(খণ্ড: ১) ইহতিসাবুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) (পৃষ্ঠা: -)
احتساب الشيخ محمد بن عبد الوهاب (رحمه الله)   (مرفت بنت كامل بن عبد الله أسرة)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: احتساب الشيخ محمد بن عبد الوهاب (رحمه الله)

المؤلف: مرفت بنت كامل بن عبد الله أسرة

الناشر: دار الوطن

عدد الصفحات: 557

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর ইহতিসাব   (মিরফাত বিনতে কামিল বিন আব্দুল্লাহ উসরাহ)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


বই: শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর ইহতিসাব

লেখক: মিরফাত বিনতে কামিল বিন আব্দুল্লাহ উসরাহ

প্রকাশক: দারুল ওয়াতান

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৫৭

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইহতিসাবুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) (পৃষ্ঠা: ٣)
ال‌‌مقدمة

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} 1.

{يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالاً كَثِيراً وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيباً} 2.

{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلاً سَدِيداً. يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزاً عَظِيماً} 3. أما بعد4.

فإن نعم الله تعالى على عباده المؤمنين تترى فلا تعد ولا تحصى، ومن

--------------------------------------------

1-سورة آل عمران آية 102.

2-سورة النساء آية 1.

3-سورة الأحزاب الآيتان70-71.

4 -تسن هذه الخطبة المأثورة عن النبي صلى الله عليه وسلم والمسماة بخطبة الحاجة بيين يدي كل خطبة أو درس أو محاضرة أو بحث أو كتاب وقد جمع أحاديثها وتتبع طرقها وأثبت صحتها الشيخ محمد ناصر الدين الألباني حفظه الله في رسالته"خطبة الحاجة التي كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعلمها أصحابه" انظر الرسالة المذكورة ص10-30-ن المكتب الإسلامي –دمشق-بيروت- ط/4 (1400هـ) وانظر تعليقه عليها في سلسلة الأحاديث الصحيحة وشيء من فقهها وفوائدها 1/3-ن المكتب الإسلامي- دمشق- بيروت-ط-/2 (1399هـ-1979م) .
ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলসমূহের মন্দ হতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।} ১।

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের সেই রবের তাকওয়া অবলম্বন করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে অনেক পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করো যার দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের কাছে চেয়ে থাকো এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়দের ব্যাপারে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন।} ২।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সফলতা অর্জন করল।} ৩। অতঃপর ৪।

নিশ্চয়ই মুমিন বান্দাদের ওপর মহান আল্লাহর নেয়ামতসমূহ নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ষিত হয় যা গণনা করে শেষ করা যায় না, আর...

--------------------------------------------

১- সূরা আল ইমরান, আয়াত ১০২।

২-সূরা আন-নিসা, আয়াত ১।

৩-সূরা আল-আহজাব, আয়াত ৭০-৭১।

৪ -নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এই খোতবাটি, যাকে 'খুতবাতুল হাজাহ' বলা হয়, প্রতিটি খোতবা, দরস, আলোচনা, গবেষণা বা বইয়ের শুরুতে পাঠ করা সুন্নত। শেখ মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল-আলবানী (আল্লাহ তাঁকে হিফাজত করুন) তাঁর "খুতবাতুল হাজাহ যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের শিক্ষা দিতেন" নামক রিসালায় এর হাদিসগুলো একত্রিত করেছেন, এর সূত্রগুলো অনুসরণ করেছেন এবং এর বিশুদ্ধতা প্রমাণ করেছেন। দেখুন: উক্ত রিসালা, পৃষ্ঠা ১০-৩০, আল-মাকতাবুল ইসলামি - দামেস্ক - বৈরুত - ৪র্থ সংস্করণ (১৪০০ হিজরি)। এবং সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহিহা-তে এর ওপর তাঁর টীকা ও এর ফিকহ ও উপকারিতা দেখুন ১/৩, আল-মাকতাবুল ইসলামি - দামেস্ক - বৈরুত - ২য় সংস্করণ (১৩৯৯ হিজরি - ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ)।
(খণ্ড: ১) ইহতিসাবুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) (পৃষ্ঠা: ٤)
أعظمها نعمة الإسلام التي لا تضاهيها نعمة، ومن تمام تلك النعمة أن اختص الله عز وجل لأداء رسالته نبينا المصطفى صلى الله عليه وسلم الذي بلّغ الرسالة وأدّى الأمانة فلم يفارق عليه الصلاة والسلام هذه الدنيا حتى أكمل الله سبحانه وتعالى للناس دينهم الحنيف، قال تعالى: {الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْأِسْلامَ دِيناً} 1.

بعد ذلك بدأوا يحيدون بعض الشيء عن جادة الطريق، فأصبحوا بحاجة إلى من يأخذ بأيديهم ويردهم إليه.

وقد أخبر النبي صلى الله عليه وسلم بتجديد الدين على رأس كل مائة سنة عن أبي هريرة رضي الله عنه أنّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إنّ الله تعالى يبعث لهذه الأمة على رأس كل مائة سنة من يجدّد لها دينها" 2.

--------------------------------------------

1-جزء من الآية من سورة المائدة.

2-أخرجه أبو داود (سنن أبي داود-ك-الملاحم-ب: ما يذكر في قرن المائة-ح: (4291) 4/480 للإمام الحافظ أبي داود سليمان بن الأشعث السجستاني الأزدي ومعه معالم السنن للخطابي وهو شرح عليه مع تخريجه أحاديثه وترقيمها إعداد وتعليق عزتعبيد الدعّاس وعادل السيد- ن دار الحديث- حمص ط/1-1388هـ-1969م، والحاكم المستدرك على الصحيحين- ك: الفتن والملاحم - ب: ذكر بعض المجددين في هذه الأمة 4/522 للإمام الحافظ أبي عبد الله الحاكم النيسابوري وبذيله التلخيص للحافظ الذهبي- ن دار الفكر- بيروت – ط/1398هـ1987م، وأبو عمرو الداني (السنن الواردة في الفتن وغوائلها والساعة وأشراطها-ب: قول النبي صلى الله عليه وسلم: "لا تزال طائفة من أمتي.." إلخ (364) 3/743 تأليف أبي عمرو عثمان بن سعيد المقرئ الداني: دراسة وتحقيق الدكتور رضاء الله بن محمد إدريس المباركفوري- ندار العاصمة – الرياض – ط/1-1416هـ1995م، والخطيب البغدادي (تاريخ بغداد أو مدينة السلام منذ تأسيسها حتى سنة 463هـ-2/61 للحافظ أبي بكر أحمد بن علي بن الخطيب البغدادي- ن دار الكتب العلمية- بيروت لبنان) وابن حجر (توالي التأسيس لمعالي محمد بن إدريس ص 45 حققه أبو الفداء عبد الله القاضي – ن عباس أحمد الباز- مكة المكرمة – دار الكتب العلمية- بيروت – لبنان- ط/1-1406هـ-1986م، وقال السخاوي: سنده صحيح ورجاله ثقات (المقاصد الحسنة في بيان كثير من الأحاديث المشتهرة على الألسنة ص 149ح: (238) دراسة وتحقيق محمد عثمان الخشت- ن دار الكتاب العربي- بيروت- ط/2-1414هـ-1994م ووثق رجاله كذلك العجلوني في كشف الخفاء ومزيل الألباس عما اشتهر من الأحاديث على ألسنة الناس1/243ح: (740) - ن دار إحياء التراث العربي- بيروت- ط/3-1351هـ وقال الألباني: =
এর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো ইসলামের নিয়ামত যার সমতুল্য কোনো নিয়ামত নেই। আর সেই নিয়ামতের পূর্ণতা হলো এই যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা তাঁর রিসালাত প্রচারের জন্য আমাদের নবী মুস্তফাকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দিষ্ট করেছেন, যিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন এবং আমানত আদায় করেছেন। অতঃপর তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) এই দুনিয়া ত্যাগ করেননি যতক্ষণ না আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মানুষের জন্য তাদের সুমহান দ্বীনকে পূর্ণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণ করলাম, তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।" ১।

এর পর তারা সরল পথ থেকে কিছুটা বিচ্যুত হতে শুরু করে, ফলে তারা এমন কারো মুখাপেক্ষী হয়ে পড়ে যারা তাদের হাত ধরে (সঠিক পথে) ফিরিয়ে আনবে।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি একশত বছরের শুরুতে দ্বীন সংস্কারের সংবাদ দিয়েছেন। আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা এই উম্মতের জন্য প্রতি একশত বছরের শুরুতে এমন ব্যক্তিকে পাঠাবেন যিনি তাদের জন্য তাদের দ্বীনকে সংস্কার করবেন।" ২।

--------------------------------------------

১- সূরা আল-মায়িদার আয়াতের অংশ।

২-এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ (সুনানে আবু দাউদ- কিতাবুল মালাহিম- অধ্যায়: প্রতি একশত বছরের শুরুতে যা বর্ণিত হয়েছে- হাদিস: ৪২৯১) ৪/৪৮০; ইমাম হাফিজ আবু দাউদ সুলাইমান বিন আশআস আস-সিজিস্তানি আল-আযদি রচিত, এবং এর সাথে রয়েছে খাত্তাবির মাআলিমুস সুনান যা এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ, হাদিসের তাখরিজ ও ক্রমিক নম্বর প্রদান করেছেন ইজ্জাত উবাইদ আদ-দাআস এবং আদিল আস-সাইয়িদ- প্রকাশক: দারুল হাদিস- হোমস, ১ম সংস্করণ- ১৩৮৮ হিজরি- ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দ; এবং হাকিম (আল-মুস্তাদরাক আলাস সাহিহাইন- কিতাবুল ফিতান ওয়াল মালাহিম- অধ্যায়: এই উম্মতের সংস্কারকদের আলোচনা ৪/৫২২; ইমাম হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম আন-নিশাপুরি রচিত এবং এর পাদটিকায় রয়েছে হাফিজ আয-যাহাবির আত-তালখিস- প্রকাশক: দারুল ফিকর- বৈরুত- ১৩৯৮ হিজরি- ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দ; এবং আবু আমর আদ-দানি (আস-সুনানুল ওয়ারিদাহ ফিল ফিতান ওয়া গাওয়াইলিহা ওয়াস সাআতি ওয়া আশরাতিহা- অধ্যায়: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা..." ইত্যাদি (৩৬৪) ৩/৭৪৩, লেখক: আবু আমর উসমান বিন সাইদ আল-মুকরি আদ-দানি; গবেষণা ও সম্পাদনা: ড. রেজাউল্লাহ বিন মুহাম্মদ ইদ্রিস আল-মুবারকপুরি- প্রকাশক: দারুল আসিমাহ- রিয়াদ- ১ম সংস্করণ- ১৪১৬ হিজরি- ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দ; এবং খতিব আল-বাগদাদি (তারিখে বাগদাদ বা মদিনাতুস সালাম এর প্রতিষ্ঠা থেকে ৪৬৩ হিজরি পর্যন্ত- ২/৬১, হাফিজ আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন খতিব আল-বাগদাদি- প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ- বৈরুত, লেবানন); এবং ইবনে হাজার (তাওয়ালিত তা'সিস লি-মাআলি মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস, পৃষ্ঠা ৪৫, সম্পাদনা করেছেন আবুল ফিদা আব্দুল্লাহ আল-কাজি- প্রকাশক: আব্বাস আহমদ আল-বায- মক্কা মুকাররমা- দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ- বৈরুত- লেবানন- ১ম সংস্করণ- ১৪০৬ হিজরি- ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দ); এবং সাখাভি বলেছেন: এর সনদ সহিহ এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (আল-মাকাসিদুল হাসানাহ ফি বায়ানি কাসিরিন মিনাল আহাদিসিল মুশতাহিরাতি আলাল আলসিনাহ, পৃষ্ঠা ১৪৯, হাদিস: ২৩৮), গবেষণা ও সম্পাদনা: মুহাম্মদ উসমান আল-খাশত- প্রকাশক: দারুল কিতাবিল আরাবি- বৈরুত- ২য় সংস্করণ- ১৪১৪ হিজরি- ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দ; এবং বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্যতা একইভাবে বর্ণনা করেছেন আজলুনি (কাশফুল খাফা ওয়া মুজিলুল ইলবাস আম্মা ইশতাহারা মিনাল আহাদিস আলা আলসিনাতিন নাস) ১/২৪৩, হাদিস: ৭৪০- প্রকাশক: দারু ইহয়াইত তুরাসিল আরাবি- বৈরুত- ৩য় সংস্করণ- ১৩৫১ হিজরি; এবং আলবানি বলেছেন: =
(খণ্ড: ১) ইহতিসাবুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) (পৃষ্ঠা: ٥)
ومن سبل ذلك التجديد الاحتساب على المنكرات، وكان ممن قام به في مجتمع كان الشرك ينخر في كيانه، الشيخ المجدد ناصر السنة وقامع البدعة الذي كان أمة في زمن الغربة محمد بن عبد الوهاب رحمه الله تعالى وأسكنه الفردوس الأعلى.

حيث فشى في عصره كثير من البدع والخرافات والشركيات التي عادت بالناس إلى عصر الجاهلية.

ولولا فضل الله تعالى ورحمته، ثم احتساب الشيخ الإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله وإنكاره الدؤوب على كافة صور الشرك والوثنية تارة بسنانه وأخرى بلسانه وثالثة بجنانه، لغرق الناس في مستنقعات الضلال.

فالحمد لله عدد ما خلق وذرأ وبرأ حيث سخر للأمة هذا المحتسب المناضل ذا الهمة العالية الذي كان سببا –بفضل الله- في إخراج الناس من الظلمات إلى النور.

أهمية الموضوع:

نظرا لأهمية الحسبة –والتي تعني الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر- في المجتمع المسلم، فهي صمام الأمان فيه، ولا يتحكم في ذلك الصمام إلاّ محتسب صادق باع نفسه لله، لذلك أحببت أن أقدم لكل من سلك طريق الاحتساب نموذجا حيا لمحتسب رشيد هو الشيخ الإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله تعالى، وذلك إرشادا للطريق الأمثل في الحسبة.

--------------------------------------------

=السند صحيح رجاله ثقات رجال مسلم (سلسلة الأحاديث الصحيحة وشيء من فقهها وفوائدها2/150-ح: (99) كما صححه في صحيح سنن أبي داود باختصار السند 3/809-ح: (3606) ن مكتب التربية العربي لدول الخليج- ط/1 (1409هـ -1989م) ، والمكتب الإسلامي- بيروت) .
ঐ সংস্কারের অন্যতম পথ হলো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ (ইহতিসাব)। এমন এক সমাজে যিনি এই দায়িত্ব পালন করেছেন যেখানে শিরক তার অস্তিত্বের মূলে আঘাত করছিল, তিনি হলেন সেই সংস্কারক শাইখ, সুন্নাহর সাহায্যকারী এবং বিদআতের দমনকারী, যিনি একাকীত্বের সময়ে ছিলেন একাই এক উম্মত—মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসের উচ্চ মকামে স্থান দান করুন।

কেননা তাঁর যুগে বহু বিদআত, কুসংস্কার এবং শিরকি কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে পড়েছিল যা মানুষকে পুনরায় জাহেলি যুগে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।

যদি আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ ও রহমত এবং তৎপরবর্তীতে শাইখ ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহ.)-এর প্রতিবাদ এবং শিরক ও মূর্তিপূজার সকল প্রকারের বিরুদ্ধে তাঁর নিরবচ্ছিন্ন অস্বীকৃতি না থাকত—যা কখনো তাঁর শক্তি বা লেখনীর মাধ্যমে, কখনো তাঁর জিহ্বার মাধ্যমে এবং কখনো তাঁর অন্তরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছিল—তবে মানুষ বিভ্রান্তির পঙ্কিল আবর্তে নিমজ্জিত হতো।

অতএব আল্লাহর প্রশংসা তাঁর সকল সৃষ্টির এবং যা কিছু তিনি অস্তিত্বে এনেছেন তার সংখ্যার সমান, যেহেতু তিনি এই উম্মতের জন্য এই উচ্চাকাঙ্ক্ষী সংগ্রামী প্রতিবাদীকে নিয়োজিত করেছেন, যিনি আল্লাহর অনুগ্রহে মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনার মাধ্যম হয়েছিলেন।

বিষয়ের গুরুত্ব:

মুসলিম সমাজে 'হিসবাহ' (যার অর্থ সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ)-এর গুরুত্বের বিবেচনায়—যা সমাজের রক্ষাকবচ স্বরূপ—আর এই রক্ষাকবচ কেবল সেই সত্যনিষ্ঠ প্রতিবাদীই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন যিনি নিজের জীবনকে আল্লাহর পথে সঁপে দিয়েছেন; তাই যারা প্রতিবাদের পথ বেছে নিয়েছেন তাদের প্রত্যেকের নিকট একজন সুপথপ্রাপ্ত প্রতিবাদীর জীবন্ত আদর্শ হিসেবে শাইখ ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহ.)-কে উপস্থাপন করতে চেয়েছি, যাতে এটি হিসবাহর ক্ষেত্রে সর্বোত্তম পথের দিশারি হয়।

--------------------------------------------

=সনদটি সহীহ, এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য এবং ইমাম মুসলিমের বর্ণনাকারী (সিলসিলাতুল আহাদিস আস-সহীহা ২/১৫০-হাদিস: ৯৯) যেমনটি তিনি সহীহ সুনানে আবু দাউদ-এ সনদের সংক্ষিপ্ত বিবরণসহ একে সহীহ সাব্যস্ত করেছেন ৩/৮০৯-হাদিস: ৩৬০৬, আরব শিক্ষা ব্যুরো ফর গালফ স্টেটস - ১ম প্রকাশ (১৪০৯ হি.- ১৯৮৯ খ্রি.), এবং আল-মাকতাব আল-ইসলামি - বৈরুত।
(খণ্ড: ১) ইহতিসাবুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) (পৃষ্ঠা: ٦)
التعريف بمفردات البحث:

تعريف الاحتساب في اللغة:

للاحتساب في اللغة عدة تعريفات منها:

1-الاحتساب من الحسب كالاعتداد من العد1 ،و، حسبه عدّه2.

2-والاحتساب طلب الأجر 3 أي احتساب الأجر على الله، تقول: فعلته حِسْبة واحتسب فيه احتسابا 4.

والاحتساب في الأعمال الصالحات وعند المكروهات: هو البدار إلى طلب الأجر وتحصيله بالتسليم والصبر، أو باستعمال أنواع البر والقيام بها على الوجه المرسوم منها طلبا للثواب المرجو منها5 واحتسب فلان ابنا له أو بنتا إذا ما مات وهو كبير، فإن مات صغيرا قيل افترطه6.

3-ويأتي احتسب بمعنى ظن7.

وحسبه كذا … ظنّه8.

--------------------------------------------

1-لسان العرب 2/866 مادة: " حسب" لابن منظور- ن دار المعارف- القاهرة بتصرف.

2-مختار الصحاح ص 134 مادة: "حسبه" تأليف محمد بن أبي بكر الرازي- ن دار الكتاب العربي – بيروت لبنان-ط/1-1979م.

3-لسان العرب2/866 مادة: "حسب".

4-تاج العروس1/213 فصل الحاء من باب الباء مادة: " حسب" للإمام اللغوي السيد محمد مرتضى الزبيدي -ن دار البيان- بنغازي-ط/1 بالمطبعة الخيرية المنشأة بجمالية- مصر سنة (1306هـ) .

5-لسان العرب 2/866 مادة: "حسب".

6- الصحاح تاج اللغة وصحاح العربية 1/110 مادة: " حسب" تألأيف إسماعيل بن حماد الجوهري، تحقيق أحمد عبد الغفور عطار- ن دار العلم للملايين- ط/3-1404هـ-1984م.

7-محيط المحيط ص 167 مادة: "حسب" تأليف المعلم بطرس البستاني- ن مكتبة لبنان- بيروت- ط /1987م.

