(খণ্ড: ১)
আল-মুযাকারাতু ফী আলকাবিশ শুআরা
(পৃষ্ঠা: -)
المذاكرة في ألقاب الشعراء (الإربلي، النشابي)
القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: المذاكرة في ألقاب الشعراء
المؤلف: أبو المجد اسعد بن إبراهيم الشيباني الإربلي المعروف بمجد الدين النشابي الكاتب (ت 657هـ)
[الكتاب مرقم آليا غير موافق للمطبوع]
عدد الصفحات: 66
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
কবিদের উপাধি বিষয়ক আলোচনা (ইরবিলি, আন-নাশাবি)
বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: কবিদের উপাধি বিষয়ক আলোচনা
লেখক: আবুল মাজদ আস'আদ বিন ইব্রাহিম আশ-শাইবানি আল-ইরবিলি, যিনি মাজদুদ্দিন আন-নাশাবি আল-কাতিব নামে পরিচিত (মৃত্যু ৬৫৭ হিজরি)
[গ্রন্থটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংখ্যায়িত যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়]
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৬
শামেলার প্রকাশনার তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আল-মুযাকারাতু ফী আলকাবিশ শুআরা
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيمالمعروف بيتيمة الدهر في محاسن أهل العصر. وخدمت به خزانة الصاحب الصدر الكبير، العالم، العادل، المجاهد، المؤيد، المظفر، المنصور، تاج الدين، مجد الإسلام، وعضد الأنام، حسام الدولة، همام الملة، نصرة المجاهدين، فاهر المتمردين، منصف المظلومين من الظالمين، عز الصدور، ظهير الجمهور، اختيار الإمامة المكرمة، عرس الخلافة المعظمة، كريم العراق، طاهر الأعراق، سند المسلمين، أخي الملوك والسلاطين، سيف أمير المؤمنين، أبي الفتوح علي بن. . .، وعمر بالثناء والحمد ناديه. وأنا أعتذر من سهو يقع، وخرق لا يرقع. ومن اقتضى العفو ارتضى الصفو، وما خلا أحد من عاب، ولا رفع قلم عن كتاب.قال أبو عبيدة: الشعراء الجاهلية ثلاثة، امرؤ القيس، والنابغة، وزهير. وسنذكرهم، ومن بعدهم على أوجز ما يكون من الاقتصار، وأحسن ما يليق من الاختصار. فإن المذاكرة لا تحتمل الإسهاب والإضجار. ولم أذكر إلا النوادر الغريبة الحسان، ومن الشعراء الذين لم يعرفهم إلا القليل من الأعيان. وابتدأت بذكر الشعراء الملقبين، الذين منهم من لقب بشعر قاله، ومنهم من لقب بعلامة فيه، أو بظاهر من لونه، أو بمشهور من فعله، ومنهم ببلده أو بكنيته.ألقاب الشعراءفصل فيمن لقب بشعر قالهفممن لقب من الشعراء ببيت قاله مدرج الريح لقوله:أعرفتَ رسماً من سميةَ باللوى … درجتْ عليهِ الريحُ بعدكَ فاستوىويروى عنه أنه لما عمل نصف هذا البيت ارتج عليه، وأقام يكره مدة سنة، ولا يقدر يعمل له عجزاً. وكان قد دفن في نفس المنازل التي كان ينزلها دفينة، فذكرها وقال لجاريته أن تمضي وتخرج الخبيئة من تلك البرية والموضع الذي أعطاها علامته. فمضت الجارية، وقد اختلفت الرياح على تلك الأراضي، وعفت آثارها. فعادت ولم تجد شيئاً. فسألها عن الحال، فقالت:درجتْ عليهِ الريحُ، بعدكَ، فاستوىفتمم بيته بهذا، وسمي مدرج الريح.ومنهم المرقش، واسمه عمرو بن سفيان، وهو مرقش الأصغر.وسمي مرقشاً لأن وجهه كان منقطاً. وقال:كما رقش في ظهرِ الأديمِ قلمْومنهم الممزق لقوله:وإنْ كنتُ مأكولاً، فكنْ أنتَ آكلي … وإلاّ فأدركني ولما أمزقِويروى أن عثمان كتب بهذا لبيت إلى علي، وهو محصور.ومنهم المخرق، نسب نفسه إلى الممزق، وقال:أنا المخرقُ أعراضَ اللئامِ، كما … كانَ الممزقُ أعراضَ اللئامِ أبيومنهم المثقب، واسمه عائذ بن الأحمر بن وائلة. وإنما سمي مثقباًَ لقوله:أرينَ محاسناً، وكننَّ أخرى … وثقبنَ الوصاوصَ للعيونِالوصاوص: البراقع. ولقوله:ظعائنٌ لا شوقي بهنَّ ظعائنٌ … ولا الثاقباتُ من لؤي بنِ غالبِالثاقبات: يريد المصيبات.ومنهم النابغة الذبياني، واسمه زياد بن معاوية بن ضباب بن جابر بن يربوع بن ذبيان. قيل: إنما سمي النابغة لقوله:وحلتْ في بني قينِ بنِ جسرٍ … وقد نبغتْ لا منهمْ شؤونُوقل آخر: إنما سمي النابغة لأنه نبغ بالشعر. والنوابغ أربعة: نابغة بني ذبيان، ونابغة بني جعدة، وهو قيس بن عبد الله، ونابغة بني الحارث، وهو يزيد بن إبان، ونابغة بني شيبان، وهو عبد الله بن المخارق. سموا لأتهم نبغوا بالشعر بعدما كبروا.ومنهم الخلج، واسمه ناجية بن مالك. وسمي الخلج بقوله:كأنَّ تخالجَ الأشطانِ فيها … شآبيبٌ تجودُ مع الغواديومنهم شقرة، واسمه معاوية بن الحارث. سمي شقرة لقوله:وقد أحملُ الرمحَ الأصمَّ كعوبهُ … بهِ من دماءِ القومِ كالشقراتِوالشقرات: الشقائق. وإنما سميت بذلك لأن النعمان بنى مجلساً، وسماه الضاحك، وزرع فيه الشقرات، فسمي شقائق النعمان.ومنهم المفضل، واسمع عامر بن معشر بن أسحم بن عدي بن شيبان. وإنما سمي المفضل بقوله في قصيدته المنصفة:فأبكينا نساءهم، وأبكوا … نساءً ما يسوغُ لهنَّ ريقُومنهم المقرض، واسمه زهدم بن معد بن عبد الحارث. وإنما سمي مقرضاً لقوله:وأنا المقرضُ في جنو … بِ الغادرينَ بكلِّ جارِتقريضَ زندةِ قادحٍ … في كلها يورى بنارِ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।এটি সমকালের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের গুণাবলি বর্ণনায় 'ইয়াতিমাতুদ দাহর' নামে পরিচিত। আমি এর মাধ্যমে সেই মহান অধিপতির পাঠাগারের খেদমত করেছি, যিনি মহান বক্ষ (আশ্রয়স্থল), আলিম, ন্যায়পরায়ণ, মুজাহিদ, ঐশী সাহায্যপ্রাপ্ত, বিজয়ী, সাহায্যপ্রাপ্ত, তাজুদ্দিন (দীনের মুকুট), মাজদুল ইসলাম (ইসলামের গৌরব), আদুদুল আনাম (সৃষ্টিজগতের বাহু), হুসামুদ দাওলাহ (রাষ্ট্রের তলোয়ার), হুমামুল মিল্লাহ (জাতির বীর), মুজাহিদদের সাহায্যকারী, বিদ্রোহীদের দমনকারী, জালিমদের হাত থেকে মজলুমদের ইনসাফ প্রদানকারী, মহান ব্যক্তিদের সম্মান, জনসাধারণের পৃষ্ঠপোষক, সম্মানিত ইমামতের মনোনীত ব্যক্তি, মহান খিলাফতের অলঙ্কার, ইরাকের দাতা, পবিত্র বংশজাত, মুসলিমদের আশ্রয়, রাজা-বাদশাহদের ভ্রাতা, আমিরুল মুমিনিনের তলোয়ার আবু আল-ফুতুহ আলি বিন... এর সেবা করেছি। তাঁর মজলিস প্রশংসা ও গুণগানে আবাদ থাকুক। আর আমি কোনো ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং এমন কোনো ছিদ্রের জন্য যা তালি দেওয়া সম্ভব নয়। যে ব্যক্তি ক্ষমা চায় সে যেন স্বচ্ছতা পছন্দ করে; কোনো মানুষই দোষমুক্ত নয় এবং কোনো গ্রন্থই কলমের ভুল থেকে নিরাপদ নয়।আবু উবাইদাহ বলেছেন: জাহেলি যুগের কবি প্রধানত তিনজন— ইমরুল কায়েস, আন-নাবিগাহ এবং জুহাইর। আমি অত্যন্ত সংক্ষেপে এবং যতটুকু সম্ভব সংক্ষিপ্ত পরিসরে তাদের এবং তাদের পরবর্তী কবিদের কথা উল্লেখ করব। কেননা আলোচনা দীর্ঘ হলে তা বিরক্তির উদ্রেক করতে পারে। আমি কেবল দুর্লভ, বিস্ময়কর ও সুন্দর বিষয়গুলো এবং সেইসব কবিদের কথা উল্লেখ করেছি যাদের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের খুব সামান্য অংশই চেনে। আমি শুরু করেছি উপাধিধারী কবিদের দিয়ে; যাদের কেউ তার বলা কোনো কবিতার কারণে উপাধি পেয়েছেন, কেউ কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে, কেউ তার গায়ের রঙের কারণে, কেউ তার কর্মের খ্যাতির কারণে, আবার কেউ তার দেশ বা কুনিয়াত (উপনাম) এর কারণে উপাধি পেয়েছেন।কবিদের উপাধিসমূহপরিচ্ছেদ: যারা নিজেদের বলা কবিতার কারণে উপাধি পেয়েছেনযেসব কবি তাদের বলা কবিতার চরণের কারণে উপাধি পেয়েছেন, তাদের মধ্যে একজন হলেন 'মুদরিজুর রিহ' (বাতাসের প্রবাহ), কারণ তিনি বলেছিলেন:তুমি কি সুমাইয়ার বালুকাময় প্রান্তরের সেই স্মৃতিচিহ্ন চিনতে পেরেছ? … তোমার পর বাতাস তার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে, ফলে তা সমান হয়ে মিশে গেছে।তার সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি যখন এই কবিতার অর্ধাংশ রচনা করেন, তখন তিনি আটকে যান এবং এক বছর যাবত চেষ্টা করেও এর শেষাংশ মেলাতে পারেননি। তিনি তার বসবাসের জায়গাতেই একটি সম্পদ পুঁতে রেখেছিলেন। তিনি তা স্মরণ করে তার দাসীকে বললেন সেই প্রান্তরে গিয়ে চিহ্ন অনুযায়ী সম্পদটি বের করে আনতে। দাসী সেখানে গেল, কিন্তু ততদিনে সেই ভূমিতে বিভিন্ন দিক থেকে বাতাস প্রবাহিত হয়ে সব চিহ্ন মুছে দিয়েছিল। সে ফিরে এসে কিছুই পেল না। তিনি তাকে অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সে বলল:তোমার পর বাতাস তার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে, ফলে তা সমান হয়ে মিশে গেছে।তিনি এই কথা দিয়ে তার কবিতাটি পূর্ণ করলেন এবং তার নাম হয়ে গেল 'মুদরিজুর রিহ'।তাদের মধ্যে রয়েছেন 'আল-মুরাক্কিশ', তার নাম আমর বিন সুফিয়ান; তিনি মুরাক্কিশ আল-আসগার (ছোট মুরাক্কিশ) হিসেবে পরিচিত।তাকে মুরাক্কিশ বলা হতো কারণ তার চেহারা ছিল চিত্রিত বা ছোপযুক্ত। তিনি বলেছিলেন:যেমন চামড়ার পিঠে কলম নকশা ফুটিয়ে তোলে।তাদের মধ্যে রয়েছেন 'আল-মুমাজ্জাক' (ছিন্নভিন্নকারী), কারণ তিনি বলেছিলেন:যদি আমাকে খেতেই হয়, তবে তুমিই আমার খাদক হও; … অন্যথায় আমাকে উদ্ধার করো যতক্ষণ না আমি ছিন্নভিন্ন হয়ে যাই।বর্ণিত আছে যে, উসমান (রা.) অবরুদ্ধ থাকা অবস্থায় এই কবিতাটি লিখে আলীর (রা.) কাছে পাঠিয়েছিলেন।তাদের মধ্যে রয়েছেন 'আল-মুখাররাক', তিনি নিজেকে আল-মুমাজ্জাকের সাথে সম্পর্কিত করে বলেছেন:আমি কৃপণদের সম্মান ছিন্নকারী, যেমনটি … আমার পিতা মুমাজ্জাক কৃপণদের সম্মান ছিন্ন করতেন।তাদের মধ্যে রয়েছেন 'আল-মুসাক্কিব', তার নাম আয়িয বিন আল-আহমার বিন ওয়াইলা। তাকে মুসাক্কিব (ছিদ্রকারী) বলা হতো কারণ তিনি বলেছিলেন:তারা তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন করে এবং অন্যগুলো ঢেকে রাখে; … আর তারা চোখের জন্য নেকাবগুলো ছিদ্র করে নিয়েছে।'আল-ওয়াসাওয়িস' অর্থ হলো নেকাব। আবার তার এই উক্তির কারণেও তাকে এই নাম দেওয়া হয়েছে:সেই উষ্ট্রে আরোহী নারীদের প্রতি আমার কোনো আসক্তি নেই, … আর না লুআই বিন গালিবের বংশের সেই লক্ষ্যভেদীদের প্রতি।'আস-সাকিবাত' বলতে তিনি যারা লক্ষ্যে আঘাত হানে তাদের বুঝিয়েছেন।তাদের মধ্যে রয়েছেন 'নাবিগাহ আদ-জুবয়ানি', তার নাম যিয়াদ বিন মুয়াবিয়া বিন দিবাব বিন জাবির বিন ইয়ারবু বিন জুবয়ান। বলা হয় যে, তাকে নাবিগাহ বলা হতো কারণ তিনি বলেছিলেন:সে বনু কাইন বিন জাসরের মাঝে বসতি স্থাপন করল, … অথচ তাদের পক্ষ থেকে কোনো সম্পর্কই প্রকাশ পায়নি।অন্যরা বলেন: তাকে নাবিগাহ বলা হতো কারণ তিনি কবিতায় অত্যন্ত পারদর্শী হয়ে প্রকাশ পেয়েছিলেন। 'নাবিগাহ' উপাধিধারী চারজন ব্যক্তি রয়েছেন: বনু জুবয়ানের নাবিগাহ, বনু জাদার নাবিগাহ (যিনি কাইস বিন আব্দুল্লাহ), বনু হারিসের নাবিগাহ (যিনি ইয়াজিদ বিন আবান) এবং বনু শায়বানের নাবিগাহ (যিনি আব্দুল্লাহ বিন আল-মুখাররাক)। তাদের নাবিগাহ বলা হয় কারণ তারা বয়স্ক হওয়ার পর হঠাৎ কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন।তাদের মধ্যে রয়েছেন 'আল-খালাজ', তার নাম নাজিয়াহ বিন মালিক। তার এই উক্তির কারণে তাকে খালাজ বলা হতো:মনে হয় যেন দড়ির টানাটানির মধ্যে … ভোরের বৃষ্টির ধারা বর্ষিত হচ্ছে।তাদের মধ্যে রয়েছেন 'শাকুরাহ', তার নাম মুয়াবিয়া বিন আল-হারিস। তার এই উক্তির কারণে তাকে শাকুরাহ বলা হতো:আমি এমন শক্ত বর্শা বহন করি যার গিঁটগুলো … শত্রুর রক্তে রক্তিম ফুলের মতো রাঙানো।'আশ-শাকুরাত' অর্থ হলো রক্তলাল ফুল (শাকায়িক)। একে এই নাম দেওয়ার কারণ হলো, নুমান একটি সভাঘর তৈরি করে তার নাম দিয়েছিলেন 'আদ-দাহিক' এবং সেখানে এই ফুলগুলো রোপণ করেছিলেন, ফলে সেগুলোকে 'শাকায়িকুন নুমান' বলা হতো।তাদের মধ্যে রয়েছেন 'আল-মুফাদ্দাল', তার নাম আমির বিন মাশার বিন আসহাম বিন আদি বিন শায়বান। তার 'মুনসিফাহ' নামক কাসিদার এই চরণের কারণে তাকে মুফাদ্দাল বলা হতো:আমরা তাদের নারীদের কাঁদিয়েছি, আর তারাও কাঁদিয়েছে … আমাদের এমন নারীদের যাদের চোখের পানিতে গলার থুতুও নামছে না।তাদের মধ্যে রয়েছেন 'আল-মুকাররিজ', তার নাম জাহদাম বিন মাদ বিন আব্দুল হারিস। তাকে মুকাররিজ বলা হতো কারণ তিনি বলেছিলেন:আমি বিশ্বাসঘাতকদের পাঁজরের মাঝে … প্রত্যেক প্রতিবেশীর জন্য দংশনকারী (কর্তনকারী)।চকমকি পাথরের আগুনের দহনের মতো … যার পুরোটাই আগুনে প্রজ্বলিত হয়।
(খণ্ড: ১)
আল-মুযাকারাতু ফী আলকাবিশ শুআরা
(পৃষ্ঠা: ২)
ومنهم المكواة، واسمه عبد الله بن خالد بن حجبة بن عمرو. وإنما سمي المكواة لكثرة ذكره الكي في شعره، ولقوله:ومثلكَ قد عللتُ بكأسِ غيظٍ … وأصيدَ قد كويتُ على الجبينِولقوله:لجيمٌ وتيم الله عزي وناصري … وقيسٌ بها أكوي النواظرَ من صدِّومنهم الحتات، واسمه بشر بن رديح بن الحارث بن ربيعة. وإنما سمي الحتات لقوله:ومشهدِ أبطالٍ شهدتُ كأنما … أحتهمُ بالمشرفيِّ المهندِالحت: أقل من النحت.ومنهم الهجف، واسمه كعب بن كريم بن معاوية. وإنما سمي الهجف لقوله:يرجي ابنُ معطٍ درها وانتحالها … هجف جفتْ عندَ الموالي فأصعداالهجف: الظليم المسن.ومنهم البعيث، واسمه خداش بن لبيد. وإنما سمي البعيث لقوله:تبعثَ مني ما تبعثَ بعدما … أمرتْ قواي، واستمرَّ عزيميأي: أبصرت عزمي، فمضيت على ما أعزم عليه. لأنه إنما قال الشعر وقد أسن.ومنهم ذو الخرق، واسمه بن شريح. وإنما سمي ذا الخرق لقوله:لا يألفُ الدرهمُ المصرورُ خرقتنا … لكنْ يمرُّ عليها، ثمَّ ينطلقُومنهم أعمر، واسمه منبه. وإنما سمي أعمر لقوله:قالتْ عميرةُ ما لرأسكَ بعدما … طالَ الزمانُ أتى بلونٍ منكرِأعميرَ إنَّ أباكَ شيبَ رأسهُ … مرُّ الليالي، واختلافُ الأعصرِوالأعمر: الدخان. وقيل: إنه دخن على قوم في غار، فماتوا.ومنهم قاتل الجوع، واسمه أمرؤ القيس بن كعب بن عمرو. وإنما سمي قاتل الجوع لقوله:قتلتُ الجوعَ في الشتواتِ حتى … تركتُ الجوعَ ليس له نكيرُومنهم مزرد، واسمه يزيد بن ضرار الكلبي. وسمي مزرداً لقوله:ظللنا نصادي أمنا عن حميتها … كأهل شموسٍ، كلنا يتوددُفجاءتْ بها صفراءَ ذاتَ أسرةٍ … تكادُ عليها ربة النحي تكمدُفقلت: تزردها عبيدُ، فأنني … لدردِ الموالي، في السنين، مزردُالحميت: النحي المربوب. فإذا لم يرب فهو نحي. وإنما سمي حميتاً لأنهم يعملونه بالرب. والحميت: المتين.ومنهم ذو الرمة، واسمه غيلان بن عقبة. وإنما سمي ذا الرمة لقوله:لم يبقَ غيرُ مثلٍ ركودِ … غيرُ ثلاثٍ باقياتٍ، سودِوبعدَ مرضوخ ِالقفا، موتودِ … أشعثَ باقي رمةِ التقليدِالرمة: بقية حبل خلق. ورمت العظام: بليت.ومنهم القطامي، واسمه عمرو، ويقال: عمرة. وإنما سمي القطامي بقوله:يحطهنَّ جانباً فجانبا … حطَّ القطاميِّ القطا الهوازباوالقطامي: الصقر. ويقال القطامى.ومنهم الحطيم، واسمه نعمان بن مالك. وسمي الحطيم لقوله:سلِ الحطيمَ، اليومَ، عن غمامهْ … خالمها، فرضيتْ خلامهْغمامة: امرأة من دارم. وخالمها: صادقها. والخلم: الصديق.ومنهم الغريب، وهو نعيم بن سليم. وإنما سمي الغريب لقوله:إسمي نعيمٌ، وأنا الغريبُ … إسما كريمٍ بهما أحببُومنهم عائد الكلب، وهو عبد الله بن مصعب بن عبد الله بن الزبير. وإنما سمي عائد الكلب لقوله:مالي مرضتُ فلم يعدني عائدٌ … منكمْ، ويمرضُ كلبكمْ فأعودُومنهم الأسعر، وكان قديماً من الشعراء، واسمه مرثد بن أبي حمران. وإنما سمي الأسعر لقوله:فلا يدعني قومي لسعدِ بن مالكٍ … لئن أنا لم أسعرْ عليهم، وأثقبِأي: أوقد. والسعر: وقود النار والحرب. وقيل: سمي الأسعر لدقة ساقيه.ومنهم الصامت، واسمه عمرو بن الغوث من طيء. وسمي الصامت بقوله:رأتني صامتاً لا قولَ عندي … ألا إنَّ الغريبَ هو الصموتُومنهم عارق، واسمه قيس بن جروة بن سيف وائلة. وإنما سمي عارقاً لقوله:لئنْ لم نغيرْ بعضَ ما قد فعلتمُ … لأنتهشَ العظمَ الذي أنا عارقهْومنهم العجاج. وإنما سمي العجاج لقوله:حتى يعجَّ ثخناً من عجعجاالعج: رفع الصوت. والثخن: الغلبة.ومنهم الخطفي، واسمه حذيفة بن بدر بن سلامة بن عوف. وإنما سمي الخطفي بقوله:يرفعنَ لليلِ إذا ما أسدفا … أعناقَ حياتٍ، وهاماً رجفاوعنقاً بعدَ الكلالِ خيطفاالخيطف: السريع.
তাদের মধ্য হতে একজন হলেন আল-মিকওয়াহ; তার নাম আবদুল্লাহ বিন খালিদ বিন হাজবাহ বিন আমর। তাকে ‘আল-মিকওয়াহ’ (তপ্ত শলাকা) নামকরণ করা হয়েছে তার কবিতায় অত্যধিক ‘কাই’ বা দাগ দেওয়ার বিষয়ের উল্লেখ করার কারণে এবং তার এই উক্তির জন্য:
তোমার মতো কতজনকেই আমি ক্রোধের পেয়ালা পান করিয়েছি … এবং কত দাম্ভিককে আমি ললাটে দাগ দিয়ে দিয়েছি।
এবং তার এই উক্তির জন্য:
লুজাইম ও তাইমুল্লাহ আমার গৌরব ও সাহায্যকারী … আর কাইস বংশের দ্বারা আমি বিদ্বেষীদের চক্ষুসমূহকে দগ্ধ করি।
তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন আল-হাতাত; তার নাম বিশর বিন রুদাইহ বিন আল-হারিস বিন রাবিয়াহ। তাকে ‘আল-হাতাত’ (ক্ষয়কারী) বলা হয় তার এই উক্তির কারণে:
এবং বীরদের এমন রণক্ষেত্রে আমি উপস্থিত হয়েছি যে দেখে মনে হয় … আমি তাদের ‘মাশরাফি’ নামক তরবারি দিয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ করছি।
‘আল-হাত্তু’ শব্দের অর্থ খোদাই বা কাটার চেয়ে সামান্য কম পর্যায়ের ক্ষয় করা।
তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন আল-হুজাফ; তার নাম কাব বিন কারিম বিন মুয়াবিয়া। তাকে ‘আল-হুজাফ’ বলা হয় তার এই উক্তির কারণে:
ইবনে মুতি তার প্রাচুর্য ও দান প্রত্যাশা করে … এমন এক বৃদ্ধ উটপাখির মতো যা প্রভুদের কাছে রূঢ় আচরণ পেয়ে উপরে উঠে গেছে।
‘আল-হুজাফ’ অর্থ হলো অতি বৃদ্ধ পুরুষ উটপাখি।
তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন আল-বাইস; তার নাম খিদাশ বিন লাবিদ। তাকে ‘আল-বাইস’ (জাগ্রতকারী) বলা হয় তার এই উক্তির কারণে:
আমার ভেতর থেকে তুমি সেই তেজকে জাগ্রত করেছ যা সুপ্ত ছিল, অথচ তখন … আমার শক্তি দৃঢ় হয়েছিল এবং সংকল্প স্থায়ী হয়েছিল।
অর্থাৎ: তুমি আমার সংকল্পকে প্রত্যক্ষ করেছ, ফলে আমি যা ইচ্ছা করেছি তাতে অটল থেকেছি। তাকে এই নামে ডাকার কারণ হলো, তিনি অতি বৃদ্ধ বয়সে কবিতা বলতে শুরু করেছিলেন।
তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন জু-আল-খিরাক; তার নাম ইবনে শুরাইহ। তাকে ‘জু-আল-খিরাক’ (তালিযুক্ত কাপড়ের মালিক) বলা হয় তার এই উক্তির কারণে:
পুঁটলি করা দিরহাম আমাদের তালি দেওয়া থলের সাথে সখ্যতা গড়ে না … বরং তা এর উপর দিয়ে অতিক্রম করে যায় এবং চলে যায়।
তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন আমীর; তার নাম মুনাব্বিহ। তাকে ‘আমীর’ বলা হয় তার এই উক্তির কারণে:
উমাইরা বলল, দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর তোমার মস্তকের একি দশা হলো … কেন তা এমন এক অনাকাঙ্ক্ষিত বর্ণ ধারণ করল?
হে উমাইরা! তোমার পিতার মস্তককে শুভ্র করে দিয়েছে … রজনীর আবর্তন এবং মহাকালের পরিবর্তন।
‘আল-আমীর’ অর্থ হলো ধোঁয়া। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি এক গুহায় অবস্থানরত সম্প্রদায়ের উপর ধোঁয়া দিয়েছিলেন, ফলে তারা মৃত্যুবরণ করে।
তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন কাতিল আল-জু’ (ক্ষুধা নিধনকারী); তার নাম ইমরাউল কাইস বিন কাব বিন আমর। তাকে ‘কাতিল আল-জু’ বলা হয় তার এই উক্তির কারণে:
আমি শীতকালে ক্ষুধাকে এমনভাবে নিধন করেছি যে … ক্ষুধাকে এমন অবস্থায় ছেড়েছি যে তার কোনো অস্তিত্বই অবশিষ্ট ছিল না।
তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন মুজাররাদ; তার নাম ইয়াজিদ বিন দিরার আল-কালবি। তাকে ‘মুজাররাদ’ (গিলনকারী) নামকরণ করা হয় তার এই উক্তির কারণে:
আমরা আমাদের মাতাকে তার সংরক্ষিত মাখন থেকে বঞ্চিত করতে চাইতাম … অবাধ্যদের মতো, অথচ আমরা সবাই তার ভালোবাসা পেতে চাইতাম।
অতঃপর তিনি ভাঁজযুক্ত পীতবর্ণের একটি পাত্র নিয়ে এলেন … যা দেখে ঘি-এর পাত্রের মালকিনও প্রায় হিংসায় কাতর হয়ে পড়ছিল।
আমি বললাম: হে উবাইদ, এটি গিলে ফেলো; কেননা আমি … অভাবের বছরগুলোতে প্রভুদের কষ্টের গ্লানিগুলো গিলে ফেলি।
‘আল-হামীত’ হলো সেই ঘি-এর পাত্র যা রুব বা ফলের রস দিয়ে সংস্কার করা হয়েছে। যদি তা সংস্কার করা না হয় তবে তাকে ‘নাহি’ বলা হয়। একে ‘হামীত’ বলা হয় কারণ তারা এটি রুব দিয়ে তৈরি করত। ‘হামীত’ শব্দের অর্থ মজবুত বা সুদৃঢ়ও হয়।
তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন জু-আল-রুম্মাহ; তার নাম গাইলান বিন উকবাহ। তাকে ‘জু-আল-রুম্মাহ’ (জীর্ণ রশির মালিক) বলা হয় তার এই উক্তির কারণে:
স্থির হয়ে থাকা চিহ্নগুলো ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই … অবশিষ্ট তিনটি কালো চুলা ছাড়া।
এবং ঘাড় মটকানো ও মাটিতে পোঁতা খুঁটির পরে … ধুলোমাখা জীর্ণ রশির অবশিষ্টাংশ যা গলায় বাঁধা ছিল।
‘আল-রুম্মাহ’ হলো পুরনো ও জীর্ণ হয়ে যাওয়া রশির অবশিষ্টাংশ। হাড় পচে গেলে তাকে ‘রিমাম’ বলা হয়।
তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন আল-কাতামি; তার নাম আমর, মতান্তরে আমরাহ। তাকে ‘আল-কাতামি’ বলা হয় তার এই উক্তির কারণে:
সে সেগুলোকে এক পাশ থেকে অন্য পাশে ছুড়ে ফেলে … যেমন বাজপাখি দ্রুতগামী ‘কাতা’ পাখিকে আক্রমণ করে নিচে ফেলে দেয়।
‘আল-কাতামি’ হলো শিকারি বাজপাখি। একে ‘আল-কাতামা’ও বলা হয়।
তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন আল-হাতীম; তার নাম নুমান বিন মালিক। তাকে ‘আল-হাতীম’ বলা হয় তার এই উক্তির কারণে:
আজ আল-হাতীমকে জিজ্ঞাসা করো তার গামামাহ সম্পর্কে … যে তার সাথে বন্ধুত্ব করেছিল এবং সে তার বন্ধুত্বে সন্তুষ্ট ছিল।
‘গামামাহ’ হলো দারিম গোত্রের এক মহিলা। ‘খালামাহা’ অর্থ হলো তার সাথে বন্ধুত্ব করা। আর ‘আল-খিলম’ মানে বন্ধু।
তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন আল-গারীব; তিনি হলেন নুয়াইম বিন সুলাইম। তাকে ‘আল-গারীব’ বলা হয় তার এই উক্তির কারণে:
আমার নাম নুয়াইম এবং আমিই সেই আগন্তুক … এক সম্মানিত ব্যক্তির দুটি নাম যার মাধ্যমে আমি ভালোবাসা পাই।
তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন আইদ আল-কালব (কুকুরের পরিচর্যাকারী); তিনি হলেন আবদুল্লাহ বিন মুসাব বিন আবদুল্লাহ বিন আল-জুবায়ের। তাকে ‘আইদ আল-কালব’ বলা হয় তার এই উক্তির কারণে:
আমার কী হলো যে আমি অসুস্থ হলাম অথচ তোমাদের কেউ আমাকে দেখতে এল না … অথচ তোমাদের কুকুর অসুস্থ হলে আমি তাকে দেখতে যাই।
তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন আল-আসার, তিনি প্রাচীন কবিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, তার নাম মারসাদ বিন আবি হামরান। তাকে ‘আল-আসার’ (প্রজ্বলনকারী) বলা হয় তার এই উক্তির কারণে:
আমার সম্প্রদায় যেন আমাকে সাদ বিন মালিকের কাছে না পাঠায় … যদি আমি তাদের বিরুদ্ধে আগুন প্রজ্বলিত না করি এবং ছিদ্র না করি।
অর্থাৎ: আমি প্রজ্বলিত করেছি। ‘আল-সুর’ অর্থ আগুন বা যুদ্ধ প্রজ্বলিত করা। আরও বলা হয় যে, তার পায়ের নলা চিকন হওয়ার কারণে তাকে ‘আল-আসার’ বলা হতো।
তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন আস-সামিত; তার নাম আমর বিন আল-গাউস, তাই গোত্রের লোক। তাকে ‘আস-সামিত’ (নীরব) বলা হয় তার এই উক্তির কারণে:
সে আমাকে নীরব দেখল যেন আমার কাছে বলার কিছু নেই … জেনে রেখো, আগন্তুক ব্যক্তি তো নীরবই হয়ে থাকে।
তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন আরিক; তার নাম কাইস বিন জারওয়াহ বিন সাইফ ওয়াইলাহ। তাকে ‘আরিক’ (হাড় চিবানো ব্যক্তি) বলা হয় তার এই উক্তির কারণে:
তোমরা যা করেছ তা যদি আমরা পরিবর্তন না করি … তবে আমি অবশ্যই সেই হাড়টি চিবিয়ে খাব যা আমি এখন চিবোচ্ছি।
তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন আল-আজ্জাজ। তাকে ‘আল-আজ্জাজ’ (চীৎকারকারী) বলা হয় তার এই উক্তির কারণে:
যাতে সে ক্লান্ত হয়ে আর্তনাদ করে ওঠে।
‘আল-আজ্জ’ অর্থ উচ্চস্বরে আওয়াজ করা। আর ‘আস-সুখ্ন’ অর্থ জয় করা বা কাবু করা।
তাদের মধ্যে আরও রয়েছেন আল-খাতাফা; তার নাম হুজাইফাহ বিন বদর বিন সালামাহ বিন আউফ। তাকে ‘আল-খাতাফা’ বলা হয় তার এই উক্তির কারণে:
তারা রাতের আঁধারে উঁচু করে ধরে … সর্পের ন্যায় ঘাড় এবং প্রকম্পিত মস্তক।
এবং ক্লান্তির পরেও দ্রুতগামী ঘাড়সমূহ।
‘আল-খাইতাফ’ অর্থ হলো দ্রুতগামী।
(খণ্ড: ১)
আল-মুযাকারাতু ফী আলকাবিশ শুআরা
(পৃষ্ঠা: ৩)
ومن الشعراء المحدثين المرعث، وهو بشار بن برد، واسمه المرعث مولى عقيل، وكان أعمى. وقيل له المرعث لقوله:منْ لظبيٍ مرعثٍ … ساحرِ الطرفِ والنظرْقال لي: لستَ بنائلي … قلتُ: أو يغلبُ القدرْوقيل: سمي بالمرعث لأنه ولد وهو مشقوق طرف الأذن، فقالوا: ولد مرعثاً، أي لم يحتج إلى أن تثقب أذنه.ومنهم شهوات، واسمه موسى. وإنما سمي شهوات لقوله في يزيد بن معاوية:لست منا، وليس خالدُ منا … ما نضيعُ الصلاةَ للشهواتِومنهم عويف القوافي، وهو عويف بن عيينة بن حصن. وسمي بذلك لأنه قال:سأكذبُ منْ قد كان يزعمُ أنني … إذا قلتُ قولاً لا أجيدُ القوافياومنهم الفرار، الذي قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لنبي سليم: إلى من أرفع لواءكم؟ قالوا: إلى الفرار. فكره صلى الله عليه ذلك. فقالوا: إنما اسمه حيان بن الحكم، وغنما سمي الفرار لقوله:وكتيبةٍ ألبستها بكتيبةٍ … حتى إذا ألتبستْ نفحتُ بها يديويروى: نفضت بها يدي.هل ينفعني أنْ تقولَ نساؤكمْ … وكلت خلفَ شريدهم: لا تبعدِومنهم طرفة، واسمه عمرو بن العبد بن سفيان بن سعد بن مالك. وإنما سمي طرفة لقوله:لا تعجلا بالبكاءِ اليوم مطرفاً … ولا أميركما، بالدارِ، إذْ وقفاقوله: مطرف، أي مجلوب، فهو ينزع إلى وطنه. قال ذو الرمة:كأنني من هوى خرقاءَ مطرفٌومنهم صريع الغواني، وهو مسلم بن الوليد الأنصاري. وإنما سمي بذلك لأن الرشيد، رضي الله عنه، إستنشده قصيدته:أديرا عليَّ الكأسَ لا تشربا قبليفأنشده، فلما بلغ حيث يقول:هلِ العيشَ إلا أنْ تروحَ مع الصبا … وتغدو صريعَ الكأسِ والأعينِ النجلِفقال الرشيد: سموه صريع الغواني. فهجاه بعضهم فقال:فما ريحُ السذابِ أشدُّ بغضاً … إلى الحياتِ منكَ إلى الغوانيومنهم مجتني المروءة، وهو عبد الله بن أحمد الحنفي، وكان صديقاً لعبد الله بن المقفع. وإنما لقب بذلك لكثرة ذكر المروءة في شعره وقوله:لا تحسبنْ أنَّ المرو … ءةَ مطعمٌ، أو شربُ كاسأوْ في الولايةِ والموا … كبِ، والمراكبِ، واللباسلكنها كرمُ الفرو … عِ، زكتْ على كرمِ الأساسوقوله أيضاً:ليسَ المروءةُ بالدراهمْ … بل المروءة بالمكارمُكم من غنيٍّ سفلةٌ … ومقلِّ قومٍ ذي معالمُفصل في ذكر من لقب من الشعراء بعلامة من خلقه وبظاهر من لونهمنهم الأخضر، وهو الفضل بن عباس بن عتبة بن أبي لهب. وإنما سمي الأخضر لأنه كان أدماً شديد الأدمة والأدم عند العرب: الأخضر. ويسمون الأبيض أخضر. وسمي آدم عليه السلام لأنه كان أبيض. وقال الفضل:وأنا الأخضرُ منْ يعرفني … أخضر الجلدةِ من نسلِ العربْقال: والأخضر أيضاً في كلام العرب: الأسود. ويسمون الليل: الأخضر، والماء: الأخضر. قال الراجز:وعارضُ الليلِ إذا ما أخضراولذلك سمي السواد، لكثرة الأشجار، وخضرتها.ومنهم الحطيأة، واسمه جرول بن مالك. وإنما سمي الحطيأة لقصره.ومنهم الأقيشر، واسمه عقبة من بني عميرة. وسمي الأقيشر لشدة حمرة لونه، والأقشر: الشديد الحمرة، وقوله:إني أنا الأقشرُ ذاكم نزبي … أنا الذي يعرفُ قومي حسبيوالنزب والنبز: اللقب. وهذا من المقلوب، وهو النبز. كمل قالوا: جبذ وجذب، وما أطيبه وما أيطبه.ومنهم أيضاً أقيشر آخر، كان يغضب إذا دعوه الأقيشر، ويخاصم. وهو المغيرة بن عبد الله بن الأسود. ودعاه بعضهم بالأقيشر، فقال له:أتدعوني الأقيشرَ، ذاك إسمي … وأدعوكَ ابن مطفئةِ السراجِفسمي ذاك الرجل بابن مطفئة السراج.ومنهم الأخطل، وهو غياث بن غوث بن الصلت. وإنما سمي الأخطل لكبر أذنه. والخطل: المسترخية الآذان. يقال: شاة خطلاء، ورجل أخطل، أي عظيم الأذن. والخطل: الحمق. والخطل: خفة وسرعة. ويقال: خطل في كلامه، إذا أخطأ. ومن ألقاب الأخطل: دوبل. وقال جرير:بكى دوبلٌ، لا يرقئ الله دمعهُ … ألا إنما يبكي من الذلِّ دوبلُ
আধুনিক কবিদের মধ্যে আল-মুরা'আস ছিলেন, তিনি হলেন বাশার ইবনে বুরদ। তার নাম ছিল আল-মুরা'আস, উকায়েলের মুক্তদাস, এবং তিনি জন্মান্ধ ছিলেন। তার একটি কবিতার কারণে তাকে মুরা'আস বলা হতো:কানের দুল পরিহিত হরিণ শাবকের জন্য কে আছে … যে দৃষ্টি ও চাউনিতে জাদুকর।সে আমাকে বলল: তুমি আমাকে পাবে না … আমি বললাম: নাকি তাকদিরই জয়ী হবে?বলা হয়, তার কানের লতি চেরা অবস্থায় জন্মগ্রহণ করার কারণে তাকে মুরা'আস নামকরণ করা হয়েছে। তারা বলেছিল: সে মুরা'আস (কর্ণভূষিত) হয়ে জন্মেছে, অর্থাৎ তার কান ছিদ্র করার প্রয়োজন হয়নি।তাদের মধ্যে শাহওয়াত ছিলেন, তার নাম মূসা। ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়া সম্পর্কে তার এই পংক্তির জন্য তাকে শাহওয়াত নামকরণ করা হয়েছিল:তুমি আমাদের নও, আর খালিদও আমাদের নয় … আমরা প্রবৃত্তির লালসায় (শাহওয়াত) নামাজ নষ্ট করি না।তাদের মধ্যে ছিলেন উওয়াইফ আল-কাওয়াফি, তিনি হলেন উওয়াইফ ইবনে উয়াইনা ইবনে হিসন। তাকে এই নামে ডাকার কারণ তিনি বলেছিলেন:আমি সেই ব্যক্তিকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করব যে দাবি করে যে … আমি যখন কথা বলি তখন সুন্দর ছন্দ (কাফিয়া) রচনা করতে পারি না।তাদের মধ্যে আল-ফাররার ছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনু সুলাইম গোত্রের লোকদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "আমি তোমাদের পতাকা কার হাতে তুলে দেব?" তারা বলল: "আল-ফাররারের হাতে।" সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি অপছন্দ করলেন। তারা বলল: "তার নাম তো হাইয়ান ইবনে আল-হাকাম, তাকে আল-ফাররার বলা হয় তার এই পংক্তির জন্য:"আমি এক সেনাদলের ওপর অন্য সেনাদলকে ঝাঁপিয়ে পড়তে বাধ্য করেছি … অবশেষে যখন তারা একে অপরের সাথে মিশে গেল, তখন আমি হাত ঝেড়ে ফেললাম (সরে পড়লাম)।অন্য বর্ণনায় আছে: আমি আমার হাত ঝেড়ে ফেলেছি।তোমাদের নারীরা যখন বলবে তখন কি আমার কোনো উপকারে আসবে … আর তাদের পলাতকদের পেছনে ডাকবে: দূরে যেও না!তাদের মধ্যে ছিলেন তারাফাহ, তার নাম আমর ইবনুল আবদ ইবনে সুফিয়ান ইবনে সাদ ইবনে মালিক। তাকে তারাফাহ বলার কারণ তার এই উক্তি:আজ ক্রন্দন করতে তড়িঘড়ি করো না সেই নবাগতের (মুতরাফ) জন্য … আর না তোমাদের আমিরের জন্য, যখন তারা আবাসে দাঁড়িয়েছে।এখানে 'মুতরাফ' অর্থ হলো বাইরে থেকে আনা ব্যক্তি, যে নিজের স্বদেশের জন্য ব্যাকুল হয়। যু আল-রুম্মাহ বলেছেন:আমি যেন খারকার প্রেমে এক বিরহী নবাগত (মুতরাফ)।তাদের মধ্যে ছিলেন সারী আল-গাওয়ানি, তিনি মুসলিম ইবনুল ওয়ালিদ আল-আনসারী। তাকে এই নামে ডাকার কারণ হলো, হারুন আল-রশিদ (রা.) তার কাছে এই কবিতাটি শুনতে চেয়েছিলেন:আমার দিকে পেয়ালাটি ঘুরিয়ে দাও, আমার আগে পান করো না।অতঃপর তিনি আবৃত্তি করলেন, যখন তিনি এই চরণে পৌঁছালেন:যৌবনোদ্দীপ্ত বাতাসের সাথে সন্ধ্যা অতিবাহিত করা ছাড়া জীবনের আর কী স্বার্থকতা আছে … আর তুমি সুরাপাত্র ও আয়তলোচনা সুন্দরীদের প্রেমে ধরাশায়ী (সারী) হয়ে সকাল যাপন করবে।তখন আল-রশিদ বললেন: তাকে 'সারী আল-গাওয়ানি' (সুন্দরী নারীদের দ্বারা ধরাশায়ী) নামে অভিহিত করো। তখন তাদের কেউ তাকে বিদ্রূপ করে বলেছিলেন:সাদাভ (এক প্রকার তিক্ত উদ্ভিদ) এর ঘ্রাণ সাপের কাছে ততটা ঘৃণ্য নয় … যতটা তোমার কাছে সুন্দরী নারীরা।তাদের মধ্যে ছিলেন মুজতানি আল-مুরয়াহ, তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে আহমদ আল-হানাফি এবং তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল মুকাফফার বন্ধু ছিলেন। তার কবিতায় 'মুরয়াহ' (মনুষ্যত্ব) শব্দের অধিক ব্যবহারের কারণে এবং তার এই উক্তির কারণে তাকে এই উপাধি দেওয়া হয়েছিল:তুমি মনে করো না যে মনুষ্যত্ব … কেবল আহার বা পানীয়ের মধ্যে নিহিত।কিংবা শাসন ক্ষমতা, শোভাযাত্রা … সওয়ারি বা পোশাকের মধ্যে।বরং তা হলো বংশীয় আভিজাত্য … যা এক মহৎ ভিত্তির ওপর বিকশিত হয়েছে।তার আরও উক্তি:মনুষ্যত্ব দিরহামের ওপর নির্ভর করে না … বরং মনুষ্যত্ব মহত্ত্বের ওপর নির্ভরশীল।কত ধনী ব্যক্তি আছে যে নিচপ্রকৃতির … আর কত অভাবী কওম আছে যারা মহৎ নিদর্শনের অধিকারী।পরিচ্ছেদ: শারীরিক বৈশিষ্ট্য বা গায়ের রঙের কারণে উপাধিপ্রাপ্ত কবিদের বর্ণনাতাদের মধ্যে আল-আখদার ছিলেন, তিনি ফজল ইবনে আব্বাস ইবনে উতবা ইবনে আবি লাহাব। তাকে আল-আখদার বলা হতো কারণ তিনি অত্যন্ত কালো বর্ণের ছিলেন। আরবদের কাছে গাঢ় কালো বর্ণ হলো 'আখদার' (সবুজ)। তারা শ্বেতবর্ণকেও 'আখদার' বলে থাকে। আদম (আ.)-কে 'আদম' বলা হয় কারণ তিনি ফর্সা ছিলেন। ফজল বলেছিলেন:আমিই আল-আখদার, যাকে সবাই চেনে … আরব বংশোদ্ভূত শ্যামল (সবুজ) চামড়ার অধিকারী।বর্ণনাকারী বলেন: আরবদের কথাবার্তায় 'আখদার' মানে 'আসওয়াদ' (কালো)। তারা রাতকে 'আল-আখদার' এবং পানিকেও 'আল-আখদার' বলে। রাজেজ (ছন্দকার) বলেছেন:আর রাতের আবরণ যখন শ্যামল (কালো) হয়ে আসে।এ কারণেই ঘন গাছপালা ও সবুজের আধিক্যের জন্য ইরাকের উর্বর ভূমিকে 'সাওয়াদ' (কালো) বলা হয়।তাদের মধ্যে আল-হুতাইয়া ছিলেন, তার নাম জারওয়াল ইবনে মালিক। তার খাটো আকৃতির জন্য তাকে আল-হুতাইয়া নামকরণ করা হয়েছে।তাদের মধ্যে আল-আকিশার ছিলেন, তার নাম বনু উমাইরা গোত্রের উকবা। গায়ের রং অত্যন্ত লাল হওয়ার কারণে তাকে আল-আকিশার বলা হতো। 'আল-আকশার' মানে তীব্র লাল। তার উক্তি:আমিই সেই লাল (আকশার) ব্যক্তি, এটিই আমার উপাধি (নাজব) … আমি সেই ব্যক্তি যার আভিজাত্য আমার কওম জানে।'নাজব' ও 'নাবজ' অর্থ হলো উপাধি। এটি শব্দের অক্ষরের স্থান পরিবর্তন (মাকলুব), যা মূলত 'নাবজ'। যেমন তারা 'জাবাযা' (টানা)-কে 'জাযাবা' এবং 'মা আতইয়াবাহু' (কতই না উত্তম)-কে 'মা আইত্বাবাহু' বলে থাকে।তাদের মধ্যে আরও একজন আকিশার ছিলেন, তাকে আকিশার বলে ডাকলে তিনি রাগ করতেন এবং ঝগড়া করতেন। তিনি হলেন মুগিরা ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আল-আসওয়াদ। কেউ একজন তাকে আকিশার বলে ডাকলে তিনি তাকে বলেছিলেন:তুমি কি আমাকে আকিশার বলে ডাকছো? ওটা তো আমার নাম … তবে আমি তোমাকে 'বাতি নেভানো নারীর সন্তান' বলে ডাকব।ফলে সেই লোকটি 'বাতি নেভানো নারীর সন্তান' (ইবনে মুতফিয়াতুস সিরাজ) নামে পরিচিত হয়ে গেল।তাদের মধ্যে ছিলেন আল-আখতাল, তিনি হলেন গিয়াস ইবনে গাওস ইবনে আল-সালত। তার কান বড় হওয়ার কারণে তাকে আল-আখতাল বলা হতো। 'খাতাল' মানে ঝুলে পড়া কান। বলা হয়: 'শাতুন খাতলা' (ঝুলন্ত কানের ছাগল) এবং 'রাজুলুন আখতাল' অর্থাৎ বড় কানের মানুষ। 'খাতাল' অর্থ মূর্খতাও হয়। আবার 'খাতাল' মানে চপলতা ও দ্রুততা। কেউ ভুল করলে বলা হয়: 'খাতালা ফি কালামিহি' (সে তার কথায় ভুল করেছে)। আল-আখতালের উপাধিগুলোর মধ্যে একটি হলো 'দুবাল'। জারীর বলেছেন:দুবাল কাঁদছে, আল্লাহ যেন তার চোখের পানি না শুকান … জেনে রেখো, লাঞ্ছনার কারণেই দুবাল কাঁদছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুযাকারাতু ফী আলকাবিশ শুআরা
(পৃষ্ঠা: ৪)
فلما بلغ الأخطل هذا البيت قال: أخزاه الله، والله لقد سمتني أمي بهذا الاسم يوماً واحداً وأنا طفل، فمن أين وقع لهذا الخبيث.ومنهم الفرزدق، واسمه همام بن غالب بن صعصعة. وإنما سمي الفرزدق لأنه كان جهم الوجه، فقيل: كأن وجهه فرزدقة، وهو الجردق الكبير. يقال: بالدال وبالذال. والفرزدق أيضاً: الفتوت الذي تشربه المرأة. ولقد قال له بعض أهل المدينة، نكراً عليه: والله ما نعرف الفرزدق إلا هذا الفتوت الذي تشربه المرأة وتقذفه. فقال: الحمد لله الذي جعلني في بطون نسائكم.ومنهم الزبرقان، واسمه حصين بن بدر. وإنما سمي الزبرقان لأنه كان خفيف اللحية. والعرب تسمي الخفيف اللحية: الزبرقان. وقال قطرب: إنه كان حسن الوجه، فشبه بالقمر، ويقال للقمر: الزبرقان. قال الشاعر:تضيءُ له المنابرُ حين يرقى … عليها، مثلُ صنوِ الزبرقانِوقال الخليل: الزبرقان: ليلة أربع عشرة وخمس عشرة. وقال أبو عبيدة: قلت لرجل من ولد الزبرقان: لم سمي الزبرقان، واسمه حصين؟ قال: اشترى حلة خضراء مزبرقة، ثم راح إلى ندي قومه، فقالوا له: زبرقت. وزبرق الرجل ثوبه: إذا صفره، أو حمره.ومنهم الطرماح، واسمه حكم بن حكيم. وإنما سمي الطرماح لطوله. والطرماح: الطويل. قال الشاعر:معتدل الهادي، طرماح العصبْوقيل: سمي الطرماح لزهوه. والطرماح: الذي يرفع رأسه زهواً.ومنهم أبو قطيفة، واسمه عمرو بن الوليد بن عقبة. وإنما سمي أبا قطيفة لأنه كان كثير شعر الجسد والوجه.ومنهم الأرقط، وهو حميد بن مالك. وسمي الأرقط لآثار كانت في وجهه.ومنهم الأفوه. سمي بذلك لأنه كان غليظ الشفتين، ظاهر الأسنان.ومنهم النجاشي. سمي بذلك لشدة سواده.ومنهم جحدر. واسمه ربيعة بن ضبيعة بن قيس. وإنما سمي جحدراً لقصره.ومنهم زياد الأعجم. وإنما سمي الأعجم لأن مولده ومنشأه كان بفارس.ومنهم سديف. واسمه إسماعيل بن ميمون. وسمي سديفاً للونه شبه بالسدف. وسديف تصغير السدف. والسدفة: الظلمة. وهذا من الأضداد. لأن السدفة في الضياء والظلمة. وقال ابن الأعرابي: السدفة ظلمة يخالطها ضوء.ومنهم أبو نواس. واسمه الحسن بن هاني الحكمي. ويكنى أبا علي. وإنما قيل له أبو نواس لذؤابة. كانت في رأسه. والنواس: الذؤابة. ومنه سمي ذا نواس. وقيل: سمي ذا نواس لضفيرتين كانتا تنوسان على عاتقه. والنوس: الحركة من كل شيء مدلى. وقال محمد بن يحيى المقرئ: سألت أبا نواس عن كنيته، ما أراد بها، وهل نواس بفتح النون، أو نواس بضمها؟ فقال: بضم النون، وكان سبب كنيتي أن رجلاً من جيراني بالبصرة دعى إخواناً له، فأبطأ عليه واحد منهم، فخرج من بابه يطلب من يبعثه إليه، يستحثه. فوجدني ألعب مع الصبيان، وكانت لي ذؤابة في وسط رأسي، فصاح بي: نيا حسن إمض إلى فلان فجئن به. فمضيت أعدو، وذؤابتي تتحرك. فلما جئت بالرجل، قال: أحسنت يا أبا نواس. فشاعت هذه الكنية.ومنهم حماد عجرد. وهو حماد بن عمرو، من أهل الكوفة، مولى بني عامر. وإنما سمي عجرداً لأنه كان مكتنز الخلق "، كثير العضلات، والعجرد من هذه صفته. والعجرد: الغليظ الشديد.ومنهم أبو العتاهية. قال أبو سويد عبد القوي: وإنما سمي أبا عتاهية وكنيته أبو إسحاق، واسمه إسماعيل بن سويد، وبلده الكوفة. وأبو عتاهية لقب. تقول العرب: عته الرجل، وهو يعته، ومعتوه: مدهوش من غير مس الجنون. وتقول العرب: رجل عتاهية، بغير ألف ولام. ومعنى عتاهية من الدهاء. وقال ابن الأعرابي: عتاهية الرجال ضلالهم.ومنهم العث. واسمه زيد بن معروف. والعث: جمع عثة، وهي السوسة. وإنما سمي بذلك لأنه كان أكولاً. والعث يأكل الصوف والخشب وغيره.ومنهم عروة الصعاليك. وهو عروة بن الورد بن زيد بن عبد الله. وإنما سمي بذلك لأنه كان من أفقر من العرب ضمه إليه. فمن كان يمكنه أن يغزو معه غزى، ومن لم يمكنه ذلك جعل له شيئاً في الفيء، وأقعده. والصعاليك: الفقراء.ومنهم المقنع اسمه محمد بن عمير. وإنما سمي المقنع لأنه كان أجمل أهل زمانه، وأحسنهم وجهاً، وأقدهم قامة. وكان إذا كشف وجهه لطمته الجن، فكان يقنع وجهه دهره.
