(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা লি-ইবনি জারীর
(পৃষ্ঠা: -)
اختلاف الفقهاء لابن جرير القسم: الفقه العام
الكتاب: اختلاف الفقهاء
المؤلف: محمد بن جرير بن يزيد بن كثير بن غالب الآملي، أبو جعفر الطبري (ت 310هـ)
الناشر: دار الكتب العلمية
عدد الصفحات: 305
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইবনে জারীরের ইখতিলাফুল ফুকাহা বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
বই: ইখতিলাফুল ফুকাহা
লেখক: মুহাম্মদ বিন জারীর বিন ইয়াযীদ বিন কাসীর বিন গালিব আল-আমুলি, আবু জাফর আত-তাবারী (ওফাত ৩১০ হিজরি)
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০৫
[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা লি-ইবনি জারীর
(পৃষ্ঠা: ২৩)
كتاب المدبر
مدخل…كتاب المدبر
من اختلاف الفقهاء
تأليف أبي جعفر محمد بن جرير بن يزيد الطبري
بسم الله الرحمن الرحيم
"أجمعت الحجة التي لا يجوز خلافها" أن من دبر عبده ثم لم يحدث لتدبيره ذلك1 نقضا ما بإزالة ملكه عن مدبره ذلك إلى غيره ببعض المعاني التي تزول2 بها الأملاك ولم يرجع في تدبيره بقول يكون ذلك رجوعا عند من نوى الرجوع فيه على ما سنصفه عند انتهائنا إليه في كتابنا هذا وكان المدبر مأمورا3 منهيا جائز الأمر في ماله يوم دبر ثم مات السيد المدبر ويحتمله ثلث تركته ولم يكن لأحد عليه يوم مات دين يعجز ثلث ماله بعد قضاء دينه عن جميع قيمة مدبره ولا وصية له في ماله يقصر ثلث تركته بعد قضاء دينه وإنفاذ وصاياه الجائزة عن جميع قيمة مدبره إن4 عبده ذلك الذي دبره في حياته حر بعد وفاته إذا كان الأمر على ما وصفت.
--------------------------------------------
কিতাবুল মুদাব্বারভূমিকা…কিতাবুল মুদাব্বার
ফকিহগণের মতভেদ গ্রন্থ থেকে
আবু জাফর মুহাম্মদ বিন জারির বিন ইয়াজিদ আত-তবারির রচনা
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি
"এমন অকাট্য প্রমাণ (حجة) যার বিরোধিতা করা বৈধ নয়, তারা এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন" যে ব্যক্তি তার দাসকে মুদাব্বার (مدبر) হিসেবে ঘোষণা করল (অর্থাৎ মৃত্যুর পর মুক্ত হওয়ার ঘোষণা), অতঃপর সে তার সেই ঘোষণার বিপরীতে তার মালিকানা অন্যের কাছে হস্তান্তর করার মাধ্যমে এমন কোনো বাতিলকরণ (نقضا) ঘটায়নি যার দ্বারা মালিকানা অপসারিত হয়, এবং সে তার উক্ত ঘোষণার বিষয়ে এমন কোনো উক্তি দ্বারা ফিরে আসেনি যা প্রত্যাবর্তন হিসেবে গণ্য হয় তাদের কাছে যারা প্রত্যাবর্তনের নিয়ত করে—যেমনটি আমরা এই কিতাবে যথাস্থানে বর্ণনা করব—আর সেই মালিক যখন এই ঘোষণা দিয়েছিলেন তখন তিনি সৎকাজের আদেশদাতা ও অসৎকাজের নিষেধকারী এবং নিজ সম্পদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আইনত সক্ষম ছিলেন, অতঃপর সেই মালিক ইন্তেকাল করলেন এবং তার ত্যাজ্য সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ সেই দাসের মূল্য বহনে সক্ষম হয়, আর তার মৃত্যুর দিন তার ওপর এমন কোনো ঋণ ছিল না যা পরিশোধ করার পর অবশিষ্ট এক-তৃতীয়াংশ সম্পদ সেই মুদাব্বার (مدبر) দাসের পূর্ণ মূল্যের তুলনায় অপর্যাপ্ত হয়ে যায়, এবং তার সম্পদে এমন কোনো অসিয়তও ছিল না যা তার ঋণ পরিশোধ ও বৈধ অসিয়তসমূহ কার্যকর করার পর অবশিষ্ট এক-তৃতীয়াংশ সম্পদকে মুদাব্বার দাসের পূর্ণ মূল্যের তুলনায় সংকুচিত করে দেয়; তবে সেই দাস—যাকে তিনি তার জীবদ্দশায় মুদাব্বার করেছিলেন—তার মৃত্যুর পর মুক্ত হয়ে যাবে, যদি বিষয়টি আমার বর্ণিত বর্ণনার অনুরূপ হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা লি-ইবনি জারীর
(পৃষ্ঠা: ২৪)
ثم اختلفوا في صفة القول الذي إذا وجد من القائل لعبده حكم للمقول له ذلك من عبيده بأنه مدبر1
فقال مالك2 كل عتاقة أعتقها رجل بعد موته في صحة أو مرض فهي وصية يردها3 الرجل4 إن شاء ويغيرها5 متى شاء ما لم6 يدبر فإذا7 دبر فلا سبيل له إلى8 رد ما دبر قال ويفرق بين الوصية والتدبير أن يقول له اعتقه عن دبر فإن لم يذكر التدبير في العتق فهي وصية حدثني "بذلك يونس عن ابن وهب عنه"9
وقال الشافعي10 الذي لا أعلم بين الناس اختلافا11 فيه أن تدبير العبد أن يقول له سيده صحيحا أو مريضا أنت مدبر وكذلك إن قال له أنت مدبر12 أو قال أردت عتقه بكل حال بعد موتي13 أو أنت عتيق أو أنت محرر أو أنت حر إذا مت أو متى مت أو بعد موتي14 أو
--------------------------------------------
এরপর তাঁরা সেই উক্তির প্রকৃতি সম্পর্কে ভিন্নমত পোষণ করেছেন, যা কোনো ব্যক্তি তার দাসের উদ্দেশ্যে বললে, সেই দাসের ক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তি মুদাব্বার (مدبر) হওয়ার বিধান দেওয়া হয়।1
ইমাম মালিক2 বলেছেন, কোনো ব্যক্তি সুস্থ বা অসুস্থ অবস্থায় তার মৃত্যুর পর কার্যকর হবে এমন যে কোনো দাসমুক্তি (عتاقة) প্রদান করলে তা ওসিয়ত (وصية) হিসেবে গণ্য হবে; ব্যক্তি3 চাইলে তা প্রত্যাহার (يرد) করতে পারেন এবং 4 যখন ইচ্ছা পরিবর্তন করতে পারেন 5 যতক্ষণ না তিনি তদবির (تدبير)6 করেন। যখন তিনি তদবির (تدبير)7 করবেন, তখন যা তিনি তদবির (تدبير) করেছেন তা প্রত্যাহারের8 কোনো পথ থাকবে না। তিনি বলেন, ওসিয়ত (وصية) এবং তদবির (تدبير)-এর মধ্যে পার্থক্য হলো—ব্যক্তি তাকে বলবে, "আমার মৃত্যুর পর তাকে মুক্ত করে দাও"। যদি দাসমুক্তির ক্ষেত্রে তদবির (تدبير)-এর উল্লেখ না থাকে, তবে তা ওসিয়ত (وصية) হিসেবে গণ্য হবে। ইউনুস ইবনে ওয়াহাব থেকে এবং তিনি তাঁর (ইমাম মালিক) থেকে আমার কাছে এটি বর্ণনা করেছেন।9
ইমাম শাফিঈ10 বলেন, আলেমদের মাঝে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ11 আছে বলে আমার জানা নেই যে, দাসের তদবির (تدبير) হলো—তার মনিব সুস্থ বা অসুস্থ অবস্থায় তাকে বলবে, "তুমি মুদাব্বার (مدبر)"। অনুরূপভাবে যদি সে তাকে বলে12, "তুমি মুদাব্বার (مدبر)", অথবা বলে, "আমি সর্বাবস্থায় আমার মৃত্যুর পর তোমার মুক্তি চেয়েছি13", অথবা "তুমি মুক্ত (عتيق)", অথবা "তুমি মুক্তিপ্রাপ্ত (محرر)", অথবা "তুমি স্বাধীন (حر) যদি আমি মারা যাই", অথবা "যখন আমি মারা যাই", অথবা "আমার মৃত্যুর পর14" অথবা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা লি-ইবনি জারীর
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ما أشبه هذا من الكلام فهذا كله تدبير1 قال وسواء عندي قال أنت حر بعد موتي أو متى مت إن لم أحدث فيك حدثا أو ترك2 استثناء في أن يحدث فيه3 حدثا لأن له أن يحدث فيه نقض التدبير حدثنا بذلك عنه الربيع4.
وقال أبو حنيفة وأصحابه إذا قال الرجل لمملوكه أنت حر بعد موتي أو أنت حر إذا مت أو أنت حر متى مت أو أنت حر متى ما مت أو أنت حر إن حدث بي حدث فهذا كله باب واحد وهو مدبر.
وقالوا إذا قال الرجل لعبده أنت مدبر أو قال لأمته أنت مدبرة فانهما جميعا مدبران وقالوا أرأيت لو كان أعجميا لا يفصح بالتدبير فقال هذه المقالة أما كان يكون مدبرا وقالوا إن قال قد دبرتك فهو مدبر قالوا وقوله قد دبرتك أو أعتقتك عن5 دبر سواء وكذلك إذا قال أنت حر يوم أموت فإن نوى النهار دون الليل فإنه ليس بمدبر الجوزجاني عن محمد.
وعلة من قال بقول مالك إن القائل لمملوكه قد اعتقتك عن دبر مني مجمع عليه أنه قد دبر عبده ومختلف6 فيما خالف ذلك من القول هل هو تدبير أم لا والتدبير اسم لمعنى والأسماء لا تثبت على الصحة للمسمى بها إلا بحجة يجب التسليم لها من كتاب أو سنة أو أجماع.
--------------------------------------------
এই জাতীয় যত কথা রয়েছে তার সবই তাদবীর (تدبير) ১। তিনি বলেন, আমার নিকট বিষয়টি সমান—চাই সে বলুক 'তুমি আমার মৃত্যুর পর স্বাধীন' অথবা 'আমি যখন মারা যাব', যদি না আমি তোমার বিষয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। অথবা সে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম (استثناء) ২ রাখা পরিহার করে। কারণ তার অধিকার রয়েছে তাদবীর বাতিলকরণ (نقض) ৩ এর মাধ্যমে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার। আমাদের নিকট রাবী ৪ তাঁর পক্ষ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর সহচরগণ বলেন, যখন কোনো ব্যক্তি তার মালিকানাধীন দাসের উদ্দেশ্যে বলে, 'তুমি আমার মৃত্যুর পর স্বাধীন' অথবা 'আমি মারা গেলে তুমি স্বাধীন' অথবা 'আমি যখনই মারা যাব' অথবা 'আমি যখনই মারা যাই না কেন' অথবা 'যদি আমার কোনো দুর্ঘটনা (মৃত্যু) ঘটে তবে তুমি স্বাধীন'—তবে এই সবই একই পর্যায়ের বিষয় এবং সে মুদাব্বার (مدبر) হিসেবে গণ্য হবে।
তাঁরা আরও বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি তার দাসকে বলে 'তুমি মুদাব্বার (مدبر)' অথবা তার দাসীকে বলে 'তুমি মুদাব্বারা (مدبرة)', তবে তারা উভয়েই মুদাব্বার (مدبر) হিসেবে গণ্য হবে। তাঁরা আরও বলেন, আপনার কী অভিমত যদি সে অনারব হয় এবং তাদবীর (تدبير) শব্দটি স্পষ্টভাবে উচ্চারণ করতে না পারে, তবুও কি সে মুদাব্বার (مدبر) হবে না? তাঁরা বলেন, যদি সে বলে 'আমি তোমাকে তাদবীর দান করলাম', তবে সে মুদাব্বার (مدبر)। তাঁরা আরও বলেন, তাঁর কথা—'আমি তোমাকে তাদবীর দান করলাম' অথবা 'আমি তোমাকে আমার মৃত্যুর পর ৫ মুক্তি দিলাম'—উভয়ই সমান। তদ্রূপ যদি সে বলে 'যেদিন আমি মারা যাব সেদিন তুমি স্বাধীন', এমতাবস্থায় সে যদি রাত ব্যতীত শুধু দিন উদ্দেশ্য করে থাকে, তবে সে মুদাব্বার (مدبر) হবে না। জাওযাজানি এটি মুহাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর যারা ইমাম মালিকের মতানুসারী, তাদের যুক্তি হলো—যে ব্যক্তি তার দাসের উদ্দেশ্যে বলে 'আমি তোমাকে আমার মৃত্যুর পর মুক্তি দান করলাম', এটি সর্বসম্মত (مجمع عليه) যে সে তার দাসকে তাদবীর (تدبير) দান করেছে। তবে এর বিপরীত অন্য কোনো কথার ক্ষেত্রে তা তাদবীর (تدبير) হবে কি না সে বিষয়ে মতভেদ ৬ রয়েছে। মূলত তাদবীর (تدبير) হলো একটি অর্থবোধক পারিভাষিক নাম, আর কোনো বিষয়ের জন্য নামগত সঠিকতা ততক্ষণ পর্যন্ত প্রমাণিত হয় না যতক্ষণ না কুরআন, সুন্নাহ (سنة) অথবা ইজমা (إجماع) থেকে এমন কোনো দলিল উপস্থাপিত হয় যা মেনে নেওয়া অপরিহার্য।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা লি-ইবনি জারীর
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وعلة من قال بقول الشافعي في ذلك إن التدبير إنما هو عتق الرجل عبده بعد إدباره وهلاكه وكذلك قول القائل لعبده أنت حر عن دبر مني أو قد أعتقتك عن دبر مني إنما يعني بذلك أنت حر بعد موتي أو أنت حر إذا مت وأدبرت فكل ما كان من عتق يقع على عبده مع إدباره وهلاكه بإيقاعه إياه عليه حينئذ بقول كان منه في حياته فهو تدبير.
قال أبو جعفر والحق في ذلك عندي وبالله التوفيق إن قول القائل لعبده قد اعتقتك عن دبر مني وأنت حر بعد موتي وأنت حر إذا مت بمعنى واحد لأن ذلك كله إنما هو إيجاب عتق للعبد بعد خروج نفس السيد بلا فصل بل قول القائل أنت حر إذا مت أوضح وأبين في إيجاب العتق للمملوك في تلك الحال من قوله قد اعتقتك عن دبر وإذا كانت الأشياء متفقة المعاني من جهة ما وجب بما وجب لبعضها1 من الحكم لم يجز التفريق بين أحكامها فيما اتفقت فيه إلا بحجة يجب التسليم لها وكذلك الحكم في ذلك إن قال أنت حر إن حدث بي حدث الموت أو أنت مدبر فإن قال أنت حر يوم أموت فإن قال أردت بعد موتي فهو تدبير وإن قال أردت بذلك أنت حر إن مت نهارا أو إن مت ليلا فليس ذلك تدبيرا وإنما هو عتق على صفة لأن التدبير هو ما وصفناه من عتق الرجل عبده عند إدباره وهلاكه على أي حال وفي أي وقت كان إدباره فأما إذا كان عتقا عند إدباره بصفة دون صفة وفي حال دون حال فذلك عتق بشرط إن وجد وقع وإن لم يوجد لم يقع ولا يستحق العبد المعتق على ذلك ان معه يقال له2 مدبر إذ الإسم المطلق بالتدبير3 على كل معاني إدبار المدبر لا على معنى دون معنى وإذا كان على بعض دون بعض لم يجز أن يطلق ذلك الإسم له.