8- القاموس المحيط 1/55مادة: "حسبه" للفيروز آبادي –ن دار الفكر- بيروت 1398-1978م.
গবেষণার পরিভাষাগুলোর পরিচিতি:

আভিধানিক অর্থে ইহতিসাব-এর সংজ্ঞা:

অভিধানে ইহতিসাব-এর কয়েকটি সংজ্ঞা রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১- ইহতিসাব শব্দটি ‘হাসব’ (গণনা) থেকে উদ্গত, যেমন ‘ইতিদাদ’ শব্দটি ‘আদ’ (গণনা) থেকে উদ্গত। আর ‘হাসাবাহু’ অর্থ সে এটি গণনা করেছে।

২- ইহতিসাব অর্থ প্রতিদান অনুসন্ধান করা; অর্থাৎ আল্লাহর নিকট সওয়াবের আশা করা। বলা হয়: আমি এটি সওয়াবের আশায় (হিসবাতান) করেছি এবং এতে সওয়াব অনুসন্ধান (ইহতিসাব) করেছি।

নেক আমল করার সময় এবং বিপদের মুহূর্তে ইহতিসাব হলো: আত্মসমর্পণ ও ধৈর্যের মাধ্যমে সওয়াব অনুসন্ধান ও তা অর্জনে তৎপর হওয়া, অথবা পুণ্যকর্মের বিভিন্ন প্রকারগুলো নির্ধারিত পন্থায় পালনের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সওয়াব লাভের চেষ্টা করা। কোনো ব্যক্তির প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে বা মেয়ে মারা গেলে বলা হয় সে ‘ইহতিসাব’ করেছে; আর যদি সন্তানটি ছোট অবস্থায় মারা যায় তবে বলা হয় ‘সে তাকে অগ্রগামী হিসেবে পাঠিয়েছে’ (ইফতারা তাহা)।

৩- ইহতিসাব শব্দটি ‘ধারণা করা’ অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

আর ‘তাকে এরূপ মনে করল’ অর্থ সে তাকে এরূপ ধারণা করল।

--------------------------------------------

১- লিসানুল আরব, ২/৮৬৬, শব্দমূল: ‘হাসাব’, ইবনে মানযুর কৃত, দারুল মাআরিফ, কায়রো, পরিমার্জিত।

২- মুখতারুস সিহাহ, পৃষ্ঠা ১৩৪, শব্দমূল: ‘হাসাবাহু’, মুহাম্মদ বিন আবি বকর আর-রাজি কৃত, দারুল কিতাবিল আরাবি, বৈরুত, লেবানন, ১ম সংস্করণ, ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দ।

৩- লিসানুল আরব, ২/৮৬৬, শব্দমূল: ‘হাসাব’।

৪- তাজুল আরুস, ১/২১৩, বা-বুল বা এর অধীনে হা অধ্যায়, শব্দমূল: ‘হাসাব’, ভাষাতাত্ত্বিক ইমাম সাইয়্যেদ মুহাম্মদ মুরতাদা যাবিদি কৃত, দারুল বায়ান, বেনগাজি, ১ম সংস্করণ, খাইরিয়্যাহ প্রেস, জামালিইয়্যাহ, মিশর, ১৩০৬ হিজরি।

৫- লিসানুল আরব, ২/৮৬৬, শব্দমূল: ‘হাসাব’।

৬- আস-সিহাহ তাজুল লুগাহ ওয়া সিহাহুল আরাবিয়্যাহ, ১/১১০, শব্দমূল: ‘হাসাব’, ইসমাইল বিন হাম্মাদ জাওহারি কৃত, তাহকিক: আহমদ আব্দুল গফুর আত্তার, দারুল ইলম লিল-মালাঈন, ৩য় সংস্করণ, ১৪০৪ হিজরি-১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দ।

৭- মুহিতুল মুহিত, পৃষ্ঠা ১৬৭, শব্দমূল: ‘হাসাব’, মুয়াল্লিম বুতরুস আল-বুস্তানি কৃত, মাকতাবাতু লুবনান, বৈরুত, ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দ।

৮- আল-কামুসুল মুহিত, ১/৫৫, শব্দমূল: ‘হাসাবাহু’, ফিরোজাবাদী কৃত, দারুল ফিকর, বৈরুত, ১৩৯৮-১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) ইহতিসাবুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) (পৃষ্ঠা: ٧)
4- وشيء حساب كاف1.

5-واحتسب فلانا: اختبرت ما عنده 2.

6-والحسبة بالكسر الأجر واسم من الاحتساب 3 فهي مصدر احتسابك الأجر على الله 4.

واحتسب فلان عليه: أنكر عليه قبيح عمله ومنه المحتسب، فقال: محتسب البلد5.

تعريف الحسبة في الاصطلاح:

وردت للحسبة عدة تعريفات في الاصطلاح أذكر منها ما يخص الاحتساب التطوعي دون الرسمي، حيث إنّ احتساب الشيخ الإمام محمد عبد الوهاب رحمه الله ينضوي تحت النوع الأول منهما، ومن تلك التعريفات:

أولا: تعريف الماوردي 6 للحسبة:

"هي أمر بالمعروف إذا ظهر تركه ونهي عن المنكر إذا أُظهر فعله"7.

--------------------------------------------

1-القاموس المحيط 1/54 مادة: "حسبه".

2- لسان العرب 1/867 مادة: "حسب"

3-القاموس المحيط 1/54 مادة: "حسبه".

4-انظر لسان العرب 1/867 مادة: "حسب".

5-تارج العروس 1/213 فصل الحاء من باب الباء مادة: "حسب" والصحاح تاج اللغة وصحاح العربية1/110 مادة: "حسبه" كلاهما بتصرف يسير.

6-هو: علي بن محمد بن حبيب، أبو الحسن الماوردي ولد في البصرة سنة "364هـ974" من العلماء الباحثين وكان يميل إلى مذهب الاعتزال، وله مكانة وفيعة عند الخلفاء توفي في بغداد سنة "450هـ-1058م" "الأعلام قاموس تراجم لأشهر الرجال والنساء من العرب والمستعربين والمستشرقين 4/327 باختصار لخير الدين الزركلي- ن دار العلم للملايين- بيروت- لبنان- ط/10- أيلول سبتمبر 1992م".

7-الأحكام السلطانية والولايات الدينية ص 299- ن دار الكتب العلمية- بيروت- لبنان، وانظر الأحكام السلطانية ص 284 للقاضي أبي يعلى الفراء صححه وعلق عليه محمد حامد الفقي- ن دار الكتب العلمية- بيروت- لبنان- ط/3 "1403هـ 1983م".
৪- এবং কোনো কিছু হিসাব করা বা পর্যাপ্ত হওয়া ১।

৫-এবং অমুক ব্যক্তির পরীক্ষা নেওয়া (ইহতিসাব): আমি তার কাছে যা আছে তা পরীক্ষা করেছি ২।

৬-এবং কাসরা (ইকার) যোগে ‘হিসবাহ’ শব্দের অর্থ হলো সওয়াব বা প্রতিদান এবং এটি ‘ইহতিসাব’ থেকে আগত একটি বিশেষ্য ৩। এটি আল্লাহর নিকট সওয়াব কামনার মূল রূপ ৪।

এবং অমুক ব্যক্তি তার কাজের প্রতিবাদ করেছেন: তিনি তার মন্দ কাজকে প্রত্যাখ্যান বা অস্বীকার করেছেন এবং এ থেকেই ‘মুহতাসিব’ শব্দটি এসেছে; তাই বলা হয়: শহরের মুহতাসিব (তদারককারী) ৫।

পরিভাষায় হিসবাহ-এর সংজ্ঞা:

পরিভাষায় হিসবাহ-এর বেশ কিছু সংজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে। আমি এখানে সরকারি বা দাপ্তরিক দায়িত্বের বাইরে কেবল স্বেচ্ছাসেবী ইহতিসাব সম্পর্কিত সংজ্ঞাগুলো উল্লেখ করব; কারণ শাইখ ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর ইহতিসাব বা সংস্কারমূলক কাজ প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। সেসব সংজ্ঞার মধ্যে রয়েছে:

প্রথমত: হিসবাহ বিষয়ে আল-মাওয়ার্দি ৬-এর সংজ্ঞা:

"এটি হলো সৎকাজের আদেশ দেওয়া যখন তা পরিত্যাগ করা প্রকাশ পায় এবং অসৎকাজে বাধা দেওয়া যখন তা সম্পাদন করা দৃশ্যমান হয়" ৭।

--------------------------------------------

১- আল-কামুসুল মুহিত ১/৫৪, মূলশব্দ: ‘হাসাবাহু’।

২- লিসানুল আরব ১/৮৬৭, মূলশব্দ: ‘হাসাব’।

৩- আল-কামুসুল মুহিত ১/৫৪, মূলশব্দ: ‘হাসাবাহু’।

৪- দেখুন লিসানুল আরব ১/৮৬৭, মূলশব্দ: ‘হাসাব’।

৫- তাজুল আরূস ১/২১৩, বা-বুল বা-এর হা-অধ্যায়, মূলশব্দ: ‘হাসাব’ এবং আস-সিহাহ তাজুল লুগাহ ওয়া সিহাহুল আরাবিয়্যাহ ১/১১০, মূলশব্দ: ‘হাসাবাহু’, উভয়টি সামান্য পরিবর্তনসহ।

৬- তিনি হলেন: আলী ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাবিব, আবুল হাসান আল-মাওয়ার্দি। তিনি ৩৬৪ হিজরি (৯৭৪ খ্রি.) বসরায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি গবেষক আলেমদের অন্যতম ছিলেন এবং মুতাজিলা মতবাদের প্রতি তার ঝোঁক ছিল। খলিফাদের নিকট তার উচ্চ মর্যাদা ছিল। ৪৫০ হিজরি (১০৫৮ খ্রি.) বাগদাদে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। (আল-আ’লাম: আরব ও অ-আরব এবং প্রাচ্যবিদদের মধ্যে বিখ্যাত নারী ও পুরুষদের জীবনী অভিধান ৪/৩২৭-এর সংক্ষিপ্তসার, খাইরুদ্দিন আজ-জিরিকলি প্রণীত, দারুল ইলম লিল-মালাইয়িন, বৈরুত, লেবানন, ১০ম সংস্করণ, সেপ্টেম্বর ১৯৯২ খ্রি.)।

৭- আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ ওয়াল উইলায়াতুদ দ্বীনিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২৯৯, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, লেবানন; এবং দেখুন কাজী আবু ইয়ালা আল-ফাররা রচিত আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২৮৪, যা সংশোধন ও টীকা প্রদান করেছেন মুহাম্মাদ হামিদ আল-ফিকী, দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত, লেবানন, ৩য় সংস্করণ (১৪০৩ হিজরি/১৯৮৩ খ্রি.)।
(খণ্ড: ১) ইহতিসাবুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) (পৃষ্ঠা: ٨)
ثانيا: تعريف ابن الأخوة1:

"هي أمر بالمعروف إذا ظهر تركه ونهي عن المنكر إذا ظهر فعله وإصلاح بين الناس"2.

ثالثا: تعريف الشيزري3:

"الحسبة أمر بالمعروف ونهي عن النكر وإصلاح بين الناس"4.

وبالنظر إلى التعريفات السابقة يترجح لي أنّ أدقّها وأحسنها تعريف الماوردي5.

والله أعلم بالصواب.

ومما تجدر الإشارة إليه هنا حكم الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر قال النووي رحمه الله: وقد تطابق على وجوب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر الكتاب والسنة وإجماع الأمة6 ا. هـ.

--------------------------------------------

1-هو: عبد الرحيم بن أحمد بن محمد الشيباني، أبو الفضل ابن الأخوة، ناسخ من فقهاء الشافعية من أهل بغداد سافر إلى خراسان ونيسابور وطبرستان في طلب الحديث وأقام 40 سنة بأصفهان توفي سنة "729هـ-1239م" " الأعلام 3/*343 بتصرف، وانظر غلاف كتاب معالم القربة في أحاكم الحسبة".

2-كتاب معالم القربة في أحكام الحسبة ص 51 تحقيق د. محمد محمود شعبان- صديق أحمد عيسى المطيعي- ن الهيئة المصرية العامة للكتاب 1976م.

3-هو: عبد الرحمن بن نصر بن عبد الله أبو النجيب جلال الدين العدوي الشيزري قاضي طبريا، شافعي، سكن حلب له كتب توفي نحو "590هـ-1094م" "الأعلام 3/340 باختصار".

4-نهاية الرتية في طلب الحسبة ص6 تحقيق الدكتور السيد الباز العريني-ن دار الثقافة- بيروت- لبنان- ط/2-1401هـ- 1981م بتصرف يسير، وانظر نهاية الرتبة في طلب الحسبة ص10 لابن بسام المحتسب، حققه وعلق عليه حسام الدين السامرائي- ن مطبعة المعارف- بغداد 1968م.

5- انظر بسط الكلام على هذه التعريفات وغيرها في " الحسبة تعريفها ومشروعيتها وحكمها" ص 7-16 تأليف الدكتور فضل إلهي- ن إدارة ترجمان الإسلام- باكستان- ط/1/"1410هـ-1990م".

6- صحيح مسلم بشرح النووي2/22- الحاشية- ن دار الفكر- ط/1401هـ-1990م- المطبعة المصرية.
দ্বিতীয়ত: ইবনুল উখুওয়াহ-এর সংজ্ঞা১:

"এটি হলো সৎ কাজের আদেশ দেওয়া যখন তার বর্জন প্রকাশ পায়, এবং অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করা যখন তার সম্পাদন প্রকাশ পায়, আর মানুষের মাঝে সংশোধন করা"২।

তৃতীয়ত: আশ-শায়জারী-এর সংজ্ঞা৩:

"হিসবাহ হলো সৎ কাজের আদেশ, অসৎ কাজ হতে নিষেধ এবং মানুষের মাঝে সংশোধন করা"৪।

পূর্বোক্ত সংজ্ঞাগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করলে আমার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, সেগুলোর মধ্যে আল-মাওয়ারদী-এর সংজ্ঞাই অধিকতর সূক্ষ্ম ও সর্বোত্তম৫।

আর আল্লাহই সঠিক বিষয় সম্পর্কে সর্বাধিক অবগত।

এখানে যে বিষয়টি উল্লেখ করা প্রয়োজন তা হলো সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের বিধান। ইমাম আন-নববী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ এবং উম্মাহর ইজমা (ঐক্যমত) সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের আবশ্যিকতার ব্যাপারে একমত হয়েছে৬। সমাপ্ত।

--------------------------------------------

১- তিনি হলেন: আবদুর রহীম বিন আহমাদ বিন মুহাম্মাদ আশ-শায়বানী, আবুল ফাদল ইবনুল উখুওয়াহ; তিনি শাফেয়ী ফকীহদের অন্তর্ভুক্ত একজন পাণ্ডুলিপি লেখক এবং বাগদাদের অধিবাসী ছিলেন। তিনি হাদিস অন্বেষণে খোরাসান, নিশাপুর ও তাবারিস্থান ভ্রমণ করেন এবং ইসফাহানে ৪০ বছর অবস্থান করেন। তিনি ৭২৯ হিজরি (১২৩৯ খ্রিস্টাব্দ) সনে মৃত্যুবরণ করেন। (আল-আলাম ৩/৩৪৩ এর ভাবানুবাদ এবং ‘মাআলিমুল কুরবাহ ফী আহকামিল হিসবাহ’ কিতাবের প্রচ্ছদ দ্রষ্টব্য)।

২-মাআলিমুল কুরবাহ ফী আহকামিল হিসবাহ, পৃষ্ঠা ৫১; ড. মুহাম্মাদ মাহমুদ শাবান ও সিদ্দিক আহমাদ ঈসা আল-মুতিঈ কর্তৃক সম্পাদিত; আল-হাইআ আল-মিসরীয়াহ আল-আম্মাহ লিল-কিতাব, ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দ।

৩-তিনি হলেন: আবদুর রহমান বিন নাসর বিন আবদুল্লাহ, আবু নাজীব জালালুদ্দীন আল-আদাবী আশ-শায়জারী; তাবারিয়ার বিচারক, শাফেয়ী। তিনি আলেপ্পোতে বসবাস করতেন। তাঁর বেশ কিছু গ্রন্থ রয়েছে। তিনি আনুমানিক ৫৯০ হিজরি (১০৯৪ খ্রিস্টাব্দ) সনে মৃত্যুবরণ করেন। (আল-আলাম ৩/৩৪০ সংক্ষেপে)।

৪-নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ, পৃষ্ঠা ৬; ড. আস-সৈয়দ আল-বাজ আল-আরিনী কর্তৃক সম্পাদিত; দারুস সাক্বাফাহ, বৈরুত, লেবানন; ২য় সংস্করণ, ১৪০১ হিজরি - ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দ। সামান্য পরিবর্তনসহ। আরও দেখুন ইবনু বাসসাম আল-মুহতাসিব রচিত নিহায়াতুর রুতবাহ ফী তলাবিল হিসবাহ, পৃষ্ঠা ১০; হুসামুদ্দীন আস-সামাররাঈ কর্তৃক সম্পাদিত ও টীকাযুক্ত; মাতবাআতুল মাআরিফ, বাগদাদ, ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দ।

৫-এই সংজ্ঞাগুলো এবং অন্যান্য সংজ্ঞার বিস্তারিত আলোচনার জন্য দেখুন ড. ফাদল ইলাহী রচিত ‘আল-হিসবাহ: তারিফুহা ওয়া মাশরুয়িয়াতুহা ওয়া হুকমুহা’, পৃষ্ঠা ৭-১৬; ইদারাতু তারজুমানিল ইসলাম, পাকিস্তান; ১ম সংস্করণ, ১৪১০ হিজরি - ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ।

৬-শারহু নববী আলা সহীহ মুসলিম ২/২২ - পাদটীকা - দারুল ফিকর - সংস্করণ ১৪০১ হিজরি - ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ - আল-মাতবাআ আল-মিসরীয়াহ।
(খণ্ড: ১) ইহতিসাবুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) (পৃষ্ঠা: ٩)
والأدلة على وجوب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر كثيرة منها على سبيل المثال:

أولا: الدليل من الكتاب: قوله تعالى: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ تَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَتُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ} 1.

فدلت الآية الكريمة على أنّه إذا كان الانتماء إلى هذه الأمة أمرا متعينا على كل مسلم فإنّ الاتصاف بهذه الصفات التي ذكرتها الآية واجبا عينيا أيضا 2.

ثانيا: الدليل من السنة: روى الإمام مسلم رحمه الله في صحيحه: حدثنا أبو بكر بن أبي شيبة حدثنا وكيع عن سفيان قال: أول من بدأ بالخطبة يوم العيد مروان فقام رجل فقال: الصلاة قبل الخطبة فقال: قد ترك ما هنالك، فقال أبو سعيد: أما هذا قضى ما عليه سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "من رأى منكم منكرا فليغيره بيده فإن لم يستطع فبلسانه فإن لم يستطع فبقلبه وذلك أضعف الإيمان" 3.

فالأمر في قوله "فليغيره" أمر إيجاب بإجماع الأمة 4مما يدل على وجوب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر على كل مسلم بحسب علمه واستطاعته 5.

إلا أن العلماء اختلفوا في نوعية وجوب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر على رأيين هما:

1-أنه فرض كفاية وهو رأي الجمهور.

--------------------------------------------

1-سورة آل عمران آية 110.

2-انظر الحسبة تعريفها ومشروعيتها وحكمها ص 50.

3-صحيح مسلم-ك: الإيمان- ب: بيان كون النهي عن المنكر من الإيمان … ح:78-1/69، تحقيق محمد فؤاد عبد الباقي- ن دار إحياء التراث العربي- بيروت لبنان.

4-انظر صحيح مسلم بشرح النووي2/22، الحاشية.

