(খণ্ড: ১)
ইলমুল ফারায়িদি ওয়াল মাওয়ারীছ ফিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল কানুনুস সুরী
(পৃষ্ঠা: -)
علم الفرائض والمواريث في الشريعة الإسلامية والقانون السوري القسم: الفرائض والوصايا
الكتاب: علم الفرائض والمواريث في الشريعة الإسلامية والقانون السوري
المؤلف: محمد خيري المفتي
الناشر: -
الطبعة: -
عدد الصفحات: 384
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ইসলামি শরিয়ত ও সিরীয় আইনে ইলমুল ফারায়েজ ও মিরাস বিভাগ: ফারায়েজ ও অসিয়ত
বই: ইসলামি শরিয়ত ও সিরীয় আইনে ইলমুল ফারায়েজ ও মিরাস
লেখক: মুহাম্মদ খাইরি আল-মুফতি
প্রকাশক: -
সংস্করণ: -
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮৪
[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ইলমুল ফারায়িদি ওয়াল মাওয়ারীছ ফিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল কানুনুস সুরী
(পৃষ্ঠা: ১)
مقدمات
مقدمة بقلم الأستاذ مرشد عابدين…بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة: بقلم الأستاذ مرشد عابدين
رئيس الغرفة الشرعية في محكمة النقض سابقا
نائب رئيس محكمة النقض في الجمهورية العربية السورية
سابقا
الحمد لله بلا نهاية والآخر بلا نهاية والصلاة والسلام على خير خلق الله خاتم الأنبياء والمرسلين معلم الخير المبعوث رحمة للعالمين وعلى آله وصحبه وعلى سائر الأنبياء والمرسلين وعلى آله وصحبه ومن تبعهم أجمعين.
وبعد فقد درج السلف الصالح في كتبهم وتصانيفهم في كتابه العبارات المختصرة ووضع الألفاظ الدالة على واسع المعنى، ولا غرابة في ذلك فالفصحى سليقتهم فهم الصحابة والتابعون والمجتهدون والفقهاء العاملون، ناذرين أنفسهم لخدمة العلم غير عابئين بحطام الدنيا الفانية ذاكراين قوله تعالى: {إِنَّ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَاخْتِلَافِ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ لَآَيَاتٍ لِأُولِي الْأَلْبَابِ، الَّذِينَ يَذْكُرُونَ اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِهِمْ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلْقِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ رَبَّنَا مَا خَلَقْتَ هَذَا بَاطِلًا سُبْحَانَكَ فَقِنَا عَذَابَ النَّارِ} مرددين القول المأثور: "العلم في الصدور لا في السطور ومن حفظ حجة على من لم يحفظ" فكانت حلقات العلم والمعرفة تعقد متتابعة مستمرة في المساجد والمدارس والدور الموقوفة لها للتعلم والتعليم، فتخرج من هذه الحلقات كبار العلماء في جميع العلوم والفنون كالتفسير والفقه واللغة والرياضيات وعلم الطبيعة والفلسفة وغير ذلك.
إلا أن همة الخلف وعزيمتهم كلت وضعفت فاجتهد العلماء المتأخرون وأوضحوا ما ألفه المتقدمون فكتبوا الشروح ثم خلف من بعدهم
ভূমিকাউস্তাদ মুরশিদ আবিদিন কর্তৃক লিখিত ভূমিকা...পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে
ভূমিকা: উস্তাদ মুরশিদ আবিদিন কর্তৃক লিখিত
কোর্ট অব ক্যাসেশনের শরীয়াহ কক্ষের সাবেক প্রধান
সিরিয়ান আরব প্রজাতন্ত্রের কোর্ট অব ক্যাসেশনের সাবেক
ভাইস প্রেসিডেন্ট
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যাঁর কোনো শুরু নেই এবং যাঁর কোনো শেষ নেই। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সত্তা, নবী ও রাসূলগণের সিলমোহর, কল্যাণের শিক্ষক, বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরিত মহাপুরুষের প্রতি এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবাগণের প্রতি, আর অন্যান্য সকল নবী ও রাসূলগণের প্রতি এবং তাঁদের পরিবারবর্গ, সাহাবাগণ ও তাঁদের অনুসারী সকলের প্রতি।
অতঃপর, সালাফে সালেহীন তাঁদের গ্রন্থ ও সংকলনগুলোতে সংক্ষিপ্ত বাক্য ব্যবহার এবং ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ প্রয়োগের নীতি অনুসরণ করতেন। এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ প্রাঞ্জল ভাষা ছিল তাঁদের মজ্জাগত। তাঁরা ছিলেন সাহাবী, তাবেয়ী, মুজতাহিদ এবং আমলকারী ফকীহগণ। তাঁরা নশ্বর দুনিয়ার তুচ্ছ আসবাবের প্রতি ভ্রূক্ষেপ না করে ইলমের খিদমতে নিজেদের উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁরা মহান আল্লাহর এই বাণী স্মরণ করতেন: "নিশ্চয় আসমান ও জমিনের সৃষ্টিতে এবং রাত ও দিনের পরিবর্তনে বুদ্ধিমানদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে; যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং আসমান ও জমিনের সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা করে (এবং বলে): 'হে আমাদের রব, আপনি এসব অনর্থক সৃষ্টি করেননি, আপনি অতি পবিত্র, সুতরাং আপনি আমাদের আগুনের আযাব থেকে রক্ষা করুন'।" তাঁরা এই প্রবাদটি বারবার বলতেন: "ইলম থাকে অন্তরে, কাগজের পাতায় নয়; আর যে ব্যক্তি মুখস্থ করে, সে তার উপরে প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয় যে মুখস্থ করেনি।" ফলে মসজিদ, মাদরাসা এবং শিক্ষা ও পাঠদানের জন্য উৎসর্গকৃত ঘরগুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে ইলম ও মারেফতের হালকা (বৈঠক) বসত। এই হালকাগুলো থেকে তাফসীর, ফিকহ, ভাষা, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, দর্শন এবং অন্যান্য সকল শাখা ও বিদ্যায় মহান পণ্ডিতগণ তৈরি হতেন।
তবে পরবর্তী প্রজন্মের হিম্মত ও সংকল্প যখন ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়ল, তখন পরবর্তী যুগের আলেমগণ পরিশ্রম করলেন এবং পূর্ববর্তীদের রচিত বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করলেন। ফলে তাঁরা ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখলেন। এরপর তাঁদের পরে যারা আসলেন...
(খণ্ড: ১)
ইলমুল ফারায়িদি ওয়াল মাওয়ারীছ ফিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল কানুনুস সুরী
(পৃষ্ঠা: ২)
خلف، وجدوا أن الحاجة تستلزم زيادة الشرح، فكتبوا الحواشي والتعليقات لتبسيط ما التبس على المقصرين.
هذا، وقد حث النبي صلى الله عليه وسلم على التعلم والتعليم، فورد عنه عليه السلام ما رواه الدارمي والدارقطني: "تعلموا العلم وعلموه الناس، تعلموا الفرائض وعلموها الناس" وفي رواية الترمذي: "تعلموا القرآن والفرائض وعلموا الناس؛ فإني مقبوض". فخصها عليه السلام بالذكر بعد التعميم؛ لمزيد الاهتمام بها، ولأنها تتعلق بإحدى حالتي الإنسان وهي الممات.
ولما كان المرحوم السيد محمد خيري المفتي -تغمده الله برحمته- نبغ بعلم الفرائض دراسة وفهما وتطبيقا بحكم عمله في المحاكم الشرعية، وتوليه أمر حساب الفرائض ومناسخاتها مدة طويلة، مما جعله يلمس ويشعر حاجة أهل عصره الحاضر إلى زيادة تبسيط فيما دوَّنه علماء السلف؛ ليكون سهل المنال لا يحتاج في فهمه وتطبيقه إلى عناء، فألف هذا السفر الذي نظرت بعض أبحاثه فوجدته وافيا بالغرض الذي ابتغاه، فقد أسهب في الشرح ووضع الأمثلة الكثيرة ليعتاد القارئ على حل المسائل دون جهد. وكتابه هذا سهل العبارة، موافق لروح أهل العصر الذين يريدون ويحبون أن ينالوا ما يبتغون دون عناء أو مشقة.
وقد ورد عن النبي، عليه الصلاة والسلام: "إذا مات الإنسان انقطع عمله إلا من ثلاث: صدقة جارية، وعلم ينتفع به، وولد صالح يدعو له" رواه الترمذي ومسلم وأبو داود.
وقد كان اطلاعي على هذا الكتاب بتكليف من ولده الزميل القاضي النزيه السيد منذر الذي عكف وإخوته على إخراج تراث أبيهم؛ لينتفع به الناس ويستحقوا أجر الساعي إلى الخير.
وكان اختياره لي لمعرفته بالصداقة والزمالة التي كانت تربطني بوالده رحمه الله وقد عرفته عالما برا، كيف لا وقد ورث العلم عن آبائه وأجداده، وقد ذكر المؤلف رحمه الله نسبه في آخر مؤلفه، وإن كلمة المفتي توحي وتوضح ما كانت عليه عائلته من تضلع بالعلم الشرعي؛ لأن هذا اللقب لا يشتهر به إلا من زاول الإفتاء.
فرحم الله المؤلف، ونفع به، وجعل البركة والرحمة في أولاده، والحمد لله رب العالمين.
مرشد عابدين
পরবর্তীগণ দেখলেন যে বিষয়টি আরও ব্যাখ্যার প্রয়োজন রাখে, তাই তারা প্রান্তটীকা ও ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন যাতে যারা পিছিয়ে আছে তাদের কাছে অস্পষ্ট বিষয়গুলো সহজ হয়ে যায়।
আর নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শিক্ষা গ্রহণ ও প্রদানের প্রতি উৎসাহিত করেছেন। তাঁর (আলাইহিস সালাম) থেকে দারেমি ও দারা কুতনি বর্ণনা করেছেন: "তোমরা জ্ঞান অর্জন করো এবং তা মানুষকে শেখাও, তোমরা উত্তরাধিকার আইন (ফারায়েজ) শেখো এবং তা মানুষকে শেখাও।" তিরমিযীর বর্ণনায় এসেছে: "তোমরা কুরআন ও উত্তরাধিকার আইন শেখো এবং মানুষকে শেখাও; কারণ আমি অচিরেই দুনিয়া থেকে বিদায় নেব।" তিনি (আলাইহিস সালাম) সাধারণ নির্দেশের পর এটিকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন এর প্রতি অধিক গুরুত্ব প্রদানের জন্য, এবং যেহেতু এটি মানুষের দুটি অবস্থার একটি তথা মৃত্যুর সাথে সংশ্লিষ্ট।
মরহুম আস-সাইয়িদ মুহাম্মদ খাইরি আল-মুফতি -আল্লাহ তাকে রহমতের চাদরে আবৃত করুন- শরয়ি আদালতে কাজ করার সুবাদে এবং দীর্ঘকাল ফারায়েজ ও মুনাশাখার (উত্তরাধিকার বণ্টন ও পুনঃবণ্টন) হিসাব পরিচালনার দায়িত্ব পালনের কারণে অধ্যয়ন, উপলব্ধি ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে ইলমে ফারায়েজে পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। যা তাকে বর্তমান যুগের মানুষের জন্য পূর্বসূরি আলেমদের লিখিত বিষয়গুলো আরও সহজ করার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতে উদ্বুদ্ধ করেছিল; যাতে তা সহজে আয়ত্ত করা যায় এবং বুঝতে ও প্রয়োগ করতে কোনো কষ্ট না হয়। তাই তিনি এই গ্রন্থটি রচনা করেছেন, যার কিছু গবেষণা আমি দেখেছি এবং একে উদ্দিষ্ট লক্ষ্যের জন্য যথেষ্ট পেয়েছি। তিনি এর ব্যাখ্যায় বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং প্রচুর উদাহরণ দিয়েছেন যাতে পাঠক কোনো পরিশ্রম ছাড়াই মাসআলা সমাধানের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে। তাঁর এই কিতাবটি সহজ ভাষায় রচিত এবং বর্তমান যুগের মানুষের মেজাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যারা কোনো কষ্ট বা শ্রম ছাড়াই তাদের উদ্দেশ্য অর্জন করতে চায়।
নবি আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম থেকে বর্ণিত হয়েছে: "যখন মানুষ মারা যায়, তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায় তিনটি বিষয় ছাড়া: সদকায়ে জারিয়া, এমন ইলম যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয় এবং নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে।" তিরমিযী, মুসলিম ও আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন।
এই কিতাবটি আমার দেখার সুযোগ হয়েছে তাঁর পুত্র আমার সহকর্মী ন্যায়নিষ্ঠ বিচারক জনাব মুনযিরের পক্ষ থেকে দায়িত্ব পাওয়ার পর, যিনি এবং তাঁর ভাইয়েরা তাঁদের পিতার জ্ঞানতাত্ত্বিক ঐতিহ্য প্রকাশের জন্য সচেষ্ট হয়েছেন; যাতে মানুষ এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে এবং তারা কল্যাণের পথে প্রচেষ্টাকারীর সওয়াবের অধিকারী হতে পারে।
আমাকে নির্বাচন করার কারণ ছিল তাঁর পিতার (রাহিমাহুল্লাহ) সাথে আমার বন্ধুত্ব ও সহকর্মিতার সম্পর্ক। আমি তাঁকে একজন নেককার আলেম হিসেবে জেনেছি; আর কেনই বা হবেন না, অথচ তিনি তাঁর পিতা ও দাদাদের কাছ থেকে ইলম উত্তরাধিকারসূত্রে লাভ করেছেন। লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর গ্রন্থের শেষে নিজের বংশপরিচয় উল্লেখ করেছেন। আর 'মুফতি' শব্দটিই ইঙ্গিত দেয় এবং স্পষ্ট করে যে, তাঁর পরিবার শরয়ি ইলমে কতটা পারদর্শী ছিল; কারণ এই উপাধি কেবল তাদের মাঝেই প্রসিদ্ধ হয় যারা ইফতা বা ফতোয়া প্রদানের কাজ সম্পন্ন করেন।
আল্লাহ তাআলা লেখককে রহম করুন, তাঁর মাধ্যমে উপকৃত হওয়ার তাওফিক দিন এবং তাঁর সন্তানদের মাঝে বরকত ও রহমত দান করুন। সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
মুরশিদ আবিদীন
(খণ্ড: ১)
ইলমুল ফারায়িদি ওয়াল মাওয়ারীছ ফিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল কানুনুস সুরী
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة المؤلف:الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على سيدنا محمد وآله وصحبه أجمعين، وبعد فإن علم الفرائض من العلوم التي رغب الشرع في دراسته وحث على تعلمه وتعليمه، فقد جاء في الحديث الشريف مرفوعا1: "تعلموا القرآن وعلموه الناس، وتعلموا الفرائض وعلموها الناس؛ فإني امرؤ مقبوض وسيقبض هذا العلم من بعدي حتى يتنازع الرجلان في فريضة، فلا يجدان من يفصل بينهما".
وقال رسول الله -صلى الله عليه وسلم2: "العلم ثلاثة وما سوى ذلك فهو فضل: آية محكمة، أو سنة قائمة، أو فريضة عادلة" رواه أبو داود وابن ماجه.
