(খণ্ড: ১) আদ-দাওউল লামিউল মুবীন আন মানাহিযিল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: -)
الضوء اللامع المبين عن مناهج المحدثين   (أحمد محرم الشيخ ناجي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: الضوء اللامع المبين عن مناهج المحدثين

المؤلف: أحمد محرم الشيخ ناجي

الناشر: -

الطبعة: الخامسة

عدد الصفحات: 314

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আদ্-দাওউল লামে আল-মুবিন আন মানাহিজিল মুহাদ্দিসিন   (আহমদ মুহাররাম আশ-শাইখ নাজি)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


গ্রন্থ: আদ্-দাওউল লামে আল-মুবিন আন মানাহিজিল মুহাদ্দিসিন

গ্রন্থকার: আহমদ মুহাররাম আশ-শাইখ নাজি

প্রকাশক: -

সংস্করণ: পঞ্চম

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩১৪

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আদ-দাওউল লামিউল মুবীন আন মানাহিযিল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌المجلد الأول

‌‌مقدمة

…

مقدمة:

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، نعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، فإنه من يهد الله فلا مضل له، ومن يضلل الله فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده ولا شريك له، وأشهد أن سيدنا محمدا عبده ورسوله. {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} 1، {يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} 2، {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا، يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} 3.

ثم أما بعد، فإن أصدق الحديث كتاب الله تعالى، وأحسن الهدي هدي سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار، ومن يردِ الله به خيرًا يفقهه في الدين.

اللهم فقهنا في الدين وعلمنا التأويل يا رب العالمين، ربنا آتنا من لدنك رحمة، وهيئ لنا من أمرنا رشدا.

ليس يرتاب عاقلٌ في أن العلم خير ما فيه سُعِيَ، وأولُ ما له العبد دُعِيَ،

--------------------------------------------

1 سورة آل عمران الآية 102.

2 سورة النساء الآية 1.

3 سورة الأحزاب الآيتان 70، 71.
প্রথম খণ্ড

ভূমিকা

…

ভূমিকা:

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে হেদায়েত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ দেখানোর কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসূল। {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না} ১, {হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তোমরা সেই আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে অধিকার দাবি করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন অক্ষুণ্ণ রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখেন} ২, {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল} ৩।

অতঃপর, নিশ্চয়ই সর্বশ্রেষ্ঠ বাণী আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম কাজ হলো দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ; আর প্রতিটি নতুন বিষয়ই নব-উদ্ভাবন (بدعة), প্রতিটি নব-উদ্ভাবন (بدعة) হলো ভ্রষ্টতা (ضلالة), এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতা (ضلالة) জাহান্নামের আগুনের পথে নিয়ে যায়। আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান (فقه) দান করেন।

হে আল্লাহ! আপনি আমাদের দ্বীনের গভীর জ্ঞান (فقه) দান করুন এবং আমাদের ব্যাখ্যা (تأويل) শিক্ষা দিন, হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আপনার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করুন এবং আমাদের কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করার তাওফিক দিন।

কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করেন না যে, জ্ঞানই হলো সর্বোত্তম লক্ষ্য যার অন্বেষণে প্রচেষ্টা ব্যয় করা হয় এবং এটিই প্রথম বিষয় যার দিকে বান্দাকে আহ্বান জানানো হয়।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-ইমরান, আয়াত ১০২।

২ সূরা আন-নিসা, আয়াত ১।

৩ সূরা আল-আহযাব, আয়াত ৭০, ৭১।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওউল লামিউল মুবীন আন মানাহিযিল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ৬)
وأن أي علم يشرف بشرف موضوعه، فأنى يكون شرف من يجعل القرآن قبلته، وبيان ما نزل عليه صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه وسلم وجهته، من ذا عساه أن يسكنه حقيقته، أو أن يدرك قصده وغايته لن يكون إلا الموفق، وإذا حقق النظر متأمل ودقق فسيجد الموفقين ثلة من الأولين وقليلا من الآخرين شأنهم شأن السابقين، ونعني بهم أولئك الذين عكفوا على كتاب الله وسنة رسوله، ورأوا أنهما أصلا هذا الدين، وأن الصلة بينهما صلة التواثق والتوافق والترابط والتطابق.

وحجية السنة ومكانتها في التشريع ومنزلتها من كتاب الله تعالى وعلاقتها به كل هذه المسائل قُتلت بحثا، وأمعن الناس دراستها، وأسهبوا في بسطها، شأنها في ذلك شأن بقية الموضوعات المتصلة بالكتاب والسنة.

فلقد حشد الله لكتابه ولسنة نبيه الكثير من الجهود جمع على مائدتهما الفينانة قلوب الكثيرين، يجمعون ويحصلون ويقعدون ويأصلون ويهذبون ويرتبون ويقومون وينظمون، وقل أن تجد لاحقا إلا وله استدراك على من سبقه، مما كان له الأثر البعيد في إثراء الفكر وتكوين تراث خالد، أتاح الفرصة لمن جاء بعد لأن ينهل من هذا الموروث الخالد، ولا عليه إلا أن يعب من هذا المزاج الخالص السائغ للقارئين النهمين.

فطالب التفسير يمكن له أن يشفي علته، وأن يروي غلته في تلك الدراسات القرآنية المتشعبة بأصحابها، والمنوعة لهم إلى باحث عن أسباب للنزول، وآخر يبحث عن الناسخ والمنسوخ، وثالث يطلب معرف مكي الآيات من مدنيها، ورابع يتوق إلى إبراز وجوه الإعجاز وإظهار الصور
যে কোনো শাস্ত্র তার আলোচ্য বিষয়ের মর্যাদার মাধ্যমেই শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে। অতএব যে ব্যক্তি কুরআনকে তার লক্ষ্যস্থল এবং তাঁর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তার বর্ণনাকে তার অভীষ্ট গন্তব্য হিসেবে নির্ধারণ করে, তার মর্যাদা কতই না উঁচুতে হতে পারে! কে আছে যে এর প্রকৃত সত্যকে অনুধাবন করবে কিংবা এর উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য উপলব্ধি করতে পারবে? কেবল তাওফিকপ্রাপ্ত ব্যক্তিই তা করতে সক্ষম। যদি কোনো মনোযোগী পর্যবেক্ষক সূক্ষ্মভাবে দৃষ্টিপাত করেন, তবে তিনি দেখতে পাবেন যে, এই তাওফিকপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা পূর্ববর্তীদের একটি বৃহৎ দল এবং পরবর্তীদের মধ্য হতে অল্প কিছু সংখ্যক; তাদের বৈশিষ্ট্য হলো তারা অগ্রবর্তীদের অনুসারী। আমরা তাদের কথা বলছি যারা আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাহর প্রতি একনিষ্ঠভাবে নিবিষ্ট হয়েছেন এবং তারা মনে করেন যে, এ দুটিই এই দ্বীনের মূল ভিত্তি; আর এ দুয়ের মধ্যকার সম্পর্ক হলো পারস্পরিক নির্ভরযোগ্যতা, সামঞ্জস্যতা, সংগতি ও অভিন্নতার সম্পর্ক।

সুন্নাহর প্রামাণ্যতা (حجية), শরিয়ত প্রণয়নে এর মর্যাদা, আল্লাহর কিতাবের সাথে এর অবস্থান ও সম্পর্ক—এই সকল বিষয় গবেষণার মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে নিরূপিত হয়েছে। মানুষ এগুলো গভীরভাবে অধ্যয়ন করেছে এবং এর বিস্তারিত বর্ণনায় যথেষ্ট প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছে; ঠিক যেমনটি কুরআন ও সুন্নাহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে করা হয়ে থাকে।

আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাব ও তাঁর নবীর সুন্নাহর খিদমতে অগণিত প্রচেষ্টা সমবেত করেছেন। এগুলোর সমৃদ্ধ দস্তরখানের চারপাশে তিনি বহুজনের অন্তরকে একত্রিত করেছেন; যারা জ্ঞান সংগ্রহ করেছেন, অর্জন করেছেন, মূলনীতি নির্ধারণ (تقعيد) করেছেন, ভিত্তি স্থাপন (تأصيل) করেছেন, পরিমার্জন করেছেন, বিন্যস্ত করেছেন, মূল্যায়ন করেছেন এবং সুশৃঙ্খল করেছেন। আর এমন পরবর্তী কাউকে পাওয়া দুষ্কর যার তার পূর্ববর্তীদের ওপর কোনো পর্যবেক্ষণ বা সংশোধন (استدراك) নেই, যা চিন্তাধারাকে সমৃদ্ধ করতে এবং একটি শাশ্বত ঐতিহ্য গঠনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলেছে। এটি পরবর্তীদের জন্য এই অমর উত্তরাধিকার থেকে জ্ঞান আহরণের সুযোগ করে দিয়েছে; অনুসন্ধিৎসু পাঠকদের জন্য এই বিশুদ্ধ ও সুপেয় জ্ঞান-সুধা পান করা ছাড়া আর কোনো শ্রম অবশিষ্ট নেই।

সুতরাং তাফসির অন্বেষণকারী ব্যক্তি সেই সকল বহুমুখী কুরআন সংশ্লিষ্ট গবেষণার মাধ্যমে তার জ্ঞানতৃষ্ণা নিবারণ করতে পারেন, যেখানে গবেষকদের কেউ অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট (أسباب النزول) অনুসন্ধান করেন, কেউ রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) বিষয় নিয়ে গবেষণা করেন, তৃতীয় কেউ আয়াতের মক্কি (مكي) ও মাদানি (مدني) হওয়ার পরিচয় সন্ধান করেন এবং চতুর্থ কেউ অলৌকিকত্বের (إعجاز) বিভিন্ন দিক ফুটিয়ে তুলতে ও এর চিত্রগুলো প্রকাশ করতে আগ্রহী হন।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওউল লামিউল মুবীন আন মানাহিযিল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ৭)
البيانية التي أعجز بها القرآن أرباب البلاغة والبيان، وأساطين الفصاحة، وخامس يتتبع القراءات، وسادس يبتغي توضيح غريب الكلمات، وهناك من جمع شتات هذه الأبحاث كلها فأمعن النظر في الآيات مستنبطا وجوه تأويلها من الروايات، أو محاولا تفسيرها في ضوء ما صح عند أهل اللغة من استعمالات، فتنوع التفسير إلى تفسير بالمأثور، وتفسير بالرأي، وتنوع الأخير إلى محمود ومذموم، وتعددت إذن الاتجاهات وكثرت الموارد والمشارب، وتملكت الناس المآرب، وتفاوتت الأذواق، واختلفت المدارك، مما تطلب البحث في مناهج المفسرين تقييما لجهودهم وتمييزا بين منحرفهم ومستقيمهم وتفريقا بين صحيحهم وسقيمهم، فنشأ علم جديد عرف باسم "مناهج المفسرين" اعتمدت مادته على تتبع ما كتبه المفسر والخطوات التي اتخذها في تفسيره، والنهج الذي سلكه فيه، ومقارنته بمشابهه في ذلك أو محاكيه، وانساحت مباحث هذا العلم الجديد قديما في كتب علوم القرآن "كالبرهان في علوم القران لأبي عبد الله بدر الدين محمد بن بهادر الزركشي المتوفى سنة أربع وتسعين وسبعمائة" و"الإتقان للجلال الدين السيوطي المتوفى في سنة إحدى عشر وتسعمائة"، ولن يبعد النجعة من اعتبر الحواشي التي حشي بها على كتب معينة مادة خصبة لمناهج المفسرين ذلك أن المحشي غالبا ما يتعقب المحشي عليه يلاحقه بالنقد والتمحيص.

ولم تكن السنة عند ذوي الألباب، ولن تكون أقل شأنا من الكتاب، فقد حظيت بما حظي به من الاهتمام، واحتفدت حولها الأفهام وتكاتفت الجهود خدمة لحديث خير الأنام، وماذا يعني حديثه صلى الله
সেই ভাষাশৈলী, যার মাধ্যমে কুরআন অলঙ্কারশাস্ত্র ও বাচনভঙ্গির পণ্ডিতদের এবং বাগ্মিতার কর্ণধারদের অক্ষম করে দিয়েছে। পঞ্চম একদল কিরাতসমূহ নিয়ে গবেষণা করেন এবং ষষ্ঠ একদল অপ্রচলিত শব্দসমূহের (غريب الكلمات) ব্যাখ্যা তালাশ করেন। আবার এমনও একদল রয়েছেন যারা এই সকল বিচ্ছিন্ন গবেষণাকে একত্র করেছেন এবং আয়াতসমূহের দিকে গভীর দৃষ্টিপাত করেছেন। তারা বর্ণনা (روايات) থেকে সেগুলোর ব্যাখ্যার দিকসমূহ উদ্ভাবন করেছেন, অথবা ভাষাবিদদের নিকট যা সঠিক (صح) হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে তার আলোকে তা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছেন। ফলে তাফসিরের বৈচিত্র্য তৈরি হয়ে তা তাফসির বিল মা’সুর এবং তাফসির বির রায়-এ বিভক্ত হলো। শেষোক্তটি আবার প্রশংসনীয় (محمود) ও নিন্দনীয় (مذموم) এই দুই প্রকারে বিন্যস্ত হলো। এর ফলে দৃষ্টিভঙ্গির বহুত্ব ঘটল, উৎস ও পানপাত্রের প্রাচুর্য দেখা দিল, মানুষের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বিভিন্ন হলো, রুচিবোধে তারতম্য ঘটল এবং মেধা ও উপলব্ধিতে ভিন্নতা তৈরি হলো। এসব কিছুর কারণেই মুফাসসিরদের কর্মপ্রচেষ্টার মূল্যায়ন, তাদের মধ্য থেকে বিচ্যুত ও সঠিক পথচারীদের পৃথকীকরণ এবং তাদের বিশুদ্ধ (صحيح) ও ত্রুটিপূর্ণ (سقيم) মতামতের মধ্যে পার্থক্য করার লক্ষ্যে মুফাসসিরগণের কর্মপন্থা নিয়ে গবেষণার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল। এর ফলে একটি নতুন শাস্ত্রের জন্ম হলো যা ‘মানাহিজুল মুফাসসিরিন’ নামে পরিচিত। এর বিষয়বস্তু নির্ভর করে একজন মুফাসসির যা লিখেছেন তা অনুসরণ করা, তিনি তার তাফসিরে যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এবং যে পথ অবলম্বন করেছেন তা বিশ্লেষণ করা এবং সমজাতীয় বা অনুরূপ অন্য তাফসিরের সাথে তার তুলনা করার ওপর। এই নতুন শাস্ত্রের আলোচনাগুলো প্রাচীনকাল থেকেই উলুমুল কুরআনের কিতাবসমূহে ছড়িয়ে ছিল, যেমন আবু আব্দুল্লাহ বদর উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বাহাদুর আজ-জারকাশি (মৃত্যু ৭৯৪ হিজরি) রচিত ‘আল-বুরহান ফি উলুমিল কুরআন’ এবং জালাল উদ্দিন আস-সুয়ূতী (মৃত্যু ৯১১ হিজরি) রচিত ‘আল-ইতকান’। যারা নির্দিষ্ট কিছু কিতাবের ওপর লিখিত টীকা বা হাশিয়াগুলোকে ‘মানাহিজুল মুফাসসিরিন’-এর জন্য একটি উর্বর ক্ষেত্র হিসেবে গণ্য করেন, তারা লক্ষ্যভ্রষ্ট নন; কারণ টীকা লেখক সাধারণত মূল লেখককে সমালোচনা ও পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের মাধ্যমে অনুসরণ করেন।

প্রজ্ঞাবানদের নিকট সুন্নাহ কিতাবুল্লাহর চেয়ে কম মর্যাদাপূর্ণ ছিল না এবং কখনও হবেও না। এটি সেই সমপরিমাণ গুরুত্ব পেয়েছে যা কুরআন লাভ করেছে। সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম মানবের হাদিসের খিদমতে মেধাগুলো ধাবিত হয়েছে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টাসমূহ নিয়োজিত হয়েছে। আর তাঁর (সা.) হাদিস বলতে কী বোঝায়...
(খণ্ড: ১) আদ-দাওউল লামিউল মুবীন আন মানাহিযিল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ৮)
عليه وسلم؟ إنه يعني الأقوال والأفعال، والصفات والتقريرات، والهم والإشارات والحركات والسكنات والعادات، بعبارة أوجز يعني كل ما صدر عنه أو عن غيره ويعلمه بالحضور، أو بإعلام عالم الغيب والشهادة إياه به سواء كان فعلا أو تركا طيلة زمن الوحي على مدى ثلاثة وعشرين عاما، كل ذلك يصدق عليه لفظ حديث أو لفظ سنة.

وما أوسع دائرة هذا اللفظ وما أرحب الأفق التي تنضوي تحته، وما أعظم مسئولية الذين يتحملون أمانة الحفظ والوعي، ثم النقل والأداء للحديث أو للسنة.

كيف كان تحملهم وكيف كان نقلهم وأداؤهم وما حال الذين تحملوا عنهم، وما طرقهم في الرواية وأساليبهم في أخذها وإعطائها، ما الأدوار التي مر بها المنقول منذ عصر الرسول صلى الله عليه وسلم إلى الآن، وما الأهوال التي هالت الذين ناءوا بهذا الأمر الجليل، وما الرياح العاتية التي هبت أعصاير قاصفة في كل العصور تريد النيل من هذا المنقول، أو العبث به، أو التطاول على حصن الدين من خلاله. والمحدثون على مر السنين يمثلون الطود الراسخ، لا تلين لهم عريكة ولا تنكسر لهم قناة، وهم يواجهون في صبر وأناة ضراوة أولئك العداة.

ماذا نقول عنهم أو فيهم، في أي موقع تبوءوه أو في أي زمان عاشوه، موقع الصحابي الذي أشرق نور النبوة في قلبه ففاض إشعاعه على عقله ولسانه، وبدت نضارة وجهه حين حفظ ووعى ما سمع وبلغ كما سمع.

