(খণ্ড: ১)
৬০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফি আহকামিল হায়েজ
(পৃষ্ঠা: -)
60 سؤال وجواب في أحكام الحيض (ابن عثيمين)
القسم: مسائل فقهية
الكتاب: 60 سؤال وجواب في أحكام الحيض
المؤلف: محمد بن صالح بن محمد العثيمين (ت 1421هـ)
الناشر: دار القمة
عدد الصفحات: 149
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
মাসিকের বিধানাবলী সম্পর্কে ৬০টি প্রশ্ন ও উত্তর (ইবনে উসাইমীন)
বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: মাসিকের বিধানাবলী সম্পর্কে ৬০টি প্রশ্ন ও উত্তর
লেখক: মুহাম্মদ বিন সালেহ বিন মুহাম্মদ আল-উসাইমীন (মৃত্যু ১৪২১ হিজরি)
প্রকাশক: দার আল-কিম্মাহ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৯
[গ্রন্থের নম্বরবিন্যাস মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ৬০)
৬০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফি আহকামিল হায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১১৮)
مقدمة…بسم الله الرحمن الرحيمالحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله محمد بن عبد الله وآله وصحبه ومن سار على دربه إلى يوم الدين.وبعد:أختي المسلمة:نظراً لكثرة التساؤلات التي ترد على العلماء بشأن أحكام الحيض في العبادات رأينا أن نجمع الأسئلة التي تتكرر دائماً وكثيراً ما تقع دون التوسع وذلك رغبة في الاختصار وهي للعلامة فضيلة الشيخ/ محمد بن صالح العثيمين – رحمه الله.أختي المسلمة:حرصنا على جمعها لتكون في متناول يدك دائماً وذلك لأهمية الفقه في شرع الله ولكي تعبدين الله على علم وبصيرة.تنبيه:قد يبدو لمن يتصفح الكتاب لأول مرة أن بعض الأسئلة متكررة ولكن بعد التأمل سوف يجد أن هناك زيادة علم في إجابة دون الأخرى. رأينا عدم إغفالها.هذا وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه أجمعين.
ভূমিকা...পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর পথে চলবে তাদের ওপর।অতঃপর:আমার মুসলিম বোন:ইবাদতের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাবের (حيض) বিধি-বিধান (أحكام) সম্পর্কে আলেমদের (العلماء) নিকট আগত অসংখ্য প্রশ্নের প্রেক্ষিতে, আমরা সর্বদা পুনরাবৃত্তি হওয়া এবং সচরাচর ঘটে যাওয়া প্রশ্নগুলো কোনো ধরণের বিস্তারিত আলোচনা ছাড়াই সংক্ষেপে একত্রিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই উত্তরগুলো প্রদান করেছেন প্রাজ্ঞ আলেম (العلامة) ফযীলাতুশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন (রাহিমাহুল্লাহ)।আমার মুসলিম বোন:আল্লাহর শরীয়তে ফিকহ (الفقه) অর্জনের গুরুত্বের কারণে এবং আপনি যাতে সঠিক জ্ঞান (علم) ও অন্তর্দৃষ্টির (بصيرة) সাথে আল্লাহর ইবাদত করতে পারেন, সেজন্য আমরা এগুলো সংগ্রহ করতে সচেষ্ট হয়েছি যাতে এটি সর্বদা আপনার হাতের নাগালে থাকে।সতর্কতা:যারা প্রথমবার বইটি পড়বেন তাদের কাছে মনে হতে পারে যে কিছু প্রশ্ন পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে, কিন্তু গভীরভাবে চিন্তা করলে দেখা যাবে যে একটি উত্তরের তুলনায় অন্যটিতে অতিরিক্ত জ্ঞান (علم) রয়েছে। তাই আমরা সেগুলো বাদ না দেওয়াটাই সমীচীন মনে করেছি।আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সঙ্গী-সাথীদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ৬০)
৬০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফি আহকামিল হায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১১৯)
من أحكام الحيض في الصلاة والصيام[س 1] إذا طهرت المرأة بعد الفجر مباشرة هل تمسك وتصوم هذا اليوم؟. ويكون يومها لها، أم عليها قضاء ذلك اليوم؟.[جـ1] إذا طهرت المرأة بعد طلوع الفجر فللعلماء في إمساكها ذلك اليوم قولان:القول الأول: إنه يلزمها الإمساك بقية ذلك اليوم ولكنه لا يحسب لها بل يجب عليها القضاء، وهذا هو المشهور من مذهب الإمام أحمد رحمه الله.والقول الثاني: إنه لا يلزمها أن تمسك بقية ذلك اليوم؛ ْلأنه يوم لا يصح صومها فيه لكونها في أوله حائضة ليست من أهل الصيام، وإذا لم يصح لم يبق للإمساك فائدة، وهذا الزمن زمن غير محترم بالنسبة لها؛ لأنها مأمورة بفطره في أول النهار، بل محرم عليها صومه في أول النهار، والصوم الشرعي هو: الإمساك عن المفطرات تعبداً لله عز وجل من طلوع الفجر إلى غروب الشمس» وهذا القول كما تراه أرجح من القول بلزوم الإمساك، وعلى كلا القولين يلزمها قضاء هذا اليوم.[س 2] هذه السائلة تقول: إذا طهرت الحائض واغتسلت بعد صلاة الفجر وصلت وكملت صوم يومها، فهل يجب عليها قضاؤه؟.[جـ2] إذا طهرت الحائض قبل طلوع الفجر ولو بدقيقة واحدة ولكن تيقنت
নামাজ ও রোজার ক্ষেত্রে ঋতুস্রাব সংক্রান্ত কিছু বিধান[প্রশ্ন ১] যদি কোনো নারী সুবহে সাদেকের ঠিক পরপরই পবিত্রতা লাভ করেন, তবে কি তিনি সেই দিন পানাহার থেকে বিরত থেকে রোজা পালন করবেন? আর সেই দিনের রোজা কি তার জন্য গণ্য হবে, নাকি তাকে ওই দিনের কাজা (قضاء) আদায় করতে হবে?[উত্তর ১] যদি কোনো নারী ফজর উদিত হওয়ার পর পবিত্র হন, তবে ওই দিন তার পানাহার থেকে বিরত থাকার (إمساك) বিষয়ে আলেমদের দুটি মত রয়েছে:প্রথম মত: দিনের অবশিষ্ট সময় তার জন্য পানাহার থেকে বিরত থাকা (إمساك) আবশ্যক, তবে এটি তার জন্য রোজা হিসেবে গণ্য হবে না, বরং তাকে কাজা (قضاء) আদায় করতে হবে। এটিই ইমাম আহমাদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাজহাবের প্রসিদ্ধ মত।দ্বিতীয় মত: দিনের অবশিষ্ট সময় তার জন্য পানাহার থেকে বিরত থাকা (إমসাك) আবশ্যক নয়; কারণ এটি এমন একটি দিন যাতে তার রোজা শুদ্ধ (صحيح) হবে না, যেহেতু দিনের শুরুতে তিনি ঋতুবতী (حائض) ছিলেন এবং রোজা পালনের যোগ্য ছিলেন না। আর যখন রোজা শুদ্ধই হবে না, তখন বিরত থাকার কোনো ফায়দা নেই। এছাড়া এই সময়টি তার জন্য মর্যাদাপূর্ণ (محترم) সময় নয়; কারণ তাকে দিনের শুরুতে রোজা না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বরং দিনের শুরুতে রোজা রাখা তার জন্য হারাম (محرم)। আর শরয়ি রোজা (صوم شرعي) হলো: মহান আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে সুবহে সাদেক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও রোজা ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ থেকে বিরত থাকা (إمساك)। এই মতটিই, যেমনটি আপনি দেখছেন, বিরত থাকা আবশ্যক হওয়ার মতটির চেয়ে অধিক অগ্রগণ্য (أرجح)। তবে উভয় মতানুসারেই তাকে এই দিনের কাজা (قضاء) আদায় করতে হবে।[প্রশ্ন ২] এই প্রশ্নকারী বলছেন: যদি ঋতুবতী (حائض) নারী পবিত্র হন এবং ফজরের নামাজের পর গোসল করে নামাজ আদায় করেন এবং ওই দিনের রোজা পূর্ণ করেন, তবে কি তার ওপর কাজা (قضاء) ওয়াজিব হবে?[উত্তর ২] যদি ঋতুবতী (حائض) নারী ফজর উদিত হওয়ার আগে পবিত্র হন, এমনকি যদি তা এক মিনিট আগেও হয় এবং তিনি নিশ্চিত হন যে তিনি পবিত্র হয়েছেন...
(খণ্ড: ৬০)
৬০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফি আহকামিল হায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১২০)
الطهر فإنه إذا كان في رمضان فإنه يلزمها الصوم ويكون صومها ذلك اليوم صحيحاً ولا يلزمها قضاؤه؛ لأنها صامت وهي طاهر وإن لم تغتسل إلا بعد طلوع الفجر فلا حرج، كما أن الرجل لو كان جنباً من جماع أو احتلام وتسحر ولم يغتسل إلا بعد طلوع الفجر كان صومه صحيحاً.وبهذه المناسبة أود أن أنبه إلى أمر آخر عند النساء إذا أتاها الحيض وهي قد صامت ذلك اليوم فإن بعض النساء تظن أن الحيض إذا أتاها بعد فطرها قبل أن تصلي العشاء فسد صوم ذلك اليوم، وهذا لا أصل له بل إن الحيض إذا أتاها بعد الغروب ولو بلحظة فإن صومها تام وصحيح.[س 3] هل يجب على النفساء أن تصوم وتصلي إذا طهرت قبل الأربعين؟.[جـ3] نعم … متى طهرت النفساء قبل الأربعين فإنه يجب عليها أن تصوم إذا كان ذلك في رمضان، ويجب عليها أن تصلي، ويجوز لزوجها أن يجامعها، لأنها طاهر ليس فيها ما يمنع الصوم ولا ما يمنع وجوب الصلاة وإباحة الجماع.[س 4] إذا كانت المرأة عادتها الشهرية ثمانية أيام أو سبعة أيام ثم استمرت معها مرة أو مرتين أكثر من ذلك فما الحكم؟.[جـ4] إذا كانت عادة هذه المرأة ستة أيام أو سبعة ثم طالت هذه المدة وصارت ثمانية أو تسعة أو عشرة أو أحد عشر يوماً فإنها تبقى لا تصلي حتى تطهر وذلك لأن النبي صلى الله عليه وسلم لم يحد حدًّا معيناً في الحيض وقد قال الله تعالى: {وَيَسْأَلونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذىً} [البقرة: 222] فمتى كان
পবিত্রতা; কেননা যদি তা রমজান মাসে হয় তবে তার জন্য রোজা রাখা আবশ্যক এবং ওই দিনের রোজা সঠিক (صحيح) হবে এবং তার কাজা করার প্রয়োজন নেই; কারণ সে পবিত্র থাকা অবস্থায় রোজা রেখেছে। যদিও সে ফজর উদয়ের আগে গোসল না করে থাকে তবে এতে কোনো অসুবিধা নেই, ঠিক যেমন কোনো পুরুষ যদি সহবাস বা স্বপ্নদোষের কারণে অপবিত্র অবস্থায় থাকে এবং সে সাহরি গ্রহণ করে কিন্তু ফজর উদয়ের আগে গোসল না করে, তবে তার রোজা সঠিক (صحيح) হবে।এই প্রসঙ্গে আমি নারীদের আরেকটি বিষয়ে সতর্ক করতে চাই; যখন কোনো নারীর মাসিক শুরু হয় অথচ সে ওই দিন রোজা রেখেছে, তখন কিছু নারী মনে করে যে, ইফতারের পর কিন্তু এশার নামাজ পড়ার আগে যদি মাসিক শুরু হয় তবে ওই দিনের রোজা নষ্ট হয়ে গেছে। এর কোনো ভিত্তি নেই; বরং সূর্যাস্তের পর এক মুহূর্ত পরেও যদি মাসিক শুরু হয়, তবে তার রোজা পূর্ণ ও সঠিক (صحيح)।[প্রশ্ন ৩] নিফাসগ্রস্ত নারী যদি চল্লিশ দিনের আগে পবিত্র হয়ে যায়, তবে কি তার ওপর রোজা রাখা ও নামাজ পড়া ওয়াজিব?।[উত্তর ৩] হ্যাঁ … যখনই নিফাসগ্রস্ত নারী চল্লিশ দিনের আগে পবিত্র হবে, তখন যদি তা রমজান মাসে হয় তবে তার ওপর রোজা রাখা ওয়াজিব এবং তার ওপর নামাজ পড়া ওয়াজিব। আর তার স্বামীর জন্য তার সাথে সহবাস করা বৈধ; কারণ সে পবিত্র, তার মধ্যে এমন কোনো কারণ নেই যা রোজা রাখতে বাধা দেয় কিংবা নামাজের ওয়াজিব হওয়া এবং সহবাসের বৈধতাকে প্রতিরোধ করে।[প্রশ্ন ৪] যদি কোনো নারীর মাসিকের অভ্যাস আট দিন বা সাত দিন হয়, এরপর একবার বা দুইবার তার অভ্যাস এর চেয়ে বেশি দিন দীর্ঘ হয়, তবে এর বিধান কী?।[উত্তর ৪] যদি এই নারীর অভ্যাস ছয় বা সাত দিন হয়, এরপর এই সময়সীমা দীর্ঘ হয়ে আট, নয়, দশ বা এগারো দিন হয়ে যায়, তবে সে পবিত্র হওয়া পর্যন্ত নামাজ পড়া থেকে বিরত থাকবে। কেননা নবী (সা.) মাসিকের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করে দেননি। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তারা আপনার নিকট মাসিক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, তা হলো একপ্রকার কষ্ট} [আল-বাকারা: ২২২]। সুতরাং যতক্ষণ পর্যন্ত...
(খণ্ড: ৬০)
৬০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফি আহকামিল হায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১২১)
هذا الدم باقياً فإن المرأة على حالها حتى تطهر وتغتسل ثم تصلي، فإذا جاءها في الشهر الثاني ناقصاً عن ذلك فإنها تغتسل إذا طهرت وإن لم يكن على المدة السابقة، والمهم أن المرأة متى كان الحيض معها موجوداً فإنها لا تصلي سواء كان الحيض موافقاً للعادة السابقة، أو زائداً عنها، أو ناقصاً، وإذا طهرت تصلي.[س 5] المرأة النفساء هل تجلس أربعين يوماً لا تصلي ولا تصوم أم أن العبرة بانقطاع الدم عنها، فمتى انقطع تطهرت وصلت؟. وما هي أقل مدة للطهر؟.[جـ5] النفساء ليس لها وقت محدود بل متى كان الدم موجوداً جلست لم تصل ولم تصم ولم يجامعها زوجها، وإذا رأت الطهر ولو قبل الأربعين ولو لم تجلس إلا عشرة أيام أو خمسة أيام فإنها تصلي وتصوم ويجامعها زوجها ولا حرج في ذلك. والمهم أن النفاس أمر محسوس تتعلق الأحكام بوجوده أو عدمه، فمتى كان موجوداً ثبتت أحكامه، ومتى تطهرت منه تخلت من أحكامه، لكن لو زاد على الستين يوماً فإنها تكون مستحاضة تجلس ما وافق عادة حيضها فقط ثم تغتسل وتصلي.[س 6] إذا نزل من المرأة في نهار رمضان نقط دم يسيرة، واستمر معها هذا الدم طوال شهر رمضان وهي تصوم … فهل صومها صحيح؟.[جـ6] نعم … صومها صحيح، وأما هذه النقط فليست بشيء لأنها من العروق، وقد أثِر عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه أنه قال: إن هذه النقط التي تكون كرعاف الأنف ليس بحيض … هكذا يذكر عنه رضي الله عنه.
