(খণ্ড: ১) ইখতিলাফু আকওয়ালিন নুক্কাদ ফির রুওয়াতিল মুখতালাফি ফীহিম মাআ দিরাসাত হাজিহিজ জাহিরতি ইনদা ইবনি মাঈন (পৃষ্ঠা: -)
اختلاف أقوال النقاد في الرواة المختلف فيهم مع دراسة هذه الظاهره عند ابن معين   (سعدي بن مهدي الهاشمي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: اختلاف أقوال النقاد في الرواة المختلف فيهم مع دراسة هذه الظاهره عند ابن معين

المؤلف: سعدي بن مهدي الهاشمي

الناشر: مجمع الملك فهد لطباعة المصحف الشريف

عدد الصفحات: 78

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মতভেদপূর্ণ বর্ণনাকারীদের (الرواة) সম্পর্কে সমালোচকদের (النقاد) বক্তব্যের ভিন্নতা এবং ইবনে মায়ীন-এর নিকট এই প্রপঞ্চের একটি গবেষণা   (সাদী বিন মাহদী আল-হাশেমী)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)


গ্রন্থ: মতভেদপূর্ণ বর্ণনাকারীদের (الرواة) সম্পর্কে সমালোচকদের (النقاد) বক্তব্যের ভিন্নতা এবং ইবনে মায়ীন-এর নিকট এই প্রপঞ্চের একটি গবেষণা

লেখক: সাদী বিন মাহদী আল-হাশেমী

প্রকাশক: কিং ফাহাদ কমপ্লেক্স ফর প্রিন্টিং অফ দ্য হোলি কুরআন

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১ হিজরি

(খণ্ড: ১) ইখতিলাফু আকওয়ালিন নুক্কাদ ফির রুওয়াতিল মুখতালাফি ফীহিম মাআ দিরাসাত হাজিহিজ জাহিরতি ইনদা ইবনি মাঈন (পৃষ্ঠা: ১)
ال‌‌مقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستهديه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا، وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله صلى الله عليه وسلم. أما بعد:

فإن القارئ والدارس لأقوال النقاد في كتب الجرح والتعديل - الرجال - يلاحظ ظاهرة واضحة تكاد تشمل معظم الأئمة المكثرين في نقد الرجال، ألا وهي تعدد أقوالهم المختلفة في الراوي الواحد. وقد حاول العلماء والحفاظ من المحدثين وغيرهم كالأصوليين، معالجتها ودراستها فيما اصطلحوا عليه بـ (تعارض الجرح والتعديل) وذلك لصلتها الوثيقة، بل هي الأساس المعتمد عليه في الحكم على الرواة الذين يُؤَثِّر اجتهاد الناقد فيهم في الحكم على الأحاديث. واختلافهم هذا كاختلاف الفقهاء في الحكم على القضايا الفقهية وتعددها. قال الإمام الترمذي (ت297هـ) : "وقد اختلف الأئمة من أهل العلم في تضعيف الرجال كما اختلفوا في سوى ذلك من العلم" (1) .

وذكر شيخ الإسلام ابن تيمية (ت728هـ) نحو هذا القول

فقال: "وللعلماء بالرجال وأحوالهم في ذلك من الإجماع والاختلاف مثل ما لغيرهم من سائر أهل العلم في علومهم" (2) .

وقد صنف العلماء أئمة النقد؛ الرواة. إلى ثلاثة أقسام:

1- الرواة المتفق على تعديلهم وصحت أحاديثهم.

--------------------------------------------

(1) العلل الصغير 5/756 الملحق مع الجامع.

(2) رفع الملام عن الأئمة الأعلام ص7.
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁর নিকট হেদায়েত চাই এবং তাঁর কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল। অতঃপর:

নিশ্চয়ই জরাহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) —বর্ণনাকারীগণের (الرجال) অবস্থা সংক্রান্ত— গ্রন্থাবলিতে সমালোচকগণের (النقاد) উক্তিগুলো পাঠকারী ও শিক্ষার্থী একটি সুস্পষ্ট প্রবণতা লক্ষ্য করেন যা বর্ণনাকারীদের সমালোচনায় পারদর্শী অধিকাংশ ইমামদের ক্ষেত্রেই প্রায় পরিলক্ষিত হয়; আর তা হলো একজন একক বর্ণনাকারীর (الراوي) বিষয়ে তাঁদের বিভিন্ন ধরনের মতামতের আধিক্য। উলামায়ে কেরাম, হাফেজগণ (الحفاظ), মুহাদ্দিসগণ (المحدثين) এবং উসুলবিদগণের (الأصوليين) মতো অন্যান্য বিশেষজ্ঞগণ এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও গবেষণা করেছেন, যা তাঁদের পরিভাষায় ‘জরাহ ও তাদিলের পরস্পরবিরোধিতা’ (تعارض الجرح والتعديل) নামে পরিচিত। এটি এই বিষয়ের সাথে গভীর সংশ্লিষ্টতার কারণে, বরং এটিই হলো সেই সকল বর্ণনাকারীর (الرواة) বিষয়ে হুকুম প্রদানের মূল ভিত্তি, যাদের ক্ষেত্রে সমালোচকের (الناقد) ইজতিহাদ (اجتهاد) হাদিসের ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। তাঁদের এই মতভেদ হলো ফিকহি মাসয়ালাসমূহের হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে ফকিহগণের (الفقهاء) মতভেদ ও তার বৈচিত্র্যের অনুরূপ। ইমাম তিরমিজি (মৃত্যু: ২৯৭ হি.) বলেন: "ইলমের অন্যান্য বিষয়ের মতো বর্ণনাকারীদের দুর্বল সাব্যস্তকরণের (تضعيف) ক্ষেত্রেও আহলে ইলম ইমামগণ মতভেদ করেছেন" (১)।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (মৃত্যু: ৭২৮ হি.) এই ধরনের উক্তি উল্লেখ করে বলেন:

"বর্ণনাকারী ও তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে বিজ্ঞ আলেমদের এই ক্ষেত্রে যে ঐক্যমত (الإجماع) ও মতভেদ (الاختلاف) রয়েছে, তা অন্যান্য ইলমের পারদর্শী আলেমদের নিজ নিজ ইলমের ক্ষেত্রে বিদ্যমান মতভেদ বা ঐক্যেরই অনুরূপ" (২)।

উলামায়ে কেরাম এবং সমালোচক ইমামগণ (أئمة النقد) বর্ণনাকারীদের (الرواة) তিনটি শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন:

১- ঐ সকল বর্ণনাকারী যাদের নির্ভরযোগ্য সাব্যস্তকরণের (تعديل) ব্যাপারে সকলে একমত এবং যাদের বর্ণিত হাদিসসমূহ সহিহ।

--------------------------------------------

(১) আল-ইলাল আস-সগির ৫/৭৫৬, আল-জামি-এর পরিশিষ্ট।

(২) রাফউল মালাম আনিল আইম্মাতিল আলাম, পৃ: ৭।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফু আকওয়ালিন নুক্কাদ ফির রুওয়াতিল মুখতালাফি ফীহিম মাআ দিরাসাত হাজিহিজ জাহিরতি ইনদা ইবনি মাঈন (পৃষ্ঠা: ২)
2- والضعفاء والمتروكين الذين سقط الاستدلال بمروياتهم.

3- والرواة المختلف فيهم، الذين تعددت أقوال النقاد في بيان أحوالهم، وترددوا في البتِّ، فيهم سواء مَنْ تشدد من الأئمة في توثيقه وتجريحه، ومن تساهل أو اعتدل منهم.

وتأتي أقوالهم في التوثيق أو التجريح تارة واضحة المعنى محددة الدلالة، وقد تتعدد وتتكرر ولكنها تدل على تعديل الراوي وتوثيقه أو توهينه بل تجريحه مثل قولهم: (لا بأس به) ، (صدوق) ، (صالح الحديث) ، و (ثقة متقن) ، (ثبت حجة) ، (ثقة ثقة) ، و (ليس بحجة) ، (ليس بذاك) ،

(يعرف وينكر) ، و (متروك) ، (ليس بثقة) ، أو ترد الألفاظ عن الناقد نفسه، ومجموعة في لفظ واحد، التعديل والتجريح، وهذا يدل على ورعهم وخوفهم من قدحهم في راو ليس كما يبدو له، فيتردد في أمره، فيذكر التعديل والتوهين، أو لبيان حاله، والتفصيل في شأنه من خلال تلك العبارة أو اللفظة التي تبدو للناظر متناقضة. ولو ترجح عندهم التجريح بقرينة أخرى لحكموا بجرحهم، وكذلك لو ترجَّح عندهم التوثيق على ضوء قرائن التعديل لعدَّلوهم، وورود مثل هذه الألفاظ على القلة والندرة وهذه بعض النماذج:

1- قال يعقوب بن شيبة (ت262هـ) في عبد الرحمن بن زياد بن أنعم (1) : "ضعيف الحديث، وهو ثقة صدوق، رجل صالح"، وقال فيه ابن معين (ت234هـ) : "ليس به بأس وهو ضعيف ".

2- وقال يعقوب أيضاً في الربيع بن صبيح (2) : "رجل صالح، صدوق ثقة، ضعيف جداً".

--------------------------------------------

(1) ضعيف في حفظه (بخ د ت ق) ، (ت156?) .

(2) صدوق سيئ الحفظ وكان عابداً مجاهداً (خت ت ق) (ت 160?) ، التقريب رقم (1895) .
২- এবং দুর্বল (ضعفاء) ও বর্জনীয় (متروكين) বর্ণনাকারীগণ, যাদের বর্ণিত হাদিসের মাধ্যমে দলিল পেশ করার যোগ্যতা রহিত হয়েছে।

৩- আর সেইসব বর্ণনাকারী যাদের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে, যাদের অবস্থা বর্ণনায় সমালোচকদের (نقاد) নানাবিধ বক্তব্য পাওয়া যায় এবং যাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাঁরা দ্বিধাগ্রস্ত হয়েছেন। চাই সেই ইমামগণের মধ্য থেকে কেউ তাদের নির্ভরযোগ্য সাব্যস্তকরণ (توثيق) এবং ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্তকরণে (تجريح) কঠোরতা অবলম্বন করে থাকুন, কিংবা তাঁদের মধ্যে কেউ শিথিলতা বা ভারসাম্য বজায় রেখে থাকুন।

নির্ভরযোগ্য সাব্যস্তকরণ (توثيق) বা ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্তকরণ (تجريح) বিষয়ে তাঁদের বক্তব্যসমূহ কখনো স্পষ্ট অর্থবোধক ও নির্দিষ্ট তাৎপর্যমণ্ডিত হয়ে থাকে। আবার কখনো বক্তব্যগুলো একাধিক ও বারবার উল্লিখিত হতে পারে, তবে সেগুলো বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্তকরণ (تعديل) ও নির্ভরযোগ্য সাব্যস্তকরণ (توثيق) অথবা তাঁকে দুর্বল সাব্যস্তকরণ (توهين) এমনকি ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্তকরণের (تجريح) প্রতি নির্দেশ করে। যেমন তাঁদের উক্তি: ‘তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই’ (لا بأس به), ‘সত্যবাদী’ (صدوق), ‘হাদিসের ক্ষেত্রে নেককার’ (صالح الحديث), ‘নির্ভরযোগ্য সুনিপুণ’ (ثقة متقن), ‘সুদৃঢ় দলিল’ (ثبت حجة), ‘অতি নির্ভরযোগ্য’ (ثقة ثقة), ‘দলিলযোগ্য নন’ (ليس بحجة), ‘তেমন (উন্নত মানের) নন’ (ليس بذاك),

‘পরিচিত ও অপরিচিত উভয়ই বর্ণনা করেন’ (يعرف وينكر), ‘বর্জনীয়’ (متروك), ‘নির্ভরযোগ্য নন’ (ليس بثقة)। অথবা কখনো কখনো একই সমালোচকের পক্ষ থেকে একই বর্ণনাকারীর ব্যাপারে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্তকরণ (تعديل) এবং ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্তকরণ (تجريح) উভয়ই একটি শব্দসমষ্টির মধ্যে বর্ণিত হয়। এটি তাঁদের খোদাভীতি ও বর্ণনাকারীর ওপর এমন কোনো দোষারোপ করার ভয়ের প্রমাণ বহন করে যা বাস্তবে তাঁর মধ্যে নেই। ফলে তাঁর বিষয়ে সমালোচক দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্তকরণ (تعديل) ও দুর্বল সাব্যস্তকরণ (توهين) উভয়ই উল্লেখ করতেন। অথবা তাঁর প্রকৃত অবস্থা বর্ণনা এবং সেই বাক্য বা শব্দের মাধ্যমে তাঁর বিস্তারিত অবস্থা তুলে ধরার জন্য এমন করতেন যা দর্শকের কাছে আপাতবিরোধী মনে হতে পারে। যদি অন্য কোনো প্রমাণের ভিত্তিতে তাঁদের কাছে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্তকরণ (تجريح) প্রাধান্য পেত, তবে তাঁরা সে অনুযায়ী ফয়সালা দিতেন। একইভাবে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্তকরণের (تعديل) বিভিন্ন প্রমাণের আলোকে যদি নির্ভরযোগ্য সাব্যস্তকরণ (توثيق) প্রাধান্য পেত, তবে তাঁরা তাঁকে নির্ভরযোগ্য ঘোষণা করতেন। এই ধরনের শব্দের ব্যবহার অত্যন্ত বিরল। নিচে এর কিছু দৃষ্টান্ত দেওয়া হলো:

১- ইয়াকুব বিন শাইবাহ (মৃত্যু ২৬২ হি.) আব্দুর রহমান বিন যিয়াদ বিন আনআম সম্পর্কে বলেন: “তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে দুর্বল (ضعيف الحديث), অথচ তিনি নির্ভরযোগ্য সত্যবাদী (ثقة صدوق) ও নেককার ব্যক্তি (رجل صالح)।” তাঁর সম্পর্কে ইবনে মাঈন (মৃত্যু ২৩৪ হি.) বলেন: “তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই (ليس به بأس) অথচ তিনি দুর্বল (ضعيف)।”

২- ইয়াকুব রবী বিন সাবিহ সম্পর্কে আরও বলেন: “তিনি নেককার ব্যক্তি (رجل صالح), সত্যবাদী নির্ভরযোগ্য (صدوق ثقة), আবার অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جداً)।”

--------------------------------------------

(১) তিনি তাঁর স্মৃতিরক্ষায় দুর্বল (ضعيف), (بخ د ت ق), (মৃত্যু ১৫৬?)।

(২) সত্যবাদী (صدوق) কিন্তু মন্দ স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (سيئ الحفظ), তিনি আবেদ ও মুজাহিদ ছিলেন (خت ت ق) (মৃত্যু ১৬০?), তাকরিবুল তাহযিব নং (১৮৯৫)।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফু আকওয়ালিন নুক্কাদ ফির রুওয়াতিল মুখতালাফি ফীহিম মাআ দিরাসাত হাজিহিজ জাহিরতি ইনদা ইবনি মাঈন (পৃষ্ঠা: ৩)
3- وقال يعقوب بن سفيان (ت277هـ) في محمد بن عبد الرحمن بن أبي ليلى الأنصاري (1) : "ثقة عدل، في حديثه بعض المقال، لَيِّن الحديث عندهم".

4- وقال أبو حاتم الرازي (ت 277هـ) في محمد بن الحسن بن زبالة (2) : "واهي الحديث، ضعيف الحديث، ذاهب الحديث، منكر الحديث، عنده مناكير، وليس بمتروك الحديث".

5- وقال أبو زرعة الرازي (ت 264هـ) في عمر بن عطاء بن وراز (3) : "ثقة لَيِّن ".

وقد تَرِد الأقوال متعددة ومختلفة لناقد واحد في الراوي نفسه، فينصُّ على توثيقه مرة، وتجريحه مرة أخرى، وقد سوَّغ العلماء ذلك الاختلاف بأن يكون ذلك الراوي عنده ثقة ثم يظهر منه ما يسوِّغ له تجريحه، كأن يحدِّث بحديث ضعيف ثبت عند الناقد ضعف طرقه، أو يعتمد على تجريح أحد أئمة النقد السابقين له، ويعول على تجريحه، أو يطرأ عليه طارئ من اختلاط أو عمى أو غير ذلك فيختل ضبطه ويضعف حفظه، فيجرِّحه، أو عكس ذلك يكون ضعيفاً في بداية أمره، ثم يقوى ويتنبه لمروياته وانتقاده للأحاديث الصحيحة منها، ويختار الرواة الثقات. وبناء على ذلك تتغير صورته عند الناقد الذي سبق تجريحه فيوثقه، وقد تناول الأئمة والحفاظ هذه القضية

- وهي "إذا اجتمع في شخص واحد جرح وتعديل" - في كتبهم، وما صنفه

--------------------------------------------

(1) صدوق سيئ الحفظ جداً (4) (ت148?) ، التقريب رقم (6081) .

(2) كذبوه (د) التقريب، رقم (5815) .

(3) ضعيف (د ق) من السادسة، التقريب رقم (4949) .
৩- এবং ইয়াকুব বিন সুফিয়ান (মৃত ২৭৭ হি.) মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন আবি লায়লা আল-আনসারি (১) সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও ন্যায়পরায়ণ (عدل), তাঁর বর্ণিত হাদিস সম্পর্কে কিছু কথা আছে, তাঁদের নিকট তিনি হাদিসে শিথিল (لَيِّن الحديث)।"

৪- এবং আবু হাতিম আর-রাজি (মৃত ২৭৭ হি.) মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন জাবালা (২) সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত দুর্বল (واهي الحديث), হাদিসে দুর্বল (ضعيف الحديث), হাদিসে অন্তঃসারশূন্য (ذاهب الحديث), হাদিসের ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যাত (منكر الحديث), তাঁর নিকট কিছু আপত্তিকর হাদিস (مناكير) রয়েছে, তবে তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে বর্জিত (ليس بمتروك الحديث) নন।"

৫- এবং আবু জুরআহ আর-রাজি (মৃত ২৬৪ হি.) উমর বিন আতা বিন ওয়ারায (৩) সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) তবে শিথিল (لَيِّن)।"

একই বর্ণনাকারী সম্পর্কে একজন সমালোচকের নিকট থেকে একাধিক ও ভিন্ন ভিন্ন উক্তি পাওয়া যেতে পারে। তিনি কখনও তার নির্ভরযোগ্যতা (توثيق) ঘোষণা করেন, আবার কখনও তাকে দোষারোপ (تجريح) করেন। উলামায়ে কেরাম এই মতপার্থক্যকে এভাবে যুক্তিযুক্ত বলেছেন যে, বর্ণনাকারী সমালোচকের নিকট নির্ভরযোগ্য (ثقة) ছিলেন, অতঃপর তার নিকট থেকে এমন কিছু প্রকাশ পায় যা তাকে দোষারোপ (تجريح) করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়; যেমন এমন কোনো দুর্বল (ضعيف) হাদিস বর্ণনা করা যার সূত্রের দুর্বলতা সমালোচকের নিকট প্রমাণিত হয়েছে, অথবা তার পূর্ববর্তী কোনো ইমামের করা দোষারোপের (تجريح) ওপর নির্ভর করা এবং সেই সমালোচনার ওপরই ভরসা করা। অথবা তার মাঝে মানসিক বিভ্রান্তি (اختلاط), অন্ধত্ব বা অন্য কোনো আকস্মিক পরিবর্তন ঘটে যার ফলে তার নির্ভুলতা (ضبط) বিঘ্নিত হয় এবং মুখস্থ করার ক্ষমতা (حفظ) দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে তিনি তাকে দোষারোপ (تجريح) করেন। এর বিপরীত চিত্রও হতে পারে; অর্থাৎ শুরুতে তিনি দুর্বল (ضعيف) ছিলেন, পরবর্তীতে তিনি শক্তিশালী হন এবং নিজ বর্ণিত হাদিসগুলোর ব্যাপারে সচেতন হন এবং সহিহ হাদিসসমূহ যাচাই-বাছাই করেন ও নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারীদের নির্বাচন করেন। এর ভিত্তিতে ওই সমালোচকের নিকট তার ভাবমূর্তি পরিবর্তিত হয়ে যায়, যিনি আগে তাকে দোষারোপ করেছিলেন, তিনি পরে তাকে নির্ভরযোগ্যতা (توثيق) প্রদান করেন। ইমামগণ এবং হাফেজগণ (حفاظ) এই বিষয়টি নিয়ে—অর্থাৎ "যখন একই ব্যক্তির মধ্যে দোষারোপ ও প্রশংসা (جرح وتعديل) একত্রিত হয়"—তাঁদের কিতাবসমূহে আলোচনা করেছেন এবং যা তাঁরা রচনা করেছেন...