ما أحوجنا إلى استكناه السبل التي سلكها الصحابة رضوان الله عليهم
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম? এর অর্থ হলো সকল কথা ও কাজ, গুণাবলি ও মৌনসম্মতি (تقريرات), সংকল্প ও ইঙ্গিত, নড়াচড়া ও স্থিরতা এবং অভ্যাসসমূহ। সংক্ষেপে বলতে গেলে, তাঁর থেকে বা অন্য কারও থেকে যা কিছু প্রকাশিত হয়েছে এবং তিনি সশরীরে উপস্থিত থেকে যা জেনেছেন অথবা দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা আল্লাহ তাঁকে ওহীর মাধ্যমে যা জানিয়েছেন—চাই তা কাজ হোক বা বর্জন হোক—দীর্ঘ তেইশ বছরের ওহী অবতরণের পুরো সময়ে, এই সবকিছুই হাদিস বা সুন্নাহ শব্দের অন্তর্ভুক্ত।

এই শব্দের পরিধি কতই না বিশাল এবং এর দিগন্ত কতই না বিস্তৃত! আর যারা হাদিস বা সুন্নাহর সংরক্ষণ ও উপলব্ধির আমানত বহন করেন এবং পরবর্তীতে তা বর্ণনা (نقل) ও আদা (أداء) করার দায়িত্ব পালন করেন, তাঁদের দায়িত্ব কতই না মহান।

তাঁদের হাদিস গ্রহণ করার পদ্ধতি (تحمل) কেমন ছিল এবং তাঁদের বর্ণনা (نقل) ও আদা (أداء) করার ধরণই বা কী ছিল? আর যাঁদের থেকে তাঁরা হাদিস গ্রহণ করেছেন তাঁদের অবস্থাই বা কী ছিল? বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে তাঁদের পদ্ধতি এবং তা গ্রহণ ও প্রদানের কৌশলই বা কেমন ছিল? রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এই বর্ণিত বিষয়গুলো (المنقول) কোন কোন পর্যায়ের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে? এই মহান দায়িত্ব যারা কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন, তাঁদেরকে কোন সব ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল? আর প্রত্যেক যুগে প্রবাহিত সেই প্রচণ্ড ঝড় ও টর্নেডো যা এই বর্ণিত বিষয়গুলোর ক্ষতি সাধন করতে চেয়েছিল, অথবা এর সাথে তামাশা করতে চেয়েছিল, কিংবা এর মাধ্যমে দ্বীনের দুর্গকে ধূলিসাৎ করতে চেয়েছিল, তা কেমন ছিল? মুহাদ্দিসগণ যুগ যুগ ধরে সুদৃঢ় পাহাড়ের ন্যায় অটল ছিলেন; তাঁদের সংকল্প কখনো শিথিল হয়নি এবং তাঁদের মনোবলও কখনো ভাঙেনি। তাঁরা অত্যন্ত ধৈর্য ও স্থিরতার সাথে সেই শত্রুদের হিংস্রতার মোকাবিলা করেছেন।

তাঁদের সম্পর্কে আমরা কী-ই বা বলতে পারি? তাঁরা যে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে সমাসীন ছিলেন বা যে যুগে তাঁরা জীবন অতিবাহিত করেছেন! সেই সাহাবীর মর্যাদা, যাঁর হৃদয়ে নবুওয়াতের নূর প্রজ্জ্বলিত হয়েছিল এবং যার বিচ্ছুরণ তাঁর মেধা ও জিহ্বার ওপর উপচে পড়েছিল; আর যা শুনেছিলেন তা মুখস্থ ও অনুধাবন করার পর হুবহু পৌঁছে দেওয়ায় তাঁর চেহারায় লাবণ্য ফুটে উঠেছিল।

সাহাবায়ে কেরাম (رضوان الله عليهم) যে পথ অনুসরণ করেছিলেন, তার গভীরতা অনুসন্ধান করা আমাদের জন্য আজ কতই না প্রয়োজন।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওউল লামিউল মুবীন আন মানাহিযিল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ৯)
خدمة للسنة الغراء، ثم وإن راقنا الانتقال إلى موقع آخر أو شاقنا تتبع الزمان فماذا هناك؟ تابعون بإحسان عظمت مهمتهم وتجاسمت مسئوليتهم باتساع دائرة التبليغ والإسماع لكل ما تحملوه عن الصحابة، وبانخراط بعض من لبسوا مسوح الكباش، وكانت قلوبهم أمر من العلقم، عجزوا عن مواجهة هذا الدين كفاحا فلم يقابلوه في ساحات الوغى، وإنما تظاهروا بقبوله واندسوا بين صفوف أبنائه، يكيدون له، ويحاولون النيل منه، فمن لهم ولكيدهم، ومن لدسهم وسمهم. وإذا قال قائلهم: "وضعت فيكم أربعة آلاف حديث، أحل فيها الحرام، وأحرم فيها الحلال" كان الإسكات لهذا الضلال، والإهلاك لهذا الوبال يتمثل في هذا الرد "يعيش لها الجهابذة" ويمثل لهم بعبد الله بن المبارك وعبد الرحمن بن مهدي وغيرهما.

لكأني أتمثل حال الإمام الجهبذ المفضال "يحيى بن معين" المتوفى سنة ثلاث وثلاثين ومائتين وهو يجلس، وبين عينيه سجل حافل بأخبار كل من اشتغل بالرواية على مدى قرنين وثلث قرن، والرجل لا يعرف عن الراوي سنة مولده أو سنة وفاته فحسب، ولا يكتفي بمعرفة حاله في الرواية وما قيل فيه من مدح أو قدح، بل إنه يتتبع دقائق حله وترحاله وتفصيلات حياته، فيعرف من لقيهم ممن لم يلقهم، والذي لقيه ماذا أخذ عنه وماذا لم يأخذ، وتصل المعرفة بالدقائق والتفصيلات إلى حد رواية الراوي لمجرد ذكر اسمه عند صيرفي خبير بالحديث فامتخط، أو لكونه رآه يركض على
উজ্জ্বল সুন্নাহর সেবায়, অতঃপর আমরা যদি অন্য কোনো প্রেক্ষাপটে স্থানান্তরিত হতে চাই কিংবা সময়ের বিবর্তন অনুসরণ করি, তবে সেখানে কী রয়েছে? ইহসানের সাথে অনুসারী তাবেয়ীগণ, যাদের মহৎ উদ্দেশ্য এবং বিশাল দায়িত্ব সাহাবায়ে কেরামের নিকট থেকে প্রাপ্ত প্রতিটি বিষয় প্রচার ও পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে সুবিস্তৃত হয়েছিল। সেই সাথে এমন কিছু লোকও এই কাতারে শামিল হয়েছিল যারা মেষের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিল, কিন্তু যাদের অন্তর ছিল তিক্ততায় পূর্ণ। তারা সরাসরি এই দ্বীনের মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে রণক্ষেত্রে একে মোকাবিলা না করে বরং এটি গ্রহণের ভান করেছিল এবং এর অনুসারীদের কাতারে ঢুকে পড়েছিল। তারা দ্বীনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছিল এবং এর ক্ষতি সাধনের চেষ্টা করছিল। এমতাবস্থায়, তাদের ও তাদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এবং তাদের অনুপ্রবেশ ও বিষাক্ত প্রভাব রুখতে কে এগিয়ে আসবে? যখন তাদের মধ্য থেকে কোনো এক বক্তা বলেছিল: "আমি তোমাদের মধ্যে চার হাজার হাদিস জাল (وضع) করেছি, যাতে আমি হারামকে হালাল এবং হালালকে হারাম করেছি", তখন এই গোমরাহিকে স্তব্ধ করতে এবং এই অনিষ্টকে বিনাশ করতে যে কালজয়ী উত্তরটি দেওয়া হয়েছিল তা হলো: "এগুলোর জন্য সূক্ষ্মদর্শী বিশেষজ্ঞগণ (الجهابذة) বেঁচে আছেন।" আর তাদের উদাহরণ হিসেবে আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, আবদুর রহমান ইবনে মাহদী ও অন্যান্যদের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

আমি যেন শ্রেষ্ঠ সূক্ষ্মদর্শী ইমাম (الجهبذ) "ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন"-এর (মৃত্যু ২২৩ হিজরি) অবস্থা প্রত্যক্ষ করছি, যখন তিনি বসতেন এবং তাঁর দৃষ্টির সম্মুখে থাকত সোয়া দুই শতাব্দী ধরে হাদিস বর্ণনার (الرواية) সাথে জড়িত প্রত্যেকের খবরাখবরের এক সমৃদ্ধ তালিকা। তিনি বর্ণনাকারীর (الراوي) শুধু জন্ম বা মৃত্যু সাল জানতেন তা নয়, কিংবা বর্ণনার (الرواية) ক্ষেত্রে তার অবস্থা এবং তার সম্পর্কে কী প্রশংসা বা সমালোচনা (مدح أو قدح) করা হয়েছে তাতেই তিনি সন্তুষ্ট থাকতেন না; বরং তিনি বর্ণনাকারীর অবস্থান ও ভ্রমণের প্রতিটি সূক্ষ্ম বিষয় এবং জীবনের বিস্তারিত তথ্য অনুসন্ধান করতেন। তিনি জানতেন বর্ণনাকারী কাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন আর কাদের সাথে করেননি, এবং যার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন তার থেকে কী গ্রহণ করেছেন আর কী করেননি। এই সূক্ষ্ম ও বিস্তারিত জ্ঞানের ব্যাপ্তি এতটাই ছিল যে, কোনো হাদিস বিশারদ রূপী পারদর্শী (صيرفي) বিশেষজ্ঞের কাছে কোনো বর্ণনাকারীর (الراوي) নাম উল্লেখ করলে তিনি হয়তো বিরক্তিভরে নাক ঝাড়তেন, অথবা তাকে হয়তো কোনো কিছুর ওপর চড়ে দৌড়াতে দেখার কারণে...
(খণ্ড: ১) আদ-দাওউল লামিউল মুবীন আন মানাহিযিল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ১০)
برذون. نقل السيوطي عن الخطيب أنه "قيل لشعبة1: لم تركت حديث فلان؟ قال: رأيته يركض على برذون فتركت حديثه، وروي عن مسلم بن إبراهيم2 أنه سئل عن حديث صالح المري3 فقال: وما تصنع بصالح؟ ذكروه يوما عند حماد بن سلمة4 فامتخط حماد"5.

يا سبحان الله! أي أناس كانوا؟ وأي عقول تلك التي حفظت لنا ذلك كله؟ وأي نزاهة وتجرد في الحكم بعد أن يروي مثل علي بن عبد الله المديني شيخ البخاري المتوفى سنة أربع وثلاثين ومائتين قائلا: "حدثني أبي وكان غير ثقة"؟

ثم ماذا عن عشرات بل مئات الكتب التي عنيت بجمع الروايات وحشدها، وتنوعت أساليب مصنفيها فمن جامع لمرويات الصحابي الواحد ولا يعنيه إلا كونها من رواية ذلك الصحابي بغض النظر عن مضمونها

--------------------------------------------

1 شعبة بن الحجاج بن الورد المتوفى سنة ستين ومائة، انظر تذكرة الحفاظ ج1 ص193-197.

2 مسلم بن إبراهيم الأزدي مولاهم أبو عمرو الحافظ المتوفى سنة اثنتين وعشرين ومائتين، انظر التهذيب ص123 ج10.

3 صالح بن بشير بن وداع المري "بضم أوله وتشديد ثانيه" مات سنة ست أو اثنتين وسبعين ومائة وأكثرهم على تضعيفه، انظر تهذيب التهذيب ج4 ص382-383.

4 حماد بن سلمة بن دينار المتوفى سنة سبع وستين ومائة، انظر تذكرة الحفاظ ج1 ص202.

5 تدريب الراوي ج1 ص306.
বারজুন। আস-সুয়ূতী আল-খাতীব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, "শু'বাহকে১ জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: আপনি কেন অমুকের হাদিস বর্জন করেছেন? তিনি বললেন: আমি তাকে একটি বারজুনের (দ্রুতগামী ঘোড়া) ওপর দৌড়াতে দেখেছি, তাই আমি তার হাদিস বর্জন করেছি। আর মুসলিম ইবনে ইবরাহিম২ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাকে সালিহ আল-মুররি৩ এর হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: সালিহকে নিয়ে তুমি কী করবে? একদিন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ-এর৪ নিকট সালিহ-এর কথা উল্লেখ করা হলে হাম্মাদ নাক ঝাড়লেন (বিরক্তি প্রকাশ করলেন)।"৫

সুবহানাল্লাহ! তাঁরা কেমন মানুষ ছিলেন? আর সেগুলো কেমন মেধা ছিল যা আমাদের জন্য এই সব কিছু সংরক্ষণ করেছে? আর বিচারের ক্ষেত্রে কতটা সততা ও নিরপেক্ষতা ছিল যখন ইমাম বুখারীর উস্তাদ আলি ইবনুল মাদিনী (মৃত্যু ২৩৪ হিজরি) বর্ণনা করেন: "আমার পিতা আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন, অথচ তিনি নির্ভরযোগ্য (غير ثقة) ছিলেন না"?

অতঃপর সেই দশ দশ বা বরং শত শত কিতাব সম্পর্কে কী বলা যায়, যা বর্ণনা (روايات) সংগ্রহ ও পুঞ্জীভূত করার প্রতি মনোনিবেশ করেছে? এবং সেগুলোর সংকলকদের পদ্ধতিও ছিল বৈচিত্র্যময়। তাদের মধ্যে কেউ একজন সাহাবীর বর্ণিত হাদিসসমূহ (مرويات) একত্রিত করেছেন এবং সেই সাহাবীর বর্ণনা হওয়াই ছিল তাঁর একমাত্র বিবেচ্য বিষয়, হাদিসের বিষয়বস্তু কী তা নিয়ে তিনি ভাবেননি

--------------------------------------------

১ শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ ইবনুল ওয়ারদ, মৃত্যু ১৬০ হিজরি। দেখুন: তাযকিরাতুল হুফফাজ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৯৩-১৯৭।

২ মুসলিম ইবনে ইবরাহিম আল-আযদি, তাঁদের মুক্তদাস, আবু আমর আল-হাফিজ (الحافظ), মৃত্যু ২২২ হিজরি। দেখুন: আত-তাহযীব, খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ১২৩।

৩ সালিহ ইবনে বাশির ইবনে ওয়াদা আল-মুররি (প্রথম অক্ষরে পেশ ও দ্বিতীয় অক্ষরে তাশদীদ সহ)। তিনি ১৭২ অথবা ১৭৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং অধিকাংশ আলেম তাঁকে দুর্বল সাব্যস্ত (تضعيف) করার পক্ষে। দেখুন: তাহযীবুত তাহযীব, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৮২-৩৮৩।

৪ হাম্মাদ ইবনে সালামাহ ইবনে দীনার, মৃত্যু ১৬৭ হিজরি। দেখুন: তাযকিরাতুল হুফফাজ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২০২।

৫ তাদরীবুর রাবী, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৩০৬।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওউল লামিউল মুবীন আন মানাহিযিল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ১১)
إلى آخر يراعي معانيها ومدلولها، ويمزجها بغيرها من فتاوى الصحابة والتابعين، ويوطئ بها للتصنيف في الحديث، إلى ثالث يرتب على الأبواب ويفرد الصحيح بالذكر في الكتاب دون غيره، إلى رابع يعنى بجمع أحاديث الأحكام، فخامس يجعل غاية أمره أن لا يخرج حديث من أجمعوا على تركه، فسادس يستدرك، فسابع يبين المبهم ويقيد المهمل، فثامن يوضح الغريب ويشرحه، فتاسع يعنى بالرجال وضبط أسمائهم وألقابهم وكناهم، فعاشر يعنى باستنباط الأحكام الفقهية ويؤيد بالنص هذا المذهب، أو ذاك، واحشد مع كل عدد ما شئت.

فإن تركت كتب المتون فما أوسع دائرة الفنون التي فننها المحدثون؛ فمن كتب في الطبقات إلى مصنفات في الرجال. فتنويع لهم، إلى ثقات وضعفاء ومتروكين، فموازين تنصب طلبا للاعتدال في نقد الرجال، حين يؤول الأمر إلى الاحتمال، ثم كتب في العلل الخفية التي تقدح في صحة الحديث، كوصل مرسل، أو اتصال منقطع أو رفع موقوف، أو غير ذلك ثم كتب في الناسخ والمنسوخ وكتب في غريب الحديث، كتب في تأويل مختلفه إلى غير ذلك مما لا يحصي القلم أسماؤه فكيف بمسماه؟

أليس الرواة قمينين بدراسة مناهجهم في الروايات، أليس من جاء بعدهم جديرين بمعرفة طرقهم في البحث والتمحيص والتخليص للأصل الثاني مما حاول المغرضون أن يلحقوه به.

