(খণ্ড: ১)
আস-সাহমুল মুসীব ফির রাদ্দি আলাল খাতীব - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
السهم المصيب في الرد على الخطيب - ط العلمية القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: الرد على الخطيب البغدادي [وهو «السهم المصيب في الرد على الخطيب»
ردَّ فيه على ما جاء في تاريخ بغداد من التعرض لأبي حنيفة]
المؤلف: [الملك المعظم عيسى الأيوبي (ت 624 هـ)، وما ورد على غلاف المطبوع من نسبته للمُحِب ابن النجار (ت 643 هـ): غلطٌ محض]
دراسة وتحقيق: مصطفى عبد القادر عطا
مطبوع بذيل: تاريخ بغداد (جـ 22)
الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان
الطبعة: (الأولى، 1417 هـ - 1997 م)، (الثانية، 1425 هـ - 2004 م)
عدد الصفحات: 148 (وهو جـ 22 من تاريخ بغداد وذيوله ط العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আস-সাহমুল মুসিব ফি আর-রাদ্দি আলাল খাতিব - ইলমিয়্যাহ সংস্করণ বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
কিতাব: আল-খতিব আল-বাগদাদির খণ্ডন [যা মূলত «আস-সাহমুল মুসিব ফি আর-রাদ্দি আলাল খাতিব»
এতে তারিক-ই-বাগদাদ গ্রন্থে আবু হানিফা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার জবাব দেওয়া হয়েছে]
লেখক: [আল-মালিকুল মুয়াযযাম ঈসা আল-আইয়ুবি (মৃত্যু ৬২৪ হিজরি)، আর মুদ্রিত কপির প্রচ্ছদে একে মুহিব ইবনে আন-নাজ্জার (মৃত্যু ৬৪৩ হিজরি)-এর দিকে নিসবত করা যা এসেছে: তা নিছক ভুল]
পর্যালোচনা ও সম্পাদনা: মুস্তফা আব্দুল কাদির আতা
পরিশিষ্ট হিসেবে মুদ্রিত: তারিক-ই-বাগদাদ (খণ্ড ২২)
প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ، বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: (প্রথম، ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ)، (দ্বিতীয়، ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ)
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৮ (যা ইলমিয়্যাহ সংস্করণের তারিক-ই-বাগদাদ এবং এর পরিশিষ্টগুলোর ২২তম খণ্ড)
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ٢٢)
আস-সাহমুল মুসীব ফির রাদ্দি আলাল খাতীব - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
كتاب الرّد على أبي بكر الخطيب البغدادي
تأليف: الإمام الحافظ محبّ الدّين أبي عبد الله محمّد بن محمود ابن الحسن بن هبة الله بن محاسن المعروف بابن النجّار البغدادي المتوفى سنة 643 هـ
[*]دراسة وتحقيق: مصطفى عبد القادر عطا
دار الكتب العلمية
بيروت - لبنان
--------------------------------------------
আবু বকর আল-খতিব আল-বাগদাদীর খণ্ডনমূলক গ্রন্থ
রচনা: ইমাম আল-হাফিয মুহিব্বুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মাহমুদ ইবনুল হাসান বিন হিবাতুল্লাহ বিন মাহাসিন, যিনি ইবনে নাজ্জার আল-বাগদাদী নামে পরিচিত, মৃত্যু ৬৪৩ হিজরী
[*]গবেষণা ও সম্পাদনা: মুস্তফা আব্দুল কাদির আতা
দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ
বৈরুত - লেবানন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢٢)
আস-সাহমুল মুসীব ফির রাদ্দি আলাল খাতীব - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
قال الخطيب أبو بكر أحمد بن على بن ثابت البغدادي، صاحب التاريخ في تاريخه: أخبرنا العتيقى أنبأنا محمد بن العباس أنبأنا أبو أيوب سليمان بن إسحاق الجلاب قال: سمعت إبراهيم الحربي يقول: كان أبو حنيفة طلب النحو في أول أمره فذهب يقيس فلم يجيء، وأراد أن يكون فيه أستاذا قال: قلب وقلوب. وكلب وكلوب. فقيل له كلب وكلاب ووقع في الفقه، فكان يقيس ولم يكن له علم بالنحو؟ فسأله رجل بمكة. فقال له: رجل شجّ رجلا بحجر. فقال: هذا خطأ ليس عليه شيء لو أنه حتى يرميه بأبا قبيس لم يكن عليه شيء.
فأقول وبالله التوفيق.
هذا من يكون عالما بالعربية. لأن الشرع مردود إلى ما ورد عن النبي صلى الله عليه وسلم. والعربية مردودة إلى العرب. فما جاء عنهم أخذنا به. فإن كان كثيرا جوزناه وإن كان قليلا جدا. قال سيبويه في مثل هذا: سمعنا من العرب من يقول ذاك، فإن كان قد سمعه من فصيح أو موثوق به نبه عليه. فقال سمعناه ممن يوثق بعربيته، وقوله: بأبا قبيس. قد جاء مثله للعرب وهو قولهم:
إن أباها وأبا أباها
… قد بلغا في المجد غايتاها
فهذا منقول عن العرب. وقد قرئ في قوله تعالى: {إِنْ هذانِ لَساحِرانِ} [طه 63] ولم يقرأ إن هذين غير أبى عمرو. فكان بعض العرب يجعل التثنية مبنية على هذا الوجه. ألا ترى إلى اسم إن لم يتغير بدخول إنّ عليه معما أنهم لم يدخلوا في كلامهم إن إلا للتأكيد. والحروف الستة عند بعض العرب مبنية إذا كانت مضافة تقول: رأيت أباك، ومررت بأباك. وقد جاء في قول الشاعر:
إذا ابن أبى موسى بلالا بلغته
… وقام بفأس بين وصلاك جازر
وأكثر الرواية فيها على الوجه الأصلى وهو: بين وصليك. قال سيبويه: واعلم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ইতিহাসগ্রন্থ 'তারিখ'-এর রচয়িতা খতিব আবু বকর আহমদ বিন আলি বিন সাবিত আল-বাগদাদি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-আতিকি, তিনি সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন আল-আব্বাস থেকে, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আবু আইয়ুব সুলাইমান বিন ইসহাক আল-জাল্লাব থেকে, তিনি বলেন: আমি ইবরাহিম আল-হারবিকে বলতে শুনেছি যে, আবু হানিফা শুরুতে নাহু (আরবি ব্যাকরণ) শিক্ষা করতে চেয়েছিলেন। তিনি তাতে কিয়াস (যুক্তি প্রয়োগ) করতে চাইলেন কিন্তু তা সফল হলো না। তিনি এই শাস্ত্রে ওস্তাদ হতে চেয়েছিলেন। তিনি বললেন: 'কালব' (অন্তর) এর বহুবচন 'কুলুব', তেমনি 'কালব' (কুকুর) এর বহুবচন হওয়া উচিত 'কুলুব'। তাকে বলা হলো, কুকুরের বহুবচন হলো 'কিলাব'। এরপর তিনি ফিকহ শাস্ত্রের প্রতি মনোনিবেশ করলেন। সেখানে তিনি কিয়াস করতেন কিন্তু নাহু শাস্ত্রে তার গভীর জ্ঞান ছিল না। মক্কায় এক ব্যক্তি তাকে প্রশ্ন করল: এক ব্যক্তি অন্য একজনকে পাথর নিক্ষেপ করে তার মাথা ফাটিয়ে দিয়েছে (এখন তার হুকুম কী?)। তিনি বললেন: এটি একটি ভুলবশত হওয়া কাজ, এর জন্য তার ওপর কোনো দায় নেই। এমনকি সে যদি তাকে 'আবা কুবাইস' (পাহাড়) দিয়েও আঘাত করত, তবুও তার ওপর কোনো দায় আসত না।
আমি বলছি, আর আল্লাহর তাওফিকই কাম্য।
এটি এমন একজন ব্যক্তির বক্তব্য যিনি আরবি ভাষায় পণ্ডিত। কারণ শরিয়ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার ওপর নির্ভরশীল। আর আরবি ভাষা আরবদের ওপর নির্ভরশীল। তাদের কাছ থেকে যা বর্ণিত হয়েছে আমরা তা গ্রহণ করি। যদি সেটি বহুল প্রচলিত হয় তবে আমরা তা অনুমোদন করি, এমনকি যদি তা খুব সামান্যও হয়। সিবওয়াইহ এই প্রসঙ্গে বলেছেন: আমরা আরবদের মধ্যে এমন কাউকে বলতে শুনেছি যারা এটি বলে। যদি তিনি কোনো শুদ্ধভাষী বা নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির কাছ থেকে এটি শুনে থাকেন, তবে তিনি সে বিষয়ে সতর্ক করেন। তিনি বলেছিলেন: আমরা এটি এমন ব্যক্তির থেকে শুনেছি যার আরবি ভাষার বিশুদ্ধতার ওপর ভরসা করা যায়। আর তাঁর উক্তি: 'আবা কুবাইস' (বি-হারফে জরের পরে আলিফ রাখা); আরবদের বক্তব্যে অনুরূপ দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়, যেমন তাদের পংক্তি:
নিশ্চয়ই তার পিতা এবং তার পিতার পিতা
… সম্মানের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছেছেন।
এটি আরবদের থেকে বর্ণিত। মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই এই দুইজন জাদুকর} [সুরা ত্বহা: ৬৩]-এর ক্বিরাতেও এটি পাঠ করা হয়েছে। আবু আমর ব্যতীত অন্য কেউ এখানে 'ইন্না হাযাইনি' পড়েননি। ফলে কিছু আরব দ্বিবচনকে এই রূপের ওপর ভিত্তি করে অপরিবর্তনীয় ধরতেন। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, 'ইন্না' প্রবেশের ফলেও ইসমে 'ইন্না'র কোনো পরিবর্তন হয়নি, যদিও তারা তাদের বক্তব্যে জোর প্রদানের উদ্দেশ্য ছাড়া 'ইন্না' ব্যবহার করে না। কিছু আরবের মতে ছয়টি বিশেষ্য যখন সম্বন্ধযুক্ত (মুদাফ) হয় তখন তা অপরিবর্তনীয় থাকে; যেমন আপনি বলবেন: আমি তোমার পিতাকে দেখেছি (রাআইতু আবাকা), এবং আমি তোমার পিতার পাশ দিয়ে গেলাম (মারারতু বি-আবাকা)। কবির একটি চরণেও এটি এসেছে:
যখন ইবনে আবু মুসা বিলালের নিকট পৌঁছাবে
… এবং কসাই কুঠার হাতে তোমার হাড়ের জোড়ার মাঝে দাঁড়াবে।
তবে এর অধিকাংশ বর্ণনা মূল ব্যাকরণিক রূপ অনুযায়ী এসেছে, যা হলো: 'বাইনা ওয়াসলাইকা'। সিবওয়াইহ বলেন: জেনে রাখো...
(খণ্ড: ٢٢)
আস-সাহমুল মুসীব ফির রাদ্দি আলাল খাতীব - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
أنهم لا يغيرون كلامهم إلا وهم يحاولون بذلك وجها لعلمه بأن إن مؤكدة لما كانت داخلة على مبتدإ وخبر وفيه معنى لا يحتاج إلى دخولها ألا ترى إلى قولهم زيد منطق أنه كلام تام مبتدأ وخبره. وإنما أدخلوا إن لتؤكد هذا المعنى الذي في المبتدأ والخبر من غير إخلال. ولما كانت إن جامدة جمود الاسم كان عملها فيه- أعنى النصب- بخلاف كان. لأنها منصرفة تقول: كأن يكون كونا فلما دخلت على الماضي والمستقبل والحال أشبهت الأفعال. فكان عملها فيها تقول: كان زيد منطلقا. ترفع الاسم وتنصب الخبر بخلاف إن. فإذا كانت إن مزادة للتأكيد لم تغير إن عن عملها في التثنية. كيف تغيرها الباء الزائدة مع أنها تحذف ولا تعمل. وكونها زائدة يكفى فيما ذكرت.
وأما كلام أبى حنيفة رضي الله عنه في العربية غير مخفي وهو ما حكى عنه محمد ابن الحسن رضي الله عنه وسأذكر بعض ذلك لتقف عليه إن شاء الله تعالى.
مسألةرجل قال لامرأته: أنت طالق إن دخلت الدار. لا تطلق حتى تدخل الدار ولو فتح «أن» طلقت للوقت. والفرق بينهما أنه إذا كسر إن كانت للشرط وإذا فتحها كانت بتقدير اللام. فكأنه قال لدخولك الدار. فلم يصر هذا الكلام من صفة الطلاق ولا من الشرط. فصار كأنه قال مبتدأ: أنت طالق. فطلقت في الوقت. قال سيبويه في باب من أبواب أن التي تكون والفعل بمنزلة مصدر تقول: أن تأتنى خير لك كأنك قلت الإتيان خير لك. ومثل ذلك قوله تعالى: {وَأَنْ تَصُومُوا خَيْرٌ لَكُمْ} [البقرة 184] يعنى الصوم خير لكم. قال عبد الرحمن بن حسان:
إنّي رأيت من المكارم حسبكم
… أن تلبسوا خز الثياب وتشبعوا
كأنه قال: رأيت حسبكم لبث الثياب.
واعلم أن اللام ونحوها من حروف الجر قد تحذف من أن، كما حذفت من إن، جعلوها بمنزلة المصدر حين قلت فعلت ذاك حذر الشر، أى لحذر الشر.
ويكون مجرورا على التفسير الآخر. يعنى حين قدرها باللام التي تجر. ومثل ذلك قولك: إنما انقطع إليك أن تكرمه أى لأن تكرمه قال الله تعالى:
তারা তাদের বক্তব্য পরিবর্তন করে না যতক্ষণ না তারা এর মাধ্যমে জ্ঞানের কোনো দিক অন্বেষণ করে। কারণ তিনি জানেন যে, 'ইন্না' (إن) যখন মুক্তাদা ও খবরের শুরুতে যুক্ত হয়, তখন তা নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য আসে। এতে এমন অর্থ থাকে যা এই অব্যয়টি যুক্ত হওয়া ছাড়াও বিদ্যমান থাকে। আপনি কি তাদের কথা ‘যায়েদ একজন বক্তা’ (যায়েদুন মুন্তিকুন)-এর দিকে লক্ষ্য করেছেন না? এটি একটি পূর্ণ বাক্য যা মুক্তাদা ও খবর দ্বারা গঠিত। তারা মূলত মুক্তাদা ও খবরের মধ্যকার এই অর্থকে কোনো প্রকার বিচ্যুতি ছাড়াই সুদৃঢ় করার জন্য 'ইন্না' যুক্ত করেছে। যেহেতু 'ইন্না' বিশেষ্যের (ইসিম) মতো অপরিবর্তনীয় (জামিদা), তাই এর আমল হলো 'নসব' (জবর) প্রদান করা—যা 'কানা' (كان)-এর আমলের বিপরীত। কারণ 'কানা' রূপান্তরযোগ্য; আপনি বলতে পারেন: 'কা-না', 'ইয়াকুনু', 'কাওনান'। ফলে এটি যখন অতীত, ভবিষ্যৎ ও বর্তমান কালের অর্থ প্রকাশ করে, তখন এটি ক্রিয়া বা ফেল-এর সদৃশ হয়ে যায়। তাই এতে এর আমল হয় এমন: আপনি বলবেন, 'যায়েদ প্রস্থানকারী ছিল' (কানা যায়েদুন মুন্তালিকান)। এটি ইসিমকে 'রফা' (পেশ) দেয় এবং খবরকে 'নসব' (জবর) দেয়, যা 'ইন্না'-এর বিপরীত। সুতরাং 'ইন্না' যদি তাকিদ বা নিশ্চয়তার জন্য অতিরিক্ত হিসেবে আসে, তবে তা দ্বিবচনের ক্ষেত্রে 'ইন্না'-এর আমলকে পরিবর্তন করে না। অতিরিক্ত 'বা' (ب) কীভাবে একে পরিবর্তন করবে, অথচ এটি বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং কোনো আমল করে না? আপনি যা উল্লেখ করেছেন তার জন্য এর অতিরিক্ত হওয়াটাই যথেষ্ট।
আর আরবি ভাষার পাণ্ডিত্যের ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফা (রা.)-এর অবস্থান অস্পষ্ট নয়; এটি সেটিই যা মুহাম্মদ ইবনুল হাসান (রা.) তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। ইনশাআল্লাহ তাআলা আমি এর কিছু অংশ উল্লেখ করব যাতে আপনি তা অবগত হতে পারেন।
মাসআলাএক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল: "তুমি তালাক যদি (ইন্না) তুমি ঘরে প্রবেশ করো।" তবে সে ঘরে প্রবেশ না করা পর্যন্ত তালাক হবে না। আর যদি সে 'আন্না' (জবর দিয়ে) বলত, তবে সাথে সাথেই তালাক হয়ে যেত। এই দুটির মধ্যে পার্থক্য হলো—যখন 'ইন্না' (জের দিয়ে) পড়া হয় তখন তা শর্তের অর্থ দেয়। আর যখন জবর দিয়ে ('আন্না') পড়া হয় তখন তা 'লাম' অব্যয় উহ্য থাকার অর্থ প্রদান করে। যেন সে বলল: "তোমার ঘরে প্রবেশের কারণে (তুমি তালাক)।" ফলে এই বাক্যটি তালাকের গুণ বা শর্তের অন্তর্ভুক্ত রইল না। বরং এটি এমন হয়ে গেল যেন সে শুরুতেই বলেছে: "তুমি তালাক।" ফলে তৎক্ষণাৎ তালাক কার্যকর হয়ে গেল। সিবাওয়াইহ 'আন্না' সংক্রান্ত একটি অধ্যায়ে বলেছেন যে, এটি এবং এর পরবর্তী ক্রিয়া (ফেল) মাসদারের (ক্রিয়ামূল) স্থলাভিষিক্ত হয়। যেমন আপনি বলেন: "তোমার আমার কাছে আসা (আন তা’তিয়ানি) তোমার জন্য কল্যাণকর", যেন আপনি বললেন: "তোমার আসা তোমার জন্য কল্যাণকর।" এর অনুরূপ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "আর তোমাদের রোজা রাখা তোমাদের জন্য কল্যাণকর" [সূরা বাকারা: ১৮৪], অর্থাৎ: "রোজা রাখা তোমাদের জন্য কল্যাণকর।" আবদুর রহমান ইবনে হাসসান বলেন:
আমি তোমাদের আভিজাত্য থেকে এটিই যথেষ্ট দেখেছি যে... তোমরা রেশমি পোশাক পরবে এবং তৃপ্ত হবে।
যেন তিনি বলেছেন: "আমি তোমাদের পোশাক পরিধান করাকেই যথেষ্ট মনে করেছি।"
জেনে রাখুন যে, 'লাম' এবং এর সদৃশ হরফে জারসমূহ 'আন্না' থেকে বিলুপ্ত হতে পারে, যেমনটি 'ইন্না' থেকেও বিলুপ্ত হয়েছে। তারা একে মাসদারের মর্যাদায় গণ্য করেছে যেমন আপনি বলেন: "আমি অনিষ্টের ভয়ে (হাযারুশ শার্রি) এটি করেছি", অর্থাৎ অনিষ্টের ভয়ার কারণে।
অন্য ব্যাখ্যা অনুযায়ী এটি মাজরুর (জেরযুক্ত) হবে। অর্থাৎ যখন একে 'লাম'-এর মাধ্যমে উহ্য ধরা হবে যা মাজরুর করে থাকে। এর উদাহরণ হলো আপনার উক্তি: "সে কেবল তোমার প্রতি অনুরাগী হয়েছে তাকে সম্মানিত করার জন্য (আন তুকরিমানু)", অর্থাৎ তাকে সম্মানিত করার কারণে। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন:
(খণ্ড: ٢٢)
আস-সাহমুল মুসীব ফির রাদ্দি আলাল খাতীব - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
{أَنْ تَضِلَّ إِحْداهُما فَتُذَكِّرَ} [البقرة 282] أى لأن تضل: وقال: {أَنْ كَانَ ذَا مَالٍ وَبَنِينَ} [القلم 14] أى لأن كان ذا مال. قال الأعشى:
أأن رأت رجلا أعشى أضربه
… ريب المنون ودهر تابل خبل
فإن المخففة هنا حالها في حذف حرف الجر كحال إنّ المثقلة. وتفسيرها كتفسيرها وهي وتفسيرها بمنزلة المصدر. ألا ترى أنك لو قلت: لم يك ولم أبل. لم يتغير عملها بالحذف لأن أصل أك أكن حذفت النون لكثرة الاستعمال. وكذلك أبل أصلها أبالى فلما حذف منها ما حذف لم يتغير عملها كذلك أن لما خففت نفى عملها إلا ان الفرق بين المكسورة والمفتوحة ما ذكرت.
مسألةرجل قال لامرأته:- وهي غير مدخول بها- إن كلمتك فأنت طالق إن كلمتك فأنت طالق. إن كلمتك فأنت طالق. طلقت واحدة لأنه في المرة الأولى حلف بطلاقها أن لا يكلمها فإذا قال لها في المرة الثانية: إن كلمتك فأنت طالق وجد شرط انحلال اليمين الأولى، ووقعت تطليقة يعنى أنه إذا قال إن كلمتك فقد جاء بالشرط والجزاء والشرط والجزاء كلام تام. لأنه مثل المبتدإ والخبر. ففيه فائدة تامة. فإذا كان كذلك صار كلام تاما فوقع به الطلاق وإن كان قد أوجب شرطا آخر فلما قال في المرة الثالثة وجد منه الكلام ولم يصادف الشرط ما يمكن أن يكون جزاء فلغا ألا ترى إلى قوله: إن كلمتك فأنت طالق يقتضى كلام تاما مفهما للمعنى وإنما يتم بقوله فأنت طالق فوجب أن لا يحنث في الأولى إلا بعد الفراغ من الثانية ولما فرغ من الثانية كانت في ملكه، فصح إدخالها في الجزاء فانعقدت اليمين الثانية فإذا قال في المرة الثالثة حنث في اليمين الثانية لكن لم تصادف الملك فلغا فلا تنعقد اليمين الثالثة لأنها كانت خارجة عن ملكه فإن تزوجها بعد ذلك وكلها لا يحنث، لأن اليمين الثالثة لم تنعقد ولو كانت المرأة مدخولا بها تقع تطبيقات لأن الأولى انحلت بالثانية والثالثة وبقيت الثالثة منعقدة فإذا كلمها وهي في العدة تقع أخرى لوجود الشرط في علقة الملك. ولو قال لامرأته- ولم يدخل بها-: أن حلفت بطلاقك فأنت طالق، قالها ثلاث مرات وقعت تطبيقه واحدة، لأنه في المرة الأولى حلف بطلاقها أن لا يحلف بطلاقها فإذا قال لها في المرة الثانية: أن حلفت بطلاقك فأنت طالق فقد
{যাতে তাদের একজন পথভ্রষ্ট হয় (ভুলে যায়), ফলে অন্যজন তাকে স্মরণ করিয়ে দেয়} [আল-বাকারা ২৮২] অর্থাৎ যাতে সে পথভ্রষ্ট হয়। এবং তিনি বলেছেন: {যেহেতু সে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির অধিকারী ছিল} [আল-কালাম ১৪] অর্থাৎ কারণ সে ধন-সম্পদের অধিকারী ছিল। আল-আ’শা বলেছেন:
সে কি এক ব্যক্তিকে দেখেছে যার দৃষ্টি ক্ষীণ, তাকে আঘাত করছে
… মৃত্যুর বিপর্যয় এবং বিভ্রান্তিকর ধ্বংসাত্মক কাল।
এখানে লঘু ‘আন’ (আন-আল-মুকহাফফাফাহ)-এর অবস্থা অব্যয় (হারফে জার) বিলুপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ভারী ‘ইন্না’ (ইন্না-আল-মুসাক্কালাহ)-এর অবস্থার মতোই। আর এর ব্যাখ্যা তার ব্যাখ্যার মতোই, এবং এটি ও এর ব্যাখ্যা ক্রিয়ামূল (মাসদার)-এর স্থলাভিষিক্ত। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, আপনি যদি বলেন: ‘সে ছিল না’ (লাম ইয়াকু) এবং ‘আমি পরোয়া করিনি’ (লাম উবালি), তবে বিলুপ্তির কারণে এদের আমল (ক্রিয়াশীলতা) পরিবর্তিত হয় না; কারণ ‘আকু’ (একু)-এর মূল ছিল ‘আকুন’ (একুন), অধিক ব্যবহারের কারণে ‘নূন’ বিলুপ্ত করা হয়েছে। একইভাবে ‘উবালি’-এর মূল ছিল ‘উবালিই’ (দীর্ঘ ঈ-সহ), যখন তা থেকে যা বিলুপ্ত হওয়ার তা হয়েছে, তখন তার আমল পরিবর্তিত হয়নি। তেমনিভাবে ‘আন’ যখন লঘু করা হয় তখন তার আমল নাকচ হয়ে যায়, তবে কাসরাযুক্ত (ইন) এবং ফাতহাযুক্ত (আন)-এর মধ্যে পার্থক্য হলো যা আমি উল্লেখ করেছি।
মাসয়ালাএক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে—যার সাথে সহবাস সম্পন্ন হয়নি—বলল: ‘যদি আমি তোমার সাথে কথা বলি তবে তোমার তালাক, যদি আমি তোমার সাথে কথা বলি তবে তোমার তালাক, যদি আমি তোমার সাথে কথা বলি তবে তোমার তালাক’। এতে এক তালাক পতিত হবে। কারণ প্রথমবার সে তাকে তালাক দেওয়ার শপথ করেছে যে সে তার সাথে কথা বলবে না। এরপর যখন সে দ্বিতীয়বার তাকে বলল: ‘যদি আমি তোমার সাথে কথা বলি তবে তোমার তালাক’, তখন প্রথম শপথ ভঙ্গের শর্ত পাওয়া গেল এবং এক তালাক পতিত হলো। এর অর্থ হলো, যখন সে বলল ‘যদি আমি তোমার সাথে কথা বলি’, তখন সে শর্ত ও প্রতিদান (জাযা) নিয়ে এসেছে, আর শর্ত ও প্রতিদান মিলে একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য হয়। কারণ এটি মুক্তাদা (উদ্দেশ্য) ও খবর (বিধেয়)-এর মতো, যাতে একটি পূর্ণাঙ্গ উপকারিতা বা অর্থ বিদ্যমান। যখন বিষয়টি এমন হলো, তখন এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বাক্য হিসেবে গণ্য হলো এবং এর মাধ্যমে তালাক পতিত হলো, যদিও সে অন্য একটি শর্তারোপ করেছে। সুতরাং যখন সে তৃতীয়বার বলল, তখন তার পক্ষ থেকে কথা পাওয়া গেল কিন্তু শর্তটি এমন কিছুর মুখোমুখি হয়নি যা প্রতিদান (জাযা) হতে পারে, তাই তা নিরর্থক হয়ে গেল। আপনি কি তার কথাটির দিকে লক্ষ্য করেন না: ‘যদি আমি তোমার সাথে কথা বলি তবে তোমার তালাক’—এটি একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থবোধক বাক্যের দাবি রাখে এবং ‘তবে তোমার তালাক’ বলার মাধ্যমেই তা পূর্ণ হয়। সুতরাং দ্বিতীয় বাক্যটি শেষ করার আগে প্রথমটিতে শপথ ভঙ্গ হওয়া আবশ্যক নয়। আর যখন সে দ্বিতীয় বাক্যটি শেষ করল, তখন সে (স্ত্রী) তার বিবাহাধীনে ছিল, তাই তাকে প্রতিদানের অন্তর্ভুক্ত করা সঠিক হয়েছে এবং দ্বিতীয় শপথটি কার্যকর হয়েছে। এরপর যখন সে তৃতীয়বার বলল, তখন সে দ্বিতীয় শপথে শপথ ভঙ্গকারী হলো কিন্তু তা বিবাহের মালিকানার অনুকূলে হয়নি (কারণ দ্বিতীয় বাক্যের শুরুতে প্রথম তালাকটি কার্যকর হয়ে সে বিবাহ বহির্ভূত হয়ে গেছে), তাই তা নিরর্থক হয়ে গেল। ফলে তৃতীয় শপথটি আর কার্যকর হবে না, কারণ সে তখন তার মালিকানার বাইরে ছিল। এমতাবস্থায় যদি সে তাকে পুনরায় বিবাহ করে এবং তার সাথে কথা বলে, তবে সে শপথ ভঙ্গকারী হবে না; কারণ তৃতীয় শপথটি কার্যকরই হয়নি। আর স্ত্রী যদি সহবাসকৃত হতো, তবে তালাকসমূহ পতিত হতো; কারণ প্রথম শপথটি দ্বিতীয় ও তৃতীয় বাক্যের মাধ্যমে বিযুক্ত হয়ে যেত এবং তৃতীয়টি বলবৎ থাকত। ফলে ইদ্দত চলাকালীন সে যদি তার সাথে কথা বলত, তবে বিবাহের সম্পর্কের উপস্থিতিতে শর্ত পাওয়া যাওয়ার কারণে অন্য তালাক পতিত হতো। আর যদি সে তার স্ত্রীকে—যার সাথে সহবাস হয়নি—বলত: ‘যদি আমি তোমার তালাকের শপথ করি তবে তোমার তালাক’, এবং কথাটি তিনবার বলত, তবে এক তালাক পতিত হতো। কারণ প্রথমবার সে তার তালাকের শপথ করেছিল যে সে তার তালাকের শপথ করবে না। অতঃপর যখন সে দ্বিতীয়বার তাকে বলল: ‘যদি আমি তোমার তালাকের শপথ করি তবে তোমার তালাক’, তখন সে...
(খণ্ড: ٢٢)
আস-সাহমুল মুসীব ফির রাদ্দি আলাল খাতীব - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
حلف بطلاقها ووجد الشرط، فانحلت اليمين الأولى وطلقت واحدة، واليمين الثانية منعقدة لأنه إنما حنث في اليمين الأولى بعد الفراغ من اليمين الثانية لأن اليمين إنما تصح بالجزاء وحينما تكلم بالجزاء كانت في ملكه فلما كررها في المرة الثالثة لم تنحل اليمين الثانية، لأن المرأة بانت بلا عدة، فلم يصح في المرة الثالثة إدخالها تحت الجزاء فوجد شرط حنثه وهو الحلف بطلاقها، بخلاف المسألة الأولى ففرق بين قوله:
إن كلمتك وإن حلفت بطلاقك، لأن شرط الحنث هناك هو الكلام، والكلام يصح إن كانت المرأة في ملكه أو لم تكن واليمين بالطلاق لا يصح إلا في ملك، أو في علقة من علائق الملك، أو في مضاف إلى الملك.
الأصل في مسائل الأيمانإن اليمين على ضربين: يمين يراد بها تعظيم المقسم به وهو الحلف بالله تعالى ويمين هي شرط وجزاء. قال سيبويه: اليمين جملة يؤكد بها الكلام.
