(খণ্ড: ১)
আহকামু তামান্নিল মাউত (মাতবু দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সালাছ)
(পৃষ্ঠা: -)
أحكام تمني الموت (مطبوع ضمن مؤلفات الشيخ محمد بن عبد الوهاب، الجزء الثالث) القسم: مسائل فقهية
الكتاب: أحكام تمني الموت (مطبوع ضمن مؤلفات الشيخ محمد بن عبد الوهاب، الجزء الثالث)
المؤلف: محمد بن عبد الوهاب بن سليمان التميمي النجدي (ت 1206هـ)
المحقق: عبد الرحمن بن محمد السدحان، عبد الله بن عبد الرحمن الجبرين
الناشر: جامعة الإمام محمد بن سعود، الرياض، المملكة العربية السعودية
الطبعة: -
عدد الصفحات: 78
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মৃত্যু কামনার বিধানাবলি (শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহাব-এর রচনাসমগ্রের অন্তর্ভুক্ত মুদ্রিত, তৃতীয় খণ্ড) বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: মৃত্যু কামনার বিধানাবলি (শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহাব-এর রচনাসমগ্রের অন্তর্ভুক্ত মুদ্রিত، তৃতীয় খণ্ড)
লেখক: মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহাব ইবনে সুলাইমান আত-তামিমি আন-নাজদি (মৃত্যু ১২০৬ হিজরি)
সম্পাদক/গবেষক: আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আস-সাদহান، আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান আল-জিবরীন
প্রকাশক: ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সউদ বিশ্ববিদ্যালয়، রিয়াদ، সৌদি আরব রাজত্ব
সংস্করণ: -
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ রাখা হয়েছে]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আহকামু তামান্নিল মাউত (মাতবু দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সালাছ)
(পৃষ্ঠা: ৩)
أحكام تمني الموتتأليف: شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين، اللهم صل على محمد وآله وصحبه وسلم.
عن أنس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا يتمنين أحدكم الموت لضر نزل به، فإن كان لا بد متمنيا، فليقل: اللهم أحيني ما كانت الحياة خيرا لي، وتوفني إذا كانت الوفاة خيرا لي " 1 2.
ولمسلم عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا يتمنين أحدكم الموت، ولا يدع به من قبل أن يأتيه، إنه إذا مات أحدكم، انقطع عمله، وإنه لا يزيد المؤمن عمره إلا خيرا" 3.
وللبخاري عنه مرفوعا: "لا يتمنين أحدكم الموت، إما محسنا فلعله أن يزداد، وإما مسيئا فلعله أن يستعتب" 4.
ولأحمد والحاكم عن جابر قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تمنوا الموت، فإن هول المطلع شديد، وإن من السعادة أن يطول عمر العبد حتى يرزقه الله الإنابة" 5.
وقال أنس: "لولا أن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهانا عن تمني الموت لتمنيناه" أخرجاه.
ولأحمد حديث أبي هريرة: "إلا أن يكون قد وثق بعمله" 6.
وعن أبي بكرة "أن رجلا قال: يا رسول الله، أي الناس خير؟ قال: من طال عمره، وحسن عمله. قال: فأي الناس شر؟ قال: من طال عمره، وساء عمله" 7 صححه الترمذي.
--------------------------------------------
মৃত্যু কামনার বিধানাবলিরচনায়: শাইখুল ইসলাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। হে আল্লাহ! মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সকল সঙ্গীর ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।
আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন তার ওপর আপতিত কোনো বিপদের কারণে মৃত্যু কামনা না করে। আর যদি মৃত্যু কামনা করা ছাড়া কোনো গত্যন্তর না থাকে, তবে সে যেন বলে: হে আল্লাহ! যতক্ষণ বেঁচে থাকা আমার জন্য কল্যাণকর হয় ততক্ষণ আমাকে জীবিত রাখুন, আর যখন মৃত্যু আমার জন্য কল্যাণকর হয় তখন আমার মৃত্যু দান করুন।" ১ ২।
ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে এবং মৃত্যু আসার আগে তার জন্য দোয়া না করে। কেননা তোমাদের কেউ যখন মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। আর মুমিনের দীর্ঘ জীবন কেবল তার কল্যাণই বৃদ্ধি করে।" ৩।
ইমাম বুখারী তাঁর থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে; কারণ সে যদি সৎকর্মশীল হয় তবে হতে পারে যে সে নেক আমল বৃদ্ধি করবে, আর যদি পাপাচারী হয় তবে হতে পারে যে সে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের চেষ্টা করবে (তওবা করবে)।" ৪।
ইমাম আহমাদ ও হাকিম জাবির (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা মৃত্যু কামনা করো না, কারণ মৃত্যুর সময়কার ভয়াবহতা অত্যন্ত কঠিন। আর বান্দার দীর্ঘায়ু লাভ করা সৌভাগ্যের বিষয়, যতক্ষণ না আল্লাহ তাকে তাওবা ও প্রত্যাবর্তনের তাওফিক দান করেন।" ৫।
আনাস (রা.) বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) যদি আমাদের মৃত্যু কামনা করতে নিষেধ না করতেন, তবে আমরা অবশ্যই তা কামনা করতাম।" তাঁরা উভয়ে (ইমাম বুখারী ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আহমাদের বর্ণনায় আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিসে রয়েছে: "যদি না সে তার আমলের ব্যাপারে নিশ্চিত ও আশ্বস্ত হয়।" ৬।
আবু বাকরা (রা.) হতে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বলল: "হে আল্লাহর রাসূল! মানুষের মধ্যে সর্বোত্তম কে? তিনি বললেন: যার আয়ু দীর্ঘ হয়েছে এবং তার আমল সুন্দর হয়েছে। সে বলল: তাহলে মানুষের মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট কে? তিনি বললেন: যার আয়ু দীর্ঘ হয়েছে এবং তার আমল মন্দ হয়েছে।" ৭ ইমাম তিরমিজি একে সহিহ (صحيح) বলেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামু তামান্নিল মাউত (মাতবু দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সালাছ)
(পৃষ্ঠা: ৪)
ولأحمد عن أبي هريرة قال: "كان رجلان من بلي، وهم حي من قضاعة، أسلما مع رسول الله صلى الله عليه وسلم فاستشهد أحدهما، وأخر الآخر سنة، قال طلحة بن عبيد الله: فرأيت الجنة، فرأيت المؤخر منهما أدخل قبل الشهيد، فتعجبت لذلك، فأصبحت، فذكرت ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فقال: أليس قد صام بعده رمضان، وصلى ستة آلاف ركعة، أو كذا وكذا ركعة، صلاة السنة".
وله عن طلحة مرفوعا. "ليس أحد أفضل عند الله من مؤمن يعمر في الإسلام، لتسبيحه وتكبيره وتهليله" 1 وفي حديث الرؤيا: "وإذا أردت بقوم فتنة، فاقبضني إليك غير مفتون" 2.
وأخرج مالك عن عمر أنه قال: "اللهم قد ضعفت قوتي، وكبرت سني، وانتشرت رعيتي، فاقبضني إليك غير مضيع ولا مقصر. فما جاوز ذلك الشهر حتى قبض".
وأخرج أحمد عن عليم الكندي قال: "كنت مع أبي عبس الغفاري على سطح، فرأى قوما يتحملون 3 من الطاعون، فقال: يا طاعون خذني إليك. ثلاثا يقولها، فقال له عليم: لم تقول هذا؟ ألم يقل رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا يتمنى أحدكم الموت، فإنه عند ذلك انقطاع عمله، ولا يرد فيستعتب؟ فقال أبو عبس: أنا سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: بادروا بالموت ستا، إمارة السفهاء، وكثرة الشرط، وبيع الحكم، واستخفافا بالدم، وقطيعة الرحم، ونشوا اتخذوا القرآن مزامير، يقدمون الرجل ليغنيهم بالقرآن، وإن كان أقلهم فقها" 4.
وللحاكم عن الحسن عن ابن عمر مثله، وأخرج ابن سعد عن أبي هريرة مثله، لكن ذكر
--------------------------------------------
ইমাম আহমদের বর্ণনায় আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: "বালি গোত্রের দু'জন লোক ছিল, যারা কুদাআ গোত্রের একটি শাখা। তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ইসলাম গ্রহণ করেন। তাদের একজন শহীদ হলেন এবং অন্যজন আরও এক বছর বেঁচে থাকলেন। তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ (রা.) বলেন: আমি স্বপ্নে জান্নাত দেখলাম। সেখানে দেখলাম যে ব্যক্তিটি পরে মারা গিয়েছেন, তাকে শহীদের আগেই জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়েছে। এতে আমি আশ্চর্যান্বিত হলাম। সকালে উঠে আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বললেন: সে কি তার পরে রমজানের রোজা রাখেনি এবং ছয় হাজার রাকাত বা অনুরূপ পরিমাণ বছরের নামাজ পড়েনি?"
এবং তাঁর (ইমাম আহমদের) নিকট তালহা হতে রাসূলুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছেছে এমন (مرفوعا) সূত্রে বর্ণিত: "আল্লাহর কাছে ওই মুমিনের চেয়ে উত্তম কেউ নেই, যে ইসলামের ওপর দীর্ঘ জীবন লাভ করে, তার তাসবিহ, তাকবির এবং তাহলিলের কারণে।" ১ এবং স্বপ্ন বিষয়ক হাদিসে রয়েছে: "যখন আপনি কোনো কওমকে ফিতনায় ফেলার ইচ্ছা করেন, তখন ফিতনাগ্রস্ত হওয়ার আগেই আমাকে আপনার কাছে তুলে নিন।" ২
ইমাম মালিক উমর (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছিলেন: "হে আল্লাহ! আমার শক্তি ক্ষীণ হয়ে গিয়েছে, আমার বয়স বেড়ে গিয়েছে এবং আমার প্রজাসাধারণ ছড়িয়ে পড়েছে; সুতরাং আপনি আমাকে আপনার কাছে তুলে নিন এমন অবস্থায় যেন আমি (হক আদায়ে) অবহেলাকারী বা ত্রুটিপূর্ণ না হই। সেই মাস অতিবাহিত হওয়ার আগেই তিনি ইন্তেকাল করেন।"
ইমাম আহমদ আলিম আল-কিন্দি হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি আবু আবস আল-গিফারি (রা.)-এর সাথে একটি ছাদের উপর ছিলাম। তিনি একদল লোককে দেখলেন যারা মহামারি থেকে পলায়ন করছিল ৩। তখন তিনি বললেন: হে মহামারি! আমাকে তোমার কাছে তুলে নাও। তিনি কথাটি তিনবার বললেন। আলিম তাকে বললেন: আপনি কেন এমন বলছেন? রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কি বলেননি যে: তোমাদের কেউ যেন মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা না করে, কারণ এর মাধ্যমে তার আমল বন্ধ হয়ে যায় এবং তাকে আর ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া হয় না যাতে সে তওবা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারে? তখন আবু আবস (রা.) বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: তোমরা ছয়টি বিষয় আসার আগেই মৃত্যুর দিকে অগ্রগামী হও (বা মৃত্যুকে কামনা করো); মূর্খদের শাসন, প্রহরীর আধিক্য, বিচারের কেনাবেচা (ঘুষ), রক্তপাতকে তুচ্ছ জ্ঞান করা, আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা এবং এমন এক প্রজন্মের আবির্ভাব যারা কুরআনকে বাদ্যযন্ত্র হিসেবে গ্রহণ করবে, তারা কাউকে তাদের গান শোনানোর জন্য কুরআন পাঠে সামনে এগিয়ে দেবে, যদিও সে দ্বীনি জ্ঞানে তাদের মধ্যে সবচেয়ে কম জানাশোনা সম্পন্ন হয়।" ৪
হাকিম হাসান হতে ইবনে উমর (রা.)-এর সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে সাদ আবু হুরায়রা (রা.) হতেও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি উল্লেখ করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামু তামান্নিল মাউত (মাতবু দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সালাছ)
(পৃষ্ঠা: ৫)
التهاون بالذنب بدل الدم، وللطبراني عن عمرو بن عبسة: "لا يتمنى أحدكم الموت، إلا أن يثق بعمله، فإن رأيتم في الإسلام ستا فتمنوا الموت، وإن كانت نفسك بيدك فأرسلها"، فذكر كما تقدم.
وأخرج الحاكم في المستدرك عن ابن عمرو مرفوعا: "تحفة المؤمن الموت".
ولأحمد وسعيد عن محمود بن لبيد مرفوعا: "اثنتان يكرههما ابن آدم، يكره الموت والموت خير له من الفتنة، ويكره قلة المال وقلة المال أقل للحساب" 1.
وأخرج أبو نعيم عن عمر بن عبد العزيز قال: "إنما خلقتم للأبد، ولكنكم تنقلون من دار إلى دار".
وأخرج سعيد في سننه عن علي في قوله: {وَالنَّازِعَاتِ غَرْقاً} 2 قال: "هي الملائكة تنزع أرواح الكفار. {وَالنَّاشِطَاتِ نَشْطاً} 3 هي الملائكة تنشط أرواح الكفار ما بين الأظفار والجلد حتى تخرجها. {وَالسَّابِحَاتِ سَبْحاً} 4 هي الملائكة تسبح بأرواح المؤمنين بين السماء والأرض. {فَالسَّابِقَاتِ سَبْقاً} 5 هي الملائكة يسبق بعضها بعضا بأرواح المؤمنين إلى الله".
وأخرج ابن أبي حاتم عن ابن عباس في قوله: {وَالنَّازِعَاتِ غَرْقاً} 6 قال: "هي أنفس الكفار تنزع ثم تنشط ثم تغرق في النار".
وأخرج عن الربيع بن أنس في قوله: {وَالنَّازِعَاتِ غَرْقاً وَالنَّاشِطَاتِ نَشْطاً} 7 قال: "هاتان الآيتان للكفار عند نزع النفس، تنشط نشطا عنيفا مثل سفود جعلته في صوف فكان خروجه شديدا، {وَالسَّابِحَاتِ سَبْحاً (فَالسَّابِقَاتِ سَبْقاً} 8 قال: هاتان للمؤمنين".
--------------------------------------------
রক্তের বিনিময়ে পাপকে তুচ্ছজ্ঞান করা; তাবারানি আমর ইবনে আবাসাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: "তোমাদের কেউ যেন মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা না করে, যতক্ষণ না সে তার আমলের ওপর আস্থাশীল হয়। তবে তোমরা যদি ইসলামের মাঝে ছয়টি (লক্ষণ) দেখতে পাও, তবে মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করো; আর যদি তোমার প্রাণ তোমার হাতে থাকে তবে তা ছেড়ে দাও (অর্থাৎ মৃত্যুকে বরণ করে নাও)।" অতপর তিনি তা উল্লেখ করলেন যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।
হাকিম তার আল-মুসতাদরাক গ্রন্থে ইবনে আমর থেকে মরফু (مرفوعا) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "মৃত্যু মুমিনের জন্য একটি উপহার।"
আহমাদ ও সাঈদ মাহমুদ ইবনে লাবীদ থেকে মরফু (مرفوعا) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "আদম সন্তান দুটি বিষয়কে অপছন্দ করে; সে মৃত্যুকে অপছন্দ করে অথচ মৃত্যু তার জন্য ফিতনার চেয়ে উত্তম, আর সে সম্পদের স্বল্পতাকে অপছন্দ করে অথচ সম্পদের স্বল্পতা হিসাবের জন্য সহজতর।" ১।
আবু নুয়াইম উমর ইবনে আব্দুল আজিজ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "তোমাদেরকে মূলত অনন্তকালের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, কিন্তু তোমরা কেবল এক ঘর থেকে অন্য ঘরে স্থানান্তরিত হও।"
সাঈদ তার সুনান গ্রন্থে আলী (রা.) থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: {শপথ তাদের, যারা ডুব দিয়ে আত্মা টেনে বের করে} ২ তিনি বলেন: "তারা হলো ফেরেশতা যারা কাফেরদের রূহ টেনে বের করে। {শপথ তাদের, যারা বন্ধন মুক্ত করে কোমলভাবে} ৩ তারা হলো ফেরেশতা যারা কাফেরদের নখ ও চামড়ার মাঝখান থেকে রূহ এমনভাবে টেনে বের করে আনে যেন তা নির্গত হয়ে আসে। {শপথ তাদের, যারা সন্তরণ করে বিচরণ করে} ৪ তারা হলো ফেরেশতা যারা আসমান ও জমিনের মাঝে মুমিনদের রূহ নিয়ে সন্তরণ করে। {শপথ তাদের, যারা দ্রুতবেগে অগ্রগামী হয়} ৫ তারা হলো ফেরেশতা যারা মুমিনদের রূহ নিয়ে আল্লাহর দিকে একে অপরের চেয়ে অগ্রগামী হয়।"
ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে আল্লাহর বাণী: {শপথ তাদের, যারা ডুব দিয়ে আত্মা টেনে বের করে} ৬ সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "এগুলো হলো কাফেরদের আত্মা যা টেনে বের করা হয়, তারপর হেঁচকা টান দেওয়া হয়, অতপর আগুনের মাঝে নিমজ্জিত করা হয়।"
রাবী ইবনে আনাস থেকে আল্লাহর বাণী: {শপথ তাদের, যারা ডুব দিয়ে আত্মা টেনে বের করে এবং শপথ তাদের, যারা বন্ধন মুক্ত করে কোমলভাবে} ৭ সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "এই দুই আয়াত কাফেরদের প্রাণ বের হওয়ার সময়কার অবস্থা সম্পর্কে, তখন প্রাণ অত্যন্ত কঠোরভাবে হেঁচকা টানে বের করা হয়—যেমন পশমের মাঝে প্রবেশ করানো লোহার শলাকা বের করা অত্যন্ত কঠিন হয়। {শপথ তাদের, যারা সন্তরণ করে বিচরণ করে এবং শপথ তাদের, যারা দ্রুতবেগে অগ্রগামী হয়} ৮ তিনি বলেন: এই দুই আয়াত মুমিনদের জন্য।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামু তামান্নিল মাউত (মাতবু দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সালাছ)
(পৃষ্ঠা: ৬)
وأخرج عن السندي في قوله: {وَالنَّازِعَاتِ غَرْقاً} 1 قال: "النفس حين تغرق في الصدر".
وأخرج مسلم عن ابن مسعود قال: لما أسري برسول الله صلى الله عليه وسلم فانتهى إلى سدرة المنتهى، وإليها ينتهي ما يعرج من الأرواح - وفي حديث الإسراء عن أبي هريرة: "ثم انتهى إلى سدرة، فقيل له: هذه السدرة ينتهي إليها كل أحد خلا من أمتك على سبيلك". أخرجه ابن جرير وابن أبي حاتم.
ولمسلم عن أبي هريرة قال: "إذا خرج روح المؤمن تلقاها ملكان فصعدا بها، فذكر من طيبها، وتقول أهل السماء: روح طيبة جاءت من قبل الأرض، صلى الله عليك وعلى جسد كنت تعمرينه. فينطلقون به إلى ربه تعالى، ثم يقول: انطلقوا به إلى آخر الأجل. وإن الكافر إذا خرجت روحه، فذكر من نتنها، وذكر لعنا، ويقول أهل السماء: روح خبيثة جاءت من قبل الأرض، فيقال: انطلقوا به إلى آخر الأجل".