أليس الذين أفنوا أعمارهم جمعا للحديث وحسن تبويب له وترتيب له وذبا للكذب عن ساحته بمستحقين لأن نطيل الوقوف أمام مناهجهم.
অন্য একজন তাদের অর্থ ও তাৎপর্য বিবেচনা করেন এবং সেগুলোকে সাহাবী ও তাবেঈদের ফতোয়ার সাথে মিশ্রিত করেন এবং হাদিস সংকলনের পথ প্রশস্ত করেন। তৃতীয় একজন অধ্যায় অনুসারে বিন্যস্ত করেন এবং কিতাবে অন্য কিছুর পরিবর্তে কেবল সহিহ (صحيح) হাদিসগুলোকেই এককভাবে স্থান দেন। চতুর্থ একজন আহকাম বা বিধান সংক্রান্ত হাদিস সংগ্রহে মনোনিবেশ করেন। পঞ্চম জন লক্ষ্য স্থির করেন যে, তিনি এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করবেন না যাদের বর্জন করার বিষয়ে সকলে একমত হয়েছেন। ষষ্ঠ জন সংশোধন বা পরিমার্জন (استدراك) করেন, সপ্তম জন অস্পষ্ট (مبهم) বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করেন এবং অনির্ধারিত (مهمل) বিষয়গুলো সুনির্দিষ্ট করেন। অষ্টম জন দুর্বোধ্য (غريب) বিষয়ের ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করেন। নবম জন বর্ণনাকারী (رجال) এবং তাদের নাম, উপাধি ও উপনামের নির্ভুলতার প্রতি গুরুত্ব দেন। দশম জন ফিকহী বিধান আহরণ (استنباط) এবং দলিলের মাধ্যমে এই বা ওই মাযহাবকে সমর্থন করার প্রতি মনোযোগী হন; এভাবে আপনি প্রতিটি শ্রেণির সাথে যত ইচ্ছা উদাহরণ যুক্ত করতে পারেন।

আপনি যদি মূল পাঠের (متون) কিতাবসমূহ বাদ দেন, তবে মুহাদ্দিসগণ যেসব শাস্ত্র উদ্ভাবন করেছেন তার পরিধি কতই না বিশাল! স্তরায়ন (طبقات) বিষয়ক গ্রন্থ থেকে শুরু করে বর্ণনাকারী (رجال) বিষয়ক সংকলন পর্যন্ত। তারা বর্ণনাকারীদের বিভিন্ন শ্রেণিতে বিন্যস্ত করেছেন, যেমন: নির্ভরযোগ্য (ثقة), দুর্বল (ضعيف) এবং পরিত্যক্ত (متروك)। বর্ণনাকারীদের সমালোচনায় (نقد الرجال) ভারসাম্য রক্ষার জন্য মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে, যখন বিষয়টি পর্যালোচনার পর্যায়ে পৌঁছায়। এরপর রয়েছে সুক্ষ্ম ত্রুটি (علل) বিষয়ক গ্রন্থাবলি, যা হাদিসের বিশুদ্ধতাকে (صحة) ক্ষুণ্ণ করে; যেমন: বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিসকে সংযুক্ত করা, কিংবা বিচ্ছিন্ন (منقطع) হাদিসের সংযোগ দেখানো অথবা স্থগিত (موقوف) হাদিসকে রাসূল (সা.) পর্যন্ত উন্নীত (رفع) করা ইত্যাদি। এরপর রয়েছে রহিতকারী (ناسخ) ও রহিত (منسوخ) বিষয়ক গ্রন্থ, দুর্বোধ্য (غريب) হাদিস বিষয়ক গ্রন্থ এবং পরস্পর বিরোধী (مختلف) হাদিসের ব্যাখ্যা বিষয়ক গ্রন্থ। এগুলোর নামই কলম গণনা করে শেষ করতে পারবে না, তাহলে এদের বিষয়বস্তু তো আরও অকল্পনীয়!

বর্ণনাকারীদের (رواة) হাদিস বর্ণনার পদ্ধতিগুলো কি পর্যালোচনার দাবি রাখে না? তাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কি তাদের গবেষণা, যাচাই-বাছাই এবং দ্বিতীয় মূল উৎসকে কায়েমি স্বার্থান্বেষী মহলের অনুপ্রবেশ থেকে মুক্ত রাখার পদ্ধতিগুলো জানা অপরিহার্য নয়?

যারা হাদিস সংগ্রহ, এর চমৎকার বিন্যাস ও সাজসজ্জা এবং মিথ্যা থেকে এর অঙ্গনকে রক্ষা করার জন্য নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন, তাদের কর্মপদ্ধতির সামনে কি আমাদের দীর্ঘক্ষণ থমকে দাঁড়ানো উচিত নয়?
(খণ্ড: ১) আদ-দাওউল লামিউল মুবীন আন মানাহিযিল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ১২)
لا يسع أحدا أن يجيب إلا بقوله: بلى. فنحن أحوج ما نكون إلى أن نعيش في أنوار المحدثين، نسري على قبسهم، ونستهدي بسناهم، ونقتدي بهداهم، فهذه نفحات من سيرهم، ولمحات من حياتهم، وومضات من سلوكياتهم، وقبسات من خطواتهم التي خطوها على طريق النور المحمدي وليست المحاولة بدعا في بابها، فقد سبقت بجهود أئمة فضلاء، واعتمدت على محاولات نخبة من النبهاء في القديم وفي الحديث، فكل كتب علوم الحديث لا تخلوا من إشارات بل وربما توضحيات لكثير من مناهج المحدثين، وقريبا من هذا الحين كانت هناك محاولات أقرب إلى التخصص في مناهج المحدثين إن لم تتمحض له ككتاب فضيلة أستاذنا الكبير المغفور له الأستاذ محمد محمد أبو زهو الذي جاء تحت عنوان "الحديث والمحدثون" وحاكى به كتاب "التفسير والمفسرون" للأستاذ الدكتور المغفور له "محمد حسين الذهبي".

وهناك أيضا "أعلام المحدثين" لفضيلة الأستاذ الدكتور المغفور له أبي السادات محمد محمد أبي شهبة صاحب المؤلفات الكثيرة والغزيرة في التفسير والحديث والسيرة.

وهذه خطوة نسأل الله أن يعطيها ضوءها لتلمع في سماء الواقع، مبينة عن مناهج المحدثين، وعن الأطوار التي مر بها الحديث والمحدثون منذ عهد النبي صلى الله عليه وسلم إلى هذا الحين، ولسوف نحرص على الاستقصاء ما وسعنا ذلك، وندأب على الإطالة متجنبين الملل ما استطعنا، وقد استخرت الله في تسمية هذا الكتاب فألهمني، وأسأله أن يكون ما ألهمته هو الصواب، وسميته "الضوء اللامع المبين عن مناهج المحدثين".

কারো পক্ষেই ‘হ্যাঁ’ বলা ছাড়া অন্য কোনো উত্তর দেওয়া সম্ভব নয়। হাদিস বিশারদগণের (المحدثين) জ্ঞানের আলোতে বিচরণ করা, তাঁদের প্রদীপ্ত শিখা থেকে আলো গ্রহণ করা, তাঁদের জ্যোতিতে পথ চলা এবং তাঁদের প্রদর্শিত হেদায়েত অনুসরণ করা আমাদের জন্য এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। এটি তাঁদের জীবনীর সুবাস, তাঁদের জীবনের কিছু খণ্ডচিত্র, তাঁদের আচরণের আলোকচ্ছটা এবং মুহাম্মদী নূর বা আলোর পথে তাঁদের অতিক্রান্ত পদক্ষেপের কিছু অংশ। এই প্রচেষ্টা এই অঙ্গনে নতুন বা নজিরবিহীন কিছু নয়; বরং এটি ইতিপূর্বে মহৎ ইমামগণের প্রচেষ্টায় সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রাচীন ও বর্তমান কালের একদল প্রাজ্ঞ পণ্ডিতের গবেষণার ওপর নির্ভর করেছে। হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) এমন কোনো গ্রন্থ নেই যা হাদিস বিশারদগণের কর্মপন্থা (مناهج المحدثين) সম্পর্কে ইঙ্গিত প্রদান করে না, বরং অনেক ক্ষেত্রে এগুলো বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দান করে। সাম্প্রতিক সময়ে এমন কিছু উদ্যোগ দেখা গিয়েছে যা হাদিস বিশারদগণের কর্মপন্থা (مناهج المحدثين) বিষয়ে বিশেষায়িত আলোচনার অত্যন্ত নিকটবর্তী, যা প্রায় সম্পূর্ণ এই বিষয়ের জন্যই নিবেদিত; যেমন আমাদের শ্রদ্ধেয় মহান উস্তাদ, মরহুম প্রফেসর মুহাম্মদ মুহাম্মদ আবু জাহু সাহেবের গ্রন্থ ‘আল-হাদিস ওয়াল মুহাদ্দিসুন’, যা তিনি ডক্টর মরহুম মুহাম্মদ হুসাইন আয-যাহাবি-র ‘আত-তাফসির ওয়াল মুফাসসিরুন’ গ্রন্থের আদলে রচনা করেছেন।

তদ্রূপ এখানে শ্রদ্ধেয় প্রফেসর ডক্টর মরহুম আবুস সাদাত মুহাম্মদ মুহাম্মদ আবু শাহবাহ-র ‘আলামুল মুহাদ্দিসিন’ গ্রন্থটিও রয়েছে, যিনি তাফসির, হাদিস এবং সিরাত বিষয়ে বহু সমৃদ্ধ ও গবেষণালব্ধ গ্রন্থের রচয়িতা।

এটি এমন একটি পদক্ষেপ যার জন্য আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি একে এমন জ্যোতি দান করেন যা বাস্তবতার আকাশে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে; যা হাদিস বিশারদগণের কর্মপন্থা (مناهج المحدثين) এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত হাদিস ও হাদিস বিশারদগণের (المحدثين) অতিক্রান্ত বিভিন্ন পর্যায়সমূহ ব্যাখ্যা করবে। আমরা সাধ্যমতো পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধানের চেষ্টা করব এবং একঘেয়েমি পরিহার করে যথাসম্ভব বিস্তারিত আলোচনা অব্যাহত রাখার নিরলস প্রচেষ্টা চালাব। আমি এই বইটির নামকরণের জন্য আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি এবং তিনি আমাকে যা ইলহাম করেছেন, আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যেন তা সঠিক হয়। আমি এর নাম রেখেছি: ‘আদ-দাওউল লামি আল-মুবিন আন মানাহিজিল মুহাদ্দিসিন’।

(খণ্ড: ১) আদ-দাওউল লামিউল মুবীন আন মানাহিযিল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ১৩)
فنبدأ الجزء الأول بكلمة في التعريف بمناهج المحدثين كعلم، وبيان أهميته، وثم نثني بالكلام على الحديث في العهد النبوي، لتتضح خصائصه وتبدو معالمه من خلال دور نبي الرحمة ومعلم الحكمة صلى الله عليه وسلم في الحض على طلب العلم عامة، وتلقي الحديث ونقله خاصة، ثم حرص التلاميذ النجباء وما بدا منهم من تسابق وتنافس على الأخذ والتلقي مما أدى إلى انتشار الحديث إلى غير ذلك من العوامل التي أدت إلى انتشاره، ثم نعرض للحديث في عهد الصحابة وكيف كان حرص الراشدين عليه، تحوطا في تحمله، ثم في أدائه، ثم نتابع المسيرة مع التابعين فنعرض لمن ظهر منهم وتألق، ونيمم وجوهنا من غرب منهم وشرق، طلبا لتبليغ الحديث متتبعين أهم المدارس الحديثية، ومناهج أساتذتها، ثم نعرض بعض النماذج الرائدة في حفظ الحديث وتبليغه من الصحابة والتابعين، ثم ننتقل إلى القرن الهجري الثاني لنطلع على مناهج المحدثين فيه، فنقف على انتشار تدوين الحديث، أسبابه، تنوع مناهج المحدثين، أشهرا ما دون في هذا القرن وأشهر المدونين، إلى غير ذلك مما نستعين الله على بيانه.

فاللهم علمنا من علمك، وذكرنا ما نسينا، وافتح علينا أبواب رحمتك وخذ بأيدينا، واشرح صدورنا ويسر أمورنا واحلل ما تعقد في طريقنا.
আমরা প্রথম খণ্ডটি একটি শাস্ত্র হিসেবে হাদিস বিশারদগণের কর্মপন্থা (مناهج المحدثين)-এর পরিচিতি এবং এর গুরুত্ব বর্ণনার মাধ্যমে শুরু করছি। অতঃপর আমরা নবুয়তের যুগে হাদিসের অবস্থার আলোকপাত করব, যাতে দয়ার নবী ও হিকমতের শিক্ষক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাধারণ জ্ঞান অন্বেষণে এবং বিশেষভাবে হাদিস গ্রহণ ও তা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে উৎসাহ প্রদানের মাধ্যমে এর বৈশিষ্ট্য ও রূপরেখা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এরপর মেধাবী শিষ্যদের একাগ্রতা এবং হাদিস অর্জন ও গ্রহণের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যকার প্রতিযোগিতা ও প্রচেষ্টা ফুটে উঠবে, যা হাদিস ছড়িয়ে পড়া সহ এর প্রসারের নানাবিধ কারণ সৃষ্টি করেছিল। অতঃপর আমরা সাহাবীগণের (صحابة) যুগে হাদিসের অবস্থা তুলে ধরব এবং কীভাবে খুলাফায়ে রাশেদিন হাদিস গ্রহণ (تحمل) এবং তা বর্ণনার (أداء) ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতেন তা বর্ণনা করব। এরপর আমরা তাবেয়ীদের (تابعين) সময়কাল অনুসরণ করব এবং তাদের মধ্যে যারা প্রসিদ্ধ ও উজ্জ্বল ছিলেন তাদের কথা উল্লেখ করব। হাদিস প্রচারের উদ্দেশ্যে প্রাচ্য ও প্রতীচ্যে অবস্থানরত মনীষীদের দিকে আমরা দৃষ্টি নিবদ্ধ করব এবং হাদিস শাস্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিকেতনসমূহ ও সেগুলোর শিক্ষকদের কর্মপন্থা (مناهج) অনুসন্ধান করব। এরপর আমরা সাহাবী (صحابة) ও তাবেয়ীদের (تابعين) মধ্য হতে হাদিস হিফজ ও তা প্রচারের ক্ষেত্রে অগ্রণী কিছু দৃষ্টান্ত পেশ করব। অতঃপর আমরা হিজরি দ্বিতীয় শতাব্দীতে পদার্পণ করব যাতে সেই সময়ের হাদিস বিশারদগণের কর্মপন্থা (مناهج المحدثين) সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। সেখানে আমরা হাদিস সংকলনের (تدوين) প্রসার, এর কারণসমূহ, হাদিস বিশারদগণের বিবিধ কর্মপন্থা (مناهج), এই শতাব্দীতে সংকলিত প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ ও বিখ্যাত সংকলকগণসহ অন্যান্য বিষয়সমূহ মহান আল্লাহর সাহায্যে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করার প্রয়াস পাব।

হে আল্লাহ! আপনি আমাদের আপনার পক্ষ থেকে জ্ঞান দান করুন, আমরা যা ভুলে গিয়েছি তা আমাদের স্মরণ করিয়ে দিন, আমাদের জন্য আপনার রহমতের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করে দিন, আমাদের হাত ধরুন, আমাদের বক্ষসমূহ প্রশস্ত করে দিন, আমাদের সকল কাজ সহজ করে দিন এবং আমাদের চলার পথের সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করে দিন।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওউল লামিউল মুবীন আন মানাহিযিল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ১৪)
التعريف بمناهج المحدثين كعلم وبيان أهميته:

بين لك أن قولك "مناهج المحدثين" مركب إضافي مكون من كلمتي "مناهج" مضاف و"المحدثين" مضاف إليه.

وكلمة "مناهج" كلمة مجموعة على صغية منتهى الجموع؛ فهي على وزن "فعالل" الوزن الذي اختاره وشبهه الصرفيون جمعا لما فوق الثلاثة ارتقى وقواعد الميزان الصرفي تقتضي أن يكون وزن كلمة "مناهج" "مفاعل" ومفردها "منهج" وهي مصدر ميمي" لنهج" ينهج مفتوح العين في الماضي والمضارع من باب قطع وفتح والمصدر الأصلي منه "نهج" بفتح فسكون ويدور معناه على البيان والوضوح.

قال الراغب "نهج: النهج الطريق الواضح ونهج الأمر وأنهج وضح ومنهج الطريق ومنهاجه، قال {لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا} ومنه قولهم: نهج الثوب وأنهج بان فيه أثر البلى، وقد أنهجه البلى1 وقريبا منه ما ذكره ابن الأثير2، وقد زاد أن النهج بفتح أوله وثانيه تتابع صوت النفس بسبب الربو أو سرعة الحركة وشدة الإجهاد، وأن فعله نهج بكسر العين في الماضي وفتحها في المضارع، وعليه فبابه تعب.

والنهج والمنهج والمنهاج ثلاثتها بمعنى. قال الفيروزآبادي: "النهج: الطريق الواضح كالمنهج والمنهاج وبالتحريك البهر وتتابع النفس، والفعل كفرح وضرب وأنهج وضح وأوضح، والدابة سار عليها حتى انبهرت

--------------------------------------------

1 المفردات، في غريب القرآن للراغب الأصفهاني ص506.

