(খণ্ড: ১) শুআবুল ঈমান - ত যাগলুল (পৃষ্ঠা: -)
شعب الإيمان - ت زغلول   (أبو بكر البيهقي)

القسم: كتب السنة

الكتاب: شعب الإيمان

المؤلف: أبو بكر أحمد بن الحسين البيهقي (384 - 458 هـ)

المحقق: أبو هاجر محمد السعيد بن بسيوني زغلول

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت- لبنان

الطبعة: الأولى، 1421 هـ - 2000 م

عدد الأجزاء: 9 (الأخير فهارس)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 5 جُمادَى الأولى 1443

শুআবুল ঈমান - তাহকীক যাগলুল   (আবু বকর আল-বায়হাকী)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব: শুআবুল ঈমান

লেখক: আবু বকর আহমদ বিন আল-হুসাইন আল-বায়হাকী (৩৮৪ - ৪৫৮ হিজরী)

সম্পাদক: আবু হাজার মুহাম্মদ আস-সাঈদ বিন বাসইউনী যাগলুল

প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত- লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২১ হিজরী - ২০০০ ঈসায়ী

খণ্ড সংখ্যা: ৯ (সর্বশেষ খণ্ডটি সূচিপত্র বা নির্ঘণ্ট)

[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ রাখা হয়েছে]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৫ জুমাদাল উলা ১৪৪৩ হিজরী

(খণ্ড: ১) শুআবুল ঈমান - ত যাগলুল (পৃষ্ঠা: ৩)
إهداء

 

- إلى المخلصين المخبتين لرب العالمين.

-إلى السالكين دروب الخير من المؤمنين.

-إلى الباحثين عن الإيمان المتعقبين.

-إلى العاملين المجتهدين في تنقيح حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم والمشتغلين بكل أمر فيه.

-إلى أمة الإسلام حين يعز الله على يديها دينه ويرفع برجالها رايته ..

نهدي هذا العمل.

 

الجامع لشعب الإيمان

للحافظ

البيهقي

 

تحقيق وتصنيف:

محمد السعيد بسيوني زغلول

 

تقديم:

دكتور عبد الغفار سليمان البنداري
উৎসর্গ

 

- রব্বুল আলামীনের প্রতি একনিষ্ঠ ও বিনয়ী বান্দাদের প্রতি।

- মুমিনদের মধ্য হতে কল্যাণের পথে বিচরণকারীদের প্রতি।

- ঈমানের অনুসন্ধানকারী ও এর অনুগামীদের প্রতি।

- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস পরিমার্জনে একনিষ্ঠ কর্মী এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয়ে নিয়োজিত ব্যক্তিদের প্রতি।

- উম্মতে ইসলামের প্রতি, যখন আল্লাহ তাদের হাতে তাঁর দ্বীনকে সম্মানিত করবেন এবং তাদের বীরপুরুষদের দ্বারা তাঁর পতাকাকে সমুন্নত করবেন ..

আমরা এই কর্মটি উৎসর্গ করছি।

 

আল-জামি লি শুআবুল ঈমান

আল-হাফিয

আল-বাইহাকী

 

তাহকীক ও বিন্যাস:

মুহাম্মাদ আস-সাঈদ বাসয়ুনী যাগলুল

 

উপস্থাপনা:

ডক্টর আবদুল গাফফার সুলাইমান আল-বান্দারী
(খণ্ড: ১) শুআবুল ঈমান - ত যাগলুল (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌تصدير

بقلم: دكتور عبد الغفار سليمان البنداري

الحمد لله حمدا كثيرا مباركا فيه، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدا عبده ورسوله. وبعد.

لقد شهد المجتمع المسلم في هذا العصر نهضة حديثية تعد في مدرج التقييم طفرة، وقفزة هائلة لم يشهد لها العالم الإسلامي مثيلا إلا في عصور الرحلة والتدوين الأولى .. وتتميز تلك القفزة الحديثية الهائلة في خروج ركام كان مدفونا من المصنفات الحديثية شديدة الأهمية .. فأين من كانوا بالأمس القريب مثلا يحلمون بمصنف عبد الرزاق‌‌(1) ولا يسمعون عنه إلا في إحالات القدامى من الحفاظ، لقد صار منذ زمن في عداد المطبوعات التي تقادم دورها في القائمة وعلاها ركام غيرها .. مما يقذف به إلى واقعنا المعاصر ..

لقد صار اليوم حقيقة حلم الأمس .. وخرج اليوم ما كان ركاما بالأمس مدفونا وحمل اليوم-كلما بزغ فجر-بشائر مخطوط جديد مما كان رفيق ضياع حقبة الماضي فرأينا يخرج للنور كلاّ من: معجم الطبراني الكبير والأوسط ورأينا أطراف المزي، وسنن النسائي الكبرى‌‌(2) ومصنف عبد الرزاق وشرح السنة للبغوي، أما الجزء الذي طبع بحيدرأباد فقد طبع بالهند سنة 1395 هـ وهو جزء صغير.

--------------------------------------------

‌‌(1) امثال الشيخ أحمد محمد شاكر رحمه الله وعفا عنه.

‌‌(2) تم العثور على مخطوطات السنن الكبرى للحافظ النسائي بفضل الله ورحمته وأقوم الآن بإعداد أصوله بشكل تصنيفي قيم أسأل الله تعالى أن يعينني عليه ويقبله خالصا لوجهه آمين. وسوف تقوم دار الكتب العلمية-إن شاء الله تعالى-بإخراجه قريبا بفضل الله ومنته.

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌ভূমিকা

কলমে: ডক্টর আব্দুল গাফফার সুলাইমান আল-বান্দারি

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, অগণিত বরকতময় প্রশংসা। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসুল। অতঃপর:

বর্তমান যুগে মুসলিম সমাজ হাদীস শাস্ত্রের এমন এক জাগরণ প্রত্যক্ষ করেছে যা মূল্যায়নের মাপকাঠিতে একটি যুগান্তকারী বিপ্লব ও বিশাল উল্লম্ফন হিসেবে গণ্য। মুসলিম বিশ্ব এর আগে ইলম অন্বেষণের সফর ও হাদীস সংকলনের প্রাথমিক যুগগুলো ছাড়া এমন কিছুর সাক্ষী হয়নি। হাদীস শাস্ত্রের এই বিশাল উল্লম্ফনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো হাদীসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এমন বহু সংকলনের পুনরুদ্ধার ও প্রকাশ পাওয়া যা এতদিন পাণ্ডুলিপির স্তূপের নিচে চাপা পড়ে ছিল। উদাহরণস্বরূপ, এই তো নিকট অতীতেও যারা 'মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক'‌‌(১) পাওয়ার স্বপ্ন দেখতেন এবং কেবল প্রাচীন হাফেজগণের উদ্ধৃতিতেই যাঁর নাম শুনতেন, সেই কিতাব আজ অনেক আগে থেকেই মুদ্রিত গ্রন্থাবলির তালিকায় স্থান করে নিয়েছে এবং এর উপর আরও অনেক নতুন কিতাবের সারি জমেছে, যা আমাদের সমকালীন বাস্তবতায় ক্রমাগত সংযোজিত হচ্ছে।

আজ অতীতের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। আজ প্রকাশিত হয়েছে যা গতকাল স্তূপের নিচে চাপা পড়ে ছিল। বর্তমান সময়ে প্রতিটি নতুন ভোর কোনো না কোনো নতুন পাণ্ডুলিপির সুসংবাদ নিয়ে আসছে, যা দীর্ঘ সময় ধরে ইতিহাসের অতল গহ্বরে হারিয়ে গিয়েছিল। আমরা আলোর মুখ দেখতে পেয়েছি তাবারানি সংকলিত 'আল-মু'জামুল কাবীর' ও 'আল-মু'জামুল আওসাত', মিযযি-র 'আতরাফ', নাসায়ি-র 'আস-সুনানুল কুবরা'‌‌(২), 'মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক' এবং বাগভি-র 'শারহুস সুন্নাহ'-র মতো কিতাবগুলোর। হায়দ্রাবাদে নাসায়ি-র যে অংশটি মুদ্রিত হয়েছিল, তা ১৩৯৫ হিজরিতে ভারতে মুদ্রিত একটি ছোট অংশ মাত্র।

--------------------------------------------

‌‌(১) যেমন শায়খ আহমাদ মুহাম্মদ শাকির (আল্লাহ তাঁর উপর দয়া করুন এবং তাঁকে ক্ষমা করুন)।

‌‌(২) আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতে হাফেজ নাসায়ি-র 'আস-সুনানুল কুবরা'-র পাণ্ডুলিপিগুলো পাওয়া গেছে। আমি এখন একে মানসম্মত বিন্যাসে পাণ্ডুলিপি অনুযায়ী প্রস্তুত করছি। আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাকে এ কাজে সাহায্য করেন এবং একে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, আমীন। ইনশাআল্লাহ, অচিরেই আল্লাহর মেহেরবানিতে 'দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ' এটি প্রকাশ করবে।

(খণ্ড: ১) শুআবুল ঈমান - ত যাগলুল (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌مخطوطات الكتاب

والمطبوع منه

‌‌1 - مخطوطة أحمد الثالث‌‌(1) وقد صورت من معهد المخطوطات بالقاهرة ويرمز لها بالرمز «أ».

‌‌2 - مخطوطة دار الكتب المصرية والتي رمز لها بالرمز «ب» وتبدأ خلال الشعبة [19] «تعلم القرآن». حتى الشعبة [48] برقم 33897 ميكرو فيلم في 472 ورقة.

‌‌3 - مخطوطة نور عثمانية ورمز لها بالرمز «ن» وهي عبارة عن المجلد الثالث كله. أما أصل المخطوط فهو في مكتبة نور عثمانية والكثير مما يجّدّ من مصنفات حديثية يضيق المقام هنا لذكرها ..

ولقد أراد الله تعالى لمخطوط من أهم تلك المخطوطات، ومصنف من أهم تلك المصنفات، أن تقع أيدينا عليه رحمة منه وفضلا لشق طريقه إلى الظهور، ويمهد له مكانا مكينا بين المصنفات الحديثية القيمة على بساط النور والعلم ..

إنه كتابنا هذا «الجامع لشعب الإيمان» للحافظ البيهقي.

وبداية، فإني أزف تلك التهنئة إلى أمة الإسلام بخروج هذا الكنز الذي يضم كمّا مهما للغاية من سنة نبينا الكريم صلى الله عليه وسلم خاصة في شعب الإيمان حيث يشكل الجانب الحديثي في محور شعب الإيمان بناءا عقائديا عظيم الأهمية في بناء أهم لبنات الكيان البشري الأخلاقي والإسلامي، وكذا في إرساء أعمدة بنيان الإيمان التي يتكون منها هذا الدين الحنيف.

وقد جعل خروج هذا السفر القيم على يد الأخ الفاضل محمد السعيد بسيوني رصيدا ثقيلا آخر في ميزان حسناته يوم الدين.

وإني إذ أقدم لهذا الكتاب الضخم أرجو أن ينالني من خيره نصيب يكون

--------------------------------------------

‌‌(1) هي نسخة كاملة في مكتبة طبقبو سراي مجموعة أحمد الثالث برقم 499 في ثلاثة أجزاء ومجموع صفحاتها 1184 ومسطرتها 33 سطرا.

‌গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিসমূহ

ও এর মুদ্রিত সংস্করণ

‌১ - আহমদ আল-সালিদ পাণ্ডুলিপি‌(১) যা কায়রোর পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউট থেকে অনুলিপি করা হয়েছে এবং একে ‘আলিফ’ প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে।

‌২ - দারুল কুতুব আল-মিসরিয়ার পাণ্ডুলিপি, যাকে ‘বা’ প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি ১৯তম শাখা «কুরআন শিক্ষা» থেকে শুরু হয়ে ৪৮তম শাখা পর্যন্ত বিস্তৃত, মাইক্রোফিল্ম নম্বর ৩৩৮৯৭ এবং এটি ৪৭২টি পৃষ্ঠায় সম্বলিত।

‌৩ - নূর ওসমানিয়া পাণ্ডুলিপি, একে ‘নুন’ প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এটি সম্পূর্ণ তৃতীয় খণ্ড। মূল পাণ্ডুলিপিটি নূর ওসমানিয়া লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত। আরও অনেক নতুন হাদিস গ্রন্থ যা প্রকাশিত হচ্ছে, এখানে সেগুলোর উল্লেখ করার স্থান সংকুলান হবে না...

আল্লাহ তাআলা চেয়েছেন যে, তাঁর পক্ষ থেকে দয়া ও অনুগ্রহ হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পাণ্ডুলিপি এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি সংকলন আমাদের হাতে আসুক, যাতে এটি প্রকাশের পথ সুগম হয় এবং জ্ঞান ও আলোর ময়দানে মূল্যবান হাদিস সংকলনগুলোর মাঝে একটি সুদৃঢ় স্থান তৈরি করে নেয়...

এটি হলো আমাদের এই কিতাব হাফিজ বায়হাকির «আল-জামে লি-শুয়াবিল ঈমান»।

শুরুতেই, আমি মুসলিম উম্মাহকে এই অমূল্য ভাণ্ডারটি প্রকাশের জন্য অভিনন্দন জানাই, যাতে আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ সংরক্ষিত হয়েছে। বিশেষ করে ঈমানের শাখাগুলোর ক্ষেত্রে, যেখানে ঈমানের শাখাগুলোর হাদিসভিত্তিক দিকটি মানুষের নৈতিক ও ইসলামি কাঠামোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিগুলো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আকিদাগত কাঠামো তৈরি করে, এবং এই একনিষ্ঠ ধর্মের ভিত্তিস্তম্ভগুলোকে সুদৃঢ় করে।

সম্মানিত ভাই মুহাম্মদ আল-সাঈদ বাসইউনির হাতে এই মূল্যবান গ্রন্থের প্রকাশ কিয়ামত দিবসে তাঁর নেক আমলের পাল্লায় আরও একটি ভারী পুঁজি হিসেবে গণ্য হবে।

বিশাল এই কিতাবটির ভূমিকা পেশ করার সময় আমি আশা করি যেন এর কল্যাণের একটি অংশ আমিও লাভ করি যা হবে...

--------------------------------------------

‌(১) এটি তোপকাপি প্যালেস লাইব্রেরির আহমদ আল-সালিদ সংগ্রহের একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি, নম্বর ৪৯৯। এটি তিন খণ্ডে বিভক্ত, যার মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা ১১৮৪ এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ৩৩টি করে লাইন রয়েছে।

(খণ্ড: ১) শুআবুল ঈমান - ত যাগলুল (পৃষ্ঠা: ৭)
في ميزان حسناتي يوم العرض، ودعوة صالحة يبتغى بها وجه الله، تكون لنا حجابا من النار ودربا إلى جنات الفردوس الأعلى .. آمين.
পেশ করার দিনে আমার নেক আমলের পাল্লায়, এবং একটি নেক দোয়া যার মাধ্যমে আল্লাহর চেহারা অন্বেষণ করা হয়, যা আমাদের জন্য জাহান্নামের আগুন থেকে এক অন্তরায় এবং জান্নাতুল ফিরদাউস আল-আ’লার পথ হয়... আমিন।
(খণ্ড: ১) শুআবুল ঈমান - ত যাগলুল (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌المقدمة

الحمد لله وحده وأشهد أن لا إله غيره وأشهد أن محمدا رسوله وعبده، أما بعد. فقد سبق أن أشرت إلى جهود الأخ محمد السعيد بسيوني في مجال السنة خاصة المجال التصنيفي، وعلى وجه التخصيص مجال الفهرسة، وذكرت له، فيما يذكر لأهل الفضل من الناس في هذا المجال موسوعة أطراف الحديث وجملة من فهارس مصنفات السنة المختلفة والتي أشرت إليها في مقدمتي لفهارس الإمام أحمد في مسنده ..