ولأحمد وابن حبان والحاكم وغيرهم عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إن المؤمن إذا قبض أتته ملائكة الرحمة بحرير أبيض، فيقولون: اخرجي راضية مرضيا عنك إلى روح الله وريحان ورب غير غضبان، فتخرج كأطيب ريح المسك، حتى إنه ليناوله بعضهم بعضا فيشمونه حتى يأتوا به باب السماء فيقولون: ما أطيب هذه الريح التي جاءت من قبل الأرض! كلما أتوا سماء قالوا ذلك، حتى يأتوا به أرواح المؤمنين، فلهم أفرح به من أحدكم بغائبه إذا قدم عليه، فيسألونه: ما فعل فلان؟ فيقولون: دعوه حتى يستريح، فإنه كان في غم الدنيا، فإذا قيل لهم: ما أتاكم؟ فإنه قد مات، يقولون: ذهب به إلى أمه الهاوية. وأما الكافر فتأتيه ملائكة
--------------------------------------------
আস-সিন্দি থেকে বর্ণনা করা হয়েছে (أخرج) তাঁর এই বাণীতে: {শপথ সেই ফেরেশতাদের যারা ডুব দিয়ে আত্মা টেনে বের করে}১ তিনি বলেন: "যখন আত্মা বক্ষদেশের গভীরে নিমজ্জিত হয়।"
এবং ইমাম মুসলিম ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج), তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ইসরা (নৈশভ্রমণ) করানো হয়েছিল, তখন তিনি সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। পৃথিবী থেকে যা কিছু উপরে আরোহণ করে তা সেখানেই গিয়ে শেষ হয়। আর আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত ইসরার হাদিসে রয়েছে: "অতঃপর তিনি একটি সিদরাত (কূলবৃক্ষ) পর্যন্ত পৌঁছালেন। তাঁকে বলা হলো: এটি সেই সিদরা যেখানে আপনার উম্মতের মধ্য হতে আপনার পথ অনুসরণকারী প্রত্যেকেই এসে পৌঁছে।" এটি বর্ণনা করেছেন (أخرجه) ইবনে জারীর এবং ইবনে আবি হাতিম।
এবং ইমাম মুসলিম আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج), তিনি বলেন: "যখন মুমিনের রূহ (প্রাণ) বের হয়, তখন দুইজন ফেরেশতা তা গ্রহণ করেন এবং তা নিয়ে উপরে আরোহণ করেন। বর্ণনাকারী তার সুগন্ধির কথা উল্লেখ করেছেন। আকাশের অধিবাসীরা বলেন: পৃথিবী থেকে এক পবিত্র রূহ এসেছে। আল্লাহ তোমার ওপর এবং সেই দেহের ওপর রহমত বর্ষণ করুন যা তুমি আবাদ করতে। অতঃপর তারা তাকে নিয়ে তার মহান রবের দিকে নিয়ে যান। এরপর আল্লাহ বলেন: তাকে শেষ সময় (কিয়ামত) পর্যন্ত নিয়ে যাও। আর কাফেরের রূহ যখন বের হয় - বর্ণনাকারী তার দুর্গন্ধ ও অভিশাপের কথা উল্লেখ করেছেন - আসমানের অধিবাসীরা বলেন: পৃথিবী থেকে এক অপবিত্র রূহ এসেছে। তখন বলা হয়: তাকে শেষ সময় পর্যন্ত নিয়ে যাও।"
এবং ইমাম আহমাদ, ইবনে হিব্বান, হাকেম এবং অন্যান্যগণ তাঁর (আবু হুরায়রা) থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرجه) যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মুমিনের যখন জান কবজ করা হয়, তখন রহমতের ফেরেশতারা সাদা রেশমি কাপড় নিয়ে তার নিকট আসেন। তারা বলেন: তুমি সন্তুষ্ট হয়ে এবং তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হওয়া অবস্থায় আল্লাহর রহমত, প্রশান্তি এবং এমন রবের দিকে বের হয়ে আসো যিনি রাগান্বিত নন। তখন তা অত্যন্ত সুগন্ধি কস্তুরীর মতো বের হয়ে আসে। এমনকি ফেরেশতারা একে অপরের হাতে তা দেন এবং তার ঘ্রাণ নেন। তারা তাকে আসমানের দরজায় নিয়ে আসেন এবং বলেন: জমিন থেকে আসা এই সুগন্ধি কতই না চমৎকার! তারা যখনই কোনো আসমানে পৌঁছান, সেখানকার অধিবাসীরা একই কথা বলেন। পরিশেষে তারা তাকে মুমিনদের রূহগুলোর নিকট নিয়ে যান। তাদের আনন্দ তোমাদের কোনো নিরুদ্দেশ ব্যক্তি ফিরে আসলে যে আনন্দ হয় তার চেয়েও বেশি হয়। তারা তাকে জিজ্ঞেস করেন: অমুক ব্যক্তি কী করছে? তখন তারা (ফেরেশতারা) বলেন: তাকে বিশ্রাম নিতে দাও, কারণ সে দুনিয়ার দুশ্চিন্তায় ছিল। যখন তাদের বলা হয়: সে কি তোমাদের কাছে আসেনি? সে তো মারা গেছে। তখন তারা বলেন: তাকে তার আশ্রয়স্থল হাবিয়া বা জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আর কাফেরের কাছে যখন ফেরেশতারা আসে..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামু তামান্নিল মাউত (মাতবু দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সালাছ)
(পৃষ্ঠা: ৭)
العذاب بمسح، فيقولون: اخرجي ساخطة مسخوطا عليك إلى عذاب الله وسخطه، فتخرج كأنتن ريح جيفة، فينطلقون إلى باب الأرض، فيقولون: ما أنتن هذه الريح!. كلما أتوا على أرض قالوا ذلك، حتى يأتوا به أرواح الكفار".
وأخرج هناد وعبد في تفسيره، والطبراني بسند رجاله ثقات، عن عبد الله بن عمرو قال: "إذا قتل العبد في سبيل الله، فأول قطرة تقع على الأرض من دمه يكفِّر الله له ذنوبه كلها، ثم يرسل الله بريطة 1 من الجنة، فتقبض فيها نفسه، وبجسد من الجنة حتى تركب فيه روحه، ثم يعرج مع الملائكة كأنه كان معهم منذ خلقه الله، حتى يؤتى به الرحمن، فيسجد قبل الملائكة، ثم تسجد الملائكة بعده، ثم يغفر له ويطهر، تم يؤمر به إلى الشهداء، فيجدهم في رياض خفر وقباب من حرير، عندهم ثور وحوت يلقنانهم كل يوم بشيء لم يلقناه بالأمس، يظل الحوت في أنهار الجنة، فإذا أمسى وكزه الثور بقرنه، فذكاه، فأكلوا من لحمه، فوجدوا في طعم لحمه كل رائحة من ريح الجنة، ويبيت الثور نافشا 2 في الجنة، يأكل من ثمر الجنة، فاذا أصبح غدا عليه الحوت فذكاه بذنبه، فأكلوا من لحمه، فوجدوا في طعم لحمه كل ثمرة من الجنة، ينظرون إلى منازلهم، يدعون الله بقيام الساعة.
وإذا توفى الله العبد المؤمن، أرسل إليه ملكين بخرقة من الجنة وريحان من ريحان الجنة، فقالا: أيتها النفس الطيبة. اخرجي إلى روح وريحان
--------------------------------------------
শাস্তির চট নিয়ে আসা হয়। এরপর তারা বলে: "হে অসন্তুষ্ট ও অভিশপ্ত আত্মা, আল্লাহর শাস্তি ও ক্রোধের দিকে বেরিয়ে এসো।" ফলে তা মৃতদেহের প্রচণ্ড দুর্গন্ধের ন্যায় দুর্গন্ধযুক্ত হয়ে বেরিয়ে আসে। এরপর তারা একে নিয়ে জমিনের দরজার দিকে যায় এবং বলতে থাকে: "কী উৎকট এই দুর্গন্ধ!" যখনই তারা কোনো জমিনের পাশ দিয়ে যায়, তখনই তারা এ কথা বলে; পরিশেষে তারা একে কাফেরদের আত্মাদের কাছে নিয়ে আসে।
হান্নাদ, আবদ তাঁর তাফসিরে এবং তাবারানি এমন একটি সনদের (سند) মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন যার বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (ثقات), আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "যখন কোনো বান্দা আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়, তখন জমিনে তার রক্তের প্রথম ফোঁটা পড়ার সাথে সাথেই আল্লাহ তার সকল গুনাহ মোচন করে দেন। এরপর আল্লাহ জান্নাত থেকে একটি রেশমি বস্ত্র (ريطة) প্রেরণ করেন, যাতে তার প্রাণ কবজ করা হয় এবং জান্নাতি একটি অবয়ব প্রদান করা হয় যাতে তার রুহকে স্থাপন করা হয়। এরপর সে ফেরেশতাদের সাথে আসমানে আরোহণ করে, যেন আল্লাহ তাকে সৃষ্টির পর থেকেই সে তাদের সাথেই ছিল। পরিশেষে তাকে পরম করুণাময় আল্লাহর নিকট উপস্থিত করা হয়; সে ফেরেশতাদের পূর্বেই সিজদাহ করে, তারপর ফেরেশতারা তার পরে সিজদাহ করে। এরপর তাকে ক্ষমা ও পবিত্র করা হয়। অতঃপর তাকে শহীদদের কাছে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সে তাদেরকে সুরক্ষিত উদ্যানে এবং রেশমি গম্বুজ সদৃশ তাঁবুর নিচে দেখতে পায়। তাদের নিকট একটি ষাঁড় ও একটি মাছ থাকে যা প্রতিদিন তাদের এমন কিছু আহার করায় যা তারা আগের দিন পায়নি। মাছটি জান্নাতের নহরগুলোতে বিচরণ করে, আর যখন সন্ধ্যা হয় তখন ষাঁড়টি তার শিং দিয়ে তাকে আঘাত করে জবেহ করে। ফলে তারা তার গোশত আহার করে এবং সেই গোশতের স্বাদে জান্নাতের প্রতিটি সুগন্ধ অনুভব করে। আর ষাঁড়টি জান্নাতে রাতে বিচরণ করে (نافشا) এবং জান্নাতের ফলমূল আহার করে রাত কাটায়। যখন সকাল হয়, তখন মাছটি তার লেজ দিয়ে তাকে জবেহ করে। তারা তার গোশত আহার করে এবং প্রতিটি জান্নাতি ফলের স্বাদ পায়। তারা তাদের আবাসনগুলোর দিকে তাকায় এবং কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে থাকে।"
"আর আল্লাহ যখন মুমিন বান্দার মৃত্যু ঘটান, তখন তার নিকট জান্নাতের একখণ্ড রেশমি কাপড় ও জান্নাতের সুগন্ধি ফুলসহ দুইজন ফেরেশতা পাঠান। তারা বলে: 'হে পবিত্র আত্মা! তুমি সুখ ও সুবাসের (روح وريحان) দিকে বেরিয়ে এসো।'"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামু তামান্নিল মাউত (মাতবু দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সালাছ)
(পৃষ্ঠা: ৮)
ورب غير غضبان، اخرجي فنعم ما قدمت، فتخرج كأطيب رائحة مسك وجدها أحدكم بأنفه، وعلى أرجاء السماء ملائكة يقولون: سبحان الله! لقد جاء من الأرض اليوم ريح طيبة، فلا يمر بباب إلا فتح له، ولا ملك إلا صلى عليه وشفع، حتى يؤتى به ربه (فتسجد الملائكة قبله، ثم يقولون: ربنا، هذا عبدك فلان، توفي وأنت أعلم به، فيقول: مروه بالسجود، فتسجد النسمة، ثم يدعى ميكائيل فيقال: اجعل هذه النسمة مع أنفس المؤمنين، حتى أسألك عنها يوم القيامة، فيؤمر بقبره، فيوسع له، طوله سبعون، وعرضه سبعون، وينبذ فيه الريحان، ويبسط له فيه الحرير، وإن كان معه شيء من القرآن نوره، والا جعل له مثل نور الشمس، ثم يفتح له باب إلى الجنة، فينظر إلى مقعده من الجنة، بكرة وعشيا.
وإذا توفى الله العبد الكافر، أرسل إليه ملكين وأرسل إليه بقطعة بجاد 1 أنتن من كل نتن، وأخشن من كل خشن، فقالا: أيتها النفس الخبيثة، اخرجي إلى جهنم وعذاب أليم ورب عليك ساخط، اخرجي، فساء ما قدمت، فتخرج كأنتن جيفة وجدها أحدكم بأنفه قط، وعلى أرجاء السماء ملائكة يقولون: سبحان الله! لقد جاء من الأرض جيفة ونسمة خبيثة، لا يفتح لها باب السماء، فيؤمر بجسده، فيضيق عليه في القبر، ويملأ حيات مثل أعناق البخت تأكل لحمه، فلا تدع من عظامه شيئا، ثم يرسل الله ملائكة صما عميا، معهم فطاطيس 2 من حديد، لا يبصرونه
--------------------------------------------
এবং তোমার প্রতিপালক তোমার ওপর রাগান্বিত নন; তুমি বের হয়ে এসো, আর তুমি যা অগ্রিম পাঠিয়েছ তা কতই না চমৎকার! অতঃপর তা সবচেয়ে সুগন্ধিযুক্ত কস্তুরীর ন্যায় নির্গত হয় যা তোমাদের কেউ কখনও তার ঘ্রাণেন্দ্রিয় দ্বারা অনুভব করেছে। আকাশের প্রান্তসমূহে ফেরেশতামণ্ডলী বলতে থাকেন: সুবহানাল্লাহ! আজ পৃথিবী থেকে এক অতি পবিত্র ঘ্রাণ এসেছে। অতঃপর সেটি যে তোরণ দিয়েই অতিক্রম করে, সেটিই তার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় এবং যে ফেরেশতার নিকট দিয়েই সেটি অতিবাহিত হয়, তিনি তার জন্য রহমতের দোয়া ও সুপারিশ করেন, যতক্ষণ না তাকে তার প্রতিপালকের নিকট নিয়ে আসা হয়। (অতঃপর ফেরেশতারা তার পূর্বেই সিজদাবনত হন, তারপর তারা বলেন: হে আমাদের প্রতিপালক, এটি আপনার অমুক বান্দা, সে মৃত্যুবরণ করেছে এবং আপনি তার সম্পর্কে সম্যক অবগত। তখন তিনি বলেন: তাকে সিজদা করার নির্দেশ দাও। তখন সেই আত্মা (النسمة) সিজদা করে। অতঃপর মিকাইলকে আহ্বান করা হয় এবং বলা হয়: এই আত্মাকে (النسمة) মুমিনদের আত্মাসমূহের সাথে স্থান দাও, যতক্ষণ না কিয়ামতের দিন আমি তোমার নিকট এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করি)। অতঃপর তার কবরের বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয় এবং তা তার জন্য প্রশস্ত করে দেওয়া হয়; যার দৈর্ঘ্য সত্তর হাত এবং প্রস্থ সত্তর হাত। সেখানে সুগন্ধি গুল্ম ছড়িয়ে দেওয়া হয় এবং তার জন্য রেশমি বস্ত্র বিছিয়ে দেওয়া হয়। যদি তার নিকট কুরআনের কোনো অংশ থাকে তবে তা তাকে জ্যোতি প্রদান করে, অন্যথায় তার জন্য সূর্যের আলোর ন্যায় আলো তৈরি করা হয়। অতঃপর তার জন্য জান্নাতের একটি তোরণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, যার ফলে সে প্রাতে ও সন্ধ্যায় জান্নাতে তার নির্ধারিত আসনের দিকে তাকিয়ে থাকে।
আর আল্লাহ যখন কোনো কাফির বান্দার মৃত্যু ঘটান, তখন তার নিকট দুইজন ফেরেশতা প্রেরণ করেন এবং তার সাথে একখণ্ড মোটা পশমি বস্ত্র ১ পাঠান যা যে কোনো দুর্গন্ধের চেয়ে অধিক দুর্গন্ধযুক্ত এবং যে কোনো রুক্ষ বস্তুর চেয়ে অধিক রুক্ষ। তারা বলে: হে পঙ্কিল আত্মা (النفس), তুমি জাহান্নাম ও যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির দিকে এবং তোমার প্রতি চরম অসন্তুষ্ট প্রতিপালকের দিকে বের হয়ে এসো; বের হও, তুমি যা পূর্বে পাঠিয়েছ তা কতই না নিকৃষ্ট! অতঃপর তা সর্বাপেক্ষা দুর্গন্ধযুক্ত পচা লাশের ন্যায় নির্গত হয় যা তোমাদের কেউ কখনও তার ঘ্রাণেন্দ্রিয় দ্বারা অনুভব করেছে। আকাশের প্রান্তসমূহে ফেরেশতামণ্ডলী বলতে থাকেন: সুবহানাল্লাহ! আজ পৃথিবী থেকে এক দুর্গন্ধযুক্ত পচা দেহ ও পঙ্কিল আত্মা (النسمة) এসেছে। তার জন্য আকাশের কোনো তোরণ উন্মুক্ত করা হয় না। অতঃপর তার দেহের ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়, ফলে কবরে তা তার ওপর সংকুচিত হয়ে যায় এবং কবরটিকে বখতি উটের গলার ন্যায় বিশালাকার সর্পরাজিতে পূর্ণ করে দেওয়া হয়, যারা তার মাংস ভক্ষণ করতে থাকে এবং তার হাড়ের কিছুই অবশিষ্ট রাখে না। অতঃপর আল্লাহ এমন কিছু বধির ও অন্ধ ফেরেশতা প্রেরণ করেন যাদের নিকট লোহার ভারী গদা ২ থাকে, তারা তাকে দেখতে পায় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামু তামান্নিল মাউত (মাতবু দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সালাছ)
(পৃষ্ঠা: ৯)
فيرحمونه، ولا يسمعون صوته فيرحمونه، فيضربونه، ويخبطونه، ويفتح له باب من النار، فينظر إلى مقعده من النار، بكرة وعشية، يسأل الله أن يديم ذلك عليه، فلا يصير إلى ما وراءه من النار".
وأخرج البيهقي وغيره عن أبي موسى قال: "تخرج نفس المؤمن وهي أطيب ريحا من المسك" 1 الحديث، وأخرجه أبو داود بنحوه، وفيه: "فيصعد به من الباب الذي كان يصعد عمله منه" وفي آخره في الكافر: "فيردوه إلى أسفل الأرضين الثرى".
وأخرج ابن أبي حاتم وغيره عن ابن عباس في قوله: {وَقِيلَ مَنْ رَاقٍ} 2 قال: "قيل من يرقى بروحه، ملائكة الرحمة أو ملائكة العذاب؟ ".
وفي الصحيحين: حديث الرجل الذي اختصمت فيه ملائكة الرحمة وملائكة العذاب 3. وأخرج سعيد في سننه عن الحسن قال: "إذا احتضر المؤمن حضره خمسمائة ملك، فيقبضون روحه، فيعرجون به إلى السماء، فتلقاهم أرواح المؤمنين الماضية، فيريدون أن يستخبروه، فتقول لهم الملائكة: ارفقوا به، فإنه خرج من كرب عظيم، ثم يستخبرونه، حتى يستخبر الرجل عن أخيه وعن صاحبه، فيقول: هو كما عهدت، حتى يستخبرونه عن إنسان قد مات قبله، فيقول: أوما أتى عليكم؟ فيقولون: أوقد هلك؟ فيقول: إي والله، فيقولون: قد ذهب به إلى أمه الهاوية، فبئست الأم، وبئست المربية".
--------------------------------------------
তারা তার প্রতি কোনো দয়া করে না এবং তারা তার কণ্ঠস্বর শোনে না যে তারা তার প্রতি দয়া করবে; বরং তারা তাকে প্রহার করে এবং প্রচণ্ডভাবে আঘাত করে। তার জন্য জাহান্নামের একটি দরজা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, ফলে সে সকাল ও সন্ধ্যায় জাহান্নামে তার নির্ধারিত স্থানের দিকে তাকিয়ে থাকে। সে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে যেন এটিই তার ওপর দীর্ঘস্থায়ী করা হয়, যাতে সে এর পরবর্তী আগুনের ভয়াবহতার দিকে ধাবিত না হয়।"
বায়হাকী এবং অন্যান্যরা আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج), তিনি বলেছেন: "মুমিনের আত্মা বের হয় এমতাবস্থায় যে তা কস্তুরীর চেয়েও অধিক সুগন্ধিযুক্ত থাকে" ১ হাদিস। আবু দাউদও অনুরূপ (بنحوه) বর্ণনা করেছেন (أخرج), এবং তাতে রয়েছে: "তাকে সেই দরজা দিয়ে উপরে নিয়ে যাওয়া হয় যা দিয়ে তার আমল উপরে উঠত।" আর এর শেষ অংশে কাফির সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে: "তারা তাকে জমিনের সর্বনিম্ন স্তর আছ-ছারা-তে ফিরিয়ে দেয়।"
ইবনে আবি হাতিম এবং অন্যান্যরা ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে আল্লাহর এই বাণীর ব্যাপারে বর্ণনা করেছেন (أخرج): {আর বলা হবে, কে ঝাড়ফুঁক দিবে?} ২ তিনি বলেন: "বলা হবে, কে তার আত্মাকে নিয়ে উপরে উঠবে—রহমতের ফেরেশতারা নাকি আজাবের ফেরেশতারা?"