2 النهاية في غريب الحديث والأثر ج5 ص134.
একটি শাস্ত্র হিসেবে মুহাদ্দিসগণের কর্মপদ্ধতির (مناهج المحدثين) পরিচিতি এবং এর গুরুত্বের বর্ণনা:

আপনার নিকট এটি স্পষ্ট করা হয়েছে যে, "মানাহিজুল মুহাদ্দিসিন" (মুহাদ্দিসগণের কর্মপদ্ধতিসমূহ) শব্দবন্ধটি একটি সম্বন্ধবাচক যৌগিক শব্দ (مركب إضافي), যা "মানাহিজ" (مناهج) নামক মুদাফ (مضاف) এবং "আল-মুহাদ্দিসিন" (المحدثين) নামক মুদাফ ইলাইহি (مضاف إليه) এর সমন্বয়ে গঠিত।

আর "মানাহিজ" (مناهج) শব্দটি একটি বহুবচন শব্দ যা ‘মুনতাহাল জুমু’ (منتهى الجموع) এর সিগা বা রূপের অন্তর্ভুক্ত; এটি ‘ফাআলিল’ (فعالل) ওজনে গঠিত—যে ওজনকে এবং এর সদৃশ রূপগুলোকে শব্দতত্ত্ববিদগণ (সরফবিদ) তিন বর্ণের অধিক বর্ণের শব্দের বহুবচন হিসেবে গ্রহণ করেছেন। শব্দতাত্ত্বিক মানদণ্ডের নিয়ম অনুযায়ী "মানাহিজ" শব্দের ওজন হলো "মাফায়িল" (مفاعل) এবং এর একবচন হলো "মানহাজ" (منهج)। এটি "নাহাজা" (نهج) ক্রিয়াপদ থেকে গঠিত একটি মাসদারে মিমি (مصدر ميمي); ক্রিয়াপদটির অতীতকাল এবং বর্তমানকাল উভয় ক্ষেত্রে মধ্যবর্ণ বা আইন বর্ণটি জবরবিশিষ্ট (مفتوح العين) হয় এবং এটি ‘কাতাআ-ইয়াকতাউ’ তথা ‘ফাতাহা-ইয়াফতাহু’ বাব বা গোষ্ঠীভুক্ত। এর মূল মাসদার (مصدر أصلي) হলো "নাহজ" (نهج), যা জবর ও সুকুন সহযোগে গঠিত এবং এর অর্থ মূলত স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়।

ইমাম রাঘিব (রহ.) বলেন: "নাহজ: নাহজ হলো সুস্পষ্ট পথ। ‘নাহাজাল আমরু’ এবং ‘আনহাজা’ এর অর্থ হলো বিষয়টি স্পষ্ট হলো। ‘মানহাজুত তরিক’ এবং ‘মিনহাজ’ অর্থও পথ। আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন: {তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আমি একটি শরিয়ত ও স্পষ্ট পথ (منهاجًا) নির্ধারণ করে দিয়েছি}। তাদের উক্তির মধ্যে এই শব্দের ব্যবহার রয়েছে: ‘নাহাজাস সাওবু’ এবং ‘আনহাজা’, যার অর্থ হলো কাপড়ে জীর্ণতার ছাপ বা পুরাতন হওয়ার চিহ্ন প্রকাশ পেয়েছে। আর জীর্ণতা কাপড়টিকে ক্ষয় করে ফেলেছে।" ইবনুল আসির (রহ.)-ও এর কাছাকাছি অর্থ উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও যোগ করেছেন যে, ‘আন-নাহাজ’ শব্দটি যখন প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ণে জবরসহ উচ্চারিত হয়, তখন তার অর্থ হয় হাঁপানি বা দ্রুত চলা ও প্রচণ্ড পরিশ্রমের কারণে শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি বেড়ে যাওয়া। এই অর্থে শব্দটির অতীতকালে আইন বর্ণটি জেরবিশিষ্ট (مكسور العين) এবং বর্তমানকালে জবরবিশিষ্ট (مفتوح العين) হয়; ফলে এটি ‘তাবা-ইয়াতআবু’ বাব বা গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত।

‘নাহজ’, ‘মানহাজ’ এবং ‘মিনহাজ’—এই তিনটি শব্দই সমার্থবোধক। ফিরোজাবাদী (রহ.) বলেন: "নাহজ হলো সুস্পষ্ট পথ, যেমনটি মানহাজ এবং মিনহাজ। আর হরকতের পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস-প্রশ্বাসের দ্রুততাকে বোঝায়। এই অর্থে এর ক্রিয়াপদগুলো ‘ফারিহা’ এবং ‘দারাবা’ এর ন্যায় ব্যবহৃত হয়। ‘আনহাজা’ অর্থ হলো স্পষ্ট হওয়া বা স্পষ্ট করা। আর কোনো পশুর ওপর চড়ে ততক্ষণ পর্যন্ত পথ চলাকেও ‘আনহাজা’ বলা হয়, যতক্ষণ না সেটি হাঁপিয়ে যায় বা ক্লান্ত হয়ে পড়ে।"

--------------------------------------------

১. আল-মুফরাদাত ফি গারিবিল কুরআন, ইমাম রাঘিব আল-ইসফাহানি, পৃষ্ঠা ৫০৬।

২. আন-নিহায়াহ ফি গারিবিল হাদিস ওয়াল আসার, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ১৩৪।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওউল লামিউল মুবীন আন মানাহিযিল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
عليها حتى انبهرت، والثوب أخلقه كنهجه كمنعه، فنهج الثوب -مثلثة الهاء- بلي، كالنهج ونهج كمنع وضح وأوضح، والطريق سلكه، واستنهج الطريق صار نهجا كالنهج، وفلان سلك مسلكه1.

من كل ما سبق بدا لك أن كلمة منهاج تعني الطرق الواضحة والمسالك البينة للمحدثين، فكأن الإضافة بمعنى اللام، فمن المحدثون؟ الكلمة جمع مذكر سالم مفرده "محدث" اسم فاعل من التحديث، لقب من الألقاب التي خص بها جماعة معينة، ترى ما مؤهل استحقاق هذا اللقب، اختلفت عباراتهم في تحديد القمين بأن يوصف بوصف محدث "فالمسند" بكسر النون، هو من يروي الحديث بإسناده، سواء كان عنده علم به، أو ليس له إلا مجرد روايته، وأما المحدث فهو أرفع منه بحيث عرف الأسانيد والعلل وأسماء الرجال. وأكثر من حفظ المتون وسماع الكتب الستة والمسانيد والمعاجم والأجزاء الحديثية، وأما الحافظ فهو مرادف للمحدث عند السلف.

وقال الشيخ فتح الدين بن سيد الناس: المحدث في عصرنا: من اشتغل بالحديث رواية ودراية، وجمع بين رواته، واطلع على كثير من الرواة والروايات في عصره، وتميز في ذلك، عرف فيه خطه، واشتهر فيه ضبطه، فإن توسع في ذلك حتى عرف شيوخه وشيوخ شيوخه طبقة بعد طبقة بحيث يكون ما يعرفه من كل طبقة أكثر مما يجهله فهذا هو الحافظ

--------------------------------------------

1 القاموس المحيط ج1 ص218.
এর ওপর এমনকি তিনি অভিভূত হলেন; আর 'পোশাকটি পুরনো হওয়া' (আখলাকাহু) কথাটি 'নাহজাহু' ও 'মানআহু' এর ওজনে ব্যবহৃত হয়। সুতরাং পোশাকটি পুরনো হওয়া—এখানে 'হা' বর্ণে তিনটি স্বরচিহ্নই সম্ভব—এর অর্থ জীর্ণ হওয়া। এটি 'নাহজ' শব্দের ন্যায়। আর 'নাহাজা' শব্দটি 'মানা'আ' এর ওজনে ব্যবহৃত হলে এর অর্থ হয় স্পষ্ট হওয়া বা স্পষ্ট করা। পথ চলার ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহৃত হয়। রাস্তাটি 'ইস্তিনহাজ' হওয়া মানে তা 'নাহজ' বা সুস্পষ্ট পথে পরিণত হওয়া। আর অমুক ব্যক্তি তার পথ অনুসরণ করল।১

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে আপনার নিকট স্পষ্ট হয়েছে যে, 'মিনহাজ' শব্দটি মুহাদ্দিসগণের সুস্পষ্ট পথ ও উজ্জ্বল কর্মপন্থাকে বোঝায়। এখানে সম্বন্ধটি যেন 'লাম' (জন্য) বর্ণের অর্থ প্রকাশ করছে। এখন প্রশ্ন হলো, মুহাদ্দিসগণ কারা? শব্দটি জমা মুযাক্কার সালিম, এর একবচন হলো 'মুহাদ্দিস', যা 'তাহদিস' শব্দ থেকে উদ্ভূত ইসমে ফায়িল। এটি এমন একটি উপাধি যা একটি বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য নির্দিষ্ট। এই উপাধি পাওয়ার যোগ্যতা কী? 'মুহাদ্দিস' বিশেষণে ভূষিত হওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি নির্ধারণে আলেমগণের উক্তি বিভিন্ন রকম। সনদ বর্ণনাকারী (المسند) — 'নুন' বর্ণে কাসরা সহ — হলেন সেই ব্যক্তি যিনি হাদিস বর্ণনা করেন সনদ (إسناد) সহকারে, চাই সে বিষয়ে তার জ্ঞান থাকুক বা কেবল বর্ণনাই তার সম্বল হোক। পক্ষান্তরে, মুহাদ্দিস (المحدث) তার চেয়ে উচ্চমর্যাদার অধিকারী; যিনি সনদসমূহ (الأسانيد), সূক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ (العلل) এবং বর্ণনাকারীদের নামসমূহ (أسماء الرجال) সম্পর্কে অবগত। এছাড়া যিনি অধিক পরিমাণে মূল পাঠসমূহ (المتون) মুখস্থ করেছেন এবং আল-কুতুব আস-সিত্তাহ, আল-মাসানিদ, আল-মা'আজিম ও আল-আদজাউল হাদিসিয়্যাহ শ্রবণ করেছেন। আর হাফিজ (الحافظ) শব্দটি সালাফদের (السلف) নিকট মুহাদ্দিস শব্দের সমার্থক।

শায়েখ ফাতহুদ দ্বীন ইবনু সাইয়্যিদিল নাস বলেছেন: আমাদের যুগে মুহাদ্দিস (المحدث) হলেন তিনি: যিনি হাদিসের বর্ণনাগত (رواية) ও তত্ত্বগত (دراية) উভয় শাখা নিয়ে ব্যাপৃত থাকেন, বর্ণনাকারীদের (رواة) একত্রিত করেন, নিজ যুগের অধিকাংশ বর্ণনাকারী ও বর্ণনাসমূহ (روايات) সম্পর্কে অবগত হন এবং এ ক্ষেত্রে বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন, তার লিখনশৈলী পরিচিতি পায় এবং তার নির্ভুলতা (ضبط) খ্যাতি লাভ করে। এরপর যদি তিনি এ ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃতি লাভ করেন, এমনকি তার শিক্ষকগণ (شيوخه) এবং শিক্ষকদের শিক্ষকদের সম্পর্কে স্তর (طبقة) পরম্পরায় এমন জ্ঞান অর্জন করেন যে, প্রতি স্তরের অজানা বিষয়ের চেয়ে তার জানা বিষয়ের পরিমাণ বেশি হয়, তবে তিনিই হলেন হাফিজ (الحافظ)।

--------------------------------------------

১. আল-কামুস আল-মুহিত, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২১৮।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওউল লামিউল মুবীন আন মানাহিযিল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ১৬)
وأما ما يحكى عن بعض المتقدمين من قولهم، كنا لا نعد صاحب حديث من لم يكتب عشرين ألف حديث في الإملاء فذلك حسب أزمنتهم1.

ونحن نرى أن سعة أفق المحدث وكثرة حفظه قضية نسبية تختلف باختلاف الزمان والاستعداد، فبينما حدها الأقدمون بما ذكر نستطيع نحن الآن أن نحد المحدث أو أن نسمه ونصفه بأنه المشتغل بصنعة الحديث الخبير بها، وعليه يكون المقصود بهذا التركيب الإضافي "مناهج المحدثين" طرق البحث عندهم، وكيفية تحصيلهم للحديث، وسبل جمعهم له ووسائل فهمهم وهضمهم لمسائله، فأفق الدراسة إذن واسعة أمام المتكلم في هذه المادة.

إن كل محاولة بذلت في جمع الحديث أو من أجله تصلح لتكون محور الدراسة في منهاج المحدثين، وإذا كانوا قد اصطلحوا على تقسيم علم الحديث إلى قسمين: "رواية" ويعنون به العلم المشتمل على نقل ما أضيف إلى النبي صلى الله عليه وسلم من قول أو فعل أو وصف خِلْقي أو خُلقي أو تقرير، و"دراية" يعنون به العلم المشتمل على قوانين وقواعد يعرف بها حال السند والمتن من صحة وحسن وضعف وعلوٍّ ونزول ورفع ووقف وقطع وكيفية التحمل والأداء ومعرفة صفة الرواية وحال الرواة، وغير ذلك؛ وإذاكانوا قد اصطلحوا على ذلك، فكل ما صنف في العلمين: الرواية والدراية من صميم تخصص الباحث في مناهج المحدثين، فأي أفق تلك التي سينساح

--------------------------------------------

1 قواعد التحديث ص76-77 وانظر علوم الحديث للدكتور صبحي الصالح ص75.
আর পূর্ববর্তীদের কারো কারো থেকে বর্ণিত উক্তি—"আমরা তাকে হাদিসবেত্তা (صاحب حديث) গণ্য করতাম না যে ব্যক্তি শ্রুতিলিখনের (الإملاء) মাধ্যমে বিশ হাজার হাদিস লিপিবদ্ধ করেনি"—তা ছিল তাদের নিজ নিজ যুগের প্রেক্ষাপটে।১

আমরা মনে করি যে, একজন মুহাদ্দিসের (المحدث) জ্ঞানের পরিধি এবং তার মুখস্থ শক্তির আধিক্য একটি আপেক্ষিক বিষয়, যা সময় ও যোগ্যতার ভিন্নতার কারণে পরিবর্তিত হয়। যেখানে প্রাচীনগণ এর একটি সীমা উল্লেখ করেছেন যা উপরে বর্ণিত হয়েছে, সেখানে আমরা বর্তমানে মুহাদ্দিসকে (المحدث) এভাবে সংজ্ঞায়িত বা বিশেষায়িত করতে পারি যে, তিনি হলেন হাদিস শাস্ত্রের প্রায়োগিক বিদ্যায় (صنعة الحديث) নিয়োজিত একজন বিশেষজ্ঞ (الخبير بها)। সে অনুযায়ী "মুহাদ্দিসগণের কর্মপদ্ধতি" (مناهج المحدثين) এই সম্বন্ধযুক্ত শব্দগুচ্ছ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাদের গবেষণার পদ্ধতি, হাদিস সংগ্রহের প্রক্রিয়া, তা একত্রিত করার পথ এবং এর মাসয়ালাসমূহ (مسائله) অনুধাবন ও আত্মস্থ করার মাধ্যমসমূহ। সুতরাং এই বিষয়ের আলোচকের সামনে অধ্যয়নের দিগন্ত অত্যন্ত বিস্তৃত।

হাদিস সংগ্রহের জন্য বা হাদিসের উদ্দেশ্যে কৃত প্রতিটি প্রচেষ্টাই "মুহাদ্দিসগণের কর্মপদ্ধতি"র আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার যোগ্য। আর তারা যদি হাদিস বিজ্ঞানকে দুটি ভাগে ভাগ করার ব্যাপারে পরিভাষা স্থির করে থাকেন: "রিওয়ায়াত" (رواية) বা বর্ণনাশাস্ত্র—যার দ্বারা তারা এমন জ্ঞানকে উদ্দেশ্য করেন যা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত কথা, কাজ, শারীরিক বা চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য অথবা মৌন সম্মতি (تقرير) স্থানান্তরের বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে; এবং "দিরায়াত" (دراية) বা বিশ্লেষণশাস্ত্র—যার দ্বারা তারা এমন জ্ঞানকে উদ্দেশ্য করেন যা এমন কিছু নিয়ম ও মূলনীতির (قوانين وقواعد) সমষ্টি, যার মাধ্যমে সনদ (السند) ও মতনের (المتن) অবস্থা জানা যায়; যেমন: সহিহ (صحة), হাসান (حسن), জয়িফ (ضعف), উচ্চ সনদ (علو), নিম্ন সনদ (نزول), মারফু (رفع), মাওকুফ (وقف), মাকতু (قطع), হাদিস গ্রহণ ও প্রদানের পদ্ধতি (كيفية التحمل والأداء), বর্ণনার বৈশিষ্ট্য ও বর্ণনাকারীদের (الرواة) অবস্থা ইত্যাদি। যদি তারা এই পরিভাষা স্থির করে থাকেন, তবে রিওয়ায়াত ও দিরায়াত উভয় শাস্ত্রে রচিত সকল গ্রন্থই "মুহাদ্দিসগণের কর্মপদ্ধতি" গবেষকের মূল বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত। তবে সেই দিগন্ত কতই না বিস্তৃত হবে!

--------------------------------------------

১. কাওয়াইদুত তাহদিস, পৃষ্ঠা ৭৬-৭৭ এবং দেখুন ড. সুবহি সালেহ রচিত উলূমুল হাদিস, পৃষ্ঠা ৭৫।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওউল লামিউল মুবীন আন মানাহিযিল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ১৭)
فيها؟ وأي وجهة تلك التي سيوليها؟ أيولي وجهه شطر الرواية، وما أدراك ما المصنف فيها، وما الحديث عنها ومعها بالمنقضي أبدا؟ أم يولي وجهه شطر الدراية، وهي القوانين التي تنضبط بها الرواية، فهي منها بمنزلة قواعد المنطق تعصم الذهن من الخطأ في الفكر، أو بمنزلة مسائل أصول الفقه من الفقه تمثل القواعد التي يرجع إليها الناد والشارد، أو بمنزلة أصول القراءة وأحكام التلاوة من القرآن لا يكون قرآنا إلا بها، ولا تأتي قراءته إلا من خلالها.

وأنواع علوم الحديث كثيرة ومادتها غزيرة، قال السيوطي: "اعلم أن أنواع علوم الحديث كثيرة لا تعد، قال الحازمي1 في كتاب "العجالة": علم الحديث يشتمل على أنواع كثيرة تبلغ مائة، كل نوع منها علم مستقل لو أنفق الطالب فيه عمره لما أدرك نهايته، وقد ذكر ابن الصلاح2 منها، وتبعه المصنف3 خمسة وستين، وقال: وليس ذلك بآخر الممكن في ذلك

--------------------------------------------

1 الحازمي هو أبو بكر محمد بن موسى بن عثمان بن حازم المولود سنة ثمان وأربعين وخمسمائة، والمتوفى سنة أربع وثمانين وخمسمائة، نبغ في فنون الحديث، وعرف بسعة الحفظ لمتونه، وسعة المعرفة برجاله وأسانيده. انظر ترجمته في تذكرة الحفاظ ج4 ص1363، والبداية والنهاية ج12 ص332، وتهذيب الأسماء واللغات ج2 ص192.

2 هو تقي الدين أبو عمرو عثمان بن عبد الرحمن الشهرزوري المتوفى سنة ثلاث وأربعين وستمائة. انظر ترجمته في طبقات الحفاظ ص499-500.