قوله جملة، يعنى من فعل وفاعل، أو من مبتدأ وخبر، أو شرط وجزاء: أما المبتدأ والخبر قولك: والله لا كلمت زيدا، والجملة التي من فعل وفاعل: والله خالق السموات لا كلمت زيدا، والشرط والجزاء كقولك: إن دخلت الدار فو الله لا كلمتك وهنا لا يصح إلا في الملك أو مضافا إلى الملك أو في علقة من علائق الملك، وأما الشرط فيصح في الملك وغيره. والمحلوف عليه من دخل تحت الجزاء لا من دخل تحت الشرط لأن الجزاء قوله أنت كذا وكان هو الداخل تحت اليمين وإنما لا يحتاج الشرط أن يكون في الملك لأن ذكر الشرط ليس بتصرف في الملك والجزاء إنما يجازى بما في ملكه فلذلك سمى جزاء لأن المجازاة هي أن يكون منك فعل قبالة فعل غيرك أو فعل غيرك قبالة فعلك إن خيرا فخير وإن شرا فشر قال الله تعالى: {وَجَزاءُ سَيِّئَةٍ سَيِّئَةٌ مِثْلُها} وقال الشاعر:
جزى الله عنا ذات بعل تصدقت
… على عزب حتى يكون له أهل
فإنا سنجزيها كما فعلت بنا
… إذا ما تزوجنا وليس لها بعل
ألا ترى إلى قوله: نجزيها كما فعلت وجزى الله والمعلق بالشرط لا ينزل إلا عند وجوده والنكرة في النفي تعم. تقول: ما رأيت اليوم رجلا تقديره ما رأيت اليوم
তিনি তাঁর স্ত্রীর তালাকের শপথ করলেন এবং শর্তটি পাওয়া গেল, ফলে প্রথম শপথটি ভঙ্গ হয়ে গেল এবং এক তালাক পতিত হলো। কিন্তু দ্বিতীয় শপথটি কার্যকর রয়ে গেল, কারণ তিনি দ্বিতীয় শপথটি সম্পন্ন করার পরই প্রথম শপথটি ভঙ্গ করেছিলেন। কেননা শপথ কেবল জাযা (পরিণতি) দ্বারা শুদ্ধ হয়, আর যখন তিনি জাযা উচ্চারণ করেছিলেন, তখন স্ত্রী তাঁর মালিকানায় ছিল। তবে যখন তিনি তৃতীয়বার তা পুনরাবৃত্তি করলেন, তখন দ্বিতীয় শপথটি ভঙ্গ হলো না; কারণ স্ত্রী ইদ্দত পালন ছাড়াই সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। ফলে তৃতীয় দফায় তাঁকে জাযার অন্তর্ভুক্ত করা শুদ্ধ হয়নি। তবে তাঁর শপথ ভঙ্গের শর্তটি পাওয়া গিয়েছিল, যা হলো তাঁর তালাকের শপথ করা। এটি প্রথম মাসআলার বিপরীত; তাই তাঁর এই উক্তির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে:
যদি আমি তোমার সাথে কথা বলি এবং যদি আমি তোমার তালাকের শপথ করি; কারণ সেখানে শপথ ভঙ্গের শর্ত হলো কথা বলা। আর কথা বলা শুদ্ধ হয় স্ত্রী তাঁর মালিকানায় থাকুক বা না থাকুক। কিন্তু তালাকের শপথ মালিকানা ছাড়া, অথবা মালিকানার কোনো সম্পর্কের মধ্যে থাকা ছাড়া, অথবা মালিকানার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা ছাড়া শুদ্ধ হয় না।
শপথের মাসআলাসমূহের মূলনীতিশপথ দুই প্রকার: এক প্রকার শপথ যার দ্বারা যার নামে শপথ করা হচ্ছে তাঁর মহিমা প্রকাশ করা উদ্দেশ্য থাকে, আর তা হলো মহান আল্লাহর নামে শপথ করা। অন্য প্রকার হলো এমন শপথ যা শর্ত ও জাযা (পরিণতি) স্বরূপ। সিবওয়াইহ বলেছেন: শপথ হলো এমন একটি বাক্য যার মাধ্যমে বক্তব্যকে সুদৃঢ় করা হয়।
তাঁর উক্তি 'বাক্য' দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ক্রিয়া ও কর্তা, অথবা উদ্দেশ্য ও বিধেয়, অথবা শর্ত ও জাযা। উদ্দেশ্য ও বিধেয়-এর উদাহরণ হলো তোমার উক্তি: 'আল্লাহর কসম, আমি যায়িদের সাথে কথা বলব না'। আর ক্রিয়া ও কর্তার বাক্য হলো: 'আল্লাহ আসমানসমূহের স্রষ্টা, আল্লাহর কসম আমি যায়িদের সাথে কথা বলব না'। আর শর্ত ও জাযা হলো তোমার উক্তি: 'যদি তুমি ঘরে প্রবেশ করো, তবে আল্লাহর কসম আমি তোমার সাথে কথা বলব না'। আর এখানে এটি মালিকানা, অথবা মালিকানার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা, অথবা মালিকানার কোনো সম্পর্কের মধ্যে থাকা ছাড়া শুদ্ধ হয় না। তবে শর্তের ক্ষেত্রে মালিকানা থাকা বা না থাকা উভয় অবস্থায়ই তা শুদ্ধ হয়। আর যার ওপর শপথ করা হয়েছে তা জাযার অন্তর্ভুক্ত বিষয়ের ওপর বর্তায়, শর্তের অন্তর্ভুক্ত বিষয়ের ওপর নয়। কারণ জাযা হলো তাঁর উক্তি 'তুমি এমন' (তালাকপ্রাপ্তা), আর এটিই শপথের মূল বিষয়। শর্তের ক্ষেত্রে মালিকানায় থাকা প্রয়োজন নেই, কারণ শর্ত উল্লেখ করা মালিকানার ওপর কোনো হস্তক্ষেপ নয়। কিন্তু জাযার ক্ষেত্রে কেবল নিজের মালিকানাধীন বিষয়ের মাধ্যমেই প্রতিদান দেওয়া যায়। এজন্যই একে জাযা বলা হয়, কারণ জাযা বা প্রতিদান হলো অন্যের কোনো কাজের বিনিময়ে তোমার কোনো কাজ হওয়া, অথবা তোমার কাজের বিনিময়ে অন্যের কোনো কাজ হওয়া; ভালো হলে ভালো, আর মন্দ হলে মন্দ। মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর মন্দের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ।" আর কবি বলেছেন:
আল্লাহ আমাদের পক্ষ থেকে সেই বিবাহিত নারীকে প্রতিদান দিন যিনি দান করেছেন
… জনৈক অবিবাহিত ব্যক্তির ওপর, যতক্ষণ না তার পরিবার হয়।
নিশ্চয়ই আমরা তাকে তেমন প্রতিদান দেব যেমন সে আমাদের সাথে করেছে
… যখন আমরা বিয়ে করব এমতাবস্থায় যে তার কোনো স্বামী থাকবে না।
আপনি কি তাঁর উক্তি 'আমরা তাকে প্রতিদান দেব যেমন সে করেছে' এবং 'আল্লাহ প্রতিদান দিন' লক্ষ্য করছেন না? আর শর্তের সাথে যুক্ত বিষয় শর্ত পাওয়া গেলেই কেবল কার্যকর হয়। আর না-বোধক বাক্যে অনির্দিষ্ট বিশেষ্য ব্যাপক অর্থ প্রকাশ করে। যেমন তুমি বলো: 'আজ আমি কোনো মানুষ দেখিনি', এর অর্থ হলো আজ আমি কাউকে দেখিনি।
(খণ্ড: ٢٢)
আস-সাহমুল মুসীব ফির রাদ্দি আলাল খাতীব - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
أحدا من الرجال، وفي الإثبات تخص، لأنك لو قلت رأيت اليوم رجلا اقتضى كلامك رؤية رجل واحد.
مسألةوقال: رجل قال لامرأته- ولم يدخل بها- إن حلفت بطلاقك فأنت طالق قالها ثلاث مرات وقعت تطليقة واحدة. لأن في المرة الأولى حلف بطلاقها أن لا يحلف بطلاقها فإذا قال لها في المرة الثانية: إن حلفت بطلاقك فأنت طالق فقد حلف بطلاقها ووجد الشرط فانحلت اليمين الأولى وطلقت واحدة، واليمين الثانية منعقدة لأنه إنما حنث في اليمين الأولى بعد الفراغ من الثانية، لأن اليمين إنما تصح بالجزاء، وحينما تكلم بالجزاء كانت في ملكه، فلما كررها في المرة الثالثة لم تنحل اليمين الثانية: لأن المرأة بانت بلا عدة، فلم يصح في المرة الثالثة إدخالها تحت الجزاء، فوجد شرط حنثه. وهو الحلف بطلاقها، بخلاف المسألة الأولى، لأنه لم تنحل اليمين الثانية، لأن شرط الحنث هناك هو الكلام. والكلام يصح وإن لم تكن امرأته وهاهنا شرط الحنث الحلف بطلاقها وذلك لا يصح إلا في الملك. ثم إذا تزوجها وقال لها إن دخلت الدار فأنت طالق طلقت باليمين الثانية لوجود الشرط، وهو الحلف بطلاقها وإن لم يتزوجها ولكن قال لها إن تزوجتك ودخلت الدار فأنت طالق، حنث في اليمين الثالثة أيضا لأنه أضافها إلى الملك فصحت اليمين وانحلت اليمين الثانية ووقع الطلاق، إلا أنه لم يصادف الملك فلغا. واليمين التي أضافها إلى الملك صحيحة، فلو تزوجها ودخلتالدار وطلقت باليمين الثالثة ولو كانت مدخولا بها يقع تطليقان لأن اليمين الأولى انحلت بالثانية والثانية انحلت بالثالثة لأنها وجدت في علقة من علائق الملك وهي العدة وبقيت الثالثة منعقدة. فإذا قال لها وهي في العدة: إذا دخلت الدار فأنت طالقا انحلت الثالثة أيضا ووقع عليها أخرى.
مسألةوقال رجل: قال امرأته طالق إن تزوج النساء أو اشترى العبيد، أو كلم الناس.
فتزوج امرأة واحدة، أو اشترى عبدا واحدا، أو كلم رجلا واحدا حنث لأن الألف واللام إنما يدخلان على السابق المعهود. كقوله تعالى: {كَما أَرْسَلْنا إِلَى فِرْعَوْنَ
পুরুষদের মধ্যে কাউকে; আর ইতিবাচক বাক্যে এটি নির্দিষ্টকরণ বোঝায়, কারণ আপনি যদি বলেন 'আজ আমি একজন পুরুষকে দেখেছি', তবে আপনার কথাটি একজন পুরুষকে দেখার দাবি রাখে।
মাসআলাতিনি বলেন: এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল—যার সাথে তখনও সহবাস করা হয়নি—'যদি আমি তোমার তালাকের কসম করি, তবে তোমার তালাক'। সে এটি তিনবার বলল। এতে একটি তালাক কার্যকর হবে। কারণ প্রথমবার সে তার তালাকের কসম করেছে যে সে তার তালাকের কসম করবে না। অতঃপর যখন সে দ্বিতীয়বার তাকে বলল: 'যদি আমি তোমার তালাকের কসম করি তবে তোমার তালাক হবে', তখন সে প্রকৃতপক্ষে তার তালাকের কসম করল এবং শর্তটি পাওয়া গেল। ফলে প্রথম কসমটি ভেঙে গেল এবং এক তালাক হয়ে গেল। আর দ্বিতীয় কসমটি বলবৎ থাকল, কারণ সে প্রথম কসমটি তখনই ভঙ্গ করেছে যখন দ্বিতীয় কথাটি শেষ করেছে। কেননা কসম কেবল প্রতিদান বা পরিণতির মাধ্যমেই পূর্ণতা পায়, আর যখন সে পরিণতির কথাটি বলেছে তখন নারীটি তার বিবাহবন্ধনে ছিল। অতঃপর যখন সে তৃতীয়বার এটি পুনরাবৃত্তি করল, তখন দ্বিতীয় কসমটি ভাঙল না; কারণ ইদ্দত ছাড়াই নারীটি বৈবাহিক সম্পর্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। ফলে তৃতীয়বারের ক্ষেত্রে তাকে সেই পরিণতির অধীনে আনা বৈধ হয়নি। তবে কসম ভঙ্গের শর্ত পাওয়া গিয়েছিল, আর তা হলো তার তালাকের কসম করা। এটি প্রথম মাসআলার বিপরীত, কারণ সেখানে দ্বিতীয় কসমটি ভাঙেনি; কেননা সেখানে কসম ভঙ্গের শর্ত ছিল কেবল কথা বলা। আর কথা বলা স্ত্রীর অবর্তমানেও শুদ্ধ হয়, কিন্তু এখানে কসম ভঙ্গের শর্ত হলো তার তালাকের কসম করা, যা মালিকানা বা বিবাহবন্ধন ব্যতীত শুদ্ধ হয় না। এরপর যদি সে তাকে বিবাহ করে এবং তাকে বলে, 'যদি তুমি ঘরে প্রবেশ কর তবে তোমার তালাক', তবে দ্বিতীয় কসমের কারণে তালাক হয়ে যাবে শর্তটি পাওয়া যাওয়ার কারণে, আর তা হলো তার তালাকের কসম করা। আর যদি সে তাকে বিবাহ না করে বরং তাকে বলে, 'যদি আমি তোমাকে বিবাহ করি এবং তুমি ঘরে প্রবেশ কর তবে তোমার তালাক', তবে সে তৃতীয় কসমেও কসম ভঙ্গকারী হবে। কারণ সে তালাকটিকে মালিকানার দিকে সম্পৃক্ত করেছে, ফলে কসমটি শুদ্ধ হয়েছে এবং দ্বিতীয় কসমটি ভেঙে গেছে এবং তালাক পতিত হয়েছে, তবে তা মালিকানার সাথে না মেলায় বাতিল হয়ে গেছে। কিন্তু যে কসমটি সে মালিকানার সাথে সম্পৃক্ত করেছে তা সহীহ। সুতরাং সে যদি তাকে বিবাহ করে এবং সে ঘরে প্রবেশ করে, তবে তৃতীয় কসমের কারণে তালাক হবে। আর যদি নারীটি এমন হতো যার সাথে সহবাস করা হয়েছে, তবে দুই তালাক পতিত হতো। কারণ প্রথম কসমটি দ্বিতীয়টির মাধ্যমে ভেঙেছে এবং দ্বিতীয়টি তৃতীয়টির মাধ্যমে ভেঙেছে, কারণ এটি মালিকানার অন্যতম সম্পর্ক অর্থাৎ ইদ্দতকালীন অবস্থায় পাওয়া গেছে। আর তৃতীয়টি বলবৎ রয়ে গেছে। সুতরাং সে যদি ইদ্দত চলাকালীন অবস্থায় তাকে বলে: 'যখন তুমি ঘরে প্রবেশ করবে তখন তোমার তালাক', তবে তৃতীয় কসমটিও ভেঙে যাবে এবং তার ওপর অন্য একটি তালাক পতিত হবে।
মাসআলাএক ব্যক্তি বলল: তার স্ত্রী তালাক যদি সে নারীদের বিবাহ করে, অথবা দাসদের ক্রয় করে, অথবা মানুষের সাথে কথা বলে।
অতঃপর সে যদি একজন নারীকে বিবাহ করে, অথবা একজন দাস ক্রয় করে, অথবা একজন মানুষের সাথে কথা বলে, তবে সে কসম ভঙ্গকারী হবে। কারণ আলিফ এবং লাম (নির্দিষ্টতাবাচক অব্যয়) কেবল পূর্ব পরিচিত বিষয়ের ওপর আসে। যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {যেমন আমি ফিরআউনের নিকট প্রেরণ করেছিলাম...}
(খণ্ড: ٢٢)
আস-সাহমুল মুসীব ফির রাদ্দি আলাল খাতীব - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
{رَسُولًا فَعَصى فِرْعَوْنُ الرَّسُولَ} ألا ترى أنه ذلك الرسول الأول. وإنما لما كان تقدم أمره وجرى ذكره ثانيا وقعت الدلالة أن الألف واللام تكون للسابق المعهود، أو للجنس والجنس يقتضى الواحد فصاعدا. قال الله تعالى: {وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُما} وذلك أنه لم يرد سارقا بعينه فكأنه قال: اقطعوا هذا الجنس والأصل فيما ذكرت أن اسم الجنس لا يقتضى عددا محصورا بل الواحد فصاعدا واسم الجمع يقتضى عددا محصورا. كما قال في رجل قال: امرأته طالق أن تزوج نساء أو اشترى عبيدا. فإن لم يتزوج ثلاثا أو يشترى ثلاثا لا تطلق لأنه أخرج الكلام مخرج الجمع. أو قل الجمع الصحيح ثلاثة. وذلك أن العرب فرقت بين الواحد والاثنتين والثلاثة. فالواحد جاء عددا وصفة. أما الواحد العدد كما تقول واحد اثنان.
وأما الصفة فكما تقول جاء زيد وحده. وأما الاثنان فعدد له صيغة يتميز بها عن الآحاد والمجموع. فإذا أرادوا أن يصفوهما قالوا جاء الرجلان كلاهما قال الشاعر:
يا رب حىّ الزائرين كليهما
… وحىّ دليلا بالفلاة هداهما
ألا ترى أنه لما وصف الزائرين وهما مفعولان قال كليهما فنصب كما نصب الزائرين، وأما فجعلوهم صيغة واحدة لأن أكثر العدد لا يتناهى. فلو جاءوا يعلمون لكل عدد صيغة لطال عليهم، فوحدوا وثنوا وجمعوا. أما التوحيد فكما علمت للفرد. وأما التثنية فلأنه أضاف واحدا إلى واحد وكذلك الجمع. فإنه أضاف واحدا إلى واحد وأما من قال أن التثنية جمع فهو على ما ذكرت من أنه جمع واحد. فهو على الحقيقة جمع بالنسبة إلى الفرد. وعلى هذا جاء قوله تعالى: {فَإِنْ كَانَ لَهُ إِخْوَةٌ فَلِأُمِّهِ السُّدُسُ} وإجماع الناس على أنه إذا كان له أخوان كان لأمه السدس. وقد جاءت التثنية بلفظ الجمع وليس ذلك إلا نظرا للجمع على الحقيقة إذ كان ذلك جمع واحد إلى واحد فعلى هذا ساغ أن تكون التثنية جمعا. قال الله تعالى: {هَلْ أَتاكَ نَبَأُ الْخَصْمِ إِذْ تَسَوَّرُوا الْمِحْرابَ إِذْ دَخَلُوا عَلَى داوُدَ فَفَزِعَ مِنْهُمْ قالُوا لا تَخَفْ خَصْمانِ بَغى بَعْضُنا عَلَى بَعْضٍ} قال الله تعالى تسوروا ودخلوا، وهذا لا يكون إلا على الجمع لأنه بين بعد ذلك وقال خصمان قال الخليل: فهذا على إن الاثنين عندهم جمع أيضا وصار بمنزلة قول الاثنين نحن فعلنا. قال الشاعر:
ظهراها مثل ظهور الترسين
{একজন রাসূলকে, অতঃপর ফেরাউন সেই রাসূলের অবাধ্য হলো}। আপনি কি দেখছেন না যে, এটি সেই প্রথম রাসূলকেই বোঝাচ্ছে। মূলত যখন কোনো বিষয়ের আলোচনা আগে অতিক্রান্ত হয় এবং দ্বিতীয়বার তার উল্লেখ আসে, তখন এটি প্রমাণ করে যে আলিফ এবং লাম (ال) হয় পূর্বপরিচিত নির্দিষ্ট কোনো সত্তার (মাহুদ) জন্য, অথবা শ্রেণির (জিনস) জন্য; আর শ্রেণি এক বা ততোধিক ব্যক্তি বা বস্তুকে অন্তর্ভুক্ত করে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {চোর পুরুষ এবং চোর নারী, তোমরা তাদের হাত কেটে দাও}। আর এর কারণ হলো, এখানে নির্দিষ্ট কোনো চোরকে উদ্দেশ্য করা হয়নি, বরং তিনি যেন বলেছেন: এই শ্রেণির হাত কেটে দাও। আমি যা উল্লেখ করেছি তার মূলনীতি হলো, শ্রেণিবাচক বিশেষ্য (ইসমে জিনস) কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যাকে আবশ্যক করে না, বরং এক বা ততোধিককে বোঝায়; কিন্তু সমষ্টিবাচক বিশেষ্য (ইসমে জমআ) একটি নির্দিষ্ট সংখ্যাকে আবশ্যক করে। যেমন কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে বলা হয়: তার স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে যদি সে নারীদের বিবাহ করে অথবা দাসদের ক্রয় করে। এমতাবস্থায় সে যদি অন্তত তিনজনকে বিবাহ না করে বা তিনজনকে ক্রয় না করে, তবে তালাক হবে না; কারণ সে কথাটিকে বহুবচন হিসেবে প্রকাশ করেছে। অথবা বলা যায়, বিশুদ্ধ বহুবচন হলো তিন। এর কারণ হলো আরবরা এক, দুই এবং তিনের মধ্যে পার্থক্য করেছে। এক সংখ্যা এবং গুণ উভয় হিসেবেই আসে। সংখ্যার ক্ষেত্রে 'এক' যেমন আপনি বলেন এক, দুই।
আর গুণের ক্ষেত্রে যেমন আপনি বলেন 'জায়েদ একা এসেছে'। আর 'দুই' হলো এমন একটি সংখ্যা যার এমন একটি রূপ রয়েছে যা একক এবং বহুবচন থেকে পৃথক। যখন তারা এই দুইয়ের গুণ বর্ণনা করতে চায়, তখন তারা বলে 'দুই ব্যক্তি উভয়েই এসেছে'। কবি বলেছেন:
হে প্রতিপালক! আপনি আগন্তুক উভয়ের প্রতি শান্তি বর্ষণ করুন
… এবং নির্জন প্রান্তরে তাদের পথপ্রদর্শককেও শান্তি দান করুন।
আপনি কি দেখছেন না যে, যখন তিনি দুই আগন্তুকের গুণ বর্ণনা করেছেন এবং তারা উভয়েই কর্মবাচক (মাফউল) অবস্থায় ছিল, তখন তিনি 'উভয়কে' (কালইহিমা) বলেছেন; ফলে তিনি একে 'নসব' (জবরযুক্ত) করেছেন যেমনটি তিনি 'আগন্তুকদ্বয়' (আয-যাইরাইন) শব্দটিকে নসব করেছিলেন। আর বহুবচনকে তারা একটি সাধারণ রূপ দান করেছে কারণ সংখ্যার আধিক্য অসীম। যদি তারা প্রতিটি সংখ্যার জন্য আলাদা রূপ তৈরি করত, তবে তা তাদের জন্য দীর্ঘ হয়ে যেত। তাই তারা একবচন, দ্বিবচন এবং বহুবচন নির্ধারণ করেছে। একবচন তো আপনি জানেন যে তা একক ব্যক্তি বা বস্তুর জন্য। আর দ্বিবচন হলো কারণ এতে একের সাথে এক যুক্ত হয়েছে, তেমনি বহুবচনও। কারণ এতে একের সাথে এক যুক্ত হয়েছে। আর যারা বলেন যে দ্বিবচনই বহুবচন, তারা আমার উল্লেখিত এই কথার ওপর ভিত্তি করেই বলেন যে এটিও এককে একত্র করা। সুতরাং প্রকৃতপক্ষে এককের তুলনায় এটি একটি সমষ্টি। এই নিয়মেই আল্লাহ তাআলার বাণী এসেছে: {যদি তার ভাইয়েরা থাকে, তবে তার মায়ের জন্য এক-ষষ্ঠাংশ}। আর এ বিষয়ে সকলের ঐকমত্য এই যে, যদি মৃত ব্যক্তির দুই ভাই থাকে তবে তার মা এক-ষষ্ঠাংশ পাবে। এখানে দ্বিবচনকে বহুবচন শব্দ দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। এটি মূলত দ্বিবচনকে প্রকৃত অর্থে সমষ্টি হিসেবে দেখার কারণেই হয়েছে, যেহেতু এটি একের সাথে এককে একত্র করা; আর এই হিসেবেই দ্বিবচনকে বহুবচন বলা বৈধ হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমার কাছে কি সেই বিবাদকারীদের সংবাদ পৌঁছেছে? যখন তারা প্রাচীর ডিঙিয়ে ইবাদতখানায় প্রবেশ করেছিল; যখন তারা দাউদের কাছে প্রবেশ করল এবং তিনি তাদের কারণে ভীত হলেন। তারা বলল, ভয় পাবেন না, আমরা দুই বিবাদমান পক্ষ, আমাদের এক পক্ষ অপর পক্ষের ওপর অন্যায় করেছে}। আল্লাহ তাআলা এখানে (তারা প্রাচীর ডিঙিয়েছে এবং তারা প্রবেশ করেছে) বহুবচন শব্দ ব্যবহার করেছেন, অথচ এরপরই বিষয়টিকে স্পষ্ট করে দিয়ে বলেছেন 'দুই বিবাদমান পক্ষ'। আল-খলিল বলেছেন: এটি এই কারণে যে, তাদের নিকট দুই ব্যক্তিও একটি সমষ্টি বা বহুবচন হিসেবে গণ্য। এটি দুই ব্যক্তির 'আমরা করেছি' বলার সমতুল্য। কবি বলেছেন:
তার পিঠদ্বয় যেন দুই ঢালের পিঠের মতো।
(খণ্ড: ٢٢)
আস-সাহমুল মুসীব ফির রাদ্দি আলাল খাতীব - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
وإلا فصيغة كل جزء مما ذكرت مختصة على حدة. وأكثر الجمع عندهم تسعة وأقلهم ثلاثة، لأنه بعد التسعة يكرر لفظ الآحاد والجموع. فلو قال قائل إنكم إنما تجعلون الربع يقوم مقام الكل فلم جعلتم هنا الثلاث أعنى صيغة لفظ الجمع قلنا: إن ربع التسعة اثنان وربع ولما كانت الأعداد من شأنها الصحة لا الكسور وكان الرابع داخلا في الجزء والثلث غير منفصل عنه وليس فصله ممكن، ساغ أن يكون صيغة لفظ الجمع منطلقة على الثلاث إذا لا يمكن أقل من ذلك قال الله تعالى: {الْحَجُّ أَشْهُرٌ مَعْلُوماتٌ} وهي شهران وعشرة أيام فلما دخل بعض الثالث في الكلام اقتضى النطق به بلفظ الجمع.
مسألةرجل قال: والله لا أشرب من الفرات. إن شرب كرعا حنث، وإن شرب بآناء لم يحنث وذلك أنه إذا قال من فمن هنا لابتداء الغاية ولا يكون للتبعيض فلو أنها للتبعيض كان لا يحنث أبدا لأن الفرات اسم للأرض وليست باسم للماء فلو كان الفرات اسم الماء لكان المسمى ذهب وما أتى لم يسم وأنت إذا قلت أتيت الفرات لم ترد أنك أتيت الماء ولكنك تريد أنك أتيت البلاد التي على النهر فالنهر اسمه الفرات لا الماء فكأنك قلت والله لا أشرب منهذا الكوز ولو قلت هكذا لكانت يمينك على الشرب من الكوز لا على ما في الكوز فلو صب ما في الكوز في كوز آخر وشرب منه لم يحنث والنهر كما علمت اسم للحفرة المستطيلة كما قيل سيف منهر لم يرد أن الماء يجرى فيه ولكنه أراد المفقر ومنه سمى سيف النبي صلى الله عليه وسلم ذا الفقار ولو كان قال لا أشرب من ماء الفرات فإن شرب منه أو من إناء نقل من الفرات أو شرب بكفه حنث لأنه أضاف الماء إلى نهر مخصص لأنه لو كان اسما للماء لم يجز إضافته إليه كما تقول ماء الفرات فلو كان الماء اسمه الفرات لما قلت هذا ماء الفرات وإنما كنت تقول الفرات لأن الشيء عندهم لا يضاف إلى نفسه كما لا تقول هذا غلام غلام ولكنك تقول هذا غلام زيد فيضيف الغلام إلى زيد كأنه قال لا أشرب من هذه الماء الذي في هذا الكوز فسواء شرب منه أو من إناء آخر نقل إليه منه حنث ولو قال لا أشرب من هذا البئر يحنث إذا شرب بإناء. الفرق بينهما أن البئر غير مقدور على الشرب منها على الحقيقة فصار كأنه حلف مجازا كما لو قال: والله لا آكل من هذه الشاة فاليمين على لحمها لأنه يقدر على أكلها حقيقة ولو قال لا آكل
অন্যথা উল্লেখিত প্রতিটি অংশের গঠন স্বতন্ত্র। তাদের মতে বহুবচনের সর্বোচ্চ সীমা হলো নয় এবং সর্বনিম্ন হলো তিন। কারণ নয়-এর পর একক ও বহুবচনের শব্দগুলো পুনরাবৃত্ত হয়। যদি কেউ প্রশ্ন করে যে, আপনারা তো চার ভাগের এক ভাগকে পূর্ণের স্থলাভিষিক্ত করেন, তাহলে এখানে তিনকে—অর্থাৎ বহুবচনের রূপকে—কেন সেই স্থলাভিষিক্ত করলেন? আমরা বলি: নয়-এর চার ভাগের এক ভাগ হলো সোয়া দুই। যেহেতু সংখ্যাগুলোর বৈশিষ্ট্য হলো পূর্ণ হওয়া, ভগ্নাংশ নয়, এবং চতুর্থ অংশটি অংশের অন্তর্ভুক্ত ও তৃতীয় অংশটি তা থেকে বিচ্ছিন্ন নয় এবং একে বিচ্ছিন্ন করাও সম্ভব নয়, তাই বহুবচনের রূপটি তিনের ওপর প্রয়োগ করা বৈধ হয়েছে। কারণ এর চেয়ে কম হওয়া সম্ভব নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: "হজ হলো সুবিদিত মাসসমূহ"। অথচ তা হলো দুই মাস দশ দিন। যেহেতু তৃতীয় মাসের কিছু অংশ আলোচনার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তাই একে বহুবচনের শব্দে উচ্চারণ করা আবশ্যক হয়েছে।
মাসআলাএক ব্যক্তি বলল: "আল্লাহর কসম, আমি ফুরাত নদী থেকে পান করব না।" যদি সে মুখ লাগিয়ে সরাসরি পান করে তবে তার শপথ ভঙ্গ হবে, আর যদি পাত্র দিয়ে পান করে তবে শপথ ভঙ্গ হবে না। এর কারণ হলো, সে যখন ‘থেকে’ বলেছে, তখন এখানে ‘থেকে’ শব্দটি প্রারম্ভিক সীমা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে, আংশিকতা বোঝাতে নয়। যদি এটি আংশিকতা বোঝাতে হতো, তবে সে কখনোই শপথ ভঙ্গকারী হতো না। কারণ ফুরাত হলো ভূমির নাম, পানির নাম নয়। যদি ফুরাত পানির নাম হতো, তবে নামযুক্ত পানি চলে যেত এবং যা আসত তা আর সেই নামে অভিহিত হতো না। আপনি যখন বলেন "আমি ফুরাতে এসেছি", তখন আপনার উদ্দেশ্য এটা থাকে না যে আপনি পানির কাছে এসেছেন, বরং আপনার উদ্দেশ্য থাকে আপনি নদীর তীরের জনপদে এসেছেন। সুতরাং নদীর নাম ফুরাত, পানির নয়। এটি যেন আপনার এমন কথা—"আল্লাহর কসম, আমি এই মগ থেকে পান করব না।" আপনি যদি এমনটি বলতেন, তবে আপনার শপথটি হতো মগ থেকে পান করার বিষয়ে, মগের ভেতরে থাকা জিনিসের বিষয়ে নয়। সুতরাং মগের পানি যদি অন্য মগে ঢেলে সেখান থেকে পান করা হতো, তবে শপথ ভঙ্গ হতো না। আর নদী—যেমনটি আপনি জানেন—হলো দীর্ঘায়িত গর্ত বা খাতের নাম। যেমন ‘খাতবিশিষ্ট তলোয়ার’ বলা হয়, যার অর্থ এই নয় যে তাতে পানি প্রবাহিত হয়, বরং এর অর্থ হলো যাতে খাঁজ বা গর্ত রয়েছে। এ থেকেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তলোয়ারের নাম রাখা হয়েছে ‘যুল ফিকার’। যদি সে বলত "আমি ফুরাতের পানি পান করব না", তবে সে যদি নদী থেকে পান করত অথবা ফুরাত থেকে আনা কোনো পাত্র থেকে পান করত অথবা হাতের তালু দিয়ে পান করত, তবে তার শপথ ভঙ্গ হতো। কারণ সে পানিকে একটি নির্দিষ্ট নদীর দিকে সম্বন্ধ করেছে। কারণ এটি যদি পানির নাম হতো, তবে এর দিকে সম্বন্ধ করা জায়েজ হতো না, যেমন আপনি বলেন ‘ফুরাতের পানি’। যদি পানির নামই ফুরাত হতো, তবে আপনি ‘এটি ফুরাতের পানি’ বলতেন না, বরং আপনি শুধু বলতেন ‘ফুরাত’। কারণ তাদের মতে কোনো বস্তু তার নিজের দিকে সম্বন্ধিত হয় না, যেমন আপনি ‘এটি গোলামের গোলাম’ বলেন না, বরং বলেন ‘এটি যায়িদের গোলাম’, যার মাধ্যমে গোলামকে যায়িদের দিকে সম্বন্ধ করা হয়। এটি যেন তার এমন কথা—"আমি এই মগে থাকা এই পানি পান করব না।" সুতরাং সে সেই মগ থেকে পান করুক বা অন্য কোনো পাত্রে স্থানান্তরিত করে পান করুক, উভয় ক্ষেত্রেই শপথ ভঙ্গ হবে। আর যদি সে বলে "আমি এই কুয়া থেকে পান করব না", তবে পাত্র দিয়ে পান করলেও শপথ ভঙ্গ হবে। উভয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো, কুয়া থেকে সরাসরি মুখ লাগিয়ে পান করা বাস্তবে সম্ভব নয়। তাই এটি রূপক অর্থে শপথ হিসেবে গণ্য হবে। যেমন কেউ যদি বলে: "আল্লাহর কসম, আমি এই ছাগলটি খাব না", তবে তার এই শপথটি ছাগলের গোশতের ওপর বর্তাবে, কারণ সে বাস্তবে সেটি খেতে সক্ষম। আর যদি সে বলে "আমি খাব না..."
(খণ্ড: ٢٢)
আস-সাহমুল মুসীব ফির রাদ্দি আলাল খাতীব - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
من هذه النخلة، فاليمين على ثمرتها لأنه لم يقدر على أكل عينها حقيقة، فحمل على المجاز فكذلك الفرق بين الفرات والبئر.