আর সহীহাইনে সেই ব্যক্তির হাদিস রয়েছে যার ব্যাপারে রহমতের ফেরেশতা এবং আজাবের ফেরেশতারা বিবাদে লিপ্ত হয়েছিল ৩। সাঈদ তার সুনানে হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج), তিনি বলেছেন: "যখন মুমিনের মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন তার নিকট পাঁচশত ফেরেশতা উপস্থিত হন। তারা তার রূহ কবজ করেন এবং তাকে নিয়ে আসমানের দিকে আরোহণ করেন। তখন তাদের সাথে পূর্ববর্তী মুমিনদের রূহগুলোর সাক্ষাৎ হয়। তারা তার কাছ থেকে সংবাদ জানতে চায়। তখন ফেরেশতারা তাদের বলেন: তার প্রতি কোমল হও, কারণ সে এক মহা সংকট থেকে বের হয়ে এসেছে। এরপর তারা তার কাছে সংবাদ জানতে চায়, এমনকি কোনো ব্যক্তি তার ভাই ও তার সঙ্গী সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করে। সে বলে: সে তেমনই আছে যেমনটি তোমরা দেখে এসেছিলে। এমনকি তারা এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করে যে তার পূর্বেই মারা গিয়েছিল। তখন সে বলে: সে কি তোমাদের কাছে আসেনি? তারা বলে: তবে কি সে ধ্বংস হয়ে গেছে? সে বলে: হ্যাঁ, আল্লাহর কসম। তখন তারা বলে: তাকে তার মা 'হাবিয়া'র (জাহান্নাম) দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে; কতই না নিকৃষ্ট সেই মা এবং কতই না নিকৃষ্ট সেই লালনকারিণী।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামু তামান্নিল মাউত (মাতবু দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সালাছ)
(পৃষ্ঠা: ১০)
وللحاكم في المستدرك عن إبراهيم بن عبد الرحمن بن عوف: "أن أباه مرض مرضا، فأغمي عليه، حتى ظنوا أنه قد فاضت نفسه، حتى قاموا من عنده، وجللوه ثوبا، ثم أفاق، فقال: إنه أتاني ملكان فظان غليظان، فقالا: انطلق بنا نحاكمك إلى العزيز الأمين، فذهبا به، فلقيهما ملكان، هما أرق منهما وأرحم، فقالا: أين تذهبان؟ قالا: نحاكمه إلى العزيز الأمين، فقالا: دعاه، فإنه ممن سبقت له السعادة وهو في بطن أمه، وعاش بعد ذلك شهرا، ثم توفي (".
وقال سعيد في سننه: حدثنا سفيان عن عطاء: "أن سلمان أصاب مسكا، فاستودعه امرأته، فلما حضره الموت، قال: أين الذي كنت استودعتك؟ قالت: هو ذا. قال: فأديفيه 1 بالماء ورشيه حول فراشي، فإنه يحضرني خلق من خلق الله لا يأكلون الطعام، ولا يشربون الشراب، ويجدون الريح".
وأخرج ابن أبي الدنيا عن مكحول قال: قال عمر: "احضروا موتاكم، وذكروهم، فإنهم يرون ما لا ترون".
ولسعيد عن الحسن عن عمر: "احضروا موتاكم، ولقنوهم لا إله إلا الله، فإنهم يرون ويقال لهم".
وله عن مكحول عنه: "لقنوا موتاكم لا إله إلا الله، واعقلوا ما تسمعون من المطيعين، فإنه يجلى لهم أمور صادقة".
ولابن أبي شيبة عن يزيد بن شجرة الصحابي قال: "ما من ميت يموت حتى يمثل له جلساؤه عند موته، إن كانوا أهل لهو فأهل لهو، وإن كانوا أهل ذكر فأهل ذكر".
--------------------------------------------
আল-হাকিম আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে ইবরাহিম ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আউফ থেকে বর্ণনা করেছেন: "তার পিতা একদা অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং তার ওপর সংজ্ঞাহীনতা ছেয়ে গেল, এমনকি উপস্থিত সকলে ধারণা করল যে তার প্রাণবায়ু নির্গত হয়ে গেছে। তারা তার নিকট থেকে উঠে গেলেন এবং তাকে একটি চাদর দ্বারা আবৃত করলেন। অতঃপর তার চেতনা ফিরে এল এবং তিনি বললেন: আমার নিকট দুজন রূঢ় ও কর্কশ ফেরেশতা এসে বলল: আমাদের সাথে চল, আমরা তোমাকে মহাসম্মানিত ও মহাআমানতদার (আল্লাহর) নিকট বিচারের জন্য নিয়ে যাই। তারা তাকে নিয়ে রওয়ানা হলেন, পথে তাদের সাথে এমন দুজন ফেরেশতার সাক্ষাৎ হলো যারা পূর্বোক্ত দুজনের তুলনায় অধিক কোমল ও দয়ালু ছিলেন। তারা জিজ্ঞেস করলেন: তোমরা তাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ? তারা বলল: আমরা তাকে মহাসম্মানিত ও মহাআমানতদার (আল্লাহর) কাছে বিচারের জন্য নিয়ে যাচ্ছি। তখন তারা বললেন: তাকে ছেড়ে দাও, কারণ সে তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদের জন্য তার মাতৃগর্ভে থাকাকালীনই সৌভাগ্য নির্ধারিত হয়ে গেছে। এরপর তিনি এক মাস বেঁচে ছিলেন এবং অতঃপর ইন্তেকাল করেন।"
সাঈদ তার সুনান গ্রন্থে বলেন: সুফিয়ান আতা থেকে আমাদের নিকট বর্ণনা (حدثنا) করেছেন: "সালমান (রা.) কিছু মিশক (কস্তুরী) সংগ্রহ করেছিলেন এবং তা তার স্ত্রীর নিকট গচ্ছিত রেখেছিলেন। যখন তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এল, তিনি বললেন: আমি তোমার কাছে যা গচ্ছিত রেখেছিলাম তা কোথায়? তিনি বললেন: এই তো এখানে। তিনি বললেন: তা পানি দিয়ে মিশিয়ে (১) আমার বিছানার চারপাশে ছিটিয়ে দাও। কেননা আমার নিকট আল্লাহর সৃষ্টির মধ্য হতে এমন একদল সৃষ্টি উপস্থিত হয়েছেন যারা খাদ্য গ্রহণ করেন না, পানীয় পান করেন না, তবে তারা সুগন্ধি আস্বাদন করেন।"
ইবনে আবিদ দুনিয়া মাকহুল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, উমর (রা.) বলেছেন: "তোমরা তোমাদের মুমূর্ষু ব্যক্তিদের নিকট উপস্থিত থেকো এবং তাদের (আল্লাহর কথা) স্মরণ করিয়ে দিও, কারণ তারা তা প্রত্যক্ষ করে যা তোমরা দেখতে পাও না।"
সাঈদ হাসান থেকে এবং তিনি উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: "তোমরা তোমাদের মুমূর্ষু ব্যক্তিদের নিকট উপস্থিত থেকো এবং তাদের 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর তালকিন করো, কারণ তারা (অনেক কিছু) দেখতে পায় এবং তাদের সাথে কথা বলা হয়।"
তিনি মাকহুল থেকে এবং তিনি উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: "তোমরা তোমাদের মুমূর্ষু ব্যক্তিদের 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর তালকিন করো এবং অনুগত বান্দাদের থেকে যা শোনো তা হৃদয়াঙ্গম করো, কেননা তাদের নিকট সত্য বিষয়সমূহ উন্মোচিত হয়।"
ইবনে আবি শাইবা সাহাবি (صحابي) ইয়াজিদ ইবনে শাজারা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "এমন কোনো মৃত ব্যক্তি নেই যার মৃত্যুর সময় তার সঙ্গীদের অবয়ব তার সামনে উপস্থিত করা হয় না; যদি তারা পাপাচারী হয় তবে পাপাচারীদের অবয়ব, আর যদি তারা জিকিরকারী বা পুণ্যবান হয় তবে জিকিরকারীদের অবয়ব।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামু তামান্নিল মাউত (মাতবু দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সালাছ)
(পৃষ্ঠা: ১১)
ولابن أبي الدنيا عن مجاهد نحوه، وذكر البيهقي قول الرجل حين لقن: اشرب واسقني، وقول الآخر: ده يازده.
وأخرج ابن أبي الدنيا عن حنظلة بن الأسود قال: "مات مولاي، فجعل يغطي وجهه مرة، ويكشفه أخرى، فذكرت ذلك لمجاهد، فقال: بلغنا أن نفس المؤمن لا تخرج حتى يعرض عليه عمله، خيره وشره".
وأخرج ابن عساكر عن عبد الرحمن 1: "أن معاذ بن جبل طعن ابنه عام عمواس، فمات، فصبر واحتسب، فلما طعن في كفه قال: حبيب جاء على فاقة، لا أفلح من ندم، قال: فقلت يا معاذ هل ترى شيئا 2؟ شكر لي ربي حسن عزائي. أتاني روح ابني، فبشرني أن محمدا صلى الله عليه وسلم في مائة صف من الملائكة المقربين والشهداء والصالحين، يصلون على روحي، ويسوقوني إلى الجنة. ثم أغمي عليه، فرأيته كأنه يصافح قوما، ويقول: مرحبا مرحبا، أتيتكم، فقضى. فرأيته في المنام بعد ذلك حوله زحام كزحامنا على خيل بلق عليهم ثياب بيض، وهو ينادي: يا سعد بين رامح ومطعون، الحمد لله الذي أورثنا الجنة نتبوأ منها حيث نشاء، فنعم أجر العاملين، ثم انتبهت".
وأخرج الشيخان عن عبادة بن الصامت أن رسول الله صلى عليه الله وسلم قال: "من أحب لقاء الله أحب الله لقاءه، ومن كره لقاء الله كره الله لقاءه. فقالت عائشة رضي الله عنها: إنا نكره الموت، قال: ليس
--------------------------------------------
ইবনে আবিদ দুনিয়া মুজাহিদ থেকে অনুরূপ (نحوه) বর্ণনা করেছেন। আর বায়হাকি এক ব্যক্তির উক্তি উল্লেখ করেছেন যাকে তালকিন করার সময় সে বলেছিল: "পান করো এবং আমাকে পান করাও," এবং অন্য একজনের উক্তি: "দশ-এগারো।"
ইবনে আবিদ দুনিয়া হানজালা বিন আসওয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج), তিনি বলেন: "আমার মুনিব মারা গেলেন, তিনি বারবার তাঁর মুখমণ্ডল ঢাকছিলেন এবং তা উন্মোচন করছিলেন। আমি মুজাহিদ-এর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বললেন: আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, মুমিনের আত্মা ততক্ষণ বের হয় না যতক্ষণ তার নিকট তার আমল—তার ভালো ও মন্দ—উপস্থাপন করা না হয়।"
ইবনে আসাকির আব্দুর রহমান ১ থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج): "আমওয়াস মহামারীর বছর মুআজ বিন জাবালের পুত্র প্লেগ আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে তিনি ধৈর্য ধারণ করেন এবং সওয়াবের প্রত্যাশা করেন। যখন তাঁর হাতের তালুতে প্লেগের লক্ষণ দেখা দিল, তখন তিনি বললেন: এক প্রিয়জন অভাবের মুহূর্তে উপস্থিত হয়েছে, যে ব্যক্তি অনুতপ্ত হয় সে সফল হয় না। বর্ণনাকারী বলেন: আমি বললাম, হে মুআজ! আপনি কি কিছু দেখতে পাচ্ছেন ২? (তিনি বললেন:) আমার প্রতিপালক আমার উত্তম ধৈর্যের শুকরিয়া আদায় করেছেন। আমার পুত্রের আত্মা আমার কাছে এসে সুসংবাদ দিয়েছে যে, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) একশত কাতার নিকটবর্তী ফেরেশতা, শহীদ এবং নেককারদের পরিবেষ্টিত অবস্থায় আছেন; তাঁরা আমার আত্মার জন্য দোয়া করছেন এবং আমাকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। এরপর তিনি মূর্ছিত হয়ে পড়লেন; আমি তাঁকে দেখলাম যেন তিনি একদল লোকের সাথে করমর্দন করছেন এবং বলছেন: স্বাগতম স্বাগতম, আমি তোমাদের নিকট এসেছি; এরপর তিনি ইন্তেকাল করলেন। এরপর আমি তাঁকে স্বপ্নে দেখলাম যে, তাঁর চারপাশে মানুষের প্রবল ভিড়, তাঁরা শ্বেত-শ্যামল ঘোড়ার পিঠে সওয়ার এবং তাঁদের পরনে সাদা পোশাক। তিনি তখন উচ্চস্বরে বলছেন: হে সা’দ! বর্শাধারী ও প্লেগবিদ্ধদের মাঝে (রয়েছে কল্যাণ), সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর যিনি আমাদের জান্নাতের উত্তরাধিকারী করেছেন, আমরা জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা বসবাস করতে পারি; আমলকারীদের পুরস্কার কতই না চমৎকার! তারপর আমি জাগ্রত হলাম।"
দুই ইমাম (الشيخان) উবাদা বিন সামিত থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج) যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ পছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন; আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ অপছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন। আয়েশা (রা.) বললেন: আমরা তো মৃত্যুকে অপছন্দ করি। তিনি বললেন: বিষয়টি তেমন নয়..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামু তামান্নিল মাউত (মাতবু দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সালাছ)
(পৃষ্ঠা: ১২)
ذلك، ولكن المؤمن إذا حضره الموت بشر برضوان الله وكرامته، فليس شيء أحب إليه مما أمامه، وأحب لقاء الله وأحب الله لقاءه. وإن الكافر إذا حضر بشر بعذاب الله وعقوبته، فليس شيء أكره إليه مما أمامه، وكره لقاء الله وكره الله لقاءه".
وقال آدم بن أبي إياس: حدثنا حماد بن أبي 1 سلمة عن عطاء بن السائب عن عبد الرحمن بن أبي ليلى قال: "تلا رسول الله صلى الله عليه وسلم هذه الآيات: {فَلَوْلا إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ} 2 الآيات، ثم قال: إذا كان عند الموت قيل له هذا، فإن كان من أصحاب اليمين، أحب لقاء الله" إلخ، كما تقدم، وأخرجه أحمد بمعناه، وفيه: عن عبد الرحمن حدثني فلان بن فلان أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم.
وأخرج ابن جرير وغيره عن ابن جريج قال: قال النبي صلى الله عليه وسلم لعائشة: "إذا عاين المؤمن الملائكة، قالوا: نرجعك إلى الدنيا؟ فيقول: إلى دار الهموم والأحزان، قدما إلى الله. وأما الكافر فيقولون: نرجعك؟ فيقول: رب ارجعون، لعلي أعمل صالحا فيما تركت".
وللترمذي وابن جرير عن ابن عباس: "من كان له مال يبلغه حج بيت ربه، أو تجب عليه فيه زكاة فلم يفعل، سأل الرجعة عند الموت. فقال رجل: يا ابن عباس اتق الله، فإنما يسأل الرجعة الكفار، فقال: سأتلو عليكم بذلك قرآنا: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لا تُلْهِكُمْ أَمْوَالُكُمْ} 3 الآية.
--------------------------------------------
...কিন্তু মুমিন ব্যক্তির যখন মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়, তখন তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অনুগ্রহের সুসংবাদ দেওয়া হয়। ফলে তার সামনে যা রয়েছে, তার চেয়ে প্রিয় আর কিছুই তার কাছে থাকে না; তাই সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করাকে পছন্দ করে এবং আল্লাহও তার সাথে সাক্ষাৎ করাকে পছন্দ করেন। পক্ষান্তরে কাফের ব্যক্তির যখন (মৃত্যু) উপস্থিত হয়, তখন তাকে আল্লাহর শাস্তি ও যন্ত্রণার সংবাদ দেওয়া হয়। ফলে তার সামনে যা রয়েছে, তার চেয়ে অপ্রিয় আর কিছুই তার কাছে থাকে না; তাই সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করাকে অপছন্দ করে এবং আল্লাহও তার সাথে সাক্ষাৎ করাকে অপছন্দ করেন।
আদম ইবনে আবি ইয়াস বলেন: হাম্মাদ ইবনে আবি সালামাহ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثنا), তিনি আতা ইবনুল সাইব থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবনে আবি লায়লা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াতগুলো তিলাওয়াত করলেন: {অতঃপর কেন নয়, যখন প্রাণ কণ্ঠাগত হয়} - আয়াতাংশ। তারপর তিনি বললেন: মৃত্যুর সময় তাকে যখন এটি বলা হয়, সে যদি ডানদিকের অধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে সে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করা পছন্দ করে..." ইত্যাদি, যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। আহমদ এটি সমার্থে বর্ণনা করেছেন (أخرجه)। এতে রয়েছে: আবদুর রহমান থেকে বর্ণিত, অমুক ইবনে অমুক আমার কাছে বর্ণনা করেছেন (حدثني) যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শুনতে পেয়েছেন।
ইবনে জারীর ও অন্যান্যরা ইবনে জুরাইজ থেকে বর্ণনা করেছেন (أخرج), তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা (রা.)-কে বললেন: "মুমিন যখন ফেরেশতাদের প্রত্যক্ষ করে, তারা বলে: আমরা কি তোমাকে দুনিয়াতে ফিরিয়ে দেব? তখন সে বলে: (ফিরে যাব) দুশ্চিন্তা ও দুঃখের ঘরে? বরং আল্লাহর দিকেই এগিয়ে যাই। আর কাফেরকে তারা যখন বলে: আমরা কি তোমাকে ফিরিয়ে দেব? তখন সে বলে: হে আমার রব! আমাকে ফিরিয়ে দিন, যেন আমি যা ছেড়ে এসেছি তাতে সৎকাজ করতে পারি।"
তিরমিজি ও ইবনে জারীর ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন: "যার নিকট এমন সম্পদ থাকে যা তাকে তার রবের ঘরে হজ পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারত, অথবা যার ওপর জাকাত ওয়াজিব ছিল অথচ সে তা আদায় করেনি, সে মৃত্যুর সময় (দুনিয়াতে) প্রত্যাবর্তনের প্রার্থনা করবে। এক ব্যক্তি বলল: হে ইবনে আব্বাস! আল্লাহকে ভয় করুন, প্রত্যাবর্তনের প্রার্থনা তো কেবল কাফেররাই করবে। তিনি বললেন: আমি এ বিষয়ে তোমাদের সামনে কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করছি: {হে মুমিনগণ, তোমাদের ধন-সম্পদ যেন তোমাদেরকে উদাসীন না করে} - আয়াতাংশ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামু তামান্নিল মাউত (মাতবু দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সালাছ)
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ولابن أبي حاتم عن عبادة في قوله {فَرَوْحٌ وَرَيْحَانٌ} 1 قال: "الروح الرحمة، والريحان يتلقى به عند الموت".
وله عن "ابن عباس في قوله {فَنُزُلٌ مِنْ حَمِيمٍ} 2 قال: "لا يخرج الكافر من دار الدنيا حتى يشرب كأسا من حميم".
ولابن أبي حاتم والحاكم وصححه عن البراء بن عازب في قوله: {تَحِيَّتُهُمْ يَوْمَ يَلْقَوْنَهُ سَلامٌ} 3 قال: "يوم يلقون ملك الموت، ليس من مؤمن تقبض روحه إلا سلم عليه".
ولابن أبي الدنيا وغيره عن ابن مسعود قال: "إذا جاء ملك الموت ليقبض روح المؤمن قال: ربك يقرئك السلام".
ولابن المبارك والبيهقي عن محمد بن كعب: إذا استنقعت نفس العبد المؤمن، جاءه ملك الموت، فقال: السلام عليك يا ولي الله، الله يقرأ عليك السلام. ثم نزع بهذه الآية: {الَّذِينَ تَتَوَفَّاهُمُ الْمَلائِكَةُ طَيِّبِينَ يَقُولُونَ سَلامٌ عَلَيْكُمُ} 4.