5-انظر الحسبة تعريفها ومشروعيتها ص54.
সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধের আবশ্যিকতার দলিলসমূহ অনেক, উদাহরণস্বরূপ তার কয়েকটি নিচে দেওয়া হলো:

প্রথমত: কিতাব থেকে দলিল: মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা হলে সর্বোত্তম জাতি যাদেরকে মানুষের জন্য বের করা হয়েছে; তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও, অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করো এবং আল্লাহর ওপর ঈমান রাখো} ১।

অতএব এই সম্মানিত আয়াতটি নির্দেশ করে যে, যদি এই উম্মতের অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রত্যেক মুসলিমের জন্য একটি অনিবার্য বিষয় হয়, তবে আয়াতে বর্ণিত এই গুণাবলীতে গুণান্বিত হওয়াও একটি ব্যক্তিগত আবশ্যকতা ২।

দ্বিতীয়ত: সুন্নাহ থেকে দলিল: ইমাম মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: আবু বকর ইবনে আবি শায়বা আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, ওকি' আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান থেকে, তিনি বলেন: ঈদের দিন খুতবার মাধ্যমে (সালাতের আগে অনুষ্ঠান) প্রথম শুরু করেছিলেন মারওয়ান। তখন এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন: খুতবার আগে সালাত হবে। তখন মারওয়ান বললেন: ওখানে যা (নিয়ম) ছিল তা বর্জন করা হয়েছে। তখন আবু সাঈদ বললেন: এই ব্যক্তি তার ওপর যা (আবশ্যক) ছিল তা পালন করেছে। আমি আল্লাহর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "তোমাদের মধ্যে যে কেউ কোনো মন্দ কাজ দেখবে, সে যেন তা তার হাত দিয়ে পরিবর্তন করে দেয়। যদি সে তাতে সক্ষম না হয়, তবে তার জিহ্বা দিয়ে। আর যদি সে তাতেও সক্ষম না হয়, তবে তার অন্তর দিয়ে। আর এটি হলো ঈমানের দুর্বলতম স্তর" ৩।

সুতরাং তাঁর বাণী "সে যেন তা পরিবর্তন করে দেয়"-এর মধ্যে নির্দেশটি উম্মতের ঐকমত্য অনুযায়ী একটি আবশ্যিক নির্দেশ ৪ যা প্রমাণ করে যে, প্রত্যেক মুসলিমের ওপর তার জ্ঞান এবং সক্ষমতা অনুযায়ী সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করা ওয়াজিব ৫।

তবে আলেমগণ সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের আবশ্যিকতার ধরণের ব্যাপারে দুটি মতের ওপর মতভেদ করেছেন, সেগুলো হলো:

১-এটি ফরজে কিফায়া, আর এটিই জুমহুর (অধিকাংশ) আলেমদের মত।

--------------------------------------------

১-সূরা আল-ইমরান আয়াত ১১০।

২-দেখুন: আল-হিসবাহ তা'রিফুহা ওয়া মাশরুয়িয়্যাতুহা ওয়া হুকমুহা, পৃষ্ঠা ৫০।

৩-সহিহ মুসলিম - কিতাব: আল-ঈমান - অধ্যায়: অসৎ কাজের নিষেধ ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বর্ণনা … হাদিস: ৭৮-১/৬৯, তাহকিক: মুহাম্মদ ফুয়াদ আব্দুল বাকি - প্রকাশনী: দারু ইহয়াইত তুরাসিল আরাবি - বৈরুত, লেবানন।

৪-দেখুন: আন-নববী কর্তৃক সহিহ মুসলিমের ব্যাখ্যা ২/২২, পাদটীকা।

৫-দেখুন: আল-হিসবাহ তা'রিফুহা ওয়া মাশরুয়িয়্যাতুহা, পৃষ্ঠা ৫৪।
(খণ্ড: ১) ইহতিসাবুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) (পৃষ্ঠা: ١٠)
2-أنه فرض عين1.

والله تعالى أعلم بالصواب.

ثالثا: الدليل من الإجماع: قال ابن حزم رحمه الله: اتفقت الأمة كلها على وجوب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر بلا خلاف من أحد منها 2 اهـ.

أسباب اختيار الموضوع:

أولا: اهتمامي بجانب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر دفعني للكتابة في مجال الاحتساب.

ثانيا: ميلي للقراءة في مؤلفات الشيخ الإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله والكتب التي تناولت سيرته، مما كوّن لدي قناعة تامة بالموضوع.

ثالثا: الحاجة إلى معرفة كيفية احتساب الشيخ محمد عبد الوهاب رحمه الله على المنكرات حتى يمكن الاستفادة منها.

رابعا: سد فراغ في المكتبة الإسلامية بإيجاد دراسة تحليلية متخصصة تبحث في جانب الاحتساب في حياة الشيخ الإمام محمد عبد الوهاب رحمه الله حيث إنّه لم ينم إلى علمي صدور مؤلف أفرد بالدراسة جانب الاحتساب في حياة الشيخ محمد عبد الوهاب رحمه الله، لذا عزمت بعد الاستخارة الشرعية على اختيار موضوع " احتساب الشيخ محمد عبد الوهاب رحمه الله" ليكون موضوع بحثي لنيل درجة الماجستير والله المستعان.

--------------------------------------------

1-انظر هذه المسألة ومناقشة أدلة أصحاب القولين في الحسبة تعريفها ومشروعيتها وحكمها ص 44-54.

2-الفصل في الملل والأهواء والنحل 5/19 تأليف الإمام ابن حزم الظاهري، تحقيق الدكتور محمد إبراهيم نصر والدكتور عبد الرحمن عميرة- ن شركة مكتبات عكاظ- جدة- الرياض- الدمام ط/1-2-1402هـ-1982م.
২-এটি ফরজে আইন ১।

আর আল্লাহ তাআলাই সঠিক বিষয়টি সবচেয়ে ভালো জানেন।

তৃতীয়ত: ইজমা থেকে দলিল: ইবনে হাজম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: উম্মতের সকল সদস্য সৎকাজের আদেশ এবং অসৎকাজের নিষেধ ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন, এতে তাদের কারো পক্ষ থেকে কোনো দ্বিমত নেই ২। সমাপ্ত।

বিষয়টি নির্বাচনের কারণসমূহ:

প্রথমত: সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের বিষয়ের প্রতি আমার আগ্রহ আমাকে ইহতিসাব (সংশোধনমূলক কাজ) এর ক্ষেত্রে লিখতে উদ্বুদ্ধ করেছে।

দ্বিতীয়ত: শাইখ ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর রচনাবলী এবং তাঁর জীবনী সংক্রান্ত বইগুলো পড়ার প্রতি আমার ঝোঁক, যা আমার মধ্যে এই বিষয়টি সম্পর্কে পূর্ণ বিশ্বাস ও তৃপ্তি তৈরি করেছে।

তৃতীয়ত: শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ) কীভাবে অপকর্মের বিরুদ্ধে ইহতিসাব করতেন তা জানার প্রয়োজনীয়তা, যাতে তা থেকে উপকৃত হওয়া যায়।

চতুর্থত: শাইখ ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনে ইহতিসাবের দিকটি নিয়ে একটি বিশেষ বিশ্লেষণধর্মী গবেষণার মাধ্যমে ইসলামি লাইব্রেরির শূন্যতা পূরণ করা। যেহেতু আমার জানামতে শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনের ইহতিসাবের দিকটি নিয়ে স্বতন্ত্র গবেষণামূলক কোনো গ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি, তাই শরিয়াহ নির্দেশিত ইস্তিখারার পর আমি আমার মাস্টার্স ডিগ্রির গবেষণার বিষয় হিসেবে "শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর ইহতিসাব" বিষয়টি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।

--------------------------------------------

১- এই মাসআলাটি এবং উভয় পক্ষের মতের দলিলের পর্যালোচনার জন্য দেখুন: "আল-হিসবাহ: তারিফুহা ওয়া মাশরুইয়্যাতুহা ওয়া হুকমুহা" (সংশোধন প্রক্রিয়া: এর সংজ্ঞা, বৈধতা এবং বিধান), পৃষ্ঠা ৪৪-৫৪।

২-আল-ফাসল ফিল মিলাল ওয়াল আহওয়া ওয়ান নিহাল ৫/১৯, লেখক ইমাম ইবনে হাজম আল-জাহিরি, সম্পাদনা ডক্টর মুহাম্মাদ ইব্রাহিম নাসর এবং ডক্টর আব্দুর রহমান ওমাইরা - পরিবেশনায়: মাকতাবাত ওকাজ কোম্পানি - জেদ্দা - রিয়াদ - দাম্মাম, সংস্করণ/ ১-২, ১৪০২ হিজরি - ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) ইহতিসাবুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) (পৃষ্ঠা: ١١)
الدراسات السابقة:

بعد البحث والتقصي وقفت على بحث للدكتور علي عبد الحليم محمود بعنوان: " صلة دعوة الشيخ محمد عبد الوهاب بمذهب السلف سنة 1400هـ" ضمن مجموعة بحوث تحمل العنوان نفسه صدرت عن أمانة أسبوع الشيخ محمد عبد الوهاب رحمه الله بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية عام "1399-1400هـ"، حيث اشتمل البحث المذكور والذي كان عدد صفحاته 193 صفحة، على فصل بعنوان: " الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر" في 20 صفحة- من ص 137 إلى 166 وفيه مبحثان:

1-الأمر بالمعروف ويتناول:

أ-الأمر بالتزام كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم.

ب-الأمر بعمل الطاعات.

2-النهي عن المنكر ويتناول:

أ- النهي عن مخالفة الله ورسوله صلى الله عليه وسلم.

ب-النهي عن المعاصي عموما.

ح-النهي عن تقليد الكفار في عاداتهم وتقاليدهم على وجه الخصوص1.

وبعد الاطلاع على الفصل المشار إليه في ذلك البحث وجدت أنّه تطرق لأمر الشيخ بالمعروف ونهيه عن المنكر من خلال حياته ومؤلفاته بشيء من الإجمال.

وأما ما أود أن أضيفه في بحثي فهو التركيز على جانب الاحتساب في

--------------------------------------------

1-البحث المذكور ص 137.
পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ:

অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার পর আমি ডক্টর আলি আব্দুল হালিম মাহমুদের একটি গবেষণাপত্র পেয়েছি যার শিরোনাম: "সালাফদের মাযহাবের সাথে শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের দাওয়াতের সম্পর্ক, ১৪০০ হিজরি"। এটি একই শিরোনামের একটি গবেষণা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত, যা ১৩৯৯-১৪০০ হিজরি সনে ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে 'শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) সপ্তাহ' সচিবালয় থেকে প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৩ পৃষ্ঠার উক্ত গবেষণাপত্রটিতে "সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ" শিরোনামে ২০ পৃষ্ঠার একটি অধ্যায় রয়েছে (পৃষ্ঠা ১৩৭ থেকে ১৬৬ পর্যন্ত), যাতে দুটি পরিচ্ছেদ আছে:

১-সৎ কাজের আদেশ, যা আলোচনা করে:

ক- আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাহ অনুসরণের নির্দেশ।

খ- আনুগত্যমূলক কাজ করার নির্দেশ।

২-অসৎ কাজের নিষেধ, যা আলোচনা করে:

ক- আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিরোধিতা করা হতে নিষেধ।

খ- সাধারণভাবে সকল পাপকাজ হতে নিষেধ।

গ- বিশেষভাবে কাফেরদের আচার-আচরণ ও রীতিনীতি অনুকরণ করা হতে নিষেধ।১

উক্ত গবেষণার নির্দেশিত অধ্যায়টি পর্যালোচনার পর আমি দেখতে পেয়েছি যে, এটি শায়খের জীবন ও রচনার আলোকে তাঁর সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধের বিষয়টিকে সংক্ষেপে আলোচনা করেছে।

আর আমি আমার গবেষণায় যা যোগ করতে চাই তা হলো, ইহতিসাব (তদারকি)-এর দিকের ওপর গুরুত্বারোপ করা...

--------------------------------------------

১-উল্লিখিত গবেষণা, পৃষ্ঠা ১৩৭।
(খণ্ড: ১) ইহতিসাবুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) (পৃষ্ঠা: ١٢)
حياة الشيخ الإمام-دون دعوته رحمه الله، وذلك بتحديد منهجه في الاحتساب ومعرفة آرائه في الحسبة النظرية ثم تسليط الضوء على احتسابه العملي بشيء من التفصيل مع الاستشهاد بأقوال أهل العلم التي تبين أنّه رحمه الله لم يستحدث في الدين شيئا من تلقاء نفسه.

حدود البحث:

القرن الثاني عشر الهجري وهو القرن الذي عاش فيه الشيخ الإمام محمد ابن عبد الوهاب رحمه الله.

منهج البحث:

"المنهج التاريخي الاستقرائي".

نظرا لأنّه من خلال المنهج التاريخي يتم استرداد أحداث مضت تبعا لما تركته من آثار أيا كان نوعها 1 من أجل الإفادة في الحاضر، رأيت أنّه أنسب المناهج لموضوع بحثي الذي يتناول شخصية مشرِّفة من الماضي لها وزنها في العالم الإسلامي هي شخصية الشيخ الإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله، حيث إنني أتطلع من خلال استقراء جانب الاحتساب في حياة الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله إلى الإفادة منه في الواقع العملي.

المشكلة البحثية:

لقد ابتليت الأمة الإسلامية في الأزمنة الأخيرة بانحرافات شتى خاصة في جانب العقيدة، وظهر كثير من البدع والخرافات التي فرقت صفوف المسلمين وشتّت شملهم، وأصيب كثير من المجتمعات الإسلامية بالداء نفسه الذي أصيب به

--------------------------------------------

1-انظر: مناهج البحث العلمي ص 19 لعبد الرحمن بدوي- ن وكالات المطبوعات- الكويت- ط/3"1977م".
ইমাম শেখের জীবন—তাঁর দাওয়াত ব্যতীত (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)—তাঁকে তাঁর ইহতিসাব (সদাচার প্রতিষ্ঠা ও মন্দ প্রতিরোধ) সংক্রান্ত কর্মপন্থা নির্ধারণ, তাত্ত্বিক ইহতিসাব সম্পর্কে তাঁর মতামত অনুধাবন এবং তাঁর ব্যবহারিক ইহতিসাবের ওপর বিস্তারিত আলোকপাতের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। সাথে সাথে উলামায়ে কেরামের সেই সকল বক্তব্যের উদ্ধৃতি প্রদান করা হয়েছে যা স্পষ্ট করে যে, তিনি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) দ্বীনের মধ্যে নিজের পক্ষ থেকে নতুন কিছু উদ্ভাবন করেননি।

গবেষণার সীমানা:

হিজরি দ্বাদশ শতাব্দী; এটি সেই শতাব্দী যখন ইমাম শেখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) জীবিত ছিলেন।

গবেষণা পদ্ধতি:

"ঐতিহাসিক আরোহী পদ্ধতি"।

যেহেতু ঐতিহাসিক পদ্ধতির মাধ্যমে অতীতের ঘটনাবলিকে তাদের রেখে যাওয়া যেকোনো ধরনের নিদর্শনের ১ ভিত্তিতে বর্তমান সময়ে উপকারের লক্ষ্যে পুনরুদ্ধার করা হয়, তাই আমি মনে করেছি যে, আমার গবেষণার বিষয়ের জন্য এটিই সবচেয়ে উপযুক্ত পদ্ধতি। আমার গবেষণাটি অতীতের একজন সম্মানীত ব্যক্তিত্বকে নিয়ে আবর্তিত হয়েছে, মুসলিম বিশ্বে যাঁর গুরুত্ব অনস্বীকার্য; আর তিনি হলেন ইমাম শেখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)। কেননা আমি শেখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাবের (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) জীবনের ইহতিসাব দিকটি পর্যালোচনার মাধ্যমে বাস্তব ক্ষেত্রে তা থেকে উপকৃত হওয়ার প্রত্যাশা রাখি।

গবেষণার সমস্যা:

বর্তমানকালে মুসলিম উম্মাহ নানা বিচ্যুতিতে, বিশেষ করে আকিদাগত ক্ষেত্রে আক্রান্ত হয়েছে। অনেক বিদআত ও কুসংস্কারের আবির্ভাব ঘটেছে যা মুসলিমদের কাতারকে বিভক্ত করেছে এবং তাদের ঐক্যকে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। অনেক মুসলিম সমাজ সেই একই রোগে আক্রান্ত হয়েছে যাতে আক্রান্ত হয়েছিল...

--------------------------------------------

১- দেখুন: মানাহিদুল বাহসিল ইলমি (বৈজ্ঞানিক গবেষণা পদ্ধতি), পৃষ্ঠা ১৯, আব্দুর রহমান বাদাবি - কুয়েত মুদ্রণ সংস্থা - কুয়েত - ৩য় সংস্করণ, ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) ইহতিসাবুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) (পৃষ্ঠা: ١٣)
مجتمع الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله، لذلك أحببت إضافة شيء جديد في المكتبة الإسلامية يختص بدراسة جانب الاحتساب في حياة الشيخ الإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله دراسة تحليلية تبرز مكانته وجهوده رحمه الله في الحسبة لتكون مشاعل هادية في طريق المحتسبين.

تساؤلات البحث:

تتركز الأسئلة التي يسعى البحث للإجابة عنها في التساؤلات التالية:

1-ما الأحوال السائدة في عصر الشيخ الإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله؟

2-من هو الشيخ الإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله؟

3-ما صفات المحتسب عند الشيخ الإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله؟

4-ما شروط الاحتساب عند الشيخ الإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله؟

5-ما درجات الحسبة عند الشيخ الإمام محمد عبد الوهاب رحمه الله؟

6-كيف كان احتساب الشيخ الإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله عمليا في جوانب العقيدة؟

7-كيف كان احتساب الشيخ الإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله عمليا في بعض العبادات؟

8-كيف كان احتساب الشيخ الإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله عمليا في بعض المعاملات؟

9-كيف كان احتساب الشيخ الإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله عمليا في بعض الحدود؟

10-كيف كان احتساب الشيخ الإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله عمليا في بعض الآداب؟
শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর সমাজ; তাই আমি ইসলামি পাঠাগারে এমন নতুন কিছু যুক্ত করতে চেয়েছি যা ইমাম শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনে ইহতিসাব (সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ) বিষয়ের একটি বিশ্লেষণাত্মক অধ্যয়নের সাথে সংশ্লিষ্ট। এটি হিসবাহর ক্ষেত্রে তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) মর্যাদা ও প্রচেষ্টাসমূহকে ফুটিয়ে তুলবে যাতে তা ইহতিসাবকারীদের পথে পথপ্রদর্শক মশাল হয়ে থাকে।

গবেষণার প্রশ্নাবলি:

গবেষণাটি যেসব প্রশ্নের উত্তর দিতে সচেষ্ট তা মূলত নিম্নোক্ত প্রশ্নাবলির ওপর আলোকপাত করে:

১-শায়খ ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর যুগে প্রচলিত অবস্থাসমূহ কী ছিল?

২-শায়খ ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ) কে?

৩-শায়খ ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট মুহতাসিবের (সৎ কাজের আদেশ দাতার) গুণাবলি কী কী?

৪-শায়খ ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট ইহতিসাবের শর্তাবলি কী কী?

৫-শায়খ ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট হিসবাহর স্তরসমূহ কী কী?

৬-আকিদার বিষয়গুলোতে শায়খ ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর ইহতিসাব প্রায়োগিক দিক থেকে কেমন ছিল?

৭-কিছু ইবাদতের ক্ষেত্রে শায়খ ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর ইহতিসাব প্রায়োগিক দিক থেকে কেমন ছিল?

৮-কিছু মুয়ামালাত বা লেনদেনের ক্ষেত্রে শায়খ ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর ইহতিসাব প্রায়োগিক দিক থেকে কেমন ছিল?

৯-কিছু হুদূদ বা দণ্ডবিধির ক্ষেত্রে শায়খ ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর ইহতিসাব প্রায়োগিক দিক থেকে কেমন ছিল?

১০-কিছু আদব বা শিষ্টাচারের ক্ষেত্রে শায়খ ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর ইহতিসাব প্রায়োগিক দিক থেকে কেমন ছিল?
(খণ্ড: ১) ইহতিসাবুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) (পৃষ্ঠা: ١٤)
المنهج المتبع في الرسالة:

بتوفيق من الله سبحانه وتعالى سرت في رسالتي على المنهج التالي:

1- قمت بجمع المادة العلمية المتعلقة بهذا الموضوع حسب استطاعتي من مصادرها ومراجعها.