--------------------------------------------

(১) সত্যবাদী (صدوق) তবে স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত দুর্বল (سيئ الحفظ جداً) (মৃত ১৪৮?), আত-তাকরিব নং (৬০৮১)।

(২) তাঁরা তাকে মিথ্যাবাদী বলেছেন (كذبوه), (আবু দাউদ), আত-তাকরিব নং (৫৮১৫)।

(৩) দুর্বল (ضعيف), (আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ), ষষ্ঠ স্তরের, আত-তাকরিব নং (৪৯৪৯)।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফু আকওয়ালিন নুক্কাদ ফির রুওয়াতিল মুখতালাফি ফীহিম মাআ দিরাসাত হাজিহিজ জাহিরতি ইনদা ইবনি মাঈন (পৃষ্ঠা: ৪)
العديد منهم في كتب "مصطلح الحديث"، واختلفت أقوالهم وتعددت شروطهم؛ وخلاصة ذلك خمسة أقوال، يحتاج لعرضها مبحث خاص (1) .

وقد يزداد الأمر تعقيداً فتكثر الأقوال، وتزيد على القولين المتضادين، وهذه الظاهرة واضحة جلية عند يحيى بن معين الذي شمل نقده بالجرح أو التعديل سائر الرواة تقريباً، وتعددت مجالس نقده، وتكاثر رواة مادتها في الجرح والتعديل عنه.

ولأجل معالجة هذه الظاهرة عند ابن معين، خصصت هذا البحث؛ لدراستها ومحاولة الخروج بنتائج يستفيد منها الباحث عن الحكم في الرواة المختلف فيهم.

هذا وقد جعلت البحث في مقدمة وستة مباحث، تناولت في المبحث الأوّل: المصنفات المتعلقة بالموضوع.

وفي المبحث الثاني: نماذج من أقوال بعض النقاد المختلفة في الرّاوي الواحد.

وفي المبحث الثالث: نموذج لأحد الرّواة الّذين اختلفت أقوال النقاد فيهم.

وفي المبحث الرابع: التعريف بابن معين مع دراسة أقواله المختلفة في محمد بن إسحاق نموذجاً.

وفي المبحث الخامس: مواقف بعض الحفاظ من أقوال ابن معين المختلفة.

وفي المبحث السادس: بيان الخطوات المتبعة في الجمع والتوفيق بين أقوال ابن معين المختلفة في الرّواة.

وبالله التوفيق.

--------------------------------------------

(1) وانظر مقدمة ابن الصلاح ص224، والكفاية 1/333، الاقتراح ص337، الخلاصة ص89، شرح ألفية العراقي ص151، نكت الزركشي 3/355، النكت الوفية (ل/1202) ، فتح المغيث 1/306، تدريب الراوي 1/309، توضيح الأفكار 2/158، المغيث 1/306.
তাদের মধ্যে অনেকেই "হাদিসের পরিভাষা" (مصطلح الحديث) বিষয়ক গ্রন্থসমূহে এটি আলোচনা করেছেন; এ বিষয়ে তাদের মতামত ভিন্ন ভিন্ন এবং শর্তাবলিও বহুবিধ। এর সারসংক্ষেপ হলো পাঁচটি মত, যা উপস্থাপনের জন্য একটি বিশেষ পরিচ্ছেদ প্রয়োজন (১)।

বিষয়টি কখনো আরও জটিল হয়ে পড়ে যখন মতামতের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং তা পরস্পরবিরোধী দুটি মতের অধিক হয়ে দাঁড়ায়। এই বিষয়টি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুস্পষ্ট, যার সমালোচনা অর্থাৎ জারহ (جرح) বা তাদিল (تعديل) প্রায় সমস্ত বর্ণনাকারীর (رواة) ক্ষেত্রে ব্যাপ্ত; তার সমালোচনামূলক মজলিসগুলো ছিল বহুসংখ্যক এবং তার নিকট থেকে জারহ (جرح) ও তাদিল (تعديل) বিষয়ক উপাত্তের বর্ণনাকারীদের (رواة) সংখ্যাও অনেক।

ইবনে মাঈনের ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত এই বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য আমি এই গবেষণাটি নির্ধারিত করেছি; যাতে বিষয়টি নিয়ে অধ্যয়ন করা যায় এবং এমন কিছু ফলাফল বের করা সম্ভব হয় যা থেকে কোনো বিতর্কিত বর্ণনাকারীর (رواة) ব্যাপারে হুকুম (حكم) বা সিদ্ধান্ত অন্বেষণকারী গবেষক উপকৃত হতে পারেন।

আমি এই গবেষণাকে একটি ভূমিকা এবং ছয়টি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি। প্রথম পরিচ্ছেদে আমি এই বিষয় সংশ্লিষ্ট গ্রন্থাবলি নিয়ে আলোচনা করেছি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে: একজন বর্ণনাকারীর (راو) ক্ষেত্রে কয়েকজন সমালোচকের (نقاد) ভিন্ন ভিন্ন মতামতের কিছু নমুনা তুলে ধরেছি।

তৃতীয় পরিচ্ছেদে: এমন একজন বর্ণনাকারীর (راو) উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, যার ব্যাপারে সমালোচকদের (نقاد) মতামত ভিন্ন ভিন্ন।

চতুর্থ পরিচ্ছেদে: ইবনে মাঈনের পরিচয় এবং নমুনা হিসেবে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের ব্যাপারে তার ভিন্ন ভিন্ন মতামত নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে।

পঞ্চম পরিচ্ছেদে: ইবনে মাঈনের ভিন্ন ভিন্ন মতামতের ক্ষেত্রে কয়েকজন হাফেজ (حفاظ) বা হাদিস বিশারদদের অবস্থান আলোচনা করা হয়েছে।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে: বর্ণনাকারীদের (رواة) ব্যাপারে ইবনে মাঈনের ভিন্ন ভিন্ন মতামতের মধ্যে সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে অনুসৃত পদক্ষেপসমূহ বর্ণনা করা হয়েছে।

আল্লাহর কাছেই সাফল্য লাভের তাওফিক কামনা করছি।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: মুকাদ্দিমা ইবনুস সালাহ পৃষ্ঠা ২২৪, আল-কিফায়া ১/৩৩৩, আল-ইকতিরাহ পৃষ্ঠা ৩৩৭, আল-খুলাসাহ পৃষ্ঠা ৮৯, শারহু আলফিয়াতিল ইরাকি পৃষ্ঠা ১৫১, নুকাতুজ যারকাশি ৩/৩৫৫, আন-নুকাতুল ওয়াফিয়্যাহ (ল/১২০২), ফাতহুল মুগিস ১/৩০৬, তাদরিবুর রাবি ১/৩০৯, তাওদিহুল আফকার ২/১৫৮, আল-মুগিস ১/৩০৬।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফু আকওয়ালিন নুক্কাদ ফির রুওয়াতিল মুখতালাফি ফীহিম মাআ দিরাসাত হাজিহিজ জাহিরতি ইনদা ইবনি মাঈন (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المبحث الأول: مصنفات في الرواة المختلف فيهم.

لقد عالج علماء الحديث كثيراً من المعضلات التي تعترضهم في بحثهم عن الرواة، ومنها الرواة المختلف فيهم؛ لأنه يتوقف على معرفتهم الحكم على الأحاديث، لذا حاول بعضهم أن يجمعهم في مصنف أو أن يبين أسباب الاختلاف في الحكم عليهم، ولعل أقدم مصنف وصل إلينا من مصنفات الرواة المختلف فيهم هو كتاب أبي حفص عمر بن أحمد بن عثمان بن شاهين البغدادي (ت 385هـ) ، وهو:

1- (ذكر من اختلف العلماء ونقاد الحديث فيه، فمنهم من وثقه، ومنهم من ضعفه، ومن قيل فيه قولان) :

ولم يصل إلينا منه إلا قطعة واحدة، وهي محفوظة في مكتبة محمد بن يوسف بمدينة مراكش في المغرب

(1) .

2- (الفضَّل من النقلة) :

ذكر الإمام ابن حبان (ت 354هـ) في كتابه المجروحين (2) في ترجمة داود ابن الزبرقان كتابه (الفضل من النقلة) حيث قال: "وإنما نملي بعد هذا الكتاب كتاب (الفضل من النقلة) ونذكر فيه كل شيخ اختلف فيه أئمتنا ممن ضعفه ووثقه البعض، ونذكر السبب الداعي لهم إلى ذلك، ونحتجُّ لكل واحد، ونذكر الصواب فيه؛ لئلا نطلق على المسلم الجرح بغير علم ولا يقال فيه أكثر

--------------------------------------------

(1) حققه طارق عوض الله محمد عام 1410هـ القاهرة، ود. عبد الرحيم القشقري عام 1420هـ الرشد، وحققه الشيخ حماد الأنصاري، ونشره د. عبد الباري الأنصاري ط أضواء السلف 1419هـ.

(2) (1/292) .
প্রথম পরিচ্ছেদ: বিতর্কিত বর্ণনাকারীদের (الرواة المختلف فيهم) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ.

হাদিস বিশারদগণ বর্ণনাকারীদের গবেষণার ক্ষেত্রে তাদের সামনে আসা অনেক জটিল বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো সেসব বর্ণনাকারী যাদের সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে (الرواة المختلف فيهم); কারণ হাদিসের ওপর হুকুম প্রদান করা তাদের সম্পর্কে জানার ওপর নির্ভরশীল। তাই তাঁদের কেউ কেউ তাদেরকে একটি গ্রন্থে সংকলন করার চেষ্টা করেছেন অথবা তাদের সম্পর্কে হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে মতভেদের কারণসমূহ স্পষ্ট করার প্রয়াস পেয়েছেন। বর্ণনাকারী যাদের সম্পর্কে মতভেদ রয়েছে (الرواة المختلف فيهم) তাদের নিয়ে রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে সম্ভবত আমাদের কাছে পৌঁছানো প্রাচীনতম গ্রন্থটি হলো আবু হাফস ওমর ইবনে আহমাদ ইবনে উসমান ইবনে শাহীন আল-বাগদাদী (মৃত্যু ৩৮৫ হি.)-এর কিতাব, আর তা হলো:

১- (যাদের সম্পর্কে আলিমগণ এবং হাদিসের সমালোচকগণ মতভেদ করেছেন তাদের বিবরণ; যাদের কাউকে কেউ নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন, আবার কেউ দুর্বল (ضعفه) বলেছেন, এবং যাদের সম্পর্কে দুটি মত বর্ণিত হয়েছে):

আর এ গ্রন্থটির মাত্র একটি অংশ আমাদের কাছে পৌঁছেছে, যা মরক্কোর মারাক্কেশ শহরের মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে

(১) .

২- (আল-ফাদলু মিনান নাকলাহ):

ইমাম ইবনে হিব্বান (মৃত্যু ৩৫৪ হি.) তাঁর আল-মাজরুহীন কিতাবে দাউদ ইবনুয যাবরক্বানের জীবনীতে (ترجمة) তাঁর কিতাব ‘আল-ফাদলু মিনান নাকলাহ’-এর কথা উল্লেখ করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: "আমরা এই কিতাবটির পরে ‘আল-ফাদলু মিনান নাকলাহ’ কিতাবটি লিপিবদ্ধ করব এবং এতে এমন প্রত্যেক শায়খকে উল্লেখ করব যাদের সম্পর্কে আমাদের ইমামগণের মাঝে মতভেদ রয়েছে—যাদের কাউকে কেউ দুর্বল (ضعفه) বলেছেন এবং কেউ নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন। আমরা তাদের এমনটি বলার কারণও উল্লেখ করব, প্রত্যেকের স্বপক্ষে দলিল পেশ করব এবং সঠিক বিষয়টি বর্ণনা করব; যাতে কোনো মুসলিমের ওপর না জেনে জরাহ (الجرح) না করা হয় এবং তার সম্পর্কে অতিরিক্ত কিছু বলা না হয়

--------------------------------------------

(১) এটি তাহকিক করেছেন তারেক আওয়াদুল্লাহ মুহাম্মদ ১৪১০ হিজরিতে কায়রোতে, এবং ড. আবদুর রহিম আল-কাশকারী ১৪২০ হিজরিতে আর-রুশদ থেকে; আরও তাহকিক করেছেন শেখ হাম্মাদ আল-আনসারী এবং প্রকাশ করেছেন ড. আব্দুল বারী আল-আনসারী, আদওয়াউস সালাফ প্রকাশনী ১৪১৯ হিজরি।

(২) (১/২৯২) ।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফু আকওয়ালিন নুক্কাদ ফির রুওয়াতিল মুখতালাফি ফীহিম মাআ দিরাসাত হাজিহিজ জাহিরতি ইনদা ইবনি মাঈন (পৃষ্ঠা: ৬)
مما فيه إن قضى الله ذلك وشاءه". وكذلك ذكره في كتابه "الثقات" (1) وسمَّاه (الفصل بين النقلة) ، ولعل هذا هو الاسم الصحيح للكتاب والله أعلم.

ولقد حاول الدكتور مبارك الهاجري أن يجمع الرواة الذين ذكرهم ابن حبان في المجروحين وأعادهم في الثقات فكان مجموعهم (159) راوياً (2) ، واستدرك عليه بعض الباحثين (25) راوياً وذكرها على موقع ملتقى أهل الحديث في الشبكة العنكبوتية. وطريقة الدكتور الهاجري: أن يذكر ترجمة الراوي (المختلف فيه) من كتاب المجروحين ثم الثقات، وقد يخالف ذلك المنهج في بعض التراجم لأسباب خاصة (3) .

3- (الرواة المختلف فيهم) :

للحافظ عبد العظيم بن عبد القوي المنذري (ت 656هـ) ، ألحقه في آخر كتابه "الترغيب والترهيب"، واستغرق ذلك (15) صفحة (4) .

--------------------------------------------

(1) (6/27) .

(2) (الرواة الذين ترجم لهم ابن حبان في المجروحين وأعادهم في الثقات) للدكتور مبارك سيف الهاري ط1421هـ / 2000م.

(3) المصدر السابق ص 8.

(4) الترغيب والترهيب 4/567-581.
"এতে যা রয়েছে, যদি আল্লাহ তা ফয়সালা করেন এবং চান।" একইভাবে তিনি এটি তাঁর "আস-সিকাত" (১) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং এর নাম দিয়েছেন (আল-ফাসল বাইনাল নাকিলাহ), আর সম্ভবত এটিই কিতাবটির সঠিক নাম, আল্লাহই ভালো জানেন।

ড. মুবারক আল-হাজিরি সেইসব বর্ণনাকারীদের (الرواة) একত্রিত করার চেষ্টা করেছেন যাদের ইবনে হিব্বান "আল-মাজরুহীন" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং পুনরায় "আস-সিকাত" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, ফলে তাদের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে (১৫৯) জন বর্ণনাকারী (الرواة) (২)। কিছু গবেষক তাঁর ওপর আরও (২৫) জন বর্ণনাকারী (الرواة) সংযোজন করেছেন এবং তা ইন্টারনেটে 'মুলতাকা আহলিল হাদিস' সাইটে উল্লেখ করেছেন। ড. হাজিরির পদ্ধতি (المنهج) হলো: "আল-মাজরুহীন" এবং এরপর "আস-সিকাত" গ্রন্থ থেকে মতভেদপূর্ণ (المختلف فيه) বর্ণনাকারীর (الراوي) জীবনী (ترجمة) উল্লেখ করা; তবে বিশেষ কারণে কিছু জীবনীর (التراجم) ক্ষেত্রে তিনি এই পদ্ধতির (المنهج) ব্যতিক্রমও করতে পারেন (৩)।

৩- (মতভেদপূর্ণ বর্ণনাকারীগণ (الرواة المختلف فيهم)) :

হাফিজ (الحافظ) আবদুল আজিম বিন আবদুল কাবি আল-মুনজিরি (মৃত্যু ৬৫৬ হি.)-এর রচিত, যা তিনি তাঁর "আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব" গ্রন্থের শেষে সংযুক্ত করেছেন এবং এটি (১৫) পৃষ্ঠা (৪) ব্যাপী বিস্তৃত।

--------------------------------------------

(১) (৬/২৭)।

(২) (আর-রুওয়াতুল্লাজিনা তারজামা লাহুম ইবনু হিব্বান ফিল মাজরুহীন ওয়া আআদাহুম ফিস সিকাত) - ড. মুবারক সাইফ আল-হাজিরি, ১ম সংস্করণ ১৪২১ হি. / ২০০০ খ্রি.।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৮।

(৪) আত-তারগিব ওয়াত-তারহিব ৪/৫৬৭-৫৮১।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফু আকওয়ালিন নুক্কাদ ফির রুওয়াতিল মুখতালাফি ফীহিম মাআ দিরাসাত হাজিহিজ জাহিরতি ইনদা ইবনি মাঈন (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌المبحث الثاني: نماذج من اختلاف أقوال بعض النقاد في الراوي الواحد.

حفظت دواوين الرجال في الجرح والتعديل طائفة كبيرة من الرواة اختلفت فيهم أقوال العديد من أئمة النقد فتارة يعدلونهم، أو يوثقونهم، وتارة يجرحونهم، أو يضعفونهم، وذلك حسبما يقفون عليه من مرويات أولئك الرواة، ودراسة أحوالهم في الأداء، والاطلاع على أصولهم للتثبت من ضبطها، تلك الأمور وغيرها تجعل الناقد مضطراً إلى تغيير حكمه على الراوي، وقد يحكم عليه بنقيض الحكم الأول. وهذه نماذج لأقوال بعض النقاد المختلفة في الرواة أنفسهم:

أولاً: الإمام أحمد بن حنبل (ت 241هـ) :

1- إسماعيل بن زكريا بن مُرَّة الخُلقاني الأسدي مولاهم أبو زياد الكوفي نزيل بغداد ولقبه شَقُوصا (ت 194هـ) وقيل قبلها (1) :

- قال عنه في رواية عبد الله: "حديثه حديث مقارب" (2) .

- وقال عنه في رواية عبد الملك الميموني (ت 274هـ) : " أما الأحاديث المشهورة التي يرويها فهو فيها مقارب الحديث، صالح، ولكنه ليس ينشرح الصدر له، ليس يعرف هكذا يريد بالطلب" (3) .

- وقال عنه في رواية أحمد بن ثابت أبو يحيى: "ضعيف الحديث" (4) .

--------------------------------------------

(1) صدوق يخطئ قليلاً/ع، التقريب رقم (445) .

(2) العلل رقم (3273) ، الضعفاء للعقيلي (84) ، الجرح والتعديل لابن أبي حاتم 2/570، الكامل لابن عدي 1/311، وتهذيب الكمال 3/93، الميزان 1/228، بحر الدم ص70.

(3) سؤالات الميموني رقم (475) ، بحر الدم ص70.

(4) الكامل 1/311، إكمال التهذيب لمغلطاي 1/171، الميزان 1/228، تهذيب التهذيب 1/298.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: একজন বর্ণনাকারীর (راوٍ) ক্ষেত্রে কিছু সমালোচকের ভিন্নধর্মী মতামতের নমুনা.

