ্গম করার কঠোর নিন্দায় ইবনে ওমরের পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص صريح)। সুতরাং আস-সুয়ূতী তাঁর "আসবাবুন নুযূল" গ্রন্থে এবং অন্যান্যরা যা উল্লেখ করেছেন—যা এই বক্তব্যের পরিপন্থী—তা নিশ্চিতভাবেই তাঁর ওপর একটি ভুল আরোপ, তাই সেদিকে ভ্রূক্ষেপ করা যাবে না।
(খণ্ড: ১) আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা (পৃষ্ঠা: ১০১)
6-‌‌ تحريم الدبر:

ويحرم عليه أن يأتيها في دبرها لمفهوم الآية السابقة: {نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ}
6-‌‌ পায়ুপথ ব্যবহারের নিষিদ্ধকরণ (تحريم الدبر):

এবং স্বামীর জন্য স্ত্রীর পায়ুপথে (دبر) সঙ্গম করা নিষিদ্ধ (حرام); পূর্ববর্তী আয়াতের মর্মার্থ (مفهوم) অনুযায়ী: {তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র; অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো।}
(খণ্ড: ১) আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা (পৃষ্ঠা: ১০২)
والأحاديث المتقدمة وفيه أحاديث أخرى:

الأول: عن أم سلمة رضي الله عنها قالت:

"لما قدم المهاجرون المدينة على الأنصار تزوجوا من نسائهم وكان المهاجرون1 يجبون2 وكانت الأنصار3 لا تجبي4 فأراد رجل من المهاجرين امرأته على ذلك فأبت عليه حتى تسأل رسول الله صلى الله عليه وسلم قالت: فأتته فاستحيت أن تسأله فسألته أم سلمة فنزلت: {نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ} وقال: "لا إلا في صمام 5 واحد" 6.

--------------------------------------------

1 يعني نساء المهاجرين والأنصار.

2 من التجبية وهو الانكباب على الأرض وفي القاموس:

" جبى تجبية وضع يديه على ركبتيه وانكب على وجهه".

3 أي: مسلك واحد وفي "النهاية":

" الصمام: ما تسد به الفرجة فسمي الفرج به".

4 أخرجه أحمد 6/305، 310 - 318 والسياق له =

= والترمذي 3/75 وصححه وأبو يعلى 329/1 وابن أبي حاتم في "تفسيره" 39/1 محمودية والبيهقي 7/195 وإسناده صحيح على شرط مسلم.
পূর্ববর্তী হাদিসসমূহ এবং এ বিষয়ে আরও হাদিস রয়েছে:

প্রথম: উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

“যখন মুহাজিরগণ মদিনায় আনসারদের নিকট আসলেন, তখন তাঁরা তাঁদের নারীদের বিয়ে করলেন। মুহাজিরগণ ১ উপুড় হয়ে সহবাস করতেন ২, কিন্তু আনসারগণ ৩ তা করতেন না ৪। ফলে মুহাজিরদের এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীর নিকট সেটি চাইলেন, কিন্তু স্ত্রী তা অস্বীকার করলেন যতক্ষণ না তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। উম্মে সালামা বললেন: অতঃপর ওই নারী তাঁর নিকট আসলেন কিন্তু জিজ্ঞাসা করতে লজ্জিত হলেন। তখন উম্মে সালামা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। এরপর এই আয়াত নাজিল হলো: {তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র; অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো} এবং তিনি বললেন: “না, তবে তা যেন কেবল একটিই পথে ৫ হয়” ৬।

--------------------------------------------

১ অর্থাৎ মুহাজির ও আনসারদের নারীবৃন্দ।

২ এটি 'তাজবিয়াহ' থেকে উদ্ভূত যার অর্থ ভূমির দিকে উপুড় হওয়া। 'আল-কামুস' গ্রন্থে আছে:

“সে উপুড় হলো—অর্থাৎ সে তার দুই হাত দুই হাঁটুর ওপর রাখলো এবং মুখের ওপর ভর দিয়ে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়লো।”

৩ অর্থাৎ: একটিই পথ। 'আন-নিহায়া' গ্রন্থে আছে:

“আস-সিমাম: যা দিয়ে কোনো ফাঁকা স্থান বন্ধ করা হয়; তাই লজ্জাস্থানকে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে।”

৪ এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ ৬/৩০৫, ৩১০ - ৩১৮ এবং শব্দবিন্যাস তাঁরই =

= এবং তিরমিজি ৩/৭৫ এবং তিনি একে সহিহ (صححه) বলেছেন; আবু ইয়ালা ১/৩২৯ এবং ইবনে আবি হাতিম তাঁর 'তাফসির' গ্রন্থে ১/৩৯ মাহমুদিয়া এবং বায়হাকি ৭/১৯৫; আর এর সনদ (إسناد) মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ (صحيح)।
(খণ্ড: ১) আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা (পৃষ্ঠা: ১০৩)
الثاني: عن ابن عباس رضي الله عنه قال:

"جاء عمر بن الخطاب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله! هلكت. قال: "وما الذي أهلكك؟ " قال: حولت رحلي الليلة1 فلم يرد عليه شيئا فأوحي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم هذه الآية: {نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ} يقول: "أقبل وأدبر واتق الدبر والحيضة" 2.

--------------------------------------------

1 كنى برحله عن زوجته أراد بها غشيانها في قبلها من جهة ظهرها لأن المجماع يعلو المرأة ويركبها مما يلي وجهها فحيث ركبها من جهة ظهرها كنا عنه بتحويل رحله إما أن يريد به المنزل والمأوى وإما أن يريد به الرحل الذي تركب عليه الإبل وهو الكور. "نهاية"

2 رواه النسائي في "العشرة" 76/2 والترمذي 2/162- بولاق وابن أبي حاتم 39/1 والطبراني 3/156/2 والواحدي ص 53 بسند حسن. وحسنه الترمذي.
দ্বিতীয়: ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

"ওমর ইবনুল খাত্তাব রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমি তো ধ্বংস হয়ে গেছি। তিনি বললেন: 'তোমাকে কিসে ধ্বংস করল?' তিনি বললেন: গত রাতে আমি আমার বাহন ঘুরিয়েছি। তখন তিনি তাঁকে কোনো উত্তর দিলেন না। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর এই আয়াত অবতীর্ণ হলো: {তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র; অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো।} তিনি বলেন: 'সম্মুখভাগ থেকে হোক কিংবা পশ্চাৎভাগ থেকে, তবে পায়ুপথ এবং ঋতুস্রাব এড়িয়ে চলবে'।"