واعلم أن العرب إذا وجدت الحقيقة في كلامهما لا يعدلون عنه وإذا لم يجدوا الحقيقة حملوا كلامهم على المجاز المتعارف فإذا لم يجدوا حملوا على المجاز فأما الحقيقة إذا قال رجل هذا أسد لا يشكون أنه رأى عرباضا ولو قال زيد الأسد حمل على المجاز إذ كان الحمل على الحقيقة متعذرا قال الله تعالى: {وَأَزْواجُهُ أُمَّهاتُهُمْ} فلم يرد أنهن أمهاتنا لكنه حمله على المجاز فلما جاء إلى الحقيقة قال: {إِنْ أُمَّهاتُهُمْ إِلَّا اللَّائِي وَلَدْنَهُمْ وَإِنَّهُمْ لَيَقُولُونَ مُنْكَراً مِنَ الْقَوْلِ وَزُوراً} وأما المجاز المتعارف فقوله تعالى: {أَوْ جاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغائِطِ} فإن أحدنا لو جاء الغائط ألف مرة لا ينتقض وضوءه وإنما جعل الغائط كناية عن الحدث وإن كان الحدث أيضا مجازا إلا أننى استقبحت أن أذكر الحقيقة إذ لم أجد له في العربية اسما حقيقيا إلا اسما واحدا وأما المجاز غير المتعارف فقولهم الوطء يكون على الوطء بالقدم على الحقيقة وكناية عن الجماع قال الله تعالى: {وَأَوْرَثَكُمْ أَرْضَهُمْ وَدِيارَهُمْ وَأَمْوالَهُمْ وَأَرْضاً لَمْ تَطَؤُها} والمراد منه الجماع لأنه لما قال أرضهم وديارهم كفى في البلاد وأرضا لم تطؤها يعنى النساء.
مسألةرجل قال: أن خرج فلان من هذه الدار حتى آذن له فعبدي حر. فأذن له مرة ثم خرج بغير أمره لا يحنث لأن حتى تكون للغاية فإذا قال حتى آذن له فكأنه قال غاية ذاك إذني له قال الله تعالى: {فَلَنْ أَبْرَحَ الْأَرْضَ حَتَّى يَأْذَنَ لِي أَبِي} فلو كان أبوه أذن له مرة لم يحتج إلى إذن ثان. ولو كان قال إلا بإذنى احتاج إلى الإذن في كل مرة. ألا ترى إلى قوله تعالى: {مَنْ ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ} فيحتاج إلى الاستئذان في كل مرة.
والفرق بينهما أن المسألة الأولى جعل لها غاية بقوله حتى. فإذا انتهت غايتها سقطت كأنه قال لا أكلمك حتى يدخل رمضان فإذا دخل رمضان جاز له الكلام من غير حنث لأنه جعل رمضان غاية ليمينه. وأما الإذن فقال تعالى: {آمَنْتُمْ لَهُ قَبْلَ أَنْ آذَنَ لَكُمْ} أى قبل إذنى لكم. فهذا محتاج إلى الإذن كل مرة، كأنه قال: إلا
এই খেজুর গাছ থেকে। এখানে শপথটি তার ফলের ওপর বর্তাবে, কারণ প্রকৃতপক্ষে গাছের মূল কাণ্ড খাওয়া অসম্ভব। তাই একে রূপক অর্থে গ্রহণ করা হয়েছে। তদ্রূপ দজলা নদী এবং কূপের মধ্যকার পার্থক্যও একই।
জেনে রাখুন যে, আরবরা যখন তাদের কথায় আক্ষরিক বা মূল অর্থ পায়, তখন তারা তা থেকে বিচ্যুত হয় না। আর যখন তারা মূল অর্থ পায় না, তখন তারা তাদের কথাকে প্রচলিত রূপক অর্থে গ্রহণ করে। আর যখন তাও পায় না, তখন তারা সাধারণ রূপক অর্থে গ্রহণ করে। আক্ষরিক অর্থের উদাহরণ হলো—যখন কোনো ব্যক্তি বলে, "এটি একটি সিংহ", তখন এতে কোনো সন্দেহ থাকে না যে সে একটি অরণ্যচারী হিংস্র প্রাণী দেখেছে। কিন্তু যদি সে বলে, "জায়েদ একজন সিংহ", তবে তা রূপক অর্থে গ্রহণ করা হবে; কারণ এখানে আক্ষরিক অর্থ গ্রহণ করা অসম্ভব। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "এবং তাঁর স্ত্রীগণ তাদের মাতা।" এখানে তিনি বুঝাতে চাননি যে তাঁরা তাদের প্রকৃত জন্মদাত্রী মাতা, বরং এটি রূপক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। পক্ষান্তরে যখন তিনি আক্ষরিক অর্থের বর্ণনা দিলেন, তখন বললেন: "তাদের মাতা তো কেবল তারাই যারা তাদেরকে জন্ম দিয়েছে। নিশ্চয়ই তারা এক আপত্তিকর ও মিথ্যা কথা বলে।" আর প্রচলিত রূপক অর্থের উদাহরণ হলো মহান আল্লাহর বাণী: "অথবা তোমাদের কেউ শৌচাগার থেকে আসে।" কেননা আমাদের কেউ যদি শৌচাগারে হাজার বারও যায়, তবে তার অজু ভঙ্গ হবে না (যদি না হাজত পূরণ করে)। এখানে 'শৌচাগার' শব্দটিকে অপবিত্রতা নির্গমনের জন্য পরোক্ষ ইঙ্গিত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও অপবিত্রতা নির্গমন নিজেই একটি রূপক বিষয়, তবে আমি মূল শব্দটি উল্লেখ করা অপছন্দ করেছি যেহেতু আরবি ভাষায় এর জন্য একটি মাত্র মূল নাম ছাড়া অন্য কোনো নাম পাইনি। আর অপ্রচলিত রূপক হলো তাদের বক্তব্য 'পদদলন'। আক্ষরিক অর্থে এটি আল্লাহর পা দিয়ে মাড়ানো বা সাধারণ পা দিয়ে মাড়ানোকে বোঝায়, আর রূপক অর্থে এটি যৌন মিলনের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তিনি তোমাদেরকে উত্তরাধিকারী করেছেন তাদের ভূমির, তাদের ঘরবাড়ির, তাদের ধন-সম্পদের এবং এমন এক ভূমির যা তোমরা পদদলিত করোনি।" এখানে এর উদ্দেশ্য হলো যৌন মিলন; কারণ যখন তিনি তাদের ভূমি ও ঘরবাড়ির কথা বললেন, তখন তা অঞ্চল বা দেশ বুঝানোর জন্য যথেষ্ট ছিল। আর 'এমন এক ভূমি যা তোমরা পদদলিত করোনি' বলতে নারীদের বোঝানো হয়েছে।
মাসআলাএক ব্যক্তি বলল: "যদি অমুক ব্যক্তি এই ঘর থেকে বের হয় যতক্ষণ না আমি তাকে অনুমতি দেই, তবে আমার দাস মুক্ত।" এরপর সে তাকে একবার অনুমতি দিল, তারপর সে অনুমতি ছাড়া বের হলো, তবে সে শপথ ভঙ্গকারী হবে না। কারণ 'হাত্তা' (পর্যন্ত) শব্দটি শেষ সীমার জন্য ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যখন সে বলল, 'যতক্ষণ না আমি অনুমতি দেই', তখন যেন সে বলল যে তার নিষেধাজ্ঞার শেষ সীমা হলো আমার অনুমতি। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "কাজেই আমি কিছুতেই এ দেশ ত্যাগ করব না, যতক্ষণ না আমার পিতা আমাকে অনুমতি দেন।" এখানে যদি তার পিতা তাকে একবার অনুমতি দিতেন, তবে তার দ্বিতীয়বার অনুমতির প্রয়োজন হতো না। কিন্তু যদি সে বলত, "আমার অনুমতি ব্যতীত", তবে প্রত্যেকবার অনুমতির প্রয়োজন হতো। আপনি কি মহান আল্লাহর বাণীর প্রতি লক্ষ্য করেন না: "কে সে যে তাঁর কাছে সুপারিশ করবে তাঁর অনুমতি ব্যতীত?" এখানে প্রত্যেকবারই অনুমতি চাওয়ার প্রয়োজন হয়।
এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো—প্রথম মাসআলায় 'পর্যন্ত' শব্দের মাধ্যমে একটি শেষ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। সুতরাং যখন সেই সীমা অতিক্রান্ত হয়, তখন শপথের বাধ্যবাধকতা শেষ হয়ে যায়। এটি এমন যেন সে বলল, "আমি তোমার সাথে কথা বলব না রমজান আসা পর্যন্ত।" যখন রমজান এসে গেল, তখন শপথ ভঙ্গ করা ছাড়াই তার জন্য কথা বলা বৈধ হয়ে গেল; কারণ সে রমজানকে তার শপথের শেষ সীমা নির্ধারণ করেছিল। আর অনুমতির ব্যাপারে মহান আল্লাহ বলেছেন: "আমি তোমাদের অনুমতি দেওয়ার আগেই তোমরা তাকে বিশ্বাস করলে।" অর্থাৎ আমার অনুমতি দেওয়ার পূর্বে। সুতরাং এতে প্রত্যেকবার অনুমতির প্রয়োজন হয়, যেন সে বলেছে: "ব্যতীত"...
(খণ্ড: ٢٢)
আস-সাহমুল মুসীব ফির রাদ্দি আলাল খাতীব - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وقد بين أبو حنيفة رضي الله عنه حكم الحرف الوعائى ما لم يبينه أحد. وذلك في قوله رجل قال لآخر: إن شتمتك في المسجد فعبدي حر وقال إن ضربتك في المسجد فعبدي حر. فأما الشتيمة ونحوها مما يجرى من أحدهما فجعله كون الفاعل في المسجد. وأما ما لم يعم الفاعل بنفسه جعل الفعل أن يقع على المفعول فقال إن شتمتك في المسجد. وأما ما لم يعم الفاعل بنفسه جعل الفعل أن يقع على المفعول فقال إن شتمتك في المسجد يحتاج إلى أن يكون الشاتم في المسجد إلا ترى أن الرائي لو رأى رجلا يشتم رجلا أو يكفر، ويقول: لا تشتم في المسجد أو لا تكفر في المسجد وأما الذي لم يقم بالفعل وحده فلا يحنث ما لم يكن المفعول في المسجد. ألا ترى أن رجلا لو رأى رجلا يذبح شاة والذابح بالمسجد والشاة خارج المسجد يقول لا تذبح عند باب المسجد ولو كانت الشاة بالمسجد والذابح خارج المسجد يقول لا تذبح في المسجد وكذلك لو قال إن قتلتك يوم الجمعة فضربه في غير يوم الجمعة لكنه مات يوم الجمعة حنث، ولو ضربه يوم الجمعة فمات في غير يوم الجمعة لا يحنث، لأن القتل لا يكون إلا بزهوق الروح. وقيل زهوق الروح لا يكون قاتلا. وإنما يكون ضاربا.
مسألةرجل قال: كل امرأة أتزوجها فهي طالق، إن كلمت فلانا. فتزوج امرأة قبل الكلام وامرأة بعد الكلام. فالتي تزوجها قبل الكلام طلقت ولا تطلق التي تزوجها بعد الكلام. لأنه أوجب الكلام من ساعته وجعل كلام فلان غاية ليمينه واليمين إذا انتهت غايتها سقطت فيكون كلام فلان غاية ليمينه وصار شرطا لانحلال اليمين ولم يكن شرطا لانعقاده لأنه أخر الشرط فصار شرطا لانحلال اليمين فدخلت المزوجة قبل الشرط تحت اليمين، وأما إذا قدم الشرط فقال إن كلمت فلانا فكل امرأة أتزوجها فهي طالق فتزوج امرأة بعد الكلام وامرأة قبل الكلام فالتي تزوجها قبل الكلام لا تطلق، لأنه تزوجها قبل اليمين، والتي تزوجها بعد الكلام تطلق لأنه تزوجها بعد انعقاد اليمين. وهذا لأنه جعل كلام فلان شرط لانعقاد اليمين فصار كأنه قال عند كلام فلان كل امرأة أتزوجها فهي طالق، لأنه إذا علق الطلاق بالشرط يكون شرطا لانعقاد اليمين والداخلة تحت اليمين المزوجة بعد الشرط وإن أخر الشرط يكون شرطا لانحلال اليمين والداخلة تحت اليمين المزوجة قبل الشرط،
আবু হানিফা (রা.) পাত্রবাচক অক্ষরের (হারফে ওয়াঈ) হুকুম এমনভাবে বর্ণনা করেছেন যা অন্য কেউ করেননি। আর তা হলো এক ব্যক্তির এই উক্তিতে যে অন্য একজনকে বলল: "যদি আমি তোমাকে মসজিদে গালি দেই তবে আমার দাস মুক্ত", এবং বলল: "যদি আমি তোমাকে মসজিদে প্রহার করি তবে আমার দাস মুক্ত"। গালি বা এই জাতীয় কাজ যা কোনো একজন থেকে সংঘটিত হয়, সেক্ষেত্রে তিনি কর্তা মসজিদে থাকাকে শর্ত করেছেন। আর যে কাজ কর্তার সত্তার সাথে সীমাবদ্ধ থাকে না, তিনি সেটিকে কর্মের ওপর পতিত হওয়ার শর্ত করেছেন। তাই তিনি বলেছেন, "যদি আমি তোমাকে মসজিদে গালি দেই"। এক্ষেত্রে গালিদাতার মসজিদে থাকা প্রয়োজন। আপনি কি দেখেন না যে, কোনো প্রত্যক্ষদর্শী যদি কোনো ব্যক্তিকে অন্যকে গালি দিতে বা কুফরি করতে দেখে, তবে সে বলে: "মসজিদে গালি দিও না" বা "মসজিদে কুফরি করো না"। আর যে কাজটি কেবল কর্তার দ্বারা সম্পন্ন হয় না, সেক্ষেত্রে কর্ম (মাকউল) মসজিদে না থাকা পর্যন্ত শপথ ভঙ্গ হবে না। আপনি কি দেখেন না যে, কোনো ব্যক্তি যদি অন্য কোনো ব্যক্তিকে ছাগল জবাই করতে দেখে যেখানে জবাইকারী মসজিদে কিন্তু ছাগলটি মসজিদের বাইরে, তখন সে বলে "মসজিদের দরজার কাছে জবাই করো না"; কিন্তু যদি ছাগলটি মসজিদে থাকে আর জবাইকারী বাইরে থাকে, তখন সে বলে "মসজিদে জবাই করো না"। অনুরূপভাবে, যদি কেউ বলে "যদি আমি তোমাকে জুমার দিনে হত্যা করি", অতঃপর সে তাকে জুমার দিন ছাড়া অন্য দিনে আঘাত করল কিন্তু সে জুমার দিনে মারা গেল, তবে শপথ ভঙ্গ হবে। আর যদি তাকে জুমার দিনে আঘাত করে কিন্তু সে অন্য দিনে মারা যায়, তবে শপথ ভঙ্গ হবে না। কারণ প্রাণ হরণ হওয়া ছাড়া হত্যা সম্পন্ন হয় না। আর বলা হয়েছে যে, প্রাণ বিয়োগ হত্যাকারী সাব্যস্ত করে না, বরং তা কেবল প্রহারকারী সাব্যস্ত করে।
মাসআলাএক ব্যক্তি বলল: "যে স্ত্রীকেই আমি বিবাহ করব সে তালাক, যদি আমি অমুকের সাথে কথা বলি।" অতঃপর সে কথা বলার আগে এক নারীকে বিবাহ করল এবং কথা বলার পরে আরেক নারীকে বিবাহ করল। যে নারীকে সে কথা বলার আগে বিবাহ করেছিল সে তালাক হয়ে যাবে, কিন্তু যাকে কথা বলার পরে বিবাহ করেছে সে তালাক হবে না। কারণ সে তৎক্ষণাৎ কথা বলাকে আবশ্যক করেছে এবং অমুকের সাথে কথা বলাকে তার শপথের পরিসমাপ্তি নির্ধারণ করেছে। আর শপথ যখন তার পরিসীমায় পৌঁছে যায় তখন তা রহিত হয়ে যায়। ফলে অমুকের সাথে কথা বলা তার শপথের পরিসমাপ্তি হিসেবে গণ্য হবে এবং তা শপথ ভঙ্গের শর্ত হবে, শপথ সংঘটিত হওয়ার শর্ত হবে না। যেহেতু সে শর্তটিকে পরে উল্লেখ করেছে, তাই তা শপথ সমাপ্তির শর্ত হয়েছে। ফলে শর্ত পাওয়া যাওয়ার আগে বিবাহিত নারী শপথের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আর যদি সে শর্তটি আগে উল্লেখ করে বলে, "যদি আমি অমুকের সাথে কথা বলি তবে যে স্ত্রীকেই আমি বিবাহ করব সে তালাক", অতঃপর সে কথা বলার পরে এক নারীকে বিবাহ করল এবং কথা বলার আগে এক নারীকে বিবাহ করল; তবে যাকে সে কথা বলার আগে বিবাহ করেছিল সে তালাক হবে না, কারণ সে তাকে শপথের আগে বিবাহ করেছে। আর যাকে সে কথা বলার পরে বিবাহ করেছে সে তালাক হয়ে যাবে, কারণ সে তাকে শপথ সংঘটিত হওয়ার পর বিবাহ করেছে। এর কারণ হলো, সে অমুকের সাথে কথা বলাকে শপথ সংঘটিত হওয়ার শর্ত বানিয়েছে। ফলে বিষয়টি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যেন সে বলেছে, "অমুকের সাথে কথা বলার সময় আমি যে নারীকে বিবাহ করব সে তালাক"। কারণ যখন তালাককে কোনো শর্তের সাথে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়, তখন তা শপথ সংঘটিত হওয়ার শর্ত হয় এবং শর্তের পরে বিবাহিতা নারী শপথের অন্তর্ভুক্ত হয়। আর যদি শর্তকে পরে আনা হয়, তবে তা শপথ সমাপ্তির শর্ত হয় এবং শর্তের আগে বিবাহিতা নারী শপথের অন্তর্ভুক্ত হয়।
(খণ্ড: ٢٢)
আস-সাহমুল মুসীব ফির রাদ্দি আলাল খাতীব - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
أما إذا وسط الشرط فقال: كل امرأة أتزوجها أن كلمت فلانا فهي طالق صار كما إذا قدم الشرط لأن كلمة هي لا تستبد بنفسها، فصار كما إذا قال كل امرأة أتزوجها إن كلمت فلانا فالمرأة التي أتزوجها إن كلمت فلانا فالمرأة التي أتزوجها طالق ولو قال إن كلمت فلانا كل امرأة أتزوجها طالق صار الشرط مقدما كذلك هاهنا. وأما إذا وقت وأخر الشرط فقال كل امرأة أتزوجها فهي طالق إلى ثلاثين سنة إن كلمت فلانا. فتزوج امرأة بعد الكلام وامرأة قبل الكلام طلقتا لأنا إنما جعلنا كلام فلان غاية ليمينه من طريق الدلالة. فإذا وقت صريحا خرجت الدلالة من أن تكون للغاية لأن الصريح أقوى منها. ولو قدم الشرط فقال: إن كلمت فلانا فكل امرأة أتزوجها إلى ثلاثين سنة فهي طالق. فالتي تزوج قبل الكلام لا تطلق، لأن الكلام صار شرطا، لانعقاد اليمين على ما ذكت ومن تزوجها بعد الكلام تطلق. ولو وسط فهو كما لو قدم ثم إذا أخر الشرط يعتبر من وقت اليمين، لأنه أوجب اليمين من ساعته. ولو أخر الشرط يعتبر من وقت الكرم لأن اليمين انعقدت عند الكلام، وكذلك الجواب في الفصول كلها إذا جعل غاية ليمينه وشرطا لحنثه.
وحروف الشرط إن المكسورة الهمزة المخففة تقول إن تأتنى آتك «ومن» يقول من يمرر أمرر به فقولك إن تذهب وما أشبهه من الفعل الذي يلي إن شرط والجزاء قولك اذهب. وجزاء الشرط ثلاثة أشياء: الفعل وقد ذكرته، والآخر الفاء. في نحو إن تأتنى فأنت مكرم قال الله تعالى: {فَمَنْ يُؤْمِنْ بِرَبِّهِ فَلا يَخافُ بَخْساً وَلَا رَهَقاً} وإذا، تقول: إذا احمر البسر أعطيتك قال الله تعالى: {وَإِنْ تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ بِما قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ إِذَا هُمْ يَقْنَطُونَ} فموضع الفاء وما بعده جزم وكذلك موضع إذا وما بعدها بدلالة أنه لو وقع موضع ذلك فعل لظهر الجزم. وعلى هذا قرأ بعض القراء {مَنْ يُضْلِلِ اللَّهُ فَلَا هادِيَ لَهُ وَيَذَرُهُمْ} فجزم يذرهم لحمله إياه على موضع فلا هادى له.
وقد تقع أسماء موضع إن وتلك الأسماء منها ما هو غير ظرف ومنها ما هي ظرف. فما كان غير ظرف فنحونا ومن، وأيهم، تقول من يكرم أكرم. وأيهم تعط أعط. وما تركب أركب قال الله تعالى: {مَا يَفْتَحِ اللَّهُ لِلنَّاسِ مِنْ رَحْمَةٍ فَلا مُمْسِكَ لَها} وقال تعالى: {أَيًّا مَا تَدْعُوا فَلَهُ الْأَسْماءُ الْحُسْنَى} فعلامة الجزم في الفعل بعد أى حذف النون التي تثبت علامة للرفع في تفعلون قال الله تعالى: {مَهْما تَأْتِنا بِهِ مِنْ
কিন্তু যদি সে শর্তকে মাঝখানে নিয়ে আসে এবং বলে: "প্রত্যেক নারী যাকে আমি বিয়ে করব, যদি আমি অমুকের সাথে কথা বলি তবে সে তালাক," তবে এটি এমন হবে যেন শর্তকে শুরুতে আনা হয়েছে; কারণ "সে" শব্দটি নিজে নিজে স্বতন্ত্র অর্থ প্রকাশ করে না। ফলে এটি এমন হয়ে দাঁড়াল যেন সে বলল: "প্রত্যেক নারী যাকে আমি বিয়ে করব, যদি আমি অমুকের সাথে কথা বলি, তবে সেই নারী যাকে আমি বিয়ে করব সে তালাক।" আর যদি সে বলে: "যদি আমি অমুকের সাথে কথা বলি তবে প্রত্যেক নারী যাকে আমি বিয়ে করব সে তালাক," তবে শর্তটি একইভাবে অগ্রবর্তী হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি সে সময় নির্ধারণ করে এবং শর্তকে বিলম্বে নিয়ে আসে, যেমন সে বলল: "প্রত্যেক নারী যাকে আমি বিয়ে করব সে ত্রিশ বছর পর্যন্ত তালাক যদি আমি অমুকের সাথে কথা বলি।" এমতাবস্থায় কথা বলার পরে বিয়ে করা নারী এবং কথা বলার পূর্বে বিয়ে করা নারী—উভয়ই তালাক হয়ে যাবে। কারণ আমরা অমুকের সাথে কথা বলাকে তার শপথের সীমা হিসেবে নির্ধারণ করেছি পরোক্ষ ইঙ্গিতের (দালালাত) মাধ্যমে। কিন্তু যখন সে স্পষ্টভাবে সময় উল্লেখ করে দিল, তখন সেই ইঙ্গিতটি আর সীমা হওয়ার অবস্থানে থাকল না, কারণ স্পষ্ট বক্তব্য ইঙ্গিতের চেয়ে শক্তিশালী। আর যদি সে শর্তকে শুরুতে নিয়ে আসে এবং বলে: "যদি আমি অমুকের সাথে কথা বলি, তবে প্রত্যেক নারী যাকে আমি বিয়ে করব সে ত্রিশ বছর পর্যন্ত তালাক।" এমতাবস্থায় কথা বলার পূর্বে যাকে বিয়ে করেছে সে তালাক হবে না, কারণ এখানে কথা বলাটি শপথ কার্যকর হওয়ার শর্ত হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে যেমনটি আমি উল্লেখ করেছি; এবং কথা বলার পর যাকে বিয়ে করবে সে তালাক হয়ে যাবে। আর যদি সে শর্তকে মাঝখানে রাখে, তবে তা শুরুতে রাখার মতোই গণ্য হবে। এরপর যদি সে শর্তকে শেষে নিয়ে আসে, তবে তা শপথের সময় থেকে গণ্য হবে, কারণ সে সেই মুহূর্ত থেকেই শপথকে আবশ্যক করেছে। আর যদি সে শর্তকে বিলম্বে নিয়ে আসে, তবে তা কথা বলার সময় থেকে গণ্য হবে কারণ শপথটি কথা বলার সময়ই কার্যকর হয়েছে। একইভাবে সকল ক্ষেত্রে উত্তর একই হবে যখন কোনো বিষয়কে তার শপথের সীমা এবং তার শপথ ভঙ্গের শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করা হবে।
আর শর্তের অক্ষরগুলো হলো হামজা-এর নিচে কাসরা ও সুকুনযুক্ত "ইন" (যদি); যেমন তুমি বলবে: "যদি তুমি আমার কাছে আসো, তবে আমি তোমার কাছে আসব।" এবং "মান" (যে); যেমন বলা হয়: "যে ব্যক্তি অতিক্রম করবে, আমি তার সাথে অতিক্রম করব।" সুতরাং তোমার কথা "যদি তুমি যাও" এবং এর সদৃশ ক্রিয়া যা "ইন" এর পরে আসে তা হলো শর্ত, আর তোমার কথা "আমি যাব" হলো এর প্রতিদান। শর্তের প্রতিদান তিনটি বিষয়ের মাধ্যমে হয়: ক্রিয়া—যা আমি উল্লেখ করেছি; এবং দ্বিতীয়টি হলো "ফা"। যেমন: "যদি তুমি আমার কাছে আসো, তবে তুমি সম্মানিত।" আল্লাহ তাআলা বলেন: {অতঃপর যে ব্যক্তি তার রবের প্রতি ঈমান আনে, সে কোনো লোকসান বা অন্যায়ের ভয় করবে না।} এবং "ইযা" (যখন); তুমি বলবে: "যখন কাঁচা খেজুর লাল হবে, আমি তোমাকে দেব।" আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর যদি তাদের হাতসমূহ যা আগে পাঠিয়েছে তার কারণে তাদের ওপর কোনো বিপদ আসে, তবে তখনই তারা হতাশ হয়ে পড়ে।} এখানে "ফা" এবং তার পরবর্তী অংশের স্থান হলো জজম। একইভাবে "ইযা" এবং তার পরবর্তী অংশের ক্ষেত্রেও একই বিধান, যার প্রমাণ হলো এই যে, যদি উক্ত স্থানে কোনো ক্রিয়া আসত তবে তাতে জজম প্রকাশ পেত। এ কারণেই কোনো কোনো ক্বারী পাঠ করেছেন: {আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই এবং তিনি তাদের ছেড়ে দেন}, এখানে "ছেড়ে দেন" শব্দটিকে জজম করা হয়েছে কারণ একে "তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক নেই" এর অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে গণ্য করা হয়েছে।
আবার কখনো "ইন"-এর স্থলে বিশেষ্যসমূহ আসতে পারে। সেই বিশেষ্যগুলোর কোনোটি সময়বাচক নয়, আবার কোনোটি সময়বাচক। যা সময়বাচক নয় তার উদাহরণ হলো "মা" (যা), "মান" (যে) এবং "আইয়ুহুম" (তাদের কোনটি)। তুমি বলবে: "যে সম্মান করবে, আমি তাকে সম্মান করব।" এবং "তুমি যাকে দিবে, আমিও তাকে দেব।" এবং "তুমি যা আরোহণ করবে, আমিও তা আরোহণ করব।" আল্লাহ তাআলা বলেন: {আল্লাহ মানুষের জন্য যে রহমত উন্মুক্ত করে দেন, তা রোধ করার কেউ নেই।} এবং আল্লাহ তাআলা বলেন: {তোমরা যে নামেই ডাকো না কেন, তাঁর জন্যই রয়েছে সুন্দরতম নামসমূহ।} সুতরাং "আইয়ুন" এর পরে ক্রিয়ায় জজমের চিহ্ন হলো "নুন" বিলুপ্ত হওয়া, যা মূলত "তোমরা করো" জাতীয় শব্দের ক্ষেত্রে রাফা-এর চিহ্ন হিসেবে সাব্যস্ত থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তুমি আমাদের কাছে যা-ই নিয়ে আসো না কেন...}
(খণ্ড: ٢٢)
আস-সাহমুল মুসীব ফির রাদ্দি আলাল খাতীব - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
{آيَةٍ لِتَسْحَرَنا بِها فَما نَحْنُ لَكَ بِمُؤْمِنِينَ} والظروف التي تجازى بها متى، وأنى وأين. وأى حين، وحيثما وإذ ما، ولا يجازى بحيث، ولا بإذ. حتى يلزم كل واحدة منهما ما يقول متى، يأتنى آته، ومتى ما تأتنى آتك. قال:
متى تأته تعشو إلى ضوء ناره
… تجد خير نار عندها خير موقد
وأنى يقم أقم. وأين تذهب أذهب. وأى حين تركب أركب وهذه الأسماء التي جوزي بها إذا نصبت انتصبت بالفعل الذي هو شرط ولا يجوز: زيدا إن تضرب أضرب، لا يجوز أن تنصبه في قول البصريين بالشرط، ولا بالجزاء. فإن قلت: إن يضرب زيدا أضرب، كان زيد منتصبا بالفعل الذي هو شرط. فإن شغلت الشرط بالضمير قلت: إن زيدا تضربه اضرب عمرا كان زيد منتصبا بفعل مضمر، يفسره هذا الظاهر. كما أن قولك زيداضربته، كذلك وقد يحذف الشرط في مواضع، فلا يؤتى به لدلالة ما ذكر عليه وتلك المواضع: الأمر، والنهى، والاستفهام، والتمني، والعرض. تقول: أكرمنى أكرمك، والتأويل أكرمنى فإنك إن تكرمني أكرمك. والنهى لا تفعل يكن خيرا لك. والاستفهام ألا تأتنى أحدثك؟ وأين بيتك أزرك؟ والتمني ألا ماء باردا أشربه؟ والعرض إلا تنزل تصب خيرا؟ فمعنى ذلك كله إن تفعل أفعل فهو جميعه معنى الشرط ومعنى الجزاء أفعل قال محمد في «الجامع الكبير»: ألا ترى أنه إذا قال إذا جاء غد فكل امرأة أتزوجها فهي طالق فلا تطلق إلا التي تزوجها في الغد، وانما أراد ما أشكل بالأفعال فاعتبره بالأوقات لأنك إذا قدمت الشرط أو وسطته أو أخرته في الأوقات تبين لك في الأفعال. اجعل مجيء الغد بمنزلة كلام فلان. وقد تبين لك ما ذكرت.