জরাহ ও তাদীল (الجرح والتعديل) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ এমন একদল বর্ণনাকারীর (الرواة) বিবরণ সংরক্ষণ করেছে, যাদের ব্যাপারে সমালোচনা শাস্ত্রের বহু ইমামের বক্তব্যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। কখনও তাঁরা তাঁদের ন্যায়নিষ্ঠ (تعديل) বা নির্ভরযোগ্য (توثيق) সাব্যস্ত করেন, আবার কখনও তাঁদের সমালোচনা (جرح) করেন বা দুর্বল (تضعيف) আখ্যা দেন। এটি মূলত ঐ সকল বর্ণনাকারীর বর্ণিত হাদিসসমূহ যাচাই, তাঁদের হাদিস উপস্থাপনের পদ্ধতি পর্যবেক্ষণ এবং তাঁদের পাণ্ডুলিপিগুলোর সঠিকতা (ضبط) নিশ্চিত হওয়ার ওপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে। এই বিষয়গুলো এবং অন্যান্য কারণ একজন সমালোচককে কোনো বর্ণনাকারীর (راوٍ) ব্যাপারে তাঁর পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে বাধ্য করে, এমনকি কখনও তিনি পূর্বের সিদ্ধান্তের ঠিক বিপরীত সিদ্ধান্তও দিয়ে থাকেন। নিচে বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে কিছু সমালোচকের বিভিন্নধর্মী মতামতের নমুনা পেশ করা হলো:

প্রথমত: ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (মৃত্যু ২৪১ হি.):

১- ইসমাঈল বিন জাকারিয়া বিন মুররাহ আল-খুলকানি আল-আসাদি, তাঁদের মুক্তদাস, আবু যিয়াদ আল-কুফি, বাগদাদের অধিবাসী, তাঁর উপাধি ছিল শাকুসা (মৃত্যু ১৯৪ হি.), কারো মতে এর আগে (১):

- আব্দুল্লাহর বর্ণনায় তাঁর (ইমাম আহমদের) বক্তব্য: "তাঁর হাদিস গ্রহণযোগ্যতার কাছাকাছি (مقارب)" (২)।

- আব্দুল মালিক আল-মায়মুনি (মৃত্যু ২৭৪ হি.)-এর বর্ণনায় তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি যে সকল প্রসিদ্ধ হাদিস বর্ণনা করেন, সেগুলোর ক্ষেত্রে তিনি কাছাকাছি মানের (مقارب الحديث) এবং গ্রহণযোগ্য (صالح); তবে তাঁর ব্যাপারে মন সায় দেয় না। তিনি জ্ঞান অন্বেষণের এই পদ্ধতি সম্পর্কে এমনভাবে অবগত ছিলেন না" (৩)।

- আহমদ বিন সাবিত আবু ইয়াহইয়ার বর্ণনায় তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "হাদিসের ক্ষেত্রে তিনি দুর্বল (ضعيف الحديث)" (৪)।

--------------------------------------------

(১) সত্যবাদী (صدوق), সামান্য ভুল করেন (يخطئ) / 'আ', তাকরিব নং (৪৪৫)।

(২) আল-ইলাল নং (৩২৭৩), আদ-দুয়াফা লিল উকাইলি (৮৪), আল-জারহ ওয়াত তাদীল লি ইবনে আবি হাতিম ২/৫৭০, আল-কামিল লি ইবনে আদি ১/৩১১, তাহজিবুল কামাল ৩/৯৩, আল-মিজান ১/২২৮, বাহরুদ দাম পৃ. ৭০।

(৩) সুয়ালাতুল মায়মুনি নং (৪৭৫), বাহরুদ দাম পৃ. ৭০।

(৪) আল-কামিল ১/৩১১, ইকমালুত তাহজিব লি মুগলতাই ১/১৭১, আল-মিজান ১/২২৮, তাহজিবুত তাহজিব ১/২৯৮।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফু আকওয়ালিন নুক্কাদ ফির রুওয়াতিল মুখতালাফি ফীহিম মাআ দিরাসাত হাজিহিজ জাহিরতি ইনদা ইবনি মাঈন (পৃষ্ঠা: ৮)
- وقال عنه في رواية أبي داود: "ما كان به بأس" (1) .

- وقال عنه في رواية أبي العباس الفضل بن زياد - ثقة من المتقدمين عند أحمد -: "ثقة" (2) .

2- حفص بن سليمان الأسدي أبو عمر البزاز الكوفي الغاضري (ت 180هـ) (3) .

- قال عنه في رواية عبد الله، وحنبل بن إسحاق: "متروك الحديث" (4) .

- وقال عنه في رواية عبد الله: "صالح" (5) .

- وقال عنه في رواية حنبل بن إسحاق: "ما كان به بأس" (6) .

ثانياً: أبو زرعة عبيد الله بن عبد الكريم الرازي (ت 264هـ) :

1- الحكم بن عبد الله بن إسحاق بن الأعرج البصري (7) :

- سئل عنه فقال: "بصري ثقة" (8) .

- وقال مرة أخرى: "فيه لين" (9) .

2- خطاب بن القاسم الحراني، قاضيها (10) :

--------------------------------------------

(1) سؤالات أبي داود ص366 رقم (571) ، تاريخ بغداد 6/216، تهذيب الكمال 3/94، الميزان 1/228، بحر الدم ص70.

(2) المعرفة والتاريخ 2/170، الكامل 1/312، تاريخ بغداد 6/217.

(3) متروك الحديث مع إمامته في القراءة / (ت عس ق) ، التقريب رقم (1405) .

(4) الضعفاء للعقيلي (335) ، والجرح والتعديل 3/744، والكامل (505) ، وتهذيب الكمال 7/1390، والميزان 1/558، وتهذيب التهذيب 2/700.

(5) تاريخ بغداد 8/187.

(6) المصدر السابق.

(7) ثقة ربما وهم من الثالثة، (م د ت س) ، التقريب رقم (1446) .

(8) الجرح والتعديل 2/120، وميزان الاعتدال 1/576، وتهذيب التهذيب 2/429.

(9) الجرح والتعديل 2/120، وميزان الاعتدال 1/656، وتهذيب التهذيب 2/429.

(10) ثقة اختلط قبل موته من الثامنة، (د س) ، التقريب رقم (1724) .
- এবং তাঁর সম্পর্কে আবু দাউদের বর্ণনায় বলেছেন: "তাঁর মাঝে কোনো সমস্যা নেই (ما كان به بأس)" (১)।

- এবং আবুল আব্বাস আল-ফাদল ইবনে জিয়াদ—যিনি আহমদের নিকট অগ্রবর্তীদের মাঝে একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة)—এর বর্ণনায় তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "নির্ভরযোগ্য (ثقة)" (২)।

২- হাফস ইবনে সুলাইমান আল-আসাদি আবু উমর আল-বাজ্জাজ আল-কুফি আল-গাদিরি (মৃ. ১৮০ হি.) (৩)।

- আব্দুল্লাহ এবং হানবাল ইবনে ইসহাকের বর্ণনায় তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী (متروك الحديث)" (৪)।

- এবং আব্দুল্লাহর বর্ণনায় তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "যোগ্য (صالح)" (৫)।

- এবং হানবাল ইবনে ইসহাকের বর্ণনায় তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তাঁর মাঝে কোনো সমস্যা নেই (ما كان به بأس)" (৬)।

দ্বিতীয়ত: আবু যুরআহ উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্দুল কারিম আর-রাজি (মৃ. ২৬৪ হি.):

১- আল-হাকাম ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইসহাক ইবনুল আরায আল-বাসরি (৭):

- তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "বাসরাহ নিবাসী, নির্ভরযোগ্য (ثقة)" (৮)।

- এবং অন্য এক সময়ে বলেছেন: "তাঁর মাঝে কিছুটা শিথিলতা (فيه لين) রয়েছে" (৯)।

২- খাত্তাব ইবনুল কাসিম আল-হাররানি, সেখানকার কাজী (১০):

--------------------------------------------

(১) সুয়ালাত আবু দাউদ, পৃ. ৩৬৬, নং (৫৭১); তারিখ বাগদাদ ৬/২১৬; তাহযিবুল কামাল ৩/৯৪; আল-মিযান ১/২২৮; বাহরুদ দাম, পৃ. ৭০।

(২) আল-মা’রিফাহ ওয়াত তারিখ ২/১৭০; আল-কামিল ১/৩১২; তারিখ বাগদাদ ৬/২১৭।

(৩) কিরাআতের ক্ষেত্রে ইমাম হওয়া সত্ত্বেও হাদিসের ক্ষেত্রে পরিত্যক্ত (متروك الحديث) / (ত, আস, ক), আত-তাকরিব নং (১৪০৫)।

(৪) উকাইলির আদ-দুয়াফা (৩৩৫); আল-জারহ ওয়াত তা’দিল ৩/৭৪৪; আল-কামিল (৫০৫); তাহযিবুল কামাল ৭/১৩৯০; আল-মিযান ১/৫৫৮; তাহযিবুত তাহযিব ২/৭০০।

(৫) তারিখ বাগদাদ ৮/১৮৭।

(৬) পূর্বোক্ত উৎস।

(৭) নির্ভরযোগ্য (ثقة), সম্ভবত ভুল করতেন (ربما وهم), তৃতীয় স্তরের (ম, দ, ত, স), আত-তাকরিব নং (১৪৪৬)।

(৮) আল-জারহ ওয়াত তা’দিল ২/১২০; মিযানুল ইতিদাল ১/৫৭৬; তাহযিবুত তাহযিব ২/৪২৯।

(৯) আল-জারহ ওয়াত তা’দিল ২/১২০; মিযানুল ইতিদাল ১/৬৫৬; তাহযিবুত তাহযিব ২/৪২৯।

(১০) নির্ভরযোগ্য (ثقة), মৃত্যুর আগে স্মৃতিভ্রম ঘটেছিল (اختلط قبل موته), অষ্টম স্তরের (দ, স), আত-তাকরিব নং (১৭২৪)।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফু আকওয়ালিন নুক্কাদ ফির রুওয়াতিল মুখতালাফি ফীহিম মাআ দিরাসাত হাজিহিজ জাহিরতি ইনদা ইবনি মাঈন (পৃষ্ঠা: ৯)
- سئل عنه فقال: "قاضي حران ثقة" (1) .

- وقال عنه: "منكر الحديث يقال إنه اختلط قبل موته" (2) .

- وانظر أمثلة أخرى في (أبو زرعة الرازي وجهوده في السنة النبوية) (3) .

ثالثاً: أحمد بن شعيب النسائي (ت 303هـ) :

1- سماك بن حرب بن أوس بن خالد الذهلي البكري الكوفي أبو المغيرة (ت 123هـ) (4) .

- قال عنه: "سماك ليس بالقوي وكان يقبل التلقين" (5) .

- وقال عنه: " ليس ممن يعتمد عليه إذا انفرد بالحديث؛ لأنه كان يقبل التلقين " (6) .

- وقال عنه: "ليس به بأس، وفي حديثه شيء" (7) .

2- إسماعيل بن مسلم العبدي أبو محمد البصري القاضي (8) :

- قال عنه: "لا بأس به" (9) .

--------------------------------------------

(1) الجرح والتعديل 2/120، وميزان الاعتدال 1/656، وتهذيب التهذيب 2/147.

(2) تهذيب التهذيب 3/146، وميزان الاعتدال 1/656.

(3) 3/ص966-969.

(4) صدوق، روايته عن عكرمة خاصة مضطربة، وقد تغير بأَخَرَة فكان ربما تلقن، (خت م4) ، التقريب رقم

(2624) .

(5) السنن الصغرى 8/319 رقم (5677) .

(6) السنن الكبرى 3/368 رقم (3295) وفي تحفة الأشراف 5/138: "وسماك إذا تفرد بأصل لم يكن حجة لأنه كان يلقن فيلقن"، وسير أعلام النبلاء 5/248، والميزان 2/233، وإكمال التهذيب لمغلطاي 6/109، وتهذيب التهذيب 6/234.

(7) تهذيب الكمال 12/120، وسير أعلام النبلاء 5/247، وتهذيب التهذيب 6/234.

(8) ثقة من السادسة، (م ت س) ، التقريب رقم (483) .

(9) السنن الكبرى 4 / 44 رقم (3694) تحفة الأشراف 8/ 190 رقم (10853) .
তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "হাররানের বিচারক নির্ভরযোগ্য (ثقة)" (১)।

- এবং তার সম্পর্কে তিনি বলেন: "অস্বীকৃত হাদিস বর্ণনাকারী (منكر الحديث), বলা হয় যে মৃত্যুর পূর্বে তার স্মৃতিভ্রম (اختلط) ঘটেছিল" (২)।

- এবং আরও উদাহরণ দেখুন (আবু যুরআ আল-রাজি ওয়া জুহুদুহু ফিস সুন্নাহ আন-নাবাবিয়্যাহ) গ্রন্থে (৩)।

তৃতীয়ত: আহমদ বিন শুআইব আন-নাসায়ি (মৃত্যু ৩০৩ হিজরি):

১- সিমাক বিন হারব বিন আউস বিন খালিদ আদ-দুহলি আল-বাকরি আল-কুফি আবু আল-মুগিরা (মৃত্যু ১২৩ হিজরি) (৪)।

- তিনি তার সম্পর্কে বলেন: "সিমাক শক্তিশালী (بالقوي) নন এবং তিনি অন্যের শিখিয়ে দেওয়া কথা গ্রহণ (التلقين) করতেন" (৫)।

- এবং তার সম্পর্কে তিনি বলেন: "সে এমন কেউ নয় যার ওপর নির্ভর করা যায় যখন সে এককভাবে কোনো হাদিস বর্ণনা (انفرد) করে; কারণ সে অন্যের শিখিয়ে দেওয়া কথা গ্রহণ (التلقين) করত" (৬)।

- এবং তার সম্পর্কে তিনি বলেন: "তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই (ليس به بأس), তবে তার বর্ণিত হাদিসে কিছুটা ত্রুটি (في حديثه شيء) রয়েছে" (৭)।

২- ইসমাইল বিন মুসলিম আল-আবদি আবু মুহাম্মদ আল-বাসরি আল-কাজি (৮):

- তিনি তার সম্পর্কে বলেন: "তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই (لا بأس به)" (৯)।

--------------------------------------------

(১) আল-জারহ ওয়াত তাদিল ২/১২০, মিযানুল ইতিদাল ১/৬৫৬, এবং তাহযীবুত তাহযীব ২/১৪৭।

(২) তাহযীবুত তাহযীব ৩/১৪৬, এবং মিযানুল ইতিদাল ১/৬৫৬।

(৩) ৩/পৃ. ৯৬৬-৯৬৯।

(৪) সত্যবাদী (صدوق), ইকরিমাহ থেকে তার বর্ণনা বিশেষভাবে বিশৃঙ্খল (مضطربة), এবং শেষ বয়সে তার স্মৃতি পরিবর্তন হয়েছিল ফলে কখনো তাকে শিখিয়ে দেওয়া হতো (تلقن), (খাত, ম৪), আত-তাকরিব নং (২৬২৪)।

(৫) সুনান আস-সুগরা ৮/৩১৯ নং (৫৬৭৭)।

(৬) সুনান আল-কুবরা ৩/৩৬৮ নং (৩২৯৫) এবং তুহফাতুল আশরাফ ৫/১৩৮-এ রয়েছে: "সিমাক যখন কোনো মৌলিক বর্ণনায় একক হয়ে পড়ে তখন তা দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য হয় না কারণ তাকে শিখিয়ে দেওয়া হতো এবং সে তা গ্রহণ করত", এবং সিয়ারু আলামিন নুবালা ৫/২৪৮, আল-মিযান ২/২৩৩, মুগলতাইয়ের ইকমালুত তাহযীব ৬/১০৯, এবং তাহযীবুত তাহযীব ৬/২৩৪।

(৭) তাহযীবুল কামাল ১২/১২০, সিয়ারু আলামিন নুবালা ৫/২৪৭, এবং তাহযীবুত তাহযীব ৬/২৩৪।

(৮) ষষ্ঠ স্তরের নির্ভরযোগ্য (ثقة), (ম, ত, স), আত-তাকরিব নং (৪৮৩)।

(৯) সুনান আল-কুবরা ৪/৪৪ নং (৩৬৯৪) তুহফাতুল আশরাফ ৮/১৯০ নং (১০৮৫৩)।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফু আকওয়ালিন নুক্কাদ ফির রুওয়াতিল মুখতালাফি ফীহিম মাআ দিরাসাত হাজিহিজ জাহিরতি ইনদা ইবনি মাঈন (পৃষ্ঠা: ১০)
- وقال أيضاً: "ثقة" (1) .

3- عبد الرحمن بن سليمان بن عبد الله بن حنظلة الأنصاري أبو سليمان المدني، (ت 172هـ) (2) :

- قال عنه: "ثقة" (3) .

- وقال أيضاً: "ليس به بأس" (4) .

- وقال أيضاً: "ليس بالقوي" (5) .

رابعاً: علي بن المديني (ت 234هـ) :

1- عرعرة بن البِرِنْد السامي الناجي أبو عمرو البصري لقبه كُزْمان (6) :

- قال عنه فيما رواه محمد بن عثمان بن أبي شيبة (ثقة حافظ شهير،

ت 239هـ) : "كان عرعرة ثقة ثبتاً" (7) .

- وفيما رواه العقيلي (ثقة، ت 322هـ) : "ضعيف" (8) .

2- الأحوص بن حكيم بن عمير العَنْسي أو الهمداني الحمصي (9) :

--------------------------------------------

(1) تهذيب الكمال 3 / 197.

(2) صدوق فيه لين، (خ م د تم ق) ، التقريب رقم (3887) .

(3) تهذيب الكمال 17/156، والميزان 2/568، وتهذيب التهذيب 6/190.

(4) تهذيب الكمال 17/156، وتهذيب التهذيب 6/190.

(5) الكامل 4/1594، وتاريخ بغداد 1/226، والمصادر السابقة.

(6) صدوق يهم، من الثامنة (س) ، التقريب رقم (4553) .

(7) سؤالات محمد بن عثمان ص51.

(8) الضعفاء 3/430.

(9) ضعيف الحفظ، من الخامسة (ق) ، التقريب رقم (290) .
এবং তিনি আরও বলেছেন: "নির্ভরযোগ্য (ثقة)" (১) ।

৩- আবদুর রহমান ইবনে সুলাইমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হানজালা আল-আনসারী আবু সুলাইমান আল-মাদানী, (মৃত্যু ১৭২ হিজরি) (২) :

- তার সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "নির্ভরযোগ্য (ثقة)" (৩) ।

- এবং তিনি আরও বলেছেন: "তার মাঝে কোনো সমস্যা নেই (ليس به بأس)" (৪) ।

- এবং তিনি আরও বলেছেন: "তিনি শক্তিশালী নন (ليس بالقوي)" (৫) ।

চতুর্থত: আলী ইবনুল মাদীনী (মৃত্যু ২৩৪ হিজরি) :

১- আরআরাহ ইবনুল বিরিন্দ আস-সামি আন-নাজি আবু আমর আল-বাসরি, তার উপাধি কুজমান (৬) :

- মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে আবি শায়বাহ (যিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও প্রখ্যাত হাফেজ (حافظ), মৃত্যু ২৩৯ হিজরি) কর্তৃক বর্ণিত তথ্যানুযায়ী তিনি বলেছেন: "আরআরাহ নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় (ثقة ثبتاً) ছিলেন" (৭) ।

- এবং আল-উকাইলি (নির্ভরযোগ্য (ثقة), মৃত্যু ৩২২ হিজরি) যা বর্ণনা করেছেন তাতে রয়েছে: "দুর্বল (ضعيف)" (৮) ।

২- আল-আহওয়াস ইবনে হাকিম ইবনে উমায়ের আল-আনসি অথবা আল-হামদানি আল-হিমসি (৯) :

--------------------------------------------

(১) তাহজিবুল কামাল ৩ / ১৯৭।

(২) সত্যবাদী তবে তার মাঝে শিথিলতা রয়েছে (صدوق فيه لين), (খ ম দ তিম ক) , আত-তাকরিব নম্বর (৩৮৮৭) ।

(৩) তাহজিবুল কামাল ১৭/১৫৬, আল-মিজান ২/৫৬৮, এবং তাহজিবুত তাহজিব ৬/১৯০।

(৪) তাহজিবুল কামাল ১৭/১৫৬, এবং তাহজিবুত তাহজিব ৬/১৯০।

(৫) আল-কামিল ৪/১৫৯৪, তারিখ বাগদাদ ১/২২৬, এবং পূর্ববর্তী উৎসসমূহ।

(৬) সত্যবাদী তবে ভ্রান্তিতে পতিত হন (صدوق يهم), অষ্টম স্তরের (স) , আত-তাকরিব নম্বর (৪৫৫৩) ।

(৭) সুয়ালাত মুহাম্মদ ইবনে উসমান, পৃষ্ঠা ৫১।

(৮) আদ-দুয়াফা ৩/৪৩০।

(৯) দুর্বল স্মৃতিশক্তি সম্পন্ন (ضعيف الحفظ), পঞ্চম স্তরের (ক) , আত-তাকরিব নম্বর (২৯০) ।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফু আকওয়ালিন নুক্কাদ ফির রুওয়াতিল মুখতালাফি ফীহিম মাআ দিরাসাত হাজিহিজ জাহিরতি ইনদা ইবনি মাঈন (পৃষ্ঠা: ১১)
- روى ابن عدي بسنده إلى علي بن المديني أنه قال: "سمعت يحيى بن سعيد يقول: كان ثور - أي ابن يزيد الكلاعي - عندي ثقة. قال علي: ثور عندي أكبر من الأحوص، والأحوص صالح" (1) .

- ثم عقب المزي على ذلك بقوله عن ابن المديني: "وقال في موضع آخر: والأحوص ثقة، وقال في رواية: لا يكتب حديثه " (2) .

--------------------------------------------

(1) الكامل 1/405.

(2) تهذيب الكمال 2/292.
- ইবনে আদি তাঁর সনদে আলী ইবনুল মাদিনী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "আমি ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদকে বলতে শুনেছি: সাওর —অর্থাৎ ইবনে ইয়াজিদ আল-কালাঈ— আমার নিকট নির্ভরযোগ্য (ثقة) ছিলেন। আলী বলেন: সাওর আমার নিকট আল-আহওয়াস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, এবং আল-আহওয়াস নেককার (صالح)।" (১) .