--------------------------------------------

১. তিনি 'বাহন' শব্দ দ্বারা তাঁর স্ত্রীকে রূপকভাবে বুঝিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি তাঁর স্ত্রীর যোনিপথে পেছন দিক থেকে সঙ্গম করাকে উদ্দেশ্য করেছেন। কারণ সহবাসকারী নারীর ওপর আরোহণ করে যখন সে তার সম্মুখভাগে থাকে; আর যেহেতু তিনি স্ত্রীর পশ্চাৎদিক থেকে আরোহণ করেছেন, তাই তিনি তা 'বাহন ঘুরিয়ে দেওয়া' শব্দ দ্বারা রূপকভাবে ব্যক্ত করেছেন। এখানে 'রাহল' দ্বারা হয় তাঁর ঘর বা আশ্রয়স্থল উদ্দেশ্য, অথবা উটের পিঠে আরোহণের হাওদা উদ্দেশ্য। "নিহায়া"।

২. এটি বর্ণনা করেছেন নাসায়ি 'আল-ইশরাহ' গ্রন্থে (২/৭৬), তিরমিজি (২/১৬২ - বুলাক), ইবনে আবি হাতিম (১/৩৯), তাবারানি (৩/১৫৬/২) এবং ওয়াহিদি (পৃষ্ঠা ৫৩), একটি হাসান (حسن) সনদে (سند)। তিরমিজি একে হাসান (حسن) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা (পৃষ্ঠা: ১০৪)
الثالث: عن خزيمة بن ثابت رضي الله عنه:

"أن رجلا سأل النبي صلى الله عليه وسلم عن إتيان النساء في أدبارهن أو إتيان الرجل امرأته في دبرها؟ فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "حلال". فلما ولى الرجل دعاه أو أمر به فدعي فقال: "كيف قلت؟ في أي الخربتين أوفي الخرزتين أو في أي الخصفتين1؟ أمن دبرها في قبلها؟ فنعم أم من دبرها في دبرها؟ فلا فإن الله لا يستحي من الحق لا تأتوا النساء في أدبارهن" 2.

--------------------------------------------

1 يعني: في أي الثقبين والألفاظ الثلاثة بمعنى واحد كما في "النهاية".

2 رواه الشافعي 2/260 وقواه وعنه البيهقي 7/196 والدارمي 1/145 والطحاوي2/25 والخطابي في "غريب الحديث"73/2 وسنده صحيح كما قال ابن الملقن في "الخلاصة" وعله عن النسائي في "العشرة"2/76- 77/2 والطحاوي والبيهقي وابن عساكر 8/46/1 طرق أخر أحدها جيد كما قال المنذري 3/200 وصححه ابن حبان 1299- 1300 وابن حزم 10/70 ووافقهما الحافظ في "الفتح" 8/154.
তৃতীয়: খুজাইমা ইবনে সাবিত (রা.) থেকে বর্ণিত:

"এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে নারীদের মলদ্বারে মৈথুন করা অথবা স্বামী তার স্ত্রীর মলদ্বারে উপগত হওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: 'হালাল'। যখন লোকটি ফিরে যাচ্ছিল, তখন তিনি তাকে ডাকলেন অথবা তাকে ডাকার নির্দেশ দিলেন এবং তাকে ডাকা হলো। এরপর তিনি বললেন: 'তুমি কীভাবে বললে? কোন্ ছিদ্রে, নাকি কোন্ পথে, নাকি কোন্ রাস্তায়১? পিছন দিক থেকে তার যোনিপথে? তবে হ্যাঁ। নাকি পিছন দিক থেকে তার মলদ্বারে? তবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সত্য প্রকাশে লজ্জাবোধ করেন না। তোমরা নারীদের মলদ্বারে উপগত হয়ো না।" ২।

--------------------------------------------

১ অর্থাৎ: কোন্ ছিদ্রে? 'আল-নিহায়া' গ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী এই তিনটি শব্দের অর্থ একই।

২ এটি ইমাম শাফেয়ি বর্ণনা করেছেন ২/২৬০ এবং একে শক্তিশালী করেছেন (قواه)। তাঁর থেকে বায়হাকি ৭/১৯৬, দারেমি ১/১৪৫, তহাবি ২/২৫ এবং খাত্তাবি 'গারিবুল হাদিস' ৭৩/২ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে মুলাক্কিন 'আল-খুলাসা' গ্রন্থে যেমনটি বলেছেন যে, এর সনদ (سند) সঠিক/বিশুদ্ধ (صحيح)। নাসায়ি 'আল-ইশরা' ২/৭৬-৭৭/২, তহাবি, বায়হাকি এবং ইবনে আসাকির ৮/৪৬/১ গ্রন্থে এর অন্যান্য বর্ণনা সূত্র (طرق) বর্ণিত হয়েছে, যার একটি উত্তম (جيد), যেমনটি মুনজিরি ৩/২০০ বলেছেন। ইবনে হিব্বান ১২৯৯-১৩০০ ও ইবনে হাজম ১০/৭০ একে সহিহ বলে অভিহিত করেছেন (صححه) এবং হাফিজ 'আল-ফাতহ' ৮/১৫৪ গ্রন্থে তাঁদের সাথে একমত পোষণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা (পৃষ্ঠা: ১০৫)
الرابع: "لا ينظر الله إلى رجل يأتي امرأته في دبرها" 1.

الخامس: "ملعون من يأتي النساء في محاشهن. يعني: أدبارهن" 2.

السادس: "من أتى حائضا أو امرأة في دبرها أو كاهنا فصدقه بما يقول فقد كفر بما أنزل على محمد" 3.

--------------------------------------------

1 أخرجه النسائي في "العشرة" والترمذي وابن حبانمن حديث ابن عباس وسنده حسن وحسنه الترمذي وصححه ابن راهويه كما في "مسائل المروزي" وله طريق آخر عند ابن الجارود بسند جيد وقواه ابن دقيق العيد والنسائي وابن عساكر وأحمد من حديث أبي هريرة.

2 أخرجه ابن عدي 211/1 من حديث عقبة بن عامر بسند حسن وهو من رواية ابن وهب عن ابن لهيعة وله شاهد من حديث أبي هريرة مرفوعا به. أخرجه أبو داود رقم 2162 وأحمد 2/444 و 479.

