(খণ্ড: ১)
আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা
(পৃষ্ঠা: -)
آداب الزفاف في السنة المطهرة القسم: مسائل فقهية
الكتاب: آداب الزفاف في السنة المطهرة
المؤلف: أبو عبد الرحمن محمد ناصر الدين، بن الحاج نوح بن نجاتي بن آدم، الأشقودري الألباني (ت 1420هـ)
الناشر: دار السلام
الطبعة: الطبعة الشرعية الوحيدة 1423هـ/2002مـ
عدد الصفحات: 292
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
পবিত্র সুন্নাহর আলোকে বাসর রাতের আদব বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: পবিত্র সুন্নাহর আলোকে বাসর রাতের আদব
লেখক: আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন, বিন আল-হাজ নুহ বিন নাজাতি বিন আদম, আল-আশকুন্দরী আল-আলবানী (মৃত্যু ১৪২০ হিজরী)
প্রকাশক: দারুস সালাম
সংস্করণ: একমাত্র শরয়ী সংস্করণ ১৪২৩ হিজরী/২০০২ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৯২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল-হিজ্জাহ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
مقدمة…بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله القائل في محكم كتابه: {وَمِنْ آيَاتِهِ أَنْ خَلَقَ لَكُمْ مِنْ أَنْفُسِكُمْ أَزْوَاجاً لِتَسْكُنُوا إِلَيْهَا وَجَعَلَ بَيْنَكُمْ مَوَدَّةً وَرَحْمَةً} [الروم: 21] . والصلاة والسلام على نبيه محمد الذي ورد عنه فيما ثبت من حديثه: "تزوجوا الودود الولود فإني مكاثر بكم الأنبياء يوم القيامة" 1.
وبعد فإن لمن تزوج وأراد الدخول بأهله آدابا في الإسلام قد ذهل عنها أو جهلها أكثر الناس حتى المتعبدين منهم فأحببت أن أضع في بيانها هذه الرسالة المفيدة بمناسبة زفاف أحد الأحبة إعانة له ولغيره من الإخوة المؤمنين على القيام بما شرعه سيد المرسلين
--------------------------------------------
ভূমিকা…পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর সুদৃঢ় কিতাবে বলেছেন: {আর তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা তাদের নিকট প্রশান্তি লাভ করো এবং তোমাদের মধ্যে ভালোবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন} [আর-রুম: ২১]। এবং দরুদ ও সালাম তাঁর নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি, যাঁর থেকে তাঁর প্রমাণিত (ثابت) হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "তোমরা অধিক প্রেমময়ী ও অধিক সন্তান প্রসবকারিনী নারীকে বিবাহ করো, কারণ কিয়ামতের দিন আমি তোমাদের মাধ্যমে অন্যান্য নবীদের সামনে আধিক্যের গৌরব করব।" ১।
অতঃপর, যে ব্যক্তি বিবাহ করে এবং স্ত্রীর সাথে বাসর করার ইচ্ছা পোষণ করে, ইসলামে তার জন্য কিছু শিষ্টাচার রয়েছে যা অধিকাংশ মানুষ ভুলে গেছে অথবা সে সম্পর্কে অজ্ঞ রয়ে গেছে, এমনকি তাদের মধ্যে অনেক ইবাদতগুজার ব্যক্তিও। তাই আমি একজন প্রিয় পাত্রের বিবাহ উপলক্ষে এই শিষ্টাচারগুলো বর্ণনার উদ্দেশ্যে এই উপকারী পুস্তিকাটি সংকলন করা পছন্দ করেছি, যাতে তাঁকে এবং অন্য মুমিন ভাইদেরকে রাসূলগণের সরদার যা প্রবর্তন করেছেন তা পালনে সহযোগিতা করা যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা
(পৃষ্ঠা: ৯০)
عن رب العالمين وعقبتها بالتنبيه على بعض الأمور التي تهم كل متزوج وقد ابتلي بها كثير من الزوجات.
أسأل الله تعالى أن ينفع بها وأن يجعلها خالصة لوجهه الكريم إنه هو البر الرحيم.
وليعلم أن آداب الزفاف كثيرة وإنما يعنيني منها في هذه العجالة ما ثبت منها في السنة المحمدية مما لا مجال لإنكارها من حيث إسنادها أو محاولة التشكيك فيها من جهة مبناها حتى يكون القائم بها على بصيرة من دينه وثقة من أمره وإني لأرجو أن يختم الله له بالسعادة جزاء افتتاحه حياته الزوجة بمتابعة السنة وأن يجعله من عباده الذين وصفهم بأن من قولهم: {رَبَّنَا هَبْ لَنَا مِنْ أَزْوَاجِنَا وَذُرِّيَّاتِنَا قُرَّةَ أَعْيُنٍ وَاجْعَلْنَا لِلْمُتَّقِينَ إِمَاماً} . [الفرقان: 74] . والعاقبة للمتقين كما قال رب العالمين: {إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي ظِلالٍ وَعُيُونٍ،وَفَوَاكِهَ مِمَّا يَشْتَهُونَ، كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئاً بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ، إِنَّا كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ} [المرسلات: 41 - 44] .