وقد كان أسند إليَّ قضايا الميراث في محكمة شرعية دمشق، وطلب إليَّ بعض الإخوان ممن لهم فيَّ حسن ظن أن أجمع المسائل النادرة
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
লেখকের ভূমিকা:সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সঙ্গীর ওপর। অতঃপর, নিশ্চয়ই ফারায়িজ (উত্তরাধিকার আইন) ইলম হলো সেই সকল ইলমের অন্তর্ভুক্ত যা অধ্যয়নের প্রতি শরিয়ত উৎসাহিত করেছে এবং যা শেখা ও শেখানোর প্রতি তাগিদ দিয়েছে। কেননা মারফূ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে ১: "তোমরা কুরআন শেখো এবং তা মানুষকে শেখাও, আর ফারায়িজ শেখো এবং তা মানুষকে শেখাও; কেননা আমি এমন এক ব্যক্তি যাকে অচিরেই তুলে নেওয়া হবে, আর আমার পরে এই ইলমও তুলে নেওয়া হবে, এমনকি শেষ পর্যন্ত যখন দু’জন ব্যক্তি কোনো উত্তরাধিকার বণ্টনের বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হবে, তখন তারা এমন কাউকেও পাবে না যে তাদের মাঝে ফয়সালা করে দেবে।"
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ২ বলেছেন: "প্রকৃত ইলম হলো তিনটি, আর তা ব্যতীত যা আছে তা অতিরিক্ত: সুস্পষ্ট আয়াত, অথবা প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ, কিংবা সুষম ফারায়িজ।" এটি আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।
দামেস্কের শরয়ি আদালতে মিরাস (উত্তরাধিকার) সংক্রান্ত বিষয়াবলি আমার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছিল, এবং আমার প্রতি সুধারণা পোষণকারী কিছু ভাই আমার নিকট অনুরোধ করেছিলেন যেন আমি বিরল মাসআলাগুলো সংকলন করি
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুল ফারায়িদি ওয়াল মাওয়ারীছ ফিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল কানুনুস সুরী
(পৃষ্ঠা: ৪)
والعويصة التي تمر بي وأدونها، والبعض اقترح علي أن أصنف كتابا في هذا العلم الجليل، أكثر فيه من حل المسائل بصورة عملية واضحة؛ ليكون عونا للطالب وتذكرة للعالم. وكنت أقدم رجلا وأؤخر أخرى لأني لم أكن من فرسان هذا الميدان.
إلا أنه لما كان العمل في المحكمة الشرعية جاريا بحسب المذهب الحنفي، حتى صدور قانون الأحوال الشخصية بالمرسوم ذي الرقم "59" المؤرخ في 17/ 9/ 1959 الذي عدل عن المذهب الحنفي في بعض القضايا، وأخذ فيها برأي بعض علماء المسلمين الذي رأى في العمل برأيه مصلحة رفق ويسر لهذه الأمة، وأخذ بالوصية الواجبة للأحفاد، وعدل عن مذهب الإمام محمد رضي الله عنه إلى مذهب الإمام أبي يوسف في قضايا ذوي الأرحام.
كل هذا كان المشجع لي على أن أقدم على تأليف هذا الكتاب، مبينا فيه ما كان العمل عليه سابقا وما طرأ من التعديل على تلك الأحكام في المرسوم الجديد؛ ليعلم القارئ بما كان عليه العمل أولا حتى يرجع إليه في القضايا السابقة على صدور هذا المرسوم؛ لأن القوانين لا تكون ذات أثر رجعي إلا إذا نص على ذلك فيها، ولم ينص فيه على ذلك وإنما اعتبر العمل به ابتداء من 1/ 11/ 1953، وألغي اعتبارا من التارخ المذكور قانون حقوق العائلة الصادر في 25 تشرين أول سنة 1333 وسائر القوانين والإرادات السنية والمراسيم التشريعية والقرارات التي تخالفه.
وقد نشر في الجريدة الرسمية بالعدد "63" صحيفة 6876 تاريخ 8 تشرين الأول 1953. وابتدأ العمل به بعد شهر من تاريخ نشره، أي: أصبح معمولا به من 1 تشرين الثاني 1953، فجميع القضايا السابقة على بدء العمل به خاضعة لأحكام المواريث القديمة، يقضى فيها بأرجح الأقوال من المذهب الحنفي.
এবং যে সকল জটিল বিষয় আমার সামনে আসে আমি তা লিপিবদ্ধ করি। কেউ কেউ আমাকে এই মহান ইলমের ওপর এমন একটি কিতাব রচনার পরামর্শ দেন, যাতে বাস্তবসম্মত ও পরিষ্কার পদ্ধতিতে মাসয়ালাসমূহের সমাধান অধিক হারে উল্লেখ থাকবে; যা শিক্ষার্থীর জন্য সহায়ক এবং বিদগ্ধ আলিমের জন্য স্মারক হবে। এমতাবস্থায় আমি ইতস্ততবোধ করছিলাম, কারণ আমি এই ময়দানের দক্ষ অশ্বারোহীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম না।
তবে যেহেতু শরিয়া আদালতে হানাফি মাযহাব অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল, যতক্ষণ না ১৯৫৯ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর তারিখের ৫৯ নম্বর অধ্যাদেশ অনুযায়ী ব্যক্তিগত আইন জারি করা হয়, যা কিছু কিছু মাসয়ালায় হানাফি মাযহাব থেকে বিচ্যুত হয়েছে। এতে মুসলিম আলেমগণের এমন কিছু মতামত গ্রহণ করা হয়েছে যা উম্মতের জন্য কল্যাণ, স্বস্তি ও সহজীকরণের অনুকূল। যেমন নাতি-নাতনিদের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ওসিয়ত গ্রহণ করা হয়েছে এবং যিল আরহাম সংক্রান্ত মাসয়ালাসমূহে ইমাম মুহাম্মাদ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর মাযহাব থেকে সরে এসে ইমাম আবু ইউসুফের মাযহাব গ্রহণ করা হয়েছে।
এসব বিষয় আমাকে এই কিতাবটি রচনায় উদ্বুদ্ধ করেছে। এতে আমি ইতিপূর্বে যে নিয়মে আমল ছিল এবং নতুন অধ্যাদেশে উক্ত বিধানসমূহে যে পরিবর্তন এসেছে তা স্পষ্ট করেছি; যাতে পাঠক পূর্বের আমল সম্পর্কে জানতে পারেন এবং এই অধ্যাদেশ জারির পূর্ববর্তী বিষয়গুলোতে তার শরণাপন্ন হতে পারেন। কেননা আইনসমূহ ভূতাপেক্ষ বা পূর্বপ্রভাবী হয় না, যদি না তাতে স্পষ্টভাবে তেমন কোনো নির্দেশ থাকে। আর এতে তেমন কোনো নির্দেশনা ছিল না বরং তা ১৯৫৩ সালের ১লা নভেম্বর থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হয়েছে। আর উক্ত তারিখ থেকে ১৩৩৩ হিজরি সনের ২৫শে অক্টোবর তারিখে জারি করা পারিবারিক অধিকার আইন এবং এর পরিপন্থী সকল আইন, রাজকীয় ফরমান, আইনগত অধ্যাদেশ ও সিদ্ধান্তসমূহ বাতিল করা হয়েছে।
এটি ১৯৫৩ সালের ৮ই অক্টোবর তারিখে সরকারি গেজেটের ৬৩ নম্বর সংখ্যার ৬৮৭৬ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত হয়। এটি প্রকাশের এক মাস পর থেকে এর কার্যকারিতা শুরু হয়, অর্থাৎ ১৯৫৩ সালের ১লা নভেম্বর থেকে তা কার্যকর হয়। সুতরাং এর কার্যকারিতা শুরুর পূর্বের সকল মামলা পুরাতন উত্তরাধিকার আইনের অধীনে থাকবে এবং হানাফি মাযহাবের সর্বাধিক নির্ভরযোগ্য মতানুসারে তার ফয়সালা প্রদান করা হবে।
(খণ্ড: ১)
ইলমুল ফারায়িদি ওয়াল মাওয়ারীছ ফিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল কানুনুস সুরী
(পৃষ্ঠা: ৫)
وقد جعلت للناحية العملية نصيبا وافرا، فأكثرت من النماذج والتمارين عقيب كل باب.
ولم يفُتْنِي أن أشرح أحكام الوصية الواجبة الواردة في المادة 257 من المرسوم، شرحا علميا وعمليا كما سيتضح ذلك في بابه. وإن مسائل العول والرد لم يتعرض لها أكثر المؤلفين، فبينتها تبيانا واضحا وصححت مسائلها بصورة عملية سهلة المأخذ.
وإني أسأل الله تعالى العون على الكمال والصيانة من الخطأ في المقال، وأن يعصمني والمسلمين من الشيطان الرجيم، وأن يجعله نافعا للمشتغلين به في الدنيا والآخرة، إنه على ما يشاء قدير وبالإجابة جدير، وأسأل من وصل كتابي إليه إذا عثر على شيء زلَّ به القلم أن يصلحه ويدرأ بالحسنة السيئة؛ لأن الإنسان محل النسيان وأن الصفح عن عثرات الضعاف من شيم الأشراف، وإني بالعجز معترف وبالخطأ والتقصير متصف، وما توفيقي إلا بالله، عليه توكلت وإليه أنيب، وهو حسبي ونعم الوكيل.
محمد خيري المفتي
আমি ব্যবহারিক দিকটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব প্রদান করেছি, তাই প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে প্রচুর পরিমাণে উদাহরণ ও অনুশীলনী যুক্ত করেছি।
অধ্যাদেশের ২৫৭ নম্বর ধারায় বর্ণিত 'ওয়াজিব ওয়াসিয়াত' (বাধ্যতামূলক অছিয়ত) এর বিধানসমূহ তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিকভাবে ব্যাখ্যা করতে আমি বিস্মৃত হইনি, যা সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে স্পষ্ট হবে। অধিকাংশ লেখকই 'আউল' ও 'রাদ্দ' সংক্রান্ত মাসআলাসমূহ আলোচনা করেননি, তাই আমি সেগুলো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছি এবং সেগুলোর সমাধানগুলো একটি সহজবোধ্য ব্যবহারিক পদ্ধতিতে পেশ করেছি।
আমি মহান আল্লাহর নিকট পূর্ণতা লাভে সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং বক্তব্য বা লিখনীতে ভুল হওয়া থেকে সুরক্ষা কামনা করছি। তিনি যেন আমাকে এবং সকল মুসলিমকে বিতাড়িত শয়তান থেকে রক্ষা করেন এবং এই কাজটিকে দুনিয়া ও আখেরাতে এর সাথে সংশ্লিষ্টদের জন্য কল্যাণকর করেন। নিশ্চয়ই তিনি যা চান তা করতে সক্ষম এবং দুআ কবুলের উপযুক্ত। আর যার কাছেই আমার এই কিতাবটি পৌঁছাবে, তার কাছে আমার নিবেদন হলো—যদি তিনি কলমের কোনো বিচ্যুতি খুঁজে পান, তবে যেন তা সংশোধন করে দেন এবং মন্দের পরিবর্তে ভালোর মাধ্যমে তা প্রতিহত করেন; কেননা মানুষ বিস্মৃতি ও ভুলের আধার এবং দুর্বলের ভুলভ্রান্তি ক্ষমা করা মহৎ ব্যক্তিদের স্বভাব। আমি নিজের অক্ষমতা স্বীকার করছি এবং ভুল ও ত্রুটি-বিচ্যুতি আমার বৈশিষ্ট্য। আমার সকল তৌফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকে; তাঁর ওপরই আমি ভরসা করেছি এবং তাঁর দিকেই আমি প্রত্যাবর্তন করি। তিনি আমার জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম কর্মবিধায়ক।
মুহাম্মদ খাইরী আল-মুফতী
(খণ্ড: ১)
ইলমুল ফারায়িদি ওয়াল মাওয়ারীছ ফিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল কানুনুস সুরী
(পৃষ্ঠা: ৬)
تعريف علم المواريث، أو علم الفرائض:هو: علم بقواعد فقهية وحسابية، بها يعرف نصيب كل وارث من التركة.
والمواريث في الأصل جمع ميراث. ولفظ ميراث يطلق في اللغة العربية على معنيين؛ أحدهما: البقاء، وثانيهما: انتقال الشيء من قوم إلى آخرين.
ويطلق في الشريعة الإسلامية على استحقاق الإنسان شيئا بعد موت مالكه بسبب مخصوص، وشروط مخصوصة.
والفرائض جمع فريضة، وهي مأخوذة من الفرض. والفرض في اللغة له ستة معانٍ:
1- التقدير، كقوله تعالى: {وَإِنْ طَلَّقْتُمُوهُنَّ مِنْ قَبْلِ أَنْ تَمَسُّوهُنَّ وَقَدْ فَرَضْتُمْ لَهُنَّ فَرِيضَةً فَنِصْفُ مَا فَرَضْتُمْ} 1 أي: قدرتم. وكما يقال: فرض القاضي النفقة أي: قدّرها.
2- ما يعطى من غير عوض، كقول العرب: ما أصبت به فرضا ولا قرضا، أي: ما أخذت منه شيئا بلا عوض أو بعوض.
--------------------------------------------
মিরাসশাস্ত্র বা ফারায়েজ শাস্ত্রের সংজ্ঞা:এটি হলো এমন কিছু ফিকহি ও গাণিতিক নিয়মনীতির জ্ঞান, যার মাধ্যমে পরিত্যক্ত সম্পদ থেকে প্রত্যেক উত্তরাধিকারীর প্রাপ্য অংশ জানা যায়।
'মাওয়ারিস' শব্দটি মূলত 'মিরাস' শব্দের বহুবচন। আরবি ভাষায় 'মিরাস' শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়; একটি হলো: স্থায়িত্ব বা অবশিষ্ট থাকা, এবং দ্বিতীয়টি হলো: এক দল থেকে অন্য দলের নিকট কোনো বস্তুর স্থানান্তর।
আর ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় এটি হলো নির্দিষ্ট কারণ ও নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে কোনো মালিকের মৃত্যুর পর তার সম্পদে অন্য কোনো ব্যক্তির অধিকার সাব্যস্ত হওয়া।
'ফারায়েজ' শব্দটি 'ফারিদাহ' শব্দের বহুবচন, যা 'ফারদ' শব্দ থেকে গৃহীত। আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে 'ফারদ' শব্দের ছয়টি অর্থ রয়েছে:
১- নির্ধারণ করা; যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর যদি তোমরা তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দিয়ে দাও, অথচ তাদের জন্য মোহরানা নির্ধারণ করেছ, তবে যা তোমরা নির্ধারণ করেছ তার অর্ধেক (দিতে হবে)} ১ অর্থাৎ: তোমরা নির্ধারণ করেছ। যেমন বলা হয়: বিচারক ভরণপোষণ নির্ধারণ করেছেন, অর্থাৎ: তা নিরূপণ করেছেন।
২- বিনিময় ব্যতিরেকে যা প্রদান করা হয়; যেমন আরবদের উক্তি: আমি তার থেকে কোনো দান (ফারদ) বা ঋণ (করদ) পাইনি। অর্থাৎ: আমি বিনিময়হীনভাবে বা বিনিময়ের মাধ্যমে তার থেকে কোনো কিছুই গ্রহণ করিনি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুল ফারায়িদি ওয়াল মাওয়ারীছ ফিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল কানুনুস সুরী
(পৃষ্ঠা: ৭)
3- القطع، كقوله تعالى: {نَصِيبًا مَفْرُوضًا} 1 أي: مقطوعا محدودا.
4- التبيين، كقوله تعالى: {قَدْ فَرَضَ اللَّهُ لَكُمْ تَحِلَّةَ أَيْمَانِكُمْ} 2 أي: بيَّنها.