আল-আখতাল যখন এই চরণে পৌঁছালেন, তখন তিনি বললেন: আল্লাহ তাকে লাঞ্ছিত করুন; আল্লাহর কসম, আমার মা যখন আমি শিশু ছিলাম তখন মাত্র একদিন আমাকে এই নামে ডেকেছিলেন; তবে এই খবিস লোকটির কাছে এই তথ্য কীভাবে পৌঁছাল?তাদের মধ্যে একজন হলেন আল-ফারাজদাক, যার নাম হাম্মাম বিন গালিব বিন সা'সা'আ। তাকে আল-ফারাজদাক বলা হতো কারণ তার চেহারা ছিল স্থূল ও মাংসল। বলা হতো: তার চেহারা যেন একটি 'ফারাজদাকা', যা মূলত একটি বড় রুটি। শব্দটি 'দাল' এবং 'যাল' উভয় দিয়েই উচ্চারিত হয়। আল-ফারাজদাক বলতে সেই পানীয় চূর্ণকেও বোঝায় যা নারীরা পান করে। মদিনার জনৈক ব্যক্তি তার ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছিল: আল্লাহর কসম, আমরা আল-ফারাজদাক বলতে কেবল সেই পানীয় চূর্ণকেই জানি যা মহিলারা পান করে এবং উগরে দেয়। তিনি উত্তরে বললেন: সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাকে তোমাদের নারীদের উদরে স্থান দিয়েছেন।তাদের মধ্যে একজন হলেন আল-জিব্রিকান, যার নাম হুসাইন বিন বদর। তাকে আল-জিব্রিকান বলা হতো কারণ তার দাড়ি ছিল পাতলা। আরবরা পাতলা দাড়িওয়ালা ব্যক্তিকে 'আল-জিব্রিকান' বলে থাকে। কুতরুব বলেন: তার চেহারা সুন্দর ছিল, তাই তাকে চাঁদের সাথে তুলনা করা হতো; আর চাঁদকেও 'আল-জিব্রিকান' বলা হয়। কবি বলেছেন:মিম্বরসমূহ তার জন্য আলোকিত হয়ে ওঠে যখন তিনি সেগুলোতে আরোহণ করেন … যেন চাঁদের সহোদর।আল-খালিল বলেন: আল-জিব্রিকান হলো চৌদ্দ এবং পনেরো তারিখের রাত। আবু উবাইদাহ বলেন: আমি আল-জিব্রিকানের বংশধর এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করলাম: তার নাম হুসাইন হওয়া সত্ত্বেও কেন তাকে আল-জিব্রিকান বলা হতো? তিনি বললেন: তিনি একটি সবুজ উজ্জ্বল পোশাক ক্রয় করেছিলেন, তারপর নিজ সম্প্রদায়ের মজলিসে গেলেন। তারা তাকে দেখে বলল: তুমি উজ্জ্বল হয়ে উঠেছ। মানুষ তার কাপড়কে 'জাবরাক' করে যখন সে তাতে হলুদ বা লাল রঙ করে।তাদের মধ্যে একজন হলেন আল-তিরিম্মাহ, যার নাম হাকাম বিন হাকিম। দীর্ঘকায় হওয়ার কারণে তাকে আল-তিরিম্মাহ বলা হতো। আল-তিরিম্মাহ অর্থ দীর্ঘকায়। কবি বলেছেন:সুষম গ্রীবা সম্পন্ন, দীর্ঘকায় স্নায়ুবিশিষ্ট।আবার কেউ বলেন: তার অহংকারের কারণে তাকে আল-তিরিম্মাহ বলা হতো। আল-তিরিম্মাহ হলো সেই ব্যক্তি যে অহংকারে নিজের মাথা উঁচু করে রাখে।তাদের মধ্যে একজন হলেন আবু কাতিফাহ, যার নাম আমর বিন আল-ওয়ালিদ বিন উকবা। তাকে আবু কাতিফাহ বলা হতো কারণ তার শরীর ও মুখে প্রচুর পশম ছিল।তাদের মধ্যে একজন হলেন আল-আরকাত, তিনি হলেন হুমাইদ বিন মালিক। তার মুখে কিছু দাগ বা চিহ্ন থাকার কারণে তাকে আল-আরকাত বলা হতো।তাদের মধ্যে একজন হলেন আল-আফওয়াহ। তাকে এই নামে ডাকা হতো কারণ তার ঠোঁট ছিল পুরু এবং দাঁতগুলো ছিল সম্মুখমুখী ও প্রকট।তাদের মধ্যে একজন হলেন আল-নাজাশী। তার গাত্রবর্ণ অত্যন্ত কালো হওয়ার কারণে তাকে এই নামে ডাকা হতো।তাদের মধ্যে একজন হলেন জাহদার, যার নাম রাবিআ বিন দ্বাবিআ বিন কাইস। খাটো হওয়ার কারণে তাকে জাহদার বলা হতো।তাদের মধ্যে একজন হলেন জিয়াদ আল-আ'জাম। তাকে আল-আ'জাম বলা হতো কারণ তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ছিল পারস্যে।তাদের মধ্যে একজন হলেন সুদাইফ, যার নাম ইসমাইল বিন মাইমুন। তার গাত্রবর্ণের কারণে তাকে সুদাইফ বলা হতো, যা 'সাদাভ'-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুদাইফ হলো 'সাদাভ' শব্দের ক্ষুদ্রার্থক রূপ। 'সাদাভ' অর্থ অন্ধকার। এটি বিপরীতার্থক শব্দাবলির অন্তর্ভুক্ত, কারণ 'সাদাভ' শব্দটির প্রয়োগ আলো এবং অন্ধকার উভয়ের ক্ষেত্রেই হয়। ইবনে আল-আ'রাবী বলেন: 'সাদাভ' হলো এমন অন্ধকার যার সাথে আলো মিশ্রিত থাকে।তাদের মধ্যে একজন হলেন আবু নুওয়াস, যার নাম হাসান বিন হানি আল-হাকামী। তার উপনাম ছিল আবু আলী। তার মাথার একগুচ্ছ চুলের (ঝুটি) জন্য তাকে আবু নুওয়াস বলা হতো। নুওয়াস অর্থ হলো চুলের ঝুটি। এই নাম থেকেই 'যূ নুওয়াস' নামটিও এসেছে। আবার কেউ বলেন: তাকে যূ নুওয়াস বলা হতো তার কাঁধের ওপর দোদুল্যমান দুটি বিনুনির কারণে। 'নাওয়াস' অর্থ হলো ঝুলন্ত কোনো বস্তুর নড়াচড়া। মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া আল-মুকরি বলেন: আমি আবু নুওয়াসকে তার উপনামের উদ্দেশ্য সম্পর্কে এবং 'নুওয়াস' শব্দের নুন বর্ণে যবর হবে নাকি পেশ হবে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন: নুন বর্ণে পেশ হবে। আমার এই উপনাম হওয়ার কারণ ছিল— বসরায় আমার এক প্রতিবেশী তার বন্ধুদের দাওয়াত দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে একজন আসতে দেরি করছিল। তখন তিনি দরজার বাইরে বেরিয়ে কাউকে খুঁজছিলেন যাকে পাঠিয়ে তাকে দ্রুত ডেকে আনা যায়। তিনি আমাকে শিশুদের সাথে খেলতে দেখলেন, তখন আমার মাথার মাঝখানে একগুচ্ছ ঝুটি ছিল। তিনি আমাকে উচ্চস্বরে ডাকলেন: হে হাসান, অমুকের কাছে যাও এবং তাকে নিয়ে এসো। আমি দৌড়াতে লাগলাম এবং আমার ঝুটিটি নড়াচড়া করছিল। আমি যখন লোকটিকে নিয়ে এলাম, তখন তিনি বললেন: সাবাশ হে আবু নুওয়াস! এভাবেই এই উপনামটি ছড়িয়ে পড়ে।তাদের মধ্যে একজন হলেন হাম্মাদ আজরাদ। তিনি হলেন কুফাবাসী হাম্মাদ বিন আমর, বনু আমিরের আযাদকৃত দাস। তাকে আজরাদ বলা হতো কারণ তিনি সুঠাম দেহ ও অত্যন্ত পেশীবহুল ছিলেন; আর যার বৈশিষ্ট্য এমন হয় তাকে আজরাদ বলা হয়। আজরাদ অর্থ স্থূল ও শক্তিশালী।তাদের মধ্যে একজন হলেন আবু আল-আতাহিয়্যাহ। আবু সুয়াইদ আব্দুল কাবি বলেন: তাকে আবু আল-আতাহিয়্যাহ বলা হতো, যদিও তার উপনাম ছিল আবু ইসহাক এবং নাম ছিল ইসমাইল বিন সুয়াইদ, আর তার বাড়ি ছিল কুফায়। আবু আল-আতাহিয়্যাহ মূলত একটি উপাধি। আরবরা বলে: ব্যক্তি 'আতাহা' হয়েছে, অর্থাৎ সে পাগলামি ছাড়াই বিভ্রান্ত বা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়েছে। আরবরা 'আতাহিয়্যাহ' শব্দটিকে আলিফ-লাম ছাড়াই ব্যবহার করে। আতাহিয়্যাহ শব্দের অর্থ চতুরতা থেকেও হতে পারে। ইবনে আল-আ'রাবী বলেন: পুরুষদের 'আতাহিয়্যাহ' হলো তাদের পথভ্রষ্টতা।তাদের মধ্যে একজন হলেন আল-উস, যার নাম যায়েদ বিন মারুফ। 'উস' হলো 'উসসাহ'-এর বহুবচন, যার অর্থ ঘুণপোকা। তাকে এই নামে ডাকা হতো কারণ তিনি ছিলেন অতিভোজী। আর ঘুণপোকা পশম, কাঠ ও অন্যান্য জিনিস খেয়ে ফেলে।তাদের মধ্যে একজন হলেন উরওয়াহ আল-সা'আলিক। তিনি হলেন উরওয়াহ বিন আল-ওয়ারদ বিন যায়েদ বিন আব্দুল্লাহ। তাকে এই নামে ডাকার কারণ হলো, তিনি আরবের দরিদ্রতম ব্যক্তিদের নিজের সাথে সমবেত করতেন। যারা তার সাথে যুদ্ধে যেতে পারত তারা যেত, আর যারা পারত না তিনি তাদের জন্য অর্জিত সম্পদে একটি অংশ নির্দিষ্ট করে দিতেন এবং তাদের বসিয়ে রাখতেন। 'সা'আলিক' অর্থ হলো দরিদ্র জনগোষ্ঠী।তাদের মধ্যে একজন হলেন আল-মুকান্না', যার নাম মুহাম্মাদ বিন উমাইর। তাকে আল-মুকান্না' বলা হতো কারণ তিনি ছিলেন তার সময়ের সবচেয়ে সুন্দর ও সুঠাম দেহের অধিকারী মানুষ। তিনি যখনই নিজের মুখমণ্ডল অনাবৃত করতেন, তখনই জিনেরা তাকে কুদৃষ্টি বা আঘাত করত; তাই তিনি সারা জীবন ঘোমটা বা পর্দা দিয়ে নিজের মুখ ঢেকে রাখতেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুযাকারাতু ফী আলকাবিশ শুআরা
(পৃষ্ঠা: ৫)
ومنهم علقمة الفحل. وهو علقمة بن عبدة بن ناشرة بن قيس بن عبيد. وإنما سمي الفحل لأنه كان تنازع هو وامرؤ القيس في الشعر، فقال كل منهما لصا حبه أنا أشعر منك. فقال علقمة: قد حكمت بيني وبينك إمرأتك أم جندب، فقال: قد رضيت. فتحاكما إليها، فقالت: ليقل كل واحد منكما شعراً يصف فيه الخيل، على قافية واحدة. فقال امرؤ القيس:خليليَّ مرابي على أمِ جندبِ … لنقضيَ حاجاتِ الفؤادِ المعذبِفقال علقمة:ذهبت من الهجرانِ في غير مذهبِ … ولم يكَ حقاً طولَ هذا التجنبِوأنشد كل واحد قصيدته. فقالت لامرئ القيس: علقمة أشعر منك. قال: وكيف ذاك؟ قالت: لأنك قلت:فللسوطِ ألهوبٌ، وللساقِِِ درةٌ … وللزجرِ فيه وقعُ أحرجَ مذهبِفجهدت في شكه بسوطك وزجرك، ومريته فأتعبته. وقال علقمة:فردَّ على آثارهنَّ بحاصبٍ … وغيبة شؤبوبٍ، من الشدَّ ملهبِفأدركهنَّ ثانياً من عنانهِ … يمرُّ كمرّ الرائحِ المتحلبِفأدرك فرسه ثانياً من عنانه، لم يضربه بسوط، ولم يزجره بساقه، ولم يتعبه. فقال لها امرؤ القيس: ما علقمة بأشعر مني، ولكنك له عاشقة. وطلقها، وخلف عليها علقمة، فكسمي. وله يقول الفرزدق:والفحلُ علقمةُ الذي كانت له … حلل الملوك كلامه تتنخلُوأما الجاحظ فأنكر ذلك، وقال: إنما سمي الفحل لأن بعض عياهلة اليمن خصى علقمة بن شبل، فسمي علقمة الخصي، فلما وقع على هذا اسم الخصي، قيل لذاك: الفحل، ليفرق بينهما.ومنهم البرك. وهو عوف بن مالك، وإنما سمي البرك في حرب، لأنه صعد ثنية من جبل، ومعه أمه على جمل، فلما وصل الثنية ضرب عرقوب فرسه البرك، وقال: أنا البرك أبرك حيث أدرك.ومنهم الفند. واسمه شهل بن شيبان بن ربيعة، من بكر بن وائل. وكان شيخاً كبيراً، يعد بألف. فقدم في بكر بن وائل في سبعين رجلاً. فلما رأتهم بكر بن وائل استقلوهم، وقالوا: ويك تغير بهذا الجمع القليل أيها الشيخ؟ فقال: أما ترضون أن أكون لكم فندا؟ قالا: بلى. والفند: الحجر العظيم، أو القطعة الضخمة من الجبل. سمي بذلك.ومنهم زيد الخيل. وهو زيد بن مهلهل بن زيد. وإنما سمي بذلك لكثرة طراده للخيل، ومغاورته القبائل والأحياء. وسماه رسول الله صلى الله عليه وسلم: زيد الخير.ومنهم عنترة الفوارس. وهو عنترة بن شداد. وإنما سمي عنترة الفوارس لكثرة ملاقاته فرسان العرب، وإغارته على أحيائها. وكان فارساً.ومنهم سليك المقانب. وهو سليك بن عمرو. وإنما سمي المقانب لأنه كان صاحب غارات، وأنشد:وإذا تواكلتِ المقانبُ لم يزلْ … بالقفرِ منا مقنبٌ معلومُوكان هذا أيضاً يسمى رئبالاً. والرئبال: اسم للسبع.ومنهم الفاتك. وهو عبد الله بن الحسن. وإنما سمي بالفاتك لفتكه في الحرب.ومنهم المذلق. وهو أوس بن عباد بن عبدود. وإنما سمي المذلق لأن سنانه كان لا يطعن به شيئً إلا أنفذه. فسمي بذلك. وفي ابنه يقول المذلق:متى ألقَ عبادَ بنَ أوسٍ أقلْ لهُ … عليكَ سلامُ اللهِ يا ابنَ المذلقومنهم المسيب. واسمه زهير، من ربيعة بن نزار. وإنما سمي المسيب حين أوعد عامر بن ذهل، فقالت له بنو ضبيعة: قد سيبناك. فقال فيه بعض شعرائهم:إذا سركم ألا تؤوبَ لقاحكمْ … بطاناً، فقولوا لمسيب يسرحِومنهم فقيد ثقيف، واسمه عمرو بن عبد الله. وكان سببه أنه عشق امرأة أخيه سفيان، وكتم أمره، ولم يعرف الأطباء داءه. فقال الحارث بن كلدة الثقفي، وكان طبيب العرب: هو عاشق. فدعى بشراب، فصبه في فيه حتى سكر، فأنشا يقول:أهيجُ وأهيجُ، و … حزيناًً ما أكوننهْألما بي على الأبيا … تِ بالخيفِ أزرهنهْغزالاً ما رأيتُ اليو … مَ في دورِ بني كنهْغزالاً أحور العين … وفي منطقهِ غنهْفقال الحارث: قد عرض ولم يبن. فزاده من الشراب، وعرض عليه نساء العرب، فلما مرت به امرأة أخيه أنشأ يقول:أهلَ ودي ألا اسلموا … وقفوا كمي تكلمواأخذَ الحيُّ حظهمْْْ … من فؤادي، وأنعموافهمُ في كثيرةٍ … وفؤادي متيمُوأخو الحبِّ جسمهُ … أبدَ الدهر مسقمُطلعتْ مزنةٌ من ال … بحر ريا تحمحمُ
তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আলকামা আল-ফাহল। তিনি হলেন আলকামা ইবনে আবদাহ ইবনে নাশিরা ইবনে কায়েস ইবনে উবাইদ। তাকে 'ফাহল' (পরাক্রমশালী পুরুষ) উপাধি দেওয়ার কারণ হলো, কবিতা নিয়ে তার ও ইমরুল কায়েসের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হয়েছিল। তাদের প্রত্যেকেই অপরজনকে বলছিলেন, "আমি তোমার চেয়ে বড় কবি।" তখন আলকামা বললেন, "তোমার স্ত্রী উম্মু জুনদাবকে আমাদের মধ্যে বিচারক মানছি।" ইমরুল কায়েস বললেন, "আমি এতে রাজি।" তারা উভয়ে তার কাছে বিচারের জন্য গেলেন। তিনি বললেন, "তোমাদের প্রত্যেকে একই ছন্দে ও অন্ত্যমিলে ঘোড়ার গুণকীর্তন করে একটি করে কবিতা বলো।" তখন ইমরুল কায়েস বললেন:হে আমার দুই বন্ধু! আমাকে উম্মু জুনদাবের পাশ দিয়ে নিয়ে চলো... যাতে ব্যথিত হৃদয়ের প্রয়োজনগুলো পূরণ করতে পারি।তখন আলকামা বললেন:বিচ্ছেদের কারণে তুমি লক্ষ্যহীন পথে চলে গেছ... অথচ এই দীর্ঘ দূরত্ব বজায় রাখা উচিত ছিল না।তাদের প্রত্যেকে নিজ নিজ কাসিদা আবৃত্তি করলেন। এরপর তিনি (উম্মু জুনদাব) ইমরুল কায়েসকে বললেন, "আলকামা তোমার চেয়ে বড় কবি।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন, "তা কীভাবে?" তিনি বললেন, "কারণ তুমি তোমার কবিতায় বলেছ:চাবুকের আঘাতে আগুনের তেজ সৃষ্টি হয়, আর পায়ের নলার আঘাতে সে দ্রুত ছোটে... আর ধমক দিলে সে অত্যন্ত সংকীর্ণ পথেও ধাবিত হয়।তুমি তোমার চাবুক ও ধমক দিয়ে তাকে ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছ এবং তাকে জোর করে খাটিয়ে ক্লান্ত করে ফেলেছ। অন্যদিকে আলকামা বলেছেন:অতঃপর সে তাদের পদচিহ্নের অনুসরণ করল কঙ্করাকীর্ণ পথে... আগুনের শিখার মতো ক্ষিপ্রতায় সে অদৃশ্য হয়ে গেল।সে তার ঘোড়াকে বল্গার টানেই আয়ত্তে এনেছিল... সেটি বৃষ্টির মেঘের মতো দ্রুতবেগে বয়ে যাচ্ছিল।অর্থাৎ সে তার ঘোড়াকে বল্গার টানেই নিয়ন্ত্রণে এনেছে, তাকে চাবুক দিয়ে আঘাত করতে হয়নি, পা দিয়েও খোঁচাতে হয়নি এবং তাকে সে ক্লান্তও করেনি।" তখন ইমরুল কায়েস তাকে বললেন, "আলকামা আমার চেয়ে বড় কবি নয়, বরং তুমি তার প্রেমে পড়েছ।" এরপর তিনি তাকে তালাক দিয়ে দেন এবং আলকামা তাকে বিয়ে করেন; একারণেই তাকে 'ফাহল' বলা হয়। তার সম্পর্কে আল-ফারাযদাক বলেন:আর আলকামা হলেন সেই 'ফাহল', যার জন্য রাজকীয় পোশাক নির্ধারিত ছিল এবং যার কথাগুলো ছিল অত্যন্ত সুনিপুণ ও মার্জিত।তবে আল-জাহিজ এই মতটি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেছেন, তাকে 'ফাহল' (পুরুষ) বলা হতো কারণ ইয়েমেনের কোনো এক গোত্রপতি আলকামা ইবনে শিবলকে নপুংসক করে দিয়েছিল, যার ফলে তার নাম হয়ে গিয়েছিল 'আলকামা আল-খাসি' (নপুংসক আলকামা)। যখন একজনের নাম 'খাসি' হলো, তখন অন্যজনকে 'ফাহল' বলা শুরু হলো যাতে তাদের মধ্যে পার্থক্য করা যায়।তাদের মধ্যে আরেকজন হলেন আল-বারাক। তিনি হলেন আউফ ইবনে মালিক। এক যুদ্ধের কারণে তাকে 'আল-বারাক' বলা হতো; কারণ তিনি একটি পাহাড়ের গিরিপথে আরোহণ করেছিলেন এবং তার মা একটি উটের পিঠে তার সাথে ছিলেন। যখন তিনি গিরিপথে পৌঁছালেন, তখন তিনি তার ঘোড়া 'বারাক'-এর পায়ের শিরা কেটে দিলেন এবং বললেন: "আমিই আল-বারাক, যেখানে পৌঁছাব সেখানেই জেঁকে বসব।"তাদের মধ্যে আরেকজন হলেন আল-ফান্দ। তার নাম শাহল ইবনে শায়বান ইবনে রাবিয়া, তিনি বকর ইবনে ওয়াইল গোত্রের লোক ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন অতি বৃদ্ধ মানুষ, যাকে এক হাজার যোদ্ধার সমান গণ্য করা হতো। তিনি সত্তর জন লোক নিয়ে বকর ইবনে ওয়াইল গোত্রে উপস্থিত হলেন। যখন বকর ইবনে ওয়াইল গোত্রের লোকেরা তাদের দেখল, তারা তাদের তুচ্ছজ্ঞান করল এবং বলল, "ধিক তোমাকে! এই সামান্য কজন লোক নিয়ে আপনি কী পরিবর্তন করবেন, হে বৃদ্ধ?" তিনি বললেন, "তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে আমি তোমাদের জন্য 'ফান্দ' (বিশাল পাহাড়ের খণ্ড) হয়ে থাকব?" তারা বলল, "হ্যাঁ।" 'ফান্দ' অর্থ হলো বিশাল পাথর বা পাহাড়ের বড় কোনো অংশ। একারণেই তার এই নামকরণ করা হয়েছে।তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন যায়িদ আল-খাইল। তিনি হলেন যায়িদ ইবনে মুহালহিল ইবনে যায়িদ। ঘোড়া চালনায় অত্যন্ত পারদর্শী হওয়ার কারণে এবং বিভিন্ন গোত্র ও জনপদে ঘনঘন আক্রমণ করার কারণে তাকে এই নামে ডাকা হতো। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার নাম পরিবর্তন করে রেখেছিলেন: যায়িদ আল-খায়র (কল্যাণের যায়িদ)।তাদের মধ্যে আরেকজন হলেন আনতারা আল-ফাওয়ারিস। তিনি হলেন আনতারা ইবনে শাদ্দাদ। আরব বীরদের সাথে অধিক মুকাবিলা করা এবং বিভিন্ন জনপদে ঘনঘন আক্রমণ করার কারণে তাকে 'আনতারা আল-ফাওয়ারিস' (বীরদের আনতারা) বলা হতো। তিনি ছিলেন একজন অপ্রতিদ্বন্দ্বী বীর।তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন সুলাইক আল-মাকানিব। তিনি হলেন সুলাইক ইবনে আমর। তাকে 'মাকানিব' (অশ্বারোহী দল) বলা হতো কারণ তিনি সর্বদা আক্রমণকারী দলের নেতৃত্ব দিতেন। তিনি কবিতা আবৃত্তি করেছেন:যখন অশ্বারোহী দলগুলো একে অপরের ওপর দায়িত্ব চাপিয়ে পলায়ন করে... তখনো নির্জন মরুপ্রান্তরে আমাদের সুপরিচিত দলটি অবিচল থাকে।তাকে 'রিবাল' নামেও ডাকা হতো। 'রিবাল' হলো হিংস্র সিংহের একটি নাম।তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আল-ফাতিক। তিনি হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হাসান। যুদ্ধে তার চরম দুঃসাহসিকতা ও ক্ষিপ্রতার কারণে তাকে 'আল-ফাতিক' (দুঃসাহসী আক্রমণকারী) বলা হতো।তাদের মধ্যে আরেকজন হলেন আল-মুজাল্লাক। তিনি হলেন আউস ইবনে আব্বাদ ইবনে আবদুউদ। তাকে 'আল-মুজাল্লাক' বলা হতো কারণ তার বল্লমের ফলায় যা-ই বিদ্ধ হতো, তা-ই সে এফোঁড়-ওফোঁড় করে ফেলত। একারণেই তার এই নাম। তার পুত্র সম্পর্কে আল-মুজাল্লাক বলেন:যখনই আমি আব্বাদ ইবনে আউসের দেখা পাই, আমি তাকে বলি... তোমার ওপর আল্লাহর শান্তি বর্ষিত হোক হে মুজাল্লাকের পুত্র!তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন আল-মুসাইয়্যাব। তার নাম জুহাইর, তিনি রাবিয়া ইবনে নিযার গোত্রের। তার নাম 'আল-মুসাইয়্যাব' (পরিত্যক্ত/মুক্ত) হওয়ার কারণ হলো, তিনি যখন আমির ইবনে জুহালকে হুমকি দিলেন, তখন বানু দাবিয়া গোত্র তাকে বলেছিল, "আমরা তোমাকে মুক্ত করে দিয়েছি (আমাদের সম্পর্ক ছিন্ন করেছি)।" তার সম্পর্কে তাদের জনৈক কবি বলেছিলেন:যদি তোমাদের দুগ্ধবতী উটগুলো পূর্ণ ওলান নিয়ে ফিরে না আসাতে তোমরা আনন্দিত হও... তবে বলো যে, মুসাইয়্যাব যেন তাদের চারণভূমিতে নিয়ে যায়।তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন সাকিফ গোত্রের নিখোঁজ ব্যক্তি, যার নাম আমর ইবনে আব্দুল্লাহ। এর কারণ ছিল এই যে, তিনি তার ভাই সুফিয়ানের স্ত্রীর প্রেমে পড়েছিলেন এবং বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন। চিকিৎসকরা তার রোগের কারণ বুঝতে পারছিলেন না। তখন আরবদের চিকিৎসক আল-হারিস ইবনে কালাদাহ আল-সাকাফি বললেন, "সে প্রেমে পড়েছে।" এরপর তিনি পানীয় আনালেন এবং তার মুখে ঢেলে দিলেন যতক্ষণ না সে মাতাল হলো। তখন সে কবিতা বলতে লাগল:আমি বিচলিত হই, আমি আবেগপ্রবণ হই... যখন আমি অত্যন্ত বিষণ্ণ থাকি।আমাকে খায়ফ অঞ্চলের তাঁবুগুলোর কাছে নিয়ে চলো... যাতে আমি সেখানে দেখা করতে পারি।সেই হরিণশাবকটির সাথে, যাকে আজ আমি বনু কান্নাহর ঘরে দেখিনি...সেই ডাগর চোখের হরিণটি... যার কণ্ঠে রয়েছে এক মধুর গুনগুন ধ্বনি।তখন আল-হারিস বললেন, "সে ইঙ্গিত দিয়েছে কিন্তু স্পষ্ট করেনি।" তিনি তাকে আরও পানীয় পান করালেন এবং তার সামনে আরব নারীদের উপস্থিত করলেন। যখন তার ভাইয়ের স্ত্রী তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি কবিতা আবৃত্তি করলেন:হে আমার প্রিয়জন! তোমরা শান্তিতে থাকো... থামো, আমার সাথে কথা বলো।এই গোত্রের লোকেরা আমার হৃদয়ের সবটুকু কেড়ে নিয়েছে... এবং তারা সুখে আছে।তারা বিশাল জনপদে সুখে বিচরণ করছে... আর আমার হৃদয় বিরহে কাতর।প্রেমিক ব্যক্তির শরীর... চিরকালই রুগ্ন থাকে।সমুদ্র থেকে এক মেঘমালা উদিত হলো... যা সিক্ত ও গর্জনরত।
(খণ্ড: ১)
আল-মুযাকারাতু ফী আলকাবিশ শুআরা
(পৃষ্ঠা: ৬)
هي ما كنتي، وأز … عمُ أني لها حمُفلما أفاق من سكره عرف ما قاله، فاستحيا من أخيه، فذهب على وجهه، فلا يدرى أين توجه، فسمي فقيد ثقيف.ومنهم يزيد الغواني. واسمه يزيد بن سويد بن حطان. وإنما سمي بذلك لأنه كان صاحب غوان يتحدث إليهن، فقال:فلا تدعوني، بعدها، إنْ دعوتنى … يزيدَ الغواني، وادعني للفوارسِومنهم المجنونان، مجنون بني عامر، وهو قيس بن معاذ، ومجنون بني جعدة، وهو مهدي بن الملوح. سميا بذلك لإفراط جنونهما. قال المبرد: حدثني عبد الصمد بن المعذل، قال: سألت الأصمعي عن المجنون المسمى قيس بن معاذ، فقال: لم يكن مجنوناً، وإنما كانت به لوثة كلوثة أبي حية. واللوثة: الاضطراب، والاسترخاء والانتكاث. والمجنون إنما قيل له مجنون لأنه مستور القعل. ومنه سمي الجن لاستتارهم. وكذا الجنين.ومنهم قيس الرقيات. وهو عبيد الله بن قيس بن شريح بن مالك بن ربيعة. ورقية بنت الحسين عليه السلام، وكان يمدحها، ورقية بنت عبد الله.ومنهم تأبط شراً، لأنه احتطب ذات ليلة، ثم انصرف بحطبه، فإذا فيه حية، فقال: إني كنت أتأبط شراً. وقال قوم: إنه قتل الغول وتابطها. ولا حديث طويل يأباه العقل.ومنهم الحسام. وهو حسان بن ثابت بن المنذر. وإنما سمي الحسام لأنه كان يبلغ بلسانه مبلغ الحسام. وقال مزرد بن ضرار:ولستَ كحسانِ الحسامِ بنِ ثابتٍ … ولستُ كشماخٍ، ولا كالمخبلِومنهم اللعين المنقري. وإنما سمي اللعين لأنه جنى جناية، فتبرأ منه قومه، وطردوه وباعدوه، لكيلا يؤخذوا بجريرته. وعند العرب كل مطرود مباعد فهو لعين. وسميت اللعنة من البعد. قال الله جلت قدرته: " يلعنهم الله ": أي يباعدهم.ومنهم مسكين الدارمي. واسمه ربيعة بن عامر وإنما سمي مسكيناً لأنه احتاج، فسأل أهله وعشيرته، فأعطوه وسموه مسكيناً. ولذلك قال:وسميتُ مسكيناً وكانتْ لجاجةً … وإني لمسكينٌ إلى اللهِ، راغبُومنهم القارظان، قارظ عنزة، وقارظ يشكر، ذهبا يقرظان القرظ، ففقدا. فضرب بهما المثل. قال الشاعر:وحتى يؤوبَ القارظانِ كلاهما … وينشرَ في الموتى كليبُ بنُ وائلِومنهم الراعي. واسمه عبيد بن الحمير بن معاوية وإنما سمي الراعي لكثرة وصفه رعي الإبل ولغتها في شعره. وقال:كأنَّ مكاناً لكلكتْ ضرعها بهِ … مراغةُ ضبعانٍ أسنَّ وأمرعالكلكت: حركت.ومنهم الجفول. لأن النبي صلى الله عليه وسلم بعثه إلى قومه يحمل لهم صدقات من الإبل، فجفلت الإبل منه. فسمي بذلك.ومنهم القتال. واسمه عبد الله بن المضرحي. وإنما سمي بالقتال لكثرة قتله للناس. فقيل له في ذلك، فقال: والله ما أقتل أحداً ظلماً، إنما يجيئني الرجل فيقول: إن فلاناً ظلمني، وقد جعلت لك على قتله كذا وكذا، فاقتله.ومنهم يسار الكواعب، وكان عبداً أسود. وإنما سمي بذلك لأنه لم تكلمه امرأة إلا ظنها قد عشقته. وكان النساء إذا رأينه يضحكن عليه. حتى نظرت إليه امرأة مولاه، وهي منهن، فضحكت عليه، فظن أنها خضعت له. فقال لصاحب له: قد عشقتني امرأة مولاي. فقال له: يا يسار، إشرب من ألبان هذه العشار، وارع في هذه الأرض القفار، وإياك وبنات الأحرار، فإنهن كحد الشفار. فلم ينتبه. فراجع امرأة مولاه، فأعدت له مدية، وقالت: أحضر بيتي هذه الليلة. فلما جاء إليها أخذت المدية وقطعت مذاكيره، وضربت بها وجهه، وجدعت أنفه. فخرج هارباً في جوف الليل، فلما رآه صاحبه قال لأصحابه: قد جاء يسار الكواعب. فلما نظر ما به قال له: ألم أنهك؟ فقال للذي كان نهاه:أمرتُ أبا عوفٍ فلحَّ، كأنما … برى بصريحِ النصحِ لسعَ العقاربِفقلتُ له: لا ترددِ النصحَ، إنني … أخافُ بأنْ تردى أمامَ الكتائبِفقدْ عافَ محضَ النصحِ قبلك جاهلٌ … فأصبحَ مجدوعاً يسارُ الكواعبِفجاءَ بما قد كنتُ أخشى، وربما … أبى ذو النهى والرأيِ نصحَ الأقاربِفصل من لقب من الشعراء بفعل فعل غلب على اسمهمنهم عدل الأصرة. واسمه امرؤ القيس بن الحمام. وكان قديماً من الشعراء. وهو أول من بكى الديار. وذاك قول امرئ القيس:يا صاحبيَّ قفا النواعجَ ساعةُ … نبكي الديارَ كما بكى ابنُ حمامِ
هي ما كنتي، وأز … عمُ أني لها حمُঅতঃপর তিনি যখন নেশা থেকে সচেতন হলেন, তখন যা বলেছিলেন তা বুঝতে পারলেন এবং তাঁর ভাইয়ের নিকট লজ্জিত হলেন। ফলে তিনি উদ্দেশ্যহীনভাবে বেরিয়ে গেলেন এবং কোথায় গেলেন তা আর জানা যায়নি। তাই তাঁর নাম হলো 'ফাকিদে সাকিফ' (সাকিফ গোত্রের নিখোঁজ ব্যক্তি)।তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইয়াজিদ আল-গাওয়ানি। তাঁর নাম ইয়াজিদ ইবনে সুয়াইদ ইবনে হিত্তান। তাঁকে এই নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ তিনি সুন্দরী রমণীদের সঙ্গী হতেন এবং তাদের সাথে কথা বলতেন। তিনি বলেছিলেন:অতঃপর তুমি আমাকে ডাকো না, এরপর যদি আমাকে ডাকতেই হয় … ইয়াজিদ আল-গাওয়ানি বলে ডাকো, আর আমাকে অশ্বারোহীদের আহ্বানে ডাকো।তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দুই মজনুন (পাগল): বনু আমিরের মজনুন, তিনি হলেন কাইস ইবনে মুয়াজ; এবং বনু জা’দার মজনুন, তিনি হলেন মাহদি ইবনে আল-মুলাউওয়াহ। তাঁদের উন্মাদনার আতিশয্যের কারণে তাঁদের এই নাম দেওয়া হয়েছে। মুবাররাদ বলেন: আবদুস সামাদ ইবনে আল-মুয়ায্যাল আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আসমায়িকে কাইস ইবনে মুয়াজ নামক মজনুন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি বললেন: সে পাগল ছিল না, বরং তার মধ্যে এক ধরনের বিকার বা বিশৃঙ্খলা ছিল যেমনটি আবু হাইয়ার মধ্যে ছিল। 'লাউসাহ' (বিকার) হলো: অস্থিরতা, শিথিলতা এবং অবনতি। মজনুনকে মজনুন বলা হয় কারণ তার বুদ্ধি আবৃত বা গোপন। এখান থেকেই 'জিন' শব্দের নামকরণ করা হয়েছে তাদের অদৃশ্য থাকার কারণে। অনুরূপভাবে 'জানিন' (ভ্রূণ)-এর নামকরণও করা হয়েছে।তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কাইস আল-রুকাইয়্যাত। তিনি হলেন উবায়দুল্লাহ ইবনে কাইস ইবনে শুরাইহ ইবনে মালিক ইবনে রাবিয়াহ। রুকাইয়্যাহ বিনতে আল-হুসাইন (আলাইহিস সালাম), তিনি যাঁর প্রশংসা করতেন, এবং রুকাইয়্যাহ বিনতে আব্দুল্লাহ (এর কারণে তাঁর এই নাম হয়েছে)।তাঁদের মধ্যে রয়েছেন তাআববাতা শাররান (বগলে অনিষ্ট বহনকারী)। কারণ তিনি এক রাতে কাঠ সংগ্রহ করেছিলেন, তারপর সেই কাঠ নিয়ে ফিরলেন, দেখা গেল তার মধ্যে একটি সাপ ছিল। তখন তিনি বলেছিলেন: "আমি বগলে অনিষ্ট নিয়েছিলাম"। একদল লোক বলেছেন: তিনি এক ঘুলকে (দানব) হত্যা করে বগলে নিয়েছিলেন। তবে এটি একটি দীর্ঘ কিচ্ছা যা বুদ্ধি গ্রহণ করে না।তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আল-হুসাম। তিনি হলেন হাসসান ইবনে সাবিত ইবনে আল-মুনজির। তাঁর নাম হুসাম (তলোয়ার) রাখা হয়েছিল কারণ তাঁর জবান তলোয়ারের মতো প্রভাব ফেলত। মুজাররাদ ইবনে জিরার বলেছিলেন:তুমি হাসসান আল-হুসাম ইবনে সাবিতের মতো নও … আর আমি শাম্মাখ বা মুখাব্বালের মতো নই।তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আল-লায়িন আল-মিনকারি। তাঁর নাম লায়িন (অভিশপ্ত/বিতাড়িত) রাখার কারণ হলো তিনি একটি অপরাধ করেছিলেন, ফলে তাঁর কওম তাঁর থেকে দায়মুক্ত হয়েছিল এবং তাঁকে তাড়িয়ে দিয়েছিল ও দূরে সরিয়ে দিয়েছিল, যাতে তাঁর অপরাধের দায় তাদের ওপর না আসে। আরবদের নিকট প্রত্যেক বিতাড়িত ও দূরবর্তী ব্যক্তিই হলো ‘লায়িন’। 'লানত' শব্দটি দূরত্ব থেকেই উৎপত্তি হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেছেন: "আল্লাহ তাদের অভিশাপ দেন", অর্থাৎ তিনি তাদের তাঁর রহমত থেকে দূরে সরিয়ে দেন।তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মিসকিন আদ-দারিমি। তাঁর নাম রাবিয়াহ ইবনে আমির। তাঁর নাম মিসকিন রাখার কারণ হলো তিনি অভাবী হয়ে পড়েছিলেন, তাই তিনি তাঁর পরিবার ও বংশের নিকট সাহায্য চেয়েছিলেন। তারা তাঁকে সাহায্য করেছিল এবং তাঁর নাম দিয়েছিল মিসকিন। সেই কারণেই তিনি বলেছিলেন:আমার নাম রাখা হয়েছে মিসকিন এবং এটি ছিল একটি বিবাদ মাত্র … অথচ আমি আল্লাহর কাছে একজন মিসকিন ও অনুরাগী।তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দুই কারিজ: আনজার কারিজ এবং ইয়াশকুরের কারিজ। তাঁরা বাবলা গাছের ফল (কারায) সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন এবং নিখোঁজ হয়েছিলেন। তাঁদের নিয়ে প্রবাদ বাক্য প্রচলিত হয়েছে। কবি বলেছেন:যতক্ষণ না দুই কারিজ উভয়ে ফিরে আসে … এবং মৃতদের মধ্য থেকে কুলাইব ইবনে ওয়াইল পুনরুত্থিত হয় (ততক্ষণ এটি হবে না)।তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আর-রা’য়ি। তাঁর নাম উবাইদ ইবনে আল-হুমাইর ইবনে মুয়াবিয়া। তাঁর নাম রা’য়ি (রাখাল) রাখা হয়েছে তাঁর কবিতায় উটের পালের এবং তাদের ভাষার অধিক বর্ণনার কারণে। তিনি বলেছিলেন:যেন এমন এক জায়গা যেখানে তার ওলানগুলো নড়াচড়া করছিল … নেকড়ের গড়াগড়ি দেওয়ার জায়গার মতো যা বৃদ্ধ ও উর্বর হয়েছে।'লাকলাকাত' অর্থ: নড়াচড়া করা।তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আল-জাফুল। কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে তাঁর কওমের নিকট উটের সদকা আনার জন্য পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু উটগুলো তাঁর থেকে ভয়ে পালিয়ে গিয়েছিল। তাই তাঁর এই নামকরণ করা হয়েছে।তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আল-কাত্তাল। তাঁর নাম আব্দুল্লাহ ইবনে আল-মুদরাহহি। অধিক মানুষ হত্যার কারণে তাঁর নাম কাত্তাল (ঘাতক) রাখা হয়েছিল। এ বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলতেন: আল্লাহর কসম, আমি কাউকে জুলুম করে হত্যা করি না। বরং কোনো ব্যক্তি আমার কাছে এসে বলে: অমুক আমার ওপর জুলুম করেছে এবং আমি তাকে হত্যার বিনিময়ে তোমাকে এই এই দেব, তখন আমি তাকে হত্যা করি।তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইয়াসার আল-কাওয়াইব, তিনি ছিলেন একজন কৃষ্ণকায় গোলাম। তাঁর নাম এমন হওয়ার কারণ হলো, কোনো নারী তাঁর সাথে কথা বললেই তিনি মনে করতেন সে তাঁর প্রেমে পড়েছে। মহিলারা তাঁকে দেখলে হাসাহাসি করত। এমনকি তাঁর মনিবের স্ত্রীও তাঁদের মধ্যে ছিলেন, তিনি তাঁকে দেখে হাসলে তিনি মনে করলেন সে তাঁর প্রতি আসক্ত হয়েছে। তিনি তাঁর এক সঙ্গীকে বললেন: আমার মনিবের স্ত্রী আমার প্রেমে পড়েছে। সাথী তাকে বলল: হে ইয়াসার, তুমি এই উটনির দুধ পান করো এবং এই জনমানবহীন ভূমিতে চড়াও, আর স্বাধীন নারীদের থেকে দূরে থাকো, কারণ তারা তলোয়ারের ধারের মতো। কিন্তু তিনি সতর্ক হননি। তিনি তাঁর মনিবের স্ত্রীর কাছে বারবার ধরণা দিতে লাগলেন। সেই স্ত্রী তাঁর জন্য একটি ছুরি প্রস্তুত করল এবং বলল: আজ রাতে আমার ঘরে এসো। তিনি যখন এলেন, স্ত্রী ছুরি নিয়ে তাঁর লিঙ্গ কেটে ফেলল, তা দিয়ে তাঁর মুখে আঘাত করল এবং তাঁর নাক কেটে দিল। তিনি রাতের অন্ধকারে পালিয়ে বের হলেন। যখন তাঁর সাথী তাঁকে দেখল, সে তার সঙ্গীদের বলল: ইয়াসার আল-কাওয়াইব এসেছে। যখন সে তার অবস্থা দেখল, তখন বলল: আমি কি তোমাকে নিষেধ করিনি? তখন তিনি সেই ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বললেন যে তাঁকে নিষেধ করেছিল:আমি আবু আউফকে আদেশ করেছিলাম কিন্তু সে অনড় ছিল, যেন সে … স্পষ্ট উপদেশের মাধ্যমে বিচ্ছুর দংশন উন্মোচিত করছিল।আমি তাকে বলেছিলাম: তোমার উপদেশ ফিরিয়ে নিও না, নিশ্চয়ই আমি … ভয় পাচ্ছি যে তুমি বাহিনীর সামনে ধ্বংস হয়ে যাবে।তোমার আগে অনেক মূর্খই বিশুদ্ধ উপদেশকে অবজ্ঞা করেছে … ফলে ইয়াসার আল-কাওয়াইব আজ নাক-কাটা অবস্থায় উপনীত হয়েছে।সে তা নিয়ে এসেছে যা আমি ভয় পাচ্ছিলাম, আর কখনও কখনও … প্রজ্ঞা ও বিবেচনাবোধ সম্পন্ন ব্যক্তিরা নিকটাত্মীয়দের উপদেশ প্রত্যাখ্যান করে।পরিচ্ছেদ: যেসব কবিদের এমন কোনো কর্মের মাধ্যমে উপাধি দেওয়া হয়েছে যা তাঁদের নামের ওপর প্রাধান্য পেয়েছেতাঁদের মধ্যে রয়েছেন আদলুল আসিরাহ। তাঁর নাম ইমরুল কাইস ইবনে আল-হাম্মান। তিনি প্রাচীন কবিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি ধ্বংসাবশেষ দেখে ক্রন্দন করেছিলেন। ইমরুল কাইস সে সম্পর্কে বলেছিলেন:হে আমার দুই বন্ধু, কিছুক্ষণ আমার দ্রুতগামী উটগুলো থামাও … আমরা ধ্বংসাবশেষের মায়ায় কাঁদি যেমনটি ইবনে হাম্মান কেঁদেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুযাকারাতু ফী আলকাবিশ শুআরা
(পৃষ্ঠা: ৭)
وإنما سمي عدل الأصرة لأن أمه ولدته في الإبل، فلما راحت جعلت عدل الأصرة على بعير من إبلها، فسي بذلك. والأصرة: خيوط تشد على أخلاف الإبل، إذا فلت ألبانها لئلا ترضعها فصلانها. واحدها: إصرار. وأنشد:ما شمَّ توديةَ الصرار فصيلُوالتودية: عمود يشد على رأس الخلف.ومنهم المضرب. واسمه عقبة بن كعب بن زهير بن أبي سلمى. وسمي بذلك لأنه كان يجلس إلى امرأة فبعشقها، فجاء إخوتها فضربوه.ومنهم ثابت قطنة. وهو ثابت بن كعب بن جابر. وإنما سمي قطنة لأن عينه أصيبت، فجعل عليها قطنة.ومنهم ذو الأصبع العدواني. واسمه حرثان بن حارثة. وسمي بذلك لأن حية نهشته في إصبعه. وقال قوم: إنه كان في أصابعه إصبع زائدة.فصل من غلب اسم أمه على اسم أبيهمنهم ابن الحدادية. وهو قيس بن منقذ الخزاعي.ومنهم خفاف بن ندبة، وندبة أمه، وكانت سوداء. وخفاف أحد أغربة العرب. وقال أبو عبيدة: أغربة العرب ثلاثة من الشعراء. وإنما سموا أغربة لأن أمهاتهم كن سوداً. وهم: خفاف بن ندبة، وأبو عمير بن الحارث بن الشريد، أحد بني سليم. وسليك بن السلكة، وهو من بني سعد بن زيد مناة من تميم. وعنترة بن زبيبة، أبو عمرو بن معاوية بن شداد.ومنهم عمرو بن الأطنابة. وأبوه زيد بن مالك الأغر بن ثعلبة.ومنهم الأشهب بن رميلة وهي أمه، وأبوه: ثور بن أبي خارجة بن عبد المنذر.ومنهم شبيب بن البرصاء. وهي أمه واسمها بارعة بنت الحارث بن عوف وأبوه: يزيد بن جمرة بن عوف المزني.ومنهم ابن عنقاء. وهو عبد قيس، من بني فزارة.ومنهم ابن سهية. وهو: إرطاة بن زفر، من بني ذبيان.ومنهم ابن أم ذبيان. وهو: زميل بن عقيد بن بلال.ومنهم ابن أم صاحب. وهو: قعنب بن خمرة.ومنهم ابن ميادة. وهو: الرماح بن أرثد بن ثوبان.ومنهم ابن شلوة.ومنهم ابن دارة. وهو: سالم من بني عبد الله بن غطفان. وفيه قيل: محى السيف ما قال إبن دارة. وأخوه أيضاً عبد الرحمن.ومنهم ابن الطثرية. وهو يزيد بن المنتشر القشيري، وأمه من طثر، حي من مهرة.ومنهم ابن قشحم. وهو قيس بن مالك. وقشحم اسم امرأة كان يضرب بها المثل لشجاعتها.ومنهم ابن ضبة. وقيل: ابن الرعلاء. وما أدري الرعلاء اسم أمه أم أبيه، لأنه لم يعرف الأب.ومنهم ابن الدمينة.ومنهم ابن غزالة.ومنهمخ ابن الطيفان. وهو من دارم.فصل من نسب إلى أبيه من الشعراءابن قرنبل.ابن الظرب.وابن الخرج.وابن جذل الطعان.وابن العجلان: وهو عبد الله بن عجلان العاشق.وابن هرمة: وهو إبراهيم.وابن الرقاع العاملي.وابن مقبل: وهو تميم بن ابي بن مقبل.أسماء المعرقين من الشعراءوالمعرق من الشعراء من توالى له خمسة أو أقل أو أكثر، كلهم يقولون الشعر. فإذا كثروا حتى يكونوا أخوة، ولهم أولاد وأخوات وآباء كلهم يقول الشعر، قيل لهم: بيت. قال الحسن البصري: إن أمرء لا يعد بينه وبين آدم عليه السلام أباً حياً لمعرق له في الموت. وتقول العرب: إن فلاناً لمعرق له في الحسب والكرم أو اللؤم. ويقال: إن فلاناً لمعرق له في القتل، إذا توالت له آباء كلهم قتلوا، مثل عبد الله ومصعب إبني الزبير بن العوام. قل عبد الله ومصعب إبنا الزبير يوم ذات نكيف، وقتل العوام يوم الفجار، وقتل الزبير يوم الجمل، وقتل مصعب وابنه بالعراق، وقتل عبد الله بمكة. فعبد الله معرق له في القتل. وكذلك علي بن الحسين بن علي عليهم السلام.ومن الشعراء المعرقينالعوام بن المضرب، وهو عقبة بن كعب بن زهير بن أبي سلمى. كل هؤلاء شعراء خمسة في نسق، وبينهم من إخوتهم وأولادهم شعراء أيضاً. فالعوام معرق، وأبو سلمى بيت.نسب أبي سلمىومن قال الشعر من ولده، وولد ولده، وولد ولد ولدهوذكر ما يستدل ببعض أشعارهم عليهم أبو سلمى: اسمه ربيعة بن رياح بن قرط بن الحارث بن مازن بن ثعلبة بن ثور. كان أبوو سلمى يقول الشعر، وابناه زهير وأوس، وابنته خنساء. ومن ولد زهير: بجير وكعب. ومن ولد كعب عقبة. ومن ولد عقبة شبيب والعوام وسيف. فالعوام هو الشاعر من ولد عقبة. وزهير وكعب هما الشاعران المذكوران. فمن شعر أبي سلمى، رواه حماد الراوية، وإن كان ضعيفاً:
তাকে 'আদলুল আসিরা' নামকরণ করা হয়েছে কারণ তার মা তাকে উটপালের মধ্যে জন্ম দিয়েছিলেন। যখন তিনি ফিরে এলেন, তিনি তার একটি উটের ওপর আদলুল আসিরাকে (বস্তার ন্যায়) রাখলেন, ফলে তার এই নামকরণ করা হলো। আর 'আসিরা' হলো সেই সুতো যা উটের ওলানের বোঁটায় বাঁধা হয়, যাতে দুধ ঝরলে তার শাবক তা পান করতে না পারে। এর একবচন হলো: 'ইসরার'। তিনি কবিতা আবৃত্তি করেছেন:কোনো উষ্ট্রশাবকই ইসরারের খুঁটির সুগন্ধ পায়নি।আর 'তাওদিয়াহ' হলো সেই খুঁটি যা ওলানের অগ্রভাগে বাঁধা হয়।তাদের মধ্যে রয়েছেন মুদাররিব। তার নাম উকবা ইবনে কাব ইবনে জুহাইর ইবনে আবি সালমা। তাকে এই নামে ডাকা হতো কারণ তিনি একজন মহিলার নিকট বসতেন এবং তাকে ভালোবাসতেন; ফলে সেই মহিলার ভাইয়েরা এসে তাকে প্রহার (জরব) করেছিল।তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবিত কুতনাহ। তিনি হলেন সাবিত ইবনে কাব ইবনে জাবির। তাকে 'কুতনাহ' বলা হতো কারণ তার চোখে আঘাত লেগেছিল, ফলে তিনি তার ওপর তুলোর টুকরো (কুতনাহ) রাখতেন।তাদের মধ্যে রয়েছেন জু আল-আসবাহ আল-আদওয়ানি। তার নাম হারসান ইবনে হারিসা। তাকে এই নামে ডাকার কারণ হলো, একটি সাপ তার আঙুলে দংশন করেছিল। অন্য একদল লোক বলেন: তার আঙুলগুলোর মধ্যে একটি অতিরিক্ত আঙুল ছিল।পরিচ্ছেদ: যাদের পরিচয়ে পিতার নামের চেয়ে মায়ের নাম প্রাধান্য পেয়েছেতাদের মধ্যে রয়েছেন ইবনুল হাদ্দাদিয়া। তিনি হলেন কাইস ইবনে মুনকিজ আল-খুজায়ি।তাদের মধ্যে রয়েছেন খুফাফ ইবনে নদাবাহ; আর নদাবাহ তার মায়ের নাম, তিনি কৃষ্ণবর্ণা ছিলেন। খুফাফ আরবের কৃষ্ণবর্ণ কবিদের (আগরিবা) একজন। আবু উবাইদাহ বলেছেন: আরবের কৃষ্ণবর্ণ কবি হলেন কবিদের মধ্যে তিনজন। তাদের 'আগরিবা' (কাকসমূহ) বলা হতো কারণ তাদের মায়েরা কৃষ্ণবর্ণা ছিলেন। তারা হলেন: খুফাফ ইবনে নদাবাহ, আবু উমাইর ইবনুল হারিস ইবনে শাররিদ—যিনি বনু সুলাইম গোত্রের একজন, এবং সুলাইক ইবনে সুলাকাহ—যিনি তামীম গোত্রের বনু সাদ ইবনে যাইদ মানাহ বংশের লোক। এছাড়া আনতারা ইবনে জাবিবাহ, যার ডাকনাম আবু আমর ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে শাদ্দাদ।তাদের মধ্যে রয়েছেন আমর ইবনুল আতনাবাহ। তার পিতা হলেন যাইদ ইবনে মালিক আল-আগার ইবনে সালাবা।তাদের মধ্যে রয়েছেন আল-আশহাব ইবনে রুমাইলা; রুমাইলা তার মায়ের নাম, আর তার পিতা হলেন সাওন ইবনে আবি খারিজাহ ইবনে আবদিল মুনজির।তাদের মধ্যে রয়েছেন শাবিব ইবনুল বারসা। আল-বারসা তার মায়ের নাম এবং তার আসল নাম বারিআহ বিনতে হারিস ইবনে আওফ; আর তার পিতা হলেন ইয়াযিদ ইবনে জামরাহ ইবনে আওফ আল-মুযানী।তাদের মধ্যে রয়েছেন ইবনে আনকা। তিনি হলেন আবদ কাইস, বনু ফাযারা গোত্রের।তাদের মধ্যে রয়েছেন ইবনে সুহাইয়াহ। তিনি হলেন ইরতাহ ইবনে যুফর, বনু জুবইয়ান গোত্রের।তাদের মধ্যে রয়েছেন ইবনে উম্মে জুবইয়ান। তিনি হলেন যামিল ইবনে উকাইদ ইবনে বিলাল।তাদের মধ্যে রয়েছেন ইবনে উম্মে সাহিব। তিনি হলেন কানাব ইবনে খুমরাহ।তাদের মধ্যে রয়েছেন ইবনে মাইয়াদা। তিনি হলেন আর-রিমাহ ইবনে আরসাদ ইবনে সাওবান।তাদের মধ্যে রয়েছেন ইবনে শালওয়াহ।তাদের মধ্যে রয়েছেন ইবনে দারাহ। তিনি হলেন বনু আবদুল্লাহ ইবনে গাতফান গোত্রের সালিম। তার সম্পর্কেই বলা হয়েছে: "ইবনে দারাহ যা বলেছিল, তলোয়ার তা মুছে দিয়েছে।" তার ভাইও ছিলেন আবদুর রহমান।তাদের মধ্যে রয়েছেন ইবনুত তাসরিয়াহ। তিনি হলেন ইয়াযিদ ইবনুল মুনতাশির আল-কুশাইরি, তার মা তাসর গোত্রের—যা মাহরাহ গোত্রের একটি শাখা।তাদের মধ্যে রয়েছেন ইবনে কাশহাম। তিনি হলেন কাইস ইবনে মালিক। কাশহাম একজন মহিলার নাম, যার সাহসিকতার উদাহরণ দেওয়া হতো।তাদের মধ্যে রয়েছেন ইবনে দাব্বাহ। মতান্তরে ইবনুর রা’লা। আমি জানি না রা’লা তার মায়ের নাম নাকি পিতার, কারণ তার পিতাকে চেনা যায়নি।তাদের মধ্যে রয়েছেন ইবনুদ দুমাইনাহ।তাদের মধ্যে রয়েছেন ইবনে গাযালাহ।তাদের মধ্যে রয়েছেন ইবনুত তাইফান। তিনি দারিম গোত্রের।পরিচ্ছেদ: কবিদের মধ্যে যারা পিতার দিকে সম্বন্ধিতইবনে কারানবাল।ইবনুজ যারব।ইবনুল খারজ।ইবনে জিযল আত-তা’আন।ইবনুল আজলান: তিনি হলেন প্রেমিক আবদুল্লাহ ইবনুল আজলান।ইবনে হারমাহ: তিনি হলেন ইব্রাহিম।ইবনুর রিকা আল-আমিলি।ইবনে মুকবিল: তিনি হলেন তামীম ইবনে আবি ইবনে মুকবিল।বংশানুক্রমিক অভিজাত কবিদের নামকবিদের মধ্যে 'মুয়াবরিক' (বংশানুক্রমিক অভিজাত) তাকেই বলা হয়, যার বংশধারায় ধারাবাহিকভাবে পাঁচজন বা তার কম-বেশি কবি অতিবাহিত হয়েছেন এবং তারা সবাই কবিতা রচনা করতেন। যখন তারা সংখ্যায় অধিক হন, যেমন অনেক ভাই এবং তাদের সন্তান, বোন ও পিতা—সবাই কবিতা বলেন, তখন তাদের 'বাইত' (কাব্যগৃহ) বলা হয়। হাসান বসরী রহ. বলেছেন: "যে ব্যক্তির নিজের এবং আদম আলাইহিস সালামের মাঝে কোনো জীবিত পিতা নেই, সে মৃত্যুর দিক থেকে অতি প্রাচীন বংশীয় (মুয়াবরিক)।" আরবরা বলে: "অমুক ব্যক্তি বংশমর্যাদা ও দানে অতি প্রাচীন বংশীয়" অথবা "হীনতায় অতি প্রাচীন বংশীয়"। আরও বলা হয়: "অমুক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ক্ষেত্রে বংশানুক্রমিক," যখন তার পিতৃপুরুষদের সবাই ধারাবাহিকভাবে নিহত হন। যেমন যুবাইর ইবনুল আওয়ামের দুই পুত্র আবদুল্লাহ ও মুসআব। আবদুল্লাহ ও মুসআবের দুই পুত্র 'জাতু নাকিফ' এর যুদ্ধে নিহত হন, আওয়াম নিহত হন 'ফিজার' এর যুদ্ধে, যুবাইর নিহত হন 'উষ্ট্রের যুদ্ধে' (জামাল), মুসআব ও তার পুত্র ইরাকে নিহত হন এবং আবদুল্লাহ মক্কায় নিহত হন। সুতরাং আবদুল্লাহ নিহত হওয়ার ক্ষেত্রে বংশানুক্রমিক। তেমনিভাবে আলী ইবনুল হুসাইন ইবনে আলী আলাইহিমুস সালাম।বংশানুক্রমিক অভিজাত কবিদের মধ্য থেকেআল-আওয়াম ইবনুল মুদাররিব; তিনি হলেন উকবা ইবনে কাব ইবনে জুহাইর ইবনে আবি সালমা। এদের সবাই ধারাবাহিকভাবে পাঁচজন কবি ছিলেন এবং তাদের ভাই ও সন্তানদের মধ্যেও কবি ছিলেন। সুতরাং আল-আওয়াম হলেন বংশানুক্রমিক এবং আবু সালমার বংশ হলো একটি 'কাব্যগৃহ'।আবু সালমার বংশপরিচয়তার সন্তান, পৌত্র ও প্রপৌত্রদের মধ্যে যারা কবিতা বলতেনআবু সালমার পরিচয় এবং তার বংশধরদের কারো কারো কবিতা যা তাদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেয় তা হলো— আবু সালমা: তার নাম রাবিআহ ইবনে রিয়াহ ইবনে কুরত ইবনুল হারিস ইবনে মাযিন ইবনে সালাবা ইবনে সাওর। আবু সালমা কবিতা বলতেন, তার দুই পুত্র জুহাইর ও আওস এবং তার কন্যা খানসা-ও কবিতা বলতেন। জুহাইরের সন্তানদের মধ্যে বুজাইর ও কাব কবি ছিলেন। কাবের সন্তানদের মধ্যে উকবা কবি ছিলেন। আর উকবার সন্তানদের মধ্যে শাবিব, আল-আওয়াম ও সাইফ কবি ছিলেন। এই আল-আওয়ামই হলেন উকবার বংশধরদের মধ্যে কবি। আর জুহাইর ও কাব হলেন সেই দুই প্রসিদ্ধ কবি যাদের কথা সুবিদিত। আবু সালমার কবিতা থেকে কিছু অংশ, যা হাম্মাদ আর-রাবিয়াহ বর্ণনা করেছেন—যদিও তা দুর্বল বর্ণনাসূত্রে প্রাপ্ত:
(খণ্ড: ১)
আল-মুযাকারাতু ফী আলকাবিশ শুআরা
(পৃষ্ঠা: ৮)
ولنا بقدسٍ فالبقيعُ إلى اللوى … رجعٌ إذا لهثَ السبنتي الوالغُوادٍ، قرارٌ ماؤهُ ونباتهُ … ترعى المخاضُ به، ووادٍ فارغُصعدٌ نحرزُ أهلنا بفروعهِ … فيه لنا حرزٌ، وعيشٌ رافغُالرجع: المطر، والسبنتي: النمر، والرافغ: المخصب.ومن شعر أوس، حيث عرض عليه الإسلام فأبى، رواه أيضاً حماد الراوية:أحسبتني في الدين تابعةً … أولوْ حللتُ على بني سهمِمنعوا الخزايةَ عن بيوتهم … بأسنةٍ وصفائحٍ خذمِولقد غدوتُ على القنيصِ بسابحٍ … مثل الوذيلةِ جرشعٍ لأمِقيدِ الأوابدِ، ما يغيبها … كالسيدِ لا ضرجٍ، ولا قحمِومن شعر خنساء بنت زهير:ولا يغني توق المرءِ شيئاً … ولا عقدُ التميمِ، ولا الغضارُإذا لاقى منيتهُ، فأمسى … يساقُ به، وقد حقَّ الحذارُولاقاهُ من الأيام يومٌ … كما من قبل ُلم يخلدْ قدارُفأما زهير فأحد فحول الجاهلية. وفحولها أربعة: امرؤ القيس، والنابغة، وزهير، والأعشى. وبالإسناد عن عبد الله الليثي قال: قال عمر بن الخطاب رضي الله عنه، في مسيره إلى الجابية: أين ابن عباس؟ قال ابن عباس: فأتيته، فشكا تخلف علي عنه، قال: اولم يعتذر إليك؟ قال: بلى قلت: فهو ما اعتذر به. ثم قال: أما إن أول من ريثكم عن هذا الأمر أبو بكر، إن قومكم كرهوا لكم الخلافة مع النبوة. فقلت: لم؟ ألم تكن خيراً لهم؟ قال: بلى، لكنهم لو فعلوا كنتم عليهم جخفاً، جخفاً، جخفاً، وهو الفخر والبذخ والتطاول، ثم قال: هل تروي لشاعر السو شيئاً؟ قلت: ومن هو؟ قال: الذي يقول:ولو أنَّ حمداً يخلدُ الناسَ خلدوا … ولكنَّ حمدَ الناس ليسَ بمخلدِقلت: ذاك زهير، قال: فهو شاعر الشعراء، قلت: وبم كان ذلك؟ قال: كان لا يعاظل بين الكلام، ولا يتبع وحشية، ولا يمدح الرجل إلا بما يكون في الرجال. وروي عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه سأل ابن عباس عن أشعر العرب، فقال: زهير، فقال: بم؟ فقال: بقوله:لو كان يقعدُ فوقَ الشمسِ من كرمٍ … قومٌ بأولهم أو مجدهم، قعدواقومٌ، سنانٌ أبوهمْ حين تنسبهم … طابوا، وطابَ من الأولاد ما ولدوامحسدونَ على ما كان من نعمٍ … لا ينزعُ الله منهم ما لهُ حسدواومما يتمثل به من شعر زهير:ومنْ يغتربْ يحسبْ عدواً صديقهُ … ومنْ لا يكرمْ نفسهُ لا يكرمِومنْ يجعلِ المعروفَ من دون عرضهِ … يفرهُ، ومنْ لا يتقِ الشتمَ يشتمِومنْ لا يذدْ عن حوضهِ بسلاحهِ … يهدَّ، ومنْ لا يظلمِ الناسَ يظلمِومنْ لا يصانعْ في أمورٍ كثيرةٍ … يضرسْ بأنيابٍ، ويوطأ بمنسمِومنْ هابَ أسبابَ المنيةِ يلقها … ولو رامَ أسبابَ السماءِ بسلمِومنْ لا يزلْ يستحملُ الناسَ نفسهُ … ولا يعفها يوماً من الذلِّ يسأمِوهذه أبيات يفضلها الرواة، ويكثرون التمثيل بها. ومعنى قوله: ومن لا يظلم الناس يظلم.فلاؤها هنا صلة، مثل قول الآخر: والطيبان أبو بكر، ولا عمر.فلا: صلة زائدة. وقول الآخر: من ير يوماً ير به.وقول الآخر: من لم يكن ذئباً أكلته الكلاب.إستذأب الناسُ، فمن لم يكنْ … في الناسِ ذئباً أكلتهُ الذئابْوأما بجير وكعب ابنا زهير، قال محمد بن سلام: قلت لخلف الأحمر: بلغني أنك تقول: كعب أشعر من زهير! قال: لولا أبيات مديح لزهير كبر أمرهن لقلت ذاك: وكان أخوه بجير أسلم قبله، فشهد مع رسول الله، صلى الله عليه وسلم، فتح مكة، وقال في ذلك:منحناهمْ بسبعٍ من سليمٍ … وألفٍ من بني عثمانَ وافِفرحنا، والجيادُ تجولُ فيهم … بأرماحٍ مثقفةٍ خفافِوفي أكنافهم طعنٌ وضربٌ … ورشقٌ بالمريشةِ الخفافِوشهد أيضاً حنيناً، وكان من خيار المسلمين، وقال في ذلك:وجلنا جولةً، ثمَّ ارعوينا … فأمكنا لمن حضرَ الجلاداوقيل: خرج كعب وبجير إلى النبي، صلى الله عليه وسلم، فقال كعب لبجير: الق هذا الرجل، وانظر ما يقول. فتقدم بجير فأسلم. فبلغ ذلك أخاه كعباً، فقال:ألا أبلغا عني بجيراً رسالةً … على أي شيءٍ ويبَ غيركَ دلكا
কুদস থেকে বাক্বীউ এবং লিওয়া পর্যন্ত আমাদের জন্য রয়েছে বৃষ্টির ধারা, যখন পিপাসার্ত চিতা হাঁপাতে থাকে।একটি উপত্যকা, যার পানি ও উদ্ভিদ স্থির; গর্ভবতী উট সেখানে চড়ে বেড়ায়, আর অন্য উপত্যকাটি জনশূন্য।এক সুউচ্চ ভূমি যার চূড়ায় আমরা আমাদের পরিবারকে সুরক্ষিত রাখি; সেখানে আমাদের জন্য রয়েছে নিরাপত্তা এবং প্রাচুর্যময় জীবন।'রাজউ' মানে বৃষ্টি, 'সাবানতী' মানে চিতা এবং 'রাফেগ' মানে প্রাচুর্যময়।এটি আউসের কবিতা থেকে, যখন তার সামনে ইসলাম পেশ করা হয়েছিল কিন্তু সে তা প্রত্যাখ্যান করেছিল। এটি হাম্মাদ আর-রাবিয়াহও বর্ণনা করেছেন:তুমি কি আমাকে দীনের ব্যাপারে অনুসারী মনে করেছ? যদি আমি বনু সাহম গোত্রে অবস্থান করতাম (তবে অন্য কথা ছিল)।তারা তাদের গৃহ থেকে লাঞ্ছনা প্রতিহত করেছিল তীক্ষ্ণ বল্লম এবং ধারালো তরবারির মাধ্যমে।আমি শিকারে বের হয়েছিলাম এমন এক দ্রুতগামী ঘোড়ায় চড়ে, যা দেখতে রূপার পাতের মতো, সুঠাম ও প্রশস্ত বক্ষবিশিষ্ট।বন্য পশুকে আটকে ফেলার মতো দ্রুতগতির, যা তাদের দৃষ্টির আড়ালে যেতে দেয় না; সে নেকড়ের মতো—না খুব দুর্বল, না খুব বৃদ্ধ।জুহাইর-কন্যা খানসার কবিতা থেকে:মানুষের সতর্কতা তার কোনো কাজে আসে navy, না তাবিজের সুতা, আর না কোনো মূল্যবান পাথর।যখন সে তার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়, তখন তাকে চালিত করা হয় (মৃত্যুর দিকে), আর যা নিয়ে ভীতি ছিল তা সত্যে পরিণত হয়।দিনগুলোর মধ্যে একদিন তাকে এমনভাবে পাকড়াও করে, যেভাবে ইতিপূর্বে কুদারকেও অমরত্ব দেওয়া হয়নি।জুহাইর জাহেলী যুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। শ্রেষ্ঠ কবি চারজন: ইমরুল কায়েস, নাবাগাহ, জুহাইর এবং আশা। আবদুল্লাহ আল-লাইসী থেকে বর্ণিত সূত্রে বলা হয়েছে: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) জাবিয়ার পথে যাওয়ার সময় বললেন: ইবনে আব্বাস কোথায়? ইবনে আব্বাস বলেন: আমি তার কাছে আসলাম। তিনি আমার কাছে আলীর পিছিয়ে থাকার ব্যাপারে অনুযোগ করলেন। উমর বললেন: তিনি কি তোমার কাছে ওজর পেশ করেননি? আমি বললাম: হ্যাঁ, পেশ করেছেন। এরপর উমর বললেন: তোমাদের এ কাজ থেকে (খিলাফত থেকে) আবু বকরই প্রথম দেরি করিয়েছিলেন, কারণ তোমাদের কওম নবুওয়াতের পাশাপাশি খিলাফতও তোমাদের মধ্যে থাকাটা অপছন্দ করেছিল। আমি বললাম: কেন? এটি কি তাদের জন্য কল্যাণকর ছিল না? তিনি বললেন: অবশ্যই, কিন্তু তারা যদি তা করত তবে তোমরা তাদের উপর খুব বেশি অহংকার ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করতে। এরপর তিনি বললেন: তুমি কি সেই শ্রেষ্ঠ কবির কোনো কবিতা জানো? আমি বললাম: তিনি কে? তিনি বললেন: যিনি বলেছিলেন:মানুষের প্রশংসা যদি মানুষকে অমর করত, তবে তারা অমর হয়ে যেত; কিন্তু মানুষের প্রশংসা চিরস্থায়ী নয়।আমি বললাম: তিনি জুহাইর। তিনি (উমর) বললেন: তিনিই কবিদের সেরা কবি। আমি বললাম: কিসের ভিত্তিতে? তিনি বললেন: তিনি কথাবার্তায় জটিলতা সৃষ্টি করতেন না, অপ্রচলিত শব্দ অনুসরণ করতেন না এবং কোনো ব্যক্তিকে কেবল সেই গুণ দিয়েই প্রশংসা করতেন যা মানুষের মধ্যে বিদ্যমান থাকে। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তিনি ইবনে আব্বাসকে আরবদের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: জুহাইর। উমর বললেন: কেন? তিনি বললেন: তার এই বাণীর কারণে:আভিজাত্যের কারণে যদি কোনো সম্প্রদায় তাদের পূর্বপুরুষদের মর্যাদা বা নিজেদের গৌরবের গুণে সূর্যের উপর বসতে পারত, তবে তারা অবশ্যই বসত।তারা এমন এক কওম যে, সিনান তাদের পিতা যখন তুমি তাদের বংশপরিচয় দিবে; তারা নিজেরা পবিত্র এবং তাদের বংশধররাও পবিত্র।তাদের নেয়ামতরাজির কারণে তাদের প্রতি ঈর্ষা করা হয়; আল্লাহ তাদের নিকট থেকে সেই নেয়ামত কেড়ে না নিন যার জন্য তাদের প্রতি ঈর্ষা করা হয়।জুহাইরের কবিতা থেকে যে সব উদাহরণ দেওয়া হয়:যে প্রবাসে থাকে সে শত্রুকে বন্ধু মনে করে; আর যে নিজেকে সম্মান করে না, সে সম্মান পায় না।যে ব্যক্তি তার সম্মানের রক্ষাকবচ হিসেবে দান-সদকাকে ব্যবহার করে, সে তার সম্মানকে বৃদ্ধি করে; আর যে গালিগালাজ থেকে বেঁচে থাকে না, তাকে গালি শুনতে হয়।যে ব্যক্তি অস্ত্র দিয়ে নিজের হাউজ রক্ষা করে না, তা ধ্বংস হয়ে যায়; আর যে মানুষের প্রতি কঠোরতা দেখায় না, সে লাঞ্ছিত হয়।যে ব্যক্তি বহু বিষয়ে সমঝোতা করে চলে না, সে দাঁত দিয়ে চর্বিত হয় এবং খুর দিয়ে পিষ্ট হয়।যে ব্যক্তি মৃত্যুর কারণগুলোকে ভয় পায়, মৃত্যু তাকে স্পর্শ করবেই; যদিও সে মই দিয়ে আকাশে আরোহণ করতে চায়।যে ব্যক্তি সর্বদা মানুষকে নিজের বোঝা বহাতে বাধ্য করে এবং নিজেকে লাঞ্ছনা থেকে বিরত রাখে না, সে বিরক্তিকর হয়ে ওঠে।এই পংক্তিগুলোকে বর্ণনাকারীরা শ্রেষ্ঠ মনে করেন এবং এগুলোকে উদাহরণ হিসেবে বেশি ব্যবহার করেন। এবং তার বাণীর অর্থ: "আর যে মানুষকে জুলুম করে না সে জুলুমের শিকার হয়" (এখানে উগ্রতা বা শক্তি প্রয়োগ না করার অর্থ নেওয়া হয়েছে)।এখানে 'লা' শব্দটি সংযোগকারী (যায়েদ), যেমন অন্যের উক্তিতে রয়েছে: দুই উত্তম ব্যক্তি আবু বকর এবং উমর।এখানে 'লা' অতিরিক্ত সংযোগকারী। অন্য কবির উক্তি: যে একদিন বিপদ দেখে সে বিপদে পড়ে।অন্য কবির উক্তি: যে নেকড়ে হবে না তাকে কুকুররা খেয়ে ফেলবে।মানুষ নেকড়ের স্বভাব ধরেছে, তাই মানুষের মাঝে যে নেকড়ে হবে না তাকে নেকড়েরাই খেয়ে ফেলবে।আর জুহাইরের দুই পুত্র বুজাইর ও কাব সম্পর্কে মুহাম্মদ ইবনে সাল্লাম বলেন: আমি খালাফ আল-আহমারকে বললাম: আমি জানতে পেরেছি যে আপনি বলেন—কাব জুহাইরের চেয়েও বড় কবি! তিনি বললেন: যদি জুহাইরের প্রশংসামূলক পংক্তিগুলো না থাকত যা অনেক বড় গুরুত্বের দাবিদার, তবে আমি অবশ্যই তাই বলতাম। তার ভাই বুজাইর তার আগে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে মক্কা বিজয়ে উপস্থিত ছিলেন। সে সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন:আমরা তাদের মোকাবিলা করেছি সুলাইম গোত্রের সাত শ' এবং বনু উসমানের এক হাজার পূর্ণ সৈন্য নিয়ে।আমরা যাত্রা করেছি এমন অবস্থায় যে আমাদের ঘোড়াগুলো তাদের মধ্যে বিচরণ করছিল সুগঠিত ও হালকা বল্লম নিয়ে।তাদের চারপাশ বিদ্ধ হচ্ছিল বর্শার আঘাতে, তলোয়ারের আঘাতে এবং পালকযুক্ত দ্রুতগামী তীরের নিক্ষেপে।তিনি হুনাইনের যুদ্ধেও উপস্থিত ছিলেন এবং তিনি সর্বোত্তম মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সে সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন:আমরা আক্রমণ করেছি, তারপর ফিরে এসেছি এবং যারা উপস্থিত ছিল তাদের যুদ্ধের সুযোগ করে দিয়েছি।বলা হয় যে, কাব ও বুজাইর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। কাব বুজাইরকে বললেন: তুমি এই ব্যক্তির কাছে যাও এবং শোনো তিনি কী বলেন। তখন বুজাইর এগিয়ে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন। যখন এই খবর তার ভাই কাবের কাছে পৌঁছাল, তখন তিনি বললেন:ওহে, আমার পক্ষ থেকে বুজাইরের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দাও; তোমার ধ্বংস হোক, কিসের ভিত্তিতে তিনি তোমাকে পথ দেখিয়েছেন?
