(খণ্ড: ১)
আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ ত্বা আল-মাআরিফাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الروضة الندية شرح الدرر البهية ط المعرفة القسم: الفقه العام
الكتاب: الروضة الندية شرح الدرر البهية
المؤلف: أبو الطيب محمد صديق خان بن حسن بن علي ابن لطف الله الحسيني البخاري القِنَّوجي (ت 1307هـ)
الناشر: دار المعرفة
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ, আল-মা'রিফাহ সংস্করণ বিভাগ: সাধারণ ফিকহ
বই: আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ
লেখক: আবু তাইয়্যেব মুহাম্মাদ সিদ্দিক খান বিন হাসান বিন আলী ইবন লুতফুল্লাহ আল-হুসাইনী আল-বুখারী আল-কিন্নওজী (মৃত্যু ১৩০৭ হি.)
প্রকাশক: দারুল মা'রিফাহ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামেলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ ত্বা আল-মাআরিফাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
المجلد الاول
مقدمة بسم الله الرحمن الرحيم
نحمدك اللهم أنت الذي علمت الناس في دينهم حكما وفي دنياهم أحكاما. وجعلت أمة خاتم الرسل المرحومة أكرم الأمم كلها منزلا ومقاما. ومازلت ألهمت من شئت وتلهم من تشاء منهم في كل قرن استعمال السنن المطهرة على وجهها إلهاما. ونهيتهم عن التفرق في الدين وأوضحت لهم سبيل اليقين فأصبحوا بنعمتك بررة كراما. وما انفك عدو لهم نفوا عن الدين وينفون عنه انتحال1 المبطلين وتحريف الغالين وتأويل الجاهلين حتى عاد علم الحق معتدلا قواما. .
ونصلي عليك أيها النبي الكريم، بك من الله علينا بالإيمان وهدانا إسلاما. لطفا بنا ورحمة علينا وبركة فينا وإحسانا إلينا وإكراما. فكان ذلك لزاما. ولولاك ما اهتدينا ولا صلينا ولا علمنا أحكاما. فكنت أنت داعينا إلى الله سبحانه وتعالى وهاديا لنا ورؤوفا بنا وفينا إماما. ونسلم عليكم أهل البيت الطاهرين الطيبين أنتم أصبتم من سعادة الدارين سهاما. وقمتم بالحق الحقيق بالاتباع كما يحق قياما. ورضي الله عنكم أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم بكم انتظم مبتغي الأمة الأمية بدءا وختاما. ومنك استتب أمر الملة المكرمة أصلا وفرعا واهتماما. ورحمة الله وبركاته عليكم أهل الحديث أنتم كشفتم للناس عن صراح2 الحق وصحاح السنة وقح3 الشريعة ظلاما. وعن وجه الدين القويم والصراط المستقيم لثاما. وكيف وقد جعلكم الله تعالى للمتقين إماما. .
وبعد: فلما جمع الإمام الهمام عز المسلمين والإسلام سلالة السلف الصلحاء تذكار العرب العرباء وارث علوم سيد المرسلين خاتم المفسرين والمحدثين شيخ شيوخنا الكاملين المجتهد المطلق العلامة الرباني قاضي قضاة القطر اليماني محمد
--------------------------------------------
প্রথম খণ্ড
ভূমিকা পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে আল্লাহ, আমরা আপনার প্রশংসা করছি; আপনিই সেই সত্তা যিনি মানুষকে তাদের দ্বীনের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞা এবং পার্থিব বিষয়ে বিধিবিধান শিক্ষা দিয়েছেন। আর আপনি সর্বশেষ রাসূলের এই রহমতপ্রাপ্ত উম্মতকে মর্যাদা ও অবস্থানের দিক থেকে সকল উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম করেছেন। আপনি প্রতিটি শতাব্দীতে তাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা ইলহাম বা প্রেরণা প্রদান করেছেন এবং করছেন যাতে তারা পবিত্র সুন্নাহকে তার সঠিক পদ্ধতিতে অনুসরণ ও প্রয়োগ করতে পারে। আপনি তাদেরকে দ্বীনের মধ্যে দলাদলি থেকে নিষেধ করেছেন এবং তাদের জন্য নিশ্চিত বিশ্বাসের পথ সুস্পষ্ট করেছেন, ফলে তারা আপনার অনুগ্রহে পুণ্যবান ও সম্মানিত জাতিতে পরিণত হয়েছে। তাদের শত্রুরা তাদের পিছু ছাড়েনি, [কিন্তু উলামায়ে কিরাম] দ্বীন থেকে বাতিলপন্থীদের মিথ্যা দাবি, সীমালঙ্ঘনকারীদের বিকৃতি এবং মূর্খদের অপব্যাখ্যা দূর করেছেন এবং করে যাচ্ছেন, যতক্ষণ না সত্যের ইলম ভারসাম্যপূর্ণ ও সুদৃঢ় অবস্থানে ফিরে এসেছে।
হে সম্মানিত নবী, আমরা আপনার ওপর দরূদ পাঠ করছি; আপনার মাধ্যমেই আল্লাহ আমাদের ওপর ঈমানের অনুগ্রহ করেছেন এবং আমাদের ইসলামের হিদায়াত দিয়েছেন। এটি আমাদের প্রতি দয়া, করুণা, আমাদের মধ্যে বরকত এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ ও সম্মানস্বরূপ। আর এটিই ছিল অবধারিত। আপনি না থাকলে আমরা হিদায়াত পেতাম না, সালাত আদায় করতাম না এবং কোনো বিধানও জানতে পারতাম না। আপনিই ছিলেন আল্লাহর দিকে আমাদের আহ্বানকারী, আমাদের পথপ্রদর্শক এবং আমাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু ও আমাদের ইমাম। আর হে পবিত্র ও পুণ্যবান আহলে বাইত, আপনাদের প্রতি আমাদের সালাম; আপনারা উভয় জগতের সৌভাগ্যের পূর্ণ অংশ লাভ করেছেন। আপনারা সত্যের ওপর এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত ছিলেন যা যথাযথভাবে অনুসরণযোগ্য। আর হে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ, আল্লাহ আপনাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন; আপনাদের মাধ্যমেই এই উম্মি উম্মতের উদ্দেশ্য শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সুশৃঙ্খল হয়েছে। আর আপনাদের মাধ্যমেই সম্মানিত মিল্লাতের বিষয়াদি মূল, শাখা এবং গুরুত্বের বিচারে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। হে আহলে হাদিস, আপনাদের ওপর আল্লাহর রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক; আপনারা মানুষের সামনে থেকে খাঁটি সত্য, সহিহ সুন্নাহ এবং বিশুদ্ধ শরীয়তের অন্ধকার দূর করেছেন। আর সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন ও সরল পথের মুখমণ্ডল থেকে আবরণ উন্মোচন করেছেন। আর তা কেনই বা হবে না, অথচ আল্লাহ তাআলা আপনাদেরকে মুত্তাকীদের জন্য ইমাম বানিয়েছেন।
অত:পর: যখন মহিমান্বিত ইমাম, মুসলিম ও ইসলামের গৌরব, সৎ পূর্বসূরীদের বংশধর, খাঁটি আরবদের স্মৃতিচিহ্ন, রাসূলকুলের সর্দারের ইলমের উত্তরাধিকারী, মুফাসসির ও মুহাদ্দিসগণের সর্বশেষ প্রতিনিধি, আমাদের পূর্ণাঙ্গ শায়খদের উস্তাদ, মুজতাহিদ মুতলাক, আল্লামা রব্বানী, ইয়ামেন ভূখণ্ডের প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ ত্বা আল-মাআরিফাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
ابن علي بن محمد اليمني الشوكاني المتوفى سنة خمس وخمسين ومائتين وألف الهجرية رضي الله تعالى عنه وأرضاه وجعل الفرودس منزله ونزله ومأواه المختصر الذي سماه: "الدرر البهية في المسائل الفقهية" قاصدا بذلك جمع المسائل التي صح دليلها واتضح سبيلها تاركا لما كان منها من محض الرأي فإنه قالها وقيلها غير ملتفت إلى ما اشتهر فالحق أحق بالاتباع وغير جامد على ما ذكر في الزبر1 فلمسلك التحقيق اتساع بل محض فيه النصح النصيح ومخض2 عن زبد الحق الصريح وأتى بتحقيقات جليلة خلت عنها الدفاتر وأشار إلى تدقيقات نفسية تحوها صحف الأكابر ونسبة هذا المختصر إلى المطولات من الكتب الفقهية نسبة السبيكة الذهبية إلى التربة المعدنية كما يعرف ذلك من رسخ في العلوم قدمه وسبح في بحار المعارف ذهنه ولسانه وقلمه سأله جماعة من أهل الانتقاد والفهم النافذ العاضين على علوم الاجتهاد بأقوى لحي3 وأحد ناجذ4 أن يجلي عليهم عروس ذلك المختصر ويزفه إليهم ليمعنوا في محاسنه النظر فاستمهلهم ريثما يصحح منه ما يحتاج إلى التصحيح وينقح فيه ما لا يستغني عن التنقيح ويرجح من مباحثه ماهو مفتقر إلى الترجيح ويوضح من غوامضه ما لا بد فيه من التوضيح فشرحه بشرح مختصر من معين عيون الأدلة معتصر وسماه: "الدراري المضية شرح الدرر البهية" وفيهما قال قائل:
إن شئت في شرح النبي
… تقدح بزند فيه واري5
فاعكف على الدرر التي
… سلكت بسمط6 من دراري
وشرحه هذا كان بالقول فجعلته شرحا ممزوجا وصيرته على منواله منسوجا مستوعبا للفظه ومعناه ومستصحبا لفحاويه ومبناه مضيفا إليه مذاهب الفقهاء ليظهر ضعفها أو قوتها عند تقابل الأدلة وتعارضها بالآراء لا للأخذ بها على ما كان بأي حال فإن الرجال تعرف بالحق لا الحق بالرجال ثم زدت عليه أشياء من حاشية الماتن7 على شفاء الأوام التي سماها! وبل الغمام! ومن غيرها عند النظر الثاني
--------------------------------------------
ইবনে আলী বিন মুহাম্মাদ আল-ইয়ামানি আশ-শাওকানি, যিনি হিজরি বারোশো পঞ্চান্ন সালে ইন্তেকাল করেছেন—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন ও তাঁকে সন্তুষ্ট করুন এবং জান্নাতুল ফিরদাউসকে তাঁর ঠিকানা ও আবাসস্থল করুন—তিনি একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ সংকলন করেছেন যার নাম দিয়েছেন: 'আদ-দুরারুল বাহিয়্যাহ ফিল মাসায়িলিল ফিকহিয়্যাহ'। এতে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল এমন সব মাসআলা একত্রিত করা যার দলিল সহিহ এবং যার পথ সুস্পষ্ট। তিনি নিছক ব্যক্তিগত মতামতের ওপর ভিত্তি করে যা বলা হয়েছে তা বর্জন করেছেন এবং যা প্রসিদ্ধি লাভ করেছে তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করেননি; কেননা সত্যই অনুসরণের অধিক যোগ্য। তিনি পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে বর্ণিত কথার ওপর স্থবির হয়ে থাকেননি, বরং গবেষণালব্ধ তাহকিকের পথ উন্মুক্ত রেখেছেন। এতে তিনি খাটি নসিহত পেশ করেছেন এবং সুস্পষ্ট সত্যের সারাংশ মন্থন করেছেন। তিনি এমন সব মহৎ তাহকিক নিয়ে এসেছেন যা সাধারণ কিতাবসমূহে পাওয়া যায় না এবং এমন সব সূক্ষ্ম তাত্ত্বিক বিষয়ের দিকে ইঙ্গিত করেছেন যা কেবল বড় বড় মনীষীদের পাণ্ডুলিপিতেই বিদ্যমান। ফিকহ শাস্ত্রের বিস্তারিত কিতাবসমূহের তুলনায় এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থের দৃষ্টান্ত হলো খনিজ মাটির স্তূপের বিপরীতে একটি স্বর্ণপিণ্ড। এটি তারাই অনুধাবন করতে পারবেন যারা ইলমের ময়দানে সুদৃঢ় এবং যাদের মেধা, জিহ্বা ও কলম জ্ঞানের সমুদ্রে বিচরণ করে। একদল সমালোচক ও তীক্ষ্ণধী ব্যক্তি, যারা সর্বোচ্চ শক্তি ও দৃঢ়তার সাথে ইজতিহাদ বা গবেষণালব্ধ ইলমকে আঁকড়ে ধরেছেন, তারা তাঁর কাছে আরজ করেন যেন তিনি এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থের রূপটি তাদের সামনে উন্মোচিত ও সুসজ্জিত করে পেশ করেন, যাতে তারা এর সৌন্দর্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। তিনি তাদের কাছে কিছুটা সময় চেয়ে নিলেন যাতে তিনি এর প্রয়োজনীয় সংশোধন, পরিমার্জন, এবং যেখানে একাধিক মতের মধ্যে প্রাধান্য (তারজিহ) দেওয়া আবশ্যক সেখানে তারজিহ প্রদান করতে পারেন এবং এর জটিল বিষয়গুলো স্পষ্ট করতে পারেন। অতঃপর তিনি অত্যন্ত সংক্ষিপ্তভাবে দলিলের ঝরনাধারা থেকে নির্যাস গ্রহণ করে এর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ রচনা করেন এবং এর নাম দেন: 'আদ-দারারিল মুদিয়্যাহ শারহু আদ-দুরারিল বাহিয়্যাহ'। এই দুই কিতাব সম্পর্কে জনৈক কবি বলেছেন:
যদি তুমি নববীর ব্যাখ্যায় আগুনের স্ফুলিঙ্গ প্রজ্জ্বলিত করতে চাও,
তবে সেই ‘দুরার’ (মুক্তাসমূহ) নিয়ে নিমগ্ন হও যা ‘দারারি’ (উজ্জ্বল নক্ষত্রমালা) দিয়ে গেঁথে রাখা হয়েছে।
তাঁর এই ব্যাখ্যাটি ছিল মৌখিক বর্ণনার মতো, তাই আমি একে একটি মিশ্রিত ব্যাখ্যায় রূপান্তর করেছি এবং তাঁর শৈলী অনুযায়ী এটি রচনা করেছি, যা এর শব্দ ও অর্থকে পূর্ণাঙ্গভাবে ধারণ করে এবং এর গূঢ় রহস্য ও মূল কাঠামোর সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়। পাশাপাশি আমি এতে ফকিহগণের মাজহাবসমূহ সংযোজন করেছি, যাতে দলিলের পারস্পরিক মোকাবিলা এবং মতামতের সংঘাতের সময় সেগুলোর সবলতা বা দুর্বলতা প্রকাশ পায়। এটি কোনোভাবেই চোখ বুজে অনুসরণের জন্য নয়; কারণ সত্যের মাধ্যমেই ব্যক্তিদের চেনা যায়, ব্যক্তিদের মাধ্যমে সত্যকে নয়। অতঃপর আমি মূল লেখকের 'শিফাউল আওয়াম' নামক কিতাবের হাশিয়া (টীকা) 'ওয়াবিলুল গামাম' থেকে এবং দ্বিতীয়বার পর্যালোচনার সময় অন্যান্য উৎস থেকেও কিছু বিষয় এতে বৃদ্ধি করেছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ ত্বা আল-মাআরিফাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
في هذا الكتاب فعاد بحمد الله تعالى كما قيل اللبأ وابن طاب1 هذا وقد أمليت هذا الشرح على طريق الارتجال بالاستعجال إرشادا إلى طرق من العلم طالما تركت وهزا لطبائع جامدة طالما ركدت راجيا من الله تعالى أن أكون ممن تعلم علم رسول الله صلى الله عليه وسلم وعلمه وأذاعه وحفظه على الناس وفيهم روجه وأشاعه فدونك هذا المشروح والشرح يلقي إليك زمام التفويض في المدح والقدح يا من له في أوج التحقيق صعود وعليه من ملابس التدقيق برود كيف وهو يروي غليل طالبي فقه السنة ويشفي عليل السائقين إلى مساق الجنة فليسعد به كل طالب الحق الصادق ويضن به كل ذي باطل زاهق ولئن رده القاصرون فسيقبله الماهرون وإن ذمه الجهلة فسوف يمدحه الكملة وسميت هذا الشرح الأنيس بل العلق النفيس! الروضة الندية شرح الدرر البهية! والله سبحانه وتعالى أرجو أن يعين على التمام وينفعني به ومن أخلفه وجميع المتبعين للسنن في هذه الدار ودار السلام إنه ولي الإجابة وبيده الهداية والإصابة. قال رضي الله عنه: بسم الله الرحمن الرحيم أحمد من أمرنا بالتفقه في الدين وأشكر من أرشدنا إلى اتباع سنن سيد المرسلين وأصلي وأسلم على الرسول الأمين وآله الطاهرين وأصحابه الأكرمين.
এই কিতাবে আল্লাহর প্রশংসা সহকারে তা তেমনই হয়েছে যেমনটি বলা হয় 'উৎকৃষ্ট দুধ এবং সুস্বাদু খেজুরের' ন্যায়। এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি আমি দ্রুতগতিতে তাৎক্ষণিকভাবে শ্রুতলিপি হিসেবে লিখিয়েছি, যাতে ইলমের সেই পথগুলোর দিকে দিকনির্দেশনা দেওয়া যায় যা দীর্ঘকাল বর্জন করা হয়েছিল এবং যাতে সেই জড় স্বভাবগুলোকে জাগ্রত করা যায় যা দীর্ঘকাল স্থবির হয়ে ছিল। আল্লাহর কাছে এই আশা রাখি যেন আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হই যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইলম শিখেছে, তা শিক্ষা দিয়েছে, তা প্রচার করেছে, মানুষের জন্য তা সংরক্ষণ করেছে এবং তাদের মাঝে তা প্রসারিত ও প্রচলিত করেছে। অতএব এই মূল পাঠ এবং এর ব্যাখ্যা আপনার সম্মুখে; এটি প্রশংসা বা সমালোচনার ভার আপনার উপর অর্পণ করছে, হে সেই ব্যক্তি যার জন্য তাহক্বীকের উচ্চ শিখরে আরোহণ রয়েছে এবং যার উপর সূক্ষ্ম বিশ্লেষণের পোশাক শোভা পায়। কেনই বা হবে না, অথচ এটি সুন্নাহর ফিক্বহ অন্বেষণকারীদের পিপাসা মেটায় এবং জান্নাতের পথে চালিতদের অসুস্থতা নিরাময় করে। সুতরাং প্রত্যেক সত্যনিষ্ঠ সত্যসন্ধানী যেন এর দ্বারা সৌভাগ্যবান হয় এবং প্রত্যেক বিলুপ্তপ্রায় বাতিলপন্থী যেন এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। যদি অপরিপক্বরা একে প্রত্যাখ্যান করে, তবে দক্ষরা একে গ্রহণ করবে; আর যদি জ্ঞানহীনরা এর নিন্দা করে, তবে পূর্ণ জ্ঞান সম্পন্নরা এর প্রশংসা করবে। আমি এই মনোহর ব্যাখ্যাগ্রন্থটির নামকরণ করেছি, বরং এই মূল্যবান সম্পদের নাম দিয়েছি: আর-রওজাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ! আর আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এটি পূর্ণ করতে সাহায্য করেন এবং এর মাধ্যমে আমাকে, আমার উত্তরসূরিদের এবং এই দুনিয়া ও পরকালে সুন্নাহর সকল অনুসারীদের উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি দোয়া কবুলকারী এবং তাঁর হাতেই রয়েছে হিদায়াত ও সঠিক পথ প্রাপ্তি। তিনি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন) বললেন: পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। আমি সেই সত্তার প্রশংসা করি যিনি আমাদের দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন, এবং তাঁর শুকরিয়া জানাই যিনি আমাদের রাসূলগণের সর্দারের সুন্নাহ অনুসরণের দিশা দিয়েছেন। আর আমি দরুদ ও সালাম পেশ করি বিশ্বস্ত রাসূলের ওপর, তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গের ওপর এবং তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণের ওপর।
(খণ্ড: ১)
আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ ত্বা আল-মাআরিফাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
كتاب الطهارة
باب هذا الباب قد اشتمل على مسائل:
"الأولى الماء طاهر ومطهر" ولا خلاف في ذلك وقد نطق بذلك الكتاب والسنة وكما دل الدليل على كونه طاهرا مطهرا وقام على ذلك الإجماع كذلك يدل على ذلك الأصل والظاهر والبراءة فإن أصل عنصر الماء طاهر مطهر بلا نزاع وكذلك الظهور يفيد ذلك والبراءة الأصلية عن مخالطة النجاسة له مستصحبة "لا يخرجه
পবিত্রতা অধ্যায়পরিচ্ছেদ এই পরিচ্ছেদটি কয়েকটি মাসআলা (বিষয়) অন্তর্ভুক্ত করেছে:
"প্রথমত: পানি পবিত্র এবং পবিত্রকারী" এবং এ ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই। কিতাব (কুরআন) ও সুন্নাহ এই কথা ব্যক্ত করেছে। আর পানির পবিত্র ও পবিত্রকারী হওয়ার ব্যাপারে দলিল যেমন প্রমাণ দেয় এবং এর ওপর ইজমা (ঐক্যমত) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তেমনিভাবে মূল নীতি (আসল), বাহ্যিক অবস্থা (জাহির) এবং দায়মুক্তি (বারাআত) এর সপক্ষে প্রমাণ দেয়। কেননা পানির মূল উপাদান কোনো বিতর্ক ছাড়াই পবিত্র ও পবিত্রকারী। তদ্রূপ প্রকাশ্য অবস্থাও সেটিই সাব্যস্ত করে এবং নাপাকি মিশ্রিত না হওয়ার মূল দায়মুক্ত অবস্থা (বারাআতে আসলিয়াহ) এখানে বহাল রয়েছে "যা একে বের করে দেয় না...
(খণ্ড: ১)
আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ ত্বা আল-মাআরিফাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
عن الوصفين" أي عن وصف كونه طاهرا وعن وصفه كونه مطهرا إلا ما غير ريحه أو لونه أو طعمه من النجاسات.
هذه المسألة الثانية من مسائل الباب وهي أنه لا يخرج الماء عن الوصفين إلا ما غير أحد أوصافه الثلاثة من النجاسات لا من غيرها وهذا المذهب هو أرجح المذاهب وأقواها.
والدليل عليه ما أخرجه أحمد وصححه وأبو داود والترمذي وحسنه والنسائي وابن ماجة والدارقطني والبيهقي والحاكم وصححه أيضا يحيى بن معين وابن حزم من حديث أبي سعيد قال: قيل يا رسول الله أنتوضأ من بئر بضاعة؟ وهي بئر يلقى فيها الحيض1 ولحوم الكلاب والنتن فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "الماء طهور لا ينجسه شيء". وقد أعله ابن القطان باختلاف الرواة في اسم الراوي له عن أبي سعيد واسم أبيه وليس ذلك بعلة وقد اختلف في أسماء كثير من الصحابة والتابعين على أقوال ولم يكن ذلك موجبا للجهالة على أن ابن القطان نفسه قال بعد ذلك الإعلال: وله طريق أحسن من هذه ثم ساقها عن أبي سعيد وقد قامت الحجة بتصحيح من صححه من أولئك الأئمة.
وله شواهد منها حديث سهل بن سعد عند الدارقطني ومن حديث ابن عباس عند أحمد وابن خريمة وابن حبان ومن حديث عائشة عند الطبراني في الأوسط وأبي يعلى والبزار وابن السكن كلها بنحو حديث أبي سعيد، وأخرجه بزيادة الاستثناء الدارقطني من حديث ثوبان بلفظ: "الماء طهور لا ينجسه شيء إلا ما غلب على ريحه أو لونه أو طعمه"، وأخرجه أيضا مع الزيادة ابن ماجة والطبراني من حديث أبي أمامة بلفظ: "إن الماء طهور إلا إن تغير ريحه أو لونه أو طعمه بنجاسة تحدث فيه" وفي إسنادهما من لا يحتج به، وقد اتفق أهل الحديث على ضعف هذه الزيادة لكنه قد وقع الإجماع على مضمونها كما نقله ابن المنذر وابن الملقن في البدر المنير والمهدي في البحر، فمن كان يقول بحجيّة الإجماع كان الدليل عنده على ما أفادته تلك الزيادة هو الإجماع، ومن كان لا يقول بحجيّة الإجماع كان هذا الإجماع مفيداً لصحة تلك
--------------------------------------------
"দুইটি বৈশিষ্ট্য থেকে" অর্থাৎ পবিত্র হওয়ার এবং পবিত্র করার বৈশিষ্ট্য থেকে (পানি বিচ্যুত হয় না), তবে যদি নাপাকি তার ঘ্রাণ, রঙ অথবা স্বাদ পরিবর্তন করে দেয়।
এটি এই অধ্যায়ের মাসআলাসমূহের মধ্যে দ্বিতীয় মাসআলা। আর তা হলো, নাপাকি ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে পানির তিনটি গুণের কোনো একটি পরিবর্তন না হলে পানি উক্ত দুটি বৈশিষ্ট্য থেকে বিচ্যুত হয় না। আর এই মতটিই হলো সকল মতের মধ্যে অধিকতর অগ্রগণ্য এবং শক্তিশালী।
এর সপক্ষে দলীল হলো যা আহমাদ বর্ণনা করেছেন ও সহীহ বলেছেন, এবং আবু দাউদ, তিরমিযী (যিনি একে হাসান বলেছেন), নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, দারাকুতনী, বায়হাকী এবং হাকেম বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন এবং ইবনে হাযমও আবু সাঈদ থেকে বর্ণিত হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। তিনি বলেন: বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি বিদাআ কূপ থেকে উযু করব? অথচ এটি এমন এক কূপ যেখানে মাসিকের নেকড়া, কুকুরের মাংস এবং পচা দুর্গন্ধযুক্ত বস্তু নিক্ষিপ্ত হয়। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "পানি পবিত্র, একে কোনো কিছুই অপবিত্র করে না।" ইবনুল কাত্তান আবু সাঈদ থেকে বর্ণনাকারীর নাম এবং তার পিতার নামের ব্যাপারে বর্ণনাকারীদের মতভেদ থাকার কারণে একে ত্রুটিযুক্ত বলেছেন। কিন্তু এটি কোনো (কার্যকরী) ত্রুটি নয়। কেননা অনেক সাহাবী এবং তাবিঈর নামের ক্ষেত্রে বিভিন্ন মত রয়েছে, যা তাদের পরিচয় অজ্ঞাত হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায় না। অধিকন্তু, ইবনুল কাত্তান নিজে উক্ত ত্রুটি উল্লেখ করার পর বলেছেন: "এর এর চেয়েও উত্তম একটি সূত্র রয়েছে।" অতঃপর তিনি আবু সাঈদ থেকে তা বর্ণনা করেছেন। আর ঐ সকল ইমামগণ একে সহীহ বলার মাধ্যমে এর প্রামাণিকতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এর কিছু সমর্থক বর্ণনা রয়েছে। যেমন: দারাকুতনীতে বর্ণিত সাহল ইবনে সা'দের হাদীস, আহমাদ, ইবনে খুযায়মা ও ইবনে হিব্বানে বর্ণিত ইবনে আব্বাসের হাদীস এবং তাবারানীর আল-আওসাত, আবু ইয়ালা, বাযযার ও ইবনোস সাকানে বর্ণিত আয়েশার হাদীস। এগুলোর সবকটিই আবু সাঈদের হাদীসের অনুরূপ। দারাকুতনী সাওবানের হাদীস থেকে ব্যতিক্রমী অতিরিক্ত অংশসহ এভাবে বর্ণনা করেছেন: "পানি পবিত্র, একে কোনো কিছুই অপবিত্র করে না; তবে যা তার ঘ্রাণ, রঙ অথবা স্বাদের ওপর প্রবল হয়ে যায়।" ইবনে মাজাহ এবং তাবারানীও আবু উমামার হাদীস থেকে এই অতিরিক্ত অংশসহ বর্ণনা করেছেন, যার শব্দ হলো: "নিশ্চয়ই পানি পবিত্র, তবে যদি তাতে পতিত কোনো নাপাকির কারণে তার ঘ্রাণ, রঙ অথবা স্বাদ পরিবর্তিত হয়ে যায়।" এই দুটির সনদে এমন বর্ণনাকারী রয়েছে যাদের দলীল হিসেবে গ্রহণ করা যায় না। মুহাদ্দিসগণ এই অতিরিক্ত অংশটি দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন, তবে এর মূল বিষয়ের ওপর ইজমা বা ঐক্যমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেমনটি ইবনুল মুনযির, বদরুল মুনীর গ্রন্থে ইবনুল মুলাক্কিন এবং আল-বাহর গ্রন্থে মাহদী বর্ণনা করেছেন। সুতরাং যারা ইজমার প্রামাণিকতায় বিশ্বাসী, তাদের নিকট উক্ত অতিরিক্ত অংশ যা বুঝাতে চেয়েছে তার দলীল হলো ইজমা। আর যারা ইজমার প্রামাণিকতায় বিশ্বাসী নয়, তাদের নিকট এই ইজমাটি সেই বিষয়ের বিশুদ্ধতার পরিচায়ক...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ ত্বা আল-মাআরিফাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
الزيادة لكونها قد صارت مما أُجمع على معناها وتُلقّي بالقبول فالاستدلال بها لا بالإجماع. وعن الثاني ما أخرجه عن اسم الماء المطلق من المغيرات الطاهرة. .
