(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - বাইহাকী
(পৃষ্ঠা: -)
دلائل النبوة - البيهقي القسم: السيرة النبوية
الكتاب: دلائل النبوة ومعرفة أحوال صاحب الشريعة
المؤلف: أبو بكر أحمد بن الحسين البيهقي (384 - 458 هـ)
وثق أصوله وخرج حديثه وعلق عليه: د عبد المعطي قلعجي
الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1405 هـ - 1985 م
عدد الأجزاء: 7
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
দালায়েলুন নুবুওয়াহ - বায়হাকী বিভাগ: সীরাতে নববী
গ্রন্থ: দালায়েলুন নুবুওয়াহ ওয়া মারিফাতু আহওয়ালি সাহিবিশ শরীয়াহ (নবুওয়াতের প্রমাণাদি ও শরীয়ত প্রবর্তকের অবস্থা পরিচিতি)
লেখক: আবু বকর আহমদ ইবনুল হুসাইন আল-বায়হাকী (৩৮৪ - ৪৫৮ হিজরী)
মূল পাঠ যাচাই, হাদীস বিশ্লেষণ ও টীকা প্রদান: ডক্টর আব্দুল মু’তী কালা’জী
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ، বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৫ হিজরী - ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৭
[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১ হিজরী
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - বাইহাকী
(পৃষ্ঠা: -)
ـ[دلائل النبوة ومعرفة أحوال صاحب الشريعة]ـ
المؤلف: أحمد بن الحسين بن علي بن موسى الخُسْرَوْجِردي الخراساني، أبو بكر البيهقي (المتوفى: 458هـ)
الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت
الطبعة: الأولى - 1405 هـ
عدد الأجزاء: 7
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
[নবুওয়াতের প্রমাণসমূহ এবং শরীয়ত প্রবর্তকের অবস্থা পরিচিতি]
লেখক: আহমাদ ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী ইবনে মুসা আল-খুসরাওজিরদি আল-খুরাসানি, আবু বকর আল-বাইহাকী (মৃত্যু: ৪৫৮ হিজরী)
প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম - ১৪০৫ হিজরী
খণ্ড সংখ্যা: ৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - বাইহাকী
(পৃষ্ঠা: ৩)
[المدخل إلى دلائل النبوة]السفر الأول من دلائل النبوة ومعرفة أحوال صاحب الشريعة يشمل:
1- التقدمة وترجمة المصنف ونسخ الكتاب المخطوطة.
2- المدخل إلى دلائل النبوة.
3- جُمَّاعُ أَبْوَابِ مَوْلِدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم.
[নবুওয়াতের প্রমাণসমূহের ভূমিকা]নবুওয়াতের প্রমাণসমূহ এবং শরিয়ত প্রবর্তকের জীবনবৃত্তান্ত পরিচিতি-র প্রথম খণ্ড নিম্নোক্ত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে:
১- উপস্থাপনা, গ্রন্থকারের জীবনী এবং গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিসমূহ।
২- নবুওয়াতের প্রমাণসমূহের ভূমিকা।
৩- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্ম সংক্রান্ত অধ্যায়সমূহের সংকলন।
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - বাইহাকী
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - বাইহাকী
(পৃষ্ঠা: ৫)
أقوال العلماء في الإمام البيهقيقال ابن ناصر: «كان واحد زمانه، وفرد أقرانه حفظا وإتقانا وثقة، وهو شيخ خراسان» .
قال إمام الحرمين: «ما من شافعيّ إلا وللشافعيّ فضل عليه غير البيهقي، فإنّ له المنة والفضل على الشافعيّ لكثرة تصانيفه في نصرة مذهبه، وبسط موجزه، وتأييد آرائه» .
قال ابن خلكان: «الفقيه الشافعي الحافظ الكبير المشهور، واحد زمانه، وفرد أقرانه في الفنون، من كبار أصحاب الحاكم أبي عبد الله البيع في الحديث، ثم الزائد عليه في أنواع العلوم» .
قال ابن الجوزي: «كان واحد زمانه في الحفظ والإتقان، وحسن التصنيف وجمع علم الحديث، والفقه، والأصول، وهو من كبار أصحاب الْحَاكِمُ أَبُو عَبْدِ اللهِ، ومنه تخرج، وسافر، وجمع الكثير، وله التصانيف الكثيرة الحسنة» .
قال الذهبي: «لو شاء الذهبي أن يعمل لنفسه مذهبا يجتهد فيه لكان قادرا على ذلك لسعة علومه، ومعرفته بالاختلاف» .
قال السبكي: «كان الإمام البيهقي أحد أئمة المسلمين، وهداة
ইমাম বায়হাকী সম্পর্কে উলামায়ে কেরামের উক্তিইবনে নাসের বলেন: «তিনি তাঁর সময়ের অপ্রতিদ্বন্দ্বী এবং হিফজ (স্মৃতিশক্তি), দৃঢ়তা ও বিশ্বস্ততায় তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে অনন্য ছিলেন; তিনি ছিলেন খুরাসানের শায়খ (প্রধান শিক্ষক)।’
ইমামুল হারামাইন বলেন: «বায়হাকী ব্যতীত এমন কোনো শাফেয়ী অনুসারী নেই যার ওপর ইমাম শাফেয়ীর অনুগ্রহ নেই। বরং ইমাম শাফেয়ীর ওপরই বায়হাকীর অনুগ্রহ ও অবদান রয়েছে; কারণ তিনি ইমাম শাফেয়ীর মাযহাবের সমর্থনে অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন, এর সংক্ষিপ্তসারগুলো বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন এবং তাঁর মতামতের সমর্থন করেছেন।’
ইবনে খাল্লিকান বলেন: «তিনি শাফেয়ী ফকীহ, প্রখ্যাত মহান হাফেজ, তাঁর সময়ের অপ্রতিদ্বন্দ্বী এবং বিভিন্ন বিদ্যায় তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে অনন্য। হাদীস শাস্ত্রে তিনি হাকেম আবু আব্দুল্লাহ আল-বাই-এর প্রধান ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন জ্ঞানশাখায় তাঁর চেয়েও অগ্রসর হন।’
ইবনে জাউযী বলেন: «তিনি হিফজ, দক্ষতা, উত্তম রচনাশৈলী এবং হাদীস শাস্ত্র, ফিকহ ও উসূলের জ্ঞান একত্রিত করার ক্ষেত্রে তাঁর সময়ের অপ্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। তিনি হাকেম আবু আব্দুল্লাহর প্রধান ছাত্রদের অন্যতম ছিলেন, তাঁর নিকট থেকেই শিক্ষা লাভ করেছেন, সফর করেছেন এবং অনেক কিছু সংগ্রহ করেছেন। তাঁর বহু সুন্দর সুন্দর রচনা রয়েছে।’
আয-যাহাবী বলেন: «যদি [বায়হাকী] নিজের জন্য একটি স্বতন্ত্র মাযহাব তৈরি করতে চাইতেন যেখানে তিনি ইজতিহাদ করবেন, তবে তাঁর জ্ঞানের বিশালতা এবং মতভেদ সম্পর্কে গভীর অবগতির কারণে তিনি তাতে সক্ষম হতেন।’
আস-সুবকী বলেন: «ইমাম বায়হাকী ছিলেন মুসলমানদের ইমামগণের অন্যতম এবং হেদায়েতের পথপ্রদর্শক...’
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - বাইহাকী
(পৃষ্ঠা: ৬)
المؤمنين، والداعي إلى حبل الله المتين، فقيه، جليل، حافظ، كبير، أصولي، نحرير، زاهد، ورع قانت لله، قائم بنصرة المذهب أصولا وفروعا، جبل من جبال العلم» .
قال ابن تيمية: «البيهقي أعلم أصحاب الشافعي بالحديث، وأنصرهم للشافعي» .
قال ابن كثير: «كان أوحد زمانه في الإتقان، والحديث، والفقه، والتصنيف، وكان فقيها محدثا، أصوليا.. وجمع أشياء كثيرة نافعة، لم يسبق إلى مثلها، ولا يدرك فيها، وكان فاضلا من أهل الحديث، مرضي الطريقة» .
মুমিনদের, এবং আল্লাহর মজবুত রশির দিকে আহ্বানকারী, মহান ফকিহ, হাফিজ, প্রবীণ ব্যক্তিত্ব, উসূলবিদ, সুদক্ষ পণ্ডিত, দুনিয়াবিমুখ, পরহেযগার, আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ অনুগত, মূলনীতি ও শাখা-প্রশাখায় মাযহাবের সাহায্যে সদাতৎপর, ইলমের পাহাড়সমূহের মধ্যে এক বিশাল পাহাড়।
ইবনে তাইমিয়া বলেন: ‘বায়হাকী শাফিয়ী অনুসারীদের মধ্যে হাদীস শাস্ত্রে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী এবং শাফিয়ীর পক্ষে সবচেয়ে শক্তিশালী সাহায্যকারী।’
ইবনে কাসীর বলেন: ‘তিনি পারদর্শিতা, হাদীস, ফিকহ এবং গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে নিজ যুগে অদ্বিতীয় ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন ফকিহ, মুহাদ্দিস ও উসূলবিদ। তিনি অনেক উপকারী বিষয় সংকলন করেছেন, যার দৃষ্টান্ত ইতিপূর্বে কেউ স্থাপন করতে পারেনি এবং যে স্তরে পৌঁছানো দুঃসাধ্য। তিনি আহলে হাদীসের একজন বিদগ্ধ ব্যক্তিত্ব ছিলেন এবং তাঁর কর্মপন্থা ছিল সন্তোষজনক।’
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - বাইহাকী
(পৃষ্ঠা: ৭)
أقوال العلماء في «دلائل النبوة»قال تاج الدين السبكي: أما كتاب «دلائل النبوة» وكتاب «شعب الإيمان» وكتاب «مناقب الشافعي» فأقسم ما لواحد منها نظير» .
قال الحافظ ابن كثير:
«دلائل النبوة لأبي بكر البيهقي من عيون ما صنّف في السيرة والشمائل» .
'দালাইলুন নুবুওয়াহ' সম্পর্কে আলেমগণের উক্তিতাজউদ্দীন আস-সুবকী বলেন: "আর 'দালাইলুন নুবুওয়াহ' গ্রন্থ, 'শুআবুল ঈমান' গ্রন্থ এবং 'মানাকিবুল শাফেয়ী' গ্রন্থের কথা বলতে গেলে, আমি কসম করে বলছি যে, এগুলোর কোনোটিরই কোনো সমতুল্য নেই।"
হাফেজ ইবনে কাসীর বলেন:
"আবু বকর আল-বায়হাকী রচিত 'দালাইলুন নুবুওয়াহ' সীরাত ও শামায়েল বিষয়ে রচিত শ্রেষ্ঠ গ্রন্থসমূহের অন্যতম।"
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - বাইহাকী
(পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم
التّقدمةإِنَّ اللَّهَ وَمَلائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ، يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيماً.
(33: الأحزاب: 56) هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدى وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ.
(9: التوبة: 33 و 48: الفتح: 28 و 61 الصف: 9) مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ، وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَماءُ بَيْنَهُمْ تَراهُمْ رُكَّعاً سُجَّداً يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْواناً سِيماهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ.
(48: الفتح: 29) وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحاتِ وَآمَنُوا بِما نُزِّلَ عَلى مُحَمَّدٍ وَهُوَ الْحَقُّ مِنْ رَبِّهِمْ كَفَّرَ عَنْهُمْ سَيِّئاتِهِمْ وَأَصْلَحَ بالَهُمْ.
(47: محمد: 2) ما كانَ مُحَمَّدٌ أَبا أَحَدٍ مِنْ رِجالِكُمْ وَلكِنْ رَسُولَ اللَّهِ وَخاتَمَ النَّبِيِّينَ وَكانَ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
উপস্থাপনানিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি সালাত পাঠ করেন। হে মুমিনগণ, তোমরাও তাঁর প্রতি সালাত পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পেশ করো।
(৩৩: আল-আহযাব: ৫৬) তিনিই সেই সত্তা যিনি তাঁর রাসূলকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যেন তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করে দেন।
(৯: আত-তাওবাহ: ৩৩ এবং ৪৮: আল-ফাতহ: ২৮ এবং ৬১: আস-সাফ: ৯) মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল; এবং যারা তাঁর সাথে আছে, তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়ালু। আপনি তাদের রুকু ও সিজদাবনত অবস্থায় দেখবেন, তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে। তাদের চেহারায় সিজদার প্রভাবে তাদের চিহ্ন বিদ্যমান।
(৪৮: আল-ফাতহ: ২৯) আর যারা ঈমান এনেছে ও নেক আমল করেছে এবং মুহাম্মদের প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তাতে বিশ্বাস স্থাপন করেছে—আর তা-ই তাদের রবের পক্ষ থেকে আগত সত্য—আল্লাহ তাদের মন্দ কাজগুলো মোচন করে দিয়েছেন এবং তাদের অবস্থা সংশোধন করে দিয়েছেন।
(৪৭: মুহাম্মদ: ২) মুহাম্মদ তোমাদের পুরুষদের মধ্যে কারও পিতা নন; বরং তিনি আল্লাহর রাসূল এবং নবীগণের সমাপ্তিদানকারী (শেষ নবী)। আর আল্লাহ...
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - বাইহাকী
(পৃষ্ঠা: ১০)
اللَّهُ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيماً.
(33: الأحزاب: 40) وَما أَرْسَلْناكَ إِلَّا رَحْمَةً لِلْعالَمِينَ.
(21: الأنبياء: 107) اللهم صَلِّ على سيدنا محمد، وعلى آل سيدنا محمد كما صليت على سيدنا إبراهيم، وعلى آل سيدنا إبراهيم في العالمين إنك حميد مجيد.
وبعد، لم تعد مسألة إثبات وجود الله سبحانه وتعالى بالمشكلة الدينية فوجود الله مركوز في الفطرة الإنسانية، واطراد التقدم العلمي يزيده إثباتا كل يوم.
سَنُرِيهِمْ آياتِنا فِي الْآفاقِ وَفِي أَنْفُسِهِمْ [فصلت- 53] وَفِي أَنْفُسِكُمْ أَفَلا تُبْصِرُونَ [الذاريات- 21] .
بيد أن المسألة الأساسية في الدين هي إثبات رسالة الرسول، ويعنينا هنا إثبات نبوّة سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم.
فالإيمان بالنبوة- أو الصلة بين الله تعالى ومجتمع الإنسان عن طريق الأنبياء- من خصائص هذا الدين، والنبي هو الإنسان الذي يختاره الله ليقوم بأداء رسالة معينة، وقد وجدت مذاهب تؤمن بالله وتنكر النبوّات، وتزعم أنه لا حاجة لوجود النّبيّ، لأنّ ما أتى به الأنبياء موافق للعقل، ففي العقل غنى عنه، أو مخالف له فلا حاجة لنا به، فالعقل طريق الاستدلال ولكننا لا نستطيع بالمنطق التجريبي، والرياضي التوصل إلى حقائق ما وراء المادة، فالعلم الصحيح بذات الله، وصفاته، وحساب الآخرة، من ثواب وعقاب، وكل ما يتعلق بعالم الغيب، كل ذلك لا يعرف إلا عن طريق الأنبياء.
وقد تمت الصلة بين الله والأنبياء بوسائل متعددة، وقد قصّ علينا القرآن
আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ।
(৩৩: আল-আহজাব: ৪০) আর আমি আপনাকে বিশ্বজগতের জন্য রহমত হিসেবেই প্রেরণ করেছি।
(২১: আল-আম্বিয়া: ১০৭) হে আল্লাহ! আপনি আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং আমাদের নেতা মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি রহমত বর্ষণ করেছেন আমাদের নেতা ইবরাহীম এবং আমাদের নেতা ইবরাহীমের পরিবারের ওপর; নিশ্চয়ই আপনি অতি প্রশংসিত ও অত্যন্ত মহিমান্বিত।
অতঃপর, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অস্তিত্ব প্রমাণের বিষয়টি আর কোনো ধর্মীয় সমস্যা হিসেবে অবশিষ্ট নেই; কেননা আল্লাহর অস্তিত্ব মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তিতে প্রোথিত এবং বিজ্ঞানের উত্তরোত্তর অগ্রগতি প্রতিদিন একে আরও সুদৃঢ়ভাবে প্রমাণ করছে।
শীঘ্রই আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনসমূহ দিগন্তবলয়ে এবং তাদের নিজেদের মধ্যে দেখাব [ফুসসিলাত: ৫৩], এবং তোমাদের নিজেদের মধ্যেও; তবে কি তোমরা লক্ষ্য করো না? [আয-যারিয়াত: ২১]।
তবে দ্বীনের মৌলিক বিষয়টি হলো রাসূলের রিসালাত বা বার্তা প্রমাণ করা; আর আমাদের এখানে উদ্দেশ্য হলো আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াত প্রমাণ করা।
নবুওয়াতের ওপর বিশ্বাস স্থাপন—অর্থাৎ নবীদের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা ও মানব সমাজের মাঝে যে সংযোগ—তা এই দ্বীনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। নবী হলেন সেই মানুষ যাকে আল্লাহ কোনো নির্দিষ্ট বার্তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য মনোনীত করেন। ইতিহাসে এমন কিছু মতবাদের উদ্ভব হয়েছে যারা আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখলেও নবুওয়াতকে অস্বীকার করে। তারা দাবি করে যে নবীর কোনো প্রয়োজন নেই; কারণ নবীরা যা নিয়ে এসেছেন তা যদি বিবেকের অনুকূল হয় তবে বিবেকই যথেষ্ট, আর যদি তা বিবেকের পরিপন্থী হয় তবে তা গ্রহণ করার প্রয়োজন নেই। মূলত বিবেক হলো যুক্তি প্রদর্শনের পথ মাত্র, কিন্তু আমরা পরীক্ষামূলক ও গাণিতিক যুক্তির মাধ্যমে ইন্দ্রিয়াতীত জগতের গূঢ় সত্যগুলোতে পৌঁছাতে সক্ষম নই। তাই আল্লাহর সত্তা, তাঁর গুণাবলি, পরকালের হিসাব-নিকাশ, সওয়াব ও আজাব এবং গায়েব বা অদৃশ্য জগতের সাথে সংশ্লিষ্ট যাবতীয় সঠিক জ্ঞান কেবল নবীদের মাধ্যমেই জানা সম্ভব।
আর আল্লাহ ও নবীদের মাঝে এই সংযোগ বিভিন্ন উপায়ে সম্পন্ন হয়েছে, যা কুরআন আমাদের কাছে বর্ণনা করেছে...