(খণ্ড: ১)
আল-মুযাকারাতু ফী আলকাবিশ শুআরা
(পৃষ্ঠা: ৯)
على خلقٍ لم تلفِ أماً ولا أباً … عليهِ، ولم تدركْ عليهْ أخاً لكاسقاكَ أبو بكرٍ بكأسٍ رويةٍ … وأنهلكَ المأمورُ منها، وعلكافبلغت أبياته رسول الله، صلى الله عليه وسلم، فأهدر دمه. فكتب إليه بجير بذلك، وقال له: إنه من شهد أن لا إله إلا الله، وأن محمداً رسول الله، قبل منه، وأسقط ما صدر منه. فأقبل كعب حتى دخل المسجد، فجلس بين يدي رسول الله، صلى الله عليه وسلم، وقال: الأمان، فقال: من أنت؟ فقال: كعب بن زهير: فقال: أنت الذي تقول، وسأل أبا بكر عما قال، فأنشد البيت، فقال النبي، صلى الله عليه وسلم: مأمون والله. وفي رواية أخرى أن كعباً أتى أبا بكر فعرفه نفسه، فأتى أبو بكر إلى النبي، صلى الله عليه وسلم، فقال: رجل يبايعك على الإسلام، فبسط يده، فقال كعب بأبي أنت مكان العائذ بك، أنا كعب. فتجهمته الأنصار، وغلظت عليه، لما كان ذكر به النبي، عليه السلام. فأنشد النبي، صلى الله عليه وسلم قصيدته المشهورة:بانت سعادُ فقلبي، اليومَ، متبولُحتى بلغ إلى قوله:نبئتُ أنَّ رسولَ الله أوعدني … والعفوُ عندَ رسولِ الله مأمولُوقال كلُّ خليلٍ كنتُ آملهُ … لا ألهينكَ أني عنكَ مشغولُفقلتُ: خلوا سبيلي لا أبالكمُ … فكلُّ ما وعدَ الرحمن مفعولُكلُّ ابنِ أنثى، وإنْ طالتْ سلامتهُ … يوماً على آلةٍ حدباءَ محمولُإنَّ الرسولَ لسيفٌ يستضاءُ بهِ … مهندٌ من سيوف اللهِ مسلولُفي فتيةٍ من قريشٍ قال قائلهم … ببطنِ مكةَ، لما أسلموا، زولوازالوا، فما زالَ إنكاسٌ ولا كشفٌ … عندَ اللقاءِ، ولا خورٌ معازيلُلا يقعُ الطعنُ إلا في نحورهمُ … وما بهم عن حياضِ الموتِ تهليلُفنظر النبي، عليه السلام، إلى من عنده من قريش، كأنه يومئ إليهم أن اسمعوا، حتى قال:يمشونَ مشيَ الجمالِ الزهرِ، يعصمهمْ … ضربٌ إذا عردَ السودُ التنابيلُيعرض بالأنصار. فأنكرت قريش ما قال، وقالوا: لم تمدحنا إذا هجوتهم. فقال:منْ سرهُ كرمُ الحياةِ فلا يزلْ … في مقنبٍ من صالح الأنصارِالباذلينَ نفوسهمْ لنبيهم … عندَ الهياجِ وسطوةِ الجبارِوالضاربينَ الناسَ عن أديانهم … بالمشرفيّ، وبالقنا الخطارِصدموا الكتيبةَ يومَ بدرٍ، صدمةً … ذلتْ لوقعتها رقابُ نزارِفكساه النبي، صلى الله عليه وسلم، بردة، اشتراها معاوية بعد ذلك بمال كثير. فهي البردة التي كانت يلبسها الخلفاء في العيدين.وكان الحطيأة راوية لزهير وآل زهير، فقال يوماً لكعب: قد عرفت انقطاعي إليكم أهل البيت، وقد ذهبت الفحولو غيرك وغيري، فول قلت شعراً تذكر فيه نفسك وتضعني معك موضعاً، فقال:فمنْ للقوافي شانها منْ يحوكها … إذا ما ثوى كعبٌ، وفوزَ جرولُكفيتكَ لا تلقى من الناسِ واحداً … تنخلَ منها مثلما يتنخلُفاعترضه مزرد أخو الشماخ فقال:باستكَ إذ خلفتني خلفَ شاعرٍ … من الناسِ لم أكفي، ولم أتنخلِفلست كحسان الحسام بنِ ثابتٍ … ولست كشماخٍ، ولا كالمنخلِوكذلك يقول الكميت في آخر قصيدته:فما ضرها أنَّ كعباً ثوى … وفوزَ من بعدهِ جرولُومن جيد شعر كعب قوله:لأي زمانٍ يخبأ المرءُ نفعها … غدا، فغدا والدهرُ غادٍ ورائحُإذا المرءُ لم ينفعكَ حياً، فنفعهُ … أقلُّ إذا رصتْ عليهِ الصفائحُأخذه أبو العتاهية فقال:إني رأيتك للدنيا وزينتها … وما أريدكَ يومَ الدين للدينِوأما العوام بن عقبة بن كعب بن زهير فما اختير من شعره من قصيدة كثيرة المحاسن، وهي قوله:فوالله ما أدري إذا أنا جئتها … أأبرئها من دائها، أم أزيدهافلم يبقَض يا سوداءُ نتئٌ أحبهُ … وإنْ بقيت أعلامُ أرضٍ، وبيدهاسوى نظرةٍ من شبه سوداءَ إذ بدا … لعينيَّ من أمّ الغزالةِ جيدهالقد كنتُ جلداً قبل أن توقدَ النوى … على كبدي ناراً، بطيئاً خمودهافلو تركتْ نارُ الهوى لتضرمتْ … ولكنَّ توقاً، كل يومٍ، يزيدهاوقد كنتُ أرجو أن تموتَ صبابتي … إذا قدمتْ أيامها وعهودها
এমন এক চরিত্রের ওপর যাকে তুমি পাওনি কোনো মা বা বাবার মাঝে … এবং তুমি পাওনি তার মাঝে তোমার কোনো ভাইকে।আবু বকর তোমাকে এক তৃপ্তিদায়ক পেয়ালায় পান করিয়েছেন … এবং আদিষ্ট ব্যক্তি তা থেকে তোমাকে বারবার পান করিয়েছেন।কবিতাগুলো আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে পৌঁছালে তিনি তার রক্ত দণ্ডযোগ্য ঘোষণা করলেন। বুজাইর তাকে এ বিষয়ে লিখে পাঠালেন এবং তাকে বললেন: যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দেয় যে আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল, তার পক্ষ থেকে তা গ্রহণ করা হয় এবং তার পূর্বের কৃতকর্ম ক্ষমা করা হয়। তখন কাব এগিয়ে এলেন এবং মসজিদে প্রবেশ করে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে বসলেন এবং বললেন: আমি নিরাপত্তা চাই। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তুমি কে? তিনি বললেন: কাব ইবনে যুহাইর। তিনি বললেন: তুমিই কি সেই ব্যক্তি যে এমনটি বলেছ? এরপর তিনি আবু বকরকে জিজ্ঞেস করলেন কাব কী বলেছিল। আবু বকর সেই পঙক্তিটি পাঠ করলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: আল্লাহর কসম, সে নিরাপদ। অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, কাব আবু বকরের কাছে এসে নিজের পরিচয় দিলেন। আবু বকর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এসে বললেন: এক ব্যক্তি আপনার কাছে ইসলামের ওপর বায়াত হতে এসেছে। তখন তিনি তাঁর হাত প্রসারিত করলেন। কাব বললেন: আমার পিতা আপনার প্রতি উৎসর্গিত হোক, আমি আপনার কাছে আশ্রয়প্রার্থীর স্থানে আছি, আমি কাব। আনসাররা তাকে দেখে রুষ্ট হলেন এবং তার প্রতি কঠোরতা দেখালেন, যেহেতু তিনি নবী (আলাইহিস সালাম)-এর কুৎসা রটনা করেছিলেন। তখন কাব নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সামনে তার বিখ্যাত কাসিদা পাঠ করলেন:সুয়াদ বিচ্ছিন্ন হয়েছে, তাই আজ আমার হৃদয় শোকাতুরযতক্ষণ না তিনি এই পঙক্তিতে পৌঁছালেন:আমি সংবাদ পেয়েছি যে আল্লাহর রাসূল আমাকে শাস্তির হুমকি দিয়েছেন … অথচ আল্লাহর রাসূলের কাছে ক্ষমারই আশা করা হয়।আমি যার কাছে আশা করতাম এমন প্রত্যেক বন্ধু বলেছে … আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারছি না, আমি নিজেই ব্যস্ত।আমি বললাম: তোমরা আমার পথ ছেড়ে দাও—তোমাদের কল্যাণ হোক— … কেননা রহমান যা ওয়াদা করেছেন তা অবশ্যই কার্যকর হবে।প্রত্যেক নারীজাত সন্তান, তার সুস্থতা দীর্ঘায়িত হলেও … একদিন উঁচু খাটিয়ার ওপর বাহিত হবেই।নিশ্চয়ই রাসূল এক আলোকবর্তিকা তলোয়ার … আল্লাহর তলোয়ারসমূহের মধ্য থেকে এক উন্মুক্ত ভারতীয় তলোয়ার।কুরাইশ যুবকদের মাঝে, যাদের বক্তা বলেছিল … মক্কার অভ্যন্তরে, যখন তারা ইসলাম গ্রহণ করেছিল: হিজরত করো।তারা হিজরত করেছে, যুদ্ধের সময় তারা দুর্বল বা নতিস্বীকারকারী ছিল না … তারা ভীরু বা অস্ত্রহীন ছিল না।আঘাত কেবল তাদের কণ্ঠনালীর ওপরই পড়ে … আর মৃত্যুর কুণ্ড থেকে তাদের কোনো বিচ্যুতি নেই।তখন নবী (আলাইহিস সালাম) তাঁর পাশে থাকা কুরাইশদের দিকে তাকালেন, যেন তিনি ইশারায় বলছেন যে তোমরা শোনো, যতক্ষণ না কাব বললেন:তারা শুভ্র উটের মতো রাজকীয় চালে চলে, বীরত্ব তাদের রক্ষা করে … যখন খাটো কালোরা পলায়ন করে।তিনি এখানে আনসারদের প্রতি ইঙ্গিত করছিলেন। কুরাইশরা যা বলেছিল তা অপছন্দ করল এবং বলল: তুমি কেন আমাদের প্রশংসা করলে না যখন তুমি তাদের বিদ্রূপ করছিলে? তখন তিনি বললেন:যার জীবন সম্মানজনক করা তাকে আনন্দিত করে, সে যেন সর্বদা থাকে … সৎ আনসারদের দলের অন্তর্ভুক্ত।যারা তাদের নবীর জন্য নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করে … যুদ্ধের উন্মাদনায় এবং জব্বারের প্রতাপের সামনে।যারা মানুষকে তাদের ভ্রান্ত ধর্ম থেকে সরিয়ে দেয় … মশরফি তলোয়ার এবং কাঁপানো বর্শা দিয়ে।তারা বদরের দিন শত্রু বাহিনীকে এমন এক আঘাত করেছিল … যে আঘাতে নিযার গোত্রের অহংকারী গর্দানগুলো বিনীত হয়েছিল।অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে একটি চাদর পরিয়ে দিলেন, যা পরবর্তীতে মুয়াবিয়া অনেক অর্থ দিয়ে কিনে নিয়েছিলেন। এটিই সেই চাদর যা খলিফারা দুই ঈদে পরিধান করতেন।হুতাইয়া ছিলেন যুহাইর ও তার পরিবারের কবিতা বর্ণনাকারী। একদিন তিনি কাবকে বললেন: আপনি জানেন আপনাদের পরিবারের প্রতি আমার নিবেদন। শ্রেষ্ঠ কবিরা চলে গেছেন আপনি এবং আমি ছাড়া আর কেউ নেই। আপনি যদি এমন কবিতা বলতেন যেখানে আপনি নিজের কথা উল্লেখ করবেন এবং আমাকেও আপনার সাথে কোনো স্থানে রাখবেন। তখন তিনি বললেন:কাব যখন চলে যাবে এবং জারওয়াল জয়ী হবে … তখন সেই ছন্দগুলোর কী হবে যাকে বুননকারীরা বিকৃত করে?আমি তোমার জন্য যথেষ্ট, তুমি মানুষের মাঝে এমন একজনকে পাবে না … যে একে এমনভাবে নিখুঁত করবে যেভাবে আমি করি।তখন শাম্মাখের ভাই মুজাররিদ তার বিরোধিতা করে বললেন:ধিক তোমার প্রতি যখন তুমি আমাকে এমন এক কবির পেছনে রেখেছ … যার সমকক্ষ হতে পারি না বা যাকে আমি সংশোধন করতে পারি না।আমি তলোয়ারের মতো ধারালো হাসসান ইবনে সাবিতের মতো নই … আর আমি শাম্মাখ বা মুনানখিলের মতোও নই।ঠিক তেমনি কুমাইত তার কবিতার শেষে বলেন:কাবের মৃত্যু কোনো ক্ষতি করেনি … এবং তার পরে জারওয়ালের জয়ী হওয়াও নয়।কাবের সুন্দর কবিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে তার এই কথা:কোন সময়ের জন্য মানুষ এর কল্যাণ জমা রাখে … আগামীকাল, আর কাল তো আসতেই থাকে এবং যেতেই থাকে।মানুষ জীবিত অবস্থায় যদি তোমার উপকারে না আসে, তবে তার উপকার … আরও কমে যাবে যখন তার ওপর পাথরচাপা দেওয়া হবে।আবু আল-আতাহিয়া এটি গ্রহণ করে বললেন:আমি তোমাকে দুনিয়া ও তার সাজসজ্জার জন্য দেখেছি … আর আমি তোমাকে কিয়ামতের দিনের দ্বীনের জন্য চাই না।আর আওয়াম বিন উকবাহ বিন কাব বিন যুহাইরের অনেক গুণাবলিসম্পন্ন কবিতার মধ্য থেকে যা চয়ন করা হয়েছে তা হলো:আল্লাহর কসম, আমি জানি না যখন আমি তার কাছে আসি … আমি কি তার রোগ নিরাময় করি, নাকি তা বাড়িয়ে দিই?হে সাওদা, আমি যাকে ভালোবাসি এমন কোনো অংশ বাকি নেই … যদিও এই ভূমির চিহ্নগুলো এবং তার মরুভূমি অবশিষ্ট আছে।কেবল সাওদার মতো একজনের দৃষ্টি ছাড়া, যখন হরিণীর মায়ের … গলার সৌন্দর্য আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে।বিচ্ছেদ আমার কলিজায় আগুন জ্বালানোর আগে আমি ধৈর্যশীল ছিলাম … যে আগুন নিভতে অনেক দেরি হয়।প্রেমের আগুন যদি ছেড়ে দেওয়া হতো তবে তা প্রজ্জ্বলিত হতো … কিন্তু আকাঙ্ক্ষা প্রতিদিন তা বাড়িয়ে দেয়।আমি আশা করেছিলাম যে আমার অনুরাগ শেষ হয়ে যাবে … যখন তার দিন ও প্রতিশ্রুতিগুলো অতিবাহিত হবে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুযাকারাতু ফী আলকাবিশ শুআরা
(পৃষ্ঠা: ১০)
فقد حملتْ في حبة القلبِ والحشا … عهادَ الهوى تولي بشوقٍ يعيدهامن الخفرات البيض ودَّ جليسها … إذا ما قضتْ أحدوثة، لو تعيدهاحصانٌ من السوءات للشمسِ وجهها … وللريمِ منها محجراها وجيدهامرتجةُ الأطرافِ، هيفٌ خصورها … عذابٌ ثناياها، عجافٌ قيودهاوصفرٌ تراقيها، وحمرٌ أكفها … وسودٌ نواصيها، وبيضٌ خدودهامثقلةُ الأردافِ زانت عقودها … بأحسنَ مما زينتها عقودهاخليليَّ إني اليومَ شاكٍ إليكما … وهل تنفعُ الشكوى إلى من يزيدهاحزازاتِ شوقٍ في الفؤادِ، وعبرةً … أظلُّ بأطراف البنانِ أذودهاوتحت مجالِِ الصدر حرُّ بلابلٍ … من الشوقِ لا يدعى لخطبٍ وليدهانظرتُ إليها نظرةً ما يسرني … بها حمرُ أنعامِ البلادِ وسودهاإذا جئتها وسط النساءِ منحتها … صدوداً، كأنَّ النفسَ ليستْ تريدهاولي نظرةٌ بعد الصدود من الهوى … كنظرةِ ثكلى قد أصيبَ وحيدهارفعتُ عن الدنيا المنى غيرَ وجهها … فلا أسالُ الدنيا، ولا أستزيدهاوهذه الأبيات اخترتها من القصيدة، ومما أطربني، حفظتها فلم أسمع ألطف منها ومن ألفاظها الرقيقة، والمعاني الجزلة الرقيقة.ومن الشعراء المعرقينفاطمة ويزيد ابنا سعيد بن عبد الرحمن بن حسان بن ثابت. وهؤلاء كلهم شعراء مشهورون، سوى ثابت فإن شعره ضعيف، ليس هو مما يثبت، إنما له البيت والبيتان، فمن ذلك قوله:ورثنا من البهلولِ عمرو بنِ عامرٍ … وحارثةَ الغطريفِ مجداً مؤثلامواريثَ من أبناءِ بنت أبن مالكٍ … وبنت أبن إسماعيلَ، ما أنْ تحولاوابنته خولة بنت ثابت. وحسان بن ثابت عاش في الجاهلية ستين سنة، وفي الإسلام ستين سنة، ومات في ايام معاوية. وكانت له ناصية يشدها بين عينيه، وكان يضرب بلسانه أرنبة أنفه، ويكنى أبا الوليد. وأجمع الرواة أم حساناً أشعر المخضرمين. والمخضرمون: من قال الشعر في الجاهلية والإسلام. وهو شاعر رسول الله، وسماه الحسام. وكان شعره يبلغ من المشركين ما يبلغ السيف الحسام، تى أن أحياء كثيرة اسلمت فزعاً من شعره. وبذلك جاءت الأخبار الصحيحة فيه، وفي عبد الله بن رواحة، وكعب بن مالك. ويقول رسول الله، صلى الله عليه وسلم: " المؤمن من جاهد بيده ولسانه، والذي نفسي بيده لكأنما ينضحو لهم بالنبل ". وفي حديث آخر: " لكلام هؤلاء النفر من الأنصار أشد على قريش من نضح النبل، وأن الروح لتحضرهم بالتوفيق ".وممن أسلم من شعر حسان: الزبعري.وقيل أشعر المسلمين ثلاثة: عبد الله بن رواحة، وكعب بن مالك، وحسان بن ثابت. وكان عبد الله يعيرهم بالكفر، وكان كعب يخوفهم الحرب، وكان حسان يقدح في أنسابهم، لأنه يعرف الأنساب معرفة جيدة. ولما ألح أبو سفيان في هجو رسول الله، صلى لله عليه وسلم استأذنه ابن رواحة وكعب في هجائه فسكت.وأما شعراء المشركين: فعمرو بن العاص، وابن الزبعري، وأبو سفيان بن الحرث. وبالاسناد عن عائشة قال: لما هجا المشركون رسول الله، صلى الله عليه وسلم، قال: ألا أحد يجيب عنا؟ قالت: فدعونا عبد الله بن رواحة يعارضهم. فعيرهم بالأيام والوقائع والكفر، فلم يبلغ ما يريد. قالت: فدعونا حساناً، فأخرج لسانه، فضرب به أرنبة أنفه، وقال: والذي بعثك بالحق، ما أحب أن لي مقولاً به في معد. قال: كيف وأنا منهم؟ قال: اسلك منهم مثل الشعرة من العجين. قال: يا ابا بكر: قم فعلمه تلك الصفات. قالت عائشة: فشفى وأشتفى. وفي رواية أن جبرائيل عليه السلام أعان حساناً بسبعين بيتاً. فهذا تأويل دعاء رسول الله، صلى الله عليه: " اللهم أيد حساناً بروح القدس "، وقال له: " اهج المشركين، وروح القدس معك ". وفي حديث آخر: لما وفد وفد بني تميم وضع النبي صلى الله عليه لحسان منبراً فأجلسه عليه.وفي رواية أن عمر بن الخطاب مر بحسان وهو ينشد في المسجد، فزجره ونهاه، فقال: قد أنشد من كان خيراً منك، يعني رسول الله.وقيل: إن الحارث بن عوف أتى رسول الله فقال: أجرني من شعر حسان، فلو مزج البحر بشعره مزجه.وحسان ممن وجفد على الملوك في الجاهلية، وأخذ الجوائز. ولما احتضر الحطيأة قال: أبلغوا الأنصار أن أخاهم أمدح الناس، حيث يقول:
হৃদয়ের মণিকোঠায় এবং অন্তরের অন্তঃস্থলে সে বহন করেছে … ভালোবাসার সেই মেঘ যা আকুলতা নিয়ে ফিরে আসে।সেইসব শ্বেতবর্ণা লাজুক নারীদের মধ্য হতে যার সান্নিধ্য তার সঙ্গী কামনা করে … যখন সে কোনো কথা শেষ করে, তখন মনে হয় যদি সে তা পুনরায় বলত।চারিত্রিক কলুষতা মুক্তা সতী নারী, যার মুখমণ্ডল সূর্যের মতো উজ্জ্বল … আর যার চোখের কোণ ও গ্রীবা হরিণের মতো।সুঠাম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আর ক্ষীণ কটিদেশ … তার দন্তপাটি অতি মিষ্ট আর তার বন্ধন অত্যন্ত সূক্ষ্ম।তার কণ্ঠাস্থি স্বর্ণাভ আর হাতের তালু রক্তিম … তার অলকগুচ্ছ কৃষ্ণবর্ণ আর গণ্ডদেশ শ্বেতশুভ্র।ভারী নিতম্ব যা তার অলঙ্কারকে সুশোভিত করেছে … অলঙ্কার তাকে যতটা না শোভিত করে, তার চেয়েও উত্তমরূপে সে অলঙ্কারকে শোভিত করেছে।হে আমার দুই বন্ধু! আজ আমি তোমাদের নিকট অভিযোগ করছি … কিন্তু সেই ব্যক্তির কাছে অভিযোগ করে কী লাভ যে কেবল অভিযোগই বাড়িয়ে দেয়।হৃদয়ের মাঝে আকুলতার দহন আর অশ্রু … যা আমি আঙুলের ডগা দিয়ে প্রতিহত করার চেষ্টা করি।বক্ষপিঞ্জরের নিচে বিরহের তীব্র দহন … এই প্রেমের দহনের তীব্রতা কোনো সাধারণ বিপদের মতো নয়।আমি তার দিকে এমন এক দৃষ্টিতে তাকালাম যে, সেই দৃষ্টির বদলে … এ দেশের লাল কিংবা কালো রঙের সমস্ত উট পাওয়াও আমার কাছে অধিক আনন্দদায়ক নয়।নারীদের মাঝে যখন আমি তার কাছে আসি, তখন তার প্রতি উপেক্ষা প্রদর্শন করি … যেন আমার অন্তর তাকে মোটেও কামনা করে না।প্রেমের কারণে এই উপেক্ষার পরেও আমার দৃষ্টি এমন হয় … যেমনটি হয় সেই সন্তানহারা জননীর দৃষ্টি যার একমাত্র সন্তানটি মারা গেছে।দুনিয়ার যাবতীয় কামনা-বাসনা আমি বিসর্জন দিয়েছি তার চেহারা ব্যতিরেকে … তাই আমি দুনিয়ার কাছে কিছু প্রার্থনা করি না এবং অতিরিক্ত কিছু যাচনাও করি না।এই কবিতা থেকে আমি এই পঙক্তিগুলো নির্বাচন করেছি, যা আমাকে বিমোহিত করেছে। আমি এগুলো মুখস্থ করেছি কারণ এর চেয়ে সূক্ষ্ম ও সাবলীল শব্দ এবং গাম্ভীর্যপূর্ণ ও চমৎকার অর্থবহ আর কোনো পঙক্তি আমি শুনিনি।সুপ্রতিষ্ঠিত কবিগণের বর্ণনাফাতিমা ও ইয়াজিদ—এরা সাইদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে হাসসান ইবনে সাবিতের সন্তান। এরা সকলেই প্রসিদ্ধ কবি ছিলেন, কেবল সাবিত ব্যতীত। কারণ তার কবিতা ছিল দুর্বল এবং তা ঐতিহাসিকভাবে সাব্যস্ত নয়। তার মাত্র এক বা দুই পঙক্তি পাওয়া যায়। যেমন তার এই উক্তি:আমর ইবনে আমির এবং হারিসা আল-গতরিফ এর মতো মহান ব্যক্তিদের নিকট হতে আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেছি … সুপ্রতিষ্ঠিত এক মর্যাদা।সেইসব উত্তরাধিকার যা বিনতে আবান মালিক এবং বিনতে আবান ইসমাইলের সন্তানদের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত … যা কখনোই স্থানান্তরিত হওয়ার নয়।আর তার কন্যা খাওলা বিনতে সাবিত। হাসসান ইবনে সাবিত জাহেলি যুগে ষাট বছর এবং ইসলামি যুগে ষাট বছর জীবন অতিবাহিত করেন। তিনি মুয়াবিয়ার শাসনকালে ইন্তেকাল করেন। তার ললাটে একগুচ্ছ চুল ছিল যা তিনি দুই চোখের মাঝখানে বেঁধে রাখতেন। তিনি তার জিহ্বা দিয়ে নাকের অগ্রভাগ স্পর্শ করতে পারতেন। তার উপনাম ছিল আবু ওয়ালিদ। বর্ণনাকারীগণ একমত যে, হাসসান হলেন ‘মুখাদরাম’ কবিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। মুখাদরাম হলেন তারা যারা জাহেলি এবং ইসলামি উভয় যুগেই কবিতা রচনা করেছেন। তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কবি এবং রাসূল তাকে ‘আল-হুসাম’ (তীক্ষ্ণ তলোয়ার) উপাধিতে ভূষিত করেন। মুশরিকদের বিরুদ্ধে তার কবিতা তীক্ষ্ণ তলোয়ারের চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলত। এমনকি অনেক গোত্র কেবল তার কবিতার ভয়েই ইসলাম গ্রহণ করেছিল। এ বিষয়ে তার সম্পর্কে এবং আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা ও কাব ইবনে মালিক সম্পর্কে সহিহ বর্ণনা রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: "মুমিন তো সেই ব্যক্তি যে তার হাত ও জিহ্বা দিয়ে জিহাদ করে। সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ! তোমাদের কবিতা তাদের ওপর তীরের আঘাতের চেয়েও কঠিন।" অন্য এক হাদিসে এসেছে: "আনসারদের এই দলের কথাগুলো কুরাইশদের ওপর তীরের আঘাতের চেয়েও কঠিন এবং জিবরাঈল (রুহুল কুদুস) ঐশী তাওফিকের মাধ্যমে তাদের পাশে উপস্থিত থাকেন।"যাঁরা হাসসানের কবিতার প্রভাবে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, তাদের মধ্যে ইবনুয যিবা’রা অন্যতম।বলা হয়ে থাকে যে, মুসলিমদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কবি ছিলেন তিনজন: আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা, কাব ইবনে মালিক এবং হাসসান ইবনে সাবিত। আব্দুল্লাহ তাদেরকে কুফরের জন্য লজ্জা দিতেন, কাব তাদেরকে যুদ্ধের ভয় দেখাতেন, আর হাসসান তাদের বংশমর্যাদার ত্রুটি তুলে ধরতেন; কারণ তিনি বংশতত্ত্ব সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখতেন। যখন আবু সুফিয়ান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ব্যঙ্গ করে কবিতা রচনায় লিপ্ত হলো, তখন ইবনে রাওয়াহা ও কাব তার জবাব দেওয়ার অনুমতি চাইলে তিনি নীরব থাকলেন।আর মুশরিকদের কবিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল: আমর ইবনে আস, ইবনুয যিবা’রা এবং আবু সুফিয়ান ইবনে হারিস। আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত, যখন মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে ব্যঙ্গোক্তি করল, তখন তিনি বললেন: "আমাদের পক্ষ থেকে জবাব দেওয়ার মতো কি কেউ নেই?" আয়েশা (রা.) বলেন, তখন আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহাকে ডাকলাম। তিনি কুরাইশদের ঐতিহাসিক যুদ্ধ এবং তাদের কুফর নিয়ে নিন্দা করলেন, কিন্তু তা রাসূলের উদ্দেশ্য পুরোপুরি সফল করেনি। আয়েশা (রা.) বলেন, এরপর আমরা হাসসানকে ডাকলাম। তিনি তার জিহ্বা বের করে নাকের অগ্রভাগে আঘাত করলেন এবং বললেন: "সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন! আরবের মা’আদ গোত্রের সম্মানহানি করতে আমার জিহ্বাই যথেষ্ট।" রাসূল বললেন: "কীভাবে? অথচ আমিও তো তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।" তিনি বললেন: "আমি আপনাকে তাদের মধ্য থেকে এমনভাবে বের করে আনব যেভাবে আটা থেকে চুল বের করা হয়।" রাসূল বললেন: "হে আবু বকর, ওঠো এবং হাসসানকে কুরাইশদের বংশপরিচয় ও দোষত্রুটিগুলো শিখিয়ে দাও।" আয়েশা (রা.) বলেন, এরপর হাসসান তাদের এমনভাবে ব্যঙ্গ করলেন যা আমাদের মনকে শান্ত করল। অন্য এক বর্ণনায় এসেছে যে, জিবরাঈল (আ.) সত্তরটি পঙক্তির মাধ্যমে হাসসানকে সাহায্য করেছিলেন। এটাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সেই দোয়ার মর্মার্থ যেখানে তিনি বলেছিলেন: "হে আল্লাহ! হাসসানকে রুহুল কুদুস (জিবরাঈল) দ্বারা সাহায্য করুন।" তিনি তাকে আরও বলেছিলেন: "মুশরিকদের ব্যঙ্গ করো, রুহুল কুদুস তোমার সাথে আছেন।" অন্য এক হাদিসে আছে: যখন বনু তামিম গোত্রের প্রতিনিধি দল আসল, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাসসানের জন্য একটি মিম্বর স্থাপন করলেন এবং তাকে সেখানে বসালেন।অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) হাসসানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যখন তিনি মসজিদে কবিতা আবৃত্তি করছিলেন। উমর তাকে ধমক দিলেন এবং নিষেধ করলেন। তখন হাসসান বললেন: "আমি এখানে তাঁর উপস্থিতিতে কবিতা আবৃত্তি করেছি যিনি আপনার চেয়েও উত্তম ছিলেন (অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।"কথিত আছে যে, হারিস ইবনে আউফ রাসূলুল্লাহর কাছে এসে বললেন: "আমাকে হাসসানের কবিতার হাত থেকে রক্ষা করুন। যদি তার কবিতার তীব্রতা সমুদ্রে মিশিয়ে দেওয়া হতো, তবে তা সমুদ্রের পানিকেও বদলে দিত।"হাসসান জাহেলি যুগে রাজাবাদশাদের দরবারে যাতায়াত করতেন এবং উপহার গ্রহণ করতেন। হুতাইয়া যখন মৃত্যুশয্যায় ছিলেন, তখন তিনি বললেন: "আনসারদের জানিয়ে দিও যে, তাদের ভাই হাসসান মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ প্রশংসাকারী, যখন তিনি বলেন:"
(খণ্ড: ১)
আল-মুযাকারাতু ফী আলকাবিশ শুআরা
(পৃষ্ঠা: ১১)
يغشونَ حتى ما تهرُّ كلابهم … لا يسألون عن السوادِ المقبلِوقوله:ربَّ علمٍ أضاعهُ عدمُ الما … لِ، وجهلٍ غطى عليهِ النعيمُأخذ هذا المعنى ابن هرمة فقال:يكادُ إذا ما أبصر الكلبُ ضيفهُ … يكلمهُ من حبهِ، وهو أعجمُولما نظم حسان قوله:نسودُ ذا المالِِ القليلِ، إذا بدتْ … مروءتهُ فينا، وإنْ كانَ معدماأعجب به، فصعد أطمة، ونادى: واصاحباه، فاجتمع قومه إليه، وقالوا: ما وراءك؟ فأنشدهم البيت، فعجبوا كما عجب.وكان لحسان بنية شاعرة لم تذكر، وقيل: إن حساناً ارق ذات ليلة، فعن له أن يقول الشعر، فقال:متاريكُ أذنابَ الأمورِ إذا اعترتْ … أخذنا الفروعَ، واجتنينا أصولهاثم أرتج عليه. فقالت له بنته: كأن قد ارتج عليك يا أبتي؟ قال: نعم. قالت: فهل لك أن أجيز عنك؟ قال: وهل عندك ذاك؟ قالت: نعم، قال: فافعلي، فقالت:مقاتيلُ بالمعروفِ، خرسٌ عن الخنا … كرامُ يعاطونَ العشيرةَ سولهافحمي الشيخ فقال:وقافيةٍ مثلِ السنانِ رزيتها … تناقلتُ عنها افق السماءِ نزولهافقالت:يراها الذي لا ينطقُ الشعرَ عندهُ … ونعجزُ عن أمثالها أنْ نقولهاومن أحسن ما سمعت من غرر ابياته:وكنتَ إذ ما موكبٌ صدَّ موكباً … لدى الروعِ، يوم الروعِ، وحدك موكباأخذ هذا المعنى أبو تمام فقال:قليلكمُ يربى على عددِ الحصى … وواحدكم في الأرضِ، للهِ، عسكرُولدعبل مثل هذا:ما شكَّ خلقٌ أن فارسنا له … إقدام جيشٍ لا يرامُ، لهامِوقيل: عن ساناً مر بقوم يشربون الخمر فنهاهم، فقالوا: ننتهي؟ وإنما إذا ذكرنا قولك نعود. فقال: وما هو؟ قالوا:إذا ما الأشرباتُ ذكرن يوماً … فهنَّ لطيب الراح الفداءُونشربها، فتتركنا ملوكاً … وأسداً ما ينهنهها اللقاءُفيرغبنا ذلك في شربها.ذكر عبد الرحمن بن حسانكان أهدى المقوقس، عظكيم القبط إلى النبي، صلى الله عليه مارية، فولدت له إبراهيم، ووهب لحسان سيرين، فولدت له عبد الرحمن. فبينا عبد الرحمن يلعب مع الصبيان، إذ لسعه زنبور فصاح، فاقبل حسان يسعى، وقال: ما لك؟ قال: لسعني زنبور كأنه برد حبرة. فضمه حسان إليه وقال: قال إبني الشعر ورب الكعبة، وأسلمه إلى المكتب. فهو في المكتب يوماً وقد نقم المعلم على الصبيان، فأدبهم عليه، وأراد تأديبه، فقال:الله يعلم أني كنتُ معتزلاًفقال المعلم: وإلا أين كنت؟ قال:في دار يعقوب اصطاد اليعاسيبافبلغ حساناً، فأقبل يسعى حتى ضمه.وكان عبد الرحمن يقول: عاش ابي مائة وعشرين سنة، وجدي ثابت مثلها وجد ابي منذر مثلها، وأنا ايضاً أعيش كموا عاشوا. فمات ولم يجاوز الستين سنة.ومما وجدت من شعر عبد الرحمن:ذممتَ ولم تحمدْ، وأدركتُ حاجتي … تولى سواكمْ عرفها واصطناعهاأبى لكَ فعلَ الخيرِ رأيٌ مفندٌ … ونفسٌ أضاقَ الله بالخيرِ باعهاإذا ما أرادتهُ على الخير مرةً … عصاها، وإن همت بسوءٍ أطاعهاوله ايضاً:وإني لأمسي، ثمَّ اصبح طاوياً … وأكرم نفسي عن دقائقِ المطاعمِومن نوادر أبياته:إذا أبصرتني أعرضتَ عني … كأنَّ الشمسَ من قبلي تدورُوله أخبار كثيرة يطول شرحها.ذكر سعيد بن عبد الارحمن بن حسانومن شعره:فإنَّ البلاء مرور اللوات … تكرُّ على الناس بيضاًًًًًً وسوداليالٍ تكرُّ بأيامها … تزيل عن أهل الجدودِ الجدوداومما وجدت من شعر فاطمة بنت سعيد:سل الخير أهل الخير قدماً، ولا تسل … فتىً ذاق طعم العيش منذُ قريبِفليسَ يلذُّ الخير إلا امرؤ به … تغذى صبياً قبل وقتِ مشيبِومثله لها:واسألِ الخير، إن سألت، كريماً … لم يزلْ يعرف الغنى واليسارافقليلُ الكريمِ يكسب فخراً … وكثيرُ اللئيم يكسبُ عاراومن الشعراء المعرقينمحمد بن عمارة بن عقيل بن بلال بن جرير بن عطية بن الخطفى. كل هؤلاء شعراء معرقون، إلا عطية، فهو ضعيف، وقل ما يروى نله. وأشعر ولد جرير بلال.