هذه المسألة الثالثة من مسائل الباب ووجه ذلك أن الماء الذي شرع لنا التطهير به هو الماء المطلق الذي لم يضف إلى شيء من الأمور التي تخالطه فإن خالطه شيء أوجب إضافته إليه كما يقال ماء ورد ونحوه فليس هذا الماء المقيد بنسبته إلى الورد مثلاً هو الماء المطلق الموصوف بأنه طهور في الكتاب العزيز بقول سبحانه: {مَاءً طَهُوراً} وفي السنة المطهرة بقول صلى الله عليه وسلم: "الماء طهور" فخرج بذلك عن كونه مطهراً ولم يخرج به عن كونه طاهراً لأن الفرض أن الذي خالطه طاهر واجتماع الطاهرين لا يوجب خروجهما عن الوصف الذي كان مستحقاً لكل واحد منهما قبل الاجتماع.
قال في حجة الله البالغة: وأما الوضوء من الماء المقيد الذي لا يطلق عليه اسم الماء بلا قيد فأمر تدفعه الملة بادي الرأي، نعم إزالة الخبث به محتمل بل هو الراجح. وقد أطال القوم في فروع موت الحيوان في البئر والعشر في العشر والماء الجاري وليس في كل ذلك حديث عن النبي صلى الله تعالى عليه وسلم البتة، وأما الآثار المنقولة عن الصحابة والتابعين كأثر ابن الزبير في الزنجي وعلي بن أبي طالب رضي الله تعالى عنه في الفأرة والنخعي والشعبي في نحو السِّنَّور فليست مما يشهد له المحدثون بالصحة ولا مما اتفق عليه جمهور أهل القرون الأولى، وعلى تقدير صحتها يمكن أن يكون ذلك تطييباً للقلوب وتنظيفاً للماء لا من جهة الوجوب الشرعي كما ذُكر في كتب المالكية ودون نفي هذا الاحتمال خرط القتاد.
وبالجملة: فليس في هذا الباب شيء يُعتد به ويجب العمل عليه وحديث القلتين أثبت من ذلك كله بغير شبهة ومن المحال أن يكون الله تعالى شرع في هذه المسائل لعباده شيئاً زيادة على ما لا ينفكون عنه من الارتفاقات وهي مما يكثر وقوعه وتعم به البلوى ثم لا ينص عليه النبي صلى الله عليه وسلم نصاً جلياً ولا يستفيض في الصحابة ومن بعدهم ولا حديث واحد فيه والله أعلم انتهى. قلت: وقد أطال الحافظ ابن حجر رحمه الله تعالى في تخريج حديث القُلّتين والكلام عليه جرحاً وتعديلاً لفظاً ومعنى في كتابه تلخيص الحبير في تخريج
অতিরিক্ত অংশটি যেহেতু এমন বিষয়ে পরিণত হয়েছে যার অর্থের ওপর ইজমা (ঐক্যমত) হয়েছে এবং যা সর্বজনগ্রাহ্য হিসেবে গৃহীত হয়েছে, তাই এর মাধ্যমে দলিল পেশ করা ওই বিষয়ের ভিত্তিতেই, ইজমার ভিত্তিতে নয়। দ্বিতীয় বিষয় সম্পর্কে উত্তর হলো, যা পবিত্র পরিবর্তনকারী বস্তুর কারণে সাধারণ পানির (মা-এ মুতলাক) বৈশিষ্ট্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে।
এটি এই অধ্যায়ের তৃতীয় মাসআলা। এর প্রেক্ষাপট হলো, যে পানি দ্বারা আমাদের পবিত্রতা অর্জনের বিধান দেওয়া হয়েছে তা হলো সাধারণ পানি (মা-এ মুতলাক), যা অন্য কোনো মিশ্রিত বস্তুর দিকে সম্বন্ধযুক্ত নয়। যদি এতে এমন কিছু মিশে যায় যা ওই বস্তুর দিকে পানির সম্বন্ধ করাকে অনিবার্য করে তোলে—যেমন বলা হয় 'গোলাপ জল' বা অনুরূপ কিছু—তবে এই নির্দিষ্ট বস্তুর সাথে সম্বন্ধযুক্ত পানি (মা-এ মুকাইয়্যাদ) সেই সাধারণ পানি নয় যাকে পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহর বাণী: "পবিত্র পানি" এবং সুন্নাহতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "পানি পবিত্রকারক" হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। ফলে এটি 'পবিত্রকারক' হওয়ার গুণ হারিয়ে ফেলে, তবে এটি 'পবিত্র' হওয়া থেকে বিচ্যুত হয় না। কারণ ধরে নেওয়া হয়েছে যে মিশ্রিত বস্তুটি পবিত্র, আর দুটি পবিত্র বস্তুর সংমিশ্রণ তাদের উভয়ের সংমিশ্রণের পূর্বের অর্জিত গুণ থেকে বিচ্যুত হওয়াকে অনিবার্য করে না।
'হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: আর যে পানিকে শর্তহীনভাবে পানি বলা যায় না বরং কোনো শর্তের সাথে যুক্ত (মা-এ মুকাইয়্যাদ), তা দিয়ে অজু করার বিষয়টি শরীয়ত প্রাথমিক বিচারেই প্রত্যাখ্যান করে। তবে তা দিয়ে নাপাকি দূর করা সম্ভব, বরং এটিই অধিক সঠিক মত। ফকীহগণ কূপে প্রাণীর মৃত্যু, দশ-বাই-দশ (ওশরে ওশর) পরিমাণ এবং প্রবহমান পানির শাখা-প্রশাখা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন, অথচ এগুলোর কোনোটি সম্পর্কেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোনো হাদিস একেবারেই বর্ণিত হয়নি। আর সাহাবী ও তাবেয়ীগণ থেকে বর্ণিত আছারসমূহ, যেমন ইবনুল জুবায়ের থেকে হাবশী ক্রীতদাসের কূপে পড়ার ঘটনা, আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে ইঁদুরের ঘটনা এবং নাখয়ী ও শাবী থেকে বিড়াল জাতীয় প্রাণী সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে, মুহাদ্দিসগণ সেগুলোর বিশুদ্ধতা স্বীকার করেন না এবং প্রথম যুগের শ্রেষ্ঠ প্রজন্মসমূহের (সালাফ) জমহুরগণও এ ব্যাপারে একমত নন। যদি এগুলো বিশুদ্ধও ধরা হয়, তবে তা মনের প্রশান্তি এবং পানি পরিষ্কার রাখার উদ্দেশ্যে হওয়া সম্ভব, শারঈ ওয়াজিব (আবশ্যকতা) হিসেবে নয়—যেমনটি মালিকী মাযহাবের কিতাবসমূহে উল্লেখ করা হয়েছে। আর এই সম্ভাবনাকে নাকচ করা অত্যন্ত দুঃসাধ্য ব্যাপার।
সারকথা: এই অধ্যায়ে নির্ভরযোগ্য এবং যার ওপর আমল করা ওয়াজিব এমন কিছুই নেই। 'কুল্লাহতাইন' (দুই মটকা) সংক্রান্ত হাদিসটি নিঃসন্দেহে এসবের চেয়ে অধিক সুপ্রতিষ্ঠিত। এটা অসম্ভব যে, আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের জন্য এই মাসআলাসমূহে এমন কিছু বিধান দেবেন যা তাদের প্রাত্যহিক জীবনের প্রয়োজনীয়তার (ইরতিফাকাত) অতিরিক্ত, অথচ সেগুলো অধিক পরিমাণে ঘটে থাকে এবং যা সবার জন্যই সাধারণ সমস্যা (উমুমে বালওয়া), অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করবেন না এবং সাহাবী ও তাদের পরবর্তীদের মাঝে তা প্রসিদ্ধ হবে না এবং এর স্বপক্ষে একটি হাদিসও থাকবে না। আল্লাহই ভালো জানেন—সমাপ্ত। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: হাফেজ ইবনে হাজার রহমাতুল্লাহি আলাইহি তাঁর 'তালখিসুল হাবীর' কিতাবে কুল্লাহতাইনের হাদিসের তাখরীজ, এর বর্ণনাকারীদের যাচাই-বাছাই (জারহ-তাদীল) এবং শব্দ ও অর্থের ব্যাপারে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।
(খণ্ড: ১)
আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ ত্বা আল-মাআরিফাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
أخبار الرافعي الكبير إطالةً حسنةً فليرجع إليه.
"ولا فرق بين قليل وكثير" هذه المسألة الرابعة من مسائل الباب، والمراد بالقلة والكثرة ما وقع من الاختلاف في ذلك بين أهل العلم بعد إجماعهم على أن ما غيّرت النجاسة أحد أوصافه الثلاثة ليس بطاهر فقيل: إن الكثير ما بلغ قلتين والقليل ما كان دونهما لما أخرجه أحمد وأهل السنن والشافعي وابن خزيمة وابن حبان والحاكم والدارقطني والبيهقي وصححه الحاكم على شرط الشيخين من حديث عبد الله بن عمر بن الخطاب رضي الله تعالى عنهما قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم وهو يُسأل عن الماء يكون في الفلاة1 من الأرض وما ينوبه من السباع والدواب فقال: "إذا كان الماء قُلَّتين لم يحمل الخبث" وفي لفظ أحمد: "لم ينجسه شيء" وفي لفظ لأبي داود: "لم ينجس" وأخرجه بهذا اللفظ ابن حبان والحاكم وقال ابن مندة: إسناد حديث القُلّتين على شرط مسلم. انتهى. ولكنه حديث قد وقع الاضطراب في إسناده ومتنه كما هو مبين في مواطنه وقد أجاب من أجاب عن دعوى الاضطراب، وقد دلّ هذا الحديث على أن الماء إذا بلغ قُلّتين لم يحمل الخبث وإذا كان دون القُلّتين فقد يحمل الخبث ولكنه كما قيد حديث: "الماء طهور لا ينجسه شيء" بتلك الزيادة التي وقع الإجماع عليها كذلك يقيد حديث القلتين بها فيقال: إنه لا يحمل الخبث إذا بلغ قلتين في حال من الأحوال إلا في حال تغير بعض أوصافه بالنجاسة فإنه حينئذ قد حمل الخبث بالمشاهدة وضرورة الحس فلا منافاة بين حديث القلتين وبين تلك الزيادة المجمع عليها، وأما ما كان دون القلتين فهو مظنة لحمل الخبث وليس فيه أنه يحمل الخبث قطعاً وبتّاً ولا أن ما يحمله من الخبث يخرجه عن الطهورية لأن الخبث المخرج عن الطهورية هو خبث خاص وهو الموجب لتغير أحد أوصافه أو كلها لا الخبث الذي لم يغير، وحاصله: أن ما دل عليه مفهوم حديث القلتين من أن ما دونهما قد يحمل الخبث لا يُستفاد منه إلا أن ذلك المقدار إذا وقعت فيه نجاسة قد يحملها، وأما أنه يصير نجساً خارجاً عن كونه طاهراً فليس في هذا المفهوم ما يفيد ذلك ولا ملازمة بين حمل الخبث والنجاسة المخرجة عن الطهورية؛ لأن الشارع قد نفى
--------------------------------------------
ইমাম রাফেয়ি আল-কাবীর সম্পর্কে বিস্তারিত ও উত্তম আলোচনা রয়েছে, সুতরাং সেদিকে প্রত্যাবর্তন করা উচিত।
"এবং সামান্য ও বেশির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই" - এটি এই পরিচ্ছেদের চতুর্থ মাসআলা। আর স্বল্পতা ও আধিক্য দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই মতভেদ যা আলিমদের মধ্যে এ বিষয়ে সংঘটিত হয়েছে—সেই বিষয়ের উপর তাঁদের ঐক্যমত্যের (ইজমার) পর—যে, নাপাকি যদি পানির তিনটি গুণের কোনো একটিকে পরিবর্তন করে দেয় তবে তা পবিত্র থাকে না। সুতরাং বলা হয়েছে: ‘অধিক’ হলো যা দুই কুল্লায় পৌঁছেছে এবং ‘সামান্য’ হলো যা তার কম। কারণ এটি বর্ণনা করেছেন আহমাদ, সুনানগ্রন্থসমূহের সংকলকগণ, শাফেয়ি, ইবনে খুযাইমাহ, ইবনে হিব্বান, হাকিম, দারাকুতনি ও বায়হাকি। এবং হাকিম একে শাইখাইনের (বুখারি ও মুসলিম) শর্তানুযায়ী সহিহ বলেছেন। এটি আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হাদিস থেকে, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যখন তাঁকে সেই পানি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছিল যা কোনো নির্জন প্রান্তরে১ থাকে এবং যেখানে হিংস্র পশু ও চতুষ্পদ জন্তু যাতায়াত করে। তিনি বললেন: "যখন পানি দুই কুল্লা পরিমাণ হয়, তখন তা অপবিত্রতা বহন করে না।" আহমাদের শব্দে রয়েছে: "একে কোনো কিছু নাপাক করে না।" আবু দাউদের এক শব্দে আছে: "তা নাপাক হয় না।" ইবনে হিব্বান ও হাকিমও এই শব্দে বর্ণনা করেছেন। ইবনে মানদাহ বলেন: দুই কুল্লার হাদিসের সনদ মুসলিমের শর্তানুযায়ী। সমাপ্ত। কিন্তু এটি এমন একটি হাদিস যার সনদ ও মূল পাঠে (মতনে) অস্থিরতা (ইযতিরাব) পরিলক্ষিত হয়েছে, যেমনটি তার নিজ নিজ স্থানে স্পষ্টভাবে বর্ণিত আছে। যারা ইযতিরাবের দাবির জবাব দেওয়ার তারা তা দিয়েছেন। এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, পানি যখন দুই কুল্লায় পৌঁছায় তখন তা অপবিত্রতা বহন করে না, আর যখন তা দুই কুল্লার কম হয় তখন তা অপবিত্রতা বহন করতে পারে। কিন্তু যেমনভাবে "পানি পবিত্র, একে কোনো কিছু নাপাক করে না" হাদিসটিকে সেই অতিরিক্ত অংশ দ্বারা সীমাবদ্ধ করা হয়েছে যার উপর ইজমা হয়েছে, ঠিক তেমনি দুই কুল্লার হাদিসকেও তার মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করা হবে। অতঃপর বলা হবে: পানি যখন দুই কুল্লায় পৌঁছায় তখন কোনো অবস্থাতেই তা অপবিত্রতা বহন করে না, তবে যদি নাপাকির কারণে তার কোনো গুণ পরিবর্তিত হয়ে যায়, কারণ তখন চাক্ষুষ দর্শন ও ইন্দ্রিয়লব্ধ প্রয়োজনীয় জ্ঞানের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে এটি অপবিত্রতা বহন করেছে। সুতরাং দুই কুল্লার হাদিস এবং ইজমা হওয়া সেই অতিরিক্ত অংশের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। আর যা দুই কুল্লার নিচে, তা অপবিত্রতা বহনের আশঙ্কা রাখে মাত্র। এর মানে এই নয় যে, তা নিশ্চিতভাবে ও অকাট্যভাবে অপবিত্রতা বহন করবে, কিংবা যা বহন করবে তা তাকে পবিত্রতা থেকে বের করে দেবে। কেননা পবিত্রতা বিনষ্টকারী অপবিত্রতা হলো একটি বিশেষ অপবিত্রতা, আর তা হলো পানির গুণাবলির একটি বা সবকয়টি পরিবর্তনকারী হওয়া; সেই অপবিত্রতা নয় যা পরিবর্তন ঘটায় না। এর সারকথা হলো: দুই কুল্লার হাদিসের মর্মার্থ (মাফহুম) থেকে যা পাওয়া যায় যে, যা দুই কুল্লার কম তা অপবিত্রতা বহন করতে পারে, তা থেকে কেবল এতটুকুই বুঝা যায় যে উক্ত পরিমাণ পানিতে নাপাকি পতিত হলে তা অপবিত্রতা বহন করতে পারে। আর তা যে নাপাক হয়ে পবিত্রতার গণ্ডি থেকে বের হয়ে যাবে, এই মর্মার্থের মধ্যে এমন কিছু নেই যা তা প্রমাণ করে। অপবিত্রতা বহন করা এবং পবিত্রতা বিনষ্টকারী নাপাক হওয়ার মধ্যে কোনো অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক নেই; কারণ শারঈ বিধানদাতা অস্বীকার করেছেন—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ ত্বা আল-মাআরিফাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
النجاسة عن مطلق الماء كما في حديث أبي سعيد المتقدم وما شهد له ونفاها عن الماء المقيد بالقلتين! كما في حديث عبد الله بن عمر المتقدم أيضاً وكان النفي بلفظ هو أعم صيغ العام فقال في الأول: "لا ينجسه شيء" وقال في الثاني أيضا كما في تلك الرواية: "لم ينجسه شيء" فأفاد ذلك أن كل ماء يوجد على وجه الأرض طاهر إلا ما ورد فيه التصريح بما يخصص هذا العام مصرحاً بأنه يصير الماء نجساً كما وقع في تلك الزيادة التي وقع الإجماع عليها فإنها وردت بصيغة الاستثناء من ذلك الحديث فكانت من المخصصات المتصلة بالنسبة إلى حديث أبي سعيد ومن المخصصات المنفصلة بالنسبة إلى حديث عبد الله بن عمر رضي الله تعالى عنهما على القول الراجح في الأصول وهو: أنه يُبنى العام على الخاص مطلقاً فتقرر بهذا أنه لا منافاة بين مفهوم حديث القلتين وبين سائر الأحاديث بل يقال فيه: إن مادون القلتين إن حمل الخبث حملاً استلزم تغير ريح الماء أو لونه أو طعمه فهذا هو الأمر الموجب للنجاسة والخروج عن الطهورية وإن حمله حملاً لا يغير أحد تلك الأوصاف فليس هذا الحمل مستلزماً للنجاسة. .وقد ذهب إلى تقدير الماء القليل بما دون القلتين والكثير بهما الشافعي رحمه الله وأصحابه رحمهم الله وذهب إلى تقدير القليل بما يظن استعمال النجاسة باستعماله والكثير بما لا يظن استعمال النجاسة باستعماله ابن عمر ومجاهد، وقد روي أيضا عن الشافعية رحمهم الله والحنفية رحمهم الله وأحمد بن حنبل رحمه الله ولا أدري هل تصح هذه الرواية أم لا فمذاهب هؤلاء مُدونّة في كتب أتباعهم من أراد الوقوف عليها راجعها واحتج أهل هذا المذهب بمثل قوله تعالى: {وَالرُّجْزَ1 فَاهْجُرْ} وبخبر الاستيقاظ وخبر الولوغ وأحاديث النهي عن البول في الماء الدائم وهي جميعها في الصحيح ولكنها لا تدل على المطلوب ولو فرضنا أن لشيء منها دلالة بوجه ما كان ما أفادته تلك الدلالة مقيداً بما تقدّم لأن التعبد إنما هو بالظنون الواقعة على الوجه المطابق
--------------------------------------------
আবু সাঈদের পূর্বে উল্লিখিত হাদিস এবং এর সমার্থক বর্ণনা অনুযায়ী সাধারণ পানি থেকে নাপাকিকে নাকচ করা হয়েছে এবং আব্দুল্লাহ বিন উমরের পূর্বে উল্লিখিত হাদিস অনুযায়ী দুই কুল্লা পরিমাণ পানির ক্ষেত্রেও নাপাকিকে নাকচ করা হয়েছে। এই অস্বীকৃতি বা না-বোধক শব্দগুলো ছিল সাধারণ পরিভাষার মধ্যে সবচেয়ে ব্যাপক। প্রথমটিতে বলা হয়েছে: "কোনো কিছুই একে অপবিত্র করে না" এবং দ্বিতীয়টিতেও ওই বর্ণনার অনুরূপ বলা হয়েছে: "কোনো কিছুই একে অপবিত্র করেনি"। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ভূপৃষ্ঠে বিদ্যমান সকল পানিই পবিত্র, তবে যে ক্ষেত্রে এই সাধারণ বিধানকে সুনির্দিষ্ট করার স্পষ্ট বর্ণনা এসেছে সেটি ব্যতীত; যেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে পানি অপবিত্র হয়ে যায়, যেমনটি সেই অতিরিক্ত অংশে এসেছে যার ওপর ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কারণ তা ওই হাদিসের ব্যতিক্রম হিসেবে এসেছে। ফলে উসুল তথা মূলনীতির অগ্রগণ্য মতানুসারে, আবু সাঈদের হাদিসের সাপেক্ষে এটি সংযুক্ত বিশেষক এবং আব্দুল্লাহ বিন উমর (রা.)-এর হাদিসের সাপেক্ষে এটি বিচ্ছিন্ন বিশেষক হিসেবে গণ্য। আর সেই নীতিটি হলো: সাধারণকে সর্বাবস্থায় বিশেষের ওপর প্রয়োগ করা হবে। এর মাধ্যমে এটি প্রতিষ্ঠিত হলো যে, দুই কুল্লার হাদিসের মর্মার্থ এবং অন্যান্য হাদিসের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। বরং বলা যায় যে, দুই কুল্লার কম পানি যদি এমনভাবে অপবিত্রতা বহন করে যার ফলে পানির ঘ্রাণ, রঙ অথবা স্বাদ পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে এটিই পানি অপবিত্র হওয়া এবং পবিত্রতা থেকে বের হয়ে যাওয়ার কারণ। আর যদি তা এমনভাবে বহন করে যাতে ওই গুণাবলির কোনোটিই পরিবর্তিত না হয়, তবে এই বহন করাটা পানি অপবিত্র হওয়ার অপরিহার্য কারণ নয়।
ইমাম শাফেয়ি (রহ.) এবং তাঁর অনুসারীগণ অল্প পানিকে দুই কুল্লার কম এবং বেশি পানিকে দুই কুল্লা বা তার বেশি দ্বারা নির্ধারণ করেছেন। ইবনে উমর এবং মুজাহিদ অল্প পানির সংজ্ঞা দিয়েছেন এমন পরিমাণকে যা ব্যবহার করলে অপবিত্রতা ব্যবহারের আশঙ্কা থাকে, আর বেশি পানির সংজ্ঞা দিয়েছেন যা ব্যবহারে অপবিত্রতা ব্যবহারের আশঙ্কা থাকে না। এটি শাফেয়ি, হানাফি এবং আহমদ বিন হাম্বল (রহ.) থেকেও বর্ণিত হয়েছে। তবে এই বর্ণনাটি সঠিক কি না তা আমার জানা নেই। তাঁদের মতবাদগুলো তাঁদের অনুসারীদের কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে, যারা এ সম্পর্কে জানতে চান তারা সেখানে দেখে নিতে পারেন। এই মতাবলম্বীরা মহান আল্লাহর বাণী: "এবং অপবিত্রতা বর্জন করো" এবং ঘুম থেকে জেগে ওঠার হাদিস, কুকুর কর্তৃক পাত্র চাটার হাদিস এবং আবদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করা নিষেধ সংক্রান্ত হাদিসগুলো দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। এই সবগুলো হাদিসই সহিহ গ্রন্থে বিদ্যমান, কিন্তু এগুলো উদ্দিষ্ট বিষয়ের ওপর সরাসরি প্রমাণ পেশ করে না। আর যদি ধরেও নেওয়া হয় যে এর কোনোটির কোনো দিক থেকে প্রমাণ করার সক্ষমতা আছে, তবে সেই প্রমাণটি পূর্বে উল্লিখিত বর্ণনার দ্বারা সীমাবদ্ধ হবে; কারণ ইবাদত কেবল সেই প্রবল ধারণার ভিত্তিতেই হয় যা দলিলে বিধৃত পদ্ধতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ ত্বা আল-মাআরিফাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
للشرع على أنه لا يبعد أن يقال: إن العاقل لا يظن استعمال النجاسة باستعمال الماء إلا إذا خالطت الماء بجِرمها أو بريحها أو بلونها أو بطعمها مخالطة ظاهرة توجب ذلك الظن، ولا شك ولا ريب أن ما كان من الماء على هذه الصفة ينجس لأن المخالطة إن كانت بالجِرم فالمتوضئ مستعمل لعين النجاسة وإن كانت المخالطة بالريح أو اللون أو الطعم فلا مخالفة بين هذا المذهب وذلك المذهب الذي رجحناه. .