5- الإنزال، كقوله تعالى: {إِنَّ الَّذِي فَرَضَ عَلَيْكَ الْقُرْآَنَ لَرَادُّكَ إِلَى مَعَادٍ} 3 أي: أنزله عليك.
6- الإحلال كقوله تعالى: {مَا كَانَ عَلَى النَّبِيِّ مِنْ حَرَجٍ فِيمَا فَرَضَ اللَّهُ لَهُ} 4 أي: أحله الله له.
--------------------------------------------
৩- নির্ধারণ বা কর্তন করা; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {একটি নির্ধারিত অংশ} ১ অর্থাৎ: বিচ্ছিন্ন ও সুনির্দিষ্ট।
৪- স্পষ্টকরণ; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের শপথসমূহ হতে নিষ্কৃতি লাভের বিধান স্পষ্ট করেছেন} ২ অর্থাৎ: তিনি তা বর্ণনা করেছেন।
৫- অবতীর্ণকরণ; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই যিনি আপনার ওপর কুরআন অবতীর্ণ করেছেন, তিনি আপনাকে অবশ্যই আপনার প্রত্যাবর্তনস্থলে ফিরিয়ে আনবেন} ৩ অর্থাৎ: তিনি তা আপনার ওপর অবতীর্ণ করেছেন।
৬- বৈধকরণ বা হালাল করা; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহ নবীর জন্য যা নির্ধারণ বা বৈধ করেছেন, তাতে তাঁর কোনো দোষ নেই} ৪ অর্থাৎ: আল্লাহ তা তাঁর জন্য হালাল করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুল ফারায়িদি ওয়াল মাওয়ারীছ ফিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল কানুনুস সুরী
(পৃষ্ঠা: ৮)
أدلة علم الفرائض:إن أدلة علم الفرائض ثلاثة: الكتاب والسنة وإجماع العلماء:
أما الكتاب، فآيات المواريث التي نتلوها عليك عند الاستدلال على أنصباء الوارثين والوارثات.
وأما السنة، فأحاديث منها خبر الصحيحين: "ألحقوا الفرائض بأهلها، فما بقي 1 فلأولى رجل ذكر".
وأما الإجماع، فإنك سترى مسائل قد أجمع على حكمها علماء هذه الأمة، وليس فيها كتاب ولا وصل إلينا فيها سنة معروفة.
--------------------------------------------
উত্তরাধিকার শাস্ত্রের দলিলসমূহ:নিশ্চয়ই উত্তরাধিকার শাস্ত্রের দলিল তিনটি: কুরআন, সুন্নাহ এবং ওলামায়ে কেরামের ইজমা (ঐক্যমত):
আর কুরআন হলো মিরাস সংক্রান্ত আয়াতসমূহ, যা উত্তরাধিকারী পুরুষ ও নারীদের অংশ নির্ধারণে দলিল পেশ করার সময় আমরা আপনার সামনে তিলাওয়াত করব।
আর সুন্নাহ হলো সেই সকল হাদিস, যার মধ্যে সহীহাইন-এর এই বর্ণনাটি অন্তর্ভুক্ত: "তোমরা নির্ধারিত অংশসমূহ তাদের প্রাপকদের নিকট পৌঁছে দাও, অতঃপর যা অবশিষ্ট থাকবে ১ তা নিকটতম পুরুষ আত্মীয়ের জন্য।"
আর ইজমা হলো, আপনি এমন কিছু মাসআলা দেখতে পাবেন যার বিধানের ওপর এই উম্মতের ওলামায়ে কেরাম ঐক্যমত পোষণ করেছেন, অথচ সে বিষয়ে কুরআনের কোনো আয়াত নেই এবং আমাদের নিকট কোনো প্রসিদ্ধ সুন্নাহও পৌঁছেনি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুল ফারায়িদি ওয়াল মাওয়ারীছ ফিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল কানুনুস সুরী
(পৃষ্ঠা: ৯)
حكمة الميراث:التوريث نظام طبيعي، بدليل أن أكثر الأمم قديما وحديثا أخذت به، كما قد أقرته الأمم الحديثة إلا روسيا أخيرا.
والميراث نظام ضروري لحفز الإنسان إلى الكدح والتعب في الحياة، وبعبارة أخرى: إنه ضروري لإثارة ضروب النشاط الاقتصادي في الإنسان، وهذا ما يراه جمهور علماء الاجتماع ولم يشذ عنه إلا الاشتراكيون.
والشريعة الإسلامية من بين الشرائع أخذت بنظام التوريث، وأنزل الله له شرعة مفصلة محدودة تناولت أشخاص الوارثين ومقادير أنصبائهم، حتى إذا علم الممنوع من الإرث أن منعه آتٍ من السماء اطمأنت نفسه ورضي حكم الله، ولا كذلك إذا ترك الأمر في الميراث للناس يحكمون فيه، فإن هذا يكون مصدر اضطراب وشقاق.
والمتتبع لقانون الميراث يرى أنه يبنى على قواعد وأصول، يمكن حصرها فيما هو آتٍ:
1- الحب.
2- العشرة.
3- النصرة والولاية.
4- العطف.
উত্তরাধিকারের হিকমত:উত্তরাধিকার একটি স্বাভাবিক ব্যবস্থা, যার প্রমাণ হলো প্রাচীন ও আধুনিক অধিকাংশ জাতিই এটি গ্রহণ করেছে, এমনকি আধুনিক রাষ্ট্রগুলোও এটি স্বীকার করে নিয়েছে, কেবল সাম্প্রতিক সময়ের রাশিয়া ছাড়া।
উত্তরাধিকার হলো জীবনে মানুষকে কঠোর পরিশ্রম ও ক্লান্তিকর প্রচেষ্টায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য একটি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা; অন্য কথায়: মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জাগ্রত করার জন্য এটি অপরিহার্য। সমাজবিজ্ঞানীদের বৃহত্তর অংশ এমনটিই মনে করেন এবং সমাজতন্ত্রীরা ব্যতীত অন্য কেউ এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেননি।
অন্যান্য শরীয়তের মাঝে ইসলামী শরীয়তও উত্তরাধিকার ব্যবস্থাকে গ্রহণ করেছে এবং আল্লাহ তাআলা এর জন্য একটি বিস্তারিত ও সুনির্ধারিত বিধান নাযিল করেছেন, যা উত্তরাধিকারীদের পরিচয় এবং তাদের প্রাপ্য অংশের পরিমাণকে অন্তর্ভুক্ত করে। এর ফলে, যখন উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত ব্যক্তি জানতে পারে যে তার এই বঞ্চনা আসমান (আল্লাহর পক্ষ) থেকে এসেছে, তখন তার মন শান্ত হয় এবং সে আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকে। কিন্তু উত্তরাধিকারের বিষয়টি যদি মানুষের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হতো তবে তা এমন হতো না, বরং তা বিশৃঙ্খলা ও বিবাদের উৎস হয়ে দাঁড়াত।
উত্তরাধিকার আইনটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় যে, এটি এমন কিছু নিয়ম ও মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, যা নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে সীমাবদ্ধ করা যেতে পারে:
১- ভালোবাসা।
২- সাহচর্য বা একত্রে বসবাস।
৩- সাহায্য ও অভিভাবকত্ব।
৪- স্নেহ-মমতা।
(খণ্ড: ১)
ইলমুল ফারায়িদি ওয়াল মাওয়ারীছ ফিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল কানুনুস সুরী
(পৃষ্ঠা: ১০)
لذلك خصّص الميراث بطائفة معينة من الأقارب، وهم:
1- الذين لهم من حبه أكبر نصيب كالأبناء.
2- الذين صاحبوه وخالطوه في الحياة أطول زمن كالزوجة.
3- الذين كان يعتز بهم، ويعتمد عليهم في الدفاع عنه إذا احتاج إلى هذا الدفاع كالعصبة.
4- الذين كان بينه وبينهم تعاطف وتراحم مدى الحياة، وهم غير من ذكرنا من الورثة.
ولذلك رتب الورثة، وجعل هذا الترتيب مبنيا على القاعدة الآتية وهي:
"قيام الوارث مكان المورث في الولاية، وحفظ اسم الأسرة".
وقدم الأبناء على الآباء؛ لأن قيام الابن مقام أبيه هو الوضع الطبيعي الذي عليه بناء العالم. فالأجيال المقبلة تخلف الأجيال الحاضرة، كما خلفت الأجيال الحاضرة الأجيال الغابرة.
على أن تقديم الابن على الأب تعززه حكمة أخرى، وهي أن المورث لو سئل: أين يضع ماله، لما تردد في أن يؤثر به ابنه على أبيه.
أما القيام مقام الميت بعد من ذكرنا من الأبناء والآباء، فطبقة الإخوة ومن في معناهم ممن هم كالعضد من الأعمام؛ ولذلك جعلت مرتبتهم في العصبة متأخرة عن المرتبتين السابقتين، كما جعلت مرتبة العمومة متأخرة عن الأخوة.
وكانت أسباب الإرث عند الجاهليين ثلاثة:
أحدها النسب: وهو خاص بالرجال الذين يركبون الخيل ويقاتلون الأعداء، وليس للضعيفين الطفل والمرأة منه شيء.
ثانيها التبني: فقد كان الرجل يتبنى ولد غيره فيرثه، ويكون له غير ذلك من أحكام الدين الصحيح. وقد أبطل الله التبني بآيات من
একারণেই উত্তরাধিকারকে আত্মীয়দের একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে, তারা হলেন:
১- যাদের প্রতি তাঁর ভালোবাসার সবচেয়ে বড় অংশ রয়েছে, যেমন সন্তানাদি।
২- যারা জীবনের দীর্ঘতম সময় তাঁর সঙ্গী ছিলেন এবং তাঁর সাথে মেলামেশা করেছেন, যেমন স্ত্রী।
৩- যাদের জন্য তিনি গর্ববোধ করতেন এবং যখনই প্রয়োজন হতো তাঁর আত্মরক্ষার জন্য তাদের ওপর নির্ভর করতেন, যেমন আসাবা (পিতৃকুলীয় পুরুষ আত্মীয়)।
৪- যাদের সাথে তাঁর সারাজীবন সহানুভূতি ও দয়ার সম্পর্ক ছিল, যারা ইতিপূর্বে উল্লিখিত ওয়ারিশদের অন্তর্ভুক্ত নন।
এ কারণেই তিনি ওয়ারিশদের বিন্যস্ত করেছেন এবং এই বিন্যাসকে নিম্নোক্ত মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করেছেন, তা হলো:
"কর্তৃত্বের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীর (ওয়ারিশ) মৃত ব্যক্তির স্থলাভিষিক্ত হওয়া এবং বংশের নাম রক্ষা করা।"
আর তিনি পিতাদের ওপর সন্তানদের অগ্রাধিকার দিয়েছেন; কারণ পিতার স্থানে পুত্রের স্থলাভিষিক্ত হওয়া একটি স্বাভাবিক অবস্থা যার ওপর এই জগতের কাঠামো প্রতিষ্ঠিত। কেননা অনাগত প্রজন্ম বর্তমান প্রজন্মের স্থলাভিষিক্ত হয়, যেমন বর্তমান প্রজন্ম বিগত প্রজন্মের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।
অধিকন্তু পিতার ওপর সন্তানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পেছনে আরেকটি প্রজ্ঞা কাজ করে, তা হলো: যদি মৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা করা হতো যে তিনি তাঁর সম্পদ কোথায় রাখবেন, তবে তিনি তাঁর পিতার তুলনায় সন্তানকে অগ্রাধিকার দিতে দ্বিধাবোধ করতেন না।
আর উল্লিখিত সন্তান ও পিতাদের পর মৃত ব্যক্তির স্থলাভিষিক্ত হওয়ার বিষয়টি হলো ভাইদের স্তর এবং তাদের সমপর্যায়ের যারা চাচাদের মতো সহায়ক শক্তি; একারণেই আসাবার ক্ষেত্রে তাদের স্তর পূর্ববর্তী দুই স্তরের পরে রাখা হয়েছে, ঠিক যেভাবে চাচাদের স্তরকে ভাইদের স্তরের পরে রাখা হয়েছে।
জাহেলী যুগে উত্তরাধিকার লাভের কারণ ছিল তিনটি:
প্রথমটি হলো বংশধারা: এটি কেবল সেইসব পুরুষদের জন্য নির্দিষ্ট ছিল যারা ঘোড়ায় চড়ে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করত; এতে শিশু ও নারী—এই দুই দুর্বলের কোনো অংশ ছিল না।
দ্বিতীয়টি হলো পালক পুত্র গ্রহণ: কোনো ব্যক্তি অন্যের সন্তানকে পালক গ্রহণ করত এবং সে তার ওয়ারিশ হতো, আর তার জন্য সঠিক দ্বীনের অন্যান্য বিধানও কার্যকর হতো। আল্লাহ তাআলা নিম্নোক্ত আয়াতসমূহের মাধ্যমে এই পালক গ্রহণ প্রথা বাতিল করেছেন:
(খণ্ড: ১)
ইলমুল ফারায়িদি ওয়াল মাওয়ারীছ ফিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল কানুনুস সুরী
(পৃষ্ঠা: ১১)
سورة الأحزاب، ونفذ النبي عليه السلام ذلك بذلك العمل الشاق، وهو التزوج بمطلقة زيد بن حارثة الذي كان قد تبناه قبل الإسلام.
ثالثها الحلف والعهد: كان الرجل يقول للرجل: دمي دمك وهدمي هدمك، وترثني وأرثك وتطلب بي وأطلب بك، فإذا تعاهدا على ذلك فمات أحدهما قبل الآخر، كان للحي ما اشترط من مال الميت.
أما الإسلام قبل نزول آية المواريث، فقد جعل التوارث أولا بالهجرة والمؤاخاة، فكان المهاجر يرث المهاجر البعيد، ولا يرثه غير المهاجر وإن كان قريبا.
وكان النبي صلى الله عليه وسلم يؤاخي بين الرجلين فيرث أحدهما الآخر، وقد نسخ هذا وذاك واستقر الأمر عند المسلمين بعد نزول أحكام الفرائض على أن أسباب الإرث ثلاثة: النسب، والصهر، والولاء.
ثم إن الإسلام أزال الغبن الذي كان لاحقا بالمرأة في العصر الجاهلي، فإنهم ما كانوا يورثون إلا من يحمل السيف ويدافع عن الأوطان. فلما جاء الإسلام رفع مكانة المرأة وأعلى من قدرها، وجعل لها حقا في الميراث كما للرجل، بل أكد هذا الحق وجعله كأنه قاعدة مسلمة، يرشد إليه قوله تعالى: {يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ} 1. فإن الله تعالى اختار هذا التعبير لإبطال ما كانت عليه الجاهلية من منع توريث النساء.