ولابن جرير وغيره عن الضحاك في قوله: {لَهُمُ الْبُشْرَى فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ} 5 قال: يعلم أين هو قبل الموت.
--------------------------------------------
ইবনে আবি হাতেম উবাদাহ থেকে আল্লাহর বাণী {সুতরাং তার জন্য রয়েছে আরাম ও সুগন্ধি} ১ প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আরাম হলো রহমত, আর সুগন্ধি হলো তা যা দিয়ে মৃত্যুর সময় তাকে বরণ করে নেওয়া হয়।"
এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে আল্লাহর বাণী {তবে তার আপ্যায়ন হবে ফুটন্ত পানি দিয়ে} ২ প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "কোনো কাফির দুনিয়া থেকে বিদায় নেয় না যতক্ষণ না সে ফুটন্ত পানির এক পেয়ালা পান করে।"
ইবনে আবি হাতেম এবং হাকেম বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে সহিহ (صحيح) হিসেবে অভিহিত করেছেন বারা ইবনে আযেব থেকে আল্লাহর এই বাণী {যেদিন তারা তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করবে সেদিন তাদের অভিবাদন হবে সালাম} ৩ প্রসঙ্গে, তিনি বলেন: "অর্থাৎ যেদিন তারা মৃত্যুর ফেরেশতার সাথে সাক্ষাৎ করবে। এমন কোনো মুমিন নেই যার প্রাণ কবজ করার সময় ফেরেশতা তাকে সালাম প্রদান করেন না।"
ইবনে আবিদ দুনিয়া এবং অন্যরাও ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যখন মৃত্যুর ফেরেশতা মুমিনের প্রাণ কবজ করতে আসেন, তখন তিনি বলেন: তোমার প্রতিপালক তোমাকে সালাম জানিয়েছেন।"
ইবনে মুবারক এবং বায়হাকি মুহাম্মাদ ইবনে কাব থেকে বর্ণনা করেছেন: "যখন মুমিন বান্দার প্রাণ কণ্ঠাগত হয়, তখন মৃত্যুর ফেরেশতা তার কাছে আসেন এবং বলেন: হে আল্লাহর ওলি, তোমার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, আল্লাহ তোমাকে সালাম জানিয়েছেন।" এরপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেন: {ফেরেশতারা যাদের মৃত্যু ঘটায় পবিত্র থাকা অবস্থায়, তারা বলে: তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক} ৪।
ইবনে জারির এবং অন্যরাও দাহহাক থেকে আল্লাহর বাণী {তাদের জন্য সুসংবাদ রয়েছে পার্থিব জীবনে এবং পরকালেও} ৫ প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "মৃত্যুর পূর্বেই সে জানতে পারে তার অবস্থান কোথায় হবে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামু তামান্নিল মাউত (মাতবু দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সালাছ)
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ولابن أبي الدنيا عن جابر مرفوعا: أما قوله {فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا} فهي الرؤيا الحسنة ترى للمؤمن فيبشر بها في دنياه، وأما قوله {وَفِي الْآخِرَةِ} فبشارة المؤمن عند الموت، يبشر عند الموت أن الله قد غفر لك ولمن حملك إلى قبرك".
وأخرج البيهقي عن مجاهد في قوله {تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلائِكَةُ} 1 الآية: ذلك عند الموت.
ولابن أبي حاتم عنه في الآيه: {أَلَّا تَخَافُوا} مما تقدمون عليه من الموت وأمر الآخرة {وَلا تَحْزَنُوا} على ما خلفتم من أمر دنياكم من ولد وأهل أو دين، فإنه سيخلفكم في ذلك كله.
وله عن زيد بن أسلم في الآية: يبشر بها عند موته وفي قبره ويوم يبعث، فإنه لفي الجنة وما ذهبت فرحة البشارة من قلبه.
وقال سفيان: يبشر بثلاث بشارات، عند الموت، وإذا خرج من القبر، وإذا فزع.
ولمسلم عن أبي هريرة مرفوعا: "ألم تروا الإنسان إذا مات شخص بصره; قالوا: بلى. قال: فذلك حين يتبع بصره نفسه" 2.
ولابن جرير وابن أبي حاتم عن ابن عباس في قوله: {ثُمَّ يَتُوبُونَ مِنْ قَرِيبٍ} 3 قال: "القريب ما بينه وبين أن ينظر إلى ملك الموت".
--------------------------------------------
ইবন আবিদ দুনিয়া জাবির (রা.) থেকে মারফু (مرفوعًا) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: আল্লাহর বাণী—{পার্থিব জীবনে}, এটি হলো সেই উত্তম স্বপ্ন যা মুমিন ব্যক্তি নিজে দেখে অথবা তার জন্য অন্য কেউ দেখে এবং যার মাধ্যমে সে দুনিয়াতেই সুসংবাদ প্রাপ্ত হয়। আর আল্লাহর বাণী—{এবং পরকালেও}, এটি হলো মৃত্যুর সময় মুমিনের প্রাপ্ত সুসংবাদ। মৃত্যুর সময় তাকে সুসংবাদ দেওয়া হয় যে, আল্লাহ আপনাকে এবং যারা আপনাকে কবর পর্যন্ত বহন করে এনেছে, তাদের সকলকে ক্ষমা করে দিয়েছেন।
ইমাম বায়হাকি মুজাহিদ (রহ.) থেকে আল্লাহর এই বাণী—{নিশ্চয়ই তাদের নিকট ফেরেশতারা অবতীর্ণ হয়} ১—সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, এটি মৃত্যুর সময় ঘটে।
ইবন আবি হাতিম মুজাহিদ (রহ.) থেকে এই আয়াত সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: {তোমরা ভয় পেয়ো না}—অর্থাৎ তোমরা যে মৃত্যু এবং পরকালের বিষয়ের দিকে অগ্রসর হচ্ছ, তা নিয়ে ভীত হয়ো না। {এবং তোমরা চিন্তিত হয়ো না}—অর্থাৎ তোমাদের পেছনে ফেলে আসা দুনিয়ার বিষয়াদি যেমন সন্তান-সন্ততি, পরিবার-পরিজন কিংবা ঋণ নিয়ে দুশ্চিন্তা করো না; কারণ আল্লাহ এ সবকিছুর ব্যাপারে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে তাদের দেখাশোনা করবেন।
তিনি যায়েদ বিন আসলাম (রহ.) থেকে এই আয়াত সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: তাকে মৃত্যুর সময়, কবরে এবং পুনরুত্থানের দিন সুসংবাদ দেওয়া হয়। সে জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত সেই সুসংবাদের আনন্দ তার হৃদয় থেকে কখনো বিলুপ্ত হয় না।
সুফিয়ান (রহ.) বলেন: তাকে তিনটি সুসংবাদ দেওয়া হয়—মৃত্যুর সময়, কবর থেকে পুনরুত্থানের সময় এবং হাশরের মহাভীতির সময়।
ইমাম মুসলিম আবু হুরাইরা (রা.) থেকে মারফু (مرفوعًا) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "তোমরা কি দেখো না মানুষ যখন মারা যায় তখন তার দৃষ্টি স্থির হয়ে থাকে?" তারা বললেন: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "এটি তখনই ঘটে যখন তার দৃষ্টি নিজের রুহ বা প্রাণকে অনুসরণ করে" ২।
ইবন জারির এবং ইবন আবি হাতিম ইবন আব্বাস (রা.) থেকে আল্লাহর এই বাণী—{অতঃপর তারা শীঘ্রই তওবা করে} ৩—সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "শীঘ্র বলতে মৃত্যু ফেরেশতার দিকে তাকানোর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত সময়কে বোঝানো হয়েছে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামু তামান্নিল মাউত (মাতবু দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সালাছ)
(পৃষ্ঠা: ১৫)
أخرج أحمد وغيره عن أبي سعيد أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إن الميت يعرف من يغسله ويحمله ومن يكفنه ومن يدليه في حفرته" 1. وأخرج أبو نعيم وغيره عن عمرو بن دينار قال: "ما من ميت يموت إلا روحه في يد ملك الموت ينظر إلى جسده، كيف يغسل، وكيف يكفن، وكيف يمشى به، ويقال له وهو على سريره: اسمع ثناء الناس عليك".
وأخرج ابن أبي الدنيا معناه عن جماعة من التابعين بلفظ: بيد ملك. بلا إضافة.
وللشيخين عن أنس: "أن النبي صلى الله عليه وسلم وقف على قتلى بدر فقال: يا فلان بن فلان، يا فلان بن فلان، هل وجدتم ما وعد ربكم حقا؟ فإني وجدت ما وعدني ربي حقا. فقال عمر: يا رسول الله، كيف تكلم أجسادا لا أرواح فيها؟ فقال: ما أنتم بأسمع لما أقول منهم، غير أنهم لا يستطيعون أن يردوا علي شيئا ".
ولهما عن أبي سعيد مرفوعا: "إذا وضعت الجنازة واحتملها الرجال على أعناقهم، فإن كانت صالحة قالت: قدموني، وإن كانت غير صالحة قالت: يا ويلاه. فيسمع صوتها كل شيء إلا الإنسان، ولو يسمعه الإنسان لصعق" 2.
أخرج سعيد في سننه عن ابن عقلة قال: "إن الملائكة لتمثل أمام الجنازة ويقولون،: ما قدم فلان؟ ويقول الناس: ما ترك فلان"؟
وللترمذي وابن أبي حاتم وغيرهما عن أنس مرفوعا: "ما من إنسان إلا له بابان في السماء، باب يصعد منه عمله، وباب ينزل منه رزقه، فإذا مات العبد المؤمن، بكيا عليه" 3.
--------------------------------------------
ইমাম আহমাদ ও অন্যান্যরা আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই মৃত ব্যক্তি চিনতে পারে কে তাকে গোসল করাচ্ছে, কে তাকে বহন করছে, কে তাকে কাফন পরাচ্ছে এবং কে তাকে কবরে নামাচ্ছে।" ১। আবু নুআইম ও অন্যান্যরা আমর ইবনে দীনার থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তিনি বলেন: "এমন কোনো মৃত ব্যক্তি নেই যার প্রাণ বা রুহ মৃত্যুর ফেরেশতার হাতে থাকে না; সে তার দেহের দিকে তাকিয়ে দেখে—কীভাবে তাকে গোসল দেওয়া হচ্ছে, কীভাবে কাফন পরানো হচ্ছে এবং কীভাবে তাকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সে যখন খাটিয়ার ওপর থাকে, তখন তাকে বলা হয়: তোমার সম্পর্কে মানুষের প্রশংসা শোনো।"
ইবন আবীদ দুনিয়া একদল তাবেয়ি (التابعين) থেকে এই একই অর্থের বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তবে তার শব্দ ছিল: 'ফেরেশতার হাতে', কোনো সম্বন্ধপদ (إضافة) ব্যতীত।
শাইখাইন আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের যুদ্ধে নিহতদের লাশের সামনে দাঁড়িয়ে বললেন: হে অমুকের পুত্র অমুক, হে অমুকের পুত্র অমুক! তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা কি তোমরা সত্য হিসেবে পেয়েছ? আমি তো আমার প্রতিপালক আমাকে যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা সত্য হিসেবে পেয়েছি। তখন উমর (রা.) বললেন: হে আল্লাহর রাসুল! আপনি এমন দেহের সাথে কথা বলছেন যাদের মধ্যে কোনো প্রাণ নেই? তিনি বললেন: আমি যা বলছি, তোমরা তাদের চেয়ে বেশি শুনতে পাচ্ছ না; পার্থক্য শুধু এই যে, তারা আমাকে কোনো উত্তর দিতে পারছে না।"
তাঁদের উভয়ের বর্ণনায় আবু সাঈদ (রা.) থেকে মারফু (مرفوعا) সূত্রে বর্ণিত: "যখন জানাজা রাখা হয় এবং পুরুষরা তা তাদের কাঁধে তুলে নেয়, তখন সে যদি নেককার হয় তবে বলে: আমাকে দ্রুত নিয়ে চলো। আর যদি সে নেককার না হয় তবে বলে: হায় দুর্ভোগ! মানুষ ছাড়া প্রতিটি সৃষ্টিই তার চিৎকার শুনতে পায়। মানুষ যদি তা শুনতে পেত, তবে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলত।" ২।
সাঈদ তার সুনান গ্রন্থে ইবন উকলাহ থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই ফেরেশতারা জানাজার সামনে উপস্থিত হয় এবং বলে: অমুক ব্যক্তি আগে কী পাঠিয়েছে? আর মানুষ বলে: অমুক ব্যক্তি পেছনে কী রেখে গেছে?"
তিরমিজি, ইবন আবি হাতিম এবং অন্যান্যরা আনাস (রা.) থেকে মারফু (مرفوعا) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "প্রত্যেক মানুষের জন্যই আকাশে দুটি দরজা রয়েছে; একটি দরজা দিয়ে তার আমল উপরে উঠে এবং অন্যটি দিয়ে তার রিজক নাযিল হয়। যখন কোনো মুমিন বান্দা মারা যায়, তখন ওই দুটি দরজা তার জন্য কাঁদতে থাকে।" ৩।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামু তামান্নিল মাউত (মাতবু দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সালাছ)
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ولابن جرير عن ابن عباس "أنه سئل عن قوله: {فَمَا بَكَتْ عَلَيْهِمُ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ} 1 هل تبكي السماء والأرض على أحد؟ قال: نعم، إنه ليس أحد من الخلائق إلا له باب في السماء منه ينزل رزقه وفيه يصعد عمله، فإذا مات المؤمن، فأغلق بابه من السماء الذي كان يصعد فيه عمله وينزل منه رزقه، فقد بكى عليه. وإذا فقده مصلاه من الأرض التي كان يصلي فيها، ويذكر الله فيها، بكت عليه، وإن قوم فرعون لم يكن لهم في الأرض آثار صالحة، ولم يكن يصعد لهم إلى الله منهم خير، فلم تبك عليهم السماء والأرض".
ولابن أبي حاتم وغيره عن علي: "إن المؤمن إذا مات بكى عليه مصلاه من الأرض، ومصعد عمله في السماء، ثم تلا: {فَمَا بَكَتْ عَلَيْهِمُ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ} 2".
ولابن جرير عن عطاء: بكاء السماء حمرة أطرافها، ولابن أبي الدنيا عن الحسن مثله، وله مثله عن سفيان بلفظ: كان يقال.
وأخرج عن الحسن: "إن الله إذا توفى المؤمن ببلاد الغربة لم يعذبه ورحمه لغربته، وأمر الملائكة فبكته لغيبة بواكيه عنه".
وله ولابن جرير عن شريح بن عبيد الحضرمي مرفوعا: "ما مات مؤمن في غربة غابت عنه فيها بواكيه، إلا بكت عليه السماء والأرض، ثم قرأ: {فَمَا بَكَتْ عَلَيْهِمُ السَّمَاءُ وَالْأَرْضُ} 3 ثم قال: إنهما لا يبكيان على كافر".
--------------------------------------------
ইবনে জারীর ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাকে মহান আল্লাহর বাণী: {আকাশ ও পৃথিবী তাদের জন্য কাঁদেনি} সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, আকাশ ও পৃথিবী কি কারো জন্য কাঁদে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, সৃষ্টিকুলের এমন প্রতিটি সত্তার জন্য আকাশে একটি দরজা রয়েছে যেখান থেকে তার রিযিক অবতীর্ণ হয় এবং যার মধ্য দিয়ে তার আমল উপরে আরোহণ করে। সুতরাং মুমিন যখন মৃত্যুবরণ করে এবং আকাশের সেই দরজাটি বন্ধ হয়ে যায় যেখান দিয়ে তার আমল উপরে উঠত এবং রিযিক নামত, তখন তা তার জন্য রোদন করে। আর জমিনের যে স্থানে সে সালাত আদায় করত এবং আল্লাহর যিকির করত, সেটি যখন তাকে হারিয়ে ফেলে, তখন সেটিও তার জন্য রোদন করে। পক্ষান্তরে ফেরাউনের সম্প্রদায়ের জন্য জমিনে কোনো সৎকর্মের চিহ্ন ছিল না এবং তাদের পক্ষ থেকে আল্লাহর দিকে কোনো কল্যাণ উপরে উঠত না, ফলে আকাশ ও পৃথিবী তাদের জন্য কাঁদেনি।
ইবনে আবি হাতেম ও অন্যরা আলী থেকে বর্ণনা করেছেন: "মুমিন যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন জমিনে তার সালাত আদায়ের স্থান এবং আকাশে তার আমল আরোহণের পথ তার জন্য রোদন করে। অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: {আকাশ ও পৃথিবী তাদের জন্য কাঁদেনি}।"
ইবনে জারীর আতা থেকে বর্ণনা করেছেন: আকাশের রোদন হলো এর দিগন্তের লালিমা। ইবনে আবিদ দুনিয়া হাসান থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং তিনি সুফিয়ান থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এই শব্দে যে: ‘বলা হতো’।
হাসান থেকে বর্ণিত হয়েছে: "আল্লাহ যখন কোনো মুমিন ব্যক্তিকে পরবাসে মৃত্যু দান করেন, তখন তার প্রবাস জীবনের কারণে তাকে শাস্তি দেন না বরং তার প্রতি রহম করেন এবং ফেরেশতাদের নির্দেশ দেন, ফলে তারা তার বিয়োগে রোদন করে যেহেতু সেখানে তার জন্য ক্রন্দনকারীরা অনুপস্থিত ছিল।"
ইবনে আবিদ দুনিয়া ও ইবনে জারীর শুরাইহ ইবনে উবাইদ আল-হাদরামি থেকে মারফূ (مرفوعا) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "কোনো মুমিন যখন এমন প্রবাসে মৃত্যুবরণ করে যেখানে তার জন্য ক্রন্দনকারীরা অনুপস্থিত থাকে, তখন আকাশ ও পৃথিবী তার জন্য রোদন করে। অতঃপর তিনি পাঠ করলেন: {আকাশ ও পৃথিবী তাদের জন্য কাঁদেনি} এবং বললেন: এ দুটি কোনো কাফিরের জন্য রোদন করে না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামু তামান্নিল মাউত (মাতবু দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সালাছ)
(পৃষ্ঠা: ১৭)
أخرج الحاكم وغيره عن أبي سعيد: "أن النبي صلى الله عليه وسلم مر في المدينة، فرأى جماعة يحفرون قبرا، فسأل عنه، فقيل: حبشي قد مات، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: لا إله إلا الله، سيق من أرضه وسمائه إلى التربة التي خلق منها! ".
وأخرج الطبراني معناه عن أبي الدرداء وابن عمر. وأخرج أبو نعيم وغيره عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ادفنوا موتاكم وسط قوم صالحين، فإن الميت يتأذى بجار السوء، كما يتأذى الحي بجار السوء".
وروي معناه من حديث علي وابن عباس وغيرهما.
وأخرج ابن سعد عن معاوية بن صالح قال: "لما حضر عمر بن عبد العزيز الموت أوصاهم فقال: احفروا لي ولا تعمقوا، فإن خير الأرض أعلاها، وشرها أسفلها". وأخرج ابن عساكر عنه أنه قال لحفار لأخيه: احفر له على قدر طولك، أو إلى المنكب، ولا تبعد له في الأرض.
وروى ابن النجار: "أن عبد الصمد بن علي أمرهم بتعجيل بعض أهله قبل المساء، وقال: حدثني أبي عن جدي عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: إن ملائكة النهار أرأف من ملائكة الليل".
وفي أمالي ابن بطة عن ابن عباس مرفوعا: "لله ملك موكل بالمقابر، فإذا دفن الميت وسوي عليه وتحولوا لينصرفوا، قبض قبضة من تراب القبر، فرمى بها في أقفيتهم، وقال: انصرفوا إلى دنياكم وانسوا موتاكم".
আল-হাকিম এবং অন্যান্যরা আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মদিনায় চলাচলের সময় একদল লোককে একটি কবর খনন করতে দেখলেন। তিনি এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, তখন বলা হলো: এক হাবশি লোক মৃত্যুবরণ করেছে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, তাকে তার ভূমি ও আকাশ থেকে সেই মাটির দিকে নিয়ে আসা হয়েছে যেখান থেকে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছিল!'"