والحاصل: أنهم إن أرادوا بقولهم إن ظُنّ استعمال النجاسة باستعماله فهو القليل وإن لم يظن فهو الكثير ما هو أعم من عين النجاسة وريحها ولونها وطعمها فلا مخالفة بين هذا المذهب وذلك المذهب الذي رجحناه إلا من جهة أن هؤلاء اعتبروا المظنّة وأهل المذهب الأول اعتبروا المَئنّة1 ولكن لا يخفى أن المظنة إذا كانت هي الصادرة من غير أهل الوسوسة والشكوك فهي لا تكاد تخالف المِئنّة في مثل هذا الموضع وإن أرادوا استعمال العين فقط أو عدم استعمال العين فقط فهو مذهب مستقل غير ذلك المذهب ولكن الظاهر أنهم أرادوا المعنى الأول، ويدل على ذلك أنه قد وقع الإجماع على أن ما غيّر لون الماء أو ريحه أو طعمه من النجاسات أوجب تنجيسه كما تقدم تقريره فأهل هذا المذهب من جملة القائلين بذلك لدخولهم في الإجماع بل هو مصرِّح لحكاية الإجماع في البحر فتقرر بهذا أنهم يريدون المعنى الأول أعني الأعم من العين والريح واللون والطعم ثبوتا وانتقاء، وحينئذ فلا مخالفة بين المذهبين لأن أهل المذهب الأول لا يخالفون في أن استعمال المطهر لعين النجاسة مع الماء موجب لخروج الماء عن الطهورية خروجاً زائداً على خروجه عند استعمال ما فيه مجرد الريح أو اللون أو الطعم فتأمل هذا فهو مفيد، بل مجموع ما اشتمل عليه هذا البحث في الجمع بين المذاهب المختلفة في الماء وبين الأدلة الدالة عليها على هذه الصورة التي لخصتها مما لم أقف عليه لأحد من أهل العلم، وهذه المسألة هي من المضايق التي يتعثر في ساحاتها كل محقق ويتبلّد عند تشعب طرائقها كل مدقق، وقد حررها الماتن في سائر مؤلفاته2 تحريرات مختلفة لهذه العلة وأطال
--------------------------------------------
শরিয়তের দৃষ্টিতে এ কথা বলা অমূলক নয় যে: একজন বুদ্ধিমান ব্যক্তি পানি ব্যবহারের মাধ্যমে অপবিত্রতা ব্যবহারের ধারণা তখনই করবেন, যখন অপবিত্রতাটি তার মূল বস্তু, ঘ্রাণ, বর্ণ অথবা স্বাদের মাধ্যমে পানির সাথে এমনভাবে স্পষ্টভাবে মিশে যাবে যা উক্ত ধারণাকে অবধারিত করে তোলে। এতে কোনো সন্দেহ ও সংশয় নেই যে, এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারী পানি অপবিত্র হয়ে যায়। কারণ, মিশ্রণটি যদি মূল বস্তুর মাধ্যমে হয়, তবে অজুকারী ব্যক্তি মূলত অপবিত্রতার মূল সত্তাই ব্যবহার করছে। আর যদি মিশ্রণটি ঘ্রাণ, বর্ণ কিংবা স্বাদের মাধ্যমে হয়, তবে এই মতবাদ এবং আমরা যে মতবাদটিকে প্রাধান্য দিয়েছি—উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না।
সারকথা হলো: তারা যদি তাদের এই বক্তব্যের মাধ্যমে—যে পানি ব্যবহারের ফলে অপবিত্রতা ব্যবহারের প্রবল ধারণা হয় তা 'অল্প', আর যদি এমন ধারণা না হয় তবে তা 'বেশি'—অপবিত্রতার মূল সত্তা, ঘ্রাণ, বর্ণ ও স্বাদের চেয়ে ব্যাপকতর কিছু বুঝিয়ে থাকেন, তবে এই মতবাদ এবং আমরা যে মতবাদটিকে প্রাধান্য দিয়েছি তার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। পার্থক্য কেবল এতটুকু যে, তারা 'প্রবল ধারণা'কে (মাজান্নাহ) ধর্তব্য গণ্য করেছেন, আর প্রথম মতবাদের অনুসারীরা 'সুনিশ্চিত আলামত'কে (মাইননাহ)১ ধর্তব্য গণ্য করেছেন। তবে এটি অস্পষ্ট নয় যে, প্রবল ধারণা যদি এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে হয় যিনি ওয়াসওয়াসা (খুতখুতে স্বভাব) ও সংশয়গ্রস্ত নন, তবে এই জাতীয় ক্ষেত্রে তা সুনিশ্চিত আলামতের চেয়ে ভিন্ন কিছু হয় না। আর যদি তারা কেবল অপবিত্রতার মূল সত্তার ব্যবহার বা অব্যবহার উদ্দেশ্য করে থাকেন, তবে এটি একটি স্বতন্ত্র মতবাদ হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু বাহ্যত প্রতীয়মান হয় যে, তারা প্রথম অর্থটিই গ্রহণ করেছেন। এর প্রমাণ হলো, এ বিষয়ে ইজমা (ঐক্যমত) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, যে সকল অপবিত্রতা পানির বর্ণ, ঘ্রাণ বা স্বাদ পরিবর্তন করে দেয়, তা পানিকে অপবিত্র করে ফেলে, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং এই মতবাদের অনুসারীরাও উক্ত ইজমার অন্তর্ভুক্ত; বরং 'আল-বাহর' গ্রন্থে স্পষ্টভাবে এই ইজমার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর দ্বারা সাব্যস্ত হলো যে, তারা প্রথম অর্থটিই বুঝাতে চেয়েছেন; অর্থাৎ অস্তিত্ব ও অনস্তিত্ব—উভয় ক্ষেত্রেই মূল সত্তা, ঘ্রাণ, বর্ণ ও স্বাদের ব্যাপক অর্থটিই উদ্দেশ্য। এমতাবস্থায় উভয় মতবাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। কারণ প্রথম মতবাদের অনুসারীরা এই বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন না যে, পানির সাথে অপবিত্রতার মূল সত্তার সংমিশ্রণে পবিত্রতা অর্জনকারী বস্তুর ব্যবহার পানিকে পবিত্রতা রক্ষার সীমা থেকে এমনভাবে বের করে দেয় যা কেবল ঘ্রাণ, বর্ণ বা স্বাদ থাকার কারণে পানি ব্যবহারের চেয়েও প্রকট। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করুন, এটি অত্যন্ত উপকারী। বস্তুত, পানির বিষয়ে বিভিন্ন মতবাদের মধ্যে সমন্বয় এবং সেগুলোর সপক্ষে দলীলসমূহের বিন্যাস আমি যেভাবে সারসংক্ষেপ আকারে পেশ করেছি, তা অন্য কোনো আলেমের নিকট আমি পাইনি। এই মাসআলাটি এমন এক জটিল সংকীর্ণ স্থান যেখানে প্রত্যেক গবেষকই হোঁচট খায় এবং এর বিভিন্ন পথের শাখা-প্রশাখা দেখে প্রত্যেক সূক্ষ্মদর্শী আলেমও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যান। মূল লেখক (মাতন) এই কারণেই তাঁর অন্যান্য রচনায়২ এটিকে ভিন্ন ভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করেছেন এবং দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ ত্বা আল-মাআরিফাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الكلام عليها في طيب النشر في المسائل العشر..
وقد استدل بعض أهل العلم بمثل حديث: "استفت قلبك وإن أفتاك المفتون"، ومثل حديث: "دع ما يريبك إلى ما لا يريبك" ولا يستفاد منهما إلا أن التورع عند الظن من الإقدام أولى، وأهل هذا المذهب يوجبون العمل بذلك الظن حتماً وجزماً، وقد عرفت أن أدلة المذهب الأولى على الوجه الذي لخصناه تدل على المذهب الثاني فإبعاد النُّجعة إلى مثل حديث: "استفت قلبك" و"دع ما يريبك" ليس كما ينبغي فإن قيل: إنه قصد الاستدلال على مجرد العمل بالظن من غير نظر إلى هذه المسألة فيقال: أدلة العمل بالظن في الكتاب والسنة أكثر من أن تحصر وأكثر منها أدلة النهي عن العمل به، وهكذا التعويل على حديث الولوغ والاستيقاظ ونحو ذلك لا يفيد، وقد حُكي في تحديد الماء الكثير أقوال منها: أن الكثير هو المستبحر وقيل: ما إذا حُرِّك طرفه لم يتحرك الطرف الآخر، وقيل: ما كان مساحة مكانه كذا وقيل: غير ذلك وهذه الأقوال ليس عليها أثارة من علم بل هي خارجة عن باب الرواية المقبولة والدراية المعقولة.
"وما فوق القلتين وما دونهما" قدَّر الشافعي الماء الذي لا ينجس بوقوع النجاسة ما لم يتغير بالقلتين وقدَّرهما بخمس قرب وفسرها أصحابه بخمسمائة رطل، وقدّره الحنفية بالغدير الكبير الذي لا يتحرك جانب منه بتحريك الآخر والعشر في العشر كذا في المسوى شرح الموطأ، وقال في حجة الله البالغة: ومن لم يقل بالقلتين اضطر إلى مثلهما في ضبط الماء الكثير كالمالكية أو الرخصة في آبار الفلوات من نحو أبعار الإبل انتهى. ويدفع ذلك ما مر من عدم الفرق بين ما دون القلتين وما فوقهما مع الدليل عليه، وإن شئت زيادة التفصيل فعليك بالفتح الرباني في فتاوى الشوكاني ففيها ما يشفي العليل ويسقي الغليل.
"ومتحرك وساكن"، وجه ذلك أن سكونه وإن كان قد ورد النهي عن التطهير به حالة1 فإن ذلك لا يخرجه عن كونه طهوراً لأنه يعود إلى وصف كونه طهوراً بمجرد تحركه، وقد دلّت الأحاديث على أنه لا يجوز التطهير بالماء الساكن مادام ساكنا كحديث
--------------------------------------------
এ বিষয়ে আলোচনা 'তিবুন নাশর ফিল মাসাইলিল আশর' গ্রন্থে রয়েছে...
কিছু আলেম এই হাদিসের মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন: "তোমার হৃদয়ের কাছে ফতোয়া চাও, যদিও ফতোয়াদাতারা তোমাকে ফতোয়া দেয়", এবং এই হাদিসের মতো: "যা তোমাকে সন্দেহে ফেলে তা ছেড়ে দাও এবং যাতে সন্দেহ নেই তা গ্রহণ করো"। এগুলো থেকে কেবল এটাই বুঝা যায় যে, কোনো কাজের ক্ষেত্রে ধারণার বশবর্তী হয়ে অগ্রসর হওয়ার চেয়ে পরহেজগারী অবলম্বন করা উত্তম। কিন্তু এই মাযহাবের অনুসারীরা সেই ধারণার ওপর আমল করাকে অপরিহার্য ও অকাট্য বলে মনে করেন। আপনি জেনেছেন যে, প্রথম মাযহাবের দলিলগুলো যেভাবে আমরা সংক্ষেপ করেছি, তা মূলত দ্বিতীয় মাযহাবকেই নির্দেশ করে। সুতরাং "তোমার হৃদয়ের কাছে ফতোয়া চাও" এবং "সন্দেহযুক্ত বিষয় ত্যাগ করো"—এই জাতীয় হাদিসগুলোর দিকে ধাবিত হওয়া সঙ্গত নয়। যদি বলা হয় যে, এই নির্দিষ্ট মাসআলা বাদ দিয়ে কেবল ধারণার ওপর ভিত্তি করে আমল করার ব্যাপারে দলিল পেশ করা উদ্দেশ্য, তবে বলা হবে: কুরআন ও সুন্নাহতে ধারণার ওপর ভিত্তি করে আমল করার দলিল অগণিত, তবে তার চেয়েও বেশি হলো ধারণা অনুযায়ী আমল করা থেকে নিষেধ করার দলিলসমূহ। একইভাবে (কুকুরের পাত্রে) মুখ দেওয়া বা ঘুম থেকে জেগে ওঠা সংক্রান্ত হাদিসের ওপর নির্ভর করা কোনো ফল দেয় না। বেশি পরিমাণ পানির সীমানা নির্ধারণে বিভিন্ন মত বর্ণিত হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে: অঢেল পানি (সাগরসদৃশ), আবার বলা হয়েছে: যার এক দিক নাড়ালে অন্য দিক নড়ে না, আবার বলা হয়েছে: যার জায়গার আয়তন নির্দিষ্ট পরিমাণ, এবং আরও অন্যান্য মত। এই মতগুলোর কোনো জ্ঞানগত ভিত্তি নেই, বরং এগুলো গ্রহণযোগ্য বর্ণনা এবং যুক্তিসঙ্গত বুঝের আওতার বাইরে।
"দুই কুল্লা (মটকা) এবং তার কম-বেশি": ইমাম শাফেঈ সেই পানির পরিমাণকে দুই কুল্লা নির্ধারণ করেছেন যা অপবিত্রতা পড়লে নাপাক হয় না যতক্ষণ না তার গুণ পরিবর্তিত হয়। তিনি একে পাঁচটি বড় মশকের সমান নির্ধারণ করেছেন এবং তাঁর অনুসারীরা একে পাঁচশত রতল হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। হানাফীগণ একে বড় জলাশয় হিসেবে নির্ধারণ করেছেন যার এক দিক নাড়ালে অন্য দিক নড়ে না এবং দশ হাত বাই দশ হাত—যেমনটি মুওয়াত্তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আল-মুসাওওয়া'তে রয়েছে। 'হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: যারা দুই কুল্লার কথা বলেন না, তারাও পানির পরিমাপ নির্ধারণে এর সমজাতীয় কোনো সীমানা দিতে বাধ্য হন, যেমন মালেকীগণ অথবা মরুভূমির কূপের ক্ষেত্রে উটের বিষ্ঠার মতো বিষয়ের ছাড় দেওয়া। সমাপ্ত। এটি সেই দলিলের মাধ্যমে খণ্ডন করা যায় যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, দুই কুল্লার কম বা বেশির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই এবং এর সপক্ষে দলিলও বিদ্যমান। আপনি যদি আরও বিস্তারিত জানতে চান, তবে শাওকানির ফাতাওয়া 'আল-ফাতহুর রব্বানী' দেখতে পারেন, এতে অনুসন্ধিৎসু মনের জন্য পর্যাপ্ত জ্ঞান ও নিরাময় রয়েছে।
"প্রবাহমান ও স্থির (পানি)": এর কারণ হলো, পানির স্থির অবস্থায় তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জনে যদিও নিষেধাজ্ঞা বর্ণিত হয়েছে, তবুও তা তার পবিত্রকারী হওয়ার গুণকে নষ্ট করে দেয় না। কেননা নড়াচড়া শুরু করার সাথে সাথেই তা পুনরায় পবিত্রকারী হওয়ার গুণ ফিরে পায়। হাদিসসমূহ প্রমাণ করে যে, স্থির পানি যতক্ষণ স্থির থাকে ততক্ষণ তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন জায়েজ নয়, যেমন হাদিস...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ ত্বা আল-মাআরিফাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
أبي هريرة رضي الله تعالى عنه عند مسلم وغيره أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "لا يغتسلنّ أحدكم في الماء الدائم وهو جنب" فقالوا يا أبا هريرة: كيف يفعل؟ قال: يتناوله تناولاً، وفي لفظ لأحمد وأبي داود: "لا يبولن أحدكم في الماء الدائم ولا يغتسل فيه من جنابة" وفي لفظ للبخاري: "لا يبولن أحدكم في الماء الدائم الذي لا يجري ثم يغتسل فيه" وفي لفظ للترمذي: "ثم يتوضأ منه" وغير هذه الرويات التي يفيد مجموعها النهي عن البول في الماء الدائم على انفراده والنهي عن الاغتسال فيه على انفراده والنهي عن مجموع الأمرين ولا يصح أن يقال: إن روايتي الانفراد مقيدتان بالاجتماع لأن البول في الماء على انفراده لا يجوز فأفاد هذا أن الاغتسال والوضوء في الماء الدائم من دون بول فيه غير جائز فمن لم يجد إلا ماء ساكنا وأراد أن يتطهر منه فعليه أن يحتال قبل ذلك بأن يحركه حتى يخرج عن وصف كونه ساكناً ثم يتوضأ منه، وأما أبو هريرة فقد حمل النهي على الانغماس في الماء الدائم ولهذا لما سئل كيف يفعل قال: يتناوله تناولاً ولكنه لا يتم ذلك في الوضوء فإنه لا انغماس فيه بل هو يتناوله تناولاً من الابتداء فالأوْلى تحريك الماء قبل الشروع في الطهارة ثم يتطهر1 به، وقد ذهب الجمهور إلى خلاف ما دلت عليه هذه الروايات فلم يفرقوا بين المتحرك والساكن ومنهم من قال: إن هذه الروايات محمولة على الكراهة فقط ولا وجه لذلك وقد قيل إن المُستبحر مخصوص من هذا بالإجماع والراجح أن الماء الساكن لا يحل التطهر به مادام ساكناً فإذا تحرك عاد له وصفه الأصلي وهو كونه مطهراً وهذه هي المسألة الخامسة من مسائل الباب.
"ومستعمَل وغير مستعمَل" هذه المسألة السادسة من مسائل الباب وقد وقع الاختلاف بين أهل العلم في الماء المستعمل لعبادة من العبادات هل يخرج بذلك عن كونه مُطهِّراً أم لا؟ فحُكي عن أحمد بن حنبل والليث والأوزاعي والشافعي ومالك في إحدى الروايتين عنهما وأبي حنيفة في رواية عنه أن الماء المستعمل غير مطهِّر واستدلوا بما تقدم من حديث النهي عن الاغتسال في الماء الدائم ولا دلالة له على ذلك لأن علة النهي عن التطهير به ليست كون ذلك الماء مستعملاً بل كونه ساكناً وعلة السكون لا ملازمة بينها وبين الاستعمال،
--------------------------------------------
আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মুসলিম ও অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন অপবিত্র অবস্থায় স্থির পানিতে গোসল না করে।" তারা জিজ্ঞাসা করলেন, হে আবু হুরাইরা! সে তবে কী করবে? তিনি বললেন: "সে তা থেকে পানি তুলে নিয়ে ব্যবহার করবে।" আহমাদ ও আবু দাউদের বর্ণনায় এসেছে: "তোমাদের কেউ যেন স্থির পানিতে প্রস্রাব না করে এবং তাতে অপবিত্রতা (জানাবাত) থেকে গোসল না করে।" বুখারীর বর্ণনায় এসেছে: "তোমাদের কেউ যেন সেই স্থির পানিতে প্রস্রাব না করে যা প্রবাহিত হয় না, অতঃপর তাতে গোসল করে।" তিরমিযীর বর্ণনায় রয়েছে: "অতঃপর তা থেকে ওযু করে।" এছাড়া আরও অন্যান্য বর্ণনা রয়েছে যেগুলোর সমষ্টিগত অর্থ হলো—স্থির পানিতে এককভাবে প্রস্রাব করা নিষেধ, তাতে এককভাবে গোসল করা নিষেধ এবং উভয় কাজের একত্রিত রূপও নিষেধ। এটা বলা সঠিক নয় যে, এককভাবে বর্ণনাকৃত হাদীস দুটি একত্রিত বর্ণনার সাথে শর্তযুক্ত; কারণ পানিতে এককভাবে প্রস্রাব করা জায়েজ নয়। সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, প্রস্রাব করা ছাড়াও স্থির পানিতে গোসল বা ওযু করা জায়েজ নয়। অতএব, কেউ যদি স্থির পানি ছাড়া আর কিছু না পায় এবং সে তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করতে চায়, তবে তার উচিত ওযু করার পূর্বে কোনো কৌশল অবলম্বন করে পানিকে নাড়া দেওয়া, যাতে এটি স্থির থাকার বৈশিষ্ট্য থেকে বেরিয়ে যায় এবং এরপর তা দিয়ে ওযু করা। আর আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এই নিষেধকে স্থির পানিতে ডুব দেওয়ার ওপর প্রয়োগ করেছেন, আর একারণেই যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো যে সে কী করবে, তিনি বলেছিলেন: "সে তা তুলে নিয়ে ব্যবহার করবে।" তবে ওযুর ক্ষেত্রে এটি পুরোপুরি কার্যকর হয় না কারণ ওযুতে পানিতে ডোবার বিষয় নেই, বরং সে শুরু থেকেই পানি তুলে নিয়ে ব্যবহার করে। তাই উত্তম হলো পবিত্রতা শুরু করার আগে পানি নাড়িয়ে নেওয়া এবং তারপর তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা। জমহুর উলামায়ে কেরাম এই বর্ণনাগুলো যা নির্দেশ করে তার বিপরীত মত পোষণ করেছেন। তাঁরা প্রবহমান ও স্থির পানির মাঝে কোনো পার্থক্য করেননি। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: এই বর্ণনাগুলো কেবল মাকরুহ হওয়ার ওপর প্রযোজ্য, তবে এর কোনো শক্তিশালী ভিত্তি নেই। আরও বলা হয়েছে যে, বিশাল জলাধার ঐকমত্যের ভিত্তিতে এর বাইরে থাকবে। অধিকতর সঠিক মত হলো—স্থির পানি যতক্ষণ স্থির থাকে, ততক্ষণ তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ নয়। কিন্তু যখন তা নড়াচড়া করবে বা প্রবহমান হবে, তখন তার আদি বৈশিষ্ট্য তথা পবিত্রকারী হওয়ার গুণ ফিরে আসবে। এটিই এই অধ্যায়ের পঞ্চম মাসয়ালা।
"ব্যবহৃত এবং অব্যবহৃত পানি"; এটি অধ্যায়ের ষষ্ঠ মাসয়ালা। কোনো ইবাদতের জন্য ব্যবহৃত পানি কি তার পবিত্রকারী হওয়ার গুণ হারিয়ে ফেলে কি না—এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। আহমাদ বিন হাম্বল, লাইস, আওযাঈ, শাফিঈ ও মালিকের এক বর্ণনা এবং আবু হানিফার এক বর্ণনা অনুযায়ী ব্যবহৃত পানি পবিত্রকারী নয়। তাঁরা ইতিপূর্বে উল্লিখিত স্থির পানিতে গোসল করা নিষেধ সম্বলিত হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। কিন্তু এটি এই বিষয়ের ওপর কোনো দলিল নয়; কারণ তাতে পবিত্রতা অর্জনে নিষেধের কারণ পানিটি ব্যবহৃত হওয়া নয়, বরং তা স্থির হওয়া। আর স্থির হওয়ার সাথে ব্যবহৃত হওয়ার কোনো অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ ত্বা আল-মাআরিফাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
واحتجوا أيضاً بما ورد من النهي عن الوضوء بفضل وضوء المرأة ولا تنحصر علة ذلك في الاستعمال كما سيأتي تحقيقه إن شاء الله تعالى فلا يتم الاستدلال بذلك لاحتماله، ولو كانت العلة الاستعمال لم يختص النهي بمنع الرجل من الوضوء بفضل المرأة والعكس بل كان النهي سيقع من الشارع لكل أحد عن كل فضل، ومن جملة ما استدلوا به: أن السلف كانوا يكملون الطهارة بالتيمم عند قلة الماء لا بماء ساقط منه وهذه حجة ساقطة لا ينبغي التعويل على مثلها في إثبات الأحكام الشرعية، فعلى هذا المستدل أن يوضح هل كان هذا التكميل يفعله جميع السلف أو بعضهم والأول باطل والثاني لا يُدرى من هو فليبين لنا من هو على أنه لا حجة إلا الإجماع عند من يحتج بالإجماع، وقد استدلوا بأدلة هي أجنبية عن محل النزاع مثل: حديث غسل اليد ثلاثاً بعد الإستيقياظ قبل إدخالها الإناء ونحوه فالحق أن المستعمل طاهر ومطهر عملاً بالأصل وبالأدلة الدالة على أن الماء طهور، وقد ذهب إلى هذا جماعة من السلف والخلف ونسبه ابن حزم إلى عطاء وسفيان الثوري وأبي ثور وجميع أهل الظاهر ونقله غيره عن الحسن البصري والزهري والنخعي ومالك والشافعي وأبي حنيفة في إحداى الروايات عن الثلاثة المتأخرين، والحق أن الماء لا يخرج عن كونه طهوراً بمجرد استعماله للطهارة إلا أن يتغير بذلك ريحه أو لونه أو طعمه، وقد كان الصحابة يكادون يقتتلون على ما تساقط من وضوئه صلى الله عليه وسلم فيأخذونه ويتبركون به والتبرك به يكون بغسل بعض أعضاء الوضوء كما يكون بغير ذلك. والحاصل: أن إخراج ما جعله الماء طهوراً عن الطهورية لا يكون إلا بدليل.