2-عند الحديث عن الاحتساب في حياة الشيخ كنت أعتمد على نقل النصوص أحيانا، وشرح غامضها إذا استدعى الأمر ذلك.

3- قمت بصياغة بعض النقول بأسلوبي والتصرف في النقل.

4-قمت بعزو الآيات القرآنية إلى سورها وأرقامها في المصحف الشريف.

5-قمت بتخريج الأحاديث النوبية من مظانها وذلك بذكر اسم المصدر ثم الكتاب فالباب ورقم الحديث- إن وجد- ثم الجزء والصفحة ثم اسم المؤلف.

6-إذا كان الحديث مما أخرجه البخاري أو مسلم اكتفيت بهما عن غيرهما في التخريج.

7-أما الأحاديث التي لم يروها الشيخان فقد اجتهدت في تخريجها من كتب الحديث المشهور وتتبعتها بحسب استطاعتي، ونقلت حكم أهل العلم عليها من أشهر أصحاب الصناعة الحديثية من المتقدمين والمتأخرين.

وقد حرصت على عدم الاستدلال إلا بالأحاديث الثابتة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم بالصحة أو الحسن.

8-ذكرت أوجه الاستدلال بالأدلة من الكتاب والسنة إذا لزم الأمر في غير النقول عن الشيخ.

9-خرجت الآثار التي أوردتها عن الصحابة والتابعين والسلف من المصنفات والكتب المختصة بها.
নিবন্ধে অনুসৃত পদ্ধতি:

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার তৌফিকে আমি আমার এই নিবন্ধে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:

১- আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী এই বিষয় সংশ্লিষ্ট জ্ঞানতাত্ত্বিক উপাদানগুলো সেগুলোর মূল উৎস ও রেফারেন্স থেকে সংগ্রহ করেছি।

২- শাইখের জীবনে ইহতিসাব (সংশোধন ও জবাবদিহিতা) সম্পর্কে আলোচনার সময় আমি কখনও কখনও মূল পাঠ উদ্ধৃত করার ওপর নির্ভর করেছি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করেছি।

৩- আমি কিছু উদ্ধৃতিকে নিজস্ব শৈলীতে পুনর্বিন্যাস করেছি এবং বর্ণনায় পরিমার্জন করেছি।

৪- আমি পবিত্র কুরআনের আয়াতগুলোকে সেগুলোর সূরা ও আয়াত নম্বর অনুযায়ী পবিত্র মুসহাফের সাথে সংশ্লিষ্ট করেছি।

৫- আমি নববী হাদিসগুলো সেগুলোর উৎসসমূহ থেকে তাখরিজ করেছি; এক্ষেত্রে মূল উৎসের নাম, তারপর কিতাব, এরপর অধ্যায় এবং হাদিস নম্বর (যদি থাকে), অতঃপর খণ্ড ও পৃষ্ঠা নম্বর এবং সবশেষে লেখকের নাম উল্লেখ করেছি।

৬- হাদিসটি যদি ইমাম বুখারি বা ইমাম মুসলিম বর্ণনা করে থাকেন, তবে তাখরিজের ক্ষেত্রে আমি অন্য সূত্রের পরিবর্তে তাঁদের ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছি।

৭- আর যে হাদিসগুলো শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) বর্ণনা করেননি, সেগুলো আমি প্রসিদ্ধ হাদিস গ্রন্থসমূহ থেকে বের করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি এবং সেগুলোর ওপর পূর্ববর্তী ও পরবর্তী যুগের বিখ্যাত হাদিস বিশারদদের প্রদত্ত বিধান উদ্ধৃত করেছি।

আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রমাণিত সহিহ অথবা হাসান হাদিস ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে দলিল পেশ না করার ব্যাপারে সচেষ্ট থেকেছি।

৮- শাইখের উদ্ধৃতিগুলো ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী কুরআন ও সুন্নাহর দলিল থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতিগুলো উল্লেখ করেছি।

৯- আমি সাহাবি, তাবেয়ি এবং সালাফদের থেকে বর্ণিত আছারসমূহ সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য গ্রন্থাবলি থেকে তাখরিজ করেছি।
(খণ্ড: ১) ইহতিসাবুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) (পৃষ্ঠা: ١٥)
10-عند الإحالة إلى المصادر والمراجع في الهوامش بدأت باسم الكتاب ثم الجزء والصفحة.

11-عند ذكر المصدر أو المرجع للمرة الأولى قمت بكتابة بيانات كاملة عن الكتاب تشمل اسم الكتاب واسم المؤلف واسم الناشر ومكان النشر ورقم الطبعة وتاريخها، وإذا تكرر وذكر الكتاب لأكثر من مرة اكتفيت بذكر اسم الكتاب فقط.

12-ترجمت لمعظم الأعلام من غير المشهورين –فيما أرى- والمعاصرين للشيخ الذين كان لهم نصيب في احتسابه رحمه الله ممن وجدت لهم تراجما، وإذا لم أجد لبعض التراجم ذكرا بعد اجتهادي في البحث والتقصي في الكتب المطبوعة أقول: لم أجده.

13-عرّفت بمعظم الأماكن والبلدان والكلمات المبهمة التي يستدعي المقام التعريف بها وعندما لا أجد لها تعريفا أقول: لم أجده.

14-وردت عبارات ركيكة أو غير مفهومة في بعض النقول وقد صوّبتها في الهامش.

15-وضعت الآيات القرآنية بين قوسين مميزين {} .

16-وضعت الأحاديث الشريفة بين قوسين صغيرين مزدوجين " ".

17-وضعت النقول عن الشيخ بين قوسين مستطيلين [] لتمييزها.

18-وضعت النقول عن غير الشيخ بين القوسين دائريين () .

19-عند الاختصار في النقل وضعت ثلاث نقاط … مكان الكلام المحذوف.

20-عند إضافة بعض العبارات للكلام المنقول وضعتها بين شرطتين - -.

21-عند الإحالة لمصدر أو مرجع تم الاقتباس منه8 ذكرت كلمة " أنظر".
১০-পাদটীকায় উৎস এবং রেফারেন্স উল্লেখ করার সময় আমি কিতাবের নাম দিয়ে শুরু করেছি, তারপর খণ্ড এবং পৃষ্ঠা নম্বর উল্লেখ করেছি।

১১-যখন কোনো উৎস বা রেফারেন্স প্রথমবার উল্লেখ করা হয়েছে, তখন আমি কিতাবটির পূর্ণ বিবরণ লিখেছি যার মধ্যে রয়েছে কিতাবের নাম, লেখকের নাম, প্রকাশকের নাম, প্রকাশের স্থান, সংস্করণ নম্বর এবং তারিখ; আর যদি কিতাবটি একাধিকবার উল্লেখ করা হয়, তবে শুধু কিতাবের নাম উল্লেখ করাই যথেষ্ট মনে করেছি।

১২-আমি অধিকাংশ অপরিচিত—আমার দৃষ্টিতে—এবং শাইখের সমসাময়িক ব্যক্তিবর্গ যাদের জীবনী খুঁজে পাওয়া গিয়েছে এবং যারা শাইখের (রহেমাহুল্লাহ) দাওয়াতি ও সংস্কারমূলক কাজে অংশীদার ছিলেন, তাদের জীবনী উল্লেখ করেছি। আর মুদ্রিত কিতাবসমূহে অনুসন্ধান ও গবেষণার পর যদি কারো জীবনী খুঁজে না পাই, তবে বলেছি: "আমি তাকে খুঁজে পাইনি।"

১৩-আমি অধিকাংশ স্থান, দেশ এবং অস্পষ্ট শব্দগুলোর পরিচয় দিয়েছি যেগুলোর পরিচয় দেওয়া প্রসঙ্গত প্রয়োজন মনে হয়েছে, আর যখন কোনোটির পরিচয় পাইনি তখন বলেছি: "আমি তা খুঁজে পাইনি।"

১৪-কিছু উদ্ধৃতিতে দুর্বল বা অবোধ্য বাক্য এসেছে যা আমি পাদটীকায় সংশোধন করে দিয়েছি।

১৫-কুরআনের আয়াতসমূহ আমি বিশেষ বন্ধনী {} -এর মাঝে রেখেছি।

১৬-হাদীস শরীফসমূহ আমি ছোট ডবল ইনভার্টেড কমা " " -এর মাঝে রেখেছি।

১৭-শাইখের উদ্ধৃতিসমূহ পৃথক করার জন্য আমি থার্ড ব্র্যাকেট বা তৃতীয় বন্ধনী [] -এর মাঝে রেখেছি।

১৮-শাইখ ব্যতীত অন্যদের উদ্ধৃতিসমূহ আমি ফার্স্ট ব্র্যাকেট বা প্রথম বন্ধনী () -এর মাঝে রেখেছি।

১৯-উদ্ধৃতি সংক্ষেপ করার ক্ষেত্রে আমি বাদ পড়া কথার স্থানে তিনটি বিন্দু … ব্যবহার করেছি।

২০-উদ্ধৃত কথার মাঝে অতিরিক্ত কোনো বাক্য যোগ করার ক্ষেত্রে আমি সেগুলোকে দুটি ড্যাশ - - -এর মাঝে রেখেছি।

২১-যে উৎস বা রেফারেন্স থেকে উদ্ধৃতি গ্রহণ করা হয়েছে তার দিকে নির্দেশ করতে আমি "দেখুন" শব্দটি উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) ইহতিসাবুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) (পৃষ্ঠা: ١٦)
قبل اسم المصدر أو المرجع.

22-إذا تصرفت في النقول ولو بشيء يسير ذكرت اسم المرجع والصفحة كلمة " بتصرف".

23- لم اقتصر على كلام الشيخ رحمه الله بل أيدته بأقوال اهل العلم المناسبة.

24-ذيلت الرسالة بخاتمة موجزة أجملت فيها أهم النتائج التي توصلت إليها من خلال البحث، ضمنتها عددا من التوصيات المهمة.

25-استخدمت بعض الرموز في الحاشية للتخفيف على الهوامش ومفاتحها على النحو التالي.

ص: الصفحة.

/: الجزء/الصفحة.

هـ: هامش.

ق: ورقة.

ك: كتاب.

ب: باب.

أ: أبواب.

ح: حديث.

ع: عدد.

ت: ترجمة.

ط: الطبعة.

ن: الناشر.

و: توزيع.

26
মূল উৎস বা তথ্যসূত্রের নামের পূর্বে।

২২-যদি আমি উদ্ধৃতিগুলোতে সামান্যতম পরিবর্তনও করে থাকি, তবে আমি তথ্যসূত্রের নাম এবং পৃষ্ঠার সাথে "পরিমার্জিত" শব্দটি উল্লেখ করেছি।

২৩- আমি কেবল শাইখের (রহিমাহুল্লাহ) বক্তব্যের ওপর সীমাবদ্ধ থাকিনি, বরং বিজ্ঞ আলেমদের উপযুক্ত বক্তব্যের মাধ্যমে তা সমর্থন করেছি।

২৪-আমি গবেষণাপত্রটি একটি সংক্ষিপ্ত উপসংহারের মাধ্যমে শেষ করেছি, যেখানে গবেষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরেছি এবং এতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করেছি।

২৫-পাদটীকা সংক্ষিপ্ত করার জন্য আমি সেখানে কিছু সংকেত ব্যবহার করেছি, যেগুলোর অর্থ নিম্নরূপ:

পৃ: পৃষ্ঠা।

/: খণ্ড/পৃষ্ঠা।

টী: পাদটীকা।

প: পত্র।

কি: কিতাব।

প: পরিচ্ছেদ।

প.সমূহ: পরিচ্ছেদসমূহ।

হা: হাদিস।

সং: সংখ্যা।

জী: জীবনী।

স: সংস্করণ।

প্র: প্রকাশক।

বি: পরিবেশক।

২৬
(খণ্ড: ১) ইহতিসাবুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) (পৃষ্ঠা: ١٧)
-وضعت في نهاية الرسالة فهرسا للآيات القرآنية ذكرت فيه طرف الآية كما وردت في متن الرسالة، وذكرت عند كل آية اسم السورة ورقم الآية.

وفهرسا للأحاديث للأعلام الواردة في متن الرسالة ذكرت فيه أسماء الأعلام من الجنسين، والكنى والألقاب والانساب.

وفهرسا للجماعات والطوائف والقبائل والفئات.

وآخر للبلدان والأماكن والمواقع، الوارد ذكرها في متن الرسالة.

كما وضعت فهرسا للأشعار ذكرت فيه البيت الأول من الشواهد والقصائد وقائله والقافية.

وضعت ثبتا للمصادر والمراجع التي استخدمته في الرسالة من الكتاب، ونظرا لتشعب البحث ازداد عدد المراجع.

وجميع تلك الفهارس رتبتها حسب الحروف المعجم.

وأخيرا وضعت فهرسا للموضوعات ذكرت فيه الفصول والمباحث والمطالب والفروع والمسائل الواردة في الرسالة.

تقسيم البحث:

اشتمل البحث على ثلاثة فصول:

1-الفصل التمهيدي: مجتمع الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله
আমি নিবন্ধের শেষে কুরআনের আয়াতসমূহের একটি নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি, যেখানে নিবন্ধের মূল পাঠে যেভাবে আয়াতাংশ উল্লেখ করা হয়েছে তা উল্লেখ করেছি এবং প্রতিটি আয়াতের সাথে সূরার নাম ও আয়াত নম্বর উল্লেখ করেছি।

এবং নিবন্ধের মূল পাঠে উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গের একটি নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি, যেখানে উভয় লিঙ্গের নাম, উপনাম, খেতাব এবং বংশপরিচয় উল্লেখ করেছি।

এবং বিভিন্ন গোষ্ঠী, দল, গোত্র ও সম্প্রদায়ের একটি নির্ঘণ্ট।

এবং নিবন্ধের মূল পাঠে উল্লেখিত দেশ, স্থান ও অবস্থানের জন্য আরেকটি নির্ঘণ্ট।

অনুরূপভাবে আমি কবিতার একটি নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি, যেখানে উদ্ধৃতি ও কাসিদাসমূহের প্রথম চরণ, কবির নাম এবং অন্ত্যমিল উল্লেখ করেছি।

আমি এই নিবন্ধে ব্যবহৃত গ্রন্থাদির উৎস ও তথ্যসূত্রের একটি তালিকা প্রণয়ন করেছি; গবেষণার পরিধি বিস্তৃত হওয়ার কারণে তথ্যসূত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

এবং এই সকল নির্ঘণ্ট আমি বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি।

সবশেষে আমি বিষয়বস্তুর একটি নির্ঘণ্ট যুক্ত করেছি, যেখানে নিবন্ধে বর্ণিত অধ্যায়, পরিচ্ছেদ, উপ-পরিচ্ছেদ, শাখা ও মাসয়ালাসমূহ উল্লেখ করেছি।

গবেষণার বিন্যাস:

গবেষণাটি তিনটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত:

১-প্রারম্ভিক অধ্যায়: শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সমাজ।
(খণ্ড: ১) ইহতিসাবুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) (পৃষ্ঠা: ١٨)
وحياته، وفيه مبحثان:

أ-المبحث الأول: مجتمع الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله.

ب-المبحث الثاني: ترجمة الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله.

2-الفصل الأول: الحسبة في فكر الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله وفيه ثلاثة مباحث:

أ- صفات المحتسب عند الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله.

ب- شروط الاحتساب عند الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله.

ج- درجات الاحتساب عند الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله.

3-الفصل الثاني: الحسبة العملية للشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله.

وفيه خمسة مباحث:

أ- احتسابه في العقيدة.

ب-احتسابه في العبادات.

ج-احتسابه في المعاملات.

د-احتسابه في الحدود.

هـ-احتسابه في الآداب.

ثم الخاتمة وفيها أهم النتائج والتوصيات.

وأخيرا: الفهارس وقد اشتملت على الآتي:

1- فهرس الآيات القرآنية.

2-فهرس الأحاديث النبوية.

3-فهرس الآثار.

4-فهرس الأعلام
এবং তাঁর জীবন, আর এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

ক- প্রথম পরিচ্ছেদ: শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর সমাজ।

খ- দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনী।

2-প্রথম অধ্যায়: শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর চিন্তাধারায় হিসবাহ, আর এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

ক- শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট মুহতাসিবের গুণাবলি।

খ- শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট ইহতিসাবের শর্তাবলি।

গ- শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট ইহতিসাবের স্তরসমূহ।

3-দ্বিতীয় অধ্যায়: শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর ব্যবহারিক হিসবাহ।

আর এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

ক- আকিদার ক্ষেত্রে তাঁর হিসবাহ।

খ- ইবাদতের ক্ষেত্রে তাঁর হিসবাহ।

গ- লেনদেনের ক্ষেত্রে তাঁর হিসবাহ।

ঘ- দণ্ডবিধির ক্ষেত্রে তাঁর হিসবাহ।

ঙ- শিষ্টাচারের ক্ষেত্রে তাঁর হিসবাহ।

অতঃপর উপসংহার, যাতে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল ও সুপারিশসমূহ।

এবং সবশেষে: নির্ঘণ্টসমূহ, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করেছে:

1- কুরআনের আয়াতসমূহের নির্ঘণ্ট।

2-হাদিসে নববীর নির্ঘণ্ট।

3-আছারের নির্ঘণ্ট।

4-ব্যক্তিবর্গের নির্ঘণ্ট
(খণ্ড: ১) ইহতিসাবুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) (পৃষ্ঠা: ١٩)
5-فهرس الجماعات والطوائف والقبائل والفئات.

6-فهرس البلدان والأماكن والمواقع.

7-فهرس الأشعار.

8-ثبت المصادر المراجع.

9-فهرس الموضوعات.

الشكر والتقدير:

استجابة لقوله سبحانه وتعالى: {وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكُمْ لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ} 1 فإنني أتوجه بالشكر والحمد والثناء كله لله عز وجل على ما أسبغه علي من نعم ظاهرة وباطنة لا أحصي لها عدا، والتي منها تيسيره وعونه على إنجاز هذه الرسالة.

فله الحمد جل وعلا في الأولى والآخرة حمدا يليق بجلاله وبعظيم سلطانه.

ومن شكر الله عز وجل شكر عباده على إحسانهم.

روى الأشعث بن قيس رضي الله عنه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال: "أشكر الناس لله أشكرهم للناس" 2 فمن هذا المنطلق أتقدم بخالص الشكر والتقدير

--------------------------------------------

1-سورة إبراهيم آية 7.