ولكنه حين منحها هذا الحق، جعل نصيبها في الميراث على النصف من نصيب من يحاذيها في القرابة من الرجال. وهذا هو الذي تقتضيه الحكمة ويلائم وظيفة كل من الرجل والمرأة في الحياة، ذلك أن الله تعالى وزع أعمال الحياة بين الرجل والمرأة، فخلق الرجل للكفاح والسعي وجعله
--------------------------------------------
সূরা আল-আহযাব; নবী আলাইহিস সালাম সেই কঠিন কাজের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করেছিলেন, আর তা হলো যায়িদ বিন হারিসাহর তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রীকে বিবাহ করা, যাকে তিনি ইসলামের পূর্বে পালকপুত্র হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।
তৃতীয়টি হলো শপথ ও অঙ্গীকার: একজন লোক অপর লোককে বলত: ‘আমার রক্ত তোমার রক্ত, এবং আমার ধ্বংস তোমার ধ্বংস; তুমি আমার ওয়ারিশ হবে এবং আমি তোমার ওয়ারিশ হব, তুমি আমার পক্ষ হয়ে দাবি জানাবে এবং আমি তোমার পক্ষ হয়ে দাবি জানাব।’ যখন তারা এর ওপর অঙ্গীকার করত এবং তাদের একজন অন্যজনের আগে মারা যেত, তখন জীবিত ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির সম্পদ থেকে শর্তানুযায়ী অংশ পেত।
পক্ষান্তরে মীরাসের আয়াত নাজিল হওয়ার আগে ইসলাম উত্তরাধিকারকে প্রথমে হিজরত ও ভ্রাতৃত্বের ভিত্তিতে নির্ধারণ করেছিল। ফলে একজন মুহাজির অপর দূরসম্পর্কের মুহাজিরের ওয়ারিশ হতো, কিন্তু মুহাজির নয় এমন ব্যক্তি ওয়ারিশ হতে পারত না, যদিও সে নিকটাত্মীয় হতো।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুই ব্যক্তির মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে দিতেন, ফলে একজন অন্যজনের ওয়ারিশ হতো। অতঃপর এটি এবং পূর্বের প্রথা রহিত করা হয় এবং ফরায়েযের বিধানাবলি নাজিল হওয়ার পর মুসলমানদের নিকট বিষয়টি স্থির হয় যে, উত্তরাধিকারের কারণ তিনটি: বংশীয় সম্পর্ক, বৈবাহিক সম্পর্ক এবং দাসত্ব মুক্তির সম্পর্ক (ওয়ালা)।
অতঃপর ইসলাম জাহেলি যুগে নারীর প্রতি যে অবিচার করা হতো তা দূর করেছে। কারণ তারা কেবল তাকেই উত্তরাধিকার প্রদান করত যে তলোয়ার ধারণ করত এবং দেশ রক্ষা করত। কিন্তু যখন ইসলাম এলো, তখন তা নারীর মর্যাদা সমুন্নত করল এবং তার সম্মান বৃদ্ধি করল। পুরুষের মতো নারীর জন্যও মীরাসে অধিকার নির্ধারণ করল, বরং এই অধিকারকে সুদৃঢ় করল এবং একে একটি স্বীকৃত মূলনীতি হিসেবে গণ্য করল। মহান আল্লাহর এই বাণী সেদিকেই পথনির্দেশ করে: "আল্লাহ তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে নির্দেশ দিচ্ছেন, এক ছেলের অংশ দুই মেয়ের অংশের সমান।" ১। মহান আল্লাহ জাহেলি যুগের নারীদের উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করার প্রথা বাতিলের জন্য এই প্রকাশভঙ্গিটি বেছে নিয়েছেন।
কিন্তু যখন তিনি নারীকে এই অধিকার দান করলেন, তখন মীরাসে তার অংশকে তার সমপর্যায়ের আত্মীয় পুরুষের অংশের অর্ধেক নির্ধারণ করলেন। হিকমত বা প্রজ্ঞার দাবি এটাই এবং তা জীবনে নারী ও পুরুষের নিজ নিজ দায়িত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ মহান আল্লাহ জীবনের কর্মকা্ল নারী ও পুরুষের মধ্যে বণ্টন করে দিয়েছেন। ফলে তিনি পুরুষকে সংগ্রাম ও প্রচেষ্টার জন্য সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুল ফারায়িদি ওয়াল মাওয়ারীছ ফিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল কানুনুস সুরী
(পৃষ্ঠা: ১২)
راعيا للأسرة وحاميا لها، يحمل أعباءها المادية والمعنوية، وجعل المرأة مدبرة للمنزل وقائمة بتدبير الأولاد ورعايتهم.
وبهذا التقسيم والتوزيع تنتظم الحياة وتستقيم شئونها، وقد استدعى هذا التقسيم ألا تكلف المرأة الإنفاق على نفسها بل جعل نفقتها على أبيها، فإذا فقدت عائلها أو طلقت رجع حق الإنفاق على أوليائها، فهي في جميع أحوالها مكفية المئونة؛ رحمة بأنوثتها وضعف بنيتها، وتقديرا لشرف وظيفتها في الجماعة الإنسانية.
وليس من مصلحة المرأة، ولا من مصلحة الأسر أن تسوّى المرأة بالرجل في الميراث؛ لأن ذلك معناه أن تنزل المرأة إلى ميدان العمل والكفاح في الحياة على قدم المساواة مع الرجل، ما دام نصيبها من الميراث مساويا نصيب الرجل، إذ لا يعقل أن يكون نصيبها من الإرث مثل الرجل ثم تطالب الرجل بالإنفاق عليها والحماية لها. زد على ذلك أن البنات إذا تزوجن لهن من مال أزواجهن ما يعوض نقصهن، وإذا لم يتزوجن فالغالب أنهن يكنَّ في كفالة إخوتهن ولا يكون لهن أولاد ينفقن عليهم.
أما وهذا هو النظام الإسلامي الذي يقضي على الرجل أن يحمي المرأة، ويكون قوّاما عليها، فمن خطأ الرأي وفساد القول تسوية المرأة بالرجل، على أن وضع المال في يد الرجل أدعى إلى استثماره وتنميته؛ لأنه أدرى بضروب النشاط وأقدر عليها من المرأة، فإن وظيفة الأمومة تحول بينها وبين ذلك.
فدعوة المساواة التي يقوم بها من يسمون أنفسهم مجددين أو منتصرين للمرأة، لا تقوم على أساس من الحكمة ولا من الحق والعدل، وإنما هي دعايات تدفع إليها الأهواء والشهوات.
على أن الإسلام قد سوَّى بينهما في بعض الأحوال إذا اقتضت
পরিবারের রক্ষণাবেক্ষণকারী ও অভিভাবক হিসেবে তিনি এর বৈষয়িক ও নৈতিক বোঝা বহন করেন; আর নারীকে করেছেন গৃহের পরিচালক এবং সন্তানদের লালন-পালন ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্বশীল।
এই বিভাজন ও বন্টনের মাধ্যমেই জীবন সুশৃঙ্খল হয় এবং এর কার্যাবলি সঠিকভাবে পরিচালিত হয়। এই বিভাজন দাবি করে যে, নারীকে নিজের ভরণপোষণের দায়িত্ব পালনে বাধ্য করা হবে না, বরং তার ভরণপোষণের ভার তার পিতার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। যদি সে তার অভিভাবককে হারায় অথবা তালাকপ্রাপ্ত হয়, তবে ভরণপোষণের অধিকার তার অভিভাবকদের নিকট ফিরে যায়। ফলে সে সর্বাবস্থায় জীবনযাত্রার ব্যয়ভার থেকে সচ্ছল থাকে; এটি তার নারীত্বের প্রতি করুণা ও তার দৈহিক কাঠামোর কোমলতার কারণে এবং মানবসমাজে তার সুমহান দায়িত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে।
মিরাসের ক্ষেত্রে নারীকে পুরুষের সমান করা নারীর স্বার্থে নয় এবং পরিবারের স্বার্থেও নয়; কারণ এর অর্থ হলো নারীকে জীবনসংগ্রাম ও কর্মক্ষেত্রে পুরুষের সমান পদক্ষেপে অবতীর্ণ হতে হবে, যতক্ষণ পর্যন্ত মিরাসে তার অংশ পুরুষের অংশের সমান থাকে। কেননা এটি বুদ্ধিগ্রাহ্য নয় যে, মিরাসে তার অংশ পুরুষের সমান হবে এবং পুনরায় সে পুরুষের কাছে ভরণপোষণ ও নিরাপত্তার দাবি জানাবে। তদুপরি, কন্যারা যখন বিবাহিত হয়, তখন তারা তাদের স্বামীদের সম্পদ থেকে এমন কিছু পায় যা তাদের অভাব পূরণ করে দেয়। আর যদি তারা অবিবাহিত থাকে, তবে সাধারণত তারা তাদের ভাইদের রক্ষণাবেক্ষণে থাকে এবং তাদের এমন কোনো সন্তান থাকে না যাদের জন্য তাদের ব্যয় করতে হয়।
যেহেতু এটিই হলো ইসলামি ব্যবস্থা যা পুরুষের ওপর নারীর সুরক্ষা ও তার ওপর কর্তৃত্বশীল হওয়ার বিধান দেয়, তাই নারীকে পুরুষের সমান করা একটি ভ্রান্ত মত এবং বিকৃত উক্তি। অধিকন্তু, পুরুষের হাতে সম্পদ থাকা তা বিনিয়োগ ও বৃদ্ধির জন্য অধিক উপযোগী; কারণ সে বিভিন্ন কর্মতৎপরতা সম্পর্কে অধিক অভিজ্ঞ এবং নারীর তুলনায় তাতে অধিক সক্ষম, কেননা মাতৃত্বের দায়িত্ব তার জন্য এতে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
সুতরাং যারা নিজেদের সংস্কারক বা নারীর অধিকারের রক্ষক বলে দাবি করে, তাদের এই সমতার ডাক কোনো প্রজ্ঞা, সত্য বা ন্যায়ের ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত নয়; বরং এটি স্রেফ প্রচারণা যা প্রবৃত্তি ও লালসা দ্বারা পরিচালিত।
তবে ইসলাম কিছু ক্ষেত্রে উভয়ের মধ্যে সমতা বিধান করেছে যদি তার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়...
(খণ্ড: ১)
ইলমুল ফারায়িদি ওয়াল মাওয়ারীছ ফিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল কানুনুস সুরী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الحكمة ذلك، كما ورد في أولاد الأم فإنه سوَّى بين ذكورهم وإناثهم في الميراث. ومنشأ ذلك أن الصلة التي تجمع بينهم وبين المورث ترجع إلى عاطفة التراحم الناشئة من صلة الأمومة وحدها. تلك بعض حكم الميراث، ولا يصعب على العقل البشري أن يلتمس لكل حكم حكمة وسببا، وإن كان الأساس فيه الرضا بما قسمه الله وارتضاه لعباده، وهو أعدل القاسمين وأحكم الحاكمين.
فإذا تخطى بعض العباد هذه القسمة واحتال لتوزيع ثروته بطرق أخرى، فما ذلك إلا رد لما شرعه الله وزيغ عن الصراط المستقيم، ولو أن للمالك حرية التصرف في ماله يعطي من يشاء ويحرم من يشاء، ولكن ليعلم هذا القاسم على غير ما شرع الله أنه سيخلق بعمله هذا الشحناء، ويورث ورثته العداوة والبغضاء، والشارع جد حريص على صلة الرحم وربط الأسر؛ وبذا تكون الأمة متحدة قوية.
এর নিহিত রহস্য সেটিই, যেমনটি মায়ের সন্তানদের (বৈপিত্রেয় ভাইবোন) ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে তাদের পুরুষ ও নারীদের মধ্যে সমতা বিধান করেছেন। এর মূল কারণ হলো, তাদের এবং মৃত ব্যক্তির মধ্যে যে বন্ধনটি তাদের একত্রিত করে, তা কেবল মাতৃত্বের সম্পর্কের মাধ্যমে উদ্ভূত দয়া ও মমত্বের আবেগের সাথে সম্পৃক্ত। এগুলো উত্তরাধিকারের কিছু হিকমত, আর মানুষের বিবেকের পক্ষে প্রতিটি বিধানের পেছনে কোনো না কোনো হিকমত ও কারণ খুঁজে বের করা কঠিন নয়। যদিও এর মূল ভিত্তি হলো আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য যা বণ্টন করেছেন এবং মনোনীত করেছেন তাতে সন্তুষ্ট থাকা; আর তিনি সর্বোত্তম বণ্টনকারী এবং শ্রেষ্ঠতম বিচারক।
অতএব, যদি কোনো বান্দা এই বণ্টনকে লঙ্ঘন করে এবং অন্য উপায়ে তার সম্পদ বিতরণের জন্য কূটকৌশলের আশ্রয় নেয়, তবে তা আল্লাহর প্রবর্তিত বিধানকে প্রত্যাখ্যান করা এবং সরল পথ থেকে বিচ্যুতি ছাড়া আর কিছুই নয়। যদিও মালিকের তার সম্পদে যথেচ্ছ ব্যবহারের স্বাধীনতা রয়েছে যে, সে যাকে ইচ্ছা দান করবে এবং যাকে ইচ্ছা বঞ্চিত করবে; তবে আল্লাহর প্রবর্তিত বিধানের বাইরে বণ্টনকারী এই ব্যক্তির জানা উচিত যে, সে তার এই কাজের মাধ্যমে বিদ্বেষ সৃষ্টি করবে এবং তার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে শত্রুতা ও ঘৃণা সঞ্চার করবে। আর শারী‘ (বিধানদাতা) আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা এবং পরিবারগুলোকে সুসংবদ্ধ রাখার বিষয়ে অত্যন্ত সচেষ্ট; আর এর মাধ্যমেই উম্মাহ ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী হয়।
(খণ্ড: ১)
ইলমুল ফারায়িদি ওয়াল মাওয়ারীছ ফিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল কানুনুস সুরী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
منزلة علم الميراث:
يحتل باب الميراث من بين أبواب الفقه الإسلامي مكانة رفيعة، ومنزلة سامية لم تقتصر على عناية المؤلفين من المسلمين به وإفرادهم إياه بالتأليف، بل إن الخلفاء أنفسهم منذ عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم أولوه جانبا من الاهتمام. فقد روي أن سيدنا عمر رضي الله عنه ذهب إلى بلاد الشام سنة "18" هجرية؛ ليعلِّم الناس علم المواريث "كما جاء في ابن الأثير جزء2 صحيفة237".
أولا: لأن أكثر أحكامه أحكام نهائية لا مجال لاستئنافها أو نقضها؛ لأنها من توزيع الحكيم العليم الذي يعلم ما يصلح النفوس وما يفسدها.
ثانيا: لأنه يتناول شئون الحياة وروحها وعمادها والعنصر الفعال فيها، وهو المال.
ثالثا: إن طريقة التوريث تبين لنا العلاقة بين الأفراد والحكومة من جهة، وتبين لنا العلاقة بين أفراد الأسرة بعضهم مع بعض من جهة أخرى، فالميراث في الإسلام مثلا يدل على الاتجاه الذي يرمي إليه الإسلام ويدعو له في جملته، وهو اتجاه يوحي بالاشتراكية العادلة التي تحرص على توزيع الثروات توزيعا يدل على درجة التضامن في الأسر بين الأقارب الأقربين والأقارب البعيدين بالنسبة لغيرهم. حتى إن وجوب النفقة بين الأقارب ساير الميراث في كثير من الأحوال جريا على قاعدة الغرم بالغنم.