--------------------------------------------
এ বিষয়ে যারা ইমাম শাফিঈ-এর মত গ্রহণ করেছেন তাদের যুক্তি হলো, মৃত্যু-পরবর্তী মুক্তিদান (تدبير) মূলত কোনো ব্যক্তির তার মৃত্যুর পর এবং বিনাশের পর নিজ দাসকে মুক্তিদান (عتق) করা। তেমনিভাবে কোনো ব্যক্তির তার দাসের উদ্দেশ্যে এই কথা বলা যে, "তুমি আমার পর মুক্ত" অথবা "আমি তোমাকে আমার পর মুক্ত করলাম"—এর দ্বারা মূলত এটাই বোঝায় যে, "তুমি আমার মৃত্যুর পর মুক্ত" অথবা "তুমি আমার মৃত্যু হলে এবং আমার প্রস্থানের পর মুক্ত"। সুতরাং কোনো ব্যক্তি তার জীবদ্দশায় এমন কোনো উক্তি করার মাধ্যমে তার মৃত্যুর পর এবং বিনাশের পর দাসের ওপর যে মুক্তিদান (عتق) কার্যকর হয়, তাকেই মৃত্যু-পরবর্তী মুক্তিদান (تدبير) বলা হয়।
আবু জাফর বলেন: এ বিষয়ে আমার নিকট সঠিক সিদ্ধান্ত হলো—আর আল্লাহর কাছেই তাওফীক প্রার্থনা করছি—কোনো ব্যক্তির তার দাসকে "আমি তোমাকে আমার পর মুক্ত করলাম", "তুমি আমার মৃত্যুর পর মুক্ত" এবং "যখন আমি মারা যাব তখন তুমি মুক্ত" বলা একই অর্থবোধক। কারণ, এর প্রতিটিই কোনো বিরতি ছাড়াই মালিকের প্রাণবায়ু নির্গত হওয়ার পর দাসের মুক্তিদানকে (عتق) আবশ্যক করে। বরং কোনো ব্যক্তির "তুমি মুক্ত যখন আমি মারা যাব" বলাটি সেই অবস্থায় দাসের জন্য মুক্তিদান (عتق) আবশ্যক করার ক্ষেত্রে তার "আমি তোমাকে আমার পর মুক্ত করলাম" উক্তির চেয়ে অধিকতর স্পষ্ট ও ব্যক্ত। আর যখন বিষয়গুলো অর্থগতভাবে এক হয়, তখন কোনো একটির ক্ষেত্রে যে বিধান (حكم) সাব্যস্ত হয়, কোনো অকাট্য দলিল ব্যতীত তাদের বিধানগুলোর (حكم) মধ্যে পার্থক্য করা বৈধ নয়। একইভাবে, যদি সে বলে "তুমি মুক্ত যদি আমার মৃত্যু ঘটে" অথবা "তুমি মৃত্যু-পরবর্তী মুক্তিকৃত (مدبر)"—তবে তার বিধানও (حكم) একই হবে। তবে সে যদি বলে "যেদিন আমি মারা যাব সেদিন তুমি মুক্ত", এমতাবস্থায় যদি সে "আমার মৃত্যুর পর" উদ্দেশ্য করে থাকে, তবে তা মৃত্যু-পরবর্তী মুক্তিদান (تدبير) হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি সে এর দ্বারা উদ্দেশ্য করে থাকে "তুমি মুক্ত যদি আমি দিনে মারা যাই" অথবা "যদি আমি রাতে মারা যাই", তবে তা মৃত্যু-পরবর্তী মুক্তিদান (تدبير) নয়। বরং তা হলো একটি বিশেষ অবস্থার প্রেক্ষিতে মুক্তিদান (عتق على صفة)। কারণ, মৃত্যু-পরবর্তী মুক্তিদান (تدبير) হলো আমরা যা বর্ণনা করেছি—ব্যক্তির মৃত্যুর পর এবং বিনাশের পর তার দাসের মুক্তি পাওয়া, তা যে অবস্থাতেই হোক এবং যে সময়েই তার মৃত্যু ঘটুক। পক্ষান্তরে, যখন কোনো বিশেষ অবস্থার প্রেক্ষিতে বা বিশেষ কোনো সময়ে মুক্তিদান (عتق) করা হয়, তখন তা শর্তযুক্ত মুক্তিদান (عتق بشرط); যা শর্ত পাওয়া গেলে কার্যকর হয় আর না পাওয়া গেলে কার্যকর হয় না। এমতাবস্থায় সেই মুক্তিকৃত দাসকে মৃত্যু-পরবর্তী মুক্তিকৃত (مدبر) বলা যায় না। কারণ, মৃত্যু-পরবর্তী মুক্তিদান (تدبير) নামটি সাধারণভাবে মৃত্যুর পরবর্তী সকল অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে, কোনো বিশেষ অবস্থাকে নয়। আর যখন তা কেবল আংশিক অবস্থার ওপর প্রযোজ্য হয়, তখন সেই নামটি তার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা বৈধ নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা লি-ইবনি জারীর
(পৃষ্ঠা: ২৭)
واختلفوا في قول القائل لمملوكه أنت حر.
بعد موتي أو ساعة أو شهر أو سنة أو ما أشبه ذلك من القول الذي لا يستوجب1 به العبد الحرية بعد موت السيد بلا فصل ولا يستوجبها إلا بعد وفاته بمدة وهل يكون ذلك القول تدبيرا أم لا.
فقال مالك ذلك وصية وللسيد أن يغير وصيته إن شاء ويردها متى شاء وليس بتدبير "حدثني بذلك يونس عن ابن وهب عنه".
وهو قول الأوزاعي "حدثني بذلك العباس عن أبيه عنه"2.
وقال الشافعي إذا قال السيد لعبده أنت حر بعد موتي بعشر سنين فهو حر في ذلك الوقت من الثلث وإن كانت أمة فولدها بمنزلتها3 يعتقون إذا عتقت وهذه أقوى عتقا من4 المدبرة لأن هذه لا يرجع فيها إذا مات سيدها وما كان سيدها حيا فهي بمنزلة المدبرة حدثنا بذلك عنه الربيع.
وقال أبو حنيفة وأصحابه إذا قال الرجل لعبده أنت حر بعد موتي بيوم أو بشهر أو بأكثر من ذلك فإن هذا لا يكون مدبرا وللمولى أن يبيعه فإن لم يبعه حتى مات المولى فإنه يعتق من ثلثه بعدما يمضي الوقت بعد موته ولا يعتق حتى تعتقه الورثة الجوزجاني عن محمد.
وعلة من قال ليس هذا القول من القائل تدبيرا أن التدبير ما وصفناه
--------------------------------------------
মালিক তার ক্রীতদাসকে ‘তুমি আমার মৃত্যুর পর অথবা এক ঘণ্টা বা এক মাস বা এক বছর পর মুক্ত’ কিংবা এই জাতীয় কথা বলার বিধান সম্পর্কে তাঁরা (ফকিহগণ) মতভেদ করেছেন.
এমন বক্তব্য—যার দ্বারা মালিকের মৃত্যুর অব্যবহিত পরেই কোনো বিরতি ছাড়া ক্রীতদাসটি তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনতা লাভ করে না, বরং মৃত্যুর পর একটি নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরই কেবল সে স্বাধীনতার হকদার হয়—এই জাতীয় বক্তব্য কি মৃত্যু-পরবর্তী মুক্তিদান (تدبيرا) হিসেবে গণ্য হবে নাকি নয়?
ইমাম মালিক (র.) বলেছেন, এটি একটি অসিয়ত (وصية) এবং মালিক চাইলে তার অসিয়ত (وصية) পরিবর্তন করতে পারেন এবং যখন ইচ্ছা তা প্রত্যাহার করতে পারেন; এটি মৃত্যু-পরবর্তী মুক্তিদান (تدبير) নয়। "ইউনুস ইবনে ওয়াহাব থেকে আমার নিকট এটি বর্ণনা করেছেন।"
এটি ইমাম আওজায়ীরও অভিমত। "আল-আব্বাস তার পিতা থেকে আমার নিকট এটি বর্ণনা করেছেন।"
ইমাম শাফিঈ (র.) বলেছেন, যদি মালিক তার ক্রীতদাসকে বলে, ‘তুমি আমার মৃত্যুর দশ বছর পর মুক্ত’, তবে সে ওই নির্ধারিত সময়ে মীরাসের এক-তৃতীয়াংশ (الثلث) থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। আর যদি সে দাসী হয়, তবে তার সন্তানরা তারই সমপর্যায়ের হবে; সে মুক্ত হলে তারাও মুক্ত হয়ে যাবে। এটি সাধারণ মৃত্যু-পরবর্তী মুক্তিদানের প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত দাসীর (المدبرة) চেয়েও অধিক শক্তিশালী মুক্তিদান। কারণ, মালিক মারা গেলে এটি আর প্রত্যাহার করা সম্ভব নয়; তবে মালিক জীবিত থাকা অবস্থায় সে মৃত্যু-পরবর্তী মুক্তিদানের প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্তা দাসীর (المدبرة) মতোই গণ্য হবে। আর-রবি‘ আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর অনুসারীরা বলেছেন, যদি কোনো ব্যক্তি তার ক্রীতদাসকে বলে, ‘তুমি আমার মৃত্যুর একদিন বা এক মাস বা তারও বেশি সময় পর মুক্ত’, তবে সে মৃত্যু-পরবর্তী মুক্তিদানের প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত (مدبرا) বলে গণ্য হবে না। মালিকের জন্য তাকে বিক্রি করার অধিকার থাকবে। যদি মালিক তাকে বিক্রি না করা অবস্থায় মারা যায়, তবে তার মৃত্যুর পর নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হওয়ার পর মীরাসের এক-তৃতীয়াংশ (ثلث) থেকে সে মুক্ত হবে। তবে উত্তরাধিকারীরা তাকে মুক্ত না করা পর্যন্ত সে মুক্ত হবে না। আল-জুযজানী মুহাম্মদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
যাঁরা এই বক্তব্যকে মৃত্যু-পরবর্তী মুক্তিদান (تدبيرا) হিসেবে গণ্য করেন না তাঁদের যুক্তি হলো—আমরা ইতিপূর্বে মৃত্যু-পরবর্তী মুক্তিদান (التدبير) হিসেবে যা বর্ণনা করেছি (তা এখানে অনুপস্থিত)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা লি-ইবনি জারীর
(পৃষ্ঠা: ২৮)
قبل من ألا يكون1 المدبر مدبرا هالكا إلا والمدبر معتق بعد هلاكه بلا فصل فأما إذا لم يكن كذلك فليس ذلك تدبيرا لأن ذلك اسم لمعنى ومتى كان بخلاف ذلك لم يلزمه ذلك الإسم.
وعلة من قال هو تدبير أن التدبير عتق عبد بعد وفاة المعتق فأي عتق كان بتلك الصفة فهو تدبير
قال أبو جعفر والحق في ذلك عندي وبالله التوفيق إن هذا القول من قائله لا يستحق اسم تدبير لما وصفت من العلل لقائل ذلك.
--------------------------------------------
বলা হয়েছে যে, মুদাব্বির (مدبر) ততক্ষণ পর্যন্ত চূড়ান্তভাবে মুদাব্বির (مدبر) হিসেবে গণ্য হয় না, যতক্ষণ না মুনিবের মৃত্যুর পর কোনো ব্যবধান ছাড়াই সে মুক্ত (معتق) হয়। কিন্তু যখন বিষয়টি এমন হয় না, তখন তাকে তদবীর (تدبير) বলা যায় না। কারণ এই শব্দটি একটি বিশেষ অর্থ নির্দেশ করে; আর যখন বাস্তবতা এর বিপরীতে হয়, তখন এই সংজ্ঞাটি তার ওপর আর প্রযোজ্য হয় না।
আর যারা একে তদবীর (تدبير) বলেন তাদের যুক্তি (علة) হলো যে, তদবীর (تدبير) মূলত মুনিবের মৃত্যুর পর দাসের মুক্তি। অতএব যে কোনো মুক্তি যদি এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়, তবে সেটিই তদবীর (تدبير)।
আবু জাফর বলেন, আমার নিকট এই বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত হলো—আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি—বক্তব্য প্রদানকারীর এই উক্তিটি তদবীর (تدبير) নাম পাওয়ার যোগ্য নয়, যার কারণগুলো (علل) আমি এই মত পোষণকারীর বিপক্ষে ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা লি-ইবনি জারীর
(পৃষ্ঠা: ২৮)
ثم اختلفوا في حكم العبد يعتق إلى أجلأو على شرط1 أو صفة فيموت السيد قبل مجيء الأجل ووجود الشرط.
فقال مالك من قال غلامي حر إلى رأس السنة إن مات السيد قبل ذلك كان العبد حرا عند السنة من رأس المال حدثني "بذلك يونس عن ابن وهب عنه".
وقال في الرجل يقول لغلامه إذا مات فلان فأنت حر ولا يحبسه عليه ثم يموت سيد العبد قال يخدم العبد الورثة فإن مات الرجل الذي سمى عتق العبد في غير الثلث وإنما مثل ذلك مثل رجل قال لعبده أنت حر بعد عشر سنين وقال في الرجل يقول لغلامه إذا مات فلان فأنت حر فإنه يأخذ من ماله2 شيئا وإنه لا يدخل في ثلث سيده إن مات وقال في رجل قال لجاريته إن لم أضربك عشرة أسواط في ذنب
--------------------------------------------
অতঃপর তারা সেই দাসের বিধান সম্পর্কে মতভেদ করেছেন যাকে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের (أجل) প্রেক্ষিতে মুক্ত করার কথা বলা হয়েছেঅথবা কোনো শর্ত (شرط) বা বৈশিষ্ট্যের (صفة) ওপর ভিত্তি করে, এমতাবস্থায় যদি মেয়াদ আসার আগে এবং শর্ত পূরণ হওয়ার পূর্বেই মনিব মৃত্যুবরণ করেন।
ইমাম মালিক বলেন, যে ব্যক্তি বলে: "আমার দাস বছরের শেষে মুক্ত", যদি মনিব তার পূর্বেই মারা যান, তবে বছর পূর্ণ হওয়ার সময় মূল সম্পদ (رأس المال) থেকে দাসটি মুক্ত হয়ে যাবে। ইউনুস ইবনে ওয়াহাব তাঁর সূত্রে আমার কাছে এটি বর্ণনা করেছেন।
এবং তিনি সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে তার দাসকে বলে: "যখন অমুক ব্যক্তি মারা যাবে তখন তুমি মুক্ত", এবং সে তাকে নিজের অধীনে আটকে রাখেনি, এরপর দাসের মনিব মারা গেল; তিনি বলেন: দাসটি উত্তরাধিকারীদের খেদমত করবে, অতঃপর যদি সেই নামোল্লিখিত ব্যক্তি মারা যায়, তবে এক-তৃতীয়াংশ (ثلث) ব্যতিরেকেই দাসটি মুক্ত হয়ে যাবে। এর উদাহরণ তো ঠিক সেই ব্যক্তির ন্যায় যে তার দাসকে বলেছিল: "তুমি দশ বছর পর মুক্ত"।
এবং তিনি সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে তার দাসকে বলে: "যখন অমুক মারা যাবে তখন তুমি মুক্ত", এমতাবস্থায় সে তার সম্পদ থেকে কিছু গ্রহণ করবে এবং মনিব মারা গেলে তা তার এক-তৃতীয়াংশের (ثلث) অন্তর্ভুক্ত হবে না।
এবং তিনি সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে তার দাসীকে বলল: "যদি আমি তোমাকে কোনো অপরাধের কারণে দশটি চাবুক না মারি..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা লি-ইবনি জারীর
(পৃষ্ঠা: ২৯)
جئت به فأنت حرة فأراد بيعها ولا يضربها قال لا أراه يجوز له بيعها ولا هبتها حتى يضربها وإن باعها فسخ البيع وردت إليه على تلك المنزلة ولا يضرب له أجل إن لم يضربها إليه عتقت فإن مات عتقت في ثلثه ولم تكن في رأس ماله وإن ماتت هي فلا عتاقة لها إنما ماتت وهي أمة وقال في الذي يحلف بالعتق إن لم يفعل كذا فيموت قبل أن يفعل قال يعتق ذلك الذي حلف بعتاقته في ثلث ماله 1قال وسمعت مالكا يقول في الرجل يقول إن لم يفعل كذا فإن وليدته حرة قال لا يطأها ولا يبيعها حتى يفعل الذي حلف عليه فإن ابن عمر قال لا يطأ الرجل وليدة إلا وليدة إن شاء باعها وإن شاء وهبها وإن شاء صنع بها ما شاء وإن الذي يجعل جاريته حرة إن لم يفعل كذا لا يقدر على بيعها حتى يفعل الذي حلف عليه فإن هلك ولم2 يفعل الذي حلف عليه خرجت الجارية حرة من الثلث 3قال وقال لي مالك وإن قال وليدته حرة إن لم يفعل كذا إلى أجل سماه فإنه لا يبيعها أيضا حتى يفعل ما حلف عليه ولكنه يطأها إن شاء ما بينه وبين الأجل الذي سمى ثم يوقف عنها عند ذلك الأجل إن لم يفعل الذي حلف عليه فإن مات قبل أن ينقضي الأجل فلم يحنث لأنه شرط شرطا لا يؤخذ به حتى يأتي الأجل وهو حي فإذا جاء الأجل ولم يفعل الذي حلف عليه عتق الذي حلف بعتاقته.