আত-তাবারানি এর সমার্থক বিষয় আবু দারদা এবং ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন। আবু নুয়াইম এবং অন্যান্যরা আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা তোমাদের মৃতদেরকে নেককার কওমের মাঝে দাফন করো; কেননা জীবিত ব্যক্তি যেমন মন্দ প্রতিবেশীর দ্বারা কষ্ট পায়, মৃত ব্যক্তিও তেমনি মন্দ প্রতিবেশীর দ্বারা কষ্ট পায়।"
আলী, ইবনে আব্বাস এবং অন্যদের হাদিস থেকেও এর সমার্থক বিষয় বর্ণিত (روي) হয়েছে।
ইবনে সাদ মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যখন উমর ইবনে আব্দুল আজিজের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তিনি তাদের ওসিয়ত করে বললেন: তোমরা আমার জন্য কবর খনন করো তবে তা খুব বেশি গভীর করো না; কেননা জমিনের সর্বোত্তম অংশ হলো এর উপরিভাগ এবং নিকৃষ্টতম অংশ হলো এর নিম্নভাগ।" ইবনে আসাকির তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর ভাইয়ের জন্য কবর খননকারীকে বলেছিলেন: তাঁর জন্য তোমার উচ্চতা সমান অথবা কাঁধ পর্যন্ত গভীর করে কবর খনন করো এবং মাটির খুব গভীরে যেয়ো না।
ইবনুন নাজ্জার বর্ণনা করেছেন: "আব্দুস সামাদ ইবনে আলী তাঁর পরিবারের কোনো এক সদস্যকে সন্ধ্যার পূর্বেই দ্রুত দাফন করার নির্দেশ দেন এবং বলেন: আমার পিতা আমার দাদা থেকে এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: দিনের ফেরেশতারা রাতের ফেরেশতাদের তুলনায় অধিক দয়াময়।"
ইবনে বাত্তাহর আমালিতে ইবনে আব্বাস থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে: "আল্লাহর পক্ষ থেকে কবরস্থানের জন্য একজন ফেরেশতা নিযুক্ত রয়েছেন। যখন মৃত ব্যক্তিকে দাফন করা হয়, কবরের মাটি সমান করা হয় এবং লোকজন ফিরে যাওয়ার জন্য উপক্রম হয়, তখন সেই ফেরেশতা কবরের এক মুষ্টি মাটি নিয়ে তাদের পিঠের দিকে ছুঁড়ে দেন এবং বলেন: তোমরা তোমাদের দুনিয়ার দিকে ফিরে যাও এবং তোমাদের মৃতদের ভুলে যাও।"
(খণ্ড: ১)
আহকামু তামান্নিল মাউত (মাতবু দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সালাছ)
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وقال ابن وهب: حدثني حيي بن عبد الله عن أبي عبد الرحمن الحبلي عن ابن عمرو قال: "توفي رجل بالمدينة ممن ولد بالمدينة، فصلى عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم وقال: ليته مات في غير مولده. فقال رجل: ولم يا رسول الله؟ قال: إن الرجل إذا مات قيس له من مولده إلى منقطع أثره في الجنة" 1.
وأخرج ابن أبي شيبة عن قتادة: أن "أنسا دفن ابنا له، فقال: اللهم جاف الأرض عن جنبيه، وافتح أبواب السماء لروحه، وأبدله دارا خيرا من داره".
وأخرج سعيد بن منصور عن أنس: "أنه كان إذا وضع الميت في قبره قال: اللهم جاف الأرض عن جنبيه، وصعد روحه، وتقبله، وتلقه منك بروح".
وأخرج ابن ماجه والبيهقي في سننه عن ابن المسيب قال: "حضرت ابن عمر في جنازة، فلما وضعها في اللحد، قال: اللهم أجرها من الشيطان ومن عذاب القبر. فلما سوي الكثيب عليها، قام جانب القبر، ثم قال: اللهم جاف الأرض عن جنبيها، وصعد روحها، ولقها منك رضوانا، ثم قال: سمعته من رسول الله صلى الله عليه وسلم" 2.
وأخرج سعيد بن منصور عن ابن مسعود قال: "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يقف على القبر بعد ما يسوى عليه، فيقول: اللهم نزل بك صاحبنا، وخلف الدنيا خلف ظهره، اللهم ثبت عند المسألة منطقه، ولا تبتله في قبره بما لا طاقة له به".
--------------------------------------------
ইবনে ওয়াহাব বলেন: হাইয়্যা ইবনে আব্দুল্লাহ আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু আব্দুর রহমান আল-হুবুলি থেকে এবং তিনি ইবনে আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "মদিনায় জন্মগ্রহণকারী এক ব্যক্তি মদিনায় মৃত্যুবরণ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাজার সালাত আদায় করলেন এবং বললেন: সে যদি তার জন্মস্থান ব্যতীত অন্য কোনো স্থানে মৃত্যুবরণ করত! এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল: হে আল্লাহর রাসূল, কেন? তিনি বললেন: যখন কোনো ব্যক্তি তার জন্মস্থান ব্যতীত অন্য স্থানে মারা যায়, তখন জান্নাতে তার জন্মস্থান থেকে তার পদচিহ্নের শেষ সীমা (মৃত্যুর স্থান) পর্যন্ত দূরত্ব পরিমাপ করে তাকে (মর্যাদা) দান করা হয়।" 1.
ইবনে আবি শায়বাহ কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: "আনাস (রা.) তাঁর এক পুত্রকে দাফন করলেন এবং বললেন: হে আল্লাহ, তার দুই পার্শ্বদেশ থেকে জমিনকে প্রশস্ত করে দিন, তার রূহের জন্য আসমানের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করে দিন এবং তাকে তার বর্তমান ঘরের চেয়ে উত্তম ঘর দান করুন।"
সাঈদ ইবনে মানসুর আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন: "তিনি যখন মৃত ব্যক্তিকে কবরে রাখতেন, তখন বলতেন: হে আল্লাহ, তার দুই পার্শ্বদেশ থেকে জমিনকে প্রশস্ত করে দিন, তার রূহকে ঊর্ধ্বে আরোহণ করান, তাকে কবুল করুন এবং আপনার পক্ষ থেকে প্রশান্তি প্রদানের মাধ্যমে তার সাথে সাক্ষাৎ করুন।"
ইবনে মাজাহ এবং বায়হাকি তাঁর সুনানে ইবনুল মুসাইয়িব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি ইবনে উমরের সাথে একটি জানাজায় উপস্থিত ছিলাম। যখন তিনি মৃতকে লাহাদ কবরে রাখলেন, তখন বললেন: হে আল্লাহ, তাকে শয়তান থেকে এবং কবরের আজাব থেকে রক্ষা করুন। যখন কবরের উপর মাটি সমান করে দেওয়া হলো, তখন তিনি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বললেন: হে আল্লাহ, তার দুই পার্শ্বদেশ থেকে জমিনকে প্রশস্ত করে দিন, তার রূহকে ঊর্ধ্বে আরোহণ করান এবং আপনার সন্তুষ্টির মাধ্যমে তাকে সাক্ষাৎ দান করুন। এরপর তিনি বললেন: আমি এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছি।" 2.
সাঈদ ইবনে মানসুর ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাটি সমান করার পর কবরের পাশে দাঁড়াতেন এবং বলতেন: হে আল্লাহ, আমাদের এই সাথী আপনার মেহমান হয়েছে এবং দুনিয়াকে তার পেছনে ফেলে এসেছে। হে আল্লাহ, জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার বক্তব্যকে অবিচল রাখুন এবং কবরের মধ্যে এমন কোনো পরীক্ষায় তাকে ফেলবেন না যা সহ্য করার ক্ষমতা তার নেই।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামু তামান্নিল মাউত (মাতবু দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সালাছ)
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وأخرج الطبراني في الكبير وابن منده عن أبي أمامة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إذا مات أحد من إخوانكم، فسويتم التراب عليه، فليقم أحدكم على رأس قبره، ثم يقول: يا فلان ابن فلانة، فإنه يسمعه ولا يجيب، ثم ليقل: يا فلان ابن فلانة، فإنه يستوي قاعدا، ثم يقول: يا فلان ابن فلانة، فإنه يقول: أرشدنا رحمك الله. ولكن لا تشعرون، فليقل: اذكر ما خرجت عليه من الدنيا: شهادة أن لا إله إلا الله، وأن محمدا رسول الله، وأنك رضيت بالله ربا، وبالإسلام دينا، وبمحمد نبيا، وبالقرآن إماما.
فإن منكرا ونكيرا يأخذ كل واحد منهما بيد صاحبه، ويقول: انطلق بنا، ما نقعد عند من لقن حجته، فيكون الله حجيجه دونهما قال رجل: يا رسول الله، فإن لم يعرف أمه؟ قال: ينسبه إلى حواء، يا فلان ابن حواء"
وأخرج أحمد والحكيم الترمذي في نوادر الأصول، والبيهقي في كتاب عذاب القبر عن حذيفة قال: "كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم في جنازة، فلما انتهيا إلى القبر، قعد على شفتيه، فجعل يردد بصره فيه، ثم قال: يضغط فيه المؤمن ضغطة تزور منها حمائله".
وأخرج أحمد والبيهقي عن عائشة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "إن للقبر ضغطة لو كان أحد منها ناجيا نجي منها سعد بن معاذ" 1.
وأخرج أحمد والطبراني والبيهقي عن جابر بن عبد الله قال: "لما دفن سعد بن معاذ سبح النبي صلى الله عليه وسلم وسبح الناس معه طويلا، ثم كبر وكبر الناس، تم قالوا: يا رسول الله، لم سبحت؟ قال: لقد تضايق على هذا الرجل الصالح قبره، حتى فرج الله عنه".
--------------------------------------------
ইমাম তাবারানি আল-কাবির-এ এবং ইবনে মান্দাহ আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "যখন তোমাদের কোনো ভাই মৃত্যুবরণ করে এবং তোমরা তার কবরের ওপর মাটি সমান করে দাও, তখন তোমাদের কেউ যেন তার কবরের শিয়রে দাঁড়ায় এবং বলে: হে অমুকের পুত্র অমুক! সে তা শুনতে পায় কিন্তু উত্তর দেয় না। এরপর সে আবার বলবে: হে অমুকের পুত্র অমুক! তখন সে সোজা হয়ে বসে। এরপর সে আবার বলবে: হে অমুকের পুত্র অমুক! তখন সে বলে: আল্লাহর রহমত তোমার ওপর হোক, আমাদের সঠিক পথ দেখাও। কিন্তু তোমরা তা অনুভব করতে পারো না। অতঃপর সে বলবে: তুমি যে আদর্শের ওপর পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছ তা স্মরণ করো: এই সাক্ষ্য প্রদান যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (সা.) আল্লাহর রাসূল; আর তুমি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে, মুহাম্মাদ (সা.)-কে নবী হিসেবে এবং কুরআনকে ইমাম হিসেবে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট ছিলে।"
অতঃপর মুনকার ও নাকির একে অপরের হাত ধরবে এবং বলবে: "চলো আমরা যাই, যার দলীল শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে তার কাছে বসে আমাদের কী কাজ?" তখন তাদের পরিবর্তে আল্লাহই তার পক্ষ থেকে হুজ্জাত (প্রমাণ) পেশকারী হবেন। জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! যদি তার মায়ের নাম জানা না থাকে? তিনি বললেন: "তবে তাকে হাওয়ার দিকে সম্বন্ধ করবে (এবং বলবে): হে হাওয়ার পুত্র অমুক!"
ইমাম আহমাদ, হাকিম তিরমিজি নাওয়াদিরুল উসুল-এ এবং বায়হাকি কিতাবু আজাবিল কবর-এ হুযায়ফা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা নবী (সা.)-এর সাথে একটি জানাজায় ছিলাম। যখন তিনি কবরের কিনারে পৌঁছালেন, সেখানে বসলেন এবং বারবার কবরের ভেতর তাকাতে লাগলেন। এরপর তিনি বললেন: এতে মুমিন ব্যক্তিকে এমনভাবে চাপ দেওয়া হয় যে, তার পাঁজরের হাড়গুলো একটি অন্যটির ভেতর ঢুকে যায়।"
ইমাম আহমাদ ও বায়হাকি আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সা.) বলেছেন: "নিশ্চয়ই কবরের একটি চাপ রয়েছে, যদি কেউ তা থেকে রক্ষা পেত, তবে সাদ ইবনে মুআয অবশ্যই রক্ষা পেতেন।" ১।
ইমাম আহমাদ, তাবারানি ও বায়হাকি জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যখন সাদ ইবনে মুআযকে দাফন করা হলো, তখন নবী (সা.) তাসবিহ পাঠ করলেন এবং লোকজনও তাঁর সাথে দীর্ঘক্ষণ তাসবিহ পাঠ করল। এরপর তিনি তাকবির বললেন এবং লোকজনও তাকবির বলল। তারা জিজ্ঞেস করল: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কেন তাসবিহ পাঠ করলেন? তিনি বললেন: এই নেককার ব্যক্তির ওপর তার কবর সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল, অবশেষে আল্লাহ তা প্রশস্ত করে দিলেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামু তামান্নিল মাউত (মাতবু দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সালাছ)
(পৃষ্ঠা: ২০)
وأخرج سعيد بن منصور والحكيم الترمذي والطبراني والبيهقي عن ابن عباس: "أن النبي صلى الله عليه وسلم يوم دفن سعد بن معاذ وهو قاعد على قبره قال: لو نجا من ضمة القبر أحد لنجا سعد بن معاذ، ولقد ضمه ضمة، ثم أرخي عنه".
وأخرج النسائي والبيهقي عن عبد الله بن عمر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "هذا الذي تحرك له العرش، وفتحت له أبواب السماء، وشهده سبعون ألفا من الملائكة، لقد ضم ضمة، ثم فرج عنه" 1 يعني: سعد بن معاذ. قال الحسن: تحرك له العرش فرحا به.
وأخرج الحكيم الترمذي والحاكم والبيهقي عن ابن عمر قال: "دخل رسول الله صلى الله عليه وسلم قبر سعد بن معاذ، فاحتبس، فلما خرج قيل: يا رسول الله، ما حبسك؟ قال: ضم سعد في القبر ضمة، فدعوت الله أن يكشف عنه".
وأخرج الحكيم الترمذي والبيهقي من طريق ابن إسحاق، حدثني أمية بن عبد الله أنه سأل بعض أهل سعد: ما بلغكم من قول رسول الله صلى الله عليه وسلم في هذا؟ فقالوا: "ذكر لنا أن رسول الله صلى الله عليه وسلم سئل عن ذلك، فقال: كان يقصر في بعض الطهور من البول".
وأخرج الطبراني عن أنس قال: "توفيت زينب بنت رسول الله صلى الله عليه وسلم فخرجنا معه، فرأيناه مهتما شديد الحزن، فقعد على القبر هنيهة، وجعل ينظر إلى السماء، ثم ينزل فيه، فرأيته يزداد حزنا، ثم خرج، فرأيته سري عنه، فتبسم، فسألناه، فقال: كنت أذكر
--------------------------------------------
সাঈদ ইবনে মানসুর, আল-হাকিম আল-তিরমিজি, তাবারানি এবং বায়হাকি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদ ইবনে মুয়াজের দাফনের দিন তাঁর কবরের পাশে বসা অবস্থায় বললেন: কবরের চাপ থেকে যদি কেউ রেহাই পেত, তবে সাদ ইবনে মুয়াজ রেহাই পেত। তাকে একবার কবরের চাপ দেওয়া হয়েছিল, এরপর তা শিথিল করে দেওয়া হয়েছে।"
নাসায়ি এবং বায়হাকি আবদুল্লাহ ইবনে ওমর থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ইনিই সেই ব্যক্তি যার জন্য আরশ প্রকম্পিত হয়েছিল, যার জন্য আসমানের দরজাগুলো উন্মুক্ত করা হয়েছিল এবং সত্তর হাজার ফেরেশতা যার জানাজায় উপস্থিত হয়েছিলেন। তাকে কবরের চাপ দেওয়া হয়েছিল, এরপর তা প্রশস্ত করে দেওয়া হয়েছে।" ১ অর্থাৎ: সাদ ইবনে মুয়াজ। হাসান বলেন: তাঁর আগমনে আনন্দিত হয়েই আরশ প্রকম্পিত হয়েছিল।
আল-হাকিম আল-তিরমিজি, আল-হাকিম এবং বায়হাকি ইবনে ওমর থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদ ইবনে মুয়াজের কবরে প্রবেশ করলেন এবং সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করলেন। যখন তিনি বেরিয়ে এলেন, তখন জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! কিসে আপনাকে সেখানে আটকে রেখেছিল? তিনি বললেন: কবরে সাদকে একবার চাপ দেওয়া হয়েছিল, তাই আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করছিলাম যেন তিনি তা দূর করে দেন।"
আল-হাকিম আল-তিরমিজি এবং বায়হাকি ইবনে ইসহাকের সূত্র (طريق) থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, উমাইয়া ইবনে আবদুল্লাহ আমার নিকট বর্ণনা (حدثني) করেছেন যে, তিনি সাদের পরিবারের কাউকে জিজ্ঞেস করেছিলেন: এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী সম্পর্কে আপনাদের কাছে কী সংবাদ পৌঁছেছে? তারা বললেন: "আমাদের নিকট উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন: সে প্রস্রাবের পবিত্রতার বিষয়ে কিছুটা শিথিলতা করত।"
তাবারানি আনাস থেকে বর্ণনা (أخرج) করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কন্যা জয়নাব ইন্তেকাল করলেন এবং আমরা তাঁর সাথে বের হলাম। আমরা তাঁকে অত্যন্ত চিন্তিত ও শোকাতুর দেখলাম। তিনি কবরের পাশে কিছুক্ষণ বসলেন এবং আকাশের দিকে তাকাতে লাগলেন। এরপর তিনি কবরে নামলেন এবং আমি দেখলাম তাঁর শোক আরও বেড়ে গেল। এরপর তিনি বেরিয়ে এলেন এবং তাঁর শোক দূর হয়ে গেল ও তিনি মুচকি হাসলেন। আমরা তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: আমি স্মরণ করছিলাম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামু তামান্নিল মাউত (মাতবু দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সালাছ)
(পৃষ্ঠা: ২১)
ضيق القبر وغمه وضعف زينب، فكان ذلك يشق علي، فدعوت الله أن يخفف عنها ففعل، ولكن ضغطها ضغطة سمعها من بين الخافقين إلا الجن والإنس".
وأخرج أيضا بسند صحيح عن أبي أيوب: "أن صبيا دفن، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لو أفلت أحد من ضمه القبر لأفلت هذا الصبي".
وأخرج في الأوسط عن أنس: "أن النبي صلى الله عليه وسلم صلى على صبي أو صبية، فقال: لو أن أحدا نجا من ضمة القبر لنجا هذا الصبي".
وأخرج سعيد بن منصور عن زاذان أبي عمرو قال: "لما دفن رسول الله صلى الله عليه وسلم ابنته رقية جلس عند القبر، فتربد وجهه، ثم سري عنه، فسأله أصحابه، فقال: ذكرت ابنتي وضعفها وعذاب القبر، فدعوت الله، ففرج عنها، وأيم الله لقد ضمت ضمة سمعها من بين الخافقين".
وأخرج هناد بن السري في الزهد عن ابن أبي مليكة قال: "ما أجير من ضغطة القبر أحد، ولا سعد بن معاذ الذي منديل من مناديله خير من الدنيا وما فيها".
وأخرج أيضا عن الحسن: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال - حين دفن سعد بن معاذ -: "إنه ضم في القبر ضمة حتى صار مثل الشعرة - فدعوت الله أن يرفع عنه ذلك - بأنه كان لا يستبرئ من البول".