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - বাইহাকী
(পৃষ্ঠা: ১১)
الكريم طرفا من ذلك.
ففي أمر إبراهيم بذبح ابنه إسماعيل: فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْيَ، قالَ: يا بُنَيَّ إِنِّي أَرى فِي الْمَنامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ، فَانْظُرْ ماذا تَرى، قالَ: يا أَبَتِ افْعَلْ ما تُؤْمَرُ سَتَجِدُنِي إِنْ شاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ [الصافات- 102] فهذه الرؤية الصادقة.
وقد يكون الاتصال بأن يكلم الله تعالى النبي مباشرة كما حصل لموسى- عليه السلام فَلَمَّا أَتاها نُودِيَ مِنْ شاطِئِ الْوادِ الْأَيْمَنِ فِي الْبُقْعَةِ الْمُبارَكَةِ مِنَ الشَّجَرَةِ: أَنْ يا مُوسى إِنِّي أَنَا اللَّهُ رَبُّ الْعالَمِينَ [القصص- 30] .
والواسطة العادية في حصول الوحي أن يكون عن طريق جِبْرِيلَ- عليه السلام: نَزَلَ بِهِ الرُّوحُ الْأَمِينُ عَلى قَلْبِكَ لِتَكُونَ مِنَ الْمُنْذِرِينَ، بِلِسانٍ عَرَبِيٍّ مُبِينٍ [الشعراء- (163- 165) ] .
وأحيانا كان جبريل ينزل مجسدا يراه المسلمون كما حصل في حديث أركان الإيمان والإسلام والإحسان، وأشراط الساعة، الذي روي عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ- رضي الله عنه وفي ختامه: «هذا جبريل أتاكم يعلمكم دينكم» .
وحين يدعي إنسان أنه يتصل بالله ويحمل منه إلى الناس رسالة ترتّب عليهم تكاليف وواجبات، فإن من الطبيعي أن يطالبه الناس بالدليل على صدقه، ولم ير القرآن في هذا أمرا خارجا عن المعقول، فالتساؤل حتى للتعليم مطلوب وَإِذْ قالَ إِبْراهِيمُ رَبِّ أَرِنِي كَيْفَ تُحْيِ الْمَوْتى؟ قالَ: أَوَلَمْ تُؤْمِنْ؟
قالَ: بَلى، وَلكِنْ لِيَطْمَئِنَّ قَلْبِي [البقرة- 260] .
ومن هنا ظهرت الحاجة إلى ما يثبت النبوة.
মহান কুরআন এর কিছু অংশ বর্ণনা করেছে।
ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম)-কে তাঁর পুত্র ইসমাইলকে জবেহ করার নির্দেশের বিষয়ে: "অতঃপর সে যখন তাঁর পিতার সাথে চলাফেরা করার বয়সে পৌঁছাল, তখন ইব্রাহিম বললেন, 'হে বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি তোমাকে জবেহ করছি, এখন বলো তোমার অভিমত কী?' সে বলল, 'হে আব্বাজান! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে আপনি তা-ই পালন করুন; আল্লাহ চাইলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন' [আস-সাফফাত: ১০২]।" এটিই ছিল সত্য স্বপ্ন।
আর কখনো কখনো এই যোগাযোগ এমনভাবে হতো যে, আল্লাহ তাআলা সরাসরি নবীর সাথে কথা বলতেন, যেমনটি মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর ক্ষেত্রে ঘটেছিল: "অতঃপর যখন তিনি আগুনের কাছে আসলেন, তখন উপত্যকার ডানদিকের বরকতময় স্থানের একটি গাছ থেকে তাঁকে আহ্বান করা হলো যে, 'হে মুসা! আমিই আল্লাহ, বিশ্বজগতের প্রতিপালক' [আল-কাসাস: ৩০]।"
ওহী প্রাপ্তির সাধারণ মাধ্যম ছিল জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর মাধ্যমে হওয়া: "বিশ্বস্ত আত্মা (জিবরাঈল) তা নিয়ে অবতরণ করেছেন আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন, সুস্পষ্ট আরবি ভাষায় [আশ-শুআরা: ১৬৩-১৬৫]।"
কখনো কখনো জিবরাঈল মানবাকৃতিতে অবতরণ করতেন যা মুসলিমরা দেখতে পেতেন, যেমনটি ঈমান, ইসলাম ও ইহসানের রুকন এবং কিয়ামতের আলামত সম্পর্কিত হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, যা উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। সেই হাদিসের শেষে বলা হয়েছে: "ইনি জিবরাঈল, তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন।"
যখন কোনো মানুষ দাবি করে যে, সে আল্লাহর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং তাঁর পক্ষ থেকে মানুষের নিকট এমন কোনো বার্তা বহন করে এনেছে যা তাদের ওপর ধর্মীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য অর্পণ করে, তখন মানুষের পক্ষে তাঁর সত্যতার প্রমাণ চাওয়াটা স্বাভাবিক। কুরআন একে যুক্তিবহির্ভূত কোনো বিষয় মনে করেনি। এমনকি শিক্ষার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করাও কাম্য, যেমনটি ইব্রাহিম (আলাইহিস সালাম) বলেছিলেন: "হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দেখান আপনি কীভাবে মৃতকে জীবিত করেন।" আল্লাহ বললেন: "তুমি কি তবে বিশ্বাস করো না?"
তিনি বললেন: "অবশ্যই বিশ্বাস করি, তবে তা কেবল আমার মনের প্রশান্তির জন্য" [আল-বাকারাহ: ২৬০]।
আর এখান থেকেই নবুওয়াত প্রমাণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - বাইহাকী
(পৃষ্ঠা: ১২)
طرق في إثبات النبوة
طريقة القرآن في إثبات النبوة:الطريقة القرآنية في إثبات النبوة هي إيراد أدلة كثيرة تتكاتف لتؤدي إلى اليقين.
فالقرآن الكريم تحدى العرب والعجم، والإنس والجن أن يأتوا بمثله، أو بسورة من مثله وَإِنْ كُنْتُمْ فِي رَيْبٍ مِمَّا نَزَّلْنا عَلى عَبْدِنا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِنْ مِثْلِهِ
… [البقرة- 23] وقد بعث رسول صلى الله عليه وسلم فيهم أربعين عاما، فلم يحدثهم بنبوة ولا برسالة! فهذا الأمر يخضع لمشيئة الله فقط.
قُلْ لَوْ شاءَ اللَّهُ ما تَلَوْتُهُ عَلَيْكُمْ وَلا أَدْراكُمْ بِهِ، فَقَدْ لَبِثْتُ فِيكُمْ عُمُراً مِنْ قَبْلِهِ أَفَلا تَعْقِلُونَ [يونس- 16] . فهذا النبي صلى الله عليه وسلم قد نشأ بينهم، وترعرع على مرأى ومسمع منهم بل كانوا يعرفونه بالصدق والأمانة، ورجاحة العقل، ولم يعهدوا عليه كذبا، قال تعالى:
قُلْ إِنَّما أَعِظُكُمْ بِواحِدَةٍ أَنْ تَقُومُوا لِلَّهِ مَثْنى وَفُرادى، ثُمَّ تَتَفَكَّرُوا ما بِصاحِبِكُمْ مِنْ جِنَّةٍ إِنْ هُوَ إِلَّا نَذِيرٌ لَكُمْ بَيْنَ يَدَيْ عَذابٍ شَدِيدٍ [سبأ- 46] .
فلم الشك في أمره مع أنه قد تجرد عن كل مطمع دنيوي. قُلْ مَا سَأَلْتُكُمْ مِنْ أَجْرٍ فَهُوَ لَكُمْ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى اللَّهِ وَهُوَ عَلى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ [سبأ- 47] .
ولم الشك في أمره وهو أمي لا يقرأ ولا يكتب، ولا يمكن أن يستمدّ من كتاب.
وَما كُنْتَ تَتْلُوا مِنْ قَبْلِهِ مِنْ كِتابٍ، وَلا تَخُطُّهُ بِيَمِينِكَ إِذاً لَارْتابَ
নবুওয়াত প্রমাণের পদ্ধতিসমূহনবুওয়াত প্রমাণের ক্ষেত্রে কুরআনের পদ্ধতি:নবুওয়াত প্রমাণের কুরআনী পদ্ধতি হলো এমন অনেক প্রমাণ উপস্থাপন করা যা একে অপরের পরিপূরক হয়ে দৃঢ় বিশ্বাসের (ইয়াকীন) দিকে নিয়ে যায়।
পবিত্র কুরআন আরব ও অনারব এবং মানুষ ও জিন জাতিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে যেন তারা এর মতো কিছু অথবা এর মতো একটি সূরা নিয়ে আসে: "আর আমি আমার বান্দার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি সে সম্পর্কে যদি তোমরা সন্দেহে থাকো, তবে তোমরা এর মতো একটি সূরা নিয়ে এসো..."
… [আল-বাকারা: ২৩]। অথচ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের মাঝে চল্লিশ বছর অতিবাহিত করেছিলেন, কিন্তু তিনি তাদের কাছে নবুওয়াত বা রিসালাত সম্পর্কে কোনো কথাই বলেননি! সুতরাং এই বিষয়টি কেবল আল্লাহর ইচ্ছাধীন।
বলো, "যদি আল্লাহ চাইতেন তবে আমি তা তোমাদের কাছে তিলাওয়াত করতাম না এবং তিনি তোমাদেরকে তা জানাতেন না। আমি তো এর আগে তোমাদের মাঝে জীবনের একটি দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করেছি; তবুও কি তোমরা বুঝবে না?" [ইউনুস: ১৬]। এই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের মাঝেই বেড়ে উঠেছেন এবং তাদের সামনেই লালিত-পালিত হয়েছেন; বরং তারা তাঁকে সত্যবাদিতা, আমানতদারি ও প্রজ্ঞার অধিকারী হিসেবেই চিনত এবং তারা তাঁর থেকে কখনো কোনো মিথ্যার অভিজ্ঞতা লাভ করেনি। আল্লাহ তাআলা বলেন:
বলো, "আমি তোমাদেরকে কেবল একটি বিষয়ে উপদেশ দিচ্ছি: তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে জোড়ায় জোড়ায় অথবা একাকী দাঁড়াও, তারপর চিন্তা করে দেখো; তোমাদের সঙ্গীর মধ্যে কোনো উন্মাদনা নেই। তিনি তো এক কঠোর শাস্তির প্রাক্কালে তোমাদের জন্য একজন সতর্ককারী মাত্র।" [সাবা: ৪৬]।
তাঁর বিষয়ে কেন সন্দেহ পোষণ করা হবে অথচ তিনি দুনিয়াবি সকল স্বার্থ থেকে নিজেকে মুক্ত রেখেছিলেন? বলো, "আমি তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চেয়ে থাকলে তা তো তোমাদেরই জন্য। আমার পুরস্কার কেবল আল্লাহর কাছে এবং তিনি সর্ববিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী।" [সাবা: ৪৭]।
তাঁর বিষয়ে কেন সন্দেহ করা হবে যখন তিনি ছিলেন উম্মি (নিরক্ষর), তিনি পড়তে পারতেন না এবং লিখতেও পারতেন না; আর তাঁর পক্ষে কোনো কিতাব থেকে জ্ঞান আহরণ করাও সম্ভব ছিল না।
তুমি এর আগে কোনো কিতাব তিলাওয়াত করতে না এবং নিজের ডান হাত দিয়ে তা লিখতে না; এমন হলে সন্দেহ পোষণকারীরা অবশ্যই সন্দেহ করত।
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - বাইহাকী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الْمُبْطِلُونَ [العنكبوت- 48] .
1- طريقة الغزالي في اثبات النبوة:وللإمام الغزالي في منقذه من الضلال طريقة في إثبات النبوة، قال:
«فإذا وقع لك شك في شخص معين: أنه نبي أم لا؟ فلا يحصل اليقين إلا بمعرفة أحواله:
إما بالمشاهدة، أو بالتواتر، والتسامع.
فإنك إذا عرفت الطب، والفقه، يمكنك أن تعرف الفقهاء، والأطباء، بمشاهدة أحوالهم، وسماع أقوالهم وإن لم تشاهدهم.
ولا تعجز أيضا عن معرفة كون «الشافعي» رحمه الله فقيها وكون «وجالينوس» طبيبا، معرفة بالحقيقة لا بالتقليد عن الغير، بل بأن تتعلم شيئا من الفقه والطب، وتطالع كتبهما وتصانيفهما، فيحصل لك علم ضروري بحالهما.
فكذلك إذا فهمت معنى النبوة، فأكثرت النظر في القرآن، والأخبار يحصل لك العلم الضروري بكونه صلى الله عليه وسلم، على أعلى درجات النبوة واعضد ذلك بتجربة ما قاله في العبادات، وتأثيرها في تصفية القلوب وكيف
صَدَقَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي قَوْلِهِ: «من عمل بما علم ورثه الله علم ما لم يعلم» .
وكيف صدق في
قوله: «من أعان ظالما سلطه الله عليه» .
وكيف صدق في
قوله:
বাতিলপন্থীরা [আন-কাবুত- ৪৮] ।
১- নবুওয়াত প্রমাণের ক্ষেত্রে ইমাম গাযালীর পদ্ধতি:আর ইমাম গাযালীর তাঁর 'আল-মুনকিজ মিনাদ দলাল' গ্রন্থে নবুওয়াত প্রমাণের একটি পদ্ধতি রয়েছে, তিনি বলেন:
«যদি আপনার মাঝে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি সম্পর্কে সন্দেহ জাগে যে, তিনি নবী কি না? তবে তাঁর অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন ব্যতিরেকে ইয়াকীন (দৃঢ় বিশ্বাস) অর্জিত হবে না:
তা হয়তো পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে, অথবা তাওয়াতুর (নিরবচ্ছিন্ন জনশ্রুতি) ও শ্রবণের মাধ্যমে।
কেননা আপনি যখন চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং ফিকহ সম্পর্কে জানবেন, তখন ফকীহ ও চিকিৎসকগণকে তাঁদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে এবং তাঁদের কথা শুনে চিনতে পারবেন, যদিও আপনি তাঁদের (সরাসরি) দেখেননি।
তদ্রূপ আপনি ইমাম 'শাফেয়ী' (রহিমাহুল্লাহ)-এর ফকীহ হওয়া এবং 'গ্যালেন'-এর চিকিৎসক হওয়া সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান লাভে অক্ষম হবেন না—যা অন্ধ অনুকরণ নয়—বরং ফিকহ ও চিকিৎসা শাস্ত্রের কিছু অংশ শিক্ষা করে এবং তাঁদের লিখিত গ্রন্থ ও রচনাবলি অধ্যয়ন করার মাধ্যমে আপনি তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে একটি অকাট্য জ্ঞান লাভ করবেন।
তেমনিভাবে আপনি যখন নবুওয়াতের মর্ম উপলব্ধি করবেন এবং কুরআন ও হাদীসসমূহে অধিক দৃষ্টিপাত করবেন, তখন আপনার মাঝে এই অকাট্য জ্ঞান অর্জিত হবে যে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নবুওয়াতের সর্বোচ্চ স্তরে রয়েছেন। আর ইবাদত সম্পর্কে তিনি যা বলেছেন এবং অন্তরসমূহ পরিশুদ্ধ করার ক্ষেত্রে তার প্রভাব সংক্রান্ত আপনার অভিজ্ঞতার মাধ্যমে একে আরও শক্তিশালী করুন এবং দেখুন কীভাবে
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর এই বাণীতে সত্য বলেছেন: «যে ব্যক্তি যা জানে সে অনুযায়ী আমল করে, আল্লাহ তাকে এমন বিষয়ের জ্ঞান দান করেন যা সে জানত না»।
এবং কীভাবে সত্য বলেছেন তাঁর এই
বাণীতে: «যে ব্যক্তি কোনো যালিমকে সাহায্য করে, আল্লাহ তার ওপর সেই যালিমকেই প্রবল করে দেন»।
এবং কীভাবে সত্য বলেছেন তাঁর এই
বাণীতে:
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - বাইহাকী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
«من أصبح وهمومه هم واحد، كفاه الله تعالى هموم الدنيا والآخرة
فإذا جرّبت في ألف، وألفين، وآلاف حصل لك علم ضروري لا تتمارى فيه.
فمن هذا الطريق: اطلب اليقين بالنبوة، لا من قلب العصا ثعبانا، وشق القمر، فإن ذلك إذا نظرت إليه وحده، ولم تنضم إليه القرائن الكثيرة الخارجة عن الحصر، ربما ظننت أنه سحر وتخييل وأنه من الله إضلال، فإن الله تعالى:
يُضِلُّ مَنْ يَشاءُ، وَيَهْدِي مَنْ يَشاءُ.
وترد عليك أسئلة المعجزات، فإن كان مستندا إيمانك إلى كلام منظوم في وجه دلالة المعجزة، فينخرم إيمانك بكلام مرتب في وجوه الأشكال والشبهة عليها.
فليكن مثل الخوارق، إحدى الدلائل والقرائن في مجلة نظرك حتى يحصل لك علم ضروري لا يمكنك ذكر مستنده على التعيين كالذي يخبره جماعة بخبر متواتر لا يمكنه أن يذكر أن اليقين مستفاد من قول واحد معين، بل من حيث لا يدري، ولا يخرج عن جملة ذلك ولا بتعيين الآحاد
… فهذا هو الإيمان القوي العملي» أ. هـ.
2- طريقة ابن خلدون في إثبات النبوة:قال ابن خلدون في المقدمة:
«اعلم أن الله- سبحانه- اصطفى من البشر أشخاصا فضلهم بخطابه، وفطرهم على معرفته، وجعلهم وسائل بينه وبين عباده: يعرفونهم بمصالحهم، ويحرضونهم على هدايتهم، ويأخذون بحجزاتهم عن النار، ويدلّونهم على طريق النجاة.