وهاك تلك الآداب:
বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে (যা বর্ণিত হয়েছে) এবং এর শেষে আমি এমন কিছু বিষয়ে সতর্ক করেছি যা প্রত্যেক বিবাহিত ব্যক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং যার দ্বারা অনেক স্ত্রীই বিপদগ্রস্ত হয়েছেন।
আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে উপকার দান করেন এবং একে তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম দয়ালু ও অতিশয় মেহেরবান।
জেনে রাখা আবশ্যক যে, বাসর রাতের আদবসমূহ অনেক। তবে এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে আমার উদ্দেশ্য হলো মুহাম্মাদী সুন্নাহর (سنة) সেই প্রমাণিত (ثابت) বিষয়গুলো আলোচনা করা, যার সনদ (إسناد) অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই কিংবা যার মূল পাঠগত (متن) কাঠামোর ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করার কোনো সুযোগ নেই; যাতে আমলকারী ব্যক্তি তার দ্বীন সম্পর্কে সুস্পষ্ট প্রজ্ঞা এবং নিজের কার্যাবলীর ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাসের ওপর থাকতে পারেন। আমি আশা করি যে, সুন্নাহ (سنة) অনুসরণের মাধ্যমে দাম্পত্য জীবন শুরু করার প্রতিদান স্বরূপ আল্লাহ তায়ালা তার জীবনের সমাপ্তি সৌভাগ্যমণ্ডিত করবেন এবং তাকে তাঁর ঐ সকল বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করবেন যাদের প্রার্থনা সম্পর্কে তিনি বর্ণনা করেছেন: "হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের জন্য আমাদের স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততিদের পক্ষ থেকে চক্ষুশীতলকারী সম্পদ দান করুন এবং আমাদেরকে মুত্তাকীদের (متقين) জন্য আদর্শ (إمام) স্বরূপ করুন।" [আল-ফুরকান: ৭৪]। আর শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের (متقين) জন্যই, যেমনটি বিশ্বজগতের প্রতিপালক বলেছেন: "নিশ্চয়ই মুত্তাকীরা (متقين) থাকবে ছায়া ও ঝরনাধারার মধ্যে, এবং তাদের পছন্দনীয় ফলমূলের মাঝে। (তাদেরকে বলা হবে,) তোমরা যা করতে তার বিনিময়ে তৃপ্তির সাথে পানাহার করো। এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের (محسنين) প্রতিদান দিয়ে থাকি।" [আল-মুরসালাত: ৪১-৪৪]।
নিচে সেই আদবসমূহ প্রদান করা হলো:
(খণ্ড: ১)
আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা
(পৃষ্ঠা: ৯১)
1-
ملاطفة الزوجة عند البناء بها:يستحب له إذا دخل على زوجته أن يلاطفها كأن يقدم إليها شيئا من الشراب ونحوه لحديث أسماء بنت يزيد بن السكن قالت:
إني قينت1 عائشة لرسول الله صلى الله عليه وسلم ثم جئته فدعوته لجلوتها2 فجاء فجلس إلى جنبها فأتي بعس3 لبن فشرب ثم ناولها النبي صلى الله عليه وسلم فخفضت رأسها واستحيت قالت أسماء: فانتهرتها وقلت لها: خذي من يد النبي صلى الله عليه وسلم قالت: فأخذت فشربت شيئا ثم قال لها النبي صلى الله عليه وسلم: "أعطي تربك" 4 قالت أسماء: فقلت: يا رسول الله! بل خذه فاشرب منه ثم ناولنيه من يدك فأخذه فشرب منه ثم ناولنيه قالت: فجلست ثم وضعته على ركبتي ثم طفقت أديره وأتبعه بشفتي
--------------------------------------------
1-
বাসর রাতে স্ত্রীর সাথে কোমল আচরণ করা:বাসর রাতে যখন স্বামী তার স্ত্রীর নিকট প্রবেশ করে, তখন তার জন্য পছন্দনীয় (مستحب) হলো স্ত্রীর সাথে কোমল আচরণ করা। যেমন তাকে কোনো পানীয় বা অনুরূপ কিছু পেশ করা; আসমা বিনতে ইয়াজিদ ইবনে আস-সাকান বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, তিনি বলেন:
আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য আয়েশাকে সজ্জিত করেছিলাম। অতঃপর আমি তাঁর নিকট গিয়ে তাঁকে নববধূর সাক্ষাতের জন্য আহ্বান জানালাম। তিনি আসলেন এবং তাঁর পাশে বসলেন। তখন একটি বড় পেয়ালা ভর্তি দুধ আনা হলো। তিনি তা থেকে পান করলেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা তাঁর (আয়েশার) দিকে বাড়িয়ে দিলেন। তখন তিনি (আয়েশা) মাথা নিচু করলেন এবং লজ্জাবোধ করলেন। আসমা বলেন: আমি তাঁকে মৃদু ধমক দিয়ে বললাম, 'নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাত থেকে তা গ্রহণ করো।' আসমা বলেন: তখন তিনি তা গ্রহণ করলেন এবং সামান্য পান করলেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বললেন, "তোমার সঙ্গিনীকেও দাও।" আসমা বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! বরং আপনিই তা গ্রহণ করুন এবং পান করুন, অতঃপর আপনার হাত থেকে সেটি আমাকে দিন। তিনি সেটি নিলেন এবং পান করে আমাকে প্রদান করলেন। আসমা বলেন: আমি বসলাম এবং তা আমার হাঁটুর ওপর রাখলাম। এরপর আমি পাত্রটি ঘোরাতে লাগলাম এবং যেখানে তাঁর পবিত্র ঠোঁট লেগেছিল সেখানে আমার ঠোঁট লাগিয়ে পান করার চেষ্টা করতে লাগলাম।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা
(পৃষ্ঠা: ৯২)
لأصيب منه شرب النبي صلى الله عليه وسلم ثم قال لنسوة عندي: "ناوليهن" فقلن: لا نشتهيه! فقال صلى الله عليه وسلم: "لا تجمعن جوعا وكذبا" 1.
--------------------------------------------
যাতে আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পানীয় হতে কিছু অংশ গ্রহণ করতে পারি। অতঃপর তিনি আমার নিকট থাকা নারীদের উদ্দেশ্যে বললেন: "তাদেরকে এটি দাও।" তারা বলল: "আমাদের এর প্রতি কোনো ক্ষুধা বা আকাঙ্ক্ষা নেই!" তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "তোমরা ক্ষুধা এবং মিথ্যাকে (كذبا) একত্রিত করো না।" 1.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা
(পৃষ্ঠা: ৯২)
2-
وضع اليد على رأس الزوجة والدعاء لها:وينبغي أن يضع يده على مقدمة رأسها عند البناء بها أو قبل ذلك وأن يسمي الله تبارك وتعالى ويدعو بالبركة ويقول ما جاء في قوله صلى الله عليه وسلم: "إذا تزوج أحدكم امرأة أو اشترى خادما [فليأخذ بناصيتها] 2 [وليسم الله عز وجل] [وليدع بالبركة] وليقل:
--------------------------------------------
২-
স্ত্রীর মাথায় হাত রাখা এবং তার জন্য দোয়া করা:বাসর রাতে বা তার পূর্বে স্ত্রীর মাথার সম্মুখভাগে হাত রাখা এবং আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার নাম স্মরণ করা ও বরকতের জন্য দোয়া করা বাঞ্ছনীয়। এছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীতে যা বর্ণিত হয়েছে তা বলা উচিত: "তোমাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিবাহ করে অথবা কোনো সেবক ক্রয় করে, [তবে সে যেন তার কপালের অগ্রভাগ ধরে] ২ [এবং মহান আল্লাহর নাম স্মরণ করে] [ও বরকতের জন্য দোয়া করে] এবং বলে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
اللهم إني أسألك من خيرها وخير ما جبلتها عليه وأعوذ بك من شرها وشر ما جبلتها عليه" 1.
[وإذا اشترى بعيرا فليأخذ بذروه سنامه وليقل مثل ذلك] " 2.