مسألةإذا قال: كل امرأة أتزوجها فهي طالق كلما كلمت فلانا وتزوج امرأة ودخل بها ثم كلم فلانا، ثم تزوج أخرى فالتي تزوجها قبل الكلام تطلق ولا تطلق التي تزوجها بعد الكلام، لأنه جعل كلام فلان غاية ليمينه وشرطا لحنثه، فصار كأنه قال كل امرأة أتزوجها غدا فهي طالق كلما كلمت فلانا ولو قال هكذا لا يشكل لأنه لا يقع الطلاق إلا على التي تزوجها غدا، فذكر المسألة بكلما، وكلما كلمة تكرار بيانها
“...নিদর্শন আমাদের জাদু করার জন্য, তবে আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনব না।” এবং সেই সকল সময়বাচক ও স্থানবাচক অব্যয় (যরফ) যার মাধ্যমে শর্তের বিনিময় (জাযা) প্রদান করা হয়, সেগুলো হলো: মাতা (কখন), আন্না (কোথা হতে/কিভাবে) এবং আয়না (কোথায়)। এবং আয়্যুহীনিন (যে কোনো সময়), হাইসুমা (যেখানেই হোক) এবং ইয মা (যখনই)। ‘হাইসু’ এবং ‘ইয’ এর মাধ্যমে জাযা হয় না, যতক্ষণ না তাদের প্রত্যেকের সাথে ‘মা’ যুক্ত হয়। ফলে তাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে সেই নিয়মই প্রযোজ্য হয় যা ‘মাতা’র ক্ষেত্রে হয়। যেমন বলা হয়: ‘মাতা ইয়াতিনি আতিহি’ (সে যখনই আমার কাছে আসবে, আমি তার কাছে যাব), এবং ‘মাতা মা তাতিনি আতিকা’ (তুমি যখনই আমার কাছে আসবে, আমি তোমার কাছে যাব)। কবি বলেছেন:
তুমি যখনই তার কাছে যাবে তার আগুনের আলোর দিকে তাকিয়ে
… তখনই পাবে সর্বশ্রেষ্ঠ আগুন যার পাশে রয়েছে সর্বশ্রেষ্ঠ প্রজ্বলনকারী
এবং ‘আন্না ইয়াকুম আকুম’ (সে যেখানেই দাঁড়াবে, আমি দাঁড়াব)। এবং ‘আয়না তাযহাব আযহাব’ (তুমি যেখানেই যাবে, আমি যাব)। এবং ‘আয়্যুহীনিন তারকাব আরকাব’ (তুমি যে সময়েই আরোহণ করবে, আমি করব)। এবং এই বিশেষ্যগুলো যার মাধ্যমে জাযা বা প্রতিদান দেওয়া হয়, যখন তা নসব (উত্তম কারক) প্রাপ্ত হয়, তখন তা সেই ক্রিয়া দ্বারা নসব প্রাপ্ত হয় যা শর্ত হিসেবে আছে। আর এটি বৈধ নয় যে: ‘যাইদান ইন তাদ্বরিব আদ্বরিব’ (যাইদকে যদি তুমি প্রহার করো আমি প্রহার করব); বসরী ব্যাকরণবিদদের মতে একে শর্ত দ্বারা নসব দেওয়া জায়েয নয়, আবার জাযা দ্বারাও নয়। যদি তুমি বলো: ‘ইন ইয়াদ্বরিব যাইদান আদ্বরিব’, তবে ‘যাইদ’ শব্দটি সেই ক্রিয়া দ্বারা নসব প্রাপ্ত হবে যা শর্ত। আর যদি তুমি শর্তের আমলকে সর্বনাম দ্বারা পূর্ণ করো তবে তুমি বলবে: ‘ইন যাইদান তাদ্বরিবহু আদ্বরিব আমরাম’ (যদি যাইদকে তুমি প্রহার করো, তবে আমি আমরকে প্রহার করব), তখন ‘যাইদ’ শব্দটি একটি উহ্য ক্রিয়া দ্বারা নসব প্রাপ্ত হবে, যা এই প্রকাশ্য ক্রিয়াটি ব্যাখ্যা করছে। যেমনটি তোমার উক্তি ‘যাইদান দদ্বরুবতুহু’ এর ক্ষেত্রে হয়, এটিও তদ্রূপ। আর কখনও কখনও কিছু স্থানে শর্ত উহ্য থাকে, তখন ইতিপূর্বে উল্লেখিত বিষয়ের নির্দেশনার কারণে তা আর উল্লেখ করা হয় না। সেই স্থানগুলো হলো: আদেশ, নিষেধ, প্রশ্নবোধক, আকাঙ্ক্ষা এবং প্রস্তাব। তুমি বলবে: ‘আকরিমনি আকরিমকা’ (আমাকে সম্মান করো, আমি তোমাকে সম্মান করব), এর ব্যাখ্যা হলো: আমাকে সম্মান করো, কেননা তুমি যদি আমাকে সম্মান করো তবে আমিও তোমাকে সম্মান করব। আর নিষেধের ক্ষেত্রে: ‘লা তাফ’আল ইয়াকুন খাইরান লাকা’ (করো না, এটি তোমার জন্য কল্যাণকর হবে)। আর প্রশ্নবোধকের ক্ষেত্রে: ‘আলা তাতিনি উহাদদিসকা?’ (তুমি কি আমার কাছে আসবে না যেন আমি তোমার সাথে কথা বলতে পারি?) এবং ‘আয়না বাইতুকা আযুরকা?’ (তোমার বাড়ি কোথায় যেন আমি তোমার সাথে সাক্ষাৎ করতে পারি?)। আর আকাঙ্ক্ষার ক্ষেত্রে: ‘আলা মাআন বারিদান আশরাবাহু?’ (হায়, যদি কিছু ঠান্ডা পানি হতো যা আমি পান করতাম!)। আর প্রস্তাবের ক্ষেত্রে: ‘আল্লা তানযিলা তুসিব খাইরান?’ (তুমি কি নামবে না যাতে তুমি কল্যাণ লাভ করো?)। সুতরাং এই সবকিছুর অর্থ হলো ‘যদি তুমি করো তবে আমি করব’, তাই এই সবকিছুই শর্তের অর্থ বহন করে এবং জাযার অর্থ হলো ‘আমি করব’। মুহাম্মদ ‘আল-জামি আল-কাবীর’ গ্রন্থে বলেছেন: তুমি কি দেখছ না যে, যখন কেউ বলে ‘যখন আগামীকাল আসবে তখন আমি যে নারীকে বিয়ে করব সে তালাকপ্রাপ্তা’, তবে সে আগামীকাল যাকে বিয়ে করবে সে ছাড়া অন্য কেউ তালাক হবে না। তিনি মূলত ক্রিয়াগুলোর মাধ্যমে যা জটিল মনে হয় তা সময়ের নিরিখে বর্ণনা করতে চেয়েছেন। কারণ তুমি যখন সময়ের ক্ষেত্রে শর্তকে আগে আনবে, মাঝে রাখবে বা পরে রাখবে, তখন ক্রিয়াগুলোর ক্ষেত্রেও তা তোমার কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে। আগামীকালের আগমনকে অমুক ব্যক্তির সাথে কথা বলার সমতুল্য মনে করো। আর আমি যা উল্লেখ করেছি তা তোমার কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে।
মাসআলাযদি কেউ বলে: “আমি যে নারীকে বিয়ে করব সে তালাকপ্রাপ্তা যখনই আমি অমুকের সাথে কথা বলব”, এরপর সে এক নারীকে বিয়ে করল ও তার সাথে বাসর করল, অতঃপর অমুকের সাথে কথা বলল, তারপর অন্য আরেকজন নারীকে বিয়ে করল; তবে কথা বলার আগে যাকে বিয়ে করেছিল সে তালাক হয়ে যাবে, কিন্তু কথা বলার পরে যাকে বিয়ে করেছে সে তালাক হবে না। কারণ সে অমুক ব্যক্তির সাথে কথা বলাকে তার শপথের চূড়ান্ত সীমা এবং শপথ ভঙ্গের শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করেছে। ফলে বিষয়টি এমন হয়ে দাঁড়ালো যেন সে বলেছে, “আগামীকাল আমি যে নারীকে বিয়ে করব সে তালাকপ্রাপ্তা যখনই আমি অমুকের সাথে কথা বলব”। যদি সে এভাবে বলত তবে কোনো অস্পষ্টতা থাকত না, কারণ আগামীকাল যাকে বিয়ে করবে কেবল তার ওপরই তালাক আপতিত হবে। অতঃপর সে মাসআলাটি ‘কুল্লামা’ (যখনই) শব্দ দিয়ে উল্লেখ করেছে, আর ‘কুল্লামা’ শব্দটি হলো পুনরাবৃত্তি স্পষ্ট করার জন্য।
(খণ্ড: ٢٢)
আস-সাহমুল মুসীব ফির রাদ্দি আলাল খাতীব - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
يجيء بعد إن شاء الله. فصار حكم هذه المسألة وحكم المسائل المتقدمة على السواء، إلا أن هنا ذكرت شرط الحنث مكررا فإن كلم فلانا مرة أخرى طلقت أخرى إذا كانت في العدة، ولا تطلق الثانية لأنه جعل كلام فلان غاية ليمينه والغاية لا تحتمل التكرار، والشرط يحتمل التكرار. فإذا تزوج المرأة الأولى وكلم فلانا فقد انتهت اليمين غايتها وسقطت، لأن في حق الأولى صار الكلام شرطا للحنث وشرط الحنث يحتمل التكرار، ولو قدم الشرط فقال كلما كلمت فلانا فكل امرأة أتزوجها طالق، فتزوج امرأة قبل الكلام وامرأة بعد الكرم فالتي تزوجها قبل الكلام لا تطلق وتطلق التي تزوجها بعد الكلام، لأنه جعل كلام فلان شرطا لانعقاد اليمين فالتي تزوجها قبل الكلام تزوجها قبل انعقاد اليمين فلا يقع الطلاق عليها، فإن تزوج أخرى طلقت أيضا لأن كلمة كل تجمع الأسماء على الانفراد فكل امرأة يتزوجها بعد الكلام تطلق ولو لم يتزوج امرأة أخرى حتى كلم فلانا مرة أخرى لا يقطع الطلاق على المرأة الأولى لأنها بانت بالطلقة الأولى. وكذلك لو كانت في ملكه لا يقع الطلاق أيضا إذا كان التزوج قبل الكلام. ولو كلم فلانا ثم تزوج امرأة تقع تطليقتان، تطليقة بالكلام الأول وتطليقة بالكلام الثاني لأن يمينه انعقدت بحرف متكرر فانعقد في حقه يمينان.
وكذلك لو كلم فلانا ثلاث مرات ثم تزوج امرأة طلقت ثلاثا لأنه انعقدت عند كلام فلان أيمان ثلاثة، كأنه قال كل امرأة أتزوجها فهي طالق، وكذلك في الثانية والثالثة، فإذا تزوجها حنث في الأيمان كلها.
قال في الكتاب: ألا ترى أنه لو قال كلما ضربت فلانا ففلانة طالق إن تزوجتها، فضرب فلانا ثلاث مرات ثم تزوجها طلقت ثلاثا لأنه إذا تكرر الضرب تكرر الانعقاد. فإذا وجد الشرط نزلت كلها وانحلت الأيمان معا. وقال ألا ترى أنه إذا قال لامرأته كلما دخلت الدار اليوم فأنت طالق غدا فدخلت الدار اليوم ثلاث مرات تطلق غدا ثلاثا. وقال ألا ترى أنه لو قال كلما ضربت فلانا فامرأتى طالق إن دخلت الدار، فضرب فلانا ثلاث مرات ثم دخل الدار تطلق ثلاثا، ولو وسط الشرط صار كأنه قدم وقد ذكرت ذلك. ولو قال كل امرأة أتزوجها إن دخلت الدار فهي طالق فالجواب في دخول الدار بمنزلة الجواب في كلام فلان إن كان شرط الدخول متقدما يقع الطلاق على المزوجة بعد الدخول ولا يقع على المزوجة قبل الدخول لكنه لا يدخله التكرار، والفرق بين كل وكلما أن كلا اسم مفرد يقع على الأفراد أبدا فإذا أضيف إلى الجمع أو قرن به اقتضى الجمع أيضا لكن على سبيل الإفراد لأنه مخصص
ইনশাআল্লাহ এটি পরবর্তীতে আসবে। সুতরাং এই মাসআলার বিধান এবং পূর্ববর্তী মাসআলাসমূহের বিধান সমান হয়ে গেল, তবে এখানে শপথ ভঙ্গের শর্তটি বারবার উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে যদি সে অমুক ব্যক্তির সাথে পুনরায় কথা বলে, তবে সেই স্ত্রী যদি ইদ্দত পালনরত অবস্থায় থাকে তাহলে পুনরায় তালাকপ্রাপ্তা হবে। কিন্তু দ্বিতীয় স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হবে না, কারণ সে অমুক ব্যক্তির সাথে কথা বলাকে তার শপথের পরিসমাপ্তি হিসেবে নির্ধারণ করেছে, আর পরিসমাপ্তি পুনরাবৃত্তি গ্রহণ করে না, কিন্তু শর্ত পুনরাবৃত্তি গ্রহণ করে। অতঃপর যদি সে প্রথম নারীকে বিবাহ করে এবং অমুক ব্যক্তির সাথে কথা বলে, তবে শপথটি তার পরিসমাপ্তিতে পৌঁছে গেল এবং তা রহিত হয়ে গেল। কারণ প্রথমজনের ক্ষেত্রে কথা বলাটি শপথ ভঙ্গের শর্ত হিসেবে গণ্য হয়েছে, আর শপথ ভঙ্গের শর্ত পুনরাবৃত্তি গ্রহণ করে। আর যদি সে শর্তটিকে আগে নিয়ে আসে এবং বলে: ‘যতবারই আমি অমুকের সাথে কথা বলব, আমি যে কোনো নারীকে বিবাহ করব সে তালাকপ্রাপ্তা’, অতঃপর সে কথা বলার আগে এক নারীকে বিবাহ করল এবং কথা বলার পরে আরেক নারীকে বিবাহ করল, তবে কথা বলার আগে যাকে বিবাহ করেছে সে তালাকপ্রাপ্তা হবে না, কিন্তু কথা বলার পরে যাকে বিবাহ করেছে সে তালাকপ্রাপ্তা হবে। কারণ সে অমুকের সাথে কথা বলাকে শপথ কার্যকর হওয়ার শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করেছে। ফলে যাকে সে কথা বলার পূর্বে বিবাহ করেছে, তাকে শপথ কার্যকর হওয়ার পূর্বেই বিবাহ করেছে, তাই তার উপর তালাক পতিত হবে না। অতঃপর সে যদি অন্য কাউকে বিবাহ করে তবে সেও তালাকপ্রাপ্তা হবে, কারণ ‘প্রত্যেক’ (কুল্ল) শব্দটি একক নামসমূহকে পৃথকভাবে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং কথা বলার পরে সে যে কোনো নারীকে বিবাহ করবে সে তালাকপ্রাপ্তা হবে। আর যদি সে অন্য কোনো নারীকে বিবাহ না করে এবং পুনরায় অমুকের সাথে কথা বলে, তবে প্রথম নারীর উপর তালাক কার্যকর হবে না, কারণ প্রথম তালাকের মাধ্যমেই সে পৃথক হয়ে গেছে। অনুরূপভাবে সে যদি তার বিবাহাধীনে থাকে তবুও তালাক পতিত হবে না যদি বিবাহটি কথা বলার পূর্বে হয়ে থাকে। আর যদি সে অমুকের সাথে কথা বলে এবং পরে কোনো নারীকে বিবাহ করে তবে দুই তালাক পতিত হবে; প্রথমবার কথা বলার কারণে এক তালাক এবং দ্বিতীয়বার কথা বলার কারণে আরেক তালাক। কারণ তার শপথটি পুনরাবৃত্তিবাচক শব্দের মাধ্যমে সম্পাদিত হয়েছে, ফলে তার ক্ষেত্রে দুটি শপথ কার্যকর হয়েছে।
অনুরূপভাবে যদি সে অমুক ব্যক্তির সাথে তিনবার কথা বলে এবং পরে কোনো নারীকে বিবাহ করে, তবে সে তিন তালাকপ্রাপ্তা হবে। কারণ অমুকের সাথে কথা বলার সময় তিনটি শপথ সম্পাদিত হয়েছে; যেন সে বলেছে: ‘আমি যে কোনো নারীকে বিবাহ করব সে তালাকপ্রাপ্তা’, অনুরূপভাবে দ্বিতীয় এবং তৃতীয়বারও। সুতরাং যখন সে তাকে বিবাহ করল, তখন সে সবকটি শপথের ক্ষেত্রেই শপথ ভঙ্গকারী সাব্যস্ত হলো।
তিনি কিতাবে বলেছেন: আপনি কি দেখছেন না যে, সে যদি বলে: ‘যতবারই আমি অমুককে প্রহার করব, আমি যদি তোমাকে বিবাহ করি তবে অমুক নারী তালাকপ্রাপ্তা’, অতঃপর সে অমুককে তিনবার প্রহার করল এবং পরে তাকে বিবাহ করল, তবে সে তিন তালাকপ্রাপ্তা হবে। কারণ প্রহারের পুনরাবৃত্তিতে শপথ কার্যকর হওয়ার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। সুতরাং যখন শর্তটি পাওয়া গেল, তখন সবগুলো তালাক একসাথে পতিত হলো এবং শপথগুলো সমাপ্ত হলো। তিনি আরও বলেছেন: আপনি কি দেখছেন না যে, যখন সে তার স্ত্রীকে বলে: ‘আজ যতবারই তুমি ঘরে প্রবেশ করবে, আগামীকাল তুমি তালাকপ্রাপ্তা’, আর সে আজ তিনবার ঘরে প্রবেশ করল, তবে আগামীকাল সে তিন তালাকপ্রাপ্তা হবে। তিনি আরও বলেছেন: আপনি কি দেখছেন না যে, সে যদি বলে: ‘যতবারই আমি অমুককে প্রহার করব, আমি যদি ঘরে প্রবেশ করি তবে আমার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা’, অতঃপর সে অমুককে তিনবার প্রহার করল এবং পরে ঘরে প্রবেশ করল, তবে স্ত্রী তিন তালাকপ্রাপ্তা হবে। আর যদি শর্তটি মাঝে নিয়ে আসা হয় তবে তা আগে নিয়ে আসার মতোই হবে, যা আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। আর যদি সে বলে: ‘আমি যে কোনো নারীকে বিবাহ করব, সে যদি ঘরে প্রবেশ করে তবে সে তালাকপ্রাপ্তা’, তবে ঘরে প্রবেশের ক্ষেত্রে সমাধানটি অমুক ব্যক্তির সাথে কথা বলার সমাধানের ন্যায় হবে। যদি ঘরে প্রবেশের শর্তটি আগে থাকে, তবে প্রবেশের পরে বিবাহিত মহিলার উপর তালাক পতিত হবে এবং প্রবেশের পূর্বে বিবাহিত মহিলার উপর তালাক পতিত হবে না। কিন্তু এতে পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। আর ‘প্রত্যেক’ (কুল্ল) এবং ‘যতবারই’ (কুল্লামা)-এর মধ্যে পার্থক্য হলো—‘প্রত্যেক’ একটি একবচন বিশেষ্য যা সর্বদা একক ব্যক্তিবর্গের উপর ব্যবহৃত হয়। যখন একে বহুবচনের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয় বা তার সাথে যুক্ত করা হয়, তখন এটি সমষ্টির অর্থও প্রদান করে, তবে তা পৃথক হওয়ার ভিত্তিতে; কারণ এটি সুনির্দিষ্টকারী।
(খণ্ড: ٢٢)
আস-সাহমুল মুসীব ফির রাদ্দি আলাল খাতীব - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
به قال الله تعالى: {كُلُّ مَنْ عَلَيْها فانٍ} فهذا يقتضى الجمع لكن على سبيل الإفراد لأن من بمعنى الذي لكن لما كان اللفظ يقتضى العموم اقتضت ذلك لكن على أصلها وهي الإفراد، ألا ترى إلى من أنها لا تكون للجمع، وأما ما وصف به الجمع قوله تعالى: {وَإِنْ كُلٌّ لَمَّا جَمِيعٌ لَدَيْنا مُحْضَرُونَ} فجميع ومحضرون جموع، فلما قرنت بها كل اقتضتها لما فيها من الإبهام. قال سيبويه: هذا مال كل مال عندك فأضافه إلى النكرة، إلا ترى أنك تصف بها النكرة وذلك أنك تصف ما بها بما تصف به النكرة ولا تصف بما تصف به المعرفة.
قال سيبويه: حدثنا الخليل عمن يوثق بعربيته من العرب ينشد هذا البيت:
وكل خليل غيرها ضم نفسه
… لوصل خليل صارم أو معارز
فجعله صفة لكل والبيت للشماخ. فهذا يدل على الإفراد بقوله نفسه فأضاف كلا إلى الإفراد.
قال سيبويه: هذا كل مالك، وقال مررت برجلين مثلك أى كل رجل منهما مثلك، وأما كلما فهي من حروف الشرط وتدخل على الأفعال لأنك تقول كلما قام زيد قمت، فقولك قمت هو جواب لكلما وكل اسم لأنه يضاف ويضاف إليه تقوله كل رجل وصنعته، فتضيف كلا إلى رجل. قال الله تعالى: {كُلَّما أَوْقَدُوا ناراً لِلْحَرْبِ أَطْفَأَهَا اللَّهُ}.
مسألةولو قال كل امرأة أتزوجها إن دخلت الدار فهي طالق فالجواب في دخول الدار بمنزلة الجواب في كلام فلان إن كان الشرط متقدما يقع على المزوجة بعد الدخول ولا يقع على المزوجة قبل الدخول. ولو قال كل امرأة أملكها فهي طالق إن دخلت الدار فالطلاق يقع على المرأة التي في ملكه لا يكون غير ذلك، سواء قدم الشرط أو وسطه أو آخره لأن لفظ أملك يكون للحال ويصلح للاستقبال فلو أراد أن يخلص اللفظ للاستقبال قال سوف أملك أو سأملك للحال أى وضح أن يكون كذا. وإنما صلح للاستقبال لأن الحال أشبه بالاستقبال من الماضي لأن فعل خلاف سوف يفعل وإنما يفعل إذا نسبناه إلى أحدهما كنسبة المستقبل والملك الذي يكون للحال يكون
এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ বলেছেন: {এর উপর যা কিছু আছে সবই নশ্বর}। এটি বহুবচনের অর্থ প্রকাশ করে, তবে তা একবচনের পন্থায়। কারণ 'মান' শব্দটি 'আল্লাজি' (যে)-এর অর্থে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু যেহেতু শব্দটি ব্যাপকতা দাবি করে, তাই এটি সেই অর্থই প্রকাশ করেছে, তবে তার মূল গঠন অর্থাৎ একবচনের ভিত্তিতেই। আপনি কি দেখছেন না যে, 'মান' শব্দটি বহুবচনের জন্য মূলগতভাবে ব্যবহৃত হয় না? আর যে ক্ষেত্রে বহুবচনের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {আর তাদের প্রত্যেককেই আমাদের সামনে উপস্থিত করা হবে}। এখানে 'জামি'উন' এবং 'মুহদারুন' শব্দ দুটি বহুবচন। যখন এগুলোর সাথে 'কুল্লু' যুক্ত হয়েছে, তখন 'কুল্লু'র মধ্যকার অস্পষ্টতার কারণে তা বহুবচনকেই দাবি করেছে। সিবওয়াইহি বলেন: এটি তোমার কাছে থাকা প্রতিটি সম্পদের সম্পদ; ফলে তিনি একে অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের (নাকিরাহ) দিকে সম্বন্ধ করেছেন। আপনি কি দেখছেন না যে, আপনি এর মাধ্যমে অনির্দিষ্ট বিশেষ্যকে বিশেষিত করছেন? আর তা হলো এই যে, আপনি এর সাথে যা আছে তাকে সেই সব শব্দ দ্বারা বিশেষিত করেন যা দিয়ে অনির্দিষ্ট বিশেষ্যকে বিশেষিত করা হয়, আর এমন শব্দ দিয়ে বিশেষিত করেন না যা দিয়ে নির্দিষ্ট বিশেষ্যকে (মা'রিফাহ) বিশেষিত করা হয়।
সিবওয়াইহি বলেন: খলীল আমাদের কাছে এমন এক ব্যক্তির সূত্রে বর্ণনা করেছেন যার আরব্য ভাষার ওপর আস্থা রাখা যায়, তিনি এই কবিতাটি আবৃত্তি করেন:
তার ব্যতীত অন্য প্রতিটি বন্ধু নিজের সত্তাকে গুটিয়ে নিয়েছে … এমন এক বন্ধুর সাথে মিলনের জন্য যে কঠোর কিংবা বিমুখ
এখানে তিনি একে 'কুল্লু'-এর বিশেষণ বানিয়েছেন এবং কবিতাটি শাম্মাখ-এর। এটি তার 'নাফসাহু' (তার নিজেকে) বলার মাধ্যমে একবচনের প্রতি ইঙ্গিত করে, ফলে তিনি 'কুল্লু'-কে একবচনের দিকে সম্বন্ধ করেছেন।
সিবওয়াইহি বলেন: এটি তোমার সকল সম্পদ। তিনি আরও বলেন, আমি তোমার মতো দুইজন ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম, অর্থাৎ তাদের প্রত্যেকেই তোমার মতো। আর 'কুল্লামা' হলো শর্তবাচক অব্যয়সমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং তা ক্রিয়া পদের (ফেল) ওপর প্রবেশ করে। কারণ আপনি বলেন, যখনই যায়েদ দাঁড়িয়েছে, আমিও দাঁড়িয়েছি। এখানে আপনার কথা 'আমি দাঁড়িয়েছি' হলো 'কুল্লামা'-এর উত্তর (জাওয়াব)। আর 'কুল্লু' হলো একটি বিশেষ্য (ইসম), কারণ তা সম্বন্ধযুক্ত হয় এবং তার দিকেও সম্বন্ধ করা হয়। আপনি বলেন, প্রত্যেক ব্যক্তি ও তার কাজ; ফলে আপনি 'কুল্লু'-কে ব্যক্তির সাথে সম্বন্ধ করছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {যখনই তারা যুদ্ধের আগুন প্রজ্বলিত করেছে, আল্লাহ তা নির্বাপিত করে দিয়েছেন}।
মাসআলাযদি কেউ বলে, 'আমি যে নারীকে বিয়ে করব, সে যদি ঘরে প্রবেশ করে তবে সে তালাক', তবে ঘরে প্রবেশের ক্ষেত্রে সমাধান হবে অমুক ব্যক্তির কথার সমাধানের মতো—যদি শর্তটি আগে উল্লেখ করা হয়, তবে তা প্রবেশের পর বিবাহিত হওয়া নারীর ওপর কার্যকর হবে এবং প্রবেশের আগে বিবাহিত হওয়া নারীর ওপর কার্যকর হবে না। আর যদি সে বলে, 'আমার মালিকানাধীন প্রতিটি নারী তালাক যদি সে ঘরে প্রবেশ করে', তবে তালাক সেই নারীর ওপরই কার্যকর হবে যে তার মালিকানায় (বিবাহে) আছে, এর ব্যতিক্রম হবে না; চাই শর্তটি আগে আসুক বা মাঝে আসুক অথবা শেষে আসুক। কারণ 'আমলিকু' শব্দটি বর্তমান কালের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং ভবিষ্যৎ কালের জন্যও তা উপযোগী। সুতরাং সে যদি শব্দটিকে কেবল ভবিষ্যৎ কালের জন্য নির্দিষ্ট করতে চাইত, তবে সে বলত 'সাওফা আমলিকু' বা 'সা-আমলিকু' বর্তমান অবস্থার জন্য, অর্থাৎ স্পষ্ট করতে যে বিষয়টি এমন হবে। আর এটি ভবিষ্যতের জন্য উপযুক্ত হওয়ার কারণ হলো, বর্তমান অবস্থা অতীতের তুলনায় ভবিষ্যতের অধিক সদৃশ। কারণ বর্তমানকালীন ক্রিয়া 'সাওফা ইয়াফআলু' (সে ভবিষ্যতে করবে)-এর বিপরীত, আর এটি তখনই ক্রিয়া হয় যখন আমরা একে কোনো একটির সাথে সম্বন্ধ করি যেমন ভবিষ্যতের সাথে সম্বন্ধ করা হয়। আর যে মালিকানা বর্তমানের জন্য হয় তা...
(খণ্ড: ٢٢)
আস-সাহমুল মুসীব ফির রাদ্দি আলাল খাতীব - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
للاستقبال لأن أملك اليوم والساعة وغدا سواء، وأملك صالح لكل ما ذكرت فلما كان ملك الحال يكون للاستقبال صلح اللفظ كما كان الفعل في أحواله. فلذلك قلت إن فعل الحال يصلح للاستقبال. فلما صلح اللفظ للأمرين حملناه على الأصل إذا لم يكن له قرين فإن كان له قرين حملنا على ما يصلح له فإذا قال أملك غدا حملناه على الملك المتجدد غدا ولئن قال: أملك حملناه على ملك الحال فصار كأنه قال كل امرأته إذا ملكها، فإنه يقع على من كانت في ملكه كذلك هنا يقع الطلاق على المزوجة في الحال ولا يصدق في صرف الطلاق عن من يملكها في الحال لأنه أراد صرف الكلام عن الظاهر إلى غيره فتجوز نيته على التي عنى ولا تصدق في إبطاله عن التي يملكها في الحال.
ووجه آخر: إنك إذا قلت زيد يضرب عمرا فإن بعض الضرب ماضى وبقيته مستقبل فكأنه وقع حالا وفيه المستقبل لكونه الضرب ما انقضى، فلو انقضى عبر عنه بالماضي ولذلك أشبه الحال الاستقبال في الكلام العرب. ولو قال كل جارية أملكها فهي حرة إذا جاء غد، أو قال كل جارية أملكها إذا جاء غد فهي حرة فإن هذا كله يقع على الموجود دون الحارث، لأنه علق العتق بمجيء الغد وذكر الملك مرسلا والملك المرسل يقع على الموجود دون الحارث، فصار كأنه قال كل جارية أملكها في الحال فهي حرة، ولو قال كذا لا يعتق إلا من كان في ملكه وقت اليمين بشرط حدوث الغد، ولو قال كل جارية أملكها غدا فهي حرة يعتق ما يملك في الغد من أول النهار إلى خره ولا يعتق الموجود والتي يملكها قبل مجيء الغد ولا يعتق التي يملكها بعد الغد، لأنه وصف الملك بمجيء الغد وفي الأخرى جعل شرط حنثه مجيء الغد فلذلك افترقا.
مسألةإذا قال الرجل لامرأته أنت طالق اليوم وغدا طلقت اليوم ولا تطلق غدا وإذا قال أنت طالق اليوم وإذا جاء غد، طلقت اليوم طلقة وغدا طلقة، والفرق بينهما أن الواو للجمع وما اتصف مرة فلا يتصف ثانيا وهي فقد اتصفت بالطلاق فكل يوم هي موصوفة بالطلاق. قوله أنت طالقة اليوم وقع الطلاق واتصفت به وقوله وغدا فقد عطف اليوم على اليوم فحمل على الصفة. وأما قوله أنت طالق اليوم وإذا جاء غد
ভবিষ্যৎ কালের জন্য, কারণ 'আমি মালিক হচ্ছি' শব্দটি আজ, এই মুহূর্ত এবং আগামীকাল—সবকিছুর জন্যই সমান। 'আমি মালিক হচ্ছি' শব্দটি আমি যা উল্লেখ করেছি তার সবকিছুর জন্যই উপযুক্ত। যেহেতু বর্তমানের মালিকানা ভবিষ্যৎ কালের জন্য হতে পারে, তাই শব্দটি সেভাবেই শুদ্ধ হবে যেভাবে ক্রিয়া তার বিভিন্ন অবস্থায় শুদ্ধ হয়ে থাকে। এই কারণেই আমি বলেছি যে, বর্তমান কালের ক্রিয়া ভবিষ্যৎ কালের জন্যও উপযুক্ত। যখন শব্দটি উভয় বিষয়ের জন্য উপযোগী হয়, তখন কোনো অনুষঙ্গ না থাকলে আমরা একে মূল অর্থের ওপর প্রয়োগ করব। আর যদি কোনো অনুষঙ্গ থাকে, তবে আমরা তাকে সেই অর্থের ওপর প্রয়োগ করব যার জন্য সেটি উপযুক্ত। সুতরাং সে যদি বলে 'আমি আগামীকাল মালিক হব', তবে আমরা একে আগামীকাল অর্জিতব্য নতুন মালিকানার ওপর প্রয়োগ করব। আর যদি সে বলে 'আমি মালিক হচ্ছি', তবে আমরা একে বর্তমানের মালিকানার ওপর প্রয়োগ করব। ফলে বিষয়টি এমন হয়ে গেল যেন সে বলল 'তার প্রত্যেক স্ত্রী যখন সে তাদের মালিকানা লাভ করবে'; এটি তার ওপর কার্যকর হয় যে বর্তমানে তার মালিকানায় রয়েছে। একইভাবে এখানে তালাক বর্তমানে বিবাহিত স্ত্রীর ওপর কার্যকর হবে। বর্তমানে যার মালিকানায় রয়েছে, তার থেকে তালাক সরিয়ে নেওয়ার দাবি সত্য বলে গণ্য হবে না; কারণ সে শব্দকে প্রকাশ্য অর্থ থেকে অন্য দিকে সরিয়ে নিতে চেয়েছে। সুতরাং সে যাকে উদ্দেশ্য করেছে তার ব্যাপারে তার নিয়ত বৈধ হতে পারে, কিন্তু বর্তমানে যার মালিকানায় আছে তার থেকে তালাক বাতিল করার ক্ষেত্রে তার দাবি সত্য বলে গণ্য হবে না।
অন্য একটি দিক হলো: আপনি যখন বলেন 'যায়েদ আমরকে প্রহার করছে', তখন প্রহারের কিছু অংশ অতীত হয়ে গেছে এবং বাকি অংশ ভবিষ্যৎ। সুতরাং মনে হচ্ছে যেন তা বর্তমানে ঘটছে এবং এর মধ্যে ভবিষ্যৎও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, কারণ প্রহার এখনো শেষ হয়নি। যদি তা শেষ হয়ে যেত, তবে তা অতীত কালের মাধ্যমে প্রকাশ করা হতো। এই কারণেই আরবদের কথাবার্তায় বর্তমান কাল ভবিষ্যৎ কালের সদৃশ হয়ে থাকে। আর যদি সে বলে 'আমার মালিকানাধীন প্রতিটি দাসী আগামীকাল এলে মুক্ত', অথবা বলে 'আমার মালিকানাধীন প্রতিটি দাসী, যখন আগামীকাল আসবে তখন সে মুক্ত', তবে এই সবই বর্তমানে বিদ্যমান দাসীদের ওপর প্রযোজ্য হবে, নতুনদের ওপর নয়। কারণ সে মুক্তিকে আগামীকাল আসার সাথে শর্তযুক্ত করেছে এবং মালিকানার কথা সাধারণভাবে উল্লেখ করেছে। আর সাধারণ মালিকানা বর্তমানে বিদ্যমানদের ওপরই প্রযোজ্য হয়, নতুনদের ওপর নয়। ফলে বিষয়টি এমন হয়ে গেল যেন সে বলল 'বর্তমানে আমার মালিকানাধীন প্রতিটি দাসী মুক্ত'। যদি সে এমনটি বলে, তবে শপথ করার সময় যারা তার মালিকানায় ছিল তারা ব্যতীত অন্য কেউ মুক্ত হবে না, আগামীকাল আসার শর্তে। আর যদি সে বলে 'আগামীকাল আমি যে দাসীর মালিক হব সে মুক্ত', তবে আগামীকাল দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সে যার মালিক হবে তারা মুক্ত হবে। বর্তমানে বিদ্যমান দাসী কিংবা আগামীকাল আসার আগে যার মালিক হয়েছে তারা মুক্ত হবে না, এমনকি আগামীকালের পরে যার মালিক হবে সেও মুক্ত হবে না। কারণ সে মালিকানাকে আগামীকাল আসার সময়ের সাথে বিশেষিত করেছে, আর অন্য সুরতে আগামীকাল আসাকে তার শপথ ভঙ্গের শর্ত বানিয়েছে। এই কারণেই উভয়ের মাঝে পার্থক্য তৈরি হয়েছে।
মাসআলাযদি কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলে 'তুমি আজ এবং আগামীকাল তালাক', তবে সে আজ তালাক হয়ে যাবে কিন্তু আগামীকাল (নতুন করে) তালাক হবে না। আর যদি সে বলে 'তুমি আজ তালাক এবং যখন আগামীকাল আসবে', তবে আজ এক তালাক এবং আগামীকাল এক তালাক কার্যকর হবে। উভয়ের মাঝে পার্থক্য হলো, 'ওয়াও' (এবং) সমষ্টির জন্য ব্যবহৃত হয়; আর যা একবার কোনো গুণে গুণান্বিত হয়, তা দ্বিতীয়বার গুণান্বিত হয় না। সে যেহেতু তালাকের গুণে গুণান্বিত হয়ে গেছে, তাই প্রতিটি দিন সে তালাকের গুণেই গুণান্বিত থাকবে। তার উক্তি 'তুমি আজ তালাক'-এর মাধ্যমে তালাক কার্যকর হয়েছে এবং সে তালাকের গুণে গুণান্বিত হয়েছে। আর তার উক্তি 'এবং আগামীকাল'—এখানে আগামীকালকে আজকের ওপর অন্বয় করা হয়েছে, ফলে তা গুণের ওপরই মহমুল বা গণ্য হবে। পক্ষান্তরে তার উক্তি 'তুমি আজ তালাক এবং যখন আগামীকাল আসবে' (এটি নতুন করে কার্যকর হবে)।
(খণ্ড: ٢٢)
আস-সাহমুল মুসীব ফির রাদ্দি আলাল খাতীব - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
فقد عطف المجيء على اليوم فأريد به الحدوث فحمل على الحدوث ولم يحمل على الصفة. فصار كأنه قال أنت طالق، وإذا جاء الغد طالق أيضا، فحمل كلامه على الإضمار إذ لم يكن له بد من ذلك فصار كأنه قال كما قال تعالى: {لَكانَ لِزاماً وَأَجَلٌ مُسَمًّى}.