- অতঃপর আল-মিযযি ইবনুল মাদিনী থেকে উদ্ধৃত করে এর ওপর মন্তব্য করেছেন: "তিনি অন্য স্থানে বলেছেন: আল-আহওয়াস নির্ভরযোগ্য (ثقة), এবং এক বর্ণনায় বলেছেন: তার হাদিস লিখে রাখার যোগ্য নয় (لا يكتب حديثه) " (২) .

--------------------------------------------

(১) আল-কামিল ১/৪০৫।

(২) তাহযিবুল কামাল ২/২৯২।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফু আকওয়ালিন নুক্কাদ ফির রুওয়াতিল মুখতালাফি ফীহিম মাআ দিরাসাত হাজিহিজ জাহিরতি ইনদা ইবনি মাঈন (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌المبحث الثالث: نموذج لأحد الرواة الذين اختلفت أقوال النقاد فيهم.

الإمام العالم الصدوق أسامة بن زيد الليثي مولاهم أبو زيد المدني (ت153هـ) (1) ، "من كبار العلماء من أهل المدينة" (2) . قال الذهبي: "وقد يرتقي حديثه إلى رتبة الحسن، استشهد به البخاري وأخرج له مسلم في المتابعات" (3) ، وقال السخاوي: "وأخرج له مسلم في صحيحه متابعة، وأصحاب السنن، واستشهد به البخاري ولم يحتج به، وحديثه من قبيل الحسن" (4) . قال ابن خلفون (ت 636هـ) : "هو عندي في الطبقة الثالثة من المحدثين، وهو حجة في بعض شيوخه وضعيف في بعضهم، ومن تدبر حديثه عرف ذلك" (5) .

اختلف عدد من أئمة النقد في أسامة بن زيد، وهم:

1- يحيى بن سعيد القطان (ت 198هـ) .

2- يحيى بن معين (ت 233هـ) .

3- أحمد بن حنبل (ت 241هـ) .

4- أحمد بن شعيب النسائي (ت303هـ) .

--------------------------------------------

(1) صدوق يَهم، (خت م 4) التقريب (317) ، وسير أعلام النبلاء 6/342.

(2) التحفة اللطيفة 1/287 رقم (382) .

(3) سير أعلام النبلاء 6/343.

(4) التحفة اللطيفة 1/287 رقم (382) .

(5) إكمال مغلطاي 2/60.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এমন একজন বর্ণনাকারীর নমুনা যাদের বিষয়ে সমালোচকদের মন্তব্যে মতপার্থক্য রয়েছে.

ইমাম, আলিম, সত্যবাদী (الصدوق) উসামা ইবনে যায়িদ আল-লাইসি মাওলাহুম আবু যায়িদ আল-মাদানি (মৃত্যু ১৫৩ হি.) (১), "মদিনাবাসীদের মধ্যে বড় মাপের আলেমদের অন্তর্ভুক্ত" (২)। আয-যাহাবি বলেন: "তার বর্ণিত হাদিস কখনও কখনও হাসান (الحسن) স্তরে উন্নীত হয়। বুখারি তাকে সাক্ষী (استشهد به) হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং মুসলিম তাকে মুতাবাআত (المتابعات) হিসেবে বর্ণনা করেছেন" (৩)। আস-সাখাভি বলেন: "মুসলিম তার সহিহ গ্রন্থে তাকে মুতাবাআত (متابعة) হিসেবে এবং সুনান গ্রন্থকারগণও তার থেকে বর্ণনা করেছেন। বুখারি তাকে সাক্ষী (استشهد به) হিসেবে গ্রহণ করেছেন কিন্তু প্রমাণ (يحتج به) হিসেবে গ্রহণ করেননি, আর তার বর্ণিত হাদিস হাসান (الحسن) পর্যায়ের" (৪)। ইবনে খালফুন (মৃত্যু ৬৩৬ হি.) বলেন: "তিনি আমার নিকট মুহাদ্দিসদের মধ্যে তৃতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত। তিনি তার কতিপয় উস্তাদের বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রমাণযোগ্য (حجة) এবং অন্যদের ক্ষেত্রে দুর্বল (ضعيف); যে ব্যক্তি তার হাদিস নিয়ে গবেষণা করবে সে তা জানতে পারবে" (৫)।

উসামা ইবনে যায়িদ সম্পর্কে বেশ কয়েকজন সমালোচনা বিশেষজ্ঞ ইমাম মতভেদ করেছেন, তাঁরা হলেন:

১- ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান (মৃত্যু ১৯৮ হি.)।

২- ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (মৃত্যু ২৩৩ হি.)।

৩- আহমাদ ইবনে হাম্বল (মৃত্যু ২৪১ হি.)।

৪- আহমাদ ইবনে শুআইব আন-নাসায়ি (মৃত্যু ৩০৩ হি.)।

--------------------------------------------

(১) সত্যবাদী তবে ভুল করেন (صدوق يَهم), (খাত, মা, ৪) আত-তাকরিব (৩১৭) এবং সিয়ারু আলামিন নুবালা ৬/৩৪২।

(২) আত-তুহফাতুল লাতিফা ১/২৮৭ নং (৩৮২)।

(৩) সিয়ারু আলামিন নুবালা ৬/৩৪৩।

(৪) আত-তুহফাতুল লাতিফা ১/২৮৭ নং (৩৮২)।

(৫) ইকমাল মুগলতাই ২/৬০।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফু আকওয়ালিন নুক্কাদ ফির রুওয়াতিল মুখতালাফি ফীহিম মাআ দিরাসাত হাজিহিজ জাহিরতি ইনদা ইবনি মাঈন (পৃষ্ঠা: ১৩)
5- الحافظ الذهبي (ت 748هـ) .

6- الحافظ ابن حجر أحمد بن علي العسقلاني (ت 852هـ) .

وأكد هذا الأمرَ كلٌ من: أبو العرب محمد بن أحمد القيرواني

(ت 333هـ) في كتابه الضعفاء حيث قال: "اختلفوا فيه، وقيل: ثقة، وقيل: غير ثقة" (1) . وأبو الحسن علي بن محمد بن عبد الملك بن القطان الفاسي (ت628هـ) حيث قال في كتابه (الوهم والإيهام) إن مسلماً رحمه الله لم يحتج به إنما روى له استشهاداً كالبخاري، وأقره على ذلك ابن الموَّاق -محمد ابن يحيى القرطبي المراكشي (ت642هـ) - قال أبو الحسن: "وهو مختلف فيه" (2) .

قال الساجي - زكريا بن يحيى (ت 307هـ) -: "اختلف أحمد بن حنبل ويحيى بن معين في أسامة الليثي"

(3) .

وإلى ذكر أقوال الأئمة رحمهم الله فيه:

1- يحيى بن سعيد القطان: قال ابن حبان في الثقات: "كان يحيى القطان يسكت عنه وفي نسخة: يكتب عنه" (4) ، فمن هذا الخطأ ظن البعض اختلاف قول يحيى القطان فيه، والصواب ما ذكره الدارقطني في سؤالات الحاكم له

رقم (285) - وسماه مغلطاي بـ (التجريح والتعديل) -: "كان يحيى بن سعيد حدث عنه ثم تركه وقال: إنه حدث عن عطاء عن جابر أن النبي صلى الله عليه وسلم قال:

--------------------------------------------

(1) إكمال مغلطاي 2/58.

(2) بيان الوهم والإيهام الواقعين في كتاب الأحكام 4/84، 520، 3/216.

(3) إكمال مغلطاي 2/60.

(4) الثقات 6/74، وإكمال مغلطاي 2/ 57، وزاد في نقله عن ابن حبان "وهو مستقيم الأمر صحيح الكتاب"، وانظر التاريخ الكبير 2/ 22 مع الحاشية.
৫- হাফিজ যাহাবী (মৃ. ৭৪৮ হি.)।

৬- হাফিজ ইবনে হাজার আহমদ বিন আলী আল-আসকালানী (মৃ. ৮৫২ হি.)।

এবং এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন: আবু আল-আরব মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-কাইরাওয়ানী

(মৃ. ৩৩৩ হি.) তার আদ-দুয়াফা গ্রন্থে, যেখানে তিনি বলেছেন: "তাকে নিয়ে তাদের (ইমামদের) মাঝে মতভেদ রয়েছে। বলা হয়েছে: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), আবার বলা হয়েছে: তিনি নির্ভরযোগ্য নন (غير ثقة)" (১)। এবং আবু হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক বিন আল-কাত্তান আল-ফাসি (মৃ. ৬২৮ হি.), যেখানে তিনি তার (আল-ওয়াহাম ওয়াল ইহাম) গ্রন্থে বলেছেন যে, ইমাম মুসলিম (রহ.) তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেননি বরং ইমাম বুখারির ন্যায় কেবল সমর্থনমূলক বর্ণনায় (استشهاداً) তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইবনুল মাওয়াক -মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া আল-কুরতুবি আল-মাররাকুশি (মৃ. ৬৪২ হি.)- তার এই বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করেছেন। আবু হাসান বলেন: "তাকে নিয়ে মতভেদ রয়েছে (مختلف فيه)" (২)।

আস-সাজি -যাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া (মৃ. ৩০৭ হি.)- বলেছেন: "আহমদ বিন হাম্বল এবং ইয়াহইয়া বিন মাইন উসামা আল-লাইসি সম্পর্কে মতভেদ করেছেন"

(৩)।

এবং তার সম্পর্কে ইমামগণের (রহ.) বক্তব্যের উল্লেখ নিচে দেওয়া হলো:

১- ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান: ইবনে হিব্বান আস-সিকাত গ্রন্থে বলেছেন: "ইয়াহইয়া আল-কাত্তান তার ব্যাপারে নীরবতা পালন করতেন (يسكت عنه); তবে অন্য একটি পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'তার থেকে হাদিস লিখতেন' (يكتب عنه)" (৪)। এই ভুলের কারণে কেউ কেউ তার সম্পর্কে ইয়াহইয়া আল-কাত্তানের বক্তব্যে মতভেদ আছে বলে মনে করেছেন। তবে সঠিক হলো সেটি যা দারাকুতনী 'সুয়ালাতুল হাকিম' এর ২৮৫ নং-এ উল্লেখ করেছেন

-এবং মুগলতাই একে 'আত-তাজরীহ ওয়াত তা'দীল' নামে অভিহিত করেছেন-: "ইয়াহইয়া বিন সাঈদ তার থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন, অতঃপর তাকে বর্জন করেছেন (تركه) এবং বলেছেন: তিনি আতা থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন:

--------------------------------------------

(১) ইকমালু মুগলতাই ২/৫৮।

(২) বায়ানুল ওয়াহাম ওয়াল ইহাম আল-ওয়াকি'ঈন ফি কিতাবিল আহকাম ৪/৮৪, ৫২০, ৩/২১৬।

(৩) ইকমালু মুগলতাই ২/৬০।

(৪) আস-সিকাত ৬/৭৪, এবং ইকমালু মুগলতাই ২/৫৭; এবং ইবনে হিব্বান থেকে উদ্ধৃতির ক্ষেত্রে তিনি আরও যোগ করেছেন: "তিনি সঠিক রীতির অনুসারী (مستقيم الأمر) এবং তার পাণ্ডুলিপি বা গ্রন্থটি নির্ভুল (صحيح الكتاب)", আরও দেখুন আত-তারিখুল কাবীর ২/২২ এর টীকা।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফু আকওয়ালিন নুক্কাদ ফির রুওয়াতিল মুখতালাফি ফীহিম মাআ দিরাসাত হাজিহিজ জাহিরতি ইনদা ইবনি মাঈন (পৃষ্ঠা: ১৪)
"منى كلها منحر" فقال يحيى: اشهدوا أني قد تركت حديثه. زاد حمزة السهمي في (سؤالات الدارقطني) قلت: فمن أجل هذا احتج به مسلم وتركه البخاري" (1) .

وفي "السؤالات الكبرى" للحاكم: وقد احتج به البخاري (2) . وخالف ذلك في كتاب (المدخل) فقال: "روى له مسلم كتاباً لعبد الله بن وهب، والذي استدللت به في كثرة روايات له أنه عنده صحيح الكتاب، على أن أكثر تلك الأحاديث مستشهد بها أو هو مقرون في الإسناد. وقال البخاري: هو ممن يحتمل" (3) . لذلك قال الذهبي: "اختلف قول القطان فيه" (4) .

2- أحمد بن شعيب النسائي (ت 303هـ) : قال النسائي عنه

- أسامة -: "ليس بثقة" (5) ، وقال أيضاً: "ليس بالقوي" (6) ، وفي نسخة من كتاب الجرح والتعديل للنسائي: "ليس به بأس" (7) .

3- أحمد بن حنبل ت (241هـ) :

--------------------------------------------

(1) إكمال مغلطاي 2/57-58، وتهذيب التهذيب 1/209، وأصل النص في سؤالات الحاكم للدارقطني في الجرح والتعديل ص187 رقم (285) ، والحديث رواه أبو داود في سننه كتاب

المناسك / باب 65 رقم 1937، وسنن ابن ماجه في كتاب المناسك / باب الذبح حديث رقم (3048) ، وأحمد في المسند 3/ 326، والدرامي رقم (1886) ، وابن خزيمة رقم (2787) .

(2) كذا في إكمال مغلطاي والصواب ما ورد في سؤالات الحاكم.... ص187.

(3) كذا في إكمال مغلطاي والصواب ما ورد في سؤالات الحاكم.... ص187.

(4) المغني 1/103، وسير أعلام النبلاء 6/342.

(5) الضعفاء للنسائي رقم (53) ، وقد قدمت النسائي لاعتبار معين.

(6) الكامل 1/385، والضعفاء للعقيلي 1/96، وتهذيب الكمال 2/350، سير أعلام النبلاء 6/342، الميزان 1/174، المغني 1/66، تهذيب التهذيب 1/209.

(7) إكمال مغلطاي 2/58.
"মিনার পুরোটাই কুরবানির স্থান" - তখন ইয়াহইয়া বললেন: "তোমরা সাক্ষী থাকো যে, আমি তার হাদিস বর্জন করেছি (تركت حديثه)।" হামযাহ আল-সাহমি 'সুয়ালাত আদ-দারা কুতনি'-তে অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন: আমি বললাম, "এই কারণেই মুসলিম তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন (احتج به) এবং বুখারি তাকে বর্জন করেছেন (تركه)।" (১)

এবং আল-হাকিমের "আস-সুয়ালাত আল-কুবরা"-তে রয়েছে: "এবং বুখারি তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন (احتج به)।" (২) তিনি তার 'আল-মাদখাল' গ্রন্থে এর বিরোধিতা করে বলেছেন: "মুসলিম তার সূত্রে আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাবের একটি কিতাব বর্ণনা করেছেন। তার বর্ণিত অধিক সংখ্যক হাদিস থেকে আমি যা প্রমাণ পেয়েছি তা হলো, তার নিকট কিতাবটি বিশুদ্ধ (صحيح الكتاب); যদিও সেই হাদিসগুলোর অধিকাংশ সমর্থক হিসেবে বর্ণিত (مستشهد بها) অথবা তিনি সনদে (الإسناد) অন্য রাবির সাথে সংযুক্ত (مقرون)। আর বুখারি বলেছেন: তিনি সেই স্তরের যাদের বর্ণনা গ্রহণ করা যায় (يحتمل)।" (৩) এই কারণেই আয-যাহাবি বলেছেন: "তাকে নিয়ে আল-কাত্তানের বক্তব্যে মতভেদ রয়েছে।" (৪)

২- আহমদ বিন শুআইব আন-নাসায়ি (মৃত্যু ৩০৩ হিজরি): নাসায়ি তার সম্পর্কে

- উসামাহ -: "তিনি নির্ভরযোগ্য নন (ليس بثقة)" (৫), তিনি আরও বলেছেন: "তিনি শক্তিশালী নন (ليس بالقوي)" (৬)। নাসায়ির 'আল-জারহ ওয়াত তাদিল' (الجرح والتعديل) কিতাবের একটি পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই (ليس به بأس)" (৭)।

৩- আহমদ বিন হাম্বল (মৃত্যু ২৪১ হিজরি):

--------------------------------------------

(১) ইকমাল মুগলাতাই ২/৫৭-৫৮, তাহযীবুত তাহযীব ১/২০৯। মূল পাঠটি আল-হাকিম কর্তৃক আদ-দারা কুতনি-কে করা প্রশ্নাবলী সম্বলিত 'আল-জারহ ওয়াত তাদিল' (الجرح والتعديل) পৃ. ১৮৭, নম্বর (২৮৫)-এ রয়েছে। হাদিসটি আবু দাউদ তার সুনান-এর মানাসিক অধ্যায়/অনুচ্ছেদ ৬৫, নম্বর ১৯৩৭-এ; সুনানে ইবনে মাজাহ-র মানাসিক অধ্যায়/যবেহ অনুচ্ছেদ, হাদিস নম্বর (৩০৪৮); আহমদ তার মুসনাদ-এ ৩/৩২৬; আদ-দারেমি নম্বর (১৮৮৬) এবং ইবনে খুজাইমাহ নম্বর (২৭৮৭)-এ বর্ণনা করেছেন।

(২) ইকমাল মুগলাতাই-তে এভাবেই আছে, তবে সঠিক হলো যা সুয়ালাত আল-হাকিম... পৃ. ১৮৭-এ এসেছে।

(৩) ইকমাল মুগলাতাই-তে এভাবেই আছে, তবে সঠিক হলো যা সুয়ালাত আল-হাকিম... পৃ. ১৮৭-এ এসেছে।

(৪) আল-মুগনি ১/১০৩, সিয়ারু আলামিন নুবালা ৬/৩৪২।

(৫) নাসায়ির আদ-দুয়াফা নম্বর (৫৩); বিশেষ কারণে আমি নাসায়িকে আগে উল্লেখ করেছি।

(৬) আল-কামিল ১/৩৮৫, উকাইলির আদ-দুয়াফা ১/৯৬, তাহযীবুল কামাল ২/৩৫০, সিয়ারু আলামিন নুবালা ৬/৩৪২, আল-মিযান ১/১৭৪, আল-মুগনি ১/৬৬, তাহযীবুত তাহযীব ১/২০৯।

(৭) ইকমাল মুগলাতাই ২/৫৮।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফু আকওয়ালিন নুক্কাদ ফির রুওয়াতিল মুখতালাফি ফীহিম মাআ দিরাসাত হাজিহিজ জাহিরতি ইনদা ইবনি মাঈন (পৃষ্ঠা: ১৫)
قال عبد الله بن أحمد قال أبي: "روى أسامة بن زيد عن نافع أحاديث مناكير. قلت له: إن أسامة حسن الحديث. قال: إن تدبرت حديثه فستعرف النكرة فيها" (1) . وقال المروذي: "سألته (يعني أبا عبد الله) عن أسامة بن زيد، قال: الليثي أقوى من ذا يريد ابن زيد بن أسلم" (2) . وقال أيضا: "قلت: (يعني للإمام أحمد) أسامة بن زيد يروي عن القاسم؟. قال: وهذا أيضا يحتمله الناس إلا أن يحيى القطان تركه " (3) .

وقال أبو داود: "قلت لأحمد في أسامة بن زيد الليثي فقال: تركه بأَخَرَة، وسمعت أحمد يقول: يحيى ترك أسامة بأخرة، وذاك أن عثمان بن عمر ذاكره عنه عن عطاء.... حديث المناسك" (4) .

وفي رواية الأثرم - أحمد بن محمد بن هاني (ت 273هـ) -: "ليس بشيء" (5) .

وقال عبد الله: "سئل أبي عنه فقال: هو دونه، وَحرَّك يَدَهُ" (6) .

أي: أسامة بن زيد الليثي هو دون حاتم بن أبي صغيرة - ثقة - الذي سئل عنه أحمد قبل السؤال عن أسامة. والله أعلم.

وقد روى الإمام أحمد لأسامة بن زيد الليثي (76) حديثاً في مسنده.

--------------------------------------------

(1) انظر: العلل (1428) وأيضا (503) ، الجرح والتعديل 2/284 (1031) تهذيب الكمال 2/349، بحر الدم ص62.

(2) سؤالات الميموني رقم (396) ، بحر الدم ص62.

(3) سؤالات الميموني (435) ، بحر الدم ص63.

(4) سؤالات أبي داود رقم (191) .

(5) الجرح والتعديل 2/1031، المغني 1/66.