তারা এমনভাবে (অতিথিদের) আপ্যায়ন করে যে তাদের কুকুরগুলো পর্যন্ত ঘেউ ঘেউ করে না … তারা আগন্তুক ব্যক্তির পরিচয় সম্পর্কে কোনো জিজ্ঞাসাবাদ করে না।আর তার বাণী:কত জ্ঞানই না ধ্বংস হয়েছে সম্পদের অভাবে … আর কত মূর্খতাকেই না ঢেকে দিয়েছে বিলাসিতা।ইবনে হারমা এই ভাবটি গ্রহণ করে বলেছেন:কুকুরটি যখনই কোনো মেহমানকে দেখে, তখন সে … ভালোবাসার আতিশয্যে কথা বলতে উদ্যত হয়, যদিও সে অবোধ প্রাণী।হাসান যখন তার এই পঙক্তিটি রচনা করলেন:আমরা অল্প সম্পদের অধিকারীকেও নেতা মানি, যখন আমাদের মাঝে … তার পুরুষোচিত গুণাবলী প্রকাশ পায়, যদিও সে হয় রিক্তহস্ত।তিনি নিজেই এতে মুগ্ধ হলেন এবং একটি উঁচু স্থানে আরোহণ করে উচ্চস্বরে ডাক দিলেন: ওহে আমার সঙ্গীরা! তার গোত্রের লোকেরা সমবেত হয়ে জিজ্ঞেস করল: কী হয়েছে? তিনি তাদের এই পঙক্তিটি শোনালেন, তখন তারাও তার মতো মুগ্ধ হলো।হাসানের এক কন্যা ছিল যে কবি ছিল, তবে তার উল্লেখ সচরাচর পাওয়া যায় না। বলা হয় যে, এক রাতে হাসানের ঘুম আসছিল না, তাই তিনি কবিতা রচনার ইচ্ছা করলেন এবং বললেন:আমরা বিষয়ের লেজগুলো (তুচ্ছ অংশ) ছেড়ে দেই যখন তা আমাদের সামনে আসে … আমরা শাখাগুলো গ্রহণ করি এবং মূলগুলো আহরণ করি।এরপর তিনি আর মেলাতে পারছিলেন না। তখন তার কন্যা তাকে বলল: হে পিতা, আপনার কাব্য কি থেমে গিয়েছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ। সে বলল: আমি কি আপনার পক্ষে এটি পূর্ণ করে দেব? তিনি বললেন: তোমার কি সেই ক্ষমতা আছে? সে বলল: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তবে করো। তখন সে বলল:তারা কল্যাণের পথে উৎসর্গিত, অশ্লীলতা থেকে মূক … তারা সম্মানিত এবং আত্মীয়-স্বজনের চাহিদা পূরণ করে।তখন বৃদ্ধ কবি (হাসান) উদ্দীপিত হয়ে বললেন:এটি এমন এক ছন্দ যা বর্শার ফলার মতো তীক্ষ্ণ … আমি আসমানের দিগন্ত থেকে এর অবতরণ প্রত্যক্ষ করেছি।তখন কন্যা বলল:যিনি কবিতা বলতে পারেন না তিনিও এটি দেখেন … আর আমরাও এর অনুরূপ বলতে অক্ষম হই।হাসানের শ্রেষ্ঠ পঙক্তিগুলোর মধ্যে যা আমি শুনেছি তা হলো:যখন কোনো সেনাদল অন্য সেনাদলের পথ রোধ করে … তখন যুদ্ধের বিভীষিকাময় দিনে আপনি একাই ছিলেন একটি পূর্ণ বাহিনী।আবু তাম্মাম এই ভাবটি গ্রহণ করে বলেছেন:তোমাদের অল্প সংখ্যক লোকও কঙ্করের সংখ্যার চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে … আর তোমাদের একজন ব্যক্তিই পৃথিবীতে আল্লাহর শপথ একটি সেনাবাহিনী।দি’বিলেরও অনুরূপ একটি পঙক্তি আছে:সৃষ্টি জগতের কারো সন্দেহ নেই যে আমাদের অশ্বারোহী বীরের আছে … এক অজেয় এবং সুবিশাল বাহিনীর ন্যায় বিক্রম।বলা হয় যে, হাসান একদিন একদল লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা মদ পান করছিল। তিনি তাদের নিষেধ করলেন। তারা বলল: আমরা কি পান করা ছেড়ে দেব? অথচ যখনই আমরা আপনার পঙক্তি স্মরণ করি, তখনই পুনরায় পান করতে শুরু করি। তিনি বললেন: সেটি কোনটি? তারা বলল:যখন কোনো দিন পানীয়সমূহের কথা উল্লেখ করা হয় … তখন সেগুলো উত্তম মদের জন্যই উৎসর্গিত হয়।আমরা তা পান করি এবং তা আমাদের রাজাধিরাজ বানিয়ে দেয় … আর এমন সিংহ বানিয়ে দেয় যাদেরকে যুদ্ধের ময়দানও রুখতে পারে না।এই কথাগুলোই আমাদের মদ পানে প্রলুব্ধ করে।আবদুর রহমান বিন হাসানের আলোচনাকিবতীদের প্রধান মুকাউকিস নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট মারিয়াকে উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন, যার গর্ভে ইব্রাহিম জন্মগ্রহণ করেন। আর তিনি হাসানকে সিরিনকে দান করেন, যার গর্ভে আবদুর রহমান জন্মগ্রহণ করেন। একদিন আবদুর রহমান যখন বালকদের সাথে খেলছিলেন, তখন তাকে একটি ভীমরুল হুল ফোটালো। তিনি চিৎকার করে উঠলেন। হাসান দৌড়ে এসে বললেন: তোমার কী হয়েছে? তিনি বললেন: আমাকে একটি ভীমরুল দংশন করেছে যা দেখতে অনেকটা ডোরাকাটা চাদরের মতো। হাসান তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন: কাবার রবের কসম, আমার ছেলে কবিতা বলেছে! এরপর তিনি তাকে মক্তবে পাঠালেন। একদিন মক্তবে থাকাকালীন শিক্ষক ছাত্রদের ওপর রাগান্বিত হয়ে তাদের শাস্তি দিলেন এবং তাকেও শাস্তি দিতে চাইলেন। তখন তিনি বললেন:আল্লাহ জানেন যে আমি নির্জনে ছিলাম।শিক্ষক বললেন: তবে তুমি কোথায় ছিলে? তিনি বললেন:ইয়াকুবের বাড়িতে আমি ফড়িং ধরছিলাম।এই খবর হাসানের কাছে পৌঁছালে তিনি দৌড়ে এসে তাকে বুকে টেনে নিলেন।আবদুর রহমান বলতেন: আমার পিতা একশ বিশ বছর বেঁচেছিলেন, আমার দাদা সাবিত এবং তার পিতা মুনজিরও সমকাল বেঁচেছিলেন; আমিও তাদের মতোই দীর্ঘকাল বাঁচব। কিন্তু তিনি ষাট বছর হওয়ার আগেই ইন্তেকাল করেন।আবদুর রহমানের কবিতার মধ্যে আমি যা পেয়েছি:তুমি নিন্দিত হয়েছ, প্রশংসিত হওনি; অথচ আমি আমার প্রয়োজন পূরণ করেছি … অন্যরাই এর দায়িত্ব নিয়েছে এবং তা সম্পন্ন করেছে।তোমার ভ্রান্ত বুদ্ধি তোমাকে ভালো কাজ করতে বাধা দেয় … আর এমন এক অন্তর যাকে আল্লাহ কল্যাণ থেকে সংকীর্ণ করে দিয়েছেন।যখনই তার প্রবৃত্তি তাকে একবার ভালোর দিকে নিতে চায় … সে তার অবাধ্য হয়; কিন্তু মন্দের সংকল্প করলে সে তার অনুগত হয়।তার আরও পঙক্তি:আমি ক্ষুধার্ত অবস্থায় সন্ধ্যা অতিবাহিত করি এবং ভোর করি … তবুও তুচ্ছ খাদ্যের লোভ থেকে নিজের আত্মাকে রক্ষা করি।তার দুর্লভ পঙক্তিগুলোর মধ্যে একটি:যখনই তুমি আমাকে দেখ, মুখ ফিরিয়ে নাও … যেন সূর্য আমার দিক থেকেই উদিত হচ্ছে।তার সম্পর্কে আরও অনেক ঘটনা আছে যা বর্ণনা করতে গেলে দীর্ঘ হবে।সাঈদ বিন আবদুর রহমান বিন হাসানের আলোচনাতার কবিতা থেকে:বিপদ হলো সময়ের আবর্তন যা … মানুষের ওপর সাদা ও কালো (দিন ও রাত) হয়ে ফিরে আসে।এমন রজনী যা তার দিনগুলো নিয়ে আবর্তিত হয় … এবং সৌভাগ্যবানদের থেকে তাদের সৌভাগ্য কেড়ে নেয়।ফাতিমা বিনতে সাঈদের কবিতার মধ্যে আমি যা পেয়েছি:হে চিরন্তন, সৎলোকদের কাছেই কল্যাণ প্রার্থনা করো, এমন যুবকের কাছে নয় … যে অতি অল্পকাল হলো সচ্ছলতার স্বাদ পেয়েছে।কল্যাণ সেই ব্যক্তির কাছেই শোভা পায় যে … বার্ধক্যের আগে শৈশব থেকেই তাতে লালিত-পালিত হয়েছে।তার আরও অনুরূপ কবিতা:যদি তুমি কিছু চাও, তবে কোনো উদার ব্যক্তির কাছেই কল্যাণ প্রার্থনা করো … যে সর্বদা সচ্ছলতা ও প্রাচুর্যের সাথে পরিচিত।কেননা উদার ব্যক্তির সামান্য দানও গৌরব বয়ে আনে … আর কৃপণ ব্যক্তির অঢেল দানও লজ্জা বয়ে আনে।বংশানুক্রমিক কবিদের আলোচনামুহাম্মদ বিন উমারা বিন আকিল বিন বিলাল বিন জারির বিন আতিয়্যা বিন খাতাফা। এঁরা সকলেই বংশানুক্রমিক কবি, কেবল আতিয়্যা ছাড়া; তিনি ছিলেন দুর্বল কবি এবং তার থেকে খুব সামান্যই বর্ণিত হয়েছে। আর জারিরের সন্তানদের মধ্যে বিলাল ছিলেন শ্রেষ্ঠ কবি।
(খণ্ড: ১)
আল-মুযাকারাতু ফী আলকাবিশ শুআরা
(পৃষ্ঠা: ১২)
وأما الخطفي فهو حذيفة بن يدر بن سلمة بن عوف، وسمي الخطفي لقوله:وطول رحال المطي اختلفا … يرفعن لليل إذا ما أسدفاأعناقَ حياتٍ، وهاماً رجفا … وعنقاً، بعد الكلالِ، خيطفاوالخيطف: السريع. ومن شعر الخطفي:عجبت لإرزاء العييّ لنفسه … وصمت الذي قد كان بالقولِ أعلماوفي الصمت سترٌ للعييّ، وإنما … صحيفة لبِّ المرءِ أن يتكلماذكر جرير ولدهوولد جرير: حرزة، وزكرياء، والصفاح، وسوادة، والثبجان، وأمهم خالدة بنت سعد بن أوس. ولها يقول:تشكت أمُّ حرزة، ثمَّ قالت … رأيتُ الموردين ذوي لقاحِوكذا يقول:حيوا أمامة، واذركوا عهداً مضى … قبل التفرقِ من شماليلِ النوىوبلال، ونوح، أمهما أم حكيم بنت سعد، من أهل الري، سباها قطري بن الفجاءة، فوقعت في يدي الحجاج، فوهبها لجرير، وفيها يقول:لقد زدتِ أهل الريّ عندي ملاحةً … وحببت، أضعافاً، إليَّ الموالياإذا عرضتْ بالبين منها تعرضت … لأمِّ حكيمٍ حاجةٌ في فؤادياوفيها يقول:ما استوصف الناس من شيءٍ يروقهمُ … إلا رأؤا أمَّ نوحٍ فوق ما وصفواكأنها مزنةٌ غراءُ رائحةٌ … أو درةٌ ما يواري ضوءها الصدفُوشعراء الاسلام اربعة: جرير، والفرزدق، والأخطل، وكثير. وسئل الأخطل عن نفسه وعن جرير والفرزدق فقال: أنا أمدحهم للملوك، وأوصفهم للخمر، والفرزدق أفخرنا، وجرير أهجانا وأسبنا وأسهبنا. ويقال: الفرزدق ينحت من صخر، وجرير يغرف من بحر.ومر الراعي في سفر فسمع إنساناً يغني بشعر جرير:وعاوٍ عوى من غير شيءٍ رميته … بقافيةٍ إنفاذها يقطرُ الدماخروجٍ بأفواهِ الرواةِ كأنها … قرا هندوانيٍّ، إذا هزَّ صممافقال الراعي: لعن الله من يلومني إذا قلت: جرير يغلبني.وسئل الأخطل عن جرير، فقال: دعوه، فإنه كان بلاء على من صب عليه، وما أخشن ناحيته، واشرد قافيته، والله لو تركوه لأبكى العجوز على شبابها، والشابة على أحبابها، ولقد هزوه فوجدوه عند الهراش نابحاً، ولقد قال بيتاً لأن أكون قلته أحب إلي مما طلعت عليه، وهو قوله:إذا غضبت عليك بنو تميمٍ … حسبت الناس، كلهمُ، غضاباويقال: إن جريراً هاجى ثلاثين شاعراً غلبهم، وأخباره كثيرة مسموعة، وقد تداولتها الألسن، فلا نذكر منها إلا لمعاً، وكذا من أشعاره نذكر ما يتمثل به.ومن العجب أن أم جرير رأت في نومها كأنها ولدت جريراً، والجرير: زمام النجيب، من سيور مضفورة، وكان الجرير مطوياً، فجعل أهله يأخذونه فينثرونه ويجعلونه قلائد في أعناق رجال لا تعرفهم. فخبرت أباه بذلك، فقال: لتلدن غلاماً يعد الناس بشر. فلما ولدت جريراً سألته أن تسميه جريراً، فكان منه ما كان.وقال جرير: لا يقال للشعر شعراً إلا أن يكون بعضه أخذاً برقاب بعض.وقيل لمسلم: أي الشاعرين أفضل، جرير أم الفرزدق؟ فقال: الفرزدق يبني، وجرير يهدم. وقال: بيوت الشعر أربعة: فخر، ومدح، وهجاء، ونسيب. وجرير غلب في هذه كلها. ويريد بالفخر قوله:إذا غضبت عليك بنو تميمٍ … حسبتَ الناس كلهمُ، غضاباويريد بالمدح قوله:ألستمْ خيرَ من ركب المطايا … وأندى العالمينم بطونَ راحِويريد بالهجاء قوله:فغضَّ الطرفَ إنكَ من نميرٍ … فلا كعباً بلغتَ، ولا كلاباويريد بالنسيب قوله:إنَّ العيونَ التي في طرفها مرضٌ … قتلننا، ثمَّ لم يحيينَ قتلانايصرعن ذا اللبِ حتى لا حراكَ به … وهنَّ أضعفُ خلق اللهِ أركاناوقيل لبشار: من أشعر الثلاثة؟ فقال: لم يكن الأخطل مثلهما، ولكن ربيعة تعصبت له وأفرطت فيه، وكان لجرير ضروب من الشعر لا يحسنها الفرزدق. ولقد ماتت النوار فكانوا ينوحون عليها بشعر جرير، الذي رثى به أم حرزة، وهو:لولا الحياء لعادني استعبار … ولزرت قبرك، والحبيب يزارُولقد أراكِ كسيت أجمل منظرٍ … ومع الجمال سكينةٌ ووقارُلا يلبثُ القرناء إن يتفرقوا … ليلٌ يكرُّ عليهمُ ونهارُوقوله:فإن أكُ مجفواً فأخسر صفقتي … وإن أك متروكاً فللقوسِ منزعُ
আর আল-খাতফী হলেন হুযাইফা ইবনে ইয়াদর ইবনে সালামা ইবনে আওফ। তাকে আল-খাতফী বলা হয়েছে তার এই বাণীর কারণে:উটের হাওদার দৈর্ঘ্য ভিন্ন ভিন্ন হয়ে গেছে … তারা রাতের পানে উপরে ওঠে যখন অন্ধকার গাঢ় হয়।সাপের মতো গর্দান, প্রকম্পিত মস্তক … ক্লান্তির পর অতি দ্রুত ধাবমান গর্দান।আর 'খাইতাফ' মানে হলো দ্রুতগামী। খাতফীর কবিতার অংশবিশেষ:আমি নির্বোধের নিজের প্রতি অবমাননায় এবং … সেই ব্যক্তির নীরবতায় বিস্মিত হয়েছি যে কথা বলায় অধিক অভিজ্ঞ ছিল।وفي الصمت سترٌ للعييّ، وإنما … صحيفة لبِّ المرءِ أن يتكلماজরীরের সন্তানদের উল্লেখজরীরের সন্তানরা হলো: হিরযাহ, যাকারিয়া, আল-সাফফাহ, সাওয়াদাহ এবং আল-সুবজান; আর তাদের মা হলেন খালিদাহ বিনতে সাদ ইবনে আওস। তার সম্পর্কে তিনি বলেন:উম্মে হিরযাহ অনুযোগ করল, অতঃপর বলল … আমি দুগ্ধবতী উষ্ট্রীর মালিকদের আগত দেখলাম।তিনি আরও বলেন:উমামাকে সম্ভাষণ জানাও, এবং অতীত দিনের সেই স্মৃতির কথা স্মরণ করো … বিচ্ছেদের দূরবর্তী প্রান্তরে বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে।বিলাল এবং নূহ—তাদের মা হলেন উম্মে হাকিম বিনতে সাদ, তিনি রয় অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন। কাতারি ইবনুল ফুজাআহ তাকে বন্দী করেন, অতঃপর তিনি হাজ্জাজের হস্তগত হন। হাজ্জাজ তাকে জরীরের কাছে উপহার হিসেবে প্রদান করেন। তার সম্পর্কে তিনি বলেন:তুমি আমার কাছে রয়-বাসীদের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছ … আর অনারব দাসদের প্রতি আমার ভালোবাসা বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছ।যখন সে বিচ্ছেদের প্রস্তাব নিয়ে আসে, তখন উম্মে হাকিমের প্রতি … আমার অন্তরে এক বিশেষ আকাঙ্ক্ষা বা প্রয়োজন অনুভূত হয়।তার সম্পর্কে তিনি আরও বলেন:মানুষ এমন কিছু বর্ণনা করতে পারেনি যা তাদের চমৎকৃত করে … অথচ তারা উম্মে নূহকে তাদের বর্ণনার চেয়েও শ্রেষ্ঠ দেখতে পায়।সে যেন এক উজ্জ্বল শুভ্র মেঘমালা যা বিকেলে উদিত হয় … অথবা এমন এক মুক্তা ঝিনুক যার দ্যুতিকে আড়াল করতে পারে না।ইসলামের শ্রেষ্ঠ কবি চারজন: জরীর, আল-ফারাযদাক, আল-আখতাল এবং কুসাইয়্যির। আল-আখতালকে তার নিজের সম্পর্কে এবং জরীর ও ফারাযদাক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: আমি রাজন্যবর্গের প্রশংসায় তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, এবং মদ্যপানের বর্ণনায় সবচেয়ে দক্ষ। ফারাযদাক আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গর্ব প্রকাশকারী। আর জরীর আমাদের মধ্যে সবচেয়ে কঠোর বিদ্রূপকারী, গালমন্দকারী এবং সাবলীল বক্তা। বলা হয়ে থাকে: ফারাযদাক যেন পাথর খোদাই করেন, আর জরীর যেন সমুদ্র থেকে অঞ্জলি ভরে পানি তোলেন।আল-রাঈ এক সফরে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি এক ব্যক্তিকে জরীরের কবিতা গাইতে শুনলেন:অকারণে ঘেউ ঘেউ করা এক চিৎকারকারীকে আমি এমন এক অন্ত্যমিল দ্বারা আঘাত করেছি … যার আঘাতে রক্ত ঝরে পড়ে।বর্ণনাকারীদের মুখে তা এমনভাবে নির্গত হয় যেন তা … হিন্দুস্তানি তরবারির পিঠ, যা দুলিয়ে আঘাত করলে লক্ষ্যবস্তু বিদীর্ণ করে।তখন আল-রাঈ বললেন: আল্লাহ তাকে লানত করুন যে আমাকে তিরস্কার করে যখন আমি বলি—জরীর আমাকে পরাজিত করেছে।আল-আখতালকে জরীর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: তাকে ছেড়ে দাও, কারণ সে যার ওপর আপতিত হয় তার জন্য এক মুসিবত। তার স্বভাব কতই না রুক্ষ, তার কাব্যের অন্ত্যমিল কতই না দুরন্ত। আল্লাহর কসম, তাকে যদি ছেড়ে দেওয়া হতো তবে সে বৃদ্ধাকে তার যৌবনের জন্য এবং যুবতীকে তার প্রিয়জনদের জন্য কাঁদিয়ে ছাড়ত। তারা তাকে উস্কানি দিয়েছে এবং লড়াইয়ের ময়দানে তাকে গর্জনকারী হিসেবে পেয়েছে। সে এমন একটি পঙ্ক্তি বলেছে, যা আমার বলার সৌভাগ্য হলে দুনিয়ার সমস্ত সম্পদের চেয়ে আমার কাছে অধিক প্রিয় হতো, আর তা হলো তার এই বাণী:যখন বনু তামীম তোমার ওপর রাগান্বিত হয় … তখন তুমি মনে করবে যেন সমস্ত মানুষই তোমার ওপর ক্রুদ্ধ।বলা হয় যে, জরীর ত্রিশজন কবির সাথে কাব্যযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলেন এবং তাদের সবাইকে পরাজিত করেছিলেন। তার খবরসমূহ বহুল প্রচলিত, মানুষের মুখে মুখে তা আবর্তিত হয়। আমরা এখানে তার সামান্য অংশ এবং তার কবিতার কেবল প্রবাদতুল্য অংশগুলো উল্লেখ করছি।আশ্চর্যের বিষয় হলো, জরীরের মা স্বপ্নে দেখেছিলেন যেন তিনি একটি 'জরীর' প্রসব করেছেন। আর 'জরীর' হলো পাকানো চামড়ার তৈরি উটের লাগাম। সেই লাগামটি গোটানো ছিল। অতঃপর তার পরিবারের লোকেরা তা নিয়ে ছড়িয়ে দিতে লাগল এবং এমন সব লোকদের গলায় মালা হিসেবে পরিয়ে দিতে লাগল যাদের তিনি চেনেন না। তিনি তার বাবার কাছে বিষয়টি বর্ণনা করলে তিনি বললেন: তুমি অবশ্যই এমন এক পুত্র সন্তান জন্ম দেবে যে মানুষের ওপর অমঙ্গল নিয়ে আসবে। যখন তিনি জরীরকে প্রসব করলেন, তখন তার মা তার নাম জরীর রাখার অনুরোধ করলেন; এরপর যা হওয়ার তাই হলো।জরীর বলেন: কবিতাকে ততক্ষণ কবিতা বলা যায় না যতক্ষণ না তার এক অংশ অন্য অংশের সাথে সুসংবদ্ধ হয়।মুসলিমকে জিজ্ঞেস করা হলো: এই দুই কবির মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ—জরীর নাকি ফারাযদাক? তিনি বললেন: ফারাযদাক নির্মাণ করেন, আর জরীর ধ্বংস করেন। তিনি আরও বলেন: কবিতার শাখা চারটি: আত্মশ্লাঘা, প্রশংসা, বিদ্রূপ এবং প্রেম। আর জরীর এই সবকটিতেই বিজয়ী হয়েছেন। আত্মশ্লাঘা বলতে তিনি তার এই বাণীর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন:যখন বনু তামীম তোমার ওপর রাগান্বিত হয় … তখন তুমি মনে করবে যেন সমস্ত মানুষই ক্রুদ্ধ।প্রশংসা বলতে তিনি তার এই বাণীর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন:তোমরা কি আরোহণকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ নও? … এবং জগদ্বাসীর মধ্যে সবচেয়ে দানশীল নও?বিদ্রূপ বলতে তিনি তার এই বাণীর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন:তবে তোমার দৃষ্টি অবনত করো, কারণ তুমি তো নুমাইর গোত্রের লোক … তুমি মর্যাদায় না কাব পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছ, আর না কিলাব পর্যন্ত।আর প্রেম বলতে তিনি তার এই বাণীর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন:সেই চোখগুলো যাদের চাউনিতে মোহনীয় কাতরতা রয়েছে … তারা আমাদের হত্যা করেছে, অতঃপর আমাদের মৃতদের আর জীবিত করেনি।তারা বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে এমনভাবে ধরাশায়ী করে যে তার আর নড়ার ক্ষমতা থাকে না … অথচ তারা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল কাঠামোর অধিকারী।বাশশারকে জিজ্ঞেস করা হলো: এই তিনজনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কবি কে? তিনি বললেন: আল-আখতাল তাদের দুজনের সমকক্ষ ছিল না, কিন্তু রাবীআ গোত্র তার প্রতি পক্ষপাতি ছিল এবং তাকে নিয়ে অতিরঞ্জন করত। জরীরের এমন কিছু কাব্যধারা ছিল যা ফারাযদাক জানতেন না। যখন নাওয়ার ইন্তেকাল করলেন, তখন তারা জরীরের সেই কবিতা দিয়ে তার ওপর শোকগাথা পাঠ করত, যা দিয়ে তিনি উম্মে হিরযাহর শোক প্রকাশ করেছিলেন:লজ্জা না থাকলে চোখের অশ্রু প্রবাহিত হতো … আর আমি তোমার কবর যিয়ারত করতাম, কারণ প্রিয়জনদের কবর যিয়ারত করা হয়।আমি তোমাকে সবচেয়ে সুন্দর সাজে সজ্জিত দেখেছি … সেই সৌন্দর্যের সাথে ছিল প্রশান্তি ও গাম্ভীর্য।সাথীরা বিচ্ছিন্ন হতে বিলম্ব করে না … রাত এবং দিন তাদের ওপর বারবার আবর্তিত হয়।এবং তার বাণী:যদি আমি অবহেলিত হই তবে আমার ব্যবসারই লোকসান … আর যদি আমি পরিত্যক্ত হই, তবে ধনুক ছোঁড়ার জায়গা তো রয়েই গেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুযাকারাতু ফী আলকাবিশ শুআরা
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ولستُ أخا ذنبٍ فأخشى نكالهُ … وإن كنتُ ذا ذنبٍ فحلمكَ أوسعُوله أيضاً:يا أيها المولى الذي لم أبتهل … إلا سألتُ لهُ البقاءَ إلهيأشكو إليك، وكيف أشكو خلتي … إلا إليكَ، وأنتَ بابُ اللهِوله أيضاً:غاب عنا فغاب كلُّ سرورٍ … وأتانا بالبشرِ والترحيبِطاوياً بالدنوّ ما نشر البع … د علينا من الجوى والكروبِسافراً عن أسرةٍ تخجل الشم … س، وتخزي وجه الزمان القطوبِوله أيضاً:نمَّ في الليل عرفها وسناها … ووشى حليها فهبَّ الرقيبُفخشينا الواشي فقلنا أستري ما … نمَّ، قال، والقول منها عجيبُهب سترت الحليَّ، أو ضوء وجهي … كيف أخفي نشري، وكلي طيبُوله ايضاً:إذا كنت لا أقري الضيوف وأخرق … وأغني كلَّ عافٍ ومدقعِوإلا فبدلتَّ القناة بمغزلٍ … وسرجي بخدرٍ، واللئامَ ببرقعِذكر أم غيلان بنت جريرتزوج حبيب الرياحي أم غيلان. وكان لها ابن عم يدعى جعداً، قد خطبها، فأبى جرير أن يزوجه. فجعل جعد وابن عم له يكنى أبا موزون يقعان في زوجها، ويزعمان أنه عنين، فقال:أصبح جعدٌ وأبو موزون … يرمون قسطاطي بالظنونْما ساق خمساً قبلهُ عنين … يسأل في المهرِ ويستدينْفسمع جرير الشعر، فقال: هذا شعر أعرفه.ذكر بلال بن جريرله يرثي أباه جريراً:إني رأيتُ جريراً يوم فارقنا … أبكى ربيعة، وأختلتْ له مضرُباتَ المحامي عن الأحساب قد علموا … والمحرزَ السبقَ لما أعظم الخطرُإما ثويتَ مقيماً فوقَ رابيةٍ … فقد مضت لك أيامٌ لها غررُقد كان في الحرب ليثاً ذا مزابنةٍ … شعباً إذا استحصدت، من حربه، المررُوكان يكوي ذوي عرٍّ فيبرئهم … وكان يعفو كثيراً، وهو مقتدرُوربَّ داعٍ دعا في الكيل أطلقه … والخطو من قيده في الخطو مقتصرُوباب ملكٍ نفعت النازلين به … والبابُ ممن يردُّ الباب محتصرُفأنعى جريراً إلى الأخلافِ إذْ نزلوا … وللأرامل لما أخلفَ المطرُويقول جامع هذا الكتاب: إني مجب بهذه القطعة، وهذا، والله، الشعر.وولد بلال عقيلقال عقيل: سمعتني إعرابية وأنا أنشد شعراً:وكم ليلة قد بتها غير آثمٍ … بمهضومةٍ الكشحينِ، ريانةِ القلبِفقالت لي: هلا أثمت أديناً أم عنيناً؟ وقال في رجل حلف يميناً كاذبة:لا حلف يقطع حقَّ خصمٍ شاغبٍ … إلا كحلف عبيدةَ بن سميدعِأمضى اليمين على الغموس لجاجةً … عضَّ الجموحِ على اللجامِ المقدعِوعمارة ولد عقيل بن بلالوكان عمارة اشعر ولد جرير، وهو غزير الشعر، كثير التصرف، وأخذ عنه ابن الأعرابي وابن السكيت. ومن شعره:أرى الناسَ طراً حامدين لخالدٍ … ومأكلهم أفضت إليه صنائعهُولن يترك الاقوام أن يحمد الفتى … إذا كرمت أخلاقه وطبائعهُفتى أمعنت ضراؤهُ في عدوهٍِ … وخصت وعمت في الصديق منافعهُفأخذ هذا المعنى أبو هفان، فمدح به ابن ابي دواد، فقال:ما لي إلى ابن أبي دؤادٍ حاجةٌ … تحدو إليه، ولا له عندي يدُإلا يدٌ عمت فكنت كواحدٍ … ممن يعين على الثناء ويسعدُنال البعيدَ عرفه، فشكرته … والحرُّ يشكرُ أن ينال الأبعدُوقال أيضاً:وكم قد رأينا من كهامٍ، وجفنه … حديدٌ، ورثّ الغمد، وهو جديدُومغتمضٍ في العين صدق ٍلقاؤهُ … ومن مالئٍ للعين وهو بليدُوشبيه بهذا المعنى:خلائقُ المرءِ في الدنيا تزينهُ … ما إن يزينه طولٌ ولا عظمُقد يخلفُ المرءُ، والمرآةُ معجبةٌ … وقد يسودُ الفتى في كشحهِ هضمُومثله:وقد يعجزُ المرءُ السمينُ عن العلى … وقد يمنعُ الضيمَ الفتى وهو أعجفُوله وقد أسن:كبرتُث ودقَّ العظمُ مني، وقني … بنيَّ، وأجلتْ عن فراشي القعائدُوأصبحتُ أعمى لا أرى الشمسَ بالضحى … تعيرني بين البيوتِ الولائدُوأكثر هجري أهلُ بيتي ومنزلي … وبتُّ كأني منهمُ متباعدُ
আমি কোনো অপরাধের ভাগীদার নই যে তার শাস্তিকে ভয় করব … তবে আমি যদি অপরাধীও হই, তবে আপনার ধৈর্য ও সহনশীলতা অনেক প্রশস্ত।তাঁর আরও কবিতা:হে সেই মহানুভব, যাঁর কাছে আমি কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করি না … তবে আমি তাঁর দীর্ঘায়ুর জন্য প্রার্থনা করেছি, হে আমার ইলাহ।আমি আপনার কাছে অভিযোগ করছি; আর আমি আমার অভাবের অভিযোগ কীভাবে করব … আপনি ছাড়া আর কার কাছে? অথচ আপনিই তো আল্লাহর করুণার দ্বার।তাঁর আরও কবিতা:তিনি আমাদের থেকে অদৃশ্য হলেন, ফলে সমস্ত আনন্দ বিলীন হয়ে গেল … আর তিনি যখন আমাদের কাছে আসলেন, হাসি ও উষ্ণ অভ্যর্থনা নিয়ে আসলেন।নৈকট্যের মাধ্যমে তিনি গুটিয়ে নিলেন দূরত্বের সেই সব ক্লেশ … যা আমাদের ওপর ছড়িয়ে দিয়েছিল বিরহ ও দুঃখ-বেদনা।তিনি এমন এক উজ্জ্বল মুখমণ্ডল উন্মোচন করলেন যা সূর্যকে লজ্জিত করে … এবং কালচক্রের বিষণ্ণ চেহারাকে লাঞ্ছিত করে।তাঁর আরও কবিতা:রাতের অন্ধকারে তার সুগন্ধি ও জ্যোতি প্রকাশ পেয়ে গেল … আর তার অলঙ্কার চোগলখুরি করল, ফলে পাহারাদার সজাগ হয়ে গেল।আমরা চোগলখোরকে ভয় পেলাম, তাই বললাম, যা প্রকাশ পেয়েছে তা ঢেকে রাখো … সে বলল—আর তার কথাটি ছিল বড় অদ্ভুত—মনে করো আমি অলঙ্কার বা আমার মুখের জ্যোতি ঢেকে রাখলাম … কিন্তু আমার সুবাস কীভাবে লুকাব? আমি তো আপাদমস্তক সুগন্ধময়।তাঁর আরও কবিতা:যদি আমি মেহমানদারি না করি এবং অপব্যয়ী হই … আর প্রত্যেক সাহায্যপ্রার্থী ও রিক্তহস্ত ব্যক্তিকে ফিরিয়ে দেই;নইলে আমি বল্লমের বদলে চরকা তুলে নেব … আর আমার ঘোড়ার জিনের বদলে অন্দরমহলের আসন, আর বীরদের বদলে নেকাব গ্রহণ করব।জরীরের কন্যা উম্মু গাইলানের আলোচনাহাবিব আল-রিয়াহি উম্মু গাইলানকে বিবাহ করেন। তাঁর এক চাচাতো ভাই ছিল যার নাম জা'দ, সে তাকে বিবাহের প্রস্তাব দিয়েছিল কিন্তু জরীর তাকে বিবাহ দিতে অস্বীকার করেন। তখন জা'দ এবং তার এক চাচাতো ভাই—যার উপনাম ছিল আবু মাওজুন—উম্মু গাইলানের স্বামীর নিন্দা করতে শুরু করল এবং দাবি করল যে সে নপুংসক। তখন সে (স্বামী) বলল:জা'দ এবং আবু মাওজুন আজ সকালে … আমার তাঁবুকে লক্ষ্য করে অপবাদ ছুড়ছে।তার আগে কি কোনো নপুংসক পাঁচটি উট তাড়িয়ে এনেছে … যে মোহরের জন্য মানুষের কাছে হাত পাতে এবং ঋণ গ্রহণ করে?জরীর এই কবিতা শুনে বললেন: "এটি এমন এক কবিতা যা আমি চিনি।"বিলাল ইবনে জরীরের আলোচনাতিনি তাঁর পিতা জরীরের শোকে শোকগাথা পাঠ করেছেন:আমি জরীরকে দেখেছি যেদিন তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন … তিনি রবীআ গোত্রকে কাঁদিয়েছেন এবং মুদার গোত্র তাঁর জন্য কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিল।বংশীয় মর্যাদার রক্ষক হিসেবে তিনি রাত অতিবাহিত করেছেন তা তারা জানে … এবং বড় বিপদের সময় তিনি শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী ছিলেন।যদি আপনি কোনো উঁচু টিলার ওপর স্থায়ী নিবাস গড়ে থাকেন (কবরে) … তবে আপনার এমন দিন অতিবাহিত হয়েছে যার বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও আভা ছিল।তিনি যুদ্ধে ছিলেন এক দুর্ধর্ষ সিংহ … যখন যুদ্ধের কঠিন রশিগুলো মজবুত হয়ে যেত তখন তিনি তা ছিন্ন করতেন।তিনি চর্মরোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা করে সুস্থ করতেন … এবং তিনি ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষমা করতেন।কতই না আহ্বানকারী শৃঙ্খলিত অবস্থায় চিৎকার করছিল যাকে তিনি মুক্ত করেছেন … যার শৃঙ্খলের কারণে চলাফেরা অত্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল।রাজকীয় দ্বারে আপনি আগন্তুকদের উপকার করেছেন … অথচ সেই দ্বার তাদের জন্য রুদ্ধ ছিল যারা অন্যদের বাধা প্রদান করে।আমি জরীরের মৃত্যু সংবাদ দিচ্ছি পরবর্তী বংশধরদের কাছে যখন তারা আগমন করবে … এবং বিধবাদের কাছে যখন বৃষ্টি বন্ধ হয়ে যাবে (অর্থাৎ যখন আর কোনো দানশীল থাকবে না)।এই কিতাব সংকলনকারী বলেন: আমি এই পংক্তিগুলোতে মুগ্ধ, আর আল্লাহর কসম, একেই বলে কবিতা।বিলালের পুত্র আকীলআকীল বলেন: এক বেদুইন নারী আমাকে এই কবিতা আবৃত্তি করতে শুনলেন:কত রাত আমি পাপমুক্ত হয়ে অতিবাহিত করেছি … ক্ষীণ কটি এবং কোমল হৃদয়ের অধিকারিণীর সাথে।তখন সে আমাকে বলল: "তুমি কেন পাপ করলে না? তুমি কি অত্যন্ত ধার্মিক নাকি নপুংসক?" আর তিনি এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে মিথ্যা শপথ করেছিল:কোনো ঝগড়াটে বিবাদীর অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার শপথ কার্যকর হয় না … উবাইদাহ ইবনে সামাইদার শপথের মতো অবস্থা ছাড়া।সে হঠকারিতার বশবর্তী হয়ে মিথ্যা শপথ (ইয়ামিনে গামুস) করেছে … যেমন অবাধ্য ঘোড়া তার লাগাম কামড়ে ধরে।আকীল ইবনে বিলালের পুত্র উমারাহউমারাহ ছিলেন জরীরের সন্তানদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কবি, তিনি প্রচুর কবিতা লিখতেন এবং অত্যন্ত সুদক্ষ ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে ইবনুল আ’রাবি এবং ইবনুস সিক্কীত জ্ঞান অর্জন করেছেন। তাঁর কবিতা থেকে:আমি দেখছি সমস্ত মানুষই খালিদের প্রশংসা করছে … কারণ তাঁর দানশীলতা তাদের জীবিকার সংস্থান করেছে।মানুষ কোনো যুবকের প্রশংসা করা থেকে কখনোই বিরত থাকে না … যখন তার চরিত্র ও স্বভাব মহান হয়।এমন এক যুবক যার কঠোরতা শত্রুর ওপর তীব্র হয়েছে … আর যার উপকারিতা বন্ধুদের মাঝে বিশেষ ও সাধারণ সবার কাছে পৌঁছেছে।আবু হাফফান এই ভাবটি গ্রহণ করে ইবনে আবি দুয়াদের প্রশংসা করে বললেন:ইবনে আবি দুয়াদের প্রতি আমার কোনো বিশেষ প্রয়োজন নেই … যা আমাকে তাঁর কাছে টেনে নিয়ে যাবে, আর আমার প্রতি তাঁর কোনো পূর্ববর্তী অনুগ্রহও ছিল না;তবে এমন এক অনুগ্রহ যা সবার জন্য ব্যাপক ছিল, ফলে আমি সেই ব্যক্তিদের একজন হয়ে গেলাম … যারা তাঁর প্রশংসায় সাহায্য ও আনন্দ প্রকাশ করে।দূরের ব্যক্তিও তাঁর দান পেয়েছে, তাই আমি তাঁর কৃতজ্ঞতা জানাই … আর স্বাধীন মানুষ তখনই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে যখন দূরের ব্যক্তিও অনুগ্রহ লাভ করে।তিনি আরও বলেন:আমরা কতই না ভোঁতা তলোয়ার দেখেছি অথচ তার খাপটি ছিল … ধারালো লোহার তৈরি; আবার কত পুরাতন খাপ যার ভেতরে তলোয়ার ছিল নতুনের মতো।কত অবহেলিত ব্যক্তি যার মুখোমুখি হওয়াতে গভীর সত্যতা রয়েছে … আবার কত দৃষ্টিনন্দন ব্যক্তি যে আসলে নিতান্তই স্থবির ও জড়।এই ভাবেরই সদৃশ হলো:দুনিয়াতে মানুষের চরিত্রই তাকে অলঙ্কৃত করে … দীর্ঘদেহী হওয়া বা বিশাল আকার তাকে মোটেও সজ্জিত করে না।মানুষের বাহ্যিক রূপ মুগ্ধকর হলেও তার চরিত্র ভিন্ন হতে পারে … আবার কোনো যুবক কৃশকায় হওয়া সত্ত্বেও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারে।অনুরূপ কবিতা:কখনও স্থূলকায় ব্যক্তি উচ্চমর্যাদা অর্জনে অক্ষম হয় … আবার কৃশকায় যুবকও জুলুম প্রতিহত করতে সক্ষম হয়।বার্ধক্য অবস্থায় তাঁর কবিতা:আমি বৃদ্ধ হয়েছি, আমার হাড়গুলো দুর্বল হয়ে গেছে; আর আমার সন্তানরা … আমাকে আগলে রাখছে, আর আমার বিছানা থেকে মহিলারা দূরে সরে গেছে।আমি অন্ধ হয়ে গেছি, চাশতের সময় সূর্য দেখতে পাই না … বালিকারা ঘরের মাঝে আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করে।আমার ঘরের ও বাড়ির লোকজন আমাকে প্রায়ই এড়িয়ে চলে … আর আমি রাত কাটাই এমনভাবে যেন আমি তাদের কেউ নই।
(খণ্ড: ১)
আল-মুযাকারাতু ফী আলকাবিশ শুআরা
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وقد كنتُ أغدو في رضاهم كأنني … من الطير أقنى ينفضُ الطلَّ صائدُولن تلبثَ الأيامُ شيئاً طلبتهُ … وسودُ الليالي المخلداتُ الجدائدُذهبنَ بإسحاقَ الجوادِ مع الذي … ببغدادَ صادتهُ المنايا الصوائدُيعني إسحاق بن إبراهيم المصعبي، وكان امتدحه فوهب له خمسين ألف درهم.وقيل لعمارة بعدما عمي: أيما أشعر أنت أبو أبو تمام؟ فقال: أبو تمام، فقيل له: إنك لأشعر منه، فقال: أنا لا أجيد إلا في وصف النؤي والأثافي والديار، وأبو تمام يقول:لولا العيونُ، وتفاحُ الخدودِ، إذاً … ما كان يحسدُ أعمى منْ له بصرُفما اشتهيت أن أكون بصيراً إلا مذ سمعت هذا البيت.ولعمارة لما دخل بغداد:ترحلْ، فما بغدادُ دارَ إقامةٍ … وما عندَ منْ أضحى ببغدادَ طائلُمحلّ ملوكٍ سمنهمْ في أديمهم … فكلهمُ من حلةِ المجدِ عاطلُإذا غطمطَ البحرُ الغطامطُ ماؤهُ … فليسَ عظيماً أن تفيضَ الجداولُقوله: سمنهم في أديمهم: كما يقال: سمنهم في عجينهم، أي ما يغذي فضلة.وأنا أقول: قاتله الله، لو شاهد هذه الأيام المستنصرية، وهذه المواهب التي عمت البرية. ولقد أجاد من قال في هذا العصر المذهب والزمان الفسيح المذهب:أقمْ في ذرى بغدادَ، تلقَ إمامها … مليكاً عليه للنبيِّ دلائلُعجبتُ وقد أضحتْ أياديهِ أبحراً … وليس لها إلا النوال سواحلُوفي أهل بغدادَ الكرامِ ثلاثةٌ … لهم محتدٌ في المكرماتِ، ونائلُوزيرٌ سما فضلاً، وأستاذُ دارها … حليفُ الندى، وابنُ الدوامي عادلُثلاثةٌ أجوادٍ، لو أفتخرتْ بهم … تميمٌ وتيمٌ باهلوا وتطاولواولعمارة أيضاً:إذا ما سقى الله البلادَ فلا سقى … بلاداً بها الميدانُ برقاً ولا رعدافيا ليتَ شعري هل أبيتنَّ ليلةً … على صدرٍ منها، كما جئتها ورداومن الشعراء المعرقينمتوج بن محمود بن مروان بن أبي الجنوب بن موان بن يحيى بن ابي حفصة، واسمه يزيد. فكل هؤلاء شعراء. فمتوج معرق، وأبو حفصة بيت، ولهم من ولدهم شعراء لا يحصى لهم عدد، ونذكر العمود بن أبي حفصة إلى متوج.ومن شعر يحيى بن ابي حفصة يرثي عبد الملك بن مروان:إنَّ المنايا لا تغادرُ حاسراً … يشي بثوبيهِ، ولا ذا جنهْإنَّ المنايا لو تغادرُ واحداً … كان الخليفةُ ناجياً منهنهْبكتِ المنابرُ يومَ ماتَ، وإنما … تبكي المنابرُ فقدَ فارسهنهْقد كان حلمكَ كالجبالِ رزانةً … بل لو يوازنهنَّ مالَ بهنهْوله حين خرج يزيد بن المهلب:لا يصلح الناس إلا السيف إن فتنوا … لهفي عليكَ ولا الحجاج للدينِلو كان حياً لحي الأزد إذ فتنوا … لم يحص قتلاهم حسب دارينِوأما أبو السمط مروان الكبير، كان أبو عمرو الشيباني يقول: ختم الشعر بمروان. ودون شعر القدماء، نفلما انتهى إلى شعر بشار لم يكتبه، واستخار عليه شعر مروان.وكان مروان أبعد المحدثين من السخف، وأصلحهم مبالغة في المدح.فمن أحلى قصائده التي اشتهر بها، وأعلى المهدي قدره وقرب مجلسه ووفر له العطاء، ولم يعط شاعر ما أعطي، فهي قوله:طرقتكَ زائرةٌ فحيِّ خيالها … بيضاءُ تخلطُ بالحياءِ دلالهافلما أنشدها المهدي قال له: كم بيت؟ قل: مائة بيت، فأمر له بمائة ألف درهم، وقال له: لو زدتنا زدناك.ومن القصيدة:ما زالَ ينصبُ للهواجرِ وجههُ … ويخوضُ في ظلم الدجى أهوالهاحتى إذا وردت أوائل ُخيلهِ … جيحانَ، بثَّ على العدوِّ رعالهاوقال مروان لخلف الأحمر: إسمع شعري وأصدقني عنه، قال: هات، فأنشده طرقتك زائرةفحي خيالها، فلما بلغ إلى قوله: حتى إذا وردت أوائل خيله قال: لأنت أشعر من الأعشى في قوله:رحلتْ أميمةُ غدوةً أجمالهاوفي هذه القصيدة يقول بالميراث للعباس:حسدتكمُ ميراثَ أحمدَ عصبةٌ … لم ينهَ أهلُ حلومها جهالاأسفوا لأنْ نالَ الوراثةَ دونهم … عمُّ النبيِّ، وبالفريضةِ نالهاقلْ للذين على الخلافةِ شايحوا … ليفتحوا بمناهمُ أفقالها
আর আমি তাদের সন্তুষ্টির সন্ধানে এমনভাবে ভোর অতিবাহিত করতাম যেন আমি... … একটি শক্তিশালী চঞ্চুবিশিষ্ট শিকারি পাখি, যে ভোরের শিশির ঝেড়ে ফেলছে।আর দিনসমূহ তোমার প্রার্থিত কোনো কিছুই চিরস্থায়ী করবে না... … এবং চিরন্তন নতুন কৃষ্ণ রজনীসমূহও নয়।তারা দানশীল ইসহাককে নিয়ে চলে গেছে সেই সত্তার সাথে... … যাকে বাগদাদে শিকারি মৃত্যুগুলো পাকড়াও করেছে।এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-মুসআবি; তিনি তার প্রশংসা করেছিলেন, ফলে তিনি তাকে পঞ্চাশ হাজার দিরহাম উপহার দিয়েছিলেন।উমারা অন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনার এবং আবু তাম্মামের মধ্যে কে বড় কবি? তিনি বললেন: আবু তাম্মাম। তাকে বলা হলো: আপনি তো তার চেয়েও বড় কবি! তিনি বললেন: আমি তো কেবল তাবু স্থাপনের চিহ্ণ, চুলার পাথর এবং গৃহের ধ্বংসাবশেষের বর্ণনা দিতেই পারদর্শী, অথচ আবু তাম্মাম বলেন:যদি চক্ষুদ্বয় এবং গালের আপেলসম রক্তিমা না থাকত, তবে... … কোনো অন্ধ ব্যক্তি দৃষ্টিমানকে হিংসা করত না।এই পঙ্ক্তিটি শোনার পর থেকেই কেবল আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা জেগেছে।উমারা যখন বাগদাদে প্রবেশ করলেন তখন বলেছিলেন:প্রস্থান করো, বাগদাদ কোনো স্থায়ী বসবাসের স্থান নয়... … আর যারা বাগদাদে সকাল অতিবাহিত করে, তাদের নিকট কোনো প্রকৃত কল্যাণ নেই।এটি এমন রাজাদের আবাসস্থল যাদের মেদ তাদের চামড়াতেই নিহিত... … তারা সকলেই শ্রেষ্ঠত্বের অলংকার থেকে শূন্য।যখন উত্তাল সমুদ্রের জলরাশি উদ্বেলিত হয়... … তখন ক্ষুদ্র নালাসমূহের প্লাবিত হওয়া কোনো মহৎ বিষয় নয়।তার উক্তি: "তাদের মেদ তাদের চামড়াতেই", যেমনটি বলা হয়ে থাকে: "তাদের ঘি তাদের আটাতেই", অর্থাৎ যা তাদের নিজেদের অতিরিক্ত কোনো পুষ্টি যোগায় না।আর আমি বলি: আল্লাহ তাকে ধ্বংস করুন, যদি তিনি মুসতানসিরিয়ার এই দিনগুলো এবং সমস্ত সৃষ্টির মাঝে পরিব্যাপ্ত এই দান-অনুগ্রহ প্রত্যক্ষ করতেন! এই স্বর্ণালি যুগে এবং প্রশস্ত মতাদর্শের সময়ে যিনি চমৎকার বলেছেন:বাগদাদের উচ্চশিখরে অবস্থান করো, তুমি তার ইমামকে দেখতে পাবে... … এমন এক সম্রাট যার মধ্যে নবীর নিদর্শনসমূহ বিদ্যমান।আমি আশ্চর্যান্বিত হয়েছি যে তার দানসমূহ সমুদ্রে পরিণত হয়েছে... … যার দান-অনুগ্রহ ছাড়া আর কোনো উপকূল নেই।বাগদাদের সম্মানিত অধিবাসীদের মাঝে তিনজন ব্যক্তি রয়েছেন... … শ্রেষ্ঠত্ব ও দানে যাদের রয়েছে সুউচ্চ বংশমর্যাদা।একজন উজির যিনি শ্রেষ্ঠত্বে উন্নীত হয়েছেন, গৃহের প্রধান (উস্তাযুদ দার)... … যিনি বদান্যতার সঙ্গী, এবং আদলসম্পন্ন ইবনুদ দাওয়ামি।তিনজন দানবীর, যদি তাদের নিয়ে তামিমি... … এবং তায়মি গোত্র গর্ব করত, তবে তারা একে অপরের সাথে শ্রেষ্ঠত্বের পাল্লা দিত।উমারার আরও কবিতা:যখন আল্লাহ দেশসমূহকে সিক্ত করেন, তখন তিনি যেন এমন জনপদকে সিক্ত না করেন... … যেখানে ময়দান বিদ্যুৎ কিংবা বজ্রের গর্জনহীন।হায়! আমি যদি জানতাম, আমি কি একটি রাতও অতিবাহিত করতে পারব... … এর বক্ষদেশে, যেভাবে আমি তৃষ্ণার্ত আগন্তুক হিসেবে এসেছিলাম।সুপ্রতিষ্ঠিত বংশীয় কবিদের মধ্য থেকেমুতাওয়াজ বিন মাহমুদ বিন মারওয়ান বিন আবিল জুনুব বিন মারওয়ান বিন ইয়াহইয়া বিন আবি হাফসা, আর তার নাম ছিল ইয়াযিদ। এই ব্যক্তিবর্গের সকলেই ছিলেন কবি। মুতাওয়াজ একজন সুপ্রতিষ্ঠিত বংশীয় কবি, আর আবু হাফসা ছিলেন এক কাব্য-পরিবারের লোক। তাদের বংশধরদের মাঝে অগণিত কবি রয়েছেন। আমরা এখন আবু হাফসা থেকে মুতাওয়াজ পর্যন্ত এই বংশধারাটি উল্লেখ করছি।ইয়াহইয়া বিন আবি হাফসার কবিতায় তিনি আব্দুল মালিক বিন মারওয়ানের শোকগাথা গেয়েছেন:নিশ্চয়ই মৃত্যু কোনো উন্মুক্ত দেহ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে ছেড়ে যায় না... … যে তার পরিধেয় বস্ত্র নিয়ে দম্ভ করে, আর না কোনো বর্ম পরিহিত ব্যক্তিকে।যদি মৃত্যু কোনো একজনকে ছেড়ে যেত... … তবে খলিফা অবশ্যই তা থেকে মুক্তি পেয়ে বেঁচে থাকতেন।তার মৃত্যুর দিনে মিম্বরগুলো রোদন করেছিল, আর মিম্বরসমূহ... … কেবল তাদের সেই অশ্বারোহীর বিচ্ছেদেই রোদন করে থাকে।আপনার ধৈর্য ছিল পাহাড়ের ন্যায় দৃঢ় ও গম্ভীর... … বরং যদি পাহাড়ের সাথে তার তুলনা করা হতো, তবে তা পাহাড়কেও হার মানাত।ইয়াযিদ ইবনুল মুহাল্লাব যখন বিদ্রোহ করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন:মানুষ যখন ফিতনায় লিপ্ত হয় তখন তলোয়ার ব্যতিরেকে অন্য কিছু তাদের সংশোধন করে না... … আপনার জন্য আফসোস! আর দ্বীনের জন্য হাজ্জাজের মতো কেউ নেই।যদি তিনি আযদ গোত্রের ফিতনার সময় জীবিত থাকতেন... … তবে দারিনের অধিবাসীদের গণনা অনুযায়ী তাদের নিহতের সংখ্যা নিরুপণ করা যেত না।আর আবুস সামত মারওয়ান আল-কাবির সম্পর্কে আবু আমর আশ-শায়বানি বলতেন: মারওয়ানের মাধ্যমেই কবিতার যুগের সমাপ্তি ঘটেছে। তিনি প্রাচীনদের কবিতা সংকলন করতেন, কিন্তু যখন বাশশারের কবিতার নিকট পৌঁছাতেন তখন তা লিখতেন না এবং তার পরিবর্তে মারওয়ানের কবিতাকেই অধিক গুরুত্ব দিতেন।মারওয়ান আধুনিক কবিদের মধ্যে অশ্লীলতা থেকে সর্বাধিক দূরে ছিলেন এবং প্রশংসায় অতিরঞ্জনের ক্ষেত্রে ছিলেন অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ।তার শ্রেষ্ঠ ও প্রসিদ্ধ কাসিদাসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি হলো নিম্নোক্তটি, যার কারণে মাহদি তার মর্যাদাকে সমুন্নত করেছিলেন, তাকে নিজের মজলিসের নিকটবর্তী করেছিলেন এবং তাকে প্রচুর দান-সামগ্রী প্রদান করেছিলেন; অন্য কোনো কবিকে এত অধিক পরিমাণে দান করা হয়নি। তা হলো তার এই উক্তি:এক দর্শনার্থী নিশুতি রাতে তোমার কাছে এসেছে, তার সেই কল্পনাকে অভিবাদন জানাও... … সে এক শুভ্রবর্ণা নারী, যে তার লজ্জার সাথে লাবণ্যকে মিশ্রিত করেছে।যখন তিনি এটি মাহদির নিকট আবৃত্তি করলেন, তখন তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: কতটি পঙ্ক্তি? তিনি বললেন: একশত পঙ্ক্তি। অতঃপর তিনি তাকে এক লক্ষ দিরহাম প্রদানের নির্দেশ দিলেন এবং বললেন: যদি আপনি আরও বাড়াতেন, তবে আমরাও আপনাকে আরও বেশি দিতাম।উক্ত কাসিদা থেকে আরও পঙ্ক্তি:সে তীব্র দ্বিপ্রহরের উত্তাপের দিকে নিজ চেহারাকে সঁপে দেয়... … এবং ঘোর অন্ধকারের ভয়াবহতার মাঝে অবগাহন করে।অবশেষে যখন তার অশ্বারোহী বাহিনীর অগ্রভাগ... … জাইহানে উপনীত হলো, তখন সে শত্রুর বিরুদ্ধে অশ্বারোহী দলসমূহ ছড়িয়ে দিল।মারওয়ান খালাফ আল-আহমারকে বললেন: আমার কবিতা শুনুন এবং এ সম্পর্কে আমাকে সত্য কথাটি বলুন। তিনি বললেন: শোনান। অতঃপর তিনি তাকে "এক দর্শনার্থী নিশুতি রাতে তোমার কাছে এসেছে..." আবৃত্তি করে শোনালেন। যখন তিনি "অবশেষে যখন তার অশ্বারোহী বাহিনীর অগ্রভাগ..." পর্যন্ত পৌঁছালেন, তখন খালাফ বললেন: আপনি আল-আ'শা অপেক্ষা বড় কবি তার এই উক্তিতে: "উমাইমা প্রভাতে তার উট নিয়ে যাত্রা করেছে।"এই কাসিদায় তিনি আব্বাসের জন্য উত্তরাধিকার সাব্যস্ত করে বলেন:আহমদের উত্তরাধিকার নিয়ে তোমাদের একদল লোক হিংসা করেছে... … যাদের বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা তাদের মূর্খদের নিবৃত্ত করেনি।তারা এ কারণে ব্যথিত হয়েছে যে, তাদের পরিবর্তে নবীর চাচা... … উত্তরাধিকার লাভ করেছেন এবং তিনি তা নির্ধারিত অংশ হিসেবেই লাভ করেছেন।যারা খিলাফতের বিষয়ে বিবাদ করে তাদের বলো... … তারা যেন তাদের অলীক আকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে তার রুদ্ধ দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুযাকারাতু ফী আলকাবিশ শুআরা
(পৃষ্ঠা: ১৫)
قد طالَ ما شغلَ الوراثةَ عنهمُ … أربابها، فدعوا المنى وضلالهاكشفَ الكتابُ عن العيونِ غطاءها … وشفى الصدورَ، ونورهُ أشفى لهاشهدتْ، من الأنفالِ، آخرُ آيةٍ … بتراثهم، فأردتمُ إبطالهاهل تطمسونَ من النجومِ لجومها … بأكفكم، أمْ تسترونَ هلالهاأو تسترونَ مقالةً عن ربكم … جبريلُ بلغها النبيَّ فقالهاله في مثل ذلك:يا ابن الذي ورثَ النبيَّ محمداً … دونَ الأقاربِ من ذوي الأرحامِالوحيُ بين بني البناتِ وبينكم … قطعَ الخصامَ، فليس حين خصامِأنى يكونُ، وليسَ ذاك بكائنٍ … لبني البناتِ وراثةُ الأعمامِأخذ هذا المعنى من قول طاهر بن سليمان بن علي بن عبد الله بن العباس، حيث يقول للطالبيين:لو كان جدكمُ هناكَ وجدنا … فتسارعا فيهِ لوقتِ خصامِكان التراثُ لجدنا من دونهِ … فحواهُ بالقربى بالإسلامِحقُّ البناتِ فريضةٌ معلومةٌ … والعمُّ أولى من بني الأعمامِوله حين سئل عن جرير والفرزدق والأخطل:ذهبَ الفرزدقُ بالفخارِ، وإنما … مرُّ القصيدِ وحلوهُ لجريرِولقد هجا فأمضَّ أخطل تغلبٍ … وحوى النهى بمديحهِ المشهورِكلُّ الثلاثةِ قد أبرَّ، فمدحهُ … وهجاؤهُ قد سارَ كلَّ مسيرِولقد جريتُ ففتُّ غيرَ مقصرٍ … بجراء لا حصرٍ، ولا مبهورِإني لآنفُ أنْ أجيزَ بمدحهِ … أبداً لغيرِ خليفةٍ ووزيرِما ضرني حسدُ اللئامِ، ولم يزلْ … ذو الفضلِ يحسدهُ ذوو التقصيرِوكان مروان شاعراً للهادي وللمهدي وللرشيد، وكان وصوله إلى المهدي من أطرف ما يحكى. وذاك أنه قصد باب المهدي، وتمسك بوزيره يعقوب بن داود، وأقام سنة لم يوصله. واتفق أن المهدي قبض على يعقوب، وبقي مروان حائراً. فهو في بعض الأيام على باب المهدي إذ خرج إليه يزيد بن منصور الحميري، وقال: يا ابن ابي حفصة إن أمير المؤمنين ذكرك آنفاً وقال أنصرف عن بابي، ولا حاجة لي في شعرك. قال: فانصرفت وأنا مغموم. ثم تذكرت رجلاً كنت أشكو إليه همومي، واستريح إليه، فجئته، فدلني على يزيد بن مزيد، فشكوت إليه الحال، فقال: أدلك على رجل صدوق الحديث، له رقة، عساه ينفعك، فقلت: ومن هو؟ قال: الحسن الحاجب. فغدوت إليه، فشكوت حالي، فقال: اعمل قصيدة، وعرض بذكر يعقوب، واهجه فيها. فقلت قصيدتي التي أقول فيها:أتاني عن المهديِّ قولٌ كأنما … به أحتزَّ أنفي، من ذوي الضغنِ، جادعُفقلتُ، وقد خفتُ التي لا شوىً لها … بلا حدثٍ: إني إلى الله راجعُفما لي إلى المهديّ، إنْ كنتُ مذنباً … سوى حلمهِ الضافي على الناسِ، شافعُهل البابُ مفضٍ بي إليكَ ابنَ هاشمٍ … فعذريَ، إنْ أفضى بيَ البابُ، أوسعُأثبتَ أمرأً طلقتهُ من وثاقهِ … وقد أنشبتْ في أخدعيهِ الجوامعُوقال في قصيدة أخرى:سيحشرُ يعقوبُ بن داودَ خائناً … بلوحِ كتابٍ، بين عينيه كافرُخيانتهُ المهديَّ أودتْ بذكرهِ … فأمسى كمن قد غيبتهُ المقابرُبدا منك للمهديِّ، كالصبحِ ساطعاً … من الغشِّ، ما كانتْ تجنَّ الضمائرُوهل لبياضِ الصبح، إنْ لاحَ ضوءهُ … فجابَ الدجى، من ظلمة الليلِ ساترُأمنزلةً فوقَ التي كنتَ نلتها … تغاطيتَ، لا أفلتَّ مما تحاذرُوما زلتَ ترقى فوقَ قدركَ صاعداً … بأفككَ، حتى قيلَ: يعقوبُ ساحرُقال: ثم أتيت بهما الحسن بعد يومين، ودفعتهما إليه فقال: لست واضعهما حتى أضعهما في يد المهدي. ففعل ذلك، وقرأهما على المهدي. فمضيت إليه وسألته عن الحال، فقال: لما قرأهما المهدي رق لك، وأمرني بإحضارك إليه، فاحضر يوم الاثنين. فحضرت الباب، فخرج وقال: قد علم أمير المؤمنين مكانك، ولقد احب أن يجعل لك يوماً يشرفك فيه، ويشهرك، ويبلغ بك شأواً. فقلت: ومتى يكون؟ قال: يوم الخميس تحضر. فحضرت، فإذا وجوه بي هاشم يدخلون. فلما غص المجلس دعاني، فدخلت، فسلمت بالخلافة، فرد علي السلام، وقال: إنما حبسناك من الدخول لانقطاعك إلى الفاسق يعقوب. فخدمت وافتتحت النشيد مما قلت في يعقوب. ثم انشدته قولي:
উত্তরাধিকারীদের নিকট থেকে তাদের প্রাপ্য মিরাস (উত্তরাধিকার) দীর্ঘকাল যাবৎ বিচ্ছিন্ন ছিল … সুতরাং তোমরা বৃথা আকাঙ্ক্ষা ও পথভ্রষ্টতা ত্যাগ করো।কিতাব (কুরআন) চোখের উপর থেকে পর্দা সরিয়ে দিয়েছে … এবং অন্তরসমূহকে নিরাময় করেছে, আর তার নূর সেগুলোর জন্য অধিক নিরাময় দানকারী।সূরা আনফালের শেষ আয়াত তাদের উত্তরাধিকারের সপক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছে … অথচ তোমরা তা বাতিল করতে চেয়েছিলে।তোমরা কি তোমাদের হাতের তালু দিয়ে নক্ষত্রপুঞ্জের আলো মুছে দিতে পারবে … নাকি তোমরা উদিত চাঁদকে ঢেকে রাখতে পারবে?অথবা তোমরা কি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে আসা সেই বাণীকে গোপন করতে পারবে … যা জিবরাঈল নবীর কাছে পৌঁছে দিয়েছিলেন এবং নবী তা ব্যক্ত করেছিলেন?অনুরূপ বিষয়ে তার আরও কবিতা:হে সেই ব্যক্তির পুত্র, যিনি নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর উত্তরাধিকার লাভ করেছিলেন … নিকটাত্মীয় ও রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়দের বাদ দিয়ে।কন্যাদের সন্তানদের এবং তোমাদের মধ্যকার ওহী … বিবাদ মিটিয়ে দিয়েছে, সুতরাং এখন আর বিবাদের সময় নেই।এটা কীভাবে সম্ভব, আর এমনটা ঘটা কখনই সম্ভব নয় যে … কন্যাদের সন্তানদের জন্য চাচাদের উত্তরাধিকার প্রাপ্য হবে।তিনি এই ভাবার্থটি তাহের ইবনে সুলাইমান ইবনে আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের কথা থেকে গ্রহণ করেছেন, যেখানে তিনি তালিবীয়দের উদ্দেশ্য করে বলছিলেন:তোমাদের পিতামহ যদি সেখানে থাকতেন তবে আমাদের পিতামহকেও পেতেন … এবং বিবাদের সময়ে তারা উভয়েই তাতে দ্রুত অগ্রসর হতেন।উত্তরাধিকার ছিল আমাদের পিতামহের জন্য তাকে বাদ দিয়ে … তিনি তা ইসলাম ও আত্মীয়তার নৈকট্যের মাধ্যমে অর্জন করেছিলেন।কন্যাদের হক একটি নির্ধারিত অংশ হিসেবে সুবিদিত … তবে চাচাতো ভাইদের চেয়ে চাচাই অধিক অগ্রগণ্য।জারীর, ফারাযদাক এবং আখতাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলে তিনি বলেন:ফারাযদাক গৌরব ও অহংকার নিয়ে গিয়েছেন, তবে … কবিতার তিক্ততা ও মিষ্টতা কেবল জারীরের জন্যই নির্ধারিত।তিনি এমন বিদ্রূপ করেছেন যা তায়লিবের আখতালকে ব্যথিত করেছে … আর তিনি তার সুপ্রসিদ্ধ প্রশংসাগীতি দ্বারা প্রজ্ঞা ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন।এই তিনজনের প্রত্যেকেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন, তাদের প্রশংসা … এবং তাদের বিদ্রূপ কাব্য সবদিকেই ছড়িয়ে পড়েছে।আমি এমনভাবে কাব্য প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হয়েছি যে আমি পিছিয়ে থাকিনি … আমি কোনো ক্লান্তি বা হাপিয়ে যাওয়া ছাড়াই অবিরাম ছুটে চলেছি।আমি খলিফা এবং উজির ব্যতীত অন্য কারও প্রশংসার মাধ্যমে … কোনো পুরস্কার গ্রহণ করতে লজ্জা বোধ করি।নীচ লোকদের হিংসা আমার কোনো ক্ষতি করতে পারেনি, কেননা … গুণী ব্যক্তি সর্বদা অপূর্ণ ও অক্ষমদের দ্বারা হিংসার শিকার হন।মারওয়ান ছিলেন আল-হাদী, আল-মাহদী এবং আর-রশীদের একজন কবি। আল-মাহদীর দরবারে তার পৌঁছানোর ঘটনাটি বর্ণিত চমৎকার কাহিনীগুলোর মধ্যে একটি। তা ছিল এই যে, তিনি আল-মাহদীর দরবারে যাওয়ার সংকল্প করেছিলেন এবং তার উজির ইয়াকুব ইবনে দাউদকে অবলম্বন করেছিলেন, কিন্তু এক বছর অতিবাহিত হলেও তিনি তাকে খলিফার কাছে পৌঁছে দেননি। ঘটনাক্রমে আল-মাহদী ইয়াকুবকে বন্দি করলেন এবং মারওয়ান কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে রইলেন। একদিন তিনি আল-মাহদীর দরজায় দাঁড়িয়ে ছিলেন, এমন সময় ইয়াযিদ ইবনে মনসুর আল-হিময়ারী বের হয়ে এসে বললেন: হে ইবনে আবি হাফসা, আমীরুল মুমিনীন এইমাত্র আপনার কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, 'আমার দরজা থেকে সরে যাও, তোমার কবিতার কোনো প্রয়োজন আমার নেই।' তিনি বললেন: আমি বিষণ্ণ মনে ফিরে এলাম। তারপর আমার এমন এক ব্যক্তির কথা মনে পড়ল যার কাছে আমি আমার দুঃখের কথা জানাতাম এবং শান্তি পেতাম, আমি তার কাছে গেলাম। তিনি আমাকে ইয়াযিদ ইবনে মাযইয়াদ-এর সন্ধান দিলেন। আমি তার কাছে গিয়ে অবস্থার কথা জানালাম। তিনি বললেন: আমি তোমাকে এমন একজন সত্যবাদী ব্যক্তির সন্ধান দিচ্ছি যার হৃদয়ে কোমলতা আছে, হয়তো তিনি তোমার উপকারে আসবেন। আমি বললাম: তিনি কে? তিনি বললেন: আল-হাসান আল-হাজিব (দ্বাররক্ষী)। পরদিন সকালে আমি তার কাছে গেলাম এবং আমার অবস্থার কথা জানালাম। তিনি বললেন: একটি কবিতা রচনা করো এবং তাতে ইশারায় ইয়াকুবের কথা উল্লেখ করে তার নিন্দা করো। তখন আমি আমার সেই কবিতাটি রচনা করলাম যাতে আমি বলেছি:আল-মাহদীর পক্ষ থেকে আমার কাছে এমন একটি কথা এসেছে যা যেন … বিদ্বেষপরায়ণ ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে আমার নাক কেটে ফেলার সদৃশ।যখন আমি এমন বিপদের ভয় পেলাম যা কোনো ছাড় দেয় না … কোনো কারণ ছাড়াই, তখন আমি বললাম: আমি আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী।যদি আমি অপরাধী হয়ে থাকি, তবে মানুষের প্রতি তার সুদূরপ্রসারী ক্ষমাশীলতা ছাড়া … আল-মাহদীর কাছে আমার আর কোনো সুপারিশকারী নেই।হে হাশেমের বংশধর, এই দ্বার কি আমাকে আপনার কাছে পৌঁছে দেবে … তবে আমার ওজর, যদি এই দ্বার আমাকে পৌঁছে দেয়, তবে তা আরও বিস্তৃত হবে।আপনি এমন এক ব্যক্তিকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন যাকে আপনি তার বন্ধন থেকে মুক্তি দিয়েছেন … অথচ তার গ্রীবায় নিগড় ও শেকল আঁকড়ে ধরেছিল।তিনি অন্য একটি কবিতায় বলেছেন:ইয়াকুব ইবনে দাউদকে হাশরের ময়দানে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে উপস্থিত করা হবে … তার কপালে একটি লিপিকা থাকবে যাতে লিখা থাকবে 'কাফের'।আল-মাহদীর প্রতি তার বিশ্বাসঘাতকতা তার সুনাম বিনাশ করেছে … ফলে সে আজ এমন হয়ে গেছে যাকে কবরে দাফন করা হয়েছে।আপনার পক্ষ থেকে আল-মাহদীর কাছে প্রভাতের আলোর ন্যায় স্পষ্ট হয়েছে … সেই প্রতারণা যা অন্তরে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।প্রভাতের শুভ্রতা যখন উদ্ভাসিত হয় এবং অন্ধকারের পর্দা সরিয়ে দেয় … তখন কি রাতের অন্ধকার তাকে ঢেকে রাখতে পারে?যে মর্যাদা আপনি লাভ করেছিলেন, আপনি কি তার চেয়েও উচ্চে যেতে চেয়েছিলেন … আপনি যার ভয় করছেন তা থেকে যেন আপনি মুক্তি না পান।আপনি আপনার মিথ্যার মাধ্যমে আপনার যোগ্যতার উর্ধ্বে আরোহণ করতে চেয়েছিলেন … শেষ পর্যন্ত লোকে বলল: ইয়াকুব একজন জাদুকর।তিনি বললেন: দুই দিন পর আমি আল-হাসানের কাছে কবিতা দুটি নিয়ে এলাম এবং তাকে দিলাম। তিনি বললেন: আমি এগুলো আল-মাহদীর হাতে না দেওয়া পর্যন্ত কোথাও রাখব না। তিনি তাই করলেন এবং আল-মাহদীর সামনে সেগুলো পাঠ করলেন। আমি তার কাছে গেলাম এবং অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলাম। তিনি বললেন: যখন আল-মাহদী সেগুলো পড়লেন, তার মনে আপনার জন্য অনুকম্পা হলো এবং আমাকে নির্দেশ দিলেন আপনাকে তার কাছে হাজির করার জন্য। সুতরাং সোমবার দিন উপস্থিত হোন। আমি দরজায় উপস্থিত হলাম, তিনি বের হয়ে এসে বললেন: আমীরুল মুমিনীন আপনার অবস্থান অবগত হয়েছেন এবং তিনি চেয়েছেন আপনার জন্য এমন একটি দিন নির্ধারণ করতে যখন তিনি আপনাকে সম্মানিত করবেন, আপনাকে সুপরিচিত করবেন এবং আপনাকে উচ্চ মর্যাদায় পৌঁছে দেবেন। আমি বললাম: তা কবে হবে? তিনি বললেন: বৃহস্পতিবার উপস্থিত হবেন। আমি উপস্থিত হলাম এবং দেখলাম বনু হাশিমের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ প্রবেশ করছেন। যখন মজলিস পূর্ণ হয়ে গেল, তিনি আমাকে ডাকলেন। আমি প্রবেশ করে খিলাফতের সালাম পেশ করলাম। তিনি সালামের উত্তর দিলেন এবং বললেন: আমরা আপনাকে প্রবেশ করতে বাধা দিয়েছিলাম কারণ আপনি সেই পাপিষ্ঠ ইয়াকুবের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলাম এবং ইয়াকুব সম্পর্কে যা বলেছিলাম তা পাঠ করা শুরু করলাম। তারপর তাকে আমার এই কথাটি শুনালাম:
(খণ্ড: ১)
আল-মুযাকারাতু ফী আলকাবিশ শুআরা
(পৃষ্ঠা: ১৬)
طرقتكَ زائرةٌ فحيَّ خيالهافأعجب به وقال: جزاك الله خيراً، فقلت: اشهدوا أن أمير المؤمنين دعا لي. ثم أنشدته:أعادكَ من ذكر الأحبةِ عائدُفلما صرت إلى قولي:أيادي بني العباسِ بيضٌ سوابغٌ … على كلِّ قومٍ بادياتٌ عوائدُهمُ يعدلونَ السمكَ من قبة الهدى … كما يعدلُ البيتَ الحرامَ القواعدُكأنَّ أميرَ المؤمنينَ محمداً … برأفتهِ بالناسِ، للناس والدُأشار بيده: امسك. فمسكت. ثم قال: يا بني العباس، هذا شاعركم المنقطع إليكم، فأعطوه ما يسره. فقلت: فداك أبي وأمي إذا علموا رأي امير المؤمنين في فذاك الفرض. فقال: إني فارض لك عليهم مالاً. ففرض على ابنه موسى بخمسة آلاف درهم، وعلى ابنه هارون مثلها، ثم فرض على القوم على أقدارهم، حتى فرض سبعة وثلاثين ألف درهم، والربيع يكتب، فاستكثر الربيع ذلك، فقال: ولك من الربيع مثل ذلك، فصار المال ستين الفاً. فدعوت وشكرت وقمت بأسر ما يكون، فقلت: هل لأمير المؤمنين أن يجعل هذه الصلة غير مكدرة سؤال غيره؟ قال: نعم، وكتب بها توقيعاً لا أحتاج فيه إلى سؤال أحد أو شفاعة. فخرجت، فلما صرت خلف الستر تبعني خادم ومعه منديل فيه أربعة أثواب من أفخر الثياب، وجبة وقميص من ملابسه الشريفة، وقال: ألبسوه وأعيدوه إلي. فلبست الثياب وعدت إليه. فلما رآني تبسم، ودعا بطيلسان، فنشر ووضع علي بين يديه، وأمر لي بعشرة من الخدم، وضيعة ساجية السواد، وخيل فبعت الضيعة لعيسى بن موسى بعشرين الف درهم وفرس مكمل العدة.ولم يزل مروان بباب المهدي حتى هلك، فقال يرثيه:لقد أصبحتْ تختالُ في كلِّ بلدةٍ … بقبرِ أميرِ المؤمنينَ المقابرُأتتهُ التي ابتزتْ سليمان َملكهُ … وألوتْ بذي القرنين منها البوادرُأتتهُ فغالتهُ المنايا، وعدلهُ … ومعروفهُ في الشرقِ والغربِ ظاهرُفلما قام موسى الهادي ولده مدحه، وقال من جملة مدحه:بسبعينَ الفاً شدَّ ظهري وراشني … أبوكَ، وقد عاينتَ من ذاك مشهداوإني، أميرَ المؤمنينَ، لواثقٌ … بأنْ لا أرى شربي لديكَ مصردافلما أنشده ذلك قال: ومن يبلغ مدى المهدي؟ ولكنا نبلغ رضاك.فعاجلت موسى منيته قبل أن يعطي مروان جائزته. فلما مات رثاه، وهنأ هارون فقال:أيا يومَ الخميسِ ملأتَ حزناً … وتبريحاً قلوبَ المؤمنيناخميسٌ كان أولهُ بكاءً … وآخرهُ يسرُّ المهتدينالئنْ جاءَ الخميسُ بما كرهنا … لقد جاءَ الخميسُ بما هويناأبو إسحاق ماتَ ضحىً، فمتنا … وأمسنا بهارونٍ حييناوهذا معنى مستملح.فلما قام هارون مدحه فأجزل صلته، ومضى إلى اليمامة وعاد، فأقام بباب الرشيد حتى مات سنة إحدى وثمانين، ودفن ببغداد في مقبرة نصر بن مالك. ومن صلات الرشيد له مائة ألف وألف درهم.ذكر مروان الأصغرشهر مروان هذا في زامن المتوكل، وتقدم على نظرائه. وسبب ذلك أنه كان يسفه رأي العلويين، الذين يخرجون على بني العباس. ولم يمدح الواثق، وإنما المتوكل أرسل أحضره من اليمامة. ولما دخل على المتوكل أنشده قصيدته التي منها:أنا ابنُ الذي اشجى عداكم بمدحه … وما زاركمْ من شاعرٍ، بعدهُ، مثليطلبتمْ، بني البنتِ، التراثَ بأمكمْ … وذاك لكم داعٍ إلى البتلِ والشكلِأبو طالبٍ أولى بكمْ من محمدٍ … إذا نسبَ الأقوامُ، في الجدِّ والهزلِفلما فرغ من انشادها أمر المتوكل، فنثر عليه ثلاثمائة ألف دينار، وأمره بالجلوس، وأمر ولاة العهود الثلاثة: المنتصر والمعتز والمؤيد أن يلتقطوها فيجعلوها في حجره. وعقد له على اليمامة والبحرين وطريق مكة. وحسدته الشعراء على مكانه من المتوكل، وهجاه خلق عظيم واستبردوا شعره. فمن ذلك قول الشافعي:كزَّ أبو السمط بأشعارهِ … فصارَ، من إنشادهِ، ميتافمنْ أرادَ الموتَ مستصلحاً … فليرو، من أشعارهِ، بيتاوللجماز فيه:رأينا البردَ مشتداً … فسائلتُ عن القصهْفقالوا: إنما أنش … دَ شعرُ ابنِ أبي حفصهْوهجاه البحتري وعلي بن الجهم، بسبب أنه كان يعرض بذكر علي وولديه عليهم السلام فمما هجاه به البحتري:
এক পরিভ্রমণকারী তোমার দ্বারে করাঘাত করেছে, অতএব তার কাল্পনিক মূর্তিকে অভিবাদন জানাও।তিনি এতে মুগ্ধ হলেন এবং বললেন: আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। আমি বললাম: আপনারা সাক্ষী থাকুন যে, আমিরুল মুমিনীন আমার জন্য দোয়া করেছেন। এরপর আমি তাঁকে পাঠ করে শুনালাম:প্রিয়জনদের স্মরণে একজন প্রত্যাবর্তনকারী তোমাকে পুনরায় সেদিকে ফিরিয়ে নিয়ে গেছেযখন আমি আমার এই বক্তব্যে পৌঁছালাম:বনু আব্বাসের দানশীল হাতগুলো অত্যন্ত শুভ্র ও প্রশস্ত ... প্রতিটি জাতির নিকট তা দৃশ্যমান ও বারবার প্রত্যাবর্তনকারী।তারা হিদায়াতের গম্বুজ থেকে আকাশের উচ্চতাকে সুবিন্যস্ত রাখেন ... যেভাবে কাবাগৃহের ভিত্তিপ্রস্তরসমূহ তাকে ভারসাম্যপূর্ণ রাখে।মনে হয় আমিরুল মুমিনীন মুহাম্মদ যেন মানুষের প্রতি স্বীয় দয়ার কারণে ... সমগ্র মানবজাতির জন্য একজন স্নেহময় পিতা।তিনি হাত দিয়ে ইশারা করলেন: থামো। আমি থেমে গেলাম। এরপর তিনি বললেন: হে বনু আব্বাস, এ হচ্ছে তোমাদের একান্ত অনুগত কবি, অতএব তাকে এমন কিছু প্রদান করো যা তাকে আনন্দিত করবে। আমি বললাম: আমার পিতা ও মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোন, যদি তারা আপনার অভিমত জানতে পারেন তবে তা পালন করা তাদের জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়বে। তিনি বললেন: আমি তাদের ওপর তোমার জন্য অর্থ বরাদ্দ করছি। অতঃপর তিনি তাঁর পুত্র মুসার ওপর পাঁচ হাজার দিরহাম এবং তাঁর পুত্র হারুনের ওপর সমপরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করলেন। এরপর তিনি উপস্থিত লোকজনের পদমর্যাদা অনুযায়ী বরাদ্দ দিতে থাকলেন, এমনকি তা সাতত্রিশ হাজার দিরহামে পৌঁছাল। রাবী (তথা উজির) তা লিখে নিচ্ছিলেন। রাবী এই পরিমাণকে অনেক বেশি মনে করলেন। তখন খলিফা বললেন: রাবীর পক্ষ থেকেও তোমার জন্য সমপরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হলো। ফলে মোট অর্থের পরিমাণ ষাট হাজারে দাঁড়াল। আমি দোয়া করলাম এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলাম এবং অত্যন্ত আনন্দিত চিত্তে উঠে দাঁড়ালাম। আমি বললাম: আমিরুল মুমিনীন কি এই অনুদানকে অন্যের কাছে চাওয়ার গ্লানি থেকে মুক্ত ও পবিত্র করবেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, এবং তিনি এ বিষয়ে একটি নির্দেশনামা লিখে দিলেন যাতে আমার আর কারো কাছে চাওয়া বা সুপারিশের প্রয়োজন না হয়। আমি বেরিয়ে এলাম। যখন আমি পর্দার আড়ালে পৌঁছালাম, তখন একজন খাদেম আমার পেছনে এল এবং তার সাথে একটি রুমাল ছিল যাতে অত্যন্ত দামি চারটি পোশাক, একটি জুব্বা এবং তাঁর নিজের পরিহিত পোশাকের অন্তর্ভুক্ত একটি কামিস ছিল। খাদেম বলল: এটি তাকে পরিধান করাও এবং পুনরায় আমার কাছে ফিরিয়ে আনো। আমি পোশাকগুলো পরিধান করে তাঁর কাছে ফিরে গেলাম। তিনি আমাকে দেখে মুচকি হাসলেন এবং একটি চাদর আনালেন। তা প্রসারিত করা হলো এবং তাঁর সামনেই আমার ওপর জড়িয়ে দেওয়া হলো। তিনি আমার জন্য দশজন খাদেম, সওয়াদ অঞ্চলের একটি উর্বর ভূমি এবং ঘোড়ার নির্দেশ দিলেন। পরবর্তীতে আমি সেই ভূমিটি ঈসা বিন মুসার কাছে বিশ হাজার দিরহাম ও সাজসরঞ্জামসহ একটি ঘোড়ার বিনিময়ে বিক্রি করে দিলাম।মারওয়ান আল-মাহদীর দরবারে তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত অবস্থান করেন। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে তিনি বলেছিলেন:আজ প্রতিটি জনপদের কবরস্থানগুলো গর্বিত ও স্পন্দিত হয়ে উঠেছে ... আমিরুল মুমিনীনের পবিত্র কবরের উপস্থিতিতে।তাঁর নিকট সেই মৃত্যু এসেছে যা সুলাইমানের রাজত্ব কেড়ে নিয়েছিল ... এবং যুল-কারনাইনের বীরত্বও যার প্রবল বেগের কাছে হার মেনেছিল।তাঁর নিকট মৃত্যু এল এবং তাঁকে ছিনিয়ে নিল, অথচ তাঁর ন্যায়বিচার ... এবং বদান্যতা পূর্ব ও পশ্চিমে সুস্পষ্ট ছিল।অতঃপর যখন তাঁর পুত্র মুসা আল-হাদি খিলাফতে অধিষ্ঠিত হলেন, তিনি তাঁর প্রশংসা করলেন এবং তাঁর প্রশংসাগীতির মধ্যে একটি চরণ ছিল এমন:সত্তর হাজার দিরহাম দিয়ে তোমার পিতা আমার পিঠ মজবুত করেছিলেন এবং আমাকে ধন্য করেছিলেন ... আর তুমিও সেই দৃশ্যের একজন প্রত্যক্ষদর্শী ছিলে।হে আমিরুল মুমিনীন, আমি এ বিষয়ে সম্পূর্ণ আস্থাশীল যে ... আপনার কাছে আমার পানপাত্রটি আমি কখনো শূন্য দেখব না।যখন তিনি তাঁর কাছে এই কবিতা পাঠ করলেন, তখন আল-হাদি বললেন: কে আল-মাহদীর উদারতার সমকক্ষ হতে পারে? তবে আমরা তোমার সন্তুষ্টি নিশ্চিত করব।কিন্তু মারওয়ানকে তাঁর পুরস্কার দেওয়ার পূর্বেই মুসার মৃত্যু ঘনিয়ে এল। তিনি যখন মারা গেলেন, মারওয়ান তাঁর শোকগাথা গাইলেন এবং হারুনকে খিলাফতের অভিনন্দন জানিয়ে বললেন:হে বৃহস্পতিবার! তুমি মুমিনদের অন্তরকে শোকে ... এবং তীব্র যন্ত্রণায় পরিপূর্ণ করে দিয়েছ।এমন এক বৃহস্পতিবার যার শুরুটা ছিল কেবলই ক্রন্দনময় ... আর শেষটা ছিল হিদায়াতপ্রাপ্তদের জন্য আনন্দের বার্তাবাহী।বৃহস্পতিবার যদি এমন কিছু নিয়ে আসে যা আমরা অপছন্দ করি ... তবে বৃহস্পতিবার এমন কিছুও নিয়ে এসেছে যা আমরা ভালোবাসি।আবু ইসহাক (মুসা আল-হাদি) পূর্বাহ্নে ইন্তেকাল করলেন, ফলে আমরাও যেন মরে গেলাম ... আর সন্ধ্যায় হারুনের মাধ্যমে আমরা পুনরায় জীবন ফিরে পেলাম।এটি ছিল অত্যন্ত চমৎকার একটি কাব্যিক তাৎপর্য।অতঃপর যখন হারুন ক্ষমতায় এলেন, মারওয়ান তাঁর প্রশংসা করলেন এবং হারুন তাঁকে প্রচুর অর্থ প্রদান করলেন। মারওয়ান ইয়ামামায় গেলেন এবং পুনরায় ফিরে এলেন। তিনি ১৮১ হিজরিতে তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত হারুনুর রশিদের দরবারে অবস্থান করেন এবং বাগদাদে নাসর বিন মালিকের গোরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। হারুনুর রশিদের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত তাঁর পুরস্কারগুলোর মধ্যে এক লক্ষ এক হাজার দিরহামের একটি অনুদানও ছিল।মারওয়ান আল-আসগারের আলোচনাএই মারওয়ান মুতাওয়াক্কিলের যুগে অত্যন্ত প্রসিদ্ধি লাভ করেন এবং তাঁর সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে যান। এর কারণ ছিল তিনি সেই সকল আলবীয়দের মতাদর্শকে মূর্খতা মনে করতেন যারা বনু আব্বাসের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করত। তিনি আল-ওয়াসিকের প্রশংসা করেননি, বরং মুতাওয়াক্কিল স্বয়ং তাঁকে ইয়ামামা থেকে আনিয়েছিলেন। যখন তিনি মুতাওয়াক্কিলের দরবারে প্রবেশ করলেন, তিনি তাঁকে সেই কাসিদাটি পাঠ করে শুনালেন যার মধ্যে ছিল:আমি সেই পিতার সন্তান যিনি নিজ প্রশংসাগীতি দ্বারা আপনাদের শত্রুদের ব্যথিত করেছিলেন ... তাঁর পরে আর কোনো কবি আমার মতো আপনাদের সমীপে আসেনি।হে কন্যার বংশধরগণ! তোমরা তোমাদের মাতার মাধ্যমে উত্তরাধিকার দাবি করেছ ... আর এই দাবিই তোমাদের বিচ্ছেদ ও দুঃখ-দুর্দশার কারণ।বংশপরিচয়ের গুরুত্বের বিচারে আবু তালিব তোমাদের জন্য মুহাম্মাদ অপেক্ষা অধিক নিকটবর্তী ... যখন মানুষ গুরুত্ব বা কৌতুকের ছলে বংশের তুলনা করে।যখন তিনি কবিতা পাঠ শেষ করলেন, তখন মুতাওয়াক্কিল নির্দেশ দিলেন এবং তাঁর ওপর তিন লক্ষ দিনার ছড়িয়ে দেওয়া হলো। খলিফা তাঁকে বসার অনুমতি দিলেন এবং তিন ভাবী উত্তরাধিকারী—মুনতাসির, মুতায ও মুআইয়্যিদকে নির্দেশ দিলেন যেন তাঁরা সেগুলো কুড়িয়ে কবির আঁচলে ভরে দেন। খলিফা তাঁকে ইয়ামামা, বাহরাইন এবং মক্কা পথের শাসনকর্তা নিযুক্ত করলেন। মুতাওয়াক্কিলের নিকট তাঁর এই উচ্চমর্যাদা দেখে অন্য কবিরা তাঁকে হিংসা করতে শুরু করল এবং বহু লোক তাঁর নিন্দা করল ও তাঁর কবিতাকে নিরস ও শীতল বলে অভিহিত করল। এই প্রসঙ্গে শাফেঈর বক্তব্য হলো:আবু সামত তার কবিতার আড়ষ্টতায় নিজে শক্ত হয়ে গেছে ... তার সেই আবৃত্তির কারণে সে যেন এক মৃতদেহে পরিণত হয়েছে।যে ব্যক্তি সংশোধনকামী হয়ে মৃত্যু কামনা করতে চায় ... সে যেন তার কবিতার একটি চরণ পাঠ করে।জাযযাম তাঁর সম্পর্কে বলেছেন:আমরা শীতের তীব্রতা অত্যন্ত প্রকট দেখলাম ... তখন আমি এই ঘটনার কারণ জিজ্ঞেস করলাম।তারা বলল: কারণ এই যে, ইবনে আবি হাফসার ... কবিতা আবৃত্তি করা হয়েছে।বুহতরী এবং আলী বিন জাহমও তাঁর নিন্দা করেছেন, কারণ তিনি আলী (আ.) এবং তাঁর দুই পুত্র (হাসান ও হুসাইন)-এর প্রতি ইঙ্গিত করে কটু কথা বলতেন। বুহতরী তাঁর নিন্দায় যা বলেছিলেন তা হলো:
(খণ্ড: ১)
আল-মুযাকারাতু ফী আলকাবিশ শুআরা
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ولو أعطاكَ ربكَ ما تمنى … عليهِ، لزادَ في عظمِ الأمورِلأيةِ علةٍ تهجو علياً … بما لفقتَ من كذبٍ وزورِأمالكَ في استكَ الوجعاءِ شغلٌ … بكفكَ عن أذى أهلِ القبورِوأما علي بن الجهم، فكان يهجوه أبو السمط، وابن الجهم يصون نفسه عن هجائه، غير أنه كان يضع من يهجوه. ولما مدح ابن الجهم المتوكل بقصيدته التي أولها:الله أكبرُ، والنبيُّ محمدٌ … والحقُّ أبلجُ، والخليفةُ جعفرُقال ابو السمط:أرادَ عليٌ أنْ يحوكَ قصيدةً … بمدحِ أميرِ المؤمنينَ، فأذنافقلتُ له: أذنتَ سراً، فلا تقمْ … فلستُ على طهرٍ، فقال: ولا أنافلما لح في الهجاء لعلي قال فيه:بلاءٌ ليسَ يشبههُ بلاءٌ … عداوةُ غيرِ ذي حسبٍ ودينِيبيحكَ منه عرضاً لم يصنهُ … ويرتع منكَ في عرضٍ مصونِوكان لأبي السمط ولد يقال له محمود وقد ذكرناه في النسبة، أعطاه المتوكل موضع أبيه، فقال في ذلك:قد باركَ الله في شعري وشعر أبي … والله منَّ على أهلِ اليمامةِ بيقد باركَ الله في شعرٍ، وليتُ بهِ … طرقَ الحجيجِ، وولاني على العربِأنا المؤدبُ حقاً، إنما أدبي … ضربُ الرقابِ، وليسَ السوطُ من أدبيكم من فوارسِ قومٍ قد تركتهمُ … بالمشرفيةِ فرساناً على الخشبِتلقى اللصوصَ على الأقتابِ مقعيةً … ومن فلحتُ به أقعى على الذنبِذكر متوج بن محمود بن مروان بن أبي الجنوب بن مروانقال يمدح الموفق، ويصف قتل العلوي، وكيف صار الجند إليه في المراكب:ولما أقاموا البحرَ خندقَ خصمهم … وظنوا بأنَّ البحرَ مركبهُ صعبُأقمتَ الشذا خيلاً، وسرتَ إليهمُ … عليها، كأنَّ البحرَ مسلكهُ سهبُخيولٌ يحلُّ الماء مدةَ عمرها … وليسَ لها أكلٌ، وليس لها شربُإذا أسرجوها يركبونَ بطونها … فما إنْ لها لجمٌ، وما إنْ لها ركبُتسيرُ مكاناً تعجزُ الخيلُ سيره … وما عندها خطوٌ، وما عندها وثبُإذا عطفوها في ليالٍ تعطفتْ … وإنْ عطفتْ بالضربِ، لم يثنها الضربُفتجري، وبين الجوِّ والأرضِ جريها … وإنْ باشرتْ أرضاً فحينئذٍ تكبوقطعتَ عليها البحرَ، والبحرُ زاخرٌ … وقد سفرتْ للموتِ، عن وجهها، النقبُبفتيانِ إقدامٍ وفتكٍ، كأنما … لكل فتىً في كل جارحةٍ قلبُوهذا بيت نادر، وهو مأخوذ من قول من قال:فمروا وكلٌّ مسمئتٌّ كأنهُ … إلى أنْ يلاقي حتفَ ميتتهِ صبُّثم قال:فدارتْ كؤوسُ الموتِ فيهم كأنما … كؤوسُ مناياهم لهم مشربٌ عذبُفما رجعوا إلا برأسِ عميدهم … قد اقتضبتهُ منه هنديةٌ قضبُفإنْ كانَ قلبٌ للقناةِ فقد غدتْ … قناتكَ فيها رأسه، أبداً، قلبُوإنْ كانَ للأفلاكِ قطبٌ يقيمها … فللأرضِ أنتمْ، في خلافتكم، قطبُذكر من قال الشعر من ولد ابن ابي حفصةمنهم إدريس. له يرثي إسحق بن إبراهيم الموصلي:سقى الله يا ابنَ الموصلي بوابلٍ … من الغيثِ قبراً أنت فيه مقيمُذهبتَ فأوحشتَ الكرامَ، فما يني … بعبرته يبكي عليك كريمُإلى الله أشكو فقد إسحق إنني … وإن كنت شيخاً، بالعراق يتيمُوله أيضاً:قد تولى النهارُ، واشتبكَ اللي … لُ، خليليَّ، فاشربا واسقيانيقهوةً تتركُ الفقيرَ غنياً … حسنَ الظنِّ، واثقاً بالزمانِومنهم محمد بن إدريس "، وكان له شعر فيه تعسف. ومنه:لما زمخنا، دونَ فهرٍ، زمخازخَّ بنا الله الأعادي زخافلم ندع من جمع قومٍ قلخاإلا ملخنا الرأسَ منه ملخارستْ أواخي مجدنا ولخافي الأرضِ حتى لم نجدْ مصخابنى لنا عادية لا تلخاعزاً قدامياً، ومجداً بلخالو زاحما دمخاً أزالا دمخاإنَّ لنا وبلاً وسيلاً جلخاوعدداً جم الحصى وبذخانشدخُ منهم، منْ أردنا، شدخاولو نفخنا الناس طاروا نفخا
আর যদি তোমার রব তোমাকে তোমার আকাঙ্ক্ষিত বস্তু প্রদান করতেন … তবে তা মহান বিষয়াবলীতে আরও বৃদ্ধি পেত।কোন্ কারণে তুমি আলীর নিন্দা করছ … যে মিথ্যা ও অপবাদ তুমি রচনা করেছ তার মাধ্যমে?তোমার ব্যথিত পশ্চাদ্দেশের কষ্ট কি তোমাকে যথেষ্ট ব্যস্ত রাখেনি … যে নিজ হাত দ্বারা কবরের অধিবাসীদের কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকবে?আর আলী ইবনুল জাহমের ক্ষেত্রে বিষয়টি ছিল এমন যে, আবুস সামত তাকে ব্যঙ্গ করতেন, কিন্তু ইবনুল জাহম তার ব্যঙ্গোক্তির প্রত্যুত্তর না দিয়ে নিজেকে রক্ষা করতেন; তবে তিনি তাকে তুচ্ছজ্ঞান করতেন যে তাকে ব্যঙ্গ করত। যখন ইবনুল জাহম মুতাওয়াক্কিলের প্রশংসা করে তার সেই কাসিদাটি পাঠ করলেন যার শুরু ছিল:আল্লাহ মহান, এবং নবী মুহাম্মাদ … আর সত্য সুস্পষ্ট, এবং খলীফা জাফর।আবুস সামত বললেন:আলী একটি কাসিদা বুনতে চাইলেন … আমীরুল মুমিনীনকে প্রশংসা করার উদ্দেশ্যে, অতঃপর তিনি বায়ু ত্যাগ করলেন (শব্দ করলেন)।আমি তাকে বললাম: তুমি গোপনে শব্দ করেছ, সুতরাং দাঁড়িয়ো না … কারণ আমি পবিত্র অবস্থায় নেই। তিনি বললেন: আমিও না।অতঃপর যখন তিনি আলীর ব্যঙ্গোক্তিতে লিপ্ত হলেন, তখন তার সম্পর্কে বললেন:এমন এক মুসিবত যার সদৃশ কোনো মুসিবত নেই … যার বংশমর্যাদা ও দ্বীন নেই তার সাথে শত্রুতা।সে তোমার জন্য তার সম্মানকে বৈধ করে দেয় যা সে রক্ষা করেনি … আর সে তোমার সুরক্ষিত সম্মানের মাঝে বিচরণ করে।আবুস সামতের মাহমূদ নামে এক পুত্র ছিল, যার কথা আমরা ইতিপূর্বে সম্পর্কের বর্ণনায় উল্লেখ করেছি। মুতাওয়াক্কিল তাকে তার পিতার স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন। সে সম্পর্কে তিনি বলেছিলেন:আল্লাহ আমার কাব্যে এবং আমার পিতার কাব্যে বরকত দান করেছেন … আর আল্লাহ ইয়ামামাবাসীদের ওপর আমার মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন।আল্লাহ সেই কাব্যে বরকত দান করেছেন যার বদৌলতে আমি … হাজীদের পথের দায়িত্ব পেয়েছি এবং তিনি আমাকে আরবদের শাসনকর্তা বানিয়েছেন।আমিই প্রকৃত আদব শিক্ষাদানকারী, নিশ্চয়ই আমার আদব হলো … গর্দান উড়িয়ে দেওয়া, চাবুক মারা আমার আদব নয়।বহু গোত্রের বীর ঘোড়সওয়ারকে আমি রেখে এসেছি … মাশরাফী তলোয়ারের আঘাতে কাঠের ওপর সওয়ার অবস্থায় (শূলে চড়ানো অবস্থায়)।চোরদের তুমি দেখতে পাবে গদির ওপর উপবিষ্ট অবস্থায় … আর যার ওপর আমি জয়ী হয়েছি সে তার লেজের ওপর উপুড় হয়ে পড়ে আছে।মাহমূদ ইবনে মারওয়ান ইবনে আবিল জুনুব ইবনে মারওয়ানের পুত্র মুতাওয়াজ-এর আলোচনাতিনি মুওয়াফফাকের প্রশংসা করে এবং সেই আলভীর হত্যাকাণ্ড বর্ণনা করে বলছেন, এবং কীভাবে সৈন্যরা নৌযানে চড়ে তার কাছে পৌঁছেছিল তার বিবরণ দিচ্ছেন:যখন তারা সমুদ্রকে তাদের শত্রুদের জন্য পরিখা বানিয়েছিল … এবং তারা ধারণা করেছিল যে সমুদ্রে আরোহণ করা কঠিন।তুমি 'শাযা' (রণতরীসমূহকে) ঘোড়ায় রূপান্তরিত করলে এবং তাদের দিকে যাত্রা করলে … সেগুলোর ওপর চড়ে, যেন সমুদ্রের পথ একটি সমতল প্রান্তর।এমন সব ঘোড়া যাদের জন্য সারাজীবন পানিই আবাস … তাদের কোনো আহার নেই এবং তাদের কোনো পানীয় নেই।যখন তারা সেগুলোকে জিন পরায়, তখন তারা সেগুলোর উদরে আরোহণ করে … সেগুলোর কোনো লাগাম নেই এবং সেগুলোর কোনো রেকাব নেই।তারা এমন স্থানে চলাচল করে যেখানে ঘোড়া চলতে অক্ষম … সেগুলোর কোনো পদক্ষেপ নেই এবং সেগুলোর কোনো লম্ফন নেই।যদি তারা সেগুলোকে রাতের আঁধারে ফিরিয়ে নেয়, তবে সেগুলো ফিরে আসে … আর যদি আঘাতের মাধ্যমে ফেরানো হয়, তবে আঘাত সেগুলোকে পিছু হঠাতে পারে না।সেগুলো চলতে থাকে, এবং আকাশ ও পৃথিবীর মধ্যস্থলে তাদের সেই চলা … আর যদি সেগুলো মাটি স্পর্শ করে, তবেই তারা হোঁচট খায়।তুমি সেগুলোর ওপর চড়ে সমুদ্র পাড়ি দিয়েছ যখন সমুদ্র ছিল উত্তাল … আর মৃত্যুর মুখ থেকে নেকাবসমূহ উন্মোচিত হয়েছিল।সাহসী ও দুঃসাহসী যুবকদের নিয়ে, যেন … প্রত্যেক যুবকের প্রতিটি অঙ্গে একটি করে হৃদয় রয়েছে।এটি একটি বিরল পংক্তি, যা জনৈক ব্যক্তির উক্তি থেকে নেওয়া হয়েছে যিনি বলেছিলেন:তারা অতিক্রম করল এবং প্রত্যেকেই ছিল নিস্তব্ধ, যেন … সে তার মৃত্যুর সাথে সাক্ষাত করার জন্য উদগ্রীব।অতঃপর তিনি বললেন:তাদের মাঝে মৃত্যুর পেয়ালা আবর্তিত হতে লাগল যেন … তাদের মউতের পেয়ালাগুলো তাদের জন্য একটি সুস্বাদু পানীয়।তারা ফিরে আসেনি কেবল তাদের নেতার মস্তক নিয়ে … যা একটি ধারালো হিন্দুস্তানী তলোয়ার দ্বিখণ্ডিত করেছিল।যদি বল্লমের কোনো হৃদয় (কেন্দ্র) থেকে থাকে, তবে তোমার বল্লমটি … তার মস্তক ধারণ করে চিরতরে হৃদয়ে পরিণত হয়েছে।আর যদি মহাকাশের কোনো মেরু (অক্ষ) থাকে যা তাকে স্থির রাখে … তবে তোমরা পৃথিবীর জন্য তোমাদের খিলাফতের মাধ্যমে একটি মেরু।ইবনে আবি হাফসার সন্তানদের মধ্য থেকে যারা কবিতা বলেছেন তাদের আলোচনাতাদের মধ্যে ইদরীস অন্যতম। তিনি ইসহাক ইবনে ইবরাহীম আল-মাওসিলীর জন্য শোকগাঁথা পাঠ করে বলেছেন:হে মাওসিলীর পুত্র! আল্লাহ যেন মুষলধারে বৃষ্টি দ্বারা সিক্ত করেন … সেই কবরকে যেখানে তুমি অবস্থান করছ।তুমি চলে গেলে এবং সম্মানিত ব্যক্তিদের একাকী করে দিলে, তাই কোনো … শরীফ ব্যক্তি তোমার শোকে অশ্রু বিসর্জন দেওয়া বন্ধ করে না।আমি আল্লাহর কাছে ইসহাককে হারানোর অভিযোগ করছি, নিশ্চয়ই আমি … যদিও আমি বৃদ্ধ, তবুও ইরাকে এক এতিম।তার আরও কবিতা:দিন চলে গেছে এবং রাত ঘনিয়ে এসেছে … হে আমার দুই বন্ধু! তোমরা পান করো এবং আমাকে পান করাও।এমন পানীয় যা দরিদ্রকে ধনী করে দেয় … সুধারণাসম্পন্ন করে এবং কালের ওপর আস্থাশীল করে।তাদের মধ্যে মুহাম্মাদ ইবনে ইদরীস অন্যতম, তার কবিতায় কিছুটা কৃত্রিমতা ও কঠোরতা ছিল। তার মধ্য থেকে:যখন আমরা ফিহরের সম্মুখে গর্বিত হলাম...আল্লাহ আমাদের মাধ্যমে শত্রুদের পর্যুদস্ত করলেন...আমরা কোনো সম্প্রদায়ের জনসমষ্টিকে অবশিষ্ট রাখিনি...বরং আমরা তাদের মস্তকগুলোকে উপড়ে ফেলেছি...আমাদের মর্যাদার স্তম্ভসমূহ সুদৃঢ় হয়েছে...জমিনে, এমনকি আমরা কোনো বিচ্যুতি খুঁজে পাইনি...তিনি আমাদের জন্য প্রাচীন এক শক্তি নির্মাণ করেছেন যা ম্লান হয় না...এক আদিম মর্যাদা এবং এক গর্বিত মহিমা...যদি তা দমখ পাহাড়কে ধাক্কা দিত, তবে তা সরিয়ে দিত...নিশ্চয়ই আমাদের রয়েছে প্রবল বর্ষণ ও ধাবমান প্লাবন...এবং কঙ্কররাশির মতো অগণিত সংখ্যা ও শৌর্য...আমরা তাদের মধ্য থেকে যাকে ইচ্ছা চূর্ণ-বিচূর্ণ করি...আর যদি আমরা মানুষের ওপর ফুঁ দিতাম, তবে তারা উড়ে যেত।
(খণ্ড: ১)
আল-মুযাকারাতু ফী আলকাবিশ শুআরা
(পৃষ্ঠা: ১৮)
ومنهم آمنة بنت الوليد بن يحيى بن أبي حفصة. كانت زوجة مروان بن سليمان، وهي أم أبي الجنوب والسمط، فبلغها أن معن بن زائدة وهب لمروان زوجها جارية، فتسراها، وقد كان حلف لها مروان أنه لا يتخذ صاحبة حتى يرجع إليها، فكتبت إليه:أبا السمطِ إنْ كانت أحاديثكَ التي … أتتنا يقيناً، فاثبتِ، الدهرَ، في اليمنْحلفتَ بأيمانٍ غلاظٍ، فخنتنا … ولو كنتَ تخشى الله، بالغيبِ، لم تخنْوكان سبب هذه الجارية أنه لما قدم على معن بن زائدة اليمن، وأحسن قراه، وأكرم مثواه، واجزل صلته، طلب المقام عنده. فلما طال عليه المقام كتب إليه:منْ مبلغٌ معناً، حليفَ المجدِ … أني من الليل أبيتُ وحديأبيتُ كالسيفِ الحسامِ الفردِ … لا خودَ، إلا ما حلمتُ، عنديكلٌّ يواري سيفهُ في غمدِ … أحلفُ بالله يمينَ الجهدِما مسَّ جلداً، مذْ قدمتُ، جلدي … إلا منىً، في مرقدي، لا تجديويروى عن أبي السمط أنه قال: دخلت على الأمير عبد الله بن طاهر، فقال لي: إني بت البارحة قلقاً أرقاً بتذكري ذا اليمينين، فارثه لي في مقامك هذا بأبيات تجعل لي لذكره طريقاً سهلاً. فوقفت ساعة، ثم قلت:إنَّ المكارمَ إذ تولى طاهرٌ … قطعَ الزمانُ يمينها وشمالهاإنَّ المنايا لو يبارزُ طاهراً … لاقتْ، بوقعِ سيوفهِ، آجالهاأرسى عمادَ خلافةٍ من هاشمٍ … ورمى عمادَ خلافةٍ، فأزالهابكتِ الأسنةَ طاهراً، لما رأت … روى النجيعُ بسيفهِ أنهالهاليت المنون تجانفت من طاهرِ … ولوتْ بذورة من تشاجى لهاما كنتُ، لو سلمتْ يمينا طاهر … أرزا، ولا أسلُ الحواث ما لهافأمر لي بخمسة آلاف درهم، وقال: ربحنا عليك وخسرت علينا. وثم اعطاه في اليوم الثاني مثلها، ثم في اليوم الثالث.وله أيضاً:يقولُ أناسٌ: إنَّ مرواً بعيدةً … وما بعدتْ مروٌ، وفيها ابنُ طاهرِوأبعدُ من مروٍ أناسٌ نراهمُ … بحضرتنا، معروفهمْ غيرُ حاضرِعن العرفِ موتى، ما تبالي أزرتهم … على أملٍ، أمْ زرتَ أهلَ المقابرِوالبيت الأول كما قال أبو نواس:واستبعدتْ مصرٌ، وما بعدتْ … أرضٌ يحلُّ بها أبو نصرِولقد وصلتُ بكَ الرجاءَ، ولي … مندوحةٌ، لو شئت، عن مصرِومن الشعراء المحدثين الذين هم بيترزين بن سليمان بن تميم بن نهشود بن خراش بن خالد بن عبد بن دعبل بن أنس بن خزيمة بن مازن بن الحارث. منهم علي بن رزين، ودعبل بن علي، ورزين بن علي، وأبو الشيص محمد بن عبد الله بن رزين، وعبد الله بن أبي الشيص، والحسن بن دعبل.فأما علي بن رزين فهو مقل من الشعر. ومن شعره:قد قلتُ، لما رأيتُ الموتَ يطلبني … يا ليتني درهمٌ في كيس مياحِوأما رزين بن علي فمقل أيضاً. أنشد له أخوه دعبل:أغرى بني جعفرٍ بي أنَّ أمهمُ … كانت تلمُّ برحلي حين تغتلمُقومٌ إذا فزعوا، أو نالهمْ حدثٌ … كانتْ خصومهمُ الأعراضُ والحرمُذكر دعبل بن علي بن رزيندعبل أكثر القوم شعراً، هو وأبو الشيص بحران. واسم دعبل محمد ودعبل لقب، يقال: هو الناقة الهرمة. وقل أحمد بن يحيى: إنه مشتق من الدعابة، أو الناقة السمينة. وكان دعبل، مع جودة شعره وفخامة لفظه، رجلاً ذا همة ونبل في نفسه، ويهجو من الخلفاء فما دون، وكان شعره أكثر من شعر نظرائه. وقيل: كان عند ولده الحسين من شعره ستة مجلدات ضخمة، في كل مجلد ثلاثمائة ورقة، وشعره قليل السقط. وسئل عبد الله بن مسلم عن جيد شعره، فقال: القصيدة القديمة قوله:أفيقي من ملامكِ يا ظعيناوهي القصيدة التي يرد فيها على الكميت، في قصيدته التي يقول فيها:ألا حييتِ عنا يا مديناوكان دعبل عالماً بصيراً بالغريب والأخبار وأيام العرب، وشعره يدل على ذلك. وكان معاصراً لأبي نواس ومسلم. وقال دعبل: اجتمعت أنا وأبو الشيص ومسلم وأبو نواس في مجلس، فقال لنا أبو نواس: إن مجلسنا هذا قد شهر باجتماعنا فيه، ولا بد للناس أن يسألوا على ما انعقد وعلى ما انحل، فليأت كل امرئ بأحسن ما قاله. فأنشد أبو الشيص:
তাদের মধ্যে রয়েছেন আমিনা বিনতে আল-ওয়ালিদ বিন ইয়াহইয়া বিন আবি হাফসাহ। তিনি মারওয়ান বিন সুলাইমানের স্ত্রী এবং আবু আল-জানুব ও আল-সামতের মা ছিলেন। তার কাছে সংবাদ পৌঁছাল যে, মা'ন বিন যায়িদাহ তার স্বামী মারওয়ানকে একটি দাসী উপহার দিয়েছেন এবং তিনি তাকে উপপত্নী হিসেবে গ্রহণ করেছেন। অথচ মারওয়ান তার কাছে শপথ করেছিলেন যে, ফিরে আসা পর্যন্ত তিনি কোনো সঙ্গিনী গ্রহণ করবেন না। তখন তিনি তাকে লিখে পাঠালেন:
হে আবু সামত, তোমার যেসব সংবাদ … আমাদের কাছে ধ্রুব সত্য হিসেবে পৌঁছেছে, তবে তুমি চিরকাল ইয়েমেনেই অবস্থান করো।
তুমি কঠিন সব শপথ করেছিলে, কিন্তু আমাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করলে। … তুমি যদি অদৃশ্যে আল্লাহকে ভয় পেতে, তবে বিশ্বাসভঙ্গ করতে না।
এই দাসী সংগ্রহের কারণ ছিল এই যে, মারওয়ান যখন ইয়েমেনে মা'ন বিন যায়িদাহর নিকট আসলেন, তখন মা'ন তাকে উত্তম আতিথেয়তা প্রদান করলেন, তার থাকার সুব্যবস্থা করলেন এবং প্রচুর উপহার দিলেন। মারওয়ান তার নিকট অবস্থানের ইচ্ছা পোষণ করলেন। যখন তার অবস্থান দীর্ঘ হলো, তখন তিনি তাকে লিখে পাঠালেন:
কে মা'নের কাছে খবর পৌঁছে দেবে—যিনি গৌরবের মিত্র— … যে আমি রাত যাপন করি একাকী।
আমি রাত কাটাই নিঃসঙ্গ তীক্ষ্ণ তলোয়ারের ন্যায়, … স্বপ্নে যা দেখি তা ছাড়া আমার কাছে কোনো নারী নেই।
প্রত্যেকেই তার তলোয়ারকে খাপে লুকিয়ে রাখে, … আমি আল্লাহর নামে দৃঢ় শপথ করছি,
আমি আসার পর থেকে আমার চামড়া কারো চামড়া স্পর্শ করেনি, … আমার বিছানায় কেবল বিফল কামনা ছাড়া আর কিছুই নেই।
আবু আল-সামত থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন: আমি আমির আব্দুল্লাহ বিন তাহিরের নিকট প্রবেশ করলাম। তিনি আমাকে বললেন: "গত রাতে আমি যুল-ইয়ামিনাইনের স্মরণে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ও নির্ঘুম কাটিয়েছি। তুমি এই মুহূর্তেই আমার জন্য তার শোকগাঁথা রচনা করো এমন কিছু চরণের মাধ্যমে যা তার স্মৃতিকে আমার জন্য সহজ করে দেয়।" আমি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলাম, তারপর বললাম:
উচ্চমর্যাদা যখন বিদায় নিল—কেননা তাহির চলে গেছেন— … কালচক্র যেন তার ডান ও বাম হাত কর্তন করে দিল।
মৃত্যু যদি কখনো তাহিরের মুখোমুখি হতো, … তবে তার তলোয়ারের আঘাতে মৃত্যু নিজেই নিজের শেষ পরিণতি দেখতে পেত।
তিনি হাশেমী খেলাফতের স্তম্ভ সুদৃঢ় করেছিলেন, … আর অন্য এক খেলাফতের স্তম্ভকে আঘাত করে তা উৎখাত করেছিলেন।
বল্লমগুলো তাহিরের জন্য কেঁদেছিল, যখন তারা দেখেছিল … তার তলোয়ারের রক্ত নদী হয়ে বইছে।
হায়! মৃত্যু যদি তাহিরকে এড়িয়ে যেত, … আর তার পরিবর্তে তাদের পাকড়াও করত যারা তার জন্য শোকাতুর হয়েছে।
তাহিরের ডান হাত যদি অক্ষত থাকত, তবে আমি … কোনো বিপদে পড়তাম না, আর না আমাকে ভাগ্যের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হতো।
অতঃপর তিনি আমাকে পাঁচ হাজার দিরহাম দেওয়ার আদেশ দিলেন এবং বললেন: "আমরা তোমার মাধ্যমে লাভবান হলাম আর তুমি আমাদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হলে।" এরপর দ্বিতীয় দিনও তিনি তাকে অনুরূপ পরিমাণ দিলেন, তারপর তৃতীয় দিনও।
তার আরও কবিতা রয়েছে:
মানুষ বলে: মার্ভ শহর অনেক দূরে, … অথচ মার্ভ মোটেও দূরে নয়, যেখানে ইবন তাহির রয়েছেন।
মার্ভের চেয়েও দূরে ওইসব মানুষ যাদের আমরা দেখছি … আমাদের সামনেই, অথচ যাদের সদাচরণ আমাদের কাছে পৌঁছায় না।
সদাচরণের দিক থেকে তারা মৃত; তুমি কোনো প্রত্যাশা নিয়ে … তাদের নিকট যাও অথবা কবরবাসীদের নিকট যাও—তাতে কিছুই যায় আসে না।
প্রথম চরণটি যেমন আবু নুওয়াস বলেছিলেন:
মিশরকে অনেক দূরে মনে করা হতো, অথচ কোনো দেশই দূরে নয় … যেখানে আবু নাসর অবস্থান করেন।
আমি তোমার সাথে আমার আশাকে যুক্ত করেছি, যদিও আমার জন্য … তুমি চাইলে মিশর ছাড়াও বিকল্প পথ খোলা ছিল।
আধুনিক কবিদের মধ্যে যারা একটি কাব্য-পরিবারের অন্তর্ভুক্ত
রযীন বিন সুলাইমান বিন তামীম বিন নাহশূদ বিন খিরাশ বিন খালিদ বিন আবদ বিন দা'বাল বিন আনাস বিন খুযাইমা বিন মাযিন বিন আল-হারিস। তাদের মধ্যে রয়েছেন আলী বিন রযীন, দা'বাল বিন আলী, রযীন বিন আলী, আবু আল-শীস মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন রযীন, আব্দুল্লাহ বিন আবি আল-শীস এবং আল-হাসান বিন দা'বাল।
আলী বিন রযীনের কথা বলতে গেলে, তার কবিতার সংখ্যা কম। তার কবিতার একটি অংশ হলো:
যখন দেখলাম মৃত্যু আমাকে খুঁজছে, তখন আমি বললাম: … হায়! আমি যদি কোনো দানশীল ব্যক্তির থলিতে থাকা একটি দিরহাম হতাম।
আর রযীন বিন আলীও অল্প সংখ্যক কবিতা লিখেছেন। তার ভাই দা'বাল তার এই কবিতাটি পাঠ করেছেন:
বনী জা'ফরকে আমার বিরুদ্ধে প্ররোচিত করেছে এই যে, তাদের মা … কামোত্তেজিত অবস্থায় আমার শিবিরের পাশ দিয়ে ঘোরাঘুরি করত।
এরা এমন এক সম্প্রদায়, যখন তারা ভীত হয় বা কোনো বিপদে পড়ে, … তখন তাদের সম্মান ও নারী জাতিই হয় তাদের বিপক্ষীয় শত্রু।
দা'বাল বিন আলী বিন রযীনের আলোচনা
এই বংশের কবিদের মধ্যে দা'বাল এবং আবু আল-শীস ছিলেন সবচেয়ে বেশি কবিতা রচয়িতা। তারা যেন কবিতার দুই বিশাল সমুদ্র। দা'বালের আসল নাম মুহাম্মদ, আর দা'বাল হলো তার উপনাম। বলা হয়, এর অর্থ হলো অতি বৃদ্ধ উটনী। আহমাদ বিন ইয়াহইয়া বলেন: এটি ‘দু'আবাহ’ (রসিকতা) অথবা ‘মোটা উটনী’ থেকে উদ্ভূত। দা'বাল তার কবিতার গুণগত মান এবং শব্দের গাম্ভীর্যের পাশাপাশি অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং আত্মমর্যাদাবান ব্যক্তি ছিলেন। তিনি খলিফাদের থেকে শুরু করে নিচের স্তরের লোকেদের নিন্দা করে কবিতা লিখতেন। তার কবিতা সমসাময়িকদের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। বলা হয় যে, তার পুত্র আল-হুসাইনের নিকট তার কবিতার ছয়টি বিশাল খণ্ড ছিল, যার প্রতিটি খণ্ডে ছিল তিনশ পাতা। তার কবিতায় ত্রুটি বিচ্যুতি খুব কমই পাওয়া যেত। আব্দুল্লাহ বিন মুসলিমকে তার শ্রেষ্ঠ কবিতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন: তার সেই প্রাচীন কাসীদাটি:
হে পর্দানশীন নারী, তোমার তিরস্কার থেকে বিরত হও।
এটি সেই কাসীদা যার মাধ্যমে তিনি কুমাইতের সেই কাসীদার উত্তর দিয়েছিলেন যাতে তিনি বলেছিলেন:
জেনে রেখো, মদীনার পক্ষ থেকে আমাদের অভিবাদন গ্রহণ করো।
দা'বাল বিরল শব্দভাণ্ডার, ইতিহাস এবং আরবদের যুদ্ধবিগ্রহ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রাখতেন, যা তার কবিতায় ফুটে ওঠে। তিনি আবু নুওয়াস এবং মুসলিম বিন আল-ওয়ালীদের সমসাময়িক ছিলেন। দা'বাল বলেন: এক মজলিসে আমি, আবু আল-শীস, মুসলিম এবং আবু নুওয়াস একত্রিত হলাম। আবু নুওয়াস আমাদের বললেন: "আমাদের এই মজলিস আমাদের একত্রিত হওয়ার কারণে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। মানুষ অবশ্যই জানতে চাইবে এখানে কী আলোচনা হলো এবং কী সিদ্ধান্ত হলো। সুতরাং প্রত্যেকে তার বলা শ্রেষ্ঠ কবিতাটি পাঠ করুক।" তখন আবু আল-শীস পাঠ করলেন:
(খণ্ড: ১)
আল-মুযাকারাতু ফী আলকাবিশ শুআরা