وقال الشافعي4 إذا قال السيد لعبده أنت حر إذا مضت سنة أو سنتان5 أو قال شهر كذا أو سنة كذا أو سنة كذا أو يوم كذا فجاء ذلك الوقت وهو
--------------------------------------------
...তুমি তা নিয়ে আসো তবে তুমি স্বাধীন। অতঃপর তিনি তাকে বিক্রি করার ইচ্ছা করলেন কিন্তু কোনো সময়সীমা নির্ধারণ করলেন না। তিনি (ইমাম মালিক) বললেন: আমি মনে করি না যে তার জন্য তাকে বিক্রি করা বা দান করা বৈধ হবে যতক্ষণ না তিনি সময়সীমা নির্ধারণ করেন। আর যদি তিনি তাকে বিক্রি করে দেন, তবে বিক্রয় চুক্তি বাতিল হবে এবং তাকে ওই পূর্বাবস্থাতেই তার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। আর যদি তার জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করা না হয় তবে সে স্বাধীন হয়ে যাবে। অতঃপর তিনি যদি মারা যান, তবে সে তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ থেকে স্বাধীন হবে এবং তার মূল সম্পদ থেকে নয়। আর যদি দাসীটি মারা যায়, তবে তার জন্য কোনো মুক্তি নেই, কেননা সে দাসী হিসেবেই মারা গেছে। আর তিনি সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে দাস মুক্তির শপথ করে যদি সে অমুক কাজ না করে, অতঃপর সে তা করার আগেই মারা যায়। তিনি বলেন: যার মুক্তির শপথ করা হয়েছিল সে তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ থেকে স্বাধীন হয়ে যাবে।
১তিনি (ইবনে ওয়াহাব) বলেন, আমি মালিককে সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলতে শুনেছি যে বলে—যদি সে অমুক কাজ না করে তবে তার দাসী স্বাধীন। তিনি বলেন: সে তার সাথে সহবাস করতে পারবে না এবং তাকে বিক্রিও করতে পারবে না যতক্ষণ না সে সেই কাজ করে যার ওপর সে শপথ করেছিল। কেননা ইবনে উমর বলেছেন—ব্যক্তি কেবল সেই দাসীর সাথেই সহবাস করবে যাকে সে চাইলে বিক্রি করতে পারে, চাইলে দান করতে পারে এবং চাইলে তার সাথে যা ইচ্ছা করতে পারে। আর যে ব্যক্তি তার দাসীকে এই শর্তে স্বাধীন ঘোষণা করে যে—যদি সে অমুক কাজ না করে, তবে সে তা বিক্রি করার ক্ষমতা রাখবে না যতক্ষণ না সে তার কৃত শপথ পূর্ণ করে। অতঃপর যদি সে মারা যায় এবং ২শপথ অনুযায়ী কাজ না করে, তবে দাসীটি এক-তৃতীয়াংশ সম্পদ থেকে স্বাধীন হিসেবে গণ্য হবে। ৩তিনি বলেন, মালিক আমাকে বলেছেন: যদি সে বলে যে তার দাসী স্বাধীন যদি সে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে অমুক কাজ না করে, তবে সে তাকে বিক্রিও করতে পারবে না যতক্ষণ না সে তার শপথ পূর্ণ করে। কিন্তু সে চাইলে নির্ধারিত মেয়াদের পূর্ব পর্যন্ত তার সাথে সহবাস করতে পারে। অতঃপর যদি সে শপথ অনুযায়ী কাজ না করে তবে সেই মেয়াদের সময় তার থেকে বিরত থাকতে হবে। অতঃপর যদি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সে মারা যায়, তবে সে শপথ ভঙ্গকারী হবে না। কারণ সে এমন একটি শর্তারোপ করেছিল যা মেয়াদ আসা এবং তার জীবিত থাকা ছাড়া কার্যকর হয় না। যখন মেয়াদ উপস্থিত হবে এবং সে তার কৃত শপথ অনুযায়ী কাজ করবে না, তখন যার মুক্তির শপথ করা হয়েছিল সে স্বাধীন হয়ে যাবে।
এবং শাফেয়ি ৪বলেছেন: যখন কোনো মুনিব তার দাসকে বলে—তুমি স্বাধীন যদি এক বছর বা দুই বছর ৫অতিবাহিত হয়, অথবা বলল—অমুক মাস বা অমুক বছর বা অমুক দিন। অতঃপর সেই সময় উপস্থিত হলো এবং সে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা লি-ইবনি জারীর
(পৃষ্ঠা: ৩০)
في ملكه فهو حر وله أن يرجع في ذلك كله بأن يخرجه من ملكه ببيع أو هبة أو غيره كما يرجع في غيره1 وإن لم يرجع فيه أو كان قال هذا لأمة فالقول فيه2 قولان أحدهما أن كل شيء كائن لا يخلف بحال فهو كالتدبير وولدها فيه كولد المدبرة وحالها حال المدبرة في كل شيء إلا أنها تعتق من رأس المال وهذا قول يحتمل القياس وبه أقول3 والقول الثاني أنها تخالف المدبرة ولا4 يكون ولدها بمنزلتها وتعتق5 هي دون ولدها الذين ولدوا بعد هذا القول6. قال ولو قال لعبده في صحته أو لأمته متى قدم فلان فأنت حر أو متى برأ فلان فأنت حر فله الرجوع بأن يبيعه قبل أن يقدم فلان أو يبرأ فلان وإن قدم فلان أو برأ فلان قبل أن يرجع عتق عليه من رأس ماله إذا قدم فلان أو كان الذي أوقع العتق عليه7 به والقائل مالك حي مريضا كان أو صحيحا لأنه لم يحدث في المرض شيئا8. قال9 ولا أعلم بين ولد الأمة يقال لها إذا قدم فلان فأنت حرة وولد10 المدبرة والمعتقة إلى سنة فرقا بينا11 بل القياس أن يكونوا في حال واحدة. قال12 ولو
--------------------------------------------
তার মালিকানাধীন থাকা অবস্থায় সে স্বাধীন এবং তার এই সব কিছু থেকে ফিরে আসার অধিকার রয়েছে, অর্থাৎ বিক্রয়, দান বা অন্য কোনো উপায়ে তা নিজের মালিকানা থেকে বের করে দেওয়ার মাধ্যমে, যেমনটি সে অন্যান্য ক্ষেত্রে ফিরে আসে।১ আর যদি সে তা থেকে ফিরে না আসে অথবা সে যদি কোনো দাসীর ক্ষেত্রে এ কথা বলে থাকে, তবে এ বিষয়ে২ দুটি অভিমত রয়েছে। তার একটি হলো, প্রতিটি বিষয় যা নিশ্চিতভাবে ঘটবে এবং কোনো অবস্থাতেই যার ব্যতিক্রম হবে না, তা তাদবির (التدبير)-এর মতো গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে তার সন্তান হবে মুদাব্বারাহ (المدبرة)-এর সন্তানের মতো এবং সব বিষয়ে তার অবস্থা হবে মুদাব্বারাহ (المدبرة)-এর মতো; তবে পার্থক্য হলো সে মূল মূলধন (رأس المال) থেকে মুক্ত হবে। এই মতটি কিয়াস (القياس)-এর অনুকূল এবং আমি এই মতটিই পোষণ করি।৩ আর দ্বিতীয় অভিমতটি হলো, সে মুদাব্বারাহ (المدبرة)-এর বিপরীত হবে এবং তার সন্তান তার মর্যাদাসম্পন্ন হবে না।৪ এই ঘোষণার পর যে সন্তানরা জন্মগ্রহণ করেছে, তারা ব্যতীত কেবল সে-ই মুক্ত হবে।৫-৬ তিনি বলেন: যদি কেউ তার সুস্থাবস্থায় (صحة) তার দাসের উদ্দেশ্যে অথবা তার দাসীর উদ্দেশ্যে বলে যে, 'যখন অমুক আসবে তখন তুমি স্বাধীন' অথবা 'যখন অমুক সুস্থ হবে তখন তুমি স্বাধীন', তবে অমুক আসার আগে বা অমুক সুস্থ হওয়ার আগে তাকে বিক্রি করে দেওয়ার মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসার অধিকার তার রয়েছে। আর যদি সে ফিরে আসার আগেই অমুক চলে আসে বা অমুক সুস্থ হয়ে যায়, তবে অমুক আসার সাথে সাথে সে মূল মূলধন (رأس المال) থেকে মুক্ত হয়ে যাবে অথবা যার সাথে সে মুক্তিকে সম্পৃক্ত করেছিল তার কারণে তা কার্যকর হবে।৭ এমতাবস্থায় বক্তা অর্থাৎ মালিক জীবিত থাকবে, সে অসুস্থ (مريض) হোক বা সুস্থ (صحيح); কারণ সে অসুস্থ থাকাকালীন নতুন কিছু ঘটায়নি।৮ তিনি বলেন:৯ আর আমি সেই দাসীর সন্তানের মধ্যে—যাকে বলা হয়েছে 'অমুক আসলে তুমি স্বাধীন'—এবং মুদাব্বারাহ (المدبرة) ও এক বছরের জন্য মুক্তকৃত দাসীর সন্তানের মধ্যে১০ কোনো স্পষ্ট পার্থক্য জানি না,১১ বরং কিয়াস (القياس) হলো তারা সবাই একই অবস্থায় থাকবে। তিনি বলেন:১২ এবং যদি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা লি-ইবনি জারীর
(পৃষ্ঠা: ৩১)
قال إذا قدم فلان فأنت حر متى مت وإذا1 جاءت السنة فأنت حر متى مت فمات كان مدبرا في ذلك الوقت ولو قال أنت حر إن مت في مرضي2 هذا أو في سفري هذا أو عامي هذا فليس هذا بتدبير3 وإذا صح4 ثم مات من غير مرضه لم يكن حرا والتدبير ما أثبت السيد التدبير فيه للمدبر5 وإذا قال6 الرجل لعبده إن شئت فأنت حر متى مت فشاء فهو7 مدبر وإن لم يشأ لم يكن مدبرا وإن قال8 إذا مت فشئت فأنت حر فإن شاء إذا مات فهو حر وإن لم يشأ لم يكن حرا9 وكذلك إذا قال أنت حر إذا مت إن شئت وكذلك إن قدم الحرية قبل المشيئة أو أخرها10 ولو قال11 إن شاء فلان وفلان فغلامي حر عتقا12 بتاتا أو حر بعد موتي فإن شاءا كان حرا وكان المدبر مدبرا وإن شاء أحدهما ولم يشأ الآخر أو مات الآخر أو غاب لم يكن حرا حتى يجتمعا فيشاءا معا13 بالقول حدثنا بذلك عنه الربيع.
--------------------------------------------
তিনি বললেন, "যখন অমুক ব্যক্তি আসবে তখন তুমি মুক্ত (حر) যখনই আমি মারা যাই" এবং "যখন বছর আসবে তখন তুমি মুক্ত (حر) যখনই আমি মারা যাই।" অতঃপর তিনি মারা গেলে দাসটি ওই সময়ের জন্য মুদাব্বার (مدبر) হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি তিনি বলেন, "তুমি মুক্ত (حر) যদি আমি আমার এই অসুস্থতায় মারা যাই" অথবা "আমার এই সফরে" অথবা "আমার এই বছরে", তবে এটি তদবীর (تدبير) নয়। আর যদি তিনি সুস্থ হয়ে যান এবং পরবর্তীতে ওই অসুস্থতা ছাড়া অন্য কোনো কারণে মারা যান, তবে সে মুক্ত (حر) হবে না। তদবীর (تدبير) হলো মনিব তার মুদাব্বার (مدبر) দাসের জন্য যা তদবীর (تدبير) হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। আর যদি কোনো ব্যক্তি তার দাসকে বলে, "যদি তুমি চাও তবে তুমি মুক্ত (حر) যখনই আমি মারা যাই" এবং দাসটি তা ইচ্ছা করে, তবে সে মুদাব্বার (مدبر)। আর যদি সে ইচ্ছা না করে তবে সে মুদাব্বার (مدبر) নয়। আর যদি তিনি বলেন, "যখন আমি মারা যাব তখন যদি তুমি চাও তবে তুমি মুক্ত (حر)", তবে মনিব মারা যাওয়ার পর সে যদি ইচ্ছা করে তবে সে মুক্ত (حر); আর যদি ইচ্ছা না করে তবে সে মুক্ত (حر) নয়। অনুরূপ বিধান প্রযোজ্য হবে যদি তিনি বলেন, "তুমি মুক্ত (حر) যখন আমি মারা যাব যদি তুমি চাও।" তেমনিভাবে তিনি স্বাধীনতার বিষয়টিকে ইচ্ছার আগে উল্লেখ করুন বা পরে। আর যদি তিনি বলেন, "যদি অমুক ও অমুক ব্যক্তি ইচ্ছা করে তবে আমার দাসটি চূড়ান্তভাবে মুক্ত (عتق بتاتاً) অথবা আমার মৃত্যুর পর মুক্ত (حر)", তবে তারা উভয়ে ইচ্ছা করলে সে মুক্ত (حر) হবে এবং মুদাব্বার (مدبر) মুদাব্বার হিসেবেই গণ্য হবে। আর যদি তাদের একজন ইচ্ছা করে এবং অন্যজন ইচ্ছা না করে, অথবা অন্যজন মারা যায় বা অনুপস্থিত থাকে, তবে তারা একত্রে মিলিত হয়ে মৌখিকভাবে ইচ্ছা প্রকাশ না করা পর্যন্ত সে মুক্ত (حر) হবে না। আমাদের নিকট রবী' তার সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন (حدثنا)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা লি-ইবনি জারীর
(পৃষ্ঠা: ৩২)
وقال أبو حنيفة وأصحابه إذا قال الرجل لعبده إن حدث بي حدث في سفري هذا أو مرضي هذا فأنت حر فإن هذا لا يكون مدبرا فإن مات في ذلك الوجه أو من ذلك المرض عتق العبد من ثلثه وإن مات بعد رجوعه من ذلك السفر ومن بعد البرء من ذلك المرض فإن العبد لا يعتق وله أن يبيعه قبل أن يبرأ وقبل أن يقدم من سفره إن شاء الله وكذلك لو قال إن قتلت فأنت حر وكذلك لو قال إن مت بموضع كذا فأنت حر لا يكون مدبرا كل شيء وصفه من الموت لا يعلم أنه يموت به فإنه لا يكون مدبرا ألا ترى أن مولاه لو مات قبل الرحيل1 كان العبد للورثة ويقسم فكيف يكون مدبرا وسهام الورثة تجري فيه وإذا قال له أنت حر بعد موت فلان وموتي أو بعد موتي وموت فلان فهو سواء ولا يكون مدبرا وله أن يبيعه إن شاء فإن مات المولى قبل فلان كان للورثة أن يبيعوه وإن مات فلان قبل المولى كان مدبرا ليس لمولاه أن يبيعه ألا ترى أنه لو قال أنت حر بعد كلامك فلانا وبعد موتي فكلم فلانا كان مدبرا وكذلك إذا قال له إذا كلمت فلانا فأنت حر بعد2 موتي فكلمه فكلمه فإنه يكون مدبرا.
وإذا قال لعبده أنت حر بعد موتي إن شئت فإن هذا لا يكون مدبرا فإن كان المولى ينوي بالمشيئة إن شئت الساعة فشاء العبد ذلك ساعتئذ فهو حر وإن كان ينوي بالمشيئة بعد الموت فليس للعبد مشيئة حتى يموت المولى فإن مات المولى فشاء3 عند موته فهو حر من ثلثه قالوا:
وإذا قال الرجل كل مملوك لي حر بعد موتي فما كان في ملكه يوم قال هذه المقالة فهو مدبر وما ملك بعد هذه المقالة من مملوك فإنه لا يكون مدبرا
--------------------------------------------
ইমাম আবু হানিফা এবং তাঁর সঙ্গীগণ বলেছেন যে, যদি কোনো ব্যক্তি তার দাসের উদ্দেশে বলে, "যদি আমার এই সফরে বা আমার এই অসুস্থতায় কোনো দুর্ঘটনা (মৃত্যু) ঘটে, তবে তুমি মুক্ত (حر)", তবে সে 'মুদাব্বার' (مدبر) হিসেবে গণ্য হবে না। যদি সে ওই সফরেই মারা যায় অথবা ওই অসুস্থতাতেই মৃত্যুবরণ করে, তবে দাসটি তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ (ثلث) থেকে মুক্ত (حر) হয়ে যাবে। আর যদি সে ওই সফর থেকে ফিরে আসার পর অথবা ওই অসুস্থতা থেকে আরোগ্য লাভের পর মারা যায়, তবে দাসটি মুক্ত (حر) হবে না; এবং সুস্থ হওয়ার আগে বা সফর থেকে ফিরে আসার আগে মনিব চাইলে তাকে বিক্রি করতে পারবে। অনুরূপভাবে সে যদি বলে, "যদি আমি নিহত হই তবে তুমি মুক্ত (حر)", অথবা যদি বলে, "যদি আমি অমুক স্থানে মারা যাই তবে তুমি মুক্ত (حر)", তবুও সে 'মুদাব্বার' (مدبر) হবে না। মৃত্যুর এমন প্রতিটি বিবরণ যা নিশ্চিতভাবে জানা যায় না যে সে তাতেই মারা যাবে, তা 'তদবীর' (تدبير) হিসেবে গণ্য হবে না। আপনি কি দেখছেন না যে, মনিব যদি যাত্রার পূর্বেই মারা যায়, তবে দাসটি উত্তরাধিকারীদের স্বত্বে পরিণত হয় এবং বণ্টিত হয়? সুতরাং সে কীভাবে 'মুদাব্বার' (مدبر) হতে পারে যখন তাতে উত্তরাধিকারীদের অংশ কার্যকর হচ্ছে?