--------------------------------------------
"হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট এর কল্যাণ এবং আপনি একে যে প্রকৃতির ওপর সৃষ্টি করেছেন তার কল্যাণ প্রার্থনা করছি; আর আমি আপনার নিকট এর অনিষ্ট এবং আপনি একে যে প্রকৃতির ওপর সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে পানাহ চাচ্ছি।" ১।
[আর যখন কেউ কোনো উট ক্রয় করে, সে যেন তার কুঁজের অগ্রভাগ ধরে এবং অনুরূপ দোয়া পাঠ করে।] ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা
(পৃষ্ঠা: ৯৪)
3-
صلاة الزوجين معا:ويستحب لهما أن يصليا ركعتين معا لأنه منقول عن السلف. وفيه أثران:
الأول: عن أبي سعيد مولى أبي أسيد قال:
"تزوجت وأنا مملوك فدعوت نفرا من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم فيهم ابن مسعود وأبو ذر وحذيفة قال: وأقيمت الصلاة قال: فذهب أبو ذر ليتقدم فقالوا: إليك! قال: أو كذلك؟ قالوا: نعم1 قال: فتقدمت بهم وأنا عبد مملوك وعلموني فقالوا:
"إذا دخل عليك أهلك فصل ركعتين ثم سل الله من خير ما دخل عليك وتعوذ به من شره ثم شأنك وشأن أهلك"2.
--------------------------------------------
3-
স্বামী-স্ত্রীর একত্রে সালাত আদায়:তাদের উভয়ের জন্য একত্রে দুই রাকাত সালাত আদায় করা মুস্তাহাব (مستحب); কেননা এটি সালাফদের (سلف) থেকে বর্ণিত হয়েছে। আর এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা (أثر) রয়েছে:
প্রথমটি: আবু আসিদের মুক্তদাস আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
"আমি যখন ক্রীতদাস ছিলাম তখন বিবাহ করি এবং নবী (সা.)-এর একদল সাহাবীকে দাওয়াত করি, যাদের মধ্যে ইবনে মাসউদ, আবু যার এবং হুযায়ফা (রা.) ছিলেন। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: সালাতের ইকামত দেওয়া হলো। তখন আবু যার (রা.) ইমামতি করতে সামনে অগ্রসর হতে চাইলেন। তারা বললেন: 'আপনি পেছনে থাকুন!' তিনি বললেন: 'বিষয়টি কি তাই?' তারা বললেন: 'হ্যাঁ'১। তিনি বলেন: আমি তাদের ইমামতি করলাম অথচ আমি তখন একজন ক্রীতদাস ছিলাম। তারা আমাকে শিক্ষা দিলেন এবং বললেন:
"যখন তোমার স্ত্রী তোমার নিকট আসবে, তখন দুই রাকাত সালাত আদায় করবে। অতঃপর তোমার নিকট যা এসেছে (স্ত্রী) তার কল্যাণ আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করবে এবং তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় (تعوذ) প্রার্থনা করবে। এরপর তোমার ও তোমার স্ত্রীর ব্যক্তিগত বিষয়"২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা
(পৃষ্ঠা: ৯৫)
الثاني: عن شقيق قال:
"جاء رجل يقال له: أبو حريز1 فقال: إني تزوجت جارية شابة [بكرا] وإني أخاف أن تفركني2 فقال عبد الله يعني ابن مسعود:
--------------------------------------------
দ্বিতীয় (অনুচ্ছেদ): শাকিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
"আবু হারিজ নামক জনৈক ব্যক্তি এসে বললেন: আমি এক যুবতী [কুমারী] মেয়েকে বিয়ে করেছি এবং আমি ভয় পাচ্ছি যে সে আমাকে ঘৃণা করবে। অতঃপর আবদুল্লাহ অর্থাৎ ইবনে মাসউদ বললেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা
(পৃষ্ঠা: ৯৬)
إن الإلف من الله والفرك من الشيطان يريد أن يكره إليكم ما أحل الله لكم فإذا أتتك فأمرها أن تصلي وراءك ركعتين". زاد في رواية أخرى عن ابن مسعود:
"وقل: اللهم بارك لي في أهلي وبارك لهم في اللهم اجمع بيننا ما جمعت بخير وفرق بيننا إذا فرقت إلى خير" 1.
--------------------------------------------
"নিশ্চয়ই সৌহার্দ্য আল্লাহর পক্ষ থেকে এবং বিদ্বেষ শয়তানের পক্ষ থেকে, সে চায় তোমাদের প্রতি যা আল্লাহ হালাল করেছেন তা তোমাদের নিকট অপ্রিয় করে তুলতে। অতএব, সে যখন তোমার কাছে আসবে, তখন তাকে নির্দেশ দাও যাতে সে তোমার পেছনে দুই রাকাত সালাত আদায় করে।" ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত অন্য একটি বর্ণনায় বর্ধিত অংশ রয়েছে:
"এবং বলো: হে আল্লাহ! আমার পরিবারে আমার জন্য বরকত দান করুন এবং তাদের মাঝে আমার জন্য বরকত দান করুন। হে আল্লাহ! আমাদের যতক্ষণ একত্রে রাখেন কল্যাণের সাথেই একত্রে রাখুন এবং যখন আমাদের আলাদা করবেন কল্যাণের দিকেই আলাদা করবেন।" 1.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা
(পৃষ্ঠা: ৯৭)
_________
= عنه حماد بن زيد به نحوه موقوفا عليه وهو الصواب لأن حماد بن زيد روى عن عطاء قبل أن يختلط ولذلك أوردناه في المتن وهي الرواية الأخرى عن ابن مسعود.
ثم رأيته من طريق آخر عن ابن مسعود عند الثقفي فانظر: "إذا تزوج أحدكم. .." من "المعجم".
وله شاهد مرفوع عن سلمان أخرجه ابن عدي 71/2 وأبو نعيم في "أخبار أصبهان" 1/56 والبزار في "مسنده" بسند ضعيف تكلمت عليه في "معجم الحديث" بلفظ: "إذا تزوج أحدكم. .." ورواه ابن عساكر 7/2091 - 2 عنه وعن ابن عباس.
وروى عبد الزراق 6/192 عن ابن جريج قال:
حدثت أن سلمان الفارسي تزوج امرأة فلما دخل عليها وقف على بابها فإذا هو بالبيت مستور فقال:
ما أدري أمحموم بيتكم أم تحولت الكعبة إلى كندة؟! والله لا أدخله حتى تهتك أستاره.