মিরাস শাস্ত্রের মর্যাদা:
ইসলামি ফিকহশাস্ত্রের বিভিন্ন অধ্যায়ের মধ্যে মিরাস (উত্তরাধিকার) অধ্যায়টি এক সুউচ্চ মর্যাদা ও মহিমান্বিত স্থানের অধিকারী। এর গুরুত্ব কেবল মুসলিম লেখকদের এ বিষয়ে সবিশেষ যত্ন এবং স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ থেকেই খলিফাগণ এর প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। বর্ণিত আছে যে, আমাদের নেতা ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু ১৮ হিজরি সনে শাম দেশে গমন করেছিলেন মানুষকে মিরাস শাস্ত্র শিক্ষা দেওয়ার জন্য "যেমনটি ইবনুল আসিরের ২য় খণ্ড, ২৩৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে"।
প্রথমত: কারণ এর অধিকাংশ বিধানই চূড়ান্ত এবং মীমাংসিত, যা পরিবর্তন বা রদ করার কোনো সুযোগ নেই; যেহেতু এগুলো সেই প্রজ্ঞাময় ও সর্বজ্ঞাতা সত্তার পক্ষ থেকে বণ্টিত, যিনি মানুষের কল্যাণ ও অকল্যাণ সম্পর্কে সম্যক অবগত।
দ্বিতীয়ত: কারণ এটি জীবনের অপরিহার্য বিষয়, এর প্রাণশক্তি, ভিত্তি এবং এর মূল চালিকাশক্তি অর্থাৎ 'সম্পদ' নিয়ে আলোচনা করে।
তৃতীয়ত: উত্তরাধিকার পদ্ধতি একদিকে ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ককে স্পষ্ট করে, অন্যদিকে পরিবারের সদস্যদের পারস্পরিক সম্পর্ককেও সুসংজ্ঞায়িত করে। উদাহরণস্বরূপ, ইসলামে মিরাস ব্যবস্থা সেই লক্ষ্যকে নির্দেশ করে যা ইসলাম সামগ্রিকভাবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এটি এমন এক ন্যায়সঙ্গত সামাজিক সংহতির বার্তা দেয় যা সম্পদের এমন সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে সচেষ্ট, যা নিকটাত্মীয় এবং অন্যদের তুলনায় দূরবর্তী আত্মীয়দের মাঝে পারিবারিক সংহতির মাত্রাকে ফুটিয়ে তোলে। এমনকি আত্মীয়দের মধ্যে ভরণপোষণ আবশ্যক হওয়ার বিষয়টি অধিকাংশ ক্ষেত্রে মিরাস ব্যবস্থার অনুগামী হয়, যা 'লাভ ও লোকসানের আনুপাতিক দায়' (আল-গুরমু বিল-গুনমি) নীতির অনুসরণে কার্যকর হয়।
(খণ্ড: ১)
ইলমুল ফারায়িদি ওয়াল মাওয়ারীছ ফিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল কানুনুস সুরী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وإن قانون الأحوال الشخصية الجديد رقم "59" المادة "159" منه جعلت نفقة القريب الفقير العاجز عن الكسب على من يرثه من أقاربه الموسرين بحسب حصصهم الإرثية.
بل من أحكام الميراث، يمكننا أن نحكم على الأمة حكما نعلم منه أهي حربية أم صناعية أم زراعية أم غير ذلك. ولعل ما تقدم يرشدنا إلى سر قوله صلى الله عليه وسلم: $"تعلموا الفرائض وعلموها الناس؛ فإنها نصف العلم".
নতুন ব্যক্তিগত আইন নং '৫৯'-এর ১৫৯তম অনুচ্ছেদে উপার্জন করতে অক্ষম দরিদ্র আত্মীয়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব তার সেই সম্পদশালী আত্মীয়দের ওপর অর্পণ করা হয়েছে, যারা উত্তরাধিকারসূত্রে তার সম্পদের অংশীদার হবে, এবং তা তাদের উত্তরাধিকারের অংশ অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
বরং মিরাস বা উত্তরাধিকারের বিধানসমূহ থেকে আমরা কোনো জাতি সম্পর্কে এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারি, যা থেকে আমরা জানতে পারি যে তারা কি একটি যুদ্ধবাজ জাতি, নাকি শিল্পোন্নত জাতি, নাকি কৃষিপ্রধান জাতি, অথবা অন্য কিছু। সম্ভবত উপরোক্ত আলোচনা আমাদের নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীর রহস্যের দিকে পথনির্দেশ করে: "তোমরা ফারায়েয (উত্তরাধিকার শাস্ত্র) শেখো এবং তা মানুষকে শেখাও; কেননা তা হলো জ্ঞানের অর্ধেক।"
(খণ্ড: ১)
ইলমুল ফারায়িদি ওয়াল মাওয়ারীছ ফিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল কানুনুস সুরী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ما يتعلق بمال الميت من الحقوق:أجمع فقهاء الحنفية والشافعية والمالكية على أنه يتعلق بما يخلفه الميت من الميراث خمسة حقوق بعضها مقدَّم على بعض، بحيث لو استغرق أولها أو ما بعده كل ما خلفه لم ينتقل عنه إلى غيره:
1- كل حق عليه لغيره إذا كان هذا الحق متعلقا بعين من أعيان المال، ولذلك أمثلة كثيرة منها: الأعيان المرهونة من ماله، فإن حق المرتهن فيها مقدم على كل شيء.
ومنها المبيع الذي اشتراه، ولم يقبضه ولم يؤد ثمنه، فإن حق البائع في هذا المبيع مقدم على كل ما سواه، ومنها الأعيان التي أجرها وقبض أجرتها في حياته ومات قبل انتهاء مدة إجارتها، فإن المستأجر أحق بهذه الأعيان حتى يستوفي ما أعطى من الأجرة، وإنما كانت هذه مقدمة على كل شيء حتى تجهيزه وتكفينه؛ لأنها متعلقة بعين المال من قبل أن يصير تركة.
2- تجهيزه وتكفينه وما يحتاج إليه في دفنه بالقدر المعروف من غير تقتير ولا إسراف ولا تبذير؛ لأن التكفين لباس الميت بعد وفاته فيعتبر بلباسه حال حياته، وهو أقوى من الدين ومقدم على جميع الحقوق سوى حق تعلق بعين من أعيان التركة كما هو مبين أعلاه. وقد اختلف العلماء في المقياس الذي يعرف به الإسراف والتقتير، فمنهم من قال: يعتبر بعدد ما يكفن فيه من الثياب، فتكفين الرجل في أكثر من
মৃত ব্যক্তির মালের সাথে সংশ্লিষ্ট অধিকারসমূহ:হানাফী, শাফিঈ এবং মালিকী ফকীহগণ এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, মৃত ব্যক্তি উত্তরাধিকার হিসেবে যা রেখে যান তার সাথে পাঁচটি অধিকার সংশ্লিষ্ট রয়েছে, যার একটি অন্যটির ওপর অগ্রগণ্য। বিষয়টি এমন যে, যদি প্রথমটি বা তার পরবর্তীটি রেখে যাওয়া সমস্ত সম্পদ গ্রাস করে নেয়, তবে তা থেকে অন্যটির দিকে স্থানান্তরিত হবে না:
১- অন্যের প্রতি তার এমন প্রতিটি অধিকার, যা সম্পদের কোনো নির্দিষ্ট বস্তুর সাথে সংশ্লিষ্ট। এর অনেক উদাহরণ রয়েছে, তন্মধ্যে একটি হলো: তার সম্পদের বন্ধকী বস্তুসমূহ; এক্ষেত্রে বন্ধকগ্রহীতার অধিকার অন্য সবকিছুর ওপর অগ্রগণ্য।
এর অন্তর্ভুক্ত আরও রয়েছে এমন বিক্রিত বস্তু যা তিনি ক্রয় করেছেন কিন্তু তা কবজা করেননি এবং তার মূল্যও পরিশোধ করেননি; এমতাবস্থায় এই বিক্রিত বস্তুতে বিক্রেতার অধিকার অন্য সবকিছুর ওপর অগ্রগণ্য। এর অন্তর্ভুক্ত আরও রয়েছে সেই সকল বস্তু যা তিনি ভাড়া দিয়েছেন এবং তার জীবদ্দশায় ভাড়া গ্রহণ করেছেন, কিন্তু ভাড়ার মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেছেন; এমতাবস্থায় ভাড়াটিয়া এই বস্তুগুলোর ক্ষেত্রে অধিক হকদার যতক্ষণ না সে তার প্রদত্ত ভাড়ার পূর্ণ উপযোগ গ্রহণ করে। আর এই বিষয়গুলো দাফন-কাফনের প্রস্তুতির চেয়েও অগ্রগণ্য; কারণ এগুলো মিরাস বা পরিত্যক্ত সম্পদে পরিণত হওয়ার পূর্বেই মূল সম্পদের নির্দিষ্ট বস্তুর সাথে সংশ্লিষ্ট হয়েছে।
২- মৃত ব্যক্তির দাফন-কাফনের প্রস্তুতি এবং দাফন কার্যে যা কিছু প্রয়োজন হয় তা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন করা, যাতে কার্পণ্য, অপব্যয় বা অপচয় থাকবে না। কেননা কাফন হলো মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তির পোশাক, তাই এটি তার জীবদ্দশার পোশাকের ন্যায় বিবেচিত হবে। এটি ঋণের চেয়েও শক্তিশালী এবং উপরে বর্ণিত নির্দিষ্ট সম্পদের সাথে সংশ্লিষ্ট অধিকার ব্যতীত অন্য সকল অধিকারের ওপর অগ্রগণ্য। অপব্যয় ও কার্পণ্য নিরূপণের মাপকাঠি নিয়ে উলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেছেন: এটি কাফনের কাপড়ের সংখ্যার নিরিখে বিবেচিত হবে। অতএব, পুরুষকে এর অধিক কাপড়ে কাফন দেওয়া...
(খণ্ড: ১)
ইলমুল ফারায়িদি ওয়াল মাওয়ারীছ ফিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল কানুনুস সুরী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ثلاثة أثواب إسراف وفي أقل من الثلاثة تقتير، وتكفين المرأة في أكثر من خمسة أثواب إسراف وفي أقل من الخمسة تقتير.
وإذا كانت المرأة متزوجة، فمذهب أبي يوسف وهو الذي عليه الفتوى في مذهب الحنفية أن تكفينها وتجهيزها واجبان على زوجها، ومذهب محمد أن ذلك في مالها.
وقد نص قانون الأحوال الشخصية رقم "59" على ذلك في المادة 262/ أمنه.
3- قضاء جميع ديونه، فيقدم ديون الصحة ثم ديون المرض الثابتة بإقرار المريض مرض الموت.
أما إذا كان الدين لله تعالى -جل ثناؤه- كالزكاة والكفارات ونحوها فإنها تسقط بالموت، ولا يلزم الورثة أداؤها؛ لأن حق الله تعالى مبني على المسامحة، وإذا أوصى في حال حياته وجب تنفيذها من ثلث ماله.
وإنما قدم قضاء ديونه على تنفيذ وصاياه مع أن الوصية مذكورة قبل الدين في آية المواريث، وهي قوله تعالى: {مِنْ بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِي بِهَا أَوْ دَيْنٍ} 1 وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "ابدءوا بما بدأ الله به" 2 لسببين:
1- الأول: أنه قد ورد النص على تقديم الدين على الوصية في حديث مروي عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه قال: "رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم بدأ بالدين قبل الوصية"3.
2- والثاني: أن الدين فرض يجبر المدين عليه، ويحبس من
--------------------------------------------
তিনটি কাপড়ের অধিক হওয়া অপচয় এবং তিনটির কম হওয়া কার্পণ্য। আর নারীর কাফন পাঁচটি কাপড়ের অধিক হওয়া অপচয় এবং পাঁচটির কম হওয়া কার্পণ্য।
আর নারী যদি বিবাহিতা হন, তবে ইমাম আবু ইউসুফের মাযহাব অনুযায়ী—যা হানাফী মাযহাবে ফতোয়া প্রদানের ভিত্তি—তার কাফন ও দাফনের যাবতীয় ব্যবস্থা করা তার স্বামীর ওপর ওয়াজিব। আর ইমাম মুহাম্মদের মাযহাব হলো, তা নারীর নিজস্ব সম্পদ থেকে নির্বাহ করা হবে।
ব্যক্তিগত আইন (পারসোনাল ল) নম্বর "৫৯"-এর ২৬২/ক ধারায় এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
৩- তার সমস্ত ঋণ পরিশোধ করা। এক্ষেত্রে সুস্থ অবস্থার ঋণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, এরপর মৃত্যুশয্যায় থাকাকালীন রোগীর স্বীকৃতির মাধ্যমে প্রমাণিত ঋণ পরিশোধ করা হবে।
কিন্তু ঋণ যদি মহান আল্লাহর—তাঁর প্রশংসা অতি মহান—হয়ে থাকে, যেমন যাকাত, কাফফারা ও অনুরূপ বিষয়, তবে তা মৃত্যুর সাথে সাথে রহিত হয়ে যায় এবং ওয়ারিশদের ওপর তা আদায় করা আবশ্যক নয়; কারণ মহান আল্লাহর হক ক্ষমার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। তবে যদি তিনি জীবিত থাকাকালীন অসিয়ত করে যান, তবে তাঁর সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ থেকে তা কার্যকর করা আবশ্যক।
অসিয়ত কার্যকর করার ওপর ঋণ পরিশোধকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যদিও উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আয়াতে ঋণের পূর্বে অসিয়তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তিনি যে অসিয়ত করে যান তা পালনের পর অথবা ঋণ পরিশোধের পর} ১ আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ যা দিয়ে শুরু করেছেন তোমরাও তা দিয়ে শুরু করো" ২ দুটি কারণে:
১- প্রথমটি: অসিয়তের ওপর ঋণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে সরাসরি নির্দেশ এসেছে, তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি তিনি অসিয়তের পূর্বে ঋণ পরিশোধ দিয়ে শুরু করেছেন।" ৩
২- দ্বিতীয়টি: ঋণ হলো একটি অপরিহার্য কর্তব্য যার জন্য ঋণগ্রহীতাকে বাধ্য করা হয় এবং তাকে আটক রাখা হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুল ফারায়িদি ওয়াল মাওয়ারীছ ফিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল কানুনুস সুরী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أجله، والوصية تبرع ولا شك أن التطوع متأخر في رتبته عن الفرض.
4- تنفيذ وصاياه التي استوفت شروطها الشرعية "م262/ ج" من ثلث ماله، وعلى شرط أن تكون لغير وارث لما روى ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "لا تجوز وصية الوارث إلا أن يشاء الورثة" 1.
أما إذا كانت إلى وارث؛ توقفت على إجازة الوارثين، وكذلك إذا كانت بأكثر من الثلث. والوصية عقد مندوب إليه مرغوب فيه، ليس بفرض ولا واجب عند جمهور العلماء، فهي من التبرعات المضافة إلى ما بعد الموت. والوصية مأخوذة من وصيّت الشيء إذا وصلته؛ لأن الموصي وصل خير دنياه بخير عقباه، ووصى وأوصى بمعنى واحد. وإنها شرعت لمصالح العباد بحديث:
"إن الله تعالى تصدق عليكم بثلث أموالكم في آخر أعماركم زيادة في أعمالكم، فضعوه حيث شئتم -وفي رواية- حيث أحببتم" 2.
والمشروع لنا لا يكون فرضا ولا واجبا علينا، بل هو مندوب إليه مرغوب فيه، والوصية من العقود المتوقفة على الإيجاب والقبول فلا تتم إلا بقبول الموصى له صراحة أو دلالة، والقبول والرد إنما يكون بعد موت الموصي، ولا عبرة للقبول والرد قبل موته، فالقبول صراحة هو أن يقبلها الموصى له بعد موت الموصي. وأما القبول دلالة فهو أن يموت الموصي مصرا على وصيته ثم يموت الموصى له قبل القبول أو الرد فيكون موته قبولا للوصية وينتقل المال الموصى به ميراثا لورثة الموصى له.