فصل"والنجاسات" جمع نجاسة وهي كل شيء يستقذره أهل الطبائع السليمة ويتحفظون عنه ويغسلون الثياب إذا أصابها كالعذرة والبول، هي غائط الإنسان مطلقا وبوله بالأدلة الصحيحة المفيدة للقطع بذلك بل نجاستهما من باب الضرورة الدينية كما لا يخفى على من له اشتغال بالأدلة الشرعية وبما كان عليه الأمر في عصر النبوة ولا يقدح في ذلك التخفيف في تطهيرهما في بعض الأحوال. . أما الغائط فكما في حديث أبي هريرة: أن رسول الله صلى الله تعالى عليه وسلم قال: "إذا وطئ أحدكم بنعله الأذى فإن التراب له طهور" وفي لفظ: "إذا وطئ
তারা আরও প্রমাণ পেশ করেছেন সেই নিষেধাজ্ঞা দ্বারা যা নারীর ওযুর অবশিষ্ট পানি দিয়ে ওযু করার ব্যাপারে বর্ণিত হয়েছে। এর কারণ কেবল পানির ব্যবহারের (মুস্তামাল হওয়া) মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, যেমনটি ইনশাআল্লাহ সামনে বিস্তারিত আলোচিত হবে। সুতরাং এর মাধ্যমে দলিল প্রদান পূর্ণাঙ্গ হয় না, কারণ এতে ভিন্ন ব্যাখ্যার সম্ভাবনা রয়েছে। আর যদি কারণটি পানির ব্যবহারই হতো, তবে নিষেধাজ্ঞাটি কেবল পুরুষের জন্য নারীর অবশিষ্ট পানি দিয়ে ওযু করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট হতো না; বরং শারীআহ প্রণেতার পক্ষ থেকে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যেকের জন্য সকল প্রকার অবশিষ্ট পানির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতো। তাদের পেশকৃত দলিলসমূহের মধ্যে এটিও রয়েছে যে: সালাফগণ পানির স্বল্পতার সময় ব্যবহৃত পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন না করে তায়াম্মুমের মাধ্যমে পবিত্রতা পূর্ণ করতেন। এটি একটি অসার যুক্তি; শরঈ বিধান সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে এ জাতীয় বিষয়ের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়। সুতরাং এই দলিল প্রদানকারীর উচিত এটি স্পষ্ট করা যে, এই কাজটি কি সমস্ত সালাফ করতেন নাকি তাদের কেউ কেউ? প্রথম দাবিটি বাতিল, আর দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে জানা নেই যে তিনি কে; সুতরাং তিনি আমাদের নিকট তা বর্ণনা করুন। তাছাড়া যারা ইজমাকে দলিল হিসেবে পেশ করেন, তাদের নিকট ইজমা ব্যতীত অন্য কিছুতে প্রমাণ নেই। তারা এমন কিছু দলিল পেশ করেছেন যা বিতর্কের মূল বিষয়ের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ, যেমন: ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার পর পাত্রে হাত প্রবেশ করানোর পূর্বে তিনবার হাত ধোয়ার হাদিস এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়। প্রকৃত সত্য হলো, ব্যবহৃত পানি পবিত্র এবং পবিত্রকারী; মূল বিধান এবং পানি পবিত্রকারী হওয়ার দলিলসমূহের ওপর ভিত্তি করে এটিই প্রমাণিত। সালাফ ও খালাফদের একটি জামাত এই মত পোষণ করেছেন। ইবনে হাজম একে আতা, সুফিয়ান সাওরী, আবু সাওর এবং সমস্ত জাহেরী মাজহাবের অনুসারীদের অভিমত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যগণ একে হাসান বসরী, যুহরী, নাখঈ, মালেক, শাফেঈ এবং আবু হানিফার পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন (শেষোক্ত তিন ইমামের একটি বর্ণনা অনুযায়ী)। সত্য হলো, পানি কেবল ওযুর কাজে ব্যবহৃত হওয়ার কারণেই তার 'পবিত্রকারী' হওয়ার গুণ হারিয়ে ফেলে না, যতক্ষণ না এর ফলে তার ঘ্রাণ, রঙ অথবা স্বাদ পরিবর্তন হয়ে যায়। সাহাবায়ে কেরাম নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওযুর ঝরে পড়া পানির জন্য প্রায় যুদ্ধাবস্থায় লিপ্ত হতেন। তারা তা সংগ্রহ করতেন এবং তার মাধ্যমে বরকত গ্রহণ করতেন। আর বরকত গ্রহণ করার পদ্ধতি ওযুর অঙ্গসমূহ ধোয়ার মাধ্যমেও হতো এবং অন্যভাবেও হতো। সারকথা হলো: পানিকে যা পবিত্রকারী হিসেবে নির্ধারণ করেছে, সেই গুণ থেকে তাকে বিচ্যুত করতে হলে অকাট্য দলিল প্রয়োজন।
পরিচ্ছেদ: "নাজাসাতসমূহ" হলো 'নাজাসাত' (অপবিত্রতা) শব্দের বহুবচন। এটি এমন প্রত্যেক বিষয়কে বোঝায় যা সুস্থ স্বভাবের অধিকারী মানুষ অপছন্দ করে এবং যা থেকে তারা নিজেদের রক্ষা করে এবং কাপড়ে লাগলে তা ধুয়ে ফেলে, যেমন মল ও মূত্র। সহীহ দলিলের ভিত্তিতে মানুষের মল ও প্রস্রাব নিঃশর্তভাবে অপবিত্র, যা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে। বরং এগুলোর অপবিত্রতা দ্বীনি অপরিহার্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যা শরঈ দলিল এবং নবুওয়াতের যুগে প্রচলিত রীতিনীতি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তির নিকট অস্পষ্ট নয়। কোনো কোনো অবস্থায় এগুলোর পবিত্রকরণের ক্ষেত্রে শিথিলতা এর অপবিত্র হওয়ার বিধানে কোনো বিঘ্ন ঘটায় না। মলের ক্ষেত্রে যেমনটি আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে যে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন তার জুতো দিয়ে ময়লা মাড়ায়, তবে মাটিই তার জন্য পবিত্রকারী।" অন্য শব্দে এসেছে: "যখন সে মাড়ায়...
(খণ্ড: ১)
আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ ত্বা আল-মাআরিফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
الأذى بخفيه فطهورهما التراب". رواهما أبو داود رحمه الله وابن السكن والحاكم والبيهقي وقد اختُلف فيه على الأوزاعي، وأخرج أحمد وأبو داود والحاكم وابن حبان من حديث أبي سعيد أن النبي صلى الله تعالى عليه وسلم قال: "إذا جاء أحدكم المسجد فليقلب نعليه ولينظر فيهما فإن رأى خبثا فليمسحه بالأرض ثم ليصلّ فيهما" وقد اختُلف في وصله وإرساله ورجح أبو حاتم في العلل الموصول، وأخرج أهل السنن عن أم سلمة مرفوعاً بلفظ: "يطهِّره ما بعده" وعن أنس عند البيهقي بسند ضعيف بنحوه وكذلك عن امرأة من بني عبد الأشهل عند البيهقي أيضا فإن جعل التراب مع المسح مطهراً لذلك لا يُخرجه عن كونه نجسا بالضرورة إذ اختلاف وجه التطهير لا يُخرج النجس عن كونه نجسا، وأما التخفيف في تطهير البول فكما ثبت أن النبي صلى الله عليه وسلم أمر بأن يُراق على بول الأعرابي ذَنوب1 من ماء وهو في الصحيحين وغيرهما من حديث أبي هريرة وأنس رضي الله عنهما.
وأما ما عدا غائط الآدمي وبوله من الأبوال والأزبال فلم يحصل الاتفاق على شيء في شأنها والأدلة مختلفة فورد في بعضها ما يدل على طهارته كأبوال الإبل فإنه ثبت في الصحيحين وغيرهما أن النبي صلى الله عليه وسلم أمر العُرَنيين بأن يشربوا من أبوال الإبل ومن ذلك حديث: "لا بأس ببول ما يؤكل لحمه" وهو حديث ضعيف أخرجه الدارقطني من حديث جابر رضي الله عنه والبراء رضي الله عنه وفي إسناده عمرو بن الحصين العقيلي وهو ضعيف جدا لا تقوم بمثله الحجة2، وورد ما يدل على نجاسة الرَّوث ما أخرجه البخاري وغيره أنه قال صلى الله عليه وسلم في الروثة: "إنها رِكْس" والركس النجس وقد نقل التيمي أن الروث مختص بما يكون في الخيل والبغال والحمير ولكنه زاد ابن خزيمة في رواية: "إنها ركس إنها روثة حمار"
ومعظم ما استدل به القائلون بالتعميم في النجاسة لا ينطبق على غير الخارج من الآدمي وحديث الروثة لا يستلزم التعميم وحديث عمار قد أطبق من رواه على أنه من الضعف بمكان يسقط به عن درجة الاعتبار لأنه من رواية ثابت بن حماد بن علي بن زيد بن جدعان والأول مجمع على تركه والثاني مجمع على ضعفه فلا
--------------------------------------------
জুতো জোড়ায় কোনো নোংরা লেগে থাকলে মাটিই তাকে পবিত্রকারী।" এটি আবু দাউদ (রহমতুল্লাহি আলাইহি), ইবনুল সাকান, হাকেম এবং বায়হাকি বর্ণনা করেছেন। তবে ইমাম আওজায়ির সূত্রে এর বর্ণনার বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে। আহমদ, আবু দাউদ, হাকেম এবং ইবনে হিব্বান আবু সাঈদ (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন মসজিদে আসবে, সে যেন তার জুতো জোড়া উল্টে দেখে নেয়। যদি সে তাতে কোনো অপবিত্রতা দেখে, তবে যেন তা মাটির সাথে মুছে ফেলে এবং এরপর তাতে সালাত আদায় করে।" এর সনদটি সংযুক্ত (মাউসুল) নাকি বিচ্ছিন্ন (মুরসাল) তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে, তবে আবু হাতিম 'আল-ইলাল' গ্রন্থে মাউসুল হওয়াকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সুনান সংকলকগণ উম্মে সালামাহ (রা.) থেকে মারফু সূত্রে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "তার পরবর্তী অংশ তাকে পবিত্র করে দেয়।" বায়হাকিতে আনাস (রা.) থেকে একটি দুর্বল সনদে অনুরুপ বর্ণনা রয়েছে এবং বনু আবদিল আশহাল গোত্রের এক মহিলা থেকেও বায়হাকিতে অনুরুপ বর্ণিত হয়েছে। যদি মোছার সাথে মাটিকে পবিত্রকারী মাধ্যম হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে তা বস্তুটিকে অপবিত্র হওয়া থেকে বের করে দেয় না। কারণ পবিত্রকরণের পদ্ধতির ভিন্নতা কোনো অপবিত্র বস্তুকে তার অপবিত্র অবস্থা থেকে বের করে দেয় না। আর প্রস্রাব পবিত্র করার ক্ষেত্রে শিথিলতার বিষয়টি এমন যেমনটি প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক গ্রাম্য ব্যক্তির প্রস্রাবের ওপর এক বালতি১ পানি ঢেলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এটি বুখারি ও মুসলিমসহ অন্যান্য গ্রন্থে আবু হুরায়রা ও আনাস (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণিত হয়েছে।
আর মানুষের মল ও প্রস্রাব ছাড়া অন্যান্য প্রাণীর প্রস্রাব ও বিষ্ঠার ব্যাপারে কোনো বিষয়ে ঐক্যমত্য হয়নি এবং এ সংক্রান্ত দলিলগুলো ভিন্ন ভিন্ন। কোনো কোনো দলিলে এগুলোর পবিত্রতার প্রমাণ পাওয়া যায়, যেমন উটের প্রস্রাব। কেননা বুখারি ও মুসলিমসহ অন্যান্য গ্রন্থে সাব্যস্ত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উরাইনা গোত্রের লোকদের উটের প্রস্রাব পান করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর মধ্যে একটি হাদিস হলো: "যেসব প্রাণীর মাংস খাওয়া হয়, তাদের প্রস্রাবে কোনো সমস্যা নেই।" এটি একটি দুর্বল হাদিস যা দারা কুতনি জাবির (রা.) ও বারা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। এর সনদে আমর ইবনুল হুসাইন আল-উকাইলি রয়েছে, যে অত্যন্ত দুর্বল এবং তার মতো ব্যক্তির মাধ্যমে দলিল প্রতিষ্ঠিত হয় না২। আবার বিষ্ঠার অপবিত্রতার সপক্ষেও দলিল রয়েছে, যেমনটি বুখারি ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) গোবরের টুকরো সম্পর্কে বলেছেন: "এটি হচ্ছে অপবিত্র।" আর 'রিকস' মানে হলো অপবিত্র। আত-তাইমি বর্ণনা করেছেন যে, 'রাওস' (বিষ্ঠা) শব্দটি ঘোড়া, খচ্চর এবং গাধার বিষ্ঠার জন্য নির্দিষ্ট। তবে ইবনে খুজাইমা এক বর্ণনায় অতিরিক্ত উল্লেখ করেছেন: "এটি অপবিত্র, এটি হচ্ছে গাধার বিষ্ঠা।"
যারা সবকিছুর ক্ষেত্রেই অপবিত্রতার ব্যাপকতার কথা বলেন, তাদের অধিকাংশ দলিলই মানুষের শরীর থেকে নির্গত হওয়া বস্তু ছাড়া অন্য কিছুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না। বিষ্ঠা সংক্রান্ত হাদিসটি ব্যাপকতা দাবি করে না। আর আম্মার (রা.)-এর হাদিসটির ব্যাপারে এর বর্ণনাকারীরা একমত যে এটি এতটাই দুর্বল যে তা গ্রহণযোগ্যতার পর্যায় থেকে নিচে পড়ে যায়। কারণ এটি সাবিত ইবনে হাম্মাদ এবং আলি ইবনে যায়িদ ইবনে জুদআনের বর্ণনা থেকে এসেছে। প্রথম জনের বর্ণনা বর্জন করার ব্যাপারে সবাই একমত, আর দ্বিতীয় জন দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত্য রয়েছে। তাই...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ ত্বা আল-মাআরিফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
ينتهض بمثله حجة على التعميم1، واحتجوا بإذنه صلى الله عليه وسلم بالصلاة في مرابض الغنم وبإذنه بشرب أبوال الإبل وهما صحيحان ولاحكم للمعارضة بنهيه صلى الله عليه وسلم عن الصلاة في معاطن الإبل لأن النهي معلل بأنها ربما تؤذي المصلِّي فلا يستلزم ذلك عدم طهارة أزبالها وأبوالها كما أن تعليل الصلاة في مرابض الغنم بأنها بركة لا يستلزم أن الصلاة إنما كانت لأجل كونها بركة فإن مثل ذلك لا يُسوِّغ مباشرة ما ليس بطاهر. .
فالحق الحقيق بالقبول الحكم بنجاسة ما ثبتت نجاسته بالضرورة الدينية وهو بول الآدمي وغائطه، وأما ما عداهما فإن ورد فيه ما يدل على نجاسته كالروثة وجب الحكم بذلك من دون إلحاق وإن لم يرد فالبراءة الأصلية كافية في نفي التعبد بكون الشيء نجساً من دون دليل فإن الأصل في جميع الأشياء الطهارة والحكم بنجاستها حكم تكليفي تعم به البلوى، ولا يحل إلا بعد قيام الحجة قال الماتن رحمه الله تعالى: ولا يخفى عليك أن الأصل في كل شيء أنه ظاهر لأن القول بنجاسته يستلزم تعبد العباد بحكم من الأحكام والأصل عدم ذلك والبراءة قاضية بأنه لا تكليف بالمحتمل حتى يثبت ثبوتاً ينقل عن ذلك وليس من أثبت الأحكام المنسوبة إلى الشرع بدون دليل بأقل إثماً ممن أبطل ما قد ثبت دليله من الأحكام فالكل إما من التقول على الله تعالى بما لم يقل أو من إبطال ما قد شرعه لعباده بلا حجة "إلا الذكر الرضيع" لحديث:" يُغسل من بول الجارية ويُرش من بول الغلام" أخرجه أبو داود رحمه الله تعالى والنسائي رحمه الله تعالى وابن ماجه والبزار وابن خزيمة من حديث أبي السمح خادم رسول الله صلى الله عليه وسلم وصححه الحاكم وأخرج أحمد والترمذي وحسنه من حديث علي رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "بول الغلام الرضيع يُنضح وبول الجارية يُغسل" وأخرجه أيضا ابن ماجه وأبو داود بإسناد صحيح عن علي موقوفاً، وأخرج أحمد وأبو داود وابن ماجه وابن خريمة وابن حبان والطبراني من حديث أم الفضل لُبابة بنت الحارث قالت: بال الحسين بن علي في حِجر النبي صلى الله عليه وسلم فقلت: يا رسول الله أعطني ثوبك والبس ثوباً غيره حتى أغسله فقال: "إنما يُنضح من بول الذكر ويُغسل
--------------------------------------------
এই জাতীয় বর্ণনা দিয়ে সাধারণীকরণের স্বপক্ষে দলিল পেশ করা যায় না ১, আর তারা দলিল হিসেবে পেশ করেছেন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ভেড়ার খোঁয়াড়ে সালাত আদায়ের অনুমতি এবং উটের পেশাব পান করার অনুমতিকে। এ উভয়টিই বিশুদ্ধ। আর উটের আস্তাবলে সালাত আদায়ে তাঁর নিষেধের দ্বারা পূর্বোক্ত বিষয়গুলোর বিরোধিতার কোনো অবকাশ নেই। কারণ নিষেধের কারণ হলো উট হয়তো সালাত আদায়কারীকে কষ্ট দিতে পারে। এর মানে এই নয় যে, উটের মল বা পেশাব নাপাক। ঠিক যেমন ভেড়ার খোঁয়াড়ে সালাত আদায়ের কারণ হিসেবে বরকতের কথা বলা হয়েছে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে সালাতটি কেবল বরকতের কারণেই বৈধ হয়েছে; কেননা এ জাতীয় বিষয় অপবিত্র বস্তুর সাথে সরাসরি সংস্পর্শকে বৈধ করে না।
সুতরাং গ্রহণের যোগ্য প্রকৃত সত্য হলো সেই বস্তুগুলো নাপাক হওয়ার সিদ্ধান্ত দেওয়া যেগুলোর নাপাকি দ্বীনের অকাট্য দলিলে প্রমাণিত, আর তা হলো মানুষের পেশাব ও পায়খানা। এ দুটি ছাড়া অন্য কোনো বস্তুর ক্ষেত্রে যদি তার নাপাক হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়—যেমন পশুর মল—তবে অন্য কিছুর সাথে তুলনা ছাড়াই সেটিকে নাপাক গণ্য করা ওয়াজিব। আর যদি কোনো প্রমাণ না থাকে, তবে কোনো দলিল ছাড়া কোনো বস্তুকে নাপাক গণ্য করার বাধ্যবাধকতা অস্বীকার করতে মৌলিক দায়মুক্তিই (বারায়াতে আসলিয়া) যথেষ্ট। কেননা সব জিনিসের মূল হলো পবিত্রতা, আর কোনো বস্তুকে নাপাক বলা একটি বিধানগত হুকুম (তাকলিফি) যা সবার ওপর বর্তায়। সুতরাং দলিল প্রতিষ্ঠিত হওয়া ছাড়া তা গ্রহণ করা বৈধ হবে না। গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আপনার কাছে এটি গোপন নয় যে, প্রতিটি বস্তুর মূল হলো তা পবিত্র। কেননা কোনো বস্তুকে নাপাক বলা মানে হলো বান্দাদেরকে একটি বিশেষ শরয়ি বিধানের অনুগত করা, অথচ মূল নীতি হলো বিধানের অনুপস্থিতি। আর দায়মুক্তির নীতি ফয়সালা দেয় যে, কোনো বিষয় নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সম্ভাব্য কোনো বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে কোনো বাধ্যবাধকতা আরোপ করা যাবে না। দলিল ছাড়া শরীয়তের নামে কোনো বিধান সাব্যস্ত করা, দলিল দ্বারা প্রমাণিত কোনো বিধান বাতিল করার চেয়ে কম গুনাহের কাজ নয়। কারণ এ সবই হয় আল্লাহ তাআলার ওপর এমন কথা আরোপ করা যা তিনি বলেননি, অথবা দলিল ছাড়াই তাঁর বান্দাদের জন্য প্রবর্তিত কোনো বিধানকে বাতিল করা। "দুগ্ধপোষ্য ছেলে শিশু ব্যতীত", কারণ হাদিসে এসেছে: "মেয়ে শিশুর পেশাব ধৌত করতে হবে এবং ছেলে শিশুর পেশাবে পানি ছিটিয়ে দিতে হবে।" এটি ইমাম আবু দাউদ (রহিমাহুল্লাহ), নাসাঈ (রহিমাহুল্লাহ), ইবনে মাজাহ, বাজ্জার ও ইবনে খুযাইমাহ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর খাদেম আবু সামহ-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং হাকেম একে বিশুদ্ধ বলেছেন। ইমাম আহমাদ ও তিরমিযীও এটি বর্ণনা করেছেন এবং আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসকে হাসান বলেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "দুগ্ধপোষ্য ছেলে শিশুর পেশাবে পানি ছিটাতে হবে এবং মেয়ে শিশুর পেশাব ধৌত করতে হবে।" ইবনে মাজাহ ও আবু দাউদও বিশুদ্ধ সনদে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে এটি মাওকুফ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, ইবনে খুযাইমাহ, ইবনে হিব্বান ও তাবারানি উম্মুল ফজল লুবাবা বিনতে হারিস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুসাইন ইবনে আলী নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোলে পেশাব করে দিলেন, তখন আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার কাপড়টি আমাকে দিন এবং অন্য একটি কাপড় পরিধান করুন যাতে আমি এটি ধুয়ে দিতে পারি। তখন তিনি বললেন: "ছেলের পেশাবে কেবল পানি ছিটিয়ে দিলেই হয় এবং ধৌত করা হয়..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ ত্বা আল-মাআরিফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
من بول الأنثى"، وثبت في الصحيحين وغيرهما من حديث أم قيس بنت مِحصن: أنها أتت بابن لها صغير لم يأكل الطعام إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فبال على ثوبه فدعا بماء فنضحه ولم يغسله، وفي صحيح البخاري من حديث عائشة قالت: أُتي رسول الله صلى الله عليه وسلم بصبي يُحنِّكه فبال عليه فأتبعه الماء وفي صحيح مسلم عنها قالت: كان يؤتى بالصبيان فيبرِّك عليهم ويحنِّكهم فأتي بصبي فبال عليه فدعا بماء فأتبعه بوله ولم يغسله، فهذا تصريح بأنه لم يغسله فيكون إتباعه الماء مجرد النضح كما وقع في الحديثين الآخرين أو مجرد صب الماء عليه من دون غسل، وبالجملة: فالتصريح منه صلى الله عليه وسلم بالقول بما هو الواجب في ذلك هو الأوْلى بالاتِّباع لكونه كلاماً مع أمته فلا يعارضه ما وقع من فعله على فرض أنه مخالف للقول، وقد ذهب إلى الاكتفاء بالنضح في بول الغلام لا الجارية جماعة منهم علي وأم سلمة والثوري والأوزاعي والنخعي وداود وابن وهب وعطاء والحسن الزهري وأحمد وإسحق ومالك في رواية وهذا هو الحق الذي لامحيص عنه، وذهب بعض أهل العلم -وقد حُكي عن مالك والشافعي والأوزاعي- إلى أنه يكفي النضح فيهما وهذا فيه مخالفة لما وقع في هذه الأحاديث الصحيحة من التفرقة بين الغلام والجارية، وذهب الحنفية رحمهم الله وسائر الكوفيين إلى أنهما سواء في وجوب الغسل وهذا المذهب كالذي قبله في مخالفة الأدلة وقد استدل أهل هذا المذهب الثالث بالأدلة الواردة في نجاسة البول على العموم ولا يخفاك أنها مخصصة بالأدلة الخاصة المصرحة بالفرق بين بول الجارية والغلام، وأما ما قيل من قياس بول الغلام على بول الجارية فلا يخفاك أنه قياس في مقابلة النص وهو فاسد الاعتبار، وقد شدّد1 ابن حزم فقال: إنه يرش من بول الذكر أي ذكر كان وهو إهمال للقيد المذكور سابقاً بلفظ: "بول الغلام الرضيع يُنضَح" والواجب حمل المطلق على المقيد.
قال في الحُجّة: قد أخذ بالحديث أهل المدينة وإبراهيم النخعي وأضجع فيه القول محمد فلا تغتر بالمشهور بين الناس. قلت: قال الشافعي رحمه الله تعالى: يُنضح من بول الغلام ما لم يطعم ويغسل من بول الجارية، فسّره البغوي بأن بول الصبي نجس غير أنه يُكتفى فيه بالرش وهو أن ينضح الماء عليه بحيث يصل إلى جميعه فيطهّر من غير
--------------------------------------------
"...মেয়ের প্রস্রাব থেকে।" এবং সহীহাইন ও অন্যান্য গ্রন্থে উম্মে কায়স বিনতে মিহসান থেকে বর্ণিত হাদীসে সাব্যস্ত হয়েছে যে: তিনি তাঁর এক ছোট ছেলেকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলেন যে তখনও খাবার খাওয়া শুরু করেনি। শিশুটি তাঁর কাপড়ে প্রস্রাব করে দিলে তিনি পানি আনিয়ে তা ছিটিয়ে দিলেন এবং তা ধৌত করলেন না। সহীহ বুখারীতে আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে একটি শিশুকে নিয়ে আসা হলো যাতে তিনি তাকে তাহনীক (মুখে খেজুরের নির্যাস দেওয়া) করে দেন। শিশুটি তাঁর উপরে প্রস্রাব করে দিলে তিনি সেখানে পানি ঢেলে দিলেন। সহীহ মুসলিমে তাঁর থেকেই বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: তাঁর কাছে শিশুদের নিয়ে আসা হতো, তিনি তাদের জন্য বরকতের দোয়া করতেন এবং তাদের তাহনীক করতেন। একদা একটি শিশুকে আনা হলে সে তাঁর উপরে প্রস্রাব করে দেয়। তখন তিনি পানি আনালেন এবং প্রস্রাবের উপরে তা ঢেলে দিলেন, কিন্তু ধৌত করলেন না। এটি স্পষ্ট ঘোষণা যে তিনি তা ধৌত করেননি, সুতরাং পানি ঢেলে দেওয়া বলতে কেবল পানি ছিটানো বোঝাবে যেমনটি অন্য দুটি হাদীসে এসেছে, অথবা ধোয়া ছাড়াই কেবল পানি ঢেলে দেওয়া। মোদ্দাকথা হলো: এই বিষয়ে যা ওয়াজিব সে সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মৌখিক বক্তব্য অনুসরণ করাই অধিকতর সমীচীন, কেননা তা তাঁর উম্মতের প্রতি উদ্দেশ্য করে বলা। সুতরাং যদি ধরেও নেওয়া হয় যে তাঁর কর্ম তাঁর বক্তব্যের বিপরীত, তবুও তা তাঁর বক্তব্যকে নাকচ করবে না। আর একদল ফকীহ কেবল ছেলের প্রস্রাবের ক্ষেত্রে পানি ছিটানোকেই যথেষ্ট মনে করেছেন, মেয়ের প্রস্রাবের ক্ষেত্রে নয়; তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আলী, উম্মে সালামা, সাওরী, আওযাঈ, নাখায়ী, দাউদ, ইবনে ওয়াহাব, আতা, হাসান, যুহরী, আহমাদ, ইসহাক এবং এক বর্ণনা অনুযায়ী মালিক। আর এটাই সত্য যা থেকে বিমুখ হওয়ার কোনো উপায় নেই। এবং কতিপয় আলিম—যা মালিক, শাফেয়ী এবং আওযাঈ থেকে বর্ণিত হয়েছে—মনে করেন যে উভয়ের (ছেলে ও মেয়ে) প্রস্রাবেরই ক্ষেত্রে কেবল পানি ছিটানো যথেষ্ট। আর এটি এই সহীহ হাদীসসমূহে বর্ণিত ছেলে ও মেয়ের প্রস্রাবের মধ্যকার পার্থক্যের পরিপন্থী। হানাফী (রাহিমাহুমুল্লাহ) এবং কুফাবাসী অন্যান্য ফকীহগণ মনে করেন যে উভয়ের প্রস্রাব ধোয়া ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে সমান। আর এই মাযহাবটিও পূর্বোক্ত মাযহাবের মতোই দলীলসমূহের পরিপন্থী। এই তৃতীয় মাযহাবের অনুসারীরা সাধারণভাবে প্রস্রাবের নাপাক হওয়া সম্পর্কিত সাধারণ দলীলগুলো দিয়ে প্রমাণ পেশ করেছেন। অথচ আপনার নিকট এটি অস্পষ্ট নয় যে, সেই সাধারণ দলীলগুলো ঐ সকল বিশেষ দলীলসমূহ দ্বারা নির্দিষ্ট (খাস) করা হয়েছে যা ছেলে ও মেয়ের প্রস্রাবের পার্থক্যের ব্যাপারে সুস্পষ্ট। আর ছেলের প্রস্রাবকে মেয়ের প্রস্রাবের ওপর কিয়াস (অনুমান) করার যে কথা বলা হয়েছে, আপনার কাছে তা অস্পষ্ট নয় যে এটি সুস্পষ্ট দলীলের (নস) বিপরীতে কিয়াস, যা অগ্রহণযোগ্য। আর ইবনে হাযম কঠোরতা করেছেন এবং বলেছেন: যেকোনো পুরুষের প্রস্রাব থেকেই পানি ছিটিয়ে পবিত্র করা যাবে। এটি পূর্বে উল্লিখিত "দুগ্ধপোষ্য শিশুর প্রস্রাবে পানি ছিটাতে হবে" শব্দের সীমাবদ্ধতাকে উপেক্ষা করার শামিল। অথচ ওয়াজিব হলো নিঃশর্ত বক্তব্যকে শর্তযুক্ত বক্তব্যের আলোকে গ্রহণ করা।
‘আল-হুজ্জাহ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: মদীনার অধিবাসীগণ এবং ইব্রাহীম নাখায়ী এই হাদীস গ্রহণ করেছেন, আর মুহাম্মাদ এতে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন, সুতরাং মানুষের মাঝে যা প্রসিদ্ধ তা দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। আমি বলব: শাফেয়ী (রাহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেছেন: ছেলের প্রস্রাব যদি সে খাবার না খেয়ে থাকে তবে পানি ছিটিয়ে দিতে হবে এবং মেয়ের প্রস্রাব ধৌত করতে হবে। বাগভী এর ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, শিশুর প্রস্রাব নাপাক, তবে এতে পানি ছিটিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট; আর পানি ছিটানো মানে হলো পানি এমনভাবে দেওয়া যাতে তা পুরো স্থানে পৌঁছে যায় এবং ধোয়া ছাড়াই পবিত্র হয়ে যায়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ ত্বা আল-মাআরিফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
مَرْس ولا دلك، وقال أبو حنيفة رحمه الله تعالى: يغسل منهما سواء، ويتجه أن يقال من جانب أبي حنيفة رحمه الله تعالى إن المراد بالنضح الغسل الخفيف وبالغسل المرس والدلك وأصل المسألة أن التطهير إنما يكون بإزالة عين النجاسة وأثرها وبول الجارية أغلظ وأنتن فاحتيج فيه إلى زيادة المرس كذا في المُسوى. .