وكان- فيما يلقيه إليهم من المعارف ويظهره على ألسنتهم من الخوارق والأخبار- الكائنات، المغيبة عن البشر التي لا سبيل الى معرفتها، إلا من على
"যে ব্যক্তি সকালে এই অবস্থায় উপনীত হয় যে তার সব দুশ্চিন্তা কেবল একটিই (অর্থাৎ আখেরাত), মহান আল্লাহ তার দুনিয়া ও আখেরাতের সকল দুশ্চিন্তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান।
অতঃপর তুমি যদি এটি এক হাজার, দুই হাজার বা হাজার হাজার বার পরীক্ষা করো, তবে তোমার এমন এক অবধারিত জ্ঞান অর্জিত হবে যাতে তুমি কোনো সংশয় করবে না।
কাজেই এই পথেই তুমি নবুওয়তের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস (ইয়াকিন) অনুসন্ধান করো; লাঠি সাপে পরিণত হওয়া কিংবা চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়ার মাধ্যমে নয়। কারণ তুমি যদি কেবল সেটির দিকেই তাকাও এবং এর সাথে অগণিত অপরাপর আলামত ও প্রমাণাদি যুক্ত না করো, তবে সম্ভবত তুমি মনে করতে পারো যে এটি জাদু ও কল্পনা এবং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে পথভ্রষ্টকরণ। কারণ মহান আল্লাহ:
যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করেন।
আর মুজিজার বিষয়ে তোমার মনে নানা প্রশ্ন জাগবে। এমতাবস্থায় তোমার ঈমান যদি মুজিজার প্রমাণের ওপর সাজানো কোনো যুক্তির ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে থাকে, তবে বিভিন্ন সংশয় ও সন্দেহের সুবিন্যস্ত যুক্তির আঘাতে সেই ঈমান ভেঙে যেতে পারে।
তাই অলৌকিক ঘটনাবলি যেন তোমার পর্যালোচনার ক্ষেত্রে অন্যতম একটি দলিল ও আলামত হিসেবে থাকে, যতক্ষণ না তোমার মাঝে এমন এক অবধারিত জ্ঞান অর্জিত হবে যার সুনির্দিষ্ট ভিত্তি তুমি আলাদা করে উল্লেখ করতে পারবে না। যেমনটি ঘটে এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে যাকে একদল লোক মুতাওয়াতির সংবাদ প্রদান করে; সে ব্যক্তি খবরটি যে সুনির্দিষ্ট কোনো একজনের কথা থেকে অর্জিত হয়েছে তা উল্লেখ করতে পারে না, বরং এটি কোথা থেকে এসেছে তা না জেনেই তার মাঝে দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে এবং এটি সামগ্রিক খবরের বাইরে যায় না কিংবা কোনো একক ব্যক্তির বর্ণনার ওপরও নির্ভর করে না
… আর এটিই হলো শক্তিশালী ও প্রায়োগিক ঈমান।" উদ্ধৃতি সমাপ্ত।
২- নবুওয়ত প্রমাণের ক্ষেত্রে ইবনে খালদুনের পদ্ধতি:ইবনে খালদুন তাঁর মুকাদ্দিমা গ্রন্থে বলেছেন:
«জেনে রাখুন, আল্লাহ—সুবহানাহু—মানবজাতির মধ্য থেকে এমন কিছু ব্যক্তিকে মনোনীত করেছেন যাদেরকে তিনি তাঁর বাণীর (খিতাব) মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং তাঁর পরিচয়ের (মারেফাত) ওপর তাঁদের সৃষ্টি করেছেন। তিনি তাঁদেরকে নিজের ও তাঁর বান্দাদের মাঝে মাধ্যম হিসেবে নিযুক্ত করেছেন; যাতে তাঁরা মানুষকে তাঁদের কল্যাণ সম্পর্কে অবহিত করেন, হিদায়াতের পথে উদ্বুদ্ধ করেন, তাঁদেরকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা করতে সচেষ্ট থাকেন এবং মুক্তির পথের দিশা প্রদান করেন।
আর তিনি তাঁদের নিকট যে জ্ঞান দান করেন এবং তাঁদের মুখে যে অলৌকিক ঘটনাবলি ও সংবাদসমূহ প্রকাশ করেন—তা হলো সৃষ্টিজগত সম্পর্কিত এমন সব অদৃশ্য বিষয় যা মানুষের নিকট গোপন থাকে এবং যা জানার কোনো উপায় নেই, কেবল তাঁর মাধ্যমেই যিনি...
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - বাইহাকী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ألسنتهم من الله بوساطتهم، ولا يعلمونها إلا بتعليم الله إياهم..
قَالَ صلى الله عليه وسلم:
«ألّا وإنّي لَا أَعْلَمُ إِلَّا مَا عَلَّمَنِيَ الله» .
واعلم أن خبرهم في ذلك، من خاصيّته وضرورته الصدق، لما يتبين لك عند بيان حقيقة النبوة.
وعلامة هذا الصنف من البشر: أن توجد لهم- في حال الوحي- غيبة عن الحاضرين معهم مع غطيط كأنها غشي أو إغماء في رأي العين، وليست منهما في شيء، وإنما هي- في الحقيقة- استغراق في لقاء الملك الروحاني:
بإدراكهم المناسب لهم، الخارج عن مدارك البشر بالكلية. ثم يتنزل الى المدارك البشرية: إما بسماع دوي من الكلام فيتفهمه، أو يتمثل له صورة شخص يخاطبه بما جَاءَ بِهِ مِنْ عِنْدِ الله.
ثم تنجلي عنه تلك الحال، وقد وعى ما ألقي عليه.
قَالَ صلى الله عليه وسلم، وقد سئل عن الوحي: «أحيانا يأتيني مِثْلِ صَلْصَلَةِ الْجَرَسِ، وَهُوَ أَشَدُّهُ عَلَيَّ، فَيَفْصِمُ عَنِّي وَقَدْ وَعَيْتُ مَا قَالَ. وأحيانا يتمثّل إليّ الملك رجلا فيكلمني فأعي ما يقول» .
ويدركه أثناء ذلك، من الشدة والغطّ ما لا يعبّر عنه. ففي الحديث:
«كان مما يعالج من التنزيل شدة» .
وقالت عائشة:
كان يَنْزِلُ عَلَيْهِ الْوَحْيُ فِي الْيَوْمِ الشَّدِيدِ الْبَرْدِ، فَيَفْصِمُ عَنْهُ وَإِنَّ جَبِينَهُ لَيَتَفَصَّدُ عرقا» وقال تعالى: إِنَّا سَنُلْقِي عَلَيْكَ قَوْلًا ثَقِيلًا.
ولأجل هذه الحالة في تنزّل الوحي، كان المشركون يرمون الأنبياء بالجنون، ويقولون له رئي، أو تابع من الجن.. وإنما لبّس عليهم، بما شاهدوه من مظاهر تلك الأحوال:
তাদের জিহ্বা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের মাধ্যমে কথা বলে, এবং আল্লাহ তাদের শিক্ষা না দিলে তারা তা জানে না।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«জেনে রেখো, আল্লাহ আমাকে যা শিখিয়েছেন তা ছাড়া আমি কিছুই জানি না»।
জেনে রাখুন যে, এই বিষয়ে তাদের সংবাদ প্রদানের বিষয়টি এমন এক বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত যার অপরিহার্য দাবি হলো সত্যবাদিতা; যা নবুওয়াতের প্রকৃত রূপ বর্ণনার সময় আপনার কাছে স্পষ্ট হবে।
মানুষের মধ্যে এই শ্রেণীর বৈশিষ্ট্য হলো: ওহী অবতীর্ণ হওয়ার সময় উপস্থিতদের নিকট থেকে তাদের এক প্রকার অনুপস্থিতি ঘটে এবং নাক ডাকার মতো আওয়াজ সৃষ্টি হয়, যা বাহ্যত অজ্ঞান হওয়া বা মূর্ছা যাওয়ার মতো মনে হয়, যদিও এটি সেগুলোর কোনোটিই নয়; বরং প্রকৃতপক্ষে এটি হলো রূহানী ফেরেশতার সাথে সাক্ষাতে নিমগ্ন হওয়া:
যা তাদের জন্য উপযুক্ত এমন উপলব্ধির মাধ্যমে ঘটে, যা সাধারণ মানবীয় বোধশক্তির সম্পূর্ণ ঊর্ধ্বে। এরপর তা মানবীয় বোধশক্তির স্তরে নেমে আসে: হয় কথার গুঞ্জন শোনার মাধ্যমে যা তিনি বুঝতে পারেন, অথবা তার সামনে কোনো ব্যক্তির রূপ ধারণ করে ফেরেশতা উপস্থিত হন, যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে যা নিয়ে এসেছেন তা তার কাছে বর্ণনা করেন।
অতঃপর সেই অবস্থার অবসান ঘটে এবং তার ওপর যা অর্পণ করা হয়েছে তা তিনি আয়ত্ত করে ফেলেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ওহী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: «কখনো কখনো তা আমার কাছে ঘণ্টার ধ্বনির মতো আসে, আর এটিই আমার জন্য সবচেয়ে কঠিন হয়। এরপর তা আমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং যা বলা হয়েছে তা আমি আয়ত্ত করে ফেলি। আবার কখনো ফেরেশতা মানুষের রূপ ধরে আমার কাছে আসেন এবং আমার সাথে কথা বলেন, তখন তিনি যা বলেন আমি তা আয়ত্ত করে নিই»।
এই ওহীর অবস্থায় তিনি এমন তীব্রতা ও চাপের সম্মুখীন হন যা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে:
«ওহী নাযিলের সময় তিনি কঠোর কষ্টের সম্মুখীন হতেন»।
আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন:
«প্রবল শীতের দিনেও তাঁর ওপর ওহী নাযিল হতো, অতঃপর যখন তা শেষ হতো, তখন দেখা যেত তাঁর ললাট থেকে ঘাম ঝরছে»। আর আল্লাহ তাআলা বলেন: «নিশ্চয়ই আমি আপনার ওপর এক ভারী বাণী অবতীর্ণ করতে যাচ্ছি»।
ওহী অবতীর্ণ হওয়ার এই অবস্থার কারণেই মুশরিকরা নবীদের উন্মাদনার অপবাদ দিত এবং বলত যে তাদের জিনের আছর বা সঙ্গী রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে তারা এসব অবস্থার যে বহিঃপ্রকাশ প্রত্যক্ষ করত, তা-ই তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছিল:
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - বাইহাকী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وَمَنْ يُضْلِلِ اللَّهُ فَما لَهُ مِنْ هادٍ*.
ومن علاماتهم أيضا: أنه يوجد لهم- قبل الوحي- خلق الخير والزكاة، ومجانبة المذمومات والرجس أجمع.
وهذا هو معنى العصمة. وكأنه مفطور على التنزه عن المذمومات والمنافرة لها. وكأنها منافية لجبلّته.
وفي الصحيح: أنه حمل الحجارة وهو غلام، مع عمه العباس، لبناء الكعبة، فجعلها في إزاره، فانكشف، فسقط مغشيا عليه، حتى استتر بإزاره، ودعى إلى مجتمع وليمة فيها عرس ولعب. فأصابه غشي النوم إلى أن طلعت الشمس، ولم يحضر شيئا من شأنهم، بل نزّهه الله عن ذلك كله، حتى إنه- بجبلّته- يتنزه عن المطعومات المستكرهة.
فقد كَانَ صلى الله عليه وسلم، لا يقرب البصل والثوم، فقيل له في ذلك، فقال: «إني أناجي من لا تناجون» .
وانظر، لمّا أَخْبَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم خَدِيجَةُ رضي الله عنها، بحال الوحي أول ما فجأه وأراد اختباره.
فقالت: اجعلني بينك وبين ثوبك، فلما فعل ذلك، ذهب عنه.
فقالت: إنه ملك، وليس بشيطان، ومعناه: أنه لا يقرب النساء.
وكذلك سألته عن أحبّ الثياب إليه أن يأتيه فيها.
فقال البياض والخضرة.
فقالت: إنه الملك.
يعني: أن البياض والخضرة من ألوان الخير والملائكة. والسواد من ألوان الشر والشياطين، وأمثال ذلك.
আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই।
তাদের (নবীগণের) নিদর্শনের মধ্যে আরও রয়েছে: ওহি নাযিল হওয়ার পূর্বেই তাদের মাঝে উত্তম চরিত্র ও পবিত্রতা এবং সকল প্রকার নিন্দনীয় কাজ ও অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকার বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান থাকে।
আর এটিই হলো 'ইসমাত' বা নিষ্পাপত্বের অর্থ। যেন তিনি সকল নিন্দনীয় বিষয় থেকে পবিত্র থাকার এবং সেগুলোর প্রতি ঘৃণা পোষণ করার স্বভাবজাত প্রবৃত্তির ওপর সৃষ্টি হয়েছেন। যেন তা তাঁর সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্যের পরিপন্থী।
সহীহ বর্ণনায় এসেছে: তিনি যখন কিশোর বালক ছিলেন, তখন তাঁর চাচা আব্বাসের সাথে কাবার পুনর্নির্মাণের জন্য পাথর বহন করছিলেন; তখন তিনি পাথরগুলো তাঁর পরিধেয় বস্ত্রের ওপর রাখলেন, ফলে তাঁর শরীর উন্মোচিত হয়ে গেল। তখন তিনি জ্ঞান হারিয়ে পড়ে গেলেন, যতক্ষণ না পুনরায় কাপড় পরিধান করে আবৃত হলেন। আর তাঁকে একবার বিয়ের একটি ওয়ালিমার অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল যেখানে আমোদ-প্রমোদ ও খেলাধুলা ছিল। কিন্তু সূর্যোদয় পর্যন্ত তিনি গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে থাকলেন এবং তাদের সেই কার্যাবলীর কোনো কিছুতেই অংশ নিলেন না। বরং আল্লাহ তাঁকে এই সব কিছু থেকে পবিত্র রেখেছেন, এমনকি তিনি তাঁর সৃষ্টিগত স্বভাবের কারণেই অপছন্দনীয় খাবার থেকেও দূরে থাকতেন।
কেননা তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেঁয়াজ ও রসুনের নিকটে যেতেন না; এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: «আমি এমন সত্তার সাথে একান্তে কথা বলি, যাঁর সাথে তোমরা কথা বলো না»।
লক্ষ্য করুন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রথম ওহি আসার আকস্মিক অবস্থা সম্পর্কে খাদিজাহ রাদিয়াল্লাহু আনহাকে জানালেন এবং তিনি (খাদিজাহ) এটি পরীক্ষা করতে চাইলেন।
তিনি (খাদিজাহ) বললেন: আমাকে আপনার ও আপনার পরিধেয় বস্ত্রের মাঝখানে নিন; যখন তিনি তা করলেন, তখন সেটি (ফেরেশতা) চলে গেল।
তখন তিনি বললেন: নিশ্চয়ই তিনি ফেরেশতা, শয়তান নন। আর এর অর্থ হলো: তিনি (ফেরেশতা) নারীদের নিকটবর্তী হন না।
অনুরূপভাবে তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, কোন রঙের পোশাকে তাঁর নিকট (ফেরেশতার) আসা তাঁর অধিক প্রিয়।
তিনি বললেন: সাদা ও সবুজ।
তিনি বললেন: নিশ্চয়ই তিনি ফেরেশতা।
অর্থাৎ: সাদা ও সবুজ হচ্ছে কল্যাণ ও ফেরেশতাগণের রঙ। আর কালো হচ্ছে অকল্যাণ ও শয়তানদের রঙ এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়।
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - বাইহাকী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ومن علاماتهم أيضا: دعاؤهم إلى الدين والعبادة من: الصلاة والصدقة والعفاف.
وقد استدلت خَدِيجَةُ رضي الله عنها، على صدقه صلى الله عليه وسلم بذلك، وكذلك أبو بكر، ولم يحتاجا في أمره إلى دليل خارج عن حاله وخلقه.
وفي الصحيح أن هرقل- حين جاءه كِتَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَدْعُوهُ إِلَى الإسلام- أحضر من وجد ببلده من قريش، وفيهم أبو سفيان، ليسألهم عن حاله. فكان- فيما سأل- أن قال:
بم يأمركم؟ فقال أبو سفيان: بِالصَّلَاةِ، وَالزَّكَاةِ، وَالصِّلَةِ وَالْعَفَافِ، إلى آخر ما سأل. فأجابه فقال: إِنْ يَكُنْ مَا تَقُولُ حقا فهو نبي، وسيملك مَا تَحْتَ قَدَمَيَّ هَاتَيْنِ» .
والعفاف الذي أشار إليه أبو سفيان، هو العصمة.
فانظر كيف أخذ من العصمة والدعاء إلى الدين والعبادة دليلا على صحة نبوته، ولم يحتج إلى معجزة، فدل على أن ذَلِكَ مِنْ عَلَامَاتِ النُّبُوَّةِ!! ومن علاماتهم أيضا: أن يكونوا ذوي حسب في قومهم.
وفي الصحيح: «ما بعث الله نبيا، إلا فِي مَنَعَةٍ مِنْ قَوْمِهِ» .
وفي رواية أخرى: «في ثروة من قومه» .
استدركه الحاكم على الصحيحين.
وفي مساءلة هرقل لأبي سفيان كما هو في الصحيح قال:
«كيف هو فيكم» ؟
قَالَ أَبُو سُفْيَانَ:
«هُوَ فينا ذو حسب» .
فقال هرقل:
«والرسل تبعث في أحساب قومها» .