--------------------------------------------
তার সময়। আর অসিয়ত হলো একটি দান, এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে নফল বা স্বেচ্ছাধীন কাজ মর্যাদার দিক থেকে ফরজের পরে আসে।
৪- তার এমন অসিয়তসমূহ বাস্তবায়ন করা যা শরয়ি শর্তসমূহ পূরণ করেছে "ধারা ২৬২/ জি" তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ থেকে, এবং শর্ত হলো এটি কোনো উত্তরাধিকারীর অনুকূলে হতে পারবে না। যেহেতু ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "উত্তরাধিকারীর জন্য অসিয়ত বৈধ নয়, যদি না অন্যান্য উত্তরাধিকারীরা তা অনুমতি দেয়" ১।
তবে যদি অসিয়ত কোনো উত্তরাধিকারীর জন্য হয়, তবে তা অন্যান্য উত্তরাধিকারীদের অনুমতির ওপর নির্ভর করবে। অনুরূপভাবে যদি তা এক-তৃতীয়াংশের বেশি হয় (তবেও অনুমতির প্রয়োজন হবে)। অসিয়ত হলো এমন একটি চুক্তি যা মুস্তাহাব ও উৎসাহব্যঞ্জক, এটি জমহুর আলেমদের মতে ফরজ বা ওয়াজিব নয়। এটি এমন দানসমূহের অন্তর্ভুক্ত যা মৃত্যুর পরের সময়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। অসিয়ত শব্দটি 'ওয়াসাইতুশ শাই'আ' (যখন আমি কোনো কিছুকে যুক্ত করলাম) হতে গৃহীত; কারণ অসিয়তকারী তার দুনিয়ার কল্যাণকে পরকালের কল্যাণের সাথে যুক্ত করে। 'ওয়াসসা' এবং 'আওসা' একই অর্থ বহন করে। আর এটি বান্দাদের কল্যাণের জন্য শরীয়তসম্মত করা হয়েছে এই হাদিসের মাধ্যমে:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা তোমাদের জীবনের শেষভাগে তোমাদের আমল বৃদ্ধির জন্য তোমাদের সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ তোমাদের প্রতি সদকা হিসেবে দিয়েছেন, সুতরাং তোমরা তা যেখানে ইচ্ছা -অন্য বর্ণনায়- যেখানে তোমরা পছন্দ করো সেখানে রাখো বা ব্যয় করো" ২।
আর আমাদের জন্য যা শরীয়তসম্মত করা হয়েছে তা আমাদের ওপর ফরজ বা ওয়াজিব নয়, বরং তা মুস্তাহাব ও পছন্দনীয়। অসিয়ত হলো এমন একটি চুক্তি যা ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল (গ্রহণ)-এর ওপর নির্ভরশীল, সুতরাং যার অনুকূলে অসিয়ত করা হয়েছে তার সরাসরি বা পরোক্ষ সম্মতি ব্যতিরেকে তা সম্পন্ন হয় না। আর কবুল বা প্রত্যাখ্যান কেবল অসিয়তকারীর মৃত্যুর পরেই হতে হবে, তার মৃত্যুর আগের কবুল বা প্রত্যাখ্যানের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। সরাসরি কবুল হলো অসিয়তকারীর মৃত্যুর পর যার অনুকূলে অসিয়ত করা হয়েছে তার তা গ্রহণ করা। আর পরোক্ষ কবুল হলো অসিয়তকারী তার অসিয়তের ওপর অটল থেকে মৃত্যুবরণ করা এবং যার অনুকূলে অসিয়ত করা হয়েছে সে কবুল বা প্রত্যাখ্যান করার পূর্বেই মারা যাওয়া, এমতাবস্থায় তার মৃত্যুটিই অসিয়তের কবুল হিসেবে গণ্য হবে এবং অসিয়তকৃত সম্পদটি যার অনুকূলে অসিয়ত করা হয়েছিল তার ওয়ারিশদের কাছে উত্তরাধিকার হিসেবে স্থানান্তরিত হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুল ফারায়িদি ওয়াল মাওয়ারীছ ফিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল কানুনুস সুরী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
ولا ينبغي أن يوصي بأكثر من الثلث، والأفضل لمن له ذرية وأولاد صغار التقليل في الوصية، فقد روي عن الصديق والفاروق والمرتضى رضي الله عنهم: "لأن يوصى بالخمس أحب إلينا من أن يوصى بالربع، ولأن يوصى بالربع أحب إلينا من أن يوصى بالثلث". ولما روي في الصحيحين أن سعد بن أبي وقاص -رضي الله تعالى عنه- قال: "جاءني رسول الله صلى الله عليه وسلم يعودني في عام حجة الوداع من وجع اشتد بي، فقلت: يا رسول الله قد بلغ بي من الوجع ما ترى وأنا ذو مال ولا يرثني إلا ابنة، أفأتصدق بثلثي مالي؟ قال: "لا" قلت: فالشطر؟ قال: "لا" قلت: فالثلث؟ قال: "الثلث والثلث كثير، إنك إن تذر ورثتك أغنياء خير من أن تذرهم عالة يتكففون الناس" "1.
5- تقسيم تركته وهي ما يبقى من المال بعد ذلك كله بين ورثته على النظام والترتيب اللذين نشرحهما فيما بعد، إن شاء الله تعالى.
أما قانون الأحوال الشخصية رقم "59" المؤرخ في 17/ 9/ 1953 المعمول به في المحاكم الشرعية، فقد جاء بالمادة "262" منه:
1- يؤدى من التركة بحسب الترتيب الآتي:
أ- ما يكفي لتجهيز الميت، ومن تلزمه نفقته من الموت إلى الدفن بالقدر المشروع.
ب- ديون الميت.
جـ- الوصية الواجبة.
د- الوصية الاختيارية.
هـ- المواريث بحسب ترتيبها في هذا القانون: أصحاب الفروض، العصبة، الرد على أصحاب الفروض، ذوو الأرحام.
--------------------------------------------
এক-তৃতীয়াংশের বেশি অসিয়ত করা উচিত নয়, এবং যার বংশধর ও ছোট সন্তান রয়েছে তার জন্য অসিয়তের পরিমাণ কমানো উত্তম। নিশ্চয়ই সিদ্দিক, ফারুক এবং মুরতজা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত হয়েছে: "এক-পঞ্চমাংশ অসিয়ত করা আমাদের কাছে এক-চতুর্থাংশ অসিয়ত করার চেয়ে বেশি প্রিয়, আর এক-চতুর্থাংশ অসিয়ত করা আমাদের কাছে এক-তৃতীয়াংশ অসিয়ত করার চেয়ে বেশি প্রিয়।" যেহেতু সহীহাইনে বর্ণিত হয়েছে যে, সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস (রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) বলেছেন: "বিদায় হজের বছর আমার এক তীব্র অসুস্থতার সময় রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে দেখতে আসলেন। আমি বললাম: 'হে আল্লাহর রাসূল! আমার অসুস্থতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যা আপনি দেখছেন, আর আমি সম্পদশালী এবং আমার এক মেয়ে ছাড়া আর কোনো উত্তরাধিকারী নেই। তবে কি আমি আমার সম্পদের দুই-তৃতীয়াংশ দান করে দেব?' তিনি বললেন: "না।" আমি বললাম: 'তবে কি অর্ধেক?' তিনি বললেন: "না।" আমি বললাম: 'তবে কি এক-তৃতীয়াংশ?' তিনি বললেন: "এক-তৃতীয়াংশ, আর এক-তৃতীয়াংশও অনেক। নিশ্চয়ই তুমি তোমার উত্তরাধিকারীদের সচ্ছল অবস্থায় রেখে যাওয়া তাদেরকে দরিদ্র ও মানুষের কাছে হাত পাতা অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে উত্তম।"
৫- তার পরিত্যক্ত সম্পদ (তরকা) বণ্টন করা; আর তা হলো এসব কিছুর পর অবশিষ্ট সম্পদ, যা উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ঐ নিয়ম ও ক্রম অনুযায়ী বণ্টন করা হবে যা আমরা পরবর্তীতে ইনশাআল্লাহ আলোচনা করব।
আর শরয়ী আদালতসমূহে প্রচলিত ১৯৫৩ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর তারিখের "৫৯" নম্বর ব্যক্তিগত আইন (পার্সোনাল ল)-এর "২৬২" নম্বর ধারায় এসেছে:
১- পরিত্যক্ত সম্পদ (তরকা) থেকে নিম্নোক্ত ক্রম অনুযায়ী আদায় করা হবে:
ক- মৃত ব্যক্তির কাফন-দাফন এবং যাদের ভরণপোষণ তার ওপর আবশ্যক ছিল, মৃত্যু থেকে দাফন পর্যন্ত তাদের জন্য শরীয়তসম্মত পরিমাণ প্রয়োজনীয় ব্যয়।
খ- মৃত ব্যক্তির ঋণসমূহ।
গ- আবশ্যিক অসিয়ত (অসিয়ত ওয়াজিবাহ)।
ঘ- ঐচ্ছিক অসিয়ত।
ঙ- এই আইনের ক্রম অনুযায়ী মিরাসসমূহ: আসহাবুল ফুরুজ (নির্ধারিত অংশীদার), আসাবা (অবশিষ্টাংশভোগী), আসহাবুল ফুরুজের ওপর প্রত্যাবর্তন (রাদ), এবং যিল আরহাম (দূরবর্তী আত্মীয়)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুল ফারায়িদি ওয়াল মাওয়ারীছ ফিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল কানুনুস সুরী
(পৃষ্ঠা: ২০)
2- إذا لم توجد ورثة، قضي من التركة بالترتيب الآتي:
أ- استحقاق من أقر له الميت بنسب على غيره.
ب- ما أوصى به فيما زاد على الحد الذي تنفذ فيه الوصية.
3- إذا لم يوجد أحد من هؤلاء آلت التركة أو ما بقي منها إلى الخزانة العامة، والخزانة العامة هي التي تسمى بيت المال سابقا، أي: بيت مال المسلمين، وهذا إذا لم يكن موجودا زوج أو زوجة. فإذا وجد فيرد باقي التركة إلى الزوج والزوجة حسبما ورد في المادة "288 فقرة 3" من المرسوم "59" وهذا خلاف للسابق.
وقد أثبتنا نص الكتاب السادس من المرسوم "59" وهو ما يتعلق بالمواريث؛ تسهيلا للاطلاع عليه.
২- যদি কোনো উত্তরাধিকারী না থাকে, তবে পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে নিম্নোক্ত ক্রমানুসারে ফয়সালা করা হবে:
ক- এমন ব্যক্তির প্রাপ্যতা যার বংশপরিচয় মৃত ব্যক্তি অন্যের বিপরীতে স্বীকার করে গিয়েছেন।
খ- অছিয়ত কার্যকর হওয়ার নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত যা অছিয়ত করা হয়েছে।
৩- যদি এদের মধ্যে কেউ না থাকে, তবে পরিত্যক্ত সম্পত্তি বা তার অবশিষ্টাংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে চলে যাবে। আর রাষ্ট্রীয় কোষাগার হলো যাকে পূর্বে বাইতুল মাল বলা হতো, অর্থাৎ মুসলমানদের বাইতুল মাল। এটি তখনই হবে যখন স্বামী বা স্ত্রী বর্তমান না থাকে। যদি স্বামী বা স্ত্রী বর্তমান থাকে, তবে অধ্যাদেশ "৫৯"-এর "২৮৮ ধারা, ৩ উপধারা" অনুযায়ী পরিত্যক্ত সম্পত্তির অবশিষ্টাংশ স্বামী বা স্ত্রীর নিকট প্রত্যাবর্তন করবে; আর এটি পূর্বের নিয়মের পরিপন্থী।
আমরা অধ্যাদেশ "৫৯"-এর ষষ্ঠ কিতাবের মূল পাঠটি এখানে সাব্যস্ত করেছি যা উত্তরাধিকার সংক্রান্ত; যাতে তা সহজে অবগত হওয়া যায়।
(খণ্ড: ১)
ইলমুল ফারায়িদি ওয়াল মাওয়ারীছ ফিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল কানুনুস সুরী
(পৃষ্ঠা: ২১)
الكتاب السادس "المواريث"
الباب الأول: أحكام عامة…الكتاب السادس "المواريث":
كما جاء في المرسوم رقم "59" بتاريخ 17/ 9/ 1953
المعمول به في المحاكم الشرعية
اعتبارا من 1/ 11/ 1953 في الإقليم السوري:
الباب الأول: أحكام عامة
مادة 260-1: يستحق الإرث بموت المورث، أو باعتباره ميتا بحكم القاضي.
2- يجب لاستحقاق الإرث تحقق حياة الوارث وقت موت المورث، أو وقت الحكم باعتباره ميتا، ويكون الحمل مستحقا للإرث إذا توافر فيه ما نص عليه في المادة "236"1.
--------------------------------------------
ষষ্ঠ কিতাব "উত্তরাধিকার"প্রথম অধ্যায়: সাধারণ বিধিমালা…ষষ্ঠ কিতাব "উত্তরাধিকার":
১৭/০৯/১৯৫৩ তারিখের "৫৯" নম্বর অধ্যাদেশ অনুযায়ী যা বর্ণিত হয়েছে
শরিয়াহ আদালতসমূহে কার্যকর
সিরীয় অঞ্চলে ০১/১১/১৯৫৩ তারিখ হতে:
প্রথম অধ্যায়: সাধারণ বিধিমালা
ধারা ২৬০-১: মুওয়াররিসের (সম্পদ রেখে মৃত ব্যক্তি) মৃত্যুতে অথবা বিচারকের নির্দেশে তাকে মৃত গণ্য করার মাধ্যমে উত্তরাধিকার সাব্যস্ত হয়।
২- উত্তরাধিকারের অধিকার লাভের জন্য মুওয়াররিসের মৃত্যুর সময় অথবা তাকে মৃত ঘোষণার সময় ওয়ারিশের জীবিত থাকা নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক। গর্ভস্থ সন্তানও উত্তরাধিকারের যোগ্য হবে যদি তাতে ধারা ২৩৬-এ বর্ণিত শর্তাবলি বিদ্যমান থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুল ফারায়িদি ওয়াল মাওয়ারীছ ফিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল কানুনুস সুরী
(পৃষ্ঠা: ২২)
مادة 261: إذا مات اثنان ولم يعلم أيهما مات أولا، فلا استحقاق لأحدهما في تركة الآخر، سواء أكان موتهما في حادث واحد أم لا.
مادة 262-1: يؤدى من التركة بحسب الترتيب الآتي:
أ- ما يكفي لتجهيز الميت، ومن تلزمه نفقته من الموت إلى الدفن بالقدر المشروع.
ب- ديون الميت.
جـ- الوصية الواجبة.
د- الوصية الاختيارية.
هـ- المواريث بحسب ترتيبها في هذا القانون.
2- إذا لم توجد ورثة، قضي من التركة بالترتيب الآتي:
أ- استحقاق من أقر له الميت بنسب على غيره.
ب- ما أوصى به فيما زاد على الحد الذي تنفذ فيه الوصية.
3- إذا لم يوجد أحد من هؤلاء آلت التركة، أو ما بقي منها إلى الخزانة العامة.