وأقول: أحاديث التخصيص هنها صحيحة لا شك في ذلك ولا ريب فما الذي دعاهم إلى الوقوع في مضيق التأويل المتعسف الذي لا يسوغ ارتكاب مثله مع وجود السعة وهذا كلام عاطل الجِيد عن الفائدة بمرة لأن هذا المعنى قد استُفيد من العام ثم إهدار لفائدة المغايرة بالمرة وحكم على كلام من أوتي جوامع الكلم وكان أفصح العرب بما يلحقه بكلام من هو من العيّ بمنزلة تُوقعه في الكلام القاصر عن رتبة الفصاحة والبلاغة، وقد ذكر في النهاية ما يفيد أن النضح يأتي بمعنى الغسل. قلت: قد يَرِد في مثل ذلك نادراً إذا اقتضاه المقام وههنا وقع مقابلاً للغسل فكيف يصح تفسيره به وقد أطبق أئمة اللغة أن النضح هو الرش فيجب حمله على ذلك إذا لم تقم قرينة على إرادة غيره فكيف إذا كان الكلام لا يصح إلا بالحمل على ذلك المعنى الأعم الأغلب وإلا كان الكلام حشواً وإن كان استعظام قائل قد قال بوجوب غسل البول فليس أحد أعظم منزلة ولا أكبر قدراً من رسول الله صلى الله عليه وسلم فأقل الأحوال أن يجعل لكلامه مزيّة على غيره من علماء أمّته فيكون كلامهم مردوداً إلى كلامه وليت أن المشغوفين بمحبة مذاهب الأسلاف جعلوه كأسلافهم فسلكوا فيما بين كلامه وكلامهم طريقة الإنصاف ولكنهم في كثير من المواطن يجعلون الحظ لأسلافهم فيردون كلامه صلى الله عليه وسلم إلى كلامهم فإن وافقهم فيها ونعمت وإن لم يوافقهم فالقول ما قالت حَذام، فإن أنكرتَ هذا فهات أبِنْ لي ما الذي اقتضى هذه التأويلات المتعسفة وردّ أحاديث التخصيص الصحيحة مع تسليمهم أن الخاص مقدم على العام وإنه يُبنى العام على الخاص وهذا مشتهر في الأصول اشتهار النهار.
"ولعاب كلب" قد ثبت في الصحيحين وغيرهما من حديث أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "إذا شرب الكلب في إناء أحدكم فليغسله سبعاً" وثبت أيضاً عندهما وغيرهما مثله في حديث عبد الله بن مغفل فدل ذلك على نجاسة لعاب الكلب
ঘষা বা মর্দন ছাড়াই; ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: উভয়টি সমানভাবে ধৌত করতে হবে। ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ)-এর পক্ষ থেকে এটি বলা যেতে পারে যে, ‘নাদহ্’ (ছেটানো) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো হালকা ধৌত করা এবং ‘গুসল’ (ধৌত করা) দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঘষা ও মর্দন করা। মাসআলার মূল ভিত্তি হলো যে, পবিত্রতা অর্জিত হয় নাপাকির মূল বস্তু এবং তার চিহ্ন দূর করার মাধ্যমে। মেয়ে শিশুর প্রস্রাব বেশি গাঢ় এবং দুর্গন্ধযুক্ত, তাই এতে অতিরিক্ত মর্দনের প্রয়োজন হয়; ‘আল-মুসাওওয়া’ গ্রন্থে এমনটিই বর্ণিত হয়েছে।
আমি বলছি: নির্দিষ্টকরণের (তাখসিস) হাদীসগুলো এখানে সন্দেহাতীতভাবে সহীহ। তবে কী কারণে তারা এই সংকীর্ণ ও কষ্টকল্পিত ব্যাখ্যার (তাবীল) আশ্রয় নিতে বাধ্য হলেন, যা প্রশস্ত পথ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও করা সমীচীন নয়? এটি সম্পূর্ণ নিরর্থক কথা। কারণ, এই অর্থটি সাধারণ (আম) বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়। এরপর ভিন্নতার কোনো তাৎপর্য অবশিষ্ট থাকে না। এটি এমন এক সত্তার বাণীর ওপর হুকুম আরোপ করার মতো, যাকে ‘জাওয়ামিউল কালিম’ (সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণী) দান করা হয়েছে এবং যিনি আরবদের মধ্যে সবচেয়ে সাবলীল ভাষী ছিলেন। এটি তাঁর বাণীকে এমন ব্যক্তির বাণীর সমপর্যায়ে নিয়ে যায় যে তোতলামি বা জড়তার কারণে অলংকারশাস্ত্র ও সাবলীলতার স্তর থেকে বিচ্যুত হয়। ‘আন-নিহায়া’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘নাদহ্’ শব্দটি ‘ধৌত করা’ অর্থেও আসে। আমি বলি: কদাচিৎ এমনটি হতে পারে যদি প্রেক্ষাপট তা দাবি করে। কিন্তু এখানে এটি ‘ধৌত করা’র বিপরীতে ব্যবহৃত হয়েছে, সুতরাং একে ‘ধৌত করা’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা কীভাবে সঠিক হতে পারে? ভাষাবিদ ইমামগণ একমত যে, ‘নাদহ্’ মানে হলো পানি ছেটানো। তাই একে এই অর্থেই গ্রহণ করা ওয়াজিব, যতক্ষণ না অন্য কোনো অর্থ গ্রহণের সপক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়। বিশেষ করে যখন কথাটি এই ব্যাপক ও প্রচলিত অর্থ ছাড়া অন্য কোনোভাবে সঠিক হয় না, অন্যথায় কথাটি বাহুল্য হিসেবে গণ্য হবে। যদিও কোনো প্রাজ্ঞ ব্যক্তি প্রস্রাব ধৌত করা ওয়াজিব হওয়ার কথা বলেছেন, তবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেয়ে বড় মর্যাদা বা সম্মানের অধিকারী আর কেউ নেই। তাই নূন্যতম পক্ষে তাঁর বাণীকে উম্মতের অন্য আলেমদের কথার ওপর অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত এবং তাঁদের কথাকে তাঁর কথার কষ্টিপাথরে যাচাই করা উচিত। হায়! যদি পূর্বসূরিদের মাযহাবের প্রতি অনুরাগী ব্যক্তিগণ তাঁকে অন্তত তাঁদের পূর্বসূরিদের মতোই গণ্য করতেন এবং তাঁর বাণী ও তাঁদের বক্তব্যের মাঝে ইনসাফের পথ অবলম্বন করতেন! কিন্তু তাঁরা অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের পূর্বসূরিদের পক্ষাবলম্বন করেন এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথাকে তাঁদের বক্তব্যের অনুকূলে ব্যাখ্যা করেন। যদি তা তাঁদের সাথে মিলে যায় তবে তো ভালো, আর যদি না মিলে তবে তাঁদের নিজেদের বক্তব্যকেই তাঁরা চূড়ান্ত বলে গণ্য করেন। আপনি যদি এটি অস্বীকার করেন, তবে আমার কাছে স্পষ্ট করুন যে, কেন এই কষ্টকল্পিত ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলো এবং সহীহ ও নির্দিষ্টকরণের হাদীসগুলোকে কেন প্রত্যাখ্যান করা হলো, অথচ তাঁরা নিজেরাও স্বীকার করেন যে ‘খাস’ (সুনির্দিষ্ট) দলিল ‘আম’ (সাধারণ) দলিলের ওপর প্রাধান্য পায় এবং ‘আম’-কে ‘খাস’-এর ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়। এটি উসুল (মূলনীতি) শাস্ত্রে দিনের আলোর মতোই সুপরিচিত।
“কুকুরের লালা”: সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) এবং অন্যান্য গ্রন্থে আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “তোমাদের কারো পাত্রে যদি কুকুর পান করে, তবে সে যেন তা সাতবার ধৌত করে।” আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদীসেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এটি কুকুরের লালা অপবিত্র হওয়ার প্রমাণ বহন করে।
(খণ্ড: ১)
আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ ত্বা আল-মাআরিফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وهو المطلوب هنا والكلام في الخلاف بين من عمل بظاهر هذه الأدلة ومن اكتفى بالتثليث معروف وليس ذلك مما يقدح في كونه نجساً لأن محل الدليل على النجاسة هو إيجاب الغسل وهكذا لا يتعلق بما نحن بصدده زيادة التغليظ بالتتريب كما وقع في أحاديث الباب في الصحيحين وغيرهما فإنه ليس المقصود ههنا إلا إثبات كون اللعاب نجساً لا بيان كيفية تطهيره فلذلك موضع آخر، والحاصل: أن الحق ما قضى به رسول الله صلى الله عليه وسلم من التسبيع والتتريب وليس من شرط التعبد الاطِّلاع على علل الأحكام التي تعبَّدَنا الله بها على ما هو الراجح وقد صح لنا الأمر منه صلى الله عليه وسلم بالغسل على الصفة المذكورة بالأحاديث الصحيحة ولم نجد عنه ما يدلنا على خلاف هذا الحكم فلا يحل تحويل الشرع المتقرر بأقوال علماء الأمة سواء كان القول المخالف منسوباً إلى جميعهم أو إلى بعضهم، وقد حفظ الله هذه السنة بأقوال جماعة من علماء الأمة كما هو معروف في كتب الخلاف والفقه وشروح السنة، ومن أغرب ما يراه من ألهمه الله رشده وحبب إليه الإنصاف ما يقع في كثير من المواطن من جماعة من ذلك عن الشريعة بمعزل والميل عن الحكم الثابت بشرع أوضح من الشمس من دون سبب يقتضي ذلك كما فيما نحن بصدده وفيما سلف في بول الصبي وأشباه هذا ونظائره لا تحصى والله المستعان.
وروث الدليل على نجاسته ما تقدمت الإشارة إليه من قوله صلى الله عليه وسلم في الروثة: "إنها ركس" والركس في اللغة النجس فالروثة نجس وهو المطلوب وقد قدمنا كلام التيمي في تخصيص ذلك بروث الخيل والبغال والحمير. "ودم حيض" الدليل على ذلك ما ثبت عند أحمد وأبي داود والترمذي من حديث خولة بنت يسار قالت: يا رسول الله ليس لي إلا ثوب واحد وأنا أحيض فيه قال: "فإذا طهرت فاغسلي موضع الدم ثم صلي فيه" قالت: يا رسول الله إن لم يخرج أثره، قال: "يكفيك الماء ولا يضرك أثره" وفي إسناده ابن لهيعة، وأخرج أحمد وأبو داود والنسائي وابن ماجه وابن خزيمة وابن حبان من حديث أم قيس بنت محصن مرفوعاً بلفظ: "حُكّيه بضِلَع1 واغسليه بماء وسِدْر". قال ابن القطان: إسناده في غاية
--------------------------------------------
এখানে এটিই উদ্দেশ্য। আর যারা এই দলীলসমূহের প্রকাশ্য অর্থের ওপর আমল করেছেন এবং যারা কেবল তিনবার ধোয়ার ওপরই সীমাবদ্ধ থেকেছেন, তাঁদের মধ্যকার মতভেদ সুপরিচিত। এটি কোনো কিছু অপবিত্র হওয়ার বিষয়টিকে ক্ষুণ্ন করে না, কারণ অপবিত্রতার দলীলের মূল ক্ষেত্র হলো ধোয়া ওয়াজিব হওয়া। একইভাবে, আমাদের বর্তমান আলোচ্য বিষয়ের সাথে মাটি ব্যবহারের মাধ্যমে অপবিত্রতা দূর করার কঠোরতা বৃদ্ধি করার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নয়, যেমনটি সহীহাইন (বুখারী ও মুসলিম) ও অন্যান্য কিতাবে এই অধ্যায়ের হাদীসসমূহে এসেছে। কেননা এখানে উদ্দেশ্য কেবল লালা অপবিত্র হওয়া প্রমাণ করা, তা পবিত্র করার পদ্ধতি বর্ণনা করা নয়; সেটির জন্য ভিন্ন স্থান রয়েছে। সারকথা হলো: সত্য সেটিই যার ফয়সালা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাতবার ধোয়া এবং মাটি ব্যবহারের মাধ্যমে দিয়েছেন। আর অধিকতর সঠিক মত অনুযায়ী, আল্লাহ আমাদের যে সমস্ত বিধানের মাধ্যমে ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন, তার গূঢ় রহস্য বা কারণ অবগত হওয়া ইবাদতের শর্ত নয়। সহীহ হাদীসসমূহের মাধ্যমে উল্লিখিত পদ্ধতিতে ধোয়ার নির্দেশ আমাদের নিকট প্রমাণিত হয়েছে এবং তাঁর পক্ষ থেকে এই বিধানের বিপরীত কোনো প্রমাণ আমরা পাইনি। সুতরাং উম্মতের আলেমদের বক্তব্যের মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত শরীয়তকে পরিবর্তন করা জায়েজ নয়, চাই সেই বিরোধী বক্তব্যটি তাঁদের সকলের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হোক অথবা তাঁদের একাংশের দিকে। আল্লাহ তাআলা উম্মতের একদল আলেমের বক্তব্যের মাধ্যমে এই সুন্নাহকে হেফাজত করেছেন, যেমনটি মতভেদ, ফিকহ এবং সুন্নাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহে সুপরিচিত। যাকে আল্লাহ সঠিক পথ দেখিয়েছেন এবং ইনসাফ প্রিয় করেছেন, তাঁর নিকট সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো অনেক ক্ষেত্রে একদল লোকের শরীয়ত থেকে দূরে সরে যাওয়া এবং কোনো উপযুক্ত কারণ ছাড়াই সূর্যের চেয়েও স্পষ্ট শরীয়তের প্রতিষ্ঠিত বিধান থেকে বিমুখ হওয়া; যেমনটি আমাদের বর্তমান আলোচ্য বিষয়ে, এবং পূর্বে অতিক্রান্ত হওয়া শিশুর প্রস্রাবের বিষয়ে এবং এ জাতীয় অসংখ্য ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য প্রার্থনা করছি।
গোবর বা বিষ্ঠা অপবিত্র হওয়ার দলীল হলো সেটিই যার দিকে পূর্বে ইঙ্গিত করা হয়েছে, অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিষ্ঠা সম্পর্কে বলেছেন: "নিশ্চয়ই এটি অপবিত্র।" আর আরবী ভাষায় 'রিকস' মানে অপবিত্র। সুতরাং বিষ্ঠা অপবিত্র এবং এটিই কাম্য। আর আমরা ঘোড়া, খচ্চর ও গাধার বিষ্ঠার সাথে এটিকে সুনির্দিষ্ট করার ব্যাপারে আত-তাইমীর বক্তব্য আগেই উল্লেখ করেছি। "এবং ঋতুর রক্ত": এর দলীল হলো আহমাদ, আবু দাউদ ও তিরমিযীতে সাব্যস্ত হওয়া খাওলা বিনতে ইয়াসার-এর হাদীস; তিনি বলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমার একটি মাত্র কাপড় রয়েছে এবং আমি এতে ঋতুবতী হই। তিনি বললেন: "যখন তুমি পবিত্র হবে, তখন রক্তের স্থানটি ধুয়ে ফেলবে, অতঃপর তাতে সালাত আদায় করবে।" তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! যদি দাগ দূর না হয়? তিনি বললেন: "পানিই তোমার জন্য যথেষ্ট এবং এর দাগ তোমার কোনো ক্ষতি করবে না।" এর সনদে ইবনে লাহিয়া রয়েছেন। আর আহমাদ, আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, ইবনে খুযায়মাহ ও ইবনে হিব্বান উম্মে কায়স বিনতে মিহসান থেকে মারফু সূত্রে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "এটি একটি কাঠের কাঠি দিয়ে ঘষে ফেলো এবং পানি ও বরই পাতা দিয়ে ধুয়ে নাও।" ইবনুল কাত্তান বলেন: এর সনদ অত্যন্ত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ ত্বা আল-মাআরিফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
الصحة، وفي الصحيحين وغيرهما من حديث أسماء بنت أبي بكر رضي الله تعالى عنهما قالت: جاءت امرأة إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقالت: إحدانا يصيب ثوبها من دم حيض فكيف تصنع؟ قال: "تحتُّه ثم تقرصه بالماء ثم تنضحه ثم تصلي فيه" فالأمر بغسل دم الحيض وحكّه بضِلع يفيد ثبوت نجاسته وإن اختلف وجه تطهيره فذلك لا يخرجه عن كونه نجسا، وأما سائر الدماء فالأدلة فيها مختلفة مضطربة والبراءة الأصلية مستصحبة حتى يأتي الدليل الخالص عن المعارضة الراجحة أو المساوية1، ولو قام الدليل على رجوع الضمير في قوله تعالى: {فَإِنَّهُ رِجْسٌ} إلى جميع ما تقدم في الآية الكريمة من الميتة والدم المسفوح ولحم الخنزير لكان ذلك لكان ذلك مفيداً لنجاسة الدم المسفوح والميتة ولكنه لم يرد ما يفيد ذلك بل النزاع كائن في رجوعه إلى الكل أو إلى الأقرب والظاهر رجوعه إلى الأقرب وهو لحم الخنزير لإفراد الضمير ولهذا جزمنا ههنا بنجاسة لحم الخنزير دون الميتة والدم الذي ليس بدم حيض ولا سيما وقد ورد في الميتة ما يفيد أنه لا يحرم منها إلا أكلها كما ثبت في الصحيح بلفظ: "إنما حُرِّم من الميتة أكلها" ومن رام تحقيق الكلام في الخلاف الواقع في مثل هذا الضمير المذكور في الآية فليرجع إلى ما ذكره أهل الأصول في الكلام على القيد الواقع بعد جملة مشتملة على أمور متعددة. ولحم الخنزير الدليل على نجاسته ما قدمنا قريباً من الآية الكريمة وفيما عدا ذلك خلاف، وأما المني فاحتجوا على نجاسته بأمور: الأول حديث عمار وقد سلف عدم صلاحيته للاحتجاج، والثاني بما ورد عن جماعة من الصحابة وذلك لا تقوم به حجة لأنه لم يكن إجماعاً ولا مرفوعاً والثالث بما ورد في المَذْي من الأمر بغسل الفرج والأُنثيين، ويجاب عنه أنه إثبات لنجاسة المني بقياس لأنهما متغايران على أنه يمكن أن يكون التغليظ في المذي إما لكونه يخرج غالباً مختلطاً بالبول أو لأنه ليس بأصل للنسل ويلزم أنه يطهُر بالنضح لما ورد عند أبي داود والترمذي وصححه من حديث سهل بن
--------------------------------------------
বিশুদ্ধ মতানুসারে, আর সহীহাইন এবং অন্যান্য গ্রন্থে আসমা বিনতে আবু বকর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: জনৈক মহিলা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন: আমাদের কারো পোশাকে ঋতুর রক্ত লেগে যায়, সে তখন কী করবে? তিনি বললেন: "সেটি খুঁটে ফেলবে, তারপর পানি দিয়ে কচলে ধোবে, এরপর তাতে পানি ছিটিয়ে দেবে, অতঃপর সে তাতে সালাত আদায় করবে।" সুতরাং ঋতুর রক্ত ধোয়ার এবং পাঁজরের হাড় (বা কাঠি) দিয়ে তা খুঁটে ফেলার নির্দেশ এর অপবিত্রতা সাব্যস্ত হওয়াকে নির্দেশ করে; যদিও তা পবিত্র করার পদ্ধতি ভিন্ন হতে পারে, তবে তা একে অপবিত্র হওয়া থেকে বের করে দেয় না। আর অন্যান্য রক্তের ব্যাপারে দলীলসমূহ বিভিন্নমুখী ও অসংলগ্ন, আর কোনো অগ্রগণ্য বা সমপর্যায়ের বিরোধিতামুক্ত সুস্পষ্ট দলীল না আসা পর্যন্ত মূল বিষয়ের ওপর অটল থাকাই (বারায়াতে আসলিয়্যাহ) বিধেয়। আর যদি মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই তা অপবিত্র} এর মধ্যকার সর্বনামটি আয়াতে উল্লিখিত পূর্ববর্তী সকল বিষয়—যেমন মৃত প্রাণী, প্রবাহিত রক্ত ও শুকরের গোশত—সবার দিকে ফেরার ব্যাপারে দলীল প্রতিষ্ঠিত হতো, তবে তা প্রবাহিত রক্ত ও মৃত প্রাণীর অপবিত্রতা সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে ফলপ্রসূ হতো। কিন্তু এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যা একে সাব্যস্ত করে, বরং বিতর্কটি হলো সর্বনামটি কি সবকিছুর দিকে ফিরবে নাকি নিকটবর্তীর দিকে? আর বাহ্যত এটি নিকটবর্তীর দিকেই ফেরে, যা হলো শুকরের গোশত; কারণ সর্বনামটি একবচনে ব্যবহৃত হয়েছে। এই কারণেই আমরা এখানে শুকরের গোশতের অপবিত্রতার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছি, মৃত প্রাণী বা ঋতুর রক্ত ব্যতীত অন্য রক্তের ব্যাপারে নয়। বিশেষ করে মৃত প্রাণীর ব্যাপারে এমন বর্ণনা এসেছে যা নির্দেশ করে যে, তা ভক্ষণ করা ব্যতীত অন্য কিছু হারাম নয়; যেমন সহীহ গ্রন্থে সাব্যস্ত হয়েছে এই শব্দে: "মৃত প্রাণীর কেবল ভক্ষণ করাই হারাম করা হয়েছে।" আর আয়াতে উল্লিখিত এই ধরনের সর্বনামের ক্ষেত্রে সংঘটিত মতপার্থক্য সম্পর্কে কেউ বিস্তারিত আলোচনা চাইলে, উসূলবিদগণ একাধিক বিষয় সংবলিত বাক্যের পরে আসা শর্তের (কায়িদ) ব্যাপারে যা উল্লেখ করেছেন তার দিকে যেন ফিরে যান। শুকরের গোশতের অপবিত্রতার দলীল হলো যা আমরা এইমাত্র পবিত্র আয়াত থেকে পেশ করলাম, তবে এর বাইরে অন্য বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। আর বীর্যের ব্যাপারে তারা এর অপবিত্রতার সপক্ষে কয়েকটি বিষয় দিয়ে দলীল পেশ করেছেন: প্রথমত, আম্মারের হাদীস, যার অযোগ্যতা ইতিপূর্বে গত হয়েছে। দ্বিতীয়ত, একদল সাহাবী থেকে বর্ণিত আছার, যা দ্বারা হুজ্জাত বা অকাট্য দলীল সাব্যস্ত হয় না; কারণ এটি কোনো ইজমা নয় এবং রাসূলুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছানো কোনো মারফূ বর্ণনাও নয়। তৃতীয়ত, মযীর ক্ষেত্রে লজ্জাস্থান ও অণ্ডকোষ ধোয়ার নির্দেশের মাধ্যমে। এর উত্তর হলো, এটি কিয়াসের মাধ্যমে বীর্যের অপবিত্রতা সাব্যস্ত করা, অথচ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বস্তু। তদুপরি মযীর ক্ষেত্রে কঠোরতার কারণ হতে পারে যে, এটি সাধারণত প্রস্রাবের সাথে মিশে নির্গত হয় অথবা এটি বংশবিস্তারের মূল উপাদান নয়। আর এটি পানি ছিটিয়ে দিলেই পবিত্র হয়ে যায়, যেমনটি আবু দাউদ ও তিরমিযীতে বর্ণিত হয়েছে এবং সাহল বিন (সা’দ) এর হাদীসটিকে সহীহ বলা হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ ত্বা আল-মাআরিফাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
حُنَيْف بلفظ: "يكفيك أن تأخذ كفاً من ماء فتنضح به حيثما ترى أنه1 أصاب من ثوبك". وأما الجواب عن حديث أمره صلى الله عليه وسلم لعائشة بفرك المني بأن المراد به الفرك قبل الغسل لا مجرد الفرك فقط فهذا خلاف ما تقتضيه المقابلة للفرك بالغسل وكان أقرب من هذا أن يجاب بأن الفرك لم يكن بأمره صلى الله عليه وسلم إنما قالت عائشة: كنت أفركه من ثوب رسول الله صلى الله عليه وسلم كما في كتب الحديث. والأمر الرابع أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يغسل موضع المني من ثوبه ويجاب عنه بأن هذا فعل لا يصلح لإثبات النجاسة المستلزم لوجوب الإزالة مع احتمال أن يكون غسله تقذُّراً لما فيه من مخالفة النظافة، وأما فرك عائشة لمنيِّه صلى الله عليه وسلم من ثوبه حال صلاته بأنه2 لم يعلم بذلك فالجواب عنه بأنه لو كان نجساً لما أقره الله على ذلك كما ثبت في حديث خلع النعل بعد دخوله في الصلاة لإخبار جبريل له بذلك، وقد قدمت لك أن الحكم بكون الشيء نجساً لا يُقبل إلا بدليل تقوم به الحجة غير معارض بما هو أنهض أو مساوٍ لأن الحكم بكون الشيء نجساً يستلزم تعبد العباد بحكم من أحكام الشرع تعم به البلوى، وقد أوردت في مِسك الختام شرح بلوغ المرام حجج المختلفين ورجّحت هناك ما رجّحت وظهر لي الآن أن القيام في مقام المنع هو الذي ندين به عند الله، وفي سُبُل السلام والحق أن الأصل الطهارة والدليل على القائل بالنجاسة فنحن باقون على الأصل، وذهب الحنفية رحمهم الله إلى نجاسة المني كغيرهم ولكن قالوا يطهره الغسل أو الفرك أو الإزالة بالخِرقة أو الإذخرة عملاً بالحديثين وبين الفريقين القائلين بالنجاسة والقائلين بالطهارة مجادلات ومناظرات واستدلالات طويلة استوفيناها في حواشي شرح العمدة انتهى.