তাদের অন্যতম নিদর্শন হলো: দ্বীন এবং ইবাদতের প্রতি তাদের আহ্বান, যেমন: সালাত, সদকা এবং পবিত্রতা।
খাদিজাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) এর মাধ্যমেই নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর সত্যবাদিতার প্রমাণ পেশ করেছিলেন, এবং আবু বকরও তদ্রূপ করেছিলেন। তাঁরা তাঁর নবুওয়াতের বিষয়টি অনুধাবনের ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থা ও চরিত্রের বাইরের কোনো প্রমাণের মুখাপেক্ষী হননি।
সহীহ গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, যখন হিরাক্লিয়াসের নিকট নবী (আল্লাহর সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর পত্র পৌঁছাল যাতে তাকে ইসলামের দিকে আহ্বান জানানো হয়েছিল, তখন সে তার ভূখণ্ডে বিদ্যমান কুরাইশদের উপস্থিত করল—যাদের মধ্যে আবু সুফিয়ানও ছিলেন—যাতে সে তাঁর অবস্থা সম্পর্কে তাদের জিজ্ঞাসা করতে পারে। সে যা জিজ্ঞাসা করেছিল তার মধ্যে একটি ছিল:
"তিনি তোমাদের কিসের আদেশ দেন?" আবু সুফিয়ান বললেন: "সালাত, জাকাত, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা এবং পবিত্রতার", তার জিজ্ঞাসার শেষ পর্যন্ত। অতঃপর হিরাক্লিয়াস উত্তর দিয়ে বললেন: "তুমি যা বলছ তা যদি সত্য হয়, তবে তিনি একজন নবী, এবং অচিরেই তিনি আমার এই দুই পায়ের নিচের জায়গার মালিক হবেন।"
আর আবু সুফিয়ান যে পবিত্রতার প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, তা হলো চারিত্রিক নিষ্কলঙ্কতা।
অতএব লক্ষ্য করুন, কীভাবে সে চারিত্রিক নিষ্কলঙ্কতা এবং দ্বীন ও ইবাদতের প্রতি আহ্বানকে তাঁর নবুওয়াতের সত্যতার দলিল হিসেবে গ্রহণ করল এবং কোনো মুজিজার মুখাপেক্ষী হলো না। ফলে এটি সাব্যস্ত হলো যে, এ বিষয়গুলো নবুওয়াতের নিদর্শনাবলীর অন্তর্ভুক্ত!! তাঁদের অন্যতম নিদর্শন আরও হলো: নিজ সম্প্রদায়ের মধ্যে উচ্চ বংশমর্যাদার অধিকারী হওয়া।
সহীহ গ্রন্থে রয়েছে: "আল্লাহ এমন কোনো নবী প্রেরণ করেননি যিনি তাঁর কওমের সুরক্ষায় (মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে) ছিলেন না।"
অন্য এক বর্ণনায় আছে: "তাঁর কওমের প্রাচুর্যের মধ্য থেকে।"
আল-হাকিম একে সহীহাইনের শর্তানুযায়ী মুস্তাদরাক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
সহীহ গ্রন্থে আবু সুফিয়ানের প্রতি হিরাক্লিয়াসের জিজ্ঞাসায় যেমনটি রয়েছে, সে বলল:
"তোমাদের মধ্যে তাঁর বংশমর্যাদা কেমন?"
আবু সুফিয়ান বললেন:
"আমাদের মধ্যে তিনি উচ্চ বংশমর্যাদার অধিকারী।"
তখন হিরাক্লিয়াস বলল:
"আর রাসূলগণ তাঁদের কওমের উচ্চ বংশমর্যাদাতেই প্রেরিত হয়ে থাকেন।"
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - বাইহাকী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ومعناه: أن تكون له عصبة وشوكة تمنعه عن أذى الكفار، حتى يبلغ رسالة ربه، ويتم مراد الله من إكمال دينه وملته.
3- دلائل النبوة في إسلام خَدِيجَةُ- رضي الله عنها-:
ويتحدث ابن خلدون عن إسلام خديجة بنت خويلد، وعن إسلام أبي بكر الصديق، ويتعرض لإسلام ورقة بن نوفل وإسلام غيرهم مستدلا بيقينهم على دلائل نبوته صلى الله عليه وسلم.
فكيف أسلمت خديجة؟
أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لَمْ يدعها إلى الإسلام! إنه قصّ عليها قصة الوحي، وهو
يقول: زَمِّلُونِي، زَمِّلُونِي فَزَمَّلُوهُ حَتَّى ذَهَبَ عَنْهُ الرَّوْعُ.
وهذه صورة لم تشهدها خديجة- من قبل- عَلَى مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم ولقد عرفته شابا يعمل في مالها متاجرا به.
ومن هذه العلاقة- عرفت فيه الصدق والأمانة، والخصال الإنسانية الكاملة، والمثل الأعلى
…ولقد سمعت من ميسرة حديثا يبعث شجون النفس، والإعجاب.
وَكَانَتْ خَدِيجَةُ امْرَأَةً حَازِمَةً شريفة لبيبة، ذَاتَ شَرَفٍ وَمَالٍ، تَسْتَأْجِرُ الرِّجَالَ فِي مَالِهَا، وَتُضَارِبُهُمْ إِيَّاهُ بِشَيْءٍ تَجْعَلُ لَهُمْ منه، فَلَمَّا بَلَغَهَا عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَا بَلَغَهَا مِنْ صِدْقِ حَدِيثِهِ، وَعِظَمِ أَمَانَتِهِ، وَكَرَمِ أَخْلَاقِهِ، بَعَثَتْ إِلَيْهِ، فعرضت أَنْ يَخْرُجَ فِي مَالِهَا تَاجِرًا إِلَى الشَّامِ، وَتُعْطِيهِ أَفْضَلَ مَا كَانَتْ تُعْطِي غيره، مَعَ غُلَامٍ لَهَا يُقَالُ له: «ميسرة» .
فلما أخبرها «مَيْسَرَةُ» عَنْ قَوْلِ الرَّاهِبِ، وَعَمَّا كَانَ يَرَى مِنْ إظلال الملكين إياه في حرّ الهاجرة، وسموّ صحبته، وحسن خلقه، وصدق حديثه
এর অর্থ হলো: তাঁর এমন একটি শক্তিশালী গোত্র ও প্রভাব-প্রতিপত্তি থাকবে যা তাঁকে কাফিরদের কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত রাখবে, যতক্ষণ না তিনি তাঁর রবের রিসালাত পৌঁছে দেন এবং তাঁর দ্বীন ও মিল্লাতকে পূর্ণ করার মাধ্যমে আল্লাহর ইচ্ছা পূর্ণ হয়।
৩- খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ইসলাম গ্রহণের মধ্যে নবুওয়াতের প্রমাণাদি-:
ইবনে খালদুন খাদিজা বিনতে খুয়াইলিদ ও আবু বকর সিদ্দিক (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর ইসলাম গ্রহণ এবং ওরাকা ইবনে নওফাল ও অন্যদের ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি আলোচনা করেছেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াতের প্রমাণাদির বিষয়ে তাঁদের দৃঢ় বিশ্বাসকে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন।
তাহলে খাদিজা কীভাবে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন?
নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে ইসলামের দাওয়াত দেননি! বরং তিনি তাঁর কাছে ওহী আসার ঘটনা বর্ণনা করছিলেন, আর তিনি বলছিলেন: আমাকে চাদর দিয়ে জড়িয়ে দাও, আমাকে চাদর দিয়ে জড়িয়ে দাও। এরপর তাঁরা তাঁকে চাদর দিয়ে জড়িয়ে দিলেন যতক্ষণ না তাঁর ভীতি দূর হলো।
এটি এমন এক দৃশ্য ছিল যা খাদিজা এর আগে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাঝে কখনো দেখেননি। তিনি তাঁকে একজন যুবক হিসেবে জানতেন যিনি তাঁর সম্পদ নিয়ে ব্যবসা করতেন।
আর এই সম্পর্কের মাধ্যমেই তিনি তাঁর মধ্যে সত্যবাদিতা, আমানতদারি, পূর্ণাঙ্গ মানবিক গুণাবলী এবং সর্বোত্তম আদর্শ সম্পর্কে জানতে পেরেছিলেন...
তিনি মাইসারা-এর কাছ থেকে এমন কথা শুনেছিলেন যা হৃদয়ে গভীর আবেগ ও বিস্ময় সৃষ্টি করে।
খাদিজা ছিলেন একজন দৃঢ়চেতা, মহীয়সী ও বুদ্ধিমতী নারী; তিনি ছিলেন মর্যাদা ও সম্পদের অধিকারিণী। তিনি তাঁর সম্পদের ব্যবসার জন্য পুরুষদের নিয়োগ দিতেন এবং লভ্যাংশের একটি নির্দিষ্ট অংশের বিনিময়ে তাদের সাথে কারবার করতেন। যখন তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথার সত্যবাদিতা, সুমহান আমানতদারি এবং উন্নত চরিত্রের কথা জানতে পারলেন, তখন তিনি তাঁর কাছে প্রস্তাব পাঠালেন যেন তিনি তাঁর সম্পদ নিয়ে ব্যবসায়ী হিসেবে সিরিয়ায় যান। তিনি তাঁকে অন্য কাউকে যা দিতেন তার চেয়ে অধিক দেওয়ার প্রস্তাব করেন এবং সাথে তাঁর ‘মাইসারা’ নামক এক দাসকে পাঠান।
এরপর মাইসারা যখন তাঁকে পাদ্রীর বক্তব্য, মধ্যাহ্নের প্রচণ্ড তাপে ফেরেশতাদের তাঁকে ছায়া প্রদান করার দৃশ্য, তাঁর সাহচর্যের মাহাত্ম্য, তাঁর সুন্দর চরিত্র এবং কথার সত্যবাদিতা সম্পর্কে সংবাদ দিলেন...
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - বাইহাকী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
تبلورت فكرة الزواج بِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم في ذهنها.
وقد ذهبت إلى ورقة بن نوفل- ابن عمها- وذكرت له ما سمعته وما لاحظته من صفات محمد صلى الله عليه وسلم وأحواله، فَقَالَ وَرَقَةُ:
«لَئِنْ كَانَ هَذَا حَقًّا يَا خَدِيجَةَ إنّ محمدا لنبيّ هذه الأمة، وقَدْ عَرَفْتُ أَنَّهُ كَائِنٌ لِهَذِهِ الْأُمَّةِ نَبِيٌّ يُنْتَظَرُ
… هَذَا زمانه» .
فعادت خديجة من عند ورقة وقد اختمرت في ذهنها فكرة الزواج بِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم وأصبحت الفكرة أكثر جاذبية وإشراقا.
ولم تكن الجاذبية هدف خديجة في زواجها، وإن كان محمد أحسن الناس خلقا، ولا الثروة، فلم يكن محمد صاحب ثروة إنما صاحب سمات خلقية كريمة، وروحانية شفافة ظاهرة، واشراق أخاذ وسمو كريم.
وقد نقل ابن حجر عن الفاكهي في كتاب مكة أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كان عند أبي طالب فاستأذنه ان يتوجه إلى خديجة فأذن له، وبعث بعده جارية يقال لها:
نبعة، فقال: انظري ما تقول له خديجة.
قالت نبعة: فرأيت عجبا، مَا هُوَ إِلَّا أَنْ سمعت به خديجة، فخرجت إلى الباب، وكان مما قالت: أرجو أن تكون أنت النبي الذي ستبعث، فإن تكن هو فاعرف حقي ومنزلتي، وادع الإله الذي يبعثك لي.
فقال لها:
«والله لئن كنت أنا هو، قد اصطفت عندي ما لا أخيّبه أبدا، وإن يكن غيري فإن الإله الذي تصنعين هذا لأجله لا يضيّعك أبدا» .
لقد أصبحت الفكرة جد متبلورة في عقل خديجة ولم يكن هناك إلا تنفيذها.
فأرسلت نفيسة بنت منبه دسيسا إِلَى مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم بعد عودته من الشام.
মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বিবাহ করার বিষয়টি তাঁর মনে দৃঢ় রূপ লাভ করল।
তিনি তাঁর চাচাতো ভাই ওয়ারাফা ইবনে নাওফালের নিকট গেলেন এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর গুণাবলী ও অবস্থা সম্পর্কে যা শুনেছেন এবং লক্ষ্য করেছেন তা তাঁকে জানালেন। তখন ওয়ারাফা বললেন:
«হে খাদিজা, যদি এটি সত্য হয়, তবে নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ এই উম্মতের নবী। আমি জানতাম যে, এই উম্মতের জন্য একজন প্রতীক্ষিত নবী আবির্ভূত হবেন
… আর এটাই তাঁর সময়»।
খাদিজা ওয়ারাফার নিকট থেকে ফিরে আসলেন, তখন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে বিবাহের বিষয়টি তাঁর মনে পূর্ণতা পেল এবং এই ভাবনাটি আরও আকর্ষণীয় ও উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
এই বিবাহের ক্ষেত্রে খাদিজার লক্ষ্য নিছক আকর্ষণ ছিল না—যদিও মুহাম্মাদ ছিলেন মানুষের মাঝে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী—এবং লক্ষ্য কোনো ধন-সম্পদও ছিল না; কারণ মুহাম্মাদ কোনো ধন-সম্পদের মালিক ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন মহান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, স্বচ্ছ ও প্রকাশ্য আধ্যাত্মিকতা, মনোমুগ্ধকর জ্যোতি এবং সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী।
ইবনে হাজার ‘কিতাবুত মক্কা’ গ্রন্থে ফাকিহি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবু তালিবের নিকট ছিলেন, অতঃপর তিনি খাদিজার কাছে যাওয়ার জন্য তাঁর অনুমতি চাইলেন। তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন এবং তাঁর পেছনে ‘নাবআহ’ নামক এক দাসীকে পাঠিয়ে বললেন:
দেখো, খাদিজা তাঁকে কী বলে।
নাবআহ বলেন: আমি এক বিস্ময়কর বিষয় দেখলাম। খাদিজা তাঁর আগমনের কথা শোনামাত্র দরজার দিকে বেরিয়ে আসলেন। তিনি যা বলেছিলেন তার মধ্যে ছিল: আমি আশা করি আপনিই সেই নবী যাকে অচিরেই পাঠানো হবে। আপনি যদি তিনি হন, তবে আমার হক ও মর্যাদা স্মরণে রাখবেন এবং যে ইলাহ আপনাকে পাঠাবেন তাঁর কাছে আমার জন্য দুআ করবেন।
তখন তিনি তাঁকে বললেন:
«আল্লাহর কসম, যদি আমিই তিনি হই, তবে আমার কাছে আপনার এমন এক অবস্থান তৈরি হলো যাকে আমি কখনোই ক্ষুণ্ণ করব না। আর যদি অন্য কেউ হয়, তবে যে ইলাহের সন্তুষ্টির জন্য আপনি এই আচরণ করছেন তিনি আপনাকে কখনোই ধ্বংস করবেন না»।
খাদিজার মনে বিষয়টি অত্যন্ত সুদৃঢ় হয়ে উঠল এবং তা বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কিছুই বাকি রইল না।
অতঃপর তিনি শাম থেকে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রত্যাবর্তনের পর নাফিসা বিনতে মুনাব্বিহকে সংগোপনে তাঁর নিকট পাঠালেন।
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - বাইহাকী
(পৃষ্ঠা: ২০)
قالت: يا محمد! ما يمنعك أن تتزوج؟
قال: ما بيدي ما أتزوج به.
قالت: فإن كفيت ذلك، ودعيت إلى المال والجمال والشرف والكفاءة ألا تجيب؟
قال: فمن هي؟
قالت: خديجة.
قال: وكيف لي ذلك؟
قالت: عليّ.
قال: فأنا أفعل.
قَالَ عَمَّارُ بْنُ يَاسِرٍ: «أنا أعلم الناس بتزويج النبي صلى الله عليه وسلم خديجة، إِنِّي كُنْتُ لَهُ تِرْبًا وَكُنْتُ لَهُ إِلْفًا وَخِدْنًا، وَإِنِّي خَرَجْتُ مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالْحَزْوَرَةِ- سوق مكة- أَجَزْنَا عَلَى أُخْتِ خَدِيجَةَ، وَهِيَ جَالِسَةٌ عَلَى أُدُمٍ تَبِيعُهَا، فَنَادَتْنِي، فَانْصَرَفْتُ إِلَيْهَا، وَوَقَفَ لِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَتْ: «أَمَا لِصَاحِبِكَ هَذَا مِنْ حَاجَةٍ فِي تَزْوِيجِ خَدِيجَةَ؟» .
قَالَ عَمَّارٌ: فَرَجَعْتُ إِلَيْهِ فَأَخْبَرْتُهُ.
فَقَالَ: بَلَى، لعمري.
قال عمار: فَذَكَرْتُ لَهَا قَوْلَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَتِ: اغْدُوَا عَلَيْنَا إذا أصبحنا.
وجاء آل عبد المطلب وعلى رأسهم حَمْزَةَ- رضي الله عنه وأبو طالب إلى بيت خديجة، وكان في استقبالهم عم خديجة: عمرو بن أسد، وابن عمها:
ورقة بن نوفل.
وقام أبو طالب خطيبا، فكان مما قَالَ:
তিনি বললেন: হে মুহাম্মদ! আপনাকে বিয়ে করতে কিসে বাধা দিচ্ছে?
তিনি বললেন: বিয়ে করার মতো কোনো সম্পদ আমার কাছে নেই।
তিনি বললেন: যদি সেটির ব্যবস্থা করা হয় এবং আপনাকে সম্পদ, সৌন্দর্য, মর্যাদা ও যোগ্যতার প্রতি আহ্বান করা হয়, তবে কি আপনি সাড়া দেবেন না?
তিনি বললেন: তিনি কে?
তিনি বললেন: খাদিজা।
তিনি বললেন: সেটি আমার জন্য কীভাবে সম্ভব?
তিনি বললেন: সেই দায়িত্ব আমার।
তিনি বললেন: তবে আমি রাজি।
আম্মার ইবনে ইয়াসির বলেন: "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে খাদিজার বিয়ের বিষয়ে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবগত। আমি তাঁর সমবয়সী ছিলাম এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহচর ছিলাম। একদা আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বের হলাম। যখন আমরা হাজওয়ারা নামক স্থানে—যা মক্কার একটি বাজার—পৌঁছালাম, তখন আমরা খাদিজার বোনের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনি বিক্রির জন্য কিছু চামড়া নিয়ে বসে ছিলেন। তিনি আমাকে ডাকলেন, তখন আমি তাঁর নিকট গেলাম এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার জন্য দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করলেন। তিনি বললেন: 'তোমার এই সঙ্গীর কি খাদিজাকে বিয়ে করার কোনো প্রয়োজন আছে?'"