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وقفَ الهوى بي حيثُ أنتِ فليسَ لي … متأخرٌ عنهُ، ولا متقدمُوأهنتني، فأهنتُ نفسي جاهداً … ما من يهونُ عليكِ ممن أكرمُأجدُ الملامةَ في هواكِ لذيذةً … حباً لذكركِ، فليلمني اللومُفجعل أبو نواس يعجب من حسن الشعر. فأنشد مسلم من شعره:موفٍ على مهجٍ في يومِ ذي رهجٍ … كأنه أجلٌ يسعى إلى أملِتكسو السيوفُ نفوسَ الناكثينَ بهِ … وتجعلُ الروسَ تيجانَ القنا الذبلِفقال أبو نواس: هذا الشعر الذي لم يقل قبلك مثله ولا يقول بعدك. ثم قال له: كأني بك وقد جئتنا بواسطة عقدك. وانشد دعبل:لا تعجبي يا سلمَ من رجلٍ … ضحكَ المشيبُ برأسهِ فبكىأين الشبابُ؟ وأيةً سلكا؟ … لا أينَ يطلب؟ ُ ضلَّ، بل هلكاقصرَ الغوايةَ عن هوى قمرٍ … وجدَ السبيلَ إليهِ مشتركافقال: كأنك كنت في نفسي. فسألناه أن ينشد، فأنشد:لا تبكِ ليلى، ولا تطربْ إلى هندِ … وأشربْ على الوردِ من حمراءَ كالوردِكأساً إذا انحدرتْ من حلقِ شاربها … أحذتهُ حمرتها في العينِ والخدِّفالخمرُ ياقوتةٌ، والكأسُ لؤلؤةٌ … من كفِّ لؤلؤةٍ، ممشوقةِ القدِّتسقيكَ من عينها سحراً، ومن يدها … سكراً، فما لكَ من سكرينِ من بدِّلي نشوتانِ، وللندمانِ واحدةٌ … شيءٌ خصصتُ بهِ، من دونهم، وحديفقمنا، فسجدنا له، فقال: افعلتموها؟ والله لا كلمتكم ثلاثاً، وثلاثاً، وثلاثاً.ومع ما ذكرنا من غزارة شعر دعبل، فيحسن أن نذكر له الأبيات التي تحتوي على الأمثال، أو تصلح للمذاكرة. فمن شعره إلى المأمون:أيسومني المأمونُ خطة عاجزٍ … أوما رأى، بالأمسِ، رأسَ محمدِ؟نوفي على هام الخلائفِ مثلما … توفي الجبالُ على رؤوسِ القرددِونحلُّ في أكنافِ كلِّ ممنعٍ … حتى نذللَ شاهقاً لم يصعدِإني من القوم الذينَ همُ همُ … قتلوا أخاكَ، وشرفوكَ بمقعدِشادوا بذكركَ بعدَ طولِ خمولهِ … واستنقذوكَ من الحضيضِ الأوهدِكم من كريمٍ قبلهُ، وخليفةٍ … أضحى لنا دمهُ لذيذَ المقصدِمثل ابن عثمان، ومثل وليدهم … أو مثل مروانٍ، ومثل محمدِوإنما فخر برأس محمد لأن طاهر بن الحسين قتله، وطاهر مولى خزاعة، وكان جده زريق مولى عبد الله بن خلف الخزاعي، وهو أبو طلحة الطلحات، وعثمان سارت إليه اليمانية من مضر، والوليد قتله يزيد بن خالد القسري، ومروان قتله عامر بن إسماعيل.وقال قتم بن جعفر بن سليمان: بينا أنا في مجلس المأمون، إذ جرى ذكر دعبل، فقال إبراهيم بن المهدي: يا أمير المؤمنين اقطع لسانه واضرب عنقه، قال: ولم؟ قال: لأنه هجاك، قال: وإن هجاني فما أباح الله دمه بهجائي. فقال بعض من حضر: يا أمير المؤمنين، إنه قد هجا إبراهيم، قال: بماذا؟ فأنشده:أنى يكونُ، ولا يكونُ، ولم يكنْ … يرثُ الخلافة فاسقٌ عن فاسقِإنْ كان إبراهيمُ مضطلعاً بها … فلتصلحنْ، من بعدهِ، لمخارقِفقال المأمون: حسبك. ثم قال: يا ثابت، هل تحفظ ما هجاني به، فقلت: لا والله، فقال: لا بد أن تجيئني بما هجاني به، وإلا رأيت مني ما تكره، وأنا مقيم على ذلك. قال: فانصرفت ولم تكن لي همة إلا تحصيل شيء من ذلك، فحصلت لي القطعة الدالية، فكتبتها في رقعة، وجئت بها، فنظرها وهي بين إصبعي، فقال لي: هذه الورقة حاجة ذاك الرجل؟ فقلت: نعم، فاخذها وقرأها وكررها، ثم لما وصل إلى قوله:شادوا بذكركَ بعدَ طول خموله … واستنقذوكَ من الحضيضِ الأوهدِقال: يا قوم، رأيتم أظلم من دعبل؟ ومتى رآني هذا الحضيض، وأنا رضيع الخلافة، وما زلت منذ نشأت خليفة، إلا أن القدر صدفها تلك المدة، وكنت مالك البلاد. ثم القى القرطاس، وقال: شأنك، فقد علمنا ما فيه.وحدث محمد بن موسى الحمال، قال: رأيت دعبلاً عند خشبة بابك، وهو واقف، فقلت: ما تصنع يا ابا علي، فأنشد:الحمدُ للهِ لا صبرٌ ولا جلدُ … ولا رقادٌ، إذا أهلُ الهوى، رقدواخليفةٌ ماتَ لم يحزنْ له أحدٌ … وآخرٌ قامَ لم يفرحْ بهِ أحدُقد مرَّ هذا، فمرَّ الشؤمُ يتبعهُ … وقامَ هذا، فقامَ الشؤمُ والنكدُ
তোমার নিকটেই আমার ভালোবাসা থমকে দাঁড়িয়েছে, এর থেকে পেছনে যাওয়ারও সুযোগ নেই, সামনে এগোনোরও পথ নেই।তুমি আমাকে অপমান করেছ, তাই আমিও সচেষ্ট হয়ে নিজেকে তুচ্ছ করেছি; কারণ তোমার কাছে যে অপমানিত হয়, তাকে আমি সম্মান করি না।তোমার প্রতি ভালোবাসায় আমি তিরস্কারকেও সুস্বাদু মনে করি, তোমার কথা স্মরণে রাখার গভীর মমতায়; কাজেই নিন্দুকেরা আমায় নিন্দা করুক।অতঃপর আবু নুওয়াস কবিতার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতে লাগলেন। তখন মুসলিম তার নিজের কাব্য থেকে আবৃত্তি করলেন:ধূলিময় যুদ্ধের দিনে সে প্রাণের ওপর চড়াও হয়, যেন সে এক মৃত্যু যা আকাঙ্ক্ষার দিকে ধাবিত হচ্ছে।তলোয়ারগুলো তার বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারীদের দেহে আচ্ছাদন পরিয়ে দেয়, আর ছিন্ন মস্তকগুলোকে নমনীয় বর্শার ডগার মুকুট বানিয়ে দেয়।আবু নুওয়াস বললেন: এটি এমন কবিতা যার সমতুল্য তোমার আগে কেউ বলেনি এবং পরেও কেউ বলবে না। এরপর তিনি তাকে বললেন: আমি যেন তোমাকে তোমার শ্রেষ্ঠ কাব্যের মধ্যমণি হিসেবে দেখতে পাচ্ছি। অতঃপর দি'বিল আবৃত্তি করলেন:হে সালমা! সেই ব্যক্তিকে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করো না, যার মাথায় বার্ধক্য অট্টহাসি দিচ্ছে আর সে কাঁদছে।যৌবন কোথায় গেল? সে কোন পথে চলে গেল? কোথায় তাকে খুঁজব? সে তো পথ হারিয়েছে, বরং সে বিনাশ হয়েছে।এক চাঁদের (সুন্দরীর) প্রেমে পড়ে সে বিভ্রান্তি ত্যাগ করেছে, যার কাছে পৌঁছানোর পথ সে সবার জন্য উন্মুক্ত পেয়েছে।তিনি বললেন: তুমি যেন আমার মনের কথাই বললে। অতঃপর আমরা তাকে আবৃত্তি করতে অনুরোধ করলে তিনি আবৃত্তি করলেন:লায়লার জন্য কেঁদো না, হিন্দের জন্য ব্যাকুল হয়ো না; বরং গোলাপের সান্নিধ্যে গোলাপের মতোই লাল শরাব পান করো।এমন এক পেয়ালা, যা যখন পানকারীর কণ্ঠনালী দিয়ে নিচে নামে, তখন তার লালিমা চোখ ও গালে ছড়িয়ে পড়ে।মদ যেন এক ইয়াকুত পাথর, আর পেয়ালাটি মুক্তা; যা এক সুতন্বী রূপসীর হাত থেকে পরিবেশিত হয়।সে তোমাকে তার চোখ দিয়ে জাদু পান করায় এবং তার হাত দিয়ে মাদকতা; সুতরাং এই দুই প্রকার মাদকতা ছাড়া তোমার গত্যন্তর নেই।আমার জন্য রয়েছে দুই প্রকারের মত্ততা, আর সঙ্গীদের জন্য একটি; এটি এমন এক বৈশিষ্ট্য যা তাদের ছেড়ে কেবল আমাকেই দেওয়া হয়েছে।তখন আমরা দাঁড়ালাম এবং তাকে সম্মান জানিয়ে লুটিয়ে পড়লাম। তিনি বললেন: তোমরা একি করলে? আল্লাহর কসম, আমি তোমাদের সাথে তিনবার, তিনবার এবং তিনবার কথা বলব না।দি'বিলের কবিতার প্রাচুর্য সম্পর্কে আমরা যা উল্লেখ করেছি, তার পাশাপাশি তার এমন কিছু পংক্তি উল্লেখ করা সমীচীন যা প্রবাদতুল্য অথবা আলোচনার যোগ্য। আল-মামুনকে উদ্দেশ্য করে লেখা তার কবিতা থেকে:মামুন কি আমাকে অক্ষমদের মতো আচরণ করতে বাধ্য করছে? সে কি গতকাল মুহাম্মদের (আল-আমিন) কাটা মাথা দেখেনি? আমরা খলিফাদের মস্তকের ওপর ঠিক সেভাবেই বিজয়ী হই, যেভাবে পাহাড়গুলো বন্ধুর ভূমির ওপর মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকে।আমরা প্রতিটি সুরক্ষিত দুর্গের আঙিনায় অবতরণ করি, এমনকি সেই সুউচ্চ শিখরকেও বশ করি যা আগে কেউ আরোহণ করেনি।আমি সেই জাতির অন্তর্ভুক্ত যারা—হ্যাঁ তারাই—তোমার ভাইকে হত্যা করেছে এবং তোমাকে এই সিংহাসনে বসিয়ে সম্মানিত করেছে।দীর্ঘকাল বিস্মৃতির অতলে থাকার পর তারা তোমার নামকে সমুন্নত করেছে এবং তোমাকে গভীর নিম্নভূমি থেকে উদ্ধার করেছে।তার আগে কত যে অভিজাত ব্যক্তি ও খলিফার রক্ত আমাদের কাছে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পরিণত হয়েছিল! যেমন উসমানের বংশধর, তাদের ওয়ালিদ, অথবা যেমন মারওয়ান এবং মুহাম্মদের মতো ব্যক্তিরা।তিনি মুহাম্মদের (আল-আমিন) মস্তক নিয়ে গর্ব করেছেন কারণ তাহির ইবনে হুসাইন তাকে হত্যা করেছিলেন। তাহির ছিলেন খুযাআ গোত্রের আযাদকৃত দাস, আর তার দাদা যুরাইক ছিলেন খুযাআ গোত্রের আব্দুল্লাহ ইবনে খালাফের আযাদকৃত দাস—যিনি আবু তালহা আল-তালাহাত নামে পরিচিত। উসমানের বিরুদ্ধে মুদার গোত্র থেকে ইয়ামানিরা অগ্রসর হয়েছিল, ওয়ালিদকে হত্যা করেছিল ইয়াযিদ ইবনে খালিদ আল-কাসরি এবং মারওয়ানকে হত্যা করেছিল আমির ইবনে ইসমাইল।কুতাম ইবনে জাফর ইবনে সুলাইমান বলেন: আমি আল-মামুনের মজলিসে উপস্থিত থাকাকালীন দি'বিলের প্রসঙ্গ উত্থাপিত হলো। তখন ইব্রাহিম ইবনুল মাহদি বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, আপনি ওর জিহ্বা কেটে দিন এবং ওর গর্দান উড়িয়ে দিন। মামুন বললেন: কেন? তিনি বললেন: কারণ সে আপনার নিন্দা করেছে। মামুন বললেন: সে যদি আমার নিন্দাও করে থাকে, তবুও আল্লাহ আমার নিন্দার কারণে তার রক্ত হালাল করেননি। তখন সেখানে উপস্থিত একজন বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন, সে তো ইব্রাহিমেরও নিন্দা করেছে। মামুন বললেন: কী বলে? তখন সে তাকে শোনাল:কখনো কি হয়েছে, বা হবে, বা হয়েছে কি কখনো—যে এক পাপাচারী আরেক পাপাচারীর কাছ থেকে খিলাফতের উত্তরাধিকার পাবে? যদি ইব্রাহিম এই খিলাফত পরিচালনার যোগ্য হয়, তবে তার পরে মুখারিকের জন্যও এটি উপযুক্ত হবে।আল-মামুন বললেন: যথেষ্ট হয়েছে। এরপর বললেন: হে সাবিত, সে আমার নিন্দা করে যা বলেছে তা কি তোমার মুখস্থ আছে? আমি বললাম: না, আল্লাহর কসম। তিনি বললেন: সে আমাকে যা বলে নিন্দা করেছে তা তোমাকে অবশ্যই নিয়ে আসতে হবে, অন্যথায় আমার পক্ষ থেকে এমন কিছু দেখবে যা তোমার অপছন্দনীয় হবে; আমি আমার এই সিদ্ধান্তে অটল। সাবিত বলেন: আমি ফিরে এলাম এবং এটি সংগ্রহ করা ছাড়া আমার আর কোনো চিন্তা ছিল না। অতঃপর আমি সেই 'দাল' অন্ত্যমিলের কবিতাটি পেলাম এবং তা একটি কাগজে লিখে নিয়ে এলাম। আমি যখন সেটি নিয়ে এলাম, তখন তিনি আমার আঙুলের মাঝে সেটি দেখে বললেন: এই কাগজটিই কি সেই ব্যক্তির প্রয়োজন? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি সেটি নিলেন, পড়লেন এবং বারবার পড়তে থাকলেন। তারপর যখন তিনি এই চরণে পৌঁছালেন:তারা দীর্ঘকাল বিস্মৃতির অতলে থাকার পর তোমার নামকে সমুন্নত করেছে এবং তোমাকে গভীর নিম্নভূমি থেকে উদ্ধার করেছে।তিনি বললেন: হে লোকসকল, তোমরা কি দি'বিলের চেয়ে বড় কোনো যালিম দেখেছ? সে আমাকে কখন এই 'নিম্নভূমি'তে দেখল? অথচ আমি খিলাফতেই লালিত-পালিত হয়েছি এবং শৈশব থেকেই আমি খলিফা, কেবল তাকদীর সেই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য একে অন্য দিকে ফিরিয়ে নিয়েছিল, অথচ আমিই ছিলাম ভূখণ্ডের মালিক। এরপর তিনি কাগজটি ছুঁড়ে মারলেন এবং বললেন: তোমার যা ইচ্ছা করো, এর ভেতরে কী আছে তা আমরা জেনে গেছি।মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-হাম্মাল বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি দি'বিলকে বাবকের ফাঁসি কাষ্ঠের কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলাম। আমি বললাম: হে আবু আলী, আপনি এখানে কী করছেন? তখন তিনি আবৃত্তি করলেন:সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, কোনো ধৈর্য নেই, কোনো সহনশীলতা নেই; নেই কোনো ঘুম, যখন অনুরাগী ব্যক্তিরা ঘুমিয়ে পড়ে। এক খলিফা মারা গেল যার জন্য কেউ দুঃখিত হয়নি, আর অন্যজন স্থলাভিষিক্ত হলো যাকে নিয়ে কেউ আনন্দিত হয়নি। ঐ ব্যক্তি চলে গেছে এবং তার সাথে অশুভও বিদায় নিয়েছে; আর এ ব্যক্তি স্থলাভিষিক্ত হয়েছে যার সাথে অশুভ ও দুর্ভাগ্য চাড়া দিয়ে উঠেছে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুযাকারাতু ফী আলকাবিশ শুআরা
(পৃষ্ঠা: ২০)
عني بما قاله: أن المعتصم مات، وقام الواثق. فقلت: يا هذا أمسك عليك لسانك، فكأني اراك سوف تجني على نفسك جناية، فقال: دعني، فأني أتصدق من ربي خشبة أصلب عليها من عشرين سنة، فما جاد لي بها. ولما قتل الواثق أحمد بن نصر بن مالك الخزاعي وصلبه، قال دعبل:بني مالكٍ صونوا الجفونَ عن الكرى … ولا ترقدوا بعدَ ابنِ نصرِ بن مالكِفقد حملتهُ للقبورِ مطيةٌ … أنافتْ بهاديهِ على شخصِ بابكِوسلوا من الأجفانِ كلَّ مهندٍ … بصيرٍ بضربٍ للطلى متداركِيقومُ به للهاشمياتِ مأتمٌ … له ضجةٌ يبكي بها كلُّ ضاحكِتذكرهم قتلى ببدرٍ تنوشهمْ … سباعٌ وطيرٌ من سباعٍ بواركِكما فتكتْ أسيافهمٍ بمحمدً … وهدتٍ مباني عرشهِ المتماسكِفطلَّ دمُ المخلوعِ، وانتهكتْ له … ذخائرُ من منقوشةٍ، وسبائكِفأنْ غصَّ هارونٌ بجرعةِ عمهِ … فأيسرُ مفقودٍ، وأهونُ هالكِوله أيضاً:نعوني، ولما ينعني غيرُ حاسدٍ … وغيرُ عدوٍّ قد أصيبتْ مقاتلهْيقولون: إن لاقى الردى ماتَ شعرهُ … وهيهاتَ عمرُ الشعرِ طالت طوائلهْوهبْ شعرهُ، إن ماتَ، ماتَ فأينَ ما … تحملهُ الراوون والخطُّ حابلهْ؟سأقضي ببيتٍ يحمدُ الناسُ صدقهُ … ويكثرُ من أهل الروايةِ ناقلهْيموتُ رديءُ الشعرِ من قبل موتهِ … وجيدهُ يبقى، وإنْ ماتَ قائلهْومن معاني دعبل، وإن كانت موجودة، قوله:وإذا حلمتَ فأعطِ حلمكَ كنههُ … مستأنياً، وإذا كويتَ فأنضجِوإذا التمستَ دخولَ أمرٍ فالتمسْ … من قبل مدخلهِ سبيلَ المخرجِومنه قوله:فلا تحسدِ الكلبَ أكلَ العظامِ … فعندَ الخراءةِ ما ترحمهُتراهُ وشيكاً تشكى آستهُ … كلوماً جناها عليهِ فمهُإذا ما أهانَ امرؤٌ نفسهُ … فلا أكرمَ اللهُ من يكرمهُوأول هذا المعنى لحاتم في قوله:ونفسك أكرمها، فإنكَ إنْ تهنْ … عليكَ، فلنْ تلقى لها، الدهرَ، مكرماوقال زهير:ومنْ لا يكرمْ نفسهُ لا يكرمِومثل ذلك:وكان غنيَّ النفسِ أيام فقرهِ … فصارَ فقيراً في الغنى، خيفةَ الفقرِبخلتَ بما آتاكَ ربكَ خيفةً … من العسرِ، ويكَ الآن صرتَ إلى العسرِولابن عباد المهلبي:تجودُ بالمالِ على وارثٍ … ولا ترى أهلاً لهُ نفسكاقدمَ حسنَ الظنّ بالله من … جادَ، وأخطا الظنَّ منْ أمسكاوله أيضاً:فأقسمتُ: لا عنْ جفوةٍ، لا ولا قلىً … ولا مللٍ أبطأتُ عنكَ أبا بكرِولكنني لما رأيتكَ زائراً … فأفرطتَ في بري، عجزتُ عن الشكرِفملآنَ لا آتيكَ إلا مسلماً … أسلم في الشهرين يوماً، وفي الشهرِفانْ زدتني براً تزيدتُ جفوةً … فلا نلتقي، طولَ الحياةِ، إلى الحشرِالمعنى مأخوذ من أبي نؤاس:قد قلتُ للعباسِ معتذراً … من ضعفِ شكريهِ، ومعترفاأنتَ امرؤٌ جللتني نعماً … أوهتْ قوى شكري، فقد ضعفالا تسدينَّ إليَّ عارفةً … حتى أقومَ بشكرِ ما سلفاوقال البحتري:أخجلتني بندى يديكَ، فسودتْ … ما بيننا تلكَ اليدُ البيضاءُصلةٌ غدتْ في الناسِ وهي قطيعةٌ … عجباً، وبرٌ راحَ وهو جفاءُوقيل في صفة جولان القوافي:ألستُ إذا ما قلتُ بيتاً تناوحتْ … بهِ الريحُ في شرقيها والمغاربِيقصرُ للسارينَ من ليلةِ السرى … ويغدى عليه بالقيانِ الضواربِولدعبل في المعنى:من كلِّ عابرةٍ إذا وجهتها … طلعتْ بها الركبانُ كلَّ نجادِطوراً يمثلها الملوكُ، وتارةً … بين الثديِّ تراضُ والأكبادِولمروان بن أبي حفصة:إني أقولُ قصائداً جوالةً … أبداً تجولُ خوالعاً أرسانهامن كل قافيةٍ إذا أجريتها … جمحتْ، فلم تملكْ يدايَ عنانهاولبشار:ومثلكَ قد سيرتهُ بقصيدةٍ … فسارَ، ولم يبرحْ عراصَ المنازلِرميتُ بها شرقاً وغرباً فأصبحتْ … به الأرضُ ملآى من مقيمٍ وراحلِوما أحسن قول ابن حازم:
তিনি যা বলেছিলেন তার উদ্দেশ্য ছিল: মুতাসিম মারা গেছেন এবং ওয়াসিক ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন। আমি বললাম: হে ব্যক্তি, তোমার জিহ্বা সংযত করো, আমি দেখছি তুমি শীঘ্রই নিজের ওপর কোনো বিপদ ডেকে আনবে। সে বলল: আমাকে ছেড়ে দাও, আমি আমার রবের কাছে এমন এক কাষ্ঠখণ্ড (শূলদণ্ড) প্রার্থনা করছি যাতে আমি বিশ বছর ধরে বিদ্ধ থাকব, কিন্তু তিনি এখনও আমাকে তা দান করেননি। যখন ওয়াসিক আহমদ বিন নাসর বিন মালিক আল-খুজায়িকে হত্যা করে শূলে চড়ালেন, তখন দি’বিল বললেন:হে মালিকের বংশধরগণ, তন্দ্রা থেকে তোমাদের নেত্রপল্লবকে রক্ষা করো … এবং ইবনে নাসর বিন মালিকের (মৃত্যুর) পর তোমরা নিদ্রা যেয়ো না।নিশ্চয়ই এক বাহন তাকে কবরের দিকে বয়ে নিয়ে গেছে … যার উচ্চতা তার মস্তককে বাবকের দেহের ওপর তুলে ধরেছে।আর খাপ থেকে প্রতিটি ধারালো তলোয়ার উন্মুক্ত করো … যা ঘাড়ের ওপর নিখুঁত আঘাত হানতে পারদর্শী।তার কারণে হাশেমী নারীদের শোকসভা অনুষ্ঠিত হবে … যাতে এমন আর্তনাদ হবে যা দেখে প্রতিটি হাস্যোজ্জ্বল ব্যক্তিও কেঁদে উঠবে।তা তাদের বদরের নিহতদের কথা মনে করিয়ে দেয়, যাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল … হিংস্র পশু এবং শিকারি পাখিদের দল।যেমন তাদের তলোয়ারগুলো মুহাম্মদের (পরিবারের) ওপর চড়াও হয়েছিল … এবং তার সুদৃঢ় প্রাসাদের ভিত্তি ধসিয়ে দিয়েছিল।ফলে ক্ষমতাচ্যুত ব্যক্তির রক্ত বৃথা গেল, এবং লুণ্ঠিত হলো … খোদাই করা ধনভাণ্ডার ও স্বর্ণের পাতসমূহ।যদি হারুন তার চাচার দেওয়া এক ঢোক পানীয়তে শ্বাসরুদ্ধ হয় … তবে সে অতি তুচ্ছ বিয়োগ এবং অতি নগণ্য ধ্বংস।তার আরও উক্তি:তারা আমার মৃত্যুর সংবাদ ঘোষণা করেছে, অথচ কোনো হিংসুক … এবং কোনো শত্রু ছাড়া আর কেউ আমার মৃত্যু ঘোষণা করেনি, যার প্রাণঘাতী স্থানগুলো আক্রান্ত হয়েছে।তারা বলে: সে যদি ধ্বংসের সম্মুখীন হয় তবে তার কবিতাও মরে যাবে … অসম্ভব! কবিতার আয়ু তো সুদীর্ঘ।ধরে নিলাম তার কবিতা মরে গেছে, যদি তা মরেই যায়, তবে বর্ণনাকারীদের স্মৃতিতে যা সংরক্ষিত আছে … এবং কলমের লিখন যা গেঁথে রেখেছে, তার কী হবে?আমি এমন এক পংক্তি রেখে বিদায় নেব যার সত্যতার প্রশংসা মানুষ করবে … এবং বর্ণনাকারীদের মাঝে যার প্রচারক হবে অগণিত।নিকৃষ্ট কবিতা তার কবির মৃত্যুর আগেই মারা যায় … আর উৎকৃষ্ট কবিতা টিকে থাকে, যদিও তার রচয়িতা মারা যায়।দি’বিলের অর্থপূর্ণ উক্তির মধ্যে একটি হলো—যদিও তা পূর্বেই বিদ্যমান ছিল—তার এই কথা:যখন তুমি সহনশীলতা প্রদর্শন করবে, তখন ধৈর্যকে তার পূর্ণ মাত্রায় দাও … ধীরস্থিরভাবে, আর যখন তুমি তপ্ত লোহা দিয়ে দাগ দেবে, তখন তা ভালোভাবে দাও।আর যখন তুমি কোনো বিষয়ে প্রবেশের ইচ্ছা করবে, তখন প্রবেশের পথ খোঁজার আগেই … বের হওয়ার পথটি খুঁজে নাও।তার আরও উক্তি:হাড় চিবানোর কারণে কুকুরকে হিংসা করো না … কারণ মলত্যাগের সময় তাকে তোমার করুণাই করতে হবে।তুমি দেখবে শীঘ্রই তার মলদ্বার অভিযোগ করছে … সেই ক্ষতের জন্য যা তার মুখই তার ওপর ডেকে এনেছে।কোনো ব্যক্তি যখন নিজেই নিজেকে তুচ্ছ করে … তখন আল্লাহ তাকে সম্মান দান করেন না যে তাকে সম্মান করতে চায়।এই অর্থের সূচনা হয়েছিল হাতেমের এই উক্তিতে:নিজের আত্মাকে সম্মান করো, কারণ তুমি যদি নিজেই নিজের কাছে … তুচ্ছ হও, তবে জীবনভর আর কারো কাছে সম্মান পাবে না।যুহাইর বলেছেন:আর যে ব্যক্তি নিজেকে সম্মান করে না, সে সম্মান পায় না।অনুরূপ আরও উক্তি:দারিদ্র্যের দিনে তিনি আত্মিকভাবে ধনী ছিলেন … অথচ সচ্ছলতার দিনে অভাবের ভয়ে তিনি দরিদ্রে পরিণত হলেন।তোমার রব তোমাকে যা দিয়েছেন তা নিয়ে তুমি কৃপণতা করেছ অভাবের ভয়ে … হায় আক্ষেপ! এখন তো তুমি অভাবের দিকেই ধাবিত হয়েছ।ইবন আব্বাদ আল-মুহাল্লাবী বলেছেন:তুমি উত্তরাধিকারীর জন্য সম্পদ দান করছ … অথচ নিজের আত্মার জন্য তা উপযুক্ত মনে করছ না।যে ব্যক্তি দান করে সে আল্লাহর ওপর সুধারণাকে অগ্রাধিকার দেয় … আর যে কৃপণতা করে সে ভুল ধারণা পোষণ করে।তার আরও উক্তি:আমি শপথ করছি—অনাদর, ঘৃণা … কিংবা বিরক্তির কারণে আমি তোমার কাছে আসতে দেরি করিনি, হে আবু বকর।কিন্তু যখন আমি দেখলাম তুমি বারবার আসছ … এবং আমার প্রতি অত্যধিক অনুগ্রহ করছ, তখন আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশে অক্ষম হয়ে পড়েছি।তাই এখন থেকে আমি শুধু সালাম দিতেই আসব … দুই মাসে একদিন, অথবা মাসে একদিন।যদি তুমি আমার প্রতি অনুগ্রহ বাড়াও, তবে আমি বিমুখতা বাড়িয়ে দেব … ফলে হাশর পর্যন্ত সারা জীবনেও আমাদের আর দেখা হবে না।এই অর্থটি আবু নুওয়াস থেকে গৃহীত:আমি আব্বাসের কাছে ওজর পেশ করে বলেছি … তার কৃতজ্ঞতা প্রকাশে আমার অক্ষমতার কথা স্বীকার করে।আপনি এমন এক ব্যক্তি যিনি আমাকে নেয়ামতে আবৃত করেছেন … যা আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশের শক্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে, ফলে তা ক্ষীণ হয়ে গেছে।আমার প্রতি আর কোনো অনুগ্রহ করবেন না … যতক্ষণ না আমি পূর্বের অনুগ্রহের কৃতজ্ঞতা আদায় করতে সমর্থ হই।আল-বুহতারি বলেছেন:আপনি আপনার হাতের দানে আমাকে লজ্জিত করেছেন, ফলে … আমাদের মধ্যকার সেই শুভ্র হাত (অনুগ্রহ) কালো (লজ্জা) হয়ে দাঁড়িয়েছে।এটি এমন এক বদান্যতা যা মানুষের মাঝে বিচ্ছেদে পরিণত হয়েছে … আশ্চর্যের বিষয়, এক সদাচরণ যা অনাদরে রূপ নিয়েছে।কবিতার অন্ত্যমিলের বিচরণ ও প্রসারের বর্ণনায় বলা হয়েছে:আমি কি এমন নই যে, যখন আমি কোনো পংক্তি বলি, তখন বাতাস … তার পূর্ব ও পশ্চিমে তা বয়ে নিয়ে যায়?এটি নৈশ অভিযাত্রীদের দীর্ঘ পথকে সংক্ষিপ্ত করে দেয় … এবং প্রভাতে গায়িকারা বাদ্যযন্ত্রসহ তা গেয়ে শোনায়।এই একই অর্থে দি’বিলের উক্তি:প্রতিটি প্রবহমান কবিতা, যখন আমি তা প্রকাশ করি … তখন আরোহীরা তা নিয়ে প্রতিটি উচ্চভূমিতে পৌঁছে যায়।কখনো রাজারা তা আবৃত্তি করে, আবার কখনো … তা মানুষের হৃদয়ে ও বক্ষে লালিত হয়।মারওয়ান বিন আবি হাফসাহ বলেছেন:আমি এমন সব কবিতা বলি যা সর্বত্র বিচরণশীল … যার লাগাম সর্বদা অবারিত থাকে।প্রতিটি অন্ত্যমিল, যখন আমি তা প্রবাহিত করি … তখন তা এমন অবাধ্য হয় যে, আমার হাত তার লাগাম ধরে রাখতে পারে না।বাশার বলেছেন:তোমার মতো ব্যক্তিকেও আমি কবিতার মাধ্যমে দেশময় ছড়িয়ে দিয়েছি … অথচ সে নিজের ঘরের আঙিনা ছেড়ে কোথাও নড়েনি।আমি তা দিয়ে পূর্ব ও পশ্চিমে আঘাত হেনেছি, ফলে … জমিন স্থাবর ও মুসাফির সবার কাছেই তাতে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে।এবং ইবনে হাযিমের কথাটি কতই না চমৎকার:
(খণ্ড: ১)
আল-মুযাকারাতু ফী আলকাবিশ শুআরা
(পৃষ্ঠা: ২১)
أبى لي أن أطيلَ الشعرَ قصدي … إلى المعنى، وعلمي بالصوابِفأبعثهنَّ أربعةً وستاً … مثقفةً بألفاظٍ عذابِوهنَّ إذا وسمتُ بهنَّ قوماً … كأطواقِ الحمائمِ في الرقابِوهنَّ إذا أقمنَ مسافرات … تهاداها الرواة مع الركابِوقول البحتري:وأنا الذي أوضحتُ غيرَ مدافعٍ … نهجَ القوافي، وهي رسمٌ دارسُوشهرتُ في شرقِ البلادِ وغربها … فكأنني في كلِّ نادٍ جالسُولبعضهم:فلا تبعدني من نداكَ فإنَّ لي … لساناً ملا الدنيا، وأنتَ ابنُ خالدِوكان دعبل صاحباً للفضل بن العباس بن جعفر بن محمد بن الأشعث بن عقبة، مكلم الذئب الخزاعي، وغزا كابل وافتتحها، ودعبل يدل عليه لأنه أدبه، فعاتبه في جملة قصيدة، قال:ألا أيها القطاعُ هل أنتَ عارفٌ … لنا حرمةً، أمْ قد نكرتَ التحرمافهلا بطوسٍ، والبلادُ حميدةٌ … تعولُ الليالي والمطيَّ المرسماوأسلمتني من بعد ما صوحَ الكلا … وغاضتْ بقايا الحسي، والمزنُ أنجماستعلمُ إن راجعتَ نفسكَ أوسختْ … عن الضفِّ يوماً: أينا كان ألوماقال دعبل الخزاعي: حججت أنا وأخي رزين، وأخذنا كتباً إلى المطلب، صاحب مصر، فصرنا من مكة إلى مصر، فصحبنا رجل يعرف بأحمد بن السراج، ما زال يحدثنا ويؤنسنا ويتولى خدمتنا، وكان شاعراً، وكتمنا نفسه.فعرضنا عليه أن يقول في المطلب قصيدة ننحله إياها، فقال: إن شئتم. فعملنا له قصيدة، فلما دخلنا إلى المطلب وأوصلنا إليه الكتب التي كانت معنا، وأنشدنا ووصفنا له أحمد بن السراج، فأذن له، ونحن نظن أن سينشده القصيدة التي نحلناه إياها. فلما مثل بين يديه عدل عنها وأنشده:لم آتِ مطلباً إلا لمطلبِ … وهمةٍ بلغتْ بي غايةَ الرتبِأفردتهُ برجائي أن تشاركهُ … في الوسائلُ، أو ألقاهُ بالكتبِرحلتُ عنسي إلى البيت الحرام على … ما كان من نصبٍ فيها، ومن وصبِألقى بها وبوجهي كلَّ هاجرةٍ … تكادُ تقدحُ بينَ الجلدِ والعصبِحتى إذا ما قضتْ حاجاً ثنيتُ لها … عطفَ الزمامِ فأمتْ سيدَ العربِفيممتكَ وقد ذابتْ مفاصلها … من طولِ ما تعبٍ لاقت ومن نصبِإني استجرتُ بأستارينِ مستلماً … ركنين: مطلباً والبيتَ ذا الحجبِفذاك للأجلِ المرجو آملهُ … وأنتَ للعاجلِ المرجو والطلبِهذا ثنائي، وهذي مصرُ سانحةً … وأنتَ أنتَ، وقد ناديتُ من كثبِقال: فصاح المطلب: لبيك، لبيك ثم قام وأخذ بيده وأجلسه معه، واستدعى بالبدر فأحضرت، ثم الخلع فنشرت، فأمن له بذلك ما ملأ عينه، وحسدناه على ذلك.ولدعبل:فأنتَ إذا ما التقوا آخرٌ … وأنتَ إذا انهزموا أولُوعاديتَ قوماً فما ضرهمْ … وقدمتَ قوماً فلم ينبلواإذا الحربُ كنتَ أميراً لها … فحظهمُ منكَ أنْ يقتلواشعاركَ في الحربِ يومَ الوغى … إذا انهزموا: عجلوا، عجلواذكر أبي الشيصأبو الشيص كان شاعراً مجيداً في كثرة البكاء على سالف أيامه، ومدح الرشيد وولد محمد بن الأشعث الخزاعي. وهو ودعبل من الكوفة. وفي أول ما اشتهر بالشعر قال قصيدته التي مدح بها عقبة بن جعفر بن محمد:ألقى الزمانُ به ندوبَ عضاضِوعرض هذه القصيدة على بشار، فقال له بشار: قد بقيت قافية إن علمتها فأنت شاعر، قال: وما هي؟ قال: المقراض، فأنشده:وجناحِ مقصوص تحيفَ ريشهُ … ريبُ الزمانِ، تحيفَ المقراضِفقال له: أنت أشعر أهل عصرك. وهذه القصيدة تفضل على كل قصيدة نظمت في وزنها، وفيها معان نادرة منها:لا تنكري صدي ولا إعراضي … ليسَ المقلُّ على الزمانِ براضِوعصائبٍ صرفت إليكَ وجوهها … نكباتُ دهرٍ للفتى، عضاضِشدوا بأعوادِ الرحالِ مطيهمْ … من كلِّ أهوجَ للحصى رضاضِأكل الوجيفُ لحومها ولحومهم … فأتتكَ أنقاضاً على أنقاضِومثله قول ابن الأحنف:أنضاءَ شوقٍ على أنضاءِ أسفارِومثله:رأتْ نضوَ أسفارٍ أميمةُ شاحباً … على نضوِ أسفارٍ، فجنَّ جنونهاومن القصيدة الضادية:
আমার উদ্দেশ্য আমাকে দীর্ঘ কবিতা লিখতে বাধা দেয় … সত্যের দিকে এবং সঠিক বিষয়ের জ্ঞানের দিকে।আমি সেগুলোকে চার বা ছয়টি (চরণ) হিসেবে পাঠাই … সুমধুর শব্দের মাধ্যমে সুসংস্কৃত।আমি যখন কোনো কওমকে এর দ্বারা চিহ্নিত করি … তখন সেগুলো গ্রীবায় কবুতরের কণ্ঠহারের মতো হয়ে যায়।সেগুলো যখন পর্যটক হিসেবে অবস্থান করে … তখন বর্ণনাকারীরা সওয়ারিদের সাথে সেগুলো আদান-প্রদান করে।এবং আল-বুহতুরির উক্তি:আমিই সেই ব্যক্তি যে কোনো প্রতিবাদ ছাড়াই স্পষ্ট করেছি … কবিতার পথকে, যখন তা ছিল এক বিলুপ্ত চিহ্ন।পূর্ব ও পশ্চিমের দেশগুলোতে আমি প্রসিদ্ধ হয়েছি … যেন আমি প্রতিটি মজলিসে উপস্থিত থাকি।কারও কারও উক্তি:আমাকে তোমার দান থেকে দূরে সরিয়ে দিও না, কেননা আমার রয়েছে … এমন এক জিহ্বা যা দুনিয়াকে পূর্ণ করে দিয়েছে, আর তুমি ইবনে খালিদ।দি’বিল ছিলেন ফজল ইবনে আব্বাস ইবনে জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আশ’আস ইবনে উকবা-র সাথী, যিনি ছিলেন নেকড়ের সাথে কথা বলা খুজায়ি। তিনি কাবুল যুদ্ধ করেন এবং তা জয় করেন। দি’বিল তার পরিচয় দেয় কারণ সে তাকে আদব শিক্ষা দিয়েছিল। তিনি একটি কবিতার চরণে তাকে ভর্ৎসনা করে বলেন:হে সম্পর্ক ছিন্নকারী! তুমি কি আমাদের … মর্যাদা চেনো, নাকি তুমি এই সম্মানকে অস্বীকার করেছ?তুস শহরে কেন এমন হলো না, যখন দেশ প্রশংসিত ছিল … তুমি রাতগুলো এবং চিহ্নিত বাহনগুলোর দায়িত্ব গ্রহণ করতে।তুমি আমাকে সঁপে দিয়েছ ঘাস শুকিয়ে যাওয়ার পর … এবং কূপের অবশিষ্ট পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর, আর যখন মেঘমালা নক্ষত্রের ন্যায় অদৃশ্য হলো।তুমি জানতে পারবে যদি তুমি নিজের দিকে ফিরে তাকাও বা কোনো একদিন … কষ্টের বিষয়ে লজ্জিত হও: আমাদের মধ্যে কে অধিক নিন্দার যোগ্য ছিল।দি’বিল আল-খুজায়ি বলেন: আমি এবং আমার ভাই রাজিন হজ করলাম। আমরা মিশরের শাসক মুত্তালিবের উদ্দেশ্যে কিছু চিঠি নিলাম। আমরা মক্কা থেকে মিশরের দিকে রওনা হলাম। পথে আহমদ বিন আল-সাররাজ নামক এক ব্যক্তির সাথে আমাদের দেখা হলো। সে অনবরত আমাদের সাথে কথা বলত, আমাদের আনন্দ দিত এবং আমাদের খিদমতের দায়িত্ব গ্রহণ করত। সে কবি ছিল, কিন্তু নিজের পরিচয় গোপন রেখেছিল।আমরা তাকে প্রস্তাব দিলাম মুত্তালিবের প্রশংসায় একটি কবিতা বলতে যা আমরা তার নামে চালিয়ে দেব। সে বলল: তোমরা চাইলে হতে পারে। আমরা তার জন্য একটি কবিতা তৈরি করলাম। আমরা যখন মুত্তালিবের কাছে পৌঁছালাম এবং আমাদের সাথে থাকা চিঠিগুলো তার কাছে পেশ করলাম, তখন সে আমাদের কবিতা পাঠ করতে বলল। আমরা তার কাছে আহমদ বিন আল-সাররাজের গুণগান করলাম। তিনি তাকে অনুমতি দিলেন। আমরা ভাবছিলাম সে আমাদের দেওয়া সেই কবিতাটিই পাঠ করবে। কিন্তু যখন সে তার সামনে দাঁড়াল, তখন সে সেই কবিতা বাদ দিয়ে পাঠ করল:আমি কোনো চাওয়ার জন্য মুত্তালিবের কাছে আসিনি … বরং এমন এক সংকল্প নিয়ে যা আমাকে উচ্চ মর্যাদায় পৌঁছে দিয়েছে।আমি আমার আশায় তাকে একক করে নিয়েছি যেন কোনো মাধ্যম … তাতে অংশীদার না হয়, অথবা আমি চিঠিপত্র নিয়ে তার সাথে সাক্ষাৎ করি।আমি আমার উটনিকে হারাম শরীফের দিকে চালিত করেছি … তার মধ্যে যে ক্লান্তি ও অবসাদ ছিল তা সত্ত্বেও।তার মাধ্যমে এবং আমার চেহারার মাধ্যমে আমি প্রতিটি মধ্যাহ্নের তীব্র রোদের মোকাবিলা করেছি … যা চামড়া ও স্নায়ুর মাঝখানে অগ্নিস্ফুলিঙ্গ সৃষ্টি করতে চায়।অবশেষে যখন সে তার প্রয়োজন পূরণ করল, তখন আমি তার … লাগাম ঘুরিয়ে দিলাম এবং সে আরবের শ্রেষ্ঠ নেতার দিকে অগ্রসর হলো।আমি তোমার অভিমুখী হয়েছি যখন তার হাড়ের জোড়াগুলো গলে যাচ্ছিল … দীর্ঘ ক্লান্তি ও অবসাদের কারণে যা সে ভোগ করেছে।আমি দুটি পর্দার আশ্রয় নিয়েছি এবং দুটি রুকন চুম্বন করেছি: মুত্তালিব এবং সেই পর্দাঘেরা গৃহ (কাবা)।ঐটি (কাবা) তো সেই সময়ের জন্য যার আশা প্রত্যাশী ব্যক্তি করে … আর আপনি বর্তমান সময়ের আশা ও প্রার্থনার জন্য।এটিই আমার প্রশংসা, আর এই যে মিশর সামনে দৃশ্যমান … আর আপনি তো আপনিই, আমি অতি নিকট থেকেই আহ্বান করেছি।তিনি বলেন: তখন মুত্তালিব চিৎকার করে উঠলেন: লাব্বাইক, লাব্বাইক! এরপর তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং তার হাত ধরে নিজের সাথে বসালেন। তিনি স্বর্ণমুদ্রার থলে আনার নির্দেশ দিলেন এবং তা আনা হলো। এরপর খেলাত আনার নির্দেশ দিলেন এবং তা বিছিয়ে দেওয়া হলো। তিনি তাকে এত দিলেন যা তার চোখ জুড়িয়ে দিল, আর আমরা তার এই ভাগ্যের প্রতি ঈর্ষান্বিত হলাম।দি’বিলের উক্তি:যখন লোকেরা সমবেত হয় তখন তুমি সবার শেষে থাকো … আর যখন তারা পরাজিত হয় তখন তুমি সবার আগে থাকো।তুমি কোনো কওমের সাথে শত্রুতা করলে তাদের কোনো ক্ষতি হয় না … আর তুমি কোনো কওমকে আগে বাড়ালে তারা মর্যাদা পায় না।তুমি যদি যুদ্ধের সেনাপতি হও … তবে তোমার থেকে তাদের প্রাপ্তি হলো তারা নিহত হবে।যুদ্ধের ময়দানে লড়াইয়ের দিনে তোমার রণধ্বনি হলো … যখন তারা পরাজিত হয়: দ্রুত চলো, দ্রুত চলো।আবু আল-শিসের আলোচনাআবু আল-শিস ছিলেন একজন পারদর্শী কবি যিনি তার বিগত দিনগুলোর জন্য প্রচুর বিলাপ করতেন। তিনি হারুনুর রশিদ এবং মুহাম্মদ ইবনুল আশ’আস আল-খুজায়ির সন্তানদের প্রশংসা করেছেন। তিনি এবং দি’বিল কুফার অধিবাসী ছিলেন। কবিতার মাধ্যমে তিনি প্রথম যখন প্রসিদ্ধি লাভ করেন, তখন তিনি উকবা ইবনে জাফর ইবনে মুহাম্মদের প্রশংসায় তার এই কবিতাটি বলেছিলেন:যামানা তাকে দংশনের চিহ্ন উপহার দিয়েছে...তিনি এই কবিতাটি বাশশারের সামনে পেশ করলেন। বাশশার তাকে বললেন: একটি অন্ত্যমিল বাকি আছে, যদি তুমি তা জানতে পারো তবে তুমি কবি। তিনি বললেন: সেটি কী? তিনি বললেন: মিকরাজ (কাঁচি)। তখন তিনি তাকে পাঠ করে শোনালেন:এমন এক পাখা যা কেটে ফেলা হয়েছে এবং যার পালকগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে … যামানার পরিবর্তনে, ঠিক যেভাবে কাঁচি দ্বারা কাটা হয়।তখন তিনি তাকে বললেন: তুমি তোমার যুগের শ্রেষ্ঠ কবি। এই কবিতাটি তার ওজনে রচিত অন্য সকল কবিতার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। এতে কিছু বিরল অর্থ রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:আমার বিমুখতা ও এড়িয়ে চলাকে অস্বীকার করো না … দরিদ্র ব্যক্তি যামানার প্রতি সন্তুষ্ট থাকে না।অনেক দল আছে যারা তোমার দিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে … যুবকের জন্য যামানার কঠোর বিপদগুলোর কারণে।তারা তাদের আরোহণের কাষ্ঠখণ্ডগুলো তাদের বাহনের ওপর শক্ত করে বেঁধেছে … এমন প্রতিটি তেজী বাহনের ওপর যা কঙ্কর চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়।দ্রুত গতি তাদের মাংস এবং তাদের বাহনের মাংস খেয়ে ফেলেছে … ফলে তারা তোমার কাছে জীর্ণশীর্ণ দেহের ওপর জীর্ণশীর্ণ হয়ে পৌঁছেছে।অনুরূপ কথা ইবনুল আহনাফও বলেছেন:সফরের ক্লান্তির ওপর আকাঙ্ক্ষার ক্লান্তি।অনুরূপ আরেকটি:উমাইমাহ সফরের ক্লান্তিতে জীর্ণ একজনকে দেখল যে … অন্য এক সফরের ক্লান্ত বাহনের ওপর বসা, তখন সে পাগলপ্রায় হয়ে গেল।দাদ বর্ণের অন্ত্যমিল বিশিষ্ট কবিতা থেকে:
(খণ্ড: ১)
আল-মুযাকারাতু ফী আলকাবিশ শুআরা
(পৃষ্ঠা: ২২)
إنَّ الأمان من الزمانِ وريبهِ … يا عقبَ شطا بحركَ الفياضِومن معانيه المستحسنة:أتى الموتُ عدلَ الموتِ في سطواتهِ … فيا منْ رأى موتاً على الموتِ أقدماأخذه ابن جبلة فقال يرثي حميداً:حمامٌ رماهُ من خصاصة أمنهِ … حمامٌ، كذاك الخطبُ بالخطبِ يقرعُوأخذه البحتري فقال:حتوفٌ أصابتها الحتوفُ، وأسهمٌ … من الموتِ، كرَّ الموتُ فيها بأسهمِومنه قوله يرثي الرشيد، ويمدح الأمين حين قام:جرتْ جوارٍ بالنحسِ والسعدِ … فالناسُ في وحشةٍ وفي أنسِوالعين تبكي والسنُّ ضاحكةٌ … فنحن في مأتمٍ، وفي عرسِيضحكنا القائمُ الأمين، وتبكي … نا وفاةُ المهديِّ بالأمسِبدرانِ: بدرٌ أضحى ببغداد في … الخلدِ، وبدرٌ بطوسَ في الرمسِومن مختار شعره:أشاقكَ والليلُ ملقي الجرانِوهي إحدى النونيات، ويصف فيها ساقياً ويقول:يطوفُ علينا بها أغيدٌ … يداه من الكأسِ مخضوبتانِغزالٌ تميلُ بأردانهِ … قناةٌ تعطف كالخيزرانِومنها في المدح:إلى ملكٍ من بي هاشمٍ … كريمِ الضرائب، سبطِ اليدانِفتى البأس للجودِ في كفه … من البحرِ عينان نضاحتانِومن مختار شعره:للهِ أنتَ، أبا بشرٍ، إذا برزتْ … سوقُ النساءِ، ولاح القلبُ والقرطُوأبرزَ الخدر من ثنييهِ بيضتهُ … واعجلَ الروعَ نصلُ السيف يخترطُفثمَّ تفديكَ منا كلُّ غانيةٍ … والكهلُ تفديك، والمولودُ، والشمطُوأنتَ أصلبهم عوداً، إذا عجموا … وأنتَ أرحبهمْ باعاً إذا اختبطواومن شعره:كريمٌ يغضُّ الطرف فضلُ حياتهِ … ويدنو، وأطراف الرماحِ دوانِوكالسيفِ إن لاينته لَانَ حدهُ … وحداهُ، إن خاشنتهُ خشنانِومما يستطرف من شعره:جاريةٌ تسحرُ عيناها … أسفلها يجذبُ أعلاهاأصبحتُ أهواها، وأهوى الردى … لكلِّ منْ أصبحَ يهواهانفسي على أمرينِ مطبوعةٌ … من حبها، أو بغضِ ملاهاقد ملكتني، وهي مملوكةٌ … فصرتُ أخشاهُ وأخشاهاوأول هذا المعنى لأبي دلامة:إني أراني سوفَ أصبحُ ميتاً … أولا، فأصبحُ ثمَّ لا أمسيمن حبِّ جاريةِ الجنيد، وبغضهِ … كلاهما قاضٍ على نفسيفكلاهما يشفى به سقمي … فإذا تكلمَ عادَ لي نكسيأخذه الآخر فقال:لي مولىً يسيءُ ملك العبيدِ … مخلفُ الوعدِ، منجزٌ للوعيدِليَ من حبهِ، ومن بغضِ مولا … هُ بلاءٌ، ما فوقهُ من مزيدِومن شعر أبي الشيص:ما فرقَ الأحبابَ بع … دَ الله إلا الإبلُوالناسُ يلحونَ غرا … بَ البينِ لما جهلواوما على ظهر غرا … بِ البين تمطى الرحلُولا إذا صاحَ غرا … بٌ في الديار احتملواوما غرابُ البين إل … اناقةٌ، أو جملُوهذا المعنى من قول عوف الراهب:غلطَ الذين رأيتهمْ بجهالةٍ … يلحونَ كلهمُ غراباً ينعقُما الذنبُ إلا للجمالِ، فإنها … مما تشتُّ جميعهمْ، وتفرقُإنَّ الغرابَ بيمنهِ تدنو النوى … وتشتُّ بالشملِ الجميعِ الأينقُذكر عبد الله بن ابي الشيصكان عبد الله هذا يقيم بسر من رأى، وله أشعار حسنة، وكان لا يفارق أبا تمام، وكان الحسن بن وهب قابلاً له، محسناً إليه. ومما يرثي به أبا تمام:ماتَ بديعُ الشعرِ، والظرفُ … والأدبُ الموصوفُ والوصفُيا جدثاً حلَّ ابنُ أوسٍ به … واغتالهُ من زمنٍ صرفُإنْ لم يكنْ جادكَ مزنٌ فقد … جادتك منا أعينٌ ذرفُوله أيضاً:أظنُّ الدهرَ قد آلى فبرا … بألا يكسبَ الأموالَ حراكأنَّ صفائحَ الأحرارِ أردت … أباهُ، فحاربَ الأحرارَ طراوأصبحَ كلُّ ذي شرفٍ ركوباً … لأعناقِ الدجى براً وبحرايهتكُ جيبَ درع الليل عنه … إذا ما جيبُ درع الليلِ زرايراقبُ للغنى وجهاً ضحوكاً … ووجهاً للمنيةِ مكفهراليكسبَ من أقاصي الأفق ِكسباً … يحلُّ به المحلَّ المشمخرا
কালের নিরাপত্তা এবং তার সংশয় থেকে … হে উত্তরসূরি, তোমার উপচে পড়া সমুদ্রের তীর।এবং এর চমৎকার অর্থসমূহের মধ্যে রয়েছে:মৃত্যুর আক্রমণগুলোতে মৃত্যুর ন্যায়বিচার এসেছে … ওহে যে মৃত্যুকে মৃত্যুর ওপর অগ্রগামী হতে দেখেছে।ইবনে জাবালা এটি গ্রহণ করেছেন এবং হুমাইদ-এর শোকগাথা বর্ণনায় বলেছেন:মৃত্যু তাকে তার নিরাপত্তার অভাব থেকে নিক্ষেপ করেছে … মৃত্যু, এভাবেই এক বিপদ অন্য বিপদকে আঘাত করে।এবং বুহতারি এটি গ্রহণ করে বলেছেন:মৃত্যুসমূহ যা মৃত্যু দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে, এবং তীরের মতো … মৃত্যুর মধ্য থেকে, মৃত্যু তাতে তীরের সাথে পুনরায় আক্রমণ করেছে।তার মধ্যে রয়েছে রশীদ-এর জন্য তার শোকগাথা এবং আমীন যখন ক্ষমতা গ্রহণ করেন তখন তার প্রশংসা:অশুভ এবং শুভ ভাগ্যের স্রোত প্রবাহিত হয়েছে … ফলে মানুষ নির্জনতা ও অন্তরঙ্গতার মধ্যে রয়েছে।চক্ষু ক্রন্দনরত এবং মুখ হাস্যোজ্জ্বল … সুতরাং আমরা শোকসভা এবং বিবাহের উৎসবে রয়েছি।ক্ষমতাসীন আমীন আমাদের হাসাচ্ছেন, আর গতকাল … মাহদীর মৃত্যু আমাদের কাঁদাচ্ছে।দুটি পূর্ণচন্দ্র: একটি পূর্ণচন্দ্র বাগদাদে চিরস্থায়ী … জান্নাতে উদিত হয়েছে, আর অন্যটি তূস নগরে কবরের মধ্যে।তার নির্বাচিত কবিতা থেকে:রাত যখন তার বুক জমিনে পেতেছে (গভীর হয়েছে), তখন কি তা তোমাকে ব্যথিত করেছে?এটি তার ‘নুন’ ছন্দের কবিতাগুলোর একটি, যাতে তিনি একজন সাকীর বর্ণনা দিয়ে বলেছেন:আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে এক সুঠাম যুবক … যার দুই হাত পানপাত্রের রসে রঞ্জিত।এক হরিণশাবক যার আস্তিন দুলছে … এক লতা যা কঞ্চির মতো নুয়ে পড়ে।এবং এর মধ্যে প্রশংসামূলক কবিতা হলো:বনু হাশিমের এক রাজার প্রতি … যিনি উদার স্বভাবের এবং প্রশস্ত হস্তের অধিকারী।পরাক্রমশালী যুবক, যার করতলে দানশীলতার জন্য … সমুদ্রের দুটি উপচে পড়া প্রস্রবণ রয়েছে।তার নির্বাচিত কবিতা থেকে:আল্লাহর জন্য তোমার মহত্ত্ব, হে আবু বিশর, যখন … নারীদের রূপ প্রকাশিত হলো এবং হৃদয় ও কানের দুল দৃশ্যমান হলো।এবং পর্দার আড়াল থেকে তার রূপ সৌন্দর্য প্রকাশিত হলো … আর ভয়ের তাড়াহুড়োয় তরবারির ফলা উন্মুক্ত হলো।সেখানে আমাদের প্রতিটি রূপসী নারী তোমার জন্য উৎসর্গিত হবে … আর বৃদ্ধ, নবজাতক এবং পক্ককেশ ব্যক্তিরাও তোমার জন্য উৎসর্গিত।এবং তুমি তাদের মধ্যে সবচেয়ে দৃঢ় চরিত্রের, যখন তারা পরীক্ষা করে … আর তুমি তাদের মধ্যে সবচেয়ে প্রশস্ত হস্তের অধিকারী, যখন তারা সাহায্য প্রার্থী হয়।তার কবিতা থেকে:এক মহানুভব ব্যক্তি যিনি তার চারিত্রিক শ্রেষ্ঠত্বে দৃষ্টি অবনত রাখেন … এবং নিকটবর্তী হন যখন বর্শার ফলকগুলো নিকটে থাকে।এবং তরবারির মতো, যদি তুমি তার সাথে নমনীয় হও তবে তার ধারও নমনীয় হয় … আর যদি তুমি তার সাথে রূঢ় হও, তবে তার দুই ধারই রূঢ় হয়ে যায়।তার কবিতার চমৎকার অংশগুলোর মধ্যে রয়েছে:এক কিশোরী যার চোখ দুটি জাদু করে … যার নিচের অংশ ওপরের অংশকে আকর্ষণ করে।আমি তাকে ভালোবাসতে শুরু করেছি, এবং বিনাশ কামনা করি … প্রত্যেক সেই ব্যক্তির জন্য যে তাকে ভালোবাসতে শুরু করেছে।আমার আত্মা দুটি বিষয়ের ওপর স্বভাবগতভাবে গঠিত … তাকে ভালোবাসা, অথবা তার মালিককে ঘৃণা করা।সে আমাকে অধিকার করেছে অথচ সে নিজেই দাসী … ফলে আমি তাকেও ভয় করি এবং তার মনিবকেও ভয় করি।এই অর্থের সূচনা হয়েছে আবু দুলামাহ-এর মাধ্যমে:আমি দেখছি যে আমি শীঘ্রই মৃত হব … নতুবা আমি প্রভাতে উপনীত হব কিন্তু সন্ধ্যায় পৌঁছাব না।জুনাইদ-এর দাসীর প্রতি ভালোবাসা এবং তার প্রতি ঘৃণার কারণে … উভয়ই আমার প্রাণের ওপর ফয়সালাকারী।উভয়টির মাধ্যমেই আমার রোগ সেরে যায় … কিন্তু যখন সে কথা বলে, তখন আমার অসুখ পুনরায় ফিরে আসে।অন্য একজন কবি এটি গ্রহণ করে বলেছেন:আমার এমন এক মনিব আছে যে দাসদের ওপর খারাপ আচরণ করে … সে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী কিন্তু শাস্তির হুমকির ক্ষেত্রে তা পূরণকারী।তার প্রতি ভালোবাসা এবং তার মনিবের প্রতি ঘৃণা … থেকে আমার জন্য এমন বিপদ রয়েছে যার ওপরে আর কিছু নেই।আবুশ শাইস-এর কবিতা থেকে:আল্লাহর পর উট ছাড়া আর কিছুই … প্রিয়জনদের বিচ্ছেদ ঘটায়নি।আর মানুষ অজ্ঞতার কারণে … বিরহের কাককে নিন্দা করে।অথচ বিরহের কাকের পিঠে … সওয়ারি বা আসবাব চাপানো হয় না।এবং যখন জনপদে কাক ডেকে ওঠে … তখন তারা প্রস্থান করে না।বিরহের কাক তো একটি মাদী উট … অথবা পুরুষ উট ছাড়া আর কিছুই নয়।এই অর্থটি আউফ আল-রাহিব-এর এই উক্তি থেকে নেওয়া:যাদের তুমি অজ্ঞতাবশত দেখেছ তারা ভুল করেছে … তারা সবাই ডাকতে থাকা কাককে নিন্দা করছে।অপরাধ তো কেবল উটগুলোর, কারণ তারাই … সবাইকে বিচ্ছিন্ন ও বিভক্ত করে।নিশ্চয়ই কাকের কল্যাণে দূরত্ব ঘুচে যায় … আর মাদী উটগুলোই একত্রিত সমাজকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়।আবদুল্লাহ বিন আবিশ শাইস-এর আলোচনাএই আবদুল্লাহ 'সাররা মান রাআ' (সামাররা)-তে বসবাস করতেন এবং তার সুন্দর সুন্দর কবিতা ছিল। তিনি আবু তাম্মাম-এর সঙ্গ ত্যাগ করতেন না। হাসান বিন ওয়াহাব তাকে গ্রহণ করেছিলেন এবং তার প্রতি সদাচারী ছিলেন। আবু তাম্মাম-এর জন্য তার করা শোকগাথাগুলোর মধ্যে রয়েছে:কবিতার চমৎকারিত্ব, সূক্ষ্মতা … এবং বর্ণিত আদব ও বর্ণনাশৈলী—সবই মারা গেছে।হে কবর, যাতে ইবনে আউস অবস্থান করছে … এবং সময়ের পরিবর্তন যাকে কেড়ে নিয়েছে।যদি মেঘমালা তোমাকে সিক্ত না-ও করে, তবে … আমাদের অশ্রুসজল চোখগুলো তোমাকে সিক্ত করেছে।তার আরও কবিতা রয়েছে:আমার ধারণা কাল বা সময় শপথ করেছে এবং তা পূর্ণ করছে … যে কোনো স্বাধীন ব্যক্তি যেন সম্পদ উপার্জন করতে না পারে।যেন স্বাধীন ব্যক্তিদের তরবারির ফলকগুলো ধ্বংস করেছিল … তার পিতাকে, তাই সে সমস্ত স্বাধীন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধে নেমেছে।ফলে প্রত্যেক সম্মানিত ব্যক্তি ঘোর অন্ধকারে … স্থলভাগে ও জলপথে পথ চলতে বাধ্য হয়েছে।সে রাতের বর্মের কলার ছিঁড়ে ফেলে … যখন রাতের বর্মের কলারের বোতাম লাগানো হয়।সে ধনাঢ্যতার জন্য একটি হাস্যোজ্জ্বল মুখ … এবং মৃত্যুর জন্য একটি বিবর্ণ মুখের অপেক্ষা করে।যাতে সে দিগন্তের দূরপ্রান্ত থেকে এমন কিছু উপার্জন করতে পারে … যা দিয়ে সে সুউচ্চ মর্যাদাপূর্ণ স্থানে অধিষ্ঠিত হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
আল-মুযাকারাতু ফী আলকাবিশ শুআরা
(পৃষ্ঠা: ২৩)