"والأصل الطهارة فلا ينقل عنها إلا ناقل صحيح لم يعارضه ما يساويه أو يقدم عليه" لأن كون الأصل الطهارة معلوم من كليات الشريعة المطهرة وجزئياتها ولا ريب أن الحكم بنجاسة شيء يستلزم تكليف العباد بحكم من أحكام الشرع والأصل البراءة من ذلك ولا سيما من الأمور التي تعم بها البلوى وقد أرشدنا رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى السكوت عن الأمور التي سكت الله تعالى عنها وأنها عفو فما لم يرد فيه شيء من
--------------------------------------------
হুনাইফ এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "তোমার জন্য এক আঁজলা পানি নিয়ে কাপড়ের যেখানে (মযী) লেগেছে বলে মনে হয় সেখানে ছিটিয়ে দেওয়া যথেষ্ট।" আর বীর্য ঘষে তুলে ফেলার বিষয়ে আয়েশা (রা.)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ সংক্রান্ত হাদীসের উত্তর হলো—যদি বলা হয় যে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ধোয়ার আগে ঘষে নেওয়া, কেবল ঘষে নেওয়া মাত্র নয়, তবে এটি ঘষার বিপরীতে ধোয়ার যে তুলনা করা হয়েছে তার পরিপন্থী। এর চেয়ে উত্তম উত্তর হলো এটি বলা যে, ঘষে তোলা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদেশে ছিল না, বরং আয়েশা (রা.) বলেছেন: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাপড় থেকে তা ঘষে ফেলতাম," যেমনটি হাদীসের কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে। চতুর্থ বিষয়টি হলো—নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাপড় থেকে বীর্যের স্থানটি ধুয়ে ফেলতেন। এর উত্তরে বলা যায় যে, এটি এমন একটি কাজ যা দ্বারা অপবিত্রতা (নাজাসাত) সাব্যস্ত হয় না এবং যা দূর করা ওয়াজিব হওয়া আবশ্যক করে না। বরং সম্ভাবনা রয়েছে যে, তিনি পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার খাতিরে কেবল ঘৃণাবোধ থেকে তা ধুয়েছিলেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাত আদায় করার সময় আয়েশা (রা.) তাঁর কাপড় থেকে বীর্য ঘষে ফেলার বিষয়ে বলা হয় যে, তিনি তা জানতেন না। এর উত্তরে বলা যায় যে, যদি তা অপবিত্র হতো, তবে আল্লাহ তাআলা তাঁকে এই অবস্থায় থাকতে দিতেন না, যেমনটি সালাতের ভেতরে জুতা খোলার হাদীসে প্রমাণিত হয়েছে যখন জিবরীল (আ.) তাঁকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। আমি আগেই উল্লেখ করেছি যে, কোনো বস্তুকে অপবিত্র ঘোষণা করা ততক্ষণ পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য নয় যতক্ষণ না এমন প্রমাণ উপস্থিত হয় যা দলিল হিসেবে গণ্য এবং যা অধিকতর শক্তিশালী বা সমমানের কোনো দলিলে খণ্ডিত নয়। কারণ কোনো কিছুকে অপবিত্র ঘোষণা করার অর্থ হলো বান্দাদের শরীয়তের এমন একটি বিধানের অনুগামী করা যা সাধারণ মানুষের জন্য ব্যাপক সমস্যার কারণ হতে পারে। আমি 'মিসকুল খিতাম শারহু বুলুগিল মারাম' গ্রন্থে মতভেদকারীদের দলিলসমূহ উল্লেখ করেছি এবং সেখানে যা প্রাধান্য দেওয়ার তা দিয়েছি। আর এখন আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে, নাপাক হওয়ার মতকে প্রত্যাখ্যান করার অবস্থানে থাকাই হলো আল্লাহর কাছে আমাদের দ্বীন পালনের সঠিক পদ্ধতি। 'সুবুলুস সালাম' গ্রন্থে রয়েছে: সত্য হলো মৌলিকভাবে পবিত্রতাই মূল বিষয়, আর যারা নাপাক বলেন দলিল দেওয়া তাদের দায়িত্ব; সুতরাং আমরা মূল ভিত্তির (পবিত্রতার) উপরেই অবিচল থাকব। হানাফীগণ (রাহিমাহুল্লাহ) অন্যদের মতো বীর্যকে নাপাক মনে করেন, তবে তারা বলেছেন যে ধোয়া, ঘষে তোলা বা ন্যাকড়া অথবা ইযখির ঘাস দিয়ে মুছে ফেলার মাধ্যমে এটি পবিত্র হয়। তারা উভয় প্রকার হাদীসের ওপর আমল করেছেন। যারা নাপাক বলেন এবং যারা পবিত্র বলেন তাদের মধ্যে দীর্ঘ বিতর্ক ও যুক্তি রয়েছে যা আমি 'শারহুল উমদাহ' এর টীকাগুলোতে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। ইতি।
"মৌলিক বিষয় হলো পবিত্রতা, সুতরাং এটি থেকে সরে আসার জন্য এমন সহীহ দলিল প্রয়োজন যা সমপর্যায়ের বা অধিকতর শক্তিশালী কোনো দলিল দ্বারা খণ্ডিত নয়।" কারণ মৌলিকভাবে পবিত্র হওয়া শরীয়তের সামগ্রিক ও আংশিক নীতিমালা থেকে সুপরিচিত। নিঃসন্দেহে কোনো কিছুকে অপবিত্র ঘোষণা করা বান্দাদেরকে শরীয়তের একটি বিধানের দায়িত্বশীল করা বোঝায়, অথচ মূল নীতি হলো মানুষের কাঁধে এমন কোনো দায়িত্ব না থাকা, বিশেষ করে এমন সব ক্ষেত্রে যা সাধারণ মানুষের জন্য ব্যাপক সমস্যার সৃষ্টি করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের ঐসব বিষয়ে নীরব থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন যেসব বিষয়ে আল্লাহ তাআলা নীরব থেকেছেন এবং সেগুলোকে ক্ষমা বা অবকাশ হিসেবে গণ্য করেছেন। সুতরাং যে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট কিছু আসেনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ ত্বা আল-মাআরিফাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الأدلة الدالة على نجاسته فليس لأحد من عباد الله تعالى أن يحكم بنجاسته بمجرد رأي فاسد أو غلط في الاستدلال كما يدعيه بعض أهل العلم من نجاسة ما حرّمه الله تعالى زاعماً أن النجاسة والتحريم متلازمان وهذا الزعم من أبطل الباطلات فالتحريم للشيء لا يدل على نجاسته بمطابقة ولا تضمن ولا التزام؛ فتحريم الخمر والميتة والدم لا يدل على نجاسة ذلك وكأن الشارع قد علم وقوع مثل هذا الغلط لبعض أمته فأرشدهم إلى ما يدفعه قائلاً: "إنما حُرِّم من الميتة أكلها" 1 ولم كان مجرد تحريم شيء مستلزماً لنجاسته لكان مثل قوله تعالى: {حُرِّمَتْ عَلَيْكُمْ أُمَّهَاتُكُمْ} إلى آخره دليلاً على نجاسة النساء المذكورات في الآية والمسلم لا ينجس حيّاً ولا ميتاً كما ثبت ذلك عنه صلى الله عليه وسلم في الصحيح وهكذا يلزم نجاسة أعيان وقع التصريح بتحريمها وهي طاهرة بالاتفاق كالأنصاب والأزلام وما يُسكر من النبات والثمرات بأصل الخلقة فإن قلت إذا كان التصريح بنجاسة شئ أو رجسيَّته أو ركسيَّته يدل على أنه نجس كما قلت في نجاسة الروثة ولحم الخنزير فكيف لم تحكم بنجاسة الخمر لقول تعالى: {إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنْصَابُ وَالْأَزْلامُ رِجْسٌ} قلت: لما وقع الخمر ههنا مقترناً بالأنصاب والأزلام كان ذلك قرينة صارفة لمعنى الرِّجسيّة إلى غير النجاسة الشرعية وهكذا قوله تعالى: {إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ} لما جاءت الأدلة الصحيحة المقتضية لعدم نجاسة ذوات المشركين كما ورد في أكل ذبائحهم وأطعمتهم والتوضؤ من آن يتهم والأكل فيها وإنزالهم المسجد كان ذلك دليلاً على أن المراد بالنجاسة المذكورة في الآية غير النجاسة الشرعية بل قد ورد البيان من الشارع لذلك بما لا يحتاج إلى زيادة فقال في وفد ثقيف لما أنزلهم المسجد: "ليس على الأرض من أنجاس القوم شيء إنما أنجاسهم على أنفسهم" ، فهذا يدل على أن تلك النجاسة حُكمية لا حِسِّيّة والتعبد إنما هو بالنجاسة الحسية، وأما ما ورد فيه ما يدل على نجاسته ولكنه قد
--------------------------------------------
এর নাপাক হওয়ার সপক্ষে দলিলসমূহ। সুতরাং আল্লাহ তাআলার কোনো বান্দার জন্য কেবল ভ্রান্ত মত বা দলিল গ্রহণে ভুলের মাধ্যমে কোনো কিছুকে নাপাক বলে হুকুম দেওয়া বৈধ নয়, যেমনটি কিছু ইলম অন্বেষণকারী দাবি করেন যে, আল্লাহ তাআলা যা হারাম করেছেন তা নাপাক। তারা ধারণা করেন যে নাপাকি এবং হারামের বিধান অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আর এই ধারণা বাতিলসমূহের মধ্যে নিকৃষ্টতম বাতিল। কেননা কোনো জিনিসের হারাম হওয়া তার নাপাক হওয়ার ওপর পূর্ণরূপে, অন্তর্ভুক্তিমূলক বা অপরিহার্যতা—কোনো পদ্ধতিতেই প্রমাণ করে না। অতএব মদ, মৃত প্রাণী এবং রক্ত হারাম হওয়া এগুলো নাপাক হওয়ার দলিল নয়। আর যেন শারী’ (বিধানদাতা) তাঁর উম্মতের কারো পক্ষ থেকে এমন ভুলের আশঙ্কা করে তাদের এর প্রতিকারের পথ দেখিয়ে বলেছেন: "মৃত প্রাণীর কেবল তা খাওয়াই হারাম করা হয়েছে।" ১ আর যদি কোনো জিনিসের কেবল হারাম হওয়াই তার নাপাক হওয়াকে অপরিহার্য করত, তবে মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের জন্য তোমাদের মায়েদের হারাম করা হয়েছে} শেষ পর্যন্ত—এই আয়াতে উল্লিখিত নারীদের নাপাক হওয়ার দলিল হতো। অথচ মুমিন জীবিত বা মৃত অবস্থায় নাপাক হয় না, যেমনটি সহিহ হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে। একইভাবে এমন কিছু সত্তাকে নাপাক বলা আবশ্যক হয়ে পড়ত যেগুলোর হারামের বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে অথচ সেগুলো সর্বসম্মতিক্রমে পাক, যেমন আনসাব (পূজার বেদি) এবং আযলাম (লটারি বা ভাগ্য নির্ধারণী তীর) এবং প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো মাদকদ্রব্য উৎপন্নকারী উদ্ভিদ ও ফলসমূহ। আপনি যদি বলেন, কোনো জিনিসের নাপাক হওয়া অথবা তার ওপর অপবিত্রতা বা কলুষতার হুকুম যদি তা নাপাক হওয়ার দলিল হয়—যেমনটি আপনি গোবর এবং শুকরের মাংসের নাপাকির ক্ষেত্রে বলেছেন—তবে মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, আনসাব এবং আযলাম হলো রিজস (অপবিত্র)} অনুসারে কেন আপনি মদের নাপাকির হুকুম দিচ্ছেন না? আমি বলব: যেহেতু মদ এখানে আনসাব ও আযলামের সাথে একত্রে উল্লিখিত হয়েছে, তাই এটি ‘রিজস’ শব্দটির অর্থকে শরিয়তসম্মত নাপাকি থেকে অন্য অর্থের দিকে সরিয়ে নেওয়ার একটি আলামত। একইভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {নিশ্চয়ই মুশরিকরা নাপাক}; যেহেতু মুশরিকদের শরীর নাপাক না হওয়ার সপক্ষে সহিহ দলিলসমূহ এসেছে—যেমন তাদের জবেহ করা পশুর গোশত ও খাবার খাওয়া, তাদের পাত্র থেকে ওজু করা ও তাতে আহার করা এবং তাদের মসজিদে থাকতে দেওয়ার বর্ণনা এসেছে—সেগুলো এই বিষয়ের দলিল যে, আয়াতে উল্লিখিত নাপাকি দ্বারা শরিয়তসম্মত দৃশ্যমান নাপাকি উদ্দেশ্য নয়। বরং শারী’ (বিধানদাতা) থেকে এ ব্যাপারে এমন স্পষ্ট বর্ণনা এসেছে যার পর আর কোনো ব্যাখ্যার প্রয়োজন নেই। তিনি সাকিফ গোত্রের প্রতিনিধি দলের ক্ষেত্রে বলেছিলেন যখন তিনি তাদের মসজিদে অবস্থান করতে দিয়েছিলেন: "জমিনে এই কওমের নাপাকির কিছুই নেই, বরং তাদের নাপাকি তাদের নিজেদের অন্তরে।" সুতরাং এটি প্রমাণ করে যে, উক্ত নাপাকি হলো হুকমি (বিশ্বাসগত), হিস্সি (দৃশ্যমান) নয়। আর ইবাদত মূলত দৃশ্যমান নাপাকির সাথেই সম্পৃক্ত। আর যার নাপাক হওয়ার দলিল বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু তা সম্ভবত
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ ত্বা আল-মাআরিফাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
عورض بما هو أرجح منه فلا شك أنه يتعين العمل بالأرجح فإن عورض بما يساويه فالأصل عدم التعبد بما يتضمن ذلك الحكم حتى يرد مورداً خالصاً عن شَوْب المعارضة أو راجحاً على ما عارضه.
وبالجملة: فالواجب على المنصف أن يقوم مقام المنع ولا يتزحزح عن هذا المقام إلا بحجة شرعية قال في سبل السلام: والحق أن الأصل في الأعيان الطهارة وأن التحريم لا يلازم النجاسة فإن الحشيشة محرمة طاهرة وكل المخدرات والسمومات القاتلة لا دليل على نجاستها، وأما النجاسة فيلازمها التحريم فكل نجس محرم ولا عكس وذلك لأن الحكم في النجاسة هو المنع عن ملامستها على كل حال فالحكم بنجاسة العين حكم بتحريمها بخلاف الحكم بالتحريم فإنه يحرم لبس الحرير والذهب وهما طاهران ضرورة شرعية وإجماعاً، إذا عرفت هذا فتحريم الحُمُر والخمر الذي دلت عليه النصوص لا يلزم منه نجاستها بل لا بد من دليل آخر عليه وإلا بقيا على الأصول المتفق عليها من الطهارة فمن ادعى خلافه فالدليل عليه انتهى. وقد أوضح الماتن في مصنفاته كشرح المنتقى ووبل الغمام حاشية شفاء الأوام هذه المباحث المتعلقة بالنجاسة ما لا يحتاج الناظر في ذلك إلى النظر في غيره فليرجع. .
فصل "ويطهر ما يتنجس بغلسه" أي بإسالة الماء عليه ثم إن ورد فيه شيء عن الشارع كان الواجب الاقتصار في صفة التطهير على ذلك الوارد من دون مخالفة بزيادة عليه أو نقصان عنه كما ورد في أن النعل إذا تلوث بالنجاسة طهر بمسحه وقد تقدم ما يدل على ذلك وتقدم أيضا ما ورد في كيفية تطهير ما ينجس بدم الحيض وبلعاب الكلب. وبالجملة: فكل ما علمنا الشارع كيفية تطهيره كان علينا أن نقتصر على تلك الكيفية، وأما ما ورد فيه عن الشارع أنه نجس ولم يرد فيه بيان كيفية تطهيره فالواجب علينا إذهاب تلك العين حتى لا يبقى لها عين ولا لون ولا ريح ولا طعم؛ لأن الشيء الذي يجد الإنسان ريحه أوطعمه قد بقي فيه جزء من العين وإن لم يبق جرمها ولونها إذ انفصال الرائحة لا يكون إلا عن وجود شيء من ذلك الشيء الذي له الريح وكذلك وجود الطعم لا يكون إلا عن وجود شيء من ذلك الشئ الذي له الطعم. "والنعل بالمسح" وكذلك
যদি তা অপেক্ষা অধিকতর অগ্রগণ্য কোনো কিছুর দ্বারা বিরোধপূর্ণ হয়, তবে নিঃসন্দেহে অগ্রগণ্য দলীল অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক। আর যদি সমপর্যায়ের কোনো দলীলের সাথে বিরোধ বাধে, তবে মূল নীতি হলো—ততক্ষণ পর্যন্ত সেই বিধান সম্বলিত ইবাদত না করা, যতক্ষণ না তা বিরোধের সংমিশ্রণ থেকে মুক্ত হয় অথবা বিরোধপূর্ণ বিষয়ের ওপর অগ্রগণ্য হিসেবে সাব্যস্ত হয়।
সারকথা হলো: একজন ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তির কর্তব্য হলো নিষেধাজ্ঞার অবস্থানে থাকা এবং শরয়ি দলীল ব্যতীত এই অবস্থান থেকে বিচ্যুত না হওয়া। 'সুবুলুস সালাম' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "সত্য কথা হলো, বস্তুসামগ্রীর মূল অবস্থা হলো পবিত্রতা এবং কোনো কিছু হারাম হওয়া মানেই তা নাপাক হওয়া নয়। কেননা গাঁজা হারাম হলেও তা পবিত্র এবং সমস্ত মাদকদ্রব্য ও প্রাণঘাতী বিষ নাপাক হওয়ার কোনো দলীল নেই। পক্ষান্তরে, কোনো বস্তু নাপাক হলে তা হারাম হওয়া অবধারিত। সুতরাং প্রত্যেক নাপাক বস্তুই হারাম, কিন্তু প্রত্যেক হারাম বস্তু নাপাক নয়। এর কারণ হলো, নাপাক হওয়ার বিধান হলো সবাবস্থায় তা স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকা। তাই কোনো বস্তুকে নাপাক সাব্যস্ত করার অর্থ হলো তা হারাম সাব্যস্ত করা; কিন্তু হারাম সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি এর বিপরীত। কেননা রেশম ও স্বর্ণ পরিধান করা হারাম, অথচ শরয়ি প্রয়োজন ও ইজমা (ঐক্যমত) অনুযায়ী এ দুটি পবিত্র। আপনি যখন এটি জানলেন, তখন অনুধাবন করুন যে, গাধা ও মদ হারাম হওয়ার বিষয়ে যে সকল নস বা পাঠ্যপ্রমাণ বর্ণিত হয়েছে, তা থেকে এগুলো নাপাক হওয়া আবশ্যক হয় না। বরং এর জন্য ভিন্ন দলীল প্রয়োজন। অন্যথায় এগুলো পবিত্রতার সর্বসম্মত মূলনীতির ওপরই বহাল থাকবে। সুতরাং যে ব্যক্তি এর বিপরীত দাবি করবে, দলীলের দায়ভার তারই ওপর বর্তাবে।" সমাপ্ত। মূল লেখক (মাতিন) তাঁর গ্রন্থাবলিতে, যেমন—'শারহুল মুনতাকা' এবং 'ওয়া্বলুল গামাম হাশিয়া শিফাউল আওয়াম'-এ নাপাকি সংশ্লিষ্ট এই বিষয়গুলো এমনভাবে স্পষ্ট করেছেন যে, এতে অনুসন্ধানকারীর জন্য অন্য কোনো কিতাব দেখার প্রয়োজন নেই; তাই সেদিকেই রুজু করা উচিত।
পরিচ্ছেদ: "যে বস্তু অপবিত্র হয়, তা ধৌত করার মাধ্যমে পবিত্র হয়" অর্থাৎ তার ওপর পানি প্রবাহিত করার মাধ্যমে। অতঃপর যদি এ বিষয়ে শরীয়ত প্রণেতার পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান বর্ণিত হয়ে থাকে, তবে পবিত্রতা অর্জনের পদ্ধতিতে সেই বর্ণিত বিষয়ের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকা ওয়াজিব; তাতে কোনো প্রকার হ্রাস-বৃদ্ধি না করে। যেমন বর্ণিত হয়েছে যে, জুতো যদি নাপাকিতে দূষিত হয়, তবে তা মুছার মাধ্যমেই পবিত্র হয়ে যায়। এর সপক্ষে দলীল ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। অনুরূপভাবে হায়েযের রক্ত এবং কুকুরের লালা দ্বারা নাপাক হওয়া বস্তু পবিত্র করার পদ্ধতিও আগে বর্ণিত হয়েছে। সারকথা হলো: শরীয়ত প্রণেতা আমাদের যে পদ্ধতির মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন শিখিয়েছেন, আমাদের জন্য সেই পদ্ধতির ওপরই সীমাবদ্ধ থাকা আবশ্যক। আর যে বিষয়ে শরীয়ত প্রণেতার পক্ষ থেকে নাপাক হওয়ার কথা এসেছে কিন্তু তা পবিত্র করার কোনো পদ্ধতি বর্ণিত হয়নি, সেক্ষেত্রে আমাদের দায়িত্ব হলো সেই নাপাক বস্তুটিকে এমনভাবে দূর করা যাতে তার কোনো অস্তিত্ব, রঙ, ঘ্রাণ বা স্বাদ অবশিষ্ট না থাকে। কেননা মানুষ কোনো কিছুর ঘ্রাণ বা স্বাদ অনুভব করার অর্থ হলো—যদিও তার মূল অবয়ব বা রঙ দৃশ্যমান নয়, তবুও সেখানে ওই বস্তুর কিছু অংশ রয়ে গেছে। কারণ ঘ্রাণের বিচ্ছুরণ ঘ্রাণযুক্ত সেই বস্তুর অস্তিত্ব ছাড়া সম্ভব নয়; তদ্রূপ স্বাদের উপস্থিতিও সেই স্বাদযুক্ত বস্তুর অস্তিত্ব ছাড়া হতে পারে না। "আর জুতো মুছার মাধ্যমে [পবিত্র হয়]" এবং তদ্রূপ...