وقال الفرزدق:
وعض زمان يا ابن مروان لم يدع
… من المال إلا مسحتا أو مجلف
أى مجلف كذلك.
مسألةرجل قال لامرأته إن دخلت هذه الدار وهذه الدار فأنت طالق ثلاثا، فطلقها واحدة وهي غير مدخول بها فدخلت إحدى الدارين فتزوجها ثانيا ودخلت الدار الأخرى وهي في ملكه لا يمنع وقوع الطلاق، لأن الحنث يظهر بدخول الدار الثانية فيعتبر وقت اليمين ووقت الحنث ألا ترى أنه لو قال لامرأته أنت طالق رأس الشهر، فبانت منه فيما بين ذلك ثم عادت إلى ملكه قبل رأس الشهر وقع عليها الطلاق رأس الشهر، لأنها في ملكه وقت وجود اليمين والشرط جميعا. ولا يعتبر فراقهما خلال ذلك، ولأنه أضاف الطلاق إلى فعل مخصص ووجد الفعل وهي في ملكه، والأصل أن المعلق بالشرطين لا ينزل إلا عند وجود الآخر منهما لأن الكلام بآخره والواو للجمع ولا يمكن الجمع من دخول الدارين حقيقة فحمل على المعنى وهو الجمع في الفعل وهو دخول الدارين ولا يوجد ذلك إلا بدخول الدار الآخرة منهما. ولو قال إذا دخلت هذه الدار فأنت طالق إذا دخلت هذه الدار الأخرى فبانت منه ثم دخلت إحدى الدارين ثم تزوجها ثم دخلت الدار الأخرى لا يقع عليها شيء لأنه جعل دخول الدار الأولى شرطا لانعقاد اليمين فصار كأنه قال عند دخول الدار الأولى أنت طالق إن دخلت هذه الدار الأخرى ولو قال ذلك لا تطلق لأنها وقت اليمين لم تكن في ملكه لأن اليمين بالطلاق لا يصح إلا بالملك أو مضافا إلى الملك أو في علقة من علائق الملك وهنا لم يوجد شيء من ذلك فصار كأنه قال لأجنبية أنت طالق ثم تزوجها لا تطلق كذا هاهنا. والفرق بينهما أن المسألة الأولى كان الشرط دخول
আগমনকে দিনের ওপর সংযুক্ত করা হয়েছে, ফলে এর দ্বারা ঘটনার সংঘটন উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে এবং একে ঘটনার ওপরই প্রয়োগ করা হয়েছে, সিফাত বা গুণের ওপর নয়। ফলে বিষয়টি এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যেন সে বলল, "তুমি তালাকপ্রাপ্তা, এবং আগামীকাল যখন আসবে তখনো তালাকপ্রাপ্তা"। সুতরাং তার কথাকে উহ্য বিষয়ের ওপর রাখা হয়েছে যেহেতু এছাড়া কোনো গত্যন্তর ছিল না। ফলে এটি অনেকটা মহান আল্লাহর বাণীর মতো হয়ে গেল: "তবে তা হতো অনিবার্য এবং (নির্ধারিত হতো) একটি নির্দিষ্ট কাল।"
আর আল-ফারাজদাক বলেছেন:
হে মারওয়ান-তনয়! সময়ের কামড় সম্পদের কিছুই অবশিষ্ট রাখেনি
… সমূলে বিনষ্ট অথবা ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যতীত।
অর্থাৎ 'মুজাল্লাফ' (ধ্বংসপ্রাপ্ত)-ও তদ্রূপ।
মাসআলাএক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল, "যদি তুমি এই ঘরে এবং এই ঘরে প্রবেশ করো, তবে তোমার ওপর তিন তালাক।" অতঃপর সে তাকে এক তালাক দিল এমতাবস্থায় যে তার সাথে সহবাস হয়নি (ফলে সে বাইন হয়ে গেল)। এরপর সে ঘর দুটির একটিতে প্রবেশ করল। পরবর্তীতে সে তাকে পুনরায় বিবাহ করল এবং সে অপর ঘরে প্রবেশ করল এমতাবস্থায় যে সে তার বিবাহাধীনে রয়েছে; এটি তালাক সংঘটিত হওয়াকে প্রতিরোধ করবে না। কারণ শপথ ভঙ্গ হওয়া দ্বিতীয় ঘরে প্রবেশের মাধ্যমেই প্রকাশ পায়, তাই শপথের সময় এবং শপথ ভঙ্গের সময়কে বিবেচনা করা হবে। আপনি কি দেখেন না যে, যদি সে তার স্ত্রীকে বলে, "মাসের শুরুতে তুমি তালাকপ্রাপ্তা", অতঃপর এর মধ্যবর্তী সময়ে সে তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং মাসের শুরুর পূর্বে পুনরায় তার বিবাহাধীনে ফিরে আসে, তবে মাসের শুরুতেই তার ওপর তালাক আপতিত হবে? কারণ শপথের অস্তিত্ব ও শর্তের অস্তিত্ব—উভয় সময়েই সে তার বিবাহাধীনে ছিল। আর এর মধ্যবর্তী সময়ের বিচ্ছেদ ধর্তব্য হবে না। আর যেহেতু সে তালাককে একটি নির্দিষ্ট কাজের সাথে সম্পৃক্ত করেছে এবং কাজটি এমন সময় পাওয়া গিয়েছে যখন সে তার বিবাহাধীনে ছিল। মূলনীতি হলো, যা দুটি শর্তের ওপর স্থগিত করা হয় তা দ্বিতীয়টি না পাওয়া পর্যন্ত সংঘটিত হয় না; কারণ বাক্যের পূর্ণতা তার শেষাংশের মাধ্যমে হয় এবং 'ওয়াও' (এবং) অব্যয়টি সমষ্টির জন্য আসে। আর বাস্তবে একই সাথে দুটি ঘরে প্রবেশ করা সম্ভব নয়, তাই একে অর্থের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে, আর তা হলো কাজের সমষ্টি তথা উভয় ঘরে প্রবেশ করা। আর এটি তাদের মধ্যে শেষ ঘরে প্রবেশ করা ছাড়া সম্ভব নয়। আর যদি সে বলত, "যখন তুমি এই ঘরে প্রবেশ করবে, তখন তুমি তালাকপ্রাপ্তা যখন তুমি এই অন্য ঘরে প্রবেশ করবে", অতঃপর সে তার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল এবং একটি ঘরে প্রবেশ করল, এরপর সে তাকে বিয়ে করল এবং সে অন্য ঘরে প্রবেশ করল, তবে তার ওপর কিছুই আপতিত হবে না। কারণ সে প্রথম ঘরে প্রবেশকে শপথ সংঘটিত হওয়ার শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করেছে। ফলে বিষয়টি এমন হয়ে গেল যেন সে বলল, "প্রথম ঘরে প্রবেশের সময় তুমি তালাকপ্রাপ্তা যদি এই অন্য ঘরে প্রবেশ করো।" আর যদি সে তা বলত তবে তালাক হতো না; কারণ শপথের সময় সে তার বিবাহাধীনে ছিল না। কেননা তালাকের শপথ কেবল মালিকানা (বিবাহাধীন থাকা) অবস্থায় অথবা মালিকানার সাথে সম্পৃক্ত করে অথবা বৈবাহিক সম্পর্কের কোনো সূত্রের মাধ্যমেই বৈধ হয়, অথচ এখানে তার কোনোটিই বিদ্যমান নেই। ফলে বিষয়টি এমন হয়ে গেল যেন সে কোনো পরনারীকে বলল, "তুমি তালাকপ্রাপ্তা", অতঃপর তাকে বিবাহ করল; এমতাবস্থায় তালাক হয় না, এখানেও বিষয়টি তদ্রূপ। এই দুটির মধ্যে পার্থক্য হলো, প্রথম মাসআলায় শর্ত ছিল প্রবেশ...
(খণ্ড: ٢٢)
আস-সাহমুল মুসীব ফির রাদ্দি আলাল খাতীব - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الدارين وقد وجد واليمين انعقدت لساعته ودخول الدارين جميعا كان شرطا لانحلال اليمين وهنا جعل دخول الدار الأولى شرطا لصحة اليمين ولما دخلت الدار الأولى لم تكن في ملكه فلذلك افترقا.
مسألةإذا قال الرجل لامرأته أنت طالق غدا أو بعد غد، فجاء غد لم تطلق حتى يجيء بعد غد لأنه أوقع الطلاق في أحد الوقتين فلو قلنا إنها تطلق غدا احتجنا إلى أن نوقع الطلاق بعد غد وذا خلاف ما قال الحالف ولأن أو لأحد ما دخلت عليه فإذا جاء بعد الغد وقع الطلاق يقينا واليوم الأول كان شكا. ولو قال أنت طالق إذا جاء غد يقع الطلاق إذا جاء غد لأنه جعل مجيء الغد شرطا لوقوع الطلاق ثم أدخل كلمة الشك فقال أو بعد غد، وبعد وقوع الطلاق لا يمكن استدراكه فصار كأنه قال أنت طالق إذا جاء فلان أو فلان فأيهما جاء وقع الطلاق. وكذلك هاهنا إلا أن في الشخصين لا نعلم أيهما يجيء أولا وغد مقدم على بعد غد ضرورة فلذلك افترقا.
مسألةإذا قال الرجل لامرأته إن دخلت هذه الدار وإن دخلت هذه الدار فأنت طالق، فهذه المسألة على ثلاثة أوجه؛ أما إن عطف الشرط على الشرط؛ وأما إن عطف الفعل على الشرط، أو عطف المفعول على الشرط. وكل وجه على ثلاثة أوجه أما إن قدم الطلاق، أو وسط الطلاق، أو أخر الطلاق. أما إذا عطف الشرط على الشرط إن أخر الطلاق كما إذا قال إن دخلت هذه الدار وإن دخلت هذه الدار فأنت طالق فإنها لا تطلق حتى يوجد الدخول لأن جميعا لأنه جمع بين الشرطين قبل إكمال الأول بالجزاء فصار كأنه قال إن دخلت هاتين الدارين فأنت طالق لأنه لو اقتصر على قوله إن دخلت هذه الدار وإن دخلت هذه الدار لم يكن كلاما تاما وإنما يتم بقوله أنت طالق، ولو قدر الطلاق فقال أنت طالق إن دخلت هذه الدار وإن دخلت هذه الدار فأى الدارين دخلت حنث لأنه أكمل الشرط الأول بالجزاء وعطف دخول الدار الأخرى عليها، فصار كأنه ابتداء، ولو وسط فقال إن دخلت هذه الدار فأنت طالق، وان دخلت هذه الدار. فأيهما وجد حنث في يمينه لأن اليمين
উভয় বাড়ি এবং তা বিদ্যমান ছিল, আর শপথটি তৎক্ষণাৎ কার্যকর হয়েছিল। উভয় বাড়িতে প্রবেশ করা একত্রে শপথ ভঙ্গের শর্ত ছিল। আর এখানে প্রথম বাড়িতে প্রবেশকে শপথের বৈধতার শর্ত করা হয়েছে। যখন সে প্রথম বাড়িতে প্রবেশ করল তখন তা তার মালিকানাধীন ছিল না, তাই এই দুটি বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়েছে।
মাসআলাযদি কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলে, "তুমি আগামীকাল অথবা আগামীকালের পরের দিন তালাক", তবে আগামীকাল আসলে সে তালাক হবে না যতক্ষণ না আগামীকালের পরের দিন আসে। কারণ সে দুটি সময়ের যেকোনো একটিতে তালাক কার্যকর করেছে। এখন আমরা যদি বলি যে সে আগামীকাল তালাকপ্রাপ্ত হবে, তবে আগামীকালের পরের দিনও তালাক কার্যকর করার প্রয়োজন পড়বে, যা শপথকারীর বক্তব্যের পরিপন্থী। আর এ কারণে যে, 'অথবা' শব্দটি যার ওপর যুক্ত হয় তার মধ্য থেকে যেকোনো একটিকে বুঝায়। সুতরাং যখন আগামীকালের পরের দিন আসবে, তখন নিশ্চিতভাবে তালাক কার্যকর হবে, আর প্রথম দিনটি ছিল সংশয়ের বিষয়। আর যদি সে বলে, "তুমি তালাক যখন আগামীকাল আসবে", তবে আগামীকাল আসার সাথে সাথেই তালাক কার্যকর হয়ে যাবে। কারণ সে আগামীকাল আসাকে তালাক কার্যকর হওয়ার শর্ত বানিয়েছে, অতঃপর সে সংশয়সূচক শব্দ যুক্ত করে বলেছে "অথবা আগামীকালের পরের দিন"। আর তালাক কার্যকর হয়ে যাওয়ার পর তা প্রত্যাহার করা সম্ভব নয়। ফলে বিষয়টি এমন হয়ে গেল যেন সে বলল, "তুমি তালাক যদি অমুক ব্যক্তি অথবা অমুক ব্যক্তি আসে"; সুতরাং তাদের মধ্যে যে-ই আসুক না কেন, তালাক কার্যকর হয়ে যাবে। এখানেও বিষয়টি তদ্রূপ, তবে পার্থক্য হলো দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রে আমরা জানি না কে আগে আসবে, আর আগামীকালের পরের দিনের আগে আগামীকাল আসাটা অবধারিত। এই কারণেই উভয়ের মধ্যে পার্থক্য হয়েছে।
মাসআলাযদি কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলে, "যদি তুমি এই বাড়িতে প্রবেশ করো এবং যদি তুমি এই বাড়িতে প্রবেশ করো, তবে তুমি তালাক", তবে এই মাসআলাটি তিনটি সুরতের ওপর ভিত্তি করে: হয় শর্তকে শর্তের ওপর সংযুক্ত করা হবে; অথবা ক্রিয়াকে শর্তের ওপর সংযুক্ত করা হবে; অথবা কর্মকে শর্তের ওপর সংযুক্ত করা হবে। আর প্রতিটি সুরত আবার তিন প্রকারের হতে পারে: হয় তালাককে শুরুতে উল্লেখ করা হবে, অথবা তালাককে মাঝখানে উল্লেখ করা হবে, অথবা তালাককে শেষে উল্লেখ করা হবে। যখন শর্তকে শর্তের ওপর সংযুক্ত করা হয় এবং তালাককে শেষে উল্লেখ করা হয়— যেমন সে বলল: "যদি তুমি এই বাড়িতে প্রবেশ করো এবং যদি তুমি এই বাড়িতে প্রবেশ করো, তবে তুমি তালাক"— তবে উভয় বাড়িতে প্রবেশ না পাওয়া পর্যন্ত সে তালাকপ্রাপ্ত হবে না। কারণ সে ফলাফল প্রদানের মাধ্যমে প্রথম শর্ত পূর্ণ করার আগেই দুটি শর্তকে একত্র করেছে। ফলে বিষয়টি এমন হয়ে গেল যেন সে বলেছে, "যদি তুমি এই দুই বাড়িতে প্রবেশ করো, তবে তুমি তালাক"। কারণ সে যদি কেবল এটুকু বলত যে, "যদি তুমি এই বাড়িতে প্রবেশ করো এবং যদি তুমি এই বাড়িতে প্রবেশ করো", তবে তা পূর্ণাঙ্গ বাক্য হতো না; বরং তার "তুমি তালাক" বলার মাধ্যমেই বাক্যটি পূর্ণতা পায়। আর যদি সে তালাককে শুরুতে উল্লেখ করে বলে, "তুমি তালাক যদি এই বাড়িতে প্রবেশ করো এবং যদি এই বাড়িতে প্রবেশ করো", তবে সে দুই বাড়ির যেটিতেই প্রবেশ করবে তার শপথ ভঙ্গ হবে। কারণ সে প্রথম শর্তটিকে ফলাফলের সাথে পূর্ণ করেছে এবং অপর বাড়িতে প্রবেশ করাকে তার ওপর সংযুক্ত করেছে; ফলে তা নতুন বক্তব্য হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি সে তালাককে মাঝখানে উল্লেখ করে বলে, "যদি তুমি এই বাড়িতে প্রবেশ করো তবে তুমি তালাক, এবং যদি এই বাড়িতে প্রবেশ করো", তবে যে কোনো একটি শর্ত পাওয়া গেলেই তার শপথ ভঙ্গ হবে কারণ শপথ...
(খণ্ড: ٢٢)
আস-সাহমুল মুসীব ফির রাদ্দি আলাল খাতীব - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
تمت بالشرط الأول، فقوله الثاني ان دخلت ابتداء يمين منه على ما ذكرنا هذا عطف الشرط على الشرط، نحو قوله إن دخلت هذه الدار ودخلت هذه الدار فأنت طالق أو قدم الطلاق أو وسط الطلاق فالجواب واحد لا يقع الطلاق ما لم يوجد الطلاق جميعا لأن الواو للجمع ما لم يقم دليل الاستئناف. أما إذا أخر الطلاق فقال إن دخلت هذه الدار ودخلت هذه الدار فأنت طالق لا يقع الطلاق ما لم يوجد الدخولان لأنه جمع بين الفعلين وأجاب بجزاء فصار كأنه قال إن دخلت هاتين الدارين فأنت طالق ولو قدم الطلاق فقال أنت طالق إن دخلت هذه الدار ودخلت هذه الدار فكذلك الجواب أيضا. وإن كانت اليمين تتم بالشرط لأنه لا يجوز حمله على الاستئناف هنا لأن الطلاق لا يكون يمينا إلا بشرط وجزاء ولا يستقيم أن يكون بغير شرط وجزاء فحمل على معنى الجمع بخلاف ما إذا عطف الشرط على الشرط لأن هناك حمله على الاستئناف ممكن، وكذلك لو وسط الطلاق فالجواب هكذا كما إذا قال إن دخلت هذه الدار فأنت طالق ودخلت هذه الدار. ولو عطف المفعول على الشرط قدم الطلاق أو وسط أو أخر فالجواب واحد لأنه لا يقع الطلاق ما لم يوجد الدخولان جميعا كما إذا قال إن دخلت هذه الدار وهذه الدار فأنت طالق أو قال أنت طالق إن دخلت هذه الدار وهذه الدار أو وسط الطلاق فقال إن دخلت هذه الدار فأنت طالق، وهذه الدار. لأن الواو للجمع ما لم يقم دليل الاستئناف ولأنه يمكن أن تستأنف يمين أخرى بقوله هذه الدار من غير شرط ولا جزاء فحمل على الجمع فصار كأنه قال إن دخلت هاتين الدارين فالجواب في الفصول الخمسة واحد وفي فصلين خلاف الخمسة وهو أنه إذا عطف الشرط على الشرط وقدم الطلاق أو وسط لأنه قام هناك دليل الاستئناف وكذلك في هذه الفصول كلها إذا كان الشرط إذا، أو متى ما، أو إذا ما.
مسألةرجل قال لامرأتيه إن دخلتما هذه الدار فأنتما طالقان فدخلت إحداهما دون الأخرى لا يقع الطلاق، ولو كان قال لهما إن دخلتما هاتين الدارين فدخلت كل واحدة منهما دارا على حدة يقع الطلاق، وذلك لأنه أضاف جماعة الأفعال إلى جماعة
প্রথম শর্তের মাধ্যমেই পূর্ণ হয়ে গেল। আর তার দ্বিতীয় উক্তি 'যদি তুমি প্রবেশ করো' হলো আমাদের উল্লেখ করা নিয়ম অনুযায়ী নতুন করে কসম করা। এটি এক শর্তকে অন্য শর্তের ওপর সংযোজন (আতফ) করার অন্তর্ভুক্ত। যেমন তার উক্তি: 'যদি তুমি এই ঘরে প্রবেশ করো এবং এই ঘরে প্রবেশ করো, তবে তোমার তালাক হবে।' অথবা যদি তালাক আগে উল্লেখ করে বা মাঝখানে উল্লেখ করে, তবে বিধান একই হবে। অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত উভয় শর্ত পাওয়া না যাবে, ততক্ষণ তালাক কার্যকর হবে না। কেননা 'ওয়াও' সমষ্টির অর্থ প্রকাশ করে, যতক্ষণ না বাক্যটি নতুনভাবে শুরু করার (ইস্তিনাফ) কোনো দলিল প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে যদি তালাক পরে উল্লেখ করে এবং বলে: 'যদি তুমি এই ঘরে প্রবেশ করো এবং এই ঘরে প্রবেশ করো, তবে তোমার তালাক,' তবে উভয় প্রবেশ সংঘটিত না হওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না। কারণ সে দুটি কাজের মধ্যে সমন্বয় করেছে এবং একটি প্রতিফল (জাযা) দ্বারা উত্তর দিয়েছে। ফলে বিষয়টি এমন হয়ে গেল যেন সে বলেছে: 'যদি তুমি এই উভয় ঘরে প্রবেশ করো, তবে তোমার তালাক।' আর যদি তালাক আগে দিয়ে বলে: 'তোমার তালাক হবে যদি তুমি এই ঘরে প্রবেশ করো এবং এই ঘরে প্রবেশ করো,' তবে উত্তরও একই হবে। যদিও শর্তের মাধ্যমে কসম পূর্ণ হয়ে যায়, কিন্তু এখানে একে নতুন বাক্য (ইস্তিনাফ) হিসেবে গণ্য করা জায়েজ নেই। কেননা শর্ত ও প্রতিফল (জাযা) ব্যতীত তালাক কসম হিসেবে গণ্য হয় না এবং শর্ত ও প্রতিফল ছাড়া এটি সঠিকও হয় না। তাই একে সমষ্টির অর্থে গ্রহণ করা হয়েছে। এটি সেই অবস্থার বিপরীত যেখানে এক শর্তকে অন্য শর্তের ওপর আতফ করা হয়, কারণ সেখানে একে নতুন বাক্য (ইস্তিনাফ) হিসেবে গ্রহণ করা সম্ভব। একইভাবে যদি তালাককে মাঝখানে নিয়ে আসে, তবে বিধান এমনই হবে। যেমন সে যদি বলে: 'যদি তুমি এই ঘরে প্রবেশ করো তবে তোমার তালাক এবং এই ঘরে প্রবেশ করো।' আর যদি কর্মকে (মفعুল) শর্তের ওপর আতফ করে—তালাক আগে আসুক, মাঝে আসুক বা শেষে আসুক—বিধান একই হবে। কারণ উভয় প্রবেশ না পাওয়া পর্যন্ত তালাক কার্যকর হবে না। যেমন সে বলল: 'যদি তুমি এই ঘরে এবং এই ঘরে প্রবেশ করো তবে তোমার তালাক।' অথবা বলল: 'তোমার তালাক যদি তুমি এই ঘরে এবং এই ঘরে প্রবেশ করো।' অথবা তালাককে মাঝখানে এনে বলল: 'যদি তুমি এই ঘরে প্রবেশ করো তবে তোমার তালাক, এবং এই ঘরে।' কারণ 'ওয়াও' সমষ্টির জন্য ব্যবহৃত হয় যতক্ষণ না নতুন বাক্য শুরুর (ইস্তিনাফ) কোনো দলিল থাকে। আর যেহেতু শর্ত ও প্রতিফল ছাড়া শুধু 'এই ঘর' শব্দটির মাধ্যমে নতুন কোনো কসম শুরু করা সম্ভব নয়, তাই একে সমষ্টির অর্থে নেওয়া হয়েছে। ফলে বিষয়টি এমন হয়ে গেল যেন সে বলেছে: 'যদি তুমি এই উভয় ঘরে প্রবেশ করো।' সুতরাং এই পাঁচ সুরতে বিধান একই হবে। তবে দুটি সুরতে এই পাঁচটির বিপরীত বিধান হবে; আর তা হলো যখন শর্তকে শর্তের ওপর আতফ করা হবে এবং তালাক আগে বা মাঝখানে উল্লেখ করা হবে। কেননা সেখানে বাক্যটি নতুনভাবে শুরু করার দলিল বিদ্যমান। একইভাবে এই সকল সুরতে একই বিধান প্রযোজ্য হবে যদি শর্তবোধক শব্দটি 'যদি', 'যখনই' অথবা 'যখন' হয়।
মাসআলাএক ব্যক্তি তার দুই স্ত্রীকে বলল: 'যদি তোমরা দুজন এই ঘরে প্রবেশ করো তবে তোমরা উভয়ে তালাকপ্রাপ্তা।' এমতাবস্থায় তাদের একজন প্রবেশ করল কিন্তু অন্যজন প্রবেশ করল না, তবে তালাক কার্যকর হবে না। কিন্তু যদি সে তাদের উভয়কে বলত: 'যদি তোমরা দুজন এই উভয় ঘরে প্রবেশ করো,' অতঃপর তাদের প্রত্যেকে আলাদা আলাদা ঘরে প্রবেশ করত, তবে তালাক কার্যকর হতো। এর কারণ হলো সে কাজের সমষ্টিকে ব্যক্তিদের সমষ্টির সাথে সংশ্লিষ্ট করেছে।
(খণ্ড: ٢٢)
আস-সাহমুল মুসীব ফির রাদ্দি আলাল খাতীব - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الأشخاص فالمراد فعل كل واحد على حدة قال الله تعالى: {يا بَنِيَّ لَا تَدْخُلُوا مِنْ بابٍ واحِدٍ وَادْخُلُوا مِنْ أَبْوابٍ مُتَفَرِّقَةٍ} فما أراد أن كل واحد يدخل من جميع الأبواب. ومثل ذلك قوله تعالى: {يَخْرُجُونَ مِنَ الْأَجْداثِ} فكل يخرج من جدثه ألا ترى إلى
ما روى عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه أتاه رجل فقال: يا رسول الله إنّي جعلت لقومي مالا ليسلموا وقد أسلموا وقد شحت نفسي فيما جعلت لهم؟ فقال صلى الله عليه وسلم: «إن أسلموا وإلا سيرنا لهم الخيل- أى الخيالة- كلا على فرسه»
فأضاف جماعة الأفعال إلى جماعة الأشخاص وقوله تعالى: {وَسْئَلِ الْقَرْيَةَ} دليل على ما ذكرت من المعنى أى أهل القرية. فالنبي عليه السلام ما أراد إرسال الخيل هدية ولا أراد إلا حربهم. ولو قال إن دخلتما هذه الدار وإن دخلتما هذه الدار فأنتما طالقان، فدخلت كل واحدة منهما دارا يقع حتى يدخلا جميعا الدارين، لأنه جعل لكل يمين شرطا وجزاء على حدة ولم يضف جماعة الأفعال إلى جماعة الأشخاص، ألا ترى أن كل يمين منهما جملة من شرط وجزاء، فما لم يوجد لكل شرط جزاؤه لا يقع فصار كما إذا قال إن كلمت زيدا فعبدي حر وإن كلمت عمرا فامرأتى طالق. ألا ترى أنه لو اقتصر على إحدى الجملتين كانت يمينا تامة، وأ لا ترى أنه قال إن دخلتما هذه الدار فأنتما طالقان اليوم، وإن دخلتما هذه الدار أنتما طالقان غدا. وإن دخلتا الدار الأولى طلقتا اليوم، وإن دخلتا الدار الأخرى طلقتا غدا.