আম্মার বলেন: অতঃপর আমি তাঁর কাছে ফিরে গিয়ে তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলাম।
তিনি বললেন: "অবশ্যই, আমার জীবনের কসম।"
আম্মার বলেন: আমি তাঁকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য জানালাম। তখন তিনি বললেন: "আগামীকাল সকাল হলে আমাদের নিকট এসো।"
অতঃপর আব্দুল মুত্তালিবের পরিবারবর্গ, যাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন হামজা (রা.) এবং আবু তালিব, খাদিজার বাড়িতে এলেন। তাঁদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য উপস্থিত ছিলেন খাদিজার চাচা আমর ইবনে আসাদ এবং তাঁর চাচাতো ভাই:
ওরাকা ইবনে নওফাল।
এবং আবু তালিব ভাষণ দেওয়ার জন্য দণ্ডায়মান হলেন, তিনি যা বলেছিলেন তার মধ্যে ছিল:
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - বাইহাকী
(পৃষ্ঠা: ২১)
أما بعد، فإن محمدا ممن لا يوزن به فتى من قريش، إلا رجح به: شرفا ونبلا، وفضلا وعقلا، وإن كان في المال قلّ، فإن المال ظل زائل، وعاريه مسترجعة، وله في خديجة بنت خويلد رغبة، ولها فيه مثل ذلك» .
ورضي عمرو، وقال:
«هو الفحل لا يقدع أنفه» .
وعند ما رجع إليها من غار حراء، وهو يقول: «زَمِّلُونِي زَمِّلُونِي فَزَمَّلُوهُ، حَتَّى ذَهَبَ عَنْهُ الرَّوْعُ، فَقَالَ: «يَا خَدِيجَةُ! مَالِي، فَأَخْبَرَهَا الخبر» . كان هذا شأنا جديدا عليه وتغيرا محسوسا، وعند ما سألته عن جلية الخبر، قال:
«لقد خشيت على نفسي!» .
قالت له: «كلا، والله ما يُخْزِيكَ اللهُ أَبَدًا، إِنَّكَ لَتَصِلُ الرَّحِمَ وَتَصْدُقُ الْحَدِيثَ، وتحمل الكلّ وَتُعِينُ عَلَى نَوَائِبِ الْحَقِّ» .
لقد غمرت خديجة قوة نورانية عجيبة، وثقه واضحة جلية، واتجهت إلى زوجها بقوة المسؤولية، وأخذت تمسح عن وجهه، وتقول:
«أبشر، فو الله لقد كنت أعلم أنّ الله لن يفعل بك إلا خيرا، وأشهد أنك نبيّ هذه الأمة الذي تنتظره اليهود، قد أخبرني به ناصح غلامي، وبحيرى الراهب» .
ولم تزل بِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم حتى طعم وشرب وضحك.
فلما ضَحِكَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قامت فجمعت عليها ثيابها، ثم انطلقت من مكانها فأتت غلاما لقيه رَبِيعَةَ بْنِ عَبْدِ شَمْسٍ نَصْرَانِيًّا مِنْ أَهْلِ نِينَوَى، يُقَالُ لَهُ عَدَّاسٌ. فَقَالَتْ لَهُ:
يَا عَدَّاسٌ، أُذَكِّرُكَ بِاللهِ، إِلَّا مَا أَخْبَرْتَنِي: هَلْ عِنْدَكَ عَلِمٌ مِنْ جبريل؟
এরপর কথা হলো, মুহাম্মাদ কুরাইশ বংশের এমন একজন যুবক যার সাথে অন্য কোনো যুবকের তুলনা করা হলে শ্রেষ্ঠত্ব, আভিজাত্য, মর্যাদা ও বুদ্ধিবৃত্তিতে তিনিই শ্রেষ্ঠ বিবেচিত হবেন। যদিও সম্পদের দিক দিয়ে তাঁর ঘাটতি রয়েছে, তবে সম্পদ তো একটি ক্ষণস্থায়ী ছায়া এবং একটি ফেরতযোগ্য আমানত। খুওয়াইলিদের মেয়ে খাদিজার প্রতি তাঁর আগ্রহ রয়েছে এবং তাঁর প্রতিও খাদিজার অনুরূপ আগ্রহ রয়েছে।
আর আমর রাজি হলেন এবং বললেন:
«তিনি এমন এক শক্তিশালী পুরুষ যার নাকে আঘাত করা যায় না (অর্থাৎ এক অসম্মানিত করার অযোগ্য সম্মানিত পুরুষ)»।
আর যখন তিনি হেরা গুহা থেকে তাঁর নিকট ফিরে এলেন এবং বলছিলেন: «আমাকে চাদর দিয়ে আবৃত করো, আমাকে চাদর দিয়ে আবৃত করো। এরপর তারা তাঁকে চাদর দিয়ে ঢেকে দিলেন যতক্ষণ না তাঁর মধ্য থেকে আতঙ্ক দূরীভূত হলো। এরপর তিনি বললেন: হে খাদিজা! আমার কী হলো? অতঃপর তিনি তাঁকে পুরো সংবাদ জানালেন»। এটি ছিল তাঁর জন্য একটি সম্পূর্ণ নতুন বিষয় এবং এক দৃশ্যমান পরিবর্তন। যখন খাদিজা তাঁর কাছে বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানতে চাইলেন, তিনি বললেন:
«নিশ্চয়ই আমি আমার নিজের ব্যাপারে আশঙ্কা বোধ করছি!»।
খাদিজা তাঁকে বললেন: «কখনোই নয়, আল্লাহর কসম, আল্লাহ আপনাকে কখনোই লাঞ্ছিত করবেন না। নিশ্চয়ই আপনি আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখেন, সত্য কথা বলেন, অসহায়ের বোঝা বহন করেন এবং সত্যের পথে আসা বিপদাপদে মানুষকে সাহায্য করেন»।
খাদিজাকে এক আশ্চর্যজনক নূরানী শক্তি এবং এক সুস্পষ্ট আত্মবিশ্বাস আচ্ছন্ন করে ফেলল। তিনি দায়িত্ববোধ নিয়ে তাঁর স্বামীর দিকে মনোনিবেশ করলেন এবং তাঁর মুখমণ্ডল মুছিয়ে দিতে দিতে বলতে লাগলেন:
«সুসংবাদ গ্রহণ করুন! আল্লাহর কসম, আমি জানতাম যে আল্লাহ আপনার সাথে মঙ্গল ছাড়া আর কিছুই করবেন না। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনিই এই উম্মতের সেই নবী যার জন্য ইহুদিরা প্রতীক্ষা করছে। আমার গোলাম নাসিহ এবং পাদ্রি বাহিরা আমাকে এই বিষয়ে অবগত করেছিলেন»।
তিনি ততক্ষণ পর্যন্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে লেগে থাকলেন যতক্ষণ না তিনি আহার করলেন, পান করলেন এবং হাসলেন।
যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাসলেন, তখন তিনি উঠে তাঁর পোশাক গুছিয়ে নিলেন। এরপর তিনি সেই স্থান থেকে বের হয়ে রবীয়া ইবনে আবদ শামসের এক গোলামের কাছে এলেন, যে ছিল নিনাওয়া অধিবাসী একজন খ্রিস্টান এবং তার নাম ছিল আদ্দাস। তিনি তাকে বললেন:
হে আদ্দাস, আমি তোমাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি, তুমি কি আমাকে বলবে—তোমার কাছে কি জিবরাঈল সম্পর্কে কোনো জ্ঞান আছে?
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - বাইহাকী
(পৃষ্ঠা: ২২)
فقال: قُدُّوسٌ!! قُدُّوسٌ!! مَا شَأْنُ جِبْرِيلَ يُذْكَرُ بِهَذِهِ الْأَرْضِ الَّتِي أَهْلُهَا أَهْلُ الْأَوْثَانِ.
فقالت: أَخْبِرْنِي بِعِلْمِكِ فِيهِ.
قَالَ: إنه أَمِينُ اللهِ بَيْنَهُ وَبَيْنَ النَّبِيِّينَ.. وَهُوَ صَاحِبُ مُوسَى وعيسى عليهما السلام.
ثم ذهبت إلى راهب بجوار مكة، فلما دنت منه وعرفها، قال: مالك يا سيدة نساء قريش؟.
فقالت: أقبلت إليك لتخبرني عن جبريل.
فقال: سبحان الله! ربنا القدوس: ما بال جبريل يذكر في هذه البلاد التي يعبد أهلها الأوثان، جبريل أمين الله ورسوله إلى أنبيائه ورسله..
وَهُوَ صَاحِبُ مُوسَى وَعِيسَى.
فَرَجَعَتْ خَدِيجَةُ مِنْ عِنْدِهِ، فَجَاءَتْ وَرَقَةَ بْنَ نَوْفَلٍ، وَكَانَ وَرَقَةُ قَدْ كَرِهَ عبادة الأوثان، فسألته عن جبريل، فقال لها مثل ذلك، ثم سألها، ما الخبر؟
فأحلفته أن يكتم ما تقول له، فحلف لها، فقالت:
إن محمدا ذكر لي- وهو صادق- أحلف بالله ما كذب ولا كذب- أنه نزل عليه جبريل بحراء، وأنه أخبره أنه نبيّ هذه الأمة، وأقرأه آيات أرسل بها.
قال: فذعر ورقة لذلك، وقال:
قُدُّوسٌ، قُدُّوسٌ، وَالَّذِي نَفْسُ وَرَقَةَ بِيَدِهِ لَئِنْ كُنْتِ صَدَقْتِينِي يَا خَدِيجَةُ إِنَّهُ لَنَبِيُّ هَذِهِ الْأُمَّةِ، وَإِنَّهُ لَيَأْتِيهِ النَّامُوسُ الْأَكْبَرُ الَّذِي كَانَ يَأْتِي مُوسَى- عليه السلام فَقُولِي لَهُ فَلْيَثْبُتْ. ولكن يا خديجة أرسلي إليّ ابن عبد الله أسأله وأسمع من قوله، فإني أخاف أن يكون غير جبريل، فإن بعض الشياطين يتشبه به، ليفسد بعض بني آدم، حتى يصير الرجل بعد العقل مدلها.
তিনি বললেন: "পবিত্র!! পবিত্র!! এই ভূমিতে জিবরীলকে স্মরণ করার কারণ কী, যার অধিবাসীরা মূর্তিপূজারী?"
তিনি (খাদীজা) বললেন: "তাঁর সম্পর্কে আপনার যা জানা আছে তা আমাকে জানান।"
তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই তিনি আল্লাহ এবং নবীদের মাঝে আল্লাহর আমানতদার... এবং তিনি মূসা ও ঈসা (আলাইহিমাস সালাম)-এর সাথী।"
অতঃপর তিনি মক্কার নিকটবর্তী এক সন্ন্যাসীর কাছে গেলেন। যখন তিনি তাঁর কাছে পৌঁছালেন এবং সন্ন্যাসী তাঁকে চিনতে পারলেন, তখন তিনি বললেন: "হে কুরাইশ নারীদের নেত্রী, আপনার কী হয়েছে?"
তিনি বললেন: "আমি আপনার কাছে এসেছি যেন আপনি আমাকে জিবরীল সম্পর্কে জানান।"
তিনি বললেন: "সুবহানাল্লাহ! আমাদের পালনকর্তা অতি পবিত্র: এই দেশে জিবরীলকে কেন স্মরণ করা হচ্ছে যার অধিবাসীরা মূর্তিপূজা করে? জিবরীল আল্লাহর আমানতদার এবং তাঁর নবীদের ও রাসূলদের কাছে তাঁর প্রেরিত দূত..."
"এবং তিনি মূসা ও ঈসার সাথী।"
খাদীজা তাঁর নিকট থেকে ফিরে আসলেন এবং ওয়ারাকা ইবনে নাওফালের কাছে আসলেন। ওয়ারাকা মূর্তিপূজাকে ঘৃণা করতেন। তিনি তাঁকে জিবরীল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন, তিনিও তাঁকে অনুরূপ কথা বললেন। অতঃপর তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, "ঘটনা কী?"
তিনি তাঁকে (ওয়ারাফাকে) কসম দিলেন যেন তিনি যা বলবেন তা গোপন রাখেন। তিনি তাঁর নিকট কসম করলেন, অতঃপর খাদীজা বললেন:
"নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ আমাকে জানিয়েছেন—আর তিনি সত্যবাদী, আমি আল্লাহর নামে কসম করে বলছি তিনি মিথ্যা বলেননি এবং তাঁকে মিথ্যা বলাও হয়নি—যে হেরা গুহায় জিবরীল তাঁর কাছে অবতীর্ণ হয়েছেন এবং তাঁকে খবর দিয়েছেন যে তিনি এই উম্মতের নবী, আর তাঁকে এমন কিছু আয়াত পাঠ করিয়েছেন যা দিয়ে তাঁকে প্রেরণ করা হয়েছে।"
তিনি বলেন: এতে ওয়ারাফা ভীত হয়ে গেলেন এবং বললেন:
"পবিত্র, অতি পবিত্র! যাঁর হাতে ওয়ারাফার প্রাণ তাঁর শপথ, হে খাদীজা! যদি তুমি আমাকে সত্য বলে থাকো, তবে নিশ্চয়ই তিনি এই উম্মতের নবী। আর তাঁর কাছে সেই মহাসম্মানিত বার্তাবাহক (নামূসুল আকবার) আসেন যিনি মূসা (আলাইহিস সালাম)-এর কাছে আসতেন। সুতরাং তাঁকে বলো তিনি যেন অবিচল থাকেন। কিন্তু হে খাদীজা, আবদুল্লাহর পুত্রকে আমার কাছে পাঠাও যেন আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করতে পারি এবং তাঁর কথা শুনতে পারি। কেননা আমি ভয় পাচ্ছি যে এটি জিবরীল ছাড়া অন্য কেউ কি না; কারণ কিছু শয়তান তাঁর রূপ ধারণ করে বনী আদমের কিছু লোককে পথভ্রষ্ট করতে চায়, এমনকি জ্ঞানী ব্যক্তিও এরপর বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে।"
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - বাইহাকী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فقامت من عنده، وهي واثقة أن لا يفعل بصاحبها إلا خيرا.
وانطلقت خديجة بِمُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم إلى ورقة، فقالت له خديجة:
يا ابن عم! اسمع من ابْنِ أَخِيكَ.
فَقَالَ لَهُ ورقة: يا ابن أخي! ماذا ترى؟.
فَقَصَّ عَلَيْهِ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم خبره
…فقال له وَرَقَةُ:
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّهُ لَيَأْتِيكَ النَّامُوسُ [1] الْأَكْبَرُ الَّذِي كَانَ يَأْتِي مُوسَى وإنك نبي هذه الأمة، ولتؤذينّ، وَلَتُقَاتَلَنَّ، وَلَتُنْصَرَنَّ، وَلَئِنْ أَنَا أَدْرَكْتُ ذَلِكَ لَأَنْصُرَنَّكَ نَصْرًا يَعْلَمُهُ اللهُ.
ثُمَّ أَدْنَى إِلَيْهِ رَأْسَهُ فَقَبَّلَ يَافُوخَهُ، ثُمَّ انصرف إِلَى مَنْزِلِهِ، وَقَدْ زَادَهُ الله مِنْ قَوْلِ وَرَقَةَ ثَبَاتًا، وَخَفَّفَ عَنْهُ بَعْضَ مَا كَانَ فِيهِ مِنَ الْهَمِّ.
أما ورقة، فقد قال:
وَجِبْرِيلُ يَأْتِيهِ وَمِيكَالُ مَعْهُمَا
… مِنَ اللهِ وَحْيٌ يَشْرَحُ الصَّدْرَ مُنْزَلُ
أما خديجة فقد أحبت أن تضع جبريل موضع الاختبار، لتتبين أمره في وضوح
، فقالت خَدِيجَةُ لِرَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِيمَا تُثَبِّتُهُ- فِيمَا أَكْرَمَهُ اللهُ به في نُبُوَّتِهِ:
يَا ابْنَ عَمٍّ تَسْتَطِيعُ أَنْ تُخْبِرَنِي بِصَاحِبِكَ هَذَا الَّذِي يَأْتِيكَ إِذَا جَاءَكَ؟
فَقَالَ: نَعَمْ.
فَقَالَتْ: إِذَا جَاءَكَ فَأَخْبِرْنِي.
فَبَيْنَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم عِنْدَهَا إِذْ جَاءَ جِبْرِيلُ، فَرَآهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: يَا خَدِيجَةُ! هَذَا جِبْرِيلُ.
فَقَالَتْ: أَتُرَاهُ الآن؟
قال: نعم.
--------------------------------------------
তিনি তাঁর নিকট থেকে উঠে আসলেন এই বিশ্বাস নিয়ে যে, তিনি তাঁর সঙ্গীর সাথে কল্যাণের বাইরে আর কিছুই করবেন না।
অতঃপর খাদিজা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে ওরাকার কাছে গেলেন। খাদিজা তাঁকে বললেন:
হে চাচাতো ভাই! আপনার ভাতিজার কথা শুনুন।
তখন ওরাকা তাঁকে বললেন: হে ভাতিজা! তুমি কী দেখছো?।
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে বিস্তারিত বর্ণনা করলেন
…অতঃপর ওরাকা তাঁকে বললেন:
সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই তোমার নিকট সেই মহা-দূত [১] আগমন করেছেন যিনি মূসার নিকট আসতেন। তুমি এই উম্মতের নবী। তোমাকে অবশ্যই কষ্ট দেওয়া হবে, তোমার সাথে যুদ্ধ করা হবে এবং তোমাকে অবশ্যই সাহায্য করা হবে। আমি যদি সেই সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকি, তবে আমি তোমাকে এমনভাবে সাহায্য করব যা আল্লাহ জানেন।
এরপর তিনি তাঁর মাথাটি তাঁর দিকে টেনে নিয়ে তাঁর ললাটে চুম্বন করলেন। অতঃপর তিনি তাঁর বাড়িতে ফিরে গেলেন। ওরাকার কথার মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর দৃঢ়তা বাড়িয়ে দিলেন এবং তাঁর মনের অস্থিরতা কিছুটা কমিয়ে দিলেন।
আর ওরাকা বলেছিলেন:
জিবরাঈল ও মিকাঈল তাঁদের সাথে আসেন
… আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ সেই ওহী যা অন্তরকে প্রশস্ত করে দেয়।
আর খাদিজা জিবরাঈলকে পরীক্ষার সম্মুখীন করতে চাইলেন, যাতে তাঁর বিষয়টি স্পষ্টভাবে বুঝতে পারেন।
অতঃপর খাদিজা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর নবুওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তাঁকে যে সম্মান দান করেছেন, সেই বিষয়ে তাঁকে আশ্বস্ত করতে গিয়ে বললেন:
হে চাচাতো ভাই! আপনার কাছে যে সঙ্গী আসেন, তিনি আসলে কি আপনি আমাকে তা জানাতে পারবেন?