যদি সে তাকে বলে, "তুমি অমুকের মৃত্যুর পর এবং আমার মৃত্যুর পর মুক্ত (حر)", অথবা "আমার মৃত্যুর পর এবং অমুকের মৃত্যুর পর", তবে উভয়ই সমান এবং সে 'মুদাব্বার' (مدبر) হবে না; মনিব চাইলে তাকে বিক্রি করতে পারবে। যদি অমুকের আগে মনিব মারা যায়, তবে উত্তরাধিকারীদের অধিকার থাকবে তাকে বিক্রি করার। আর যদি মনিবের আগে অমুক মারা যায়, তবে সে 'মুদাব্বার' (مدبر) হয়ে যাবে এবং মনিবের জন্য তাকে বিক্রি করা বৈধ হবে না। আপনি কি দেখছেন না যে, সে যদি বলত, "তুমি অমুকের সাথে কথা বলার পর এবং আমার মৃত্যুর পর মুক্ত (حر)", অতঃপর সে অমুকের সাথে কথা বলে, তবে সে 'মুদাব্বার' (مدبر) হয়ে যেত? অনুরূপভাবে যদি সে তাকে বলে, "যদি তুমি অমুকের সাথে কথা বলো তবে আমার মৃত্যুর পর তুমি মুক্ত (حر)", অতঃপর সে তার সাথে কথা বলে, তবে সে 'মুদাব্বার' (مدبر) হিসেবে গণ্য হবে।
যদি সে তার দাসের উদ্দেশে বলে, "তুমি আমার মৃত্যুর পর মুক্ত (حر) যদি তুমি চাও", তবে সে 'মুদাব্বার' (مدبر) হবে না। যদি মনিব এই ইচ্ছার দ্বারা তাৎক্ষণিক ইচ্ছা পোষণ করে এবং দাস তখনই তা চায়, তবে সে মুক্ত (حر)। আর যদি সে মৃত্যুর পরের ইচ্ছার নিয়ত করে, তবে মনিব মারা যাওয়া পর্যন্ত দাসের কোনো ইচ্ছাধিকার থাকবে না। যখন মনিব মারা যাবে এবং সে তখন ইচ্ছা পোষণ করবে, তবে সে তার এক-তৃতীয়াংশ (ثلث) থেকে মুক্ত (حر) হবে। তাঁরা বলেছেন:
যদি কোনো ব্যক্তি বলে, "আমার মালিকানাধীন সকল দাস আমার মৃত্যুর পর মুক্ত (حر)", তবে এই কথা বলার সময় যারা তার মালিকানায় ছিল তারা 'মুদাব্বার' (مدبر) হবে। আর এই কথা বলার পর সে যেসব দাসের মালিক হবে তারা 'মুদাব্বার' (مدبر) হবে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা লি-ইবনি জারীর
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وله أن يبيعه ولكن إن مات وهو في ملكه عتق من ثلثه مع المدبرين وكذلك إذا قال كل مملوك لي إذا أنا مت فهو حر مثل ذلك أيضا فإن كان مملوك بينه وبين آخر في ملكه يوم قال هذه المقالة فإنه لا يعتق من قبل أنه ليس له بمملوك تام.
وقالوا إذا قال الرجل لعبدين له أنتما حران بعد موتي إن دخلتما هذه الدار فدخل أحدهما1 ومات الآخر فإنه لا يكون مدبرا من قبل إنهما لم يدخلا جميعا وكذلك لو قال إن شئتما فأنتما مدبران فمات أحدهما قبل أن يشاء فإن الثاني لا يكون مدبرا وقالوا إذا جعل الرجل أمر عبده إلى صبي فقال دبره فدبره فهو جائز وإن قام من ذلك المجلس قبل أن يدبره فليس له أن يدبره بعد ذلك وكذلك لو جعل أمره إلى رجل مجنون2 مغلوب أو إلى صحيح فهو سواء وإن جعل أمره إلى رجلين فدبر أحدهما ولم يدبر الآخر فإنه لا يجوز وقالوا إذا قال الرجل لرجلين دبرا عبدي فدبره أحدهما فإنه جائز من قبل انهما هاهنا رسولان له أن ينهاهما وهما في الباب الأول أمره إليهما ليس له أن ينهاهما الجوزجاني عن محمد.
وعلة من قال يقول مالك إن المعتق عبده إلى أجل إذا مات قبل الأجل إن العبد يعتق عند الآجل من رأس المال إن ذلك عتق في الصحة لا وصية وإنما يعتق من الثلث ما كان وصية أو في معنى الوصية من عتق في مرض ومولى العبد المعتق إلى أجل إنما أعتق في صحته فمتى جاء الأجل وهو في ملكه كان حرا من رأس ماله وعلته في منع الحالف بعتق عبده إن لم يفعل كذا من بيعه قبل فعله ما حلف عليه ووطئه الجارية المحلوف عليها بذلك
--------------------------------------------
তার জন্য তাকে বিক্রি করার অধিকার রয়েছে, তবে যদি সে তার মালিকানায় থাকা অবস্থায় মারা যায়, তবে অন্যান্য মুদাব্বার (المدبرين) দাসদের সাথে তাকেও তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ (ثلثه) থেকে মুক্ত করা হবে। একইভাবে যদি সে বলে, "আমার প্রতিটি দাস আমার মৃত্যুর পর স্বাধীন (حر)," তবে সেটির বিধানও অনুরূপ হবে। কিন্তু যদি সেই দাসটি তার এই কথা বলার দিন তার এবং অন্য কারোর মধ্যে যৌথ মালিকানাধীন থাকে, তবে সে মুক্ত হবে না; কারণ সে তার পূর্ণ মালিকানাধীন (مملوك تام) দাস নয়।
তারা বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি তার দুই দাসকে বলে, "যদি তোমরা এই ঘরে প্রবেশ করো তবে আমার মৃত্যুর পর তোমরা উভয়েই স্বাধীন (حرান)," এরপর তাদের একজন প্রবেশ করল (১) এবং অপরজন মারা গেল, তবে সে মুদাব্বার (مدبرا) হবে না; কারণ তারা উভয়ে একত্রে প্রবেশ করেনি। একইভাবে সে যদি বলে, "যদি তোমরা চাও তবে তোমরা উভয়েই মুদাব্বার (مدبران)," অতঃপর তাদের একজন ইচ্ছা প্রকাশ করার আগেই মারা যায়, তবে দ্বিতীয়জন মুদাব্বার (مدبرا) হবে না। তারা আরও বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি তার দাসের বিষয়টি কোনো বালকের হাতে ন্যস্ত করে বলে, "তাকে মুদাব্বার (دبره) করো" এবং সে তাকে মুদাব্বার (دبره) করে, তবে তা বৈধ (جائز)। আর সে যদি মুদাব্বার করার আগেই সেই মজলিস থেকে উঠে যায়, তবে এরপর আর তাকে মুদাব্বার করার অধিকার তার থাকবে না। অনুরূপভাবে সে যদি তার বিষয়টি কোনো বিকৃতমস্তিষ্ক (مجنون) (২) ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত করে কিংবা কোনো সুস্থ ব্যক্তির হাতে, তবে উভয়ই সমান। আর সে যদি বিষয়টি দুইজন ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত করে এবং তাদের একজন তাকে মুদাব্বার (دبر) করে কিন্তু অপরজন না করে, তবে তা বৈধ নয় (لا يجوز)। তারা বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি দুইজন লোককে বলে, "আমার দাসকে মুদাব্বার (দব্রা) করো" এবং তাদের একজন তাকে মুদাব্বার (دبره) করে, তবে তা বৈধ (جائز); কারণ এক্ষেত্রে তারা উভয়েই তার প্রতিনিধি (رسولان), যাদেরকে নিষেধ করার অধিকার তার আছে। অথচ প্রথম ক্ষেত্রে বিষয়টি তাদের ওপর অর্পণ করা হয়েছিল, যেখানে তাদের নিষেধ করার অধিকার তার ছিল না। আল-জুজাজানি এটি মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেছেন।
ইমাম মালিকের মতের প্রবক্তাদের যুক্তি হলো: যাকে নির্দিষ্ট সময়ের (أجل) জন্য মুক্তি দেওয়া হয়েছে, সেই দাসের মালিক যদি সেই সময়ের আগেই মারা যায়, তবে নির্দিষ্ট সময় (أجل) পূর্ণ হলে সেই দাসটি মূল সম্পদ (رأس المال) থেকে মুক্ত হবে। কারণ সেটি সুস্থতা (صحة) থাকাকালীন মুক্তি, কোনো অসিয়ত (وصية) নয়। কেবল যা অসিয়ত (وصية) হিসেবে গণ্য বা অসিয়ত (وصية)-এর পর্যায়ভুক্ত—যেমন অসুস্থতা (مرض)কালীন মুক্তি—তা এক-তৃতীয়াংশ (ثلث) থেকে কার্যকর হয়। আর নির্দিষ্ট সময়ের (أجل) শর্তে মুক্তি দেওয়া দাসের মালিক তাকে তার সুস্থতা (صحة) থাকাকালীনই মুক্তি দিয়েছিল। সুতরাং যখনই সেই নির্দিষ্ট সময় (أجل) আসবে এবং সে তার মালিকানায় (ملك) থাকবে, সে তার মূল সম্পদ (رأس مال) থেকেই স্বাধীন (حر) বলে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি কোনো কাজ না করলে তার দাস মুক্ত হবে বলে শপথ করেছে, তার জন্য সেই শপথকৃত কাজ করার আগে দাসকে বিক্রি করা কিংবা সেই শপথকৃত দাসীর সাথে সহবাস করা নিষিদ্ধ হওয়ার কারণও এটিই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা লি-ইবনি জারীর
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
حتى يبر1 في يمينه إن الحجة مجمعة على عتق العبد المحلوف عليه فهذه اليمين إن مات السيد الحالف وقد فرط في فعل ما حلف عليه مع قدرته على فعله تطاولت مدة حياته بعد اليمين مع إمكان الفعل أو قصرت فلما كان العبد محبوسا على عتقه بموت السيد أو ثبوت رقه ببر السيد في يمينه لم يكن للمولى بيعه ولا وطؤ2 الجارية إن كان المحلوف عليه جارية حتى تعلم صحة أمره من الرق أو العتق.
وعلة من قال إن مات المعتق عبده إلى أجل قبل الأجل إن عتقه باطل إن الجميع مجمعون على أن رجلا لو قال لعبده إذا قدم فلان فأنت حر ثم مات قائل ذلك والعبد المقول له ذلك في ملكه ثم قدم فلان ذلك أن العبد لا يعتق لأن ملك السيد قد زال عن عبده بموته وكان ملكا لغيره من الورثة فلا يعتق عبد غيره بقوله الذي كان منه في حال ملكه لأنه لم يدبره ولم يوص بعتقه فكذلك المعتق إلى أجل إذا مات قبل مجيء الأجل والعبد في ملكه.
وأما علتهم في سائر المسائل غيرها على إختلافهم فيها فشبيهة بعللنا لهم في المسائل قبلها فيما يكون به العبد من القول مدبرا وما يكون وصية من الثلث ولا خلاف بين الجميع أن رجلا لو قال لعبده أنت حر غدا أو بعد موتي أنه لا يقع العتق إلا في الوقت الذي أوقعه السيد.
যাতে তিনি তাঁর শপথ পূর্ণ১ করতে পারেন; কেননা দলীলের (حجة) ঐক্যমত (إজماع) এই যে, যে দাসের বিষয়ে শপথ করা হয়েছে তার মুক্তি অবধারিত। সুতরাং শপথকারী মনিব যদি এমন কোনো কাজ সম্পাদনে অবহেলা করেন যা করার সক্ষমতা তাঁর ছিল এবং এমতাবস্থায় তিনি মারা যান—শপথের পর তাঁর জীবনকাল দীর্ঘ হোক বা সংক্ষিপ্ত হোক—যেহেতু মনিবের মৃত্যুতে দাসের মুক্তি অথবা শপথ পূর্ণ হওয়ার মাধ্যমে তার দাসত্ব সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি স্থগিত থাকে, তাই মনিবের জন্য তাকে বিক্রয় করা কিংবা সে দাসী হলে তার সাথে সহবাস২ করা বৈধ নয়, যতক্ষণ না তার দাসত্ব বা মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানা যায়।
আর যাদের অভিমত হলো নির্দিষ্ট মেয়াদের শর্তে মুক্ত করা দাস সেই মেয়াদের পূর্বেই মারা গেলে তার মুক্তি বাতিল (باطل) হবে, তাদের ইল্লাত (علة) হলো: সকল বিশেষজ্ঞ এই বিষয়ে একমত যে, কোনো ব্যক্তি যদি তার দাসকে বলে, "অমুক ব্যক্তি আসলে তুমি মুক্ত", এরপর উক্ত ব্যক্তি আসার আগেই মনিব মারা যান এবং দাসটি তখনো তাঁর মালিকানায় থাকে, অতঃপর সেই ব্যক্তির আগমন ঘটলে দাসটি মুক্ত হবে না। কারণ মনিবের মৃত্যুর ফলে দাসের ওপর থেকে তাঁর মালিকানা অপসৃত হয়ে উত্তরাধিকারীদের মালিকানায় চলে গেছে। সুতরাং নিজ মালিকানাধীন অবস্থায় প্রদত্ত বক্তব্যের মাধ্যমে অন্যের দাসের মুক্তি সাব্যস্ত হবে না, যেহেতু তিনি তাকে মুদাব্বির (مدبر) করেননি এবং তার মুক্তির বিষয়ে কোনো ওসিয়ত (وصية) করেননি। তদ্রূপ মেয়াদী দাসের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য যদি মেয়াদের পূর্বেই মনিব মারা যান এবং দাসটি তাঁর মালিকানায় থাকে।
আর অন্যান্য মাসআলায় তাদের মতভেদ থাকা সত্ত্বেও তাদের ইল্লাত (علة) আমাদের বর্ণিত পূর্ববর্তী মাসআলাসমূহের ইল্লাতের অনুরূপ, যার মাধ্যমে কোনো দাসকে মুদাব্বির (مدبر) ঘোষণা করা হয় অথবা এক-তৃতীয়াংশ (ثلث) সম্পদ থেকে ওসিয়ত (وصية) করা হয়। আর এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, কোনো ব্যক্তি যদি তার দাসকে বলে, "তুমি আগামীকাল মুক্ত" অথবা "আমার মৃত্যুর পর তুমি মুক্ত", তবে মনিব কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের আগে সেই মুক্তি কার্যকর হবে না।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা লি-ইবনি জারীর
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
ثم اختلفوا في عتق المدبر إذا مات سيده قبل رجوعه عن تدبيره أمن جميع ما له عتقه أم من الثلثفقال مالك فيما "حدثني يونس عن أشهب وابن وهب عنه" والأوزاعي فيما "حدثني به العباس عن أبيه عنه" والثوري
অতঃপর তাঁরা ‘মুদাব্বার’ (মৃত্যুর পর মুক্তির প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত) দাসের মুক্তি প্রসঙ্গে মতভেদ করেছেন যে, যখন তার মনিব তার ‘তাদবীর’ (মৃত্যুপরবর্তী মুক্তির অঙ্গীকার) থেকে ফিরে আসার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেন, তখন তাকে কি তার সমস্ত সম্পদ থেকে মুক্তি দেওয়া হবে নাকি এক-তৃতীয়াংশ থেকে?অতঃপর মালিক সেই বর্ণনায় বলেছেন যা “ইউনুস আমার নিকট আশহাব ও ইবনে ওয়াহাব থেকে তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন (حدثني)”, এবং আওযাঈ সেই বর্ণনায় বলেছেন যা “আব্বাস তাঁর পিতার মাধ্যমে তাঁর থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني)”, এবং সাওরীও (অনুরূপ বলেছেন)।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা লি-ইবনি জারীর
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
فيما "حدثني به علي عن زيد عنه" "والشافعي فيما حدثنا به الربيع عنه".
وأبو حنيفة وأصحابه وأبو ثور إذا مات سيد المدبر عتق المدبر من ثلث ماله.
وقال مسروق بن الأجدع يعتق من جميع المال حدثنا بذلك أبو كريب وأبو السائب قالا "حدثنا عبد الله بن إدريس قال أخبرنا ابن أبجر عن الشعبي أن مسروقا كان يجعل" المدبر يخرج فارغا من جميع المال "وحدثنا محمد بن بشار قال حدثنا عبد الرحمن بن مهدي قال حدثنا سفيان1 عن ابن أبجر عن الشعبي مثله وهو قول الشعبي"
علة من قال بقول مالك في ذلك إجماع الحجة على ما قال.
علة من قال بقول مسروق فيه القياس على ما أجمعت الحجة عليه من حكم أم الولد أنها مملوكة لسيدها لا تباع ولا توهب ويستمتع بها سيدها فإذا2 مات السيد عتقت من رأس ماله وهي معتقة عن دبر فكذلك حكم كل معتقة عن دبر فمن رأس المال.
قال أبو جعفر والحق في ذلك عندي ما قال مالك ومن ذكرنا قوله انه من الثلث لإجماع الحجة على ذلك.