ধারা ২৬১: যদি দুইজন ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেন এবং তাদের মধ্যে কে আগে মারা গেছেন তা জানা না যায়, তবে তাদের একজনের ত্যাজ্য সম্পত্তিতে অপরজনের কোনো উত্তরাধিকার সাব্যস্ত হবে না; চাই তাদের মৃত্যু একই দুর্ঘটনায় হোক বা না হোক।
ধারা ২৬২-১: মৃত ব্যক্তির ত্যাজ্য সম্পত্তি থেকে নিম্নলিখিত ক্রম অনুযায়ী ব্যয় নির্বাহ করা হবে:
ক- মৃত ব্যক্তির দাফন-কাফনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় এবং যার ভরণপোষণ তার ওপর আবশ্যক ছিল, মৃত্যু থেকে দাফন পর্যন্ত শরয়ি মানদণ্ড অনুযায়ী তার খরচ।
খ- মৃত ব্যক্তির ঋণসমূহ।
গ- ওয়াজিব (অপরিহার্য) অসিয়ত।
ঘ- ঐচ্ছিক অসিয়ত।
ঙ- এই আইনের নির্ধারিত ক্রম অনুযায়ী মিরাস বা উত্তরাধিকার।
২- যদি কোনো উত্তরাধিকারী না থাকে, তবে ত্যাজ্য সম্পত্তি থেকে নিম্নোক্ত ক্রম অনুযায়ী ফয়সালা করা হবে:
ক- মৃত ব্যক্তি যার নসব বা বংশপরিচয় অন্যের ওপর দায়ারোপ করে স্বীকৃতি দিয়ে গেছেন, তার প্রাপ্য।
খ- অসিয়ত কার্যকর হওয়ার নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত অসিয়তকৃত সম্পদ।
৩- যদি এদের কাউকেও পাওয়া না যায়, তবে পূর্ণ ত্যাজ্য সম্পত্তি অথবা তার অবশিষ্ট অংশ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ন্যস্ত হবে।
(খণ্ড: ১)
ইলমুল ফারায়িদি ওয়াল মাওয়ারীছ ফিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল কানুনুস সুরী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الباب الثاني: في أسباب الإرث وموانعه وطرائفه…الباب الثاني: في أسباب الإرث وموانعه وطرائقه
مادة 263-1: أسباب الإرث: الزوجية والقرابة.
2- للإرث ثلاث طرائق: الفريضة المقدرة، أو العصوبة، أو حق الرحم.
3- يكون الإرث بالزوجية بطريق الفرض.
4- يكون الإرث بالقرابة بطريق الفرض أو العصوبة أو بهما معا، أو بالنصيب الرحمي، فإذا كان لوارث جهتا إرث ورث بهما معا مع مراعاة أحكام المادتين 271 و296.
مادة 264: يمنع من الإرث ما يلي:
أ- موانع الوصية المذكورة في المادة "223"1.
ب- اختلاف الدين بين المسلم وغيره.
جـ- لا يمنح الأجنبي حق الإرث، إلا إذا كانت قوانين بلاده تمنح مثل ذلك للسوريين.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় অধ্যায়: উত্তরাধিকারের কারণ, প্রতিবন্ধক ও পদ্ধতি প্রসঙ্গে...দ্বিতীয় অধ্যায়: উত্তরাধিকারের কারণ, প্রতিবন্ধক ও পদ্ধতি প্রসঙ্গে
ধারা ২৬৩-১: উত্তরাধিকারের কারণসমূহ: বৈবাহিক সম্পর্ক এবং রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তা।
২- উত্তরাধিকারের তিনটি পদ্ধতি রয়েছে: নির্ধারিত অংশ (ফারিদাহ), আসাবাহ (অবশিষ্টাংশভোগী), অথবা জাবিল আরহামের (দূরবর্তী আত্মীয়) অধিকার।
৩- বৈবাহিক সম্পর্কের ভিত্তিতে উত্তরাধিকার নির্ধারিত অংশের পদ্ধতিতে হয়ে থাকে।
৪- রক্তসম্পর্কীয় আত্মীয়তার ভিত্তিতে উত্তরাধিকার নির্ধারিত অংশ, আসাবাহ অথবা উভয় পদ্ধতিতে একত্রে হতে পারে, অথবা জাবিল আরহামের অংশ হিসেবে হতে পারে। সুতরাং যদি কোনো উত্তরাধিকারীর উত্তরাধিকারের দুটি দিক থাকে, তবে তিনি ২৭১ ও ২৯৬ ধারার বিধানাবলি বিবেচনা সাপেক্ষে উভয় দিক থেকেই উত্তরাধিকারী হবেন।
ধারা ২৬৪: নিম্নলিখিত বিষয়গুলো উত্তরাধিকার লাভে প্রতিবন্ধক হিসেবে গণ্য হবে:
ক- ২২৩ ধারায় বর্ণিত ওসিয়তের প্রতিবন্ধকসমূহ।১
খ- মুসলিম এবং অমুসলিমের মধ্যে ধর্মের ভিন্নতা।
গ- কোনো বিদেশি নাগরিককে উত্তরাধিকারের অধিকার প্রদান করা হবে না, যদি না তার দেশের আইন সিরীয় নাগরিকদের অনুরূপ অধিকার প্রদান করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুল ফারায়িদি ওয়াল মাওয়ারীছ ফিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল কানুনুস সুরী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الباب الثالث: الإرث بطريق الفريضةمادة 265-1: الفرض سهم مقدر للوارث في التركة، ويبدأ في التوريث بأصحاب الفروض وهم:
الأب، الجد العصبي وإن علا، الأخ لأم، الأخت لأم، الزوج، الزوجة، البنات، بنات الابن وإن نزل، الأخوات لأب وأم، الأخوات لأب، الأم، الجدة الثابتة وإن علت.
2- الجد العصبي هو الذي لا يدخل في نسبته إلى الميت الأنثى، فإذا دخلت في نسبته أنثى فهو جد رحمي؛ والجدة الثابتة هي التي لا يدخل في نسبتها إلى الميت جد رحمي.
مادة 266 مع مراعاة حكم المادة 280 للأب، وكذا للجد العصبي فرض السدس إذا وجد للميت ولد أو ولد ابن وإن نزل.
مادة 267-1: لأولاد الأم فرض السدس للواحد، والثلث للاثنين فأكثر، ذكورهم وإناثهم في القسمة سواء.
2- في الحالة الثانية إذا استغرقت الفروض التركة وكان مع أولاد الأم أخ شقيق أو إخوة أشقاء بالانفراد أو مع أخت شقيقة أو أكثر، يقسم الثلث بين الجميع على الوجه المتقدم1.
مادة 268-1: للزوج فرض النصف عند عدم الولد وولد الابن وإن نزل، والربع مع الولد أو ولد الابن وإن نزل.
2- للزوجة ولو كانت مطلقة رجعيا إذا مات الزوج وهي في العدة فرض الربع، عند عدم الولد وولد الابن وإن نزل.
والثمن مع الولد أو ولد الابن وإن نزل، وذلك مع مراعاة حكم المادة 116 المتقدمة في طلاق المريض.
3- إذا تعددت الزوجات اشتركن في هذه الفريضة.
مادة 269 مع مراعاة حكم المادة "277"3:
1- للواحدة من البنات فرض النصف، وللاثنتين فأكثر الثلثان.
2- لبنات الابن الفرض المتقدم ذكره عند عدم وجود بنت أو بنت ابن أعلى منهن درجة.
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: নির্ধারিত অংশের মাধ্যমে উত্তরাধিকারধারা ২৬৫-১: নির্ধারিত অংশ (ফারিদা) হলো উত্তরাধিকারীর জন্য সম্পদের একটি সুনির্দিষ্ট অংশ। উত্তরাধিকার বণ্টনের ক্ষেত্রে প্রথমে নির্ধারিত অংশের হকদারদের (আসহাবুল ফুরুজ) দিয়ে শুরু করা হবে, তারা হলেন:
পিতা, আসাবীয় পিতামহ (দাদা) এবং তার উর্ধ্বতনরা, জঠরজাত ভাই (মায়ের দিককার ভাই), জঠরজাত বোন (মায়ের দিককার বোন), স্বামী, স্ত্রী, কন্যারা, পুত্রের কন্যারা এবং তাদের অধস্তনরা, সহোদর বোনরা, বৈমাত্রেয় বোনরা, মাতা, এবং সহীহ দাদী/নানী (যাদের বংশপরম্পরায় কোনো অশুদ্ধ পিতামহ নেই) এবং তাদের উর্ধ্বতনরা।
২- আসাবীয় পিতামহ হলেন তিনি, যার মৃত ব্যক্তির সাথে সম্পর্কের মাঝে কোনো নারী নেই; আর যদি সম্পর্কের মাঝে কোনো নারী থাকে তবে তিনি জঠরীয় পিতামহ (নানা)। আর সহীহ দাদী/নানী হলেন তিনি, যার মৃত ব্যক্তির সাথে সম্পর্কের মাঝে কোনো জঠরীয় পিতামহ নেই।
ধারা ২৬৬: ২৮০ ধারার বিধান সাপেক্ষে, মৃত ব্যক্তির সন্তান বা পুত্রের সন্তান (যত নিচে হোক না কেন) থাকলে পিতার জন্য, এবং একইভাবে আসাবীয় পিতামহের জন্য নির্ধারিত অংশ হলো এক-ষষ্ঠাংশ।
ধারা ২৬৭-১: জঠরজাত সন্তানদের (মায়ের দিককার ভাইবোন) জন্য একজনের ক্ষেত্রে এক-ষষ্ঠাংশ এবং দুই বা ততোধিক হলে এক-তৃতীয়াংশ; বণ্টনের ক্ষেত্রে তাদের নারী ও পুরুষ সমান অংশ পাবে।
২- দ্বিতীয় ক্ষেত্রে, যদি নির্ধারিত অংশগুলো সম্পূর্ণ সম্পদ নিঃশেষ করে ফেলে এবং জঠরজাত সন্তানদের সাথে কোনো সহোদর ভাই বা একাধিক সহোদর ভাই একা থাকে অথবা এক বা একাধিক সহোদর বোনের সাথে থাকে, তবে এক-তৃতীয়াংশ অংশটি তাদের সকলের মধ্যে পূর্বোক্ত নিয়মে বণ্টিত হবে।
ধারা ২৬৮-১: সন্তান বা পুত্রের সন্তান (যত নিচে হোক না কেন) না থাকলে স্বামীর জন্য নির্ধারিত অংশ হলো অর্ধেক, আর সন্তান বা পুত্রের সন্তান থাকলে এক-চতুর্থাংশ।
২- স্ত্রীর জন্য - এমনকি তিনি যদি রাজয়ী (প্রত্যাবর্তনযোগ্য) তালাকপ্রাপ্তা হন এবং স্বামী মারা যাওয়ার সময় তিনি ইদ্দত পালনরত থাকেন - সন্তান বা পুত্রের সন্তান না থাকলে এক-চতুর্থাংশ অংশ নির্ধারিত হবে।
আর সন্তান বা পুত্রের সন্তান থাকলে এক-অষ্টমাংশ; এটি অসুস্থ অবস্থায় তালাক সংক্রান্ত পূর্বে বর্ণিত ১১৬ ধারার বিধান সাপেক্ষে হবে।
৩- একাধিক স্ত্রী থাকলে তারা এই নির্ধারিত অংশে সমানভাবে অংশীদার হবেন।
ধারা ২৬৯: ২৭৭ ধারার বিধান সাপেক্ষে:
১- একজন কন্যার জন্য নির্ধারিত অংশ অর্ধেক, আর দুই বা ততোধিক কন্যার জন্য দুই-তৃতীয়াংশ।
২- কোনো কন্যা বা উচ্চতর স্তরের পুত্রের কন্যা না থাকলে পুত্রের কন্যারা উপরোক্ত নির্ধারিত অংশ লাভ করবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুল ফারায়িদি ওয়াল মাওয়ারীছ ফিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল কানুনুস সুরী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
3- لهن ولو تعددن السدس مع البنت أو بنت الابن الأعلى درجة.
مادة 270 مع مراعاة حكم المادتين 277 و"280"1.
1- للواحدة من الأخوات الشقيقات فرض النصف، وللاثنتين فأكثر الثلثان.
2- للأخوات لأب الفرض المتقدم ذكره عند عدم وجود أخت شقيقة.
3- لهن ولو تعددن السدس مع الأخت الشقيقة.
مادة 271-1: للأم فرض السدس مع الولد أو ولد الابن وإن نزل أو مع اثنين فأكثر من الإخوة أو الأخوات.
2- لها الثلث في غير هذه الأحوال، غير أنها إذا اجتمعت مع أحد الزوجين والأب فقط، كان لها ثلث ما بقي بعد فرض أحد الزوجين2.
مادة 272: للجدة الثابتة أو الجدات السدس، ويقسم بينهن على السواء، لا فرق بين ذات قرابة وقرابتين.
مادة 273: إذا زاد أنصباء أصحاب الفروض على التركة، قسمت بينهم أنصباؤهم في الإرث.
--------------------------------------------
৩- তাদের জন্য, তারা একাধিক হলেও, এক-ষষ্ঠাংশ (১/৬) নির্ধারিত হবে যখন তারা এক কন্যা বা উচ্চতর স্তরের এক পৌত্রীর সাথে থাকবে।
ধারা ২৭০: ধারা ২৭৭ এবং ২৮০ এর বিধানসমূহ বিবেচনা সাপেক্ষে।১
১- একজন সহোদর বোনের জন্য অর্ধেক (১/২) অংশ নির্ধারিত, আর দুই বা ততোধিক বোনের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) নির্ধারিত।
২- সহোদর বোন না থাকলে বৈমাত্রেয় বোনদের জন্য উপরে উল্লিখিত অংশসমূহ নির্ধারিত হবে।
৩- তাদের জন্য, তারা একাধিক হলেও, এক-ষষ্ঠাংশ (১/৬) বরাদ্দ থাকবে যদি একজন সহোদর বোন উপস্থিত থাকে।
ধারা ২৭১-১: সন্তান অথবা পুত্রের সন্তান যত নিচেই হোক না কেন, অথবা দুই বা ততোধিক ভাই বা বোনের উপস্থিতিতে মায়ের জন্য এক-ষষ্ঠাংশ (১/৬) অংশ নির্ধারিত।
২- এই পরিস্থিতিগুলো ছাড়া অন্য অবস্থায় মা এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) পাবেন। তবে তিনি যদি কেবল স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে একজন এবং পিতার সাথে একত্রিত হন, তবে স্বামী বা স্ত্রীর অংশ দেওয়ার পর যা অবশিষ্ট থাকবে তার এক-তৃতীয়াংশ (১/৩) তিনি পাবেন।২
ধারা ২৭২: প্রমাণিত দাদি বা নানিদের জন্য এক-ষষ্ঠাংশ (১/৬) নির্ধারিত। এটি তাদের মধ্যে সমানভাবে বণ্টিত হবে; এক বা একাধিক আত্মীয়তার সম্পর্কের ভিত্তিতে কোনো পার্থক্য করা হবে না।
ধারা ২৭৩: যদি অংশীদারদের মোট অংশের পরিমাণ ত্যাজ্য সম্পত্তির চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তবে উত্তরাধিকারীদের মাঝে তাদের অংশ অনুযায়ী তা আনুপাতিক হারে বণ্টন করা হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুল ফারায়িদি ওয়াল মাওয়ারীছ ফিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল কানুনুস সুরী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الباب الرابع: الإرث بطريق العصوبة النسبيةمادة 274-1: إذا لم يوجد أحد من ذوي الفروض أو وجد ولم تستغرق الفروض التركة، كانت التركة أو ما بقي منها بعد الفروض للعصبة من النسب.
2- العصبة من النسب ثلاثة أنواع:
أ- عصبة بالنفس.