* * *
بسم الله الرحمن الرحيم
لما كان بتاريخ المحرم سنة خمس عشرة وستمائة ورد كتاب من الموصل من الشريف النقيب جمال الدين بن عبيد الله على القاضي شرف الدين بن عنين ونسخته-:
كنت منذ زمن طويل تأملت كتاب «الجامع الكبير»: لمحمد بن الحسن رحمه الله وارتقم على خاطري منه شيء والكتاب في فنه عجيب غريب لم يصنف مثله، وفي هذه الأيام عاودت نظري فيه وتأملته وأحضرت الشرح الذي شرحه الاسبيجابى رحمه الله وهو على كل حال عجمي اللسان لا سيما إذا تكلم في المسائل المتعلقة بالعربية من نحو وغيره فإنه يقصر في بعض المواضع ويخطئ في بعض وأوثر منك- أبقاك الله- إن تسأل عن شبهة أذكرها لك وتحقق القول فيها مع الشيخ جمال الدين
ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য হলো প্রত্যেকের কাজ আলাদা আলাদা হওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {হে আমার পুত্রগণ, তোমরা এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করো না, বরং ভিন্ন ভিন্ন দরজা দিয়ে প্রবেশ করো।} এর দ্বারা তিনি এটা বুঝাতে চাননি যে, প্রত্যেকে সবকয়টি দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে। অনুরূপ আল্লাহ তাআলার এই বাণী: {তারা কবরসমূহ হতে বের হবে।} সুতরাং প্রত্যেকে তার নিজ নিজ কবর থেকে বের হবে। আপনি কি লক্ষ্য করেন না
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে যে, এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, আমি আমার গোত্রের লোকদের জন্য কিছু সম্পদ নির্ধারণ করেছিলাম যাতে তারা ইসলাম গ্রহণ করে। এখন তারা ইসলাম গ্রহণ করেছে, অথচ আমি তাদের জন্য যা নির্ধারণ করেছি সে বিষয়ে আমার মনে কৃপণতা জেগেছে? তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "যদি তারা ইসলাম গ্রহণ করে (তবে তো ভালো), অন্যথায় আমরা তাদের বিরুদ্ধে ঘোড়সওয়ার বাহিনী পাঠাব—অর্থাৎ অশ্বারোহী বাহিনী—যাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ ঘোড়ার ওপর সওয়ার থাকবে।"
এখানে তিনি বহু সংখ্যক কাজকে বহু সংখ্যক ব্যক্তির দিকে সম্বন্ধ করেছেন। আর আল্লাহ তাআলার বাণী: {জনপদকে জিজ্ঞাসা করো} আমার উল্লিখিত অর্থের দলিল বহন করে, অর্থাৎ জনপদের অধিবাসীদের জিজ্ঞাসা করো। সুতরাং নবী (আলাইহিস সালাম) ঘোড়াগুলোকে উপহার হিসেবে পাঠানোর ইচ্ছা করেননি, বরং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধই উদ্দেশ্য ছিল। আর যদি কেউ বলে, "যদি তোমরা দুজনা এই ঘরে প্রবেশ করো এবং যদি তোমরা দুজনা এই ঘরে প্রবেশ করো তবে তোমরা উভয়েই তালাকপ্রাপ্তা," এরপর তাদের প্রত্যেকে যদি একটি করে ঘরে প্রবেশ করে, তবে তালাক পতিত হওয়ার জন্য উভয়েরই উভয় ঘরে প্রবেশ করা শর্ত হবে। কারণ সে প্রতিটি শপথের জন্য আলাদা শর্ত ও প্রতিদান নির্ধারণ করেছে এবং বহু সংখ্যক কাজকে বহু সংখ্যক ব্যক্তির দিকে ঢালাওভাবে সম্বন্ধ করেনি। আপনি কি দেখছেন না যে, প্রতিটি শপথই শর্ত ও প্রতিদানের একটি পূর্ণ বাক্য? সুতরাং যতক্ষণ না প্রতিটি শর্তের বিপরীতে তার প্রতিদান পাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ তা কার্যকর হবে না। বিষয়টি এমন হলো যেন সে বলল: "যদি আমি যায়িদের সাথে কথা বলি তবে আমার দাস মুক্ত, আর যদি আমি আমরের সাথে কথা বলি তবে আমার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা।" আপনি কি দেখছেন না যে, সে যদি শুধু একটি বাক্যের ওপর সীমাবদ্ধ থাকত, তবে তা একটি পূর্ণ শপথ হতো? আর আপনি কি দেখছেন না যে, সে বলেছে: "যদি তোমরা দুজনা এই ঘরে প্রবেশ করো তবে আজ তোমরা তালাকপ্রাপ্তা, আর যদি তোমরা এই ঘরে প্রবেশ করো তবে আগামীকাল তোমরা তালাকপ্রাপ্তা।" যদি তারা প্রথম ঘরে প্রবেশ করে তবে আজ তালাক হবে, আর যদি তারা অন্য ঘরে প্রবেশ করে তবে আগামীকাল তালাক হবে।
* * *
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
যখন ছয়শ পনেরো হিজরি সনের মুহাররাম মাস উপস্থিত হলো, তখন মোসেল থেকে শরীফ নকীব জামালুদ্দীন বিন উবায়দুল্লাহর পক্ষ থেকে কাজী শরফুদ্দীন বিন উনাইনের নিকট একটি পত্র আসল, যার অনুলিপি নিম্নরূপ:
আমি দীর্ঘ সময় ধরে মুহাম্মদ বিন হাসান (রহিমাহুল্লাহ)-এর 'আল-জামি আল-কাবীর' গ্রন্থটি নিয়ে গভীর চিন্তা-গবেষণা করেছি এবং আমার হৃদয়ে এ সম্পর্কে কিছু বিষয় উদিত হয়েছে। গ্রন্থটি তার বিষয়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিস্ময়কর ও অনন্য, যার অনুরূপ কোনো কিতাব ইতিপূর্বে রচিত হয়নি। সম্প্রতি আমি পুনরায় এটি পাঠ করেছি এবং চিন্তা করেছি। আমি আসবিজাবী (রহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক প্রণীত ব্যাখ্যাগ্রন্থটিও সংগ্রহ করেছি। তিনি সর্বাবস্থায় একজন অনারবভাষী ছিলেন, বিশেষ করে যখন তিনি নাহু (ব্যাকরণ) বা অন্যান্য আরবি ভাষা সংশ্লিষ্ট মাসআলা নিয়ে আলোচনা করেন, তখন কিছু স্থানে তিনি পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা দিতে অক্ষম হয়েছেন এবং কিছু স্থানে ভুল করেছেন। আর আমি আপনার কাছে—আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘজীবী করুন—এই অগ্রাধিকার দিচ্ছি যে, আমি আপনার সামনে যে অস্পষ্টতা বা সংশয় উল্লেখ করব সে বিষয়ে আপনি জিজ্ঞাসা করবেন এবং শেখ জামালুদ্দীনের সাথে সে বিষয়ে বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করবেন।
(খণ্ড: ٢٢)
আস-সাহমুল মুসীব ফির রাদ্দি আলাল খাতীব - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
فمن جملة ما ذكره محمد بن الحسن رحمه الله أنه قال في باب العتق: إذا قال الرجل لآخر أى عبيدي ضربك فهو حر، فضربوه جميعا عتقوا. ثم قالفي باب آخر: إذا قال الرجل لعبيده أيكم حمل هذه الخشبة فهو حر، وكانت مما يقدر على حملها رجل واحد فحملوها جميعا لم يعتق واحد منهم. هذا قول محمد رحمه الله، ولا فرق عندي بين المسألتين فإن الضاربين في المسألة الأولى بمنزلة الحاملين الخشبة، والمضروب بمنزلة الخشبة المحمولة، فإن قيل الخشبة يحملونها جملة واحدة قلت كذلك الضاربون والمضروب فإنهم يأخذون عصا واحدة في أيديهم ويضربون بها ضربة واحدة، وكذلك قال محمد رحمه الله في باب من أبواب الكتاب: إذا حلف الرجل أنه لا يصلى صلاة وصلّى بغير وضوء لا يحنث، وإذا حلف أنه ما صلّى وكان قد صلّى بغير وضوء يحنث. ولا فرق عندي أيضا بين الصلاة الماضية والمستقبلة، فلم كان في إحداهما يحنث وفي الأخرى لا يحنث، وقد قال صلى الله عليه وسلم: «لا صلاة إلا بوضوء» وعلى هذا فينبغي أن لا يحنث في الصلاة الماضية والمستقبلة لأنهما بغير وضوء، وأنت يا مولاي حفظك الله إذا تكلمت مع الرجل فينبغي أن تحققه تحقيقا لا يبقى عليه غبار ولا تقنع بالكلام إلا قناعي فعرضت المسألتان على الشيخ جمال الدين الحصرى فأجاب بما صورته.
قال في المسألة الأولى:لفظة أى تتناول واحدا من الجملة، قال الله تعالى: {أَيُّكُمْ يَأْتِينِي بِعَرْشِها قَبْلَ أَنْ يَأْتُونِي} ولم يقل تأتونى بعرشها، ويقال أى الرجال أتاك ولا يقال أتوك إلا أنها تقبل الوصف بالعموم كما في قوله صلى الله عليه وسلم: «أيما امرأة نكحت نفسها بغير إذن وليها» فقبل العموم بالوصف فقد وصفهم بكونهم ضاربين فعمهم والضرب بعموم الوصف فوجد الشرط من كل واحد منهم فعتقوا ولا فرق بين كونهم ضربوا جملة أو متفرقين وأما في مسألة الحمل فإنه أيضا وصفهم بوصف عام وهو الحمل إلا أن الشرط لم يوجد وهو حمل كل واحد منهم لجميع الخشبة بل وجد من كل واحد منهم حمل البعض.
المسألة الثانية:وهي رجل قال: إن كنت صليت صلاة فعبدي حر، وقد كان صلّى بغير وضوء حنث، ولو قال إن صليت فعبدي حر لا يحنث إذا صلّى بغير وضوء.
মুহাম্মদ ইবনে হাসান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) যা উল্লেখ করেছেন তার মধ্য থেকে একটি বিষয় হলো, তিনি দাসমুক্তি অধ্যায়ে বলেছেন: যদি কোনো ব্যক্তি অন্য একজনকে বলে, 'আমার যে দাস তোমাকে প্রহার করবে সে মুক্ত', অতঃপর তারা সবাই মিলে তাকে প্রহার করে, তবে তারা সকলেই মুক্ত হয়ে যাবে। এরপর তিনি অন্য এক অধ্যায়ে বলেছেন: যদি কোনো ব্যক্তি তার দাসদের বলে, 'তোমাদের মধ্যে যে এই কাঠটি বহন করবে সে মুক্ত', আর কাঠটি যদি এমন হয় যা একজন লোকই বহন করতে সক্ষম, কিন্তু তারা সবাই মিলে তা বহন করে, তবে তাদের কেউ মুক্ত হবে না। এটি মুহাম্মদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর বক্তব্য। কিন্তু আমার মতে এই দুটি মাসআলার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। কারণ প্রথম মাসআলার প্রহারকারীরা দ্বিতীয় মাসআলার কাঠ বহনকারীদের সমপর্যায়ের, আর যাকে প্রহার করা হয়েছে সে বহনকৃত কাঠের সমপর্যায়ের। যদি বলা হয় যে, তারা কাঠটি সবাই মিলে একসাথে বহন করেছে, তবে আমি বলব প্রহারকারী এবং যাকে প্রহার করা হয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও একই কথা; কারণ তারা হাতে একটি লাঠি নিয়ে একত্রে এক আঘাত করতে পারে। অনুরূপভাবে মুহাম্মদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) কিতাবের একটি অধ্যায়ে বলেছেন: যদি কোনো ব্যক্তি শপথ করে যে সে কোনো নামাজ পড়বে না, অতঃপর সে অজু ছাড়া নামাজ পড়ে, তবে সে শপথ ভঙ্গকারী হবে না। কিন্তু যদি সে শপথ করে যে সে নামাজ পড়েনি, অথচ সে অজু ছাড়া নামাজ পড়েছিল, তবে সে শপথ ভঙ্গকারী হবে। আমার মতেও অতীত এবং ভবিষ্যৎ নামাজের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। তবে কেন একটির ক্ষেত্রে শপথ ভঙ্গ হবে আর অন্যটির ক্ষেত্রে হবে না? অথচ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "অজু ব্যতীত কোনো নামাজ নেই"। এই ভিত্তিতে অতীত এবং ভবিষ্যৎ কোনো নামাজের ক্ষেত্রেই শপথ ভঙ্গ হওয়া উচিত নয়, কারণ উভয়টিই অজু ব্যতীত ছিল। হে আমার মওলা, আল্লাহ আপনাকে রক্ষা করুন, আপনি যখন কোনো ব্যক্তির সাথে কথা বলবেন, তখন আপনার উচিত বিষয়টি এমনভাবে সুচারুভাবে বিশ্লেষণ করা যাতে কোনো অস্পষ্টতা না থাকে এবং কেবল আমার সন্তুষ্টির মতো কথায় সন্তুষ্ট না হওয়া। অতঃপর এই মাসআলা দুটি শেখ জামালুদ্দিন আল-হাসিরির নিকট পেশ করা হলে তিনি যা উত্তর দিয়েছেন তা নিচে তুলে ধরা হলো।
প্রথম মাসআলা সম্পর্কে তিনি বলেছেন:‘আইয়্যু’ (যে কেউ) শব্দটি সমষ্টির মধ্য থেকে একজনকে বোঝায়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমাদের মধ্যে কে তার সিংহাসন আমার কাছে নিয়ে আসবে তারা আসার পূর্বে} এবং তিনি ‘তোমরা আমার কাছে সিংহাসন নিয়ে আসো’ বলেননি। আবার বলা হয় ‘কোন পুরুষটি তোমার কাছে এসেছে’, কিন্তু ‘কারা এসেছে’ বলা হয় না। তবে এই শব্দটি সাধারণ বর্ণনার (সিফাত) মাধ্যমে ব্যাপকতা গ্রহণ করতে পারে, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর বাণীতে এসেছে: “যে নারীই তার অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত নিজে নিজে বিবাহ করবে”। এখানে বর্ণনার মাধ্যমে ব্যাপকতা গৃহীত হয়েছে। সুতরাং তিনি তাদের প্রহারকারী হওয়ার গুণের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন এবং প্রহারের এই সাধারণ বর্ণনার মাধ্যমে তাদের সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ফলে তাদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে শর্তটি পাওয়া গেছে এবং তারা মুক্ত হয়ে গেছে। এখানে তারা একত্রে প্রহার করেছে নাকি আলাদা আলাদাভাবে, তাতে কোনো পার্থক্য নেই। আর কাঠ বহনের মাসআলায় তিনি তাদের একটি সাধারণ গুণের মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন, যা হলো বহন করা। কিন্তু সেখানে শর্তটি পাওয়া যায়নি, আর তা হলো তাদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ কাঠটি বহন করা; বরং তাদের প্রত্যেকের পক্ষ থেকে কাঠের কিছু অংশ বহন করার বিষয়টি পাওয়া গেছে।
দ্বিতীয় মাসআলা:আর তা হলো এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে যে বলল: যদি আমি কোনো নামাজ পড়ে থাকি তবে আমার দাস মুক্ত, অথচ সে অজু ছাড়া নামাজ পড়েছিল, তবে সে শপথ ভঙ্গকারী হবে। কিন্তু সে যদি বলে যদি আমি নামাজ পড়ি তবে আমার দাস মুক্ত, তবে সে অজু ছাড়া নামাজ পড়লে শপথ ভঙ্গকারী হবে না।
(খণ্ড: ٢٢)
আস-সাহমুল মুসীব ফির রাদ্দি আলাল খাতীব - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
والفرق بينهما من وجهين:
أحدهما: أن الماضي موجود والموجود معرف وصفة المعرف لغو لأنه مستغن عن الصفة. اما المستقبل فهو معدوم ولا يعرف إلا بالصفة فاعتبرت الصفة في المستقبل ولم تعتبر في الماضي.
الوجه الثاني: أن الكلام في الماضي وقع خبرا وليس المطلوب من الأخبار الصحة والنفاذ والقبح والحسن، إنما المراد منه إعلام السامع لشيء ما وليس لذلك في المستقبل المطلوب منه وجود الغرض المتعلق بالفعل والإمتاع منه والغرض يتعلق في المستقبل فإن المستقبل بالصحيح لا بالفاسد، والله أعلم.
وقلت أنا: سألت رحمك الله عن قول محمد في «الجامع الكبير» في باب العتق إذا قال الرجل لآخر: أى عبيدي ضربك فهو حر فضربوه جميعا عتقوا، ولو قال لعبيده أيكم حمل هذه الخشبة فهو حر، وكانت مما يقدر على حملها واحد فحملها كلهم جملة واحدة لا يعتق أحد منهم ما الفرق بين المسألتين؟ وسألت وفقك الله عن قوله إذا حلف الرجل أنه لا يصلى صلاة فصلى بغير وضوء لا يحنث، وإذا حلف أنه ما صلّى وقد كان صلّى بغير وضوء حنث، ما الفرق بين المسألتين أيضا وأنا أذكر إن شاء الله ما وقع من الفرق بين هذه المسائل، فإن رأيت خطأ فاعذر وسامح كما قال الحريري:
وإن تجد عيبا فسد الخللا
… فجل من لا عيب فيه وعلا
أو كما قال أبو على الفارسي: إن الخطأ بعد التحري موضوع عن المخطئ ومثلي من يعذر ولا سيما في مثل هذا الوقت واشتغالي فيه بما تعلم مع قلة المطالعة بل مع عدمها وذلك أن هذا الكتاب وصل إلى وأنا بنابلس في شهر المحرم سنة خمس عشرة وستمائة والفرنج على عثليث وقيسارية يبنونهما فلذلك لم يكن عندي كتاب.
أما الفرق بين ضرب العبيد وحمل الخشبة وذلك لأن أيا اسم معرب يستفهم به، ويجازى فيمن يعقل وفيما لا يعقل. قال أبو على: أيهم في الدار فمكرم محمول، وأيكم يأتينى فله درهم.
وقال الجوهري: تقول أيهم أخواك وأيهم يكرمني أكرمه. وهو معرفة بالإضافة وقد تترك الإضافة لفظا وفيه معناها، وقد تكون بمنزلة الذي فتحتاج إلى صلة، وتقول
এবং এই দুইয়ের মধ্যকার পার্থক্য দুই দিক থেকে:
প্রথমটি হলো: অতীতকাল বিদ্যমান, আর যা বিদ্যমান তা পরিচিত। পরিচিত বিষয়ের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা নিরর্থক, কারণ তা বৈশিষ্ট্যের মুখাপেক্ষী নয়। পক্ষান্তরে ভবিষ্যৎকাল অবিদ্যমান এবং বৈশিষ্ট্য ছাড়া তা পরিচিত হয় না। তাই ভবিষ্যৎকালের ক্ষেত্রে বৈশিষ্ট্যকে বিবেচনা করা হয়েছে, কিন্তু অতীতকালের ক্ষেত্রে তা করা হয়নি।
দ্বিতীয় দিকটি হলো: অতীতকাল বিষয়ক বক্তব্য সংবাদ হিসেবে গণ্য হয়। সংবাদের উদ্দেশ্য সঠিক হওয়া, কার্যকর হওয়া, মন্দ হওয়া বা ভালো হওয়া নয়; বরং এর উদ্দেশ্য হলো কোনো বিষয়ে শ্রোতাকে অবহিত করা। ভবিষ্যৎকালের বিষয়টি তেমন নয়, যেখানে কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট উদ্দেশ্য অর্জন ও তা থেকে উপকৃত হওয়া কাম্য। উদ্দেশ্য ভবিষ্যতের সাথে সম্পৃক্ত, কারণ ভবিষ্যৎ সঠিক কাজের মাধ্যমে অর্জিত হয়, ত্রুটিপূর্ণ কাজের মাধ্যমে নয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
এবং আমি বলেছি: আপনি—আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন—মুহাম্মাদ এর ‘আল-জামি আল-কাবির’ কিতাবের মুক্তি অধ্যায়ের ঐ উক্তিটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন যেখানে বলা হয়েছে: যদি কোনো ব্যক্তি অন্য একজনকে বলে, "আমার গোলামদের মধ্যে যে তোমাকে আঘাত করবে সে মুক্ত", এরপর তারা সবাই তাকে আঘাত করল, তবে তারা সবাই মুক্ত হয়ে যাবে। কিন্তু সে যদি তার গোলামদের বলে, "তোমাদের মধ্যে যে এই কাঠটি বহন করবে সে মুক্ত", আর কাঠটি এমন যা একজন বহন করতে সক্ষম, কিন্তু তারা সবাই মিলে একযোগে তা বহন করল, তবে তাদের কেউ মুক্ত হবে না। এই দুই মাসআলার মধ্যে পার্থক্য কী? এবং আপনি—আল্লাহ আপনাকে তাওফিক দিন—তার এই বক্তব্য সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করেছেন যে, যদি কোনো ব্যক্তি শপথ করে যে সে নামাজ পড়বে না, এরপর সে অজু ছাড়া নামাজ পড়ল, তবে তার শপথ ভঙ্গ হবে না। কিন্তু যদি সে শপথ করে যে সে নামাজ পড়েনি, অথচ সে অজু ছাড়া নামাজ পড়েছিল, তবে তার শপথ ভঙ্গ হবে। এই দুই মাসআলার মধ্যেও পার্থক্য কী? আল্লাহ চাইলে আমি এই মাসআলাগুলোর মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে তা উল্লেখ করব। যদি আপনি কোনো ভুল দেখেন তবে ক্ষমা ও মার্জনা করবেন, যেমন আল-হারিরি বলেছেন:
যদি তুমি কোনো ত্রুটি পাও তবে সেই ফাটল বন্ধ করে দাও
… কারণ মহান সেই সত্তা যার মধ্যে কোনো খুঁত নেই এবং যিনি সর্বোচ্চ।
অথবা যেমন আবু আলি আল-ফারিসি বলেছেন: অনুসন্ধানের পর ভুল হলে তা ভুলকারীর ওপর থেকে ক্ষমা করা হয়। আর আমার মতো ব্যক্তি ক্ষমার যোগ্য, বিশেষ করে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে এবং আপনি যা জানেন সেই কাজে আমার ব্যস্ততার কারণে, সাথে সাথে অধ্যয়নের স্বল্পতা বরং অনুপস্থিতির কারণে। এর কারণ হলো, এই কিতাবটি যখন আমার কাছে পৌঁছায় তখন আমি হিজরি ছয়শ পনেরো সালের মুহাররম মাসে নাবলুসে ছিলাম এবং তখন ক্রুসেডাররা আতলিথ ও কায়সারিয়াতে অবস্থান করে সেগুলো নির্মাণ করছিল। ফলে তখন আমার কাছে কোনো কিতাব ছিল না।
গোলামদের আঘাত করা এবং কাঠ বহনের মধ্যকার পার্থক্যের কারণ হলো, ‘আইয়ুন’ একটি রূপান্তরযোগ্য বিশেষ্য যা প্রশ্ন করার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং এটি বুদ্ধিমান ও বুদ্ধিহীন উভয়ের ক্ষেত্রে বিনিময় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। আবু আলি বলেছেন: ‘তাদের মধ্যে যে ঘরে আছে সে সম্মানিত’—এটি উহ্য রয়েছে, এবং ‘তোমাদের মধ্যে যে আমার কাছে আসবে সে এক দিরহাম পাবে’।
এবং আল-জাওহারি বলেছেন: আপনি বলবেন ‘তাদের মধ্যে কোন দুজন তোমার ভাই’ এবং ‘তাদের মধ্যে যে আমাকে সম্মান করবে আমি তাকে সম্মান করব’। এটি সম্বন্ধের কারণে নির্দিষ্ট হয়, আর কখনও কখনও শব্দতগতভাবে সম্বন্ধ বাদ দেওয়া হয় কিন্তু অর্থ অবশিষ্ট থাকে। এটি কখনও ‘যিনি’ বা ‘যা’ এর অর্থে আসে তখন এর জন্য পরবর্তী বাক্যাংশের প্রয়োজন হয় এবং আপনি বলবেন...
(খণ্ড: ٢٢)
আস-সাহমুল মুসীব ফির রাদ্দি আলাল খাতীব - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أيهم في الدار أخوك وقد يكون نعتا للنكرة تقول مررت برجل أى رجل، وأيما رجل، ومرت بامرأة أى امرأة، وأية امرأة، وأيتما امرأة، وأيما امرأة، فتكون ما زائدة وتنتصب على الحال والتعجب وإذا كان هذا الاسم الذي هو أى لهذه الأقسام فإن وصفت به الجمع كان للعموم وإن وصفت به المفرد كان للخصوص فتكون أى هاهنا بمعنى الذي كما تقول أيهم في الدار أخوك أى الذي في الدار أخوك، فكأنه قال الذي يضربه من عبيدي فهو حر، وإذا كان نعتا للنكرة فالمراد منه بيان الصفة وهو حمل الخشبة التي لا يقدر على حملها الواحد فكأنه أراد بيان صفة الخشبة بالثقل والخفة وإذا كان كذلك اعتبر مراده قال الله تعالى: {أَيُّ الْحِزْبَيْنِ أَحْصى لِما لَبِثُوا أَمَداً} فهذا للعموم. وقال تعالى: {لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا} فهذا للخصوص، والعامل في أى ما بعده وقوله أيكم يحمل هذه الخشبة لفظ للعموم والإفراد، فإن كانت الخشبة يطيق حملها الواحد كان كلامه لاختبار القوة، فكأنه قال أيكم أطلق حملها كما يقال في المسابقة أيكم سبق فله الجعل، فيستحق الجزاء السابق. ألا ترى أن عادة الأمراء أن يسابقوا الحلبة فيقولون من سبق فله كذا فلا يأخذ قصب السبق إلا من جاء أول الخيل كلها وإن كان الثاني سبق خيلا كثيرة أيضا لا يستحق أن يذكر، وكذلك الثالث وقوله تعالى: {أَيُّكُمْ يَأْتِينِي بِعَرْشِها} إنما تقديره أيكم يأتينى به أولا وإلا فالكل منهم كان قادرا على الإتيان به، وإنما أراد السابق وقد فهم هذا آصف فكان جوابه {أَنَا آتِيكَ بِهِ قَبْلَ أَنْ يَرْتَدَّ إِلَيْكَ طَرْفُكَ} ولا فرق بين أن تقول من سبق وأيكم سبق وإن كانت الخشبة لا يطيق حملها الواحد كان المراد من اللفظ إزالتها عن مكانها حملا فيستوى فيها الاثنان والجماعة، كما يقال أيكم شرب الماء الذي في هذا الكوز ويقدر على شربه واحد، فإذا شربه أكثر من واحد لا يستحق الجعل. وإن قال أيكم شرب ماء الفرات كان المراد به بيان الصفة وهو الكرع لا استيعاب شربه لاستحالة ذلك، فمن كرع منه استحق الجعل فيختص الصفة ولا يختص لأن العامل في أى ما بعده لصلاحيته للمعنيين، فتبين بالإضافة وليس الضرب كذلك لأن الضرب راجع إلى إيقاع الفعل من غير اختبار القوة والضعف فأيهم وجد منه الضرب كان داخلا تحت الجزاء كالشارب من الفرات والقائل إنما يحمل كلامه على الصحة لا الفساد. ولذلك فرق محمد رحمه الله في قوله أى عبيدي ضربك، وأى عبيدي ضربته. فإذا ضرب أحدهم عتق في قوله ضربته لأن العائد ضمير واحد ولو ضرب الجميع واحدا بعد واحد عتق الأول ولو ضربهم جملة عتق أحدهم والبيان إلى المولى.
তাদের মধ্যে কে ঘরে তোমার ভাই? এটি অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের (নাকিরা) বিশেষণ (নাত) হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে। যেমন আপনি বলেন: আমি এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলাম যে কি চমৎকার ব্যক্তি! এবং কি অদ্ভূত এক ব্যক্তি! আবার মহিলার ক্ষেত্রে বলেন: কি চমৎকার এক মহিলা! কি অদ্ভূত এক মহিলা! এখানে 'মা' অতিরিক্ত (যায়েদাহ) হিসেবে যুক্ত হয় এবং এটি অবস্থা (হাল) বা বিস্ময় (তাআজ্জুব) হিসেবে নসব প্রাপ্ত হয়। যখন 'আইয়্যু' এই প্রকারগুলোর জন্য ব্যবহৃত হয়, তখন যদি তা বহুবচনের বিশেষণ হয় তবে তা ব্যাপকতা (উমুম) বুঝায়, আর যদি একবচনের বিশেষণ হয় তবে তা নির্দিষ্টতা (খুসুস) বুঝায়। সুতরাং এখানে 'আইয়্যু' শব্দটি 'আল্লাযী' (যিনি/যা) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন আপনি বলেন: "তাদের মধ্যে কে ঘরে তোমার ভাই?" অর্থাৎ "যিনি ঘরে আছেন তিনি তোমার ভাই।" বিষয়টি যেন এমন যে তিনি বললেন: "আমার দাসদের মধ্যে যে তাকে প্রহার করবে, সে মুক্ত।"
আর যখন এটি অনির্দিষ্ট বিশেষ্যের বিশেষণ হয়, তখন এর উদ্দেশ্য হয় গুণ (সিফাত) বর্ণনা করা। যেমন এমন একটি কাঠ বহন করা যা একজনের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। এখানে যেন তিনি কাঠের ভারী হওয়া বা হালকা হওয়ার গুণটি বর্ণনা করতে চেয়েছেন। আর যখন বিষয়টি এমন হবে, তখন বক্তার উদ্দেশ্য বিবেচনা করা হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন: {দুই দলের মধ্যে কোনটি তাদের অবস্থানের কাল ভালোভাবে গণনা করতে পারে} - এটি ব্যাপকতা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: {যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করেন যে, তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে কে শ্রেষ্ঠ} - এটি নির্দিষ্টতা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।
'আইয়্যু' শব্দের ওপর এর পরবর্তী শব্দ আমিল বা প্রভাব বিস্তারকারী হয়। তার কথা: "তোমাদের মধ্যে কে এই কাঠটি বহন করবে" - এই বাক্যটি শব্দগতভাবে ব্যাপকতা ও একবচন উভয়টিই বুঝায়। যদি কাঠটি একজনের পক্ষে বহন করা সম্ভব হয়, তবে তার কথাটি শক্তি পরীক্ষার জন্য হবে। তখন বিষয়টি এমন হবে যেন তিনি বললেন: "তোমাদের মধ্যে কে এটি বহন শুরু করবে?" যেমন প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে বলা হয়: "তোমাদের মধ্যে যে আগে যাবে, তার জন্য পুরস্কার।" ফলে যে অগ্রগামী হবে সে-ই পুরস্কারের হকদার হবে। আপনি কি দেখেন না যে, আমীরদের অভ্যাস হলো তারা ঘোড়দৌড়ের প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন এবং বলেন: "যে আগে যাবে তার জন্য এই পুরস্কার।" ফলে প্রতিযোগিতায় জয়ের কাষ্ঠখণ্ডটি কেবল সেই ব্যক্তিই পায় যে সমস্ত ঘোড়ার আগে আসে। যদিও দ্বিতীয় ব্যক্তি অনেক ঘোড়াকে পেছনে ফেলে আগে আসে, তবুও সে উল্লেখযোগ্য বলে বিবেচিত হয় না। তৃতীয় ব্যক্তির ক্ষেত্রেও তাই।
আল্লাহ তাআলার বাণী: {তোমাদের মধ্যে কে তার সিংহাসন আমার কাছে নিয়ে আসবে} - এর অর্থ হলো: "তোমাদের মধ্যে কে এটি সবার আগে নিয়ে আসবে।" অন্যথায় তারা সবাই সেটি নিয়ে আসতে সক্ষম ছিল। তিনি মূলত অগ্রগামী ব্যক্তিকে চেয়েছিলেন। আসিফ এটি বুঝতে পেরেছিলেন, তাই তার উত্তর ছিল: {আপনার চোখের পলক আপনার দিকে ফিরে আসার আগেই আমি তা আপনার কাছে নিয়ে আসব}। "যে আগে যাবে" এবং "তোমাদের মধ্যে যে আগে যাবে" - এই দুই কথার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আর যদি কাঠটি একজনের পক্ষে বহন করা সম্ভব না হয়, তবে শব্দের উদ্দেশ্য হবে বহন করে সেটিকে তার স্থান থেকে সরানো। এক্ষেত্রে দুইজন বা একটি দল সমান হবে। যেমন বলা হয়: "তোমাদের মধ্যে কে এই কুঁজোতে থাকা পানি পান করেছে?" অথচ সেটি একজনের পক্ষে পান করা সম্ভব। এমতাবস্থায় যদি একের অধিক ব্যক্তি সেটি পান করে, তবে কেউই পুরস্কারের হকদার হবে না।
আর যদি কেউ বলে: "তোমাদের মধ্যে কে ফোরাত নদীর পানি পান করেছে?" তবে এর উদ্দেশ্য হবে গুণ বর্ণনা করা, অর্থাৎ পানি পান করার ধরন (চুমুক দেওয়া), পুরো নদীর পানি পান করা নয়; কারণ সেটি অসম্ভব। সুতরাং যে ব্যক্তি সেখান থেকে পানি পান করবে সে-ই পুরস্কারের হকদার হবে। এখানে গুণটি নির্দিষ্ট হতে পারে আবার নাও হতে পারে, কারণ 'আইয়্যু' এর পরবর্তী শব্দ এতে আমিল হিসেবে কাজ করে এবং এটি উভয় অর্থ গ্রহণের যোগ্যতা রাখে। ফলে সম্বন্ধের (ইযাফত) মাধ্যমে বিষয়টি স্পষ্ট হয়। কিন্তু প্রহার করার বিষয়টি এমন নয়। কারণ প্রহার সরাসরি কাজটি সংঘটিত হওয়ার সাথে সম্পৃক্ত, এখানে শক্তি বা দুর্বলতা পরীক্ষার বিষয় নেই। সুতরাং তাদের মধ্যে যার পক্ষ থেকেই প্রহার পাওয়া যাবে, সে-ই শাস্তির বা পুরস্কারের অন্তর্ভুক্ত হবে; যেমন ফোরাত নদী থেকে পানকারীর ক্ষেত্রে হয়েছে। বক্তার কথাকে মূলত শুদ্ধতার ওপর প্রয়োগ করা হয়, ত্রুটির ওপর নয়। এই কারণেই ইমাম মুহাম্মদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এই দুই কথার মধ্যে পার্থক্য করেছেন: "আমার কোন দাস তোমাকে প্রহার করেছে" এবং "আমার কোন দাসকে তুমি প্রহার করেছ।" যদি তাদের মধ্যে কেউ তাকে প্রহার করে তবে "আমি তাকে প্রহার করেছি" এই কথায় সে মুক্ত হয়ে যাবে। কারণ এখানে সর্বনামটি (যমীর) একবচন। আর যদি সবাই একে একে তাকে প্রহার করে তবে প্রথমজন মুক্ত হবে। আর যদি তারা সবাই মিলে একসাথে প্রহার করে তবে তাদের মধ্যে একজন মুক্ত হবে এবং এর নির্ধারণ করার দায়িত্ব হবে মালিকের।
(খণ্ড: ٢٢)
আস-সাহমুল মুসীব ফির রাদ্দি আলাল খাতীব - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
لأنه أبهم العتق وأعاد الضمير على واحد كما لو قال أحد عبيدي حر واستشهد بمسألة الطلاق فقال: أى نسائي شاءت الطلاق فهي طالق فشئن جميعا، لأنه أعاد الضمير على الجماعة. ولو قال أى نسائي شاءت طلاقها فهي طالق لا يقع إلا على واحدة فصار الفرق بينهما من حيث اختبار القوة واتحاد الفعل، فإذا لا فرق بين الخشبة التي يقدر على حملها الواحد إذا حملت الخشبة على التفريق بحملها واحدا بعد واحد، هذا إذا لم يكن له نية لأنا نحمله على العرف في مثل هذا لاختبار القوة يكون غالبا وبين مسألة الضرب فاستويا. وأما الخشبة التي لا يقدر على حملها الواحد فتفارقهما من حيث أن المراد إزالتها عن مكانها بالحمل لأن القائل عالم أن الواحد لا يزيلها فكأنه قال إن أزلتموها عن مكانها حملا فأنتم أحرار، وأما مسألة الصلاة وهي قوله إنه إذا حلف الرجل أنه لا يصلى صلاة فصلى بغير وضوء لا يحنث، وإذا حلف أنه ما صلّى وكان قد صلّى بغير وضوء حنث. فالفرق بينهما من وجهين؛ أما قوله لا يصلى صلاة فصلاة مصدر والمصدر لا يكون إلا بعد تمام الكلام ويكون مؤكدا للجملة والتأكيد إنما يكون للحقيقة وإذا تناول الكلام الحقيقة انتفى المجاز فكأنه قال إن صليت صلاة صحيحة أو مقبولة وعلى هذا التأويل الخبر الوارد «لا صلاة إلا بوضوء» تقديره لا صلاة صحيحة أو مقبولة.