(6) العلل رقم (1472) ، (1473) .
আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ বলেন, আমার পিতা বলেছেন: "উসামা ইবনে যায়েদ নাফি'র সূত্রে অনেকগুলো অপরিচিত/অস্বীকৃত (مناكير) হাদিস বর্ণনা করেছেন। আমি তাকে বললাম: উসামা তো গ্রহণযোগ্য মানের হাদিস বর্ণনাকারী (حسن الحديث)। তিনি বললেন: যদি তুমি তার হাদিস নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করো, তবে তাতে অসংগতি/অস্বীকৃতি (النكرة) খুঁজে পাবে" (১)। আল-মারওয়াযী বলেন: "আমি তাকে (অর্থাৎ আবু আবদুল্লাহকে) উসামা ইবনে যায়েদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন: আল-লাইসী এই ব্যক্তির চেয়ে বেশি শক্তিশালী (أقوى), তিনি এখানে (উসামা) ইবনে যায়েদ ইবনে আসলামকে বুঝিয়েছেন" (২)। তিনি আরও বলেন: "আমি বললাম: (অর্থাৎ ইমাম আহমাদকে) উসামা ইবনে যায়েদ কি আল-কাসিমের সূত্রে বর্ণনা করেন? তিনি বললেন: মানুষ এটিকেও গ্রহণ করে নেয় (يحتمله), তবে ইয়াহইয়া আল-কাত্তান তাকে বর্জন (تركه) করেছেন" (৩)।

আবু দাউদ বলেন: "আমি উসামা ইবনে যায়েদ আল-লাইসী সম্পর্কে আহমাদকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: তিনি শেষ বয়সে তাকে বর্জন (تركه) করেছিলেন। আমি আহমাদকে বলতে শুনেছি: ইয়াহইয়া শেষ বয়সে উসামাকে বর্জন (تركه) করেছিলেন। আর সেটি এই কারণে যে, উসমান ইবনে উমর তার নিকট আতা থেকে... হজের নিয়মাবলী সংক্রান্ত হাদিসটি আলোচনা করেছিলেন" (৪)।

আল-আছরামের—আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হানি (মৃত্যু ২৭৩ হিজরি)—বর্ণনায় রয়েছে: "তিনি উল্লেখযোগ্য কেউ নন (ليس بشيء)" (৫)।

আবদুল্লাহ বলেন: "আমার পিতাকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন: তিনি তার চেয়ে নিম্নমানের, এবং তিনি হাত নেড়ে ইশারা করলেন" (৬)।

অর্থাৎ: উসামা ইবনে যায়েদ আল-লাইসী হাতিম ইবনে আবি সাগীরা—যিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة)—তার চেয়ে নিম্নস্তরের। উসামা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করার আগে ইমাম আহমাদকে হাতিম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

ইমাম আহমাদ তার মুসনাদ গ্রন্থে উসামা ইবনে যায়েদ আল-লাইসীর ৭৬টি হাদিস বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-ইলাল (১৪২৮) এবং (৫০৩), আল-জারহ ওয়াত তা'দীল ২/২৮৪ (১০৩১), তাহযীবুল কামাল ২/৩৪৯, বাহরুদ দাম পৃ. ৬২।

(২) সুয়ালাত আল-মায়মুনী নং (৩৯৬), বাহরুদ দাম পৃ. ৬২।

(৩) সুয়ালাত আল-মায়মুনী (৪৩৫), বাহরুদ দাম পৃ. ৬৩।

(৪) সুয়ালাত আবু দাউদ নং (১৯১)।

(৫) আল-জারহ ওয়াত তা'দীল ২/১০৩১, আল-মুগনি ১/৬৬।

(৬) আল-ইলাল নং (১৪৭২), (১৪৭৩)।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফু আকওয়ালিন নুক্কাদ ফির রুওয়াতিল মুখতালাফি ফীহিম মাআ দিরাসাত হাজিহিজ জাহিরতি ইনদা ইবনি মাঈন (পৃষ্ঠা: ১৬)
4- يحيى بن معين (ت 233هـ) : في رواية عباس الدوري وأحمد بن سعد ابن أبي مريم (ثقة) (1) ، قال ابن الجوزي: "واختلفت الرواية عن يحيى، فقال مرة: ثقة صالح، وقال مرة: ليس به بأس. وقال مرة: ترك حديثه بأخرة" (2) .

وقال ابن الجنيد - إبراهيم بن عبد الله الختلي (ت260هـ) -: "مديني صالح ليس بذاك" (3) . وقال في رواية الدارمي - عثمان بن سعيد

(ت 280هـ) -: "ليس به بأس" (4) . وقال الحافظ الذهبي منبهاً على وهم قد وقع في نسبة قول لابن معين: "وجاء عن يحيى بن معين أنه ثقة وجاء عنه قال: ترك حديثه بأخرة، وهذا وهم بل هذا القول الأخير هو قول يحيى، بن سعيد فيه" (5) .

وبعد أن درس الحافظ الذهبي أقوال ابن معين خرج بنتيجة اتفق عليها اثنان من الرواة عن يحيى تمثَّلَتْ بقول الذهبي: "وقد روى عباس عن يحيى: ثقة، وروى أحمد بن أبي مريم عن يحيى: ثقة حجة، فابن معين حسن الرأي في أسامة" (6) .

والحافظ الذهبي من النقاد المتأخرين، وقد شهد الحافظ ابن حجر له بأنه: "من أهل الاستقراء التام في الرجال" وقد اختلفت أقواله في أسامة الليثي: فقال عنه في المغني: "صدوق يهم، اختلف قول القطان فيه "

(7) .

--------------------------------------------

(1) التاريخ 2/22، الجرح والتعديل 2/235، الكامل لابن عدي 1/385، وتهذيب الكمال 2/350.

(2) الضعفاء والمتروكين 1/96، ونقل المزي في تهذيب الكمال 2/350.

(3) سؤالات ابن الجنيد ص402 رقم (547) .

(4) تاريخ الدارمي ص66 رقم (118) .

(5) سير أعلام النبلاء 6/343.

(6) المصدر السابق.

(7) المغني 1/103.
৪- ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (ওফাত ২৩৩ হিজরি): আব্বাস আদ-দাওরি এবং আহমাদ ইবনে সাদ ইবনে আবু মারিয়ামের বর্ণনায় তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) (১)। ইবনুল জাওজি বলেন: "ইয়াহইয়া থেকে বর্ণিত বর্ণনাগুলো ভিন্ন ভিন্ন, তিনি একবার বলেছেন: নির্ভরযোগ্য ও নেককার (ثقة صالح), আবার বলেছেন: তাতে কোনো সমস্যা নেই (ليس به بأس)। আবার বলেছেন: শেষ জীবনে তার হাদিস বর্জন করা হয়েছে (ترك حديثه بأخرة)" (২)।

এবং ইবনুল জুনাইদ - ইবরাহিম ইবনে আব্দুল্লাহ আল-খুতালি (ওফাত ২৬০ হিজরি) - বলেছেন: "মদিনাবাসী নেককার লোক (مديني صالح), তবে তিনি তেমন উচ্চমানের নন (ليس بذاك)" (৩)। এবং উসমান ইবনে সাঈদ আদ-দারিমি (ওফাত ২৮০ হিজরি)-এর বর্ণনায় তিনি বলেছেন: "তাতে কোনো সমস্যা নেই (ليس به بأس)" (৪)। হাফিজ আয-যাহাবি ইবনে মাঈনের দিকে একটি উক্তি সম্বন্ধ করার ক্ষেত্রে সংঘটিত একটি ভ্রমের ব্যাপারে সতর্ক করে বলেন: "ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), আবার তার থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: শেষ জীবনে তার হাদিস বর্জন করা হয়েছে (ترك حديثه بأخرة)। এটি একটি ভ্রম, বরং শেষোক্ত এই উক্তিটি তার সম্পর্কে ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদের উক্তি" (৫)।

হাফিজ আয-যাহাবি ইবনে মাঈনের উক্তিগুলো পর্যালোচনার পর এমন এক সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যাতে ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনাকারী দুইজন রাবি একমত হয়েছেন, যা আয-যাহাবির এই বক্তব্যের মাধ্যমে ফুটে উঠেছে: "আব্বাস ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন: নির্ভরযোগ্য (ثقة), এবং আহমাদ ইবনে আবু মারিয়াম ইয়াহইয়া থেকে বর্ণনা করেছেন: নির্ভরযোগ্য দলিলযোগ্য (ثقة حجة); সুতরাং উসামা সম্পর্কে ইবনে মাঈনের ধারণা ইতিবাচক" (৬)।

হাফিজ আয-যাহাবি পরবর্তী যুগের সমালোচকগণের অন্যতম, হাফিজ ইবনে হাজার তার সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি: "রিজাল শাস্ত্রে পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনাকারীগণের অন্তর্ভুক্ত।" উসামা আল-লায়সি সম্পর্কে আয-যাহাবির উক্তিগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে: তিনি আল-মুগনি গ্রন্থে তার সম্পর্কে বলেছেন: "সত্যবাদী তবে ভ্রম করেন (صدوق يهم), তার ব্যাপারে আল-কাত্তানের উক্তি ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে"

(৭) ।

--------------------------------------------

(১) আত-তারিখ ২/২২, আল-জারহ ওয়াত তাদিল ২/২৩৫, ইবনে আদির আল-কামিল ১/৩৮৫, এবং তাহজিবুল কামাল ২/৩৫০।

(২) আদ-দুয়াফা ওয়াল মাত্রুকিন ১/৯৬, এবং আল-মিজ্জি তাহজিবুল কামাল ২/৩৫০-এ এটি উদ্ধৃত করেছেন।

(৩) সুয়ালাত ইবনুল জুনাইদ পৃষ্ঠা ৪০২, নম্বর (৫৪৭)।

(৪) তারিখ আদ-দারিমি পৃষ্ঠা ৬৬, নম্বর (১১৮)।

(৫) সিয়ারু আলামিন নুবালা ৬/৩৪৩।

(৬) পূর্বোক্ত উৎস।

(৭) আল-মুগনি ১/১০৩।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফু আকওয়ালিন নুক্কাদ ফির রুওয়াতিল মুখতালাফি ফীহিম মাআ দিরাসাত হাজিহিজ জাহিরতি ইনদা ইবনি মাঈন (পৃষ্ঠা: ১৭)
وقال عنه: "صدوق فيه لين يستر" (1) .

وقال أيضاً بعد كلام النقاد فيه: "وقد يرتقي حديثه إلى رتبة الحسن، استشهد به البخاري، وأخرج له مسلم في المتابعات" (2) .

وقال عنه: "الليثي لا العدوي، صدوق قوي الحديث، أكثر مسلم إخراج حديث ابن وهب عنه، ولكن أكثرها شواهد ومتابعات، والظاهر أنه ثقة، وقال النسائي وغيره: ليس بالقوي" (3) .

ونقل في ((الكاشف)) قول الحاكم ولفظه: " … أكثرها شواهد أو يقرنه بآخر، قال النسائي وغيره: ليس بالقوي" (4) . وانتهى من تأليفه سنة 720هـ، ولعل القول الفصل الذي نخرج به للحافظ الذهبي في أسامة الليثي هو ما ذكره في "سير أعلام النبلاء" والله أعلم.

5- الحافظ ابن حجر العسقلاني (ت 852هـ) :

تعددت أقواله في هذا الراوي (أسامة) واختلفت أيضاً فقال فيه: "مختلف فيه، وعلق له البخاري قليلاً" (5) . وقال عنه: "سيئ الحفظ" (6) . وفي موضع آخر قال: "فيه مقال" (7) . وقال أيضاً: "صدوق في حفظه شيء، أخرج له

--------------------------------------------

(1) الديوان ص25.

(2) سير أعلام النبلاء 6/342. وقد صنفه في عام 732هـ كما في الإشارة إليه في المقدمة ص93.

(3) من تكلم فيه وهو موثق ص41. لعله صنفه بعد 724هـ.

(4) الكاشف 1/232 رقم (263) .

(5) هدى الساري ص456.

(6) فتح الباري 3/210.

(7) فتح الباري 9/411.
তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "সত্যবাদী (صدوق), তাঁর মধ্যে কিছুটা শিথিলতা (لين) আছে যা ক্ষমার যোগ্য (يستر)" (১)।

সমালোচকদের মন্তব্য উল্লেখ করার পর তিনি আরও বলেছেন: "তাঁর হাদিস হাসান (حسن) স্তরে উন্নীত হতে পারে; ইমাম বুখারি তাঁকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করেছেন (استشهد به) এবং মুসলিম তাঁর বর্ণনা মুতাবিআত (المتابعات) হিসেবে সংকলন করেছেন" (২)।

তিনি তাঁর সম্পর্কে আরও বলেছেন: "তিনি আল-লাইছি, আল-আদাওয়ি নন; তিনি সত্যবাদী (صدوق), হাদিস বর্ণনায় শক্তিশালী (قوي الحديث)। ইমাম মুসলিম তাঁর মাধ্যমে ইবনে ওয়াহাব থেকে প্রচুর হাদিস বর্ণনা করেছেন, তবে সেগুলোর অধিকাংশই শাওয়াহিদ (شواهد) ও মুতাবিআত (متابعات)। বাহ্যত তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), তবে নাসাঈ এবং অন্যান্যরা বলেছেন: তিনি শক্তিশালী নন (ليس بالقوي)" (৩)।

আল-কাশিফ গ্রন্থে তিনি হাকিমের উক্তিটি হুবহু উদ্ধৃত করেছেন: " … এর অধিকাংশ শাওয়াহিদ (شواهد) অথবা তিনি একে অন্যের সাথে যুক্ত করেছেন; নাসাঈ ও অন্যান্যরা বলেছেন: তিনি শক্তিশালী নন (ليس بالقوي)" (৪)। তিনি ৭২০ হিজরিতে এর রচনা সম্পন্ন করেন। উসামা আল-লাইছি সম্পর্কে হাফিজ যাহাবীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্ভবত সেটিই যা তিনি সিয়ারু আলামিন নুবালা গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আল্লাহই ভালো জানেন।

৫- হাফিজ ইবনে হাজার আল-আসকালানি (মৃত্যু: ৮৫২ হি.):

এই বর্ণনাকারী (উসামা) সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য একাধিক এবং ভিন্ন ভিন্ন। তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি মতভেদপূর্ণ (مختلف فيه) এবং ইমাম বুখারি তাঁর থেকে কিছু বর্ণনা মুআল্লাক (علق) হিসেবে গ্রহণ করেছেন" (৫)। তিনি তাঁর সম্পর্কে আরও বলেছেন: "তার মুখস্থ শক্তি দুর্বল (سيئ الحفظ)" (৬)। অন্য স্থানে বলেছেন: "তাঁর ব্যাপারে আপত্তি আছে (فيه مقال)" (৭)। তিনি আরও বলেছেন: "তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে তাঁর মুখস্থ শক্তিতে কিছুটা ত্রুটি আছে, তাঁর বর্ণনা সংকলন করেছেন...

--------------------------------------------

(১) আল-দিওয়ান, পৃষ্ঠা ২৫।

(২) সিয়ারু আলামিন নুবালা, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৩৪২। তিনি এটি ৭৩২ হিজরিতে সংকলন করেন, যেমনটি এর মুখবন্ধের ৯৩ পৃষ্ঠায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

(৩) মান তুকাল্লামা ফিহি ওয়া হুয়া মুওয়াসসাক, পৃষ্ঠা ৪১। সম্ভবত তিনি এটি ৭২৪ হিজরির পর সংকলন করেছেন।

(৪) আল-কাশিফ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৩২, নং (২৬৩)।

(৫) হুদায়ুস সারি, পৃষ্ঠা ৪৫৬।

(৬) ফাতহুল বারি, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ২১০।

(৭) ফাতহুল বারি, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৪১১।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফু আকওয়ালিন নুক্কাদ ফির রুওয়াতিল মুখতালাফি ফীহিম মাআ দিরাসাত হাজিহিজ জাহিরতি ইনদা ইবনি মাঈন (পৃষ্ঠা: ১৮)
مسلم استشهاداً" (1) . وقال أيضاً في نقده لحديث من روايته: "وهو لين، وقال الدارقطني: تفرد عثمان بن عمر بهذه الزيادة، وقد رواه ابن وهب عن أسامة وهو أعلم الناس بحديثه" (2) . وقال: "صدوق يَهِمُ" (3) . ويبدو أن الحافظ ابن حجر اقتنع بعد دراسة أحواله ومروياته أن حديثه حسن فحسنه (4) .

--------------------------------------------

(1) موافقة الخُبر الخبر 1/183.

(2) الدراية 1/243.

(3) التقريب ص124 رقم (317) .

(4) الإصابة 7/427.
"মুসলিম তাকে সমর্থনমূলক প্রমাণ হিসেবে (استشهاداً) গ্রহণ করেছেন" (১) । এবং তিনি তার বর্ণিত একটি হাদিসের সমালোচনায় আরও বলেছেন: "তিনি নমনীয় (لين); আর দারা কুতনী বলেছেন: উসমান ইবনে উমর এই অতিরিক্ত অংশটি বর্ণনায় একক (تفرد) হয়ে গেছেন, অথচ ইবনে ওয়াহাব এটি উসামা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তার হাদিস সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী" (২) । এবং বলেছেন: "সত্যবাদী তবে ভ্রমপ্রবণ (صدوق يهم)" (৩) । এবং প্রতীয়মান হয় যে, হাফিজ ইবনে হাজার তার অবস্থা ও বর্ণনাসমূহ পর্যালোচনার পর এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে তার হাদিস হাসান (حسن), তাই তিনি একে হাসান (حسن) হিসেবে গণ্য করেছেন (৪) ।

--------------------------------------------

(১) মুওয়াফাকাতুল খুবর আল-খুবর ১/১৮৩।

(২) আদ-দিরায়াহ ১/২৪৩।

(৩) আত-তাকরীব পৃষ্ঠা ১২৪, নম্বর (৩১৭) ।

(৪) আল-ইসাবাহ ৭/৪২৭।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফু আকওয়ালিন নুক্কাদ ফির রুওয়াতিল মুখতালাফি ফীহিম মাআ দিরাসাত হাজিহিজ জাহিরতি ইনদা ইবনি মাঈন (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌المبحث الرابع: تعريف موجز بالأمام يحي بن معين

…

المبحث الرابع: تعريف موجز بالإمام يحيى بن معين.

هو (ع) يحيى بن معين بن عَوْن بن زياد المُرِّيُّ الغطفاني، أبو زكريا البغدادي الحافظ، مولى غطفان، إمام أهل الحديث في زمانه والمشار إليه من بين أقرانه، وهو كما وصفه الخطيب البغدادي: "كان إماماً ربانياً، عالماً، حافظاً، ثبتاً، متقناً" (1) اختاره الله سبحانه وتعالى من بين رهط مبارك؛ لحفظ سنة نبيه صلى الله عليه وسلم والذَّبِّ عنها، وجمع له ما حفظه اثنا عشر عَلَماً من علماء الأمة في البصرة، والكوفة والحجاز (2) ، حتى أصبح متميزاً من بين خاصة أهل الحديث وأعلمهم بصحيح الحديث وسقيمه" (3) .

تخصص يحيى بن معين بمعرفة الرجال حتى إذا اختلف أساطين العلم رجعوا إليه كما ورد عن علي بن المديني وأحمد بن حنبل (4) . وجَنَّد نفسه من نعومة أظفاره وأفنى حياته وما يملك حتى توفاه الله عز وجل في خدمة حديث النبي صلى الله عليه وسلم، فقد ورث عن أبيه "ألف ألف درهم وخمسين ألف درهم، فأنفقه كله على الحديث حتى لم يبق له نعل يلبسه" (5) وكان يقول: "كتبت بيدي هذه ستمائة ألف حديث. قال أحمد - راوي الخبر -: وإني أظن أن المحدثين قد كتبوا له بأيديهم ستمائة ألف، وستمائة ألف" (6) .

--------------------------------------------

(1) تاريخ بغداد 14/177.

(2) تاريخ بغداد 14/177، وتهذيب الكمال 31/550-551.

(3) تهذيب الكمال 31/551.

(4) تاريخ بغداد 14/182.

(5) تاريخ بغداد 14/177، وتهذيب الكمال 31/547.