ب- عصبة بالغير.
جـ- عصبة من الغير.
مادة 275: للعصوبة بالنفس جهات أربع، مقدم بعضها على بعض في الإرث على الترتيب الآتي:
1- البنوة، وتشمل الأبناء وأبناء الابن وإن نزل.
2- الأبوة، وتشمل الأب والجد العصبي وإن علا.
3- الأخوة، وتشمل الإخوة لأبوين والإخوة لأب وأبناءهما وإن نزلوا.
4- العمومة، وتشمل أعمام الميت لأبوين أو لأب وأعمام أبيه كذلك، وأعمام جده العصبي وإن علا وأبناء من ذكروا وإن نزلوا.
مادة 276-1: إذا اتحدت العصبة بالنفس في الجهة، كان المستحق للإرث أقربهم درجة إلى الميت.
2- إذا اتحدوا في الجهة والدرجة كان التقديم بقوة القرابة؛ فمن كانت قرابته من الأبوين قدم على من كانت قرابته من الأب فقط.
3- إذا اتحدوا في الجهة والدرجة والقوة، كان الإرث بينهم على السواء.
مادة 277-1: العصبة بالغير هن:
أ- البنات مع الأبناء.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বংশগত আসাবা হিসেবে উত্তরাধিকারধারা ২৭৪-১: যদি জাবিল ফুরুজ (নির্ধারিত অংশীদার)-দের কেউ না থাকে অথবা যদি থাকে কিন্তু তারা মিরাস নিঃশেষ না করে, তবে সম্পূর্ণ মিরাস অথবা জাবিল ফুরুজদের অংশ প্রদানের পর যা অবশিষ্ট থাকে তা বংশগত আসাবাদের প্রাপ্য হবে।
২- বংশগত আসাবা তিন প্রকার:
ক- আসাবা বিন-নাফস (স্বয়ং আসাবা)।
খ- আসাবা বিল-গাইর (অন্যের মাধ্যমে আসাবা)।
গ- আসাবা মাআল-গাইর (অন্যের সাথে আসাবা)।
ধারা ২৭৫: আসাবা বিন-নাফসের চারটি স্তর রয়েছে, উত্তরাধিকার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে নিম্নে বর্ণিত ক্রম অনুযায়ী একটি অপরটির ওপর অগ্রাধিকার পাবে:
১- পুত্রত্ব, যা পুত্র এবং পুত্রের পুত্র—এভাবে নিচের দিকের সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে।
২- পিতৃত্ব, যা পিতা এবং আসাবাগত পিতামহ (দাদা)—এভাবে উপরের দিকের সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে।
৩- ভ্রাতৃত্ব, যা সহোদর ভাই, বৈমাত্রেয় ভাই এবং তাদের পুত্রদের—এভাবে নিচের দিকের সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে।
৪- পিতৃব্যত্ব, যা মৃতের সহোদর বা বৈমাত্রেয় চাচা, একইভাবে তার পিতার সহোদর বা বৈমাত্রেয় চাচা এবং তার আসাবাগত পিতামহের সহোদর বা বৈমাত্রেয় চাচা—এভাবে উপরের দিকে এবং উল্লিখিত ব্যক্তিদের পুত্রদের—এভাবে নিচের দিকে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করে।
ধারা ২৭৬-১: যদি আসাবা বিন-নাফসগণ একই স্তরের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সম্পর্কের দিক থেকে মৃতের নিকটতম, সেই উত্তরাধিকারের যোগ্য হবে।
২- যদি তারা স্তর এবং পর্যায়ে এক হয়, তবে আত্মীয়তার শক্তির ভিত্তিতে অগ্রাধিকার প্রদান করা হবে; সুতরাং যার আত্মীয়তা পিতা-মাতা উভয়ের মাধ্যমে (সহোদর), সে কেবল পিতার মাধ্যমে (বৈমাত্রেয়) আত্মীয়ের ওপর অগ্রাধিকার পাবে।
৩- যদি তারা স্তর, পর্যায় এবং আত্মীয়তার শক্তিতে সমান হয়, তবে তাদের মধ্যে মিরাস সমানভাবে বণ্টিত হবে।
ধারা ২৭৭-১: আসাবা বিল-গাইর হলেন:
ক- পুত্রদের সাথে কন্যাগণ।
(খণ্ড: ১)
ইলমুল ফারায়িদি ওয়াল মাওয়ারীছ ফিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল কানুনুস সুরী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
ب- بنات الابن وإن نزل مع أبناء الابن، وإن نزل إذا كانوا في درجتهن مطلقا، أو كانوا أنزل منهن إذا لم يرثن بغير ذلك.
جـ- الأخوات لأبوين مع الإخوة لأبوين والأخوات لأب مع الإخوة لأب.
2- يكون الإرث بينهم في هذه الأحوال للذكر مثل حظ الأنثيين.
مادة 278-1: العصبة مع الغير هن:
1- الأخوات لأبوين أو لأب مع البنات أو "بنات الابن وإن نزلن"1 ويكون لهن الباقي من التركة بعد الفروض.
2- في هذه الحالة تعتبر الأخوات لأبوين كالإخوة لأبوين، وتعتبر الأخوات لأب كالإخوة لأب ويأخذن أحكامهن بالنسبة لباقي العصبات في التقديم بالجهة والدرجة والقوة.
مادة 279-1: إذا اجتمع الجد العصبي مع الإخوة والأخوات لأبوين أو لأب، فإنه يقاسمهم كأخ إن كانوا ذكورا فقط أو ذكورا وإناثا أو إناثا عصبن مع الفرع الوارث من الإناث.
2- إذا كان الجد مع أخوات لم يعصبن بالذكور ولا مع الفرع الوارث من الإناث، فإنه يستحق الباقي بعد أصحاب الفروض بطريق التعصيب.
3- على أنه إذا كانت المقاسمة أو الإرث بالتعصيب على الوجه المتقدم تحرم الجد من الإرث أو تنقصه عن الثلث اعتبر صاحب فرض الثلث.
4- ولا يعتبر في المقاسمة من كان محجوبا من الإخوة والأخوات لأب.
مادة 280: إذا اجتمع الأب أو الجد مع البنت أو بنت الابن وإن نزل، استحق السدس فرضا والباقي بطريق العصوبة.
--------------------------------------------
খ- পৌত্রীরা এবং তাদের নিম্নাভিমুখীগণ, প্রপৌত্রদের সাথে এবং তাদের নিম্নাভিমুখীগণের সাথে, যখন তারা তাদের সমপর্যায়ের হয় শর্তহীনভাবে, অথবা যখন তারা তাদের নিম্নপর্যায়ের হয় যদি তারা অন্য উপায়ে উত্তরাধিকারী না হয়।
গ- সহোদর বোনরা সহোদর ভাইদের সাথে এবং বৈমাত্রেয় বোনরা বৈমাত্রেয় ভাইদের সাথে।
২- এই সকল অবস্থায় তাদের মধ্যে উত্তরাধিকার হবে এক পুরুষের অংশ দুই নারীর অংশের সমান হারে।
ধারা ২৭৮-১: অন্যদের সাথে আসাবাহ (উত্তরাধিকারী) তারা হলো:
১- সহোদর বোনরা অথবা বৈমাত্রেয় বোনরা যখন কন্যাদের সাথে অথবা "পৌত্রীদের এবং তাদের নিম্নাভিমুখীগণের সাথে"১ থাকে এবং নির্ধারিত অংশ বণ্টনের পর সম্পদের অবশিষ্ট অংশ তাদের জন্য হবে।
২- এই অবস্থায় সহোদর বোনরা সহোদর ভাইদের ন্যায় গণ্য হবে এবং বৈমাত্রেয় বোনরা বৈমাত্রেয় ভাইদের ন্যায় গণ্য হবে। তারা অন্যান্য আসাবাহদের তুলনায় অগ্রাধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে দিক, পর্যায় ও শক্তির বিচারে তাদের বিধানই লাভ করবে।
ধারা ২৭৯-১: যদি আসাবাহ দাদা সহোদর বা বৈমাত্রেয় ভাই ও বোনদের সাথে একত্রিত হন, তবে তিনি একজন ভাইয়ের ন্যায় তাদের সাথে সম্পদ বণ্টন করবেন, যদি তারা কেবল পুরুষ হয় অথবা পুরুষ ও নারী হয় অথবা এমন নারী হয় যারা নারী বংশধরদের সাথে আসাবাহ হয়েছে।
২- যদি দাদা এমন বোনদের সাথে থাকেন যারা পুরুষদের দ্বারা আসাবাহ হয়নি এবং নারী বংশধরদের সাথেও আসাবাহ হয়নি, তবে তিনি নির্ধারিত অংশীদারদের বণ্টনের পর আসাবাহ হিসেবে অবশিষ্ট অংশের অধিকারী হবেন।
৩- তবে শর্ত হলো, যদি উপরোক্ত পদ্ধতিতে বণ্টন বা আসাবাহ হিসেবে উত্তরাধিকার দাদাকে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত করে অথবা তার অংশকে এক-তৃতীয়াংশের কম করে দেয়, তবে তাকে এক-তৃতীয়াংশ নির্ধারিত অংশের অধিকারী গণ্য করা হবে।
৪- বৈমাত্রেয় ভাই ও বোনদের মধ্যে যারা বঞ্চিত, তাদের বণ্টন প্রক্রিয়ায় গণ্য করা হবে না।
ধারা ২৮০: যদি পিতা অথবা দাদা কন্যার সাথে অথবা পৌত্রীর ও তার নিম্নাভিমুখীগণের সাথে একত্রিত হন, তবে তিনি নির্ধারিত অংশ হিসেবে এক-ষষ্ঠাংশ এবং আসাবাহ হিসেবে অবশিষ্ট অংশের অধিকারী হবেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
ইলমুল ফারায়িদি ওয়াল মাওয়ারীছ ফিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল কানুনুস সুরী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
الباب الخامس: الحجب والرد
الفصل الأول: الحجبمادة 281-1: الحجب هو أن يكون لشخص أهلية الإرث، ولكنه لا يرث بسبب وجود وارث آخر.
2- المحجوب يحجب غيره.
مادة 282: المحروم من الإرث لمانع من موانعه لا يحجب أحدا من الورثة.
مادة 283-1: تحجب الجدة الثابتة بالأم مطلقا، والجدة البعيدة بالجدة القريبة والجدة لأب بالأب.
2- الجد العصبي يحجب الجدة إذا كانت أصلا له.
مادة 284: يحجب أولاد الأم بالأب وبالجد العصبي وإن علا وبالولد وولد الابن وإن نزل.
مادة 285-1: يحجب كل من الابن وابن الابن وإن نزل بنت الابن التي تكون أنزل منه درجة.
2- يحجبها أيضا بنتان أو بنتا ابن أعلى منها درجة ما لم يكن معها من يعصبها، طبقا لحكم المادة 277.
مادة 286: يحجب الأخت لأبوين كل من الأب والابن وابن الابن وإن نزل.
مادة 287: يحجب الأخت لأب كل من الأب والابن وابن الابن وإن نزل. كما يحجبها الأخ لأبوين والأخت لأبوين، إذا كانت عصبة مع غيرها طبقا لحكم المادة 278، والأختان لأبوين إذا لم يوجد أخ لأب.
পঞ্চম অধ্যায়: হাজব (বঞ্চিতকরণ) ও রদ্দপ্রথম পরিচ্ছেদ: হাজব (বঞ্চিতকরণ)ধারা ২৮১-১: হাজব হলো কোনো ব্যক্তির উত্তরাধিকার লাভ করার যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অন্য কোনো উত্তরাধিকারীর উপস্থিতির কারণে সে উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া।
২- যে ব্যক্তি নিজে বঞ্চিত, সে অন্যকে বঞ্চিত করতে পারে।
ধারা ২৮২: উত্তরাধিকারের কোনো প্রতিবন্ধকতার কারণে যে ব্যক্তি উত্তরাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়, সে উত্তরাধিকারীদের কাউকেই বঞ্চিত করে না।
ধারা ২৮৩-১: মায়ের মাধ্যমে সম্পৃক্ত নানি সর্বাবস্থায় মা দ্বারা বঞ্চিত হন। অনুরূপভাবে দূরবর্তী নানি বা দাদি নিকটবর্তী নানি বা দাদি দ্বারা এবং পিতার দিকের দাদি পিতা দ্বারা বঞ্চিত হন।
২- আসাবা দাদা দাদিকে বঞ্চিত করেন যদি তিনি তাঁর মূল (উর্ধ্বতন বংশধর) হন।
ধারা ২৮৪: মায়ের সন্তানগণ (বৈপিত্রীয় ভাই-বোন) পিতা, আসাবা দাদা (যত উপরেই হোক), সন্তান এবং পুত্রের সন্তান (যত নিচেই হোক) দ্বারা বঞ্চিত হয়।
ধারা ২৮৫-১: পুত্র এবং পুত্রের পুত্র (যত নিচেই হোক) তার চেয়ে নিম্নস্তরের পুত্রের কন্যাকে বঞ্চিত করে।
২- একইভাবে দুইজন কন্যা অথবা উচ্চতর স্তরের দুইজন পুত্রের কন্যাও তাকে বঞ্চিত করে, যদি না তার সাথে এমন কেউ থাকে যে তাকে ২৭৭ নম্বর ধারার বিধান অনুযায়ী আসাবাভুক্ত করে।
ধারা ২৮৬: সহোদর বোনকে পিতা, পুত্র এবং পুত্রের পুত্র (যত নিচেই হোক) বঞ্চিত করে।
ধারা ২৮৭: বৈমাত্রেয় বোনকে পিতা, পুত্র এবং পুত্রের পুত্র (যত নিচেই হোক) বঞ্চিত করে। অনুরূপভাবে সহোদর ভাই এবং সহোদর বোনও তাকে বঞ্চিত করে, যখন সহোদর বোন ২৭৮ নম্বর ধারার বিধান অনুযায়ী অন্যের সাথে আসাবা হয়। এছাড়া বৈমাত্রেয় ভাই না থাকলে দুইজন সহোদর বোনও তাকে বঞ্চিত করে।
(খণ্ড: ১)
ইলমুল ফারায়িদি ওয়াল মাওয়ারীছ ফিশ শারীআতিল ইসলামিয়্যাহ ওয়াল কানুনুস সুরী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الفصل الثاني: الردمادة 288-1: إذا لم تستغرق الفروض التركة ولم يوجد عصبة من النسب، رد الباقي على غير الزوجين من أصحاب الفروض بنسبة فروضهم.
2- يرد باقي التركة إلى أحد الزوجين إذا لم يوجد عصبة من النسب، أو أحد أصحاب الفروض النسبية، أو أحد ذوي الأرحام.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: রাদ্দ (প্রত্যাবর্তন)ধারা ২৮৮-১: যদি নির্ধারিত অংশসমূহ সম্পূর্ণ সম্পদ নিঃশেষ না করে এবং কোনো বংশীয় আসাবা বিদ্যমান না থাকে, তবে স্বামী-স্ত্রী ব্যতীত অন্যান্য অংশীদারদের মধ্যে তাদের নিজ নিজ অংশের অনুপাতে অবশিষ্ট সম্পদ বণ্টন করা হবে।
২- যদি কোনো বংশীয় আসাবা, কোনো বংশীয় অংশীদার অথবা কোনো জাবিল আরহাম বিদ্যমান না থাকে, তবে অবশিষ্ট সম্পদ স্বামী বা স্ত্রীর নিকট ফিরিয়ে দেওয়া হবে।