والوجه الثاني: أنه حلف على المستقبل واليمين في المستقبل يكون لبيان الأمر وبيانه بالصحة يكون فإذا حلف أنه ما صلّى وقد كان صلّى بغير وضوء كان إخبارا عنه يحتمل الصدق والكذب لفظا وعرفا كما إذا قال إن أخبرتنى أن فلانا قدم فلك كذا فأخبره أنه قدم استحق الجعل، وإن كذب. وكذلك لو قال إن أخبرتنى أن هذا الشهر رمضان وهو شوال فأخبره أنه رمضان استحق وإن كذبا حقيقة. ولو قال إن أخبرتنى بقدوم فلان فله كذا لا يستحق الجعل إلا إذا أخبره بقدومه، وقد قدم لدخول حرف التحقيق وهو الباء كما إذا قال إن أخبرتنى بدخول شهر رمضان لا يكون إلا علىالتحقيق فلذلك افترقا.
مسألةرجل قال لامرأته: أنت طالق إلا أن يقدم فلان، لا تطلق ما دام يرجى قدوم فلان، فإن مات فلان قبل أن يقدم طلقت لأنه أدخل كلمة إلا أن، فيما لا يتوقف وهو
কারণ তিনি দাসমুক্তির বিষয়টি অস্পষ্ট রেখেছেন এবং সর্বনামটিকে একজনের দিকে ফিরিয়েছেন, যেমনটা যদি তিনি বলতেন ‘আমার দাসদের মধ্যে একজন মুক্ত’। তিনি তালাকের মাসআলা দিয়ে দলিল পেশ করেছেন এবং বলেছেন: ‘আমার যে স্ত্রী তালাক চাইবে সে তালাকপ্রাপ্তা’, অতঃপর তারা সবাই চাইল; কারণ তিনি সর্বনামটিকে সমষ্টির দিকে ফিরিয়েছেন। আর যদি তিনি বলতেন ‘আমার যে স্ত্রী তার নিজের তালাক চাইবে সে তালাকপ্রাপ্তা’, তবে একজনের বেশি তালাক হবে না। ফলে উভয়ের মধ্যে পার্থক্য শক্তির পরীক্ষা এবং কার্যের একত্বের দিক থেকে হয়েছে। সুতরাং এমন কাঠের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই যা একজন বহন করতে সক্ষম, যদি কাঠটি পৃথকভাবে একের পর এক বহনের মাধ্যমে বহন করা হয়। এটি তখন হবে যখন তার কোনো নিয়ত না থাকে, কারণ এমন ক্ষেত্রে আমরা একে প্রথার ওপর ভিত্তি করে ধরি যে সাধারণত এটি শক্তির পরীক্ষার জন্য হয়ে থাকে। আর প্রহারের মাসআলার বিষয়টিও এর সাথে সমান হয়েছে। আর যে কাঠ একজন বহন করতে সক্ষম নয়, তা পূর্বোক্ত দুটি থেকে ভিন্ন; কারণ উদ্দেশ্য হলো বহনের মাধ্যমে একে তার স্থান থেকে সরানো। কেননা বক্তা জানেন যে একজন একে সরাতে পারবে না, ফলে বিষয়টি এমন হলো যেন তিনি বললেন ‘যদি তোমরা বহনের মাধ্যমে একে এর স্থান থেকে সরাও তবে তোমরা মুক্ত’। আর নামাজের মাসআলাটি হলো: যদি কোনো ব্যক্তি কসম করে যে সে কোনো নামাজ পড়বে না, অতঃপর সে অজু ছাড়া নামাজ পড়ল, তবে তার কসম ভঙ্গ হবে না। কিন্তু যদি সে কসম করে যে সে নামাজ পড়েনি, অথচ সে অজু ছাড়া নামাজ পড়েছিল, তবে তার কসম ভঙ্গ হবে। উভয়ের মধ্যে পার্থক্য দুই দিক থেকে; তার বক্তব্য ‘নামাজ পড়বে না’—এখানে ‘নামাজ’ একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল), আর মাসদার কথা পূর্ণ হওয়ার পরেই আসে এবং বাক্যের ওপর জোর দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। আর জোর প্রদান কেবল প্রকৃত অর্থের জন্যই হয়। যখন কথা প্রকৃত অর্থকে শামিল করে তখন রূপক অর্থ বিলুপ্ত হয়ে যায়। ফলে বিষয়টি এমন দাঁড়াল যেন তিনি বলেছেন ‘যদি আমি সঠিক বা কবুলযোগ্য নামাজ পড়ি’। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী বর্ণিত হাদিস ‘অজু ছাড়া কোনো নামাজ নেই’ এর মর্মার্থ হলো: কোনো সঠিক বা কবুলযোগ্য নামাজ নেই।
দ্বিতীয় দিক: তিনি ভবিষ্যৎকালের ওপর কসম করেছেন, আর ভবিষ্যতে কসম করার উদ্দেশ্য হলো বিষয়টি স্পষ্ট করা, আর সেই স্পষ্ট করা সঠিক হওয়ার শর্তেই হয়ে থাকে। সুতরাং যদি তিনি কসম করেন যে তিনি নামাজ পড়েননি, অথচ তিনি অজু ছাড়া নামাজ পড়েছিলেন, তবে এটি এমন একটি সংবাদ হবে যা শব্দগত ও প্রথাগতভাবে সত্য বা মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। যেমন যদি কেউ বলে ‘যদি তুমি আমাকে সংবাদ দাও যে অমুক এসেছে তবে তোমার জন্য এত পুরস্কার’, অতঃপর সে তাকে সংবাদ দিল যে সে এসেছে, তবে সে পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য হবে, যদিও সংবাদটি মিথ্যা হয়। অনুরূপভাবে যদি তিনি বলেন ‘যদি তুমি আমাকে সংবাদ দাও যে এই মাসটি রমজান’, অথচ মাসটি শাওয়াল, আর সে তাকে সংবাদ দিল যে এটি রমজান, তবে সে পুরস্কারের হকদার হবে যদিও তারা প্রকৃত অর্থে মিথ্যা বলেছে। কিন্তু যদি তিনি বলেন ‘যদি তুমি আমাকে অমুকের আসার সংবাদ দাও’, তবে সে পুরস্কারের হকদার হবে না যতক্ষণ না সে তার আসার সংবাদ দেয় এবং সে ব্যক্তি বাস্তবেও আসে; কারণ এখানে ‘বা’ হরফটি যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করার অর্থ দিচ্ছে। যেমন ‘যদি তুমি আমাকে রমজান মাস প্রবেশের সংবাদ দাও’ বললে তা নিশ্চিত হওয়ার ওপরই নির্ভর করে। এ কারণেই উভয় ক্ষেত্রে পার্থক্য হয়েছে।
মাসআলাএক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল: তুমি তালাকপ্রাপ্তা, তবে যদি অমুক ব্যক্তি আসে (তবে ভিন্ন কথা)। যতক্ষণ অমুকের আসার সম্ভাবনা থাকবে ততক্ষণ তালাক হবে না। কিন্তু যদি অমুক আসার আগেই মারা যায় তবে তালাক হয়ে যাবে। কারণ তিনি ‘ইল্লা আন’ (ব্যতীত যে) শব্দটি এমন ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন যা স্থগিত থাকে না এবং এটি...
(খণ্ড: ٢٢)
আস-সাহমুল মুসীব ফির রাদ্দি আলাল খাতীব - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الطلاق. فكان هنا في معنى الشرط كأنه قال إن لم يقدم فلان، ولو قال هكذا لا يقع الطلاق ما دام يرجى قدومه، فإذا وقع الناس من قدومه بموته وقع الطلاق وهذا لأن كلمة إلا أن حقيقة للغاية فإذا تعذر حملها على الغاية حملت على الشرط ولو قال لها أنت طالق إن كلمت زيدا إلا أن يقدم عمرو، إن كلم زيدا قبل أن يقدم عمرو وطلقت سواء قدم عمرو أو لم يقدم، وإن لم يكلم زيدا حتى قدم عمرو سقطت اليمين لأنه أدخل كلمة إلا أن فيما يتوقف وهو الكلام كأنه يقول كلم فلانا شهرا فكان معناها معنى الغاية، فإن كلم فلانا قبل القدوم حنث لأنه لم توجد غايته، وإن قدم عمرو سقطت اليمين لوجود غايتها فلا يحنث، لأنك إن أدخلت إلا أن فيما يتوقف أردت بها الغاية، وإن أدخلتها فيما لا يتوقف أردت بها الشرط فإن أشكل عليك بالأفعال فاعتبره بالأوقات. ولو قال أنت طالق إلا أن يجيء الليل صار كأنه قال أنت طالق إن لم يجيء الليل، ولو قال هكذا لا تطلق لأن وجود الليل يرجى.
ولو قال أنت طالق إن كلمت فلانا إلا أن يجيء الليل صار الليل غاية ليمينه إن كلمه قبل مجيء الليل حنث وبعده لا يحنث.
الأصل في بيان ما يأتى من المسألةإن كلمة لا، رجوع. وكلمة بل، تدارك. فإن أدخل كلمة لا قبل إكمال الشرط بالجزاء يصح رجوعه، وإن أدخل بعد إكمال الشرط بالجزاء لا يصح رجوعه. وإنما قلت ذلك لأن الشرط إذا لم يكمل بالجزاء لم يتم اليمين، فصح رجوعه. أما إذا كمل الشرط بالجزاء تمت اليمين، واليمين بعد تمامها لا يصح الرجوع عنها.
وأصل آخر: إنه متى ذكر بعد كلمة لا بل، من هو محل لوقوع الطلاق كان العطف على الطلاق، ويقتضى مشاركة في الطلاق. وإن ذكر بعد كلمة لا بل، من ليس بمحل لوقوع الطلاق كان عطفا على الشرط، ويقتضى مشاركة في الشرط.
أصل آخر: إن كل كلمة تستقيم بنفسها لا تتعلق بما قبلها، وكل كلمة لا تستقل بنفسها تتعلق بما قلبها لأن التعلق بما قبلها للضرورة يكون، فإن كانت تستقيم بنفسها فلا ضرورة بنا إلى التعلق. بيان ذلك.
তালাক। এখানে এটি শর্তের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেন সে বলল, ‘যদি অমুক না আসে’। সে যদি এভাবে বলে, তবে যতক্ষণ তার আগমনের আশা থাকে ততক্ষণ তালাক পতিত হবে না। অতঃপর যখন মানুষ তার মৃত্যুজনিত কারণে আগমনের ব্যাপারে নিরাশ হয়ে যায়, তখন তালাক পতিত হবে। এর কারণ হলো, ‘ব্যতীত যে’ (ইল্লা আন) শব্দটির মূল অর্থ হলো সীমা (গায়াত) প্রকাশ করা। সুতরাং যখন একে সীমার অর্থে ব্যবহার করা অসম্ভব হয়, তখন একে শর্তের অর্থে গ্রহণ করা হয়। আর যদি সে স্ত্রীকে বলে, ‘তোমার ওপর তালাক যদি তুমি যায়িদের সাথে কথা বলো, যদি না আমরের আগমন ঘটে’; তবে আমরের আগমনের পূর্বে যদি সে যায়িদের সাথে কথা বলে, তবে সে তালাকপ্রাপ্তা হয়ে যাবে—চাই আমর আসুক বা না আসুক। আর যদি আমরের আগমন পর্যন্ত সে যায়িদের সাথে কথা না বলে, তবে শপথটি বাতিল হয়ে যাবে। কেননা সে ‘ব্যতীত যে’ শব্দটিকে এমন একটি বিষয়ের মধ্যে প্রবেশ করিয়েছে যা স্থগিত থাকে, আর তা হলো কথা বলা। এটি যেন তার বলার মতো যে, ‘অমুকের সাথে এক মাস কথা বলো’। ফলে এর অর্থ দাঁড়াবে সীমার অর্থ। অতএব, যদি সে আগমনের পূর্বে কথা বলে তবে সে শপথ ভঙ্গকারী হবে, কারণ তার সীমাটি পাওয়া যায়নি। আর যদি আমর আসে তবে শপথটি বাতিল হয়ে যাবে কারণ তার সীমা পাওয়া গেছে, ফলে সে আর শপথ ভঙ্গকারী হবে না। কেননা আপনি যখন ‘ব্যতীত যে’ শব্দটিকে স্থগিত বা প্রতীক্ষিত কোনো বিষয়ের মধ্যে প্রবেশ করান, তখন আপনি এর দ্বারা সীমাকে উদ্দেশ্য করেন; আর যখন আপনি একে এমন বিষয়ের মধ্যে প্রবেশ করান যা স্থগিত নয়, তখন আপনি এর দ্বারা শর্তকে উদ্দেশ্য করেন। যদি কার্যাবলীর দ্বারা বিষয়টি আপনার নিকট অস্পষ্ট মনে হয়, তবে সময়ের নিরিখে তা বিবেচনা করুন। যদি সে বলে, ‘তোমার ওপর তালাক যদি না রাত আসে’, তবে বিষয়টি এমন হলো যেন সে বলল, ‘তোমার ওপর তালাক যদি রাত না আসে’। আর সে যদি এভাবে বলে, তবে তালাক হবে না, কারণ রাত আসার সম্ভাবনা বা আশা বিদ্যমান।
আর যদি সে বলে, ‘তোমার ওপর তালাক যদি তুমি অমুকের সাথে কথা বলো, যদি না রাত আসে’, তবে রাত আসা তার শপথের জন্য সীমা হিসেবে গণ্য হবে। যদি সে রাত আসার পূর্বে কথা বলে তবে শপথ ভঙ্গকারী হবে, আর রাতের পরে হলে শপথ ভঙ্গকারী হবে না।
মাসআলার পরবর্তী অংশ বর্ণনার মূলনীতিনিশ্চয়ই ‘না’ (লা) শব্দটি হলো প্রত্যাহার। আর ‘বরং’ (বাল) শব্দটি হলো সংশোধন। যদি পরিণতি (জাযা) দ্বারা শর্ত পূর্ণ করার পূর্বে ‘না’ শব্দটিকে প্রবেশ করানো হয়, তবে তার প্রত্যাহার শুদ্ধ হবে। আর যদি পরিণতি দ্বারা শর্ত পূর্ণ করার পর একে প্রবেশ করানো হয়, তবে তার প্রত্যাহার শুদ্ধ হবে না। আমি এটি একারণেই বলেছি যে, শর্ত যতক্ষণ পরিণতি দ্বারা পূর্ণ না হয় ততক্ষণ শপথ সম্পন্ন হয় না; ফলে তখন প্রত্যাহার শুদ্ধ হয়। কিন্তু যখন শর্ত পরিণতির মাধ্যমে পূর্ণ হয়ে যায়, তখন শপথ সম্পন্ন হয়ে যায়; আর শপথ সম্পন্ন হওয়ার পর তা থেকে প্রত্যাহার করা শুদ্ধ নয়।
অন্য একটি মূলনীতি: যখন ‘না’ এবং ‘বরং’ শব্দের পর এমন কাউকে উল্লেখ করা হয় যে তালাক পতিত হওয়ার যোগ্য পাত্র, তখন সেই সংযুক্তিটি তালাকের ওপর হবে এবং এটি তালাকের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের দাবি রাখবে। আর যদি ‘না’ এবং ‘বরং’ শব্দের পর এমন কাউকে উল্লেখ করা হয় যে তালাক পতিত হওয়ার যোগ্য পাত্র নয়, তখন তা শর্তের ওপর সংযুক্তি হিসেবে গণ্য হবে এবং তা শর্তের ক্ষেত্রে অংশীদারিত্বের দাবি রাখবে।
অন্য একটি মূলনীতি: প্রতিটি শব্দ যা নিজেই স্বতন্ত্রভাবে অর্থ প্রকাশে সক্ষম, তা পূর্ববর্তী শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট হয় না। আর প্রতিটি শব্দ যা নিজে স্বতন্ত্র নয়, তা পূর্ববর্তী শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়; কারণ পূর্ববর্তীদের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া কেবল প্রয়োজনের তাগিদে হয়ে থাকে। সুতরাং যদি শব্দটি নিজেই অর্থ প্রকাশে সক্ষম হয়, তবে পূর্ববর্তীদের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়ার আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই। এর বর্ণনা নিম্নরূপ।
(খণ্ড: ٢٢)
আস-সাহমুল মুসীব ফির রাদ্দি আলাল খাতীব - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
مسألةرجل له امرأتان، فقال لإحداهما أنت طالق إن دخلت هذه الدار، لا بل هذه لامرأته الأخرى. فإن دخلت. الأولى الدار طلقتا، وإن دخلت الأخرى لا تطلق واحدة منهما فكلمة الاستدراك دخلت على الطلاق خاصة لأنه لما قال أنت طالق إن دخلت الدار فقد علق الطلاق بالدخول، فإذا قال لا بل هذه فقد رجع عن الأولى وأقام الثانية مقام الأولى، فرجوعه عن الأولى باطل لأن الشرط قد كمل بالجزاء ولا يصح الرجوع عنه وإقامة الثانية مقام الأولى جائز بالعطف فيقع الطلاق عليها أيضا بذلك الفعل. ولو قال أنت طالق إن دخلت الدار، لا بل فلان تكون هذه مشاركة له في الدخول. لأنه ليس بمحل لوقوع الطلاق عليه، فأيهما دخل يقع الطلاق. هذا كما قالوا في رجل قال لامرأته إن نكحتك فعبدي حر، يقع على الوطء، وإن كانت أجنبية يقع على العقد بدلالة الحال. وكذلك لو قال أنت طالق إن شئت لا بل هذه، فإن شاءت الأولى طلاقهما جميعا أو طلاق نفسها أو طلاق صاحبتها طلقتا جميعا. وإن شاءت الثانية لا تطلق واحدة منهما لأن الثانية دخلت في الطلاق لا في المشيئة كما قلنا في دخول الدار.
فإن قيل: إن شاءت الأولى طلاق إحداهما لم يقع الطلاق، ولم لا يكون بمنزلة من قال لامرأته أنت طالق إن دخلت الدار، وعبدى حر إن كلمت فلانا إن شاء فلان.
فشاء فلان أحدهما دون الآخر لا تطلق امرأته ما لم يشأ فلان كليهما؟ قيل له:
الفرق بينهما أن في تلك المسألة عطف الثاني على الأول وعلقهما جميعا بمشيئة فلان فصارت مشيئته لهما جميعا شرطا، فما لم يوجد الشرط كلهلا يقع الطلاق، أما هاهنا لم يعطف الثاني على الأول لكنه رجع عن الأول وأبدل الثاني مكانه، فرجوعه لم يصح فتعلق كل يمين بمشيئتها على حدة فأيهما وجد يقع الطلاق، ولو قال أنت طالق إن دخلت الدار لا بل فلانة طالق طلقت الأخرى من ساعته، وطلاق الأولى معلق بالدخول. وذلك لأنه أخرج الكلام مخرج الابتداء في طلاق الثانية لأن الكلام الثاني مستغن عن غيره فتطلق الثانية من ساعته، كما لو قال أنت طالق ثلاثا لا بل هذه، تطلق كل واحدة منهما ثلاثا لأن قوله لا بل هذه لا تتم بنفسها فكانت معلقة بما قبلها فكأنه طلق الأولى ثلاثا ثم رجع وأنزل الثانية مكانها فإنزاله صحيح، ورجوعه لا يصح.
মাসআলাএকজন লোকের দুইজন স্ত্রী রয়েছে। সে তাদের একজনকে বলল, "তুমি তালাকপ্রাপ্তা যদি তুমি এই ঘরে প্রবেশ করো; না, বরং এই নারী (দ্বিতীয় স্ত্রী)।" এমতাবস্থায় যদি প্রথম স্ত্রী ঘরে প্রবেশ করে, তবে তারা উভয়ই তালাকপ্রাপ্তা হবে। আর যদি দ্বিতীয় স্ত্রী প্রবেশ করে, তবে তাদের কেউই তালাকপ্রাপ্তা হবে না। কারণ, সংশোধনী শব্দটি এখানে বিশেষভাবে তালাকের ওপর প্রযুক্ত হয়েছে। কেননা সে যখন বলেছিল "তুমি তালাকপ্রাপ্তা যদি তুমি এই ঘরে প্রবেশ করো", তখন সে তালাককে প্রবেশের সাথে শর্তযুক্ত করেছিল। এরপর সে যখন বলল "না, বরং এই নারী", তখন সে প্রথমজন থেকে ফিরে আসল এবং দ্বিতীয়জনকে প্রথমজনের স্থলাভিষিক্ত করল। প্রথমজন থেকে তার ফিরে আসা বাতিল বলে গণ্য হবে; কারণ শর্তটি প্রতিদানের মাধ্যমে পূর্ণতা পেয়েছে এবং তা থেকে ফিরে আসা সহিহ নয়। তবে দ্বিতীয়জনকে প্রথমজনের স্থলাভিষিক্ত করা সংযোজনের মাধ্যমে জায়েয, তাই ওই একই কাজের (প্রবেশের) মাধ্যমে তার ওপরও তালাক পতিত হবে। আর যদি সে বলে "তুমি তালাকপ্রাপ্তা যদি তুমি ঘরে প্রবেশ করো, না বরং অমুক ব্যক্তি", তবে সে প্রবেশের ক্ষেত্রে তার অংশীদার হবে। কারণ উক্ত ব্যক্তি তালাক পতিত হওয়ার উপযুক্ত স্থান নয়। সুতরাং তাদের মধ্যে যে কেউ প্রবেশ করলেই তালাক পতিত হবে। এটি ঠিক তেমন, যেমন ফকিহগণ ওই ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে তার স্ত্রীকে বলল, "আমি যদি তোমাকে নিকাহ করি তবে আমার গোলাম আজাদ", তবে এটি সহবাসের ওপর বর্তাবে। আর যদি সে নারী অপরিচিতা হয়, তবে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে তা নিকাহর চুক্তির ওপর বর্তাবে। অনুরূপভাবে, সে যদি বলে "তুমি তালাকপ্রাপ্তা যদি তুমি চাও, না বরং এই নারী", তবে যদি প্রথম স্ত্রী তাদের উভয়ের তালাক চায়, অথবা নিজের তালাক চায়, অথবা তার সতিনের তালাক চায়, তবে তারা উভয়ই তালাকপ্রাপ্তা হবে। আর যদি দ্বিতীয় স্ত্রী চায়, তবে তাদের কেউই তালাকপ্রাপ্তা হবে না। কারণ দ্বিতীয় স্ত্রী তালাকের হুকুমে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, ইচ্ছার ক্ষেত্রে নয়; যেমনটি আমরা ঘরে প্রবেশের মাসআলায় বলেছি।
যদি প্রশ্ন করা হয়: যদি প্রথম স্ত্রী তাদের যে কোনো একজনের তালাক চায় তবে তালাক পতিত হবে না কেন? আর এটি সেই ব্যক্তির পর্যায়ের কেন হবে না, যে তার স্ত্রীকে বলল, "তুমি তালাকপ্রাপ্তা যদি তুমি ঘরে প্রবেশ করো এবং আমার গোলাম আজাদ যদি তুমি অমুকের সাথে কথা বলো—যদি অমুক ব্যক্তি চায়"?
অতঃপর ওই ব্যক্তি যদি দুটির মধ্যে একটি চায় অন্যটি না চায়, তবে যতক্ষণ না সে উভয়টি চাচ্ছে ততক্ষণ তার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হবে না? এর উত্তরে বলা হবে:
উভয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো—পূর্বোক্ত মাসআলায় দ্বিতীয় বিষয়টিকে প্রথমটির ওপর সংযোজন করা হয়েছে এবং উভয়কে অমুক ব্যক্তির ইচ্ছার সাথে শর্তযুক্ত করা হয়েছে। ফলে তার ইচ্ছা উভয়টির জন্য শর্ত হয়ে গেছে। সুতরাং যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ শর্ত পাওয়া না যাবে, ততক্ষণ তালাক পতিত হবে না। কিন্তু বর্তমান মাসআলায় সে দ্বিতীয় স্ত্রীকে প্রথম স্ত্রীর ওপর সংযোজন করেনি, বরং সে প্রথমটি থেকে ফিরে এসেছে এবং তার স্থলে দ্বিতীয়টিকে স্থলাভিষিক্ত করেছে। তার এই ফিরে আসা সহিহ হয়নি, ফলে প্রতিটি শপথ পৃথকভাবে তার ইচ্ছার সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে গেছে। সুতরাং যে কোনো একটি পাওয়া গেলেই তালাক পতিত হবে। আর সে যদি বলে "তুমি তালাকপ্রাপ্তা যদি তুমি ঘরে প্রবেশ করো, না বরং অমুক নারী তালাকপ্রাপ্তা", তবে দ্বিতীয় স্ত্রী তৎক্ষণাৎ তালাকপ্রাপ্তা হয়ে যাবে এবং প্রথম স্ত্রীর তালাক প্রবেশের সাথে শর্তযুক্ত থাকবে। এর কারণ হলো—সে দ্বিতীয় স্ত্রীর তালাকের ক্ষেত্রে কথাটিকে নতুনভাবে শুরু করেছে; যেহেতু দ্বিতীয় বাক্যটি অন্যটির মুখাপেক্ষী নয়। ফলে দ্বিতীয় স্ত্রী তৎক্ষণাৎ তালাকপ্রাপ্তা হবে। যেমনটি কোনো ব্যক্তি যদি বলে "তুমি তিন তালাকপ্রাপ্তা, না বরং এই নারী", তবে তাদের প্রত্যেকেই তিন তালাকপ্রাপ্তা হবে। কারণ তার কথা "না বরং এই নারী" নিজে নিজে পূর্ণ হয় না, তাই এটি পূর্ববর্তী কথার সাথে সংশ্লিষ্ট হবে। যেন সে প্রথম স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছে, এরপর তা থেকে ফিরে এসে দ্বিতীয়জনকে তার স্থলাভিষিক্ত করেছে। এক্ষেত্রে স্থলাভিষিক্ত করা সঠিক হলেও ফিরে আসা সহিহ নয়।
(খণ্ড: ٢٢)
আস-সাহমুল মুসীব ফির রাদ্দি আলাল খাতীব - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
مسألةرجل قال لرجل: إن فلان قدم فعبدي حر، فقال له قد قدم ولم يكن قد قدم عتق عبده، لأنه جعل شرط حنثه الإخبار والإخبار قد يكون كذبا لأن الإخبار موضوع لنفس الإنباء ويحتمل الصدق والكذب معا، قال الله تعالى: {يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ جاءَكُمْ فاسِقٌ بِنَبَإٍ فَتَبَيَّنُوا أَنْ تُصِيبُوا قَوْماً بِجَهالَةٍ} ألا ترى أنه قال: {فَتَبَيَّنُوا} وقال: {بِجَهالَةٍ} فلو كان للصدق لم يقل ذاك. ولو قال إن أخبرتنى بقدوم فلان لا يعتق ما لم يقدم فلان لأن الباء للإلصاق وإذا تلتصق لا تدخله الباء الزائدة. لأنك تقول ضربته بالحجر فما لم يقع الحجر في المضروب لا يسمى ضربا، بل حذفا أو رميا. لأنك تقول رماه فضربه، ورماه فأخطأه قال امرؤ القيس:
وتعدو كعدو نجاة الظبا
… ء أخطأها الحاذف المقتدر
سماه حاذفا مع الخطأ، فأما إلحاق الباء فلا يكون إلا للتحقيق قال الله تعالى:
{فَنَبَذْناهُ بِالْعَراءِ وَهُوَ سَقِيمٌ} ألا ترى أنه لما أدخل الباء أراد التحقيق والخبر متى كان موصولا بحرف التحقيق يقع على الصدق دون الكذب، ومتى لم يدخله حرف التحقيق يقع على الصدق والكذب جميعا. ولو قال إن أعلمتنى لا يقع العتق إلا أن يكون قد قدم لأن العلم لرفع الجهل. والكذب لا يرفع الجهل. فصار ضد العلم والعلم مشتق من العلم وهو الجبل قالت الخنساء:
وإن صخرا لتأتم الهداة به
… كأنه علم في رأسه نار
فوصفته بالعلمية، ثم قالت: في رأسه نار لزيادة التأكيد. ومن هنا قال النحاة اسم علم جعلوه بحيث توضع اليد عليه لمعرفته.