فلما هتكوها
… دخل
… ثم عمد إلى أهله فوضع يده على رأسها
… فقال: هل أنت مطيعتي رحمك الله؟ قالت: قد جلست مجلس من يطاع قال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لي:
"إن تزوجت يوما فليكن أول ما تلتقيان عليه من طاعة الله"
= তাঁর থেকে হাম্মাদ ইবনে যাইদ অনুরূপ বর্ণনা করেছেন যা তাঁর (ইবনে মাসউদ) ওপর স্থগিত (موقوف) হিসেবে বর্ণিত এবং এটিই সঠিক। কারণ হাম্মাদ ইবনে যাইদ আতা থেকে তাঁর স্মৃতিবিভ্রম (اختلط) ঘটার পূর্বে বর্ণনা করেছেন; এই কারণেই আমরা এটি মূল পাঠে (متن) এনেছি এবং এটি ইবনে মাসউদের পক্ষ থেকে বর্ণিত অন্য একটি বর্ণনা।
অতঃপর আমি আস-সাকাফীর নিকট ইবনে মাসউদ থেকে অন্য একটি সূত্রে (طريق) এটি দেখেছি। সুতরাং আল-মুজাম থেকে "যখন তোমাদের কেউ বিয়ে করবে..." অংশটি দেখুন।
আর সালমান থেকে এর একটি রাসূল পর্যন্ত উন্নীত (مرفوع) সমর্থনকারী বর্ণনা (شاهد) রয়েছে যা ইবনে আদি (২/৭১), আবু নুআইম 'আখবার আসবাহান' (১/৫৬) গ্রন্থে এবং আল-বজ্জার তাঁর 'মুসনাদ'-এ একটি দুর্বল (ضعيف) সূত্রে (سند) বর্ণনা করেছেন। আমি এ বিষয়ে 'মুজাম আল-হাদিস'-এ "যখন তোমাদের কেউ বিয়ে করবে..." শব্দে আলোচনা করেছি। ইবনে আসাকির (৭/২০৯১-২) তাঁর থেকে এবং ইবনে আব্বাস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
আর আবদুর রাজ্জাক (৬/১৯২) ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
আমাকে জানানো হয়েছে যে, সালমান আল-ফারসি এক নারীকে বিয়ে করেছিলেন। যখন তিনি তাঁর নিকট প্রবেশ করলেন, তিনি তাঁর ঘরের দরজায় দাঁড়ালেন এবং দেখলেন ঘরটি পর্দাবৃত। তখন তিনি বললেন:
আমি জানি না তোমাদের ঘর কি জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে নাকি কাবা কিন্দাহ্ গোত্রে স্থানান্তরিত হয়েছে?! আল্লাহর কসম, আমি এতে প্রবেশ করব না যতক্ষণ না এর পর্দাগুলো সরিয়ে ফেলা হয়।
অতঃপর যখন তারা সেগুলো সরিয়ে ফেলল
… তিনি প্রবেশ করলেন
… এরপর তিনি তাঁর স্ত্রীর নিকট গিয়ে তাঁর মাথায় হাত রাখলেন
… এরপর বললেন: আল্লাহ তোমার ওপর রহম করুন, তুমি কি আমার আনুগত্য করবে? তিনি বললেন: আপনি এমন এক আসনে বসেছেন যেখানে আনুগত্য করা হয়। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছিলেন:
"যদি তুমি কোনোদিন বিয়ে করো, তবে তোমাদের উভয়ের প্রথম মিলন যেন আল্লাহর আনুগত্যের মাধ্যমে হয়।"
(খণ্ড: ১)
আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা
(পৃষ্ঠা: ৯৮)
4-
ما يقول حين يجامعها:وينبغي أن يقول حين يأتي أهله:
"بسم الله اللهم جنبنا الشيطان وجنب الشيطان ما رزقتنا".
قال صلى الله عليه وسلم:
"فإن قضى الله بينما ولدا لم يضره الشيطان أبدا" 1.
--------------------------------------------
৪-
সহবাসের সময় যা বলতে হয়:যখন কেউ তার স্ত্রীর নিকট আসে (সহবাসের ইচ্ছা করে), তখন তার বলা উচিত:
"আল্লাহর নামে শুরু করছি। হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে শয়তান থেকে দূরে রাখুন এবং আমাদেরকে আপনি যা দান করবেন (সন্তান), তা থেকেও শয়তানকে দূরে রাখুন।"
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
"যদি আল্লাহ তাদের মাঝে কোনো সন্তান নির্ধারণ করেন, তবে শয়তান কখনোই তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না" ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা
(পৃষ্ঠা: ৯৯)
5-
كيف يأتيها:ويجوز له أن يأتيها في قبلها من أي جهة شاء من خلفها أو من أمامها لقول الله تبارك وتعالى: {نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ} أي: كيف شئتم مقبلة ومدبرة وفي ذلك أحاديث أكتفي باثنين منها:
الأول: عن جابر رضي الله عنه قال:
"كانت اليهود تقولك إذا أتى الرجل امرأته من دبرها في قبلها كان الولد أحول! فنزلت: {نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ} [فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "مقبلة ومدبرة إذا كان ذلك في الفرج] " 1.
--------------------------------------------
৫-
যেভাবে স্ত্রীর নিকট গমণ করতে হবে:স্বামীর জন্য তার স্ত্রীর যোনিপথে যে কোনো দিক থেকে—পিছন থেকে হোক বা সামনে থেকে—গমণ করা বৈধ। মহান আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার বাণী: {তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র, অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো।} অর্থাৎ: যেভাবে ইচ্ছা, সামনে থেকে হোক বা পিছন থেকে। এ প্রসঙ্গে বেশ কিছু হাদিস রয়েছে, আমি এখানে মাত্র দুটি উল্লেখ করছি:
প্রথমটি: জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
"ইহুদিরা বলত যে, যদি কোনো পুরুষ তার স্ত্রীর পিছন দিক থেকে সামনের পথে (যোনিপথে) সঙ্গম করে, তবে সন্তান টেরা হবে! তখন নাযিল হয়: {তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র, অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো।} [অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সামনে থেকে হোক বা পিছন থেকে, যতক্ষণ তা যোনিপথে হয়।"]" ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা
(পৃষ্ঠা: ১০০)
الثاني: عن ابن عباس قال:
"كان هذا الحي من الأنصار وهم أهل وثن مع هذا الحي من يهود وهم أهل كتاب وكانوا يرون لهم فضلا عليهم في العلم فكانوا يقتدون بكثير من فعلهم وكان من أمر أهل الكتاب أن لا يأتوا النساء إلا على حرف1 وذلك أستر ما تكون المرأة فكان هذا الحي من الأنصار قد أخذوا بذلك من فعلهم وكان هذا الحي من قريش يشرحون النساء شرحا منكرا ويتلذذون منهن مقبلات ومدبرات ومستلقيات فلما قدم المهاجرون المدينة تزوج رجل منهم امرأة من الأنصار فذهب يصنع بها ذلك فأنكرته عليه وقالت: إنما كنا نؤتى على حرف فاصنع ذلك وإلا فاجتنبني حتى شري2 أمرها فبلغ ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم فأنزل الله عز وجل: {نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ} أي: مقبلات ومدبرات ومستلقيات يعني بذلك موضع
--------------------------------------------
দ্বিতীয়: ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
"আনসারদের এই গোত্রটি ছিল মূর্তিপূজারী এবং তারা ইহুদিদের এই গোত্রের সাথে বসবাস করত যারা ছিল কিতাবধারী। তারা ইলম বা জ্ঞানের ক্ষেত্রে ইহুদিদেরকে নিজেদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করত এবং তাদের অনেক রীতিনীতি অনুসরণ করত। কিতাবধারীদের নিয়ম ছিল যে, তারা পার্শ্বদেশ1 ব্যতীত অন্য কোনোভাবে স্ত্রীদের সাথে মিলিত হতো না; এটি ছিল নারীর সতর বা আব্রু রক্ষার জন্য অধিক উপযোগী। আনসারদের এই গোত্রটি তাদের নিকট থেকে এই কর্মপদ্ধতি গ্রহণ করেছিল। অন্যদিকে কুরাইশদের এই গোত্রটি স্ত্রীদের সাথে মেলামেশার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক পদ্ধতি অবলম্বন করত এবং তারা সম্মুখ, পশ্চাৎ ও শায়িত—সবভাবেই তাদের থেকে আনন্দ লাভ করত। অতঃপর যখন মুহাজিরগণ মদীনায় আসলেন, তখন তাদের এক ব্যক্তি জনৈক আনসারী নারীকে বিয়ে করলেন। তিনি তার সাথে সেরূপ আচরণ করতে চাইলেন, কিন্তু ওই নারী তা অস্বীকার করলেন এবং বললেন: 'আমাদের সাথে কেবল পার্শ্বদেশ থেকেই মিলিত হওয়া হতো। সুতরাং আপনি সেভাবেই করুন, নতুবা আমার থেকে দূরে থাকুন।' একপর্যায়ে বিষয়টি জটিল2 হয়ে উঠল এবং তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট পৌঁছাল। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: {তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের জন্য শস্যক্ষেত্র; সুতরাং তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো} অর্থাৎ: সম্মুখ থেকে, পশ্চাৎ থেকে এবং শায়িত অবস্থায়; এর দ্বারা মিলনের স্থানকেই বোঝানো হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা
(পৃষ্ঠা: ১০১)
الولد"1.