(6) المصادر السابقة.
‌‌চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

…

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি।

তিনি (ع) হলেন ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন ইবনে আওন ইবনে যিয়াদ আল-মুররি আল-গাতফানি, আবু যাকারিয়া আল-বাগদাদি আল-হাফেজ (الحافظ), গাতফানের আযাদকৃত দাস, স্বীয় সময়ের হাদিস শাস্ত্রবিদগণের ইমাম এবং সমসাময়িকদের মধ্যে প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব। খতিব আল-বাগদাদি তাঁর বর্ণনায় যেমনটি বলেছেন: "তিনি ছিলেন একজন রব্বানি ইমাম, বিজ্ঞ আলেম, হাফেজ (حافظ), সুদৃঢ় (ثبت) ও নিখুঁত (متقن)" (১)। মহান আল্লাহ তাঁকে এক বরকতময় দলের মধ্য থেকে মনোনীত করেছেন তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সুন্নাহ সংরক্ষণ ও তার প্রতিরক্ষার জন্য। তিনি বসরা, কুফা এবং হিজাজের উম্মতের বারোজন বিশিষ্ট আলেমের সংগৃহীত জ্ঞান অর্জন করেছিলেন (২), এমনকি তিনি বিশেষ হাদিস বিশারদদের মধ্যে অনন্য এবং হাদিসের সহিহ (صحيح) ও ত্রুটিযুক্ত (سقيم) হওয়া সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি পারদর্শী হয়ে ওঠেন (৩)।

ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বর্ণনাকারীদের পরিচিতি (الرجال) বিদ্যায় এমন বিশেষত্ব অর্জন করেছিলেন যে, যখন ইলমের স্তম্ভতুল্য মনীষীগণ মতবিরোধ করতেন, তখন তাঁরা তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করতেন; যেমনটি আলী ইবনুল মাদিনি এবং আহমদ ইবনে হাম্বল থেকে বর্ণিত হয়েছে (৪)। তিনি শৈশব থেকেই নিজেকে নিয়োজিত করেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিসের খিদমতে মহান আল্লাহ তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর জীবন ও সম্পদ উৎসর্গ করেন। তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে দশ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার দিরহাম উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলেন, যার পুরোটাই তিনি হাদিসের পেছনে ব্যয় করেন, এমনকি পরিশেষে তাঁর পরিধান করার মতো কোনো জুতোও অবশিষ্ট ছিল না (৫)। তিনি বলতেন: "আমি নিজ হাতে ছয় লক্ষ হাদিস লিখেছি। এই খবরের বর্ণনাকারী আহমদ বলেন: আমি মনে করি মুহাদ্দিসগণ তাঁর জন্য নিজ হাতে ছয় লক্ষ এবং আরও ছয় লক্ষ হাদিস লিখেছেন" (৬)।

--------------------------------------------

(১) তারিখ বাগদাদ ১৪/১৭৭।

(২) তারিখ বাগদাদ ১৪/১৭৭, এবং তহজিবুল কামাল ৩১/৫৫০-৫৫১।

(৩) তহজিবুল কামাল ৩১/৫৫১।

(৪) তারিখ বাগদাদ ১৪/১৮২।

(৫) তারিখ বাগদাদ ১৪/১৭৭, এবং তহজিবুল কামাল ৩১/৫৪৭।

(৬) পূর্বোক্ত উৎসসমূহ।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফু আকওয়ালিন নুক্কাদ ফির রুওয়াতিল মুখতালাফি ফীহিম মাআ দিরাসাত হাজিহিজ জাহিরতি ইনদা ইবনি মাঈন (পৃষ্ঠা: ২০)
ورحل كثيراً في طلب الحديث، وكان صبوراً على طلب العلم، فهذا مظفر بن مُدْرِك الخراساني نزيل بغداد - ثقة متقن، كان لا يُحَدِّث إلا عن ثقة ت 207هـ- كان أول من جاء إليه مع الإمام أحمد، ولم يحدِّثهم سنة شيئاً، فعدّوا الأيام، فلما تمت السنة جاؤوا فحدَّثهم" ومنه تعلم صنعة الحديث ومعرفة الرجال (1) .

وكان حريصاً على سؤال بعض الشيوخ الكبار في أول لقائه بهم والتعرف عليهم، فحينما قدم حران مع الإمام أحمد للقاء عبد الله بن محمد النفيلي - ثقة حافظ ت 234هـ- سأله وهو يعانقه قال: "يا أبا جعفر. قرأت على معقل ابن عبيد الله عن عطاء (أدنى وقت الحائض اليوم؟) فقال له أبو عبد الله - يعني الإمام أحمد - لو جلست؟ قال: أكره أن يموت أو يفارق الدنيا قبل أن أسمعه" (2) . وكان يقول: "كتبت بيدي ألف ألف حديث، وكل حديث لا يوجد ها هنا - وأشار بيده إلى الأسفاط - فهو كذب" (3) . ورغم هذا الكم الهائل من الحديث كان كما يقول ابن سعد: " … وكان لا يكاد يحدث" (4) .

ولعل السبب في ذلك ما ذكره أبو زرعة: "لم ينتفع بيحيى؛ لأنه كان يتكلم في الناس" (5) .

--------------------------------------------

(1) تاريخ بغداد 6/29 (ترجمة إبراهيم الحربي) ، نفسه 13/125 (ترجمة المظفر بن مدرك) .

(2) الجامع لأخلاق الراوي.... 2/241 القول في كتب الحديث على وجهه …

(3) تهذيب الكمال 31/548، سير أعلام النبلاء 11/92، يعني بالأسانيد المكررة للمتن الواحد، ولأنه كان يكتب الحديث نيفاً وخمسين مرة - السير 11/92.

(4) طبقات ابن سعد 9/357 والسير 11/92.

(5) تاريخ الإسلام وفيات 231-240 ص411.
তিনি হাদিস সংগ্রহের উদ্দেশ্যে প্রচুর ভ্রমণ করেছেন এবং ইলম অর্জনে অত্যন্ত ধৈর্যশীল ছিলেন। এই যে বাগদাদের অধিবাসী মুজাফফর বিন মুদরিক আল-খুরাসানি—তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও সুনিপুণ (متقن), তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) বর্ণনাকারী ছাড়া কারো থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন না (মৃত্যু ২০৭ হিজরি)—তিনিই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি ইমাম আহমদের সাথে তাঁর নিকট এসেছিলেন। তিনি এক বছর পর্যন্ত তাঁদের নিকট কোনো হাদিস বর্ণনা করেননি; তাঁরা দিন গণনা করতে থাকেন। যখন এক বছর পূর্ণ হলো, তখন তাঁরা আসলেন এবং তিনি তাঁদের নিকট হাদিস বর্ণনা করলেন। তাঁর কাছ থেকেই তিনি হাদিসের শিল্পকৌশল এবং বর্ণনাকারীদের পরিচিতি (معرفة الرجال) লাভ করেন (১)।

তিনি বড় বড় শাইখদের সাথে প্রথম সাক্ষাতেই তাঁদেরকে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে এবং তাঁদের সম্পর্কে পরিচিত হতে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন। যখন তিনি ইমাম আহমদের সাথে আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আন-নুফাইলি—যিনি ছিলেন একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও হাফেজ (حافظ) (মৃত্যু ২৩৪ হিজরি)—তাঁর সাথে সাক্ষাতের জন্য হাররানে আসলেন, তখন তিনি তাঁর সাথে কোলাকুলি করা অবস্থায়ই তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন: "হে আবু জাফর! আপনি কি মাকিল বিন উবাইদুল্লাহর সূত্রে আতা থেকে (ঋতুবতী নারীর সর্বনিম্ন সময় কি একদিন?)—এই হাদিসটি পড়েছেন?" তখন আবু আব্দুল্লাহ—অর্থাৎ ইমাম আহমদ—তাঁকে বললেন: "আপনি যদি বসতেন?" তিনি বললেন: "আমি এটা অপছন্দ করি যে, আমার এই হাদিসটি শোনার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করবেন বা পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবেন" (২)। তিনি বলতেন: "আমি নিজ হাতে দশ লক্ষ হাদিস লিখেছি। আর যে হাদিস এখানে পাওয়া যাবে না—তিনি তাঁর হাত দিয়ে সিন্দুকগুলোর দিকে ইশারা করলেন—তা মিথ্যা" (৩)। হাদিসের এই বিশাল ভাণ্ডার থাকা সত্ত্বেও ইবনে সাদ যেমনটি বলেছেন: " … তিনি প্রায় হাদিস বর্ণনা করতেন না বললেই চলে" (৪)।

সম্ভবত এর কারণ ছিল সেটিই যা আবু জুরআ উল্লেখ করেছেন: "ইয়াহইয়া থেকে (হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে) তেমন উপকার লাভ করা সম্ভব হয়নি; কারণ তিনি মানুষের (বর্ণনাকারীদের) সমালোচনা করতেন" (৫)।

--------------------------------------------

(১) তারিখ বাগদাদ ৬/২৯ (ইব্রাহিম আল-হারবির জীবনী), প্রাগুক্ত ১৩/১২৫ (আল-মুজাফফর বিন মুদরিকের জীবনী)।

(২) আল-জামি লি আখলাকির রাওয়ি... ২/২৪১, হাদিসের কিতাবসমূহ যথাযথভাবে বর্ণনা সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ …

(৩) তাহজিব আল-কামাল ৩১/৫৪৮, সিয়ারু আলামিন নুবালা ১১/৯২; অর্থাৎ একই মূল পাঠের (متن) জন্য পুনরাবৃত্ত সনদসমূহ (الأسانيد) সহকারে, কারণ তিনি একটি হাদিস পঞ্চাশবারেরও বেশি লিখতেন—সিয়ার ১১/৯২।

(৪) তাবাকাত ইবনে সাদ ৯/৩৫৭ এবং সিয়ার ১১/৯২।

(৫) তারিখুল ইসলাম, ওফাত ২৩১-২৪০ হিজরি, পৃষ্ঠা ৪১১।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফু আকওয়ালিন নুক্কাদ ফির রুওয়াতিল মুখতালাফি ফীহিম মাআ দিরাসাত হাজিহিজ জাহিরতি ইনদা ইবনি মাঈন (পৃষ্ঠা: ২১)
وقد اعتنى بمعرفة الرجال وأحوالهم، حتى إن الحافظ الذهبي عَدَّه من الذين تكلموا في أكثر الرواة (1) ، وصنفه ضمن المتعنتين في الجرح والمتثبتين في التعديل، يغمز الواحد منهم الراوي بالغلطتين والثلاث ويلين بذلك حديثه، ثم وصف هذا القسم وأصحابه بأنه "إذا وَثَّقَ شخصاً فعض على قوله بناجذيك، وتمسك بتوثيقه، وإذا ضَعَّفَ رجلاً فانظر هل وافقه غيره على تضعيفه؟ فإن وافقه، ولم يوثق ذاك أحد من الحذاق فهو ضعيف، وإن وثقه أحد فهذا الذي قالوا فيه: لا يقبل تجريحه إلا مفسراً يعني لا يكفي أن يقول فيه ابن معين مثلاً: هو ضعيف، ولم يوضح سبب ضعفه، وغيره قد وثقه، فمثل هذا يتوقف في تصحيح حديثه، وهو إلى الحُسن أقرب. وابن معين وأبو حاتم، والجوزجاني: متعنتون" (2) .

وبسبب كثرة السائلين له عن الرجال تعدَّدت أقواله واختلفت، يقول الحافظ السخاوي: "يحيى بن معين وقد سأله عن الرجال غير واحد من الحفاظ، ومن ثَمَّ اختلفت آراؤه وعباراته في بعض الرجال، كما اختلف اجتهاد الفقهاء، وصارت لهم الأقوال والوجوه، فاجتهدوا في المسائل كما اجتهد ابن معين في الرجال" (3) .

--------------------------------------------

(1) ذكر من يعتمد قوله في الجرح والتعديل ص158 والمتكلمون في الرجال للسخاوي ص93.

(2) ذكر من يعتمد قوله في الجرح والتعديل ص158-159، والمتكلمون في الرجال للسخاوي ص93 بلفظ: "ومثل هذا يختلف في تصحيح حديثه وتضعيفه". ومن المعلوم أن هذا التقويم من الحافظ الذهبي له مكانته؛ لأنه كما قال الحافظ ابن حجر عنه: "هو من أهل الاستقراء التام في نقد الرجال" انظر الحاوي للفتاوي 1/348 وكذا السخاوي قالها في المتكلمون في الرجال ص132.

(3) المتكلمون في الرجال للسخاوي ص93.
তিনি বর্ণনাকারীদের পরিচিতি ও তাঁদের অবস্থার ব্যাপারে বিশেষ যত্নশীল ছিলেন, এমনকি হাফিজ আজ-জাহাবি তাঁকে সেই সকল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যাঁরা অধিকাংশ বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে সমালোচনা করেছেন (১)। তিনি তাঁকে কঠোর সমালোচকদের (متعنتون) এবং নির্ভরযোগ্যতা প্রদানের (التعدিল) ক্ষেত্রে অত্যন্ত যাচাই-বাছাইকারীগণের অন্তর্ভুক্ত করেছেন; যাঁদের মধ্যে কেউ একজন বর্ণনাকারীকে মাত্র দুই বা তিনটি ভুলের কারণে অভিযুক্ত করেন এবং এর মাধ্যমে তাঁর হাদিসকে নমনীয় বা শিথিল (يلين) করে দেন। অতঃপর তিনি এই শ্রেণি ও এর অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করে বলেন: "যখন তিনি কাউকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করেন (وثق), তবে তাঁর কথাকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো এবং তাঁর নির্ভরযোগ্য সাব্যস্তকরণকে (توثيقه) গ্রহণ করো। আর যখন তিনি কোনো ব্যক্তিকে দুর্বল সাব্যস্ত করেন (ضعف), তখন দেখো অন্য কেউ তাঁর এই দুর্বল সাব্যস্তকরণের (تضعيفه) ক্ষেত্রে ঐকমত্য পোষণ করেছেন কি না? যদি অন্য কেউ তাঁর সাথে ঐকমত্য পোষণ করেন এবং কোনো বিশেষজ্ঞ ইমামই তাকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত না করেন (وثق), তবে সে দুর্বল (ضعيف)। আর যদি অন্য কেউ তাকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করেন (وثق), তবে এটি সেই ক্ষেত্র যার সম্পর্কে উলামাগণ বলেন: তাঁর দোষারোপ বা সমালোচনা (تجريح) ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য হবে না যতক্ষণ না তা সবিস্তারে (مفسرا) বর্ণিত হয়। অর্থাৎ, ইবনে মাঈন যদি উদাহরণস্বরূপ কারো ব্যাপারে বলেন: 'সে দুর্বল (ضعيف)', অথচ তাঁর দুর্বলতার কারণ স্পষ্ট না করেন, আর অন্য কেউ তাকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করেন (وثق), তবে এই ধরনের ব্যক্তির হাদিস সহিহ সাব্যস্ত করার (تصحيح) ক্ষেত্রে বিরত থাকতে হবে, এবং তা হাসান (الحسن) পর্যায়ের নিকটবর্তী। আর ইবনে মাঈন, আবু হাতিম এবং আল-জুজজানি হলেন কঠোর সমালোচক (متعنتون)" (২)।

বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে তাঁর নিকট জিজ্ঞাসাকারীদের আধিক্যের কারণে তাঁর উক্তিগুলো বহুবিধ ও ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে। হাফিজ আস-সাখাবি বলেন: "ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন, যাঁর কাছে বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে একাধিক হাফিজ (হাদিস বিশারদ) জিজ্ঞাসা করেছেন, ফলে কিছু বর্ণনাকারীর ব্যাপারে তাঁর মতামত ও অভিব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে, যেমনটি ফকিহগণের ইজতিহাদ বা গবেষণা ভিন্ন ভিন্ন হয় এবং তাঁদের বিভিন্ন বক্তব্য ও দিক থাকে। তাঁরা যেমন বিভিন্ন মাসআলায় ইজতিহাদ করেছেন, ইবনে মাঈনও তেমনি বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে ইজতিহাদ করেছেন" (৩)।

--------------------------------------------

(১) যিকর মান ইউতামাদু কওলুহু ফিল জারহি ওয়াত তাদিল, পৃষ্ঠা ১৫৮ এবং আস-সাখাবি রচিত আল-মুতাকাল্লিমুনা ফির রিজাল, পৃষ্ঠা ৯৩।

(২) যিকর মান ইউতামাদু কওলুহু ফিল জারহি ওয়াত তাদিল, পৃষ্ঠা ১৫৮-১৫৯ এবং আস-সাখাবি রচিত আল-মুতাকাল্লিমুনা ফির রিজাল, পৃষ্ঠা ৯৩; যেখানে শব্দগুলো হলো: "এবং এই ধরনের ব্যক্তির হাদিস সহিহ সাব্যস্ত করা (تصحيح) বা দুর্বল সাব্যস্ত করার (تضعيفه) ক্ষেত্রে মতভেদ থাকে"। এটি সর্বজনবিদিত যে, হাফিজ আজ-জাহাবির এই মূল্যায়নের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে; কারণ হাফিজ ইবনে হাজার তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি বর্ণনাকারীদের সমালোচনার ক্ষেত্রে পূর্ণ অনুসন্ধানকারী (أهل الاستقراء التام) ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত।" দেখুন: আল-হাউয়ি লিল ফাতাওয়া ১/৩৪৮ এবং আস-সাখাবিও আল-মুতাকাল্লিমুনা ফির রিজাল গ্রন্থের ১৩২ পৃষ্ঠায় এটি উল্লেখ করেছেন।

(৩) আল-মুতাকাল্লিমুনা ফির রিজাল, আস-সাখাবি, পৃষ্ঠা ৯৩।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফু আকওয়ালিন নুক্কাদ ফির রুওয়াতিল মুখতালাফি ফীহিম মাআ দিরাসাত হাজিহিজ জাহিরতি ইনদা ইবনি মাঈন (পৃষ্ঠা: ২২)
ولمعالجة هذه الظاهرة عند ابن معين كان هذا البحث محاولةً للوصول إلى طرق يوفق فيها وتجمع أقواله المختلفة، والخطوات التي ينبغي سلوكها لمعرفتها والتثبت منها، وكذلك تمييزها والوصول إلى نتائج مبنية على قواعد النقاد ومسالك بحثهم، وبالله التوفيق.
ইবনে মাঈনের নিকট এই প্রবণতাটি পর্যালোচনার লক্ষ্যে, তাঁর বিভিন্ন বক্তব্যের (أقوال) মধ্যে সমন্বয় (توفيق) সাধন ও সেগুলো একত্রিত করার পন্থা অন্বেষণ এবং এই উক্তিগুলো জানা ও যাচাই (تثبت) করার ক্ষেত্রে যে সকল পদক্ষেপ অনুসরণ করা আবশ্যক, সেগুলো নিরূপণ করাই ছিল এই গবেষণার লক্ষ্য। সেই সাথে এগুলোকে পৃথক করা এবং সমালোচকদের (نقاد) মূলনীতি ও তাঁদের গবেষণা পদ্ধতির আলোকে নির্দিষ্ট ফলাফলে উপনীত হওয়ার প্রয়াস চালানো হয়েছে। আর আল্লাহর সাহায্যেই সফলতা অর্জিত হয়।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফু আকওয়ালিন নুক্কাদ ফির রুওয়াতিল মুখতালাফি ফীহিম মাআ দিরাসাত হাজিহিজ জাহিরতি ইনদা ইবনি মাঈন (পৃষ্ঠা: ২৩)
نموذج لأحد الرواة الذين اختلفت فيهم أقوال ابن معين

محمد بن إسحاق:

لعل أكثر الرواة الذين تعددت فيهم أقوال ابن معين واختلفت هو

محمد بن إسحاق بن يسار، أبو بكر المطلبي مولاهم المدني إمام المغازي

(ت 150هـ) (1) .

الذي قال عنه الخطيب: "احتجَّ بروايته في الأحكام قوم من أهل العلو وصَدَفَ عنها آخرون" (2) .

وقال عنه الحافظ الذهبي: "فالذي يظهر لي أن ابن إسحاق حسنُ الحديث، صالح الحال صدوق، وما انفرد به ففيه نكارة؛ فإن في حفظه شيئاً. وقد احتج به أئمة؛ فالله أعلم" (3) .

أقوال ابن معين في ابن إسحاق:

1- سأله الدوري: "أيما أحبّ إليك: موسى بن عبيدة الرَّبَذِي - ضعيف ولاسيما في عبد الله بن دينار - أو محمد بن إسحاق؟ فقال: محمد بن إسحاق، محمد بن إسحاق صدوق ولكنه ليس بحجة" (4) .

2- وقال في روايته عنه أيضاً: "محمد بن إسحاق ثقة، ولكنه ليس بحجة" (5) ، وعقَّبَ على ذلك ابن سيِّد النّاس بقوله: "وأما قول يحيى: ثقة

--------------------------------------------

(1) صدوق يدلس (ط 4) وُرمي بالتشيع والقدر (خت م 4) ، التقريب رقم (5725) .

(2) تاريخ بغداد 1/ 215.

(3) الميزان 3/ 475.

(4) تاريخ ابن معين رواية الدوري 2/504 رقم (230) ، والجرح والتعديل 7/192.