এই রক্ত অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত নারী একই অবস্থায় (অশুচি) থাকবে যতক্ষণ না সে পবিত্র হয় এবং গোসল করে সালাত আদায় করে। পরবর্তী মাসে যদি রক্ত এর চেয়ে কম সময় স্থায়ী হয়, তবে পবিত্র হওয়ার পর সে গোসল করবে, যদিও তা পূর্ববর্তী মেয়াদের সমান না হয়। মূল কথা হলো, যতক্ষণ ঋতুস্রাব বিদ্যমান থাকবে, ততক্ষণ সে সালাত আদায় করবে না; তা পূর্বের অভ্যাসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হোক, অথবা বেশি হোক কিংবা কম। আর যখন সে পবিত্র হবে, তখন সালাত আদায় করবে।[প্রশ্ন ৫] নেফাসগ্রস্ত (সন্তান প্রসব পরবর্তী রক্তস্রাব) নারী কি চল্লিশ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করবে এবং সালাত ও সিয়াম পালন থেকে বিরত থাকবে, নাকি রক্ত বন্ধ হওয়াটাই মূল বিবেচ্য বিষয়? অর্থাৎ রক্ত বন্ধ হওয়া মাত্রই কি সে পবিত্র হয়ে সালাত আদায় করবে? আর পবিত্রতার সর্বনিম্ন মেয়াদ কত?[উত্তর ৫] নেফাসগ্রস্ত নারীর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। বরং যতক্ষণ রক্ত বিদ্যমান থাকবে, সে অবস্থান করবে (অপেক্ষা করবে); সে সালাত আদায় করবে না, সিয়াম পালন করবে না এবং তার স্বামী তার সাথে সহবাস করবে না। যদি সে চল্লিশ দিনের পূর্বেই পবিত্রতা দেখতে পায়—এমনকি যদি দশ দিন বা পাঁচ দিন পরেই পবিত্র হয়ে যায়—তবে সে সালাত আদায় করবে, সিয়াম পালন করবে এবং তার স্বামী তার সাথে সহবাস করতে পারবে, এতে কোনো অসুবিধা নেই। মূল বিষয় হলো, নেফাস একটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয় যার বিধানাবলী এর উপস্থিতি বা অনুপস্থিতির সাথে সম্পৃক্ত। যতক্ষণ রক্ত বিদ্যমান থাকবে, ততক্ষণ এর বিধানসমূহ সাব্যস্ত হবে। আর যখনই সে এ থেকে পবিত্র হয়ে যাবে, তখন থেকে এর বিধানসমূহ চলে যাবে। তবে রক্ত যদি ষাট দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তবে সে রক্তপ্রদাহে আক্রান্ত (مستحاضة) হিসেবে গণ্য হবে; সেক্ষেত্রে সে কেবল তার স্বাভাবিক ঋতুস্রাবের মেয়াদে অবস্থান করবে, অতঃপর গোসল করে সালাত আদায় করবে।[প্রশ্ন ৬] রমজানের দিনে যদি কোনো নারীর সামান্য পরিমাণ রক্তবিন্দু নির্গত হয় এবং পুরো রমজান মাসজুড়েই তার সিয়াম পালন করা অবস্থায় এমনটা হতে থাকে … তবে কি তার সিয়াম শুদ্ধ হবে?[উত্তর ৬] হ্যাঁ … তার সিয়াম শুদ্ধ হবে। আর এই রক্তবিন্দুগুলো ধর্তব্য নয়, কারণ এগুলো শিরা থেকে নির্গত হয়। আলী ইবনে আবি তালিব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত (أثر) হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "নাক দিয়ে রক্ত পড়ার মতো এই রক্তবিন্দুগুলো ঋতুস্রাব নয়" … তাঁর থেকে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ৬০)
৬০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফি আহকামিল হায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১২২)
[س 7] إذا طهرت الحائض أو النفساء قبل الفجر ولم تغتسل إلا بعد الفجر هل يصح صومها أم لا؟.[جـ7] نعم … يصح صوم المرأة الحائض إذا طهرت قبل الفجر ولم تغتسل إلا بعد طلوع الفجر … وكذلك النفساء لأنها حينئذ من أهل الصوم، وهي شبيهة بمن عليه جنابة إذا طلع الفجر وهو جُنب فإن صومه يصح لقوله تعالى: {فَالْآنَ بَاشِرُوهُنَّ وَابْتَغُوا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمُ الْخَيْطُ الْأَبْيَضُ مِنَ الْخَيْطِ الْأَسْوَدِ مِنَ الْفَجْرِ} [البقرة: 187] وإذا أذن الله تعالى بالجماع إلى أن يتبين الفجر لزم من ذلك أن لا يكون الاغتسال إلا بعد طلوع الفجر، ولحديث عائشة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يصبح جنباً من جماع أهله وهو صائم، أي أنه عليه الصلاة والسلام لا يغتسل عن الجنابة إلا بعد طلوع الصبح.[س 8] إذا أحست المرأة بالدم ولم يخرج قبل الغروب، أو أحست بألم العادة هل يصح صيامها ذلك اليوم أم يجب عليها قضاؤه؟.[جـ8] إذا أحست المرأة الطاهرة بانتقال الحيض وهي صائمة ولكنه لم يخرج إلا بعد غروب الشمس، أو أحست بألم الحيض ولكنه لم يخرج إلا بعد غروب الشمس فإن صومها ذلك اليوم صحيح وليس عليها إعادته إذا كان فرضاً، ولا يبطل الثواب به إذا كان نفلاً.
[প্রশ্ন ৭] যদি ঋতুবতী (حائض) নারী অথবা প্রসূতি (نفساء) নারী ফজরের আগে পবিত্র হন এবং ফজরের পরেই কেবল গোসল করেন, তবে কি তাঁর রোজা সহিহ (صحيح) হবে কি না?[উত্তর ৭] হ্যাঁ … ঋতুবতী (حائض) নারীর রোজা সহিহ (صحيহ) হবে যদি তিনি ফজরের আগে পবিত্র হন এবং কেবল ফজর উদয়ের পরেই গোসল করেন … অনুরূপভাবে প্রসূতি (نفساء) নারীর ক্ষেত্রেও একই হুকুম, কারণ তিনি তখন রোজা পালনের যোগ্য। তাঁর অবস্থা সেই ব্যক্তির মতো যার উপর জানাবাত (جنابة) তথা অপবিত্রতা রয়েছে, এমতাবস্থায় ফজর উদিত হলে তিনি জুনুব (جنب) বা অপবিত্র অবস্থায় থাকেন, তবুও তাঁর রোজা সহিহ (صحيহ) হবে। কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {এখন তোমরা তাদের সাথে সহবাস করো এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছেন তা অন্বেষণ করো; আর পানাহার করো যতক্ষণ না ফজরের সাদা রেখা কালো রেখা থেকে স্পষ্ট হয়ে তোমাদের কাছে প্রতিভাত হয়} [বাকারা: ১৮৭]। আল্লাহ তাআলা যখন ফজর স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত সহবাসের অনুমতি দিয়েছেন, তখন এটি অনিবার্যভাবে প্রমাণিত হয় যে, গোসল ফজর উদয়ের পরেই হবে। এছাড়া আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত হাদিস থেকেও এটি প্রমাণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্ত্রীর সাথে সহবাসের কারণে জানাবাত (جنابة) অবস্থায় ভোরে উপনীত হতেন এমতাবস্থায় যে তিনি রোজা রাখতেন। অর্থাৎ তিনি (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) সুবহে সাদিক উদিত হওয়ার পরেই কেবল জানাবাত (جنابة) থেকে পবিত্র হওয়ার গোসল করতেন।[প্রশ্ন ৮] যদি নারী রক্ত অনুভব করেন কিন্তু সূর্যাস্তের আগে তা নির্গত না হয়, অথবা ঋতুস্রাবের ব্যথা অনুভব করেন, তবে কি সেই দিনের রোজা সহিহ (صحيح) হবে নাকি তাঁর জন্য কাজা (قضاء) করা ওয়াজিব (واجب) হবে?[উত্তর ৮] যদি কোনো পবিত্র নারী রোজা থাকা অবস্থায় হায়েজ (حيض) বা ঋতুস্রাবের স্থানান্তর অনুভব করেন কিন্তু সূর্যাস্তের আগে তা নির্গত না হয়, অথবা হায়েজ (حيض) বা মাসিক ঋতুস্রাবের ব্যথা অনুভব করেন কিন্তু সূর্যাস্তের আগে তা নির্গত না হয়, তবে তাঁর সেই দিনের রোজা সহিহ (صحيح)। রোজাটি ফরজ (فرض) হয়ে থাকলে তা পুনরায় করার প্রয়োজন নেই, আর নফল (نفل) হয়ে থাকলে এর সওয়াব বা প্রতিদান নষ্ট হবে না।
(খণ্ড: ৬০)
৬০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফি আহকামিল হায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১২৩)
[س 9] إذا رأت المرأة دماً ولم تجزم أنه دم حيض فما حكم صيامها ذلك اليوم؟.[جـ 9] صيامها ذلك اليوم صحيح؛ لأن الأصل عدم الحيض حتى يتبين لها أنه حيض.[س 10] أحياناً ترى المرأة أثراً يسيراً للدم أو نقطاً قليلة جداً متفرقة على ساعات اليوم … مرة تراه وقت العادة وهي لم تنزل، ومرة تراه في غير وقت العادة … فما حكم صيامها في كلتا الحالتين؟.[جـ 10] سبق الجواب على مثل هذا السؤال قريباً، لكن بقي أنه إذا كانت هذه النقط في أيام العادة وهي تعتبره من الحيض الذي تعرفه فإنه يكون حيضاً.[س 11] الحائض والنفساء هل تأكلان وتشربان في نهار رمضان؟.[جـ 11] نعم … تأكلان وتشربان في نهار رمضان لكن الأولى أن يكون ذلك سرًّا إذا كان عندها أحد من الصبيان في البيت لأن ذلك يوجب إشكالاً عندهم.[س 12] إذا طهرت الحائض أو النفساء وقت العصر هل تلزمها صلاة الظهر مع العصر أم لا يلزمها سوى العصر فقط؟.[جـ 12] القول الراجح في هذه المسألة أنه لا يلزمها إلا العصر فقط، لأنه لا دليل على وجوب صلاة الظهر، والأصل براءة الذمة، ثم إن النبي
[প্রশ্ন ৯] যদি কোনো নারী রক্ত দেখতে পায় এবং সেটি ঋতুস্রাব (حيض) কি না সে সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়, তবে ঐ দিন তার রোজা রাখার বিধান কী?[উত্তর ৯] ঐ দিন তার রোজা সঠিক (صحيح); কারণ মূল নীতি হলো ঋতুস্রাব (حيض) না থাকা, যতক্ষণ না এটি যে ঋতুস্রাব (حيض) তা তার কাছে স্পষ্ট হয়।[প্রশ্ন ১০] কখনো কখনো কোনো নারী রক্তের সামান্য চিহ্ন অথবা সারাদিনের বিভিন্ন সময়ে বিচ্ছিন্নভাবে খুব অল্প কিছু ফোঁটা দেখতে পায় … কখনো সে এটি অভ্যস্ত সময়ের মধ্যে দেখে অথচ তখনো ঋতুস্রাব শুরু হয়নি, আবার কখনো অভ্যস্ত সময় ছাড়াও অন্য সময়ে দেখে … এমতাবস্থায় উভয় ক্ষেত্রে তার রোজা রাখার বিধান কী?[উত্তর ১০] এ জাতীয় প্রশ্নের উত্তর ইতিপূর্বেই দেয়া হয়েছে। তবে কথা অবশিষ্ট থাকে যে, যদি এই ফোঁটাগুলো মাসিকের দিনগুলোতে দেখা যায় এবং সে এটিকে তার পরিচিত ঋতুস্রাব (حيض) হিসেবে গণ্য করে, তবে তা ঋতুস্রাব (حيض) হিসেবেই গণ্য হবে।[প্রশ্ন ১১] ঋতুবর্তী (حائض) এবং নিফাসগ্রস্ত (نفساء) নারী কি রমজানের দিনে পানাহার করতে পারবে?[উত্তর ১১] হ্যাঁ … তারা রমজানের দিনে পানাহার করতে পারবে, তবে বাড়িতে কোনো শিশু থাকলে এটি গোপনে করাই উত্তম; কারণ তা তাদের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।[প্রশ্ন ১২] যদি কোনো ঋতুবর্তী (حائض) বা নিফাসগ্রস্ত (نفساء) নারী আসরের সময় পবিত্র হয়, তবে কি তার ওপর আসরের সাথে জোহর আদায় করাও আবশ্যক হবে, নাকি কেবল আসর পড়াই যথেষ্ট?[উত্তর ১২] এই মাসআলায় বিশুদ্ধ (راجح) মত হলো, তার ওপর কেবল আসরের নামাজই আবশ্যক হবে। কারণ জোহর নামাজ ওয়াজিব হওয়ার কোনো দলিল নেই, আর মূল নীতি হলো দায়মুক্ত থাকা। তাছাড়া নবী...
(খণ্ড: ৬০)
৬০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফি আহকামিল হায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১২৪)
صلى الله عليه وسلّم قال: "من أدرك ركعة من العصر قبل أن تغرب الشمس فقد أدرك العصر"، ولم يذكر أنه أدرك الظهر، ولو كان الظهر واجباً لبيّنه النبي صلى الله عليه وسلم، ولأن المرأة لو حاضت بعد دخول وقت الظهر لم يلزمها إلا قضاء صلاة الظهر دون صلاة العصر مع أن الظهر تجمع إلى العصر، ولا فرق بينها وبين الصورة التي وقع السؤال عنها، وعلى هذا يكون القول الراجح أنه لا يلزمها إلا صلاة العصر فقط لدلالة النص والقياس عليها. وكذلك الشأن فيما لو طهرت قبل خروج وقت العشاء فإنه لا يلزمها إلا صلاة العشاء، ولا تلزمها صلاة المغرب.[س 13] بعض النساء اللاتي يجهضن لا يخلون من حالتين: إمَّا أن تجهض المرأة قبل تخلُّق الجنين، وإما أن تجهض بعد تخلقه وظهور التخطيط فيه، فما حكم صيامها ذلك اليوم الذي أجهضت فيه وصيام الأيام التي ترى فيها الدم؟.[جـ 13] إذا كان الجنين لم يُخلَّق فإن دمها هذا ليس دم نفاس، وعلى هذا فإنها تصوم وتصلي وصيامها صحيح، وإذا كان الجنين قد خُلّق فإن الدم دم نفاس لا يحل لها أن تصلي فيه، ولا أن تصوم، والقاعدة في هذه المسألة أو الضابط فيها أنه إذا كان الجنين قد خلق فالدم دم نفاس، وإذا لم يخلّق فليس الدم دم نفاس، وإذا كان الدم دم نفاس فإنه يحرم عليها ما يحرم على النفساء، وإذا كان غير دم النفاس فإنه لا يحرم عليها ذلك.
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের এক রাকাত পেল, সে আসর পেল।" তিনি উল্লেখ করেননি যে সে জোহর পেল। যদি জোহর ওয়াজিব হতো, তবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তা স্পষ্ট করে দিতেন। কারণ কোনো মহিলার যদি জোহরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর ঋতুস্রাব শুরু হয়, তবে তার জন্য কেবল জোহর সালাত কাজা করা আবশ্যক হয়, আসর নয়; যদিও জোহর ও আসর একত্রে জমা করা যায়। আর এই মাসআলা এবং যে বিষয়টি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছে তার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এর ভিত্তিতে অধিক গ্রহণযোগ্য (الراجح) মত হলো এই যে, দলিল (النص) এবং কিয়াসের (القياس) প্রমাণ অনুযায়ী তার ওপর কেবল আসর সালাতই আবশ্যক হবে। অনুরূপভাবে, সে যদি এশার ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পূর্বে পবিত্র হয়, তবে তার ওপর কেবল এশা সালাতই আবশ্যক হবে, মাগরিব সালাত আবশ্যক হবে না。[প্রশ্ন ১৩] গর্ভপাত হওয়া কিছু মহিলার অবস্থা দুই ধরনের হতে পারে: হয় ভ্রূণ গঠিত হওয়ার পূর্বে গর্ভপাত হয়, অথবা ভ্রূণ গঠন এবং তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রকাশের পর গর্ভপাত হয়। এমতাবস্থায় যে দিনে তার গর্ভপাত হয়েছে সেই দিনের রোজা এবং যেসব দিনে সে রক্ত দেখে সেই দিনগুলোর রোজার বিধান কী?[উত্তর ১৩] যদি ভ্রূণ গঠিত না হয়ে থাকে, তবে এই রক্ত নেফাসের রক্ত নয়। এমতাবস্থায় সে রোজা রাখবে ও সালাত আদায় করবে এবং তার রোজা সহিহ (صحيح) হবে। আর যদি ভ্রূণ গঠিত হয়ে থাকে, তবে সেই রক্ত নেফাসের রক্ত; এমতাবস্থায় তার জন্য সালাত আদায় করা এবং রোজা রাখা হালাল নয়। এই মাসআলার মূলনীতি বা নিয়ম হলো, যদি ভ্রূণ গঠিত হয় তবে সেই রক্ত নেফাসের রক্ত, আর যদি ভ্রূণ গঠিত না হয় তবে সেই রক্ত নেফাসের রক্ত নয়। রক্ত যদি নেফাসের হয় তবে নেফাসওয়ালী মহিলার জন্য যা হারাম, তার জন্যও তা হারাম হবে। আর যদি নেফাস বহির্ভূত রক্ত হয় তবে তার ওপর তা হারাম হবে না।
(খণ্ড: ৬০)
৬০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফি আহকামিল হায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১২৫)
[س 14] نزول الدم من الحامل في نهار رمضان هل يؤثر على صومها؟.[جـ 14] إذا خرج دم الحيض والأنثى صائمة فإن صومها يفسد، لقول النبي صلى الله عليه وسلم: "أليس إذا حاضت لم تصل ولم تصم" ولهذا نعده من المفطرات والنفاس مثله، وخروج دم الحيض والنفاس مفسد للصوم … ونزول الدم من الحامل في نهار رمضان إذا كان حيضاً فإنه كحيض غير الحامل أي يؤثر على صومها، وإن لم يكن حيضاً فإنه لا يؤثر، والحيض الذي يمكن أن يقع من الحامل هو أن يكون حيضاً مطرداً لم ينقطع عنها منذ حملت بل كان يأتيها في أوقاتها المعتادة فهذا حيض على القول الراجح يثبت له أحكام الحيض، أما إذا انقطع الدم عنها ثم صارت بعد ذلك ترى دماً ليس هو الدم المعتاد فإن هذا لا يؤثر على صيامها لأنه ليس بحيض.[س 15] إذا رأت المرأة في زمن عادتها يوماً دماً والذي يليه لا ترى الدم طيلة النهار … فماذا عليها أن تفعل؟.[جـ 15] الظاهر أن هذا الطهر أو اليبوسة التي حصلت لها في أيام حيضها تابع للحيض فلا يعتبر طهراً، وعلى هذا فتبقى ممتنعة مما تمتنع منه الحائض، وقال بعض أهل العلم: من كانت ترى يوماً دماً ويوماً نقاءً، فالدم حيض، والنقاء طهر حتى يصل إلى خمسة عشر يوماً فإذا وصل إلى خمسة عشر يوماً صار ما بعده دم استحاضة، وهذا هو المشهور من مذهب الإمام أحمد بن حنبل رحمه الله.