2-أخرجه الإمام أحمد في المسند وبهامشه منتخب كنز العمال في سنن الأقوال والأفعال – حديث الأشعث بن قيس الكندي رضي الله عنه من مسند الأنصار 5/212- ن 212- ن المكتب الإسلامي- بيروت ط/4-1403هـ- 1983م، وضياء الدين المقدسي في الأحاديث المختارة ح: "1490" من مسند الأشعث بن قيس رضي الله عنه4/306، دراسة وتحقيق عبد الملك بن عبد الله بن دهيش- ن مكتبة النهضة الحديثة- مكة المكرمة- ط/1-1411هـ-1991م، كما أخرجه عن أسامة بن زيد الطبراني في المعجم الكبير 1/171-ح: " 425" حققه وخرج احاديثه حمدي بن عبد المجيد السلفي- ن مكتبة ابن تيمية- القاهرة، والبيهقي في الشعب الإيمان 6/516- ع: " 9118" تحقيق أبي هاجر محمد زغلول- ن دار الكتب العلمية- بيروت لبنان- ط/1-1410هـ-1990م، وابن عدي في الكامل في ضعفاء الرجال 5/337- ع: "525" من اسمه عبد المنعم- ن دار الفكر – بيروت- لبنان- ط/3" السبت 1/محرم 1409هـ - 13 آب 1988م" وقال في عبد المنعم بن نعيم أبو سعيد أحد الرواة الحديث: وعبد المنعم هذا هو قليل الحديث، وقال الهيثمي: رجال أحمد ثقات " مجمع الزوائد ومنبع الفوائد 8/180- ن دار الكتب العلمية- بيروت – لبنان- ط/1408-=
৫-দল, উপদল, গোত্র ও শ্রেণিসমূহের নির্ঘণ্ট।

৬-দেশ, স্থান ও অঞ্চলের নির্ঘণ্ট।

৭-কবিতার নির্ঘণ্ট।

৮-উৎস ও তথ্যসূত্র তালিকা।

৯-বিষয়সূচি।

কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন:

মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতি সাড়া দিয়ে: {এবং যখন তোমাদের প্রতিপালক ঘোষণা করলেন যে, যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করো তবে অবশ্যই আমি তোমাদের বাড়িয়ে দেব} ১ আমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর নিকট সমস্ত শুকরিয়া, প্রশংসা ও গুণকীর্তন পেশ করছি, তিনি আমাকে যে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অগণিত নেয়ামত দান করেছেন তার জন্য, যা আমি গণনা করে শেষ করতে পারব না, যার অন্যতম হলো এই অভিসন্দর্ভটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে তাঁর সহজীকরণ ও সাহায্য।

সুতরাং দুনিয়া ও আখেরাতে মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহরই সকল প্রশংসা; এমন প্রশংসা যা তাঁর মর্যাদা ও সুমহান রাজত্বের উপযুক্ত।

আর মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের অন্তর্ভুক্ত হলো মানুষের ইহসানের জন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা।

আশ'আস ইবনে কাইস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: "মানুষের মধ্যে আল্লাহর প্রতি সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞ সেই ব্যক্তি, যে মানুষের প্রতি সবচেয়ে বেশি কৃতজ্ঞ।" ২ সেই প্রেক্ষিতে আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ পেশ করছি

--------------------------------------------

১- সূরা ইবরাহীম, আয়াত ৭।

২-ইমাম আহমাদ এটি মুসনাদ গ্রন্থে সংকলন করেছেন এবং এর টীকায় 'মুনতাখাব কানযুল উম্মাল ফী সুনানিল আকওয়াল ওয়াল আফআল' রয়েছে - আশ'আস ইবনে কাইস আল-কিন্দী (রাযি.)-এর হাদীস, মুসনাদুল আনসার ৫/২১২- প্রকাশনা: আল-মাকতাবুল ইসলামী- বৈরুত, ৪র্থ সংস্করণ- ১৪০৩ হি.- ১৯৮৩ খ্রি.। যিয়াউদ্দীন আল-মাকদিসী তাঁর 'আল-আহাদীসুল মুখতারা' গ্রন্থে, হাদীস নং: ১৪৯০, আশ'আস ইবনে কাইস (রাযি.)-এর মুসনাদ থেকে ৪/৩০৬, গবেষণা ও তাহকীক: আব্দুল মালিক ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে দুহাইশ- প্রকাশনা: মাকতাবাতুন নাহদাতিল হাদীসাহ- মক্কা মুকাররমা- ১ম সংস্করণ- ১৪১১ হি.- ১৯৯১ খ্রি.। তদ্রূপ উসামা ইবনে যায়েদ থেকে তাবারানী এটি 'আল-মু'জামুল কাবীর' গ্রন্থে ১/১৭১- হাদীস নং: ৪২৫ এ সংকলন করেছেন, এটি তাহকীক ও তাখরীজ করেছেন হামদী বিন আব্দুল মাজীদ আস-সালাফী- প্রকাশনা: মাকতাবাতু ইবনে তাইমিয়্যাহ- কায়রো। বাইহাকী এটি 'শুআবুল ঈমান' গ্রন্থে ৬/৫১৬- হাদীস নং: ৯১১৮ এ বর্ণনা করেছেন, তাহকীক: আবু হাজার মুহাম্মাদ যাগলুল- প্রকাশনা: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ- বৈরুত, লেবানন- ১ম সংস্করণ- ১৪১০ হি.- ১৯৯০ খ্রি.। এবং ইবনে আদী এটি 'আল-কামিল ফী দুয়াফাউর রিজাল' গ্রন্থে ৫/৩৩৭- নং: ৫২৫ এ বর্ণনা করেছেন যার নাম আব্দুল মুনইম - প্রকাশনা: দারুল ফিকর- বৈরুত, লেবানন- ৩য় সংস্করণ- শনিবার ১ মুহররম ১৪০৯ হি. - ১৩ আগস্ট ১৯৮৮ খ্রি.। তিনি হাদীসের অন্যতম বর্ণনাকারী আব্দুল মুনইম বিন নুয়াইম আবু সাঈদ সম্পর্কে বলেছেন: এই আব্দুল মুনইম স্বল্প হাদীস বর্ণনাকারী। আল-হাইসামী বলেছেন: আহমাদ-এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য - 'মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ' ৮/১৮০- প্রকাশনা: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ- বৈরুত, লেবানন- সংস্করণ ১৪০৮ হি.।
(খণ্ড: ১) ইহতিসাবুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) (পৃষ্ঠা: ٢٠)
لوالدي الكريمين اللذين كان لهما أبلغ الأثر في تنشئتي وتوجيهي لطلب العلم والسعي لتحصيله منذ صغر، سائلة الله عز وجل أن يمد في عمريهما على طاعته وأن يجعل كل حرف في هذه الرسالة في ميزان حسناتهما.

ثم الشكر والعرفان لزوجي عادل بن طاهر المقبل الذي كان بتأييده وتشجيعه المستمر لي نعم المعين بعد الله عز وجل، فجزاه الله عني خير الجزاء.

وأخص بشكري وتقديري فضيلة الدكتور عبد الله بن محمد الرشيد الأستاذ المساعد بقسم الدعوة والاحتساب والمشرف على رسالتي، الذي كان قمة في العطاء، فلم يدخر وسعا في بذل التوجيه المستمر والنقد البناء طوال سنوات البحث بصدر رحب وخلق كريم، أسأل الله عز وجل أن يجعل ما قدمه لي من عون دؤوب في ميزان حسناته، كما أشكر أهل بيته الكرام الذين ضربوا أروع مثل في حسن التعامل ونبل الأخلاق.

كما أرفع شكري لجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية عامة وكلية الدعوة والإعلام فيها خاصة، ممثلة في فضيلة عميدها ووكيلها وأعضاء مجلس الكلية الموقرين، فضيلة رئيس ووكيل قسم الدعوة والاحتساب وأعضاء مجلس القسم، وكافة الأساتذة الفضلاء على حسن توجيههم.

ولا أنسى أن أشكر فضيلة الدكتور أحمد بن محمد أبابطين رئيس قسم الدعوة والاحتساب الذي كان مشرفا موجها لي في مرحلة إعداد المخطط الأولي للبحث على ما بذله معي من جهود متواصلة حينئذ.

كما أشكر كلا من فضيلة أستاذي الدكتور فضل إلهي بن شيخ ظهور

--------------------------------------------

=1988م" وصححه الألباني في صحيح الجامع الصغير وزيادته 1/337- ح: "1019" – المكتب الإسلامي- ط/1-1388هـ-1969م.
আমার পরম শ্রদ্ধেয় পিতামাতার প্রতি, যাদের প্রভাব আমার লালন-পালন এবং শৈশব থেকেই জ্ঞান অন্বেষণ ও তা অর্জনের প্রচেষ্টায় আমাকে দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ছিল। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁর আনুগত্যের পথে তাঁদের দীর্ঘায়ু দান করেন এবং এই গবেষণাপত্রের প্রতিটি অক্ষরকে তাঁদের নেক আমলের পাল্লায় গণ্য করেন।

অতঃপর আমার স্বামী আদিল বিন তাহির আল-মুকবিলের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি জ্ঞাপন করছি, যিনি তাঁর অবিরাম সমর্থন ও উৎসাহের মাধ্যমে আল্লাহর পরে আমার জন্য সর্বোত্তম সাহায্যকারী ছিলেন। আল্লাহ তাকে আমার পক্ষ থেকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।

আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই শ্রদ্ধেয় ডক্টর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-রাশিদকে, যিনি দাওয়াহ ও ইহতিসাব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং আমার এই গবেষণাপত্রের তত্ত্বাবধায়ক। তিনি উদারতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত ছিলেন; গবেষণার দীর্ঘ বছরগুলোতে তিনি প্রশস্ত চিত্ত ও মহৎ চরিত্রের সাথে নিরবচ্ছিন্ন নির্দেশনা এবং গঠনমূলক সমালোচনা প্রদানে কোনো কার্পণ্য করেননি। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমার প্রতি তাঁর এই অক্লান্ত সহযোগিতাকে তাঁর নেক আমলের পাল্লায় যুক্ত করেন। সেই সাথে আমি তাঁর পরিবারের সম্মানিত সদস্যদেরও ধন্যবাদ জানাই, যারা সদাচরণ ও উন্নত চরিত্রের এক চমৎকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

আমি আরও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি সামগ্রিকভাবে ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশেষভাবে এর দাওয়াহ ও মিডিয়া অনুষদের প্রতি, যার প্রতিনিধিত্ব করছেন এর শ্রদ্ধেয় ডিন, ডেপুটি ডিন এবং অনুষদ পরিষদের সম্মানিত সদস্যবৃন্দ। এছাড়া দাওয়াহ ও ইহতিসাব বিভাগের প্রধান ও উপ-প্রধান, বিভাগীয় পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং সকল শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের প্রতি তাঁদের সুনিপুণ দিকনির্দেশনার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই।

আমি শ্রদ্ধেয় ডক্টর আহমদ বিন মুহাম্মদ আবু বাতিনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভুলছি না, যিনি দাওয়াহ ও ইহতিসাব বিভাগের প্রধান। তিনি গবেষণার প্রাথমিক রূপরেখা তৈরির পর্যায়ে আমার তত্ত্বাবধায়ক ও নির্দেশক হিসেবে সেই সময়ে আমার সাথে যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন, তার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ।

আমি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ডক্টর ফজল ইলাহী বিন শেখ জুহুর-এর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

--------------------------------------------

=১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দ এবং আলবানী একে সহীহ আল-জামি আস-সগির ওয়া যিয়াদাতুহু ১/৩৩৭- হাদীস নং: "১০১৯"- এ সহীহ বলেছেন। আল-মাকতাব আল-ইসলামী - ১ম সংস্করণ - ১৩৮৮ হিজরী - ১৯৬৯ খ্রিষ্টাব্দ।
(খণ্ড: ১) ইহতিসাবুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) (পৃষ্ঠা: ٢١)
إلهي الأستاذ المشارك بقسم الدعوة والاحتساب، وفضيلة الدكتور حمد بن ناصر العمار وكيل كلية الدعوة والإعلام والأستاذ المشارك بقسم الدعوة والاحتساب على تكريمهما بالموافقة على مناقشة هذه الرسالة وتقييمها رغم تعدد مشاغلهما، فأسأل الله عز وجل أن يبارك لهما في علمهما وعملهما وأن يجزل لهما الأجر والمثوبة.

كذلك أشكر المسئولين في جامعة الملك سعود على إتاحتهم الفرصة لطالبات الدراسات العليا في شتى الجامعات للإستفادة من مكتباتهاالعامرة.

كما أشكر القائمين على مكتبة الملك عبد العزيز على ما يقدمونه من خدمات جليلة لطلاب العلم وطالباته.

ولا يفوتني أن أسجل كلمة شكر للمسؤولين في الرئاسة العامة لتعليم البنات على تيسيرهم سبيل إكمال الدراسات العليا لمنسوباتها لكوني واحدة منهن.

وفي هذا المقام أقدم امتناني وشكري لكل من أسدى إلي معروفا، أو قدم لي عونا بمشورة، أو معلومة، أو كتاب زودني به إما إهداء أو إعارة أو تصوير، وعلى رأسهم فضيلة الشيخ الوالد: إبراهيم بن عبد الله الغيث وكيل الرئيس العام لهيئات الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر نفع الله بعلمه وجهوده وجعله منارا للهدى، والشيخ عبد العزيز بن محمد السدحان أيده الله وسدد خطاه والأخ إسحاق بن عبد الله العوضي وحرمه وفقهما الله.

وغيرهم كثير من الإخوة في الله والأخوات اعتذر عن حصر أسمائهم لضيق المقام ولا أملك لهم إلا الدعاء في ظهر الغيب، كما أشكر بناتي اللاتي تكبدن معي عناء الطريق.

واستجابة لحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم الذي رواه عنه أسامة بن زيد رضي الله عنه أنه قال:
দাওয়াহ ও ইহতিসাব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং দাওয়াহ ও মিডিয়া অনুষদের ভাইস ডিন ও দাওয়াহ ও ইহতিসাব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শ্রদ্ধেয় ডক্টর হামদ বিন নাসির আল-আম্মারকে তাঁদের অসংখ্য ব্যস্ততা সত্ত্বেও এই গবেষণাপত্রটি আলোচনা ও মূল্যায়নের প্রস্তাবে সম্মত হয়ে আমাকে সম্মানিত করার জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই। আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁদের ইলম ও আমলে বরকত দান করেন এবং তাঁদেরকে সর্বোত্তম প্রতিদান ও সওয়াব প্রদান করেন।

অনুরূপভাবে, আমি কিং সাউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষার ছাত্রীদের জন্য তাঁদের সমৃদ্ধ পাঠাগারসমূহ থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য।

কিং আব্দুল আজিজ লাইব্রেরির দায়িত্বশীলদেরও আমি ধন্যবাদ জানাই জ্ঞানপিপাসু ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি তাঁদের মহান সেবার জন্য।

নারী শিক্ষার জেনারেল প্রেসিডেন্সির কর্মকর্তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি তাঁদের নারী কর্মীদের জন্য উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পথ সহজ করে দেওয়ার জন্য, যেহেতু আমি তাঁদেরই একজন।

এই পর্যায়ে আমি আমার কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি সেই সকল ব্যক্তির প্রতি যারা আমাকে অনুগ্রহ করেছেন, পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করেছেন, কোনো তথ্য প্রদান করেছেন অথবা কোনো বই উপহার, ধার কিংবা ফটোকপি করে দিয়ে সাহায্য করেছেন। তাঁদের শীর্ষে রয়েছেন শ্রদ্ধেয় শায়খ ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহ আল-গাইস, যিনি সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধকারী সংস্থার জেনারেল প্রেসিডেন্টের ভাইস প্রধান; আল্লাহ তাঁর ইলম ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে উম্মাহর কল্যাণ করুন এবং তাঁকে হিদায়াতের আলোকবর্তিকা বানান। আরও রয়েছেন শায়খ আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আস-সাদহান, আল্লাহ তাঁকে সমর্থন করুন ও তাঁর পথকে সঠিক রাখুন; এবং ভাই ইসহাক বিন আব্দুল্লাহ আল-আওয়াদী ও তাঁর স্ত্রী, আল্লাহ তাঁদের তাওফিক দান করুন।

এ ছাড়াও আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আরও অনেক ভাই ও বোন রয়েছেন যাদের নাম স্থানের সংকীর্ণতার কারণে উল্লেখ করতে পারছি না। তাঁদের জন্য অগোচরে দোয়া করা ছাড়া আমার আর কিছু করার নেই। সেই সাথে আমি আমার কন্যাদেরও ধন্যবাদ জানাই যারা এই দীর্ঘ সফরের কষ্টসমূহ আমার সাথে সহ্য করেছে।

আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই হাদীসের অনুসরণে যা উসামা বিন জায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) ইহতিসাবুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) (পৃষ্ঠা: ٢٢)
"من صنع إليه معروف فقال لفاعله جزاك الله خيرا فقد أبلغ في الثناء" 1 لا يسعني إلا أن أقول للجميع جزاكم الله خيرا.

وختاما فإن هذه الرسالة كغيرها من أعمال البشر لا تخلوا من الزلل والقصور فالكمال لله وحده دون سواه، فما كان فيها من حق وصواب فمن توفيق الله وحده لا شريك له لا أحصي ثناء عليه.

وما كان فيها من زلل ونقصان فمن نفسي والشيطان والله ورسوله منه بريئان وأسأله جل وعلا العفو والغفران.

وحسبي أنني اجتهدت وبذلت فيها وسعي، والله المستعان.

وأسأل الله عز وجل أن يجعلها خالصة لوجهه الكريم، وأن يجعلها عملا صالحا وعلما ينتفع به في حياتي وبعد مماتي.

{رَبِّ أَوْزِعْنِي أَنْ أَشْكُرَ نِعْمَتَكَ الَّتِي أَنْعَمْتَ عَلَيَّ وَعَلَى وَالِدَيَّ وَأَنْ أَعْمَلَ صَالِحاً تَرْضَاهُ وَأَدْخِلْنِي بِرَحْمَتِكَ فِي عِبَادِكَ الصَّالِحِينَ} 2 آمين.

--------------------------------------------

1-أخرجه الترمذي " سنن الترمذي وهو الجامع الصحيح- ك: البر-ب: ما جاء في الثناء بالمعروف 3/256- ح: "2104"، وأشرف على طبعه وراجع أصوله وصححه عبد الرحمن محمد عثمان- ن محمد عبد المحسن التركي- المكتبة السلفية بالمدينة المنورة- ط/مطبعة الفجالة الجديدة"، وابن حبان " الإحسان بترتيب صحيح ابن حبان- ك: الزكاة- ب: المسألأة والأخذ وما يتعلق به المكافأة والثناء والشكر 5/174- ح: "3404" ن دار الكتب العلمية- بيروت- لبنان- ط/1-1407هـ-1987م – بيروت"، وصححه الألباني في صحيح سنن الترمذي باختصار السند 2/200- ح: "1657"- ن مكتب التربية العربي لدول الخليج- ط/1408هـ-1988م"، والمكتب الإسلامي –بيروت.

2-جزء من الآية 15 من سورة الأحقاف.
"যাকে কোনো অনুগ্রহ করা হলো এবং সে তার অনুগ্রহকারীকে বলল, 'আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন', তবে সে প্রশংসার চূড়ান্ত করল।" ১ আমি সকলকে কেবল 'আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দিন' বলা ছাড়া আর কিছুই করতে পারছি না।

পরিশেষে, মানুষের অন্যান্য কাজের মতো এই পুস্তিকাটিও ভুলত্রুটি এবং সীমাবদ্ধতা মুক্ত নয়। কারণ পূর্ণতা কেবল অংশীদারহীন একমাত্র আল্লাহর জন্যই নির্দিষ্ট, তিনি ছাড়া অন্য কেউ পূর্ণ নয়। সুতরাং এতে যা কিছু সত্য ও সঠিক রয়েছে, তা কেবল অংশীদারহীন একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে তাওফীকস্বরূপ; আমি তাঁর প্রশংসা গণনা করে শেষ করতে পারব না।

আর এতে যে সকল ভুল ও অসম্পূর্ণতা রয়েছে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে, আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তা থেকে মুক্ত। আমি মহান ও সুউচ্চ আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও মার্জনা প্রার্থনা করছি।

আমার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, আমি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়েছি এবং এতে আমার সাধ্যানুযায়ী শ্রম ব্যয় করেছি; আর আল্লাহই সাহায্যকারী।

আমি পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যে, তিনি যেন একে কেবল তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, এবং একে একটি নেক আমল ও এমন ইলম (জ্ঞান) হিসেবে গণ্য করেন যার দ্বারা আমার জীবনে ও মৃত্যুর পরে মানুষ উপকৃত হতে পারে।

"হে আমার রব! আপনি আমাকে সামর্থ্য দিন যাতে আমি আপনার সেই নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করতে পারি যা আপনি আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে দান করেছেন, এবং যাতে আমি এমন নেক আমল করতে পারি যা আপনি পছন্দ করেন; আর আপনার রহমতে আমাকে আপনার নেককার বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন।" ২ আমীন।

--------------------------------------------

১- তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন: "সুনানুত তিরমিযী যা আল-জামি' আস-সহীহ নামে পরিচিত- কিতাব: আল-বিরর- পরিচ্ছেদ: যা অনুগ্রহের প্রশংসা সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে ৩/২৫৬- হাদীস নং: ২১০৪; এর মুদ্রণ তত্ত্বাবধান করেছেন এবং এর মূল পাণ্ডুলিপি পর্যালোচনা ও সংশোধন করেছেন আবদুর রহমান মুহাম্মদ উসমান- প্রকাশক: মুহাম্মদ আবদুল মুহসিন আত-তুর্কী- আল-মাকতাবাতুস সালাফিয়্যাহ, মদীনা মুনাওয়ারা- মুদ্রণ: মাতবাআতুল ফাজ্জালাহ আল-জাদীদাহ।" এবং ইবনে হিব্বান: "আল-ইহসান বি-তারতীবী সহীহ ইবনে হিব্বান- কিতাব: যাকাত- পরিচ্ছেদ: যাঞ্চা ও গ্রহণ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট প্রতিদান, প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা ৫/১৭৪- হাদীস নং: ৩৪০৪; প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ- বৈরুত- লেবানন- ১ম সংস্করণ/১৪০৭ হিজরী- ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দ।" আলবানী এটিকে সহীহ সুনানুত তিরমিযীতে সনদের সংক্ষিপ্তসারসহ সহীহ বলেছেন ২/২০০- হাদীস নং: ১৬৫৭- প্রকাশক: মাকতাবাতুত তারবিয়াহ আল-আরাবী লি-দুওয়ালিল খালিজ- ১৪০৮ হিজরী- ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দ, এবং আল-মাকতাবুল ইসলামী- বৈরুত।

২-সূরা আল-আহকাফের ১৫ নং আয়াতের অংশবিশেষ।
(খণ্ড: ১) ইহতিসাবুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌‌‌الفصل التمهيدي: مجتمع الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله وحياته.