واليوم أذكر له ذلك الجهد المثمر في إخراجه لكتاب «الجامع لشعب الإيمان» للحافظ البيهقي حيث استغرق إخراجه ثلاث سنوات على هذا الوجه المشرق والذي سنفصل شرحه في الصحائف التالية إن شاء الله تعالى ..

 

‌‌مقارنة بين هذا الكتاب

والطبعة الوحيدة التي طبعت منه

-

‌‌1 - قامت دار الكتب العلمية-بيروت بتبني مشروع طباعة شعب الإيمان للحافظ البيهقي مجهزا في هذه الطبعة على الوجه الذي تراه الآن وهي طبعة 1409 هـ-1410 هـ.

‌‌1989 - 1990 ميلادية.

بينما كانت الطبعة السابقة منه في مطبعة الدار السلفية-بومباي-الهند ناقصة جدا وطبعة قبلها بحيدرآباد-الدكن بالمطبعة العزيزية-شاه علي بنده سنة 1406 هـ 1986 م. كطبعة ثانية إشارة إلى طبعة أولى منه وهي ناقصة أيضا.

وقد قام بتحقيق طبعة الدار السلفية الأستاذ عبد العلي عبد الحميد حامد
ভূমিকা

সকল প্রশংসা কেবল আল্লাহর জন্য এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর রাসূল ও বান্দা। এরপর: ইতিপূর্বে আমি সুন্নাহর ক্ষেত্রে, বিশেষ করে গ্রন্থ সংকলন এবং বিশেষভাবে নির্ঘণ্ট তৈরির ক্ষেত্রে ভাই মুহাম্মদ সাঈদ বাসইউনির প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেছি। এই ক্ষেত্রে গুণী ব্যক্তিদের যে অবদানগুলো স্মরণ করা হয়, তাঁর ক্ষেত্রেও আমি ‘মাওসুআতু আতরাফিল হাদিস’ এবং সুন্নাহর বিভিন্ন সংকলনের নির্ঘণ্টসমূহের কথা উল্লেখ করেছি, যা আমি ইমাম আহমদের মুসনাদ-এর নির্ঘণ্টের ভূমিকায় আলোচনা করেছি...

আর আজ আমি হাফেজ বায়হাকির ‘আল-জামি লি শুআবুল ইমান’ গ্রন্থটি প্রকাশে তাঁর সেই ফলপ্রসূ প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করছি, যা এই উজ্জ্বল রূপে প্রকাশ করতে তিন বছর সময় লেগেছে। এর বিস্তারিত বিবরণ আমরা ইনশাআল্লাহ পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলোতে প্রদান করব...

 

‌‌এই গ্রন্থ এবং এর পূর্বে প্রকাশিত

একমাত্র সংস্করণের মধ্যে তুলনা

-

‌‌১ - দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত—হাফেজ বায়হাকির ‘শুআবুল ইমান’ মুদ্রণের প্রকল্প গ্রহণ করেছে, যা বর্তমানে আপনারা যে রূপে দেখছেন সেভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। এটি ১৪০৯ হিজরি - ১৪১০ হিজরির সংস্করণ।

‌‌১৯৮৯ - ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ।

পক্ষান্তরে, এর পূর্ববর্তী সংস্করণ যা ভারতের বোম্বাইয়ের আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ থেকে প্রকাশিত হয়েছিল, তা অত্যন্ত অসম্পূর্ণ ছিল। এছাড়া এর আগে হায়দ্রাবাদ-দাক্ষিণাত্যের শাহ আলী বান্দাহর আল-মাতবাহ আল-আজিজিয়্যাহ থেকে ১৪০৬ হিজরি তথা ১৯৮৬ সালে একটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছিল, যা দ্বিতীয় সংস্করণ হিসেবে চিহ্নিত ছিল এবং এর প্রথম সংস্করণের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছিল, সেটিও অসম্পূর্ণ ছিল।

আর আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ সংস্করণের তাহকিক করেছেন উস্তাদ আব্দুল আলী আব্দুল হামিদ হামিদ।
(খণ্ড: ১) শুআবুল ঈমান - ত যাগলুল (পৃষ্ঠা: ৯)
وقام الحافظ عزيز بك النقشبندي القادري مدير لجنة أنوار المعارف بحيدرآباد «الهند» بالتعليق والتقديم لطبعة حيدرآباد؛ حيث شمل أكثر تخريجاته في الحواشي للآيات القرآنية.

‌‌2 - تحتوي طبعة دار الكتب العلمية على أحد عشر ألف حديث و 269 حديثا غير المكرر والمشار إليه بلفظ مكرر وهو قرابة [300] ثلاثمائة حديثا.

بينما تضم طبعة الدار السلفية بالهند ألف وأربعمائة وأحد عشر حديثا [1411] في ثلاثة مجلدات، بفارق [000،10] عشرة آلاف حديثا بينهما تقريبا أو يزيد في ثلاثة أجزاء برقم 1123 - 1125 - ومجموع أوراقها 1679 كتبت سنة 1159 هـ.

‌‌3 - نسخة منه في مكتبة رئيس الكتاب باستانبول في خمس مجلدات مجموع أوراقها 1273 ومسطرتها تتراوح بين 21 و 25 وتاريخ النسخ 737 هـ ونسخة مكتبة المتحف باستانبول رقم: (2667 - 2669).

‌‌4 - أما الجزء الذي طبع في حيدرأباد بالهند فقد قام باختصاره الشيخ أبو جعفر عمر القزويني المتوفى سنة 619 هـ وقام بتحقيق هذا المختصر والتعليق عليه زكريا علي يوسف ونشره بالقاهره.

 

‌‌منهج العمل في الكتاب

‌‌1 - قام الأخ محمد السعيد بسيوني باستنساخ المخطوط بشكل دقيق وأعد أصوله للطباعة بالشكل الوارد.

‌‌2 - قام بمقابلة مخطوط أحمد الثالث وهي الأصل حيث رمز لها في حواشي الكتاب بالرمز «أ» على المخطوطة الموجودة بدار الكتب المصرية والتي رمز لها بالرمز «ب» وهي تبدأ من الشعبة «19»: «تعلم القرآن» حتى الشعبة رقم «48» وكذا بالمقابلة على مخطوط نور عثمانية التي رمز لها بالرمز «ن» وأثبت تلك الفروق في حواشي الأصل.

وقد استخدم في المقابلة الجزء المطبوع حيث قابل من الحديث «1»
হায়দ্রাবাদের (ভারত) ‘আনোয়ারুল মাআরিফ’ কমিটির পরিচালক হাফেজ আজিজ বেগ নকশবন্দী কাদেরী হায়দ্রাবাদ সংস্করণের টীকা ও ভূমিকা লিখেছেন; যেখানে কুরআনের আয়াতসমূহের পাদটীকায় তার অধিকাংশ তাখরিজ (উৎস নির্দেশ) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

‌‌২ - দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ সংস্করণে ১১,২৬৯টি হাদিস রয়েছে, যা পুনরাবৃত্তিহীন এবং ‘মুকাররার’ (পুনরাবৃত্ত) শব্দ দ্বারা নির্দেশিত হাদিসের সংখ্যা প্রায় ৩০০ (তিনশত)।

অন্যদিকে ভারতের আদ-দারুস সালাফিয়্যাহ সংস্করণে তিন খণ্ডে ১,৪১১ (এক হাজার চারশ এগারো) টি হাদিস রয়েছে, যা উভয় সংস্করণের মাঝে প্রায় ১০,০০০ (দশ হাজার) বা তারও বেশি হাদিসের ব্যবধান। এটি ১১২৩ - ১১২৫ নম্বর পর্যন্ত তিনটি খণ্ডে বিভক্ত এবং এর মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৬৭৯ যা ১১৫৯ হিজরিতে লিখিত।

‌‌৩ - ইস্তাম্বুলের রাইসুল কুততাব লাইব্রেরিতে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে যা পাঁচ খণ্ডে সমাপ্ত, এর মোট পৃষ্ঠা সংখ্যা ১২৭৩ এবং প্রতি পৃষ্ঠার লাইন সংখ্যা ২১ থেকে ২৫-এর মধ্যে। এটি প্রতিলিপিকরণের তারিখ ৭৩৭ হিজরি। এছাড়া ইস্তাম্বুল মিউজিয়াম লাইব্রেরিতে একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে যার নম্বর: (২৬৬৭ - ২৬৬৯)।

‌‌৪ - ভারতের হায়দ্রাবাদে যে অংশটি মুদ্রিত হয়েছে, তা শেখ আবু জাফর উমর আল-কাজউইনি (মৃত্যু ৬১৯ হি.) সংক্ষেপন করেছেন। যাকারিয়া আলী ইউসুফ এই সংক্ষেপনটির তাহকিক (সম্পাদনা) ও টীকা প্রদান করেছেন এবং এটি কায়রো থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

 

‌‌গ্রন্থে অনুসৃত কর্মপদ্ধতি

‌‌১ - ভাই মুহাম্মদ আস-সাঈদ বাসইউনী পাণ্ডুলিপিটি নির্ভুলভাবে প্রতিলিপি করেছেন এবং বর্ণিত আঙ্গিকে মুদ্রণের জন্য এর মূল কপি প্রস্তুত করেছেন।

‌‌২ - তিনি ‘আহমদ আস-সালিছ’ (আহমদ ৩য়) পাণ্ডুলিপিটিকে মূল ধরে—যাকে গ্রন্থের পাদটীকায় ‘আলিফ’ প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে—মিশরের ‘দারুল কুতুব’ পাণ্ডুলিপির সাথে তুলনা করেছেন, যাকে ‘বা’ প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি ১৯তম শাখা ‘কুরআন শিক্ষা’ থেকে শুরু হয়ে ৪৮তম শাখা পর্যন্ত বিস্তৃত। একইভাবে তিনি ‘নূর ওসমানিয়া’ পাণ্ডুলিপির সাথেও তুলনা করেছেন যাকে ‘নুন’ প্রতীক দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এই পার্থক্যসমূহ মূল গ্রন্থের পাদটীকায় সাব্যস্ত করেছেন।

এবং তুলনা করার ক্ষেত্রে তিনি মুদ্রিত খণ্ডটিও ব্যবহার করেছেন, যেখানে তিনি ১ নম্বর হাদিস থেকে তুলনা শুরু করেছেন।
(খণ্ড: ১) শুআবুল ঈমান - ত যাগলুল (পৃষ্ঠা: ১০)
حتى الحديث رقم «1411» وهو ما يقابل القسم المطبوع من «شعب الإيمان» حيدرأباد في ثلاثة مجلدات.

وقد رمز للمطبوع بالرمز «ط».

‌‌3 - قام بتصحيح أسماء كثير من الشيوخ والرجال من خلال عملية مقابلة الأسماء التي اشتمل عليها فهرست الشيوخ الذي قام بإعداده.

‌‌4 - قام بإعداد فهارس للتراجم والأعلام في كل الكتاب وكذا فهارس للأحاديث مرتبة هجائيا على مقاطع الحديث وأطرافه.

‌‌5 - قام بعملية تصنيف رقمية فرقم «الشعب» بمسلسل عام ثم رقم الأحاديث بمسلسل عام حديثي من 1 حتى [11 ألف و 269] غير المكرر مع العلم بأن المكرر حوالي 300 حديث (269 و 11) غير المكرر.
হাদিস নম্বর ‘১৪১১’ পর্যন্ত; যা হায়দ্রাবাদ থেকে তিন খণ্ডে প্রকাশিত ‘শুআবুল ঈমান’-এর মুদ্রিত অংশের অনুরূপ।

আর মুদ্রিত সংস্করণের জন্য ‘ত্বা’ প্রতীক ব্যবহার করা হয়েছে।

‌‌৩ - তিনি তার প্রস্তুতকৃত শিক্ষকদের সূচিতে অন্তর্ভুক্ত নামগুলোর সাথে তুলনামূলক পর্যালোচনার মাধ্যমে অনেক শিক্ষক ও বর্ণনাকারীর নাম সংশোধন করেছেন।

‌‌৪ - তিনি সমগ্র কিতাবের জীবনী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সূচি প্রস্তুত করেছেন, সেইসাথে হাদিসের শব্দ ও প্রথমাংশের ভিত্তিতে বর্ণানুক্রমিকভাবে হাদিসের সূচিও তৈরি করেছেন।

‌‌৫ - তিনি একটি সংখ্যাতাত্ত্বিক বিন্যাস পদ্ধতি সম্পন্ন করেছেন; ফলে তিনি ‘শুআব’ কিতাবকে একটি সাধারণ ধারাবাহিক নম্বর দিয়েছেন এবং এরপর হাদিসগুলোকে ১ থেকে [১১,২৬৯] পর্যন্ত একটি সাধারণ হাদিস নম্বর প্রদান করেছেন (পুনরাবৃত্তি ব্যতীত), উল্লেখ্য যে পুনরাবৃত্ত হাদিসের সংখ্যা প্রায় ৩০০টি (১১,২৬৯টি পুনরাবৃত্তিহীন হাদিস)।
(খণ্ড: ১) শুআবুল ঈমান - ত যাগলুল (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌نبذة عن كتاب

شعب الإيمان

يعد كتاب شعب الإيمان من أهم الكتب الموسوعية للأسانيد والطرق الحديثية التي جمعها الحافظ البيهقي فيه. قال صاحب كشف الظنون (2/ 1047):

شعب الإيمان لأبي عبد الله الحسين بن الحسن الحليمي الشافعي المتوفى سنة 403 سماه «المنهاج» وهو كتاب جليل في ثلاث مجلدات فيه أحكام كثيرة ومسائل فقهية وغيرها مما يتعلق بأصول الإيمان وآيات الساعة وأحوال القيامة.

وللبيهقي الحافظ، المسمى بجامع المصنف. روى البيهقي «أن الإيمان بضع وسبعون شعبة أفضلها لا إله إلا الله وبهذه الرواية أخذ صاحب المنهاج في تقسيمه ذلك على سبع وسبعين بابا بعد بيان صفة الإيمان» اه.

أما البيهقي فقد أورد فيه الأحاديث بأسانيد كثيرة وطرق فريدة جديدة،

وتناول الأسانيد بالنقد تصحيحا أو تضعيفا وتكلم عن علل السند.

وقام بتقسيمه أبوابا وقسم أحكامه تقسيما يتناسب وموضوع الكتاب وأورد انطباعاته العقائدية والفقهية ملخصة بالأحاديث.