[প্রশ্ন ১৪] রমজানের দিনে গর্ভবতী মহিলার রক্তপাত কি তার রোজার ওপর প্রভাব ফেলে?[উত্তর ১৪] যদি ঋতুস্রাবের (حيض) রক্ত নির্গত হয় এবং মহিলাটি রোজা অবস্থায় থাকে, তবে তার রোজা নষ্ট হয়ে যায়। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীর কারণে: "সে যখন ঋতুবতী হয়, তখন কি সে সালাত ও সিয়াম ত্যাগ করে না?" এ কারণেই আমরা একে রোজা ভঙ্গকারী বিষয়গুলোর (المفطرات) অন্তর্ভুক্ত করি এবং নিফাসও (النفاس) এর অনুরূপ। আর ঋতুস্রাব (حيض) ও নিফাসের (النفاس) রক্ত নির্গত হওয়া রোজা বিনষ্টকারী... রমজানের দিনে গর্ভবতী মহিলার রক্তপাত যদি ঋতুস্রাব (حيض) হয়, তবে তা গর্ভবতী নয় এমন মহিলার ঋতুস্রাবের মতোই, অর্থাৎ এটি তার রোজার ওপর প্রভাব ফেলবে। আর যদি তা ঋতুস্রাব (حيض) না হয়, তবে তা প্রভাব ফেলবে না। গর্ভবতী মহিলার ক্ষেত্রে যে ঋতুস্রাব (حيض) হওয়া সম্ভব, তা হলো এমন রক্ত যা তার গর্ভধারণের সময় থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে নিয়মিতভাবে প্রবাহিত হচ্ছে এবং তার নির্ধারিত সময়েই তা আসত। তবে এটিই অধিক গ্রহণযোগ্য (الراجح) মতানুসারে ঋতুস্রাব (حيض) হিসেবে গণ্য হবে এবং এর ওপর ঋতুস্রাবের বিধানাবলি কার্যকর হবে। পক্ষান্তরে, যদি তার রক্ত আসা বন্ধ হয়ে যায় এবং পরবর্তীতে সে এমন রক্ত দেখে যা নিয়মিত ঋতুস্রাব নয়, তবে তা তার রোজার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না, কারণ এটি ঋতুস্রাব (حيض) নয়।[প্রশ্ন ১৫] যদি কোনো মহিলা তার ঋতুর দিনগুলোতে একদিন রক্ত দেখে এবং তার পরের দিন সারা দিন রক্ত না দেখে... তবে তার করণীয় কী?[উত্তর ১৫] বাহ্যত (الظاهر) প্রতীয়মান হয় যে, ঋতুস্রাবের দিনগুলোতে তার যে পবিত্রতা (طهر) বা শুষ্কতা পরিলক্ষিত হয়েছে, তা ঋতুস্রাবেরই (حيض) অনুবর্তী, তাই একে পবিত্রতা (طهر) হিসেবে গণ্য করা হবে না। এই ভিত্তিতে, সে ঐসব কাজ থেকে বিরত থাকবে যা থেকে একজন ঋতুবতী (حائض) মহিলা বিরত থাকেন। কোনো কোনো আলেম (أهل العلم) বলেছেন: যে ব্যক্তি একদিন রক্ত এবং একদিন পরিচ্ছন্নতা দেখে, তবে রক্ত হচ্ছে ঋতুস্রাব (حيض) এবং পরিচ্ছন্ন থাকা হচ্ছে পবিত্রতা (طهر), যতক্ষণ না তা পনেরো দিন পর্যন্ত পৌঁছায়। যখন তা পনেরো দিন পূর্ণ করবে, তখন এর পরবর্তী রক্ত ইস্তিহাজা (استحاضة) হিসেবে গণ্য হবে। এটি ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাবের প্রসিদ্ধ (المشهور) অভিমত।
(খণ্ড: ৬০)
৬০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফি আহকামিল হায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১২৬)
[س 16] في الأيام الأخيرة من الحيض وقبل الطهر لا ترى المرأة أثراً للدم، هل تصوم ذلك اليوم وهي لم تر القصة البيضاء أم ماذا تصنع؟.[جـ 16] إذا كان من عادتها ألا ترى القصة البيضاء كما يوجد في بعض النساء فإنها تصوم، وإن كان من عادتها أن ترى القصة البيضاء فإنه لا تصوم حتى ترى القصة البيضاء.[س 17] ما حكم قراءة الحائض والنفساء للقرآن نظراً وحفظاً في حالة الضرورة كأن تكون طالبة أو معلمة؟.[جـ 17] لا حرج على المرأة الحائض أو النفساء في قراءة القرآن إذا كان لحاجة، كالمرأة المعلمة، أو الدارسة التي تقرأ وردها في ليل أو نهار، وأما القراءة أعني قراءة القرآن لطلب الأجر وثواب التلاوة فالأفضل ألا تفعل لأن كثيراً من أهل العلم أو أكثرهم يرون أن الحائض لا يحل لها قراءة القرآن.[س 18] هل يلزم الحائض تغيير ملابسها بعد طهرها مع العلم أنه لم يصبها دم ولا نجاسة؟.[جـ 18] لا يلزمها ذلك؛ لأن الحيض لا ينجس البدن وإنما دم الحيض ينجس ما لاقاه فقط، ولهذا أمر النبي صلى الله عليه وسلم النساء إذا أصاب ثيابهن دم حيض أن يغسلنه ويصلين في ثيابهن.
[প্রশ্ন ১৬] ঋতুস্রাবের শেষ দিনগুলোতে এবং পবিত্র হওয়ার পূর্বে যদি কোনো নারী রক্তের কোনো চিহ্ন দেখতে না পায়, তবে সে কি সেই দিন রোজা রাখবে অথচ সে তখনও সাদা স্রাব দেখেনি, নাকি সে কী করবে?[উত্তর ১৬] যদি সেই নারীর অভ্যাস এমন হয় যে সে সাদা স্রাব দেখে না—যেমনটি কিছু নারীর ক্ষেত্রে হয়ে থাকে—তবে সে রোজা রাখবে। আর যদি তার অভ্যাস সাদা স্রাব দেখার হয়ে থাকে, তবে সে সাদা স্রাব না দেখা পর্যন্ত রোজা রাখবে না।[প্রশ্ন ১৭] ঋতুবতী এবং নেফাসগ্রস্ত নারীর জন্য প্রয়োজনে দেখে কিংবা মুখস্থ থেকে কুরআন পাঠ করার বিধান কী, যেমনটি কোনো ছাত্রী বা শিক্ষিকার ক্ষেত্রে হতে পারে?[উত্তর ১৭] ঋতুবতী বা নেফাসগ্রস্ত নারীর জন্য প্রয়োজনে কুরআন পাঠ করায় কোনো দোষ নেই। যেমন কোনো শিক্ষিকা কিংবা এমন শিক্ষার্থী যে দিনে বা রাতে তার নিয়মিত ওজিফা পাঠ করে। তবে নিছক সওয়াব ও তিলাওয়াতের প্রতিদান লাভের উদ্দেশ্যে কুরআন পাঠ করার ক্ষেত্রে উত্তম হলো তা না করা। কারণ অনেক আলেম বা তাঁদের অধিকাংশের মতে ঋতুবতী নারীর জন্য কুরআন পাঠ করা বৈধ নয়।[প্রশ্ন ১৮] ঋতুবতী নারী পবিত্র হওয়ার পর তার পোশাক পরিবর্তন করা কি আবশ্যক, যদিও জানা থাকে যে সেই পোশাকে কোনো রক্ত বা অপবিত্রতা লাগেনি?[উত্তর ১৮] তার জন্য এটি আবশ্যক নয়; কারণ ঋতুস্রাব শরীরকে অপবিত্র করে না, বরং ঋতুস্রাবের রক্ত কেবল তার সংস্পর্শে আসা স্থানকেই অপবিত্র করে। এই কারণেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, যদি তাদের পোশাকে ঋতুস্রাবের রক্ত লাগে তবে তারা যেন তা ধুয়ে ফেলে এবং সেই পোশাকেই সালাত আদায় করে।
(খণ্ড: ৬০)
৬০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফি আহকামিল হায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১২৭)
[س 19] سائل يسأل: امرأة أفطرت في رمضان سبعة أيام وهي نفساء، ولم تقضِ حتى أتاها رمضان الثاني وطافها من رمضان الثاني سبعة أيام وهي مرضع ولم تقض بحجة مرض عندها، فماذا عليها وقد أوشك دخول رمضان الثالث؟. أفيدونا أثابكم الله؟.[جـ 19] إذا كانت هذه المرأة كما ذكرت عن نفسها أنها في مرض ولا تستيطع القضاء فإنها متى استطاعت صامته لأنها معذورة حتى ولو جاء رمضان الثاني، أما إذا كان لا عذر لها وإنما تتعلل وتتهاون فإنه لا يجوز لها أن تؤخر قضاء رمضان إلى رمضان الثاني، قالت عائشة رضي الله عنها كان يكون عليّ الصوم فما أستطيع أن أقضيه إلا في شعبان وعلى هذا فعلى هذه المرأة أن تنظر في نفسها إذا كان لا عذر لها فهي آثمة، وعليها أن تتوب إلى الله، وأن تبادر بقضاء ما في ذمتها من الصيام، وإن كانت معذورة فلا حرج عليها ولو تأخرت سنة أو سنتين.[س 20] بعض النساء يدخل عليهن رمضان الثاني وهن لم يصمن أياماً من رمضان السابق فما الواجب عليهن؟.[جـ 20] الواجب عليهن التوبة إلى الله من هذا العمل، لأنه لا يجوز لمن عليه قضاء رمضان أن يؤخره إلى رمضان الثاني بلا عذر لقول عائشة رضي الله عنه: كان يكون عليّ الصوم من رمضان فما أستطيع أن أقضيه إلا في شعبان، وهذا يدل على أنه لا يمكن تأخيره إلى ما بعد رمضان الثاني … فعليها أن تتوب إلى الله عز وجل مما صنعت وأن تقضي الأيام التي تركتها بعد رمضان الثاني.
[স ১৯] জনৈক প্রশ্নকারী জিজ্ঞাসা করছেন: এক মহিলা রমজানে সাত দিন রোজা ভঙ্গ করেছেন যখন তিনি নিফাস বা প্রসবোত্তর রক্তস্রাবগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন, এবং দ্বিতীয় রমজান আসা পর্যন্ত তিনি তা কাজা করেননি। পুনরায় দ্বিতীয় রমজানেও তিনি স্তন্যদানকারী অবস্থায় অসুস্থতার অজুহাতে সাত দিন রোজা ছেড়ে দিয়েছেন এবং তাও কাজা করেননি। এমতাবস্থায় যখন তৃতীয় রমজান সমাগতপ্রায়, তখন তার করণীয় কী? আমাদের জানান, আল্লাহ আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।[জ ১৯] যদি বিষয়টি এমন হয় যেমনটি এই মহিলা নিজের সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি অসুস্থ এবং কাজা পালনে সক্ষম নন, তবে যখনই তিনি সক্ষম হবেন তখন তিনি সেই রোজাগুলো রাখবেন; কারণ তিনি ওজরগ্রস্ত, এমনকি যদি দ্বিতীয় রমজান এসেও যায়। কিন্তু যদি তার কোনো ওজর না থাকে বরং তিনি কেবল টালবাহানা ও অবহেলা করেন, তবে তার জন্য রমজানের কাজা পরবর্তী রমজান পর্যন্ত বিলম্বিত করা বৈধ নয়। আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন: "আমার ওপর রোজার কাজা থাকত যা আমি শাবান মাস ছাড়া আদায় করতে পারতাম না।" এর ভিত্তিতে, এই মহিলাকে নিজের অবস্থা বিবেচনা করতে হবে; যদি তার কোনো ওজর না থাকে তবে তিনি গুনাহগার, এবং তার ওপর আবশ্যক আল্লাহর নিকট তওবা করা এবং তার জিম্মায় থাকা রোজাগুলো দ্রুত কাজা সম্পন্ন করা। আর যদি তিনি ওজরগ্রস্ত হন, তবে এক বা দুই বছর দেরি হলেও তার কোনো গুনাহ নেই।[স ২০] কিছু মহিলার ওপর দ্বিতীয় রমজান চলে আসে অথচ তারা পূর্ববর্তী রমজানের দিনগুলোর রোজা কাজা করেননি, তাদের ওপর ওয়াজিব কী?[জ ২০] তাদের ওপর ওয়াজিব হলো এই আচরণের জন্য আল্লাহর নিকট তওবা করা, কারণ যার ওপর রমজানের কাজা বাকি আছে তার জন্য ওজর ব্যতীত পরবর্তী রমজান পর্যন্ত তা বিলম্বিত করা বৈধ নয়। আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর উক্তি অনুযায়ী: "আমার ওপর রমজানের রোজা বাকি থাকত যা আমি শাবান মাস ছাড়া কাজা করতে পারতাম না।" এটি প্রমাণ করে যে, দ্বিতীয় রমজানের পরবর্তী সময় পর্যন্ত তা বিলম্বিত করা সম্ভব নয় … সুতরাং তিনি যা করেছেন তার জন্য মহান আল্লাহর নিকট তওবা করা এবং দ্বিতীয় রমজানের পর অবশিষ্ট দিনগুলো কাজা করা তার ওপর আবশ্যক।
(খণ্ড: ৬০)
৬০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফি আহকামিল হায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১২৮)
[س 21] إذا حاضت المرأة الساعة الواحدة ظهراً مثلاً وهي لم تصل بعد صلاة الظهر هل يلزمها قضاء تلك الصلاة بعد الطهر؟.[جـ 21] في هذا خلاف بين العلماء، فمنهم من قال: إنه لا يلزمها أن تقضي هذه الصلاة؛ لأنها لم تفرّط ولم تأثم حيث إنه يجوز لها أن تؤخر الصلاة إلى آخر وقتها، ومنهم من قال: إنه يلزمها القضاء أي قضاء تلك الصلاة لعموم قوله صلى الله عليه وسلم: "من أدرك ركعة من الصلاة فقد أدرك الصلاة" والاحتياط لها أن تقضيها لأنها صلاة واحدة لا مشقة في قضائها.[س 22] إذا رأت الحامل دماً قبل الولادة بيوم أو يومين فهل تترك الصوم والصلاة من أجله أم ماذا؟.[جـ 22] إذا رأت الحامل الدم قبل الولادة بيوم أو يومين ومعها طلق فإنه نفاس تترك من أجله الصلاة والصيام، وإذا لم يكن معه طلق فإنه دم فساد لا عبرة فيه ولا يمنعها من صيام ولا صلاة.[س 23] ما رأيك في تناول حبوب منع الدورة الشهرية من أجل الصيام مع الناس؟.[جـ 23] أنا أحذِّر من هذا … وذلك لأن هذه الحبوب فيها مضرة عظيمة، ثبت عندي ذلك عن طريق الأطباء، ويقال للمرأة: هذا شيء كتبه الله على بنات آدم فاقنعي بما كتب الله عز وجل وصومي حيث لا مانع، وإذا وجد المانع فافطري رضاءً بما قدَّر الله عز وجل.
[স ২১] যদি কোনো নারী দুপুর একটার সময় ঋতুবর্তী হন—উদাহরণস্বরূপ—অথচ তিনি তখনও জোহরের নামাজ আদায় করেননি, তবে কি পবিত্র হওয়ার পর তাঁর ওপর সেই নামাজের কাজা আদায় করা আবশ্যক হবে?[জ ২১] এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ (اختلاف) রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: তাঁর ওপর এই নামাজের কাজা করা আবশ্যক নয়; কারণ তিনি কোনো অবহেলা করেননি এবং গুনাহগারও হননি, যেহেতু নামাজের শেষ ওয়াক্ত পর্যন্ত নামাজ বিলম্বিত করা তাঁর জন্য বৈধ ছিল। আবার তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: তাঁর ওপর কাজা অর্থাৎ সেই নামাজের কাজা করা আবশ্যক; কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর সাধারণ (عموم) অর্থ হলো: "যে ব্যক্তি নামাজের এক রাকাত পেল, সে নামাজ পেল।" তবে তাঁর জন্য সতর্কতা (احتياط) হলো নামাজটি কাজা করে নেওয়া, কারণ এটি মাত্র এক ওয়াক্তের নামাজ এবং তা কাজা করার মধ্যে কোনো বিশেষ কষ্ট নেই।[স ২২] যদি কোনো গর্ভবতী নারী সন্তান প্রসবের একদিন বা দুদিন আগে রক্ত দেখতে পান, তবে কি তিনি এর কারণে সিয়াম ও নামাজ বর্জন করবেন, নাকি অন্য কিছু করবেন?[জ ২২] যদি গর্ভবতী নারী সন্তান প্রসবের একদিন বা দুদিন আগে রক্ত দেখেন এবং সাথে প্রসব বেদনা থাকে, তবে তা নিফাস (نفاس) হিসেবে গণ্য হবে যার কারণে তিনি নামাজ ও সিয়াম বর্জন করবেন। আর যদি এর সাথে প্রসব বেদনা না থাকে, তবে তা নষ্ট রক্ত (دم فساد) হিসেবে গণ্য হবে যার কোনো ধর্তব্য নেই এবং তা তাঁকে সিয়াম বা নামাজ থেকে বিরত রাখবে না।[স ২৩] মানুষের সাথে সিয়াম পালনের উদ্দেশ্যে ঋতুস্রাব বন্ধ রাখার বড়ি সেবন করার বিষয়ে আপনার অভিমত কী?[জ ২৩] আমি এ বিষয়ে সতর্ক করছি … কারণ এই বড়িগুলোতে ব্যাপক ক্ষতি রয়েছে, যা চিকিৎসকদের মাধ্যমে আমার নিকট প্রমাণিত হয়েছে। নারীদের উদ্দেশ্যে বলা হয়: এটি এমন এক বিষয় যা আল্লাহ আদম-কন্যাদের জন্য লিখে দিয়েছেন। অতএব, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা যা নির্ধারণ করেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকুন এবং যতক্ষণ কোনো বাধা না থাকে ততক্ষণ সিয়াম পালন করুন। আর যখন বাধা উপস্থিত হয়, তখন আল্লাহর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে সিয়াম ভঙ্গ করুন।
(খণ্ড: ৬০)
৬০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফি আহকামিল হায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১২৯)
[س 24] يقول السائل: امرأة بعد شهرين من النفاس وبعد أن طهرت بدأت تجد بعض النقاط الصغيرة من الدم. فهل تفطر ولا تصلي؟. أم ماذا تفعل؟.[جـ 24] مشاكل النساء في الحيض والنفاس بحر لا ساحل له، ومن أسبابه استعمال هذه الحبوب المانعة للحمل والمانعة للحيض، وما كان الناس يعرفون مثل هذه الإشكالات الكثيرة، صحيح أن الإشكال مازال موجوداً من بعثة الرسول صلى الله عليه وسلم بل منذ وجد النساء، ولكن كثرته على هذا الوجه الذي يقف الإنسان حيران في حل مشاكله أمر يؤسف له، ولكن القاعدة العامة أن المرأة إذا طهرت ورأت الطهر المتيقن في الحيض وفي النفاس وأعني الطهر في الحيض خروج القصة البيضاء، وهو ماء أبيض تعرفه النساء فما بعد الطهر من كدرة، أو صفرة، أو نقطة، أو رطوبة، فهذا كله ليس بحيض، فلا يمنع من الصلاة، ولا يمنع من الصيام، ولا يمنع من جماع الرجل لزوجته، لأنه ليس بحيض. قالت أم عطية: كنا لا نعد الصفرة والكدرة شيئاً. [أخرجه البخاري، وزاد أبو داود بعد الطهر وسنده صحيح] .وعلى هذا نقول: كل ما حدث بعد الطهر المتيقن من هذه الأشياء فإنها لا تضر المرأة ولا تمنعها من صلاتها وصيامها ومباشرة زوجها إياها. ولكن يجب أن لا تتعجل حتى ترى الطهر، لأن بعض النساء إذا جف الدم عنها بادرت واغتسلت قبل أن ترى الطهر، ولهذا كان نساء الصحابة يبعثن إلى أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها بالكرسف - يعني القطن - فيه الدم فتقول لهن: لا تعجلن حتى ترين القصة البيضاء.