3 يقصد به شيخ الإسلام أبا زكريا يحيى بن شرف النووي المتوفى سنة ست وسبعين وستمائة، إذ هو صاحب التقريب والتيسير الذي شرحه السيوطي.
এতে? এবং তিনি কোন অভিমুখে নিজেকে নিবিষ্ট করবেন? তিনি কি তাঁর দৃষ্টি বর্ণনাশাস্ত্রের (الرواية) দিকে ফিরাবেন? আর আপনি কি জানেন এই শাস্ত্রে রচিত গ্রন্থসমূহ (المصنف) সম্পর্কে? এই বিষয়ে আলোচনা এবং এর সাথে সম্পৃক্ত হাদিস কখনো শেষ হবার নয়। অথবা তিনি কি অনুধাবনশাস্ত্রের (الدراية) দিকে মনোনিবেশ করবেন? আর তা হলো সেই সব মূলনীতি যার দ্বারা বর্ণনা (الرواية) সুশৃঙ্খল হয়। এটি বর্ণনাশাস্ত্রের জন্য তদ্রূপ, যেরূপ যুক্তিবিদ্যার নিয়মাবলি চিন্তার ক্ষেত্রে মস্তিষ্ককে ভুল থেকে রক্ষা করে; অথবা ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে উসুল আল-ফিকহ-এর মাসআলাসমূহের ন্যায় যা এমন সব মূলনীতি উপস্থাপন করে যার দিকে বিরল ও জটিল বিষয়াবলিকে ফিরিয়ে আনা হয়; অথবা কুরআনের ক্ষেত্রে তাজবিদ ও তিলাওয়াতের নিয়মাবলির ন্যায়, যার মাধ্যম ছাড়া তা কুরআন হিসেবে গণ্য হয় না এবং তা ব্যতীত এর তিলাওয়াতও সম্ভব হয় না।

হাদিস বিজ্ঞানের প্রকারভেদ অনেক এবং এর বিষয়বস্তু অত্যন্ত ব্যাপক। সুয়ূতী বলেন: "জেনে রাখুন, হাদিস বিজ্ঞানের প্রকারসমূহ অসংখ্য যা গণনা করা যায় না। আল-হাজেমী১ তাঁর আল-উজলা গ্রন্থে বলেছেন: হাদিস বিজ্ঞান এমন অনেক প্রকারের অন্তর্ভুক্ত যা একশতে পৌঁছায়, যার প্রতিটি প্রকারই একটি স্বতন্ত্র বিজ্ঞান। যদি কোনো শিক্ষার্থী এতে তার পুরো জীবনও ব্যয় করে, তবুও এর শেষ সীমানায় পৌঁছাতে পারবে না। ইবনুল সালাহ২ এর মধ্য থেকে পঁষট্টিটি প্রকার উল্লেখ করেছেন এবং লেখক৩ তাঁকে অনুসরণ করেছেন। তিনি (ইবনুল সালাহ) বলেছেন: এটিই এই বিষয়ে শেষ সীমা নয়।"

--------------------------------------------

১ আল-হাজেমী হলেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন মুসা বিন উসমান বিন হাজেম, যিনি পাঁচশত আটচল্লিশ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং পাঁচশত চুরাশি হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি হাদিস শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন এবং হাদিসের মতনসমূহ (متون) মুখস্থ রাখার বিশাল ক্ষমতা এবং এর বর্ণনাকারী (رجال) ও সনদসমূহ (أسانيد) সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের জন্য পরিচিত ছিলেন। তাঁর জীবনী দেখুন: তাজকিরাতুল হুফফাজ, ৪র্থ খণ্ড, ১৩৬৩ পৃষ্ঠা; আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ১২তম খণ্ড, ৩৩২ পৃষ্ঠা; এবং তাহজিবুল আসমা ওয়াল লুগাত, ২য় খণ্ড, ১৯২ পৃষ্ঠা।

২ তিনি হলেন তাকিউদ্দীন আবু আমর উসমান বিন আবদুর রহমান আশ-শাহরাজুরি, যিনি ছয়শত তেতাল্লিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জীবনী দেখুন: তাবাকাতুল হুফফাজ, পৃ. ৪৯৯-৫০০।

৩ এর দ্বারা শাইখুল ইসলাম আবু জাকারিয়া ইয়াহইয়া বিন শারাফ আন-নববীকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে, যিনি ছয়শত ছিয়াত্তর হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। কেননা তিনি আত-তাকরীব ওয়াত-তাইসীর গ্রন্থের রচয়িতা, যার ব্যাখ্যা সুয়ূতী লিখেছেন।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওউল লামিউল মুবীন আন মানাহিযিল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ১৮)
فإنه قابل للتنويع إلى ما لا يحصى: أحوال رواة الحديث، وصفاتهم، وأحوال متون الحديث، وصفاتها، وما من حالة منها ولا صفة إلا وهي بصدد أن تفرد بالذكر وأهل له، فإذا هي نوع على حياله"1.

لعله من نافلة القول أن نقول ما أهم هذا العلم، وما أمس الحاجة إليه، إن أي علم يكتسب أهميته من أهمية موضوعه، وموضوع "مناهج المحدثين" هو كل محاولة بذلت خدمة للحديث رواية ونقلا وتحصيلا وجمعًا وفهمًا وهضمًا وتأصيلا وحكمًا وتوضيحًا وتبيينًا، بقدر رحابة واتساع دائرة البحث في هذا العلم تعظم أهميته، وتجل عن الوصف قيمته وتتضاءل الكلمات دون التعبير عن منزلته ومكانته.

--------------------------------------------

1 تدريب الراوي ج1 ص53.
বস্তুত এটি অসংখ্য প্রকারে বিভক্ত হওয়ার যোগ্যতা রাখে: হাদিসের বর্ণনাকারীগণের (رواة) অবস্থা ও তাদের গুণাবলি, এবং হাদিসের মতনসমূহের (متون) অবস্থা ও সেগুলোর বৈশিষ্ট্য। এগুলোর প্রতিটি অবস্থা ও বৈশিষ্ট্য স্বতন্ত্রভাবে আলোচনার দাবি রাখে এবং তা এর যোগ্যও বটে; ফলে প্রতিটি বিষয় একটি স্বতন্ত্র প্রকারে পরিণত হয়।"১

সম্ভবত এ কথা বলা বাহুল্য হবে যে, এই ইলম কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং এর প্রয়োজনীয়তা কতটা অনস্বীকার্য। নিশ্চয়ই যেকোনো জ্ঞান বা শাস্ত্র তার আলোচ্য বিষয়ের গুরুত্ব থেকেই নিজের গুরুত্ব অর্জন করে থাকে। আর "মুহাদ্দিসগণের কর্মপন্থা"-এর আলোচ্য বিষয় হলো হাদিসের খিদমতে নিয়োজিত প্রতিটি প্রচেষ্টা; চাই তা বর্ণনা (رواية), স্থানান্তর (نقل), আহরণ (تحصيل), সংকলন (جمع), অনুধাবন, আত্মস্থকরণ, মূলনীতি নির্ধারণ (تأصيل), হুকুম (حكم) প্রদান কিংবা ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের মাধ্যমেই হোক না কেন। এই শাস্ত্রের গবেষণার পরিধি যত সুপ্রশস্ত ও বিস্তৃত হবে, এর গুরুত্ব তত বৃদ্ধি পাবে এবং এর মাহাত্ম্য বর্ণনাতীত হয়ে উঠবে; এমনকি এর মর্যাদা ও অবস্থান ব্যক্ত করার ক্ষেত্রে শব্দরাজি তুচ্ছ প্রতীয়মান হবে।

--------------------------------------------

১. তদ্বরীবুর রাবি, ১ম খণ্ড, পৃ. ৫৩।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওউল লামিউল মুবীন আন মানাহিযিল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌المبحث الأول: الحديث في العهد النبوي

‌‌القرآن يقدم الحديث وصاحبه إلى الأمة:

قال تعالى: {لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آَيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ} 1، وقال عز ذكره: {هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آَيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ} 2.

في قمة الامتنان، وفي معرض الحديث عن دروب الإنعام والإحسان التي منّ بها الرحمن على الإنسان، يسوق لنا القرآن بآكد أسلوب وأقواه حديثا عن مهام الرسول الخاتم صلى الله عليه وسلم، وإنما ينتفع به المؤمن وتظهر وجوه التفضيل به على المؤمنين الذين يشرق نوره في قلوبهم، وتسطع أضواؤه في كل جوانب حياتهم، فينكشف لهم تمام المنة به عليهم.

واللام في قوله: {لَقَدْ مَنَّ} موطئة للقسم، والتقدير: والله لقد منّ، والمنّ في لغة القرآن يجيء على معانٍ منها: ما ينزل من السماء، الذي قالوا فيه: إنه

--------------------------------------------

1 سورة آل عمران 164.

2 سورة الجمعة 2.
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: নবুওয়াতী যুগে হাদিস

‌‌কুরআন উম্মতের সামনে হাদিস এবং এর প্রবক্তাকে উপস্থাপন করছে:

মহান আল্লাহ বলেন: {আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অবশ্যই অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের নিজেদের মধ্য থেকে তাদের কাছে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিল} ১, আর তিনি আরও বলেন: {তিনিই নিরক্ষরদের মধ্য থেকে তাদের কাছে একজন রাসুল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে লিপ্ত ছিল} ২।

অশেষ কৃতজ্ঞতার শিখরে দাঁড়িয়ে এবং মানুষের প্রতি পরম দয়াময় আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামত ও অনুগ্রহের পথসমূহ বর্ণনার প্রসঙ্গে, কুরআন অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও শক্তিশালী ভঙ্গিতে আমাদের সামনে সর্বশেষ রাসুল (সা.)-এর দায়িত্বসমূহ নিয়ে আলোচনা উপস্থাপন করে। এর দ্বারা মূলত মুমিনরাই উপকৃত হয় এবং তাদের মাধ্যমেই শ্রেষ্ঠত্বের দিকগুলো প্রকাশিত হয়, যাদের অন্তরে তাঁর নূর উদ্ভাসিত হয় এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে যাঁর আলোকচ্ছটা বিচ্ছুরিত হয়; ফলে তাদের ওপর তাঁর মাধ্যমে প্রাপ্ত অনুগ্রহের পূর্ণতা তাদের কাছে উন্মোচিত হয়।

আর তাঁর বাণী: {অবশ্যই অনুগ্রহ করেছেন}-এর মধ্যে যে 'লাম' অক্ষরটি রয়েছে তা শপথের ভুমিকাস্বরূপ, যার উহ্য অর্থ হলো: আল্লাহর শপথ! তিনি অবশ্যই অনুগ্রহ করেছেন। কুরআনের ভাষায় 'অনুগ্রহ' শব্দটি একাধিক অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে একটি হলো: আকাশ থেকে যা অবতীর্ণ হয়, যা সম্পর্কে তারা বলেছেন যে এটি...

--------------------------------------------

১ সূরা আলে ইমরান ১৬৪।

২ সূরা আল-জুমুআহ ২।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওউল লামিউল মুবীন আন মানাহিযিল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ২০)
أحلى من العسل، وهو الذي أنعم به على بني إسرائيل {وَأَنْزَلْنَا عَلَيْكُمُ الْمَنَّ وَالسَّلْوَى} ، ومنها القطع كقوله: {لَهُمْ أَجْرٌ غَيْرُ مَمْنُونٍ} ومنها أن تمنّ بما أعطيته للغير وتتحدث عنه فيتأذى به ذلك الغير.

ومنه قوله: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا لَا تُبْطِلُوا صَدَقَاتِكُمْ بِالْمَنِّ وَالْأَذَى} ، وقوله: {ثُمَّ لَا يُتْبِعُونَ مَا أَنْفَقُوا مَنًّا وَلَا أَذًى} .

ومنها: الإنعام والإحسان إلى من لا تطلب الجزاء منه كقوله: {هَذَا عَطَاؤُنَا فَامْنُنْ أَوْ أَمْسِكْ بِغَيْرِ حِسَابٍ} والمنان في صفة الله تعالى: المعطي ابتداء من غير أن يطلب منه عوضا.

والمفسرون1 على أن {مَنَّ} هنا بمعنى أحسن وأنعم على المؤمنين في علمه أو الذين يئول حالهم إلى الإيمان، منّ عليهم ببعث رسول عظيم من أشرفهم وأنبلهم وأكرمهم وأفضلهم وأوسطهم نسبا، ثم كان مهمة الرسول المبينة في هذه الآية تمثل ثلاث حلقات: قراءة للآيات، وتبليغ لها، وتزكية للنفوس وتطهيرها، وتعليم للكتاب وللحكمة، وقد علم أن الكتاب هو القرآن. فما الحكمة؟ لن تكون إلا السنة كما نص على ذلك أبو السعود2، وسبقه إلى تقريره وتأكيده الشافعي3، وهو يطلب ويستقصي أنواع بيان والسنة للقرآن.

--------------------------------------------

1 انظر التفسير الكبير المعروف بمفاتيح الغيب ج9، ص80، وروح المعاني ج4، ص114.

2 إرشاد العقل السليم ج1، ص441.

3 الرسالة للإمام الشافعي ص32، وص78.
মধুর চেয়ে মিষ্টি, এবং এটি হলো সেটি যার দ্বারা তিনি বনী ইসরাঈলের ওপর অনুগ্রহ করেছেন: {এবং আমি তোমাদের ওপর মান্না (المن) ও সালওয়া অবতীর্ণ করেছি}, আবার এর থেকে বিচ্ছিন্ন (القطع) হওয়ার অর্থও আসে যেমন আল্লাহর বাণী: {তাদের জন্য রয়েছে নিরবচ্ছিন্ন (غير ممنون) প্রতিদান}। আবার এর অর্থ হলো অন্যকে যা কিছু দান করা হয়েছে সেটির জন্য খোঁটা (تمنّ) দেওয়া এবং সে বিষয়ে এমনভাবে আলোচনা করা যাতে ওই ব্যক্তি কষ্ট পায়।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো আল্লাহর বাণী: {হে মুমিনগণ! তোমরা খোঁটা (بالمنّ) ও কষ্ট দেওয়ার মাধ্যমে তোমাদের দানকে বাতিল করো না}, এবং তাঁর বাণী: {অতঃপর তারা যা ব্যয় করেছে তার পেছনে খোঁটা (منّاً) ও কষ্ট দেয় না}।

এর অন্য একটি অর্থ হলো: যার কাছ থেকে প্রতিদান কামনা করা হয় না তাকে অনুগ্রহ (الإنعام) ও ইহসান (الإحسان) করা, যেমন আল্লাহর বাণী: {এটি আমার দান, সুতরাং তুমি অনুগ্রহ (فامنن) করো অথবা বন্ধ রাখো কোনো হিসাব ছাড়াই}। আর মহান আল্লাহর গুণবাচক নাম হিসেবে আল-মান্নান (المنان) এর অর্থ হলো: কোনো বিনিময় প্রার্থনা ছাড়াই প্রারম্ভিকভাবে দানকারী।

মুফাসসিরগণ (المفسرون) এ ব্যাপারে একমত যে, এখানে ‘মান্না’ (منّ) অর্থ হলো তিনি মুমিনদের ওপর, অথবা যাদের পরিণাম ঈমান পর্যন্ত পৌঁছাবে তাদের ওপর তাঁর জ্ঞানে অনুগ্রহ ও দয়া করেছেন। তিনি তাদের মধ্য থেকে সবচেয়ে অভিজাত, মহানুভব, সম্মানিত, শ্রেষ্ঠ ও বংশীয়ভাবে সর্বোত্তম একজন মহান রসূল পাঠানোর মাধ্যমে তাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন। অতঃপর এই আয়াতে বর্ণিত রসূলের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব তিনটি পর্যায়কে প্রতিনিধিত্ব করে: আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা ও তা পৌঁছে দেওয়া, নফস বা আত্মার পরিশুদ্ধি (تزكية) ও পবিত্রকরণ এবং কিতাব ও হিকমাহ (الحكمة) শিক্ষা দেওয়া। এটি সুপরিচিত যে কিতাব হলো কুরআন। তাহলে হিকমাহ (الحكمة) কী? এটি সুন্নাহ (السنة) ব্যতিরেকে অন্য কিছু নয়, যেমনটি আবু আল-সুউদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর আগে ইমাম শাফিঈ এটি নির্ধারণ ও সুদৃঢ় করেছেন; আর তিনি কুরআনের ক্ষেত্রে সুন্নাহর (السنة) বর্ণনার প্রকারভেদগুলো অনুসন্ধান ও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

--------------------------------------------

১. দেখুন: আল-তাফসীর আল-কাবীর যা মাফাতিহুল গায়ব নামে পরিচিত, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৮০; এবং রুহুল মাআনী, খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ১১৪।

২. ইরশাদুল আকলিস সালীম, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪৪১।

৩. ইমাম শাফিঈর আর-রিসালাহ, পৃষ্ঠা ৩২ এবং ৭৮।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওউল লামিউল মুবীন আন মানাহিযিল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ২১)
وتزيدنا سورة الأعراف بعض الأوصاف التي كانت علامات وسمات واضحة فيه صلى الله عليه وسلم، نصبت حتى قبل زمان نبوته، إقامة للحجة، وإسقاطا لمعذرة المتأبين على طاعته الرافضين لمتابعته {الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالْأَغْلَالَ الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِمْ فَالَّذِينَ آَمَنُوا بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُوا النُّورَ الَّذِي أُنْزِلَ مَعَهُ أُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ} 1.

وتتوجه سورة المائدة بالخطاب في أشد عتاب لأهل الكتاب على الإعراض عن الحق والتعامي عن النور {يَا أَهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ كَثِيرًا مِمَّا كُنْتُمْ تُخْفُونَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَعْفُو عَنْ كَثِيرٍ قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُبِينٌ، يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلَامِ وَيُخْرِجُهُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} 2.

ومعروف أن الكتاب المبين إنما هو القرآن، ولن يكون النور إلا من كلف بالبيان.

من ذلك كله يتضح جليا المنزلة التي بوأها الله نبيه صلى الله عليه وسلم، والصورة التي قدمه للناس من خلالها، إنه حبيبه ومصطفاه وخيرته من خلقه ومجتباه لتبليغ ما أراده من خلقه، فمنطقي أن يأمر بطاعته وأن يقرن

--------------------------------------------

1 سورة المائدة 15، 16.