أما البيهقي نفسه فقد بين سبب تأليفه لهذا الكتاب فقال:

«فوجدت الحاكم أبا عبد الله الحسين بن الحسن الحليمي رحمنا الله وإياه أورده في كتاب «المنهاج» المصنف في بيان شعب الإيمان المشار إليها في حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم من حقيقة كل واحدة من شعبه وبيان ما تحتاج إليه، مستعملة من الأخبار والآثار ما فيه كفاية، فاقتديت به في تقسيم الأحاديث على الأبواب وحكيت من كلامه ما تبين به المقصود من كل باب. إلا أنه رضى الله عنه
শুআবুল ইমান গ্রন্থের পরিচিতি

শুআবুল ইমান

শুআবুল ইমান গ্রন্থটি হাফেজ আল-বায়হাকী কর্তৃক সংকলিত হাদিসের সনদ এবং বর্ণনাসূত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বকোষীয় গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হয়। কাশফুয যুনুন প্রণেতা (২/১০৪৭) বলেছেন:

আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আল-হাসান আল-হালিমি আশ-শাফেয়ি (মৃত্যু ৪০৩ হিজরি) রচিত শুআবুল ইমান; তিনি এর নাম দিয়েছিলেন 'আল-মিনহাজ'। এটি তিন খণ্ডে সমাপ্ত একটি মহান গ্রন্থ, যাতে অনেক বিধান, ফিকহী মাসআলাহ এবং ইমানের মূলনীতি, কিয়ামতের আলামত ও পরকালের অবস্থা সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়াদি রয়েছে।

হাফেজ বায়হাকী রচিত গ্রন্থটি 'জামেউল মুসান্নাফ' নামে অভিহিত। বায়হাকী বর্ণনা করেছেন যে, "ইমানের সত্তরটিরও বেশি শাখা রয়েছে, যার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।" এই বর্ণনার ভিত্তিতেই আল-মিনহাজ প্রণেতা ইমানের বৈশিষ্ট্য বর্ণনার পর একে সাতাত্তরটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছেন।

পক্ষান্তরে বায়হাকী এতে অনেক সনদ এবং অনন্য নতুন বর্ণনাসূত্রের মাধ্যমে হাদিসসমূহ উল্লেখ করেছেন,

এবং তিনি সনদসমূহের সমালোচনা করেছেন—সহিহ বা জয়িফ হওয়ার ক্ষেত্রে—এবং সনদের ইল্লত (ত্রুটি) নিয়ে আলোচনা করেছেন।

তিনি একে বিভিন্ন অধ্যায়ে বিভক্ত করেছেন এবং এর বিধানগুলোকে গ্রন্থের বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বিন্যস্ত করেছেন। তিনি হাদিসের সারসংক্ষেপ হিসেবে তার আকিদাগত ও ফিকহী অভিমতগুলো উপস্থাপন করেছেন।

স্বয়ং বায়হাকী এই গ্রন্থটি রচনার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেছেন:

«আমি দেখলাম আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আল-হাসান আল-হালিমি (আল্লাহ আমাদের ও তার প্রতি দয়া করুন) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসে ইঙ্গিতকৃত ইমানের শাখাগুলোর বর্ণনায় সংকলিত 'আল-মিনহাজ' গ্রন্থে প্রতিটি শাখার হাকিকত বা বাস্তবতা এবং সেগুলোর প্রয়োজনীয় বিষয়াদি বর্ণনা করেছেন। এতে তিনি পর্যাপ্ত পরিমাণে সংবাদ ও আছার ব্যবহার করেছেন। তাই আমি হাদিসগুলোকে অধ্যায়ে বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে তাকে অনুসরণ করেছি এবং তার কথা থেকে ততটুকু উদ্ধৃত করেছি যা দ্বারা প্রতিটি অধ্যায়ের উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়। তবে তিনি (আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন)
(খণ্ড: ১) শুআবুল ঈমান - ত যাগলুল (পৃষ্ঠা: ১২)
اقتصر في ذلك على ذكر المتون وحذف الأسانيد تحريا للاختصار وأنا على رسم أهل الحديث أحب إيراد ما (أحتاج إليه من المسانيد والحكايات بأسانيدها والاقتصار على ما لا يغلب كونه كذبا» اه.

وهكذا فقد انتهج البيهقي فيه استبعاد الأحاديث المكذوبة ووضع فيه كل حديث يحفظه ما لم يكن مكذوبا.
সংক্ষিপ্তকরণের উদ্দেশ্যে তিনি এতে কেবল মূল পাঠসমূহ উল্লেখ করার এবং সনদসমূহ বাদ দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন। আর আমি হাদীস বিশারদদের অনুসৃত রীতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মুসনাদ ও ঘটনাবলি সেগুলোর সনদসহ বর্ণনা করা পছন্দ করি এবং কেবল সেই সব বর্ণনাতেই সীমাবদ্ধ থাকি যা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল নয়। —উদ্ধৃতি সমাপ্ত।

এভাবেই বায়হাকী এই গ্রন্থে বানোয়াট হাদীসসমূহ বর্জন করার নীতি অবলম্বন করেছেন এবং এতে তাঁর মুখস্থ থাকা প্রতিটি হাদীসই স্থান দিয়েছেন, যতক্ষণ না সেটি বানোয়াট হয়।
(খণ্ড: ১) শুআবুল ঈমান - ত যাগলুল (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌نبذة عن الحافظ البيهقي

ومصنفاته

هو أبو بكر أحمد بن الحسين بن علي بن موسى البيهقي النيسابوري الخسروجردي الإمام الحافظ العلامة المحدث الفقيه الأصولي الزاهد ينسب إلى بيهق وهي قرى مجتمعة ناحية نيسابور على عشرين فرسخا منها وتشتمل على ثلاث مائة وإحدى وعشرين قرية بين نيسابور وقومس وجوين بين أول حدودها ونيسابور ستون فرسخا وكان قصبتها أولا «خسروجرد» ثم صارت «سبزوار».

أما مولده: فقد ولد سنة أربع وثمانين وثلاثمائة في شعبان وتوفي سنة ثمان وخمسين وأربعمائة في جمادى الأولى.

كان الحافظ البيهقي زاهدا ورعا قانعا لكنه مع هذا كان شغوفا بالعلم مشغولا بالحفظ والتدقيق، ولم يكن من الحفاظ الذين يشغلهم الحفظ عن الفقه بل كان حفظه جزءا من فقهه.

عرف البيهقي بصفات نفسية شديدة التوازن؛ فقد جمع بين الزهد والعلم والعبادة والحفظ والورع والنقد، واستقام على التواضع والورع وسعة الاطلاع والعلم.

بدأ رحلة الحفظ وهو ابن خمس عشرة سنة ولم يطلب العلم في مكانه بل تسلح بالرحلة يجمع بها حصيلة حفظه من العراق ونيسابور وبغداد والكوفة ومكة والجبال والحجاز واسفرايين والطابران والدامغان.

وكما كان الشأن بالنسبة لسلفه من الحفاظ أمثال البخاري والنسائي عند ما أنهى مراده من الرحلة وجمع الحديث بدأ مرحلة التدوين والتصنيف الموضوعي.
হাফেয আল-বায়হাকী এবং তাঁর

রচনাবলী সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত ধারণা

তিনি হলেন আবু বকর আহমাদ ইবনুল হুসাইন বিন আলী বিন মুসা আল-বায়হাকী আন-নিসাবুরি আল-খুসরাওজারদি; ইমাম, হাফেয, আল্লামা, মুহাদ্দিস, ফকীহ, উসুলবিদ এবং যাহিদ। তাঁকে বায়হাকের দিকে সম্বন্ধিত করা হয়, যা নিসাবুর অঞ্চলের পার্শ্ববর্তী কতগুলো গ্রামের সমষ্টি। এটি নিসাবুর থেকে বিশ ফরসাখ দূরে অবস্থিত এবং নিসাবুর, কূমিস ও জুওয়াইনের মধ্যবর্তী ৩২১টি গ্রাম এর অন্তর্ভুক্ত। বায়হাকের প্রথম সীমানা এবং নিসাবুরের মধ্যবর্তী দূরত্ব ষাট ফরসাখ। এর প্রধান কেন্দ্র বা শহর প্রথমে ছিল «খুসরাওজারদ», পরবর্তীতে তা «সাবযাওয়ার» নামে পরিচিত হয়।

তাঁর জন্ম: তিনি ৩৮৪ হিজরী সালের শাবান মাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪৫৮ হিজরী সালের জুমাদাল উলা মাসে ইন্তেকাল করেন।

হাফেয আল-বায়হাকী যাহিদ (দুনিয়াবিমুখ), পরহেযগার এবং অল্পে তুষ্ট ব্যক্তি ছিলেন। তবে এর পাশাপাশি তিনি ইলমের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী এবং হিফয ও সুক্ষ্ম গবেষণায় নিমগ্ন ছিলেন। তিনি এমন হাফেযদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না যাদের হিফয করার ব্যস্ততা ফিকহ চর্চা থেকে বিমুখ করে দেয়, বরং তাঁর হিফয ছিল তাঁর ফিকহেরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বায়হাকী অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ মানসিক ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত ছিলেন। তিনি যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা), ইলম, ইবাদত, হিফয, পরহেযগারী এবং সমালোচনা তত্ত্বের সমন্বয় ঘটিয়েছিলেন। তিনি বিনয়, তাকওয়া এবং জ্ঞান ও অধ্যয়নের বিশাল পরিধির ওপর সুদৃঢ় ছিলেন।

তিনি পনের বছর বয়স থেকে ইলম অর্জনের সফর শুরু করেন। তিনি কেবল নিজ এলাকায় ইলম অন্বেষণ করেননি, বরং ইলমের অন্বেষণে সফরের মাধ্যমে নিজেকে সজ্জিত করেন এবং ইরাক, নিসাবুর, বাগদাদ, কুফা, মক্কা, জিবাল, হিজায, ইসফারাইন, তাবরান এবং দামগান থেকে হাদীস সংগ্রহের মাধ্যমে তাঁর ইলমী ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেন।

তাঁর পূর্বসূরি হাফেয ইমাম বুখারী ও ইমাম নাসাঈর মতো, যখন তিনি তাঁর সফরের লক্ষ্য পূরণ এবং হাদীস সংগ্রহ সমাপ্ত করেন, তখন তিনি গ্রন্থ সংকলন ও বিষয়ভিত্তিক রচনার স্তর শুরু করেন।
(খণ্ড: ১) শুআবুল ঈমান - ত যাগলুল (পৃষ্ঠা: ১৪)
فصنف كتاب الآداب‌‌(1)، وكتاب اثبات الرؤية مخطوط، إثبات عذاب القبر‌‌(2)، الخاتم‌‌(3)، حياة الأنبياء‌‌(4)، دلائل النبوة‌‌(5).

والسنن الكبرى للبيهقي‌‌(6)، السنن الصغرى‌‌(7) وكتاب أحكام القرآن‌‌(8) وكتاب الأسماء والصفات‌‌(9) وكتاب الاعتقاد 10 - .

--------------------------------------------

‌‌(1) مطبوع في أربع مجلدات بينما توجد مخطوطته بدار الكتب المصرية برقم 43 حديث ويقع في اثنتين وستين ومائتي ورقة.

‌‌(2) مخطوط بمكتبة أحمد الثالث ضمن مكتبة المتحف باستنبول ضمن مجموعة رقمها 4288 ومنه طبعة في عمان بتحقيق الدكتور شرف محمود.

‌‌(3) مخطوطة بدار الكتب المصرية وتحت يدي صورة خطية منها. ونسخة أخرى بمكتبة أحمد الثالث وأقوم الآن بإعداد أصوله للطباعة إن شاء الله.

‌‌(4) منه نسخة خطية بمكتبة أحمد الثالث ونسخة أخرى بدار الكتب المصرية، ونسخة بمكتبة عارف حكمت بالمدينة المنورة وقد طبع في القاهرة بالمطبعة المحمدية سنة 1357 هـ بتعليق الشيخ محمد بن محمد الخانجي وتقوم دار الحديث-بالقاهرة الآن بطبعه طبعة جديدة بتحقيق فريد عبد العزيز الجندي. وكان له طبعة في سنة 1349 هـ.

‌‌(5) طبع اكثر من طبعة، ونسخته الخطية موجودة بمكتبة المتحف باستنبول في أربع مجلدات برقم 6000 - 6003 ويوجد منها عدة نسخ بدار الكتب المصرية لكنها ناقصة أما المطبوع منه فجزء بتحقيق الأستاذ السيد أحمد صقر عام 1970 م وأعاده الدكتور القلعجي في 7 أجزاء.

‌‌(6) منه النسخة المطبوعة الوحيدة بحيدرآباد الدكن والتي نالت شهرة واسعة لأن كل الإحالات تتم عليها وهذه النسخة مطبوع في الحاشية عليها كتاب «الجوهر النقي في الرد على البيهقي» لابن التركماني.

أما النسخة الخطية فمنها واحدة بدار الكتب المصرية برقم 254 - 267 - حديث وأخرى بمكتبة المتحف باستنبول رقم 2644 - 2660.

‌‌(7) نسختها الخطية موجودة بمكتبة المتحف باستنبول برقم 2664 في 392 ورقة.

‌‌(8) منه نسخة مطبوعة قام بنشره عزت العطار بتحقيق: محمد زاهد الكوثري سنة 1371 هـ- 1951 م واعادت دار الكتب العلمية نشره سنة 1395 هـ. كما أن له نسخة مطبوعة قبلها بمصر بتحقيق عبد الغني عبد الخالق عام 1371 هـ.

‌‌(9) نسخته الخطية موجودة بمكتبة فيض الله باستنبول رقم 1307 وعدد أوراقها 205 ورقات وتاريخ كتابتها سنة 577. وقد طبع هذا الكتاب عدة طبعات أهمها طبعة الهند سنة 1313 هـ بتحقيق محمد محيي الدين الجعفري وطبعة مطبعة السعادة بمصر سنة 1358 هـ بتحقيق الشيخ زاهد الكوثري.

‌‌10 - نسخه الخطية توجد في مكتبة نور عثمانية برقم 1208/ 2 - استنبول في 98 ورقة،

وكذلك مكتبة لاله لي برقم 2423 في 81 ورقة ومصورة جامعة الملك عبد العزيز بمكة المكرمة-

তিনি কিতাবুল আদাব‌‌(১) রচনা করেছেন, এবং কিতাব ইসবাতুর রুয়াহ (আল্লাহকে দেখার প্রমাণ) পাণ্ডুলিপি আকারে বিদ্যমান, ইসবাতু আজাবিল কবর (কবরের আজাব সত্য হওয়ার প্রমাণ)‌‌(২), আল-খাতাম‌‌(৩), হায়াতুল আম্বিয়া (নবীদের জীবন)‌‌(৪), দালাইলুন নুবুওয়াহ (নবুওয়াতের প্রমাণাদি)‌‌(৫)।

এবং বায়হাকীর আস-সুনানুল কুবরা‌‌(৬), আস-সুনানুস সুগরা‌‌(৭), কিতাবু আহকামিল কুরআন‌‌(৮), কিতাবুল আসমা ওয়াস সিফাত‌‌(৯) এবং কিতাবুল ইতিকাদ ১০ -।

--------------------------------------------

‌‌(১) এটি চার খণ্ডে মুদ্রিত, অন্যদিকে এর পাণ্ডুলিপি মিসরের দারুল কুতুব-এ হাদিস বিভাগে ৪৩ নম্বর ক্রমে সংরক্ষিত আছে এবং এটি ২৬২ পৃষ্ঠাব্যাপী বিস্তৃত।

‌‌(২) ইস্তাম্বুলের জাদুঘর লাইব্রেরির অন্তর্গত আহমদ সালেস লাইব্রেরিতে ৪২৮৮ নম্বর সংগ্রহের অধীনে পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে এবং এর একটি সংস্করণ আম্মানে ড. শরাফ মাহমুদের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে।

‌‌(৩) মিসরের দারুল কুতুব-এ পাণ্ডুলিপি রয়েছে এবং আমার নিকট এর একটি পাণ্ডুলিপি কপি আছে। অপর একটি কপি আহমদ সালেস লাইব্রেরিতে রয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ বর্তমানে আমি এর মূল পাঠ মুদ্রণের জন্য প্রস্তুত করছি।