(খণ্ড: ১)
আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ ত্বা আল-মাআরিফাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
الخف لأنه جسم صلب لا يتخلل فيه النجاسة والظاهر أنه عام في الرطبة واليابسة فيطهر من النجاسة التي لها جرم بالدلك ثم إن النبي صلى الله عليه وسلم لما علم حدوث الشكوك في الطهارات فيما يأتي من الزمان وأطلعه الله على ما يأتي به المصابون بالوسوسة من التأويلات التي ليس لها في الشريعة أساس أوضح هذا المعنى إيضاحا ينهدم عنده كل ما بنوه على قنطرة الشك والخيال فقال: "إذا جاء أحدكم المسجد فلينظر نعليه فإن كان فيهما خبث فليمسحه بالأرض ثم ليصل فيهما". ولفظ أحمد وأبي داود: "إذا جاء أحدكم إلى المسجد فليقلب نعليه ولينظر فيهما فإن رأى خبثا فليمسحه بالأرض ثم ليصل فيهما" فانظر هذه العبارة الهادمة لكل شك فإنه أولا بين لهم أنهم إذا وجدوا النجاسة في النعلين وجودا محققا فعلوا المسح بالأرض ثم أمرهم بالصلاة في النعلين ليعلموا بأن هذه هي الطهارة التي تجوز الصلاة بعدها ثم ترى أحدهم يلعب به الشيطان حتى يصير ماهو فيه نوعا من الجنون فيغسل يده أو وجهه مرة بعد مرة حتى يبلغ العدد إلى حد يضيق عنه الحصر مع دلك شديد وكلفة عظيمة واستغراق للفكر وهو يعلم بأن ذلك العضو لم تصبه نجاسة مغلظة ولا مخففة فلا يزال في تعب ونصب ومزاولة لا يشك من رآه أنه لم يبق عنده من العقل بقية ثم إذا فرغ من العضو الأول بعد جهد جهيد شرع في العضو الثاني ثم كذلك وكثير منهم من يدخل محل الطهارة قبل طلوع الفجر ولا يخرج إلا بعد طلوع الشمس فما بلغ الشيطان هذا المبلغ من أحد العصاة لأنه عذب نفسه في معصية لا لذة فيها للنفس ولا رفعة للقدر وصار بمجرد مجاوزة الثلاث الغسلات كما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "فمن تجاوزها فقد أساء وتعدى وظلم" فجمع له صلى الله عليه وسلم بين هذه الثلاثة الأنواع ثم لم يقنع منه بهذا حتى صيره تاركا للفريضة التي ليس بين العبد وبين الكفر إلا تركها كما ثبت في الحديث الصحيح عن جابر بلفظ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "بين الرجل وبين الكفر ترك الصلاة" أخرجه مسلم وأحمد وأبو داود والترمذي وابن ماجه وأخرج أهل السنن وأحمد من حديث بريدة قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "العهد الذي بيننا وبينهم الصلاة فمن تركها فقد كفر" وأخرج الترمذي عن عبد الله بن شقيق العقيلي قال: كان أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم لا يرون شيئا من الأعمال تركه كفر غير الصلاة. فانظر
চামড়ার মোজা (খুফ), কারণ এটি একটি শক্ত বস্তু যাতে অপবিত্রতা ভেতরে প্রবেশ করে না এবং প্রকাশ্যত এটি আর্দ্র ও শুষ্ক উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। ফলে যে অপবিত্রতার স্থুল দেহ বা অস্তিত্ব রয়েছে, তা ঘর্ষণের মাধ্যমে পবিত্র হয়ে যায়। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন জানতে পারলেন যে ভবিষ্যতে পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে সন্দেহের সৃষ্টি হবে এবং আল্লাহ তাকে ওয়াসওয়াসায় (খুতখুতে রোগে) আক্রান্ত ব্যক্তিদের সেইসব ব্যাখ্যা সম্পর্কে অবহিত করলেন যেগুলোর শরিয়তে কোনো ভিত্তি নেই, তখন তিনি এই বিষয়টি এমনভাবে স্পষ্ট করেছেন যা সন্দেহের ওপর ভিত্তি করে তাদের তৈরি করা সমস্ত ভিত্তিকে ধ্বংস করে দেয়। তিনি বললেন: "তোমাদের কেউ যখন মসজিদে আসে, তখন সে যেন তার জুতো দুটির দিকে তাকায়; যদি তাতে কোনো অপবিত্রতা দেখতে পায়, তবে সে যেন তা মাটিতে ঘষে ফেলে এবং এরপর তাতে নামাজ আদায় করে।" আহমদ ও আবু দাউদের শব্দাবলী হলো: "তোমাদের কেউ যখন মসজিদে আসে, তখন সে যেন তার জুতো উল্টে দেখে; যদি তাতে কোনো অপবিত্রতা দেখতে পায়, তবে সে যেন তা মাটিতে ঘষে ফেলে এবং এরপর তাতে নামাজ আদায় করে।"
লক্ষ্য করুন, এই শব্দাবলী প্রতিটি সন্দেহের মূলে কুঠারাঘাতকারী। কেননা, তিনি প্রথমে তাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, জুতোতে নিশ্চিতভাবে অপবিত্রতা পেলে তারা যেন তা মাটিতে ঘষে নেয়। এরপর তিনি তাদের সেই জুতো পরে নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তারা জানতে পারে যে, এটিই সেই পবিত্রতা যার মাধ্যমে নামাজ পড়া বৈধ। অতঃপর আপনি তাদের কাউকে দেখবেন যাকে শয়তান এমনভাবে খেলছে যে তার অবস্থা এক প্রকার পাগলামিতে রূপ নিয়েছে। সে তার হাত বা মুখ বারবার ধুতে থাকে, এমনকি তীব্র ঘষাঘষি, চরম কষ্ট ও গভীর চিন্তমগ্নতার সাথে ধোয়ার সংখ্যা এত অধিক পরিমাণে পৌঁছে যায় যা গণনা করা কঠিন হয়ে পড়ে। অথচ সে জানে যে, ওই অঙ্গে কোনো গুরুতর বা লঘু নাপাকি লাগেনি। এভাবে সে অনবরত ক্লান্তি, শ্রম ও কর্মতৎপরতার মধ্যে থাকে; যে তাকে দেখবে সে নিশ্চিত হবে যে তার মাঝে নূন্যতম বুদ্ধি অবশিষ্ট নেই।
অতঃপর যখন সে অনেক চেষ্টার পর প্রথম অঙ্গটি ধোয়া শেষ করে, তখন দ্বিতীয় অঙ্গ ধোয়া শুরু করে এবং একইভাবে চলতে থাকে। তাদের মধ্যে অনেকেই পবিত্রতা অর্জনের স্থানে ফজরের সূর্যোদয়ের আগে প্রবেশ করে এবং সূর্যোদয়ের পর ছাড়া বের হয় না। শয়তান কোনো পাপাচারীর কাছ থেকে এই পরিমাণ সাফল্য পায়নি, কারণ সে (ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তি) এমন এক পাপাচারের মাধ্যমে নিজেকে শাস্তি দিচ্ছে যাতে নফসের কোনো তৃপ্তি নেই এবং মর্যাদারও কোনো উচ্চতা নেই। মাত্র তিনবারের বেশি ধোয়ার মাধ্যমে সে সেই অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় যা সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি এর সীমা অতিক্রম করল সে মন্দ কাজ করল, সীমালঙ্ঘন করল এবং অন্যায় করল।" রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য এই তিন প্রকারের দোষ একত্রিত করেছেন। এরপরও শয়তান এতেই ক্ষান্ত হয়নি, এমনকি তাকে সেই ফরজ বর্জনকারী বানিয়ে ছেড়েছে যার ত্যাগ করা ছাড়া বান্দা ও কুফরের মাঝে আর কোনো অন্তরায় নেই। যেমন জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত সহিহ হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ব্যক্তি এবং কুফরের মাঝে ব্যবধান হলো নামাজ ত্যাগ করা।" এটি মুসলিম, আহমদ, আবু দাউদ, তিরমিজি ও ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। সুনান গ্রন্থকারগণ এবং ইমাম আহমদ বুরাইদাহ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "আমাদের ও তাদের মাঝে চুক্তি হলো নামাজ, সুতরাং যে তা ত্যাগ করল সে কুফরি করল।" ইমাম তিরমিজি আবদুল্লাহ ইবনে শাকিক আল-উকাইলি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ নামাজ ব্যতীত অন্য কোনো আমল ত্যাগ করাকে কুফর মনে করতেন না। সুতরাং লক্ষ্য করুন।
(খণ্ড: ১)
আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ ত্বা আল-মাআরিফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
كيف صار هذا الموسوس بنص رسول الله صلى الله عليه وسلم مسيئا متعديا ظالما كافرا إن بلغ إلى الحد الذي ذكرناه، فهذا باعتبار ما له عند ربه وأما باعتبار ما له عند الخلق فأقل الأحوال أن يقال: مجنون يلعب به الشيطان في مخالفة شريعة الرحمن فخسر الدنيا والآخرة ذلك هو الخسران المبين، ومع هذا فهو يعذب نفسه بأشد العذاب وكثيرا ما يفضي به ذلك إلى علة كبيرة تكون سببا لهلاكه فيلقى ربه قاتلا لنفسه في معصية فلا يراح رائحة الجنة كما ثبت عنه صلى الله عليه وسلم فيمن قبل نفسه وهذه المحنة يقع فيها العالم والجاهل فمن كان جاهلا اعتذر لنفسه بأعذار شيطانية قد استزله الشيطان بها فمنهم من يقول: لم أتيقن كمال الثلاث الغسلات في كل عضو وهو قد غسل ذلك العضو مئات ومنهم من يقول: أريد أن أغسل غسلا مشروعا لا تبقى شعرة ولا بشرة إلا وقد شملها الغسل والدلك فتراه يقلب يديه ورجليه ويدلك كل موضع منه في مقدار الجثة1 دلكا فظيعا فيشرع بالأنملة ثم يدلك جزءا بعد جزء حتى يفرغ من الأصبع ثم يأخذ في الأخرى ثم كذلك فلا يفرغ من غسل يده إلا بعد مدة طويلة ثم يلعب به الشيطان فيشككه فيما قد غسله أنه لم يغسله فيعود إليه ثم كذلك فلا يكمل الثلاث الغسلات في زعمه إلا بعد أن يبلغ بنفسه إلى حد يرحمه من رآه ومن كان عالما يعترف بأن هذا الفعل مخالف للشريعة وأنه وسوسة شيطانية وهو أقبح الرجلين فإنه ممن أضله الله على علم ونادى على نفسه بأنه منقاد لطاعة شيطانه في مخالفة خالقه مستغرق بعبادة عدو الله إبليس لم يبق فيه بقية تزجره عن معصيته فلم يستحي من الله فيحمله الحياء على إيثار الرحمن على الشيطان ولم يستحي من الناس فيردعه حياؤه عن التحدث لعباد الله بأنه قد اشتغل عن ربه بطاعته الشيطان، وفي مثل هذا قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إذا لم تستح فاصنع ما شئت". والحاصل: أن هذه المحنة قد عمت وطمت عند كل فرد من أفراد العباد منها جزء من الأجزاء وإن قل والكل من طاعة الشيطان ومخالفة الرحمن والناجي من ذلك هو الكبريت الأحمر وعنقاء مغرب والغراب الأبقع ومن أنكر هذا فليجرب نفسه ويعمل بمثل هذا النص الثابت عنه صلى الله عليه وسلم في مسح الأذى الذي يعلق بالنعل في الأرض ثم يصلي فيه وينظر عند ذلك كيف يجد نفسه مع أن ذلك هو المهيع الذي لا يرجح المجتهد سواه إن أنصف من نفسه
--------------------------------------------
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী অনুযায়ী এই ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তি কীভাবে অকল্যাণকারী, সীমালঙ্ঘনকারী, জালেম এবং কাফেরে পরিণত হয়—যদি সে আমাদের বর্ণিত সীমায় পৌঁছে যায়—তা হলো তার রবের নিকট তার যে অবস্থান সেই বিবেচনায়। আর সৃষ্টির নিকট তার অবস্থার বিচারে নূ্যনতম যা বলা যায় তা হলো: সে এক উন্মাদ যার সাথে শয়তান রহমানের শরিয়ত লঙ্ঘনের মাধ্যমে খেলা করছে। ফলে সে দুনিয়া ও আখেরাত উভয়ই হারাল; আর এটিই হলো সুস্পষ্ট ক্ষতি। এর পাশাপাশি সে নিজেকে চরম যন্ত্রণায় দগ্ধ করে, এবং প্রায়শই এটি তাকে এমন বড় ব্যাধির দিকে নিয়ে যায় যা তার ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ফলে সে তার রবের সাথে পাপাচারের মধ্যে আত্মঘাতী হিসেবে সাক্ষাৎ করে; তাই সে জান্নাতের সুঘ্রাণও পাবে না, যেমনটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আত্মহত্যাকারীর বিষয়ে প্রমাণিত হয়েছে। এই বিপদে আলেম এবং জাহেল উভয়ই পতিত হয়। যে জাহেল, সে শয়তানি ওজরের মাধ্যমে নিজেকে নির্দোষ সাব্যস্ত করে যার মাধ্যমে শয়তান তাকে পদস্খলিত করেছে। তাদের কেউ বলে: আমি প্রতিটি অঙ্গ তিনবার ধোয়ার পূর্ণতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারছি না—অথচ সে ওই অঙ্গটি শত শত বার ধুয়ে ফেলেছে। আবার কেউ বলে: আমি শরিয়তসম্মতভাবে ধৌত করতে চাই যাতে একটি চুল বা চামড়ার সামান্য অংশও ধোয়া এবং মর্দন থেকে বাদ না থাকে। ফলে তুমি তাকে দেখবে যে সে তার হাত ও পা উল্টেপাল্টে দেখছে এবং তার শরীরের প্রতিটি স্থান [১] বীভৎসভাবে মর্দন করছে। সে আঙুলের ডগা দিয়ে শুরু করে, তারপর এক এক অংশ করে মলে যতক্ষণ না আঙুল শেষ হয়, তারপর অন্যটি ধরে এবং এভাবেই চলতে থাকে। ফলে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার আগে সে তার হাত ধোয়া শেষ করতে পারে না। এরপর শয়তান তাকে নিয়ে খেলা করে এবং যা সে ধুয়ে ফেলেছে সে সম্পর্কে তাকে সন্দেহে ফেলে দেয় যে সে তা ধোয়নি। ফলে সে পুনরায় তাতে ফিরে যায় এবং এভাবেই চলতে থাকে। তার ধারণা অনুযায়ী তিনবার ধোয়া ততক্ষণ পূর্ণ হয় না যতক্ষণ না সে নিজেকে এমন এক অবস্থায় নিয়ে যায় যে, যে তাকে দেখে সেই তার প্রতি দয়া অনুভব করে। আর যে আলেম, সে স্বীকার করে যে এই কাজটি শরিয়ত পরিপন্থী এবং এটি শয়তানি ওয়াসওয়াসা। এই দুই ব্যক্তির মধ্যে সে-ই অধিক নিকৃষ্ট; কেননা সে ওইসব ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে আল্লাহ জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও পথভ্রষ্ট করেছেন। সে নিজের ব্যাপারে এই ঘোষণা দেয় যে সে তার স্রষ্টার অবাধ্যতায় তার শয়তানের আনুগত্যে অনুগত এবং আল্লাহর শত্রু ইবলিসের ইবাদতে নিমজ্জিত। তার মধ্যে এমন কোনো অবশিষ্ট বোধ নেই যা তাকে এই পাপাচার থেকে বিরত রাখবে। সে আল্লাহকে লজ্জা পায় না যাতে সেই লজ্জা তাকে শয়তানের বদলে রহমানকে অগ্রাধিকার দিতে উদ্বুদ্ধ করে। সে মানুষকেও লজ্জা পায় না যাতে তার লজ্জা তাকে আল্লাহর বান্দাদের কাছে এই কথা বলা থেকে বিরত রাখে যে, সে তার রবের ইবাদত ছেড়ে শয়তানের আনুগত্যে ব্যস্ত রয়েছে। আর এই জাতীয় বিষয়েই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যখন তোমার লজ্জা থাকবে না, তখন তুমি যা ইচ্ছা তা-ই করো।" সারকথা হলো: এই বিপদ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে এবং প্রত্যেক ইবাদতকারীর মধ্যেই এর কোনো না কোনো অংশ রয়েছে, যদিও তা সামান্য হয়। আর এর সবই শয়তানের আনুগত্য এবং রহমানের অবাধ্যতা থেকে উদ্ভূত। এ থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলো 'লাল গন্ধক', 'মাগরিবের ফিনিক্স পাখি' এবং 'ডোরাকাটা কাক' এর মতো বিরল। আর যে ব্যক্তি এটি অস্বীকার করে, সে যেন নিজেকে পরীক্ষা করে এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত ওই হাদিস অনুযায়ী আমল করে যেখানে জুতোয় লেগে থাকা ময়লা মাটিতে মুছে ফেলার পর তা পরেই নামাজ পড়ার কথা বলা হয়েছে। তখন সে দেখুক নিজের মধ্যে সে কী অনুভব করে। অথচ এটিই হলো সেই সুস্পষ্ট পথ যা ছাড়া কোনো মুজতাহিদ অন্য কিছুকে অগ্রাধিকার দেন না, যদি তিনি নিজের প্রতি ইনসাফ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ ত্বা আল-মাআরিফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فليصدق فعله قوله، وإن كان مقلدا فله بالأئمة الأسلاف قدوة وهم الأقل من القائلين بذلك وهيهات ذاك فإن الشكوك والخيالات قد جعلها الشيطان ذريعة يقتنص بها من لم يقع في شباكه المنصوبة للمتهتكين من العصاة المستهترين بمحبتها لأنه وجد قوما لا تطمح أنفسهم إلى شرب الخمور وارتكاب الفجور فحفر لهم حفيرة جمع لهم فيها بين خزي الدنيا والآخرة فهم أشقى أتباعه اللهم أعذنا من نزعات الشيطان وأجرنا من خزي الدنيا وعذاب الآخرة. والاستحالة مطهرة أي إذا استحال الشيء إلى شيء آخر حتى كان ذلك الشيء الآخر مخالفا للشيء الأول لونا وطعما وريحا كاستحالة العذرة رمادا وقد أوضحت ذلك في كتابي دليل الطالب فليراجع وحققه الماتن في وبل الغمام والسيل الجرار وغيرهما، لعدم وجود الوصف المحكوم عليه يعني فقدْ فقدَ الوصف الذي وقع الحكم من الشارع بالنجاسة عليه وهذا هو الحق والخلاف في ذلك معروف
وما كان لا يمكن غسله من المتنجسات كالأرض والبئر فتطهيره بالصب عليه أو النزح منه حتى لا يبقى أي لا يوجد للنجاسة أثر لأنها لو كانت باقية لكان التعبد بإذهابها باقيا، ولكن هذا إنما يكون في مثل النجاسة التي لها جرم ولون، وأما مثل البول فقد ورد عن الشارع أن تطهيره بأن يصب عليه ذنوب من ماء فإذا وقع ذلك صارت الأرض المتنجسة بالبول طاهرة. أقول: البول على الأرض يطهره مكاثرة الماء عليه وهو مأخوذ مما تقرر عند الناس قاطبة أن المطهر الكثير يطهر الأرض وأن المكاثرة تذهب بالرائحة المنتنة وتجعل البول متلاشيا كأن لم يكن في المسوى. قال الشافعي رحمه الله تعالى: إذا أصاب الأرض بول أو غيره من النجاسة المائعة فصب عليها الماء حتى غلبها طهرت والغسالة طاهرة إذا لم يكن فيها تغير ولكنها لا تطهر وفرق بين ورود النجاسة على الماء وورود الماء على النجاسة، وعند الحنفية رحمهم الله تعالى الغسالة نجسة والأرض لا تطهر بصب الماء حتى تزول عنها الغسالة انتهى. والماء هو الأصل في التطهير فلا يقوم غيره مقامه إلا بإذن من الشارع لأن كون الأصل في التطهير هو الماء قد وصف بذلك في الكتاب والسنة وصفا مطلقا غير مقيد بل قوله صلى الله عليه وسلم: "الماء طهور" يرشد إلى ما ذكرنا إرشادا تشهد له قواعد علم المعاني وعلم الأصول فإذا ثبت عن الشارع أن تطهيره شيء
সুতরাং তার কর্ম যেন তার বাক্যকে সত্যায়ন করে। আর যদি সে মুকাল্লিদ (অনুগামী) হয়ে থাকে, তবে তার জন্য পূর্বসূরি ইমামগণ আদর্শ, যারা এই মতের প্রবক্তাদের মধ্যে সংখ্যায় অতি অল্প। কিন্তু হায়! শয়তান সংশয় ও কল্পনাকে এমন এক উসিলা বানিয়েছে যার মাধ্যমে সে তাদের শিকার করে যারা অবাধ্য ও পাপাসক্তদের জন্য পাতা তার জালে ধরা পড়েনি; কারণ সে এমন এক সম্প্রদায়কে পেয়েছে যাদের মন মদ পান ও পাপাচারের দিকে ধাবিত হয় না; ফলে সে তাদের জন্য এমন এক গর্ত খুঁড়েছে যেখানে সে তাদের দুনিয়া ও আখিরাতের লাঞ্ছনাকে একত্রিত করেছে। সুতরাং তারা শয়তানের অনুসারীদের মধ্যে সবচেয়ে হতভাগা। হে আল্লাহ! শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আমাদের রক্ষা করুন এবং দুনিয়ার লাঞ্ছনা ও আখিরাতের আযাব থেকে আমাদের মুক্তি দিন। রূপান্তর (ইস্তিহালা) হলো পবিত্রকারী। অর্থাৎ, যখন কোনো বস্তু অন্য কোনো বস্তুতে রূপান্তরিত হয়ে যায়, এমনকি সেই দ্বিতীয় বস্তুটি রঙ, স্বাদ ও ঘ্রাণে প্রথম বস্তুর থেকে ভিন্নতর হয়ে যায়—যেমন মল ভস্মে রূপান্তরিত হওয়া। আমি আমার ‘দালীলুত ত্বালিব’ কিতাবে এটি স্পষ্ট করেছি, সুতরাং সেটি দেখা যেতে পারে। মূল লেখক (মাতিন) ‘ওয়াব্লুল গামাম’, ‘আস-সায়লুল জাররার’ এবং অন্যান্য কিতাবে এটি তাহকীক (বিশ্লেষণ) করেছেন। কারণ যে বৈশিষ্ট্যের ওপর বিধান প্রদান করা হয়েছিল তা এখন অনুপস্থিত। অর্থাৎ, শারী‘আহ প্রবর্তকের পক্ষ থেকে নাপাকির যে বৈশিষ্ট্যের কারণে বিধান দেওয়া হয়েছিল, তা বিলুপ্ত হয়েছে। আর এটিই হলো সঠিক মত এবং এ বিষয়ে মতভেদ সুপরিচিত।
নাপাক হওয়া বস্তুসমূহের মধ্যে যা ধৌত করা সম্ভব নয়, যেমন জমিন ও কূয়া; তবে তা পবিত্র করার পদ্ধতি হলো তার ওপর পানি ঢেলে দেওয়া অথবা তা থেকে পানি সেচে ফেলা, যাতে নাপাকির কোনো চিহ্ন অবশিষ্ট না থাকে। অর্থাৎ নাপাকির অস্তিত্ব যেন না পাওয়া যায়। কারণ নাপাকি যদি অবশিষ্ট থাকে, তবে তা দূর করার ইবাদতও অবশিষ্ট থাকবে। তবে এটি কেবল সেই নাপাকির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যার অবয়ব ও বর্ণ রয়েছে। আর প্রস্রাবের মতো নাপাকির ক্ষেত্রে শারী‘আহ প্রবর্তক থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তা পবিত্র করার পদ্ধতি হলো তার ওপর এক বালতি পানি ঢেলে দেওয়া। যখন এটি করা হবে, তখন প্রস্রাব দ্বারা নাপাক হওয়া জমিন পবিত্র হয়ে যাবে। আমি বলছি: জমিনের ওপর পড়া প্রস্রাবকে তার ওপর অধিক পানি প্রবাহিত করা পবিত্র করে দেয়। এটি সর্বস্তরের মানুষের মাঝে সুপ্রতিষ্ঠিত এই নিয়ম থেকে গৃহীত যে, অধিক পরিমাণ পবিত্রকারী বস্তু জমিনকে পবিত্র করে এবং পানির আধিক্য দুর্গন্ধ দূর করে দেয় ও প্রস্রাবকে এমনভাবে নিঃশেষ করে দেয় যেন সমতলে তার কোনো অস্তিত্বই ছিল না। ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেছেন: যখন জমিনে প্রস্রাব বা অন্য কোনো তরল নাপাকি লাগে, তখন তার ওপর পানি ঢেলে দিলে এবং পানি নাপাকির ওপর প্রবল হলে তা পবিত্র হয়ে যাবে। আর ধৌত করার পর অবশিষ্ট পানি (গুসালা) যদি অপরিবর্তিত থাকে তবে তা পবিত্র, কিন্তু তা অন্য কিছুকে পবিত্র করে না। নাপাকির ওপর পানি আসা এবং পানির ওপর নাপাকি পড়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আর হানাফীগণের (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) মতে, ধৌত করার পর অবশিষ্ট পানি (গুসালা) নাপাক এবং পানি ঢালার দ্বারা জমিন ততক্ষণ পবিত্র হবে না যতক্ষণ না তা থেকে ধোয়া পানি অপসারিত হয়। সমাপ্ত। আর পানিই হলো পবিত্রকরণের মূল মাধ্যম। সুতরাং শারী‘আহ প্রবর্তকের অনুমতি ব্যতীত অন্য কিছু তার স্থলাভিষিক্ত হতে পারবে না। কারণ পবিত্রকরণের মূল যে পানি, তা কুরআন ও সুন্নাহতে কোনো সীমাবদ্ধতা ছাড়াই নিঃশর্তভাবে বর্ণিত হয়েছে। বরং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "পানি পবিত্রকারী" আমাদের উল্লিখিত বিষয়ের দিকেই দিকনির্দেশনা প্রদান করে, যার সাক্ষ্য ইলমুল মাআনী ও ইলমুল উসূলের মূলনীতিসমূহ প্রদান করে। সুতরাং যখন শারী‘আহ প্রবর্তক থেকে প্রমাণিত হয় যে কোনো বস্তুর মাধ্যমে পবিত্র করা...
(খণ্ড: ১)
আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ ত্বা আল-মাআরিফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
من النجاسات يكون بغير الماء كمسح النعل بالأرض ونحو ذلك كان الماء غير متعين في تطهير تلك النجاسة بخصوصها بل نقتصر عليه هناك ويتعين الماء فيما عداها وهذا هو الحق، وقد ذهب الجمهور إلى أن الماء هو المتعين في تطهير النجاسات، وذهب أبو حنيفة رحمه الله تعالى وأبو يوسف رحمه الله تعالى إلى أنه يجوز التطهير بكل مائع طاهر ويرد على الجمهور بما ثبت عن الشارع تطهيره بغير الماء إن كانوا يقولون إن الماء يتعين في مثل ذلك ويرد على أبي حنيفة رحمه الله تعالى ومن معه بأن إثبات مطهر لم يرد عن الشارع أو تطهير على غير الصفة الثابتة عنه مدفوع.