[প্রশ্ন ২৪] প্রশ্নকারী বলছেন: নিফাসের (প্রসবোত্তর স্রাব) দুই মাস অতিবাহিত হওয়ার পর এবং পবিত্র হওয়ার পর একজন মহিলা সামান্য কিছু রক্তের ফোঁটা দেখতে পাচ্ছেন। তিনি কি সিয়াম পালন থেকে বিরত থাকবেন এবং সালাত আদায় করবেন না? নাকি তিনি কী করবেন?[উত্তর ২৪] হায়েজ (ঋতুস্রাব) এবং নিফাস (প্রসবোত্তর স্রাব) বিষয়ে নারীদের সমস্যাবলি কূলহীন সমুদ্রের মতো। এর অন্যতম কারণ হলো গর্ভনিরোধক এবং ঋতুস্রাব রোধকারী এই বড়িগুলোর ব্যবহার। ইতিপূর্বে মানুষ এত অধিক সমস্যার সম্মুখীন হতো না। এটা সত্য যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রেরণের সময় থেকেই, বরং নারীদের সৃষ্টিলগ্ন থেকেই এই সমস্যা বিদ্যমান, কিন্তু বর্তমানকালে এটি এমন এক রূপ ধারণ করেছে যে মানুষ এর সমাধানে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে, যা অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। তবে মূলনীতি হলো, নারী যখন পবিত্র হবে এবং হায়েজ ও নিফাস থেকে নিশ্চিত পবিত্রতা প্রত্যক্ষ করবে—হায়েজের ক্ষেত্রে নিশ্চিত পবিত্রতা বলতে আমি 'আল-কাসসাতুল বায়দা' (শ্বেতস্রাব) নির্গত হওয়াকে বুঝাচ্ছি, যা নারীদের নিকট পরিচিত—অতঃপর পবিত্রতা অর্জনের পর ঘোলাটে ভাব, হলদেটে ভাব, ফোঁটা কিংবা আর্দ্রতা যা-ই আসুক না কেন, তা হায়েজ বলে গণ্য হবে না। সুতরাং এটি সালাত আদায়ে বাধা দিবে না, সিয়াম পালনে বিঘ্ন ঘটাবে না এবং স্বামীর সাথে মেলামেশায়ও বাধা হবে না; কারণ এটি হায়েজ নয়। উম্মে আতিয়্যাহ (রা.) বলেন: "আমরা হলদেটে ও ঘোলাটে বর্ণকে কিছুই গণ্য করতাম না।" [বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন এবং আবু দাউদ 'পবিত্রতার পর' কথাটি বৃদ্ধি করেছেন; এর সনদ বিশুদ্ধ (صحيح)]।এর ওপর ভিত্তি করে আমরা বলি: নিশ্চিত পবিত্রতা লাভের পর এ ধরনের যা কিছু ঘটবে, তা নারীর জন্য কোনো ক্ষতির কারণ হবে না এবং তাকে সালাত, সিয়াম ও স্বামীর সাথে মেলামেশা থেকে বিরত রাখবে না। তবে পবিত্রতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাড়াহুড়ো করা ঠিক নয়; কারণ কিছু নারী রক্ত বন্ধ হয়ে গেলেই পবিত্রতা দেখার আগেই গোসল করে ফেলে। একারণে সাহাবীগণের মহিলারা উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রা.)-এর নিকট রক্ত মিশ্রিত 'কুরসুফ'—অর্থাৎ তুলা—পাঠাতেন, তখন তিনি তাঁদের বলতেন: "তোমরা 'আল-কাসসাতুল বায়দা' (সাদা স্রাব) না দেখা পর্যন্ত তাড়াহুড়ো করো না।"
(খণ্ড: ৬০)
৬০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফি আহকামিল হায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১৩০)
[س 25] بعض النساء يستمر معهن الدم وأحياناً ينقطع يوماً أو يومين ثم يعود … فما الحكم في هذه الحالة بالنسبة للصوم والصلاة وسائر العبادات؟.[جـ 25] المعروف عند كثير من أهل العلم أن المرأة إذا كان لها عادة وانقضت عادتها فإنها تغتسل وتصلي وتصوم وما تراه بعد يومين أو ثلاثة ليس بحيض؛ لأن أقل الطهر عند هؤلاء العلماء ثلاثة عشر يوماً، وقال بعض أهل العلم: إنها متى رأت الدم فهو حيض ومتى طهرت منه فهي طاهر، وإن لم يكن بين الحيضتين ثلاثة عشر يوماً.[س 26] أيهما أفضل للمرأة أن تصلي في ليالي رمضان في بيتها أم في المسجد وخصوصاً إذا كان فيه مواعظ وتذكير، وما توجيهك للنساء اللاتي يصلين في المساجد؟.[جـ 26] الأفضل أن تصلي في بيتها لعموم قول النبي صلى الله عليه وسلم: "وبيوتهن خير لهن" ولأن خروج النساء لا يسلم من فتنة في كثير من الأحيان، فكون المرأة تبقى في بيتها خير لها من أن تخرج للصلاة في المسجد، والمواعظ والحديث يمكن أن تحصل عليها بواسطة الشريط، وتوجيهي للاتي يصلين في المسجد أن يخرجن من بيوتهن غير متبرجات بزينة ولا متطيبات.[س 27] ما حكم ذوق الطعام في نهار رمضان والمرأة صائمة؟.[جـ 27] حكمه لا بأس به لدعاء الحاجة إليه، ولكنها تلفظ ما ذاقته.
[প্রশ্ন ২৫] কিছু মহিলার ক্ষেত্রে রক্তপাত চলতে থাকে এবং মাঝেমধ্যে একদিন বা দুদিন বন্ধ থেকে পুনরায় ফিরে আসে … এমতাবস্থায় রোজা, নামাজ এবং অন্যান্য ইবাদতের বিধান কী?.[উত্তর ২৫] অনেক আলেমদের নিকট প্রসিদ্ধ অভিমত হলো, মহিলার যদি নির্দিষ্ট মাসিক অভ্যাস (عادة) থাকে এবং সেই অভ্যাসের সময়কাল অতিবাহিত হয়ে যায়, তবে সে গোসল করবে এবং নামাজ ও রোজা পালন করবে। এর দু-তিন দিন পর সে যা দেখবে তা ঋতুস্রাব (حيض) নয়; কারণ এই আলেমদের মতে দুই ঋতুর মধ্যবর্তী সর্বনিম্ন পবিত্রতার (طهر) মেয়াদ হলো তেরো দিন। আবার কিছু আলেম বলেছেন, যখনই সে রক্ত দেখবে সেটিই ঋতুস্রাব (حيض) এবং যখনই তা বন্ধ হবে তখনই সে পবিত্র (طاهر), যদিও দুই ঋতুস্রাবের মধ্যবর্তী সময় তেরো দিন পূর্ণ না হয়।[প্রশ্ন ২৬] একজন মহিলার জন্য রমজানের রাতে নিজের ঘরে নামাজ পড়া উত্তম নাকি মসজিদে, বিশেষ করে যেখানে নসিহত ও দ্বীনি আলোচনা হয়? আর যারা মসজিদে নামাজ পড়তে যান সেসব মহিলাদের প্রতি আপনার নির্দেশনা কী?.[উত্তর ২৬] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাধারণ বাণী: "তাদের ঘরই তাদের জন্য উত্তম" এর প্রেক্ষিতে মহিলার জন্য ঘরে নামাজ পড়াই উত্তম। কারণ মহিলাদের বাইরে বের হওয়ার বিষয়টি অনেক সময় ফিতনা (فتنة) থেকে মুক্ত থাকে না। তাই মসজিদে নামাজের জন্য বের হওয়ার চেয়ে মহিলার নিজের ঘরে অবস্থান করাই তার জন্য অধিক কল্যাণকর। আর নসিহত ও আলোচনা রেকর্ডকৃত অডিওর মাধ্যমেও অর্জন করা সম্ভব। যারা মসজিদে নামাজ পড়তে যান তাদের প্রতি আমার নির্দেশনা হলো, তারা যেন সৌন্দর্য প্রদর্শনকারী (متبرجات) সাজসজ্জা বা সুগন্ধি (متطيبات) ব্যবহার না করে ঘর থেকে বের হন।[প্রশ্ন ২৭] রমজানে দিনের বেলা রোজা রাখা অবস্থায় মহিলার জন্য খাবারের স্বাদ গ্রহণ করার বিধান কী?.[উত্তর ২৭] প্রয়োজনে এটি করাতে কোনো দোষ নেই, তবে যা চেখে দেখা হয়েছে তা মুখ থেকে ফেলে দিতে হবে।
(খণ্ড: ৬০)
৬০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফি আহকামিল হায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১৩১)
[س 28] امرأة أصيبت في حادثة وكانت في بداية الحمل فأسقطت الجنين إثر نزيف حاد فهل يجوز لها أن تفطر أم تواصل الصيام وإذا أفطرت فهل عليها إثم؟.[جـ 28] نقول: إن الحامل لا تحيض كما قال الإمام أحمد "إنما تعرف النساء الحمل بانقطاع الحيض" والحيض كما قال أهل العلم خلقه الله تبارك وتعالى لحكمة: غذاء الجنين في بطن أمه، فإذا نشأ الحمل انقطع الحيض، لكن بعض النساء قد يستمر بها الحيض على عادته كما كان قبل الحمل، فهذه يحكم بأن حيضها حيض صحيح؛ لأنه استمر بها الحيض ولم يتأثر بالحمل، فيكون هذا الحيض مانعاً لكل ما يمنعه حيض غير الحامل، وموجباً لما يوجبه، ومسقطاً لما يسقطه، والحاصل أن الدم الذي يخرج من الحامل على نوعين: نوع يحكم بأنه حيض وهو الذي استمر بها كما كان قبل الحمل، فمعنى ذلك أن الحمل لم يؤثر عليه فيكون حيضاً، والنوع الثاني: دم طرأ على الحمل طروءاً إما بسبب حادث، أو حمل شيء، أو سقوط من شيء ونحوه فهذه دمها ليس بحيض وإنما هو دم عرق، وعلى هذا فلا يمنعها من الصلاة، ولا من الصوم، بل هي في حكم الطاهرات، ولكن إذا لزم من الحادث أن ينزل الولد أو الحمل الذي في بطنها فإنها على ما قال أهل العلم إن خرج وقد تبين فيه خلق إنسان فإن دمها بعد خروجه يعد نفاساً تترك فيه الصلاة والصوم ويتجنبها زوجها حتى تطهر، وإن خرج الجنين وهو غير مخلَّق فإنه لا يعتبر دم نفاس بل هو دم فساد لا يمنعها من الصلاة، ولا من الصيام، ولا من غيرهما.قال أهل العلم: وأقل زمن يتبين فيه التخليق واحد وثمانون يوماً لأن
[প্রশ্ন ২৮] একজন নারী দুর্ঘটনায় আক্রান্ত হন এবং তিনি গর্ভাবস্থার প্রারম্ভিক পর্যায়ে ছিলেন। অতঃপর তীব্র রক্তক্ষরণের ফলে তাঁর গর্ভপাত ঘটে। এমতাবস্থায় তাঁর জন্য রোজা ভঙ্গ করা কি বৈধ হবে, নাকি তিনি রোজা পালন অব্যাহত রাখবেন? আর যদি তিনি রোজা ভঙ্গ করেন, তবে কি তাঁর কোনো গুনাহ হবে?[উত্তর ২৮] আমরা বলি: গর্ভবতী মহিলার ঋতুস্রাব (حيض) হয় না, যেমনটি ইমাম আহমাদ বলেছেন— "নারীরা ঋতুস্রাব (حيض) বন্ধ হওয়ার মাধ্যমেই গর্ভধারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়।" আর আলেমগণ (أهل العلم) যেমনটি বলেছেন যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা এক বিশেষ হিকমতের কারণে ঋতুস্রাব (حيض) সৃষ্টি করেছেন: তা হলো মায়ের গর্ভে ভ্রূণের খাদ্য যোগানো। সুতরাং গর্ভ সঞ্চার হলে ঋতুস্রাব (حيض) বন্ধ হয়ে যায়। তবে কিছু মহিলার ঋতুস্রাব (حيض) তাদের স্বাভাবিক অভ্যাস অনুযায়ী গর্ভাবস্থায়ও পূর্বের ন্যায় অব্যাহত থাকতে পারে; এমতাবস্থায় সিদ্ধান্ত হলো যে, তাদের সেই ঋতুস্রাব সঠিক (صحيح) হিসেবে গণ্য হবে। কারণ তাদের ঋতুস্রাব (حيض) নিরবচ্ছিন্নভাবে চলেছে এবং গর্ভাবস্থার কারণে তা প্রভাবিত হয়নি। সুতরাং এই ঋতুস্রাব (حيض) সেই সব বিষয়কে বাধা দেবে যা একজন অ-গর্ভবতী মহিলার ঋতুস্রাব (حيض) বাধা দিয়ে থাকে, এবং তা সেই সব বিধানকে অবধারিত করবে যা ঋতুস্রাব (حيض) অবধারিত করে, আর যা রহিত করার তা রহিত করবে। সারকথা হলো, গর্ভবতী মহিলার শরীর থেকে নির্গত রক্ত দুই প্রকার: প্রথম প্রকার যা ঋতুস্রাব (حيض) হিসেবে গণ্য হয়; আর তা হলো যা গর্ভাবস্থার আগে যেমন ছিল তেমনই অব্যাহত থাকে। এর অর্থ হলো গর্ভধারণ সেটির ওপর কোনো প্রভাব ফেলেনি, ফলে তা ঋতুস্রাব (حيض) হিসেবেই গণ্য হবে। দ্বিতীয় প্রকার: যা গর্ভাবস্থায় আকস্মিকভাবে দেখা দেয়; যেমন কোনো দুর্ঘটনা, ভারী কিছু বহন করা বা ওপর থেকে পড়ে যাওয়া ইত্যাদির কারণে। এই রক্ত ঋতুস্রাব (حيض) নয়, বরং এটি একটি শিরাগত রক্ত (دم عرق)। অতএব, এটি তাকে সালাত বা সিয়াম পালনে বাধা দেবে না, বরং তিনি পবিত্র (طاهرات) নারীদের হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হবেন। তবে যদি দুর্ঘটনার কারণে গর্ভপাত ঘটে বা গর্ভস্থ সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়, তবে আলেমগণ (أهل العلم) যা বলেছেন তা হলো— যদি তা এমন অবস্থায় নির্গত হয় যাতে মানবাকৃতি (خلق إنسان) স্পষ্ট হয়েছে, তবে নির্গত হওয়ার পরবর্তী রক্ত নেফাস (نفاس) হিসেবে গণ্য হবে। এমতাবস্থায় তিনি সালাত ও সিয়াম বর্জন করবেন এবং পবিত্র হওয়ার আগ পর্যন্ত তাঁর স্বামী তাঁর থেকে বিরত থাকবেন। কিন্তু যদি ভ্রূণটি অগঠিত (غير مخلق) অবস্থায় বের হয়, তবে নির্গত রক্ত নেফাস (نفاس) হিসেবে গণ্য হবে না; বরং তা দূষিত রক্ত (دم فساد), যা তাঁকে সালাত, সিয়াম বা অন্য কিছু থেকে বিরত রাখবে না।আলেমগণ (أهل العلم) বলেছেন: অঙ্গপ্রত্যঙ্গ গঠন (تخليق) স্পষ্ট হওয়ার সর্বনিম্ন সময়কাল হলো একাশি দিন, কারণ...
(খণ্ড: ৬০)
৬০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফি আহকামিল হায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১৩২)
الجنين في بطن أمه كما قال عبد الله بن مسعود رضي الله عنه: حدثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو الصادق المصدوق فقال: "إن أحدكم يجمع في بطن أمه أربعين يوماً، ثم يكون علقة مثل ذلك، ثم يكون مضغة مثل ذلك، ثم يبعث إليه الملك ويؤمر بأربع كلمات، فيكتب رزقه، وأجله، وعمله، وشقي أو سعيد" ولا يمكن أن يخلق قبل ذلك والغالب أن التخليق لا يتبين قبل تسعين يوماً كما قال بعض أهل العلم.[س 29] أنا امرأة أسقطت في الشهر الثالث منذ عام، ولم أصلِّ حتى طهرت وقد قيل لي كان عليك أن تصلي فماذا أفعل وأنا لا أعرف عدد الأيام بالتحديد؟.[جـ 29] المعروف عند أهل العلم أن المرأة إذا أسقطت لثلاثة أشهر فإنها لا تصلي؛ لأن المرأة إذا أسقطت جنيناً قد تبين فيه خلق إنسان فإن الدم الذي يخرج منها يكون دم نفاس لا تصلي فيه، قال العلماء: ويمكن أن يتبين خلق الجنين إذا تم له واحد وثمانون يوماً، وهذه أقل من ثلاثة أشهر، فإذا تيقنت أنه سقط الجنين لثلاثة أشهر فإن الذي أصابها يكون دم فساد لا تترك الصلاة من أجله، وهذه السائلة عليها أن تتذكر في نفسها فإذا كان الجنين سقط قبل الثمانين يوماً فإنها تقضي الصلاة، وإذا كانت لا تدري كم تركت فإنها تقدر وتتحرى، وتقضي على ما يغلب عليه ظنها أنها لم تُصَلِّه.