তিনি বললেন: হ্যাঁ।
তিনি বললেন: যখন তিনি আসবেন, তখন আমাকে জানাবেন।
একদা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে ছিলেন, এমতাবস্থায় জিবরাঈল আসলেন। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে দেখে বললেন: হে খাদিজা! এই যে জিবরাঈল।
তিনি বললেন: আপনি কি তাঁকে এখন দেখতে পাচ্ছেন?
তিনি বললেন: হ্যাঁ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - বাইহাকী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
قَالَتْ: فَاجْلِسْ إِلَى شِقِّي الْأَيْمَنِ، فَتَحَوَّلَ فَجَلَسَ، فَقَالَتْ: هَلْ تَرَاهُ الْآنَ؟ قَالَ: نَعَمْ.
قَالَتْ: فَاجْلِسْ فِي حِجْرِي.
فَتَحَوَّلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَجَلَسَ.
فَقَالَتْ: هَلْ تَرَاهُ الْآنَ؟
قَالَ: نَعَمْ.
فَتَحَسَّرَتْ رَأْسَهَا، فَأَلْقَتْ خِمَارَهَا، وَرَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم جَالِسٌ فِي حِجْرِهَا، فَقَالَتْ: هَلْ تَرَاهُ الْآنَ؟
قَالَ: لَا.
قَالَتْ: مَا هَذَا شَيْطَانٌ، إِنَّ هَذَا لَمَلَكٌ يَا ابْنَ عَمٍّ، فَاثْبُتْ وَأَبْشِرْ، ثُمَّ آمَنَتْ بِهِ، وَشَهِدَتْ أَنَّ الَّذِي جَاءَ بِهِ الْحَقَّ» .
قَالَ البيهقي (2: 152) بعد أن سرد الخبر:
«هذا شيء كانت خديجة تَصْنَعُهُ تَسْتَثْبِتُ بِهِ الْأَمْرَ احْتِيَاطًا لِدِينِهَا وَتَصْدِيقِهَا، فَأَمَّا النبي صلى الله عليه وسلم فَقَدْ كَانَ قَدْ وَثِقَ بِمَا قَالَ لَهُ جِبْرِيلُ وَأَرَاهُ مِنَ الْآيَاتِ» أ. هـ.
هكذا أسلمت خديجة، فكانت أول من اعتنق الإسلام بَعْدَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَلَمْ يدعها رسول الله صلى الله عليه وسلم إِلَى الْإِسْلَامِ، ولم تكن لتحتاج إلى دليل خارج عن حال رسول الله صلى الله عليه وسلم وخلقه.
4- دلائل النبوة في إسلام أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ- رضي الله عنه-
قَالَ ابن خلدون في المقدمة عَنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ حال إسلامه.
«لم يحتاج في أَمْرِهِ صلى الله عليه وسلم إلى دليل خارج عن حاله وخلقه» أ. هـ.
فكيف أسلم أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ؟
তিনি বললেন: "আমার ডান পাশে বসুন।" তখন তিনি সরে গিয়ে বসলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "আপনি কি এখন তাকে দেখতে পাচ্ছেন?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ।"
তিনি বললেন: "আমার কোলে বসুন।"
তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সরে গিয়ে বসলেন।
তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "আপনি কি এখন তাকে দেখতে পাচ্ছেন?"
তিনি বললেন: "হ্যাঁ।"
অতঃপর তিনি তাঁর মাথা উন্মুক্ত করলেন এবং তাঁর ওড়না সরিয়ে ফেললেন, তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কোলে বসা ছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "আপনি কি এখন তাকে দেখতে পাচ্ছেন?"
তিনি বললেন: "না।"
তিনি বললেন: "ইনি কোনো শয়তান নন, হে চাচাতো ভাই! ইনি নিশ্চয়ই একজন ফেরেশতা। সুতরাং আপনি অটল থাকুন এবং সুসংবাদ গ্রহণ করুন।" অতঃপর তিনি তাঁর প্রতি ঈমান আনলেন এবং সাক্ষ্য দিলেন যে, তিনি যা নিয়ে এসেছেন তা সত্য।
ইমাম বায়হাকী (২: ১৫২) এই বিবরণ প্রদানের পর বলেন:
"এটি এমন একটি কাজ যা খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য করেছিলেন, নিজের দ্বীন ও বিশ্বাসের ব্যাপারে সতর্কতা স্বরূপ। পক্ষান্তরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইতিপূর্বেই জিবরীল (আলাইহিস সালাম) তাঁকে যা বলেছিলেন এবং তাঁকে যেসকল নিদর্শন দেখিয়েছিলেন, সে ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন।" (সমাপ্ত)
এভাবেই খাদিজা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পর ইসলাম গ্রহণকারী প্রথম ব্যক্তি। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে ইসলামের দাওয়াত দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেননি এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অবস্থা ও তাঁর চরিত্র ছাড়া অন্য কোনো দলিলের মুখাপেক্ষী তিনি ছিলেন না।
৪- আবূ বকর আস-সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইসলাম গ্রহণের মধ্যে নবুওয়াতের প্রমাণসমূহইবনে খালদুন তাঁর ‘মুকাদ্দিমা’ গ্রন্থে আবূ বকর আস-সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইসলাম গ্রহণের অবস্থা সম্পর্কে বলেন:
"তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সত্যতার ব্যাপারে তাঁর অবস্থা ও চরিত্র ছাড়া অন্য কোনো দলিলের মুখাপেক্ষী হননি।" (সমাপ্ত)
তাহলে আবূ বকর আস-সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কীভাবে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন?
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - বাইহাকী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
قال البيهقي (2: 163- 164) : «ثُمَّ إِنَّ أَبَا بَكْرٍ الصِّدِّيقَ- رضي الله عنه لَقِيَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقَالَ: أَحَقٌّ مَا تَقُولُ قُرَيْشٌ يَا مُحَمَّدُ مِنْ تَرْكِكَ آلِهَتَنَا، وَتَسْفِيهِكَ عُقُولَنَا، وَتَكْفِيرِكَ آبَاءَنَا؟
فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم:
بَلَى، إِنِّي رَسُولُ اللهِ وَنَبِيُّهُ، بَعَثَنِي لِأُبَلِّغَ رِسَالَتَهُ وَأَدْعُوكَ إِلَى اللهِ بِالْحَقِّ، فو الله إِنَّهُ لَلْحَقُّ، أَدْعُوكَ يَا أَبَا بَكْرٍ إِلَى اللهِ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَلَا تَعْبُدْ غَيْرَهُ، وَالْمُوَالَاةَ عَلَى طَاعَتِهِ، وَقَرَأَ عَلَيْهِ القرآن.
فَأَسْلَمَ وَكَفَرَ بِالْأَصْنَامِ، وَخَلَعَ الْأَنْدَادَ، وَآمَنَ بِحَقِّ الْإِسْلَامِ، وَرَجَعَ أَبُو بَكْرٍ وَهُوَ مؤمن مصدق.
قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم: «مَا دَعَوْتُ أَحَدًا إِلَى الْإِسْلَامِ إِلَّا كَانَتْ منه كَبْوَةٌ وَتَرَدُّدٌ وَنَظَرٌ، إِلَّا أبا بكر ما تردّد فيه» .
قال البيهقي: «وَهَذَا لِأَنَّهُ كَانَ يَرَى دَلَائِلَ نُبُوَّةِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَيَسْمَعُ آثَارَهُ، قَبْلَ دَعْوَتِهِ، فَحِينَ دَعَاهُ كَانَ قَدْ سَبَقَ فيه تفكره ونظره وما تردد فيه» .
دلائل النبوة في إِسْلَامِ أَبِي ذَرٍّ الْغِفَارِيِّ- رضي الله عنه-
أخرج مسلم في الصحيح، في فضائل أبي ذر، ونقله البيهقي (2:
208) قال أبو ذر: كُنْتُ رُبُعَ الْإِسْلَامِ، أَسْلَمَ قَبْلِي ثَلَاثَةُ نَفَرٍ، وَأَنَا الرابع، أَتَيْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَقُلْتُ: السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا رَسُولَ اللهِ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رسول الله، فَرَأَيْتُ الِاسْتِبْشَارَ فِي وَجْهِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم.
وحديث إسلام أَبِي ذَرٍّ، رضي الله عنه، حديث مستفيض جليل: روته كتب السنة الموثوق بها، أمثال البخاري ومسلم، وغيرهما.
ولقد روته هذه الكتب في زواياه المختلفة، الثرية بالعبر والمواعظ:
وذلك: أنه لما بلغ أبا ذر مَبْعَثِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ لأخيه أنيس:
বায়হাকী (২: ১৬৩- ১৬৪) বলেন: «অতঃপর আবু বকর সিদ্দীক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং বললেন: হে মুহাম্মদ! কুরাইশরা আপনার সম্পর্কে যা বলছে তা কি সত্য যে, আপনি আমাদের উপাস্যদের বর্জন করেছেন, আমাদের বুদ্ধিমত্তাকে নির্বুদ্ধিতা সাব্যস্ত করেছেন এবং আমাদের পিতৃপুরুষদের কাফির বলেছেন?
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন:
হ্যাঁ, নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর নবী। তিনি আমাকে তাঁর পয়গাম পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রেরণ করেছেন এবং আমি আপনাকে সত্যের সাথে আল্লাহর দিকে আহ্বান করছি। আল্লাহর কসম! নিশ্চয়ই এটিই সত্য। হে আবু বকর! আমি আপনাকে এক আল্লাহর দিকে আহ্বান করছি যার কোনো শরীক নেই, আর আপনি তিনি ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করবেন না এবং তাঁর আনুগত্যের ওপর বন্ধুত্ব স্থাপন করবেন। অতঃপর তিনি তাঁকে কুরআন তিলাওয়াত করে শোনালেন।
তখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং মূর্তিপূজা প্রত্যাখ্যান করলেন, অংশীদারদের বর্জন করলেন এবং ইসলামের সত্যতার প্রতি ঈমান আনলেন। আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বিশ্বাসী ও সত্যায়নকারী হিসেবে ফিরে গেলেন।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন: «আমি যাকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দিয়েছি, তার মধ্যেই কিছুটা জড়তা, দ্বিধা এবং চিন্তা-ভাবনা লক্ষ্য করা গেছে, আবু বকর ছাড়া; সে দাওয়াত পাওয়ার পর কোনো দ্বিধা করেনি»।
বায়হাকী বলেন: «এর কারণ হলো, তিনি দাওয়াত পাওয়ার পূর্বেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নবুওয়াতের নিদর্শনসমূহ প্রত্যক্ষ করতেন এবং তাঁর গুণাবলি শুনতেন। তাই যখন তিনি তাঁকে দাওয়াত দিলেন, তখন তাঁর চিন্তা-ভাবনা ও পর্যবেক্ষণ পূর্বেই সম্পন্ন হয়েছিল এবং তিনি কোনো দ্বিধা করেননি»।
আবু যর আল-গিফারী (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইসলাম গ্রহণের বর্ণনায় নবুওয়াতের নিদর্শনসমূহ-
ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে আবু যরের ফজিলত অধ্যায়ে এটি সংকলন করেছেন এবং বায়হাকী (২: ২০৮) তা উদ্ধৃত করেছেন। আবু যর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: আমি ছিলাম ইসলামের এক চতুর্থাংশ; অর্থাৎ আমার পূর্বে মাত্র তিনজন ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং আমি ছিলাম চতুর্থ ব্যক্তি। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে বললাম: আস-সালামু আলাইকা ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল। তখন আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর চেহারায় আনন্দের আভা দেখতে পেলাম।
আবু যর (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর ইসলাম গ্রহণের হাদিসটি একটি সুপ্রসিদ্ধ ও মহান হাদিস; যা বুখারী ও মুসলিমের মতো নির্ভরযোগ্য সুন্নাহর কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে।
এই কিতাবগুলো হাদিসটিকে এর বিভিন্ন দিক থেকে বর্ণনা করেছে, যা শিক্ষা ও উপদেশে সমৃদ্ধ:
ঘটনাটি হলো: যখন আবু যরের কাছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আবির্ভাবের সংবাদ পৌঁছাল, তখন তিনি তাঁর ভাই উনাইসকে বললেন:
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - বাইহাকী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
«اركب إلى هذا الوادي، فاعلم لي علم هذا الرجل: الذي يزعم أنه نبي، يأتيه الخبر من السماء، فاسمع من قوله، ثم ائتني.
فانطلق «أنيس» إلى مكة وسمع من كلام الرسول صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ رَجَعَ إِلَى أبي ذر فقال له: «رأيته يأمر بمكارم الأخلاق» . فقال له أبو ذر: مَا يَقُولُ النَّاسُ لَهُ؟ قال: يقولون: إنه شاعر، وساحر- وكان أنيس شاعرا- وتابع أنيس حديثه قال:
لقد سمعت الكهان فما يقول بقولهم، وقد وضعت قوله على أنواع الشعر، فو الله ما يلتئم لسان أحد أنه شعر، وو الله إِنَّهُ لَصَادِقٌ، وَإِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ
…فقال أبو ذر لأخيه: هل أنت كافيّ حتى أنطلق؟ قال: نَعَمْ، وَكُنْ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ عَلَى حَذَرٍ، فَإِنَّهُمْ قَدْ شنعوا له، وتجمعوا له.
فتزود وحمل شنة له فيها ماء، حتى قدم مكة، فأتى المسجد، فالتمس رسول الله صلى الله عليه وسلم، وَهُوَ لَا يعرفه، واتبع نصيحة أخيه في أن لا يسأل عنه، وأن يحذر أهل مكة، حتى أدركه بعض الليل، فاضطجع لينام، فرآه سيدنا علي فعرف أنّه غريب، فدعاه إلى المبيت عنده، فتبعه ولم يسأل واحد منهما صاحبه عن شيء حتى أصبح، ثم احتمل قربته وزاده إلى المسجد، وظل ذلك اليوم، فلم ير النبي صلى الله عليه وسلم، حتى أمسى، فعاد إلى مضجعه،
فمر به علي فقال: أما آن للرجل أن يعرف منزله؟ وسار به إلى المنزل: لا يسأل واحد منهما صاحبه عن شيء، ومرّ اليوم الثالث على هذه الكيفية.
فلما كان في البيت، سأله علي رضي الله عنه قائلا:
ألا تحدثني بالذي أقدمك؟
قال: إن أعطيتني عهدا وميثاقا ليرشدنّني، ففعلت
… ففعل، فأخبره.
«এই উপত্যকার দিকে যাত্রা করো এবং এই ব্যক্তি সম্পর্কে সংবাদ নিয়ে আসো; যে নিজেকে নবী বলে দাবি করে এবং যার নিকট আসমান থেকে সংবাদ আসে। তার কথা শ্রবণ করো, অতঃপর আমার নিকট ফিরে আসো।»
অতঃপর 'আনিস' মক্কায় গমন করলেন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা শ্রবণ করলেন। এরপর তিনি আবু যরের নিকট ফিরে এসে বললেন, "আমি তাঁকে দেখেছি যে তিনি উত্তম চরিত্রের নির্দেশ দিচ্ছেন।" আবু যর তাঁকে বললেন, "লোকেরা তাঁকে নিয়ে কী বলে?" তিনি বললেন, "তারা বলে যে তিনি একজন কবি ও জাদুকর"—অথচ আনিস নিজেও একজন কবি ছিলেন—এবং আনিস তাঁর বর্ণনা চালিয়ে যেতে লাগলেন:
"আমি গণকদের কথা শুনেছি, কিন্তু তাঁর কথা তাদের বাণীর ন্যায় নয়। আমি তাঁর বাণীকে কবিতার বিভিন্ন ছন্দের সাথে মিলিয়ে দেখেছি, কিন্তু আল্লাহর শপথ, কোনো রসনা এটাকে কবিতা বলতে একমত হবে না। আল্লাহর শপথ, নিশ্চয়ই তিনি সত্যবাদী এবং তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী..."