(5) تاريخ ابن معين - الدوري - 3/225 رقم (1047) .
ইবনে মাঈনের বক্তব্যসমূহে মতপার্থক্য ঘটেছে এমন একজন বর্ণনাকারীর উদাহরণ

মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক:

ইবনে মাঈনের বক্তব্য সম্ভবত যে বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রে সবচাইতে বেশি বৈচিত্র্যময় ও ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে, তিনি হলেন

মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইয়াসার, আবু বকর আল-মুত্তালিবি মাওলাহুম আল-মাদানি, মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) বিষয়ক শাস্ত্রের ইমাম

(মৃত্যু ১৫০ হি.) (১)।

যার সম্পর্কে আল-খাতিব বলেছেন: "উচ্চপদস্থ আলেমদের একদল আহকাম (বিধান) সংক্রান্ত বিষয়ে তার বর্ণনাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং অন্যরা তা পরিহার করেছেন" (২)।

হাফেজ আল-জাহাবি তার সম্পর্কে বলেছেন: "আমার নিকট যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, ইবনে ইসহাক উত্তম হাদিস (حسن الحديث) সমৃদ্ধ, নির্ভরযোগ্য অবস্থা (صالح الحال) সম্পন্ন ও সত্যবাদী (صدوق); তবে তিনি যা এককভাবে বর্ণনা করেছেন তাতে অস্বীকৃতি (نكارة) রয়েছে; কেননা তার হেফজ (স্মৃতিশক্তি)-এ কিছুটা ত্রুটি ছিল। অনেক ইমাম তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছেন; আর আল্লাহই ভালো জানেন" (৩)।

ইবনে ইসহাকের ব্যাপারে ইবনে মাঈনের বক্তব্যসমূহ:

১- আদ-দুরি তাকে জিজ্ঞেস করেন: "আপনার কাছে কে অধিক পছন্দনীয়: মুসা ইবনে উবাইদাহ আর-রাবাজি — তিনি দুর্বল (ضعيف), বিশেষ করে আবদুল্লাহ ইবনে দ্বীনারের বর্ণনায় — নাকি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক? তিনি উত্তর দিলেন: মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক। মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক সত্যবাদী (صدوق), তবে তিনি দলিল (حجة) নন" (৪)।

২- তার থেকে বর্ণিত অন্য রেওয়ায়াতে তিনি আরও বলেন: "মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক নির্ভরযোগ্য (ثقة), কিন্তু তিনি দলিল (حجة) নন" (৫)। ইবনে সাইয়্যেদ আন-নাস এর ওপর মন্তব্য করে বলেন: "আর ইয়াহইয়ার এই কথা: নির্ভরযোগ্য (ثقة)...

--------------------------------------------

(১) সত্যবাদী (صدوق), তাদলিস (يدلس) করতেন (স্তর ৪); তার বিরুদ্ধে শিয়া মতবাদ ও কদরিয়্যাহ হওয়ার অভিযোগ রয়েছে (খাত, ম ৪), আত-তাকরিব, নং (৫৭২৫)।

(২) তারিখ বাগদাদ ১/ ২১৫।

(৩) আল-মিজান ৩/ ৪৭৫।

(৪) তারিখ ইবনে মাঈন, আদ-দুরি-র বর্ণনা ২/৫০৪ নং (২৩০), এবং আল-জারহ ওয়াত তাদিল ৭/১৯২।

(৫) তারিখ ইবনে মাঈন - আদ-দুরি - ৩/২২৫ নং (১০৪৭)।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফু আকওয়ালিন নুক্কাদ ফির রুওয়াতিল মুখতালাফি ফীহিম মাআ দিরাসাত হাজিহিজ জাহিরতি ইনদা ইবনি মাঈন (পৃষ্ঠা: ২৪)
وليس بحجة. فيكفينا التوثيق، ولو لم يُقبل إلا مثل العمري - عبيد الله بن عمر - ومالك لقلَّ المقبولون" (1) .

3- وقال الدوري: " سمعت يحيى يقول: لا تتشبث بشيء مما يحدثك به ابن إسحاق؛ فإن ابن إسحاق ليس هو بقوي في الحديث. فقال رجل ليحيى: يصح أن ابن إسحاق كان يرى القدر؟ قال: نعم كان يرى القدر" (2) .

4- وقال الدوري: "سمعت يحيى بن معين يقول: محمد بن عمرو أحب إليّ من محمد بن إسحاق" (3) .

5- وقال الدوري: "سمعت يحيى بن معين يقول: ليث بن سعد أثبت في يزيد بن أبي حبيب من محمد ابن إسحاق" (4) .

6- وقال الدوري: "محمد بن عبد الله بن أخي الزهري أحبُّ إليّ من محمد بن إسحاق في الزهري" (5) .

7- وقال الدوري: "سمعت يحيى يقول: محمد بن عجلان أحب إليّ من محمد بن عمرو، ومحمد بن عمرو أحب إلي من محمد بن إسحاق" (6) .

وفي رواية العقيلي من طريق الدوري بلفظ: " … محمد بن عجلان أوثق من محمد بن عمرو، ولم يكونوا يكتبون حديث محمد بن عمرو، حتى

--------------------------------------------

(1) عيون الأثر 1/65.

(2) تاريخ ابن معين - الدوري - 2/504 رقم (1158) .

(3) الكامل 6/2118.

(4) تاريخ ابن معين - الدوري - 4/466، الكامل 6/2118، وتهذيب الكمال 24/ 263.

(5) تاريخ ابن معين - الدوري - 2/524 رقم (730) ، وانظر: رقم (1153) أيضاً.

(6) تاريخ ابن معين - الدوري - 3/226.
এবং তিনি দলিল (حجة) হিসেবে গণ্য নন। আমাদের জন্য নির্ভরযোগ্যতা নির্ধারণই (التوثيق) যথেষ্ট; যদি উবাইদুল্লাহ ইবনে ওমর আল-উমারি এবং মালিকের মতো ব্যক্তি ছাড়া অন্য কাউকে গ্রহণ করা না হতো, তবে গ্রহণযোগ্য (المقبولون) ব্যক্তিদের সংখ্যা কমে যেত" (১)।

৩- এবং দাউরি বলেন: "আমি ইয়াহইয়াকে বলতে শুনেছি: ইবনে ইসহাক তোমাকে যা বর্ণনা করে তার কোনো কিছুকে আঁকড়ে ধরো না; কারণ ইবনে ইসহাক হাদিসের ক্ষেত্রে শক্তিশালী (قوي) নন। এক ব্যক্তি ইয়াহইয়াকে জিজ্ঞেস করলেন: এটি কি সঠিক যে ইবনে ইসহাক তাকদীরের (কদরিয়া মতবাদ) প্রবক্তা ছিলেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তিনি তাকদীরের প্রবক্তা ছিলেন" (২)।

৪- এবং দাউরি বলেন: "আমি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে বলতে শুনেছি: মুহাম্মদ ইবনে আমর আমার কাছে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের চেয়ে অধিক প্রিয়" (৩)।

৫- এবং দাউরি বলেন: "আমি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে বলতে শুনেছি: ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিবের বর্ণনার ক্ষেত্রে লাইস ইবনে সাদ মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের চেয়ে অধিক সুদৃঢ় (أثبت)" (৪)।

৬- এবং দাউরি বলেন: "জুহরির বর্ণনার ক্ষেত্রে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ—যিনি জুহরির ভাতিজা—তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের চেয়ে আমার কাছে অধিক প্রিয়" (৫)।

৭- এবং দাউরি বলেন: "আমি ইয়াহইয়াকে বলতে শুনেছি: মুহাম্মদ ইবনে আজলান আমার কাছে মুহাম্মদ ইবনে আমরের চেয়ে অধিক প্রিয়, আর মুহাম্মদ ইবনে আমর আমার কাছে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের চেয়ে অধিক প্রিয়" (৬)।

দাউরির সূত্রে উকাইলির বর্ণনায় এই শব্দে এসেছে: "...মুহাম্মদ ইবনে আজলান মুহাম্মদ ইবনে আমরের চেয়ে অধিক নির্ভরযোগ্য (أوثق), আর তারা মুহাম্মদ ইবনে আমরের হাদিস লিখতেন না, যতক্ষণ না..."

--------------------------------------------

(১) উয়ুনুল আসার ১/৬৫।

(২) তারিখ ইবনে মাঈন - দাউরি - ২/৫০৪ নম্বর (১১৫৮)।

(৩) আল-কামিল ৬/২১১৮।

(৪) তারিখ ইবনে মাঈন - দাউরি - ৪/৪৬৬, আল-কামিল ৬/২১১৮, এবং তাহজিবুল কামাল ২৪/২৬৩।

(৫) তারিখ ইবনে মাঈন - দাউরি - ২/৫২৪ নম্বর (৭৩০), এবং আরও দেখুন: নম্বর (১১৫৩)ও।

(৬) তারিখ ইবনে মাঈন - দাউরি - ৩/২২৬।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফু আকওয়ালিন নুক্কাদ ফির রুওয়াতিল মুখতালাফি ফীহিম মাআ দিরাসাত হাজিহিজ জাহিরতি ইনদা ইবনি মাঈন (পৃষ্ঠা: ২৫)
اشتهاها أصحاب الإسناد فكتبوها، ومحمد بن عمرو أحب إلي من محمد بن

إسحاق" (1) .

8- وقال في رواية الدارمي: "ليس به بأس، وهو ضعيف الحديث عن الزهري" (2) .

9- وقال أبو زرعة الدمشقي: "قلت ليحيى بن معين وذكرت له الحجة، فقلت له: محمد بن إسحاق منهم؟ فقال: كان ثقة، إنما الحجة عبيد الله بن عمر ومالك بن أنس، وذكر قوماً آخرين" (3) .

10- وقال المفضل بن غسان الغلابي: "سألت ابن معين عن محمد بن إسحاق، فقال: كان ثقة، وكان حسن الحديث. فقلت: إنهم يزعمون أنه رأى سعيد بن المسيب. فقال: إنه لقديم" (4) .

11- وقال أيضاً في رواية الغلابي: "ابن إسحاق ثبت في الحديث" (5) .

12- وقال في رواية أحمد بن أبي خيثمة: " محمد بن إسحاق ليس به

بأس" (6) .

--------------------------------------------

(1) الضعفاء للعقيلي 4/110، إكمال تهذيب الكمال 10/301، وفي تهذيب التهذيب في ترجمة محمد بن عمرو 9/377 باختصار.

(2) تاريخ الدارمي ص44 رقم (15) .

(3) تاريخ أبي زرعة الدمشقي 1/460-461، وفي الكامل 6/2118، ومختصره للمقريزي ص649 بلفظ: "هو حجة فقال: هو صدوق ولكن الحجة عبيد الله بن عمر والأوزاعي وسعيد بن عبد العزيز"، وتاريخ بغداد 1/ 232، وتهذيب الكمال 24/423.

(4) تاريخ بغداد 1/218، وتهذيب الكمال 24/411. وتهذيب التهذيب 9/39-40.

(5) تاريخ بغداد 1/231، عيون الأثر 1/58.

(6) تاريخ بغداد 1/232، وعيون الأثر 1/58-59، وتهذيب الكمال 24/423، وتهذيب التهذيب 9/44.
সনদ (إسناد) সংকলকগণ এর প্রতি লালায়িত ছিলেন, তাই তারা এটি লিপিবদ্ধ করেছেন। আর মুহাম্মদ ইবনে আমর আমার নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের চেয়ে অধিক পছন্দনীয় (১)।

৮- আর দারেমীর বর্ণনায় তিনি বলেছেন: "তার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই (ليس به بأس), তবে যুহরীর সূত্রে তিনি হাদিসের ক্ষেত্রে দুর্বল (ضعيف)" (২)।

৯- আবু জুরআ আদ-দিমাশকী বলেছেন: "আমি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের নিকট দলিলযোগ্য (حجة) বর্ণনাকারীদের কথা উল্লেখ করে বললাম: মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক কি তাদের অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ছিলেন। মূলত দলিলযোগ্য (حجة) তো হলেন উবাইদুল্লাহ ইবনে ওমর এবং মালিক ইবনে আনাস; এরপর তিনি আরও কিছু লোকের কথা উল্লেখ করলেন" (৩)।

১০- মুফাযযাল ইবনে গাসসান আল-গালাবী বলেছেন: "আমি ইবনে মাঈনকে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ছিলেন এবং সুন্দর হাদিস (حسن الحديث) বর্ণনাকারী ছিলেন। আমি বললাম: তারা দাবি করে যে তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবকে দেখেছিলেন। তিনি বললেন: তিনি তো অনেক প্রাচীন" (৪)।

১১- আল-গালাবীর বর্ণনায় তিনি আরও বলেছেন: "ইবনে ইসহাক হাদিসের ক্ষেত্রে সুদৃঢ় (ثبت)" (৫)।

১২- আহমাদ ইবনে আবি খাইসামার বর্ণনায় তিনি বলেছেন: "মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই (ليس به بأس)" (৬)।

--------------------------------------------

(১) আদ-দুআফা লিল উকায়লী ৪/১১০, ইকমাল তাহযিব আল-কামাল ১০/৩০১, এবং তাহযিব আত-তাহযিব-এ মুহাম্মদ ইবনে আমরের জীবনীতে ৯/৩৭৭ সংক্ষেপে।

(২) তারিখ আদ-দারেমী পৃষ্ঠা ৪৪, নম্বর (১৫)।

(৩) তারিখ আবি জুরআ আদ-দিমাশকী ১/৪৬০-৪৬১, আল-কামিল ৬/২১১৮ এবং আল-মাকরিজি রচিত এর সংক্ষেপিত সংস্করণে পৃষ্ঠা ৬৪৯ এই শব্দে: "তিনি কি দলিলযোগ্য (حجة)? উত্তরে তিনি বললেন: তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে দলিলযোগ্য (حجة) হলেন উবাইদুল্লাহ ইবনে ওমর, আওযাঈ এবং সাঈদ ইবনে আব্দুল আজিজ", তারিখ বাগদাদ ১/২৩২, তাহযিব আল-কামাল ২৪/৪২৩।

(৪) তারিখ বাগদাদ ১/২১৮, তাহযিব আল-কামাল ২৪/৪১১, তাহযিব আত-তাহযিব ৯/৩৯-৪০।

(৫) তারিখ বাগদাদ ১/২৩১, উয়ুন আল-আসার ১/৫৮।

(৬) তারিখ বাগদাদ ১/২৩২, উয়ুন আল-আসার ১/৫৮-৫৯, তাহযিব আল-কামাল ২৪/৪২৩, তাহযিব আত-তাহযিব ৯/৪৪।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফু আকওয়ালিন নুক্কাদ ফির রুওয়াতিল মুখতালাফি ফীহিম মাআ দিরাসাত হাজিহিজ জাহিরতি ইনদা ইবনি মাঈন (পৃষ্ঠা: ২৬)
13- وقال في رواية أخرى عنه: "ليس بذاك، ضعيف" (1) .

14- وقال في رواية أخرى عنه: "محمد بن إسحاق عندي سقيم، ليس بالقوي" (2) .

15- وقال ابن أبي خيثمة: "سمعت يحيى وقيل له أيما أحب إليك موسى ابن عبيدة الرَّبَذي أو محمد بن إسحاق؟ فقال: محمد بن إسحاق" (3) .

16- وقال أيضاً: وسمعت يحيى يقول: "لم يزل الناس يتقون حديث محمد ابن إسحاق" (4) .

17- قال يعقوب بن شيبة: "سألت يحيى بن معين قلت: كيف محمد بن إسحاق عندك؟ قال: ليس هو عندي بذاك، ولم يثبّتْه وضعّفه، ولم يضعّفه جداً. فقلت له: ففي نفسك من صدقه شيء؟ قال: لا، كان صدوقاً" (5) .

18- قال الميموني: "سمعت يحيى بن معين يقول: محمد بن إسحاق ضعيف" (6) .

19- وقال في رواية محمد بن عبيد الله الزهري: "محمد بن إسحاق ليس بذاك" (7) .

--------------------------------------------

(1) المصادر السابقة والجرح والتعديل 7/194.

(2) تاريخ بغداد 1/232، وعيون الأثر 1/59، وتهذيب الكمال 24/423، وتهذيب التهذيب 9/44.

(3) الجرح والتعديل 7/194، والثقات لابن شاهين ص200 رقم (1200) .

(4) الجرح والتعديل 7/194.

(5) الكامل 6/2119، وتاريخ بغداد 1/231، وعيون الأثر 1/58، وتهذيب الكمال

24/ 422، والميزان 3/472.

(6) تاريخ بغداد 1/231.

(7) تاريخ بغداد 1/231.
13- এবং তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য এক রেওয়ায়াতে তিনি বলেন: "সে তেমন (নির্ভরযোগ্য) নয়, দুর্বল (ضعيف)" (১)।

14- এবং তাঁর থেকে বর্ণিত অন্য এক রেওয়ায়াতে তিনি বলেন: "মুহাম্মদ বিন ইসহাক আমার নিকট ত্রুটিযুক্ত (سقيم), সে শক্তিশালী (قوي) নয়" (২)।

15- এবং ইবনে আবি খাইসামা বলেন: "আমি ইয়াহইয়াকে বলতে শুনেছি, যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো—মুসা ইবনে উবায়দাহ আর-রাবাজি অথবা মুহাম্মদ বিন ইসহাক, আপনার নিকট কে অধিক প্রিয়? তিনি উত্তরে বললেন: মুহাম্মদ বিন ইসহাক" (৩)।

16- তিনি আরও বলেন: এবং আমি ইয়াহইয়াকে বলতে শুনেছি: "লোকেরা সর্বদা মুহাম্মদ বিন ইসহাকের হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতেন" (৪)।

17- ইয়াকুব বিন শাইবাহ বলেন: "আমি ইয়াহইয়া বিন মাইনকে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনার নিকট মুহাম্মদ বিন ইসহাক কেমন? তিনি বললেন: সে আমার নিকট তেমন (নির্ভরযোগ্য) নয়। তিনি তাকে নির্ভরযোগ্য হিসেবে সাব্যস্ত (يثبّتْه) করেননি বরং তাকে দুর্বল (ضعف) আখ্যা দিয়েছেন, তবে অতিমাত্রায় দুর্বল (ضعف) বলেননি। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করলাম: তাঁর সততা সম্পর্কে কি আপনার মনে কোনো সংশয় আছে? তিনি বললেন: না, সে সত্যবাদী (صدوق) ছিল" (৫)।

18- আল-মায়মুনি বলেন: "আমি ইয়াহইয়া বিন মাইনকে বলতে শুনেছি: মুহাম্মদ বিন ইসহাক দুর্বল (ضعيف)" (৬)।

19- মুহাম্মদ বিন উবাইদুল্লাহ আল-জুহরি বর্ণিত রেওয়ায়াতে তিনি বলেন: "মুহাম্মদ বিন ইসহাক তেমন (নির্ভরযোগ্য) নয়" (৭)।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎসসমূহ এবং আল-জারহ ওয়াত তা'দিল ৭/১৯৪।

(২) তারিখ বাগদাদ ১/২৩২, উইয়ুনুল আসার ১/৫৯, তাহজিবুল কামাল ২৪/৪২৩ এবং তাহজিবুত তাহজিব ৯/৪৪।

(৩) আল-জারহ ওয়াত তা'দিল ৭/১৯৪ এবং ইবনে শাহিন রচিত আস-সিকাত পৃষ্ঠা ২০০, নম্বর (১২০০)।

(৪) আল-জারহ ওয়াত তা'দিল ৭/১৯৪।

(৫) আল-কামিল ৬/২১১৯, তারিখ বাগদাদ ১/২৩১, উইয়ুনুল আসার ১/৫৮, তাহজিবুল কামাল

২৪/৪২২ এবং আল-মিজান ৩/৪৭২।

(৬) তারিখ বাগদাদ ১/২৩১।

(৭) তারিখ বাগদাদ ১/২৩১।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফু আকওয়ালিন নুক্কাদ ফির রুওয়াতিল মুখতালাফি ফীহিম মাআ দিরাসাত হাজিহিজ জাহিরতি ইনদা ইবনি মাঈন (পৃষ্ঠা: ২৭)
- قال أحمد بن محمد بن القاسم بن مُحْرِز وسمعت يحيى وقيل له: "أيما أكثر محمد بن إسحاق أو محمد بن عمرو؟ قال: محمد بن عمرو أحب إليّ منه، وأهل المدينة لا يرون أن يحدثوا عن ابن إسحاق، وذلك أنه كان

قدرياً" (1) .

21- قال إسحاق بن منصور: "سئل يحيى بن معين عن محمد بن عمرو ومحمد بن إسحاق أيهما يقدم؟ فقال: محمد بن عمرو" (2) .

22- وقال أحمد بن سعيد بن أبي مريم: "قال يحيى بن معين: الليث بن سعد الفَهْمي -ثقة ثبت فقيه إمام مشهور (ت 175هـ) - عندي أرفع من محمد بن إسحاق. قلت له: فالليث أو مالك؟ قال لي: مالك" (3) .

23- وقال الليث بن عَبْدَة المروزي نزيل مصر: "سمعت يحيى بن معين يقول: الليث أرفع عندي من محمد بن إسحاق" (4) .