--------------------------------------------
সন্তান।"১.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা
(পৃষ্ঠা: ১০১)
6-
تحريم الدبر:ويحرم عليه أن يأتيها في دبرها لمفهوم الآية السابقة: {نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ}
6-
পায়ুপথ ব্যবহারের নিষিদ্ধকরণ (تحريم الدبر):এবং স্বামীর জন্য স্ত্রীর পায়ুপথে (دبر) সঙ্গম করা নিষিদ্ধ (حرام); পূর্ববর্তী আয়াতের মর্মার্থ (مفهوم) অনুযায়ী: {তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র; অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো।}
(খণ্ড: ১)
আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা
(পৃষ্ঠা: ১০২)
والأحاديث المتقدمة وفيه أحاديث أخرى:
الأول: عن أم سلمة رضي الله عنها قالت:
"لما قدم المهاجرون المدينة على الأنصار تزوجوا من نسائهم وكان المهاجرون1 يجبون2 وكانت الأنصار3 لا تجبي4 فأراد رجل من المهاجرين امرأته على ذلك فأبت عليه حتى تسأل رسول الله صلى الله عليه وسلم قالت: فأتته فاستحيت أن تسأله فسألته أم سلمة فنزلت: {نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ} وقال: "لا إلا في صمام 5 واحد" 6.
--------------------------------------------
পূর্ববর্তী হাদিসসমূহ এবং এ বিষয়ে আরও হাদিস রয়েছে:
প্রথম: উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
“যখন মুহাজিরগণ মদিনায় আনসারদের নিকট আসলেন, তখন তাঁরা তাঁদের নারীদের বিয়ে করলেন। মুহাজিরগণ ১ উপুড় হয়ে সহবাস করতেন ২, কিন্তু আনসারগণ ৩ তা করতেন না ৪। ফলে মুহাজিরদের এক ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীর নিকট সেটি চাইলেন, কিন্তু স্ত্রী তা অস্বীকার করলেন যতক্ষণ না তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। উম্মে সালামা বললেন: অতঃপর ওই নারী তাঁর নিকট আসলেন কিন্তু জিজ্ঞাসা করতে লজ্জিত হলেন। তখন উম্মে সালামা তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। এরপর এই আয়াত নাজিল হলো: {তোমাদের স্ত্রীগণ তোমাদের শস্যক্ষেত্র; অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো} এবং তিনি বললেন: “না, তবে তা যেন কেবল একটিই পথে ৫ হয়” ৬।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা
(পৃষ্ঠা: ১০৩)
الثاني: عن ابن عباس رضي الله عنه قال:
"جاء عمر بن الخطاب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله! هلكت. قال: "وما الذي أهلكك؟ " قال: حولت رحلي الليلة1 فلم يرد عليه شيئا فأوحي إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم هذه الآية: {نِسَاؤُكُمْ حَرْثٌ لَكُمْ فَأْتُوا حَرْثَكُمْ أَنَّى شِئْتُمْ} يقول: "أقبل وأدبر واتق الدبر والحيضة" 2.
--------------------------------------------
দ্বিতীয়: ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
"ওমর ইবনুল খাত্তাব রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আমি তো ধ্বংস হয়ে গেছি। তিনি বললেন: 'তোমাকে কিসে ধ্বংস করল?' তিনি বললেন: গত রাতে আমি আমার বাহন ঘুরিয়েছি। তখন তিনি তাঁকে কোনো উত্তর দিলেন না। অতঃপর রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর এই আয়াত অবতীর্ণ হলো: {তোমাদের স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র; অতএব তোমরা তোমাদের শস্যক্ষেত্রে যেভাবে ইচ্ছা গমন করো।} তিনি বলেন: 'সম্মুখভাগ থেকে হোক কিংবা পশ্চাৎভাগ থেকে, তবে পায়ুপথ এবং ঋতুস্রাব এড়িয়ে চলবে'।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা
(পৃষ্ঠা: ১০৪)
الثالث: عن خزيمة بن ثابت رضي الله عنه:
"أن رجلا سأل النبي صلى الله عليه وسلم عن إتيان النساء في أدبارهن أو إتيان الرجل امرأته في دبرها؟ فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "حلال". فلما ولى الرجل دعاه أو أمر به فدعي فقال: "كيف قلت؟ في أي الخربتين أوفي الخرزتين أو في أي الخصفتين1؟ أمن دبرها في قبلها؟ فنعم أم من دبرها في دبرها؟ فلا فإن الله لا يستحي من الحق لا تأتوا النساء في أدبارهن" 2.
--------------------------------------------
তৃতীয়: খুজাইমা ইবনে সাবিত (রা.) থেকে বর্ণিত:
"এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে নারীদের মলদ্বারে মৈথুন করা অথবা স্বামী তার স্ত্রীর মলদ্বারে উপগত হওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: 'হালাল'। যখন লোকটি ফিরে যাচ্ছিল, তখন তিনি তাকে ডাকলেন অথবা তাকে ডাকার নির্দেশ দিলেন এবং তাকে ডাকা হলো। এরপর তিনি বললেন: 'তুমি কীভাবে বললে? কোন্ ছিদ্রে, নাকি কোন্ পথে, নাকি কোন্ রাস্তায়১? পিছন দিক থেকে তার যোনিপথে? তবে হ্যাঁ। নাকি পিছন দিক থেকে তার মলদ্বারে? তবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সত্য প্রকাশে লজ্জাবোধ করেন না। তোমরা নারীদের মলদ্বারে উপগত হয়ো না।" ২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা
(পৃষ্ঠা: ১০৫)
الرابع: "لا ينظر الله إلى رجل يأتي امرأته في دبرها" 1.