‌‌(৪) এর একটি পাণ্ডুলিপি আহমদ সালেস লাইব্রেরিতে, অন্য একটি মিসরের দারুল কুতুব-এ এবং একটি মদিনা মুনাওয়ারার আরিফ হিকমত লাইব্রেরিতে রয়েছে। এটি কায়রোর মাতবায়াহ মুহাম্মাদিয়াহ থেকে ১৩৫৭ হিজরিতে শেখ মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-খানজীর টীকা সহ মুদ্রিত হয়েছে। বর্তমানে কায়রোর দারুল হাদিস ফারিদ আবদুল আজিজ আল-জুন্দির সম্পাদনায় এর একটি নতুন সংস্করণ মুদ্রণ করছে। ১৩৪৯ হিজরিতেও এর একটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছিল।

‌‌(৫) এটি একাধিকবার মুদ্রিত হয়েছে। এর পাণ্ডুলিপি ইস্তাম্বুল জাদুঘর লাইব্রেরিতে ৪ খণ্ডে ৬০০০-৬০০৩ নম্বরে বিদ্যমান। মিসরের দারুল কুতুব-এ এর কয়েকটি পাণ্ডুলিপি থাকলেও সেগুলো অপূর্ণাঙ্গ। আর মুদ্রিত সংস্করণগুলোর মধ্যে একটি অংশ ১৯৭০ সালে উস্তাদ সাইয়্যেদ আহমদ সাকরের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে এবং ড. কালাজি এটি ৭ খণ্ডে পুনরায় প্রকাশ করেছেন।

‌‌(৬) হায়দ্রাবাদ ডেকান থেকে এর একমাত্র মুদ্রিত সংস্করণটি প্রকাশিত হয়েছে যা ব্যাপক প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, কারণ সমস্ত উদ্ধৃতি এর ভিত্তিতেই দেওয়া হয়। এই সংস্করণের টীকায় ইবনুত তুর্কম্যানীর কিতাব 'আল-জাওহারুন নাকি ফির রাদ্দি আলাল বায়হাকী' মুদ্রিত হয়েছে।

আর পাণ্ডুলিপির ক্ষেত্রে একটি মিসরের দারুল কুতুব-এ হাদিস বিভাগে ২৫৪-২৬৭ নম্বরে এবং অন্যটি ইস্তাম্বুল জাদুঘর লাইব্রেরিতে ২৬৪৪-২৬৬০ নম্বরে রয়েছে।

‌‌(৭) এর পাণ্ডুলিপি ইস্তাম্বুল জাদুঘর লাইব্রেরিতে ২৬৬৪ নম্বরে ৩৯২ পৃষ্ঠায় সংরক্ষিত আছে।

‌‌(৮) এর একটি মুদ্রিত কপি ইজ্জত আল-আত্তার ১৩৭১ হিজরি মোতাবেক ১৯৫১ সালে মুহাম্মাদ জাহিদ আল-কাওসারীর সম্পাদনায় প্রকাশ করেছেন এবং ১৩৯৫ হিজরিতে দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ এটি পুনরায় প্রকাশ করেছে। এছাড়া এর আগে মিসরে ১৩৭১ হিজরিতে আবদুল গনি আবদুল খালেকের সম্পাদনায় একটি সংস্করণ মুদ্রিত হয়েছিল।

‌‌(৯) এর পাণ্ডুলিপি ইস্তাম্বুলের ফয়জুল্লাহ লাইব্রেরিতে ১৩০৭ নম্বরে ২০৫ পৃষ্ঠায় বিদ্যমান এবং এর অনুলিপি তৈরির তারিখ ৫৭৭ হিজরি। এই কিতাবটি কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১৩১৩ হিজরিতে ভারতে মুহাম্মাদ মুহিউদ্দীন আল-জাফরীর সম্পাদনায় এবং ১৩৫৮ হিজরিতে মিসরের মাতবাআতুস সায়াদাহ থেকে শেখ জাহিদ আল-কাওসারীর সম্পাদনায় প্রকাশিত সংস্করণ।

‌‌১০ - এর পাণ্ডুলিপি ইস্তাম্বুলের নূর উসমানিয়া লাইব্রেরিতে ১২০৮/২ নম্বরে ৯৮ পৃষ্ঠায় সংরক্ষিত রয়েছে,

সেইসাথে লালালী লাইব্রেরিতে ২৪২৩ নম্বরে ৮১ পৃষ্ঠায় এবং মক্কা মুকাররমার কিং আব্দুল আজিজ ইউনিভার্সিটির মাইক্রোফিল্মে সংরক্ষিত আছে।

(খণ্ড: ১) শুআবুল ঈমান - ত যাগলুল (পৃষ্ঠা: ১৫)
وكتاب البعث والنشور‌‌(1)،

والأربعين الكبرى والأربعين الصغرى‌‌(2)

والألف مسألة‌‌(3)

وبيان خطأ من أخطأ على الشافعي‌‌(4).

وكتاب تخريج أحاديث الأم‌‌(5) وكتاب الدعوات الكبير‌‌(6).

وكتاب الخلافيات بين الشافعي وأبي حنيفة‌‌(7)،

وكتاب الزهد الكبير‌‌(8)

--------------------------------------------

10 - بمكتبة مركز البحث العلمي على نسخة مكتبة شستربتي بلندن تحت رقم 35 ضمن مجموعة وطبع في القاهرة سنة 1380 هـ بتحقيق الشيخ أحمد مرسي وله عدة طبعات أخرى.

‌‌(1) نسخة الخطية في مكتبة المتحف برقم 2665 و 2666 باستنبول وبالمكتبة السليمانية باستنبول أيضا برقم 1872 كما توجد له نسختان بمكتبة شستربتي بلندن تحت رقمي:3909،3280 وصورت مكتبة مركز البحث العلمي بجامعة الملك عبد العزيز بمكة المكرمة منهما صورة.

وذكر بروكلمان تاريخ التراث العربي (1/ 447) نسختين الأولى بالموصل بالعراق برقم 228/ 17 والأخرى بمكتبة برلين برقم 2734.

‌‌(2) له نسخة خطية في مك تبة عاشر أفندي ض من المكتبة السليمانية-استنبول ضمن مجموعة برقم 1179 وطبعت الصغرى مؤخرا.

‌‌(3) نسختها الخطية ضمن مجموعة برقم 1127 بمكتبة أحمد الثالث-استنبول.

‌‌(4) نسخته الخطية في مكتبة عارف حكمت بالمدينة المنورة تحت رقم 195 - عام و 80 - مجاميع. وطبعته بمؤسسة الرسالة عام 1983 بتحقيق الدكتور الشريف نايف الدعيس.

‌‌(5) هو ثلاثة أجزاء خطية الجزء الأول منه يوجد بمكتبة شستربتي بلندن تحت رقم 3280 وعدد أوراقه 148 ورقة.

والجزء الثاني موجود بدار الكتب المصرية برقم 911 - ألف حديث في 298 ورقة. والثالث مفقود حتى الآن.

‌‌(6) نسخته الخطية بالمكتبة الأصفية بحيدرآباد الهند برقم 14 - أدعية. وقد نص عليه حاجي خليفة في كشف الظنون 1/ 1417 والسبكي في طبقات الشافعية (3/ 4). لكن باسم «الدعوات الصغير».

‌‌(7) نسخه الخطية: يوجد منه نسخة بمعهد المخطوطات بجامعة الدول العربية-القاهرة مصورة عن نسخة أصلية في مكتبة سليم أغا تقع في جزئين الأول 172 ورقة والثاني 174 ورقة. وبدار الكتب المصرية نسخة خطية أخرى برقم 94 فقه شافعي في 172 ورقة وعليها عنوان الجزء الثاني.

‌‌(8) نسخته الخطية بمكتبة عارف حكمت بالمدينة المنورة برقم:142 - حديث بتاريخ كتابة: سنة

কিতাবুল বা’স ওয়ান নুশুর (পুনরুত্থান ও হাশর বিষয়ক গ্রন্থ)‌‌(১),

আল-আরবাঈন আল-কুবরা এবং আল-আরবাঈন আস-সুগরা (বৃহৎ ও ক্ষুদ্র চল্লিশ হাদীসের সংকলন)‌‌(২)

আল-আলফ মাসআলা (এক হাজার মাসআলা)‌‌(৩)

এবং ইমাম শাফিঈর ওপর ভুল আরোপকারীদের ভুল স্পষ্টীকরণ বিষয়ক গ্রন্থ‌‌(৪)।

কিতাবুত তাখরিজি আহাদিসিল উম্ম (কিতাবুল উম্ম-এর হাদীসসমূহের উৎস যাচাই)‌‌(৫) এবং কিতাবুদ দাওয়াতুল কাবীর (দোয়াহসমূহের বৃহৎ গ্রন্থ)‌‌(৬)।

ইমাম শাফিঈ ও ইমাম আবু হানিফার মধ্যকার মতভেদীয় বিষয়াবলি বিষয়ক গ্রন্থ‌‌(৭),

এবং কিতাবুজ জুহদুল কাবীর (দুনিয়াবিমুখতা বা বৈরাগ্য বিষয়ক বৃহৎ গ্রন্থ)‌‌(৮)

--------------------------------------------

১০ - মক্কার বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্রের লাইব্রেরিতে লন্ডনের চেস্টার বিটি লাইব্রেরির ৩৫ নম্বর পাণ্ডুলিপির একটি সংকলনের অন্তর্ভুক্ত কপি হিসেবে সংরক্ষিত আছে। এটি ১৩৮০ হিজরিতে কায়রোতে শেখ আহমদ মুরসির সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে এবং এর আরও বেশ কিছু সংস্করণ রয়েছে।

‌‌(১) এর পাণ্ডুলিপিটি ইস্তাম্বুলের মিউজিয়াম লাইব্রেরিতে ২৬৬৫ ও ২৬৬৬ নম্বরে এবং ইস্তাম্বুলের সুলাইমানিয়া লাইব্রেরিতে ১৮৭২ নম্বরে সংরক্ষিত আছে। এছাড়াও লন্ডনের চেস্টার বিটি লাইব্রেরিতে ৩৯০৯ ও ৩২৮০ নম্বরে এর দুটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে। মক্কার বাদশাহ আব্দুল আজিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্রের লাইব্রেরি সেখান থেকে ফটোকপি সংগ্রহ করেছে। ব্রোকলম্যান তার 'তারিখুত তুরাসিল আরাবি' (১/ ৪৪৭) গ্রন্থে দুটি পাণ্ডুলিপির কথা উল্লেখ করেছেন, প্রথমটি ইরাকের মসুলে ২২৮/ ১৭ নম্বরে এবং অন্যটি বার্লিন লাইব্রেরিতে ২৭৩৪ নম্বরে।

‌‌(২) ইস্তাম্বুলের সুলাইমানিয়া লাইব্রেরির অন্তর্গত আশির এফেন্দি লাইব্রেরিতে ১১৭৯ নম্বর সংকলনে এর একটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে। ক্ষুদ্র সংস্করণটি (আস-সুগরা) সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে।

‌‌(৩) এর পাণ্ডুলিপিটি ইস্তাম্বুলের আহমদ সালিস লাইব্রেরিতে ১১২৭ নম্বর সংকলনে রয়েছে।

‌‌(৪) এর পাণ্ডুলিপিটি মদিনা মুনাওয়ারার আরিফ হিকমত লাইব্রেরিতে ১৯৫ (সাধারণ) ও ৮০ (সংকলন) নম্বরে রয়েছে। এটি ১৯৮৩ সালে মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ থেকে ডক্টর আশ-শরীফ নায়েফ আদ-দুয়াইস-এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে।

‌‌(৫) এটি তিনটি পাণ্ডুলিপি খণ্ডে বিভক্ত। এর প্রথম খণ্ডটি লন্ডনের চেস্টার বিটি লাইব্রেরিতে ৩২৮০ নম্বরে রয়েছে এবং এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ১৪৮। দ্বিতীয় খণ্ডটি মিসরের দারুল কুতুব-এ ৯১১ নম্বরে রয়েছে (এক হাজার হাদীস শিরোনামে), যার পৃষ্ঠা সংখ্যা ২৯৮। তৃতীয় খণ্ডটি এখন পর্যন্ত নিখোঁজ।

‌‌(৬) এর পাণ্ডুলিপিটি ভারতের হায়দ্রাবাদের আসফিয়া লাইব্রেরিতে ১৪ (দোয়া অধ্যায়) নম্বরে রয়েছে। হাজি খলিফা 'কাশফুয যুনুন' (১/ ১৪১৭) গ্রন্থে এবং সুবকী 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ' (৩/ ৪) গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন, তবে সেখানে এর নাম 'আদ-দাওয়াতুস সুগরা' হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।

‌‌(৭) এর পাণ্ডুলিপি: কায়রোতে আরব লীগের পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটে সেলিম আগা লাইব্রেরির মূল পাণ্ডুলিপির একটি অনুলিপি রয়েছে যা দুটি খণ্ডে বিভক্ত। প্রথম খণ্ড ১৭২ পৃষ্ঠা এবং দ্বিতীয় খণ্ড ১৭৪ পৃষ্ঠা। মিসরের দারুল কুতুব-এ ৯৪ (শাফিঈ ফিকহ) নম্বরে ১৭২ পৃষ্ঠার আরেকটি পাণ্ডুলিপি রয়েছে যাতে দ্বিতীয় খণ্ডের শিরোনাম রয়েছে।

‌‌(৮) এর পাণ্ডুলিপিটি মদিনা মুনাওয়ারার আরিফ হিকমত লাইব্রেরিতে ১৪২ (হাদীস) নম্বরে রয়েছে। এটি অনুলিপির তারিখ: বছর...

(খণ্ড: ১) শুআবুল ঈমান - ত যাগলুল (পৃষ্ঠা: ১৬)
ورسالة إلى أبي محمد الجويني‌‌(1)

وكتاب معرفة السنن والآثار‌‌(2)

السنن الكبرى للبيهقي‌‌(3) والسنن الصغرى‌‌(4)

وكتاب القراءة خلف الإمام‌‌(5) وكتاب المدخل إلى كتاب السنن‌‌(6) وكتاب مناقب الشافعي‌‌(7) وكتاب القضاء والقدر‌‌(8).

--------------------------------------------

-ست وعشرين وستمائة 626 هـ وعليها سماعات وطبع بتحقيق الدكتور تقي الدين الندوي بالكويت 1983 م.

‌‌(1) وهي رسالة من البيهقي إلى الجويني يوضح له فيها الأخطاء الحديثية التي وقع فيها عند تأليف الجويني لكتابه «المحيط» ونسخة هذه الرسالة الخطية موجودة في مكتبة أحمد الثالث باستنبول ضمن مجموعة برقم 1127 في 7 ورقات.

‌‌(2) نسخة خطية منه في مكتبة المتحف بإستانبول تبدأ من رقم:2638 - 2643 أما طبعته فمنها جزء بتحقيق الأستاذ السيد أحمد صقر سنة 1970 م.

أما المطبوع فمنها جزء حققه الأستاذ أحمد صقر ضمن مطبوعات المجلس الأعلى للشئون الاسلامية بمصر.

‌‌(3) السنن الكبرى أفردت مقدمة وافية عن مخطوطاته ضمن دراسة قيمة في مقدمة جزء الفهارس الخاص بالسنن الكبرى الذي أعده محمد السعيد بسيوني.

‌‌(4) لم يزل مخطوطا بمكتبة المتحف باستنبول برقم 2664، وقد ذهب بعض الناس إلى القول بأن كتابه «معرفة السنن والآثار» هو «السنن الوسطى».

‌‌(5) نسخته الخطية مصورة وموجودة بمعهد المخطوطات-القاهرة رقم 123 - فقه شافعي وقد صورت عن أصل موجود بمكتبة أحمد الثالث عدد أوراقها 81 ورقة أما طبعاته، فقد طبع بالهند طبعة حجرية بعناية تلطف حسين، وقام الأخ محمد السعيد بسيوني بعمل الحواشي وصنفه من جديد وطبعته دار الحديث بالأزهر-بالقاهرة.