মাতৃগর্ভে থাকা ভ্রূণ সম্পর্কে যেমনটি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) বলেছেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا), আর তিনি হলেন সত্যবাদী ও সত্যনিষ্ঠ (الصادق المصدوق): "তোমাদের প্রত্যেকের সৃষ্টির উপাদান নিজ নিজ মাতৃগর্ভে চল্লিশ দিন পর্যন্ত জমা থাকে, অতঃপর অনুরূপ সময় তা জমাট রক্ত (علقة) হিসেবে থাকে, এরপর অনুরূপ সময় তা গোশতপিণ্ড (مضغة) হিসেবে থাকে, অতঃপর তার কাছে একজন ফেরেশতা পাঠানো হয় এবং তাকে চারটি বিষয় লিখে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়: তার রিজিক, তার হায়াত, তার আমল এবং সে কি সৌভাগ্যবান না দুর্ভাগ্যবান।" এর আগে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠিত হওয়া সম্ভব নয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে নব্বই দিনের আগে আকৃতি প্রকাশ পায় না, যেমনটি কোনো কোনো আলেম বলেছেন।[প্রশ্ন ২৯] এক বছর আগে আমার তিন মাসের গর্ভাবস্থায় গর্ভপাত হয়েছিল, এবং পবিত্র হওয়ার আগ পর্যন্ত আমি সালাত আদায় করিনি। আমাকে বলা হয়েছে যে, তখন আমার সালাত আদায় করা উচিত ছিল। এখন আমি কী করব? অথচ আমি নির্দিষ্ট দিনের সংখ্যা জানি না।[উত্তর ২৯] আলেমদের নিকট এটি সুপরিচিত যে, কোনো মহিলার যদি তিন মাসে গর্ভপাত হয়, তবে তিনি সালাত আদায় করবেন না; কারণ মহিলা যখন এমন ভ্রূণ প্রসব করেন যাতে মানুষের আকৃতি প্রকাশ পেয়েছে, তখন তা থেকে নির্গত রক্ত নিফাস (نفাস) হিসেবে গণ্য হয় যাতে তিনি সালাত আদায় করবেন না। ওলামায়ে কেরাম বলেছেন: একাশি দিন পূর্ণ হলে ভ্রূণের মানবাকৃতি প্রকাশ পাওয়া সম্ভব, যা তিন মাসের কম সময়। সুতরাং যদি এটি নিশ্চিত হয় যে ভ্রূণটি তিন মাসে পড়ে গিয়েছে তবে তার যে রক্তক্ষরণ হয়েছে তা দূষিত রক্ত (دم فساد) হিসেবে গণ্য হবে যার কারণে সালাত বর্জন করা যাবে না। এই প্রশ্নকারীর উচিত নিজের বিষয়টি স্মরণ করা; যদি ভ্রূণ আশি দিনের আগে পড়ে গিয়ে থাকে, তবে তাকে সালাত কাযা করতে হবে। আর যদি তিনি কত দিন সালাত ছেড়েছেন তা না জানেন, তবে তিনি অনুমান ও অনুসন্ধান (تحرى) করবেন এবং তার প্রবল ধারণা (يغلب عليه ظنه) অনুযায়ী যা সালাত আদায় করেননি বলে মনে হয়, তা কাযা করবেন।
(খণ্ড: ৬০)
৬০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফি আহকামিল হায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১৩৩)
[س 30] سائلة تقول: إنها منذ وجب عليها الصيام وهي تصوم رمضان ولكنها لا تقضي صيام الأيام التي تفطرها بسبب الدورة الشهرية ولجهلها بعدد الأيام التي أفطرتها فهي تطلب إرشادها إلى ما يجب عليها فعله الآن؟.[جـ 30] يؤسفنا أن يقع مثل هذا بين نساء المؤمنين فإن هذا الترك أعني ترك قضاء ما يجب عليها من الصيام إما أن يكون جهلاً، وإما أن يكون تهاوناً وكلاهما مصيبة، لأن الجهل دواؤه العلم والسؤال، وأما التهاون فإن دواءه تقوى الله عز وجل ومراقبته والخوف من عقابه والمبادرة إلى ما فيه رضاه. فعلى هذه المرأة أن تتوب إلى الله مما صنعت وأن تستغفر، وأن تتحرى الأيام التي تركتها بقدر استطاعتها فتقضيها، وبهذا تبرأ ذمتها، ونرجو أن يقبل الله توبتها.[س 31] تقول السائلة: ما الحكم إذا حاضت المرأة بعد دخول وقت الصلاة؟. وهل يجب عليها أن تقضيها إذا طهرت؟. وكذلك إذا طهرت قبل خروج وقت الصلاة؟.[جـ 31] أولاً: المرأة إذا حاضت بعد دخول الوقت أي بعد دخول وقت الصلاة فإنه يجب عليها إذا طهرت أن تقضي تلك الصلاة التي حاضت في وقتها إذا لم تصلها قبل أن يأتيها الحيض وذلك لقول الرسول صلى الله عليه وسلم: "من أدرك ركعة من الصلاة فقد أدرك الصلاة" فإذا أدركت المرأة من وقت الصلاة مقدار ركعة ثم حاضت قبل أن تصلي فإنها إذا طهرت يلزمها القضاء.ثانياً: إذا طهرت من الحيض قبل خروج وقت الصلاة فإنه يجب عليها قضاء تلك الصلاة، فلو طهرت قبل أن تطلع
[প্রশ্ন ৩০] একজন প্রশ্নকারী জিজ্ঞাসা করছেন: তাঁর ওপর রোজা (صيام) পালন আবশ্যক হওয়ার পর থেকে তিনি রমজানের রোজা রাখছেন, কিন্তু মাসিকের কারণে যে দিনগুলোতে তিনি রোজা ভঙ্গ করেছিলেন তা তিনি কাজা (قضاء) করেননি। দিনগুলোর সংখ্যা না জানার কারণে এখন তাঁর কী করণীয় সে সম্পর্কে তিনি দিকনির্দেশনা চাচ্ছেন।[উত্তর ৩০] মুমিন নারীদের মাঝে এমন ঘটনা ঘটা অত্যন্ত দুঃখজনক। কেননা এই বর্জন অর্থাৎ ওয়াজিব রোজা কাজা (قضاء) না করার বিষয়টি হয় অজ্ঞতা (جهل), না হয় অবহেলা (تهاون)—আর উভয়টিই একটি মুসিবত। কারণ অজ্ঞতার প্রতিকার হলো জ্ঞান অর্জন ও জিজ্ঞাসা করা, আর অবহেলার প্রতিকার হলো মহান আল্লাহকে ভয় করা (تقوى الله), তাঁর পর্যবেক্ষণ ও শাস্তির ভয় রাখা এবং তাঁর সন্তুষ্টির কাজে দ্রুত অগ্রসর হওয়া। সুতরাং, এই নারীর উচিত তাঁর কৃতকর্মের জন্য আল্লাহর কাছে তওবা (توبة) করা ও ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী ছুটে যাওয়া দিনগুলো হিসাব করে তা কাজা (قضاء) আদায় করা। এর মাধ্যমেই তিনি দায়মুক্ত হতে পারবেন এবং আমরা আশা করি আল্লাহ তাঁর তওবা (توبة) কবুল করবেন।[প্রশ্ন ৩১] প্রশ্নকারী জিজ্ঞাসা করছেন: নামাজের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর যদি কোনো মহিলার মাসিক শুরু হয়, তবে তার বিধান কী? পবিত্র হওয়ার পর কি তাঁকে ওই নামাজ কাজা (قضاء) করতে হবে? অনুরূপভাবে নামাজের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পূর্বে যদি তিনি পবিত্র হন তবে (বিধান কী)?[উত্তর ৩১] প্রথমত: নামাজের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর অর্থাৎ নামাজের সময় শুরু হওয়ার পর যদি কোনো মহিলার মাসিক শুরু হয়, তবে পবিত্র হওয়ার পর তাঁর ওপর ওই ওয়াক্তের নামাজ কাজা (قضاء) করা আবশ্যক (واجب), যদি তিনি মাসিক শুরু হওয়ার পূর্বে তা আদায় না করে থাকেন। এর কারণ হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: "যে ব্যক্তি নামাজের এক রাকাত (ركعة) পেল, সে মূলত নামাজই পেল।" সুতরাং মহিলা যদি নামাজের ওয়াক্ত থেকে এক রাকাত (ركعة) পরিমাণ সময় পান এবং নামাজ পড়ার পূর্বেই তাঁর মাসিক শুরু হয়, তবে পবিত্র হওয়ার পর তাঁর ওপর তা কাজা (قضاء) করা আবশ্যক হবে।দ্বিতীয়ত: যদি নামাজের ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পূর্বে তিনি মাসিক থেকে পবিত্র হন, তবে ওই ওয়াক্তের নামাজ আদায় করা তাঁর ওপর আবশ্যক (واجب)। সুতরাং যদি তিনি সূর্য উদিত হওয়ার পূর্বে পবিত্র হন...
(খণ্ড: ৬০)
৬০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফি আহকামিল হায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১৩৪)
الشمس بمقدار ركعة وجب عليها قضاء صلاة الفجر، ولو طهرت قبل غروب الشمس بمقدار ركعة وجبت عليها صلاة العصر، ولو طهرت قبل منتصف الليل بمقدار ركعة وجب عليها قضاء صلاة العشاء، فإن طهرت بعد منتصف الليل لم يجب عليها صلاة العشاء، وعليها أن تصلي الفجر إذا جاء وقتها، قال الله سبحانه وتعالى: {فَإِذَا اطْمَأْنَنْتُمْ فَأَقِيمُوا الصَّلاةَ إِنَّ الصَّلاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَاباً مَوْقُوتاً} [النساء: 103] أي فرضاً مؤقتاً بوقت محدود لا يجوز للإنسان أن يخرج الصلاة عن وقتها، ولا أن يبدأ بها قبل وقتها.[س 32] دخلت عليَّ العادة الشهرية أثناء الصلاة ماذا أفعل؟. وهل أقضي الصلاة عن مدة الحيض؟.[جـ 32] إذا حدث الحيض بعد دخول وقت الصلاة كأن حاضت بعد الزوال بنصف ساعة مثلاً، فإنها بعد أن تطهر من الحيض تقضي هذه الصلاة التي دخل وقتها وهي طاهرة لقوله تعالى: {إِنَّ الصَّلاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَاباً مَوْقُوتاً} .ولا تقضي الصلاة عن وقت الحيض لقوله صلى الله عليه وسلم في الحديث الطويل: "أليست إذا حاضت لم تصل ولم تصم". وأجمع أهل العلم أنها لا تقضي الصلاة التي فاتتها أثناء مدة الحيض، أما إذا طهرت وكان باقياً من الوقت مقدار ركعة فأكثر فإنها تصلي ذلك الوقت الذي طهرت فيه لقوله صلى الله عليه وسلم: "من أدرك ركعة من العصر قبل أن تغرب الشمس فقد أدرك العصر". فإذا طهرت
সূর্যোদয়ের পূর্বে এক রাকাত পড়ার মতো সময় থাকতে যদি কোনো নারী পবিত্র হন, তবে তার ওপর ফজর নামাজের কাজা আদায় করা আবশ্যক হবে। আর যদি সূর্যাস্তের পূর্বে এক রাকাত পরিমাণ সময় থাকতে তিনি পবিত্র হন, তবে তার ওপর আসর নামাজ আদায় করা আবশ্যক হবে। আবার যদি মধ্যরাতের পূর্বে এক রাকাত পরিমাণ সময় থাকতে তিনি পবিত্র হন, তবে তার ওপর এশা নামাজের কাজা আদায় করা আবশ্যক হবে। কিন্তু যদি তিনি মধ্যরাতের পর পবিত্র হন, তবে তার ওপর এশা নামাজ আদায় করা আবশ্যক নয়; বরং ফজরের সময় হলে তাকে ফজর নামাজ আদায় করতে হবে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন: "অতঃপর যখন তোমরা নিরাপদ বোধ করবে, তখন নামাজ কায়েম করো। নিশ্চয়ই মুমিনদের ওপর নামাজ নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ করা হয়েছে।" [সূরা আন-নিসা: ১০৩]। অর্থাৎ, এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্ধারিত বাধ্যবাধকতা, যা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ; কোনো ব্যক্তির জন্য নামাজের সময় অতিবাহিত করে দেওয়া বৈধ নয় এবং সময়ের পূর্বে তা শুরু করাও বৈধ নয়।[প্রশ্ন ৩২] নামাজের মধ্যে আমার মাসিক ঋতুস্রাব শুরু হলে আমি কী করব? আর ঋতুকালীন সময়ের নামাজের কি কাজা করতে হবে?[উত্তর ৩২] যদি নামাজের সময় হওয়ার পর ঋতুস্রাব শুরু হয়—যেমন জাওয়াল (সূর্য ঢলে পড়া) এর আধঘণ্টা পর যদি ঋতুস্রাব শুরু হয়—তবে পবিত্র হওয়ার পর তাকে ওই নামাজের কাজা করতে হবে যার সময় শুরু হওয়ার সময় তিনি পবিত্র ছিলেন। কেননা আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "নিশ্চয়ই মুমিনদের ওপর নামাজ নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ করা হয়েছে।"আর ঋতুকালীন সময়ের নামাজের কাজা করতে হবে না। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একটি দীর্ঘ হাদিসে বলেছেন: "সে যখন ঋতুবতী হয়, তখন কি সে নামাজ ও রোজা থেকে বিরত থাকে না?" আলেমগণ এ বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, ঋতুকালীন সময়ে যে নামাজগুলো ছুটে গেছে সেগুলোর কাজা করতে হবে না। তবে যদি তিনি এমন সময় পবিত্র হন যখন নামাজের এক রাকাত বা তার বেশি সময় বাকি থাকে, তবে যে ওয়াক্তে তিনি পবিত্র হয়েছেন সেই ওয়াক্তের নামাজ তাকে আদায় করতে হবে। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের এক রাকাত পেল, সে আসর নামাজ পেল।" সুতরাং যদি তিনি পবিত্র হন...
(খণ্ড: ৬০)
৬০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফি আহকামিল হায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১৩৫)
وقت العصر، أو قبل طلوع الشمس وكان باقياً على غروب الشمس، أو طلوعها مقدار ركعة، فإنها تصلي العصر في المسألة الأولى والفجر في المسألة الثانية.[س 33] شخص يقول: أفيدكم أن لي والدة تبلغ من العمر خمسة وستين عاماً ولها مدة تسع عشرة سنة وهي لم تأتِ بأطفال، والآن معها نزيف دم لها مدة ثلاث سنوات وهو مرض يبدو أتاها في تلكم الفترة ولأنها ستستقبل الصيام كيف تنصحونها لو تكرمتم؟. وكيف تتصرف مثلها لو سمحتم؟.[جـ 33] مثل هذه المرأة التي أصابها نزيف الدم حكمها أن تترك الصلاة والصوم مدة عادتها السابقة قبل هذا الحدث الذي أصابها، فإذا كان من عادتها أن الحيض يأتيها من أول كل شهر لمدة ستة ايام مثلاً فإنها تجلس من أول كل شهر مدة ستة أيام لا تصلي ولا تصوم، فإذا انقضت اغتسلت وصلت وصامت، وكيفية الصلاة لهذه وأمثالها أنها تغسل فرجها غسلاً تامًّا وتعصبه وتتوضأ وتفعل ذلك بعد دخول وقت صلاة الفريضة، وكذلك تفعله إذا أرادت أن تتنفل في غير أوقات فرائض،وفي هذه الحالة ومن أجل المشقة عليها يجوز لها أن تجمع صلاة الظهر مع العصر وصلاة المغرب مع العشاء حتى يكون عملها هذا واحداً للصلاتين: صلاة الظهر والعصر، وواحداً للصلاتين: صلاة المغرب والعشاء، وواحداً لصلاة الفجر، بدلاً من أن تعمل ذلك خمس مرات تعمله ثلاث مرات. وأعيده مرة ثانية أقول: عندما تريد الطهارة تغسل فرجها وتعصبه بخرقة أو شبهها حتى يخف الخارج، ثم تتوضأ وتصلي، تصلي الظهر أربعاً، والعصر أربعاً، والمغرب ثلاثاً،
আসরের ওয়াক্তে, অথবা সূর্যোদয়ের পূর্বে, আর যদি সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয়ের আগে এক রাকাত (ركعة) পরিমাণ সময় বাকি থাকে, তবে প্রথম ক্ষেত্রে তিনি আসর এবং দ্বিতীয় ক্ষেত্রে ফজর সালাত আদায় করবেন।[প্রশ্ন ৩৩] এক ব্যক্তি বলছেন: আমি আপনাদের জানাচ্ছি যে, আমার মাতার বয়স পঁয়ষট্টি বছর। দীর্ঘ উনিশ বছর ধরে তাঁর কোনো সন্তান হয়নি। এখন বিগত তিন বছর যাবত তিনি রক্তস্রাব (نزيف) সমস্যায় ভুগছেন; মনে হয় সেই সময়েই তাঁর এই ব্যাধিটি হয়েছে। যেহেতু সামনে সিয়াম আসছে, তাই অনুগ্রহ করে আপনারা তাঁকে কী পরামর্শ দেবেন? আর তাঁর মতো পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে একজন নারীর কী করা উচিত?[উত্তর ৩৩] এই ধরনের নারী, যিনি রক্তস্রাবে (نزيف) আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁর বিধান (حكم) হলো—এই সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার পূর্বে তাঁর যে নির্দিষ্ট মাসিক অভ্যাস (عادة) ছিল, সেই সময়টুকু তিনি সালাত ও সিয়াম ত্যাগ করবেন। উদাহরণস্বরূপ, যদি প্রতি মাসের শুরুতে তাঁর ছয় দিন ঋতুস্রাব (حيض) হওয়ার অভ্যাস (عادة) থেকে থাকে, তবে তিনি প্রতি মাসের শুরুতে সেই ছয় দিন অপেক্ষা করবেন; সালাত আদায় করবেন না এবং সিয়াম পালন করবেন না। অতঃপর যখন সেই সময় অতিবাহিত হবে, তখন তিনি গোসল (غسل) করবেন এবং সালাত ও সিয়াম পালন করবেন। এই নারী এবং তাঁর অনুরূপ ব্যক্তিদের সালাত আদায়ের নিয়ম হলো, তিনি তাঁর লজ্জাস্থান ভালোভাবে ধৌত করবেন, সেখানে পট্টি বাঁধবেন এবং অজু (وضوء) করবেন; আর এই কাজগুলো করবেন ফরজ (فريضة) সালাতের ওয়াক্ত হওয়ার পর। একইভাবে, ফরজ (فريضة) সালাতের ওয়াক্ত ছাড়া অন্য সময়ে যদি তিনি নফল (نفل) আদায় করতে চান, তবে তিনি অনুরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এই অবস্থায়, তাঁর কষ্ট লাঘবের উদ্দেশ্যে তাঁর জন্য জোহর ও আসর এবং মাগরিব ও এশা একত্রিত (جمع) করে আদায় করা বৈধ (جائز)। এতে তাঁর এই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি দুই সালাতের জন্য একবারই করতে হবে: জোহর ও আসরের জন্য একবার, মাগরিব ও এশার জন্য একবার এবং ফজরের জন্য একবার। অর্থাৎ পাঁচবার এই কষ্ট করার পরিবর্তে তিনি তিনবার করবেন। আমি পুনরায় বলছি: তিনি যখন পবিত্রতা (طهارة) অর্জন করতে চাইবেন, তখন তাঁর লজ্জাস্থান ধৌত করবেন এবং কাপড়ের টুকরো বা অনুরূপ কিছু দিয়ে তা বেঁধে দেবেন যাতে নির্গত রক্ত হ্রাস পায়। অতঃপর তিনি অজু (وضوء) করবেন এবং সালাত আদায় করবেন। তিনি জোহর চার রাকাত, আসর চার রাকাত এবং মাগরিব তিন রাকাত আদায় করবেন।
(খণ্ড: ৬০)
৬০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফি আহকামিল হায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১৩৬)
والعشاء أربعاً، والفجر ركعتين أي أنها لا تقصر كما يتوهمه بعض العامة ولكن يجوز لها أن تجمع بين صلاتي الظهر والعصر، وبين صلاتي المغرب والعشاء، الظهر مع العصر إمَّا تأخيراً أو تقديماً، وكذلك المغرب مع العشاء إما تقديماً أو تأخيراً،وإذا أرادت أن تتنفل بهذا الوضوء فلا حرج عليها.[س 34] ما حكم وجود المرأة في المسجد الحرام وهي حائض لاستماع الأحاديث والخطب؟.[جـ 34] لا يجوز للمرأة الحائض أن تمكث في المسجد الحرام ولا غيره من المساجد، ولكن يجوز لها أن تمر بالمسجد وتأخذ الحاجة منه وما أشبه ذلك كما قال النبي صلى الله عليه وسلم لعائشة حين أمرها أن تأتي بالخُمْرَة1 فقالت: إنها في المسجد وإني حائض. فقال: "إن حيضتك ليس في يدك". فإذا مرت الحائض في المسجد وهي آمنة من أن ينزل دم على المسجد فلا حرج عليها، أما إن كانت تريد أن تدخل وتجلس فهذا لا يجوز، والدليل على ذلك أن النبي صلى الله عليه وسلم أمر النساء في صلاة العيد أن يخرجن إلى مصلى العيد العواتق وذوات الخدور والحيض إلا أنه أمر أن يعتزل الحيض المصلى، فدل ذلك على أن الحائض لا يجوز لها أن تمكث في المسجد لاستماع الخطبة أو استماع الدرس والأحاديث.