--------------------------------------------
যাতে "আলী আমার নিকট যা বর্ণনা করেছেন (حدثني) যায়িদ থেকে তাঁর সূত্রে" এবং "শাফেয়ি আর-রাবী' আমাদের নিকট যা বর্ণনা করেছেন (حدثنا) তাঁর সূত্রে" প্রসঙ্গে।
আবু হানিফা, তাঁর অনুসারীগণ এবং আবু সাওর-এর অভিমত হলো, যখন কোনো মুদাব্বির (مدبر) দাসের মালিক মারা যান, তখন সেই মুদাব্বির (مدبر) তার সম্পত্তির এক-তৃতীয়াংশ থেকে মুক্ত (عتق) হবে।
মাসরুক ইবনুল আজদা' বলেছেন, সে মোট সম্পদ থেকে মুক্ত হবে। আবু কুরাইব এবং আবু সাইব আমাদের নিকট তা বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তাঁরা বলেন: "আবদুল্লাহ ইবনে ইদ্রিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: ইবনে আবজার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) শাবি থেকে যে, মাসরুক মুদাব্বির (مدبر) দাসকে মোট সম্পদ থেকেই দায়মুক্ত ঘোষণা করতেন।" "মুহাম্মদ ইবনে বাশার আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: আবদুর রহমান ইবনে মাহদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি বলেন: সুফিয়ান ১ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইবনে আবজার থেকে, তিনি শাবি থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন; আর এটি শাবিরও অভিমত।"
যারা এই বিষয়ে মালিকের মত পোষণ করেন তাদের স্বপক্ষে কারণ (علة) হলো তাঁর বক্তব্যের সপক্ষে নির্ভরযোগ্য আলেমদের ঐকমত্য (إجماع الحجة)।
যারা মাসরুকের মত পোষণ করেন তাদের স্বপক্ষে কারণ (علة) হলো উম্মুল ওয়ালাদ (أم الولد) সংক্রান্ত হুকুমের ওপর কিয়াস (القياس) করা, যার ওপর নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিবর্গ ঐকমত্য (إجماع الحجة) পোষণ করেছেন যে, সে তার মালিকের মালিকানাধীন থাকে, তাকে বিক্রি করা যায় না এবং দানও করা যায় না, এবং তার মালিক তার সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে; অতঃপর যখন মালিক মারা যায়, তখন সে তার মূল সম্পদ (رأس المال) থেকে মুক্ত হয়। আর সে মূলত মৃত্যুর পরবর্তী আযাদির প্রতিশ্রুতিপ্রাপ্ত (معتقة عن دبر), তাই মৃত্যুর পর মুক্ত হওয়ার সকল হুকুমও মূল সম্পদ (رأس المال) থেকেই কার্যকর হবে।
আবু জাফর বলেন, আমার নিকট এই বিষয়ে সঠিক মত হলো মালিক এবং যাদের নাম আমরা উল্লেখ করেছি তাদের বক্তব্য—অর্থাৎ সে এক-তৃতীয়াংশ থেকে মুক্ত হবে; কারণ এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য আলেমদের ঐকমত্য (إجماع الحجة) রয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা লি-ইবনি জারীর
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
ثم اختلفوا في السيد هل له أن يرجع عن تدبيره ببيع أو قول أو غير ذلك من وجوه الرجوع؟
1فقال مالك2 الأمر عندنا في المدبران صاحبه لا يبيعه ولا يحوله
--------------------------------------------
অতঃপর তাঁরা (বিদ্বানগণ) মুনিব সম্পর্কে মতভেদ করেছেন যে, তিনি কি বিক্রয়, মৌখিক উক্তি অথবা অন্য কোনো উপায়ে তাঁর 'তদবীর' (تدبير) থেকে ফিরে আসতে পারেন?১. ইমাম মালিক রহ. বলেন: আমাদের নিকট মুদাব্বার (مدبر) সংক্রান্ত বিধান হলো, তার মালিক তাকে বিক্রয় করবে না এবং তার মালিকানা পরিবর্তন (হস্তান্তর) করবে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা লি-ইবনি জারীর
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
عن موضعه الذي وضعه1 عليه وأنه إن رهق سيده دين فإن غرماءه لا يقدرون على بيعه ما عاش سيده فإن مات سيده ولا دين عليه فهو في ثلثه لأنه استثنى عمله ما عاش فليس له أن يخدمه حياته ثم يعتقه على2 وارثه إذا مات من رأس3 ماله4 ولكنه يكون في الثلث ويكون الثلثان للورثة وإن مات سيد المدبر ولا مال له غيره عتق ثلثه وكان ثلثاه للورثة5 وإن مات سيد المدبر وعليه دين يحيط بالمدبر بيع في دينه لأنه إنما يعتق في الثلث6. وإن كان يحيط بنصف المدبر بيع نصفه ثم عتق ثلث ما بقي منه بعد الدين قال وهذه سنة المدبر التي لا خلاف فيها ببلدنا "حدثني بذلك يونس عن ابن وهب عنه" وقال مالك لا أرى أن يباع المدبر فإن هو بيع بجهالة وعتق وطال زمانه وتفاوت ذلك فأرى أن ينفذ عتقه ويكون الولاء للذي اشتراه واعتقه
وقال الأوزاعي لا يجوز بيع المدبر "حدثني بذلك العباس عن أبيه عنه".
وقال الثوري إذا باع الرجل المدبرة من رجل فإن البيع مردود قال ولا يجوز بيع المدبر والمدبرة "حدثني بذلك علي عن زيد عنه".
7وقال الشافعي المدبر ومن لم يدبر من العبيد سواء يجوز بيعهم متى شاء مالكهم وفي كل حق لزم مالكهم يجوز بيعهم متى شاء وفي كل ما يباع
--------------------------------------------
তাকে যে অবস্থানে রাখা হয়েছে সেখান থেকে তাকে সরানো যাবে না। যদি তার মনিবের ওপর ঋণ (دين) চেপে বসে, তবে মনিব জীবিত থাকা পর্যন্ত তার পাওনাদাররা তাকে বিক্রি করতে সক্ষম হবে না। যদি মনিব মারা যান এবং তার ওপর কোনো ঋণ (دين) না থাকে, তবে সে (দাস) তার এক-তৃতীয়াংশ (ثلث) সম্পদের অন্তর্ভুক্ত হবে। কারণ মনিব তার জীবিত থাকাকালীন তার সেবা গ্রহণকে শর্ত হিসেবে রেখেছিলেন। সুতরাং মনিবের জন্য এমন করা বৈধ নয় যে, সে জীবনভর তার সেবা গ্রহণ করবে এবং মৃত্যুর পর তার মূল সম্পদ (رأس مال) থেকে উত্তরাধিকারীদের (ورثة) ওপর তাকে মুক্ত করার ভার ছেড়ে দেবে। বরং সে এক-তৃতীয়াংশের (ثلث) অন্তর্ভুক্ত হবে এবং বাকি দুই-তৃতীয়াংশ উত্তরাধিকারীদের (ورثة) জন্য থাকবে। যদি মুদাব্বার (مدبر) দাসের মনিব মারা যান এবং এই দাস ছাড়া তার আর কোনো সম্পদ না থাকে, তবে তার এক-তৃতীয়াংশ (ثلث) মুক্ত (عتق) হবে এবং বাকি দুই-তৃতীয়াংশ উত্তরাধিকারীদের (ورثة) প্রাপ্য হবে। আর যদি মুদাব্বার (مدبر) দাসের মনিব মারা যান এবং তার ওপর এমন ঋণ (دين) থাকে যা মুদাব্বার (مدبر) দাসের মূল্যকেও গ্রাস করে ফেলে, তবে ঋণের (دين) দায়ে তাকে বিক্রি করা হবে; কেননা সে কেবল এক-তৃতীয়াংশ (ثلث) থেকেই মুক্ত (عتق) হতে পারে। আর যদি ঋণ মুদাব্বার (مدبر) দাসের অর্ধেক মূল্য পরিমাণ হয়, তবে তার অর্ধেক বিক্রি করা হবে, এরপর ঋণ পরিশোধের পর যা অবশিষ্ট থাকবে তার এক-তৃতীয়াংশ (ثلث) মুক্ত (عتق) করা হবে। তিনি বলেন, এটিই মুদাব্বার (مدبر) সংক্রান্ত সুন্নাহ (سنة), যা আমাদের শহরে সর্বসম্মত (لا خلاف فيها)। "ইউনুস ইবনে ওয়াহাব থেকে এটি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন।" ইমাম মালিক বলেন, আমি মুদাব্বার (مدبر) দাসকে বিক্রি করা সমীচীন মনে করি না। তবে যদি অজ্ঞতাবশত তাকে বিক্রি করা হয় এবং সে মুক্ত (عتق) হয়ে যায় এবং দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়, তবে আমি মনে করি তার মুক্তি (عتق) কার্যকর হবে এবং আল-ওয়ালা (الولاء) তার জন্য সাব্যস্ত হবে যে তাকে ক্রয় করে মুক্ত (عتق) করেছে।
ইমাম আওজাঈ বলেন, মুদাব্বার (مدبر) দাসকে বিক্রি করা বৈধ নয়। "আব্বাস তার পিতার সূত্রে আমার কাছে এটি বর্ণনা করেছেন।"
ইমাম সাওরী বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি কোনো মুদাব্বার (مدبر) দাসীকে অন্য কোনো ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে, তবে সেই বিক্রয় বাতিল (مردود) বলে গণ্য হবে। তিনি বলেন, মুদাব্বার (مدبر) দাস বা মুদাব্বারা দাসী বিক্রি করা বৈধ নয়। "আলী ইবনে যায়েদ থেকে এটি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন।"
ইমাম শাফিঈ বলেন, মুদাব্বার (مدبر) এবং যাকে মুদাব্বার করা হয়নি এমন দাস সমান; মালিক যখন ইচ্ছা তাদের বিক্রি করতে পারেন। মালিকের ওপর কোনো অধিকার বা দায় বর্তালে তখন তিনি তাদের বিক্রি করতে পারেন এবং যেসব ক্ষেত্রে দাস কেনা-বেচা চলে, এখানেও তা চলবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা লি-ইবনি জারীর
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
فيه مال سيدهم إذا لم يوجد له وفاء إلا بيعهم.1 وقال إذا دبر الرجل عبده فله الرجوع في2 تدبيره بأن يخرجه من ملكه3 4قال ولو لزم سيده دين بدئ5 بعتق المدبر من ماله فبيع عليه ولا يباع المدبر حتى.6 لا يوجد له قضاء إلا ببيعه أو بقول السيد قد أبطلت تدبيره وهو على التدبير حتى يرجع فيه أو لا يوجد له مال يؤدى7 منه دينه غيره.8 قال ولو لم يلزم سيده دين كان له ابطال تدبيره فإن قال سيده قد رجعت في تدبير هذا العبد أو ابطلته أو نقضته أو ما أشبه ذلك مما يكون مثله رجوعا في وصيته لرجل أو أوصى له به لم يكن ذلك نقضا للتدبير حتى يخرجه من ملكه ذلك وهو9 مخالف الوصية في هذا ويجامع الإيمان10 وكذلك لو دبره ثم وهبه لرجل هبة بتات قبضه أو لم يقبضه أو رجع في الهبة أو تم عليها أو أوصي به لرجل أو تصدق به عليه أو وقفه عليه في حياته أو بعد موته أو قال إن أدى بعد11 موتي كذا وكذا فهو حر فهذا كله رجوع في التدبير12 ناقض له13 قال14
--------------------------------------------
এতে তাদের মালিকের সম্পদ [সংশ্লিষ্টতা] রয়েছে যদি তাকে [ঋণ] পরিশোধের কোনো ব্যবস্থা না পাওয়া যায় তবে তাদের বিক্রয় করা ব্যতিরেকে।১ এবং তিনি বলেন, যখন কোনো ব্যক্তি তার দাসকে মৃত্যু-পরবর্তী মুক্তির অঙ্গীকার (تدبير) প্রদান করে, তখন তার মালিকানা থেকে তাকে বের করে দেওয়ার মাধ্যমে সেই অঙ্গীকার প্রত্যাহার করার অধিকার তার রয়েছে।২ ৩ তিনি বলেন, যদি তার মালিকের ওপর ঋণ আবশ্যক হয়, তবে [ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে] মুদাব্বার (مدبر) দাসের মুক্তি ব্যতিরেকে তার অন্যান্য সম্পদ থেকে শুরু করা হবে৫ এবং তার পক্ষ থেকে তা বিক্রয় করা হবে। আর মুদাব্বার (مدبر) দাসকে ততক্ষণ বিক্রয় করা হবে না যতক্ষণ না৬ তাকে বিক্রয় করা ছাড়া ঋণ পরিশোধের কোনো উপায় থাকে অথবা মালিকের এই উক্তি ব্যতীত যে, 'আমি তার তদবির (تدبير) বাতিল করেছি'। আর সে তদবির (تدبير)-এর ওপরই বহাল থাকবে যতক্ষণ না মালিক তা প্রত্যাহার করে অথবা মালিকের কাছে তাকে ছাড়া এমন কোনো সম্পদ না থাকে যা দিয়ে তার ঋণ পরিশোধ করা যায়।৭ ৮ তিনি বলেন, যদি তার মালিকের ওপর কোনো ঋণ আবশ্যক না হয়, তবে তার তদবির (تدبير) বাতিল করার অধিকার তার থাকবে। মালিক যদি বলে, 'আমি এই দাসের তদবির (تدبير) প্রত্যাহার করেছি' অথবা 'আমি তা বাতিল করেছি' অথবা 'আমি তা ভঙ্গ করেছি' কিংবা এই জাতীয় শব্দ যা কোনো ব্যক্তির প্রতি অসিয়ত (وصية) থেকে ফিরে আসার সদৃশ হয় বা তার অনুকূলে অসিয়ত করে, তবে সেটি তদবির (تدبير) ভঙ্গ করা হিসেবে গণ্য হবে না যতক্ষণ না সে তাকে তার মালিকানা থেকে বের করে দেয়। আর এটি এই ক্ষেত্রে অসিয়ত (وصية)-এর বিপরীত এবং ঈমান (الإيمان)-এর বিষয়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।৯ ১০ তদ্রূপ যদি সে তাকে তদবির (تدبير) করে অতঃপর কোনো ব্যক্তিকে চূড়ান্তভাবে দান (هبة بتات) করে দেয়—চাই সে তা কবজা (قبض) করুক বা না করুক, কিংবা দান থেকে ফিরে আসুক বা তা পূর্ণ করুক—অথবা কোনো ব্যক্তির অনুকূলে অসিয়ত (وصية) করে, কিংবা তার ওপর সদকা করে, অথবা তার জীবদ্দশায় বা মৃত্যুর পরে তাকে ওয়াকফ (وقف) করে, অথবা বলে, 'যদি সে আমার মৃত্যুর পর এই পরিমাণ অর্থ প্রদান করে তবে সে স্বাধীন', তবে এই সমস্ত কিছুই তদবির (تدبير)-এর প্রত্যাহার হিসেবে গণ্য এবং তার জন্য বাতিলকারী (ناقض)।১১ ১২ ১৩ তিনি বলেন ১৪
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা লি-ইবনি জারীর
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
ولو دبره ثم أوصي بنصفه لرجل كان النصف للموصى له به وكان النصف مدبرا.
فإن رد صاحب الوصية1 الوصية ومات السيد المدبر لم يعتق من العبد إلا النصف لأن السيد قد أبطل التدبير في النصف الذي2 أوصى به فكذلك لو3 باع نصفه وهو حي أو4 وهب نصفه وهو حي كان قد أبطل التدبير في النصف الذي باع ووهب والنصف الثاني مدبر ما لم يرجع فيه.5 وإذا كان له أن يدبر على الابتداء6 نصف عبده كان له أن يبع نصفه ويقر النصف مدبرا بحاله7 وكذلك إن دبره ثم قال قد رجعت في8 تدبير ثلثك أو ربعك أو نصفك فأبطلته كان ما رجع فيه منه9 خارجا من التدبير وما لم يرجع فيه فهو على تدبيره بحاله10.
11قال ولو دبر رجل عبده ثم قال اخدم فلانا لرجل12 آخر ثلاث سنين وأنت حر فإن غاب المدبر القائل هذا أو خرس أو ذهب عقله13 قبل
--------------------------------------------
যদি তিনি তাকে মুদাব্বার (مدبر) সাব্যস্ত করেন এবং এরপর তার অর্ধাংশ কোনো ব্যক্তির অনুকূলে অসিয়ত (وصية) করেন, তবে সেই অর্ধাংশ অসিয়তকৃত ব্যক্তির প্রাপ্য হবে এবং অবশিষ্ট অর্ধাংশ মুদাব্বার (مدبر) হিসেবে গণ্য হবে।
যদি অসিয়ত (وصية) গ্রহণকারী ব্যক্তি অসিয়তটি প্রত্যাখ্যান করেন এবং মুদাব্বারকারী মনিব মারা যান, তবে সেই দাসের কেবলমাত্র অর্ধাংশই মুক্ত হবে। কারণ মনিব যে অর্ধাংশের অসিয়ত (وصية) করেছিলেন, তাতে তিনি তাদবীর (تدبير) করার বিষয়টি বাতিল করে দিয়েছেন। অনুরূপভাবে, যদি তিনি জীবিত অবস্থায় তার অর্ধাংশ বিক্রি করে দেন অথবা জীবিত অবস্থায় তার অর্ধাংশ দান (هبة) করে দেন, তবে তিনি যা বিক্রি বা দান করেছেন তাতে তাদবীর (تدبير) করার বিষয়টি বাতিল হয়ে যাবে এবং দ্বিতীয় অর্ধাংশ মুদাব্বার (مدبر) হিসেবে বহাল থাকবে যতক্ষণ না তিনি তা থেকে ফিরে আসেন। আর যেহেতু মনিবের জন্য শুরু থেকেই তার দাসের অর্ধাংশকে মুদাব্বার (تدبير) করার অধিকার রয়েছে, সেহেতু তার জন্য দাসের অর্ধাংশ বিক্রি করা এবং অবশিষ্ট অর্ধাংশকে তার অবস্থায় মুদাব্বার (مدبر) হিসেবে বহাল রাখারও অধিকার আছে। একইভাবে, যদি তিনি তাকে মুদাব্বার (تدبير) করেন এবং পরবর্তীতে বলেন যে, 'আমি তোমার এক-তৃতীয়াংশ, এক-চতুর্থাংশ বা অর্ধাংশের তাদবীর (تدبير) থেকে ফিরে এসেছি' এবং তা বাতিল করে দেন, তবে যে অংশ থেকে তিনি ফিরে এসেছেন তা তাদবীর (تدبير) এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে না এবং যে অংশ থেকে তিনি ফিরে আসেননি তা পূর্বের অবস্থায় তাদবীর (تدبير) হিসেবেই বহাল থাকবে।
তিনি বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি তার দাসকে মুদাব্বার (تدبير) করেন এবং পরবর্তীতে অন্য কোনো ব্যক্তিকে বলেন যে, 'তুমি অমুকের তিন বছর সেবা করো এবং এরপর তুমি মুক্ত (حر)', এমতাবস্থায় এই কথা প্রদানকারী মুদাব্বারকারী মনিব যদি নিরুদ্দেশ হন কিংবা বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন অথবা তার বিবেকলোপ পায় এর আগে যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা লি-ইবনি জারীর
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
أن1 يسأل لم يعتق العبد أبدا إلا بأن يموت2 السيد المدبر وهو يخرج من الثلث ويخدم فلانا ثلاث سنين فإن مات فلان قبل موت السيد أو بعده ولم يخدمه ثلاث سنين لم يعتق أبدا لأنه اعتقه بشرطين فبطل أحدهما وإن سئل السيد فقال أردت إبطال التدبير وإن يخدم فلانا ثلاث سنين ثم هو حر فالتدبير باطل وإن خدم فلانا ثلاث سنين فهو حر وإن مات فلان قبل3 أن يخدمه أو4 لم يخدمه العبد لم يعتق.5 ولو أراد السيد الرجوع في الإخدام رجع فيه ولم يكن العبد حرا وإن قال أردت أن يكون مدبرا6 وأن يخدم فلانا ثلاث سنين والتدبير بحاله لم يعتق إلا بهما معا كما قلنا في المسألة الأولى.7 قال ولو أن رجلا دبر عبدا ثم قال قبل موته إن أدى مائة بعد موتي فهو حر أو عليه خدمة عشر سنين بعد موتي ثم هو حر أو8 قال هو حر بعدي بسنة فإن أدى مائة أو9 خدم عشر سنين بعد موته أو أتت عليه بعد موته سنة فهو حر وإلا لم يعتق وكان هذا كله وصية أحدثها له وعليه بعد التدبير شيء أولى من التدبير كما يكون لو قال عبدي هذا لفلان ثم قال بل نصفه لم يكن له إلا نصفه حدثنا بذلك عنه الربيع.