وأخرج ابن سعد أخبرنا شبابة بن سوار، أخبرني أبو معشر عن سعيد المقبري قال: "لما دفن رسول الله صلى الله عليه وسلم سعدا، قال: لو
"কবরের সংকীর্ণতা, এর অন্ধকারাচ্ছন্নতা এবং যায়নাবের দুর্বলতা—এসবই আমার কাছে কষ্টদায়ক মনে হচ্ছিল। তাই আমি আল্লাহর কাছে তার কষ্ট লাঘবের জন্য দোয়া করলাম এবং তিনি তা কবুল করলেন। তবুও তাকে এমনভাবে একবার চাপা (ضغطة) দেওয়া হলো, যা পূর্ব ও পশ্চিমের দিগন্তের মধ্যবর্তী সব সৃষ্টি শুনেছে—জ্বিন ও মানুষ ছাড়া।"
এবং তিনি একটি সহিহ (صحيح) সনদের (سند) মাধ্যমে আবু আইয়ুব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে: "একটি শিশুকে দাফন করা হয়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: যদি কবরের চাপ (ضمة) থেকে কেউ রেহাই পেত, তবে এই শিশুটি অবশ্যই রেহাই পেত।"
এবং তিনি আল-আওসাতে আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক বালক বা বালিকার জানাজা পড়লেন এবং বললেন: যদি কেউ কবরের চাপ (ضمة) থেকে মুক্তি পেত, তবে এই শিশুটি মুক্তি পেত।"
সাঈদ বিন মানসুর জাযান আবু আমর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর কন্যা রুকাইয়াহকে দাফন করলেন, তখন তিনি কবরের পাশে বসলেন। তাঁর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। অতঃপর তাঁর সেই অবস্থার অবসান ঘটলে সাহাবায়ে কেরাম তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন: আমি আমার কন্যার দুর্বলতা এবং কবরের আজাবের (عذاب) কথা স্মরণ করছিলাম। তাই আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করলাম এবং তিনি তার কষ্ট দূর করে দিলেন। আল্লাহর কসম! তাকে এমনভাবে একবার চাপা (ضمة) দেওয়া হয়েছিল, যা পূর্ব ও পশ্চিমের দিগন্তের মধ্যবর্তী সকল সৃষ্টিই শুনেছে।"
হান্নাদ বিন আস-সারী তাঁর আয-যুহদ গ্রন্থে ইবনে আবু মুলাইকাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "কবরের চাপ (ضغطة) থেকে কেউই রেহাই পায়নি, এমনকি সাদ বিন মুয়াজও (রা.) নন—যার রুমালগুলোর মধ্য হতে একটি রুমালও দুনিয়া ও এর মধ্যবর্তী সবকিছুর চেয়ে উত্তম।"
তিনি হাসান থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সাদ বিন মুয়াজকে দাফন করার সময় বলেছিলেন: "নিশ্চয়ই তাকে কবরে এমনভাবে একবার চাপা (ضمة) দেওয়া হয়েছিল যে সে চুলের মতো সূক্ষ্ম হয়ে গিয়েছিল। অতঃপর আমি আল্লাহর কাছে দোয়া করলাম যেন তিনি তার থেকে তা দূর করে দেন। এর কারণ ছিল সে পেশাব থেকে পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সতর্ক (لا يستبرئ) থাকত না।"
ইবনে সাদ বর্ণনা করেন—শাবাবাহ বিন সাওয়ার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু মাশার আমার কাছে সাঈদ আল-মাকবুরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সাদকে দাফন করলেন, তখন বললেন: যদি...
(খণ্ড: ১)
আহকামু তামান্নিল মাউত (মাতবু দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সালাছ)
(পৃষ্ঠা: ২২)
نجا أحد من ضغطة القبر لنجا سعد، لقد ضم ضمة اختلفت منها أضلاعه من أثر البول".
وقال عبد الرزاق في المصنف عن ابن عيينة عن ابن أبي نجيح عن مجاهد قال: "أشد حديث سمعناه عن النبي صلى الله عليه وسلم قوله في سعد بن معاذ، وقوله في أمر القبر".
وأخرج ابن أبي الدنيا وغيره: "أن نافعا مولى ابن عمر - لما حضرته الوفاة - جعل يبكي، فقيل له: ما يبكيك؟ قال: ذكرت سعدا وضغطة القبر".
وللبيهقي وغيره عن ابن المسيب: أن عائشة قالت: "يا رسول الله، إنك منذ يوم حدثتني بصوت منكر ونكير وضغطة القبر، ليس ينفعني شيء، قال: يا عائشة، إن أصوات منكر ونكير في أسماع المؤمنين كالإثمد في العين، وإن ضغطة القبر على المؤمن كالأم الشفيقة، يشكو إليها ابنها الصداع 1 ولكن- يا عائشة - ويل للمشركين في الله، كيف يضغطون في قبورهم".
وللدارمي في مسنده عن خالد بن معدان أنه قال: "بلغني أن " الم تنزيل " تجادل عن صاحبها في القبر، تقول: اللهم إن كنت من كتابك فشفعني فيه، وإن لم أكن من كتابك فامحني عنه، وإنها تكون كالطير، تجعل جناحيها عليه، فتشفع له، وتمنعه من عذاب القبر، وفي "تبارك" مثله. فكان خالد لا يبيت حتى يقرأ بهما".
--------------------------------------------
"কবরের চাপ থেকে যদি কেউ মুক্তি পেতেন তবে সাদ মুক্তি পেতেন; তাকে এমনভাবে চাপা দেওয়া হয়েছিল যে, প্রস্রাবের প্রভাবের কারণে তার পাঁজরের হাড়গুলো এদিক-ওদিক হয়ে গিয়েছিল।"
এবং আবদুর রাজ্জাক তাঁর মুসান্নাফ গ্রন্থে ইবনে উইয়াইনাহ থেকে, তিনি ইবনে আবি নাজিহ থেকে এবং তিনি মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আমরা সাদ বিন মুয়াজ সম্পর্কে এবং কবরের বিষয় সম্পর্কে যা শুনেছি, তা আমাদের শোনা সবথেকে কঠিন হাদিস।"
ইবনে আবিদ দুনিয়া এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন যে: "ইবনে উমরের মুক্তদাস নাফে—যখন তাঁর মৃত্যু উপস্থিত হলো—তখন তিনি কাঁদতে শুরু করলেন। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনি কেন কাঁদছেন? তিনি বললেন: আমার সাদের কথা এবং কবরের চাপের কথা মনে পড়ে গেল।"
বায়হাকি এবং অন্যরা ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আয়েশা (রা.) বলেছেন: "হে আল্লাহর রাসুল! আপনি যেদিন থেকে আমাকে মুনকার ও নাকিরের কণ্ঠস্বর এবং কবরের চাপের কথা শুনিয়েছেন, সেদিন থেকে কোনো কিছুই আমার কাছে ভালো লাগছে না। তিনি বললেন: হে আয়েশা! মুমিনের কানে মুনকার ও নাকিরের কণ্ঠস্বর চোখের সুরমার মতো, আর মুমিনের জন্য কবরের চাপ হলো একজন মমতাময়ী মায়ের মতো, যার কাছে তার সন্তান মাথাব্যথার অভিযোগ করে ১ কিন্তু—হে আয়েশা—আল্লাহর সাথে শিরককারীদের জন্য দুর্ভোগ, তাদের কবরে কীভাবে পিষ্ট করা হবে!"
দারেমি তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে খালিদ বিন মাদান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, 'আলিফ লাম মীম তানজিল' কবরে তার পাঠকারীর পক্ষ হয়ে বিতর্ক করবে। সে বলবে: হে আল্লাহ! আমি যদি তোমার কিতাবের অংশ হয়ে থাকি, তবে তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবুল করো; আর যদি আমি তোমার কিতাবের অংশ না হই, তবে আমাকে তোমার কিতাব থেকে মুছে দাও। আর সেটি পাখির ন্যায় হবে এবং তার উপর ডানা বিস্তার করবে, ফলে তার জন্য সুপারিশ করবে এবং তাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করবে। আর 'তাবারাকা' (সুরা মুলক)-এর ক্ষেত্রেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তাই খালিদ এই দুই সুরা না পড়ে রাতে ঘুমাতে যেতেন না।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামু তামান্নিল মাউত (মাতবু দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সালাছ)
(পৃষ্ঠা: ২৩)
أخرج الطبراني والبيهقي عن ابن عمر قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ليس على أهل لا إله إلا الله وحشة عند الموت، ولا في قبورهم، ولا في منشرهم".
ولابن جرير عن جويبر قال: "مات ابن للضحاك بن مزاحم - ابن ستة أيام - فقال: إذا وضعت ابني في لحده، فأبرز وجهه، وحل عقده، فإن ابني مجلس ومسؤول، فقلت: عم يسأل؟ قال: عن الميثاق الذي أقر به في صلب آدم".
أخرج ابن ماجه والحاكم عن هانئ - مولى عثمان - قال: "كان عثمان إذا وقف على قبر بكى حتى يبل لحيته، فيقال له: تذكر الجنة والنار فلا تبكي وتبكي من هذا؟ فيقول: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: إن القبر أول منازل الآخرة، فإن نجا منه فما بعده أيسر منه، وإن لم ينج منه فما بعده أشد منه" 1.
وقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ما رأيت منظرا إلا والقبر أفظع منه 2".
ولابن ماجه عن البراء قال: "كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في جنازة، فجلس على شفير قبر، فبكى وأبكى حتى بل الثرى، ثم قال: يا إخوتي، لمثل هذا فأعدوا".
ولأحمد والنسائي عن ابن عمرو قال: "توفي رجل بالمدينة، فصلى عليه رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا ليته مات في غير مولده".
--------------------------------------------
তাবারানি ও বায়হাকি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর অনুসারীদের জন্য মৃত্যুর সময়, তাদের কবরে কিংবা তাদের পুনরুত্থানের ময়দানে কোনো আতঙ্ক থাকবে না।"
ইবনে জারির জুওয়াইবির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "দাহহাক ইবনে মুজাহিম-এর একটি ছয় দিন বয়সী সন্তান মারা গেলে তিনি বললেন: যখন তোমরা আমার ছেলেকে তার লাহাদে (কবরের বিশেষ গর্তে) রাখবে, তখন তার চেহারা উন্মুক্ত করে দেবে এবং কাফনের বাঁধন খুলে দেবে; কেননা আমার ছেলেকে বসানো হবে এবং প্রশ্ন করা হবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম: তাকে কী বিষয়ে প্রশ্ন করা হবে? তিনি বললেন: সেই অঙ্গীকার সম্পর্কে যা সে আদমের পৃষ্ঠদেশে থাকাকালে স্বীকার করেছিল।"
ইবনে মাজাহ ও হাকেম উসমানের মুক্তদাস (مولى) হানি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "উসমান (রা.) যখন কোনো কবরের পাশে দাঁড়াতেন, তখন কাঁদতেন—এমনকি তাঁর দাড়ি ভিজে যেত। তাঁকে বলা হতো: আপনি জান্নাত ও জাহান্নামের কথা স্মরণ করে কাঁদেন না, অথচ এটি দেখে কাঁদেন? তিনি বলতেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: নিশ্চয়ই কবর হলো আখিরাতের প্রথম মঞ্জিল; যদি কেউ এখান থেকে মুক্তি পায় তবে পরবর্তী ধাপগুলো তার জন্য সহজ হয়ে যাবে, আর যদি এখান থেকে মুক্তি না পায় তবে পরবর্তী ধাপগুলো এর চেয়েও কঠিন হবে।" ১
রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও ইরশাদ করেছেন: "আমি এমন কোনো দৃশ্য দেখিনি যা কবরের চেয়ে বেশি ভয়ংকর।" ২
ইবনে মাজাহ বারা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে একটি জানাজায় ছিলাম। তিনি কবরের কিনারে বসলেন এবং কাঁদলেন, এমনকি তিনি অন্যদেরও কাঁদালেন এবং মাটি ভিজে গেল। অতঃপর তিনি বললেন: হে আমার ভাইয়েরা! এই দিনের জন্যই প্রস্তুতি গ্রহণ করো।"
আহমাদ ও নাসাঈ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "মদিনায় এক ব্যক্তি মারা গেলে রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁর জানাজার নামাজ পড়লেন এবং বললেন: হায়! সে যদি তার জন্মস্থান ছাড়া অন্য কোথাও মৃত্যুবরণ করত।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামু তামান্নিল মাউত (মাতবু দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সালাছ)
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فقال رجل من الناس: لم يا رسول الله؟ قال: إن الرجل إذا توفي في غير مولده قيس له من مولده إلى منقطع أثره في الجنة" 1
ولابن أبي الدنيا والبيهقي عن ابن عمر مرفوعا: "القبر حفرة من حفر جهنم، أو روضة من رياض الجنة". ولابن أبي شيبة عن علي مثله موقوفا. ولأحمد وابن أبي الدنيا عن وهب: كان عيسى عليه السلام واقفا على قبر، ومعه الحواريون فذكروا القبر ووحشته وظلمته وضيقه، فقال عيسى: كنتم في أضيق منه في أرحام أمهاتكم، فإذا أراد الله تعالى أن يوسع.......
ولابن أبي الدنيا عن أبي غالب - صاحب أبي أمامة - "أن فتى بالشام حضره الموت، فقال لعمه: أرأيت لو أن الله تعالى دفعني إلى والدتي ما كانت صانعة بي؟ قال: إذا والله كانت تدخلك الجنة؟ قال: فوالله، لله أرحم بي من والدتي، فقبض الفتى، فدخلت القبر مع عمه، فقلنا باللبن، فسويناه عليه، فسقطت منها لبنة، فوثب عمه فتأخر، فقلت: ما شأنك؟ فقال: ملئ قبره نورا، وفسح له مد بصره".
ولأبي داود وغيره عن عائشة قالت: "لما مات النجاشي، كنا نحدث: أنه لا يزال يرى على قبره نور".
وفي تاريخ ابن عساكر عن عبد الرحمن بن عمارة قال: "حضرت جنازة الأحنف بن قيس، فكنت فيمن نزل قبره، فلما سويته رأيته قد فسح له مد بصري، فأخبرت بذلك أصحابي، فلم يروا ما رأيت".
وعن إبراهيم الحنفي قال: "لما صلب ماهان الحنفي على بابه، كنا نرى الضوء عنده في الليل".
--------------------------------------------
তখন লোকদের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! কেন? তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই কোনো ব্যক্তি যখন তার জন্মভূমি ব্যতীত অন্য স্থানে মৃত্যুবরণ করে, তখন জান্নাতে তার জন্য তার জন্মস্থান থেকে তার পদচিহ্ন বিলীন হওয়ার স্থান (মৃত্যুস্থান) পর্যন্ত জায়গা পরিমাপ করা হয়।" ১
ইবনে আবিদ দুনিয়া এবং বায়হাকি ইবনে উমর থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন: "কবর হলো জাহান্নামের গর্তগুলোর মধ্যে একটি গর্ত অথবা জান্নাতের বাগানগুলোর মধ্যে একটি বাগান।" ইবনে আবি শায়বা আলী (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা মাওকুফ (موقوف) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আহমদ এবং ইবনে আবিদ দুনিয়া ওয়াহাব থেকে বর্ণনা করেন: ঈসা আলাইহিস সালাম একটি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং তাঁর সাথে হাওয়ারিগণ (শিষ্যগণ) ছিলেন। তাঁরা কবরের একাকীত্ব, অন্ধকার ও সংকীর্ণতার কথা উল্লেখ করলে ঈসা (আ.) বললেন: "তোমরা তোমাদের মায়েদের জরায়ুতে এর চেয়েও বেশি সংকীর্ণ স্থানে ছিলে। অতঃপর মহান আল্লাহ যখন প্রশস্ত করার ইচ্ছা করেন..."
ইবনে আবিদ দুনিয়া আবু উমামার সাথী আবু গালিব থেকে বর্ণনা করেন যে, "শামে (সিরিয়া) এক যুবকের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো। সে তার চাচাকে বলল: আপনি কি মনে করেন যদি মহান আল্লাহ আমাকে আমার মায়ের হাতে সোপর্দ করতেন, তবে তিনি আমার সাথে কেমন আচরণ করতেন? তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, তবে তিনি অবশ্যই তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতেন। যুবকটি বলল: আল্লাহর কসম, আল্লাহ তাআলা আমার প্রতি আমার মায়ের চেয়েও বেশি দয়াময়। এরপর যুবকটি মৃত্যুবরণ করল। আমি তার চাচার সাথে কবরে নামলাম। আমরা কাঁচা ইট দিয়ে কবরটি প্রস্তুত করলাম এবং তার ওপর মাটি সমান করে দিলাম। তখন একটি ইট খসে পড়ল। তার চাচা দ্রুত লাফিয়ে পেছনের দিকে সরে এলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম: আপনার কী হয়েছে? তিনি বললেন: তার কবর নূরে ভরে গেছে এবং তার জন্য দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেওয়া হয়েছে।"
আবু দাউদ ও অন্যান্যরা আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "যখন নাজ্জাসি মৃত্যুবরণ করলেন, আমরা বলাবলি করতাম যে, তার কবরে সর্বদা নূর দেখা যেত।"
তারিখ ইবনে আসাকিরে আবদুর রহমান ইবনে উমারাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আমি আহনাফ ইবনে কায়সের জানাজায় উপস্থিত ছিলাম এবং যারা তার কবরে নেমেছিল আমি তাদের মধ্যে একজন ছিলাম। যখন আমি কবরটি সমান করলাম, তখন দেখলাম যে তার জন্য দৃষ্টির শেষ সীমা পর্যন্ত কবর প্রশস্ত করে দেওয়া হয়েছে। আমি আমার সাথীদের এই সংবাদ জানালাম, কিন্তু আমি যা দেখেছি তারা তা দেখতে পায়নি।"
ইব্রাহিম আল-হানাফি থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "যখন মাহান আল-হানাফিকে তার দরজায় শূলে চড়ানো হয়েছিল, তখন আমরা রাতের বেলা তার কাছে আলো দেখতে পেতাম।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামু তামান্নিল মাউত (মাতবু দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সালাছ)
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وأخرج عبد بن حميد والبزار في مسنديهما عن ابن عباس مرفوعا: "أول ما يجازى به المؤمن بعد موته أن يغفر لجميع من تبعه".
ولمسلم عن أم سلمة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إن هذه القبور مملوءة على أهلها ظلمة، وإن الله ينورها بصلاتي عليهم" 1.
وأخرج الخطيب وأبو نعيم عن علي قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "من قال في كل يوم مائة مرة: لا إله إلا الله الملك الحق المبين،. كان له أمانا من الفقر، وأنسا في وحشة القبر، وفتحت له أبواب الجنة" وأخرجه الخطيب من حديث ابن عمر أيضا.
ولأحمد في الزهد عن كعب قال: "أوحى الله إلى موسى عليه السلام: تعلم الخير، وعلمه الناس، فإني منور لمعلم العلم ومتعلمه قبورهم حتى لا يستوحشوا مكانهم". ولسعيد في سننه عن الحسن قال: "قال موسى: يا رب، ما لمن عاد مريضا؟، قال: يوكل به ملائكة، يعودونه في قبره حتى يبعث".
ولأحمد عن عائشة مرفوعا: "لا يحاسب أحد يوم القيامة فيغفر له، يرى المسلم عمله في قبره" 2.