--------------------------------------------
1 الخمرة هي السجادة يسجد عليها المصلي وسميت خمرة لأنها تخمر الوجه أي تغطيه. قاله الخطابي وأصل الحديث في مسلم جـ 1 ص 245 بترتيب عبد الباقي. [الناشر] .
এবং এশা চার রাকাত, আর ফজর দুই রাকাত। অর্থাৎ, সাধারণ লোকরা যেমনটা ধারণা করে থাকে তেমনভাবে তা কসর (قصر) করা হবে না। তবে তার জন্য যোহর ও আসর এবং মাগরিব ও এশার সালাতের মধ্যে জমা (جمع) করা বৈধ। যোহর ও আসরকে হয় বিলম্বে (تأخير) অথবা অগ্রিম (تقديم) জমা করা যাবে। একইভাবে মাগরিব ও এশাকে হয় অগ্রিম (تقديم) অথবা বিলম্বে (تأخير) জমা করা যাবে। আর সে যদি এই অজুর মাধ্যমে নফল (تنفل) সালাত আদায় করতে চায়, তবে তার জন্য তাতে কোনো বাধা নেই।[প্রশ্ন ৩৪] হাদিস ও খুতবা শোনার জন্য ঋতুবতী (حائض) অবস্থায় কোনো নারীর মসজিদে হারামে অবস্থানের বিধান (حكم) কী?[উত্তর ৩৪] ঋতুবতী (حائض) নারীর জন্য মসজিদে হারাম বা অন্য কোনো মসজিদে অবস্থান করা বৈধ নয়। তবে সে যদি মসজিদের ভেতর দিয়ে অতিক্রম করে এবং সেখান থেকে প্রয়োজনীয় কিছু গ্রহণ করে বা অনুরূপ কিছু করে তবে তা বৈধ; যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আয়েশা (রা.)-কে বলেছিলেন যখন তিনি তাঁকে একটি ‘খুমরাহ’ (خمرة)১ নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তখন তিনি (আয়শা) বললেন: ‘তা তো মসজিদের ভেতরে, আর আমি ঋতুবতী (حائض)।’ তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: ‘তোমার ঋতু (حيضة) তো তোমার হাতে নেই।’ সুতরাং ঋতুবতী (حائض) নারী যদি মসজিদে প্রবেশ করে এবং মসজিদে রক্ত পড়ার ব্যাপারে নিরাপদ থাকে, তবে তার জন্য কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সে যদি প্রবেশ করে বসতে চায়, তবে তা বৈধ নয়। এর প্রমাণ (دليل) হলো, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের সালাতে যুবতী, পর্দানশীন নারী এবং ঋতুবতীদের (حيض) ঈদগাহের দিকে বের হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তবে তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন ঋতুবতী (حيض) নারীরা ঈদগাহ (مصلى) থেকে পৃথক (اعتزال) থাকে। এটি প্রমাণ করে যে, ঋতুবতী (حائض) নারীর পক্ষে খুতবা, দরস বা হাদিস শোনার জন্য মসজিদে অবস্থান করা বৈধ নয়।
--------------------------------------------
১ ‘খুমরাহ’ (خمرة) হলো ছোট সিজদাহ করার মাদুর যার ওপর মুসল্লি সিজদা করে। একে ‘খুমরাহ’ বলা হয় কারণ এটি মুখমণ্ডলকে আবৃত করে (تخمر الوجه) বা ঢেকে রাখে। খাত্তাবী এটি বলেছেন। মূল হাদিসটি মুসলিম-এর ১ম খণ্ড, ২৪৫ পৃষ্ঠায় আব্দুল বাকীর বিন্যাস অনুযায়ী রয়েছে। [প্রকাশক]।
(খণ্ড: ৬০)
৬০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফি আহকামিল হায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১৩৭)
من أحكام الطهارة في الصلاة[س 35] هل السائل الذي ينزل من المرأة، أبيض كان أم أصفر طاهر أم نجس؟. وهل يجب فيه الوضوء مع العلم بأنه ينزل مستمراً؟. وما الحكم إذا كان متقطعاً خاصة أن غالبية النساء لاسيما المتعلمات يعتبرن ذلك رطوبة طبيعية لا يلزم منه الوضوء؟.[جـ 35] الظاهر لي بعد البحث أن السائل الخارج من المرأة إذا كان لا يخرج من المثانة وإنما يخرج من الرحم فهو طاهر، ولكنه ينقض الوضوء وإن كان طاهراً، لأنه لا يشترط للناقض للوضوء أن يكون نجساً فها هي الريح تخرج من الدبر وليس لها جرم ومع ذلك تنقض الوضوء. وعلى هذا إذا خرج من المرأة وهي على وضوء فإنه ينقض الوضوء وعليها تجديده.فإن كان مستمرًّا فإنه لا ينقض الوضوء، ولكن تتوضأ للصلاة إذا دخل وقتها وتصلي في هذا الوقت الذي تتوضأ فيه فروضاً ونوافل، وتقرأ القرآن، وتفعل ما شاءت مما يباح لها، كما قال أهل العلم نحو هذا في من به سلس البول. هذا هو حكم السائل من جهة الطهارة فهو طاهر، ومن جهة نقضه للوضوء فهو ناقض للوضوء إلا أن يكون مستمرًّا عليها، فإن كان مستمرًّا فإنه لا ينقض الوضوء، لكن على المرأة ألا تتوضأ للصلاة إلا بعد دخول الوقت وأن تتحفظ.أما إن كان منقطعاً وكان من عادته أن ينقطع في أوقات الصلاة
সালাতের পবিত্রতা (طهارة) সংক্রান্ত কতিপয় বিধান[প্রশ্ন ৩৫] নারীর শরীর থেকে যে তরল নির্গত হয়, তা সাদা হোক বা হলুদ, তা কি পবিত্র (طاهر) নাকি অপবিত্র (نجس)? এটি কি ওজু ওয়াজিব করে, যেখানে জানা আছে যে তা নিরবচ্ছিন্নভাবে নির্গত হচ্ছে? আর যদি এটি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে নির্গত হয় তবে তার বিধান কী? বিশেষ করে অধিকাংশ নারী, বিশেষত শিক্ষিত নারীরা বিষয়টিকে স্বাভাবিক আর্দ্রতা মনে করেন এবং এর ফলে ওজু করা আবশ্যক নয় বলে গণ্য করেন।[উত্তর ৩৫] গবেষণালব্ধ তথ্য অনুযায়ী আমার নিকট এটিই প্রতীয়মান হয় যে, নারীর শরীর থেকে নির্গত তরল যদি মূত্রাশয় থেকে নির্গত না হয়ে জরায়ু থেকে নির্গত হয়, তবে তা পবিত্র (طاهر); কিন্তু তা ওজু ভঙ্গকারী (ناقض للوضوء) যদিও তা পবিত্র (طاهر) হয়। কারণ ওজু ভঙ্গ হওয়ার জন্য নির্গত বস্তুটি অপবিত্র (نجس) হওয়া শর্ত নয়। এই যে মলদ্বার দিয়ে বায়ু নির্গত হয়, যার কোনো দৃশ্যমান অবয়ব নেই, তবুও তা ওজু ভঙ্গ করে। এর ওপর ভিত্তি করে, যদি কোনো নারীর ওজু থাকা অবস্থায় এটি নির্গত হয়, তবে তা ওজু ভঙ্গ করবে এবং তাকে ওজু নবায়ন করতে হবে।যদি এটি নিরবচ্ছিন্নভাবে নির্গত হয় তবে তা ওজু ভঙ্গ করবে না, কিন্তু সালাতের ওয়াক্ত প্রবেশ করলে সালাতের জন্য ওজু করতে হবে এবং ওই ওজু দিয়ে তিনি সেই ওয়াক্তে ফরজ ও নফল সালাতসমূহ আদায় করতে পারবেন, কুরআন তিলাওয়াত করতে পারবেন এবং তার জন্য বৈধ যাবতীয় কাজ করতে পারবেন। বিজ্ঞ আলিমগণ (أهل العلم) প্রস্রাব ঝরা রোগে (سلس البول) আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রেও অনুরূপ বিধানের কথা উল্লেখ করেছেন। পবিত্রতার দিক থেকে এই তরলের বিধান হলো তা পবিত্র (طاهر), আর ওজু ভঙ্গের দিক থেকে এটি ওজু ভঙ্গকারী (ناقض للوضوء); তবে শর্ত হলো তা যেন নিরবচ্ছিন্নভাবে নির্গত না হয়। যদি তা নিরবচ্ছিন্ন হয় তবে ওজু ভঙ্গ হবে না, কিন্তু নারীর কর্তব্য হলো ওয়াক্ত হওয়ার আগে সালাতের জন্য ওজু না করা এবং সতর্কতা অবলম্বন (تحفظ) করা।পক্ষান্তরে যদি তা সাময়িকভাবে বন্ধ হয় এবং সালাতের ওয়াক্তসমূহে তা বন্ধ থাকার অভ্যাস থাকে
(খণ্ড: ৬০)
৬০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফি আহকামিল হায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১৩৮)
فإنها تؤخر الصلاة إلى الوقت الذي ينقطع فيه ما لم تخش خروج الوقت. فإن خشيت خروج الوقت فإنها تتوضأ وتتلجم تتحفظ وتصلي.ولا فرق بين القليل والكثير لأنه كله خارج من السبيل فيكون ناقضاً قليله وكثيره، بخلاف الذي يخرج من بقية البدن كالدم والقيء فإنه لا ينقض الوضوء لا قليله ولا كثيره.وأما اعتقاد بعض النساء أنه لا ينقض الوضوء فهذا لا أعلم له أصلاً إلا قولاً لابن حزم رحمه الله فإنه يقول: أن هذا لا ينقض الوضوء ولكنه لم يذكر لهذا دليلاً، ولو كان له دليل من الكتاب والسنة أو أقوال الصحابة لكان حجة. وعلى المرأة أن تتقي الله وتحرص على طهارتها، فإن الصلاة لا تقبل بغير طهارة ولو صلت مائة مرة، بل إن بعض العلماء يقول أن الذي يصلي بلا طهارة يكفر؛ لأن هذا من باب الاستهزاء بآيات الله سبحانه وتعالى.[س 36] إذا توضأت المرأة التي ينزل منها السائل مستمرًّا لصلاة فرض هل يصح لها أن تصلي ما شاءت من النوافل أو قراءة القرآن بوضوء ذلك الفرض إلى حين الفرض الثاني؟.[جـ 36] إذا توضأت لصلاة الفريضة من أول الوقت فلها أن تصلي ما شاءت من فروض ونوافل وقراءة قرآن إلى أن يدخل وقت الصلاة الأخرى.
তিনি (সেই নারী) সালাতকে সেই সময় পর্যন্ত বিলম্ব করবেন যখন স্রাব বন্ধ হয়ে যায়, যতক্ষণ না তিনি ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করেন। যদি তিনি ওয়াক্ত অতিক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করেন, তবে তিনি অজু করবেন এবং সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা (ল্যাংট) গ্রহণ করে সালাত আদায় করবেন।এক্ষেত্রে অল্প বা বেশির মাঝে কোনো পার্থক্য নেই, কারণ এর পুরোটাই নির্গমন পথ দিয়ে নির্গত হচ্ছে, ফলে এর অল্প এবং বেশি উভয়ই অজু ভঙ্গকারী। তবে শরীরের অবশিষ্ট অংশ থেকে যা নির্গত হয় তার বিষয়টি ভিন্ন, যেমন রক্ত বা বমি; এটি অজু ভঙ্গ করে না, তা অল্প হোক বা বেশি।আর কিছু মহিলার এই বিশ্বাস যে এটি অজু ভঙ্গ করে না—এর কোনো ভিত্তি (أصل) আমার জানা নেই, কেবল ইবনে হাজম (রহিমাহুল্লাহ)-এর একটি উক্তি ছাড়া। তিনি বলেন যে এটি অজু ভঙ্গ করে না, কিন্তু তিনি এর কোনো দলিল উল্লেখ করেননি। যদি কুরআন, সুন্নাহ বা সাহাবীগণের বক্তব্য থেকে কোনো দলিল থাকত, তবে তা প্রমাণ (حجة) হিসেবে গণ্য হতো। আর নারীর উচিত আল্লাহকে ভয় করা এবং তার পবিত্রতার বিষয়ে যত্নশীল হওয়া, কারণ পবিত্রতা ব্যতীত সালাত কবুল হয় না, যদিও সে একশ বার সালাত আদায় করে। বরং কোনো কোনো আলেম বলেন যে, যে ব্যক্তি পবিত্রতা ছাড়া সালাত আদায় করে সে কাফির হয়ে যাবে; কারণ এটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার আয়াতের সাথে উপহাস করার শামিল।[প্রশ্ন ৩৬] যে মহিলার ক্রমাগত স্রাব নির্গত হয়, তিনি যদি কোনো ফরজ সালাতের জন্য অজু করেন, তবে কি সেই অজুর মাধ্যমে পরবর্তী ফরজ সালাতের সময় পর্যন্ত তাঁর ইচ্ছামতো নফল সালাত আদায় করা বা কুরআন তেলাওয়াত করা শুদ্ধ (صحيح) হবে?[উত্তর ৩৬] তিনি যদি ওয়াক্তের শুরুতে ফরজ সালাতের জন্য অজু করেন, তবে পরবর্তী সালাতের ওয়াক্ত প্রবেশ করা পর্যন্ত তিনি ইচ্ছামতো ফরজ ও নফল সালাত আদায় এবং কুরআন তেলাওয়াত করতে পারবেন।
(খণ্ড: ৬০)
৬০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফি আহকামিল হায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১৩৯)
[س 37] هل يصح أن تصلي تلك المرأة صلاة الضحى بوضوء الفجر؟.[جـ 37] لا يصح ذلك لأن صلاة الضحى مؤقتة فلابد من الوضوء لها بعد دخول وقتها لأن هذه كالمستحاضة وقد أمر النبي صلى الله عليه وسلم المستحاضة أن تتوضأ لكل صلاة.ووقت الظهر: من زوال الشمس إلى وقت العصر.ووقت العصر: من خروج وقت الظهر إلى اصفرار الشمس، والضرورة إلى غروب الشمس.ووقت المغرب: من غروب الشمس إلى مغيب الشفق الأحمر.ووقت العشاء: من مغيب الشفق الأحمر إلى نصف الليل.[س 38] هل يصح أن تصلي هذه المرأة قيام الليل إذا انقضى نصف الليل بوضوء العشاء؟.[جـ 38] لا، إذا انقضى نصف الليل وجب عليها أن تجدد الوضوء، وقيل: لا يلزمها أن تجدد الوضوء وهو الراجح.[س 39] ما هو آخر وقت العشاء "أي صلاتها" وكيف يمكن معرفتها؟.[جـ 39] آخر وقت العشاء منتصف الليل، ويعرف ذلك بأن يقسم مابين غروب الشمس وطلوع الفجر نصفين، فالنصف الأول ينتهي به وقت العشاء، ويبقى نصف الليل الآخر ليس وقتاً بل برزخ بين العشاء والفجر.