3 أخرجه أصحاب "السنن" الأربعة إلا النسائي فرواه في =

_________

= "العشرة" 78 والدارمي وأحمد 2/408 و 476 واللفظ له والضياء في "المختارة" 10/105/2 من حديث أبي أبي هريرة وسنده صحيح كما بينته في "نقد التاج" رقم 64.

وروى النسائي ق 77/2 وابن بطة في "الإبانة" 6/56/2 عن طاوس قال:

سئل ابن عباس عن الذي يأتي امرأته في دبرها؟ فقال: هذا يسألني عن الكفر؟ وسنده صحيح وعن أبي هريرة نحوه بسند فيه ضعف

وقال الذهبي في "سير أعلام النبلاء" 9/171/1:

" قد تيقنا بطرق لا محيد عنها نهي النبي صلى الله عليه وسلم عن أدبار النساء وجزمنا بتحريمه ولي في ذلك مصنف كبير".

قلت: فلا تغتر بعد هذا بقول الشيخ جمال الدين القاسمي في "تفسيره" 3/572:

"إنها ضعيفة"! لأنها دعوى من غير مختص بهذا العلم أولا وخلاف ما يقتضيه البحث العلمي وشهادة الأئمة بصحة بعضها وحسن بعضها وجم الإمام الذهبي بالتحريم الذي اجتمعت عليه مفردات أحاديث الباب. وفي مقدمة المصححين الإمام إسحاق بن راهويه ثم تتابعت أقوال الأئمة من بعده من المتقدمين والمتأخرين =

= كالترمذي وابن حبان وابن حزم والضياء والمنذري وابن الملقن وابن دقيق العيد وابن حجر وغيرهم ممن ذكروا في غير هذا الموضع فانظر مثلا "الإرواء" 7/65 - 70.
চতুর্থ: "আল্লাহ সেই ব্যক্তির দিকে (রহমতের দৃষ্টিতে) তাকাবেন না, যে তার স্ত্রীর মলদ্বারে সঙ্গম করে।" ১.

পঞ্চম: "অভিশপ্ত সেই ব্যক্তি যে নারীদের তাদের মলদ্বারে গমন করে। অর্থাৎ: তাদের পেছনের রাস্তায়।" ২.

ষষ্ঠ: "যে ব্যক্তি কোনো ঋতুমতী মহিলার সাথে অথবা স্ত্রীর মলদ্বারে সঙ্গম করল কিংবা কোনো গণকের কাছে গেল এবং সে যা বলে তা বিশ্বাস করল, তবে সে যেন মুহাম্মাদের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা অস্বীকার করল।" ৩.

--------------------------------------------

১. নাসায়ি 'আল-ইশরাহ' গ্রন্থে, তিরমিজি এবং ইবনে হিব্বান ইবনে আব্বাসের হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদটি হাসান (حسن)। তিরমিজি একে হাসান (حسن) বলেছেন এবং ইবনে রাহওয়াইহ 'মাসায়েলুল মারওয়াজি'-তে একে সহিহ (صحيح) বলেছেন। ইবনুল জারুদের নিকট এর আরেকটি সূত্র রয়েছে যার সনদ উত্তম (جيد) এবং ইবনে দাকীকুল ঈদ, নাসায়ি, ইবনে আসাকির ও আহমাদ একে আবু হুরায়রার হাদিস থেকে শক্তিশালী বলেছেন।

২. ইবনে আদি (১/২১১) উকবা বিন আমিরের হাদিস থেকে একটি হাসান (حسن) সনদে এটি বর্ণনা করেছেন, যা ইবনে লাহিয়াহ থেকে ইবনে ওয়াহবের বর্ণনা। আবু হুরায়রার হাদিস থেকেও এর একটি মারফু (مرفوع) হিসেবে সমর্থক বর্ণনা (شاهد) রয়েছে। এটি আবু দাউদ (নম্বর ২১৬২) এবং আহমাদ (২/৪৪৪ ও ৪৭৯) বর্ণনা করেছেন।

৩. নাসায়ি ব্যতীত চার 'সুনান' গ্রন্থকারগণ এটি বর্ণনা করেছেন; নাসায়ি এটি বর্ণনা করেছেন =

_________

= 'আল-ইশরাহ' (৭৮), দারেমি, আহমাদ (২/৪০৮ ও ৪৭৬) এবং শব্দাবলি তাঁরই, আর জিয়া আল-মাকদিসি 'আল-মুকতারা' (১০/১০৫/২) গ্রন্থে আবু হুরায়রার হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এর সনদটি সহিহ (صحيح), যেমনটি আমি 'নাকদুত তাজ' (নম্বর ৬৪)-এ স্পষ্ট করেছি।

নাসায়ি (২/৭৭) এবং ইবনে বাত্তাহ 'আল-ইবানাহ' (৬/৫৬/২) গ্রন্থে তাউস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

ইবনে আব্বাসকে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তার স্ত্রীর মলদ্বারে সঙ্গম করে। তিনি বললেন: "এ কি আমাকে কুফর (الكفر) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে?" এর সনদটি সহিহ (صحيح)। আবু হুরায়রা থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে এমন একটি সনদে যাতে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে।

যাহাবি 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' (৯/১৭১/১) গ্রন্থে বলেছেন:

"আমরা এমন সব সূত্রের মাধ্যমে সুনিশ্চিত হয়েছি যার থেকে বিমুখ হওয়ার উপায় নেই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের মলদ্বারে সঙ্গম করতে নিষেধ করেছেন এবং আমরা এর হারাম হওয়ার ব্যাপারে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়েছি; আর এ বিষয়ে আমার একটি বৃহৎ সংকলন রয়েছে।"

আমি বলি: এরপর শেখ জামালুদ্দীন আল-কাসিমির তাঁর 'তাফসির'-এ (৩/৫৭২) এই বক্তব্য দ্বারা প্রতারিত হবেন না যে:

"নিশ্চয়ই এগুলো দুর্বল (ضعيفة)!" কারণ, প্রথমত এটি এমন একজনের দাবি যিনি এই বিদ্যায় বিশেষজ্ঞ নন এবং এটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার পরিপন্থী। এছাড়া এই অধ্যায়ের হাদিসগুলোর একক বর্ণনাগুলোর সমষ্টির ভিত্তিতে ইমাম যাহাবি যে হারাম হওয়ার অকাট্য সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং ইমামগণ কোনোটিকে সহিহ (صحة) ও কোনোটিকে হাসান (حسن) বলে যে সাক্ষ্য দিয়েছেন, এটি তারও বিরোধী। একে সহিহ (صحيح) আখ্যাদানকারীদের অগ্রভাগে রয়েছেন ইমাম ইসহাক বিন রাহওয়াইহ, অতঃপর তাঁর পরবর্তী পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ইমামগণ ধারাবাহিকভাবে একই কথা বলেছেন =