ومنْ جعلَ الظلامَ له قعوداً … أصابَ يدَ الدجى خيراً وشراوكان عبد الله هذا كثير الذم لسر من رأى، ومنه قوله:لعنَ الله سرَّ منْ را بلاداً … ورماها بالقحطِ والطاعونِبعتُ في الصيفِ عندهم قبة الخي … شِ، وبعتُ الكانونَ في كانونِومنه قوله:لعمركَ ما سررتُ بسرّ من را … ولكني عدمتُ بها السرورارأيتُ بها القصورَ مشيداتٍ … على قومٍ يشينونَ القصوراإذا قيل: البسوا، لبسوا المخازي … وإنْ قيل: اركبوا، ركبوا الأيوراوكتب الحسن بن وهب إلى مالك بن طوق لأجله كتابا، وهو: كتابي إليك كتاب خططته بيدي، وفرغت له دهني، فما ظنك بحاجة هذا موقعها مني؟ أتراني أقصر في الشكر عليها، أم أقبل العذر فيها. وابن أبي الشيص ممن عرفت حاله وخالص مودته، وصفاء سريرته. ولو كانت الدنيا تنبسط بيده ما عدانا إلى غيره. فاكتف بهذا مني فيه وله، والسلام.وكتب إلى بعض إخوانه:رداؤكَ في الحربِ العوانِ هو الردى … ورأيكَ في داجي الخطوبِ هو الفجرُولو أنَّ للأوعارِ والسهلِ ألسناً … لأثنى عليكَ السهلُ بالجودِ، والوعرُأسلكَ بحقِّ الراحِ والرشأ الذي … له في حواشي طرفهِ، أبداً، سحرُترى منكَ ماءَ الوجهِ في ماءَ وجههِ … وللعينِ في ديباجِ بهجتهِ زهرُفانَّ له حقاً على كلِّ ذي هوىً … وللكأسِ أجرٌ حقهُ، أبداً، وزرُبحقيهما ألا قبلتَ مموهاً … من العذرِ يهديهِ امرؤٌ ماله عذرُفإنْ يكُ غداراً فمن آلِ دعبلٍ … فإنهمُ قومٌ، وفاؤهمُ غدرُإذا عاهدوا فالنكثُ بحتُ عهودهم … وإنْ وصلواخلاً، فوصلهمُ هجرُسأكفيكَ يا ابن المجدِ ذمي، ولم تكنْ … لتبلغَ من ذمي الذي بلغَ الشعرُومن الشعراء المعرقينأبو سويد عبد القوي بن محمد بن أبي عتاهية، واسمه إسماعيل بن القاسم بن سويد، وبلده الكوفة.ذكر أبي عتاهيةكان من أكثر المحدثين شعراً، واسهلهم في المعاني والألفاظ، وأبعدهم عن التكلف. وقال ابن الأعرابي: إن أبا عتاهية وبشاراً أجود المحدثين شعراً، وأبعدهم من التكلف. وقيل لربة بن العجاج: من أشعر المحدثين؟ قال: الذي إذا جد جد، وإذا هزل هزل، كأنما يتناول الكلام من كمه. يعني ابا عتاهية. وقال مسعود بن بشر الأزدي.: قلت بمكة لابن مناذر: من أشعر الناس؟ قال: من إذا شبب لعب، وإذا جد جد. قلت: مثل من؟ قال: مثل جرير حيث يقول:إنَّ الذين غدوا بقلبكَ غادروا … وشلاً بعينكَ لا يزالُ معيناغيضنَ من عبراتهنَّ، وقلنَ لي … ماذا لقيتَ من الهوى، ولقيناثم قال حين جد:إن الذي حرمَ الخلافةَ تغلباً … جعلَ الخلافةَ والنبوةَ فيناهذا ابنُ عمي في دمشقَ خليفةٌ … لو شئتُ ساقكمُ إلي قطينافيروى عن الوليد أنه قال: لو قال جرير: لو شاء لفعلت، ولكن جعلني شرطياً له. ثم قال ابن الأعرابي: ومن هؤلاء المحدثين هذا الخبيث، الذي يتناول الشعر من كثب، يعني ابا عتاهية، حيث يقول:الله بيني وبين مولاتي … أبدتْ ليَ الصدَّ والملالاتِِثم يخرج من الغزل فيجد ويقول:ومهمهٍ، قد قطعتُ، طامسةٍ … قفرٍ على الهولِ والمخافاتِبحرةٍ، جسرةٍ، عذافرةٍ … خوصاءَ عيرانةٍ علنداةِتقولُ للريح كلما بسمتْ … هل لك يا ريحُ في مباراتيوبهذا الشعر قال ابن العجاج ما قال، لأنه كان أنشده إياه، فقال: ما كنت أظن أنه يكون بحضرتي مثل طبعك.وسمعه أبو نواس ينشد بحضرة قوم، فقال: أفجر هذا، أم أنتم لا تبصرون. وبطريق هذه التائية تاب عن الشعر، وذلك أنه رأى في منامه كأن شخصاً يقول له: ما كان في الدنيا احد يكون بينك وبين مولاتك وحبيبتك إلا الله تعالى، حتى تقول: بيني وبين مولاتي. فصار يميل في أشعاره إلى الزهديات.وكان أبو عمرو الشيباني يفضله. وقد ذكر محمد بن يزيد في كتاب الروضة من أخبار أبي عتاهية جملاً، فلم آت في هذا بشيء مما ذكره، ذلك إلا القليل، قصداً للفائدة. حدث أبو عمرو الشيباني قال: جاء أبو عتاهية، ومسلم بن الوليد، وأبو نواس إلى أبي، فاستنشد أبا عتاهية، فأنشده قوله:
এবং যে ব্যক্তি অন্ধকারকে তার আসন করে নিল … সে অন্ধকারের হাতে মঙ্গল ও অমঙ্গল উভয়ই স্পর্শ করল।এই আবদুল্লাহ সামাররা নগরীর অত্যন্ত নিন্দুক ছিলেন এবং তার নিন্দাসূচক পঙক্তির অন্তর্ভুক্ত হলো:আল্লাহ সামাররা শহরকে অভিশপ্ত করুন … এবং একে দুর্ভিক্ষ ও প্লেগ দ্বারা আক্রান্ত করুন।আমি গ্রীষ্মকালে তাদের কাছে খيش (মোটা কাপড়) এর গম্বুজ বিক্রি করেছি … আর কানুন (শীতকাল) মাসে তন্দুর বিক্রি করেছি।তার উক্তির অন্তর্ভুক্ত আরও হলো:তোমার জীবনের কসম, আমি সামাররা দেখে মোটেও আনন্দিত হইনি … বরং সেখানে আমি আনন্দ হারিয়ে ফেলেছি।আমি সেখানে সুউচ্চ প্রাসাদসমূহ নির্মিত হতে দেখেছি … এমন এক কওমের জন্য যারা সেই প্রাসাদগুলোকে কলঙ্কিত করে।যখন বলা হয়: পোশাক পরো, তখন তারা অপমানের পোশাক পরে … আর যখন বলা হয়: আরোহণ করো, তখন তারা পুরুষাঙ্গে আরোহণ করে।আল-হাসান বিন ওয়াহাব তাঁর জন্য মালিক বিন তাওকের কাছে একটি পত্র লিখেছিলেন, যা হলো: আমার এই পত্রটি তোমার কাছে এমন এক অবস্থায় পাঠাচ্ছি যা আমি নিজের হাতে লিখেছি এবং এর জন্য আমার অন্তরকে একাগ্র করেছি; সুতরাং আমার কাছে এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তোমার ধারণা কী হতে পারে? তুমি কি মনে করো যে আমি এর কৃতজ্ঞতা প্রকাশে ত্রুটি করব, নাকি এতে কোনো ওজর গ্রহণ করব? ইবনে আবিশ শিস এমন একজন ব্যক্তি যার অবস্থা, খাঁটি বন্ধুত্ব এবং অন্তরের স্বচ্ছতা সম্পর্কে তুমি অবগত আছ। যদি পৃথিবী তাঁর হাতের কবজায় থাকত, তবে তিনি আমাদের ছেড়ে অন্য কারো দিকে যেতেন না। সুতরাং তাঁর সম্পর্কে এবং তাঁর পক্ষ হতে আমার এই কথাগুলোই যথেষ্ট মনে করো, এবং আসসালাম।তিনি তাঁর জনৈক ভাইয়ের কাছে লিখেছিলেন:ঘোরতর যুদ্ধে তোমার চাদরই হলো মৃত্যু … আর অন্ধকার বিপদে তোমার মতামতই হলো সুবহে সাদিক।যদি বন্ধুর এবং সমতল ভূমির জিহ্বা থাকত … তবে সমতল এবং বন্ধুর ভূমি উভয়ই তোমার দানশীলতার প্রশংসা করত।আমি তোমাকে শরাব এবং সেই হরিণশাবকের কসম দিয়ে জিজ্ঞেস করছি … যার দৃষ্টির কোণায় সর্বদা জাদু বিদ্যমান।তুমি তার চেহারার উজ্জ্বলতায় নিজের চেহারার প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছ … আর চোখের জন্য তার আনন্দের রেশমি আবরণে রয়েছে প্রস্ফুটিত ফুল।নিশ্চয়ই প্রত্যেক প্রেমিকের ওপর তার অধিকার রয়েছে … আর পানপাত্রের জন্য রয়েছে এমন এক প্রতিদান যার প্রাপ্য সর্বদা পাপ।এই উভয়ের কসম দিয়ে বলছি, তুমি এমন কোনো প্রলেপযুক্ত ওজর গ্রহণ করো না … যা এমন এক ব্যক্তি পেশ করছে যার কোনো ওজর নেই।যদি সে বিশ্বাসঘাতক হয়, তবে সে দু'বিল বংশের লোক … কারণ তারা এমন এক কওম, যাদের বিশ্বস্ততাই হলো বিশ্বাসঘাতকতা।যখন তারা অঙ্গীকার করে, তখন সেই অঙ্গীকার ভঙ্গ করাই তাদের অঙ্গীকারের সারবস্তু … আর যখন তারা বন্ধুর সাথে মিলিত হয়, তখন সেই মিলনই হয় বিচ্ছেদ।হে মর্যাদাবানের সন্তান! আমি তোমাকে আমার নিন্দা থেকে রক্ষা করব, আর তুমি তো আমার নিন্দার সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবে না যেখানে কবিতা পৌঁছেছে।সুপ্রতিষ্ঠিত কবিদের মধ্য থেকেআবু সুওয়াইদ আবদুল কাবি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি আত্যাহিয়াহ, তাঁর নাম ইসমাঈল ইবনে কাসিম ইবনে সুওয়াইদ এবং তাঁর দেশ হলো কুফা।আবু আত্যাহিয়াহর আলোচনাতিনি আধুনিক কবিদের মধ্যে সর্বাধিক কবিতা রচনাকারী, অর্থ ও শব্দের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সাবলীল এবং কৃত্রিমতা থেকে অনেক দূরে ছিলেন। ইবনুল আরাবি বলেন: আবু আত্যাহিয়াহ এবং বাশশার আধুনিক কবিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং কৃত্রিমতা থেকে সবচেয়ে মুক্ত। রুব্বা বিন আল-আজ্জাজকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: আধুনিক কবিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কবি কে? তিনি বললেন: যে ব্যক্তি যখন গুরুত্বের সাথে বলে তখন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বলে, আর যখন কৌতুক করে তখন কৌতুকই করে, যেন সে তার আস্তিন থেকে কথা বের করে আনছে। তিনি আবু আত্যাহিয়াহকে উদ্দেশ্য করেছিলেন। মাসউদ বিন বিশর আল-আজদি বলেন: আমি মক্কায় ইবনে মুনাজিরকে জিজ্ঞেস করলাম: মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কবি কে? তিনি বললেন: যে ব্যক্তি যখন প্রেম নিয়ে কবিতা লেখে তখন তা খেলায় পরিণত করে, আর যখন গম্ভীর বিষয়ে বলে তখন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বলে। আমি বললাম: কার মতো? তিনি বললেন: জারিরের মতো, যখন সে বলে:নিশ্চয়ই তারা যারা ভোরে তোমার হৃদয় নিয়ে চলে গেছে, তারা তোমার চোখে এমন এক অশ্রুপ্রবাহ রেখে গেছে যা সর্বদা প্রবাহিত হচ্ছে।তারা তাদের অশ্রু সংবরণ করল এবং আমাকে বলল … তুমি প্রেম থেকে কী পেলে আর আমরাই বা কী পেলাম?অতঃপর তিনি যখন গুরুত্বের সাথে বললেন:নিশ্চয়ই যিনি তাগলিব গোত্রকে খিলাফত থেকে বঞ্চিত করেছেন … তিনি খিলাফত ও নবুওয়াত আমাদের মধ্যেই নিহিত রেখেছেন।দামেশকে খলিফা আমার চাচাতো ভাই … আমি চাইলে তিনি তোমাদেরকে আমার কাছে দাসের মতো তাড়িয়ে আনতেন।বর্ণিত আছে যে, ওয়ালিদ বলেছিলেন: জারির যদি বলতেন 'যদি তিনি চাইতেন তবে আমি তা করতাম', কিন্তু তিনি তো আমাকে তাঁর একজন পুলিশ বানিয়ে দিয়েছেন। অতঃপর ইবনুল আরাবি বলেন: এই আধুনিক কবিদের মধ্যে রয়েছে এই পাপিষ্ঠ ব্যক্তি, যে নিকট থেকেই কবিতা সংগ্রহ করে—অর্থাৎ আবু আত্যাহিয়াহ—যখন সে বলে:আমার এবং আমার প্রেয়সীর মাঝে ফয়সালাকারী আল্লাহ … সে আমার প্রতি বিমুখতা এবং অনীহা প্রকাশ করেছে।অতঃপর তিনি গজল (প্রেমগীতি) থেকে বেরিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বলেন:কত জনশূন্য প্রান্তর আমি অতিক্রম করেছি, যা চিহ্নহীন … ভীতি ও আশঙ্কায় ঘেরা এক বিরান ভূমি।এক তেজি, শক্তিশালী ও সুঠাম উষ্ট্রীর পিঠে চড়ে … যার চোখ কোটরগত, দ্রুতগামী এবং বলিষ্ঠ।বাতাস যখনই হাসে (প্রবাহিত হয়), সে তখন বাতাসকে বলে … হে বাতাস! তোমার কি আমার সাথে প্রতিযোগিতা করার সামর্থ্য আছে?এই কবিতার কারণেই ইবনুল আজজাজ সেই মন্তব্য করেছিলেন যা তিনি করেছিলেন; কারণ তিনি এটি তাঁর কাছে আবৃত্তি করেছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন: আমি ভাবিনি যে আমার উপস্থিতিতে তোমার মতো প্রতিভার কেউ থাকতে পারে।আবু নুওয়াস একদল লোকের উপস্থিতিতে তাকে কবিতা আবৃত্তি করতে শুনে বললেন: এ কি পাপাচার করছে, নাকি তোমরা দেখতে পাচ্ছ না? আর এই 'তা' অক্ষর দিয়ে অন্ত্যমিল সম্পন্ন কবিতার সূত্র ধরেই তিনি কবিতা থেকে তওবা করেছিলেন। এর কারণ হলো, তিনি স্বপ্নে দেখেছিলেন যেন এক ব্যক্তি তাঁকে বলছে: দুনিয়ায় আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ কি ছিল না যে তোমার এবং তোমার প্রেয়সী ও প্রেমিকার মাঝে থাকবে? তুমি কিনা বলেছ: 'আমার এবং আমার প্রেয়সীর মাঝে আল্লাহ রয়েছেন'! এরপর থেকে তিনি তাঁর কবিতায় বৈরাগ্যবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েন।আবু আমর আশ-শায়বানি তাঁকে শ্রেষ্ঠত্ব দিতেন। মুহাম্মদ বিন ইয়াজিদ 'কিতাবুর রওজা'য় আবু আত্যাহিয়াহর সংবাদ থেকে অনেক অংশ উল্লেখ করেছেন, কিন্তু আমি ফায়দার উদ্দেশ্যে সামান্য কিছু ছাড়া সেসবের কিছুই এখানে আনিনি। আবু আমর আশ-শায়বানি বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু আত্যাহিয়াহ, মুসলিম বিন ওয়ালিদ এবং আবু নুওয়াস আমার পিতার কাছে এলেন, তখন তিনি আবু আত্যাহিয়াহর কাছে কবিতা শোনার আবদার করলেন, ফলে তিনি তাঁর এই পঙক্তিটি শোনালেন:
(খণ্ড: ১)
আল-মুযাকারাতু ফী আলকাবিশ শুআরা
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وعظتكَ أجداثٌ صمتْ … ونعتكَ ساكتةٌ خفتْوتكلمتْ عن أعظمٍ … تبلى، وعن صورٍ سبتْوأرتك قبرك في القبور … رِ، وأنتَ حيٌ لم تمتْوالدهرُ كم من غيرةٍ … لكَ في نوائبهِ الثبتْغيرٌ مقلعةٌ لأو … تادٍ وأطنابٍ ثبتْلا تغفلنَّ، فأنهُ … من تمضِ ساعتهُ تفتْولربما انتقلَ الشما … تُ، فحلَّ بالقومِ الشمتْوهذه أبيات ما وجد لمحدث مثلها.وله ايضاً:لكم من رجاءٍ، ومن شدةٍ … إلى غايةٍ، وإلى مدةِوكم عقدَ الدهرُ من عقدةٍ … فرقتْ، وكم حلَّ من عقدةِعلى سرعةِ الشمسِ في سيرها … دبيبُ الخلوقة في الجدةِوأنشدهم أيضاً:يا عجبي للبلى وجدتهِ … يدبُ في الخلقِ ساكناً حركاثم انصرفوا، ولم يستنشد مسلماً، ولا أبا نواس شيئاً، فعادوا إليه بعد أيام، فاستنشد مسلماً، فأنشده قصيدته التي منها:أجررتُ حبلَ خليعٍ في الصبا، غزلِحتى إذا بلغ إلى قوله:ينالُ بالرفقِ ما تعيا الرجال له … كالموتِ مستعجلاً يأتي على مهلِقال له أبو عمرو: أحسنت يا أبا الوليد، إلا أنك أخذت قول أبي إسحاق، حيث يقول:وحكتْ لكَ الساعاتُ سا … عاتٍ أتياتٍ بغتُثم استنشد أبا نواس، فأنشده:يا شقيقَ النفسِ من حكمِحتى بلغ إلى قوله:فتمشتْ في مفاصلهم … كتمشي البرءِ في السقمِقال له أبو عمرو: احسنت يا ابا علي، غلا أنك أخذت معنى قول أبي إسحاق:على سرعةِ الشمسِ في مرها … دبيبُ الخلوقةِ في الجدةِولأبي عتاهية:كلٌّ على الدنيا له حرصُ … والحادثاتُ أناتها غفصُوكأنَّ منْ واروهُ في جدثٍ … لم يبدُ منه لناظرٍ شخصُليدِ المنيةِ في تلمسها … عن ذخرِ كلِّ شقيقةٍ فحصُنبغي من الدنيا زيادتها … وزيادةُ الدنيا هي النقصُوأخذ هذا المعنى مؤلف هذا الكتاب فقال:زيادةُ عمر المرءِ نقصُ حياتهِ … فكيفَ غدتْ تلك الزيادةُ نقصاناوللمتنبي:لا يكثرُ الأمواتُ كثرةَ قلةٍ … إلا إذا شقيتْ بكَ الأحياءُوأما قول أبي عتاهية:لم يبدُ منه لناظرٍ شخصُفمأخوذ من قول الأول:وكأنَّ أقواماً مضوا لم يخلقواوأما قوله:ليد المنيةِ في تلمسها … عن ذخرِ كلِّ شقيقةٍ فحصُوقوله:نبغي من الدنيا زيادتها … وزيادةُ الدنيا هي النقصُفقد تردد هذا في كثير من شعره. فمن ذلك:إذا ازددتُ من عمري قربتُ من البلى … وألفيتُ نقصي بيناً في زيادتيوقوله:وكلُّ زيادةٍ فليومِ نقصٍ … وكلُّ جماعةٍ فليومِ بينِوقوله:وأسرعَ في نقضه امرئٍ تمامهُ … يا لكَ أمراً نقصهُ إبرامهُوقوله:وأسرع ما يكونُ المرءُ نقصاً … وأقربُ ما يكونُ من الزيادةُومعانيه قريبة بعضها من بعض. وللنمر بن تولب مما يلم بهذا المعنى قوله:يحبُّ الفتى طولَ السلامةِ جاهداً … فكيف ترى طول السلامةِ يفعلُويروى عن النبي، صلى الله عليه وسلم: " كفى بالسلامة داء ".وقال حميد بن ثور:أرى بصري قد رابني بعدَ صحةٍ … وحسبكَ داءً أن تصحَّ وتسلماوهذا من كلام الحكماء. قال بعض الحكماء، وقد سئل كيف أنت، فقال: كيف حال من يفنى ببقائه، ويسقم بصحته، ويؤتى من مأمنه. وقال بعض الشعراء:وما ازدادَ شيءٌ قطُّ إلاّ لنقصهِ … وما اجتمعَ الالفانِ إلا تفرقاوقال آخر:كانتْ قناتي لا تلينُ لغامزٍ … فألانها الاصباحُ والإمساءُودعوتُ ربي بالسلامةِ جاهداً … ليصحني، فإذا السلامةُ داءُوقال آخر:يحبُّ الفتى طولَ البقاءِ، وإنهُ … على ثقةٍ أنَّ البقاءَ فناءُزيادتهُ في الجسمِ نقصُ حياتهِ … ليس عى طولِ البقاءِ بقاءُولأبي عتاهية في الشيب ما قد أكثر فيه، فمن ذلك:إنما الشيبُ لابنِ آدمَ ناعٍ … قامَ في عارضيهِ، ثمَّ نهاهُوهذا المعنى قس اتسع فيه الشعر، وقالته الخطباء والوعاظ. وقد قال عدي بن زيد:
নিস্তব্ধ কবরসমূহ তোমাকে উপদেশ দিয়েছে … আর নীরব মৃত্যুসংবাদ তোমাকে সতর্ক করেছে।তারা কথা বলেছে সেই হাড়গুলোর ব্যাপারে … যা জরাজীর্ণ হয়ে যায়, এবং সেই রূপের ব্যাপারে যা বিমোহিত করত।আর তারা তোমাকে কবরসমূহের মাঝে তোমার কবরটি দেখিয়েছে … অথচ তুমি জীবিত, এখনও মারা যাওনি।কালচক্র তার বিপর্যয়ে তোমার জন্য … কতই না পরিবর্তন স্থির করে রেখেছে।এমন পরিবর্তন যা উপড়ে ফেলে … মজবুত গোঁজ এবং শক্ত রশিগুলোকে।তুমি অসতর্ক থেকো না, কারণ নিশ্চয়ই … যার সময় অতিবাহিত হয়ে যায়, সে সুযোগ হারায়।আর হয়তো উপহাসের পাত্র বদলে যায় … ফলে সেই সম্প্রদায়ের ওপরই উপহাস নেমে আসে।আর এগুলো এমন সব পঙক্তি যার অনুরূপ কোনো আধুনিক কবির মাঝে পাওয়া যায়নি।তার আরও কবিতা রয়েছে:তোমাদের জন্য রয়েছে আকাঙ্ক্ষা এবং কঠোরতা … এক শেষ সীমা ও নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত।কালচক্র কতই না গিঁট বেঁধেছিল … যা ছিন্ন হয়েছে, আর কতই না গিঁট সে খুলে দিয়েছে।সূর্যের পরিক্রমার দ্রুততার সাথে … জরাজীর্ণতা নতুনের দিকে অগ্রসর হয়।তিনি তাদের আরও শুনিয়েছেন:জরাজীর্ণতা ও তার স্থায়িত্বে আমার বিস্ময় জাগে … যা সৃষ্টির মাঝে ধীর অথচ সচল পদক্ষেপে বিচরণ করে।অতঃপর তারা চলে গেলেন, এবং তিনি মুসলিম বা আবু নুওয়াসের কাছে কিছু শুনতে চাইলেন না। কয়েক দিন পর তারা পুনরায় তার কাছে ফিরে এলেন। তখন তিনি মুসলিমের কাছে শুনতে চাইলেন, তখন সে তাকে তার সেই কাসিদা শোনাল যার মধ্যে রয়েছে:যৌবনে আমি উচ্ছৃঙ্খল ও প্রেমাসক্তের রশি টেনেছি।যখন সে তার এই বাণীতে পৌঁছাল:নম্রতার মাধ্যমে এমন কিছু অর্জিত হয় যাতে বীর পুরুষরাও ক্লান্ত হয়ে পড়ে … যেন মৃত্যু, যা দ্রুত ধাবমান হওয়া সত্ত্বেও ধীরস্থিরভাবে আসে।আবু আমর তাকে বললেন: তুমি চমৎকার বলেছ হে আবু আল-ওয়ালিদ! তবে তুমি আবু ইসহাকের কথাটি নিয়েছ, যেখানে তিনি বলেন:আর সময়গুলো তোমার কাছে বর্ণনা করেছে … সেই আগত মুহূর্তগুলোর কথা যা অকস্মাৎ আসবে।অতঃপর তিনি আবু নুওয়াসের কাছে শুনতে চাইলেন, তখন সে তাকে শোনাল:হে প্রজ্ঞার আত্মার সহোদর।যখন সে তার এই বাণীতে পৌঁছাল:অতঃপর তা তাদের জোড়ায় জোড়ায় ছড়িয়ে পড়ল … যেমন রোগমুক্তির আবেশ ছড়িয়ে পড়ে অসুস্থতায়।আবু আমর তাকে বললেন: হে আবু আলী, তুমি চমৎকার বলেছ। তবে তুমি আবু ইসহাকের বাণীর অর্থ গ্রহণ করেছ:সূর্যের পরিক্রমার দ্রুততার সাথে … জরাজীর্ণতা নতুনের দিকে অগ্রসর হয়।আবু আতাহিয়ার আরও কবিতা:দুনিয়ার প্রতি প্রত্যেকেরই লোভ রয়েছে … আর দুর্ঘটনাগুলো অতর্কিতে হানা দেয়।যাকে তারা কবরে সমাহিত করেছে, মনে হয় যেন … কোনো দর্শকের সামনে তার অস্তিত্ব কখনও প্রকাশ পায়নি।মৃত্যুর হাত যখন অনুসন্ধান চালায় … তখন প্রতিটি প্রিয়জনের সঞ্চিত সম্পদ তন্নতন্ন করে খোঁজে।আমরা দুনিয়ার প্রাচুর্য কামনা করি … অথচ দুনিয়ার বৃদ্ধিই হলো প্রকৃত ঘাটতি।আর এই গ্রন্থের লেখক এই অর্থটি গ্রহণ করে বলেছেন:মানুষের বয়সের বৃদ্ধিই তার জীবনের ক্ষয় … তবে কীভাবে সেই বৃদ্ধি ঘাটতি হয়ে দাঁড়াল?মুতানাব্বির কবিতা:মৃতদের সংখ্যা অল্প থেকে অধিক হয় না … যতক্ষণ না তোমার কারণে জীবিতরা দুর্ভাগ্যের শিকার হয়।আর আবু আতাহিয়ার এই বাণীর ক্ষেত্রে:কোনো দর্শকের সামনে তার অস্তিত্ব কখনও প্রকাশ পায়নি।এটি পূর্ববর্তীদের এই বাণী থেকে নেওয়া হয়েছে:মনে হয় যেন সেই সম্প্রদায় যারা গত হয়েছে, তারা কখনও সৃষ্টিই হয়নি।আর তার এই বাণী:মৃত্যুর হাত যখন অনুসন্ধান চালায় … তখন প্রতিটি প্রিয়জনের সঞ্চিত সম্পদ তন্নতন্ন করে খোঁজে।এবং তার বাণী:আমরা দুনিয়ার প্রাচুর্য কামনা করি … অথচ দুনিয়ার বৃদ্ধিই হলো প্রকৃত ঘাটতি।নিশ্চয়ই তার অনেক কবিতায় এই অর্থের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। যেমন:আমি যখন আমার বয়সে বৃদ্ধি পাই, তখন জরাজীর্ণতার নিকটবর্তী হই … আর আমার বৃদ্ধির মাঝেই সুস্পষ্ট ঘাটতি খুঁজে পাই।এবং তার বাণী:প্রতিটি বৃদ্ধিই হলো ক্ষয়ের দিনের জন্য … আর প্রতিটি একত্র হওয়া হলো বিচ্ছেদের দিনের জন্য।এবং তার বাণী:মানুষের পূর্ণতা প্রাপ্তিই তার বিনাশকে ত্বরান্বিত করে … হায়! এমন বিষয় যার দৃঢ়তাই তার ভঙ্গুরতা।এবং তার বাণী:মানুষ সবচেয়ে দ্রুত তখনই ক্ষয়প্রাপ্ত হয় … যখন সে পূর্ণতার সবচেয়ে কাছাকাছি থাকে।এর অর্থগুলো একে অপরের কাছাকাছি। নিমর বিন তাউলাবের কবিতার মাঝেও এই অর্থের ছোঁয়া পাওয়া যায়:যুবক আপ্রাণ দীর্ঘ সুস্থতা কামনা করে … কিন্তু দীর্ঘ সুস্থতা কী অবস্থা করে তা কি তুমি দেখেছ?আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে: "সুস্থতাই ব্যাধি হিসেবে যথেষ্ট।"হুমায়দ বিন থাওর বলেছেন:সুস্থতার পর আমার দৃষ্টিশক্তি আমাকে সংশয়ে ফেলেছে … ব্যাধি হিসেবে তোমার সুস্থ ও নিরাপদ থাকাই যথেষ্ট।আর এটি জ্ঞানীদের কথা। এক জ্ঞানী ব্যক্তিকে যখন জিজ্ঞাসা করা হলো, আপনি কেমন আছেন? তিনি বললেন: তার অবস্থা কেমন যে তার স্থায়িত্বের মাধ্যমেই বিলীন হচ্ছে, তার সুস্থতার মাধ্যমেই রুগ্ন হচ্ছে, আর তার নিরাপদ স্থান থেকেই আক্রান্ত হচ্ছে। জনৈক কবি বলেছেন:কোনো বস্তুই বৃদ্ধি পায় না তার ঘাটতির কারণ হওয়া ছাড়া … আর কোনো দুই বন্ধু মিলিত হয় না বিচ্ছেদ হওয়া ছাড়া।অন্যজন বলেছেন:আমার বর্শা কোনো স্পর্শে নুয়ে পড়ত না … কিন্তু সকাল-সন্ধ্যা তাকে নমনীয় করে দিয়েছে।আমি আমার রবের কাছে আপ্রাণ সুস্থতা চেয়েছিলাম … যাতে তিনি আমাকে আরোগ্য দেন, কিন্তু দেখা গেল সুস্থতাই একটি ব্যাধি।অন্যজন বলেছেন:যুবক দীর্ঘস্থায়িত্ব ভালোবাসে, অথচ সে … নিশ্চিত জানে যে স্থায়িত্বই হলো বিনাশ।তার শরীরের বৃদ্ধিই তার জীবনের ক্ষয় … দীর্ঘ স্থায়িত্বের পর আর কোনো স্থায়িত্ব নেই।আবু আতাহিয়া বার্ধক্যের বর্ণনায় অনেক কবিতা লিখেছেন, তার মধ্যে রয়েছে:বার্ধক্যের শুভ্রতা আদমসন্তানের জন্য মৃত্যুসংবাদদাতা স্বরূপ … যা তার দুই কপালে উদিত হয়ে তাকে সতর্ক করেছে।আর এই বিষয়টি কবিতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, যা বাগ্মী ও ওয়ায়েজগণ বর্ণনা করেছেন। আদী বিন যায়দ বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
আল-মুযাকারাতু ফী আলকাবিশ শুআরা
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وابيضاضُ المشيبِ من نذر المو … تِ، وهل بعدهُ لحيٍّ نذيرُوقال مزرد:فلا مرحباً بالشيبِ من وفدِ زائرٍ … متى زارَ لا تحجب عليهِ لمداخلُوقال بعض أهل العصر:إن الشبابَ نذيرُ الموتِ، ثمَّ إذا … جاءَ المشيبُ، فذاكَ القبرُ والكفنُوقال المتنبي:وإذا الشيخُ قالَ: أفٍ، فما ملَّ … حياةً، وإنما الضعف ملاوقال أيضاً:وقد أراني الشبابُ الروحَ في بدني … وقد أراني المشيبُ النقصَ في بدنيوقال آخر:والشيبُ ضيفٌ إذا ما حلَّ ربعَ فتىً … أعيى ترحلهُ، أوْ يرحلانِ معاوعن أبي شقيقة الوراق قال: أتاني أبو عتاهية يوماً فجلس في دكاني، وجلس الناس حوله وكتبه عنه، ثم تناول دفتراً من كتبي فكتب عليه:أيا عجباً كيفَ يعصى الإلهُ … أم كيفَ يجحدهُ الجاحدُوللهِ في كلِّ تحريكةٍ … وتسكينةٍ، أبداً، شاهدُوفي كلّ ما أبصرتهُ العيونُ … دليلٌ على أنهُ الواحدُثم قام، وجاء أبو نواس فنظر إلى الكتاب، وقرأ ما تب أبو عتاهية، فسألني عن قائل الأبيات، فأخبرته، فقال: أحسن والله لوددت أنها ي بجميع شعري. ثم تناول القلم وكتب:سبحانَ منْ خلقَ الخل … قَ من ضعيفٍ مهينِيسوقهُ من قرارٍ … إلى قرار مكينِيجوزُ شيئاً فشيئاً … في الحجبِ دون العيونِحتى بدتْ حركاتٌ … مخلوقةٌ من سكونِفجاء أبو عتاهية فنظر إليها: فقال: لمن هذه؟ لوددت أنها لي بجميع شعري فانظر إلى اتفاق قوليهما.ومن معنيه:نراعُ إذا الجنائزُ قابلتنا … ونلهو إنْ تولتْ مدبراتِكروعةِ ثلةٍ لمغارِ سبعٍ … فلما غابَ عادتْ راتعاتِوقول الآخر:نزاعُ لذكرِ الموتِ ساعةَ ذكرهِ … ونعترضُ الدنيا فنلهو ونلعبُومثله لابن دريد:نهالُ للشيءِ الذي يروعنا … ونرتعي في غفلةٍ إذا انقضىومثل ذلك:إذا مرضنا نوينا كلَّ صالحةٍومن معانيه المسترقة:ألا يا موتُ لم أرَ منكَ بداً … أبيتَ فما تحيفُ، ولا تحابيكأنكَ قد هجمتَ على مشيبي … كما هجمَ المشيبُ على شبابيوله أيضاً:نحمدُ الله كلنا سنموت … لخرابِ البيوتِ تبنى البيوتُوهذا معنى أخذه من قول أبي ذر رحمه الله، فإنه قال: تلدون للموت، وتعمرون للخراب، وتذرون ما يبقى، وتحرصون على ما يفنى.وقال الآخر:وللموتِ تغذو الوالداتُ سخالها … كما لخرابِ الدورِ تبنى المنازلُوله أيضاً:منْ أحبَّ الدنيا تحيرَ فيها … واكتسى عقلهُ التباساً وتيهاقنعِ النفسَ بالكفافِ، وإلاّ … طلبتْ منكَ فوقَ ما يكفيهاليسَ فيما مضى، ولا في الذي لم … يأتِ من لذةٍ لمستحليهاإنما أنتَ طول عمركَ ما عمر … تَ في الساعةِ التي أنتَ فيهاأخذه غيره:ما مضى فاتَ، والمؤملُ غيبٌ … ولكَ الساعةُ التي أنتَ فيهاوهذا المعنى يروى عن محمد بن الحسن بن عبيد اله الكوفي، قال: كتب إلي داود الفارسي: يا ابن أخي الدنيا دار زلل وزوال، وتغير حال عن حال. ثم كتب في آخر كتابه:أفرطتَ في العيشِ وتأميلهِ … وللمنايا شيمٌ نكدُوإنما عيشُ الفتى ساعةٌ … لا قبلها منهُ، ولا بعدُما أوسعَ الدنيا على أهلها … لو لم يكنْ آخرها لحدُوأتى بهذا المعنى ذو اليمينين طاهر بن الحسين فقال:دنياكَ دنيا هوىً ومتعبةٍ … يشقى بها مستهامها الأشرُتبدي لأبنائها مساوئها … عوداً وبدءاً، وليس معتبرُما فاتَ منها كأنهُ حلمٌ … ليسَ له لذةٌ، ولا خطرُوليسَ للمرءِ غيرُ ساعتهِ … إن طالَ، أو لم يطلْ به العمرُوقال محمود في معنى بديع:مازالَ يظلمني وأرحمهُ … حتى بكيتُ له من الظلمِأخذ هذا المعنى من أبي ذر، إذ أتاه رجل فقال: رأيت فلاناً شتمك حتى رحمتك، فقال: هل سمعتني شتمته؟ فقال: لآ، قال: فياه فارحم. وقال محمد ابن الحجاج: حضرت مجلساً فيه بشار وأبو عتاهية، فقال بشار لأبي عتاهية: أنشدني، فأنشده:
বার্ধক্যের শুভ্রতা হলো মৃত্যুর সতর্কবার্তার অন্তর্ভুক্ত; আর এর পরে জীবিত ব্যক্তির জন্য অন্য কোনো সতর্ককারী আছে কি?মুজাররিদ বলেছেন:বার্ধক্য নামক আগন্তুক দলকে স্বাগতম নয়; এটি যখন পরিদর্শনে আসে, তখন কোনো প্রবেশদ্বারই তার জন্য রুদ্ধ থাকে না।এই যুগের জনৈক ব্যক্তি বলেছেন:যৌবন হলো মৃত্যুর অগ্রদূত, তারপর যখন বার্ধক্য আসে, তখন তা যেন কবর ও কাফন।মুতানাব্বি বলেছেন:বৃদ্ধ যখন 'উফ' বলে, তখন সে জীবন নিয়ে বিরক্ত হয়ে বলে না; বরং দুর্বলতাই তাকে আঁকড়ে ধরেছে।তিনি আরও বলেছেন:যৌবন আমাকে আমার শরীরে প্রাণশক্তি দেখিয়েছিল, আর বার্ধক্য আমাকে আমার শরীরে ঘাটতি দেখিয়েছে।অন্য একজন বলেছেন:বার্ধক্য এমন এক মেহমান, যখন তা কোনো যুবকের আঙিনায় পদার্পণ করে, তখন তার প্রস্থান করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, অথবা তারা (যৌবন ও জীবন) উভয়ই একসাথে বিদায় নেয়।আবু শাকিকা আল-ওয়াররাক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: একদিন আবু আতাহিয়া আমার কাছে এলেন এবং আমার দোকানে বসলেন। লোকজন তাঁর চারপাশে বসল এবং তাঁর থেকে কবিতা লিখতে লাগল। তারপর তিনি আমার খাতাগুলোর মধ্য থেকে একটি খাতা নিলেন এবং তাতে লিখলেন:আশ্চর্য! কীভাবে আল্লাহর অবাধ্যতা করা হয়? অথবা কীভাবে অস্বীকারকারী তাঁকে অস্বীকার করে?আল্লাহর জন্য প্রতিটি গতি ও প্রতিটি নিথরতায় সর্বদা একজন সাক্ষী বিদ্যমান রয়েছে।আর চোখ যা কিছু দেখে, তার সবকিছুর মধ্যেই প্রমাণ রয়েছে যে, তিনি এক ও অদ্বিতীয়।তারপর তিনি উঠলেন। এরপর আবু নুওয়াস এলেন এবং খাতাটির দিকে তাকালেন এবং আবু আতাহিয়া যা লিখেছিলেন তা পড়লেন। তিনি আমাকে পঙক্তিগুলোর রচয়িতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, আমি তাঁকে জানালাম। তিনি বললেন: আল্লাহর কসম, কতই না সুন্দর! আমার আকাঙ্ক্ষা হয় যদি এই কবিতাগুলো আমার সমগ্র কাব্যের বিনিময়ে আমার হতো। তারপর তিনি কলম নিলেন এবং লিখলেন:মহিমান্বিত সেই সত্তা, যিনি তুচ্ছ ও নগণ্য বস্তু থেকে সৃষ্টিজগত সৃষ্টি করেছেন।তিনি একে এক অবস্থান থেকে অন্য এক সুদৃঢ় অবস্থানে পরিচালিত করেন।তা চোখের অগোচরে পর্দার আড়ালে ধাপে ধাপে অতিক্রম করে।শেষ পর্যন্ত স্থিরতা থেকে সৃষ্টিশীল স্পন্দনগুলো প্রকাশ পায়।অতঃপর আবু আতাহিয়া এলেন এবং সেটির দিকে তাকালেন। তিনি বললেন: "এটি কার? আমার আকাঙ্ক্ষা হয় যদি এটি আমার সমগ্র কাব্যের বিনিময়ে আমার হতো!" তাদের উভয়ের বক্তব্যের এই মিলটি লক্ষ করুন।তাঁর কবিতার অন্যান্য অর্থের মধ্যে রয়েছে:যখন জানাযা আমাদের সামনে আসে তখন আমরা আতঙ্কিত হই, আর যখন তা প্রস্থান করে চলে যায় তখন আমরা আমোদ-প্রমোদে মেতে উঠি।ঠিক যেমনটি সিংহের আক্রমণে কোনো পশুপাল আতঙ্কিত হয়, কিন্তু সিংহ যখন আড়ালে চলে যায় তখন তারা আবার চরে বেড়াতে ফিরে আসে।অন্য একজনের কথা:মৃত্যুর কথা স্মরণ হওয়ার মুহূর্তে আমরা বিচলিত হই, কিন্তু পরক্ষণেই দুনিয়ার কাজে লিপ্ত হয়ে আমোদ ও খেলায় মত্ত হই।ইবনে দুরিদের একটি অনরূপ কবিতা:যে জিনিসটি আমাদের আতঙ্কিত করে আমরা তাতে ভীত হই, কিন্তু তা কেটে গেলে আমরা পুনরায় গাফলতের মধ্যে বিচরণ করি।এবং অনুরূপ একটি কথা:যখন আমরা অসুস্থ হই, তখন সকল নেক কাজের নিয়ত করি।তাঁর চমৎকার অর্থপূর্ণ পঙক্তিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে:হে মৃত্যু! তোমার থেকে কোনো নিষ্কৃতি আমি দেখি না। তুমি আমার কথা অগ্রাহ্য করো, তুমি কোনো অবিচার করো না এবং কোনো পক্ষপাতিত্বও করো না।মনে হচ্ছে তুমি আমার বার্ধক্যের ওপর এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়েছ, যেমনটি বার্ধক্য আমার যৌবনের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।তাঁর আরও কবিতা:আমরা আল্লাহর প্রশংসা করি, আমরা সবাই মারা যাব। ঘরবাড়ি ধ্বংস হওয়ার জন্যই ঘরবাড়ি নির্মাণ করা হয়।এই অর্থটি তিনি আবু যর (রা.)-এর কথা থেকে গ্রহণ করেছেন, কারণ তিনি বলেছিলেন: তোমরা মৃত্যুর জন্য সন্তান জন্ম দাও, ধ্বংসের জন্য আবাদ করো, যা অবশিষ্ট থাকবে তা বর্জন করো এবং যা ধ্বংস হয়ে যাবে তার প্রতি লালায়িত হও।অন্য একজন বলেছেন:মায়েরা তাদের সন্তানদের মৃত্যুর জন্যই লালন-পালন করে, যেমনটি গৃহগুলো ধ্বংস হওয়ার জন্যই অট্টালিকা নির্মাণ করা হয়।তাঁর আরও কবিতা:যে ব্যক্তি দুনিয়াকে ভালোবাসে সে তাতে দিশেহারা হয়ে পড়ে, এবং তার বুদ্ধি বিভ্রান্তি ও অহংকারে আচ্ছন্ন হয়।নফসকে অল্পে তুষ্টির মাধ্যমে শান্ত রাখো, নতুবা সে তোমার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত দাবি করবে।যা গত হয়েছে তাতে কোনো সুখ নেই, আর যা এখনো আসেনি তাতেও কোনো সুখ নেই।তোমার সমগ্র জীবন তো কেবল সেই মুহূর্তটুকু, যে মুহূর্তে তুমি বর্তমানে অবস্থান করছ।অন্য একজন এই অর্থটি গ্রহণ করেছেন:যা গত হয়েছে তা শেষ হয়ে গেছে, আর যা আশা করা হচ্ছে তা অদৃশ্যের বিষয়; তোমার জন্য কেবল সেই সময়টুকু রয়েছে যাতে তুমি বর্তমানে আছ।এই অর্থটি মুহাম্মদ ইবনে হাসান ইবনে উবাইদুল্লাহ আল-কুফি থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন: দাউদ আল-ফারিসি আমাকে লিখেছিলেন: হে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র! দুনিয়া হলো পদস্খলন ও ধ্বংসের ঘর, এবং এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তনের স্থান। তারপর তিনি তাঁর পত্রের শেষে লিখলেন:তুমি জীবন ও তার আকাঙ্ক্ষায় বাড়াবাড়ি করেছ, অথচ মৃত্যুর স্বভাব অত্যন্ত কঠোর।যুবকের জীবন তো কেবল এক মুহূর্ত; তার আগের বা পরের কোনো সময় তার নয়।দুনিয়া তার অধিবাসীদের জন্য কতই না প্রশস্ত হতো, যদি না তার শেষ গন্তব্য কবর হতো।যুল ইয়ামীনাইন তাহির ইবনুল হুসাইন এই অর্থটি এভাবে ব্যক্ত করেছেন:তোমার দুনিয়া হলো প্রবৃত্তির ও কষ্টের দুনিয়া, যাতে দাম্ভিক ও প্রমত্ত ব্যক্তি কষ্ট পায়।এটি তার সন্তানদের কাছে বারবার তার মন্দ দিকগুলো প্রকাশ করে, কিন্তু শিক্ষা গ্রহণ করার মতো কেউ নেই।দুনিয়া থেকে যা গত হয়েছে তা যেন এক স্বপ্ন, যার কোনো স্বাদ নেই এবং কোনো গুরুত্বও নেই।মানুষের জন্য তার সেই মুহূর্তটুকু ছাড়া আর কিছুই নেই, তার আয়ু দীর্ঘ হোক বা না হোক।মাহমুদ একটি চমৎকার অর্থে বলেছেন:সে অনবরত আমার ওপর জুলুম করছিল আর আমি তার প্রতি দয়া করছিলাম, শেষ পর্যন্ত তার জুলুমের কারণে আমি তার জন্যই কেঁদেছি।তিনি এই অর্থটি আবু যর থেকে গ্রহণ করেছেন, যখন এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল: আমি অমুককে দেখলাম সে আপনাকে গালি দিচ্ছে, এমনকি আমার আপনার প্রতি দয়া হচ্ছিল। তিনি বললেন: তুমি কি আমাকে শুনেছ যে আমি তাকে গালি দিচ্ছি? সে বলল: না। তিনি বললেন: তবে তার প্রতিই দয়া করো। মুহাম্মদ ইবনুল হাজ্জাজ বলেছেন: আমি একটি মজলিসে উপস্থিত ছিলাম যেখানে বাশশার ও আবু আতাহিয়া ছিলেন। তখন বাশশার আবু আতাহিয়াকে বললেন: আমাকে কিছু শুনিয়ে দিন। তখন তিনি তাঁকে শুনিয়েছিলেন:
(খণ্ড: ১)
আল-মুযাকারাতু ফী আলকাবিশ শুআরা
(পৃষ্ঠা: ২৬)
كمْ من صديقٍ لي أسا … رقهُ البكاءَ من الحيافإذا تفطنَ لامني … فأقولُ ما بي من بكاءِلكنْ ذهبتُ لأرتدي … فطرفتُ عيني بالرداءِقال بشار: يا عتبة ما أشعرك! إلا أنك سرقتني، قال: وما قلت يا ابا معاذ؟ قال:وقالوا: قد بكيتَ، فقلتُ: كلا … وهل يبكي من الجزعِ الجليدُولكني أهابُ سوادَ عيني … عويدُ قذىً له طرفٌ حديدُفقالوا: ما لدمعهما سواءٌ … أكلتا مقلتيكَ أصابَ عودُ؟فقال له أبو عتاهية: وأنت يا بشار أخذت هذا المعنى من قول الآخر:يقولُ خليلي يومَ أكثبةِ النقا … وعيناي من فرطِ البكا تكفانِأمنْ أجل دارٍ بين لوذانَ فالنقا … غداةَ اللوى عيناكَ تبتدرانِفقلتُ: ألا لا، بل قذيتُ، وإنما … قذى العينَ مما هيجَ الطللانِومن معاني أبي عتاهية المخترعة:وإذا شكوتُ إلى المحبِّ رأيتهُ … يجدُ الذي أشكو إليه لديهِوإذا شكا أيضاً إليَّ ظننتهُ … قد مسَّ قلبي، مرةً، بيديهِمنْ لم يكنْ فيما شكوتُ به الذي … في الحبِّ مثلي، هانَ ذاكَ عليهِإنَّ المحبَّ إذا تطاولَ سقمهُ … يلقى المحبَّ، فيستريح إليهِأخذه بعض المحدثين فقال:لو علقتَ الهوى عذرتَ، ولكن … إما يعذرُ المحبَّ المحبُّومثله:لا تلمْ صبوتي فمن حبِّ يصبو … إنما يرحمُ المحبَّ المحبُّويقال: إن أبا عتاهية غلب على قلب الرشيد، فغضب عليه موسى الهادي بذلك السبب، وتوعده، فقال يخاطب المهدي:ألا شافعٌ عندَ الخليفةِ يشفعُ … فيدفع عني كربَ ما أتوقعُفإني، على علمِ الرجاءِ، لخائفٌ … كأنَّ على رأسي الأسنةَ شرعُرماني وليُّ العهدِ موسى بغضبةٍ … فلم يكُ لي، إلاّ الخليفةُ، مفزعُوليس امرؤٌ يمسي ويصبحُ عائذاً … بظلِّ أميرِ المؤمنينَ، مروعُثم أقبل على مديح موسى. فمن مدائحه قوله:لهفي على الزمنِ القصيرِ … بين الخورنقِ والسديرِإذ نحنُ في غرفِ الجنا … نِ نعومُ في بحرِ السرورِفي فتيةٍ ملكوا عنا … نَ الدهرِ، أمثالِ الصقورِما منهمُ إلا الجسو … رُ على الهوى، غيرُ الحسورِيتعاورونَ مدامةً … صهباءَ من حلبِ العصيرِعذراءَ، رباها شعا … ع الشمس في حر الهجيرِحلبتْ على قومٍ كرا … مٍ سادةٍ، في درعِ قيرِومشمر يسعى أما … م القومِ كالرشأ الغريرِبزجاجةٍ تستخرجُ ال … سرَّ الدفينَ من الضميرِتذرُ الحليمَ، وليس يد … ري ما قبيلٌ من دبيرِومخدراتٍ زرننا … بعدَ الهدوِّ من الخدورِنفحٌ روادفهنَّ يل … بسنَ الخواتمَ في الخصورِمتغمساتٍ في النعي … مِ، مضمخاتٍ بالعبيرِيرفلنَ في حللِ الجما … لِ، وفي المجاسدِ والحريرِما إنْ يرينَ الشمس إلاّ … الفرط من خللِ الستورِولقد غططنا البؤسَ في … لججِ الغضارةِ والسرورِفمحا لذاذةَ عيشنا … مرُّ الليالي والشهورِوغدا فألهب في الرؤو … سِ، وفي اللحى شعلَ القتيرِفالى ولي العهدِ مه … ربنا من الدهرِ العثورِوإليهِ أتعبنا المط … يَّ بالرواحِ، وبالبكورِصعرَ الخدودِ كأنه … نَّ كسينَ أجنحةَ النسورِهوجاً يطرنَ بزائرٍ … يهدي المديحَ إلى مزورِأضحتْ لموسى بيعةٌ … في الملكِ أثبتُ من ثبيرِفرضي عنه وأجازه. فلما أفضت الخلافة إلى الرشيد قدمه ووفر له الجراية، وأمره بملازمته. فكان لا يفارقه في سفر ولا حضر. وقيل: إنه حج مع الرشيد، فجاء الرشيد يوماً في الطريق، وقد استلقى في ظل ميل، وهو يقول:ألا يا طالبَ الدنيا … دع الدنيا لشانيكافلما تصنعُ بالدنيا … وظلُّ الميلِ يكفيكافعجب الرشيد من بديهته.وعمر أبو عتاهية إلى أيام المأمون، وقد جاوز لسبعين، فقال:أعينيَّ هلا تبكيانِ على عمري … تناهبتِ الأيامُ عمري ولا أدري
কত বন্ধু আমার থেকে তার কান্না লুকিয়ে রেখেছে লজ্জায় … যখন সে তা বুঝতে পারে, তখন সে আমাকে তিরস্কার করে; তখন আমি বলি: আমি কান্নার জন্য কাঁদছি না।বরং আমি চাদর পরিধান করতে গিয়েছিলাম … তখন চাদরটি আমার চোখের পাতায় লেগে গিয়েছিল।বাশার বললেন: হে উতবাহ, তুমি কত বড় কবি! তবে তুমি তো আমার কবিতা চুরি করেছ। সে বলল: হে আবু মুয়ায, আমি কী বলেছি? তিনি বললেন:লোকেরা বলল: তুমি তো কাঁদছ? আমি বললাম: কখনোই না … ধৈর্যশীল ব্যক্তি কি ব্যাকুল হয়ে কাঁদে?বরং আমি আমার চোখের কৃষ্ণমণি নিয়ে ভীত … একটি ছোট কুটা যার অগ্রভাগ তীক্ষ্ণ।তারা বলল: তবে কেন দুচোখের অশ্রু সমান নয়? … তোমার দুটি চোখেই কি কাঠি লেগেছে?আবু আতাহিয়া তাকে বললেন: আর আপনি হে বাশার, এই অর্থটি অন্য এক কবির কথা থেকে নিয়েছেন:আমার বন্ধু বলছে বালুকারাশির দিনে … আর আমার দুচোখ কান্নার আতিশয্যে বয়ে যাচ্ছে:লওযান ও বালুকারাশির মধ্যবর্তী সেই বসতির জন্য কি … প্রভাতকালে তোমার দুচোখ অশ্রু ঝরাচ্ছে?আমি বললাম: না, বরং চোখে ময়লা পড়েছে, আর চোখের এই … ময়লা সেই ধ্বংসাবশেষের কারণে উদ্দীপিত হয়েছে।আবু আতাহিয়ার উদ্ভাবিত অর্থসমূহের মধ্যে রয়েছে:যখন আমি প্রেমিকের কাছে অভিযোগ করি, তখন দেখি … যাকে আমি অভিযোগ করছি, তার কাছেই সেই ব্যথার প্রতিকার রয়েছে।আবার সে যখন আমার কাছে অভিযোগ করে, তখন আমার মনে হয় … সে যেন তার হাত দিয়ে আমার হৃদয়ে একবার স্পর্শ করল।আমি যে ব্যথায় অভিযোগ করছি, তাতে যদি প্রেমের ক্ষেত্রে … আমার মতো কেউ না থাকে, তবে তার কাছে তা তুচ্ছ মনে হবে।প্রেমিকের অসুস্থতা যখন দীর্ঘ হয় … তখন সে তার প্রিয়জনের সাক্ষাৎ পায় এবং তার কাছে প্রশান্তি লাভ করে।পরবর্তী কিছু কবি এটি গ্রহণ করেছেন এবং বলেছেন:যদি তুমি প্রেমে পড়তে তবে ক্ষমা করতে, কিন্তু … একজন প্রেমিকই কেবল অন্য প্রেমিককে ক্ষমা করতে পারে।এর অনুরূপ:আমার যৌবনোচিত আবেগকে তিরস্কার করো না, কেননা যে ভালোবাসে সে-ই আবেগপ্রবণ হয় … নিশ্চয়ই একজন প্রেমিকই অন্য প্রেমিকের প্রতি দয়া করে।বলা হয় যে: আবু আতাহিয়া হারুনুর রশিদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন, যার ফলে মুসা আল-হাদি তার ওপর রাগান্বিত হন এবং তাকে হুমকি দেন। তখন তিনি আল-মাহদীকে সম্বোধন করে বললেন:খলিফার কাছে কি এমন কোনো সুপারিশকারী আছে যে সুপারিশ করবে? … যাতে আমি যে বিপদের আশঙ্কা করছি তা দূর হয়ে যায়।আমি আশার জ্ঞানের ওপর থাকা সত্ত্বেও ভীত … যেন আমার মাথার ওপর বর্শাগুলো উদ্যত হয়ে আছে।যুবরাজ মুসা আমার ওপর ক্রোধ নিক্ষেপ করেছেন … খলিফা ছাড়া আমার কোনো আশ্রয় নেই।এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে রাত এবং দিন যাপন করে … আমীরুল মুমিনীন-এর ছায়ায় আশ্রয় নিয়ে ভীত হবে।অতঃপর তিনি মুসার প্রশংসায় মনোনিবেশ করলেন। তার প্রশংসাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো:আফসোস সেই সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য … যা খাওয়ারনাক ও সাদিরের মধ্যবর্তী স্থানে কেটেছিল।যখন আমরা জান্নাতের ন্যায় কক্ষগুলোতে ছিলাম … আনন্দের সাগরে ভাসছিলাম।এমন যুবকদের মাঝে যারা সময়ের লাগাম … ধরে রেখেছিল, ঠিক বাজপাখিদের মতো।তাদের মধ্যে কেবল প্রেমের ব্যাপারে সাহসী … ছাড়া অন্য কেউ ছিল না, যারা ক্লান্ত নয়।তারা একে অপরকে লাল রঙের পুরাতন মদ্য দিচ্ছিল … যা নিংড়ানো রস থেকে তৈরি।কুমারী মদ্য, যা দুপুরের তীব্র রোদে … সূর্যের রশ্মি দ্বারা পরিপুষ্ট হয়েছে।তা ঢালা হয়েছিল এমন এক অভিজাত কওমের জন্য যারা নেতৃস্থানীয় … এবং বর্ম পরিহিত।আর এক চটপটে যুবক মানুষের সামনে দৌঁড়ে বেড়াচ্ছে … যেন এক লাজুক হরিণ শাবক।কাঁচের পাত্র নিয়ে যা অন্তরের … গহীন গোপন রহস্য বের করে আনে।তা ধৈর্যশীলকে এমন অবস্থায় ছেড়ে দেয় যে সে জানে না … সামনের দিক না পেছনের দিক।আর অন্তরালে থাকা নারীরা শান্ত মুহূর্তের পর … তাদের পর্দা থেকে আমাদের দেখতে এলো।তাদের শরীরের সুগন্ধি এমন যে তা … কোমরে আংটির মতো লেগে থাকে।তারা নেয়ামতে ডুবে থাকা … এবং সুগন্ধে সুরভিত।তারা সৌন্দর্যের পোশাকে এবং … রেশমি বসনে গর্বভরে চলে।তারা পর্দার ছিদ্র দিয়ে আসা আলো ছাড়া … সূর্যকে দেখে না।আমরা ঐশ্বর্য ও আনন্দের ঢেউয়ের মাঝে … অভাবকে ঢেকে দিয়েছিলাম।অতঃপর রাত ও মাসের পরিক্রমা … আমাদের জীবনের স্বাদকে মুছে দিল।এবং সকাল হলো এমন অবস্থায় যে মাথা ও দাড়িতে … বার্ধক্যের শাদা আভা প্রজ্জ্বলিত হলো।সুতরাং যুবরাজের কাছেই সময়ের … হোঁচট থেকে আমাদের পলায়ন।এবং তার কাছেই আমরা আমাদের বাহনগুলোকে ক্লান্ত করেছি … ভোরে ও সন্ধ্যায়।কুঁচকানো গাল বিশিষ্ট বাহনগুলো যেন … শকুনির ডানা পরিহিত।দ্রুতগামী বাহনগুলো এক দর্শনার্থীকে নিয়ে উড়ে চলছে … যে প্রশংসিত ব্যক্তির কাছে প্রশংসা পৌঁছে দিচ্ছে।মুসার জন্য রাজত্বে এমন আনুগত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে … যা সাবীর পাহাড়ের চেয়েও অটল।অতঃপর তিনি তার ওপর সন্তুষ্ট হলেন এবং তাকে পুরস্কৃত করলেন। যখন খেলাফত হারুনুর রশিদের কাছে পৌঁছাল, তিনি তাকে কাছে টেনে নিলেন, তার জন্য পর্যাপ্ত ভাতার ব্যবস্থা করলেন এবং তাকে তার সান্নিধ্যে থাকার নির্দেশ দিলেন। তিনি সফরে বা আবস্থানে তাকে ছেড়ে যেতেন না। বলা হয়: তিনি হারুনুর রশিদের সাথে হজ করেছিলেন। একদিন পথে হারুনুর রশিদ মাইলের ছায়ায় শুয়ে থাকাবস্থায় এলেন এবং তিনি বলছিলেন:হে দুনিয়ার অন্বেষণকারী … দুনিয়াকে তোমার শত্রুর জন্য ছেড়ে দাও।তুমি দুনিয়া দিয়ে কী করবে … যখন মাইলের ছায়াই তোমার জন্য যথেষ্ট?হারুনুর রশিদ তার তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তায় বিস্মিত হলেন।আবু আতাহিয়া আল-মামুনের সময় পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন এবং সত্তর বছর পার করেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন:হে আমার দুই চোখ, তোমরা কি আমার জীবনের জন্য কাঁদবে না? … দিনগুলো আমার জীবনকে ছিনিয়ে নিয়েছে অথচ আমি জানিই না।
(খণ্ড: ১)
আল-মুযাকারাতু ফী আলকাবিশ শুআরা
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ألا في سبيل الله سوفتُ توبتي … ودفعتُ أيامي، وفرطتُ في أمريإذا كنتُ قد جاوزتُ سبعينَ حجةً … ولم أتأهبْ للمعادِ، فما عذريأمني البقا نفسي أحاديثَ ظلةً … وقد أشرفتْ بي الحادثاتُ على قبريوكان أبو عتاهية ي قول: إن المكارم موصولة بالمكاره، فمن أراد مكرمة إحتمل كروهاً. وولد أبو عتاهية في سنة إحدى وثلاثين ومائة، وتوفي في أيام المأمون سنة عشر ومائتين.ذكر أبي عبد الله محمد بن ابي عتاهيةلم تكن لمحمد غزارة أبيه في الشعر، ولكنه كان ذا طبع مجيب بغير تكلف، وفي شعره لين. ومن شعره يرثي أباه:أيا دهرُ كم لكَ من بائقهْ … وكمْ لك من نكبةٍ طارقهْفكمْ لكَ من غمزةٍ في القلوبِ … وكمْ لكَ من دمعةٍ دافقهْإذا درجَ القرنُ في وقتهِ … فإنَّ القرونَ به لاحقهْعوالقُ دنياكَ مسمومةٌ … توقَّ، فقد تقتل ُالعالقهْأيا كبدً مالها سكنةٌ … فتسكن أحشاؤهُ الخافقهْكأنَّ وسادي على جمرةٍ … به، في توقدها، لاصقهْأبي يا صريعَ ثرى حفرةٍ … نعيتَ بألسنةٍ ناطقهْوقد كنتَ تنعى برجمِ الغيو … بِ، فقد جاءتِ النعيةُ الصادقهْوله يرثي أباه:يا أبي ضمكَ الثرى … وطوى الموتُ أجمعكْليتني يومَ متَ صر … تُ إلى حفرةٍ معكْرحمَ الله مصرعكْ … بردَ الله مضجعكْولأبي عبد الله محمد ولد يقال له أبو سويد عبد القوي بن محمد بن ابي عتاهية. وهذا كان متقدماً في صناعة الكلام، ألد في الجدال. وله كتب مؤلفة في الرد على أهل البخل، وله معان مستحسنة، وكان مطبوعاً، ظريفاً، دعباً. ومن شعره يرثي أمه، وإن كان معنى قد سبق إليه:يقولُ أناسٌ: قد جفا قبرَ أمهِ … وما قبرها إلا الفؤادُ الذي فجعْلقد ضاقَ بي من عالم الله كلهِ … عشيةَ أودتْ روحها كلَّ متسعْوله فيها أيضاً:بادَ أنسي، فربعُ دار … ي من الأنسِ مقفرُكيفَ يقلا قبرٌ هو ال … قلبُ، أمْ كيف يهجرُمن فؤادي دونَ الأما … كنِ أمي ستحشرُالمعرقون من الرجازومن المعرقين في شعر الرجز، وهم الرجازعقبة بن رؤبة بن العجاج، وحومة أخت رؤبة شاعرة أيضاً.حدث أبو دهمان الغلابي قال: حضرت مجلساً فيه بشار وعقبة بن رؤبة وابن المقفع، فتحادثوا، وتناشدوا، فأنشدهم بشار أرجوزته:يا طللَ الحيِّ بذاتِ الصمدِبالله خبرْ كيفَ كنتَ بعديفسمع فيها عقبة كثرة الغريب، فاغتاظ، وقال: أنا وأبي وجدي فتحنا الغريب للناس، وإني، والله، لخليق أن أسده عليهم.فقال بشار: رحمهم الله، فقال عقبة: أتستخف بهم، وأنا شاعر بن شاعر ابن شاعر؟ فقال له، يتماجن عليه: أنت إذاً من أهل البيت الذين أذهب الله عنهم الرجس، طهرهم تطهيرا.ذكر العجاجولد العجاج وأبو النجم جميعاً بالقاعة. والقاعة أرض بكر بن وائل دون البحرين. وهو العجاج بن رؤبة، وهو أول من أطال الرجز، وكان في الرجاز ك امرئ القيس في الشعراء. وقيل ليونس: من أشعر الناس؟ فقال: العجاج، قيل: لم نسأل عن الرجاز، قال: واشعر أصحاب القصيد، إنما الشعر كله كلام، فأجودهم كلاماً أشعرهم، ليس في شيء من شعر العجاج شيء من الكلام يستطيع قائل أن يقول: لو كان مكانه غيره كان أجود. قال العجاج:قد جبرَ الدينَ الإلهُ فجبرْوهي نحو من مائتي بيت، وهي مقيدة القافية، فلو أطلقت قوافيها كلها كانت منصوبة.وسئل الأصمعي عن أشعر الرجاز، فقال: العجلي، ثم السعدي، ثم العجلي، ثم السعدي. يريد بالعجلي الأول: الأغلب، وبالسعدي الأول: العجاج، وبالعجلي الثاني: أبا النجم، وبالسعدي الأخير: سليمان بن رؤبة.وإنما سمي شعر الرجز رجزاً لتدارك أجزائه. وهو مأخوذ من الإرتجاز، وهو صوت الرعد المتدارك. والرجز مصدر يرجزون ويرتجزون إرتجازاً. الواحدة أرجوزة، والجمع الأراجيز. قال أبو عبيدة: قال العجاج أبياتاً من رجزه في الجاهلية، ولم يدرك سلطان سليمان بن عبد الملك. وقال له عبد الملك بن مروان: أتحسن الهجاء؟ قال: إن لنا حلماً يمنعنا أن نظلم، وعزاً يمنعنا أن نظلم.