2 سورة الأعراف 157.
সুরা আল-আরাফ আমাদের আরও কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা জানায় যা ছিল তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্পষ্ট নিদর্শন ও পরিচয়, যা এমনকি তাঁর নবুওয়াতের পূর্বেই সুনির্ধারিত হয়েছিল; যেন দলিল (حجة) প্রতিষ্ঠিত হয় এবং যারা তাঁর আনুগত্যে বিমুখ ও তাঁর অনুসরণে অস্বীকৃতি জানায় তাদের ওজর বা বাহানা খণ্ডন করা যায়: {যারা অনুসরণ করে সেই রাসূলের, যিনি উম্মী বা নিরক্ষর নবী, যার কথা তারা তাদের কাছে রক্ষিত তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়, যিনি তাদেরকে সৎকাজের নির্দেশ দেন ও মন্দ কাজ (منكر) থেকে নিষেধ করেন, আর তাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করেন এবং অপবিত্র বস্তুসমূহ হারাম করেন, আর তাদের ওপর থেকে সেই গুরুভার ও শৃঙ্খলসমূহ অপসারিত করেন যা তাদের ওপর বিদ্যমান ছিল। সুতরাং যারা তাঁর ওপর ঈমান আনে, তাঁকে সম্মান করে, তাঁকে সাহায্য করে এবং তাঁর সাথে অবতীর্ণ নূরের অনুসরণ করে, তারাই সফলকাম।} ১।

আর সুরা আল-মায়িদাহ সত্য থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া এবং নূরের ব্যাপারে অন্ধত্ব ধারণ করার জন্য আহলে কিতাবদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর তিরস্কারের সাথে সম্বোধন করে: {হে কিতাবধারীগণ! তোমাদের নিকট আমাদের রাসূল এসেছেন, তোমরা কিতাবের যা গোপন করতে তিনি তার অনেক কিছুই তোমাদের নিকট প্রকাশ করছেন এবং অনেক কিছুই মার্জনা করছেন। অবশ্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমাদের নিকট নূর ও এক সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাদেরকে শান্তির পথে পরিচালিত করেন যারা তাঁর সন্তুষ্টির অনুসরণ করে এবং তাঁর অনুমতিক্রমে তাদেরকে অন্ধকার থেকে বের করে নূরের দিকে আনেন এবং তাদেরকে সরল পথে পরিচালিত করেন।} ২।

আর এটি সর্বজনবিদিত যে, সুস্পষ্ট কিতাব হলো কেবল কুরআন, আর নূর কেবল তিনিই হতে পারেন যাকে তা ব্যাখ্যা ও বর্ণনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এসব কিছু থেকে সেই মর্যাদা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে উচ্চাসনে আল্লাহ তাঁর নবীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অধিষ্ঠিত করেছেন এবং সেই অবয়ব ফুটে ওঠে যার মাধ্যমে তিনি তাঁকে মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছেন। তিনি তাঁর প্রিয়তম, মনোনীত ও তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে শ্রেষ্ঠ এবং তাঁর সৃষ্টির নিকট তাঁর অভিপ্রায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য নির্বাচিত। সুতরাং এটিই যুক্তিযুক্ত যে তিনি তাঁর আনুগত্যের নির্দেশ দেবেন এবং একে সংযুক্ত করবেন...

--------------------------------------------

১ সুরা আল-মায়িদাহ ১৫, ১৬।

২ সুরা আল-আরাফ ১৫৭।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওউল লামিউল মুবীন আন মানাহিযিল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ২২)
تلك الطاعة بطاعته جل في علاه فربما ينظمها أمر واحد، وربما تنفرد كل طاعة بأمر على استقلالها.

فالمؤمنون يقرءون في سورة آل عمران من كتاب ربهم المكنون: {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي يُحْبِبْكُمُ اللَّهُ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَحِيمٌ، قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْكَافِرِينَ} 1 وبعد تسع وتسعين آية يقرءون في نفس السورة: {وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَالرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} 2.

سورة النساء تؤكد على وجوب طاعة الرسول والتحاكم إليه:

ثم يجيء إفراد كل من الطاعتين على الاستقلال في سورة النساء {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَأُولِي الْأَمْرِ مِنْكُمْ فَإِنْ تَنَازَعْتُمْ فِي شَيْءٍ فَرُدُّوهُ إِلَى اللَّهِ وَالرَّسُولِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآَخِرِ ذَلِكَ خَيْرٌ وَأَحْسَنُ تَأْوِيلًا} 3.

وأعجب كل العجب لإفراده طاعته بأمر وطاعة رسوله كذلك، ثم تأمل دمج طاعة أولي الأمر في طاعته تعالى، وطاعة رسوله صلى الله عليه وسلم، وإيجابه علينا رد ما يعرض فيه التنازع إلى الله ورسوله، وبعد خمس آيات يجيء قسم أصدق القائلين، ففيم القسم؟ وعلام يقسم؟ على نفي الإيمان عن كل من لم يحتكم إليه ويحكمه فيما شجر أو ظهر من نزاع، بل ولا يكتفي

--------------------------------------------

1 سورة آل عمران 31، 32.

2 سورة آل عمران 132.

3 سورة النساء 59.
সেই আনুগত্য মহান আল্লাহর আনুগত্যের সাথে কখনও একটি আদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়, আবার কখনও প্রতিটি আনুগত্য স্বতন্ত্র আদেশের মাধ্যমে পৃথকভাবে আসে।

মুমিনগণ তাদের রবের সংরক্ষিত কিতাব সুরা আল-ইমরানে পাঠ করেন: {বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। বলুন, তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে আল্লাহ তো কাফিরদের ভালোবাসেন না।} ১ এবং নিরানব্বইটি আয়াতের পর তারা একই সুরায় পাঠ করেন: {আর তোমরা আল্লাহ ও রাসূলের আনুগত্য করো যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও।} ২।

সুরা আন-নিসা রাসূলের আনুগত্য এবং তাঁর নিকট বিচার পেশ করার আবশ্যকতাকে জোরালোভাবে ব্যক্ত করে:

অতঃপর সুরা আন-নিসায় উভয় আনুগত্যের প্রতিটি বিষয়কে স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করা হয়েছে: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো এবং তোমাদের মধ্যকার উলুল আমরের (কর্তৃত্বশীলদের)। যদি তোমরা কোনো বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হও, তবে তা আল্লাহ ও রাসূলের নিকট পেশ করো, যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখো। এটিই কল্যাণকর এবং পরিণামে উৎকৃষ্টতর।} ৩।

আল্লাহর আনুগত্যকে একটি স্বতন্ত্র আদেশের মাধ্যমে এবং তাঁর রাসূলের আনুগত্যকেও একইভাবে স্বতন্ত্র আদেশের মাধ্যমে ব্যক্ত করা অত্যন্ত বিস্ময়কর। অতঃপর লক্ষ্য করুন, উলুল আমরের আনুগত্যকে আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্যের সাথে যুক্ত করা হয়েছে এবং আমাদের মাঝে কোনো বিরোধ দেখা দিলে তা আল্লাহ ও রাসূলের নিকট ফিরিয়ে দেওয়াকে আবশ্যক করা হয়েছে। এর পাঁচ আয়াত পর সর্বাধিক সত্যবাদী সত্তার শপথ এসেছে; কিসের শপথ? আর কিসের ওপর শপথ করা হয়েছে? এমন ব্যক্তির ঈমান নাকচ করার ওপর শপথ করা হয়েছে যে তার পারস্পরিক বিবাদ বা প্রকাশিত বিরোধে তাঁকে (রাসূলকে) বিচারক মান্য করে না, বরং তিনি শুধু এতেই ক্ষান্ত হননি—

--------------------------------------------

১ সুরা আল-ইমরান ৩১, ৩২।

২ সুরা আল-ইমরান ১৩২।

৩ সুরা আন-নিসা ৫৯।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওউল লামিউল মুবীন আন মানাহিযিল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ২৩)
بمجرد التحاكم، بل لا بد من الرضا التام عن كل ما صدر من الأحكام، والإذعان والتسليم والقبول لقضاء الرسول صلى الله عليه وسلم {فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} 1.

ونترك الحافظ ابن كثير المؤرخ المفسر المحدث يسفر ويبين عن مناهج المحدثين في فهم وإفهام آي التنزيل "يقسم الله تعالى بنفسه الكريمة المقدسة أنه لا يؤمن أحدكم حتى يحكم الرسول صلى الله عليه وسلم في جميع الأمور، فما حكم به فهو الحق الذي يجب الانقياد له باطنا وظاهرا؛ ولهذا قال: {ثُمَّ لا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} .

أي إذا حكموك يطيعونك في بواطنهم فلا يجدون في أنفسهم حرجا مما حكمت به، وينقادون له في الظاهر والباطن، فيسلمون لذلك تسليما كليا من غير ممانعة ولا مدافعة ولا منازعة.

كما ورد في الحديث: "والذي نفسي بيده لا يؤمن أحدكم حتى يكون هواه تبعا لما جئت به".

ثم ساق رواية البخاري بسنده عن عروة قال: "خاصم الزبير رجلا في شراج الحرة2، فقال النبي صلى الله عليه وسلم: "اسق يا زبير ثم أرسل

--------------------------------------------

1 سورة النساء 65.

2 قوله "شراج" بكسر الشين جمع شرج بفتح فسكون كبحر وبحار، ويجمع على شروج، والمراد به هنا موضع مسيل الماء. و"الحرة" اسم مكان في المدينة. "فتح الباري بتصرف ج5 ص433".
কেবলমাত্র বিচার প্রার্থনা করার মাধ্যমেই নয়, বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদত্ত সকল ফয়সালার প্রতি পূর্ণ সন্তুষ্টি, আনুগত্য, আত্মসমর্পণ এবং তাঁর বিচার মেনে নেওয়া অপরিহার্য। {অতএব, আপনার রবের শপথ! তারা মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের পারস্পরিক বিবাদের বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করে, অতঃপর আপনি যে ফয়সালা করেন সে ব্যাপারে তাদের অন্তরে কোনো দ্বিধা অনুভব না করে এবং তা পূর্ণভাবে মেনে নেয়।} ১।

আমরা ঐতিহাসিক, মুফাসসির এবং মুহাদ্দিস (محدث) হাফেজ ইবনে কাসিরকে ওহীর আয়াত অনুধাবন ও বোঝানোর ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের কর্মপন্থা (مناهج) বর্ণনা ও স্পষ্ট করার সুযোগ দিচ্ছি। তিনি বলেন: “আল্লাহ তাআলা তাঁর স্বয়ং সম্মানিত ও পবিত্র সত্তার শপথ করে বলছেন যে, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সকল বিষয়ে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করে। তিনি যা ফয়সালা করবেন তা-ই সত্য, যার প্রতি অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিকভাবে অনুগত হওয়া ওয়াজিব। এজন্যই তিনি বলেছেন: {অতঃপর আপনি যে ফয়সালা করেন সে ব্যাপারে তারা তাদের অন্তরে কোনো দ্বিধা অনুভব না করে এবং তা পূর্ণভাবে মেনে নেয়।}।

অর্থাৎ, তারা যখন আপনাকে বিচারক মানবে, তখন তারা তাদের অন্তরে আপনার আনুগত্য করবে এবং আপনার কৃত ফয়সালার ব্যাপারে মনে কোনো সংকীর্ণতা অনুভব করবে না। তারা বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে তার প্রতি অনুগত হবে এবং কোনো প্রকার বাধা, প্রতিরোধ বা বিরোধ ছাড়াই তা পূর্ণাঙ্গভাবে মেনে নেবে।

যেমনটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: “সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তার প্রবৃত্তির ঝোঁক আমি যা নিয়ে এসেছি তার অনুসারী হয়।”

অতঃপর তিনি বুখারির একটি বর্ণনা (رواية) তাঁর সনদ (سند) সহ উরওয়াহ থেকে উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: “যুবাইর (রা.) হাররা-র নালা২ নিয়ে এক ব্যক্তির সাথে বিবাদে লিপ্ত হলেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: ‘হে যুবাইর! তুমি সেচ করো, এরপর পানি ছেড়ে দাও’...

--------------------------------------------

১ সূরা আন-নিসা: ৬৫।

২ তাঁর উক্তি ‘শিরাজ’ (شراج) শব্দটি শিন বর্ণে কাসরা যোগে ‘শারজ’ (شرج) শব্দের বহুবচন—যেমন ‘বাহর’ (بحر) ও ‘বিহার’ (بحار), এর বহুবচন ‘শুরুজ’ (شروج) হিসেবেও আসে। এখানে এর দ্বারা পানি প্রবাহের পথ বা নালা উদ্দেশ্য। আর ‘হাররা’ হলো মদিনার একটি স্থানের নাম। ‘ফাতহুল বারী’ থেকে সংক্ষেপিত, ৫ম খণ্ড, ৪৩৩ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওউল লামিউল মুবীন আন মানাহিযিল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ২৪)
الماء إلى جارك"، فقال الأنصاري: يا رسول الله أن كان ابن عمتك؟ فتلون وجه رسول الله صلى الله عليه وسلم، ثم قال: "اسق يا زبير، ثم احبس الماء حتى يرجع إلى الجدر، ثم أرسل الماء إلى جارك" ، فاستوعى النبي صلى الله عليه وسلم للزبير حقه في صريح الحكم حين أحفظه الأنصاري، وكان أشار عليهما صلى الله عليه وسلم بأمر لهما فيه سعة، قال الزبير: فما أحسب هذه الآية إلا نزلت في ذلك {فَلا وَرَبِّكَ لا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ} الآية"1.

وأشار الحافظ ابن كثير إلى أن البخاري أخرج الحديث في كتاب التفسير والشرب والصلح، وأن الإمام أحمد وافقه على إخراجه، وأن أكثر طرقه فيها إرسال لأن عروة بن الزبير لم يسمع من أبيه.

والراجح أنه سمعه عن عبد الله عن أبيه، وقد رجح البخاري بإخراجه له اتصاله بناء على ترجح سماع عروة من الزبير، وكيفما درا الحديث فهو عن الثقات.

والحديث يحكي نازلة حدثت مع الزبير، وكل من عروة وعبد الله توجد عندهما داعية قوية لحفظه لتعلقه بأبيهما.

وقد استرسلنا مع هذا الحديث لشدة الإعجاب بتحكم الصنعة الحديثية في ابن كثير2.

--------------------------------------------

1 البخاري في كتاب الأشربة ج5 ص431، وأخرجه في كتاب التفسير ج9 ص323 بهامش الفتح.

2 تفسير ابن كثير ج1، ص520-521 "بتصرف".
"...তোমার প্রতিবেশীর কাছে পানি প্রবাহিত করো।" তখন আনসারী ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, সে কি আপনার ফুফাতো ভাই হওয়ার কারণে? এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পবিত্র চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল। অতঃপর তিনি বললেন: "হে যুবায়ের, তুমি সেচ দাও, এরপর পানি আটকে রাখো যতক্ষণ না তা দেয়াল (সীমানা) পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এরপর তোমার প্রতিবেশীর কাছে পানি প্রবাহিত করো।" সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবায়েরের জন্য তার পূর্ণ অধিকার আদায়ের সুস্পষ্ট নির্দেশ দিলেন যখন আনসারী ব্যক্তি তাঁকে অসন্তুষ্ট করলেন; অথচ ইতিপূর্বে তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের উভয়কে এমন একটি পরামর্শ দিয়েছিলেন যাতে উভয়ের জন্যই প্রশস্ততা ছিল। যুবায়ের (রা.) বলেন: আমার ধারণা যে, এই আয়াতটি সেই প্রেক্ষাপটেই নাযিল হয়েছে: {না, আপনার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না তারা তাদের বিবাদের বিষয়ে আপনাকে বিচারক হিসেবে গ্রহণ করবে...} শেষ পর্যন্ত।"১

হাফিজ ইবনে কাসীর ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইমাম বুখারী এই হাদিসটি কিতাবুত তাফসীর, আশরিবা (পানীয়) এবং সন্ধি অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম আহমাদও এটি বর্ণনায় তাঁর সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তবে এর অধিকাংশ সূত্রে বিচ্ছিন্নতা (إرسال) রয়েছে, কারণ উরওয়াহ ইবনুল যুবায়ের তার পিতা থেকে সরাসরি শ্রবণ করেননি।

আর অগ্রগণ্য (الراجح) মত হলো, তিনি এটি আব্দুল্লাহর মাধ্যমে তাঁর পিতা থেকে শুনেছেন। ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করার মাধ্যমে এর সংযুক্ততাকে (اتصاله) প্রাধান্য দিয়েছেন এই ভিত্তিতে যে, উরওয়াহ যুবায়ের (রা.) থেকে শ্রবণ করেছেন এমনটিই অগ্রগণ্য। হাদিসটি যে সূত্রেই আবর্তিত হোক না কেন, তা নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীদের মাধ্যমেই বর্ণিত হয়েছে।

হাদিসটি যুবায়ের (রা.)-এর সাথে ঘটা একটি ঘটনার বিবরণ দেয়; আর উরওয়াহ ও আব্দুল্লাহ উভয়ের মাঝেই এটি সংরক্ষণের শক্তিশালী তাগিদ বিদ্যমান ছিল, যেহেতু এটি তাদের পিতার সাথে সংশ্লিষ্ট।

ইবনে কাসীরের হাদিসশাস্ত্রীয় নিপুণতার প্রতি গভীর মুগ্ধতার কারণে আমরা এই হাদিসটি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছি ২।

--------------------------------------------

১. বুখারী, কিতাবুল আশরিবা, খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৪৩১; এবং তিনি এটি কিতাবুত তাফসীর খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৩২৩-এ বর্ণনা করেছেন (ফাতহুল বারীর টীকায়)।

২. তাফসীরে ইবনে কাসীর, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৫২০-৫২১ (পরিমার্জিত)।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওউল লামিউল মুবীন আন মানাহিযিল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ২৫)
ونمضي مع القرآن في تقديمه للسنة وتعريفه الأنام بمكانتها ومنزلتها، فنقرأ في سورة النساء أيضا، وبعد الآية التي عشنا معها بأربع عشرة آية {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمَنْ تَوَلَّى فَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظًا} 1.

أتبقى ريبة عند عاقل في مكانة السنة أو منزلتها من التشريع، بعد هذا الربط القرآني المحكم، إن طاعة الله تبارك وتعالى هي لازمة من لوازم طاعة رسول الله صلى الله عليه وسلم، فهي تقتضيها فلا سبيل إلى الفصل بين الطاعتين، ولا تتحقق إحداهما بدون الأخرى.