الفصل التمهيدي: مجتمع الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله.

‌‌المطلب الأول: الأحوال السياسية

…

الفصل التمهيدي: مجتمع الشيخ محمد عبد الوهاب رحمه الله وحياته.

ويشمل هذا الفصل على مبحثين:

المبحث الأول: مجتمع السيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله وفيه أربعة مطالب:

المطلب الأول: الأحوال السياسية.

المطلب الثاني: الأحوال الدينية.

المطلب الثالث: الأحوال الاجتماعية.

المطلب الرابع: الأحوال العلمية.

المبحث الثاني: ترجمة الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله وفيه أربعة مطالب:

المطلب الأول: مولده ونسبه ونشأته رحمه الله.

المطلب الثاني: رحالاته لطلب العلم وشيوخه رحمه الله.

المطلب الثالث: تلاميذه ومؤلفاته وثناء العلماء عليه رحمه الله.

المطلب الرابع: وفاته ومرثياته رحمه الله.
‌‌‌প্রারম্ভিক অধ্যায়: শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সমাজ ও তাঁর জীবন.

প্রারম্ভিক অধ্যায়: শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সমাজ।

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: রাজনৈতিক অবস্থা

…

প্রারম্ভিক অধ্যায়: শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সমাজ ও তাঁর জীবন।

এই অধ্যায়টি দুটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর সমাজ এবং এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: রাজনৈতিক অবস্থা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ধর্মীয় অবস্থা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: সামাজিক অবস্থা।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: ইলমি অবস্থা।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর জীবনী এবং এতে চারটি অনুচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: তাঁর জন্ম, বংশপরিচয় ও বেড়ে ওঠা (রাহিমাহুল্লাহ)।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ইলম অন্বেষণে তাঁর সফরসমূহ ও তাঁর শিক্ষকবৃন্দ (রাহিমাহুল্লাহ)।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর ছাত্রবৃন্দ, তাঁর রচনাবলী এবং তাঁর প্রশংসায় ওলামায়ে কেরামের উক্তি (রাহিমাহুল্লাহ)।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: তাঁর মৃত্যু ও তাঁর স্মরণে রচিত শোকগাঁথা (রাহিমাহুল্লাহ)।
(খণ্ড: ১) ইহতিসাবুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) (পৃষ্ঠা: ٢٤)
المبحث الأول: مجتمع الشيخ محمد عبد الوهاب رحمه الله

المطلب الأول: الأحوال السياسية:

في القرن الثالث الهجري قامت في منطقة نجد دولة مستقلة عن دولة الخلافة العباسية يطلق عليها الدولة الأخيضرية" 1 والتي أسسها في اليمامة " محمد الأخيضر" في آخر سنة " 252هـ866م" 2 - والأخيضريون ذوو شوكة ومن فرقة الزيدية 3 يقولون في الأذان: محمد وعلي خير البشر، وحي على خير العمل 4 ، واستمر ملكهم على اليمامة إلى أن غلبهم القرامطة 5 في زمن أميرهم محمد السابع والأخير، وذلك سنة " 350هـ"

--------------------------------------------

1-دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب وأثرها في العالم الإسلامي ص17، الدكتور محمد بن عبد الله بن سليمان السلمان- ن دار البخاري- بريدة- لرياض- ط/ 1407-1408هـ-1987-1988م.

2-انظر تاريخ ابن خلدون المسمى بكتاب العبر وديوان المبتدأ والخبر في أيام العرب والعجم والبربر ومن عاصرهم من ذوي السلطان الأكبر 4/98 للعلامة عبد الرحمن بن محمد بن خلدون- ن دار إحياء التراث العربي- مؤسسة التاريخ العربي- بيروت – لبنان- 1391-1971م.

3-الزيدية من الرافضة " انظر الفرق بين الفِرق ص 22 تأليف صدر الإسلام عبد القهار بن طاهر الإسفرائيني- ن دار المعرفة – بيروت" وهم يدعون اتباع زيد بن علي بن الحسين بن علي بن أبي طالب رضي الله عنهم ساقوا الإمامة في أولاد فاطمة رضي الله عنها، ولم يجوزا ثبوت الإمامة في غيرهم … وطعنت الزيدية في الصحابة طعن الإمامية، انظر موسوعة الملل والنحل 1/154 تأليف محمد بن عبد الكريم الشهرستاني، تحقيق محمد سيد كيلاني- ن دار المعرفة – بيروت- لبنان- دار الباز- مكة المكرمة.

4- انظر عقيدة الشيخ محمد بن عبد الوهاب السلفية وأثرها في العالم الإسلامي ص 22- د/ صالح بن عبد الله العبود- ط: الأولى – مطابع الجامعة الإسلامية بالمدينة المنورة 1408هـ.

5-انظر تاريخ ابن خلدون المسمى بكتاب العبر وديوان المبتدأ والخبر في أيام العرب والعجم والبربر ومن عاصرهم من ذوي االسلطان الأكبر 4/99.
প্রথম পরিচ্ছেদ: শায়খ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর সমাজ

প্রথম অনুচ্ছেদ: রাজনৈতিক অবস্থাসমূহ:

হিজরি তৃতীয় শতাব্দীতে নজদ অঞ্চলে আব্বাসীয় খিলাফত থেকে স্বতন্ত্র একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যাকে "উখাইদিরিয়া রাষ্ট্র" ১ বলা হয়। এটি ইয়ামামায় "মুহাম্মদ আল-উখাইদির" ২৫২ হিজরি তথা ৮৬ খ্রিস্টাব্দের শেষভাগে প্রতিষ্ঠা করেন। ২ উখাইদিরিগণ ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী এবং তারা যায়দিয়া ৩ সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিল। তারা আযানে বলত: "মুহাম্মদ ও আলী মানবজাতির শ্রেষ্ঠ, এবং এসো সর্বোত্তম কাজের দিকে"। ৪ ইয়ামামায় তাদের রাজত্ব অব্যাহত ছিল যতক্ষণ না তাদের সপ্তম ও শেষ আমির মুহাম্মদের যুগে ৩৫০ হিজরিতে কারামাতিরা ৫ তাদের পরাজিত করে।

--------------------------------------------

১- শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের দাওয়াত এবং মুসলিম বিশ্বে এর প্রভাব, পৃষ্ঠা ১৭, ড. মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান আস-সালমান- দারুল বুখারি- বুরাইদাহ- রিয়াদ- সংস্করণ: ১৪০৭-১৪০৮ হিজরি/১৯৮৭-১৯৮৮ খ্রিস্টাব্দ।

২-দেখুন: ইবনে খালদুনের ইতিহাস, যার নাম ‘কিতাবুল ইবার ওয়া দিওয়ানুল মুবতাদা ওয়াল খাবার ফি আইয়ামিল আরাবি ওয়াল আজামি ওয়াল বারবারি ওয়া মান আসাহুম মিন যাউয়িস সুলতানিল আকবার’ ৪/৯৮, আল্লামা আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন খালদুন- দারু ইহয়ায়িত তুরাসিল আরাবি- মুয়াসসাসাতুত তারিখিল আরাবি- বৈরুত- লেবানন- ১৩৯১ হিজরি/১৯৭১ খ্রিস্টাব্দ।

৩-যায়দিয়াগণ রাফেজিদের অন্তর্ভুক্ত। দেখুন: ‘আল-ফারকু বাইনাল ফিরাক’ (ফিরকাসমূহের মধ্যে পার্থক্য), পৃষ্ঠা ২২, রচয়িতা: সদরুল ইসলাম আব্দুল কাহির বিন তাহির আল-ইসফরাইনি- দারুল মা'রিফা- বৈরুত। তারা জায়েদ বিন আলী বিন হুসাইন বিন আলী বিন আবু তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর অনুসরণের দাবি করে। তারা ইমামতকে ফাতিমা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর সন্তানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখেছে এবং অন্যদের জন্য ইমামতের বৈধতা অস্বীকার করে... এবং যায়দিয়ারা সাহাবায়ে কেরামের সমালোচনায় ইমামীয়াদের মতোই আক্রমণাত্মক। দেখুন: ‘মাওসুআতুল মিলাল ওয়ান নিহাল’ (ধর্মাদর্শ ও মতবাদসমূহের বিশ্বকোষ) ১/১৫৪, রচয়িতা: মুহাম্মদ বিন আব্দুল কারিম আশ-শাহরাস্তানি, সম্পাদনা: মুহাম্মদ সাইয়্যেদ কাইলানি- দারুল মা'রিফা- বৈরুত- লেবানন- দারুল বায- মক্কা মুকাররমা।

৪- দেখুন: শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাবের সালাফি আকিদা এবং মুসলিম বিশ্বে এর প্রভাব, পৃষ্ঠা ২২- ড. সালিহ বিন আব্দুল্লাহ আল-আবুদ- প্রথম সংস্করণ- মদিনা ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের মুদ্রণালয়, ১৪০৮ হিজরি।

৫-দেখুন: ইবনে খালদুনের ইতিহাস, যার নাম ‘কিতাবুল ইবার ওয়া দিওয়ানুল মুবতাদা ওয়াল খাবার ফি আইয়ামিল আরাবি ওয়াল আজামি ওয়াল বারবারি ওয়া মান আসাহুম মিন যাউয়িস সুলতানিল আকবার’ ৪/৯৯।
(খণ্ড: ১) ইহতিসাবুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) (পৃষ্ঠা: ٢٥)
وبذلك انقرضت دولة بني أخيضير 1 - تلك الدولة التي اعتمت خلال قيامها سماء المنطقة من المعلومات المتكاملة تاريخيا للهم إلا النزر اليسير 2.

وبسقوط الدولة الأخيضرية أصبحت بلاد نجد مجزأة إلى إمارات صغيرة يرتبط بعضها بالدويلات التي قامت في منطقة الأحساء: منها الدولة العيونية 3 عام "467هـ" الموافق لعام " 1074م" إلى عام "642هـ الموافق لعام "1244م" والتي قامت في البحرين في الأحساء مسقطة لدولة القرامطة 4.

ودولة بني عامر بن عقيل من عام 642هـ الموافق لعام "1244هـ" إلى عام 933هـ الموافق لعام 1526م بالبحرين 5.

ثم دولة بني خالد التي قامت عام "1081هـ" الموافق لعام " 1680م" إلى عام " 1208" الموافق لعام " 1793م" 6.

وبزوال الأخيضريين لم تحكم اليمامة حكما قويا، ولم تقم أية دولة ذات شأن ليهتم المؤرخون بأمرها 7، والفترة منذ ذلك الوقت إلى أن حطم

--------------------------------------------

1-انظر الدولة الإسلامية- يبحث عن 181 دولة إسلامية – 1/227 تأليف ستانلي لين بول مع إضافات وتصحيحات بارتولد وخليل أدهم، نقله من التركية إلى العربية محمد صبحي خرزات، أشرف على ترجمته وعلق عليه محمد أحمد دهمان- ن مكتب الدراسات الإسلامية بدمشق.

2-نجد قبل 250 سنة ص 9 تأليف الدكتور محمد الشويعر- ن إصدارات النخيل " 1412هـ- 1992" ط/ مطابع الفرزدق- الرياض.

3- دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب وأثرها في العالم الإسلامي ص 1ذ7 بتصرف يسير.

4- انظر منطقة الأحساء عبر أطوار التاريخ ص 144-146 تأليف خالد بن جابر الغريب- ن دار الوطنية الجديدة- الخبر- ط /1"1407هـ-1986م"

5- انظر المرجع السابق ص 146.

6-انظر المرجع السابق ص 161.

7-مدينة الرياض عبر أطوار التاريخ ص 79 بقلم حمد الجاسر- ن دار اليمامة "1386هـ" الرياض- ط/مطبعة النهضة – مصر بتصرف يسير.
এর মাধ্যমেই বনু উখাইদির রাষ্ট্রের বিলুপ্তি ঘটে ১ - যে রাষ্ট্রটি তার অস্তিত্বের সময়কালে এই অঞ্চলের আকাশকে পূর্ণাঙ্গ ঐতিহাসিক তথ্যের অভাব দিয়ে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল, সামান্য কিছু তথ্য ছাড়া ২।

উখাইদিরি রাষ্ট্রের পতনের ফলে নজদ অঞ্চল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আমিরাতে বিভক্ত হয়ে পড়ে, যার কয়েকটি আহসা অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রগুলোর সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল: এর মধ্যে অন্যতম হলো উয়ুনি রাষ্ট্র ৩, যা ৪৬৭ হিজরি (১০৭৪ খ্রিস্টাব্দ) থেকে ৬৪২ হিজরি (১২৪৪ খ্রিস্টাব্দ) পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। এই রাষ্ট্রটি আহসার বাহরাইন অঞ্চলে কারামাতি রাষ্ট্রকে ৪ উৎখাত করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

আর বাহরাইনে বনু আমির বিন উকাইল রাষ্ট্র ছিল ৬৪২ হিজরি (১২৪৪ খ্রিস্টাব্দ) থেকে ৯৩৩ হিজরি (১৫২৬ খ্রিস্টাব্দ) পর্যন্ত ৫।

এরপর বনু খালিদ রাষ্ট্র, যা ১০৮১ হিজরি (১৬৮০ খ্রিস্টাব্দ) থেকে ১২০৮ হিজরি (১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দ) পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল ৬।

উখাইদিরিদের পতনের পর ইয়ামামা অঞ্চলে আর কোনো শক্তিশালী শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়নি এবং উল্লেখযোগ্য কোনো রাষ্ট্রও গড়ে ওঠেনি যা ঐতিহাসিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে ৭। আর সেই সময় থেকে শুরু করে ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত সময়কাল...

--------------------------------------------

১-দেখুন: আদ-দাওলাতুল ইসলামিয়াহ- ১৮১টি ইসলামি রাষ্ট্র সম্পর্কে আলোচনা - ১/২২৭, রচনায়: স্ট্যানলি লেন-পুল, বার্টোল্ড ও খলিল আদহামের সংযোজন ও সংশোধনীসহ, তুর্কি ভাষা থেকে আরবিতে অনুবাদ করেছেন: মুহাম্মদ সুবহি খুরজাত, অনুবাদ তত্ত্বাবধান ও টীকা প্রদান করেছেন: মুহাম্মদ আহমদ দাহমান - প্রকাশনায়: মাকতাবাতুদ দিরাসাতিল ইসলামিয়াহ, দামেস্ক।

২-২৫০ বছর পূর্বে নজদ, পৃষ্ঠা ৯, রচনায়: ডক্টর মুহাম্মদ আশ-শুয়াইর - প্রকাশনায়: ইসদারাতুন নাখিল "১৪১২ হি.- ১৯৯২", মুদ্রণে: মাতাবিউল ফারাজদাক - রিয়াদ।

৩- দাওয়াতুশ শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামি, পৃষ্ঠা ১৭, সামান্য পরিমার্জিত।

৪- দেখুন: মানতিকাতুল আহসা আবরা আতওয়ারিত তারিখ, পৃষ্ঠা ১৪৪-১৪৬, রচনায়: খালিদ বিন জাবের আল-গারিব - প্রকাশনায়: দারুল ওয়াতানিয়াহ আল-জাদিদাহ - আল-খবর - ১ম সংস্করণ "১৪০৭ হি.- ১৯৮৬ খ্রি."।

৫- পূর্বোক্ত সূত্র দেখুন, পৃষ্ঠা ১৪৬।

৬-পূর্বোক্ত সূত্র দেখুন, পৃষ্ঠা ১৬১।

৭-মাদিনাতুর রিয়াদ আবরা আতওয়ারিত তারিখ, পৃষ্ঠা ৭৯, লেখক: হামাদ আল-জাসির - প্রকাশনায়: দারুল ইয়ামামাহ "১৩৮৬ হি." রিয়াদ - মুদ্রণে: মাতবাআতুন নাহদাহ - মিশর, সামান্য পরিমার্জিত।
(খণ্ড: ১) ইহতিসাবুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) (পৃষ্ঠা: ٢٦)
الضعف أوصال دولة الخلافة العباسية وأودى بحياتها وقضى على كيانها حتى سقوطها أمام غارات المغول المدمرة عام "656هـ-1258م" كانت فترة مضطربة في حياة نجد، فقد تفرقت بلادها ولم تقم فيها أية إمارة قوية ضابطة ولا رئيس عام قاهر1، ولما حلت سنة " 923هـ-1517م" وظهرت الدولة العثمانية على المسرح السياسي في جزيرة العرب 2 باستيلائها على منطقة الأحساء 3 - وإن كان هذا النفوذ في المنطقة اسما فقط، حيث إن إدارتها الحقيقية أصبحت في يد قبيلة بني خالد4 فالدولة العثمانية لم تتعرض أثناء حكمها للمنطقة لإقليم نجد من قريب ولا من بعيد، ولذلك لم تشهد منطقة نجد خلال تلك الفترة ولاة عثمانيين، ولا حامية 5 تركية تجوب خلال ديارها 6.

ومما يدل على هذه الحقيقة التاريخية استقراء تقسيمات الدولة العثمانية الإدارية، فمن خلال رسالة تركية عنوانها " قوانين آل عثمان در مضامين دفتر ديوان": يعني: " قوانين آل عثمان فيما يتضمن دفتر الديوان" ألفها يمين علي أفندي، الذي كان أمينا للدفتر الخاقاني سنة " 1018هـ الموافقة لسنة 1690م" والتي توضح

--------------------------------------------

1-حياة الشيخ محمد بن عبد الوهاب ص 38 حسين خلف الشيخ خزعل- ن دار الكتب- ط/1"1986م" مطابع دار الكتب – بيروت- لبنان- بتصرف.

2-المرجع السابق: الموضع نفسه.

3-انظر دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب وأثرها في العالم الإسلامي ص 17.

4- تاريخ العرب الحديث والمعاصر ص 61: د/ عبد الرحيم عبد الرحمن عبد الرحيم- ن دار المتنبي- قطر- ط /3 " 1402هـ-1982م".

5-اسم يطلق في اصطلاح السياسة العسكرية والحربية على جماعة من الجيوش تجعل في المدينة لحفظها- بأمر الله- من طوارق العدو سواء كانت محصنة أو غير محصنة وسواء كانت أيام الحرب أو لم تكن.. ولا تفرق الحماية عن الحرس إلا باعتبارات قليلة وبالاسم- كتاب دائرة المعارف وهو قاموس عام لكل فن وطلب 6/661 مادة: " حامية" – تأليف المعلم بطرس البستاني- ن دار المعرفة- بيروت.

6- دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب وأثرها في العالم الإسلامي ص17.
আব্বাসীয় খিলাফত রাষ্ট্রের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে দুর্বলতা ছড়িয়ে পড়ে এবং তা এর প্রাণশক্তি কেড়ে নেয় ও এর অস্তিত্ব বিলীন করে দেয়, শেষ পর্যন্ত ৬৫৬ হিজরি (১২৫৮ খ্রিস্টাব্দ) সালে মঙ্গোলদের ধ্বংসাত্মক আক্রমণের মুখে এর পতন ঘটে। এটি ছিল নাজদ অঞ্চলের ইতিহাসে এক অস্থির সময়; এর জনপদগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল এবং সেখানে কোনো শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল শাসনব্যবস্থা বা কোনো প্রভাবশালী সাধারণ প্রধানের অস্তিত্ব ছিল না১। যখন ৯২৩ হিজরি (১৫১৭ খ্রিস্টাব্দ) সাল এলো এবং উসমানীয় রাষ্ট্র আল-আহসা অঞ্চল৩ দখলের মাধ্যমে আরব উপদ্বীপের রাজনৈতিক মঞ্চে২ আবির্ভূত হলো—যদিও এই অঞ্চলে তাদের প্রভাব ছিল কেবল নামমাত্র, কারণ এর প্রকৃত শাসনভার বনু খালিদ গোত্রের হাতে ন্যস্ত ছিল৪—উসমানীয় রাষ্ট্র তাদের শাসনকালে নিকট বা দূর থেকে কোনোভাবেই নাজদ অঞ্চলের মুখোমুখি হয়নি। এ কারণে নাজদ অঞ্চল সেই সময়ে কোনো উসমানীয় গভর্নর বা তুর্কি সামরিক গ্যারিসন৫ প্রত্যক্ষ করেনি যারা তাদের ভূখণ্ডে৬ টহল দেবে।

এই ঐতিহাসিক সত্যের প্রমাণ পাওয়া যায় উসমানীয় রাষ্ট্রের প্রশাসনিক বিভাজনগুলো পর্যালোচনার মাধ্যমে। ইয়ামিন আলি এফেন্দি কর্তৃক লিখিত "কওয়ানিনু আলি উসমান দর মযামিনি দফতরে দিওয়ান" শিরোনামের একটি তুর্কি পত্রের মাধ্যমে এটি জানা যায়; যার অর্থ হলো: "দিওয়ান রেজিস্টারের অন্তর্ভুক্ত উসমানীয় বংশের আইনসমূহ"। তিনি ১০১৮ হিজরি মোতাবেক ১৬৯০ খ্রিস্টাব্দে খাকানি রেজিস্টারের (দফতরে খাকানি) সচিব ছিলেন এবং যা স্পষ্ট করে যে...

--------------------------------------------

১- শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের জীবনী, পৃষ্ঠা ৩৮, হুসাইন খালাফ আশ-শায়খ খুজআল - প্রকাশনী: দারুল কুতুব - ১ম সংস্করণ "১৯৮৬ খ্রি." মাতাবি' দারুল কুতুব – বৈরুত- লেবানন - সংক্ষেপিত।

২-পূর্বোক্ত সূত্র: একই স্থান।

৩-দেখুন: শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াত এবং মুসলিম বিশ্বে তার প্রভাব, পৃষ্ঠা ১৭।

৪- আরবদের আধুনিক ও সমকালীন ইতিহাস, পৃষ্ঠা ৬১: ড. আব্দুর রহীম আব্দুর রহমান আব্দুর রহীম - প্রকাশনী: দারুল মুতানাব্বি - কাতার - ৩য় সংস্করণ "১৪০২ হিজরি - ১৯৮২ খ্রি."।

৫-সামরিক ও যুদ্ধবিদ্যার পরিভাষায় এটি এমন একদল সেনাবাহিনীকে বোঝায় যারা কোনো শহর রক্ষার জন্য—আল্লাহর আদেশে—শত্রুর আকস্মিক আক্রমণ থেকে সুরক্ষায় নিয়োজিত থাকে, চাই তা দুর্গবেষ্টিত হোক বা না হোক এবং যুদ্ধের সময় হোক বা না হোক। 'হামিয়াহ' (গ্যারিসন) এবং 'হারাস' (প্রহরী)-এর মধ্যে সামান্য কিছু বিষয় এবং নাম ছাড়া কোনো পার্থক্য নেই - কিতাবু দাইরাতুল মাআরিফ, এটি সকল শিল্প ও বিষয়ের একটি সাধারণ বিশ্বকোষ ৬/৬৬১, মূলশব্দ: "হামিয়াহ" - লেখক: মুয়াল্লিম বুতরাসু আল-বুস্তানি - প্রকাশনী: দারুল মা'রিফাহ - বৈরুত।

৬- শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের দাওয়াত এবং মুসলিম বিশ্বে তার প্রভাব, পৃষ্ঠা ১৭।
(খণ্ড: ১) ইহতিসাবুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) (পৃষ্ঠা: ٢٧)
الإيالات 1 العربية منذ أوائل القرن الحادي عشر وعددها أربع عشرة إيالة وإمارة عربية 2 واحدة ليست من ضمنها بلاد نجد 3.

ولعل السبب في ذلك يرجع إلى أن الدولة العثمانية لم يعنها كثيرا أن تخضع هذه المنطقة الداخلية لنفوذها، لأنها لا ترى في ذلك فائدة تذكر 4 نظرا لبعدها عن المناطق الاستراتيجية 5.

إذا عرفنا هذا جيدا أدركنا ضلال الفرية التي ألصقت بهتانا بالإمام محمد ابن عبد الوهاب رحمه الله وهي الخروج على دولة الخلافة! ومن الذين أشعلوا نارها ابن عفالق 6 حيث قال: " وأما توحيدكم الذي مضمونه الخروج على المسلمين وتكفيرهم وتضليلهم في صورة أنكم تأمرون بالمعروف وتنهون عن

--------------------------------------------

1-جمع إياله وهي بالتركية ط إيالت" نقلا عن العربية " إيالة" بمعنى الحكم والإدارة والسلطان- انظر دائرة المعارف الإسلامية 5/264 مادة إياله أصدرها بالإنجليزية أئمة المستشرقين في العالم- النسخة العربية – إعداد وتحرير إبراهيم زكي خورشيد، أحمد الشنتناوي، د. عبد الحميد يونس- ن دار الشعب- وهي في الممكلة العثمانية- عبارة عن بلاد معلومة الحدود في ولاية وال تقيمه الدولة عليها وتعهد إليه سياستها " انظر كتاب دائرة المعارف 4/702 مادة: "إيالة".

2-نشرها ساطع الحصري في كتابه: البلاد العربية والدولة العثمانية – ملاحق ص 230-239- ن دار العلم للملايين- بيروت ط/3 " بيروت 1965م".

3- انظر عقيدة الشيخ محمد بن عبد الوهاب السلفية وأثرها في العالم الإسلامي ص 23.

4- تاريخ الدولة السعودية حتى الربع الأول من القرن العشرين ص 12: د/ميحة أحمد درويش- ن دار الشروق- جدة- ط/3" 1405هـ-1985م".

5- الإمام محمد بن سعود دولة الدعوة والدعاة ص 14 ط مطابع الإمام محمد بن سعود الإسلامية.

6- هو: محمد بن عبد الرحمن بن حسين بن محمد بن عفالق القثحطاني ولد في الأحساء عام " 1100هـ" وفيها نشأ وأخذ1 عن علمائها، مهر في الفقه والأصول والعربية وفاق في علم الفلك، توفي في الأحساء عام " 1164" علماء نجد خلال ستة قرون 3/818-821 تأليف فضيلة الشيخ عبد الله بن عبد الرحمن السام- ن مكتبة ومطبعة النهضة الحديثة –مكة المكرمة- ط/1"13.98" باختصار.
১১শ শতাব্দীর প্রারম্ভ থেকে আরবীয় ইয়ালাত ১ সমূহের সংখ্যা ছিল চৌদ্দটি এবং একটি আরবীয় আমিরাত ২, যার মধ্যে নজদ ৩ অঞ্চলটি অন্তর্ভুক্ত ছিল না।

সম্ভবত এর কারণ এই ছিল যে, উসমানীয় সালতানাত এই অভ্যন্তরীণ অঞ্চলটিকে তাদের প্রভাব বলয়ের অধীনে আনার ব্যাপারে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি; কারণ কৌশলগত অঞ্চলগুলো থেকে এর দূরত্বের ৫ কারণে তারা এর মাঝে উল্লেখযোগ্য কোনো উপকারিতা দেখতে পায়নি ৪।

যদি আমরা এটি ভালোভাবে অনুধাবন করি, তবে ইমাম মুহাম্মদ ইবন আব্দুল ওয়াহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর প্রতি মিথ্যা অপবাদ হিসেবে লেপ্টে দেওয়া সেই বিভ্রান্তির অসারতা উপলব্ধি করতে পারব, যা ছিল খিলাফত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার অভিযোগ! যারা এই ফেতনার আগুন প্রজ্বলিত করেছিল তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল ইবন আফালিক ৬; যেখানে সে বলেছিল: "আর তোমাদের সেই তাওহীদ, যার মূলকথা হলো মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা এবং তাদের কাফির ও পথভ্রষ্ট আখ্যা দেওয়া, আর তোমরা এটি করো এমনভাবে যেন তোমরা সৎ কাজের আদেশ দিচ্ছ এবং অসৎ কাজ থেকে..."

--------------------------------------------

১- ইয়ালাত (إيالة) শব্দের বহুবচন, যা তুর্কি ভাষায় 'ইয়ালত' (Eyalet), এটি আরবি শব্দ 'ইয়ালাত' থেকে গৃহীত যার অর্থ শাসন, প্রশাসন এবং কর্তৃত্ব—দেখুন: ইসলামি বিশ্বকোষ ৫/২৬৪, ইয়ালাত নিবন্ধ; এটি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রাচ্যবিদগণ ইংরেজি ভাষায় প্রকাশ করেছেন—আরবি সংস্করণ—প্রস্তুতি ও সম্পাদনায়: ইব্রাহিম জাকি খুরশিদ, আহমদ আশ-শিনতানি, ডক্টর আব্দুল হামিদ ইউনুস—প্রকাশনী: দারুশ শা'ব—এবং এটি উসমানীয় সাম্রাজ্যে নির্দিষ্ট সীমানা সংবলিত এমন দেশ বা এলাকাকে বোঝাত যেখানে রাষ্ট্র একজন গভর্নর (ওয়ালি) নিয়োগ করত এবং তার নিকট এর রাজনীতির দায়িত্ব অর্পণ করত। দেখুন: কিতাবু দায়েরাতুল মাআরিফ ৪/৭০২, 'ইয়ালাত' নিবন্ধ।

২-সতি আল-হুসরি এটি তার 'আল-বিলাদুল আরাবিয়্যাহ ওয়াদ দাওলাতুল উসমানিয়্যাহ' (আরব দেশসমূহ এবং উসমানীয় রাষ্ট্র) গ্রন্থে প্রকাশ করেছেন—পরিশিষ্ট পৃষ্ঠা ২৩০-২৩৯—প্রকাশনী: দারুল ইলম লিল-মালাঈন—বৈরুত, ৩য় সংস্করণ, বৈরুত ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দ।

৩- দেখুন: আকীদাতুশ শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহাব আস-সালাফিয়্যাহ ওয়া আসরুহা ফিল আলামিল ইসলামি, পৃষ্ঠা ২৩।

৪- বিংশ শতাব্দীর প্রথম চতুর্থাংশ পর্যন্ত সৌদি রাষ্ট্রের ইতিহাস, পৃষ্ঠা ১২: ডক্টর মাদিহা আহমদ দরবেশ—প্রকাশনী: দারুশ শুরূক—জেদ্দা—৩য় সংস্করণ, ১৪০৫ হিজরি-১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দ।

৫- ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ দাওলাতুদ দাওয়াহ ওয়াদ দুআহ, পৃষ্ঠা ১৪, প্রকাশনী: মাতাবি' আল-ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ আল-ইসলামিয়্যাহ।

৬- তিনি হলেন: মুহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান বিন হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন আফালিক আল-কাহতানি। তিনি ১১০০ হিজরি সালে আল-আহসায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন ও সেখানকার আলেমদের নিকট শিক্ষাগ্রহণ করেন। তিনি ফিকহ, উসুল এবং আরবি সাহিত্যে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন এবং জ্যোতির্বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি ১১৬৪ হিজরি সালে আল-আহসায় মৃত্যুবরণ করেন। ওলামাউ নাজদ খিলালা সিত্তাতি কুরুনের ৩/৮১৮-৮২১, লেখক: ফজিলাতুশ শাইখ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল রহমান আস-সাম—প্রকাশনী: মাকতাবাতু ওয়া মাতবাআতুন নাহদাতিল হাদিসাহ—মক্কা মুকাররমা—১ম সংস্করণ, ১৩৯৮ হিজরি—সংক্ষেপে।
(খণ্ড: ১) ইহতিসাবুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) (পৃষ্ঠা: ٢٨)
المنكر فهذا إلحاد لا توحيد" 1 وابن عابدين 2 بقوله: " هم الخارجون عن طاعة الإمام بغير حق"3 والذي فسره نجله في تكملته لحاشية أبيه بقوله: "كما وقع في زماننا من أتباع عبد الوهاب الذين خرجوا من نجد وتغلبوا على الحرمين، وكانوا ينتحلون مذهب الحنابلة لكنهم اعتقدوا أنهم مسلمون وأن من خالف اعتقادهم مشركون، واستباحوا بذلك قتل أهل السنة وقتل علمائهم حتى كسر الله شوكتهم وخرب بلادهم وظفر بهم عساكر المسلمين عام ثلاث وثلاثين ومائتين"4 ودحلان 5 بقوله: "فهؤلاء المنكرون للتوسل والزيارة فارقوا الجماعة والسواد الأعظم"6 وغيرهم.

ولقد فند هذه الأقوال المفتراه وغيرها، ورد عليها الدكتور عبد العزيز ابن محمد العبد اللطيف حفظه الله من جهتين أساسيتين هما:

--------------------------------------------

1-جواب ابن عفالق على رسالة ابن معمر ق 57 صورة مخطوطة زودني بها فضيلة الشيخ الدكتور عبد العزيز بن محمد العبد اللطيف الأستاذ المساعد بكلية أصول الدين/ قسم العقيدة بجامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بالرياض شكر الله له وجزاه على ذلك خير الجزاء، وأصلها موجود في مكتبة الدولة في برلين بألمانيا.

2-هو: محمد أمين بن عمر بن عبد العزيز عابدين الدمشقي فقيه الديار الشامية وإمام الحنفية في عصره مولده في دمشق سنة " 1198هـ-1784م" وكانت وفاته فيها سنة " 1252هـ-1836م" ط الأعلام 6/12 باختصار".

3-حاشية رد المحتار 4/261 لابن عادين على الدر المختار شرح تنوير الأبصار في فقه مذهب الإمام أبي حنيفة النعمان ويليه تكملة ابن عابدين لنجل المؤلف- ن شكرة مكتبة ومطبعة مصطفى البابي الحلبي وأولاده بمصر- ط/2"1386هـ-1966م".

4- المرجع السابق 4/262.

5- هو: أحمد بن زيني دحلان فقيه مكي مؤرخ ولد بمكة سنة " 1232هـ-1817م" وتولى فيها الإفتاء والتدريس مات في المدينة سنة " 1304هـ-1886م".

6- الدرر السنية في الرد على الوهابية ص 32 لأحمد زيني دحلان- ن شكرة ومطبعة البابي الحلبي وأولاده بمصر- ط/2"1369هـ-1950م".
অস্বীকারকারী, তবে এটি ধর্মদ্রোহিতা (ইলহাদ), তৌহিদ নয়।" ১ এবং ইবনে আবিদিন ২ তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে: "তারা হলো সেই বিদ্রোহী যারা অন্যায়ভাবে ইমামের আনুগত্য থেকে বের হয়ে গেছে।" ৩ যার ব্যাখ্যা তার পুত্র তার পিতার হাশিয়ার (টীকাসমগ্র) পরিশিষ্টে এভাবে করেছেন: "যেমনটি আমাদের যুগে আব্দুল ওয়াহাবের অনুসারীদের ক্ষেত্রে ঘটেছে, যারা নজদ থেকে বের হয়েছিল এবং হারামাইন (মক্কা ও মদিনা) দখল করেছিল। তারা নিজেদের হাম্বলি মাযহাবের অনুসারী বলে দাবি করত, কিন্তু তারা বিশ্বাস করত যে কেবল তারাই মুসলিম এবং যারা তাদের আকিদার বিরোধিতা করে তারা মুশরিক। এর ফলে তারা আহলে সুন্নাত ও তাদের আলেমদের হত্যা করা বৈধ মনে করত, যতক্ষণ না আল্লাহ তাদের শক্তি চূর্ণ করেন, তাদের শহরগুলো ধ্বংস করেন এবং ১২৩৩ হিজরি সালে মুসলিম সেনাবাহিনী তাদের ওপর বিজয় লাভ করে।" ৪ এবং দাহলান ৫ তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে: "তাকলিদ এবং যিয়ারত অস্বীকারকারী এই ব্যক্তিরা জামাত ও বিশাল জনসমষ্টি (সাওয়াদে আজম) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।" ৬ এবং অন্যান্যরা।

এই অপবাদমূলক বক্তব্য এবং অন্যান্য বিষয়গুলোকে ডক্টর আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মদ আল-আব্দুল লতিফ (হাফিজাহুল্লাহ) মূলত দুটি প্রধান দিক থেকে খণ্ডন করেছেন এবং সেগুলোর উত্তর দিয়েছেন, যা হলো:

--------------------------------------------

১- ইবনে মুয়াম্মারের রিসালার (চিঠি) প্রেক্ষিতে ইবনে আফালিকের জবাব, পৃষ্ঠা ৫৭, পাণ্ডুলিপির অনুলিপি যা রিয়াদের ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উসুলুদ্দিন অনুষদের আকিদা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডক্টর আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ আল-আব্দুল লতিফ আমাকে সরবরাহ করেছেন। আল্লাহ তাকে এর জন্য উত্তম প্রতিদান দিন। এর মূল অংশটি জার্মানির বার্লিনের রাষ্ট্রীয় গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত আছে।

২-তিনি হলেন: মুহাম্মদ আমিন বিন উমর বিন আব্দুল আজিজ আবিদিন আদ-দিমাশকি। তিনি শাম (সিরিয়া) অঞ্চলের ফকিহ এবং তার সমসাময়িক হানাফিদের ইমাম। তার জন্ম দামেস্কে ১১৯৮ হিজরি (১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে) এবং মৃত্যু ১২৫২ হিজরি (১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে)। আল-আ'লাম ৬/১২ থেকে সংক্ষেপে।

৩-ইবনে আবিদিনের হাশিয়া রাদ্দ আল-মুহতার ৪/২৬১, যা ইমাম আবু হানিফা নুমান রহ.-এর মাযহাবের ফিকহ শাস্ত্রের তানভিরুল আবসারের ব্যাখ্যা আদ-দুররুল মুখতারের ওপর লেখা। এর সাথে লেখকের পুত্রের পরিশিষ্ট যুক্ত আছে—মুস্তফা আল-বাবী আল-হালাবি অ্যান্ড সন্স লাইব্রেরি ও প্রিন্টিং কোম্পানি, মিশর—২য় সংস্করণ, ১৩৮৬ হিজরি (১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ)।

৪- পূর্বোক্ত উৎস ৪/২৬২।

৫-তিনি হলেন: আহমদ বিন জাইনি দাহলান, মক্কার ফকিহ ও ঐতিহাসিক। তিনি মক্কায় ১২৩২ হিজরি (১৮১৭ খ্রিস্টাব্দে) জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানে ইফতা ও শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৩০৪ হিজরি (১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে) মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন।

৬- আহমদ জাইনি দাহলানের আদ-দুরার আস-সানিয়্যাহ ফি-রাদ্দি আলাল ওয়াহাবিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ৩২—আল-বাবী আল-হালাবি অ্যান্ড সন্স কোম্পানি ও ছাপাখানা, মিশর—২য় সংস্করণ, ১৩৬৯ হিজরি (১৯৫০ খ্রিস্টাব্দ)।
(খণ্ড: ১) ইহতিসাবুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) (পৃষ্ঠা: ٢٩)
1-أقوال الشيخ الإمام محمد بن عبد الوهاب رحمه الله في وجوب السمع والطاعة لولاة الأمر:

2-الحقائق التاريخية القاضية بعدم خضوع منطقة نجد للحكم العثماني 1.