الخامس: "ملعون من يأتي النساء في محاشهن. يعني: أدبارهن" 2.
السادس: "من أتى حائضا أو امرأة في دبرها أو كاهنا فصدقه بما يقول فقد كفر بما أنزل على محمد" 3.
--------------------------------------------
চতুর্থ: "আল্লাহ সেই ব্যক্তির দিকে (রহমতের দৃষ্টিতে) তাকাবেন না, যে তার স্ত্রীর মলদ্বারে সঙ্গম করে।" ১.
পঞ্চম: "অভিশপ্ত সেই ব্যক্তি যে নারীদের তাদের মলদ্বারে গমন করে। অর্থাৎ: তাদের পেছনের রাস্তায়।" ২.
ষষ্ঠ: "যে ব্যক্তি কোনো ঋতুমতী মহিলার সাথে অথবা স্ত্রীর মলদ্বারে সঙ্গম করল কিংবা কোনো গণকের কাছে গেল এবং সে যা বলে তা বিশ্বাস করল, তবে সে যেন মুহাম্মাদের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা অস্বীকার করল।" ৩.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা
(পৃষ্ঠা: ১০৬)
_________
= "العشرة" 78 والدارمي وأحمد 2/408 و 476 واللفظ له والضياء في "المختارة" 10/105/2 من حديث أبي أبي هريرة وسنده صحيح كما بينته في "نقد التاج" رقم 64.
وروى النسائي ق 77/2 وابن بطة في "الإبانة" 6/56/2 عن طاوس قال:
سئل ابن عباس عن الذي يأتي امرأته في دبرها؟ فقال: هذا يسألني عن الكفر؟ وسنده صحيح وعن أبي هريرة نحوه بسند فيه ضعف
وقال الذهبي في "سير أعلام النبلاء" 9/171/1:
" قد تيقنا بطرق لا محيد عنها نهي النبي صلى الله عليه وسلم عن أدبار النساء وجزمنا بتحريمه ولي في ذلك مصنف كبير".
قلت: فلا تغتر بعد هذا بقول الشيخ جمال الدين القاسمي في "تفسيره" 3/572:
"إنها ضعيفة"! لأنها دعوى من غير مختص بهذا العلم أولا وخلاف ما يقتضيه البحث العلمي وشهادة الأئمة بصحة بعضها وحسن بعضها وجم الإمام الذهبي بالتحريم الذي اجتمعت عليه مفردات أحاديث الباب. وفي مقدمة المصححين الإمام إسحاق بن راهويه ثم تتابعت أقوال الأئمة من بعده من المتقدمين والمتأخرين=
_________
= "আল-আশারা" ৭৮ এবং আদ-দারিমি ও আহমদ ২/৪০৮ ও ৪৭৬, শব্দাবলি আহমদের; এবং আদ-দিয়া "আল-মুখতারা" গ্রন্থে ১০/১০৫/২-এ আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদিস থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এর সনদ (سند) বিশুদ্ধ (صحيح), যেমনটি আমি "নাকদুত তাজ" এর ৬৪ নম্বরে ব্যাখ্যা করেছি।
আন-নাসায়ি (৭৭/২) এবং ইবনুল বাত্তাহ "আল-ইবানা" গ্রন্থে (৬/৫৬/২) তাউস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
ইবনে আব্বাসকে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তার স্ত্রীর মলদ্বারে মৈথুন করে? তিনি বললেন: "সে কি আমাকে কুফরি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছে?" এর সনদ (سند) বিশুদ্ধ (صحيح)। আবু হুরায়রা থেকেও অনুরূপ একটি বর্ণনা রয়েছে এমন একটি সনদে (سند), যাতে দুর্বলতা (ضعف) রয়েছে।
ইমাম আয-যাহাবি "সিয়ারু আলামিন নুবালা" গ্রন্থে ৯/১৭১/১-এ বলেছেন:
"আমরা এমনসব অনস্বীকার্য সূত্রের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের মলদ্বারে মৈথুন করতে নিষেধ করেছেন এবং আমরা এর হারাম হওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। এ বিষয়ে আমার একটি বিশাল সংকলন রয়েছে।"
আমি বলছি: এরপর শেখ জামালুদ্দীন আল-কাসিমির তার "তাফসির" গ্রন্থে ৩/৫৭২-এ করা এই উক্তি দ্বারা প্রতারিত হবেন না যে:
"নিশ্চয়ই এগুলো দুর্বল (ضعيفة)!" কারণ প্রথমত, এটি এই শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ নন এমন একজনের দাবি; দ্বিতীয়ত, এটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার চাহিদার পরিপন্থী এবং কিছু হাদিসকে বিশুদ্ধতা (صحة) ও কিছু হাদিসকে হাসান (حسن) হিসেবে আইম্মায়ে কেরামের সাক্ষ্যের বিরোধী। এছাড়া ইমাম যাহাবিও এই হারাম হওয়ার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, যা এই অধ্যায়ের হাদিসসমূহের প্রতিটি বর্ণনা থেকে প্রতীয়মান হয়। যারা বিশুদ্ধ আখ্যায়িত করেছেন তাদের অগ্রভাগে রয়েছেন ইমাম ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ, অতঃপর পরবর্তী ও পূর্ববর্তী ইমামগণের উক্তি ধারাবাহিকভাবে এর সপক্ষেই এসেছে।=
(খণ্ড: ১)
আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা
(পৃষ্ঠা: ১০৭)
7-
الوضوء بين الجماعين:وإذا أتاها في المحل المشروع ثم أراد أن يعود إليها توضأ لقوله صلى الله عليه وسلم:
"إذا أتى أحدكم أهله ثم أراد أن يعود فليتوضأ [بينهما وضوءا] وفي رواية: وضوءه للصلاة [فإنه أنشط في العود] " 1.
--------------------------------------------
৭-
দুই সহবাসের মধ্যবর্তী সময়ে অজু:যদি স্বামী তার স্ত্রীর সাথে শরয়ি অনুমোদিত পদ্ধতিতে সহবাস করে এবং পুনরায় সহবাস করার ইচ্ছা পোষণ করে, তবে সে যেন অজু করে নেয়। কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"তোমাদের কেউ যখন তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে এবং পুনরায় তা করতে চায়, তবে সে যেন [উভয়ের মাঝে] অজু করে নেয়।" অন্য একটি বর্ণনা (رواية)-এ আছে: "নামাজের অজুর ন্যায় অজু [কেননা এটি পুনরায় সহবাসের জন্য অধিক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে]।" ১.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা
(পৃষ্ঠা: ১০৭)
8-
الغسل أفضل:لكن الغسل أفضل من الوضوء لحديث أبي رافع أن النبي صلى الله عليه وسلم طاف ذات يوم على نسائه يغتسل عند هذه وعند هذه قال: فقلت له: يا رسول الله! ألا تجعله
৮-
গোসল করাই উত্তম:তবে ওযুর চেয়ে গোসল করাই উত্তম; আবু রাফে বর্ণিত হাদিসের কারণে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন তাঁর স্ত্রীদের নিকট (সহবাসের উদ্দেশ্যে) যাতায়াত করেছিলেন এবং প্রত্যেকের নিকট (গমনের পর) পৃথকভাবে গোসল করেছিলেন। তিনি (আবু রাফে) বলেন: আমি তাঁকে বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি একে...