--------------------------------------------

1 سورة النساء: 80.
আমরা কুরআনের সাথে অগ্রসর হই সুন্নাহকে (السنة) উপস্থাপন এবং এর মর্যাদা ও অবস্থান সম্পর্কে মানবজাতিকে অবহিত করার ধারাবাহিকতায়। আমরা সূরা আন-নিসায় পুনরায় পাঠ করি, যে আয়াতের আলোচনা আমরা ইতিপূর্বে করেছি তার ঠিক চৌদ্দটি আয়াত পর: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল সে মূলত আল্লাহরই আনুগত্য করল, আর যে মুখ ফিরিয়ে নিল—আমি আপনাকে তাদের উপর রক্ষক হিসেবে প্রেরণ করিনি।} ১।

বিধান প্রণয়নের (التشريع) ক্ষেত্রে সুন্নাহর (السنة) মর্যাদা বা এর অবস্থান সম্পর্কে কুরআনের এই সুদৃঢ় (المحكم) সংযোগ স্থাপনের পর কোনো বিবেকবান ব্যক্তির মনে কি আর কোনো সংশয় অবশিষ্ট থাকে? আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার আনুগত্য হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ; এটি তাকে দাবি করে। সুতরাং এই উভয় আনুগত্যের মাঝে বিচ্ছেদের কোনো পথ নেই এবং একটি ছাড়া অন্যটি বাস্তবায়িত হওয়া সম্ভব নয়।

--------------------------------------------

১ সূরা আন-নিসা: ৮০।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওউল লামিউল মুবীন আন মানাহিযিল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌على طريق التأكيد تمضي المائدة والأنفال:

وبعد أمر قرآني بوجوب اجتناب الخمر والميسر والأنصاب والأزلام، وتعليل ذلك الأمر يجيء هذا الأمر القرآني العام {وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَاحْذَرُوا فَإِنْ تَوَلَّيْتُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّمَا عَلَى رَسُولِنَا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ} 1.

ولنتأمل هنا بعد إفراد كل من الطاعتين بأمر مستقل هذا الأمر {وَاحْذَرُوا} ففيما التحذير ومن أي شيء؟ ينساق الذهن أول ما ينساق إلى المخالفة، وكأنه قال: أطيعوا واحذروا أن تخالفوا، الزموا الطاعة وإياكم والعصيان.

ثم نمضي لنقرأ {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَوَلَّوْا عَنْهُ وَأَنْتُمْ تَسْمَعُونَ} 2.

--------------------------------------------

1 سورة المائدة: 92.

2 سورة الأنفال: 20.
সুরা আল-মায়েদা ও আল-আনফাল গুরুত্বারোপের (تأكيد) পথেই অগ্রসর হয়:

মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্যনির্ধারক তীর বর্জন করার আবশ্যকতা সম্পর্কিত কুরআনি নির্দেশ এবং সেই নির্দেশের কারণ বর্ণনার পর এই সাধারণ কুরআনি নির্দেশটি এসেছে: {আর তোমরা রাসূলের আনুগত্য করো এবং সতর্ক থাকো; কিন্তু যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে জেনে রাখো যে, স্পষ্ট প্রচারই কেবল আমাদের রাসূলের দায়িত্ব।} ১.

এখানে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল উভয়ের আনুগত্যের জন্য পৃথক পৃথক নির্দেশ প্রদানের পর আমরা এই নির্দেশটি {এবং সতর্ক থাকো} নিয়ে চিন্তা করি; এই সতর্কতা কিসের জন্য এবং কী থেকে? মন প্রথমেই বিরুদ্ধাচরণের দিকে ধাবিত হয়, যেন বলা হয়েছে: তোমরা আনুগত্য করো এবং বিরুদ্ধাচরণ করা থেকে সতর্ক থাকো, আনুগত্যকে আঁকড়ে ধরো এবং অবাধ্যতা পরিহার করো।

অতঃপর আমরা পাঠ করি: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং যখন তোমরা শুনছ, তখন তা থেকে বিমুখ হয়ো না।} ২.

--------------------------------------------

১. সুরা আল-মায়েদা: ৯২।

২. সুরা আল-আনফাল: ২০।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওউল লামিউল মুবীন আন মানাহিযিল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ২৬)
ثم يتبع هذا نهي عن محاكاة المعرضين تعزيز عن التشبه بهم باعتبارهم أحط الدواب، وأسوأها وأشدها شرًّا وأبعدها عن دائرة التعقل والتأمل؛ فهم معطلون لحواسهم غير منتفعين بنعم الله عليهم، ثم يجيء هذا الأمر {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ لِمَا يُحْيِيكُمْ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَحُولُ بَيْنَ الْمَرْءِ وَقَلْبِهِ وَأَنَّهُ إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ} 1.

وهكذا أوجب الاستجابة للرسول كما أوجب له الاستجابة تعالى والمعنى كما يقول صاحب المنار: "وإذا علمتم ما فرضنا عليكم من الطاعة، وشأن سماع التفقه من الهداية، وقد دعاكم الرسول بالتبليغ عن الله لما يحييكم فأجيبوا الدعوة بعناية وهمة، وعزيمة وقوة، فهو كقوله تعالى: {خُذُوا مَا آَتَيْنَاكُمْ بِقُوَّةٍ} والمراد بالحياة هنا حياة العلم بالله تعالى وسننه في خلقه، وأحكام شرعه، والحكمة، والفضيلة، والأعمال الصالحة التي تكمل بها الفطرة الإنسانية في الدنيا، وتستعد للحياة الأبدية في الآخرة، وقيل: المراد بالحياة هنا الجهاد في سبيل الله؛ لأنه سبب القوة والعزة والسلطان، والصواب أن الجهاد يدخل فيما ذكرنا، وليس هو الحياة المطلوبة، بل هو وسيلة لتحققها، وسياج لها بعد حصولها، وقيل: هي الإيمان والإسلام، وإنما يصح باعتبار ما كان يتجدد من الأحكام، وثمرته في القلوب والأعمال، بما في الاستجابة من معن المبالغة في الإجابة، وإلا فالخطاب للمؤمنين، وقيل: هي القرآن، ولا شك أنه ينبوعها الأعظم، الهادي إلى سبيلها الأقوم، مع بيانه من

--------------------------------------------

1 سورة الأنفال: 24.
এরপর বিমুখদের অনুকরণ করার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা এসেছে এবং তাদের সাদৃশ্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে; কারণ তাদেরকে নিকৃষ্টতম চতুষ্পদ জীব হিসেবে গণ্য করা হয়, যারা অত্যন্ত মন্দ ও পাপাচারী এবং বিচারবুদ্ধি ও চিন্তাশক্তির বলয় থেকে বহু দূরে অবস্থানকারী। তারা তাদের পঞ্চেন্দ্রিয়কে নিষ্ক্রিয় করে রেখেছে এবং আল্লাহর নেয়ামতসমূহ থেকে উপকৃত হচ্ছে না। অতঃপর এই নির্দেশটি এসেছে: {হে মুমিনগণ! আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আহ্বানে সাড়া দাও যখন তিনি তোমাদেরকে এমন কিছুর দিকে আহ্বান করেন যা তোমাদেরকে জীবন দান করে। আর জেনে রেখো যে, আল্লাহ মানুষ ও তার হৃদয়ের মাঝে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ান এবং তাঁরই কাছে তোমাদেরকে সমবেত করা হবে} ১।

এভাবে আল্লাহ তাআলা নিজের আহ্বানে সাড়া দেওয়া যেমন আবশ্যক করেছেন, তেমনি রাসূলের আহ্বানে সাড়া দেওয়াকেও আবশ্যক করেছেন। 'আল-মানার'-এর গ্রন্থকারের মতে এর মর্মার্থ হলো: "তোমাদের ওপর আমি যে আনুগত্যের বিধান ফরজ করেছি এবং হিদায়াত লাভের ক্ষেত্রে অনুধাবনপূর্বক শ্রবণের যে গুরুত্ব রয়েছে তা যখন তোমরা জানতে পারলে, আর রাসূলও যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে রিসালাত পৌঁছানোর মাধ্যমে তোমাদেরকে এমন বিষয়ের দিকে আহ্বান করেছেন যা তোমাদের প্রাণদান করে, তখন তোমরা সেই আহ্বানে পূর্ণ যত্ন, উদ্যম, সংকল্প ও শক্তির সাথে সাড়া দাও। এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর মতো: {আমি তোমাদেরকে যা প্রদান করেছি তা শক্তির সাথে গ্রহণ করো}। আর এখানে 'জীবন' বলতে মহান আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান, তাঁর সৃষ্টিজগতে তাঁর কর্মপন্থা বা সুন্নাতসমূহ, তাঁর শরিয়তের বিধানাবলি, প্রজ্ঞা, শ্রেষ্ঠত্ব এবং নেক আমলসমূহের জীবনকে বোঝানো হয়েছে; যার মাধ্যমে দুনিয়াতে মানুষের ফিতরাত বা প্রকৃতি পূর্ণতা পায় এবং পরকালের চিরস্থায়ী জীবনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে। কেউ কেউ বলেছেন: এখানে 'জীবন' বলতে আল্লাহর পথে জিহাদ উদ্দেশ্য; কারণ এটি শক্তি, মর্যাদা ও কর্তৃত্বের কারণ। তবে সঠিক মত হলো, আমরা যা উল্লেখ করেছি জিহাদ তার অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু এটিই মূল কাম্য জীবন নয়; বরং এটি সেই জীবন অর্জনের মাধ্যম এবং তা অর্জিত হওয়ার পর তার জন্য একটি সুরক্ষাপ্রাচীর স্বরূপ। আরও বলা হয়েছে: এটি হলো ঈমান ও ইসলাম। এটি কেবল শরীয়তের বিধিবিধানের নবায়ন এবং অন্তর ও কর্মে এর প্রভাবের বিবেচনায় সঠিক হতে পারে; কেননা 'ইস্তিজাবাহ' (সাড়া দেওয়া) শব্দটিতে উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে আধিক্য বা গুরুত্বের অর্থ নিহিত আছে, নতুবা এই সম্বোধন তো মুমিনদের উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। আবার কেউ বলেছেন: এটি হলো কুরআন। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এটিই হলো জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ উৎস এবং সরলতম পথের দিশারী, যার বর্ণনার সাথে...

--------------------------------------------

১. সূরা আল-আনফাল: ২৪।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওউল লামিউল মুবীন আন মানাহিযিল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ২৭)
سنة الرسول وهديه الذي أمرنا بأن يكون لنا فيه أسوة حسنة، ويدل عليه اقتران طاعته بطاعة الله تعالى، بل قال بعض العلماء: إنه كان إذا دعا شخصا، وهو يصلي يحب عليه أن يترك الصلاة استجابة له، وأن الصلاة لا تبطل بإجابته، بل له أن يبني على ما كان صلى ويُتم، واستدلوا على ذلك بحديث رواه البخاري عن سعيد بن المعلى قال: كنت أصلي في المسجد فدعاني رسول صلى الله عليه وسلم، فلم أجبه -أو قال: فلم آته حتى صليت، ثم أتيته- فقلت: يا رسول الله إني كنت أصلي، فقال: "ألم يقل الله: {اسْتَجِيبُوا لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ إِذَا دَعَاكُمْ} " ، وروى الترمذي والحاكم من حديث أبي هريرة "أنه صلى الله عليه سلم دعا أبي بن كعب وهو في الصلاة" وذكر نحوه مما رواه البخاري عن أبي سعيد وصححه1.

وقد استنبط الحافظ ابن حجر من الحديث "أن الأمر يقتضي الفور؛ لأنه عاتب الصحابي على تأخير إجابته، وفيه استعمال صيغة العموم في الأحوال كلها، قال الخطابي: فيه إن حكم لفظ العموم أن يجري على جميع ما اقتضاه، وأن الخاص والعام إذا تقابلا كان العام منزلا على الخاص؛ لأن الشارع حرم الكلام في الصلاة على العموم، ثم استثنى منه إجابة دعاء النبي صلى الله عليه وسلم في الصلاة، وفيه أن إجابة المصلي دعاء النبي صلى الله عليه وسلم لا تفسد الصلاة، هكذا صرح به جماعة من الشافعية وغيرهم.

وفيه بحث لاحتمال أن تكون إجابته واجبة مطلقًا سواء كان المخاطب

--------------------------------------------

1 المنار ج9 ص525.
রাসূলুল্লাহর সুন্নাত ও তাঁর হিদায়াত, যাতে আমাদের জন্য উত্তম আদর্শ (أسوة حسنة) গ্রহণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; আল্লাহর আনুগত্যের সাথে তাঁর আনুগত্যের সংশ্লিষ্টতা এই বিষয়েরই প্রমাণ দেয়। এমনকি কোনো কোনো আলেম বলেছেন: তিনি (সা.) যদি এমন কোনো ব্যক্তিকে ডাকতেন যিনি নামাজ পড়ছেন, তবে তাঁর আহ্বানে সাড়া দিতে নামাজ ত্যাগ করা ওই ব্যক্তির জন্য আবশ্যক ছিল। তাঁর আহ্বানে সাড়া দেওয়ার দরুন নামাজ বাতিল (تبطل) হতো না, বরং তিনি যতটুকু নামাজ পড়েছিলেন সেখান থেকেই পরবর্তী অংশ পূর্ণ করতে পারতেন। তাঁরা এর সপক্ষে বুখারী কর্তৃক সাঈদ ইবনে মুআল্লা থেকে বর্ণিত একটি হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যিনি বলেছেন: আমি মসজিদে নামাজ পড়ছিলাম, এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে ডাকলেন। আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিইনি—অথবা তিনি বলেন: আমি নামাজ শেষ না করা পর্যন্ত তাঁর কাছে আসিনি—অতঃপর আমি যখন তাঁর কাছে এলাম, তখন বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমি নামাজ পড়ছিলাম। তখন তিনি বললেন: "আল্লাহ কি বলেননি: {আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যখন তোমাদের ডাকেন, তখন তোমরা তাতে সাড়া দাও}"? তিরমিযী ও হাকিম আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ করেছেন যে, "রাসূলুল্লাহ (সা.) উবাই ইবনে কাবকে ডাকলেন যখন তিনি নামাজে ছিলেন।" তিনি আবু সাঈদ কর্তৃক বুখারীতে বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা উল্লেখ করেছেন এবং একে বিশুদ্ধ (صحيح) আখ্যা দিয়েছেন।

হাফিজ ইবনে হাজার এই হাদিস থেকে এই নির্যাস (استنباط) বের করেছেন যে, "আদেশটি অবিলম্বে বাস্তবায়ন দাবি করে (يقتضي الفور); কারণ তিনি সাহাবীকে তাঁর ডাকে সাড়া দিতে বিলম্ব করার কারণে তিরস্কার করেছেন।" এতে সর্বাবস্থায় ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ (صيغة العموم) ব্যবহারের বিষয়টিও বিদ্যমান। খাত্তাবি বলেছেন: এতে প্রমাণিত হয় যে, ব্যাপক (عام) শব্দের বিধান তার দাবি করা সকল বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হবে। আর যখন বিশেষ (خاص) ও ব্যাপক (عام) পরস্পর মুখোমুখি হয়, তখন ব্যাপক (عام)-কে বিশেষ (خاص)-এর ওপর প্রয়োগ করা হয়; কারণ শরীয়ত প্রণেতা সাধারণভাবে নামাজে কথা বলা হারাম করেছেন, অতঃপর তা থেকে নামাজরত অবস্থায় নবী (সা.)-এর ডাকে সাড়া দেওয়াকে ব্যতিক্রম (استثنى) করেছেন। এতে আরও প্রতীয়মান হয় যে, নামাজরত ব্যক্তির পক্ষ থেকে নবী (সা.)-এর ডাকে সাড়া দেওয়া নামাজ নষ্ট (تفسد) করে না। শাফেয়ী মাজহাবের একদল ফকিহ ও অন্যান্যরা স্পষ্টভাবে একথাই ব্যক্ত করেছেন।

এ বিষয়ে আরও তাত্ত্বিক পর্যালোচনা (بحث) রয়েছে এই সম্ভাবনার পরিপ্রেক্ষিতে যে, তাঁর ডাকে সাড়া দেওয়া নিরঙ্কুশভাবে আবশ্যক (واجبة مطلقا), চাই সম্বোধিত ব্যক্তি...

--------------------------------------------

১. আল-মানার, খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৫২৫।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওউল লামিউল মুবীন আন মানাহিযিল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ২৮)
مصليا أو غير مصلٍ. أما كونه يخرج بالإجابة من الصلاة أو لا يخرج، فليس من الحديث ما يستلزمه، فيحتمل أن تجب الإجابة، ولو خرج المجيب من الصلاة، وإلى ذلك جنح بعض الشافعية.

وهل يختص هذا الحكم بالنداء أو يشتمل ما هو أعم حتى تجب إجابته إذا سأل؟ فيه بحث، قد جزم ابن حبان بأن إجابة الصحابة في قصة ذي اليدين كان كذلك1.

--------------------------------------------

1 فتح الباري ج1 ص225.
সালাতরত অবস্থায় হোক কিংবা সালাতের বাইরে। আর আহ্বানে সাড়া দেওয়ার মাধ্যমে তিনি সালাত থেকে বের হয়ে যাবেন কি না, হাদিসে এমন কোনো বর্ণনা নেই যা একে অনিবার্য করে। সুতরাং সম্ভাবনা রয়েছে যে, উত্তর দেওয়া ওয়াজিব (واجب) হবে, যদিও উত্তর প্রদানকারী সালাত থেকে বের হয়ে যান; এবং শাফেঈ (الشافعية) মাজহাবের কোনো কোনো আলিম এই মতের দিকেই ঝুঁকেছেন।

আর এই বিধান (حكم) কি কেবল আহ্বানের (نداء) সাথেই নির্দিষ্ট, নাকি তা এর চেয়েও ব্যাপক অর্থ বহন করে—যাতে তিনি কোনো কিছু জিজ্ঞাসা করলে তার উত্তর দেওয়াও ওয়াজিব (واجب) হয়ে যায়? এ বিষয়ে গবেষণার অবকাশ রয়েছে। ইবনে হিব্বান দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত করেছেন যে, 'যুল ইয়াদাইন'-এর ঘটনায় সাহাবিদের (الصحابة) উত্তর প্রদান এমনই ছিল।১

--------------------------------------------

১ ফাতহুল বারি, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২২৫।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওউল লামিউল মুবীন আন মানাহিযিল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌القرآن يواصل حديثه عن استواء طاعة الله ورسوله في الوجوب:

ويتواصل حديث القرآن في وجوب طاعة الله ورسوله، فيرد في السورة التي أنزلها وفرضها، وأنزل فيها آيات بينات على ثلاث حلقات:

الأولى:

في معرض تبكيت المنافقين الذين يقولون بأفواههم ما ليس في قلوبهم، ويقسمون بالله جهد أيمانهم أنهم طوع أمره، لا يقومون على عصيانه، فينهاهم عن القسم ويبالغ في تسفيههم في ادعائهم الطاعة، فهي طاعة معروفة واضحة بينة المعالم والخصائص جلية منكشفة، سيما والمراقب لها هو الخبير بكل أعمالهم الذي لا تخفى عليه خافية، ثم يقول لحبيبه ومصطفاه موجها له أن يأمر هذا الأمر العام المقرون بإعفاء كل فريق من تبعة الآخر وجريرته {قُلْ أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَإِنَّمَا عَلَيْهِ مَا حُمِّلَ وَعَلَيْكُمْ مَا حُمِّلْتُمْ وَإِنْ تُطِيعُوهُ تَهْتَدُوا وَمَا عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ} 1.

--------------------------------------------

1 سورة النور: 54.
আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের আবশ্যিকতার সমতা প্রসঙ্গে কুরআনের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে:

আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্যের আবশ্যিকতা সম্পর্কে কুরআনের আলোচনা চলতে থাকে; যা এমন এক সূরায় বর্ণিত হয়েছে যা তিনি নাযিল করেছেন এবং ফরয করেছেন, এবং যাতে তিনি তিনটি পর্যায়ে সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ নাযিল করেছেন:

প্রথম পর্যায়:

এটি সেই সব মুনাফিকদের তিরস্কার করার প্রেক্ষাপটে যারা মুখে এমন কথা বলে যা তাদের অন্তরে নেই এবং আল্লাহর নামে কঠোর শপথ করে বলে যে তারা তাঁর আদেশের অনুগত এবং তাঁর অবাধ্য হবে না। আল্লাহ তাদের এই শপথ করতে বারণ করেছেন এবং আনুগত্যের দাবির ক্ষেত্রে তাদের নির্বুদ্ধিতাকে অত্যন্ত জোরালোভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। কেননা এটি একটি সুপরিচিত আনুগত্য, যার বৈশিষ্ট্য ও গুণাবলি অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও উন্মুক্ত; বিশেষ করে যেহেতু এর পর্যবেক্ষক হলেন সকল কর্ম সম্পর্কে সম্যক অবগত, যাঁর কাছে কোনো গোপন বিষয়ই লুকায়িত থাকে না। অতঃপর তিনি তাঁর প্রিয় ও মনোনীত রাসূলকে নির্দেশ দিয়েছেন যেন তিনি এই ব্যাপক নির্দেশটি প্রদান করেন, যা প্রত্যেক পক্ষকে অন্যের দায় ও অপরাধের বোঝা থেকে দায়মুক্ত করার সাথে সংশ্লিষ্ট: {বলুন: তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য করো। অতঃপর তোমরা যদি মুখ ফিরিয়ে নাও, তবে তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তিনিই দায়ী এবং তোমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্বের জন্য তোমরাই দায়ী। আর যদি তোমরা তাঁর আনুগত্য করো তবেই তোমরা হেদায়াত পাবে। আর রাসূলের দায়িত্ব তো কেবল সুস্পষ্টভাবে পৌঁছে দেওয়া।} ১

--------------------------------------------

১ সূরা আন-নূর: ৫৪।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওউল লামিউল মুবীন আন মানাহিযিল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ২৯)
وتجيء الحلقة الثانية: بعد الأولى بآية واحدة مبدوءة بأمر خاص، متدرج في العام الذي يتلوه تنبيها على شرف الخاص والعام، فإذا استحق الخاص أن يفرد بالذكر، وأن يسارع إلى إيراده، فكيف بالعام الذي يندرج الخاص تحت أفراده؟ {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآَتُوا الزَّكَاةَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ} 1.

ثم تجيء الحلقة الثالثة: في إطار الإظهار لمزيد العناية، والاهتمام بأمر المطاع، المربي، المعلم صلى الله عليه وسلم، فبعد ثناء رباني عاطر على المؤمنين الذين آمنوا بالله ورسوله، ومدح لهم ببعض ما وهبهم، ووفقهم إليه من التزام جانب الأدب مع القائد، وترك الاستئذان عن مصاحبته، والذهاب معه إلى الميدان، متى كانت لهم مندوحة عن الاستئذان فهم لا يستأذنونه إلا لعذر قهري، لذا أمر أن يقبل عذرهم فيأذن لهم. ومزيدا من التكريم والتفخيم لشأنه العظيم، أطلق مشيئة في الإذن ولم يحددها إلا بدائرة تحقق العذر للمستأذن، بعد ذلك يحيطه بهالات من الوقار، ويكسوه ثوب الجلال والإكبار، فهو المتواضع الذي رفعه تواضعه فوق القاطبة فلا يصح أن ينادى بما يتنادون هم به، ولا أن يعامل منهم إلا على أنه المربي الوقور، والقائد الجسور الذي يُهاب ولا يَهاب، وتتقاصر الأحداق، وتضعف دون طلعته {لَا تَجْعَلُوا دُعَاءَ الرَّسُولِ بَيْنَكُمْ كَدُعَاءِ بَعْضِكُمْ بَعْضًا قَدْ يَعْلَمُ اللَّهُ الَّذِينَ يَتَسَلَّلُونَ مِنْكُمْ لِوَاذًا فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} 2.

--------------------------------------------

1 سورة النور: 56.

2 سورة النور: 63.
এবং দ্বিতীয় পর্যায়টি এসেছে: প্রথমটির এক আয়াত পরেই; যা একটি বিশেষ (خاص) নির্দেশ দিয়ে শুরু হয়েছে এবং এর পরবর্তী সাধারণ (عام) বিষয়ের দিকে ধাবিত হয়েছে, যাতে বিশেষ (خاص) ও সাধারণের (عام) মর্যাদার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়। যখন বিশেষ (خاص) বিষয়টি পৃথকভাবে আলোচনার এবং দ্রুত উপস্থাপনের দাবি রাখে, তবে সেই সাধারণ (عام) বিষয়টি সম্পর্কে কী বলা যায় যার অধীনে ওই বিশেষ (خاص) বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত? {তোমরা সালাত কায়েম করো, জাকাত প্রদান করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো, যাতে তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও।} 1.

এরপর তৃতীয় পর্যায়টি এসেছে: আরও যত্ন প্রদর্শন এবং মান্যবর, প্রতিপালক ও শিক্ষক (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব প্রদানের প্রেক্ষাপটে। আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান আনয়নকারী মুমিনদের প্রতি রব্বানি (প্রভুর পক্ষ থেকে) চমৎকার প্রশংসার পর, এবং নেতার সাথে শিষ্টাচার বজায় রাখা, তাঁর সাহচর্য ত্যাগ না করা এবং তাঁর সাথে ময়দানে যাওয়ার ক্ষেত্রে আল্লাহ তাদের যা কিছু দান করেছেন ও তাওফিক দিয়েছেন—তার ভিত্তিতে তাদের কিছু গুণের প্রশংসা করার পর এটি এসেছে। যতক্ষণ পর্যন্ত তাদের জন্য অনুমতি নেওয়ার অবকাশ থাকে, ততক্ষণ তারা কোনো অনিবার্য কারণ ছাড়া তাঁর কাছে অনুমতি প্রার্থনা করে না; তাই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তাদের ওজর গ্রহণ করা হয় এবং তাদের অনুমতি প্রদান করা হয়। তাঁর মহান মর্যাদার সম্মান ও মহিমা আরও বৃদ্ধির লক্ষে, অনুমতির বিষয়টি তাঁর ইচ্ছার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং অনুমতিপ্রার্থীর ওজরের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া ছাড়া এর কোনো সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। এরপর তাঁকে গাম্ভীর্যের জ্যোতি দিয়ে বেষ্টন করা হয়েছে এবং মহানুভবতা ও সম্মানের পোশাক পরানো হয়েছে। তিনি এমন এক বিনয়ী সত্তা, যাঁর বিনয় তাঁকে সমগ্র সৃষ্টির ঊর্ধ্বে আসীন করেছে; তাই তাঁকে সেভাবে সম্বোধন করা সমীচীন নয় যেভাবে তারা একে অপরকে সম্বোধন করে। তাঁর সাথে এমন আচরণ করতে হবে যা একজন গাম্ভীর্যপূর্ণ প্রতিপালক এবং সাহসী নেতার জন্য প্রযোজ্য, যাঁকে সবাই শ্রদ্ধা মিশ্রিত ভয় পায় কিন্তু তিনি কাউকে ভয় পান না এবং যাঁর তেজস্বী রূপের সামনে দৃষ্টি সংকুচিত ও ম্লান হয়ে যায়। {রাসুলের ডাককে তোমরা তোমাদের একে অপরের ডাকের মতো গণ্য করো না। তোমাদের মধ্যে যারা একে অপরকে আড়াল করে চুপিসারে সটকে পড়ে, আল্লাহ তাদের অবশ্যই জানেন। সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো পরীক্ষা (فتنة) নেমে আসতে পারে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আজাব আপতিত হতে পারে।} 2.

--------------------------------------------

১ সূরা আন-নূর: ৫৬।

২ সূরা আন-নূর: ৬৩।
(খণ্ড: ১) আদ-দাওউল লামিউল মুবীন আন মানাহিযিল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ৩০)
هكذا بلغت الأنظار "إلى ضرورة توقير الرسول صلى الله عليه وسلم عند الاستئذان، وفي كل الأحوال، فلا يدعى باسمه: يا محمد، أو كنيته: يا أبا القاسم، كما يدعو المسلمون بعضهم بعضا، إنما يدعى بتشريف الله له وتكريمه: يا نبي الله، يا رسول الله.

فلا بد من امتلاء القلوب بالتوقير لرسول الله صلى الله عليه وسلم -حتى نستشعر توقير كل كلمة منه، وكل توجيه، وهي لفتة ضرورية، فلا بد للمربي من وقار، ولا بد للقائد من هيبة، وفرق بين أن يكون هو متواضعا هينا لينا، وأن ينسوا هم أنه مربيهم فيدعوه دعاء بعضهم لبعض. يجب أن تبقى للمربي منزلة في نفوس من يربيهم، يرتفع بها عليهم في قرارة شعورهم، ويستحيون هم أن يتجاوزوا معها حدود التبجيل والتوقير، ثم يحذر المنافقين الذين يتسللون ويذهبون بدون إذن، يلوذ بعضهم ببعض، ويتدارى بعضهم ببعض فعين الله عليهم، وإن كانت عين الرسول لا تراهم:

{قَدْ يَعْلَمُ اللَّهُ الَّذِينَ يَتَسَلَّلُونَ مِنْكُمْ لِوَاذًا} ، وهو تعبير يصور حركة التخلي والتسلل بحذر من المجلس، ويتمثل فيها الجبن عن المواجهة، وحقارة الحركة والشعور المصاحب لها في النفوس {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} ، وإنه لتحذير مرهوب، وتهديد رهيب.

فليحذر الذين يخالفون عن أمره، ويتبعون نهجا غير نهجه، ويتسللون من الصف ابتغاء منفعة أو اتقاء مضرة، ليحذروا أن تصيبهم فتنة تضطرب فيها المقاييس، وتختل فيها الموازين، وينتكث فيها النظام، فيختلط الحق
এভাবে দৃষ্টিভঙ্গি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, "অনুমতি প্রার্থনার সময় এবং সকল অবস্থায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা অপরিহার্য। সুতরাং তাঁকে তাঁর নাম ধরে: 'হে মুহাম্মদ', কিংবা তাঁর উপনাম (كنية): 'হে আবুল কাসিম' বলে সম্বোধন করা যাবে না—যেভাবে মুসলমানরা একে অপরকে ডেকে থাকে। বরং আল্লাহ তাঁকে যে মর্যাদা ও সম্মান দান করেছেন, সেই মহিমান্বিত সম্বোধনেই তাঁকে ডাকতে হবে: 'হে আল্লাহর নবী', 'হে আল্লাহর রাসুল'।"

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি হৃদয়ে গভীর শ্রদ্ধাবোধ থাকা অপরিহার্য—যাতে আমরা তাঁর প্রতিটি বাণী ও প্রতিটি নির্দেশনার গুরুত্ব যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারি। এটি একটি মৌলিক ও প্রয়োজনীয় দিক; কেননা একজন শিক্ষকের জন্য যেমন গাম্ভীর্য থাকা আবশ্যক, তেমনি একজন নেতার জন্য প্রভাব ও প্রতিপত্তি থাকা জরুরি। তিনি নিজে অত্যন্ত বিনয়ী, অমায়িক ও নম্র হওয়ার বিষয়ের সাথে, অন্যরা তিনি যে তাদের শিক্ষক সে কথা ভুলে গিয়ে একে অপরকে ডাকার মতো করে তাঁকে আহ্বান করার মধ্যে বিস্তর ব্যবধান রয়েছে। শিক্ষার্থীর অন্তরে শিক্ষকের এমন এক উচ্চ মর্যাদা থাকা উচিত, যার ফলে তারা তাদের অবচেতনেও তাঁকে নিজেদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করবে এবং তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মানের সীমা লঙ্ঘন করতে লজ্জাবোধ করবে। অতঃপর তিনি সেই কপট (منافقين) ব্যক্তিদের সতর্ক করছেন যারা অনুমতি ব্যতিরেকেই চুপিচুপি সটকে পড়ে এবং একে অপরের আড়ালে আত্মগোপন করে প্রস্থান করে। আল্লাহর দৃষ্টি তাদের ওপর নিবদ্ধ রয়েছে, যদিও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চোখ তাদের দেখতে পাচ্ছে না:

{আল্লাহ অবশ্যই জানেন তোমাদের মধ্যে যারা একে অপরের আড়ালে চুপিচুপি সটকে পড়ে}। এটি এমন এক অভিব্যক্তি যা কোনো মজলিস থেকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পলায়নের চিত্র ফুটিয়ে তোলে। এর মাধ্যমে সরাসরি মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে কাপুরুষতা এবং এই কার্যের হীনতা ও সংশ্লিষ্ট মানসিক হীনম্মন্যতা প্রকাশ পায়। {অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় (فتنة) নেমে আসবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে}। এটি একটি প্রকম্পিত করার মতো সতর্কবাণী এবং ভয়াবহ হুমকি।

অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তাঁর প্রদর্শিত আদর্শের পরিবর্তে অন্য পথ অনুসরণ করে এবং কোনো পার্থিব স্বার্থ হাসিলের তরে কিংবা ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য সুশৃঙ্খল কাতার থেকে সটকে পড়ে, তারা যেন সতর্ক হয়। তারা যেন ভয় পায় এমন কোনো পরীক্ষা বা ফিতনা (فتنة)-র, যাতে সঠিক মানদণ্ডগুলো ওলটপালট হয়ে যায়, ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে; ফলে সত্য ও মিথ্যা একাকার হয়ে যায়...
(খণ্ড: ১) আদ-দাওউল লামিউল মুবীন আন মানাহিযিল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ৩১)
بالباطل، والطيب بالخبيث، وتفسد أمور الجماعة وحياتها، فلا يأمن على نفسه أحد، ولا يقف عند حده أحد، ولا يتميز فيها خير من شر وهي فترة شقاء للجميع {أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} في الدنيا أو في الآخرة جزاء المخالفة عن أمر الله، ونهجه الذي ارتضاه للحياة"1.

ودفعا للسآمة والملل نستعفي من الوقوف بكل إجلال في رحاب سورة الحجرات، وهي تؤدب، وتهذب سلوك المؤمن تجاه الله ورسوله، فلا يصح التقديم بين يديهما، ولا حتى مجرد رفع الصوت فوق صوت النبي، فضلا عن مناداته من وراء الحجرات، وتصريح يذم من يفعل ذلك وتعريض به من خلال امتداح مقابله، أولئك الذين يغضون أصواتهم عند رسول الله مبرهنين على أن الله استخلص قلوبهم للتقوى واصطفاهم لها.

--------------------------------------------

1 في ظلال القرآن، ص2535-2536.
মিথ্যার দ্বারা, এবং পবিত্রকে অপবিত্রের সাথে; এতে জামাআতের কার্যাবলী ও জীবন কলুষিত হয়ে পড়ে। ফলে কেউ নিজের জীবন সম্পর্কে নিরাপদ বোধ করে না, কেউ নিজের সীমার মধ্যে থাকে না এবং সেখানে মন্দের থেকে ভালোর কোনো পার্থক্য পরিলক্ষিত হয় না। এটি সকলের জন্যই এক চরম দুর্দশার কাল। {অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি আপতিত হবে} দুনিয়াতে অথবা আখেরাতে, আল্লাহর নির্দেশ এবং জীবনের জন্য তাঁর মনোনীত জীবনপদ্ধতির বিরুদ্ধাচরণ করার প্রতিফল হিসেবে।"১

একঘেয়েমি ও ক্লান্তি দূর করার নিমিত্তে আমরা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে সূরা আল-হুজুরাতের প্রাঙ্গণে অবস্থান করা থেকে অব্যাহতি নিচ্ছি; যা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি মুমিনের আচরণকে সুসংহত ও মার্জিত করে। সুতরাং তাঁদের সামনে অগ্রবর্তী হওয়া সমীচীন নয়, এমনকি নবীর কণ্ঠস্বরের ওপর কণ্ঠস্বর উচ্চ করাও শোভনীয় নয়; কক্ষসমূহের অন্তরাল থেকে তাঁকে ডাকা তো দূরের কথা। যারা এরূপ করে তাদের প্রতি স্পষ্ট নিন্দা জ্ঞাপন করা হয়েছে এবং এর বিপরীতে যারা রাসূলুল্লাহর সম্মুখে নিজেদের কণ্ঠস্বর নিচু রাখে তাদের প্রশংসার মাধ্যমে ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে যে, তারা সেই সকল লোক যাদের অন্তরকে আল্লাহ তাকওয়ার জন্য পরিশুদ্ধ করেছেন এবং তাদের এই বিষয়ের জন্য মনোনীত করেছেন।

--------------------------------------------

১. ফি জিলালিল কুরআন, পৃষ্ঠা ২৫৩৫-২৫৩৬।