= যেমন তিরমিজি, ইবনে হিব্বান, ইবনে হাজম, জিয়া আল-মাকদিসি, মুনজিরি, ইবনুল মুলাক্কিন, ইবনে দাকীকুল ঈদ, ইবনে হাজার এবং আরও অনেকে যারা অন্য স্থানে এগুলো উল্লেখ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ দেখুন 'আল-ইরওয়া' (৭/৬৫-৭০)।
(খণ্ড: ১) আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা (পৃষ্ঠা: ১০৬)
_________

= "العشرة" 78 والدارمي وأحمد 2/408 و 476 واللفظ له والضياء في "المختارة" 10/105/2 من حديث أبي أبي هريرة وسنده صحيح كما بينته في "نقد التاج" رقم 64.

وروى النسائي ق 77/2 وابن بطة في "الإبانة" 6/56/2 عن طاوس قال:

سئل ابن عباس عن الذي يأتي امرأته في دبرها؟ فقال: هذا يسألني عن الكفر؟ وسنده صحيح وعن أبي هريرة نحوه بسند فيه ضعف

وقال الذهبي في "سير أعلام النبلاء" 9/171/1:

" قد تيقنا بطرق لا محيد عنها نهي النبي صلى الله عليه وسلم عن أدبار النساء وجزمنا بتحريمه ولي في ذلك مصنف كبير".

قلت: فلا تغتر بعد هذا بقول الشيخ جمال الدين القاسمي في "تفسيره" 3/572:

"إنها ضعيفة"! لأنها دعوى من غير مختص بهذا العلم أولا وخلاف ما يقتضيه البحث العلمي وشهادة الأئمة بصحة بعضها وحسن بعضها وجم الإمام الذهبي بالتحريم الذي اجتمعت عليه مفردات أحاديث الباب. وفي مقدمة المصححين الإمام إسحاق بن راهويه ثم تتابعت أقوال الأئمة من بعده من المتقدمين والمتأخرين=
_________

= "আল-আশারা" ৭৮ এবং আদ-দারিমি ও আহমদ ২/৪০৮ ও ৪৭৬, শব্দাবলি আহমদের; এবং আদ-দিয়া "আল-মুখতারা" গ্রন্থে ১০/১০৫/২-এ আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এর সনদ (سند) বিশুদ্ধ (صحيح), যেমনটি আমি "নাকদুত তাজ" এর ৬৪ নম্বরে ব্যাখ্যা করেছি।

আন-নাসায়ি (৭৭/২) এবং ইবনুল বাত্তাহ "আল-ইবানা" গ্রন্থে (৬/৫৬/২) তাউস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:

ইবনে আব্বাসকে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তার স্ত্রীর মলদ্বারে মৈথুন করে? তিনি বললেন: "সে কি আমাকে কুফরি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে?" এর সনদ (سند) বিশুদ্ধ (صحيح)। আবু হুরায়রা থেকেও অনুরূপ একটি বর্ণনা রয়েছে এমন একটি সনদে (سند), যাতে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে।

ইমাম আয-যাহাবি "সিয়ারু আলামিন নুবালা" গ্রন্থে ৯/১৭১/১-এ বলেছেন:

"আমরা এমনসব অনস্বীকার্য সূত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের মলদ্বারে মৈথুন করতে নিষেধ করেছেন এবং আমরা এর হারাম হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। এ বিষয়ে আমার একটি বিশাল সংকলন রয়েছে।"

আমি বলছি: এরপর শেখ জামালুদ্দীন আল-কাসিমির তার "তাফসির" গ্রন্থে ৩/৫৭২-এ করা এই উক্তি দ্বারা প্রতারিত হবেন না যে:

"নিশ্চয়ই এগুলো দুর্বল (ضعيفة)!" কারণ প্রথমত, এটি এই শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ নন এমন একজনের দাবি; দ্বিতীয়ত, এটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার চাহিদার পরিপন্থী এবং কিছু হাদিসকে বিশুদ্ধতা (صحة) ও কিছু হাদিসকে হাসান (حسن) হিসেবে আইম্মায়ে কেরামের সাক্ষ্যের বিরোধী। এছাড়া ইমাম যাহাবিও এই হারাম হওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, যা এই অধ্যায়ের হাদিসসমূহের প্রতিটি বর্ণনা থেকে প্রতীয়মান হয়। যারা বিশুদ্ধ আখ্যায়িত করেছেন তাদের অগ্রভাগে রয়েছেন ইমাম ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ, অতঃপর পরবর্তী ও পূর্ববর্তী ইমামগণের উক্তি ধারাবাহিকভাবে এর সপক্ষেই এসেছে।=
(খণ্ড: ১) আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা (পৃষ্ঠা: ১০৭)
7-‌‌ الوضوء بين الجماعين:

وإذا أتاها في المحل المشروع ثم أراد أن يعود إليها توضأ لقوله صلى الله عليه وسلم:

"إذا أتى أحدكم أهله ثم أراد أن يعود فليتوضأ [بينهما وضوءا] وفي رواية: وضوءه للصلاة [فإنه أنشط في العود] " 1.

--------------------------------------------

= كالترمذي وابن حبان وابن حزم والضياء والمنذري وابن الملقن وابن دقيق العيد وابن حجر وغيرهم ممن ذكروا في غير هذا الموضع فانظر مثلا "الإرواء" 7/65 - 70.

1 أخرجه مسلم 1/171 وابن أبي شيبة في "المصنف" 1/51/2 وأحمد 3/28 وأبو نعيم في "الطب" 2/12/1 والزيادة له وغيرهم من حديث أبي سعيد الخدري وقد خرجناه في "صحيح سنن أبي داود" برقم216.
৭-‌‌ দুই সহবাসের মধ্যবর্তী সময়ে অজু:

যদি স্বামী তার স্ত্রীর সাথে শরয়ি অনুমোদিত পদ্ধতিতে সহবাস করে এবং পুনরায় সহবাস করার ইচ্ছা পোষণ করে, তবে সে যেন অজু করে নেয়। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:

"তোমাদের কেউ যখন তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে এবং পুনরায় তা করতে চায়, তবে সে যেন [উভয়ের মাঝে] অজু করে নেয়।" অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-এ আছে: "নামাজের অজুর ন্যায় অজু [কেননা এটি পুনরায় সহবাসের জন্য অধিক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে]।" ১.