24- وقال محمد بن هارون الفلاس المخرمي: "سألت يحيى بن معين عن محمد بن إسحاق؟ فقال: ما أحب أن احتج به في الفرائض" (5) .

وعقب ابنُ سَيِّد النَّاس على قول ابن معين فقال: "وأما قول يحيى: ما أحب أن احتج به في الفرائض، فقد سبق الجواب عنه فيما نقلناه عن الإمام أحمد رحمه الله قوله … أما في المغازي وأشباهها فيكتب، وأما في الحلال والحرام فيحتاج إلى مثل هذا - ومدّ يده وضمّ أصابعه - على أن المعروف

--------------------------------------------

(1) رواية ابن محرز 1/118، رقم (578) .

(2) تهذيب التهذيب 9/376.

(3) تاريخ بغداد 3/13، الكامل 6/2120.

(4) الكامل 6/ 2118.

(5) الجرح والتعديل 7/193.
আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল কাসিম ইবনে মুহরিজ বলেন, আমি ইয়াহইয়াকে বলতে শুনেছি—তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: "মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক এবং মুহাম্মদ ইবনে আমরের মধ্যে কার (হাদিস) অধিক?" তিনি বললেন: "মুহাম্মদ ইবনে আমর আমার নিকট তার চেয়ে অধিক পছন্দনীয়। আর মদিনার অধিবাসীরা ইবনে ইসহাক থেকে হাদিস বর্ণনা করা সমীচীন মনে করতেন না, কারণ তিনি কাদারিয়া (قدرياً) মতাবলম্বী ছিলেন।" (১) .

২১- ইসহাক ইবনে মনসুর বলেন: "ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে মুহাম্মদ ইবনে আমর এবং মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, কাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে? তিনি বললেন: মুহাম্মদ ইবনে আমর।" (২) .

২২- আহমদ ইবনে সাঈদ ইবনে আবি মারইয়াম বলেন: "ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন: লাইস ইবনে সাদ আল-ফাহমি—যিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), সুদৃঢ় (ثبت), ফকিহ (فقيه) এবং প্রসিদ্ধ ইমাম (إمام مشهور) (মৃত্যু ১৭৫ হিজরি)—আমার নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের চেয়ে উচ্চমর্যাদার। আমি তাকে বললাম: লাইস নাকি মালিক? তিনি আমাকে বললেন: মালিক।" (৩) .

২৩- মিসরের অধিবাসী লাইস ইবনে আবদাহ আল-মারওয়াযী বলেন: "আমি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে বলতে শুনেছি: লাইস আমার নিকট মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের চেয়ে উচ্চমর্যাদার।" (৪) .

২৪- মুহাম্মদ ইবনে হারুন আল-ফাল্লাস আল-মাখরামি বলেন: "আমি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: ফরায়েজ (উত্তরাধিকার বিধান) সংক্রান্ত বিষয়ে আমি তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ (أحتج به) করা পছন্দ করি না।" (৫) .

ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনের উক্তির ওপর ইবনুল সাইয়্যিদুন নাস মন্তব্য করে বলেন: "ইয়াহইয়ার এই কথা—'আমি পছন্দ করি না যে, ফরায়েজ সংক্রান্ত বিষয়ে তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ (أحتج به) করা হোক'—এর উত্তর ইমাম আহমদ (রহ.)-এর সূত্রে আমরা যা বর্ণনা করেছি তাতে গত হয়েছে... যুদ্ধাভিযান (মগাজি) ও এই জাতীয় বিষয়ে তার হাদিস লেখা যায়, কিন্তু হালাল ও হারামের ক্ষেত্রে এমন ব্যক্তির প্রয়োজন হয়—এই বলে তিনি হাত প্রসারিত করলেন এবং আঙুলগুলো সংকুচিত করলেন—তবে যেমনটা সুপরিচিত...

--------------------------------------------

(১) ইবনে মুহরিজের রেওয়ায়াত ১/১১৮, নং (৫৭৮)।

(২) তাহযিবুত তাহযিব ৯/৩৭৬।

(৩) তারিখে বাগদাদ ৩/১৩, আল-কামিল ৬/২১২০।

(৪) আল-কামিল ৬/২১১৮।

(৫) আল-জারহ ওয়াত তাদিল ৭/১৯৩।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফু আকওয়ালিন নুক্কাদ ফির রুওয়াতিল মুখতালাফি ফীহিম মাআ দিরাসাত হাজিহিজ জাহিরতি ইনদা ইবনি মাঈন (পৃষ্ঠা: ২৮)
عن يحيى في هذه المسألة التسوية بين المرويات من أحكام وغيرها والقبول مطلقاً أو عدمه من غير تفصيل" (1) .

رواية ابن معين لأقوال بعض شيوخه في محمد بن إسحاق:

قال أحمد بن أبي خيثمة: "سألت يحيى بن معين عن محمد بن إسحاق، فقال: قال عاصم بن عمر بن قتادة - ثقة عالم بالمغازي (ت بعد120هـ) -: لا يزال في الناس عِلْمٌ ما عاش محمد بن إسحاق" (2) .

قال أحمد بن الدورقي: "حَدَّثني يحيى بن معين عن يحيى القطان- ثقة متقن حافظ إمام قدوة (ت 198هـ) - أنه كان لا يرضى ابن إسحاق، ولا يروي عنه" (3) .

وقال أحمد بن الدورقي أيضاً: "قال يحيى بن معين: محمد بن عمرو

- صدوق له أوهام (ت 145 هـ) - روى عنه يحيى القطان، وقال: هو أحب إليّ من محمد بن إسحاق" (4) .

معرفة ابن معين بأحوال ابن إسحاق ومروياته وسماعاته:

1- قال ابن محرز: " سمعت يحيى بن معين يقول: ما رأيت لمحمد بن إسحاق شيخين أقدم من هذين: أبي سلمة بن عبد الرحمن - الزهري ثقة مكثر (ت 94هـ) - وسالم بن عبد الله - بن عمر بن الخطاب أحد الفقهاء السبعة كان ثبتاً عابداً فاضلاً (ت 106هـ) - " (5) .

--------------------------------------------

(1) عيون الأثر 1/ 61-66.

(2) تاريخ بغداد 1/220، عيون الأثر 1/56، وتهذيب الكمال 24/413.

(3) تاريخ بغداد 1/227، والكامل 6/2118 دون قوله: "ولا يروي عنه".

(4) الكامل 6/ 2118.

(5) رواية ابن محرز 1/73 رقم (151) وذكر روايتين لابن معين تتعلق بهما رقم (149) و (150) ورواية من طريق ابن إسحاق عن أبان بن عثمان رقم (152) ، وتاريخ بغداد 1/218.
এই মাসআলায় ইয়াহইয়ার পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, বিধি-বিধান (أحكام) এবং অন্যান্য বর্ণনাগুলোর (مرويات) মধ্যে সমতা বিধান করা এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যা ছাড়াই সাধারণভাবে সেগুলো গ্রহণ করা বা না করা" (১)।

মুহাম্মদ বিন ইসহাক সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন কর্তৃক তাঁর কিছু উস্তাদের উক্তি বর্ণনা:

আহমাদ বিন আবু খাইসামা বলেছেন: "আমি ইয়াহইয়া বিন মাঈনকে মুহাম্মদ বিন ইসহাক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: আসিম বিন উমর বিন কাতাদাহ —নির্ভরযোগ্য (ثقة), মাগাযী বা যুদ্ধাভিযান বিশেষজ্ঞ আলেম (মৃত্যু ১২০ হিজরীর পর)— বলেছেন: 'যতদিন মুহাম্মদ বিন ইসহাক জীবিত থাকবেন, মানুষের মাঝে ইলম বা জ্ঞান বিদ্যমান থাকবে'" (২)।

আহমাদ বিন আদ-দাওরাকী বলেছেন: "ইয়াহইয়া বিন মাঈন ইয়াহইয়া আল-কাত্তান —নির্ভরযোগ্য (ثقة), সুপ্রতিষ্ঠিত (متقن), হাফিজ (حافظ), ইমাম (إمام) ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব (قدوة) (মৃত্যু ১৯৮ হিজরী)— এর সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (ইয়াহইয়া আল-কাত্তান) ইবনে ইসহাকের প্রতি সন্তুষ্ট ছিলেন না এবং তাঁর থেকে বর্ণনা (يروي) করতেন না" (৩)।

আহমাদ বিন আদ-দাওরাকী আরও বলেছেন: "ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেছেন: মুহাম্মদ বিন উমর —সত্যবাদী তবে তাঁর মধ্যে কিছু ভ্রান্তি বিদ্যমান (صدوق له أوهام) (মৃত্যু ১৪৫ হিজরী)— তাঁর থেকে ইয়াহইয়া আল-কাত্তান বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: 'তিনি আমার কাছে মুহাম্মদ বিন ইসহাকের চেয়ে বেশি প্রিয়'" (৪)।

ইবনে ইসহাকের অবস্থা, তাঁর বর্ণিত হাদিসসমূহ (مرويات) এবং তাঁর শ্রবণকৃত হাদিস (سماعات) সম্পর্কে ইবনে মাঈনের জ্ঞান:

১- ইবনে মুহরিজ বলেছেন: "আমি ইয়াহইয়া বিন মাঈনকে বলতে শুনেছি: মুহাম্মদ বিন ইসহাকের উস্তাদদের মধ্যে এই দুইজনের চেয়ে প্রাচীন কাউকে আমি দেখিনি: আবু সালামা বিন আব্দুর রহমান —জুহরী, নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও অধিক হাদিস বর্ণনাকারী (مكثر) (মৃত্যু ৯৪ হিজরী)— এবং সালিম বিন আব্দুল্লাহ —বিন উমর বিন আল-খাত্তাব, সাত ফকীহর অন্যতম, তিনি ছিলেন সুদৃঢ় (ثبتاً), ইবাদতগুজার (عابداً) ও মর্যাদাবান (فاضلاً) (মৃত্যু ১০৬ হিজরী)—" (৫)।

--------------------------------------------

(১) উয়ুনুল আসার ১/ ৬১-৬৬।

(২) তারিখ বাগদাদ ১/২২০, উয়ুনুল আসার ১/৫৬ এবং তাহযিবুল কামাল ২৪/৪১৩।

(৩) তারিখ বাগদাদ ১/২২৭ এবং আল-কামিল ৬/২১১৮, তবে সেখানে "ولا يروي عنه" (এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করতেন না) অংশটুকু নেই।

(৪) আল-কামিল ৬/ ২১১৮।

(৫) রেওয়ায়েত ইবনে মুহরিজ ১/৭৩, নম্বর (১৫১); এবং ইবনে মাঈন থেকে এই সংলগ্ন আরও দুটি বর্ণনা রয়েছে নম্বর (১৪৯) ও (১৫০), এবং ইবনে ইসহাকের সূত্রে আবান বিন উসমানের একটি বর্ণনা রয়েছে নম্বর (১৫২), এবং তারিখ বাগদাদ ১/২১৮।
(খণ্ড: ১) ইখতিলাফু আকওয়ালিন নুক্কাদ ফির রুওয়াতিল মুখতালাফি ফীহিম মাআ দিরাসাত হাজিহিজ জাহিরতি ইনদা ইবনি মাঈন (পৃষ্ঠা: ২৯)
2- قال الدوري: "سمعت يحيى بن معين يقول: محمد بن إسحاق مولى قيس بن مخرمة" (1) .

3- قال أحمد بن زهير: "سمعت يحيى بن معين يقول: محمد بن إسحاق مات سنة 152هـ" (2) .

4- قال عباس الدوري: "سمعت يحيى بن معين يقول: لم نسمع من عبد الله بن دينار، عن أنس إلا الحديث الذي يحدث به محمد بن إسحاق يعني حديث الرويبضة. وعقب عليه ابن عدي برواياته له من طريق ابن إسحاق فقال: حدثناه أحمد بن علي بن المثنى ثنا أبو كريب ثنا يونس بن بكير، عن ابن إسحاق، عن عبد الله بن دينار عن أنس قيل: يا رسول الله، ما الرويبضة؟ قال: الفاسق يتكلم في أمر العامَّة" (3) .

--------------------------------------------

(1) تاريخ بغداد 1/215.

(2) تاريخ بغداد 1/234.

(3) الحديث رواه بهذا الإسناد أحمد بن حنبل في المسند 3/220 وأبو يعلى في مسنده 6/378 رقم (3715) ، والطحاوي في شرح مشكل الآثار (465) و (466) من طرق عن عبد الله بن إدريس عن محمد بن إسحاق عن عبد الله بن دينار عند البزار، إذ قال بعد روايته الحديث عن عوف بن مالك- وقع في المطبوع من مجمع الزوائد 7/284 (عمرو بن عوف) . وفي مسند البزار 4/174 رقم (2740) وكذا في كشف الأستار 4/132 رقم (3373) (عوف بن مالك) - قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: بمثل هذا الحديث: "قال ابن اسحاق: وحدثني عبد الله بن دينار، عن أنس، عن النبي بنحوه" وللحديث شاهد آخر عن أبي هريرة أخرجه ابن ماجه 2/ رقم (4036) ، وأحمد في المسند 2/293، والحاكم في المستدرك 4/465، 512، والخرائطي في مكارم الأخلاق ص30، وإسناده ضعيف لضعف عبد الملك بن قدامة، وجهالة إسحاق بن بكر ابن أبي الفرات، وأخرجه أحمد في المسند 2/338 من طريق سعيد بن عبيد في السباق عن أبي هريرة بنحوه وإسناده حسن، ولم أقف على إسناد أبي يعلى الذي رواه عنه ابن عدي، عن أبي يعلى - محمد بن العلاء - أبي كريب في المسند المطبوع، وقد سأل ابن أبي حاتم والده عن هذا الحديث، فقال: "لا أعلم أحداً روى عن عبد الله بن دينار هذا الحديث عن محمد بن إسحاق، وودت في رواية بعض البصريين عن عبد الله عن المثنى الأنصاري عن عبد الله بن دينار عن أبي الأزهر عن أنس عن النبي صلى الله عليه وسلم بنحوه" قال أبي: " ولا أدري من أبو الأزهر هذا قلت: من الذي رواه عن عبد الله بن المثنى؟ فقال: حجاج الفسطاطي قال أبي: لو كان حديث ابن إسحاق صحيحاً لكان قد رواه الثقات عنه" علل الحديث 4/116 رقم (2792) أقول: قد روى هذا الحديث عن ابن إسحاق بعض الثقات مثل: عبد الله ابن إدريس الأودي، عباد بن العوام الواسطي، وقد وثَّقهما أبو حاتم نفسه كما في الجرح والتعديل

6/ ترجمة 425 بل قال في حديث ابن إدريس: "هو حجة يحت بها، وهو إمام من أئمة المسلمين ثقة"، الجرح والتعديل 5/ ترجمة 44 فلعله رحمه الله لم يقف على روايتهما عن ابن إسحاق والله أعلم.
২- দাওরি বলেন: "আমি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে বলতে শুনেছি: মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক হলেন কায়েস ইবনে মাখরামার মুক্তদাস (مولى)।" (১) ।

৩- আহমদ ইবনে জুহাইর বলেন: "আমি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে বলতে শুনেছি: মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ১৫২ হিজরি সনে ইন্তেকাল করেন।" (২) ।

৪- আব্বাস আদ-দাওরি বলেন: "আমি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে বলতে শুনেছি: আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে আনাস (রা.)-এর সূত্রে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক বর্ণিত হাদিসটি ছাড়া আর কোনো হাদিস শুনিনি। অর্থাৎ আল-রুওয়াইবিদ্বাহ সংক্রান্ত হাদিসটি।" এরপর ইবনে আদি ইবনে ইসহাকের সূত্রে বর্ণিত হাদিসগুলোর ওপর মন্তব্য করে বলেন: আমাদের নিকট আহমদ ইবনে আলী ইবনুল মুসান্না বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু কুরাইব থেকে, তিনি ইউনুস ইবনে বুকাইর থেকে, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন: জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, 'রুওয়াইবিদ্বাহ' কী? তিনি বললেন: "পাপিষ্ঠ লোক, যে জনসাধারণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলে।" (৩) ।

--------------------------------------------

(১) তারিখ বাগদাদ ১/২১৫।

(২) তারিখ বাগদাদ ১/২৩৪।

(৩) হাদিসটি এই সনদ (إسناد)-সহ আহমদ ইবনে হাম্বল তার মুসনাদ ৩/২২০-এ বর্ণনা করেছেন, আবু ইয়ালা তার মুসনাদ ৬/৩৭৮, নং (৩৭১৫), এবং ত্বহাবি তার শারহু মুশকিলিল আসার (৪৬৫) ও (৪৬৬)-এ আব্দুল্লাহ ইবনে ইদ্রিস থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে বর্ণনা করেছেন—এটি আল-বাযযারের নিকট সংকলিত রয়েছে। তিনি আউফ ইবনে মালিক থেকে হাদিসটি বর্ণনা করার পর বলেন—মাজমাউয যাওয়াইদ ৭/২৮৪-এর মুদ্রিত কপিতে 'আমর ইবনে আউফ' এসেছে, তবে মুসনাদ আল-বাযযার ৪/১৭৪ নং (২৭৪০) এবং কাশফুল আসতার ৪/১৩২ নং (৩৩৩৭৩)-এ 'আউফ ইবনে মালিক' এসেছে—তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই হাদিসের অনুরূপ বলেছেন: "ইবনে ইসহাক বলেন: আমার নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার বর্ণনা করেছেন, তিনি আনাস থেকে, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এর অনুরূপ।" এই হাদিসটির আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত একটি সমর্থক বর্ণনা (شاهد) রয়েছে যা ইবনে মাজাহ ২/ নং (৪০৩৬), আহমদ মুসনাদ ২/২৯৩, হাকিম আল-মুস্তাদরাক ৪/৪৬৫, ৫১২ এবং খারাইতি মাকারিমুল আখলাক ৩০ পৃষ্ঠায় বর্ণনা করেছেন। তবে আব্দুল মালিক ইবনে কুদামার দুর্বলতা (ضعف) এবং ইসহাক ইবনে বকর ইবনে আবুল ফুরাতের পরিচয় অজ্ঞাত (جهالة) হওয়ার কারণে এর সনদ (إسناد) দুর্বল (ضعيف)। আহমদ মুসনাদ ২/৩৩৮-এ সাঈদ ইবনে উবাইদের সূত্রে প্রতিযোগিতার বিষয়ে আবু হুরায়রা থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن)। আমি আবু ইয়ালার সেই সনদটি (إسناد) পাইনি যা ইবনে আদি তার থেকে বর্ণনা করেছেন—অর্থাৎ ইবনে আদি, আবু ইয়ালা থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনুল আলা (আবু কুরাইব) থেকে—মুদ্রিত মুসনাদে এটি নেই। ইবনে আবি হাতিম তার পিতাকে এই হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: "আমি জানি না যে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ছাড়া অন্য কেউ আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। আর জনৈক বসরাবাসীর বর্ণনায় এসেছে যে, আব্দুল্লাহ (ইবনুল মুসান্না) আল-আনসারি, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে, তিনি আবু আল-আযহার থেকে, তিনি আনাস থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।" আমার পিতা বলেন: "আমি জানি না এই আবু আল-আযহার কে।" আমি জিজ্ঞাসা করলাম: আব্দুল্লাহ ইবনুল মুসান্না থেকে কে এটি বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন: হাজ্জাজ আল-ফুসতাতি। আমার পিতা আরও বলেন: "ইবনে ইসহাকের হাদিসটি যদি সহিহ (صحيح) হতো, তবে নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবিগণ অবশ্যই তার থেকে এটি বর্ণনা করতেন।" (ইলাল আল-হাদিস ৪/১১৬, নং ২৭৯২)। আমি বলছি: ইবনে ইসহাক থেকে কিছু নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবি এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন, যেমন: আব্দুল্লাহ ইবনে ইদ্রিস আল-আওদি এবং আব্বাদ ইবনে আওয়াম আল-ওয়াসিতি। স্বয়ং আবু হাতিম তাদের আল-জারহ ওয়াত তাদিল ৬/পরিচ্ছেদ ৪২৫-এ নির্ভরযোগ্য (وثقهما) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বরং ইবনে ইদ্রিসের হাদিস সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "তিনি এমন একজন দলিল (حجة) যার মাধ্যমে দলিল পেশ করা যায় এবং তিনি মুসলিমদের ইমামদের মধ্যে একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তিত্ব।" (আল-জারহ ওয়াত তাদিল ৫/পরিচ্ছেদ ৪৪)। সম্ভবত তিনি (রহিমাহুল্লাহ) ইবনে ইসহাকের সূত্রে তাদের এই বর্ণনা সম্পর্কে অবগত হতে পারেননি, আল্লাহই ভালো জানেন।