وقال أبو حنيفة وأصحابه إذا أعتق الرجل مملوكا له عن دبر منه
--------------------------------------------
যদি তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় যে, কেন মালিকের মৃত্যু ব্যতীত দাসটি কখনোই মুক্ত হবে না; তবে উত্তর হলো যে, 'মুদাব্বার' বা মৃত্যুপরবর্তী মুক্তিদানকারী (المدبر) মালিকের মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত সে মুক্ত হবে না। আর সে সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ (الثلث) থেকে গণ্য হবে এবং অমুক ব্যক্তিকে তিন বছর সেবা করবে। যদি সেই ব্যক্তি মালিকের মৃত্যুর আগে বা পরে মারা যায় এবং দাসটি তাকে তিন বছর সেবা না করে, তবে সে কখনোই মুক্ত হবে না। কারণ তিনি তাকে দু'টি শর্তে মুক্ত করেছিলেন, যার একটি বাতিল হয়ে গেছে। আর যদি মালিককে জিজ্ঞাসা করা হয় এবং তিনি বলেন, "আমি 'তদবীর' বা মৃত্যুপরবর্তী মুক্তির ঘোষণা (التدبير) বাতিল করার ইচ্ছা পোষণ করেছি এবং সে অমুক ব্যক্তিকে তিন বছর সেবা করবে, তারপর সে স্বাধীন (حر) হবে"—তবে পূর্বের 'তদবীর' (التدبير) বাতিল হয়ে যাবে। যদি সে অমুক ব্যক্তিকে তিন বছর সেবা করে তবে সে স্বাধীন (حر) হবে। আর যদি সেই ব্যক্তিকে সেবা করার আগে ঐ ব্যক্তি মারা যায় অথবা দাসটি তাকে সেবা না করে, তবে সে মুক্ত হবে না। যদি মালিক সেবা করার নির্দেশটি প্রত্যাহার করতে চান, তবে তিনি তা করতে পারেন এবং সেক্ষেত্রে দাসটি স্বাধীন (حر) হবে না। আর যদি তিনি বলেন, "আমি চেয়েছিলাম সে 'মুদাব্বার' বা মৃত্যুপরবর্তী মুক্তির অধীন (مدبرا) থাকুক এবং অমুককে তিন বছর সেবা করুক এবং 'তদবীর' (التدبير) আগের মতোই বহাল থাকুক", তবে উল্লিখিত উভয়টি সম্পন্ন হওয়া ব্যতীত সে মুক্ত হবে না, যেমনটি আমরা প্রথম মাসআলায় বলেছি। তিনি বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো দাসকে 'তদবীর' বা মৃত্যুপরবর্তী মুক্তির ব্যবস্থা (دبر) করে এবং এরপর তার মৃত্যুর পূর্বে বলে: "আমার মৃত্যুর পর সে যদি একশ (মুদ্রা) আদায় করে তবে সে স্বাধীন (حر)", অথবা "আমার মৃত্যুর পর তার ওপর দশ বছর সেবা করার বাধ্যবাধকতা থাকবে তারপর সে স্বাধীন (حر)", অথবা যদি বলে: "আমার (মৃত্যুর) এক বছর পর সে স্বাধীন (حر)", তবে যদি সে একশ (মুদ্রা) প্রদান করে অথবা তার মৃত্যুর পর দশ বছর সেবা করে অথবা তার মৃত্যুর পর এক বছর অতিক্রান্ত হয়, তবে সে স্বাধীন (حر) হয়ে যাবে; অন্যথায় সে মুক্ত হবে না। এর সবটুকুই হবে তার জন্য একটি নতুন 'ওসিয়ত' বা উইল (وصية), যা 'তদবীর' (التدبير)-এর পরে করা হয়েছে এবং তা 'তদবীর' (التدبير)-এর চেয়ে অধিক অগ্রাধিকারযোগ্য হবে। যেমনটি হয়ে থাকে যদি কেউ বলে: "আমার এই দাসটি অমুকের জন্য", তারপর বলে: "বরং এর অর্ধেক তার জন্য", তবে সে অর্ধেকের বেশি পাবে না। এটি আমাদের কাছে তাঁর পক্ষ থেকে রাবী' বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আবু হানিফা এবং তাঁর অনুসারীগণ বলেন, যখন কোনো ব্যক্তি তার মালিকানাধীন কোনো দাসকে তার মৃত্যুর সাথে সংশ্লিষ্ট করে 'তদবীর' (دبر) এর মাধ্যমে মুক্ত করেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা লি-ইবনি জারীর
(পৃষ্ঠা: ৪০)
فليس له أن يبيعه ولا يرهنه وله أن يؤاجره ويستعمله وله أن يزوجه وإن كانت أمة زوجها إن شاء ومهرها له قالوا ولا يباع المدبر في دين على مولاه ولكن يسعى فإن كان هذا الدين أقل من قيمته سعى في الدين وفي ثلثي ما بقي من قيمته للورثة ولا تجوز شهادة المدبر ما دام يسعى في شيء من قيمته وهو بمنزلة العبد في جنايته والجناية عليه في قول أبي حنيفة وإن كانت أمة قد ولدت ولدا ثم ماتت الأمة فعلى ولدها أن يسعى فيما على أمه وحال الولد مثل حال العبد في شهادته وجنايته والجناية عليه الجوزجاني عن محمد وقال السيد المدبر له بيع مدبره وإبطال تدبيره.
وعلة من قال لا يجوز الرجوع في التدبير القياس على إجماع الحجة في أم الولد أنها لذلك أنها مملوكه لسيدها أوجبت ولادتها من سيدها لها عتقا بعد وفاة السيد بلا فصل وأنها لذلك من العلة لا يجوز بيعها ولا هبتها ولا إخراجها من ملكه إلا بعتق وأن للسيد الاستمتاع بها وإجارتها فيما تجوز إجارتها فيه فكذلك المدبر والمدبرة أوجب لهما سيدهما بقول أن منه عتقا بعد وفاته بلا فصل فليس له1 منهما إلا ما لسيد أم الولد منها وهو ممنوع من إحداث ما هو ممنوع من إحداثه في أم ولده إلى أن يموت فتعتق.
علة من قال لسيد المدبر الرجوع في تدبيره وبيعه وهبته واحداث كل ما له أن يحدثه في مماليكه الذين لم يدبرهم قيام الحجة على أن المدبر من الثلث وتفريق الأمة بين حكمه وحكم أم الولد في أن المدبر إنما يعتق من الثلث وأن أم الولد إنما تعتق من جميع المال وإجماع الجميع أن ما عتق من الثلث بكل حال لا في حال دون حال سبيله وحكمه سبيل الوصايا وحكمها وإن ما عتق من جميع المال فسبيله سبيل الديون والحقوق اللازمة التي هي مخالفة معاني الوصايا فلما صح افتراق حكم المدبر والمدبرة وحكم أم
--------------------------------------------
সুতরাং তার (মনীবের) জন্য তাকে (মুদাব্বারকে) বিক্রি করা বা বন্ধক রাখা বৈধ নয়; তবে তিনি তাকে ভাড়ায় খাটাতে পারেন এবং কাজে নিয়োগ করতে পারেন। তিনি চাইলে তাকে বিয়েও দিতে পারেন, আর সে যদি দাসী হয় তবে তার ইচ্ছানুযায়ী বিয়ে দিতে পারেন এবং তার মোহরানা মনীবই পাবেন। তারা (ফকিহগণ) বলেছেন: মনীবের ঋণের দায়ে মুদাব্বারকে (مدبر) বিক্রি করা যাবে না, বরং সে উপার্জনের মাধ্যমে ঋণ পরিশোধের চেষ্টা করবে। যদি এই ঋণ তার মূল্যের চেয়ে কম হয়, তবে সে ঋণের সমপরিমাণ এবং তার অবশিষ্ট মূল্যের দুই-তৃতীয়াংশ ওয়ারিশদের জন্য উপার্জনের চেষ্টা করবে। মুদাব্বার (مدبر) যতক্ষণ পর্যন্ত তার মূল্যের কোনো অংশের জন্য উপার্জনের চেষ্টা করবে, ততক্ষণ তার সাক্ষ্য (شهادة) গ্রহণীয় হবে না। ইমাম আবু হানিফার মতে, অপরাধ (جناية) সংঘটন এবং তার ওপর অপরাধ (جناية) সংঘটনের ক্ষেত্রে সে দাসের পর্যায়ভুক্ত। আর সে যদি এমন দাসী হয় যে সন্তান জন্ম দিয়েছে, অতঃপর সেই দাসী মারা যায়, তবে তার সন্তানের ওপর আবশ্যক হলো তার মায়ের জিম্মায় যা (ঋণ) ছিল তা উপার্জনের চেষ্টা করা। সাক্ষ্যদান ও অপরাধের (جناية) বিধানের ক্ষেত্রে সন্তানের অবস্থা দাসের অবস্থার মতোই। জাওজাজানি মুহাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন; আর মুদাব্বার (مدبر) এর মনীব সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তার মুদাব্বারকে (مدبر) বিক্রি করা এবং তার তাদবির (تدبير) বাতিল করার অধিকার রয়েছে।
যারা বলেন যে তাদবির (تدبير) থেকে ফিরে আসা বৈধ নয়, তাদের কারণ (علة) হলো উম্মুল ওয়ালাদ (أم ولد) সম্পর্কে অকাট্য দলিলের ঐক্যমতের (إجماع) ওপর কিয়াস (القياس) করা। কারণ উম্মুল ওয়ালাদ (أم ولد) তার মনীবের মালিকানাধীন থাকা সত্ত্বেও মনীবের মাধ্যমে তার সন্তান জন্মদান মনীবের মৃত্যুর অব্যবহিত পরেই তার জন্য মুক্তি (عتق) সাব্যস্ত করে দেয়। আর সেই কারণেই (علة) তাকে বিক্রি করা, হেবা করা বা মুক্তি (عتق) ব্যতিরেকে মালিকানা থেকে বের করে দেওয়া বৈধ নয়। তবে মনীবের জন্য তার থেকে উপকার ভোগ করা এবং বৈধ ক্ষেত্রে তাকে ভাড়ায় খাটানোর অধিকার রয়েছে। তেমনি মুদাব্বার (مدبر) ও মুদাব্বারা-এর ক্ষেত্রেও তাদের মনীবের বক্তব্যের মাধ্যমে তার মৃত্যুর পর কোনো ব্যবধান ছাড়াই তাদের জন্য মুক্তি (عتق) সাব্যস্ত হয়ে গেছে। সুতরাং মনীবের জন্য তাদের ক্ষেত্রে উম্মুল ওয়ালাদের (أم ولد) মনীবের যে অধিকার রয়েছে তা ব্যতীত অন্য কিছু করার অধিকার নেই। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকবেন যা উম্মুল ওয়ালাদের (أم ولد) ক্ষেত্রে করা নিষিদ্ধ, অতঃপর তিনি মারা গেলে তারা মুক্ত হয়ে যাবে।
যারা বলেন যে মুদাব্বারের (مدبر) মনীবের জন্য তার তাদবির (تدبير) প্রত্যাহার করার, তাকে বিক্রি করার, হেবা করার এবং তার অন্যান্য সাধারণ দাসদের ক্ষেত্রে যা করার অধিকার আছে তা করার সুযোগ রয়েছে, তাদের কারণ (علة) হলো অকাট্য দলিল (حجة) দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে যে, মুদাব্বার (مدبر) এক-তৃতীয়াংশ (ثلث) সম্পদ থেকে মুক্ত হবে। এছাড়া উম্মাহর মাঝে এই বিধান এবং উম্মুল ওয়ালাদের (أم ولد) বিধানের মধ্যে পার্থক্য হলো এই যে, মুদাব্বার (مدبر) কেবল এক-তৃতীয়াংশ (ثلث) সম্পদ থেকে মুক্ত হয়, অথচ উম্মুল ওয়ালাদ (أم ولد) পূর্ণ সম্পদ থেকে মুক্ত হয়। আর সকলের ঐক্যমত (إجماع) হলো, যা সর্বাবস্থায় এক-তৃতীয়াংশ (ثلث) থেকে মুক্ত হয় তার ধারা ও বিধান হলো অসিয়তের (وصايا) বিধানের মতো। আর যা পূর্ণ সম্পদ থেকে মুক্ত হয় তার ধারা হলো ঋণ ও আবশ্যকীয় পাওনার মতো যা অসিয়তের (وصايا) অর্থের বিপরীত। সুতরাং যখন মুদাব্বার (مدبر) ও মুদাব্বারা-এর বিধান এবং উম্মুল ওয়ালাদের (أم ولد) বিধানের পার্থক্য সাব্যস্ত হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা লি-ইবনি জারীর
(পৃষ্ঠা: ৪১)
الولد في أن المدبر من الثلث وأن ام الولد من جميع المال ثبت أن حكم التدبير حكم الوصايا التي لصاحبها الرجوع فيها أيام حياته1 وتغييرها وتبديلها عما2 سبلها عليه وأن حكم عتق ام الولد حكم الحقوق اللازمة التي لا يقدر من لزمته على تبديلها وتغييرها إلا بالخروج منها "ثم حدثني به سليمان بن عمر بن خلد بن الأقطع الرقي قال حدثنا عبد الله بن المبارك عن3 سفيان بن سعيد عن أبي الزبير عن جابر قال أعتق رجل من الأنصار يقال له أبو مذكور غلاما له يقال له يعقوب من دبر" فبلغ ذلك النبي صلي الله عليه وسلم فقال: "هل له مال غيره" فقالوا لا فقال: "من يشتريه" فباعه بثماني مائة درهم من نعيم بن النحام ثم قال أنفق هذا على نفسك فإن فضل فعلى أهلك فإن فضل فعلى عيالك فإن فضل فها هنا وها هنا".
وعلة من يقول بقول مالك في أنه يباع في دين الميت إذا لم يوجد له4 وفاء غيره انه لما قامت الحجة على انه من الثلث وخالف في هذا المعنى دون سائر المعاني ام الولد جاز بيعه في الدين إذا كان ذلك من معاني الوصايا والدين مبدأ به على الوصايا.
قال أبو جعفر والحق في ذلك عندي وبالله التوفيق أن التدبير في معنى الوصية فكل ما كان رجوعا في الوصية فهو رجوع فيه وكل ما جاز في الوصية فجائز فيه.