وقيل إنه عبر على النبي صلى الله عليه وسلم رجل فقال: «فيكم من يعرفه؟» فقال رجل أنا فقال: «ما اسمه» فقال لا أعرفه. فقال النبي صلى الله عليه وسلم:
«فإنك لا تعرفه»
وذلك لأن الاسم العلم عندهم يعرف به الشخص مع الغيبة ويلحق الغائب بالحاضر فلذلك سمى علما. ومنه العلم أيضا وهي الرواية وسميت راية لرؤية الناس لها عن بعد، وسميت علما لعلم الناس بها أنها لبنى فلان دون بنى فلان وإن لم يرو الأشخاص ولو قدم فلان وعلم به الحالف ثم أعلمه المحلوف له لا يعتق عبده لأنه أراد الإعلام من جهته، وكذلك البشارة ولأن البشارة مشتقة من البشر والبشر مشتق من البشرة وهو ما على الجلد لأن المبشر أولا إذا بشر الرجل بما بشره ظهر من وجهه دم يعرف منه الفرح، وذلك لأن القلب إذا صادفه ما يسره تنتصب منه عروق
মাসআলাজনৈক ব্যক্তি অন্য একজনকে বলল: "যদি অমুক ব্যক্তি আসে তবে আমার দাস মুক্ত।" তখন ঐ ব্যক্তি তাকে বলল, "সে এসেছে," অথচ বাস্তবে সে আসেনি। এমতাবস্থায় তার দাস মুক্ত হয়ে যাবে। কারণ সে (শপথকারী) তার শপথ ভঙ্গের শর্ত হিসেবে কেবল 'সংবাদ প্রদান'কে নির্ধারণ করেছে। আর সংবাদ মিথ্যাও হতে পারে। কারণ সংবাদ শব্দটি মূলত কোনো খবর প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং এটি সত্য ও মিথ্যা উভয়টি হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। মহান আল্লাহ বলেন: "হে মুমিনগণ! যদি কোনো পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা যাচাই করে নাও, যেন অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি না করে ফেল।" আপনি কি দেখছেন না যে, তিনি বলেছেন: "যাচাই করে নাও" এবং বলেছেন: "অজ্ঞতাবশত"? যদি এটি কেবল সত্য সংবাদের ক্ষেত্রে হতো, তবে তিনি এমনটি বলতেন না। আর যদি সে বলে, "যদি তুমি আমাকে অমুকের আসার সংবাদ (সহযোগে) দাও," তবে অমুক ব্যক্তি না আসা পর্যন্ত দাস মুক্ত হবে না। কারণ এখানে 'বা' অব্যয়টি সংযুক্ত করার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আর যখন এটি সংযুক্ত হয়, তখন অতিরিক্ত 'বা' প্রবেশ করে না। কারণ আপনি বলেন, "আমি তাকে পাথর দিয়ে আঘাত করেছি।" যতক্ষণ পর্যন্ত পাথরটি আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির গায়ে না লাগে, ততক্ষণ একে আঘাত বলা হয় না, বরং লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া বা নিক্ষেপ করা বলা হয়। কারণ আপনি বলেন, "সে তাকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করল এবং তাকে আঘাত করল," অথবা "সে তাকে লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করল কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হলো।" ইমরুল কায়স বলেন:
এবং সেটি হরিণের পলায়নের মতো দ্রুত দৌড়ায়... শক্তিশালী নিক্ষেপকারী তার লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে।
লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া সত্ত্বেও তিনি তাকে নিক্ষেপকারী হিসেবে অভিহিত করেছেন। পক্ষান্তরে 'বা' অব্যয়টির সংযুক্তি কেবল নিশ্চয়তার জন্যই হয়ে থাকে। মহান আল্লাহ বলেন:
"অতঃপর আমি তাকে এক উন্মুক্ত জনহীন প্রান্তরে নিক্ষেপ করলাম এমতাবস্থায় যে, সে ছিল রুগ্ন।" আপনি কি দেখছেন না যে, যখন তিনি 'বা' প্রবেশ করিয়েছেন, তখন তিনি এর দ্বারা নিশ্চয়তা বুঝিয়েছেন? আর সংবাদ যখন নিশ্চয়তা প্রদানকারী বর্ণের সাথে যুক্ত হয়, তখন তা মিথ্যার পরিবর্তে কেবল সত্যের ওপর পতিত হয়। কিন্তু যখন এতে নিশ্চয়তা প্রদানকারী বর্ণ যুক্ত থাকে না, তখন তা সত্য ও মিথ্যা উভয়টির ওপরই পতিত হয়। আর যদি সে বলে, "যদি তুমি আমাকে অবগত করো," তবে সে (অমুক ব্যক্তি) না আসা পর্যন্ত দাস মুক্ত হবে না। কারণ 'জ্ঞান' হচ্ছে অজ্ঞতা দূর করার জন্য। আর মিথ্যা দ্বারা অজ্ঞতা দূর হয় না। ফলে তা জ্ঞানের বিপরীতে পরিণত হয়। 'ইলম' (জ্ঞান) শব্দটি 'আলাম' থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ পাহাড়। আল-খানসা বলেছেন:
নিশ্চয়ই সাখর এমন একজন যাকে পথপ্রদর্শকরা অনুসরণ করে, যেন সে একটি পাহাড় যার চূড়ায় আগুন জ্বলছে।
তিনি তাকে পাহাড়ের সাথে গুণান্বিত করেছেন, এরপর অধিকতর গুরুত্ব প্রদানের জন্য বলেছেন: "তার মাথায় আগুন"। এখান থেকেই ব্যাকরণবিদগণ একে 'ইসমে আলাম' (নামবাচক বিশেষ্য) বলেছেন, তারা একে এমনভাবে নির্ধারণ করেছেন যার দ্বারা কোনো কিছুকে চেনার জন্য তার ওপর হাত রাখা যায়।
বর্ণিত আছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে দিয়ে এক ব্যক্তি অতিক্রম করল, তখন তিনি বললেন: "তোমাদের মধ্যে কি এমন কেউ আছে যে তাকে চেনে?" একজন লোক বলল, "আমি।" তখন তিনি বললেন, "তার নাম কী?" সে বলল, "আমি জানি না।" তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন:
"নিশ্চয়ই তুমি তাকে চেন না।"
এর কারণ হলো, তাদের নিকট 'ইসমে আলাম' এমন একটি বিষয় যার মাধ্যমে অনুপস্থিত ব্যক্তিকেও চেনা যায় এবং অনুপস্থিত ব্যক্তিকে উপস্থিত ব্যক্তির ন্যায় জ্ঞান করা হয়; একারণেই একে 'আলাম' বলা হয়। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো পতাকা (আল-আলাম), যা হলো নিশান। একে নিশান বলা হয় কারণ মানুষ দূর থেকে এটি দেখতে পায়। আর একে 'আলাম' বলা হয় কারণ মানুষ এর মাধ্যমে জানতে পারে যে এটি অমুক গোত্রের পতাকা, অমুক গোত্রের নয়, যদিও তারা লোকজনকে দেখতে পায় না। আর যদি অমুক ব্যক্তি আসে এবং শপথকারী নিজে তা জানতে পারে, অতঃপর যার জন্য শপথ করা হয়েছে সে তাকে জানায়, তবে তার দাস মুক্ত হবে না। কারণ সে তার পক্ষ থেকে অবগত হওয়া চেয়েছিল। সুসংবাদও অনুরূপ। কেননা সুসংবাদ শব্দটি 'বাশার' থেকে উদ্ভূত, আর 'বাশার' শব্দটি 'বাশারা' (চামড়া) থেকে উদ্ভূত। এটি হলো চামড়ার উপরের অংশ। কারণ কোনো ব্যক্তি যখন কাউকে সুসংবাদ দেয়, তখন তার চেহারা রক্তিম হয়ে ওঠে যা থেকে তার আনন্দ প্রকাশ পায়। এর কারণ হলো, হৃদয়ে যখন কোনো আনন্দদায়ক বিষয় ঘটে, তখন শরীরের শিরা-উপশিরাগুলো উদ্দীপ্ত হয়ে ওঠে।
(খণ্ড: ٢٢)
আস-সাহমুল মুসীব ফির রাদ্দি আলাল খাতীব - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
لانبساطه وتلقيه ذلك الأمر بسرور فيظهر على الوجه منه ما يعرف الرائي به قد فرح وذلك ضد الحزن، لأن الحزن يقبض القلب فإذا انقبض تجمعت تلك العروق فيمتقع لون الحزين. قال الله عز وجل: {يُبَشِّرُهُمْ رَبُّهُمْ بِرَحْمَةٍ مِنْهُ وَرِضْوانٍ} وذلك لأنهم لم يكونوا متحققيها فسماها بشارة: ولو كان له نية حمل على نيته في ذلك لأن هذه الأسماء منها ما هو حقيقة ومنها ما هو مشتق ومنها ما هو مجاز فإذا عضدت النية شيئا من ذلك تحقق بالنية.
مسألةرجل قال لامرأته: أنت طالق في دخولك الدار. لا تطلق حتى تدخل الدار لأن الطلاق إذا علق بالموجود نزل من ساعته ومتى علق بالمعدوم ينتظروجوده والأصل في أن تكون وعائية وهي حرف، وحروف الجر يقوم بعضها مقام بعض قال الله تعالى: {فَادْخُلِي فِي عِبادِي وَادْخُلِي جَنَّتِي} أى مع عبادي. وقال تعالى: {لَأُصَلِّبَنَّكُمْ فِي جُذُوعِ النَّخْلِ} أى على جذوع النخل. فإذا جاءت في اللفظ على غير معناها الأصلى قامت مقام الحرف الذي يكون بمعناها، وهاهنا هي بمعنى مع فعلمت عملها فإذا قال: أنت طالق في دخولك الدار صار كأنه قال مع دخولك الدار. ومع فهي كلمة صحبة وقران ومن شرط القرآن أن لا يكون فرقة. قال الله تعالى: {وَمَنْ يَعْشُ عَنْ ذِكْرِ الرَّحْمنِ نُقَيِّضْ لَهُ شَيْطاناً فَهُوَ لَهُ قَرِينٌ} أى مقارن وأصل القرآن أن يقرن بين البعيرين لجر الغرب إذا كانت المنساة بعيدة. فلا يقع الطلاق إلا بعد استكمال الدخول حتى تكون لكلمة القرآن أثرا حقيقا. ولو قال: أنت طالق في الدار يقع من ساعته لأنه أوقع الطلاق وخصه بالمكان والطلاق لا يختص بالمكان وإنما يختص بالعقد ولما وصف الطلاق بما لا يوصف به صار ذلك لغوا ووقع الطلاق من ساعته، ولا يتصف بظروف الأمكنة ولا الأزمنة. مثال الأمكنة أنت طالق في الدار، وأما الأزمنة أنت طالق في غد لأن الطلاق لا يوصف بالظروف وإنما يوصف بما يلائمه ويضاف إلى الأفعال ومتى أضيف إلى الأفعال ينزل منزلة الجزاء.
مسألةرجل قال لامرأتين له: إن ولدتما ولدا فأنتما طالقان، فولدت إحداهما يقع
তার সম্প্রসারণ এবং সেই বিষয়টি আনন্দের সাথে গ্রহণ করার কারণে তার চেহারায় এমন কিছু ফুটে ওঠে যার দ্বারা দর্শক বুঝতে পারে যে সে আনন্দিত হয়েছে; আর এটি হলো দুঃখের বিপরীত। কারণ দুঃখ অন্তরকে সংকুচিত করে, আর যখন তা সংকুচিত হয়, তখন সেই শিরাগুলো একত্রিত হয়ে যায় এবং এর ফলে দুঃখিত ব্যক্তির গায়ের রং ফ্যাকাশে হয়ে যায়। মহান আল্লাহ বলেছেন: "তাদের প্রতিপালক তাদেরকে তাঁর পক্ষ থেকে দয়া ও সন্তুষ্টির সুসংবাদ দিচ্ছেন।" এটি এ কারণে যে, তারা এই বিষয়ে নিশ্চিত ছিল না, তাই তিনি একে সুসংবাদ হিসেবে অভিহিত করেছেন। যদি তার কোনো নিয়ত বা উদ্দেশ্য থাকে, তবে তা তার নিয়তের ওপরই গণ্য হবে; কারণ এই নাম বা শব্দগুলোর কোনোটি প্রকৃত (হাকিকত), কোনোটি বুৎপন্ন (মুশতাক) এবং কোনোটি রূপক (মাজায)। সুতরাং নিয়ত যখন এগুলোর কোনোটিকে সমর্থন করে, তখন নিয়তের মাধ্যমেই তা সাব্যস্ত হয়।
মাসআলাএক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে বলল: "ঘরে তোমার প্রবেশের মধ্যে (ফি দুখুলিকি) তুমি তালাকপ্রাপ্তা।" সে ঘরে প্রবেশ না করা পর্যন্ত তালাক হবে না। কারণ তালাক যখন বিদ্যমান কোনো বিষয়ের সাথে ঝুলন্ত (মুয়াল্লাক) করা হয়, তখন তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়; আর যখন অনুপস্থিত কোনো বিষয়ের সাথে ঝুলন্ত করা হয়, তখন তার অস্তিত্বের অপেক্ষা করা হয়। আর 'ফি' (في) অব্যয়টির মূল অর্থ হলো আধেয়তা বা পাত্রত্ব (ওয়াআইয়্যাহ)। অব্যয়সমূহ একটি অন্যটির স্থলাভিষিক্ত হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন: "অতঃপর আমার বান্দাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হও এবং আমার জান্নাতে প্রবেশ করো।" অর্থাৎ আমার বান্দাদের সাথে। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "আমি তোমাদের অবশ্যই খেজুর গাছের কাণ্ডের মধ্যে শূলে চড়াবো।" অর্থাৎ খেজুর গাছের কাণ্ডের ওপর। সুতরাং যখন কোনো শব্দ তার মূল অর্থ ছাড়া অন্য অর্থে ব্যবহৃত হয়, তখন তা সেই অব্যয়ের স্থলাভিষিক্ত হয় যা উক্ত অর্থ প্রদান করে। এখানে তা 'সাথে' (মাআ) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, ফলে সেটি সেই অর্থই প্রদান করবে। তাই যখন সে বলে: "ঘরে তোমার প্রবেশের মধ্যে তুমি তালাকপ্রাপ্তা", তখন তা যেন এমন হলো যে সে বলল: "তোমার প্রবেশের সাথে সাথে তুমি তালাকপ্রাপ্তা"। আর 'মাআ' (সাথে) শব্দটি সাহচর্য ও মিলনের (কিরান) অর্থ প্রদান করে। আর মিলনের শর্ত হলো বিচ্ছিন্ন না হওয়া। মহান আল্লাহ বলেছেন: "আর যে ব্যক্তি পরম করুণাময়ের স্মরণ থেকে বিমুখ হয়, আমি তার জন্য এক শয়তান নিয়োজিত করি, অতঃপর সে হয় তার সঙ্গী (কারিন)।" অর্থাৎ সহচর। 'কিরান'-এর মূল অর্থ হলো—কূপ গভীর হলে বড় বালতি টানার জন্য দুটি উটকে একত্রে বাঁধা। সুতরাং প্রবেশ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তালাক পতিত হবে না, যাতে মিলন বা 'কিরান' শব্দটির প্রকৃত প্রভাব বজায় থাকে। আর যদি সে বলে: "তুমি ঘরের মধ্যে তালাকপ্রাপ্তা", তবে তা তাৎক্ষণিকভাবে পতিত হবে। কারণ সে তালাক প্রদান করেছে এবং একে স্থানের সাথে নির্দিষ্ট করেছে; অথচ তালাক স্থানের সাথে নির্দিষ্ট হয় না, বরং তা কেবল বিবাহের চুক্তির সাথেই সংশ্লিষ্ট। যখন তালাককে এমন কিছু দ্বারা গুণান্বিত করা হলো যা দ্বারা তাকে গুণান্বিত করা যায় না, তখন তা নিরর্থক হয়ে গেল এবং তালাক তৎক্ষণাৎ কার্যকর হলো। এটি স্থান বা কালের পাত্র (যরফ) দ্বারা বিশেষিত হয় না। স্থানের উদাহরণ হলো: "তুমি ঘরের মধ্যে তালাকপ্রাপ্তা"; আর কালের উদাহরণ হলো: "তুমি আগামীকালের মধ্যে তালাকপ্রাপ্তা"। কারণ তালাককে পাত্র (যরফ) দিয়ে গুণান্বিত করা যায় না, বরং একে এমন কিছু দিয়ে গুণান্বিত করা হয় যা এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং যা ক্রিয়ার সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয়। আর যখন এটি ক্রিয়ার সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয়, তখন তা প্রতিদান বা পরিণামের স্থলাভিষিক্ত হয়।
মাসআলাএক ব্যক্তি তার দুই স্ত্রীকে বলল: "যদি তোমরা উভয়ে একটি সন্তান জন্ম দাও, তবে তোমরা উভয়েই তালাকপ্রাপ্তা।" অতঃপর তাদের একজন সন্তান জন্ম দিলে...
(খণ্ড: ٢٢)
আস-সাহমুল মুসীব ফির রাদ্দি আলাল খাতীব - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
الطلاق عليهما لأنه علق الطلاق بفعل واحد وأضافه على اثنين وذلك الفعل يستحيل وجوده منهما فوجب وقوع الطلاق بوجوده من واحدة منهما. ولو أنه كان لا يستحيل وجوده منهما لكان يقع فكيف مع الاستحالة وذلك أن الله تعالى قال: {يا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنْسِ أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلٌ مِنْكُمْ يَقُصُّونَ عَلَيْكُمْ آياتِي وَيُنْذِرُونَكُمْ لِقاءَ يَوْمِكُمْ} هذا فلئن قال قائل في ذا نظر قلنا فقد قال تعالى: {يَخْرُجُ مِنْهُمَا اللُّؤْلُؤُ وَالْمَرْجانُ} ولم يخرج ذلك إلا من المالح وقال أيضا في قصة موسى وفتاه {نَسِيا حُوتَهُما} ولم ينس إلا يوشع ثبت أن الكلام يضاف إلى اثنين ويراد به أحدهما هذا مع عدم الاستحالة فكيف مع وجودها. والوجه في ذلك أنه لما قال إذا ولدتما ولدا.
لو صرفناه إليهما كان باطلا وإن صرفناه إلى إحداهما يصح، وإنما يحمل الكلام على الصحة دون الفساد فصرفناه إلى ما يصح.
فإن قال قائل: لم أضربت عن الكلام في قوله تعالى: {أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلٌ مِنْكُمْ}.
قلت: لأني كتبت هذا الكتاب للاختصار والإيجاز ولئلا يمل الناظر منه لطوله فتركت كثيرا مما جاء عن أبى حنيفة في الفن الذي ذكره الخطيب ونفى علمه عن أبى حنيفة، فلأن اقتصر عن ما لم يكن الغرض أولى لأن القائل كان يقول ليس يمكن الرسالة من الجن لأنه ليس بمحل لهذا الأمر ولأنه لا فائدة في إرساله لإحدى الفئتين فإن الإنس يعتقدون أن الجن يقدرون على الإتيان بما لم يأت به الإنس فلا فائدة في إرساله والجن يعلمون أن الإنس لا يقدرون على الإتيان بمثل هذا. قلنا: محال فإن الجن قد رأوا من معجزات داود وغيره من الأنبياء صلوات الله عليهم ما أعجزهم.
والسبب الموجب للرسالة من الغانس هو مصلحة للفئتين ما لم يكن من الجن وإنما أردت أن أعرف أن الإضافة تجوز فيما يستقيم وفيما يستحيل. ولو قال: إن ولدتما أو قال إن ولدتما ولدين لا يطلقان حتى يوجد من كل واحدة منهما مثل ما يوجد من الأخرى، لأنه أضاف إلى كل منهما فعلا كما قلنا في قصة يوسف {يا بَنِيَّ لَا تَدْخُلُوا مِنْ بابٍ واحِدٍ}.
مسألةرجل قال لأربع نسوة له: إذا حضتن حيضة فأنتن طوالق فقالت واحدة منهن حضت. إن صدقها يقع على كل واحدة منهن طلقة لما ذكرت وهو أنه علق الطلاق
তাদের উভয়ের ওপর তালাক পতিত হবে, কারণ তিনি তালাককে একটিমাত্র কাজের সাথে ঝুলিয়েছেন কিন্তু তা দুইজনের দিকে সম্বন্ধ করেছেন। অথচ সেই কাজটি তাদের উভয়ের মাধ্যমে সংঘটিত হওয়া অসম্ভব। তাই তাদের একজনের মাধ্যমে সেই কাজ সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমেই তালাক পতিত হওয়া অবধারিত হবে। আর যদি তাদের উভয়ের মাধ্যমে তা সংঘটিত হওয়া অসম্ভব না হতো, তবে তো তালাক পতিত হতোই; তাহলে অসম্ভব হওয়ার ক্ষেত্রে কেন হবে না? কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "হে জিন ও মানুষের দল! তোমাদের মধ্য থেকে কি তোমাদের কাছে রাসূলগণ আসেনি, যারা তোমাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ বর্ণনা করত এবং তোমাদের এই দিনের সাক্ষাতের ব্যাপারে সতর্ক করত?" এটি এমন একটি বিষয় যে, যদি কেউ বলে এতে আপত্তির অবকাশ আছে, তবে আমরা বলব যে, আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: "সেই উভয় (সমুদ্র) থেকে উৎপন্ন হয় মুক্তা ও প্রবাল।" অথচ এগুলো কেবল লোনা পানি থেকেই উৎপন্ন হয়। মূসা (আ.) ও তাঁর সঙ্গীর ঘটনায় তিনি আরও বলেছেন: "তারা উভয়ে তাদের মাছটির কথা ভুলে গেল।" অথচ কেবল ইউশা (আ.) ভুলে গিয়েছিলেন। এর দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, বক্তব্য কখনো দুইজনের দিকে সম্বন্ধ করা হয় অথচ তার দ্বারা একজনকে উদ্দেশ্য করা হয়। এটি তো অসম্ভব না হওয়ার ক্ষেত্রে, তাহলে অসম্ভব হওয়ার ক্ষেত্রে কেন হবে না? এর কারণ হলো, যখন তিনি বললেন: "তোমরা উভয়ে যখন সন্তান প্রসব করবে।"
যদি আমরা একে উভয়ের ক্ষেত্রে ধরি তবে তা বাতিল বলে গণ্য হবে, আর যদি আমরা একে একজনের ক্ষেত্রে ধরি তবে তা সঠিক হবে। আর বক্তব্যকে বাতিলের পরিবর্তে সঠিক অর্থের ওপরই প্রয়োগ করতে হয়, তাই আমরা একে সঠিক দিকের সাথে সম্বন্ধ করেছি।
যদি কেউ প্রশ্ন করে: আল্লাহ তাআলার বাণী "তোমাদের মধ্য থেকে কি তোমাদের কাছে রাসূলগণ আসেনি" এই বক্তব্যের আলোচনা থেকে আপনি কেন বিমুখ হলেন?
আমি বলব: আমি এই কিতাবটি লিখেছি সংক্ষিপ্তসার ও সারসংক্ষেপ হিসেবে এবং যাতে এর দীর্ঘতার কারণে পাঠক বিরক্ত না হয়। এজন্য আমি ইমাম আবু হানিফা (রহ.) থেকে বর্ণিত এমন অনেক বিষয় পরিহার করেছি যে শাস্ত্র সম্পর্কে খতিব উল্লেখ করেছেন এবং ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর জ্ঞানকে অস্বীকার করেছেন। তাই যা মূল উদ্দেশ্য নয় তা সংক্ষেপ করাই অধিক সমীচীন। কেননা প্রশ্নকারী বলতে পারতেন যে, জিনদের মধ্য থেকে রাসূল হওয়া সম্ভব নয়, কারণ তারা এই বিষয়ের উপযুক্ত নয় এবং এই কারণেও যে, দুই দলের কোনো একটির কাছে রাসূল প্রেরণে কোনো ফায়দা নেই। কারণ মানুষ বিশ্বাস করে যে জিনেরা এমন কিছু করতে সক্ষম যা মানুষ করতে পারে না, তাই সেখানে রাসূল প্রেরণে কোনো লাভ নেই। আর জিনেরা জানে যে মানুষ এই ধরণের কিছু করতে সক্ষম নয়। আমরা বলি: এটি অসম্ভব, কারণ জিনেরা দাউদ (আ.) ও অন্যান্য নবীগণের (তাঁদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) এমন সব মুজেজা প্রত্যক্ষ করেছে যা তাদের অক্ষম করে দিয়েছে।
মানুষের মধ্য থেকে রাসূল প্রেরণের কারণ হলো উভয় দলের কল্যাণ, যা জিনের ক্ষেত্রে হয় না। আমি শুধু এটাই বুঝাতে চেয়েছি যে, কোনো বিষয়ে সম্বন্ধ করা বৈধ তা স্বাভাবিক হোক বা অসম্ভব। আর যদি তিনি বলতেন: "যদি তোমরা উভয়ে সন্তান প্রসব করো" অথবা বলতেন "যদি তোমরা উভয়ে দুই সন্তান প্রসব করো", তবে যতক্ষণ পর্যন্ত প্রত্যেকের থেকে অন্যের মতো কাজ প্রকাশ না পাবে ততক্ষণ তালাক হবে না। কারণ তিনি তাদের প্রত্যেকের দিকে আলাদা কাজ সম্বন্ধ করেছেন, যেমনটি ইউসুফ (আ.)-এর ঘটনায় বলা হয়েছে: "হে আমার পুত্রগণ! তোমরা এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করো না।"
মাসআলাএক ব্যক্তি তার চার স্ত্রীকে বলল: "তোমরা যখন এক ঋতু অতিক্রম করবে, তখন তোমাদের তালাক।" এরপর তাদের একজন বলল যে সে ঋতুবতী হয়েছে। যদি স্বামী তাকে সত্যয়ন করে, তবে আমি যা উল্লেখ করেছি সেই অনুযায়ী প্রত্যেকের ওপর এক তালাক পতিত হবে। আর তা হলো এই যে, তিনি তালাককে ঝুলিয়েছেন।
(খণ্ড: ٢٢)
আস-সাহমুল মুসীব ফির রাদ্দি আলাল খাতীব - ত আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
بما يستحيل وجوده منهن فتعلق وجوده من إحداهن. وإن كذبها يقع عليها خاصة لأنها مصدقة في حق نفسها غير مصدقة في حق الباقين وهي أمينة في هذا فقادتنا الضرورة إلى تصديقها، وكذلك لو قالت كل واحدة منهن حضت فكذبهن أو صدقهن يقع على كل واحدة تطليقة. ولو قال: إذا حضتن فأنتن طوالق لا يطلقن حتى تحيض كل واحدة منهن حيضة هذا إن صدقهن. وإن قالت واحدة منهن حضت لا يقع عليها الطلاق سواء صدقهاأو كذبها لأن الحيض لا يستحيل وجوده منهن. وكذلك إن صدق اثنتين ولو صدق ثلاثا وكذب واحدة يقع عليها خاصة لأنه ظهر حيض الثلاث بالتصديق وهي مصدقة في حق نفسها ولا يقع على المصدقات لأنه لم يظهر حيض المكذبة في حقهن لأنه لا يمكن الحيضة الواحدة منهن جميعا. ولو قال لأربع نسوة له: كلما حضتن حيضة فأنتن طوالق فقلن جميعا حضنا حيضة، أن كذبهن يقع على كل واحدة منهن طلقة لأن كل واحدة منهن مصدقة في حق نفسها والطلاق معلق بوجود حيضة واحدة منهن جميعا وقد ظهرت بأمانتهن. وإن صدقهن يقع على كل واحدة منهن أربع طلقات إلا أنه لا مزيد على الثلاث وتلغ الواحدة. لأن الزوج علق الطلاق بوجود حيضة واحدة منهن بكلمة متكررة فإذا صدقهن فقد ظهر أربع حيض، وإن صدق الواحدة وكذب الثلاث طلقن الثلاث المكذبات كل واحدة تطليقتين والمصدقة تطليقة واحدة لأنه لم يظهر في حق المصدقة إلا حيضة واحدة وهي حيضها وفي حق المكذبات ظهر قولها في حقها وقول المصدقة لما تقدم، ولو صدق اثنتين وكذب اثنتين يقع على كل واحدة من المصدقتين اثنتان وعلى كل واحدة من المكذبتين ثلاث واحدة بقولها واثنتان بقول المصدقتين، ولو صدق الثلاث وكذب الواحدة طلقت المكذبة أربع إلا أنه لا مزيد على ثلاث وطلقت كل واحدة من المصدقات ثلاثا.
مسألةرجل قال لرجل: إن بعت لك ثوبا فعبدي حر، فدفع المحلوف عليه ثوبه إلى رجل وأمره أن يدفعه إلى الحالف ليبيعه فدفع الرجل الثوب إلى الحالف فباعه فإن قال الرسول للحالف بع هذا الثوب لفلان المحلوف عليه فباعه حنث، وذلك لأنه حلف على فعله وأضافه إلى فلان فمتى عمل عملا مضافا إلى المحلوف عليه حنث لأن يمينه
যেহেতু তাদের সবার থেকে এর অস্তিত্ব অসম্ভব, তাই তাদের একজনের অস্তিত্বের সাথে এটি যুক্ত হয়েছে। আর যদি স্বামী তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, তবে তালাক কেবল তার ওপরই পতিত হবে; কারণ সে নিজের হকের ব্যাপারে সত্যবাদিনী গণ্য হলেও অন্যদের হকের ব্যাপারে নয়। আর এই বিষয়ে সে আমানতদার (বিশ্বস্ত), তাই তাকে সত্যবাদী গণ্য করা আমাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। অনুরূপভাবে, যদি তাদের প্রত্যেকেই বলে যে "আমি ঋতুমতী হয়েছি", তবে স্বামী তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করুক বা সত্যবাদী গণ্য করুক, প্রত্যেকের ওপর একটি করে তালাক পতিত হবে। আর যদি সে বলে: "যখন তোমরা ঋতুমতী হবে, তখন তোমরা তালাকপ্রাপ্তা," তবে যতক্ষণ পর্যন্ত না তাদের প্রত্যেকে এক বার করে ঋতুস্রাব লাভ করছে, ততক্ষণ তারা তালাকপ্রাপ্তা হবে না; এটি তখন হবে যখন সে তাদের সত্যবাদী গণ্য করবে। আর যদি তাদের মধ্যে কেবল একজন বলে যে "আমি ঋতুমতী হয়েছি", তবে তার ওপর তালাক পতিত হবে না, চাই স্বামী তাকে সত্যবাদী গণ্য করুক বা মিথ্যাবাদী; কারণ তাদের সবার পক্ষ থেকে ঋতুস্রাব হওয়া অসম্ভব নয়। অনুরূপ বিধান হবে যদি সে দুইজনকে সত্যবাদী বলে গণ্য করে। আর যদি সে তিনজনকে সত্যবাদী বলে এবং একজনকে মিথ্যাবাদী বলে, তবে তালাক কেবল সেই মিথ্যা প্রতিপন্নকারিণীর ওপরই পতিত হবে। কারণ সত্য গণ্য করার মাধ্যমে তিনজনের ঋতুস্রাব প্রকাশিত হয়েছে, আর সে (মিথ্যা প্রতিপন্নকারিণী) নিজের হকের ব্যাপারে সত্যবাদিনী। কিন্তু যাদের সত্য গণ্য করা হয়েছে তাদের ওপর তালাক পতিত হবে না, কারণ যাদের মিথ্যা বলা হয়েছে তাদের হকের ব্যাপারে ঋতুস্রাব প্রকাশ পায়নি; যেহেতু তাদের সবার জন্য একটি মাত্র ঋতুস্রাব হওয়া সম্ভব নয়। যদি সে তার চার স্ত্রীকে বলে: "তোমরা যখনই একটি ঋতুস্রাব লাভ করবে, তখনই তোমরা তালাকপ্রাপ্তা," অতঃপর তারা সবাই বলে যে "আমরা এক বার ঋতুমতী হয়েছি," তবে স্বামী যদি তাদের মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, তবুও প্রত্যেকের ওপর একটি করে তালাক পতিত হবে। কারণ তাদের প্রত্যেকে নিজের ব্যাপারে সত্যবাদিনী, আর তালাক তাদের সবার একটি ঋতুস্রাবের অস্তিত্বের সাথে ঝুলন্ত ছিল, যা তাদের আমানতদারিতার মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। আর যদি সে তাদের সত্যবাদী গণ্য করে, তবে প্রত্যেকের ওপর চারটি করে তালাক পড়বে, তবে তিনটির বেশি কার্যকর হয় না বলে একটি বাতিল হবে। কারণ স্বামী 'কুল্লামা' (যখনই) শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেকের একটি করে ঋতুস্রাবের সাথে তালাককে ঝুলন্ত করেছে, তাই যখন সে তাদের সত্যবাদী গণ্য করল, তখন চারটি ঋতুস্রাব সাব্যস্ত হলো। আর যদি সে একজনকে সত্যবাদী বলে এবং তিনজনকে মিথ্যাবাদী বলে, তবে যাকে মিথ্যা বলা হয়েছে সেই তিনজনের প্রত্যেকের ওপর দুই তালাক পতিত হবে এবং যাকে সত্য বলা হয়েছে তার ওপর এক তালাক। কারণ যাকে সত্য বলা হয়েছে তার হকের ব্যাপারে কেবল একটি ঋতুস্রাবই প্রকাশ পেয়েছে আর তা হলো তার নিজের ঋতুস্রাব; অন্যদিকে যাদের মিথ্যা বলা হয়েছে তাদের ব্যাপারে তাদের নিজেদের বক্তব্য এবং সত্য গণ্যকারিণীর বক্তব্য—উভয়টিই প্রকাশ পেয়েছে যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। আর যদি সে দুইজনকে সত্যবাদী বলে এবং দুইজনকে মিথ্যাবাদী বলে, তবে সত্য গণ্যকারিণীদের প্রত্যেকের ওপর দুই তালাক এবং মিথ্যা প্রতিপন্নকারিণীদের প্রত্যেকের ওপর তিন তালাক পতিত হবে; এক তালাক তার নিজের বক্তব্যের কারণে আর দুই তালাক সত্য গণ্যকারিণীদের বক্তব্যের কারণে। আর যদি সে তিনজনকে সত্যবাদী বলে এবং একজনকে মিথ্যাবাদী বলে, তবে মিথ্যা প্রতিপন্নকারিণীর ওপর চার তালাক পতিত হবে—যদিও তিনটির বেশি কার্যকর হয় না—এবং সত্য গণ্যকারিণীদের প্রত্যেকের ওপর তিন তালাক পতিত হবে।
মাসআলাএক ব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে বলল: "যদি আমি তোমার জন্য কোনো কাপড় বিক্রি করি, তবে আমার গোলাম আযাদ।" অতঃপর যার ব্যাপারে কসম করা হয়েছে, সে তার কাপড়টি অন্য এক ব্যক্তিকে দিল এবং তাকে আদেশ করল যেন সে কাপড়টি কসমকারীর নিকট দেয় যাতে সে তা বিক্রি করে। সেই ব্যক্তি কাপড়টি কসমকারীর নিকট দিল এবং সে তা বিক্রি করল। এমতাবস্থায় যদি সেই দূত কসমকারীকে বলে: "অমুকের (যার ব্যাপারে কসম করা হয়েছে) জন্য এই কাপড়টি বিক্রি করে দাও" এবং সে তা বিক্রি করে, তবে সে শপথ ভঙ্গকারী হবে। এর কারণ হলো, সে নিজের কাজের ওপর শপথ করেছে এবং তা অমুক ব্যক্তির সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছে; সুতরাং যখনই সে এমন কোনো কাজ করবে যা সেই ব্যক্তির সাথে সম্বন্ধযুক্ত হয়, তবে সে শপথ ভঙ্গকারী হিসেবে গণ্য হবে; কারণ তার শপথটি...