‌‌(6) نسخته الخطية مصورة في مركز البحث العلمي بجامعة الملك عبد العزيز بمكة المكرمة وهي مصورة على نسخة خطية موجودة في مكتبة الجمعية الآسيوية بكلكتا تحت رقم 368 وطبعته للدكتور محمد ضياء الرحمن الأعظمي.

‌‌(7) البيهقي شافعي المذهب ويبدو أنه أحب هذا المذهب بشدة فذهب يدافع عنه وعن الشافعي فدافع عنه في كتب منها: رد الانتقاد على لفظ الامام الشافعي (مخطوط) وبيان خطأ من أخطأ على الشافعي، وكتاب تخريج أحاديث الأم وكتاب الخلافيات بين الشافعي وأبي حنيفة.

وهذا الكتاب مناقب الشافعي طبع بالقاهرة سنة 1391 هـ بدار النصر للطباعة في جزءين حققهما الأستاذ السيد أحمد صقر.

‌‌(8) نسخته الخطية موجودة ضمن المكتبة السليمانية باستنبول-بمكتبة الشهيد علي باشا--

এবং আবু মুহাম্মাদ আল-জুওয়াইনীর নিকট একটি পত্র‌‌(১)

এবং ‘মা‘রিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার’ গ্রন্থ‌‌(২)

বায়হাকীর ‘আস-সুনানুল কুবরা’‌‌(৩) এবং ‘আস-সুনানুস সুগরা’‌‌(৪)

এবং ‘আল-কিরাআতু খালফাল ইমাম’ গ্রন্থ‌‌(৫) ও ‘আল-মাদখাল ইলা কিতাবিস সুনান’ গ্রন্থ‌‌(৬) এবং ‘মানাকিবুল শাফিঈ’ গ্রন্থ‌‌(৭) ও ‘আল-কাদা ওয়াল কাদার’ গ্রন্থ‌‌(৮)।

--------------------------------------------

-ছয়শত ছাব্বিশ ৬২৬ হিজরী, এর উপর পঠন-শ্রবণের (সামা‘আত) তথ্য রয়েছে এবং ড. তাকিউদ্দীন নাদভীর সম্পাদনায় ১৯৮৩ সালে কুয়েতে মুদ্রিত হয়েছে।

‌‌(১) এটি বায়হাকীর পক্ষ থেকে আল-জুওয়াইনীর নিকট প্রেরিত একটি পত্র, যাতে তিনি জুওয়াইনী তার ‘আল-মুহিত’ গ্রন্থটি রচনার সময় হাদীস সংক্রান্ত যেসব ভুল করেছিলেন, তা স্পষ্ট করেছেন। এই পত্রটির পাণ্ডুলিপি ইস্তাম্বুলের আহমদ সালাসা লাইব্রেরিতে ১১২৭ নম্বর সংকলনের অধীনে ৭টি পত্রে সংরক্ষিত আছে।

‌‌(২) এর একটি পাণ্ডুলিপি ইস্তাম্বুলের জাদুঘর (মিউজিয়াম) লাইব্রেরিতে ২৬৩৮ - ২৬৪৩ নম্বর পর্যন্ত রয়েছে। এর মুদ্রিত সংস্করণের মধ্যে একটি অংশ ১৯৭০ সালে জনাব সাইয়্যেদ আহমদ সাকরের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে।

মুদ্রিত সংস্করণ সম্পর্কে বলা যায়, এর একটি অংশ মিশরের উচ্চতর ইসলামি বিষয়ক কাউন্সিলের প্রকাশনার অধীনে আহমদ সাকর সম্পাদনা করেছেন।

‌‌(৩) আস-সুনানুল কুবরার পাণ্ডুলিপিগুলো সম্পর্কে একটি পূর্ণাঙ্গ ভূমিকা মুহাম্মদ আস-সাঈদ বাসইউনী কর্তৃক প্রস্তুতকৃত আস-সুনানুল কুবরার নির্ঘণ্ট (সূচিপত্র) খণ্ডের শুরুতে একটি মূল্যবান গবেষণার মধ্যে প্রদান করা হয়েছে।

‌‌(৪) এটি এখনও ইস্তাম্বুলের জাদুঘর লাইব্রেরিতে ২৬৬৪ নম্বরে পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন যে, তার ‘মা‘রিফাতুস সুনানি ওয়াল আসার’ গ্রন্থটিই হলো ‘আস-সুনানুল উসতা’।

‌‌(৫) এর পাণ্ডুলিপির ছায়াচিত্র কায়রোর পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউটে সংরক্ষিত আছে (নম্বর ১২৩ - শাফিঈ ফিকহ)। এটি আহমদ সালাসা লাইব্রেরিতে বিদ্যমান মূল পাণ্ডুলিপি থেকে ধারণ করা হয়েছে যার পৃষ্ঠা সংখ্যা ৮১। এর মুদ্রিত সংস্করণগুলোর মধ্যে এটি ভারতে তালতুফ হুসাইনের তত্ত্বাবধানে লিথোগ্রাফিক পদ্ধতিতে মুদ্রিত হয়েছিল। পরবর্তীতে জনাব মুহাম্মদ আস-সাঈদ বাসইউনী এর টীকা প্রদান ও নতুন বিন্যাস করেন এবং এটি কায়রোর আল-আজহারের দারুল হাদীস থেকে মুদ্রিত হয়।

‌‌(৬) এর পাণ্ডুলিপির ছায়াচিত্র মক্কাতুল মুকাররামায় কিং আব্দুল আজিজ ইউনিভার্সিটির বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্রে রয়েছে। এটি কলকাতার এশিয়াটিক সোসাইটি লাইব্রেরিতে ৩৬৮ নম্বরে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি থেকে ধারণ করা। এটি ড. মুহাম্মদ যিয়াউর রহমান আল-আযমীর সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে।

‌‌(৭) বায়হাকী শাফিঈ মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং প্রতীয়মান হয় যে তিনি এই মাযহাবকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তাই তিনি এই মাযহাব ও ইমাম শাফিঈর পক্ষাবলম্বন করতে গিয়ে বেশ কিছু গ্রন্থ লিখেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: ‘রাদ্দু আল-ইনতিকাদ আলা লাফজিল ইমাম আশ-শাফিঈ’ (পাণ্ডুলিপি), ‘বায়ানু খাতা মান আখতা’ আলাশ শাফিঈ’, ‘তাখরিজু আহাদিসিল উম্ম’ এবং ‘আল-খিলাফিয়্যাত বাইনাশ শাফিঈ ওয়া আবি হানিফা’।

আর এই ‘মানাকিবুল শাফিঈ’ গ্রন্থটি ১৩৯১ হিজরীতে কায়রোতে দারুন নাসর প্রকাশনী থেকে দুই খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে, যা সম্পাদনা করেছেন জনাব সাইয়্যেদ আহমদ সাকর।

‌‌(৮) এর পাণ্ডুলিপি ইস্তাম্বুলের সুলাইমানিয়া লাইব্রেরির অন্তর্গত শহীদ আলী পাশা লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে।

(খণ্ড: ১) শুআবুল ঈমান - ত যাগলুল (পৃষ্ঠা: ১৭)
وكتاب فضائل الأوقات للبيهقي‌‌(1).

ونسوق هنا قائمة موجزة بباقي مؤلفات الحافظ البيهقي التي أمكن معرفتها وجمعها:

-الايمان وهو الذي أشار إليه المصنف هنا وأحال إليه ولا أعرف نسخة خطية له.

-الترغيب والترهيب .... مفقود.

-رسالة في حديث الجويباري … مخطوطة.

-فضائل الصحابة.

-كتاب الإسراء-وقيل الأسرى أو الأسرار.

-كتاب المبسوط في نصوص الشافعي‌‌(2).

-مناقب أحمد بن حنبل … مفقود.

-معرفة علوم الحديث.

-جامع أبواب وجوه قراءة القرآن.

-جماع أبواب قراءة القرآن في الصلاة على الإمام‌‌(3) والمأموم.

-ينابيع الأصول‌‌(4).

-ترتيب الصلاة‌‌(5).

-وأخيرا كتابنا هذا وهو «الجامع لشعب الإيمان» وهناك من المصنفات

--------------------------------------------

-وتقع في [110] ورقات وكتبت سنة 566 وعليها سماعات برقم 1488.

‌‌(1) وهو مخطوط تحت يدي نسخة مصورة منه ويقع في 98 لوحة تضم اللوحة صفحتين عدد مسطرتها 17 سطرا.

‌‌(2) انظر حاجي خليفة في كشف الظنون (2/ 1582) والسبكي في طبقات الشافعية (4/ 9). وقد ذكر حاجي خليفة أنه في عشرين مجلدا.

এবং বায়হাক্বীর ‘ফাদাইলুল আওকাত’‌‌(১) গ্রন্থটি।

হাফিয বায়হাক্বীর অবশিষ্ট অন্যান্য রচনাবলী যা জানা ও সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে, আমরা এখানে তার একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা পেশ করছি:

- আল-ঈমান: এটি সেই গ্রন্থ যার প্রতি লেখক এখানে ইশারা করেছেন এবং এর উদ্ধৃতি দিয়েছেন; তবে এর কোনো পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে আমার জানা নেই।

- আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব... এটি বিলুপ্ত।

- জুয়াইবারি-র হাদীস বিষয়ক একটি রিসালাহ … এটি পাণ্ডুলিপি আকারে বিদ্যমান।

- ফাদাইলুস সাহাবা (সাহাবীদের ফযীলতসমূহ)।

- কিতাবুল ইসরা—বলা হয়ে থাকে ‘আল-আসরা’ অথবা ‘আল-আসরার’।

- কিতাবুল মাবসুত ফী নুসুইসিশ শাফিঈ‌‌(২)।

- মানাক্বিবু আহমাদ ইবনে হাম্বল … এটি বিলুপ্ত।

- মা’রিফাতু উলুমিল হাদীস।

- জামি’উ আবওয়াবি উজুহি কিরাআতিল কুরআন।

- জিমা’উ আবওয়াবি কিরাআতিল কুরআন ফিস সালাতি আলাল ইমাম‌‌(৩) ওয়াল মামুম।

- ইয়ানাবিউল উসুল‌‌(৪)।

- তারতীবুস সালাত‌‌(৫)।

- এবং পরিশেষে আমাদের এই গ্রন্থটি, যা হলো ‘আল-জামি’ লি শুআবুল ঈমান’। এছাড়াও আরও কিছু রচনা রয়েছে...

--------------------------------------------

- এটি ১১০টি পাতায় বিন্যস্ত এবং ৫৬৬ হিজরীতে অনুলিখিত, যার ওপর ১৪৮৮ নম্বর সমা’ (শ্রবণ টীকা) রয়েছে।

‌‌(১) এটি পাণ্ডুলিপি আকারে আমার হস্তগত রয়েছে এবং এর একটি ছায়ালিপিও (ফটোকপি) আছে। এটি ৯৮টি ফোলিওতে বিন্যস্ত, যার প্রতিটিতে দুটি করে পৃষ্ঠা এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ১৭টি করে লাইন রয়েছে।

‌‌(২) দেখুন: হাজি খলীফা রচিত ‘কাশফুজ জুনুন’ (২/ ১৫৮২) এবং সুবকী রচিত ‘তাবাক্বাতুশ শাফিইয়্যাহ’ (৪/ ৯)। হাজি খলীফা উল্লেখ করেছেন যে, এটি বিশ খণ্ডে সমাপ্ত।

(খণ্ড: ১) শুআবুল ঈমান - ত যাগলুল (পৃষ্ঠা: ১৮)
التي صنفها البيهقي ما لم تصل إلى أيدينا.

ويكفي أن نذكر هنا قول السيوطي في طبقات الحفاظ‌‌(1) «وقد بلغت مصنفاته ما يقارب ألف جزء».

 

‌‌وفاته:

توفي الحافظ البيهقي في جمادى الأولى سنة ثمان وخمسين وأربعمائة في نيسابور ودفن ببيهق، رحمه الله.

--------------------------------------------

‌‌(1) طبقات الحفاظ (ص:434).

আল-বায়হাকী যা কিছু রচনা করেছেন এবং যা আমাদের নিকট পৌঁছেনি।

এখানে 'তাবাকাতুল হুফফাজ'‌‌(১) গ্রন্থে সুয়ূতীর এই বক্তব্যটি উল্লেখ করাই যথেষ্ট: "তাঁর রচনাবলি প্রায় এক হাজার খণ্ডে পৌঁছেছে।"

 

‌‌তাঁর ইন্তেকাল:

হাফেজ আল-বায়হাকী চারশত আটান্ন হিজরী সালের জুমাদাল উলা মাসে নিশাপুরে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে বায়হাকে দাফন করা হয়, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

--------------------------------------------

‌‌(১) তাবাকাতুল হুফফাজ (পৃষ্ঠা: ৪৩৪)।

(খণ্ড: ১) শুআবুল ঈমান - ত যাগলুল (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌تحقيق تسمية الكتاب

‌‌1 - جاءت تسميته: «الجامع لشعب الإيمان» كما في مختصر سياق نيسابور /30 أ.

‌‌2 - سماه البيهقي «الجامع» في كتابه الاعتقاد‌‌(1) وكتاب الزهد‌‌(2) وعليه فقد أطلق عليه اسم «الجامع المصنف في شعب الإيمان».

‌‌3 - اختصره الشيخ أبو جعفر عمر القزويني عام 619 هـ وحققه الشيخ زكريا علي يوسف وسماه «مختصر شعب الإيمان» ونسبه للبيهقي وهو مختصر مخل جدا.

‌‌4 - تجاوز القدماء في تسميته اختصارا فاطلقوا عليه اسم «شعب الايمان» واشتهر بهذه التسمية‌‌(3).

وقد أثبتنا هنا التسمية المشهورة التي أطلقها الحفاظ عليه: «شعب الايمان». وقد أشرنا إلى سبب تصنيف البيهقي له في المقدمة.

والله تعالى نسأله التوفيق لطاعته وعظيم النفع بدينه وحسن الخاتمة والنجاة على الصراط وجنات الفردوس آمين.

دكتور عبد الغفار سليمان البنداري

القاهرة حدائق القبة

24 شارع علي حمادة

--------------------------------------------

‌‌(1) الاعتقاد (ص 30 و 91 و 96 و 114).

‌‌(2) الزهد 85.

‌‌(3) انظر السير للذهبي (18/ 166) والوافي: (6/ 354) والأنساب للسمعاني (2/ 412)، وفيات الأعيان (1/ 76) والبداية (12/ 94)

গ্রন্থটির নামকরণের পর্যালোচনা

‌১ - এর নামকরণ করা হয়েছে: «আল-জামি লি শুআবিল ইমান», যেমনটি ‘মুখতাসারু সিয়াকি নিসাবুর’ / ৩০ ক-তে বর্ণিত হয়েছে।

‌২ - ইমাম বায়হাকী তাঁর ‘আল-ইতিকাদ’ কিতাবে এবং ‘আয-যুহদ’ কিতাবে একে «আল-জামি» নামে অভিহিত করেছেন। এর ওপর ভিত্তি করেই কিতাবটির পূর্ণ নাম রাখা হয়েছে «আল-জামি আল-মুসান্নাফ ফি শুআবিল ইমান»।

‌৩ - শেখ আবু জাফর উমর আল-কাযওয়িনী ৬১৯ হিজরি সালে এটি সংক্ষেপ করেছেন এবং শেখ যাকারিয়া আলী ইউসুফ এটি সম্পাদনা করেছেন ও এর নাম রেখেছেন «মুখতাসারু শুআবিল ইমান» এবং একে বায়হাকীর দিকে নিসবত করেছেন; তবে এটি অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ একটি সংক্ষিপ্তসার।

‌৪ - পূর্ববর্তীগণ সংক্ষেপ করার তাগিদে এর নামকরণের ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত রূপ অবলম্বন করেছেন এবং একে «শুআবুল ইমান» নামে অভিহিত করেছেন; আর এই নামেই এটি প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।

আমরা এখানে সেই প্রসিদ্ধ নামটিকে সাব্যস্ত করেছি যা হাফেজগণ (মুহাদ্দিসগণ) এর ওপর প্রয়োগ করেছেন: «শুআবুল ইমান»। আর বায়হাকী এটি সংকলন করার কারণ আমরা মুখবন্ধে উল্লেখ করেছি।

আমরা মহান আল্লাহর নিকট তাঁর আনুগত্যের তাওফিক, তাঁর দ্বীনের মাধ্যমে মহা উপকার, উত্তম সমাপ্তি, সিরাতের ওপর মুক্তি এবং জান্নাতুল ফিরদাউস কামনা করি। আমিন।

ডক্টর আব্দুল গাফফার সুলাইমান আল-বান্দারি

কায়রো, হাদায়িকুল কুব্বাহ

২৪ আলী হামাদা স্ট্রিট

--------------------------------------------

‌(১) আল-ইতিকাদ (পৃষ্ঠা: ৩০, ৯১, ৯৬ ও ১১৪)।

‌(২) আয-যুহদ ৮৫।

‌(৩) দেখুন: আয-যাহাবীর ‘আস-সিয়ার’ (১৮/১৬৬), ‘আল-ওয়াফি’ (৬/৩৫৪), আস-সামআনী রচিত ‘আল-আনসাব’ (২/৪১২), ‘ওয়াফায়াতুল আইয়ান’ (১/৭৬) এবং ‘আল-বিদায়াহ’ (১২/৯৪)।

(খণ্ড: ১) শুআবুল ঈমান - ত যাগলুল (পৃষ্ঠা: ২১)
صورة الغلاف من مخطوط نور عثمانية
নূর উসমানিয়া পাণ্ডুলিপি হতে প্রচ্ছদ চিত্র
(খণ্ড: ১) শুআবুল ঈমান - ত যাগলুল (পৃষ্ঠা: ২২)
الاولى من مخطوط نور عثمانية
নূর ওসমানিয়া পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠা
(খণ্ড: ১) শুআবুল ঈমান - ত যাগলুল (পৃষ্ঠা: ২৩)
الصفحة الاخيرة من مخطوط نور عثمانية
নূর ওসমানীয়াহ পাণ্ডুলিপির সর্বশেষ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) শুআবুল ঈমান - ত যাগলুল (পৃষ্ঠা: ২৪)
صورة الغلاف من مخطوط احمد الثالث
তৃতীয় আহমদ পাণ্ডুলিপি হতে প্রচ্ছদচিত্র
(খণ্ড: ১) শুআবুল ঈমান - ত যাগলুল (পৃষ্ঠা: ২৫)
صورة الورقة الاخيرة من مخطوط احمد الثالث
আহমদ আস-সালিদ পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠার চিত্র।
(খণ্ড: ১) শুআবুল ঈমান - ত যাগলুল (পৃষ্ঠা: ২৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

وبه نستعين

الحمد لله رب العالمين، وصلاته وسلامه على سيّدنا محمد، وعلى آله وصحبه أجمعين، صلاة دائمة إلى يوم الدين.

أخبرنا الشيخ الإمام، العالم، الحافظ، الثقة، أبو القاسم علي بن الحسن بن هبة الله بن عبد الله بن الحسين الشافعي رضي الله عنه قراءة عليه وأنا أسمع يوم الأحد ثامن جمادى الأولى سنة إحدى وسبعين وخمسمائة بمدينة دمشق حرسها الله.

قال: حدثنا الشيخ أبو القاسم زاهر بن طاهر بن محمد بن محمد الشحامي بقراءتي عليه بنيسابور.

قال: أخبرنا الشيخ الإمام أبو بكر أحمد بن الحسين بن علي بن موسى البيهقي الحافظ رضي الله عنه، قال:

أخبرنا الإمام الحافظ أبو محمد القاسم بن الحافظ أبي القاسم علي بن الحسين الشافعيّ قراءة عليه،

قال أخبرنا الفقيه أبو عبد الله محمد بن الفضل الفراويّ‌‌(1)، وأبو القاسم زاهر بن طاهر الشحاميّ‌‌(2).

وحدثني أبي وأبو الحسن علي بن سليمان المرادي، عن زاهر، قال أنبا

--------------------------------------------

‌‌(1) -أبو عبد الله محمد بن الفضل الفراوي (ت 530).

‌‌(2) -أبو القاسم زاهر بن طاهر الشحامي (ت 533)
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

এবং তাঁরই নিকট আমরা সাহায্য প্রার্থনা করছি।

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং তাঁর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর উপর—কিয়ামত দিবস পর্যন্ত অব্যাহতভাবে।

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ, ইমাম, আলিম, হাফিজ, নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব, আবুল কাসিম আলী ইবনুল হাসান ইবনু হিবাতিল্লাহ ইবনু আবদিল্লাহ ইবনুল হুসাইন আশ-শাফিয়ী (রাযিয়াল্লাহু আনহু), তাঁর সামনে পাঠ করার মাধ্যমে যখন আমি শ্রবণ করছিলাম; ৫৭১ হিজরি সনের ৮ই জুমাদাল উলা, রবিবার দিনে, দামেস্ক শহরে—আল্লাহ শহরটিকে রক্ষা করুন।

তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন শাইখ আবুল কাসিম যাহির ইবনু তাহির ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু মুহাম্মাদ আশ-শাহ্হামী, নাইশাপুরে তাঁর নিকট আমার পাঠের মাধ্যমে।

তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ, ইমাম আবু বকর আহমাদ ইবনুল হুসাইন ইবনু আলী ইবনু মুসা আল-বাইহাকী আল-হাফিজ (রাযিয়াল্লাহু আনহু), তিনি বলেন:

আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম হাফিজ আবু মুহাম্মাদ আল-কাসিম ইবনুল হাফিজ আবিল কাসিম আলী ইবনুল হুসাইন আশ-শাফিয়ী, তাঁর নিকট পাঠের মাধ্যমে,

তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফকিহ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনুল ফাদল আল-ফারাউয়ি‌‌(১), এবং আবুল কাসিম যাহির ইবনু তাহির আশ-শাহ্হামী‌‌(২)।

এবং আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা এবং আবুল হাসান আলী ইবনু সুলাইমান আল-মুরাদী, যাহির থেকে, তিনি বলেন, আমাদের জানানো হয়েছে—

--------------------------------------------

‌‌(১) -আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনুল ফাদল আল-ফারাউয়ি (মৃত্যু ৫৩০ হিজরি)।

‌‌(২) -আবু কাসিম যাহির ইবনু তাহির আশ-শাহ্হামী (মৃত্যু ৫৩৩ হিজরি)
(খণ্ড: ১) শুআবুল ঈমান - ত যাগলুল (পৃষ্ঠা: ২৮)
الشيخ الإمام الحافظ، شيخ السنّة أبو بكر أحمد بن الحسين بن علي بن موسى البيهقي الحافظ رحمه الله.

قال:

الحمد لله الواحد، القديم، الماجد، العظيم، الواسع، العليم، الذي خلق الإنسان في أحسن تقويم، وعلّمه أفضل تعليم، وكرّمه على كثير ممّن خلق أبين تكريم.

أحمده، وأستعينه، وأعوذ به من الزّلل، وأستهديه لصالح القول والعمل، وأسأله أن يصلي على النبي المصطفى، الرسول الكريم المجتبى، محمد خاتم النبيين وسيد المرسلين، وعلى آله الطّيّبين الطّاهرين، وسلم كثيرا.

أما بعد! فإن الله-جلّ ثناؤه وتقدّست أسماؤه-بفضله ولطفه وفّقني لتصنيف كتب مشتملة على أخبار مستعملة في أصول الدين وفروعه، (والحمد لله على ذلك كثيرا. ثم إني أحببت تصنيف كتاب جامع لأصل الإيمان وفروعه) وما جاء من الأخبار في بيانه وحسن القيام به لما في ذلك من الترغيب والترهيب، فوجدت الحاكم أبا عبد الله الحسين بن الحسن الحليمي- رحمنا الله وإياه-أورد في «كتاب المنهاج المصنف في بيان شعب لإيمان» المشار إليها في حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم من حقيقة كل واحدة من شعبه، وبيان ما يحتاج إليه مستعمله من فروضه وسننه وأدبه وما جاء في معناه من الأخبار والآثار-ما فيه كفاية، فاقتديت به في تقسيم الأحاديث على الأبواب، وحكيت من كلامه عليها ما يتبيّن به المقصود من كل باب؛ إلاّ أنه-رضي الله عنا وعنه-اقتصر في ذلك على ذكر المتون، وحذف الأسانيد تحرّيا للاختصار؛ وأنا-على رسم أهل الحديث-أحب إيراد ما أحتاج إليه من المسانيد والحكايات بأسانيدها، والاقتصار على ما لا يغلب على القلب كونه كذبا. ففي الحديث الثابت عن سيدنا المصطفى صلى الله عليه وسلم أنه قال:

«من حدّث بحديث وهو يرى أنّه كذب فهو أحد الكاذبين».

وحكينا عن الإمام أبي عبد الله محمد بن إدريس الشافعيّ-رحمه الله تعالى-روايته عن سفيان بن عيينة أنه قال:
শায়খ, ইমাম, হাফিয, সুন্নাহর শায়খ আবু বকর আহমদ ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী ইবনে মুসা আল-বায়হাকী আল-হাফিয (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)।

তিনি বলেন:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি এক, অনাদি, মহিমান্বিত, মহান, প্রশস্ত, সর্বজ্ঞ; যিনি মানুষকে সর্বোত্তম অবয়বে সৃষ্টি করেছেন, তাকে সর্বোত্তম শিক্ষা দান করেছেন এবং যাকে তিনি সৃষ্টি করেছেন তাদের অনেকের ওপর তাকে সুস্পষ্টভাবে সম্মানিত করেছেন।

আমি তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি, পদস্খলন থেকে তাঁর কাছে আশ্রয় চাই এবং নেক কথা ও কাজের জন্য তাঁর কাছে হেদায়েত কামনা করি। আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি সালাত বর্ষণ করেন মনোনীত নবী, সম্মানিত ও নির্বাচিত রাসূল, নবীদের সিলমোহর এবং রাসূলদের সরদার মুহাম্মাদের ওপর, আর তাঁর পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন পরিবার-পরিজনের ওপর এবং প্রচুর সালাম বর্ষণ করেন।

অতঃপর! আল্লাহ—যাঁর প্রশংসা মহান এবং যাাঁর নামসমূহ পবিত্র—তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় আমাকে দ্বীনের মূলনীতি এবং শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত প্রচলিত বর্ণনাসমূহ সম্বলিত গ্রন্থসমূহ রচনার তাওফিক দান করেছেন। (আর এর জন্য আল্লাহর অনেক প্রশংসা। এরপর আমি ঈমানের মূল ও শাখা-প্রশাখা সম্বলিত একটি সংকলিত গ্রন্থ রচনা করতে পছন্দ করলাম) এবং এর বর্ণনায় যা কিছু হাদীস এসেছে এবং এর ওপর সুন্দরভাবে অটল থাকার বিষয়ে যা কিছু উৎসাহ ও ভীতি প্রদর্শনকারী বর্ণনা এসেছে [তা সংকলন করতে চাইলাম]। আমি হাকিম আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন ইবনুল হাসান আল-হালীমী—আল্লাহ আমাদের ও তাঁর প্রতি রহম করুন—কে তাঁর রচিত «আল-মিনহাজুল মুসান্নাফ ফী বায়ানি শুআবুল ঈমান» গ্রন্থে ঈমানের শাখাগুলোর বর্ণনায় দেখেছি, যা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসে নির্দেশিত হয়েছে। তিনি সেখানে প্রতিটি শাখার প্রকৃত রূপ এবং এগুলোর আমলকারীর জন্য প্রয়োজনীয় ফরয, সুন্নাত ও আদবসমূহ এবং এর মর্মার্থের সাথে সংশ্লিষ্ট হাদীস ও আসারসমূহ যা যথেষ্ট তা বর্ণনা করেছেন। সুতরাং আমি অধ্যায়ভিত্তিক হাদীস বিন্যাসের ক্ষেত্রে তাঁর অনুসরণ করেছি এবং প্রতিটি অধ্যায়ের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করার জন্য তাঁর কথা থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছি; তবে তিনি—আল্লাহ আমাদের ও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন—সেখানে কেবল মূল পাঠ উল্লেখ করার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলেন এবং সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে সনদসমূহ বাদ দিয়েছেন। আর আমি—হাদীস বিশারদদের রীতি অনুযায়ী—প্রয়োজনীয় সনদ ও ঘটনাসমূহ তাদের সূত্রসহ উল্লেখ করতে পছন্দ করি, এবং কেবল সেগুলোর ওপর সীমাবদ্ধ থাকি যা মিথ্যা হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা নেই। কেননা আমাদের নেতা মনোনীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত সাব্যস্ত হাদীসে এসেছে যে, তিনি বলেছেন:

«যে ব্যক্তি কোনো হাদীস বর্ণনা করে অথচ সে মনে করে যে তা মিথ্যা, তবে সে মিথ্যাবাদীদেরই একজন।»

আর আমরা ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইদ্রিস আশ-শাফিঈ—আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর রহম করুন—কর্তৃক সুফিয়ান ইবনে উয়ায়না থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েতটি উল্লেখ করেছি যে, তিনি বলেছেন:
(খণ্ড: ১) শুআবুল ঈমান - ত যাগলুল (পৃষ্ঠা: ২৯)
حدثني الزهري يوما بحديث فقلت: هاته بلا إسناد.

فقال الزهري: أترقى السّطح بلا سلّم!

وقد ذكرت إسناد هذا الحديث وهذه الحكاية في «كتاب المدخل»، وأوردت في «كتاب الأسماء والصفات» و «كتاب الإيمان» و «القدر» و «الرؤية» و «دلائل النبوة»، «والبعث والنشور» و «عذاب القبر» و «الدعوات»، ثم في الكتب المخرّجة في السنن على ترتيب مختصر أبي إبراهيم إسماعيل بن يحيى المزني-رحمه الله تعالى-من الأخبار والآثار-ما وقعت الحاجة إليه في كل باب: فاقتصرت في هذا الكتاب على إخراج ما يتبيّن به بعض المراد، وأحلت الباقي على هذه الكتب خوفا من الملال في الإطناب. واستعنت بالله-عزّ-في ذلك وفي جميع أموري استعانة من لا حول له ولا قوة إلاّ بالله العليّ العظيم.
একদিন যুহরী একদিন আমাকে একটি হাদীস শোনালেন, তখন আমি বললাম: এটি সনদ ছাড়াই বর্ণনা করুন।

তখন যুহরী বললেন: তুমি কি সিঁড়ি ছাড়াই ছাদে উঠতে চাও!

আমি এই হাদীস এবং এই ঘটনার সনদ ‘কিতাবুল মাদখাল’-এ উল্লেখ করেছি। আর ‘কিতাবুল আসমা ওয়াস সিফাত’, ‘কিতাবুল ঈমান’, ‘আল-কদর’, ‘আর-রু’ইয়া’, ‘দালাইলুন নুবুওয়্যাহ’, ‘আল-বাসু ওয়ান নুশুর’, ‘আযাবুল কবর’ এবং ‘আদ-দাওয়াত’ গ্রন্থে, অতঃপর আবু ইবরাহীম ইসমাঈল বিন ইয়াহইয়া আল-মুযানী—আল্লাহ তা’আলা তাঁর ওপর রহম করুন—এর সংক্ষিপ্তসার (মুখতাসার)-এর বিন্যাস অনুযায়ী সুনান হিসেবে সংকলিত কিতাবসমূহে প্রতিটি অধ্যায়ে প্রয়োজনীয় সংবাদ ও বর্ণনাগুলো উল্লেখ করেছি। তাই আমি এই কিতাবে কেবল সেই বর্ণনাগুলো সংকলন করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থেকেছি যার মাধ্যমে উদ্দিষ্ট বিষয়ের কিছুটা স্পষ্ট হয়, আর দীর্ঘ হওয়ার কারণে বিরক্তি আসার ভয়ে বাকি বিষয়গুলোকে উল্লিখিত কিতাবসমূহের ওপর ন্যস্ত করেছি। আমি এ বিষয়ে এবং আমার যাবতীয় কাজে আল্লাহর কাছে এমনভাবে সাহায্য প্রার্থনা করছি, যেমনটি সেই ব্যক্তি করে যার সুউচ্চ মহান আল্লাহ ছাড়া কোনো উপায় ও শক্তি নেই।
(খণ্ড: ১) শুআবুল ঈমান - ত যাগলুল (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌باب ذكر الحديث الذي ورد في شعب الإيمان

‌‌1 - أخبرنا أبو عبد الله محمد بن عبد الله بن محمد بن حمدويه الحافظ- رحمه الله تعالى-ثنا أبو عبد الله محمد بن يعقوب ثنا أبو عمرو أحمد بن المبارك المستملي، وأبو سعيد محمد بن شاذان الأصمّ، قالا ثنا أبو قدامة عبيد الله بن سعيد ثنا أبو عامر العقدي ثنا سليمان بن بلال، عن عبد الله بن دينار، عن أبي صالح عن أبي هريرة رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال:

--------------------------------------------

1 - الحافظ هو الحاكم (ت 405) (سير 17/ 162)، ومحمد بن يعقوب هو ابن الأخرم (ت 344) (سير 15/ 466)، والمستملي (ت 284) (سير 13/ 373)، وأبو صالح هو ذكوان المدني أبو صالح السمان، وأبو عامر: عبد الله بن عمرو العقدي.

والحديث أخرجه البخاري (1/ 51 الفتح)، مسلم (الإيمان 57)، النسائي (8/ 110) من طريق سليمان بن بلال عن عبد الله بن دينار عن أبي صالح به بلفظ.

«الإيمان بضع وستون شعبة، والحياء شعبة من الإيمان»

وأخرجه من طريق سليمان:

ابن منده في الإيمان (144) بلفظ

«الإيمان بضع وسبعون والباقي سواء»

وأخرجه مسلم الإيمان 58 وابن منده في الإيمان (147) من طريق سهيل بن أبي صالح عن عبد الله بن دينار به بلفظ: الإيمان بضع وسبعون أو بضع وستون شعبة، فأفضلها قول لا إله إلاّ الله وأدناها إماطة الأذى عن الطريق والحياء شعبة من الإيمان.

وأخرجه من طريق سهيل:

النسائي (8/ 110)، وابن عبد البر في التمهيد (9/ 235) بلفظ:

الإيمان بضع وسبعون شعبة أفضلها لا إله إلا الله وأوضعها إماطة الأذى عن الطريق والحياء شعبة من الإيمان.

وأخرجه كذلك من طريق سهيل.

الترمذي (2614) قال (حسن صحيح)، وابن ماجة (57) بلفظ:

الإيمان بضع وستون-أو: سبعون-بابا أدناها إماطة الأذى عن الطريق، وأرفعها قول: لا إله إلا الله، والحياء شعبة من الإيمان.

وأخرجه أحمد (2/ 445) دون قوله «والحياء شعبة من الإيمان» وأخرجه من طريق سهيل.

أبو داود (4676) بلفظ:
ঈমানের শাখাসমূহ সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসের আলোচনার অধ্যায়

১ - আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন হামদুয়াহ আল-হাফিজ—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু আমর আহমাদ বিন আল-মুবারক আল-মুস্তামলি এবং আবু সাঈদ মুহাম্মদ বিন শাযান আল-আসাম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়েই বলেন: আবু কুদামাহ উবাইদুল্লাহ বিন সাঈদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আবু আমির আল-আকাদি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, সুলায়মান বিন বিলাল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আব্দুল্লাহ বিন দিনার থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:

--------------------------------------------

১ - হাফিজ হলেন আল-হাকিম (মৃত্যু ৪০৫ হিজরি) (সিয়ার ১৭/ ১৬২), এবং মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব হলেন ইবনুল আখরাম (মৃত্যু ৩৪৪ হিজরি) (সিয়ার ১৫/ ৪৬৬), এবং আল-মুস্তামলি (মৃত্যু ২৮৪ হিজরি) (সিয়ার ১৩/ ৩৭৩), আর আবু সালিহ হলেন যাকওয়ান আল-মাদানি আবু সালিহ আস-সাম্মান, এবং আবু আমির হলেন আব্দুল্লাহ বিন আমর আল-আকাদি।

আর হাদিসটি ইমাম বুখারি (১/ ৫১ ফাতহ), মুসলিম (ঈমান ৫৭), নাসায়ি (৮/ ১১০) সুলায়মান বিন বিলাল-এর সূত্রে আব্দুল্লাহ বিন দিনার থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন:

«ঈমানের ষাটের অধিক শাখা রয়েছে এবং লজ্জা ঈমানের একটি শাখা»

সুলায়মানের সূত্রে ইবনু মানদাহ এটি ঈমান গ্রন্থে (১৪৪) এই শব্দে বর্ণনা করেছেন:

«ঈমানের সত্তরটির বেশি (শাখা রয়েছে) এবং বাকি অংশটুকু একই রকম»

ইমাম মুসলিম ঈমান অধ্যায়ের ৫৮ নম্বর হাদিসে এবং ইবনু মানদাহ ঈমান গ্রন্থের ১৪৭ নম্বর হাদিসে সুহাইল বিন আবু সালিহ সূত্রে আব্দুল্লাহ বিন দিনার থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: ঈমানের সত্তরটির বেশি অথবা ষাটের বেশি শাখা রয়েছে, যার মধ্যে সর্বোত্তম হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা এবং সর্বনিম্ন হলো পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু অপসারণ করা, আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।

সুহাইল-এর সূত্রে আরও বর্ণনা করেছেন:

নাসায়ি (৮/ ১১০), এবং ইবনু আব্দুল বার আত-তামহিদ গ্রন্থে (৯/ ২৩৫) এই শব্দে: ঈমানের সত্তরটির বেশি শাখা রয়েছে যার মধ্যে সর্বোত্তম হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং সর্বনিম্ন হলো পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো, আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।

একইভাবে সুহাইল-এর সূত্র থেকে এটি বর্ণনা করেছেন:

তিরমিজি (২৬১৪), তিনি বলেছেন (হাসান সহিহ), এবং ইবনু মাজাহ (৫৭) এই শব্দে: ঈমানের ষাটটির বেশি—অথবা: সত্তরটির বেশি—অধ্যায় রয়েছে, যার সর্বনিম্ন হলো পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো, এবং সর্বোচ্চ হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা, আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।

আহমাদ (২/ ৪৪৫) এটি বর্ণনা করেছেন তবে তাঁর "এবং লজ্জা ঈমানের একটি শাখা" উক্তিটি ব্যতীত। এবং সুহাইল-এর সূত্রে আবু দাউদ (৪৬৭৬) এই শব্দে বর্ণনা করেছেন:
(খণ্ড: ১) শুআবুল ঈমান - ত যাগলুল (পৃষ্ঠা: ৩২)
«الإيمان بضع وستّون شعبة. والحياء شعبة من الإيمان».

رواه أبو عبد الله محمد بن إسماعيل البخاري في الصحيح عن عبد الله بن محمد المسندي عن أبي عامر،

ورواه أبو الحسين مسلم بن الحجاج عن عبيد الله بن سعيد.

--------------------------------------------

- «الإيمان بضع وسبعون، أفضلها قول لا إله إلا الله، وأدناها إماطة العظم عن الطريق، والحياء، شعبة من الإيمان».

وأخرجه من طريق سهيل:

الآجري في الشريعة (ص 111) بلفظ:

«إن الإيمان بضع وستون-أو: بضع وسبعون-شعبة أفضلها قول لا إله إلا الله وأدناها إماطة الأذى عن الطريق، والحياء شعبة من الإيمان».

وأخرجه عبد الرزاق (20105):

عن معمر عن سهيل بن أبي صالح عن أبيه، عن أبي هريرة بلفظ.

«الإيمان بضعة وسبعون-أو قال: بضعة وستون-بابا أفضلها شهادة أن لا إله إلا الله، وأصغرها إماطة الأذى عن الطريق، والحياء شعبة من الإيمان».

وأخرجه الشجري (1/ 18):

من طريق ابن عجلان، عن عبد الله بن دينار عن أبي صالح، عن أبي هريرة بلفظ:

«الإيمان ستون أو: سبعون-شعبة، أعلاها شهادة أن لا إله إلا الله، وأدناها إماطة الأذى عن الطريق، والحياء شعبة من الإيمان».

وأخرجه الترمذي (2614):

من طريق عمارة بن غزية عن أبي صالح عن أبي هريرة بلفظ:

«الإيمان أربعة وستون بابا».

وأخرجه من طريق عمارة: أحمد (2/ 379).

«الإيمان أربعة وستون بابا، أرفعها وأعلاها قول لا إله إلا الله وأدناها إماطة الأذى عن الطريق».

وقال ابن منده في كتاب الإيمان (144) بعد أن رواه من طريق أبي عامر العقدي عن سليمان بن بلال عن عبد الله بن دينار عن أبي صالح به.

قال: (هذا حديث مجمع على صحته من حديث أبي عامر، وروى هذا الحديث عن عبد الله بن دينار:

ابنه عبد الرحمن ويزيد بن عبد الله بن الهاد ومحمد بن عجلان وسهيل بن أبي صالح).

وقال الحافظ في فتح الباري (1/ 51)

لم تختلف الطرق عن أبي عامر شيخ (البخاري) في ذلك وتابعه يحيى الحماني عن سليمان بن بلال.
«ঈমানের ষাটের কিছু বেশি শাখা রয়েছে। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।»

আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারী এটি তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-মুসনাদী থেকে, তিনি আবু আমের থেকে বর্ণনা করেছেন,

এবং আবু আল-হুসাইন মুসলিম ইবনে আল-হাজ্জাজ এটি উবাইদুল্লাহ ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

- «ঈমানের সত্তরের কিছু বেশি শাখা রয়েছে, যার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা এবং সর্বনিম্ন হলো পথ থেকে হাড় সরিয়ে ফেলা। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।»

আল-আজুররী 'আশ-শারীয়াহ' গ্রন্থে (পৃষ্ঠা ১১১) সুহাইলের সূত্রে এই শব্দে এটি বর্ণনা করেছেন:

«নিশ্চয়ই ঈমানের ষাটের কিছু বেশি—অথবা সত্তরের কিছু বেশি—শাখা রয়েছে, যার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা এবং সর্বনিম্ন হলো পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।»

আবদুর রাজ্জাক এটি বর্ণনা করেছেন (২০১০৫):

মা’মার থেকে, তিনি সুহাইল ইবনে আবি সালেহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে এই শব্দে:

«ঈমানের সত্তরের কিছু বেশি—অথবা তিনি বলেছেন: ষাটের কিছু বেশি—অধ্যায় রয়েছে, যার মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং ক্ষুদ্রতম হলো পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।»

আশ-শাজারী এটি বর্ণনা করেছেন (১/১৮):

ইবনে আজলানের সূত্রে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে, তিনি আবু সালেহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে এই শব্দে:

«ঈমানের ষাটটি অথবা সত্তরটি শাখা রয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ হলো এই সাক্ষ্য দেওয়া যে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এবং সর্বনিম্ন হলো পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।»

আত-তিরমিযী এটি বর্ণনা করেছেন (২৬১৪):

উমারাহ ইবনে গাযিয়্যাহর সূত্রে, তিনি আবু সালেহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে এই শব্দে:

«ঈমানের চৌষট্টিটি অধ্যায় রয়েছে।»

ইমাম আহমাদ এটি উমারাহর সূত্রে বর্ণনা করেছেন (২/৩৭৯):

«ঈমানের চৌষট্টিটি অধ্যায় রয়েছে, যার মধ্যে সুউচ্চ ও সর্বোচ্চ হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা এবং সর্বনিম্ন হলো পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা।»

ইবনে মানদাহ 'কিতাবুল ঈমান'-এ (১৪৪) আবু আমের আল-আকাদী থেকে, তিনি সুলাইমান ইবনে বিলাল থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে এবং তিনি আবু সালেহ থেকে এটি বর্ণনা করার পর বলেন:

তিনি বলেন: (এটি একটি হাদিস যার বিশুদ্ধতার ব্যাপারে আবু আমেরের হাদিস হিসেবে ঐক্যমত্য রয়েছে। আর আবদুল্লাহ ইবনে দিনার থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন:

তাঁর পুত্র আবদুর রহমান, ইয়াযিদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আল-হাদ, মুহাম্মদ ইবনে আজলান এবং সুহাইল ইবনে আবি সালেহ)।

হাফেজ (ইবনে হাজার) 'ফাতহুল বারী'তে (১/৫১) বলেন:

সেই বিষয়ে (ইমাম বুখারীর উস্তাদ) আবু আমের থেকে বর্ণিত সূত্রগুলোতে কোনো ভিন্নতা নেই এবং ইয়াহইয়া আল-হিমানী সুলাইমান ইবনে বিলাল থেকে তাঁর অনুসরণ করেছেন।
(খণ্ড: ১) শুআবুল ঈমান - ত যাগলুল (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌2 - أخبرنا أبو صالح العنبر بن الطيّب بن محمد العنبري ابن ابنة يحيى بن منصور القاضي، أنبا جدي ثنا أحمد بن سلمة ثنا إسحاق بن إبراهيم الحنظلي، وعمرو بن زرارة الكلابي، قالا أنبا جرير، عن سهيل بن أبي صالح، عن عبد الله بن دينار، عن أبي صالح، عن أبي هريرة رضي الله عنه، عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:

«الإيمان بضع وستّون أو سبعون شعبة، فأرفعها قول لا إله إلاّ الله، وأدناها إماطة الأذى عن الطّريق. والحياء شعبة من الإيمان».

رواه مسلم في الصحيح عن زهير بن حرب عن جرير.

قال الإمام أحمد‌‌(1) رحمه الله تعالى:

--------------------------------------------

-وأخرجه أبو عوانة من طريق بشر بن عمرو عن سليمان بن بلال فقال بضع وستون، أو بضع وسبعون.

وكذا وقع التردد في رواية مسلم من طريق سهيل بن أبي صالح، عن عبد الله بن دينار.

ورواه أصحاب السنن الثلاثة من طريقه فقالوا:

بضع وسبعون من غير شك

ولأبي عوانة في صحيحه من طريق:

«ست وسبعون أو سبع وسبعون»

ورجح البيهقي رواية البخاري لأن سليمان لم يشك وفيه نظر، لما ذكرنا من رواية بشر بن عمرو عنه فتردد أيضا.

لكن يرجح بأنه المتيقن وما عداه مشكوك فيه.

أما رواية الترمذي بلفظ «أربع وستون» فمعلولة، وعلى صحتها لا تخالف رواية البخاري.

وترجيح رواية «بضع وسبعون لكونها زيادة ثقة كما ذكره الحليمي ثم عياض لا يستقيم إذ ان الذي زادها لم يستمر على الجزم بها، لا سيما مع اتحاد المخرج.

وقد رجح ابن الصلاح الأقل لكونه المتيقن اه.

‌‌2 - العنبر بن الطيب بن محمد العنبري أبو صالح لينظر ترجمته، ويحيى بن منصور القاضي أبو محمد (ت 351) (سير 16/ 28)، وأحمد بن سلمة بن عبد الله أبو الفضل البزاز (ت 286) (سير 13/ 373)، وجرير هو بن عبد الحميد، وسهيل هو ابن ذكوان أبي صالح، وأبو صالح سبق في رقم (1).

والحديث أخرجه مسلم (ص 63) عن زهير بن حرب عن جرير به.

‌‌(1) الإمام أحمد هو الحافظ البيهقي
২ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সালেহ আল-আম্বার ইবনুত তায়্যিব বিন মুহাম্মাদ আল-আম্বারি, যিনি কাজি ইয়াহইয়া বিন মনসুরের দৌহিত্র। তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার দাদা, তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন আহমদ বিন সালামাহ, তিনি বলেন, আমাদের বর্ণনা করেছেন ইসহাক বিন ইবরাহিম আল-হানযালি এবং আমর বিন যুরারাহ আল-কিলাবি। তাঁরা উভয়ই বলেছেন যে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জারির, তিনি সুহাইল বিন আবি সালেহ থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ বিন দিনার থেকে, তিনি আবু সালেহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:

«ঈমানের ষাটের অধিক অথবা সত্তরের অধিক শাখা রয়েছে; এর মধ্যে সর্বোত্তম হলো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা এবং সর্বনিম্ন হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।»

এটি মুসলিম তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থে জুহাইর বিন হারব সূত্রে জারির থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইমাম আহমদ(১) (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেন:

--------------------------------------------

-এটি আবু আওয়ানা, বিশর বিন আমর সূত্রে সুলায়মান বিন বিলাল থেকে বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে তিনি ‘ষাটের অধিক অথবা সত্তরের অধিক’ বলেছেন।

অনুরূপভাবে সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় সুহাইল বিন আবি সালেহ সূত্রে আব্দুল্লাহ বিন দিনার থেকেও এই সন্দেহ (ষাটের অধিক নাকি সত্তরের অধিক) বর্ণিত হয়েছে।

তিন সুনান গ্রন্থের সংকলকগণ তাঁর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা কোনো সন্দেহ ছাড়াই বলেছেন:

সত্তরের অধিক

এবং আবু আওয়ানার সহীহ গ্রন্থে এক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে:

«ছিয়াত্তর অথবা সাতাত্তর»

বাইহাকি বুখারির বর্ণনাকে প্রাধান্য দিয়েছেন কারণ সুলায়মান কোনো সন্দেহ করেননি; তবে এতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে, কেননা আমরা বিশর বিন আমরের সূত্রে যা উল্লেখ করেছি সেখানে তাঁর পক্ষ থেকেও সন্দেহ প্রকাশিত হয়েছে।

তবে এটিই (কম সংখ্যাটি) প্রাধান্যযোগ্য কারণ তা নিশ্চিত, আর এর অতিরিক্তটুকু সন্দেহযুক্ত।

আর তিরমিযির ‘চৌষট্টি’ শব্দযুক্ত বর্ণনাটি ত্রুটিপূর্ণ, তবে এটি সহীহ হলেও তা বুখারির বর্ণনার বিরোধী নয়।

‘সত্তরের অধিক’ শব্দযুক্ত বর্ণনাটিকে বিশ্বস্ত রাবীর অতিরিক্ত তথ্য হিসেবে প্রাধান্য দেওয়া, যা হালিমী এবং এরপর কাযী আয়ায উল্লেখ করেছেন, তা সঠিক নয়; কারণ যিনি এটি বৃদ্ধি করেছেন তিনি এর ওপর অটল থাকেননি, বিশেষ করে যখন এর মূল সূত্র অভিন্ন।

ইবনুস সালাহ কম সংখ্যাটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন কারণ তা নিশ্চিত। (সমাপ্ত)

২ - আম্বার বিনত তায়্যিব বিন মুহাম্মাদ আল-আম্বারি আবু সালেহ—তাঁর জীবনী পর্যালোচনার প্রয়োজন; ইয়াহইয়া বিন মনসুর আল-কাজি আবু মুহাম্মাদ (মৃত্যু ৩৫১ হিজরি) (সিয়ার ১৬/২৮); আহমদ বিন সালামাহ বিন আব্দুল্লাহ আবু আল-ফজল আল-বাযযায (মৃত্যু ২৮৬ হিজরি) (সিয়ার ১৩/৩৭৩); জারির হলেন ইবনে আব্দুল হামিদ; সুহাইল হলেন ইবনে যাকওয়ান আবু সালেহ; এবং আবু সালেহ ১ নং ক্রমিকে ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছেন।

হাদিসটি মুসলিম (পৃষ্ঠা ৬৩) জুহাইর বিন হারব সূত্রে জারির থেকে বর্ণনা করেছেন।

(১) এখানে ইমাম আহমদ বলতে হাফেজ বাইহাকি-কে বোঝানো হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শুআবুল ঈমান - ত যাগলুল (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وهذا الشكّ وقع من سهيل بن أبي صالح في «بضع وستّين» أو في «بضع وسبعين». وسليمان بن بلال قال: «بضع وستّون» لم يشكّ فيه. وروايته أصح عند أهل العلم بالحديث. غير أن بعض الرواة عن سهيل رواه من غير شك قال:

« … بضع وسبعون. أفضلها قول لا إله إلاّ الله، وأدناها إماطة الأذى والعظم عن الطّريق. والحياء شعبة من الإيمان».

 

‌‌3 - أخبرنا أبو علي الحسين بن محمد بن محمد بن علي الرّوذباري، أنبأ أبو بكر محمد بن بكر ثنا أبو داود السجستاني ثنا موسى بن إسماعيل ثنا حماد بن سلمة أنبا سهيل بن أبي صالح،-فذكره من غير شك-وهذا زائد فأخذ به صاحب كتاب «المنهاج» في تقسيمه ذلك على سبعة وسبعين بابا بعد بيان صفة الإيمان وبالله التوفيق.

--------------------------------------------

3 - أبو علي الحسين بن محمد بن محمد بن علي الروذباري (ت 403) (تذكرة الحفاظ 3/ 1078)، أبو بكر محمد بن بكر هو ابن عبد الرزاق بن داسة التمار (ت 346) (سير 15/ 538)، وأبو داود هو سليمان بن الأشعث السجستاني صاحب السنن.

والحديث أخرجه أبو داود (4676).
এই সংশয়টি সুহাইল ইবনে আবি সালিহ থেকে 'ষাট-এর অধিক' অথবা 'সত্তর-এর অধিক' সংখ্যার ক্ষেত্রে ঘটেছে। আর সুলাইমান ইবনে বিলাল বলেছেন: 'ষাট-এর অধিক', তিনি এতে কোনো প্রকার সংশয় করেননি। হাদিস বিশারদদের নিকট তাঁর বর্ণনাটিই অধিক বিশুদ্ধ। তবে সুহাইল থেকে বর্ণিত বর্ণনাকারীদের কেউ কেউ এটি কোনো প্রকার সংশয় ছাড়াই বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন:

« … সত্তর-এর অধিক। এর মধ্যে সর্বোত্তম হলো 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলা, আর এর সর্বনিম্ন স্তর হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু ও হাড় সরিয়ে ফেলা। আর লজ্জা ঈমানের একটি শাখা।»

 

‌‌৩ - আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আর-রূজবারী, আমাদের জানিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে বকর, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুসা ইবনে ইসমাইল, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, আমাদের জানিয়েছেন সুহাইল ইবনে আবি সালিহ—অতঃপর তিনি এটি কোনো প্রকার সংশয় ছাড়াই উল্লেখ করেছেন—আর এটি একটি অতিরিক্ত তথ্য, তাই 'আল-মিনহাজ' গ্রন্থের লেখক ঈমানের স্বরূপ বর্ণনার পর একে সাতাত্তরটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে এটি গ্রহণ করেছেন। আর আল্লাহর নিকটই তাওফিক প্রার্থনা করছি।

--------------------------------------------

৩ - আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আর-রূজবারী (মৃত্যু ৪০৩) (তাযকিরাতুল হুফফাজ ৩/১০৭৮), আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে বকর হলেন ইবনে আবদুর রাজ্জাক ইবনে দাসাহ আত-তাম্মার (মৃত্যু ৩৪৬) (সিয়ার ১৫/৫৩৮), আর আবু দাউদ হলেন সুলাইমান ইবনে আল-আশ'আস আস-সিজিস্তানি, সুনান গ্রন্থের লেখক।

আর হাদিসটি আবু দাউদ (৪৬৭৬) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) শুআবুল ঈমান - ত যাগলুল (পৃষ্ঠা: ৩৫)
‌‌باب حقيقة الإيمان

قال أبو عبد الله الحليمي-رحمه الله تعالى-:

«الإيمان مشتقّ من الأمن الذي هو ضدّ الخوف» كما قال الله عز وجل:

{فَإِنْ خِفْتُمْ فَرِجالاً أَوْ رُكْباناً. فَإِذا أَمِنْتُمْ فَاذْكُرُوا اللهَ … }. [البقرة:

239] الآية.

ومعناه والغرض الذي يراد به عند إطلاقه هو: التصديق والتحقيق. لأنّ الخبر هو القول الذي يدخله الصدق والكذب. والأمر والنهي كل واحد منهما قول، يتردّد بين أن يطاع قائله، وبين أن يعصى، فمن سمع خبرا فلم يستشعر في نفسه جواز أن يكون كذبا، وأعتقد أنه حق وصدقّ، فكأنما آمن في نفسه باعتقاد ما اعتقد فيما سمع-من أن يكون مكذوبا أو ملبسا عليه. ومن سمع أمرا أو نهيا، فاعتقد الطاعة له، فكأنما آمن في نفسه-باعتقاد ما اعتقد فيما سمع-من أن يكون مظلوما أو مستسخرا أو محمولا على ما لا يلزمه قبوله والانقياد له. فمن ذهب إلى هذا، أنزل قول القائل: آمنت بكذا-والمراد امنت نفسي-منزلة قولهم: وطنت نفسي أو حملت نفسي على كذا. أو يكون تركهم ذكر النفس في قولهم:

«آمنت» اختصارا لكثرة الاستعمال، كما يقال: بسم الله -بمعنى بدأت أو أبدأ بسم الله -.

قال:

وفيه وجه آخر:

وهو أن يكون معنى آمنت: أي آمنت مخبري أو الداعي لي من التكذيب، والخلاف بما صرّحت له به من التصديق والوفاق. ثم الإيمان الذي يراد به التصديق لا يعدّى إلى من يضاف إليه ويلصق به إلا بصلة. وتلك الصلة قد تكون باء، وقد تكون لاما. وقد ورد الكتاب بكل واحد منهما.

فالإيمان بالله عز وجل ثناؤه: إثباته والاعتراف بوجوده؛ والإيمان له:

القبول عنه والطاعة له.
ঈমানের প্রকৃত স্বরূপ অধ্যায়

আবু আব্দুল্লাহ আল-হালীমী (আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন:

«ঈমান শব্দটি 'আমন' (নিরাপত্তা) থেকে উদ্ভূত, যা ভয়ের বিপরীত» যেমন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেছেন:

{অতঃপর যদি তোমরা ভয়ের অবস্থায় থাকো, তবে পদব্রজে কিংবা আরোহী অবস্থায় (সালাত আদায় করো)। অতঃপর যখন তোমরা নিরাপদ হবে, তখন আল্লাহকে স্মরণ করো … }। [আল-বাকারাহ:

২৩৯] আয়াত।

সাধারণভাবে যখন ঈমান শব্দটি ব্যবহার করা হয়, তখন এর অর্থ ও উদ্দেশ্য হলো: সত্যায়ন করা এবং সুনিশ্চিত করা। কারণ সংবাদ হলো এমন কথা যার মধ্যে সত্য বা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর আদেশ ও নিষেধের প্রতিটিই এমন কথা, যা বক্তার আনুগত্য করা বা অবাধ্য হওয়ার মধ্যে আবর্তিত হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো সংবাদ শুনল এবং তার মনে এটি মিথ্যা হওয়ার কোনো সম্ভাবনা অনুভব করল না, বরং বিশ্বাস করল যে এটি সত্য ও সঠিক, তবে সে যেন তার শোনা বিষয়ের প্রতি বিশ্বাসের মাধ্যমে নিজের মনকে—বিষয়টি মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর হওয়া থেকে—নিরাপদ করল। আর যে ব্যক্তি কোনো আদেশ বা নিষেধ শুনল এবং তার প্রতি আনুগত্যের সংকল্প করল, তবে সে যেন তার শোনা বিষয়ের প্রতি বিশ্বাসের মাধ্যমে নিজের মনকে—অত্যাচারিত হওয়া, উপহাসের পাত্র হওয়া কিংবা এমন কিছু গ্রহণে বাধ্য হওয়া যা তার জন্য অপরিহার্য নয়—এমন ধারণা থেকে নিরাপদ করল। যারা এই মত পোষণ করেন, তারা কোনো ব্যক্তির উক্তি: 'আমি অমুক বিষয়ে ঈমান এনেছি'—যার অর্থ হলো আমি আমার মনকে নিরাপদ করেছি—একে তাদের এই কথার সমপর্যায়ে গণ্য করেন: 'আমি আমার মনকে স্থির করেছি' বা 'আমি আমার মনকে অমুক কাজে প্রবৃত্ত করেছি'। অথবা তাদের 'আমি ঈমান এনেছি' বলার সময় 'নফস' বা মনের কথা উল্লেখ না করাটা অধিক ব্যবহারের কারণে সংক্ষিপ্ত করার উদ্দেশ্যে হতে পারে, যেমন বলা হয়: 'বিসমিল্লাহ'—যার অর্থ 'আমি আল্লাহর নামে শুরু করেছি' বা 'শুরু করছি'—এর ন্যায়।

তিনি বলেন:

এতে আরেকটি দিক রয়েছে:

আর তা হলো 'আমি ঈমান এনেছি' এর অর্থ হতে পারে: আমি আমার সংবাদদাতাকে বা আহবানকারীকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা এবং বিরোধিতা করা থেকে নিরাপদ করেছি সেই সত্যায়ন ও ঐকমত্যের মাধ্যমে যা আমি তার সমীপে ব্যক্ত করেছি। অতঃপর যে ঈমান দ্বারা সত্যায়ন উদ্দেশ্য হয়, তা যার দিকে সম্বন্ধ করা হয় তার সাথে কোনো অব্যয় ছাড়া যুক্ত হয় না। সেই অব্যয়টি কখনো 'বা' (ب) হয়, আবার কখনো 'লাম' (ل) হয়। মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে এর প্রতিটিই বর্ণিত হয়েছে।

সুতরাং আল্লাহর প্রতি (বা-অব্যয় যোগে) ঈমান আনার অর্থ হলো: তাঁকে সাব্যস্ত করা এবং তাঁর অস্তিত্বের স্বীকৃতি প্রদান করা; আর আল্লাহর জন্য (লাম-অব্যয় যোগে) ঈমান আনার অর্থ হলো:

তাঁর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত বিধান গ্রহণ করা এবং তাঁর আনুগত্য করা।