(খণ্ড: ১)
আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা
(পৃষ্ঠা: ১০৮)
غسلا واحدا؟ قال:
"هذا أزكى وأطيب وأطهر" 1.
--------------------------------------------
একবার গোসল? তিনি বললেন:
"এটি অধিক পরিচ্ছন্ন, অধিক উত্তম এবং অধিক পবিত্র" ১।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা
(পৃষ্ঠা: ১০৮)
9-
اغتسال الزوجين معا:ويجوز لهما أن يغتسلا معا في مكان واحد ولو رأى منه ورأت منه وفيه أحاديث:
الأول: عن عائشة رضي الله عنها قالت:
"كنت اغتسل أنا ورسول الله صلى الله عليه وسلم من إناء بيني وبينه واحد [تختلف أيدينا فيه] فيبادرني حتى أقول: دع لي دع لي قالت: وهما جنبان"2.
--------------------------------------------
9-
স্বামী ও স্ত্রীর একত্রে গোসল করা:তাদের জন্য একই স্থানে একত্রে গোসল করা বৈধ, যদিও তিনি স্ত্রীর লজ্জাস্থান দেখেন এবং স্ত্রী তাঁর লজ্জাস্থান দেখেন; আর এ বিষয়ে কিছু হাদিস রয়েছে:
প্রথমটি: আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
"আমি এবং আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার ও তাঁর মাঝে রাখা একটি পাত্র থেকে একত্রে গোসল করতাম [সেখানে আমাদের হাতগুলো পর্যায়ক্রমে আসা-যাওয়া করত], তিনি আমার আগে আগে পানি নিতেন, এমনকি আমি বলতাম: আমার জন্য রাখুন, আমার জন্য রাখুন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন তাঁরা উভয়েই অপবিত্র (جنب) অবস্থায় ছিলেন।"২।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা
(পৃষ্ঠা: ১০৯)
_________
= وعكسه ويؤيده مارواه ابن حبان من طريق سليمان بن موسى أنه سئل عن الرجل ينظر إلى فرج امرأته؟ فقال: سألت عطاء فقال سألت عائشة فذكرت هذا الحديث بمعناه وهو نص في المسألة".
قلت: وهذا يدل على بطلان ماروي عنها قالت: "ما رأيت عورة رسول الله صلى الله عليه وسلم قط". أخرجه الطبراني الصغير ص 27 ومن طريقه أبو نعيم 8/147 والخطيب 1/225 وفي سنده بركة بن محمد الحلبي ولا بركة فيه! فإنه كذاب وضاع وقد ذكر اه الحافظ ابن حجر في اللسان هذا الحديث من أباطيله.
وله طريق أخرى عن ابن ماجه 1/226 و 593 وابن سعد 8/136 وفيه مولاة لعائشة وهي مجهولة ولذلك ضعف سند البوصيري في الزوائد.
وله طريق ثالث عند أبي الشيخ في أخلاق النبي صلى الله عليه وسلم ص 251 وفيه أبو صالح وهو باذام ضعيف ومجمد بن القاسم الأسدي وهو كذاب. ونحوه حديث:
"إذا أتى أحدكم أهله فليستتر ولا يتجردا تجرد العيرين".
أخرجه ابن ماجه 1/592 عن عتبة بن عبد السلمي وفي سنده الأحوص بنحكيم وهو ضعف الراوي عنه الوليد بن القاسم الهمداني=
= এবং এর বিপরীত ও একে সমর্থন করে ইবনে হিব্বান সুলাইমান ইবনে মুসা-এর সূত্রে (طريق) যা বর্ণনা করেছেন যে, তাঁকে জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীর লজ্জাস্থানের দিকে তাকানো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তখন তিনি বললেন: আমি আতা-কে জিজ্ঞাসা করেছি, তিনি বললেন: আমি আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছি, অতঃপর তিনি এই হাদিসটি এর মর্মার্থে উল্লেখ করেন এবং এটি এই মাসআলার ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট দলিল (نص)।
আমি বলি: এটি তার (আয়েশা রা.) থেকে বর্ণিত সেই বর্ণনার অসারতা প্রমাণ করে যাতে বলা হয়েছে: "আমি কখনো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর লজ্জাস্থান দেখিনি।" এটি তাবারানি আস-সগিরের ২৭ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সূত্রে আবু নুআইম (৮/১৪৭) ও খতিব (১/২২৫) বর্ণনা করেছেন। এর সনদে (سند) বারাকাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-হালাবি রয়েছে, যার মধ্যে আসলে কোনো বরকত নেই! কেননা সে একজন চরম মিথ্যাবাদী (كذاب) ও জালকারী (وضاع)। হাফেজ ইবনে হাজার আল-লিসান গ্রন্থে এই হাদিসটিকে তার বাতিল বা অসার (أباطيل) বর্ণনাসমূহের অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন।
ইবনে মাজাহ (১/২২৬ ও ৫৯৩) এবং ইবনে সা'দ (৮/১৩৬) থেকে এর অন্য একটি সূত্র (طريق) রয়েছে, যাতে আয়েশা (রা.)-এর একজন মুক্তদাসী রয়েছেন যিনি অপরিচিত (مجهولة); এই কারণেই বুসিরি আয-যাওয়ায়েদ গ্রন্থে এর সনদকে দুর্বল (ضعف سند) বলেছেন।
আবুশ শাইখের আখলাকুন নবী (সা.)-এর ২৫১ পৃষ্ঠায় এর তৃতীয় একটি সূত্র (طريق) রয়েছে, যাতে আবু সালেহ রয়েছেন—যিনি বাযাম—একজন দুর্বল (ضعيف) বর্ণনাকারী, এবং মুহাম্মদ ইবনে কাসিম আল-আসাদি রয়েছেন, যিনি একজন চরম মিথ্যাবাদী (كذاب)। এর অনুরূপ একটি হাদিস হলো:
"যখন তোমাদের কেউ তার স্ত্রীর নিকট গমন করে, সে যেন নিজেকে আবৃত করে এবং গাধার মতো নগ্ন না হয়।"
ইবনে মাজাহ (১/৫৯২) উতবা ইবনে আবদ আস-সুলামি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এর সনদে (سند) আল-আহওয়াস ইবনে হাকিম রয়েছেন, যিনি দুর্বল (ضعيف) এবং তার থেকে বর্ণনাকারী হলেন ওয়ালিদ ইবনে কাসিম আল-হামদানি।
(খণ্ড: ১)
আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা
(পৃষ্ঠা: ১১০)
_________
= ضعفه ابن معين وغيره وقال ابن حبان:
"انفرد عن الثقات بما لا يشبه حديثهم فخرج عن حد الاحتجاج به".