ولمسلم عن زيد بن ثابت قال: "بينما النبي صلى الله عليه وسلم في حائط لبني النجار، على بغلة له، ونحن معه، إذ حادت به، فكادت تلقيه، وإذا
--------------------------------------------
আবদ ইবনে হুমাইদ এবং আল-বাত্তার তাঁদের নিজ নিজ মুসনাদ গ্রন্থে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "মৃত্যুর পর মুমিন ব্যক্তিকে সর্বপ্রথম যে প্রতিদান প্রদান করা হয় তা হলো, যারা তার জানাজায় অনুগমন করেছে তাদের সকলকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়।"
ইমাম মুসলিম উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই এই কবরগুলো এর অধিবাসীদের জন্য অন্ধকারে পরিপূর্ণ, আর আল্লাহ আমার সালাত (দোয়া বা জানাজা) পাঠের বরকতে তাদের কবরসমূহকে আলোকিত করে দেন।" ১
আল-খতিব এবং আবু নুআইম আলী (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি প্রতিদিন একশত বার পাঠ করবে: 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহুল মালিকুল হাক্কুল মুবীন' (আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি প্রকৃত মালিক ও চিরভাস্বর), এটি তার জন্য দারিদ্র্য থেকে নিরাপত্তা এবং কবরের একাকিত্বে সান্ত্বনা হবে, আর এর মাধ্যমে তার জন্য জান্নাতের দরজাগুলো উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।" আল-খতিব এটি ইবনে উমর (রা.)-এর হাদিস থেকেও বর্ণনা করেছেন।
ইমাম আহমাদ 'কিতাবুজ জুহদ' গ্রন্থে কাব (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আল্লাহ তাআলা মুসা আলাইহিস সালামের প্রতি ওহী পাঠালেন: 'তুমি কল্যাণ শিক্ষা করো এবং মানুষকে তা শেখাও। কেননা আমি ইলম শিক্ষা দানকারী ও ইলম অর্জনকারীর কবরসমূহকে আলোকিত করে দেব, যাতে তারা তাদের স্থানে একাকীত্ব বোধ না করে'।" সাঈদ তাঁর সুনান গ্রন্থে হাসান (রহ.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "মুসা আলাইহিস সালাম আরজ করলেন: হে আমার প্রতিপালক, যে ব্যক্তি কোনো অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে যায় তার জন্য কী প্রতিদান রয়েছে? তিনি বললেন: তার জন্য ফেরেশতা নিযুক্ত করা হবে, যারা তার পুনরুত্থান পর্যন্ত কবরে তাকে দেখতে যাবে।"
ইমাম আহমাদ আয়েশা (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "কিয়ামতের দিন যারই হিসাব নেওয়া হবে তাকে (হিসাব শেষে সরাসরি) ক্ষমা করা হবে না, বরং মুসলিম তার কর্মফল কবরেই দেখতে পায়।" ২
ইমাম মুসলিম যায়িদ ইবনে সাবিত (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু নাজ্জার গোত্রের একটি বাগানে তাঁর একটি খচ্চরের পিঠে আরোহণ করেছিলেন এবং আমরা তাঁর সঙ্গে ছিলাম। হঠাৎ খচ্চরটি তাঁকে নিয়ে একদিকে ঝুঁকে পড়ল এবং প্রায় তাঁকে ফেলে দেওয়ার উপক্রম করল, এমতাবস্থায়..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামু তামান্নিল মাউত (মাতবু দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সালাছ)
(পৃষ্ঠা: ২৬)
أقبر - ستة، أو خمسة، أو أربعة - فقال: من يعرف أصحاب هذه الأقبر؟ فقال رجل: أنا، فقال: متى مات هؤلاء؟ قال: ماتوا في الإشراك، فقال: إن هذه الأمة تبتلى في قبورها، فلولا أن لا تدافنوا، لدعوت الله أن يسمعكم من عذاب القبر الذي أسمع" 1.
ولهما عن عائشة: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إن أهل القبور يعذبون في قبورهم عذابا تسمعه البهائم" 2.
ولأحمد وغيره عن أبي سعيد مرفوعا: "يسلط على الكافر في قبره تسعة وتسعون تنينا تلدغه حتى تقوم الساعة" 3.
وله عن عائشة مرفوعا: "يرسل على الكافر حيتان: واحدة من قبل رأسه، والأخرى من قبل رجليه، يقرضانه قرضا، كلما فرغتا عادتا إلى يوم القيامة" 4.
ولابن أبي شيبة وغيره عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "تنزهوا من البول، فإن عامة عذاب القبر منه".
وللبيهقي وغيره عن ميمونة قالت، قال النبي صلى الله عليه وسلم: "يا ميمونة، تعوذي بالله من عذاب القبر، وإن من أشد عذاب القبر الغيبة والبول".
وله عن قتادة قال: "إن عذاب القبر ثلاثة، ثلث من الغيبة، وثلث من النميمة، وثلث من البول".
وله عن أبي هريرة مرفوعا نحوه، وقال: "من ثلاثة: من الغيبة والنميمة والبول، فإياكم ذلك".
--------------------------------------------
কয়েকটি কবর—ছয়টি, পাঁচটি অথবা চারটি—দেখে তিনি বললেন: "এই কবরবাসীদের কে চেনে?" এক ব্যক্তি বললেন: "আমি।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "তারা কখন মৃত্যুবরণ করেছে?" তিনি উত্তর দিলেন: "তারা শিরকের অবস্থায় মারা গেছে।" তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই এই উম্মত তাদের কবরে পরীক্ষিত হবে। যদি তোমরা একে অপরকে দাফন করা ছেড়ে না দিতে, তবে আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতাম যেন তিনি তোমাদের কবরের আযাব শোনান যা আমি শুনতে পাই।" ১।
তাঁদের উভয়ের (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনায় আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই কবরবাসীরা তাদের কবরে এমন আযাব ভোগ করবে যা চতুষ্পদ জন্তুরা শুনতে পায়।" ২।
আহমদ ও অন্যান্যদের বর্ণনায় আবু সাঈদ (রা.) থেকে রাসুলুল্লাহ পর্যন্ত উন্নীত (مرفوعا) সূত্রে বর্ণিত: "কাফেরের কবরে নিরানব্বইটি বিশাল সাপ নিয়োজিত করা হবে, যা কিয়ামত পর্যন্ত তাকে দংশন করতে থাকবে।" ৩।
তাঁর (আহমদ) বর্ণনায় আয়েশা (রা.) থেকে রাসুলুল্লাহ পর্যন্ত উন্নীত (مرفوعا) সূত্রে বর্ণিত: "কাফেরের ওপর দুটি বিশাল সাপ পাঠানো হবে: একটি মাথার দিক থেকে এবং অন্যটি পায়ের দিক থেকে। তারা তাকে দংশন করতে থাকবে; যখনই তারা শেষ করবে, পুনরায় শুরু করবে এবং কিয়ামত পর্যন্ত এমনটি চলতে থাকবে।" ৪।
ইবনে আবি শায়বাহ ও অন্যান্যদের বর্ণনায় আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমরা প্রস্রাব থেকে পবিত্র থাকো, কারণ কবরের অধিকাংশ আযাব এরই কারণে হয়ে থাকে।"
বায়হাকি ও অন্যান্যদের বর্ণনায় মায়মুনা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "হে মায়মুনা, কবরের আযাব থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাও; নিশ্চয়ই কবরের কঠোরতম আযাবগুলোর অন্যতম হলো গীবত ও প্রস্রাব (অপবিত্রতা)।"
তাঁর (বায়হাকি) বর্ণনায় কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই কবরের আযাব তিনটি বিষয়ের কারণে হয়: এক-তৃতীয়াংশ গীবতের কারণে, এক-তৃতীয়াংশ চোগলখুরির কারণে এবং এক-তৃতীয়াংশ প্রস্রাবের কারণে।"
তাঁর (বায়হাকি) বর্ণনায় আবু হুরায়রা (রা.) থেকে রাসুলুল্লাহ পর্যন্ত উন্নীত (مرفوعا) সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, এবং তিনি বলেন: "তিনটি কারণে: গীবত, চোগলখুরি ও প্রস্রাব; অতএব তোমরা এগুলো থেকে বেঁচে থাকো।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আহকামু তামান্নিল মাউত (মাতবু দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সালাছ)
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ولابن أبي الدنيا عن الحويرث بن الرباب قال: "بينا أنا بالأثاية، إذ خرج علينا إنسان من قبر، يلتهب وجهه ورأسه نارا في جامعة من حديد، فقال: اسقني اسقني. وخرج في أثره إنسان، يقول: لا تسق الكافر، فأدركه، وأخذ بطرف له بسلسلة، فكبه، ثم جره، حتى دخلا القبر جميعا، قال الحويرث: فصارت الناقة لا أقدر منها على شيء، حتى التوت بعرق الضبية فبركت، فنزلت فصليت المغرب والعشاء، ثم ركبت، حتى أصبحت بالمدينة، فأتيت عمر بن الخطاب، فأخبرته، فقال: يا حويرث، والله ما أتهمك، ولقد أخبرتني خبرا شديدا، فأرسل عمر إلى مشيخة من أهل كنفي الصفراء قد أدركوا الجاهلية، ثم دعا الحويرث فقال: إن هذا حدثني حديثا، ولست أتهمه، حدثهم يا حويرث بما حدثتني. فحدثتهم؟ فقالوا: قد عرفنا هذا يا أمير المؤمنين، هذا رجل من بني غفار، مات في الجاهلية، ولم يكن يرى للضيف حقا".
وأخرج عن عروة قال: "بينما راكب يسير بين مكة والمدينة، إذ مر بمقبرة، فإذا رجل قد خرج من قبره، يلتهب نارا، مصفدا في الحديد، فقال: يا عبد الله، انضح، يا عبد الله، انضح، وخرج آخر يتلوه، فقال: يا عبد الله، لا تنضح، يا عبد الله، لا تنضح. وغشي على الراكب، فأصبح وقد ابيض شعره، فأخبر عثمان بذلك، فنهى أن يسافر الرجل وحده".
ولأحمد وابن خزيمة والنسائي عن أبي رافع قال: "مررت مع رسول الله صلى الله عليه وسلم بالبقيع؟ قال: "أف، أف" فظننت أنه يريدني، فقلت: يا رسول الله، أحدثت شيئا؟ قال: "وما ذاك؟ " قلت:
ইবনে আবিদ দুনিয়া হুওয়াইরিস ইবনে আল-রিবাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি যখন আল-আছায়া নামক স্থানে ছিলাম, তখন হঠাৎ এক ব্যক্তি কবর থেকে আমাদের সামনে বেরিয়ে এল; তার মুখ ও মাথা আগুনের শিখায় জ্বলছিল এবং তার গলায় লোহার বেড়ি ছিল। সে বলল: আমাকে পানি পান করাও, আমাকে পানি পান করাও। তার পিছু পিছু অন্য এক ব্যক্তি বেরিয়ে এল এবং বলতে লাগল: এই কাফেরকে (الكافر) পানি পান করিও না। অতঃপর সে তাকে ধরে ফেলল এবং শিকলের এক প্রান্ত ধরে তাকে উপুড় করে ফেলল, তারপর তাকে টেনে নিয়ে গেল যতক্ষণ না তারা উভয়েই কবরে প্রবেশ করল। হুওয়াইরিস বলেন: এতে আমার উটটি এমন অবাধ্য হয়ে পড়ল যে আমি তাকে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিলাম না, এমনকি সে 'ইরকুয যাবিয়া' নামক স্থানে পৌঁছে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল। তখন আমি উট থেকে নেমে মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করলাম। এরপর পুনরায় আরোহণ করে মদিনায় পৌঁছালাম এবং উমর ইবনে আল-খাত্তাবের কাছে গিয়ে তাঁকে ঘটনাটি জানালাম। তিনি বললেন: 'হে হুওয়াইরিস, আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে মিথ্যাবাদী মনে করছি না, তবে তুমি আমাকে এক ভয়ংকর সংবাদ দিলে।' অতঃপর উমর 'সাফরা' অঞ্চলের পার্শ্ববর্তী এলাকার এমন কিছু প্রবীণ ব্যক্তিদের কাছে লোক পাঠালেন যারা জাহেলি যুগ (الجاهلية) প্রত্যক্ষ করেছেন। এরপর তিনি হুওয়াইরিসকে ডেকে বললেন: 'নিশ্চয়ই এ ব্যক্তি আমাকে একটি কথা বলেছে এবং আমি তাকে মিথ্যাবাদী মনে করছি না। হে হুওয়াইরিস, তুমি আমাকে যা বলেছ তা তাদের কাছে বর্ণনা কর।' আমি তাদের কাছে তা বর্ণনা করলাম। তখন তারা বলল: 'হে আমিরুল মুমিনিন, আমরা একে চিনি। এ ব্যক্তি বনু গিফার গোত্রের; সে জাহেলি যুগে (الجاهلية) মারা গিয়েছিল এবং সে মেহমানের কোনো হক আদায় করত না'।"
আর উরওয়া থেকে বর্ণিত (أخرج) হয়েছে, তিনি বলেন: "একদা এক আরোহী মক্কা ও মদিনার মধ্যবর্তী পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তিনি এক কবরস্থানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় দেখলেন যে, এক ব্যক্তি তার কবর থেকে বের হয়েছে, সে আগুনে জ্বলছিল এবং লোহার শিকল দিয়ে বাঁধা ছিল। সে বলল: 'হে আল্লাহর বান্দা, পানি ছিটাও! হে আল্লাহর বান্দা, পানি ছিটাও!' তার পেছনে অন্য একজন বেরিয়ে এল এবং বলতে লাগল: 'হে আল্লাহর বান্দা, পানি ছিটিও না! হে আল্লাহর বান্দা, পানি ছিটিও না!' এ দৃশ্য দেখে আরোহী ব্যক্তি মূর্ছা গেলেন। সকালে দেখা গেল তাঁর চুল সাদা হয়ে গেছে। তিনি উসমানকে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি কোনো ব্যক্তির একাকী সফর করা নিষেধ করে দিলেন।"
আহমদ, ইবনে খুজাইমা এবং নাসায়ি আবু রাফি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বাকী কবরস্থান দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনি বললেন: 'উফ, উফ'। আমি ভাবলাম তিনি সম্ভবত আমাকে উদ্দেশ্য করে এ কথা বলছেন। তাই আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমি কি কোনো ভুল করেছি? তিনি বললেন: 'সেটি কী?' আমি বললাম:"
(খণ্ড: ১)
আহকামু তামান্নিল মাউত (মাতবু দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সালাছ)
(পৃষ্ঠা: ২৮)
أففت بي، قال: لا، ولكن صاحب هذا القبر - فلان - بعثته ساعيا على بني فلان، فغل درعا، فدرع الآن مثلها من النار".
ولابن أبي شيبة عن عمرو بن شرحبيل قال: "مات رجل يرون أن عنده ورعا، فأتي في قبره، فقيل: إنا جالدوك مائة جلدة من عذاب الله، قال: فبم تجلدون، فقد كنت أتوقى وأتورع؟ فقيل: خمسون. فلم يزالوا يناقصونه، حتى صار إلى جلدة، فجلد، فالتهب القبر عليه نارا، وهلك الرجل، ثم أعيد وقال: فيم جلدتموني؟ قالوا: صليت يوما وأنت على غير وضوء، ومررت بمظلوم يستغيث فلم تغثه".
وأخرجه أبو الشيخ والطحاوي عن ابن مسعود مرفوعا.
وأخرج البخاري عن سمرة قال: "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم مما يكثر أن يقول لأصحابه: "هل رأى أحد منكم رؤيا؟ " وإنه قال لنا ذات غداة: "إنه أتاني الليلة آتيان، فقالا لي: انطلق. فانطلقت معهما، فأخرجاني إلى الأرض المقدسة، فأتينا على رجل مضطجع، وإذا آخر قائم عليه بصخرة، وإذا هو يهوي بالصخرة لرأسه، فيثلغ رأسه، فيتدهده الحجر هاهنا، فيتبع الحجر فيأخذه، فلا يرجع إليه حتى يصح رأسه كما كان، ثم يعود فيفعل به مثل ما فعل في المرة الأولى، قلت لهما: سبحان الله! ما هذان؟ قالا لي: انطلق، فانطلقنا، فأتينا على رجل مستلق، لقفاه، وإذا آخر قائم عليه بكلوب من حديد، وإذا هو يأتي أحد شقي وجهه، فيشرشر شدقه إلى قفاه، ومنخره إلى قفاه، وعينه إلى قفاه، ثم يتحول إلى الجانب الآخر فيفعل به مثل ما فعل بالجانب الأول، فما يفرغ من ذلك الجانب حتى يصح ذلك الجانب كما كان، ثم يعود عليه فيفعل مثل ما فعل
"আপনি কি আমার প্রতি বিরক্ত হয়ে 'উফ' করলেন? তিনি বললেন: না, বরং এই কবরের অধিবাসী—অমুক—আমি তাকে বনী ফালানের (অমুক গোত্রের) নিকট জাকাত আদায়কারী হিসেবে পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু সে একটি বর্ম আত্মসাৎ করেছিল। ফলে এখন তাকে আগুনের তৈরি অনুরূপ একটি বর্ম পরানো হয়েছে।"
ইবনে আবি শায়বা আমর ইবনে শারাহবিল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "এক ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করল যাকে তারা পরহেজগার মনে করত। তাকে তার কবরে (ফেরেশতা) এসে বলা হলো: আমরা তোমাকে আল্লাহর আজাব থেকে একশ দোররা মারব। সে বলল: কেন আমাকে দোররা মারবেন, অথচ আমি তো বেঁচে চলতাম ও পরহেজগারি করতাম? তখন বলা হলো: পঞ্চাশটি। এভাবে তারা সংখ্যা কমাতে থাকল, অবশেষে তা একটি দোররায় গিয়ে পৌঁছাল। অতঃপর তাকে একটি দোররা মারা হলো, ফলে তার কবরে আগুন জ্বলে উঠল এবং লোকটি ধ্বংস হয়ে গেল। অতঃপর তাকে পুনরায় জীবিত করা হলো এবং সে বলল: তোমরা কেন আমাকে দোররা মারলে? তারা বলল: তুমি একদিন অপবিত্র অবস্থায় (অজু ছাড়া) নামাজ পড়েছিলে এবং এক মজলুম ব্যক্তির পাশ দিয়ে গিয়েছিলে যে সাহায্য চাইছিল, কিন্তু তুমি তাকে সাহায্য করোনি।"
আবুশ শায়খ এবং তহাবি এটি ইবনে মাসউদ থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বুখারি সামুরা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়ই তাঁর সাহাবীদের বলতেন: "তোমাদের কেউ কি কোনো স্বপ্ন দেখেছ?" এক সকালে তিনি আমাদের বললেন: "গত রাতে আমার নিকট দু’জন আগন্তুক আসলেন এবং আমাকে বললেন: 'চলুন'। আমি তাঁদের সাথে রওনা হলাম। তাঁরা আমাকে পবিত্র ভূমিতে নিয়ে গেলেন। সেখানে আমরা শায়িত এক ব্যক্তির নিকট পৌঁছালাম, আর দেখলাম অন্য এক ব্যক্তি পাথর নিয়ে তার শিয়রে দাঁড়িয়ে আছে। সে পাথরটি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করছিল এবং এতে তার মাথা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাচ্ছিল। পাথরটি ছিটকে দূরে চলে যাচ্ছিল, আর সে পাথরের পেছনে গিয়ে সেটি কুড়িয়ে আনছিল। সে ফিরে আসার আগেই লোকটির মাথা পুনরায় আগের মতো সুস্থ হয়ে যাচ্ছিল। এরপর সে ফিরে এসে পুনরায় প্রথম বারের মতো একই কাজ করছিল। আমি তাঁদের বললাম: সুবহানাল্লাহ! এরা কারা? তাঁরা আমাকে বললেন: 'চলুন'। আমরা চলতে থাকলাম এবং এক ব্যক্তির কাছে পৌঁছালাম যে চিৎ হয়ে শুয়ে ছিল। অন্য একজন লোহার আঁকড়া হাতে তার কাছে দাঁড়িয়ে ছিল। সে তার চেহারার এক পার্শ্বে এসে চোয়াল থেকে ঘাড় পর্যন্ত, নাসারন্ধ্র থেকে ঘাড় পর্যন্ত এবং চোখ থেকে ঘাড় পর্যন্ত চিরে ফেলছিল। এরপর সে অন্য পাশে গিয়ে একইভাবে তা করছিল। ওই পাশ শেষ করার আগেই প্রথম পাশটি আবার আগের মতো সুস্থ হয়ে যাচ্ছিল। এরপর সে পুনরায় ফিরে এসে আগের মতোই করছিল।"
(খণ্ড: ১)
আহকামু তামান্নিল মাউত (মাতবু দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সালাছ)
(পৃষ্ঠা: ২৯)
المرة الأولى، قلت: سبحان الله! ما هذان؟ قالا لي: انطلق، فانطلقنا، فأتينا على مثل التنور، فإذا فيه لغط وأصوات، فاطلعنا فيه، فإذا فيه رجال ونساء عراة، فإذا هم يأتيهم لهب من أسفل منهم، فإذا أتاهم ذلك اللهب ضوضوا، قلت: ما هؤلاء؟ قالا لي: انطلق. فانطلقنا، فأتينا على نهر أحمر مثل الدم، وإذا في النهر رجل سابح يسبح، وإذا على شط النهر رجل عنده حجارة كثيرة، وإذا ذلك السابح يسبح ما سبح، ثم يأتي الذي جمع عنده الحجارة فيفغر له فاه، فيلقمه حجرا، فينطلق فيسبح، ثم يرجع إليه، كلما رجع إليه فغر له فاه، فألقمه حجرا، قلت لهما: ما هذان؟ قالا: انطلق، فأتينا على رجل كريه المرآة كأكره ما أنت راء، وإذا هو عنده نار يحشها ويسعى حولها، فقلت لهما: ما هذا؟ قالا لي: انطلق. فانطلقنا فأتينا على روضة معتمة، فيها من كل نور الربيع، وإذا بين ظهري الروضة رجل طويل لا أكاد أرى رأسه طولا في السماء، وإذا حول الرجل من أكثر ولدان رأيتهم قط، قالا لي: انطلق، فانطلقنا، فأتينا إلى روضة عظيمة، لم أر روضة قط أعظم منها، ولا أحسن، قالا لي: ارق فيها، فارتقينا، فانتهينا فيها إلى مدينة مبنية بلبن ذهب ولبن فضة فأتينا باب المدينة، فاستفتحنا، ففتح لنا، فدخلناها، فتلقانا رجال، شطر من خلقهم كأحسن ما أنت راء، وشطر كأقبح ما أنت راء، قالا لهم: اذهبوا فقعوا في ذلك النهر. فإذا نهر معترض يجري، كأن ماءه المحض في البياض، فذهبوا فوقعوا فيه، ثم رجعوا إلينا قد ذهب السوء عنهم، فصاروا في أحسن صورة، قالا لي: هذه جنة عدن، وهذاك منزلك، فسما بصري صعدا، فإذا قصر مثل الربابة البيضاء، قالا لي: هذا منزلك.