[স ৩৭] সেই মহিলার জন্য কি ফজরের অজু দিয়ে চাশতের (الضحى) নামাজ পড়া সঠিক হবে?[জ ৩৭] তা সঠিক হবে না; কারণ চাশতের (الضحى) নামাজ সময়-নির্ধারিত (مؤقتة), তাই এর ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর অবশ্যই অজু করতে হবে। কেননা, তিনি ইস্তিহাজাগ্রস্ত নারীর (المستحاضة) ন্যায়, আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইস্তিহাজাগ্রস্ত নারীকে (المستحاضة) প্রত্যেক নামাজের জন্য অজু করার নির্দেশ দিয়েছেন।যোহরের ওয়াক্ত: সূর্য ঢলে পড়া থেকে আসরের ওয়াক্ত পর্যন্ত।আসরের ওয়াক্ত: যোহরের ওয়াক্ত শেষ হওয়া থেকে সূর্য হলুদাভ হওয়া পর্যন্ত, আর জরুরি (الضرورة) অবস্থা হলো সূর্যাস্ত পর্যন্ত।মাগরিবের ওয়াক্ত: সূর্যাস্ত থেকে পশ্চিম দিগন্তের লালিমা (الشفق الأحمر) অদৃশ্য হওয়া পর্যন্ত।এশার ওয়াক্ত: লালিমা (الشفق الأحمر) অদৃশ্য হওয়া থেকে মধ্যরাত (نصف الليل) পর্যন্ত।[স ৩৮] মধ্যরাত পার হয়ে গেলে এই মহিলার জন্য কি এশার অজু দিয়ে কিয়ামুল লাইল (قيام الليل) পড়া সঠিক হবে?[জ ৩৮] না, যখন মধ্যরাত অতিবাহিত হবে, তখন তার উপর অজু নবায়ন করা (تجدد الوضوء) ওয়াজিব হবে। আবার বলা হয়েছে: তার জন্য অজু নবায়ন করা আবশ্যক নয়, আর এটিই হলো অধিকতর শক্তিশালী মত (الراجح)।[স ৩৯] এশার নামাজের শেষ সময় কোনটি এবং তা কীভাবে জানা সম্ভব?[জ ৩৯] এশার শেষ সময় হলো মধ্যরাত (منتصف الليل)। সূর্যাস্ত থেকে ফজর উদয় পর্যন্ত সময়কে দুই ভাগে ভাগ করে তা জানা যায়। প্রথম অর্ধেক শেষ হওয়ার সাথে সাথে এশার ওয়াক্ত শেষ হয়, আর রাতের বাকি অর্ধেক কোনো নামাজের ওয়াক্ত নয়, বরং তা এশা ও ফজরের মধ্যবর্তী একটি ব্যবধান (برزخ)।
(খণ্ড: ৬০)
৬০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফি আহকামিল হায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১৪০)
[س 40] إذا توضأت من ينزل منها ذلك السائل متقطعاً وبعد انتهائها من الوضوء وقبل صلاتها نزل مرة أخرى، ماذا عليها؟.[جـ 40] إذا كان متقطعاً فلتنتظر حتى يأتي الوقت الذي ينقطع فيه. أما إذا كان ليس له حال بينة، حيناً ينزل وحيناً لا، فهي تتوضأ بعد دخول الوقت وتصلي ولا شيء عليها.[س 41] ماذا يلزم لما يصيب البدن أو اللباس من ذلك السائل؟.[جـ 41] إذا كان طاهراً فإنه لا يلزمها شيء، وإذا كان نجساً وهو الذي يخرج من المثانة فإنه يجب عليها أن تغسله.[س 42] بالنسبة للوضوء من ذلك السائل هل يكتفى بغسل أعضاء الوضوء فقط؟.[جـ 42] نعم يكتفى بذلك فيما إذا كان طاهراً وهو الذي يخرج من الرحم لا من المثانة.[س 43] ما العلة في أنه لم ينقل عن الرسول صلى الله عليه وسلم حديث يدل على نقض الوضوء بذلك السائل، مع أن الصحابيات كن يحرصن على الاستفتاء في أمور دينهن؟.[جـ 43] لأن السائل لا يأتي كل امرأة.
[স ৪০] যদি কোনো মহিলার এমন স্রাব নির্গত হয় যা বিচ্ছিন্নভাবে আসে এবং ওজু শেষ করার পর কিন্তু সালাত আদায়ের আগে তা পুনরায় নির্গত হয়, তবে তার করণীয় কী?[জ ৪০] যদি তা বিচ্ছিন্নভাবে হয়, তবে তিনি ততক্ষণ অপেক্ষা করবেন যতক্ষণ না তা বন্ধ হওয়ার সময় আসে। আর যদি এর কোনো সুনির্দিষ্ট অবস্থা না থাকে—কখনো নির্গত হয় আবার কখনো হয় না—তবে তিনি ওয়াক্ত হওয়ার পর ওজু করবেন এবং সালাত আদায় করবেন; এতে তার কোনো সমস্যা নেই।[স ৪১] শরীর বা পোশাকে ঐ স্রাব লাগলে কী করা আবশ্যক?[জ ৪১] যদি তা পবিত্র (طاهر) হয়, তবে তার ওপর কিছুই আবশ্যক নয়। আর যদি তা অপবিত্র (نجس) হয়—যা মূত্রথলি থেকে নির্গত হয়—তবে তার জন্য তা ধৌত করা ওয়াজিব।[স ৪২] ঐ স্রাবের কারণে ওজুর ক্ষেত্রে কি শুধু ওজুর অঙ্গগুলো ধৌত করাই যথেষ্ট?[জ ৪২] হ্যাঁ, যদি তা পবিত্র (طاهر) হয় তবে তাই যথেষ্ট; আর এটি হলো সেই স্রাব যা জরায়ু থেকে নির্গত হয়, মূত্রথলি থেকে নয়।[স ৪৩] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন কোনো হাদিস বর্ণিত না হওয়ার কারণ (علة) কী যা নির্দেশ করে যে ঐ স্রাবের কারণে ওজু ভঙ্গ হয়, অথচ নারী সাহাবীগণ তাদের দ্বীনি বিষয়ে ফতোয়া জিজ্ঞাসার ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন?[জ ৪৩] কারণ এই স্রাব প্রত্যেক মহিলার ক্ষেত্রে ঘটে না।
(খণ্ড: ৬০)
৬০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফি আহকামিল হায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১৪১)
[س 44] من كانت من النساء لا تتوضأ لجهلها بالحكم ماذا عليها؟.[جـ 44] عليها أن تتوب إلى الله عز وجل وتسأل أهل العلم بذلك.[س 45] هناك من ينسب إليك القول بعدم الوضوء من ذلك السائل!![جـ] الذي ينسب عني هذا القول غير صادق، والظاهر أنه فهم من قولي أنه طاهر أنه لا ينقض الوضوء.[س 46] ما حكم الكدرة التي تنزل من المرأة قبل الحيض بيوم أو أكثر أو أقل، وقد يكون النازل على شكل خيط رقيق أسود أو بني أو نحو ذلك وما الحكم لو كانت بعد الحيض؟.[جـ 46] هذا إذا كانت من مقدمات الحيض فهي حيض، ويعرف ذلك بالأوجاع والمغص الذي يأتي الحائض عادة. أما الكدرة بعد الحيض فهي تنتظر حتى تزول؛ لأن الكدرة المتصلة بالحيض حيض، لقول عائشة رضي الله عنها "لا تعجلن حتى ترين القصة البيضاء". والله أعلم.
[প্রশ্ন ৪৪] যে সকল নারী বিধান না জানার কারণে অজু (وضوء) করতেন না, তাদের ওপর কী আবশ্যক?[উত্তর ৪৪] তাঁর কর্তব্য হলো মহান আল্লাহর নিকট তওবা (توبة) করা এবং এ বিষয়ে আলেমদের (أهل العلم) জিজ্ঞাসা করা।[প্রশ্ন ৪৫] এমন লোক আছে যারা আপনার প্রতি এই অভিমত নিসবত (نسبة) করছে যে, উক্ত নির্গত তরল থেকে অজু (وضوء) করার প্রয়োজন নেই!![উত্তর] আমার পক্ষ থেকে যে এই কথাটি বর্ণনা করছে সে সত্যবাদী (صادق) নয়। দৃশ্যত (الظاهر) সে আমার কথা থেকে এটি বুঝেছে যে, যেহেতু তা পবিত্র (طاهر), তাই তা অজু (وضوء) ভঙ্গ করে না।[প্রশ্ন ৪৬] মাসিকের (حيض) একদিন আগে বা তার কিছু সময় কম-বেশি আগে যে ঘোলাটে স্রাব (كدرة) নির্গত হয় তার বিধান কী? নির্গত এই বস্তুটি কখনো চিকন কালো কিংবা বাদামী সুতার মতো হতে পারে। আর মাসিকের (حيض) পরে এমনটি দেখা দিলে তার বিধান কী?[উত্তর ৪৬] এটি যদি মাসিকের (حيض) প্রারম্ভিক আলামতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে তা মাসিক (حيض) হিসেবেই গণ্য হবে। সাধারণত মাসিকের সময় যে ব্যথা ও মোচড় অনুভূত হয় তার মাধ্যমে এটি চেনা যায়। পক্ষান্তরে, মাসিকের (حيض) পরের ঘোলাটে স্রাব (كدرة) বন্ধ হওয়া পর্যন্ত সে অপেক্ষা করবে; কারণ মাসিকের সাথে সংশ্লিষ্ট ঘোলাটে স্রাব (كدرة) মাসিক (حيض) হিসেবেই গণ্য। কেননা আয়েশা (রা.) বলেছেন, "তোমরা সাদা স্রাব (القصة البيضاء) না দেখা পর্যন্ত তাড়াহুড়ো করো না।" আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ৬০)
৬০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফি আহকামিল হায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১৪২)
من أحكام الحيض في الحج والاعتمار[س 47] كيف تصلي الحائض ركعتي الإحرام؟. وهل يجوز للمرأة الحائض ترديد آي الذكر الحكيم في سرها أم لا؟.[جـ 47] أولاً: ينبغي أن نعلم أن الإحرام ليس له صلاة فإنه لم يرد عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه شرع لأمته صلاة للإحرام لا بقوله ولا بفعله ولا بإقراره.ثانياً: إن هذه المرأة الحائض التي حاضت قبل أن تحرم يمكنها أن تحرم وهي حائض لأن النبي صلى الله عليه وسلم أمر أسماء بنت عميس امراة أبي بكر رضي الله عنهما حين نفست في ذي الحليفة أمرها أن تغتسل وتسثفر بثوب وتحرم وهكذا الحائض أيضاً وتبقى على إحرامها حتى تطهر، ثم تطوف بالبيت وتسعى.وأما قوله في السؤال: هل لها أن تقرأ القرآن؟. فنعم الحائض لها الحق أن تقرأ القرآن عند الحاجة، أو المصلحة، أمَّا بدون حاجة ولا مصلحة إنما تريد أن تقرأه تعبداً وتقرباً إلى الله فالأحسن ألا تقرأه.[س 48] سافرت امرأة إلى الحج وجاءتها العادة الشهرية منذ خمسة أيام من تاريخ سفرها وبعد وصولها إلى الميقات اغتسلت وعقدت الإحرام وهي لم تطهر من العادة وحين وصولها إلى مكة المكرمة ظلت خارج الحرم ولم تفعل شيئاً من
হজ্জ ও উমরায় ঋতুবতী নারীর বিধিবিধানসমূহ প্রসঙ্গে[প্রশ্ন ৪৭] ঋতুবতী নারী ইহরামের দুই রাকাত নামাজ কীভাবে আদায় করবেন? আর ঋতুবতী নারীর জন্য মনে মনে পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহ পাঠ করা কি বৈধ নাকি নয়?[উত্তর ৪৭] প্রথমত: আমাদের জানা উচিত যে, ইহরামের জন্য বিশেষ কোনো নামাজ নেই। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমনটি বর্ণিত হয়নি যে তিনি তাঁর উম্মতের জন্য ইহরামের কোনো নামাজ বিধিবদ্ধ করেছেন; না তাঁর বাণীর মাধ্যমে, না তাঁর কর্মের মাধ্যমে, আর না তাঁর মৌনসম্মতি (إقرار) এর মাধ্যমে।দ্বিতীয়ত: যে নারী ইহরাম বাঁধার পূর্বেই ঋতুবতী হয়েছেন, তিনি ঋতুগ্রস্ত অবস্থাতেই ইহরাম বাঁধতে পারেন। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসমা বিনতে উমাইস (রা.)—যিনি আবু বকর (রা.)-এর স্ত্রী ছিলেন—যখন তিনি যুল-হুলাইফায় প্রসবোত্তর রক্তস্রাব (نفاس) অবস্থায় ছিলেন, তখন নবী (সা.) তাঁকে গোসল করার, কাপড়ের পট্টি (استثفار) ব্যবহার করার এবং ইহরাম বাঁধার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অনুরূপভাবে ঋতুবতী নারীও ইহরাম করবেন এবং পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত ইহরাম অবস্থায় থাকবেন, অতঃপর বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করবেন এবং সাঈ করবেন।আর প্রশ্নের এই অংশ যে: তিনি কি কুরআন পাঠ করতে পারবেন? হ্যাঁ, ঋতুবতী নারীর প্রয়োজন বা কোনো মাসলাহাত (مصلحة) থাকলে কুরআন পাঠ করার অধিকার রয়েছে। তবে কোনো প্রয়োজন বা মাসলাহাত (مصلحة) ব্যতিরেকে স্রেফ ইবাদত ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে তিলাওয়াত করতে চাইলে, তা না করাই উত্তম।[প্রশ্ন ৪৮] এক নারী হজ্জের উদ্দেশ্যে সফর করেন এবং তাঁর সফরের তারিখ হতে পাঁচ দিন আগে থেকেই মাসিক ঋতুস্রাব শুরু হয়। মীকাত-এ পৌঁছানোর পর তিনি গোসল করেন এবং ইহরামের নিয়ত (عقد الإحرام) করেন, অথচ তিনি তখনও ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হননি। মক্কা মুকাররমায় পৌঁছানোর পর তিনি হারামের বাইরে অবস্থান করেন এবং কোনো আমলই করেননি...
(খণ্ড: ৬০)
৬০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফি আহকামিল হায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১৪৩)
شعائر الحج أو العمرة ومكثت يومين في منى ثم طهرت واغتسلت وأدت جميع مناسك العمرة وهي طاهر ثم عاد الدم إليها وهي في طواف الإفاضة للحج إلا أنها استحت وأكملت مناسك الحج ولم تخبر وليها إلا بعد وصولها إلى بلدها فما حكم ذلك؟.[جـ 48] الحكم في هذا أن الدم الذي أصابها في طواف الإفاضة إذا كان هو دم الحيض الذي تعرفه بطبيعته وأوجاعه فإن طواف الإفاضة لم يصح ويلزمها أن تعود إلى مكة لتطوف طواف الإفاضة فتحرم بعمرة من الميقات وتؤدي العمرة بطواف وسعي وتقصر ثم طواف الإفاضة، أما إذا كان هذا الدم ليس دم الحيض الدم الطبيعي المعروف وإنما نشأ من شدة الزحام أو الروعة أو ما شابه ذلك فإن طوافها يصح عند من لا يشترط الطهارة للطواف فإن لم يمكنها الرجوع في المسألة الأولى بحيث تكون في بلاد بعيدة فحجها صحيح لأنها لا تستطيع أكثر مما صنعت.[س 49] قدمت امرأة محرمة بعمرة وبعد وصولها إلى مكة حاضت ومحرمها مضطر إلى السفر فوراً، وليس لها أحد بمكة فما الحكم؟.[جـ] تسافر معه وتبقى على إحرامها، ثم ترجع إذا طهرت وهذا إذا كانت في المملكة لأن الرجوع سهل ولا يحتاج إلى تعب ولا إلى جواز سفر ونحوه، أما إذا كانت أجنبية ويشق عليها الرجوع فإنها تتحفظ وتطوف وتسعى وتقصر وتنهي عمرتها في نفس السفر لأن طوافها حينئذٍ صار ضرورة والضرورة تبيح المحظور.