--------------------------------------------

= যেমন তিরমিজি, ইবনে হিব্বান, ইবনে হাজম, দিয়া, মুনজিরি, ইবনুল মুলাক্কিন, ইবনু দাকিকিল ঈদ, ইবনে হাজার এবং অন্যান্যগণ, যারা এটি অন্য স্থানে উল্লেখ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ দেখুন: "ইরওয়া" ৭/৬৫ - ৭০।

১. এটি মুসলিম ১/১৭১, ইবনে আবি শায়বা তাঁর "আল-মুসান্নাফ" ১/৫১/২, আহমাদ ৩/২৮ এবং আবু নুয়াইম তাঁর "আত-তিব" ২/১২/১ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং অতিরিক্ত শব্দগুলো তাঁরই। এছাড়াও অন্যান্যরা আবু সাঈদ আল-খুদরি থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। আমরা এটি "সহিহ সুনান আবু দাউদ"-এর ২১৬ নম্বর হাদিসে সংকলন করেছি।
(খণ্ড: ১) আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা (পৃষ্ঠা: ১০৭)
8-‌‌ الغسل أفضل:

لكن الغسل أفضل من الوضوء لحديث أبي رافع أن النبي صلى الله عليه وسلم طاف ذات يوم على نسائه يغتسل عند هذه وعند هذه قال: فقلت له: يا رسول الله! ألا تجعله
৮-‌‌ গোসল করাই উত্তম:

তবে ওযুর চেয়ে গোসল করাই উত্তম; আবু রাফে বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন তাঁর স্ত্রীদের নিকট (সহবাসের উদ্দেশ্যে) যাতায়াত করেছিলেন এবং প্রত্যেকের নিকট (গমনের পর) পৃথকভাবে গোসল করেছিলেন। তিনি (আবু রাফে) বলেন: আমি তাঁকে বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি একে...
(খণ্ড: ১) আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা (পৃষ্ঠা: ১০৮)
غسلا واحدا؟ قال:

"هذا أزكى وأطيب وأطهر" 1.

--------------------------------------------

1 رواه أبو داود والنسائي في "عشرة النساء" 79/1 والطبراني 6/96/1 وأبو نعيم في "الطب" 2/12/1 بسند حسن وقواه الحافظ وقد تكلمت عليه في "صحيح السنن" رقم 215.
একবার গোসল? তিনি বললেন:

"এটি অধিক পরিচ্ছন্ন, অধিক উত্তম এবং অধিক পবিত্র" ১।

--------------------------------------------

১ এটি আবু দাউদ এবং নাসায়ি 'ইশরাতুন নিসা' ১/৭৯, তাবারানি ১/৯৬/৬ এবং আবু নুআইম 'আত-তিব' ১/১২/২-এ হাসান (حسن) সনদে (سند) বর্ণনা করেছেন। হাফিজ একে শক্তিশালী (قواه) বলেছেন এবং আমি 'সহিহ আল-সুনান'-এর ২১৫ নং হাদিসে এ সম্পর্কে আলোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১) আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা (পৃষ্ঠা: ১০৮)
9-‌‌ اغتسال الزوجين معا:

ويجوز لهما أن يغتسلا معا في مكان واحد ولو رأى منه ورأت منه وفيه أحاديث:

الأول: عن عائشة رضي الله عنها قالت:

"كنت اغتسل أنا ورسول الله صلى الله عليه وسلم من إناء بيني وبينه واحد [تختلف أيدينا فيه] فيبادرني حتى أقول: دع لي دع لي قالت: وهما جنبان"2.

--------------------------------------------

2 رواه البخاري ومسلم وأبو عوانة في "صحاحهم" والسياق لمسلم والزيادة له وللبخاي في رواية وترجم له ب "باب غسل الرجل مع امرأته "قال الحافظ في "الفتح" 1/290:

"استدل به الداودي على جواز نظر الرجل إلى عورة امرأته=
9-‌‌ স্বামী ও স্ত্রীর একত্রে গোসল করা:

তাদের জন্য একই স্থানে একত্রে গোসল করা বৈধ, যদিও তিনি স্ত্রীর লজ্জাস্থান দেখেন এবং স্ত্রী তাঁর লজ্জাস্থান দেখেন; আর এ বিষয়ে কিছু হাদিস রয়েছে:

প্রথমটি: আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

"আমি এবং আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার ও তাঁর মাঝে রাখা একটি পাত্র থেকে একত্রে গোসল করতাম [সেখানে আমাদের হাতগুলো পর্যায়ক্রমে আসা-যাওয়া করত], তিনি আমার আগে আগে পানি নিতেন, এমনকি আমি বলতাম: আমার জন্য রাখুন, আমার জন্য রাখুন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন তাঁরা উভয়েই অপবিত্র (جنب) অবস্থায় ছিলেন।"২।

--------------------------------------------

২ এটি বুখারি, মুসলিম ও আবু আওয়ানা তাঁদের 'সহিহ' (صحاح) গ্রন্থসমূহে বর্ণনা করেছেন। এর মূল বর্ণনাভঙ্গি মুসলিমের এবং অতিরিক্ত অংশটুকু তাঁর ও বুখারির একটি বর্ণনা থেকে নেওয়া। তিনি এর শিরোনাম দিয়েছেন "অধ্যায়: স্ত্রীর সঙ্গে পুরুষের গোসল"। হাফিজ (حافظ) 'ফাতহুল বারি' (১/২৯০) গ্রন্থে বলেন:

"দাউদি এর মাধ্যমে স্বামীর জন্য স্ত্রীর লজ্জাস্থানের দিকে তাকানোর বৈধতার স্বপক্ষে দলিল পেশ করেছেন=
(খণ্ড: ১) আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা (পৃষ্ঠা: ১০৯)
_________

= وعكسه ويؤيده مارواه ابن حبان من طريق سليمان بن موسى أنه سئل عن الرجل ينظر إلى فرج امرأته؟ فقال: سألت عطاء فقال سألت عائشة فذكرت هذا الحديث بمعناه وهو نص في المسألة".

قلت: وهذا يدل على بطلان ماروي عنها قالت: "ما رأيت عورة رسول الله صلى الله عليه وسلم قط". أخرجه الطبراني الصغير ص 27 ومن طريقه أبو نعيم 8/147 والخطيب 1/225 وفي سنده بركة بن محمد الحلبي ولا بركة فيه! فإنه كذاب وضاع وقد ذكر اه الحافظ ابن حجر في اللسان هذا الحديث من أباطيله.

وله طريق أخرى عن ابن ماجه 1/226 و 593 وابن سعد 8/136 وفيه مولاة لعائشة وهي مجهولة ولذلك ضعف سند البوصيري في الزوائد.

وله طريق ثالث عند أبي الشيخ في أخلاق النبي صلى الله عليه وسلم ص 251 وفيه أبو صالح وهو باذام ضعيف ومجمد بن القاسم الأسدي وهو كذاب. ونحوه حديث:

"إذا أتى أحدكم أهله فليستتر ولا يتجردا تجرد العيرين".

أخرجه ابن ماجه 1/592 عن عتبة بن عبد السلمي وفي سنده الأحوص بنحكيم وهو ضعف الراوي عنه الوليد بن القاسم الهمداني=

= এবং এর বিপরীত ও একে সমর্থন করে ইবনে হিব্বান সুলাইমান ইবনে মুসা-এর সূত্রে (طريق) যা বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীর লজ্জাস্থানের দিকে তাকানো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তখন তিনি বললেন: আমি আতা-কে জিজ্ঞাসা করেছি, তিনি বললেন: আমি আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছি, অতঃপর তিনি এই হাদিসটি এর মর্মার্থে উল্লেখ করেন এবং এটি এই মাসআলার ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট দলিল (نص)।

আমি বলি: এটি তার (আয়েশা রা.) থেকে বর্ণিত সেই বর্ণনার অসারতা প্রমাণ করে যাতে বলা হয়েছে: "আমি কখনো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর লজ্জাস্থান দেখিনি।" এটি তাবারানি আস-সগিরের ২৭ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সূত্রে আবু নুআইম (৮/১৪৭) ও খতিব (১/২২৫) বর্ণনা করেছেন। এর সনদে (سند) বারাকাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-হালাবি রয়েছে, যার মধ্যে আসলে কোনো বরকত নেই! কেননা সে একজন চরম মিথ্যাবাদী (كذاب) ও জালকারী (وضاع)। হাফেজ ইবনে হাজার আল-লিসান গ্রন্থে এই হাদিসটিকে তার বাতিল বা অসার (أباطيل) বর্ণনাসমূহের অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন।

ইবনে মাজাহ (১/২২৬ ও ৫৯৩) এবং ইবনে সা'দ (৮/১৩৬) থেকে এর অন্য একটি সূত্র (طريق) রয়েছে, যাতে আয়েশা (রা.)-এর একজন মুক্তদাসী রয়েছেন যিনি অপরিচিত (مجهولة); এই কারণেই বুসিরি আয-যাওয়ায়েদ গ্রন্থে এর সনদকে দুর্বল (ضعف سند) বলেছেন।

আবুশ শাইখের আখলাকুন নবী (সা.)-এর ২৫১ পৃষ্ঠায় এর তৃতীয় একটি সূত্র (طريق) রয়েছে, যাতে আবু সালেহ রয়েছেন—যিনি বাযাম—একজন দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারী, এবং মুহাম্মদ ইবনে কাসিম আল-আসাদি রয়েছেন, যিনি একজন চরম মিথ্যাবাদী (كذاب)। এর অনুরূপ একটি হাদিস হলো:

"যখন তোমাদের কেউ তার স্ত্রীর নিকট গমন করে, সে যেন নিজেকে আবৃত করে এবং গাধার মতো নগ্ন না হয়।"

ইবনে মাজাহ (১/৫৯২) উতবা ইবনে আবদ আস-সুলামি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এর সনদে (سند) আল-আহওয়াস ইবনে হাকিম রয়েছেন, যিনি দুর্বল (ضعيف) এবং তার থেকে বর্ণনাকারী হলেন ওয়ালিদ ইবনে কাসিম আল-হামদানি।

(খণ্ড: ১) আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা (পৃষ্ঠা: ১১০)
_________

= ضعفه ابن معين وغيره وقال ابن حبان:

"انفرد عن الثقات بما لا يشبه حديثهم فخرج عن حد الاحتجاج به".

ولهذا جزم العراقي في تخريج الأحياء 2/46 بضعف سنده وأخرجه النسائي في عشرة النساء 1/79/1 والمخلص في الفوائد المنتقاة 10/13/1 وابن عدي 149/2 و 201/2 عن عبد الله بن سرجس وقال النسائي:

"حديث منكر وصدقة بن عبد الله يعني أحد رواته ضعيف".

ورواه ابن أبي شيبة 7/70/1 وعبد الرزاق 6/194/10467 عن أبي قلابة مرفوعا وهو مرسل وأخرجه الطبراني 3/178/1 وأحمد ابن مسعود في أحاديثه 39/1 – 2 والعقيلي في الضعفاء 433 والباطرقاني في حديثه 156/1 والبيهقي في سننه 7/193 عن ابن مسعود وضعفه البيهقي بقوله:

"تفرد به مندل بن علي وليس بالقوي".

ثم ذكره بنحوه من حديث أنس وقال:

"إنه منكر". =

= ইবনে মাঈন ও অন্যান্যরা তাকে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করেছেন এবং ইবনে হিব্বান বলেছেন:

"তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقات) রাবিদের বিপরীতে এমন কিছু বর্ণনা করার ক্ষেত্রে একক হয়ে পড়েছেন যা তাদের হাদিসের সদৃশ নয়, ফলে তিনি দলিল হিসেবে গ্রহণীয় (احتجاج) হওয়ার সীমা থেকে বিচ্যুত হয়েছেন।"

এই কারণেই আল-ইরাকি 'তাখরিজুল ইহয়া' ২/৪৬-এ এর সনদ (سند) দুর্বল (ضعيف) হওয়ার ব্যাপারে সুনিশ্চিত মত দিয়েছেন এবং এটি বর্ণনা করেছেন আন-নাসায়ি 'ইশরাতুন নিসা' ১/৭৯/১-এ, আল-মুখাল্লিস 'আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাহ' ১০/১৩/১-এ এবং ইবনে আদি ২/১৪৯ ও ২/২০১-এ আব্দুল্লাহ বিন সারজিস থেকে এবং আন-নাসায়ি বলেছেন:

"এটি একটি প্রত্যাখ্যাত (منكر) হাদিস এবং সাদাকাহ বিন আব্দুল্লাহ—অর্থাৎ এর একজন বর্ণনাকারী—হলেন দুর্বল (ضعيف)।"

আর এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি শাইবাহ ৭/৭০/১ এবং আব্দুর রাজ্জাক ৬/১৯৪/১০৪৬৭-এ আবু কিলাবাহ থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে, আর এটি একটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনা; এবং এটি বর্ণনা করেছেন তাবারানি ৩/১৭৮/১, আহমদ ইবনে মাসউদ তার হাদিস সংকলন ৩৯/১-২-এ, আল-উকায়লি 'আদ-দুয়াফা' ৪৩৩-এ, আল-বাতিরকানি তার হাদিসে ১৫৬/১-এ এবং বায়হাকি তার 'সুনান' ৭/১৯৩-এ ইবনে মাসউদ থেকে এবং বায়হাকি এটি দুর্বল (ضعيف) আখ্যা দিয়ে বলেছেন:

"মানদাল বিন আলী এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি শক্তিশালী (قوي) নন।"

অতঃপর তিনি আনাস-এর হাদিস থেকে অনুরূপ বর্ণনা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন:

"নিশ্চয়ই এটি প্রত্যাখ্যাত (منكر)।" =
(খণ্ড: ১) আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা (পৃষ্ঠা: ১১১)
الثاني: عن معاوية بن حيدة قال:

قلت: يا رسول الله! عوراتنا ما نأتي منها وما نذر؟ قال: "احفظ عورتك إلا من زوجتك أو ما ملكت يمينك" 1. قال:

--------------------------------------------

= ورواه عبد الرزاق أيضا 6/194/10469 و 10470.

وأما حديث: "إذا جامع أحدكم زوجته أو جاريته فلا ينظر إلى فرجها فإن ذلك يورث العمى" فهو موضوع كما قال الإمام أبو حاتم الرازي وابن حبان وتبعهما ابن الجوزي وعبد الحق في أحكامه 143/1 وابن دقيق العيد كما في الخلاصة 118/2 وقد بينت علته في الأحاديث الضعيفة والموضوعة وأثرها السيئ في الأمة برقم 195.

1 قال ابن عروة الحنبلي في الكواكب 575/29/1:

"ومباح لكل واحد من الزوجين النظر إلى جميع بدن صاحبه ولمسه حتى الفرج لهذا الحديث ولأن الفرج يحل له الاستمتاع به فجاز النظر إليه ولمسه كبقية البدن".

وهذا مذهب مالك وغيره فقد روى ابن سعد عن الواقدي أنه قال:

رأيت مالك بن أنس وابن أبي ذئب لا يريان بأسا يراه منها وتراه=
দ্বিতীয়ত: মুয়াবিয়া ইবনে হাইদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

আমি আরজ করলাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের সতর বা গোপন অঙ্গের কতটুকু আমরা ঢেকে রাখব আর কতটুকুই বা উন্মুক্ত রাখব? তিনি বললেন: "তোমার স্ত্রী অথবা তোমার দক্ষিণ হস্ত যার মালিক হয়েছে (দাসী) তারা ব্যতীত অন্য সবার থেকে তোমার সতর হেফাজত করো।" ১। তিনি বলেন:

--------------------------------------------

= আর এটি আব্দুর রাজ্জাকও বর্ণনা করেছেন ৬/১৯৪/১০৪৬৯ এবং ১০৪৭০।

আর এই হাদিসটি: "তোমাদের কেউ যখন তার স্ত্রী বা দাসীর সাথে সহবাস করে, তখন সে যেন তার লজ্জাস্থানের দিকে না তাকায়; কেননা তা অন্ধত্ব সৃষ্টি করে"—এটি একটি বানোয়াট (موضوع) হাদিস, যেমনটি ইমাম আবু হাতিম আল-রাজি এবং ইবনে হিব্বান বলেছেন। তাঁদের অনুসরণে ইবনে আল-জাওজি এবং আব্দুল হক তাঁর 'আল-আহকাম' ১/১৪৩ গ্রন্থে এবং ইবনে দাকীক আল-ঈদ তাঁর 'আল-খুলাসা' ২/১১৮ গ্রন্থেও একই কথা বলেছেন। আমি 'সিলসিলাতুল আহাদিস আদ-দায়িফাহ ওয়াল-মাওদুয়াহ' গ্রন্থের ১৯৫ নম্বর হাদিসে এর অন্তর্নিহিত ত্রুটি (علة) বর্ণনা করেছি।

১. ইবনে উরওয়াহ আল-হাম্বলি 'আল-কাওয়াকিব' গ্রন্থে ১/২৯/৫৭৫ পৃষ্ঠায় বলেছেন:

"স্বামী-স্ত্রীর প্রত্যেকের জন্য এই হাদিসের ভিত্তিতে এবং যেহেতু লজ্জাস্থান উপভোগ করা বৈধ, তাই শরীরের বাকি অংশের মতো লজ্জাস্থানসহ সঙ্গীর পুরো শরীর দেখা এবং স্পর্শ করা বৈধ।"

এটিই ইমাম মালেক এবং অন্যদের মাযহাব। ইবনে সাদ আল-ওয়াকিদি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন:

"আমি মালেক ইবনে আনাস এবং ইবনে আবি জিবকে দেখেছি, তারা স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের দিকে (লজ্জাস্থানের দিকে) তাকানোতে কোনো দোষ মনে করতেন না।"=
(খণ্ড: ১) আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা (পৃষ্ঠা: ১১২)
قلت: يا رسول الله! إذا كان القوم بعضهم في بعض؟ قال:

"إن استطعت أن لا يرينها أحد فلا يرينها". قال:

فقلت: يا رسول الله! إذا كان أحدنا خاليا؟ قال:

"الله أحق أن يستحيى منه من الناس" 1.

--------------------------------------------

= منه. ثم قال عروة: ويكره النظر إلى الفرج فإن عائشة قالت: ما رأيت فرج رسول الله صلى الله عليه وسلم".

قلت: وخفي عليه ضعف سنده الذي سبق بيانه.