…অতঃপর আবু যর তাঁর ভাইকে বললেন, "আমি সেখানে রওনা হওয়া পর্যন্ত তুমি কি আমার দায়িত্বগুলো পালনে যথেষ্ট হবে?" তিনি বললেন, "হ্যাঁ, তবে মক্কাবাসীদের ব্যাপারে সতর্ক থেকো; কেননা তারা তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং তাঁর বিপক্ষে একতাবদ্ধ হয়েছে।"
অতঃপর তিনি পাথেয় সংগ্রহ করলেন এবং একটি পানির মশক সাথে নিলেন, এরপর মক্কায় উপস্থিত হলেন। তিনি মসজিদে আসলেন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তালাশ করতে লাগলেন, অথচ তিনি তাঁকে চিনতেন না। তিনি তাঁর ভাইয়ের উপদেশ অনুযায়ী তাঁর সম্পর্কে কাউকে কিছু জিজ্ঞাসা করলেন না এবং মক্কাবাসীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকলেন। যখন রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হলো, তিনি শয্যা গ্রহণ করলেন। সাইয়্যিদুনা আলী তাঁকে দেখে বুঝতে পারলেন যে তিনি একজন মুসাফির। তিনি তাঁকে তাঁর সাথে রাত যাপনের আমন্ত্রণ জানালেন। তিনি তাঁকে অনুসরণ করলেন, কিন্তু সকাল হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কেউই পরস্পরকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করলেন না। অতঃপর তিনি তাঁর পানির মশক ও পাথেয় নিয়ে মসজিদে আসলেন এবং সারাদিন সেখানে অবস্থান করলেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেখতে পেলেন না। অতঃপর তিনি পুনরায় শয্যাস্থলে ফিরে গেলেন।
অতঃপর আলী তাঁর পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন, "ব্যক্তিটির কি এখনো তাঁর গন্তব্য চেনার সময় হয়নি?" এরপর তিনি তাঁকে পুনরায় বাড়িতে নিয়ে গেলেন। তাঁদের কেউই পরস্পরকে কোনো বিষয়ে প্রশ্ন করলেন না। এভাবে তৃতীয় দিনও অতিবাহিত হলো।
যখন তাঁরা বাড়িতে ছিলেন, আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন:
"যে উদ্দেশ্যে তোমার আসা, সে সম্পর্কে কি আমাকে কিছু বলবে?"
তিনি বললেন, "যদি আপনি আমাকে এই মর্মে প্রতিশ্রুতি ও অঙ্গীকার প্রদান করেন যে আপনি আমাকে সঠিক পথ প্রদর্শন করবেন..." আলী তা করলেন, অতঃপর তিনি তাঁকে সব অবহিত করলেন।
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - বাইহাকী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وفي الصباح ذهبا- على حذر- إِلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وَأَخَذَ أبو ذر يستمع إلى القرآن الكريم، فأسلم في جلسته،. فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم:
ارْجِعْ إلى قومك فأخبرهم حتى يأتيك أمري، فَقَالَ:
«وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ، لأصرخنّ بها بين ظهرانيهم..
فخرج حتى أتى المسجد فنادى بأعلى صوته:
«أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا رسول الله
… فقام إليه الحاضرون فاشتبكوا معه في معركة، حامية، واستمروا به حتى رموه أرضا، فأتى العباس وأنقذه منهم
… ولكنه عاد في الغد إلى مثلها، وعادوا إلى مثل ما فعلوا، وأنقذه من جديد العباس، وعاد أبو ذر إلى أخيه، وأعلن إسلامه، فأسلم أخوه، وذهبا إلى أمهما فأعلنت إسلامها، وأخذ أبو ذر يبشر الإسلام في قومه. رضي الله عنه.
دلائل النبوة في إسلام طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللهِ رضي الله عنهقَالَ طَلْحَةُ بْنُ عُبَيْدِ اللهِ: «حَضَرْتُ سُوقَ بُصْرَى فَإِذَا رَاهِبٌ فِي صَوْمَعَتِهِ، يَقُولُ: سَلُوا أَهْلَ هَذَا الْمَوْسِمِ أَفِيهِمْ أَحَدٌ مِنْ أَهْلِ الْحَرَمِ؟
قَالَ طَلْحَةُ: قُلْتُ نَعَمْ أَنَا.
فَقَالَ: هَلْ ظهر أحمد.
قُلْتُ: وَمَنْ أَحْمَدُ قَالَ: ابْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، هَذَا شَهْرُهُ الَّذِي يَخْرُجُ فِيهِ، وَهُوَ آخِرُ الْأَنْبِيَاءِ، مَخْرَجُهُ مِنَ الْحَرَمِ، وَمُهَاجَرُهُ إِلَى نَخْلٍ وَحَرَّةٍ وَسِبَاخٍ، فَإِيَّاكَ أَنْ تُسْبَقَ إِلَيْهِ.
قَالَ طَلْحَةُ: فَوَقَعَ فِي قَلْبِي مَا قال، فخرجت مسرعا حَتَّى قَدِمْتُ مَكَّةَ، فَقُلْتُ:
هَلْ كَانَ مِنْ حَدَثٍ؟
পরদিন সকালে তারা সতর্কতার সাথে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে গেলেন। আবু যার অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে কুরআন শ্রবণ করতে লাগলেন এবং সেই বৈঠকেই ইসলাম গ্রহণ করলেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন:
তোমার কওমের কাছে ফিরে যাও এবং তাদেরকে সংবাদ দাও, যতক্ষণ না আমার আদেশ তোমার কাছে পৌঁছায়। তিনি (আবু যার) বললেন:
«সেই সত্তার কسم যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করেছেন, আমি অবশ্যই তাদের মাঝে উচ্চস্বরে এটি ঘোষণা করব।
অতঃপর তিনি বের হলেন এবং মসজিদে (হারামে) এসে উচ্চকণ্ঠে ডাক দিয়ে বললেন:
«আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল
… তখন উপস্থিত ব্যক্তিরা তার দিকে তেড়ে এল এবং এক প্রচণ্ড সংঘর্ষে লিপ্ত হলো। তারা তাকে মারধর করতে থাকল যতক্ষণ না তাকে মাটিতে ফেলে দিল। এরপর আব্বাস (রা.) এসে তাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করলেন
… কিন্তু পরদিন তিনি আবারও একই কাজ করলেন এবং তারাও অনুরূপ আচরণ করল। এবারও আব্বাস (রা.) তাকে নতুন করে উদ্ধার করলেন। আবু যার তার ভাইয়ের কাছে ফিরে গিয়ে নিজের ইসলাম গ্রহণের কথা জানালেন। তখন তার ভাইও ইসলাম গ্রহণ করলেন। অতঃপর তারা উভয়ে তাদের মায়ের কাছে গেলেন এবং তিনিও ইসলাম গ্রহণ করলেন। এরপর আবু যার তার কওমের মাঝে ইসলামের সুসংবাদ প্রচার করতে শুরু করলেন। আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন।
তালহা ইবন উবায়দিল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুর ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে নবুওয়াতের নিদর্শনাবলীতালহা ইবন উবায়দিল্লাহ (রা.) বলেন: «আমি বুসরার বাজারে উপস্থিত ছিলাম, তখন এক পাদ্রি তার মঠে থাকা অবস্থায় বলছিলেন: এই মৌসুমের লোকদের জিজ্ঞাসা করো, তাদের মধ্যে কি হারাম শরীফের (মক্কার) অধিবাসী কেউ আছে?
তালহা (রা.) বলেন: আমি বললাম, হ্যাঁ, আমি আছি।
তিনি বললেন: আহমাদ কি আবির্ভূত হয়েছেন?
আমি বললাম: আহমাদ কে? তিনি বললেন: আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র। এটিই সেই মাস যাতে তার আত্মপ্রকাশ ঘটবে। তিনি শেষ নবী। হারাম শরীফ থেকে তার আবির্ভাব ঘটবে এবং তার হিজরতস্থল হবে খেজুর বাগান, কৃষ্ণপ্রস্তর ভূমি ও লবণাক্ত মাঠ সমৃদ্ধ এক জনপদ। সুতরাং সাবধান, কেউ যেন তার কাছে পৌঁছাতে তোমাকে ছাড়িয়ে না যায়।
তালহা (রা.) বলেন: তার কথা আমার অন্তরে গেঁথে গেল। আমি দ্রুত রওয়ানা হলাম এবং মক্কায় পৌঁছে জিজ্ঞাসা করলাম:
কোনো নতুন ঘটনা কি ঘটেছে?
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - বাইহাকী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
قَالُوا: نَعَمْ، مُحَمَّدُ بْنُ عبد الله تَنَبَّأَ، وَقَدْ تَبِعَهُ ابْنُ أَبِي قُحَافَةَ.
قَالَ: فَخَرَجْتُ حَتَّى دَخَلْتُ عَلَى أَبِي بَكْرٍ، فَقُلْتُ: أَتَبِعْتَ هَذَا الرَّجُلَ؟
قَالَ: نَعَمْ، فَانْطَلِقْ إِلَيْهِ فَادْخُلْ عَلَيْهِ فَاتَّبِعْهُ، فَإِنَّهُ يَدْعُو إِلَى الْحَقِّ.
فَأَخْبَرَهُ طَلْحَةُ بِمَا قَالَ الرَّاهِبُ، فَخَرَجَ أَبُو بَكْرٍ بِطَلْحَةَ، فَدَخَلَ بِهِ عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فَأَسْلَمَ طَلْحَةُ، وَأَخْبَرَ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِمَا قَالَ الرَّاهِبُ، فَسَّرَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِذَلِكَ.
فَلَمَّا أَسْلَمَ أَبُو بَكْرٍ وَطَلْحَةُ، أَخَذَهُمَا نوفل بن خويلد بن الْعَدَوِيَّةِ فَشَدَّهُمَا فِي حَبَلٍ وَاحِدٍ، وَلَمْ يَمْنَعْهُمَا بَنُو تميم، وَكَانَ نَوْفَلُ بْنُ خُوَيْلِدٍ يُدْعَى: أَسَدَ قُرَيْشٍ، فَلِذَلِكَ سُمِّيَ أَبُو بَكْرٍ وَطَلْحَةُ: «القرينين» .
دلائل النبوة في إسلام النجاشي الأصحم.
قَالَ ابْنُ إِسْحَاقَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مُسْلِمٍ الزُّهْرِيُّ، عَنْ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ الْمَخْزُومِيِّ، عن أُمُّ سَلَمَةَ بِنْتُ أَبِي أُمَيَّةَ بن المغيرة، زَوْجِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ:
«لَمَّا نزلنا أرض الحبشة جاورنا بها خير جار: النجاشي، أمنّا على ديننا، وعبدنا الله تعالى: لا نؤذي ولا نسمع شيئا نكرهه. فلما بلغ ذلك قريشا ائتمروا بينهم: أن يبعثوا إلى النجاشي فينا رجلين منهم جلدين، وأن يهدوا للنجاشي هذايا مما يستطرف من متاع مكة، وَكَانَ مِنْ أَعْجَبِ مَا يأتيه منها الأدم، فجمعوا له أدما كثيرا ولم يتركوا من بطارقته بطريقا إلا أهدوا له هدية، ثم بعثوا بذلك عبد الله بن أبي ربيعة، وعمرو بن العاص، وأمروهما بأمرهم وقالوا لهما: ادفعا إِلَى كُلِّ بِطْرِيقٍ هَدِيَّتَهُ قبل أن تكلما النجاشي فيهم، ثم قدّما إلى النجاشي هداياه، ثم أسألاه أن يسلمهم إليكما قبل أن يكلمهم، قالت:
فخرجا حتى قدما على النجاشي، ونحن عنده بخير دار عند خير جار. فلم يبق من بطارقته بطريق إلا دفعا إليه هديته، قبل أن يكلّما النجاشي، وقالا لكل
তারা বললেন: "হ্যাঁ, মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ নবুওয়াত দাবি করেছেন এবং আবু কুহাফার পুত্র তাঁর অনুসরণ করছেন।"
তিনি বললেন: অতঃপর আমি বের হলাম এবং আবু বকরের কাছে গেলাম। আমি জিজ্ঞেস করলাম, "আপনি কি এই লোকটির অনুসরণ করছেন?"
তিনি বললেন: "হ্যাঁ, তুমিও তাঁর কাছে যাও, তাঁর নিকট প্রবেশ করো এবং তাঁর অনুসরণ করো, কারণ তিনি সত্যের দিকে আহ্বান করছেন।"
অতঃপর তালহা তাঁকে যাজকের কথাগুলো জানালেন। আবু বকর তালহাকে সাথে নিয়ে বের হলেন এবং তাঁকে নিয়ে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উপস্থিত হলেন। তালহা ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যাজকের কথাগুলো জানালেন। এতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনন্দিত হলেন।
যখন আবু বকর ও তালহা ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখন নওফেল ইবনে খুয়াইলিদ ইবনে আদাবিয়্যাহ তাঁদের দুজনকে পাকড়াও করল এবং তাঁদের একই রশিতে বেঁধে ফেলল। বনু তামিম গোত্র তাঁদের বাধা দিল না। নওফেল ইবনে খুয়াইলিদকে 'কুরাইশের সিংহ' বলা হতো। এই কারণেই আবু বকর ও তালহাকে 'আল-কারিনাইন' (যুগলবন্দী) বলা হয়।
আসহাম নাজাশীর ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে নবুওয়াতের প্রমাণাদি.
ইবনে ইসহাক বলেন: আমার কাছে মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম আয-জুহরী বর্ণনা করেছেন, তিনি আবু বকর ইবনে আবদুর রহমান ইবনে হারিস ইবনে হিশাম আল-মাখজুমী থেকে, তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিণী উম্মু সালামাহ বিনতে আবি উমাইয়্যাহ ইবনুল মুগীরা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন:
«যখন আমরা হাবাশা (আবিসিনিয়া) ভূমিতে অবতরণ করলাম, তখন আমরা সেখানে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রতিবেশী নাজাশীর সান্নিধ্য পেলাম। আমাদের দ্বীনের ব্যাপারে আমরা নিরাপদ ছিলাম এবং আমরা মহান আল্লাহর ইবাদত করতাম; আমাদের কোনো কষ্ট দেওয়া হতো না এবং আমরা অপছন্দনীয় কিছু শুনতাম না। যখন এই খবর কুরাইশদের কাছে পৌঁছাল, তখন তারা নিজেদের মধ্যে পরামর্শ করল যে, আমাদের ব্যাপারে নাজাশীর কাছে তাদের মধ্য থেকে দুইজন সুঠাম ও চতুর ব্যক্তিকে পাঠাবে এবং নাজাশীর জন্য মক্কার দুর্লভ সামগ্রী থেকে হাদিয়া পাঠাবে। তাঁর কাছে মক্কার সামগ্রীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পছন্দের ছিল চামড়া। তাই তারা তাঁর জন্য প্রচুর চামড়া সংগ্রহ করল এবং তাঁর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন কাউকেও বাকি রাখল না যাকে তারা হাদিয়া দেয়নি। অতঃপর তারা আব্দুল্লাহ ইবনে আবি রাবিআহ এবং আমর ইবনুল আসকে এসব দিয়ে পাঠাল এবং তাদের নির্দেশ দিয়ে বলল: নাজাশীর সাথে এঁদের ব্যাপারে কথা বলার আগে প্রত্যেক কর্মকর্তাকে তার উপহার প্রদান করবে। তারপর নাজাশীর কাছে তাঁর হাদিয়াসমূহ পেশ করবে। এরপর তাঁর কাছে আবেদন করবে যেন তিনি এঁদের সাথে কথা বলার আগেই এঁদের তোমাদের হাতে সোপর্দ করেন।» তিনি বলেন:
অতঃপর তারা বের হয়ে নাজাশীর কাছে পৌঁছাল, আর আমরা তখন সেখানে উত্তম প্রতিবেশীর সান্নিধ্যে উত্তম আবাসে ছিলাম। তাঁর কর্মকর্তাদের মধ্যে এমন কেউ বাকি ছিল না যাকে তারা নাজাশীর সাথে কথা বলার আগে হাদিয়া দেয়নি। তারা প্রত্যেকের উদ্দেশে বলল—
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - বাইহাকী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
بطريق منهم: إنه قد ضوى إلى بلد الملك منا غلمان سفهاء، فَارَقُوا دِينَ قَوْمِهِمْ، وَلَمْ يدخلوا في دينكم وَجَاءُوا بِدِينٍ مُبْتَدَعٍ لَا نعرفه نحن ولا أنتم. وقد بعثنا إلى الملك فيهم أشراف قومهم ليردهم إليهم، فإذا كلّمنا الملك فيهم فأشيروا عليه بأن يسلمهم إلينا ولا يكلمهم، فإن قومهم أعلى بهم عينا، وأعلم بما عابوا عليهم.
فقالوا لهما: نعم، ثم إنهما قدّما هداياهما إلى النجاشي، فقبلها منهما، ثمّ كلّماه فقالا له:
أيها الملك، إنه قد ضوى الى بلدك منا غلمان سفهاء: فَارَقُوا دِينَ قَوْمِهِمْ، وَلَمْ يَدْخُلُوا فِي دِينِكَ، وَجَاءُوا بدين ابتدعوه لا نعرفه نحن ولا أنت، وقد بعثنا إليك فيهم أشراف قومهم من آبائهم وأعمامهم وعشائرهم، لتردهم إليهم، فهم أعلى بهم عينا، وأعلم بما عابوا عليهم، وعاتبوهم فيه، قالت:
وَلَمْ يَكُنْ شَيْءٌ أَبْغَضَ إِلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ أبي ربيعة وعمرو بن العاص مِنْ أَنْ يَسْمَعَ كَلَامَهُمْ النجاشي، فقالت بطارقته حوله: صدقا أيها الملك قومهم أعلى بهم عينا، وأعلم بما عابوا عليهم، فأسلمهم إليهما، فليردّوهم إلى بلادهم وقومهم، قالت: فغضب النجاشي، ثم قال:
الله!! إذن لا أسلمهم إليهما، ولا يكاد قوم جاوروني، ونزلوا بلادي واختاروني على من سواي حتى أدعوهم، فأسألهم عما يقول هذان في أمرهم، فإن كانوا كما يقولان أسلمتهم إليهما، ورددتهم إلى قومهم، وَإِنْ كَانُوا عَلَى غَيْرِ ذلك منعتهم منهما، وأحسنت جوارهم ما جاوروني.
