(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনি হিশাম - তাহকীক ত্বহা আবদুর রাউফ সাদ (পৃষ্ঠা: -)
سيرة ابن هشام - ت طه عبد الرؤوف سعد   (عبد الملك بن هشام)

القسم: السيرة النبوية


الكتاب: السيرة النبوية لابن هشام

المؤلف: ابن هشام [ت 213 هـ]

قدم لها وعلق عليها وضبَطها: طه عبد الرؤوف سعد

الناشر: شركة الطباعة الفنية المتحدة [وأعاد المحقق نشرها -مع تعديلات طفيفة- لدى مكتبة الكليات الأزهرية بالقاهرة، وكذلك نشرتها دار الجيل بيروت، بنفس ترقيم الصفحات]

عدد الأجزاء: 4 [واقتصرتْ هذه النسخة الإلكترونية على الجزأين الأَولين فقط]

[تنبيهات]:

1 - للمحقق طبعة متقدمة على هذه مع "الروض الأنف" للسهيلي، في 4 مجلدات من القِطْع الكبير، بترقيم صفحات مختلف، نشر مكتبة ومطبعة شقرون، ونشرتها أيضا مكتبة الكليات الأزهرية بالقاهرة، أشار إليها المحقق 1/ 3 من هذه الطبعة المفردة

2 - لدار الجيل طبعة متأخرة عن هذه بصف جديد وترقيم صفحات مختلف

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

সীরাত ইবনে হিশাম - সম্পাদনায়: ত্বহা আবদুর রউফ সাদ   (আবদুল মালিক ইবনে হিশাম)

বিভাগ: সীরাতুন নবী


গ্রন্থ: ইবনে হিশাম রচিত সীরাতুন নবী

লেখক: ইবনে হিশাম [মৃত্যু ২১৩ হিজরি]

উপস্থাপনা, টীকা ও সম্পাদনা: ত্বহা আবদুর রউফ সাদ

প্রকাশক: শারিকাত আত-তিবাআহ আল-ফান্নিয়্যাহ আল-মুত্তাহিদাহ [এবং সম্পাদক এটি সামান্য পরিমার্জনসহ -কায়রোর মাকতাবাতুল কুল্লিয়্যাত আল-আজহারিয়্যাহ থেকে পুনরায় প্রকাশ করেছেন, এবং একইভাবে বৈরুতের দারুল জীল থেকেও একই পৃষ্ঠাসংখ্যায় এটি প্রকাশিত হয়েছে]

খণ্ড সংখ্যা: ৪ [এবং এই ইলেকট্রনিক সংস্করণটি কেবল প্রথম দুই খণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ]

[সতর্কীকরণসমূহ]:

১ - সুহাইলী রচিত "আর-রওদুল উনুফ" সহ এই সম্পাদকের একটি পূর্ববর্তী সংস্করণ বড় আকারের ৪ খণ্ডে ভিন্ন পৃষ্ঠাসংখ্যায় মাকতাবাহ ওয়া মাতবাআহ শাকরুন থেকে প্রকাশিত হয়েছিল এবং এটি কায়রোর মাকতাবাতুল কুল্লিয়্যাত আল-আজহারিয়্যাহ থেকেও প্রকাশিত হয়েছে; সম্পাদক এই একক সংস্করণের ১/৩ পৃষ্ঠায় এর প্রতি ইঙ্গিত করেছেন

২ - দারুল জীল থেকে এই সংস্করণের পরবর্তী একটি সংস্করণ নতুন বিন্যাস ও ভিন্ন পৃষ্ঠাসংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে

[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনি হিশাম - তাহকীক ত্বহা আবদুর রাউফ সাদ (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌المجلد: الأول

‌‌المتن

 

بسم الله الرحمن الرحيم

{وَبِهِ نَسْتَعِين}

الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، وَصَلَوَاتُهُ عَلَى سَيِّدِنَا محمد وعلى آله أَجْمَعِينَ

ذِكْرُ سَرْدِ النَّسَبِ الزَّكِيِّ

مِنْ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وآله وسلم إلَى آدَمَ عليه السلام

قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ عبدُ الْمَلِكِ بنُ هشام: هَذَا كتابُ سِيرَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وآله وسلم -محمد بن عبد الله بن عبد المطلب. وَاسْمُ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ: شَيْبَة1 بْنُ هَاشِمٍ. وَاسْمُ هَاشِمٍ: عَمْرُو2 بْنُ عَبْدِ مَنَافٍ، وَاسْمُ عَبْدِ مناف: المغيرة3 بن قصي4، بن كلاب5

--------------------------------------------

1 هكذا ذكر ابن إسحاق: أن اسمه شيبة -وهو الصحيح- وسمي بذلك لأنه ولد في رأسه شيبة. وأما غيره من العرب ممن اسمه شيبة، فإنما قصد في تسميتهم بهذا الاسم التفاؤل لهم ببلوغ سن الحنكة والرأي، كما سموا بهرم وكبير.

وعاش عبد المطلب مائة وأربعين سنة وكان لدى عبيد بن الأبرص الشاعر المشهور.

ويقال: إنه أول من خضب بالسواد. وقد ذكر أن اسمه عامر، "انظر الروض الأنف بتحقيقنا طبعة عباس شقرون ص7 ج1".

2 عمرو: وهو اسم منقول من أحد أربعة أشياء: من العَمر الذي هو العُمر. أو العَمر: الذي هو من عمور الأسنان. أو العُمر الذي هو طرف الكم. أو العَمر الذي هو القُرط.

3 المغيرة: وهو منقول من الوصف، والهاء فيه للمبالغة، أي أنه مُغير على الأعداء، أو مغير من: أغار الحبل إذا أحكمه.

4 قُصى واسمه زيد، وهو تصغير قَصيّ أي بعيد؛ لأنه بعد عن عشيرته في بلاد قُضاعة، حين احتملته أمه فاطمة مع ربيعة بن حرام.

5 كلاب: وهو منقول إما من المصدر الذى هو معنى المكالبة، وإما من الكلاب جمع كلب؛ لأنهم يريدون الكثرة وقد قيل لأبي الرقيش الأعرابى: لم تسمون أبناءكم بشر الأسماء نحو: كلب وذئب، وعبيدكم بأحسن الأسماء نحو: مرزوق ورباح، فقال: إنما نسمي أبناءنا لأعدائنا، وعبيدنا لأنفسنا: يريد أن الأبناء عدة الأعداء وسهام في نحورهم؛ فاختاروا لهم هذه الأسماء.
‌‌খণ্ড: প্রথম

‌‌মূল পাঠ

 

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

{এবং আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি}

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং তাঁর করুণা আমাদের নেতা মুহাম্মদ এবং তাঁর সকল পরিবার-পরিজনের ওপর বর্ষিত হোক।

পবিত্র বংশপরম্পরার বর্ণনার উল্লেখ।

মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে আদম (আলাইহিস সালাম) পর্যন্ত।

আবু মুহাম্মদ আব্দুল মালিক ইবনে হিশাম বলেন: এটি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সীরাত গ্রন্থ - মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল মুত্তালিব। আর আব্দুল মুত্তালিবের নাম ছিল: শাইবাহ ইবনে হাশিম। আর হাশিমের নাম ছিল: আমর ইবনে আব্দে মানাফ, আর আব্দে মানাফের নাম ছিল: আল-মুগীরা ইবনে কুসাই ইবনে কিলাব।

--------------------------------------------

১ ইবনে ইসহাক এভাবেই উল্লেখ করেছেন: যে তাঁর নাম ছিল শাইবাহ - এবং এটিই সঠিক - আর এই নামকরণ করা হয়েছে কারণ তাঁর মাথায় পাকা চুল নিয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আর আরবের অন্যান্যদের মধ্যে যাদের নাম শাইবাহ রাখা হতো, তাদের ক্ষেত্রে এর উদ্দেশ্য ছিল তাদের প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা ও বিজ্ঞতার বয়সে পৌঁছানোর শুভকামনা করা, যেমন তারা ‘হারিম’ (বৃদ্ধ) ও ‘কাবীর’ (বড়) নাম রাখত।

এবং আব্দুল মুত্তালিব একশ চল্লিশ বছর জীবিত ছিলেন এবং তিনি প্রখ্যাত কবি উবাইদ ইবনুল আবরাসের সমসাময়িক ছিলেন।

এবং বলা হয়: তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি কালো কলপ ব্যবহার করেছেন। এবং উল্লেখ করা হয়েছে যে তাঁর নাম আমির, "দেখুন আমাদের তাহকীককৃত আর-রাওদুল উনুফ, আব্বাস শাকরুন সংস্করণ, পৃষ্ঠা ৭, খণ্ড ১"।

২ আমর: এটি চারটি বিষয়ের কোনো একটি থেকে উদ্ভূত নাম: হয় ‘আমর’ থেকে যা মূলত জীবনকাল। অথবা ‘আমর’ যা দাঁতের মাড়ি সংক্রান্ত। অথবা ‘উমর’ যা হাতার প্রান্ত। অথবা ‘আমর’ যা কানের দুল।

৩ আল-মুগীরা: এটি একটি গুণবাচক শব্দ থেকে গৃহীত, আর এতে ‘হা’ বর্ণটি আতিশয্য বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ তিনি শত্রুদের ওপর প্রবল আক্রমণকারী, অথবা এটি ‘আগারা আল-হাবলা’ থেকে হতে পারে যখন কেউ রশি মজবুত করে।

৪ কুসাই এবং তাঁর নাম যায়েদ, এটি ‘কাসিয়্য’ শব্দের ক্ষুদ্রতাবাচক রূপ যার অর্থ দূরবর্তী; কারণ তিনি যখন কুদাআ গোত্রের এলাকায় তাঁর বংশ থেকে দূরে ছিলেন, তখন তাঁর মা ফাতিমা তাকে রাবিয়া ইবনে হারামের সাথে নিয়ে গিয়েছিলেন।

৫ কিলাব: এটি হয় সেই মাসদার (ক্রিয়ামূল) থেকে গৃহীত যার অর্থ একে অপরের সাথে কুকুরের মতো লড়াই করা, অথবা এটি ‘কালব’ (কুকুর) শব্দের বহুবচন ‘কিলাব’ থেকে এসেছে; কারণ তারা সংখ্যাধিক্য বুঝাতে চেয়েছেন। আর বেদুঈন আবু আর-রাকীশকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: কেন তোমরা তোমাদের সন্তানদের কুকুর ও নেকড়ের মতো নিকৃষ্ট নামে ডাকো, আর তোমাদের দাসদের মারযূক (রিযিকপ্রাপ্ত) ও রাবাহ (লাভবান)-এর মতো সুন্দর নামে ডাকো? তিনি উত্তরে বললেন: আমরা আমাদের সন্তানদের নাম রাখি আমাদের শত্রুদের জন্য, আর দাসদের নাম রাখি নিজেদের জন্য: অর্থাৎ সন্তানরা হলো শত্রুদের মোকাবিলা করার রণসজ্জা এবং তাদের কণ্ঠনালীতে বিঁধবার তীর স্বরূপ; তাই তারা তাদের জন্য এই নামগুলো নির্বাচন করতেন।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনি হিশাম - তাহকীক ত্বহা আবদুর রাউফ সাদ (পৃষ্ঠা: ৪)
ابن مرة1، بن كعب2 بن لؤي3، بن غالب، بن فهر4، بْنِ النَّضْرِ بْنِ كِنَانَةَ، بْنِ خُزَيْمَةَ5، بْنِ مُدْرِكَةَ، وَاسْمُ مُدْرِكَةَ: عَامِرُ، بْنُ إلْيَاسَ6، بْنِ مضر7،

--------------------------------------------

1 مرة: منقول من وصف الحنظلة والعلقمة، ويجوز أن تكون الهاء للمبالغة، فيكون منقولًا من وصف الرجل بالمرارة. أو قد يكون من المسمين بالنبات فقد ذكر: أن المرة بقلة تقع فتؤكل بالخل والزيت.

2 كعب: وهو منقول من الكعب الذي هو قطعة من السمن، أو من كعب القدم، يقولون: ثبت ثبوت الكعب، وكعب هو أول من جمع يوم العروبة، ولم تسم العروبة إلا مذ جاء الإسلام وقيل: هو أول من سماه الجمعة؛ فكان يجمع قريش في هذا اليوم ويذكرهم بمبعث النبي –صلى الله عليه وسلم– ويعلمهم أنه ولده، ويأمرهم باتباعه.

3 لؤي: هو تصغير اللأى، وهو الثور الوحشي كما ذكر ابن الأنباري.

4 فهر: قيل: إنه لقب، والفهر من الحجارة الطويل، واسمه قريش وقيل: بل اسمه فهر، وقريش لقب له.

5 خزيمة: تصغير خزمة، وهي المرة الواحدة من الخزم، وهو شد الشيء وإصلاحه.

6 الياس. قال فيه ابن الأنباري: إلياس بكسر الهمزة وجعله موافقًا لاسم إلياس النبي، وقيل في اشتقاقه: إنه إفعال، من قولهم: رجل أليْس وهو الشجاع الذي لا يفر. قال العجاج:

أليْس عن حوبائه سخى

أما غير ابن الأنباري فقال: إنه إلياس، سمي بضد الرجاء، واللام فيه للتعريف والهمزة همزة وصل.

7 مضر: قال فيه القتبى. هو من المضيرة وهي شيء يصنع من اللبن فسمي مضر لبياضه، فقيل: مضر الحمراء؛ لأن العرب تسمي الأبيض أحمر.
মুররাহ-এর পুত্র১, কাব-এর পুত্র২, লুয়াই-এর পুত্র৩, গালিব-এর পুত্র, ফিহর-এর পুত্র৪, আন-নাদর ইবনে কিনানাহ-এর পুত্র, খুজাইমাহ-এর পুত্র৫, মুদরিকাহ-এর পুত্র; আর মুদরিকাহ-এর নাম হলো: আমির, ইলিয়াস-এর পুত্র৬, মুদার-এর পুত্র৭,

--------------------------------------------

১ মুররাহ: এটি হানজালা এবং আলক্বামাহ-এর (এক প্রকার তিক্ত ফল) বৈশিষ্ট্য থেকে গৃহীত। আবার 'হা' বর্ণটি আধিক্য বুঝানোর জন্য যুক্ত হওয়াও সম্ভব, সেক্ষেত্রে এটি কোনো ব্যক্তিকে তিক্ততার গুণে গুণান্বিত করা থেকে গৃহীত হবে। অথবা এটি উদ্ভিদের নামে নামাঙ্কিত হতে পারে, কারণ উল্লেখ করা হয়েছে যে: 'মুররাহ' হলো এমন একটি শাক যা সিরকা এবং তেলের সাথে খাওয়া হয়।

২ কাব: এটি 'কাব' শব্দ থেকে গৃহীত যার অর্থ মাখনের টুকরো, অথবা গোড়ালির গাঁট (পায়ের গোড়ালি)। তারা বলে থাকে: গোড়ালির ন্যায় সুদৃঢ় থাকা। কাব-ই প্রথম ব্যক্তি যিনি আরুবাহ দিবসে (তৎকালীন শুক্রবার) সমাবেশের আয়োজন করেছিলেন। ইসলাম আসার আগে পর্যন্ত দিনটিকে আরুবাহ বলা হতো। বলা হয়ে থাকে: তিনিই প্রথম এর নাম জুমুআ রেখেছিলেন; তিনি এই দিনে কুরাইশদের একত্রিত করতেন এবং তাদের নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আবির্ভাবের কথা স্মরণ করিয়ে দিতেন এবং তাদের জানাতেন যে তিনি তাঁরই বংশধর হবেন এবং তাদের তাঁর অনুসরণের নির্দেশ দিতেন।

৩ লুয়াই: এটি 'আল-লায়' শব্দের ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ, যার অর্থ হলো বন্য ষাঁড়, যেমনটি ইবনুল আনবারী উল্লেখ করেছেন।

৪ ফিহর: বলা হয়েছে যে এটি একটি উপাধি। ফিহর হলো লম্বা আকৃতির পাথর। তাঁর আসল নাম কুরাইশ। আবার বলা হয়েছে: বরং তাঁর নাম ফিহর এবং কুরাইশ হলো তাঁর উপাধি।

৫ খুজাইমাহ: এটি 'খাজমাহ' শব্দের ক্ষুদ্রার্থবোধক রূপ, যার অর্থ কোনো কিছু মজবুতভাবে বাঁধা বা সংশোধন করার একক পর্যায়।

৬ ইলিয়াস: ইবনুল আনবারী এই বিষয়ে বলেছেন: এটি হামজায় কাসরা (ই-কার) যোগে 'ইলিয়াস', যা ইলিয়াস নবীর নামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর ব্যুৎপত্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে: এটি 'ইফআল' কাঠামো থেকে এসেছে, যা তাদের কথা 'রাজুলুন আলইয়াস' থেকে গৃহীত, যার অর্থ এমন সাহসী ব্যক্তি যে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ন করে না। আল-আজজাজ বলেছেন:

সাহসী ব্যক্তি তাঁর প্রাণ বিসর্জন দিতে কুণ্ঠাবোধ করেন না।

তবে ইবনুল আনবারী ছাড়া অন্যরা বলেছেন: এটি 'ইলইয়াস', যা আশার (রাজা) বিপরীত শব্দ থেকে নামকরণ করা হয়েছে। এতে 'লাম' বর্ণটি নির্দিষ্টকরণের (তারিফ) জন্য এবং হামজাটি হামজাতুল ওয়াসল।

৭ মুদার: আল-কুতবী এই বিষয়ে বলেছেন: এটি 'মুদীরাহ' থেকে এসেছে, যা দুধ দিয়ে তৈরি করা একটি খাদ্য। তাঁর শুভ্রতার কারণে তাঁকে মুদার নামকরণ করা হয়েছে। তাই বলা হয়: লাল মুদার; কারণ আরবরা শ্বেতবর্ণকে লাল বলে অভিহিত করে।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনি হিশাম - তাহকীক ত্বহা আবদুর রাউফ সাদ (পৃষ্ঠা: ৫)
ابن نِزَارِ1، بْنِ مَعَد2 بْنِ عَدْنَانَ3، بْنِ أُدٍّ4.

وَيُقَالُ أدَد، بْنُ مُقَوِّم، بْنِ نَاحُورَ، بْنِ تَيْرَح، بْنِ يَعْرُب، بْنِ يَشْجُب5، بْنِ نَابِتِ، بن إسماعيل6، بن إبراهيم7 -خليل الرحمن- ابن تَارِحٍ -وَهُوَ آزَرُ8- بْنُ نَاحُورَ، بْنِ سَارُوغَ، بن داعو، بْنِ فَالَخٍ9، بْنِ عَيْبر10، بْنِ شالَخٍ11، بْنِ أرْفَخْشَذ12، بن سام، ابن نوح13، بن لمك، بن متوشلخ14، بن أخنوخ وَهُوَ إدْرِيسُ النَّبِيُّ -فِيمَا يَزْعُمُونَ- وَاَللَّهُ أَعْلَمُ. وَكَانَ أَوَّلَ بَنِي آدَمَ أُعْطَى النُّبُوَّةَ، وَخَطَّ بالقلم -ابن يرد15 بن مهليل16،

--------------------------------------------

1 نزار: واشتقاقه من النزر وهو القليل، وكان أبوه حين ولد له ونظر إلى النور بين عينيه وهو نور النبوة نحر وأطعم وقال: إن هذا كله نزر لحق هذا المولود.

2 معد: أخذ من المعد وهو القوة.

3 عدنان: فعلان من عدن إذا أقام.

4 أد: ويقال: أدد. قال ابن السراج: هو من الود وانصرف.

5 ناحور: من النحر، وتبرح: من الترحة. ويشجب: من الشجب.

6 إسماعيل: تفسيره: مطيع الله.

7 إبراهيم: معناه: أب راحم.

8 قيل معناه: يا أعوج.

9 ويقال فيه: فالغ.

10 عيبر: ويقال فيه عابر، وذكر الطبري: أن بين فالغ وعابر أبا اسمه قينن أسقط اسمه من التوراة؛ لأنه كان ساحرًا.

11 شالخ: معناه الرسول أو الوكيل.

12 أرفخشذ: تفسيره المصباح مضيء.

13 نوح: واسمه عبد الغفار ويقال: إنه سمي "نوحا" لنوحه على ذنبه.

14 متوشلخ: وتفسيره مات الرسول؛ لأن أباه كان رسولًا ومات، ومتوشلخ في بطن أمه.

15 يرد: وتفسيره الضابط.

16 مهليل: وقيل مهلائيل: وتفسيره: الممدح.
নিযার-এর পুত্র, মাআদ-এর পুত্র, আদনান-এর পুত্র, উদ্দ-এর পুত্র।

এবং বলা হয় আদাদ; মুকাউয়িম-এর পুত্র, নাহুর-এর পুত্র, তায়রাহ-এর পুত্র, ইয়ারুব-এর পুত্র, ইয়াশজুব-এর পুত্র, নাবিত-এর পুত্র, ইসমাইল-এর পুত্র, ইবরাহীম-এর পুত্র—যিনি পরম করুণাময়ের বন্ধু—তারিখ-এর পুত্র—যিনি আযর—নাহুর-এর পুত্র, সারুগ-এর পুত্র, দাউ-এর পুত্র, ফালাখ-এর পুত্র, আইবার-এর পুত্র, শালাখ-এর পুত্র, আরফাখশায-এর পুত্র, সাম-এর পুত্র, নূহ-এর পুত্র, লামক-এর পুত্র, মাতুশালাখ-এর পুত্র, আখুনূখ-এর পুত্র—যিনি হলেন নবী ইদ্রিস, তাদের বর্ণনা অনুযায়ী—আর আল্লাহই ভালো জানেন। তিনি আদম সন্তানদের মধ্যে প্রথম ব্যক্তি যাকে নবুওয়াত প্রদান করা হয়েছিল এবং যিনি প্রথম কলম দিয়ে লিখেছিলেন—ইয়ারদ-এর পুত্র, মাহলীল-এর পুত্র।

--------------------------------------------

১. নিযার: এর ব্যুৎপত্তি ‘নাযর’ শব্দ থেকে যার অর্থ সামান্য বা অল্প। যখন তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং তার পিতা তার কপালে নবুওয়াতের নূর দেখতে পান, তখন তিনি পশু জবাই করেন ও লোক খাওয়ান এবং বলেন: এই নবজাতকের হকের তুলনায় এ সবকিছুই অতি সামান্য।

২. মাআদ: এটি ‘মাআদ’ থেকে গৃহীত যার অর্থ শক্তি।

৩. আদনান: এটি ‘আদান’ শব্দ থেকে ‘ফালান’ ওজনে গঠিত, যার অর্থ সে যখন কোথাও স্থায়ীভাবে বসবাস করে।

৪. উদ্দ: একে আদাদও বলা হয়। ইবনুস সাররাজ বলেন: এটি ‘উদ্দ’ (ভালোবাসা) থেকে উদ্ভূত এবং এটি শব্দগতভাবে পরিবর্তনশীল।

৫. নাহুর: ‘নাহর’ (কণ্ঠনালী/জবাই) থেকে; তায়রাহ: ‘তারাহ’ (দুঃখ) থেকে; এবং ইয়াশজুব: ‘শাজব’ (বিনাশ/ক্লান্তি) থেকে।

৬. ইসমাইল: এর ব্যাখ্যা হলো: আল্লাহর অনুগত।

৭. ইবরাহীম: এর অর্থ: দয়ালু পিতা।

৮. বলা হয় এর অর্থ: হে বক্র ব্যক্তি।

৯. তাকে ফালগও বলা হয়।

১০. আইবার: তাকে আবিরও বলা হয়। তাবারী উল্লেখ করেছেন যে, ফালগ এবং আবির-এর মাঝে কায়নান নামক এক পিতা ছিলেন, যার নাম তাওরাত থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে; কারণ তিনি জাদুকর ছিলেন।

১১. শালাখ: এর অর্থ বার্তাবাহক বা প্রতিনিধি।

১২. আরফাখশায: এর ব্যাখ্যা হলো প্রজ্বলিত প্রদীপ।

১৩. নূহ: তার নাম ছিল আব্দুল গাফফার। বলা হয় যে, স্বীয় পাপের জন্য বিলাপ বা রোদন (নূহ) করার কারণে তার নাম ‘নূহ’ রাখা হয়েছে।

১৪. মাতুশালাখ: এর ব্যাখ্যা হলো ‘রাসূল মারা গেছেন’; কারণ তার পিতা একজন রাসূল ছিলেন এবং তিনি মারা গিয়েছিলেন যখন মাতুশালাখ তার মায়ের গর্ভে ছিলেন।

১৫. ইয়ারদ: এর ব্যাখ্যা হলো নিয়ন্ত্রক।

১৬. মাহলীল: একে মাহলাইলও বলা হয়: এর ব্যাখ্যা হলো: অতি প্রশংসিত।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনি হিশাম - তাহকীক ত্বহা আবদুর রাউফ সাদ (পৃষ্ঠা: ৬)
ابن قَيْنَنَ1، بْنِ يانِشَ2، بْنِ شِيثِ3، بْنِ آدَمَ4، صلى الله عليه وسلم.

قَالَ أَبُو مُحَمَّدٍ عَبْدُ الْمَلِكِ بْنِ هِشَامٍ: حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ عبد الله البَكَّائى5، عن محمد بن إسحاق الْمُطَّلِبِيِّ6، بِهَذَا الَّذِي ذَكَرْتُ مِنْ نَسَبِ مُحَمَّدٍ رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم إلَى آدَمَ عليه السلام، وَمَا فِيهِ مِنْ حَدِيثِ إدْرِيسَ وَغَيْرِهِ. قَالَ ابْنُ هِشَامٍ: وَحَدَّثَنِي خلاد بن قُرَّة بن خالد السَّدومي، عن شَيْبان ابن زُهَيْر بْنِ شَقِيقِ بْنِ ثَوْر، عَنْ قتَادة بْنِ دِعامة، أَنَّهُ قَالَ:

إسْمَاعِيلُ بْنُ إبْرَاهِيمَ -خليل الرحمن- ابن تارِح -وهو آزر- ابن نَاحُورَ بْنِ أَسْرَغَ بْنِ أَرْغُو بْنِ فَالَخٍ بْنِ عَابِرِ بْنِ شَالَخٍ بْنِ أرْفَخْشَذ بْنِ سام بن نوح بن لَمْك بن متُّوشلخ بْنِ أَخْنُوخَ بْنِ يَرْدِ بْنِ مِهْلَائِيلَ بْنِ قَاين ابن أنُوش بْنِ شِيثِ بْنِ آدَمَ صلى الله عليه وسلم.

منهج ابن هشام في عرضه للسيرة: قَالَ ابْنُ هِشَامٍ: وَأَنَا -إنْ شَاءَ اللَّهُ- مبتدئٌ هَذَا الْكِتَابَ بِذِكْرِ إسْمَاعِيلَ بْنِ إبْرَاهِيمَ وَمَنْ وَلد رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ ولدِه، وأولادِهم لِأَصْلَابِهِمْ، الأولَ فالأولَ، مِنْ إسْمَاعِيلَ إلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَا يَعْرِض مِنْ حَدِيثهِمْ، وتاركٌ ذكْرَ غَيْرِهِمْ مِن وَلَدِ إسْمَاعِيلَ عَلَى هَذِهِ الْجِهَةِ، لِلِاخْتِصَارِ، إلَى حَدِيثِ سِيرَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وتاركٌ بعضَ مَا ذَكَرَهُ ابنُ إسْحَاقَ فِي هَذَا الْكِتَابِ، مِمَّا لَيْسَ لرسول الله صلى الله عليه وسلم فِيهِ ذِكْرٌ. وَلَا نَزَلَ فِيهِ مِنْ الْقُرْآنِ شَيْءٌ، وَلَيْسَ سَبَبًا لِشَيْءِ مِنْ هَذَا الْكِتَابِ، وَلَا تَفْسِيرًا لَهُ، وَلَا شَاهِدًا عَلَيْهِ، لِمَا ذَكَرْتُ مِنْ الِاخْتِصَارِ، وَأَشْعَارًا ذَكَرَهَا لَمْ أَرَ أَحَدًا مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ بِالشِّعْرِ يَعْرِفُهَا، وَأَشْيَاءَ بعضُها يَشْنُعُ الْحَدِيثُ بِهِ، وَبَعْضٌ يَسُوءُ بعضَ النَّاسِ ذِكْره، وَبَعْضٌ لَمْ يُقرّ لَنَا البَكَّائى بِرِوَايَتِهِ، ومستقصٍ -إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى- مَا سِوَى ذَلِكَ مِنْهُ بِمَبْلَغِ الرِّوَايَةِ لَهُ، والعلم به.

--------------------------------------------

1 قينن: وقيل: قينان، وتفسيره المستوى.

2 يانش: وقيل: أنوش، وتفسيره الصادق.

3 شيث: وهو بالسريانية: شاث، وتفسيره: عطية الله.

4 آدم: وفيه ثلاثة أقوال: أنه اسم سرياني، أو هو أفعل من الأدمة وهي السمرة، أو أخذ من لفظ الأديم؛ لأنه خلق من أديم الأرض.

5 هو: أبو محمد زياد بن عبد الله البكائي الكوفي وهو محدث مشهور.

6 هو أبو بكر محمد بن إسحاق بن يسار من المحدثين خاصة في المغازى والسير، توفي ببغداد سنة إحدى وخمسين ومائة هجرية. انظر تاريخه مفصلًا هو وابن هشام في مقدمة الكتاب.
কাইনান-এর পুত্র১, ইয়ানিশ-এর পুত্র২, শীষ-এর পুত্র৩, আদম-এর পুত্র৪, তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

আবু মুহাম্মদ আবদুল মালিক ইবনে হিশাম বলেন: আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন জিয়াদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-বাক্কায়ী৫, তিনি মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আল-মুত্তালিবী৬ থেকে, আমি আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের আদম আলাইহিস সালাম পর্যন্ত যে বংশপরম্পরা উল্লেখ করেছি এবং এতে ইদ্রিস ও অন্যদের সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে সে সম্পর্কে। ইবনে হিশাম বলেন: খাল্লাদ ইবনে কুররা ইবনে খালিদ আস-সাদুমি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন শায়বান ইবনে যুহাইর ইবনে শাকিক ইবনে সাওর থেকে, তিনি কাতাদা ইবনে দিআমা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন:

ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম -যিনি দয়াময় আল্লাহর বন্ধু- ইবনে তারিখ -যিনি আযর- ইবনে নাহুর ইবনে আসরাগ ইবনে আরগু ইবনে ফালখ ইবনে আবির ইবনে শালাখ ইবনে আরফাখশায ইবনে সাম ইবনে নুহ ইবনে লামাক ইবনে মাত্তুশালাখ ইবনে আখনুখ ইবনে ইয়ার্দ ইবনে মিহলাইল ইবনে কাইন ইবনে আনূশ ইবনে শীষ ইবনে আদম, তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

সিরাত উপস্থাপনায় ইবনে হিশামের পদ্ধতি: ইবনে হিশাম বলেন: আমি—ইনশাআল্লাহ—এই কিতাবটি শুরু করছি ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিমের আলোচনা এবং তাঁর সন্তানদের মধ্য থেকে যারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদাতা ছিলেন তাদের আলোচনার মাধ্যমে, তাদের আপন সন্তানদের ধারাবাহিকভাবে একের পর এক, ইসমাইল থেকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত এবং তাদের সম্পর্কে যা কিছু সামনে আসবে তা উল্লেখ করার মাধ্যমে। সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে আমি ইসমাইলের অন্যান্য সন্তানদের বর্ণনা এই ধারায় বর্জন করছি যতক্ষণ না আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সিরাতের বর্ণনায় পৌঁছাই। ইবনে ইসহাক এই কিতাবে যা কিছু উল্লেখ করেছেন তার মধ্য থেকে এমন কিছু বিষয় আমি বর্জন করছি যাতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো উল্লেখ নেই, সে সম্পর্কে কুরআনের কোনো কিছু অবতীর্ণ হয়নি, যা এই কিতাবের কোনো বিষয়ের কারণ নয়, যা এর কোনো ব্যাখ্যা নয় এবং এর কোনো প্রমাণও নয়। আমি এটি বর্জন করেছি যে সংক্ষেপ করার কথা উল্লেখ করেছি তার কারণে। এছাড়াও তিনি এমন কিছু কবিতা উল্লেখ করেছেন যা কাব্যবিশারদদের কাউকে আমি চিনতে দেখিনি, এবং এমন কিছু বিষয় যার বর্ণনা করাটা অশোভন, অথবা যা উল্লেখ করা কিছু মানুষের জন্য অপ্রীতিকর হতে পারে, আবার কিছু বিষয় আল-বাক্কায়ী আমাদের কাছে বর্ণনা করার স্বীকৃতি দেননি। তবে এর বাইরে যা কিছু আছে—ইনশাআল্লাহ তাআলা—সেগুলো বর্ণনার ব্যাপ্তি ও জ্ঞান অনুযায়ী আমি সবিস্তারে তুলে ধরব।

--------------------------------------------

১ কাইনান: কেউ বলেছেন: কাইনান, আর এর অর্থ হলো সুষম।

২ ইয়ানিশ: কেউ বলেছেন: আনূশ, আর এর অর্থ হলো সত্যবাদী।

৩ শীষ: এটি সুরিয়ানি ভাষায়: শাথ, আর এর অর্থ হলো আল্লাহর দান।

৪ আদম: এ বিষয়ে তিনটি অভিমত রয়েছে: এটি একটি সুরিয়ানি নাম, অথবা এটি ‘আদমা’ শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ গোধূলি বর্ণ, অথবা এটি ‘আদীম’ শব্দ থেকে নেওয়া হয়েছে; কারণ তাঁকে যমীনের উপরিভাগ (আদীম) থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।

৫ তিনি হলেন: আবু মুহাম্মদ জিয়াদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-বাক্কায়ী আল-কুফি, তিনি একজন সুপ্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস।

৬ তিনি হলেন আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক ইবনে ইয়াসার, বিশেষত যুদ্ধাভিযান ও সিরাত শাস্ত্রের মুহাদ্দিসগণের অন্যতম। তিনি একশত একান্ন হিজরি সনে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন। কিতাবের ভূমিকায় তাঁর এবং ইবনে হিশামের বিস্তারিত ইতিহাস দেখুন।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনি হিশাম - তাহকীক ত্বহা আবদুর রাউফ সাদ (পৃষ্ঠা: ৭)
سِيَاقَةُ النَّسَبِ مِنْ وَلَدِ إسْمَاعِيلَ عليه السلام

أولاد إسماعيل عليه السلام: قَالَ ابْنُ هِشَامٍ: حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ عَبْدِ الله البَكَّائى، عن محمد بن إسحاق المُطَّلِبي قَالَ:

ولدَ إسماعيلُ بنُ إبْرَاهِيمَ عليهما السلام اثْنَيْ عَشَرَ رَجُلًا: نَابِتًا -وَكَانَ أَكْبَرَهُمْ- وقيْذَر وأذْبُل، ومنْشا ومِسْمَعًا، وماشى، ودمَّا، وأذر، وطيما، ويَطُورا، ونَبِش، وقَيْذُما، وأمهم: بنت مُضاض بن عَمر الجُرْهُمي. قَالَ ابْنُ هِشَامٍ: وَيُقَالُ: مِضَاضٌ، وجُرهم بْنُ قَحْطَانَ –وَقَحْطَانُ أَبُو الْيَمَنِ كُلِّهَا، وَإِلَيْهِ يَجْتَمِعُ نَسَبُهَا- ابْنُ عَامِرِ بْنِ شالَخِ بْنِ أرْفَخْشَذ بْنِ سَامِ بْنِ نُوحٍ.

قَالَ ابْنُ إسحاق: جُرْهُم بن يَقْطن بن شالخ، ويَقْطن هو: قحطان ابن عَيْبر بن شالخ.

عمر إسماعيل وموطن أمه ووفاته: قَالَ ابْنُ إسْحَاقَ: وَكَانَ عُمْرُ إسْمَاعِيلَ -فِيمَا يذكرون- مائة سَنَةٍ وَثَلَاثِينَ سَنَةً، ثُمَّ مَاتَ -رَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ عَلَيْهِ- وَدُفِنَ فِي الحِجْر1 مَعَ أُمِّهِ هاجر -رحمهما الله تعالى.

قَالَ ابْنُ هِشَامٍ: تَقُولُ الْعَرَبُ: هَاجَرَ وَآجَرَ، فَيُبْدِلُونَ الْأَلِفَ مِنْ الْهَاءِ، كَمَا قَالُوا: هَرَاقَ الْمَاءَ، وَأَرَاقَ الْمَاءَ، وَغَيْرَهُ. وَهَاجَرُ مِنْ أَهْلِ مصر.

حديث الوصاة بأهل مصر وسببها: قَالَ ابْنُ هِشَامٍ: حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ لَهيعَة، عَنْ عُمر مَوْلَى غَفْرَة2 أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ:

"اللَّهَ اللَّهَ فِي أَهْلِ الذِّمَّةِ. أَهْلِ المدَرَة السَّوْدَاءِ، السُّحْم الجِعاد3، فَإِنَّ لَهُمْ نسبًا وصهرًا".

--------------------------------------------

1 الحجر: هو حجر الكعبة وهو ما تركت قريش في بنائها من أساس إبراهيم عليه السلام حينما ضافت بهم النفقة وحجرت على الموضع ليعرف أنه من الكعبة.

2 غفرة: أخت أو بنت بلال رضي الله عنه.

3 المدرة: البلدة. والسحم: السود. والجعاد: يقال فلان جعد الشعر إذا كان فيه تكسير.
ইসমাইল আলাইহিস সালামের বংশধরদের বর্ণনা

ইসমাইল আলাইহিস সালামের সন্তানগণ: ইবন হিশাম বলেন: যিয়াদ ইবন আবদুল্লাহ আল-বাক্কায়ী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন ইসহাক আল-মুত্তালিবী থেকে, তিনি বলেন:

ইবরাহীম আলাইহিস সালামের পুত্র ইসমাইল আলাইহিস সালামের বারোজন পুত্র জন্মগ্রহণ করেন: নাবিত—যিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ—এবং কায়দার, আদবুল, মানশা, মিসমা, মাশা, দাম্মা, আযার, তায়মা, ইয়াতুর, নাবিশ এবং কায়যুমা। তাঁদের মাতা ছিলেন জুরহুম গোত্রের মুযায ইবন আমরের কন্যা। ইবন হিশাম বলেন: মুযাযকে মিযাযও বলা হয়; আর কাহতানের পুত্র জুরহুম—কাহতান হলেন সমস্ত ইয়ামেনিদের আদি পিতা এবং তাঁর কাছেই ইয়ামেনিদের বংশধারা মিলিত হয়েছে—যিনি আমের ইবন শালেখ ইবন আরফাকশায ইবন সাম ইবন নূহ-এর বংশধর।

ইবন ইসহাক বলেন: জুরহুম হলেন ইয়াকতান ইবন শালেখের পুত্র, আর ইয়াকতান হলেন সেই কাহতান যিনি আইবার ইবন শালেখের পুত্র।

ইসমাইলের বয়স, তাঁর মাতার আবাসস্থল এবং তাঁর মৃত্যু: ইবন ইসহাক বলেন: মানুষের বর্ণনা অনুযায়ী ইসমাইলের বয়স ছিল একশত ত্রিশ বছর। এরপর তিনি ইন্তেকাল করেন—তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক—এবং তাঁকে তাঁর মাতা হাজেরার সাথে হিজরে১ সমাহিত করা হয়—আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন।

ইবন হিশাম বলেন: আরবরা 'হাজের' ও 'আজের' উভয়ই বলে থাকে, তারা 'হা' বর্ণের পরিবর্তে 'আলিফ' ব্যবহার করে; যেমন তারা 'হারাক আল-মা' ও 'আরাক আল-মা' (পানি ঢালা) এবং অন্যান্য শব্দের ক্ষেত্রেও এমনটি করে থাকে। আর হাজেরা ছিলেন মিশরের অধিবাসী।

মিশরের অধিবাসীদের ব্যাপারে অসিয়ত সম্পর্কিত হাদীস ও এর কারণ: ইবন হিশাম বলেন: আবদুল্লাহ ইবন ওয়াহব আমাদের কাছে আবদুল্লাহ ইবন লাহিয়াহ থেকে এবং তিনি গাফরার২ মুক্ত দাস উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

"জিম্মিদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহকে ভয় করো। (বিশেষ করে) কালো মাটির দেশের মানুষের ব্যাপারে, যারা কৃষ্ণবর্ণ ও কোঁকড়ানো চুলের অধিকারী৩; কেননা তাদের সাথে (আমাদের) আত্মীয়তা ও বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে।"

--------------------------------------------

১ হিজর: এটি হলো কাবার হিজর; কুরাইশরা যখন কাবা নির্মাণ করছিল এবং তাদের অর্থের সংকুলান হয়নি, তখন ইবরাহীম আলাইহিস সালামের মূল ভিত্তির যে অংশটুকু তারা নির্মাণের বাইরে রেখে দিয়েছিল এবং জায়গাটিকে চিহ্নিত করে দিয়েছিল যাতে জানা যায় যে এটি কাবারই অংশ।

২ গাফরা: বিলাল রাযিয়াল্লাহু আনহুর বোন অথবা কন্যা।

৩ মাদারা: শহর বা জনপদ। সুহম: কালো বা কৃষ্ণবর্ণ। জি'আদ: কারো চুল কোঁকড়ানো বা ভাঁজযুক্ত হলে তাকে ‘জা’দ’ চুল বিশিষ্ট বলা হয়।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনি হিশাম - তাহকীক ত্বহা আবদুর রাউফ সাদ (পৃষ্ঠা: ৮)
قَالَ عُمَرُ مَوْلَى غُفْرَة: نسبُهم: أَنَّ أمَّ إسْمَاعِيلَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم-مِنْهُمْ. وصهرُهم أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تسرَّر فِيهِمْ1.

قَالَ ابْنُ لَهِيعَة: أُمُّ إسْمَاعِيلَ: هَاجَرُ، مِنْ: "أُمِّ العَرَب" قَرْيَةٍ كَانَتْ أَمَامَ الفَرَما2 مِنْ مِصْرَ.

وَأُمُّ إبْرَاهِيمَ3: مَارِيَةُ4 سُرِّيَّة النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الَّتِي أَهْدَاهَا لَهُ الْمُقَوْقِسُ مِنْ حَفْنٍ5، مِنْ كُورَةِ أنصِنا6.

قَالَ ابْنُ إسْحَاقَ: حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مسلم بن عُبَيْد الله بن شهاب الزهري: أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ الْأَنْصَارِيَّ، ثُمَّ السُّلَمي، حَدَّثَهُ: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إذا فتحتم مِصْرَ، فاستوصُوا بِأَهْلِهَا خَيْرًا فَإِنَّ لَهُمْ ذِمة ورحِمًا". فَقُلْتُ لِمُحَمَّدِ بْنِ مُسْلِمٍ الزُّهْرِيِّ: مَا الرَّحِمُ الَّتِي ذَكر رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَهُمْ؟ فَقَالَ: كَانَتْ هاجَر أُمُّ إسْمَاعِيلَ مِنْهُمْ.

أَصْلُ الْعَرَبِ: قَالَ ابْنُ هِشَامٍ: فَالْعَرَبُ كُلُّهَا مِنْ وَلَدِ إسْمَاعِيلَ وَقَحْطَانَ، وَبَعْضُ أَهْلِ الْيَمَنِ يَقُولُ: قَحْطَانُ مِنْ وَلَدِ إسْمَاعِيلَ، وَيَقُولُ: إسماعيل أبو العرب كلها.

--------------------------------------------

1 تسرر الرجل: اتخذ أمة لفراشه.

2 الفرما: مدينة شرق مصر كانت ميناء كبيرًا، وتعرف الآن بتل الفرما.

3 هو إبراهيم ابن رسول الله صلى الله عليه وسلم.

4 مارية ومعناها: البقرة الفتية إذا كان اللفظ مخففًا، والملساء إذا كان اللفظ مشددًا وهي التي أهداها إلى النبي صلى الله عليه وسلم المقوقس- واسمه جُرَيج بن ميناء. وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قد أرسل إليه حاطب بن أبي بلتعة وجبرًا مولى أبي رُهْم الغفاري، فقارب الإسلام وأهدى معهما أيضًا بغلته التي يقال لها: دلدل -القنفذ العظيم- وأهدى إليه قدحًا من قوارير كان يشرب فيها. انظر: "الروض الأنف بتحقيقنا ج1 ص17".

5 حفن: قرية بصعيد مصر وهي التي رفع عنها معاوية الخراج بوساطة الحسن بن علي رضي الله عنه حفظًا لوصية رسول الله ورعاية لحرمة صهره صلى الله عليه وسلم.

6 أنصنا: قرية بصعيد مصر، يقال: إنها كانت مدينة السحرة وشهرتها قائمة على وجود شجر اللبخ بها.
উমর মাওলা গুফরাহ বলেন: তাদের বংশীয় সম্পর্ক এই যে, নবী ইসমাইল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাতা তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। আর তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক হলো, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের মধ্য থেকে উপপত্নী গ্রহণ করেছিলেন।১

ইবনে লাহিয়া বলেন: ইসমাইলের মাতা হাজেরা ছিলেন মিসরের ফারামা২ এর সামনে অবস্থিত 'উম্মুল আরব' নামক গ্রামের বাসিন্দা।

আর ইব্রাহীমের৩ মাতা ছিলেন মারিয়া৪, যিনি ছিলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দাসী। মুকাওকিস তাঁকে আনসিনা৬ অঞ্চলের হাফন৫ নামক স্থান থেকে নবীজির নিকট উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন।

ইবনে ইসহাক বলেন: মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে উবায়দুল্লাহ ইবনে শিহাব আজ-জুহরি আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, আবদুর রহমান ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে কাব ইবনে মালিক আল-আনসারি আস-সুলামি তাঁকে বর্ণনা করেছেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন তোমরা মিসর বিজয় করবে, তখন তার অধিবাসীদের সাথে সদাচরণ করবে। কেননা তাদের ওপর একটি দায়িত্ব এবং তাদের সাথে আত্মীয়তার বন্ধন রয়েছে।" আমি মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম আজ-জুহরিকে জিজ্ঞাসা করলাম: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য যে আত্মীয়তার কথা উল্লেখ করেছেন তা কী? তিনি বললেন: ইসমাইলের মাতা হাজেরা তাদেরই অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

আরবদের মূল উৎস: ইবনে হিশাম বলেন: সকল আরবই ইসমাইল এবং কাহতানের বংশধর। ইয়ামেনের কিছু অধিবাসী বলেন: কাহতান ইসমাইলের বংশধর। তাঁরা আরও বলেন: ইসমাইলই সমগ্র আরবের পিতা।

--------------------------------------------

১ কোনো ব্যক্তি কর্তৃক দাসীকে শয্যাসঙ্গিনী হিসেবে গ্রহণ করা।

২ ফারামা: মিসরের পূর্ব দিকের একটি শহর যা একটি বিশাল বন্দর ছিল। বর্তমানে এটি তাল-ফারামা নামে পরিচিত।

৩ তিনি হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পুত্র ইব্রাহীম।

৪ মারিয়া—শব্দটি হালকা স্বরে উচ্চারিত হলে এর অর্থ ‘কচি গাভী’, আর তাশদীদসহ উচ্চারিত হলে এর অর্থ ‘মসৃণ’। মুকাওকিস তাঁকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উপহার হিসেবে পাঠিয়েছিলেন—তাঁর নাম ছিল জুরাইজ ইবনে মিনা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর নিকট হাতিব ইবনে আবি বালতাআ এবং আবু রুহম আল-গিফারির মুক্তদাস জাবরকে পাঠিয়েছিলেন। তিনি ইসলামের নিকটবর্তী হয়েছিলেন এবং তাঁদের সাথে তাঁর 'দুলদুল' নামক খচ্চরটিও উপহার পাঠিয়েছিলেন—যার অর্থ বিশাল শজারু—এবং একটি কাঁচের পাত্র উপহার দিয়েছিলেন যাতে নবীজি পান করতেন। দেখুন: 'আর-রওদুল উনুফ', আমাদের তাহকীককৃত, ১ম খণ্ড, ১৭ পৃষ্ঠা।

৫ হাফন: মিসরের ঊর্ধ্বাঞ্চলের একটি গ্রাম। হাসান ইবনে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর সুপারিশে মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু এই গ্রামের কর মওকুফ করে দিয়েছিলেন; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওসিয়ত রক্ষা এবং তাঁর বৈবাহিক সম্পর্কের মর্যাদার খাতিরে।

৬ আনসিনা: মিসরের ঊর্ধ্বাঞ্চলের একটি গ্রাম। বলা হয় যে এটি জাদুকরদের শহর ছিল এবং সেখানে 'লাবখ' বৃক্ষের প্রাচুর্যের জন্য এটি প্রসিদ্ধ।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনি হিশাম - তাহকীক ত্বহা আবদুর রাউফ সাদ (পৃষ্ঠা: ৯)
قَالَ ابْنُ إسْحَاقَ: عَادُ بْنُ عَوْص بْنِ إرَم بْنِ سَامِ بْنِ نُوحٍ، وَثَمُودُ وجَديس ابْنَا عَابِرِ بْنِ إرَمِ بْنِ سَامِ بْنِ نُوحٍ، وطَسْم وعِمْلاق وأمَيم بَنُو لاوِذ بْنِ سَامِ بنِ نُوحٍ. عربٌ كلُّهم. فَوَلَدَ نابتُ بنُ إسماعيلَ: يشْجُبَ بْنَ نَابِتٍ، فولَدَ يشجبُ: يعرُبَ بْنَ يَشْجُبَ: فولدَ يَعْرُبُ: تَيْرح بْنَ يَعْرُبَ، فَوَلَدَ تيرحُ: ناحورَ بْنَ تَيْرَحَ، فولَدَ نَاحُورُ: مُقَوّم بْنَ نَاحُورٍ، فَوَلَدَ مُقَوِّمُ: أدَدَ بنَ مُقَوِّمٍ، فَوَلَدَ أددُ: عدنانَ بْنَ اُدَد.

قَالَ ابنُ هشامٍ: ويقالُ: عدنانُ بْنُ أُدٍّ.

قَالَ ابْنُ إسْحَاقَ: فَمِنْ عَدْنَانَ تَفَرَّقَتْ الْقَبَائِلُ مِنْ وَلَدِ إسْمَاعِيلَ بْنِ إبْرَاهِيمَ عليهما السلام فَوَلَدَ عَدْنَانُ رَجُلَيْنِ: مَعَدَّ بْنَ عَدْنَانَ، وعَكّ بن عدنان.

قَالَ ابْنُ هِشَامٍ: فَصَارَتْ عَكٌّ فِي دَارِ الْيَمَنِ، وَذَلِكَ أَنَّ عَكَّا تَزَوَّجَ فِي الْأَشْعَرِيِّينَ، فَأَقَامَ فِيهِمْ؛ فَصَارَتْ الدَّارُ وَاللُّغَةُ وَاحِدَةً. وَالْأَشْعَرِيُّونَ: بَنُو أَشْعَرَ بْنِ نَبْت بْنِ أدَد بْنِ زَيْدِ بْنِ هَمَيْسع بْنِ عَمْرِو بْنِ عَرِيبِ بْنِ يَشْجُب بْنِ زَيْد بْنِ كَهْلان بْنِ سَبَأِ بْنِ يَشْجُب بْنِ يَعْرب بْنِ قَحْطَانَ وَيُقَالُ: أشعرُ: نَبْت بْنُ أدَد. وَيُقَالُ: أَشْعَرُ: ابنُ مَالِكٍ، وَمَالِكٌ: مَذْحج بْنُ أدَد بْنِ زَيْدِ بْنِ هَمَيْسع. وَيُقَالُ: أَشْعَرُ: ابْنُ سَبَأِ بْنِ يشجُب.

وَأَنْشَدَنِي أَبُو مُحْرِز خَلف الْأَحْمَرُ، وَأَبُو عُبَيْدة، لِعَبَّاسِ بْنِ مِرْداس، أَحَدِ بَنِي سُلَيْم بن منصور بن عِكْرِمة بن خَصَفة بْنِ قَيْسِ بْنِ عَيْلان بْنِ مُضَر بْنِ نِزَارِ بْنِ مَعَدِّ بْنِ عَدْنَانَ، يَفْخَرُ بِعَكِّ:

وَعَكُّ بْنُ عَدْنَانَ الَّذِينَ تلقَّبوا … بِغَسَّانِ حَتَّى طُرِّدوا كلَّ مَطْرِد

ِ وَهَذَا الْبَيْتُ فِي قَصِيدَةٍ لَهُ: وَغَسَّانُ: مَاءٌ بِسَدِّ مَأْرِبَ بِالْيَمَنِ، كَانَ شِرْبًا لِوَلَدِ مَازِنِ بْنِ الأسْد1 بْنِ الغَوْث، فسُموا بِهِ. وَيُقَالُ: غَسَّانُ2: مَاءٌ بالمُشَلَّل قَرِيبٌ مِنْ الجُحْفَة، وَاَلَّذِينَ شربوا منه تحزبوا فسُموا بِهِ قَبَائِلُ مِنْ وَلَدِ مَازِنِ بْنِ الْأَسْدِ، بْنِ الغَوْث، بْنِ نَبْت، بْنِ مَالِكِ، بْنِ زَيْد، بْنِ كَهْلان، بْنِ سَبَأِ، بْنِ يَشْجُب، بن يَعْرُب، بن قَحْطان.

--------------------------------------------

1 ويقال فيه الأزد أيضًا.

2 واشتقاق غسان -اسم ذلك الماء- من الغس والضعيف وبعد هذا البيت:

يا أخت آل فراس إنني رجل

من معشر لهم في المجد بنيان
ইবনে ইসহাক বলেন: ‘আদ ইবনে ‘আওস ইবনে ইরাম ইবনে সাম ইবনে নুহ; এবং সামুদ ও জাদিস—ইরাম ইবনে সাম ইবনে নুহের পুত্র ‘আবিরের দুই সন্তান; আর তাসম, ‘ইমলাক ও উমাইম হলো সাম ইবনে নুহের পুত্র লাবিযের সন্তান। তারা সকলেই আরব। অতঃপর ইসমাইল-পুত্র নাবিত জন্ম দেন: ইয়াশজুব ইবনে নাবিতকে; ইয়াশজুবের সন্তান: ইয়ারুব ইবনে ইয়াশজুব; ইয়ারুবের সন্তান: তাইরাহ ইবনে ইয়ারুব; তাইরাহের সন্তান: নাহুর ইবনে তাইরাহ; নাহুরের সন্তান: মুকাউওয়িম ইবনে নাহুর; মুকাউওয়িমের সন্তান: আদাদ ইবনে মুকাউওয়িম; আদাদের সন্তান: আদনান ইবনে আদাদ।

ইবনে হিশাম বলেন: কেউ কেউ বলেন, আদনান ইবনে উদ্দ।

ইবনে ইসহাক বলেন: আদনান থেকেই ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের পুত্র ইসমাইলের বংশধরদের বিভিন্ন গোত্র বিভক্ত হয়েছে। আদনানের দুই পুত্র ছিল: মা’আদ্দ ইবনে আদনান এবং আক্ক ইবনে আদনান।

ইবনে হিশাম বলেন: আক্ক ইয়ামেন ভূখণ্ডে বসবাস শুরু করেন, কারণ তিনি আশআরী গোত্রে বিবাহ করেন এবং তাদের মাঝেই অবস্থান করেন; ফলে তাদের আবাসস্থল ও ভাষা এক হয়ে যায়। আর আশআরীগণ হলেন: আশআর ইবনে নাবিত ইবনে আদাদ ইবনে যায়িদ ইবনে হামাইসা’ ইবনে আমর ইবনে আরীব ইবনে ইয়াশজুব ইবনে যায়িদ ইবনে কাহলান ইবনে সাবা ইবনে ইয়াশজুব ইবনে ইয়ারুব ইবনে কাহতান-এর বংশধর। কেউ বলেন: আশআর হলো নাবিত ইবনে আদাদ। আবার কেউ বলেন: আশআর হলো মালিকের পুত্র, আর মালিক হলো মাযহিজ ইবনে আদাদ ইবনে যায়িদ ইবনে হামাইসা’-এর পুত্র। আবার বলা হয়: আশআর হলো সাবা ইবনে ইয়াশজুবের পুত্র।

আবু মুহরিয খালাফ আল-আহমার এবং আবু উবাইদাহ আমার নিকট সুলিইম ইবনে মনসুর ইবনে ইকরিমাহ ইবনে খাসাফাহ ইবনে কায়স ইবনে আইলান ইবনে মুদার ইবনে নিযার ইবনে মা’আদ্দ ইবনে আদনান গোত্রের আব্বাস ইবনে মিরদাসের একটি কবিতা আবৃত্তি করেছেন, যাতে তিনি আক্ক-কে নিয়ে গর্ব করেছেন:

আর আদনানের পুত্র আক্ক, যারা ‘গাসসান’ উপাধি গ্রহণ করেছিল … যতক্ষণ না তাদের চূড়ান্তভাবে বিতাড়িত করা হয়

এই পঙক্তিটি তার একটি কবিতার অংশ। ‘গাসসান’ হলো ইয়ামেনের মারিব বাঁধের নিকটবর্তী একটি পানির ঝরনা, যা আসাদ ইবনে গাওস-এর পুত্র মাযিনের বংশধরদের পানীয় ছিল; তাই তাদের এই নামে নামকরণ করা হয়েছে। আবার কেউ বলেন: গাসসান হলো আল-জুহফার নিকটবর্তী আল-মুশাল্লাল নামক স্থানের একটি পানির উৎস। যারা সেখান থেকে পানি পান করেছিল তারা দলবদ্ধ হয়ে যায় এবং আসাদ ইবনে গাওস ইবনে নাবিত ইবনে মালিক ইবনে যায়িদ ইবনে কাহলান ইবনে সাবা ইবনে ইয়াশজুব ইবনে ইয়ারুব ইবনে কাহতান-এর বংশধরদের সেই গোত্রগুলোকে গাসসান নামে অভিহিত করা হয়।

--------------------------------------------

১. কেউ কেউ একে ‘আল-আযদ’ও বলে থাকেন।

২. গাসসান—সেই পানির ঝরনার নাম—এর ব্যুৎপত্তি হয়েছে ‘আল-গাস’ বা দুর্বলতা থেকে। আর এই পঙক্তির পরের পঙক্তিটি হলো:

হে ফিরাস বংশের বোন, আমি এমন এক ব্যক্তি

যে এমন এক সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত যাদের রয়েছে সুউচ্চ মর্যাদার প্রাসাদ।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনি হিশাম - তাহকীক ত্বহা আবদুর রাউফ সাদ (পৃষ্ঠা: ১০)
قَالَ حسانُ بْنُ ثَابِتٍ الْأَنْصَارِيُّ، وَالْأَنْصَارُ بَنُو الْأَوْسِ وَالْخَزْرَجِ، ابنَىْ حَارِثَةَ، بْنِ ثَعْلبة، بْنِ عَمْرِو، بْنِ عَامِرِ، بْنِ حَارِثَةَ، بْنِ امْرِئِ الْقَيْسِ، بْنِ ثَعْلَبَةَ، بْنِ مَازِنِ، بْنِ الأسْد، بْنِ الْغَوْثِ:

إمَّا سألْتِ فَإِنَّا مَعْشرٌ نُجُبٌ … الأسْدُ نسبتُنا والماُء غسانُ

وَهَذَا الْبَيْتُ فِي أَبْيَاتٍ لَهُ.

فَقَالَتْ الْيَمَنُ، وَبَعْضُ عَكٍّ، وَهُمْ الَّذِينَ بِخُرَاسَانَ مِنْهُمْ: عَكُّ بْنُ عَدْنَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْأَسْدِ بْنِ الْغَوْثِ. وَيُقَالُ: عُدْنان بن الديث بن عبد الله بن الأسْد بن الغوْث.

قَالَ ابنُ إسْحَاقَ: فوَلَدَ معدُّ بْنُ عَدْنَانَ أربعةَ نَفَرٍ: نِزَارَ بْنَ مَعَدٍّ، وَقُضَاعَةَ، بْنَ مَعَدٍّ، وَكَانَ قُضَاعَةُ بِكْر مَعَدٍّ الَّذِي بِهِ يُكْنَى -فِيمَا يَزْعُمُونَ- وقُنُص بْنَ مَعَدٍّ، وَإِيَادَ بْنَ مَعَدٍّ.

فَأَمَّا قُضاعة فَتَيَامَنَتْ إلَى حِمْير بْنِ سَبَأٍ -وَكَانَ اسْمُ سَبَأٍ: عَبْدَ شَمْسٍ، وَإِنَّمَا سُمِّيَ سَبَأً؛ لِأَنَّهُ أَوَّلُ مَنْ سَبَى فِي الْعَرَبِ– ابْنِ يَشْجُبَ بْنِ يَعْرُب بْنِ قحطان.

قَالَ ابْنُ هِشَامٍ: فَقَالَتْ الْيَمَنُ وَقُضَاعَةُ: قُضَاعَةُ بْنُ مَالِكِ بْنِ حِمْير. وَقَالَ عَمْرُو بْنُ مُرَّةَ الْجُهَنِيُّ1، وجُهَينة بْنُ زَيْدِ، بْنِ لَيْث، بن سَوْد، بن أسلم، بن الحاف، بن قُضاعة:

نَحْنُ بَنُو الشَّيْخِ الهِجان الأزْهَر … قُضَاعَةَ بْنَ مَالِكِ بْنِ حِمْيَرِ

النَّسَبِ الْمَعْرُوفِ غَيْرِ المنْكَر … في الحَجَرالمنقوش تحتَ المِنْبرِ2

قُنُصُ بْنُ مَعَدٍّ وَنَسَبُ النُّعْمَانِ بْنِ الْمُنْذِرِ: قَالَ ابنُ إسْحَاقَ: وَأَمَّا قُنُص بْنُ مَعَدٍّ فَهَلَكَتْ بَقِيَّتُهُمْ -فِيمَا يزعمُ نُسَّاب مَعَدٍّ- وَكَانَ مِنْهُمْ النُّعْمَانُ بْنُ الْمُنْذِرِ مَلِكُ الحيرة. قال ابن إسحاق:

--------------------------------------------

1 مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.

له حديثان أحدهما في أعلام النبوة، والآخر: "من ولي أمر الناس، فسد بابه دون ذوي الحاجة والخلة والمسكنة، سد الله بابه دون حاجته وخلته ومسكنته يوم القيامة". انظر: "الروض الأنف بتحقيقنا ج1 ص23".

2 الهجان الكريم. الأزهر: المشهور، ويقال: إن هذا الشعر لأفلح بن اليعبوب كما ذكر ذلك ذو الحسبين عن الزبير. ويقال أول هذا الرجز قوله:

يا أيها الداعي أدعنا وأبشر … وكن قضاعيًّا ولا تنزر
হাসসান ইবনে সাবিত আল-আনসারী (রা.) বলেছেন—আর আনসাররা হলো আউস ও খাযরাজ গোত্রীয়, যারা হারিসা ইবনে সা'লাবা ইবনে আমর ইবনে আমির ইবনে হারিসা ইবনে ইমরুল কায়স ইবনে সা'লাবা ইবনে মাযিন ইবনে আল-আসাদ ইবনে আল-গাওস-এর সন্তান:

যদি তুমি জিজ্ঞাসা করো, তবে আমরা হলাম এক উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন দল … আল-আসাদ আমাদের বংশপরিচয় আর গাসসান হলো আমাদের পানির উৎস (বসবাসস্থল)

এই পঙক্তিটি তার রচিত অনেকগুলো কবিতারই অংশ।

ইয়ামানবাসীরা এবং আক্ক গোত্রের কিছু লোক—যারা খুরাসানে বসবাস করে—তারা বলেছে: আক্ক ইবনে আদনান ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-আসাদ ইবনে আল-গাওস। আবার কেউ কেউ বলেন: আদনান ইবনে আদ-দাইস ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-আসাদ ইবনে আল-গাওস।

ইবনে ইসহাক বলেন: মা'আদ ইবনে আদনানের চারজন পুত্র জন্মগ্রহণ করেন: নিযার ইবনে মা'আদ, কুদাআহ ইবনে মা'আদ—আর কুদাআহ ছিলেন মা'আদের জ্যেষ্ঠ পুত্র, যার নামানুসারেই তিনি (মা'আদ) কুনিয়া (উপনাম) গ্রহণ করতেন বলে তারা দাবি করে—এবং কুনুস ইবনে মা'আদ ও ইয়াদ ইবনে মা'আদ।

আর কুদাআহ গোত্র হিমইয়ার ইবনে সাবার সাথে নিজেদের সম্বন্ধযুক্ত করে ইয়ামানিদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সাবার প্রকৃত নাম ছিল আব্দু শামস, তাকে 'সাবা' বলা হতো কারণ তিনিই আরবে প্রথম বন্দি করার প্রথা চালু করেছিলেন। তিনি ইয়াশজুব ইবনে ইয়ারুব ইবনে কাহতান-এর পুত্র ছিলেন।

ইবনে হিশাম বলেন: ইয়ামানি এবং কুদাআহ গোত্রের লোকেরা বলে থাকে: কুদাআহ ইবনে মালিক ইবনে হিমইয়ার। আর আমর ইবনে মুররা আল-জুহানি—যিনি জুহায়না ইবনে যায়েদ ইবনে লাইস ইবনে সাওদ ইবনে আসলাম ইবনে আল-হাফ ইবনে কুদাআহ বংশের—তিনি বলেছেন:

আমরা সেই পবিত্র ও উজ্জ্বল মহান বৃদ্ধের বংশধর … কুদাআহ ইবনে মালিক ইবনে হিমইয়ারের উত্তরসূরি

এই বংশপরিচয় সুবিদিত, যা অস্বীকার করার উপায় নেই … মিম্বারের নিচে খোদাইকৃত পাথরে তা লিপিবদ্ধ আছে

কুনুস ইবনে মা'আদ এবং নু'মান ইবনে মুনযিরের বংশপরিচয়: ইবনে ইসহাক বলেন: কুনুস ইবনে মা'আদের কথা বলতে গেলে—মা'আদ বংশের বংশবিদদের দাবি অনুযায়ী—তাদের অবশিষ্ট বংশধরেরা বিলুপ্ত হয়ে গেছে। হিরা’র রাজা নু'মান ইবনে মুনযির তাদেরই অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ইবনে ইসহাক বলেন:

--------------------------------------------

১. তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের একজন।

তার বর্ণিত দুটি হাদিস রয়েছে, যার একটি নবুওয়াতের নিদর্শনাবলী সম্পর্কে এবং অন্যটি হলো: "যে ব্যক্তি মানুষের কোনো বিষয়ের দায়িত্ব লাভ করে, অতঃপর অভাবী, দরিদ্র ও নিঃস্বদের জন্য নিজের দরজা বন্ধ করে রাখে, আল্লাহ কিয়ামতের দিন তার অভাব ও দারিদ্র্যের সময় নিজের রহমতের দরজা বন্ধ করে দেবেন।" দেখুন: "আল-রাওদুল উনুফ, আমাদের তাহকীকসহ, খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৩"।

২. 'আল-হিজান' অর্থ সম্মানিত বা মহৎ। 'আল-আযহার' অর্থ সুপ্রসিদ্ধ। বলা হয় যে, এই কবিতাটি আফলাহ ইবনে আল-ইয়াবুবের, যেমনটি যুহিল হাসাবাইন আয-যুবাইর থেকে বর্ণনা করেছেন। আরও বলা হয় যে, এই রাজায ছন্দের কবিতার প্রারম্ভিক অংশ হলো:

হে আহ্বানকারী, আমাদের আহ্বান করো এবং সুসংবাদ গ্রহণ করো … আর কুদাআ’র সাথে সম্পৃক্ত হও, নিযার গোত্রের সাথে নয়।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনি হিশাম - তাহকীক ত্বহা আবদুর রাউফ সাদ (পৃষ্ঠা: ১১)
قال ابن إسحاق: حدثني محمد بن مسلم بْنِ عُبَيد اللَّهِ بْنِ شِهَابِ الزُّهْري: أَنَّ النُّعْمَانَ بْنَ الْمُنْذِرِ كَانَ مِنْ وَلَدِ قُنُص بْنِ مَعَدٍّ. قَالَ ابْنُ هِشَامٍ: ويُقال: قَنَص.

قَالَ ابْنُ إسْحَاقَ: وَحَدَّثَنِي يَعْقُوبُ بْنُ عُتْبة بْنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ الأخْنَس، عَنْ شَيْخٍ مِنْ الْأَنْصَارِ مِنْ بَنِي زُرَيْق أَنَّهُ حَدَّثَهُ: أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ رضي الله عنه حِينَ أُتِيَ بِسَيْفِ النُّعْمَانِ بْنِ الْمُنْذِرِ1، دَعَا جُبَيْر بن مُطْعِم بن عَدِي بن نَوْفَل بن عَبْدِ مَنَافِ بْنِ قُصَى -وَكَانَ جُبَيْر مِنْ أَنْسَبِ قُرَيْشٍ لِقُرَيْشِ، وَلِلْعَرَبِ قَاطِبَةً، وَكَانَ يَقُولُ: إنَّمَا أَخَذْتُ النسبَ مِنْ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ رضي الله عنه وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ الصِّدِّيقُ أَنْسَبَ الْعَرَبِ- فَسَلَّحَهُ إيَّاهُ، ثُمَّ قَالَ: مِمَّنْ كَانَ، يَا جُبَيْر النُّعْمَانُ بْنُ الْمُنْذِرِ؟ فَقَالَ: كَانَ مِنْ أَشْلَاءِ قُنُص بْنِ مَعَدٍّ.

قَالَ ابْنُ إسْحَاقَ: فَأَمَّا سَائِرُ الْعَرَبِ فَيَزْعُمُونَ أَنَّهُ كَانَ رَجُلًا مِنْ لَخْم، مِنْ وَلَدِ رَبِيعَةَ بْنِ نَصْرٍ، فَاَللَّهُ أَعْلَمُ أَيُّ ذَلِكَ كَانَ.

لَخْمِ بْنِ عَدِيٍّ: قَالَ ابنُ هِشَامٍ: لَخْم: ابْنُ عَدِيِّ بْنِ الْحَارِثِ بْنِ مُرَّةَ بْنِ أُدَدَ بْنِ زَيْدِ بْنِ هَمَيْسَع بْنِ عَمْرِو بْنِ عَرِيب بْنِ يَشْجُب بْنِ زَيْدِ بْنِ كَهْلَانَ بْنِ سَبَأٍ. وَيُقَالُ: لَخْم: ابْنُ عَدِيِّ بْنِ عَمْرِو بْنِ سَبَأٍ. وَيُقَالُ: رَبِيعَةُ بْنُ نَصْرِ2 بْنِ أَبِي حَارِثَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَامِرٍ، وَكَانَ تَخَلَّفَ بِالْيَمَنِ بَعْدَ خُرُوجِ عَمْرِو بن عامر من اليمن.

--------------------------------------------

1 وإنما أتى بهذا السيف حين افتتحت المدائن، وكانت بها خرائب كسرى وذخائره فأخذت نفائسه ومن جملتها خمسة أسياف. أحدها: سيف كسرى أبرويز، والثاني سيف كسرى أنوشروان وثالثها: سيف النعمان بن المنذر كان استلبه منه حين غضب عليه وقتله، ورابعها: سيف خاقان ملك الترك، وخامسها: سيف هرقل وكان تصير إلى كسرى أيام غلبته على الروم.

2 ويقال فيه: نصر بن ربيعة: وهو في قول نساب اليمن ربيعة بن نصر بن الحارث بن نمارة بن لخم، وقال الزبير: نصر بن مالك بن شعوذ بن مالك بن عجم بن عمرو بن نمارة بن لخم.
ইবনে ইসহাক বলেন: মুহাম্মদ বিন মুসলিম বিন উবাইদুল্লাহ বিন শিহাব আল-যুহরি আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, নুমান বিন মুনযির ছিলেন কুনুস বিন মা'আদের সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত। ইবনে হিশাম বলেন: কেউ কেউ একে 'কানাস' বলেন।

ইবনে ইসহাক বলেন: ইয়াকুব বিন উতবাহ বিন আল-মুগীরা বিন আল-আখনাস বনী যুরাইকের জনৈক আনসারী বৃদ্ধের সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, যখন উমর বিন আল-খাত্তাব (রা.)-এর নিকট নুমান বিন মুনযিরের তলোয়ার আনা হয়েছিল, তখন তিনি জুবাইর বিন মুতয়িম বিন আদি বিন নওফাল বিন আবদে মানাফ বিন কুসাইকে ডাকলেন। জুবাইর কুরাইশ এবং সমগ্র আরবের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ বংশবিদ ছিলেন। তিনি বলতেন: "আমি মূলত আবু বকর সিদ্দিকের (রা.) নিকট থেকে বংশবিদ্যার জ্ঞান অর্জন করেছি, আর আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ছিলেন আরবদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বংশবিদ।" উমর (রা.) তাকে তলোয়ারটি প্রদান করলেন এবং বললেন: "হে জুবাইর, নুমান বিন মুনযির কার বংশোদ্ভূত ছিল?" তিনি বললেন: "সে কুনুস বিন মা'আদের বংশধরদের অবশিষ্টাংশ থেকে ছিল।"

ইবনে ইসহাক বলেন: অন্যান্য আরবরা দাবি করেন যে, তিনি লাখম গোত্রের জনৈক ব্যক্তি ছিলেন, যিনি রবিয়া বিন নাসরের বংশধর। আল্লাহই ভালো জানেন বিষয়টি আসলে কী ছিল।

লাখম বিন আদি: ইবনে হিশাম বলেন: লাখম হলো আদি বিন আল-হারিস বিন মুররা বিন উদাদ বিন যায়েদ বিন হামাইসা বিন আমর বিন আরীব বিন ইয়াশজুব বিন যায়েদ বিন কাহলান বিন সাবা-এর পুত্র। আবার বলা হয়: লাখম হলো আদি বিন আমর বিন সাবা-এর পুত্র। আবার বলা হয়: রবিয়া বিন নাসর বিন আবি হারিসা বিন আমর বিন আমির; আর আমর বিন আমির ইয়ামান থেকে চলে যাওয়ার পর রবিয়া ইয়ামানেই থেকে গিয়েছিলেন।

--------------------------------------------

১. এই তলোয়ারটি তখনই আনা হয়েছিল যখন মাদায়েন বিজিত হয়। সেখানে কিসরার রাজপ্রাসাদ ও ধনভাণ্ডার ছিল। সেখান থেকে মহামূল্যবান দ্রব্যাদি হস্তগত করা হয় যার মধ্যে পাঁচটি তলোয়ার ছিল। প্রথমটি: কিসরা পারভেজের তলোয়ার; দ্বিতীয়টি: কিসরা আনুশিরওয়ানের তলোয়ার; তৃতীয়টি: নুমান বিন মুনযিরের তলোয়ার, যা কিসরা তার ওপর রাগান্বিত হয়ে তাকে হত্যা করার সময় ছিনিয়ে নিয়েছিল; চতুর্থটি: তুর্কি সম্রাট খাকানের তলোয়ার; এবং পঞ্চমটি: হিরাক্লিয়াসের তলোয়ার, যা রোমানদের ওপর বিজয়ী হওয়ার সময় কিসরার হস্তগত হয়েছিল।

২. তাকে নাসর বিন রবিয়াও বলা হয়। ইয়ামানী বংশবিদদের মতে তিনি হলেন রবিয়া বিন নাসর বিন আল-হারিস বিন নুমারা বিন লাখম। জুবাইর বলেন: নাসর বিন মালিক বিন শুউয বিন মালিক বিন আজম বিন আমর বিন নুমারা বিন লাখম।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনি হিশাম - তাহকীক ত্বহা আবদুর রাউফ সাদ (পৃষ্ঠা: ১২)
أَمْرُ عَمْرِو بْنِ عَامِرٍ فِي خُرُوجِهِ مِنْ الْيَمَنِ: وَقِصَّةُ سَدِّ مَأْرِبٍ

وَكَانَ سَبَبُ خُرُوجِ عَمْرِو بْنِ عَامِرٍ مِنْ الْيَمَنِ، فِيمَا حَدَّثَنِي أَبُو زَيْد الْأَنْصَارِيُّ، أَنَّهُ رَأَى جُرَذًا يَحْفِرُ فِي سَدِّ مأرِب الَّذِي كَانَ يَحْبِسُ عَلَيْهِمْ الْمَاءَ فَيُصَرِّفُونَهُ حَيْثُ شَاءُوا مِنْ أَرْضِهِمْ، فَعَلِمَ أَنَّهُ لَا بقاءَ لِلسَّدِّ عَلَى ذَلِكَ، فَاعْتَزَمَ عَلَى النُّقْلة مِنْ الْيَمَنِ، فَكَادَ قَوْمَهُ، فَأَمَرَ أَصْغَرَ وَلَدِهِ إذَا أَغْلَظَ لَهُ وَلَطَمَهُ، أَنْ يَقُومَ إلَيْهِ فَيَلْطِمَهُ، فَفَعَلَ ابْنُهُ مَا أَمَرَهُ بِهِ، فَقَالَ عَمْرٌو: لَا أُقِيمُ بِبَلَدِ لَطَمَ وَجْهِي فِيهِ أصغرُ وَلَدِي، وَعَرَضَ أموالَه، فَقَالَ أَشْرَافٌ مِنْ أَشْرَافِ الْيَمَنِ: اغْتَنِمُوا غضبةَ عَمرو، فَاشْتَرَوْا مِنْهُ أَمْوَالَهُ، وَانْتَقَلَ فِي وَلَدِهِ وَوَلَدِ ولده. وقال الْأَزْدُ: لَا نَتَخَلَّفُ عَنْ عَمْرِو بْنِ عَامِرٍ، فَبَاعُوا أموالَهم، وَخَرَجُوا مَعَهُ، فَسَارُوا حَتَّى نَزَلُوا بِلَادَ عَكٍّ مُجْتَازِينَ يَرْتَادُونَ الْبُلْدَانَ. فَحَارَبَتْهُمْ عَك، فَكَانَتْ حَرْبُهُمْ سِجالًا، فَفِي ذَلِكَ قَالَ عَبَّاسُ بْنُ مِرْدَاسٍ الْبَيْتَ الَّذِي كَتَبْنَا1. ثُمَّ ارْتَحَلُوا عَنْهُمْ، فَتَفَرَّقُوا فِي الْبُلْدَانِ، فَنَزَلَ آلُ جَفْنَةَ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَامِرٍ: الشامَ، وَنَزَلَتْ الْأَوْسُ وَالْخَزْرَجُ: يَثْرِبَ، وَنَزَلَتْ خُزَاعَةُ: مَرًّا، وَنَزَلَتْ أزدُ السراةَ: السَّرَاةَ. وَنَزَلَتْ أزدُ عُمان: عُمَانَ. ثُمَّ أَرْسَلَ اللَّهُ تَعَالَى عَلَى السدِّ السيلَ فَهَدَمَهُ، فَفِيهِ أَنْزَلَ اللَّهُ تبارك وتعالى عَلَى رَسُولِهِ مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم: {لَقَدْ كَانَ لِسَبَأٍ فِي مَسْكَنِهِمْ آيَةٌ جَنَّتَانِ عَنْ يَمِينٍ وَشِمَالٍ كُلُوا مِنْ رِزْقِ رَبِّكُمْ وَاشْكُرُوا لَهُ بَلْدَةٌ طَيِّبَةٌ وَرَبٌّ غَفُورٌ، فَأَعْرَضُوا فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ سَيْلَ الْعَرِمِ} . [سبأ: 15] .

والعَرِم: السَّدُّ، وَاحِدَتُهُ: عَرِمَة، فِيمَا حَدَّثَنِي أَبُو عُبَيْدة.

قال الأعشى: أعشى بني قيس، ابن ثَعْلَبَةَ، بْنِ عُكابة، بْنِ صَعْب، بْنِ عَلِيِّ، بْنِ بَكْرِ، بْنِ وَائِلِ بْنِ هِنْب، بْنِ أفْصَي، بْنِ جَديلة، بْنِ أسَد، بْنِ رَبِيعَةَ، بْنِ نِزار، بْنِ مَعَدّ.

قَالَ ابْنُ هِشَامٍ: وَيُقَالُ: أَفْصَى بْنِ دُعْمِيّ بْنِ جَدِيلَةَ، وَاسْمُ الْأَعْشَى: مَيْمُونُ بْنُ قَيْس، بْنِ جَنْدَلِ، بْنِ شَرَاحِيلَ، بْنِ عَوْفِ، بْنِ سَعْدِ، بْنِ ضُبَيْعة، بْنِ قَيْسِ، بْنِ ثَعْلَبَةَ:

وَفِي ذَاكَ لِلْمُؤْتَسِي أُسْوَةٌ … ومأربُ عفَّى عَلَيْهَا العَرِمْ

رُخام بَنَتْهُ لَهُمْ حِمْيرٌ … إذَا جَاءَ مَوَّارُه لَمْ يَرِمْ

فَأَرْوَى الزروعَ وأعنابَها … عَلَى سَعةٍ مَاؤُهُمْ إذْ قُسِمْ

--------------------------------------------

1 وهو قوله:

وَعَكُّ بْنُ عَدْنَانَ الَّذِينَ تَلَقَّبُوا

بِغَسَّانِ حَتَّى طردوا كل مطرد
ইয়ামেন থেকে আমর ইবন আমিরের প্রস্থানের ঘটনা এবং মা’রিব বাঁধের কাহিনী

আমর ইবন আমিরের ইয়ামেন ত্যাগের কারণ সম্পর্কে আবু যায়দ আল-আনসারী আমাকে যা বর্ণনা করেছেন তা হলো— তিনি (আমর) একটি ইঁদুরকে মা’রিব বাঁধে গর্ত করতে দেখেছিলেন, যা তাদের পানি আটকে রাখত এবং তারা তাদের ভূমির যেখানে ইচ্ছা তা প্রবাহিত করত। তিনি বুঝতে পারলেন যে, এভাবে এই বাঁধ আর টিকবে না। ফলে তিনি ইয়ামেন থেকে স্থানান্তরের সংকল্প করলেন। তিনি তার গোত্রের সাথে এক কৌশল অবলম্বন করলেন; তিনি তার কনিষ্ঠ পুত্রকে আদেশ দিলেন যে, যখন তিনি তার প্রতি কঠোর হবেন এবং তাকে চড় মারবেন, তখন সে যেন দাঁড়িয়ে তাকেও চড় মারে। তার পুত্র তাকে যা আদেশ করা হয়েছিল তাই করল। তখন আমর বললেন: "আমি এমন দেশে থাকব না যেখানে আমার কনিষ্ঠ সন্তান আমার মুখে চড় মারে।" এরপর তিনি তার সম্পদ বিক্রির প্রস্তাব দিলেন। ইয়ামেনের অভিজাতদের মধ্য থেকে কিছু লোক বলল: "আমরের রাগের সুযোগ নাও।" অতঃপর তারা তার কাছ থেকে তার সম্পদ কিনে নিল এবং তিনি তার সন্তান ও পৌত্রদের নিয়ে স্থানান্তরিত হলেন। আজদ গোত্র বলল: "আমরা আমর ইবন আমিরকে ছেড়ে পেছনে পড়ে থাকব না।" ফলে তারাও তাদের সম্পদ বিক্রি করল এবং তার সাথে বেরিয়ে পড়ল। তারা যাত্রা করে আক গোত্রের জনপদে পৌঁছালেন এবং বিভিন্ন দেশ পর্যবেক্ষণ করতে থাকলেন। আক গোত্র তাদের সাথে যুদ্ধ করল এবং তাদের যুদ্ধ ছিল অমীমাংসিত। এ বিষয়ে আব্বাস ইবন মিরদাস সেই পঙ্‌ক্তিটি বলেছেন যা আমরা ইতিপূর্বে লিখেছি। তারপর তারা সেখান থেকে প্রস্থান করে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ল। আমর ইবন আমিরের পুত্র জাফনার বংশধরেরা সিরিয়ায় বসতি স্থাপন করল, আউস ও খাজরাজ ইয়াসরিবে বসতি স্থাপন করল, খুযাআ ‘মার’ নামক স্থানে বসতি স্থাপন করল এবং সরাত অঞ্চলের আজদ গোত্র সরাতে বসতি স্থাপন করল। আর ওমানের আজদ গোত্র ওমানে বসতি স্থাপন করল। এরপর আল্লাহ তাআলা বাঁধের ওপর মহাপ্লাবন প্রেরণ করলেন এবং তা ধ্বংস করে দিলেন। এ বিষয়ে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁর রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর অবতীর্ণ করেছেন: {নিশ্চয়ই সাবা সম্প্রদায়ের জন্য তাদের বাসভূমিতে ছিল এক নিদর্শন; ডানে ও বামে দুটি উদ্যান। তোমরা তোমাদের রবের রিযিক আহার করো এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো। এক পবিত্র নগরী এবং এক ক্ষমাশীল রব। কিন্তু তারা মুখ ফিরিয়ে নিল, ফলে আমি তাদের ওপর বাঁধভাঙ্গা প্লাবন প্রেরণ করলাম।} [সাবা: ১৫-১৬]

আবু উবায়দাহ আমাকে যা বর্ণনা করেছেন সে অনুযায়ী— ‘আরিম’ অর্থ বাঁধ, এর একবচন হলো ‘আরিমাহ’।

আল-আ’শা বলেছেন: তিনি হলেন বনী কায়স ইবন সা’লাবাহ ইবন উকাবা ইবন সা’ব ইবন আলী ইবন বকর ইবন ওয়াইল ইবন হিন্ব ইবন আফসা ইবন জাদীলা ইবন আসাদ ইবন রাবী’আ ইবন নিযার ইবন মা’দ গোত্রের আ’শা।

ইবন হিশাম বলেন: বলা হয়ে থাকে যে, তিনি হলেন আফসা ইবন দু’মী ইবন জাদীলা। আ’শার নাম হলো মায়মুন ইবন কায়স ইবন জানদাল ইবন শারাহিল ইবন আউফ ইবন সাদ ইবন দুবাইআ ইবন কায়স ইবন সা’লাবাহ:

এতে উপদেশ গ্রহণকারীর জন্য শিক্ষা রয়েছে … আর মা’রিবের ওপর বাঁধভাঙ্গা প্লাবন তাকে মুছে দিয়েছে।

হিমইয়ার গোত্র মার্বেল পাথর দিয়ে তাদের জন্য এটি নির্মাণ করেছিল … যখন এর প্রবল ঢেউ আসত, তখন তা অটল থাকত।

ফলে তা তাদের শস্যক্ষেত ও আঙ্গুর বাগানকে সিক্ত করত … যখন তাদের পানি বণ্টিত হতো, তা পর্যাপ্ত হতো।

--------------------------------------------

১ আর তা হলো তার উক্তি:

এবং আদনানের পুত্র আক, যারা গাসসান উপাধি ধারণ করেছিল

যতক্ষণ না তারা প্রত্যেক বিতাড়িতকে তাড়িয়ে দিয়েছিল।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনি হিশাম - তাহকীক ত্বহা আবদুর রাউফ সাদ (পৃষ্ঠা: ১৩)
فَصَارُوا أَيَادَى مَا يَقْدِرُو … نَ مِنْهُ عَلَى شُرْبِ طِفْلٍ فُطِمْ

وَهَذِهِ الْأَبْيَاتُ فِي قَصِيدَةٍ لَهُ.

وَقَالَ أميةُ بنُ أَبِي الصَّلْتِ الثَّقَفي -وَاسْمُ ثَقيف: قَسِيُّ بنُ مُنَبِّه، بْنِ بَكْرِ، بْنِ هَوَازِنَ، بْنِ مَنْصُورِ، بْنِ عِكرمة، بْنِ خَصَفة، بْنِ قَيْسِ، بْنِ عَيْلان، بْنِ مُضَر، بْنِ نِزَار، بْنِ مَعَدّ، بْنِ عَدْنَانَ:

مِنْ سَبَأِ الْحَاضِرِينَ مَأْرِبَ إذْ … يَبْنُونَ مِنْ دُونِ سَيْلِهِ الْعَرِمَا

وَهَذَا الْبَيْتُ فِي قَصِيدَةٍ لَهُ، وَتُرْوَى لِلنَّابِغَةِ الجَعْدي، وَاسْمُهُ: قَيْسُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، أَحَدُ بَنِي جَعْدة، بْنِ كَعْبِ، بْنِ رَبِيعَةَ، بْنِ عَامِرِ، بْنِ صَعْصَعة، بْنِ مُعَاوِيَةَ، بْنِ بَكْرِ، بْنِ هَوَازن.

وَهُوَ حَدِيثٌ طَوِيلٌ، مَنَعَنِي مِنْ اسْتِقْصَائِهِ مَا ذَكَرْتُ مِنْ الِاخْتِصَارِ.

حديث ربيعة بن نصر ورؤياه

رؤيا ربيعة: قَالَ ابنُ إسْحَاقَ: وَكَانَ رَبِيعَةُ بْنُ نَصْرٍ مَلِكُ الْيَمَنِ بَيْنَ أضْعَاف مُلُوكِ التَّبَابِعَةِ، فَرَأَى رُؤْيَا هَالَتْهُ، وَفَظِعَ بِهَا، فَلَمْ يَدَعْ كَاهِنًا، وَلَا سَاحِرًا، وَلَا عَائِفًا1، وَلَا منجِّما مِنْ أَهْلِ مَمْلَكَتِهِ إلَّا جَمَعَهُ إلَيْهِ، فَقَالَ لَهُمْ: إنِّي قَدْ رَأَيْتُ رُؤْيَا هَالَتْنِي، وفَظِعْت بِهَا؛ فأخْبروني بِهَا وَبِتَأْوِيلِهَا، قَالُوا لَهُ: اُقْصُصْهَا عَلَيْنَا نخبرْك بِتَأْوِيلِهَا، قَالَ: إنِّي إنْ أَخْبَرْتُكُمْ بِهَا لَمْ أَطْمَئِنَّ إلَى خبرِكم عَنْ تَأْوِيلِهَا، فَإِنَّهُ لَا يَعْرِفُ تَأْوِيلَهَا إلَّا مَنْ عَرَفَهَا قَبْلَ أَنْ أُخْبِرَهُ بِهَا، فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ مِنْهُمْ: فَإِنْ كَانَ الْمَلِكُ يُرِيدُ هَذَا فَلْيَبْعَثْ إلَى سَطيحٍ2 وشِقٍّ3، فَإِنَّهُ لَيْسَ أَحَدٌ أَعْلَمَ مِنْهُمَا، فهما يخبرانه بما سأل عنه.

--------------------------------------------

1 العائف: من يزجر الطير.

2 وسمي سطيحا: لأنه كان جسما ملقى لا جوارح له ولا يقدر على الجلوس، إلا إذا غضب انتفح فجلس. ويذكر أن وجهه في صدره ولم يكن له رأس ولا عنق ويذكر عن وهب ابن منبه أنه قال: قيل لسطيح: أنى لك هذا العلم؟ فقال: لي صاحب من الجن استمع أخبار السماء من طور سيناء حين كلم الله تعالى موسى عليه السلام فهو يؤدى إلي من ذلك ما يؤديه.

3 وسمي بذلك؛ لأنه كان نصف إنسان، له يد واحدة؟ ورجل واحدة، وعين واحدة. وولد شق وسطيح في اليوم الذي ماتت فيه طريفة الكاهنة وهي بنت الخير الحميرية امرأة عمر بن عامر فدعت بشق وسطيح قبل أن تموت فتفلت في فيهما وأخبرت أنهما سيخلفانها في كهانتها.
ফলে তারা ছিন্নভিন্ন হয়ে পড়ল, তারা এর থেকে এমনকি একটি দুধ ছাড়ানো শিশুর পান করার মতো পরিমাণও সক্ষম ছিল না।

আর এই পঙ্ক্তিগুলো তার একটি কাসিদার (কবিতার) অংশ।

এবং উমাইয়া ইবনে আবিস সালত আস-সাকাফী বলেছেন - আর সাকাফ-এর নাম হলো: কাসি ইবনে মুনাব্বিহ, ইবনে বাকর, ইবনে হাওয়াজিন, ইবনে মানসুর, ইবনে ইকরিমাহ, ইবনে খাসাফাহ, ইবনে কায়স, ইবনে আইলান, ইবনে মুদার, ইবনে নিজার, ইবনে মা'দ, ইবনে আদনান:

সাবা-বাসীদের মধ্যে যারা মাআরিবে উপস্থিত ছিল, যখন তারা এর প্লাবনের মুখে আরিম (বাঁধ) নির্মাণ করছিল।

এই পঙ্ক্তিটি তার একটি কাসিদার অন্তর্গত, আবার এটি নাবিকা আল-জা’দী-র প্রতিও সম্বন্ধিত করা হয়, যার নাম হলো: কায়স ইবনে আব্দুল্লাহ, বনু জা’দাহ ইবনে কাব ইবনে রাবিআহ ইবনে আমির ইবনে সা’সাআহ ইবনে মুআবিয়া ইবনে বাকর ইবনে হাওয়াজিন গোত্রের অন্তর্ভুক্ত।

এটি একটি দীর্ঘ বর্ণনা, আমি সংক্ষেপ করার যে ইচ্ছা পোষণ করেছি তা আমাকে এটি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা থেকে বিরত রেখেছে।

রাবিআহ ইবনে নাসর এবং তার স্বপ্নের বর্ণনা

রাবিআহর স্বপ্ন: ইবনে ইসহাক বলেন: রাবিআহ ইবনে নাসর ছিলেন তুব্বা (হিময়ারী) রাজাদের মধ্যবর্তী সময়ের ইয়েমেনের একজন রাজা। তিনি একটি স্বপ্ন দেখলেন যা তাকে আতঙ্কিত ও ভীত করে তুলল। ফলে তিনি তার রাজ্যের কোনো গণক, জাদুকর, পাখি উড়িয়ে শুভাশুভ নির্ধারণকারী, বা জ্যোতিষীকেই বাদ দিলেন না বরং সবাইকে নিজের কাছে সমবেত করলেন। অতঃপর তিনি তাদের বললেন: আমি একটি স্বপ্ন দেখেছি যা আমাকে আতঙ্কিত ও ভীত করেছে; তাই তোমরা আমাকে সেটি এবং তার ব্যাখ্যা সম্পর্কে অবহিত করো। তারা তাকে বলল: আপনি আমাদের কাছে এটি বর্ণনা করুন, আমরা আপনাকে এর ব্যাখ্যা জানিয়ে দেব। তিনি বললেন: আমি যদি তোমাদের কাছে এটি বর্ণনা করি, তবে তোমাদের দেওয়া ব্যাখ্যায় আমি আশ্বস্ত হতে পারব না। কারণ যে এটি বর্ণনা করার আগেই জানতে পারবে, সে ছাড়া আর কেউ এর সঠিক ব্যাখ্যা জানতে পারবে না। তখন তাদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি তাকে বলল: রাজা যদি এটাই চান, তবে তিনি যেন সাতিহ এবং শিক-এর কাছে সংবাদ পাঠান, কেননা তাদের চেয়ে বড় জ্ঞানী আর কেউ নেই, তারা তাকে তার জিজ্ঞাসিত বিষয় সম্পর্কে অবহিত করতে পারবে।

--------------------------------------------

1 আল-আইফ: যে পাখি উড়িয়ে বা হাঁকিয়ে শুভাশুভ নির্ধারণ করে।

2 তার নাম সাতিহ রাখা হয়েছিল কারণ সে ছিল সটান পড়ে থাকা একটি দেহের মতো যার কোনো হাত-পা ছিল না এবং সে বসতেও সক্ষম ছিল না; তবে যখন সে রাগান্বিত হতো তখন সে ফুলে উঠে বসে পড়ত। উল্লেখ করা হয় যে, তার মুখমণ্ডল ছিল তার বক্ষদেশে এবং তার কোনো মাথা বা ঘাড় ছিল না। ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে বর্ণিত যে, সাতিহকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল: তুমি এই জ্ঞান কোথায় পেলে? সে উত্তর দিল: আমার এক জিন সাথী আছে, যে সিনাই পর্বত থেকে আকাশের সংবাদ শ্রবণ করে, যখন আল্লাহ তাআলা মুসা আলাইহিস সালামের সাথে কথা বলেছিলেন; অতঃপর সে সেখান থেকে আমাকে সংবাদ এনে দেয় যা সে লাভ করে।

3 তাকে এ নামে ডাকার কারণ হলো সে ছিল একজন অর্ধেক মানুষ, যার একটি হাত, একটি পা এবং একটি চোখ ছিল। শিক এবং সাতিহ সেই দিন জন্মগ্রহণ করেছিল যেদিন তরীফা নাম্নী গণক মহিলা মৃত্যুবরণ করেছিল, যে ছিল আমরের স্ত্রী খাইর আল-হিমইয়ারীয়ার কন্যা। সে মৃত্যুর আগে শিক এবং সাতিহকে ডেকে পাঠায় এবং তাদের মুখে থুতু নিক্ষেপ করে এবং জানিয়ে দেয় যে, তারা দুজন তার পরে গণনকার্যে তার স্থলাভিষিক্ত হবে।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনি হিশাম - তাহকীক ত্বহা আবদুর রাউফ সাদ (পৃষ্ঠা: ১৪)
وَاسْمُ سَطِيحٍ: رَبِيعُ بْنُ رَبِيعَةَ، بْنِ مَسْعُودِ، بْنِ مَازِنِ، بْنِ ذِئْبِ، بْنِ عَدِيِّ، بْنِ مازن غسان، وشق: بن صَعْب، بْنُ يَشْكُر، بْنِ رُهْم، بْنِ أفْرَك، بن قَسْر، بن عَقْبَر، بْنِ أَنْمَارِ، بْنِ نِزَارٍ: وَأَنْمَارُ أَبُو بَجِيلَةَ وَخَثْعَمَ.

نَسَبُ بَجِيلَةَ: قَالَ ابْنُ هِشَامٍ: وَقَالَتْ الْيَمَنُ: وَبَجِيلَةُ بَنُو أَنْمَارِ، بْنِ إرَاشِ بْنِ لَحْيان، بْنِ عَمْرِو، بْنِ الغَوْث، بْنِ نَبْت، بن مالك، بن زيد، بن كهلان، بن سَبَأٍ: وَيُقَالُ: إرَاشُ بْنُ عَمْرِو، بْنِ لحْيان، بن الغَوْث. ودار بجيلة وخثعم يمانية.

قَالَ ابْنُ إسْحَاقَ: فَبَعَثَ إلَيْهِمَا، فَقَدِمَ عَلَيْهِ سَطيح قبلَ شِقٍّ، فَقَالَ لَهُ: إنِّي رَأَيْتُ رُؤْيَا هَالَتْنِي، وفظِعْت بِهَا، فأخبرْنى بِهَا، فَإِنَّكَ إنْ أصبتَها أصبتَ تأويلَها.

قَالَ: أفعلُ. "رأيتَ حُمَمَة، خَرَجَتْ مِنْ ظُلُمة، فَوَقَعَتْ بِأَرْضِ تَهَمة، فَأَكَلَتْ مِنْهَا كلُّ ذاتِ جُمْجُمة"1.

فَقَالَ لَهُ الْمَلِكُ: مَا أخطأتَ مِنْهَا شَيْئًا يَا سطيحُ؛ فَمَا عندَك فِي تَأْوِيلِهَا؟ فَقَالَ: أَحْلِفُ بِمَا بين الحَرَّتَيْن من حَنَش، ليهبِطنَّ أرضَكم الْحَبَشُ، فَلَيَمْلِكُنَّ مَا بَيْنَ أبيَن إلَى جُرَش2، فَقَالَ لَهُ الْمَلِكُ: وَأَبِيكَ يَا سَطِيحُ، إنَّ هَذَا لَنَا لَغَائِظٌ مُوجِعٌ، فَمَتَى هُوَ كَائِنٌ، أَفِي زَمَانِي هَذَا؛ أَمْ بَعْدَهُ؟ قَالَ: لَا، بَلْ بَعْدَهُ بِحِينِ، أَكْثَرَ مِنْ سِتِّينَ أَوْ سَبْعِينَ، يَمْضِينَ مِنْ السِّنِينَ، قَالَ: أَفَيَدُومُ ذَلِكَ مِنْ مُلْكِهِمْ أَمْ يَنْقَطِعُ؟ قَالَ: لَا، بَلْ يَنْقَطِعُ لِبِضْعِ وَسَبْعِينَ مِنْ السِّنِينَ، ثُمَّ يُقتلون وَيَخْرُجُونَ مِنْهَا هَارِبِينَ. قَالَ: وَمَنْ يلي ذَلِكَ مِنْ قتْلِهم وَإِخْرَاجِهِمْ؟ قَالَ: يَلِيهِ إرَمُ ذي يَزن3، يخرج

--------------------------------------------

1 الحممة: الفحمة المحرقة، والظلمة: الظلام يريد خروج عسكر الحبشة من أرض السودان. وأرض تهمة أي منخفضة وقوله: أكلت منها كل ذات جمجمة" ولم يقل: كل ذي جمجمة لأن القصد إلى النفس والنسمة فهو أعم، ويدخل فيه جميع ذوات الأرواح.

2 بنو حبش بن حام بن نوح وبه سميت الحبشة، وأبين هكذا رويت بفتح الهمزة وذكرها سيبويه بكسر الهمزة على مثل إصبع. وقال ابن ماكولا هو أبين بن زهير بن أيمن بن الهميسع من حمير، أو من ابن حمير سميت به البلدة، وذكر الطبري: أن أبين وعدن ابنا عدنان سميت بهما البلدتان، وجرش: مدينة باليمن.

3 المعروف أن اسمه: سيف بن ذي يزن، ولكن جعل إرما، إما لأن الإرم هو العلم فمدحه بذلك، وإما شبهه بعاد إرم في عظم الخلقة، قال اللَّهُ تبارك وتعالى: {أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِعَادٍ، إِرَمَ ذَاتِ الْعِمَادِ} .
সতীহর নাম হলো: রাবী ইবনে রাবীআ ইবনে মাসউদ ইবনে মাযিন ইবনে যিব ইবনে আদি ইবনে মাযিন গাসসান। আর শিক্ক হলো: ইবনে সাব ইবনে ইয়াশকুর ইবনে রুহম ইবনে আফরাক ইবনে কাসর ইবনে আকবার ইবনে আনমার ইবনে নিযার। আর আনমার হলো বাজিলাহ ও খাসআম গোত্রের আদি পিতা।

বাজিলাহ গোত্রের বংশপরিচয়: ইবনে হিশাম বলেন: ইয়ামানিরা বলেন: বাজিলাহ হলো আনমার ইবনে ইরাশ ইবনে লাহইয়ান ইবনে আমর ইবনে আল-গাওস ইবনে নাবত ইবনে মালিক ইবনে যায়েদ ইবনে কাহলান ইবনে সাবা-এর বংশধর। আবার কেউ বলেন: ইরাশ ইবনে আমর ইবনে লাহইয়ান ইবনে আল-গাওস। বাজিলাহ ও খাসআম গোত্রদ্বয়ের আবাসভূমি ইয়ামানে।

ইবনে ইসহাক বলেন: তিনি (রাজা) তাদের দুজনের কাছে লোক পাঠালেন। ফলে শিক্কের আগে সতীহ তার কাছে উপস্থিত হলেন। তিনি তাকে বললেন: "আমি এমন একটি স্বপ্ন দেখেছি যা আমাকে আতঙ্কিত ও বিচলিত করেছে। আপনি আমাকে সেই স্বপ্নটি সম্পর্কে বলুন। আপনি যদি স্বপ্নটি সঠিকভাবে বলতে পারেন, তবেই আপনি এর ব্যাখ্যা সঠিকভাবে দিতে পারবেন।"

তিনি (সতীহ) বললেন: "আমি বলছি। আপনি একটি জলন্ত অঙ্গার দেখেছেন, যা অন্ধকার থেকে নির্গত হয়েছে এবং তিহামাহর ভূমিতে পড়েছে। অতঃপর সেটি সেখানে প্রাণ আছে এমন সব মাথাকে গ্রাস করেছে।"১

রাজা তাকে বললেন: "হে সতীহ, আপনি এর এক বিন্দুও ভুল বলেননি। এখন আপনার কাছে এর ব্যাখ্যা কী?" সতীহ বললেন: "আমি দুই পাথুরে ভূমির মধ্যবর্তী সর্পকুলের শপথ করে বলছি, হাবশীরা অবশ্যই আপনাদের ভূমিতে অবতরণ করবে এবং তারা আবইয়ান থেকে জুরাশ২ পর্যন্ত অঞ্চল দখল করে নেবে।" রাজা তাকে বললেন: "হে সতীহ, তোমার পিতার শপথ! এটি তো আমাদের জন্য অত্যন্ত ক্রোধ ও যন্ত্রণার বিষয়। এটি কখন ঘটবে? আমার সময়ে নাকি আমার পরে?" তিনি বললেন: "না, বরং এর কিছুকাল পরে। যখন ষাট বা সত্তর বছরেরও বেশি সময় অতিক্রান্ত হবে।" তিনি বললেন: "তাদের এই রাজত্ব কি স্থায়ী হবে নাকি শেষ হয়ে যাবে?" তিনি বললেন: "না, বরং সত্তর বছরের কিছুকাল পর তা ছিন্ন হয়ে যাবে। এরপর তারা নিহত হবে এবং সেখান থেকে পলায়ন করে বেরিয়ে যাবে।" তিনি বললেন: "তাদের হত্যা করা এবং বিতাড়িত করার দায়িত্ব কে গ্রহণ করবে?" তিনি বললেন: "ইরাম যি-ইয়াযান৩ এর দায়িত্ব নেবে, তিনি বেরিয়ে আসবেন..."

--------------------------------------------

১. 'হুমামাহ' হলো পুড়ে যাওয়া কয়লা বা অঙ্গার। 'যুলমাহ' অর্থ অন্ধকার, যা দ্বারা তিনি সুদান থেকে আবিসিনীয় (হাবশী) বাহিনীর আগমন বুঝিয়েছেন। 'তিহামাহ' অর্থ নিচু ভূমি। তার উক্তি: "প্রাণ আছে এমন সব মাথাকে গ্রাস করেছে"—এখানে তিনি নারীবাচক শব্দ ব্যবহার করেছেন কারণ এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রাণী বা প্রাণসম্পন্ন সত্তা, যা অধিক ব্যাপক। এর অন্তর্ভুক্ত সমস্ত রূহধারী সত্তা রয়েছে।

২. হাবাশ ইবনে হাম ইবনে নূহ-এর বংশধর থেকে আবিসিনিয়ার নামকরণ হয়েছে। 'আবইয়ান' শব্দটি হামযাহর জবর (ফাতহা) দিয়ে বর্ণিত হয়েছে, তবে সিবায়াই এটি হামযাহর যের (কাসরা) দিয়ে 'ইসবআ' শব্দের ওজনে উল্লেখ করেছেন। ইবনে মাকুলা বলেন, এটি হিময়ার বংশীয় আবইয়ান ইবনে যুহাইর ইবনে আয়মান ইবনে আল-হামাইসা, অথবা হিময়ারের কোনো পুত্রের নামে এই শহরের নাম রাখা হয়েছে। তাবারী উল্লেখ করেছেন যে, আবইয়ান এবং আদন হলো আদনানের দুই পুত্র, যাদের নামে এই শহর দুটির নামকরণ করা হয়েছে। আর 'জুরাশ' হলো ইয়ামানের একটি শহর।

৩. এটি সুপরিচিত যে তার নাম ছিল সাইফ বিন যি-ইয়াযান। কিন্তু এখানে তাকে 'ইরাম' বলা হয়েছে, হয়তো 'ইরাম' অর্থ পরিচিত নিশান বা চিহ্ন হওয়ার কারণে তার প্রশংসা স্বরূপ, অথবা বিশাল শারীরিক গঠনের দিক থেকে তাকে আ'দ-এ-ইরামের সাথে তুলনা করার জন্য। আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা বলেন: "আপনি কি দেখেননি আপনার প্রতিপালক আ'দ বংশের সাথে কী করেছিলেন? যারা ছিল স্তম্ভের অধিকারী ইরাম গোত্রের।"
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনি হিশাম - তাহকীক ত্বহা আবদুর রাউফ সাদ (পৃষ্ঠা: ১৫)
عَلَيْهِمْ مِنْ عَدَنَ، فَلَا يَتْرُكُ أَحَدًا مِنْهُمْ بِالْيَمَنِ.

قَالَ: أَفَيَدُومُ ذَلِكَ مِنْ سُلْطَانِهِ، أَمْ يقطع؟

قَالَ: لَا، بَلْ يَنْقَطِعُ.

قَالَ: وَمَنْ يَقْطَعُهُ؟

قَالَ: نَبِيٌّ زَكِيٌّ، يَأْتِيهِ الْوَحْيُ، مِنْ قِبَلِ الْعَلِيِّ. قَالَ: وَمِمَّنْ هَذَا النَّبِيُّ؟ قَالَ: رَجُلٌ مِنْ وَلَدِ غَالِبِ بْنِ فهْر بْنِ مَالِكِ بْنِ النَّضْر، يَكُونُ المُلك فِي قَوْمِهِ إلَى آخِرِ الدَّهْرِ. قَالَ: وَهَلْ لِلدَّهْرِ مِنْ آخِرٍ؟ قَالَ: نَعَمْ، يومٌ يُجْمَع فِيهِ الْأَوَّلُونَ وَالْآخِرُونَ، يَسْعَدُ فِيهِ الْمُحْسِنُونَ، وَيَشْقَى فِيهِ الْمُسِيئُونَ. قَالَ: أَحَقٌّ مَا تُخْبِرُنِي؟ قَالَ: نَعَمْ. والشَّفق والغَسق، والفَلَق إذَا اتَّسق، إنَّ مَا أَنْبَأْتُكَ بِهِ لحق.

ثُمَّ قَدِمَ عَلَيْهِ شِق، فَقَالَ لَهُ كَقَوْلِهِ لِسَطِيحِ، وَكَتَمَهُ مَا قَالَ سَطِيحٌ، لِيَنْظُرَ أَيَتَّفِقَانِ أَمْ يَخْتَلِفَانِ. فَقَالَ: نَعَمْ، رَأَيْتُ حُمُمة، خَرَجَتْ مِنْ ظُلُمة، فَوَقَعَتْ بَيْنَ رَوْضة وَأَكَمَهْ، فَأَكَلَتْ مِنْهَا كُلَّ ذَاتِ نَسَمَهْ.

قَالَ: فَلَمَّا قَالَ له ذلك، عرف أَنَّهُمَا قَدْ اتَّفَقَا، وَأَنَّ قَوْلَهُمَا وَاحِدٌ.

إلَّا أَنَّ سَطِيحًا قَالَ: "وَقَعَتْ بِأَرْضِ تَهَمة، فَأَكَلَتْ مِنْهَا كُلَّ ذَاتِ جُمْجُمة".

وَقَالَ شِق: "وَقَعَتْ بينَ رَوْضَةٍ وَأَكَمَهْ، فأكلتْ مِنْهَا كلُّ ذَاتِ نَسَمَهْ".

فَقَالَ لَهُ الْمَلِكُ: مَا أَخْطَأْتَ يَا شِقُّ مِنْهَا شَيْئًا، فَمَا عِنْدَكَ فِي تَأْوِيلِهَا؟

قَالَ: أَحْلِفُ بِمَا بَيْنَ الحَرَّتين مِنْ إنْسَانٍ، لينزلن أرضَكم السودان، فليغلبن على كل طَفْلة1 البنان، وليملكُن ما بين أبيَن إلى نَجْران.

فَقَالَ لَهُ الْمَلِكُ: وَأَبِيكَ يَا شِقُّ، إنَّ هَذَا لَنَا لَغَائِظٌ مُوجِعٌ، فَمَتَى هُوَ كَائِنٌ؟ أَفِي زَمَانِي، أَمْ بَعْدَهُ؟ قَالَ: لَا، بَلْ بَعْدَهُ بِزَمَانِ، ثُمَّ يَسْتَنْقِذُكُمْ مِنْهُمْ عَظِيمٌ ذُو شَأْنٍ، وَيُذِيقُهُمْ أَشَدَّ الْهَوَانِ.

قَالَ: وَمَنْ هَذَا الْعَظِيمُ الشَّانِ؟ قَالَ: غُلَامٌ، لَيْسَ بدَنِيّ، وَلَا مُدَنّ2، يَخْرُجُ عَلَيْهِمْ مِنْ بَيْتِ ذِي يَزَن، فلا يترك أحدًا منهم باليمن.

--------------------------------------------

1 الطفلة: الناعمة الرخصة. والبنان. الأصبع.

2 المدن: الذي جمع الضعف مع الدناءة.
...আদন থেকে তাদের বিরুদ্ধে বের হবেন, ফলে তিনি ইয়ামেনে তাদের কাউকেই আর অবশিষ্ট রাখবেন না।

তিনি (রাজা) বললেন: তাঁর এই রাজত্ব কি চিরস্থায়ী হবে, নাকি তা শেষ হয়ে যাবে?

তিনি (সাতিহ) বললেন: না, বরং তা শেষ হয়ে যাবে।

তিনি বললেন: কে তা খতম করবে?

তিনি বললেন: একজন পবিত্র নবী, যাঁর নিকট মহান সুউচ্চ আল্লাহর পক্ষ থেকে ওহি আসবে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: এই নবী কোন বংশের হবেন? তিনি বললেন: গালিব ইবনে ফিহর ইবনে মালিক ইবনে নাদর-এর বংশধর এক ব্যক্তি; তাঁর সম্প্রদায়ের মধ্যেই মহাকালের শেষ অবধি রাজত্ব থাকবে। তিনি বললেন: মহাকালের কি কোনো শেষ আছে? তিনি বললেন: হ্যাঁ, এমন একদিন যেদিন পূর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকলকে একত্রিত করা হবে; সেদিন নেককারগণ সৌভাগ্যবান হবে এবং পাপাচারীরা দুর্ভাগ্যগ্রস্ত হবে। তিনি বললেন: আপনি আমাকে যা বলছেন তা কি সত্য? তিনি বললেন: হ্যাঁ। গোধূলি বেলা, রাতের অন্ধকার এবং ভোরের আলোর শপথ যখন তা পূর্ণতা পায়; আমি আপনাকে যা সংবাদ দিয়েছি তা অবশ্যই সত্য।

এরপর শিঙ্ক রাজার নিকট উপস্থিত হলেন। রাজা তাঁকে সাতিহকে যা বলেছিলেন তেমনই বললেন এবং সাতিহ কী বলেছিলেন তা গোপন রাখলেন, যাতে দেখা যায় তাঁরা উভয়ে একমত হন নাকি ভিন্ন কিছু বলেন। তখন তিনি (শিঙ্ক) বললেন: হ্যাঁ, আমি একটি জ্বলন্ত অঙ্গার দেখেছি যা অন্ধকার থেকে নির্গত হয়েছে এবং তা একটি উদ্যান ও টিলার মাঝখানে পতিত হয়েছে, অতঃপর তা প্রতিটি প্রাণবিশিষ্ট বস্তুকে ভক্ষণ করেছে।

তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন: যখন তিনি তাঁকে এ কথা বললেন, তখন রাজা বুঝতে পারলেন যে তাঁরা উভয়ে একমত হয়েছেন এবং তাঁদের বক্তব্য একই।

তবে সাতিহ বলেছিলেন: "তা তিহামাহ অঞ্চলে পতিত হয়েছে এবং প্রতিটি খুলি বিশিষ্টকে (প্রাণীকে) ভক্ষণ করেছে।"

আর শিঙ্ক বললেন: "তা একটি উদ্যান ও টিলার মাঝখানে পতিত হয়েছে এবং প্রতিটি প্রাণবিশিষ্টকে ভক্ষণ করেছে।"

তখন রাজা তাঁকে বললেন: হে শিঙ্ক, আপনি এর কিছুই ভুল করেননি; তবে আপনার কাছে এর ব্যাখ্যা কী?

তিনি বললেন: আমি দুই পাথুরে ভূমির মধ্যবর্তী সকল মানুষের কসম খেয়ে বলছি, অবশ্যই কৃষ্ণাঙ্গরা আপনাদের দেশে অবতরণ করবে, তারা প্রতিটি কোমল আঙ্গুলের অধিকারীকে (নারীদের) পরাভূত করবে এবং আবিয়ান থেকে নাজরান পর্যন্ত রাজত্ব দখল করবে।

তখন রাজা তাঁকে বললেন: হে শিঙ্ক, আপনার পিতার কসম, এটি তো আমাদের জন্য অত্যন্ত মর্মন্তুদ ও কষ্টদায়ক। তবে এটি কখন ঘটবে? আমার যুগে, নাকি পরে? তিনি বললেন: না, বরং বেশ কিছু কাল পরে। এরপর একজন মহান ও উচ্চমর্যাদাশীল ব্যক্তি আপনাদেরকে তাদের হাত থেকে উদ্ধার করবেন এবং তাদেরকে চরম লাঞ্ছনার স্বাদ আস্বাদন করাবেন।

রাজা বললেন: এই উচ্চমর্যাদাশীল মহান ব্যক্তি কে? তিনি বললেন: এক যুবক, যে হীন বা দুর্বল নয়; সে যূ ইয়াযানের বংশ থেকে তাদের বিরুদ্ধে বের হবে এবং ইয়ামেনে তাদের কাউকেই আর অবশিষ্ট রাখবে না।

--------------------------------------------

১. 'তুফলাহ' (طفلة): কোমল ও নমনীয়। আর 'বানান' (بنان) হলো আঙ্গুল।

২. 'মুদান' (مدن): এমন ব্যক্তি যার মাঝে দুর্বলতা ও হীনতা একত্রিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনি হিশাম - তাহকীক ত্বহা আবদুর রাউফ সাদ (পৃষ্ঠা: ১৬)
قَالَ: أَفَيَدُومُ سُلْطَانُهُ أَمْ يَنْقَطِعُ؟ قَالَ: بَلْ يَنْقَطِعُ بِرَسُولِ مُرْسَل يَأْتِي بِالْحَقِّ وَالْعَدْلِ، بَيْنَ أَهْلِ الدِّينِ وَالْفَضْلِ، يَكُونُ الْمُلْكُ فِي قَوْمِهِ إلَى يَوْمِ الْفَصْلِ؟ قَالَ: وَمَا يَوْمُ الْفَصْلِ؟ قَالَ: يومٌ تُجْزَى فِيهِ الولاةُ ويُدْعى فِيهِ مِنْ السَّمَاءِ بِدَعَوَاتِ، يَسْمَعُ مِنْهَا الْأَحْيَاءُ وَالْأَمْوَاتُ، ويُجمع فِيهِ بَيْنَ النَّاسِ لِلْمِيقَاتِ، يَكُونُ فِيهِ لِمَنْ اتَّقَى الفوزُ وَالْخَيْرَاتُ.

قَالَ: أَحَقٌّ مَا تَقُولُ؟ قَالَ: إي وربِّ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، وَمَا بَيْنَهُمَا مِنْ رَفْعٍ وخَفض، إنَّ مَا أَنْبَأْتُكَ بِهِ لَحَقٌّ، مَا فِيهِ أَمْضِ.

قَالَ ابْنُ هِشَامٍ: أَمْضِ. يَعْنِي شَكَّا: هَذَا بِلُغَةِ حِمْيَرَ: وقال أبو عمرو. أمض أي: باطل. فَوَقَعَ فِي نَفْسِ رَبِيعَةَ بْنِ نَصْرٍ مَا قَالَا، فَجَهَّزَ بَنِيهِ، وَأَهْلَ بَيْتِهِ إلَى الْعِرَاقِ بِمَا يُصْلِحُهُمْ، وَكَتَبَ لَهُمْ إلَى مَلِكٍ مِنْ ملوك فارس يقال له: سابور بن خرَّزاد فأسكنهم الحيرة.

رأي آخر في نَسَبُ النُّعْمَانِ بْنِ الْمُنْذِرِ: فَمِنْ بَقِيَّةِ وَلَدِ رَبِيعَةَ بْنِ نَصْرٍ: النُّعْمَانُ بْنُ الْمُنْذِرِ، فَهُوَ فِي نَسَبِ الْيَمَنِ وعِلْمِهم: النعمانُ بنُ الْمُنْذِرِ بْنِ عَمرو بْنِ عَدِي بْنِ رَبِيعَةَ بْنِ نَصْر، ذَلِكَ الْمَلِكُ. قَالَ ابْنُ هِشَامٍ: النُّعْمَانُ بْنُ الْمُنْذِرِ، بْنِ الْمُنْذِرِ، فِيمَا أَخْبَرَنِي خَلَفٌ الأحمر.

قَالَ ابْنُ إسْحَاقَ: فَلَمَّا هَلَكَ رَبِيعَةُ بْنُ نَصْرٍ، رَجَعَ مُلك الْيَمَنِ كلِّه إلَى حَسَّانِ بْنِ تُبان أَسْعَدَ1 أَبِي كَرِبٍ -وتُبان أَسْعَدُ هو: تُبَّع الآخر، ابن كَلْكى كرَب بْنِ زَيْدٍ، وَزَيْدٌ هُوَ تُبَّع الْأَوَّلُ بن عمرو ذي الأذعار2 ابن أبرهة ذي المنار3 ابن الرّيْش -قَالَ ابْنُ هِشَامٍ: وَيُقَالُ: الرَّائِشُ. قَالَ ابْنُ إسْحَاقَ: ابْنَ عَدِيِّ بْنِ صَيْفِيِّ بْنِ سبأ الأصغر، بن كَعْب، كَهْف الظُّلم، ابن زَيْد

--------------------------------------------

1 اسمان جعلا اسما واحدا، ويصح جعل الإعراب في الجزء الأول من الاسم وإضافة الاسم الثاني إليه ويجوز الإعراب في الجزء الثاني من الاسم. وتبان: من التبانة وهي الذكاء والفطنة. يقال. رجل تبن وطبن.

2 وسمي ذا الأذعار؛ لأنه أوغر في ديار المغرب وسبا أمة ذات شكل غريب؛ فذعر الناس منهم فسمي بذلك.

3 وسمي بذلك؛ لأنه رفع نيرانًا في جبال ليهتدى بها في إحدى غزواته.
তিনি (রাজা) বললেন: "তার রাজত্ব কি স্থায়ী হবে নাকি বিলুপ্ত হবে?" তিনি (গণক) বললেন: "বরং তা বিলুপ্ত হবে একজন প্রেরিত রাসূলের মাধ্যমে, যিনি সত্য ও ইনসাফ নিয়ে আসবেন এবং যিনি দ্বীন ও শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। আর রাজত্ব তাঁর কওমের মধ্যেই থাকবে বিচার দিবস পর্যন্ত।" তিনি বললেন: "বিচার দিবস কী?" তিনি বললেন: "এমন এক দিন যেদিন শাসকদের প্রতিদান দেওয়া হবে এবং আসমান থেকে কিছু আহ্বান করা হবে, যা জীবিত ও মৃত সবাই শুনতে পাবে। আর সেই নির্ধারিত সময়ে মানুষের সমাবেশ ঘটবে। সেদিন মুত্তাকীদের জন্য থাকবে সফলতা ও কল্যাণ।"

তিনি বললেন: "আপনি যা বলছেন তা কি সত্য?" তিনি বললেন: "হ্যাঁ, আসমান ও জমিনের রবের শপথ এবং এই উভয়ের মধ্যবর্তী উচ্চনা ও অবনত যা কিছু আছে তার শপথ, আমি আপনাকে যা সংবাদ দিয়েছি তা ধ্রুব সত্য, এতে কোনো সন্দেহ নেই।"

ইবনে হিশাম বলেন: 'আমদ' শব্দের অর্থ হলো সন্দেহ; এটি হিমইয়ারী উপভাষা। আবু আমর বলেছেন, 'আমদ' অর্থ হলো বাতিল বা মিথ্যা। এরপর তারা দু'জন যা বলেছিলেন তা রবিআ বিন নাসরের মনে রেখাপাত করল। তাই তিনি তাঁর সন্তানদের এবং পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনীয় পাথেয় দিয়ে ইরাকে পাঠিয়ে দিলেন এবং পারস্যের রাজাদের মধ্যে শাপুর বিন খুররাজাদ নামক জনৈক রাজার কাছে তাদের জন্য একটি সুপারিশপত্র লিখে দিলেন। তিনি তাদের আল-হিরা নামক স্থানে পুনর্বাসিত করলেন।

নুমান বিন আল-মুনজিরের বংশপরিচয় সম্পর্কে ভিন্ন মত: রবিআ বিন নাসরের অবশিষ্ট সন্তানদের মধ্য হতে হলেন নুমান বিন আল-মুনজির। ইয়ামেনিদের বংশলতিকা ও তাদের জ্ঞান অনুযায়ী তিনি হলেন: নুমান বিন আল-মুনজির বিন আমর বিন আদি বিন রবিআ বিন নাসর, যিনি ছিলেন সেই রাজা। ইবনে হিশাম বলেন: খালাফ আল-আহমার আমাকে যা জানিয়েছেন সেই অনুযায়ী তিনি হলেন নুমান বিন আল-মুনজির বিন আল-মুনজির।

ইবনে ইসহাক বলেন: রবিআ বিন নাসর যখন মারা গেলেন, তখন সমগ্র ইয়ামেনের রাজত্ব ফিরে গেল হাসসান বিন তুব্বান আস'আদ (১) আবু কারিবের কাছে। আর তুব্বান আস'আদ হলেন দ্বিতীয় তুব্বা, যিনি কালকী কারিব বিন যায়িদের পুত্র। আর এই যায়িদ হলেন প্রথম তুব্বা বিন আমর যিল আয'আর (২) বিন আবরাহা যিল মানার (৩) বিন আর-রিশ। ইবনে হিশাম বলেন: তাঁকে আর-রাইশও বলা হয়। ইবনে ইসহাক বলেন: তিনি ছিলেন বিন আদি বিন সাইফি বিন সাবা আল-আসগার বিন কাব কাহফুল জুলুম বিন যায়িদ-এর পুত্র।

--------------------------------------------

১. এখানে দুটি নামকে একটি নাম বানানো হয়েছে। নামের প্রথম অংশের বিভক্তি পরিবর্তন করে দ্বিতীয় অংশকে তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা যেমন সঠিক, তেমনি নামের দ্বিতীয় অংশে বিভক্তি প্রদান করাও বৈধ। আর 'তুব্বান' শব্দটি এসেছে 'তিবানা' থেকে যার অর্থ মেধা ও বিচক্ষণতা। বলা হয়: মেধাবী ও বিচক্ষণ ব্যক্তি।

২. তাঁকে 'যিল আয'আর' বলা হতো কারণ তিনি পশ্চিমের দেশগুলোতে আক্রমণ করে এক অদ্ভুত আকৃতির জাতিকে বন্দী করে এনেছিলেন; মানুষ তাদের দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল, তাই তাঁকে এই নামে অভিহিত করা হয়।

৩. তাঁকে এই নামে ডাকা হতো কারণ তিনি তাঁর এক যুদ্ধাভিযানে পাহাড়ের চূড়ায় আগুন জ্বালিয়েছিলেন যাতে মানুষ পথ খুঁজে পায়।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনি হিশাম - তাহকীক ত্বহা আবদুর রাউফ সাদ (পৃষ্ঠা: ১৭)
ابن سَهْل، بْنِ عَمرو، بْنِ قَيْس، بْنِ مُعَاوِيَةَ، بْنِ جُشَم، بْنِ عَبْدِ شَمْسِ، بْنِ وَائِلِ، بْنِ الغَوْث، بْنِ قَطَن، بْنِ عَرِيب، بْنِ زُهَيْرِ، بْنِ أَيْمَنَ، بْنِ الهَمَيْسَع، بْنِ العَرَنْجَج. والعَرَنْجَج: حِمْيَر بْنُ سَبَأٍ الْأَكْبَرِ بْنِ يَعْرُب، بْنِ يَشْجُب، بْنِ قَحْطَانَ.

قَالَ ابْنُ هِشَامٍ: يَشْجُب: بن يَعْرُب بن قَحْطان.

قَالَ ابْنُ إسْحَاقَ: وتُبان أَسْعَدُ: أَبُو كَرِب الَّذِي قَدِمَ الْمَدِينَةَ، وَسَاقَ الحَبْرَيْن مِنْ يَهُودِ المدينة إلى اليمن، وعثر الْبَيْتَ الْحَرَامَ وَكَسَاهُ، وَكَانَ مُلكه قَبْلَ مُلك رَبِيعَةَ بْنِ نَصْرٍ.

قَالَ ابْنُ هِشَامٍ: وَهُوَ الَّذِي يُقال لَهُ:

لَيْتَ حَظِّي مِنْ أَبِي كَرِب … أن يسدّ خيرُه خبلَهْ1

تبان يغضب على أهل المدينة: قَالَ ابْنُ إسْحَاقَ: وَكَانَ قَدْ جَعَلَ طَرِيقَهُ -حِينَ أَقْبَلَ مِنْ الْمَشْرِقِ- عَلَى الْمَدِينَةِ، وَكَانَ قَدْ مَرَّ بِهَا فِي بَدْأَتِهِ، فَلَمْ يَهِجْ أهلَها، وَخَلَّفَ بَيْنَ أَظْهُرِهِمْ ابْنًا لَهُ، فقُتل غِيلةً، فَقَدِمَهَا، وَهُوَ مُجمع لِإِخْرَابِهَا، وَاسْتِئْصَالِ أَهْلِهَا، وَقَطْعِ نَخْلِهَا2، فَجُمِعَ لَهُ هَذَا الحيُّ مِنْ الْأَنْصَارِ، وَرَئِيسُهُمْ عَمْرُو بْنُ طَلَّة أَخُو بَنِي النَّجَّارِ، ثُمَّ أَحَدُ بَنِي عَمْرِو بْنِ مَبْذُولٍ، وَاسْمُ مَبْذُولٍ: عَامِرُ، بْنُ مَالِكِ بْنِ النَّجَّارِ، وَاسْمُ النَّجَّارِ: تَيْمُ اللَّهِ بْنُ ثَعْلَبَةَ، بْنِ عَمْرِو، بْنِ الْخَزْرَجِ، بْنِ حَارِثَةَ، بْنِ ثَعْلَبَةَ، بن عمرو، بن عامر.

عمرو بن طلة ونسبه: قَالَ ابْنُ هِشَامٍ: عَمْرُو بْنُ طَلَّة: عَمْرُو بْنُ مُعَاوِيَةَ، بْنِ عَمْرِو بْنِ عَامِرِ، بْنِ مَالِكِ بْنِ النَّجَّارِ، وطَلَّة: أُمُّهُ: وهىِ بِنْتُ عامر بن زُرَيق، بْنِ عَامِرِ بْنِ زُرَيق، بْنِ عَبْدِ حارثة بن مالك، بن غضْب، بن جُشَم، بن الخزرج.

--------------------------------------------

1 الخيل: الفساد. وقد نسب هذا البيت إلى الأعشى ولكن البرقى نسبه إلى عجوز من بني سالم، قالته حين جاء مالك بن العجلان بخبر تتبع. فدخل سرا، فقال لقومه: قد جاء تبع فقالت العجوز البيت.

2 يذكر القتبى أنه لم يقصد غزوها، وإنما قصد قتل اليهود الذين كانوا فيها، وذلك أن الأوس والخزرج كانوا نزولها معهم، حين خرجوا من اليمن على شروط وعهود كانت بينهم فلم يفِ بذلك يهود واستضاموهم، فاستغاثوا بتبع، فعند ذلك قدمها.
ইবন সাহল, বিন আমর, বিন কায়স, বিন মুয়াবিয়া, বিন জুশাম, বিন আবদ শামস, বিন ওয়াইল, বিন আল-গাওস, বিন ক্বাতান, বিন আরীব, বিন যুহায়র, বিন আয়মান, বিন আল-হামায়সা, বিন আল-আরানজাজ। আর আল-আরানজাজ হলেন: হিময়ার বিন সাবা আল-আকবার বিন ইয়ারুব বিন ইয়াশজুব বিন ক্বাহতান।

ইবন হিশাম বলেন: ইয়াশজুব হলেন ইয়ারুব বিন ক্বাহতানের পুত্র।

ইবন ইসহাক বলেন: এবং তুব্বান আস'আদ হলেন সেই আবু কারিব যিনি মদিনায় এসেছিলেন এবং মদিনার ইহুদিদের মধ্য থেকে দুইজন পণ্ডিতকে ইয়ামেনে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বাইতুল হারামের সম্মান রক্ষা করেন ও তাতে গিলাফ চড়ান। তাঁর রাজত্বকাল ছিল রাবিয়া বিন নাসরের রাজত্বকালের পূর্বে।

ইবন হিশাম বলেন: তিনি সেই ব্যক্তি যার সম্পর্কে বলা হয়:

আবু কারিবের নিকট থেকে আমার প্রাপ্তি কেবল এইটুকুই হোক … যেন তার কল্যাণ তার অকল্যাণকে ঢেকে দেয় ১

তুব্বান মদিনাবাসীদের ওপর রাগান্বিত হলেন: ইবন ইসহাক বলেন: তিনি যখন পূর্ব দিক থেকে ফিরছিলেন, তখন তিনি মদিনার ওপর দিয়ে তাঁর পথ নির্ধারণ করেছিলেন। ইতিপূর্বে যাত্রার শুরুতে তিনি সেখান দিয়ে অতিক্রম করেছিলেন এবং সেখানকার অধিবাসীদের কোনো কষ্ট দেননি। তিনি তাঁর এক পুত্রকে তাদের মাঝে রেখে গিয়েছিলেন, কিন্তু তাকে অতর্কিতে হত্যা করা হয়। ফলে তিনি সেখানে আসলেন এবং শহরটি বিধ্বস্ত করা, অধিবাসীদের সমূলে উচ্ছেদ করা এবং এর খেজুর গাছগুলো কেটে ফেলার ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প করলেন ২। তখন আনসারদের এই গোত্রটি তাঁর বিরুদ্ধে সমবেত হলো। তাদের প্রধান ছিলেন বনু নাজ্জার গোত্রের আমর বিন তাল্লাহ। তিনি বনু আমর বিন মাবযুলের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। মাবযুলের নাম হলো আমির বিন মালিক বিন নাজ্জার। নাজ্জারের নাম হলো তাইমুল্লাহ বিন সা'লাবা বিন আমর বিন খাযরাজ বিন হারিসা বিন সা'লাবা বিন আমর বিন আমির।

আমর বিন তাল্লাহ ও তাঁর বংশপরিচয়: ইবন হিশাম বলেন: আমর বিন তাল্লাহ হলেন আমর বিন মুয়াবিয়া বিন আমর বিন আমির বিন মালিক বিন নাজ্জার। আর তাল্লাহ ছিলেন তাঁর মা; তিনি হলেন আমির বিন ঝুরাইক বিন আমির বিন ঝুরাইক বিন আবদ হারিসা বিন মালিক বিন গাদব বিন জুশাম বিন খাযরাজের কন্যা।

--------------------------------------------

১ খাবাল: অকল্যাণ বা বিপর্যয়। এই পঙ্ক্তিটি আল-আ'শার দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে, তবে আল-বারকি একে বনু সালিমের এক বৃদ্ধার প্রতি নিসবত করেছেন। মালিক বিন আল-আজলান যখন তুব্বানের আগমনের সংবাদ নিয়ে এসেছিলেন তখন তিনি এটি বলেছিলেন। তিনি গোপনে প্রবেশ করে তাঁর কওমকে বললেন: তুব্বান এসেছে। তখন বৃদ্ধা এই পঙ্ক্তিটি উচ্চারণ করেছিলেন।

২ আল-কুতায়বি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মূলত মদিনা আক্রমণের ইচ্ছা করেননি, বরং সেখানে বসবাসরত ইহুদিদের হত্যার সংকল্প করেছিলেন। কারণ আউস ও খাযরাজ গোত্র যখন ইয়ামেন থেকে বের হয়ে সেখানে তাদের সাথে কিছু শর্ত ও চুক্তির ভিত্তিতে বসবাস করছিল, তখন ইহুদিরা তা রক্ষা করেনি এবং তাদের ওপর অন্যায় করেছিল। ফলে তারা তুব্বানের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে এবং তখনই তিনি সেখানে আগমন করেন।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনি হিশাম - তাহকীক ত্বহা আবদুর রাউফ সাদ (পৃষ্ঠা: ১৮)
قصة مقاتلة تُبَّانَ لِأَهْلِ الْمَدِينَةِ: قَالَ ابْنُ إسْحَاقَ: وَقَدْ كَانَ رَجُلٌ مِنْ بَنِي عَدِيِّ بْنِ النَّجَّارِ يقال له: أحمر، عدا على رجال من أصحاب تُبَّع في نَزَلَ بِهِمْ فَقَتَلَهُ. وَذَلِكَ أَنَّهُ وَجَدَهُ فِي عَذْق لَهُ يَجُدُّه1 فَضَرَبَهُ بِمِنْجَلِهِ فَقَتَلَهُ، وَقَالَ: إنَّمَا التَّمْرُ لِمَنْ أَبَّرَهُ2، فَزَادَ ذَلِكَ تُبعًا حنقا عليهم، قال: فَاقْتَتَلُوا، فتزعُم الأنْصار أَنَّهُمْ كَانُوا يُقَاتِلُونَهُ بِالنَّهَارِ، وَيَقْرُونَهُ بِاللَّيْلِ، فَيُعْجِبُهُ ذَلِكَ مِنْهُمْ، وَيَقُولُ: وَاَللَّهِ إن قومَنا لكرام!!.

فبينا تُبع على ذلك من قتالهم؛ إذا جَاءَهُ حَبران مِنْ أَحْبَارِ الْيَهُودِ، مِنْ بَنِي قُرَيظة، وقريظة والنضير والنَّحَّام وَعَمْرٌو -وَهُوَ هَدَل3- بَنُو الْخَزْرَجِ بْنِ الصَّرِيحِ بن التَّوْمان4، بْنِ السِّبط بْنِ الْيَسَعَ، بْنِ سَعْدِ، بْنِ لاوي، بن خير، بن النحام، بن تنحوم، بن عازر، عِزرى، بْنِ هَارُونَ بْنِ عِمْرَانَ، بْنِ يَصْهَرَ، بن قاهث، بن لَاويّ بن يعقوب: وهو إسرائيل -ابن إسْحَاقَ بْنِ إبْرَاهِيمَ خَلِيلِ الرَّحْمَنِ -صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِمْ- عَالِمَانِ رَاسِخَانِ فِي الْعِلْمِ، حِينَ سَمِعَا بِمَا يُرِيدُ مِنْ إهْلَاكِ الْمَدِينَةِ وَأَهْلِهَا، فَقَالَا لَهُ: أَيُّهَا الْمَلِكُ، لَا تَفْعَلْ، فَإِنَّكَ إنْ أَبَيْتَ إلَّا مَا تُرِيدُ حِيلَ بَيْنَكَ وَبَيْنَهَا، وَلَمْ نَأْمَنْ عَلَيْكَ عاجلَ الْعُقُوبَةِ، فَقَالَ لَهُمَا: وَلِمَ ذَلِكَ؟ فَقَالَا: هِيَ مهاجَر نَبِيٍّ يَخْرُجُ مِنْ هَذَا الْحَرَمِ مِنْ قُرَيْشٍ فِي آخِرِ الزَّمَانِ، تَكُونُ دارَه وقرارَه، فَتَنَاهَى عَنْ ذَلِكَ، وَرَأَى أَنَّ لَهُمَا عِلْمًا، وَأَعْجَبَهُ مَا سَمِعَ مِنْهُمَا، فَانْصَرَفَ عَنْ الْمَدِينَةِ، وَاتَّبَعَهُمَا عَلَى دِينِهِمَا، فَقَالَ خَالِدُ بْنُ عَبْدِ العُزَّى بْنِ غَزِيَّة بن عمرو بْنِ عَبْدِ بْنِ عَوْفِ بْنِ غُنْم بْنِ مَالِكِ بْنِ النَّجَّارِ يَفْخَرُ بِعَمْرِو بْنِ طَلَّة:

أَصَحَّا أَمْ قَدْ نَهَى ذُكَرَهْ … أَمْ قَضَى من لذةٍ وسرهْ5

--------------------------------------------

1 العذق: النخل، ويجده: يقطعه.

2 أبر النخل: لقحه وأصلحه.

3 هدل: بفتح الدال والهاء، كأنه مصدر: هدل هدلا إذا استرخت شفته، وذكره الأمير بن ماكولا عن أبي عبدة النسابة فقال فيه: هدل بسكون الدال.

4 التومان: على وزن فعلان. كأنه من لفظ التوم، وهو الدر.

5 الذكر: جمع ذكره. والمستعمل في هذا المعنى ذكرى بالألف وقلما يجمع فعلى على فُعَل وإنما يجمع على فعال، فإن كان أراد في هذا البيت جمع ذكرى، وشبه ألف التأنيث بهاء التأنيث، فله وجه: قد يحملون على الشيء إذا كان في معناه.
মদিনাবাসীর বিরুদ্ধে তুব্বানের যুদ্ধের কাহিনী: ইবনে ইসহাক বলেন: বনু আদি ইবনুন নাজ্জারের আহমার নামক এক ব্যক্তি তুব্বার একদল সঙ্গীর ওপর চড়াও হন এবং তাদের হত্যা করেন যখন তারা সেখানে অবস্থান করছিলেন। এর কারণ হলো, তিনি তাকে নিজের একটি খেজুর গাছে খেজুর সংগ্রহ করতে দেখে কাঁচি দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করেন এবং বলেন: 'খেজুর কেবল তারই প্রাপ্য যে পরাগায়ন করেছে'। এতে তুব্বার তাদের ওপর ক্ষোভ আরও বেড়ে গেল। তিনি বলেন: অতঃপর তারা যুদ্ধে লিপ্ত হলো। আনসারগণ দাবি করেন যে, তারা দিনের বেলা তুব্বার সাথে যুদ্ধ করতেন এবং রাতে তাকে মেহমানদারি করতেন। তাদের এই আচরণ তাকে মুগ্ধ করত এবং তিনি বলতেন: 'আল্লাহর কসম, আমাদের এই কওম তো অতিশয় মহানুভব!!'.

তুব্বা যখন তাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত ছিলেন, তখন বনু কুরাইজার ইয়াহুদি পণ্ডিতদের মধ্য থেকে দুই জন পণ্ডিত তার নিকট আসলেন। কুরাইজা, নাযির, নাহহাম এবং আমর —যিনি হাদাল নামে পরিচিত— তারা খাযরাজ ইবনুস সারিহ ইবনুস তাওমান ইবনুস সিবত ইবনুল ইয়াসা ইবনে সাদ ইবনে লাবি ইবনে খায়ের ইবনুন নাহহাম ইবনে তানহুম ইবনে আযর, ইযরা, ইবনে হারুন ইবনে ইমরান ইবনে ইয়াসহার ইবনে কাহাছ ইবনে লাবি ইবনে ইয়াকুব: আর তিনি হলেন ইসরাইল —ইবনে ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম খলিলুর রহমান —তাদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক— এর বংশধর। তারা দুজন ছিলেন ইলমে সুগভীর আলেম। যখন তারা শুনলেন যে তুব্বা মদিনা ও এর অধিবাসীদের ধ্বংস করতে চাইছেন, তখন তারা তাকে বললেন: 'হে সম্রাট, এমনটি করবেন না। কেননা আপনি যদি আপনার ইচ্ছার ওপর অটল থাকেন, তবে আপনার ও এই শহরের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হবে এবং আপনার ওপর দ্রুত আজাব নেমে আসার আশঙ্কা থেকে আমরা আপনাকে নিরাপদ মনে করছি না'। তিনি তাদের বললেন: 'তা কেন?' তারা বললেন: 'এটি শেষ জামানায় এই পবিত্র ভূমি থেকে কুরাইশ বংশে জন্ম নেওয়া এক নবীর হিজরতস্থল, এটিই হবে তাঁর আবাস ও স্থায়ী ঠিকানা'। তখন তিনি তা থেকে বিরত হলেন এবং বুঝলেন যে তাদের জ্ঞান আছে। তাদের কথা তার ভালো লাগল। ফলে তিনি মদিনা থেকে ফিরে গেলেন এবং তাদের ধর্ম অনুসরণ করলেন। অতঃপর খালিদ ইবনে আবদিল উযযা ইবনে গাযিয়্যাহ ইবনে আমর ইবনে আবদ ইবনে আউফ ইবনে গুনম ইবনে মালিক ইবনুন নাজ্জার আমর ইবনে তাল্লাকে নিয়ে গর্ব করে বলেন:

সুস্থ হয়েছ কি না, নাকি স্মৃতির সতর্কবাণী তাকে বিরত করেছে … নাকি তৃপ্তি ও গোপনীয়তা থেকে অবসর পেয়েছে

--------------------------------------------

১. আল-আযক: খেজুর গাছ; ইয়াঝুদ্দুহু: তা কাটা বা সংগ্রহ করা।

২. খেজুরের আববারা: অর্থাৎ পরাগায়ন ও সংশোধন করেছে।

৩. হাদাল: দাল ও হা বর্ণে ফাতহা যোগে, যেন এটি একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল): হাদাল হাদালান যখন কারও ঠোঁট ঝুলে যায়। আমির ইবনে মাকুলা আবু আবদাহ বংশবিশারদ থেকে এটি উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে বলেছেন: দাল বর্ণে সুকুন যোগে হাদল।

৪. আত-তাওমান: ফালান ছন্দে। যেন এটি আল-তাউম শব্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ মুক্তা।

৫. আয-যিকর: যিকরা শব্দের বহুবচন। এই অর্থে আলিফ যোগে যিকরা শব্দটি ব্যবহৃত হয় এবং খুব কমই ফুয়ালা ছন্দের শব্দের বহুবচন ফুআল ছন্দে আসে, বরং এটি ফিআল ছন্দে আসে। যদি এই পঙক্তিতে তিনি যিকরা শব্দের বহুবচন উদ্দেশ্য করে থাকেন এবং স্ত্রীলিঙ্গবাচক আলিফকে স্ত্রীলিঙ্গবাচক হা-এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ মনে করেন, তবে তার একটি ব্যাখ্যা হতে পারে: অর্থের মিল থাকলে তারা অনেক সময় একটিকে অন্যটির ওপর প্রয়োগ করেন।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনি হিশাম - তাহকীক ত্বহা আবদুর রাউফ সাদ (পৃষ্ঠা: ১৯)
أَمْ تذكرْتَ الشبابَ، وَمَا … ذِكرُك الشَّبَابَ أَوْ عُصُرَهْ1

إنَّهَا حَرْبٌ رباعِيةٌ … مثلُها أَتَى الْفَتَى عِبَره2

فَاسْأَلَا عمرانَ أَوْ أَسَدًا … إذْ أَتَتْ عَدْوًا مَعَ الزُّهَرَة3

فَيْلَقٌ فِيهَا أَبُو كَرِبٍ … سُبَّغ أبدانُها ذَفِرَهْ4

ثُمَّ قَالُوا: مَنْ نَؤُمُّ بِهَا … أَبَنِي عَوْفٍ، أَمْ النجرَه؟ 5

بَلْ بَنِي النَّجَّارِ إنَّ لَنَا … فِيهِمْ قَتْلَى، وإنَّ تِرَهْ6

فتلقَّتهم مُسايفة … مَدُّها كالغيبةِ النَّثِرهْ7

فِيهِمْ عَمْرُو بنُ طَلَّةَ مَلّى … الإلهُ قومه عُمُرَهْ8

--------------------------------------------

1 أو عصره، أراد أو عصره وهما لغتان كما قال ابن جني ليس شيء على وزن فَعْل يمتنع فيه فُعَل. انظر: "الروض الأنف بتحقيقنا ج1 ص37".

2 حرب رباعية: مثل: أي ليست بصغيرة ولا جذعة، بل هي فوق ذلك، وضرب سن الرباعية مثلا، كما يقال: حرب عوان؛ لأن العوان أقوى من الفتية وأدرب.

3 يريد صبحهم بغلس: وهي ظلمة آخر الليل قبل مغيب الزهرة: وهي نجم معروف شديد اللمعان.

4 سبغ: كاملة. والأبدان: الدروع. وذفرة من الذفر وهي سطوع الرائحة طيبة كانت أو كريهة، وأما الدفر، فإنه فيما كره من الروائح، ومنه قيل للدنيا أم دفر.

5 النجرة جمع ناجر، والناجر والنجار: بمعنى واحد، وهذا كما قيل المناذرة في بني المنذر، والنجار، وهم: تيم الله بن ثعلبة بن عمرو بن الخزرج، وسمي النجار؛ لأنه نجر وجه رجل بقدوم فيما ذكر بعض أهل النسب.

6 فيهم قتلى وإنَّ تره: أظهر إن بعد الواو. أراد: إن لها قتلى وترة، والترة: الوتر. انظر تفصيل ذلك في: "الروض الأنف بتحقيقنا ج1 ص38".

7 مسايفة: أي كتيبة مسايفة. والغيبة: الدفعة من المطر. والنثرة: المنتثرة، وهي التي لا تمسك الماء.

8 ملى. من قولهم: تمليته حينا. أي عشت معه حينًا وهو مأخوذ من الملاوة والملوين وفي القاموس. ملاك الله حبيبك تملية: متعك به، وتملى عمره. استمتع فيه، والملأ: الصحراء والملوان: الليل والنهار.
নাকি তুমি যৌবনকে স্মরণ করেছ? আর তোমার যৌবন বা তার সময়ের স্মৃতিচারণ কী-ই বা বয়ে আনে! ১

নিশ্চয়ই এটি একটি পূর্ণাঙ্গ (রুবাইয়্যাহ) যুদ্ধ... যার সদৃশ ঘটনা যুবকের জন্য শিক্ষা বয়ে এনেছে। ২

তোমরা ইমরান অথবা আসাদকে জিজ্ঞেস করো... যখন এটি (সেনাদল) শুক্রগ্রহের সাথে (ভোরবেলা) দ্রুতগতিতে ধেয়ে এসেছিল। ৩

এমন এক বিশাল বাহিনী যাতে রয়েছেন আবু কারিব... তাদের বর্মগুলো ছিল পূর্ণাঙ্গ এবং সুগন্ধময়। ৪

অতঃপর তারা বলল: আমরা এর মাধ্যমে কার দিকে লক্ষ্য করব? বনু আওফ নাকি বনু নাজরার দিকে? ৫

বরং বনু নাজ্জারের দিকে; কেননা তাদের মাঝে আমাদের নিহত লোক রয়েছে এবং রয়েছে রক্তের প্রতিশোধ। ৬

অতঃপর তলোয়ারধারী এক সৈন্যদল তাদের মোকাবিলা করল... যাদের বিস্তার ছিল অবিরাম বর্ষিত বৃষ্টির মতো। ৭

তাদের মাঝে ছিলেন আমর বিন তাল্লাহ, যাকে ইলাহ (আল্লাহ) তার সম্প্রদায়ের জন্য দীর্ঘকাল জীবিত রেখেছিলেন। ৮

--------------------------------------------

১ বা তার কাল (উসুরুহু), তিনি তার কালই বুঝিয়েছেন এবং এ দুটি একই শব্দের দুটি রূপ, যেমনটি ইবনে জিন্নি বলেছেন যে, ‘ফায়ল’ ওজনের এমন কোনো শব্দ নেই যার ‘ফুয়াল’ ওজন হওয়া অসম্ভব। দেখুন: আমাদের সম্পাদিত “আর-রাওদুল উনুফ”, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৭।

২ রুবাইয়্যাহ যুদ্ধ: এটি একটি উপমা; অর্থাৎ এটি ছোট বা নতুন কোনো যুদ্ধ নয়, বরং তার চেয়েও বড়। এখানে দাঁত গজানোর বয়সকে (রুবাইয়্যাহ) উদাহরণ হিসেবে পেশ করা হয়েছে, যেমনটি ‘হারবে আওয়ান’ (পরিপক্ক যুদ্ধ) বলা হয়; কারণ পরিপক্করা যুবকদের চেয়ে শক্তিশালী ও অভিজ্ঞ হয়।

৩ তিনি বুঝিয়েছেন যে, তারা ভোরে অন্ধকার থাকতে তাদের ওপর আক্রমণ করেছে। এটি রাতের শেষের দিকের অন্ধকার, শুক্রগ্রহ ডুবে যাওয়ার ঠিক আগের সময়; এটি একটি সুপরিচিত অতি উজ্জ্বল নক্ষত্র।

৪ সুববাঘ: পূর্ণাঙ্গ। আর আবদান: বর্মসমূহ। দাফিরাহ শব্দটি ‘দাফার’ থেকে আগত, যার অর্থ কড়া ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়া, তা সুগন্ধ হোক বা দুর্গন্ধ। তবে ‘দাফার’ (দাল দিয়ে) সাধারণত দুর্গন্ধের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, এজন্য দুনিয়াকে ‘উম্মু দাফার’ (দুর্গন্ধের জননী) বলা হয়।

৫ নাজরাহ হলো নাজিরের বহুবচন। নাজির এবং নাজ্জার একই অর্থবোধক। যেমনটি বনু মুনজিরের ক্ষেত্রে মুনাজিরাহ বলা হয়। নাজ্জার গোত্র হলো: তায়মুল্লাহ বিন সালাবা বিন আমর বিন খাজরাজ। তাকে নাজ্জার (কাঠমিস্ত্রি) বলা হয়েছে কারণ তিনি এক ব্যক্তির মুখমণ্ডল কুড়াল দিয়ে খোদাই করেছিলেন, যা কিছু বংশবিদ উল্লেখ করেছেন।

৬ তাদের মাঝে নিহত ব্যক্তি এবং রক্তের প্রতিশোধ রয়েছে: এখানে ‘ওয়াও’ বর্ণের পরে ‘ইন্না’ প্রকাশ করা হয়েছে। তিনি বুঝিয়েছেন যে, তাদের জন্য নিহত ব্যক্তি ও তিরাহ রয়েছে। তিরাহ মানে হলো প্রতিশোধ (উতর)। এর বিস্তারিত বিবরণ দেখুন: আমাদের সম্পাদিত “আর-রাওদুল উনুফ”, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৮।

৭ মুসাইফাহ: অর্থাৎ তলোয়ারধারী সৈন্যদল। গাইবাহ: বৃষ্টির প্রবল ধারা। নাসরাহ: বিক্ষিপ্ত বা যা পানি ধরে রাখে না।

৮ মাল্লা: এটি তাদের কথা ‘তামাল্লাইতুহু হাইনান’ (আমি তার সাথে দীর্ঘকাল কাটিয়েছি) থেকে এসেছে। অর্থাৎ আমি তার সাথে কিছুকাল বসবাস করেছি। এটি ‘মালাওয়াহ’ এবং ‘মালওয়াইন’ থেকে গৃহীত। কামুস অভিধানে আছে: ‘আল্লাহ তোমাকে তোমার প্রিয়জনের সঙ্গ দিয়ে ধন্য করুন’। ‘তামাল্লা উমরাহু’ অর্থ সে তার জীবন উপভোগ করেছে। ‘মালা’ অর্থ মরুভূমি এবং ‘মালওয়াইন’ অর্থ দিন ও রাত।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনি হিশাম - তাহকীক ত্বহা আবদুর রাউফ সাদ (পৃষ্ঠা: ২০)
سَيْد سام الملوكَ وَمَنْ … رَامَ عَمرًا لَا يكنْ قَدَرَهْ

وَهَذَا الْحَيُّ مِنْ الْأَنْصَارِ يَزْعُمُونَ أَنَّهُ إنَّمَا كَانَ حَنَقُ تُبع عَلَى هَذَا الْحَيِّ مِنْ يَهُودَ الَّذِينَ كَانُوا بَيْنَ أَظْهُرِهِمْ، وَإِنَّمَا أَرَادَ هَلَاكَهُمْ، فَمَنَعُوهُمْ مِنْهُ، حَتَّى انْصَرَفَ عَنْهُمْ، وَلِذَلِكَ قَالَ فِي شِعْرِهِ:

حَنقًا عَلَى سِبْطين حلَّا يَثْرِبَا … أوْلى لَهُمْ بِعِقَابِ يَوْمٍ مُفْسِدِ

قَالَ ابن هشام: الشعر الذي فيه هَذَا الْبَيْتِ مَصْنُوعٌ، فَذَلِكَ الَّذِي مَنَعَنَا مِنْ إثباته1.

تبَّع يذهب إلى مكة ويطوف بالكعبة: قَالَ ابْنُ إسْحَاقَ: وَكَانَ تُبَّعٌ وَقَوْمُهُ أَصْحَابَ أَوْثَانٍ يَعْبُدُونَهَا، فَتَوَجَّهَ إلَى مَكَّةَ، وَهِيَ طريقهُ إلَى الْيَمَنِ، حَتَّى إذَا كَانَ بَيْنَ عسْفان، وأمَج أَتَاهُ نَفَرٌ مِنْ هُذيل بْنِ مُدركة بن إلياس بن مضر بن نزار بن مَعَدٍّ؛ فَقَالُوا لَهُ: أَيُّهَا الْمَلِكُ أَلَا نَدُلُّكَ على بيت مال دائر، أَغَفَلَتْهُ الْمُلُوكُ قَبْلك، فِيهِ اللُّؤْلُؤُ وَالزَّبَرْجَدُ وَالْيَاقُوتُ وَالذَّهَبُ وَالْفِضَّةُ؟ قَالَ: بَلَى قَالُوا: بَيْتٌ بِمَكَّةَ يَعْبُدُهُ أَهْلُهُ، وَيُصَلُّونَ عِنْدَهُ. وَإِنَّمَا أَرَادَ الْهُذَلِيُّونَ هَلَاكَهُ بِذَلِكَ، لِمَا عَرَفُوا مِنْ هَلَاكِ مَنْ أَرَادَهُ مِنْ الْمُلُوكِ وبغَى عِنْدَهُ. فَلَمَّا أَجْمَعَ لِمَا قَالُوا، أَرْسَلَ إلَى الْحَبْرَيْنِ، فَسَأَلَهُمَا عَنْ ذَلِكَ فَقَالَا لَهُ: مَا أَرَادَ الْقَوْمُ إلَّا هلاكَك وَهَلَاكَ جُنْدِكَ. مَا نَعْلَمُ بَيْتًا لِلَّهِ اتَّخَذَهُ فِي الْأَرْضِ لِنَفْسِهِ غَيْرَهُ، وَلَئِنْ فَعَلْتَ مَا دَعَوْكَ إلَيْهِ، لَتَهْلَكَنَّ وَلَيَهْلَكَنَّ مَنْ مَعَكَ جَمِيعًا، قَالَ: فَمَاذَا تَأْمُرَانِنِي أَنْ أَصْنَعَ إذَا أنا قدمت إليه قَالَا: تَصْنَعُ عِنْدَهُ مَا يَصْنَعُ أَهْلُهُ: تَطُوفُ بِهِ وَتُعَظِّمُهُ وتكرِّمه، وَتَحْلِقُ رَأْسَكَ عِنْدَهُ وتذِل لَهُ، حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ عِنْدِهِ، قَالَ: فَمَا يمنعكما أنتما من ذلك، قالا: أَمَا وَاَللَّهِ إنَّهُ لَبَيْتُ أَبِينَا إبْرَاهِيمَ، وَإِنَّهُ لَكَمَا أَخْبَرْنَاكَ، وَلَكِنَّ أَهْلَهُ حَالُوا بَيْنَنَا وَبَيْنَهُ بِالْأَوْثَانِ الَّتِي نَصَبُوهَا حولَه، وَبِالدِّمَاءِ الَّتِي يُهْرقون عِنْدَهُ، وَهُمْ نَجِس أهلُ شِرْكٍ –أَوْ كَمَا قَالَا لَهُ– فَعَرَفَ نصحَهما وَصِدْقَ حَدِيثِهِمَا فَقَرَّبَ النَّفَرَ مِنْ هُذيل، فَقَطَعَ أَيْدِيَهُمْ وَأَرْجُلَهُمْ، ثُمَّ مَضَى حَتَّى قَدِمَ مَكَّةَ، فَطَافَ بِالْبَيْتِ، وَنَحَرَ عِنْدَهُ، وَحَلَقَ رَأْسَهُ وَأَقَامَ بِمَكَّةَ سِتَّةَ أَيَّامٍ –فيما يذكرون– ينحر بها للناس

--------------------------------------------

1 على الرغم من زعم ابن هشام أن هذا البيت مصنوع فقد ذكره ضمن قصيد مطول في كتاب التيجان. أوله:

مَا بَالُ عَيْنِكَ لَا تَنَامُ، كَأَنَّمَا

كُحِلَتْ مآقيها بسم الأسود
সায়্যিদ সাম রাজাদের সরদার এবং যে কেউ … আমরের আকাঙ্ক্ষা করে সে তার সমকক্ষ হতে পারে না।

আনসারদের এই গোত্রটি দাবি করে যে, ইয়াসরিবে বসবাসকারী ইহুদিদের প্রতিই তুব্বা রাগান্বিত ছিলেন এবং তিনি তাদের ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন। তারা (আনসাররা) তাকে বাধা প্রদান করে, অবশেষে তিনি তাদের নিকট থেকে ফিরে যান। এই কারণে তিনি তার কবিতায় বলেছেন:

ইয়াসরিবে বসবাসকারী দুটি গোত্রের ওপর রাগান্বিত হয়ে … ধ্বংসাত্মক দিনের শাস্তির ব্যাপারে তাদের সতর্ক করা হয়েছে।

ইবনে হিশাম বলেন: এই কবিতাটি যাতে এই পঙ্ক্তিটি রয়েছে তা বানোয়াট, আর এ কারণেই আমি এটি অন্তর্ভুক্ত করা থেকে বিরত থেকেছি।১

তুব্বা মক্কায় গমন করেন এবং কাবা তাওয়াফ করেন: ইবনে ইসহাক বলেন: তুব্বা এবং তার কওম মূর্তিপূজক ছিল। তিনি মক্কার দিকে রওনা হলেন, যা ছিল ইয়েমেনে যাওয়ার পথ। যখন তিনি উসফান এবং আমাজের মধ্যবর্তী স্থানে পৌঁছালেন, তখন হুযাইল বিন মুদরিকাহ বিন ইলিয়াস বিন মুদার বিন নিজার বিন মাআদ গোত্রের একদল লোক তার কাছে এল। তারা বলল: হে রাজা! আমরা কি আপনাকে এমন এক ধনাগারের সন্ধান দেব না যা পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে এবং আপনার পূর্ববর্তী রাজারা তা অবহেলা করেছেন? সেখানে মুক্তা, পান্না, ইয়াকুত, স্বর্ণ ও রৌপ্য রয়েছে। তিনি বললেন: অবশ্যই। তারা বলল: মক্কায় এমন একটি ঘর আছে যার অধিবাসীরা তার ইবাদত করে এবং তার নিকট প্রার্থনা করে। হুযাইল গোত্রের লোকেরা এর মাধ্যমে তার ধ্বংস কামনা করেছিল, কারণ তারা জানত যে, যে রাজাই এর ক্ষতি করতে চেয়েছে এবং সেখানে সীমালঙ্ঘন করেছে সে ধ্বংস হয়েছে। যখন তিনি তাদের কথামতো কাজ করার সিদ্ধান্ত নিলেন, তখন তিনি সেই দুই পণ্ডিতের কাছে লোক পাঠিয়ে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন। তারা তাকে বলল: এই লোকগুলো আপনার এবং আপনার সেনাবাহিনীর ধ্বংস ছাড়া আর কিছুই চায় না। আমরা পৃথিবীতে আল্লাহ নিজের জন্য গ্রহণ করেছেন এমন কোনো ঘর এই ঘরটি ব্যতীত জানি না। তারা আপনাকে যা করতে প্ররোচিত করছে আপনি যদি তা করেন, তবে আপনি এবং আপনার সাথে থাকা সকলেই অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যাবেন। তিনি বললেন: তাহলে আমি যখন সেখানে পৌঁছাব তখন আপনারা আমাকে কী করতে নির্দেশ দিচ্ছেন? তারা বলল: সেখানকার অধিবাসীরা যা করে আপনিও তাই করবেন: তার তাওয়াফ করবেন, তাকে সম্মান ও মর্যাদা দেবেন, সেখানে নিজের মাথা মুণ্ডন করবেন এবং তার প্রতি বিনয় প্রদর্শন করবেন, যতক্ষণ না আপনি সেখান থেকে বের হন। তিনি বললেন: আপনাদের নিজেদের এই কাজ করতে কিসে বাধা দিচ্ছে? তারা বলল: আল্লাহর কসম, এটি আমাদের পিতা ইবরাহিমের ঘর এবং এটি তেমনই যেমন আমরা আপনাকে বলেছি। কিন্তু সেখানকার অধিবাসীরা এর চারপাশে স্থাপিত মূর্তিসমূহ এবং সেখানে তারা যে রক্ত প্রবাহিত করে তার মাধ্যমে আমাদের এবং এই ঘরের মাঝে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। আর তারা অপবিত্র ও শিরককারী লোক— অথবা তারা তাকে যেমনটি বলেছিলেন। তিনি তাদের হিতাকাঙ্ক্ষা এবং কথার সত্যতা বুঝতে পারলেন। এরপর তিনি হুযাইল গোত্রের সেই লোকদের কাছে ডাকলেন এবং তাদের হাত ও পা কেটে ফেললেন। তারপর তিনি অগ্রসর হলেন এবং মক্কায় পৌঁছালেন। তিনি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করলেন, সেখানে পশু জবাই করলেন, মাথা মুণ্ডন করলেন এবং মক্কায় ছয় দিন অবস্থান করলেন— যেমনটি তারা বর্ণনা করে— সেখানে তিনি মানুষের জন্য ভোজের আয়োজন করতেন।

--------------------------------------------

১ ইবনে হিশাম এই পঙ্ক্তিটি বানোয়াট হওয়ার দাবি সত্ত্বেও, তিনি এটি 'কিতাবুত তিজান'-এর একটি দীর্ঘ কবিতার মধ্যে উল্লেখ করেছেন। যার শুরুটি হলো:

তোমার চোখের কী হলো যে তা ঘুমায় না, যেন

তার পল্লবগুলোতে বিষধর সাপের বিষ মাখানো হয়েছে।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনি হিশাম - তাহকীক ত্বহা আবদুর রাউফ সাদ (পৃষ্ঠা: ২১)
وَيُطْعِمُ أَهْلَهَا، وَيَسْقِيهِمْ الْعَسَلَ، وأرِيَ فِي الْمَنَامِ أَنْ يَكْسُوَ الْبَيْتَ، فَكَسَاهُ الخَصَف1 ثُمَّ أرِيَ أَنْ يَكْسُوَهُ أحسنَ مِنْ ذَلِكَ فَكَسَاهُ المَعافرَ2، ثُمَّ أُرَى أَنْ يَكْسُوَهُ أحسنَ مِنْ ذَلِكَ فَكَسَاهُ المُلاء وَالْوَصَائِلَ3، فَكَانَ تُبع -فِيمَا يزعُمون-أَوَّلَ مَنْ كَسَا الْبَيْتَ4، وَأَوْصَى بِهِ وُلَاتَهُ مِنْ جُرْهُمٍ، وَأَمَرَهُمْ بِتَطْهِيرِهِ وَأَلَّا يُقَرِّبُوهُ دَمًا، ولا ميتة، ولا مئلاتا -وَهِيَ الْمَحَايِضُ5- وَجَعَلَ لَهُ بَابًا وَمِفْتَاحًا، وَقَالَتْ سُبَيْعة بِنْتُ الأحَبِّ، بْنِ زَبينة، بْنِ جَذِيمَةَ، بن عوف، بْنِ مُعَاوِيَةَ، بْنِ بَكْرِ، بْنِ هَوَازِنَ، بْنِ مَنْصُورِ، بْنِ عِكرمة، بْنِ خَصَفة، بْنِ قَيْسِ، بْنِ عَيْلَانَ، وَكَانَتْ عِنْدَ عَبْدِ مَنَافِ بْنِ كَعْبِ، بْنِ سَعْدِ، بْنِ تَيْم، بْنِ مُرة، بْنِ كَعْبِ، بْنِ لُؤَي، بْنِ غَالِبِ، بْنِ فِهْر، بْنِ مَالِكِ، بْنِ النَّضْرِ، بْنِ كِنَانَةَ، لِابْنِ لَهَا مِنْهُ يُقَالُ لَهُ: خَالِدٌ: تعظِّم عليه حرمة مكة، تنهاه عن البغي فيها، وتذكر تُبَّعا وتُذَلِّلُهُ له، وما صنع بها:

--------------------------------------------

1 الخصف: جمع خصفة وهي شيء ينسج من الخوص والليف، والخصف أيضًا: الثياب الغليظة.

2 المعافر: ثياب يمنية.

3 الملاء: جميع ملاءة، وهي الملحفة. والوصائل: ثياب موصلة من ثياب اليمن.

ويروى أن تبعًا لَمّا كسا البيت المسوح والأنطاع انتفض البيت فزال ذلك عنه، وفعل ذلك حين كساه الخصف، فلما كساه الملاء والوصائل قبلها.

4 قال ابن إسحاق: أو من كسا الكعبة الديباج: الحجاج، وذكر الدارقطنى: أنها نتيلة بنت جناب أم العباس بن عبد المطلب، كانت قد أضلت العباس صغيرًا. فنذرت: إن وجدته أن تكسو الكعبة الديباج ففعلت ذلك حين وجدته. وقال الزبير النسابة: بل أول من كساها الديباج عبد الله بن الزبير.

5 لم يرد النساء الحيض: لأن حائضا لا يجمع على محائض: وإنما هي جمع محيضة، وهي خرقة المحيض. ويقال للخرقة أيضًا: مثلاة؛ وجمعها: المآلي.

6 وقال أبو عبيدة: بنت الأجب -بالجيم- وقد قالت هذا الشعر في حرب كانت بين بني السبقا بن عبد الدار، وبين بني علي بن سعد بن تميم حتى تفانوا.
তিনি (তুব্বা) এর অধিবাসীদের খাওয়াতেন এবং তাদের মধু পান করাতেন। তিনি স্বপ্নে দেখলেন যে তিনি বায়তুল্লাহকে (কাবা) গিলাফ পরাচ্ছেন, অতঃপর তিনি একে ‘খাসাফ’ দ্বারা আবৃত করলেন। এরপর তিনি পুনরায় স্বপ্নে দেখলেন যে তিনি একে এর চেয়ে উত্তম কিছু দ্বারা আবৃত করছেন, ফলে তিনি একে ‘মাআফির’ দ্বারা আবৃত করলেন। এরপর তিনি স্বপ্নে দেখলেন যে তিনি একে আরও উত্তম কিছু দ্বারা আবৃত করছেন, তখন তিনি একে ‘মুলা’ এবং ‘ওয়াসাইল’ দ্বারা আবৃত করলেন। লোকমুখে প্রচলিত দাবি অনুযায়ী—তুব্বাই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি বায়তুল্লাহকে গিলাফ পরিয়েছিলেন। তিনি জুরহুম গোত্রের নিজ শাসনকর্তাদের এ বিষয়ে অসিয়ত করে গেলেন এবং একে পবিত্র রাখার নির্দেশ দিলেন। তিনি তাদের নির্দেশ দিলেন যাতে তারা এর নিকট রক্ত, মৃতদেহ এবং ‘মিলাত’—অর্থাৎ ঋতুস্রাবের কাপড়—না আনে। তিনি এর জন্য একটি দরজা ও চাবি তৈরি করলেন। সুবাইয়া বিনতে আহাব বিন যাবিনা বিন জাযিমা বিন আউফ বিন মুআবিয়া বিন বকর বিন হাওয়াযিন বিন মানসুর বিন ইকরিমা বিন খাসাফা বিন কায়েস বিন আয়লান—যিনি আবদে মানাফ বিন কাব বিন সাদ বিন তাইম বিন মুররা বিন কাব বিন লুআই বিন গালিব বিন ফিহর বিন মালিক বিন নাযর বিন কিনানার স্ত্রী ছিলেন—তার এক পুত্র যার নাম ছিল খালিদ, তার কাছে মক্কার পবিত্রতার গুরুত্ব বর্ণনা করতেন, সেখানে অন্যায় আচরণ করতে তাকে নিষেধ করতেন এবং তুব্বার কথা উল্লেখ করে তার সামনে তুব্বার মর্যাদা বর্ণনা করতেন এবং তিনি (তুব্বা) কাবার জন্য যা করেছিলেন তা স্মরণ করিয়ে দিতেন।

--------------------------------------------

১. খাসাফ: খাসাফা এর বহুবচন, যা খেজুর পাতা এবং আঁশ দিয়ে বোনা হয়। খাসাফ বলতে মোটা কাপড়কেও বোঝায়।

২. মাআফির: ইয়েমেনি কাপড়।

৩. মুলা: মুলাআহ এর বহুবচন, যার অর্থ চাদর। ওয়াসাইল: ইয়েমেনি কাপড়ের মধ্যে জোড়া দেওয়া কাপড়। বর্ণিত আছে যে, তুব্বা যখন কাবা শরীফকে পশমি চাদর ও চামড়া দ্বারা আবৃত করেছিলেন, তখন কাবা প্রকম্পিত হয় এবং সেগুলো খসে পড়ে। খাসাফ দ্বারা আবৃত করার সময়ও এমনটি ঘটেছিল। কিন্তু যখন তিনি একে মুলা ও ওয়াসাইল দ্বারা আবৃত করলেন, তখন কাবা তা গ্রহণ করল।

৪. ইবনে ইসহাক বলেন: কাবা শরীফে সর্বপ্রথম রেশমি গিলাফ চড়িয়েছেন হাজ্জাজ। আদ-দারা কুতনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ছিলেন নুতাইলা বিনতে জানাব, যিনি আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিবের মা। তিনি শৈশবে আব্বাসকে হারিয়ে ফেলেছিলেন। তখন তিনি মানত করেছিলেন যে, যদি তাকে খুঁজে পান তবে কাবাকে রেশমি গিলাফ পরাবেন। পরে তাকে খুঁজে পাওয়ার পর তিনি তা পালন করেন। বংশবিদ যুবায়ের বলেন: বরং আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়েরই সর্বপ্রথম কাবায় রেশমি গিলাফ চড়িয়েছিলেন।

৫. এখানে ঋতুমতী নারী উদ্দেশ্য নয়; কারণ 'হায়েয' (ঋতুমতী নারী) এর বহুবচন 'মাহাইয' হয় না। বরং এটি 'মহীযাহ' এর বহুবচন, যার অর্থ ঋতুস্রাবের নেকড়া। এই নেকড়াকে 'মিসলাত'ও বলা হয়, যার বহুবচন 'মাআলি'।

৬. আবু উবাইদাহ বলেন: বিনতে আল-আযাব (জিম দিয়ে)। তিনি এই কবিতাটি বনু সাবকা বিন আবদুদ দার এবং বনু আলী বিন সাদ বিন তামীমের মধ্যে সংঘটিত এক যুদ্ধের সময় বলেছিলেন, যাতে তারা একে অপরকে নিঃশেষ করে দিয়েছিল।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনি হিশাম - তাহকীক ত্বহা আবদুর রাউফ সাদ (পৃষ্ঠা: ২২)
أبنيَّ: لاتَظْلم بمكـ … ـة لا الصغيرَ ولا الكبيرْ

واحفظْ محارمَها بنيَّ … ولا يغرَّنْك الغَرورْ

أبُنَيَّ: من يَظلم بمكـ … ـةَ يُلقَ أطرافَ الشرورْ

أبنَىَّ: يُضْرب وجهُه … وَيلُحْ بخديْه السعيرْ

أَبُنَيَّ: قَدْ جربتُها … فوجدتُ ظَالِمهَا يبورْ1

اللَّهُ أمَّنها، وَمَا … بُنيت بعرْصَتها قصورْ

وَاَللَّهُ آمنَ طيرَها … والعُصْم تَأْمَنُ فِي ثَبيرْ2

وَلَقَدْ غَزَاهَا تُبعٌ … فَكَسَا بنيتَها الحبيرْ3

وأذلَّ رَبِّي مُلكَهُ … فِيهَا فَأَوْفَى بالنُّذورْ

يَمْشِي إلَيْهَا حَافِيًا … بفنائِها ألفَا بَعِيرْ

وَيَظَلُّ يُطْعِمُ أهلَها … لحمَ المهاري والجَزُور4

يسقيهم العسلَ المصفّـ … ـى والرَّحيضَ مِنْ الشعيرْ5

والفيلُ أُهْلِكَ جيشُه … يُرْمَوْنَ فيها بالصخورْ

والملْكُ في أقصى البلاد … وَفِي الأعاجِم والخَزِير6

فاسمعْ إذَا حُدِّثت، وافهمْ … كَيْفَ عاقبةُ الأمورْ

قَالَ ابْنُ هِشَامٍ: يُوقَفُ على قوافيها لا تعرب.

أصل اليهودية باليمن: ثُمَّ خَرَجَ مِنْهَا مُتَوَجِّهًا إلَى الْيَمَنِ بِمَنْ مَعَهُ مِنْ جُنُودِهِ وبالحَبْرين حَتَّى إذَا دَخَلَ الْيَمَنَ دَعَا قَوْمَهُ إلَى الدُّخُولِ فِيمَا دَخَلَ فِيهِ، فأبَوْا عَلَيْهِ، حَتَّى يُحَاكِمُوهُ إلَى النَّارِ التي كانت باليمن.

--------------------------------------------

1 يبور: يهلك.

2 العصم: الوعول تعتصم في الجبال. وثبير: جبل بمكة.

3 بنيتها: الكعبة. والحبير: نوع موشى من ثياب اليمن.

4 المهارى: الإبل النجيبة.

5 الرحيض: المنقى والمصفى.

6 الخزير: يريد الخزر وهم أمة من العجم.
হে আমার পুত্র! মক্কায় যুলুম করো না … না ছোটর ওপর আর না বড়র ওপর।

হে আমার পুত্র! এর পবিত্রতা রক্ষা করো … আর কোনো প্রতারক যেন তোমাকে প্রলুব্ধ না করে।

হে আমার পুত্র! যে ব্যক্তি মক্কায় যুলুম করে … সে অকল্যাণের চরম পরিণতির সম্মুখীন হয়।

হে আমার পুত্র! তার মুখমণ্ডলে আঘাত করা হবে … এবং প্রজ্বলিত অগ্নি তার দুই গণ্ডদেশ দগ্ধ করবে।

হে আমার পুত্র! আমি এটি পরীক্ষা করেছি … এবং দেখেছি যে সেখানকার যালিম ধ্বংস হয়ে যায়।১

আল্লাহ একে নিরাপদ করেছেন, আর … এর প্রাঙ্গণে কোনো রাজপ্রাসাদ নির্মিত হয়নি।

আল্লাহ এর পাখিদের নিরাপদ করেছেন … এমনকি বুনো ছাগলগুলোও ‘সাবীর’ পাহাড়ে নিরাপত্তা পায়।২

নিশ্চয়ই তুব্বা এর ওপর অভিযান চালিয়েছিলেন … অতঃপর তিনি এর গৃহকে (কা’বাকে) ইয়ামেনি কারুকার্যখচিত চাদর পরিয়েছিলেন।৩

আমার প্রতিপালক সেখানে তার রাজত্বকে বিনম্র করে দিয়েছিলেন … অতঃপর তিনি সেখানে মানতসমূহ পূর্ণ করেছিলেন।

তিনি এর দিকে খালি পায়ে হেঁটে আসতেন … আর এর প্রাঙ্গণে ছিল দুই হাজার উট।

তিনি নিরন্তর এর অধিবাসীদের খাওয়াতে থাকতেন … উন্নত জাতের উট ও জবাই করা পশুর গোশত।৪

তিনি তাদের পরিশ্রুত মধু পান করাতেন … এবং পরিষ্কার করা যব থেকে প্রস্তুত পানীয়।৫

আর হাতির বাহিনীর সেই সেনাদল ধ্বংস হয়েছিল … যাদের ওপর সেখানে পাথর নিক্ষেপ করা হয়েছিল।

রাজত্ব ছিল দূরবর্তী দেশসমূহে … এবং অনারব ও খাযারদের মাঝে।৬

সুতরাং যখন তোমাকে কিছু বলা হয় তখন শোনো এবং বোঝো … বিষয়সমূহের পরিণাম কেমন হয়।

ইবনে হিশাম বলেন: এর অন্ত্যমিলের শব্দগুলোতে থামা হবে (সাকিন হবে), সেগুলোতে ইরাব (স্বরচিহ্ন) প্রদান করা হবে না।

ইয়ামেনে ইয়াহুদি ধর্মের সূচনা: অতঃপর তিনি তার সৈন্যবাহিনী ও দুই পণ্ডিতকে সাথে নিয়ে ইয়ামেনের দিকে রওনা হলেন। যখন তিনি ইয়ামেনে প্রবেশ করলেন, তখন তিনি তার কওমকে সেই ধর্মে প্রবেশের আহ্বান জানালেন যাতে তিনি নিজে প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু তারা তা অস্বীকার করল, যতক্ষণ না তারা সেই আগুনের মাধ্যমে বিচার চাইল যা ইয়ামেনে বিদ্যমান ছিল।

--------------------------------------------

১. ইয়াবুর: ধ্বংস হওয়া।

২. আল-উসম: পাহাড়ী ছাগল যারা পাহাড়ে আশ্রয় গ্রহণ করে। আর সাবীর: মক্কার একটি পাহাড়।

৩. বানিয়্যাহ: কা’বা। আর আল-হাবীর: ইয়ামেনের এক প্রকার কারুকার্যখচিত চাদর।

৪. আল-মাহারি: উন্নত ও শ্রেষ্ঠ জাতের উট।

৫. আর-রাহীয: যা পরিষ্কার ও পরিশ্রুত করা হয়েছে।

৬. আল-খাযীর: এর দ্বারা খাযার সম্প্রদায়কে বোঝানো হয়েছে, যারা অনারবদের একটি জাতি।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনি হিশাম - তাহকীক ত্বহা আবদুর রাউফ সাদ (পৃষ্ঠা: ২৩)
قَالَ ابْنُ إسْحَاقَ: حَدَّثَنِي أَبُو مَالِكِ بْنِ ثَعْلَبَةَ بْنِ أَبِي مَالِكِ القُرظي، قَالَ: سَمِعْتُ إبْرَاهِيمَ بْنَ مُحَمَّدِ بْنِ طَلْحَةَ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ يُحَدِّثُ: أَنَّ تُبعًا لَمَّا دَنَا مِنْ الْيَمَنِ لِيَدْخُلَهَا حَالَتْ حِمْيَر بَيْنَهُ وَبَيْنَ ذَلِكَ وَقَالُوا: لَا تَدْخُلُهَا عَلَيْنَا، وَقَدْ فَارَقْتَ دِينَنَا، فَدَعَاهُمْ إلَى دِينِهِ وَقَالَ: "إنَّهُ خَيْرٌ مِنْ دِينِكُمْ"، فَقَالُوا: فَحَاكِمْنَا إلَى النَّارِ قَالَ: نَعَمْ. قَالَ: وَكَانَتْ بِالْيَمَنِ -فِيمَا يَزْعُمُ أَهْلُ الْيَمَنِ- نَارٌ تَحْكُمُ بَيْنَهُمْ فِيمَا يَخْتَلِفُونَ فِيهِ، تَأْكُلُ الظَّالِمَ وَلَا تَضُرُّ الْمَظْلُومَ، فَخَرَجَ قَوْمُهُ بِأَوْثَانِهِمْ وَمَا يتقرَّبون بِهِ فِي دِينِهِمْ، وَخَرَجَ الحَبْران بِمَصَاحِفِهِمَا فِي أَعْنَاقِهِمَا مُتَقَلِّدَيْهَا، حَتَّى قَعَدُوا لِلنَّارِ عِنْدَ مَخْرَجِهَا الَّذِي تَخْرُجُ مِنْهُ فَخَرَجَتْ النَّارُ إلَيْهِمْ فَلَمَّا أَقْبَلَتْ نَحْوَهُمْ حَادُوا عَنْهَا وَهَابُوهَا، فذَمَرهم1 مَنْ حَضَرَهُمْ مِنْ النَّاسِ، وَأَمَرُوهُمْ بِالصَّبْرِ لَهَا فَصَبَرُوا حَتَّى غَشِيَتْهُمْ، فَأَكَلَتْ الْأَوْثَانَ وَمَا قَرَّبُوا مَعَهَا، وَمَنْ حَمَلَ ذَلِكَ مِنْ رِجَالِ حِمْيَرَ، وَخَرَجَ الْحَبْرَانِ بِمَصَاحِفِهِمَا فِي أَعْنَاقِهِمَا تَعْرَقُ جِبَاهُهُمَا لَمْ تَضُرَّهُمَا، فأصفقَتْ عِنْدَ ذَلِكَ حِمْيَرُ عَلَى دِينِهِ، فَمِنْ هُنَالِكَ، وَعَنْ ذَلِكَ، كَانَ أَصْلُ الْيَهُودِيَّةِ بِالْيَمَنِ.

قَالَ ابْنُ إسْحَاقَ: وَقَدْ حَدَّثَنِي محدِّث أَنَّ الحَبْرين، وَمَنْ خَرَجَ مِنْ حِمْيَرَ، إنَّمَا اتَّبَعُوا النَّارَ لِيَرُدُّوهَا، وَقَالُوا: مَنْ رَدَّهَا فَهُوَ أَوْلَى بِالْحَقِّ، فَدَنَا مِنْهَا رِجَالٌ مِنْ حِمْير بِأَوْثَانِهِمْ لِيَرُدُّوهَا، فَدَنَتْ مِنْهُمْ لِتَأْكُلَهُمْ، فَحَادُوا عَنْهَا وَلَمْ يَسْتَطِيعُوا رَدَّهَا، وَدَنَا مِنْهَا الْحَبْرَانِ بَعْدَ ذَلِكَ، وَجَعَلَا يَتْلُوَانِ التَّوْرَاةَ وَتَنْكُصُ عَنْهُمَا، حَتَّى ردَّاها إلَى مَخْرَجِهَا الَّذِي خَرَجَتْ مِنْهُ، فأصفَقَتْ2 عِنْدَ ذَلِكَ حِمْيَرُ عَلَى دِينِهِمَا. واللهّ أعلم أي ذلك كان.

هدم البيت المسمى رئام3: قَالَ ابْنُ إسْحَاقَ: وَكَانَ رِئَامٌ بَيْتًا لَهُمْ يُعَظِّمُونَهُ، وَيَنْحَرُونَ عِنْدَهُ، ويُكَلَّمون مِنْهُ، إذْ كَانُوا عَلَى شِرْكِهِمْ، فَقَالَ الْحَبْرَانِ لتُبع: إنَّمَا هُوَ شيطان يفتنهم بذلك فخلِّ بيننا وبينه، فَاسْتَخْرَجَا مِنْهُ -فِيمَا يَزْعُمُ أَهْلُ الْيَمَنِ- كَلْبًا أَسْوَدَ فَذَبَحَاهُ ثُمَّ هَدَمَا ذَلِكَ الْبَيْتَ، فَبَقَايَاهُ الْيَوْمَ -كَمَا ذُكِرَ لِي- بِهَا آثَارُ الدِّمَاءِ التي كانت تهراق عليه.

--------------------------------------------

1 ذمرهم: شجعهم وحصنهم ليجدوا.

2 أصفقت: اجتمعت.

3 رئام: فعال من رئمت الأنثى ولدها ترأمه رئما ورئامًا إذا عطفت عليه ورحمته، فاشتقوا لهذا البيت اسما لموضع الرحمة التي كانوا يلتمسون في عبادته.
ইবনে ইসহাক বলেন: আবু মালিক ইবনে সালাবা ইবনে আবি মালিক আল-কুরাজি আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমি ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে: তুব্বা যখন ইয়েমেনে প্রবেশের জন্য তার নিকটবর্তী হলেন, তখন হিমইয়ার গোত্র তার ও ইয়েমেনের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করল। তারা বলল: আপনি আমাদের ভূখণ্ডে প্রবেশ করবেন না, কারণ আপনি আমাদের ধর্ম ত্যাগ করেছেন। তখন তিনি তাদেরকে নিজের ধর্মের প্রতি আহ্বান জানালেন এবং বললেন: "নিশ্চয়ই এটি তোমাদের ধর্মের চেয়ে উত্তম।" তারা বলল: তবে আমাদের মাঝে আগুনের মাধ্যমে ফয়সালা হোক। তিনি বললেন: ঠিক আছে। তিনি (বর্ণনাকারী) বলেন: ইয়েমেনিদের দাবি অনুযায়ী, ইয়েমেনে এমন একটি আগুন ছিল যা তাদের মধ্যকার মতবিরোধের ফয়সালা করত; তা অন্যায়কারীকে গ্রাস করত কিন্তু মজলুমের কোনো ক্ষতি করত না। ফলে তার কওমের লোকেরা তাদের মূর্তিগুলো এবং তাদের ধর্মে নৈকট্য লাভের যা কিছু ছিল তা নিয়ে বের হলো। আর দুই অভিজ্ঞ আলিম (রাব্বি) তাদের গলায় তাদের কিতাবসমূহ ঝুলিয়ে বের হলেন। অবশেষে তারা আগুন বের হওয়ার স্থানের কাছে গিয়ে বসলেন। তখন আগুন তাদের দিকে বের হয়ে এল। যখন আগুন তাদের দিকে এগিয়ে এল, তারা ভয়ে তা থেকে সরে গেল। তখন উপস্থিত লোকেরা তাদেরকে উৎসাহিত করল এবং ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দিল। ফলে তারা ধৈর্য ধরল এবং আগুন তাদেরকে ঢেকে ফেলল। আগুন মূর্তিগুলো এবং তাদের সাথে পেশ করা উপঢৌকনসমূহ গ্রাস করে ফেলল, এমনকি হিমইয়ার গোত্রের যারা সেগুলো বহন করছিল তাদেরকেও গ্রাস করল। আর দুই অভিজ্ঞ আলিম তাদের গলায় ঝুলানো কিতাবসহ বের হয়ে এলেন, তাদের কপাল থেকে ঘাম ঝরছিল কিন্তু আগুন তাদের কোনো ক্ষতি করেনি। তখন হিমইয়ার গোত্র তার (তুব্বার) ধর্মের ওপর একতাবদ্ধ হলো। সেখান থেকেই এবং সেই কারণেই ইয়েমেনে ইহুদি ধর্মের মূল ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল।

ইবনে ইসহাক বলেন: একজন বর্ণনাকারী আমাকে বর্ণনা করেছেন যে, সেই দুই অভিজ্ঞ আলিম এবং হিমইয়ার গোত্র থেকে যারা বের হয়েছিল, তারা আগুনের মোকাবিলা করতে গিয়েছিল যাতে তারা ওটাকে ফিরিয়ে দিতে পারে। তারা বলেছিল: যে ব্যক্তি ওটাকে ফিরিয়ে দেবে সেই সত্যের অধিক হকদার। তখন হিমইয়ার গোত্রের কিছু লোক তাদের মূর্তিগুলো নিয়ে ওটাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কাছে গেল। আগুন তাদেরকে গ্রাস করার জন্য এগিয়ে এল, তখন তারা তা থেকে সরে গেল এবং ওটাকে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হলো না। এরপর দুই অভিজ্ঞ আলিম কাছে গেলেন এবং তাওরাত তিলাওয়াত করতে শুরু করলেন, ফলে আগুন তাদের সামনে থেকে পিছু হটতে লাগল, এমনকি তারা ওটাকে তার সেই নির্গমন স্থলেই ফিরিয়ে দিলেন যেখান থেকে তা বের হয়েছিল। তখন হিমইয়ার গোত্র তাদের ধর্মের ওপর একতাবদ্ধ হলো। আর এ দুটির মধ্যে আসলে কোনটি ঘটেছিল তা আল্লাহই ভালো জানেন।

রিআম নামক গৃহ ধ্বংস করা: ইবনে ইসহাক বলেন: রিআম ছিল তাদের একটি উপাসনালয় যা তারা অত্যন্ত সম্মান করত, সেখানে তারা পশু জবেহ করত এবং তারা যখন শিরকের ওপর লিপ্ত ছিল তখন সেখান থেকে তাদের সাথে কথা বলা হতো। তখন সেই দুই অভিজ্ঞ আলিম তুব্বাকে বললেন: এটি আসলে একটি শয়তান যা এর মাধ্যমে তাদেরকে ফিতনায় ফেলে রেখেছে, সুতরাং আমাদের ওর কাজ করতে দিন। ইয়েমেনিদের দাবি অনুযায়ী, তারা সেখান থেকে একটি কালো কুকুর বের করে আনলেন এবং সেটিকে জবেহ করলেন। এরপর তারা সেই ঘরটি ধ্বংস করে দিলেন। আজ পর্যন্ত সেখানে সেই রক্তের চিহ্ন রয়ে গেছে যা ওটির ওপর প্রবাহিত করা হতো—যেমনটি আমার কাছে উল্লেখ করা হয়েছে।

--------------------------------------------

১. ‘যামারা-হুম’: তাদেরকে উৎসাহিত ও উজ্জীবিত করেছে যাতে তারা অবিচল থাকে।

২. ‘আসফাকাত’: একত্রিত হয়েছে।

৩. রিআম: এটি ‘রিআমা’ শব্দ থেকে নির্গত যার অর্থ কোনো মাদি পশুর তার বাচ্চার প্রতি মমতা ও দয়া প্রদর্শন করা। তারা এই ঘরের ইবাদতের মাধ্যমে যে রহমত বা করুণা প্রার্থনা করত, সেই দয়ার স্থান হিসেবেই তারা এই নামটি রেখেছিল।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনি হিশাম - তাহকীক ত্বহা আবদুর রাউফ সাদ (পৃষ্ঠা: ২৪)
مُلك حسان بن تبان وقتله على يد أخيه عمرو

فَلَمَّا مَلَكَ ابْنُهُ حَسَّانُ بْنُ تُبان أَسْعَدَ أَبِي كَرِب، سَارَ بِأَهْلِ الْيَمَنِ، يُرِيدُ أَنْ يَطَأَ بِهِمْ أَرْضَ الْعَرَبِ وَأَرْضَ الْأَعَاجِمِ، حَتَّى إذَا كَانُوا بِبَعْضِ أَرْضِ الْعِرَاقِ -قَالَ ابْنُ هِشَامٍ: بالَبحريْنِ، فِيمَا ذَكَرَ لِي بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ- كَرِهَتْ حِمْير وَقَبَائِلُ الْيَمَنِ الْمَسِيرَ مَعَهُ، وَأَرَادُوا الرَّجْعَةَ إلَى بِلَادِهِمْ وَأَهْلِهِمْ، فَكَلَّمُوا أَخًا لَهُ يُقَالُ لَهُ عَمْرٌو، وَكَانَ مَعَهُ فِي جَيْشِهِ، فَقَالُوا لَهُ: اُقْتُلْ أَخَاكَ حَسَّانَ، ونُملِّكْكَ علينا، وترجعْ بنا إلى بلادنا، فأجابهم، فاجتمعوا عَلَى ذَلِكَ إلَّا ذَا رُعَيْن الحِمْيري فَإِنَّهُ نَهَاهُ عَنْ ذَلِكَ فَلَمْ يَقْبَلْ مِنْهُ. فَقَالَ ذُو رعَيْن1:

أَلَا مَنْ يَشْتَرِي سَهْرًا بِنَوْمِ … سعيدٌ مَنْ يبيتُ قريرَ عينِ2

فَأَمَّا حِمْير غدرتْ، وَخَانَتْ … فمعذرةُ الِإله لَذِي رُعَيْن

ثُمَّ كَتَبَهُمَا فِي رُقْعَةٍ، وَخَتَمَ عَلَيْهَا، ثُمَّ أَتَى بِهَا عَمرًا، فَقَالَ لَهُ: ضَعْ لِي هَذَا الكتاب عندك ففعل ثم قَتل عَمْرٌو أَخَاهُ حَسَّانَ، وَرَجَعَ بِمَنْ مَعَهُ إلَى الْيَمَنِ. فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ حِمْير:

لاهِ عينا الذي رأى مثلي … حسان قَتِيلًا فِي سَالِفِ الأحقابِ3

قَتَلَتْهُ مَقاوِلٌ خشيةَ الْحَبْسِ غداةَ قَالُوا: لَبَاب لَبابِ4

ميتُكم خيرُنا وحيُّكم ربٌّ علينا، وكلُّكم أربابي

--------------------------------------------

1 ذو رعين: تصغير رعمن، والرعن: أنف الجبل، ورعين: جبل باليمن وإليه ينسب ذو رعين.

2 معناه: أمن يشتري، وحسن حذف ألف الاستفهام لتقديم همزة ألا. وفي البيت حذف تقديره: بل من يبيت قرير عين هو السعيد، فحذف الخبر لدلالة أول الكلام عليه.

3 لاه: أراد الله وحذف لام الجر واللام الأخرى مع ألف الوصل، وهذا حذف كثير. ولكنه جاز في هذا الاسم خاصة لكثرة دوره على الألسنة. مثل قول الفراء:

لهنك من برق على كريم

أراد: والله إنك. انظر هذا الموضوع مفصلا في: "الروض الأنف بتحقيقنا ج1 ص43".

4 المقاول: يريد الأقيال، وهم الذين دون التبابعة واحدهم قيل وأصله قيل مثل سيد واستعمل بالياء في إفراده وجمعه، وإن كان أصله الواو؛ لأن معناه: الذي يقول ويسمع قوله.
হাসান ইবনে তুব্বানের রাজত্ব এবং তার ভাই আমরের হাতে তার নিহত হওয়া

যখন তার পুত্র হাসান ইবনে তুব্বান আসআদ আবু কারিব ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলেন, তিনি ইয়ামেনবাসীদের নিয়ে যাত্রা করলেন। তিনি চেয়েছিলেন তাদের মাধ্যমে আরব ও অনারব ভূমি পদানত করতে। পথিমধ্যে যখন তারা ইরাকের কোনো এক ভূমিতে পৌঁছালেন—ইবনে হিশাম বলেন: আমার কাছে জনৈক জ্ঞানী ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যে, স্থানটি ছিল বাহরাইনে—তখন হিমইয়ার ও ইয়ামেনের গোত্রগুলো তার সাথে এই অভিযানে যাওয়া অপছন্দ করল। তারা তাদের নিজ দেশ ও পরিজনদের কাছে ফিরে যেতে চাইল। তাই তারা তার এক ভাই আমরের সাথে কথা বলল, যে তার সাথেই সেনাবাহিনীতে ছিল। তারা তাকে বলল: "আপনি আপনার ভাই হাসানকে হত্যা করুন, তাহলে আমরা আপনাকে আমাদের রাজা বানিয়ে নেব এবং আপনি আমাদের নিয়ে নিজ দেশে ফিরে যাবেন।" সে তাদের প্রস্তাবে সাড়া দিল। ফলে যুর রুআইন আল-হিমইয়ারি ব্যতীত সবাই এই বিষয়ে একমত হলো। তিনি (যুর রুআইন) তাকে এই কাজ থেকে বারণ করেছিলেন, কিন্তু আমর তার কথা গ্রহণ করল না। তখন যুর রুআইন বললেন:

সাবধান! কে আছে যে ঘুমের বদলে অনিদ্রা কিনবে … সেই সৌভাগ্যবান যে শান্তিতে ঘুমাতে পারে।

হিমইয়ার বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা করেছে … আর যুর রুআইন আল্লাহর কাছে ওজর পেশ করছে (নিষ্পাপতা ঘোষণা করছে)।

তারপর তিনি কবিতা দুটি একটি চিরকুটে লিখলেন এবং তাতে সিলমোহর দিলেন। এরপর তা আমরের কাছে নিয়ে গিয়ে বললেন: "এই লিপিটি আপনার কাছে আমানত রাখুন।" সে তাই করল। এরপর আমর তার ভাই হাসানকে হত্যা করল এবং তার সঙ্গীদের নিয়ে ইয়ামেনে ফিরে গেল। তখন হিমইয়ারের এক ব্যক্তি বলল:

আল্লাহর কসম! আমার চোখের মতো আর কে দেখেছে … হাসান গত যুগে নিহত হলেন।

বন্দি হওয়ার ভয়ে তাকে নেতৃবৃন্দ (কায়িলরা) হত্যা করেছে, সেই ভোরে যখন তারা বলেছিল: আর কোনো উপায় নেই।

তোমাদের মৃত ব্যক্তি আমাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং তোমাদের জীবিত ব্যক্তি আমাদের উপর প্রভু; তোমরা সবাই আমার মালিক।

--------------------------------------------

১ যুর রুআইন: 'রুআইন' শব্দটি 'রা'মান' এর ক্ষুদ্রতাবাচক রূপ। 'রা'ন' অর্থ পাহাড়ের চূড়া বা বর্ধিত অংশ। রুআইন হলো ইয়ামেনের একটি পাহাড়, যার নামানুসারে যুর রুআইনের নামকরণ করা হয়েছে।

২ এর অর্থ: কে কি কিনবে? এখানে 'আলা' এর হামজার কারণে প্রশ্নবোধক 'আলিফ' বিলুপ্ত করা হয়েছে। পঙ্‌ক্তিটিতে বাক্য উহ্য রয়েছে যার অর্থ: বরং যে শান্তিতে ঘুমাতে পারে সেই সৌভাগ্যবান। পূর্ববর্তী বাক্যের ইঙ্গিতে এখানে খবর (বিধেয়) উহ্য রাখা হয়েছে।

৩ 'লাহি': এর দ্বারা 'আল্লাহ' উদ্দেশ্য। এখানে 'লামে জার' এবং আলিফে ওয়াসলসহ অন্য 'লাম'টি বিলুপ্ত করা হয়েছে; এমন বিলোপ প্রচুর দেখা যায়। তবে এই নামের ক্ষেত্রে জিহ্বায় বারবার উচ্চারিত হওয়ার কারণে এটি বিশেষভাবে বৈধ। যেমন আল-ফাররার উক্তি:

লাহান্নাকা মিন বারকিন আলা কারিমিন

এর অর্থ: আল্লাহর কসম, নিশ্চয়ই আপনি। এই বিষয়টি বিস্তারিত দেখুন: আমাদের তাহকিককৃত 'আর-রওদুল উনুফ', ১ম খণ্ড, ৪৩ পৃষ্ঠা।

৪ আল-মাকাউয়িল: এর দ্বারা 'আকইয়াল' উদ্দেশ্য। তারা হলেন সেই সব নেতা যারা তুব্বা রাজাদের পরবর্তী স্তরে ছিলেন। এর একবচন হলো 'কাইল'। মূল শব্দ ছিল 'কাইউয়িল' যেমন 'সাইয়্যিদ'। একবচন ও বহুবচনে এটি 'ইয়া' যোগে ব্যবহৃত হয় যদিও এর মূল ধাতু 'ওয়াও'; কারণ এর অর্থ হলো এমন ব্যক্তি যিনি কথা বলেন এবং যার কথা শোনা হয়।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনি হিশাম - তাহকীক ত্বহা আবদুর রাউফ সাদ (পৃষ্ঠা: ২৫)
قَالَ ابْنُ إسْحَاقَ: وَقَوْلُهُ: لَبَابِ لَبَابِ: لا بَأْسَ لَا بَأْسَ بِلُغَةِ حِمْير. قَالَ ابْنُ هشام: ويروى: لِبابِ لِباب.

هلاك عمرو وتفرق حِمير:

قال ابن إسحاق: فلما نزل عمرو ابن تُبان الْيَمَنَ مُنع مِنْهُ النَّوْمُ، وسُلط عَلَيْهِ السَّهَرُ، فَلَمَّا جَهَدَهُ ذَلِكَ سَأَلَ الْأَطِبَّاءَ والحُزاة مِنْ الْكُهَّانِ وَالْعَرَّافِينَ عَمَّا بِهِ فَقَالَ لَهُ قائل منهم: إنه مَا قَتَلَ رَجُلٌ قَطُّ أَخَاهُ، أَوْ ذَا رَحمه بَغْيًا عَلَى مِثْلِ مَا قَتلت أَخَاكَ عَلَيْهِ، إلَّا ذَهَبَ نَوْمُهُ، وسُلط عَلَيْهِ السَّهَرُ، فَلَمَّا قِيلَ لَهُ ذَلِكَ جَعَلَ يَقْتُلُ كُلَّ مَنْ أَمَرَهُ بِقَتْلِ أَخِيهِ حَسَّانَ مِنْ أَشْرَافِ الْيَمَنِ، حَتَّى خَلَصَ إلَى ذِي رُعَيْن، فَقَالَ لَهُ ذُو رُعَيْن: إنَّ لِي عِنْدَكَ بَرَاءَةً، فَقَالَ وَمَا هِيَ؟ قَالَ: الْكِتَابُ الَّذِي دفعتُ إليك، فأخرجه فإذا الْبَيْتَانِ، فَتَرَكَهُ، وَرَأَى أَنَّهُ قَدْ نَصَحَهُ وَهَلَكَ عَمْرٌو، فَمَرَجَ2 أمْر حِمْيَرَ عِنْدَ ذَلِكَ وَتَفَرَّقُوا.

خبر لَخنيعة وذي نواس:

فَوَثَبَ عَلَيْهِمْ رَجُلٌ مِنْ حِمْير لَمْ يَكُنْ مِنْ بُيُوتِ الْمَمْلَكَةِ، يُقَالُ لهَ: لَخْنيعة3 يَنُوفَ ذُو شَنَاتر4، فَقَتَلَ خِيَارَهُمْ، وَعَبِثَ بِبُيُوتِ أَهْلِ الْمَمْلَكَةِ مِنْهُمْ، فَقَالَ قَائِلٌ مِنْ حِمْيَرَ للَخْنيعة:

تُقَتِّل أبنَاها وَتَنْفِي سَراتَها … وَتَبْنِي بِأَيْدِيهَا لَهَا الذُّلَّ حميرُ

تُدَمِّر دُنْيَاهَا بطيشِ حلومِها … وَمَا ضَيَّعَتْ مِنْ دِينِهَا فَهْوَ أكثرُ

كَذَاكَ القرونُ قبلَ ذاك بظلمِها … وإسرافِها تأتي الشرورَ فتخسَرُ

فسوق لخنيعة: وكان لَخْنيعة امرءًا فَاسِقًا يَعْمَلُ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ، فَكَانَ يُرْسِلُ إلَى الْغُلَامِ مِنْ أَبْنَاءِ الْمُلُوكِ، فَيَقَعُ عَلَيْهِ فِي مَشْرَبة لَهُ قَدْ صَنَعَهَا لِذَلِكَ، لِئَلَّا يُمَلَّك بعدَ ذَلِكَ، ثُمَّ يَطْلُع مِنْ مَشْرَبَتِهِ تِلْكَ إلَى حَرَسِهِ وَمَنْ حَضَرَ مِنْ جُنْدِهِ، قَدْ أَخَذَ مِسواكًا، فَجَعَلَهُ فِي فِيهِ، أَيْ: فيعلمهم أَنَّهُ قَدْ فَرَغَ مِنْهُ، حَتَّى بَعَثَ إلَى زُرْعة ذِي نُواس بْنِ تُبان أَسْعَدَ أَخِي حَسَّانَ، وَكَانَ صَبِيَّا صَغِيرًا حِينَ قُتل حَسَّانُ، ثُمَّ شَبَّ غُلَامًا جَمِيلًا وَسِيمًا ذَا هَيْئَةٍ وعقل، فلما أتاه رسوله،

--------------------------------------------

1 الحزاة: المنجمون.

2 مرج: اختلط.

3 قال ابن دريد: هو اللخع، وهو استرخاء الجسم.

4 الشناتر، الأصابع واحدها شُنتر.
ইবনে ইসহাক বলেন: এবং তাঁর বক্তব্য: 'লাবাব লাবাব' এর অর্থ হলো হিমইয়ারি ভাষায় 'কোনো সমস্যা নেই, কোনো সমস্যা নেই'। ইবনে হিশাম বলেন: এটি 'লিবাব লিবাব' হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে।

আমরের ধ্বংস এবং হিমইয়ারিদের বিচ্ছিন্নতা:

ইবনে ইসহাক বলেন: আমর ইবনে তুব্বান যখন ইয়ামেনে পদার্পণ করলেন, তখন তাঁর ঘুম হারাম হয়ে গেল এবং তাঁর ওপর অনিদ্রা চেপে বসল। যখন এটি তাকে ক্লান্ত করে তুলল, তখন তিনি এর কারণ সম্পর্কে চিকিৎসক, জ্যোতিষী, গণক এবং ভবিষ্যদ্বক্তাদের জিজ্ঞাসা করলেন। তাদের মধ্যে একজন তাকে বলল: কোনো ব্যক্তি যখনই তাঁর ভাইকে বা নিকটাত্মীয়কে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে ঠিক যেভাবে আপনি আপনার ভাইকে হত্যা করেছেন, তখনই তাঁর ঘুম চলে গেছে এবং তাঁর ওপর অনিদ্রা চেপে বসেছে। যখন তাঁকে এই কথা বলা হলো, তিনি ইয়ামেনের সেই সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের প্রত্যেককে হত্যা করতে শুরু করলেন যারা তাঁকে তাঁর ভাই হাসানকে হত্যার আদেশ দিয়েছিল, অবশেষে তিনি যু রুআইন পর্যন্ত পৌঁছালেন। যু রুআইন তাঁকে বললেন: আপনার কাছে আমার একটি নির্দোষিতার প্রমাণ রয়েছে। তিনি বললেন, সেটি কী? তিনি বললেন: সেই লিপিটি যা আমি আপনাকে প্রদান করেছিলাম। তিনি তা বের করলেন এবং সেখানে সেই দুই পঙ্ক্তি কবিতা দেখতে পেলেন। ফলে তিনি তাকে ছেড়ে দিলেন এবং বুঝতে পারলেন যে তিনি তাঁর কল্যাণই চেয়েছিলেন। অতঃপর আমর মৃত্যুবরণ করেন এবং সেই সময় হিমইয়ারিদের শাসনব্যবস্থা বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে এবং তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

লাখনিআহ এবং যু নুওয়াস সংক্রান্ত সংবাদ:

তখন হিমইয়ারিদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি তাদের ওপর চড়াও হলেন যিনি রাজপরিবারের সদস্য ছিলেন না। তাঁকে লাখনিআহ ইয়ানুফ যু শানাতির বলা হতো। তিনি তাদের সর্বোত্তম ব্যক্তিদের হত্যা করলেন এবং রাজপরিবারের সদস্যদের সাথে অপমানজনক আচরণ করলেন। হিমইয়ারিদের মধ্যে একজন লাখনিআহ সম্পর্কে বললেন:

হিমইয়ার তার সন্তানদের হত্যা করছে এবং তাদের নেতাদের নির্বাসিত করছে … আর নিজের হাতেই নিজের জন্য লাঞ্ছনা নির্মাণ করছে।

সে তার নির্বুদ্ধিতার কারণে তার পার্থিব জীবন ধ্বংস করছে … আর তার দ্বীন থেকে যা সে হারিয়েছে তা আরও অনেক বেশি।

এভাবেই পূর্ববর্তী প্রজন্মসমূহ তাদের জুলুম এবং সীমালঙ্ঘনের কারণে মন্দের কবলে পড়েছিল এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

লাখনিআহর পাপাচার: লাখনিআহ ছিল একজন পাপাচারী ব্যক্তি, যে লুত আলাইহিস সালামের জাতির ন্যায় জঘন্য কর্মে লিপ্ত হতো। সে রাজপুত্রদের ডেকে পাঠাত এবং নিজের তৈরি করা একটি বিশেষ কক্ষে তাদের সাথে অপকর্মে লিপ্ত হতো যাতে এর পর তারা আর রাজত্ব করার যোগ্য না থাকে। অতঃপর সে কক্ষ থেকে বের হয়ে তার প্রহরী এবং উপস্থিত সৈন্যদের সামনে আসত এবং মুখে মেসওয়াক দিত; অর্থাৎ সে তাদের বোঝাতে চাইত যে সে তার কাজ শেষ করেছে। অবশেষে সে হাসান ইবনে তুব্বান আসআদের ভাই যুরআহ যু নুওয়াসের কাছে লোক পাঠাল। হাসান যখন নিহত হন তখন যু নুওয়াস ছোট শিশু ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি একজন সুন্দর, সুশ্রী, সুঠাম ও বুদ্ধিমান যুবক হিসেবে বেড়ে ওঠেন। যখন তাঁর কাছে লাখনিআহর দূত আসল,

--------------------------------------------

১. আল-হুযাহ: জ্যোতিষীগণ।

২. মরাজ: বিশৃঙ্খল হওয়া বা মিশে যাওয়া।

৩. ইবনে দুরিদ বলেন: এটি আল-লাখু' থেকে এসেছে, যার অর্থ শরীরের শিথিলতা।

৪. আশ-শানাতির: আঙুলসমূহ, একবচনে শুন্তুর।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনি হিশাম - তাহকীক ত্বহা আবদুর রাউফ সাদ (পৃষ্ঠা: ২৬)
عرف ما يريد منه، فأخذ سكينًا جديدًا لَطِيفًا، فَخَبَّأَهُ بَيْنَ قَدَمِهِ وَنَعْلِهِ، ثُمَّ أَتَاهُ، فَلَمَّا خَلَا مَعَهُ وَثَبَ إلَيْهِ فَوَاثَبَهُ ذُو نُواس، فَوَجَأَهُ1 حَتَّى قَتَلَهُ، ثُمَّ حزَّ رَأْسَهُ، فَوَضَعَهُ فِي الكُوَّة الَّتِي كَانَ يُشرف مِنْهَا، وَوَضَعَ مِسْوَاكَهُ فِي فِيهِ، ثُمَّ خَرَجَ عَلَى النَّاسِ، فَقَالُوا لَهُ: ذَا نُوَاسٍ أرطْب أَمْ يَباس فقال: "سَلْ نَحْماس اسْترطُبان ذو نواس اسْترطُبان لا باس".

قال ابن هشام: هذا كلام حمير. ونحماس: الرَّأْسُ. فَنَظَرُوا إلَى الْكُوَّةِ فَإِذَا رَأْسُ لَخَنِيعَةَ مَقْطُوعٌ، فَخَرَجُوا فِي إثْرِ ذِي نُوَاسٍ حَتَّى أَدْرَكُوهُ، فَقَالُوا: مَا يَنْبَغِي أَنْ يَمْلِكَنَا غَيْرُكَ، إذْ أَرَحْتنَا مِنْ هَذَا الْخَبِيثِ.

مُلْكُ ذِي نُوَاسٍ: فملَّكوه، وَاجْتَمَعَتْ عَلَيْهِ حِمْيَرُ وَقَبَائِلُ الْيَمَنِ، فَكَانَ آخِرَ مُلُوكِ حِمْيَرَ، وَهُوَ صَاحِبُ الْأُخْدُودِ، وتسمى: يوسف، فأقام في ملكه زمانًا.

سبب وجود النَّصْرَانِيَّةُ بِنَجْرَانَ: وَبِنَجْرَانَ بَقَايَا مِنْ أَهْلِ دِينِ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ عليه السلام عَلَى الْإِنْجِيلِ. أَهْلِ فَضْلٍ وَاسْتِقَامَةٍ مِنْ أَهْلِ دِينِهِمْ، لَهُمْ رَأْسٌ يُقَالُ لَهُ: عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الثَّامِرِ.

وَكَانَ مَوْقِعُ أَصْلِ ذَلِكَ الدِّينِ بِنَجْرَانَ، وَهِيَ بِأَوْسَطِ أَرْضِ الْعَرَبِ فِي ذَلِكَ الزَّمَانِ، وَأَهْلُهَا وَسَائِرُ الْعَرَبِ كُلِّهَا أَهْلُ أَوْثَانٍ يَعْبُدُونَهَا، وَذَلِكَ أَنَّ رَجُلًا مِنْ بَقَايَا أَهْلِ ذَلِكَ الدِّينِ يُقَالُ لَهُ: فَيْمِيون، وَقَعَ بَيْنَ أَظْهُرِهِمْ، فَحَمَلَهُمْ عليه، فدانوا به.

حديث فَيْمِيون2: قَالَ ابْنُ إسْحَاقَ: حَدَّثَنِي الْمُغِيرَةُ بْنُ أَبِي لَبِيَدٍ مَوْلَى الْأَخْنَسِ، عَنْ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّه الْيَمَانِيِّ أَنَّهُ حَدَّثَهُمْ: أَنَّ مَوْقِعَ ذَلِكَ الدِّينِ بِنَجْرَانَ كَانَ أَنَّ رَجُلًا مِنْ بَقَايَا أَهْلِ ديِن عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ يُقَالُ لَهُ فَيْمِيون، وَكَانَ رَجُلًا صالِحًا مُجْتَهِدًا زَاهِدًا فِي الدُّنْيَا، مُجاب الدَّعْوَةِ، وَكَانَ سَائِحًا يَنْزِلُ بَيْنَ الْقُرَى، لَا يُعْرَفُ بِقَرْيَةِ إلَّا خَرَجَ مِنْهَا إلَى قَرْيَةٍ لَا يُعرف بِهَا، وَكَانَ لَا يَأْكُلُ إلَّا مِنْ كَسْبِ يَدَيْهِ، وَكَانَ بنَّاء يَعْمَلُ الطِّينَ، وَكَانَ يُعَظِّمُ الْأَحَدَ، فَإِذَا كَانَ يَوْمُ الْأَحَدِ لَمْ يَعْمَلْ فِيهِ شَيْئًا. وَخَرَجَ إلَى فَلَاةٍ مِنْ الْأَرْضِ يُصَلِّي بِهَا حَتَّى يُمْسِيَ. قَالَ: وَكَانَ فِي قَرْيَةٍ مِنْ قُرَى الشَّامِ

--------------------------------------------

1 وجأه: ضربه.

2 فيميون. وقال عنه السهيلي في الروض الأنف فيمثون. وذكر أن النقاش قال: إن اسمه يحيى، وكان أبوه ملكًا فتوفي، وأراد قومه أن يملكوه بعد أبيه، فنفر من الملك ولزم السياحة.
তিনি বুঝতে পারলেন সে তাঁর কাছে কী চায়। তাই তিনি একটি নতুন ও ধারালো ছুরি নিলেন এবং তা নিজের পা ও জুতার মাঝখানে লুকিয়ে রাখলেন। এরপর তিনি তাঁর কাছে আসলেন। যখন তিনি তাঁর সাথে একাকী হলেন, তখন তিনি তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন। যু নুওয়াসও তাঁর সাথে ধস্তাধস্তি করলেন এবং তিনি তাঁকে আঘাত করলেন যতক্ষণ না তিনি তাঁকে হত্যা করলেন। এরপর তিনি তাঁর মাথা কেটে ফেললেন এবং যে গবাক্ষ বা জানালা দিয়ে সে উঁকি দিত, সেখানে তা রেখে দিলেন এবং তার মুখে তার মিসওয়াকটি গুঁজে দিলেন। তারপর তিনি লোকজনের সামনে বেরিয়ে এলেন। তারা তাঁকে জিজ্ঞাসা করল: হে যু নুওয়াস! কাজ কি সফল (আর্দ্র) নাকি বিফল (শুষ্ক)? তিনি বললেন: "নাহমাসকে (মাথাকে) জিজ্ঞাসা করো, সে সিক্ত হয়েছে; যু নুওয়াস সিক্ত হয়েছে, কোনো অসুবিধা নেই।"

ইবনে হিশাম বলেন: এটি হিময়ারি ভাষা। 'নাহমাস' অর্থ মাথা। এরপর তারা সেই গবাক্ষের দিকে তাকাল এবং দেখল যে লাখনিয়া’র মাথাটি কাটা অবস্থায় পড়ে আছে। তারা যু নুওয়াসের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ল এবং তাঁকে ধরে ফেলল। তারা বলল: আপনি ছাড়া আমাদের ওপর রাজত্ব করার যোগ্য আর কেউ নেই, যেহেতু আপনি আমাদের এই খবীস (দুষ্ট লোক) থেকে মুক্তি দিয়েছেন।

যু নুওয়াসের রাজত্ব: তারা তাকে রাজা বানাল এবং হিময়ার ও ইয়ামেনের গোত্রসমূহ তাঁর আনুগত্যে ঐক্যবদ্ধ হলো। তিনি ছিলেন হিময়ারের শেষ রাজা। তিনি ছিলেন 'আসহাবুল উখদুদ' বা গর্তওয়ালাদের সেই ব্যক্তি। তাঁর নাম রাখা হয়েছিল ইউসুফ এবং তিনি দীর্ঘকাল রাজত্ব করেন।

নাজরানে খ্রিস্টধর্মের প্রসারের কারণ: নাজরানে মারইয়াম-পুত্র ঈসা আলাইহিস সালামের ধর্মের কিছু অনুসারী অবশিষ্ট ছিল যারা ইনজিলের অনুসারী ছিল। তারা ছিল তাদের ধর্মের শ্রেষ্ঠ ও অবিচল লোক। তাদের একজন নেতা ছিলেন যাকে আব্দুল্লাহ ইবনে সামির বলা হতো।

সেই সময়ে নাজরানে ওই ধর্মের প্রসারের প্রেক্ষাপট ছিল এমন যে, নাজরান আরব ভূখণ্ডের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত ছিল। সেখানকার অধিবাসী ও অন্যান্য সমস্ত আরব ছিল মূর্তিপূজারী। ওই ধর্মের অবশিষ্ট অনুসারীদের মধ্য থেকে ফয়মিয়ুন নামক এক ব্যক্তি তাদের মাঝে উপস্থিত হন এবং তিনি তাদেরকে এই ধর্মের দিকে আহ্বান জানান, ফলে তারা তা গ্রহণ করে।

ফয়মিইউনের ঘটনা: ইবনে ইসহাক বলেন: আল-আখনাসের মুক্তদাস মুগিরা ইবনে আবি লাবিদ আমার কাছে ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ আল-ইয়ামানি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নাজরানে এই ধর্মের আগমনের কারণ ছিল মারইয়াম-পুত্র ঈসার ধর্মের অনুসারী ফয়মিয়ুন নামক এক ব্যক্তি। তিনি ছিলেন একজন সৎকর্মশীল, ইবাদতগুজার ও দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তি, যাঁর দোয়া কবুল হতো। তিনি পর্যটক ছিলেন এবং এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ঘুরে বেড়াতেন। কোনো গ্রামে তিনি পরিচিত হয়ে গেলেই সেখান থেকে অন্য কোনো অপরিচিত গ্রামে চলে যেতেন। তিনি কেবল নিজের হাতের উপার্জিত খাবার খেতেন। তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন এবং কাদা দিয়ে ঘর তৈরি করতেন। তিনি রবিবার দিনটিকে সম্মান করতেন, তাই রবিবারে কোনো কাজ করতেন না। তিনি কোনো নির্জন প্রান্তরে চলে যেতেন এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখানে নামাজ পড়তেন। বর্ণনাকারী বলেন: তিনি সিরিয়ার কোনো এক গ্রামে ছিলেন।

--------------------------------------------

১ ওজাআহু: অর্থাৎ সে তাকে আঘাত করল।

২ ফয়মিয়ুন। আল-রওদুল উনুফ গ্রন্থে সুহায়লি তাঁর নাম 'ফয়মাসুন' উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, আন-নাক্কাশ বলেছেন: তাঁর নাম ছিল ইয়াহইয়া। তাঁর পিতা এক রাজা ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর জাতি তাঁকে রাজা বানাতে চেয়েছিল, কিন্তু তিনি রাজত্বের প্রতি অনীহা প্রকাশ করে পর্যটন ও ইবাদত বেছে নেন।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনি হিশাম - তাহকীক ত্বহা আবদুর রাউফ সাদ (পৃষ্ঠা: ২৭)
يَعْمَلُ عَمَلَهُ ذَلِكَ مُسْتَخْفِيًا، فَفَطِنَ لِشَأْنِهِ رَجُلٌ مِنْ أَهْلِهَا يُقَالُ لَهُ: صَالِحٌ، فَأَحَبَّهُ صَالِحٌ حُبًّا لَمْ يُحِبَّهُ شَيْئًا كَانَ قَبْلَهُ. فَكَانَ يَتْبَعُهُ حَيْثُ ذَهَبَ، وَلَا يَفْطِنُ لَهُ فَيْميون، حَتَّى خَرَجَ مَرَّةً فِي يَوْمِ الْأَحَدِ إلَى فَلَاةٍ مِنْ الْأَرْضِ -كَمَا كَانَ يَصْنَعُ-وَقَدْ اتَّبَعَهُ صَالِحٌ، وفَيْمِيون لَا يَدْرِي؛ فَجَلَسَ صَالِحٌ مِنْهُ منظرَ الْعَيْنِ مُسْتَخْفِيًا مِنْهُ، لَا يُحِبُّ أَنْ يُعلم بِمَكَانِهِ، وَقَامَ فَيْمِيُونُ يُصَلِّي فَبَيْنَمَا هُوَ يُصَلِّي إذْ أَقْبَلَ نَحْوَهُ التِّنِّينُ –الْحَيَّةُ ذَاتُ الرُّءُوسِ السَّبْعَةِ1– فَلَمَّا رَآهَا فَيْمِيون دَعَا عَلَيْهَا فَمَاتَتْ، وَرَآهَا صَالِحٌ وَلَمْ يَدْرِ مَا أَصَابَهَا، فَخَافَهَا عَلَيْهِ، فَعِيل عَوْلَه فَصَرَخَ: يَا فَيْمِيون! التِّنِّينُ قَدْ أَقْبَلَ نَحْوَكَ، فَلَمْ يَلْتَفِتْ إلَيْهِ، وَأَقْبَلَ عَلَى صَلَاتِهِ حَتَّى فَرَغَ مِنْهَا، وَأَمْسَى، فَانْصَرَفَ، وَعَرَفَ أَنَّهُ قَدْ عُرف، وعَرف صَالِحٌ أَنَّهُ قَدْ رَأَى مَكَانَهُ، فَقَالَ لَهُ: يا فَيْمِيون! تعلم والله مَا أَحْبَبْتُ شَيْئًا قطُّ حبَّك وَقَدْ أَرَدْتُ صُحْبَتَكَ، وَالْكَيْنُونَةَ مَعَكَ حَيْثُ كُنْتَ، فَقَالَ: مَا شئتُ، أَمْرِي كَمَا تَرَى، فَإِنْ عَلِمْتَ أَنَّكَ تَقْوَى عَلَيْهِ فَنَعَمْ، فَلَزِمَهُ صَالِحٌ، وَقَدْ كَادَ أَهْلُ الْقَرْيَةِ يَفْطِنُونَ لِشَأْنِهِ، وَكَانَ إذَا فَاجَأَهُ الْعَبْدُ بِهِ الضرُّ دَعَا لَهُ فَشُفِيَ، وَإِذَا دُعي إلَى أَحَدٍ بِهِ ضُرٌّ لَمْ يَأْتِهِ، وَكَانَ لِرَجُلِ مِنْ أَهْلِ الْقَرْيَةِ ابْنٌ ضَرِيرٌ، فَسَأَلَ عَنْ شَأْنِ فَيْمِيون، فَقِيلَ لَهُ: إنَّهُ لَا يَأْتِي أَحَدًا دَعَاهُ، وَلَكِنَّهُ رَجُلٌ يَعْمَلُ لِلنَّاسِ الْبُنْيَانَ بالأجْر، فَعَمَدَ الرَّجُلُ إلَى ابْنِهِ ذَلِكَ، فَوَضَعَهُ فِي حُجْرَتِهِ، وَأَلْقَى عَلَيْهِ ثَوْبًا ثم جَاءَهُ فَقَالَ لَهُ: يَا فَيْمِيُونُ، إنِّي قَدْ أَرَدْتُ أَنْ أَعْمَلَ فِي بَيْتِي عَمَلًا، فَانْطَلِقْ مَعِي إلَيْهِ حَتَّى تَنْظُرَ إلَيْهِ فَأُشَارِطُكَ عَلَيْهِ، فَانْطَلَقَ مَعَهُ حَتَّى دَخَلَ حُجْرَتَهُ، ثُمَّ قَالَ لَهُ: مَا تُرِيدُ أَنْ تَعْمَلَ فِي بَيْتِكَ هَذَا؟ قَالَ: كَذَا وَكَذَا، ثُمَّ انْتَشَطَ الرجلُ الثوبَ عَنْ الصَّبِيِّ2، ثُمَّ قَالَ لَهُ: يَا فَيْمِيون، عَبْدٌ مِنْ عِبَادِ اللَّهِ أَصَابَهُ مَا تَرَى، فادعُ اللَّهَ لَهُ؟ فَدَعَا لَهُ فَيْمِيون؛ فَقَامَ الصَّبِيُّ لَيْسَ بِهِ بَأْسٌ.

وعَرف فَيْمِيُونُ أَنَّهُ قَدْ عُرِف، فَخَرَجَ مِنْ الْقَرْيَةِ، وَاتَّبَعَهُ صَالِحٌ، فَبَيْنَمَا هُوَ يَمْشِي فِي بَعْضِ الشَّامِ إذْ مَرَّ بِشَجَرَةِ عَظِيمَةٍ، فَنَادَاهُ مِنْهَا رَجُلٌ، فَقَالَ: يَا فَيْمِيون! قَالَ نَعَمْ. قَالَ: مَا زِلْتُ أَنْظُرُكَ، وَأَقُولُ: مَتَى هُوَ جَاءٍ؟ حَتَّى سَمِعْتُ صَوْتَكَ، فَعَرَفْتُ أَنَّكَ هُوَ، لَا تبرحْ حَتَّى تَقُومَ عليَّ فَإِنِّي مَيِّتٌ الْآنَ. قَالَ: فَمَاتَ، وَقَامَ عَلَيْهِ حَتَّى وَارَاهُ، ثُمَّ انْصَرَفَ، وَتَبِعَهُ صَالِحٌ، حَتَّى وَطِئَا بَعْضَ أَرْضِ الْعَرَبِ، فعدُوا عَلَيْهِمَا، فَاخْتَطَفَتْهُمَا سَيَّارةٌ مِنْ بَعْضِ الْعَرَبِ، فخرجوا بهما، حتى

--------------------------------------------

1 أي القرون السبعة.

2 انتشط الثوب: رفعه بسرعة.
তিনি তার এই কাজ অত্যন্ত সংগোপনে সম্পাদন করতেন। ফলে সেই জনপদের সালেহ নামক জনৈক ব্যক্তি তার বিষয়টি লক্ষ্য করলেন এবং সালেহ তাকে এমন গভীর ভালোবাসায় সিক্ত করলেন, যা ইতিপূর্বে আর কারো ক্ষেত্রে করেননি। তিনি যেখানেই যেতেন সালেহ তার পিছু নিতেন, অথচ ফায়মিয়ুন তা টের পেতেন না। এমনকি একদিন রবিবার তিনি—যেমনটি তিনি সচরাচর করতেন—একটি নির্জন প্রান্তরে বের হলেন, আর সালেহও তার অগোচরে তার পিছু নিলেন। সালেহ তার থেকে দৃষ্টির নাগালে এক স্থানে নিজেকে লুকিয়ে বসলেন, কারণ তিনি চাইলেন না যে তার অবস্থান প্রকাশিত হোক। ফায়মিয়ুন সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়ালেন। যখন তিনি সালাত আদায় করছিলেন, তখন এক বিশালাকার সর্প—সাত মাথা বিশিষ্ট সাপ১—তার দিকে অগ্রসর হলো। ফায়মিয়ুন যখন তা দেখলেন, তখন তিনি তার বিরুদ্ধে দুআ করলেন এবং সেটি সাথে সাথে মারা গেল। সালেহ এটি দেখছিলেন কিন্তু এর ওপর কী আপতিত হয়েছে তা বুঝতে পারলেন না। তিনি ফায়মিয়ুনের জীবন নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়লেন এবং উৎকণ্ঠায় চিৎকার করে উঠলেন: "হে ফায়মিয়ুন! বিশালাকার সর্পটি আপনার দিকে ধেয়ে আসছে!" কিন্তু তিনি তার দিকে ভ্রুক্ষেপ করলেন না এবং সালাত শেষ না করা পর্যন্ত সেদিকেই নিবিষ্ট থাকলেন। সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে তিনি ফিরে চললেন এবং বুঝতে পারলেন যে তার বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেছে। সালেহও বুঝতে পারলেন যে ফায়মিয়ুন তার অবস্থান দেখে ফেলেছেন। তখন সালেহ তাকে বললেন: "হে ফায়মিয়ুন! আল্লাহর শপথ, আপনি জানেন যে আমি কখনো আপনার ন্যায় আর কাউকে ভালোবাসিনি। আমি আপনার সাহচর্যে থাকতে চাই এবং আপনি যেখানেই থাকেন আপনার সাথেই থাকতে চাই।" তিনি বললেন: "তোমার যা ইচ্ছা; আমার অবস্থা তো তুমি দেখছই। যদি তুমি মনে করো যে তুমি এর ভার বহনে সক্ষম হবে, তবে আমার সাথে থাকতে পারো।" তখন থেকে সালেহ তার সাথে লেগে রইলেন। এদিকে গ্রামের লোকেরাও প্রায় তার স্বরূপ সম্পর্কে সচেতন হয়ে উঠল। নিয়ম ছিল যে, কোনো বিপদগ্রস্ত ব্যক্তি যদি হঠাৎ তার কাছে আসত, তবে তিনি তার জন্য দুআ করতেন এবং সে আরোগ্য লাভ করত। কিন্তু যখন তাকে কোনো অসুস্থ ব্যক্তির কাছে ডাকা হতো, তিনি সেখানে যেতেন না। সেই গ্রামের এক ব্যক্তির একজন অন্ধ পুত্র ছিল। সে ফায়মিয়ুন সম্পর্কে অনুসন্ধান করল। তাকে জানানো হলো যে, তাকে ডাকলে তিনি কারো কাছে যান না, তবে তিনি এমন একজন ব্যক্তি যিনি মজুরির বিনিময়ে মানুষের ঘরবাড়ি নির্মাণের কাজ করে থাকেন। তখন সেই লোকটি তার অন্ধ পুত্রকে নিজের কক্ষে নিয়ে রাখল এবং তার ওপর একটি কাপড় দিয়ে ঢেকে দিল। অতঃপর সে ফায়মিয়ুনের কাছে এসে বলল: "হে ফায়মিয়ুন, আমি আমার ঘরে কিছু কাজ করাতে ইচ্ছুক। আপনি দয়া করে আমার সাথে চলুন এবং কাজটি দেখে নিন যাতে আমি আপনার সাথে পারিশ্রমিক ঠিক করতে পারি।" ফায়মিয়ুন তার সাথে গেলেন এবং সেই কক্ষে প্রবেশ করলেন। অতঃপর তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন: "আপনি আপনার এই ঘরে ঠিক কী কাজ করাতে চান?" সে বলল: "অমুক অমুক কাজ।" তারপর সেই ব্যক্তি দ্রুত বালকের ওপর থেকে কাপড়টি সরিয়ে ফেলল২ এবং তাকে বলল: "হে ফায়মিয়ুন, আল্লাহর বান্দাদের মধ্য থেকে এক বান্দা এই বিপদে আক্রান্ত যা আপনি দেখছেন। আপনি তার জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করুন।" তখন ফায়মিয়ুন তার জন্য দুআ করলেন এবং বালকটি সুস্থ হয়ে দাঁড়িয়ে গেল।

ফায়মিয়ুন বুঝতে পারলেন যে তিনি লোকসমক্ষে পরিচিত হয়ে পড়েছেন, তাই তিনি সেই গ্রাম থেকে বেরিয়ে গেলেন এবং সালেহও তার অনুসরণ করলেন। তারা যখন শাম দেশের (সিরিয়া অঞ্চল) কোনো এক পথ দিয়ে চলছিলেন, তখন তিনি একটি বিশাল বৃক্ষের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। তখন বৃক্ষটি থেকে এক ব্যক্তি তাকে ডেকে বলল: "হে ফায়মিয়ুন!" তিনি উত্তর দিলেন: "হ্যাঁ।" সে বলল: "আমি আপনার জন্য প্রতীক্ষা করছিলাম এবং ভাবছিলাম তিনি কখন আসবেন? অবশেষে আমি আপনার কণ্ঠস্বর শুনতে পেলাম এবং চিনতে পারলাম যে আপনিই সেই ব্যক্তি। আমি এখনই মারা যাব, তাই আপনি আমার দাফনকাজ সম্পন্ন না করা পর্যন্ত প্রস্থান করবেন না।" বর্ণনাকারী বলেন: তারপর লোকটি মারা গেল এবং ফায়মিয়ুন তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করলেন। এরপর তিনি পুনরায় প্রস্থান করলেন এবং সালেহও তার পদাঙ্ক অনুসরণ করলেন। অবশেষে তারা আরবদের কোনো এক ভূখণ্ডে উপনীত হলেন। তখন একদল লোক তাদের ওপর চড়াও হলো এবং আরবদের একটি ভ্রাম্যমাণ কাফেলা তাদের দুজনকে অপহরণ করে নিয়ে গেল। তারা তাদের নিয়ে চলে গেল যতক্ষণ না...

--------------------------------------------

১ অর্থাৎ সাতটি মাথা বিশিষ্ট।

২ কাপড়টি দ্রুত তুলে ফেলা।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনি হিশাম - তাহকীক ত্বহা আবদুর রাউফ সাদ (পৃষ্ঠা: ২৮)
بَاعُوهُمَا بِنَجْرَانَ، وَأَهْلُ نَجْرَانَ يَوْمَئِذٍ عَلَى دِينِ الْعَرَبِ، يَعْبُدُونَ نَخْلَةً طَوِيلَةً بَيْنَ أظهرِهم لَهَا عِيدٌ فِي كُلِّ سَنَةٍ، إذَا كَانَ ذَلِكَ الْعِيدُ عَلَّقُوا عَلَيْهَا كُلَّ ثَوْبٍ حَسَنٍ وَجَدُوهُ، وحُليّ النِّسَاءِ، ثُمَّ خَرَجُوا إلَيْهَا، فَعَكَفُوا عَلَيْهَا يَوْمًا.

فَابْتَاعَ فَيْمِيونَ رجلٌ مِنْ أَشْرَافِهِمْ، وَابْتَاعَ صَالِحًا آخرُ، فَكَانَ فيمِيون إذَا قَامَ مِنْ اللَّيْلِ -يَتَهَجَّدُ فِي بَيْتٍ لَهُ أَسْكَنَهُ إيَّاهُ سَيِّدُهُ- يُصَلِّي، اُسْتُسْرِجَ لَهُ البيتُ نُورًا حَتَّى يُصْبِحَ مِنْ غَيْرِ مِصْبَاحٍ، فَرَأَى ذَلِكَ سَيِّدُهُ، فَأَعْجَبَهُ مَا يَرَى مِنْهُ، فَسَأَلَهُ عَنْ دِينِهِ فَأَخْبَرَهُ بِهِ، وَقَالَ لَهُ فَيْمِيُونُ: إنَّمَا أَنْتُمْ فِي بَاطِلٍ، إنَّ هَذِهِ النَّخْلَةَ لَا تَضُرُّ وَلَا تَنْفَعُ، وَلَوْ دَعَوْتُ عَلَيْهَا إلَهِي الَّذِي أَعْبُدُهُ، لَأَهْلَكَهَا وَهُوَ اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، قَالَ: فَقَالَ لَهُ سَيِّدُهُ: فَافْعَلْ، فَإِنَّكَ إنْ فَعَلْتَ دَخَلْنَا فِي دِينِكَ، وَتَرَكْنَا مَا نَحْنُ عَلَيْهِ. قَالَ فَقَامَ فَيْمِيون، فَتَطَهَّرَ وَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ دَعَا اللَّهَ عَلَيْهَا، فَأَرْسَلَ اللَّهُ عَلَيْهَا رِيحًا فَجَعَفَتْها1 مِنْ أَصْلِهَا فَأَلْقَتْهَا، فاتَّبعه عِنْدَ ذَلِكَ أَهْلُ نَجْرَانَ عَلَى دِينِهِ، فَحَمَلَهُمْ عَلَى الشَّرِيعَةِ مِنْ دِينِ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ عليه السلام، ثُمَّ دَخَلَتْ عَلَيْهِمْ الْأَحْدَاثُ الَّتِي دَخَلَتْ عَلَى أَهْلِ دِينِهِمْ بِكُلِّ أَرْضٍ، فَمِنْ هُنَالِكَ كَانَتْ النَّصْرَانِيَّةُ بِنَجْرَانَ فِي أَرْضِ الْعَرَبِ.

قَالَ ابْنُ إسْحَاقَ: فَهَذَا حَدِيثُ وَهْبِ بْنِ مُنَبِّه عن أهل نجران.

خبر عبد الله بن الثامر

عبد الله بن الثامر والاسم الْأَعْظَمُ: قَالَ ابْنُ إسْحَاقَ: وَحَدَّثَنِي يَزِيدُ بْنُ زِيَادٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ الْقُرَظِيِّ، وَحَدَّثَنِي أَيْضًا بَعْضُ أَهْلِ نَجْرَانَ عَنْ أَهْلِهَا: أَنَّ أَهْلَ نَجْرَانَ كَانُوا أَهْلَ شِرْكٍ يَعْبُدُونَ الْأَوْثَانَ، وَكَانَ فِي قَرْيَةٍ مِنْ قُرَاهَا قَرِيبًا مِنْ نَجْرَانَ -وَنَجْرَانُ: الْقَرْيَةُ الْعُظْمَى الَّتِي إلَيْهَا جِمَاعُ أَهْلِ تِلْكَ الْبِلَادِ- سَاحِرٌ يُعَلِّمُ غِلْمَانَ أَهْلِ نَجْرَانَ السِّحْرَ، فَلَمَّا نَزَلَهَا فَيْمِيون -وَلَمْ يُسَمُّوهُ لِي بِاسْمِهِ الَّذِي سَمَّاهُ بِهِ وَهْبُ بْنُ مُنَبِّهٍ، قَالُوا: رَجُلٌ نَزَلَهَا- ابْتَنَى خَيْمَةً بَيْنَ نَجْرَانَ، وَبَيْنَ تِلْكَ الْقَرْيَةِ الَّتِي بِهَا السَّاحِرُ، فَجَعَلَ أَهْلُ نَجْرَانَ يُرْسِلُونَ غِلْمَانَهُمْ إلَى ذَلِكَ السَّاحِرِ، يُعَلِّمُهُمْ السِّحْرَ، فَبَعَثَ إلَيْهِ الثامرُ ابنَه عبدَ اللَّهِ بْنَ الثَّامِرِ مَعَ غِلْمَانِ أَهْلِ نَجْرَانَ، فَكَانَ إذَا مَرَّ بِصَاحِبِ الْخَيْمَةِ أَعْجَبَهُ مَا يَرَى مِنْهُ مِنْ صَلَاتِهِ وَعِبَادَتِهِ، فَجَعَلَ يَجْلِسُ إلَيْهِ، وَيَسْمَعُ مِنْهُ حَتَّى أَسْلَمَ فوحَّد

--------------------------------------------

1 جعفتها: أسقطتها.
তারা তাঁদের উভয়কে নাজরানে বিক্রি করে দিলেন। সে সময় নাজরানের অধিবাসীরা আরবদের ধর্মের ওপর প্রতিষ্ঠিত ছিল। তারা তাদের জনপদে একটি দীর্ঘ খেজুর গাছের পূজা করত, যার জন্য প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট উৎসব পালিত হতো। যখন সেই উৎসবের সময় আসত, তখন তারা তাদের কাছে থাকা প্রতিটি সুন্দর পোশাক এবং নারীদের অলংকারাদি সেই গাছের ওপর ঝুলিয়ে দিত। তারপর তারা সেটির উদ্দেশ্যে বেরিয়ে আসত এবং সারাদিন সেখানে অবস্থান করত।

অতঃপর তাঁদের মধ্য থেকে এক সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি ফায়মিয়ুনকে কিনে নিলেন এবং অন্য একজন সালিহকে কিনে নিলেন। ফায়মিয়ুন যখন রাতে দাঁড়াতেন—তাঁর মনিব তাঁকে যে ঘরে থাকতে দিয়েছিলেন সেখানে তিনি তাহাজ্জুদ আদায় করতেন—তখন কোনো প্রদীপ ছাড়াই সকাল পর্যন্ত তাঁর ঘর নূরের আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে থাকত। তাঁর মনিব তা প্রত্যক্ষ করলেন এবং যা দেখলেন তাতে তিনি বিস্মিত হলেন। তিনি তাঁর কাছে তাঁর ধর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাঁকে সে সম্পর্কে অবহিত করলেন। ফায়মিয়ুন তাঁকে বললেন: "আপনারা মূলত বাতিলের ওপর রয়েছেন। এই খেজুর গাছটি কোনো ক্ষতিও করতে পারে না এবং কোনো উপকারও করতে পারে না। আমি যদি আমার সেই ইলাহর কাছে এর বিরুদ্ধে প্রার্থনা করি যাঁর ইবাদত আমি করি, তবে তিনি অবশ্যই একে ধ্বংস করে দেবেন; আর তিনি হলেন আল্লাহ, যিনি একক এবং তাঁর কোনো শরিক নেই।" বর্ণনা করা হয়েছে যে, তখন তাঁর মনিব তাঁকে বললেন: "তবে আপনি তাই করুন। আপনি যদি তা করতে পারেন, তবে আমরা আপনার ধর্মে প্রবেশ করব এবং বর্তমানে আমরা যা পালন করছি তা বর্জন করব।" বর্ণনাকারী বলেন, তখন ফায়মিয়ুন দাঁড়িয়ে পবিত্রতা অর্জন করলেন এবং দুই রাকাত নামাজ আদায় করলেন। তারপর তিনি গাছটির বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন। ফলে আল্লাহ সেটির ওপর এক প্রবল বাতাস পাঠালেন যা সেটিকে তার মূল থেকে উপড়ে ফেলে দিল। তখন নাজরানের অধিবাসীরা সেই ঘটনায় তাঁর ধর্মের অনুসরণ করল। তিনি তাদেরকে ঈসা ইবনে মারিয়াম আলাইহিস সালামের প্রবর্তিত ধর্মের শরিয়তের ওপর পরিচালিত করলেন। এরপর তাদের মাঝেও সেই সব বিচ্যুতি প্রবেশ করল যা পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে তাদের ধর্মাবলম্বীদের মাঝে প্রবেশ করেছিল। এভাবেই আরবের নাজরান ভূমিতে খ্রিস্টধর্মের বিস্তার ঘটেছিল।

ইবনে ইসহাক বলেন: এটি নাজরানবাসীদের সম্পর্কে ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহের বর্ণিত বিবরণ।

আবদুল্লাহ ইবনে সামিরের সংবাদ

আবদুল্লাহ ইবনে সামির ও ইসমে আজম: ইবনে ইসহাক বলেন: ইয়াজিদ ইবনে জিয়াদ মুহাম্মদ ইবনে কাব আল-কুরাজি থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন এবং নাজরানের কিছু লোকও তাদের অধিবাসীদের সূত্রে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন: নাজরানবাসীরা মুশরিক ছিল এবং তারা মূর্তিপূজা করত। নাজরানের নিকটবর্তী তাদের একটি গ্রামে—আর নাজরান ছিল সেই প্রধান জনপদ যেখানে ওই এলাকার সকল মানুষ সমবেত হতো—একজন জাদুকর ছিল যে নাজরানের কিশোরদের জাদুবিদ্যা শিক্ষা দিত। যখন ফায়মিয়ুন সেখানে আসলেন—তাঁরা আমার কাছে তাঁর সেই নাম উল্লেখ করেননি যা ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহ করেছিলেন, বরং তাঁরা বলেছেন: এক ব্যক্তি সেখানে আসলেন—তিনি নাজরান এবং সেই জাদুকরের গ্রামের মাঝখানে একটি তাবু স্থাপন করলেন। নাজরানবাসীরা তাদের সন্তানদের সেই জাদুকরের কাছে পাঠাতে শুরু করল যাতে সে তাদেরকে জাদু শেখায়। সামিরও নাজরানের অন্য কিশোরদের সাথে তার পুত্র আবদুল্লাহ ইবনে সামিরকে তার কাছে পাঠাল। সে যখন ওই তাবুওয়ালার কাছ দিয়ে যেত, তখন তাঁর নামাজ ও ইবাদত দেখে সে অভিভূত হতো। ফলে সে তাঁর কাছে বসতে শুরু করল এবং তাঁর কথা শুনতে থাকল, শেষ পর্যন্ত সে ইসলাম গ্রহণ করল এবং আল্লাহর একত্ববাদ স্বীকার করল...

--------------------------------------------

১. সেটিকে ফেলে দিল বা উপড়ে দিল।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনি হিশাম - তাহকীক ত্বহা আবদুর রাউফ সাদ (পৃষ্ঠা: ২৯)
اللَّهَ وَعَبَدَهُ، وَجَعَلَ يَسْأَلُهُ عَنْ شَرَائِعِ الْإِسْلَامِ حَتَّى إذَا فَقِهَ فِيهِ، جَعَلَ يَسْأَلُهُ عَنْ الِاسْمِ الْأَعْظَمِ -وَكَانَ يعْلمُه- فَكَتَمَهُ إيَّاهُ وَقَالَ له: يابن أَخِي! إنَّكَ لَنْ تحملَه، أَخْشَى عَلَيْكَ ضعفَك عَنْهُ. وَالثَّامِرُ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ لَا يَظُنُّ إلَّا أَنَّ ابنَه يَخْتَلِفُ إلَى السَّاحِرِ كَمَا يَخْتَلِفُ الغلمانُ، فَلَمَّا رَأَى عبدُ اللَّهِ أَنَّ صاحبَه قَدْ ضَنَّ بِهِ عَنْهُ، وتخوَّف ضَعْفَه فيه، عمد إلى قِداح1 فَجَمَعَهَا، ثُمَّ لَمْ يُبق لِلَّهِ اسْمًا يَعْلَمُهُ إلا كتبه في قِدْح، لكلِّ اسْمٍ قِدْح، حَتَّى إذَا أَحْصَاهَا أَوْقَدَ لَهَا نَارًا، ثُمَّ جَعَلَ يَقْذِفُهَا فِيهَا قِدْحًا قِدْحًا، حَتَّى إذَا مَرَّ بِالِاسْمِ الْأَعْظَمِ قَذَفَ فِيهَا بِقدْحه، فَوَثَبَ القِدْح حَتَّى خَرَجَ مِنْهَا لَمْ تَضُرَّهُ شَيْئًا، فَأَخَذَهُ ثُمَّ أَتَى صَاحِبَهُ، فَأَخْبَرَهُ بِأَنَّهُ قَدْ عَلِمَ الِاسْمَ الَّذِي كَتَمَهُ، فَقَالَ: وما هو؟ قال: هو كذا وكذا، قال: وَكَيْفَ عَلِمْتَهُ؟ فَأَخْبَرَهُ بِمَا صَنَعَ، قَالَ: أَيْ ابنَ أَخِي! قَدْ أَصَبْتَهُ فأمسكْ عَلَى نفسِك، وما أظنُّ أن تفعلَ.

عبد الله بن الثامر يدعو إلى التوحيد: فَجَعَلَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الثَّامِرِ إذَا دَخَلَ نَجْرَانَ لَمْ يَلْقَ أَحَدًا بِهِ ضُرٌّ إلَّا قال: يَا عَبْدَ اللَّهِ، أتوحِّدُ اللَّهَ، وَتَدْخُلُ فِي دِينِي، وَأَدْعُو اللَّهَ، فَيُعَافِيكَ مِمَّا أَنْتَ فِيهِ مِنْ الْبَلَاءِ؟ فَيَقُولُ: نَعَمْ، فَيُوَحِّدُ اللَّهَ ويُسْلم، وَيَدْعُو لَهُ فيُشْفَى، حَتَّى لَمْ يَبْقَ بِنَجْرَانَ أَحَدٌ بِهِ ضُر إلَّا أَتَاهُ فاتَّبعه عَلَى أَمْرِهِ، وَدَعَا لَهُ فعوفِيَ، حَتَّى رُفِعَ شَأْنُهُ إلَى مَلك نَجْرَانَ، فَدَعَاهُ فَقَالَ لَهُ: أَفْسَدْتَ عليَّ أَهْلَ قَرْيَتِي، وَخَالَفْتَ دِينِي وَدِينَ آبَائِي، لأمثلنَّ بِكَ. قَالَ: لَا تَقْدِرُ عَلَى ذَلِكَ. قَالَ: فَجَعَلَ يُرسل بِهِ إلَى الْجَبَلِ الطَّوِيلِ، فيُطرَح عَلَى رَأْسِهِ، فَيَقَعُ إلَى الْأَرْضِ لَيْسَ بِهِ بَأْسٌ، وَجَعَلَ يَبْعَثُ بِهِ إلَى مِيَاهٍ بِنَجْرَانَ، بحورٍ لَا يَقَعُ فِيهَا شَيْءٌ إلَّا هَلَكَ، فيُلْقَى فِيهَا، فَيَخْرُجُ لَيْسَ بِهِ بَأْسٌ، فَلَمَّا غَلَبَهُ، قَالَ لَهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الثَّامِرِ: إنَّكَ وَاَللَّهِ لَنْ تَقْدِرَ عَلَى قَتْلِي حَتَّى تُوَحِّدَ اللَّهَ فَتُؤْمِنَ بِمَا آمنتُ بِهِ، فَإِنَّكَ إنْ فَعَلْتَ ذَلِكَ، سُلِّطْتَ عليَّ فَقَتَلْتنِي، قَالَ: فوحَّد اللَّهَ تَعَالَى ذَلِكَ الْمَلِكُ، وَشَهِدَ شَهَادَةَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الثَّامِرِ، ثُمَّ ضَرَبَهُ بِعَصَا فِي يَدِهِ، فَشَجَّهُ شَجَّةً غَيْرَ كَبِيرَةٍ، فَقَتَلَهُ ثُمَّ هَلَكَ الْمَلِكُ مَكَانَهُ، وَاسْتَجْمَعَ أَهْلُ نَجْرَانَ عَلَى دِينِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الثَّامِرِ، وَكَانَ عَلَى مَا جَاءَ بِهِ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ مِنْ الْإِنْجِيلِ وحُكمه، ثُمَّ أَصَابَهُمْ مِثْلُ مَا أَصَابَ أَهْلَ دِينِهِمْ مِنْ الْأَحْدَاثِ، فَمِنْ هُنَالِكَ كَانَ أَصْلُ النَّصْرَانِيَّةِ بِنَجْرَانَ -وَاَللَّهُ أَعْلَمُ بذلك.

--------------------------------------------

1 القداح: السهام.
তিনি আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে তাঁর ইবাদত করতে লাগলেন এবং তাকে ইসলামের বিধি-বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে শুরু করলেন যতক্ষণ না তিনি সে বিষয়ে প্রাজ্ঞ হয়ে উঠলেন। এরপর তিনি তাকে ইসমে আজম (আল্লাহর মহত্তম নাম) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে লাগলেন—যা তিনি জানতেন—কিন্তু তিনি তা তার কাছে গোপন রাখলেন এবং তাকে বললেন: হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি তা বহন করতে পারবে না, আমি তোমার দুর্বলতার কারণে তোমার ওপর আশঙ্কা করছি। আব্দুল্লাহর পিতা থামির ধারণা করতেন যে, তার ছেলে অন্যান্য বালকদের মতো জাদুকরের কাছেই যাতায়াত করছে। আব্দুল্লাহ যখন দেখলেন যে তার সাথী (শিক্ষক) তার প্রতি এই বিষয়টি নিয়ে কার্পণ্য করছেন এবং এতে তার দুর্বলতার ভয় করছেন, তখন তিনি কিছু তীরের (লটারির কাঠি) দিকে অগ্রসর হলেন এবং সেগুলো একত্রিত করলেন। এরপর তিনি আল্লাহর যত নাম জানতেন, তার প্রতিটি একটি করে তীরে লিখলেন; প্রতিটি নামের জন্য একটি পৃথক তীর। যখন তিনি সেগুলো গণনা শেষ করলেন, তখন তিনি আগুন জ্বালালেন এবং একটি একটি করে তীর আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করতে শুরু করলেন। যখন তিনি ইসমে আজমের তীরে পৌঁছালেন এবং সেটি আগুনে নিক্ষেপ করলেন, তখন তীরটি লাফিয়ে উঠল এবং আগুন থেকে অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে এল, আগুন তার কোনো ক্ষতিই করতে পারল না। তিনি সেটি নিলেন এবং তার সাথীর কাছে এসে তাকে জানালেন যে, তিনি সেই নামটি জেনে গেছেন যা তিনি গোপন করেছিলেন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: সেটি কী? তিনি বললেন: সেটি হলো এই এই। তিনি বললেন: তুমি তা কীভাবে শিখলে? তখন তিনি যা করেছিলেন তা তাকে জানালেন। তিনি বললেন: হে ভ্রাতুষ্পুত্র! তুমি তা নির্ভুলভাবে পেয়ে গেছ, সুতরাং এটি নিজের কাছেই গোপন রাখো; তবে আমার মনে হয় না যে তুমি তা করতে পারবে।

আব্দুল্লাহ ইবনে থামির তাওহিদের দিকে আহ্বান জানাচ্ছেন: আব্দুল্লাহ ইবনে থামির যখনই নাজরানে প্রবেশ করতেন, তখন কোনো অসুস্থ বা বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির দেখা পেলেই তাকে বলতেন: হে আল্লাহর বান্দা, তুমি কি আল্লাহর একত্ববাদ স্বীকার করবে এবং আমার দ্বীনে প্রবেশ করবে? তাহলে আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করব যেন তিনি তোমাকে এই মুসিবত থেকে মুক্তি দেন। সে বলত: হ্যাঁ। তখন সে আল্লাহর একত্ববাদ স্বীকার করত ও ইসলাম গ্রহণ করত, আর তিনি তার জন্য দোয়া করতেন এবং সে সুস্থ হয়ে যেত। এভাবে নাজরানে কোনো অসুস্থ ব্যক্তিই আর অবশিষ্ট থাকল না যে তার কাছে আসেনি এবং তার নির্দেশ অনুসরণ করেনি; তিনি তার জন্য দোয়া করতেন আর সে আরোগ্য লাভ করত। শেষ পর্যন্ত নাজরানের রাজার কাছে তার বিষয়টি উত্থাপন করা হলো। রাজা তাকে ডেকে এনে বললেন: তুমি আমার নগরবাসীকে আমার বিরুদ্ধে বিগড়ে দিয়েছ এবং আমার ও আমার পিতৃপুরুষদের ধর্মের বিরোধিতা করেছ; আমি অবশ্যই তোমাকে বিকলাঙ্গ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেব। তিনি বললেন: আপনি তা করতে সক্ষম হবেন না। বর্ণনাকারী বলেন: রাজা তাকে সুউচ্চ পাহাড়ে পাঠিয়ে দিতেন এবং তাকে পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচে নিক্ষেপ করা হতো, কিন্তু তিনি কোনো ক্ষতি ছাড়াই অক্ষত অবস্থায় মাটিতে পড়তেন। রাজা তাকে নাজরানের অগাধ জলাশয়গুলোতে নিক্ষেপ করতে পাঠাতেন, যেখানে কোনো কিছু পড়লেই ধ্বংস হয়ে যেত; তাকে সেখানে ফেলা হতো, কিন্তু তিনি কোনো আঘাত ছাড়াই বের হয়ে আসতেন। যখন রাজা তাকে দমনে ব্যর্থ হলেন, তখন আব্দুল্লাহ ইবনে থামির তাকে বললেন: আল্লাহর কসম, আপনি ততক্ষণ পর্যন্ত আমাকে হত্যা করতে পারবেন না যতক্ষণ না আপনি আল্লাহর একত্ববাদ স্বীকার করেন এবং আমি যা বিশ্বাস করি তার ওপর ঈমান আনেন। আপনি যদি তা করেন, তবেই আমার ওপর ক্ষমতা পাবেন এবং আমাকে হত্যা করতে পারবেন। তখন সেই রাজা মহান আল্লাহর একত্ববাদ স্বীকার করলেন এবং আব্দুল্লাহ ইবনে থামির যে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন সেই একই সাক্ষ্য দিলেন। এরপর তিনি তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে তাকে আঘাত করলেন এবং তার মাথায় ছোট একটি ক্ষত সৃষ্টি করলেন, যার ফলে তিনি মারা গেলেন। এরপর সেই রাজা তাৎক্ষণিকভাবে মৃত্যুবরণ করলেন। নাজরানের অধিবাসীরা তখন আব্দুল্লাহ ইবনে থামিরের ধর্মের ওপর ঐক্যবদ্ধ হলো, যা ছিল মারয়াম-পুত্র ঈসা (আ.) আনীত ইঞ্জিল ও তার বিধান অনুযায়ী। পরবর্তীকালে তাদের ওপরও বিভিন্ন বিপর্যয় নেমে এল যেমনটা তাদের পূর্ববর্তী ধর্মাবলম্বীদের ওপর এসেছিল। এভাবেই নাজরানে খ্রিস্টধর্মের মূল ভিত্তি স্থাপিত হয়—আর আল্লাহই এ বিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানেন।

--------------------------------------------

১. কিদাহ: তীরসমূহ।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনি হিশাম - তাহকীক ত্বহা আবদুর রাউফ সাদ (পৃষ্ঠা: ৩০)
قَالَ ابْنُ إسْحَاقَ: فَهَذَا حَدِيثُ مُحَمَّدِ بْنِ كَعْبٍ القُرَظيّ، وَبَعْضِ أَهْلِ نَجْرَانَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الثَّامِرِ -وَاَللَّهُ أَعْلَمُ أَيُّ ذَلِكَ كان.

ذو نواس يدعو أهل نجران إلى اليهودية: فَسَارَ إلَيْهِمْ ذُو نُوَاسٍ بِجُنُودِهِ، فَدَعَاهُمْ إلَى الْيَهُودِيَّةِ، وَخَيَّرَهُمْ بَيْنَ ذَلِكَ وَالْقَتْلِ، فَاخْتَارُوا الْقَتْلَ، فخدَّ لَهُمْ الْأُخْدُودَ1، فَحَرَقَ مَنْ حَرَقَ بِالنَّارِ، وقتل من قتل بالسيف، ومثَّل بهم، حَتَّى قَتَلَ مِنْهُمْ قَرِيبًا مِنْ عِشْرِينَ أَلْفًا، فَفِي ذِي نُواس وَجُنْدِهِ تِلْكَ أَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى عَلَى رَسُولِهِ سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ صلى الله عليه وسلم: {قُتِلَ أَصْحَابُ الْأُخْدُودِ، النَّارِ ذَاتِ الْوَقُودِ، إِذْ هُمْ عَلَيْهَا قُعُودٌ، وَهُمْ عَلَى مَا يَفْعَلُونَ بِالْمُؤْمِنِينَ شُهُودٌ، وَمَا نَقَمُوا مِنْهُمْ إِلَّا أَنْ يُؤْمِنُوا بِاللَّهِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ} . [البروج: 4-8]

تفسير الأخدود: قَالَ ابْنُ هِشَامٍ: الْأُخْدُودُ: الحَفْر الْمُسْتَطِيلُ فِي الْأَرْضِ، كَالْخَنْدَقِ وَالْجَدْوَلِ وَنَحْوِهِ، وَجَمْعُهُ: أَخَادِيدُ. قَالَ ذُو الرُّمَّةِ -وَاسْمُهُ: غَيْلان بْنُ عُقبة، أَحَدُ بَنِي عَدِيِّ بْنِ عَبْدِ مَنَافِ بْنِ أُدِّ بن طابخة بْنِ إلْيَاسَ بْنِ مُضر:

مِنْ العراقِيَّةِ اللَّاتِي يُحيلُ لَهَا … بَيْنَ الفَلَاةِ وبينَ النخلِ أخدودُ

يَعْنِي: جَدْوَلًا. وَهَذَا الْبَيْتُ فِي قَصِيدَةٍ لَهُ. قَالَ: وَيُقَالُ لِأَثَرِ السَّيْفِ وَالسِّكِّينِ فِي الْجِلْدِ، وأثر السوط ونحوه: أخدود، وجمعه أخاديد.

نهاية عبد الله بن الثَّامِرِ: قَالَ ابْنُ إسْحَاقَ: وَيُقَالُ: كَانَ فِيمَنْ قَتَلَ ذُو نُوَاسٍ، عبدَ اللَّهِ بْنُ الثَّامِرِ رأسهم وإمامهم.

قَالَ ابْنُ إسْحَاقَ: حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي بَكْرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَمرو بْنِ حَزْمٍ أَنَّهُ حُدث: أَنَّ رَجُلًا مِنْ أَهْلِ نَجْرَانَ كَانَ فِي زَمَانِ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه حفرَ خَرِبة مِنْ خَرِب نَجْرَانَ لِبَعْضِ حَاجَتِهِ، فَوَجَدُوا عبدَ اللَّهِ بْنَ الثَّامِرِ تَحْتَ دَفْنٍ مِنْهَا قَاعِدًا، وَاضِعًا يَدَهُ على

--------------------------------------------

1 روى ابن سنجر عن جبير بن نفير قال: الذين خددوا الأخدود ثلاثة: تبع صاحب اليمن، وقسطنطين بن هلانى -وهي أمه- حين صرف النصارى عن التوحيد ودين المسيح إلى عبادة الصليب، وبختنصر من أهل بابل حين أمر الناس أن يسجدوا له، فامتنع دانيال وأصحابه، فألقاهم في النار، فكانت بردًا وسلامًا عليهم.
ইবনে ইসহাক বলেন: এটি মুহাম্মদ বিন কাব আল-কুরাজি এবং নাজরানের কিছু অধিবাসীর পক্ষ থেকে আব্দুল্লাহ বিন আস-সামির সম্পর্কে বর্ণিত হাদিস—আর আল্লাহই ভালো জানেন এর মধ্যে কোনটি ঘটেছিল।

যু নুওয়াস নাজরানবাসীদের ইয়াহুদি ধর্মের দিকে আহ্বান করছে: অতঃপর যু নুওয়াস তার সেনাবাহিনী নিয়ে তাদের দিকে অগ্রসর হলো এবং তাদের ইয়াহুদি ধর্ম গ্রহণের আহ্বান জানালো। সে তাদের সামনে এই ধর্ম গ্রহণ অথবা মৃত্যুর মধ্য থেকে একটিকে বেছে নেওয়ার সুযোগ দিল। তারা মৃত্যুকে বেছে নিল। তখন সে তাদের জন্য পরিখা খনন করল এবং যাকে পুড়িয়ে মারার আগুনে পুড়িয়ে মারল আর যাকে হত্যা করার তলোয়ার দিয়ে হত্যা করল। সে তাদের অঙ্গহানি করল, এমনকি সে তাদের মধ্য থেকে প্রায় বিশ হাজার মানুষকে হত্যা করল। যু নুওয়াস ও তার বাহিনীর সম্পর্কেই আল্লাহ তায়ালা তাঁর রাসুল আমাদের সরদার মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর নাযিল করেছেন: {ধ্বংস হয়েছে গর্তওয়ালারা, সেই আগুনের—যা ইন্ধনপূর্ণ ছিল। যখন তারা তার পাশে বসে ছিল। আর মুমিনদের সাথে তারা যা করছিল তা তারা প্রত্যক্ষ করছিল। তারা তাদের সাথে শত্রুতা করেছিল কেবল একারণে যে, তারা পরাক্রমশালী ও প্রশংসিত আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছিল।} [বুরুজ: ৪-৮]

'উখদুদ'-এর ব্যাখ্যা: ইবনে হিশাম বলেন: উখদুদ হলো ভূমিতে খননকৃত দীর্ঘ গর্ত, যেমন পরিখা, নালা বা এই জাতীয় কিছু। এর বহুবচন হলো 'আখাদিদ'। যু-রুম্মাহ—যার নাম গায়লান বিন উকবা, যিনি বনু আদি বিন আবদে মানাফ বিন উদ্দ বিন তাবিখা বিন ইলিয়াস বিন মুদার গোত্রের একজন—বলেছেন:

ইরাকি উটগুলোর মধ্য থেকে যা তার দিকে বাঁক নেয় … মরুভূমি এবং খেজুর বাগানের মাঝে একটি নালা (উখদুদ) রয়েছে।

অর্থাৎ: একটি নালা। এই চরণটি তার একটি কবিতায় রয়েছে। তিনি বলেন: চামড়ায় তলোয়ার বা ছুরির ক্ষত এবং চাবুকের আঘাতের চিহ্নকেও 'উখদুদ' বলা হয়, যার বহুবচন হলো 'আখাদিদ'।

আব্দুল্লাহ বিন আস-সামিরের পরিণতি: ইবনে ইসহাক বলেন: বলা হয়ে থাকে যে, যু নুওয়াস যাদের হত্যা করেছিল তাদের মধ্যে তাদের প্রধান ও ইমাম আব্দুল্লাহ বিন আস-সামিরও ছিলেন।

ইবনে ইসহাক বলেন: আব্দুল্লাহ বিন আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন আমর বিন হাযম আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তাকে জানানো হয়েছে: উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর যুগে নাজরানের জনৈক ব্যক্তি তার কোনো এক প্রয়োজনে নাজরানের একটি ধ্বংসাবশেষ খনন করেছিল। তখন তারা আব্দুল্লাহ বিন আস-সামিরকে একটি স্তূপের নিচে বসা অবস্থায় খুঁজে পায়, যিনি তাঁর হাতটি রেখেছেন...

--------------------------------------------

১. ইবনে সানজার জুবাইর বিন নুফাইর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যারা পরিখা (উখদুদ) খনন করেছিল তারা হলো তিনজন: ইয়েমেনের অধিপতি তুব্বা; কন্সটানটাইন বিন হেলানি—হেলানি তার মা—যখন সে নাসারাদের তাওহিদ এবং ঈসা (আ.)-এর দ্বীন থেকে সরিয়ে ক্রুশ পূজার দিকে ধাবিত করেছিল; এবং বাবিল অধিবাসী বুখত নাসার (নেবুচাদনেজার), যখন সে মানুষকে আদেশ দিয়েছিল যেন তারা তাকে সিজদা করে, তখন দানিয়াল ও তাঁর সাথীরা তা করতে অস্বীকার করেন। ফলে সে তাদের আগুনে নিক্ষেপ করে, কিন্তু তা তাদের জন্য শীতল ও শান্তিদায়ক হয়ে গিয়েছিল।
(খণ্ড: ১) সীরাতু ইবনি হিশাম - তাহকীক ত্বহা আবদুর রাউফ সাদ (পৃষ্ঠা: ৩১)
ضربة في رأسه، مُمسكا عليها بيده، فإن أخِّرت يدَه عَنْهَا تَنْبَعِثُ دَمًا، وَإِذَا أُرْسِلَتْ يَدُهُ ردَّها عَلَيْهَا، فَأَمْسَكَتْ دمَها، وَفِي يَدِهِ خَاتَمٌ مَكْتُوبٌ فِيهِ: "رَبِّي اللَّهُ" فَكُتِبَ فِيهِ إلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ يُخْبَرُ بِأَمْرِهِ فَكَتَبَ إلَيْهِمْ عمرُ رضي الله عنه: أَنْ أَقِرُّوهُ عَلَى حَالِهِ وَرُدُّوا عَلَيْهِ الدَّفْن الَّذِي كَانَ عليه، ففعلوا1.

فرار دوس ذي ثعلبان من ذي نواس واستنجاده بِقَيْصَرَ:

قَالَ ابْنُ إسْحَاقَ: وَأَفْلَتَ مِنْهُمْ رَجُلٌ مِنْ سَبَأٍ. يُقَالُ لَهُ دَوْس ذُو ثَعْلبان عَلَى فَرَسٍ لَهُ، فَسَلَكَ الرَّمْلَ فَأَعْجَزَهُمْ، فَمَضَى عَلَى وَجْهِهِ ذَلِكَ، حَتَّى أَتَى قَيْصَرَ مَلِكَ الرُّومِ، فَاسْتَنْصَرَهُ عَلَى ذِي نُوَاسٍ وَجُنُودِهِ، وَأَخْبَرَهُ بِمَا بَلَغَ مِنْهُمْ، فَقَالَ لَهُ: بَعُدَتْ بِلَادُكَ منا، ولكن سَأَكْتُبُ لَكَ إلَى مَلِكِ الْحَبَشَةِ فَإِنَّهُ عَلَى هَذَا الدِّينِ، وَهُوَ أَقْرَبُ إلَى بِلَادِكَ، وَكَتَبَ إليه يأمره بنصره والطلب بثأره.

النجاشي ينصر دوسًا: فَقَدِمَ دوسٌ عَلَى النَّجَاشِيِّ بِكِتَابِ قَيْصَرَ، فَبَعَثَ مَعَهُ سَبْعِينَ أَلْفًا مِنْ الْحَبَشَةِ وأمَّر عَلَيْهِمْ رَجُلًا مِنْهُمْ يُقَالُ لَهُ: أَرْيَاطُ -وَمَعَهُ فِي جُنْدِهِ أَبْرَهَةُ الْأَشْرَمُ- فَرَكِبَ أَرْيَاطُ الْبَحْرَ حَتَّى نَزَلَ بِسَاحِلِ الْيَمَنِ، وَمَعَهُ دَوْس ذُو ثَعْلبان.

نهاية ذي نواس: وَسَارَ إلَيْهِ ذُو نُواس فِي حِمْير، وَمَنْ أَطَاعَهُ مِنْ قَبَائِلِ الْيَمَنِ، فَلَمَّا الْتَقَوْا انْهَزَمَ ذُو نُوَاسٍ وَأَصْحَابُهُ، فَلَمَّا رَأَى ذُو نُوَاسٍ مَا نَزَلَ بِهِ وَبِقَوْمِهِ، وَجَّهَ فَرَسَهُ فِي الْبَحْرِ، ثُمَّ ضَرَبَهُ، فَدَخَلَ بِهِ فَخَاضَ بِهِ ضَحْضَاح2 الْبَحْرِ، حَتَّى أَفْضَى بِهِ إلَى غَمْرِه3، فأدخله فيه،

--------------------------------------------

1 يصدق ذلك قوله تعالى: {وَلا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ … } وما وجد من شهداء أحد وغيرهم على هذه الصورة لم يتغيروا بعد الدهور الطويلة، كحمزة بن عبد المطلب رضي الله عنه فإنه وجد حين حفر معاوية العين صحيحًا لم يتغير وأصابت الفأس أصبعه، فدميت. وكذلك أبو جابر عبد الله بن حرام، وعمرو بن الجموح. وطلحة بن عبيد الله، استخرجته بنته عائشة من قبره حين أمرها في المنام بنقله فاستخرجته من موضعه بعد ثلاثين سنة لم يتغير. وحدثني من لا أشك في قوله أنه رأى كثيرًا من الشهداء في حرب فلسطين لم يتغيروا بعد السنين الطويلة.

2 الضحضاح من الماء: الذي يظهر قعره.

3 الغمر: الماء الكثير.
তাঁর মাথায় একটি আঘাতের চিহ্ন ছিল, যা তিনি তাঁর হাত দিয়ে চেপে ধরেছিলেন। যদি তাঁর হাতটি সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হতো, তবে সেখান থেকে রক্ত প্রবাহিত হতে শুরু করত; আবার হাতটি ছেড়ে দিলে সেটি পুনরায় পূর্বের স্থানে ফিরে আসত এবং রক্তপাত বন্ধ হয়ে যেত। তাঁর হাতে একটি আংটি ছিল যাতে খোদাই করা ছিল: "আমার প্রতিপালক আল্লাহ"। এরপর উমর ইবনুল খাত্তাবের কাছে এই সংবাদ লিখে পাঠানো হলো। উমর (রা.) তাঁদের কাছে লিখে পাঠালেন: "তাকে যে অবস্থায় পেয়েছ সেভাবেই থাকতে দাও এবং তাঁর ওপর সেই মাটিই পুনরায় দিয়ে দাও যা দ্বারা তিনি চাপা ছিলেন (কবরস্থ ছিলেন)।" ফলে তাঁরা তা-ই করল।১

যূ নুওয়াসের কবল থেকে দাওস যূ ছা'লাবানের পলায়ন এবং কায়সারের কাছে সাহায্য প্রার্থনা:

ইবনে ইসহাক বলেন: সাবা গোত্রের এক ব্যক্তি তাদের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তাকে দাওস যূ ছা'লাবান বলা হতো। তিনি নিজের একটি ঘোড়ায় চড়ে বালুকাময় পথ পাড়ি দিয়ে তাদের নাগালের বাইরে চলে যান। তিনি এভাবেই অগ্রসর হতে থাকেন এবং শেষ পর্যন্ত রোম সম্রাট কায়সারের নিকট পৌঁছান। তিনি যূ নুওয়াস ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে কায়সারের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করেন এবং তাদের পক্ষ থেকে যে চরম নির্যাতন চালানো হয়েছিল সে সম্পর্কে তাকে অবহিত করেন। কায়সার তাকে বললেন: "তোমার দেশ আমাদের থেকে অনেক দূরে, তবে আমি তোমার জন্য হাবশার রাজার নিকট একটি সুপারিশপত্র লিখে দিচ্ছি; কেননা তিনি এই দ্বীনের (খ্রিস্টধর্ম) অনুসারী এবং তোমার দেশের নিকটবর্তী।" অতঃপর তিনি তাকে সাহায্য করার এবং প্রতিশোধ নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে হাবশার রাজার কাছে চিঠি লিখলেন।

নাজ্জাশীর পক্ষ থেকে দাওসকে সাহায্য প্রদান: এরপর দাওস কায়সারের সেই চিঠি নিয়ে নাজ্জাশীর নিকট পৌঁছান। নাজ্জাশী তাঁর সাথে হাবশার সত্তর হাজার সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী পাঠালেন এবং তাদের সেনাপতি হিসেবে আরইয়াত নামক এক ব্যক্তিকে নিযুক্ত করলেন। সেই বাহিনীতে আবরাহা আল-আশরামও ছিলেন। আরইয়াত সমুদ্রপথে যাত্রা করে ইয়েমেনের উপকূলে অবতরণ করলেন এবং তাঁর সাথে দাওস যূ ছা'লাবানও ছিলেন।

যূ নুওয়াসের পরিণতি: যূ নুওয়াস হিমইয়ার গোত্র এবং ইয়েমেনের যেসব গোত্র তার অনুগত ছিল, তাদের নিয়ে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়লেন। যখন উভয় পক্ষ মুখোমুখি হলো, তখন যূ নুওয়াস ও তার সঙ্গীরা পরাজিত হলো। যূ নুওয়াস যখন নিজের ও তার কওমের এই চরম বিপর্যয় প্রত্যক্ষ করলেন, তখন তিনি নিজের ঘোড়াটিকে সমুদ্রের দিকে পরিচালিত করলেন। এরপর তিনি ঘোড়াটিকে আঘাত করলে সেটি তাঁকে নিয়ে সমুদ্রের অগভীর পানিতে প্রবেশ করল। এভাবে তিনি অগ্রসর হতে হতে গভীর পানিতে তলিয়ে গেলেন এবং সেখানেই তাঁর সমাপ্তি ঘটল।

--------------------------------------------

১ মহান আল্লাহর এই বাণী এর সত্যতা প্রমাণ করে: {আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদের মৃত মনে করো না, বরং তারা জীবিত...}। ওহুদ যুদ্ধের শহীদ এবং অন্যান্য শহীদদের দেহ দীর্ঘকাল পরেও এভাবেই অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে। যেমন হামযা ইবনে আব্দুল মুত্তালিব (রা.), মুয়াবিয়া যখন পানির ঝরনা খনন করছিলেন, তখন তাঁর দেহটি সম্পূর্ণ অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল এবং কোদালের আঘাত তাঁর আঙুলে লাগলে তা থেকে রক্ত বের হয়েছিল। একইভাবে আবু জাবির আব্দুল্লাহ ইবনে হারাম, আমর ইবনুল জামুহ এবং তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহর (রা.) দেহও অক্ষত পাওয়া যায়। তালহার কন্যা আয়েশা তাঁকে স্বপ্নে স্থানান্তরের নির্দেশ পেয়ে ত্রিশ বছর পর কবর থেকে উত্তোলন করলে দেখা যায় তাঁর দেহ বিন্দুমাত্র পরিবর্তিত হয়নি। এমন ব্যক্তিও আমাকে বর্ণনা করেছেন যার কথায় আমি কোনো সন্দেহ পোষণ করি না যে, তিনি ফিলিস্তিন যুদ্ধে অনেক শহীদকে দেখেছেন যাদের দেহ দীর্ঘ বছর পার হওয়ার পরেও বিন্দুমাত্র পরিবর্তিত হয়নি।

২ অগভীর পানি: যার তলদেশ দেখা যায়।

৩ গভীর পানি: পানির বিশাল আধার বা গভীর অংশ।