প্রথমবার আমি বললাম: সুবহানাল্লাহ! এরা দুজন কে? তাঁরা আমাকে বললেন: চলুন। অতঃপর আমরা রওনা হলাম এবং একটি তন্দুর সদৃশ গর্তের নিকট পৌঁছালাম। সেখানে অনেক শোরগোল ও আর্তনাদ শ্রুত হচ্ছিল। আমরা তাতে উঁকি দিয়ে দেখলাম যে, সেখানে বেশ কিছু উলঙ্গ নারী ও পুরুষ অবস্থান করছে; নিচ থেকে আগুনের লেলিহান শিখা তাদের দিকে ধেয়ে আসছিল। যখনই আগুনের শিখা তাদের স্পর্শ করছিল, তখনই তারা উচ্চস্বরে আর্তনাদ করে উঠছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম: এরা কারা? তাঁরা বললেন: চলুন। অতঃপর আমরা চলতে লাগলাম এবং রক্তের ন্যায় লাল একটি নদীর নিকট উপনীত হলাম। সেই নদীতে এক ব্যক্তি সাঁতার কাটছিল এবং নদীর তীরে অপর এক ব্যক্তি প্রচুর পাথর সংগ্রহ করে দাঁড়িয়ে ছিল। সেই সাঁতারু ব্যক্তি যখনই তীরের ব্যক্তির নিকট আসছিল এবং মুখ ব্যাদান (হা) করছিল, তখনই সে তার মুখে একটি পাথর ঢুকিয়ে দিচ্ছিল। এরপর সে পুনরায় সাঁতার কাটতে চলে যাচ্ছিল এবং আবারও ফিরে আসছিল। প্রতিবার ফিরে আসার পর সে মুখ ব্যাদান করছিল এবং অপর ব্যক্তি তার মুখে পাথর নিক্ষেপ করছিল। আমি তাঁদের দুজনকে জিজ্ঞেস করলাম: এরা কারা? তাঁরা বললেন: চলুন। এরপর আমরা অত্যন্ত কুৎসিত আকৃতির এক ব্যক্তির নিকট আসলাম, যা তোমার দেখা সর্বাপেক্ষা কুৎসিত ব্যক্তির ন্যায়। তার নিকট আগুন ছিল যা সে প্রজ্জ্বলিত করছিল এবং তার চারপাশে সে দৌড়াচ্ছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম: এ কে? তাঁরা বললেন: চলুন। অতঃপর আমরা চলতে থাকলাম এবং একটি সুনিবিড় উদ্যানে পৌঁছালাম, যেখানে বসন্তের সকল পুষ্পরাজি বিদ্যমান ছিল। সেই উদ্যানের মধ্যস্থলে একজন অতি দীর্ঘকায় ব্যক্তি ছিলেন, যাঁর উচ্চতা হেতু মস্তক আকাশে বিলীনপ্রায় ছিল। তাঁর চতুষ্পার্শ্বে এত অধিক সংখ্যক শিশু-কিশোর ছিল যা আমি ইতিপূর্বে কখনো দেখিনি। তাঁরা বললেন: চলুন। অতঃপর আমরা চলতে থাকলাম এবং এক বিশাল উদ্যানে উপনীত হলাম, যার চেয়ে বৃহৎ ও নয়নাভিরাম উদ্যান আমি কখনো দেখিনি। তাঁরা আমাকে বললেন: এতে প্রবেশ করুন। আমরা তাতে আরোহণ করলাম এবং স্বর্ণ ও রৌপ্যের ইষ্টক নির্মিত একটি শহরে পৌঁছালাম। আমরা শহরের দ্বারে উপস্থিত হয়ে তা উন্মুক্ত করার অনুরোধ জানালে আমাদের জন্য তা খুলে দেওয়া হলো। আমরা তাতে প্রবেশ করলাম এবং এমন কিছু লোকের সাক্ষাৎ পেলাম যাদের অবয়বের একাংশ ছিল অত্যন্ত সুন্দর এবং অপরাংশ ছিল অত্যন্ত কুৎসিত। তাঁরা (ফেরেশতাদ্বয়) তাদের নির্দেশ দিলেন: যাও, ঐ নদীতে ঝাঁপ দাও। সেখানে একটি প্রশস্ত নদী প্রবাহিত ছিল যার পানি ছিল দুগ্ধবৎ শুভ্র। তারা তাতে অবগাহন করল এবং যখন আমাদের নিকট ফিরে এল, তখন তাদের সেই কদর্যতা দূরীভূত হয়ে গিয়েছিল এবং তারা পরম সুন্দর আকৃতি লাভ করল। তাঁরা আমাকে বললেন: এটি ‘জান্নাতে আদন’ এবং ওটি আপনার বাসস্থান। তখন আমার দৃষ্টি ঊর্ধ্বে প্রসারিত হলো এবং আমি ধবল মেঘের ন্যায় একটি প্রাসাদ দেখতে পেলাম। তাঁরা বললেন: এটিই আপনার আবাসস্থল।
(খণ্ড: ১)
আহকামু তামান্নিল মাউত (মাতবু দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সালাছ)
(পৃষ্ঠা: ৩০)
قلت لهما: بارك الله فيكما، ذراني، فأدخله، قالا لي: أما الآن فلا، وأنت داخله، قلت لهما: فإني رأيت منذ الليلة عجبا، فما هذا الذي رأيت؟ قالا: أما الرجل الأول الذي أتيت عليه يثلغ رأسه بالحجر، فإنه الرجل يأخذ القرآن فيرفضه، وينام عن الصلاة المكتوبة، يفعل به إلى يوم القيامة، وأما الرجل الذي أتيت عليه يشرشر شدقه إلى قفاه ومنخره إلى قفاه وعينه إلى قفاه، فإنه الرجل يغدو من بيته، فيكذب الكذبة تبلغ الآفاق، فيصنع به إلى يوم القيامة، وأما الرجال والنساء العراة الذين في مثل التنور، فإنهم الزناة والزواني، وأما الرجل الذي أتيت عليه يسبح في النهر ويلقم الحجارة، فإنه آكل الربا، وأما الرجل الكريه المرآة الذي عنده النار يحشها، فإنه مالك خازن جهنم، وأما الرجل الطويل الذي في الروضة، فإنه إبراهيم صلى الله عليه وسلم وأما الولدان الذين حوله، فكل مولود مات على الفطرة. قالوا: يا رسول الله، وأولاد المشركين؟ قال: وأولاد المشركين. وأما القوم الذين كانوا شطر منهم حسن وشطر منهم قبيح، فإنهم قوم خلطوا عملا صالحا وآخر سيئا، تجاوز الله عنهم، وأنا جبريل وهذا ميكائيل".
وأخرج ابن عساكر عن علي نحوه: "فمضيت، وإذا بتل أسود عليه قوم مخبلون تنفح النار في أدبارهم، فتخرج من أفواههم ومناخرهم وآذانهم وأعينهم - إلى أن قال -:
وأما صاحب الكلوب الذي رأيت، فأولئك الذين كانوا يمشون بين المؤمنين بالنميمة، فيفسدون بينهم فهم يعذبون بها حتى يصيروا إلى النار، وأما القوم المخبلون فأولئك الذين يعملون عمل قوم لوط الفاعل والمفعول به، فهم يعذبون حتى يصيروا إلى النار".
আমি তাদের দুজনকে বললাম: আল্লাহ আপনাদের বরকত দান করুন, আমাকে ছেড়ে দিন, যেন আমি তাতে প্রবেশ করতে পারি। তারা আমাকে বললেন: এখন নয়, তবে অবশ্যই আপনি তাতে প্রবেশ করবেন। আমি তাদের বললাম: আজ রাতে আমি আশ্চর্যজনক কিছু বিষয় দেখেছি, আমি যা দেখেছি তার তাৎপর্য কী? তারা বললেন: প্রথম যে ব্যক্তির কাছে আপনি এসেছিলেন যার মাথা পাথর দিয়ে চূর্ণ করা হচ্ছিল, সে হলো এমন ব্যক্তি যে কুরআন গ্রহণ করেছিল কিন্তু পরে তা বর্জন করেছিল এবং ফরয সালাত (الصلاة المكتوبة) ছেড়ে ঘুমিয়ে থাকত। কিয়ামত (يوم القيامة) পর্যন্ত তার সাথে এমন আচরণ করা হবে। আর সেই ব্যক্তি যার কাছে আপনি এসেছিলেন যার কশ থেকে ঘাড় পর্যন্ত, নাক থেকে ঘাড় পর্যন্ত এবং চোখ থেকে ঘাড় পর্যন্ত চিরে ফেলা হচ্ছিল, সে হলো সেই ব্যক্তি যে সকালে নিজ ঘর থেকে বের হয়ে এমন মিথ্যা (الكذبة) বলত যা দিগদিগন্তে ছড়িয়ে পড়ত। কিয়ামত (يوم القيامة) পর্যন্ত তার সাথে এমন আচরণ করা হবে। আর চুলার মতো গর্তের ভেতর থাকা উলঙ্গ নারী ও পুরুষরা হলো ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণী (الزناة والزواني)। আর সেই ব্যক্তি যার কাছে আপনি এসেছিলেন যে নদীতে সাঁতার কাটছিল এবং তাকে পাথর খাওয়ানো হচ্ছিল, সে হলো সুদখোর (آكل الربا)। আর আগুনের কাছে থাকা কুৎসিত চেহারার যে ব্যক্তি আগুন জ্বালাচ্ছিল, সে হলো জাহান্নামের রক্ষী (خازن جهنم) মালিক। আর বাগানে থাকা দীর্ঘকায় ব্যক্তিটি হলেন ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম), এবং তাঁর চারপাশের শিশুরা হলো সেই সব শিশু যারা ফিতরাত (الفطرة) বা স্বভাবজাত ধর্মের ওপর মৃত্যুবরণ করেছে। সাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, মুশরিকদের সন্তানরাও কি? তিনি বললেন: মুশরিকদের সন্তানরাও। আর সেই সম্প্রদায় যাদের অর্ধাংশ সুন্দর এবং বাকি অর্ধাংশ কুৎসিত ছিল, তারা হলো এমন এক জাতি যারা সৎ কর্ম (عمل صالح) এবং অন্য একটি মন্দ কর্ম মিশ্রিত করেছিল। আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন। আমি জিবরাঈল এবং ইনি মিকাঈল।
এবং ইবনে আসাকির আলী (রা.) থেকে অনুরূপ বর্ণনা উদ্ধৃত (أخرج) করেছেন: "আমি অগ্রসর হলাম এবং হঠাৎ একটি কালো টিলার নিকট পৌঁছলাম যেখানে কিছু বিকৃত অবয়বের লোক ছিল, তাদের পশ্চাৎদেশ দিয়ে আগুন প্রবেশ করানো হচ্ছিল এবং তা তাদের মুখ, নাসিকারন্ধ্র, কান ও চোখ দিয়ে বের হচ্ছিল - কথাটির শেষ পর্যন্ত -:
আর আপনি সেই আঁকড়া বিশিষ্ট ব্যক্তিকে যাকে দেখেছিলেন, তারা হলো সেই সব লোক যারা মুমিনদের মাঝে চোগলখুরি (النميمة) করে বেড়াত এবং তাদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করত। তারা এভাবেই শাস্তি ভোগ করতে থাকবে যতক্ষণ না তারা জাহান্নামে (النار) নিক্ষিপ্ত হয়। আর সেই বিকৃত অবয়বের মানুষগুলো হলো তারা যারা কওমে লুতের কাজে লিপ্ত হতো, অর্থাৎ সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় পক্ষ (الفاعل والمفعول به); তারা জাহান্নামে (النار) প্রবেশ করা পর্যন্ত এভাবেই শাস্তি পেতে থাকবে।"
(খণ্ড: ১)
আহকামু তামান্নিল মাউত (মাতবু দিমনা মুআল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সালাছ)
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وللخطيب عن أبي موسى مرفوعا: "رأيت رجالا تقرض جلودهم بمقاريض من نار، قلت: ما شأن هؤلاء؟ قال: هؤلاء الذين يتزينون إلى ما لا يحل لهم. ورأيت خباء خبيث الريح فيه صياح، قلت: ما هذا؟ قال: هن نساء يتزين إلى ما لا يحل لهن".
وللبيهقي عن أبي سعيد في حديث الإسراء قال: "ثم مضيت هنيهة، فإذا أنا بأخونة، عليها لحم مشرح، ليس يقربه أحد، وإذا أنا بأخونة، عليها لحم قد أروح ونتن، عندها أناس يأكلون منها، قلت: يا جبريل.
ما هؤلاء؟ قال: قوم من أمتك، يتركون الحلال ويأتون الحرام، ثم مضيت هنيهة، فإذا أنا بأقوام بطونهم أمثال البيوت، كلما نهض أحدهم خر، يقول: اللهم، لا تقم الساعة، وهم على سابلة آل فرعون، فتجيء السابلة، فتطأهم، فسمعتهم يضجون إلى الله، قلت: يا جبريل، من هؤلاء؟
قال: هؤلاء من أمتك الذين يأكلون الربا، ثم مضيت هنيهة، فإذا أنا بأقوام مشافرهم كمشافر الإبل، فتفتح أفواههم، ويلقمون من ذلك الجمر، ثم يخرج من أسافلهم، قلت: من هؤلاء؟، قال: هؤلاء من أمتك، الذين يأكلون أموال اليتامى ظلما، ثم مضيت هنيهة، فإذا أنا بأقوام يقطع من جنوبهم اللحم، فيلقمون، فيقال: كل كما كنت تأكل من لحم أخيك، قلت: من هؤلاء؟ قال: هؤلاء اللمازون".
وله ولابن عدي عن أبي هريرة في حديث الإسراء: "ثم أتى على قوم، على أقبالهم رقاع، وعلى أدبارهم رقاع، يسرحون كما تسرح الإبل والغنم، ويأكلون الضريع والزقوم ورضف جهنم وحجارتها، قلت: من هؤلاء؟ قال: هؤلاء الذين لا يؤدون صدقات أموالهم. ثم أتى على قوم بين أيديهم لحم ينضج
আল-খাতীব আবু মুসা থেকে মারফূ (مرفوعا) সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "আমি এমন কিছু ব্যক্তিকে দেখলাম যাদের চামড়া আগুনের কাঁচি দিয়ে কাটা হচ্ছে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম: এদের অবস্থা কী? তিনি (জিবরীল) বললেন: এরা ওই সব লোক যারা এমন কিছুর জন্য সৌন্দর্য ধারণ করত যা তাদের জন্য বৈধ নয়। আর আমি একটি দুর্গন্ধযুক্ত তাঁবু দেখলাম যার ভেতর থেকে চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। আমি বললাম: এটি কী? তিনি বললেন: এরা ওই সব নারী যারা এমন কিছুর জন্য সাজসজ্জা করত যা তাদের জন্য বৈধ নয়।"
আল-বাইহাকী আবু সাঈদ থেকে ইসরার হাদিসে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "অতঃপর আমি কিঞ্চিৎ অগ্রসর হলাম। হঠাৎ আমি কিছু দস্তরখান দেখতে পেলাম যাতে কর্তিত গোশত রাখা আছে কিন্তু কেউ তার কাছে যাচ্ছে না। আবার কিছু দস্তরখান দেখলাম যাতে পচা ও দুর্গন্ধযুক্ত গোশত রয়েছে এবং সেখানে কিছু মানুষ তা থেকে খাচ্ছে। আমি বললাম: হে জিবরীল।
এরা কারা? তিনি বললেন: এরা আপনার উম্মতের ওই সব লোক যারা হালাল বর্জন করে এবং হারামের নিকটবর্তী হয়। অতঃপর আমি কিছুক্ষণ চললাম। হঠাৎ এমন কিছু কওমকে দেখলাম যাদের পেটগুলো ঘরের মতো বিশাল। তাদের কেউ যখনই দাঁড়াতে যায় তখনই পড়ে যায়। সে বলে: হে আল্লাহ, কিয়ামত সংঘটিত করবেন না। তারা ফেরাউনের অনুসারীদের চলাচলের পথে অবস্থান করছিল। যখন ফেরাউনের অনুসারীরা যাতায়াত করে তখন তারা এদের পদদলিত করে। আমি তাদের আল্লাহর নিকট আর্তনাদ করতে শুনলাম। আমি বললাম: হে জিবরীল, এরা কারা?
তিনি বললেন: এরা আপনার উম্মতের সেই সব লোক যারা সুদ খায়। অতঃপর আমি কিঞ্চিৎ অগ্রসর হলাম। হঠাৎ এমন কিছু লোককে দেখলাম যাদের ঠোঁট উটের ঠোঁটের মতো। তাদের মুখ খুলে দেওয়া হচ্ছে এবং তাতে আগুনের অঙ্গার পুরে দেওয়া হচ্ছে, যা তাদের মলদ্বার দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। আমি বললাম: এরা কারা? তিনি বললেন: এরা আপনার উম্মতের ওই সব লোক যারা অন্যায়ভাবে এতিমদের সম্পদ গ্রাস করে। এরপর আমি কিছুক্ষণ চললাম। হঠাৎ কিছু লোককে দেখলাম যাদের পাঁজর থেকে গোশত কেটে নেওয়া হচ্ছে এবং তা তাদের মুখেই পুরে দেওয়া হচ্ছে। আর বলা হচ্ছে: খাও, যেমনভাবে তুমি তোমার ভাইয়ের গোশত খেতে। আমি বললাম: এরা কারা? তিনি বললেন: এরা হলো পরনিন্দা ও দোষ অন্বেষণকারী।"
আল-বাইহাকী এবং ইবনে আদী আবু হুরায়রা থেকে ইসরার হাদিসে বর্ণনা করেছেন: "অতঃপর তিনি এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে আসলেন যাদের সামনে ও পেছনে তালিযুক্ত কাপড় ছিল। তারা উট ও ছাগলের মতো চরে বেড়াচ্ছিল এবং কণ্টকাকীর্ণ বিষাক্ত উদ্ভিদ, যাক্কুম ও জাহান্নামের উত্তপ্ত পাথর ও কঙ্কর ভক্ষণ করছিল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম: এরা কারা? তিনি বললেন: এরা সেই সব লোক যারা তাদের সম্পদের সদকা আদায় করত না। অতঃপর তিনি এমন এক কওমের কাছে আসলেন যাদের সামনে সুস্বাদু গোশত রান্না করা অবস্থায় ছিল..."