قالت: ثم أرسل إِلَى أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَدَعَاهُمْ، فلما جاءهم رسوله اجتمعوا، ثم قَالَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ: مَا تقولون للرجل إذا جئتموه؟ قالوا:
نقول والله ما علمنا وما أَمَرَنَا بِهِ نَبِيُّنَا صلى الله عليه وسلم كائنا. ذلك ما هو كائن. فلما جاءوا- وقد دعا النجاشي أساقفته فنشروا مصاحفهم حوله- سألهم، فقال لهم:
তাদের মধ্য থেকে একজন পাদ্রীকে বললেন: আমাদের মধ্য থেকে কিছু নির্বোধ যুবক রাজার দেশে আশ্রয় নিয়েছে, যারা তাদের স্বগোত্রীয় ধর্ম ত্যাগ করেছে এবং আপনাদের ধর্মেও প্রবেশ করেনি। তারা এক নতুন উদ্ভাবিত ধর্ম নিয়ে এসেছে যা আমরা বা আপনারা কেউই চিনি না। তাদের উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন স্বজনরা আমাদেরকে রাজার কাছে পাঠিয়েছেন যেন তিনি তাদেরকে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেন। আমরা যখন এ বিষয়ে রাজার সাথে কথা বলব, তখন আপনারা তাকে এই পরামর্শ দেবেন যেন তিনি তাদেরকে আমাদের হাতে তুলে দেন এবং তাদের সাথে কোনো কথা না বলেন। কেননা তাদের স্বজনরা তাদের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং তাদের দোষত্রুটি সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত।
তারা তাদেরকে বললেন: ঠিক আছে। এরপর তারা তাদের উপহারসমূহ নাজ্জাশীর নিকট পেশ করলেন এবং তিনি তা গ্রহণ করলেন। তারপর তারা তাঁর সাথে কথা বললেন এবং বললেন:
হে সম্রাট, আমাদের মধ্য থেকে কিছু নির্বোধ যুবক আপনার দেশে আশ্রয় নিয়েছে। তারা তাদের স্বগোত্রীয় ধর্ম ত্যাগ করেছে এবং আপনার ধর্মেও প্রবেশ করেনি। তারা নিজেদের উদ্ভাবিত এক ধর্ম নিয়ে এসেছে যা আমরা বা আপনি কেউই চিনি না। তাদের পিতৃবর্গ, পিতৃব্য ও বংশীয় উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা আমাদেরকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন যাতে আপনি তাদেরকে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেন। কারণ তারা তাদের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং তাদের ত্রুটিবিচ্যুতি ও যে কারণে তারা তিরস্কৃত হয়েছে সে সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। বর্ণনাকারী বলেন:
আবদুল্লাহ বিন আবী রাবিয়া এবং আমর বিন আসের নিকট এর চেয়ে অপ্রিয় আর কিছু ছিল না যে, নাজ্জাশী তাদের কথা শুনবেন। তাঁর চারপাশের পাদ্রীরা বলল: হে সম্রাট, তারা সত্যই বলেছে। তাদের স্বজনরা তাদের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং তাদের দোষ সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত। সুতরাং আপনি তাদেরকে এই দুজনের হাতে তুলে দিন যাতে তারা তাদেরকে তাদের নিজ দেশ ও স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। বর্ণনাকারী বলেন: তখন নাজ্জাশী ক্রুদ্ধ হলেন এবং বললেন:
আল্লাহর কসম!! আমি কখনোই তাদেরকে এই দুজনের হাতে তুলে দেব না। যে সম্প্রদায় আমার প্রতিবেশী হয়েছে, আমার দেশে অবতরণ করেছে এবং অন্যদের ওপর আমাকে প্রাধান্য দিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করেছে, তাদের সাথে কথা না বলে এবং তারা যা বলছে সে সম্পর্কে তাদেরকে জিজ্ঞেস না করে আমি তা করতে পারি না। যদি তারা তেমনই হয় যেমনটি এই দুজন বলছে, তবেই আমি তাদেরকে এদের হাতে সোপর্দ করব এবং তাদের কওমের কাছে ফিরিয়ে দেব। আর যদি তারা এর বিপরীতে অন্য কিছুর ওপর অটল থাকে, তবে আমি তাদেরকে এই দুজনের হাত থেকে রক্ষা করব এবং যতক্ষণ তারা আমার প্রতিবেশী হয়ে থাকবে, আমি তাদের সাথে উত্তম প্রতিবেশীসুলভ আচরণ করব।
বর্ণনাকারী বলেন: এরপর তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের নিকট লোক পাঠালেন এবং তাঁদের ডেকে পাঠালেন। যখন রাজার দূত তাঁদের কাছে পৌঁছালেন, তখন তাঁরা একত্রিত হলেন। এরপর তাঁরা একে অপরকে বললেন: যখন তোমরা এই ব্যক্তির কাছে যাবে তখন তাকে কী বলবে? তাঁরা বললেন:
আল্লাহর কসম, আমরা কেবল তা-ই বলব যা আমরা জানি এবং আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের যা নির্দেশ দিয়েছেন, ফলাফল যা-ই হোক না কেন। এরপর যখন তাঁরা আসলেন—নাজ্জাশী তখন তাঁর বিশপদের ডেকে পাঠিয়েছিলেন এবং তাঁরা তাদের ধর্মগ্রন্থগুলো তাঁর চারপাশে মেলে ধরেছিলেন—তিনি তাঁদের জিজ্ঞেস করলেন এবং বললেন:
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - বাইহাকী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
مَا هَذَا الدِّينُ الَّذِي قد فارقتم فيه قَوْمِكُمْ، وَلَمْ تَدْخُلُوا فِي ديني ولا في دين أحد من هذه الملل؟ قالت: فكان الذي كلمه جَعْفَرِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، فَقَالَ لَهُ:
أَيُّهَا الْمَلِكُ، كنا قوما أهل جاهلية، نعبد الأصنام، ونأكل الميتة، ونأتي الفواحش، ونقطع الأرحام، ونسيء الجوار، ويأكل القوي منا الضعيف. فكنا على ذلك، حتى بعث الله إلينا رسولا منا نعرف نسبه وصدقه وأمانته وعفافه، فدعانا إلى الله، لنوحّده ونعبده، ونخلع ما كنا نعبد نحن وآباؤنا من دونه، من الحجارة والأوثان.
وأمرنا بصدق الحديث، وأداء الأمانة، وصلة الرحم، وحسن الجوار، والكف عن المحارم والدماء، ونهانا عن الفواحش، وقول الزور، وأكل مال اليتيم، وقذف المحصنات.
وَأَمَرَنَا أَنْ نَعْبُدَ اللهَ وَحْدَهُ لَا نُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا، وأمرنا بالصلاة والزكاة والصيام.
قالت: فعدد أمور الإسلام- فصدقناه وآمنّا به، واتّبعناه عَلَيَّ مَا جَاءَ بِهِ من الله، فعبدنا الله وحده، فلم نشرك به شيئا، وحرّمنا ما حرم علينا، وأحللنا ما أحل لنا، فعدا علينا قومنا، فعذبونا وفتنونا عن ديننا، ليردونا إلى عبادة الأوثان عن عبادة الله تعالى، وأن نستحلّ مَا كُنَّا عَلَيْهِ مِنَ الخبائث، فلما قهرونا وظلمونا وضيقوا علينا، وحالوا بيننا وبين ديننا، خرجنا إلى بلادك واخترناك على من سواك، ورغبنا في جوارك، ورجونا أن لا نظلم عندك أيها الملك، قالت:
فقال النجاشي: هل معك مما جاء به عن الله شيء؟ قالت: فَقَالَ لَهُ جَعْفَرٌ: نَعَمْ، فقال النجاشي فاقرأه علي، قالت: فَقَرَأَ عَلَيْهِ صَدْرًا مِنْ «كهيعص» قالت:
এই ধর্ম কী, যার কারণে তোমরা নিজ সম্প্রদায় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছ এবং আমার ধর্মে বা এই ধর্মমতগুলোর কোনোটিতেই প্রবেশ করোনি? তিনি (উম্মে সালামাহ) বলেন: তখন জাফর বিন আবি তালিব তাঁর সাথে কথা বললেন এবং তাঁকে বললেন:
হে সম্রাট, আমরা ছিলাম জাহেলিয়াত বা অজ্ঞতাপূর্ণ এক জাতি। আমরা মূর্তিপূজা করতাম, মৃত পশুর মাংস খেতাম, অশ্লীলতায় লিপ্ত হতাম, আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করতাম, প্রতিবেশীর সাথে অসদাচরণ করতাম এবং আমাদের মধ্যকার শক্তিশালীরা দুর্বলদের গ্রাস করত। আমরা এই অবস্থার ওপরই ছিলাম, যতক্ষণ না আল্লাহ আমাদের নিকট আমাদের মধ্য থেকে একজনকে রাসূল হিসেবে পাঠালেন, যাঁর বংশমর্যাদা, সত্যবাদিতা, আমানতদারি ও পবিত্রতা সম্পর্কে আমরা সম্যক অবগত। তিনি আমাদের আল্লাহর দিকে আহ্বান করলেন, যাতে আমরা তাঁকে এক বলে স্বীকার করি ও তাঁর ইবাদত করি এবং আমরা ও আমাদের পিতৃপুরুষেরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে পাথর ও মূর্তির যেসব উপাসনা করতাম, তা বর্জন করি।
তিনি আমাদের সত্য কথা বলতে, আমানত রক্ষা করতে, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখতে, প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার করতে এবং নিষিদ্ধ কাজ ও রক্তপাত থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। আর তিনি আমাদের অশ্লীল কাজ, মিথ্যা বলা, এতিমের সম্পদ ভক্ষণ করা এবং সচ্চরিত্রা নারীর প্রতি অপবাদ দেওয়া থেকে বারণ করেছেন।
তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমরা এক আল্লাহর ইবাদত করি এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক না করি; আর তিনি আমাদের সালাত, জাকাত ও সিয়ামের নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি (উম্মে সালামাহ) বলেন: এরপর তিনি ইসলামের বিষয়গুলো গণনা করলেন— ফলে আমরা তাঁকে সত্য বলে গ্রহণ করলাম, তাঁর প্রতি ঈমান আনলাম এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তিনি যা নিয়ে এসেছেন তাতে তাঁর অনুসরণ করলাম। আমরা কেবল এক আল্লাহর ইবাদত করলাম এবং তাঁর সাথে কোনো কিছুকে শরিক করলাম না। তিনি আমাদের জন্য যা হারাম করেছেন তা আমরা হারাম গণ্য করলাম এবং যা হালাল করেছেন তা হালাল হিসেবে গ্রহণ করলাম। এরপর আমাদের সম্প্রদায় আমাদের ওপর শত্রুতা পোষণ করল। তারা আমাদের ওপর নির্যাতন চালাল এবং আমাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করার জন্য ফিতনায় ফেলল, যাতে তারা আমাদের মহান আল্লাহর ইবাদত ছেড়ে পুনরায় মূর্তিপূজার দিকে ফিরিয়ে নিতে পারে এবং আমরা যেন সেইসব অপবিত্র বিষয়গুলোকে পুনরায় বৈধ মনে করি যার ওপর আমরা ছিলাম। অতঃপর তারা যখন আমাদের ওপর প্রবল হলো, আমাদের ওপর জুলুম করল, আমাদের জীবনকে সংকীর্ণ করে তুলল এবং আমাদের ও আমাদের দ্বীনের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াল, তখন আমরা আপনার দেশের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লাম। অন্যদের ছেড়ে আপনাকে পছন্দ করলাম, আপনার সান্নিধ্য কামনা করলাম এবং হে সম্রাট, আমরা আশা করলাম যে আপনার কাছে আমরা অত্যাচারিত হব না। তিনি বলেন:
তখন নাজাশী বললেন: আল্লাহর পক্ষ থেকে তিনি যা এনেছেন, তার কিছু কি তোমার কাছে আছে? তিনি বলেন: তখন জাফর তাকে বললেন: হ্যাঁ। নাজাশী বললেন: তবে তা আমার কাছে পাঠ করো। তিনি বলেন: তখন জাফর তাঁর সামনে ‘কাফ-হা-ইয়া-আইন-সাদ’ এর প্রারম্ভিক অংশ পাঠ করলেন। তিনি বলেন:
(খণ্ড: ১)
দালাইলুন নুবুওয়াহ - বাইহাকী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
فَبَكَى وَاللهِ النَّجَاشِيُّ، حَتَّى اخْضَلَّتْ لِحْيَتُهُ، وَبَكَتْ أَسَاقِفَتُهُ حتى أخضلوا مصاحفهم، حين سمعوا ما تلا عليهم، ثم قال النجاشي:
إن هذا والذي جاء به عيسى، ليخرج من مشكاة واحدة، انطلقا، فلا والله لا أسلمهم إليكما ولا يكادون.
قالت: فلما خرجا من عنده، قَالَ عَمْرُو بْنُ الْعَاصِ: والله لأتينه غدا عنهم بِمَا أَسْتَأْصِلُ بِهِ خَضْرَاءَهُمْ.
قالت: فَقَالَ لَهُ عَبْدُ اللهِ بْنُ أَبِي رَبِيعَةَ- وكان أتقى الرجلين فينا- لا تفعل فإن لهم أرحاما، وإن كانوا قد خالفونا، قال:
والله لأخبرته أنهم يزعمون أن عيسى بن مريم عبد الله، قالت: ثم غدا عليه من الغد.
فَقَالَ لَهُ: أَيُّهَا الْمَلِكُ! إِنَّهُمْ يَقُولُونَ فِي عِيسَى بن مريم قَوْلًا عَظِيمًا، فَأَرْسِلْ إِلَيْهِمْ فسلهم عما يقولون فيه.
قالت: فأرسل إليهم ليسألهم عنه. فقالت:
وَلَمْ يَنْزِلْ بِنَا مِثْلُهَا قط، فاجتمع القوم ثم قال بعضهم لبعض: مَاذَا تَقُولُونَ فِي عِيسَى بن مريم إذا سألكم عنه؟ قالوا:
نقول: - والله- (فيه) ما قال الله، وما جاءنا به ننهينا، كائنا في ذلك ما هو كائن. قالت: فلما دخلوا عليه قال لهم: مَاذَا تَقُولُونَ فِي عِيسَى بن مريم؟
قالت: فقال له جَعْفَرِ بْنِ أَبِي طَالِبٍ: نقول فيه الذي جَاءَنَا بِهِ نَبِيُّنَا صلى الله عليه وسلم.
هُوَ عبد الله ورسوله، وروحه، وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَى مَرْيَمَ العذراء البتول، قالت:
فضرب النجاشي بيده إِلَى الْأَرْضِ، فَأَخَذَ مِنْهَا عودا ثُمَّ قَالَ:
وَاللهِ مَا عدا عيسى بن مَرْيَمَ مَا قُلْتَ هَذَا العود، قالت:
আল্লাহর কসম, তখন নাজ্জাশি কাঁদলেন, এমনকি তাঁর দাড়ি ভিজে গেল এবং তাঁর বিশপগণও কাঁদলেন যখন তারা শুনলেন যা তাদের কাছে তিলাওয়াত করা হচ্ছিল, এমনকি তারা তাদের ধর্মগ্রন্থগুলো ভিজিয়ে ফেললেন। অতঃপর নাজ্জাশি বললেন:
নিশ্চয়ই এটি এবং যা ঈসা নিয়ে এসেছেন, তা একই আলোর উৎস থেকে নির্গত হয়েছে। তোমরা চলে যাও, আল্লাহর কসম, আমি তাদের তোমাদের হাতে সোপর্দ করব না এবং এমন হওয়ার কোনো সম্ভাবনাও নেই।
তিনি বলেন: তারা যখন তাঁর নিকট থেকে বের হয়ে এল, তখন আমর ইবনুল আস বললেন: আল্লাহর কসম, আগামীকাল আমি তাঁর কাছে তাদের সম্পর্কে এমন তথ্য পেশ করব যার মাধ্যমে আমি তাদের অস্তিত্বের মূল উপড়ে ফেলব।
তিনি বলেন: তখন আব্দুল্লাহ ইবনে আবি রাবিয়াহ তাঁকে বললেন—তিনি আমাদের মধ্যে আমাদের দুজনের মধ্যে অধিক পরহেজগার ছিলেন—এমনটা করো না, কারণ যদিও তারা আমাদের বিরোধিতা করেছে, তবুও তাদের সাথে আমাদের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বললেন:
আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই তাঁকে জানাব যে তারা দাবি করে ঈসা ইবনে মারইয়াম আল্লাহর বান্দা। তিনি বলেন: অতঃপর পরদিন সকালে তিনি তাঁর কাছে গেলেন।
অতঃপর তাঁকে বললেন: হে সম্রাট! তারা ঈসা ইবনে মারইয়াম সম্পর্কে এক গুরুতর কথা বলে। তাই আপনি তাদের কাছে লোক পাঠান এবং তারা তাঁর সম্পর্কে কী বলে সে বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসা করুন।
তিনি বলেন: তখন তিনি তাদের কাছে লোক পাঠালেন যেন তাদের এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা যায়। তিনি বলেন:
আমাদের ওপর এর আগে কখনো এমন কঠিন পরিস্থিতি আসেনি। তখন কওমের লোকেরা একত্রিত হলেন এবং একে অপরকে বললেন: ঈসা ইবনে মারইয়াম সম্পর্কে তিনি যখন তোমাদের জিজ্ঞাসা করবেন, তখন তোমরা কী বলবে? তারা বললেন:
আল্লাহর কসম, আমরা তাঁর সম্পর্কে তা-ই বলব যা আল্লাহ বলেছেন এবং আমাদের নবী আমাদের কাছে যা নিয়ে এসেছেন, পরিণাম যাই হোক না কেন। তিনি বলেন: তারা যখন তাঁর কাছে প্রবেশ করলেন, তখন তিনি তাদের বললেন: তোমরা ঈসা ইবনে মারইয়াম সম্পর্কে কী বলো?
তিনি বলেন: তখন জাফর ইবনে আবি তালিব তাঁকে বললেন: আমরা তাঁর সম্পর্কে তা-ই বলি যা আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কাছে নিয়ে এসেছেন।
তিনি আল্লাহর বান্দা, তাঁর রাসূল, তাঁর রুহ এবং তাঁর কালিমা (বাণী), যা তিনি কুমারী ও পবিত্র মারইয়ামের প্রতি অর্পণ করেছিলেন। তিনি বলেন:
তখন নাজ্জাশি মাটির দিকে তাঁর হাত বাড়িয়ে একটি কাঠি হাতে নিলেন এবং বললেন:
আল্লাহর কসম, তুমি যা বললে, মারইয়াম তনয় ঈসা এই কাঠির চেয়ে তিল পরিমাণও বেশিকিছু নন। তিনি বলেন: