(খণ্ড: ১) আল-মুস্তাফাদু মিন যাইলি তারিখি বাগদাদ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: -)
المستفاد من ذيل تاريخ بغداد - ط العلمية   (ابن أيبك الدمياطي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: المستفاد من «ذيل تاريخ بغداد، لابن النجار»

المؤلف: أبو الحسين أحمد بن أيبك بن عبد الله الحسامي المعروف بابن الدمياطي (ت 749 هـ)

دراسة وتحقيق: مصطفى عبد القادر عطا

مطبوع بذيل: تاريخ بغداد (جـ 21)

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

الطبعة: (الأولى، 1417 هـ - 1997 م)، (الثانية، 1425 هـ - 2004 م)

عدد الصفحات: 205 (وهو جـ 21 من تاريخ بغداد وذيوله ط العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

যাইলু তারিখি বাগদাদ থেকে সংগৃহীত - ইলমিয়্যাহ সংস্করণ   (ইবনে আইবাক আদ-দুমইয়াতি)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: ইবনুন নাজ্জারের «যাইলু তারিখি বাগদাদ» থেকে সংগৃহীত

লেখক: আবুল হুসাইন আহমাদ বিন আইবাক বিন আব্দুল্লাহ আল-হুসামি, ইবনুদ দুমইয়াতি নামে পরিচিত (মৃত্যু ৭৪৯ হিজরি)

গবেষণা ও সম্পাদনা: মুস্তফা আব্দুল কাদির আতা

পরিশিষ্ট হিসেবে মুদ্রিত: তারিখু বাগদাদ (২১তম খণ্ড)

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: (প্রথম, ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ), (দ্বিতীয়, ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ)

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২০৫ (যা তারিখু বাগদাদ ও তার পরিশিষ্টসমূহের ২১তম খণ্ড, ইলমিয়্যাহ সংস্করণ)

[গ্রন্থের নম্বরকরণ মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ٢١) আল-মুস্তাফাদু মিন যাইলি তারিখি বাগদাদ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة التحقيق

الحمد لله رب العالمين الذي هدانا لهذا وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمد عبده ورسوله.

فإن كتاب «المستفاد من تاريخ بغداد» أحد ذيول «تاريخ بغداد» للخطيب وهو عدد من التراجم التي اختارها ابن الدمياطي من الأصل الذي لم يصل إلينا منه إلا القليل، وعلى الرغم من أن عمل ابن الدمياطي يعتبر سطحي إلا أن هذا العمل يعد أكثر منفعة وأهمية لطلاب الحديث والأدب.

ولقد بلغت تراجم هذا المختصر مائتين وأحد عشر شخصا، ستة منهم نساء، وقد بدأ ابن الدمياطي كتابه بترجمة لابن النجار نقلا عن ابن الدبيثي، ثم دون التراجم بعد ذلك حسب الاسم ابتداء بمحمد بن أحمد الحسين، ثم إبراهيم، وانتهاء بيوسف. وبعد ذلك الكنى، ثم النساء.

وقد اهتم ابن الدمياطي في اختياره بالذين اشتهر عنهم السماع والتحديث.

 

‌‌صاحب المستفاد:

هو أبو الحسين أحمد بن أيبك بن عبد الله الحسامي، يعرف بابن الدمياطي. ولد بمصر سنة 700 هـ بدمياط ونشأ بها ثم رحل إلى الشام سنة 740 هـ ثم عاد إلى مصر إلى أن مات بالطاعون سنة 749 هـ.

وترك من المؤلفات ما لا بأس به منها:

1 - ذيل على كتاب صلة التكملة لوفيات النقلة.

2 - تخريج حديث الرافعي.

3 - تخريج معاجم الدبوس والسبكي وغيرهما.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌সম্পাদকের ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন, আর আল্লাহ আমাদের দিশা না দিলে আমরা হেদায়েত প্রাপ্ত হতাম না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

নিশ্চয় 'আল-মুস্তাফাদ মিন তারিখি বাগদাদ' গ্রন্থটি খতিব (আল-বাগদাদি)-এর 'তারিখি বাগদাদ'-এর অন্যতম পরিশিষ্ট (জায়ল)। এটি মূলত ইবনে আদ-দুমইয়াতি কর্তৃক মূল গ্রন্থ থেকে নির্বাচিত কিছু জীবনীর সংকলন, যার সামান্য অংশই আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে। যদিও ইবনে আদ-দুমইয়াতির কাজটিকে সংক্ষিপ্ত বা সাধারণ মানের বিবেচনা করা হয়, তবুও এই কর্মটি হাদিস ও সাহিত্যের ছাত্রদের জন্য অত্যন্ত উপকারী ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে গণ্য।

এই সংক্ষিপ্ত সংকলনের জীবনীর সংখ্যা দুইশ এগারো জনে পৌঁছেছে, যাদের মধ্যে ছয়জন নারী। ইবনে আদ-দুমইয়াতি তাঁর গ্রন্থটি ইবনে আদ-দুবাইসির বরাতে ইবনে আন-নাজ্জারের জীবনী দিয়ে শুরু করেছেন। এরপর তিনি বর্ণানুক্রমিকভাবে জীবনীগুলো লিপিবদ্ধ করেছেন, যা মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ আল-হুসাইন থেকে শুরু করে ইবরাহিম এবং শেষে ইউসুফ পর্যন্ত বিস্তৃত। এরপর উপনাম (কুনিয়াত) এবং পরিশেষে নারীদের জীবনী স্থান পেয়েছে।

ইবনে আদ-দুমইয়াতি তাঁর নির্বাচনের ক্ষেত্রে তাদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন যাদের হাদিস শ্রবণ ও বর্ণনা করার বিষয়টি প্রসিদ্ধ ছিল।

 

‌‌মুস্তাফাদের লেখক:

তিনি হলেন আবুল হুসাইন আহমাদ ইবনে আইবাক ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হুসামি, যিনি ইবনে আদ-দুমইয়াতি নামে পরিচিত। তিনি ৭০০ হিজরিতে মিশরের দমিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। অতঃপর ৭৪০ হিজরিতে তিনি সিরিয়া (শাম) সফর করেন এবং পুনরায় মিশরে ফিরে আসেন; অবশেষে ৭৪৯ হিজরিতে প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন।

তিনি বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ রেখে গেছেন যার মধ্যে রয়েছে:

১ - সিলাতুত তাকমিলা লি ওয়াফায়াতিন নাকলাহ-এর পরিশিষ্ট (জায়ল)।

২ - রাফিয়ি-এর হাদিসের তাখরিজ।

৩ - আদ-দাব্বুস, আস-সুবকি ও অন্যান্যদের মা'জামসমূহের তাখরিজ।
(খণ্ড: ٢١) আল-মুস্তাফাদু মিন যাইলি তারিখি বাগদাদ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
4 - المستفاد من تاريخ بغداد(1).

 

‌‌الكتاب ومنهج التحقيق:

الكتاب مخطوط بدار الكتب المصرية تحت رقم 1955 يقع في 168 صفحة المتوسط.

وقد قمنا بمراجعة المطبوعة على المخطوط وأثبتنا بعض ما ورد به من أغلاط مع تصحيحها وأغفلنا بعضها.

قمنا بتخريج ما ورد به من تراجم كلما أمكن، وعلقنا على بعض المواضع وقدمنا الكتاب بمقدمة مبسطة.

وندعو الله أن يجعله في صالح أعمالنا إنه قريب مجيب.

--------------------------------------------

(1) انظر ترجمته في: الدرر الكامنة 1/ 108. وكشف الظنون 2020. والأعلام 1/ 102.

৪ - আল-মুস্তাফাদ মিন তারিখ বাগদাদ(১).

 

‌‌গ্রন্থ এবং তাহকিক পদ্ধতি:

গ্রন্থটি দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ-তে ১৯৫৫ নম্বরের অধীনে পাণ্ডুলিপি হিসেবে সংরক্ষিত রয়েছে, যা ১৬৮ মাঝারি পৃষ্ঠায় বিস্তৃত।

আমরা পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে মুদ্রিত কপিটি পর্যালোচনা করেছি এবং এতে বিদ্যমান কিছু ভুল সংশোধনসহ উল্লেখ করেছি এবং কিছু উপেক্ষা করেছি।

আমরা এতে বর্ণিত জীবনীগুলোর যথাসম্ভব উৎস নির্দেশ (তাখরিজ) করেছি, কিছু স্থানে টিকা প্রদান করেছি এবং গ্রন্থটিতে একটি সহজবোধ্য ভূমিকা যুক্ত করেছি।

আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এটিকে আমাদের নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত করেন, নিশ্চয়ই তিনি অতি নিকটে ও দুআ কবুলকারী।

--------------------------------------------

(১) তাঁর জীবনী দেখুন: আদ-দুরারুল কামিনাহ ১/ ১০৮; কাশফুয যুনুন ২০২০; এবং আল-আলাম ১/ ১০২।

(খণ্ড: ٢١) আল-মুস্তাফাদু মিন যাইলি তারিখি বাগদাদ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

رب يسر وأعن الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام الأكملان الأتمان على سيدنا محمد وآله وصحبه أجمعين.

أما بعد! فإن علم الحديث من أشرف العلوم قدرا، وأكملها شرفا وذخرا، لا سيما معرفة تراجم العلماء وأحوال الفضلاء. وهذه تراجم وقع الاختيار عليها من «ذيل تاريخ بغداد» للحافظ محب الدين أبي عبد الله محمد بن أبي الفضل محمود بن أبي محمد الحسن بن هبة الله بن محاسن بن هبة الله البغدادي المعروف بابن النجار.

كان مولده في سنة ثمان وسبعين وخمسمائة في ليلة الثالث والعشرين من ذي القعدة ببغداد، وتوفي بها في بكرة الخامس من شعبان سنة ثلاث وأربعين وستمائة، ودفن بمقابر الشهداء بباب حرب. وكان قد سمع ببغداد من أبي الفرج بن كليب وأبي حفص ابن طبرزد وأبي علي حنبل الرصافي وذاكر بن كامل والمبارك بن المبارك بن المعطوش(1) والحافظ أبي الفرج بن الجوزي في جماعة من أصحاب ابن الحصين(2) والقاضي أبي بكر الأنصاري. وحج وسمع بمكة والمدينة. ورحل إلى الشام، فسمع بدمشق من أبي اليمن الكندي وابن الحرستاني(3)، وبحلب من الهاشمي. ودخل بغداد.

ورحل منها إلى أصبهان وخراسان. سمع بأصبهان من جماعة من أصحاب إسماعيل بن الفضل بن الإخشيد وزاهر الشحامي؛ وبنيسابور من المؤيد وزينب السعدية في آخرين؛ وبمرو من أبي المظفر بن السمعاني. وسمع ببسطام ودامغان وساوه وهمذان.

ثم رحل إلى ديار مصر، وسمع بمصر والإسكندرية من جماعة من أصحاب الحافظ أحمد بن محمد السلفي، وكتب بخطه الكثير، وجمع وألف. وكان حافظا متقنا، عمدة، حسن التصنيف، عالي الهمة في طلب الحديث. ومن نظر في هذا التاريخ علم محله

--------------------------------------------

(1) في شذرات الذهب 4/ 343: «وأبو المعطوس».

(2) في كل المصادر: «ابن الحصن».

(3) في الأصل: «ابن الخزستاني». والتصحيح من طبقات الأسنوي 1/ 445.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে আমার রব, সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের রব আল্লাহর জন্য। আর পূর্ণতম সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সকল সাহাবীর ওপর।

অতঃপর! ইলমে হাদীস মর্যাদার দিক থেকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইলম এবং সম্মান ও পাথেয় হিসেবে তা পূর্ণতম; বিশেষ করে উলামায়ে কেরামের জীবনী এবং গুণীজনদের অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। আর এ জীবনীগুলো হাফেয মুহিব্বুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনে আবুল ফযল মাহমুদ ইবনে আবু মুহাম্মাদ হাসান ইবনে হিবাতুল্লাহ ইবনে মাহাসিন ইবনে হিবাতুল্লাহ আল-বাগদাদী, যিনি ইবনুন নাজ্জার নামে পরিচিত, তাঁর রচিত ‘যাইলু তারিখি বাগদাদ’ (তরিখে বাগদাদের পরিশিষ্ট) থেকে নির্বাচন করা হয়েছে।

তাঁর জন্ম হয়েছিল ৫৭৮ হিজরীর ২৩ যিলকদ দিবাগত রাতে বাগদাদে এবং তিনি সেখানেই ৬৪৩ হিজরীর ৫ শাবান ভোরে ইন্তেকাল করেন। তাঁকে বাবু হারবের শোহাদা কবরস্থানে দাফন করা হয়। তিনি বাগদাদে আবুল ফারাজ ইবনে কুলাইব, আবু হাফস ইবনে তাবারযাদ, আবু আলী হানবাল আর-রুসাফী, যাকির ইবনে কামিল, আল-মুবarak ইবনে আল-মুবarak ইবনুল মা’তূশ(১) এবং হাফেয আবুল ফারাজ ইবনুল জাওযীর নিকট হাদীস শ্রবণ করেছেন; তাঁরা ইবনুল হুসাইন(২) এবং কাযী আবু বকর আল-আনসারীর একদল শাগরিদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি হজ পালন করেন এবং মক্কা ও মদীনায় হাদীস শ্রবণ করেন। তিনি শামের উদ্দেশ্যে সফর করেন এবং দামেস্কে আবুল ইয়ামান আল-কিন্দী ও ইবনুল হুরস্তানী(৩) থেকে এবং আলেপ্পোতে আল-হাশিমী থেকে হাদীস শ্রবণ করেন। এরপর তিনি বাগদাদে প্রবেশ করেন।

সেখান থেকে তিনি আসফাহান ও খুরাসানে সফর করেন। আসফাহানে তিনি ইসমাঈল ইবনুল ফযল ইবনুল ইখশীদ এবং যাহির আশ-শাহামীয়ের একদল শাগরিদের নিকট হাদীস শ্রবণ করেন; নিশাপুরে আল-মুআইয়িদ, যয়নাব আস-সাদীয়া এবং আরও অনেকের নিকট শ্রবণ করেন; মার্ভে আবু মুযাফফর ইবনুস সামআনীর নিকট শ্রবণ করেন। এছাড়া তিনি বাস্তাম, দামগান, সাওয়া এবং হামাদানেও হাদীস শ্রবণ করেছেন।

অতঃপর তিনি মিশর অভিমুখে যাত্রা করেন এবং মিশর ও আলেকজান্দ্রিয়ায় হাফেয আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ আস-সিলাফীর একদল শাগরিদের নিকট হাদীস শ্রবণ করেন। তিনি নিজ হাতে প্রচুর পাণ্ডুলিপি লিখেছেন, সংকলন করেছেন এবং গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি ছিলেন একজন সুনিপুণ হাফেয, নির্ভরযোগ্য আলেম, উত্তম গ্রন্থকার এবং হাদীস অন্বেষণে সুউচ্চ হিম্মতের অধিকারী। যে ব্যক্তি এই ইতিহাস গ্রন্থটি পাঠ করবে, সে তাঁর মর্যাদা সম্পর্কে জানতে পারবে।

--------------------------------------------

(১) শাযারাতুয যাহাব ৪/৩৪৩-এ রয়েছে: “ওয়া আবু আল-মা’তূস”।

(২) সকল উৎসে রয়েছে: “ইবনুল হুসন”।

(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: “ইবনুল খুযিস্তানী”। সংশোধনটি তাবাকাতুল আসনাবী ১/৪৪৫ থেকে নেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ٢١) আল-মুস্তাফাদু মিন যাইলি তারিখি বাগদাদ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وإتقانه وكثرة اطلاعه وسعة رحلته- رحمه الله.

وقد أنبأني بجميع هذا التاريخ(1) الشيخ أبو محمد القاسم بن مظفر بن محمود بن عساكر الدمشقي وجماعة، وكان مولده في سنة تسع وعشرين [وستمائة](2) وتوفي بدمشق في ذي الحجة سنة ثلاث وعشرين وسبعمائة- رحمه الله. قال: كتب إلي الحافظ أبو عبد الله محمد بن محمود بن الحسن بن النجار البغدادي منها، رحمه الله تعالى. يتلوه محمد بن أحمد الشاشي.

 

‌‌1 - محمد بن أحمد بن الحسين بن عمر الشاشي، أبو بكر (3):

ولد بميافارقين، وتفقه بها على أبي عبد الله محمد بن بيان الكازروني وعلى القاضي أبي منصور الطوسي صاحب أبي محمد الجويني، ودخل بغداد ولازم أبا إسحاق الشيرازي وقرأ على أبي نصر بن الصباغ «كتاب الشامل». وسمع الحديث من أبي جعفر محمد بن أحمد بن المسلمة وأبي الغنائم عبد الصمد بن علي بن المأمون والقاضي أبي يعلى محمد بن الحسين بن الفراء وغيرهم، وسمع بميافارقين من شيخه الكازروني وحدث، سمع منه جماعة من الحفاظ.

وكان من الأئمة الأعلام وفقهاء الإسلام، مرجوعا إليه في الفتاوى والأحكام ومعرفة الحلال والحرام. وقد صنف في المذهب عدة مصنفات مشهورة.

قال أبو بكر الشاشي: رأيت كأني أنشد هذه الأبيات في النوم من غير أن تكون على ذكرى:

قد نادت الدنيا على نفسها … لو كان في العالم من يسمع

كم واثق بالعمر أفنيته … وجامع بدّدت ما يجمع

وحدث محمد بن عبد الله القرطبي الفقيه قال: حضرت عند الإمام أبي بكر الشاشي وقد أغمى عليه في مرضه. فلما أفاق أحضروا له ماء ليشربه، قال: لا أحتاج مذ سقاني الآني ملك شربة أغنتني عن الطعام والشراب ثم مات.

مولده في يوم الأحد سابع المحرم سنة سبع وعشرين وأربعمائة، وتوفي ليلة السبت خامس عشري شوال سنة سبع وخمسمائة، ودفن يوم السبت في تربة الشيخ أبي

--------------------------------------------

(1) في الأصل: «هذه التاريخ».

(2) ما بين المعقوفتين زيادة ليست في الأصول.

(3) انظر: وفيات الأعيان 3/ 356. والوافي بالوفيات 2/ 73. ومعجم البلدان 5/ 212.
এবং তার নিপুণতা, অধিক পড়াশোনা ও ব্যাপক ভ্রমণের ব্যাপ্তি—আল্লাহ তার প্রতি দয়া করুন।

শায়খ আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম বিন মুজাফফর বিন মাহমুদ বিন আসাকির আদ-দিমাশকি ও একদল ব্যক্তি আমাকে এই সমগ্র ইতিহাস(১) সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। তার জন্ম ছিল [ছয়শত](২) উনত্রিশ হিজরি সনে এবং তিনি সাতশত তেইশ হিজরি সনের জিলহজ মাসে দামেস্কে ইন্তেকাল করেন—আল্লাহ তার প্রতি দয়া করুন। তিনি বলেন: হাফেজ আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মাহমুদ বিন হাসান বিন আন-নাজ্জার আল-বাগদাদি সেখান থেকে আমার কাছে লিখেছেন—আল্লাহ তাআলা তার প্রতি দয়া করুন। এর পরেই আসছেন মুহাম্মদ বিন আহমদ আশ-শাশী।

 

‌‌১ - মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-হুসাইন বিন উমর আশ-শাশী, আবু বকর (৩):

তিনি মিয়াফারিকিনে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানে আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন বায়ান আল-কাযরুনী এবং আবু মুহাম্মদ আল-জুওয়াইনীর শিষ্য কাজী আবু মনসুর আত-তুসীর কাছে ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি বাগদাদে প্রবেশ করেন এবং আবু ইসহাক আশ-শিরাজীর সান্নিধ্যে থাকেন এবং আবু নাসর বিন আস-সাববাগের নিকট ‘কিতাবুশ শামিল’ পাঠ করেন। তিনি আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-মুসলিমা, আবুিল গানাইম আবদুস সামাদ বিন আলী বিন আল-মামুন, কাজী আবু ইয়ালা মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আল-ফাররা এবং অন্যান্যদের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি মিয়াফারিকিনে তার উস্তাদ কাযরুনীর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন এবং বর্ণনা করেন; একদল হাফেজ তার নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।

তিনি প্রথিতযশা ইমাম ও ইসলামের ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, ফতোয়া, বিধিবিধান এবং হালাল-হারাম চেনার ক্ষেত্রে তার শরণাপন্ন হওয়া হতো। তিনি মাযহাবের (শাফেয়ী) ওপর বেশ কিছু প্রসিদ্ধ গ্রন্থ রচনা করেছেন।

আবু বকর আশ-শাশী বলেন: আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন আমি এই পঙ্ক্তিগুলো আবৃত্তি করছি, অথচ সেগুলো আমার স্মৃতিতে ছিল না:

দুনিয়া নিজেই নিজের অবস্থা ঘোষণা করছে … যদি জগতে শ্রবণ করার মতো কেউ থাকত

আয়ুর ওপর ভরসা করা কত ব্যক্তিকেই তো আমি বিনাশ করেছি … এবং কত সঞ্চয়কারীর জমানো সম্পদই আমি তছনছ করে দিয়েছি

ফকিহ মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-কুরতুবী বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ইমাম আবু বকর আশ-শাশীর নিকট উপস্থিত হলাম যখন তিনি অসুস্থ অবস্থায় সংজ্ঞাহীন ছিলেন। যখন তার জ্ঞান ফিরল, তখন তারা তাকে পান করার জন্য পানি এনে দিলেন। তিনি বললেন: আমার প্রয়োজন নেই, কারণ এইমাত্র এক ফেরেশতা আমাকে এমন পানীয় পান করিয়েছেন যা আমাকে আহার ও পানীয় থেকে বিমুখ (তৃপ্ত) করে দিয়েছে। এরপর তিনি ইন্তেকাল করেন।

তার জন্ম চারশত সাতাশ হিজরি সনের সাতই মহররম রবিবার, এবং তিনি পাঁচশত সাত হিজরি সনের পঁচিশে শাওয়াল শনিবার দিবাগত রাতে ইন্তেকাল করেন। তাকে শনিবার দিন শায়খ আবু... এর মাকবারায় দাফন করা হয়।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে ব্যাকরণগত ভিন্নতায় 'এই ইতিহাস' শব্দটি রয়েছে।

(২) বন্ধনীভুক্ত অংশটি মূল পাণ্ডুলিপিতে নেই, অতিরিক্ত হিসেবে যোগ করা হয়েছে।

(৩) দেখুন: ওফায়াতুল আ’য়ান ৩/ ৩৫৬; আল-ওয়াফি বিল ওফায়াত ২/ ৭৩; মু’জামুল বুলদান ৫/ ২১২।
(খণ্ড: ٢١) আল-মুস্তাফাদু মিন যাইলি তারিখি বাগদাদ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
إسحاق الشيرازي، وصلى عليه ولده الأكبر بجامع القصر- رحمه الله.

 

‌‌2 - محمد بن أحمد بن عبد الباقي بن منصور بن إبراهيم الدقاق أبو بكر المعروف بابن الخاضبة (1):

طلب الحديث وسمع الكثير من القاضي أبي الحسين محمد بن علي بن المهتدي وأبي الغنائم عبد الصمد بن علي بن المأمون وأبي جعفر محمد بن المسلمة وأبي الحسين بن أحمد ومحمد بن النقور وأبي عبد الله محمد بن علي بن سكينة، والحافظ أبي بكر أحمد ابن علي الخطيب، وببيت المقدس أبا الحسين محمد بن بكر بن عثمان الأزدي وأبا زكريا عبد الرحيم بن أحمد البخاري.

وكتب بخطه كثيرا من الحديث والسير والأدب لنفسه وتوريقا للناس، وكان يكتب خطا حسنا وله معرفة بهذا الشأن. ويوصف بالحفظ والصدقة والثقة، وكان ورعا زاهدا محبوبا إلى الناس.

قال محمد بن طاهر المقدسي: ما كان في الدنيا أحسن قراءة للحديث من أبي بكر ابن الخاضبة في وقته؛ لو سمع بقراءته إنسان يومين لما ملّ قراءته.

قال أبو الفضل محمد بن طاهر المقدسي: سمعت أبا بكر بن الخاضبة يقول: لما كانت سنة الغرق وقعت داري على قماشي وكتبي، ولم يكن لي شيء، وكان لي عائلة: الوالدة والزوجة والبنات(2)، فكنت أورق الناس وأنفق على الأهل. فأعرف أني كتبت «صحيح مسلم» في تلك السنةبالوراقة سبع مرات، فلما كان ليلة من الليالي رأيت في المنام كأن القيامة قد قامت. ومناد ينادي: أين ابن الخاضبة؟

فأحضرت، فقيل لي: ادخل الجنة، فلما دخلت الباب وصرت من داخل استلقيت على قفاي ووضعت إحدى رجلي على الأخرى وقلت: آه، استرحت والله من النسخ.

توفي أبو بكر بن الخاضبة في ليلة الجمعة ثاني عشر ربيع الأول من سنة تسع وثمانين وأربعمائة، وصلي عليه بكرة يوم الجمعة في جامع القصر، وكان له يوم مشهود.

 

‌‌3 - محمد بن أحمد بن محمد بن سعيد بن زيد المنقري التكريتي، أبو البركات بن أبي الفرج بن أبي نصر (3):

--------------------------------------------

(1) انظر: العبر 3/ 325. ومعجم الأدباء 17/ 226 - 230. والمنتظم 17/ 35، 36.

(2) في معجم الأدباء 17/ 228: «الزوجة والبنت».

(3) انظر: الوافي بالوفيات 2/ 115. والمحمدون من الشعراء 1/ 43.
ইসহাক আশ-শিরাজি, এবং জামে কসরে তার বড় ছেলে তাঁর জানাজা পড়িয়েছেন - আল্লাহ তাঁকে রহম করুন।

 

‌‌২ - মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবদুল বাকি বিন মনসুর বিন ইব্রাহিম আদ-দাক্কাক আবু বকর, যিনি ইবনুল খদিবাহ (১) নামে পরিচিত:

তিনি হাদিস অন্বেষণ করেছেন এবং কাজি আবুল হুসাইন মুহাম্মদ বিন আলি বিন আল-মুহতাদি, আবুল গানায়িম আবদুল সামাদ বিন আলি বিন আল-মামুন, আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আল-মুসলিমা, আবুল হুসাইন বিন আহমদ, মুহাম্মদ বিন আন-নাক্কুর, আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলি বিন সাকিনা এবং হাফেজ আবু বকর আহমদ বিন আলি আল-খতিবের নিকট থেকে অনেক হাদিস শুনেছেন। আর বাইতুল মাকদিসে তিনি আবুল হুসাইন মুহাম্মদ বিন বকর বিন উসমান আল-আজদি এবং আবু জাকারিয়া আবদুর রহিম বিন আহমদ আল-বুখারির নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন।

তিনি নিজ হস্তাক্ষরে নিজের জন্য এবং পারিশ্রমিকের বিনিময়ে মানুষের জন্য অনেক হাদিস, জীবনীগ্রন্থ এবং সাহিত্যগ্রন্থ অনুলিপি করেছেন। তাঁর হস্তাক্ষর অত্যন্ত সুন্দর ছিল এবং এই বিষয়ে তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য ছিল। তিনি স্মৃতিশক্তি, সততা এবং নির্ভরযোগ্যতার গুণে গুণান্বিত ছিলেন। তিনি অত্যন্ত পরহেজগার, দুনিয়াত্যাগী এবং মানুষের নিকট প্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

মুহাম্মদ বিন তাহের আল-মাকদিসি বলেন: তাঁর সময়ে পৃথিবীতে আবু বকর ইবনুল খদিবাহর চেয়ে সুন্দর করে হাদিস পাঠকারী আর কেউ ছিল না; যদি কোনো মানুষ টানা দুই দিন তাঁর হাদিস পাঠ শুনত, তবে সে তাতে তিলমাত্র বিরক্ত হতো না।

আবু ফজল মুহাম্মদ বিন তাহের আল-মাকদিসি বলেন: আমি আবু বকর ইবনুল খদিবাহকে বলতে শুনেছি: মহাপ্লাবনের (বন্যার) বছর যখন আমার ঘর আমার আসবাবপত্র ও বইপত্রের ওপর ধসে পড়ল, তখন আমার কাছে কিছুই অবশিষ্ট ছিল না। আমার একটি পরিবার ছিল: মা, স্ত্রী এবং কন্যারা (২)। তাই আমি মানুষের জন্য পাণ্ডুলিপি অনুলিপি করতাম এবং সেই উপার্জিত অর্থ পরিবারের জন্য ব্যয় করতাম। আমার মনে আছে, সেই বছর আমি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে সাতবার «সহিহ মুসলিম» লিখেছিলাম। এরপর একদিন রাতে আমি স্বপ্নে দেখলাম যেন কিয়ামত কায়েম হয়েছে। আর একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা দিচ্ছেন: ইবনুল খদিবাহ কোথায়?

তখন আমাকে উপস্থিত করা হলো এবং আমাকে বলা হলো: জান্নাতে প্রবেশ করো। আমি যখন জান্নাতের দরজায় প্রবেশ করে ভেতরে পৌঁছালাম, তখন আমি চিৎ হয়ে শুয়ে পড়লাম এবং এক পায়ের ওপর অন্য পা রাখলাম এবং বললাম: উফ, আল্লাহর কসম, অনুলিপি তৈরির কাজ থেকে আজ বিশ্রাম পেলাম।

আবু বকর ইবনুল খদিবাহ চারশ ঊননব্বই হিজরি সনের বারোই রবিউল আউয়াল শুক্রবার রাতে ইন্তেকাল করেন। শুক্রবার সকালে জামে কসরে তাঁর জানাজা পড়ানো হয় এবং সেদিন মানুষের এক বিশাল সমাবেশ হয়েছিল।

 

‌‌৩ - মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন সাঈদ বিন জায়েদ আল-মানকারি আত-তিকরিতি, আবুল বারাকাত বিন আবিল ফরাজ বিন আবি নাসর (৩):

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-ইবার ৩/৩২৫; মুজামুল উদাবা ১৭/২২৬-২৩০; আল-মুনতাজাম ১৭/৩৫, ৩৬।

(২) মুজামুল উদাবা ১৭/২২৮-এ রয়েছে: «স্ত্রী ও কন্যা»।

(৩) দেখুন: আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ২/১১৫; আল-মুহাম্মাদুন মিনাশ শুয়ারা ১/৪৩।
(খণ্ড: ٢١) আল-মুস্তাফাদু মিন যাইলি তারিখি বাগদাদ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
أصله من تكريت، وولد ببغداد في سنة أربعين وخمسمائة ونشأ بها، وكان يسكن بدرب الخبازين، وكان يبيع البربحان الصفة(1) بسوق الثلاثاء؛ وكان كثير المخالطة لأهل الأدب والفضل.

ومن شعره:

تصدت لقتلي بعد طول صدودها … بنفسي أفدي من تصدّت وصدت

أماتت بذات الهجر مني مهجة … فلو أنها بالطيف حيث لأحيت

أطاعت هوى الواشين في قتل وامق … وما استيقنت لكن تظنت وظنت

أعالج فيها شقة ومشقة … فأهوى عذابي شقتي ومشقتي

طويت الهوى في القلب والبعد … فوا كبدي من طيتي وطويتي

نحوها وله:

في ذلتي في حبكم وخضوعي … عار ولا شغفي بكم ببديع

دين الهوى ذل وجسم ناحل … وسهاد أجفان وفيض دموع

كم قد لحاني في هواكم لائم … فثنيت عطفي عنه غير سميع

ما يحدث للقلب عندي سلوة … لكم ولو جئتم بكل قطيع

وإذا الحبيب أتى بذنب واحد … جاءت محاسنه بألف شفيع

توفي أبو البركات بن زيد في شهر ربيع الأول من سنة تسع وتسعين وخمسمائة بالموصل ودفن بها.

 

‌‌4 - محمد بن الحسين بن الحسن بن الخليل بن الحسين أبو الفرح، الأديب (2):

من أهل [هيت](3) نزل بغداد، وكان يسكن باب البصرة، و [قرأ] الأدب على الشريف(4) أبي السعادات بن الشجري، وأنشأ الخطب والمقامات.

ومن شعره:

--------------------------------------------

(1) هكذا في الأصول.

(2) انظر: المحمدون من الشعراء 1/ 261.

(3) ما بين المعقوفتين ليست في الأصول.

(4) في الأصل: «وعلى الأدب على الشريف».
তার মূল নিবাস তিকরিত, তিনি ৫৪০ হিজরি সনে বাগদাদে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। তিনি দারবুল খাব্বাযীন-এ বসবাস করতেন এবং সুকুত থুলাসা (মঙ্গলবার বাজার)-এ আল-বারবাহান আস-সিফাহ(১) বিক্রয় করতেন। তিনি সাহিত্যিক ও গুণী ব্যক্তিদের সাথে অধিক মেলামেশা করতেন।

তার কবিতা থেকে কিছু অংশ:

দীর্ঘ বিমুখতার পর সে আমাকে হত্যার সংকল্প করেছে … আমি তার জন্য উৎসর্গিত হই যে সংকল্প করেছে ও বিমুখ হয়েছে।

বিচ্ছেদের জ্বালায় সে আমার প্রাণ সংহার করেছে … সে যদি স্বপ্নের ঘোরেও আসত তবে আমাকে পুনর্জীবিত করত।

সে চোগলখোরদের লালসায় অনুগত হয়ে একজন প্রেমিককে হত্যা করেছে … সে নিশ্চিত ছিল না, বরং কেবল ধারণা ও অনুমান করেছে।

আমি তার বিরহে দূরত্ব ও ক্লেশ সহ্য করছি … আমার সেই দূরত্ব ও ক্লেশজনিত আযাবই আমার নিকট প্রিয়।

আমি হৃদয়ে প্রেম ও দূরত্বকে গুটিয়ে রেখেছি … হায় আমার কলিজা! আমার এই গোপন সংবৃতি ও স্বভাবের কারণে।

অনুরূপভাবে তার আরও কবিতা:

তোমাদের প্রেমে আমার এই হীনতা ও আনুগত্যে … কোনো লজ্জা নেই, আর তোমাদের প্রতি আমার আসক্তি কোনো নতুন বিষয় নয়।

প্রেমের ধর্ম হলো লাঞ্ছনা ও শীর্ণ দেহ … আর চোখের অনিদ্রা ও অশ্রুর বন্যা।

তোমাদের প্রেমে কত তিরস্কারকারী আমাকে তিরস্কার করেছে … আমি তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি যেন কিছুই শুনছি না।

তোমাদের ব্যাপারে আমার হৃদয়ে কোনো সান্ত্বনা নেই … যদিও তোমরা সকল প্রকার বিচ্ছেদ নিয়ে আসো।

আর প্রিয়জন যখন একটি অপরাধ করে বসে … তখন তার সৌন্দর্য হাজারো সুপারিশকারী হয়ে উপস্থিত হয়।

আবু আল-বারাকাত বিন যাইদ ৫৯৯ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে মোসেলে ইন্তেকাল করেন এবং সেখানেই তাকে দাফন করা হয়।

 

‌‌৪ - মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আল-হাসান বিন আল-খালীল বিন আল-হুসাইন আবু আল-ফারাহ, সাহিত্যিক (২):

তিনি [হিত]-এর অধিবাসী ছিলেন এবং বাগদাদে বসতি স্থাপন করেন। তিনি বাবুল বাসরা এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি শরীফ আবুস সা'আদাত বিন আশ-শাজারীর নিকট সাহিত্য পাঠ করেন এবং খুতবা ও মাকামাত রচনা করেন।

তার কবিতা থেকে কিছু অংশ:

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিগুলোতে এভাবেই আছে।

(২) দেখুন: আল-মুহাম্মাদূন মিনাশ শুআরা ১/২৬১।

(৩) বন্ধনীভুক্ত অংশগুলো মূল পাণ্ডুলিপিতে নেই।

(৪) মূল পাঠে রয়েছে: "এবং সাহিত্যের উপর শরীফের উপর"।
(খণ্ড: ٢١) আল-মুস্তাফাদু মিন যাইলি তারিখি বাগদাদ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
أمغرى بالدلال دع الملالا … فمن يدم السري يجد الكلالا(1)

ولا تنس الإخا واذكر عهودا … عهدنا للسرور بها انقبالا(2)

ولو حملت ما حملت من ضنبا؟ … من الهجران لم تطق احتمالا

ولست وإن حملت رسيس وجد … بهجرك مزمعا عنك احتمالا

فهب لمتيم يهواك قلبا … يحاذر من تقلبك اغتيالا

وإن تك غير منّان بوصل … فزر بخيالك الدنف الخيالا

مولده سنة سبع وتسعين بهيت- وقيل: سنة خمس وتسعين وأربعمائة تقريبا، وتوفي يوم الأربعاء لسبع بقين من ربيع الأول سنة خمس وسبعين وخمسمائة، ودفن من الغد [عند قبر](3) الإمام أحمد.

وذكر أبو بكر بن مشّق: أنه توفي ليلة الخميس رابع عشر ربيع الآخر.

 

‌‌5 - محمد بن الحسين بن عبد الله بن يوسف بن الشّبل بن أسامة، أبو علي الشاعر (4):

من أهل الحريم الطاهري صاحب الديوان المشهور، وحدث عن أبي الحسن أحمد ابن علي بن الباذي والأمير أبي محمد الحسن بن عيسى بن المقتدر بالله، وكان أبو علي هذا إماما في النحو واللغة وعلم الأدب، وعلق عنه الحافظ أبو بكر الخطيب شيئا من رسائله.

ومن شعره:

يا قلب مالك لا تفيق وقد … رأت عيناك ذلّ مصارع العشاق

فبكت بك الحدق الحسان ولم تزل … تشكي [إليك](5) جناية الأحداق

لو مس وجدي عين(6) عذبه … والنار أذهلها عن الإحراق

صروا على أبياتكم بلديغكم … يشفي ولا سعة هلاك الراقي

واستوهبوا لي نظرة تحيي بها … ما مات مني أن يموت الباقي

فوقى العقارب في السوالف رشفها … والسم ممتزج مع الترياق(7)

--------------------------------------------

(1) في المصدر السابق: «يجد الملالا».

(2) في الأصل: «أقفهالا».

(3) ما بين المعقوفتين زيادة ليست في الأصل.

(4) انظر: الوافي بالوفيات 3/ 11 - 16. وفوات الوفيات 2/ 244.

(5) ما بين المعقوفتين زيادة ليست في الأصل.

(6) هكذا في الأصل.

(7) في الأصل: «التياقي».
ওহে লালিত্যে মোহিত, বিরক্তি ত্যাগ করো … কেননা যে অবিরত নৈশসফর করে সে ক্লান্তিই খুঁজে পায়।(১)

ভ্রাতৃত্বের কথা ভুলে যেও না এবং সেই অঙ্গীকারগুলো স্মরণ করো … আমাদের আনন্দের সেই দিনগুলোর প্রতিশ্রুতি যাতে প্রত্যাবর্তিত হয়েছিল।(২)

বিরহের কারণে আমি যে পরিমাণ জীর্ণতা ও কষ্ট বহন করেছি, তা যদি তোমার ওপর চাপানো হতো … তবে তুমি তা সহ্য করার ক্ষমতা রাখতে না।

আর আমি যদিও প্রেমের গভীর দহন বয়ে চলছি … তবুও তোমার বিরহের কারণে তোমার থেকে দূরে সরে যাওয়ার সংকল্প করি না।

তোমার প্রেমে মত্ত এই পাগলকে এমন এক হৃদয় দান করো … যে তোমার অস্থির স্বভাবের আকস্মিক আঘাতকে ভয় পায়।

আর তুমি যদি মিলনের দানে কৃপণ হও … তবে তোমার কল্পনার ছায়ায় এই রুগ্ন প্রেমিকের কল্পনায় অন্তত দেখা দাও।

তাঁর জন্ম চারশত সাতানব্বই হিজরীতে হিত নামক স্থানে - মতান্তরে চারশত পঁচানব্বই হিজরীর কাছাকাছি সময়ে, এবং তিনি পাঁচশত পঁচাত্তর হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসের সাত দিন বাকি থাকতে বুধবার ইন্তেকাল করেন। পরদিন ইমাম আহমাদের [কবরের পাশে] তাঁকে দাফন করা হয়।(৩)

আবু বকর ইবনে মাশাক উল্লেখ করেছেন যে: তিনি চৌদ্দই রবিউস সানি বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ইন্তেকাল করেছেন।

 

‌‌৫ - মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন আশ-শিবল বিন উসামা, আবু আলী কবি (৪):

তিনি হারিম আত-তাহিবি অঞ্চলের অধিবাসী এবং প্রসিদ্ধ কাব্যগ্রন্থের (দেওয়ান) রচয়িতা। তিনি আবুল হাসান আহমদ বিন আলী বিন আল-বাদি এবং আমির আবু মুহাম্মদ হাসান বিন ঈসা বিন আল-মুক্তাদির বিল্লাহ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। এই আবু আলী নাহু (ব্যাকরণ), লুগাত (অভিধান) এবং আদব (সাহিত্য) শাস্ত্রে একজন ইমাম ছিলেন। হাফেজ আবু বকর আল-খতিব তাঁর কিছু চিঠিপত্র উদ্ধৃত করেছেন।

তাঁর কিছু কবিতা:

হে হৃদয়, তোমার কী হয়েছে যে তুমি সচেতন হচ্ছ না, অথচ … তোমার চোখ প্রেমিকদের লাঞ্ছিত পতনের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছে।

সুন্দরী চোখের তারারা তোমার শোকে কেঁদেছে এবং সর্বদা … চোখের অপরাধের অভিযোগ [তোমার কাছে] করে চলেছে।(৫)

যদি আমার বিরহবেদনা কোনো সুমিষ্ট প্রস্রবণকে স্পর্শ করত … তবে উত্তাপে আগুন তার দহন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলত।(৬)

তোমাদের গৃহকোণে তোমাদের দংশিত ব্যক্তিকে নিয়ে ধৈর্য ধরো … ঝাড়ফুঁককারীর মৃত্যুতে আরোগ্যদাতার কোনো প্রশস্ততা বা অবকাশ নেই।

আমার জন্য একটি করুণাদৃষ্টি ভিক্ষা দাও যা দিয়ে তুমি পুনর্জীবিত করবে … আমার যা কিছু মরে গেছে, পাছে অবশিষ্ট প্রাণটুকুও না বেরিয়ে যায়।

অলকগুচ্ছের বৃশ্চিক দংশন থেকে অধরচুম্বন রক্ষা করেছে … আর বিষ সেখানে প্রতিষেধকের সাথে মিশে গেছে।(৭)

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎসে রয়েছে: «সে বিরক্তি খুঁজে পায়»।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «আকফিহালা»।

(৩) বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু মূল পাণ্ডুলিপিতে নেই, অতিরিক্ত যোগ করা হয়েছে।

(৪) দেখুন: আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ৩/১১ - ১৬। এবং ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত ২/২৪৪।

(৫) বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু মূল পাণ্ডুলিপিতে নেই, অতিরিক্ত যোগ করা হয়েছে।

(৬) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে।

(৭) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: «আত-তিয়াকি»।
(খণ্ড: ٢١) আল-মুস্তাফাদু মিন যাইলি তারিখি বাগদাদ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
مولده في سنة إحدى وأربعمائة، وتوفي في الحادي والعشرين من المحرم سنة ثلاث وسبعين وأربعمائة، ودفن بباب حرب.

وكان سماعه من الباذي غريب الحديث. وهو أحد المجودين(1) من الشعراء- رحمه الله تعالى.

 

‌‌6 - محمد بن حماد بن المبارك بن محمد بن حيان الشيباني المحرزي أبو نزار (2)

(3):

من أهل باب الأزج، ذكره أبو عبد الله محمد بن محمد الأصبهاني في كتاب «الخريدة» الذي جمعه في شعراء العصر، وأجازني روايته عنه، قال: محمد بن حماد ابن المحرزي أديب فاضل من أهل [العلم](4)، متطرف من كل فن، وكان مشغوفا بالجمع والتصنيف، توفي ستين وخمسمائة.

فمن شعره قوله:

فتنتني فتانة الألحاظ … صعبة الطوع سهلة الألفاظ

خدلة عبلة(5) كعوب لعوب … بعقول النّسّاك والوعاظ

ريقها يبرد الغليل ويشفي(6) … سقم القلب من لهيب الشواظ(7)

لست آسي عليك وصلا ولكن … لذة الحب بعد لوك المظاظ

 

‌‌7 - محمد بن محمد بن خلف بن الحسين بن المنى، أبو بكر البندنيجي المعروف بحنفش(8):

أسمعه والده الحديث في صباه من أبي محمد الصريفيني وأبي الحسين بن النقور وأبي القاسم عبد الله بن الحسن الخلال وعلي بن أحمد بن محمد بن البسري.

أخبرنا شهاب بن محمود المزكي بهراة قال: سمعت أبا سعد بن السمعاني يقول:

محمد بن أحمد بن خلف البندنيجي أبو بكر نزل بغداد، وسكن النظامية، وتفقه على

--------------------------------------------

(1) في الأصل: «الموحدين».

(2) انظر: المحمدون من الشعراء 1/ 302.

(3) في الأصل: «أبو مراد». والتصحيح من المصدر السابق.

(4) ما بين المعقوفتين زيادة من المصدر السابق.

(5) في الأصل: «جدلة عبدلة».

(6) في الأصل: «العليل ولسعي».

(7) في الأصل: «الشظا».

(8) - انظر: الأنساب للسمعاني 2/ 339. والطبقات للسبكي 4/ 68.
তাঁর জন্ম ৪০১ হিজরি সনে, এবং মৃত্যু ৪৭৩ হিজরি সনের একুশে মহরম। তাঁকে 'বাব হারব'-এ দাফন করা হয়েছে।

তিনি আল-বাজী থেকে 'গারীবুল হাদীস' শ্রবণ করেছিলেন। তিনি কবিদের মধ্যে অন্যতম একজন সুদক্ষ কবি ছিলেন—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

 

‌‌৬ - মুহাম্মদ বিন হাম্মাদ বিন আল-মুবারক বিন মুহাম্মদ বিন হাইয়ান আল-শাইবানী আল-মুহরযী আবু নিযার (২)

(৩):

তিনি 'বাব আল-আযাজ'-এর অধিবাসী ছিলেন। আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-আসবাহানী তাঁর সম্পর্কে 'আল-খারীদা' কিতাবে উল্লেখ করেছেন, যা তিনি সমসাময়িক কবিদের জীবনী নিয়ে সংকলন করেছেন এবং তিনি আমাকে তাঁর থেকে বর্ণনা করার অনুমতি দিয়েছেন। তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন হাম্মাদ ইবনুল মুহরযী একজন বিদগ্ধ সাহিত্যিক ও বিজ্ঞ আলিমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি প্রতিটি বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন এবং কিতাব সংগ্রহ ও সংকলনের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল। তিনি ৫৬০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর কবিতা থেকে কিছু পঙ্ক্তি হলো:

কটাক্ষের জাদুকরী আমাকে মোহিত করেছে … তার বশ্যতা কঠিন কিন্তু কথাগুলো সাবলীল।

সুশ্রী ও সুগঠিত দেহের সেই চঞ্চলা কিশোরী … সে আবিদ ও ওয়াজকারিনদের বুদ্ধিকে বিমোহিত করে।

তার লালা পিয়াসার দহন মেটায় এবং আরোগ্য দান করে … হৃদয়ের জ্বলন্ত অগ্নিশিখার রোগ থেকে।

তোমার সাথে মিলনের বিচ্ছেদে আমি বিলাপ করি না, তবে … তিক্ত সাবের ফল চিবানোর পরেই প্রেমের প্রকৃত স্বাদ অনুভূত হয়।

 

‌‌৭ - মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন খালাফ বিন আল-হুসাইন বিন আল-মুনা, আবু বকর আল-বান্দানিজী, যিনি হানফাশ নামে পরিচিত(৮):

তাঁর পিতা শৈশবকালে তাঁকে আবু মুহাম্মদ আস-সারিফীনি, আবু আল-হুসাইন বিন আন-নাকুর, আবু আল-কাসিম আবদুল্লাহ বিন আল-হাসান আল-খাল্লাল এবং আলী বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-বিসরী থেকে হাদীস শ্রবণ করিয়েছিলেন।

হেরাতে শিহাব বিন মাহমুদ আল-মুযাক্কী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবু সাদ বিন আস-সামআনীকে বলতে শুনেছি:

মুhammad বিন আহমাদ বিন খালাফ আল-বান্দানিজী আবু বকর বাগদাদে আগমন করেন এবং মাদরাসা নিজামিয়ায় বসবাস করেন। তিনি ফিকহ শিক্ষা করেন...

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে: 'আল-মুওয়াহহিদিন'।

(২) দেখুন: আল-মুহাম্মাদুন মিনাশ শুআরা ১/৩০২।

(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে: 'আবু মুরাদ'। পূর্বোক্ত সূত্র থেকে সংশোধন করা হয়েছে।

(৪) বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু পূর্বোক্ত সূত্র থেকে সংযোজন করা হয়েছে।

(৫) মূল পাণ্ডুলিপিতে: 'জাদলা আবদালা'।

(৬) মূল পাণ্ডুলিপিতে: 'আল-আলীল ওয়া লি-সাই'।

(৭) মূল পাণ্ডুলিপিতে: 'আশ-শাযা'।

(৮) - দেখুন: আস-সামআনী রচিত আল-আনসাব ২/৩৩৯। এবং আস-সুবকী রচিত আত-তাবাকাত ৪/৬৮।
(খণ্ড: ٢١) আল-মুস্তাফাদু মিন যাইলি তারিখি বাগদাদ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
أبي سعد المتولي، فكان يتكلم في المسائل، وكان عسرا في الرواية، سيئ الأخلاق، ضجورا، أدار إلى أصحاب الحديث يتبرم بهم، وسمعت غير واحد ممن أثق بهم إنه كلّ بالصلوات، وليست له طريقة محمودة.

وسمعت أبا نصر الفتح بن أحمد بن عبد الباقي اليعقوبي بنيسابور يقول: قيل لحنفش إن ابن السمعاني ذكرك في «المذيل» وجرحك، فقال: ترى أخرج عني الدم؟.

سألته عن مولده، فقال: بعد قتل البساسيرى، وكان قتله في سنة اثنتين وخمسين وأربعمائة.

كتب إليّ أبو المعالي بن الصناع أن حنفش توفي يوم الخميس من شهر رمضان سنة ثمان وثلاثين وخمسمائة، ودفن بالوردية وقيل: إنما لقب «حنفشا» لأنه كان حنبليّا ثم صار حنفيّا ثم صار شافعيّا.

 

‌‌8 - محمد بن سعيد بن إبراهيم بن سعيد بن نبهان، أبو علي بن أبي الغنائم الكاتب (1):

من أهل الكرخ أسمعه جده لأمه أبو الحسين هلال بن المحسن الصابئ من أبي علي الحسن بن أحمد بن أدهم بن شاذان وابن الحسن بشرى بن عبد الله الفاتني وأبي علي الحسن بن الحسين بن دوما النعالي، ولم يبق على وجه الأرض من يروي عن هؤلاء الأربع غيره و [قرأت](2) عنه بخط أبي بكر الخطيب.

أخبرنا أبو محمد بن الأخضر، قال: أنشدنا محمد بن ناصر من لفظه، قال: أنشدنا أبو علي بن نبهان لنفسه:

أسعدنا من وفّقه الله … لكل فعل منه يرضاه

ومن رضى من رزقه بالذي … قدّره الله وأعطاه

واطرح الحرص وأطماعه … في نيل ما لم يعطه مولاه

طوبى لمن فكر في بعثه … من قبل أن يدعو به الله

واستدرك الفارط فيما مضى … وما نسى والله أحصاه

فالموت حتم في جميع الورى … طوبى لمن تحمد عقباه

--------------------------------------------

(1) انظر: الوافي بالوفيات للصفدي. 3/ 104. والمحمدون من الشعراء 2/ 485.

(2) ما بين المعقوفتين كلمة مطموسة في الأصل.
আবু সা'দ আল-মুতাওয়াল্লী; তিনি মাসআলাসমূহ নিয়ে আলোচনা করতেন, তবে বর্ণনা (রেওয়ায়েত) করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠিন ছিলেন। তাঁর চরিত্র ছিল মন্দ, তিনি ছিলেন খিটখিটে মেজাজের। তিনি হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতদের এড়িয়ে চলতেন এবং তাঁদের প্রতি বিরক্তি প্রকাশ করতেন। আমি একাধিক নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির কাছ থেকে শুনেছি যে, তিনি সালাতের ক্ষেত্রে অলস হয়ে পড়েছিলেন এবং তাঁর অনুসৃত পথ প্রশংসনীয় ছিল না।

আমি আবু নাসর আল-ফাতহ বিন আহমাদ বিন আব্দুল বাকি আল-ইয়াকুবিকে নিশাপুরে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: হানফাশকে বলা হলো যে, ইবনুল সামআনি তাঁর ‘আল-মুযায়্যিল’ গ্রন্থে আপনার উল্লেখ করেছেন এবং আপনার সমালোচনা (জারহ) করেছেন। তিনি উত্তরে বললেন: “আপনি কি দেখছেন যে তিনি আমার রক্ত বের করে দিয়েছেন?” (অর্থাৎ তাঁর সমালোচনায় আমার কোনো ক্ষতি হয়নি)।

আমি তাঁকে তাঁর জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: আল-বাসাসিরি নিহত হওয়ার পর। আর তার মৃত্যু হয়েছিল চারশত বায়ান্ন হিজরি সনে।

আবু আল-মাআলি বিন আল-সান্না’ আমার নিকট লিখেছেন যে, হানফাশ পাঁচশত আটত্রিশ হিজরি সনের রমজান মাসের বৃহস্পতিবার মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁকে ওয়ারদিয়াতে দাফন করা হয়। বলা হয়ে থাকে যে, তাঁকে ‘হানফাশ’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল কারণ তিনি প্রথমে হাম্বলি (হা), এরপর হানাফি (ন) এবং সবশেষে শাফেয়ি (শ) হয়েছিলেন।

 

‌‌৮ - মুহাম্মাদ বিন সাঈদ বিন ইব্রাহিম বিন সাঈদ বিন নাবহান, আবু আলী বিন আবিল গানায়িম আল-কাতিব (১):

তিনি কার্খের অধিবাসী। তাঁর মাতামহ আবু আল-হুসাইন হিলাল বিন আল-মুহাসসিন আল-সাবি তাঁকে আবু আলী আল-হাসান বিন আহমাদ বিন আদহাম বিন শাযান, ইবনুল হাসান বুশরা বিন আব্দুল্লাহ আল-ফাতিনি এবং আবু আলী আল-হাসান বিন আল-হুসাইন বিন দুমা আল-নিয়ালি-এর নিকট হাদিস শ্রবণ করিয়েছেন। পৃথিবীতে এই চারজন থেকে বর্ণনা করার মতো তিনি ছাড়া আর কেউ অবশিষ্ট নেই এবং আবু বকর আল-খতিবের হস্তাক্ষরে তাঁর সম্পর্কে আমি [পড়েছি](২)।

আবু মুহাম্মাদ বিন আল-আখদার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ বিন নাসির তাঁর নিজ মুখে আমাদের শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু আলী বিন নাবহান তাঁর নিজের রচিত কবিতা আমাদের শুনিয়েছেন:

সেই ব্যক্তিই সৌভাগ্যবান যাকে আল্লাহ তাওফিক দিয়েছেন... তাঁর এমন প্রতিটি কাজের জন্য যা তিনি পছন্দ করেন।

এবং যে ব্যক্তি তার রিজিকের সেই অংশের প্রতি সন্তুষ্ট... যা আল্লাহ তার জন্য নির্ধারণ করেছেন এবং তাকে দান করেছেন।

আর সে লোভ এবং তার লালসাকে বর্জন করেছে... যা তার মওলা তাকে দেননি তা অর্জনের ক্ষেত্রে।

সুসংবাদ তার জন্য যে নিজের পুনরুত্থান নিয়ে চিন্তা করেছে... আল্লাহ তাকে আহ্বান করার পূর্বেই।

এবং অতীতে যা ত্রুটি হয়েছে তা সংশোধন করে নিয়েছে... যা সে ভুলে গেছে কিন্তু আল্লাহ তা গণনা করে রেখেছেন।

সকল সৃষ্টির জন্য মৃত্যু অবধারিত... সুসংবাদ তার জন্য যার শেষ পরিণতি প্রশংসনীয়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-সাফাদি রচিত ‘আল-ওয়াফি বিল-ওয়াফায়াত’, ৩/১০৪; এবং ‘আল-মুহাম্মাদুন মিনাশ শুআরা’, ২/৪৮৫।

(২) বন্ধনীযুক্ত শব্দটি মূল পাণ্ডুলিপিতে অস্পষ্ট ছিল।
(খণ্ড: ٢١) আল-মুস্তাফাদু মিন যাইলি তারিখি বাগদাদ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
وكل من عاش إلى غاية … في العمر فالموت قصاراه

يعلمه(1) حقا يقينا بلا … شك ولكن يتناساه(2)

كأنما خص به غيرنا … أو هو خطب نتوقاه(3)

قال أبو العلاء محمد بن جعفر بن عقيل البصري: كان شيخنا أبو علي بن نبهان إذا مكثوا أصحاب الحديث عنده زمانا فقال: قوموا واخرجوا فإن عندي مريضا. بقي على هذا سنين، فكان الناس يقولون «مريض ابن نبهان قط لا يبرئ».

مولده سنة إحدى عشرة وأربعمائة، وتوفي في ليلة الأحد السابع عشر من شوال سنة إحدى عشرة وخمسمائة، ودفن يوم الأحد في داره بالكرخ، وبلغ من العمر ستا وتسعين سنة.

قال الحافظ أبو الفضل محمد بن ناصر: ولم يكن من أهل الحديث، وكان رافضيا.

 

‌‌9 - محمد بن سعيد بن يحيى بن علي بن الحجاج بن محمد بن الحجاج بن مهلهل بن مقلد، أبو عبد الله بن أبي المعالي بن أبي طالب الدّبيثي (4):

من أهل واسط، ذكر أنه ولد بواسط في يوم الأحد بعد صلاة الظهر السادس والعشرين من رجب سنة ثمان وخمسين وخمسمائة.

وقرأ القرآن بالروايات السبع والعشر على أبي الحسن علي بن المظفر خطيب شافياء(5) وعلى أبي بكر الباقلاني، وهما من أصحاب القلانسي، وتفقه على المجير محمود بن المبارك البغدادي لما قدم عليهم واسط. قال: وعلقت عنه الأصلين والخلاف. وقرأ الأدب على شيخنا مصدق؛ وسمع الحديث بواسط من القاضي أبي طالب محمد بن علي بن الكتاني، ورحل إلى بغداد مرارا، وسمع بها من أبي العز محمد ابن محمد بن الخراساني وأبي الفتح بن شاتيل وأبي السعادات القزاز(6) وأبي العلاء بن عقيل وعبد الجبار بن الأعرابي، وظاعن(7) بن محمود الخياط وأبي منصور البغدادي

--------------------------------------------

(1) في الأصل: «تعلمه».

(2) في الأصل: «تناساه».

(3) في الأصل: «نتناساه».

(4) انظر: طبقات الشافعية للسبكي 5/ 26. وتذكرة الحفاظ 4/ 199. والوافي بالوفيات 3/ 102.

ووفيات الأعيان 4/ 28، 29.

(5) في الأصل: «سافياء».

(6) في الأصل: «القرار».

(7) هكذا في الأصل.
এবং যে কেউ জীবনের শেষ সীমা … পর্যন্ত বেঁচে থাকে, মৃত্যু তার অন্তিম গন্তব্য।

সে তা প্রকৃতপক্ষে এবং নিশ্চিতভাবে জানে কোনো … সন্দেহ ছাড়াই, কিন্তু সে তা বিস্মৃত হওয়ার ভান করে।(২)

যেন মৃত্যু আমাদের ছাড়া অন্য কারো জন্য নির্দিষ্ট … অথবা এটি এমন এক মহাবিপদ যা আমরা এড়িয়ে চলতে চাই।(৩)

আবু আল-আলা মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আকিল আল-বসরী বলেন: আমাদের শায়খ আবু আলী বিন নাবহান-এর কাছে যখন হাদিস অন্বেষণকারীরা দীর্ঘ সময় অবস্থান করতেন, তখন তিনি বলতেন: "তোমরা ওঠো এবং চলে যাও, কারণ আমার কাছে একজন অসুস্থ ব্যক্তি আছে।" তিনি দীর্ঘ বছর এই অভ্যাসের ওপর অটল ছিলেন, তাই লোকেরা বলত, "ইবনে নাবহানের অসুস্থ ব্যক্তিটি কখনো সুস্থ হয় না।"

তার জন্ম চারশত এগারো হিজরিতে, এবং তিনি পাঁচশত এগারো হিজরির সতেরো শাওয়াল রবিবার রাতে ইন্তেকাল করেন। রবিবার দিন কারখ-এ তার নিজ বাসভবনে তাকে দাফন করা হয় এবং তিনি ছিয়ানব্বই বছর বয়স লাভ করেছিলেন।

হাফেজ আবু আল-ফজল মুহাম্মদ বিন নাসের বলেন: তিনি হাদিস বিশারদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না এবং তিনি রাফেযি ছিলেন।

 

‌‌৯ - মুহাম্মদ বিন সাঈদ বিন ইয়াহইয়া বিন আলী বিন আল-হাজ্জাজ বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাজ্জাজ বিন মুহালহিল বিন মুকাল্লিদ, আবু আব্দুল্লাহ বিন আবি আল-মাআলি বিন আবি তালিব আদ-দাবিসী (৪):

তিনি ওয়াসিত শহরের অধিবাসী ছিলেন। উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি পাঁচশত আটান্ন হিজরির ছাব্বিশে রজব, রবিবার জোহরের নামাজের পর ওয়াসিতে জন্মগ্রহণ করেন।

তিনি আবু আল-হাসান আলী বিন আল-মুজাফফর—যিনি শাফিয়া অঞ্চলের খতিব ছিলেন(৫)—এবং আবু বকর আল-বাকিল্লানির নিকট সাত ও দশ পদ্ধতিতে কুরআন তিলাওয়াত সম্পন্ন করেন; তাঁরা দুজনেই আল-কালানিসির ছাত্র ছিলেন। মুজির মাহমুদ বিন আল-মুবারক আল-বাগদাদী যখন ওয়াসিতে আসেন, তখন তিনি তার কাছে ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি বলেন: "আমি তার কাছ থেকে উসুল এবং খিলাফ (মজহাবগত মতভেদ) শাস্ত্র লিপিবদ্ধ করেছি।" তিনি আমাদের শায়খ মুসাদ্দিক-এর কাছে আদব (সাহিত্য) পাঠ করেন; এবং ওয়াসিতে কাজী আবু তালিব মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-কাততানির নিকট হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি বারবার বাগদাদে সফর করেন এবং সেখানে আবু আল-ইজ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-খুরাসানি, আবু আল-ফাতহ বিন শাতিল, আবু আস-সাআদাত আল-কাযযায(৬), আবু আল-আলা বিন আকিল, আব্দুল জব্বার বিন আল-আরাবি, জাইন(৭) বিন মাহমুদ আল-খাইয়াত এবং আবু মনসুর আল-বাগদাদীর নিকট হাদিস শ্রবণ করেন।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "তুমি জানো"।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "সে ভুলে গেছে"।

(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "আমরা ভুলে যাই"।

(৪) দেখুন: সুবকির তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ ৫/২৬; তাযকিরাতুল হুফফাজ ৪/১৯৯; আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ৩/১০২;

এবং ওয়াফায়াতুল আইয়ান ৪/২৮, ২৯।

(৫) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "সাফিয়া"।

(৬) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "আল-কারার"।

(৭) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে।
(খণ্ড: ٢١) আল-মুস্তাফাদু মিন যাইলি তারিখি বাগদাদ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
في آخرين، وكان حسن الصحبة وجميل الأخلاق والتودد والديانة وحسن الطريقة.

أنشدني أبو عبد الله محمد بن سعيد بن يحيى الحافظ لنفسه:

مدارك أعلام الشريعة أصلها … حديث رسول الله إذ كان يشرع

فكن جامعا منه لما صح نقله … فقد فاز من أمسى لما قال يجمع

ولا تستمع من كان فيه مفندا … فلتدين(1) الحكماء عن الخير تدفع

توفي أبو عبد الله بن الدبيثي في يوم الاثنين ثمان خلون من شهر ربيع الآخر سنة سبع وثلاثين وستمائة، ودفن من الغد بالوردية. وكان قد أضر في آخر عمره.

 

‌‌10 - محمد بن سليمان بن قترمش(2) بن تركانشاه السمرقندي أبو منصور (3):

من أولاد الأمراء، وكان أديبا فاضلا، له النثر والنظم الجيد، يحفظ كثيرا من الحكايات والأشعار والنوادر ويكتب خطا مليحا، وكان عارفا بالنحو واللغة والحساب والفلسفة، وكان قليل الدين لا يعتقد شيئا.

أنشدنا أبو منصور محمد بن سليمان لنفسه بالمدرسة النظامية:

يبكي عليك وحقه يبكيكا … صب بمهجة نفسه يفديكا

ظمآن من شوق إليك وربه … لو كنت تنقعه مراشف فيكا

يا مسلمي لصدوده وبعاده … رفقا سلمت فبعض ذا يكفيكا

زعموا بأنك في الجمال كيوسف … صدقوا فرفقا يوسف يأتيكا

مولده في شهر ربيع الأول سنة ثلاث وأربعين وخمسمائة، وتوفي عشية الاثنين السادس والعشرين من ربيع الآخر سنة عشرين وستمائة، وصلى عليه بالمدرسة النظامية، ودفن بالشونيزية.

--------------------------------------------

(1) هكذا في الأصل.

(2) هكذا في الأصل، وفي معجم الأدباء: «قطرمش».

(3) انظر: معجم الأدباء 18/ 205. والمحمدون من الشعراء 2/ 487.
অন্যদের মাঝে; তিনি উত্তম সাহচর্য, সুন্দর চরিত্র, হৃদ্যতা, ধার্মিকতা এবং সুন্দর কর্মপদ্ধতির অধিকারী ছিলেন।

আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সাঈদ বিন ইয়াহইয়া আল-হাফিয আমাকে নিজের রচিত কবিতা আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন:

শরীয়তের প্রখ্যাত মনীষীদের উপলব্ধির মূল উৎস হলো … আল্লাহর রাসূলের হাদীস, যখন তিনি বিধান প্রবর্তন করতেন

সুতরাং হাদীসের যা কিছু সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে তা সংগ্রহকারী হও … কেননা সেই সফল হয়েছে যে রাসূলের বাণীসমূহ সংগ্রহ করে রাত অতিবাহিত করেছে

এবং যে ব্যক্তি এতে দোষারোপ করে তার কথা শোনো না … কেননা প্রজ্ঞাবানদের ধর্মপরায়ণতা(১) কল্যাণ থেকে বিমুখ করে রাখে

আবু আবদুল্লাহ বিন আল-দুবাইসি ৬৩৭ হিজরীর রবিউস সানি মাসের আট দিন অতিবাহিত হওয়ার পর সোমবার দিন মৃত্যুবরণ করেন এবং পরের দিন আল-ওয়ারদিয়ায় তাকে দাফন করা হয়। তিনি তার জীবনের শেষভাগে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন।

 

‌‌১০ - মুহাম্মদ বিন সুলাইমান বিন কুতরুমুশ(২) বিন তুর্কানশাহ আস-সামারকান্দি আবু মানসুর (৩):

তিনি ছিলেন আমিরদের বংশধর। তিনি একজন বিদগ্ধ ও গুণী সাহিত্যিক ছিলেন, তার চমৎকার গদ্য ও পদ্য সংকলন রয়েছে। তিনি প্রচুর কিসসা-কাহিনী, কবিতা ও বিরল ঘটনাবলি মুখস্থ রাখতেন এবং অত্যন্ত সুন্দর হস্তাক্ষরে লিখতেন। তিনি নাহু (ব্যাকরণ), ভাষা, গণিত ও দর্শনে পারদর্শী ছিলেন। তবে তিনি ধর্মীয় বিষয়ে শিথিল ছিলেন এবং কোনো কিছুতেই বিশ্বাস রাখতেন না।

আবু মানসুর মুহাম্মদ বিন সুলাইমান নিযামিয়া মাদরাসায় আমাকে নিজের রচিত কবিতা আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন:

সে তোমার বিরহে কাঁদছে এবং তার কাঁদাটাই যথার্থ … এক অনুরাগী তার প্রাণের বিনিময়ে তোমাকে রক্ষা করতে চায়

তোমার আকাঙ্ক্ষায় সে তৃষ্ণার্ত, আর তার প্রতিপালকের শপথ … যদি তোমার ওষ্ঠাধরের পরশ তাকে তৃপ্ত করত

হে আমার বিমুখতা ও দূরত্বের কাছে আত্মসমর্পণকারী … কিছুটা সদয় হও, তুমি নিরাপদ থাকো, এটুকুই তোমার জন্য যথেষ্ট

তারা ধারণা করে যে সৌন্দর্যে তুমি ইউসুফের মতো … তারা সত্যই বলেছে, তাই সদয় হও, ইউসুফ তোমার কাছে আসছে

তার জন্ম ৫৪৩ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে এবং তিনি ৬২০ হিজরীর ২৬শে রবিউস সানি সোমবার সন্ধ্যায় ইন্তেকাল করেন। নিযামিয়া মাদরাসায় তার জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয় এবং তাকে শুনিযিয়ায় দাফন করা হয়।

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে এভাবেই আছে।

(২) মূল পাঠে এভাবেই আছে, তবে মু'জামুল উদাবা গ্রন্থে আছে: «কুতরুমুশ»।

(৩) দেখুন: মু'জামুল উদাবা ১৮/ ২০৫ এবং আল-মুহাম্মাদুন মিনাশ শুয়ারা ২/ ৪৮৭।
(খণ্ড: ٢١) আল-মুস্তাফাদু মিন যাইলি তারিখি বাগদাদ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
‌‌11 - محمد بن عبد الله بن أحمد بن محمد بن عبد الله بن عبد الصمد بن المهتدي بالله أبو الفضل (1):

من أهل باب البصرة، كان خطيبا بجامع المنصور مدّة ثم تولى الخطابة بجامع القصر، وكان من أهل الديانة مديما للصيام، قرأ القرآن على أبي الخطاب أحمد بن علي بن عبد الله الصوفي، وسمع أباه وأبا القاسم عبد الله بن الحسن الخلال وأبا الحسين أحمد بن محمد بن النقور وأبا القاسم علي بن أحمد بن البسري.

مولده في العشر الأول من ذي الحجة سنة تسع وأربعين وأربعمائة، وتوفي في يوم الجمعة العشرين من جمادى الأولى سنة سبع وثلاثين وخمسمائة، ودفن يوم السبت في باب حرب على أبي الوفا بن القواس.

 

‌‌12 - محمد بن عبد الله بن عمر بن محمد بن الحسين بن علي الظريف(2) بن محمد بن أبي بكر أحمد بن الحسن بن سهل بن عبد الله الفارسي، أبو الحياة بن أبي القاسم بن أبي الفتح بن أبي بكر الشاه بوري الواعظ (3):

من أهل بلخ، سافر أبو الحياة في طلب العلم وجال في خراسان وما وراء النهر؛ سمع ببلخ أباه وأبا حفص عمر بن علي المحمودي وأبا بكر محمد بن محمد الخلمي وأبا الشجاع عمر بن أبي الحسن بن عبد الله البسطامي؛ وبخوارزم محمود بن محمد بن عباس بن أرسلان وأبا حامد محمد بن إبراهيم بن أبي زكريا الفارابي، وبمصر أبو محمد عبد الله بن رفاعة بن غدير، وبالإسكندرية أبا طاهر السلفي وأقام عنده زمانا، وروى السلفي عنه، وكان يعظمه ويبجله ويعجب بكلامه؛ ثم قدم بغداد مرات، ثم استوطنها إلى حين وفاته.

وكان يعقد مجلس الوعظ بالنظامية، وكان فاضلا عالما مليح الوعظ، حسن الإيراد، حلو الاستشهاد، رشيق المعاني، لطيف الألفاظ، فصيح اللهجة؛ له يد باسطة في تنميق الكلام وتزويقه، وكان يرمي بأشياء منها شرب الخمر وشرى الجواري المغنيات وسماع الملاهي المحرمة، وأخرج عن بغداد مرارا لأجل ذلك.

سمعت عبد العظيم بن عبد القوي المنذري الحافظ بالقاهرة يقول: سمعت شيخنا

--------------------------------------------

(1) انظر: النجوم الزاهرة 5/ 273. وطبقات القراء 2/ 176.

(2) في الأصل: «الطريف».

(3) انظر: الوافي بالوفيات 3/ 343.
‌‌১১ - মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল সামাদ বিন আল-মুহতাদী বিল্লাহ আবু আল-ফজল (১):

বাব আল-বাসরার অধিবাসী ছিলেন, এক সময় জামে মানসুরে খতিব ছিলেন, অতঃপর জামে আল-কাসরে খতিবের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি ছিলেন এবং নিয়মিত রোজা রাখতেন। তিনি আবু আল-খাত্তাব আহমাদ বিন আলী বিন আব্দুল্লাহ আস-সূফীর নিকট কুরআন পাঠ করেন এবং তার পিতা, আবু আল-কাসিম আব্দুল্লাহ বিন আল-হাসান আল-খাল্লাল, আবু আল-হুসাইন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন আন-নাক্কুর এবং আবু আল-কাসিম আলী বিন আহমাদ বিন আল-বুসরীর নিকট (হাদিস) শ্রবণ করেন।

তার জন্ম ৪৪৯ হিজরি সনের জিলহজ মাসের প্রথম দশকে এবং মৃত্যু ৫৩৭ হিজরি সনের ২০ জুমাদাল উলা শুক্রবার। শনিবার তাকে বাবু হারব-এ আবু আল-ওয়াফা বিন আল-কাওয়াসের কবরের পাশে দাফন করা হয়।

 

‌‌১২ - মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন উমর বিন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আলী আল-জারিফ(২) বিন মুহাম্মদ বিন আবু বকর আহমাদ বিন আল-হাসান বিন সাহল বিন আব্দুল্লাহ আল-ফারিসী, আবু আল-হায়াত বিন আবু আল-কাসিম বিন আবু আল-ফাতহ বিন আবু বকর আশ-শাহ বুরী আল-ওয়ায়েজ (৩):

বালখের অধিবাসী ছিলেন, আবু আল-হায়াত জ্ঞান অন্বেষণে সফর করেন এবং খোরাসান ও মাওয়ারাননাহর পরিভ্রমণ করেন; তিনি বালখে তার পিতা, আবু হাফস উমর বিন আলী আল-মাহমুদী, আবু বকর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-খালমী এবং আবু আশ-শুজা উমর বিন আবু আল-হাসান বিন আব্দুল্লাহ আল-বিস্তামী থেকে (হাদিস) শ্রবণ করেন; খাওয়ারিজমে মাহমুদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্বাস বিন আরসলান এবং আবু হামিদ মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন আবু জাকারিয়া আল-ফারাবীর নিকট; মিশরে আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন রিফায়া বিন গাদীর নিকট; আলেকজান্দ্রিয়ায় আবু তাহির আস-সিলাফীর নিকট এবং সেখানে দীর্ঘকাল অবস্থান করেন। আস-সিলাফী তার থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তাকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করতেন এবং তার বক্তব্যে মুগ্ধ হতেন; অতঃপর তিনি কয়েকবার বাগদাদে আসেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।

তিনি নিজামিয়া মাদরাসায় ওয়াজের মজলিস পরিচালনা করতেন। তিনি ছিলেন বিদগ্ধ আলেম এবং চমৎকার ওয়াজকারী, তার উপস্থাপনা ছিল সুন্দর, উদ্ধৃতি ছিল চমৎকার, অর্থের ভাব ছিল সাবলীল, শব্দচয়ন ছিল সূক্ষ্ম এবং বাচনভঙ্গি ছিল প্রাঞ্জল; বক্তব্যকে অলংকৃত ও সুশোভিত করার ক্ষেত্রে তার সুনিপুণ দক্ষতা ছিল। তার বিরুদ্ধে মদ পান করা, গায়িকা দাসী ক্রয় করা এবং নিষিদ্ধ বাদ্যযন্ত্র শোনার মতো কিছু অপবাদ দেওয়া হয়েছিল এবং এ কারণে তাকে কয়েকবার বাগদাদ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।

আমি কায়রোতে হাফেজ আব্দুল আজিম বিন আব্দুল কউয়ী আল-মুনজিরীকে বলতে শুনেছি: আমি আমাদের শায়খকে বলতে শুনেছি...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আন-নুজুম আয-জাহিরা ৫/২৭৩ এবং তাবাকাত আল-কুররা ২/১৭৬।

(২) মূলে রয়েছে: «আত-তারিফ»।

(৩) দেখুন: আল-ওয়াফি বিল ওয়াফিয়াত ৩/৩৪৩।
(খণ্ড: ٢١) আল-মুস্তাফাদু মিন যাইলি তারিখি বাগদাদ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الحافظ أبا الحسن علي بن المفضل المقدسي يقول: كتب البلخي مرة رقعة إلى شيخنا الحافظ السلفي وكتب على رأسها «فراش لمعة وفراش سمعة» قال: فأعجب بها شيخنا كثيرا وكان يكررها.

ويقال إنه كان يسب الصحابة(1) كثيرا. مولده في أوائل سنة ثلاثين وخمسمائة في ربيع الأول منها، وتوفي في يوم الجمعة التاسع عشر من صفر سنة ست وسبعين وخمسمائة- رحمه الله.

 

‌‌13 - محمد بن عبد الله بن محمد [بن](2) أبي الفضل السّلميّ، أبو عبد الله (3):

من أهل مرسية من بلاد الأندلس- قدم علينا بغداد شابا طالبا للعلم قافلا من مكة سنة خمس وستمائة، وأقام يسمع من شيوخنا الحديث ويقرأ الفقه والخلاف والأصلين بالمدرسة النظامية، ثم إنه سافر إلى خراسان وسمع بنيسابور وهراة؛ وحدّث ببغداد بكتاب «السنن» لأبي بكر البيهقي(4) عن منصور بن عبد المنعم الفراوي.

وكان من الأئمة الفضلاء في جميع فنون علم(5) الحديث وعلوم القرآن والفقه والخلاف والأصلين والنحو واللغة، وله قريحة حسنة، وفهم ثاقب، وتدقيق في المعاني، وله مصنفات في جميع ما ذكرناه من العلوم، وهو مشتغل بذلك في جميع أوقاته، وله النظم والنثر المليح، ومع ذلك فهو زاهد متورع، حسن الطريقة، متدين، كثير العبادة، متعفف، نزه النفس، قليل المخالطة للناس، ما رأيت في فنه مثله.

أنشدنا الإمام أبو عبد الله محمد بن عبد الله بن أبي الفضل السلمي لنفسه:

من كان يرغب في النجاة فما له … غير اتباع المصطفى فيما أتى

ذاك السبيل المستقيم وغيره … سبل الضلالة والغواية والردى

فاتبع كتاب الله والسنن التي … صحت فذاك إذا اتبعت هو الهدى

ودع السؤال بكم وكيف فإنه … باب يجر ذوي البصيرة للعمى

--------------------------------------------

(1) في الوافي: «يدس سب الصحابة».

(2) ما بين المعقوفتين زيادة من الوافي.

(3) انظر: الوافي بالوفيات 3/ 354. وشذرات الذهب 5/ 269. ومعجم الأدباء 18/ 209 - 213.

(4) في الوافي: «حدث بالسنن الكبير للبيهقي وبغريب الحديث للخطابي».

(5) في الأصل: «في جميع فنون العلم»
হাফেয আবুল হাসান আলী ইবনুল মুফাদ্দাল আল-মাকদিসী বলেন: আল-বালখী একবার আমাদের শাইখ হাফেয আস-সিলাফীর কাছে একটি চিরকুট লিখেছিলেন এবং এর শুরুতে লিখেছিলেন "উজ্জ্বলতার বিছানা এবং যশের বিছানা"। তিনি বলেন: এতে আমাদের শাইখ অনেক অভিভূত হয়েছিলেন এবং তিনি এটি বারবার পড়তেন।

আর বলা হয় যে, তিনি সাহাবীদের(১) প্রচুর গালি দিতেন। তাঁর জন্ম পাঁচশত ত্রিশ হিজরী সালের রবিউল আউয়াল মাসের শুরুতে, এবং তিনি পাঁচশত ছিয়াত্তর হিজরী সালের উনিশে সফর শুক্রবার মৃত্যুবরণ করেন - আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

 

‌‌১৩ - মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ [ইবনে](২) আবুল ফাযল আস-সুলামী, আবু আব্দুল্লাহ (৩):

তিনি আন্দালুসের মুরসিয়া অঞ্চলের অধিবাসী ছিলেন। তিনি ছয়শত পাঁচ হিজরীতে মক্কা থেকে ফেরার পথে জ্ঞান অন্বেষণকারী যুবক হিসেবে বাগদাদে আমাদের কাছে আগমন করেন। তিনি সেখানে অবস্থান করে আমাদের শাইখদের নিকট হাদীস শ্রবণ করেন এবং মাদরাসা নিযামিয়াহ-তে ফিকহ, খিলাফ এবং আসলাইন (উসূলে ফিকহ ও উসূলে দ্বীন) পাঠ করেন। এরপর তিনি খোরাসান সফর করেন এবং নিশাপুর ও হারাত থেকে (হাদীস) শ্রবণ করেন। তিনি বাগদাদে মানসুর ইবনে আব্দুল মুনইম আল-ফারায়ীর সূত্রে আবু বকর আল-বাইহাকীর(৪) 'আস-সুনান' গ্রন্থটি বর্ণনা করেন।

তিনি হাদীস শাস্ত্রের(৫) সকল শাখা, কুরআন সংশ্লিষ্ট জ্ঞানসমূহ, ফিকহ, খিলাফ, আসলাইন, নাহু এবং লুগাত (ভাষাতত্ত্ব) বিষয়ে একজন বিদগ্ধ ইমাম ছিলেন। তাঁর মেধা ছিল তীক্ষ্ণ, অনুধাবন শক্তি ছিল প্রখর এবং অর্থ উদ্ঘাটনে ছিল গভীরতা। আমাদের উল্লেখিত সকল বিষয়ে তাঁর গ্রন্থাবলী রয়েছে এবং তিনি তাঁর সবটুকু সময় এ কাজে নিয়োজিত রাখতেন। তাঁর চমৎকার কাব্য ও গদ্য রয়েছে। তা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন একজন দুনিয়াত্যাগী, পরহেযগার, উত্তম পদ্ধতির অধিকারী, ধর্মপ্রাণ, অধিক ইবাদতকারী, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন, পবিত্র হৃদয়ের অধিকারী এবং মানুষের সাথে কম মেলামেশাকারী। তাঁর সমসাময়িক বিদ্যায় আমি তাঁর মতো কাউকে দেখিনি।

ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবুল ফাযল আস-সুলামী আমাদের কাছে নিজের রচিত কবিতা আবৃত্তি করেছেন:

যে ব্যক্তি মুক্তি পেতে চায়, তার জন্য নেই … মুস্তফা (সা.) যা নিয়ে এসেছেন তা অনুসরণ ছাড়া কোনো পথ।

ওটিই হলো সরল পথ, আর তা ব্যতীত অন্যগুলো … ভ্রষ্টতা, পথভ্রষ্টতা ও ধ্বংসের পথ।

সুতরাং আল্লাহর কিতাব ও সেই সকল সুন্নাহ অনুসরণ করো যা … সহীহ হিসেবে প্রমাণিত, যদি তুমি তা অনুসরণ করো তবে সেটিই হলো হিদায়াত।

আর 'কত' এবং 'কীভাবে' জাতীয় প্রশ্ন বর্জন করো, কেননা এটি … এমন এক দরজা যা প্রজ্ঞাবানদের অন্ধত্বের দিকে টেনে নিয়ে যায়।

--------------------------------------------

(১) আল-ওয়াফী গ্রন্থে আছে: "সাহাবীদের গালমন্দ ঢুকিয়ে দিতেন"।

(২) বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু আল-ওয়াফী থেকে সংগৃহীত অতিরিক্ত অংশ।

(৩) দেখুন: আল-ওয়াফী বিল ওয়াফায়াত ৩/ ৩৫৪; শাযারাতুয যাহাব ৫/ ২৬৯; মুজামুল উদাবা ১৮/ ২০৯ - ২১৩।

(৪) আল-ওয়াফী গ্রন্থে আছে: "তিনি বাইহাকীর আস-সুনান আল-কাবীর এবং খাত্তাবীর গারীবুল হাদীস বর্ণনা করেছেন"।

(৫) মূল পাঠে রয়েছে: "জ্ঞানের সকল শাখায়"
(খণ্ড: ٢١) আল-মুস্তাফাদু মিন যাইলি তারিখি বাগদাদ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
الدين ما قال الرسول وصحبه … والتابعون ومن مناهجهم قفى

وله أيضا: قالوا فلان قد أزال بهاءه(1) … ذاك العذار وكان بدر تمام

فأجبتهم: بل زاد نور بهائه … ولذا تزايد فيه فرط(2) عرامي

استقصرت ألحاظه فنكأتها … فأتى العذار يمدها بسهام

مولده بمرسية في سنة سبعين وخمسمائة. قلت وتوفي بين الزعقة والعريش من منازل الرمل وهو متوجه من مصر إلى دمشق في النصف من شهر ربيع الأول من سنة خمس وخمسين وستمائة، ودفن في بقعة بتل الزعقة- رحمه الله.

 

‌‌14 - محمد بن عبد الباقي بن أحمد بن سلمان، أبو الفتح بن أبي القاسم الحاجب المعروف بابن البطي (3):

من ساكني الصاغة من دار الخلافة، محدّث بغداد في وقته، [به](4) ختم الإسناد، وكان أبواه صالحين، فعاد عليه بركتهما، سمع بإفادة أبي بكر بن الخاضبة، وأخذ له الإجازات من الشيوخ، وكان شيخا صالحا، حسن الطريقة، مليح الأخلاق، محبّا للتحديث، صدوقا، أمينا، سمع أبا عبد الله مالك بن أحمد بن علي البانياسي وأبا الخطاب نصر بن أحمد بن البطر وأبا عبد الله الحسين بن أحمد بن محمد النعالي والنقيب طراد [بن محمد](5) الزينبي وأبا محمد عبد الله بن علي بن ذكري الدقاق وأبا محمد رزق الله التميمي وأبا عبد الله محمد بن أبي نصر الحميدي وأبا بكر أحمد بن عمر السّمرقندي. وروي عنه جماعة من الحفاظ الأكابر.

مولده في يوم السبت رابع عشري جمادى الأولى سنة سبع وسبعين وأربعمائة، وتوفي في ليلة الجمعة، ودفن يوم الجمعة ثامن عشري جمادى الأولى سنة أربع وستين وخمسمائة بباب أبرز(6).

--------------------------------------------

(1) في الأصل: «بهاده».

(2) في الأصل: «فرظ».

(3) انظر: شذرات الذهب 4/ 213. والوافي بالوفيات 3/ 209. والعبر 4/ 188.

(4) ما بين المعقوفتين زيادة من الوافي.

(5) ما بين المعقوفتين زيادة من العبر.

(6) في الأصل: «ببابيرز».
দ্বীন হলো তা-ই যা রসূল এবং তাঁর সাহাবীগণ বলেছেন … এবং তাবেয়িগণ এবং যারা তাঁদের মানহাজ অনুসরণ করেছেন।

তাঁর আরও কবিতা: তারা বললো, অমুক তার সৌন্দর্যকে ম্লান করে দিয়েছে(১) … সেই গালের পশম (দাড়ি), অথচ সে ছিল পূর্ণিমার চাঁদের মতো।

আমি তাদের উত্তর দিলাম: বরং এটি তার সৌন্দর্যের নূর বৃদ্ধি করেছে … আর এই কারণেই তার প্রতি আমার তীব্র আসক্তি বেড়ে গিয়েছে(২)।

তার দৃষ্টি ছিল ছোট, যা আমি বিদ্ধ করেছি … অতঃপর গালের পশম তীরের মতো হয়ে তাতে সাহায্য করতে এলো।

তাঁর জন্ম মুর্সিয়া নগরীতে পাঁচশ সত্তর হিজরি সনে। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: তিনি মিসর থেকে দামেশকের পথে মরুভূমির মনজিলসমূহের মধ্যবর্তী 'যাকআহ' ও 'আরীশ' নামক স্থানের মাঝামাঝি জায়গায় রবিউল আউয়াল মাসের মাঝামাঝি সময়ে ছয়শ পঞ্চান্ন হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে 'তাল্লু যাকআহ' নামক স্থানে সমাহিত করা হয়—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন।

 

‌‌১৪ - মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকী বিন আহমদ বিন সালমান, আবুল ফাতহ বিন আবিল কাসিম আল-হাজিব, যিনি ইবনুল বাত্তি (৩) নামে পরিচিত:

খিলাফাত ভবনের 'সাগাহ' এলাকার অধিবাসী, স্বীয় সময়ের বাগদাদের শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস। [তাঁর মাধ্যমেই](৪) উচ্চতর সনদের ধারা সমাপ্ত হয়েছে। তাঁর পিতামাতা ছিলেন সৎকর্মশীল, ফলে তাঁদের বরকত তাঁর ওপরও বর্ষিত হয়েছিল। তিনি আবু বকর বিন আল-খদিবার নির্দেশনায় হাদিস শ্রবণ করেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে মাশায়েখদের থেকে ইজাজত গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন একজন নেককার শায়খ, সুন্দর পথের অনুসারী, উত্তম আখলাকের অধিকারী, হাদিস বর্ণনার প্রতি অনুরাগী, সত্যবাদী এবং বিশ্বস্ত। তিনি আবু আব্দুল্লাহ মালিক বিন আহমদ বিন আলী আল-বানইয়াসী, আবুল খাত্তাব নাসর বিন আহমদ বিন আল-বাতর, আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আন-নিআলী, আন-নাকীব তুরাদ [বিন মুহাম্মদ](৫) আয-যাইনাবী, আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আলী বিন যিকর আদ-দাক্কাক, আবু মুহাম্মদ রিযকুল্লাহ আত-তামিমী, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবি নাসর আল-হুমাইদী এবং আবু বকর আহমদ বিন উমর আস-সামারকান্দী থেকে শ্রবণ করেছেন। এবং তাঁর থেকে একদল বড় হাফিজগণ বর্ণনা করেছেন।

তাঁর জন্ম চারশ সত্তর হিজরি সনের চব্বিশে জুমাদাল উলা, শনিবার দিনে। এবং তিনি পাঁচশ চৌষট্টি হিজরি সনের আঠাশে জুমাদাল উলা, জুমআর রাতে মৃত্যুবরণ করেন এবং জুমআর দিনে 'বাবু আবরায' (৬)-এ তাঁকে দাফন করা হয়।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে: «বিহাদিহি»।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে: «ফারজ»।

(৩) দেখুন: শাযারাতুয যাহাব ৪/২১৩; আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ৩/২০৯; আল-ইবার ৪/১৮৮।

(৪) বন্ধনীভুক্ত অংশটি 'আল-ওয়াফি' থেকে সংযোজিত।

(৫) বন্ধনীভুক্ত অংশটি 'আল-ইবার' থেকে সংযোজিত।

(৬) মূল পাণ্ডুলিপিতে: «বাবীবরায»।
(খণ্ড: ٢١) আল-মুস্তাফাদু মিন যাইলি তারিখি বাগদাদ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌15 - محمد بن عبد الباقي بن محمد بن عبد الله بن محمد بن عبد الرحمن بن الربيع بن ثابت بن وهب بن مشجعة بن الحارث(1) بن عبد الله بن كعب بن مالك الأنصاري، أبو بكر بن أبي طاهر البزاز (2):

من أهل النصرية، بكر به أبوه فأسمعه من أبي إسحاق إبراهيم البرمكي والقاضي أبي الطيب طاهر بن عبد الله الطبري وأبي الحسن محمد بن أحمد بن الآبنوسي، وأبي الحسن علي بن أبي طالب المكي وأبي الفضل هبة الله بن أحمد بن المأموني، فهؤلاء تفرد بالرواية عنهم. وسمع أيضا بنفسه القاضي أبا يعلى الفراء وعبد العزيز الأنماطي وعبد الله بن الحسن الخلال والقاضي أبا المظفر صاحب إبراهيم النسفي.

وقرأ بنفسه وكتب بخطه، وتفقه في صباه على القاضي أبي يعلى بن الفراء. وقرأ الفرائض والحساب والهندسة حتى برع في جميع ذلك، وله فيه مصنفات.

قرأت بخط أبي الفضل بن سامع: سمعت أبا محمد بن الخشاب يقول: سمعت قاضي المرستان- يعني محمد بن عبد الباقي- يقول: نظرت في كل علم وحصلت منه بعضه(3) أو كله إلا هذا النحو، فإني قليل البضاعة فيه.

أخبرني شهاب بن محمود المزكي بهراة قال: أنبأني أبو سعد بن السمعاني قال:

محمد بن عبد الباقي الأنصاري أسند شيخ بقي على وجه الأرض، وكانت إليه الرحلة من أقطار الأرض، عارف بالقوم، متدين، حسن الكلام، حلو المنطق، مليح المحاورة، ما رأيت أجمع للفنون منه، وكان سريع النسخ، حسن القراءة للحديث. سمعته يقول:

ما أعرف أني ضيعت ساعة من عمري في لهو أو لعب.

مولده في صفر سنة اثنتين وأربعين وأربعمائة، وتوفي في رجب سنة خمس وثلاثين وخمسمائة، ودفن بباب حرب قريبا من بشر الحافي؛ وأوصى أن يكتب على لوح قبره: {قُلْ هُوَ نَبَأٌ عَظِيمٌ أَنْتُمْ عَنْهُ مُعْرِضُونَ}.

 

‌‌16 - محمد بن عبد الرحمن بن محمد بن أبي الحسن مسعود بن أحمد بن الحسين ابن محمد المسعودي، أبو عبد الله البنجديهي الصّوفي (4):

--------------------------------------------

(1) في الأصل: «بن الحرب».

(2) انظر: شذرات الذهب 4/ 108. والعبر في خبر من غبر 4/ 96.

(3) في الشذرات: «كله أو بعضه».

(4) انظر: الأنساب، للسمعاني 2/ 333. ومعجم الأدباء 18/ 215، 216.
১৫ - মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে রবী‘ ইবনে সাবিত ইবনে ওয়াহাব ইবনে মাশজা‘আ ইবনুল হারিস(১) ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কা‘ব ইবনে মালিক আল-আনসারী, আবু বকর ইবনে আবু তাহির আল-বাযযায (২):

নাসরিয়া অঞ্চলের অধিবাসী। তার পিতা তাকে শৈশবে আবু ইসহাক ইবরাহীম আল-বারমাকী, কাজী আবু তায়্যিব তাহির ইবনে আব্দুল্লাহ আত-তাবারী, আবু হাসান মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনুল আবুনূসী, আবু হাসান আলী ইবনে আবু তালিব আল-মাক্কী এবং আবু ফাযল হিবাতুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনুল মামূনী-এর নিকট নিয়ে যান এবং তাদের থেকে শ্রবণ করান। তিনি একাই তাদের থেকে বর্ণনা করার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি নিজেও কাজী আবু ইয়ালা আল-ফাররা, আব্দুল আযীয আল-আনমাতী, আব্দুল্লাহ ইবনুল হাসান আল-খল্লাল এবং ইবরাহীম আন-নাসাফীর অনুসারী কাজী আবু মুজাফফর-এর নিকট হাদীস শ্রবণ করেছেন।

তিনি নিজ পাঠ সম্পন্ন করেছেন এবং নিজ হাতে পাণ্ডুলিপি লিখেছেন। শৈশবে কাজী আবু ইয়ালা ইবনুল ফাররার নিকট ফিকহ শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি ফারায়েজ (উত্তরাধিকার আইন), গণিত ও জ্যামিতি অধ্যয়ন করেন এবং এসকল বিষয়ে পারদর্শিতা অর্জন করেন; এই বিষয়গুলোতে তার বেশ কিছু সংকলনও রয়েছে।

আমি আবু ফাযল ইবনে সামে‘-এর হস্তলিপিতে পড়েছি: আমি আবু মুহাম্মদ ইবনুল খাশশাবকে বলতে শুনেছি: আমি কাজী আল-মারিস্তানকে—অর্থাৎ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকীকে—বলতে শুনেছি: আমি প্রতিটি ইলম (জ্ঞান) পর্যবেক্ষণ করেছি এবং তার আংশিক(৩) বা পূর্ণাঙ্গ অর্জন করেছি, তবে এই নাহু (ব্যাকরণ) ব্যতীত; কারণ এতে আমার পুঁজি সামান্যই।

হিরাত শহরে শিহাব ইবনে মাহমুদ আল-মুযাক্কী আমাকে জানিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু সা‘দ ইবনে সামআনী আমাকে জানিয়েছেন, তিনি বলেন:

মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকী আল-আনসারী ছিলেন পৃথিবীর বুকে অবশিষ্ট থাকা প্রবীণতম উচ্চ সনদধারী শায়খ। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ তার কাছে জ্ঞান অন্বেষণে আসত। তিনি ছিলেন সমকালীন বিদগ্ধজনদের সম্পর্কে বিশেষভাবে অভিজ্ঞ, ধর্মপ্রাণ, উত্তম বাকপটু, মিষ্টভাষী ও চমৎকার আলাপচারী। আমি তার চেয়ে অধিক বিবিধ শাস্ত্রে পারদর্শী কাউকে দেখিনি। তিনি দ্রুত পাণ্ডুলিপি তৈরি করতে পারতেন এবং অত্যন্ত সুন্দরভাবে হাদীস পাঠ করতেন। আমি তাকে বলতে শুনেছি:

আমার জানা মতে, আমি আমার জীবনের একটি মুহূর্তও আমোদ-প্রমোদ বা খেলাধুলায় নষ্ট করিনি।

তার জন্ম ৪৪২ হিজরীর সফর মাসে এবং মৃত্যু ৫৩৫ হিজরীর রজব মাসে। তাকে বিশর আল-হাফীর কবরের নিকটবর্তী 'বাব-ই হারব'-এ দাফন করা হয়। তিনি অসিয়ত করেছিলেন যেন তার কবরের ফলকে এই আয়াতটি লেখা হয়: {বলুন, এটি এক মহা সংবাদ, যা থেকে তোমরা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছ}।

 

‌‌১৬ - মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু হাসান মাসউদ ইবনে আহমাদ ইবনুল হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ আল-মাসউদী, আবু আব্দুল্লাহ আল-বানজাদিহী আস-সূফী (৪):

--------------------------------------------

(১) মূলে রয়েছে: «ইবনুল হারব»।

(২) দেখুন: শাযারাতুয যাহাব ৪/১০৮; আল-ইবার ফি খবর মান গাবার ৪/৯৬।

(৩) শাযারাত গ্রন্থে রয়েছে: «পূর্ণাঙ্গ বা আংশিক»।

(৪) দেখুন: আল-আনসাব, সামআনী ২/৩৩৩; মু'জামুল উদাবা ১৮/২১৫, ২১৬।
(খণ্ড: ٢١) আল-মুস্তাফাদু মিন যাইলি তারিখি বাগদাদ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
هكذا رأيت نسبه بخطه- رحل في طلب الحديث وطاف الأقطار: خراسان والعراق وآذربيجان والجزيرة وديار مصر والشام، وكان من الفضلاء في كل فن في الفقه والحديث والأدب، وله مصنفات: منها «شرح المقامات».

سمع ببلده أباه أبا السعادات عبد الرحمن وأبا الفضل عبد الرحمن بن الحسن بن علي بن شراف، وبسجستان أبا محمد عبد الله بن عمر بن أبي بكر السجزي، وببلخ أبا شجاع عمر بن محمد بن عبد الله البسطامي وأبا الفتح حمزة بن محمد بن الحسون، وبنيسابور أبا بكر محمد بن علي الزاهد الطوسي وأبا المظفر محمد بن الحسن بن الحسين الزاهد، وبكرمان أبا المعالي إسماعيل بن الحسين المقرئ اللغوي، وبأصبهان أبا بكر محمد بن إبراهيم بن محمد الصالحاني، وبهمذان أبا الفرح ظهير بن زهير بن علي الرفاد، بتبريز أبا الصنوف إبراهيم بن الحسن بن إبراهيم الحريري، وببغداد أبا المظفر محمد بن أحمد بن التريكي وأبا الفتح محمد بن عبد الباقي بن سلمان وأبا محمد عبد الواحد بن الحسين البارزي، وبالموصل أبا محمد عبد الرحمن بن أحمد الطوسي، وبديار بكر أبا عبد الله مروان بن علي بن سلامة الوزير، وبمصر أبا محمد عبد الله بن رفاعة ابن غالب وأبا محمد عبد الله بن برى(1)، وبالإسكندرية أبوي طاهر أحمد بن محمد السلفي وإسماعيل بن مكي بن عوف.

كتب إلى عبد الخالق بن صالح بن زيدان المكي وأنشدني عنه ياقوت الحموي بحلب، قال: أنشدني محمد بن عبد الرحمن بن محمد المسعودي لنفسه:

قالت عهدتك تبكي … دما حذار التنائي

فلم تعوضت عنها … بعد الدماء بماء؟

فقلت: ما ذاك مني … لسلوة أو عزاء(2)

لكن دموعي شابت … من طول عمر بكائي

توفي المسعودي في ليلة السبت التاسع والعشرين من شهر ربيع الأول، سنة أربع وثمانين وخمسمائة بدمشق، ودفن بسفح قاسيون. وذكر أن مولده في سنة إحدى وعشرين وخمسمائة.

--------------------------------------------

(1) في الأصل: «بن نرى».

(2) في الأصل: «لسلوة وعزاء».
আমি তাঁর বংশলতিকা তাঁর নিজ হস্তাক্ষরে এভাবেই দেখেছি—তিনি হাদিস অন্বেষণে সফর করেছেন এবং বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমণ করেছেন: খোরাসান, ইরাক, আজারবাইজান, আল-জাজিরা, মিসর ও শামের জনপদসমূহ। তিনি ফিকহ, হাদিস এবং সাহিত্যের প্রতিটি শাখায় বিদগ্ধ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর অসংখ্য রচনা রয়েছে, যার মধ্যে ‘শারহুল মাকামাত’ অন্যতম।

তিনি নিজ শহরে তাঁর পিতা আবু আল-সাআদাত আবদুর রহমান এবং আবুল ফজল আবদুর রহমান বিন আল-হাসান বিন আলী বিন শারাফের নিকট শ্রবণ করেছেন। সিজিস্তানে আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন উমর বিন আবু বকর আল-সিজযি; বলখে আবু শুজা উমর বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-বিস্তামি এবং আবুল ফাতহ হামযা বিন মুহাম্মদ বিন আল-হাসুন; নিশাপুরে আবু বকর মুহাম্মদ বিন আলী আল-যাহিদ আল-তুসি এবং আবুল মুজাফফর মুহাম্মদ বিন আল-হাসান বিন আল-হুসাইন আল-যাহিদ; কিরমানে আবু আল-মাআলি ইসমাইল বিন আল-হুসাইন আল-মুকরি আল-লুগাভি; আস্পাহানে আবু বকর মুহাম্মদ বিন ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আল-সালেহানি; হামদানে আবুল ফারাহ জুহাইর বিন জুহাইর বিন আলী আল-রাফফাদ; তাবরিজে আবুল সুনুফ ইবরাহিম বিন আল-হাসান বিন ইবরাহিম আল-হারিরি; বাগদাদে আবুল মুজাফফর মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-তরিকি, আবুল ফাতহ মুহাম্মদ বিন আবদুল বাকি বিন সালমান এবং আবু মুহাম্মদ আবদুল ওয়াহিদ বিন আল-হুসাইন আল-বারিজি; মসুলে আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমান বিন আহমদ আল-তুসি; দিয়ার বকরে আবু আবদুল্লাহ মারওয়ান বিন আলী বিন সালামা আল-ওয়াযির; মিসরে আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন রিফাআ ইবনে গালিব এবং আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন বাররি(১); এবং আলেকজান্দ্রিয়ায় দুই আবু তাহের আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-সিলাফি ও ইসমাইল বিন মক্কি বিন আউফের নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন।

আবদুল খালিক বিন সালেহ বিন যাইদান আল-মাক্কি আমার কাছে লিখেছেন এবং ইয়াকুত আল-হামাভি আমাকে সিরিয়ার হালাবে তাঁর সম্পর্কে কবিতা আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন। তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-মাসউদি আমাকে তাঁর নিজের রচিত এই কবিতাটি আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন:

তিনি বললেন, আমি তোমাকে দেখেছি বিচ্ছেদের ভয়ে … রক্তের অশ্রু বিসর্জন দিতে

তবে কেন এখন রক্তের বদলে … সেই স্থান জল দখল করল?

আমি বললাম: এটা আমার পক্ষ থেকে … কোনো বিস্মৃতি বা সান্ত্বনার কারণে নয়(২)

বরং দীর্ঘকাল ধরে ক্রন্দনের ফলে … আমার অশ্রু বার্ধক্যে উপনীত হয়ে সাদা হয়ে গেছে

আল-মাসউদি ৫৮৪ হিজরি সনের ২৯শে রবিউল আউয়াল শনিবার রাতে দামেস্কে ইন্তেকাল করেন এবং কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে তাঁকে দাফন করা হয়। উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাঁর জন্ম ৫২১ হিজরি সনে।

--------------------------------------------

(১) মূলে রয়েছে: «বিন নারি»।

(২) মূলে রয়েছে: «বিস্মৃতি ও সান্ত্বনার জন্য»।
(খণ্ড: ٢١) আল-মুস্তাফাদু মিন যাইলি তারিখি বাগদাদ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌17 - محمد بن عبيد الله بن عبد الله، أبو الفتح الكاتب (1):

سبط المبارك بن المبارك، المعروف بابن التعاويذي، من ساكني دار الخلافة، وكان شاعرا مجودا رشيق الألفاظ مليح المعاني رقيق الغزل حلوالعبارة، أكثر القول في الغزل وحدّث بشعره.

أخبرنا أبو الحسين بن الوارث قال: أنشدنا ابن التعاويذي لنفسه:

أمط اللثام عن العذار السائل(2) … ليقوم عذري فيك عند عواذلي

واغمد لحاظك قد فللت تجلدي … واكفف سهامك قد أصبت مقاتلي

لا تجمع الشوق المبرح والقلى … والبين لي أحد(3) الثلاثة قاتلي

يكفيك ما تذكيه بين جوانحي … لهواك نار لواعجي وبلابلي

وهناك أني لا أدين صبابة … لهوى سواك ولا ألين لعاذلي

بت لاهيا جذلا بحسنك إنني … مذ بتّ في شغل بحزني شاغل

واعطف على جلد كعهدك في الهوى … واه وجسم مثل خصرك ناحل

ويلاه من هيف بقدك ضامن … تلفي ومن كفل بوجدي كافل

وبنفسي الغضبان لا يرضيه غي … ر دمي وما في سفكه من طائل(4)

تصمي نبال جفونه قلبي فلا … شلت وإن أصمت يمين النابل

ويهز قدا كالقناة لحاظه … لمحبه منها مكان العامل

عانقته أبكي ويبسم … كالبرق أومض مض في غمام هاطل

فألين في الشكوى لفاس قلبه … وأجد في وصف الغرام الهازل

أخبرنا علي بن المبارك بن علي الحلاوي(5)، قال: أنشدنا ابن التعاويذي لنفسه:

تعشقته واهي المواثيق مذاقا … نرى كل يوم في الهوى منه أخلاقا

أشد نفارا من جفوني عن الكرى … وأضعف من عزمي على الصبر(6) سباقا

كثير التجني كما قل عطفه … على عاشقيه زاده الله عشاقا

--------------------------------------------

(1) انظر: العبر في خبر من غبر 4/ 253. ووفيات الأعيان 4/ 90. والوافي بالوفيات 4/ 11.

ومعجم الأدباء 18/ 235 - 249.

(2) في الأصل: «السائلى».

(3) في الأصل: «والبين في أحد».

(4) في الأصل: «من كايل».

(5) هكذا في الأصل.

(6) في الأصل: «عيزى على الصب».
১৭ - মুহাম্মদ বিন উবাইদুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ, আবুল ফাতহ আল-কাতিব (১):

আল-মুবারক বিন আল-মুবারকের দৌহিত্র, ইবনুত তাউয়িযি নামে পরিচিত, দারুল খিলাফতের অধিবাসী ছিলেন। তিনি একজন সুদক্ষ কবি ছিলেন, যার শব্দ চয়ন ছিল সাবলীল, ভাব ছিল চমৎকার, গজল ছিল কোমল এবং প্রকাশভঙ্গি ছিল মিষ্ট। তিনি প্রচুর গজল রচনা করেছেন এবং নিজের কবিতা বর্ণনা করেছেন।

আবু আল-হুসাইন বিন আল-ওয়ারিস আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনুত তাউয়িযি আমাদের নিকট তার নিজের রচিত কবিতা পাঠ করেছেন:

প্রবহমান গণ্ডদেশ হতে নেকাব সরিয়ে দাও … যাতে আমার নিন্দুকদের নিকট আমার ওজর প্রতিষ্ঠিত হয়

তোমার কটাক্ষের তলোয়ার কোষবদ্ধ করো, তুমি আমার ধৈর্যকে চূর্ণ করেছ … এবং তোমার তীরগুলো থামাও, তুমি আমার মরণাঙ্গে আঘাত করেছ

তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও বিরহ-ঘৃণা—এই দুইকে একত্র করো না … কারণ বিচ্ছেদ এই তিনটির যেকোনো একটির মতোই আমার প্রাণ নিতে সক্ষম

আমার পাঁজরের মাঝে তুমি যা প্রজ্জ্বলিত করছ তা-ই যথেষ্ট … তোমার প্রেমে আমার হৃদয়ে জ্বালা ও অস্থিরতার আগুন জ্বলছে

সেখানে আমি তোমার অনুরাগ ছাড়া অন্য কোনো প্রেমে বিশ্বাসী নই … আর না আমি আমার নিন্দুকের প্রতি নমনীয় হই

তোমার সৌন্দর্যে বিভোর হয়ে আমি আনন্দিত চিত্তে রাত কাটিয়েছি … যদিও আমি আমার দুঃখের ভারে মগ্ন হয়ে রাত যাপন করছি

প্রেমের সেই চিরন্তন প্রথা অনুযায়ী তুমি এই ধৈর্যশীলের প্রতি সদয় হও … হায়, যার শরীর তোমার কটিদেশের ন্যায় ক্ষীণ হয়ে পড়েছে

হায়! তোমার তন্বী দেহের সেই লাবণ্য যা আমার বিনাশের জামিনদার … আর সেই নিতম্ব যা আমার কষ্টের ভার বহনকারী

আমার প্রাণ উৎসর্গ হোক সেই ক্রোধীর চরণে, যে আমার রক্তপাত ব্যতীত সন্তুষ্ট নয় … অথচ তা ঝরিয়ে কোনো লাভ নেই

তার চোখের পাতার তীরগুলো আমার হৃদয় বিদীর্ণ করে … লক্ষ্যভেদ করলেও ধনুকধারীর হাত যেন কখনো পঙ্গু না হয়

সে বর্শার মতো দীর্ঘ তনু দুলিয়ে চলে … প্রেমিকের জন্য যার কটাক্ষ বর্শাফলকের মতো তীক্ষ্ণ

আমি তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদি আর সে মৃদু হাসে … ঠিক যেমন বর্ষণমুখর মেঘের কোলে বিদ্যুৎ চমকায়

তার পাষাণ হৃদয়ের কাছে অভিযোগ পেশকালে আমি কোমল হই … অথচ উপহাসপূর্ণ প্রেমের বর্ণনায় আমি অত্যন্ত নিষ্ঠাবান

আলী বিন আল-মুবারক বিন আলী আল-হাল্লাউয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইবনুত তাউয়িযি আমাদের নিকট তার নিজের রচিত কবিতা পাঠ করেছেন:

আমি এমন এক অবিশ্বস্তকে ভালোবেসেছি যার প্রতিশ্রুতির স্থায়িত্ব নেই … প্রেমে প্রতিদিন আমরা তার নতুন নতুন আচরণ প্রত্যক্ষ করি

নিদ্রা থেকে আমার চোখের পাতার দূরত্বের চেয়েও তার পলায়ন তীব্রতর … আর ধৈর্য ধরার সংকল্পের চেয়েও সে অধিক শিথিল

তার ছলনা যেমন অধিক, তার করুণা তেমনি অল্প … আল্লাহ তার প্রেমিকদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করে দিন

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-ইবার ফি খাবারি মান গাবার ৪/২৫৩; ওয়াফায়াতুল আ’য়ান ৪/৯০; আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ৪/১১; এবং মু’জামুল উদাবা ১৮/২৩৫-২৪৯।

(২) মূল পাঠে: "আস-সাঈলি"।

(৩) মূল পাঠে: "ওয়াল বাইনু ফি আহাদ"।

(৪) মূল পাঠে: "মিন কাইল"।

(৫) মূল পাঠে এভাবেই আছে।

(৬) মূল পাঠে: "আইজি আলা আস-সাব"।
(খণ্ড: ٢١) আল-মুস্তাফাদু মিন যাইলি তারিখি বাগদাদ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
يجول(1) على متنيه سود غدائر … كما نفض الغصن المرنح أوراقا

وقالوا نجا من عقرب الصدغ خده … فقلت اعترفتم أن [في](2) فيه درياقا

شكوت إليه ما أجن فقال لي … هل الوجد إلا أن تجن وتشتاقا

إذا ما تعشقت الحسان ولم تكن … صبورا على البلوى فلا تك عشاقا

مولده في يوم الجمعة عاشر رجب سنة تسع عشرة وخمسمائة، وتوفي يوم السبت ثامن عشر شوال سنة أربع وثمانين وخمسمائة، وكان قد أضر في آخر عمره.

 

‌‌18 - محمد بن علي بن الحسن المؤذّن، أبو عبد الله الترمذي المعروف بالحكيم (3):

كان إماما من أئمة المسلمين، له المصنفات الكبار في أصول الدين ومعاني الأحاديث، وله كتاب «نوادر الأصول». حدث عن والده وعن قتيبة بنسعيد وإبراهيم بن يوسف الحضرمي وعلي بن حجر وقبيصة بن عقبة السوائي وصالح بن محمد ومحمد بن علي الشقيقي ومحمد بن مؤيد الواسطي وعمر بن أبي عمر العبدي ومحمد بن موسى الحرشي ومحمد بن بشار وسفيان بن وكيع.

 

‌‌19 - محمد بن علي بن الحسن بن صدقة الحراني البزّاز، أبو عبد الله التاجر، يعرف بابن الوحشي:

من أهل حران؛ سمع بنيسابور صحيح مسلم وغيره من أبي عبد الله الفراوي، وعاد إلى الشام، واستوطن بدمشق، وبنا بها مدرسة لأصحاب أحمد بن حنبل.

مولده سنة سبع وثمانين وأربعمائة، وتوفي ليلة الثلاثاء سادس عشر ربيع الآخر سنة أربع وثمانين وخمسمائة.

 

‌‌20 - محمد بن علي بن عبيد الله بن أحمد بن صالح بن سليمان بن ودعان، أبو نصر (4):

من أهل الموصل؛ وكان يتولى القضاء بها. قدم بغداد مرارا. قال السلفي: ليس بثقة.

--------------------------------------------

(1) في الأصل: «يجيل».

(2) ما بين المعقوفتين زيادة من الديوان.

(3) انظر: «طبقات الشافعية» للسبكي 2/ 20. والأعلام للزركلي 7/ 156.

(4) انظر: لسان الميزان 5/ 305. واللبان 3/ 264. والأعلام 6/ 277.
তার কাঁধের ওপর(১) কালো অলকগুচ্ছ দুলছে … যেন কোনো কম্পমান শাখা থেকে পত্ররাজি ঝরছে।

তারা বলল, তার গণ্ডদেশ অলক-কুন্তলের দংশন থেকে রক্ষা পেয়েছে … আমি বললাম, তোমরা তো স্বীকার করলে যে তার মুখে [মধ্যে](২) প্রতিষেধক রয়েছে।

আমি তার কাছে আমার মনের গোপন কষ্টের অভিযোগ করলাম, সে বলল … প্রেম তো পাগল হওয়া এবং ব্যাকুল হওয়া ছাড়া আর কিছু নয়?

যদি তুমি সুন্দরীদের প্রেমে মগ্ন হও আর সেই বিপদে … ধৈর্যশীল না হতে পারো, তবে প্রেমিক হয়ো না।

তিনি ৫১৯ হিজরি সালের ১০ই রজব শুক্রবার জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫৮৪ হিজরি সালের ১৮ই শাওয়াল শনিবার মৃত্যুবরণ করেন। জীবনের শেষভাগে তিনি দৃষ্টিহীন হয়ে পড়েছিলেন।

 

‌‌১৮ - মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-হাসান আল-মুয়াযযিন, আবু আব্দুল্লাহ আত-তিরমিযী, যিনি আল-হাকিম নামে পরিচিত (৩):

তিনি মুসলিম উম্মাহর ইমামদের মধ্যে একজন ছিলেন। উসুলুদ দ্বীন এবং হাদীসের অর্থের বিষয়ে তার বড় বড় রচনা রয়েছে। ‘নাওয়াদিরুল উসুল’ তার একটি কিতাব। তিনি তার পিতা, কুতাইবা বিন সাঈদ, ইবরাহীম বিন ইউসুফ আল-হাদরামী, আলী বিন হাজার, ক্বাবীসাহ বিন উকবাহ আস-সুওয়ায়ী, সালিহ বিন মুহাম্মদ, মুহাম্মদ বিন আলী আশ-শাক্বীক্বী, মুহাম্মদ বিন মুয়াইয়িদ আল-ওয়াসিতী, উমর বিন আবু উমর আল-আবদী, মুহাম্মদ বিন মুসা আল-হারাশি, মুহাম্মদ বিন বাশশার এবং সুফিয়ান বিন ওয়াক্বী থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌১৯ - মুহাম্মদ বিন আলী বিন আল-হাসান বিন সাদাক্বাহ আল-হাররানী আল-বাযযায, আবু আব্দুল্লাহ আত-তাজির, ইবনুল ওয়াহশী নামে পরিচিত:

তিনি হাররানের অধিবাসী ছিলেন। তিনি নিশাপুরে আবু আব্দুল্লাহ আল-ফাররাভীর নিকট সহীহ মুসলিম ও অন্যান্য কিতাব শ্রবণ করেছেন। এরপর তিনি সিরিয়ায় ফিরে আসেন এবং দামেস্কে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তিনি আহমাদ বিন হাম্বলের অনুসারীদের জন্য একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করেন।

তিনি ৪৮৭ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫৮৪ হিজরি সালের ১৬ই রবিউল আখের মঙ্গলবার রাতে মৃত্যুবরণ করেন।

 

‌‌২০ - মুহাম্মদ বিন আলী বিন উবাইদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন সালিহ বিন সুলাইমান বিন ওয়াদআন, আবু নাসর (৪):

তিনি মওসেলের অধিবাসী ছিলেন এবং সেখানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি কয়েকবার বাগদাদে এসেছিলেন। আস-সিলাফী বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য নন।

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ‘ইউজীলু’।

(২) বন্ধনীযুক্ত অংশটি দীওয়ান থেকে নেওয়া হয়েছে।

(৩) দেখুন: সুবকীর ‘ত্বাবাক্বাতুশ শাফিইয়্যাহ’ ২/২০ এবং যারকালীর ‘আল-আলাম’ ৭/১৫৬।

(৪) দেখুন: লিসানুল মীযান ৫/৩০৫, আল-লাব্বান ৩/২৬৪ এবং আল-আলাম ৬/২৭৭।
(খণ্ড: ٢١) আল-মুস্তাফাদু মিন যাইলি তারিখি বাগদাদ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
قرأت بخط أبي الفضل محمد بن ناصر قال: رأيت القاضي بن ودعان(1) لما دخل بغداد وحدث بها ولم أسمع منه شيئا لأنه كان متهما بالكذب. وكتابه في الأربعين سرقه من زيد بن رفاعة، وحذف منه الخطبة، وركب على كل حديث منه رجلا أو رجلين إلى شيخ زيد بن رفاعة؛ وزيد بن رفاعة وضعه أيضا وكان كذّابا، وألّف بين كلمات قد قالها النبي صلى الله عليه وسلم وبين كلمات من كلام لقمان والحكماء وغيرهم، وطول الأحاديث.

مولده سنة اثنتين وأربعمائة في شعبان بالموصل، وتوفي في محرم سنة أربع وتسعين وأربعمائة.

 

‌‌21 - محمد بن علي بن محمد بن العربي، أبو عبد الله الطائي (2):

من أهل الأندلس؛ ولد بمرسية ونشأ بها ودخل بلاد الشرق وبلاد الشام ودخل بلاد الروم، وصنف كتبا في علم التصوف(3) وفي أخبار المشايخ، وكان ورعا زاهدا.

أنشدني أبو عبد الله محمد بن العربي لنفسه بدمشق:

أيا حائرا ما بين علم وشهوة … ليتصلا ما بين ضدين من وصل

ومن لم يكن يستنشق الريح لم يكن … يرى الفضل للمسك الفتيق على الزبل

مولده في الاثنين سابع عشر رمضان سنة ستين وخمسمائة بمرسية، وتوفي ليلة الجمعة الثاني والعشرين من شهر ربيع الآخر سنة ثمان وثلاثين وستمائة بدمشق، ودفن بقاسيون.

 

‌‌22 - محمد بن علي بن ميمون بن محمد، أبو الغنائم النّرسيّ، المعروف بأبي (4):

من أهل الكوفة. كان من حفاظ الحديث، سمع بالكوفة أبا عبد الله محمد بن علي ابن الحسن العلوي وأبا الحسن محمد بن إسحاق بن فلويه وأبا المثنّى دارم، ثم قدم بغداد وسمع بها أبا الحسن أحمد بن محمد بن كامل وأبا نصر أحمد بن عبد الله الثابتي

--------------------------------------------

(1) في الأصل: «بن ردعان».

(2) انظر: فوات الوفيات 2/ 300. والوافي بالوفيات 4/ 73 - 178. ونفح الطيب 1/ 567.

(3) في الأصل: «علم القوم».

(4) انظر: النجوم الزاهرة 5/ 212. والعبر في خبر من غبر 3/ 22. وتذكرة الحفاظ 4/ 1260.

والوافي بالوفيات 4/ 143، 144.
আমি আবু আল-ফজল মুহাম্মদ বিন নাসিরের হস্তাক্ষরে পড়েছি, তিনি বলেছেন: আমি যখন কাজি বিন ওয়াদ'আনকে(১) বাগদাদে প্রবেশ করতে দেখলাম, তিনি সেখানে হাদিস বর্ণনা করেছিলেন, কিন্তু আমি তার থেকে কিছুই শুনিনি কারণ তিনি মিথ্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন। তার 'চল্লিশ হাদিস' (আল-আরবাঈন) বিষয়ক গ্রন্থটি তিনি জায়েদ বিন রিফা'আ থেকে চুরি করেছিলেন এবং সেখান থেকে খুতবাটি বাদ দিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি সেই গ্রন্থের প্রতিটি হাদিসের বর্ণনাকারী হিসেবে জায়েদ বিন রিফা'আর শাইখ পর্যন্ত একজন বা দুইজন ব্যক্তিকে জুড়ে দিয়েছিলেন; মূলত জায়েদ বিন রিফা'আও এটি জাল করেছিলেন এবং তিনি একজন মিথ্যাবাদী ছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণীর সাথে লুকমান হেকিম এবং অন্যান্য প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিদের কথা মিলিয়ে দিয়েছিলেন এবং হাদিসগুলোকে দীর্ঘ করেছিলেন।

তার জন্ম চারশ দুই হিজরি সনের শাবান মাসে মোসেলে এবং মৃত্যু চারশ চুরানব্বই হিজরি সনের মহররম মাসে।

 

‌‌২১ - মুহাম্মদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন আল-আরাবী, আবু আবদুল্লাহ আল-তাঈ (২):

তিনি আন্দালুসিয়ার অধিবাসী ছিলেন; মুরসিয়াতে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। তিনি প্রাচ্যের দেশসমূহ, শাম (সিরিয়া) এবং রোম (বাইজেন্টাইন) সফর করেন। তিনি তাসাউউফ শাস্ত্র(৩) এবং মাশায়েখদের জীবনী নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি পরহেজগার ও দুনিয়াবিমুখ (যাহিদ) ছিলেন।

আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-আরাবী দামেস্কে আমাকে তার নিজের রচিত কবিতা আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন:

হে ইলম ও লালসার মাঝে কিংকর্তব্যবিমূঢ় ব্যক্তি ... যেন দুটি বিপরীত বিষয়ের মাঝে কোনো সংযোগ স্থাপিত হয়।

আর যে ব্যক্তি সুগন্ধ অনুভব করতে পারে না, সে ... গোবরের বিপরীতে সুগন্ধি মিশকের শ্রেষ্ঠত্ব অনুধাবন করতে পারে না।

তার জন্ম পাঁচশ ষাট হিজরি সনের সতেরই রমজান সোমবার মুরসিয়াতে এবং তিনি ছয়শ আটত্রিশ হিজরি সনের রবিউস সানি মাসের বাইশ তারিখ শুক্রবার রাতে দামেস্কে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাকে কাসিউনে দাফন করা হয়।

 

‌‌২২ - মুহাম্মদ বিন আলী বিন মাইমুন বিন মুহাম্মদ, আবু আল-গানায়েম আল-নারসি, যিনি পরিচিত আবু [নাম অসম্পূর্ণ] (৪) হিসেবে:

কুফার অধিবাসী। তিনি হাদিস বিশারদদের (হাফিজ) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি কুফাতে আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলী ইবনুল হাসান আল-আলাওয়ী, আবু আল-হাসান মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন ফালুয়াহ এবং আবু আল-মুসান্না দারিম-এর নিকট হাদিস শ্রবণ করেন। অতঃপর বাগদাদে আগমন করেন এবং সেখানে আবু আল-হাসান আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন কামিল ও আবু নাসর আহমদ বিন আবদুল্লাহ আল-সাবিতির নিকট হাদিস শ্রবণ করেন।

--------------------------------------------

(১) মূলে রয়েছে: «বিন রাদ'আন»।

(২) দেখুন: ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত ২/ ৩০০। এবং আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ৪/ ৭৩ - ১৭৮। এবং নাফহুত তীব ১/ ৫৬৭।

(৩) মূলে রয়েছে: «কাওম-এর ইলম (সূফিবাদ)»।

(৪) দেখুন: আন-নুজুমুজ জাহিরা ৫/ ২১২। এবং আল-ইবার ফী খবর মান গাবার ৩/ ২২। এবং তাযকিরাতুল হুফফাজ ৪/ ১২৬০।

এবং আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ৪/ ১৪৩, ১৪৪।
(খণ্ড: ٢١) আল-মুস্তাফাদু মিন যাইলি তারিখি বাগদাদ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
وأبا الفتح أحمد بن علي بن محمد الأيادي وأبا الحسين أحمد بن محمد بن قفرجل وأبا محمد الحسن بن عبد الواحد بن سهل الدياج وأبا عبد الله الحسين بن محمد بن طاهر وأبا إسحاق إبراهيم بن عمر بن أحمد البرمكي وأبا محمد الجوهري والقاضي أبا الطيب طاهر الطبري وآخرين، وكتب بخطه كثيرا لنفسه وتوريقا للناس، وجمع مجموعات حسان في فنون ورواها.

قرأت بخط أبي الفضل محمد بن ناصر الحافظ السلامي وأنبأنيه عنه أبو محمد بن الأخضر قال: وفي هذا الشهر يعني شعبان من سنة عشر وخمسمائة مات الشيخ العدل أبو الغنائم محمد بن علي بن النّرسيّ الكوفي المقرئ المحدّث بحلة بني مزيد، وكان قد خرج من بغداد مريضا ليذهب إلى الكوفة، فمات يوم السبت السادس عشر من شعبان، وحمل إلى الكوفة ودفن هناك، وكان شيخا ثقة مأمونا فهما للحديث، عارفا بالحديث كثير تلاوة القرآن بالليل، وكان مولده على ما أخبرنا بذلك في شوال سنة أربع وعشرين وأربعمائة، فرحمه [الله] فما رأينا مثله في وقته.

 

‌‌23 - محمد بن عمر بن أحمد بن عمر بن محمد بن أبي عيسى المديني، أبو موسى بن أبي بكر الحافظ (1):

من مدينة أصبهان، أحد الأئمة الحفاظ المشهورين، انتشر علمه في الآفاق. سمع منه أقرانه، وكثر عنه الحفاظ، واجتمع له ما لم يجتمع لغيره. قرأ القرآن في صباه بالروايات؛ وتفقه على مذهب الشافعي على أبي عبد الله الحسن بن العباس الرستمي، وقرأ النحو واللغة حتى مهر فيهما. وأسمعه والده في صباه من أبي سعد محمد بن علي ابن محمد الكاتب وأبي علي بن أحمد الحداد وأبي القاسم غانم بن محمد البرجي وأبي منصور محمد بن عبد الله بن مندويه(2).

وطلب هو بنفسه وقرأ على المشايخ، وكتب الكثير، ورحل إلى بغداد ودخلها في شوال سنة أربع وعشرين وخمسمائة، وحج وعاد، فأقام بها. فسمع من أبي القاسم ابن الحصين وأبي بكر محمد بن عبد الباقي الأنصاري وأبي العز بن كادش، ومن جملة مصنفاته كتاب «تتمة معرفة الصحابة» وكتاب «تتمة الغريبين» وكتاب «الأخبار

--------------------------------------------

(1) انظر: تذكرة الحفاظ 4/ 1334. والوافي بالوفيات 4/ 241 - 247. ووفيات الأعيان 2/ 414.

(2) في الأصل: «بن منلو».
এবং আবুল ফাতহ আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ আল-আইয়াদি, আবুল হুসাইন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন কাফরাজাল, আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন সাহল আদ-দিয়াজ, আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন তাহির, আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন উমর বিন আহমদ আল-বারমাকি, আবু মুহাম্মদ আল-জাওহারি, কাজী আবু তাইয়িব তাহির আত-তাবারী এবং আরও অনেকের নিকট (শুনেছেন)। তিনি নিজের জন্য এবং মানুষের জন্য পাণ্ডুলিপি হিসেবে স্বহস্তে প্রচুর লিখেছেন। তিনি বিভিন্ন বিদ্যায় চমৎকার সংকলন তৈরি করেছেন এবং তা বর্ণনা করেছেন।

আমি হাফেজ আবু ফজল মুহাম্মদ বিন নাসির আস-সালামির হস্তলিপিতে পড়েছি এবং আবু মুহাম্মদ বিন আল-আখদার তার সূত্রে আমাকে জানিয়েছেন, তিনি বলেছেন: এই মাসে, অর্থাৎ পাঁচশত দশ হিজরীর শাবান মাসে, হিল্লাহ বানি মাজিদ-এ ন্যায়নিষ্ঠ শাইখ, ক্বারী ও মুহাদ্দিস আবু আল-গানায়িম মুহাম্মদ বিন আলী বিন আন-নারসি আল-কুফি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি অসুস্থ অবস্থায় বাগদাদ থেকে কুফার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। তিনি ১৬ই শাবান শনিবার মৃত্যুবরণ করেন। তাকে কুফায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে দাফন করা হয়। তিনি ছিলেন নির্ভরযোগ্য শাইখ, বিশ্বস্ত, হাদিসের বোধসম্পন্ন ও হাদিস বিশারদ। তিনি রাতে প্রচুর কুরআন তিলাওয়াত করতেন। আমাদের জানানো তথ্য অনুযায়ী তার জন্ম হয়েছিল চারশত চব্বিশ হিজরীর শাওয়াল মাসে। আল্লাহ তার ওপর রহম করুন, আমরা তার সময়ে তার মতো আর কাউকে দেখিনি।

 

‌‌২৩ - মুহাম্মদ বিন উমর বিন আহমদ বিন উমর বিন মুহাম্মদ বিন আবু ঈসা আল-মাদিনি, হাফেজ আবু মুসা বিন আবু বকর (১):

ইসফাহান শহরের অধিবাসী, অন্যতম প্রসিদ্ধ ইমাম ও হাফেজ, যার ইলম দিগন্তময় ছড়িয়ে পড়েছিল। তার সমসাময়িকরা তার থেকে হাদিস শুনেছেন, এবং তার থেকে বর্ণনাকারী হাফেজদের সংখ্যা অনেক। তার মধ্যে এমন গুণাবলি একত্রিত হয়েছিল যা অন্যদের মধ্যে দেখা যায়নি। তিনি শৈশবে বিভিন্ন কিরাতে কুরআন পাঠ করেছেন; আবু আব্দুল্লাহ আল-হাসান বিন আল-আব্বাস আর-রুস্তমির নিকট শাফেয়ি মাজহাব অনুযায়ী ফিকহ শিক্ষা করেছেন এবং নাহু ও ভাষা বিজ্ঞানে পারদর্শিতা অর্জন করেছেন। তার পিতা তাকে শৈশবে আবু সা'দ মুহাম্মদ বিন আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-কাতিব, আবু আলী বিন আহমদ আল-হাদ্দাদ, আবুল কাসিম গানিম বিন মুহাম্মদ আল-বুরজি এবং আবু মনসুর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মানদুওয়াহ-এর নিকট হাদিস শুনিয়েছেন।(২).

তিনি নিজেও ইলম অন্বেষণ করেছেন এবং শাইখদের নিকট পড়েছেন, প্রচুর লিখেছেন এবং পাঁচশত চব্বিশ হিজরীর শাওয়াল মাসে বাগদাদে সফর করেন। তিনি হজ সম্পাদন করে পুনরায় বাগদাদে ফিরে সেখানে অবস্থান করেন। তিনি আবুল কাসিম ইবনুল হুসাইন, আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল বাকী আল-আনসারী এবং আবু আল-ইজ বিন কাদিশের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। তার রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে ‘তাতিম্মাতু মা’রিফাতিস সাহাবা’ গ্রন্থ, ‘তাতিম্মাতুল গারিবাইন’ গ্রন্থ এবং ‘আল-আখবার’ গ্রন্থ...

--------------------------------------------

(১) দ্রষ্টব্য: তাযকিরাতুল হুফফাজ ৪/১৩৩৪; আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ৪/২৪১-২৪৭; ওফায়াতুল আ’য়ান ২/৪১৪।

(২) মূলে রয়েছে: ‘বিন মানলু’।
(খণ্ড: ٢١) আল-মুস্তাফাদু মিন যাইলি তারিখি বাগদাদ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
الطوالات» وكتاب «اللطائف في المعارف» وغير ذلك.

سمعت أبا عبيد الله محمد بن محمد بن غانم الحافظ بأصبهان يقول: سمعت محمد ابن الحسين بن علي يقول: مر الشيخ أحمد الخواص على باب الشيخ أبي بكر بن أبي موسى يوم ولد أبو موسى فقيل له: «ولد اليوم للشيخ أبي بكر ابن، فقال: هذا المولود يكون ركنا من أركان الدين».

مولده تاسع عشر ذي القعدة سنة إحدى وخمسمائة، وتوفي يوم الأربعاء منتصف النهار التاسع من جمادى الأولى سنة إحدى وثمانين وخمسمائة. ودفن بالمصلى خلف المحراب؛ وصنف الأئمة في مناقبه.

 

‌‌24 - محمد بن طاهر بن أحمد بن علي الشيباني، أبو الفضل بن أبي بكر (1):

من أهل بيت المقدس، يعرف بابن القيسراني، رحل في طلب الحديث إلى الأقطار، وصنف كثيرا، وكان حافظا متقنا متفننا حسن التصنيف. سمع ببيت المقدس أبا الفتح نصر [بن] إبراهيم النابلسي، وبمصر أبا إسحاق إبراهيم بن سعيد الحبال(2)، وبدمشق أبا القاسم علي بن محمد المصيصي، وبمكة أبا القاسم سعيد بن علي الزنجاني. ودخل بغداد، وسمع بها أبا الحسين أحمد [بن](3) النقور وأبا محمد عبد الله الصريفيني، وسمع بأصبهان أبا عمرو عبد الوهاب بن مندة وأبا مسعود سليمان الحافظ، وبجرجان أبا القاسم إسماعيل بن مسعدة، وبهراة أبا إسماعيل عبد الله الأنصاري وخلقا كثيرا، وحدث باليسير لأنه لم يعمر؛ وروى عنه الحفاظ.

قرأت على أبي طالب بن أبي الفرج التاجر عن أبي زرعة طاهر بن حمد المقدسي قال: أنشدني والدي محمد بن طاهر لنفسه:

أضحى العذول يلومني في حبهم … فأجبته والنار حشو فؤادي

يا عاذلي لو بت محترق الحشا … لعرفت كيف تفتت الأكباد

صد الحبيب وغاب عن عيني الكرى … وكأنما كانا على ميعاد

أخبرني لامع بن أحمد في كتابه أن يحيى بن عبد الوهاب بن مندة أخبره قال: محمد

--------------------------------------------

(1) انظر: وفيات الأعيان 1/ 486. والجمع 629. وميزان الاعتدال 3/ 75. ولسان الميزان 5/ 207. وآداب اللغة 3/ 67. والوافي بالوفيات 3/ 166. والأعلام 6/ 171، 172.

(2) في الأصل: «الجمال».

(3) ما بين المعقوفتين ساقطة من الأصل.
«আত-তুওয়ালাত» এবং «আল-লাতাইফ ফিল মাআরিফ» গ্রন্থসমূহ এবং এর বাইরেও আরও অনেক।

আমি ইসফাহানে আবু উবাইদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন গানিম আল-হাফিযকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন বিন আলীকে বলতে শুনেছি: শেখ আহমাদ আল-খাওয়াস শেখ আবু বকর বিন আবি মুসার দরজার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যেদিন আবু মুসা জন্মগ্রহণ করেন। তখন তাকে বলা হলো: «আজ শেখ আবু বকরের একটি পুত্র সন্তান হয়েছে», তখন তিনি বললেন: «এই নবজাতক দ্বীনের স্তম্ভসমূহের মধ্যে অন্যতম একটি স্তম্ভ হবে।»

তার জন্ম পাঁচশ এক হিজরী সনের উনিশে জিলকদ, এবং তিনি পাঁচশ একাশি হিজরী সনের নয়ই জুমাদাল উলা বুধবার দ্বিপ্রহরে মৃত্যুবরণ করেন। তাকে মুসাল্লায় মেহরাবের পেছনে দাফন করা হয়; এবং ইমামগণ তার গুণাবলী নিয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন।

 

‌‌২৪ - মুহাম্মদ বিন তাহির বিন আহমাদ বিন আলী আশ-শাইবানী, আবুল ফজল বিন আবি বকর (১):

তিনি বাইতুল মাকদিসের অধিবাসী, ইবনুল কাইসারানী নামে পরিচিত। তিনি হাদিস অন্বেষণে বিভিন্ন জনপদে সফর করেছেন এবং প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি একজন হাফিয, প্রখর স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন, বহুমুখী প্রতিভাধর এবং চমৎকার লেখক ছিলেন। তিনি বাইতুল মাকদিসে আবুল ফাতহ নাসর [বিন] ইবরাহিম আন-নাবলুসী থেকে, মিশরে আবু ইসহাক ইবরাহিম বিন সাঈদ আল-হাব্বাল(২) থেকে, দামেস্কে আবুল কাসিম আলী বিন মুহাম্মদ আল-মাসসীসী থেকে এবং মক্কায় আবুল কাসিম সাঈদ বিন আলী আজ-জানজানী থেকে হাদিস শুনেছেন। তিনি বাগদাদে প্রবেশ করেন এবং সেখানে আবুল হুসাইন আহমাদ [বিন](৩) আন-নাকূর এবং আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আস-সারিফিনী থেকে হাদিস শুনেছেন। ইসফাহানে তিনি আবু আমর আব্দুল ওয়াহহাব বিন মানদাহ এবং আবু মাসউদ সুলাইমান আল-হাফিয থেকে, জুরজানে আবুল কাসিম ইসমাইল বিন মাসআদাহ থেকে এবং হেরাতে আবু ইসমাইল আব্দুল্লাহ আল-আনসারী ও আরও অনেকের নিকট থেকে হাদিস শুনেছেন। তিনি স্বল্প পরিমাণ হাদিস বর্ণনা করেছেন কারণ তিনি দীর্ঘায়ু লাভ করেননি; এবং হাফিযগণ তার থেকে বর্ণনা করেছেন।

আমি আবু তালিব বিন আবিল ফারাজ আত-তাজিরের কাছে আবু জুরআহ তাহির বিন হামাদ আল-মাকদিসির সূত্রে পড়েছি, তিনি বলেন: আমার পিতা মুহাম্মদ বিন তাহির তার নিজের রচিত এই কবিতাটি আমাকে আবৃত্তি করে শুনিয়েছেন:

তিরস্কারকারী তাদের প্রতি আমার ভালোবাসার জন্য আমাকে ভর্ৎসনা করতে লাগল … আর আমি তাকে উত্তর দিলাম এমতাবস্থায় যে আমার অন্তরে আগুন জ্বলছিল।

হে আমার তিরস্কারকারী, যদি তুমি দগ্ধ কলিজা নিয়ে রাত কাটাতে … তবে তুমি জানতে পারতে কীভাবে কলিজা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়।

প্রিয়জন মুখ ফিরিয়ে নিল আর আমার চোখ থেকে ঘুম উধাও হয়ে গেল … যেন তারা উভয়ই কোনো এক পূর্বনির্ধারিত সময়ের অপেক্ষায় ছিল।

লামি' বিন আহমাদ তার কিতাবে আমাকে অবহিত করেছেন যে, ইয়াহইয়া বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন মানদাহ তাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ওয়াফিয়াতুল আ’য়ান ১/৪৮৬; আল-জাম’ ৬২৯; মিজানুল ইতিদাল ৩/৭৫; লিসানুল মিজান ৫/২০৭; আদাবুল লুগাহ ৩/৬৭; আল-ওয়াফি বিল ওয়াফিয়াত ৩/১৬৬; আল-আলাম ৬/১৭১, ১৭২।

(২) মূলে রয়েছে: «আল-জাম্মাল»।

(৩) বন্ধনীভুক্ত অংশটি মূল পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।
(খণ্ড: ٢١) আল-মুস্তাফাদু মিন যাইলি তারিখি বাগদাদ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
ابن طاهر المقدسي أحد الحفاظ، حسن الاعتقاد، وجميل الطريقة، كان صدوقا، عالما بالصحيح والسقيم، كثير التصانيف، لازما للأثر.

قرأت على المرتضى بن حاتم بمصر عن أبي طاهر السلفي قال: سمعت الحافظ أبا الفضل محمد بن طاهر المقدسي يقول: كتبت صحيح البخاري ومسلم وأبي داود سبع مرات بالوراقة، وكتبت سنن ابن ماجة عشر مرات بالوراقة سوى التفاريق بالري.

قال الحافظ أبو الفضل بن ناصر: محمد بن طاهر ممن لا يحتج به، صنف كتابا في «جواز النظر إلى المرد» وأورد فيه حكاية عن ابن معين: رأيت جارية مليحة، صلى الله عليها، فقيل له: تصلي عليها؟ فقال: صلى الله عليها وعلى كل مليح؛ ثم قال: كان يذهب مذهب الإباحة.

مولده في شوال من سنة ثمان وأربعين وأربعمائة ببيت المقدس. قرأت في كتاب أبي الفضائل عبد الله بن أبي بكر بن الخاضبة بخطه: توفي الحافظ محمد بن طاهر المقدسي ببغداد في الجانب الغربي برباط البسطامي ضحى يوم الخميس عشرين [من](1) شهر ربيع الأول سنة سبع وخمسمائة، ودفن في المقبرة وراء الرباط؛ وله حجات كثيرة على قدمه ذاهبا وجائيا، وراحلا وقافلا. وكان له معرفة بعلم التصوف وأنواعه متفننا فيه، ظريفا مطبوعا، وله تصانيف حسنة مفيدة في علم الحديث.

 

‌‌25 - محمد بن عمر بن يوسف بن محمد الأرموي، أبو الفضل الفقيه الشافعي (2):

بكر بن أبوه وأسمعه من القاضي أبي الخير محمد بن علي بن المهتدي بالله وأبي الغنائم عبد الصمد بن علي بن المأمون وأبي جعفر محمد بن المسلمة وأبي بكر أحمد ابن علي بن ثابت.

أخبرنا شهاب الحاتمي بهراة قال: أخبرنا أبو سعيد بن السمعاني قال: محمد بن عمر ابن يوسف الأرموي أبو الفضل من أهل أرمية كان قاضي دير العاقول، وهو إمام متدين ثقة صدوق صالح، حسن الكلام في المسائل، كثير التلاوة للقرآن، سألته عن مولده، فقال: في سنة تسع وخمسين وأربعمائة.

--------------------------------------------

(1) ما بين المعقوفتين زيادة من وفيات الأعيان.

(2) انظر: الوافي بالوفيات 4/ 345. وطبقات الشافعية للسبكي 4/ 92.
ইবনে তাহের আল-মাকদিসি ছিলেন অন্যতম হাফেজ, বিশুদ্ধ আকিদাবিশিষ্ট এবং সুন্দর রীতির অধিকারী। তিনি ছিলেন সত্যবাদী, সহিহ ও দুর্বল হাদিস সম্পর্কে বিজ্ঞ, বহু কিতাবের রচয়িতা এবং আসারের (পূর্বসূরিদের বর্ণনা) একনিষ্ঠ অনুসারী।

আমি মিশরে মুরতাদা ইবনে হাতিমের নিকট আবু তাহের আস-সালাফি সূত্রে পাঠ করেছি, তিনি বলেন: আমি হাফেজ আবুল ফজল মুহাম্মদ ইবনে তাহের আল-মাকদিসিকে বলতে শুনেছি: আমি পাণ্ডুলিপি নকলের মাধ্যমে সহিহ বুখারি, মুসলিম এবং আবু দাউদ সাতবার লিখেছি; আর রাই শহরে সংগৃহীত বিচ্ছিন্ন অংশগুলো ছাড়াও ইবনে মাজার সুনান দশবার লিখেছি।

হাফেজ আবুল ফজল বিন নাসের বলেন: মুহাম্মদ ইবনে তাহের এমন এক ব্যক্তি যার বর্ণনা দলিল হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। তিনি ‘তরুণদের প্রতি দৃষ্টিপাতের বৈধতা’ বিষয়ে একটি কিতাব রচনা করেছেন এবং সেখানে ইবনে মুঈন থেকে একটি বর্ণনা উদ্ধৃত করেছেন যে: ‘আমি এক সুন্দরী কিশোরী দেখেছি, তার ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।’ তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: ‘আপনি কি তার জন্য দোয়া করছেন?’ তিনি বললেন: ‘তার ওপর এবং সকল সুন্দরীদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।’ এরপর তিনি (ইবনে নাসের) বলেন: সে ইবাহিয়্যা (সবকিছু বৈধ মনে করা) মতবাদের অনুসারী ছিল।

তার জন্ম ৪৪৮ হিজরি সনের শাওয়াল মাসে বায়তুল মাকদিসে। আমি আবু আল-ফাদায়েল আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর ইবনুল খাদিবাহর স্বহস্তে লেখা কিতাবে পড়েছি: হাফেজ মুহাম্মদ ইবনে তাহের আল-মাকদিসি ৫০৭ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসের ২০ তারিখ [থেকে](১) বৃহস্পতিবার সকালে বাগদাদের পশ্চিম পার্শ্বের রিবাতুল বাস্তামিতে ইন্তেকাল করেন এবং রিবাতের পেছনের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। তিনি পায়ে হেঁটে যাতায়াত করে বহুবার হজ করেছেন এবং কাফেলা ও বাহনের মাধ্যমেও সফর করেছেন। তাসাউফ বিদ্যা ও এর বিভিন্ন প্রকারভেদে তার গভীর পাণ্ডিত্য ছিল, তিনি ছিলেন অত্যন্ত সুরুচিসম্পন্ন ও মার্জিত। ইলমে হাদিসে তার চমৎকার ও ফলপ্রসূ বহু রচনা রয়েছে।

 

‌‌২৫ - মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে ইউসুফ ইবনে মুহাম্মদ আল-আরমাউয়ি, আবুল ফজল আল-ফকিহ আল-শাফিঈ (২):

তার পিতা তাকে নিয়ে ভোরে বের হতেন এবং তাকে কাজি আবুল খায়ের মুহাম্মদ ইবনে আলী ইবনুল মুহতাদি বিল্লাহ, আবু আল-গানায়েম আবদুস সামাদ ইবনে আলী ইবনুল মামুন, আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনুল মুসলিমাহ এবং আবু বকর আহমদ ইবনে আলী ইবনে সাবিত থেকে হাদিস শ্রবণ করাতেন।

হেরাতে শিহাব আল-হাতিমি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু সাঈদ ইবনুস সামআনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে উমর ইবনে ইউসুফ আল-আরমাউয়ি আবুল ফজল আরমিয়াহর অধিবাসী এবং দাইরুল আকুলের কাজি ছিলেন। তিনি একজন ধর্মপ্রাণ ইমাম, নির্ভরযোগ্য, সত্যবাদী ও নেককার ব্যক্তি ছিলেন। মাসআলা বর্ণনায় তার বাচনভঙ্গি ছিল চমৎকার, তিনি প্রচুর কুরআন তিলাওয়াত করতেন। আমি তাকে তার জন্ম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: ৪৫৯ হিজরি সনে।

--------------------------------------------

(১) থার্ড ব্র্যাকেটের ভেতরের অংশটুকু ওফায়াতুল আইয়্যান থেকে সংযোজিত।

(২) দেখুন: আল-ওয়াফি বিল ওফায়াত ৪/৩৪৫ এবং আস-সুবকির তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ ৪/৯২।
(খণ্ড: ٢١) আল-মুস্তাফাদু মিন যাইলি তারিখি বাগদাদ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
وذكر عن ابن السمعاني أن مولد الأرموي في صفر سنة تسع وخمسين، وتوفي رابع رجب سنة سبع وأربعين وخمسمائة ودفن بباب أبرز(1) مقابل التاجية.

 

‌‌26 - محمد بن فتوح بن عبد الله بن فتوح بن حميد بن يصل، أبو عبد الله بن أبي نصر الحميدي (2):

سمع بالأندلس أبا القاسم أصبغ بن راشد بن أصبغ اللخمي وأبا محمد عبد الله بن عثمان القرشي وأبا العباس أحمد بن عمر بن أنس العذري وأباعمر يوسف النمري وأبا محمد علي بن حزم الظاهري، ولازمه حتى قرأ عليه مصنفاته وأكثر عنه، وكان على مذهبه، إلا أنه لم يكن يتظاهر بذلك. ثم رحل إلى بلاد الشرق، فسمع بمصر أبا القاسم عبد العزيز بن الحسن الضراب وأبا زكريا عبد الرحيم بن أحمد بن نصر البخاري؛ وبدمياط أبا القاسم عبد البر بن عبد الوهاب بن برد الدمياطي؛ وبدمشق أبا محمد عبد العزيز بن أحمد الكتاني وأبا بكر أحمد بن علي بن ثابت الخطيب، وكتب أكثر مصنفاته عنه؛ وبمكة أبا القاسم سعد بن علي الزنجاني. ودخل بغداد فسمع بها القاضي أبا الحسين محمد بن علي بن المهتدي بالله وأبا جعفر محمد بن أحمد بن المسلمة. وانحدر إلى واسط وأقام بها مدة، وسمع بها من القاضي أبي تمام علي بن محمد بن الحسن. ثم إنه عاد إلى بغداد واستوطنها، وكتب بها الكثير عن أصحاب أبي علي بن شاذان وغيره، وصنف كثيرا في الحديث وغيره. روي عنه أبو بكر الخطيب وابن ماكولا.

ومن مصنفاته «تجريد الصحيحين للبخاري ومسلم والجمع بينهما»، و «تاريخ الأندلس»، وكتاب «تسهيل السبيل إلى علم الترسيل»، ومولده قبل العشرين وأربعمائة.

وتوفي في ليلة الثلاثاء السابع عشر من ذي الحجة سنة ثمان وثمانين وأربعمائة، ودفن من الغد بمقبرة باب أبرز(3) بالقرب من قبر الشيخ أبي إسحاق الشيرازي، وصلى عليه الفقيه أبو بكر الشاشي في جامع القصر، ثم نقل بعد ذلك في صفر سنة إحدى وتسعين وأربعمائة إلى مقبرة باب حرب، ودفن عند قبر بشر الحافي.

--------------------------------------------

(1) في الأصل: «بباب برز».

(2) انظر: الوافي بالوفيات 4/ 317، 318. ومعجم الأدباء 18/ 282 - 286. ووفيات الأعيان 3/ 410.

(3) في الأصل: «باب برز».
ইবনুল সামআনি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আরমাবীর জন্ম ৪৫৯ হিজরীর সফর মাসে এবং তিনি ৫৪৭ হিজরীর ৪ঠা রজব মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁকে তাজীয়াহর বিপরীতে বাব আবরাজে(১) দাফন করা হয়।

 

‌‌২৬ - মুহাম্মাদ বিন ফুতুহ বিন আব্দুল্লাহ বিন ফুতুহ বিন হুমাইদ বিন ইয়াসিল, আবু আব্দুল্লাহ বিন আবি নাসর আল-হুমাইদী (২):

তিনি আন্দালুসে আবু আল-কাসিম আসবাগ বিন রাশিদ বিন আসবাগ আল-লাখমি, আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন উসমান আল-কুরাশি, আবু আল-আব্বাস আহমদ বিন উমর বিন আনাস আল-উযরি, আবু উমর ইউসুফ আল-নামারি এবং আবু মুহাম্মদ আলি বিন হাযম আল-জাহিরির নিকট হাদীস শ্রবণ করেছেন। তিনি ইবনে হাযমের সান্নিধ্যে দীর্ঘকাল অবস্থান করেন, এমনকি তাঁর নিকট তাঁর গ্রন্থসমূহ পাঠ করেন এবং তাঁর থেকে প্রচুর বর্ণনা করেন। তিনি তাঁর মাযহাবের অনুসারী ছিলেন, যদিও তিনি তা প্রকাশ্যে প্রকাশ করতেন না। অতঃপর তিনি প্রাচ্যের দেশসমূহের উদ্দেশ্যে সফর করেন এবং মিশরে আবু আল-কাসিম আব্দুল আজিজ বিন আল-হাসান আদ-দাররাব এবং আবু জাকারিয়া আব্দুর রহিম বিন আহমদ বিন নাসর আল-বুখারির নিকট শ্রবণ করেন; দিময়াতে আবু আল-কাসিম আব্দুল বার বিন আব্দুল ওয়াহাব বিন বারদ আদ-দিময়াতির নিকট; দামেস্কে আবু মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ বিন আহমদ আল-কাত্তানি এবং আবু বকর আহমদ বিন আলি বিন সাবিত আল-খাতিবের নিকট শ্রবণ করেন এবং তাঁর অধিকাংশ গ্রন্থ তাঁর নিকট থেকেই লিপিবদ্ধ করেন; এবং মক্কায় আবু আল-কাসিম সাদ বিন আলি আজ-জানজানির নিকট শ্রবণ করেন। তিনি বাগদাদে প্রবেশ করে সেখানে বিচারক আবু আল-হুসাইন মুহাম্মাদ বিন আলি বিন আল-মুহতাদি বিল্লাহ এবং আবু জাফর মুহাম্মাদ বিন আহমদ বিন আল-মুসলিমা’র নিকট শ্রবণ করেন। এরপর তিনি ওয়াসিত গমন করেন এবং সেখানে কিছুকাল অবস্থান করেন এবং বিচারক আবু তাম্মাম আলি বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হাসানের নিকট শ্রবণ করেন। অতঃপর তিনি পুনরায় বাগদাদে ফিরে আসেন এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনি সেখানে আবু আলি বিন শাযান ও অন্যদের ছাত্রদের নিকট থেকে প্রচুর বর্ণনা লিপিবদ্ধ করেন এবং হাদীস ও অন্যান্য বিষয়ে অনেক গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর থেকে আবু বকর আল-খাতিব এবং ইবনে মাকুলা বর্ণনা করেছেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘তাজরীদুস সহীহাঈন লিল বুখারী ওয়া মুসলিম ওয়াল জামউ বাইনাহুমা’, ‘তারীখুল আন্দালুস’ এবং কিতাব ‘তাসহীলুস সাবীল ইলা ইলমিত তারসীল’। তাঁর জন্ম চারশ বিশ হিজরীর পূর্বে।

তিনি চারশ আটাশি হিজরীর ১৭ই জিলহজ মঙ্গলবার রাতে মৃত্যুবরণ করেন এবং পরের দিন শায়খ আবু ইসহাক আশ-শিরাজীর কবরের কাছে বাব আবরাজ(৩) কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। ফকিহ আবু বকর আশ-শাশী জামেউল কাসরে তাঁর জানাজার সালাত পড়ান। পরবর্তীতে চারশ একানব্বই হিজরীর সফর মাসে তাঁকে বাব হারব কবরস্থানে স্থানান্তর করা হয় এবং বিশর আল-হাফীর কবরের পাশে দাফন করা হয়।

--------------------------------------------

(১) মূল পাঠে রয়েছে: «বাব বারজ»।

(২) দেখুন: আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ৪/৩১৭, ৩১৮। মু'জামুল উদাবা ১৮/২৮২ - ২৮৬। ওয়াফায়াতুল আইয়ান ৩/৪১০।

(৩) মূল পাঠে রয়েছে: «বাব বারজ»।
(খণ্ড: ٢١) আল-মুস্তাফাদু মিন যাইলি তারিখি বাগদাদ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌27 - محمد بن المبارك بن محمد بن عبد الله بن محمد بن الخل، أبو الحسن بن أبي البقاء، الفقيه الشافعي (1):

أحد الأئمة من أصحاب الشافعي درس المذهب والخلاف والأصول على أبي بكر الشاشي، وكان إماما كبيرا في معرفة المذهب، ونقل نصوص الشافعي. وكان من الورع والزهد والتقشف في غاية. وكان يصلي إماما بالإمام المقتفي لأمر الله، وصنف كتاب «التوجيه في شرح التنبيه» في مجلدين. وسمع الحديث من أبي الخطاب نصر بن أحمد بن البطر وأبي عبد الله الحسين بن أحمد بن محمد بن طلحة النعالي وأبي عبد الله الحسين بن علي بن البسري.

مولده يوم الأربعاء عاشر ربيع الآخر سنة خمس وسبعين وأربعمائة.

وتوفي في يوم الأربعاء خامس عشر المحرم سنة اثنتين وخمسين وخمسمائة ودفن بالوردية. وله شعر لا بأس به، رحمه الله تعالى وإيانا.

 

‌‌28 - محمد بن محمد بن عبد الله بن القاسم بن المظفّر بن الشهرزوري، أبو حامد بن أبي الفضل (2):

وقد تقدم ذكر والده، ورد بغداد في صباه؛ كان عالما فاضلا متضلعا من علم الأدب، وله النظم المليح، وكان موصوفا بالبذل والعطاء والجود والسخاء والتواضع.

ومن شعره «في ساق أسود»:

وأسود معسول الشمائل ناعم ال … مفاصل مثل المسك في اللون والبشر

فبات يريني الشمس تطلع من دجى … إذا ضم يحسدها وتغرب في فجر

وله أيضا:

لا تحسبوا أني امتنعت من البكا … عند الوداع تجلدا وتصبرا

لكنني زودت عيني نظرة … والدمع يمنع لحظها أن تنظرا

إن كان ما فاضت فقد ألزمتها … صلة السهاد وسمتها هجر الكرا

مولده في سنة سبع عشرة وخمسمائة، وتوفي بالموصل في ثامن عشر جمادى الأولى سنة ست وثمانين وخمسمائة- رحمه الله تعالى.

--------------------------------------------

(1) انظر: وفيات الأعيان 1/ 467. وطبقات الشافعية 4/ 69. والأعلام 7/ 17.

(2) انظر: شذرات الذهب 4/ 287. والعبر في خبر من غبر 4/ 259. والوافي بالوفيات 1/ 210
২৭ - মুহাম্মদ বিন আল-মুবারক বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আল-খাল্ল, আবু আল-হাসান বিন আবি আল-বাকা, শাফিঈ ফকিহ (১):

তিনি ইমাম শাফিঈর অনুসারী ইমামগণের মধ্যে অন্যতম। তিনি আবু বকর আশ-শাশীর নিকট মাযহাব, খিলাফ (তুলনামূলক ফিকহ) এবং উসুল (মূলনীতি) অধ্যয়ন করেছেন। মাযহাবের জ্ঞান এবং শাফিঈর ভাষ্য বর্ণনায় তিনি ছিলেন একজন প্রথিতযশা ইমাম। তাকওয়া, যুহদ (দুনিয়া-বিমুখতা) এবং কৃচ্ছ্রসাধনায় তিনি ছিলেন অনন্য উচ্চতায়। তিনি খলিফা আল-মুকতাফি লি-আমরিল্লাহর ইমামতি করতেন। তিনি দুই খণ্ডে ‘আত-তাওজিহ ফি শারহিত তানবিহ’ গ্রন্থটি রচনা করেন। তিনি আবু আল-খাত্তাব নাসর বিন আহমাদ বিন আল-বাতির, আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন তালহা আন-নাআলি এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আলী বিন আল-বুসরির নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন।

তাঁর জন্ম ৪৭৫ হিজরির ১০ই রবিউস সানি, বুধবার।

তিনি ৫৫২ হিজরির ১৫ই মহররম বুধবার মৃত্যুবরণ করেন এবং আল-ওয়ারদিয়্যাহতে তাঁকে সমাহিত করা হয়। তাঁর বেশ কিছু সুন্দর কবিতা রয়েছে, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর এবং আমাদের ওপর রহম করুন।

 

‌২৮ - মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-কাসিম বিন আল-মুজাফফর বিন আশ-শাহরাযুরি, আবু হামিদ বিন আবি আল-ফাদল (২):

তাঁর পিতার কথা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। তিনি শৈশবেই বাগদাদে আগমন করেন। তিনি একজন বিজ্ঞ আলেম ও সাহিত্যশাস্ত্রে সুপণ্ডিত ছিলেন এবং তাঁর কাব্যপ্রতিভা ছিল চমৎকার। তিনি দানশীলতা, বদান্যতা, উদারতা এবং বিনয়ের গুনে গুণান্বিত ছিলেন।

তাঁর একটি কবিতা ‘একজন কৃষ্ণাঙ্গ সাকীর’ বর্ণনায়:

মধুর স্বভাবের এক কৃষ্ণাঙ্গ, যার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কোমল ... গায়ের বর্ণ ও ত্বকে যেন কস্তুরীর আভা।

তিনি আমাকে অন্ধকার থেকে সূর্য উদিত হতে দেখাতেন ... যখন আলিঙ্গন করতেন তখন সূর্যও তাকে ঈর্ষা করত এবং উষালগ্নে তা অস্তমিত হতো।

তাঁর আরও কবিতা:

ভেবোনি যে, আমি কান্নার বেগ সংবরণ করেছি ... বিদায়বেলায় কেবল ধৈর্য ও সহনশীলতার কারণে।

বরং আমি আমার আঁখিজোড়াকে একপলক দেখার রসদ জোগাচ্ছিলাম ... অথচ অশ্রু তাকে দেখার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিল।

যদি দুচোখ বেয়ে জল না-ও ঝরে, তবুও আমি তাকে অনিদ্রার সাথে বেঁধে রেখেছি ... আর তাকে ঘুমের সাথে বিচ্ছেদের নির্দেশ দিয়েছি।

তাঁর জন্ম ৫১৭ হিজরিতে এবং ৫৮৬ হিজরির ১৮ই জুমাদাল উলা মোসেলে মৃত্যুবরণ করেন - আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ওয়াফায়াত আল-আয়ান ১/ ৪৬৭; তাবাকাত আশ-শাফিঈয়্যাহ ৪/ ৬৯; আল-আলাম ৭/ ১৭।

(২) দেখুন: শাজারাতুজ জাহাব ৪/ ২৮৭; আল-ইবার ফি খাবারি মান গাবার ৪/ ২৫৯; আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ১/ ২১০।
(খণ্ড: ٢١) আল-মুস্তাফাদু মিন যাইলি তারিখি বাগদাদ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌29 - محمد بن محمد بن محمد الغزالي، أبو حامد بن أبي عبد الله (1):

من أهل طوس، إمام الفقهاء على الإطلاق، ورباني الأمة بالاتفاق، ومجتهد زمانه وعين وقته وأوانه، ومن شاع ذكره في البلاد واشتهر فضله بين العباد؛ قرأ في صباه طرفا من الفقه ببلده على أحمد الرادكاني(2)، ثم سافر إلى جرجان إلى أبي نصر الإسماعيلي، وعلق عنه التعليق، وعاد إلى نيسابور فلازم الإمام أبا المعالي الجويني، وجد واجتهد حتى برع في المذهب والأصول والخلاف والمنطق، وقرأ الحكمة والفلسفة، وفهم كلام أرباب هذا العلم، وتصدى للرد عليهم وإبطال ما ادعوه، وصنف في كل فن من هذه العلوم كتبا أحسن تأليفها وأجاد ترتيبها وترصيفها.

توفي في يوم الاثنين رابع عشر جمادى الآخرة سنة خمس وخمسمائة، وقبره بظاهر الطابران قصبة طوس.

 

‌‌30 - محمد بن ناصر بن محمد بن علي بن عمر، أبو الفضل السلامي (3):

كان والده من أولاد الترك، وقد رأيت بخطه في كتاب أشهد عليه فيه المعدلين محمود بن أبي منصور الناصر استوري(4) - ويعرف بمحمد- بن تكسين- ويعرف بعلي- المضافري التركي الحر، ولم يكتب لهم هذا النسب في سماع قط، توفي والده وهو صغير فكفله جده لأمه أبو حكيم الخبري الفرضي، وأسمعه في صباه شيئا من الحديث يسيرا، وأشغله بحفظ القرآن والتفقه على مذهب الشافعي؛ ثم إنه صحب أبا زكريا التبريزي وقرأ عليه الأدب، وجدّ في طلب الحديث، وصحب أبا منصور بن الجواليقي في قراءة الأدب وسماع الحديث، ثم إنه خالط الحنابلة ومال إليهم، وانتقل(5) عن مذهب الشافعي إلى مذهب ابن حنبل، وكان إماما حافظا صحيح النقل والضبط؛ سمع أبا القاسم علي بن أحمد بن البسري وأبا طاهر محمد بن أبي الصقر الأنباري وأبا عبد الله مالك البانياسي وأبا محمد رزق الله التميمي وأبا الفوارس طراد الزينبي وأبا الخطاب نصر بن البطر وأبا محمد جعفر بن أحمد السراج. وكانت له إجازات قيمة

--------------------------------------------

(1) انظر: وفيات الأعيان 1/ 463. وطبقات الشافعية 4/ 101. وشذرات الذهب 4/ 10. ومفتاح السعادة 2/ 191 - 210. وآداب اللغة 3/ 79. واللباب 2/ 170. والأعلام 7/ 22.

(2) في الأصل: «الداركاني».

(3) انظر: وفيات الأعيان 3/ 420.

(4) هكذا في الأصل.

(5) في الأصل: «فكفلته».
‌‌২৯ - মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-গাজালি, আবু হামিদ বিন আবি আব্দুল্লাহ (১):

তুস নিবাসী, শর্তহীনভাবে ফকিহদের ইমাম, সর্বসম্মতিক্রমে উম্মাহর রব্বানি আলেম, নিজ সময়ের মুজতাহিদ এবং সমকালের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব। যার খ্যাতি সকল জনপদে ছড়িয়ে পড়েছে এবং বান্দাদের মাঝে যার শ্রেষ্ঠত্ব প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। তিনি শৈশবে নিজ শহরে আহমদ আল-রাদকানির (২) নিকট ফিকহের প্রাথমিক পাঠ গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি জুরজানে আবু নাসর আল-ইসমাঈলির নিকট সফর করেন এবং তাঁর নিকট থেকে 'তালিক' (নোট বা ব্যাখ্যা) সংগ্রহ করেন। এরপর তিনি নিশাপুরে ফিরে এসে ইমাম আবুল মাআলি আল-জুওয়াইনির সান্নিধ্যে অবস্থান করেন এবং কঠোর সাধনা ও পরিশ্রম করেন; এমনকি তিনি মাযহাব, উসুল (মূলনীতি), খিলাফ (মতপার্থক্যপূর্ণ বিষয়) ও যুক্তিবিদ্যায় ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন। তিনি হিকমত (প্রজ্ঞা) ও দর্শন পাঠ করেন এবং এই বিদ্যার প্রবক্তাদের বক্তব্য গভীরভাবে অনুধাবন করেন। এরপর তিনি তাঁদের প্রতিবাদ করতে এবং তাঁদের দাবিগুলো বাতিল করতে ব্রতী হন। তিনি এসব বিদ্যার প্রতিটি শাখায় এমন সব কিতাব রচনা করেছেন যার বিন্যাস ও উপস্থাপনা অত্যন্ত চমৎকার ও সুসংবদ্ধ।

তিনি পাঁচশ পাঁচ হিজরির চৌদ্দই জুমাদাল আখিরা সোমবার ইন্তেকাল করেন। তাঁর কবর তুস প্রদেশের তাবারানের বহির্ভাগে অবস্থিত।

 

‌‌৩০ - মুহাম্মদ বিন নাসির বিন মুহাম্মদ বিন আলি বিন উমর, আবু আল-ফজল আল-সালামি (৩):

তাঁর পিতা তুর্কি বংশোদ্ভূত ছিলেন। আমি তাঁর স্বহস্তে লিখিত একটি কিতাব দেখেছি যেখানে মাহমুদ বিন আবি মনসুর আন-নাসির আসতুওয়ারি (৪) —যিনি মুহাম্মদ বিন তুকসিন বিন আলি আল-মুদাফারি আল-তুর্কি আল-হুর নামে পরিচিত— এর উপস্থিতিতে ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিগণ সাক্ষ্য দিয়েছেন। অথচ কস্মিনকালেও শ্রবণের নথিতে (সামা') তাঁদের জন্য এই বংশপরিচয় লেখা হয়নি। তাঁর পিতা যখন মারা যান তিনি তখন শিশু ছিলেন, ফলে তাঁর মাতামহ আবু হাকিম আল-খাবারি আল-ফারজি তাঁর লালন-পালনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি শৈশবে তাঁকে হাদিসের সামান্য অংশ শ্রবণ করান এবং কুরআন হিফজ ও শাফেয়ি মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ চর্চায় নিয়োজিত করেন। অতঃপর তিনি আবু জাকারিয়া আল-তিবরিজির সান্নিধ্য লাভ করেন এবং তাঁর কাছে আদব (সাহিত্য) পাঠ করেন। তিনি হাদিস অন্বেষণে কঠোর পরিশ্রম করেন এবং আবু মনসুর বিন আল-জাওয়ালিকির নিকট আদব পাঠ ও হাদিস শ্রবণ করেন। এরপর তিনি হাম্বলিদের সাথে মেলামেশা শুরু করেন এবং তাঁদের প্রতি ঝুঁকে পড়েন। তিনি শাফেয়ি মাযহাব ত্যাগ করে (৫) ইবনে হাম্বলের মাযহাবে স্থানান্তরিত হন। তিনি একজন হাফেজ ইমাম এবং নির্ভুল বর্ণনাকারী ও অত্যন্ত সূক্ষ্ম ছিলেন। তিনি আবুল কাসেম আলি বিন আহমদ বিন আল-বুসরি, আবু তাহের মুহাম্মদ বিন আবি আল-সকর আল-আনবারি, আবু আব্দুল্লাহ মালিক আল-বানিয়াসি, আবু মুহাম্মদ রিজকুল্লাহ আল-তামিমি, আবু আল-ফাওয়ারিস তরাদ আল-জাইনাবি, আবু আল-খাত্তাব নাসর বিন আল-বাতর এবং আবু মুহাম্মদ জাফর বিন আহমদ আল-সাররাজ থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তাঁর কাছে অনেক মূল্যবান ইজাজত (অনুমতিপত্র) ছিল।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ওফায়াতুল আ'ইয়ান ১/৪৬৩; তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ ৪/১০১; শাজারাতুজ জাহাব ৪/১০; মিফতাহুস সাআদাহ ২/১৯১-২১০; আদাবুল লুগাহ ৩/৭৯; আল-লুবাব ২/১৭০; আল-আলাম ৭/২২।

(২) মূলে রয়েছে: «আল-দারকানি»।

(৩) দেখুন: ওফায়াতুল আ'ইয়ান ৩/৪২০।

(৪) মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে।

(৫) মূলে রয়েছে: «ফাকাফালতুহু» (আমি তাকে লালন-পালন করলাম)।
(খণ্ড: ٢١) আল-মুস্তাফাদু মিন যাইলি তারিখি বাগদাদ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
كابن النقور والصريفيني وابن ماكولا وغيرهم من الغرباء أخذها له ابن ماكولا في رحلته إلى البلاد.

أخبرنا شهاب بن محمود المزكي بهراة قال: حدثنا أبو سعد السمعاني قال: محمد ابن ناصر السلامي أبو الفضل سكن درب الشاكرية، حافظ ثقة ديّن خيّر متقن متثبت، له حظ كامل من اللغة ومعرفة تامة بالمتون والأسانيد، كثير الصّلاة، دائم التلاوة للقرآن، مواظب على صلاة الضحى، غير أنه يحب أن يقع في أعراض [الناس](1) ويتكلم في حقهم. كان يطالع هذا الكتاب ويلحق على حواشيه بخطه ما يقع له من مثالبهم. سمعت جماعة من شيوخي يذكرون أن ابن ناصر وابن الجواليقي كانا يقرءان الأدب على التبريزي ويسمعان الحديث على المشايخ، فكان الناس يقولون: يخرج ابن ناصر لغوي بغداد وابن الجواليقي محدثها، فانعكس الأمر، فصار ابن ناصر محدث بغداد وابن الجواليقي لغويها.

مولده في ليلة الخميس الخامس عشر من شعبان سنة سبع وستين وأربعمائة.

وتوفي ليلة الثلاثاء الثامن عشر من شعبان سنة خمسين وخمسمائة. ودفن من الغد بباب حرب- رحمه الله تعالى.

آخر الجزء الأول من المستفاد

--------------------------------------------

(1) على هامش الأصل: «بئس ما فعل … والله ما يستحقه».
যেমন ইবনে আল-নাকুর, আল-সারিফিনি, ইবনে মাকুলা এবং অন্যান্য আগন্তুকগণ; ইবনে মাকুলা দেশভ্রমণের সময় তাঁর হয়ে এগুলো সংগ্রহ করেছিলেন।

হিরাতে শিহাব বিন মাহমুদ আল-মুযাক্কি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু সাদ আল-সামআনি আমাদের বলেছেন: মুহাম্মাদ ইবনে নাসির আস-সালামি আবুল ফাদল ‘দারবুশ শাকিরিয়্যাহ’-তে বসবাস করতেন; তিনি একজন হাফেজ, নির্ভরযোগ্য, ধর্মপ্রাণ, পুণ্যবান, অত্যন্ত নিপুণ ও সুদৃঢ় ব্যক্তি ছিলেন। ভাষাজ্ঞানে তাঁর পূর্ণ দখল ছিল এবং হাদিসের মতন (মূল পাঠ) ও সনদ (সূত্র) সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান ছিল। তিনি প্রচুর সালাত আদায় করতেন, সর্বদা কুরআন তিলাওয়াত করতেন এবং চাশতের সালাতে নিয়মিত ছিলেন। তবে তিনি [মানুষের](১) মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করতে পছন্দ করতেন এবং তাদের সমালোচনা করতেন। তিনি এই বইটি পাঠ করতেন এবং মানুষের দোষত্রুটি সম্পর্কে যা তাঁর কাছে আসত, তা নিজ হাতের লেখায় এর টীকায় লিখে রাখতেন। আমি আমার একদল উস্তাদকে বলতে শুনেছি যে, ইবনে নাসির এবং ইবনে আল-জাওয়ালিকি আত-তিবরিজির নিকট সাহিত্য পড়তেন এবং মাশায়েখদের নিকট হাদিস শুনতেন। তখন মানুষ বলত: ইবনে নাসির বাগদাদের ভাষাবিদ এবং ইবনে আল-জাওয়ালিকি বাগদাদের মুহাদ্দিস হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবেন। কিন্তু বিষয়টি উল্টে গেল; ইবনে নাসির হলেন বাগদাদের মুহাদ্দিস আর ইবনে আল-জাওয়ালিকি হলেন বাগদাদের ভাষাবিদ।

তাঁর জন্ম ৪৬৭ হিজরির ১৫ই শাবান বৃহস্পতিবার রাতে।

তিনি ৫৫০ হিজরির ১৮ই শাবান মঙ্গলবার রাতে মৃত্যুবরণ করেন। পরের দিন তাঁকে বাবে হারবে দাফন করা হয়— আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন।

আল-মুস্তাফাদ গ্রন্থের প্রথম খণ্ড সমাপ্ত

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকায় রয়েছে: «তিনি যা করেছেন তা কতই না মন্দ... আল্লাহর কসম, তিনি এর যোগ্য নন»।
(খণ্ড: ٢١) আল-মুস্তাফাদু মিন যাইলি তারিখি বাগদাদ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
الجزء الثاني من المستفاد من ذيل تاريخ بغداد

انتقاه كاتبه أحمد بن أيبك بن عبد الله الحسامي عرف بابن الدمياطي لنفسه ثم لمن شاء الله من بعده عفا الله عنه.

للحافظ أبى عبد الله محمد بن النجار البغدادي
'যায়লু তারিখ বাগদাদ'-এর সংক্ষেপিত গ্রন্থ 'আল-মুস্তাফাদ'-এর দ্বিতীয় খণ্ড

এটি সংকলন করেছেন এর লেখক আহমাদ বিন আইবাক বিন আব্দুল্লাহ আল-হুসামি, যিনি ইবনুদ্দামইয়াতি হিসেবে পরিচিত; তিনি এটি নিজের জন্য এবং তাঁর পরে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন তাদের উপকারের জন্য প্রস্তুত করেছেন, আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন।

হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আন-নাজ্জার আল-বাগদাদি প্রণীত।
(খণ্ড: ٢١) আল-মুস্তাফাদু মিন যাইলি তারিখি বাগদাদ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
(سم الله الرّحمن الرّحيم) رب يسر وأعن

 

‌‌[حرف الألف]

‌‌31 - إبراهيم بن أدهم بن منصور بن يزيد بن جابر بن ثعلبة بن سعد بن حلام ابن غزية بن أسامة بن ربيعة بن ضبيعة بن عجل بن نجم، أبو إسحاق الزاهد (1):

من أهل بلخ، دخل بغداد مجتازا، وسكن الشام إلى حين وفاته، وقد طلب العلم والحديث ثم استقل بالزهد، وحدث عن أبيه أدهم وعن محمد بن زياد صاحب أبي هريرة والأعمش ومحمد بن عجلان ومنصور بن المعتمر ويحيى بن سعيد وسفيان الثوري وهشام بن حسان والأوزاعي، روي عنه بقية بن الوليد وسفيان الثوري وشقيق البلخي وسهل بن هاشم.

قال النسائي: أبو إسحاق إبراهيم بن أدهم ثقة مأمون أحد الزهاد.

وروى المؤلف بسنده إلى عطاء بن مسلم قال: ضاعت نفقة إبراهيم بن أدهم بمكة [فبقي](2) خمسة عشر يوما يستف الرمل.

وروى أيضا إلى عبد الله بن الفرج القنطري العابد قال: اطلعت على إبراهيم بن أدهم في بستان بالشام وهو مستلق وإذا حية في فهما طاقة نرجس فما زالت تذب عنه حتى انتبه.

وروى أيضا إلى المتوكل بن الحسين قال: قال إبراهيم بن أدهم: الزهد ثلاثة أصناف: فزهد فرض، وزهد فضل، وزهد سلامة؛ فالفرض الزهد في الحرام، والفضل الزهد في الحلال، والسلامة الزهد في الشبهات.

قال محمد بن إسماعيل البخاري: مات إبراهيم بن أدهم سنة إحدى وستين ومائة، ودفن بسوقين حصن ببلاد الروم.

--------------------------------------------

(1) انظر: تهذيب التهذيب 1/ 102. الوافي بالوفيات 5/ 318. وتهذيب ابن عساكر 2/ 167 - 196.

(2) ما بين المعقوفتين أثبت على الهامش الأصل.
(পরম করুণাময় দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি) হে রব, সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন।

 

‌‌[আলিফ বর্ণ]

‌‌৩১ - ইবরাহীম ইবনে আদহাম ইবনে মানসুর ইবনে ইয়াযিদ ইবনে জাবের ইবনে সা'লাবাহ ইবনে সাদ ইবনে হাল্লাম ইবনে গাযিয়্যাহ ইবনে উসামাহ ইবনে রাবিআ ইবনে দ্বাবিআ ইবনে ইজল ইবনে নাজ্ম, আবু ইসহাক আল-যাহিদ (১):

তিনি বলখ-এর অধিবাসী ছিলেন। তিনি ভ্রমণকালে বাগদাদে প্রবেশ করেছিলেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত সিরিয়ায় বসবাস করেছিলেন। তিনি ইলম ও হাদিস অন্বেষণ করেছিলেন এবং পরে নির্জনবাস ও কৃচ্ছ্রসাধনে (যুহদ) আত্মনিয়োগ করেন। তিনি তাঁর পিতা আদহাম, আবু হুরায়রার সঙ্গী মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ, আমাশ, মুহাম্মাদ ইবনে আজলান, মানসুর ইবনে মুতামির, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, সুফিয়ান সাওরি, হিশাম ইবনে হাসসান এবং আওযায়ী থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে বকিয়্যাহ ইবনে ওয়ালিদ, সুফিয়ান সাওরি, শাকিক আল-বলখি এবং সাহল ইবনে হাশিম বর্ণনা করেছেন।

নাসাঈ বলেছেন: আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবনে আদহাম নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত এবং তিনি বড় কৃচ্ছ্রসাধনকারীদের একজন ছিলেন।

লেখক তাঁর সনদে আতা ইবনে মুসলিম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: মক্কায় ইবরাহীম ইবনে আদহামের সফরের খরচ হারিয়ে গিয়েছিল, ফলে তিনি পনের দিন পর্যন্ত বালু চেটে জীবন ধারণ করেছিলেন।

তিনি (লেখক) আরও আব্দুল্লাহ ইবনে ফারাজ আল-কান্তারি আল-আবিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমি ইবরাহীম ইবনে আদহামকে সিরিয়ার একটি বাগানে শোয়া অবস্থায় দেখলাম। এমতাবস্থায় একটি সাপ তার মুখে একগুচ্ছ নার্গিস ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এবং তিনি জেগে না ওঠা পর্যন্ত সাপটি তাঁর থেকে ক্ষতিকর কিছু তাড়িয়ে দিচ্ছিল।

তিনি মুতাওয়াক্কিল ইবনুল হুসাইন থেকে আরও বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: ইবরাহীম ইবনে আদহাম বলেছেন: যুহদ তিন প্রকার: ফরয যুহদ, ফজিলতপূর্ণ যুহদ এবং নিরাপত্তা ও সুস্থতার যুহদ। হারাম বর্জন করা হলো ফরয যুহদ; হালাল বর্জন করা হলো ফজিলতপূর্ণ যুহদ; আর সন্দেহযুক্ত বস্তু বর্জন করা হলো নিরাপত্তা ও সুস্থতার যুহদ।

মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাইল আল-বুখারি বলেছেন: ইবরাহীম ইবনে আদহাম একশত একষট্টি হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং রোম দেশের সুকাইন নামক দুর্গে তাঁকে সমাহিত করা হয়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: তাহযীবুত তাহযীব ১/ ১০২; আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত ৫/ ৩১৮ এবং তাহযীব ইবনে আসাকির ২/ ১৬৭ - ১৯৬।

(২) বন্ধনীভুক্ত অংশটুকু মূল পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকা থেকে নেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ٢١) আল-মুস্তাফাদু মিন যাইলি তারিখি বাগদাদ - ত আল-ইলমিয়্যাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
قال أبو داود سليمان بن الأشعث: سمعت أبا توبة الربيع بن نافع يقول: مات إبراهيم بن أدهم سنة اثنتين وستين ومائة، ودفن على ساحل البحر.

 

‌‌32 - إبراهيم بن علي بن يوسف بن عبد الله الفيروزآبادي الشيرازي(1)، أبو إسحاق (2):

إمام أصحاب الشافعي ومن انتشر فضله في البلاد، وفاق أهل زمانه بالعلم والزهد والسداد، وأقر بعلمه وورعه الموافق والمخالف والمعادي والمحالف، وحاز قصب السبق في جميع الفضائل وتعزى بالدين والنزاهة على كل الرذائل، وكان سخي النفس، شديد التواضع، طلق الوجه، لطيفا ظريفا، كريم العشرة، سهل الأخلاق، كثير المحفوظ للحكايات والأشعار.

ولد بفيروزآباد بليدة بفارس، ونشأ بها، ودخل شيراز، وقرأ الفقه على أبي عبد الله الأنصاري، وقرأ على أبي القاسم الداركي، وقرأ الداركي علىالمروزي، وقرأ المروزي علي ابن سريج، وقرأ ابن سريج على ابن الأنماطي، وقرأ ابن الأنماطي على المزني والربيع بن سليمان، وقرء على الشافعي، ثم دخل بغداد سنة خمس عشرة وأربعمائة وقرأ على القاضي أبي الطيب الطبري، ولازمه حتى برع في العلم وصار من أنظر أصحابه، وامتدت إليه الأعين وتقدم على أقرانه.

وكان يدرس بمسجده بباب المراتب إلى أن بنى له الوزير نظام الملك أبو علي المدرسة على شاطئ دجلة فانتقل إليها، ودرّس بها بعد امتناع شديد، ولم يزل يدرّس بها إلى حين وفاته.

سمع ببغداد من أبي بكر أحمد بن محمد بن غالب البرقاني وأبي علي الحسن بن شاذان وأبي الطيب الطبري، روي عنه الخطيب الحافظ في بعض مصنفاته شيئا من شعره؛ وكان عارفا بالأدب.

ومن شعره:

--------------------------------------------

(1) بهامش الأصل: «الإمام الشيخ أبو إسحاق رضي الله عنه».

(2) انظر: طبقات الشافعية للسبكي 3/ 88 - 111. ووفيات الأعيان 1/ 9 - 12. والعبر في خبر من غير 3/ 283. وطبقات الشافعية لابن قاضي شهبة، ترجمة 200. الجدير بالذكر أن هذه الترجمة مكانها بالمخطوط بعد ترجمة: «أحمد بن إسماعيل بن يوسف … ». واستبدل مكانها نظرا للترتيب الهجائي.
আবু দাউদ সুলায়মান ইবনুল আশআস বলেন: আমি আবু তাওবাহ আর-রাবি ইবনে নাফে’কে বলতে শুনেছি: ইব্রাহিম ইবনে আদহাম একশত বাষট্টি হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাকে সমুদ্র উপকূলে দাফন করা হয়।

 

‌‌৩২ - ইব্রাহিম ইবনে আলী ইবনে ইউসুফ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-ফিরুজাবাদি আশ-শিরাজি(১), আবু ইসহাক (২):

তিনি শাফেয়ি অনুসারীদের ইমাম এবং এমন এক ব্যক্তিত্ব যার শ্রেষ্ঠত্ব দেশময় ছড়িয়ে পড়েছিল। তিনি নিজ যুগের লোকদের জ্ঞান, যুহদ (দুনিয়া বিমুখতা) এবং সঠিক নির্দেশনায় ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর জ্ঞান ও পরহেজগারির কথা বন্ধু-শত্রু, পক্ষ-বিপক্ষ সবাই স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি সকল শ্রেষ্ঠত্বের ক্ষেত্রে অগ্রগামী ছিলেন এবং সকল প্রকার পঙ্কিলতার বিপরীতে দ্বীন ও পবিত্রতাকে আঁকড়ে ধরেছিলেন। তিনি ছিলেন উদারমনা, অত্যন্ত বিনয়ী, হাস্যোজ্জ্বল চেহারার অধিকারী, কোমল স্বভাবের, মার্জিত, চমৎকার মেলামেশার অধিকারী, উত্তম চরিত্রের এবং অনেক কাহিনী ও কবিতা মুখস্থ রাখতেন।

তিনি পারস্যের ফিরুজাবাদ নামক একটি ছোট শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। এরপর তিনি শিরাজ গমন করেন এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-আনসারির কাছে ফিকহ শাস্ত্র পড়েন। তিনি আবু আল-কাসিম আদ-দারাকির কাছেও পাঠ গ্রহণ করেন। আদ-দারাকি আল-মারওয়াযির কাছে পড়েছিলেন, আল-মারওয়াযি ইবনে সুরাইজের কাছে পড়েছিলেন, ইবনে সুরাইজ ইবনে আল-আনমাতির কাছে পড়েছিলেন, ইবনে আল-আনমাতি আল-মুযানী ও আর-রাবি ইবনে সুলায়মানের কাছে পড়েছিলেন এবং তাঁরা ইমাম শাফেয়ির কাছে পাঠ গ্রহণ করেছিলেন। অতঃপর তিনি চারশত পনেরো হিজরি সনে বাগদাদে প্রবেশ করেন এবং কাজী আবু আত-তায়্যিব আত-তাবারির নিকট শিক্ষালাভ করেন। তিনি তাঁর সান্নিধ্যে লেগে থাকেন যতক্ষণ না তিনি জ্ঞানে পারদর্শী হন এবং তাঁর উল্লেখযোগ্য ছাত্রদের অন্যতম হিসেবে পরিগণিত হন। সবার দৃষ্টি তাঁর দিকে নিবদ্ধ হলো এবং তিনি তাঁর সমসাময়িকদের ওপর প্রাধান্য লাভ করলেন।

তিনি বাবুল মারাতিবের নিজ মসজিদে শিক্ষকতা করতেন, যতক্ষণ না উজির নিজামুল মুলক আবু আলী তাঁর জন্য দজলা নদীর তীরে একটি মাদ্রাসা নির্মাণ করে দেন। প্রচণ্ড অসম্মতি সত্ত্বেও পরবর্তীতে তিনি সেখানে স্থানান্তরিত হন এবং সেখানে শিক্ষকতা শুরু করেন। মৃত্যু অবধি তিনি সেখানেই শিক্ষকতা চালিয়ে যান।

তিনি বাগদাদে আবু বকর আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে গালিব আল-বারকানি, আবু আলী আল-হাসান ইবনে শাযান এবং আবু আত-তায়্যিব আত-তাবারির নিকট হাদীস শ্রবণ করেন। হাফেজ খতীব তাঁর কোনো কোনো গ্রন্থে তাঁর কিছু কবিতা বর্ণনা করেছেন; তিনি আদব বা সাহিত্য শাস্ত্রেও পারদর্শী ছিলেন।

তাঁর কবিতার কিছু অংশ:

--------------------------------------------

(১) মূল পাণ্ডুলিপির পার্শ্বটীকা: «ইমাম শায়খ আবু ইসহাক রাদিয়াল্লাহু আনহু»।

(২) দেখুন: সুবকির তবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ ৩/ ৮৮ - ১১১। ওফায়াতুল আ’য়ান ১/ ৯ - ১২। আল-ইবার ফি খবর মান গাবার ৩/ ২৮৩। ইবনে কাজি শুহবার তবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ, জীবনী নং ২০০। উল্লেখ্য যে, বর্ণানুক্রমিক বিন্যাসের কারণে এই জীবনীটি পাণ্ডুলিপিতে «আহমদ ইবনে ইসমাইল ইবনে ইউসুফ …» এর জীবনীর পরে স্থান পেয়েছে এবং এর পরিবর্তে এখানে বর্ণানুক্রমিক বিন্যাস করা হয়েছে।