আল্লাহর পথে আমি আমার তওবা বিলম্বিত করেছি … আমার দিনগুলো অতিবাহিত করেছি এবং নিজের বিষয়ে অবহেলা করেছিযদি আমি সত্তর বছর অতিক্রম করে থাকি … আর পরকালের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ না করি, তবে আমার ওজর কী?আমার নফস কি আমাকে বিভ্রান্তিকর কথাবার্তা দিয়ে দীর্ঘ জীবনের আশা দেখায়? … অথচ বিপদাপদ আমাকে আমার কবরের কিনারায় নিয়ে এসেছেআবু আতাহিয়া বলতেন: নিশ্চয়ই মহত্ত্ব কষ্টের সাথে জড়িত; সুতরাং যে ব্যক্তি মহত্ত্ব অর্জন করতে চায়, তাকে কষ্ট সহ্য করতে হবে। আবু আতাহিয়া ১৩১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২১০ হিজরিতে আল-মামুনের শাসনামলে মৃত্যুবরণ করেন।আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবু আতাহিয়ার আলোচনাকবিতার ক্ষেত্রে মুহাম্মদের তার পিতার মতো প্রাচুর্য ছিল না, তবে তার স্বভাবজাত কাব্যপ্রতিভা ছিল সাবলীল এবং তার কবিতায় কোমলতা ছিল। তার পিতার শোকগাথায় রচিত তার কিছু কবিতা হলো:হে কাল! তোমার কতই না বিপর্যয় রয়েছে … আর তোমার কতই না আকস্মিক বিপদ রয়েছেহৃদয়ে তোমার কতই না আঘাত রয়েছে … আর কতই না প্রবহমান অশ্রু রয়েছেযখন কোনো প্রজন্ম তার সময়ে গত হয়ে যায় … তখন পরবর্তী প্রজন্মগুলো তার অনুগামী হয়তোমার দুনিয়ার আসক্তিগুলো বিষাক্ত … সাবধান হও, কারণ এই আসক্তি মানুষকে মেরে ফেলতে পারেহায় সেই হৃদয়, যার কোনো স্থিরতা নেই … ফলে তার কম্পমান অন্তর শান্ত হয় নাআমার বালিশ যেন আগুনের অঙ্গারের ওপর … তার প্রজ্বলিত শিখার সাথে মিশে আছেহে আমার পিতা! হে কবরের মাটির নিচে শায়িত … বাচাল রসনাসমূহ তোমার মৃত্যুর সংবাদ দিচ্ছেতুমি তো অদৃশ্যের অনুমানের ভিত্তিতে মৃত্যুর সংবাদ দিতে … আজ সেই সত্য মৃত্যুর সংবাদ সমাগত হয়েছেতার পিতার শোকে তার আরও কবিতা:হে পিতা! মাটি আপনাকে গ্রাস করেছে … আর মৃত্যু আপনার অস্তিত্বকে গুটিয়ে নিয়েছেহায়! যেদিন আপনি মারা গেলেন, সেদিন যদি আমি … আপনার সাথে কবরে চলে যেতামআল্লাহ আপনার সমাধিস্থলকে রহম করুন … আল্লাহ আপনার শয্যা শীতল করুনআবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদের এক পুত্র ছিল যাকে আবু সুওয়াইদ আব্দুল কাবি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু আতাহিয়া বলা হতো। তিনি ইলমুল কালামে পারদর্শী এবং বিতর্কে অত্যন্ত কঠোর ছিলেন। কৃপণদের খণ্ডন করে তার লিখিত কিতাব রয়েছে। তার চমৎকার কিছু অর্থবহ পঙক্তি রয়েছে এবং তিনি স্বভাবজাত কবি, রসিক ও কৌতুকপ্রিয় ছিলেন। তার মায়ের শোকে রচিত তার কিছু কবিতা, যদিও এর মূল ভাবটি তার আগেই অন্য কেউ ব্যক্ত করেছেন:মানুষ বলে: সে তার মায়ের কবরকে অবহেলা করেছে … অথচ তার কবর সেই হৃদয় ছাড়া আর কিছু নয় যা ব্যথিত হয়েছেআল্লাহর এই বিশাল জগত আমার কাছে সংকীর্ণ হয়ে গেছে … সেই সন্ধ্যায় যখন তার প্রাণ প্রতিটি প্রশস্ত স্থান ত্যাগ করেছেতার মায়ের সম্পর্কে তার আরও কবিতা:আমার আনন্দ বিলীন হয়েছে, তাই আমার ঘরের আঙিনা … আনন্দহীন হয়ে জনশূন্য হয়ে পড়েছেকীভাবে সেই কবরকে অবহেলা করা যায় যা খোদ অন্তর? … অথবা কীভাবে তাকে বর্জন করা যায়?অন্য কোনো স্থান নয়, বরং আমার অন্তর থেকেই … আমার মাকে হাশরের ময়দানে উঠানো হবেরাজায কবিদের বংশধরগণযাঁরা রাজায কাব্যে বংশানুক্রমিক প্রসিদ্ধ, তাঁরা হলেন রাজজাযগণউকবাহ ইবনে রুবাহ ইবনে আল-আজ্জাজ, এবং রুবাহর বোন হাওমাহ-ও একজন কবি ছিলেন।আবু দাহমান আল-গুলাবি বর্ণনা করেন: আমি এমন একটি মজলিসে উপস্থিত ছিলাম যেখানে বাশার, উকবাহ ইবনে রুবাহ এবং ইবনুল মুকাফফা ছিলেন। তাঁরা আলাপ-আলোচনা ও কবিতা পাঠ করছিলেন। বাশার তাঁদের সামনে তার একটি রাজায কবিতা পাঠ করলেন:হে সেই জনপদের ধ্বংসাবশেষ, যা সমতল ভূমিতে অবস্থিতআল্লাহর কসম! আমাকে বলো, আমার পরে তোমার অবস্থা কেমন ছিল?উকবাহ সেই কবিতায় প্রচুর অপরিচিত শব্দের প্রয়োগ শুনে ক্রুদ্ধ হলেন এবং বললেন: "আমি, আমার পিতা এবং আমার দাদা মানুষের জন্য অপরিচিত শব্দের দ্বার উন্মোচন করেছি, আর আল্লাহর কসম, আমিই এটি তাদের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার যোগ্য।"বাশার বললেন: "আল্লাহ তাদের ওপর রহম করুন।" উকবাহ বললেন: "তুমি কি তাদের তুচ্ছ করছ, অথচ আমি একজন কবির পুত্র এবং তার পিতাও কবি ছিলেন?" তখন বাশার তার সাথে কৌতুক করে বললেন: "তাহলে তুমি তো সেই আহলে বায়তের অন্তর্ভুক্ত, যাদের থেকে আল্লাহ অপবিত্রতা দূর করেছেন এবং তাদের পুরোপুরি পবিত্র করেছেন।"আল-আজ্জাজের আলোচনাআল-আজ্জাজ এবং আবু নাজদ উভয়েই আল-কায়াহ নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। কায়াহ হলো বাহরাইনের নিকটবর্তী বকর বিন ওয়াইলের ভূমি। তিনি হলেন আল-আজ্জাজ ইবনে রুবাহ। তিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি রাজায কাব্যকে দীর্ঘ রূপ দিয়েছিলেন এবং রাজায কবিদের মধ্যে তার অবস্থান ছিল কবিদের মধ্যে ইমরুল কায়েসের মতো। ইউনুসকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "সবচেয়ে বড় কবি কে?" তিনি বললেন: "আল-আজ্জাজ।" বলা হলো: "আমরা রাজায কবিদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করিনি।" তিনি বললেন: "তিনি কাসিদা রচয়িতাদের চেয়েও বড় কবি। কবিতা তো মূলত কথামালা, তাই যার কথা সবচেয়ে সুন্দর সেই সবচেয়ে বড় কবি। আল-আজ্জাজের কবিতার এমন কোনো অংশ নেই যা সম্পর্কে কেউ বলতে পারে যে, এর পরিবর্তে অন্য কিছু হলে আরও সুন্দর হতো।" আল-আজ্জাজ বলেছেন:আল্লাহ দ্বীনকে সুসংহত করেছেন, ফলে তা সুসংহত হয়েছেএটি প্রায় দুইশ পঙক্তির কবিতা এবং এর অন্ত্যমিলগুলো আবদ্ধ (মুকায়্যাদ), যদি এগুলোর অন্ত্যমিল মুক্ত হতো তবে সবই নসব (যবর) যুক্ত হতো।আল-আসমাঈকে শ্রেষ্ঠ রাজায কবি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "আল-ইজলি, তারপর আস-সাদি, তারপর আল-ইজলি, তারপর আস-সাদি।" প্রথম আল-ইজলি দ্বারা তিনি আল-আঘলাবকে, প্রথম আস-সাদি দ্বারা আল-আজ্জাজকে, দ্বিতীয় আল-ইজলি দ্বারা আবু নাজদকে এবং শেষ আস-সাদি দ্বারা সুলাইমান ইবনে রুবাহকে বুঝিয়েছেন।রাজায কবিতাকে 'রাজায' বলা হয় এর ছন্দমাত্রার দ্রুত পর্যায়ক্রমের কারণে। এটি 'ইরতিজায' শব্দ থেকে নেওয়া হয়েছে, যার অর্থ মেঘের একটানা গর্জন। রাজায হলো 'ইয়ারজুযূনা' এবং 'ইয়ারতাজিযূনা'-এর মাসদার বা ক্রিয়ামূল। এর একবচন হলো আরজুযাহ এবং বহুবচন হলো আরাজীয। আবু উবাইদাহ বলেন: আল-আজ্জাজ জাহেলিয়াত যুগে তার রাজাযের কিছু পঙক্তি রচনা করেছিলেন এবং তিনি সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিকের শাসনকাল পাননি। আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান তাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন: "আপনি কি কুৎসা বা নিন্দা (হিজা) করতে পারেন?" তিনি বললেন: "আমাদের এমন ধৈর্য আছে যা আমাদের জুলুম করতে বাধা দেয়, আর এমন সম্মান আছে যা আমাদের ওপর জুলুম হতে বাধা দেয়।"
(খণ্ড: ১)
আল-মুযাকারাতু ফী আলকাবিশ শুআরা
(পৃষ্ঠা: ২৮)
وكان العجاج يرى المتعة بغير شاهد. وقيل: إنه قدم إلى والي اليمامة إمرأة، ادعى تزويجها، فأنكرت المرأة، فسأله البينة، فأنشد:وفالقِ الحبِّ، وفلاقِ النوىلقد مددنا أيدياً تحتَ الدجىتحت. . . الليلِ، والليلُ يرىصفتاً، وكلٌ معجبٌ بما اشترىوله يهجو بنيه:إنَّ بنيَّ للئامٌ زهدهْما عندهمْ لأحدٍ من موددهْإلاّ كودِّ مسدٍ لقرمدهْفقال ولده رؤبة يجيبه:عجاجُ ما كنتَ بأرضٍ مأسدهْإنَّ بنيكَ لكرامٌ مجدهْولو دعوتَ، لأتوكَ حفدهْالاحتفاد: السرعة، والحفد في الخدمة.وقيل: إن العجاج استقرض من بنته حومة بكراً، فمطلها به سنة وشهراً، وكان له جمل، يقال له جوجله، فسألته حومة أن يدفع إليها ذلك الجمل، بدلاً من بكرها، فقال العجاج:قد أقرضتْ حومةُ قرضاً عسراثمَّ تعدتْ بازلاً ضبطراحوجلة القبعثري الدمثراالدمثر: الكبير الفم.فأجابته حومة:يا أبتي زادكَ ربِّ وفراوزادَ في عمركَ، أيضاً، عمرابعد نسائي سنةً وشهراتمتعني حوجلةَ الدمثراوقال العجاج:والشمسُ قد كادتْ تكونُ دنفاأدفعها بالراحِ كي تزحلفا دنفا: تموت، أو تصفر للغروب. وتزحلف: تنحى وقال الآخر:تنورتها من أذرعاتٍ، وأهلها … بيثربَ، أدنى، أدنى دارها نظرٌ عالِتنورتها: رأيت نارها.ومثله:أليسَ بصيراً من يرى، وهو قاعدٌ … بمكةَ، أهلَ الشامِ يختبزوناقال بعضهم: رأى أهل الشام بمكة وهم يختبزون.وقال إبن شبة: إجتمع على باب عبد العزيز كثير والعجاج ونصيب، فأبطأت عليهم جوائزهم، فأرادوا تحريكة، فقال كثير في ذلك:ولقدْ علمتَ، وأنتَ تعلمهُ … أنَّ العطاءَ يشينهُ الحبسُوقال العجاج:إني امرؤٌ قد ثبتتْ فراستيفأنجزنَّ، يا هديتَ، حاجتيوقال نصيب:حتى متى حاجةٌ، لو شئتَ، قد قضيتْ … محبوسةٌ ما لها وردٌ ولا صدرُويروى أن العجاج أنشد سليمان بن عبد الملك، وعمر بن عبد العزيز حاضر قوله:يا خيرَ نفسٍ خرجتْ من نفسِخرجتَ بينَ قمرٍ وشمسِومما يشبه هذا أن كعب بن زهير أشد أبا بكر، رضي الله عنه، قصيدة زهير، فلما بلغ إلى قوله:لو كنتَ من شيءٍ سوى بشرٍ … كنتَ المنورَ ليلةَ القدرِوالستر دون الفاحشاتِ، ولا … يلقاكَ، دونَ الخيرِ، من سترِفذرفت عينا أبي بكر، وقال: هكذا كان رسول الله صلى الله عيه وسلم.ذكر رؤية بن العجاجكان يكنى أبا الجحاف، وكان رجلاً كاملاً، وكان أبوه تزوج امرأة غير أمه، اسمها عقرب، فولدت له أولاداً، كان يؤثرهم على رؤبة، ويهب لهم الشيء بعد الشيء من الإبل والغنم وغير ذلك. فقال رؤبة: إن هذه الإبل أنا اكتسبتها لأبي، وما زلت أذب عنها، وأدور معها الغمرات، وأتبع بها الأرياف أرعاها، ويأخذها أبي ويعطيها لمن لا تعب فيها. فأخبر بذلك العجاج فقال:لطالما أجرى أبو الجحافِلفرقةٍ، طويلةِ التجافيلما رآني أرعشتْ أطرافيوقد مشيتُ مشيةَ الدلافِكان مع الشيبِ من الدفافِإستعجلَ الدهرَ، وفيه كافِيخترمُ الألفَ مع الألافِليسَ كذاكَ ولدُ الأشرافِوهو عليكَ واسعُ العطافِفلما سمع رؤبة شعر أبيه خرج إلى رعاء إبله، وقال: هو أعلم بالشعر مني، فاسمعوا ما أقول، فان كان شعراً فأنا شاعر، وإن لم يكن شعراً أقبلت على رعاء الإبل، فقالوا: هات ما سنح لك، فقال:إنكَ لم تنصفْ أبا الحجافِوكان يرضى منكَ بالإنصافِفليتَ حظي من جداكَ الضافيكفافِ، إنْ تتركني، كفافِقالوا: والله أحسنت، وسلكت طريق الشعراء، وما أبوك بأشعر منك.قال: فوالله، لا أتبع ذنب بعير أبداً. وسمع أبوه فخرج إليه، وقال له: خدعك الشيطان، هات ما قلت، فوالله لأنت عندي أوغد من أن تقول شعراً، فأنشده، فقال: اشهدوا، إن أمر زوجتي عقرب بيده، قال: فاشهدوا إنها طالق من أبي، ثم عكف عليه.
আল-আজাজ সাক্ষী ব্যতীত মুতআ বা সাময়িক বিবাহকে বৈধ মনে করতেন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি ইয়ামামার শাসনকর্তার কাছে এক নারীকে নিয়ে আসলেন এবং দাবি করলেন যে তিনি তাকে বিবাহ করেছেন। কিন্তু নারীটি তা অস্বীকার করল। শাসনকর্তা তার কাছে প্রমাণ চাইলেন, তখন তিনি এই কবিতা আবৃত্তি করলেন:শস্যদানা ও আঁটি বিদীর্ণকারীর শপথ!নিশ্চয়ই আমরা অন্ধকারের নিচে হাত প্রসারিত করেছিরাত্রির আঁধারের নিচে... যখন রাত্রি দেখছিলসারিবদ্ধভাবে, আর প্রত্যেকেই যা ক্রয় করেছে তাতে মুগ্ধ।তিনি তার সন্তানদের নিন্দা করে আরও বলেন:নিশ্চয়ই আমার সন্তানরা নীচ ও কৃপণকারোর প্রতি তাদের কোনো ভালোবাসা নেইপাথর দিয়ে গাঁথা প্রাচীরের প্রীতির মতো ছাড়া।তখন তার পুত্র রু'বাহ উত্তর দিয়ে বললেন:হে আজাজ, আপনি তো এমন কোনো ভূমিতে ছিলেন না যা সিংহসঙ্কুলনিশ্চয়ই আপনার সন্তানরা মহৎ ও সম্মানিতযদি আপনি ডাকতেন, তবে তারা দ্রুত আপনার কাছে ছুটে আসত।আল-ইহতিফাদ: দ্রুত গতি, আর খিদমতের ক্ষেত্রে তৎপর হওয়া।বলা হয়ে থাকে যে, আল-আজাজ তার কন্যা হাউমার কাছ থেকে একটি মাদী উট ঋণ নিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি এক বছর এক মাস পর্যন্ত তা পরিশোধ করতে বিলম্ব করেন। তার একটি উট ছিল যাকে 'জাওজালা' বলা হতো। হাউমা তার কাছে আবেদন করল যেন তার মাদী উটের পরিবর্তে তাকে সেই উটটি দেওয়া হয়। তখন আল-আজাজ বললেন:হাউমা তো এক কঠিন ঋণ প্রদান করেছেঅতঃপর সে এক শক্তিশালী ও সুঠাম উটের ওপর চড়াও হয়েছেবিশাল দেহের বড় মুখবিশিষ্ট জাওজালা।আদ-দামসার: বড় মুখবিশিষ্ট।তখন হাউমা তাকে উত্তর দিল:হে পিতা, আমার প্রতিপালক আপনার প্রাচুর্য বাড়িয়ে দিনআপনার আয়ুও আরও দীর্ঘ করে দিনএক বছর এক মাস অতিবাহিত হওয়ার পরআপনি কি আমাকে বিশাল মুখের জাওজালা দিয়ে শান্ত করতে চান?আল-আজাজ আরও বলেছেন:সূর্য প্রায় মুমূর্ষু হয়ে পড়েছিলআমি হাত দিয়ে তাকে ঠেলছিলাম যাতে সে সরে যায়। দানফা: মরে যাওয়া, অথবা সূর্যাস্তের সময় হলুদ বর্ণ ধারণ করা। আর তাজুহলাফা: সরে যাওয়া। অন্য একজন বলেছেন:আমি আদরিআত থেকে তার জ্বালানো আগুন দেখেছি, যখন তার পরিবার… ইয়াসরিবে ছিল, তার ঘর কাছে হওয়া সত্ত্বেও এক উঁচু স্থান থেকে তা দেখা যাচ্ছিল।তানাওওয়ারতুহা: আমি তার আগুন দেখেছি।এর অনুরূপ আরও বর্ণিত হয়েছে:সে কি চক্ষুষ্মান নয় যে মক্কায় বসে দেখে… সিরিয়ার অধিবাসীরা রুটি তৈরি করছে?কেউ কেউ বলেছেন: তিনি মক্কায় অবস্থানকালেই সিরিয়ার লোকদের রুটি তৈরি করতে দেখেছিলেন।ইবনে শাব্বাহ বলেছেন: আব্দুল আজিজের দরজায় কুসাইয়ির, আল-আজাজ এবং নুসাইব একত্রিত হলেন। তাদের পুরস্কার পেতে বিলম্ব হচ্ছিল, তাই তারা তাকে সজাগ করতে চাইলেন। এ বিষয়ে কুসাইয়ির বললেন:তুমি নিশ্চয়ই জেনেছ এবং তুমি তা জানো… যে দানকে আটকে রাখা তাকে কলঙ্কিত করে।আল-আজাজ বললেন:আমি এমন এক ব্যক্তি যার দূরদর্শিতা সুপ্রতিষ্ঠিতঅতএব আমার প্রয়োজন পূরণ করুন, হে হিদায়াতপ্রাপ্ত!নুসাইব বললেন:আর কতদিন এমন প্রয়োজন ঝুলে থাকবে, যা আপনি চাইলে পূর্ণ হয়ে যেত… যা অবরুদ্ধ হয়ে আছে, যার আসার বা যাওয়ার কোনো পথ নেই।বর্ণিত আছে যে, আল-আজাজ সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিকের সামনে আবৃত্তি করেছিলেন, তখন উমর ইবনে আব্দুল আজিজ সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেছিলেন:হে সর্বোত্তম সত্তা যা অন্য সত্তা থেকে নির্গত হয়েছেআপনি চন্দ্র ও সূর্যের মধ্যভাগ থেকে বের হয়েছেন।এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ একটি ঘটনা হলো যে, কাব ইবনে যুহাইর আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সামনে যুহাইরের কাসিদা পাঠ করেছিলেন। যখন তিনি এই চরণে পৌঁছালেন:আপনি যদি মানুষ ছাড়া অন্য কিছু হতেন… তবে আপনি লাইলাতুল কদরের আলোকবর্তিকা হতেন।অশ্লীলতার সামনে আপনি এক আবরণ, আর আপনার কল্যাণের পথে… কোনো প্রতিবন্ধক পর্দা নেই।তখন আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর চোখ অশ্রুসিক্ত হলো এবং তিনি বললেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এমনই ছিলেন।রু'বাহ বিন আল-আজাজ-এর আলোচনাতার ডাকনাম ছিল আবু আল-জাহহাফ। তিনি একজন পরিপূর্ণ মানুষ ছিলেন। তার পিতা তার মাতা ব্যতীত অন্য এক নারীকে বিবাহ করেছিলেন যার নাম ছিল আকরাব। সেই স্ত্রীর গর্ভে তার আরও সন্তান জন্ম নেয়। আল-আজাজ তাদেরকে রু'বাহর ওপর প্রাধান্য দিতেন এবং তাদেরকে একের পর এক উট ও বকরি দান করতেন। তখন রু'বাহ বললেন: এই উটগুলো আমি আমার পিতার জন্য অর্জন করেছি, আমি সবসময় এগুলো পাহারা দিয়েছি, বিপদসঙ্কুল পথে এগুলোর সাথে ঘুরেছি এবং চারণভূমির খোঁজে প্রান্তরে প্রান্তরে ঘুরেছি। অথচ আমার পিতা এগুলো গ্রহণ করে তাদেরকে দিয়ে দিচ্ছেন যাদের এতে কোনো পরিশ্রম নেই। আল-আজাজকে এ কথা জানানো হলে তিনি বললেন:আবু আল-জাহহাফ দীর্ঘকাল ধরে চালনা করেছেনদীর্ঘ বিচ্ছেদের পর সেই দলের জন্যযখন তিনি দেখলেন আমার হাত-পা কাঁপছেআর আমি বৃদ্ধের মতো ধীরপায়ে হাঁটছিবার্ধক্যের সাথে সাথে যখন দৌর্বল্য এসেছেকাল যেন ত্বরান্বিত হচ্ছে, যদিও তাতে যথেষ্ট সময় ছিলহাজারো মানুষের মাঝ থেকে সে হাজার হাজার লোককে কেড়ে নিচ্ছেঅভিজাত বংশজাত সন্তান এমন হয় নাঅথচ তোমার ওপর তার অনুগ্রহ অনেক প্রশস্ত।রু'বাহ যখন তার পিতার কবিতা শুনলেন, তখন তিনি তার উটচালকদের কাছে গেলেন এবং বললেন: তিনি আমার চেয়ে কবিতা বিষয়ে অধিক জ্ঞান রাখেন। আমি যা বলি তা শোনো, যদি তা কবিতা হয় তবে আমি কবি, আর যদি কবিতা না হয় তবে আমি উট চরানোর কাজে ফিরে যাব। তারা বলল: আপনার মনে যা এসেছে তা পেশ করুন। তিনি বললেন:নিশ্চয়ই আপনি আবু আল-জাহহাফের প্রতি ইনসাফ করেননিঅথচ তিনি আপনার পক্ষ থেকে সামান্য ইনসাফেই সন্তুষ্ট হতেনআপনার বিশাল দান থেকে আমার প্রাপ্য যদি হতোপর্যাপ্ত; যদি আপনি আমাকে ছেড়ে দিতেন, তবে তাই হতো পর্যাপ্ত।তারা বলল: আল্লাহর শপথ, আপনি চমৎকার বলেছেন এবং কবিদের পথই অনুসরণ করেছেন। আপনার পিতা আপনার চেয়ে বড় কবি নন।তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ, আমি আর কখনোই উটের পেছনে ঘুরব না। তার পিতা এ কথা শুনতে পেয়ে তার কাছে বেরিয়ে আসলেন এবং বললেন: শয়তান তোমাকে ধোঁকা দিয়েছে। তুমি যা বলেছ তা আমাকে শোনাও। আল্লাহর শপথ, আমার দৃষ্টিতে তুমি কবিতা বলার যোগ্যতার চেয়েও তুচ্ছ। অতঃপর রু'বাহ তাকে কবিতা শোনালেন। তখন আল-আজাজ বললেন: তোমরা সাক্ষী থাকো, আমার স্ত্রী আকরাবের বিষয়টি এখন রু'বাহর হাতে ন্যস্ত। রু'বাহ বললেন: আপনারা সাক্ষী থাকুন যে, সে আমার পিতার পক্ষ থেকে তালাকপ্রাপ্তা। অতঃপর তিনি পিতার প্রতি অনুগত হয়ে তার সেবা করতে লাগলেন।
(খণ্ড: ১)
আল-মুযাকারাতু ফী আলকাবিশ শুআরা
(পৃষ্ঠা: ২৯)
قال: وبلغ العجاج أن رؤبة قال: أنا أشعر من أبي، فقال له أبوه أنت أشعر مني؟ قال: نعم، قال: ومن أين أتاك ذلك؟ قال: من حيث أتاك، إنك أشعر من أبيك رؤبة، فسكت.وتنازعا معاً بحضرة عبد الملك بن مروان في قول:وقاتمِ الأعماقِ خاوي المخترقْوكانت لرؤبة دون العجاج، فأخذها العجاج ثم أنشدها لعبد الملك، وأخذ جائزتها، فقال رؤبة لأبيه: ما أنشدت أمير المؤمنين؟ فقال:وقاتم الأعماقِ خاوي المخترقْفقال: والله لقد سرقت شعري، ولست أفارقك أو تدفع إلي جائزتها، وإلا بيني وبينك عبد الملك. فرجعا إلى عبد الملك، فقال رؤبة: يا أمير المؤمنين، إن أبي سرق قصيدتي، وأنشدكها. فجحد أبوه أنها لولده، وقال: هي لي دونه، وأنا قائلها. فقال له: خل عن أبيك، فقد جاء عن رسول الله، صلى الله عليه وسلم أنه قال: " إن أحل، ما أكل الرجل من كسبه، وإن ولده من كسبه ". فلا ضير إن اكتسب أبوك بشعرك. فأغاظ العجاج ما صنعه به ابنه رؤبة، فقال له: إن قلت وادعيته لنفسي، فأنا شاعر. فقال: إن كنت شاعراً فلست ابن شاعر، وأنا شاعر إبن شاعر. فأنشأ العجاج يقول:يردُّ عليَّ الشعرَ منْ أمهُ … ثلاثينَ عرداًً في ثلاثِ ليالِفأجابه رؤبة:فقد جدي جدتي، باابنَ جدتي … ثمانينَ عرداً في ثلاثِ ليالِفضحك عبد الملك حتى علا صوته، وأجازه كما أجاز أباه.ومات رؤبة سنة خمس وأربعين ومائة. وفي اسمه لغات: روبة، غير مهموز، ورؤبة مهموز، وروبة بفتح الراء. وسئل يونس عن رؤبة المهموزة، قال: هي قطعة من خشب، يرأب بها القدح والجفنة. ورؤبة الفرس جماعه.ورؤبة الليل: ساعة منه. ورجل رائب، ورجال روبى: تعني النعاس. ويقال: فلان لا يقوم برؤبة أهله: أي لا يقوم بما يسندون إليه من حوائجهم. ويقال: روب لبنك برؤبة، أي بخميرة تدرك بها اللبن.قال الأصمعي: حدثنا رؤبة قال: دخل علي ذو الرمة، فسمع قولي فسرق أول أرجوزتي.قال الأصمعي: دخلنا على أبي عمرو بن العلاء، فقال: سمعت رؤبة يقول: دخلت على أبي مسلم، بعد قتل مروان، وهو في بهو له بالشام، فسلمت عليه، فرد السلام وقال: أنشدني قصيدتك التي في وصف البعير، فقلت: بل أنشد مدحي فيك، وأنشأت أقول:ما زالَ يأتي الأمرَ من أقطارهِعلى اليمينِ، وعلى يسارهِمشمرٌ لا يصطلي بنارهِحتى أقرَّ الملكَ في قرارهِفقال: ويحك أنشدني ما قلت لك أولاً، فقلت:خفضتَ بيتاً ورفعتَ بيتافي الأكرمين من قريشَ بيتافقال: ويحك أنشدني ما قلت لك أولاً، فقلت:ما زال يبني خندقاً ويهدمهْوعسكراً يشرعهُ فيهزمهْومغنماً يجمعهُ فيقسمهْمروانُ لما غرهُ منجمهْفقال ويحك أنشدني:وقاتمِ الأعماقِ خاوي المخترقْفأنشدته، فلما انتهيت إلى قولي:ترمي الجلاميدَ بجلمودٍ مدقْقال: قاتلك الله لقد صليت حافره. ثم دعا وصيفاً له وأسر إليه شيئاً. فقمت والوصيف في الباب، فأعطاني ألف دينار.ومن معاني رؤبة:قد رفعَ العجاجُ ذكري فادعنيباسمٍ، إذا الأسماءُ طالتْ، يكفنيوهذا المعنى من قول الآخر يمدح قيس بن معدي كرب:قيسٌ أبو الأشعث بطريقُ اليمنْلا يسألُ السائلُ عنه ابن منْوأخذ هذا المعنى دعبل فقال:إذا تسميتَ فذاكَ نسبيولستُ أحتاجُ إلى ذكرِ أبيومن أخبار رؤبة قال الأصمعي: إن رؤبة قال: كانت لي حاجة إلى بعض عمان السلطان، فاستشفعت ببعض أهل البصرة وبالشعر فلم تنجح، فرشوت فنلت حاجتي، فقلت:لما رأيتُ الشعراءَ بلدواوسألوا أميرهم فأنكدواهزمتهم برشوةٍ فأقردوافسهلَ الله بها ما شددواوشبيه بهذا قول الأعرابي:وكنتُ إذا أخصمتُ خصماً كبيتهُ … على الوجهِ، حتى خاصمتني الدراهمُفلما تنازعنا الخصومةَ صدقتْ … عليَّ، وقالوا: قمْ فانكَ ظالمُوكان دعبل إذا أنشد هذا البيت:عليَّ، وقالوا: قمْ فانكَ ظالمُيصيح صيحة قوية في قوله: قم. فقيل له: لم تصيح؟ فقال: كذا صاحوا علي لما قالوا: قم.
বর্ণিত আছে যে: আজ্জাজ সংবাদ পেলেন যে রু'বা বলেছে: "আমি আমার পিতার চেয়ে বড় কবি।" তখন তার পিতা তাকে বললেন: "তুমি কি আমার চেয়ে বড় কবি?" সে বলল: "হ্যাঁ।" তিনি বললেন: "তুমি তা কোথা থেকে পেলে?" সে বলল: "যেখান থেকে আপনি পেয়েছেন; নিশ্চয়ই আপনি আপনার পিতা রু'বার চেয়ে বড় কবি।" তখন তিনি চুপ হয়ে গেলেন।তারা উভয়ে আব্দুল মালিক ইবন মারওয়ানের উপস্থিতিতে এই চরণের বিষয়ে বিতর্কে লিপ্ত হলেন:এক অন্ধকার গভীর মরুভূমি যার পথচিহ্ন বিলীনএটি মূলত রু'বার ছিল, আজ্জাজের নয়। আজ্জাজ তা গ্রহণ করে আব্দুল মালিকের নিকট আবৃত্তি করলেন এবং তার পুরস্কার গ্রহণ করলেন। তখন রু'বা তার পিতাকে বলল: "আপনি আমিরুল মুমিনীনকে কী শুনিয়েছেন?" তিনি বললেন:এক অন্ধকার গভীর মরুভূমি যার পথচিহ্ন বিলীনতখন সে বলল: "আল্লাহর কসম, আপনি আমার কবিতা চুরি করেছেন। আমি আপনাকে ছেড়ে দেব না যতক্ষণ না আপনি আমাকে এর পুরস্কার দিয়ে দেন, অন্যথায় আমার ও আপনার মাঝে ফয়সালা করবেন আব্দুল মালিক।" অতঃপর তারা আব্দুল মালিকের কাছে ফিরে গেলেন। রু'বা বলল: "হে আমিরুল মুমিনীন, আমার পিতা আমার কাসিদা চুরি করেছেন এবং তা আপনাকে শুনিয়েছেন।" তখন তার পিতা অস্বীকার করলেন যে এটি তার ছেলের, বরং বললেন: "এটি তারই পরিবর্তে আমার, এবং আমিই এর রচয়িতা।" তখন তিনি (আব্দুল মালিক) তাকে বললেন: "তোমার পিতাকে ছেড়ে দাও, কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: 'নিশ্চয়ই মানুষ যা ভক্ষণ করে তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো তার নিজের উপার্জন, আর তার সন্তানও তার উপার্জনের অন্তর্ভুক্ত।' সুতরাং তোমার পিতা যদি তোমার কবিতার মাধ্যমে উপার্জন করেন তবে তাতে কোনো ক্ষতি নেই।" এতে আজ্জাজ তার পুত্র রু'বার কর্মকাণ্ডে রাগান্বিত হলেন এবং তাকে বললেন: "যদি আমি কোনো কবিতা বলি এবং তা নিজের বলে দাবি করি, তবে আমিই কবি।" সে বলল: "আপনি যদি কবিও হন, তবে আপনি কবির পুত্র নন, আর আমি কবির পুত্র কবি।" তখন আজ্জাজ বলতে শুরু করলেন:সে আমার কবিতা আমার ওপর ফিরিয়ে দিচ্ছে যার মা … ত্রিশটি বছর তিন রাত্রির মাঝেতখন রু'বা তাকে উত্তর দিল:আমার দাদা আমার দাদিকে হারিয়েছেন, হে আমার দাদির পুত্র … আশিটি বছর তিন রাত্রির মাঝেএতে আব্দুল মালিক উচ্চস্বরে হেসে উঠলেন এবং তাকেও তার পিতার ন্যায় পুরস্কৃত করলেন।রু'বা একশত পঁয়তাল্লিশ হিজরি সালে ইন্তেকাল করেন। তার নামের উচ্চারণে ভিন্নতা রয়েছে: 'রুবা' (হামযা ছাড়া), 'রু'বা' (হামযা সহ), এবং র-বর্ণে ফাতহা দিয়ে 'রাউবা'। ইউনুসকে হামযা যুক্ত 'রু'বা' সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: এটি কাঠের একটি টুকরো যা দিয়ে পেয়ালা ও বড় পাত্র মেরামত করা হয়। আর ঘোড়ার 'রু'বা' হলো তাদের দল।আর রাতের 'রু'বা' হলো তার একটি প্রহর। 'রায়েব' ব্যক্তি এবং 'রওবা' পুরুষ বলতে তন্দ্রাচ্ছন্নতা বোঝায়। বলা হয়ে থাকে: অমুক ব্যক্তি তার পরিবারের 'রু'বা' পূরণ করতে পারে না, অর্থাৎ তারা তার ওপর যে সব প্রয়োজনের দায়িত্ব অর্পণ করে তা সে পালন করতে পারে না। আরও বলা হয়: 'রওবিব লাবানাকা বি-রু'বাতিন', অর্থাৎ তোমার দুধকে সেই জমানো অবশিষ্টাংশ দিয়ে দই বানাও যা দিয়ে দুধ দইয়ে পরিণত হয়।আসমাঈ বলেন: রু'বা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: যু-রুম্মাহ আমার কাছে এলেন এবং আমার কথা শুনলেন, অতঃপর তিনি আমার প্রথম উরজুযাহ চুরি করলেন।আসমাঈ বলেন: আমরা আবু আমর ইবনুল আলা-এর কাছে প্রবেশ করলাম। তিনি বললেন: আমি রু'বাকে বলতে শুনেছি: মারওয়ান নিহত হওয়ার পর আমি আবু মুসলিমের কাছে প্রবেশ করলাম, তখন তিনি সিরিয়ায় তার এক প্রাসাদে ছিলেন। আমি তাকে সালাম দিলাম, তিনি সালামের উত্তর দিলেন এবং বললেন: "তোমার সেই কাসিদাটি আমাকে শোনাও যাতে উটের বর্ণনা রয়েছে।" আমি বললাম: "বরং আপনার প্রশংসায় আমার রচিত কবিতা শুনুন।" আমি বলতে শুরু করলাম:বিষয়গুলো আসতেই থাকে তার প্রান্তসমূহ থেকেডানে এবং তার বামেসে তৎপর, তার অগ্নিতে কেউ দগ্ধ হয় নাযতক্ষণ না সে রাজত্বকে তার স্থানে সুপ্রতিষ্ঠিত করলতিনি বললেন: "আফসোস তোমার জন্য! আমি প্রথমে তোমাকে যা বলতে বলেছি তা শোনাও।" আমি বললাম:আপনি একটি ঘরকে নিচু করেছেন এবং একটি ঘরকে উঁচু করেছেনকুরাইশদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিতদের মাঝে একটি ঘরকেতিনি বললেন: "আফসোস তোমার জন্য! আমি প্রথমে তোমাকে যা বলতে বলেছি তা শোনাও।" আমি বললাম:সে সর্বদা পরিখা খনন করে এবং তা ধ্বংস করেএবং যে বাহিনীকে সে পরিচালনা করে তাকে পরাজিত করেএবং যে সম্পদ সে সংগ্রহ করে তা বণ্টন করে দেয়মারওয়ান যখন তার জ্যোতিষীর কথায় প্রতারিত হলোতিনি বললেন: "আফসোস তোমার জন্য! আমাকে শোনাও:এক অন্ধকার গভীর মরুভূমি যার পথচিহ্ন বিলীনঅতঃপর আমি তা পাঠ করলাম। যখন আমি আমার এই চরণে পৌঁছলাম:সে বড় পাথরগুলোকে চূর্ণকারী পাথর দিয়ে নিক্ষেপ করেতখন তিনি বললেন: "আল্লাহ তোমাকে ধ্বংস করুন! তুমি তো বর্ণনায় চরম উৎকর্ষ সাধন করেছ।" অতঃপর তিনি তার এক ভৃত্যকে ডাকলেন এবং কানে কানে কিছু বললেন। আমি উঠে দাঁড়ালাম এবং ভৃত্যটি দরজায় ছিল, সে আমাকে এক হাজার দিনার প্রদান করল।আর রু'বার অর্থের অন্তর্ভুক্ত হলো:আজ্জাজ আমার খ্যাতিকে সুউচ্চ করেছেন, তাই আমাকে ডাকোএমন নামে যা নাম দীর্ঘ হলেও আমার জন্য যথেষ্ট হয়এই অর্থটি অন্য একজনের কথা থেকে নেওয়া হয়েছে যিনি কায়েস ইবন মা'দী কারিবের প্রশংসা করে বলেছিলেন:কায়েস হলেন আবুল আশ'আস, ইয়েমেনের সেনাপতিকোনো সাহায্যপ্রার্থী তাকে জিজ্ঞাসা করে না যে সে কার পুত্রদি'বিল এই অর্থটি গ্রহণ করে বলেছিলেন:যখন তুমি আমার নাম গ্রহণ করবে, তবে সেটিই আমার বংশপরিচয়আমার পিতার নাম উল্লেখ করার প্রয়োজন আমার নেইরু'বার সংবাদ থেকে আসমাঈ বর্ণনা করেন: রু'বা বলেছেন: সরকারের জনৈক কর্মকর্তার কাছে আমার একটি প্রয়োজন ছিল। আমি বসরার কিছু লোকের সুপারিশ এবং কবিতার আশ্রয় নিলাম কিন্তু তা সফল হলো না। অতঃপর আমি ঘুষ দিলাম এবং আমার প্রয়োজন পূর্ণ হলো। তখন আমি বললাম:যখন আমি দেখলাম যে কবিরা মন্থর হয়ে গেছেএবং তারা তাদের আমীরের কাছে প্রার্থনা করে ব্যর্থ হয়েছেআমি তাদের ঘুষের মাধ্যমে পরাজিত করেছি ফলে তারা হতভম্ব হয়ে গেছেআল্লাহ তার মাধ্যমে সহজ করে দিয়েছেন যা তারা কঠিন করেছিলএর সদৃশ হলো এক বেদুইনের কথা:আমি যখনই কোনো প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করতাম, তাকে ধরাশায়ী করতাম … তার মুখের ওপর, যতক্ষণ না দিরহামগুলো আমার সাথে বিবাদে লিপ্ত হলো।যখন আমরা বিবাদে লিপ্ত হলাম, তখন তারা আমার বিরুদ্ধে … সত্য সাক্ষ্য দিল এবং তারা বলল: উঠে যাও, নিশ্চয়ই তুমি জালিম।দি'বিল যখন এই চরণটি আবৃত্তি করতেন:আমার বিরুদ্ধে, এবং তারা বলল: উঠে যাও, নিশ্চয়ই তুমি জালিম।তখন তিনি "উঠে যাও" কথাটিতে বিকট চিৎকার করতেন। তাকে বলা হলো: "আপনি চিৎকার করছেন কেন?" তিনি বললেন: "তারা আমার ওপর এভাবেই চিৎকার করেছিল যখন তারা বলেছিল: 'উঠে যাও'।"