ولهذا جزم العراقي في تخريج الأحياء 2/46 بضعف سنده وأخرجه النسائي في عشرة النساء 1/79/1 والمخلص في الفوائد المنتقاة 10/13/1 وابن عدي 149/2 و 201/2 عن عبد الله بن سرجس وقال النسائي:
"حديث منكر وصدقة بن عبد الله يعني أحد رواته ضعيف".
ورواه ابن أبي شيبة 7/70/1 وعبد الرزاق 6/194/10467 عن أبي قلابة مرفوعا وهو مرسل وأخرجه الطبراني 3/178/1 وأحمد ابن مسعود في أحاديثه 39/1 – 2 والعقيلي في الضعفاء 433 والباطرقاني في حديثه 156/1 والبيهقي في سننه 7/193 عن ابن مسعود وضعفه البيهقي بقوله:
"تفرد به مندل بن علي وليس بالقوي".
ثم ذكره بنحوه من حديث أنس وقال:
"إنه منكر". =
= ইবনে মাঈন ও অন্যান্যরা তাকে দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করেছেন এবং ইবনে হিব্বান বলেছেন:
"তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقات) রাবিদের বিপরীতে এমন কিছু বর্ণনা করার ক্ষেত্রে একক হয়ে পড়েছেন যা তাদের হাদিসের সদৃশ নয়, ফলে তিনি দলিল হিসেবে গ্রহণীয় (احتجاج) হওয়ার সীমা থেকে বিচ্যুত হয়েছেন।"
এই কারণেই আল-ইরাকি 'তাখরিজুল ইহয়া' ২/৪৬-এ এর সনদ (سند) দুর্বল (ضعيف) হওয়ার ব্যাপারে সুনিশ্চিত মত দিয়েছেন এবং এটি বর্ণনা করেছেন আন-নাসায়ি 'ইশরাতুন নিসা' ১/৭৯/১-এ, আল-মুখাল্লিস 'আল-ফাওয়ায়িদুল মুনতাকাহ' ১০/১৩/১-এ এবং ইবনে আদি ২/১৪৯ ও ২/২০১-এ আব্দুল্লাহ বিন সারজিস থেকে এবং আন-নাসায়ি বলেছেন:
"এটি একটি প্রত্যাখ্যাত (منكر) হাদিস এবং সাদাকাহ বিন আব্দুল্লাহ—অর্থাৎ এর একজন বর্ণনাকারী—হলেন দুর্বল (ضعيف)।"
আর এটি বর্ণনা করেছেন ইবনে আবি শাইবাহ ৭/৭০/১ এবং আব্দুর রাজ্জাক ৬/১৯৪/১০৪৬৭-এ আবু কিলাবাহ থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে, আর এটি একটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) বর্ণনা; এবং এটি বর্ণনা করেছেন তাবারানি ৩/১৭৮/১, আহমদ ইবনে মাসউদ তার হাদিস সংকলন ৩৯/১-২-এ, আল-উকায়লি 'আদ-দুয়াফা' ৪৩৩-এ, আল-বাতিরকানি তার হাদিসে ১৫৬/১-এ এবং বায়হাকি তার 'সুনান' ৭/১৯৩-এ ইবনে মাসউদ থেকে এবং বায়হাকি এটি দুর্বল (ضعيف) আখ্যা দিয়ে বলেছেন:
"মানদাল বিন আলী এটি এককভাবে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি শক্তিশালী (قوي) নন।"
অতঃপর তিনি আনাস-এর হাদিস থেকে অনুরূপ বর্ণনা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন:
"নিশ্চয়ই এটি প্রত্যাখ্যাত (منكر)।" =
(খণ্ড: ১)
আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা
(পৃষ্ঠা: ১১১)
الثاني: عن معاوية بن حيدة قال:
قلت: يا رسول الله! عوراتنا ما نأتي منها وما نذر؟ قال: "احفظ عورتك إلا من زوجتك أو ما ملكت يمينك" 1. قال:
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: মুয়াবিয়া ইবনে হাইদাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
আমি আরজ করলাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের সতর বা গোপন অঙ্গের কতটুকু আমরা ঢেকে রাখব আর কতটুকুই বা উন্মুক্ত রাখব? তিনি বললেন: "তোমার স্ত্রী অথবা তোমার দক্ষিণ হস্ত যার মালিক হয়েছে (দাসী) তারা ব্যতীত অন্য সবার থেকে তোমার সতর হেফাজত করো।" ১। তিনি বলেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা
(পৃষ্ঠা: ১১২)
قلت: يا رسول الله! إذا كان القوم بعضهم في بعض؟ قال:
"إن استطعت أن لا يرينها أحد فلا يرينها". قال:
فقلت: يا رسول الله! إذا كان أحدنا خاليا؟ قال:
"الله أحق أن يستحيى منه من الناس" 1.
--------------------------------------------
আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! যদি লোকজন একে অপরের সাথে থাকে? তিনি বললেন:
"যদি তুমি সক্ষম হও যে কেউ তা দেখবে না, তবে যেন কেউ তা না দেখে।" তিনি বললেন:
আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমাদের কেউ নির্জনে একা থাকে? তিনি বললেন:
"মানুষের চেয়ে আল্লাহ তাআলাই অধিক হকদার যে তাঁকে লজ্জা করা হবে।" 1.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আদাবুয যিফাফ ফিস সুন্নাতিল মুতাহহারা
(পৃষ্ঠা: ১১৩)
10-
توضؤ الجنب قبل النوم:ولا ينامان جنبين إلا إذا توضآ وفيه أحاديث:
الأول: عن عائشة رضي الله عنها قالت:
"كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا أراد أن [يأكل أو] ينام وهو جنب غسل فرجه وتوضأ وضوءه للصلاة"1.
الثاني: عن ابن عمر رضي الله عنهما:
"أن عمر قال: يا رسول الله! أينام أحدنا وهو
--------------------------------------------
১০-
অপবিত্র (جنب) ব্যক্তির ঘুমানোর আগে অজু করা:তারা উভয় অপবিত্র (جنب) অবস্থায় ঘুমাবে না যতক্ষণ না তারা অজু করে, আর এ বিষয়ে হাদিসসমূহ রয়েছে:
প্রথম: আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
"রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন অপবিত্র (جنب) অবস্থায় [খাবার গ্রহণ বা] ঘুমানোর ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি তাঁর লজ্জাস্থান ধৌত করতেন এবং নামাজের অজুর ন্যায় অজু করতেন।"১
দ্বিতীয়: ইবনে ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত:
"ওমর (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের কেউ কি অপবিত্র অবস্থায় ঘুমাতে পারে? তিনি...
--------------------------------------------