হজ বা উমরার কার্যাদি পালনকালে এক নারী মিনায় দুই দিন অবস্থান করলেন, তারপর তিনি পবিত্র হলেন ও গোসল করলেন এবং পবিত্র অবস্থায় উমরার সমস্ত কার্যাদি সম্পন্ন করলেন। এরপর হজের তাওয়াফে ইফাদার সময় তাঁর পুনরায় রক্তস্রাব শুরু হলো, কিন্তু তিনি লজ্জায় হজের অবশিষ্ট কার্যাদি সম্পন্ন করলেন এবং নিজ দেশে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত তাঁর অভিভাবককে কিছুই জানালেন না। এর বিধান কী?[উত্তর ৪৮] এই বিষয়ের বিধান হলো, তাওয়াফে ইফাদার সময় তাঁর যে রক্তক্ষরণ হয়েছে, সেটি যদি তাঁর পরিচিত সেই স্বাভাবিক মাসিক স্রাব হয়ে থাকে যা তিনি তার প্রকৃতি ও ব্যথার মাধ্যমে চিনে থাকেন, তবে তাঁর তাওয়াফে ইফাদা সঠিক (صحيح) হয়নি। তাঁর জন্য পুনরায় মক্কায় ফিরে এসে তাওয়াফে ইফাদা করা আবশ্যক। এমতাবস্থায় তিনি মীকাত থেকে উমরার ইহরাম বাঁধবেন এবং তাওয়াফ, সাঈ ও চুল ছোট করার মাধ্যমে উমরা সম্পন্ন করবেন, এরপর তাওয়াফে ইফাদা করবেন। আর যদি এই রক্ত পরিচিত মাসিক স্রাব না হয়ে থাকে, বরং তা অতিরিক্ত ভিড়, আতঙ্ক বা এই জাতীয় অন্য কোনো কারণে হয়ে থাকে, তবে তাঁদের মতে তাঁর তাওয়াফ সঠিক (صحيح) হবে যাঁরা তাওয়াফের জন্য পবিত্রতাকে শর্ত মনে করেন না। কিন্তু প্রথম সুরত অনুযায়ী যদি তাঁর পক্ষে ফিরে আসা সম্ভব না হয়, যেমন তিনি অনেক দূরের কোনো দেশে অবস্থান করেন, তবে তাঁর হজ সঠিক (صحيح) বলে গণ্য হবে; কারণ তিনি তাঁর সামর্থ্যের বাইরে আর কিছু করতে সক্ষম ছিলেন না।[প্রশ্ন ৪৯] উমরার ইহরাম অবস্থায় এক নারী মক্কায় আসলেন এবং মক্কায় পৌঁছানোর পর তাঁর মাসিক শুরু হলো। তাঁর মাহরাম সফরসঙ্গী অবিলম্বে ফিরে যেতে বাধ্য এবং মক্কায় তাঁর দেখাশোনা করার মতো কেউ নেই। এমতাবস্থায় বিধান কী?[উত্তর] তিনি তাঁর মাহরামের সাথেই সফর করবেন এবং ইহরাম অবস্থায় থাকবেন। এরপর যখন তিনি পবিত্র হবেন তখন ফিরে আসবেন। এটি তখন প্রযোজ্য যখন তিনি এই দেশের (সৌদি আরব) ভেতরে অবস্থান করেন, কারণ তখন ফিরে আসা সহজ এবং এতে ক্লান্তি বা পাসপোর্ট ইত্যাদির প্রয়োজন হয় না। কিন্তু তিনি যদি বিদেশি হন এবং ফিরে আসা যদি তাঁর জন্য কষ্টসাধ্য হয়, তবে তিনি রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাওয়াফ, সাঈ ও চুল ছোট করবেন এবং একই সফরে তাঁর উমরা সম্পন্ন করবেন। কারণ এমতাবস্থায় তাঁর জন্য এই তাওয়াফ অপরিহার্য প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে, আর অপরিহার্য প্রয়োজন নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করে দেয়।
(খণ্ড: ৬০)
৬০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফি আহকামিল হায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১৪৪)
[س 50] ما حكم المرأة المسلمة التي حاضت في أيام حجها أيجزئها ذلك الحج؟.[جـ 50] هذا لا يمكن الإجابة عنه حتى يُعرف متى حاضت وذلك لأن بعض أفعال الحج لا يمنع الحيض منه، وبعضها يمنع منه، فالطواف لا يمكن أن تطوف إلا وهي طاهرة وما سواه من المناسك يمكن فعله مع الحيض.[س 51] تقول السائلة: لقد قمت بأداء فريضة الحج العام الماضي وأديت جميع شعائر الحج ما عدا طواف الإفاضة وطواف الوداع حيث منعني منهما عذر شرعي فرجعت إلى بيتي في المدينة المنورة على أن أعود في يوم من الأيام لأطوف طواف الإفاضة وطواف الوداع وبجهل مني بأمور الدين فقد تحللت من كل شيء وفعلت كل شيء يحرم أثناء الإحرام وسألت عن رجوعي لأطوف فقيل لي لا يصح لك أن تطوفي فقد أفسدت وعليك الإعادة أي إعادة الحج مرة أخرى في العام المقبل مع ذبح بقرة أو ناقة فهل هذا صحيح؟. وهل هناك حل آخر فما هو؟. وهل فسد حجي؟. وهل عليَّ إعادته؟. أفيدوني عمَّا يجب فعله بارك الله فيكم.[جـ 51] هذا أيضاً من البلاء الذي يحصل من الفتوى بغير علم. وأنت في هذه الحالة يجب عليك أن ترجعي إلى مكة وتطوفي طواف الإفاضة فقط، أما طواف الوداع فليس عليك طواف وداع مادمت كنت حائضاً عند الخروج من مكة وذلك لأن الحائض لا يلزمها طواف الوداع لحديث ابن عباس رضي الله عنهما: أمر الناس أن
[প্রশ্ন ৫০] সেই মুসলিম নারীর বিধান কী যিনি হজের দিনগুলোতে ঋতুবতী হয়েছেন? তাঁর সেই হজ কি যথেষ্ট হবে?[উত্তর ৫০] এর উত্তর দেওয়া ততক্ষণ সম্ভব নয় যতক্ষণ না জানা যাচ্ছে যে তিনি কখন ঋতুবতী হয়েছেন। কারণ হজের কিছু কার্যাবলীর ক্ষেত্রে ঋতুস্রাব বাধা হয়ে দাঁড়ায় না, আবার কিছু ক্ষেত্রে তা বাধা হয়ে থাকে। যেমন তওয়াফ পবিত্র হওয়া ছাড়া করা সম্ভব নয়, তবে তা ব্যতীত হজের অন্যান্য কার্যাদি ঋতু অবস্থায় পালন করা সম্ভব।[প্রশ্ন ৫১] প্রশ্নকারী বলছেন: আমি গত বছর ফরজ হজ পালন করেছি এবং তওয়াফে ইফাযাহ ও তওয়াফে বিদা ব্যতীত হজের সমস্ত রোকন আদায় করেছি। কারণ একটি শরয়ি ওজর আমাকে এ দুটি তওয়াফ থেকে বিরত রেখেছিল। অতঃপর আমি মদিনা মুনাওয়ারায় আমার বাড়িতে ফিরে আসি এই নিয়তে যে, কোনো একদিন ফিরে এসে তওয়াফে ইফাযাহ ও তওয়াফে বিদা সম্পন্ন করব। কিন্তু দ্বীনি বিষয়ে অজ্ঞতার কারণে আমি ইহরাম থেকে পুরোপুরি হালাল হয়ে যাই এবং ইহরাম অবস্থায় নিষিদ্ধ সকল কাজ করে ফেলি। এরপর তওয়াফ করার উদ্দেশ্যে ফিরে আসার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে আমাকে বলা হলো যে, আপনার তওয়াফ করা আর সঠিক হবে না, আপনি হজ নষ্ট করে ফেলেছেন এবং আগামী বছর একটি গরু বা উট জবেহ করার সাথে সাথে আপনাকে পুনরায় হজ করতে হবে। এটা কি সঠিক? এর কি অন্য কোনো সমাধান আছে? থাকলে তা কী? আমার হজ কি নষ্ট হয়ে গেছে? আমাকে কি পুনরায় হজ করতে হবে? কী করণীয় সে বিষয়ে আমাকে অবহিত করুন, আল্লাহ আপনাদের বরকত দান করুন।[উত্তর ৫১] এটিও ইলম ব্যতীত ফতোয়া দেওয়ার ফলে সৃষ্ট এক ভয়াবহ বিপদ। এই অবস্থায় আপনার জন্য মক্কায় ফিরে গিয়ে শুধুমাত্র তওয়াফে ইফাযাহ আদায় করা ওয়াজিব। আর তওয়াফে বিদা আপনার ওপর আবশ্যক নয় যেহেতু মক্কা ত্যাগের সময় আপনি ঋতুবতী ছিলেন। কারণ ঋতুবতী নারীর জন্য তওয়াফে বিদা পালন করা আবশ্যক নয়; ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদিস অনুসারে: "মানুষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে—"
(খণ্ড: ৬০)
৬০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফি আহকামিল হায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১৪৫)
يكون عهدهم بالبيت إلا أنه خفف عن الحائض، وفي رواية لأبي داود: أن يكون آخر عهدهم بالبيت الطواف. ولأن النبي صلى الله عليه وسلم لما أخبر أن صفية طافت طواف الإفاضة قال: "فلتنفر إذاً" ودلَّ هذا أن طواف الوداع يسقط عن الحائض أما طواف الإفاضة فلابد لك منه. ولما كانت تحللت من كل شيء جاهلة فإن هذا لا يضرك لأن الجاهل الذي يفعل شيئاً من محظورات الإحرام لا شيء عليه لقوله تعالى: {رَبَّنَا لا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا} [البقرة: 286] . قال الله تعالى: [قد فعلت] . وقوله: {وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ فِيمَا أَخْطَأْتُمْ بِهِ وَلَكِنْ مَا تَعَمَّدَتْ قُلُوبُكُمْ} . [الأحزاب: 5] . فجميع المحظورات التي منعها الله تعالى على المحرم إذا فعلها جاهلاً أو ناسياً أو مكرهاً فلا شيء عليه، لكن متى زال عذره وجب عليه أن يقلع عما تلبس به.[س 52] المرأة النفساء إذا بدأ نفاسها يوم التروية وأكملت أركان الحج عدا الطواف والسعي إلا أنها لاحظت أنها طهرت مبدئياً بعد عشرة أيام فهل تتطهر وتغتسل وتؤدي الركن الباقي الذي هو طواف الحج؟.[جـ 52] لا يجوز لها أن تغتسل وتطوف حتى تتيقن الطهر والذي يُفهم من السؤال حين قالت (مبدئيًّا) أنها لم تر الطهر كاملاً فلابد أن ترى الطهر كاملاً فمتى طهرت اغتسلت وأدت الطواف والسعي، وإن سعت قبل الطواف لا حرج؛ لأن النبي صلى الله عليه وسلم سئل في الحج عمن سعى قبل أن يطوف فقال: "لا حرج".
তাদের শেষ কাজ যেন হয় বায়তুল্লাহর সাথে (তাওয়াফ করা), তবে ঋতুমতী মহিলার জন্য বিষয়টি সহজ করা হয়েছে। আবু দাউদের একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: বায়তুল্লাহর সাথে তাদের শেষ কাজ যেন হয় তাওয়াফ। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জানতে পারলেন যে সাফিয়্যাহ (রা.) তাওয়াফ আল-ইফাদাহ সম্পন্ন করেছেন, তখন তিনি বললেন: "তাহলে সে যেন প্রস্থান করে।" এটি প্রমাণ করে যে, ঋতুমতী মহিলার ওপর থেকে বিদায়ী তাওয়াফ রহিত (ساقط) হয়ে যায়; তবে তাওয়াফ আল-ইফাদাহ অবশ্যই করতে হবে। যেহেতু তিনি অজ্ঞতাবশত সবকিছু থেকে ইহরামমুক্ত হয়েছিলেন, তাই এটি আপনার কোনো ক্ষতি করবে না। কারণ কোনো ব্যক্তি যদি অজ্ঞতাবশত ইহরামের নিষিদ্ধ (محظور) বিষয়গুলোর কোনোটি করে ফেলে, তবে তার ওপর কোনো দায় নেই। আল্লাহ তাআলার বাণী: {হে আমাদের প্রতিপালক! যদি আমরা বিস্মৃত হই অথবা ভুল করি, তবে আপনি আমাদের পাকড়াও করবেন না।} [আল-বাকারাহ: ২৮৬]। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: [আমি তা করলাম]। এবং তাঁর বাণী: {তোমরা ভুলবশত যা করেছ সে বিষয়ে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই, কিন্তু তোমাদের অন্তর যা ইচ্ছাকৃতভাবে করেছে (সেটির কথা ভিন্ন)} [আল-আহজাব: ৫]। সুতরাং ইহরাম গ্রহণকারীর জন্য আল্লাহ তাআলা যেসব বিষয় নিষিদ্ধ করেছেন, তার কোনোটি যদি সে অজ্ঞতাবশত, বিস্মৃতিবশত অথবা বাধ্য হয়ে করে ফেলে, তবে তার ওপর কোনো দায় নেই; কিন্তু যখনই তার ওজর বা অপারগতা দূর হবে, তখনই সেই নিষিদ্ধ লিপ্ততা থেকে ফিরে আসা ওয়াজিব (واجب) হয়ে যাবে।[প্রশ্ন ৫২] একজন নিফাসগ্রস্ত নারী যার নিফাস (نفاس) শুরু হয়েছে ইয়াওমুত তারবিয়াহর দিনে এবং তিনি তাওয়াফ ও সাঈ (سعي) ব্যতীত হজের বাকি রুকনসমূহ (أركان) সম্পন্ন করেছেন। তবে তিনি লক্ষ্য করলেন যে দশ দিন পর তিনি প্রাথমিকভাবে পবিত্র হয়েছেন। তিনি কি পবিত্রতা অর্জন করে গোসল করবেন এবং হজের অবশিষ্ট রুকন (ركن) অর্থাৎ তাওয়াফ সম্পাদন করবেন?[উত্তর ৫২] তার জন্য গোসল করা এবং তাওয়াফ করা জায়েজ (جائز) হবে না যতক্ষণ না তিনি পবিত্রতার (طهر) বিষয়ে নিশ্চিত হন। প্রশ্নের 'প্রাথমিকভাবে' শব্দটি থেকে যা বোঝা যাচ্ছে তা হলো, তিনি পূর্ণ পবিত্রতা দেখেননি। অতএব তাকে অবশ্যই পূর্ণ পবিত্রতা দেখতে হবে। অতঃপর যখন তিনি পবিত্র হবেন, তখন গোসল করবেন এবং তাওয়াফ ও সাঈ সম্পন্ন করবেন। আর যদি তিনি তাওয়াফের আগে সাঈ (سعي) করেন তবে কোনো অসুবিধা নেই; কারণ হজে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এমন ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে তাওয়াফের আগে সাঈ করেছে, তখন তিনি বলেছিলেন: "কোনো অসুবিধা নেই।"
(খণ্ড: ৬০)
৬০ সুয়াল ওয়া জাওয়াব ফি আহকামিল হায়েজ
(পৃষ্ঠা: ১৪৬)
[س 53] امرأة أحرمت بالحج من السيل وهي حائض ولما وصلت إلى مكة ذهبت إلى جدة لحاجة لها وطهرت في جدة واغتسلت ومشطت شعرها ثم أتمت حجها فهل حجها صحيح وهل يلزمها شيء؟.[جـ 53] حجها صحيح ولا شيء عليها.[س 54] سائلة: أنا ذاهبة للعمرة ومررت بالميقات وأنا حائض فلم أحرم وبقيت في مكة حتى طهرت فأحرمت من مكة فهل هذا جائز أم ماذا أفعل وما يجب عليَّ؟.[جـ 54] هذا العمل ليس بجائز، والمرأة التي تريد العمرة لا يجوز لها مجاوزة الميقات إلا بإحرام حتى لو كانت حائضاً، فإنها تحرم وهي حائض وينعقد إحرامها ويصح. والدليل لذلك أن أسماء بنت عميس زوجة أبي بكر رضي الله عنهما ولدت، والنبي صلى الله عليه وسلم نازل في ذي الحليفة يريد حجة الوداع فأرسلت إلى النبي صلى الله عليه وسلم كيف أصنع؟. قال: "اغتسلي واستثفري بثوب وأحرمي" ودم الحيض كدم النفاس فنقول للمرأة الحائض إذا مرت بالميقات وهي تريد العمرة أو الحج نقول لها: اغتسلي واستثفري بثوب وأحرمي، والاستثفار معناه أنها تشد على فرجها خرقة وتربطها ثم تحرم سواء بالحج أو بالعمرة ولكنها إذا أحرمت ووصلت إلى مكة لا تأتي إلى البيت ولا تطوف به حتى تطهر ولهذا قال النبي صلى الله عليه وسلم لعائشة حين حاضت في أثناء العمرة قال لها: "افعلي ما يفعل الحاج غير أن لا تطوفي في البيت حتى تطهري" هذه رواية البخاري
[স ৫৩] জনৈক মহিলা সায়লুল কবির থেকে হজের ইহরাম বেঁধেছিলেন এমতাবস্থায় যে তিনি ঋতুবতী ছিলেন। যখন তিনি মক্কায় পৌঁছালেন, তখন তিনি নিজের প্রয়োজনে জেদ্দায় গেলেন এবং জেদ্দায় থাকাকালে পবিত্র হলেন, গোসল করলেন ও চুল আঁচড়ালেন। এরপর তিনি তার হজ সম্পন্ন করেন। এখন প্রশ্ন হলো, তার হজ কি সঠিক (صحيح) এবং তার ওপর কি কোনো কিছু আবশ্যক?[জ ৫৩] তার হজ সঠিক (صحيح) এবং তার ওপর কোনো কিছু আবশ্যক নয়।[স ৫৪] জনৈক প্রশ্নকারিণী: আমি ওমরার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলাম এবং ঋতুবতী অবস্থায় মিকাত অতিক্রম করেছি কিন্তু আমি ইহরাম বাঁধিনি। পবিত্র হওয়া পর্যন্ত আমি মক্কায় অবস্থান করি এবং এরপর মক্কা থেকে ইহরাম বাঁধি। এখন এটি কি বৈধ নাকি আমার কী করা উচিত এবং আমার ওপর কী আবশ্যক?[জ ৫৪] এই কাজটি বৈধ নয়। ওমরা পালন করতে ইচ্ছুক কোনো মহিলার জন্য ইহরাম ব্যতীত মিকাত অতিক্রম করা বৈধ নয়, এমনকি তিনি ঋতুবতী হলেও। এমতাবস্থায় তিনি ঋতু থাকা অবস্থাতেই ইহরাম বাঁধবেন এবং তার ইহরাম কার্যকর ও সঠিক (صحيح) হবে। এর দলিল হলো যে, আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর স্ত্রী আসমা বিনতে উমাইস সন্তান প্রসব করেছিলেন এমতাবস্থায় যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বিদায় হজের উদ্দেশ্যে যুল-হুলাইফায় অবস্থান করছিলেন। তখন আসমা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট লোক পাঠিয়ে জিজ্ঞাসা করলেন যে তিনি এখন কী করবেন? তিনি বললেন: "তুমি গোসল করো, একটি কাপড় দিয়ে পট্টি (استثفار) বেঁধে নাও এবং ইহরাম করো।" আর ঋতুর রক্ত নেফাস (نفاس) বা প্রসবকালীন রক্তের মতোই। তাই আমরা ঋতুবতী মহিলাকে বলি, যখন তিনি ওমরা বা হজের নিয়তে মিকাত অতিক্রম করবেন, তখন তিনি যেন গোসল করেন, পট্টি (استثفار) বেঁধে নেন এবং ইহরাম করেন। 'ইস্তিসফার' (استثفار) এর অর্থ হলো তিনি তার লজ্জাস্থানে একটি কাপড়ের টুকরো বেঁধে নেবেন এবং তা শক্ত করে আটকাবেন, তারপর হজের বা ওমরার ইহরাম বাঁধবেন। কিন্তু তিনি যখন ইহরাম বেঁধে মক্কায় পৌঁছাবেন, তখন পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত বায়তুল্লাহতে যাবেন না এবং তওয়াফ করবেন না। এই কারণেই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-কে বলেছিলেন যখন ওমরা চলাকালীন তার ঋতুস্রাব শুরু হয়েছিল: "হজ পালনকারী যা যা করে তুমিও তা করো, তবে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত বায়তুল্লাহ তওয়াফ করো না।" এটি সহিহ বুখারি-র বর্ণনা (رواية)।