--------------------------------------------
সন্তানের বিষয়ে হুকুম হলো, নিশ্চয়ই মৃত্যুপরবর্তী মুক্তিপ্রাপ্ত দাস (المدبر) এক-তৃতীয়াংশ (الثلث) সম্পদের অন্তর্ভুক্ত এবং উম্মুল ওয়ালাদ (أم الولد) পূর্ণ সম্পদের অন্তর্ভুক্ত। এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, তাদবীর (التدبير)-এর বিধান হলো সেই অসিয়ত (الوصايا)-এর বিধানের মতো, যার দাতা তার জীবদ্দশায় তা থেকে ফিরে আসার এবং যে উদ্দেশ্যে তা নির্ধারিত হয়েছিল তা পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করার অধিকার রাখেন। আর উম্মুল ওয়ালাদ-এর মুক্তির বিধান হলো সেই অপরিহার্য অধিকারের মতো, যা পালন করা ব্যতীত যে ব্যক্তির ওপর তা বর্তেছে সে তা পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করার ক্ষমতা রাখে না। "অতঃপর আমার নিকট সুলাইমান বিন উমর বিন খালিদ বিন আল-আক্বতা আর-রাক্কি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ বিন আল-মুবারক বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান বিন সাঈদ থেকে, তিনি আবু যুবায়ের থেকে, তিনি জাবির (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, আনসারদের এক ব্যক্তি—যাকে আবু মাযকুর বলা হতো—ইয়াকুব নামক তার এক গোলামকে মৃত্যুপরবর্তী মুক্তি (دبر) প্রদান করলেন।" এই সংবাদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌঁছালে তিনি বললেন: "তার কি এটি ব্যতীত অন্য কোনো সম্পদ আছে?" তারা বললেন, "না"। তিনি বললেন: "এটি কে ক্রয় করবে?" অতঃপর তিনি তাকে নুয়াইম বিন আন-নাহহাম-এর নিকট আটশত দিরহামে বিক্রয় করলেন। এরপর বললেন: "এটি তোমার নিজের জন্য ব্যয় করো, যদি অতিরিক্ত থাকে তবে তোমার পরিবারের জন্য ব্যয় করো, যদি আরও অতিরিক্ত থাকে তবে তোমার আত্মীয়-স্বজনের জন্য ব্যয় করো, আর যদি এরপরও অতিরিক্ত থাকে তবে এখানে ও সেখানে (অর্থাৎ ডানে-বামে দান করো)।"
যাঁরা ইমাম মালিক-এর মত অনুসরণ করে বলেন যে—মৃত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধের জন্য এছাড়া অন্য কোনো সম্পদ পাওয়া না গেলে মুদাব্বার দাসকে বিক্রয় করা হবে—তাঁদের যুক্তি হলো: যেহেতু অকাট্য দলিল (الحجة) দ্বারা এটি প্রমাণিত যে সে এক-তৃতীয়াংশের (الثلث) অন্তর্ভুক্ত, এবং এ ক্ষেত্রে সে উম্মুল ওয়ালাদ-এর থেকে ভিন্ন হুকুম রাখে, তাই ঋণের বিনিময়ে তাকে বিক্রয় করা বৈধ। কারণ তা অসিয়ত (الوصايا)-এর পর্যায়ভুক্ত, আর অসিয়ত পূরণ করার আগেই ঋণ পরিশোধ করা আবশ্যক।
আবু জাফর (রহ.) বলেন: এ বিষয়ে আমার নিকট সঠিক সিদ্ধান্ত হলো—এবং আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি—নিশ্চয়ই তাদবীর (التدبير) অসিয়ত (الوصية)-এর অর্থের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং অসিয়ত থেকে ফিরে আসার ক্ষেত্রে যা কিছু প্রযোজ্য, তাদবীরের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য হবে। আর অসিয়তের ক্ষেত্রে যা কিছু বৈধ, তাদবীরের ক্ষেত্রেও তা বৈধ হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা লি-ইবনি জারীর
(পৃষ্ঠা: ৪২)
واختلفوا في بيع خدمة المدبر من نفسه أو من غيره1فقال مالك لا يجوز بيع المدبر ولا يجوز لأحد أن يشتريه إلا أن يشتري المدبر نفسه من سيده فيكون ذلك جائزا له أو يعطي أحد سيد المدبر مالا ويعتقه سيده الذي دبره فذلك2 جائز أيضا "حدثني بذلك يونس عن ابن وهب عنه" وقال3 لا يجوز بيع خدمة المدبر لأنه غرر4 لا يدري كم يعيش سيده5 الذي دبره فذلك غرر لا يصلح6 وهي من المخاطرة فإن طالت حياته غبن البائع وإن قصرت حياته غبن المبتاع حتى يكون خدمة معروفة إلى أجل مسمى.
وقال7 في مدبر قال لسيده عجل لي العتق وأعطيك8 خمسين دينارا فقال سيده نعم أنت حر وعليك خمسون دينارا تؤدي إلى9 كل عام عشرة دنانير فرضي10 العبد بذلك ثم هلك السيد بعد ذلك11 بيومين أو ثلاثة قال مالك 12قد13 ثبت العتق وصارت الخمسون14 دينا
--------------------------------------------
মুদাব্বার (مدبر) দাসের সেবা তার নিজের কাছে অথবা অন্য কারো কাছে বিক্রি করার বিষয়ে তারা মতভেদ করেছেন১. ইমাম মালিক বলেছেন, মুদাব্বার (مدبر) দাস বিক্রি করা বৈধ (جائز) নয় এবং কারো জন্য তাকে ক্রয় করাও বৈধ (جائز) নয়; তবে মুদাব্বার (مدبر) যদি তার নিজের মুক্তি তার মুনিবের কাছ থেকে ক্রয় করে নেয় তবে তা তার জন্য বৈধ (جائز) হবে, অথবা কেউ যদি মুদাব্বার (مدبر) দাসের মুনিবকে অর্থ প্রদান করে এবং যে মুনিব তাকে মুদাব্বার (مدبر) করেছিল সে তাকে মুক্ত করে দেয় তবে তাও বৈধ (جائز)। "ইউনুস ইবনে ওয়াহাব তাঁর সূত্রে ইমাম মালিক থেকে এটি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন।" তিনি আরও বলেন, মুদাব্বার (مدبر) দাসের সেবা বিক্রি করা বৈধ (جائز) নয়, কারণ এতে অনিশ্চয়তা (غرر) রয়েছে; তার মুনিব যে তাকে মুদাব্বার (مدبر) করেছে সে কতদিন জীবিত থাকবে তা জানা নেই, ফলে এই অনিশ্চয়তা (غرر) সঠিক নয় এবং এটি এক প্রকার ঝুঁকি (مخاطرة)। যদি মুনিবের জীবন দীর্ঘ হয় তবে বিক্রেতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, আর যদি তার জীবন সংক্ষিপ্ত হয় তবে ক্রেতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যতক্ষণ না সেবাটি একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সুনির্ধারিত হয়।
তিনি এমন এক মুদাব্বার (مدبر) দাস সম্পর্কে বলেন যে তার মুনিবকে বলেছিল, "আমার মুক্তি ত্বরান্বিত করুন এবং আমি আপনাকে পঞ্চাশ দিনার প্রদান করব।" তখন তার মুনিব বলল, "হ্যাঁ, তুমি স্বাধীন এবং তোমার জিম্মায় পঞ্চাশ দিনার ঋণ রইল যা তুমি প্রতি বছর দশ দিনার করে পরিশোধ করবে।" দাসটি এতে সন্তুষ্ট হলো, অতঃপর এর দুই বা তিন দিন পর মুনিব মারা গেলেন। ইমাম মালিক বলেন, তার মুক্তি সাব্যস্ত (ثابت) হয়ে গেছে এবং ওই পঞ্চাশ দিনার ঋণে পরিণত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা লি-ইবনি জারীর
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
عليه وجازت شهادته1 وثبتت حرمته وميراثه وحدوده2 في حياة سيده ولا3 يضع موت سيده عنه شيئا من الدين.
وقال الأوزاعي لا ينبغي أن تباع خدمة المدبر إلا أن يعتق ثم يستخدم "حدثني بذلك4 العباس عن أبيه عنه".5 قال وسئل الأوزاعي عن الرجل يدبر عبده أو امته ثم يريد أن يبيع خدمتهما من نفسهما فلمن ولاؤهما قال للمولى وسئل عن المدبر6 تشتري خدمته ثم يموت سيده قال إن كان7 باعه بمال حال أخذ منه وإن كان بمال إلى أجل نجمه عليه نجوما فإن كان حل شيء من نجومه أخذ منه وكان له ما بقي وإن كان بمال إلى أجل فليس عليه شيء.
وقال الثوري إذا باع الرجل خدمة أم ولده أو8 مدبرته من رجل فإن البيع مردود ويكون عليه أجر مثلها وإذا باع الرجل أم ولده أو مدبرته من نفسها عتقت وكان دينا عليها "حدثني بذلك علي عن زيد عنه"
9وقال الشافعي بيع خدمة المدبر باطل10 وإن المدبر للسيد عجل لي العتق ولك علي خمسون دينارا11 قبل أن يقول12 السيد قد رجعت في
--------------------------------------------
তার সাক্ষ্য বৈধ (جازت) গণ্য হবে এবং তার মর্যাদা (حرمة), উত্তরাধিকার ও দণ্ডবিধি তার মনিবের জীবদ্দশাতেই সাব্যস্ত হবে। মনিবের মৃত্যু তার ঋণ থেকে কোনো কিছুই হ্রাস করবে না।
ইমাম আওযাঈ বলেছেন, 'মুদাব্বির' (مدبر) দাসের সেবা (خدمة) বিক্রি করা সমীচীন নয়, যতক্ষণ না তাকে মুক্ত করা হয় এবং এরপর সেবায় নিযুক্ত করা হয়। "আব্বাস তার পিতার সূত্রে তাঁর থেকে এটি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন।" তিনি বলেন, ইমাম আওযাঈকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে তার দাস বা দাসীকে 'মুদাব্বির' (مدبر) করেছে, এরপর সে তাদের নিজেদের কাছেই তাদের সেবা (خدمة) বিক্রি করতে চায়, তবে তাদের আনুগত্যের অধিকার (ولاء) কার হবে? তিনি বললেন, মনিবের। তাকে সেই 'মুদাব্বির' (مدبر) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যার সেবা (خدمة) ক্রয় করা হয়, এরপর তার মনিব মারা যায়। তিনি বললেন, যদি মনিব তা নগদ অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করে থাকে, তবে তা তার থেকে গ্রহণ করা হবে। আর যদি তা কিস্তিতে পরিশোধের শর্তে (نجمه) একটি মেয়াদের জন্য হয়, তবে যদি কিস্তির কোনো অংশ আদায়ের সময় হয়ে যায়, তবে তা তার থেকে গ্রহণ করা হবে এবং অবশিষ্ট অংশ তার থাকবে। আর যদি তা কেবল একটি মেয়াদের জন্য হয়, তবে তার ওপর কিছুই বর্তাবে না।
ইমাম সাওরী বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি তার 'উম্মু ওয়ালাদ' (أم ولد) অথবা 'মুদাব্বিরা' (مدبرة) দাসের সেবা কোনো ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে, তবে সেই বিক্রয় বাতিল (مردود) বলে গণ্য হবে এবং তার জন্য সমপরিমাণ পারিশ্রমিক (أجر مثل) আবশ্যক হবে। আর যদি কোনো ব্যক্তি তার 'উম্মু ওয়ালাদ' (أم ولد) অথবা 'মুদাব্বিরা' (مدبرة) দাসীকে তার নিজের কাছেই বিক্রি করে, তবে সে মুক্ত হয়ে যাবে এবং ঐ অর্থ তার ওপর ঋণ হিসেবে গণ্য হবে। "আলী, যায়েদ থেকে তাঁর সূত্রে এটি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন।"
ইমাম শাফিঈ বলেন, 'মুদাব্বির' (مدبر) দাসের সেবা (خدمة) বিক্রি করা বাতিল (باطل)। আর যদি 'মুদাব্বির' (مدبر) তার মনিবকে বলে, "আপনি আমার মুক্তি ত্বরান্বিত করুন এবং এর বিনিময়ে আপনার জন্য আমার ওপর পঞ্চাশ দিনার ধার্য থাকবে"— মনিব "আমি আমার সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে গেলাম (رجعت)" বলার আগে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা লি-ইবনি জারীর
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
تدبيري فقال السيد نعم فأعتقه فهذا عتق على مال وهو حر كله وعليه الخمسون دينارا وقد بطل التدبير1 قال ولو دبره ثم قال له أنت حر على2 أن تؤدي كذا وكذا كان حرا على الشرط الآخر إذا قال أردت بهذا رجوعا في التدبير3 وإن لم يرد بهذا رجوعا في التدبير عتق إذا أدى فإن مات سيده قبل أن يؤدي عتق بالتدبير وإن أراد بهذا رجوعا في التدبير فهو رجوع فيه ولا يكون هذا رجوعا في التدبير إلا بقول يبين به أنه أراد رجوعا في التدبير غير هذا القول فإن دبره ثم قاطعه على شيء4 وتعجله العتق فليس هذا نقضا للتدبير والمقاطعة على ما5 يقاطعها عليه فإن أداه عتق6 وإن مات السيد قبل أن7 يؤدي المدبر عتق المدبر بالتدبير حدثنا بذلك عنه الربيع.
وقال أبو حنيفة وأصحابه في ذلك مثل قول الثوري الجوزجاني عن محمد.
وقال ابرهيم النخعي تباع خدمة المدبر ولا تباع رقبته حدثنا بذلك يعقوب بن ابرهيم قال حدثنا هشيم عن مغيرة عن ابرهيم وعبيدة عن ابرهيم.
علة من قال لا يجوز بيع خدمة المدبر إجماع الحجة على ذلك وإن
--------------------------------------------
আমার তদ্বীর (التدبير), তখন মনিব বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর তিনি তাকে মুক্তি (عتق) দিলেন। এটি সম্পদের বিনিময়ে মুক্তি (عتق) হিসেবে গণ্য হবে এবং সে সম্পূর্ণ স্বাধীন (حر) হবে, তবে তার উপর পঞ্চাশ দিনার (ঋণ) থাকবে এবং তদ্বীর (التدبير) বাতিল হয়ে যাবে।১ তিনি বললেন, যদি তিনি তাকে তদ্বীর (التدبير) করেন, অতঃপর তাকে বলেন: তুমি স্বাধীন (حر) এই শর্তে২ যে তুমি এত এত প্রদান করবে, তবে সে পরবর্তী শর্ত অনুযায়ী স্বাধীন (حر) হবে যদি তিনি বলেন যে আমি এর মাধ্যমে তদ্বীর (التدبير) থেকে ফিরে আসার৩ ইচ্ছা করেছি। আর যদি তিনি এর মাধ্যমে তদ্বীর (التدبير) থেকে ফিরে আসার ইচ্ছা না করেন, তবে সে (নির্ধারিত অর্থ) আদায় করলে মুক্তি (عتق) পাবে। যদি তার মনিব অর্থ প্রদানের আগেই মারা যান, তবে সে তদ্বীর (التدبير)-এর ভিত্তিতে মুক্তি (عتق) পাবে। আর যদি তিনি এর মাধ্যমে তদ্বীর (التدبير) থেকে ফিরে আসার ইচ্ছা করেন, তবে তা তদ্বীর (التدبير) থেকে ফিরে আসা বলে গণ্য হবে। তবে তদ্বীর (التدبير) থেকে ফিরে আসা কেবল এমন কথার মাধ্যমেই হবে যা দ্বারা স্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে তিনি এই উক্তি ব্যতীত তদ্বীর (التدبير) থেকে ফিরে আসার ইচ্ছা করেছেন। এরপর যদি তিনি তাকে তদ্বীর (التدبير) করার পর নির্দিষ্ট বিষয়ের৪ ওপর সমঝোতা করেন এবং তার মুক্তি (عتق) ত্বরান্বিত করেন, তবে এটি তদ্বীর (التدبير) ভঙ্গ করা হবে না এবং সমঝোতা সে বিষয়ের৫ ওপরই হবে যার ওপর তারা সমঝোতা করেছে। যদি সে তা আদায় করে তবে মুক্তি (عتق) পাবে।৬ আর যদি মুদাব্বার (المدبر) অর্থ প্রদানের৭ আগেই মনিব মারা যান, তবে মুদাব্বার (المدبر) তদ্বীর (التدبير)-এর ভিত্তিতে মুক্তি (عتق) পাবে। রবী আমাদের কাছে তার সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আবু হানিফা এবং তাঁর অনুসারীরা এ বিষয়ে সাওরি ও জাওযাজানি কর্তৃক মুহাম্মদ-এর সূত্রে বর্ণিত মতের অনুরূপ কথা বলেছেন।
ইবরাহিম আল-নাখয়ী বলেছেন, মুদাব্বার (المدبر)-এর খিদমত বা সেবা বিক্রি করা যাবে, কিন্তু তার সত্তা বিক্রি করা যাবে না। ইয়াকুব ইবনে ইবরাহিম আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুশাইম আমাদের কাছে মুগিরাহ্ থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে এবং উবাইদাহ্ ইবরাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন।
যাঁরা মুদাব্বার (المدبر)-এর খিদমত বিক্রি করা জায়েজ নয় বলেছেন, তাঁদের দলীল হলো এ বিষয়ে প্রামাণ্য ইজমা (إجماع الحجة) এবং যদি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা লি-ইবনি জারীর
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
الكل مجمعون على إبطال بيع لبس الثياب وسكنى الدور فكان كذلك بيع منفعة كل ما له منفعة باطل وإنما تستأجر المنافع وتباع الرقاب.
وعلة من أجاز بيعها القياس على إجماع الحجة على أن استئجار المدبر جائز للخدمة وذلك إعطاء عوض على خدمته فكذلك إعطاء العوض على خدمته بمعنى البيع جائز قياسا على إجماعهم على الإجارة.
قال أبو جعفر والحق في ذلك عندي أن بيع خدمة المدبر باطل لما ذكرنا من العلل.