1 رواه أصحاب "السنن" إلا النسائي ففي "العشرة" 76/1 والروياني في "المسند" 17/169/1 1- 2، 171/1، 2 وكذا أحمد 5/3- 4 والبيهقي 1/199 واللفظ لأبي داود 2/171 وسنده حسن وصححه الحاكم ووافقه الذبي وقواه ابن دقيق العيد في "الإلمام" 126/2.

والحديث ترجم له النسائي ب "نظر المرأة إلى عورة زوجها" وعلقه البخاري في "صحيحه" في "باب من اغتسل عريانا وحده في الخلوة ومن تستر فالستر افضل" ثم ساق حديث أبي هريرة في اغتسال كل من موسى وأيوب عليهما السلام في الخلاء عريانين=
আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! যদি লোকজন একে অপরের সাথে থাকে? তিনি বললেন:

"যদি তুমি সক্ষম হও যে কেউ তা দেখবে না, তবে যেন কেউ তা না দেখে।" তিনি বললেন:

আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমাদের কেউ নির্জনে একা থাকে? তিনি বললেন:

"মানুষের চেয়ে আল্লাহ তাআলাই অধিক হকদার যে তাঁকে লজ্জা করা হবে।" 1.

--------------------------------------------

= তাঁর থেকে। এরপর উরওয়াহ বলেন: লজ্জাস্থানের দিকে তাকানো অপছন্দনীয়। কেননা আয়েশা (রা.) বলেছেন: "আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর লজ্জাস্থান কখনো দেখিনি।"

আমি বললাম: এর সনদের (سند) দুর্বলতা (ضعف), যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে, তা তাঁর নিকট অস্পষ্ট ছিল।

১. নাসায়ি ব্যতীত "সুনান" গ্রন্থকারগণ এটি বর্ণনা করেছেন; এটি নাসায়ির "আল-ইশরাহ" ১/৭৬ এবং রুয়ানি তাঁর "মুসনাদ" ১/১৬৯/১৭/১-২, ১/১৭১/২-এ বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে আহমদ ৫/৩-৪ এবং বায়হাকি ১/১৯৯ এটি বর্ণনা করেছেন। শব্দবিন্যাস আবু দাউদ ২/১৭১-এর। এর সনদ (سند) হাসান (حسن)। হাকিম একে সহিহ (صحيح) বলেছেন এবং যাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন। ইবনে দাকীকুল ঈদ "আল-ইলমাম" ২/১২৬-এ একে শক্তিশালী (قوي) বলেছেন।

হাদিসটি নাসায়ি "স্বামীর লজ্জাস্থানের প্রতি স্ত্রীর দৃষ্টি" শিরোনামে বর্ণনা করেছেন। বুখারি তাঁর "সহিহ" গ্রন্থে "যে ব্যক্তি নির্জনে একা নগ্ন হয়ে গোসল করে এবং যে পর্দা করে, পর্দা করাই উত্তম" অধ্যায়ে এটি মুআল্লাক (معلق) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এরপর তিনি মুসা ও আইয়ুব (আলাইহিমাস সালাম)-এর নির্জনে নগ্ন হয়ে গোসল করা সংক্রান্ত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসটি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা (পৃষ্ঠা: ১১৩)
10-‌‌ توضؤ الجنب قبل النوم:

ولا ينامان جنبين إلا إذا توضآ وفيه أحاديث:

الأول: عن عائشة رضي الله عنها قالت:

"كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا أراد أن [يأكل أو] ينام وهو جنب غسل فرجه وتوضأ وضوءه للصلاة"1.

الثاني: عن ابن عمر رضي الله عنهما:

"أن عمر قال: يا رسول الله! أينام أحدنا وهو

--------------------------------------------

= فأشار في إلى أن قوله في الحديث: "الله أحق أن يستحيى منه" محمول على ما هو الأفضل والأكمل وليس على ظاهره المفيد للوجوب قال المناوي:

"وقد حمله الشافعية على الندب وممن وافقهم ابن جريج فأول الخبر في "الآثار" على الندب قال: لأن الله تعالى لا يغيب عنه شيء من خلقه عراة أو غير عراة"

وذكر الحافظ في "الفتح" نحوه فراجعه إن شئت 1/307.

1 أخرجه البخاري ومسلم وأبو عوانة في "صحاحهم "وخرجناه في كتابنا "صحيح سنن أبي داود 218.
১০-‌‌ অপবিত্র (جنب) ব্যক্তির ঘুমানোর আগে অজু করা:

তারা উভয় অপবিত্র (جنب) অবস্থায় ঘুমাবে না যতক্ষণ না তারা অজু করে, আর এ বিষয়ে হাদিসসমূহ রয়েছে:

প্রথম: আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:

"রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন অপবিত্র (جنب) অবস্থায় [খাবার গ্রহণ বা] ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি তাঁর লজ্জাস্থান ধৌত করতেন এবং নামাজের অজুর ন্যায় অজু করতেন।"১

দ্বিতীয়: ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত:

"ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ কি অপবিত্র অবস্থায় ঘুমাতে পারে? তিনি...

--------------------------------------------

= এতে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, হাদিসে বর্ণিত তাঁর এই উক্তি: "আল্লাহ লজ্জার অধিক হকদার" কথাটি সর্বোত্তম ও পূর্ণতার ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে, এর বাহ্যিক অর্থের ওপর নয় যা আবশ্যকতা (وجوب) নির্দেশ করে। আল-মুনাউই বলেছেন:

"শাফেয়িগণ একে মুস্তাহাব (ندب) হওয়ার ওপর প্রয়োগ করেছেন এবং যারা তাঁদের সাথে একমত হয়েছেন তাদের মধ্যে ইবনে জুরাইজ অন্যতম। তিনি 'আল-আসার' গ্রন্থে এই বর্ণনাটিকে (خبر) মুস্তাহাব (ندب) হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেছেন: কারণ আল্লাহ তাআলার নিকট তাঁর সৃষ্টির কোনো কিছুই গোপন থাকে না, তারা বিবস্ত্র হোক বা না হোক।"

হাফেজ ইবনে হাজার 'ফাতহুল বারি' গ্রন্থে অনুরূপ উল্লেখ করেছেন, আপনি চাইলে তা দেখে নিতে পারেন ১/৩০৭।

১. এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি, মুসলিম এবং আবু আওয়ানা তাঁদের সহিহ গ্রন্থসমূহে এবং আমরা এটি আমাদের কিতাব সহিহ সুনান আবু দাউদ ২১৮-এ উল্লেখ করেছি।