অপবিত্রতা দূর করার বিষয়টি যদি পানি ব্যতীত অন্য কিছু দ্বারা হয়, যেমন জুতা মাটিতে ঘষে পরিষ্কার করা বা অনুরূপ কিছু, তবে সেই বিশেষ অপবিত্রতা পবিত্র করার ক্ষেত্রে পানি সুনির্দিষ্ট নয়; বরং আমরা সেখানে কেবল সেটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব এবং তা ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে পানিই সুনির্দিষ্ট হবে। আর এটিই সঠিক। জুমহুর উলামায়ে কেরাম এই মত পোষণ করেছেন যে, অপবিত্রতা দূর করার ক্ষেত্রে পানিই সুনির্দিষ্ট। আর ইমাম আবু হানিফা (রহমাতুল্লাহি তা'আলা) এবং আবু ইউসুফ (রহমাতুল্লাহি তা'আলা) এই মত পোষণ করেছেন যে, প্রতিটি পবিত্র তরল পদার্থের মাধ্যমেই পবিত্রতা অর্জন করা বৈধ। জুমহুর উলামায়ে কেরামের বিপক্ষে সেইসব প্রমাণ উপস্থাপিত হয় যা বিধানদাতার (শারি‘) পক্ষ থেকে পানি ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে পবিত্র করার বিষয়ে প্রমাণিত হয়েছে—যদি তারা মনে করেন যে এই জাতীয় ক্ষেত্রেও পানি সুনির্দিষ্ট। আর ইমাম আবু হানিফা (রহমাতুল্লাহি তা'আলা) ও তাঁর অনুসারীদের বিপক্ষে এই কথা বলে উত্তর দেওয়া হয় যে, এমন কোনো পবিত্রকারী বস্তু সাব্যস্ত করা যা বিধানদাতার (শারি‘) পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়নি অথবা তাঁর থেকে প্রমাণিত পদ্ধতির বাইরে অন্য কোনো উপায়ে পবিত্রতা অর্জন করা—প্রত্যাখ্যাত।
(খণ্ড: ১)
আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ ত্বা আল-মাআরিফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
باب قضاء الحاجةوالحاجة كناية عن خروج البول والغائط وهو مأخوذ من قوله صلى الله عليه وسلم: "إذا قعد أحدكم لحاجته" وعبر عنه الفقهاء بباب الاستطابة لحديث: "ولا يستطيب بيمينه" ، والمحدثون بباب التخلي مأخوذ من قوله: "إذا دخل أحدكم الخلاء" والتبرز من قوله: "البراز في الموارد" والكل من العبارات صحيح على المتخلي الاستتار فينبغي أن يبعد لئلا يسمع منه صوت أو يشم منه ريح أو يرى منه عورة ولا يرفع ثوبه "حتى يدنو من الأرض" عند قضاء الحاجة ويستتر بمثل حائش نخل مما يواري أسفل بدنه فمن لم يجد إلا أن يجمع كثيبا من رمل فليستدبره فإن الشيطان يلعب بمقاعد بني آدم وذلك لأن الشيطان جبل على أفكار فاسدة وأعمال شنيعة كذا في الحجة، وذلك لما ورد من الأدلة الدالة على وجوب ستر العورة عموما وخصوصا إلا عند الضرورة ومنها قضاء الحاجة فلا يكشف عورته إلا عند القعود وقد أخرج أحمد وأبو داود وابن ماجه وابن حبان والحاكم والبيهقي من حديث أبي هريرة بلفظ: "من أتى الغائط فليستتر". "والبعد" لما أخرجه أهل السنن وصححه الترمذي من حديث جابر رضي الله عنه قال: خرجنا مع النبي صلى الله عليه وسلم في سفر فكان لا يأتي البراز حتى يغيب فلا يرى، ولفظ أبي داود: كان إذا أراد البراز انطلق حتى لا يراه أحد، ورجاله رجال الصحيح إلا إسماعيل بن عبد الملك الكوفي ففيه مقال يسير. "أو دخول الكنيف" يعني إذا أراد أن يقضي الحاجة في البنيان وهناك كنيف فليس عليه
শৌচকার্য সম্পাদন অধ্যায়হাজত (প্রয়োজন) শব্দটি প্রস্রাব ও পায়খানা নির্গত হওয়ার একটি রূপক শব্দ। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এই বাণী থেকে গৃহীত হয়েছে: "যখন তোমাদের কেউ তার হাজত পূরণের জন্য বসবে।" ফকিহগণ একে 'পবিত্রতা অর্জন অধ্যায়' হিসেবে অভিহিত করেছেন এই হাদিসের কারণে: "আর সে যেন তার ডান হাত দিয়ে পবিত্রতা অর্জন না করে।" আর মুহাদ্দিসগণ একে 'নির্জনতা অবলম্বন অধ্যায়' হিসেবে অভিহিত করেছেন তাঁর এই বাণী থেকে: "যখন তোমাদের কেউ শৌচাগারে প্রবেশ করবে।" আর 'মলত্যাগ' শব্দটি তাঁর এই বাণী থেকে গৃহীত: "পানির ঘাটে মলত্যাগ করা।" এই সবগুলো পরিভাষাই সঠিক। শৌচকার্য সম্পাদনকারীর জন্য নিজেকে আড়াল করা আবশ্যক। তাই তার উচিত লোকচক্ষুর অন্তরালে দূরে যাওয়া যাতে তার কোনো শব্দ শোনা না যায়, তার থেকে কোনো গন্ধ পাওয়া না যায় অথবা তার লজ্জাস্থান দেখা না যায়। শৌচকার্য সম্পাদনের সময় সে যেন তার কাপড় না উঠায় "যতক্ষণ না সে মাটির কাছাকাছি হয়।" সে যেন খেজুর বাগান বা এমন কিছুর মাধ্যমে নিজেকে আড়াল করে যা তার শরীরের নিচের অংশ ঢেকে রাখে। যদি সে বালুর ঢিবি স্তূপ করা ছাড়া অন্য কিছু না পায়, তবে সে যেন সেটিকে পেছনে রাখে। কেননা শয়তান বনী আদমের বসার স্থান নিয়ে খেলা করে। আর এর কারণ হলো শয়তান স্বভাবগতভাবেই কলুষিত চিন্তা ও জঘন্য কর্মে লিপ্ত, যেমনটি 'আল-হুজ্জাহ' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আর এটি ওইসব দলিলের কারণে যা সাধারণভাবে এবং বিশেষভাবে লজ্জাস্থান আবৃত রাখা ওয়াজিব হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে, তবে বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত; যার মধ্যে শৌচকার্য সম্পাদন অন্যতম। অতএব, বসার উপক্রম হওয়া ছাড়া সে যেন তার লজ্জাস্থান উন্মুক্ত না করে। ইমাম আহমাদ, আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, হাকেম এবং বায়হাকি আবু হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর হাদিস থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "যে ব্যক্তি পায়খানায় যায় সে যেন আড়াল গ্রহণ করে।" আর "দূরে যাওয়া" প্রসঙ্গে সুনান গ্রন্থকারগণ বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী একে সহিহ বলেছেন জাবির (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর হাদিস থেকে, তিনি বলেন: "আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে এক সফরে বের হলাম, তিনি মলত্যাগের জন্য এত দূরে যেতেন যে দৃষ্টির আড়ালে চলে যেতেন এবং তাঁকে আর দেখা যেত না।" আবু দাউদের বর্ণনায় এসেছে: "তিনি যখন মলত্যাগের ইচ্ছা করতেন তখন দূরে চলে যেতেন যাতে কেউ তাঁকে দেখতে না পায়।" এর বর্ণনাকারীগণ সহিহ গ্রন্থের বর্ণনাকারী, তবে ইসমাঈল বিন আব্দুল মালিক আল-কুফি ব্যতীত, যাঁর ব্যাপারে সামান্য সমালোচনা রয়েছে। "অথবা শৌচাগারে প্রবেশ করা" অর্থাৎ যখন সে কোনো দালানের ভেতরে শৌচকার্য সম্পাদন করতে চায় এবং সেখানে নির্দিষ্ট শৌচাগার থাকে, তখন তার ওপর (দূরে যাওয়ার বিষয়টি) আবশ্যক থাকে না।
(খণ্ড: ১)
আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ ত্বা আল-মাআরিফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
إلا أن يدخله وإن قرب من الناس لما سيأتي من حديث ابن عمر. وأما "ترك الكلام" فلحديث: "لا يخرج الرجلان يضربان الغائط كاشفين عورتهما يتحدثان فإن الله يمقت على ذلك". أخرجه أحمد وأبو داود وابن ماجة من حديث أبي سعيد وأخرج نحوه ابن السكن وصححه من حديث جابر رضي الله تعالى عنه. وأما ترك الملابسة لما له حرمة فلحديث أنس رضي الله عنه عند أهل السنن وصححه الترمذي والمنذري وابن دقيق العيد بلفظ كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا دخل الخلاء ينزع خاتمه، ولم يأت من ضعفه بما تقوم به الحجة في التضعيف. وتجنب الأمكنة التي منع عن التخلي فيها شرع كالتخلي في ظل الناس وطريقهم ومتحدثهم والماء الدائم فقد ورد في ذلك أحاديث منها حديث أبي هريرة رضي الله عنه عند مسلم رحمه الله تعالى وأبي داود رحمه الله تعالى قال: "اتقوا اللاعنين" قالوا: وما اللاعنان يا رسول الله؟ قال: "الذي يتخلى في طريق الناس أو في ظلهم". وافهم أن الحكمة الاحتراز عن لعنهم وتأذيهم ومنها حديث معاذ بن جبل عند أبي داود وابن ماجه والحاكم وابن السكن وصححاه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "اتقوا الملاعن الثلاث البراز في الموارد وقارعة الطريق والظل" وقد أعل بأنه من رواية أبي سعيد الحميري عن معاذ ولم يسمع منه، وفي الباب أحاديث فيها مقال ومن الأمكنة التي نهى الشارع عنها الجحر لحديث عبد الله بن سرجس قال: نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يبال في الجحر، أخرجه أحمد والنسائي وأبو داود والحاكم والبيهقي وقد أعل بأنه من رواية قتادة عنه ولم يسمع منه ولكنه قد صحح سماعه منه علي بن المديني وصحح الحديث ابن خزيمة وابن السكن، والجحر قد يكون مأوى حية أو مثلها فتخرج وتؤذي، ومنها ما أخرجه أحمد رحمه الله تعالى وأهل السنن من حديث عبد الله بن مغفل عن البني صلى الله عليه وسلم قال: "لا يبولن أحدكم في مستحمه ثم يتوضأ فيه فإن عامة الوسواس منه". ومنها ما أخرجه مسلم رحمه الله تعالى وأحمد رحمه الله تعالى والنسائي رحمه لله تعالى وابن ماجة رحمه الله تعالى عن جابر رضي الله تعالى عنه: أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى أن يبال في الماء الراكد، "أو عرف" وجهه أنهم يتأذون بذلك وما كان ذريعة إلى ما لا يحل فهو لا يحل: "وعدم
তবে তিনি যদি তাতে প্রবেশ করেন যদিও তা মানুষের কাছাকাছি হয়, যেমনটি ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসে সামনে আসবে। আর "কথা বলা বর্জন করা" সংক্রান্ত বিষয়টি এই হাদিসের কারণে: "দুই ব্যক্তি যেন তাদের সতর উন্মুক্ত অবস্থায় মলত্যাগ করতে না বের হয় এবং কথা না বলে, কারণ আল্লাহ এতে অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হন।" এটি আহমাদ, আবু দাউদ এবং ইবনে মাজাহ আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে সাকানও জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং একে সহিহ বলেছেন। আর সম্মানজনক জিনিসের সংস্পর্শ বর্জন করার বিষয়টি সুনান সংকলকগণের নিকট বর্ণিত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসের কারণে, যা তিরমিজি, মুনজিরি এবং ইবনে দাকীকুল ঈদ সহিহ বলেছেন। এর শব্দ হলো: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন শৌচাগারে প্রবেশ করতেন, তখন তাঁর আংটি খুলে রাখতেন। যারা একে দুর্বল বলেছেন, তাদের পক্ষ থেকে দুর্বল সাব্যস্ত করার মতো শক্তিশালী কোনো দলিল আসেনি। আর শরিয়ত যেসব স্থানে মলমূত্র ত্যাগ করতে নিষেধ করেছে সেসব স্থান বর্জন করা, যেমন মানুষের বিশ্রামের ছায়া, তাদের চলাচলের পথ, তাদের আড্ডার স্থান এবং বদ্ধ পানি। এই বিষয়ে বেশ কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যার মধ্যে মুসলিম ও আবু দাউদ রহমাতুল্লাহি আলাইহিমা কর্তৃক বর্ণিত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসটি অন্যতম। তিনি বলেন: "তোমরা অভিশপ্ত হওয়ার দুটি কাজ থেকে বেঁচে থাকো।" তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসুল, অভিশপ্ত হওয়ার দুটি কাজ কী কী? তিনি বললেন: "যে ব্যক্তি মানুষের চলাচলের পথে অথবা তাদের বিশ্রামের ছায়ায় মলত্যাগ করে।" বুঝে নিন যে, এর হিকমত বা রহস্য হলো তাদের অভিশাপ ও কষ্ট দেওয়া থেকে বেঁচে থাকা। এই বিষয়ের আরও একটি হাদিস হলো আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ, হাকেম এবং ইবনে সাকান কর্তৃক বর্ণিত মুয়াজ ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস—শেষোক্ত দুইজন একে সহিহ বলেছেন। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তোমরা অভিশাপের তিনটি কাজ থেকে বেঁচে থাকো: পানির ঘাটে, রাস্তার মাঝখানে এবং ছায়াযুক্ত স্থানে মলত্যাগ করা।" যদিও এর ত্রুটি হিসেবে বলা হয়েছে যে, এটি মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে আবু সাঈদ আল-হিমইয়ারির বর্ণনা, অথচ তিনি তাঁর থেকে শোনেননি। এই অধ্যায়ে আরও কিছু হাদিস রয়েছে যেগুলোর সনদে সমালোচনা আছে। আর শরিয়ত দাতা যেসব স্থানে নিষেধ করেছেন তার মধ্যে গর্তও অন্তর্ভুক্ত, যা আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসের কারণে বর্ণিত। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম গর্তে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন। এটি আহমাদ, নাসাঈ, আবু দাউদ, হাকেম এবং বায়হাকী বর্ণনা করেছেন। এর ত্রুটি হিসেবে বলা হয়েছে যে, এটি কাতাদা কর্তৃক বর্ণিত হলেও তিনি তাঁর থেকে শোনেননি। তবে আলী ইবনুল মাদীনী তাঁর থেকে শোনাকে সহিহ বলেছেন এবং ইবনে খুজাইমা ও ইবনে সাকান হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন। কেননা গর্ত সাপ বা অনুরূপ কোনো প্রাণীর আবাসস্থল হতে পারে, যা বের হয়ে এসে কষ্ট দিতে পারে। এর মধ্যে আরও রয়েছে যা আহমাদ ও সুনান গ্রন্থকারগণ আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ যেন তার গোসলের জায়গায় প্রস্রাব না করে এবং পরে সেখানে অজু না করে, কেননা অধিকাংশ কুমন্ত্রণা এ থেকেই সৃষ্টি হয়।" এর মধ্যে আরও রয়েছে যা মুসলিম, আহমাদ, নাসাঈ এবং ইবনে মাজাহ রহমাতুল্লাহি আলাইহিম জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন। "অথবা জানা গেছে" এর কারণ হলো যে, মানুষ এর দ্বারা কষ্ট পায়; আর যা হারামের মাধ্যম হয় তাও হারাম। "এবং না হওয়া"
(খণ্ড: ১)
আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ ত্বা আল-মাআরিফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
الاستقبال والاستدبار للقبلة" قد ورد في ذلك أحاديث منها ما في الصحيحين وغيرهما من حديث أبي أيوب بلفظ: "إذا أتيتم الغائط فلا تستقبلوا القبلة ولا تستدبروها ولكن شرقوا أو غربوا". وأخرج نحوه مسلم وغيره من حديث أبي هريرة رضي الله تعالى عنه ومن حديث سلمان أيضا وابن ماجه وابن حبان من حديث عبد الله بن الحرث بن جزء وأبو داود من حديث عبد الله بن مغفل والدارمي في مسنده من حديث سهل بن حنيف وقد اختلف أهل العلم في ذلك على ثمانية أقوال استوفاها الماتن في نيل الأوطار وقد استدل من لم يمنع من ذلك بما أخرجه الجماعة من حديث ابن عمر قال: رقيت يوما على بيت حفصة رضي الله تعالى عنها فرأيت النبي صلى الله عليه وسلم على حاجته مستقبل الشام مستدبر الكعبة، وجعلوا هذا الحديث ناسخا لأحاديث النهي. ومن جملة ما استدلوا به حديث جابر رضي الله تعالى عنه عند أحمد رحمه الله تعالى وأبي داود رح تعالى والترمذي رح تعالى وحسنه وابن ماجه رح تعالى والبزار رح تعالى وابن الجارود رح تعالى وابن خزيمة رح تعالى وابن حبان رح تعالى والحاكم رح تعالى والدارقطني رح تعالى قال: نهى النبي صلى الله عليه وسلم أن نستقبل القبلة ببول فرأيته قبل أن يقبض بعام يستقبلها، وقد نقل الترمذي عن البخاري رح تعالى تصحيحه وصححه أيضا ابن السكن وحسنه أيضا البزار، ولا يخفى أنه قد تقرر في الأصول أن فعله صلى الله عليه وسلم لا يعارض القول الخاص بالأمة فما وقع منه صلى الله عليه وسلم لا يعارض النهي عن الاستقبال والاستدبار للقبلة1، فإن قلت حديث عائشة رضي الله تعالى عنها عند أحمد رح تعالى وابن ماجه رح تعالى قالت: ذكر لرسول الله صلى الله عليه وسلم أن ناسا يكرهون أن يستقبلوا القبلة بفروجهم فقال: "أو قد فعلوها حولوا مقعدتي قبل القبلة". قلت: لو صح هذا لكان صالحا للنسخ لأن النبي صلى الله عليه وسلم فعله لقصد التشريع للأمة ولمخالفة من كان يكره الاستقبال ولكنه لم يصح فإن في إسناده خالد بن أبي الصلب قال ابن حزم:
--------------------------------------------
"কিবলার দিকে মুখ করা এবং পিঠ দেওয়া" সম্পর্কে বেশ কিছু হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্যে সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম) এবং অন্যান্য গ্রন্থে আবু আইয়ুব থেকে বর্ণিত হাদিসটি হলো: "তোমরা যখন মলত্যাগের জন্য আসবে, তখন কিবলার দিকে মুখ করবে না এবং তার দিকে পিঠও দেবে না; বরং তোমরা পূর্ব অথবা পশ্চিম দিকে মুখ করো।" অনুরূপ হাদিস মুসলিম এবং অন্যান্যরা আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে, এবং সালমান থেকেও বর্ণনা করেছেন। এছাড়া ইবনে মাজাহ ও ইবনে হিব্বান আব্দুল্লাহ ইবনুল হারিস ইবনে জায থেকে, আবু দাউদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল থেকে এবং দারেমি তাঁর মুসনাদে সাহল ইবনে হুনাইফ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে আটটি মতভেদ রয়েছে, যা মূল গ্রন্থকার 'নাইলুল আওতার' গ্রন্থে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। যারা এটি নিষিদ্ধ মনে করেন না, তারা জামাআত (হাদিস বিশারদগণ) কর্তৃক বর্ণিত ইবনে উমর থেকে বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন: "একদা আমি হাফসা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর ঘরের ছাদে উঠেছিলাম, তখন আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে শামের দিকে মুখ করে এবং কাবার দিকে পিঠ দিয়ে প্রয়োজন পূরণ করতে দেখি।" তারা এই হাদিসটিকে নিষেধাজ্ঞার হাদিসসমূহের রহিতকারী (নাসিখ) হিসেবে গণ্য করেছেন। তাদের পেশকৃত দলিলের মধ্যে জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদিসটিও অন্তর্ভুক্ত, যা ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ), আবু দাউদ (রাহিমাহুল্লাহ), তিরমিজি (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে হাসান বলেছেন, এছাড়া ইবনে মাজাহ (রাহিমাহুল্লাহ), বাযযার (রাহিমাহুল্লাহ), ইবনুল জারুদ (রাহিমাহুল্লাহ), ইবনে খুজাইমা (রাহিমাহুল্লাহ), ইবনে হিব্বান (রাহিমাহুল্লাহ), হাকিম (রাহিমাহুল্লাহ) এবং দারা কুতনি (রাহিমাহুল্লাহ) বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পেশাবের সময় কিবলার দিকে মুখ করতে নিষেধ করেছিলেন, অতঃপর তাঁর ইন্তেকালের এক বছর পূর্বে আমি তাঁকে কিবলার দিকে মুখ করে (পেশাব করতে) দেখেছি।" তিরমিজি ইমাম বুখারি (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে এর বিশুদ্ধতা (সহিহ হওয়া) বর্ণনা করেছেন। ইবনুস সাকানও একে সহিহ বলেছেন এবং বাযযার একে হাসান বলেছেন। এটি অস্পষ্ট নয় যে, উসুল (মূলনীতি)-শাস্ত্রে এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর (ব্যক্তিগত) কাজ উম্মতের জন্য প্রযোজ্য সুনির্দিষ্ট বাচনিক নির্দেশের পরিপন্থী হয় না। সুতরাং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে যা সংঘটিত হয়েছে, তা কিবলার দিকে মুখ করা বা পিঠ দেওয়ার নিষেধাজ্ঞার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। যদি আপনি বলেন, আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) ও ইবনে মাজাহ (রাহিমাহুল্লাহ)-তে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা) বর্ণিত হাদিসটির কথা, যেখানে তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উল্লেখ করা হলো যে, কিছু লোক লজ্জাস্থান কিবলার দিকে রেখে বসাকে অপছন্দ করে। তখন তিনি বললেন: 'তারা কি সত্যিই এমনটি করেছে? আমার বসার স্থানটি কিবলার দিকে ঘুরিয়ে দাও'।" আমি বলব: যদি এটি সহিহ হতো, তবে তা রহিতকরণের (নাসখ) জন্য উপযুক্ত হতো; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এটি উম্মতের জন্য বিধান প্রবর্তন এবং যারা একে অপছন্দ করে তাদের বিরোধিতা করার উদ্দেশ্যেই করেছিলেন। কিন্তু এটি সহিহ নয়, কারণ এর সনদে খালিদ ইবনে আবুল সালত রয়েছে। ইবনে হাযম বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আর-রাওদাতুন নাদিয়্যাহ শারহুদ দুরারিল বাহিয়্যাহ ত্বা আল-মাআরিফাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
هو مجهول وقال الذهبي في الميزان في ترجمة خالد بن أبي الصلت إن هذا الحديث منكر1 وقد استدل من خصص المنع من الاستقبال والاستدبار للقبلة بالفضاء بما أخرجه أبو داود رح تعالى والحاكم رح تعالى عن مروان الأصفر رضي الله عنه قال: رأيت ابن عمر أناخ راحلته مستقبل القبلة يبول إليها فقلت: يا أبا عبد الرحمن أليس قد نهي عن ذلك فقال: بلى إنما نهي عن هذا في الفضاء فإذا كان بينك وبين القبلة شيء يسترك فلا بأس، وقد حسن الحافظ في الفتح إسناده ولكنه إنما يكون هذا دليلا إذا كان قد سمع من النبي صلى الله عليه وسلم ما يفيد تخصيص ذلك النهي السابق، وأما إذا كان مستنده إنما هو مجرد فهمه من فعله صلى الله عليه وسلم في بيت حفصة رضي الله عنها فلا يكون هذا الفهم حجة ومع الاحتمال لا ينتهض للاستدلال قال الشافعي رح: الاستقبال والاستدبار محرمان في الصحراء لا في البنيان، ووجه الجمع عنده تنزيل النهي والإباحة على حالتين، وقال أبو حنيفة رح تعالى: مكروهان فيهما سواء ووجه الجمع عنده أن النهي للتنزيه والفعل لبيان الجواز في الجملة كذا في المسوى قال في سبل السلام: اختلف العلماء فيها على خمسة أقوال: أقربها يحرم في الصحارى دون العمران لأن أحاديث الإباحة وردت في الإباحة فحملت عليه وأحاديث النهي عامة وبعد تخصيص العمران بأحاديث فعله التي سلفت بقيت الصحراء على التحريم وقد قال ابن عمر: إنما نهي عن ذلك في الفضاء فإذا كان بينك وبين القبلة شيء يسترك فلا بأس رواه أبو داود وغيره وهذا القول ليس بالبعيد لبقاء أحاديث النهي على بابها وأحاديث الإباحة كذلك انتهى وروي عن عائشة عند الترمذي أن النبي صلى الله عليه وسلم لم يبل قائما، وروي عن عمر عند الترمذي أن النبي صلى الله عليه وسلم نهاه أن يبول قائما، وروى الحاكم أن بوله صلى الله عليه وسلم قائما كان لمرض لكن ضعفه الدارقطني والبيهقي فلم يكن صالحا لحمل بوله على حالة الضرورة فالأولى أن يقال: أن فعله صلى الله عليه وسلم لبيان الجواز وإن البول من قيام مكروه فقط وفعله للمكروه لبيان حكم شرعي جائر ولا ريب أن البول من قيام من الجفاء والغلظة والمخالفة للهيئة المستحسنة مع كونه مظنة لانتضاح البول وترشرشه على البائل
--------------------------------------------
তিনি অপরিচিত। ইমাম যাহাবী আল-মিজান গ্রন্থে খালিদ ইবনে আবিস সালত-এর জীবনীতে বলেছেন যে, এই হাদিসটি মুনকার (পরিত্যক্ত)।১ যারা কিবলার দিকে মুখ করা বা পিঠ দেওয়ার নিষেধাজ্ঞাকে কেবল খোলা প্রান্তরের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন, তারা আবু দাউদ (রহ.) এবং হাকিম (রহ.) বর্ণিত মারওয়ান আল-আসফার (রাযি.)-এর বর্ণনা দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। তিনি বলেন: আমি ইবনে উমরকে দেখলাম তাঁর উটকে কিবলার দিকে মুখ করে বসালেন, অতঃপর সেদিকে মুখ করে প্রস্রাব করলেন। আমি বললাম: হে আবু আবদুর রহমান! এ কাজ কি নিষেধ করা হয়নি? তিনি বললেন: হ্যাঁ, এটি কেবল খোলা প্রান্তরের জন্য নিষেধ করা হয়েছে। তবে তোমার এবং কিবলার মাঝে যদি কোনো আড়াল থাকে, তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। হাফেজ (ইবনে হাজার) আল-ফাতহ গ্রন্থে এর সনদকে হাসান বলেছেন। তবে এটি তখনই দলিল হিসেবে গণ্য হবে যদি তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এমন কিছু শুনে থাকেন যা পূর্বোক্ত নিষেধাজ্ঞাকে সীমাবদ্ধ করার অর্থ প্রকাশ করে। পক্ষান্তরে, যদি তাঁর এই মতের ভিত্তি কেবল হাফসা (রাযি.)-এর ঘরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কর্ম থেকে অর্জিত তাঁর নিজস্ব বুঝ হয়, তবে এই বুঝ দলিল হিসেবে গণ্য হবে না। আর অস্পষ্টতার সম্ভাবনা থাকলে তা দলিল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় না। ইমাম শাফেয়ী (রহ.) বলেছেন: মরুভূমি বা খোলা প্রান্তরে কিবলার দিকে মুখ করা বা পিঠ দেওয়া হারাম, কিন্তু দালানকোঠার ভেতরে নয়। তাঁর নিকট সমন্বয়ের পদ্ধতি হলো নিষেধাজ্ঞা এবং বৈধতাকে দুটি ভিন্ন অবস্থার ওপর প্রয়োগ করা। ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেছেন: উভয় ক্ষেত্রেই তা সমভাবে মাকরুহ। তাঁর নিকট সমন্বয়ের পদ্ধতি হলো, নিষেধাজ্ঞাটি তানজিহি (অপছন্দনীয়তা) অর্থে এবং (নবীর) কর্মটি সাধারণভাবে বৈধতা বর্ণনার জন্য। আল-মুসাব্বা গ্রন্থে এমনই উল্লেখ আছে। সুবুলুস সালাম গ্রন্থে বলা হয়েছে: এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম পাঁচটি মতে বিভক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য মত হলো এটি মরুভূমিতে হারাম, কিন্তু জনবসতিতে নয়। কারণ বৈধতা সম্পর্কিত হাদিসসমূহ বৈধতার জন্যই বর্ণিত হয়েছে এবং সেগুলোর ওপরই তা ন্যস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার হাদিসসমূহ ব্যাপক। পূর্বোল্লিখিত নবীর কর্ম সম্পর্কিত হাদিস দ্বারা জনবসতিকে আলাদা করার পর মরুভূমির ক্ষেত্রে হারামের বিধানটি বহাল থাকে। ইবনে উমর বলেছেন: এটি কেবল খোলা প্রান্তরের জন্য নিষেধ করা হয়েছে। তবে তোমার এবং কিবলার মাঝে যদি কোনো আড়াল থাকে, তবে কোনো অসুবিধা নেই। এটি আবু দাউদ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। এই মতটি ভিত্তিহীন নয়, কারণ এতে নিষেধাজ্ঞার হাদিসসমূহ এবং বৈধতার হাদিসসমূহ নিজ নিজ ক্ষেত্রে বহাল থাকে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। তিরমিযীতে আয়েশা (রাযি.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেননি। তিরমিযীতে উমর (রাযি.) থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন। হাকিম বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা অসুস্থতার কারণে ছিল, কিন্তু দারাকুতনি এবং বায়হাকি একে দুর্বল বলেছেন। তাই তাঁর দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার বিষয়টিকে নিরুপায় অবস্থার ওপর প্রয়োগ করা সঠিক নয়। অতএব বলাই উত্তম যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এই কর্মটি বৈধতা বর্ণনার জন্য ছিল এবং দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা কেবল মাকরুহ। কোনো মাকরুহ কাজ তাঁর দ্বারা সম্পাদিত হওয়া শারয়ি বিধানের বৈধতা বর্ণনার উদ্দেশ্যেই হয়ে থাকে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা এক প্রকার রূঢ়তা, স্থূলতা এবং সুন্দর অভ্যাসের পরিপন্থী। এর পাশাপাশি এতে প্রস্রাবের ছিটা প্রস্রাবকারীর ওপর পড়ার সম্ভাবনা থাকে।
--------------------------------------------