পোশাক পরিধানের অধিকার এবং গৃহে বসবাসের অধিকার বিক্রয় বাতিল হওয়ার বিষয়ে সকলেই ঐকমত্য (مجمعون) পোষণ করেছেন। ঠিক একইভাবে, যার উপকারিতা আছে এমন প্রতিটি বস্তুর উপযোগিতা বিক্রয় করাও বাতিল (باطل); মূলত উপকারিতা বা মুনাফা ভাড়ায় গ্রহণ করা হয় এবং মূল বস্তু বিক্রয় করা হয়।
যারা এটি বিক্রয় করা বৈধ (جائز) মনে করেন, তাদের যুক্তি হলো অকাট্য প্রমাণের ঐকমত্যের (إجماع الحجة) ওপর ভিত্তি করে কিয়াস (القياس) করা যে, সেবার জন্য মুদাব্বার দাসের সেবা ভাড়া নেওয়া বৈধ (جائز)। আর এটি হলো তার সেবার বিনিময়ে প্রতিদান প্রদান করা। সুতরাং বিক্রয় হিসেবে তার সেবার বিনিময় প্রদান করাও বৈধ (جائز), যা ইজারার (الإجارة) ওপর তাদের ঐকমত্যের (إجماع) সাথে কিয়াস (قياسا) স্বরূপ।
আবু জাফর বলেন: এ বিষয়ে আমার নিকট সঠিক সিদ্ধান্ত হলো, মুদাব্বার দাসের সেবা বিক্রয় করা বাতিল (باطل); আমরা ইতিপূর্বে যেসব কারণ বা ত্রুটি (العلل) উল্লেখ করেছি তার পরিপ্রেক্ষিতে।
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা লি-ইবনি জারীর
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
واختلفوا في حكم العبد بين اثنين يدبره أحدهما1فقال مالك في العبد يكون بين الرجلين فيدبر أحدهما2 حصته إن ذلك ليس له وإنهما يتقاومانه فإن اشتراه الذي دبره كان مدبرا كله وإن لم يشتره انتقض تدبيره إلا أن يشاء الذي بقي له فيه الرق أن يعطيه شريكه الذي دبره بقيمته فإن3 أعطاه بقيمته لزمه ذلك وكان مدبرا كله:حدثني بذلك يونس عن ابن وهب عنه" "وحدثني يونس عن أشهب" قال سمعت مالكا يسئل عن العبد بين الرجلين يأذن أحدهما لصاحبه أن يدبر حصته فقال أرى أن يتقاوماه أذن له أو لم يأذن له فإن صار للذي دبر كان مدبرا كله وإن صار للذي لم يدبر انتقض التدبير نحن نقول هذا وما هو بالبين لا شبهة فيه.4 قال وسمعته يسأل عن العبد بين الرجلين فيدبر أحدهما حصته فيقول الذي لم يدبر5 لا أريد مقاومتك إياه انا أقره مدبرا عليك نصفه فقال ليس هذا بحسن حتى يتقاوماه قال وسمعته
--------------------------------------------
দুইজন অংশীদারের মালিকানাধীন দাসের বিধান নিয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন, যার একাংশকে তাদের একজন মুদাব্বার (تدبير) করার ঘোষণা দিয়েছে।১ ইমাম মালিক এমন দাসের ব্যাপারে বলেছেন যে দুই ব্যক্তির মালিকানাধীন, অতঃপর তাদের একজন তার ২ অংশকে মুদাব্বার (تدبير) ঘোষণা করল—নিশ্চয়ই এটি করার অধিকার তার নেই। বরং তারা উভয়ই দাসের মূল্য নির্ধারণ (تقويم) করবে; যদি মুদাব্বার (تدبير) ঘোষণাকারী ব্যক্তি তাকে কিনে নেয়, তবে সে পূর্ণাঙ্গভাবে মুদাব্বার (مدبر) হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি সে তাকে না কেনে, তবে তার মুদাব্বার (تدبير) করার বিষয়টি বাতিল (انتقاض) হয়ে যাবে; তবে দাসের যে অংশে দাসত্ব (الرق) অবশিষ্ট রয়েছে তার মালিক যদি চায় যে, সে তার মুদাব্বার (تدبير) করা অংশীদারকে ন্যায্য মূল্যে তা প্রদান করবে (তবে তা সম্ভব)। যদি সে ৩ তাকে ন্যায্য মূল্যে তা দিয়ে দেয়, তবে তা তার জন্য আবশ্যক হবে এবং দাসটি পূর্ণাঙ্গভাবে মুদাব্বার (مدبر) হয়ে যাবে। ইউনুস ইবনে ওয়াহাব তাঁর সূত্রে এটি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন। "ইউনুস আশহাবের সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন," তিনি বলেন, আমি মালিককে ওই দাসের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি যে দুই ব্যক্তির মালিকানাধীন, যাদের একজন তার অংশীদারকে নিজের অংশে মুদাব্বার (تدبير) করার অনুমতি দেয়। তখন তিনি বললেন: আমি মনে করি তারা মূল্য নির্ধারণ (تقويم) করবে, চাই সে অনুমতি প্রদান করুক বা না করুক। যদি দাসটি মুদাব্বার (تدبير) ঘোষণাকারীর ভাগে পড়ে তবে সে পূর্ণাঙ্গ মুদাব্বার (مدبر) হবে, আর যদি তা এমন ব্যক্তির ভাগে পড়ে যে মুদাব্বার (تدبير) করেনি, তবে সেই মুদাব্বার (تدبير) করার বিষয়টি বাতিল (انتقاض) হয়ে যাবে। আমরা এ কথাই বলি এবং এটি স্পষ্ট (بين), এতে কোনো সংশয় নেই। ৪ তিনি বলেন, আমি তাঁকে (মালিককে) আরও জিজ্ঞাসা করতে শুনেছি এমন দাসের ব্যাপারে যা দুই ব্যক্তির মাঝে অংশীদারিত্বে আছে এবং তাদের একজন তার অংশকে মুদাব্বার (تدبير) ঘোষণা করেছে। এমতাবস্থায় যে ব্যক্তি মুদাব্বার ৫ করেনি সে বলে, "আমি তোমার সাথে মূল্য নির্ধারণ (تقويم) করতে চাই না, বরং আমি তার অর্ধেক অংশকে তোমার অনুকূলে মুদাব্বার (مدبر) হিসেবেই বহাল রাখছি।" তখন তিনি বললেন: তারা মূল্য নির্ধারণ (تقويم) না করা পর্যন্ত এটি সঠিক নয়। তিনি বলেন, আমি তাঁকে আরও বলতে শুনেছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা লি-ইবনি জারীর
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
سئل عن عبد بين رجلين قد دبراه جميعا ثم إن أحدهما أعتقه بتلا فاطرق فيها ثم قال أرى أن يقوم عليه فيعتق عليه كله ولا ينتظر به أن يموت سيده الذي دبره لأن أصل هذا التدبير ليس بحسن أن يدبر الرجلان جميعا عبدا بينهما.
وقال الأوزاعي وسئل عن رجلين دبرا جارية بينهما فمات أحدهما قال تقوم قيمة عدل ويترك لها النصف وتسعى في نصف النصف وذلك الربع "حدثني بذلك العباس عن أبيه عنه".
1وقال الشافعي إذا كان العبد بين الرجلين2 فدبره أحدهما فنصيبه مدبر3 وللآخر بيع نصيبه لأن التدبير عندي وصية ولا قيمة عليه لشريكه4 ولو مات فعتق نصفه لم يكن عليه قيمة لأنه وصية "حدثنا بذلك عنه الربيع".
وقال أبو حنيفة إذا كانت الأمة بين رجلين فدبرها أحدهما فإن الآخر بالخيار إن شاء دبر وإن شاء أعتق وإن شاء استسعى الأمة في نصف قيمتها وإن شاء ضمن صاحبة إن كان موسرا فإن أعتق البتة وهو موسر فإنه يضمن لشريكه نصف الخدمة إن شاء ذلك الشريك وإن شاء الشريك استسعى الخادم في ذلك والولاء بينهما وإذا دبرها أحدهما فأختار الآخر أن يضمن صاحبه المدبر وهو موسر فله ذلك وتكون الجارية نصفها مدبرا
--------------------------------------------
দুই ব্যক্তির মালিকানাধীন জনৈক ক্রীতদাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যাদের উভয়েই তাকে মুদাব্বার (تدبير) ঘোষণা করেছিল। অতঃপর তাদের একজন তাকে চূড়ান্তভাবে মুক্ত (أعتقه بتلا) করে দিল। তিনি (ইমাম) কিছুক্ষণ নীরব থাকলেন, তারপর বললেন: আমার অভিমত হলো যে, তার মূল্য নির্ধারণ করা হবে এবং তার পক্ষ থেকে পূর্ণ মুক্তি কার্যকর হবে। তার সেই মনিবের মৃত্যুর অপেক্ষা করা হবে না যে তাকে মুদাব্বার (تدبير) করেছিল। কারণ, এই তদবীর (تدبير)-এর মূল ভিত্তিটিই সুন্দর নয় যে, দুই ব্যক্তি মিলে তাদের মালিকানাধীন কোনো ক্রীতদাসকে মুদাব্বার (تدبير) ঘোষণা করবে।
আল-আওযায়ী বলেছেন এবং তাকে এমন দুই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যারা তাদের মালিকানাধীন এক দাসীকে মুদাব্বারা (دبرا) ঘোষণা করেছিল, অতঃপর তাদের একজন মারা গেল। তিনি বললেন: দাসীটির একটি ন্যায্য মূল্য (قيمة عدل) নির্ধারণ করা হবে এবং তার জন্য অর্ধেক ছেড়ে দেওয়া হবে। আর সে অর্ধেকের অর্ধেক তথা এক-চতুর্থাংশ পরিশোধের জন্য উপার্জনের চেষ্টা (تسعى) করবে। "আব্বাস তাঁর পিতার সূত্রে এটি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন।"
ইমাম শাফেয়ী বলেন, যদি কোনো ক্রীতদাস দুই ব্যক্তির মালিকানায় থাকে এবং তাদের একজন তাকে মুদাব্বার (دبر) ঘোষণা করে, তবে তার অংশটি মুদাব্বার (مدبر) হিসেবে গণ্য হবে। আর অপর ব্যক্তির জন্য তার অংশটি বিক্রি করার অধিকার থাকবে। কারণ, আমার নিকট তদবীর (التدبير) হলো একটি অসিয়ত (وصية)। আর তার অংশীদারের জন্য কোনো ক্ষতিপূরণ (قيمة) প্রদান তার ওপর আবশ্যক হবে না। যদি সে (মনিব) মারা যায় এবং তার অর্ধেক অংশ মুক্ত হয়ে যায়, তবে তার ওপর কোনো ক্ষতিপূরণ আসবে না, কারণ এটি একটি অসিয়ত (وصية)। "আমাদের নিকট রবী এটি তাঁর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।"
আবু হানিফা বলেন, যখন কোনো দাসী দুই ব্যক্তির মালিকানায় থাকে এবং তাদের একজন তাকে মুদাব্বারা (دبرها) ঘোষণা করে, তখন অপরজনের এখতিয়ার (بالخيار) থাকবে। সে চাইলে নিজেও মুদাব্বারা (دبر) করতে পারে, চাইলে মুক্ত (أعتق) করে দিতে পারে, চাইলে দাসীটিকে তার মূল্যের অর্ধেক পরিশোধের জন্য উপার্জনের শ্রমে (استسعى) নিয়োজিত করতে পারে, আবার চাইলে তার অংশীদার যদি সচ্ছল (موسرا) হয় তবে তার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারে। যদি সে চূড়ান্তভাবে মুক্ত করে দেয় এবং সে সচ্ছল (موسر) হয়, তবে সে তার অংশীদারের জন্য অর্ধেক খেদমতের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করবে যদি সেই অংশীদার তা চায়। অথবা সেই অংশীদার চাইলে সেই দাসের মাধ্যমে তা উপার্জনের চেষ্টা করাবে। আর তাদের উভয়ের মধ্যে ওয়ালা (الولاء) বিদ্যমান থাকবে। যদি তাদের একজন তাকে মুদাব্বারা (دبرها) করে এবং অপরজন তার সেই মুদাব্বারকারী অংশীদারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পছন্দ করে এবং সে সচ্ছল (موسر) হয়, তবে তার জন্য সেই অধিকার থাকবে এবং দাসীটির অর্ধেক অংশ মুদাব্বারা (مدبرا) হিসেবে গণ্য হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইখতিলাফুল ফুকাহা লি-ইবনি জারীর
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
ونصفها رقيقا فإن شاء وطئها وإن شاء آجرها وليس له أن يبيعها ولا يهبها وإذا مات وله مال فإن نصفها يعتق بالتدبير وتسعى في نصف قيمتها فإن لم يكن له مال غيرها عتق ثلثها وسعت في ثلثي قيمتها.
وقال أبو يوسف ومحمد إذا كانت الأمة بين رجلين فدبرها أحدهما فهو ضامن لنصف قيمتها موسرا كان أو معسرا والجارية كلها مدبرة للذي دبرها وإن أعتقها الآخر فعتقه باطل وإن كان المولى الذي دبر معسرا سعت الأمة للشريك في نصف قيمتها والولاء للذي دبر.
والعلل على اختلافهم في هذه المسألة شبيهة بعللنا للمختلفين في العبد بين شريكين يعتق أحدهما حصته وقد ذكرنا ذلك في موضعه فأغنى عن إعادته في هذا المكان.
قال أبو جعفر والحق في ذلك عندي وبالله التوفيق أن التدبير في معاني الوصايا وقد أجمعوا أن للرجل أن يوصي ببعض عبده لمن جازت له الوصية فكذلك جائز له أن يوصي بنصفه له ويعتق نصفه مع خروج نفسه بلا فصل تدبيرا لا فرق بين ذلك وليس لشريكه عليه إذا فعل ذلك سبيل.
وأجمعت الحجة التي لا يجوز عليها السهو والخطأ أن تدبير الجارية الحامل من زوجها العبد جائز وأن سيدها إن دبرها وما في بطنها فجاءت بولد لأقل من ستة أشهر من يوم دبرها وما في بطنها أنهما جميعا مدبران.
এবং তার অর্ধেক দাস (رقيقا) হিসেবে থাকবে; তিনি চাইলে তার সাথে সহবাস করতে পারেন অথবা চাইলে তাকে ভাড়ায় নিয়োজিত করতে পারেন। তবে তার জন্য তাকে বিক্রি করা বা দান করা বৈধ নয়। যদি তিনি মৃত্যুবরণ করেন এবং তার সম্পদ থাকে, তবে তাদবির (تدبير) এর মাধ্যমে তার অর্ধেক মুক্ত (يعتق) হয়ে যাবে এবং সে তার মূল্যের অর্ধাংশের বিনিময়ে শ্রম দেবে। আর যদি তার নিকট উক্ত দাসী ব্যতীত অন্য কোনো সম্পদ না থাকে, তবে তার এক-তৃতীয়াংশ মুক্ত (عتق) হবে এবং সে তার মূল্যের দুই-তৃতীয়াংশের জন্য শ্রম দেবে।
আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ (রহ.) বলেন, যদি কোনো দাসী দুই ব্যক্তির মধ্যে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে থাকে এবং তাদের একজন তাকে তাদবির (دبرها) করে, তবে সে তার মূল্যের অর্ধেকের জন্য দায়বদ্ধ (ضامن) হবে, চাই সে সচ্ছল হোক বা অসচ্ছল। আর পুরো দাসীটিই সেই ব্যক্তির মুদাব্বারা (مدبرة) হিসেবে গণ্য হবে যে তাকে তাদবির করেছে। যদি অপর অংশীদার তাকে মুক্ত (أعتق) করে দেয়, তবে তার সেই মুক্তি প্রদান বাতিল (باطل) বলে গণ্য হবে। আর যদি তাদবিরকারী মালিক অসচ্ছল হয়, তবে দাসীটি অপর অংশীদারের জন্য তার মূল্যের অর্ধেকের বিনিময়ে শ্রম দেবে এবং ওয়ালা (الولاء) এর অধিকার সেই ব্যক্তিরই থাকবে যে তাকে তাদবির করেছে।
এই মাসআলায় তাদের মতপার্থক্যের কারণসমূহ (العلল) আমাদের সেই কারণগুলোর (عللنا) মতোই যা দুই অংশীদারের মালিকানাধীন দাসের ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে, যখন তাদের একজন তার অংশ (حصته) মুক্ত করে দেয়। আমরা বিষয়টি তার যথাযোগ্য স্থানে উল্লেখ করেছি, যা এই স্থানে তার পুনরাবৃত্তির প্রয়োজনীয়তা দূর করে দিয়েছে।
আবু জাফর (রহ.) বলেন, এই বিষয়ে আমার নিকট সঠিক সিদ্ধান্ত হলো—এবং আল্লাহর তাওফিকেই সাফল্য লাভ হয়—তাদবির (التدبير) মূলত অসিয়তের (الوصايا) পর্যায়ভুক্ত। ওলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন (أجمعوا) যে, যার অনুকূলে অসিয়ত (الوصية) করা বৈধ, কোনো ব্যক্তি তার জন্য তার দাসের কিছু অংশের অসিয়ত করতে পারে। তদ্রূপ তার জন্য দাসের অর্ধাংশের অসিয়ত করাও বৈধ এবং তার মৃত্যুর সাথে সাথে কোনো ব্যবধান ছাড়াই তাদবির (تدبيرا) হিসেবে তার অর্ধেক মুক্ত (يعتق) হয়ে যাবে; এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সে যদি এরূপ করে তবে তার অংশীদারের জন্য তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি পথ বা দাবি থাকবে না।
আর এমন অকাট্য দলিল (الحجة), যার ক্ষেত্রে ভুল বা বিস্মৃতি ঘটা অসম্ভব, এই বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে (أجمعت) যে, দাস স্বামীর মাধ্যমে গর্ভবতী হওয়া দাসীর ক্ষেত্রে তাদবির (تدبير) করা বৈধ (جائز)। মনিব যদি তাকে এবং তার গর্ভস্থ সন্তানকে তাদবির করে এবং তাদবির করার দিন থেকে ছয় মাসের কম সময়ের মধ্যে সে সন্তান প্রসব করে, তবে তারা উভয়ই মুদাব্বার (مدبران) হিসেবে গণ্য হবে।