ومما تجدر الإشارة إليه أن الدولة العثمانية حرصت أشد الحرص على احتواء إقليم الحجاز، لما يضيفيه هذا الإقليم على السلطان العثماني من مجد وفخار، إذ كان أعز الألقاب لديه هو لقب "خادم الحرمين الشريفين وحامي حماهما"2 إلا أنه كان يحكمه الأشراف تحت سلطان الدولة العثمانية وفي ابتداء القرن الثاني عشر كان هؤلاء الأشراف في منازعات بينهم، وحروب كانت تقوم بين الأخ وأخيه والعم وابن أخيه، وتهدر فيهم الدماء، وتستحل الحرمات، فكان معدل ولاية الأمير على مكة سنة أو سنتين، لكثرة الاغتيال والغدر والخلاف، وكان من هوانهم على السلطان العثماني أنه يوكل أمرهم أحيانا إلى واليه على مصر، وكان والي مصر يولي من يشاء ويعزل من يشاء باسم السلطان 3، شأنه في ذلك شأن إقليم نجد الذي كانت فيه العصبيات قائمة على قدم وساق لكل عشيرة دولة ولكل قرية مشيخة تعتز بسلطانها وتشيد باسمها، ولكل حاكم من أولئك حوزته الخاصة يحكمها حكما مطلقا لا تربطه بجاره أية رابطة 4، وهو حكم قبلي يستند إلى العصبيات ويقوم على خرافات ينسبونها إلى الدين وتشوبها الجهالة، وكان الحكم بيد أمراء القبائل وشيوخها وهم:

--------------------------------------------

1-انظر دعاوى المناوئين لدعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب عرض ونقد ص 233-240- ن دار طيبة- الرياض- ط "1409هـ-1989م".

2-الإمام محمد بن سعود دولة الدعوة والدعاة ص 13.

3-انظر: عقيدة الشيخ محمد بن عبد الوهاب السلفية وأثرها في العالم الإسلامي ص24.

4-انظر: حياة الشيخ محمد بن عبد الوهاب ص 38.
১-শাসকগোষ্ঠীর কথা শোনা ও তাদের আনুগত্য করার আবশ্যকতা সম্পর্কে শাইখ ইমাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ)-এর উক্তিগুলো:

২-নজদ অঞ্চল উসমানীয় শাসনের অধীনে না থাকার ঐতিহাসিক বাস্তবতাসমূহ ১।

উল্লেখযোগ্য যে, উসমানীয় সালতানাত হিজাজ অঞ্চলকে নিজেদের আয়ত্তে রাখার ব্যাপারে অত্যন্ত সচেষ্ট ছিল, কারণ এই অঞ্চলটি উসমানীয় সুলতানের জন্য অনেক গৌরব ও মর্যাদা বৃদ্ধি করত। তার কাছে সবচেয়ে প্রিয় উপাধি ছিল "হারামাইন শরিফাইনের খাদেম এবং সেগুলোর পবিত্রতার রক্ষক" ২। তবে উসমানীয় সাম্রাজ্যের অধীনে আশরাফরাই (কুরাইশ বংশীয়গণ) এটি শাসন করত। দ্বাদশ শতাব্দীর শুরুতে এই আশরাফদের মধ্যে পারস্পরিক বিবাদ বিদ্যমান ছিল। ভাইয়ে-ভাইয়ে এবং চাচা-ভাতিজার মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হতো; রক্তপাত চলত এবং পবিত্রতা লুণ্ঠিত হতো। অধিক মাত্রায় গুপ্তহত্যা, বিশ্বাসঘাতকতা এবং কলহের কারণে মক্কায় একজন আমিরের শাসনের গড় সময়কাল ছিল এক বা দুই বছর। উসমানীয় সুলতানের কাছে তাদের গুরুত্বহীনতার প্রমাণ ছিল যে, তিনি মাঝেমধ্যে তাদের বিষয়টি মিসরে নিযুক্ত তার গভর্নরের হাতে সোপর্দ করতেন। আর মিসরের গভর্নর সুলতানের নাম ব্যবহার করে যাকে ইচ্ছা নিয়োগ দিতেন এবং যাকে ইচ্ছা বরখাস্ত করতেন ৩। এদিক থেকে নজদ অঞ্চলের অবস্থাও একই রকম ছিল, যেখানে গোত্রপ্রীতি চরম পর্যায়ে বিদ্যমান ছিল। প্রত্যেক বংশের ছিল নিজস্ব রাষ্ট্র এবং প্রত্যেক গ্রামের ছিল নিজস্ব নেতৃত্ব, যা নিজের কর্তৃত্ব নিয়ে গর্ব করত এবং নিজেদের নামে জয়ধ্বনি করত। সেসব শাসকদের প্রত্যেকের ছিল নিজস্ব শাসিত এলাকা, যেখানে তারা নিরঙ্কুশ শাসন পরিচালনা করত এবং প্রতিবেশীদের সাথে তাদের কোনো সম্পর্ক ছিল না ৪। এটি ছিল এক প্রকার গোত্রীয় শাসন যা অন্ধ দলপ্রীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছিল এবং যা ধর্মের নামে প্রচলিত নানা কুসংস্কারের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল এবং অজ্ঞতা দ্বারা কলুষিত ছিল। শাসনভার ছিল গোত্রীয় আমির ও তাদের শায়খদের হাতে, তারা হলেন:

--------------------------------------------

১- দেখুন: দাওয়াউয়াল মুনাওয়িঈন লিদা’ওয়াতিল শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব: আরদুন ওয়া নাকদুন, পৃষ্ঠা ২৩৩-২৪০। প্রকাশনী: দার তাইয়্যেবাহ, রিয়াদ। সংস্করণ: ১৪০৯ হিজরি - ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দ।

২-আল-ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ: দাওয়াহ ও দায়ীদের রাষ্ট্র, পৃষ্ঠা ১৩।

৩-দেখুন: শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের সালাফী আকিদা এবং মুসলিম বিশ্বে এর প্রভাব, পৃষ্ঠা ২৪।

৪-দেখুন: হায়াতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের জীবনী), পৃষ্ঠা ৩৮।
(খণ্ড: ১) ইহতিসাবুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) (পৃষ্ঠা: ٣٠)
آل سعود: في الدرعية.

آل دواس: في الرياض.

آل معمر: في العيينة.

آل علي: في حائل.

آل حجلان: في القصيم.

آل شبيب: في شمال نجد من جنوب العراق.

وكثيرا ما تشتعل الحروب والخصومات والفتن بين حكام وشيوخ هذه الإمارات لسبب أو لغير سبب 1، ورؤساء البلدان وظلمتهم لا يعرفون إلا ظلم الرعايا والجور وقتال بعضهم بعضا 2 حتى انتشرت الفوضى في نجد وعم الانقسام، وتوسعت الفرقة وتعددت الإمارات والمشيخات 3 وبسبب انتشار اللصوص في الأماكن ووجود الحرابة 4 في

--------------------------------------------

1-الإمام الشيخ محمد بن عبد الوهاب في التاريخ " 1115-1206هـ-1703-1792م" 1/27 تأليف عبد الله ابن سعد الرويشد- ن رابطة الأدب الحديث.

2-عنوان المجد في تاريخ نجد 1/7 تأليف العلامة المحقق عثمان بن بشير- ن مكتبة الرياض الحديثة- ط/ بدون، تصرف.

3- انظر حياة الشيخ محمد بن عبد الوهاب ص 39.

4-قال الخرقي رحمه الله: المحاربون هم قطاع الطريق، الذين يعرضون للناس بسلاح ولو بعصا وحجارة في صحراء أو بنيان أو بحر، فيغصبونهم المال مجاهرة " انظر كشاف القناع عن متن الإقناع 6/149 للشيخ العلامة فقيه الحنابلة منصور بن يونس بن إدريس البهوتي، راجعه هلال مصيلحي مصطفى- ن دار الفكر- لبنان- ط " 1402هـ-1992" وانظر المغني لموفق الدين ابن قدامة المقدسي الجماعلي، تحقيق الدكتور عبد الله بن عبد المحسن التركي والدكتور عبد الفتاح محمد الحلو 12/474-ن هجر- القاهرة- ط/2/1413هـ1992م"، وانظر المقنع في فقه إمام السنة أحمد ابن حنبل الشيباني رضي الله عنه تألأيف موفق الدين ابن قدامة المقدسي 3/500-ط/ 3/1393هـ على نفقة الشيخ خليفة بن حمد آل ثاني.

وعلى ذلك فالحرابة تسمى قطع الطريق عند أكثر الفقهاء وهي البروز لأخذ مال أو لقتل أو لإرعاب على سبيل المجاهرة مكابرة، اعتماد على القوة مع البعد عن الغوث " انظر الموسوعة الفقهية 17/53- ن وزارة الأوقاف والشؤون الإسلامية- الكويت- ط 2/"1410هـ-1990م" طباعة ذات السلاسل- الكويت"، سواء كان القطع من جماعة أو من واحد، " كتاب بدائع الصنائع في ترتيب الشرتئع 7/90 للكساني الحنفي الملقب بملك العلماء- ن دار الكتب العلمية- بيروت ط/2 1 "406هـ1986م".
আল সাউদ: দিরইয়াহ-তে।

আল দাওয়াস: রিয়াদে।

আল মুয়াম্মার: উইয়াইনাহ-তে।

আল আলী: হাইল-এ।

আল হাজলান: কাসিমে।

আল শাবিব: দক্ষিণ ইরাক থেকে নজদের উত্তরাঞ্চলে।

এবং প্রায়শই এই আমিরাতগুলোর শাসক ও শায়খদের মধ্যে কোনো কারণবশত কিংবা অকারণে যুদ্ধ, বিবাদ ও ফিতনা ছড়িয়ে পড়ত ১, আর শহরগুলোর প্রধান ও তাদের জালিম শাসকরা প্রজাদের ওপর জুলুম, অবিচার এবং একে অপরের সাথে লড়াই করা ছাড়া আর কিছুই জানত না ২। এমনকি নজদে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে এবং বিভাজন ব্যাপক আকার ধারণ করে, অনৈক্য বৃদ্ধি পায় এবং অনেকগুলো আমিরাত ও শায়খ-শাসিত এলাকা সৃষ্টি হয় ৩। আর বিভিন্ন স্থানে চোরদের বিস্তার এবং হিরাবাহ (সশস্ত্র ডাকাতি)-র উপস্থিতির কারণে ৪...

--------------------------------------------

১- ইতিহাসে ইমাম শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব "১১১৫-১২০৬ হিজরি - ১৭০৩-১৭৯২ খ্রিস্টাব্দ" ১/২৭ রচনা: আব্দুল্লাহ ইবনে সাদ আল-রুওয়াইশিদ - প্রকাশনা: মডার্ন লিটারেচার অ্যাসোসিয়েশন।

২- উনওয়ানুল মাজদ ফি তারিখি নজদ ১/৭ রচনা: আল্লামাহ মুহাক্কিক উসমান বিন বাশির - প্রকাশনা: মডার্ন রিয়াদ লাইব্রেরি - সংস্করণ: বিহীন, পরিমার্জিত।

৩- দেখুন: হায়াতুশ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, পৃষ্ঠা ৩৯।

৪- আল-খিরাকি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: মুহাবিবুন (সশস্ত্র ডাকাত) হলো তারা যারা পথরোধ করে, যারা লোকালয়ে বা মরুভূমিতে বা সমুদ্রে অস্ত্র নিয়ে—এমনকি লাঠি বা পাথর নিয়ে হলেও—মানুষের মুখোমুখি হয় এবং প্রকাশ্যে বলপূর্বক সম্পদ ছিনিয়ে নেয়। "দেখুন: কাশশাফুল কিনা’ আন মাতনিল ইবনা’ ৬/১৪৯, লেখক: হাম্বলি ফকিহ আল্লামাহ শায়খ মানসুর বিন ইউনুস বিন ইদ্রিস আল-বাহুতি, পর্যালোচনা: হিলাল মুসাইলহি মুস্তফা - প্রকাশনা: দারুল ফিকর - লেবানন - সংস্করণ: ১৪০২ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ; এবং দেখুন: মুওয়াফফাকুদ্দিন ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি আল-জামাঈলি প্রণীত আল-মুগনি, তাহকিক: ডক্টর আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আল-তুর্কি এবং ডক্টর আব্দুল ফাত্তাহ মুহাম্মাদ আল-হুলু ১২/৪৭৪ - প্রকাশনা: হিজর - কায়রো - ২য় সংস্করণ/১৪১৩ হিজরি - ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দ", এবং দেখুন: সুন্নাহর ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল আল-শায়বানি (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ফিকহ ভিত্তিক গ্রন্থ আল-মুকনি, লেখক: মুওয়াফফাকুদ্দিন ইবনে কুদামা আল-মাকদিসি ৩/৫০০ - ৩য় সংস্করণ/১৩৯৩ হিজরি, শায়খ খলিফা বিন হামাদ আল সানি-র অর্থায়নে।

এর ওপর ভিত্তি করে, অধিকাংশ ফকিহদের নিকট হিরাবাহ-কে ‘পথরোধ’ (ডাকাতি) বলা হয়; আর তা হলো সম্পদ কেড়ে নেওয়ার জন্য বা হত্যার জন্য বা আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য শক্তি প্রদর্শন করে এবং সাহায্য পাওয়ার সুযোগ থেকে দূরে থেকে প্রকাশ্যে বের হওয়া। "দেখুন: আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ ১৭/৫৩ - প্রকাশনা: ওয়াকফ ও ইসলামি বিষয়ক মন্ত্রণালয় - কুয়েত - ২য় সংস্করণ/১৪১০ হিজরি - ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ, মুদ্রণ: যাতুস সালাসিল - কুয়েত", চাই সেই পথরোধ কোনো দলের পক্ষ থেকে হোক বা এক ব্যক্তির পক্ষ থেকে। "বাদায়িউস সানায়ি ফি তারতিবিশ শারায়ি ৭/৯০, লেখক: আল-কাসানি হানাফি, যিনি ‘মালিকুল উলামা’ উপাধিতে ভূষিত - প্রকাশনা: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ - বৈরুত, ২য় সংস্করণ/১৪০৬ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ"।
(খণ্ড: ১) ইহতিসাবুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রাহিমাহুল্লাহ) (পৃষ্ঠা: ٣١)
الدروب والطرقات 1 كانت هذه الإمارات والقرى لا تعرف السكينة والأمن والحرية إلا قليلا 2 وسادتها علاقات الجفاء، تكاد كل إمارة منها أن تكون منعزلة عن غيرها لا تربطها بها روابط سياسية معينة بحكم تجاورها، ولم تكن الروابط التي تجمعها سوى العلاقات التجارية والجوار ووحدة الأصل 3 لأنهم كانوا متعادين متفرقين ليس فيهم ملك ولا إمام ولا يسودهم شرع ولا نظام، يقتل بعضهم بعضا ويأكل قويهم ضعيفهم 4 أتباع أهواء كل حرب لكل 5 فكانت البلاد تعيش في رعب دائم وخوف غير منقطع من جراء عدو يأخذ بالقهر وحليف يأخذ بالغدر 6.

خلاصة القول:

إن حالة نجد في تلك الأيام كانت شبيهة من الناحية السياسية بحالة ملوك

--------------------------------------------

1-انظر شبه جزيرة العرب نجد ص 198ك محمود شاكر- ن المكتب الإسلامي- ط/3"1401هـ- 1981م".

2-دعوة الشيخ محمد بن عبد الوهاب وأثرها في العالم الإسلامي ص 8.

3- في تاريخ العرب الحديث ص 204-205 تأليف الدكتور رأفت الشيخ- ن دار الثقافة للطباعة والنشر- القاهرة- ط/1971م باختصار.

4- تحفة المستفيد بتاريخ الأحساء في القديم والجديد 1/124 محمد بن عبد الله بن عبد المحسن الأحسائي- ن مكتبة المعارف- الرياض ومكتبة الأحساء الأهلية الأحساء –ط 2"1402هـ1982م" القسم الأول والثاني.

5-شبه جزيرة في عهد الملك عبد العزيز 1/25 خير الدين الزركلي- ن دار العلم للملايين- بيروت- ط3/نيسان إبريل 1985م.

6-حياة الشيخ محمد بن عبد الوهاب ص 40.
পথ ও রাস্তা সমূহ ১ এই আমিরাত ও গ্রামগুলো খুব সামান্যই প্রশান্তি, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা লাভ করেছিল ২ এবং তাদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতার সম্পর্ক বিরাজ করছিল, যার ফলে প্রতিটি আমিরাত তার পার্শ্ববর্তী অন্যান্যদের থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন ছিল, তাদের মধ্যে প্রতিবেশী হওয়ার কারণে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক বন্ধন ছিল না; আর যে বন্ধনগুলো তাদের একত্রিত করত তা বাণিজ্যিক সম্পর্ক, প্রতিবেশী হওয়া এবং একই বংশোদ্ভূত হওয়া ব্যতীত আর কিছুই ছিল না ৩ কেননা তারা ছিল পরস্পর শত্রু ও বিচ্ছিন্ন, তাদের মধ্যে কোনো রাজা বা ইমাম ছিল না এবং কোনো শরীয়ত বা শৃঙ্খলা তাদের ওপর প্রচলিত ছিল না; তারা একে অপরকে হত্যা করত এবং তাদের শক্তিশালীরা দুর্বলদের গ্রাস করত ৪ তারা ছিল কুপ্রবৃত্তির অনুসারী, প্রত্যেকে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ৫ ফলে দেশটি এমন এক শত্রুর কারণে স্থায়ী আতঙ্ক ও অবিচ্ছিন্ন ভয়ের মধ্যে অতিবাহিত করছিল যে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে কেড়ে নেয় এবং এমন এক মিত্রের কারণে যে বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে আত্মসাৎ করে ৬।

কথার সারসংক্ষেপ:

নিশ্চয়ই সেসব দিনে নজদের অবস্থা রাজনৈতিক দিক থেকে রাজাদের অবস্থার অনুরূপ ছিল

--------------------------------------------

১- দেখুন: শিবহুল জাযিরাতিল আরাব নজদ, পৃষ্ঠা ১৯৮, মাহমুদ শাকের- প্রকাশনী: আল-মাকতাবুল ইসলামী- ৩য় সংস্করণ "১৪০১ হিজরী- ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দ"।

২- দাওয়াতুশ শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব ওয়া আসারুহা ফিল আলামিল ইসলামী, পৃষ্ঠা ৮।

৩- ফি তারিখিল আরব আল-হাদীস, পৃষ্ঠা ২০৪-২০৫, রচনায় ডক্টর রাফাত আল-শায়খ- প্রকাশনী: দারুস সাকাফাহ লিত্তিবাআতি ওয়ান নাশর- কায়রো- ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দ সংস্করণ, সংক্ষেপে।

৪- তুহফাতুল মুস্তাফিদ বিতারিখিল আহসা ফিল কাদীম ওয়াল জাদীদ ১/১২৪, মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুহসিন আল-আহসাঈ- প্রকাশনী: মাকতাবাতুল মাআরিফ- রিয়াদ এবং মাকতাবাতুল আহসা আল-আহলিয়্যাহ, আল-আহসা – ২য় সংস্করণ "১৪০২ হিজরী- ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দ" প্রথম ও দ্বিতীয় অংশ।

৫- শিবহুল জাযিরা ফি আহদিল মালিক আব্দুল আজীজ ১/২৫, খায়রুদ্দিন আল-জিরিকলী- প্রকাশনী: দারুল ইলম লিল-মালাঈন- বৈরুত- ৩য় সংস্করণ/এপ্রিল ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দ।

৬- হায়াতুশ শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব, পৃষ্ঠা ৪০।